Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Kabita

Kundu,keshabchandra · 2009/11/24

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

কবিতা

No text on this page.

কবিতা।
৩৫ -----
শ্রীকেশবচন্দ্র কুণ্ডু
প্রণীত।
কলিকাতা ;
২০১, কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট ; বেঙ্গল মেডিকে| লাইব্রেরী হইতে
শ্রীগুরুদাস চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক
প্রকাশিত
১৩/৭ নং বৃন্দাবন বসুর লেন সাহিত্য গল্পে
শ্রীসজ্ঞেশ্বর পােষ কর্তৃক মুদ্রিত।

No text on this page.

বিজ্ঞাপন।
অশ্ব ও রঞ্জু রথের গতি ফিরাইয়া থাকে, মনােরথ-গতি কিন্তু
কেহ ফিরাইতে পারে না। মনােরথের বশবর্তী হইয়াই এই
কবিতা পুস্তক প্রণয়ন ও প্রচার করিলাম।
কিন্তু বড়ই শঙ্কা হইতেছে ; “মঃ কবিযশঃপ্রার্থী গমিষ্যা-
মপহাস্যতাম্। প্রাংশুলভ্যে ফলে লােভাদুদ্বাহুরিব বামনঃ।”
কৃতজ্ঞতাস্বীকার।
সাহিত্য-সম্পাদক শ্রীযুক্ত বাবু সুরেশচন্দ্র সমাজপতি মহাশয়
এই গ্রন্থের মুদ্রাঙ্কনসৌন্দর্য্যের পক্ষে বিশেষ যত্ন করিয়াছেন ;
তজ্জন্য তাহার নিকট আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতেছি।
;

No text on this page.

সূচী • ॥ ১ । ৫। । আভাষ সেই রূপ কি গান গাহিব ০ ০ ০ ••• । এ ৪ ১ ১। • সে আমার গেছে চলে ••• আবেগ ••• ••• ১২ ••• ••• ••• ••• ১৮ ••• । ••• ১ + ৩ २२ হতাশের স্বপ্ন পুরাণ কথা শান্তি ••• শেষ ছায়া ••• ••• ••• . ২৮ ••• ••• ••• ০ ০ ••• ••• . . . * * * ••• ।। ••• ০++ সান্ত্বনা সুখ পাপ্লিয়া বন বিহঙ্গ ••• ••• ••• ••• ••• ••• ••• D ••• ৪৩ ০ ০ ।। বসন্ত ••• ৪৮ ৫। ••• ০৩। উষা ••• । ••• ••• ••• ৫ ॥ । । ৮ । । ০ ১০ ০ বনফুল পাগলী । । ৮. " কেবা ভাল? ••• ৭১

No text on this page.

আভাস।
কি দুঃখ জীবনে সখা মধ্যাহ্নে আইল রে।
ঊষায় রে মন-মত
আদরের ফুল যত
কেহ বা শুখায়ে গেল কেহ বা ঝরিল রে,
কি দুঃখ জীবনে সখা মধ্যাহ্রে আইল রে।
এ পােড়া পরাণে কিছু ভাল নাহি লাগে রে।
ধরা লুকায়েছে তার,
মাধুরী মহিমা ভার,
সকলি মলিন যেন সেই অনুরাগে রে।
এ পােড়া পরাণে কিছু ভাল নাহি লাগে রে।

কবিতা।
কোথায় লুকাল মাের সে সুখ-শৈশব রে।
ছায়াহীন হাসি-ভরা,
সুখেতে আপন-হারা,
জীবনের উষা মম আর কি পাইব রে।
কোথায় লুকাল মাের সে সুখ-শৈশব রে।
৪
তার পর তার পর সে সুখ-কৈশোের রে।
আলাে সনে ছায়া এল,
সুখে দুঃখ দেখা দিল,
সুখে দুঃখে ছিনু ভাল সেও গেল স'রে রে।
তার পর তার পর সে সুখ-কৈশাের রে।
কেন বা আইল সখা মধ্যাহ্নে যৌবন রে।
আশা তৃষা মরীচিকা,
কি চেয়ে কি পাই দেখা,
সুধায় রে হলাহল দগধ জীবন রে ।
কেন বা আইল সখা মধ্যাহ্নে যৌবন রে।

কবিতা।
অই যে সম্মুখে সখা বিষাদ কালিমা রে।
কালনিশীথিনী যথা
ছাইতেছে যথা তথা,
ভবিষ্য আকাশ ছেয়ে নিরাশ প্রতিমা রে।
অই যে সম্মুখে সখা বিষাদ কালিমা রে।

সেই রূপ।
অতি অপরূপ
আহা সেই রূপ
দেখা হতে আমি বেসেছি ভাল।
যাহা কিছু তার প্রিয়ার আমার
কি যেন কেমন ছিল সব ভাল।
বুকের ভিতর
যেমন সুন্দর
দুঃখে সুখ আশা, যেমন সুন্দর
রূপেতে অতুল
বনে বন-ফুল
আলাে করে রয় বিজন-অন্তর।
দূর পথে
দুজ্জনের হ'তে
বহি
দুঃখিনী সে দুঃখে বেড়ি চারি ধার,
গ্রাম হতে দূরে
বিজন কুটীরে
ছিল করে আলাে সে যেন আমার।

কবিতা। অপূর্ব সুন্দরী অপরূপ নারী, দেব কি মানব দুয়ের সে প্রিয় ; ভাবে ঘাের ঘাের সদা ছিল ভাের চেয়ে যেন ঊষা আর কমনীয়। অতি মনােহর যেন সুধাকর কমল সুন্দর মুখে হাসি তার, ছিল যেন হাসি হাসিতে প্রকাশি ফুল্ল ফুলে মরি ফুল্ল চন্দ্রিকার। অতি অপরূপ আহা সেই রূপ দেখা হতে আমি বেসেছি ভাল। যাহা কিছু তার প্রিয়ার আমার- কি যেন কেমন ছিল সব ভাল। - ঘুমে জেগে হায় যথায় তথায় যথা রূপ রত্ন প্রকাশের আগে। সুখের বিভাষ পূরব আভাষ চলে আগে তার নানা তানুরাগে।

কবিতা।
১; অতি চমৎকার
কান্তি সে তাহার
কি যেন কেমন ঘুমে দুলে দুলে
প্রতি পদে পদে
জীবন্ত আমােদে
চলিতে সে তার আগে যেত চলে।
গানের মতন
কি যেন কেমন
কথা গুলি তার থামিলেও কানে।
বিহঙ্গ ঝঙ্কার
চাহি যেন আর
মধুরে বাজিত আকুল পরাণে।
নিতু অভিনব
ছিল তার সব
চেয়ে রূপ সেই বারে বারে বার।
দেখে না মিটিত
আশা না ফুরাত
দেখিতে সে তারে দেখিতু আবার।
মরুভূর সর
স্বভাব সুন্দর
নিদাঘের ফুল মতন প্রিয়ার।
ছিল না বিলাস
সুখ অভিলাষ
স্বভাবে সে ছিল সব রূপ তার।

