Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Rudrananda Lahari
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
কানন্দ লহৰী ।
শ্রীমৎ স্বামী রুদ্রানন্দ গিরি প্রণীত।
নবদ্বীপ গিরিবালা আশ্রম হইতে
শ্রীমৎ প্রেমানন্দ গিরি কর্তৃক প্রকাশিত
রুদ্ৰানন্দাব্দ ৫৮
No text on this page.
রুদ্ৰানন্দসহরী
সৎগুরু কল্পতরু মােক্ষ ফলের আধার।
ব্ৰহ্মানন্দ পরম সুখদ শুদ্ধ জ্ঞানের আকর।
বিধি বিষ্ণু প্রভৃতি গুরুর বিভূতি
গুরু বিনা নাহি গতি গুরু ভব কর্ণধার ।
গুরু কৃপায় জ্ঞান বৃদ্ধি গুরু কৃপায় ভক্তি ঋদ্ধি
গুরু কৃপায় পায় সিদ্ধি গুরু সিদ্ধিদাতা সিদ্ধেশ্বর।
গুরু ধ্যানে হও রত, গুরু সৰ্ব্বতত্ত্বাতীত
গুরু কৃপায় উন্মীলিত জ্ঞানচক্ষু নিরন্তর।
এক ব্ৰহ্ম দ্বিতীয় নাস্তি এক ব্ৰহ্ম ভাতি অন্তি
এক গুরু তিমির হন্তি গুরু জ্ঞান প্রভাকর।
গুরু নিত্য গুরু সত্য চিদাকাশে সদ। দীপ্ত
সহস্ৰারে বিরাজিত পরম শিব সুন্দর।
গুরু ভিন্ন রুদ্র গুরু কৃপায় দীন হরেন্দ্র
পেয়ে রুদ্ৰানন্দ মহাভাবে বিভাের।
গুরু পরমব্রহ্ম পরিত্রাতা মুক্তিদাতা অভয়।
শমন দমন শ্রীগুরুচরণ কররে আশ্রয় ।
শ্বাসে শ্বাসে গুরুমন্ত্র জপ কররে অভ্যাস
অনাহতে পাইবে নিতে হংস হংস ভাষ
কানন-লহরী
হইলে নিম্মল দহর আকাশ
অজপা জপিতে হেরিবে চিতে গুরু চিন্ময়।
গুরুপদে রাখ নিষ্ঠা ভক্তি মন
পাইবে প্রাণে শান্তি সর্বক্ষণ
গুরু স্বরূপে ত্রিরূপে ব্ৰহ্ম সনাতন।
গুরু নিত্য সত্য শান্ত শ্বাশ্বত অব্যয়।
গুরুমূর্তি ধ্যান ধ্যানের মূল
একমাত্র পূজ্য শ্রীগুরু চরণ কমল
গুরু কৃপা মােক্ষ সম্বল
রুদ্ৰানন্দ কয় মন্ত্রমূল গুরুবাক্যে হয় জ্ঞানােদয় ।
জয়তি পরম যতি পরমহংস পূৰ্ণানন্দ গিরি
জ্ঞান তপন বিমল কিরণ অজ্ঞান তিমিরহারী।
চিরকুমার দিগম্বর সুদীর্ঘ কলেবর
আজানুলম্বিত বাহু পরম সুন্দর
জ্যোতির্ময় পুরুষবর শ্বেতশ্মশ্রু জটাধারী।
জনমিলে কান্যকুজে ভরদ্বাজ কুলনিধি
ধরিলে নাম শিবরাম ত্রিবেদী
কার্তিকী পৌর্ণমাসী লয়ে পূর্ণশশী
আনন্দে ভাসে তব জন্মতিথির পুণ্য স্মরি।
নাহি মায়ার আবেশ
জ্ঞানের পূর্ণ সমাবেশ
সমাধি মগ্ন অহর্নিশ ব্রহ্মজ্ঞপুরুষ ত্ৰিতাপহারী।
রুদ্ৰানন্দ লহরী
দীর্ঘ জীবন করিলে যাপন
করি অধ্যয়ন বেদ যড়দর্শন
উপনিষদ জোতিষ তন্ত্র পুরাণ
তুমি সৰ্ব্বশাত্রের অধিকারী।
তুমি বিভু রুদ্র নারায়ণ
তুমি পরমব্রম্ম সনাতন
যােগী ঋষিগণ করে তব মহিমা কীর্তন
নিগুণ রুদ্রানন্দ তব চরণ ভিখারী।
৪।
॥
নমি আমি বিশ্বজনক পালক নাশক পার্বতীপতি গঙ্গাধ।
পিনাক ধারক উরু বাদক ভব নায়ক ভবেশ্বর।
তােমার মহিমা বেদে নাহি সীমা
তুমি অগম্য ভূমা মহেশ্বর
তুমি কারণত্রয় কারণ অতীত ত্রিগুণ
ত্রিতাপশন ত্রিভুবন ঈশ্বর।
বিধি বিষ্ণু আদি দেবগণ নিরবধি
ধ্যানে না পায় অবধি তুমি অনন্ত অপার ।
ভিমিত লোচন মহাযােগে মগন
যােগী চিতরঞ্জন যােগজীবন যােগেশ্বর।
নাহি অঙ্গে ভূষণ নাহি চলন বিলেপন
ভচ্ছাদিত বিভূতি অনুক্ষণ হেরে লাজ পায় শশধর
কল কল নাদিনী ঢল ঢল মন্দাকিনী
শােভিছে দিবসমিনী শিরাে’পর।
রুমন্দ লহরী ।
নাহি রােৰ অভিমান, (আশুতােষ ) শ্মশান কৈলাস সম জ্ঞান
অমৃত তুচ্ছি হলাহল করিলে পান তুমি মৃত্যুঞ্জয় অমৃত আধার
দীন হরেন্দ্র তব কৃপায় রুদ্ৰানন্দ
দেহি পদারবিন্দ রুদ্র পরমেশ্বর।
দেবাদিদেব মহাদেব সত্য সনাতন।
নাশ অশিব সদাশিব রুদ্ররূপে কর শাসন।
কৃপা নিধান পরম ন্যায়বান
সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় কারণ
মায়াধীশ পরমেশ মায়াতীত নিগুণ।
জ্ঞান বৈরাগ্য মূৰ্ত্তিমান
সচ্চিদানন্দ স্বরূপ ঈশান
নিরাকার নির্বিকার নিত্য নিরঞ্জন ।
শুভ্র বরণ শুভ্র জ্যোতি ধারণ
যতীশ্বর নিষ্কলঙ্ক শশাঙ্ক শােতন
ব্যোমকেশ বিশ্বনাথ অনাথ শরণ।
অর্ধ নারীশর সুর নর বন্দ্য
অভেদ হরিহর নহ দ্বন্দ
দিয়ে পদারবিন্দ রুদ্রানন্দে রেখ রুদ্র মগন।
জয় শিব শঙ্কর সঙ্কট ত্রাতা।
জয় শম্ভু স্বয়ম্ভু বিভু মুক্তিদাতা।
রুদ্রান-লহরী।
আশুতােষ নাশ অসন্তোষ
তুমি মঙ্গলময় মহেশ
পরাৎপর পরমেশ পরমপিতা।
অনাদি অনন্ত অব্যয়
সৰ্বরূপ সর্বময়
চিদানন্দ চিন্ময় জগতপতি জগতপাত।
তুমি সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় কর্তা
বেতন্ত্র তােমারি বার্তা
কৃপা কর রুদ্রানন্দে তুমি রুদ্র পবিত্রতা।
পার্বতীপতি বিশ্বনাথ অনাথশরণ।
পতিতপাবন জগতপিতা জগততারণ।
ব্যোম ব্যোম করে শিঙা রব
তাথৈ তাথৈ কর নৃত্য তাণ্ডব
মহাদেব সদানন্দ সদাশিব
জ্যোতির্ময় যােগেশ করিলে ভম মদন ।
জটায় জাহ্নবী শিরে শােভে ফণী
কল কল ফোস ফোস করিছে ধ্বনি
সিদ্ধিতে মত্ত দিবস রজনী
সিদ্ধিদাত পুত্র তব গজানন ।
ত্যজি স্বর্গধাম কৈলাস
অশানে কর বাস
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
গৌর বরণ করি পরিহাস
ধরেছ বুকে কাল কামিনীর চরণ।
একমেব অদ্বিতীয় রুদ্র পরমেশ্বর
সত্য সনাতন সারাৎসার
