Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Kayesthatatwa-tarangini Ed.1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী
পূর্ব খণ্ড
[দ্যেশ্চ ক্ষত্রিয়া জাতা কায়স্থা জগতীতলে ।
যজুর্বেদ-আপস্তম্ব-শাখা।
“অনেক ব্যবহারস্থা ক্ষত্রিয়াঃ সন্তি তত্র বৈ ।
তেষামুত্তমতাং যায়াৎ কায়ক্ষেরজীবকঃ ॥
ভবিষ্যপুরাণ।
“অসিনা রক্ষণং রাজ্যং মঙ্গাদিস্থাপনায় চ।
উভৌ ক্ষত্রিয়ধৰ্ম্মো চ ভূমৌ খ্যাতৌ ময়া কিল ।”
বৃহৎ ব্রহ্মখণ্ড।
শ্রীপূর্ণচন্দ্র চৌধুরী কর্তৃক প্রণীত
প্রকাশিত।
প্রথম সংস্করণ
১৩০৯ বঙ্গাব্দ
All rights reserved
মুল্য ১ টাকা মাত্র
কলিকাতা
৫নং রামধন মিত্রের লেন, শ্যামপুকুম,
“বিশ্বকোষ প্রেস”
ও, বসু এণ্ড কোম্পানী দ্বারা মুদ্রিত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য। । এই গ্রন্থের মুখবন্ধে ॥ পৃষ্ঠার ২৩ পংক্তির “বৈদ্য- শ্রেণীতে পরিলক্ষিত হয়” এই কথার পর * চিহ্ন হইবে ; তৎপর ফুটনােটে নিম্নলিখিত শ্লোক হইবে। “সেনাে দাসশ্চ গুপ্তশ্চ দত্তো দেবঃ করস্তথা রাজসােমৌ নন্দিচন্দ্রো ধরকুণ্ডৌ চ রক্ষিতঃ।” ইতি সেনাদয়য়ােদশ বৈদ্যাঃ। রত্নপ্রভা ২ পৃঃ। ৭৩ নং ফুটনােটের নীচে নিম্নলিখিত বিষয় পড়িতে হইবে। “সগােত্র ও সমানৰর ইত্যাদিতে বিবাহ যে নিষিদ্ধ, তাহা রত্নভানাম্নী বৈদ্যকুলপঞ্জিকার ১২ পৃষ্ঠায় বিশদরূপে লিখিত আছে। ইহা হাদেরও স্বীকার্য। শুদ্ধিপত্র। পংক্তি পৃষ্ঠা • ঐ ১৪ , ঐ প্রভৃতিও বণবিরে প্রভৃতিপ্রমুখ অথবা প্রভৃতি বর্ণবিরাে প্রমুখ অযথা w. ৭ ৩ ১০ তথায় এথায় ০ পৃষ্ঠা পংক্তি ৪ ১৪ ১৮ সৰ্বাননবারান্থরা লেখ্যবৃত্ত তাম্রপাত্র সর্বানেরা লেখ্যবৃত্তি তাম্রপত্রে ২০ ২৮ ৩৪ মন খণ্ডন রহিতে রহিতা কুৰ্ব্বন্তু অবতংশ অবতংস আর দুই গােত্র সেনে) আর তিন গােত্র মৌদগল্য ৯ ৪১ ১৪ কাশ্যপ আলম্যান। কাশ্যপ আলম্যান। ৪৮ ৭ মহাত্মা ৪৮ মাহাত্ম্য ভূমণ্ডলে রচিত কৌলীণ্য ১১ ধূমণ্ডল চরিত কোলীন্য ৬৪ ১০ এই হেতু ঐ হেতু २ বৈশ্য-গর্ভে বৈশ্যাগর্ভে ঘটাচ্ছে ঘটাছে বৈদ্যগণ —বৈদ্যগণ পৃষ্ঠা চলিছি পূয় ভেজিনান পারিতাম গুচি যায় চলিছে পূষ ভোজিনাম পারিলাম শুচিয়ায় २२ ১৩ কানুনপেয় কানুনগো পাড়। ৪ লইয়া পালিত পাসিতে মুচিল, ঘুচিল প্রতিজ্ঞশালী, ৫তিভাশাল জাগি তাগি। (नर সেই কাঞ্চনেতে ১০ ৪ কনতে বিত্ত ধর্ম কর্ম ধৰ্ম্মেকর্মে অামে ১১৮ ১১৮ বণ ১২১ সম্পাদিকা সম্বাদিক।
No text on this page.
মুখবন্ধ। বর্তমানে এতদ্দেশে কিছুকাল ধরিয়া জাতিতত্ত্ব-বিষয়ে আন্দোলন চলিতেছে। শাস্ত্রীয় বচন ও ব্যবহারাদি প্রমাণে প্রকৃত জাতিনির্ণয় করা সকলেরই কর্তব্য। জাতীয় উন্নতি ব্যক্তিমাত্রেরই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু তাহা বলিয়া অযথা অশাস্ত্রীয় ও মনঃকল্পিত বিষয়ের অবতারণা করিয়া প্রাধান্য লাভের চেষ্টা করা উচিত নহে। আবার এরূপও দেখা যায়, কোন কোন জাতি অন্য প্রধান জাতির নিন্দাবাদ করিয়া তাহাকে নিকৃষ্ট প্রতিপন্ন করিয়া নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ঘােষিত করিতেছেন। কায়স্থজাতির প্রতিকূলে এরূপ অযথা নিন্দাবাদপূর্ণ অনেক পুস্তক পুস্তিকা রচিত হইয়াছে। কেহ কেহ সহস্র শাস্ত্রীয় বচন পদদলিত করিয়া ব্যক্তিবিশেষের ভ্রম বা মতকে অভ্রান্ত অকাট্য প্রমাণ বলিয়া ‘গ্রহণ করিতেছেন। “নানা মুনির নানা মত” ইহা হিন্দুধর্মের বিশে- ২। যাহা এক গ্রন্থে একরূপ উক্ত হইয়াছে, তাহা অন্য গ্রন্থে ভিন্নভাবে লিখিত হইবার দৃষ্টান্ত হিন্দুশাস্ত্রে বিরল নহে। এই মতদ্বৈধ নিরাকরণ করিয়া সামঞ্জস্য বিধান করা সুধীগণের সৰ্ব্বতভাবে কৰ্ত্তব্য। যেস্থলে যে বিষয়ের অধিক সংখ্যক শাস্ত্রের কোন বিষয়ে একবাক্যতা দৃষ্ট হয়, তৎস্থলে দুই একখানি গ্রন্থে তৎবিরােধীয় প্রমাণ থাকিলেও তাহা উপেক্ষণীয় হইবে, সন্দেহ নাই। আবার শ্রুতি স্মৃতি পুরাণের বিরােধ দৃষ্ট হইলে, শ্রুতির বাক্যই প্রামাণ্য বলিয়া আৰ্য্যধৰ্ম্ম-শাস্ত্রকারগণ বিধিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন। কায়স্থজাতি সম্বন্ধে যজুৰ্বেদ আপস্তম্ব শাখার প্রমাণ কোন মতেই উপেক্ষণীয় হইতে পারে না। এতদ্ভিন্ন যাজ্ঞবল্ক্য, বিষ্ণু- সংহিতা ও প্রায় সকল পুরাণে উক্ত বেদ প্রমাণের অনুরূপ বচন সকল প্রদর্শিত হইয়াছে। বিপক্ষবাদীরা দুই একথানি সংহিতা ও পুরাণের নাম দিয়া কায়স্থজাতির প্রতিকূলে যে কয়েকটী বচন দেখাইতেছেন, ঐ বচনগুলিও নানা ভাবে নানা পুস্তকে উদ্ধৃত দেখিতেছি। তাহাদের এতই পাঠান্তর দৃষ্ট হয় যে, তাহাদিগকে প্রক্ষিপ্ত বলিয়া স্বীকার না করিলেও কেবল তদুপরি নির্ভর করিয়া বেদ ও অন্যান্য স্মৃতি-বচনসমূহ কোন মতেই নিরাকৃত করিতে পারা যায় না। শাস্ত্রে এরূপ লিখিত আছে, কাৰ্যগুণে ব্রাহ্মণও শূদ্র হন, আবার শূদ্রও ব্রাহ্মণ হন। ক্ষত্রিয় হইতেও ব্রাহ্মণের প্রমাণ দুর্ঘট নহে। এতদ্ভিন্ন ঘটককারিকায় নাপিত হইতেও ব্রাহ্মণ হওয়া এবং সপ্তশতী ব্রাহ্মণগণ সম্বন্ধেও অনেক মতামত দৃষ্ট হয়। এ সব বচনের উপর আস্থা রাখিয়া যাহারা ব্রাহ্মণদিগকে নিরস্ত করিতে যাইবেন, তাহাতে মহামান্য ব্রাহ্মণসমাজের লােমস্পর্শও হইবে না। তাহাদের গােরব অক্ষুন্নই থাকিবে। আবার ভারতের ভিন্ন ভিন্ন স্থানের ব্রাহ্মণ- গণের আচারের তুল্যতা দৃষ্ট হয় না। মাদ্রাজ প্রভৃতি দেশে ব্রাহ্মণগণের মধ্যে অদ্যাপি অসবর্ণ-বিবাহ- প্রথা প্রচলিত আছে, তাহা বলিয়া সমগ্র ব্রাহ্মণসমাজের উপর স্থল- বিশেষের নজীর খাটাইতে পারা যায় না। সেইরূপ কায়স্থজাতির বিপক্ষে যে, যে প্রমাণ বিরুদ্ধবাদীরা দেখাইতেছেন,তাহা কোন স্থানের কায়স্থ সম্বন্ধে লেখা হইয়াছে, ভাবিয়া দেখা উচিত। বেহার ও উড়িষ্যা অঞ্চলের কায়স্থগণ ও অন্যান্য কায়স্থগণ এক নহেন। শাস্ত্রে কোন্ স্থলের কায়স্থকে লক্ষ্য করিয়া ওরূপ ভিন্ন ভিন্ন মত লিখিত হইয়াছে, তাহা আচার ব্যবহার দৃষ্টে নির্ণয় করিতে হইবে। এইক্ষণ বিরুদ্ধ বাদীরা ঔশনস ও ব্যাসসংহিতার যে দুটী বচন লইয়া আস্ফালন "০ করিতেছেন, তাহাদের সারবত্তা কতদূর দেখা যাউক। উশনঃ-সংহি- তাতে “শূদ্রায়াং বিপ্রতঃ” ইত্যাদি শ্লোকের একেবারে উল্লেখ নাই। আমরা কএকখানি উশনঃ-সংহিতা দেখিয়াছি, কিন্তু কোনখানিতে ঐ বচনটী পাইলাম না। ইহা বিরুদ্ধবাদীদের স্বকপােলকল্পিত জল্পনা- মাত্র। তর্কানুবােধে ঐরূপ শ্লোকের অস্তিত্ব স্বীকার করিয়াও ঐ বচনটীর অসারত্ব ও অমূলকত্ব প্রতিপন্ন করিব। ইহা বিপক্ষ- পক্ষেরও স্বীকাৰ্য কথা যে, “ভারতের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে কায়স্থনামে অভিহিত যে সকল সম্প্রদায় আছেন, ঐ সকল সম্প্রদায় এক নহেন?” এ অঞ্চলের কায়স্থেরা বিহারের কায়স্থ নহেন। তাঁহাদের রীতি নীতি উৎপত্তি প্রভৃতি বিষয়ে অনেক প্রভেদ আছে। আমাদের কায়স্থসমাজ ব্রাহ্মণের সহকারী লিপিব্যবসায়ী ধনে মানে জ্ঞানে সব বিষয়েই বঙ্গের মুখােজ্জল করিয়া রাখিয়াছেন।” (১) উশন ও শুক্রাচাৰ্য একই ব্যক্তি। এইক্ষণ দেখা যাউক, কায়স্থজাতি সম্বন্ধে ইহারSelf contradiction আত্মমতেরবিরােধীয় কথা আছে কি না। তর্কের স্থলে নাপিত, কুম্ভকার ও কায়স্থ এই তিন জাতির একই স্থলে উৎপত্তি হইয়াছে মানিয়া লইলেও এই শ্রেণীর কায়স্থকে সঙ্করকায়স্থ বলা যাইতে পারে। এই সংহিতাকার সঙ্করজাতিত্রয়ের বৃত্তি নির্দেশ করিবার কালে এই সঙ্কর কায়স্থগণের কোন প্রকার ব্যবসায়ের উল্লেখ করেন নাই। ইহারা ইতস্ততঃ বিচরণ করিয়া জীবিকানির্বাহ করিবে মাত্র বলিয়াছেন। কিন্তু সেই শুক্রাচাৰ্যই স্বপ্রণীত নীতিশাস্ত্রে কায়স্থকে রাজদরবারের লেখকবৃত্তির অধি- কারী করিয়া আত্মমত-বিরুদ্ধ কথা বলিয়াছেন। কাজেই নীতি * * * (১) ১৯০২ ইংরাজীর ৭ই ফেব্রুয়ারির “হিতবাদী” পত্রিকা দেখুন।
শাস্ত্রে যে কায়স্থের উল্লেখ করা হইয়াছে, তাহা সংহিতােক্ত কায়স্থ হইতে পৃথক্। নীতিশান্ত্রের উল্লিখিত কায়স্থ যে শূদ্র কি পরি- চৰ্যাকারী নহে, তাহা বিলক্ষণ প্রদর্শিত হইয়াছে। এইক্ষণ ব্যাসসংহিতার মত কি দেখা যাউক। প্রকৃতপাঠ- “বিরাটকায় অস্বীকার করিয়া তর্কানুরােধে বিপক্ষবাদিগণের উদ্ধত “কিরাত কায়স্থ পাঠ গ্রহণ করিলেও দেখা যায়, ইহা শুক্র- নীতির উল্লিখিত কায়স্থ হইতে পারে না। যাহারা গােখাদক, মুচি জাতির সমশ্রেণী অন্তাজ বলিয়া সম্ভাষণ ও দর্শনের অযােগ্য, তাহারা রাজদরবারে স্থান পাইবে বা তাহাদের সন্তান সন্ততিগণ ব্রাহ্মণগণের সহিত যজ্ঞকাৰ্য্যের সহায়তায় কান্যকুজ হইতে এদেশে আসিয়াছিলেন ও শ্রোত্রিয় ব্রাহ্মণগণ তাহাদের যজন যাজন করিবেন, এরূপ কল্পনাও কেহই করিতে পারেন না। আবার কিরাতকায়স্থ- শব্দের কিরাতদেশীয় কায়স্থ এরূপ অর্থ হয় । কিরাতদেশীয় কায়স্থগণ কোন ব্যবসা না করিয়া “বিচরেষ্ট ইতস্ততঃ” বিচরণ (লুণ্ঠনাদি) দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করিত—এইরূপ অর্থ করিলে উশনঃসংহিতার অর্থের সহিত মিলও হয়। তবে জিজ্ঞাস্য, কিরাত- কায়স্থ জাতি বলিয়া বর্তমানে কোন জাতির অস্তিত্ব আছে কিনা—- থাকিতেও পারে। কিন্তু বর্ধকী,আশাপ, কুটুম্বী, প্রভৃতি কোন্ জাতি সাধারণ্যে বলিতে সক্ষম হইবে কি? কালে কোন কোন জাতি এতই রূপান্তরিত হইয়াছে যে, তাহাদের চিনিয়া লওয়া দুষ্কর ; কিরাতকায়স্থ-উপাধি-চিহ্নিত কোন জাতিকে আমরা দেখিতে পাই- তেছি না বলিয়া সকল কায়স্থের স্কন্ধে এই শ্লোকটী চাপাইতে হইবে * বখা পত্তন কায়স্থ, মাথুর ব্রাহ্মণ, অম্বষ্ঠ কায়স্থ, সারস্বত ব্রাহ্মণ প্রভৃতি।
কি? সুতরাং যে দুটী বচন লইয়া বিরুদ্ধবাদিগণ দণ্ডায়মান, তাহা এতদ্দেশীয় কায়স্থগণের বিরুদ্ধে কোনমতে প্রযােজ্য হইতে পারে না। আগরতলায় ত্রিপুরা-জাতির ক্ষত্রিয়ত্ব লইয়া যে গােলযােগ উপস্থিত হইয়াছিল, তাহাও ত অনেকের স্মৃতিপথ হইতে এখনও বিলুপ্ত হয় নাই। কিন্তু কায়স্থজাতির গুরুত্ব ও পৌরােহিত্য ব্রাহ্মণগণ স্বীকার করিলেন কিরূপে? যাহা রাজার ক্ষমতায় কুলাইল না, কায়স্থগণ অন্ত্যজ বা নীচশ্রেণী হইলে তাহা তাহাদের দ্বারা সম্পন্ন হইল কিরূপে? বর্তমানে কোন কোন বৈদ্যগণের মুখে কায়স্থজাতির প্রতি এক অভিনব নিন্দাবাদ বা শ্লেষবাক্য শুনিতে পাওয়া যায়। তাঁহারা বলেন, “আমাদের বাসার চাকর, দ্বারবা, ভাণ্ডারী, প্রভৃতিরাও আপনাদিগকে কায়স্থ বলে, ইহারাও ঘােষ, বসু ইত্যাদি কায়স্থগণের ন্যায় ক্ষত্রিয় !!” ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রত্যুত্তরে এই মাত্র বলা যাইতেছে যে, অগ্রদানী, গণকমণ, ছাতিয়াল (ছত্রওয়ালা) প্রভৃতিও শূদ্র গােলাম প্রভৃতিরও জলাস্পৃশ্য বণবিপ্রেরা আপনাদিগকে ব্রাহ্মণ বলিয়া পরিচয় দিলে তদ্বারা সমগ্র ব্রাহ্মণসমাজের হীনত্ব বা লঘুতা সূচিত হইতে পারে কি? বৈদ্যজাতির অনেক গােত্র উপাধিধারী অনেকেই কায়স্থ-ব্রাহ্মণের অদ্যাপি গােলাম আছে এবং তাহারা অর্থশালী হইলে প্রকৃত বৈদ্যশ্রেণীভুক্ত হইতে চেষ্টা না করে এমনও নহে, তাই বলিয়া বৈদ্যসমাজের যে সম্মান প্রতিপত্তি আছে, তাহা নষ্ট হইবে কি? দেশ কাল ও অবস্থার পরিবর্তনে বা অর্থাদি প্রদানে তৎগগাত্রীয় কোন বৈদ্যকে বশীভূত করিতে পারিলে, ইহাদের এক- বারে বৈদ্য কুলীন হইয়া যাইবার দৃষ্টান্তও ত এদেশে বিরল নহে। এরূপ কত বৈদ্য হইয়াছে ও হইতেছে। এ সম্বন্ধে কেহ জানিতে চাহিলে আমরা চক্ষুর উপর অঙ্গুলী নির্দেশ করিয়া দেখাইতে পারিব। ?
