Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Kabitamala

Sen,krishnabihari · 2009/11/11

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

কবিতামালা।
কৃষ্ণবিহারী সেন
প্রণীত
কলিকাল।
৫৯/৩ ভবানীচরণ দত্তের লেন।
শ্রীকুমুদবিহারী সেন দ্বারা
প্রকাশিত।
সর্বস্বত্ব রক্ষিত
মুল্য।• আনা

কলিকাতা
১৪নং কলেজঙ্কোয়ার ইউনিভার্সিটী প্রেসে
শীমহেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা মুদ্রিত।

ভূমিকা। কৰিতামালা যিনি লিখিয়াছেন, তিনি অল্প দিন হইল ইহলােক হইতে অপমৃত হইয়াছেন। সুতরাং তাহার কবিতার যথাযথ সমালােচনা করিয়া, তাহার ভাল মন্দ বিবেচনা করিয়া প্রকাশ করা আমাদের পক্ষে নিতান্তই অসম্ভব। হয়তাে তিনি জীবিত থাকিলে তাহার স্বভাবসুলভ বিনয়বশতঃ কবিতাগুলি ছাপাইতেন না অথবা যেগুলি ভঁহার নিতান্ত প্রিয় ও সুন্দর বােধ হইত, তাহাই নির্বাচন করিয়া ছাপাইতেন। তাঁহার নিকট বন্ধুবান্ধবেরা কবিতাগুলি ছাপাইবার জন্য অনুরােধ করিলে তিনি মিষ্ট মুখে সে প্রস্তাব উড়াইয়া দিতেন। কিন্তু আমরা সেরূপ নিৰ্বাচন করিতে গেলে পূজ্যপাদ পর লােকগত পিতৃদেবের প্রতি নিতান্ত অসম্মান প্রদর্শন করা হয়। তবে এই সকল কবিতা সম্বন্ধে দুই একটি কথা আমরা বলিতে ইচ্ছা করি, আশা করি পাঠকগণ আমাদের সে প্রগলভতা মার্জনা করিবেন। কবিতাগুলি প্রায়ই পূজ্যপাদ পিতৃদেবের রােগ- যন্ত্রণার কালে এবং তাঁহার সুবিস্তীর্ণ কর্মক্ষেত্র হইতে স্বল্প অবসরকালে লিখিত। সুতরাং তাহার সকল কৱিতাই যে সকলের প্রীতিপ্রদ হইবে, সেরূপ আশা

•
করা যায় না। তবে এই কবিতামালায় তাহার প্রকৃত
হৃদয়ের চিত্র অনেকটা দেখা যাইবে, এই আশা দ্বারা
প্রণােদিত হইয়া ইহা প্রকাশ করিতে উদ্যুক্ত হইয়াছি ।
তাহার প্রকৃতি যেমন সরলতাপূর্ণ ছিল, তাহার কবি-
তাও তেমনি সরল ভাবময়। একটা দৃষ্টান্ত এই ।
“মন চায় মন দিতে মনের ঈশ্বরে।
মন কিন্তু ফিরে আসে মনের ভিতরে।”
সকল কবিতাই সরলতাময় বলিয়া বালকগণের
পক্ষে এই কবিতামালা বিশেষ উপাদেয় হইবে আশা
করা যায়।
এখন, তাহাকেই স্মরণ করিয়া তাহার এই কবিতা-
মালা সাধারণের সমক্ষে প্রকাশ করিলাম ; পাঠকেরা
ইহার প্রতি সাদর দৃষ্টিপাত করিলেই যথেষ্ট অনুগৃহীত
;
হইব।
কলুটোলা,
৫৯৩ ভবানীচরণ দত্তের লেন
তারিখ ৩০শে নভেম্বর, ১৮৯৫

সূচীপত্র বিষয় পৃষ্ঠা ••• ... সরস্বতী চবিতা দেবী কাশের পরি s , ... ৫ ••• ••• ৭ प তোড়া ... চন্দনবৃক্ষ ও গােলাপবৃক্ষ বউ কথা কও বউ কথা কও ১০ । । । ১২ ••• ১৪ ১৮ ••• • ৫০ ২১ • २२ ৮ । ২৪ ‘আমি’র লাজ মাভাল ও রোগী এলের গাখ: (পরমাত্ম') •• পিরের পাখী (জীবাত্মা । গাজিপুর এবং কলিকাভা ••• পবন পাপীর আশা ... “কাদি অথচ পাপ যায় না স্বাভাবিক ও গােলাপ গােলাপ কুচবিহারের মহারাণীর আরোগ্য লাভ উপলক্ষে •• শুকভার হাসি পাখনা ••• ৩০ ৩১ ৩; ••• st . •

No text on this page.

শুদ্ধিপত্র
অশুদ্ধ
শুদ্ধ
छी
লাইন
সর লও
সরল নও
28
নিশ্বস
বিশ্বাস
০ ।

No text on this page.