কবিতা।
তুলিত না ফুল,
বাঁধিত না চুল,
চিকুর চিকনে সদা এলাইয়ে ;
ছিল বড় সুখে
সেই চাঁদ মুখে
নীল নভে যেন চন্দ্রমা বেড়িয়ে।
অতি অপরূপ
আহা সেই রূপ
দেখা হতে আমি বেসেছিনু ভাল ;
যাহা কিছু তার প্রিয়ার আমার
কি যেন কেমন ছিল সব ভাল।
স্নেহের নিঝর
প্রেম সরােবর
দুই রূপে মিশি সেই একাকার।
নিৰ্ম্মল সরসী
স্বভাব-আরসী
মত মরি আহা হৃদিখানি তার।
ভারের হাওয়ায়
ভাঙ্গি শতধায়
দেখাতাম কত কত শত বার।
বানে উছলিতে
বুকে লয়ে ভরা প্রেমের জোয়ার।
দু কূল হানিতে

কবিতা।
দুঃখের পরাণে
হতাশ তাড়নে
আশাময়ী যেন সকল সুখের।
ডুবিতে মিহির
ধ্রুব চিরস্থির
তারা রূপে যেন দীপ সে সাঁজের।
দুঃখের আরম্ভে
নিশার প্রারম্ভে
আসি সারা নিশি দুঃখে ঘুরে ঘুরে।
নিশাশেষ সুখে
ঊষার সে বুকে
মিশে গেছে চিরসুখের সে ক্রোড়ে !

কি গান গাহিব ?
বেঁধে সুর যার তানে নামিলাম ভরা প্রাণে
সে বীণা গিয়াছে ভেঙ্গে ছিড়িয়া যে তার,
কি গান গাই আমি কি গান এবার।
ভেঙ্গে গেল হাত দিতে সােহাগ না শেষ হতে
সাধের বীণাটী হায় হায় রে আমার ।
ভরা প্রাণে ভােরপুর কোথা পাব সেই সুর
মিলনের মরি মরি আর আমি তার।
সেই গাে গিয়াছে চলে আসিবে না আর।
মিলন হয়েছে শেষ,
সব কি হইবে শেষ?
হয় নি ক হবে না ক মিছা করি ভয়।
হয় কানের কাছে সে সুর থামিয়া গেছে
পরাণে যে লেগে আছে, যাবার ত নয়,
বিরহ মিলন লয়ে মধুর প্রণয়।

কবিতা।
বিরহের দেবী যেই মিলনের দেবী সেই,
এক বস্তু, ভেদ কোথা, ভেদ কেন তবে ;
হাসিয়া সেবেছি যায়, কঁদিয়া পূজিব তায়,
হেসে কেঁদে একি তান প্রণয়েতে রবে।
বিরহে প্রণয় কোথা যায় কার কবে ?

১১
সে আমার গেছে চলে।
শেষ বারিবিন্দু যেন দগ্ধ প্রান্তরের,
শেষ আশা মাের হায় সকল সুখের।
সুখের স্বপন ভাঙ্গি সুখটুকু কেড়ে,
স্বপনের ফুল যেন শুদ্ধ শুরু ছেড়ে।
দগ্ধ প্রাণে একমাত্র প্রতিপারাবার
শান্তিময়ী সুখময়ী মূৰ্ত্তি মমতার,
আঁধারের আলাে যেন রাখিয়া আঁধার,
আমারে একাকী ফেলে
সে আমার গেছে চলে
কি যেন অভাবে প্রাণ কি যেন আমার

আবেগ।
শারদ পূর্ণিমা নিশি
হাসে রে সুন্দর,
সুষমা খেলায়ে যায়
দিক দিগন্তর।
তারি কথা লয়ে যেন
প্রাণে প্রাণে হায় !
সেই ত
কুটীর অই
অই দেখা যায়।
কোকিল ঝঙ্কারে একি
প্রাণে হাহাকার,
জোছনার বুকে ঢালা
ও কি ও আঁধার।
আপন ইচ্ছায় হায়
পাগল যেমন,

কবিতা।
কত আশা হৃদয়ের
কত সুখ জীবনের
দিয়া বিসর্জন,
যাহারে দিয়াছি প্রাণ
সে আজ কোথায় ?
সেই ত কুটীর অই
অই দেখা যায়।
জ্বালায় পুড়ায়ে প্রাণ
আজ জোছনায়,
সেই ত কুটীর অই
অই দেখা যায়।
বরিষার শেষ মেঘ
শারদ শােভায় ;
কেন সে দাড়ায়ে কেন
কেন আজ হায়!
হারান সুখের শুধু
শেষ স্মৃতি লয়ে,
শূন্য প্রাণে আজ সে রে
কেন দাড়াইয়ে।

কবিতা।
মৃতদেহে হয় কি রে
প্রাণের সঞ্চার ?
শূন্য গেহে সে কি ফিরে
আসিবে আবার ?
২
শারদ পূর্ণিমা নিশি
হাসে রে সুন্দর।
সুষমা খেলায়ে যায়
দিক দিগন্তর।
বারেক রে ভালবাসা
না জানায়ে মুখে,
বুকের বিষম বােঝ
চেপে রেখে বুকে।
ভালবাসা না চাহিয়ে
ভালবেসে যায়।
যে রূপ দেখিনু আমি
পাগলের প্রায়।
নয়নের সব শােভা
কাড়ি লয়ে হায় !

কবিতা।
সে মাের যাইল চলে
সে আজ কোথায় ?
ভােলা মন ভুলাইয়ে
কুহকী আশায়,
সেই ত রয়েছে তার
আজ জোছনায়।
বিমল রজত কান্তি
মুৰ্ত্তিময়ী যেন শান্তি
সুখের কথায়
কুমুদী ফুটিয়া জলে
যেন তার কথা তুলে
দেখাইছে তার
সরমের সে বিকাশ
সুন্দর যে আর।
কোকিল ঝঙ্কারে এ কি
প্রাণে হাহাকার।
জোছনার বুকে ঢালা
ওকি ও আঁধার।

১৬
কবিতা।
সায়াহু সুখের কোলে
ও কি কাল ছায়া দোলে
বিবর্ণ মলিন,
আজ, আজ আজ না সে
মিলনের দিন।
কি দেখিতে এসেছিনু,
কি দেখিয়া যাই;
কি বলে পরাণে আজ
প্রবােধ রে পাই।
হুহু করে জ্বলে প্রাণ
দগ্ধ তৃষিকায়,
বলে দে বলে দে চাদ!
সে আজ কোথায় ?
ধরায় অমিয়ারাশি
মুর্তিময়ী সেই হাসি
মিশেছে কি হায় !
অমিয় যেখানে থাকে
তাের কি সেথায়,
আশা তৃষা মন মত
ছাই ভস্ম সব যত

কবিতা।
এখন যা প্রধূমিত
জ্বলন্ত চিতায়।
নিবাইয়া সব আজ
নিবায়ে ধরায়।
তার সুখে সুখ দুঃখ
দিয়া বিসর্জন,
ফিরাইয়ে ধরা হতে
দগ্ধ দু নয়ন।
জুড়াই জুড়াই প্রাণ
বলি নিরন্তর।
শারদ পূর্ণিমা নিশি
হাসে রে সুন্দর