রেখ বিভু রুদ্রানন্দে নিমগন ।
বল শিব শিব শিব ওম্ ওহ্ ওহ্।
হর হর হর ব্যোম ব্যোম ব্যোম।
পড় বেদান্ত হবে মায়া অন্ত রবেনাক ভ্রম
ছাড় অহং বল তাে তােম তাে।
কর জপ কর উপ কর সংযম
ছাড় অহং বল তােম্ তো তোম্।
কর যােগ কর যাগ কর হােম
ছাড় অহং বল তাে তােম তােম্ ।
গুরু কৃপা জেন মােক্ষমূলম্
রহ রুদ্রানন্দে কহ রুদ্র হরদম।
আছ চন্দ্র তারকায় আছ তপনে।
আছ নিশ্বাসে প্রশ্বাসে আছ পবনে ॥
গগনে শশী ভানু মরতে ধুলিরেণু
প্রতি অণু পরমাণু আছে তব পরশনে ।
কুদ্ৰানন্দ-লহরী ।
১
তরুলতা গিরি নদী খুজিছে নিরবধি
ধাইছে বারিধী অনন্তের সন্ধানে।
তুমি শিব মঙ্গলময় সৰ্বজীব আশ্রয়
রেখ রুদ্ৰানলে তন্ময় তব ধ্যানে।
প্রাণায়াম পরমব্রহ্ম পরাৎপর।
সত্যস্বরূপ অরূপ পরমেশ্বর।
আছ জলে আছ স্থলে আছ নভােমণ্ডলে
আছ অনলে অনিলে তুমি বাপ্ত চরাচর।
আছ ওমে আছ হােমে আছ ঋক যজু সামে
আছ বব বব ব্যোমে ব্যোমকেশ বিশ্বের ।
বর্ণিতে নারে বেদ তুমি রুদ্ৰ নিৰ্বেদ
বহ রুদ্রানন্দে অভেদ নিরন্তর ।
করনা নীরব প্রণব রব পরমেশ।
পরাণে প্রতি দিবস রাতি পাই যেন প্রাণেশ।
মায়া রাক্ষসী অবটন পটিয়সী
সঙ্গে থাকি দিবানিশি ভুলায় তত্ত্বমসি নিৰ্বিশেষ ।
ব্যোম ব্যোম নিনাদিত, সপ্তসুর ঝঙ্কারিত
নাদ নিয়ত করে যেন পুলকিত অনাদি অশেষ ।
শুনিলে তােমার সেতার থাকে না সে তার
শিববাহং হয় সার নাহি রয় অহং লেশ।
১০
রুদ্ৰানন্দ-লহরী ।
তুমি রুদ্র মহেশ্বর পরমব্রহ্ম পরাৎপর
রেখ রুদ্রানন্দে বিভাের বিভু পরেশ ।
নিরাকার নির্বিকার নিত্য নিরঞ্জন।
প্রণব বৈভব সাধন দুলভ সত্য সনাতন।
অগম্য ভূমা নাহি উপমা
অণিমা আদি অষ্টসিদ্ধি না পায় সীমা
তুমি পরমাত্মা আরামের আরাধ্য ধন।
আছ সৰ্ব্বত্র ওতপ্রােত
যেমন দুগ্ধে নবনীত
কিম্বা সূত্রে জড়িত মণিগণ।
তুমি রুদ্র মহেশ্বর
পরমব্রহ্ম পরাৎপর
রেপ রুদ্রানন্দে বিভাের বিভু নারায়ণ।
অখণ্ড সচ্চিদানন্দ সৰ্ব্ব কারণ কারণ।
সৰ্বত্ৰ আছ ব্যাপ্ত দেখেন। এ নয়ন।
কে জানে তব স্বরূপ
আছে কি বিশেষ রূপ
তুমি নির্বিশেষে অরূপ নিরাকার নিগুণ।
তথাপি প্রাণ তােমারে চায়
মন সদা তোমাতে ধায়
হৃদয় আনন্দ পায় হয়ে প্রেমে মগন ।
রুদ্ৰানন্দ-লহরী
১১
মন বুদ্ধি ইন্দ্রিয়াদির অগােচর
সাকার কি নিরাকার কে করিবে নিরূপণ।
হিরন্ময় পরকোষে কর অবস্থান
তুমি জ্ঞেয় জ্ঞাতা তুমি জ্ঞান
তুমি জানাও যারে সে পায় সন্ধান
রেখ রুদ্র রুদ্রানন্দে সর্বক্ষণ।
১৪।
সচ্চিদানন্দ স্বরূপ অরূপ ব্ৰহ্ম তুমি ।
আছ বিশ্বরূপে কিরূপে পূজিব আমি।
তব পূজার কিবা মন্ত্র
কিবা বেদ কিবা তন্ত্র
তব ধ্যান কি স্বতন্ত্র
জীব ব্রহ্ম, হয় ভম, মায়ায় ভ্রমি ।
জীব জগত মায়ার সৃষ্টি
ব্যষ্টি হতে হয়েছে সমষ্টি
জীবের সেবায় হয় আত্মার তুষ্টি
এক আত্মময় জীব দেহ ভুমি ।
অরণ্যে ভুধরে শ্মশানে মন্দিরে
অন্তরে বাহিরে লােক লােকান্তরে
সৰ্ব্বত্র বিহর তুমি জীবনস্বামী।
সৃষ্টি স্থিতি লয় মায়ার অভিনয়
এক আত্মা অনন্ত অক্ষয়
রুদ্রানন্দ কয় আছে সমভাবে দিবস যামী
রুদ্ৰানন্দ-লহরী ।
কতদিনে আত্ম দরশন করিব আমি ।
কবে দেখিব সৰ্ব্বভূতে প্রাণরূপে আছ তুমি
কবে জীবের সেবায় করিব আত্ম সমর্পণ
জীবের ভিতরে হেরিব নারায়ণ
জীবের হিত করিব সাধন
জীবরূপী শিবে সতত নমি।
এক আত্মময় ধরা এক ব্রহ্মে বিশ্ব ভরা
জীব ব্রহ্ম নয় ছাড়া
বিশ্বের সেবায় পাব বিশ্বের স্বামী
হতে বাসনা নাশ লয়ে সন্ন্যাসীর বাস
হয়ে কাম কাঞ্চনের দাস
করিনা যেন আত্ম বঞ্চনা ওহে অন্তর্যামী।
তুমি রুদ্র মহেশ্বর জীবের ত্ৰিতাপ হর
রেথ রুদ্ৰানন্দে মহাভাবে বিহাের
যেন হইনা বিভু কভু বিপথগামী।
করম ফল যদি জনম সম্বল
তবে তােমায় কেন ডাকি দয়াময় ।
জপ তপ ধ্যান ভজন পূজন
কর্মস্রোতে যদি সব ভেসে যায়।
কার বা কৰ্ম্ম কেবা করায়,
চলি যন্ত্রের মত কার বা ইচ্ছায়
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
কার বা চিত, কোথা বা ধায়
তুমি সৰ্বময়, খুজে পাইনা আমায় ।
কেবা ব্ৰহ্ম কিবা মায়া
জীব ব্রহ্ম কি ব্ৰহ্ম ছায়া
কি কাজে ভবে আসা যাওয়া
কে বা এনে কি জ্ঞানে হইবে নির্ণয়।
তুমি আছ এইমাত্র মানি
থাক সর্বত্র এইমাত্র শুনি
তােমায় পায় ভক্ত আর জ্ঞানী
কবে রুদ্র তােমায় জানি, রুদ্রানন্দে হইব তন্ময়।
১৭।
অরূপের স্বরূপ কে জানে।
যােগীগণ মগন ঘর ধ্যানে।
কেহ বলে কৰ্ম্ম ভক্তি কভু দিতে নারে মুক্তি
কেহ দেয় যুক্তি মিলে মুক্তি জ্ঞানে।
যতক্ষণ না পায় পরিচয় ততক্ষণ নেতি নেতি কয়
চিনিলে চিয়ি হয়ে তন্ময় রয় তার সনে ।
রুদ্ৰানন্দ লয়ে ভক্তিভাব, পরম ব্রহ্মে করিবে লাভ
সচ্চিদানন্দ সদাশিব রাখিবে চরণে।
১৮।
ভােলানাথ ভুলনা আমায় ।
আছ দিবানিশি সিদ্ধিতে তন্ময়।
রুদ্ৰানন্দ-লহরা।
বারে বারে ধরে স্কুল
আসলে হতেছে ভুল
দেখ যেন হারাইনা মূল
আছ তুমি মুলাধারে আছ সহস্রায়।
তুমি দিয়েছ গঙ্গারে জটায় স্থান,
বিষধরে ধরেছ শিরে করেছ বিষপান,