কবিতামাল,
Y
সরস্বতী।
ত্যজিলেন মােরে ।
জনম হইতে লক্ষ্মী,
অনাথ হইয়া দেবী,
সদয় হইয়া তুমি,
বিদ্যা বুদ্ধি লভিলাম,
দয়া করি যদি বর,
চটিয়া গেলেন তাহে,
একি রীতি বল মাগাে,
স্বর্গেতে বিবাদ আছে,
তুমি এলে যদি দেবী,
অসহ্য হইয়া লক্ষ্মী,
ডাকিনু তােমারে।
দিলে মােরে বর।
খ্যাতি নিরন্তর।
দিলে
সরস্বতী।
লক্ষ্মী রূপবতী ।
বুঝিতে না পারি ।
মহা-মারামারি।
করি মােরে দয়া
গেলেন চটিয়া ॥

কবিতামালা।
ঠিক সেই চাল ।
দেবগণ মাঝে আছে,
দেখায় না ভাল রীতি,
দুই জনে এসে হেথা,
বলিতেছে দাস।
কর চিরবান ।
কবিতা দেবী।
মরুভূমি ছিল এই,
জীবন আমার।
রস কষ ছিল নাক, কিছুই তাহার।
একদিন বসে আছি,
চিন্তাশীল মনে ।
হঠাৎ পড়িল এক, রূপসী নয়নে।
আকাশের পরি তিনি, অপরূপ শােভা।
বিমল কান্তিতে পূর্ণ, সৰ্ব্ব মনলােভা ।
হাতেতে কুঠার তার,
ছিল একখানি।
কোন্ বলে বলী তিনি, তাহা নাহি জানি
মারিলেন কোপ এক,
ফোয়ারা বাহির হয়ে,
ভাসাইল জলে ।
বালুকা সদৃশ হয়ে,
ছিল যেই স্থান।
হটাৎ ভূতলে।

কবিতা দেবী
এখন তথায় জল,
করিলাম পান।
দেখিতে দেখিতে দেখি, ফুটিয়াছে ফুল ।
মধুলােভে গুণ গুণ, করে অলিকুল।
পক্ষীগণ গাইতেছে,
সুমধুর তান।
মন মাের প্রাণ ভরে,
সুধাকরে পান।
কোথাকার লোক।
যথায় গােলােক।
হইল আমার।
ভাবি বারে বার ।
কে তুমি রূপসী বল,
বাস কর কিগাে তুমি,
মরুভূমি স্বর্গভূমি,
দুঃখ কষ্ট সব গেল,
আকাশের পরি তুমি;
হৃদয়েতে রাজ্য কর,
হাসি হাসি ওই মুখ,
কবিতা রাজ্যেতে রব,
ছেড়ােনা আমায়।
যেয়ােনা কোথায় ।
হেরি চিরদিন।
মুখে যাবে দিন

আকাশের পরি। Inspiration,
বিজলি সদৃশ হয়,
তোমার প্রকাশ।
তােমার আভাস।
ক্ষণে ক্ষণে পাই আমি,
চমকে চমকি প্রাণ,
এলে যদি কাছে।
ভয় হয় মনে কত,
চলি যাও পাছে ।
চিত্তের আকাশে।
মেঘ মালা পাশে ?
পাই কত ধন।
কর গাে ইরন !
রূপ যদি দেখাইলে,
তখনি সুকাবে কেন,
মুহুৰ্ত্ত প্রকাশে তব,
মুহূর্ভেতে সব সুখ,
স্বর্গেতে উঠাও যদি,
তখনি ভাঙ্গ গাে কেন,
কর তুমি অনুদিন,
দেখিবে তােমার গুণে,
এ পাপীর মন।
সুখের সপন।
হৃদয়েতে বাস।
হব নিত্য দাস ।।

আকাশের পরি।
দিবে তুমি নব ভাব,
পাইব নৃতন তৃপ্তি,
চির দিন ধরি ।
H
ষষ্ঠী
কেন মাগাে এত দয়া পাপীর উপরে।
বার বার উকি মার গরিবের ঘরে।
দিন যায় মাস যায়, থাকি অন্য মনে।
কোথা হতে দেখা দিলে, দীন হীন জনে।
লােকে বলে বহু পাপ, করেছিনু আগে।

কবিতামালা।
নতুবা তােমার দয়া, কেন এত ভাগে।
সে কথা ত কথা নহে, কথা এই সার।
তুমি যারে দেখা দেও, পুণ্য আছে তার।
যত পুণ্য করেছিনু, অন্য দেহ ধরি।
দিলে তার পুরস্কার, দশ গুণ করি ।
যত বার দয়া হবে, জননী তােমার।
এস গাে পাপীর ঘরে, কথা নাহি আর ||
কিন্তু মাতঃ ভিক্ষা চাই, কৃতাঞ্জলি করে।
এবার আসিলে এস, লক্ষ্মী সঙ্গে করে।

*
তােড়।
পদ্মের গৌরব,
গােলাপ সুন্দর,
যুঁতি মনােহর,
তাহাতে বিকাশে বেলা।
চাপার বরণ,
কদম্ব রঞ্জন,
করিতেছে তাহে খেলা ।
কেতকী সৌরভ,
মল্লিকা মালতী মিসি।
নলিনী মেহিনী, জবা সুহাসিনী,
আলােকিয়া দশ দিশি ||
সকল মিলায়ে, বরণ মিলায়ে,
বাঁধে তােড়া অপরূপ।
বল দেখি কার, দেখি বারে বার,
সেই অপরূপ রূপ?