১৮
হতাশের স্বপ্ন।
১
নিঝুম পরাণ ভেঙ্গে ভেঙ্গে যেন
এই ঘাের রেতে।
কে বাঁশী বাজায় পরাণ যে যায়
পারি না যে শুতে।
ওকি প্রহেলিকা অই যায় দেখা
কোথায় রে আমি।
অই না আমার প্রিয় বাসনার
সে জনমভূমি।
২
দীরঘ তমাল
তরুবর দুটী
দু’ ধারেতে থুয়ে।
ভরা কাল জলে স্বচ্ছ সরােবর
সমুখেতে লয়ে।
মাধবী লতায়
গড়া মনােহর
অই না আমার।

কবিতা। প্রিয় বাসনার আশার কানন প্রবেশের দ্বার । প্রিয় বাসনায় আলাে করে যেন কানন সে চারু। প্রিয় বসনায় আলাে করে যেন সুখের সে তরু। মাধুরী মােহনে মধুর সুরভি হৃদয়েতে লই। কত ভাবে যেন কত জাতি ফুল অই না সে অই ৪ ফুলের রাশিতে চাদের হাসিতে অই না আমার। কোকিলার তানে ভ্রমরার গানে প্রিয় বাসনার-- স্বভাবে গঠন প্রিয় দরশন অতি অপরূপ- নিভৃত নিলয় শান্তির কুটীর লতিকা মণ্ডপ।

২০
কবিতা।
বিরলে বসিয়া
বনদেবী যেন
ফুলের মেলায়
বাসনা বিকাশে কেবা বামা অই
কিসের খেলায় ?
এলাে মেলাে বেশে আলু থালু কেশে
সমুখেতে তার
কাহার গলায়
যুতনে পরায়
অই ফুলহার।
চিনেছি চিনেছি এ ভাব হৃদয়ে
কোথায় যে থুই
পাগল যে হ’ পরাণ যে গেল
হাসি কিবা রােই
হারাইয়া যায় প্রাণের জ্বালায়
নিশি দিন কেঁদে
প্রবাসে রয়েছি
এ দারুণ খেদে
নিদারুণ দুঃখে

কবিতা।
উদাস নয়নে
সে যে রে আমার
মূরতি গঠিয়া
সমুখেতে রেখে
পাগলিনী যেন
আমাকে নিরখে
আমার রে ধ্যানে আমার রে জ্ঞানে
তনময় হই
প্রণয়ের ভরে দিয়া ফুল হার
পূজিতেছে অই।

২২.
পুরাণ কথা ।
কথা পুরাতন,
তবু সে আমার এখনাে তেমনি
নূতন আছে।
আঁখিটী মুদিলে
হিয়ার মাঝারে সে যেন আমার
যায় রে নেচে।
বসে এক দিন
সুখ অনুকূল
মধুর মৃদুল
মলয় বায়।
কি যেন কেমন
উদাস পরাণে
চেয়ে চেয়ে চাদে
গগন গায়।

কবিতা।
সে সুখ বসন্তে
সে সুখ সময়
তমালের তলে
তটিনী তীরে।
বহু দিন হল
জেগে জেগে যেন দেখেছিনু তায়
স্বপন ঘরে।
কথা পুরাতন,
তবু সে আমার এখনাে তেমনি
নূতন আছে।
আঁখিটী মুদিলে
হিয়ার মাঝারে সে যেন আমার
যায় রে নেচে।
মানস মােহিনী
ভুবন ভুলানী
সে রূপের আমি
কি কব কথা।
সে রূপমাধুরী
সাজের বেলায়
কুমুদ কাননে
চন্দ্রিকা যথা।

२४
কবিতা।
ভুবন ভরিল
দেখিতে দেখিতে
হৃদয় ছাইল
সে রূপ পেয়ে।
যেখানে চাহিনু
দেখিনু সে যেন
সুখের আলােকে
রয়েছে চেয়ে।
কথা পুরাতন,
তবু সে আমার এখনাে তেমনি
নূতন আছে।
আঁখিটী মুদিলে
হিয়ার মাঝারে সে যেন আমার
যায় রে নেচে ।
কোথা হতে যেন
কত যে সােহাগ কত অনুরাগ
সুখের ঘাের।
বিহ্বলে আমায়
সহসা আইল
হৃদয় ছাইল
করিয়া ভাের ।

কবিতা।
সখারে সে দিন
কি বলিব আমি
সুখের সে কথা
যা হল হায়!
করিতে প্রকাশ
মনে মনে গাঁথা
মনের রে কথা
কে পারে কায় ?
আপন হারানু।
ছুইতে যাইনু ছুইতে নারিনু
উহু কি খেদ !
সহসা দেখিনু
তাহাতে আমাতে কি যেন কি যেন
কি যেন ভেদ।
কথাটি যে শুধু
আমার মনের
মনেই রহিল
মুখে না এল।
স্বরূপ মানসে
সেরূপ আমার ক্রমে ক্রমে যেন
মলিন হল।
৪

২
কবিতা।
কি দুঃখ কি দুঃখ !
নিঝুম প্রকৃতি
চারিধার ময়
দেখিনু চেয়ে,
পুরিয়া জগৎ
বিকট আকারে কি যেন আঁধারে
আসিছে ছেয়ে।
ভয়ে ভয়ে দুলে
নিবিড় আঁধারে
তরুমূল ছাড়ি
তটিনী-তীরে
সুখ জ্যোৎস্না
আকুলে পড়িয়া যেন কাল জলে
মিশিছে ধীরে।
*
সহসা কাঁদিয়া
গগনের গায়
দেখিনু উঁদিমা
পড়িছে ঢলে ;
মনেতে করিনু
যেন যেতে তায় করি নিবারণ
দাড়াও বলে।

কবিতা।
আমার মনের
কথাটিরে শুধু
মনেই রহিল
মুখে না এল!
গগন হইতে
গাছের আড়ালে
চলে পড়ি চাঁদ
চলিয়া গেল !
হারানু প্রণয়,
হারানু পরাণ, হারানুরে আলাে
হারায়ে তায়,
ডুবিয়া আঁধারে
নীরবে কাঁদি
তমালের তলে
তমাল প্রায়।

২৮
শান্তি।
নিশি দিন আমি
কেন কেঁদে মরি
নাই নাই বলে,
অন্তর-যামি
সে যে আহা মরি
আমায় কি ভুলে ?
সুখের কায়াটি
শুখায়েও গিয়া
কায়াটি ছেড়ে, রে !
যেমন ফুলটি
গন্ধে শুধু রয়
প্রণয় পাত্রেরে

কবিতা।
২৯
হৃদয়ে হৃদয়ে
সে যে রে আমার,
নয়নেতে নয় ;
আমা পানে চেয়ে
লয়ে রূপ তার
আলো করে রয়।
নিশি দিন আমি
কেন কেঁদে মরি
নাই নাই বলে ?
অন্তর্যামি
আহা মরি মরি
সে কি মােরে ভুলে ?
আমার ছাড়িয়া
আমার আমার
সে কোথা গিয়াছে,

০
কবিতা
স্মৃতিতে জীইয়া
জীবনেতে তার
তেমনি সে আছে।
.-ই আধ ভাষ
সেই মৃদু হাস
দেহের মাধুরী
কোথা না প্রকাশ
কোথা না বিকাশ
পরাণ ভিতরি।
নিশি দিন আমি
কেন কেঁদে মরি
নাই নাই বলে ?
অন্তর-যামি
আহা মরি মরি
সে কি মেরে ভুলে

৩১
উদয়ামুদয়
ভেদ চাদের রে
নয়নে যে চায়
ভভদটি কোথায়
হৃদয়ে যে হেরে
চাদ চিবােদয়।
স্বকাম সাধন
বাহ্য জগতে
ইন্দ্রিয় কুহক।
নয়ন-জুড়ান
প্রতিমা-পূজাতে
আছে কিবা সুখ!
নিশি দিন আমি
কেন কেঁদে মরি
নাই নাই বলে ?

