Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Kaumudi Vol.2

Sinha,kumudchandra · 2010/04/13

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

কৌমুদী
দ্বিতীয় খণ্ড
মহারাজ কুমুদচন্দ্র সিংহ, বি-এ
প্রণীত।
১৩৩৮ সন।
মূল্য • আনা, বাঁধাই ১, এক টাকা।

ময়মনসিংহ সৌরভ প্রেস হইতে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ভূমিকা গ্রন্থকার সুসঙ্গের মহারাজা কুমুদচন্দ্র সিংহ ১৬ই আশ্বিন ১৩২৩ সালে দেহত্যাগ করেন। তিনি আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করিতেন। কিছুদিন পূর্বে যখন তঁাহার সুযােগ্য পুত্র সুসঙ্গের বর্তমান মহারাজা শ্রীভূপেন্দ্রচন্দ্র সিংহ তাহার পূজ্যপাদ পিতৃদেবের বিভিন্ন মাসিক পত্রে লিখিত প্রবন্ধগুলি পুস্তকাকারে প্রকাশ করিতে মনস্থ করিয়া আমাকে তাহার ভূমিকা লিখিতে অনুরোেধ করিলেন, তখন আমি সে অনুবােধ পালন কৰ্তব্য বলিয়া মনে করিলাম। * অর্ধ শতাব্দীর মধ্যে বঙ্গসাহিত্য যে সমৃদ্ধিলাভ করিয়াছে তাহা আশার কথা সন্দেহ নাই। কিন্তু বিচার করিয়া দেখিলে দেখিতে পাই রস-সাহিত্য যাহাকে বলে, বাঙালীর প্রবণতা সেই দিকে। সাহিত্যের নানা দিক আছে। জ্ঞান রাজ্যের নূতন নূতন দিকের সন্ধান বলিয়া দিবে এমন গ্রন্থ বাংলায় কয়খানি রচিত হইয়াছে ?

• বাংলার প্রাচীন সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলির মধ্যে সুসঙ্গ রাজবংশ উচ্চ স্থান অধিকার করে। এই ব্রাহ্মণবংশে সাহিত্যের অনুশীলন নূতন নহে। গ্রন্থকার মহারাজের বৃদ্ধ প্রপিতামহ রাজা ৰাজসিংহ ভারতচন্দ্রের সমসাময়িক। রাজসিংহ কিরূপ সুকবি ছিলেন কৌমুদীর প্রথম প্রবন্ধেই তাহার পরিচয় পাওয়া যাইবে । এইরূপ সংস্কৃতিসম্পন্ন বংশে জন্মগ্রহণ করিয়া গ্রন্থকার যে জ্ঞানালােচনায় অবহিত হইবেন ইহা আশ্চর্যের বিষয় নহে। তবে বিস্ময় বােধ করি অন্য এক কারণে। বড়লােকের কাছে সাহিত্য অবসর বিনােদনের উপায় মাত্র। কৌমুদী পড়িলেই বুঝা যাইবে মহারাজ-সুসঙ্গ সৌখীন সাহিত্যিক নহেন। কাহিনীর রসেই তঁাহার হৃদয় তৃপ্ত নহে। তিনি সাহিত্যের অপরিচিত পথের পথিক। প্রাচীন ভারতে পশুচিকিৎসা নিবন্ধটিতে তিনি সংস্কৃত সাহিত্যের একটি প্রায় অজ্ঞাতপূর্ব অধ্যায়ের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়াছেন। এই দিকে যাহারা চেষ্টা করিবেন তঁাহারা বাংলার জ্ঞান ভাণ্ডারে অনেক নুতন তথ্য যােগাইতে পারিবে। ‘ভারতের গাে-জাতির অবনতি' সম্পর্কে অনেক ভাবিবার কথা আছে। গো-কুলের রক্ষা ও উন্নতির উপর ভারতবর্ষের কৃল্যাণ যে বহুল পরিমাণে নির্ভর করে তাহা অবিসংবাদিত । এই অবনতি নিরােধের উপায় সম্বন্ধে মহারাজ যে চিন্তা করিয়াছেন বাংলার অন্যান্য ভূম্যধিকারী সেইরূপ চিন্তা করিলে আমাদের ভাবনার কারণ থাকিত না ।

•
বহুবিধ জ্ঞাতব্য বিষয়ের সমাবেশে • ‘দুগ্ধ
সমাবেশে • ‘দুগ্ধ সম্পর্কিত
আলােচনাটি পরম মনােজ্ঞ হইয়াছে। একদিকে ইংরেজী বই
আর একদিকে সংস্কৃত শাস্ত্র, অন্য দিকে নিজের অভিজ্ঞতা, এই
তিনে মিলিয়া এই প্রবন্ধটিকে নানাবিধ তথ্যের আকর করিয়া
লিয়াছে। “দুগ্ধ সম্বন্ধে মােটামুটি অনেক কথাই বলা
ইহঁয়াছে। বিশেষজ্ঞ হয়ত আধুনিক বিজ্ঞানের আরও অনেক
কথা বলিতে পারিতেন কিন্তু তৎসত্ত্বেও সংস্কৃত শাস্ত্রে নিহিত দুগ্ধ
সংক্রান্ত পুরাকালীন তথ্য—আমাদের অজ্ঞাত থাকিয়া যাইত।
। ইরূপ অপ্রচলিত শাস্ত্রে মহারাজের গভীর পাণ্ডিত্য বিস্ময়কর !
বইখানি শুধু কৌতুহলের উদ্দীপক নহে, ইহার ব্যবহারিক
উপকারিতা কতটা পড়িলেই তাহা পাঠক বুঝিতে পারিবেন।
১লা অগ্রহায়ণ, ১৩৩৮ সন
শ্ৰগিরীন্দ্রশেখর বসু
১৪ পার্শীবাগান, কলিকাতা

No text on this page.

নিবেদন
“কৌমুদী” দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হইল।
শ্রদ্ধেয় ডাঃ গিরীন্দ্রশেখর বসু এ বি, ডি এস্ সি, মহােদয়
ভূমিকা লিখিয়া দেওয়ায় আপ্যায়িত হইয়াছি। স্বর্গীয় পিতৃদেব
ডা: বসু মহাশয়কে একাধারে বিশেষ স্নেহ ও শ্রদ্ধা করিতেন।
সৌরভ সম্পাদক শ্রীযুক্ত নরেন্দ্রনাথ মজুমদার মহাশয় দ্বিতীয়
খণ্ড প্রকাশ কাৰ্যে বিশেষ সহায়তা করিয়াছেন।
তৃতীয় খণ্ড ও শীঘ্রই প্রকাশিত করিবার বাসনা রহিল।
কৌমুদীর প্রবন্ধ প্রায় গুলিই “সাহিত্য সংহিতা” “আরতি”
“বান্ধব”, “সৌরভ” প্রভৃতি মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত
হইয়াছিল। অধিকাংশ প্রবন্ধই বিংশতিবর্ষের পূর্বে লিখিত
হইয়াছে।
তৃতীয় খণ্ডে প্রত্যেক প্রবন্ধ প্রকাশিত হইবার তারিখ
সন্নিবেশিত হইবে।
১লা পৌষ, ১৩৩৮ সন
ভূপেন্দ্রচন্দ্র সিংহ শৰ্ম্মা।
মুসঙ্গ

मूली
ময়মনসিহের প্রাচীন কবি
রাজা রাজসিংহ
২। প্রাচীন ভারতে পশু চিকিৎসা
ভারতে গাে-জাতির অবনতি ও
তন্নিরােধের উপায় চিন্তা
a fe
৪। • দুগ্ধ

T}}}
এ।
-
e
T
পশু পক্ষ পরিবেষ্টত স্বগী রাঙ্গা কুমুদ চত্ৰ সিংহ।

No text on this page.

কৌমুদী - ময়মনসিংহের প্রাচীন কবি । ভরাজা রাজসিংহ। আমার বৃদ্ধ প্রপিতামহ রাজা রাজসিংহ বাহাদুর একজন পরম ধাৰ্ম্মিক প্রাতঃস্মরণীয় মহাপুরুষ ছিলেন। সুসঙ্গ রাজ্যে যে সকল ব্ৰহ্মত্র প্রভৃতি বিদ্যমান আছে তাহার অধিকাংশই তাহার কর্তৃক প্রদত্ত। তাহার দানশীলতায় উপকৃত হয় নাই, সুসঙ্গ রাজ্যে এমন প্রায় কেহই নাই; কেবল তাহাই নহে তিনি একজন সুকবিও ছিলেন, তাঁহার রচিত একখানা হস্তলিখিত কাব্য ও দুই তিন খানা খণ্ড কাব্য অদ্যপি আমাদের পুস্তকালয়ে বৰ্তমান আছে। সুখের বিষয় এই যে, বিগত ১৩০৪ বঙ্গাব্দের প্রলয়ঙ্কর ভীষণ ভূকম্পনে আমাদের অনেক বহুমূল্য ধনপ্রাণ নষ্ট হইলেও কবির, বহু-অয়াস-রচিত কাব্যগুলি বিলুপ্ত হয় কৌমুদী নাই , কিন্তু সে গুলি লিপিকর-প্রমাদে এত দূষিত যে এক- প্রকার অপাঠ্য বলিলেও হয়। কবির রচিত “রাজু-মালা” ও “মনস-পাঁচালী” নামক খণ্ড-কাব্যদয় আমার পিতৃব্য শ্ৰীযু রাজা কমলকৃষ্ণ সিংহ বাহাদুরের যত্ন মুদ্রিত হইয়া, তল-সমাজে প্রচারিত হইয়াছে। তাধূনা আমি “ভারতীমঙ্গল” কাৰখানা প্রচারিত করিতে ইচ্ছা করিয়া বহু স্টীতে পাঠোদ্ধার করিয়াছি। পূর্বপুরুষের কীৰ্ত্তি রক্ষা দ্বারা পুণ্যলাভ এবং কর্তব্যপান এই উভয় কাৰ্যই সম্পন্ন হয়, এতদভিপ্রায়েই গ্রন্থ-প্রচারের ইচ্ছা, যশ অথবা ধন-লাভের আশায় নহে। এই ক্ষুদ্র প্রবন্ধে কেবল “ভাতী মঙ্গল” সম্বন্ধেই আলােচনা করিব। “ভারতীমঙ্গল” কালিদাসের সরস্বতী কুণ্ডে স্নানান্তে ভারতীদেবীর বরলাভ বিষয়ক প্রচলিত প্রস্তাব অবলম্বনে রচিত। যদিও এই কাব্যে কবির চরিত্রাঙ্কনী-প্রতিভা ততদূর পরিস্ফুট হয় নাই, তথাপি রচন-মাধুৰ্য্যে, রস-বৈচিত্রে এবং ভাষার পারি- পাট্যে ইহা বঙ্গসাহিত্য-ভাণ্ডারে কেবল নগণ্য স্থান অধিকার করিবে, এমন বােধ হয় না। কবির ভাষা যে প্রকার সংস্কৃত আভিধানিক শব্দে পরিপূর্ণ, তাহাতে অনুমান হয় তিনি একজন সংস্কৃত-ভাষায় সুপণ্ডিত ছিলেন। গ্রন্থের বর্ণনীয় বিষয় এই যে,-মিথিলা-নগরীতে শক্রজিত নামে এক রাজা ছিলেন, তাঁহার দুই পুত্র ও এক কন্যা হয়। পুত্রদ্বয় ও রাজকন্যা যথাশাস্ত্র সুশিক্ষালাভ করিলেন, অতঃপর . কৌমুদী কন্যাটা বাল্যাবসানে যৌবনে পদার্পণ করিলেন; কবির ভাষায় বলিতে গেলে, “বাবস্থা হৈল শেষ, যৌবনেতে পরবেশ, ভুপাত্মজা বাড়ে দিনে দিনে। দেখি তার মুখছন্দ, চকোরাদ্বরেফে দ্বন্দ, সোম পদ্ম-ভ্রম ভাবি মনে।” তখন কন্যাকে রাজা-“সমাপব তারে যেবা জিনিবে বিচারে এই বলিয়া প্রতিজ্ঞা করিলেন। কন্যাভাগী বহুপণ্ডিত বিচারে *রাভূত হইয়া লজ্জিত হইলে, তাহারা কালিদাস নামক এক মূখ ব্রাহ্মকে পণ্ডিত কল্পনা করিয়া সকলে তাহার শিষ্যরূপে কন্যার সহিভ বচারে উপস্থিত হইলেন, তখন কালিদাস, “মধ্যে অধ্যাপক আছে পরম-কৌতুকে। মস্তক চুলায় মাত্র বাক্য নাই মুখে।” এই ভাবে রহিলেন,বিচারের ফল হইল যে, “না পায় পণ্ডিতে যাকে বিস্তর পড়িয়া। কালিদাস লভে তাকে মস্তক চুলায়া ।” কণা-লাভান্তে কালিদংস স্বকীয় জ্ঞানগরিমা প্রকাশিত হওয়ার আশঙ্কায়, মৌনবলম্বনই কর্তব্য মনে করিলেন,—কিন্তু দৈবাৎ অসাবধানতা বশতঃ একদিন তঁাহার মুখে অত্যন্ত প্রাকৃত ভাষা, ব্যক্ত হইয়া পড়িল; ইহাতে রাজকুমারী তঁহাকে যৎ- পরোনাস্তি অপমানিত ও লাঞ্ছিত করিলেন। অত্রাবস্থায় কালিদাস = ;

৪ । তথায় কৌমুদী নিতান্ত মনঃক্ষুন্ন হইয়া নৈমিষারণ্যে প্রবেশ করিলেন। কিছুকাল অবস্থানের পর শনকমুনি তাহার প্রতি কৃপাপরবশ হইয়া, সরস্বতী-সরিতে অবগাহন করিতে উপদেশ দিয়া, ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণের বিবরণ শ্রবণ করাইলেন ; এতদুপলক্ষে কবি, উক্ত পুরাণের কাহিনী সংক্ষেপে এবং সুকৌশলে ভারতীমঙ্গল কাব্যে সন্নিবেশিত করিয়াছেন। অতঃপর কালিদাসের অনুরােধে শনক মুনি, সরস্বতীদেবীর উৎপত্তি, দেবগণকর্তৃক তঁাহার অর্জন। এবং মুনিগণ কর্তৃক জগতে দেবীর পূজা প্রচারের বিষয় নুপূর্বিক বিবৃত করিলেন। তদনন্তর শনকমুনি কালিদাসকে কিছুকাল সংযমী অবস্থায় রাখিরা, সরস্বতীমন্ত্রে দীক্ষিত করিলেন। অষ্ট- মন্ত্র লাভ করিয়া কালিদাস, “শরৎ-শশাঙ্ক-সম নিৰ্ম্মল-শরীর। চপলতা খণ্ডি দ্বিজ হইল সুস্থির। অতঃপর কালিদাস মুনির উপদেশানুযায়ী, “জপে দিবা রাতি, ভাবিয়া ভারতী, মনে নাহি কিছু আর। শিশির-সময় যথা বারিচয়, তাহে তনু মজাইয়া। সকল যামিনী, দ্বিজ জপে বাণী অত্যন্ত আর হ'য়া ॥

কৌমুদী কঠোর তপস্যান্তে ভারতীদেবী কালিদাসের সমক্ষে প্রত্যক্ষরূপে আবিভূত হইয়া বর প্রদান করিলেন ; তখন কলিদাসের সর্বশাস্ত্র অধিষ্ঠান কণ্ঠে কৈল আসি । রাহু-গ্রাস হৈতে যেন মুক্ত হৈলা শশী। কৃষ্ণণু মূৰ্ছিত যেন থাকে ভস্ম মেলে। ইন্ধন-সংযােগ হৈলে প্রজ্জ্বলিতে জ্বলে। কিন্তু ভ্রান্তি বিমূঢ়-চিত্তে কালিদাস সর্বাদে বাগ্‌বাণীর রূপ-বৰ্ণনা আরম্ভ করিলে, দেবী কুপিত হইয়া তাহাকে অভিশপ্ত করিলেন। ইহাতে তিনি প্রখ্যাতনামা রাজা বিক্রমাদিত্যের সভাস হইয়া, অখণ্ডনীয় শাপ-প্রভাবে বারবণিতা-গৃহে নির্বাণ লাভ করিলেন । জগদ্বিখ্যাত কবিকুল-চূড়ামণি মহাকবি কালি দাসের এই শশাচনীয় পরিণাম পরিতাপের বিষয় বটে। এই প্রবাদ বাক্য কতদূর সত্য, আমি তাহা বলিতে পারি না। কবির জন্মকাল ও গ্রন্থরচনার সময় নির্দেশ করিবার চেষ্টা করিয়া, এই প্রস্তাবের উপসংহার করিব। দুর্ভাগ্যের বিষয় “ভারতীমঙ্গল কাব্যে” রচনার সময় নির্দিষ্ট হয় নাই ; গ্রন্থপাঠে বােধ হয়, কবির অগ্রজ রজকিশাের সিংহের জীবিত কালেই ইহা রচিত হইয়াছিল ; প্রায় প্রত্যেক কবিতার শেষভাগে কবি অগ্রজের প্রতি অসীম শ্রদ্ধা ও ভক্তির পরিচয় দিয়াছেন। তাঁহাদের সৌভ্রাত্র আদর্শস্থানীয় ছিল। রাজা কিশাের সিংহ ৩৬ বৎসর মাত্র বয়সে ১১৯২ বঙ্গাব্দে পরলােক গমন করেন, ৮ কৌমুদী অতএব তাহার জন্মকাল ১১৫৬ সন; কবি তাহা হইতে প্রায় দুই বৎসরের কনিষ্ঠ, ইহাতে তাহার জন্মকাল ১১৫৭৫৮ বঙ্গাব্দ হইতেছে , রাজা রাজসিংহ প্রায় ৭২ বৎসর বয়সে ১৯২৮ বঙ্গাব্দের ফাঙ্গুন মাসে স্বর্গারােহণ করেন ; ইহাতে অনুমিত হয় যে, কবি ৩০/৩২ বৎসর বয়সে “ভারতীমঙ্গল” রচনা করিয়াছিলেন; অতএব গ্ৰন্থখানা প্রায় ১২০ ১২২ বৎসর পূর্বে রচিত হইয়াছিল, একথা নিশ্চিত। আমাদের বংশে দত্তক পুত্রগ্রহণের পদ্ধতি বর্তমান নাই । রাজা কিশাের সিংহ অত্রক ছিলেন, তিনি মৃত্যুকালে তাহার অনুজ রাজা রাজসিংহকে সুসঙ্গ রাজ্যের অধীশ্বর করিয়া যান ; ইহার সহিতই ব্রিটীশ গভর্ণমেন্ট চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত স্থিরীকৃত করেন। আমাদের বংশে ইতিপূর্বে জ্যেষ্ঠপুত্রই রাধিকার। হইতেন; অধুনা বহুকারণাধীনে সম্পত্তি, দায়ভাগানুসারে বিভাজ: বলিয়া প্রতিপন্ন হইয়াছে, অতএব জ্যেষ্ঠাধিকারিত্বের নিয়ম রহিত হইয়া গিয়াছে। প্রসঙ্গাধীনে আমি মূল বিষয় হইতে দূরে আসিয়া পড়িয়াছি, এখন প্রকৃতানুসরণ করা যাক। কবির জন্মকাল যাহা স্থিরীকৃত হইয়াছে, হাতে ভঁহাকে রায় গুণাকর ভারতচন্দ্রের সমসাময়িক লােক বলিয়া স্থির করা যাইতে পারে; কিন্তু তিনি ভারতচন্দ্রের গ্রন্থাবলী পাঠ করিয়া- ছিলেন কিনা বলিতে পারি না। যাহা হউক, এত প্রাচীনকালেও কবি যে এত নাজ্জিত বঙ্গ ভাষায় গ্রন্থ রচনা করিয়াছেন, ইহাই কৌমুদী আশ্চর্যের বিষয়। আমরা আশা করি, প্রাচীন বঙ্গসাহিত্যামােদা সুধীগণ “ভারতী মঙ্গল” পাঠে অপরিসীম আনন্দানুভব করিবেন এবং কবির শ্রমও সফল হইবে এবং তাহার বংশধর বা আমরাও কথাঞ্চৎ গৌরবান্বিত হইব। অতঃপর রাজা রাজসিংহ হইতে আমাদের বংশাবলী নিম্নে প্রদান করিয়া, এই ক্ষুদ্র প্রবন্ধের উপসংহার করিতেছি। বংশ প্রবক সোমেশ্বর পাঠক (ইনি কান্যকুজ হইতে পরিব্রাজকবেশে বঙ্গদেশে হাসিয়া সুসঙ্গে রাজ্য স্থাপিত করেন, ইহার বিস্তৃত বিবরণ সুসঙ্গের ইহাসে বিবৃত করার ইচ্ছা আছে । রাজা রাজসিংহ ( সােগেশ্বর পাঠক হইতে দ্বাদশ পুরুষ) । ১) বৈদ্যনাথ সিংহ (২) রাজা বিশ্বনাথ (৩) রাজা গোপীনাথ (৪) রাজা জগন্নাথ (৫) কৃষ্ণনাথ সিংহ শৰ্ম্মা। সিংহ শৰ্ম্ম।। সিংহ শৰ্ম্মা। সিংহ শৰ্ম্মা। { পিতা বর্তমানে ইনিও একজন (অপুত্রক মৃত ' মপুত্ৰক মৃত ) সুকবি। ইনি জগ- দ্ধাত্রী গীতাবলী- নামক কাব্য ৰচনা করিয়াছেন। রাজা প্রাণকৃষ্ণ সিংহ শৰ্ম্মা বাহাদুর। . (১) মহারাজ রাজকৃষ্ণ (২) রাজা কমলকৃষ্ণ সিংহ শৰ্ম্মা বাহাদুর । সিংহ শৰ্ম্মা। (৩) রাজা জগৎকৃষ্ণ (৪) রাজা শিব সিহ শশ্মা। সিংহ শৰ্ম্মা। [১] মহারাজ কুমুদ- চন্দ্র সিংহ শৰ্ম্মা। [২] রাজা নীরদচন্দ্র সিংহ শৰ্ম্মা। সিংহ শৰ্ম্ম। [৩] ৰজা নগেন্দ্রচন্দ্র [8] রাজা দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শৰ্ম্মা।

No text on this page.

প্রাচীন ভারতে পশু-চিকিৎসা। প্রাচীন ভারতে পশু-চিকিৎসা বিষয়ে কীদৃশ উন্নতি সাধিত ছইয়াছিল, তৎসম্বন্ধে সংক্ষেপে কয়েকটা কথা আলােচনার জন্য এই ক্ষুদ্র প্রবন্ধের অবতারণা। বর্তমানকালে পাশ্চাত্য শিক্ষাপ্রাপ্ত অস্মদেশীয় অনেকেরই বােধ হয় এই বিশ্বাস যে প্রাচীন ভারতের ঋষি সম্প্রদায় মানবের ব্যাধি উপশমনর্থ আয়ুর্বেদ গ্রন্থের কতক প্রচার করিয়া থাকিলেও গৃহপালিত পশুদিগের চিকিৎসা সম্বন্ধে আলােচনায় এবং তৎসংক্রান্ত গ্রন্থ প্রণয়নে তাহারা সম্পূর্ণ উদাসীন ছিলেন। এই ধারণা যে নিতান্ত ভ্রান্তিমূলক, তাহাই আমরা যথাসাধ্য প্রতিপন্ন করিতে চেষ্টা করিব। উক্ত মহাত্মারা ইহা ও বলিয়া থাকেন মে, আমাদের পূর্বতন ঋষিগণ ধ্যাননিমীলিত নেত্রে কেবল মাত্র পারলৌকিক ও অধ্যাত্ম বিষয়ের আলােচনাতেই কালাতিপাত করত, ইহলৌকিক সর্ববিষয়ে উপেক্ষা প্রদর্শন করিয়া ঐহিক উন্নতির পথ একেবারে বন্ধ করিয়া গিয়াছেন। এই উক্তি কতদূর বিচারখই তাহার ও আলোচনা প্রয়ােজন।

। কৌমুদী আৰ্য-ঋষিগণ ব্ৰহ্মবিদ্যাকেই পরা { শ্রেষ্ঠ বিদ্যা নামে অভিহিত করিয়াছিলেন; কারণ তাহারা বলিয়াছেন যে “পরা যয় অদক্ষরমধিগম্যতে ”; এবং ব্যতিরিক্ত সর্ববিধ লৌকিক শাস্ত্রকে তঁাহারা “অপরাবিদ্যা” আখ্যায় আখ্যায়িত করিয়াছিলেন । পরন্তু যারা প্রকৃত তত্ত্বানুসন্ধায়ী তাহারা ও অবগত আছেন যে, লােকহিতৈষণাপ্রনোদিত প্রাচীন ভারতীয় ঋষিসঙ্ঘ ধৰ্ম্ম, অর্থ, কাম, মােক্ষ, এই চতুর্বর্গসাধননাপযােগী বিবিধ গ্রন্থ প্রণয়ন করত: জগতের অশেষ কল্যাণ সাধনে যত্ন ও পরিশ্রমের ত্রুটি করিয়া যান নাই অবশ্য আমাদের দুর্ভাগ্য বশতঃ এই সমস্ত গ্রন্থের অধিকাংশই নানা বিপ্লবে কালের করাল কুক্ষিগত হইয়াছে; তথাপি যাহা অদ্যাপি অবশিষ্ট আছে, তারাই বিলক্ষণরূপে প্রতীতি জন্মে যে, পরমকারুণিক ঋষিগণ একদিকে অধ্যাত্ম বিষয়ে চিন্তারত থাকিয়াও অপরদিকে লােক হিতকর নানা বিদ্যালােচনায় পরায়ুখ ছিলেন না। তঁাহারা যেমন ডঙ্গলেদ (শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, জ্যোতিষ এবং ছন্দ এই ছয়- বেদের অঙ্গ, উপনিষদ্ প্রভৃতির আলােচনার দ্বারা অধ্যাত্ম জ্ঞানে উন্নতির উচ্চ-সােপানে আরোহণ করিয়াছিলেন এবং ষড়-দর্শন আলােচনাতে সূক্ষম বিচারশক্তি এবং, তীক্ষ্ণ মনীষার পরিচয় দিয়াছিলেন, পক্ষান্তরে লােক হিতকর আয়ুর্বেদ (মনুষ্যায়ূর্বেদ, পায়ুর্বেদ, বৃক্ষায়ুবেদ), গণিত বীজ, পাটি, জ্যামিতি, ত্রিকোন- মিতি, পরিমিতি, খগােল প্রভৃতি), গন্ধৰ্ব্ববেদ (সঙ্গীত শাস্ত্র), कोन्गूप्तौ ধনুর্বেদ, শিল্প-শাস্ত্র, বাস্তুবিদ্যা, পতিবিদ্যা, কাব্য, অলঙ্কার, নাটক, কথা, ঐন্দ্রজালিকবিদ্যা প্রভৃতি নানা বিদ্যার অালোচনা দ্বারা ঐহিক উন্নতির পথ ও উম্মুক্ত করিয়া গিয়াছেন। চতুঃষষ্টি- কলা-বিদ্যা অামরা এগুলিকে fine arts বলিতে পারি) প্রাচীন ভারতে রীতিমত আলােচিত হত। বাৎস্যায়ন-প্রণীত কামসূত্র গ্রন্থের সাধারণাধিকরণের তৃতীয় অধ্যায় পাঠে কলা বিদ্যার প্রত্যেকটীর সংজ্ঞা অবগত হওয়া যায়, এবং যশােদর কৃত উক্ত গ্রন্থেব টাকায় চতুঃষ্টি কলা বিদ্যার ব্যাখ্যাও দেওয়া আছে। এই সমস্ত নিবিষ্টান্তঃকরণে পৰ্যালােচনা করিলে স্পষ্ট উপলব্ধি হয় যে প্রাচীন ভারত এক সময়ে, আধ্যাত্মিক জ্ঞানের ত কথাই নই, পরন্তু ঐহিক শাস্ত্রাদির আলােচনাতে ও উন্নতির পরাকাষ্ঠা লাভ করিয়াছিল। বর্তমানে ইয়ুরােপীয় সভ্যতাভিমানী বুধবৃন্দ প্রাচীন ভারতের জ্ঞান-গভীরতার অবিসংবাদিত পরিচয় পাইয়া বিস্মিত ও স্তম্ভিত হইয়াছেন। ভারতের নানাস্থানে প্রাচীন মন্দির প্রভৃতির ভগ্নাবশেষ আদ্যাপি বিদ্যমান থাকিয়া ভারতীয় স্থপতি- বিদ্যার প্রকৃষ্ট সাক্ষ্য প্রদান করিতেছে। এই সমস্ত বিষয়ের বিস্তৃত আলোচনা আমাদের অভিপ্রেত নহে; অতএব এসম্বন্ধে আর অধিক না বলিয়া প্রাচীন ভারতের পশুচিকিৎসা বিষয়ক শাস্ত্রালোচনাতেই প্রবৃত্ত হইতেছি, কারণ ইহাই আমাদের অদ্যকার আলোচ্য বিষয়। অষ্টাঙ্গ আয়ুর্বেদ : (১) শল্য, শল্য, {} শাক্য,

{ ১২
;
কৌমুদী
(৩) কায়চিকিৎসা (8) কৌমারভৃত্য, (৫) অগদতন্ত্র, (৬)
ভূতবাি , (৭) রসায়নতন্ত্র, (৮) বাজীকরণ তন্ত্র,। আয়র্বেদের
অষ্টাঙ্গ প্রচারদ্বারা যেমন মানবের আগন্তুক, দোষ সমূখ এবং
কৰ্ম্ম, এই ত্রিবিধ ব্যাধির উপশমনর্থ ঋষিগণ নানাপ্রকার
ভেষজ আবিষ্কার করত মানব জাতির অশেষ কল্যাণ সাধন
করিয়া গিয়াছেন, তদ্রুপ পশ্বায়ুর্বেদ, (অশ্বায়ুর্বেদ, গজায়ুৰ্বেদ,
বৃক্ষায়ুৰ্বেদ প্রভৃতির প্রচারদ্বারাও মানবের নিত্য প্রয়ােজনীয়
গবাশ্বাদির রক্ষা ও ব্যাধি প্রশমনের উপায় চিন্তা করিতেও
বিরত ছিলেন না। কেবল ইহাই নহে; তাহারা বৃদিগকেও
[ উভিজ্ঞ মাত্রকেই ; জীবশ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত করতঃ তাহাদের
ব্যাধি-প্রতিকার জন্য “বৃক্ষায়ুবের্দ” প্রচার করিয়া বুদ্ধিমত্তার ও
অনুসন্ধিৎসার একশেষ নিদর্শন প্রকাশ করিয়া গিয়াছেন।
আয়ুর্বেদে প্রাণিগণ চারিভাগে বিভক্ত হইয়াছে ; যথা-
(১) জরায়ুজ (মনুষ্য, বানর প্রভৃতি অন্যান্য চতুষ্পদ
স্তন্যপায়ীজীব)
(২) অওজ (পক্ষী, কীট, পতঙ্গ, মৎস্য, সরীসৃপাদি)।
(৩) স্বেদজ (মশকদংশ, উৎকুণাদি)
(৪) উদভি (বৃক্ষ, লতা, তৃণ গুল্মদি] ।
বহু সহস্র বৎসর পূর্বে মহর্ষি মনু গম্ভীরস্বরে বলিয়াছিলেন
যে, বৃক্ষাদিরও প্রাণ আছে ও তাহারা ও সুখ দুঃখানুভব করে।
“অন্তুঃসংজ্ঞা ভবন্ত্যেতে সুখদুঃখসমন্বিতা” অর্থাৎ বৃক্ষাদির ও
;

কৌমুদী অন্তঃস। আছে, এবং ইহারাও অন্যান্য প্রাণীর ন্যায় সুখদুঃখানুভব করিয়া থাকে। আমাদের শাস্ত্রে বৃক্ষাদির ও তপনের বিধান আছে। অত্যন্ত আহলাদের বিষয় এই যে, জগৎবিখ্যাত অধ্যাপক ডাক্তার জগদীশচন্দ্র, : বসু মহাশয় অধুন। আবার প্রাচীন ঋষি বাক্যেরই যথার্থ তাহার উদ্ভাবিত যন্ত্র সাহায্য প্রমাণিত করতঃ পাশ্চাত্য জগৎকেও চমৎকৃত করিয়াছেন। একথাগুলি, অপ্রাসঙ্গিক হইলেও বলিতে বাধ্য হইলাম। বৃক্ষায়ুঙ্গে সম্বন্ধে “শাঙ্গ ধর পদ্ধতি” “কেদারকল্প” “কৃষিপরাশর” প্রভৃতি গ্রন্থপাঠে অনেক কথা জানা যায়। বর্তমান প্রবন্ধে বৃক্ষায়ুর্বেদ আলোচ্য বিষয় নহে, অতএব তাহা পরিত্যক্ত এতাব তা পাঠকবর্গ বােধ হয় বিলক্ষণরূপে হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিয়াছেন যে, ভারতীয় ঋবিগণ লােক-হিতকর কোনও বিষয়ের আলোচনাতেই উদাসীন্য প্রকাশ করেন নাই। তাহারা যে কেবলই যােগী ছিলেন তাহা নহে, অপিচ পার্থিব উন্নতির চিন্তায় ও রত ছিলেন, একথায় বােধ হয়, কোনও আপত্তি হইৰে , এবং পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রাপ্ত মহাত্মাগণের উক্তি যে বিচারসহ নহে, তাহাও বােধ হয় প্রতিপন্ন হইল। অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের আলােচনায় আমরা প্রকৃত প্রস্তাব হইতে একটু দূরে আসিয়া পড়িয়াছি অধুনা প্রকৃত বিষয়ের অনুসরণ করা যাউক।-সংস্কৃত কাব্যাদির টাকা এবং পুরাণ পাঠে অবগত হওয়া যায় যে, “স্ত্যায়ুৰ্বেদ” ও “অশ্বীয়ুর্বেদ হইল। }

,
कोशूप्तौ
সম্বন্ধে পৃথক পৃথক গ্রন্থ প্রাচীন ভারতে চারিত হইয়াছিল ।
প্রমাণ স্বরূপ আমরা অগ্নি পুরাণের ২৭৬ অধ্যায়ের একটা শ্লোক
উদ্ধত করিতেছি সেইটি এই যথা-
পালকাপপ্যাহঙ্গরাজায় গজায়ুৰ্বেদমব্রবীৎ।
শালিহােত্রঃ সুশ্রুতায় হয়ায়ুৰ্বেদমুক্তবান্ ।
এতদ্বারা ইহা প্রতিপন্ন হইতেছে যে, “পাল কাপ্য” অঙ্গাধি-
পতির নিকট “গজায়ুৰ্বেদ” এবং মহষি “শালিহোত্র” “সুশ্রুতের
নিকট “শ্বায়ুৰ্বেদ” বলছিলেন ; অতএব “পাল কাপ।” এবং
“শালিহোত্র” এই দুই মহাত্মা যে গজায়ুন ও অশ্বায়ুর্বেদের
আদি প্রচারক তাহা প্রতিপন্ন হইতেছে । রামায়ণ পাঠে আমরা
অবগত হই যে, অঙ্গাধিপতি রাজা “লােমপাদ” অযোধ্যাখপতি
মহারাজ দশরথের পরম আত্মীয় ও সুহৃদছিলেন। মহারাজ দশরথ
এই রাজাব নিকট স্বীয় দুহিতা শান্তাকে “দমিত্রা” কন্যা স্বরূপ
অৰ্পণ করিয়াছিলেন এবং বিভাগুক ঋষির পুত্র ঋষ্যশৃঙ্গের সহিত
শান্তা পরিণীত হইয়াছিলেন। মহারাজ দশরথ চতুর্বিংশ ত্রেতাযুগে
আবির্ভূত হইয়াছিলেন। এতৎসম্বন্ধে মৎস্য পুরাণে উক্ত হইয়াছে যে
“চতুর্কিংশে যুগে রামাে বশিষ্ঠেন পুরােধসা।
সপ্তমে রাবণস্যার্থে জজ্ঞে দশরথাত্মঃ।”
অতএব মহর্ষি পালকাপ্য যে দশরথের সমসাময়িক লােক,
তাহাতে বােধ হয় সন্দেহ করিবার কোন কারণ নাই, কেননা
রাজা ললামপাদ (অঙ্গাধিপতি) সন্নিধানেই মহর্ষি পালকাপ্য
।

কৌমুদী হ্যায়বদ বলিয়াছিলেন। এতদ্বারা পালকাপ্য-প্রণীত হ্যায়ুর্বেদ গ্রন্থের প্রাচীনত্ব নির্ধারিত হইতেছে। ঐতিহাসিক আলােচনা আমাদের অভিপ্রেত নহে, কেবল মাত্র গজায়ুর্বেদের প্রাচীনত্ব প্রমাণ জই প্রসাধীন ২। চটী কথা বলা হইল। পালকাপ্য প্রণীত হস্তায়ুৰ্বেদ গ্রন্থ অতি বিস্তীর্ণ। ইহা {১ “মহরােগস্থান” [২] “ক্ষুদ্র রােগ স্থান” [৩] শলাস্থান এবং f৪} “উত্তর স্থান” এই চারিটি ভাগে বিভক্ত। “মহারােগ স্থানে” ১৮টা, “ক্ষুদ্র রোগস্থানে” ৭২টা, “শল্যস্থানে” ৩৪টা, এবং “উত্তর স্থানে ৩৬টা অধ্যায় আছে ; অর্থাৎ সমগ্র গ্রন্থ ১৬০টা অধ্যায় যুক্ত। অন্যান্য আয়ুর্বেদ সংহিতার ন্যায় হস্তায়ুর্বেদের ভাষা ও গদ্যপদ্যময়, এবং ইহাতে দুই সহস্রাধিক শ্লোক নিবদ্ধ গ্রন্থে হস্তীর ৩১৫ প্রকার বিভিন্ন ব্যাধির নিদান ও fচকিৎসাদি বিষয় বর্ণিত হইয়াছে। গ্রন্থের ভাষা আর্ষ, গম্ভীর, প্রাঞ্জল এবং প্রসাদগুণবিশিষ্ট , ইহাও এই গ্রন্থের প্রাচীনত্বের অন্যতম প্রমাণ। “শল্যস্থানের” ত্রিংশাধ্যায়ে হস্তীর অস্ত্রচিকিৎসা সাধনার্থ যে সমস্ত যন্ত্রাদির বর্ণনা অাছে, তাহা প্রায় সুশ্রুত- •সংহিতা-বর্ণিত যন্ত্রাদিরই অনুরূপ, হস্তীর অবয়ব প্রভৃতির পার্থক্যনুরূপ যাহা কিছু বিভিন্নতা আছে। ইহা হওয়াই স্বাভাবিক এবং সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক যুক্তিসঙ্গত। ফলতঃ এই অধ্যায়টী অতি বিস্ময়জনক। অস্ত্র-কৰ্ম্ম ৭ প্রকার কথিত হইয়াছে, যথা- (২) ছেদ্য (Incision), (২) ভেদ্য (Puncturing), ৪। कोलो সম্বন্ধে পৃথক পৃথক গ্রন্থ প্রাচীন ভারতে .চারিত হইয়াছিল । প্রমাণ স্বরূপ আমরা অগ্নি পুরাণের ২৭৬ অধ্যায়ের একটা শ্লোক উদ্ধত করিতেছি সেইটি এই যথা- পালকাপপ্যাঙ্গরাজায় গজায়ুর্বেদমব্রবীৎ। শালিহােত্রঃ সুশ্রুতায় হয়ায়ুর্বেদমুক্ত। এতদ্বারা ইহা প্রতিপন্ন হইতেছে যে, “পাল কাপ্য” অঙ্গাধি- পতির নিকট “গজায়ুর্বেদ” এবং মহষি “শালিহোত্র” “সুশ্রুতের নিকট “অশ্বায়ুর্বেদ” বলছিলেন ; অতএব “পাল কাপ।” এবং “শালিহোত্র” এই দুই মহাত্মা যে গজয়ু ও অশ্বায়ুর্বেদের আদি প্রচারক তাহা প্রতিপন্ন হইতেছে । রামায়ণ পাঠে আমরা অবগত হই যে, অঙ্গাধিপতি রাজা “লোমপাদ” অযোধ্যাধপতি মহারাজ দশরথের পরম আত্মীয় ও সুহৃদছিলেন। মহারাজ দশরথ এই রাজাব নিকট স্বীয় দুহিতা শান্তাকে “দমিত্রা” কন্যা স্বরূপ অৰ্পণ করিয়াছিলেন এবং বিভাণ্ডক ঋষির পুত্র ঋষ্যশৃঙ্গের সহিত শান্তা পরিণীত হইয়াছিলেন। মহারাজ দশরথ চতুর্বিংশ ত্রেতাযুগে আবির্ভূত হইয়াছিলেন। এতৎসম্বন্ধে মৎস্য পুরাণে উক্ত হইয়াছে যে “চতুৰিবংশে যুগে রামাে বশিষ্ঠেন পুরােধস।। সপ্তমে। রাবণস্বার্থে ওজ্ঞে দশরথাত্মজ্বঃ।” অতএব মহর্ষি পালকাপ্য যে দশরথের সমসাময়িক লােক, তাহাতে বােধ হয় সন্দেহ করিবার কোন কারণ নাই, কেননা রাজা লোমপাদ (অঙ্গাধিপতি) সন্নিধানেই মহর্ষি পালকাপ্য কৌমুদী হস্ত্যয়ুর্বেদ বলিয়াছিলেন। এতদ্বারা পালকাপ্য-প্রণীত হস্ত্যায়ুর্বেদ গ্রন্থের প্রাচীনত্ব নির্ধারিত হইতেছে । ঐতিহাসিক আলােচনা অামাদের অভিপ্রেত নহে, কেবল মাত্র গজায়ুর্বেদের প্রাচীনত্ব প্রমাণ জট প্রসঙ্গাধীন ২। ৪টী কথা বলা হইল। পলকাপ্য প্রণীত হস্তায়ুর্বেদ গ্রন্থ অতি বিস্তার্ণ । ইহা {১} “মহরােগস্থান” [২] “ক্ষুদ্র বােগ স্থান,” [৩) শলাস্থান এবং “উত্তর স্থান” এই চারিটি ভাগে বিভক্ত। “মহারােগ স্থানে” ১৮টা, “ক্ষুদ্র রোগস্থানে” ৭২টা, “শল্যস্থানে” ৩৪টী, এবং “উত্তর স্থানে ৩টা অধ্যায় আছে ; অর্থাৎ সমগ্র গ্রন্থ ১৬০টা মৃধায় যুক্ত। অন্যান্য আয়ুর্বেদ সংহিতার ন্যায় হস্তায়ুর্বেদের ভাষা ও গদ্যপদ্যময়, এবং ইহাতে দুই সহস্রাধিক শ্লোক নিবদ্ধ সছে। গ্রন্থে হস্তীর ৩১৫ প্রকার বিভিন্ন ব্যাধির নিদান ও চকিৎসাদি বিষয় বর্ণিত হইয়াছে। গ্রন্থের ভাষা আর্ষ, গম্ভীর, প্রাণ এবং প্রসাদগুণবিশিষ্ট , ইহাও এই গ্রন্থের প্রাচীনত্বের অন্যতম প্রমাণ। “শল্যস্থানের ত্রিংশাধ্যায়ে হস্তীর অস্ত্রচিকিৎসা সাধনাথ যে সমস্ত যন্ত্রাদির বর্ণনা আছে, তাহা প্রায় সুশ্রুত- •সংহিতা-বর্ণিত যন্ত্রাদিরই অনুরূপ, হস্তীর অবয়ব এভৃতি। পার্থক্যনুরূ” যাহা কিছু বিভিন্নতা আছে। ইহা হওয়াই স্বাভাবিক এবং সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক যুক্তিসঙ্গত। ফলতঃ এই অধ্যায়টা অতি বিস্ময়জনক। অস্ত্র-কৰ্ম্ম ৭ প্রকার কথিত হইয়াছে, যথা- (২) ছেদ্য (Incision), (২) ভেদ্য (Puncturing), = 7. কৌমুদী (৩) লেখ্য (Scratching), (৪) বিশ্রাবনীয় (Evacuating fluids), (৫) বিদারণীয় (ৰােধ হয় }oring), (৬) এব্য Probing), এবং সিনীয় (Sewing)। সুশ্রুত সংহিতায় এততিরিক্ত আহায্য (Extracting) নামক একটী অধিক ক্রিয়ায় উল্লেখ আছে। অনাবশ্যক হইলেও পাঠকবর্গের কৌতুহল নিবৃত্তির জন্য এবং মহর্ষির ভাষার ও লিখন-ভঙ্গির যৎসামান্য অভাষ দেওয়ার উদ্দেশ্যে “ল্যস্থাণের ত্রিশ ফ্যায়টা প্রায় সমত্র ভাবেই এইকে উদ্ধৃত হইল। “অথোৰাচ ভগবান্ পালকাপ্য -ইহ খলু ভো হস্তিনামা- গন্তববা দোষসমুথাৎ বণাধিয়াে বহুবিধা বশি। দেষপ্রশমনার্থং শাস্ত্রবিধান সংস্থানপ্রসাশ্চ ৰক্ষামি। তত্র কুণ্ঠং খৱধারং বক্র হ্রস্বতিলং {লিত পাঠান্তর) দীর্ঘনান খণ্ড বজয়েৎ গুণৰদ্বিপরীত: ন চাভিনিশিং শস্ত্রমচয়েৎ। অত্র তীক্ষেণায়স। বিধিনিষ্পম্নেন কুশল স্মাৰঃ শানি কুৰ্যাৎ। তদুত্তমেন দ্রব্যোণোত্তমন ক্রিয় চোত্তময়। কৃত শস্ত্রং কাৰ্য্যং সায়েদিতি। তস্মাৎ প্রযঃ কাঃ শানমুক্তমনা তত্র শাস্ত্ৰানি দশনাম সংস্থানা ভবন্তি তা যথা- বৃদ্ধিপত্র, কুশপত্রঃ ব্রাহিমুখ, ওলাম, কুঠারাকৃতি, বৎস- দন্ত, উৎপলপত্র, শালাকা, সূচী, চম্পকশ্চেতি। ফালম্বি ; । কৌমুদী তাপিকা (জাম্ববৌষ্ঠতা ইতি পাঠান্তর) দৰ্যাকৃতয়শ্চেতি। এতান্তগ্নি কৰ্ম্মবিধানে চত্বারি চান্যাণি শস্যোদ্ধরণানি! যথাযােগং সিংহদ ; গােধামুখং, কঙ্কমুখং, কুলিশমুখঞ্চেতি তিস্রষিণ্য। একবিংশতিরে বাহয়ােময়াণি সাধানি ভবন্তি । তেষাং সংস্থানং প্রমণাং কৰ্ম্মাণি বক্ষ্যাম-তত্র দশাঙ্গুল প্রমাণং বৃদ্ধিপত্র। ষড়ঙ্গুলপ্রমাণং বৃত্ত। চতুরঙ্গুলপ্রমাণং পত্র। জুলবিস্তীণং পাটনার্থং ছেদনার্থঞ্চেতি ষড়ঙ্গুলকুমূর্ধাঙ্গুলং সর্বতঃ। তৎপূর্ণচন্দ্রাকৃতিরগ্রে মণ্ডলাগ্রম্ । লেখনার্থমক্ষে ব্রীহিমুখ। উৎপলপএমষ্টাঙ্গুলমেষ্টকম | তজ্জাষ্টা- সুল প্রমাণ। মধ্যমাঙ্গুলবিকৃত মুভয়তোধারম (ব্রীহিমুখাকৃতি ব্রীহি মুখমুঞ্জভেদনার্থং ছেদনভেদনার্থঞ্চেতি। নবাঙ্গুলং কুশপত্ৰম। পঞ্চাঙ্গুলং বৃত্ত। মধ্যাঙ্গুলং পং মধ্যঙ্গুলবিস্তৃত মুভেয়তােধার। ইতি ধনু- শ্চিহ্নান্তৰ্গতঃ পাঠঃ ক্বচিৎ হস্তলিখিত গ্রন্থে ন দৃশ্যতে কুশপত্রাকৃতি গম্ভীরপাকভেদনার্থং ষড়ঙ্গুলবৃত্ত। অধ্যৰ্দ্ধাঙ্গুলপত্র। পূর্ণচন্দ্র। কৃত্যগ্রে মণ্ডলাগ্রাম। লেখনার্থমক্ষে ব্রীহিমুখমুৎপলপত্র ভেদনার্থং। কুঠারাকৃতিকুর্থ্যাৎ কুঠারশন্ত্র প্রচ্ছেদনার্থং। বৎসন্তাকৃতি বৎসদন্তং দৃশাঙ্গুল একৈক মধ্যৰ্দ্ধাঙ্গুল- মুখম। এবমেনিচ ত্ৰীণ্যাপি যথাযােগ্যং প্রচ্ছনার্থং, সূচী সেবনাথম। অষ্টাঙ্গুলং নাগাকৃতি ত্রা, চতুরস্রা বা দৃঢ়া সমাহিত সমা বা শলাকা বনে বত্ম বিত্যঞ্চম। রম্পকথ্রল- মুখােদশাঙ্গুলবৃত্তঃ পাদশােধনার্থং নখচ্ছেনার্থঞ্চেতি। এষনী শালা, বিংশত্যঙ্গুলা ত্রিশাল, যথাযােগমঞ্জন শলাকাকৃতি মুখত শক্ষাসম।