চন্দন বৃক্ষ ও গােলাপ বৃক্ষ।
দুঃখিনী গােলাপ, কত মনস্তাপ,
করিছ বিরলে বনে।
হেরিলে যাতনা,
মনের বেদনা,
উথলিয়া উঠে মনে।
কিন্তু, সখি, জেন, তব দুঃখ হেন
কেবল তোমার নহে।
আমার কপাল,
ধরি চিরকাল,
সমান যাতনা সহে ।
ছিড়িলে কো ফুল,
হইয়ে আকুল,
ভাসে তব চক্ষু জল।
ধরিয়ে কুঠার, করেগাে প্রহার,
মােরে নির্দয়ের দল।
হয় কত খেদ,
করি মর্মভেদ,
দয়া তাহে নাহি হয়।

চন্দন বৃক্ষ ও গােলাপ বৃক্ষ
করেগাে আঘাত, মােরে দিবারাত,
হতেছে জীবন ক্ষয় ॥
তোমার সে দুখ, আমার এ দুখ,
এস মিলাই দু জন।
দুখেতে মিলিয়া,
হব এক হিয়া,
মুখে কাটিবে জীবন ।
গোলাপ তোমার, সৌন্দৰ্য্য বিস্তার,
করগাে ক্ষমার বলে।
আর যত মােরে, মারিবে সজোরে,
সুগন্ধ দিব সকলে।

বউ কথা কও
কেনরে বেহায়া পাখি
বসিয়ে নিজনে।
২ জানাস ঘরের কথা,
যত জীবগণে ॥
ওই পােড়া কথা।
৪
তেরি এত ব্যথা ?
দিবারাতি শুনিতেছি,
বল, দেখি কি কারণে,
বউ তাের এত কিরে,
৬ বকাইয়া মারি তরে,
কেন বল, অভিমান,
নিলর্জ নির্দয়।
নিজে সুখে রয়।
৮
তাের সনে কভু কথা,
বােধ হয় কোন কালে,
এমন তাহার ।
কহিবেনা আর ?
অন্য কোন নারী।
প্রাণ মন কাড়ি।
হইল বিধান।
{ শেষ হবে প্রাণ ।
১০ লয়ে ছিল তাের সব,
সেই পাপে গুরু দণ্ড,
১২ “বউ কথা কও বলে,

বউ কথা কও।
১১
শুনে রেখ বিধি এই,
যত স্বামী দল ।
পাবে এই ফল ।
১৪ করিলে লাঞ্ছনা স্ত্রীর,
দ।
titiat las
বউ কথা কও
সদাই তােমারে।
কেবা আর পারে ।
দিতেছে গঞ্জনা।
খাইছ লাঞ্ছনা ॥
বাহবা দিতেছি আমি,
এ জ্বালা সহিতে বল,
দুমুখী পত্নী তােমার,
দিবারাতি আহ! কত,
তথাপি সাধিছ তুমি,
“বউ কথা কও' বলে,
অন্য স্বামী কি করিত,
সে লইত বােধ হয়,
তারে প্রাণপণে।
ডাকিছ সঘনে ।
বলিতে না পারি ।
অন্য কোন নারী।

১২
কবিতামালা
ও পথেতে নয়।
বাক্য নাহি কয়
সাধুর গমন কিন্তু,
মারিলে সজোরে ঝাঁটা,
যতই স্ত্রী দয়া ছাড়ি,
“বউ কথা কও” ছাড়া,
ধন্য সাধু পাখি তুমি,
স্বামী গণে দেও শিক্ষা,
করিবে প্রহার ।
বাক্য নাহি আর।
ধন্য ধন্য বলি ।
এক বুলি বলি ।
মন।
মন চায় মন দিতে, মনের ঈশ্বরে।
মন কিন্তু ফিরে আসে, মনের ভিতরে
মন চায় জীবনেতে, দেখি প্রাণেশ্বর ।
মন কিন্তু দেখে সদা, আত্ম এবং পর।
মন চায় দেহ ছাড়ি, উড়িতে আকাশে
* * * * * * * * * *

কবিতামালা।
মন কিন্তু পাপ লয়ে, থাকে এ প্রবাসে ।
মন চায় শান্তি জলে, হইব শীতল।
মন কিন্তু টেনে আনে, অশান্তি অনল ।
মন চায় হদি মাঝে, বসাইব দেবে।
মন কিন্তু আমি ছাড়া, কারে নাহি সেবে।
মন চায় পূর্ণ জ্যোতি, দেখিব অন্তরে।
মন কিন্তু থাকে সদা, অন্ধকার ঘরে ॥
মন্তু ল্যাজ কিন্তু এক, মন, সদা বয়।
সে ল্যাজের ভারে মন, পৃথিবীতে রয়
}