৮% কিন্তু এস্থলে তা উল্লেখ করিয়া কাহারও মনে কষ্ট দেওয়া গ্রন্থ- কারের অভিপ্রেত নহে। এ সম্বন্ধে “ভারতী” পত্রিকায় ১৩০৯ বাঙ্গালার শ্রাবণ মাসের “বেজ, ও বৈদ্য” নামক প্রবন্ধে বিশেষ উল্লেখ আছে। মহামহােপাধ্যায়গণ ও অনেক ব্রাহ্মণপণ্ডিত শাস্ত্রাদি দৃষ্টে মীমাংসা করতঃ এতদ্দেশীয় কায়স্থগণকে ক্ষত্রিয় বলিয়া ব্যবস্থা দিয়া- ছেন।* বঙ্গদেশের প্রায় সকল জিলাতেই এতদেশীয় ব্রাহ্মণগণ কায়স্থজাতিকে ক্ষত্রিয় বলিয়া স্বীকার করেন—ইহা ব্রাহ্মণের পক্ষ- পাতিত্ব নহে অথবা আপনারা শূদ্রযাজিত্বের অপবাদ হইতে মুক্তি লাভের আশায় ও ক্ষত্রিয়যাজকের গৌরবাকাঙ্ক্ষী হইয়া করেন নাই। ব্রাহ্মণের গৌরব কোন হিন্দুজাতি কখনও পাইতে পারি- বেন না, ইহা স্থির সিদ্ধান্ত। ব্রাহ্মণের পক্ষপাতিতায় কোন লাভ আছে কি ? বৈদ্য ও কায়স্থের জাতীয় উন্নতিতে ব্রাহ্মণসমাজের ক্ষতি বৃদ্ধি নাই। কিন্তু বৈদ্যজাতিগণ কায়স্থের উপর অনেকদিন ধরিয়া খঙ্গহস্ত হইয়া রহিয়াছেন। বৈদ্যগণ যে সকল চাতুরী প্রদর্শন করিয়া আসিতেছেন, কায়স্থগণ তাহা অনায়াসে বুঝিতে পারিয়াও এতদিন নীরবে সহ্য করিয়াছেন; তাহারা বুঝিয়াছেন, সত্যের জয় হইবেই হইবে। কটুক্তির প্রতিবাদ করিবার দরকার কি ? কিন্তু সময়ের গতি যেরূপ তাহাতে প্রতিবাদ না করিলে সাধারণের মনে “মৌনং সম্মতিলক্ষণং” বলিয়া কায়স্থগণের বিপক্ষে * চট্টগ্রামবাসী প্রায় সমস্ত পণ্ডিতগণ বঙ্গবাসী কায়স্থগণ ক্ষত্রিয়শাখার অন্তর্গত বলিয়া যে ব্যবস্থাপত্র দিয়াছেন, তাহা এই পুস্তকের শেষাংশে সন্নিবেশিত হইল।
• যে সকল কথা যাঁহারা লিখিয়া গিয়াছেন, তাহা সত্য বলিয়া গৃহীত হইবার আশঙ্কায় আমি নিম্নে কয়েক খানি পুস্তকের সক্ষেপ-আলাে- চনা করিয়া দেখাইব যে, ইহারা বিদ্বেষ-বুদ্ধি-প্রণােদিত হইয়া ঐ সকল গ্রন্থপ্রচার করিয়াছেন কি না। “কেনচিৎ কবিরঞ্জনেন কৃত জাতিমিত্র” প্রথমতঃ উল্লেখ করি- লাম। এই অপ্রকাশিতনামা কবিরঞ্জন ব্রাহ্মণ কি বৈদ্য, কি কায়স্থ বুঝিতে পারিলাম না। তবে ইনি কায়স্থের প্রতিপত্তি পর্যুদস্ত করি- বার জন্যই যেন লেখনী ধারণ করিয়াছেন। দ্বিতীয়তঃ “বৈদ্যকুল- তত্ত্ব”। ইহা বাবু বিনােদলাল সেন গুপ্ত কর্তৃক প্রণীত ও প্রকাশিত। গ্রন্থকার বৈদ্যকুলতত্ত্ব লিখিতে যাইয়া অনাহুত কায়স্থজাতির উপর অযথা নিন্দাবাদ করিয়া পুস্তিকাখানি ‘মধুরেণ সমাপয়েৎ করিয়া- ছেন। তাঁহার ধান ভানিতে শিবের গীত গাওয়ার কি প্রয়ােজন ছিল? সেন গুপ্ত মহাশয় লিখিয়াছেন (৪৩ পৃঃ) “কেহই আর সংসারে ছােট থাকিতে চাহেন না। স্বীয় বলে “বৰ্মন্ আখ্যা ধারণ করিতেছেন ও আপনাদের পুরােহিতগণকে চিরপ্রচলিত মন্ত্রাদি ত্যাগ করিয়া নূতন মন্ত্র, দাসপরিবর্তে বৰ্মন্ বলিয়া মন্ত্র পাঠ করাইতে আদেশ করাইতেছেন, যুগীরা পৈতা পরিতেছে” ইত্যাদি। লেখার ভাবে বােধ হয়, কাহারও বুঝিবার বাকী রহিল না যে “ঠাকুর ঘরে কে ?—আমি কলা খাই না।” ইহা গ্রন্থকারের অন্তরাত্মার কথা পরের ঘাড়ে চাপাইয়া বলা হইয়াছে। আমরা এ দেশের কায়স্থের মধ্যে কোন পরিবর্তন দেখিতেছি না, বরং বৈদ্যেরাই কখন বৈশ্য- রীতি, কখন ব্রাহ্মণ হইবার চেষ্টায় আছেন। “দাস দাস” শব্দের পরিবর্তে “দাসগুপ্ত” “সেন দাস” স্থলে সেনগুপ্ত” ও “দাসী” স্থলে “দেবী” ইত্যাদি পাঠ করিবার জন্য পুরােহিতকে আদেশ করিতে } ছেন। নিজের সাত পুরুষ উপবীত ধারণ না করিয়া পুত্রদিগকে উপবীত দিতেছেন। সেন গুপমহাশয়কে পৈতার ভারে ভারাক্রান্ত হইতে দেখিয়া বিপরীত সিদ্ধান্ত মনে হয়। যে ব্যক্তি কোন কাৰ্য কখনও করে নাই, তাহাকে নুতন কাজ দিলে যেন তাহার ভারের পরিসীমা থাকে না, তদ্রুপ বৈদ্যগণ যজ্ঞসূত্রের ভারে কাতর হইয়া পড়িয়াছেন। বৈদ্যকুলতত্ত্বে বৈদ্য, ব্রাহ্মণগণের সমশ্রেণিকতা দেখাইবার অভিপ্রায়ে গ্রন্থকার লিখিয়াছেন, “ব্রাহ্মণ ও বৈদ্যগণ আর যজ্ঞসূত্র ধারণ করিতে চাহেন না, অনেকদিন হইতে গুরুভার বহন করিয়া কাতর হইয়া পড়িয়াছেন। স্কন্ধের ভার নামাইতে অনেকের ইচ্ছা।” এই সমশ্রেণিকতা “শ্বানং যুবানং মঘবানমাহ” পাণিনির একই সূত্রে গ্রথিতবৎ প্রতীয়মান হয় কি না, সুধীগণের বিবেচ্য। বৈদ্যগণের পৈতা-ধারণের কাল কতদিন? যে আদিশূর ও বল্লাল- সেনকে লইয়া এত টানাটানি, তাঁহাদের বয়ঃক্রমই বা কত? এখনও সকল বৈদ্যগণের উপবীত নাই। একমাস অশৌচ অনেকেই গ্রহণ করেন। কিন্তু উপবীতরহিত ও পনরদিন বা একমাসাশৌচবিশিষ্ট কোন ব্রাহ্মণ থাকিতে পারে কি না, কেহ কল্পনাও করিতে পারেন । হিন্দুধৰ্ম্মে থাকিয়া কোন ব্রাহ্মণকে পৈতার ভারে ভারাক্রান্ত হইয়া কাতর হইতে শুনি নাই; তবে অনভ্যস্ত বিষয়ে অন্য জাতির উদ্বেগ হইবার কথা অবিশ্বাস্য নহে। এরূপ বাহাদুরীর নাম বােকামী ভিন্ন কি বলা যাইতে পারে ? গ্রন্থকার পুস্তকের শেষ পৃষ্ঠায় আপনার লেখার অসারত্ব বুঝিতে পারিয়াও প্রকারান্তরে আত্মমত সমর্থন করিতেছেন, “মহারাজ আদিশূর, বল্লাল ও লক্ষ্মণসেন বৈদ্যজাতির গৌরব-রত্ন অযথারূপে ক্ষত্রিয় বা কায়স্থ বলিলে আন্তরিক কষ্ট হয়। তজ্জন্য ইহাদের বিষয়ে কয়েকটা প্রমাণ প্রয়ােগ দর্শাইতে হইলেও J% বােধ হয় কেহ অপ্রাসঙ্গিক মনে করিবেন না।” তাহার এই দোহাই শুনিবে কে? তিনি যে ইহা অপ্রাসঙ্গিক ভাবে ইচ্ছাপূৰ্ব্বক কায়স্থ- জাতিকে নিন্দা করিবার জন্য লিখিয়াছেন, তাহা কাহারও বুঝিবার বাকী নাই। কায়স্থের সম্পর্কে শাস্ত্রীয় প্রমাণ ত দেখিলাম না, প্রয়ােগের মধ্যে কেবল গালাগালিমাত্রই দেখা গেল। গ্রন্থকার সংস্কৃত শাস্ত্রে বিশেষ ব্যুৎপন্ন, তাহার বিদ্যা, বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ঋজুপাঠ ও উপক্রমণিকার অনেক উপরে। সুতরাং ভাষা ও ব্যাকরণে তঁহার যথেষ্ট জ্ঞান আছে। পাঠকগণ আমরা তাঁহার বিদ্যার একটু পরিচয় দিতেছি— ৪৫ পৃঃ) “আদিশূরের যােগার্থ দেখিলেও ইহাই প্রতিপন্ন হয় যে, বৈদ্যদিগের মধ্যে ইনি আদি রাজা বলিয়া আদিশূর নাম হইয়াছে। ফলতঃ সত্য বিষয়ের যুক্তি প্রমাণের অভাব হয় না।” আমরাও বলি সত্যবিষয়ের যুক্তিপ্রমাণের অভাব হয় না। কিন্তু এমন অদ্ভুত যুক্তি আমরা আর কখনও শুনি নাই। বৈয়াকরণিকমাত্ৰই আদিশূর শব্দের যােগাৰ্থ ধরিয়া এরূপ অর্থ করিবেন যে, শূরের মধ্যে যিনি আদি তিনিই আদিশূর, বৈদ্যের আদি রাজা কোথায়পাইলেন ? বাহাবা ব্যাকরণ-জ্ঞান! দিন কতক পরে আদি কবি শব্দের যােগাৰ্থ ধরিয়া কোন কোন অগাধ সংস্কৃতজ্ঞ কবিরাজ উক্ত নজির খাটাইয়া অনায়াসে বাল্মীকিকে বৈদ্যগণের মধ্যে ইনি আদি বলিয়া “আদিকবি” নাম হইয়াছে, এরূপ প্রতিপন্ন করিবেন, বিচিত্র কি ? সুতরাং কবির মধ্যে আদি বলিয়া আদি কবি শব্দের যােগাৰ্থ বুঝাইতে আদিশূর শব্দের ন্যায় অত গণ্ড- গােলে যাইতে হইবে না। আবার গ্রন্থখানি সুকুমার-মতি বৈদ্য- বালকগণের শিক্ষার্থ অবতারিত করিয়া তিনি নিজে যেরূপ শ্রমে ও বিদ্বেষানলে পতিত হইয়া দলাদলির সৃষ্টি করিতে প্রস্তুত হইয়াছেন, • ভারতের ভবিষ্যৎ আশস্থল যুবকবৃন্দের মধ্যেও সেই বিষবৃক্ষের অঙ্কুর বােপণ করিয়া যাইতেছেন। “কায়স্থ-প্রদীপ” গ্রন্থখানির নামের দ্বারায় ইহা কায়স্থের গৌরবপ্রকাশক গ্রন্থ হইবে বােধ হয় ; গ্রন্থকারের নাম নির্বাচনের চাতুরী ও লিখার ভাব ভঙ্গিতে উহাতে প্রদীপার্থ প্রকাশিত না হইয়া প্রতীপার্থ ( বিপরীতার্থ) প্রদর্শিত হইয়াছে। তাহার পর শ্রীযুক্ত আনন্দচন্দ্র দাস গুপ্ত প্রণীত “ডাকৈর,” ইহাতেও বৈদ্য সম্বন্ধে লিখিতে যাইয়া যে দুই এক কথা কায়স্থকে বলা হয় নাই এমন নহে। এরূপ কায়স্থগণের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক পুস্তক পুস্তিকা প্রকাশিত হইয়াছে যে তাহাদের সমালােচনা করি- বার এস্থলে অবকাশ নাই। সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলির বাদানুবাদ সম্পর্কে কোন কথা না বলিলেও প্রসিদ্ধ মাসিক পত্রিকা “ভারতী” ১৩০৯ বাং আষাঢ় মাসের বৈদ্যজাতির ইতিবৃত্তশীর্ষক প্রবন্ধখানি উল্লেখযােগ্য। ব্রাহ্মণলেখক শ্রীযুক্ত বাবু সত্যপ্রকাশ ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের লেখার প্রতিবাদ করিতে যাইয়া বৈদ্যপুঙ্গব সম্মানিত মিশ্র ও গয়ালী ব্রাহ্মণগণকে আপনাদের মিশ্র জাতিতে টানিয়া লইয়া অবনমিত করিয়াছেন এমন নহে; প্রত্যুত বাদানুবাদে অসংশ্লিষ্ট কায়স্থ জাতির উপরও বিষম আক্রমণ করিয়া কতকগুলি হিংসাপূর্ণ ও মিথ্যা বিষয়ের অবতারণা করিয়াছেন। নব্য-স্মৃতি-প্রবর্তক রঘু- নন্দনের মতে কেবল দুই জাতি দৃষ্ট হয়। ব্রাহ্মণ ও এতদ্ভিন্ন সকলেই শূদ্র। ক্ষত্রিয় বা বৈশ্যগণকে তিনি এক ফুৎকারে উড়াইয়া দিয়াছেন। ভারতের অন্যান্য প্রদেশে অদ্যাপি ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য আছে, তিনি উড়া- ইয়া দিলেও উড়িয়া যাইবে কি? চাতুৰ্বর্ণ লইয়া হিন্দুসমাজ গঠিত। তিনি কায়স্থকে কখনও শূদ্র বলিয়া সিদ্ধান্ত করেন নাই। শনৈঃ শনৈঃ ক্ৰিয়ালােপহেতু বিশেষতঃ ব্রাহ্মণ (বেদ) অদর্শনহেতু বৃষলত্ব ।