৩২
কবিতা।
অন্তরযামী
আহা মরি মরি
সেকি মােরে ভুলে
সুখের যােজনা
বিধির বিধান
যা কিছু সকলে ;
দুঃখের কিছুনা
কর দরশন
প্রাণ মন খুলে ;
প্রতিমা পূজার
মিছার আমার
আশাটী যে ছেড়ে
পাই অধিকার
মানস পূজার
আমি সাধু যেরে !

শেষ ছায়া।
(আলাের প্রতি)
অই নিশিকালে জীবনের আলাে ।
যেওনা যেওনা ;
হৃদয়ের নিধি।
দাড়াও দাড়াও,
ছায়ারে ছেড় না।
লুকায়ে সরমে না কহিয়ে কথা,
বুকভরা প্রেম অনুরাগে অথ,
সেহাগেতে তব হনু পরকাশ;
আমারে কর না কর না নিরাশ।
জীবনের নিধি,
হৃদয়ের আলো
সাথে নিয়ে যাও।
ছায়ারে ছেড় না যেও না যেও না,
দাড়াও দাড়াও।

ছায়া যে তােমার দুঃখের দুঃখিনী,
ছায়া যে তােমার সুখের সুখিনী
কি পাপগহ্বরে
উন্নত শিখরে
পতিপরায়ণ
আদর্শ নারীর
প্রণয়ের প্রায়,
এক ভাবে সেই
নানা রূপ ধরি
আছিনা কোথায় ;
জীবনের আলাে ছেড় না ছেড় না
ছেড় না ছায়ায়।
দুঃখের সাগরে
দুঃখের তরঙ্গ
যবে ভেঙ্গে ভেঙ্গে
আছাড়িয়া পড়ে,
তখন তােমায়
দেখে যাতনায়
ছায়া কিহে ছাড়ে ?
হৃদয়ের আলাে,
যেও না যেও না ;
তােমা ছেড়ে ছায়া একা এ আঁধারে
কখন রবে না।
জীবনের নিধি,

কবিতা।
যাবে পাছে পাছে, তােমা বিনে আর
কি আছে কি আছে ছায়ার তােমার ?
তােমার বিভবে
বিভব যে তার,
রূপ গুন সব
তুমি যে ছায়ার ;
ছেড় না ছেড় না যেও না যেও না,
জীবনের আলাে !
জীবন মরণে
ছায়া যে তােমায়
বড় বাসে ভাল।
বিকচ কমলে
মাধুবী যেমন
সুখের প্রণয়ে
মমতা মতন,
চুপে চুপে ছায়া
লয়ে শূন্য কায়া
আসিলে আসিবে
যাইলে যাইবে,
তােমা সনে শুধু,
শুধু এ ধরায়
জীবনের আলাে
ছেড় না ছায়ায়।

সান্ত্বনা।
কেন কাঁদ দুঃখে
দুঃখ দিয়া দুঃখে
ঘুমায় প্রকৃতি
রাহু অম্ভে শশী
পল্লব খসিলে
চির দুঃখিনীকে
সুখ আসে সুখে,
ঝটিকার পর
হাসে রে সুন্দর ।
সঞ্চারে মঞ্জর,
জরা অন্তে পায়
শৈশব মধুর,
ভেবেও ভেব না
কেঁদ না কেঁদ না
আঁধার সৃজন
এ দুঃখ যাবে না।
এ দুঃখ রবে না ।
আলাের কারণ,
সুখের কারণ,
দেখিয়ে এ খেলা,
বিধি বিধি-লীলা
দুঃখের সৃজন
দিবস বাসরে
বুঝহ সুন্দরী

সুখ।
মায়াজালে বেড়ে জগতেই আছি,
জগৎ ছাড়িয়া কোথায় রে গেছি।
চেও না আমায় চাইলে পাবে না ;
জীবনের সুখ
জীবনেই আছে,
হাত দিয়া খুজে মেলে না মেলে না !
অদ্ভুদ যেমন
মােহের বন্ধন
ছিড়িলে মনেতে প্রকাশ পায়।
থাকিতে থাকে না
জীবনের সুখ,
যাইলে কেবল জানাইয়ে যায়।

৩৮
তাকবি৷
নহে বৰ্তমান, নহে ভবিষ্যৎ,
অন্ধ মানব খুজরে আমায় ;
অতীতের দিনে অতীত কথায়
প্রতিদিন পাবি আমারে সেথায়।
প্রতিদিন খুঁজে বলিৰি তখন
হয়নাক দিন
হবেনাক দিন
হায়রে সুখের
গিয়াছে যেমন !

পাপিয়া।
ও কি ও উদাস প্রাণে মর্মভেদী উচ্চতানে
বল রে বিহঙ্গ তুই বল বল বল,
কারে তুই হেঁকে হেঁকে অমন করিয়া ডেকে
এমন পাগল তুই এমন পাগল !
হাসে ফুল, হাসে তরু, হাসে রে কানন চারু,
হাসিতে জোছনা ঢলে পড়িছে ধরায় ;
হাসিছে প্রকৃতি রাণী, শান্তিময়ী মূর্তি খানি,
দেখে পাখী প্রাণ তাের কেন না জুড়ায় ?
দিবানিশি এক বােলে বুক-ভাঙ্গা ঘন রােলে
কেন না রে ঘুচে পাখী বিষাদের ঘাের ?
এত কি প্রাণের ব্যথা, এত কি খেদের কথা,
মৰ্ম্মভেদী কাতরতা গাঁথা হৃদে তাের ?