‘আমি’র ল্যাজ।
“আমি” বলে আমি বড়, আমাসম নাই।
“তুমি” বলে তুমি বড়, আমি কিছু নই ।
“আমি” বলে শ্রেষ্ঠ আমি, জ্ঞান, বুদ্ধি, ধৰ্ম্মে।
“তুমি” বলে নীচ আমি, সৰ্ব্ব মত কর্মে ।
“আমি” বলে নীচু করে, সদা মাথা ধরি।
সকল জীবেরে আমি, ছােট মনে করি।
“তুমি” বলে উচু করে, মাথা সদা রাখি।
সকল জীবেরে আমি, উচু ভাবে দেখি ।
“আমি”র কাছেতে “তুমি” সদা হারমানি।
নীরব নিস্তব্ধ থাকে, তার মুখ খানি ।
বাড়িতে বাড়িতে চলে “আমি” অহঙ্কারী।
কমিতে কমিতে গেল, “তুমি” অনাহারী॥
“আমি” কিন্তু বাড়িলনা, কারণ না জানি।
বাড়ির মধ্যে বাড়ে ল্যাজ একখানি।

L:
মাতাল ও রােগী
মাতাল সুজন, জাগিয়া স্বপন,
দেখেন গিরিজা তলে।
টুং টাং টং,
করি নানা রঙ,
বাজে ঘড়ি মহা বলে।
কান খাড়া করি, মনে ধৈৰ্য্য ধরি,
শুনি সে দুপুর বাজি।
বারটা বাজিল,
রেগে সে উঠিল,
বলে ওরে মূখ পাজি।
সময়ের দর,
জাননা বৰ্ব্বর,
তাই বাজ পুনঃ পুনঃ ।
কেন একেবারে,
বলনা সবারে
বারটা বাজিছে শুন ?
রােগ শয্যা পরি, যাতনাতে মরি,
রােগী করে হাহাকার।

কবিতামালা।
দাঙ্গার সুজন,
মধুর বচন,
কহে তাহে বার বার ।
শুন শুন ভাই, বলি কথা ছাই,
যাবেনা এখনাে রােগ।
এই যে যন্ত্রণা,
করিবে লাঞ্ছনা,
তার পর দুঃখ ভােগ |
কষ্ট কত হবে,
ঃখ কত সবে,
তার পর ইয়ে কত।
ইয়ে পর ইয়ে,
তার পর ইয়ে,
দুঃখ দেবে ইয়ে যত।
গুনি সে বচন,
রকত বরণ,
হইল রােগীর মুখ।
ছিল সে দুৰ্বল,
ভুলি যাই সব দুখ ||
জানন। কি ভাই, দিন হাতে নাই,
হইল সবল,
বলে দেও কথা সার।
কেন একেবারে, বলনা আমারে,
সম্মুখে মৃত্যু তােমার ||

E
বনের পাখী। (পরমাত্মা)
কোথা কার পাখী তুমি, বল সত্য কোরে।
কিরূপ তােমার রূপ, বলে দেও মােরে ।
দেখা দিতে ভয় হয়,
তবুও ডাকিছ।
হেথা হােথা কোরে সদা, আনন্দে মাতিছ ।
মাতিছ মাতাচ্চ তুমি, বাজাইয়া বীণা।
অথচ কি তুমি তাহা, কিছুই জানিনা।
রূপ নও, শব্দ তুমি, অবয়ব হীন।
শুনাতে এসেছ পাখী, গাও অনুদিন।
ভাসিয়ে দিতেছ ধরা, দেব প্রিয় গানে।
তথাপি জানিনা তুমি, আছ কোন্ স্থানে।
দেব বাণী এই রূপ, শুনে সাধুগণ।
অন্তরেতে শুনে তাহা, সচকিত মন।
তুমি কি হে দেববাণী বলদেখি ভাই।
কি কহিবে বল তবে, শুনে রাখি তাই।

পিঞ্জরের পাখী (জীবাত্মা)
- পিঞ্জরেতে বদ্ধ আমি, হােয়ে সদা থাকি।
উড়িতে পারিনা কভু,
লােকে বলে পাখি
দিন ভাের তব মুখ,
দেখিবারে পাই।
তোমার গুণের কথা, নিত্য আমি গাই ।
হইতেছে মিষ্টালাপ, সদা দুই জনে।
উথলিছে প্রেমসিন্ধু, সদা এই মনে ।।
তথাপি দুর্ভাগ্য আমি,
হইবেনা মেশামিশি সাধ করি যত ॥
ইচ্ছা হয় উড়ে গিয়ে, তব পাশে থাকি।
মিষ্ট কথা যত শুনি, বুকে কোরে রাখি।
মুখখামুখি কোরে হই,
নিশ্চিন্ত হৃদয়।
মন খুলে কথা কই,
হইয়ে নির্ভয় ।
নিদারুণ. বিধি কিন্তু, বন্দী কোরে রাখে
মনের সকর কথা,
মনেতেই থাকে ।
কষ্ট পাই কত।