॥ ! অর্থাৎ শূদ্ৰত্ব পাইয়াছেন, এরূপ বলেন। সেই হিসাবে বর্তমানে, কোন জাতিকে আপন আপন শাস্ত্রানুমােদিত,পথে চলিতে দেখা যায় কালমাহাত্মে সকলকেই আচারভ্রষ্ট হইতে হইয়াছে বলা যাইতে পারে। তাহা বলিয়া জাতিভ্রষ্ট হইয়াছে, এরূপ বলা যাইতে পারে না। যাহা হউক, রঘুনন্দন, বঙ্গের তৎকালিক জনৈক ব্রাহ্মণ পণ্ডিত মাত্র। তিনি মুনিঋষি নহেন। ঋষিবাক্য ও বেদবাক্য উপেক্ষা করিয়া তাহার মতকে গ্রহণ করিতে হইবে, এমন কোন কথা হইতে পারে না। বর্তমানে মহামহােপাধ্যায় শ্রীযুক্ত কামাখানাথ তর্ক- বাগীশ, মহামহােপাধ্যায় শ্রীযুক্ত চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কার, মহামহােপাধ্যায় শ্ৰীযুক্ত কৃষ্ণনাথ ন্যায় পঞ্চানন, মহামহােপাধ্যায় শ্রীযুক্ত কৈলাসচন্দ্র শিরােমণি (কাশীধামনিবাসী) পণ্ডিত পঞ্চানন তর্করত্ন, রাজ- কুমার তর্করত্ন প্রভৃতিপ্রমুখ মহামহােপাধ্যায়গণ এতদ্দেশে কায়স্থগণকে ক্ষত্রিয় বলিয়া ব্যবস্থাপত্র প্রদান করিয়াছেন। ইহারা এক একজন রঘুনন্দনের সমকক্ষ। ইহাদের মতও রঘুনন্দনের ন্যায় গৃহীত না হইবে কেন? আর একটা কথা এই—অনেকেরই বিশ্বাস, বঙ্গের বৈদ্য-নাম- ধারিগণ ও কায়স্থগণ একজাতি, একই মূলবৃক্ষের দুটী শাখা। তাহাদের মতে ঘােষ, বসু, গুহ, মিত্রগণ বল্লালের কৌলিন্য পাইয়াছেন। যাহারা উক্ত কৌলীন্য-মৰ্য্যাদা লাভ করিতে পারেন, নাই (অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত-নিকৃষ্টগণ) সুবিধামতে কতক বৈদ্য- শ্রেণী ও কতক কায়স্থ বলিয়া পরিচয় দিতে লাগিলেন, তাহাতে ঘােষ, বসু, গুহ, মিত্র ব্যতীত অন্যান্য উপাধি কায়স্থ ও বৈদ্য- শ্রেণীতে পরিলক্ষিত হয়। যাহারা এই মত সমর্থন করেন, তাঁহারা ইহা বলেন যে, বৈদ্যগণের সহিত ব্রাহ্মণের সম্বন্ধ এককালে না হইয়া এবং অন্যান্য জাতির সঙ্গেও আদান-প্রদান অধিক না হইয়া কায়স্থগণের সহিত আদান-প্রদানের বাহুল্য ইহার অন্যতম কারণ। ইহা সম্পূর্ণরূপে আমি অনুমােদন না করিলেও ইহাতে যে কিছুমাত্র সত্য নাই, এমনও বলা যায় না। আমরা বিশ্বস্তসূত্রে অবগত হইলাম, চট্টগ্রামের বৈদ্যজাতীয় কোন কোন পদস্থ ব্যক্তি গত আদম শুমারীতে আপনাদিগের প্রাধান্যস্থাপনের চেষ্টায় স্বজাতীয় অপেক্ষাকৃত নিম্নপদস্থ ও দরিদ্র ব্যক্তিগণকে মাধ্যমিক শ্রেণী (Intermediate class) পরিকল্পিত করিয়া “ঠ বাছিতে গ্রাম উজাড় করিতে চেষ্টা করিতেছেন; এবং সেই সঙ্গে কায়স্থজাতির উপরও কটাক্ষপাত করিতে ছাড়েন নাই ; ইহাতে যেমন আত্মবিদ্রোহের বীজ বপন করা হইয়াছে, তদ্রুপ কায়স্থ-বৈদ্যের মধ্যেও দলাদলির (যাহা এত কাল এতদ্দেশে ছিল না) সূত্রপাত করা হইয়াছে। বিশেষতঃ এতদ্দেশীয় জনৈক বৈদ্য চট্টগ্রামের নামতঃ ইতিবৃত্ত লিখিতে যাইয়া কাৰ্যতঃ কায়স্থজাতির বিরুদ্ধে তাঁহার হৃদয়ের বিদ্বেষভাব, পরে চাপা দিতে চেষ্টা করিলেও, গ্রন্থমধ্যে অঙ্কিত করিয়া পুস্তকের কলেবর চিরকালের জন্য কলঙ্কিত করিয়া রাখিয়াছেন। “জাতি মিত্র” হইতে “ইতিবৃত্ত” পৰ্য্যন্ত গ্রন্থে জাতিবিশেষের প্রাধান্যস্থাপনের জন্য অন্য জাতিকে যেরূপ নিন্দা বা অপদস্থ করিতে চেষ্টা করা হইয়াছে, তাহা কখনও বুদ্ধিমানের কর্তব্য নহে। এরূপ বিবাদ বিসম্বাদ ঘটাইবার জন্য যাহারা প্রয়াসী হইয়াছেন, তাঁহারা দেশের ভয়ানক শত্রু। নানা রকম নিন্দাবাদ করিতে সকলেই সক্ষম, তবে গায়ে পড়িয়া নিন্দা করা ও কাহাকে নিন্দা করিলে তাহাকে উচিত জবাব দেওয়ায় কিছু পার্থক্য আছে।
; বিশেষতঃ কায়স্থজাতি শাস্ত্রীয় প্রমাণবলে বলীয়ান ; তাই ইহারা কোন জাতিকে নিন্দা করিয়া বা তুলনা দিয়া বড় হইতে কোনকালে চেষ্টা করেন নাই, করিবেনও না। কায়স্থেরা চিরকালই ব্রাহ্মণের শিষ্য বা সেবক, ব্রাহ্মণেরাই ইহঁদের গুরু পুরােহিত রহিয়াছেন; এক্ষণ বৈদ্যজাতিই তাঁহাদের কথিত মতে বৈশ্যই হউন বা ব্রাহ্মণ হউন অথবা ব্রাহ্মণ হইতে উচ্চে উঠুন, তাহাতে কায়স্থদের ক্ষতি বৃদ্ধি নাই। তবে এই পুস্তকে অথবা নিন্দাবাদকারিগণের উত্তরােত্তর আস্পর্ধা বৃদ্ধি হইতেছে দেখিয়া তাঁহাদের শিক্ষার স্বরূপ অনিচ্ছাস্বত্ত্বেও বাধ্য হইয়া দেশীয় রীতি নীতি ও ব্যবহার- দৃষ্টে ও শাস্ত্রীয় প্রমাণ ও অন্যান্য বহুবিধ গ্রন্থের মতানুসরণ করিয়া যৎকিঞ্চিৎ প্রত্যুত্তরের আভাস দিয়াছি মাত্র। কোন জাতি- বিশেষের মনে কষ্ট দেওয়া বা হেত্ব প্রতিপাদন করা গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য নহে। উপসংহারে জানাইতেছি যে বেদ, মহাভারত, মাদি বিংশতি সংহিতা, স্কন্দ, পদ্ম, ভবিষ্য, গরুড় প্রভৃতি পুরাণ, বিজ্ঞানাদি তন্ত্র, রাজতরঙ্গিণী, কথাসরিৎসাগর প্রভৃতি সংস্কৃত ইতিহাস, মৃচ্ছকটিক প্রভৃতি নাটক, নৈষধচরিত প্রভৃতি মহাকাব্য, আইন আকবরি, টেলার সাহেবের ভ্রমণবৃত্তান্ত, মিশকারিকা প্রভৃতি কুলগ্রন্থ, অমরকোষ, বিশ্বকোষ (শ্রীযুক্ত বাবু নগেন্দ্রনাথ বসু-সঙ্কলিত ), বাচস্পত্য, শব্দকল্পদ্রুম প্রভৃতি অভিধান, ভরতমল্লিকপ্ৰণীত চন্দ্রপ্রভা ও রত্নপ্রভা বহুবিধ কুলগ্ৰন্থ ও কায়স্থবৈদ্যজাতি সম্বন্ধে পুস্তক, সাময়িক পত্র ও শ্ৰীযুক্ত বাবু দীননাথ শাস্ত্রী মহাশয় প্রণীত বৈদ্যরহস্য ইত্যাদি অতীব যত্নসহকারে বহু পরিশ্রমে পৰ্যবেক্ষণ ay করিয়া, ইহা সঙ্কলন করিয়াছি। এই গ্রন্থ পাঠে পাঠকগণ যৎ- কিঞ্চিৎ প্রীতিলাভ করিলেও শ্রম সফল মনে করিব। অলমতি বিরেণ। চক্রশালা, চট্টগ্রাম ২রা শ্রবণ-১৯০৯ বাং গ্রন্থকার।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
গণেশ-বনা।
নমঃ খৰ্ব্ব-স্থূলতনু
বরণ তরুণভানু
গজেন্দ্রবন লম্বােদর।
প্রত্যন্দন-মদগন্ধ লােলুপমধুপবৃন্দ
গগুস্থলে ঘুরে নিরন্তর।
দস্তাঘাত-বিদারিত অরি-রুধির-রঞ্জিত
সিন্দুর জিনিয়া শােভাকর।
বন্দে শৈলসুতা-সুত
গণপতি গুণযুত
সিদ্ধিদাতা ব্ৰহ্ম পরাৎপর ।
হের-চরণ-দ্বন্দ্বে রচিয়া ত্রিপদী ছন্দে
পূর্ণচন্দ্র করে আকিঞ্চন।
নানাবিধ শাস্ত্র দেখি, তত্ত্ব-তরঙ্গিণী লিখি
ভাষাতে করিয়া বিরচন ॥
বাণী-বন্দনা।
নমি আমি পদাথুজে দেবি সরস্বতি।
জানি লিখিতে মাগাে নাহি জানি স্তুতি।
তরঙ্গিণী মাঝে পড়ি আছি দুরাশায়।
তুমি বিনা বীণাপাণি না দেখি সহায়।
২
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী
দেব-বি-পদে নমি করি যােড়পাণি।
ইচ্ছা মম লিখিবারে তত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
প্রথম লহরী।
-(৩)C*C(c)
হিন্দু ভিন্ন হিন্দুতত্ত্ব কেহ নাহি জানে।
লিখা আছে বেদ-তন্ত্রে আগম-পুরাণে।
ভিন্ন জাতি কি করিবে জাতির বিচার।
হিন্দুধর্মে বিজাতির নাহি অধিকার।
শাস্ত্রমতে ব্রাহ্মণেরা যে কথা বলিবে।
সেই সে প্রকৃত কথা সকলে মানিবে ।
ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য শূদ্র এই চারি।
মূল জাতি হয় দেখ শাস্ত্রাদি বিচারি।
ব্রাহ্মণের মধ্যে যথা নানা সম্প্রদায়।
ক্ষত্র-বৈশ্য মাঝে সেই মত দেখা যায়।
অসিজীবী মসীজীবী ক্ষত্রিয়ের ভেদ।
কায়স্থ ক্ষত্রিয়জাতি লিখিয়াছে বেদ।
বাহু হতে ক্ষত্রিয়ের হয়েছে জনম।
করেছে কায়স্থরূপে লেখনীচালন ও
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী
৩
চিত্রগুপ্ত স্বর্গে আছে বিচিত্র ভূমিতে।
চৈত্ররথ জনমিল বিচিত্র হইতে।
কুলের দীপক জ্ঞানী মহাতেজোময়।
গৌতমের শিষ্য হয়ে চিত্রকূটে রয়।
তাহাতে কায়স্থবংশ বাড়িল ক্রমেতে।
বিস্তৃত হইল পরে বিশাল ভারতে। (১)
এইরূপে আদি গ্রন্থ বেদেতে নির্ণয়।
কায়স্থ ক্ষত্রিয়জাতি নাহিক সংশয়।
পুরাণে কায়স্থ-কথা কিবা দেখা যায়।
সংক্ষেপ করিয়া আমি লিখিব তথায় ।
গঙ্গার তনয় ভীষ্ম শান্তনুনন্দন।
মহাজ্ঞানী মহাবীর জানে সর্বজন। (২)
(১) বাশ্যে ক্ষত্রিয়া জাতাঃ কায়স্থ জগতীতলে।
চিত্রগুপ্তঃ স্থিতঃ স্বর্গে বিচিত্রে ভূমিমণ্ডলে।
চৈত্ররথঃ সুতন্তস্য যশস্বী কুলদীপক।
ঋষিবংশে সমুদ্ভূতত
গৌতমাে নাম সমঃ।
তস্য শিযয্যা মহাপ্রাজ্ঞশ্চিত্ৰকুটাচলাধিপঃ।
যজুর্বেদ-আপস্তম্বশাখা।
(২) ত্রিকালজ্ঞং মহাপ্রাজ্ঞং পুলস্ত্যং মুনিপুঙ্গবং।
উপসঙ্গম্য পপ্ৰচ্ছ ভীষ্মঃ শস্ত্রভৃতাম্বরঃ।
ইত্যাদি বাচম্পত্য-শব্দকল্পদ্রুমধত ভবিষ্যপুরাণবচনং দ্রষ্টব্য।
৪
কায়স্থতত্ত্ব-রঙ্গিণী
কায়স্থের বিবরণ শুনিবার তরে।
সমে জিজ্ঞাসা করে পুলস্ত্য মুনিরে ।
শুনিতে বাসনা প্রভু হয়েছে আমার।
কিরূপে কায়স্থজাতি জগতে প্রচার ॥
শুনিয়া ভীষ্মের বাণী পুলস্ত্য তখন।
কহিতে লাগিলা তারে সব বিবরণ।
প্রথমে করিয়া ব্ৰহ্মা সৃষ্টির পত্তন।
অনাদির তপস্যায় পুন দিলা মন।
এগার হাজার বর্ষ রহে তপস্যায় ।
জন্মিল পুরুষ এক হ’তে ভঁর কায় । (৩)
(৩) দশবর্ষসহস্রাণি দশবর্ষশনি চ।
স সমাধিং সমাধায় স্থিতােহভূৎ কমলাসনে।
তচ্ছরীরাহাবাহুঃ শ্যামঃ কমললােচনঃ।
কস্তুগ্রীবে গৃঢ়শিরাঃ পূর্ণচন্দ্রনিভাননঃ।
লেখনীচ্ছেদনী হস্তে। মসীভাজনসংযুতঃ।
পুরুষ উবাচ।
উৎপন্নো বিধিনা নাথ তচ্ছরীয়ান্নসংশয়ঃ ।
নামধেয়ং হি মে তাত বন্ধুমহন্ততঃ পরম্ ।
যথােচিতঞ্চ যৎ কাৰ্যং তৎ ত্বং মামনুনুশাসয় ।
ব্ৰহ্মোচ।
মচ্ছরীরাৎ সমুদ্ভূতস্তম্মাৎ কায়স্থসংজ্ঞকঃ।
চিত্রগুপ্তেতি নামা বৈ খ্যাতত ভুবি ভবিষ্যসি।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী
শ্যামল বরণ পদ্মপলাশলােচন।
কস্তু জিনি মনােহর গ্রীবা সুগঠন।
গৃঢ়শিরা মুখশােভা পূর্ণচন্দ্র জিনি।
মসীপাত্র হাতে আর লেখনী ছেদনী।
ধ্যানভঙ্গে প্রজাপতি চক্ষু মেলি চায়।
কায় পুরুষ স্তরে বিনয়ে সুধায়।
তব কায়া হ’তে মম হয়েছে জনম।
কিবা নাম হবে বল কিবা কাৰ্য্য মম।
শুনি
সুমধুর বাণী তাঁর মুখ হ’তে।
মিষ্টভাষে ব্রহ্মা তারে লাগিলা কহিতে ।
হয়েছে উৎপত্তি তব মম কায় হ'তে।
এ হেতু কায়স্থ নাম ঘােষিবে জগতে।
চিত্রগুপ্ত নাম আমি দিলাম তােমারে।
ধৰ্ম্মরাজ্যে ধৰ্ম্মাধৰ্ম্ম-বিচারের তরে।
ধৰ্ম্মাধর্মবিবেকাৰ্থং ধৰ্ম্মরাজপুরে সদা।
স্থিতির্ভবতু তে বৎস মমাজ্ঞা প্রাপ্য নিশ্চলাম্।
ক্ষত্ৰবলাচিত ধর্ম পালনীয়াে যথাবিধি।
প্রজাঃ সৃজস্ব ভােঃ পুত্র ভুৰি ভারসমাহিতঃ।
তস্মৈ দা বরং ব্রহ্মা তত্রৈবান্তরধীয়তঃ।
ইত্যাদি ভবিষ্যপুরাণে দ্রষ্টব্যং।
।
৬
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
ধৰ্ম্মের সভায় নিরূপিত হল স্থান।
তথায় করহ তুমি বিচার বিধান।
প্রজা সব সৃষ্টি কর তুমি পৃথিবীতে।
ক্ষত্ৰধৰ্ম্ম ক্ষত্ৰকৰ্ম্ম তােমার বংশেতে।
ক্ষত্রিয়ের মত হবে তব ব্যবহার।
ক্ষত্ৰ বলি তব বংশ ঘােষিবে সংসার।
এ বলিয়া পদ্মযােনি অন্তর্ধান হন।
পৃথিবীতে কায়স্থের হইল সৃজন।
চিত্রগুপ্তসুত অষ্ট নানা গুণধাম।
একে একে করি আমি সবাকার নাম ।
ভট্টনাগর অহিষ্ঠান সেনক অষষ্ঠ।
বাস্তব্য মাথুর গৌড় শকসেন অষ্ট।
সকল সন্তানে তিনি উপদেশ দিয়া।
ধৰ্ম্মরাজ-সভামাঝে গেলেন চলিয়া ।
এরূপে কায়স্থজাতি হইল ধরায়।
ক্ষত্র বলি পরিচয় দিলেন ব্রহ্মায় ॥
ছিলেন সৌদাস রাজা ধরণীমণ্ডলে।
বড় দুরাচারী বলি সর্বলােকে বলে ?