৮ কৌমুদী চৈৰমেতা স্তি এষণ্য প্রমাণতঃ কাৰ্যা। কোরন্ট পুষ্পকৃতিমুখনে তাম্ৰায়সং ঘােড়শাঙ্গুল মনুপূং ব্ৰাণানাং প্রক্ষালনং কুৰ্যাদ্বড়িশং চক্ৰাগ্ৰমষ্টাঙ্গুল প্রমাণমক্ষোঃ পটলেদ্ধিরনার্থঞ্চেতি। তত্র শ্লোকঃ- যথােক্তাণ্যেবমেতানি শানি বিধিবদূভিযঃ- কারয়িত্ব যথাযোগং কুৰ্যাণ বিদারণম্। ইতি পালকাপ্যে হস্ত্যায়ুৰ্বেদ-মহাপ্রবচণে তৃতীয়ে শল্যস্থানে ত্রিংশঃ শস্ত্রাবিধিরধ্যায়। এতদ্ব্যতীত প্রত্যেক অস্ত্রসাধ্য রােগচিকিৎসার বর্ণনকালে তত্তস্থলে কীদৃশ অস্ত্র কি প্রকারে প্রয়োগ করিতে হইবে তৎ- সম্বন্ধে বিশদ উপদেশ সন্নিবেশিত আছে। বাহুল্য ভয়ে সেগুলির দৃষ্টান্ত উল্লিখিত হইল না। হস্তায়ুর্বেদ গ্রন্থে হস্তীর শরীর স্থান (Anatomy and Physiology প্রভৃতি বিষয়), মুগর্ভাবিদারণ, দন্তোৎপাটন, অচিকিৎসাৰ্থ হস্তীকে নানা প্রকার বন্ধন, কবল poultice) স্বেদকৰ্ম্ম, বস্তিকৰ্ম্ম (application of syringe and enimal etc.), অগ্নিকৰ্ম্মবিধান, ক্ষারক (alkaline treatments), নস্য, ধূপ ইত্যাদি বিবিধ বিষয়ে বিস্তৃত উপদেশ দেওয়া হইয়াছে। হস্তিশালা নির্মাণ, হস্তিপালন, হস্তিশিক্ষা এবং শাস্ত্রাধ্যয়ণের প্রণালী প্রভৃতি বিষয়ে ও এই গ্রন্থে বিশদ বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে। এক কথায় বলতে গেলে বলা যায় যে হস্তি সম্বন্ধে এমন কোন ও জ্ঞাতব্য বিষয় নাই যাহা হস্ত্যায়ুর্বেদ গ্রন্থে আলোচিত হয় নাই। হ্যায়ুর্বেদ গ্রন্থখানি মনােনিবেশ সহকারে কৌমুদী অধ্যয়ন #রিলে বাস্তবিকই বিস্ময়ে অভিভূত হইতে হয়, এবং স্মরণাতীত কালপূর্বে যে মহর্ষি পালকাপ্য কতদূর অনুসন্ধিৎসা জ্ঞানগভারত এবং সূক্ষম পৰ্যবেক্ষণশক্তির পরিচয় দিয়াছেন তাহা বিলক্ষণ হৃদয়ঙ্গম হয়। এই গ্রন্থখানি ১৮৯৪ খ্রীঃ অব্দে ৪ খানি হস্তলিখিত পুস্তকাবলম্বনে পাঠান্তরাদি সহ শ্ৰযুক্ত মহাদেব চিমনাজী অপিতে মহােদয় পুণ আনন্দ আশ্রম হইতে প্রকাশিত করত লােক সমাজে প্রচারিত করিয়াছেন। প্রচারক মহাশয় উহাতে ভারতবাসী মাত্রেরই কৃতজ্ঞতা ভাজন ও ধন্যবাদ হইয়াছেন। গ্রন্থে কোন ও টীকা সংযােজিত না থাকায় এবং হস্তলিখিত আদর্শ পুস্তকগুলি স্থানে স্থানে খণ্ডিত থাকা নিবন্ধন কতক শ্লোক অসম্পূর্ণ ভাবে মুদ্রিত হওয়ায়, গ্রন্থের বােধ সৌকর্যের কথঞ্চিৎ অন্তরায় ঘটিয়াছে। ইহা প্রকাশক মহাশয়ের দোষ নহে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রানুশীলনকারী সুধীব এই গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ ও ভারতীয় অন্যান্য প্রাদেশিক ভাষায় তানুৰাদ করিয়া প্রচার করিলে, হস্তিপালনকারী ব্যক্তিবর্গের বিশেষ উপকার হয়। ভারতবর্ষের নানাস্থানে রাজন ও ভূম্যধিকারীগণ হস্তা প্রতিপালন করিয়া থাকেন, অতএব তাহাদের পক্ষে বিশেষ প্রয়ােজনীয়, তাহাতে সন্দেহ নাই। অনুবাদে হস্তক্ষেপ করার পূর্বে গ্রন্থে পারিভাষিক শব্দগুলির এবং ভেষজাদির অর্থ পরিগ্রহ করা উচিত, নতুবা অনুবাদ ভ্ৰম-শঙ্কুল হইবে এবং উহাতে ইষ্টাপেক্ষা অনিষ্টশঙ্কাই অধিক হইবে। সম্প্রতি ত্রিবেন্দ্রম কৌমুদী / (মান্দ্রাজে) “মাতঙ্গলীলা” নামক একখানি হস্তিবিষয়ক গ্রন্থ প্রকাশিত হইয়াছে। হস্তি চিকিৎসা বিষয়ক “করি কৌতুকসার”, “মাতঙ্গদর্পণ”, হস্তিবিলাস”, “গজেন্দ্র চিন্তামণি” প্রভৃতি আরও কতিপয় অর্বাচীন গ্রন্থের নামােল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়। এই গ্রন্থগুলি অমুদ্রিতারস্থায়ই আছে বলিয়া বােধ হয়। ইতঃপর “বারাহী সংহিতা”, “গর্গ সংহিতা”, “শাঙ্গ ধর পদ্ধতি", বসন্তরাজ”, “বাজবল্লভ”, “জ্যোতির্নিবন্ধ”, “ব্ৰহ্মাণ্ড পুরাণ”, “অগ্নিপুরাণ”, “গরুর পুরাণ” প্রভৃতি গ্রন্থে হস্তি-চিকিৎসা সম্বন্ধে কতক কতক বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে। অামরা এখন বােধ হয় দৃঢ়তার সহিতই বলিতে পারি যে প্রাচীন ভারতে হস্তিচিকিৎসা বিষয়ে প্রভূত উন্নতি সাধিত হইয়াছিল এবং এতৎসংক্রান্ত বহুগ্রন্থ প্রচারিত হইয়াছিল। কালবশে অনেক গ্রন্থ বিলুপ্ত হওয়ায় কি অনিষ্ট হইয়াছে তাহা বর্ণনাতীত। পাশ্চাত্য দেশে হস্তী জন্মে না, এতন্নিবন্ধন পাশ্চাত্য ভাষায় হস্তি-চিকিৎসা সম্বন্ধে কোনও উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ নাই। ভারতবাসী কোনও কোনও লােকেরা এবিষয়ে সম্প্রতি ২ খানা গ্রন্থ রচনা করিয়াছেন, তন্মধ্যে Gilchrist & Major Evans প্রণীত গ্রন্থদ্বয়ই সর্বোৎকৃষ্ট বলিয়া মনে হয়। এই গ্রন্থগুলিতে প্রায়ই দেশীয় ভেষজ ব্যবহারেরই ব্যবস্থা দেখা যায়। আরব্য ও পারস্য ভাষায় হস্তী বিষয়ক কতকগুলি গ্ৰন্থ আছে, এই প্রকার জানা যায়। এগুলি সংস্কৃত গ্রন্থ সমূহের অনুকরণে লিখিত কি না উক্ত ভাষাদ্বয়ের কৌমুদী কোন ভাষায় আমাদের অভিজ্ঞতা না থাকায় তাহা বলিতে অক্ষম। আরব্য ও পারস্য ভাষাভিজ্ঞ কোনও মহাত্মা এত সম্বন্ধে আলােচনা করিলে প্রকৃত তত্ত্ব অবগত হওয়ার সুবিধা হয়। সম্প্রতি আমরা প্রাচীন ভারতে অশ চিকিৎসা বিষয়ে ২াটী কথা বলিতে ইচ্ছা করি। পূর্বেই বলা হইয়াছে যে অগ্নি পুরাণের বচনানুসারে জানা যায় যে “শালিহােত্ৰ” সুশ্রুতের নিকট ইয়ায়ুর্বেদ বলিয়াছিলেন, অতএব শালিহােত্র ঋৰি যে অশ্বচিকিৎসা গ্রন্থের আদি প্রচারক তাহাতে সন্দেহ নাই। এই সুশ্রুত এবং প্রসিদ্ধ শারীর শাস্ত্রবিৎ সুশ্রুত সংহিতাকার “মহর্ষি সুশ্রত” অভিন্ন ব্যক্তি কিনা তাহা বলা দুরূহ। আমাদের কিন্তু মনে হয় যে দুইজন একনাম ধারী বিভিন্ন ব্যক্তি। পূর্বকালে গ্রন্থকারের নামানুসারেই গ্রন্থের নামকরণ হইত। আয়ুৰ্বেদ প্রচারক গ্নিবেশ, ভেল, জাতুকর্ণ, ক্ষারপাণি, পরাশর, হরীত প্রভৃতি ঋষি প্রণীত গ্রন্থগুলি স্বীয় স্বীয় নামানুযায়ী সংহিতা বলিয়াই প্রচারিত হইয়াছিল। অগ্নিবেশ তন্ত্রই উত্তরকালে মহর্ষি চরক কর্তৃক প্রতৃিসংস্কৃত হইয়া ও “চরকসংহিতা নামে লােকসমাজে প্রচারিত হইয়াছিল। তদ্রুপ শালিহােত্র প্রণীত অশ্বশাস্ত্র ও “শালিহােত্র সংহিতা” নামে বিখ্যাত। এই গ্রন্থ অদ্যাপি পূর্ণাবয়বে প্রকাশিত হয় নাই। কচিৎ ২১টী অধ্যায় মুদ্রিত হইয়াছে মাত্র। শুনা যায় এই গ্রন্থও বিশাল এবং অশ্বচিকিৎসা সম্বন্ধে অতি বিশদ ও প্রাচীন গ্রন্থ। ইহা সমগ্র ভাবে মুদ্রিত হইলে কৌমুদী ১/ এসম্বন্ধে আলােচনা করার অবকাশ হইবে। কতিপয় বৎসর পূর্বে Bengal Asiatic Society হইতে উমেশচন্দ্র গুপ্ত মহােদয় চতুর্থ পাণ্ডব মহাত্মা নকুল প্রণীত অশ্বশাস্ত্র এবং জরদত্ত কৃত “অশ্ববৈদ্যক” মুদ্রিত করত প্রচারিত করিয়াছেন। মহা- ভারত পাঠকগণ অবগত আছেন যে মহাত্মা নকুল অশ্ব চিকিৎসায় বিশেষ নিপুণ ছিলেন। বির্ভপতি নল ও এবিষয়ে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। তিনি বােধ হয় অশ চিকিৎসাপেক্ষা অশ্ব পরিচালন ও অশ্ব শিক্ষা বিষয়ে সমধিক দক্ষ ছিলেন এবং সূপ (পাক) শাস্ত্রে ও তাহার শেষ অভিজ্ঞতা ছিল। প্রাক্ত কবিরাজ মহাশয় প্রকাশিত আয়ুর্বেদগ্রন্থের একটি বিস্তৃত সূচী দেওয়া হইয়াছে, গ্রন্থখানি সম্প্রতি আমাদের নিকট না থাকায় সেগুলির নাম উল্লেখ করিতে পারিলাম না। তবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে অশ্ব-চিকিৎসা সম্বন্ধেও প্রাচীন ভারতে বহু গ্রন্থ লিখিত হইয়াছিল এবং অশ্বের ও অস্ত্র চিকিৎসা প্রভৃতির ব্যবস্থা ছিল। ইংরেজী ভাষায় এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ আছে, তথাপি সংস্কৃত গ্রন্থগুলির প্রচার এবং সেগুলির অনুবাদ প্রকাশ করা প্রয়ােজন। হয়ত তাহাতে ও অনেক অভিনব বিষয় জানা যাইতে পারে এবং এতদ্দেশীয় ভৈষজ্যদ্বারা অশ্বের রােগ প্রতিকার ও অধিক মাত্রায় সম্ভাবিত হইতে পারে । অশ্ব প্রতিপালন তাহার শিক্ষা প্রদান প্রভৃতি বিষয়ে পূর্বোক্ত প্রকাশিত গ্রন্থে অনেক প্রকার উপদেশ আছে। কুতূহলী পাঠকবর্গ-উক্ত গ্রন্থদ্বয় পাঠে lo কৌমুদী প্রাচীন ভারতে আশ্ব চিকিৎসা বিষয়ে কি পরিমাণ উন্নতি হইয়াছিল তাহার কতকটা আভাস পাইতে পারেন। ইতঃপর আমরা গাে চিকিৎসা বিষয়ে প্রাচীন ভারতের জ্ঞান সম্বন্ধে আলোচনা করিব। মহাভারত পাঠে অবগত হই যে পঞ্চম পাণ্ডব শ্রীমৎ সহদেব গাে পালনে এবং তাহাদের চিকিৎসায় নিপুণ ছিলেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে এ পর্যন্ত আমরা তৎকৃত গােচিকিৎসা বিষয়ক কোন ওস্থ দেখিতে পাই নাই। কামন্দক নীতিসারের শঙ্করাচাৰ্য গােতমকৃত গােচিকিৎসা গ্রন্থের নাম উল্লেখ করিয়াছেন। এই গ্রন্থ অদ্যাপি পাওয়া যায় নাই।) যখন অশ্বশাস্ত্র নিপুণ তদীয় ভ্রাতার সকল গ্রন্থ বিদ্যমান তখন তাহার প্রণীত গোপালন বিষয়ক কোন গ্রন্থ যে ছিলনা, একথা বলিতে প্রবৃত্তি হয়না। হয়ত তৎপ্রণীত গ্রন্থ নষ্ট হইয়া গিয়াছে, অথবা তাহা অনাদরে অবহেলায় লোকলােচনের অন্তরালে ভারতের কোনও প্রদেশে কোনও নিভৃত কক্ষে ধূল্যবলুষ্ঠিত ও কীট দষ্টাবস্থায় বর্তমান আছে। আসমুদ্র হিমাচল বিশাল ভারতভূমির কোন্ দেশের কোন্ রত্ন-ভাণ্ডারে কত অমূল্য রত্ন লুক্কায়িত আছে তাহা কে বলিতে পারে? বৈদেশিকগণ সে সমস্ত রত্ন আহরণ করত ধনী হইতেছেন এবং আমরা সে গুলিকে অৱহেলায় হারাইতেছি। ইহা আমাদের দশা বিপর্যয়েই পরিচায়ক। “প্রায় সমাপবিপত্তিকালে, ধীয়ােপি পুংসাংমলিনা ভবন্তি।”

২ কৌমুদী সম্প্রতি Colonel L. A. waddel নামক জনৈক বিদ্যোৎসাহী ইংরেজ মহাত্মা তিব্বতের প্রধান নগরী লাসা হইতে সহস্রাধিক হস্তলিখিত (Mss) সংস্কৃত গ্রন্থ সংগ্রহ করিয়া লইয়া গিয়াছেন। সেগুলি অধুনা লণ্ডন নগরীর ইণ্ডিয়া অফিস্থিত পুস্তকাগারে সযত্নে রক্ষিত হইতেছে। শুনিতে পাওয়া যায় এ গ্রন্থগুলির অধিকাংশই আয়ুর্বেদ সংক্রান্ত। এ সমস্ত গ্রন্থের মধ্যে পশু চিকিৎসা সম্বন্ধে কোনও গ্রন্থ আছে কি না তাহা বলিতে পারি না। কালে বােধ হয় ভারতের আয়ুর্বেদ সম্বন্ধে এই সকল গ্রন্থরাশি হইতে অনেক তত্ত্বই প্রকাশিত হইবে, কিন্তু আমরা তাহার ফলভাগী হইব কি না সন্দেহ। অগ্নি পুরাণ ও অন্যান্য পুরাণে গাে চিকিৎসা বিষয়ে সামান্য ব্যবস্থা লিপিবদ্ধ আছে, কিন্তু এই মহােপকারী জীবের ক্ষার্থে অন্য ঋষিগণ যে প্রকার আগ্রহাতিশয্য ও ঐকান্তিক যত্ন প্রকাশ করিয়া গিয়াছেন, তদনুযায়ী বৃষায়ুৰ্বেদ সম্বন্ধে কোনও প্রণালী বদ্ধ গ্রন্থ অদ্যাপি আমাদের নয়ন বা শ্রুতিগােচর হয় নাই, ইহার কারণ বুঝিতে পারা যায় না। পুরাণ ও অন্যান্য গ্রন্থে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত শ্লোকাদি একত্রিত করিলেও গাে-চিকিৎসা বিষয়ে কতক বিবরণ জানা যাইতে পারে। কিন্তু তাহ গজান্ধাদি চিকিৎসা গ্রন্থের ন্যায় প্রচুর নহে এবং তাহা বিশদ ও নহে। গোজাতির উন্নতি ও অবনতির সহিত ভারতবর্ষের উন্নতি অবনতি অবিচ্ছেদ্য রূপে সম্বদ্ধ। “গোষু লােক প্রতিষ্ঠিত” একথাতে কোন সন্দেহ কৌমুদী নাই। পরিতাপের বিষয় এই যে আমরা এই মহতী-বাণীর মর্যাদা রক্ষা করিতে পারিতেছি না; তন্নিবন্ধন ক্রমেই আমরা দুর্দশাগ্রস্ত হইতেছি। সময়ােচিত সতর্কতা অবলম্বন বিধেয়। অপ্রাসঙ্গিক হইলেও এই কথাগুলি বলিতে বাধ্য হইলাম। অনেকের ধারণা এই যে গো-চিকিৎসায় প্রবৃত্ত হওয়াটা একটা বড়ই হেয় এবং ঘৃণ্য কাৰ্য, এমন কি আমরা গাে-চিকিৎসককে গােৰদ্যি, বলিয়া গালি দিতেও কুণ্ঠিত হইনা, ইহার পরিণাম এই দাড়াইয়াছে যে জগতের একটি মহােপকারী জীবের চিকিৎসা প্রভৃতির ভার কতকগুলি অর্বাচীন ও মুখের হস্তে ন্যস্ত হইয়াছে এবং ইহার ফব্দ যাহা হইবার তাহাই হইতেছে। চিকিৎসাৰ্থ গাে-শরীরে অস্ত্রাদি প্রয়ােগ করিলে প্রায়শ্চিত্তাহ হইতে হয়, এই ভ্রান্তিবশতঃ ও অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি গাে-চিকিৎসায় বিরত থাকেন, কিন্তু প্রায়শ্চিত্তাধিকারে স্মৃতিরশাস্ত্রের যে ব্যবস্থা আছে প্রতি দৃষ্টিপাত করিলে আর ভ্ৰম থাকিতেই পারে না। আমরা স্মৃতির দুইটী বচন এখানে উদ্ধত করিয়া দিলাম; এতদ্বারাই প্রকৃত তত্ত্ব জানা যাইবে- দাহচ্ছেদং শিরাবেধং প্রযত্নেরুপকুৰ্ব্বতা বিজানাং গােহিতার্থায় প্রায়শ্চিত্তং ন ৰিপ্ততে ১ অপিচ যন্ত্রণে গাে-চিকিসায়াং মুঢ়গর্ভবিদারণে। যদি কাৰ্যে বিপত্তিস্যাৎ প্রায়শ্চিত্তং ন বিদ্যতে ॥২ উপযুক্ত শ্লোকদ্বয়ে ইহাই প্রতিপন্ন হয় যে গভীর হিতার্থ কৌমুদী { রােগ প্রশমনাথ ; যত্নের সহিত গাে-শরীরে দহ, ছেদ ( অস্ত্রাদি প্রয়ােগ প্রভৃণ্ডি, করিলে এবং অস্ত্রাদি দ্বারা শিরাবেধ করিলে ব'হ্মণের { অথব: ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যর এই তিন বর্ণেরই ) কোনও প্রায়শ্চিত্ত করিতে হইবে । শূদ্রাদির পক্ষে ত কোনও কথাই উত্থাপিত হইতে পারে না। অতঃপর চিকিৎসাথ গােকে বন্ধন করিতে গিয়া (অবশ্য ইহা যত্নর সহিত করিতে হইবে । অথবা গর্ভস্থ মৃতবৎস অস্ত্র প্রয়ােগে বহির্গত করিবার সময় যদি গাভী দৈবাৎ মৃগুমুখে পতিত হয়, তবে কোন ও আশ্চিত্তে। ব্যবস্থা নাই। কূটতর্কজাল বিস্তার করত হয়ত কেহ নেই বলিবেন যে দ্বিজানাং শব্দে উদ্ধত শ্লোকে ব্রাহ্মণকে লক্ষ্য করা হয় নাই, ইহা ব্রাহ্মণশ্বামিত্বসূচক মাত্র, তথাস্তু। আমরা কোনও তর্কযুদ্ধে অবতীর্ণ না হইয়া ও একথা বোধ হয় নিঃসন্দেহে বলি পারি যে, প্রাচীন ভারতে গাভার শরীরে ব্রণাদি বিদীরণার্থ এবং মূঢ়গর্ভবিদারণ জন্য অস্ত্র প্রয়ােগ প্রথা প্রচলিত ছিল, অন্যথা শাস্ত্রের পূর্বোক্ত ব্যবস্থার অবসর কি প্রকারে সম্ভাতি হই পারে। শাস্ত্রকার বিশেষ বিবেচনা ও ভবিষ্যদ্দর্শিতার সহিতই এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ করিয়াছিলেন, তাহাতে বোধ হয় কাহার ও বিপ্রতিপত্তি হইতে পারে না। বর্তমান সময়ে সদাশয় গভর্ণমেন্ট ভারতের নানাস্থানে পশু-চিকিৎসাশাস্ত্রধ্যয়নার্থ বিদ্যালয় স্থাপিত করত, দেশের অশেষ কল্য- সাধন করিয়াছেন। এই বিদ্যালয়- গুলিতে জাব্রাহ্মণ চাল সকলেই অধ্যয়ন করিতে পারে এবং

কৌমুদী
ব্রাহ্মণ সন্তান বাদির অস্ত্র চিকিৎসা শিক্ষা করছে এবং ৬দখে
গভীর শরীরে অস্ত্রাদি ও প্রয়োগ করিতেছেন, ইহাতে কোনও
প্রায়শ্চিত্তের ব্যবস্থ; হইতেছে না এবং গাে-চিকিৎসায় ভদ
সানগণ আর গো-দ্য বলিয়া উপেক্ষিত ও উপহসিভ ইতেছেন।
আমাদের বিবেচন ইহা শুভলক্ষণ বটে। প্রসঙ্গাধান
আমরা কতকগুলি গুনাবশ্যক কথা আলােচনা করিয়া ধৃষ্টত।
প্রকাশ করিয়াছি, পাঠকগণ ক্ষ! কাৰবেন।
শুনিতে *5াই “বারাহ সংহিতা”তে, গৃহপালিত ছাগ, শেষ,
কুকুর প্রভৃবিও চিকিৎসা প্রণালী বিষয়ে সংক্ষেপ উপদে
দেওয়া আছে ; এতদ্বারা প্রতিপন্ন হয় যে, (কানও
বই করুণদয় ঋষিদের অসীম
বঞ্চি ।
ইয়াৰ যোগ্য বসিয়া বিবেচিত
প্রাচী
ভারতে গরুড় বিদ্যা নামক এক প্রক। ৪ রুমুখী বিদ্য।
প্রচলিত ছিল, উহা বিহগসম্বন্ধীয় এ দ্বিাবিষয়ক কোনও
হ্রাস্থ আছে কিনা তাহা অমৰা অবগত নই। সম্প্রতি মহামহো-
পাধ্যায় যুক্ত হরপ্রসাদ শাস্ত্র এম-এ. মহোদয় এশিয়াটিক
সােসাইটী হইতে “শৈনিক শাস্ত্র” নামে একখান অভিনয়
ক্ষুত্রায়তন অতি বিশদ,ও বৈজ্ঞানিক প্রণালীভে লিখিও সংস্কৃত
গ্রন্থ মুদ্রিত কঠিয়াছেন।
এ গ্রন্থখানাতে শ্যেন-পক্ষার (বাজ
পাখীর) প্রতিপালন, চিকিৎসা ও তার মৃগয়া (পাখী শিকার।
শি। প্রভৃতি বিষয়ে আলোচিত হইয়াছে। গ্রন্থকার কম্যুনাধিপতি
।

। कोप्तो রাজা রুদ্রদেব। এই মহাত্মার আবির্ভাবকাল নির্ণয় জ্য শাস্ত্রী মহাশয় গ্রন্থের ভূমিকায় বিশেষ চেষ্টা করিয়াছেন। কুতুহলী পাঠকগণ তাহা পাঠ করিয়াই সবিশেষ বিবরণ অবগত হইতে পারিবেন এই গ্রন্থ সম্বন্ধে উল্লেখ করার উদ্দেশ্য এই যে প্রাচীন ভারতে পক্ষা পালন ও তাহাদের চিকিৎসার বিষয়ে ও যে আলােচনা হইত তাহারও প্রমাণ পাওয়া যাইতেছে। ভারতে বৌদ্ধ ধৰ্ম্মের অভ্যুদয়কালে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নরপতিবৃন্দ বিশেষত দেবানাং প্রিয়দশী ভারতের একছত্রী সম্রাট মহারাজাধিরাজ অশোক পশু চিকিৎসার নানাবিধ সুব্যবস্থা প্রচলন দ্বারা অহিংসা পরম ধর্মের মর্যাদা রক্ষা করিয়া গিয়াছেন এবং ইতর জীবের প্রতি অসীম করুণার নিদর্শন প্রকাশ করিয়া গিয়াছেন, ইতিহাস পাঠক মাত্ৰই একথা অবগত আছেন। জৈনধৰ্ম্মাবলম্বী মহাত্মারাও ইতর- জীবের প্রতি অপরিসীম করুণা পরবশ হইয়া ভারতের নানাস্থানে পশু রক্ষাকল্পে পিঞ্জরাপােল স্থাপন করতঃ দেশের অশেষ কল্যাণ সাধন করিয়াছেন। শুনিতে পাওয়া যায় বােম্বাই প্রদেশে প্রাচীন ভারতের পশু-চিকিৎসার বহুল প্রচার ও উন্নতির নিদর্শন স্বরূপ পশু-চিকিৎসালয়ের ভগ্নাবশেষ অদ্যাপি বিদ্যমান আছে। এতাব সংক্ষেপে যে সমস্ত কথা বলা হইল তাহাতে বােধ হয় প্রতিপন্ন হইতেছে যে প্রাচীন ভারতে গৃহপালিত পশু-চিকিৎসার বিশেষ উন্নতি সাধিত হইয়াছিল। ঋষিগণ মনুষ্যায়ুৰ্বেদ প্রচারের সঙ্গে সঙ্গেই পশ্বায়ুর্বেদও বৃক্ষায়ুর্বেদও প্রচার করিয়াছিলেন।

> कोप्तो তঁাহারা দিব্য চক্ষে দেখিতে পাইয়াছিলেন যে মানবের হিতাহিত গৃহপালিত পশুপক্ষীর হিতাহিতের সহিত অবিমিশ্র ভাবে জড়িত। এখন বােধ হয় একথা বলা অন্যায় হইবে না যে প্রাচীন ভারতের ঋষিগণ লৌকিকালৌকিক সমস্ত বিষয়েই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখিয়া জগতের হিত কামনাতেই তঁাহাদের সমগ্র শক্তি ও বুদ্ধি নিয়ােজিত করিয়া গিয়াছেন। আমরা তাহাদেরই বংশ সত অৰ্য্যি সন্তান, আমাদের কর্তব্য তঁাহাদেরই পবিত্র পদাঙ্কামুসরণ করতঃ নিষ্কাম ভাবে নানা লােক হিতকর শাস্ত্রাদি আলােচনা দ্বারা জগতের হিতসাধন করা। অবশ্য বর্তমানকালে ঋষিদের ন্যায় একেবারে নিঃম ও নিঃস্বার্থভাবে শাস্ত্রালােচনা ততটা সম্ভবপর (হ, তথাপি তাহাদের মহান্ আদর্শ সর্বদাই আমাদের নয়নপথ- ৰা করিয়া কাৰ্য্যক্ষেত্রে অবতীর্ণ হওয়া সমীচীন। উপসংহারে বক্তব্য এই যে পায়ুৰ্বেদ সংক্রান্ত প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থগুলির প্রচার ও সেগুলির বঙ্গানুবাদ সঙ্কলনের জন্য বিশেষ চেষ্টা করা কর্তব্য। এদৃশ কাৰ্যে দেশহিতৈষী ব্যক্তিমাত্রেরই সহায়তা করা সর্বথা সঙ্গত। আয়ুৰ্বেদানুশীলনকারী পণ্ডিতবর্গ মধ্যে বদি কেহ কেহ “গজায়ুর্বেদ”, “শ্বায়ুৰ্বেদ” ও বৃক্ষায়ুৰ্বেদ প্রভৃতি পশ্বায়ুৰ্বেদ গ্রন্থের অধ্যয়ন অধ্যাপনা প্রবর্তনের চেষ্টা করেন বে, বিশেষ উপকার হয়। এতাদৃশ কাৰ্য্যদ্বারা যে তাহারা নিন্দাহ হইবেন ও একেবারেই উপেক্ষিত হইবেন, এমন আশঙ্কার কোন কারণ দেখা য{ না । অপি পশ্বায়ুর্বেদ আলোচনা .ܟ कोप्तौ দ্বারা যে অর্থাগমের সম্ভাবনা নাই, একথাও সাহস হয় না। যায় না। জৈন গাম্প্রদায়ের অনুকরণে বঙ্গদেশের নানাস্থানে পিঞ্জরাপােল স্থাপনের চেষ্টাও অকৰ্ত্তব্য বলিয়া মনে হয় না । অবশ্য এতাদৃশ্য কাৰ্য্য সম্বন্ধে চেষ্টা বহু অর্থব্যয় সংক্ষ ইলেও ৰ্তমান কালে নানাপ্রকার দেশহিঃকর কাৰ্য্যে অস্ত্রদেশীয় ব্যক্তিবর্গের যে প্রকার আগ্রহ ও উৎসাহ পরিলক্ষিত দুই: হে, তাহাতে কতকটা আশার সঞ্চার হইয়াছে এবং আমাদের অনুরোধ এই যে শত প্রকার সৎকার্য্যের তানুষ্ঠান মধ্যে গৃহপালিত পশ্যাদির রক্ষা, প্রতিপালন ও চিকিৎসা ব্যবস্তা বিধান ও যেন একটী অবশ্য কর্তব্য বলিয়া পরিগণিত হয়। গাে-জাতীর উন্নতি ও রক্ষা প্রভৃতি বিষয়ে সর্বাপেক্ষা অধিক যত্ন ও প্রয়াস সথা বিধেয়, কারণ পূর্বেই বলা হইয়াছে যে “গােষু লােক প্রতিষ্ঠিতঃ”। ইংরেজী ভাষায় গৃহপালিত গে, অশ্ব, ছাগ, মেষ, কুকুর, বিড়াল প্রভৃতি জন্তুর চিকিৎসা ও প্রতিপালন বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ আছে, এতদ্ব্যতীত অন্যান্য নানাবিধ পশুপক্ষী প্রতিপালন সম্বন্ধেও বিস্তর গ্রন্থ অাছে। বঙ্গ ভাষা"ও এতাদৃশ গ্রন্থ প্রণয়নদ্বা। ভাষার ভাঙ্গপুষ্টি সাধন করা সর্বদা কর্তব্য। সু-খর বিষয় অধুনা কেহ কেহ গাে-পালন সম্বন্ধে ২।১ খানা গ্রন্থ প্রচার কখছেন। সেগুলি বিষয় গৌরবে প্রচুর না হইলেও ত ,দয় এবং এবম্বিধ গ্রন্থ প্রচারের পথ প্রদর্শক। মদীয় পিতৃব্য । কালকৃষ্ণ সিংহ প্রণীত “গোপালন” “অশ্বত্ত্ব” कोही শ্ৰীযুক্ত ঐ সচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় প্রণীত ৪র্থ খণ্ডে সম্পূর্ণ গে- -জাতীর উন্নভি, গদাধর রায় প্রণীত গগ-চিকিৎসা এবং শ্রীযুক্ত সত্যেন্দ্রনাথ মিত্র প্রণীত গো-পালন এই কতিপয় গ্রন্থঃ ৯ম প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রবন্ধ পাঠে যদি কাহারও প্রাচীন সংস্কৃত শমুকে আলোচনার এবং বঙ্গ ভাষায় সেগুলির অনুবাদের ও # ভাষা পশুপক্ষী পানের গ্রন্থ প্রচারে সদিচ্ছা উন্মােষিত হয়, ... এখন খাশের উদ্দেশ্য সফল হয় এবং ৩৫সহ পরিশ্রমের ও

No text on this page.

हिमाडौ ।

No text on this page.

ভারতে গো-জাতির অবনতি ও
তন্নিরােধের উপায় চিন্তা ।
“নমাে গােভ্যঃ শ্ৰীমতীভ্যঃ সৌরভীয়েভ্য এবচ।
নমাে ব্ৰহ্মসুভ্যশ্চ পবিত্রাভ্যো নমােনমঃ ॥”
আসমুদ্র হিমাচল বিশাল ভারতভূমি সম্প্রতি নানা প্রকার
দুঃখ ও দারিদ্র্যের নিষ্পেষণে নিয়ত ক্লিষ্ট হইতেছে, ইহা সকলেই
প্রত্যক্ষ করিতেছেন; ইহার অশেষবিধ কারণ বিদ্যমান থাকিলেও
গাে-জাতির অবনতি এবং ক্রমশঃ বিলোপই যে ইহার একটা
প্রধান কারণ, ইহা বােধ হয় নিঃসন্দিগ্ধচিত্তে বলা যাইতে পারে।
অভিনিবেশ সহকারে আলােচনা করিলে প্রতীয়মান হয় যে,
গাে-কুলের রক্ষা ও উন্নতির উপরই ভারতবর্ষের কল্যাণ নির্ভর
করে। ফলতঃ “গােষু লােক প্রতিষ্ঠিত” এই প্রসিদ্ধ
বাক্যের মূলে গভীর সত্য নিহিত আছে। কৃষি, বাণিজ্য
পরিচালন, ভারবহন এবং নানাবিধ পুষ্টিকর ও উপাদেয় খাদ্য

কৌমুদী উৎপাদনের মূলীভুত কারণই গােজাতি ধৰ্ম্ম কাৰ্যেও গাভীই হিন্দুজাতির প্রধান অবলম্বন। গাে-সদৃশ মহােগকারী প্রাণীর অবনতিতে যে, ভারতের ঘাের দুর্দশা উপস্থিত হইবে, তাহ'তে অনুমাত্রও সন্দেহ নাই। ইহার অসীম উপকারিতা হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিয়াই ত্রিকালদশী আৰ্য মহর্ষিগণ এতাদৃশ জীবের রক্ষা ও উন্নতিকল্পে নানাবিধ সুব্যবস্থা শাস্ত্রে লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন এবং গাভীকে সাক্ষাৎ ভগবতী-স্বরূপ ভক্তি করিবার অাদেশ ও উপদেশ প্রচার করিয়া গিয়াছেন। জুগতের প্রাচীন ইতিহাস পৰ্যালোচনা করিলে জানা যায় যে, প্রাচীন মিসর ( Egypt) দেশবাসী জ্ঞানিগণ ও গোঁজাতির প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা করিতেন । পূর্বকালে ইংলঞ্জীয় ধৰ্ম্মযাজকগণও বৃষভচিহ্নাঙ্কিত বস্ত্রদ্বারা তাঁহাদের দৈহ আবৃত করিতেন। ইহা গাে-জাতির প্রতি ভক্তির নিদর্শণ বলিতে হইবে। সত্য বটে যে, স্মরণাতীত বৈদিক যুগে ভারতীয় আর্যগণ গে মেধ-যজ্ঞে গােবধ করিতেন এবং খাদ্য স্বরূপ গােমাংসের ব্যবহার ও তদানীন্তন অপ্রচলিত ছিল বলিয়া প্রতীয়মান হয়; কিন্তু এবিষয় দেশের মুখােজ্জ্বলকারী সুবিখ্যাত বৈদিক পণ্ডিত পরলােকগত উমেশচন্দ্র বটব্যাল মহাশয় হাব বেজপ্রকাশিকা নামক গ্রন্থে প্রতিপন্ন করিয়াছেন যে, বৈদিক- কালে গাে-মাংস ভক্ষণ প্রচলিত ছিল না। এবিষয় আমার মতামত প্রকাশ করার শক্তি নাই, কারণ আমি বেদে লক্বাধিকারী নহি। কিন্তু বাহাই হউক, অসীম জ্ঞানী ব্রাহ্মণগণ যখন গাভীর ;

কৌমুদী আত্যন্তিক উপকারিতা এবং গোমাংসের যথেষ্ট অপকারিতা সম্বন্ধে বিলক্ষণরূপে বুঝিতে পারিলেন, তমুহূর্তেই গাে-বধ পাপজনক বলিয়া শাস্ত্রে বিধিবদ্ধ হইল এবং ধৰ্ম্মের শাসনে সকলেই সেই, শাস্ত্রবাক্য অবনত মস্তকে পালন করিতে আরম্ভ করিলেন এবং অদ্যাপি সেই ধৰ্ম্ম শাসনের বল অপ্রতিহত ভাবে হিন্দুর হৃদয়ে ক্রিয়া করিতেছে। আয়ুর্বেদ স্পষ্টাক্ষরে বলিতেছেন যে, গাে মাংস ভক্ষণে মানুষ অন্ধতা, কুজতা, খঞতা, চক্ষুহীনতা ও কুষ্ঠ প্রভৃতির ভীষণরােগে আক্রান্ত হয়, কেবল তাহাই নহে, এই সমস্ত ব্যাধি পুত্রপৌত্রাদি ক্রমে সংক্রামিত হইয়া থাকে। চরক সংহিতা পাঠে জানা যায় যে, গো-মাংস ভক্ষণ জনিতই প্রথমতঃ অতিসার রােগের উৎপত্তি হয়। আধুনিক পাশ্চাত্য বৈজ্ঞানিকগণ ও বহু গবেষণাদ্বারা নির্ণয় করিয়াছেন যে, গােমাংসে এক প্রকার বিষাক্ত কীট জন্যে, তাহা মানবের উদরস্থ হইলেই বহুপ্রকার রােগ উৎপন্ন হইয়া থাকে। গ্রীষ্ম প্রধান দেশেই এবংবিং কীট অধিক জন্মিয় থাকে ; তাতএব ভারতের ন্যায় গ্রীষ্ম প্রধান দেশে গােমাংস যে মানুষের অখাদ্য, ইহা বােধ হয় অবিসংবাদিত সত্য। এই অবস্থায় যদি কেহ বলেন যে, প্রাচীন আর্যগণ যখন গােমাংস ব্যবহার করিতেন, তখন বর্তমানকালে তা কি অনিষ্টজনক হইতে পারে ? এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা বিড়ম্বনা মাত্র। যাহা বহু অনুসন্ধান দ্বারা পরিত্যক্ত হইয়াছে, কূট তর্কজাল বিস্তার করিয়া তাহার পুনঃ প্রচলনের

কৌমুদী
৩৬
প্রয়াস পাওয়া অর্বাচীনতার পরিচায়ক। একমাত্র গােমাংস
ভক্ষণা-ভক্ষণ দ্বারাই ম্লেচ্ছ ও আৰ্যের মধ্যে পার্থক্যের সীমা
নির্দিষ্ট হইয়াছে, ইহার প্রমাণস্থলে নিম্নলিখিত শ্লোকটীর উল্লেখ
করা বােধ হয়, অপ্রাসঙ্গিক হইবে না।
“গােমাংস খাদকে। যস্ত বিরুদ্ধং বহুভাষতে।
সদাচার বিহীনশ্চ ম্লেচ্ছ ইত্যভিধীয়তে ।”
অর্থাৎ যে গোমাংস ভক্ষণ করে, বেদবিরুদ্ধ বহু প্রসঙ্গ
উত্থাপিত করে এবং শাস্ত্রোক্ত সদাচার বিহীন হয়, তাহাকেই
স্লেচ্ছ নামে অভিহিত করা যায়। অপ্রসঙ্গাধীন আমি মুল
প্রতিপাদ্য বিষয় হইতে কিছুদুরে আসিয়া পড়িয়াছি। বিশেষ
কোন কারণাধীনেই এইরূপ করা হইয়াছে। এক্ষণে প্রকৃত
প্রস্তাবের অনুসরণ করা যাউক।
গাে-জাতির অবনতির অনেক কারণ আছে ; তন্মধ্যে নিম্ন
লিখিত কয়েকটীই প্রধান বলিয়া গণ্য করা যাইতে পারে, যথা :-
১) অপালন (২) পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব (৩) গােচারণ ভূমিব
ক্রমশঃ লােপ (৪) গাে মড়ক (৫) যথেচ্ছ গাে বধের আতিশয্য।
পূর্বোক্ত প্রত্যেকটী বিষয়ের বিস্তৃত আলােচনা করিতে
গেলে প্রবন্ধ সুদীর্ঘ হইবে। অতএব সমস্ত বিষয়েরই সংক্ষিপ্ত
ভাবে আলােচনার চেষ্টা করাই সমীচীন বােধ হয়।
প্রথমতঃ অপালন জনিত গোজাতির অবনতি সম্বন্ধে
আলােচনা করিলে আমরা দেখিতে পাই যে, বঙ্গদেশে এতন্নিবন্ধন

৩
কৌমুদী
বিশেষ ক্ষতি হইতেছে। হিন্দু-জাতি গাে-রক্ষক হইয়া গাভীর
প্রতি যে প্রকার অনাদর ও অযত্ন করিতেছেন, তাহাতে নিতান্তই
লজ্জিত ও পরিতপ্ত হইতে হয়। যাহারা এই মহানগরীতে ও
অন্যান্য সহরে গােজারি দুর্দশা প্রত্যক্ষ করিতেছেন, তঁাহারা
নিশ্চয়ই নীরবে অশ্রুপাত করিবেন। ফলতঃ কলিকাতায়
গাভীর দুর্দশা দেখিলে আর আমাদিগকে গাে-রক্ষকের জাতি
বলিতে প্রবৃত্তি হয় না। দূরস্থ পল্লী গ্রামে ও অধুনা যে ভাবে
গাে-প্রতিপালিত হইতেছে, তাহাতে আশঙ্কা হয়,
অচিরেই
মহােপকারী প্রাণী বঙ্গদেশ হইতে বিলুপ্ত হইবে এবং দুগ্ধাদি
পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে-ক্রমে ক্রমে ক্ষীণবীৰ্য ও হীনবল হইয়া
বিলয় প্রাপ্ত হইব। মহামতি মহর্ষি পরাশরের ব্যবস্থা এই যে,
“পিতুরন্তঃপুরে দদ্যাতুর্দান্মহানসে।
(গাষু চত্মসমং দদ্যাৎ স্বয়মেব কৃষিং ব্ৰজেৎ।”
অর্থাৎ অন্তঃপুর রক্ষার ভার পিতার অথবা পিতৃতুল্য ব্যক্তির
উপর, পাকশালা পর্যবেক্ষণের ভার মাতার অথবা মাতৃতুল্য
স্ত্রীলােকের উপর এবং আত্মসম ব্যক্তির উপর গাে-রক্ষার ভার
অৰ্পণ করিয়া স্বয়ং কৃষিকার্য্যের পর্যবেক্ষণ করিবে। সম্প্রতি
বঙ্গদেশীয় গৃহস্থগণ আত্মরক্ষায় অক্ষম, অজাতশ্মশ্রু, অর্বাচীন
বালকের উপর এই গুরুতর ভারাপর্ণ করিয়া কর্তব্য পালন
করিলাম ভাবিয়া নিশ্চিন্ত হইতেছেন। এক্ষণে যে ভাবে
গোশালা নির্মিত হয় এবং তাহাতে যে প্রকার অযত্নে গাে সকল
০