ও
গাজিপুর এবং কলিকাতা।
লােকে বলে গাজিপুরে, গােলমাল নাই।
থাকিলে তথায় সদা, শান্তি সুখ পাই ।
তাহা নয় ভাহা নয়, জানিবে নিশ্চয়।
ভয়ঙ্কর গোলমাল,
দিবা রাতি হয় ।
বিবেক বলিছে সদা, শুন্ ওরে মন।
কি কোরে কাটালি বল, তাের এ জীবন ।
মহাকাল বলে মােরে, আর নাহি দিন।
যাহা করিবার কর, শােধ, সব ঋণ।
হুঙ্কারিয়া ব্ৰহ্মরব,
জানাইছে মােরে।
‘আমি আছি” “আমি আছি” বলিছে সজোরে
জাগিয়া স্বপনে সদা, শুনিতেছি রব।
প্রকৃতি কথন নহে, নিস্তব্ধ নীরব ।
মুহূর্ভের তরে আমি, সুস্থির না হই।

কবিতমালা
এ্যন্ত ব্যস্ত জড় সড়,
হােয়ে সদা রই ।
সর্বদা সভয়ে থাকি, কাণ ঝালা পালা ।
কে যেন বলিছে মােরে, শীঘ্র “পালা পালা”
“এখানে থাকিলে হবি,
বধীর পাগল ।
“হারাইবি একেবারে, শান্তি এবং বল ।
“কলিকাতা বড় ভাল, গােলমাল স্থান।
“প্রকৃত নীরব তাহে, করে অবস্থান।

পবন।
করিছে বহন,
সুমন্দ পবন,
দেয় সবে আলিঙ্গন।
বহে ঘন ঘন,
কহে ঘন ঘন,
মধুর কত বচন ||
একি বল রঙ্গ,
স্পর্শিছে এ অঙ্গ,
করিছে সঙ্গীত রব ।
আনন্দেতে মেতে,
কাপিতে কাঁপিতে,
কাপাইছে গাত্র, সব
অথচ কি লজ্জা, নাহি সজ্জা গজ্জা,
রূপ তার নাহি জানি।
অঙ্গ দুলি হেলি, করে নিত্য কেলি,
দেখিনা শরীর খানি #
এইত সরম,
প্রকৃত ধর,
এইত নারীর কাজ।

কবিতামালা।
হইয়ে নির্ভয়,
মােহিবে হৃদয়,
অথচ রাখিবে লাজ।
পাপীর আশা।
আমি পাপী মহাপাপী, আমারে কে পায়
আমার গৌরব কথা, কবিগণ গায় ।।
আমার উদ্ধার লাগি, মঙ্গলের তরে।
দয়াময় দিবারাতি, ভাবেন অন্তরে ।
।
ধরেন আমার জন্য,
দয়াময় নাম।
পতিত পাবন হরি,
সিদ্ধ মনস্কাম।
পাপীর চক্ষের জল,
মূল্য কত তার।
এক বিন্দু দেখাইলে,
খােলে স্বর্গ দ্বার।
পাপ অনুতাপ হােতে,
স্বর্গবায়ু রূপে তাহা,
নিশ্বাস যে বয়।
মুক্তি প্রদ হয়।

পাপীর আশা।
আমাহেন পাপীগণ, করিতে উদ্ধার ।
পাঠান জগতে হরি, কত অবতার।
আমারই জন্য ধর্ম, ব্ৰত অনুষ্ঠান।
আমারই তরে সৃষ্টি,
নূতন বিধান।
লীলাময় ভগবান, পাপীরে লইয়া ।
অপার মহিমা ভার,
পাপী তরাইয়া ||
কবিতা কুসুম কোথা, ফুটিত জগতে।
লীলা কথা না থাকিত, যদি ভাগবতে ।
কোথা ঈশা, কোথা বুদ্ধ,
কোথা শ্রীচৈতন্য।
এদের গৌরব খালি,
পাপীদের জন্য ।
জগতেতে মূল্যবান,
আছে একধন ।
আশ। তার নাম জেন, আশা পূর্ণ মন |
ভবের মিষ্টত্ব কোথা, থাকিলে আশা
আশাপূর্ণ ভব বােলে, আছে ভালবাসা।
পাপীদের প্রাপ্য এই, আশা দেবধন
পাপীবােলে আশা করি, কাটাই জীবন ।
অনুতাপ বিন্দুবাই,
পড়িবে ভূতলে।
এক লক্ষ্য দিয়ে আম,
স্বর্গে যাব চোলে ।

জ
কাঁদি অথচ পাপ যায় না”
বলিছনা সত্য।
রহিয়াছে নিত্য ||
প্রকৃতি বিরুদ্ধ।
মন হয় শুদ্ধ।
সর লও গাে তুমি,
কঁদিছ অথচ পাপ,
সত্য কথা ইহা নহে,
অনুতাপ এলে জেন,
মিথ্যা কথা বােলে কেহ,
এক ফোঁটা অশ্রুজলে,
লােকেরা প্রার্থনা করে,
ইহার কারণ পাপ,
পাপ আকর্ষণ বড়,
খাটি নাহি হয়।
পাপ নাহি রয় ।।
তবু পাপ করে।
আছে যে ভিতরে।
ভয়ানক টান।
মধু করি পান।
মুখ পুড়ে যায় তবু,
ভগবানে এক মুখে,
একমুখে পাপে বলি,
বলি, লও পাপ।
থাক মাের বাপ ||