কার্তিকের শুক্লপক্ষ দ্বিতীয়া তিথিতে।
চিত্রগুপ্ত পূজা করে সকল লােকেতে ।
পূজিয়া সৌদাস রাজা সেই দিনে তায়।
সৰ্ব্ব পাপ মুক্ত হয়ে দিব্যধামে যায়।
কায়স্থত-তরঙ্গিণী
৭
এই সব শুনি ভীষ্ম গঙ্গার নন্দন।
কার্তিকেতে চিত্রগুপ্ত করেন পূজন। (৪)
ভবিষ্যপুরাণে আছে এইরূপ মত।
অন্যরূপ গুণ পদ্মপুরাণসম্মত।
চিত্রগুপ্ত মসীপাত্র লেখনী সংহতি।
ধৰ্ম্মরাজ সভামাঝে করেন বসতি। (৫)
প্রাণীদের সদসৎ করিতে লিখন।
যজ্ঞভাগ ব্ৰহ্মা তারে করান অর্পণ।
সেই হেতু বেদাচাররত যত দ্বিজে।
মর্ত্যলােকে ভক্তি করি চিত্রগুপ্তে পূজে।
অনেক গােত্রেতে ভাগ তার বংশ হয়।
ধৰ্ম্ম কৰ্ম্ম সদাচারে রত সদা রয়।
) মসীভাজনসংযুক্তঃ সদা চরসি ভূতলে।
লেখনীচ্ছেদনীহস্ত চিত্রগুপ্ত নমােন্তু তে।
বাচস্পত্যশব্দকল্পদ্রুমােক্তভবিষ্যপুরাণং দ্রষ্টব্যং
৫) দিব্যরূপঃ পুমান বিভ্ৰৎ মসীপাত্ৰঞ্চ লেখনীং।
চিত্রগুপ্ত ইতি খ্যাতত ধৰ্ম্মরাজসমীপতঃ।
প্রাণিনাং সদসৎ কর্মলেখায় স নিরূপিতঃ।
ব্ৰহ্মণাতীন্দ্রিয়াে জ্ঞানী দেবাগ্ন্যোৰ্যজ্ঞভুক্ স বৈ।
ভােজনাচ্চ সদা তম্মাদাহুতিদীয়তে দ্বিজৈঃ।
নানা গােত্রাশ্চ তদ্বংশ্যাঃ কায়স্থা ভুৰি সন্তি বৈ
পদ্মপুরাণ-ষ্টিখণ্ড।
কায়স্থতত্ত্ব-তুরঙ্গিণী
পাতালখণ্ডেতে আর গরুড়পুরাণে।
এইরূপ লিখা আছে জানে সুধীগণে।।
চিত্রগুপ্ত লিখে জীবললাটে লিখন।
মনুষ্যের পাপ-পুণ্য করেন দর্শন। (৬)
চিত্রগুপ্ত-পুরীখানি যােজন বিংশতি।
অনেক কায়স্থ তথা করেন বসতি। (৭)
যেরূপে কায়স্থ জাতি জগতে বিস্তৃত।
পদ্মপুরাণেতে তাহা আছে এই মত ।
আদি বিষ্ণু হতে ব্রহ্মা লভিয়া জনম।
এ বিশাল ধরারাজ্য করিলা সৃজন।
চিত্র ও বিচিত্র দুই হ’ল তাহা হ'তে।
ধৰ্ম্মরাজ মন্ত্রী হয়ে রহিল স্বর্গেতে। (৮)
(৬) চিত্রগুপ্তেন লিখিতা ললাটে যা লিপিঢ়া।
তয়া লিপ্যাতু নিয়তং নরকং কথমন্যথা।
পদ্মপুরাণ-পাতালখণ্ড।
(৭) চিত্রগুপ্তপুরং তত্র যােজনানান্তু বিংশতিঃ।
কায়স্থান্ত। পশ্যন্তি পাপপুণ্যানি সর্বশঃ।
গরুড় পুরাণ-উত্তরখণ্ড।
(৮) চিত্রে বিচিত্র ইতি তৎ বিজ্ঞপ্তী ভাবুভাপি।
ধর্মরাজস্য সচিবৌ সৃষ্টাবশ্য তু বেধসা।
অসং দণ্ডনেতারে নৃপনীতিবিচক্ষণৌ।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
শান্তিসংস্থাপক পেঁাহে সত্যপরায়ণ।
কায়বর্তী ষড় রিপু করিয়া দমন ।
কায়স্থ উদ্ভব করে একুশ প্রকার।
পরেতে লিখিব আমি নাম তা সবার।
একদা কহিলা দোহে ব্রহ্মার সদনে।
কহ দেব মােদেরে সৃজিলা কি কারণে।
কিবা কাৰ্য্য আমাদের হব কোন জাতি।
কি বলিয়া পৃথিবীতে হইবেক খ্যাতি।
শুনিয়া তখন ব্রহ্মা করেন বিধান।
অসিজীবী মসিজীবী উভয়ে সমান ।
তােমরা দ্বিজাতি মধ্যে হবে পরিণত।
ক্ষত্রিয় বলিয়া দেহে হবে অভিহিত ।
যথার্থবাদিনাে স্যাং শান্তিকৰ্ম্মণি তাবুভৌ।
কায়স্থসংজ্ঞয়াখ্যাতৌ সৰ্ব্বকায়স্থপুৰ্বিণৌ। ইত্যাদি
পদ্মপুরাণীয় পাতালখণ্ডে দ্রষ্টব্যং।
কায়স্থমধিকৃত্য পদ্মপুরাণীয় পাতালখণ্ডে
ব্রহ্মোচ।
অনেকব্যবহার ক্ষত্রিয়া সন্তি তত্র বৈ।
তেষামুক্তমাং যায়াৎ কায়স্থােইক্ষরজীবিকঃ।
ভবন্তৌ ক্ষত্রবর্ণস্থৌ দ্বিজন্মানৌ মহাশয়ে।
কৃতােপৰীতিনে স্যাং বেদশাস্ত্ৰাধিকরিণৌ। ইত্যাদি।
১০
কারস্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
ক্ষত্রিয়ের যেই মতে আছয়ে আচার।
তােমাদের সেই মত হবে ব্যবহার।
সূৰ্য্যদেব আরাধনা করে দুইজন।
সন্তুষ্ট হইয়া তিনি দেন দরশন।
তার বরে চিত্র এক লভিল কুমার।
সূৰ্য্যধ্বজ চিহ্ন হ’ল শরীরে তাহার ।
সূৰ্য্যধ্বজ নাম তার হ’ল সে কারণে।
তাহার নামেতে বংশ বিখ্যাত ভুবনে।
(৯)
কুলের দেবতা সূৰ্য পূজ্য অতিশয় ।
ধর্মকর্মে এই বংশে সদা মতি রয়।
চন্দ্রহাস কায়স্থের শুন ইতিহাস।
পুরা কালে ছিল রাজা নামে চন্দ্রহাস । (১০)
কুলের দেবতা চন্দ্রে পূজিলা বিস্তর।
সন্তুষ্ট হইয়া চন্দ্র তাকে দিলা বর।
চন্দ্রকূট পর্বতের অধীশ্বর হবে।
তােমার নামেতে বংশ জগতে ঘােষিবে।
(৯) প্রথম পুরুষো জ্ঞেয়াে যথার্থস্থাননামবান্।
চিত্রদেবশ্য সংকল্লাৎ পুমা স্বয়মজায়ত। ইত্যাদিকং
পদ্মপুরাণ-পাতালখণ্ডে দ্রষ্টব্যং।
(১০) দ্বিতীয়স্তু সবিজ্ঞেয়শ্চন্দ্রহাস উদারধী।
চিত্রগুপ্তাখ্যকো জাতিৰ্যথা সুৰ্য্যধ্বজোহভবৎ।
ইত্যাদি তত্রৈব দ্রষ্টব্যং।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
এ বলিয়া চন্দ্রদেব অন্তর্ধান হন।
চন্দ্রহাস কায়স্থের এৰূপে সৃজন ।
সুরি চন্দ্রাদ্ধ, চন্দ্রদেহ, রবিদাস আর।
রবি-রত্ন, রবিধীর হইল প্রচার।
রবিপূজক, গম্ভীর, প্রভু যে দশম।
বল্পব উদার হাস হইল জনম।
মধুমান ভট্ট সুভট্ট আনন্দ শ্রীগৌর।
রাজধানা, সন্ত্ৰম জন্ময় অতঃপর ।।
বিশ্বাস পঞ্চতত্ত্বজ্ঞ এই কয় জন।
প্রত্যেকেই বিংশ বংশ করিল সৃজন
কায়স্থে ক্ষত্রিয়ে ভেদ নহে কদাচন।
বিস্তারিত শুন সবে তার বিবরণ ॥
কমলাকর-ভ্রাতুস্পুত্র গাগাভট্ট নাম।
লিখে গিয়েছেন তিনি দেখিয়া পুরাণ ।
ব্ৰহ্মকায় হতে জন্ম করাতে গ্রহণ।
কায়স্থ বলিয়া তাই ঘােষে ত্রিভুবন। (১১)
বিষ্ণু যাজ্ঞবল্ক্য পরাশর আদি স্মৃতি।
পুরাণাদি বাখানিছে কায়স্থের জাতি। (১২)
(১১) ব্ৰহ্মকাষােবাে যম্মাৎ কায়স্থাে জাতিরুচ্যতে।
নানা গােত্রাশ্চ তদ্ধংশ্যাঃ কায়স্থা ভুৰি সন্তি বৈ।”
গাগাভট্টকৃত-কায়স্থধর্মপ্রদীপে।
(১২) অথ লেখ্যত্রিবিধং রাজসাক্ষিক সসাক্ষিকমসাক্ষিকঞ্চ।
১২ কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী স্কন্ধপুরাণের মধ্যে প্রভাসখণ্ডেতে। কায়স্থ-উৎপত্তিকথা লিখিছে বিস্ততে। রাজাধিকরণে তন্নিযুক্তকায়স্থতং তদধ্যক্ষ- কচিহ্নিতং রাজসাক্ষিক।” বিষ্ণুসংহিতা ৭ম অঃ ২ শ্লোক। “লেখকঃ কথিতে রাজ্ঞঃ সৰ্বাধিকরণেষু বৈ। শীর্ষোপেতান্ স সম্পুর্ণান্ সমশ্রেণীগতা সমান্ । অন্তরা বৈ লিখেদস্তু লেখকঃ স বরঃ স্মৃতঃ। উপায়বাক্যকুশলঃ সৰ্ব্বশাস্ত্রবিশারদ। বর্থবক্তা চাল্লেন লেখকঃ শ্যাম্পােত্তম।” মৎস্যপুরাণ “পীড্যমানাঃ প্রজা রক্ষেৎ কায়স্থৈর্শ বিশেষতঃ।” যাজ্ঞবল্ক্য। “কায়ন্থৈ রাজসম্বন্ধাৎ প্ৰভবিষ্ণুভিঃ।” শূলপাণিকৃত দীপকলিকাটাকা। অর্থাৎ কায়স্থ রাজসম্বন্ধযুক্ত প্রভাবশালী। “কায়স্থা গণকা লেখকা তৈঃ পীড্যমানাঃ। বিশেষতত রক্ষেৎ তেষাং রাজবল্লভতয়াতিমায়া- বিত্বাচ্চ দুর্নিবারত্বাচ্চ।” মিতাক্ষরায়াং। ‘শুচী প্রজ্ঞাংশ্চ ধৰ্ম্মজ্ঞা বিন্ মুদ্রাকরান্বিতা। লেখকানপি কায়স্থান্ লেখ্যও হিতৈষিণঃ।” বৃহৎ পরাশর। রাজাগ্ৰহাৰশাসনাকেকায়স্থহস্তলিখিতাবে প্রমাণীভবন্তি। মনু ৮ অ: ৩ শ্লোকের ভাষ্যে মেধাতিথি
কায়স্থত-তরঙ্গিণী ।
৫
পুরাকালে মিত্র নামে ছিল এক জন।
চিত্র নামে জমিল তাহার নন্দন।
জন্মিলা দুহিত এক চিত্রা নাম তার।
দুই শিশু রাখি মিত্র ত্যজিলা সংসার। (১৩)
তার নারী প্রবেশি জ্বলন্ত চিতায়।
প্রবেশিলা দুই শিশু বনে অসহায়।
মুনিগণ তাহাদের পালন করিল।
প্রভাসে যাইয়া চিত্র তপ আরম্ভিল।
মহাদেব সূৰ্য্যমূর্তি স্থাপন করিয়া।
পূজন করেন সদা গন্ধপুষ্প দিয়া।
সদয় হইয়া ভানু উপনীত হন।
ইচ্ছামত কর চিত্র মাগিলা তখন।
“মেধাবী বাপটুঃ প্রাজ্ঞঃ সত্যবাদী জিতেন্দ্রিয়ঃ ।
সৰ্ব্বশাস্ত্রসমালােকী হেষ সাধুঃ স লেখকঃ ॥”
গরুড়পুরাণে
“ধ্যয়নসম্পন্নমিত্যুক্তৈৰ্গণকো দ্বিজাতি,
তৎসাহচৰ্য্যাৎ লেখকোহপি দ্বিজাতিঃ।”
বীর-মিত্রোদয় ব্যবহারাধ্যায়
(১৩) মিত্রো নাম পুরা দেবি ধর্মাত্মাভূদ ধরাতলে।
কায়স্থঃ সৰ্ব্বভূতানাং নিত্যপ্রিহিতে বৃতঃ।
ইত্যাদি স্কন্দপুরাণে প্রভাসখণ্ডে।
১৪
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
মহাজ্ঞানী সুলেখক হইবার তরে।
এই বর চাহিলেন তপন গােচরে ।
তথাস্তু বলিয়া সূৰ্য্য হন অন্তর্ধান।
ধৰ্ম্মরাজ এই সব জানিবারে পান।
অসীম ক্ষমতাপন্ন বুঝিয়া উহারে।
লবণসমুদ্র হতে নিল নিজ পুরে ।
চিত্রগুপ্ত নাম দিয়া রাখে সেই স্থান।
ধর্মাধর্মবিচারের করিতে বিধান।
স্কন্দপুরাণের মধ্যে আছে অন্য স্থানে।
রেণুকামাহাত্ম্যে দেখ কায়স্থ বাখানে। (১৪)
ছিলেন পরশুরাম জমদগ্নিত।
মহা পরাক্রান্ত বীর অতি ক্রোধযুত।
রাগ-বশে করিলেন এই দৃঢ় পণ।
পৃথিবীর ক্ষত্ৰ জাতি করিবে নিধন।
পিতৃধার শােধ তিনি করিবার তরে।
করেন দারুণ পণ পৃথিবী মাঝারে।
{১৪ ) এবং হত্বাৰ্জ্জুনং রামঃ সন্ধায় নিশিতান্ শান্।
অনুধাবৎ স তা হস্তুং সর্বানেবাসুরারা।
কেচিৎ গগনমাশ্ৰিত্য কেচি পাতালমাবিশৎ।
কেচিদৈতালিকাঃ শূরাঃ রাজানস্তদ্ভয়ার্দিতাঃ।
সগর্ভা চন্দ্রসেন ভার্যা দালভ্যামং গতা।”
ইত্যাদি স্কান্দে রেণুকামাহাত্মে ৪৭ অধ্যায়ে দ্রষ্টব্য।
কায়স্থতক্ততরঙ্গিণী।
করিতে ক্ষত্রিয়গণে সবংশে সংহার।
করিলা তাদের সনে যুদ্ধ বহুবার।
তার ভয়ে ক্ষত্রগণ রহে ছাত্মবেশে।
কেহ বনে গেল কেহ পাতালপ্রবেশে।
দোষী কি নির্দোষী তার নাহিক বিচার।
ক্ষত্রিয় দেখিবা মাত্র করয়ে সংহার ।
ব্রাহ্মণের বেশে কেহ রহে ছদ্মবেশে।
কেহ বা আশ্রয় লয় মুনিগণ পাশে।
চন্দ্রসেন নৃপতির ভাৰ্য্যা গর্ভবতী।
দালভ্য-আশ্রমে ডরে লইলা বসতি।
বিখ্যাত দালভ্য মুনি জানে সৰ্বজন।
কতদিনে রাম তথা উপনীত হন।
কহিলেন দালতত্যরে নিজ অভিপ্রায়।
কায়স্থশিশুরে তিনি মারিবারে চায় ।
মহামুনি দালভ্য যে করুণানিধান।
স্নেহবশে বালকের চাহে প্রাণদান ।।
রাম বলিলেন আমি করিয়াছি পণ।
পৃথিবীর ক্ষত্রবংশ করিব নিধন ॥ (১৫)
(১৫) “ততােদাভ্যং বীজামাে যদর্থমিহমাগতঃ
ক্ষত্রিয়াকরশাহং তৎ ত্বংযাচিতৰানসি।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী
প্রার্থনা করিলে তুমি কায়স্থ সন্তানে।
সে হেতু বধিতে তারে নাহি চাহি প্রাণে।
কায়স্থ বলিয়া সেই হবে পরিণত।
না কর অন্যথা মম বাক্য কদাচিত।
পরেতে দালভ্য মুনি বুঝিয়া কারণ।
লেখ্যবৃত্ত কায়স্থেরে করিলা অর্পণ।
চিত্রগুপ্ত বংশমধ্যে এক কন্যা ছিল।
তাহার সহিত তার বিবাহ হইল।
ছদ্মবেশে ছিল পূর্বে যত ক্ষত্রগণ।
কায়স্থের বৃত্তি সবে করিলা গ্রহণ।
এইরূপে ক্ষত্রগণ মহাবলশালী।
বাহুবলে হীন হয়ে বুদ্ধিবলে বলী।
মেদিনী শাসনকার্য্যে তবু ঠাঁই ঠাই।
কায়স্থ ক্ষত্রিয় বহু দেখিবারে পাই ।
কেহ মসী করে করি লিপিকাৰ্যে রত ।
কেহ অসি করে ধরি শাসিছে জগত।
কায়স্থ উৎপত্তি কথা অতি মনােহর।
ভক্তিযুক্ত হইয়া শুনয়ে যেই নর।
প্রার্থিতঞ্চ ত্বয়া বিপ্র কায়স্থং গর্ভমুত্তমম্।
তৎ কায়স্থ ইত্যাখ্যা ভবিষ্যতি শিশােঃ শুভম্।”
স্কান্দে রেণুকামাহাত্ম্যে ৪৭ অধ্যায়ে দ্রষ্টব্য।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
১৭
দীর্ঘায়ু লভিয়া সৰ্বব্যাধিবিবজ্জিত।
অন্তে বিষ্ণুলােকে বাস তপস্বী সহিত। (১৬)
প্রথম লহরী শেষ মৃদুলতরঙ্গে।
দেখহ কেমন ঢেউ উঠিতেছে রঙ্গে।
(১৬) “চিত্রগুপ্তকথাং দিব্যাং কায়সােৎপত্তিসংজ্ঞকাম্।
ভক্তিযুক্তেন মনসা যে শূন্থন্তি নরােত্তমাঃ ।
দীর্ঘায়ুনাে ভবিষ্যন্তি সৰ্বব্যাধিবিবর্জিতাঃ।
সৰ্বে বিষ্ণুপদং যান্তি যত্র যান্তি পােবনা।”
ভবিষ্যপুরাণ
an
১৮
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী
দ্বিতীয় লহরী।
স্কন্দপুরাণের মাঝে সহাদ্রিখণ্ডেতে।
সূৰ্য্যবংশ-প্রভু কায়স্থপত্তন নামেতে। (১৭)
যেৰূপ উৎপত্তি তার আছে বিবরণ।
সংক্ষেপ করিয়া কহি করহ শ্রবণ।
কশ্যপ নামেতে ঋষি ব্ৰহ্মার তনয়।
তাহা হ'তে সূৰ্য্যদেব জনম ভয়।
সূৰ্য্যসুত বৈবস্বত মনু নাম ধরে।
দিলীপ তাহার পুত্র খ্যাত চরাচরে।
দিলীপের পুত্র রঘু জানে সর্বজন।
অজ নামে হইলে তাহার নন্দন।।
জম্মিল অজের পুত্র দশরথ নাম।
দশরথ-জ্যেষ্ঠত রাম গুণধাম।
(১৭) অতঃপরং প্রবক্ষ্যামি মাহাত্মং শ্রুতিসম্মতম্।
পাঠারীয়প্রভূনাং বৈ হুৎপত্তিং কথয়ামি তে ।
ব্ৰহ্মণণা মানসাঃ পুঃ কাপাদিমুনীরা
কশ্যপ সুতঃ শ্রীমান্ সূৰ্য্যো ভাস্বান্ জগৎপ্রভু।
ইত্যাদি স্কান্দে সহাদ্রিখণ্ডে ২৭ অধ্যায়
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
রামের তনয় এক কুশ নামে খ্যাতি।
কুশের পুত্রের নাম রাখিল অতিথি।
অতিথির পুত্র হয় নৈষধ নামেতে।
নভঃ নামে তার পুত্র খ্যাত অবনীতে।
তার পুত্র পুণ্ডরীক গুণে অনুপম।
তাহা হতে মেধম্বা লভিল জনম ।।
দেবানীক নামে হয় তাহার তনয় ।
বাসী নামে তার পুত্র খ্যাত অতিশয় ।
বাসীর হইল সুত দল অভিধান।
শীলনামে জনমিল তাহার সন্তান।
লভিলা তনয় তিনি নামেতে উমাভ।
উমাভ পুত্রের নাম রাখে বর্জনা।
বর্জনাভ পুত্র বটে নামেতে খণ্ডন।
যুষিত নামেতে হয় তাহার নন্দন।
বিশ্বসম নামে খ্যাত তাহার কুমার।
ব্রাহ্মণ্য নামমতে হয় তনয় তাহার।
হিরণ্যাভ নামে ছিল তাহার নন্দন।
কৌশল্য তাহার পুত্র জানে সৰ্বজন।
তার পুত্র হইলেক সােম নাম তার।
বশিষ্ঠ নামেতে হয় তনয় তাহার ।
পুষ্য নামে এক পুত্র হ’ল তাহা হ'তে।
তার পুত্র সুদর্শন বিখ্যাত জগতে |
= --
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
সুদর্শনসুত অনিবর্ণ নামে হয়।
অশ্বপতি নামে হয় তাহার তনয় ।
রামচন্দ্র হতে বিংশ পুরুষ অন্তর।