রেথ রুদ্র রুদ্রানন্দে নিমগন
মৃত্যুর কি ভয়, পিতা যার মৃত্যুঞ্জয় ।
যা দিয়েছ তাই দিয়ে পূজিব তােমায় ।
তার অধিক আর পাইব কোথায়।
কাম, ক্রোধ আদি পেয়েছি ছয় পুষ্প
হিংসা পরনিন্দা আদি হয়েছে সুগন্ধ ধুপ,
আছে ঘটপুর্ণ অজ্ঞান গঙ্গোদক,
অভক্তি তুলসী পত্রিকায় পূর্ণ হৃদয়।
জীব বৃক্ষে ফলিছে বিচিত্ৰ কৰ্ম্মফল,
নাহি ক্ষয় বাড়িছে চিরকাল
পূজার উপচার ক’রনা বিচার মহাকাল।
জ্ঞান বিদল রূদ্রানলে দাও দয়াময় ।
২০।
তুমি নিগুণ নিরঞ্জন অরূপ অব্যয়।
নিত্য সত্য সারাৎসার চিন্ময় ।
রুদ্ৰানন্দ-লহরী ।
তুমি শিব অদ্বিতীয়, আছ সৰ্ব্বভূতে সৰ্ব্বময়
তুমি বিশ্বনাথ বিশ্বময়, জীব শিব অদ্বয়।
তুমি পূর্ণব্রহ্ম সনাতন, পূর্ণে পূর্ণ অবস্থান,
পূর্ণ হতে পূর্ণ গ্রহন, হয় কি কখন পূর্ণ ক্ষয়।
দ্বৈতভাবে হয়ে অন্ধ, অদ্বৈতে ভাবি দ্বন্দ
রুদ্ৰান কয় সব মায়ার অভিনয় নাহিক সংশয়।
২.।
পড়িয়া মায়াকুপে, ভুলিয়া স্বরূপে কর কার সন্ধান
হও আত্মস্থ ত্যজ দেহাত্ম অভিমান
শশী সূৰ্য্য গ্রহ দল অনল অনিল ।
আকাশ ভূমি জল তােমাতে করে অবস্থান।
তুমি অনাদি তুমি অনন্ত, তুমি স্কুল সূক্ষ্ম শান্ত,
মায়াতে হয়ে ভ্রান্ত কেন স্বতন্ত্র কর অনুমান।
তুমি অজ নিত্য শ্বাশ্বত জীব জগত মায়াতে প্রতিভাত
তুমি মন বুদ্ধি তুমি আত্মা তুমি প্রাণ।
তুমি ব্যপ্ত চরাচর, নানারূপে রূপান্তর
ত্যজ মায়ার বিকার রুদ্রানন্দে রহ মগন।
?
বিশ্বরুপ তব পৃথক রূপ কি আছে।
তুমি হয়েছ অরূপ বিশ্বে রূপ মিশে গেছে ।
রুদ্ৰানন্দ লহরী ।
-
তােমার বিভূতি হেরি বিশ্বময়,
আছ পঞ্চভূতে ভুতনাথ অব্যয়
আছ স্বরূপে পঞ্চরূপে ব্ৰহ্ম অবয়
তুমি চিন্ময় চিদাকাশে স্বরূপ ভাসিছে।
যােগী যােগে হয় মগন
মুনি ঋষি করে ব্রহ্মধ্যান
তােমাতে তন্ময় যেন রই সর্বক্ষণ
রুদ্রানন্দ কয় রুদ্র বিনে সব মিছে।
আমার সবটুকু ত তুমি।
মায়ার মােহে একটু ভাবি আমি ।
তুমি আছ তাই সব আছে,
তােমা বিনে সব মিছে,
ধাই মায়ার পাছে পাছে
জান সবই তুমি অন্তর্যামী।
মায়ার পুত্র মায়ার নারী,
মায়ার মিত্র মায়ার আর,
সুখ দুথ মায়ায় গড়ি,
জান সবই তুমি জীবন স্বামী।
কবে যাবে মায়ার দ্বন্দ
ভবে যাতায়াত হবে বন্ধ
রুদ্রে মিশবে রুদ্ৰানন্দ
ছাড়ি মায়িক দেহ ভুমি।
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
১৭
২৪।
বাসনায় বিকৃত মন কেন তােমায় চায়না।
এ চঞ্চল চিত কেন তােমাতে খায়না।
কুহকিনী আশা, বাড়ায় লালস,
মায়া মরিচিকায় মিটেন পিয়াসা,
তথাপি, বিষয় তৃষা কেন যায়না।
কি ছাই নিয়ে থাকি, কি ছাই নিয়ে মাখামাখি
পাগলের মত কত কি বকি
এ রসনা শুধু তােমার নামটি লয়না।
তুমি রুদ্র সচ্চিদানন্দ সদাশিব সদানন্দ
করনা আমায় নিরানন্দ
রুদ্রানন্দে রেখ মগন এই কামনা।
বিশ্বনাথ কি দিয়ে পূজিব তােমায়।
সকলিত তােমার, তুমি সৰ্বময়।
পত্র, পুষ্প, ফল, জল
তােমারি সৃজিত সকল
নাহি জ্ঞান, ভক্তি, প্রেম সম্বল
তুমি না দিলে পাইব কোথায়।
কৰ্ম্মফল কিব। বিচিত্র কোশল,
মায়ার কিবা সচিত্র ইন্দ্রজাল
পরিতে লৌহ কিম্বা স্বর্ণ-শৃঙ্খল
যাতায়াত চিরকাল কেমনে হইবে কৰ্ম্মক্ষয়।
১৮
রুদ্ৰানন্দ-লহরী
তুমি অনাদি অনন্ত অচ্যুত অব্যয়,
নিত্য সত্য শ্বাশ্বত অদ্বয়,
তুমি শিব আমি জীব কেন হয় সংশয়
রেখ রুদ্র রুদ্রানন্দে তন্ময়।
বিশ্বনাথ বিশ্বে আছ মিশে বিশ্বময়।
চিদাকাশে তব স্বরূপ ভাসে চিন্ময় ।
তােমার শশী ইড়ায় জোছনা রাশি
তােমার শিশু হাসে সুমধুর হাসি
তােমার পুষ্প বিলায় সৌরভ দিবানিশি,
তব মলয় পবনে প্রাণ সুশীতল হয়।
তােমার ভূতল দেয় সুবর্ণ হীরক
সাগর দেয় মুক্তা সর্প দেয় মাণিক
কামিনী কাঞ্চন দেয় সুখ ক্ষণিক
তুমি চির সুখ শান্তির আলয় ।
সচ্চিদানন্দ সাগরে কবে হইৰ মগন
আমি আমার ভুলে তােমাতে রব সর্বক্ষণ
অদ্বৈতে মিশিব নাশিব দ্বৈত জ্ঞান
রুদ্রানন্দে রহিব দিবানিশি তন্ময়।
জয় সীতানাথ রামচন্দ্র দশরথ নন্দন।
ধনুধারী রাবণারি হরি নারায়ণ।
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
১৯
করিতে দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন,
প্রবল রক্ষকুল করিলে নিধন
পারাবার করিতে পার করিলে সাগর বন্ধন
জানকী উদ্ধার করিলে বর্জন করিতে প্রজা রঞ্জন।
অভেদ শিবরাম প্রকাশ গুণধাম,
লীলায় তব শিব গুরু, জপ শিব নাম,
শিবের গুরু তুমি, শিব জপে রাম রাম
তারকব্রহ্ম নামে রুদ্রানন্দে রেখ মগন।
২৮।
দেখ দেখ দেবকী, মেলি শতেক আঁখি
দিয়েছে বিধি কি অমূল্য রতন
নয়নাভিরাম, নব নীরদ শ্যাম
অনুপম ভুবন মােহন
আহা কিবা মনােলােভা নীলমণি জিনি আভা,
নয়নে অরুণ প্রভা কি বা শােভাময় চাদ বদন।
শুনি বসুদেবের বাণী দেবকী চাহি অমনি
বুকে তুলে নিল যাদুমণি,
আদর করি দেহে মিলি করিল চুম্বন।
স্বর্গ হতে দেবগণ, মথুরায় করে পুষ্প বরিষণ,
ভব কারাগার করিতে মােচন
আসিল কি ত্ৰিতাপহারী হরি নারায়ণ ।
২.