“কাদি অথচ পাপ যায় না।”
বলি ভগবান, ওহে,
খটি কর মন।
ছেড়ােনা, পাপের বলি, তুমি প্রাণ ধন ।।
একমুখে দুই কথা,
শুনে হাসি পায় ।
বিপরীত
বস্তু পাপী,
একমুখে চায় ।।
অন্তরেতে হাসি ভরা,
বাহিরের জল।
হাসি কান্না দুই দিকে,
পাপীর সম্বল ||
তােমার কথায় বাপু,
বিশ্বাস না হয় ।
পাপীর দীর্ঘ নিশ্বাস,
এত কভু নয় |
কেঁদে কেঁদে তুমি কর, অনুতাপ ভাণ।
লঙ্কা দিয়ে বােধ করি, জল টেনে আন।

স্বাভাবিক হও।
ঝড় নাই আসে।
তরঙ্গ না ভাসে।
দুই হাতে পাখা কোরে,
নাড়িলে সমুদ্র জল,
দুকলসী জল ঢেলে,
বের কোরে দিলে ধোঁয়া,
বান নাহি ডাকে।
মেঘে নাহি ঢাকে ||
জানা নাহি যায়।
কখন্‌ উঠিবে ঝড়,
কখন তরঙ্গ উঠে,
ঝড় উঠে বাণ ডাকে,
ইঙ্গিত না পায় ||
স্বভাবের বলে।
স্বভাবের গুণে মেঘ,
আকাশেতে চলে |
হইবে তােমার ।
চেষ্টা কর, বৃথা চেষ্টা,
চেষ্টা কোরে অনুতাপ,
একদিন কোথা হতে,
হয়না কাহার।।
মেঘ উঠে মনে।
অনুতাপ ঝড় এসে,
কে গাে সঘনে ॥

স্বাভাবিক হও। মনের আকাশ। পরিস্কার কোরে দেয়, আনন্দিত করে দিক, দুর্গন্ধ আঁধার যাই, ভুলে যাই একেবারে, সুগন্ধ বাতাস। ছিল এ জীবনে। পেয়ে নব মনে || ক্রন্দন উঠিত বােলে, চক্ষু রগড়ালে কান্না, হাসা ভাল বােলে তুমি, সে হাসিটা কাষ্ট হাসি, কাদিতে কে পারে । উঠে বারে বারে । হালিতে কিপার। এই কথা সার ।। আনা নাহি যায় । কে আনিতে চায় । মনে কোরে অনুতাপ, জোর কোরে দুঃখ টেনে, মন যদি ভাল চাও, পাপ যায় যদি চাও, স্বাভাবিক হও। প্রকৃতিরে লও |} আপন বলেতে কভু পাপ নাহি যায়। হাতে কোরে কেবা কবে, আগুন নেবায়| চেষ্টা নাহি কোরে। দয়াকর মােরে ।। ভগবানে ডাক কিছু, কেবল বনহে তারে, এই বােলে একে বারে, সময়ে আসিবে দেখ, ঢেলে দেও মন। নূতন জীবন ।

গােলাপ।
অনন্ত সাকার হােয়ে,
গােলাপের রূপ লয়ে,
মােহিতে মানব মন আসিলেন ভবে।
সুন্দর যেখানে ছিল, একাধারে সম্মিলিল,
গােলাপ তােমার নাম হইল সে তবে।
কি সুন্দর তব মুখ, দেখে ভুলি সব দুখ,
রূপের ছটায় কাবু কর প্রাণ মন।
সৌরভ ছুটিয়া যায়, আরাম সকলে পায়,
নবভাবে নবরসে জুড়ায় জীবন ।।
তব গন্ধ নিৱমল,
একবার পেলে জল
গােলাপের জল হােয়ে মাতায় ভুবন।
চন্দনের সঙ্গে মিশি, আমােদিয়া দশ দিশি,
আতর হইয়া থাক হৃদয় রঞ্জন ||
সাধু সঙ্গে কত ফল, সাধুদের কত বল,
যার নাহি কিছুগুণ সেও গুণী হয়।

গোলাপ।
২১
মন্দ যারা ভাল হয়,
ভাল আরাে ভাল হয়,
ভাল ছাড়া অন্য কিছু তােমাতে না হয়।
গােলাপ, সাধুর মত,
হয় তব কাৰ্য যত,
তােমার শোভাতে হয় এভব সুন্দর।
সাধুদের সঙ্গে থেকে, সাধুদের রূপ দেখে;
জগত নূতন রূপ ধরে মনোহর।
জলের মতন যারা, রূপ গন্ধ হীন তারা,
সুরূপ সুগন্ধ হয় পেয়ে সাধু সঙ্গ।
আর যার ভাল মন, পেয়ে সে সাধু চন্দন,
আতরের মত তার হয়ে যায় অঙ্গ।
তুমি, সাধু, দুই ভাই, জগতেত এলে তাই,
প্রচারিত সৌন্দর্যের অপার গৌরব।
স্বর্গহতে দুই ফুল,
মর্তলোকে লও মূল,
রেখে যাও পৃথিবীতে অনন্ত সৌরভ ।।