অশ্বপতি খ্যাত রাজা ভুবন ভিতর।।
পুত্র হেতু করে নৃপ যজ্ঞ অনুষ্ঠান।
ভৃগুর প্রসাদে লভে দ্বাদশ সন্তান।
কায়স্থ হইল তারা মুনির প্রতাপে।
অশ্বপতি ভূপতিকে ভৃগুমুনি শাপে।
পত্নীসহ অশ্বপতি হরষিত মন।
তীর্থপৰ্যটনে যায় নগর পৈঠন।
তথায় যাইয়া রাজা পরম যতনে।
করিলা বিবিধ দান শাস্ত্রের বিধানে।
তাহা শুনি ভৃগুমুনি হয়ে কুতূহলী।
অশ্বপতি রাজার সমীপে গেলা চলি।
ভৃগুকে দেখিয়া রাজা না করে সম্মান।
তা দেখি কহেন মুনি ক্রোধে কম্পমান
মম উপকার তুমি গিয়েছ ভুলিয়ে।
উপহাস কর এবে মদোন্মত্ত হয়ে ।
রাজ্যহীন বংশহীন হইবে নিশ্চয়।
মম শাপ কভু
ইহা খণ্ডিবার নয়।
শুনিয়া তখন রাজা ব্যাকুলিত মনে।
লােটা’য়ে পড়িল ভৃগুমুনির চরণে।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
২১
রাজার বিনয়ে মুনি হইয়া সদয়।
কহিতে লাগিলা তারে প্ৰদানি অভয়।
অভিশাপ দিমু আমি পৈঠনপত্তনে।
কায়স্থপত্তন প্রভু ঘােষিবে ভুবনে।
তব বংশ রাজগণ শৌৰ্যহীন হবে।
অসি ছাড়ি মসী কাজ সতত করিবে।
সংক্ষেপে লিখিনু ইহা আছয়ে বিস্তর। (১৮)
চন্দ্রবংশ কথা কিছু শুন অতঃপর ।
চন্দ্ৰ হ'তে বুধজন্ম পুরাণে লিখন।
পুরূরবা নামে হয় বুধের নন্দন।
বুধের বংশেতে জন্ম লভে কামপতি।
চন্দ্রবংশ কায়স্থেরা ইহার সন্ততি।।
পুরাণে কায়স্থ চারি মত দেখা যায়।
চিত্রগুপ্তজ কায়স্থ চান্দ্রসেনী তায়।
পত্তন-প্রভু খ্যাত হয় চন্দ্র-সূৰ্য্যবংশে।
এ চারি কায়স্থ কথা পুরাণে প্রশংসে।
(১৮) শৃণু বৎস প্রবক্ষ্যামি চন্দ্রবংশবিস্তর।
যংবা বংশবৰ্য্যং হি বিস্ময়াে জায়তে নৃণা ।
চন্দ্রবংশে মহাবীরা হরিনঘাদয়াে নৃপাঃ ।
কায়স্থের বর্ণ-নির্ণয়ধৃত সহাদ্রিখণ্ডে ৩০ অধ্যায়।
২২
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
পুরাণের মতে মত কহে শুক্ৰনীতি। (১৯)
কায়স্থ ক্ষত্রিয় বটে নহে শূদ্ৰজাতি।
বৃহৎ পরাশরে আর মনুর টীকায়।
কায়স্থ ক্ষত্রিয় জাতি স্পষ্ট দেখা যায়। (২০)
বেদ হতে পুরাণ সংহিতা শুক্ৰনীতি।
দেখা গেল, তন্ত্রমতে লিখিব সম্প্রতি ।
চিত্রগুপ্ত সম্বােধিয়া বলিলা ব্ৰহ্মায়।
উৎপত্তি হয়েছে তব হ'তে মম কায়।
কায়স্থ ক্ষত্রিয় বর্ণ জানে সর্বজন।
শূদ্ৰবৰ্ণ সেই জাতি নহে কদাচন। (২১)
{১৯) গ্রামপাে ব্রাহ্মণে যােজঃ কায়স্থে লেখকস্তথা।
শুল্কগ্রাহী তু বৈশ্যোহি প্রতিহার পাদজঃ ।
শুক্ৰনীতি ২৪২০ ।
(২০) “শুচী প্রজ্ঞাংশ্চ ধৰ্ম্মজ্ঞা বিন্ মুদ্রাকরান্বিতা।
লেখকানপি কায়স্থান লেখ্যকৃত্ত হিতৈষিণঃ ।
বৃহৎপরাশরে।
“রাজাগ্রহারশাসনাকেকায়স্থহস্তলিখিতাবে প্রমাণীভবন্তি।”
মনু ৮ম অধ্যায় ৩য় শ্লোকব্যাখ্যায়াং মেধাতিথিভাষ্যং
(২১) নাম্নত্বং চিত্রগুপ্তোহসি মম কায়াদভূদযতঃ।
তস্মাৎ কায়স্থবিখ্যাতিল্লোকে তব ভবিষ্যতি ।
কায়স্থঃ ক্ষত্রিয়াে বর্ণো নতু শূদ্রঃ কদাচন।
অতত ভবেয়ুঃ সংস্কারা গর্ভাধানাদিকা দশ
বিজ্ঞানতন্ত্র ।
ন
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
২৩
বিজ্ঞানাদি তন্ত্রশাস্ত্রে এই সব কথা।
কায়স্থ ক্ষত্রিয়জাতি না ভাব অন্যথা
কায়স্থের মধ্যে দেখা যায় দুই রীতি।
কারাে উপবীত নাই কেহ উপৰীতী (২২)
কেহ দ্বাদশাহ কেহ মাসাশৌচ ধরে।
ক্ষত্রিয়ের হেন নীতি আছে পূৰ্বাপরে । (২৩)
কলনাদে ধীরভাবে বিবিধ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় লহরী ছুটে তরঙ্গে তরঙ্গে।
(২২) “উপবীতী ক্ষত্রিয় দ্বাদশাহেন শুদ্ধতি।
মাসেনানুপবীতশ্চ ক্ষত্রিয়ঃ শুদ্ধ্যতে তথা।”
বৃহন্নারদীয়ে।
(২৩) . কৃতােদকান্তে সুহৃদাং সৰ্ব্বেষাং পাণ্ডুনন্দনাঃ।
শৌচং নির্বয়ামাৰ্মাসমাত্ৰং বহিঃ পুরাৎ।”
শান্তিপর্ব-মহাভারত।
২৪
কায়স্থত-তরঙ্গিণী
তৃতীয় লহরী।
নাটকের মাঝে মৃচ্ছকটিক প্রধান।
তাহাতে কায়স্থকথা আছয়ে বাখান (২৪)
উত্তর-নৈষধে সবে কর দরশন।
কায়স্থের বিবরণ বর্ণিত কেমন। (২৫)
কাশ্মীরে বিখ্যাত কবি নাম ব্যাসদাস।
তিনিও কায়স্থকথা করেন প্রকাশ ॥ (২৬)
কাশ্মীরের খ্যাতনামা সােম দেব কবি।
চিত্রিয়াছে কি উজ্জ্বল কায়স্থের ছবি। (২৭)
(২৪) “ততঃ প্ৰবশতি শ্রেষ্ঠিকায়স্থাদিপরিবৃতােহধিকরণিকঃ।”
মৃচ্ছকটিক-নবমাঙ্কে ।
(২৫) “দৃগ্গােচরােহভূদথ চিত্রগুপ্তঃ কায়স্থ উচ্চৈ গুণ এতদীয়ঃ।
উদ্ধন্তু পত্রস্থ মসীদ একো মসেৰ্দধচোপরি পত্ৰমঃ।”
উত্তর-নৈষধচরিত-১৪শ সর্গ।
(২৬) “দানেন নতি বণিনশুতি সত্যেন সর্বথা বেশ্যা ।
নশুতি বিনয়েন গুরুর্নতি কৃপয়া চ কায়স্থঃ।”
(২৭) “কায়স্থো হি করােত্যেকে ব্যাপারং ব্ৰহ্মৰুদ্ৰয়ােঃ ।
লিখত্যুৎপুংসমতি চ ক্ষণাদ্বিশ্বং করস্থিত।
সন্ধিবিগ্রহকায়স্থেনাতেনার্থসঞ্চয়ৈঃ।
উপাংশু কাব্যালঙ্কারা ব্যজল্লেখহারক।”কথাসরিৎসাগর ।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
২৫
হরিদাস-বিরচিত লেখকমুক্তামণি।
তাতেও দেখিতে পাবে কায়স্থ-কাহিনী।
হিন্দুস্থান আদি আৰ্যবাসীদের স্থান।
আর্যাবর্ত দাক্ষিণাত্য কাশ্মীর প্রধান।
সিংহল বৃহৎ দ্বীপ ভারত সাগরে।
রয়েছে কায়স্থকথা খােদিত পারে।
সিংহলে পুলস্তপুর সুবিখ্যাত স্থান।
তাতে পরাক্রম বাহু নৃপতি-প্রধান।
দরবারে গৃহস্তম্ভ কর নিরীক্ষণ।
কায়স্থের কীর্তিগাথা আছয়ে কীৰ্ত্তন ।
শিলালিপি আছে তথা সিংহলি ভাষায়।
মন্ত্রি-পদ পাইতেন কায়স্থ তথায়।
চেদিরাজ জাজল্লদেব, রত্নপুরে ছিল।
আটশ ছষী সনে শিলা লিখেছিল।
তাহাতে কায়স্থ-কথা আছে উল্লিখিত।
প্রমাণ দেখিলে সবে হইবে বিদিত।
মলহার অজগড় কাশ্মীরাদি দেশ।
গােয়ালিয়র আদি রাজ্য গণন অশেষ ।
কায়স্থ নৃপতি মন্ত্রী, কত লেখা আছে।
তাম্ৰপাত্ৰ শিলাপৃষ্ঠে প্রমাণ রয়েছে।
নবদ্বীপ বঙ্গদেশে সম্মানে প্রধান।
তথায় কায়স্থগণ পায় ক্ষত্রস্থান ।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র যজ্ঞ করিবারে।
ক্ষত্রিয়ের স্থান তিনি দিলা কায়স্থেরে। (২৮)
কহলন-বিরচিত রাজতরঙ্গিণী ।
তাহাতে বিস্তৃত আছে কায়স্থ-কাহিনী।
রাজত্ব মন্ত্রিত্ব আর সৈনাপত্য কাজ।
কাশ্মীরে প্রবল অতি কায়স্থসমাজ ।
প্রশস্ত রুদ্র আর কনক-অভিধান।
গাগাভট্ট তিলকসিংহ গৌরক-প্রধান।
অনেক কায়স্থকথা তথা লেখা আছে।
সেনাপতি যুদ্ধ আর মন্ত্রিত্ব করিছে ।
রাজতরঙ্গিণী পাঠে এই জানা যায়।
অশ্বঘােষ রাজবংশ আছিল তথায়।
রাজত্ব করিছে তারা সবে কাশ্মীরেতে ।
যােলন রাজা হয় এ ঘােষংশেতে ।
প্রথম দুল্ল ভবৰ্ধন শেষ কালাদিত্য।
বহুদিন ব্যাপি তারা করিছে রাজত্ব।
দুল্লভের প্রজ্ঞা ছিলা বিষয়বুদ্ধিতে।
প্রজ্ঞাদিত্য নাম তার হয় কাশ্মীরেতে।।
(২৮) অগ্নিহােত্রে মহাযজ্ঞে কায়স্থে ক্ষত্রিয়াসনে।
ববার শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রে। নবদ্বীপাধিপঃ সুধী
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
২৭
পাঁচশ সাতাশ শকে বসে সিংহাসনে।
চন্দ্রগ্রাম দিলা তিনি ব্রাহ্মণেরে দানে ।
দুল্লভ প্রতাপাদিত্য চন্দ্রপীড় আর।
ললিতাদিত্য রাজা হয় ক্ষমতা অপার ॥
দুল্লভ হইতে দুলভক নাম হয় ।
চন্দ্রপীড় রাজা জান তাহার তনয় ।
নৃপতি ললিতাদিত্য তারাপীড় আর।
দুলভক হতে হয় এ তিন কুমার।
ললিতাদিত্যের জান দুইটী নন্দন।
কুবলয়াপীড় বজ্রাদিত্য দুইজন।
বজ্রাদিত্যের দুই পুত্র হয় কাশ্মীরেতে।
পৃথিবী সংগ্রাম জয় ত্রিভুব নামেতে ।
জয়াপীড় দুই পুত্র দেখ সর্বজন।
ললিত-সংগ্রাম-পীড় সমরে ভীষণ ।
ললিত পুত্রের নাম বৃহস্পতি ছিল।
সংগ্রামপীড়ের পুত্র আনন্দ রাখিল।
অজিত উৎপল নামে ত্রিভুব-তনয়।
দীর্ঘকাল ব্যাপী তারা রাজত্ব করয়।
ইতিহাস শাস্ত্ৰ আদি যেই দিকে চাই।
কায়স্থ ক্ষত্রিয় রাজা দেখিবারে পাই।
কোঙ্কণ মহারাষ্ট্রাদি দাক্ষিণাত্য দেশে।
চন্দ্র-সূৰ্য-পত্তন রাজা তথায় প্রকাশে
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
সুবিখ্যাত শিল্পি-কবি নাম বিষ্ণুদাস।
“কৌস্তুভ-চিন্তামণি” গ্রন্থ করিলা প্রকাশ
চন্দ্র-সূৰ্য্য-পত্তন প্রভু আদি কায়স্থগণ।
দাক্ষিণাত্যে রাজত্ব করেছে বহুজন।
কায়স্থের অন্য নাম “ঠাকুর-মণ্ডন”।
পুরাণেতে লেখা আছে জানে সৰ্বজন।
মধ্য-ভারতেতে আর রাজপুতানায় ।
বিহার, মান্দ্রাজ, পুরী, দেখ বাঙ্গালায় ।
উত্তর-পশ্চিম-দেশ সিংহল প্রভৃতি।
কায়স্থ ছিলেন রাজা রহিয়াছে খ্যাতি।
আইন-আকবরি পাঠে জানা যায় তত্ত্ব।
আদিশূর গৌড় দেশে করিত রাজত্ব।
ভূপতি বল্লালসেন জন্ম এই কুলে ।
বৈদ্য বলি কেহ কেহ বলে তাকে ভুলে ।
অষষ্ঠ-কায়স্থকুলে জন্মে আদিশূর।
ধ্রুবনন্দ্র মিশ্র গ্রন্থে প্রমাণ প্রচুর ॥ ( ২৯
(২৯) “চিত্রগুপ্তান্বয়ে জাতঃ কায়স্থােহনামকঃ।
অবশ্য বংশে চ আদিশূরাে নৃপেশ্বরঃ ।
অগমদ্ভারতং বর্ষং দারদাৎ স রবিপ্রভঃ।
জিহ্বা চ বৌদ্ধরাজানং তথা গৌড়াধিপান্ বলা”।
(এ সম্বন্ধে আরাে অনেক প্রমাণ
“বিশ্বকোষে” কায়স্থ শব্দে দ্রষ্টব্য)
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
জয়ন্ত নামেতে রাজা ছিল সেইজন।
জনম কায়স্থকুলে প্রতাপে তপন।
কাজে দারদ আদি বিজয় করিয়া।
বাহুবলে গৌড়রাজে পরাজিল গিয়া ।
বীরত্বে শূরত্বে তার না ছিল অবধি।
বীরসেন-আদিশূর লইলা উপাধি।
ভরতের কুল-পঞ্জী কর প্রণিধান।
বল্লাল কায়স্থ ছিল পাইবে প্রমাণ।
ভরতের গ্রন্থ দেখ করিয়া বিচার।
পুরুষ সতর যােল বৈদ্যের বিস্তার।
বাঙ্গালার ব্রাহ্মণ কায়স্থ দোহাকার।
সপ্তবিংশ অষ্টবিংশ পুরুষবিস্তার।
গােপালভট্টের কৃত “বল্লাল-চরিত”।
মনােযােগে প'ড়ে দেখ হইবে প্রতীত।
বল্লাল নামেতে বৈদ্য বিক্রমপুরেতে।
কায়স্থ বল্লাল হতে অনেক পরেতে ॥
হবে ন্যূনাধিক দুইশত বর্ষ কাল।
সেই বল্লাল হইতে প্রভেদ এ বল্লাল।
সে বল্লালকৃত “দানসাগর” সহিত।
মিলাইয়া দেখ এই বল্লাল-চরিত” ।
শশী নব দশমীতে হয় যেই শক।
রচিল বল্লাল “দানসাগর” পুস্তক।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
গােপালভট্ট রচিলেন “বল্লাল-চরিত”।
তেরশত শকে তাহা রয়েছে বিদিত।
বল্লাল বল্লাল দিয়ে করে টানাটানি।
এমন অদ্ভুত কথা কখন না শুনি।
রাজতরঙ্গিণী আইন-আকবরী সহিত।
ভরতের ‘কুল-পঞ্জী’ ‘বল্লাল-চরিত”।
এই সব মিলাইলে দেখিবে আমূল।
বল্লাল কায়স্থ ছিল তাহে নাহি ভুল ॥
বৈদ্যগ্রন্থে এই কথা রয়েছে প্রকাশ।
দাসবংশে আদি বীজী চায়ু পান্থদাস।
সেনবংশ আদি বীজী সেন বিনায়ক।
কায়ু গুপ্ত বটে, গুপ্তবংশ প্রকাশক।
এই সব আদি অন্ত করিলে বিচার।
বল্লাল কায়স্থ সেই ভুল নাহি তার।
বল্লাল সেন দেব আর কেশব সেন আদি
তাম্রপিঠে লিখেছেন দেব’ এ উপাধি।
প্রথম বিজয়সেন বল্লালসেন পরে।
লক্ষণ বল্লালত খ্যাত চরাচরে।
ধৰ্ম্মভয়ে রাজ্য ছাড়ি করে পলায়ন।
সে সুযােগে গৌড়দেশ লইল যবন।
বিখ্যাত ভ্রমণকারী সাহেব টেলার।
বল্লাল কায়স্থ বলি করেছে স্বীকার ।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
প্রতাপ-আদিত্য রাজা ছিল যশােহরে।
যুঝিল যবন সহ সম্মুখসমরে।
ভারতবর্ণনে তাহা বিখ্যাত ভারতে।
কায়স্থের ক্ষত্রিয়ত্ব প্রমাণ ইহাতে। (৩০)
বঙ্গদেশে চন্দ্রদ্বীপ সুবিখ্যাত নাম।
শাসিল কায়স্থ ভূপে রয়েছে প্রমাণ।
বিখ্যাত কায়স্থ রাজা ছিল সীতারাম।
এখন জাগ্ৰত সদা আছে সেই নাম ।
দামােদর দেব ছিল চট্টলে ভূপতি।
তাম্রশাসনেতে তার লিখা আছে খ্যাতি।
তৃতীয় লহরী পূর্ণ কল্লোল-হিল্লোলে।
তরঙ্গে তরঙ্গ মিশে দেখহ সকলে।
এই লহরীর কথা হল সমাপন।
পূর্ণচন্দ্র পূর্ণানন্দে করে বিরচন ।
(৩) মহাকবি ভারতচন্দ্র-প্রণীত “অন্নদামঙ্গল”
“মানসিংহ” দ্রষ্টব্য।
৩২
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী
চতুর্থ লহরী।
বল্লাল, কায়স্থ-ভাগ করে সমাহিত।
রাঢ়ীয়, বঙ্গজ, আর বারেন্দ্র কথিত ।
আচার বিনয় বিদ্যা তীর্থ দরশন।
নিষ্ঠাবৃত্তি পাে দান কুলীনলক্ষণ।
জানিবে বিনয় গুণ সবাকার মূল।
অবিনয়ী হইলে নাহিক থাকে কুল।
যজ্ঞকাৰ্য্যে আদিশূর করিতে বরণ।
কান্যকুব্ধ হ'তে আনে ক্ষত্র ও ব্রাহ্মণ ।
পঞ্চবিপ্র সহিত কায়স্থ পঞ্চজন।
দশ দ্বিজ রাজস্থানে উপনীত হন। (৩১)
বিভিন্ন ক্ষত্রগণ বৃদ্ধি নাহি হয়।
ক্ষত্র-ভিন্ন ব্রাহ্মণের কোন কাজ নয়।
তাতে বৃদ্ধি পায় ইহ পরত্রের কাজ।
বিপ্র-অনুগত চির ক্ষত্রিয়সমাজ।
(৩১) “গৌড়েশ্বনাে মহারাজা রাজসূয়মনুষ্ঠিত।
তদর্থে প্রেরিতা যজ্ঞে উপযুক্ত। দ্বিজা দশ।”
শালিবাহনধৃত বচনং।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
দেখহ ক্ষত্রিয় ভিন্ন ব্রাহ্মণরক্ষণ।
যাগ যজ্ঞ নিরাপদে নহে কদাচন। (৩২)
বঙ্গের কায়স্থ বিপ্ন দেখি সেই মত।
চিরদিন কায়স্থগণ বিপ্র-অনুগত।
কায়স্থের ক্রিয়া কাৰ্য্য দেখহ কেমন।
শাস্ত্রমতে বিপ্রগণ করে সম্পাদন।
গাে-যানেতে বিপ্রগণ করে আগমন।
হস্তি-অশ্ব-নর-যানে আসে কায়স্থগণ। (৩৩)
ব্রাহ্মণের কাছে আর ভূপতির স্থান।
শূদ্র হলে হ’ত কোথা এরূপ সম্মান ॥
(৩২) না ব্ৰহ্ম ক্ষমৃগ্নাতি না ক্ষত্ৰ ব্ৰহ্ম বর্ধতে।
ব্ৰহ্মক্ষত্রেণ সম্পৃক্তমিহ চামুত্র বর্ধতে।” মনু।
টাকা-ব্রাহ্মণরহিতে ক্ষত্রিয়াে বৃদ্ধিং ন যাতি,