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
ধন্যা শ্রাবণী কৃষ্ণা অষ্টমী, কৃষ্ণের জন্মতিথি তুমি
ধন্য ধৰ্ম্মক্ষেত্র ভারত ভুমি
যথা যুগে যুগে আবিভূত জগতস্বামী
নাশিতে অধৰ্ম্ম করিতে ধৰ্ম্ম সংস্থাপন।
কংসের কথা মনে ভেবে, বাৎসল্যভাবে হ’ল প্রাণে ভয়,
লয়ে শিশুপুত্র বসুদেব নন্দালয়ে ধায়,
যশােদার কন্যা সনে করিল পুত্র বিনিময়,
যােগমায়া বিনে কে করে অঘটন সংঘটন।
যদুনন্দন হয়ে নন্দ নন্দন মা বলিবে যশোদায়,
হয়ে গােপাল চরাবে গােপাল
গােপ-গােপীর জুড়াবে হৃদয়
কানন্দের কি হবে হেন ভাগ্যোদয়
বসুদেব সুত বাসুদেবে করিবে দরশন।
হরি নিরঞ্জন হয়ে নয়ন রঞ্জন আসিল ধরায়।
যার গুণের গরিমা না পেয়ে সীমা নিগুন কয় ।
যাহার ইচ্ছায় শশী ছড়ায় জোছনা রাশি
ভয়ে ভানু তম নাশি
পুলকে ভূলােক করে আলােকময় ।
সতীর পবিত্র প্রেম সদা মধুময়,
মধুর ভাবে ভজ সেই রসময়,
প্রেম বিতরিতে প্রেমে বিকাইতে, ধরেছেন তনু প্রেমময়।
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
যদি পেতে চাও প্রাণ সে প্রাণ রমণ
রাধার ভাবে রহ অনুক্ষণ
কর তারে প্রেম অর্পণ, চেওনা প্রেমের বিনিময়।
রুদ্রানন্দের নাহি ভকতি সম্বল,
ভক্তের কৃপা ভরসা কেবল
ওহে দীনবন্ধু ভকত বৎসল দিও চরণে আশ্রয়।
৩০।
ভজ গােবিন্দ সচ্চিদানন্দ সৰ্ব্বকারণ কারণ।
জগদীষ্ট শ্রীকৃষ্ণ সত্য সনাতন।
অনাদি অচুত অনন্ত
বেদ বেদ্য শুদ্ধ শান্ত
পরম পুরুষ হৃষিকেশ নারায়ণ।
কৰ্ম্ম, ভক্তি, জ্ঞান নিদান
দুঃখ ভঞ্জন করুণ। নিধান
দীন তরণ জগন্নাথ জগজ্জীবন।
দেব বলে বেদ বন্দে
কত শব্দে কত ছন্দে
রুদ্রানন্দে পদারবিন্দে রেখ শ্রীরাধারমণ ।
ওহে সারথী চালাও মম মনরথে।
দেখ বিভু যেন যায়না কভূ রথ বিপথে ।
২২
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
তােমারি গীতি ভগবৎ গীতা, কৰ্ম্ম জ্ঞান ভক্তি সংহিতা
আপনি আচরি ধর্ম সবে শিখাইতে,
পরম পুরুষ হও যুগে যুগে আবির্ভুত ভারতে।
নিস্কাম কৰ্ম্ম সন্ন্যাসীর ধর্ম,
কৰ্ম্ম অনাসক্তি বিষয় বিরতির মর্ম
ব্ৰহ্মণ্যদেব জগতের হিতে
হও যুগে যুগে আবির্ভুত ধৰ্ম্মক্ষেত্রে ভারতে।
তােমার প্রেমের বাণী বাজে যার প্রাণে
গােপীর মত হয় মােহিত প্রেমভরা গানে
পতি পুত্ৰ ধন জন পায়না স্থান চিতে
প্রেম বিতরিতে হও আবিভুত ভারতে।
তুমি নিত্য গােপাল ভালবাস চিরকাল গোপাল চরাইতে,
শুনায়ে বেণু কামধেনু পার ফিরাইতে
রুদ্ৰানন্দ কহে ব্ৰহ্মণ্যদেব জগতের হিতে
পূর্ণব্রহ্ম রূপে হও পুনঃ আবিভুত ভারতে।
।
৩২।
আপন আপন কারে বল কেহ নয় তাের আপন।
নয় তাের দেহ আপন, আপন নয় তাের মন।
শােনেনা মন তাের কথা,
তাের মন দেয় তােরে ব্যথা,
নয় মিত্র পুত্র কান্তা, মাত্র সব মায়ার স্বপন।
রুদ্রাম-হরী।
অনিত্য কামিনী কাঞ্চন, তাতে কেন এত আকিঞ্চন
তুমি অকিঞ্চন, তুমি তােমার নও যখন
তবে কার তরে হারও নিত্যধন।
যে মুখে কর চৰ্ব্ব চোষা ভােজন
সেই মুখে আপন জন করিবে অনল অর্পণ
ত্যজি পালঙ্ক ভবন শ্মশানে হবে শেষ শয়ন।
তবে ভুলে থাক কেন, সেই সত্য সনাতন
মন প্রাণ তারে কর সমর্পণ
রুদ্ৰানন্দ কহে রহ প্রেমানন্দে মগন ।
আমার হৃদয় নিকুঞ্জবনে
শ্যামা শ্যাম হয়ে দাড়াও দেখি ।
ওমা মুণ্ডমালী হয়ে বনমালী
কর কেলি শ্রীরাধারে বামে রাখি ।
হরপ্রিয়ে হয়ে হরি, হরে হর য়াসেশ্বরী
ছাড়ি তরবারি খরগো বাশরি,
কাজ কি আর রুধির মাখি।
পরিধানে নাহি বাস, পরগো পীতবাস
মম হৃদে কর বাস এই বাসনা কমল আঁখি।
ছাড়ি গো মা নরশির, পর গলে ফুলহার
পুরাও এই সাধ আমার দিওনা আমায় ফঁাকি।
রুদ্রানন্দ করিছে ব্যক্ত, শ্যাম শ্যাম একই তত্ত্ব
যারা নয় জ্ঞানী, নয় ভক্ত তারাই করে ঠোকাঠুকি।
२४
রুদ্রানন্দ লহরী
৩৪।
ধ্বনি
=
নয়নাভিরাম নবনীরদ শ্যাম কেন হেরিলাম সজনী।
নিরখি ঐ বসরাজ, লাজে পড়িল বাজ
মম সরম ধরম নাশিল লাে ধনি।
শুনে তার বেণু রব, কোকিল হয় নীরব
উৰ্দ্ধ পুচ্ছে ধে সব ধায় শুনিতে
মধুর
পরিধানে পীত ধটি, কেশরী জিনি ক্ষীণ কটি
হেরি নয়ন ভ্রুকুটি কেমনে বাঁচে কামিনী।
চরণে নুপুর বাজে, গলে বনমালা রাজে,
কত রতন সাজে ভূষিত ঐ নীলমণি ।
কেমনে এমন ধনে, গােচারণে পাঠায় বনে
রুদ্ৰানন্দ ভণে, তুমি হৃদে লুকায়ে রেখ রাধারাণী ।
মুরারী কেন শুনালে মুরলী ।
আমি নই রাধা নই চন্দ্রাবণী ।
তােমার চরণে পরাণ সপিয়ে,
দিবানিশি রই ধ্যানে মগ্ন হয়ে
কেন ডালে আমায় বাঁশী বাজায়ে
ওহে বছজন বল্লভ একি চতুরালি।
তুমি নাথ চির প্রেমময়
প্রেমশূন্য মম হৃদয়
তব প্রেম পরশে হবে প্রেমের
রুদ্ৰানন্দের হৃদে থেক বনমালী।
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
শ্রীচরণ
শিখাতে সাধনা শ্মশানে আসীনা
কে তুমি ললনা চিনিতে নারি।
তন্ত্রনিহিত নিভৃত তত্ত্ব করিলে বর্ণনা
ভৈরবী রূপে কে তুমি নারী।
কহিলে তুমি কেহ পণ্ড ভাবে করি শুদ্ধ আচরণ
পশুপতি প্রিয়ার পূজে
পত্র পুষ্প ফল জল করে পদে অর্পণ
তার পশুপাশ করেন মােচন পরমেশ্বরী।
কেহ বীরভাবে পঞ্চমকারে করে শক্তির সাধনা
অনাসক্ত চিতে, চক্রে লয়ে ভৈরবী শুদ্ধমনা