কৌমুদী আবদ্ধ থাকে এবং বৎসগুলির প্রতি যে প্রকার অবহেলা প্রদর্শিত হয়, তাহাতে কখনই তাহাদের স্বাস্থ্য রক্ষিত হইতে পারে না। ইহার ফলে গাভীগুলি ক্রমে ক্ষীণকায় ও ষণ্ডগুলি হীনবীৰ্য্য হইতেছে এবং নিরীহ বৎসগুলি অকালে কালগ্রাসে পতিত হইতেছে। এই কারণে দুগ্ধাদির অভাব হইতেছে এবং কৃষিকাব্য ও বাণিজ্যাদিরও বিঘ্ন ঘটিতেছে ; ভারতের দুঃখও দৈন্যও দিনদিন বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইতেছে। প্রসঙ্গাধীন এস্থলে বক্তব্য এই যে, ষণ্ড ও বলীবর্দ প্রভৃতি দুর্বল হওয়ায়, ক্ষেত্র কর্ষণের কাৰ্য্য রীতিমত সম্পাদিত হইতেছে । পল্লীগ্রামে এখন অনেক স্থলে মহিষদ্বারা হলচালন প্রবর্তিত হইয়াছে, কিন্তু ইহাতে নানা অসুবিধা আছে। রোদ্রে সময় মহিষগুলি একেবারেই পরিশ্রম করিতে পারে না এবং ইহাদের মলে কোনও সার নাই। বিশেষতঃ মহিষগুলি দীর্ঘজীবী হয় না এবং সময় সময় যথেচ্ছ চলিয়া যায়। মহর্ষি পরাশয় বলিতেছেন, যে,- “হলমষ্টগবং ধৰ্মং ষড়গবং ব্যবসায়িং। চতুর্গবং নৃশংসানীং দ্বিগবঞ্চ গবাশিনা।” এখন প্রায়ই একটি হালের জন্য ২টীমাত্র ক্ষীণকায় বলীবর্দ ব্যবহৃত হয় এবং সময় সময় গাভীদ্বারা ও হল চালিত হয়, . ইহা একান্ত অন্যায়। কৃতক্লীব যদ্বারাও হল নিষিদ্ধছিল, বই এই কার্যে নিযুক্ত হইত।

কৌমুদী ক্ষেত্ৰকৰণ সময়ে বলদগুলিকে কৃষকগণ যেরূপ নির্দয়ভাবে প্রহার করিতে থাকে, তাহা দেখিলে নিশ্চয়ই, কষ্টানুভব হয়। ৮টা দ্বারা একটী হল চালিত হওয়া এখন সহজ নহে, তথাপি ২টী দ্বারা হল চালন বড়ই অন্যায়, একথা বলিতেই হইবে। পক্ষান্তরে ইয়ুরােপীয়ান (যাহারা গো-খাদক বলিয়া খ্যাত। গাে-পালন সম্বন্ধে কত প্রকার সুব্যবস্থা ও কীদৃশ যত্ন ও পরিশ্রম করিতেছেন, তাহা দেখিলে বিস্মিত হইতে হয়। ইংলণ্ড প্রভৃতি দেশে পশুপালন (কৃষিকৰ্ম্মর্থ গো-শ্বাদি প্রতিপালন) ব্যাপারটা কষিকার্যেরই তানিবিষ্ট হইয়াছে। ইংলণ্ড প্রভৃতি পাশ্চাত্য দেশে সুপালন জন্য এক একটি গাভী ৫ সের হইতে ১/ মণ পৰ্যন্ত দুগ্ধ দিয়া থাকে এবং এক একটী ষও ৪। হাজার হইতে ১০০০০ টাকা মূল্যে ও বিক্রীত হয়। সংস্কৃত গ্রন্থাদি আলােচনা করিলে দেখা যায়, এই ভারতবর্ষে পূর্বকালে দ্রোণদুগ্ধ গাভী বর্তমান ছিল (৩২ সের দুগ্ধদাত্রীকে দ্রোণদুগ্ধ বলা হইত)। একথা কবিকল্পনা বলিয়া মনে হইতে পারে, কিন্তু পাশ্চাত্য দেশের গাভীগুলি যখন ২৫া৩০ সের দুগ্ধ দিতেছে, তখন ভারতের স্যায় শস্যশ্যামল ও অযত্ন সস্তৃত প্রভূত তৃণ-শস্যাদিপূর্ণ স্থান যে দ্রোণদুগ্ধা গাভী ছিল, তাহার সন্দেহ করিবার কারণ নাই। আমরা লক্ষীছাড়া হইয়াছি, তাই আজ ভারতে দ্রোণদুগ্ধ গাভীর অসদ্ভাব ঘটিয়াছে। ভারতের ব্রহ্মণ্যদেব ‘গো-ব্রাহ্মণ হিতায় ছিলেন ; আমাদেরই কৰ্ম্মদোষে তিনি এখন ‘হত্তদ্বধায় কৌমুদী হইয়াছেন ; কি বিড়ম্বনা। ভারতের এখনও পাঞ্জাব প্রদেশে হিসারী, মুলতানী এবং মাদ্রাজ প্রদেশে গুজরাট দেশে, কাটেবারী, মধ্যপ্রদেশে নাগৌরী এবং পাটনা অঞ্চলের গাভীগুলি প্রচুর দুগ্ধবতী, যত্ন করিলে ইহারা ২৫। ৩০ সের দুগ্ধ দিতে পারে, কিন্তু সে বিষয়ে আমরা উদাসীন। বঙ্গদেশের গাভীগুলি ২। সের বা /২ সেরের অধিক দুগ্ধ দেয় না, ইহারা অত্যন্ত খর্বাকৃতি এবং অস্থিচর্মসার। বাঙ্গালীর বুদ্ধিমত্তা সর্বত্র খ্যাত, কিন্তু বঙ্গদেশের জীবজন্তুর অবনতি দেখিলে আর সে বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করা যায় না। পাঞ্জাব প্রভৃতি দেশের এক একটা ছাগীতেও ৫। ৬ সের দুগ্ধ দিয়া থাকে। কেবল অপালন জন্যই বাঙ্গালী গাভীগুলির এই প্রকার হীন দশা উপস্থিত হইয়াছে। অবশ্য জলবায়ুর দোষ যে কতকটা না আছে তাহা নহে, কিন্তু যত্ন চেষ্টা করিলে, এই দোষ অনেক পরিমাণে দূরীভূত হইতে পারে। বর্তমানকালে দুগ্ধাদির যে প্রকার অভাব হইয়াছে, তাহাতে শিক্ষিত ও ধনী সম্প্রদায়ের দৃষ্টি গাে-জাতির প্রতি আকৃষ্ট হওয়া উচিত, নতুবা গবাদির অপালন-জনিত-ক্ষতি প্রত্যহ গুরুতর হইতে থাকিবে। শিক্ষিত লােক দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করিলে অনেক উপকারের আশা করা যায়, কারণ “য্যদাচরতি শ্ৰেষ্ঠস্তুত্তদেবেরােজন। সৎ প্রমাণংকুরুতে লােকস্তদসুবৰ্ত্ততে।” Example is better than precept, কেবল সভা-সমিতি ও বক্তৃতাদ্বারা কোন কাৰ্য্য হয় না। গাে-পালন সম্বন্ধে ইংরেজী ; ভাষায় অনেক উৎকৃষ্ট গ্রন্থ আছে; বাঙ্গালা ভাষায় এবম্বিধ গ্রন্থ ২৪ খানা মাত্র দেখিতে পাই । কোন্ কোন্ গ্রন্থ বিশেষ উপযোগী, এ বিষয় প্রবন্ধের শেষাংশে বলা যাইবে। গো-জাতির অবনতির দ্বিতয়ী কারণ পুষ্টিকর খাদ্য ও গােচারণ-ভূমির অপ্ৰাচুৰ্য। কক্ষ (খােল) ভূষি প্রভৃতি দেশে ক্ৰমে দুষ্প্রাপ্য ও দুৰ্ম্মল হইতেছে এবং তজ্জন্য খাদ্যদ্রব্যে নানাপ্রকার কৃত্রিমতা বাড়িতেছে, পক্ষান্তরে অন্য কোনও প্রকার পশুখাদ্য উৎপাদনের রীতিমত চেষ্টা হইতেছে না, ইহার ফলে গো-কুল ক্রমে খাদ্যাভাবে জীর্ণশীর্ণ হইতেছে এবং ইহার পরিণাম হা হইবার তাহাই হইতেছে । ভারতবর্ষে গোচারণ ভূমি ও অভাব ছিল না, এখন তাহা ক্রমে বিলুপ্ত হইতেছে। পূর্বে প্রত্যেক গ্রামেই গোচর রাখার ব্যব ছিল এবং ইহা পুণ্যজনক ও ধৰ্ম্মকাৰ্য্য বলিয়া লোকের ধারণা ছিল; এন অর্থই আমাদের পরমার্থ হইয়াছে ; ধৰ্ম্ম হানল হইতেছে এবং পুণ্যকাৰ্যে আর অামাদের প্রবৃত্তি নাই। প্রাচীন শাস্ত্রে গোচারণ ভূমি রাখার সুব্যবস্থা পিবদ্ধ আছে, কিন্তু সেগুলি অার অামরা পালন করিতে প্রস্তুত নহি। জ্ঞানবৃদ্ধ ঋষি সম্প্রদায় কাহারও কাহারও নিকট দ্রব্য বিশেষসেৰী বলিয়া অখাত হইতেছেন। এই প্রকার হওয়া। বিচিত্র নহে, কারণ প্রায় সমাপন্ন বিপত্তিকালে ধিয়োহপি পুংসাং মলিনী ভবন্তি।” সে দিন উত্তর অঞ্চলের ছোট লাট বাহার গােজাতির রক্ষা ও উন্নতির বিষয়ে আলােচনার জন্য ৪২ কৌমুদী একটী সমিতি করিয়া অনেক শুভজনক প্রস্তাবের অবতারণা করিয়াছেন, তন্মধ্যে গােচরণ ভূমি রক্ষার জন্য প্রত্যেক ভূস্বামিকে বিশেষভাবে অনুরােধ করিয়াছেন। বােধ হয়, এ বিষয়ে রাজবিধিও সত্বরই প্রচারিত হইবে। ভসা করি, বঙ্গদেশীয় রাজপুরুষগণও এসম্বন্ধে মনোেযােগী হইবেন। আমাদের দেশে ( ময়মনসিংহের উত্তরাংশে ) সুসঙ্গ ও সেরপুর প্রভৃতি স্থানে অনেক জঙ্গলাকীর্ণ পতিত ভূমি আছে, এবং তাহাতে এখনও গোচারণের সুবিধা আছে, কিন্তু কালে তাহাও লুপ্ত হইবে । অর্থ লােভ বাড়লেই আর পতিত ভূমি থাকিবে না। পাশ্চাত্য- দেশে পশু-খাদ্য নানাবিধ তৃণাদি জন্মনির অনেক চেষ্টা হইতেছে। Silage প্রথাদার ( ঘাস ভূগর্ভে প্রোথিত করিয়া ; ঘাস রাখিবার বাবস্থা অতি সুন্দর। আমাদের দেশেও অনায়াসে তাহা অবলম্বিত হইতে পারে। অনেক স্থলে বিবিধ পুষ্টিকর তৃণ উৎপন্ন হয়, সেগুলি রীতিমত রক্ষা করিলেও গবাদির খাদ্যাভাব হয় না। এ বিষয়েও শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মনােযােগী হওয়া বিধেয় । খড় বিচালী হইতে Sitage প্রথায় রক্ষিত ঘাস অনেক উৎকৃস্ট এবং পুষ্টিকর। দুর্বা ঘাসের রীতিমত চাষ করিলেও তাকে সুবিধা আছে। অতঃপর গিনি, বিয়ানা, সরযযাম প্রভৃতি বৈদেশিক ঘাসেরও চাষ করান যাইতে পয়ে। আমার বিবেচনায়, দুর্বা, নল, খাগড়া. উলু, বিরণ এবং আরও অনেক প্রভৃতি ও এতদ্দেশ জাত তৃণাদিই ভারতীয় গাভীর পক্ষে বিশেষ উপযােগী। পশু ৪৩ কৌমুদী খাদ্য নামে একখানি ক্ষুদ্র গ্রন্থে ( শ্ৰীযুক্ত প্রবােধচন্দ্র দে F. R. H. s.) এসম্বন্ধে সংক্ষেপে আলােচিত হইয়াছে। কার্পাস বীজ দুগ্ধবতী গাভীর পক্ষে উৎকৃষ্ট খাদ্য, অতএব কপাসের চাষে মনােনিবেশ করা আমাদের কর্তব্য। ইহাতে বিবিধ উপকার হইতে পারে, পশু খাদ্য পাওয়া যাইবে এবং ভূলও উৎপন্ন হইবে। সর্যপের কল্ক ( খােল) ষণ্ড ও বলীবর্দ প্রভৃতির পক্ষে ভাল। কিন্তু দুগ্ধবতী গাভীর পক্ষে তিল এবং তিষির খোলাই উৎকৃষ্ট। গবাদির খাদ্য সম্বন্ধে আরও বিস্তৃত ভাবে আলােচনা হওয়া কর্তব্য। বর্তমান প্রবন্ধে তাহা করিতে হইলে ইহার কলেবর অত্যন্ত বৃদ্ধি পাইবে, অতএব তাহাতে বিরত হইলাম । অতঃপর গাে জাতির অবনতির অপর কারণ-গে। মড়ক সম্বন্ধে ২। ওটী কথা বলা যাউক। গোবসন্ত, গলাফুলা, পেটফুল প্রভৃতি সংক্রামক ও মারাত্মক ব্যাধিতে প্রতিবনে যে কত গাভী বৎস ও ষণ্ড প্রভৃতি অকালে কাল গ্রাসে পতিত হইতেছে, তাহার ইয়ত্তা করা যায় না। এই সকল ব্যাধি উপস্থিত হইলে এক একটি গ্রাম একেবারে গো-শূন্য হইয়া পড়ে, ইহাতে কৃষক ও গৃহগণ যে কি প্রকার ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তাহা বল্ম যায় না। পূর্বে প্রত্যেক গ্রামে ২।৪ জন গাে-বৈদ্য থাকিত, তাহারা অনেক গগীকে অকাল মৃত্যুর হস্ত হইতে রক্ষা করিত, অধুনা তাহাদের প্রতি হতাদর হওয়ায় গাে-বৈদ্য লুপ্ত

৪৪
;
কৌমুদী
প্রায় হইয়াছে। ভেটার্ণার বিদ্যালয়ে যে সমস্ত যুবক শিক্ষ
লাভ করিয়া গাে-বৈদ্য হইতেছেন, তাহাদের দ্বারা দরিদ্র কৃষক
ও গৃহস্থান বিশেষ উপকৃত হইতেছে না; তাহাদের ব্যবস্থানুযায়ী
ঔষধাদি ও দূরস্থ গ্রাম সমূহে সহজ লভ্য নহে এবং সকলের পক্ষে
তাহা ক্রয় করাও সম্ভবপর নহে। এইরূপ ব্যবস্থায় ইহাদের
দ্বারা গো-চিকিৎসার বিশেষ সহায়তা হইতেছে না।
অতঃপর স্বাস্থ্যরক্ষার নিয়ম অবগত না থাকাতে সামান্য
কৃষক ও গৃহস্থগণ গােমড়ক উপস্থিত হইলে তাহার কোন
প্রতিকারই করিতে পারে না। এবং উপকারীতা সম্বন্ধে জ্ঞান না
থাকায় এ বিষয়ে তাহারা একেবারেই উদাসীন। গো-মডুকে দেশ
গাে-শূন্য হইয়া যাইতেছে, ইহার ফলে দুগ্ধাদির অভাব বাড়িতেছে
এবং শস্যাদি ক্রমে দুর্মূল্য হইতেছে, ভারতবর্ষ নিত্য দুর্ভিক্ষের
আগার হইতেছে। এক গাে জাতির অপচয়ে দেশের কি হইতে
পারে তাহা নিম্নলিখিত Report এ ব্যক্ত হইতেছে---
There is a fact much to be regretted in
connection with Indian cattle viz that some of
the best Breeds are deteriorating in quality an
quantity. Among the many difficulties in the
tracks of Indian Govt. I look to the degeneration
of the indegenous Breeds, is likely to occupy a
prominent place....... They are of far greater
importance to India than they are to Great

৪৫
কৌমুদী
Britain. If by one fell swoup the cattle of the
British Isles were annihilated, the want of the
public could be supplied from other sources,
...... but it is not so in India, Cattle there
supply nearly all the motor power of the
farm. Conditions are alike unsuitable for the
employment either of Horse or the Steam
Engine. In short, nothing, even the foreign cattle,
can be substituted for Indian cattle to do the
work for which they are now mainly bred and
lkept. .
ভারতের ন্যায় কৃষিপ্রধান দেশে গাে-জাতির লােপাপত্তিতে
যে কি পৰ্য্যন্ত অনিষ্ট হইতে পারে, তাহা কল্পনা করা যায় না।
বিগত ১৮৯১ খ্রীঃ অব্দের আদম শুমারীতে (Cencus Report)
দেখা যায় যে, প্রায় ২০০,৮৪৯, ২৫৬ জন ( অর্থাৎ প্রায় শতকরা
৬৯.৯২ জন) লােক কৃষিকাৰ্য্য ও তৎসংসৃষ্ট নানাবিধ কাৰ্যে লিপ্ত
আছে এবং এবম্বিধ কাৰ্য্যাবলীতে গােই প্রধান সহয়। এইরূপ
অবস্থায় গোমড়কে লক্ষ লক্ষ গো শমন ভবনে গমন করিলে
কৃষকের ও সমগ্র দেশের কি দুর্দশা হয়, তাহা ভাবিলেও হৃদকম্প
উপস্থিত হয়।
এক্ষণে গোবধ ও চর্ম ব্যবসায়ী কর্তৃক বিষপ্রয়ােগে গাে-হত্যা
সম্বন্ধে আলােচনা করিতে ইচ্ছা করিতেছি। মানুষের খাদ্যস্বরূপে
ব্যবহৃত হইবার জন্য ভারতবর্ষে সম্প্রতি অতি যথেচ্ছভাবে গােবধ

কৌমুদী করা হইতেছে, ইহা নিবারণ করা আমাদের সাধ্য নহে। মুসলমান ভ্রাতৃগণ এসম্বন্ধে মনােযােগী হইলে অনেকটা উপকার হইতে পারে। ঈদ প্রভৃতি পর্ব-উপলক্ষ যে গো-বধ করিতেই হইবে, কোরাণ সরিফের (বাধ হয় ইহা অভিপ্রেত নহে। এ সম্বন্ধে অধিক কথা বল। আমার ধৃষ্টতা মাত্র । গো-মাংস এদেশের উপযোগী নভে এ কথা ভাল রকম বুঝিতে পারিলে বোধ হয় অনেক গাে-মাংস ভােজই ইহার ব্যবহারে বিরত হন। মুসলমান নরপতি মহামন। আকবর এক সময়ে গো বধ রহিত করিতে প্রয়াস পাইয়াছিলেন; কিন্তু নানা প্রতিকূল কারণে তিনি ইহাতে কৃতকার্য হইতে পারে নাই। ইংল্য ও প্রভৃতি পাশ্চাত্য দেশে যথেচ্ছ গােবধ হইতে পারে না, খাদ্যস্বরূপে ষণ্ডের মাংসই প্রায়শঃ ব্যবহৃত হয়, ইহা মন্দের ভাল বটে । বলতে লজ্জা হয় এবং দুঃখও হয় যে হিন্দু নামধারী আমাদের গোপাল গোয়ালাগণ ) প্রত্যক্ষভাবে না হউক, পরোক্ষ ভাবে গােবধের সহায় হইতেছে। ব্যবসায়ের লােভে তাহারা গোবৎসগুলিকে ৮} ১০ দিবস বয়স্ক হইলেই কষায়ের নিকট বিক্রয় করিতেছে, অতঃপর ফুকা প্রভৃতি নিষ্ঠুর উপায়ে গো-দুগ্ধ আকর্ষণ করিয়া তাহাতে ত্রিগুণ কি ততােধিক জলমিশ্রিত করিয়া বাজারে বিক্রয় করিতেছে, ঐ জল সময় সময় এত দূষিত থাকে, যে, তাহাতে নানা রােগেৎপত্তি হওয়াই স্বাভাবিক। গাভীটি বৃদ্ধা হইলে, অথবা দুগ্ধ ছাড়াইলে তাহাকে ও কষায়ের নির্দয় হস্তে অৰ্পণ করিতেছে। হায়রে অর্থ, তোর ১। কৌমুদী কি মােহিনী শক্তি ! অর্থ লােভে মানুষ কতই না অপকাৰ্য্য করিতেছে। মাড়ােয়ারী ভ্রাতৃগণ দয়াপরবশ হইয়া পিঞ্জরাপােল স্থাপন করিয়া এই নিষ্ঠুর অত্যাচার হইতে গাভীগুলিকে কিয়ৎ- পরিমাণে রক্ষা করিবার চেষ্টা করিতেছেন। কিন্তু তাহতে অশানুরূপ ফল হয় নাই। দেশের সর্বত্র পিঞ্জরাপােলের ন্যায় অনুষ্ঠান হওয়া কর্তব্য। অতঃপর চৰ্ম্মব্যবসায়ীগণ ব্যবসায়ে অর্থোপার্জনের লােভে বিষ প্রয়োগদ্বারা অনেক গোহত্যা করিতেছে। পল্লীগ্রামে এ প্রকার নিষ্ঠুরতার আধিক্য পরিলক্ষিত হয়। চৰ্ম্ম ব্যবসায়ে নিষ্ঠুরতা হয় বলিয়াই বােধ হয় আমাদের শাস্ত্রে দ্বিজাতির পক্ষে ইহার বাসায় নিষিদ্ধ হইয়াছে। অধুনা আমরা সেই নিষেধ অমান্য করিতেছি, ইহার পরিণাম শুভজনক কিনা, তাহা বলিতে পারি না। কঠোর রাজবিধি প্রচলিত সত্ত্বেও প্রতি বর্নে বিষ প্রয়ােগে অনেক গোহত্যা হইতেছে। ইহার প্রতিবিধানের উপায় কি ? গােজাতির বনতির প্রধান কারণগুলিব সংক্ষেপে আলােচনা করা হইল। এবার কি উপায়ে ইহার গতিরােধ হয়, তৎসম্বন্ধে ২। ৪টা কথা বলা প্রয়োজন । অামার বিবেচনায় এ বিষয়ে যত অধিক আলােচনা হয়, দেশের পক্ষে ততই মঙ্গল। প্রথমতঃ শিক্ষিত সম্প্রদায় এবং বঙ্গীয় ধনী সম্প্রদায় এবং ভূম্যধিকারবর্গের মনােযােগ ব্যতীত গোজাতির রক্ষা ও উন্নতি সুদূরপরাহত। আমার বিবেচনায়- ८कोप्तो ১। স্থানে স্থানে গােশালা (Dairy farm) প্রতিষ্ঠা। ২। গো-চিকিৎসার জন্য দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন ও গ্রামে গ্রামে গো-বৈদ্য প্রেরণ। ৩। গাে-চিকিৎসা ও পালন প্রভৃতি বিষয়ে সরল ভাষায় গ্রন্থাদি প্রচার। ৪। গােচারণ-ভূমি রক্ষার উপায় উদ্ভাবন। ৫। সর্বোপরি যথেচ্ছ গােৰধ নিবারণের চেষ্টা করা কর্তব্য। গােশালা (Dairy) প্রতিষ্ঠা করিতে হইলে যৌথ সম্প্রদায় Joint stock) গঠিত করা প্রয়োজন এবং গভর্ণমেন্ট স্থাপিত ও কোনও বিখ্যাত Dairyতে কিছুকাল অবস্থান করিয়া কাৰ্য- প্রণালী শিক্ষা করিয়া কৰ্ম্মক্ষেত্রে বেশ করা উচিত; নতুবা কেবল Theory ( উপপত্তিতে) কার্য সুচারুরূপে নির্বাহিত হয় না। আমরা অনেক সময়েই অভিজ্ঞতা লাভ না করিয়াই অনেক কাৰ্য্যে হস্তক্ষেপ করি, পরিশেষে সফলতা শুভ না করিয়! হতাশ্বাস হই এবং কাৰ্যে উৎসাহ ও উদ্যম ভগ্ন হয়। নিস্ফলতাই আমাদের উন্নতির পরিপন্থী। Dairy farming সম্বন্ধে অনেক ইংরেজী গ্রন্থ আছে ; সেগুলি বঙ্গভাষায় অনুদিত করা উচিত। সদ্যঃ পততি লৌহেণ ব্রাহ্মণঃ ক্ষীরবিক্ৰয়াৎ দুগ্ধ ও গাভী বিক্রয় করা ব্রাহ্মণের পক্ষে শাস্ত্র-নিষিদ্ধ বটে, কিন্তু এখন অনেক তথা কথিত ব্রাহ্মণ সন্তান চৰ্ম্মাদি ও.বিনান। ;

কৌমুদী প্রভৃতি বিক্রয় করিতেছেন। ইহাও শাস্ত্র-নিষিদ্ধ। অত্রাবস্থায় দুগ্ধাদি বিক্রয় করা একান্ত অন্যায় হইবে না। চৰ্ম্মবিক্রয় অপেক্ষা ইহাতে যে অধিক পাপ আছে, তাহা বােধ হয় না। গাে-দুগ্ধাদি বিক্রয় করিলে ব্যবসায় লােভে গবাদির প্রতি নিষ্ঠুরতা হইবে বিবেচনাতেই বােধ হয় তাহা শাস্ত্রে নিষিদ্ধ হইয়াছে। শাস্ত্রের ব্যবস্থা অযৌক্তিক বা অসঙ্গত নহে। গােপালন ও গােচিকিৎসা সম্বন্ধে বঙ্গ ভাষায় গ্রন্থ প্রচার আবশ্যক। এ বিষয়ে আমার পিতৃব্য শ্ৰীযুক্ত রাজা কমলকৃষ্ণ সিংহ বাহাদুর পথ প্রদর্শক হইয়াছেন। তাহার প্রণীত গোপালন নামক ক্ষুদ্র গ্রন্থই বোধ হয় বঙ্গ ভাষায় প্রথমস্থানীয় । অধুনা হগলী (রামপদ) নিবাসী শ্ৰীযুক্ত প্রভাসচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ৪ খণ্ডে গাে-জীবন নামক পুস্তক প্রকাশিত করিয়াছেন। এতদ্ব্যতীত গাে-জাতির উন্নতি ও গােধন রক্ষা নামক আরও দুই খানা ক্ষুদ্র গ্রন্থ প্রকাশিত হইয়াছে, কিন্তু ইহার কোনটাই আমাদের অভাব পূরণে যথেষ্ট নহে। এতদপেক্ষা বিস্তৃত ও বিশদ গ্রন্থ প্রকাশিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। ইংরেজী ভাষায় ভারতবর্ষের গগা সম্বন্ধে নিম্নলিখিত গ্রন্থগুলি গো-হিতৈষী ব্যক্তি মাত্রেরই পাঠ্য :- ১৮৭১ খৃঃ অব্দে গবর্ণমেন্ট কর্তৃক ভারতবর্ষে গবাদির মারাত্মক গাে বিষয়ক একখানি পুস্তক বঙ্গ ভাষায় প্রকাশিত হইয়াছিল। সেখানিও পাঠ্য বটে।

Gata I. 2. Cow keeping in India ( by Isa Tweed ) Cows in India ( by E. B. T.) 3. A mature Dairy farming (by Landolicus ) 4. Plain Hints to the deseases of cattle in India ( by Vety. Captn, Jame's Miller. ) 5. India Cattle (by J. Shortt.) 6. Dairy farming in India (Govt. publication by Vanghan & Nash.) এতদ্ব্যতীত নিম্নলিখিত গ্রন্থ সমূহ হইতও গােপালন এবং গাে-চিকিৎসা সম্বন্ধে অনেক বিষয় জানা যাইতে পারে। 1. Every man his own Cattle Doctor ( by Bomatage.) 2. Bovine prescriber ( by George Grasswell,) 3. Animal plague ( by Fleming George.) 4. Principles and practice of Bovine Medicine and Surgery ( J. w. Hill ) 5. Cattle Breeds and Management (by W. Housman ) 6. Stock keeping and Cattle Nursing (A. Roland.) 7. Treatise, on the Diseases of ox ( by J, H. Steel. ) 8. Farm Live stock in Great Britain ( by Robert Wallace.)

কৌমুদী
উপরােক্ত গ্রন্থগুলি ইংলণ্ডীয় গোজাতির জন্যই লিখিত,
তথাপি আবশ্যক বােধে এগুলি হইতেও অনেক বিষয় গ্রহণ করা
যাইতে পারে।
নাটক, নভেল প্রভৃতি বঙ্গ-ভাষায় যথেষ্ট হইয়াছে, ও
হইতেছে, (যদিও ইহারা অধিকাংশই পাঠ্য বলিয়া বিবেচিত
হয় না) অধুনা নানাবিধ বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক ও ঐতিহাসিক
গ্রন্থ প্রচারের সময় উপস্থিত হইয়াছে। কৃতবিদ্যগণের এ বিষয়ে
যত্নবান্ হওয়া কর্তব্য।
সংস্কৃত ভাষায় গােপালন সম্বন্ধে প্রায় প্রত্যেক পুরাণে অনেক
শ্লোক আছে। সেগুলি একত্রিত করিয়া প্রচার করা কর্তব্য।
মহাভারত পাঠে জানা যায় যে, সহদেব গাে-চিকিৎসায়
বিশেষ নিপুণ ছিলেন এবং পাণ্ডবগণের অজ্ঞাত বাসকালে
বিরাট ভবনে তিনিই গাে-চিকিৎসক ছিলেন। তাঁহার প্রচারিত
কোনও গ্রন্থ এ পর্যন্ত দেখি নাই। বােধ হয় তাহা থাকিতে
পারে, কারণ নকুলকৃত আশ্বশাস্ত্র পাওয়া যাইতেছে এবং
Asiatic Society কর্তৃক তাহা মুদ্রিত হইয়াছে । প্রাচীন
ভারতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বাল্যকালে বৃন্দাবনে গোধন চরাইতেন,
ইহা সর্বজন বিদিত। আদর্শ মহাপুরুষ ভগবানের অবতার
গােচারণ করিতেন, ইহা হইতে আমরা বিশেষ শিক্ষা লাভ
করিতে পারি। ফলতঃ এক সময়ে গোধনই ভারতের শ্রেষ্ঠ
সম্পত্তি ছিল।

;
কৌমুদী
তৃনাণি খাদন্তি বসন্তরণ্যে
পীপি তােয়ামৃতং স্রবন্তী।
যগোময়াদ্যশ্চ পুনন্তি লােকান্
গােভিনতুল্যং ধনমস্তি কিঞ্চিৎ ।
“গাবঃ পবিত্র মাঙ্গল্যা গােষু লােকঃ প্রতিষ্ঠিত
শকৃন্ত্রং পরস্তাসা ন লক্ষীনাশনং পরম্।”
আমাদের শাস্ত্রে সপ্ত মাতা বলিয়া কীৰ্ত্তিত হইয়াছেন
তন্মধ্যে গাভী একটী ।
যথা :-
আত্ম-মাতা গুরোঃ পত্নী ব্রাহ্মণী রাজদারিকা।
গাভী ধাত্রী ধরিত্রী চ সপ্তৈতে মাতরঃ স্মৃতাঃ ।
বস্তুতঃ গাভী আমাদের মাতৃভুল্যা, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নাই।
পঞ্চগব্য (দুগ্ধ, দধি, ঘৃত, গােময়, গােমূত্র) আমাদের
প্রত্যেক দৈব ও পৈত্ৰকাৰ্যে ব্যবস্থেয় হইয়াছে এবং হবিব্রহ্ম
( ধৃতব্রহ্ম। একথাও বলা হইয়াছে। যাহারা শ্ৰাদ্ধক্রিয়াতে
গােদানের মন্ত্র গুলি অভিনিবেশ সহকারে পাঠ করেন, তাহারা
বুঝিতে পারেন যে, শাস্ত্রকারগণ গাভীকে কি উচ্চ স্থান দিয়াছেন
এবং কি পবিত্রভাবে দেখিয়াছেন। এ সমস্ত বিষয় অপ্রাসঙ্গিক
হইলেও বলিতে বাধ্য হইলাম। কুতূহলী শ্রোতৃবর্গ এ বিষয়ে
বিস্তৃত বিবরণ জানিতে ইচ্ছা করিলে হিন্দু-শাস্ত্র-গ্রন্থগুলি একবার
পাঠ করিবেন।
গােদানের অনেক ফল শাস্ত্রে বিঘােষিত
হইয়াছে।

। কৌমুদী উপসংহার কালে Breeding বৈজিক ত সম্বন্ধে ২। ৪টা কথা বলা যাইতেছে। দেশে গো-জাতির উন্নতি বিধান করিতে হইলে Breeding সম্বন্ধে বিশেষ চেষ্টা করা উচিত। পূর্বকালে শ্রাদ্ধবাসরে যে বৃষােৎসর্গ করা হইত, তাহার উদ্দেশ্য বােধ হয় গােবংশের বিস্তৃতিসাধন। হৃষ্ট, পুষ্ট, সুস্থ ও উৎকৃষ্ট দুগ্ধবতীর বৎসই উৎসর্গ করা শাস্ত্রের আদেশ। বৎসটী তিন বৎসর বয়স্ক হওয়া চাই, কারণ এই বয়স হইতেই ষণ্ড সন্তান উৎপাদনে সমর্থ হয়, ইহা হইতে অপরিণত বয়স্ক যণ্ডে বৎস ভাল হয় না। বর্তমানকালে আমরা যে কোনও প্রকার একটা ষ উৎসর্গ করিতেছি এবং ইহাতেই অখণ্ডপুণ্য সঞ্চয় করিতেছি ভাবিয়া নিশ্চিন্ত আছি। আমাদের শাস্ত্রের মহান উদ্দেশ্য এই প্রকারে বিফল হইতেছে। উৎকৃষ্ট জাতীয় যণ্ড নিকৃষ্ঠ গাভীতে উপগত হইলে যে বৎস হয়, তাহা মতাি অপেক্ষা ভাল হয় এবং মাতার দুগ্ধও বাড়িয়া যায়, ইহা আমরা প্রত্যক্ষ করিয়াছি; কিন্তু তদ্বিপরীতে ফল বিরুদ্ধ হয়। অতএব এ বিষয়ে Breeding কারীদের লক্ষ্য রাখা উচিত। আমাদের শাস্ত্রে যে অনুলােম বিবাহ বৈধ এবং প্রতিলােম অবৈধ বলিয়া কথিত হইয়াছে, তাহার কারণ এই। রুগ্ন ষণ্ড, ৮ বৎসরের অধিক বয়স্ক ষণ্ড, Breedit, কার্যের অনুপযােগী। Breeding সম্বন্ধে বিস্তৃত বিবরণ পূ নাক্ত ইংরেজী ও বাঙ্গালা গ্রন্থগুলিতে দ্রষ্টব্য। গাভী - র অব্যবহিত পরেই ষণ্ডাপগত হইলে স্ত্রী ও তীয় r - কৌমুদী বৎস এবং কালবিলম্ব হইলে পুংবৎস হওয়ার সম্ভাবনা অধিক অতএব এ বিষয়ে লক্ষ্য রাখিয়া গাভীর পাল দেওয়াইতে পারিলে আশানুরূপ ফল লাভ করা যায়, ইহা পরীক্ষিত সত্য। বঙ্গদেশীয় পল্লীগ্রামের ভূম্যধিকারীগণ ভাল ভাল ষণ্ড পালন করিলে নিজের গাভী সকল উন্নত হয় এবং প্রজাদেরও সুবিধা হয়। প্রত্যেক গ্রামে ২। ১টী ষণ্ড মুক্তাবস্থায় রাখিতে পারিলে Breed ভাল হয়, ইহাতে শস্যহানির আশঙ্কা আছে বটে, কিন্তু যে ক্ষতি হয়, একটা উৎকৃষ্ট বৎস হইলে তাহার চতুগুণ লাভ হয়। অতএব এইরূপ সামন্য ক্ষতি গণনা করাই উচিত নহে। স্থানে স্থানে গাে-রক্ষণি সভা স্থাপন করিয়া কৃষক ও গৃহস্থগণকে গাে- পালন প্রভৃতি বিষয়ে উপদেশ দেওয়াও ভাল মনে হয়। কলিকাতা নগরীতে এবং অন্যান্য সহরে যাহারা বাস করেন, স্বাস্থ্যরক্ষার উদ্দেশে ও তাহাদের ( অবশ্য যাহারা সমর্থ তাহাদের )২। ১টী ভাল গাভী পালন করা উচিত, ইহাতে নানাপ্রকার সুবিধা আছে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা হইতেই একথা বলিতে সাহসী হইয়াছি । বাজারের কৃত্রিম দুগ্ধ সেবনেই যে কলিকাতায় নানাপ্রকার পীড়ার প্রকোপ বাড়িতেছে, এ সম্বন্ধে রায় বাহাদুর চুণীলাল বসু মহাশয় সে দিন খাদ্য সম্বন্ধে বক্তৃতায় বিশেষরূপে বুঝাইয়া দিয়াছেন। আমি সাহিত্য-সভায় ইতঃপূর্বে “দুগ্ধ” সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ আলােচনা করিয়া একটী প্রবন্ধ পাঠ করিয়াছিলাম, তাহাতে ও অনেক কথা বলা হইয়াছে। প্রকৃত কথা এই যে, গাে-পালন ব্যতীত

কৌমুদী
আমাদের স্বাস্থ্য সম্পত্তি কিছুই রক্ষিত হইতে পারে না,
এই জন্যই গোজাতির অবনতিতে আমাদের কি কি অনিষ্ট
হইতেছে এবং তাহা কি প্রকারে নিবারিত হইতে পারে,
তৎসম্বন্ধে যথা শক্তি আলােচনা করিলাম।
আমার এই ক্ষুদ্র প্রবন্ধে অনেক অসম্বদ্ধ কথা থাকিতে
পারে এবং অনেক কথা অনুক্ত ও আছে; কিন্তু ইহাদ্বারা যদি
কাহারও গাে-পালনের প্রবৃত্তি উক্তি হয় এবং গোজাতির
অবনতি নিবারণ ও তাহার উন্নতি সাধনের ইচ্ছা বলবতী হয়,
তবেই শ্রম সার্থক মনে করিব। উপসংহারে নিবেদন, গাে-মাতার
প্রতি দয়াপরবশ হইয়া বঙ্গীয় হিন্দুগণ যেন তাহাদের হিন্দু নামের
সার্থকতা রক্ষা করেন এবং “গােষু লােক প্রতিষ্ঠিত” একথা
যেন সর্বদাই মনে রাখেন। একথা যেন মনে থাকে যে, গাে-
ব্রাহ্মণের রক্ষাতেই ভারতবর্ষ সুরক্ষিত, ইহাদের অবনতিতেই
ভারতের দুর্দশা অবশ্যম্ভাবী

ما মহারাজার প্রিয় মুলতানী গাভ কল্যাণ

No text on this page.

দুগ্ধ প্রস্তাবনা যদি কেহ জিজ্ঞাসা করেন, এই পৃথিবীতে স্তন্যপায়ী (Mammalia) জীব মাত্রের শৈশবকালে এবং মানবের পক্ষে সর্বাবস্থায় এমন কি খাদ্য আছে, যাহাতে একাধারে সমস্ত পুষ্টিকর ও উপাদেয় পদার্থ বিদ্যমান ? তদুত্তরে বােধ হয় নিঃসন্দিগ্ধচিত্তে বলা যায় যে, তাহা “দুগ্ধ”। ফলতঃ একমাত্র দুগ্ধের উপর নির্ভর করিয়াই জীবন ধারণ করা যাইতে পারে একথা অলীক বা অত্যুক্তি নহে। কি বাল্যে, কি বার্ধক্যে, কি সুস্থাবস্থায়, কি রুগ্নাবস্থায়, দুধের ন্যায় পরম হিতকারী ও জীবনীয় পদার্থ আর নাই। মাতৃস্তন্য ত্যাগের পর মানবের পক্ষে যে সমস্ত প্রাণিজ দুগ্ধ ব্যবহাৰ্য, তন্মধ্যে গােদুগ্ধই সর্বশ্রেষ্ঠ ; অতএব এই প্রবন্ধে তৎসম্বন্ধেই যথা সম্ভব বিস্তৃতভাবে এবং অপরপর প্রাণিজাত দুগ্ধের বিষয় আনুষঙ্গিকভাবে, সংক্ষেপে আলোচনা করা যাইবে। স্তন্য পানের উদ্দেশ্য ও সন্তানের সংখ্যানুসারে স্তন্যপায়ী জীবের স্তনসংখ্যা ও সংস্থান সম্পূর্ণ বিভিন্ন। এ বিষয়ে ভগবানের সৃষ্টিকৌশল ও বৈচিত্র নিবিষ্ট চিত্তে আলােচনা করিলে মুগ্ধও বিস্মিত হইতে হয়। কোনও কোনও জীবের সন্তানের সংখ্যা- ধিক্যের সহিত মাতৃস্তনের সংখ্যাধিক্য দেখা যায়; কিন্তু কোনও

;
কৌমুদী
কোনও চলে এ নিয়মের ব্যতিক্রমও লক্ষিত হয় ; দৃষ্টান্ত স্বরূপ
“গিণিপিগ” নামক ক্ষুদ্র প্রাণী এবং “ছাগীর” বিষয় বলা যাইতে
পারে। এতদুভয়ের মধ্যে প্রথমােত্ত টী একবারে ৮। ১০টা
সন্তান প্রসব করিয়া থাকে, কিন্তু তাহার দুইটা মাত্র স্তন। ছাগীও
এককালীন একবা ততােধিক সন্তান প্রসব করে, কিন্তু তাও
দুইটা স্তন।
এ সম্বন্ধে হও অনেক দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করা
যাইতে পারে, বাহুল্য বিবেচনায় তাহা কথা হইল না।
জীবতত্ত্ব পৰ্যালােচনা করিলে দেখা যায় যে, আরণ্য ও
গৃহপালিত পশুর মধ্যে দৈহিক গঠন ও শুনাদির সংস্থান বিষয়ে
অনেক পার্থক্য জন্মিয়াছে ; এতদ্বিষয়ে বিস্তৃত আলােচনা এই
প্রবন্ধের বিষয়ীভূত নহে।
Copyu-কোপিয়ু নামক এক প্রকার জলচর ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী
জীব আছে ; সন্তরণ কালে সে তাহার শাবককে পৃষ্ঠে বহন করিয়া
থাকে, তৎকালে মাভার স্তন দুইটী তাহার স্কন্ধদেশের পার্শ্ব দিয়া
উৰ্দ্ধমুখে উত্থিত হয়, ইহাতেই শাবক অনায়াসে দুগ্ধ পান করিতে
পারে। উপরােক্ত কারণেই এই প্রাণীর স্তন দুইটী অতিশয়
দীর্ঘাকৃতি। এই প্রকারে দেখা যায় যে, জীবজগতে ভগবানের
কি বিচিত্র কৌশল প্রকটিত হইয়াছে।
( ২ )
দুগ্ধের সংজ্ঞা, স্বরূপ, ব্যুৎপত্ত্যর্থ ও পৰ্য্যায় শব্দ।
স্তন্যপায়ী, স্ত্রীজাতীয় জীবমাত্রেরই সন্তান প্রসবান্তে তাহাদের
;
j. Viser 5 Mil's, C!casc an: Butto: 4777 HÈTI

কৌমুদী
স্তনাগ্রস্থিত সূক্ষম সূক্ষম র পথে আকর্ষিত হইয়া যে শুভ্র, তরল,
স্নিগ্ধ মসৃণ ও সুস্বাদু পীযূষধীরা নির্গত হয় তাহাকেই “দুগ্ধ” বলা
যায়। সুশ্রুত সংহিতায় উক্ত হইয়াছে ;-
“রস প্রসাদো মধুর পাহারনিমিত্তজঃ।
কৃৎস্নদেহাৎ স্তনে প্রাপ্তঃ স্তন্যমিত্যভিধীতে।”
রপ্রসাদ-সস্য সার ইতি।
অর্থাৎ স্তন্যপায়ী স্ত্রীজাতীয় প্রাণীর আহাৰ্য্য দ্রব্যাদি পকাশয়গত
২ দুয়া জীর্ণ হইলে, তাহাতে যে রস জন্মে, ঐ রসের সারভাগ
সমস্ত শরীর হইতে স্তনে যাইয়া “স্তন্য” (স্তনদুগ্ধ) নামে কথিত
হইয়া থাকে। ভাব প্রকাশে কথিত হইয়াছে যে -
“স্তং ত্রিরত্রাৎ স্ত্রীণঃ চঃ রত্রদিন।
প্রনয়ন্তি বিবৃত ধমতো হৃদয়ে স্থিতাঃ ॥”
অর্থাৎ প্রসবান্তে তিন বা চারি রাত্রির পর হইতে স্ত্রীদিগের
হৃদস্থ ধমনীসমূহ প্রসারিত হইলে, স্তন্য প্রবর্তিত হইয়া থাকে।
প্রশ্নবান্তে ৩। ৪ দিন পর্যন্ত স্ত্রীজাতীয় স্তন্যপায়ী জীবগণের
অন হইত যে এক প্রকার হরিদ্রাভ, পূবৎ পিচ্ছিল পদার্থ
নির্গত হয়, তাকে ইংরেজী ভাষায় Colstrum (কলাম)
বলে। ইহার রাসায়নিক গঠন ইত্যাদি বিষয়ে পশ্চাৎ বিস্তৃতভাবে
বলা যাইবে।

কৌমুদী (ক) রাজ নিঘণ্টতে দুগ্ধের শ্বেতত্বের কারণ এই প্রকার কথিত হইয়াছে ;- “ক্ষীরং স্নিগ্ধং তথা রক্তং পিত্তেন পতাং গতং রক্তং শ্বেতত্বমায়াতি তথা ক্ষীর সিং ভবেৎ।” তাৎপৰ্যার্থ :—দুগ্ধ স্নিগ্ধ (তৈলাক্ত অথবা নবনীতযুক্ত) পিত্তদ্বারা পরিপাক প্রাপ্ত হইয়া রক্ত শ্বেত বর্ণ ধারণ করে, তাহাতেই দুগ্ধ শুভ্র বর্ণ বিশিষ্ট হইয়া থাকে (কারণ রক্তে পরিণত হইলেই রস এবং রসই দুগ্ধে পরিণত হয়। এই দুগ্ধ মাতৃহৃদয়ের অতুলনীয় স্নেহাশি বিগলিত হইয়াই যেন স্তনমুখে প্রবাহিত হয় । সন্তানের আকর্ষণ ব্যতীতও কেবলমাত্র তাহার দর্শন, স্পর্শন, স্মরণ অথবা গ্রহণ জনিত হর্ষ ও স্নেহবশতঃ আপনা আপনই ক্ষরিত হইতে থাকে; অতএব স্নেহ ও হর্ষই দুগ্ধ ক্ষরণের অন্যতম কারণ। মাতৃ জঠরে সন্তানের অবস্থানের কাল হইতেই মাতার স্তনমণ্ডলে ভাবি সন্তানের আহাৰ্য, পীযুষরাশি সঞ্চিত হইতে থাকে ; ভগবানের লীলা ও করুণার অন্ত নাই। জগতে যত কিছু পবিত্র ও নির্মল পদার্থ আছে, তৎসমস্তকেই আমরা দুগ্ধের সহিত তুলিত করিয়া থাকি। শুভ অস্তিরণযুক্ত শয্যা “দুগ্ধফেননিভ” বলিয়াই বর্ণিত হয়। মহাকবি ভবভূতি তাহার জগদ্বিখ্যাত “উত্তর রামচরিত” নাটকে সকরুণ দৃষ্টির সহিত দুগ্ধ-কুল্যার ( কুলাল্লা কৃত্রিম সরিৎ ) তুলনা করিয়াছেন, যথা—“পয়সি পয়সীব দুগ্ধ-কুল্যের দৃষ্টিঃ।” ;