কবিতা
নীরব গভীর রেতে সত্রাস শ্রুতির পথে
আশার বিহ্বলে যথা নিরাশ ক্রন্দন,
বিষাদে বিষাদ গাঁথা গত পুন প্রিয় কথা
হারান সুখের পাখী স্মৃতিতে যেমন ।
ডুবে ডুবে যেন যায়
ছিন্ন তারে মৃতপ্রায়
কি বলিতে কি বা বলে বীণার ঝঙ্কার ;
মৰ্ম্মভেদী ওই স্বর নিশি দিন নিরন্তর
শুনিতে পারি না পাখী শুনিতে যে আর ।
ধরার সহাস হাসে
মধুভরা মধুমাসে
ঊষার গগনে পাখী নবদিবাকর,
জগৎ আনন্দময়
যেন সুখ সমােদয়
নয় কিরে নয় পাখী নয় মনােহর ?
নবদূর্বাদলে দুলে ঘুমে যেন দুলে দুলে
নীহারের কণাগুলি নয় কিরে নয়,
প্রভাত-পবনে জেগে
রঞ্জি রবি নবরাগে
নয়ন-জুড়ান রূপে প্রীতি শান্তিময় ।

কবিতা।
আমার মতন পাখী । তাের কি পুড়েছে আঁখি,
হেলায় হারালি কবে বল বল বল ?--
জগতে সৌন্দৰ্য্য সুখ, শান্তিপূর্ণ ভরা বুক ;
জানিলি জগৎ কবে দগ্ধ মরুস্থল ?
সুখের শৈশব বেলা ভেঙ্গে গেলে ছেলেখেলা
একলা বসিয়া অই বৃদ্ধ তরুতল,
উদাস পরাণে থাকি এমনি শুনেছি পাখী।
. তাের অই স্বর পাখী, পরাণ পাগল।
কত দিন চলে গেছে, এখন তেমনি আছে,
তেমনি সে কাতরতা করুণ উচ্ছাস,
ভাল পাখী! শিখেছিলি, পরাণ উছলি তুলি
বিষাদসঙ্গীত গীতে কাতর উল্লাস!
ঘুমে বায়ু অচঞ্চল,
নড়ে না পল্লবদল,
ঘুমায় সকল পাখী, ঘুমায় সকল ;
তরঙ্গে না ভাঙ্গি হৃদি,
নিথরে ঘুমায় নদী,
শ্বাসে যেন রাখি প্রাণ স্রোতমুখী জল।

R
কবিতা।
করুণ কাতর তর
হৃদয় দগধকর,
অনিচ্ছায় ম্লান হাসি দুঃখের যেমন,
বাড়াতে প্রাণের ব্যথা দারুণ দুঃখের যথা
জ্বলন্ত পুড়ন্ত মিছা সান্ত্বনা বচন।
উছলে উছল প্রাণ,
কে করে বিষাদ-গান ?
তাের মত কে বা পাখী কে বা রে ধরায় ?
পবিত্ৰ নিদ্রার কোলে কেবা না যন্ত্রণা ভুলে
একা বসি সারানিশি কেবা রে জাগায় ?
আপনা হারায় প্রাণ যথা করি অন্যে দান
দিবানিশি কেঁদে কেঁদে মনের ব্যথায়,
হতাশ, যেমন পাখী। বিরলে বসিয়া থাকি
একলা বিষাদ গানে পরাণ জুড়ায়।
তেমনি ও তুই পাখী একলা বসিয়া থাকি
ঘুচাস কি ব্যথা প্রাণে বল খুলে বল,
শুনিতে পারি না আর মর্মভেদী অই স্বর,
শূন্য প্রাণে প্রতিধ্বনি বড় যে প্রবল !

বনবিহঙ্গ।
ছেড়ে দেরে ছেড়ে দেরে
কেন রে রাখিস ধরে,
বনের বিহঙ্গ আমি
বনে বনে যাই উড়ে!
আমায় রাখিলে কি ফল ফলিবে
কেবল যাতনা ভার!
আমি বনপাখী তরু-শাখে থাকি
প্রকৃতি ভূষণ সার ;
আকাশের গায় উড়িয়া বেড়াই
মনােমত সঙ্গী লয়ে,
প্রশান্ত প্রান্তরে পল্লীগ্রামময়
গাইয়ে সমীর বয়ে

৪
কবিতা।
ছেড়ে দেরে ছেড়ে দেরে
কেন রে রাখিস ধরে,
বনের বিহঙ্গ আমি
বনে বনে যাই উড়ে।
নদ নদী কুল
পাহাড় নিঝরে
সৌরভ ফুলের বনে,
আমােদে মাতিয়া উড়িয়া উড়িয়া
গাইব আপন মনে।
ছেড়ে দেরে ছেড়ে দেরে
কেন রে রাখিস ধরে,
বনের বিহঙ্গ আমি
বনে বনে যাই উড়ে
আবদ্ধ থাকিব আর কত কাল?
এ যে ভীম কারাগার ;
আমি ক্ষীণ প্রাণী সহিতে নারি রে
নিঠুরতা অত্যাচার
দাও দেখিতে তরুলতা-দল,
বসনে পিঞ্জরবন্ধ,

কবিতা।
৪৫
নিশা কি বাসর
ঘাের নিরন্তর
নয়ন রহিতে অন্ধ !
পৃথিবী আকাশ মলয় বাতাস
কভু লাগে না অঙ্গে,
প্রেম ভরে চক্ষু
তুলিয়া না পাই
খেলিতে সঙ্গিনী সঙ্গে।
যখন অবনী
ছেড়ে দেরে ছেড়ে দেরে
কেন রে রাখিস. ধরে,
বনের বিহঙ্গ আমি
বনে বনে যাই উড়ে !
নিস্তব্ধে আপনি
রৌদ্র বাস হাসি’ পরে
যখন প্রকৃতি
রবিখর তাপে
অধীরা হইয়া পড়ে !
বিটপি-পল্লবে
ফুল্ল ফুলদলে
লুকাইয়ে ক্ষুদ্র দেহ,
আপনার গানে আপনি মাতিয়ে
লভি রে সুখের মোহ।

৪৬
কবিতা।
আবার যখন
অনন্ত গগন
স্থাবর জঙ্গম লয়ে
নিঝুমে প্রকৃতি রজনীর কোলে
ঘুমায় বিভাের হয়ে,
চঁদের কিরণে উড়িয়া উড়িয়া
চাহিয়া চঁাদের পানে
বউ কথা কও
বউ কথা কও
বলি রে উধাও প্রাণে।
.
কেন রে রাখিস ধরে
ছেড়ে দেরে ছেড়ে দেরে
বনের বিহঙ্গ আমি
বনে বনে যাই উড়ে।
যুবতী যুবকে
যখন পুলকে
দোহার বদন হেরে,
গভীর ভাবেতে
নয়ন ভাষায়
উড়িয়া গরব ভরে ;
অদূর শুরুতে
বউ কথা কও
সােহাগ-সঙ্গীতে গাই ;

কবিতা।
নূতন সােহগে প্রেমের বিহ্বলে
আমি উভয়ে মাতাই!
কেন রে রাখিস ধরে
ছেড়ে দেরে ছেড়ে দেরে,
বনের বিহঙ্গ আমি
বনে বনে যাই উড়ে ।
যখন স্বাধীন ছিনুরে বিপিনে
গুছাইয়ে গেহস্থলী
দম্পতী মিলিয়ে শুনিতাম নীড়ে
শাবক অস্ফুট বুলি
বন-ফুল কত
দিতাম তাদের
যখন উদিত রবি,
সে সুখ গিয়াছে, এখন কেবল
একাকী বসিয়া ভাবি।