সচন্দন স্বয়ম্ভূগােলক পুষ্পে করে শক্তির আরাধনা
ভােগের ভিতরে যােগের সােপান দেখান যােগেশ্বরী
কেহ করে শবসাধনা করি শবাসন
শবাসনা শ্যামামার পেতে দরশন
বাসনা করিলে বিসর্জন হয় হৃদয় শ্মশান
হৃদি মাঝে নাচে তখন শ্যামা দিগম্বরী ।
দিব্যভাবে সব ব্রহ্মময়
জীব শিব স্বতন্ত্র নয়
সৃষ্টি স্থিতি সয় মান্নার অভিনয়
এক আত্মা অনাদি অদ্বয় বিরাজে বহুরূপ ধরি।
হইলে ভুত শুদ্ধি করি যােঢ়ান্যাস
নিৰ্ম্মল হয় দইর আকাশ
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
অনাহতে পায় শুনিতে সােহং হংস ভাষ
অজপা জপিতে হেরে চিতে চিত্তেশ্বরী।
কাশীপুরে রামকৃষ্ণের অন্ত্যেষ্টি শ্মশানে
বট অশ্বথ বৃক্ষ শােভিত পবিত্র প্রাঙ্গণে
সিদ্ধপীঠে পঞ্চমুণ্ড আসনে
শিখাইলে সাধনতত্ত্ব রুদ্রানন্দে কৃপা করি।
তুমি পরমাপ্রকৃতি আদ্যাশক্তি পরমেশ্বরী।
কত রূপে কর লীলা মহামায়া মহেশ্বরী।
তুমি নিণা নিরাকার সগুণা সাকারা
ব্ৰহ্মময়ী পরাৎপরা পরাবরা
ত্রিনয়নী ত্রিগুণধারিণী ত্ৰিতাপহর।
ত্ৰিতাপ তাপিতে দেখা দাও তার কৃপা করি।
লজ্জারূপে তুমি আছ সবার অন্তরে
লজ্জাহীনা হয়ে নাচ পতি বক্ষোপরে
রুধির সুধা ধরিয়া পরে
রণ মাঝে নেচে নেচে পান কর দিগম্বরী
পরমা বৈষ্ণবী তুমি, বিদিতা চরাচরে
লও মা পশুবলি, সাধকের বীরাচারে
দয়াময়ী জগজ্জননী, জানে সবে তােমারে
পশু ভাবে, তুমি ঈশানী পাষাণী নারী।
॥
৩
রুদ্ৰানন্দ-লহরী ।
তুমি কুমারী, কিশােরী, কামারি মনহরা
তুমি অরহরা, বিপরীতৰতাতুর।
মহাকালী, মহাকালে বিভাের।
তুমি কামাখ্যা, কারণময়ী, কুলেশ্বরী।
ব্ৰহ্মস্বরূপ পঞ্চতত্ত্ব, আরােপি পঞ্চমকারে
সচন্দন স্বয়ম্ভু পুষ্প, লয়ে ভক্তিভরে
যে করে শক্তির সাধনা চক্ৰভিতরে
রুদ্ৰানন্দ বলে, সে কৌলে, সিদ্ধি দেন সিদ্ধেশ্বরী ।
৩৮।
বল মা শ্যাম। কি দুখে মা থাক শ্মশানে
কাল বলে কি, লজ্জা পাও মা, রহিতে কৈলাশ ভবনে।
তোমার নাইক সােণার অলঙ্কার
হীরা মতি মুক্তার হার
হাড়ের মালা করেছ সার
শ্যামা তােমার নাইক বসন পরিধানে।
আমার ভোলাবাবা, তোমায় ভালবাসে বলে
তাই থাকে তােমার চরণতলে
ভােলানাথ গৌর বর্ণে নাহি ভােলে
তাই গৌরী সদাই থাকে অভিমানে।
ঘুরি কত তীর্থে কত পীঠে
কত মন্দিরে কত মঠে
এসেছি কাশীপুরে শ্মশান ঘাটে
রুদ্ৰানন্দে দিয়ে দেখা রাখ চরণে
২৮
রুদ্ৰানন্দ-লহরী
৩৯।
ও মন চিলিনা তুই ঐ কাল মেয়ে।
মহাকাল আছে যারে বুকে লয়ে ।
সে যে পরম প্রকৃতি, ব্ৰহ্মাণ্ড প্রসূতি
যাহার তনয়, বিধি, বিষ্ণু প্রভৃতি
বেদাগমে, যার না পায় ইতি
সেই আদ্যাশক্তি আছে জগজ্জননী হয়ে।
অযােনিসম্ভবা স্বয়ং উদ্ভব।
মহৎযােনি ঐ মহামায়া শিবা
তার কৃপা বিনে, তারে চিনে কেব
রুদ্ৰানন্দ বলে, ঐ চিন্ময়ী আছে সবার হৃদয়ে
৩
৪।
রাঙ্গা জবা, দেখ কিবা, মায়ের রাঙ্গা পায়ে শােভিছে।
জিনি শতদল, ত্রিপত্র বিদল, চরণকমল চুমিছে।
পদ্মগন্ধ পেয়ে, ভৃঙ্গদল
পরশিল মায়ের চরণ কমল
পান করি পরিমল, আনন্দ উথলিল
নিরখি, সদানন্দ মহাকাল হাসিছে ।
পূৰ্ণানন্দময়ী মারে, সদা ডাক
পূর্ণানন্দে, সদা ডুবে থাক
রতি মতি ও পদে রাখ
সদাশিব, যে পদ বুকে ধরেছে।
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
২৯
মা যে আমার মহামায়া
মায়ের কৃপায়,
রয়না মােহমায়া
মা যে দয়াময়ী, অভয়
তাই নয়, করেনা ভয়, কালের কাছে।
ভবের খেলা সাঙ্গ হলে
মায়ের কাছে যাব চলে
মা আমারে গবে কোণে
আমার ধুলা, ময়লা, দিয়ে মুছে ।
রুদ্রানন্দ, মায়ের আদারে ছেলে
মা পেলে, সব যাবে ভুলে
বাবা আছে, মায়ের চরণতলে
তাই চরণ পাবে বলে, আশাতে বুক বেঁধেছে।
৪১।
কপাল যদি হয় মা মূল, তবে তােমায় কেন ডাকি তারা।
ভেঙ্গে দেমা মনের ভুল, কবিনে আর দিশে হারা ।
তােরে পাষাণের মেয়ে, করেছে বিধি
তাই হয়েছ, এমন কঠিন হৃদি
আমি কাঁদি নিরবধি
ওমা তুমি শুনতে পাওনা দুঃখহরা।
কৰ্ম্মফল যদি হয় মা প্রবল
তবে কেন পূজি, তাের চরণকমল
তপ, জপ, যদি হয় না বিফল
তবে কর মাের কর্মক্ষয়, ভবে আসতে না হয়, ভবদারা।
রুদ্রান-লহরী।
কৰ্ম্মফলে, করে লক্ষ্য
মিলাম যােনি, কত লক্ষ
রুদ্রানন্দে, দাও মা মােঙ্গ
তারা ব্ৰহ্মময়ী পরাৎপরা।
৪২।
মা বলে এত ডাকি, শুনতে কি মা, পাওনা।
আছ কি মৌনী, দিবস রজনী, তাই কথা কও না
আমি কেঁদে কেঁদে মরি
তুমি আছ মায়া পাশরি
ওমা মহামায়া মহেশ্বরী
কৃপা করি, একবার দেখা দাও না।
পাষাণের মেয়ে, পাষাণী হলে
তবু দয়াময়ী ঈশানী বলে
বাপের ধারা যাও মা ভুলে
রুদ্রানন্দে, কর কৃপা, হর ললনা ।
৪৩।
মা যার সদানন্দময়ী সর্বমঙ্গলা।
তার তনয়, কেন সহিবে, ত্ৰিতাপ জ্বালা।
আমি আপন ঘরে বাস করি
কেন হয় বাদী, ছয়জন অরি
আমার অন্তঃপুরে প্রবেশ করি
দেয় কুযুক্তি, তাদের রাণী কুমতি প্রবল।
রুদ্ৰানন-লহরী।
৩১
যখন আমি, মুদি দুটি আঁখি
তাের ধ্যানে, মনটি রাখি
কুচিন্তা নামে তাদের সখি
আমায় লয়ে করে কত ছলা।
তাের অবােধ পুত্র রুদ্ৰানন্দ
জানেনা মা ভাল মন্দ
দিও মা তারে পদারবিন্দ
এই ভিক্ষা চাই মা গিরিবালা।
৪৪।
মা নাম কি প্রাণভরা নাম।
মা নামে পাই প্রাণে কতই আরাম।
শিশু ছুটে হেসে খেলে