শাস্তিকপৌষ্টিকব্যবহারেক্ষণাদিধৰ্ম্মবিরহাৎ
এবং ক্ষত্রিয়রহিতােহপি ব্রাহ্মণঃ ন বিদ্যতে, রক্ষা
বিনা যজ্ঞাদিকৰ্ম্মানিম্পত্তেঃ। কুন্তুকভট্টঃ ।
(৩৩ “গজাখনরযানে প্রধান অভিসংস্থিতাঃ।
গােনায়ােহিলাে বিপ্রাঃ পত্তিবেশসমন্বিতাঃ।
খচৰ্ম্মাদিভিযুক্ত। পুত্রদায়াদিভিঃ সহ। ধ্রুবান-মিশ্র
“গােযানেনাগতা বিপ্রাঃ অশে ঘােষাদিকয়ঃ।
গজে দত্তকুলশ্রেষ্ঠো নরযানে গুহঃ সুধীঃ।
দক্ষিণরাঢ়ীয় ঘটককারিকা।
৩৪
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
শূদ্ৰজাতি শাস্ত্রমতে নিতান্ত ঘৃণিত।
তাদের সংসর্গে বিপ্র হয় নিপতিত ॥ (৩৪)
(৩৪) “ন শূদ্রায় মতিং দদ্যাৎ নােচ্ছিষ্টং ন হবিস্কৃতম্।
ন চাষ্যোপদিশেদ্ধম্মং ন চাস্ত ব্ৰতমাদিশেৎ।
মােহস্ত ধংসমাচষ্টে যশ্চৈবাদিশতি ব্ৰতম্।
সােহসংবৃতং নাম তমঃ সহ তেনৈব মজ্জতি।” মনু°৪৮০-৮১।
“যস্ত শূদ্ৰস্তু কুরুতে রাজ্ঞাে ধৰ্ম্মবিবেচনং।
তষ্ঠ সীদতি তদ্ৰাষ্ট্ৰং পঙ্কে গৌরিব পশ্যতঃ।
ঠুিং শূদ্রভূয়িং নাস্তিকাকান্তমদ্বিজং।
বিনত্যাশু তৎ কৃৎস্নং দুর্ভিক্ষব্যাধিপীড়িতং। মনু৮২১-২২।
“তস্মাত্তানি ন শূদ্ৰায় স্পষ্টবানি যুধিষ্ঠির।
সৰ্ব্বং তচ্ছদ্রসংস্পষ্টং ন পবিত্ৰং ন সংশয়ঃ।
লােকে ত্ৰীণ্যপবিত্রাণি পঞ্চামেধ্যানি ভারত।
যা শূদ্র স্বপাশ্চেত্যপবিত্ৰাণি পাণ্ডব।”
বৃদ্ধগৌতম। ২১ অঃ ১৯২•
“অমৃতং ব্রাহ্মণস্যাং ক্ষত্রিয়াং পয়ঃ স্মৃত।
বৈশ্য চানমেবান্নং শুদ্ৰান্নং রুধিরং ভবেৎ।”
অতিসংহিতা ৩৬১ শ্লোক।
“শুদ্ৰান্নং সূতকস্তানুমতােজ্যষ্যান্নমেব চ।
শঙ্কিতং প্রতিষিদ্ধান্নং পূৰ্বোচ্ছিষ্টং তথৈব চ।
যদি ভুক্তন্তু বিপ্ৰেণ অজ্ঞানাদাপদাপি বা।
আত্বা সমাচরেৎ কৃচ্ছু ব্ৰহ্ম কুৰ্বন্তু পাবনং।”
পরাশর-১১ অ ঃ
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
তাই কায়স্থের জাতি শূদ্ৰ কভু নয় ।
কায়স্থ-যাজনে রত বিপ্র সমুদয় ।
ব্রাহ্মণ সবার পূজ্য মান্য অতিশয় ।
এই হেতু বিপ্রদাস চারিজনে কয় ।
দত্ত বলে আমি কার ভৃত্য নাহি হই।
তীর্থ
হেতু
আসিয়াছি তত্ত্বকথা কই ।
বল্লাল করিয়া পরে এ সব বিচার।
কায়স্থেরে কুল দেয় যােগ্য যে যার ।।
পূর্ব উক্ত দশ দ্বিজ বংশধরগণ।
লভিল বল্লাল হ’তে কৌলীন্য-বন্ধন।
চারি কায়স্থের কুল প্রতিষ্ঠা করয় ।
অদ্ধ কুল দেয় দত্তে দেখি অবিনয় ।
দত্তের উক্তিতে দেখ ক্ষত্রিয়-প্রভাব।
বলিলা প্রকৃত কথা বিনয় অভাব।
এ সব প্রমাণে ইহা হয় নিরূপিত।
কায়স্থ ক্ষত্রিয় বর্ণ জানিবে নিশ্চিত ।
বিপ্র সনে আসিছিল যেই পঞ্চজন।
একে একে নাম আমি করিব বর্ণন।
ধ্রুবানন্দ মিশ্র যাহা দিলা পরিচয়।
সেই মতে আমি দেখ করিব নির্ণয় ।
কৌলীন্য পাইল মিত্র গুহ বহু ঘােষে।
অর্ধকুল হ’ল দত্ত প্রকাশি সাহসে।
৫
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
সৌকালীন গােত্র ঘােষ মকরন্দ নাম।
ভট্রনারায়ণ শিষ্য শৈবেতে প্রধান।
সূৰ্য্যধ্বজবংশ জান বীর চূড়ামণি।
কুলের দেবতা কালী নৃমুণ্ডমালিনী।
বসুবংশে দশরথ মহা অনুভব।
গৌতমগােত্ৰীয় চেদিরাজকুলােদ্ভব।
দক্ষ প্রিয়শিষ্য তিনি অতিশয় জ্ঞানী।
তন্ত্রমতে উপাসক বীরচুড়ামণি ।
কাশ্যপগােত্রীয় বিরাটগুহ সুমতি।
শ্রীহর্ষের শিষ্য হয়ে গৌড়েতে বসতি।
গৌড়দেশে আসিলেন কালিদাস মিত্র।
ছাড়ের শিষ্য বটে গােত্র বিশ্বামিত্র ।
অগ্নিকুলজাত দত্ত পুরুষ উত্তম।
মৌদগল্য গােজ ধীর মহা পরাক্রম।
বঙ্গজ কায়স্থ মধ্যে এই তিন রীতি।
কুলীন মধ্যল্য মহাপাত্র নামে খ্যাতি ॥
মকরন্দঘােষবংশে চতুর্ভুজ হন।
দশরথ বসু বংশে লক্ষণ পূষণ।
বিরাট গুহের বংশে কালি, দশরথ।
মিত্রবংশ ভারপতি হইলেন খ্যাত ।
এ চারি বংশের উক্ত উত্তর পুরুষে ।
কুলীন হইল বলি বাঙ্গালাতে ঘােষে।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
এই সব কুলীনেতে প্রথম গপন।
দত্ত নাথ নাগেতে মধ্যল্য নিরূপণ।
নারায়ণ দত্ত আর নাগ দশরথ।
মধ্যল্য হইল আর মহানন্দ নাথ।
দাসবংশে মহাপাত্র চন্দ্রশেখর।
সেনবংশে গঙ্গাধর করে দামােদর ।
দাসবংশে সুবিখ্যাত হন ঊষাপতি।
পালিত বংশেতে হন মহাপাত্র খ্যাতি।
চন্দ্রবংশ-অবতংশ ছিল নারায়ণ।
পালবংশে আবু পাল বুদ্ধি বিচক্ষণ।
রাহাবংশে কৃষ্ণচন্দ্র বড়ই সুনাম।
ভদ্রবংশে দিগম্বর নানা গুণধাম ।
ধরবংশে ব্যাস ছিল গুণের সাগর।
দেব-দ্বিজ-অনুরাগী ছিল নিরন্তর।
নন্দীবংশে প্রভাকর নন্দী মহাশয়।
দেববংশে ঐকেশৰ খ্যাত অতিশয় ।
কুবংশে মহাপাত্র নামে অধিপতি।
সােমবংশে বংশীধর বড়ই সুকৃতী।
সিংহেতে রত্নেশ্বর রক্ষিতে নারায়ণ।
বিষ্ণুবংশে দৈত্যারি আদ্যেতে ত্রিলােচন।
নন্দনবংশেতে উযাপতি মহাশয়।
এইরূপে তিনভাগে আছে পরিচয়।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী
দক্ষিণরাঢ়ীয় কায়স্থ বিস্তৃত বঙ্গেতে।
এই শ্রেণীকথা আমি লিখিব বিস্ততে।
দক্ষিণরাঢ়ীয়ে হেন আছয়ে প্রমাণ।
ঘােষ বসু মিত্র তিন কুলীনপ্রধান।
দেব, দাস, দত্তগণ, গুহ, সিংহ, কর ।
সেন, পালিত, সিদ্ধমৌলিক আট ঘর ।
আর সব সাধ্যমৌলিক করহ শ্রবণ।
ব্রহ্ম, বিষ্ণু, ভঞ্জ, রুদ্র, ভদ্র, নাগ, গণ।
মন, ইন্দ্র, চন্দ্র, সােম, আদিত্য, রক্ষিত।
পাল, নাথ, ধনু, বাণ, গুণ, স্বর, বিদিৎ ।
তেজ, শক্তি, সাম, ধর, আইচ, অর্ণব।
আশা, দানা, খিল, পীল, শীল আদি সব ।
শানা, শূর, রাজ, রাণা, রাহুত ও কীর্তি।
বল, নন্দী, বর্ধন, বিন্দু, অঙ্কুর প্রভৃতি।
বৰ্ম্মা, শৰ্ম্মা, নাদ, গও, দাম, হুই, গুই।
লােধ, ঘূত, গুপ্ত, বেদ, যশ, কুল, ভূই ।
বই, রাহা, দাহা, কুণ্ড, পই, হােড়, ধরণী।
মান, হেশ, দণ্ডী, গুহ, ওম, কোম, বাণী।
ক্ষেম, খাম, খঞ্জ, বন্ধ, বাহাত্তর ঘর।
সাধ্যমৌলিক এই কথা খ্যাত চরাচর।
বঙ্গের কায়স্থগণ ব্রাহ্মণ-সেবক।
বেদ ছাড়ি তন্ত্রমতে হয় উপাসক |
}
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
৩৯
বেদ-মাতা ত্যাগ করি ছাড়ি যজ্ঞসূত্র।
সংস্কার রহিত হয়ে আছয়ে সর্বত্র।
বঙ্গেতে তন্ত্রের মত নিতান্ত প্রবল।
বিশেষ ব্রাহ্মণভক্ত কায়স্থ সকল ।
তাই কায়স্থেরা রাখে বিপ্রের সম্মান।
কলিকালে তন্ত্রমতে আচার বিধান। (৩৫)
চতুর্থ লহরী সাঙ্গ লহরে হরে।
মহাবেগে ভীমনাদে সুগভীৱ স্বরে ।
কুলদেবী পদে নমি করি যােড়পাণি।
পূর্ণচন্দ্র বিরচিল কায়স্থের শ্রেণী।
( ৩৫) গৃহীত্বাধ্যাত্মিকং জ্ঞানং কায়স্থা বিপ্রমানদাঃ।
তত্যজুশ্চ যজ্ঞসূত্রং গায়ত্রীঞ্চ তথা পুনঃ।
ক্রিয়াহীনা তে সৰ্বে বৃষলত্বং ক্রমাগতাঃ ।
ততঃ কালে গতে চাপি আগমাদ্দীক্ষিতা ভবন্।
আগমােক্তবিধানেন পূতাঃ কায়স্থসম্ভবাঃ।
তস্মাত্তে বিভক্তাশ্চ বিচ্চকাস্তথা ভবন্।
তান্ত্ৰিকান্তে সমাখ্যাতাস্তানামপি পরগাঃ।
মিশ্ৰকারিকা।
৪০
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
পঞ্চম লহরী।
----
অতঃপর বলি শুন কায়স্থের গােত্র।
নানা গােত্র প্রচলিত বঙ্গেতে সর্বত্র ।।
ববংশ গৌতমগােত্র সর্ববলােকে জান।
ঘােষবংশ কুলীন বটে সুধু সৌকালীন।
কোন কোন স্থানে আছে বাৎস্য শাণ্ডিল্য
তাহাদের ধারা বটে সর্বত্র মধ্যল্য।
কাশ্যপগােত্র গুহবংশ কুলীন-মাঝারে ।
কঙ্কিস কল্লিস গােত্র বটে বাহাত্তরে ।
মিত্রবংশে বিশ্বামিত্র এক গােত্র হয়।
অতঃপর শুনহ দত্তের পরিচয়।
কৃষ্ণাত্রেয় মৌদগল্য ও ঘৃতকৌশিক।
অগ্নিবৈশ্য পরাশর আর ঘৃতকুশিক ॥
ভরদ্বাজ, শাণ্ডিল্য, কশ্যপ, আলম্যান।
এ সব গােত্র আর বশিষ্ঠ সোপায়ন।
আলম্যান, ভরদ্বাজ, দেবেতে প্রধান।
কাশ্যপ, পরাশর, গোত্র এ বংশে জান।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
বাৎস্য, বশিষ্ঠ আর গৌতম মৌদগল্য ।
নয় গােত্র দেববংশে সহিত শাণ্ডিল্য।
করবংশে জামদগ্নি কাশ্যপ প্রধান।
মৌদগল্য, গৌতম আর বটে আলম্যান।
বশিষ্ঠ ধৃতকৌশিক কাশ্যপ আত্রেয় ।
গৌতম মৌদগল্য আলম্যান দাসে হয় ।
শালঙ্কায়ণ গােত্র দাস সর্বত্র প্রধান।
এ সব ও গাৰ্গ গােত্র দাসে বিদ্যমান।
পালিতে শাণ্ডিত্য আর ভরদ্বাজ হয়।
দামবংশে শাণ্ডিল্য ও ভরদ্বাজ কয় ।
ভরদ্বাজ শাণ্ডিল্য, ধৃতকৌশিক আর ।
গৌতম বাৎস্য সাবর্ণ সিংহ ব্যবহার।
বাসুকি ধন্বন্তরি গােত্র সেনেতে প্রধান।
আর দুই গােত্র সেনে কাশ্যপ আলম্যান।
চন্দ্রবংশে ভরদ্বাজ মৌদগল্য গৌতম ।
কাশ্যপ ও এই বংশে শুনহ নিয়ম।
কাশ্যপ মৌদগল্য আর ভরদ্বাজ পালে ।
এই বংশে তিন গােত্র শুনহ সকলে।
নন্দীবংশ-গােত্র বটে কাশ্যপ আলম্যান।
এই দুই গােত্র তাদের শুনহ বিধান ।
গৌতম-কাশ্যপগােত্র কুবংশে হয়।
কাশ্যপ লােহিত গােত্র সােমেরা বলয়।
৪২
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
রাহাতে শাণ্ডিল্য গােত্র শুনহ সকলে।
আলম্যান ভরদ্বাজগােত্র ভদ্রে বলে ।
ধর বংশ কাশ্যপ গােত্র প্রচার বঙ্গেতে।
ভরদ্বাজ বাৎস্য মৌদগল্য রক্ষিতেতে।
ভরদ্বাজ শাণ্ডিল্য গৌতম ব্যাঘ্র বিষ্ণুতে।
কাশ্যপ ভরদ্বাজ গােত্র জান অঙ্কুরেতে।
শাণ্ডিল্য মৌদগল্য কাশ্যপ আঢ্যে হয়।
কাশ্যপ গৌতম গােত্র নন্দনেতে কয়।
রাণাতে কাশ্যপ গােত্র দালভ্য হংসল।
হােড় মৌদগল্য কাশ্যপ শুনহ সকল ।
বলবংশ গৌতম গােত্র চাকী আলম্যান।
আলম্যান আদিত্য গুপ্ত ভঞ্জে বিদ্যমান।
নাগবংশে সৌকালীন একটী গােত্র হয়।
নাথ বংশে কাশ্যপ গােত্র জানিবে নিশ্চয়
রাউতেও আলম্যান কাশ্যপ রুদ্রেতে ।
গােত্র বিবরণ এই দেখ শাস্ত্রমতে।
উত্তররাঢ়ীয় কথা করিব বাখান।
ঘােষ সিংহ দুই বংশ কুলীনপ্রধান ॥
দাস মিত্র দত্তগণ সন্মৌলিক মান্য ।
দাস ঘােষ কর সিংহ সামান্যেতে গণ্য।
নয় ঘরে পরিমিত সাড়ে সাত ঘর।
অর্ধ ঘর হইলে মিলি দাস কর ।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
৪৩
নন্দী, দাস, চাকী, বটে বারেন্দ্রপূজিত।
দেব দত্ত নাগ সিংহ মৌলিক নিশ্চিত।
এই সাত ঘর হয় বারেন্দ্র-উৎকৃষ্ট।
দাম ধর গুণ কর ইহারা নিকৃষ্ট।
চন্দ্রদ্বীপীকায়স্থের শুনহ বিধান।
ঘােষ বস্তু গুহ মিত্র কুলীন প্রধান।
দত্ত নাগ নাথ দাস মধ্যল্য যে হয়।
দেব রাহা সেন সিংহ মহাপাত্র কয় ।
দাস পালিত চন্দ্র পাল ভদ্র সােম কর ।
নন্দী
কুণ্ড
রক্ষিত কুরু বিষ্ণু আঢ্য ধর।
এই সব বংশ নিয়ে নন্দন সহিত।
নিম্ন মহাপাত্র বলি হ’ল নিরূপিত।
হােড় শূর আদি করি চতুঃষষ্টি ঘরে ।
চন্দ্রদ্বীপী সমাজে অচলা বলি ধরে।
তত্ত্বতরঙ্গিণী কথা শুনিতে আনন্দ।
কুলদেবী ভাবিয়া রচিল পূর্ণচন্দ্র।
কায়স্থকাহিনী পাঠ করে যেই নরে ।
চিত্রগুপ্তপূজনের ফললাভ করে ।
পঞ্চম লহরী কথা হয় সমাপন।
তরঙ্গের পরে উঠে তরঙ্গ কেমন ।
৪৪ কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী । ষষ্ঠ লহরী। -Sws- অতঃপর দেখ সবে এই বাঙ্গালায়। কায়স্থের কি আচার কিবা ব্যবসায়। প্রজার রক্ষণ কাৰ্য মেদিনী শাসন। ক্ষত্রিয়ের কাৰ্য ইহা আছে নিৰূপণ । কলিতে ভারতে নাহি সার্বভৌম রাজা। তথাপি কায়স্থ জাতি নহে হীনতেজা। বাঙ্গালাতে কায়স্থের কর দরশন। রাজা মহারাজা আদি আছে বহুজন। দিনাজপুরের মহারাজা জানে সর্বজনে। পাইকপাড়ার রাজবংশ বিখ্যাত ভুবনে । শােভাবাজার-রাজবংশ “দেব” উপাধি ধরে টাকিতে “মুন্সীর বংশ” বিখ্যাত সংসারে। ঝামাপুকুরের মিত্র-বংশ বিখ্যাত বঙ্গেতে। ঘােষবংশ আছে জান পাথরিঘাটাতে। ভবানীপুরে ঘােষবংশ দেখহ সকলে। চাঁচড়ার রাজবংশ খ্যাত মহীতলে।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
৪৫
নড়ালের জমিদার জান সৰ্বজন।
কাকিনার রাজবংশ বিখ্যাত ভুবন ।
লক্ষীকোলের রাজবংশ সর্বত্র প্রচার।
জমিদার সন্তোষের রাজা ডিমলার।
মাণিকদহের রায় বংশ বিখ্যাত ভারত।
ইত্যাদি অনেক আছে সংখ্যা কব কত।
রায় বাহাদুর খ্যাতি অনেকে দেখিবে।
বিস্তৃত লিখিতে গেলে পুস্তক বাড়িবে।
যবন-রাজত্বকালে উপাধি ভৌমিক। ৪
জমিদারী প্রতিপত্তি আছিল অধিক।
বার ভূঞা বাঙ্গলায় খ্যাত অতিশয় ।
সাত জন কায়স্থেতে পাবে পরিচয়।
ব্রাহ্মণেতে তিনজন দুইটী যবন।
আইন-আকবরি মাঝে দেখ সর্বজন।
সকল সময় দেখি কায়স্থ প্রবল।
বাহুবল কভু
দেখি
কভু বুদ্ধিবল ।
কায়স্থেতে আছে বহু সুলেখক কবি।
দেখিৰে জাগ্রত কত প্রতিভার ছবি।
সংক্ষেপে কতেক আমি করিব বর্ণন।
রহিবেক অনুল্লেখ বহু গুণিজন ।
* ভূঞা-বাঙ্গালার বার ভূঞার কথা বিশেষ প্রসিদ্ধ
৪৬
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
কাশীরাম দাস কবি রচিলা ভারত।
যাঁহার মহিমা ঘােষে সমগ্র ভারত।
বাঙ্গালার মহাকবি সে মধুসূদন ।
সাহিত্যে নূতন যুগ করিল গঠন।
যতদিন বাঙ্গালায় রবে পরিচয়।
অক্ষয় দত্তের নাম রহিবে অক্ষয় ।
নির্ভীক সুকবি ধীর দীনবন্ধু মিত্র ।
দর্পণে দেখান তিনি নীলকর চিত্র।
তরু অরু দত্ত আদি মেয়ে কবিগণ।
কায়স্থ-কবির সংখ্যা না যায় গণন।
বাঙ্গালায় হেষ্টিংসের শাসন সময়।
রামকান্ত মুন্সী তাঁর খ্যাতি অতিশয় ।
কলিকাতা হাইকোর্ট সর্বলোকে জানে ।
রমেশ-দ্বারিক মিত্র জজ সেইখানে।
শ্ৰচন্দ্ৰমাধব ঘােষ, সারদাচরণ।
হাইকোর্টের জজ সবে দেখহ এখন।
শ্ৰীযুক্ত রমেশচন্দ্র দত্ত ছিল কমিশনার।
খ্যাতনামা মনােমােহন শ্রেষ্ঠ বারিষ্টার !