কৌমুদী আকর্ষণার্থ “দুহ” ধাতু “ক্ত” প্রত্যয় যােগে দুগ্ধ শব্দ নিষ্পন্ন হইয়াছে। প্রাচীনকালে ভারতবর্ষে (বৈদিককালে) কন্যা সন্তানের উপরেই গােদোহনের ভার অর্পিত হইয়াছিল, তাহাতেই কন্যাকে “দুহিতা” বলা হইত। “দুহ” ধাতু “চ” প্রত্যয় যােগে “দুহিতৃ” শব্দ উৎপন্ন হইয়াছে। কন্যা স্নেহময়ী এবং কোমলহৃদয়া, তাহাতেই বৈদিক ঋষিগণ গোবৎসের প্রতি করুণা- পরবশ হইয়া, তাহাদের কন্যা সন্তানের উপর গোদোহনের ভার অর্পিত করিয়াছিলেন, ইহাতে গােজাতির প্রতি তাহাদের অপরিসীম যত্ন ও স্নেহাধিক্য এবং তাঁহাদের বুদ্ধিমত্তাই প্রকাশিত হইতেছে। (১) ক্ষীর, (২) পয়, (৩) স্তন্য, (৪) বালজীবন, (৫) পীযূষ, (৬) অমৃত, (৭) উধস্ত,--এই গুলি দুগ্ধের পৰ্য্যায় শব্দ। প্রচলিত বাঙ্গালা ভাষায় ইহাকে “দুধ” বলা যায়। দুগ্ধের রাসায়নিক গঠন, ভিন্ন ভিন্ন প্রাণিজ দুগ্ধের রাসায়নিক উপাদানের তুলনা এবং গাে দুগ্ধের শ্রেষ্ঠ। দুগ্ধের রাসায়নিক গঠন সম্বন্ধে পাশ্চাত্য বৈজ্ঞানিক মত নিম্নে সন্নিবেশিত হইল :- * নিরুক্তকার যামুনি দুহিতা শব্দের এই প্রকার ব্যাখ্যা করিয়াছেন যথা- “দুহিতা” দুহিতা দূরে হিতা দোন্ধেৰ্ব্বা। টীকা-দুহিতা সাহি য ত্রৈব দীয়তে তত্ৰৈৰ দুহিতা ভবতি, দূরে স্থিতা সতী সা পিতু হিতা বাচা ভবতি ইতি দুহিত্যেচ্যতে দোগ্ধের্ব সাহি নিত্য মেব পিতুঃ সকান্মাৎ দ্রব্যং দেহ্মি প্রার্থনা পঞ্চৎ।

কৌমুদী । “The chefical constitution of fatty globules (cream) in watery alkaline solution of Casein, and a variety of sugar, peculior to milk, called Lactose is Milk. The fat is “Butter” “Lactose” constitute the carbonaceous portion of milk, good for food. The “Casein" which forms the principal constetuent of “Cheese" and a certain proportion of “Albumin” which is present, forms the Nitrogenous, while the complex saline substances and water are the inineral constituents. These various substancus are present in definite proportion which made milk a typical and perfect food, suitable to the wants of the young of the various animals, for which it is provided by nature." ইহার তাৎপর্য এই যে, কেস্ক্রিনের (Casein অর্থাৎ ছানা ), Alkaline [ ক্ষারযুক্ত । জবৎ ঐ পদার্থে চৰ্বীযুক্ত সর? ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বুদবুদ এবং Lactose ( লেটোজ । নামক বিবিধ প্রকার শর্করার যাহা দুর্গেরই বিশেষ], রাসায়নিক গঠনকে “দুগ্ধ” বলা যায়। চর্বী (Fat) হইতে নবন' (মাখন) উৎপন্ন Lactose (লেকটোজ) নামক পদার্থ দুগ্ধের কাৰ্বাসিস, ( আঙ্গারিক) অংশ ; ইহা খাদ্যের জন্য প্রশস্ত ; Casein { ; কৌমুদী (কেজি) এবং দুগ্ধস্থিত তান্নাংশ Albumin (এলবুমিন্ । অর্থৎ ডিম্বব অভ্যন্তর শুভ্রবর্ণ পিচ্ছিল পদার্থ—ইহাকে শ্বেতসার বলা যায়। তাহার (দুগ্ধের ) Nitrogenous { নাইট্রোজিনস) অংশ ; জল এবং নানা প্রকার লবণাক্ত পদার্থ saline substances ) দুগ্ধে ও খনিজ অংশ। পূর্বোক্ত বিবিধ পদার্থ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অনুপাত মত দুগ্ধে এরূপ ভাবে মিশ্রিত ::ছ যে, তাহাতেই ইহা (দুঃ) নানা প্রকার স্তন্যপায়ী জীব শশুর পক্ষে (যাহার জন্য প্রকৃতি কর্তৃক ইহা নির্দিষ্ট হইয়াছে সম্পূর্ণ উপযােগী ও উৎকৃষ্ট খাদ্য। দুগ্ধতি Phosphate of Lime ( ফসফেট, অব লাইম্ । হইতে অস্থির { হাড়ের ) পোষণ হয় ; Soda ( সোডা) প্রভৃতি লবণাক্ত পদার্থ হইতে রক্তের তরল হয় এবং Grastic Juice { গ্রেষ্টি জুস, অর্থাৎ পরিপাকজনক রস) জন্মে ; Casei.। { ছানা ) মাসবৃদ্ধিকারক , নবনীত মেদবৃদ্ধিকর ; অপিচ নবনীত হইতে দুগ্ধের উপাদেয়তা, শর্করা হইতে মিষ্টত্ব, ছানা হইতে গাঢ়তা, জল হইতে তৃপ্তিদায়কত্ব এবং লবণাক্ত দ্রব্যাদি হইতে স্বাদবিশেষ সঞ্জাত হয় । যে সকল প্রাণিজ দুগ্ধ মানব কর্তৃক ব্যবহৃত হইয়া থাকে, তাহাদের উপাদান সমূহের শতাংশ হিসাবে অনুপাত নিম্নে প্রদর্শিত হইল ; ক W.Blyth Cameron Volcker Valcker Cameron Chuallin Greber Water জল Pormilk ৮৭০০ J ৮৪ ৪৮ ৮২২ ৮৩৭• ৯০°৩১০ ৯১৩৬৫ Rich ৮২ ২৭ ৮৮৮০ ৮৮০২ ৮৮০০ Casein ছানা Albumen! ১৭৫ ৫১৬ ১৯৫৩ ৪'১০ ৩৯১ ৪*৬৭ ১৮২ ১৬৩ ২৯৭ ৭১০ Sugar শর্করা ৪০০ ৪২৪৬৮ ৭৩ ৬২৮৫ ৬ ০৮! ৭০৩ ৫৮৭ ৪:২০ ডাক্তার Velker বলেন মেষ দুগ্ধের নবনীতের অংশ অত্যন্ত দুই ভাগ হইতে ১২ পর্যন্ত হইতে পারে। অধিক, ইহা Fat নবনীত চী ৩৫০ ৩৫০ ৪০। ১০ ৫৫ ১০২ ৪৪৫ ৫'৩০ ২৯০ ২৯০ ৭০২ f০৭৯ Ash ধাতব পদার্থ, ০৭: ০৬২১০১ ০৯৬ ০৩৩৬৯ o '৩৪ ০১৬ Peptone পেপটো ৩ ০১৩

.
I ,
কৌমুদী
নিম্নলিখিত পদার্থগুলিও অল্পমাত্রায় দুগ্ধে বৰ্তমান আছে, যথা-
Carbonic Acid Gas কার্বনিক এসিড গ্যাস।
2. Sulphuretted Hydrogen সলফিউরেটেড
হাইড্রজেন্।
3. Hydrogen হাইড্রজেন।
4. Nitrogen নাইট্রজেন্।
5. Oxygen কক্সজেন্।
6. Galactin 656999fca!
7.
Lactochroze লেক্টোক্রোম।
মন্তৰ-এ মস্ত পদার্থের বাঙ্গালা প্রতিশব্দ দেওয়া দুরূহ,
জন্য তাহা দেওয়া হইল না।
দুগ্ধের জান্তব অংশকে (Animal matterকে) Peptone
{ পেপটান) বলা যায়। Dr. W. Blyth ( Gir?
ডব্লিউ ব্লিথ ) বলেন যে, কেজি ও আলবিউমিন্ ব্যতীত নিম্নোক্ত
$ন্তব পদার্থ সমূহও দুগ্ধে বৰ্তমান আছে, যথা-
Leucin লিউসিন্।
2. Peptone (91947.61a i
3. Kreatine ক্রিয়েটি।
4. Tyrosin টাইরেসি।
মন্তব্য—এগুলিরও বাঙ্গালা এ তিশব্দ দেওয়া সম্ভবপর নহে,
জন্য সে চেষ্টা করা হইল না।
1.

2. কৌমুদী দুগ্ধে পশ্চাল্লিখিত অনুপাত মত লবণাক্ত ও ধাতব পদার্থ বিদ্যমান আছে, যথা- পদার্থের নাম•••শতাংশ হিসাব অনুপাত 1. Phopheric Acid ফসফেরিক এসিড Clorine ক্লোরি ১৬৩৪ 3. Lime 59 ২৭০০ 4. Potash পটাস, . ১৭:৩৪ 5. Magnasia casitafaat ৪০৭ 6. Soda (1UY রাসায়নিক বিশ্লেষণলব্ধ দুগ্ধের উপাদান সমূহের শতাংশ হিসাবে অনুপাত মতান্তরে কথি ও হইয়াছে, তাহার নিম্নে সন্নি- বেশিত হইল। ? খ; * ৮। গ 4 5 এ এ এ অক। নবী গোদুগ্ধ গদ্দগ্ধ ৩২৫ Protiid (Casein & Lacto albumen) ছানা ইত্যাদি ০৬। ১৪। ৪ । } • '৭৫ ৮ Fat চৰ্বী নবনীত) ৪২ Sugar শর্করা Mineral matter ধাতব পদার্থ চর্বীর । কৌমুদী মহিষ দুগ্ধে জলীয় ভাগ শতকরা ৮১ হইতে ৮৬ অংশ, রি ভাগ ৪৬ হইতে ৬ষ পর্যন্ত, ছানা ও এলবিউমিন ৩৫ হইতে ৪ পৰ্যন্ত শর্করা ৫ অংশ, ধাতব ও খনিজ পদার্থ ৮ অংশ নাইস্ট্রোজেন্ ৬ অংশ পর্য্যন্ত বর্তমান আছে। Centigrade ( সেন্টগ্রেড স্কেলের তাপমানে ২৫ ডিগ্রী উত্তাপে মহিষ দুগ্ধের আপেক্ষিক গুরুত্ব Specific gravity) ১০৩০ হইয়া থাকে। গো-দুগ্ধের উল্লিখিত উপাদান সমূহের অনুপাত সর্বাবস্থায় এবং সর্বদা এক প্রকার থাকে না ; ভিন্ন ভিন্ন গাভীতে এবং একই গাভীতে বিভিন্ন অবস্থায় ও কাল এব দেশ ভেদে পরিবর্তিত হইয়া থাকে। আর বিহার, প্রতিপালন, ( সন্তান বৎস) কর্তৃক স্তন্য পানের স্থায়িত্ব কাল, প্রকৃতি, বয়স, স্বাস্থ্য ও দোহনের পৌনঃপুন্য ইত্যাদি বিবিধ কারণে দুগ্ধের গুণ ও উপাদানাদির ইতর বিশেষ হয়। প্রাগুক্ত কারণাধীনে দুগ্ধের উপাদানের অনুপাত স্বভাবতঃ নিম্নলিখিত ও পরিবর্তিত হইয়া থাকে, যথা - শ: সিাবে তানুপাত ৯০০০ হইতে ৮৩৬৬ • Water 56 0 D . Fat চব্বী 3. Casein, Albumen ছানা 4. 'Sugar শর্করা 5, Ash ধাতব পদার্থ ৩৩০ ০৭০ • '৮০ কৌমুদী অপ্রাসঙ্গিক হইলেও, পাঠকবর্গের কৌতূহল নিবৃত্তি ও অবগতির জন্য গাে-দুগ্ধ ও তজ্জতি পদার্থসমূহের রাসায়নিক বিশ্লেষণ ( Chemical Analysis) লব্ধ উপাদান সমূহের শতাংশ হিসাবে অনুপাত নিম্নে প্রদর্শিত হইল, যথা- এe Water Fat চন্দ্বী Casein Albumin Sugar ছানা শর্করা জলা White Milk ( খাঁটি দুধ) ৩৯৮ ৩১২ ০৪ ০ ৭৭:৩০ ১৫৫৫ Cream সর (মালাই) ২৮৬৫ ৬৩৫১১ '৫২১ ১৭২৩ ১০৩ ৪৫ Skimmed Milk ( সরতোলা দুধ) ২৮৭ ২৮৮ ৪৯ ৫'৪৩ ১৯৭। ০২৮ ১৪৮৯ Bitter নবনীত (মাখন ) ৮২০২ ০২৮ ১৪:১৪ ৮৩১১ ০ ৮৬ '৭০ Butter Milk ( মাখনতোলা দুধ ) '২০ Curd ( দধি ছানা ) ২৪-২২ Whey ( দই ছাঁকা জল) ৯৪০। ০৩৫ '৪০ ০.৪ ৪-৫৫ * প্রত্যেক দ্বিতীয় লাইনের অঙ্কগুলি Winter Blyther এর মতানুযায়ী।

' ; • কৌমুদী দধির জলকে Whey (হোয়ে) বলা হয়, ইহা হইতেই Milk Sugar ( মিল্ক-সুগার ) Lactose ( অর্থাৎ দুগ্ধ শর্করা) উৎপন্ন হইয়া থাকে ; ইহা দানা বাঁধা ও দৃঢ় হয় এবং জলীয় বাষ্পষাগে সহসা দ্রবীভূত হয় না; ইহা ইক্ষুজাত শর্করাপেক্ষা কম স্টি হয় থাকে। সাধারণ মন্তব্য ;--স্থূলতঃ দেখা যায় যে নারদুগ্ধে শতকরা ৩ হইতে ৪ (চার) অংশ Nitroginous (নাইট্রোজেনস, পদার্থ,অর্থাৎ Protied ( প্রােটিড)যথা,--Casein (ছানা) Albunmin &c• ( আবুমী প্রভৃতি ] এবং ৩ (তিন) ভাগ Fat (চ) ৪ চারি। ভাগ Sugar (শর্করা, ইহাকে Carbohydrates ( কার্বোহাইড্রেটস,) বলা যা। এগুলি (Organic অগেনিক ; এক ভাগের চারি অংশineral Matters ধাতব পদার্থ, খনিজ) অর্থাৎ liortic Substance { ইঅরগেনিক) [ যথা-Sodium ( ডি. i, iime চূণ } (পটসি) এবং ৮৯ ভাগ জল বৰ্তমান আছে । এখন গােছুগ্ধের সহিত এই দুগ্ধের ( নারাঃ করিলে দেখা যায় যে, প্রথমোক্তটী (গােদুগ্ধে ) জব অংশ কম এং Casein (ছানা) প্রভৃতি সার পদ। :চী), Soda (সােড), Potash (পটাস) প্রভৃতি ৷ ক্ষার পদার্থ এবং Nitrogenous (নাট্রোজেন্স) পদার্থ অধিক মাত্রায় বিদ্যমান; কিন্তু ইহাতে নারীদুগ্ধাপেক্ষ। শর্করার অংশ { কৌমুদী ন্যূন এবং গােদুগ্ধ ঈষৎ Acid (অ) যুক্ত ও নারী দুগ্ধ Alkaline (ক্ষার) যুক্ত; এই নিমিত্ত গােদুগ্ধে অল্প পরিমাণ পরিষ্কৃত জল কিছু চূণের জল এবং চিনি মিশ্রিত করিয়া লইলে ইহা প্রায় নারীদুগ্ধের তুল্য হয়। এই সমস্ত পদার্থ কি পরিমাণে মিশ্রিত করিলে গােদুগ্ধ একবারে নারীদুগ্ধের সমতুল্য হয় তাহা বলা দুষ্কর ; বৈজ্ঞানিকগণ এ সম্বন্ধে কোনও নির্দিষ্ট নিয়মাবধারণ করিয়াছেন বলিয়া বােধ হয় না। বস্তুতঃ নারীদুগ্ধের অভাবে ( মাতৃস্তন্যের অভাবে ) গর্দভীদুগ্ধ এবং জল ইত্যাদি মিশ্রিত গােদুগ্ধ প্রশস্ত এবং হিতজনক ; কিন্তু গর্দভীদুগ্ধে সারভাগ ও পুষ্টিকর পদার্থ কম, অতএব আমাদের বিবেচনায় গগদুগ্ধই সর্বশ্রেষ্ঠ বলিয়া মনে হয়। ( ৪ ) দুগ্ধের সাধারণ গুণ ( আয়ুৰ্ব্বেদোক্ত ) দুগ্ধ সাধারণতঃ বলকারক, পুষ্টিকারক, শুক্ৰবৰ্দ্ধক পবিত্র, সুস্বাদু, মসৃণ, স্নিগ্ধ (নবনীত যুক্ত), শীতল ও সারক ; ইহা জীবনীয় পদাথ সমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট। এ সম্বন্ধে আয়ুর্বেদোক্ত মতগুলি নিম্নে উদ্ধৃত হইল। ভাব প্রকাশে কথিত হইয়াছে- “দুগ্ধং সুমধুরং স্নিগ্ধ বাতপিত্তহরং সরং। সদ্যঃ শুক্রকরং শীতং সাত্মং * সর্ব শরীরিণাম্। * সাত্মং অর্থাৎ হিতকারী, সুশ্রুত সংহিতায় উক্ত হইয়াছে--

৭১
কৌমুদী
জীবনং বৃংহণং বলং মেধ্যং বাজীকরং পরম্।
বয়ঃস্থাপকমাযুষ্যং সন্ধিকার রসায়ন।
বিরেকবাস্তিবস্তীনাং তুল্যমােজো বিবর্ধন।”
অর্থাৎ-দুগ্ধ সুমধুর, স্নিগ্ধ (তৈলাক্ত, রসাদি যুক্ত) বায়ুপিত্ত
নাশক, সারক (Purgative) সদ্য শুক্ৰবৰ্দ্ধক, শীতল, সকল
প্রাণীর সাত্ম (দেহানুকূল এবং হিত নক) জীবন রক্ষক, পুষ্টিকর
বলকারক, অত্যন্ত বাজীকরণ (তি শক্তি বর্ধক) বয়ঃ স্থাপক,
পরমায়ু বৃদ্ধিকারক, সন্ধি কারক, (ভগ্ন সংযােজক) রসায়ন
| রব্যাধি বিনাশক। এবং বিরেচন, বন ও বস্তি ক্রিয়ার
পিচকারী দেওয়ার উপযােগী, ইহা ওজো ধাতুর বর্ধক।
cঙ্গ হৃদয়ে {বাগ, ভটে কথিত হইয়াছে ।
“স্বাদু পাকরসং স্নিগ্ধমােজস্যং ধাতুৰ্দ্ধনং।
বা পিত্তহরং বৃষ্যং শ্লেষ্মকং গুরুশীতলম্ ॥”
প্রায় পয়
অত্র গব্য
জীবনীয়ং রসায়ন
অথাৎ—প্রায় সমস্ত প্রাণিজ দুগ্ধই স্বাদু পাকরস। জীর্ণ
হইয়া রসে পরিণত হয়, ) স্নিগ্ধ, ওজোবর্ধক ধাতু পুষ্টিকর,
“যে রসঃ কল্পতে যস্ত সুখায়ৈব নিবিতঃ ।
ব্যারামজাতন্যদ্বা তৎ সাত্ম্যমিতি নিৰ্দিশেৎ ॥
অর্থাৎ-ষ ব্যক্তি যে রস সেবন করিলে, অথবা যে প্রকার ব্যায়াম অথবা অন্য
কোনও কাব্য করিলে তাহার পক্ষে সুখনক হয়, তাহা তাহার পক্ষে সাত্ম বলা যায় ;
আত্মনো হিতমিতি “আত্ম” তেন সহ বর্তমানং সাত্মমিতি।
}
৫

१२
কৌমুদী
বাতপিত্ত নাশক, বৃষ্য (শুক্ৰবৰ্ধক) শ্লেষ্মাবর্ধক, গুরু এবং শীত
বীৰ্য্য
-তন্মধ্যে গােদুগ্ধ সর্বাপেক্ষা জীবনীয় (আয়ুৰ্ধক) এবং
রসায়ন (জরা ব্যাধি বিনাশক ) ।
চরক সংহিতায় উক্ত হইয়াছে ।
“প্রবরং জীবনীয়ানাং ক্ষীরমুক্তং রসায়ন।
অর্থাৎ দুগ্ধ জীবনীয় পদার্থ সমূহের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট এবং
ইহা রসায়ন।
নিঘণ্টতে কথিত হইয়াছে ? --
“দুগ্ধং মীং পয়ঃ স্বাদু রসায়নসমাশ্রয়ং।
সৌম্য প্রস্রবণং স্তন্যং বারি সাত্মঞ্চ জীবিত।
তথাহনেকৌষধিরসং স্নিগ্ধ শীভং সূক্ষং সরং মৃদু
তাৎপৰ্যার্থ—দুগ্ধ ( ক্ষার, স্তন্য পরঃ) স্বাদু রস:য়ন সোম
(পবিত্র) প্রস্রবণ (মূত্রকারক প্রাণদায়ক সত্ম নেকৌষধিরস
( অনেক ভুক্ত পদার্থের সার ভাগ), স্নিগ্ধ শীতল সূক্ষ মসৃণ।
সারক ও মৃদু।
অত্রি সংহিতায় কথিত হইয়াছে---
“স্রোতে। বিশুদ্ধিকরণং বলকৃদ্দোষনাশনং।
পয়স্ত্রিদোষনাশনং বৃঞ্চাগ্নিপ্রবনম্ ॥”
অর্থাৎ—দুগ্ধ স্রোতে। (দ্বার, ইন্দ্রিয় সমুহের রন্থ, পথ) সমূহের
বিশুদ্ধি কারক, বলকারক, দোষনাশন (ত্রিদোষ নাশক ), বৃষ
{ শুক্ৰবৰ্ধক) এবং অগ্নিৰ্দ্ধক।

০
कोभून्ती
সুশ্রুত সংহিতায় উক্ত হইয়াছে -
“গব্যমাজং তথা চৌমাবিকং মাহিষঞ্চযৎ।
অশ্বাষাশ্চৈব নাৰ্য্যশ্চ করেণুনাঞ্চ যৎপয়ঃ ।
তত্ত্বাননকৌষধির প্রসাদং প্রাণদং গুরু
মধুর পিচ্ছিলং শীতং স্নিগ্ধ শ্লষ্ফংসরং মৃদু ।
সর্ব প্রাণভৃতং তস্মাৎ ক্ষৗরমিহােচ্যতে,
অত্ৰসর্বমেব ক্ষীরং প্রাণীনাম প্রতিসিদ্ধং জাতি সাত্মাৎ।”
তাৎপৰ্যার্থ :—নানাপ্রকার দুগ্ধ আছে ; তন্মধ্যে গব্য, ছাগী,
মেষী, উষ্ট্ৰী, মহিষী, অশ্বিনী নারী ও হস্তিনী দুগ্ধ ঐ সকল প্রাণীর
ভুক্ত নানাপ্রকার ওষধির (তৃণাদির: রসের সার ভাগ। উহাদের
দুগ্ধ প্রাণদ, গুরু, মধুর, পিচ্ছিল, শীতল, স্নিগ্ধ, শ্লষ্ণু (মণ), সর
(সারক) ও মৃদু ; এই সমস্ত কারণে উক্ত সকল প্রকার প্রাণীর
জাসিত্ম (হিতজনক ও দেহানুকূল; বলিয়া এই সকল দুগ্ধ বর্ণিত
হইতেছে।
••
আয়ুৰ্ব্বেদোক্ত গোদুগ্ধের গুণ।
চরক সংহিতায় গােদুগ্ধের গুণ এই প্রকার কথিত হইয়াছে ;
যথা :
“স্বাদু শাতং মৃদু স্নিগ্ধং বহলং শঙ্কু পিচ্ছিলং।
গুরু মন্দং প্রসন্ন গব্যং দশগুণং পয়ঃ।
তদেৰং গুণমেবেতঃ সামান্যাদভিবন্ধয়েৎ ॥”

৭১ কৌমুদী । অথাৎ-মধুর রস, শীতবীৰ্য্য, মৃদু, স্নিগ্ধ, ঘন, ক্ষ (সূক্ষ পিচ্ছিল, গুরু, মন্দ, (অতীক্ষ্ণ) নিৰ্ম্মল- -গব্যদুগ্ধ এই দশ গুণ বিশিষ্ট ; ওজঃ পদার্থও এই দশটী গুণান্বিত অতএব গুণতুল্যতা হে গােদুগ্ধ ওজো ধাতু বর্ধক। ভাব প্রকাশে কথিত হইয়াছেঃ- “গব্যং দুগ্ধং বিশেষেণ মধুরং রসপায়ে শীতলং স্তন্যকৃৎ স্নিগ্ধ বাত পিত্তনাশনম্ । দোষধাতু মলস্রোতং কিঞ্চিৎ ক্লেদকরং গুরু। জরাসমস্তয়ােগানাং শান্তিকৃৎ সেবিনং সদা । তাৎপৰ্যার্থ :-গােদুগ্ধ বিশেষ (১) মধুর রস ও (২) মধুর বিপাক, শীতবীৰ্য্য, স্তন্যজনক (দুগ্ধ বর্ধক, স্নিগ্ধ, বাতপিত্ত নাশক রক্তপিত্ত রােগ নিবারক, দোষ, ধাতু, মল ও স্রোতঃ সমূহের কিঞ্চিৎ ক্লেদজুনক, গুরুপাক এবং ইহা নিত্য সেবনে সমস্ত পীড়া প্রশমিত হয়। অষ্টাঙ্গ হৃদয়ে কথিত হইয়াছে- “——অত্র গব্যন্তু জীবনীয়ং রসায়নম ক্ষতক্ষীণহিতং সেব্যং বলং স্তন্য, করং সব।” তাৎপৰ্যার্থ নানাপ্রকার দুগ্ধের মধ্যে গো-দুগ্ধ জীবনীয় রসায়ন ক্ষতজনিত ক্ষীণ ব্যক্তির পক্ষে হিতকারী ; পবিত্র, বল- কারক, স্তন্যকর ( দুগ্ধবৃদ্ধিকর) এবং সারক। ;

৭
कोशूको
সুশ্রুত সংহিতায় কথিত হইয়াছে
“গােক্ষীরমনভিষ্যন্দি স্নিগ্ধং গুরু রসায়ন।
রক্তপিত্তহর: শীতঃ মধুরং রসপাকয়াের।
জীবনীয়ং তথা বাত পিত্তরং পরমং স্মৃত।”
অর্থাৎ-গোদুগ্ধ অনভিষন্দী (কফ নিবারক ), স্নিগ্ধং গুরু
রসায়ন, রক্তপিত্ত নাশক, শীতল মধুর রস এবং মধুর বিপাক,
জীবনীয় এবং অতিশয় রক্তপিত্ত নাশক।
নির্ঘণ্টতে উক্ত হইয়াছে—
“পথ্যং রসায়নং বল্যং হৃদ্যং মেধ্যং গবং পয়ঃ।
আয়ুষ্যং পুংস্তৃক বাতরক্তপিত্তবিকারমুৎ ।
গব্যং ক্ষীর পথ্যমত্যন্ত রুচ্যং,
স্বাদু স্নিগ্ধ বাত পিত্তাময়ং।
কান্তি প্রজ্ঞা বুদ্ধি মেধাঙ্গপুষ্টিং,
ধত্তে স্পষ্টং বীৰ্য্যবৃদ্ধিং বিধত্তে।”
তাৎপৰ্যার্থ—গােদুগ্ধ পথ্য (হিতজনক) বলকারক, হৃদ্য
(তৃপ্তিজনক), মেধ ( পবিত্র ), আয়ুবর্ধক, পুরুষত্বকারক, বায়ু, ও
রক্তপিত্ত বিকার নাশক। গােদুগ্ধ পথ্য, অত্যন্ত রুচিকারক,
*বিপাক-দ্রব্য ভক্ষণানন্তরং পাকে সতি
মাধুৰ্যাদি পৰিণামম। জঠরাগিনা যােগদি যদুদেতি রসান্তরং “রসানাং পরিণামান্তে
স বিপাক ইতি মৃতঃ মিষ্ট কটু মধুরং অম্নোম্বেং পচতে রসঃ কটু তিক্ত কষায়ানাং
পাক স্থাৎ প্রায়শঃ কটু। মধুরবিপাকস্য শ্লেষ্মকারিতা অম্নপাকস্থ পিত্তকারিতা, বা
শ্লেষ্মা রােগুতা কটুপাকস্য বাত কফ, পিত্তনাশিত। চ।

কৌমুদী
স্বাদু, স্নিগ্ধ, বাত-পিত্ত-রােগ-নিবারক, কান্তি, প্রজ্ঞা, বুদ্ধি মেধা ও
অঙ্গ পুষ্টিকারক, ইহা স্পষ্টভাবে বীৰ্য্য বৃদ্ধি করিয়া থাকে ।
অত্রি সংহিতায় কথিত হইয়াছে
“গণ্যং পবিত্ৰঞ্চ বসায়নঞ্চ
পথ্যঞ্চ হৃদ্যং বল পুষ্টিং স্মাৎ।
আয়ুঃপ্রদং রক্ত বিকার পিত্ত
ত্রিদোষ হৃদ্রোগ বিষাপহং স্যাৎ ॥”
বঙ্গাৰ্থ—গােদুগ্ধ, পবিত্র, রসায়ন, পথ্য, হৃদ্য, বল ও পুষ্টি-
কারক, আয়ুবর্ধক, রক্তবিকার, পিত্ত ও ত্রিদোষ নাশক এবং ইহা
হৃদ্রোগ ও বিষনাশক।
( ৬ )
আমুর্বেদোক্ত মাহিষদুগ্ধের গুণ।
চরকো :-
“মহিষাণাং গুরুতরং গব্যাচ্ছীততরং পয়ঃ।
স্নেহানূন মনিদ্রায় হিতমত্যগয়ে চ তৎ॥”
মহিষদুগ্ধ গব্যাপেক্ষা অধিক গুরু ও শীতল এবং স্নেহযুক্ত
( নবনীত বিশিষ্ট ১, অনিদ্রা এবং অত্যগ্নিতে ইহা হিভজনক।
ভাব প্রকাশােক্ত :-
“মাহ্যিং মধুরং গব্যাৎ স্নিগ্ধং শুক্রকর গুরু ।
নিদ্রাকরমভিষন্দি ক্ষুধাধিক্যকরং হিমম্ ৷”
মহিষ দুগ্ধ গােদুগ্ধাপেক্ষা মধুর, স্নিগ্ধ, শুক্রকর এবং গুরু

'?
কৌমুদী
কি,
ইহা নিদ্ৰাজনক অভিষন্দী (কফবৰ্ধক), ক্ষুধাধিক্যজনক
এবং শীতল।
সুশ্রুভােক্ত:-
“মহাভিষ্যন্দি মধুং মাহিষং বহ্নিনাশনং।
নিদ্রাকরং শীতকরং গব্যাৎ স্নিগ্ধতরং পয়৷”
অর্থাৎ-মাহিষ দুগ্ধ গত্যন্ত অভিষন্দী (কফবৃদ্ধিকারক), মধুর,
অগ্নিনাশক ( ক্ষুধা নিবারক) নিদ্রাকর, শীতল এবং গােদুগ্ধ হইতে
অধিক স্নেহযুক্ত।
নির্ঘণ্ট:-
“সৌল্যস্ত মাষিং ক্ষরং বিপাকে শীতলং গুরু।
বলপুষ্টি প্রদং বৃষং পিত্ত দাস্ত্র নাশনম্ ।
শীতং স্নিগ্ধং গুরু সৌলং বৃষং ওপহং পরং।
জ্ঞেয়াশ্চৈবম্বিস্তস্য কিন্তু পয়শ্চদং।”
মাহিষ দুগ্ধ “সৌলা” (মধুর । ইহা বিপাকে { পরিপাক
হইলে ) শীতল, গুরু, বল ও পুষ্টিকারক, বৃষ ( শুক্র বৰ্ধক)
পিত্ত দাহ ও রক্ত নাশক, এবং ইহা শীতল, স্নিগ্ধ, গুরু এবং
অত্যন্ত পিত্ত নাশক। মাহিষ দুগ্ধজাত কিলাট ও পয়চ্ছদ (সর)
গুণ বিশিষ্ট বলিয়া জানিবে ।
মন্তব্য-মাহিষ দুগ্ধ গো দুগ্ধাপেক্ষা যে অধিক মেযুক্ত,
তৎপক্ষে সন্দেহ নাই। পরীক্ষা করিয়া দেখা গিয়াছে উৎকৃষ্ট ও
খাটি গােদুগ্ধে / এক হইতে /১০ দেড় ছটাকের অধিক নবনীত

৭৮ কৌমুদী (মাখন) হয় না; কিন্তু মাহিষ দুগ্ধে /১০ হইতে ০ অৰ্দ্ধ পােয়া পর্যন্ত মাখন উঠিয়া থাকে। কথিত আছে বিলাতী গাভীর দুগ্ধে প্রায় এক পাউণ্ড (অর্ধ সের) মাখন হয়, ইহা কতদূর প্রকৃত বলা যায় না । এতদ্দেশে দুই প্রকার মহিষ দেখা যায় ; এক জাতীয় বাঙ্গড ও অপরটী কাছড়, নামে কথিত হয়। এতদুভয়ের মধ্যে কাড়ের দুগ্ধেই অধিক নবনীত হইয়া থাকে। কাছড় মহিষগুলি অতি বৃহৎকায়, উগ্ৰপ্রকৃতি এবং প্রায় অরণ্য বলিলেও বলা যায় । ইহাদিগকে জঙ্গলাকীর্ণ জলা ভূমি ভিন্ন রাখা দুষ্কর। এজ্জাতীয় মহিষ সুসঙ্গ, সেঃপুর, শ্রীহট্ট ও আসাম প্রদেশের কোনও কোনও স্থানে প্রাপ্য ; অন্যত্র কোথাও আছে কি না, তাহ আমাদের জানা নাই। বাঙ্গড় সর্বত্রই সুলভ। এতদ্ব্যতীত হিসারী (পাঞ্জাব দেশীয়) মহিষগুলি দুর্গের জন্য বিখ্যাত। ইহারা ২০। ২৫ সের কি তদপেক্ষাও অধিক দুগ্ধ দিয়া থাকে । বাহুল্য বিবেচনায় মহিষ সম্বন্ধে আর কিছু বলা গেল না। এস্থলে ইহাও ব্যক্তব্য যে, মহিষ দুগ্ধের বর্ণ এবং তজ্জাত নবনীত ও সরের বর্ণ গোদুগ্ধ ও তজ্জাত নবনীত ইত্যাদি হইতে অধিক শুভ এবং ইহার সর অতি পুরু হয়। ( ৭ ) আয়ুর্বেদোক্ত ছাগী দুগ্ধের গুণ। চরকো :- “ছাগং কষায়ং মধুরং শীতং গ্রাহি পােেলঘু। রক্তপিত্তাতিসারম্ন; ক্ষয়কাস জ্বরাপহ।”

'কৌমী
ছাগ দুগ্ধ কষায় রস বিশিষ্ট, মধুর, শীতল, গ্রাহি (মলরোধক),
লঘু, রক্ত পিত্ত ও অতিসার নাশক এবং ক্ষয়কাস ও জ্বর নাশক।
ভাব প্রকাশাে--
“ছাগং কষায় মধুরং শীতং গ্রাহি তথা লঘু।
রক্ত পিত্তাতিসারম্নং ক্ষয়কাস জুরাপহ।”
এই অংশের অনুবাদ দেওয়া অনাবশ্যক, কারণ ইহা অবিকল
চরকোক্ত মতের ন্যায়।
অপিচ :-
“অজানাম কায়ত্বৎ কটু তিক্তাদিসেবনাৎ।
স্থােকাম্বুপান্যিায়ামাৎ সর্বরোগহরং পয়ঃ॥”
ছাগ স্বভাবতঃ তাল্পকায় ( ক্ষুদ্র দেহ বিশিষ্ট। তদ্ধেতু এবং
কটু তিক্তাদি দ্রব্য ভক্ষণ জন্য ও অল্প পরিমাণ জল পান হেতু
ইহার দুগ্ধ সরােগনিবারক।
ছাগী দুগ্ধ সম্বন্ধে নিঘণ্টক্ত মত অবিকল পূর্বোক্তবৎ, অতএব
তাহ! উদ্ধৃত হইল না ।
সুতোঃ-
“গব্যতুল্যং গুণাং বিশেষাচ্ছােষিণাং হি ।
দীপনং লঘু সংগ্ৰাহি শ্বাসকাসাপিত্তনুং?”
ছগি দুগ্ধ গােদুগ্ধের ন্যায় তুল্য গুণবিশিষ্ট, বিশেষতঃ ইহা
শােষ রোগে অত্যন্ত হিভজনক ; ইহা অগ্নিবর্ধক, ল, সংগ্রাহ।
মলরােধক), শ্বাস, কাস ও রক্তপিত্ত নাশক।
W

কৌমুদী অষ্টাঙ্গ হৃদয়োক্ত :- “অল্পান্নুপান ব্যায়াম কটুতিক্তাশনৈলঘু। আঃ শেষ জ্বর শ্বাস রক্তপিত্তাতিসারজিৎ ॥” অর্থাৎ অল্প জল পান হেতু এরং ব্যায়ামশীলতা ও কটুতিক্টাদি দ্র ভক্ষণ জন্য ছাগ দুগ্ধ শােষ, জ্বর, শ্বাস, রক্তপিত্ত ও অতিসার নাশক। অতিসংহিতায় উক্ত হইয়াছে- ত্রিদোষঞ্চ, ; ক্ষীণজদুগ্ধ গােদুগ্ধবীৰ্যাদাধক গুণ, ক্ষীণদেহে পথ্যতমঞ্চ ; + য়াজ দুগ্ধং গুণৈঃ কিঞ্চিদুনম্!” ছাগ দুগ্ধ ত্রিদোষ নাশক; ক্ষীণকায় ছাগ দুগ্ধ-গােদুগ্ধ বীৰ্য্য (ব্যশক্তিকে বীৰ্য বলা যায়। অপেক্ষা অধিক গুণবিশিষ্ট এবং ইহা ক্ষীণকায় ব্যক্তির পক্ষে পথ্যম (হিতজনক)। স্থূলকায় ছাগ-দুগ্ধ কিঞ্চিৎ তাল্প গুণবিশিষ্ট হইয়া থাকে। মন্তব্য-পাশ্চাত্য পণ্ডিতগণ বলেন যে, গোদুগ্ধপেক্ষা ছাগ দুগ্ধে লবণাক্ত পদার্থ ও ছানার ভাগ অধিক ; তথাপি হৃষ্টপুষ্ট সুস্থ এবং যাহাদের পরিপাক-শক্তি প্রবল এবংবিধ বালকের পক্ষে ইহা বিশেষ হিতজনক। যে ছাগীর দুগ্ধ ব্যবহার করাইতে হইবে তাহাকে যথেচ্ছ বিচরণ করতে দিলে তাহার দু দুগুণ- বিশিষ্ট হয়। কারণ ছাগ অতিশয় যথেচ্ছভােজী। অতএব তাহাকে বঁধিয়া খাওয়াই উচিত।

৮১ কৌমুদী ( ৮ ) আয়ুর্বেদোক্তনামী দুধের গুণ। চরকোক্ত- = “জীবনং বৃংহণং সাত্মং মেহনং মানুষং পয়ঃ। লাবণং রক্তপিত্তেচ তপণং চক্ষুশূলিনাম্ ॥” নারীদুগ্ধ জীবন, হিত, বৃংহণ (বলকারক), সাত্ম্য দেহানুকূল) ও স্নিগ্ধতাকারক। রক্তপিত্তে ইহার নস্য এবং চক্ষু শূলে ইহার তর্পণ ( অঞ্জন) হিজনক। ভাবপ্রকাশেক্ত :- “নাৰ্য্যা লঘু পয়ঃ শীতং দীপন বাতপিওজিৎ চক্ষুশূলাভিঘাতপ্নং নস্যাশ্চেতনয়াের।” নারী দুগ্ধ লঘু, শীতল, অগ্নিবর্ধক, বাত, পিত্ত বিনাশক। ইহা চক্ষুশূল ও অভিঘাত নাশক এবং নস্য ও আশ্চোতনে (নেত্ৰাঞ্জনে) শ্রেষ্ঠ। অষ্টাঙ্গ হৃদয়ােক্ত :- মানুষং বাতপিত্তাসুগভিঘাতক্ষিরোগমুৎ। তপর্ণাশ্চাতনৈৰ্ণ স্যৈঃ নারী দুগ্ধের তর্পণ (নেত্রপূরণ) আশ্চোতন (অঞ্জন) ও নস্ত দ্বারা বতি পিত্ত, রক্ত বিকার অভিঘাত এবং চক্ষুরােগ নিবারিত হয়।

কৌমুদী
নিঘণ্ট ক্তঃ
স্নিগ্ধং স্থৈর্যকর চাপি চক্ষুষ্যং বলবর্ধন।
জীবনং বৃংহণং সাত্মং মেহনং মানুষী পয়ঃ ॥
নাশনং রক্তপিতেচ তর্পণং চাক্ষিশূলহৃৎ।
মধুরং মানুষী ক্ষীরং কষায়ঞ্চ হিমং লঘু।
চক্ষুষ্যং দীপনং পথ্যং পাচনং রােচনঞ্চ তৎ।”
অর্থাৎ-নারী দুগ্ধ স্নিগ্ধ, স্থৈর্যকর (দেহের দৃঢ়তা সম্পাদক
চক্ষুষ্য ( চক্ষের হিতকর), বলকারক, জীবন হিত, বৃংহন
( শুক্ৰবৰ্ধক), সাত্ম, মেহন [চাকচিক্য কারক:, রক্তপিত্ত নাশক
এবং ইহার তর্পণে চক্ষুশূল নাশ করে। নারী দুগ্ধ কষায়, হিম
লঘু, চক্ষুষ্য, দীপন (অগ্নিবর্ধক), পথ্য ( হিতকর, ) পচন
(পরিপাককারক) ও রুচিজনক।
যে সকল প্রাণিজ দুগ্ধ মানবের ব্যবহার্য্য তৎসমন্তের বিষয়ই
বলা হইল, অধুনা অশ্বিনী, গর্দভী ও অন্যান্য এক ক্ষুর বিশিষ্ট
প্রাণী (অখণ্ডিত ক্ষুরযুক্ত প্রাণী) উষ্ট্ৰী, মেষী ও হস্তিনী দুগ্ধের
আয়ুর্বেদোক্ত গুণাদি ক্রমান্বয়ে সংক্ষেপে সন্নিবেশিত হইল।

কৌমুদী
৩
( 9 )
অশ্ব, গর্দভ ও অন্যান্য এক ক্ষুরমুক্ত
প্রাণিজ দুগ্ধের গুণ।
( আয়ুৰ্ব্বেদোক্ত )
অষ্টাঙ্গ হৃদয়ােক্ত :-
বামুফং কৈশফং লঘু, শাখাৰাতহরং জড়তাকরং
পয়ােহভিষালি গুবানং যুক্তাশ্বতমতোহন্যথা।”
অশাদি এক ক্ষুরযুক্ত প্রাণিজ দুগ্ধঅত্যন্ত উষ্ণ বীৰ্য, লঘু,
শাখা বাত ( বাহু প্রভৃতির বাত ), নাশৰু অম্ল লবণাক্ত স্বাদ
বিশিষ্ট, জড়তাকারক ও অভিষন্দী (কফকারক)।
এ সমুদয়
অপকাবস্থায় কাঁচা অবস্থায় ) গুরু কিন্তু উপযুক্তরূপে জ্বাল দিয়া
নিলে তাহার অন্যথা হয় ( লঘু হয় )।
ভাব প্রকাশেক্ত:-
“রুক্ষোষ্ণং বড়বা ক্ষীর বল্যং শােষানি লােপহং।
অম্লং কটু ঘু স্বাদু সর্বমৈকশফং তথা ॥”
অশ্ব দুগ্ধ বলকারক রুক্ষ, উষ্ণবী, শােষ ও বায়ুনাশক
অম্ল ও কটু স্বাদবিশিষ্ট, লঘু ও স্বাদু। অন্যান্য এক ক্ষুরবিশিষ্ট
সমস্ত প্রাণিজ দুগ্ধ এই প্রকার জানিবে ।

।
কৌমুদী ।
নিঘণ্ট,ক্ত :-
‘অশ্বক্ষীর বৃত্যাং দীপনং লঘু।
দেহ স্থ্যৈকরং বল্যং গৌরবান্তিকৃৎপয়ঃ।
শাখাবাহর সাম্রঞ্চ রুচি দীপ্তিকৃৎ ॥”
অশ্বক্ষার বৃষ (বলকারক ও শুক্ৰবৰ্ধক), অশ্লস্বাদযুক্ত, দীপন (অগ্নি-
বৰ্ধক) লঘু, দেহের স্থৈর্য্যকারক, বল্য (বলকারক) গৌরব ওকান্তি
বৃদ্ধিকর, শাখা বাতনাশক এবং রুচি ও দেহের দীপ্তিকারক।
নিঘণ্ট,ক্ত গর্দভ দুগ্ধের গুণং :-
“কাসশ্বাসহরং ক্ষীর গর্দভং বাললােগনুৎ।
মধুরারসং রক্ষং লবণানুরসং লঘু ৷
বলকৃ গর্দভীক্ষীরং বাতশ্বাসহরং পরং।
মধুরাম্লরসং রুক্ষং দাপনং পথ্যদং স্মৃতম্ ।”
গর্দভী দুগ্ধ কাস ও খাস নাশক, ইহা বালবােগ ( শিশুদের
পীড়া) নাশক ; মধুর রস, রুক্ষ, লবণানুরস, গুরু, বলকারক,
অত্যন্ত বায়ু ও শ্বাস নাশক, অগ্নিবর্ধক এবং পথ্যদ (হিজনক ।
বলিয়া জানিবে।
সুতেক্ত :
“উষ্ণঞ্চৈকশফং বল্যং শাখাবাতরং পয়ঃ।
মধুরারও রুক্ষং লবণামুরসং লঘু।”
এক ক্ষুর বিশিষ্ট প্রাণিজ (অশ্বাদির) দুগ্ধ বলকারক, শাখা
বাত নাশক, মধুরা ও লবণানুরস, রুক্ষ এবং লঘু।