কেঁদে উঠে ক্ষুধা পেলে
খুজে মাকে খেল। ফেলে
ভবের ক্ষুধা যাবে চলে বল মা মা অবিরাম।
ওরে শ্যামা মা আমার মা
সে যে হর-মনােরম।
সন্তানের সকল দোষ করে ক্ষমা
রুদ্ৰানন বলে, মায়ের কৃপা হলে, মিলে মােধাম।
৪৫।
আমি সাধে কি মা বলে ডাকি ,
ওরে মাতেই মেহ মাখামাখি ।
৩২
রুদ্রানন্দ-লহরী ।
মাই ব্ৰহ্ম মাই ধৰ্ম্ম
জেনেছি মৰ্ম্ম সঙ্গে থাকি।
ও মন, মাতৃভাবে কর সাধন
সেই যে তাের সহজ ভজন
সার কর, শ্যামা মায়ের চরণ
যদি কৃতান্তেরে, দিবি ফাকি।
ডাক সদানন্দময়ী মারে
নিরানন্দ হবি নারে
রৈবি সদানন্দপুরে
রুদ্ৰানন্দ বলে, সে দিনের আর নাইক বাকি
৪৬।
মন শােন, কারে আমি মা বলি।
সে কথা, তােরে কি বলিব খুলি।
যার ইচ্ছায় হয়, সৃষ্টি স্থিতি লয়,
ভয়ে বাতাস বয়, শশী সূৰ্য্য হয় উদয়,
বিধি বিষ্ণুদ্বয়, দেবতা সমুদয়
নিরবধি রয়, যার কাছে কৃতাঞ্জলি।
ব্ৰহ্ম, পরমাত্মা, মহাশক্তি, ভগবান
কত নামে, জ্ঞানী, ভক্তগণ, করে আবাহন
আমি সাধনহীন, অভক্ত অজ্ঞান
তাই শিশু সম, সদ। মা মা বুলি।
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
৩৩
রুদ্ৰানন্দ তাহারি তনয়
তপন-নন্দন, করে যারে ভয়
যাঁর কৃপায়, হয় কর্মফল ক্ষয়
মা আমার সেই ব্ৰহ্মময়ী কালী।
৪৭।
আমি করিতে পারিনা তাের সাধনা।
করুণাময়ী, ভরসা কেবল তাের করুণা।
চলিব তােমার হাতটি ধরে
কোনও মতে যাবনা পড়ে
আমি আমার, দিব ছেড়ে
তুমি তােমার, করিব ধারণা।
আমি, আমার, ছায়াবাজী
তুমি যেমন বাজাও, তেম্নি বাজি
তুমি যেমন সাজাও, তেমি সাজি
আমার কারসাজি তো, সাক্সেন।
এবার বলছি তােরে, পায়ে ধরে
আমি, আমার, নে মা, কেড়ে
কৰ্ম্মের বোঝা যাচ্ছে বেড়ে
দেমা কৰ্ম্ম নাশ করে, রুদ্ৰানন্দের এই প্রার্থনা।
৪৮।
ভগবতী বাসন্তী কর মাের বাসনা ক্ষয়।
তােমার ইচ্ছায় হয় সৃষ্টি স্থিতি লয়।
৩ঃ
রুদ্ৰানন্দ লহরী।
সুরথের করিলে বাসনা পূর্ণ
এই কুরথের কর বাসনা চূর্ণ
সমাধিরে করিলে, বিষয়ে মগ্ন
বিষয় বাসনা হতে, আমায় দাও মা অভয়।
চাই না মা, পার্থিব অনিত্য ধন
পরমার্থ ধন, তব রাতুল চরণ
ঐ
অমূল্য রতন, সদা মম আকিঞ্চন
রুদ্রানন্দ অকিঞ্চন বলে, দিও চরণে আশ্রয়।
৪৯।
তারা, পড়ে আছি, তাের চরণতলে।
দীন তারিণী, চাও মা একবার দীন বলে ।
জপ, তপ, ধ্যান, ভজন, সাধন
নাই মা আর প্রয়ােজন
মােক্ষ ধাম ঐ অভয় চরণ
রেখেছি যতনে হৃদ্কমলে ।
যটচক্রে তাের স্থান
করেছে সাধক নিরূপণ
ব্ৰহ্মময়ী, দাও আমায় পূর্ণ জ্ঞান
যেন দেখতে পাই তােমায় সকল স্থলে।
কি হবে মা, ষড়দর্শন, পুরাণ, তন্ত্র
বেদ, বিধি, পূজা, মন্ত্র
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
৩৫
ওমা তুমি যন্ত্রী, আমি যন্ত্র
রুদ্রানন্দে চালাও, তোমার অনুকুলে।
কুল কুণ্ডলিনী কৃপা করি দেখাও তব দিব্যস্থান
ষটচক্রে ঘুরি ঘুরি করিতে নারি সন্ধান
মূলাধার পরিহরি
সাধিষ্ঠানে চল শঙ্করী
মণিপুরে ভ্রমণ করি
অনাহতে ক্ষণকাল কর অবস্থান।
তদূদ্ধে করিয়া লক্ষ্য
চল যথায় চক্ৰ বিশুদ্ধাখ্য
দ্বিদলে, আজ্ঞায় বিরাজে, জগৎগুরু বিরূপাক্ষ
সাধকে দিতে মােক্ষ, আছে সদানন্দ করুণানিধান।
এস মা, রুদ্রানন্দের সহস্রদল কমলে
মহাকালী কর ধুমণ, লয়ে মহাকালে
কৃপা কর মা, অধম তনয় বলে
রাখ মােরে, যােগানন্দে মগন।
}
মহাশক্তি, আছ শক্তিরূপে, সৰ্ব্বভূতে সর্বপ্রাণে ।
স্থাবরে নিদ্রিত, জঙ্গমে স্বপন মত, জীবে জাগ্ৰত সৰ্বক্ষণে
'।
৫
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
জ্যোতিরূপে আছ, চন্দ্র তপনে
দীপ্তিরূপে আছ, অনলে দহনে।
শৈত্যরূপে আছ সলিলে পবনে
তুমি অনন্তরূপিনী, আছ নিখিল কারণে।
স্নেহময়ীরূপে আছ, জননী সদনে
পতিতারূপে আছ, সতী সনে।
ব্ৰহ্ম বিদ্যারূপে আছ, অবিদ্যা নাশনে
ভক্তিরূপে আছ, ভাতের পরাণে।
ব্ৰহ্মময়ী, তােমার অপার মহিমা কে জানে
রুদ্রানী, রুদ্রানন্দে রেখ চরণে।
অচিন্ত্যরূপিণী, কে তােমারে চিনিতে পারে ।
বেদাগমে, তােমার তত্ত্ব, নির্ণয় করিতে নারে
বিধি, বিষ্ণু পায় না ধ্যানে
মহাকাল পড়ে আছে, তব চরণে
দেব, মানব ফিরিছে তােমার সন্ধানে
তুমি চিন্ময়ী আছ বাক্য মনের অগােচরে।
তুমি সাকারা কি নিরাকার।
কে জানে রূপ, অরূপের ধারা
রুদ্ৰানন্দ বলে, যে জেনেছে, সে হয়েছে আত্মহারা
যে পেয়েছে, সে ডুবেছে রূপসাগরে ।
}
রুদানন্দ-লহরী।
বাল অরুণ জিনি, রক্তিম বরণী,
কে এ কুমারী সবিতৃ মণ্ডলে।
দ্বিভুজা রমণী, অক্ষসূত্র কমণ্ডলু ধারিণী
দেবী গায়ত্রী, ঋগ্বেদ স্বরূপিণী, জ্ঞান উজ্জলে ।
একি ব্ৰহ্ম শক্তি, ব্ৰহ্মাণী
হংস বাহিনী সােহহং বাদিনী
ভগবতী আদ্যাশক্তি যিনি সৃষ্টির মূলে।
গগনে বাড়িবে বেলা
রবির কিরণে পাবে জ্বালা
শুন ওমা হৈমবালা, এস রুদ্রানন্দের হৃদকমলে।
৫৪।
রবি মণ্ডলে মধ্যাহ্নকালে কে এ কামিনী।
কৃষ্ণবরণী চতুভুজ ধারিণী ত্রিনয়নী।
একি যুবতী সাবিত্রী,
চতুৰ্বর্গ ফলদাত্রী,
বিষ্ণুশক্তি যজুৰ্বেদ স্বরূপিণী ।
শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম, শােভিছে চারি করে
এ যে বৈষ্ণবী, গরুড় আসন উপরে