লালমােহন আনন্দমােহন দেখ দুইজন।
বারিষ্টার তারক পালিত খ্যাতনামাগণ।
ডি, এন, মল্লিক আদি অধ্যাপক যত।
কত যে করিব নাম আছে শত শত ।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
উকিলের সংখ্যা অতি লেখা নাহি যায়।
সেই জন্য আমি তাহা না লিখি এখায়।
কালীপ্রসন্ন ঘােষ আর হরিশ্চন্দ্র মিত্র।
বঙ্গেতে তাঁদের নাম বিখ্যাত সর্বত্র।
কালীপ্রসন্ন মিত্র বসু প্রসন্ন ভূপেন্দ্র।
বিপিন কৃষ্ণ মিত্র আর সে কার্তিকচন্দ্র ।
রমানাথ ঘােষ নাম খ্যাত বাঙ্গালায়।
ইত্যাদি অনেক আছে লেখা নাহি যায় ।
সুবিজ্ঞ নগেন্দ্র বসু কীৰ্ত্তি অতিশয় ।
বিশ্বকোষ অভিধানে পাবে পরিচয়।
শ্ৰীযােগেন্দ্র বসু আর মতিলাল ঘােষ।
পত্রিকার সম্পাদক খ্যাতনামা দেশ।
ডাক্তার রাজেন্দ্রলাল মিত্র রাজা খ্যাত।
প্রত্নতত্ত্বে সবাকারে করে চমৎকৃত ।
বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে বস্তু জগদীশ।
উজলিলা বাঙ্গালীর মুখ দশদিশ ।
শ্ৰীযুত অপূর্বকৃষ্ণ দত্ত সুলেখক।
কেমব্রিজেতে বাঙ্গালীর গুণ-প্রকাশক।
সব জজ ডেপুটী আদি সংখ্যা কব কত।
লিখিলে অনেক হবে নাম কত শত।
বিখ্যাত বাঙ্গালীবীর সুরেশ বিশ্বাস।
ব্রাজীলেতে ক্ষত্রবীর্য করিছে প্রকাশ ।
৪৮ কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী । ধৰ্ম্ম-প্রচারক দত্ত নরেন্দ্র সুমতি। বিশ্বেতে বিবেকানন্দ স্বামিনামে খ্যাতি । বঙ্গের গ্যারিক খ্যাত শ্ৰীগিরিশ ঘােষ । নাট্যেতে সবার মন করিল সন্তোষ । বাহুল্য করিয়া আর কি লিখিব আমি। কায়স্থ বিবিধগুণে সদা অগ্রগামী। কায়স্থ-মাহাত্ম্য বহু আছে স্থানে স্থানে। (৩৬) পূর্ণচন্দ্র পূর্ণভাবে অক্ষম বর্ণনে। তত্ত্ব-তরঙ্গিণীকথা শ্রবণে মধুর। পাঠ কর সকল সন্তাপ যাবে দূর। উত্তাল তরঙ্গ ষষ্ঠ লহরী উচ্ছাস । কাপাইয়া ভূমণ্ডলে উঠিছে আকাশ। (৩৬) কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদত্ত সম্মানসূচক “প্রেম- চাদ রায়চাঁদ বৃত্তি প্রাপ্ত কৃতিগণের তালিকা দৃষ্টে দেখা যায় ;- ১৮৬৮ ইং এই বৃত্তি সংস্থাপিত হওয়ার পর হইতে ১৯০১ সন পর্যন্ত মােট ৩৪ জনে এই বৃত্তি লাভ করিয়াছেন। ব্রাহ্মণ অর্ধেকের বেশী, প্রায় এক তৃতীয়াংশ কায়স্থ, চারিজন ভিন্নজাতীয়, বৈদ্য এই ভিন্নজাতি হইতেও নন। + --
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
সপ্তম লহরী।
-----
ব্যভিচারে দুই জাতি মিলি পরস্পর ।
নিকৃষ্ট অদ্ভুত জাতি জন্মায় সঙ্কর।
ভগবদ্গীতা দেখ তাহার প্রমাণ।
কি বলেন পার্থ আর কিবা ভগবান্। (৩৭)
বংশ নষ্ট হলে আর কুল নষ্ট হয়।
ধৰ্ম্ম নষ্ট হয়ে হয় অধৰ্ম্ম উদয়।
(৩৭) কুলক্ষয়ে প্রণন্তি কুলধৰ্ম্মাঃ সনাতনাঃ ।
ধৰ্ম্মে নষ্টে কুলং কৃৎস্নমধৰ্ম্মোহভিভবত্যুত।
অধৰ্ম্মাভিভবাৎ কৃষ্ণ প্ৰদুষ্যন্তি কুলস্ত্রিয়ঃ ।
স্ত্রীযু দুষ্টাসু বাষ্ণোয় জায়তে বর্ণসঙ্করঃ।
সঙ্করাে নরকায়ৈব কুলানাং কুলস্য চ।
পতন্তি পিতরাে হেং লুপ্তপিণ্ডোদকক্রিয়াঃ।
দোষৈরেতৈঃ কুলানাং বর্ণসঙ্করকারকে।
উৎসাচ্ছন্তে জাতিধৰ্ম্ম কুলধৰ্ম্মাশ্চ শাশ্বতাঃ।
উৎসন্নকুলধৰ্ম্মাণাং মনুষ্যাণাং জনার্দন।
নরকে নিয়তং বাসাে ভবতীত্যনুশুক্রম।”
গীতা ১ম অধ্যায়।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী
অধৰ্ম্ম প্রবল হলে নারী হয় দুষ্ট।
সেই নারী হ’তে জন্মে সঙ্কর পাপিষ্ঠ ।
অধম সঙ্করজাতি কুল নাহি পায়।
পিতৃ-মাতৃকুল তারা উভয় হারায়।
কুল-নাশকারীদের নরকে নিবাস।
নর-নারায়ণ পাৰ্থ করিলা প্রকাশ ।
পিতৃশ্রাদ্ধ তৰ্পণাদি বিলুপ্ত হইবে।
সনাতন ধর্ম তারা কিছু না পাইবে।
যেখানে হইল বর্ণসঙ্কর উদয়।
কুলধৰ্ম্ম কুলনাশ জানিবে নিশ্চয়।
হইয়ে উপায়হীন যাতনা ভুগিবে ।
চিরদিন নরকেতে বসতি করিবে।
পার্থের এহেন মত, কৃষ্ণ কিবা বলে।
তৃতীয় অধ্যায় গীতা দেখহ সকলে ॥ (৩৮)
—সঙ্কর হইলে মম কলঙ্ক হইবে।
সঙ্কর-উৎপন্নকারী আমায় বলিবে।
(৩৮) “যদি হহং ন বৰ্ত্তেয়ং জাতু কৰ্ম্মণ্যতন্দ্রিত।
মম বানুবৰ্ত্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সৰ্ব্বশঃ ।
উৎসীদেথুরিমে লােকা ন কুৰ্যাং কৰ্ম্ম চেদহং ।
সঙ্কর চ কৰ্ত্তা স্যামুপহামিমাঃ প্রজাঃ।”
গীতা ৩য় অধ্যায়।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
সঙ্কর ঘৃণিত বিষ্ণুপুরাণে নির্ণয়।
রাজার দোষেতে বর্ণসঙ্কর উদয় ।
মনুতেও সেইরূপ আছয়ে নির্ণয় ।
ব্যভিচারে হয় বর্ণসঙ্কর উদয় । ( ৩৯ )
এই ত সঙ্করজাতি বুঝহ সকলে।
তাহাদের কি ব্যবস্থা ধৰ্ম্মশাস্ত্র বলে ।
সঙ্কর দ্বিজাতি হলে লােকে বলবে কি ?
খচ্চরের দুগ্ধে কভু হয় গব্য ঘি ?
আবার দেখহ দুই অপরূপ জাতি।
“পুস্পাঞ্জলি” “শাখটীয়া” এই দুই খ্যাতি।
জলস্পর্শ দাসী কিংবা দাসীকন্যা হতে।
জনমিল দুই জাতি এই চট্টলেতে ।
প্রভু হ’তে জন্ম বলি এই দোহাকার।
প্রভুর প্রবর গােত্র করে ব্যবহার।
তিন কি চারি পুরুষ ইহাদের জন্ম।
প্রভুনাম লয় যবে করে ক্রিয়াকৰ্ম্ম।
প্রভুকে লইয়া তার টানাটানি করে ।
পূর্ব পুরুষের নাম মিলাতে না পারে।
(৩৯) “ব্যভিচারেণ বর্ণানামবেদ্যবেদনেন চ।
স্বকৰ্ম্মণাঞ্চ ত্যাগেন জায়ন্তে বর্ণসঙ্কঃ মঃ ।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী
আবার এমন দেখি এদেশ ভিতরে।
সঙ্কর হইয়া কেহ ততলি বিয়া করে।
দুই জাতি মিলনেতে সঙ্কুর উদয়।
ইহারা কেমন জাতি করহ নির্ণয় ।
সঙ্করের সব তত্ত্ব সঙ্কট জড়িত।
চারিবর্ণে কোন বর্ণ না হয় নিশ্চিত।
সপ্তম লহরী চলে বড়ই বিষম ।
মহা ঘূর্ণাবাতে যথা হয় জলভ্রম।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী । অষ্টম লহরী *com আধুকি এক জাতি বঙ্গে দেখা যায়। (৪০) কভু বৈশ্য কভু তারা বিপ্র হতে চায় । (৪০) পূৰ্ব্বকালে ব্রাহ্মণের চাতুর্ণ বিবাহের নিয়ম ছিল, অর্থাৎ ব্রাহ্মণগণ দ্বিজাতি বর্ণয়ের কন্যা বিধিমতে বিবাহ করিতে পারিতেন, কেবল রতিকামী হইয়া শূদ্র-কন্যা বিবাহ করিতেন, এবং ঐরূপ বিবাহের ফলে যে সন্তান হইত, একমাত্র শূদ্রার সন্তান ব্যতীত সকলেই ব্রাহ্মণ হইত (ইহার দৃষ্টান্ত এখনও ত্রিবাঙ্কুর প্রভৃতি অঞ্চলে আছে ), কারণ ইহা সকলেই জানেন যে, আর্য- জাতির বিবাহে গােত্রান্তর হইয়া থাকে, এবং গােত্রান্তরের পর স্ত্রী স্বামীর গােত্র প্রাপ্ত হয়, সুতরাং সন্তানগণ মাতৃকুল না পাইয়া পিতৃকুলই পাইয়া থাকে এবং শাস্ত্রানুসারে পিতৃধনের অধিকারীও হইয়া থাকে। এখনও ব্রাহ্মণের ব্রাহ্মণী নাই বলিয়া যে একটা প্রবাদ আছে, তাহার কারণও এই। এইরূপ বিবাহে ব্রাহ্মণ কর্তৃক ব্রাহ্মণ-কন্যা, ক্ষত্রিয়-কন্যা ও বৈশ্য-কন্যাবিবাহে, ক্ষত্রিয় কর্তৃক ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যকন্যা-বিবাহে এবং বৈশ্য কর্তৃক বৈশ্যকন্যা বিবাহে জাত যেই ছয়টী পুত্র হইত, সকলেই পিতৃকুল পাইত। ইহার প্রমাণ যথা :- ৫৪ কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী। কখন অম্বষ্ঠ বলে কভু বৈদ্য বলে। এইরূপ নানা উক্তি করে স্থলে স্থলে। যুধিষ্ঠির উবাচ চতস্রো বিহিত ভাৰ্য্যা ব্রাহ্মণস্য পিতামহ। ব্রাহ্মণী ক্ষত্রিয়া বৈশ্যা শূদ্রা চ রতিমিচ্ছতঃ। ৪ শ্লোক ৪৭ অধ্যায় অনুশাসন পৰ্ব্ব, মহাভারত ক্ষত্রিয়ায়াস্তু যঃ পুত্রো ব্রাহ্মণঃ সােহপ্যসংশয়। স তু মাতুব্বিশেষেণ ত্ৰীনংশান্ হওঁমতি। ১৩শ্লোক ঐ। বর্ণে তৃতীয়ে জাতস্তু বৈশ্যায়াং ব্রাহ্মণদপি। দ্বিরংশস্তেন হৰ্তব্যো ব্রাহ্মণত্বা যুধিষ্ঠির। ১৪ শ্লোক ঐ ত্রি বর্ণেষু জাতে৷ হি ব্রাহ্মণাব্রাহ্মণো ভবেৎ। ১৭ শ্লোক ৪৭ অধ্যায় ঐ যুধিষ্ঠির উবাচ -- ব্রাহ্মণ্যাং ব্রাহ্মণাজ্জাতে ব্রাহ্মণঃ স্যান্ন সংশয়ঃ । ক্ষত্রিয়ায়াং তথৈব স্যাদ্বৈায়ামপি চৈব হি। ২৮ শ্লোক ঐ। এবং মনুসংহিতাতেও এই “ট, সুতা দ্বিজধৰ্ম্মিণঃ” বলিয়া উল্লেখ আছে। আর ব্রাহ্মণাদি ভিন্ন ভিন্ন বর্ণের স্ত্রী-পুরুষগণ কাম, অর্থ-লাভেচ্ছা ও বর্ণের অনভিজ্ঞতা বশতঃ অবেদাবেদন ( স্বগােত্রীয় বিবাহাদি} অপরিণীতা স্ত্রীর এবং পরস্ত্রীর সংসর্গে প্রবৃত্ত হওয়াতে যেই সন্তান হইত; তাহারা মাতার গােত্রান্তররাহিত্য হেতু মাতৃকুলই পাহত। এইরূপেই অপরি- ণীত। বৈশ্যকন্যাতে ব্রাহ্মণ কর্তৃক অম্ব জাতির উৎপত্তি হই- আছে। সেই জন্য মনুসংহিতায় “ব্রাহ্মণদবৈশ্যকন্যায়ামম্বষ্ঠো কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী । ব্রাহ্মণ কায়স্থ আসে কান্যকুজ হতে। কোথা হতে আসে এরা না পারে বলিতে নাম জায়তে” ইত্যাদি শ্লোকের ভাষ্যে প্রাচীন টীকাকার মেধাতিথি বলিয়াছেন—“কন্যাগ্রহণং স্ত্রীমাত্রোপলক্ষণার্থমিতি ব্যাচক্ষতে বৈস্ক্রিয়ামিত্যর্থঃ” অর্থাৎ এই স্থলে যে “বৈশ্যকন্যা” শব্দের প্রয়ােগ আছে, উহার অর্থ “বৈশস্ত্রী”। তাহা সংহি- তান্তরেও “বিশঃ স্ত্রিয়াং' বলিয়া উল্লেখ আছে। এখন অষ্ঠের সঙ্করত্ব ঘুচাইবার জন্য গায়ের জোরে যে যাই বলুক না কেন, কোন মতেই তাহা প্রামাণ্য হইবার নহে;-হইলে যাহারা অম্বষ্ঠ বলিয়া আত্মপরিচয় দেন, তাহারা ব্রাহ্মণবৎ ব্যবহারাদি করিয়া শূদ্রবৎ ব্যবহার করেন কেন ও বর্তমানে বৈশুবৎ ব্যবহারের চেষ্টা কেন ? বিধিমতে বিবাহ হইয়া থাকিলে বৈশ্য- কন্যা অবশ্যই ব্রাহ্মণের গােত্রীয়া হইয়াছিলেন, এইরূপ হইলে সন্তান ব্রাহ্মণবৎ “দেবশর্মা” না হইয়া চিরকাল “সেন দাস” এবং কখন কখন “সেন গুপ্ত” আবার কোথায় “দাস দাস হইলেন কেন? দশাহ অশৌচগ্রহণ না করিয়া চিরকাল মাসাশৌচ ও কচিৎ চিৎ পাশৌচ গ্রহণ করেন কেন ? এবং পিতৃধনের অধিকারী হইয়া যজমান-শিষ্যের ভাগ পাইলেন না কেন ? অপর জাতির গুরুত্ব পৌরােহিত্য না করিলেও অন্ততঃ পক্ষে ব্রাহ্মণবৎ স্বীয় জাতির গুরুত্ব ও পৌরােহিত্যও ত করিতে পারি- তেন! বৈদ্যজাতির আদ্য, বৈশ্বানর, ধন্বন্তরি প্রভৃতি গােত্রগুলি ব্রাহ্মণগণ মধ্যে নাই কেন?