কৌমুদী
( ১০ )
আয়ুর্বেদোক্তউরদুগ্ধের গুণ?
ভাবপ্রকাশেক্ত :-
“ঔ দুগ্ধং লঘু স্বাদু লবণং দীপনং তথা।
কৃমিকুষ্ঠ কফানাহ শােথোদরহরং পয়ঃ॥”
“ঔষ্ট্ৰ দুগ্ধ, লঘু, স্বাদু, লবণ রস, অগ্নিবৃদ্ধিকর, এবং ইহা কৃমি,
কুষ্ঠ, কফ, আনাহ ( কোষ্ঠবদ্ধ রােগ) শােথ ও উদরী রােগ
নিবারক।
চরকোক্ত:-
“রুক্ষোষ্ণং ক্ষীরমুষ্ট্ৰীনামীযৎ সলবণং লঘু।
শান্তং বাতকফানাহ কৃমিশোNেদরার্শম্ ॥”:
উস্ত্রী দুগ্ধ-রুক্ষ, উষ্ণৰীৰ্য, ঈষৎ লবণ স্বাদযুক্ত, লঘু, বাত,
কফ, আনাহ, কৃমি, শােথ, উদর ও অর্শরােগে প্রশস্ত।
নিঘণ্ট:-
“উষ্ট্ৰীক্ষীরং কুষ্ঠশোফহরং তৎপিত্তাশং তৎকফাটোপহারি ।
আনাহাৰ্ত্তি জন্তু গুল্মেদবাজাং শ্বাসোল্লাসং নাশয়ন্ত্যাশু পীত।”
উষ্ট্ৰী দুগ্ধ কুষ্ঠ ও শােথ নাশক। ইহাকফ আটোপ ( বাত
জন্য উদর স্ফীতি), অনাহ (কোষ্ঠবদ্ধ) গুল্ম ও উদরী
নাশক।

কৌমুদী •
( ১১ )
আয়ুর্বেদোক্তমেষী দুগ্ধের গুণ।
অষ্টাঙ্গ হৃদয়ােক্ত :-
অহৃদ্যং তৃষ্ণমাবিক
বাতব্যাধিহরং হিক্কা শ্বাস পিত্ত প্রদ”
মেষ দুগ্ধ অহৃদ্য (মুখ রুচিকারক নহে) ও উষ্ণবীৰ্য্য।
ইহা বাতব্যাধি নাশক; হিক্কা, শ্বাস, পিত্ত ও কফ প্রদ।
নিঘণ্ট:-
“অকিন্তু পয়ঃ স্নিগ্ধং কফপিহরং পরং।
স্থেল্যং মেহহরং পথ্য লােমশং গুরুবৃদ্ধিদঃ
ঔরং মধুরং স্নিগ্ধমুফং তিক্তং কফাপহং।
গুরু শুদ্ধানিলে পথ্যং শােফে চানিলে শােনিতে”
অর্থাৎ-মেষ দুগ্ধ স্নিগ্ধ, অত্যন্ত কফ ও পিত্ত নাশক, মেই
নাশক পথ্য ( হিতজনক), লােমশ ( নােম বৃদ্ধিকর), গুৰু
এবং বৃদ্ধিদ ( স্থূলতাকারক)।
ইহা (মেষ দুগ্ধ) মধুর, স্নিগ্ধ, উষ্ণবীৰ্য, তিক্ত ও কফনাশক, গুরু
এবং ইহা কেবল বায়ু রােগে এবং বায়ু ও রজনিত শােফে
হিতজনক।
ভাব প্রকাশােক্ত :-
“বিকং লবণং লঘু স্নিগ্ধাষ্ণাশ্মরীপ্রমুৎ।
অহৃদ্যং তর্পণং কেশ্যং শুক্রপিত্তকপ্রদ।
গুরু কাসেহনিলােঙুতে কেবলে চানিলে বরম্।”

কৌমুদী
মেষ দুগ্ধ লবণ স্বাদযুক্ত, লঘু, স্নিগ্ধ, উষ্ণ এবং অশ্মরী রােগ
( পাথুরী Stone) নাশক, ইহা অহৃদ্য (রুচিকর নহে), তর্পণ
( তৃপ্তিদায়ক), কেশ বৃদ্ধিকারক, শুক্র, পিত্ত ও কফ বন্ধক এবং
গুরু ও বায়ুজাত কাসরােগে এবং কেবল বায়ুরােগে শ্রেষ্ঠ।
( ১ )
আয়ুর্বেদোক্তহস্তিনী দুগ্ধের গুণ
চরকোক্ত :-
“হস্তিনীনাং পয়ো বল্যং গুরু স্থৈর্যকরং পরম্”
হস্তিনী দুগ্ধ বলকারক, গুরু ও অত্যন্ত স্থৈর্যকর ( শরীরের
দৃঢ়তাকারক)।
নিষক্ত :-
হস্তিস্যা মধুরং কষায়ানুরসং গুরু।
স্নিগ্ধং শীতকরঞ্চাপি চক্ষুষ্যং বলবর্ধন।”
অর্থাৎ-হস্তিনী দুগ্ধ মধুর, বৃষ্য ( শুক্ৰবৰ্ধক) কষায়ানুরস,
গুরু, স্নিগ্ধ, শীতল, চক্ষুষ্য ও বলবর্ধক।
সুশ্রুত ও ভাব প্রকাশেক্তি হস্তিনী দুগ্ধ' গুণও উক্ত প্রকার
কশিত হইয়াছে, অতএব তাহা উদ্ধত হইল না।

কৌমুদী ,
( ১৩ )
আয়ুর্বেদোক্তঅরণ্য ঘর্গ
দুগ্ধের গুণ।
ভাব প্রকাশেক্ত :-
“মৃগীনাং জঙ্গলােথানামজাক্ষীরসমং পয়ঃ
সমস্ত অরণ্য মৃগী দুগ্ধের গুণ ছাগ দুগ্ধের তুল্য (ছাগ দুগ্ধের
গুণ দ্রষ্টব্য)।
মন্তব্য আমাদের অায়ুর্বেদোক্ত ও পাশ্চাত্য পণ্ডিত
গণের দুগ্ধের গুণাদি নাতি-বিস্তৃত ভাবে বর্ণিত হইল। অভিনিবেশ
সহকারে পৰ্যালােচনা করিলে হৃদয়ঙ্গম হয় যে, অবস্থা, কাল,
দেশ ও পাত্ৰাদি ভেদে নানাপ্রকার প্রাণিজ দুগ্ধ মানবের পক্ষে
হিতজনক হইলেও, সর্বাবস্থায় এবং সর্বাপেক্ষা গাে-দুগ্ধেই
(बई
ও হিতজনক। বলা বাহুল্য যে, শিশুর পক্ষে মাতৃ দুগ্ধই সর্বশ্রেষ্ঠ,
কিন্তু তদভাবে গাে, ছাগ ও গর্দভী দুই তাহার পক্ষে পথ্যতম,
তাহাতে সন্দেহ নাই; এ বিষয় পূর্বেও বলা হইয়াছে।
শ্রীমদ্ভগবদগীতাতে কথিত হইয়াছে যে;-
‘আয়ুঃ সত্ত্ববলাবােগ্যসুখপ্রীতিবিবর্ধনাঃ।
রস্যাঃ সিগ্ধাঃ স্থির হৃদ্যা আহারাঃ সাত্ত্বিকপ্রিয়াঃ
আয়ু, সত্ত্ব, বল, আরোগ্য, খ ও প্রীতি বর্ধক এবং রসযুক্ত
স্নিগ্ধ স্থিরতা সম্পাদক, হৃদ্য ( রুচিকর) আহারাদিই সাত্ত্বিক
লোকের প্রিয়।
;

दकोशूली অনুধাবন করিলে দেখা যায় যে, দুগ্ধ (বিশেষতঃ গাে-দুগ্ধ ) এবং তজ্জাত পদার্থ নিশ্চয়ই সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক প্রিয় আহার। গাে জাতির অপরিসীম উপকারিতা সম্যক প্রকারে উপলদ্ধি করিতে পারিয়াই, আৰ্য মহর্ষিগণ তাহার রক্ষা, পালন ও উন্নতিকল্পে বিবিধ সুনিয়ম প্রচারিত করিয়া গিয়াছিলেন, অধুনা সেগুলির প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করিয়া আমরা ক্রমশঃ দুর্দশাগ্রস্ত হইতেছি। এ সম্বন্ধে স্থানান্তরে বিস্তৃত ভাবে আলোচিত হইবে। ( ১৪ ) গাভীর বর্ণবেদে দুগ্ধের গুণাদির তারতম। গাভীর বর্ণভেদে দুগ্ধের গুণাদির অনেক ইতর বিশেষ হইয়া থাকে। এতৎ সম্বন্ধে পাশ্চাত্য মত এই যে, রক্তবর্ণা গাভীর দুগ্ধ সর্বোৎকৃষ্ট, কারণ তাহার আহাৰ্য্য অতি সহজে জীর্ণ হয়। শ্বেত কৃষ্ণ মিশ্রিত { কাজলা) বর্ণের গাভীর দুগ্ধ নিকৃষ্ট এবং পরিমাণেও অল্প হইয়া থাকে ; ইহাতে নবনীতের ভাগও কম থাকে। সরের ন্যায় ( Creamy Colour) শুভ্রবর্ণ। গাভীর যদি য়ােম মসৃণ হয় এবং তাহার চর্ম ও ক্ষুর এবং কর্ণাভ্যন্তরভাগ হরিদ্রাভ হয় তবে সে অধিক দুগ্ধবতী হয়, এবং তাহার দুগ্ধে নবনীত ও ছানা ইত্যাদি অধিক থাকে। কেবল শ্বেত বর্ণ। গাভীর দুগ্ধ ভাল নয় এবং তাহার দুর্থের পরিমাণও অল্প হয়। কেহ কেহ বলিয়া থাকেন যে, গাভীর বর্ণার। দুগ্ধের গুণাদি

=
কৌমুদী ।
নিরূপিত হওয়া দুরূহ; তবে তঁাহারা এ কথা স্বীকার করিতে
বাধ্য হইয়াছেন যে, বিলাতী রক্তবর্ণ এবং ভারতবর্ষীয় কৃষ্ণ
গাভীর দুগ্ধ উৎকৃষ্ট। এখন দেখা যাউক, এ বিষয়ে অষ্য
ঋষিগণের মত কি ? বহু সহস্র বৎসর পূর্বেও যে তাহারা এ
দৃশ বিষষে মনােনিবেশ করিতে পারিয়াছিলেন, ইহাতে তঁাহাদের
অপরিসীম জ্ঞানতৃষ্ণা এবং গভীর অনুসন্ধিৎসারই পরিচয়
পাওয়া যাইতেছে।
ভাবপ্রকাশে কথিত হইয়াছে -
“কৃষ্ণায়া গোৰ্ভবেদ্দগ্ধং বাহারিগুণাধিকং।
সীতায় হরতে পিত্তং তথা বাতহরং ভবেৎ।
শ্লেষ্মলং গুরু শুক্লায় রক্ত চিত্ৰাচ বাতহৃৎ।
কৃষ্ণা গাভীর দুগ্ধ বাতনাশক, এবং অধিক গুণ বিশিষ্ট
{ পাশ্চাত্য মন্ত্রের সহিত এই মতের ঐক্য আছে) , পীতবর্ণ।
গাভীর দুগ্ধ পিত্তনাশক শুক্লা গাভীর দুগ্ধ গুরু ও শ্লেষ্মা বর্ধক
{ পাশ্চাত্য মত টীও এই মতের পােষক বলিয়াই বোধ হয় ,
রক্তবর্ণা ও চিত্রা (বিবিধ বর্ণ মিশ্ৰত ) গাভীর দুগ্ধ বায়ুনাশক।
চরকোক্ত মত “আহাৰ্য্য পদার্থের সহিত গােদুগ্ধের গুণাদির ইতর
বিশেষ” শীর্ষক প্রবন্ধ ( ১৬শ প্রবন্ধ) দ্রষ্টব্য।
অত্রিসংহিতায় উক্ত হইয়াছে -
“অত্র শ্বেত দুগ্ধ শ্লেষ্মাকরং রক্তয়া ৰাতলং
পীতায়া পিত্তসংশমনং বিশিষ্টং কৃষ্ণায়া পিত্তলম।”

কৌমুদী
তার্থাৎ-( গভীর বর্ণভেদে দুগ্ধের গুণ ভেদ হয়) তন্মধ্যে
—শ্বেতবর্ণার দুগ্ধ শ্লেষ্মকর, রক্তার বায়ুৰ্দ্ধক, পীতৰণার পিত্ত
নাশক এবং কৃষ্ণা গাভীর দুগ্ধ বিশিষ্ট ( বিশেষ গুণ বিশিষ্ট)
এবং পিত্ত বর্ধক।
নির্ঘণ্টতে কথিত হইয়াছে -
গবাং সিতানাং বাতং কৃষ্ণানাং পিত্তনাশনম্
বাতন্নং রক্তবর্ণানাং ত্ৰীন হন্তি কপিলা পয়ঃ ॥”
পাঠান্তর :-
“বাভং রক্তবর্ণানাং গোদুগ্ধঞ্চ ত্রিধা ভেবেৎ।”
শুক্লবর্ণা গাভীর দুগ্ধ বাত, 'কৃষ্ণায় দুগ্ধ পিত্তনাশক,
রক্তবর্ণার বাত এবং কপিলার দুগ্ধ ত্রিদোষ নাশক।
( পাঠান্তর-গােদুগ্ধ ত্রিদোষ নাশক।)
আমাদের শাস্ত্রে একাদশ প্রকার কপিলার বিষয় কথিত
হইয়াছে; যথা (১) সুবৰ্ণ কপিলা, (২) গৌর পিঙ্গলা, (৩) রক্তাক্ষী
(৪) গুড় পিঙ্গল, ৫) বহুবর্ণা, (৬) শ্বেত পিঙ্গলা, (৭) শ্বেত
পিলাক্ষী, (৮) কৃষ্ণ পিঙ্গলা, (৯) পাটলা, (১০) পুচ্ছ পিঙ্গলা,
(১১) ক্ষুর শেতা। এই একদিশ প্রকার কপিলার প্রত্যেকের
দুগ্ধে গুণাদির পার্থক্য বিস্তারে বর্ণিত আছে কিনা তাহা আমরা
জানিতে পারি নাই। বস্তুতঃ শাস্ত্রে কপিল গাভীর অত্যন্ত প্রশংসা
ও তাহার দানাদিতে বিশেষ ফলাধিক্য কথিত হইয়াছে। কুতূহলী
পাঠকবৃন্দ এ বিষয় শাস্ত্রোক্ত মত পাঠ করিলেই সবিশেষ জানিতে

কৌমুদী । পারিবেন। অতএব এ সম্বন্ধে বিস্তৃতভাবে কিছু বলা হইল না। অন্যত্র কথিত হইয়াছে। “বৎসৈকবর্ণয়েঃ শস্তং ধবলীকৃষ্ণয়াে বাপি।” ধবলী ও কৃষ্ণা গাভীর বৎসও যদি তত্তৎ বর্ণযুক্ত হয় (অর্থাৎ ধবলীর ধবল বৎস এবং কৃষ্ণার কৃষ্ণাবর্ণ বৎস হয়) তবে তাহাদের দুগ্ধ শ্রেষ্ঠ হইয়া থাকে। উপরােক্ত মত গুলির মধ্যে পরস্পর কিছু কিছু পার্থক্য থাকিলেও, স্থূলতঃ প্রায় একই প্রকার। অবস্থা ও প্রয়ােজন বিবেচনায় গাভীর বর্ণের প্রতি দৃষ্টি রাখিয়া দুগ্ধ ব্যবহার করিতে পারিলে ভাল হয়। কিন্তু তাহা সর্বাবস্থায় সম্ভবপর নহে। দেশ ও জাতিভেদে গাে-দুগ্ধের গুণাদি ইতর বিশেষ। দেশভেদে ও গাভীর জাতিভেদে দুগ্ধের গুণ ও পরিমাণের অনেক পার্থক্য লক্ষিত হয় , এক জাতীয় গাভীরই ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় দুগ্ধের গুণাদির ইতর বিশেষ হইয়া থাকে। ভারতবর্ষীয় গাভীর মধ্যে (১) হিসারী (পাঞ্জাব দেশীয়), (২) কাটেবারী ( গুজরাট ও কচ্ছ দেশীয়), (৩) মেলাের (মাদ্রাজ দেশীয়), (৪) গুবুশুরিয়: ( মুলতান দেশীয়) এবং (৫) নাগৌরী (নাগপুর ও মধ্য ভারতের) গাভী উৎকৃষ্ট ; এ গুলির মধ্যে আবার “হিসারী ও কাটেবারী” গাভীই সর্বোৎকৃষ্ট। ইহাদের এক একটা গাভী কৌমুদী ৮০ ভােলা পরিমাণ সেরের ১০ হইতে ১৫। ১৬ সের পর্যন্ত দুগ্ধ দিয়া থাকে ; ইহাদের দুগ্ধ সুস্বাদু এবং সদগুণ বিশিষ্ট। বিলাতী গাভী নানা জাতীয় তন্মধ্যে (i) Short horn, (2) Ayrshire. (3) Jersy, (4) Alserney, (5) Garensey (6) Devon, (7) Kerry, (8) Devte kerry, (9) Welsh- এই কয়টীই উৎকৃষ্ট জাতীয়। ইহাদের এক একটী উৎকৃষ্ট গাভী ১৫। ১৬ সের হইতে অর্ধমণ কি ২৫ সের পর্যন্ত দুগ্ধ দিয়া থাকে। এ কথা আপনাদের ধারণার অতীত হইতে পারে, কিন্তু ইহা অকাট্য সত্য। এই ভারতবর্ষেও এক সময়ে (যখন ইহা লক্ষী ও সরস্বতীর লীলা নিকেতন ছিল) দ্রোণদুগ্ধা ( ৩২ সের দুগ্ধ দাত্রী) গাভী বৰ্তমান ছিল ; “কিন্তু তে হি নাে দিবস। গতা” এই বঙ্গদেশে ৩২ সের দূরের কথা ৩২ তােলা দুগ্ধবতী গাভীই দুর্লভ বলা যায়। আমাদের দেশ এমনই দুর্দশাগ্রস্ত হইয়াছে ; ক্রমশঃ অবস্থা আরও কত দূরে গিয়া দাঁড়াইবে কে বলিতে পারে। ভারতবর্ষের ন্যায় “সুজলা, সুফলা এবং শস্যশ্যামলা” দেশে চেষ্টা করিলে এখনও দ্রোণদুগ্ধ না হউক অন্ততঃ ২০। ২২ সের দুগ্ধবতী গাভী উৎপন্ন হইতে পারে, “যতেন কিমসাধ্যম” এ কথা মনে রাখিয়া গে-জাতির উন্ন িবিষয়ে দেশহিতৈষী ব্যক্তিমাত্রেরই মনোযােগী হওয়া উচিত। গ্রীষ্ম প্রধান দেশজাত গাভী অপেক্ষা শীত প্রধান দেশীয় গাভীর দুগ্ধে অধিক নবনীত ও ছানা থাকে। ;

১৪ কৌমুদী । নিম্নদেশে ও জলাকীর্ণ ভূমিতে বিচরণশীল গাভীর দুগ্ধে জলীয়ভাগ অধিক ও নবনীত এবং শর্করার ভাগ কম থাকে। কিন্তু উচ্চ ও শুষ্ক ভূমি এবং পর্বতের উপত্যকা ভূমিতে বিচরণ শীলা গাভীর দুগ্ধে জলীয়ভাগ কম থাকে এবং পূর্ব কথিত উপাদানগুলি (নবনীত ও ছানা প্রভৃতি) অধিক মাত্রায় বর্তমান থাকে। এ বিষয়ে ভাৰ প্রকাশে কথিত হইয়াছে “অঙ্গালাপশৈলানাং চীনাং যথোত্তর। পয়ে গুরুতরং স্নেহাে যাহারং এবৰ্ত্ততে।” এলাকীর্ণ, অনুপ (জল বহুল ) স্থানে ও পার্বত্য দেশে বিচরণকারী গাভীর দুগ্ধ যথাক্রমে গুরু ও স্নিগ্ধ (আহারনুযায়ী) হইয়া থাকে। নির্ঘণ্টতে কথিত হইয়াছে “জঙ্গলানুপদেশে পারত্তীনং যথােত্তরং। পয়াে গুনুতরং স্নেহো যথা চৈং বিবর্ধতে।” এই শ্লোকটার তাৎপৰ্য পূর্বোক্ত শ্লোকেরই অনুরূপ, অতএব বঙ্গানুবাদ দেওয়া হইল না। “কৈশ্চিদুক্তা বিশেষাচ্চ বিশেষ দেশভেদতঃ ” উক্ত—দেশে দেশে চ তেষু তেষু তৃণাঙ্গুনী যাদৃশ দোষ যুক্তে-তসেনাদেব গবাদিকানাং গুণাদি দুগ্ধাদিযু তাদৃশং মত- কৌমুদী অর্থাৎ কেহ কেহ বলেন দেশ ভেদে বিশেষতঃ দুগ্ধের বিশেষত্ব হয় ; কথিত হইয়াছে যে, ভিন্ন ভিন্ন দেশে তৃণ ও জলদি যাদৃশ দোষযুত, তাহা সেবনে গবাদির দুগ্ধে তাদৃশ গুণাদি প্রবর্তিত হইয়া থাকে। আহাৰ্য পদার্থের সহিতগাে-দুগ্ধের গুণাদির সম্বন্ধ বির। স্তন্যপায়ী স্ত্রী জাতীয় প্রাণী সমুহের ভুক্ত পদার্থই পরিণামে দুরূপে পরিণত হয় ; এ বিষয়ে সুশ্রুততাক্ত মত পূর্বেই উদ্ধত হইয়াছে, তথাপি প্রসঙ্গাধীন এখানেও তাহা সন্নিবেশিত হইল। “রস প্রসাদো মধুর পাহার নিমিত্ত। কৃৎস্নদেহাৎ শুনে প্রাপ্ত স্তন্য মিতাভিধীয়তে ” অতএব আহাৰ্য পদার্থের গুণভেদে গবাদির দুগ্ধের গুণবৈষম্য জন্মানই স্বাভাবিক এবং প্রকৃত প্রস্তাবে হইয়া থাকে তাহাই। কথিত আছে, কাশ্মীর দেশীয় গাভী তদ্দেশজাত সুবিখ্যাত এবং সুগন্ধী কুঙ্কুমরেণু (জাফরান্) ভক্ষণ করিয়া যে দুগ্ধ দেয় তাহা তদ গন্ধযুক্ত হয়। পেয়াজ, রসুন, গাজর, শালগম্ প্রভৃতি উগ্রগন্ধী দ্রব্যাদি তক্ষণে গাে-দুগ্ধ উগ্রগন্ধী হইয়া যায়, ইহা প্রত্যক্ষ। সাধারণতঃ জলাভূমিতে বিচরণশীল, গাভীর দুগ্ধ তরল ও জলীয় স্বাদ বিশিষ্ট হয় এবং তাহাতে নবনীত ও শর্করার ভাগ কম থাকে, কিন্তু উচ্চ ও শুষ্ক ভূমিতে যে সমুদয় গাভী চরিয়া বেড়ায় ও তৃণাদি ভক্ষণ করে তাহাদের দুগ্ধ গাঢ় ও সুস্বাদু হয় এবং তাহাতে নবনীত প্রভৃতি কৌমুদী সার পদার্থ অধিক থাকে। পরিষ্কার কাচা ঘাস খাইলে গাভীর দুগ্ধ সুস্বাদু হয় এবং দুগ্ধের বর্ণও পরিষ্কার হয়। তুলার বীজ আহারে দুগ্ধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং তাহাতে নবনীত প্রভৃতি অধিক হয়। গম, যব প্রভৃতির ভূষিতে দুগ্ধের পরিমাণ ও গুণাদি বৃদ্ধি হয়। সর্ষপ খােল অপেক্ষা তিসি ও তিলের খেলে দুগ্ধের স্বাদ ভাল হয় এবং তাহার পরিমাণ গুণাদিও বৃদ্ধি পায়, সর্ষপ থােলে গাভীর দুগ্ধ কমিয়া যায়। মাষপর্ণী (মাষণী) অথবা মাষ কলায়ের ডাল পাতা প্রভৃতি ও ইক্ষু ( আক) খাইলে গাে-দুগ্ধ ৰাড়িয়া থাকে এবং দুগ্ধের স্বাদ ভাল হয়। আয়ুর্বেদে কথিত হইয়াছে “ইদা মাসপর্ণাদাউৰ্দ্ধশৃঙ্গী চ যা ভবেৎ। ভাসাং গৰাং হিতং ক্ষীরম- ইক্ষু ও মাষপর্ণ ভক্ষণশীলা ও উর্দ্ধশৃঙ্গী গাভীর দুগ্ধ হিতজনক। কচুর ডাটা জলে সিদ্ধ করিয়া গভীকে খাওয়াইলে তাহার দুগ্ধ লাল ও পাতলা হয়, নিম্ব গুলঞ্চ এবং বাবলার ফল খাওয়াইলে গাভীর দুগ্ধে দুর্গন্ধ হয় , নটেশাক খাওয়াইলে দুগ্ধ সুস্বাদু হয়। এ বিষয়ে নির্ঘণ্টক্ত মত পূর্ব প্রস্তাবে (১৫শ প্রস্তাবে) উদ্ধৃত হইয়াছে ;-অতএব ;-অতএব এখানে আর তাহার পুনরুল্লেখ করা অনাশক। আরও কথিত হইয়াছে যে ;- “পিণাকাল্লাশিনীনাঞ্চ গুবভিষ্যন্দি তদভূশম।”

=
কৌমুদী
অর্থাৎ-পিন্যাক ( তিল কন্তু, তিলের খােল) এবং অম্ল স্বাদ
বিশিষ্ট দ্রব্য ভক্ষণে গাভীর দুগ্ধ অত্যন্ত গুরু ও অভিষ্যন্দী (কফ
বৰ্ধক) হয়।
রাজনির্ঘণ্টতে কথিত হইয়াছে
;-
“খন্নভক্ষণাজ্জাতং ক্ষীরং শুরু কফপ্রদং।
তত্ত্ব, বল্যং পরং বৃষং স্বস্থানাং গুণদায়কম্ ।
অন্ন ভক্ষণজাত গাে-দুগ্ধ গুরু এবং কফ প্রদ হইয়া থাকে ।
কিন্তু ইহা বলকারক এবং অত্যন্ত বৃষ (শুক্ৰ বৰ্ধক) ও সুস্থ
ব্যক্তির পক্ষে গুণদায়ক।
চরক সংহিতায় কথিত হইয়াছে ;-
“মাষপর্ণভৃতাং ধেনুং গৃষ্টিং পুষ্টাং চত্তস্তনীং।
সমানবর্ণবৎসাঞ্চ জীববৎসাঞ্চ বুদ্ধিমন্ ি॥
রােহিণীমথবা কৃষ্ণামূর্ধশৃঙ্গী মদারুণাং।
ইক্ষ। মাজ্জণাদাং বা সান্দ্ৰক্ষীরাঞ্চ ধাবয়েৎ ॥
কেবলন্তু পয়স্কৃস্যাঃ শৃং বাহতমেব বা।
শর্করা মধু সর্পিভিযুক্তং তদ্ বৃষ্যমুত্তমম্।”
অর্থাৎ-বুদ্ধিমান ব্যক্তি মাষপর্ণভক্ষণকারিণী একবার
মাত্র প্রসূতা (গৃষ্টি), পুষ্ট। ( সবল দেহ বিশিষ্ট।) সমান বৎসবর্ণ।
( যে গাভীর বৎস মাতৃবর্ণ বিশিষ্ট), জীববৎসা (যাহার বৎস
জীবিত আছে), বােহিণী ( রক্ত বর্ণা) অথবা কৃষ্ণা, উদ্ধশৃঙ্গী
অদারুণ। (শান্ত স্বভাব বিশিষ্টা , ইক্ষু ( আক) ও অর্জুন

সে গুলি কৌমুদী বৃক্ষ ভক্ষণ কারিণী, সাক্ষীরা ( যাহার দুগ্ধ গাঢ় ) গাভী পালন করিবেন। উপরােক্ত প্রকার গাভীর দুধ অন্য দ্রব্যাদি যােগ করিয়া অথবা শর্করা, মধু ও ধৃত যুক্ত করিয়া শৃত (জাল দেওয়া) বা অশ্বত (ঠাণ্ডা) অবস্থায় পান করিলে তাহা অতিশয় বলকারক হয়। মন্তব্য—ব্যাখ্যাত শ্লোকটী কেবল আহাৰ্য্য পদার্থের গুণ- বিচারমূলক নহে, ইহাতে অন্যান্য বিষয়ও আলােচিত হইয়াছে, অপ্রাসঙ্গিক হইলেও পাঠকবর্গের অবগতির জন্য সম্পূর্ণভাবেই উদ্ধত ও অনুবাদিত হইল। ( ১৭ } ঋতু ওকাল ভেদেদুগ্ধের গুণাদিন তারতম্য বিচার। বিভিন্ন ঋতুতে এবং প্রাতঃকালাদি সময় বিশেষে গাে-দুগ্ধের গুণাদির অনেক বৈলক্ষণ পরিলক্ষিত হয়। বৈশাখ মাস হইতে নব তৃণাদি অাহারজনিত গাে-দুগ্ধের পরিমাণ ও গুণাদি বৃদ্ধি হয় ; এবং দুগ্ধ কিছু তরল হয়, বর্ষান্তে দুগ্ধের জলীয় ভাগ বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইয়া নবনীত প্রভৃতি হ্রাস হয়। বর্ষা অন্তে শরৎকালের প্রারম্ভ হইতে দুগ্ধের পরিমাণ কিছু হ্রাস হয় বটে, কিন্তু তাহার নবনীত ইত্যাদি বাড়িতে থাকে । শীতকালে দুগ্ধ গাঢ় মিষ্ট এবং অধিক সারভাগ (নবনীত ছানা প্রভৃতি) বিশিষ্ট হইয়া থাকে। শীতকালে দুগ্ধের অল্পতা হয় এবং সর ভাগ বৃদ্ধি হয়। সময় বিশেষে দুগ্ধের গুণাদি সম্বন্ধে পাশ্চাত্য মত এই যে, প্রাতঃকালীন कोशूनौ দুগ্ধে নবনীত ও অন্যান্য সার পদার্থ অধিক থাকে, এবং সর্ব- কালেই দোহনের প্রথম ভাগ অপেক্ষা শেষ ভাগে দুগ্ধে সার পদার্থ অধিক থাকে, এবং গুণ বিশিষ্ট হইয়া থাকে। দোহনের প্রথম ভাগে দুগ্ধে ছানা ও শ্বেতসার ( albumen) অধিক থাকে এবং শেষ ভাগে নবনীত ও সর (cream) অধিক থাকে। এ সম্বন্ধে ভাব প্রকাশের মত এই যে :- “বৃষ্যং বৃংহণ মগ্নিদীপনকরং পূর্বাহ্নকালে পয়ো। মধ্যাহ্নেতু বলাবহং কফহরং পিত্তপহং দীপনম্ । রাত্রৌ পথ্যমনেক দোষশমনং চক্ষুহিতং সংস্মৃতম্।” বদন্তি পেয়ং নিশি কেবলং পয়গা ভােজ্যং ন তেনেহ সহোদনাদিক। তবেদজীর্ণং ন শীত শবরী ক্ষীর পীতস্য ন শেষমুৎসজেৎ। বিদাহীন্তন্নপানানি দিবা ভুক্তে হিযােনর তদ্বিদাহপ্রশান্ত্যর্থং রাত্রেী ক্ষীরং সদা পিবেৎ।” পূর্বাহে দুগ্ধ পান করিলে, পুষ্টি, অগ্নিবৃদ্ধি এবং শুক্রবৃদ্ধি হয়। মধ্যাহ্নে সেবিত দুগ্ধ বলকারক, কফনাশক, পিত্তনাশক এবং অগ্নিবর্ধক হয়। রাত্রিতে দুগ্ধ পান করিলে শরীরের হিতসাধন ও নানা দোষ নাশ এবং চক্ষুর জ্যোতি বৃদ্ধি রাত্রিকালে অন্নাদির সহিত দুগ্ধ পান না করিয়া কেবল মাত্র দুগ্ধ পান করিবে এবং অজীর্ণ আশঙ্কায়

कोशूप्ती
সমস্ত রাত্রি জাগরণ করিবে না। দুগ্ধ পান করিয়া পাত্রে অবশিষ্ট
রাখা উচিত নহে (কেন ? তাহা বুঝিতে পারিলাম না)।
যে ব্যক্তি দিবাভাগে বিদাহী (দাহজনক) অন্নাদি পান ভােজন
করে, তাহার পক্ষে সেই বিদাহশান্তির জন্য রাত্রিতে দুগ্ধ সেবন
প্রশস্ত।
প্রাতঃকালীন দুগ্ধ গুরু হওয়ার কারণ ভাবপ্রকাশে এই
প্রকার কথিত হইয়াছে—
“রাত্রে চন্দ্র গুণাধিক্যাদ্ব্যায়ামাকরণাত্তথা।
প্রাভাকিং প্রায় পয়ঃ প্রাদোষান্ গুরু শীতলম্ ।
দিবাকর করাাৎ ব্যায়ামানিলসেনাৎ।
প্রাভীতিকাও প্রাদোষং লঘু বাত কফপিহম্ ॥”
সুশ্রুতে উক্ত হইয়াছে।
“প্রায় প্রাভীতিকং ক্ষীরংগুরু বিষ্টন্তি শীতলং।
রাত্রেী সােমগুণাচ্চ ব্যায়ামাভাবতস্তথা।
দিবাকরাভিতপ্তানাং ব্যায়ামানিলসেনাৎ।
বাতামুলেমি শ্রান্তিং চাক্ষুষ্যপরাহ্নিকম্ ॥”
উপরােক্ত শ্লোকচতুষ্টয়ের তাৎপৰ্য এই যে, ভাতিক দুগ্ধ
প্রায়ই গুরু, বিষ্ণুম্ভী (কফবৰ্ধক) এবং শীতল, কারণ রাত্রিকাল
সােমগুণাধিক (ঠাণ্ডাতাহাতে অাবার জন্ধুগণের ব্যায়ামাভাৰ ;
প্রাতঃকালের পর জীবগণ সূৰ্যতাপে অভিতপ্ত হয় এবং ব্যায়ামামু-
শীলন ও বায়ু সেবন করিয়া থাকে, এই জন্য তাহাদের দুগ্ধ প্রদোষে

কৌমুদী
( বিকাল বেলায়) বাতাসুলেমন ( বায়ুনাশক ) শ্রান্তিনাশক,
চাক্ষুষ (চক্ষুর হিতকারী ), লঘু এবং কফনাশক হইয়া থাকে।
নির্ঘণ্টতে কথিত হইয়াছে-
“বৃষ্যং বৃংহণমগ্নিবর্ধনকরং পূর্বাহ্নপীতং পয়ে।
মধ্যাহ্নে বলদায়কং কফহরং কৃচ্ছস্য বিচ্ছেদকম্।
রাত্রে ক্ষীরমনেকদোষসমনং সেব্যং ততঃ সর্বদা।”
অর্থাৎ-পূর্বাহ্নে দুগ্ধ পান করিলে তাহা বৃষ (বলকারক ),
বৃংহণ (শুক্ৰবৰ্ধক) ও অগ্নিবর্ধক হয়। মধ্যাহ্নে পীত দুগ্ধ
পুষ্টিকারক, কফ নাশক এবং কৃচ্ছ ( মূত্রকৃচ্ছ,) নিবারক হয়।
রাত্রিতে দুগ্ধ পান করিলে তাহা অনেক দোষ নষ্ট করে ; অতএব
সর্বদাই (প্রাতে, মধ্যাহ্নে এবং রাত্রিতে) দুগ্ধ সেবন করিবে।
“নিশা শীতাংশুসংশীতং নিদ্রালস্যশ্ৰমামুগং।
সঘনং শীতকফকৃৎ ক্ষীরং প্রাতিকং ভবেৎ ॥
গব্যং প্রত্যুষসি ক্ষীয়ং গুরু বিষ্টম্ভি দুজরম্।
তস্মাদভদিতে সূর্যে যাম যামাদ্ধমেব বা
সমুত্তাৰ্য্যে ততে গ্রাহং তৎপথ্য দীপনং লঘু।”
রাত্রিতে চন্দ্রকিরণে শৈত্য হেতু এবং নিদ্রা, আলস্য ও
শ্রমানুসারে (শ্রমের অভাবে প্রভাতিক দুগ্ধ ঘন, শীতল, ও
কফকারক হয়। প্রাতঃকালের গােদুগ্ধ গুরু, বিষ্টম্ভী (কফবৰ্ধক)

}
কৌমুদী
এবং দুজর হয় সহজে জীর্ণ হয় না), অতএব সূর্যোদয়ের পর
এক প্রহর বা অর্ধ প্রহর অতীত হওয়ার পর দুগ্ধ দোহন করিলে,
সেই দুগ্ধ পথ্য (হিতজনক) দীপন (অগ্নিবৰ্ধক) এবং লঘু
হয়।
ভাবপ্রকাশে উক্ত হইয়াছে-
“ন শিষ্টা ভােজনান্তে দুগ্ধং পিবন্তি।”
( হিতকামী) শিষ্ট ব্যক্তিগণ ভােজনান্তে (অন্নাদি আহারের
পর) দুগ্ধ পান করিয়া থাকেন। ইহার কারণ উক্ত গ্রন্থে
বিস্তৃতভাবে লিখিত আছে, কুতূহলী পাঠকবৃন্দ তাহা দেখিলেই
সবিশেষ বিবরণ জানিতে পারিবেন।
ব্ৰহ্মপুরাণে কথিত হইয়াছে-
“কুৰ্যাৎ ক্ষীরামাহারং ন দধ্যন্তং কদাচন।”
আহারান্তে সর্বশেষে দুগ্ধ পান করিবে, কখনও সর্বশেষে
দধি আহার করিবে না; ইহার কারণ ভাবপ্রকাশে বিশেষরূপে
কথিত হইয়াছে, বাহুল্য ভয়ে তাহা উদ্ধত হইল না। পাঠকগণ
উক্ত গ্রন্থ পাঠ করিলে সবিশেষ বিবরণ অবগত হইতে পারেন।
( ১৮ )
অবস্থা ও বম্নোভেদে গাে-দুগ্ধের
গুণাদির তারতম্য।
যে সকল গাভী ক্ষুদ্রকায় (ছোট), ব্যায়ামশীলা ( চরিয়া
বড়ায়) এবং যত্নে পালিতা ও সুস্থ দেহবিশিষ্টা, তাহাদের দুগ্ধ

दकोशूतौ সুস্বাদু, অধিক নবনীত ও সর পদার্থ ( ছানা প্রভৃতি) যুক্ত হয়, বৃহৎকায় গাভী অপেক্ষা তাহাদের দুগ্ধ পরিমাণে অল্প হইলেও অধিক গুণবিশিষ্ট, তাহাতে সন্দেহ নাই। ছােট গাভীর আহার্যের পরিমাণও অল্প, অতএব তাহার পালন ব্যয়ও কম পড়ে। সর্বদা বদ্ধাবস্থায় থাকিলে ( বাড়ীতে বাঁধা থাকিলে গাভীর দুগ্ধ তত সুস্বাদু হয় না। কোনও কোনও পাশ্চাত্য গােপাল ক বলেন যে, বদ্ধাবস্থায় রক্ষিত গাভীর দুগ্ধ উৎকৃষ্ট ; কিন্তু আমাদের বিবেচনায় তাহা ঠিক নহে । গাভীকে মধ্যে মধ্যে মাঠে চরিয়া বেড়াইতে দেওয়া উচিত তাহাতে তাহার স্বাস্থ্যও রক্ষিত হয় এবং দুগ্ধও সুস্বাদু ও উপাদেয় হয়। প্রথম-প্রসূত গাভীর দুগ্ধে নবনীত অল্প এবং জলীয়ভাগ অধিক থাকে, কিন্তু তাহার দুগ্ধ শিশু ও রুগ্ন ব্যক্তির পক্ষে উপযােগী। দ্বিতীয়বার বৎস প্রসবের পর হইতেই গাভীর দুগ্ধ ক্রমে গাঢ় ও মিষ্ট হইতে থাকে, এবং তাহাতে নবনীত প্রভৃতি সারভাগ বৃদ্ধি পায় । ৫। ৬ বৎসর বয়স্কা গাভীর দুগ্ধ সর্বোৎকৃষ্ট। ৮ বৎসর হইতেই গাভীর দৈহিক বল হ্রাস হইতে থাকে কিন্তু এ নিয়ম সাধারণ নহে) এবং তৎসহ দুর্গের পরিমাণও কমিতে থাকে। কিন্তু তাহাতে নবনীত ইত্যাদি বাড়িতে থাকে ও দুগ্ধ গাঢ় ও মিষ্ট হয়। ১২। ১৩ বৎসর বয়স পৰ্যন্তই গাভীর দুগ্ধ ভাল থাকে; অতঃপর গুণের হ্রাস হয়। অধিক বয়স্কা গাভীর দুগ্ধ শিশুকে ব্যবহার করাইতে হইলে, ।

১০৪
কৌমুদী
তাহাতে পরিত জল, চুণের জল ও মিশ্রি মিশাইয়া দেওয়া
উচিত। জল ইত্যাদির পরিমাণ শিশুর বয়স ও অবস্থার প্রতি
লক্ষ্য রাখিয়া হ্রাস বৃদ্ধি করিতে হইবে। অতি বৃদ্ধা গাভীর দুগ্ধ
তত ভাল নহে। গাভীর বৎস যত বড় হইতে থাকে, তাহার দুগ্ধ
পরিমাণে তত কম হইতে থাকে, কিন্তু তাহাতে নবনীত প্রভৃতির
পরিমাণ অধিক হইতে থাকে।
“গুণহীনং নিঃসারং ক্ষীরং প্রথমপ্রসূতানাং
মধ্যবসাং রসায়নমুক্তমিদং দুৰ্বলন্তু বৃদ্ধানাম্ ॥”
অথাৎ-প্রথম-প্রসূতা গাভীর দুগ্ধ গুণহীন এবং সারবহিত,
মধ্যবয়স্থা গাভীর দুগ্ধ রসায়ন ( জরাব্যাধিবিনাশক), বৃদ্ধা
গাভীর দুগ্ধ দুর্বল (বলকারক নহে )।
আরও কথিত হইয়াছে-
“মধুরং ত্রিদোষনাশনং ক্ষীরং মধ্যপ্রসূতানাং।
লবণং মধুরং ক্ষীরং বিদাহজননং চির প্রসূতানাম্‌।”
মধ্য-প্রসূতার (গাভীর দুগ্ধ দেওয়ার সম্পূর্ণকালের মধ্যভাগে)
দুগ্ধ মধুর ও ত্রিদোষ নাশক। চিরপ্রসূতার গাভীর ( যাহার বৎস
বড় হইয়াছে) দুগ্ধ লবণ ও মধুর স্বাদযুক্ত এবং বিদাহজনক।
ভাবপ্রকাশে কথিত হইয়াছে-
“বস্কয়িন্যাস্ট্রিদোষং তর্পণং বলকৃৎ পয়ঃ।”
চিরপ্রসূত গাভীর দুগ্ধ ত্রিদোষনাশক, তর্পণ (তৃপ্তিদায়ক)
ও বলকারক।

কৌমুদী
গাভীকে পুনঃ পুনঃ দোহন করিলে দুঞ্জে ক্ৰমে নবনীতের
তাল্পত হয় এবং বৎসও দুর্বল হইয়া যায়। ইহাতে গাভীরও
বলহানি হয়। অতএব দিবসে দুই বারের অধিক গাভী দোহন
করা উচিত নহে। বৎস, মাতৃ দুগ্ধ ত্যাগ করিবার (দুধ ছাড়িবার)
অব্যবহিত পূর্বে দুষ্ট গাঢ় ও মিষ্ট হয় এবং তাহা অধিক
গুণবিশিষ্ট হয়।
দোহনকালে গাভীর অবস্থার প্রতি বিশেষ
দৃষ্টি রাখিতে হইবে, অর্থাৎ সে যাহাতে চঞ্চল, ভীত অথবা
বিমনস্ক না হয় এবং দোহনকারী কর্তৃক নির্দয়ভাবে আহত না
হয়, তৎ প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখিতে হইবে। দোহনকালে
বৎসকে তাহার সম্মুখে এমনভাবে রাখিতে হইবে যে, মাতা
অনায়াসে তাহাকে সস্নেহে লেহন করিতে পারে হঠাৎ আহাৰ্য্য ও
স্থান পরিবর্তনে এবং দোহনকারীর পরিবর্তনে গাভীর দুগ্ধ কমিয়া
কেহ কেহ বলেন, দোহনের পূর্বে গাভীকে কিছু খাইতে
দেওয়া উচিত । দোহনের পূর্বে গাভীর স্তন ও ওলান ধুইয়া
দিলে ভাল হয়। প্রথম দোহনের সময় কিছু দুগ্ধ পরিত্যাগ
করা উচিত, কারণ ওলানে জমা দুগ্ধ অনিষ্টজনক হয়।
( ১৯ )
দুগ্ধের বর্ণ দেখি সম্বন্ধে
গুণাদি বিড়াল।
অবস্থা, কাল, জাতি ও অাহার ব্যবহার ভেদে গো-দুগ্ধের
বর্ণ সম্বন্ধে অনেক পার্থক্য হয়। এস্থলে দুই একটা দৃষ্টান্ত