পরিহরি প্রচণ্ড মার্তণ্ড, রুদ্রানন্দের ঈদে এস নারায়ণী
৩
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
ভানু যায় অস্তাচলে, সায়ংকালে কে এ বৃদ্ধা রমণী ।
সূৰ্যমগুলে চাহিছে চঞ্চলে, এ কাহার ভামিনী।
শুভ্র বরণী দ্বিভুজা রমণী,
ত্রিশূল ডমরু ধারিণী,
সাম বেদ রূপিণী শিব শক্তি স্বরূপিণী ।
তুমি মা ভগবতী সরস্বতী,
জ্ঞান ভক্তি ভুক্তি মুক্তি দাত্রী,
গগনে বাড়িবে রাতি, এস রুদ্রানন্দের ঈদে রুদ্রাণী।
জয় জগদ্ধাত্রী দুর্গা ত্রাণকী নারায়ণী সর্বমঙ্গলা।
জয় যােগমায়া ভবজায়া, কাত্যায়নী গিরিবালা ।
তুমি মহামায়া মহেশ্বরী,
ব্ৰহ্মাণ্ড ভাণ্ডোরী,
বিশ্বরূপ আছ ধরি
চিন্ময়ী হয়ে চিৎকলা।
তুমি কালী তার আদি দশ মহাবিদ্যা,
তুমি মীন, কূৰ্ম্ম, আদি দশ অবতার হও আদা,
পঞ্চরূপে তুমি হও মা আরাধ্য।
কভু কৃষ্ণ হয়ে, রাধা লয়ে কর লীলা।
তুমি তরুণ অরুণ বরণ ধরি,
সিংহস্কন্ধে আরােহণ করি,
৩
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
৯
শুম্ভ নিশুম্ভ সংহারি,
ভক্তে রক্ষিণে মা ভক্তবৎসল।
তুমি চিত্তেশ্বরী অচিন্ত্যরূপিণী,
বিশ্বেশ্বরী বিশ্বজননী,
সচ্চিদানন্দময়ী সত্য সনাতনী,
রুদ্রানন্দে শুদ্ধ ভক্তি, দাও মা বিমল
ওমা সৰ্ব্বমঙ্গলা উমা গিরিবাল। মহেশ্বরী ।
জগদ্ধাত্রী দুর্গ। জগন্মাতা জগদীশ্বরী।
তুমি কাণী করুণাময়ী, কালভয় বারিণী,
তুমি তার ব্ৰহ্মময়ী, ভবানী ভবতারিণী,
তুমি ষােড়শী রূপসী, মহেশ-মনমােহিনী,
তুমি ভুবনেশ্বরী, তুমি ভৈরবী যােগেশ্বরী।
তুমি ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগল।
তুমি মাতঙ্গী, তুমি মা কমলা,
দশ মহাবিদ্যা নাশ অবিদ্যা, নিবার ত্রিতাপ জ্বালা,
দরশন দাও মা ব্ৰহ্মময়ী পরমেশ্বরী
তুমি মীন, কূৰ্ম্ম, বরাহ, নৃসিংহ,
বামন, ত্রিরাম, শাক্যসিংহ,
আর কল্কারূপে ধর, পরম পুরুষ দেই
হয়ে দশ অবতার, ভূভার হর, হরসুন্দরী।
রুদ্রাননবী ।
}
}
তুমি কৃষ্ণরূপ ধরি করলে ধৰ্ম্ম সংস্থাপন,
গীতায় করিয়া ব্যক্ত, কৰ্ম্ম, ভক্তি, জ্ঞান,
চণ্ডীতে দিয়েছ ভুক্তি মুক্তি বিধান,
তুমি সব্ববিদ্যার অধীশ্বরী।
তুমি রাজরাজেশ্বরী রূপে ঐশ্বর্যে ভুলাও,
অন্নপূর্ণা রূপে পরমান্ন বিলাও,
দারুণ দুর্দিনে নিরন্ন সন্তানে, বাঁচাও,
বিশ্বজননী হয়ে শাকস্তুরী।
অবধূত রুদ্ৰানন্দ তব পুত্র,
নাশ মা তার কর্মসূত্র,
কৃপা করি কর জীবনমুক্ত, কাশীপরাধিশ্বরী।
৮ ।
সিংহস্কন্ধাধিরূঢ়া, নালঙ্কার ভূষিতা।
চতুভুজা মহাদেবী, নাগযজ্ঞোপবীতা।
শঙ্খচক্র-ধনুর্বাণ হস্ত চতুষ্টয়ে বৃত
বালার্কধরণী শিবানী, রক্তবস্ত্র পরিহিত।
ভবসুন্দরী গৌরী, ঋষি মুনি, প্রপূজিতা,
রত্নদ্বীপে মহাদ্বীপে, সিংহাসনে সমন্বিত ।
তােমার মন্ত্র, তুমি মা পড়াও,
তােমার পৃজা, তুমি মা করাও,
তাের পুষ্প, তুম শােভিত। হও,
তুমি জগদীশ্বরী জগদ্ধাত্রী জগন্মাতা।
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
৪১
নাই মা আমার রাঙ্গা জবা, নাই মা বিহুদল,
নাই মা গঙ্গাজল, নাই মা ফুল ফল,
দাও আমায় জ্ঞান ভক্তি পৃঞ্জি ঐ চরণকমল,
রুদ্রানন্দে কর কৃপা, উমা গিরিতা ।
দদলনী দুর্গতিহারিণী দয়াময়ী দাঙ্গায়ণী ।
দশমহাবিদ্যা দুর্গা অবিদ্যানাশিনী ।
জগদীশ্বরী জগদ্ধাত্রী জগৎতারিণী,
জর ব্যাধি জন্মদিহরা জগদম্বা মােক্ষদায়িনী।
গণেশজননী গনিন্দিনী গিরিশগৃহিণী,
গতিদায়িনী গৌরী গুণময়ী নারায়ণী ॥
চিন্ময়ী চিত্তেশ্বরী অচিন্ত্যরূপিণী,
চিৎশক্তি চিতি অচিতি সৰ্বস্বরূপিণী ।
ত্রিনয়নী ত্রিগুণধারিণী ত্রিতাপনাশিনী,
ত্রিদণেশ্বরী, ত্রিপুরারি-মনমােহিনী।
মহামায়া মহেশ্বরী, মহিষাসুরমর্দিনী,
মহাকালী মুণ্ডমালী, শুম্ভ-নিশুম্ভ-ঘাতিনী।
সিদ্ধেশ্বরী সৰ্বমঙ্গলা, সব্বসিদ্ধি-প্রদায়িনী,
সিংহবাহিনী শিবানী, নারসিংহী নিস্তারিণী ।
রুদ্রাণী রক্তদন্তী, রক্তবীজ-সংহারিণী,
রুদ্রানন্দের নাশ কৰ্ম্মবীজ, শক্তিভূতা সনাতনী।
৪২
রুদ্রানন্দ লহরী।
নন্দগোপ-গৃহজাত কে তুমি কাহার সুতা,
তুমি জগন্মতা জন্মাতা, কে করে তত্ত্ব নিরূপণ।
করিতে কংসে ছল্য, এ কেমন লীলা,
তুমি যোগাতী • যে গমায়া করলে মায়িক-দেহ ধারণ।
তুমি নারায়ণ তু ম নাফিণী,
পুরুষ প্রকৃতরূপে অভেদ পরমাত্মনি,
ধন্যা শ্রাবণী কৃষ্ণ অষ্টশী, ধন্য। নক্ষত্র রােহিণী,
যাতে আবিভূতা তু'ম ক'রতে জীবের কল্যাণ ।
শুম্ভ নিশুম্ভ দৈত্য শুভ অশুভ রূপে নিত্য,
কৰ্ম্মক্ষেত্রে রােখিছে মম মোক্ষপথ,
হয়েছে বিন্ধ্যাচল মম চিওবথ,
বিন্ধ্যবাসিনী আসি, কদহে নিধন।
তুমি চিন্ময়া চিত্তেশ্বৰা, চৈ রূপণী,
সর্বমঙ্গলা সাদা সস্বরূপণা,
পরমেশ্বরী পরাৎপৰা পরমার্থ পদায়না,
রুদ্রাণী রুদ্রানন্দে, দিও মা চরণে স্থান।
উমা তুমি রাজার মেয়ে।
কাঙ্গালকে কেন দেখবে চেয়ে।
কাঙ্গালকে একবার দেখা দিলে,
ছাড়বেনা তোমায় কোন কালে,
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
১৩
ধনী তুষ্ট ধন পেলে,
তােমার কাঙ্গাল তুষ্ট, তােমায় পেয়ে।
বাবা আশুতােষ দয়াল বটে,
তবু দেখা নাহি ঘটে,
কোথায় বসে, সিদ্ধি ঘেটে,
থাকে শ্মশানে মশানে মুকায়ে ।
নামটি তােমার দীন তারণা,