5t
সুখের আলয়
সুখের বসন্ত
যা কিছু সুখের
এনেছি এনেছি
আমার ধাম,
আমার নাম,
সকলেই আজ
আমি ঋতুরাজ ;
পরত ধরণী
উঠত চন্দ্রমা
ভাঙ্গিয়া বিরহ
গাওত কোকিল
কুসুম সুরভি
বহত মলয়
সহাস সাজ,
হাসিয়া আজ,
ব্যথিত প্রাণ
পঞ্চমে গান ;
ছড়ায়ে আজ
পবন-রাজ।
বীর বন-ভূমে,
বিপুল বিভবে
আশ্রমে মুনি,
প্রাসাদে ধনী,
বুঝুক মাের,
নেশার ঘোের ।
প্রবল প্রতাপ
ঘুচুক সবার

কবিতা। কি করে বীরত্ব কি করে তন্মদ বসন্ত লইয়া যেথায় জাগায় কি করে জ্ঞান, ধনের মান ? নানানুরাগ বাসনা যাগ, অতি দূরদেশ হিমগিরি যেথা, ছুইয়া গগন ছাইয়া আছে। পর-পর-পর সকল ঋতুর সুখের আবাস ফেলিয়া পাছে ; তুষারমণ্ডিত শীতের আলয় ছাড়ায়ে আর, স্বরগের কাছে স্বরগের সম আমার আলয় সবার সার। উচ্চ শৃঙ্গদেশে গিয়াছে ব্যথা; মুঞ্জর রে তরু মুঞ্জর লতা। গিয়াছে শিশির আমার উৎসবে মাতায়ে প্রাণ ধরত পাপিয়া ঝঙ্কার তান ; ফুটত রে সুখে কুসুম-কলি, গাও ত কোকিল গুঞ্জর অলি ; ৭।

কবিতা।
সুরুচি আপনা ভুলিয়া যাক।
হৃদিহীন প্রাণী অবাকে থাক।
ভাঙ্গিলে রে ঘুম স্বপন যায়,
স্বপনের নিধি জেগে কে পায়।
আচার বিচার
সকলি মিছর
জ্ঞানের কুহক বিষম ভ্রম,
বিচারে যে চায়
সুখ যে রে হায়
শুধুই কেবল আশার ক্রম।
অন্ধ পরাণে দেখা যা যায়
বিচারে আনিয়া কি ফল তায় ?
প্রাণ আছে কি না জানিবার আশে
প্রাণময়ী ছবি ছিড়িয়া ফেলে,
পিশাচের মত
শূন্য প্রাণ দেখে
কার প্রাণে সুখ কবে রে মেলে ?
ভাল বেসে প্রাণে যাহারে চায়,
সুজন প্রেমিক মিলয়ে তায়
;
পেয়ে কেন দিন হারাও হেলে ?
জনম যে যায় লহমা গেলে !

কবিতা। চুম্বিয়া চাদেরে তটিনীর বারি মিছা কিরে ঢালে সুধার ধারা, মিছা কি তটিনী হৃদয়ে চঁাদের ধরে শত রূপ পাগল পারা ? মিছা কি মিছা কি প্রাণের রে হাসি প্রাণ দিয়া পরে আপনা খুজে, সুখ কি পরাণে যদি না পরাণ আপনায় ভুলে অপরে মজে। ভাল বেসে প্রাণে রেখ না খেদ, স্বরগে মরতে প্রেমের জগতে শীল মিছা কুল ভাল বেসে প্রাণে মরতের ফুল, আকাশের রবি দোহা পানে দোহা দিনে দিনে দিনে কে আছ কোথায় কর না ভেদ ; সবাই সম, মােহের তম ! হয়ে যে সুখী সূর্যমুখী আকাশে হায় ! চাহিয়া রয়। গুণিয়া তারা কাদিয়া সারা, কেবা কি ছলে কহত আমায় কবিতা। দিয়া গেছে প্রাণে কি বা সে রমণী কি বা সে আপন যত কেন তেজ যতই কেন না ভালবাসা দিয়া আগুন জ্বেলে ? কি বা সে নর, কি বা সে পর, গরবে রক পাষাণ হক, বুঝায়ে ব্যথা কহাব কথা। পায়ে ধরে এনে কল্পবৃক্ষ গুলি সহজে বন্ধুর প্রেমনিকেতন সারি সারি সারি বেড়িয়া রে যেথা দাঁড়ায়ে রে আছে ঘুচায়ে প্রাণের সকল ব্যথা; ভােলা ভােলা মনে সরল প্রাণের ছবি গুলি যেথা হৃদয়ে লয়, সরল ভাবের স্বভাবে আপন স্বভাবের রাণী সুখেতে রয় ; ত্যজি যারে আজ আমি ঋতুরাজ আহা সে সুখের জনমভূমি, ঘুরিতে ফিরিতে শুধু এ ধরায় আমি আসিনি। ভূতের মতন

কবি।
সুজীর্ণ কুটীরে মলিন বাসে
দিবানিশি দুঃখে দীরঘশ্বাসে
কেঁদ না দুঃখিনী কেঁদ না আর,
খুচাব তােমার দুঃখের ভার ;
আমি রাজা, রাজ-ধরম জানি
একে না রাখিয়া আনে না টানি ;
ধনী কি কাঙ্গালে করি না বাছ,
সকলে সমান আমার কাছ ;
আমার ধরায় কেহ না দুখী,
আমার আকাশে সবাই সুখী;
মধুর মলয় আমার বায়
সবায় সমানে মধুরে রয় !
আমি রে মধুর কোমল অতি
সমভাব সবে আমার নীতি।
সমান হাসিতে করিয়া তুল
শ্মশানে কাননে ফোটাই ফুল।
সুখের দেবতা আমি রে আমি
আমার এ ধরা লীলার ভূমি
তাতে বাতে জ্বালা সহিয়া ধীরে
অবশ পুরাণে শ্মশান স্থির

৫০ কবিতা। সমাধিতে শােভা সকল রেখে যখন রে ধরা কাঁদিতে থাকে— কিশােরীর প্রাণে ধীরে ধীরে যথা সরমে সােহাগ প্রকাশ পায়, পরাণে যেমন সুখের স্বপন ছাইয়া যায়— ঘুমের ঘােরেতে হাসিটি লয়ে, কিছু না কয়ে, হাসির অভাবে ধীরে ধীরে কারে জীবের জীবনে যা কিছু সুখের মধুর ভাবে, ছাইয়া সবে, স্বরগের সুখে মরতে মাতি, নানান কুহুক কৌশল পাতি; ভাবময় প্রাণে ধরায় ছেয়ে দিন কত শুধু প্রকাশ পেয়ে, দিবালােক যথা কাল নিশাগমে আপন মহিমা প্রচার তরে, যেমন ধরায় ত্যজিয়া রে যায় হইয়া নূতন আসিতে ফিরে ; =

কবিতা।
ধীরে ধীরে যথা
মিলনের সুখ
বিরহে মহিমা রাখিয়া যথা
গিয়া দুঃখে, পুন
আনিবারে রয়
লইয়া প্রাণের নূতন কথা।
বছরে বছরে
'আপন মহিমা
কেবল ধরায় প্রচার তরে,
চলে যাই আমি
আবার আবার
হইয়া
নূতন
আসিতে ফিরে।