গােলাপ।
তােমারে দেখিলে মন, নেচে নেচে উঠে ।
তােমার রূপেতে দুখ, চোলে যায় ছুটে ।
হেরিয়ে সুন্দর মুখ, তৃপ্তি নাহি হয় ।
যত দেখি আরাে দেখি, শেষ নাহি রয়।
কি কোমল অঙ্গ তব, ছুয়ে সুখী হই ।
ইচ্ছা হয় কোরে শয্যা, শুয়ে তাহে রই ।
কি সৌরভ তােমা হতে, বহে সৰ্ব্বক্ষণ !
সম্ভোগ করিয়া হই, পুলকিত মন।
গােলাপ তােমার আমি, অনুগত দাস।
তব হাসি দেখে হয়, হৃদয় উচ্ছাস।
হেসে হেসে, সুখে ভেসে, কাটাই জীবন।
দেখিতে দেখিতে রূপ, গােলে যায় মন ।
ভয়ের কারণ এক, বলিবারে চাই।
বল দেখি কেন মূলে, কঁাটা এত পাই ।

গােলপ।
৩১
ইচ্ছা হয় হাত দিয়া ধরিগাে তােমায় ।
কাটার ভয়েতে কিন্তু, (সে) সাধ চোলে যায় #
T
ON THE RECOVERY
OF
H. H. THE MAHARANI OF KUCH BEHAR
FROM A SERIOUS ILLNESS.
মেঘরাশি উঠেছিল, পশ্চিম অঞ্চলে।
উড়ে গেল সব তাহা, দেব দয়া বলে ।
মহারাণী, কি বলিব, কোন্ দৈত্য আমি।
হুঙ্কারিয়া উঠাইল, সেই মেঘরাশি।

কবিতমালা।
ভয়ে সারা মােরা সব, ডাকিনু সঘনে।
দয়াল পিতারে মােরা, বিপদ ভঞ্জনে।
তার পর দৈববাণী, হইল ভূতলে।
শুনে অপরূপ কথা, চক্ষু ভাসে জলে।
“জানিস, না কাহার তরে, তাের এত ভয় ?
“মহারাণী নিরাপদে আছেন নিশ্চয়।
“যার লাগি দেব দৈত্যে, হইল সংগ্রাম।
“যার লাগি পাপী সবে, পেলে প্রাণারাম ।
“যার লাগি এল ভবে, নূতন বিধান।
‘যার লাগি ব্ৰহ্মানন্দ, সপিলেন প্রাণ ।
“যার নব রাজ্যে, হােলাে নাম গান।
“যার লাগি হবে পূর্ণ, সৰ্ব্বাঙ্গ বিধান।
“তিনি কেন এত আগে, যাবেন চলিয়া।
‘বিধাতার শুভ ইচ্ছা, না পূর্ণ করিয়া ।
“যত দিন সেই ইচ্ছা, না হয় পূরণ।
“যত দিন নব ধর্ম, না হয় স্থাপন ।
“তত দিন মহারাণী, বহুকাল ধরি।
“পালিবেন সুখে রাজ্য, আনন্দ বিতরি।”
আদেতে ভাসে মন, শুনি এ বচন।
নব আশা নব বল, ধরিল জীবন।

অন্ দি রিকভারি।
সুখে থাক বেঁচে থাক, থাক অনুরাগে।
কাকা তব ভগবানে, এই বর মাগে |
ধৰ্ম্ম লয়ে রাজ্য লয়ে, ন্যায় পথে থাক।
পিতাকে আদর্শ করে, হৃদয়েতে রাখ ।
প্রজাহিতে পরহিতে, রাখ সদা মন।
পরের দুঃখেতে সদা, করিও ক্রন্দন ।
তােমার জীবন ইহা, তোমার ত নয়।
অন্যের জীবন ইহা, জেনাে গাে নিশ্চয়।
যন্ত্র হয়ে আছ তুমি, ভগবান যন্ত্রী।
এক তন্ত্র হয়ে আছ, তিনি এক তন্ত্রী |
কত সুর কত লয়, বাহি রিবে এবে।
তােমারে লইয়ে কত, সঙ্গীত হইবে ||
অপরূপ লীলা হরি, খেলিছেন ভবে।
তুমি যােগ দিলে তবে, লীলা পূর্ণ হবে।
সৌভাগ্যশালিনী বল, কেবা আর আছে।
বিধানের খেলা সব, তােমারই কাছে ||
পিতা তব আশীৰ্বাদ, করেন সজোরে ।
জয় জয় ব্রহ্মানন্দ, বলি প্রাণ ভােরে ।

h
শুকতারা।
দেখেছি অনেক ফুল,
রূপে গুণে-অনুকুল,
সব চেয়ে গােলাপের মান।
শুনেছি অনেক গান,
মনােহর লয় তান,
কিছু নহে কোকিল সমান।
দেখিয়াছি স্রোতস্বতী, নিম্নগামী বেগবতী,
গঙ্গা ছাড়া শুদ্ধ কার জল ?
দেখেছি আকাশে কত, মােহিনী মূরতি যত,
তােমা হেন রূপসী কে বল ?