;
কৌমুদী
দ্বারা বর্ণ পরীক্ষার উপর নির্ভর করিয়া দুর্গে র গুণাদি বিচার
বিষয়ে বলা যাইতেছে ।
(১) গঢ়ি ও অতি শুভ্রবর্ণ দুধে ছানা অধিক থাকে ।
ঈদৃশ দুগ্ধ, দধি, ছানা, পনীর (Cheese) প্রভৃতি প্রস্তুতের পক্ষে
বিশেষ উপযােগী।
(২) নীলাভ তরল দুগ্ধ ;-ইহাতে নবনীত ও ছানার ভাগ
অল্প থাকে, কিন্তু ইহা মিষ্ট এবং সুস্বাদু ; এবংবিধ দুগ্ধ শিশুর
পক্ষে উপযােগী ; ইহাতে দধি, ছানা, ভাল নবনী ( মাখন )
জন্মে না।
(৩) হরিদ্রাভ গাঢ় দুগ্ধ ;—ইহা সর্বোৎকৃষ্ট, মালাই (সঃ)
নবনীত প্রভৃতি প্রস্তুতের পক্ষে এই প্রকার দুগ্ধ প্রশস্ত, কারণ
ইহা অধিক নবনীতযুক্ত হয়।
একটা কাচ পাত্রে অল্প দুগ্ধ রাখিয়া সেই পাত্রটী একটু
সূর্যালােকে ধরিলেই দুগ্ধের বর্ণ লক্ষ্য করা যায়। উদ্দেশ্য
ও অবস্থা বিবেচনায় দুগ্ধের বর্ণ পরীক্ষা করিয়া ব্যবহার করিতে
পারিলে ভাল হয়। কিন্তু তাহা সর্বদা সম্ভবপর নহে, কারণ
বাজার হইতে আনীত দুগ্ধ অনেক প্রকার দুগ্ধ মিশ্রণজাত এবং
তাহা কৃত্রিমতা দোষে দূষিত থাকে।

কারণ মানব কৌমুদী ( ২০ ) দুগ্ধ অনেকক্ষণ পর্যন্ত অনাৱত রাখার অপকারিতা । দুগ্ধ যেমন জীবনীয় পদার্থের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, তাহা দীর্ঘকাল পৰ্যন্ত অনাবৃত অবস্থায় রাখিয়া ব্যবহার করিলে তেমনই অনিষ্টজনক, এমন কি প্রাণনাশকও হইতে পারে ; বায়ুস্থিত দূষিত জীবাণুর আকর্ষণ ও সম্প্রসারণ পক্ষে দুগ্ধের মসীম শক্তি আছে । চক্ষুর অবিষয়ীভূত অসংখ্য সূক্ষম জীবাণু বায়ুমণ্ডলে বর্তমান আছে, তাহার অনেকগুলিই বিষাক্ত। অতএব গাভী দোহন করিয়াই পাত্রের মুখ তৎক্ষণাৎ আবৃত করা সর্বথা কর্তব্য। ইহাতে দুগ্ধ ধূলি, মক্ষিকা এবং দূষিত জীবাণু হইতে রক্ষিত হইবে। দুগ্ধে দুর্গন্ধ ও অতি সহজে সঞ্চারিত হয়, অতএব পরিষ্কত স্থানেই গাে-দোহন করা সঙ্গত। গােশালার অভ্যন্তরে গাে-দোহন করিলে তাহা দোহনান্তে তৎক্ষণাৎ বাহিরে আনা উচিত। মল মুত্রাদিযুক্ত গোশালাতে এবং পূতিগন্ধময় স্থানে গোদোহন না করাই শ্রেয়। বাজারে বিক্রয়ার্থ দুগ্ধ প্রায়ই অনাবৃত অবস্থায় অনীত, অতএব এই প্রকার দুগ্ধ ব্যবহার করিবার পূর্বে অন্ততঃ ১৫। ২০ মিনিট অগ্নির উত্তাপে সিদ্ধ করিয়া লওয়া কর্তব্য। ইহাতে দুগ্ধের দূষিত জীবাণু সকল নষ্ট হইয়া যাইবে। ফলতঃ অগ্নির ন্যায় বিশুদ্ধিকারক পদার্থ জগতে আর নাই ; তাহাতেই অগ্নিকে পাবক বলা যায়। বাজার

•
১০৮
;
কৌমুদী
হইতে আনীত ও অনাবৃত অবস্থায় বহুক্ষণ মক্ষিত দুর্গ অগ্নিপক
করিয়া ব্যবহার করা কখনও সঙ্গত নহে।
এ বিষয়ে গৃহস্থ
মাত্রেরই দৃষ্টি রাখা সর্বদা কর্তব্য।
( ২১ )
কি প্রকার পাত্রে গােদোহন,দুগ্ধ
রক্ষা ও পান করা উচিত।
গােদোহনের জন্য মৃন্ময় (মেটে হাড়ী) কাষ্ঠময়, কাংস
( কাঁসার ), কলাই করা লৌহ (Enamelled iron) ও দস্তার
পাত্ৰই শ্রেষ্ঠ ; সর্বাপেক্ষা পুরাতন হাঁড়িই উৎকৃষ্ট। গােদোহন
করার পূর্বে যে কোন প্রকার পাত্রই হউক, তাহা বেশ পরিস্কৃত
করিয়া লইতে হইবে। মাটির হাঁড়ি হইলে তাহা গরম জলে
ধৌত করিয়া, অগ্নির উত্তাপে একটু উষ্ণ ও শুষ্ক করিয়া লইতে
হইবে; ইহাতে পাত্রস্থিত রােগজনক জীবাণু নষ্ট হইয়া যাইবে।
ধাতুময় পাত্র কোন প্রকার অম্ল পদার্থ, বালি এবং ভষ্ম (ছাই ।
দ্বারা ঘসিয়া ফেলিলেই পরিষ্কার হয়। ধাতু পত্রিগুলি অন্ন
ইত্যাদি দ্বারা ঘসিয়া পুনর্বার গরম জলে ধৌত করিতে হয় ।
স্থূল কথা, দোহন পাত্র অতি পরিত হওয়া চাই, অন্যথায় দুগ্ধ
অচিরে নষ্ট হইয়া যাইবে।
অধুনা পাত্র বিশেষে রক্ষিত দুগ্ধের গুণাদি বলা যাইতেছে ;--
পাশ্চাত্য মতে কলাই করা তাম্র পাত্র দুগ্ধ রক্ষার পক্ষে

কৌমুদী
শ্রেষ্ঠ বলিয়া কথিত হইয়াছে। বিশুদ্ধ তাম্রপাত্রস্থিত দুগ্ধ বিষাক্ত
হইয়া যায়, অতএব তাহা নিষিদ্ধ হইয়াছে।
আমাদের স্মৃতিশাস্ত্রর বিধান এই যে-
“তাম্রপাত্রে পয়ঃ পানং উচ্ছিষ্টে ঘৃতভাজনং।
দুগ্ধে চ লবণং দদ্যাৎ সদ্য গােমাংসভক্ষণম্।”
তাম্রপাত্রে দুগ্ধ পান, উচ্ছিষ্টে ঘৃত ভােজন, এবং লবণ যােগে
দুগ্ধ পান সদ্য গো-মাংস ভক্ষণ তুল্য ( অতএব অকৰ্তব্য)।
আরও কথিত হইয়াছে ;--
“গব্যর্থ তাম্রপাত্রস্থং মদ্যতুল্যং ঘৃতং বিনা।”
ধৃত ব্যতীত অন্যান্য গব্য পদার্থ তাম্রপাত্রস্থ হইলে মদ্যতুল্য
হইয়া থাকে।
মতান্তরে কথিত হইয়াছে,
“পয়োহনুদ্ধতসারঞ্চ তাম্রপাত্রে ন দূতি।”
অনুত-সার দুগ্ধ (যে দুগ্ধের নবনীত প্রভৃতি উঠান হয়
নাই) তাম্র পাত্রে রাখিলে দূষিত হয় না।
পাশ্চাত্য মতে রৌপ্যের গিন্টি করা (Silver plated )
তথবা রৌপ্য পাত্রে দুগ্ধ রাখিলে তাহা শীঘ্র জম্নস্বাদ বিশিষ্ট
হয়, (টকিয়া যায়)।
লৌহ পাত্রস্থিত দুগ্ধ একটু লালচে ( রক্তবর্ণ) হয় এবং
তজ্জত সর প্রভৃতি একটু কাল হয়। কিন্তু ইহাতে দুগ্ধ টক

কৌমুদী
পিত্তলের পাত্রে দুগ্ধ রাখিলে তাহা হরিদ্বর্ণ সবুজ রং) এবং
বিস্বাদ হইয়া যায়।
টিনের পাত্রে দুগ্ধ রাখিয়া তাহা চা’র (Tea) সহিত মিশাইলে
নীলাভ হইয়া যায় এবং বিস্বাদও হয়।
পােড়া মাটির নূতন হাঁড়িতে দুগ্ধ রাখিলে তাহাতে মেটে
গন্ধ হয়, কিন্তু পুরাতন হাঁড়ি হইলে তাহা হয় না, বস্তুতঃ ইহা
দুগ্ধ রাখার পক্ষে উৎকৃষ্ট।
দস্তা অথবা কাসার পাত্রও দুগ্ধ রাখার পক্ষে মন্দ নহে।
চীনামাটি ও কাচের পাত্র তাপের অপরিচালক, অতএব
এগুলি দুগ্ধ রাখার পক্ষে প্রশস্ত নহে, কারণ এবংবিধ পাত্রস্থ দুগ্ধ
সহজে টক হইয়া যায় ।
দুগ্ধ রাখার পাত্র অতি নিৰ্ম্মল ও পরিষ্কত হওয়া চাই, নতুবা
নানাপ্রকার অনিষ্ট ঘটিতে পারে।
আজকাল এলুমিনাম নামক এক প্রকার নবাবিত ধাতু
পাত্র প্রচলিত হইয়াছে, ইহাতে ঋ রাখিলে কি প্রকার অবস্থা
হয় তাহা আমাদের জানা নাই।
সুশ্রুত সংহিতায় উক্ত হইয়াছে যে পানীয় পদার্থ ( দুগ্ধ
প্রভৃতি মৃন্ময়, স্ফটিক (Crystal) কাচ (Glass ), মণিময়
(বৈদুৰ্য প্রভৃতি) পাত্রে পান করা প্রশস্ত।
চৰ্য্যা চন্দ্রোদয় নামক গ্রন্থে কথিত হইয়াছে—
“তাস্রে তাপহরং পাত্রে সৌবর্ণে পিত্তনাশনম্ ।
রৌপ্যে শ্লেষ্মহরং প্রােক্তং কাংশ্যে রক্তপ্রসদন।

১১১
কৌমুদী
আয়সে তু শৃং ক্ষীরং কৃমিপিত্তকফপ্রণুৎ।
কান্তসারময়ং শ্রেষ্ঠং ত্রিদোষং রসায়নম্ ।
কুষ্ঠ প্রমে পিড়িক কৃমি গুল্মগ্রশূলমুৎ।
মৃৎপাত্রে তু শৃং ক্ষীর তাম্রপাত্রে শৃতং যথা।”
তৎপৰ্য এই যে—তাম্রপাত্রে দুগ্ধ জ্বাল দিলে তাহা তাপহারী,
সুবৰ্ণপাত্রে পিত্তনাশক, রৌপ্যে শ্লেষ্মনাশক, কাংশ্যে (কাঁসার
পাত্রে) রক্তনাশক, লৌহপাত্রে কৃমি পিত্ত ও কফনাশক হয়,
কান্তসারময় পাত্রে (চুম্বক-লৌহ পাত্রে) দুগ্ধ জ্বাল দিলে তাহা
ত্রিদোষত্ন ও রসায়ন (জ্বর। ব্যাধিনাশক) হয়। ইহা কুষ্ঠ,
প্রমেহ, পিড়িকা ( চুলকান), কৃমি, গুল্ম, রক্তদোষ এবং
শূলনাশক বলিয়া জানিবে। মৃৎপাত্রে দুগ্ধ জ্বাল দিলে তাহা
তাম্রপাত্রে জ্বাল দেওয়া দুগ্ধের তুল্য গুণ বিশিষ্ট হয়। কাহারও
কাহারও মতে তাম্র পাত্রে দুগ্ধ জ্বাল দেওয়া অত্যন্ত নিষিদ্ধ,
আমাদেরও ইহাই মত। অতএব তাম্রপাত্রে দুগ্ধ জ্বাল না দেওয়াই
ভাল মনে করি।
( ২২ )
দীর্ঘকাল পর্য্যন্তদুগ্ধ অবিকৃত
রাখার উপায়।
সাধারণত শীতকালে দুগ্ধ অনেকক্ষণ পর্যন্ত অবিকৃত থাকে।
কিন্তু গ্রীষ্মকালে ইহা অতি সহজেই নষ্ট হইয়া যায়।
কেহ
কেহ বলেন, সমতল ভূমিতে খাঁটি দুগ্ধ ১৫। ১৬ ঘণ্টা পৰ্য্য

১১২
কৌমুদী
এবং পর্বত শিখরে প্রায় ইহার দ্বিগুণ কাল পর্যন্ত ভাল
থাকে।
রাজ নির্ঘণ্টতে কথিত হইয়াছে--
“মুহূর্ত পঞ্চকাদূর্ফং ক্ষীরং ভবতি বিকৃতং।
তবে দ্বিগুণে কালে বিষবদ্ধন্তি মানবম্ ।
উক্তঞ্চ--ক্ষীরং মুহূৰ্ত্ততি ঘঘাষিত ষদতপ্তমেব
বিকৃতি প্রতি।
উফঞ্চ দোষং কুরুতে তদূর্ধং বিষােপমং স্যাদূষিত
দশানা।”
অর্থাৎ পাঁচ মুহুর্তের (দিবারাত্রির মানের ত্রিশ ভাগের
এক ভাগকে মুহূর্ত বলা যায়) উৰ্দ্ধকালস্থায়ী দুগ্ধ বিকৃত হইয়া
যায় এবং ইহার দ্বিগুণ কালে তাহা মানবকে বিষবৎ নাশ করে।
{ অতএব তাহা অব্যবহাৰ্য)। আরও কথিত হইয়াছে যে
অতপ্ত দুগ্ধ তিন মুহূর্ত (এক মুহূর্তের পরিমাণ মােটামুটি হিসাবে
দুই দণ্ড অর্থাৎ প্রায় এক ঘণ্টাকাল । কাল স্থায়ী হইলে বিকৃত
হয়, তদূর্ধকাল পরে তাহা উত্তপ্ত করিলে দূষিত হয় এবং দশ
মুহূৰ্তকাল স্থায়ী দুগ্ধ বিষতুল্য হয়। অনেক দূরস্থান হইতে
আনীত দুগ্ধ আন্দোলন বশতঃ পাত্রের সহিত পুনঃ পুনঃ ধৃষ্ট
হইয়া নষ্ট হইয়া যায়। 'এতদ্দেশীয় দুগ্ধ ব্যবসায়িগণ উক্ত দোষ
নিবারণাৰ্থ দুগ্ধপুর্ণপাত্রে বিরণ পত্র, (বিন্নার পাতা), তুলসী পত্র,
অথবা ২৪টী কঁচা লঙ্কা মরিচ দিয়া থাকে; কিন্তু এগুলি

दकोशूको
কতদূর উদ্দেশ্যসাধক, তাহা বলা যায় না। পাশ্চাত্যমতে দুগ্ধে
Vanilla (এক প্রকার orchid-পরগাছা} Salycelic
Acid {সেলিসিলেক এসিড, ফাৰ্ম্মালিন, বােরাসিক এসিড,
অথবা Borax (সেহোগা-চূর্ণ ) দিয়া রাখিলে তাহা অনেকক্ষণ
পৰ্যন্ত অবিকৃত থাকে। পূর্বোক্ত এসিডের কোনও প্রকার
স্বাদ নাই, অতএব ইহাতে দুগ্ধ বিস্বাদ হয় না।
ফারণ হিটের তাপমান যন্ত্রের ৬৫ ডিগ্রী হইতে ৬৮ ডিগ্রী
পরিমাণ উত্তাপযুক্ত দুগ্ধে এক পাইণ্টে (২০ আউন্সে) ২ গ্রেণের
বঁন সেলিসিলিক এসিড, মিশাইলে ১২ ঘণ্টা পর্য্যন্ত এবং ৮৫
ডিগ্রী উত্তাপ বিশিষ্ট দুগ্ধে উক্ত পরিমাণ এসিড মিশাইলে সমস্ত
দিনমান অবিকৃত থাকে। কম উত্তাপের দুগ্ধে পূর্ব কথিত
এসিড ৪ গ্রে পরিমাণ মিশ্রিত করিলে তাহা ১২ ১৩ দিন
পর্যন্ত অবিকৃত ভাবে থাকে।
পূর্বোক্ত উপায়গুলি ব্যতীত দুগ্ধ দীর্ঘকাল পর্যন্ত অবিকৃত
রাখার জন্য নিম্নোক্ত ত্রিবিধ উপায় অবলম্বিত হয়।
1.
Chemical ( রাসায়নিক)
2. Physical (প্রাকৃতিক )
3. Condensation (ঘনীভূতকরণ)
[১] কোনও প্রকার alkaline salt (ক্ষার পদার্থ, যথ।
সোডা, পটাস প্রভৃতি। এবং anteseptic (পচন নিবারক, যথা,

r टकोशून्त्री রাবীৰ্য্য (alcohol) ( chloride of zinc) ক্লোরাইড অব জিঙ্ক এবং লবণ প্রভৃতি যোগে দুগ্ধ অবিকৃত রাখার উপায়কে (chemical) রাসায়নিক উপায় বলা যায়। [২] কোনও প্রকার শীতল পদার্থ (বরফ ইত্যাদি) যোগে এবং অগ্নির উত্তাপে সিদ্ধ করিয়া ও বায়ু সঞ্চালন দ্বারা দুগ্ধ অবিকৃত রাখার উপায়কে ( Physical) প্রাকৃতিক উপায় বলা যায় । [৩] জ্বাল দিয়া দুগ্ধের জলীয় ভাগ দূর পূর্বক শুষ্ক করিয়া তাহাতে শর্করা প্রভৃতি যােগে পাত্রর মুখ বন্ধ করিয়া দুগ্ধ বিকৃত রাখার উপায়কে (condensation) ঘনীভূতকরণ বলা । যায়। পূর্বোক্ত ত্রিবিধ উপায়ের মধ্যে দ্বিতীয়ােক্তটাই (প্রাকৃতিক { physical) উপায়ই ) সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও ফলদায়ক। শৈত্য- যােগে ( বরফ-যােগে) দুগ্ধ ১৩। ১৪ দিন পর্যন্ত ভাল থাকে। অগ্নির উত্তাপে দুর্গের সমস্ত দুগুণ এবং তৎস্থিত বিষাক্ত জীবাণু নষ্ট হইয়া যায় । ফলত অগ্নির ন্যায় পত্রিকারক পদার্থ অরি জগতে একটীও নাই, তাই ইহাকে পাবক বলা যায় । রুগ্ন ব্যক্তির আনীত, রুগ্না গাভীর অথবা কদৰ্য্য স্কুল প্রভৃতি মিশ্রিত দুগ্ধ অগ্নির উত্তাপে শােধিত হয়। শৈত্যযােগে রক্ষিত দুগ্ধ ১৪ দিন পরে বিস্বাদ হয় এবং ২৮ দিন পরে তাহা জমাট বাঁধিয়া যায়। ৩। ৪ দিন পরে এবংবিধ দুগ্ধ ব্যবহারের অনুপযােগী হয়। বায়ু সঞ্চালনে দুগ্ধ তদপেক্ষা দীর্ঘকাল পর্যন্ত অধিকৃত

কৌমুদী
রাখা যায়, অতএব সংক্ষেপে বায়ু সঞ্চালনের উপায় কথিত
হইতেছে।
প্রথম কোনও উচ্চস্থান হইতে দুগ্ধের ধারা পাত করিলে
তাহা বায় সংযােগে কণাভাব ধারণ করবে। এতদবস্থায় সেই
দুগ্ধকে তারের অতি ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত জালদ্বারা আবৃত মুখবিশিষ্ট
পাত্রে প্রবিষ্ট করাইলেই তাহাকে ইবেটেড, (বায়ু সঞ্চালিত )
দুগ্ধ বলা যায় । বরফ অথবা করকা (শিলা Hailstone)
প্রভৃতি শীতল পদার্থের উপর বায়ু প্রবাহিত করিয়া সেই শীতল
বায়ু দুগ্ধে উপরােক্ত উপায়ে সঞ্চালিত করিতে পারিলে ইরেসন
আরও উৎকৃষ্ট হয় এবং ইহাতে দুগ্ধ নির্দোষ অবস্থায় অনেকক্ষণ
অবিকৃত থাকে।
অগ্নিতে উত্তপ্ত করিলে দুগ্ধ অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভাল থাকে,
কিন্তু ইহাতে দুগ্ধের আস্বাদ ও গন্ধের কিছু বিপর্যয় ঘটে এবং দুগ্ধস্থিত
গ্যাস(Gas) গুলি বাহির হইয়া যায় ও তাহাতে গুণহানি হয় ;
অতএব দুগ্ধপাত্রের মুখ আবৃত করিয়া, অগ্নির উত্তাপে উষ্ণ করিয়া
তাহাতে শীতল জলধারা পাতে ঠাণ্ডা করিলে উপরােক্ত দোষ
ঘটে না।
এববিধ উপায়ে দুগ্ধ উত্তপ্ত করার অনেক যন্ত্র পাওয়া
হয়। সেগুলিকে (refrigerator) রিফ্রিজারেটার বলে, এসব
যন্ত্র সচরাচর ক্রয় করিতে পাওয়া যায়।
পচন নিবারক পদার্থ (Antiseptic) যােগে দুর্থ রক্ষার
উপায়টী তত নিঃসন্দেহ জনক নহে অতএব ইহার উপর সর্বদা

কৌমুদী নির্ভর করা যাইতে পারে না, এই জন্য এ সম্বন্ধে অধিক কথা বলা বাহুল্য মাত্র। এখন condensation ( ঘনীভুত করণােপায়) বিষয়ে ২৪টা কথা বলা যাইতেছে। আমেরিকা মহাদেশ নিউ ইয়র্ক ( New York) নগরের অন্তঃপাতী (Whiteplain) হােয়াইট প্লেইন নিবাসী Mr. Gael Borden (মেঃ গেইল, বোরডে) নামক জনৈক বৈজ্ঞানিক ১৮৪৯ খৃঃ অব্দ হইতে চেষ্টা আরম্ভ করিয়া ১৮৫১ খৃঃ অব্দে সর্বপ্রথম ( condensed milk জমাট দুগ্ধ প্রস্তুত করণ বিষয়ে কৃতকার্য হন। ১৮৬১ খৃঃ অব্দে এবংবিং দুগ্ধ শর্করাদি যােগে মিষ্ট করিয়া টীনের পাত্রে বদ্ধাবস্থায় তিনি প্রথমতঃ সৈনিক বিভাগে প্রচলিত করেন। অতঃপর ১৮৬৪ খৃঃ অব্দে উক্ত মহাত্মার উদ্ভাবিত উপায়ে অস্ট্রেলিয়া হইতে প্রচুর দুগ্ধ জমাট অবস্থায় দেশ দেশান্তরে প্রচলিত হইতে আরম্ভ হয়। অধুনা ইংলণ্ড, আয়রল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানী, ডেনমার্ক, নরওয়ে, বেডিবিয়া, প্রভৃতি ইয়ুরােপীয় সভ্যদেশ হইতে প্রচুর জমাট দুগ্ধ বিদেশে রপ্তানি হইতেছে। ভারতবর্ষেও আজকাল এবংবিধ দুর্গ নগরে নগরে,এমন কি পল্লীগ্রামে পর্যন্ত বিক্রীত হইতেছে ইতা আমাদের পক্ষে শুভসূচক কিনা বিবেচ্য। সম্প্রতি কোনও উৎসাহী বঙ্গীয় যুবক | Condensed milk } জমাট দুগ্ধ প্রস্তুত করিয়া টীন পাত্রে আবদ্ধাবস্থায় বিক্রয় করিতেছেন, এক্ষেত্রে তাহার উদ্যম প্রশংসনীয় এবং উৎসাহ পাইবার উপযুক্ত ; কিন্তু • ;

;
নহে )
कोभूतो
টীন পাত্রে দীর্ঘকাল রক্ষিত দুগ্ধ স্বাস্থ্যহানিকর কিনা; এ বিষয়ে
চিকিৎসকগণের অনুসন্ধান করা কর্তব্য। আমাদের বিবেচনায়
ইহা অনিষ্টজনক, শিশুকে এবংবিধ দুগ্ধ ব্যবহার করান ভাল
আমাদের দেশে ক্রমে যে প্রকার দুগ্ধাভাব হইতেছে,
তাহাতে বোধ হয় দধি প্রভৃতির জন্যও অচিরে আমাদিগকে
ইয়ুরােপের মুখাপেক্ষ হইতে হইবে। অতএব সময়ােচিত সতর্কতা
অবলম্বন করা দেশহিতৈষী ব্যক্তিবর্গের কর্তব্য।
জমাট দুগ্ধ (Condensed milk) প্রস্তুত করণােপায়
পাঠকগণ ইংরেজী গ্রন্থাদি অনুসন্ধান করিলেই বিস্তারিত বিবরণ
জানিতে পারিবেন, ৰাহুল্য ভয়ে সে সমুদয় উদ্ধত হইল না।
Condensed milk দুই প্রকার (১) শর্করাযুক্ত এবং (২)
শর্করাবিহীন। এতদুভয় প্রকার দুগ্ধে কি পরিমাণ জল মিশ্রিত
করিলে নারী দুগ্ধের তুল্য হয় তাহা নিম্নে প্রদর্শিত হইল।
নারী দুগ্ধ
শর্করা যুক্ত জমাট দুগ্ধ
৭ গুণ জলমিশ্রিত
শর্করা বিহীন জমাট দু।
• চারি গুণ জল মিশ্রিত
Protsed
(ছ)
১.৩ গগ
Fat
১.১ভাগ
Sugar
৭ ভাগ
৬। ভাগ
২.৬ ভাগ

কৌমুদী
মেযে অবস্থায় গােদুগ্ধাদি মানৰ
কর্তৃক ব্যবহৃতহয় এবং
ভাবস্থায় ফলাফল।
দুগ্ধ (১) ধরোষ্ণ, (২) অপক (কাচা, (৩) ফেল, (৫) ঈষদুষ্ণ
(৫) মাখনটানা, (৬) বিশেষ ভাবে আবর্তিত (ঘন), (৭) দৃঢ়
(ক্ষীরসা বা মেওয়া), (৮) চূর্ণীকৃত ইত্যাদি অবস্থায় মানব কর্তৃক
ব্যবহৃত হয় ; এতদ্ব্যতীত শর্করাদি ও অন্যান্য নানাবিধ পদার্থ
যােগে দুগ্ধ ব্যবহৃত হইয়া থাকে।
(১) ধাররাষ্ণ দুগ্ধ-গগা দোহন করা মাত্র দুগ্ধ ঈষদুষ্ণ থাকে,
এই অবস্থার দুগ্ধকে ধরােষ্ণ বলা যায়, ইহা সফেন, মিষ্ট, মসৃণ
এবং ঈষৎ জান্তব গন্ধ যুক্ত এবম্বিধ দুগ্ধ বিশেষ উপকারী।
আয়ুর্বেদে ইহার বিশেষ গুণ কথিত হইয়াছে।
অষ্টাঙ্গ হৃদয়ে উক্ত হইয়াছে
ধরােষ্ণমম্বতাপমম।
ধরােষ্ণ দুগ্ধ অমৃততুল্য।
ভাবপ্রকাশে কথিভ হইয়াছে,
“পারেষ্ণি গােপয়ে বলং লঘুশীতং সুধাং।
দীপনঞ্চ ত্রিদোষং তদ্ধা। শিশিরং ত্যতে
ধারােষ্ণং শস্যতে গব্যং ধারাশীতন্তু মাহিষম।”

কৌমুদী
অর্থাৎ~-ধরোষ্ণ গোদুগ্ধ বলকারক, লঘু, শীতবীৰ্য্য এবং
অমৃতসম ; ইহা অগ্নিবৃদ্ধিকর, ত্রিদোষনাশক। ধারা-শীতল
গােদুগ্ধ ত্যাগ করিবে গােদুগ্ধ ধরােষ্ণ এবং মহিষ দুগ্ধ ধারা-
শীতলই প্রশংসনীয়।
নির্ঘণ্টতে কথিত হইয়াছে -
“উক্তং গব্যাদিকং দুগ্ধং ধারোষ্ণমমৃততাপমং)
সময়হরং পথ্য চিরসংস্থম্ভ দোষদ।
দোহনান্ত শীতং মহিষীপয়শ্চ গৰ্যঞ্চ ধারােষ্ণমিদং
প্রশস্তম্।”
অর্থাৎ-গবাদির ধারােষ্ণ দুগ্ধ অমৃততুল্য বলিয়া কথিত ;
ইহা সর্বরোগনাশক, পথ্য { হিতজনক , কিন্তু দীর্ঘকাল স্থায়ী
হইল দোষজনক হয়। গব্য দুগ্ধ ধরােষ্ণ এবং মহিষ দুগ্ধ
দোহান্তে *ীল হইলে প্রশস্ত বলিয়া জানিবে ।
সুশ্রুত সংহিতায় কথিত হইয়াছে--
“ধারেং গুণবৎ ক্ষারং বিপরীত মতােহন্যখা।”
অর্থাৎ-ধারােষ্ণ দুগ্ধ গুণবিশিষ্ট কিন্তু তদ্বিপরীতে ( শীতল
হইলে) তাহার অন্যথা হয় (গুণহীন হয়)।
অন্যত্র কথিত হইয়াছে—
“ধারােষ্ণমমৃত পয়ঃ শ্রমহরং নিদ্রাকরং কান্তিং ।
বৃষং বৃংহণমগ্নিবর্ধমতি স্বাদু ত্রিদোষ।”
ইহার তাৎপর্য এই যে-ধারােষ্ণ দুগ্ধ অমৃততুল্য, এমনাশক,

কৌমুদী নিম্ৰাকর, এবং কান্তিদায়ক, ইহা বৃষ ( বলকারক ), বৃংহণ (শুক্র- বৰ্ধক), অগ্নিবর্ধক, অতিশয় স্বাদু, এবং ত্রিদোষনাশক। অপিচ – “ধারােষ্ণমমৃতং পথ্যং ধারাশীতং ত্রিদোষকৃৎ।” আরােষ্ণ দুগ্ধ অমৃত তুলা, পথ্য এবং খারাণীতল দুগ্ধ ত্রিদোষকারক। (২) অপক্ক দুগ্ধ-অপক্ক দুগ্ধ ( কাঁচা দুধ,) সেবন করা উচিত নহে। কারণ ইহাতে নানা প্রকার রােগের উৎপত্তি হয় এবং ইহা নানাপ্রকার বিষাক্ত জীবাণুদ্বারা দূষিত থাকে। এবংবিধ দুগ্ধ পান করিতে হইলে কাপড়ে ছাঁকিয়া একটু উষ্ণ করিয়া (১৫। ২০ মিনিট পর্যন্ত) লওয়া কর্তব্য। এসম্বন্ধে তাব একাশে কথিত হইয়াছে। “আমং ক্ষীরমভিষদি গুরু শ্লেৰিবৰ্দ্ধনং। জ্ঞেয়ং সর্বপথ্যঞ্চ গবমাহিষবর্জিত। নরীক্ষীরামমেব হিতং নতু খৃতং হিতম্॥” অর্থাৎ- আম দুগ্ধ কোঁচা দুধ) কফ বর্ধক, গুরু এবং শ্লেষ্মবর্ধক, অতএব গগ ও মহিষ দুগ্ধ ব্যতীত সর্বপ্রকার অপক দুগ্ধই অপথ্য অহিতজনক বলিয়া জানিবে। কিন্তু নারী দুগ্ধ অপক্ক অবস্থাতেই হিতজনক, জ্বাল দেওয়া হইলে তাহা অনিষ্টকর হয়। ভাবপ্রকাশে আরও উক্ত হইয়াছে- “অর্পোদকং ক্ষীরং শিষ্টমামাল্লঘুতরং ভবেৎ। পয়ােহভিষদি গুণং প্রায়শঃ পরিকীর্তিত। ।

'কৌমুদী
অর্থাৎ-দুগ্ধে অর্ধেক পরিমাণ জল মিশ্রিত করিলে তাহা
অপক্ক দুগ্ধ হইতে লঘুতর হয়। কাঁচা দুধ প্রায়শঃ গুরু এবং
অভিষন্দী (কফবৰ্ধক)।
অষ্টাঙ্গ হৃদয়ে কথিত হইয়াছে--
“ক্ষীরং ন যুঞ্জীত কদাপ্যতগুং-
পয় ভিষন্দি গুৰ্বাণং যুক্তা শৃভমতােহন্যথা।”
অর্থাৎ কাঁচা দুধ কখনও ব্যবহার করিবে না।
কাঁচা দুধ অভিষন্দি ( কফকারক) গুরু, কিন্তু তাহা উপযুক্তরূপে
জ্বাল দিয়া লইলে তদন্যথা ( লঘু হয়।
নির্ঘণ্টতে কথিত হইয়াছে—
“ক্ষীরং কাস শ্বাস কোপায় সর্বং গুৰ্বামং
স্যাৎ প্রায়শো দোষদায়ি
।”
•••নারী ক্ষীরামমেবাময়।”
পাচিতং তদখিল, বিষ্টভ্য দোষ প্রদম
অর্থাৎ-প্রায় সর্বপ্রকার দুর্গই অপক্কাবস্থায় কাস, শ্বাস
প্রকোপকারক, গুরু এবং দোষজনক হইয়া থাকে, কিন্তু নারীদুগ্ধ
অপক্ক অবস্থায়ই রােগনাশক। যে দুগ্ধ শীতল ও অপক, তৎসমস্তই
বিষ্টভ্য দোষকারক ( মলরােধক) হইয়া থাকে।
(৩) দুগ্ধ ফেনা-গাভী ও অন্যান্য দুগ্ধদাত্রী স্ত্রীজাতীয় জীবের
দোহনকালে স্তম্ভধারা দোহন-পাত্রে আহত হইয়া পাত্রের
উপরিভাগে যে ফেন জন্মে, তাহাকে ”দুগ্ধফেন” বলা যায়।
"
ভবেচ্ছতং যত্তন

১২২
কৌমুদী
ভাবপ্রকাশে কথিত হইয়াছে
“গোদুগ্ধপ্রভবং কিংবা ছাগীদুগ্ধসমুদ্ভব।
ভবেৎ ফেনং ত্রিদোষঘ্নং বােচনং বলবর্ধনম।
বহ্নিবৃদ্ধিকরং পথ্যং সদ্যস্তৃপ্তিকরং লঘু।
অতিসারেংগ্নিমালোচ জুরেজীর্ণে প্রশস্ততে।”
অর্থাৎ-গােদুগ্ধজাত ফেন অথবা ছাগী দুগ্ধের ফেন ত্রিদোষ,
রুচিকারক, বলবর্ধক, অগ্নিবৃদ্ধিকর, পথ্য, সদ্যতৃপ্তিজনক এবং
লঘু। ইহা অতিসারে, অগ্নিমান্দ্য, জ্বরে, এবং অজীর্ণ রােগে
প্রশস্ত। অত্রিসংহিতায় কথিত হইয়াছে -
‘কৃষ্ণ গােহপশয়ঃফেনমজানাং বেতিশস্ততে।
মন্দাগ্নীনাং কৃশানাঞ্চ বিশেষাদাতসারিণম্।
উৎসাহদীপনং বলং মধুরং বাতনাশনং।
সদ্যোবলকরঞ্চৈব তচ্চ ক্ষীর বিলােড়িতং ।
ক্ষীণ। জ্বরাতিসারেচ সমমচ বিষমে জ্বরে।
মন্দাগ্নৌ কমাশ্ৰিত্য পয়ফেনং প্রশস্ততে।”
তাৎপৰ্যাথ-কৃষ্ণা গাভী, অশ্ব, অথবা ছাগদুগ্ধজ ফেন প্রশস্ত,
এ সকল মন্দাগ্নি, কৃশ, বিশেষতঃ অতিসারী রােগীর পক্ষে হিত
জনক এবং এ সমুদয় উৎসাহবৰ্দ্ধক, অগ্নিবর্ধক, বলকারক মধুর ও
বায়ুনাশক। ফেন দুগ্ধের সহিত আলােড়িত হইলে সদ্য বলকারক
হয়। দুগ্ধ ফেন ক্ষীণাবস্থায়, জ্বরাতিসারে সম ও বিষমজ্বরে এবং
কাশ্রিত মন্দাগ্নিতে প্রশস্ত বলিয়া জানিবে ।

কৌমুদী
৪) ঈষদুষ্ণ দু-ফারণ হিটে ! ( তাপমান যন্ত্রের।
১২ ডিগ্রী এবং সেন্টিগ্রেড, স্কেল তাপমানের ১০০ ডিগ্রী
উত্তাপে দুগ্ধ ও জল ফুটিতে আরম্ভ করে এবং ফারণ হিটের ৩২
ডিগ্রী এবং সেন্টিগ্রেডের ০ ডিগ্রীতে জল জমিয়া বরফ হয়,
কিন্তু ফারণ হিটের ৩০ ডিগ্ৰী পৰ্যন্ত শীতল না হইলে দুগ্ধ জমে
ন। দুগ্ধ ফুটিতে আরম্ভ করিলেই তাহাকে ঈষদুষ্ণ (এক দুই
বলকের দুধ) বলা যায় ; ইহা রােগী ও শিশুর পক্ষে বিশেষ
উপকারী ) ১৫। ২০ মিনিট পর্যন্ত দুগ্ধ অগ্নির উত্তাপে রাখিলেই
ফুটিতে আরম্ভ করে, এবং তাহার দূষিত জীবাণু নষ্ট হইয়া যায় ।
আয়ুর্বেদে কথিত হইয়াছে—
“শৃষ্ণেমাবিকং পথ্যং শৃশীতমজাপয়ঃ।”
“মেষ দুগ্ধ জাল দিয়া উষ্ণ থাকিতে এবং ছাগী-দুগ্ধ শীতল
হইলে হিতজনক হয়।
নির্ঘণ্টতে কথিত হইয়াছে।
“তচ্চেৎ কাথাবৰ্তিতং পথ্যমুক্ত।”
তাহা (দু} কাথাবর্তিত হইলে হিতজনক হয়। উক্ত গ্রন্থে
আরও উক্ত হইয়াছে যে—
নারীক্ষীরন্তু শৃতােষ্ণং কফবাতঘ্নং শৃশীতন্তু
পিত্তনুৎ শৃশীতং ত্রিদোষক্সং।
নারী দুগ্ধ জাল দিয়া উষ্ণ থাকিতে পান করিলে কফ ও বাত
নাশক হয় এবং তাহা শীতল হইলে পিত্ত ও ত্রিদোষ নাশক হয় ।

कोनौ
সুশ্রুত সংহিতায় কথিত হইয়াছে -
“তদেবােষ্ণং লঘুতরমনভিষদি বৈ শৃতং।
বজয়িত্ব স্ক্রিয়াঃ স্তন্যং ••• •।”
অর্থাৎ-নারীদুগ্ধ ব্যতীত অন্যান্য দুগ্ধ জ্বাল দিলে লঘুতর এবং
অনভিয্যন্দী (কফনাশক) হয়।
(৫) মথিত দুগ্ধ ( মাখনটানা দুধ)।
দুগ্ধের নবনীত (মন্থন দ্বারা) উঠাইয়া খাইলে তাহা একটু
নীলাভ হয়, ঈদৃশ দুগ্ধ কিছু উষ্ণ করিয়া পান করিলে বিশেষ
উপকার হয়। ইহা বালকের পক্ষে অত্যন্ত হিতজনক। বার
ঘণ্টার পর এই প্রকার দুগ্ধ ব্যবহার করা উচিত নহে। কারণ
ইহার পর তাহা নষ্ট হইয়া যায়।
ভাবপ্রকাশে কথিত হইয়াছে
“ক্ষীরং গব্য অথাজ কোষ্ণ দপ্তাহত পিবেৎ।
লঘু বৃষ্যং জ্বরহরং বাতপিত্তফাপহ।”
অথাৎ-গব্য অথবা ছাগ দুগ্ধ মথিত করিয়া ঈষদুষ্ণ অবস্থায়
তাহা পান করিলে লঘু, বৃষ্য, (বলকারক) এবং বাত, পিত্ত ও
কফনাশক হয়।
(৬) বিশেষভাবে আবর্তিত দুগ্ধ ( ঘন দুধ ক্ষীর প্রভৃতি)।
ঘন দুধ ও ক্ষীর সুস্বাদু গুরু এবং বলকারক। শুফ গােময়ের
( ঘুটের) আগুনে দুগ্ধ আবর্তিত করিলে তাহা অতি সুস্বাদু হয়
এবং দুগ্ধের বর্ণও অতি পরিষ্কার হয়। দুগ্ধ জ্বাল দেওয়ার সময়

১২৫
कोजी
বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করিতে হয়, সামান্য অমনােযােগে দুগ্ধ
নষ্ট হইয়া যায়। জ্বাল দেওয়ার সময় পুনঃ পুনঃ আলােড়িত
করিতে হয়। একটা পাত্রে জল রাখিয়! তদুপরি দুগপূর্ণ পাত্র
রাখিয়া উভয় পাত্রের সংযোগস্থল ময়দা অথবা মাটি দিয়া বন্ধ
করিয়া দুগ্ধ জ্বাল দিলে তাহার বর্ণ অতি শুভ্র হয় এবং দুগ্ধের
স্বাদও মিষ্ট হয়। দুগ্ধ পাত্রের মুখটী ঢাকিয়া দিলে আরও
আয়ুর্বেদে উক্ত হইয়াছে—
-নির্ঘণ্ট:
“শৃতঞ্চ পয়ঃ পীতং পীযূষাদপি গুরু।
ঘন দুগ্ধ পান করিলে তাহা পীযূষ (সদ্য প্রসূতা গাভীর দুগ্ধকে
পীযূষ বলা যায়) হইতে গুরু।
উক্ত গ্রন্থে আরও কথিত হইয়াছে—
“চতুর্ভাগং সলিলং নিধায় যত্নাৎ সদাবৰ্তিত মুত্তমং।
সর্বময়ং বলপুষ্টিকারি বীৰ্যপ্রদং ক্ষীরমতি প্রশস্তম্।
অর্থাৎ-চতুর্ভাগ (চারি ভাগ) জল মিশাইয়া দুগ্ধ উত্তমরূপে
আৰ্ত্তিত করিলে ( জাল দিয়া ঘন করিলে) তাহা সর্বনােগ
নাশক, বলকারক, পুষ্টিকারক ও বীৰ্যপ্রদ হয়, এতাদৃশ দুগ্ধ অতি
প্রশস্ত।
সুশ্রুতে কথিত হইয়াছে--
“তদেবাতি ঘৃতং সর্বং গুরু বৃংহণমুচ্যতে।

;
टकोप्तो
অর্থাৎ—সর্বপ্রকার দুগ্ধ অতি শৃত (লাল দিয়া খ) করিলে
গুরু ও বৃংহণ (বলকারক) হয়।
আরও উক্ত হইয়াছে—
“নিত্যং তীব্ৰাগ্নিনা সেব্যং পকং মাহিষং পয়ঃ।
পুষ্যন্তি ধাতবং সবে ব-পুষ্টি বিবর্ধন।”
তীব্রাগ্লিবিশিষ্ট ব্যক্তি ( যাহার পরিপাকশক্তি এবল) সুপ
মহিষদুগ্ধ নিত্য সেবন করিবে; ইহা সর্ব ধাতু-পােষণকারী এবং
বল ও পুষ্টিকারক।
“জলেন রহিত দুগ্ধমতিপক্কং যথা যথা।
তথা তথা গুনু স্নিগ্ধং বৃষ্যং বলবিবর্ধন ॥”
জলরহিত দুগ্ধ যে যে ভাবে অতি পক্ক করা যায়, সেই সেই
ভাবেই তাহা গুরু, বৃষ্য (শুক্ৰবৰ্ধক) ও বল বৰ্দ্ধক হয়।
ইয়ুরােপ ও আমেরিকা প্রভৃতি দেশ হইতে ঘনীভূত অবস্থায়
টীনে বদ্ধ হইয়া যে দুগ্ধ আমদানী হইতেছে, তাকে Condense
Milk ( কনডেন্সড মিল্ক) বলা যায়। এ বিষয়ে পূর্বেই
বিস্তারিতভাবে বলা হইয়াছে, অতএব পুনরুক্তি নিস্পয়ােজন।
ঘনীভূত দুগ্ধের জলীয় ভাগ অগ্নির উত্তাপে নষ্ট করিলে
তাহাকে ক্ষীরসা বা মেওয়া বলা যায়। ইহা দ্বারা নানাপ্রকার মিঠাই
দৃ দুগ্ধ (ক্ষীরসা
প্রস্তুত করা যায়। ক্ষীর ও ক্ষীরসা বালকদিগকে
ৰা মেওয়া)
অধিক খাইতে দেওয়া উচিত নহে। শীতকালে
ক্ষীর এবং ক্ষীরসা অনেক দিন পর্যন্ত অবিকৃত থাকে।

১২৭
কৌমুদী
দৃঢ় দুগ্ধ (ক্ষীরসা) আরও কিছু উত্তপ্ত করিলেই তাহা
চূর্ণ করা যায়। অধুনা ইয়ুরােপ ও আমেরিকা প্রভৃতি দেশ
হইতে নানা প্রকার উপাদানযুক্ত চূর্ণ দুগ্ধ
চূণীকৃত দুগ্ধ
এদেশে আমদানী হইতেছে, তন্মধ্যে [1]
( Horlick's Milk ) safaria farces [2Allenhury's)
Milk) এলেরিস মিল্ক এবং [3] (Nestle's Milk) নেসেলস
মিল্ক বিশেষ বিখ্যাত। এগুলির মধ্যে হরলিকস, মিল্ক
সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট ; বালক ও রােগীর পক্ষে ইহা বিশেষ
উপযােগী। কিঞ্চিৎ উষ্ণ জলে উক্ত প্রকার চূর্ণ মিশ্রিত করতঃ
তাহাতে অল্প শর্করা (চিনি) যােগ করিলেই অতি উপাদেয় ও
পুষ্টিকর খাদ্য প্রস্তুত হয়। আমাদের দেশে এতাদৃশ দুগ্ধ-চূর্ণ
প্রস্তুতের উপায় উদ্ভাবনের চেষ্টা করা শিক্ষিত সম্প্রদায়ের কর্তব্য।
চিনি, গুড় ও অন্যান্য দ্রব্যাদি যােগে দুগ্ধ দ্বারা যত প্রকার
উপাদেয় ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রস্তুত হইতে পারে এমত (বাধ হয়
জগতে আর কিছুতেই হয় না। এ বিষয়ে
শাদিযুক্ত দুগ্ধ
বিস্তৃত বিবরণ লিপিবদ্ধ করা অপ্রাসঙ্গিক
বিধায় পরিত্যক্ত হইল। রাবড়ী প্রভৃতি উৎকৃষ্ট খাদ্য শর্করা
যুক্ত দুগ্ধ ব্যতীত আর কিছুই নহে।
আয়ুর্বেদে উক্ত হইয়াছে-
“খণ্ডন সহিতং দুগ্ধং কফকৃৎ পবনাপহং।
সিতাসিতাপলাযুক্তং শুক্ৰলং মিলাপহ।