আমার মত দীন, কোথাও নাই জননী,
মা মা বলে কাদি দিবস রজনী,
রাজনন্দিনী কৃপা কর, রুদ্রানন্দে চরণ দিয়ে।
দুর্গে অবরােধ করিতে পারে কি তারে ছয় সেনানী।
দশ দিকে দিয়ে হানা লয়ে অসংখ্য বাহিনী।
প্রবল রিপুকুল, ধায় নাশিতে ধরমকুল,
ঘটাতে যায় অমঙ্গল,
হয় বিফল, শুনি দুর্গা নামের ধ্বনি।
রুদ্ৰানন্দ গিরি তনয়,
তপননন করে যারে ভয়,
মুক্তির কি ভয়, মা যার সধ্বমঙ্গলা, বাবা শূল পানি।
B
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
মা যে সর্বমঙ্গলা সদা থাকে সঙ্গে।
সে যে মহামায়া খেলে মায়ারঙ্গে ।
হাতটি ধরে নিয়ে বেড়ায়,
ছেড়ে দেয় কত খেলায়,
আছাড় খেয়ে পড়লে ধরায়,
তারে ধরে তােলে অঙ্গে।
কুপথে করিলে গমন,
মা যে কতরূপে করে দমন,
মায়ের মত কেহ নয় আপন,
রুদ্রানন্দ বলে, মাকে ফেলে পড়িনে মায়ার তরঙ্গে
৬৪।
যদি দুঃখ দিলে হয় ভাল, তবে দুঃখ দাও।
দুঃখ দিয়ে দয়া করে সহিতে শিখাও।
সে সুখ চাহিনা তারা
যাতে হতে হয় তােমা হারা
যেন হইনা কভু নিরানন্দ, এই কর সদানন্দদার।
#দ্রানন্দের এই নিবেদন, দুঃখ দিয়ে সঙ্গে রও।
ওগাে কালা, একবার হওগাে কালী।
বনমালী, হও দেখি মুণ্ডমালী।
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
৪৫
পীতবাস পরিহরি, হও কালা দিগম্বরী
সদাশিবের বক্ষোপরি, নাচ আর দাও করতালী।
ছাড় বাঁশী ধর অসি, কালশী হও মুক্তকেশী
তােমার চরণ পূজিতে ভালবাসি, এনেছি তাই জবা তুলি।
রাখিব তােমায় হৃদয়পটে, যেতে আর দিব না গােঠে
আমি মন দিয়েছি কপটে শঠে, এবার লও কালী প্রাণ বলি।
রুদ্রানন্দ তব তনয়, তারে দিবে যদি বরাভয়
তবে ভবে যেন অাসতে হয়, এলছি হয়ে কৃতাঞ্জলি।
দেহি পদরজ, শ্যাম সরােজ বিহারিণী আহিরিণী ললনা।
ব্রজেশ্বরী কৃপা করি, শিখাও যুগল রূপের সাধনা।
তুমি প্রকৃতিপর পরাৎপর।
হলাদিনী শক্তি সারাৎসারা
তুমি মহাভাবময়ী, আমি ভাব হারা
কেমনে করিব তব আরাধনা ॥
তুমি অঘােনি সম্ভবা, স্বয়ং উদ্ভব,
হেরি তব অপরূপ আভা, শশী হল হীন প্রভা
অকলঙ্কিনী শশী, ধর কত শােভা
তুমি প্রেমময়ী রাই কামগন্ধহীন।
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
রুদ্রানন্দের বাণী, শুন রাধারাণী
তােমার হাটে বিকায়, প্রেমময় নীলমাণ
তুমি প্রেমের মহাজন ধনি,
প্রেমহীনে দাও সে ধনে, রুদ্রানন্দের এই কামনা
৬৭।
মম জন্মভূমি, ভারত তুমি চির পুণ্যময়।
যথায় যুগে যুগে অবতীর্ণ ভগবান দয়াময় ।
যথায় আদ্যাশক্তি ভগবতী, হইল দশ মহাবিদ্যা
যাহার সাধনায় রয়না অবিদ্যা
যাহার পূজায় হয় ভক্তি শুদ্ধ।
আজিও জগন্মাতা একান্নপীঠে বিরাজিত। নাহিক সংশয়।
নাশিতে সঙ্কট, হইল প্রকট, রামরূপে নারায়ণ
কৃষ্ণরূপে করিল ধৰ্ম্ম সংস্থাপন, পুর্ণ ব্ৰহ্ম সনাতন
বৃদ্ধদেব শিখাল কৰ্ম্মযােগ, দিতে জাবে নিব্বাণ
শঙ্কর দেখাল জ্ঞানমার্গ, ভক্তি পথ শ্রীচৈতন্য প্রেমময় ।
গৌতম কপিল বেদব্যাস আদি ঋষি রুচিল ষড়দর্শন
বশিষ্ঠ যাজ্ঞবল্প পরাশর আদি দিল ধৰ্ম্মশাস্ত্রে বিধান
গাগী মৈত্রেয়ী আদি নারীগণ, ছিল ব্রহ্ম ধ্যানে মগন
কলিযুগে রামকৃষ্ণ পরমহংস করিল সৰ্ব্ব ধর্ম সমন্বয়।
যথায় দুর্বও দানবে করিতে দলন
দধীচি করিল স্বীয় অস্থি দান
রুদ্ৰানন্দ-লহরী
৭
তুষিতে সেবায়, অতিথির মন
দিল পুত্র বলিদান, দাতাকর্ণ সদাশয়।
শােভিছে যথায় গঙ্গা যমুনা গােদাবরী সরস্বতী
দিয়ে ধন ধান্য পালিছে ভারত সসাগরা ক্ষিতি
আজিও বক্ষ করিয়া স্ফীত, দাড়ায়ে আছে হিমালয় ।
ভারতে ছিলনা জাতীয়তা আর একতা,
ছুৎমার্গ ধরি বাড়িতেছিল সঙ্কীর্ণতা
বর্ণাশ্রম গণ্ডীতে হারাল সাম্য মৈত্রী স্বাধীনতা
তাই জাগাতে ভারতে, এসেছে বটীশ বিধির ইচ্ছায়।
তুমি মা পুত্রে করিতে শাসন,
পর হস্তে রেখে কর নির্যাতন
তুমি মা সৰ্বমঙ্গলা, সবই তােমার মঙ্গল বিধান
রুদ্রানন্দ বলে লভিবে স্বরাজ, কর ষড়রিপু জয় ।
৬৮।
জগদগুরু রামকৃষ্ণ পরমহংস পরাৎপর।
জগদারাধ্য নিত্য সিদ্ধ সারাৎসার ।
তুমি কখন রাম কথন কৃষ্ণ
কখন বুদ্ধ কখন খ্রীষ্ট
তুমি চৈতন্যরূপে হয়ে ইষ্ট, কর জীব উদ্ধার ।
ভাগিরথী কূলে, পঞ্চবটী তলে
সৰ্ব্ব ধর্ম সাধন করিলে
আপনি আচরি ধর্ম, সবে শিখাইলে, হয়ে যুগ অবতার।
১৮
রুদ্ৰানন্দ-লহরী।
পরম ব্রহ্ম অখণ্ড অদ্বয়
শিখাইলে সব্ব ধৰ্ম্ম করি সমন্বয়
নাম ভেদে বিভু ভিন্ন নয়
যত মত তত পথ করিলে প্রচার।
কামিনী কাঞ্চন করিয়া বর্জন
শিখাইলে পরম হংসের আচরণ
তুমি নারায়ণ, নরেন্দ্র নর ঋষিবর ।
ব্ৰহ্মময়ী ভবতারিণী তারা
তােমার ডাকে দিত সাড়া
রুদ্রানন্দে কর আত্মহারা, শুনায়ে মায়ের স্নেহের স্বর।
মা! তােমারি আশীষে বরষ হরষে
গেল মহাকালে মিশায়ে।
সব সুখ দুখ আশা নিরাশা
দিয়েছি কৰ্মনাশায় ভাসায়ে।
তােমার চরণে যে জন সপেছে পরাণ
তার জীবন মরণ, মরম বেদন,
হয়েছে সব অমিয় সমান
সে কি বাচিতে চায় ও চরণ ছাড়িয়ে ।
কাম কাঞ্চন ধন যশ মান
ঈর্ষা বিদ্বেষ কুৎসা অপমান
পারে কি টলাতে কভু তার মন
রুদ্ৰানন্দ বলে, ও চরণে, যে জন আছে পড়িয়ে ।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.