হাসি।
বল দেখি হলি,
কোথা হােতে আসি,
ভাসাচ্চ আনন্দে মন।
জোছনার রাশি,
তামস বিনাশি,
কোথা হােতে আগমন
রহস্য জানিনা,
বুঝিতে পারি না,
কোথা হােতে তুমি এলে ।
এই ত হাসিলে,
আনন্দে ভাসিলে,
বল দেখি কোথা গেলে ।
হইয়ে গম্ভীর,
আছে যে সুস্থির,
ধরে মুখে কত গুণ।
বিরূপ আকার,
ধরি একবার,
কেন হেসে হেসে খুন ||
মানুষ তােমার,
এই অধিকার,
হাসি তুব অলঙ্কার।

কবিতামলা।
পশু পক্ষী যত,
জীব শত শত,
হাসি বল আছে কার ।
স্বর্গেতে সৃজিত,
দেবতা গঠিত,
ছিল তথা কত সুখে ।
ভূলাতে মানবে,
আসিল সে ভবে,
শােভিল মানব মুখে ।
ঈশ্বর যখন,
মানুষ সুজন,
করিয়া পাঠান, ভবে ।
ভাবিলেন মনে,
সহিবে কেমনে,
দুঃখ শােক আদি সবে ।
হইয়ে নিরস্ত্র,
সম্পূর্ণ বিবস্ত্র,
নাহিক কিছু সম্বল।
কেমনে যুঝিবে,
কিরূপে বুঝিবে,
এত ঘাের শত্রু দল।
নখ দন্ত চর্ম,
অন্য কোন বৰ্ম্ম,
নাহিক তার সাথে ।
শীত গ্রীষ্ম বায়ু, করে ক্ষয় আয়ু,
কিছু নাই তার হাতে।
বিধাতা তখন,
করিয়া স্মরণ,
হাসিকে ডাকেন কাছে।

হাসি।
বলিলেন “হাসি, হােয়ে ভববাসী,
“যাও ওর পাছে পাছে ।
থাকিলে সে সুখে, বােসে তার মুখে,
“দিও তারে দিব্য বল।
“বিপদ যখন,
আসিবে সঘন,
“তাড়াইও শত্ৰু দল ।
যাতনাতাড়না,
করিলে লাঞ্ছনা,
“হাসিও মধুর হাসি।।
যাবে শােক পাপ, যাবে শক্ত তাপ,
“উড়ে যাবে মেঘরাশি।”
সেই জন্য হাসি, তােরে ভালবাসি,
তুই মাের দিব্য বল।
তুই যে সহায়,
ঈশ্বর দয়ায়,
কি করিবে শক্ত দল।
হাস ভাই হাস,
সৌন্দর্য প্রকাশ,
নাহিক কিছুই ভয়।
মরণ আসিবে, হাসি প্রকাশিবে,
হইবে হাসির জয় |
।

প্রার্থনা।
সহিয়ে বিষম, তাপ, করিয়াছি কত পাপ,
ভাবিয়া যে অন্ত নাহি পাই।
যাতনা কি শেষ হবে, শান্তি কি পাইব ভবে,
ঘুচিবে জঞ্জাল দুঃখ পাই।
শরীর ভাঙ্গিয়া পড়ে,
নিরাশ হৃদয় জুড়ে,
অন্ধকার হেরি চারিদিক।
বন্ধু ছাড়া হয়ে আমি, হয়েছি বিপথগামী,
জীবনে দিতেছি শত ধিক।
কোথা দয়াময় হরি, দেখা দেও কৃপা করি,
আশা দিয়ে করহে নির্ভয় ।
বুঝিয়াছি মিছে সব, বুদ্ধি আর নরগৌরব,
নিজ বলে নাইকো অভয় ।

প্রার্থনা।
হায়! দশা একি হােলাে, নিবিল নিশ্বাস আলো,
ডাকিয়া না পাই দয়াময়ে।
দেখি পাপী নরাধম, জঘন্য প্রকৃতি মম,
তিনিও গেলেন চলিয়ে ।।
হা বিভাে, করুণানিধি, মানিহে তােমার বিধি,
ছাড়ােনাত কভু পাপী জনে ।
অন্ধকার আসে যদি, থাকেনাক নিরবধি,
চলি যায় তব কৃপাগুণে।
পড়িয়া থাকিব তবে, যা হবার তাই হবে,
দীনভাবে ও চরণতলে।
জীবনে মরণে হরি, ধরিনু চরণ তরি,
ভব পার কর কৃপাবলে ।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Kabitamala

Author
Sen,krishnabihari
Title
Kabitamala
File name
Kabitamala
Text
OCR done
Citation
1895
Published
2009/11/11
Publisher
Kundabihari Sen,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
56
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Kabitamala
DLI number
512768
Barcode
4990010019811.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
hPr8sWTguQZ
Download PDF

Kabitamala