২৮ কৌমুদী সগুড়ং মূত্রকৃচ্ছ দুং পিত্তশ্লেষ্মকরং পয়ঃ। ক্ষীরং সশর্করং পথ্যং যা সাত্মঞ্চ সর্বদা। অর্থাৎ-খণ্ড যুক্ত (খাড় গুড়যুক্ত) দুগ্ধ কফকারক ও বায়ুনাশক। চিনি ও মিশ্রিযুক্ত দুগ্ধ শুক্রকারক এবং ত্রিদোষনাশক গুড়যুক্ত দুগ্ধ মূত্রকৃচ্ছনাশক এবং শ্লেষ্মবৃদ্ধিকারক। শর্করাযুক্ত দুগ্ধ পথ্য এবং তাহা সর্বদাই সাত্ম [ দেহানুকূল ]। অপ্রাসঙ্গিক হইলেও দুগ্ধের সর সম্বন্ধে ২। ১টা প্রয়ােজনীয় কথা এখানে বলা যাইতেছে দুগ্ধের সরকে সংস্কৃত ভাষায় সন্তানিকা বা পয়চ্ছদ বলা যায়। দু ভাল সস্তানিকা বা রকম জ্বাল দিয়া শীতল ও নিৰ্বাত স্থানে রাখিয়া দিলে তদুপরি যে আবরণ জন্মে তাহাকেই সর বলা হয়। ইহার গুণ ভাব প্রকাশে এই প্রকার কথিত হইয়াছে-- “সন্তানিকা গুরু শীতা বৃষ্যা পিত্তাশ্ৰবাতমুৎ। তর্পণী বৃংহণী স্নিগ্ধা বল বলশুক্রলা।” সান্তানিকা (সর) গুরুপাক, শীতবীৰ্য, বৃষ্য, রক্তপিত্ত ও বাতনাশক ; ইহা তৃপ্তিকারক, বৃংহণী [পুষ্টিকারক স্নিগ্ধ, বলকারক, এবং শুক্র-বৃদ্ধিকারক। মাহিষ দুগ্ধের সর অতি শুভ্র ও পুরু হয় এবং ইহাতে নব- নীতের ভাগও অধিক থাকে। দুগের সদ্বারা নানাবিধ উৎকৃষ্ট খাদ্য প্রস্তুত হয়। কৃষ্ণনগরের বিখ্যাত সরপুরিয়া এবং সরভাজা ;

कोलो তাহার নিদর্শন। ২ | ৩ দিনের সর একত্রিত করিয়া জাল দিলে অতি উৎকৃষ্ট ঘৃত প্রস্তুত হয়। সর, বালকের পক্ষে দুপাচ্য এবং অনিষ্টজনক। সর পাতার দুগ্ধ একটু ঘনাবৰ্তিত হওয়া চাই এবং যে পাত্রে সর পাতিতে হইবে, তাহার মুখ কিছু বিস্তৃত (চেপ্টা) হওয়া চাই। যে ঘরে সর পাতা দুগ্ধ রাখিতে হইবে, তাহা নির্জন এবং নিৰ্বাত হওয়া আবশ্যক। পুনঃ পুনঃ সেই ঘরে লােক যাতায়াত করিলে বায়ু চালিত হইয়া এবং তাপের অবস্থা (temperature) পুনঃ পুনঃ পরিবর্তিত হইয়া সর জমার পক্ষে বিপ্ন হইবে। গ্রীষ্ম- কালে দিবাভাগে ঘরের দরজা বন্ধ করিয়া না রাখিলে ভাল সর জন্মে না। কিন্তু রাত্রিতে দরজা খুলিয়া রাখা ভাল, শৃগাল ইত্যাদি ঘরে প্রবেশ করিতে না পারে এজন্য ঘরে ছিদ্রযুক্ত কবাট ব্যবহার করাই ভাল। সর জমার পক্ষে শীতল দিনই প্রশস্ত। মেঘাচ্ছন্ন দিনে এবং পশ্চিম দিক হইতে বায়ু প্রবাহিত হইতে আরম্ভ হইলে সর পাতলা হয়। মূল কথা মেঘশূন্য, নিৰ্ম্মল ও নির্বত দিনই সর পাতার পক্ষে উপযােগী। তুষারপাত আরম্ভ ইলেও ভাল সর জন্মে না।

এ সম্বন্ধে।
কৌমুদী
(২৪)
দুগ্ধের বিবিধ অবস্থার সংজ্ঞা-
ভেদ এবং তদবস্থার
আয়ুৰ্ব্বেদোক্ত গুণাদি।
আয়ুর্বেদে দুগ্ধের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থার ভিন্ন ভিন্ন সংজ্ঞা দেওয়া
হইয়াছে এবং তত্তদবস্থার গুণাদিও কথিত হইয়াছে।
ভাবপ্রকাশােক্ত মত নিম্নে উদ্ধত হইল ;-
“ক্ষীরং তৎকালমুতায়া ঘনং (১) পেযূষ (পীযূষ )
মুচ্যতে।
(পেযুষং “ফো” ইতি লােকে )
নষ্ট দুগ্ধস্য পন্য পিণ্ড প্রােক্তঃ (২) কিলাটকঃ ।
( কিলাটকঃগিজরী ছানা বা ইতি লােকে)
অপমেব যন্নষ্টং (৩) ক্ষীরসাকং হি তৎ পয়ঃ।
(খরিস ইতি লােকে—জালা দুধ, ইতি ভাষা )
দপ্ন তক্ৰেণ বা নষ্টং দুগ্ধং বদ্ধং সুবাস।
দ্রব ভাগেন হীনং যৎ (৪) তক্রপিণ্ডঃ স উচ্যতে।
নষ্ট দুগ্ধ ভবন্নীরং (৫) মােরটং জেজ্জড়েহব্রবীৎ।
পেযুষ কিলাটশ্চ ক্ষীরসাকং তথৈবচ।
তক্ৰ পিণ্ড ইমে বৃষ্যা বৃংহণা বলবর্ধকাঃ ।
গুরবঃ শ্লেষ্মলা হৃদ্যা বাতপিত্তবিনাশনাঃ.।
দীপ্তাগ্নিনা বিনিদ্রাণাং ব্যবায়ে চাতি পূজিতাঃ ।

কৌমুদী মুখ শেষ তৃষা দাহ রক্ত পিত্তজ্বর প্রণুৎ। লঘুর্বলকরে। রুচ্যে। মােরটঃ স্যাৎ সিতাযুতঃ ॥ অর্থাৎ-তৎকাল--প্রসূতা (সদ্য-প্রসূত ) গাভীর গাঢ় দুগ্ধকে (১) পেযুষ অথবা পীযূষ বলা যায়। ইহাকে প্রচলিত ভাষায় ফেংসা ৰলে। ইংরেজী ভাষায় ইহাকে Colstrum বলে। নষ্ট দুগ্ধ (জালা দুধ) জ্বাল দিয়া পিণ্ডাকারে পরিণত করিলে তাহাকে (২) কিলাটক বলা যায় ( প্রচলিত ভাষায় ইহার নাম ছানা বা গিজরী)। অপক্ক অবস্থায় দুগ্ধ (কঁচা দুধ) নষ্ট হইয়া গেলে তাহাকে (৩) ক্ষীরসাক বলা হয়। (প্রচলিত ভাষায় ইহার নাম খরিসা বা জালাদুধ)। দধি অথবা ঘােল সংযোগে দুগ্ধ নষ্ট করতঃ তাহা ভাল কাপড়ে দৃঢ়রূপে বাঁধিয়া নিজল অবস্থায় পরি- ণত করিলে (৪) তক্রপিও সংজ্ঞা প্রাপ্ত হয় (ইহাকে প্রচলিত ভাষায় ছাঁকা দেওয়া দই বলে)। নষ্ট দুগ্ধ ছাঁকা দিলে যে জল নির্গত হয়, তাহাকে জেজ্জড় (৫) মােরট সংজ্ঞা দিয়াছেন। পেযুষ, কিলাটক, ক্ষীরাসক এবং তক্রপিও, বৃষ্য (শুক্র- বৰ্ধক) বৃংহণ (পুষ্টিকারক) ও বলবর্ধক। এ সমুদয় গুরু, শ্লেষ্মবর্ধক, ও বাতপিত্তনাশক। দীপ্তাগ্নি, বিনিদ্র ( নিদ্রাহীন) ও অতি মৈথুনকারীর পক্ষেও এগুলি হিতজনক। নিশ্রিযুক্ত মােরট লঘু, বলকারক, রুচিজনক, মুখশেষ, দাহ, রক্তপিত্ত ও জ্বরনাশক।

কৌমুদী (২৫) শারীরিক অবস্থাভেদুেগ্ধব্যব- হানের ফলাফল এবং আমু- ৰ্ব্বেদোক্ত দুগ্ধের আমল্পিক (উষাের্থ প্রয়ােগ। নির্ঘণ্টতে উক্ত হইয়াছে ; বাল্যে বহ্নিকরং ততাে বলকর; বীর্যাপ্রদং বার্ধকে। ( দুগ্ধ ) বাল্যে অগ্নিবৃদ্ধিকর, তৎপর ( যৌবনে) বলকার এবং বার্ধক্যে বীৰ্যকারক হইয়া থাকে। ভাবপ্রকাশে কথিত হইয়াছে “বালে বৃদ্ধিকরং ক্ষয়েইক্ষয়করং বৃদ্ধেষু রেতােবহ।” দুগ্ন বাল্যে বৃদ্ধিকারক, ক্ষয়ে ক্ষয়নাশক এবং বৃদ্ধের পক্ষে শুক্রবৃদ্ধিকারক। নিঘণ্টতে আরও কথিত হইয়াছে ; “জীর্ণ জ্বরে কিন্তু কফে বিলীনে, স্যাদুগ্ধ পানং হি সুধা সমান। তদেব পীতং তরুণে জ্বরে চ নিহন্তি হলাহলবম্মনুষ্য।” অর্থাৎকফ বিলীন হইলে জীর্ণজ্বরে দুগ্ধ পান সুধাসম হয়; কিন্তু তাহা তরুণজ্বরে (জ্বরের প্রথম অবস্থায়) মনুষ্যকে বিষবৎইনন করিয়া থাকে (অর্থাৎ তরুণ জ্বরে দুগ্ধপান অত্যন্ত অনিষ্টজনক)।

दकोगनो অপিচ- “নবজুরে মন্দাগৌহাম দোষে কুষ্ঠিন শূলিনাং কফ দোষে কাসিনামতিসারিনাম্ । পয়ঃ পানং নকুবাত বিশেষাৎ কৃমিদোষতঃ।” অপিচ-নবজরে, মন্দাগ্নিতে, আমাশয়ের পীড়াতে, কুষ্ঠরােগে, শূলরােগীর পক্ষে, কফদোষে, কাস ও অতিসার রোগে দুগ্ধ পান করিবে না। কৃমিদোষে দুগ্ধপান বিশেষ প্রকারে নিষিদ্ধ। ভাবপ্রকাশে কথিত হইয়াছে ;- “দীপ্তানলে কৃশে পুংসি বালে বৃদ্ধে পয়ঃ প্রিয়ে মত হিততমং দুগ্ধং সদ্যঃ শুক্রকরং যত।” অর্থাৎ-দুগ্ধ সন্ত শুক্র-বৃদ্ধিকর, ইহা দীপ্তাগ্নি, কৃশ, বৃদ্ধ এবং দুথপ্রিয় ব্যক্তির পক্ষে হিততম বলিয়া জানিবে। উক্ত গ্রন্থে আরও কথিত হইয়াছে; “জীর্ণজরে মনােয়ােগে শােষে মুচ্ছাশ্রমেষু চ। গ্রহণ্যাং পাণ্ডুরােগে চ দাহে তৃষি হৃদাময়ে। শুললাদাবর্তে গুলেষু বস্তিরােগে গুদাঙ্কুরে। রক্তপিত্তাতিসারে চ যােনি রােগে শ্রমে ক্লমে। গর্ভস্রাবে চ সততং হিতং মুনিবরৈঃস্মৃত। বালবৃদ্ধ ক্ষত ক্ষীণাঃ ক্ষু্যবায় কৃশাশ্চয়ে। তেভ্যঃ সদাতিশায়িতং হিতমেতদুদাহৃতম্।”

১৩৪ - কৌমুদী অর্থাৎ—দুগ্ধ জীর্ণরে, উন্মাদাদি মানসিক রােগে, শেষে, মুচ্ছ। ও ভ্রমরােগে, গ্রহণী ও পাণ্ডুয়ােগে, দাহ, পিপাসা, হৃদরোগ, শূল, উদাবৰ্ত্ত ( উৰ্দ্ধগত বায়ুজনিত রােগ এবং তজ্জনিত মল- মূত্রাদি রােধ) গুল্ম, বস্তিরোগ, অর্শ, রক্তপিত্ত, অতিসার, যােনি- রােগ, শ্রম, ক্লম, গর্ভস্রাব, এই সকল রােগে দুগ্ধ সর্বদাই হিত- জনক। বালক, বৃদ্ধ, ক্ষতক্ষীণ রােগগ্রস্ত, ক্ষুধাতুর ও মৈথুন বশতঃ কৃশ ব্যক্তিগণের পক্ষে দুগ্ধ অতিশয় হিতজনক বলিয়া উক্ত হইয়াছে। অষ্টাঙ্গহৃদয়ে কথিত হইয়াছে ; “শ্রম ভ্রম মদালক্ষী কাসশ্বাসাভি তৃটক্ষুধ। জীর্ণরং মূত্রকৃচ্ছং রক্তপিত্ত নাশয়েৎ ॥” দুখু, শ্রম, ভ্ৰম, মদ, অলক্ষমী, কাস, শ্বাস, অতিতৃষ্ণা, ক্ষুধা, জীর্ণর, মূত্রকৃচ্ছ ও রক্তপিত্ত নাশ করে। সুশ্রুত-সংহিতায় উক্ত হইয়াছে “সর্বমেব ক্ষীরং বাতপিত্ত শােণিত মানস বিকারেঘবিরুদ্ধং জীর্ণজর কাস শ্বাস শেষ ক্ষয় গুল্মেন্মদোদর মূচ্ছামমদ দাহ পিপাসা হৃন্তি পাণ্ডুয়ােগ গ্রহণী দোযা শূলােদাবর্তাতিসার প্রবাহিকা যোনিরােগ রক্তপিত্ত শ্রমক্লমহরং, পাপাপহং বৃষ্যং বাজীকরণং রসায়ন মেধ্যং সন্ধানমস্থাপনময়ষ্যং জীবনং বৃংহণং বমন বিরেচনঞ্চ তুল্যগুণত্বাচ্চৌজসােবৰ্ধনমিতি, বালবৃদ্ধ ক্ষত ক্ষীণানাং ক্ষুব্যবায় ব্যয়ম কর্শিতানাঞ্চ পথ্যতমম্।”

কৌমুদী তার্থাৎ—সর্বপ্রকার দুগ্ধই বাত, পিত্ত, রক্ত ও মনােবিকার সমুহে অবিরুদ্ধ এবং জীর্ণজ্বর, কাস, শ্বাস, শােষ, ক্ষয়, গুল্ম, উন্মাদ, উদর, মূচ্ছ, ভ্ৰম, মদ, দাহ, পিপাসা হৃদ্‌রােগ, পাণ্ডুরােগ, গ্রহণীদোষ, অর্শ, শূল, উদাবৰ্ত্ত (উৰ্দ্ধগ বায়ুজনিত রােগ এবং ভজ্জনিত মল মূত্র ও বায়ু রােধ)। অতিসার, প্রবাহিকা ( রক্তা- মাশয়। যোমিয়ােগ, গর্ভস্রাব, রক্তপিত্ত, ভ্রম ও ক্লমনাশক। ইহা ( দুগ্ধ ) পাপনাশক, বলকারক, বৃষ্য (শুক্ৰবৰ্ধক) বাজীকরণ ( রতিশক্তিবৰ্ধক) রসায়ন ( জরাব্যাধিনাশক) মেধ্য { পবিত্র ) সন্ধানস্থাপক (ভগ্ন-সংযোজক) বয়ঃস্থাপক, আয়ুষ্য ( আয়ুবৃদ্ধিকর) জীবনীয়, বৃংহণ (পুষ্টিকারক। মনােগ ( বমনের উপযােগী ) বিরেচননাপযােগী ওজোধাতুর তুল্য গুণত্ব হেতু ইহা ওজোধাবর্ধক ; ইহা বলিক, বৃদ্ধ, ক্ষতক্ষীণ, ক্ষুধাতুর ব্যয়ক্ষীণ .(মৈথুনজনিত ক্ষীণ ) ব্যায়ামক্ষীণদের পক্ষে উৎকৃষ্ট পথ্য। (১৬) কি কি প্রকার গাভীর দুগ্ধ অনিষ্ট- নক কি ও বর্জনীয় এবং দুগ্ধে সংযােগ বিরুদ্ধ দ্রব্যাদি। ( আয়ুর্বেদোক্ত ) পাশ্চাত্য মতে প্রসূত গাভী পুনর্বার ঋতুমতী হইবার অব্যবহিতপূর্বে এবং বৎস প্রসবের কিছু পূর্বাহ্নে যে দুগ্ধ প্রদান কৌমুদী করে তাহা শিশুর পক্ষে অনিষ্টজনক। সদ্যপ্রসূত গাভীর দুগ্ধ বর্জনীয়। পূর্বে কথিত হইয়াছে যে প্রসবের পর ৩ | ৪ দিন পৰ্যন্ত গাভী যে দুগ্ধ দেয়, তাহাকে Colstrum ( কলাম ) বলে ; প্রচলিত ভাষায় ইহার নাম ( মাতলা দুধ) ইহা মানবের ব্যবহারােপযােগী নহে; কিন্তু গােবৎসের পক্ষে ইহা বিশেষ প্রয়ােজনীয়, কেননা জরায়ুতে অবস্থানকালে বৎসের মল মুতাদি বদ্ধ থাকে, এই কল সেবনে তাহার কোষ্ঠ পরিষ্কার হয়, যেহেতু ইহা বিরেচক। অধিক মাত্রায় সেবনে অনিষ্ট সম্ভাবনা। কলমের রাসায়নিক উপাদানের অনুপাত নিম্নে প্রদর্শিত হইল- ৭৫ 3. Casein প্রথম দিন শতাংশে গড়ে Fat ( চী) ৮৫ ৪০ Albumin (শ্বেতসার) ১৫৫ ( ছানা ) ১১২ 4. Sugar (শর্করা) ০০ ( অঙ্গার ) ২২ উপরোক্ত রাসায়নিক বিশ্লেষণ দ্বারা দেখা যায় যে, প্রসবান্তে প্রথম দিনের কলামে শর্করার ভাগ একবারে শূন্য ; ক্রমে তাহা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইয়া ৩• পৰ্যন্ত হইয়া থাকে। কলামের প্রখ মাংশে চর্বী, ছানা, শ্বেতসার এবং অঙ্গারের অংশ অত্যন্ত অধিক 5. Ash

১৩৭
•
কৌমুদী
থাকে এবং ক্রমে সে সমুদয়ের অল্প হয় ; এই সমস্ত পদার্থ
বৎসের লালাব সহিত যুক্ত হইয়া সহজে জীর্ণ হয়। সাধারণতঃ
গােদুগ্ধ ৪র্থ হইতে ১১শ দিবসে স্বাভাবিক ও বিশুদ্ধ অবস্থা
প্রাপ্ত হইয়া থাকে ; কিন্তু এই সময়টী সর্বদা নির্দিষ্ট থাকে না।
গাভীর জাতি, স্বাস্থ্য, দৈহিক বল, আহার বিহার ও প্রতিপালন
ইত্যাদি নানা কারণে ইহার ইতর বিশেষ হইয়া থাকে।
প্ৰসৰান্তে ৩। ৪ দিবস পর কলম, চা কাফি ইত্যাদির সহিত
ব্যবহার করা যাইতে পারে এবং ইহাতে মাখনও প্রস্তুত হয়।
প্রসবান্তে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত গো-দুগ্ধ ব্যবহার না করা শ্রেয়ঃ ।
আমাদের শাস্ত্রানুসারে প্রসবান্তে নারী, গো, মহিষী ও ছাগী
দশদিনে শুদ্ধ হয়, অতএব ১০ দিন পর্যন্ত নবপ্রসূত গভী
ইত্যাদির দুগ্ধ ব্যবহার নিষিদ্ধ ।
ইহার প্রমাণ
“অজা গাবাে মহিষশ্চি ব্রাহ্মণ্যশ্চ প্রসূতিক!।
দশ রাত্রেণ শুদ্ধন্তি ভূমিকন্তু নৰােদকম্ ।
নবপ্রসূতা নারী, গভিী, মহিষ ও ছাগী প্রসবান্তে দশ দিনে
শুদ্ধ হয় ; বৃষ্টির জল ভূমিষ্ট হওয়ার পর দশ রাত্রিতে শুদ্ধ হয়।
বিবৎসা, বালবৎস, মৃতবৎসা, রুগ্ন, অতি বৃদ্ধ, দুর্বল এবং
সদ্যষসংযুক্তা গাভীর দুগ্ধ ব্যবহার না করাই উচিত।
শাস্ত্রে কথিত হইয়াছে -
“দুর্বল ব্যাধিসংযুক্তা পুষ্পিতা যা দ্বিবৎসভূঃ।
স। সাধুর্ভিন দোগ্ধ্যা বর্ণিভিঃ সুখমীসুভিঃ।”

৩৮
বাজার
কৌমুদী
অর্থাৎ—দুর্বল, রুগ্না, ঋতুমতী এবং দ্বিবৎসযুক্ত গাভীকে
সুখাভিলাষী বর্ণাশ্রমী সাধুগণ দোহন করিবেন না (তাহার দুগ্ধ
পান করিবে না)।
আজকাল বিবৎসা গাভীকে ফুকা দিয়া দোহন করা হয়,
এটী অতি নিষ্ঠুর প্রথা, এই উপায়লব্ধ দুগ্ধ বর্জনীয় । কঠোর
রাজবিধি দ্বারা এই নিষ্ঠুর প্রথা রহিত হওয়া কর্তব্য।
হইতে আনিত দুগ্ধ নানা দোষযুক্ত, অতএব তাহাও ব্যবহার না
করিতে পারিলেই ভাল কিন্তু তাহা সর্বদা সম্ভবপর নহে।
অনাবৃত অবস্থায় রক্ষিত দুগ্ধও জ্বাল না দিয়া ব্যবহার করা
অনুচিত, এবিষয় পূর্বেই বলা হইয়াছে।
আমাদের শাস্ত্রানুসারে ভাদ্র মাসে প্রসূতা ও ঐমাসে
গর্ভবতী গাভীর দুগ্ধ ব্যবহার নিষিদ্ধ হইয়াছে যথা :-
“সিংহে প্রসূত। যা গাভী সিংহে গর্ভধর চষা।
দধি বিষ্ঠা পয়ে মূত্রং ঘৃঞ্চ মদিরা সমম্ ॥” ।
ভাদ্র মাসে প্রসূতা ও সেই মাসে গর্ভবতী গাভীর দুগ্ধ মূত্র তুল্য
এবং তজ্জাত দধি বিষ্ঠাসম এবং ঘৃত মদিরা তুল্য, অতএব
পরিত্যজ্য। এই নিষেধের মূলে কোনও নিগুঢ় কারণ আছে কি
তাহা অনুসন্ধান করা কর্তব্য। বিশেষ পরীক্ষা না করিয়া
মহাজন-বাক্যে উপেক্ষা করা সমীচীন নহে। কৃতবিদ্যগণ
সত্যাবিষ্কারের চেষ্টা করুন, ইহাই বাঞ্ছনীয়।
আয়ুর্বেদে উক্ত হইয়াছে—

কৌমুদী ভাবপ্রকাশে বলবৎসা বিবৎসানাং গবং দুগ্ধ: ত্রিদোষকৃৎ। ক্ষীরং তৎকাল সূতায়া ঘনং পেষুষ মুচ্যতে । পীযুষমিতি পাঠান্তর- অর্থাৎ-বালবৎসা ও বিবৎসা গাভীর দুগ্ধ ত্রিদোষজনক। তৎকাল প্রসূতা (সদ্য প্রসূতা) গাভীর দুগ্ধ ঘন থাকে। ইহাই পেযুষ— পীযূষ ) বলা যায়। প্রসূতায়া গােঙ সপ্তাহ যাবৎ যৎ ক্ষীর তৎ পীযূষমাহুঃ-প্রসূত গাভীর দুগ্ধকে এক সপ্তাহ কাল পর্যন্ত পীযুষ অথবা পেযূষ বলা যায়। ভাবপ্রকাশে আরও কথিত হইয়াছে- “বিবর্ণং বিরসং চাং দুর্গন্ধং গ্রথিতং পয়ঃ । বর্জয়েদম লবণযুক্তং কুষ্টাদিকৃৎ যতঃ ॥ রাজ নির্ঘণ্টতে উক্ত হইয়াছে ;- “অনিষ্ট গন্ধমঞ্চ বিবর্ণ বিরসঞ্চ যৎ। বর্জং সলবণং ক্ষীরং যচ্চ বিগ্রথিতং ভবেৎ ॥ অর্থাৎ-বিবর্ণ, বিরস, অম্ল-স্বাদযুক্ত, দুর্গন্ধী এবং গ্রথিত ( জমাটবাঁধা) দুগ্ধ বর্জনীয় অম্ল ও লবণযুক্ত দুগ্ধ কুষ্ঠ রােগজনক, অতএব তাহাও বর্জনীয়। নির্ঘণ্টতে আরও কথিত হইয়াছে— “স্নিগ্ধ শীতং গুরু ক্ষীরং সর্বকালং নসেবয়েৎ। দীপ্তাগিং কুরুতে মন্দং মন্দাগ্নিং নষ্ট মেচ।”

১৪০
কৌমুদী
অর্থাৎ-স্নিগ্ধ, শীতল এবং ঘন দুগ্ধ সর্বদা সেবন করবে না,
কারণ ইহাতে দীপ্তাগ্নি মন্দীভূত হয় এবং মন্দাগ্নি একেবারে নষ্ট
হয়।
রাজ নির্ঘণ্টতে ইহাও কথিত হইয়াছে যে
তাসাং মাস ত্ৰয়াদূৰ্দ্ধং গুণিীনাং যৎপয়ঃ।
তদ্দাহি লবণং ক্ষীরং মধুরং পিত্তদোষকৃৎ।
তাহাদের মধ্যে তিন মাসের ঊৰ্দ্ধকালের গভিণী গাভীর দুগ্ধ
বিদাহী, লবণ-স্বাদযুক্ত, মধুর এবং পিত্তদোষকারক।
সম্প্রতি দুগ্ধের সহিত সংযোগ-বিরুদ্ধ পদার্থাদি বিষয়ে
আয়ুর্বেদোক্ত মত গুলি সংক্ষেপে উল্লিখিত হইতেছে।
নির্ঘণ্টতে কথিত হইয়াছেঃ--
* নচৈতল্লবণেন সা র্ধ্বং
পিষ্টান্ন সন্ধানক মাষ মুদগা কোশাতকী কফলাদিকৈশ্চ ।
অপিচ-মৎস্য মাংস গুড় মুগ মূলকৈ: কুষ্ঠমাহতি সেবিতং
পয়ঃ। শাকং জাম্বর রসৈস্তু সেবিতং মারত্যবুধমাশু সপবৎ ।
অর্থাৎ-ইহা (দুগ্ধ ) লবণ সংযুক্ত করিয়া চালের গুড়িব
সহিত এবং সন্ধানক (আমের আচার ) মাষ, মুগ, কোশাতকী
(ঝিঞা, পলতা, ধুন্দুল, পটল) এবং কনফলের (মূলা ইত্যাদির)
সহিত সেবন করিবে না। অপিচ মৎস্য, মাংস, গুড়, মুগ এবং
দুগ্ধ সেবন করিলে কুষ্ঠ রােগ জন্মে। শাক, জামের
• রস দুগ্ধের সহিত সেবন করিলে তাহা মুর্থ ব্যক্তিকে সর্পবৎ
বিনাশ করে।
মূলার সহিত

কৌমুদী
সুশ্রুত সংহিতায় কথিত হইয়াছে-
“নব বিরূঢ় বান্যৈবসাধু পয়ােড় মাষৈা গ্ৰাম্যান্
পোক পিশিতাদীনি নভ্য ব্যহরে। ন পয়াে মধুভ্যাং রােহিণী
শাক জাতু শাকং বাশীয়াৎ। ক্ষীরেণ মূলকং অস্ত্র জাম্ববশ্বা-
বিচ্ছুক
কর গােধাশ্চ সৰ্বাংশ্চ মৎস্যা, বিশেষেণ চিলিচিমং পয়সা
কদলীফলং লকুচ ফলং। কুচ ফলং প্রাকৃপয়সঃ পয়সােহবাে
বিরুদ্ধ। উক্তঞ্চ সংযেগতপরাণি বিষতুল্যানি-তথা
বল্লীফল কবক করীরাম্মফল লবণ কুলথ পিণ্যাক দধি তৈল
বিরােহি পিষ্ট শুষ্ক শাকাজাবিক মাংস মদ্য জাম্বব চিলাচিম মৎস্য
গােধা বারাহাশ্চ নৈকধ্য মগ্নীয়াৎ পয়সা ” অর্থাৎ-অভিনব
অঙ্কুরিত ধান্যের সহিত অথবা বসা, মধু, দুগ্ধ, গুড় ও মাষ কলায়ের
সহিত গ্রাম্য জন্তুর মাংস, আনূপ জন্তুর (সজলদেশবাসী জন্তুর
মহিষ প্রভৃতির ) মাংস ভক্ষণ করিবে না। দুগ্ধ ও মধুর সহিত
রােহিণী শাক (কটকীশাক ), জাতুশাক (পুষ্কর শাক), ভক্ষণ
করিবে না। দুগ্ধের সহিত মূলা আম, জাম, জারু ও শূকর
মাংস ভক্ষণ করিবে না। এবং গােধা (গোসাপ) মাংস, কদলী
(কলা) ও কুচ (ডহু ) ফলের সহিতও দুগ্ধ সেবন করিবে
। ইহাও উক্ত হইয়াছে যে, দুগ্ধের সহিত সর্ব প্রকার মৎস্য
( বিশেষতঃ চিলাচিম্ অর্থাৎ খরসল্লা মাছ) ভক্ষণ বিরুদ্ধ। দুগ্ধ
পানের পরে অথবা পূর্বেও লকুচ ফল ভক্ষণ নিষিদ্ধ।
আরও
কথিত হইয়াছে যে, অপর কতকগুলি দ্রব্য সংযােগে দুগ্ধ বিষতুল্য

১৪২ কৌমুদী হয়, যথা-বল্লীফল, (কুমড়া, লাউ প্রভৃতি লতাফল ) কবক ( ছাতনা mushroom), করীর (বংশাঙ্কুর ), অশ্লফল (তেতুল), লবণ, কুলথ (কলাই ), পিণ্যাক (পিষ্টতিল ), দধি, তৈল বিরােহী (যে সকল শাকের অঙ্কুর নিবৃত্ত হইয়াছে), চালের পিঠা, শুষ্ক শাক, ছাগ ও মেষমাংস, জামের রস, মদ্য, চিলচিম্ মৎস্য (চরকসংহিতা মতে সর্ব প্রকার মৎস্য ), গোধা (গােসাপ) ও শূকর মাংস দুগ্ধের সহিত একত্র ভক্ষণ করিবে না। সুশ্রুতে ইহাও কথিত হইয়াছে যে, যাহাদের অভ্যাস আছে এবং পরিমাণে অল্প হইলে বহুভােজর পক্ষে, দীপ্তাগ্নির পক্ষে ( যাহাদের ক্ষুধা প্রবল ), প্রবল পরিপাক-শক্তিবিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে, ব্যায়ামকারী ও তরুণ বয়স্ক এবং স্নিগ্ধ দ্রব্যাদি সেবনকারী ব্যক্তির পক্ষে, সংযােগ-বিরুদ্ধ দ্রব্যাদি তত অনিষ্টজনক নহে। ফলতঃ সংযােগ-বিরুদ্ধ দ্রব্যাদি একটু বিবেচনা করিয়া এবং দৈহিক অবস্থাদির প্রতি লক্ষ্য করিয়া ভক্ষণ করাই শ্রেয়। অষ্টাঙ্গ হৃদয়, চরক প্রভৃতি গ্রন্থেও সংযােগ-বিরুদ্ধ দ্রব্যাদির উল্লেখ আছে, বাহুল্য ভয়ে সে সমুদয় উদ্ধৃত হইল না। কুতূহলী পাঠকগণ ইচ্ছা করিলে উক্ত গ্রন্থগুলি দেখিতে পারেন।

১৪৩
গােদুগ্ধের আপেক্ষিক গুরুত্ব
যাদির সাহায্যে ও অন্যান্য উপায়ে
দুগ্ধ পরীক্ষা এবং তাহার ফলাফল।
সমতাপ ও সমান চাপযুক্ত, সমায়তন বিশিষ্ট পরিষ্কৃত জলের
গুরুত্বের সহিত কোন পদার্থের গুরুত্বের আনুপাতিক সম্বন্ধকে
সেই পদার্থের “আপেক্ষিক গুরুত্ব (Specific gravity)
বলা যায়। ফারণহিটের তাপমান যন্ত্রের ৫৯° ডিগ্রী ( সেন্টিগ্রেড
স্কেলের তাপমানের ১৫ ডিগ্রীর তুল্য) উত্তাপবিশিষ্ট পরিশ্রুত
(Distilled water) চোয়ান জলের সহিত সম-তাপবিশিষ্ট,
সমায়তন, অকৃত্রিম গােদুগ্ধের গুরুত্বের অনুপাতকে তাহার
( গোদুগ্ধের ) আপেক্ষিক গুরুত্ব বলা যায় ; ইহা ১৫২৯
( 1029) হইতে ১০৩৩ ( 1033) পয্যন্ত হইয়া থাকে,
অর্থাৎ ৫৯° ডিগ্রী (ফাঃ হিট) পরিমাণ উত্তাপবিশিষ্ট ১০০০
আউন্স পরিশ্রুত জলের সহিত, সমায়তন ও সমতাপবিশিষ্ট খাঁটি
গোদুগ্ধের ওজন ১০২৯ হইতে ১০৩৩ আউন্স পর্যন্ত হয়।
গোদুগ্ধের অপেক্ষিক গুরুত্ব সর্বোচ্চে ১৩৫ ( 35 )
এবং সর্বনিম্নে ১০২৭ (127) পৰ্যন্ত হইতে পারে ।
গাভীর জাতি, বয়স, আহার বিহার ও স্বাস্থাদির উপর এই
আপেক্ষিক গুরুত্বের পরিবর্তন নির্ভর করে।
এ সম্বন্ধে বিস্তৃত বিবরণ J. Oliver প্রণীত Milk Cheese and Butter
গ্রন্থে দ্রষ্টব্য।

১৪৪ কৌমুদী দুগ্ধ পরীক্ষার জন্য (1) Lac tometer (লেকটমিটার), ( 2 ) Hydrometer (হাইড্রোমিটার (3) Creamometer ( ক্রিমমামিটার) ও (4) Lactoscope ( লেকটোস্কোপ প্রভৃতি যন্ত্র এবং Litmus paper ( লিটমস্ পেপার) নামক এক প্রকার নীল বর্ণের কাগজ ব্যবহৃত হয় ; ইহা ঔষধালয়ে (Dispensaryতে) পাওয়া যায়। প্রথমতঃ Lactonmeter ( লেটোমিটার) যন্ত্রদ্বারা দুগ্ধ পরীক্ষার বিষয় বলা যাইতেছে। ইহা নিম্নভাগে গােলাকৃতি- বিশিষ্ট একটা কাচের নল ভিন্ন আর কিছুই নহে; গোলাকৃতি অংশে পারদপূর্ণ থাকে এবং নলের গাত্রে পরিমাণের চিহ্ন কৃষ্ণ- রেখা থাকে (Graduated scale থাকে )। যে দুগ্ধ পরীক্ষা করিতে হইবে তাহা ফাঃ হিটের তাপমান যন্ত্রের ৮০° ডিগ্রী উত্তাপবিশিষ্ট হওয়া চাই। এই প্রকার দুধ একটী চোঙ্গার মত কাচ-পাত্রে পূর্ণ করতঃ তাহাতে লেটোমিটার যন্ত্র নিমজ্জিত করিলে যদি নলটী M চিহ্ন পৰ্যন্ত ডুৰিয়া থাকে, তবে দুগ্ধ খাটি বলিয়া অনুমান করিতে হইবে। এস্থলে ইহা মনে রাখিতে হইবে যে, যন্ত্রটী দুধে নিমজ্জিত করার পূর্বে তাহা (দুধ) বেশ শীতল হওয়া আবশ্যক। দুধে এক ভাগ জুল মিশ্রিত করিলে নলটী “” অঙ্ক পর্যন্ত থাকিবে। অর্ধেক জল ও অর্ধেক দুধ মিশ্রিত করিলে “২” অঙ্ক পৰ্যন্ত এবং তিন ভাগে জল ও এক ভাগ দুধ মিশাইলে নলটী ৭১” অঙ্ক পর্যন্ত নিমজ্জিত থাকিবে।

১৪৫
কৌমুদী
কেবল জল হইলে নলটী w চিহ্ন পৰ্যন্ত ডুবিয়া থাকিবে।
পূর্বোক্ত যন্ত্র আপেক্ষিক গুরুত্ব-নিৰ্ণায়ক; অতএব দুধে জল
মিশ্রিত থাকিলেও তাহাতে শর্করা ময়দা প্রভৃতি যােগ করিলে
ইহ' দ্বারা কৃত্রিমতা নিরুপণ করা দুরূহ।
দ্বিতীয়তঃ-Hydrometer ( হাইড্রোমিটার) যন্ত্র-সাহায্যে
পরীক্ষার বিষয় বলা যাইতেছে। ইহাও পরিমাপের চিহুযুক্ত
কাচের নল ব্যতীত আর কিছুই নহে এবং ইহারও নিম্নভাগে
পারদ থাকে, এবং এটীও আপেক্ষিক গুরুত্বনিৰ্ণায়ক। এই যন্ত্র
পরীক্ষণীয় দুধে নিমজ্জিত করিলে খাটি দুধ হইলে ৩০ ডিগ্রী
জ্ঞাপিত হইবে, যন্ত্রে ১০৩০ লিখা থাকে, কারণ জলকে
ভিত্তিস্বরূপ (Standard) কল্পনা করতঃ তাহ: ১০০০ সংখ্যা
সূচক ধরিয়া যন্ত্রের গাত্রে (শূন্য) চিহ্ন দেওয়া হয় ;
অতএব ৩০ ডিগ্রী প্রকৃত প্রস্তাবে ১০৩০। খাটি দুধ ১০৩২
পর্যন্ত হইয়া থাকে। ইহা দ্বারা প্রমাণিত হইল যে, নিষ্কৃত্রিম
গােদুগ্ধের Specefic gravity (আপেক্ষিক গুরুত্ব। ১০৩
হইতে ২০৩২ পৰ্যন্ত হয় এ বিষয় পূর্বের্বও বলা হইয়াছে।
ফারহিটের তাপমান যন্ত্রের ৬০° ডিগ্রী উত্তাপযুক্ত দুধে
(গােদুগ্ধে) শতাংশে দশ ভাগ করিয়া জল মিশাইলে দুধের
গুরুত্ব “” ডিগ্রী হিসাবে কম হইতে থাকে।
শতকরা ১৫ ভাগ জল মিশাইলে দুধ হাইড্ৰমিটারে ২৬°
ডিগ্ৰী হয় ; যন্ত্রে ১০২৪ লিখা থাকে।
০

১৪৩ ৪৫ ১৫°-১ कोचूतौ শতকরা ২০ ভাগ জল মিশাইলে ২৩ ডিগ্রী হয় ( যন্ত্রে ১০২৩° ) - যন্ত্রে ১০১৮) - যন্ত্রে ১০১৫°) দুগ্ধের নবনীত উঠাইয়া তাহাতে জল মিশ্রিত করিলে তাহার আপেক্ষিক গুরুত্ব উচ্চ হইবে এবং নবনীরে ভাগ অধিক থাকিলে তাহা নিম্ন হইবে। তৃতীয়তঃ-Creamometer ( ক্রিমােমিটার) যন্ত্র দ্বারা দুগ্ধ পরীক্ষ সম্বন্ধে বলা যাইতেছে। এই যন্ত্রটা দুগ্ধে নবনীতের পরিমাণ নির্ণায়ক। এটীও ডিগ্ৰী-চিহ্নযুক্ত কাচের চোঙ্গা; এটী একটী কাঠের ফ্রেমে আবদ্ধ থাকে। নির্দিষ্ট পরিমাণ দুগ্ধ দ্বারা এই নল পূর্ণ করতঃ যন্ত্রটী নির্বত ও নির্জন স্থানে রাখিয়া দিলে ১২ ঘণ্টার পর দুগ্ধের সর নলের উপরি ভাগে ভাসিতে থাকিবে ; এস্থলে ইহা বলা কৰ্তব্য যে, দুর্থ নলে পূর্ণ করিবার পূর্বে উত্তপ্ত করিয়া নিতে হইবে। খাঁটি দুগ্ধে সরের স্থূলতা ৮ হইতে ১০ ডিগ্রী পর্যন্ত হইয়া থাকে। Lactometer -{লেকটোমিটার) এবং Hydrometer ( হাইড্রোমিটার) যন্ত্র সাহায্যে পরীক্ষণীয় দুগ্ধের আপেক্ষিক গুরুত্ব স্থির করিয়া Creamometer ( ক্রিমোমিটার) দ্বারা সেই দুগ্ধের সরের স্থূলত্ব অবধারণ করতঃ সর উঠাইয়া পুনর্বার তাহার আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণয় করিলে দুগ্ধ পরীক্ষা সহজ হয় এবং তাহার গুণাগুণও ককটা নিরূপিত হয়।

১৪। কৌমুদী চতুর্থতঃ-Lactoscope (লেকটোস্কোপ) যন্ত্র দ্বারা দুগ্ধ পরীক্ষা, এবিষয় বলার পূর্বে Blue Litmus paper ( নীলবর্ণের লিটমস্ পেপার ) দ্বারা দুগ্ধ পরীক্ষার বিষয় বলা যাইতেছে। এই কাগজ ডাক্তারখানায় সচরাচরই পাওয়া যায় । ইহার এক খণ্ড দুগ্ধে নিমজ্জিত করিলে যদি তাহার বর্ণ পরিবর্তিত হইয়া গাঢ় রক্ত বর্ণ হয় তবে, দুগ্ধ টকিয়া গিয়াছে ( Acidity) হইয়াছে বলিয়া বুঝিতে হইবে, এবং কাগজের বর্ণ অল্প গােলাপী ভাবিশিষ্ট হইলে দুগ্ধ স্বাভাবিক অবস্থায় আছে, ইহাই বুঝিতে হইবে। দুগ্ধে চা খড়ি বা ময়দা মিশ্রিত থাকিলে কাগজের বর্ণ পরিবর্তিত হইবে না। রুগ্না গাভীর দুগ্ধ ক্ষার প্রধান (Alkaline), এবম্বিধ গাে-দুগ্ধেও লিটমসের বর্ণ পরিবর্তন ঘটে না। নারী দুগ্ধও ক্ষার প্রধান ইহাতেও লিটমস্ পেপারের বর্ণ পরিবর্তিত হয় । এতদ্বারা ইহাও স্থিরীকৃত হইল যে গোদুগ্ধ স্বভাবতই এসিডযুক্ত এবং এই জন্যই তাহাতে চুণের জল মিশাইয়া ক্ষারবিশিষ্ট করত শিশুকে ব্যবহার করা উচিত। উপরােক্ত চতুধি সমবেত উপায়ে দুগ্ধের কৃত্রিমতা অনেকটা নির্ণয় করা যায় বটে, কিন্তু ইহার কোনটাই নিঃসন্দেহজনক নহে। এখন Lactoscope (লেকূটোস্কোপ) যন্ত্র দ্বারা দুগ্ধ পরীক্ষার বিষয় বর্ণিত হইতেছে ; এই যন্ত্র অনেকটা উন্নত ও নিঃসন্দেহজনক। এই যন্ত্রটী Munich (মিউনিচ ) নগরবাসী Professor Feser ( অধ্যাপক যেছার) কর্তৃক উদ্ভাবিত। ;

৪৮ • কৌমুদী একথা প্রত্যক্ষ যে দুগ্ধ স্বভাবতঃ অস্বচ্ছ (Opaque), কিন্তু তাহার নবনীত উঠাইয়া জল মিশ্রিত করিলে ক্রমে স্বচ্ছ হয়, জলের পরিমাণ যত বৃদ্ধি করা যায় দুগ্ধের স্বচ্ছতাও ততই বাড়িতে থাকে। Lactoscope যন্ত্র উপরিভাগে অনাবৃত ও নিম্নভাগ ক্রমে সূক্ষাবিশিষ্ট একটা কাচের নল, এই সূক্ষ্মাগ্র- ভাগে দুগ্ধের ন্যায় শ্বেতবর্ণ পরিমাপের রেখা চিবিশিষ্ট একটা কাচের শলাকা যুক্ত থাকে ; এই শলাকটি চোঙ্গার মত। নির্দিষ্ট পরিমাণ পরীক্ষণীয় গােদুগ্ধ এই যন্ত্রে পূর্ণ করিলে প্রথমতঃ চিহু রেখাগুলি দেখা যায় না, কিন্তু ঐ দুগ্ধ জল মিশাইতে আবম্ভ করিলে রেখাগুলি ক্রমে স্পষ্ট দেখা যায় ; তখন দেখিতে হইবে যে জল মিশ্রিত দুধে নলের উপরিভাগে কত উচ্চে অবস্থিত হইয়াছে, উচ্চতা নিরূপণ জন্য নলের গাত্রে ডিগ্রী চিহু অঙ্কিত থাকে। এতদ্বারা দুধে কি পরিমাণ জল মিশ্রিত হইল এবং তাহাতে নবনীতের অংশইবা কত ইহা অতি সহজে নির্ণয় করা যায়; কারণ জল মিশ্রণের অনুপাত অনুসারে দুধের স্বচ্ছতার হ্রাস বৃদ্ধি হইয়া থাকে, দুধ পরীক্ষার যত প্রকার যন্ত্র এ পর্যন্ত আবিস্কৃত হইয়াছে তন্মধ্যে Lactoscopeই সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট বলিয়া মনে হয়। যন্ত্রদ্বারা দুগ্ধ পরীক্ষার বিষয় সংক্ষেপে বলা হইল ; বৈজ্ঞানিক উন্নতি সহকারে দুগ্ধ পরীক্ষার উৎকৃষ্ট যন্ত্র আবিস্কৃত না হওয়া পৰ্যন্ত উপরােক্ত যন্ত্রাদি সাহায্যেই দুগ্ধ পরীক্ষা করিতে হইবে। ;