উষা। বসে থাকি আমি চোখের কাছে দেখি যেন ঊষা দাড়ায়ে আছে। কিবা সে সুন্দরী আহা মরি মরি । সে রূপ সম্ভব মানবে নয় ; দেবেও তেমন বুঝি না হয় ! মনােহর স্থান কানন কাছে বয়ে যায় নদী সমুখে নেচে ; বসে থাকি আমি কেবল একা যাইলে দেখা ; প্রভাত পবন মৃদুল চলে গাছ পাতাগুলি ঈষত তুলে, ভাঙ্গি দিলে ঘুম ধরিলে রে তারা মধুরে রব- অদূরেতে গিরি পাখীর সব

কবিতা।
গায়েতে ঢেকে
গৈরিক বসন
প্রেমময়ী যেন
অনুরাগে থেকে,
কানন মাঝে
হেসে আসে উষা
মনােহর তার
ফুলের সাজে।
তরু লতা নানা কাননে আছে,
উষা আসে আগে তাদের কাছে
কারে ঢেলে বারি জীবন দিয়ে
কার মুখে বা সে চুমটি খেয়ে
কাননে সে নিতি হাসিতে থাকে ;
সবে সুখী হয়, তাহার সুখে।
উষা সে বনের দেবতা যেন ;
না হলে না হলে না হলে কেন
তরুগুলি দোলে
লত পড়ে ঢলে
কেন বা তাহারে তাহারে দেখে,
ফুল ফল সব পূজায় রেখে ?

কবিতা ।
;
মুগধ পবন মৃদুল বায়
কানন ছাড়িতে আর না চায়
ঝুর ঝুর ঝুরে
চুপু চুপু স্বরে
সুখের কথায় পাতাটী নেড়ে
কেবল কাননে বেড়ায় ঘুরে !
শশি-অপগমে উদিলে রবি,
উষা মাের সেই স্বভাব ছবি ;
প্রশান্ত গভীর
সেই সে নদীর
উজান বারির ধারার মত,
আপনার মুখে নয় সে রত,
পরে সেই ছবি হৃদয়ে ধরে
পরের সে সুখে'সােহাগ করে।
সুখতারা মত সুখের বাসে
নিতি নিতি ঊষা কাননে আসে;
কাননের কাজ ফুরালে তার
হেসে উষা বসে নদীর ধার

কবিতা।
গানের মতন
কথায় যখন
চেয়ে চেয়ে সেই নদীর দিকে
এক মনে ঊষা বলিতে থাকে,
মুখ চেয়ে সুখ দেখিতে ভাল,
চাদ চেয়ে ভাল চাদের আলাে ;
তার চেয়ে ভাল সুখটি হায়
পরে ধরে যবে প্রকাশ পায় !
সরল পরাণে
সে সুখের তানে
ভুলে গিয়া আমি মনের খেদ,
ভুলে গিয়া আমি কালের ভেদ,
কিলাের যৌবন
নিশার স্বপন
মনে হয় যেন সে মধু রবে ;
ঊষাময় হেরি যা কিছু সবে।
নিতি নিতি চেয়ে নদীর দিকে
ঊষা সনে বলি বড়ই সুখে,
এক রবি শশী আকাশে থাকে
নদী ধরে তায় শতেক দেখে!

৬
বন ফুল।
কলিতে ফুটিয়া রয়েছে সে যে
বনের কুসুম কানন মাঝে,
চারি ধারে কাঁটা, যাবে কে কাছে ?
ঘুরে ঘুরে অলি ফিরিয়া গেছে।
কাননেতে ফুল নানান জাতি,
আলাে করে আছে।
নানা রূপ গাছে
নানান রকম রূপেতে মাতি
কেহই তাহার মতন নয়,
বনের কুসুম হলে কি হয় ?
;

কবিতা।
২১
ভুলিয়া সরম বেহায়া মেয়ে,
গােলাপ কি বেল জাতি কি জুয়ে
আছে বটে রূপ সেথায় লয়ে ;
থাকিলে কি হয়
কে বা কবে লয়
খুজিয়া বাহার বেহায়া চেয়ে।
বনের সে ফুল
ফুল মাঝে ফুল
নামটি যেমন শুনিতে কানে
তেমনি সে রূপ তেমনি গুণে
বনের সে ফুল
বিকাশে মুকুল,
মুকুল বিকাশ দেখাতে রয়
কেহই তাহার মতন নয় !
কুসুমের রাণী কমল বটে
অদূর তড়াগে রয়েছে ফুটে,
হলেও সে রাণী হয় কি হয় ?

কবিতা।
ভ্রমরা যে এলে
ভয়ে দুলে দুলে
রবি চেয়ে কত কথা গাে কয়
বনের সে ফুল তেমন নয়।
বােঝনাক প্রেম কাহারে কয়,
আপন গরবে আপনি রয় ;
নিদাঘে যখন
প্রখর তপন
ধরায় অনল ঢালিয়া দেয়,
সুখের কুসুম শুখাতে রয়,
বনফুল শুধু হাসিতে থাকে,
নিদাঘেতে দুঃখ কি দিবে তাকে ?
যতনে যে রয় অযতনে মরে,
দুখিনীর দুখে কে কবে কি করে,
পেতে শুখায়
সােহাগীরা হায়
দুখিনীর দুঃখ কিছুই নয় ;
হাসি মুখে সে যে সকলি সয়।

কবিতা।
কাটা গাছে ফুল জনম লয়ে
অযতনে জ্বালা নানান সয়ে,
যতনেতে রূপ লুকায়ে রাখি
বিরলেতে বসে একলা থাকি,
যুবতীর হৃদে
যেন ঘাের নিদে
হেলায় সে দুঃখ সহিয়া শত
লালসাবিহীন প্রেমের মত।
ফুটি ফুটি করি
ফুটিতে না পারি,
নীহারকণায় সান্ধ্য সমীরে,
দিনে দিনে শেষ আপনি বেড়ে,
যােগিনী সে হয়ে ফুলের মাঝে
ফুটেছিল যেন দেবের কাজে।

পাগলী।
চোখে লয়ে জল
হাসে খল খল
শুধালে পাগলী কয় না কথা;
বােঝালে বােঝে না প্রাণের ব্যথা ;
ধূলা মেখে তার সােনার গায়
কে জানে সে যে কি আমােদ পায়।
:
ভরা সে যৌবনে রূপের ছবি
স্বভাবে পাগলী সুখের কবি,
আলাে করে বসি রূপের হাটে
কত ছড়া কাটে দীঘীর ঘাটে।
সুখে দুখে মুখে মাখান হাসি
যে দেখে সে বলে ভালই বাসি,
পাগলী কিছু না কাহারে চায়
যতন করিলে পালায়ে যায়।