১৪১ কৌমুদী রাসায়নিক বিশ্লেষণ দ্বারা দুগ্ধ পরীক্ষা সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট নিঃসন্দেহজনক, কিন্তু ইহা সকলের পক্ষে এবং সর্বদা সম্ভবপর নহে। সাধারণতঃ ন্যূন পক্ষে খাটি গোদুগ্ধ শতকরা ৮৬ অংশ Solid matter দৃঢ় পদার্থ যথা—ছানা শর্করা প্রভৃতি ২৫ অংশ নবনীত ও ৮৮৯ অংশ জলীয় পদার্থ থাকে । ইহার ব্যতিক্রমে দুগ্ধ কৃত্রিম বলিয়া মনে করিতে হইবে, ইহাকে ইংলণ্ডে Sumarset house standard ( সমারসেট হাউস্ ষ্টেণ্ডার্ড ) বলা যায় এবং ইহাই রাজবিধান অনুসারে গ্রাহ্য বলিয়া গণ্য হয়। রাসায়নিক পরীক্ষা ব্যতীত অন্য কি কি উপায়ে দুগ্ধ পরীক্ষিত হইতে পারে তাহা দেখা যাউক। অকৃত্রিম উৎকৃষ্ট দুগ্ধ অতিশয় গাঢ় অথবা একেবারে তরল হয় না, এবং এমন সংহত হয় যে ইহার বিন্দু গুলি ছড়াইয়া যায় না ও এই প্রকার দুগ্ধের ফোঁটা মৃত্তিকাতে নিক্ষেপ করিলে ছড়াইয়া পড়ে না। একটা সূক্ষা সূচীর (ছুঁচের) অগ্রভাগ দুগ্ধ সংলগ্ন করিলে অকৃত্রিম দুগ্ধের বিন্দুটী ঝুলিয়া থাকিবে ( পড়িয়া যাইবে না। দুগ্ধে জল মিশাইলে তাহা নীলাভ, Agate ( এক প্রকার প্রস্তর) অথবা opal (শ্বতবর্ণ প্রস্তর বিশেষ ) বর্ণ হয় এবং তাহা মাটিতে ফেলাইলে ছড়াইয়া যায়। এতাদৃশ দুগ্ধ অতি সত্বর টক হইয়া যায় এবং মথিত করিলে তাহাতে ভাল নবনীত জন্মে না। এস্থলে একটী আবশ্যকীয় বিষয় বলা যাইতেছে। অল্প দিন হইল যে সবৎস দুগ্ধবতী গাভী গর্ভিণী হইয়াছে, কৌমুদী তাহার দুগ্ধ পরীক্ষার দ্বারা অনেক সময় সহজে পূর্ণগর্ভ সঞ্চার নির্ণয় করা যায়। যে গাভীটীকে পরীক্ষা করিতে হইবে তাহার অল্প পরিমাণ দুগ্ধ দোহন করতঃ অপর একটী গাভীর (যাহার গর্ভ সঞ্চার হয় নাই বলিয়া নিশ্চিত ভাবে জানা আছে) অল্প পরিমাণে দুগ্ধ গ্রহণ করিয়া দুইটী খড় অথবা দুইটী ছুচ উভয় দুগ্ধে নিমজ্জিত করিতে হইবে। অতঃপর দুইটা কাচের গ্লাসে কিঞ্চিদুষ্ণ নিৰ্ম্মল জল পূর্ণ করতঃ উভয় প্রকার দুগ্ধের এক একটা ফোঁটা তাহাতে নিক্ষেপ করিলে দেখা যাইবে যে গর্ভিণী গাভীর দুগ্ধ বিন্দুটী জলে মিশ্রিত হওয়ার পূর্বে নিমজ্জিত হইয়া গিয়াছে এবং অপর গাভীর (যেটী গর্ভিণী নহে) তাহার দুধ জলে একেবারে মিশিয়া গিয়াছে। গর্ভিণী গাভীর দুধ স্বভাবত গাঢ়, সংহত ও কিছু আটাল গুণযুক্ত হয় এবং এই জন্যই তাহা সহসা জলে মিশিয়া যায় না। প্রাতঃকালে গাভী দোহন করিয়া বৃষ্টির জলে অথবা পরিশ্রুত উষ্ণ জলে এবধি পরীক্ষা করা শ্রেয়। দুধ ময়দাচূর্ণ কি অন্যান্য পদার্থ মিশ্রিত থাকিলে তাহার বর্ণ দেখিয়া ও জিহবা দ্বারা আস্বাদন গ্রহণ করিয়াও নিরূপিত করা যায়। বাজারে বিক্রয়ার্থ আনীত দুধ প্রায়ই কৃত্রিম এবং নানা দোষযুক্ত থাকে, অতএব তাহা ব্যবহার করিবার পূর্বে নানা উপায়ে পরীক্ষা করিয়া লওয়া কৰ্ত্তব্য। দুধের প্রাচুর্য না হইলে কঠোর রাজবিধি দ্বারাও দুধের কৃত্রিমতা নিবারিত হওয়া দুরূহ বলিয়া মনে হয়।

১৫১ = কৌমুদী আয়ুর্বেদোক্ত বিশুদ্ধ ও দুষিত স্ততের লক্ষণ এবং স্তন্য দোষ নিবারণের উপায় । চরক সংহিতায় কথিত হইয়াছে যে, “শুন্য সম্পন্তু প্রকৃতি বর্ণ গন্ধ রস স্পর্শ মুদক পাত্রে দুহমানং দুগ্ধ মেকং ব্যতিপ্রকৃতি ভূতত্বাৎ তৎ পুষ্টিকরমারােগ- করঞ্চেতি; অতােন্যেথা ব্যাপন্নং জ্ঞেয়মিতি । তস্য বিশেষাঃ- {১) শ্যাবরুণ বর্ণং কষায়ানুরং বিশদ মনপেক্ষ্য গন্ধ রূক্ষং দ্রবং ফেনিলং লম্বতৃপ্তিকরং কষণং বাত-বিকারাণাং কর্তৃ বাতেপিসৃষ্ঠং ক্ষীরমিতি জ্ঞেয়ম্। (২) কৃষ্ণ নীল পীত তামাৰভাস: তিক্তা কটুকা রসং কুণপরুধিরগন্ধিভৃশেফিঞ্চ পিত্ত বিকারাণাং কর্তৃ পিত্তোপ সৃষ্টং ক্ষরিমিতিজ্ঞেয়”। (৩) অত্যৰ্থ শুক্লমণি মাৰ্যোপপন্নং লবণাসুরসং ধৃত তৈল বসামজ্জাগন্ধি পিচ্ছিল তন্তু মদুদকপাত্রে হবসীদতি শ্লেষ্মবিকারানাঞ্চ কর্তৃ শ্লেষ্মপসৃষ্ট ক্ষীরমিতি জ্ঞেয়। (৪) তেষান্তু এমপি ক্ষরং দোষাণাং প্রতি বিশেষমভি সমীক্ষ্য যথাস্বং যথা দোষঞ্চ বমন বিরেচনাস্থাপনা বাসনানি ভিজ্য কৃতানি প্রশমনায় ভবন্তি। তাৎপৰ্যর্থ–স্তন্য সস্পৎ এই যে—যে স্তন্যে (দুধের ) বর্ণ গন্ধ ও রস এবং স্পর্শ অবিকৃত সেই স্তন্য সম্পদযুক্ত।

কৌমুদী তাহার পরীক্ষা-জলপূর্ণ পাত্রে দোহন করিলে সম্পদযুক্ত শুন্য (দুগ্ধ ) জলের সহিত সর্বতােভাবে একীভূত হইয়া যায় । অধিকৃত হেতু ইহা পুষ্টি ও আরোগ্যজনক। ইহার অন্যথা হইলে, জল পাত্রে দুহমান হইয়া (দোহন করিলে) দুগ্ধ জলের সহিত যদি একীভূত না হয় তবে তাহাকে বিকৃত বলিয়া জানিবে। তাহার বিশেষত্ব কথিত হইতেছে, (১) শুন্য (দুগ্ধ ) শ্যাম (কৃষ্ণ মিশ্রিত পীত বা অরুণবর্ণ ( রক্তবর্ণ ) কষায়ানু রস অপিচ্ছিল, সমগ্ লক্ষনীয় গন্ধরহিত, রুক্ষ পাতলা, ফেনিল, লঘু অতৃপ্তিকর, কৃশকর ও বাতরােগজনক হইলে তাহাকে ঘাত-দূষিত বলিয়া জানিবে। (২) শুন্য ( দুগ্ধ ) কৃষ্ণ, নীল, শীত বা তাম্রবর্ণ, তিক্তরস, কটু ও অম্লানুরস শব দুর্গন্ধী বা রক্তগন্ধী, অতি উষ্ণ এবং পিত্ত- রােগজনক হইলে তাহাকে পিত্ত-দুষ্ট বলিয়া জানিবে । (৩) স্তন্য অতি শুক্ল, অতি মধুর, লবণানুরস, ঘৃত, তৈল বসা ও মজ্জাগন্ধী, পিচ্ছিল, তন্তুবৎ (সূতার মত) ও জলে নিক্ষেপ করিলে মগ্ন হইলে এবং শ্লেষ্মবর্ধক হইলে তাহাকে শ্লেষ্মদূষিত বলিয়া জানিবে । (৪) স্তন্য বাতাদি দ্বারা দূষিত হইলে স্তন্যদূষক সেই বাতাদি দোষ ত্রয়ের বিশেষ বিশেষ অবস্থা (কোষ্ঠাশ্ৰয়ত্বাদি দুষ্টি বিশেষ) ভালরূপে লক্ষ্য করিয়া বমন, বিরেচক, আস্থাপন বা অনুবাদ ইহা- দের মধ্যে যাহা স্তন্য দাত্রীর এবং বাতাদি দোষের সম্বন্ধে প্রযােজ্য ১৫৩ কৌমুদী হইবে, শুন্য দোষ নিবারণাৰ্থ তাহাই প্ৰয়ােগ করিবে। চরক সংহিতায় দূষিত স্তন্য সংশােধনের উপায় এই প্রকার কথিত হইয়াছে, যথা- পানাশন বিধিস্তু দুষ্ট ক্ষীরায়া যব গােধুম শালি যষ্ঠীক মুদগ হারমুক কুলথ সুরা সৌবীরক মৈরেয় মেদ লসুন করঞ্জ প্রায়ঃ স্যাৎ ক্ষীর বিশেষাং স্টাবেক্ষ্যাবেক্ষ্য তদ্বিধান কাৰ্যং স্যাৎ। পাঠা মহৌষধ সুরা দারু মুগ মূর্বা গুড়চী বৎসফল কিরাত তিক্ত কটক রােহিণী শারিষা কষায়ানাঞ্চ পানং প্রশম্যতে। তথান্যেষাং তিক্ত কষায় কটুক মধুরানাং দ্রব্যানাং প্রয়ােগঃ ইতি ক্ষীর বিশােধনান্মুক্তানি ভবন্তি, ক্ষীরবিকার বিশেষানভিসমীক্ষা মাত্রাং কালঞ্চেতি ক্ষীরং বিধানানি। অর্থাৎ-স্তন্য দূষিত হইলে দূষিত কারক বাতাদির প্রতি দৃষ্টি রাখিয়া যব, গোধুম শালি, (১) যষ্টিক (ষঠেধান) মুগ্ধ (মুগ ), হারমুক (বড়ছােলা মটর), কুলথ (কলাই), সুর, সৌবীর (কাঞ্জি ), মৈরেয় (মদ্যবিশেষ ), মেদক (ঘনসুর ), লসুন ( রসুন ), কর (করঞ্চফল), এই সকল দ্রব্য ভ্য বলিয়া ব্যবস্থা করিবে। আকনাদি শুঠ, দেবদারু, মুতা (২) মূর্বা (মুবহর) গুলঞ্চ, ইন্দ্ৰযব, চিরতা, কটকী ও অনন্তমুল ইহাদের এবং এই প্রকার অন্যান্য তিক্ত কষায় কটু ও মধুর (১) শালি ধান্য বিশেষ, অথবা কৃষ্ণ জীয়া (কালজীরা) (২) মুৰ্ব্বা-ইহার নামান্তর মুৰ্গা, শশাচমুখ, ৰােড়াচক্র, এতদাৰে পিঙ্গলী ব্যবস্থা।

১৫৪ কৌমুদী দ্রব্যের কাথ প্রয়ােগ করিবে। স্তন্য বিকৃতি বিশেষরূপে লক্ষ্য করিয়া এবং মাত্রাও কালের প্রতি দৃষ্টি রাখিয়া উক্ত আকনাদির পান ভােজন ব্যবস্থা করিবে। বিশুদ্ধ স্তন্যের লক্ষণ সুশ্রুতে এই প্রকার উক্ত হইয়াছে যথা—“স্তন্যমপসু পরীক্ষেত- উচ্চচ্ছীতলং অমলং তনু শঙ্খ বিভাগমপসু ন্যস্তমেকীভাবং গচ্ছত্যফেনিল মতন্তু মন্নোৎপ্লবতে নসীদতিবা তচ্ছদ্ধমিতি বিদ্যাৎ”- অর্থাৎ শুন্য (দুগ্ধ ) জলে নিক্ষেপ করিয়া পরীক্ষা করিবে। যদি তাহা শীতল অমল তনু (সূক্ষম) ও শাঙ্খবর্ণ (শুভ) হয় এবং জলে নিক্ষেপ করিলে তাহা ভিন্ন না হইয়া ( ছড়াইয়া না যাইয়া) একীভাব প্রাপ্ত হয় ফেনিল ও তন্তুযুক্ত (সূতার ন্যায়) না হয় ভাসমান না হয় ও মগ্ন না হয় তবে তাহাকে শুদ্ধ বলিয়া জানিবে । ভাবপ্রকাশ প্রভৃতি গ্রন্থের মত বাহুল্যভয়ে উদ্ধৃত হইল না, অনুসন্ধিৎসু পাঠকগণ মূল গ্রন্থগুলি দেখিলেই এবিষয় বিস্তারিত মত অবগত হইতে পারিবেন। গাভীরদুগ্ধদ্ধি করার উপায়। গবাদির দুগ্ধ বৃদ্ধি করার উপায় বিস্তৃত ভাবে বিবৃত করা এই গ্রন্থের বিষয়ীভূত নহে, তথাপি আনুষঙ্গিক ভাবে কতকগুলি বলা যাইতেছে। এ বিষয়ে গােপালন বিষয়ক ইংরেজী গ্রন্থাদিতে বিস্তৃত বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে, সে সমুদয় বিস্তৃত ভাবে উদ্ধৃত কৌমুদী করিলে গ্রন্থের কলেবর বৃদ্ধি হয় বিবেচনায় তাহা পরিত্যক্ত হইল। প্রয়ােজন বোধে সংক্ষেপে কয়েকটি কথা বলা যাইতেছে। আহাৰ্য্য পদার্থের সহিত দুগ্ধের সম্বন্ধ বিষয়ক প্রস্তাবে এ বিষয় কিছু কিছু বলা গিয়াছে। এ স্থলে ইংরেজী গ্রন্থের মত গুলি সংক্ষেপে সন্নিবেশিত হইল। “Silage” (সিলেজ আর্থৎ পােতা ঘাস) (১) গাভীর দুগ্ধ বৃদ্ধিকারক, কিন্তু ভাল রকম প্রস্তুত না হইলে, ইহা ব্যবহারে দুগ্ধের গুণ হানি হয়। যব গম ইত্যাদি শস্য অপক্কাবস্থায় কিম্বা খােসাসমেত এবং খােসা ছাড়ান প্রভৃতি যে কোনও অবস্থায়ই হউক গাভীকে খাইতে দিলে তাহার পুষ্টি ও দুগ্ধ বৃদ্ধি হয়। কপি, শালগম, গাজর, পার্ষিপ, রেপ, মেন্ গােলড, সুইড প্রভৃতি বিলাতী শাক সবজি প্রভৃতি রসাল খাদ্য ব্যবহারে গাভীর দুগ্ধ বৃদ্ধি হয়। গাজর, পার্ষিপ ও শালগম সেবনে দুগ্ধের উগ্র গন্ধ হয়, অতএব এগুলি গাভীকে অধিক খাইতে দেওয়া উচিত নহে। মদের ছিবড়া (শেষাংশ) দুগ্ধ-বৃদ্ধিকর, কিন্তু ইহা সেবনেও দুগ্ধে দুর্গন্ধ হয়। নানা প্রকার খােল (খৈল ) এবং সিদ্ধ করা শস্য দ্বারা প্রস্তুতীয় খাদ্য গােদুগ্ধের পরিমাণ ও গুণ বৃদ্ধিকারক। মটর এবং বীনের (এক প্রকার বিলাতী সী) সার ভাগ অত্যন্ত (১) পােত। ঘাস অনেক প্রকার, ইহার প্রস্তুত প্রণালী ইংরেজী গ্রন্থাদিতে দ্রষ্টব্য।

কৌমুদী অধিক ( ইহা প্রায় শতকরা ২০ অংশ ) ইহাও দুগ্ধের গুণ ও পরিমাণ বৃদ্ধি করিয়া থাকে। মাকু ( ইহাতে চৰ্কীর অংশ শত- করা প্রায় ৪৫ হইতে ৫ অংশ পর্যন্ত) খাইলেও দুগ্ধের গুণ এবং পরিমাণ বৃদ্ধি হয়। তিসি দুগ্ধ বৃদ্ধিকর। তুলার বীজ এবং তালশাসে প্রস্তুত খাদ্য (Palm nut meat) দুগ্ধ ও নবনীত বৃদ্ধিকারক। এগুলি সেবনে নবনীতে সুগন্ধও হয়। গম, যব প্রভৃতি শস্যের ভূষি ও ভূষা এবং তিসি প্রভৃতি স্নিগ্ধ (তৈলাক্ত ) পদার্থও খােল (খৈল ) গাভীর দুগ্ধ-বৃদ্ধিকারক। যে কোনও শস্যের খােলই হউক, তাহা বেশ বিশুদ্ধ ও অবি- মিশ্রিত হওয়া চাই, নতুবা অনিষ্টকারক হয়। সাধারণ মন্তব্য -গাভীর খাদ্যাদি হঠাৎ পরিবর্তিত হইলে এবং গাভীকে স্থানান্তরিত করিলে এবং অন্যান্য নানা কারণে তাহার দুগের পরিমাণ কমিয়া যায় এবং দুগেরও গুণ হানি হয়। লবণ গাভীর পক্ষে অত্যন্ত প্রয়ােজনীয় পদার্থ, ইহাতে তাহার স্বাস্থ্য রক্ষিত হয়। পরিপাক শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং দুগ্ধের পরিমাণ ও গুণ বৃদ্ধি হয়। পরিকৃত জল গাভীর দুগ্ধ-বৃদ্ধির পক্ষে সহায়তা করে, অতএব গাভীকে প্রচুর পরিমাণে জল পান করিতে দেওয়া কর্তব্য। অপরিষ্কৃত জল পানে গাভীর স্বাস্থ্য হানি এবং দুগের গুণ হীনতা ঘটে, অতএব তাহা করিতে দেওয়া সঙ্গত নহে। অধুনা দুগ্ধ বৃদ্ধিকারক আয়ুর্বেদোক্ত দ্রব্যগুলির বিষয় কথিত হইতেছে -যদিও এ সমস্ত নারীদুগ্ধের প্রতি লক্ষ্য করিয়াই উক্ত কৌমুদী হইয়াছে, তথাপি ইহাদের কতকগুলি উপযুক্ত মাত্রায় অবস্থা বিবেচনা করতঃ ব্যবহার করাইলে গবাদিরও দুগ্ধ বৃদ্ধি করিতে পারে বলিয়া আমাদের ধারণা। চরক সংহিতায় কথিত হইয়াছে। ক্ষীর জননাতিতু মদ্যানি সীধুবর্জ্যানি, গ্রাম্যান্‌ পৌদকালি চ শাক ধান্য মাংসানি দ্রব মধুরাম ভূয়িশ্চাহারা ক্ষীরিণ্যশৌষধয়ঃ ক্ষীর পানঞ্চানীয়মশ্চ, বীরণ ষষ্ঠী শালিকে বালিকা দৰ্ভ কুশ কাশ গুৎেকট মূল কষায়াণাক্ষ পানাবিতি ক্ষৗরজনাক্তানি অর্থাৎ—সীধু ব্যতীত অন্য সমস্ত মদ্য, গ্রাম, আনূপ (লযুক্ত স্থান } ও জলজ যাবতীয় শাক, ধান্য ও মাংস (গবাদির পক্ষে মাংস নিষিদ্ধ ) এবং দ্রব ও মধুর রসযুক্ত সমস্ত আহাৰ্য্য পদার্থ, বট ও উড়ম্বরাদি ( ডুমুর ), ক্ষীরিণী ওষধি সকল (বট, অশ্বথ, ডুমুর, আকন্দ, শশা, সোমলতা প্রভৃতি) দুগ্ধ পান, এমরাহিত্য এবং বেণা (বিন্না ), ষষ্টীক ধান্য, শালি ( শালিধান্ত অথবা কালজিরা), ইক্ষু, বালিকামুল, (খাগড়ামুল ও পত্রাদিও বুঝিতে হইবে), দর্ভ (উলুবন), কুশ, কাশ (কেশেবন) শর (তৃণ বা মূখা), ইৎকট (ইড়াবন) ও ইহাদের মুলের কাথ (নারীর পক্ষে) দুগ্ধ বৃদ্ধিকর, ইহা পূর্বেও বলা হইয়াছে। ভাব প্রকাশে দুগের অল্পতা হওয়ার কারণ নিম্নলিখিত মত কথিত হইয়াছে যথা :- অবাৎসল্যাওয়াচ্ছােকাৎ ক্রোধাপ্যপতপণাৎ খ্রীণাং স্তন্যং ভবেৎ স্বল্পং গর্ভাশুর বিধাৰণাৎ ।

কৌমুদী
অর্থাৎ সন্তানের প্রতি বাৎসল্যাভাবে, ভয়, শােক, ক্রোধ ও
উপবাস হেতু এবং পুনর্বার গর্ভ সঞ্চার হইলে স্ত্রীজাতির স্তন
দুগ্ধের অল্পতা ঘটে।
তাহ বৃদ্ধি করার উপায় ভাব প্রকাশে নিম্নলিখিত মত
কথিত হইয়াছে --
“শালি যষ্ঠিক গে'ধুমান্ মাংস ক্ষুদ্র ঋনপি।
কালশাকমলাপুঞ্চ নারিকেলং কশেরুকম্ ।
শৃঙ্গাটকং বরঞ্চাপি বিদারী কনমেবচ।
লণং দুগ্ধ বৃদ্ধৌঃ স্ত্রী সেবতে সুমনাভবেৎ।
কলমস্য তন্তুলানাং কলকং যা ক্ষীর পেষিতং পিবতি।
সা ভবতি ভূশং তরুণী ক্ষীর ভরের্ণৈব তুঙ্গ কুচযুগল।”
কলম ধান্তের বিশেষ লক্ষণ
“কলম ধান্যবিশেষ স্তস্য লক্ষণ মাহ ;-
কলম কলি বিখ্যাতত জায়তে স বৃহদ্ধদে।
কাশ্মীর দেশে বােক্তা মহাতণ্ডুল সংজ্ঞকঃ ॥
বিদারি কস্য রসং পিবেৎ শুন্যস্থ বৃদ্ধায়ে ।
তচ্ছুর্ণ তস্য বৃদ্ধ্যর্থং পিবেদ্বা ক্ষীর সংযুতম্ ॥”
অর্থাৎ-শুন্য বৃদ্ধির উপায় কথিত হইতেছে—শালি (শালি
ধান্য ), যষ্ঠিক ধান্য (ষটেধান ), গােধুম (গম), মাংস ও ক্ষুদ্র
মৎস্য (গবাদির পক্ষে মৎস্য মাংসাদি নিষিদ্ধ ), কাল শাক,
অলাবু (লাউ), নারিকেল, কেশুর, পানিফল, পতাবরী (শতমূলী)
),

) কৌমুদী ভুই কুমড়া ও রসুন এই সকল ভক্ষণ করিলে স্ত্রীদিগের স্তন্য অতিশয় বৃদ্ধি পায়। কলম ধান্যের চাল চূর্ণ করিয়া দুগ্ধের সহিত সেবন করিলে স্ত্রী তরুণী হয় এবং দুগ্ধভরে তাহার স্তনযুগল উচ্চ হয় (অর্থাৎ দুগ্ধ বৃদ্ধি হয় )। কলম ধান্যের লক্ষণ ;-কলম ধান্য “কলি” নামে বিখ্যাত ; ইহা বৃহৎ হ্রদে ( জলাশয়ে অর্থাৎ বিলে) জন্মিয়া থাকে। কাশ্মীর দেশে ইহা “মহা তণ্ডুল” নামে কথিত হইয়া থাকে। ভুই কুমড়া চূর্ণ করিয়া দুগ্ধের সহিত সেবন করাইলে তত্যন্ত দুগ্ধ বৃদ্ধি হয়। সুশ্রুত সংহিতায় কথিত হইয়াছে ;- “ক্রোধ শোকা বাৎসল্যাদিভিশ্চ স্ক্রিয়াঃ স্তন্য নাশো ভবতি অথাস্যাঃ ক্ষীর জননার্থং সৌমনস্য মুৎপাদ্য যব গােধুম শালি ষষ্ঠিক মাংস রস সুরা সৌবীরক পিণ্যাক অশুন, মৎস্য কশেরুক, শৃঙ্গা- টক বিম বিদারি কন্দ মধুক শবরী নালিকালাবু কালশাক- প্রভৃতীনি বিদ্যা। অর্থাৎ-ক্রোধ শােক ও বাৎসল্যাভাব হেতু স্ত্রীদিগের শুন্য নাশ হয় (দুগ্ধের অম্লতা হয় ); তাহা বৃদ্ধি করার জন্য স্ত্রীদিগের মনের স্বাস্থ্য উৎপাদন করিয়া, তাহাদিগকে যব, গােধুম (গম), শালি ধান্য, ষষ্ঠিক ধান্য মাংস রস (গবাদির পক্ষে নিষিদ্ধ ), সুরা, সৌবীরক (কাঞ্জি), পিণ্যাক (তিলপিষ্ঠ ), রসুন, মৎস্য, (গবাদির পক্ষে অব্যবস্থা) কেশুর, শৃঙ্গাটক (পানিফল ), নালিকা (মামলা কাবিশাক ), অলাবু, কালশাক প্রভৃতি ভক্ষণ করাইবে।

কৌমুদী অগ্নিপুরাণে কথিত হইয়াছে - “অশ্বগন্ধাতিলৈঃ শুক্লং তেন গৌ ক্ষীরিণী ভবেৎ।” অর্থাৎ-অশ্বগন্ধা ও তিলের সহিত নবনীত ( মাখন মিশ্রিত করিয়; ভক্ষণ করাইলে গাভীসকল দুগ্ধবতী হয়। “স মসূর শালি বীজং পীত তক্ৰেণ ঘর্ষিতং। ক্ষীরং গাে মহিষ স্বৈ গো পুংশ্চ হিতং ভবেৎ। অর্থাৎ-মসূরেব (মসূরির দাইল) সহিত শালি বীজ (কাল- জিরা মিশ্রিত করিয়া দধি বা ঘােলের সহিত পান করাইলে গো ও মহিষের দুগ্ধ বৃদ্ধি হয় এবং ষণ্ডাদিরও উপকার হয়। গাভীর দুগ্ধ বৃদ্ধি করার আরও কয়েকটা উপায় কথিত হই- তেছে। ভাতের ফেন (মাড়) যবচূর্ণ, কচি ঘাস গাভীর দুগ্ধ বৃদ্ধিকারক। চাল অলাবু (লাউ) একত্র সিদ্ধ করিয়া গাভীকে খাইতে দিলে তাহার দুগ্ধ বৃদ্ধি হয়। কিন্তু ইহা প্রত্যহ ব্যবহার করা উচিত নহে। অর্ধসের মাষ কলাই, অর্ধসের ভাতের মাড়ী, এক ছটাক লবণ এক পােয় লালী (মাতগুড়) এবং এক তােলা পিপুল চূর্ণ একত্র মিলাইয়া খাইতে দিলে গাভীর দুগ্ধ বৃদ্ধি হয়। গাভীর অবস্থা ও বয়স ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া উপ- রােক্ত দ্রব্যাদির মাত্রা ইতর বিশেষ করিতে হইবে। বাঁশের পাতা জলে সিদ্ধ করিয়া, তাহাতে অর্ধ ছটাক জোয়ান্ (জবানী) চূর্ণ, এবং অর্থ পােয় আঁকের গুড় মিশাইয়া খাওয়াইলে গাভীর দুগ্ধ বৃদ্ধি হয়। ২| ৪টা, এর পত্র (এরণ পাতা সিদ্ধ করিয়া

কৌমুদী
ঈষদুষ্ণ থাকিতে সে গুলি গাভীর ওলানে একখণ্ড বস্ত্র দ্বারা
জড়াইয়া রাখিলে এবং অল্পক্ষণ পরে সে গুলি ফেলিয়া দিয়া
গাভীকে দোহন করিলে অধিক দুগ্ধ দিয়া থাকে।
বর্তমানকালে ভারতবর্ষে
দুগ্ধাভাবের কারণ ও তাহার বিষম
পন্নিণাম।
যে ভারতবর্ষ এক সময়ে লক্ষমার লীলা-নিকেতন বলিয়া
ভূমণ্ডলে বিখ্যাত ছিল এবং যে দেশে দুগ্ধ ও তজ্জাত নানাবিধ
উপাদেয় সামগ্রী সহজলভ্য ও অপৰ্যাপ্ত ছিল, সেখানে অধুনা
দুগ্ধাদি এত দুর্মূল্য ও দুষ্প্রাপ্য হইল কেন ? অনুধাবন করিয়া
দেখিলে নানা কারণে গোজাতির লােপাপত্তি ও অবনতিই এই
শশাচনীয় অবস্থার একমাত্র কারণ, তাহাতে বিন্দুমাত্রও সন্দেহ
নাই।
ভারতবর্ষে গবাদির কি প্রকার অবস্থা হইয়াছে, তাহা
পশ্চাল্লিখিত বিবরণ হইতে সবিশেষ উপলব্ধি হইবে। ১৮৯০ খৃঃ
অব্দে অষ্ট্রেলিয়া দেশে ১৪ কোটি ৩৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৮ শত
১১টী গাে-মহিষ, মেষ, ছাগ প্রভৃতি দুগ্ধদাত্রী প্রাণী বৰ্ত্তমান ছিল
এবং সেই বৎসরে ভারতবর্ষে—এই আসমুদ্র হিমাচল মহাদেশে
৯ কোট ৭৫ লক্ষ ৬৫টী মাত্র উক্তবিধ পশ্যাদি বিদ্যমান ছিল,

কৌমুদী অথচ অষ্ট্রেলিয়ার সহিত ভারতের আয়তন তুলনা করিলে, এখানে ২৬২ কোটি ৮০ লক্ষ গবাদি বর্তমান থাকা উচিত ছিল। নিবিষ্ট- চিত্তে চিন্তা করিলে অবস্থা কতদূর শােচনীয় হইয়াছে তাহা অনায়াসেই বুঝা যায়। এখন একবার ইংলণ্ডের ও স্কটলণ্ডের প্রতি দৃষ্টিপাত করা যাউক ; সে সকল স্থানে দেখিতে পাইবেন, কিছুকাল পূর্বে ২,২৫,০০০টী গাভী, বৎস ও বকন প্রভৃতি বৰ্তমান ছিল এবং তখন বাৎসরিক দুগ্ধের পরিমাণ ১০০০,০০০,০০০ (gallon )। এক গ্যালন ৮০ তােলার সেরের প্রায় তিন সের তুল্য) এই অপরিমিত দুগ্ধ তত্ৰত্য বালক বালিকা এবং অন্যান্য অধিবাসীবর্গের ব্যবহারে এবং নবনীত ও পনীর প্রভৃতি প্রস্তুত করিতে ব্যয়িত হইয়াছিল। মেঃ মর্টনের গণনানুসারে ১৮৭৮ খৃঃ অব্দে ইংলণ্ড, স্কটলণ্ড ও আয়ারলণ্ডে (United Kingdom ) ৩,৬৮২,৩১৭টী দুগ্ধদাতৃ গাভী এবং বৎসাদি বৰ্তমান ছিল ও তখন বার্ষিক দুগের পরিমাণ ১৬২০,২১৯,৪৮০ গ্যালন ছিল; এখন ভাবিয়া দেখুন ১৯০৪ খৃঃ অব্দে সেখানে গবাদি ও দুগ্ধের পরিমাণ কত বৃদ্ধি পাইয়াছে ; যদি বলেন যে তাহার প্রমাণ কি ? প্রমাণ অনাবশ্যক, কেননা ইয়ুরােপ ও আমেরিকা প্রভৃতি দেশে এখন লক্ষী ও সরস্বতী চির প্রচলিত কলহ পরিত্যাগ করতঃ প্রীতিসূত্রে আবদ্ধ হইbা বাস করিতেছেন, অতএব সেখানে অবনতি কল্পনাতীত বা অসম্ভব।

কৌমুদী এখন একবার দেখা যাউক আমেরিকার কি অবস্থা। সেখানেও দেখিতে পাইবে, বিগত ১৮৮৩ খৃঃ অব্দে কেবল মাত্র United Stateএ (ইউনাইটেড স্টেটে ) ১৫,০০০,০০০টী গাে- বৎস প্রভৃতি বিদ্যমান ছিল। সেখানে বাৎসরিক দুগ্ধের পরিমাণ ১৬২০.২১৯,৪৮০ গ্যালন ছিল। প্রত্যেক গভিীর দুগ্ধের পরিমাণ ৪০০ গ্যালন ধরিয়া এই হিসাব করা গেল। এখন সমগ্র আমেরিকা মহাদেশে গাভী এবং দুগ্ধের পরিমাণ কত হয় ইহা বর্ণনীয় নহে, অনুমেয় মাত্র। আমরা গো-রক্ষক জাতি বলিয়া চিরপ্রসিদ্ধ কিন্তু ইয়ুরােপীয় ও আমেরিকান্ গােভক্ষক জাতি, তথাপি তাহারা গােরা ও তাহাদের উন্নতি কল্পে যাদৃশ মনােযােগী এবং যত্নশীল, অমিরা গুহার শতাংশের একাংশও নহি ; ইহা আমাদের পক্ষে লজ্জা ও পরিতাপের বিষয়। আমাদের মনে হয় ইয়ুরোপ ও আমেরিকায় দৈনিক গগদুগ্ধে একটী ক্ষুদ্র জলাশয় পূর্ণ হইয়া যায়। ব্রাহ্মণ্যদেব ! তুমি না “গাে ব্রাহ্মণ হিতায় ছিলে, এখন কি ভারতের পক্ষে “তত্তদ্বধায়” হইয়াছ? আমাদের দেশে গােজাতির ক্রমে বিলুপ্তির সহিত দুগ্ধের অভাবজনিত কৃত্রিমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কীদৃশ ভীষণ অবস্থা দাঁড়াইয়াছে তাহা দেখা যাউক। বিগত ১৯০১ সনের সেন্সাসে ( আদম শুমারীতে) জানা যায় যে, কলিকাতা মিউনিসিপালিটীর অধীনে প্রতি সহস্রে গড়ে ৩৩০ জন নিরীহ শিশু অকালে ভব- লীলা সম্বরণ করিয়াছে এবং গত ১০ বৎসরে প্রতি সহস্রে গড়ে ৬৪ কৌমুদী ৪০০ জন অপোগণ্ড বালক অকালে কালগ্রাসে পতিত হইয়াছে। চিকিৎসকগণ গবেষণা দ্বারা স্থির করিয়াছেন য Infant Lever ( শৈশব যকৃতের পীড়া) এই অকাল মৃত্যুর কারণ এবং অপরি- স্কৃত জলমিশ্রিত কৃত্রিম গােদুগ্ধ পানই এতাদৃশ পীড়ার মূল। যদি একমাত্র কলিকাতা মহানগরীতেই এই অবস্থা হইয়া থাকে, তবে ভারতের অন্যান্য নগরীতে কি অবস্থা হইয়াছে তাহা ভাবিলেও হৃৎকম্প উপস্থিত হয়। বড় বড় সহরেই এতাদৃশ মৃত্যু সংখ্যা অধিক, এ কথা যথার্থ বটে, কিন্তু আজকাল পল্লীগ্রাম সমূহেও যে প্রকার দুর্গাভাব ঘটিতেছে তাহাতে অচিরেই সে সকল স্থানেও নগরাদির ভয়াবহ দৃশ্য প্রত্যক্ষীভূত হইবে, অতএব সময়ােচিত সতর্কতা অবলম্বন সর্বথা কৰ্ত্তব্য। দেশহিতৈষী ধনী ও শিক্ষিত সম্প্রদায় গােজাতির প্রতি সকরুণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করতঃ তাহাদের রক্ষা ও উন্নতির উপায় বিধান না করিলে আর রক্ষা নাই ; তাহাদের ঐকান্তিক যত্ন ও চেষ্টা ব্যতীত গোবংশ ভারতবক্ষ হইতে চিরতরে লুপ্ত হইবে এবং তৎসহ অমরাও বিলয় দশা প্রাপ্ত হইব। এ বিষয় সদাশয় গবর্ণমেন্ট মনােযোগী হইয়াছেন, ইহা কতকটা মঙ্গলের চিহ্ন বটে। সত্য বটে, আৰ্য মহর্ষিগণ গােদুগ্ধ ও অন্যান্য গব্য পদার্থের মহৎ উপকারিতা বিশিষ্টরূপে হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিয়াই এই পশুর (গােজাতির) রক্ষা ও উন্নতি কামনায় নানাবিধ-ব্যবস্থা শাস্ত্রে নিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন, আমরা হেলায় সে গুলির প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন করতঃ গােবংশের दकोशूलौ ধ্বংসের পথ উন্মুক্ত করিয়া দিয়াছি এবং আমরাও ক্রমে উৎসন্ন দশা প্রাপ্ত হইতেছি। ইয়ুরােপীয়গণ পক্ষান্তরে ইহার উন্নতি পক্ষে অপরিসীম যত্ন ও অধ্যবসায় প্রকাশ করিতেছেন। আমরা তাহাদের অস দৃষ্টান্তের অযথা অনুকরণ করিতেছি। কিন্তু তাহাদের একাগ্রতা প্রভৃতি সদ্গুণের অনুসরণ করিতেছি না, ইহা নিতান্ত দুঃখের বিষয়। গাে-দুগ্ধ ও তজ্জাত পদার্থ নিচয়ের অপরিসীম উপাদেয়তা এবং উপকারীতা বিলক্ষণরূপে হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিয়াই আমাদের শাস্ত্রকার ঋষিগণ প্রত্যেক মাঙ্গলিক ব্যাপারে ও শ্রাদ্ধাদিতে গব্য নানা প্রকার পদার্থের ভূরি ব্যবহার বিধিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন এবং গোবৎসের প্রতি করুণাপরবশ হইয়া ব্রাহ্মণকে গাে দোহন করিতে নিষেধ অজ্ঞা প্রচার করিয়া গিয়াছেন; ব্রাহ্মণের পক্ষে গো বিক্রয়েও নিষিদ্ধ হইয়াছে যথা; “গবা বিক্রয়কারীচ গবি রােমানিযানি চ। তাবদ্বষ সহস্রানিগবাং গােষ্ঠে কৃমিৰ্ভবেৎ।” ১ অর্থাৎ—গােবিক্রয়কারী (ব্রাহ্মণ ) গাভীর গাত্রে যত লােম আছে, তত সহস্র বৎসর পর্যন্ত গাে-গােষ্ঠে কৃমি হইয়া বাস করে। “গাং দুহস্তি চ যে বিপ্রাঃ পাপিষ্ঠাঃ ক্ষীরলিয়া। দধি বিষ্ঠা পয়য় মুত্রঃ মদ্য তুল্যং ঘৃতং ভবেৎ।

কৌমুদী সদ্য পতিত লৌহেন লক্ষ লবণেন চ হেন শূদ্রী ভবতি ব্রাহ্মণঃ ক্ষীর বিক্ৰয়াৎ ।” অর্থাৎ যে সকল পাপিষ্ঠ ব্রাহ্মণ দুগ্ধ লিগায় গাে দোহন করেন, তাহাদের পক্ষে সেই দুগ্ধজাত দধি বিষ্ঠাতুল্য, দুগ্ধ মূত্র সম এবং ধৃত মদ্য তুল্য হয়। ব্রাহ্মণ লৌহ বিক্রয়ে লাক্ষা ও লবণ বিক্রয়ে সদ্যঃ পতিত হন এবং দুগ্ধ বিক্রয় দ্বারা তিন দিবসে শূদ্রত্ব প্রাপ্ত হন। দুগ্ধাদি বিক্রয় করিলে ক্রমশঃ ব্যবসায় লাভবান হওয়ার আশায় বৎসের প্রতি নির্দয়তা হইবে এবং গাে বিক্রয়ের প্রশ্রয় দিলে তাহার প্রতিও নির্দয়তা হইবে এই আশঙ্কাতেই বােধ হয় শাস্ত্রকারগণ গাে ও দুগ্ধ বিক্রয় নিষিদ্ধ করিয়াছেন। এখন গো এবং দুগ্ধ বিক্রয় ব্যতীতও ব্রাহ্মণ সন্তান ততোধিক গুরুতর নিষিদ্ধ কাৰ্যও অবলীলাক্রমে সম্পাদন করিতেছেন, ইহা কতদূর সঙ্গত একটু চিন্তা করিয়া দেখা উচিত। প্রসঙ্গাধীন ইহাও বক্তব্য এই ভারতবর্ষ কৃষিপ্রধান দেশ এবং বলদই কৃষি কার্য্যের প্রধান সহয়, অতএব গােজাতির অভাবে কৃষকের কত অসুবিধা ও অনিষ্ট হইবে তাহা বলা যায় না। কৃষকের অনিষ্টে ভারতবর্ষের অমঙ্গল। ভারতবর্ষে শতকর ৬৯৯২ জন কৃষিজীবি একথা বিশেষরূপে স্মরণ রাখা কর্তব্য। গবাদির বিলােপের প্রধান প্রধান কয়েকটা কারণ নিম্নে কথিত হইতেছে যথা;

কৌমুদী
(১) গােজাতির প্রতি অযত্ন ও তাহার অপালন।
(২) গােচারণ ভূমির অভাব।
(৩) গাে-মড়ক ও অন্যান্য সংক্রামিক পীড়াজনিত অকাল
মৃত্যু।
(৪) যদৃচ্ছ। গােব।
(৫) লাভের আশায় অতিরিক্ত গো দোহন এবং তজ্জনিত
বৎসের দুর্বলতা এবং অকাল মৃত্যু।
(৬) চৰ্ম্মকার ও অন্যান্য চৰ্ম্মব্যবসায়ীগণ দ্বারা বিষ প্রয়ােগে
গগাবধ।
উপরােক্ত কারণগুলির মধ্যে কতকগুলির প্রতীকার আমাদের
আয়ত্বাধীন এবং কতকগুলির নহে; এ বিষয় বিস্তৃত আলােচনা
অপ্রাসঙ্গিক বিধায় পরিত্যক্ত হইল। এস্থলে ইহাও বক্তব্য যে
কেবল মাত্র গাে মড়কে ভারতবর্ষে প্রতি বর্ষে গড়ে প্রায়
৯০০০০ ০ ০ ০
টাকা ক্ষতি হইতেছে। অন্যান্য কারণে গবাদির
মৃত্যু সংখ্যা গণনা করিলে ক্ষতির পরিমাণ কত হয় তাহা অনুমেয়।
দেশহিতৈষী ব্যক্তিগণ করুণা-পরবশ ও যত্নশীল হইয়া গাে-
জাতির রক্ষা ও উন্নতির পথ প্রশস্ত করিতে অগ্রসর হইলেই দেশে
দুগ্ধাদির প্রাচুৰ্য্য হইবে এবং আমাদেরও বল বীৰ্য উৎসাহ ও
আয়ুবৃদ্ধি হওয়ার পথ উন্মুক্ত হইবে, নতুবা আমাদের অধঃপাতের
গতি কিছুতেই অবরুদ্ধ হইবে না, ইহা ধ্রুব সত্য।

১১৮ ; कोप्तो উপসংহার। দুগ্ধ বিষেয় প্রায় সমস্ত কথাই সংক্ষেপে বলা হইল; এ বিষয় আরও বিস্তৃত আলােচনা বর্তমান কালে অস্মদ্দেশে বিশেষ আবশ্যক হইয়াছে ; সেই পন্থা প্রদর্শনই এই ক্ষুদ্র গ্রন্থের অভি. প্রেত। উপসংহারে বক্তব্য এই যে, দুগ্ধজাত নবনীত, দধি, সর এবং তত্ত্বজ্জাত ধৃত, তক্র, ছানা প্রভৃতির বিষয় এ গ্রন্থে কিছুই বলা বলা হয় নাই; এই সমস্ত পৃথক পৃথক গ্রন্থ প্রণয়ন করা কৃতবিদ্য- গণের কৰ্ত্তব্য। দুগ্ধাদি ও শর্করা এবং অন্যান্য দ্রব্যাদি সংযােগে কত প্রকার উপাদেয় এবং পুষ্টিকর খাদ্য প্রস্তুত হইতে পারে তাহা বলা যায় না। এ সম্বন্ধেও গ্রন্থ প্রচারিত হওয়া উচিত। সুখের বিষয় অধুনা কেহ কেহ এতাদৃশ গ্রন্থাদি প্রকাশিত করিয়াছেন, কিন্তু সেগুলি যথেষ্ট বলিয়া মনে করা যাইতে পারে না। ভরসা আছে অচিরে এ সমস্ত বিষয় বিশদ ও বিস্তৃত গ্রন্থাদি প্রচারিত হইবে এবং তৎসহ বঙ্গভাষার কলেবর পুষ্টি এবং এ বৃদ্ধি হইবে। এই ক্ষুদ্র গ্রন্থে কোনও প্রকার ত্রুটী বা ভ্রমপ্রমাদ লক্ষিত হইলে তৎ সমস্তই অামার এবং কোনও গুণ থাকিলে তাহা সর্ববিঘ্ন বিনাশন এবং সর্ব কৰ্ম্মফলদাতা ভগবানের কৃপাবিন্দু প্রসাদাৎ-বিশুরেনাল।

No text on this page.

No text on this page.

Kaumudi Vol.2

Author
Sinha,kumudchandra
Title
Kaumudi Vol.2
File name
Kaumudi Vol.2
Text
OCR done
Citation
1931
Published
2010/04/13
Publisher
N.a
Language
Sanskrit
Pages
189
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Essays
Keywords
Bharate Go-Jatir Abanati
DLI number
510325
Barcode
4990010016271.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
hWoLYU4ZP3f
Download PDF

Kaumudi Vol.2