কবিতা।
প্রতিদিন প্রাতে ঘুমের ঘােরে
ডাকিতে না পাখী মধুর স্বরে,
ভাঙ্গিয়া নিশির নিঝুম তান
ধরিয়া পাগলী মধুর গান
সকাল হইতে সাঁঝের বেলা
যেখানে সেখানে করিয়া খেলা,
চুপে চুপে কারে কিছু না বলে
নিশীথে সে যায় নিঝুমে চলে ।
পাগলিনী গায়,
ক
সব গেছে হায়
জনে জনে যেন যতেক ফুল,
জনে জনে যেন যতেক তারা,
আলাে করে সেই দীঘীর কূল ;
ভাই বােন যত সব মনমত
ছিল তার কত, সব গেছে তারা।
পাগলিনী বলে,
কে জানে কি ছলে
সে কাল দীঘীর মিশ কাল জলে
ঢে’য়ে ঢে’য়ে বায়ু, নাচিয়া চলে
৭

১৬
কবিতা।
মরালে মৃণাল ছিড়িয়া খায়
কমলিনী প্রাণে কতই সয়!
;
গ্রামপ্রান্তভাগে ভগন মঠে
যমুনা দীঘির শ্যামল তটে,
যেখানেতে বট অশথ ছায়
নিঝুমে আঁধার খেলাতে রয়,
নিশিতে পাগলী একলা থাকে,
আয় আয় করে তারাকে ডাকে
তারা যে গাে তারা কিছুই নয়,
কিছুতে তাহার মনে না লয়,
বারে বারে যদি বলি গাে তাকে
তারা কি মানুষ আসিবে ডাকে ?
পাগলিনী বলে,—মানুষি তারা
মরিয়া হয়েছে অমন ধারা !
সে সব মানুষ পাগলী কারা
ভাই বােন সব সবাই তারা?
আঁখি ছল ছলে
যত বার বলে

কবিতা।
ততই কেবল উদাসে চায়,
কি বলে পাগলী বুঝি না হায়!
বারে বারে যদি বলি গাে তাকে
কি ফল পাগলী একলা থেকে ?
পাগলিনী বলে, থাকি না একা,
সবাই যে তারা দেয় গাে দেখা ;
পাগলী পাগলী কেহ ত নাই,
ভেবেছিনু আগে আমি ও তাই।
যত বার বলি ততই বলে,
বুঝি না পাগলী বলে কি ছলে !
পাগলিনী দেখা দেয় গাে কারা
ভাই বােন সব সবাই তারা;
বারে বারে যদি শুধাই তায়
গ্রামেতে কি তারা দেখ না যায় ?
পাগলিনী বলে
গ্রামকোলাহলে
ভয় করে তারা কাছে যে এসে,
কয়নাক কথা মধুরে হেসে;
পাগলী পাগলী তাও কি হয় ?
পাগলিনী বলে, হয় গাে হয়।

কবিতা।
এক মনে একা যবে সে ডাকে
তারা গুলি যেন নামিতে থাকে ;
মনে যেন হয়
ঠিক তারে কয়
দিন কত পরে হারালে শেষে
লয়ে যাবে তারা তারার দেশে ;
কয় দিন মাঝে পাগলী আর
আসেনিক গ্রামে একটি বার ;
কয় দিন-মাঝে—ঘুমের ঘােরে
শুনেনি সে গীত মধুর স্বরে।
প্রাণের ভিতর কি যেন কত
পাগলীর ভাবে পাগল মত,
কত কি ভাবিয়া কেঁদেছি মনে
কি হল তাহার কিছু না শুনে ;
দেখে সে ঘাটে, না দেখে মঠে
না দেখে দিঘীর শ্যামল তটে,
গ্রাম পরে গ্রামে প্রান্তর বনে
যেথা সেথা তারে দেখিতে মনে
নিশি দিন কত খুজেছি একা,

কবিতা।
•
কোথাও তাহার পায়নি দেখা
নিঝুম রজনী চলেছি একা,
গগনেতে চঁাদ দিয়াছে দেখা,
চারি ধারে তরু মনের সাধে
ধরিবারে ফুল কেন বা কাঁদে?
চুপে চুপে চুপে মারুত মন্দ
চুরি করি আনি ফুলের গন্ধ
উদাসেতে কেন যাইছে উড়ে ?
হরিষে বিষাদ কি আছে দূরে ?
ছাড়ায়ে অশথ, ছাড়ায়ে বট,
ছাড়ায়ে দিঘীর শ্যামল তট,
সমুখেতে ভাঙ্গা মঠের কাছে
দেখি না—পাগলী শুইয়া আছে ;
ছবি খানি যেন হেলায় পড়ে
হারায়েছে রং গিয়াছে ঝরে ;
পাগলীর আর সে ভাব নাই,
জলন্ত আগুনে পড়েছে ছাই!
চেয়ে আছে সে যে চাদের পানে,
চেয়ে আছে চাদ তাহার পানে,

কফিঙ্গা।
পাগলী পাগলী
বুলিয়া তায়,
কত আর 'ডেকে দেখিনু হায়!
গিয়াছে পাগলী
কিছুই না বলি
যেখানেতে আছে ভগিনী ভাই ;
পড়ে আছে দেহ, সে আর নাই।

কে বা ভাল ?
যেমতি, অম্বরে ঝিকি ঝিকি করে :
তারাকানিকরে,তেমতি সুদূরে
অসংখ্য আলােক মিশি পরম্পরে
খেলা করে অই নিবিড় আঁধারে
খেলা করে যথা মুনি মন লােভা
নিবিড় কুন্তলে মণিময় আভা।
কোনটি রে ভাল আঁধার না আললা ?
রজনী না তারা মণি না কুন্তল ?
নিশিতে সুন্দর দীপ মনােহর
নিশিতে সুন্দর তারকানিকর,
দিবসেতে নয় একি চমৎকার
কে বা ভাল, এর আলাে কি আঁধার
মিশি পাশে পাশে সমান উচ্ছ্বাসে
অই যে দুপাশে, বিশ্বেশ্বর পাশে

জ্ঞানালােকময় জানিবৃন্দগণ
অজ্ঞান আঁধারে ঘাের মূঢ় জন
চলেছে চলেছে, ওহে চন্দ্রচূড়
কারা ভাল এর জ্ঞানী কিংবা মূঢ়,
প্রভাকর করে পরকাশ তরে
আঁধার বাহিরে যথা নীলাম্বরে
অন্যান্য আলােক মিশিতে রয়,
তেমতি হে দেব ! তব করুণায়
অজ্ঞানে আঁধারে
ভাবিছে সুন্দর
শূন্য হয় হক
তবু মনােহর
ভবিষ্য আকাশে স্বর্গীয় আকাশে
সুখে সেবিবে সে সুখের বাতাসে
জ্ঞানালােক ভাবে কিসে লীন হয়ে
তােমাতে শেষেতে যাইবে মিশিয়ে
কারা ভাল দেব ? এর কে বা ভাল ?
জ্ঞানী কিংবা মূঢ় ? আঁধার না আললা ?
সমাপ্ত।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Kabita

Author
Kundu,keshabchandra
Title
Kabita
File name
Kabita
Text
OCR done
Citation
1896
Published
2009/11/24
Publisher
Gurudas Chattopadhyay, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
86
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Kundu,Keshabchandra
DLI number
512764
Barcode
4990010019807.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
hy4v6T2oMjq
Download PDF

Kabita