৫৬ কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী । আদি অন্ত ঠিক নাই হাবু ডুবু খেয়ে। কিছুই বলিতে নারে নির্ণয় করিয়ে। মহাভারতের অনুশাসনপৰ্বের ৪৮ অধ্যায়ে সঙ্করপ্রকরণে- ইত্যেতে সঙ্করা জাতাঃ পিতৃমাতৃব্যতিক্ৰমাৎ। প্রচ্ছন্না বা প্রকাশ বা বেদিতব্যাঃ স্বকৰ্ম্মভিঃ। ২৯ শ্লোক। এই শ্লোকপাঠে বুঝা যায়, কোন গুপ্ত অথবা সপ্ৰকাশ সঙ্কর জাতিকে তত্তদাচরণীয় কৰ্ম্ম অর্থাৎ ব্যবহারাদি দর্শনে উহাদিগকে চিনিয়া লইবে। কিন্তু কৈ! বৈদ্যদিগের মধ্যে ব্রাহ্মণদিগের যজন যাজনাদি ষট্কৰ্ম্ম কিছুমাত্র পরিলক্ষিত হয় না। বস্তুতঃ অম্বষ্ঠ ও বৈদ্য একার্থবাচক নহে, তাহার প্রমাণ যথাস্থানে সন্নিবেশিত হইয়াছে। তর্কানুরােধে স্বীকার করিলেও যে উল্লিখিত মতে অনেক গােলযােগ বাধে, এবং মনু দশম অধ্যায় সঙ্করপ্রকরণে অমৃষ্ঠের উল্লেখ করতঃ এবং বর্ণসঙ্করের বৃত্তি নির্দেশ করিতে গিয়া “সূতানামশ্বসারথ্যমন্বষ্ঠানাং - চিকিৎসিত” লিখিয়া অম্বষ্ঠকে সঙ্করবর্ণ ই বলিয়াছেন, তাহার উপর আবার স্কন্দপুরাণীয় গালব মুনিগঠিত গােলযােগে অম্বষ্ঠের উৎপত্তিকথাতে তদ্রুপ আভাস পাওয়া যায়। কিন্তু বৃহদ্ধর্মপুরাণ দেখিলে আর কোন সংশয় থাকিবে না। নিম্নে তাহার বচন উদ্ধৃত করা গেল :- “বলাৎকারেণ ব্রাহ্মণ্যাং সঙ্গময্য তু ক্ষত্রিয়ং। পুমুৎপাদয়ামাস বেণা নাস্তিকসত্তম। দিজং ক্ষত্রিয়পত্নাঞ্চ বৈশ্যপাঞ্চ ক্ষত্রিয়ং। দ্বিজ বৈস্ত্রিয়ামপি ব্রাহ্মণ্যাং বৈশ্যমপুত।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
৫৭
সংখ্যায় অধিক নহে নাহিক বিস্তার।
ভারতে নাহিক কোথা বঙ্গ ভিন্ন আর ।
এবমন্তং তথাস্যাং সঙ্গময্য তু ভূপতিঃ।
পুত্ৰা বৈ জনয়ামাস বর্ণসঙ্করকারক।
সঙ্কীর্ণনাঞ্চ সঙ্কীর্ণং সঙ্গময্য তত নৃপঃ।
চকার সঙ্করানন্যান্ দৌরাত্মেন স ভূপতিঃ ।
শূদ্রায়াং বৈ বৈশ্য জাতঃকরণে বর্ণসঙ্কর।
বৈশ্যায়াং ব্রাহ্মণাজ্জাতাে হম্বষ্ঠো গান্ধিকো বণিক।
কাংসকারশকারে ব্রাহ্মণ্যাং সংবভূতুঃ।
কুম্ভকারতন্তুবায়ৌ ক্ষত্রপাং বভূবতুঃ”।
বৃহদ্ধর্মপুরাণ ১৩শ অধ্যায় উত্তর খণ্ড
ব্রাহ্মণা উচু-
অয়মন্যঃ সঙ্কটে হি বেণ বশগঃ পুরা।
বৈশান্ সমুপগম্য চক্রেমপি সঙ্কর।
তস্মাদম্বষ্ঠনামাসৌ সঙ্করাে ধরণীপতে।
অভির সংস্কারঃ কৰ্তব্যো বিপ্রজন্মনঃ।
যেনাসৌ সঙ্করাে ভূত্ব পুনর্জাত ইবাস্তু চ।
ব্যাস উবাচ
ইত্যুক্তৃা তে দ্বিজগণাঃ স্মৃত্বা নাসত্যদকৌ।
তয়ােরনুগ্রহাদ্বিপ্রা দয়াবন্তো দ্বিজাতয়ঃ।
আয়ুৰ্বেদং দদৌ তস্মৈ বৈদ্যনামে চ পুষ্কল।
তেনাসৌ পাপশূন্যোহভূদষষ্ঠখ্যাতিসংযুতঃ।
চারুরূপধরাে ভূত্ব বিজ্ঞাং শিরসাকরােৎ।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
কোন বর্ণে যেতে নারে চারিদিকে চায়
তাহাদের কাৰ্য দেখি মনে হাসি পায় ।
প্রণম্য ভক্তিতত বিপ্ৰান্ সােহঠো বিপ্রসত্তম।
কৃতাঞ্জলিপুটস্তস্থৌ ব্রাহ্মণাস্তং তদাহব।
ব্রাহ্মণ উচুঃ-
অম্মাভির্যানি শাস্ত্রাণি কৃতানি সঙ্করােত্তম।
তানি তুভ্যঞ্চ
দত্তানি ন প্রমাদ্যেঃ কদাচন।
চিকিৎসাকুশললা ভূত্বা কুশলী তিষ্ঠ ভূতলে।
শূদ্ৰধৰ্মান্ সমাশ্ৰিত্য বৈদিকানি করিষ্যসি।
ব্যাস উবাচ
আয়ুৰ্বেদস্তু, বব দত্তস্তুভ্যমষ্ঠভূরৈঃ।
তেন প্রসক্তো নৈবান্যৎ পুরাণাদি বদিসি।
আয়ুৰ্বেদাৎ পরং নান্য যুম্মাকং বাক্যমৰ্হতি।
বৈশবৃত্ত্যা ভেষজানি কৃত্বা দাসি সৰ্ব্বতঃ।
ত্বজ্জাতেবৃত্তিরেবৈষ। কালে কালে ভবিষতি।
শুক্রন্তু পুরুষং সাক্ষাজ্জাতিভেদবিবর্জিত।
জায়তে যােনিসম্বন্ধাৎ সঙ্করা মাতৃজাতয়ঃ।
ঐ ১৪শ অধ্যায়, ঐ
আবার অমরসিংহও তৎপ্রণীত অমর অভিধানে-
“আচণ্ডালাসংকীর্ণা অম্বষ্ঠকরণাদয়ঃ” লিখিয়াছেন।
সকল বচন প্রমাণ মনুর উক্ত মতের প্রতিপােষকে বিশদরূপে
ব্যাখ্যাত হইয়া অম্বষ্ঠের সঙ্করত্বকে আরও প্রকট করিয়াছে।
আবার অম্বষ্ঠ জাতি চিকিৎসাব্যবসায়ী, দ্বিজ চিকিৎসক হইতে
,,
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী। তথাপি দুরাশা মনে এই জাতি করে। বিচারিয়া নাহি দেখে শাস্ত্রের ভিতরে। পারে না, এমন কি, চিকিৎসকের অন্ন ও দ্বিজাতির অগ্রাহ-~- ইহাই পুরাণ-সংহিতাদি আৰ্য্য ধর্মশাস্ত্রের মত। অম্বষ্ঠ, গন্ধ- বণিক, কাসারি, শাঁখারি, ইহাদের একইরূপে উৎপন্ন হওয়া বিধায় সমশ্রেণীয় জাতি। যে জাতির অন্ন ও দ্বিজাতিদের অগ্রাহ, সেই জাতি কেমন করিয়া আবার দ্বিজ হইবে ? সুতরাং “সট, সুতা দ্বিজধর্মিণঃ” প্রমাণ অব বা কবিরাজী ব্যবসায়ী জাতির প্রতি প্রয়ােজ্য নহে। উল্লিখিত যাবতীয় বিষয়ের শাস্ত্রীয় প্রমাণ এই পুস্তকে যথাস্থানে সন্নিবেশিত করা হইয়াছে। মনু এবং নানাবিধ ধৰ্ম্মশাস্ত্র উক্ত মতের প্রতিকূলে এক অধিটা { আছেকনা সন্দেহ ) শ্লোকের অন্যায় অর্থ করিলেও বহু শাস্ত্রের মত কখনও অগ্রাহ্য হইতে পারে না। কাজে কাজেই বৈদ্যজাতি যে অম্বষ্ঠ বলিয় বলেন, সেই অম্বষ্ঠও দ্বিজ বা দ্বিজ- ধৰ্ম্মী নহে-বণসঙ্কর। এমন স্থলে “একগুণ বৈদ্যালীর সাতগুণ শল্পের ক থকে গ্রাহ করবে ? যাহারা বৈদ্য ও অষ্ট এক বলিতে চাহেন, পঞ্চম বেদ মহাভারতের অনুশাসন পর্বের ৪৯ অধ্যায়ের ৯ম শ্লোকে বৈদ্য সম্বন্ধে যাহা লিখিত আছে, তাহা তাহারা দেখেন নাই, অথবা দেখিয়াও “গুপ্ত” করিতেছেন। শ্লোকটী নিম্নে উদ্ধত করিলাম । “চণ্ডালে ব্রাত্যবৈদ্যে চ ব্রাহ্মণ্যাং ক্ষত্রিয়া চ। বৈশ্যায়াঞ্চৈব শূদ্র লক্ষ্যন্তেংপসদায়ঃ ॥” এখন বুঝিলেন কি ? শূদ্র কর্তৃক বৈশ্যাস্ত্ৰীতে অপসদ পুত্র ৭
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
আদি গ্রন্থ কিছু নাই শুধু হৈ চৈ।
রত্নপ্রভা চন্দ্রপ্রভা আধুনিক বই। (৪১)
মূল ছাড় দিশাহারা চলে চিরকাল ।
যেই ডাল ধরে তারা ভাঙ্গে সেই ডাল ।
বঙ্গেতে যে সব দেশ যবনপ্রধান।
সে সব দেশেতে কিছু তাদের সম্মান।
তাহাদের কাৰ্য দেখি আসে উপহাস ।
কেহ বা উপাধি ধরে “দাস-দাস দাস” ।
“বৈদ্য উৎপন্ন হইয়াছে। সনাতন ধৰ্ম্ম মানিলে বেদবাক্যের
উপর আর কোন যুক্তি তর্ক খাটে না।
উপসংহারে বক্তব্য এই যে, বৈদ্যনামধারী এমন অনেক
ধাম্মিক, পরনিন্দাপরাজুখ ও প্রতিভাসম্পন্ন মহাত্মা আছেন,
যাহারা সদাচার বিনয় প্রভৃতি সদ্ গুণে লােকসমাজে ভক্তি-
শ্রদ্ধার পাত্র হইয়া রহিয়াছেন। এই ক্ষুদ্র গ্রন্থকার ঈদৃশ সম্মানাই
ব্যক্তিগণের প্রতি যথােপযুক্ত সম্মান ও ভক্তি করিয়া থাকেন,
কিন্তু বৃথাভিমানী, নিন্দুক, পরচ্ছিদ্রানুসন্ধিৎসু, হিংসুক, ঘৃণা-
পরায়ণ, অনধিকারচর্চক, অকৃতজ্ঞ ও শাস্ত্রানভিজ্ঞ ব্যক্তিগণের
এবং যাহাৱা আত্মবিস্মৃত ও আপনাকে আপনি চিনেন না,
তাহাদের শিক্ষার্থ এই পুস্তকে শাস্ত্রাদির বচন প্রমাণ দ্বারা
তাহাদের স্বরূপ প্রদর্শনের কিঞ্চিৎ আভাস দিয়াছি মাত্র।
(৪১) “চন্দ্রপ্রভা”-প্রণেতা ভরত মল্লিক ১৬০৫ শকে বা
১৬৮৩ খৃঃ অব্দে জীবিত ছিলেন। ইনিই বৈদ্যদের আদি ও
প্রধান গ্রন্থকার।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
কেহ সেনদাস” বলে কেহ ‘‘দত্তদাস”।
“গুপ্তদাস” কেহ “দাস-দাস” পরকাশ ।
ইত্যাদি দাসের মাত্রা চড়িছে অধিক।
কোন গ্রন্থে রচিয়াছে নাহি পাই ঠিক।
বুঝিয়া সে কথা এবে চলিছি ফিকিরে ।
“দাস” শব্দ লুপ্ত করে “গুপ্ত” নাম ধরে ।
“দাসী” শব্দ লুকাইয়া হইতেছে “দেবী।
হায় রে কলির কাণ্ড সব আজগবি ।
এক দাসে কায়স্থেরে শূদ্র যেবা কয়।
দাস-দাস তস্য দাসে কোন্ জাতি হয় ?
দেখহ এখন তারা চাহে মিশাইতে।
কায়স্থ-বল্লালে আর বৈদ্য-বল্লালেতে ।
হনূ ভানু মিতালি লিখিল রামায়ণে।
বল্লালে বল্লাল দিয়ে সেই মত টানে।
অদ্ভুত তাদের কথা এমন না শুনি
নামে নামে মিলাইয়া করে টানাটানি ।
বল্লাল-চরিত মধ্যে লিখিছে দেখহ।
বাবাদম যুঝে বৈদ্য-বল্লালের সহ। (৪২)
।
(৪২) বিশ্বকোষ-কুলীন শব্দে ৩৪৩ পৃঃ দ্রষ্টব্য।
৬২
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
এখন সকল লোক করহ শ্রবণ।
কায়স্থ-বল্লালপুত্র জানহ লক্ষণ ॥ (৪২ ক)
(৪২ক) পরিব্রাজক শ্রীযুক্ত আনন্দনাথ সরস্বতী মহাশয়ের নিকট
হইতে যে প্রত্যুত্তর পাইয়াছি, তাহা নিম্নে উদ্ধৃত করা গেল,
মহাশয়।
আপনি যাহা জানিতে চাহিয়াছিলেন, তদুত্তরে আপনাকে
লিখিতেছি যে, আমি হিমালয় পর্বতের সমীপে ভ্রমণকালে মণ্ডী-
, ক রাজ্যে গমন করি, তথাকার রাজা শ্রীযুক্ত বিজয়সেনের
সহিত আমার বিশেষ আলাপ হয়। তিনি বলিলেন, আমি
বঙ্গের সেনবংশীয় রাজা বল্লালসেন ও লক্ষ্মণসেনের বংশধর,
জাতিতে ক্ষত্রিয়। আমি ইহাও জানি, উক্ত রাজা বিজয়সেন
তঁাহার দুই কন্যা বশের রামপুর রাজ্যের ক্ষত্রিয় রাজা সমসের
সিংহের পুত্রকে দান করেন ; সেই বিবাহ সময় আমি উপস্থিত
ছিলাম। রাজা বিজয়সেনের পূৰ্বপুরুষ বঙ্গ হইতে গিয়াছেন
বিধায় বঙ্গবাসীকে তিনি বিশেষ সম্মান করেন।
আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর এই যে, আমি ভারত পৰ্যটন
সময়ে অবলােকন করিয়াছি, বঙ্গ ভিন্ন বৈদ্যজাতি কোন স্থানে
নাই। বিশেষতঃ বৈদ্য একটী জাতি আছে বলিয়াও কেহ
স্বীকার করেন না।
আপনার তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর এই, চব্বিশ বৎসর কাল আমি
ভারত পৰ্যটনে ছিলাম, ইহার অধিক আমি লিখিতে ইচ্ছা
করি না। আমার শিষ্যগণের নাম জানিয়া আপনার কি হইবে।
আশীৰ্বাদক–শ্রীআনন্দনাথ সরস্বতী।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
অশীতি বৎসর যবে বয়স তাঁহার।
যবনেরা করে তাঁর রাজ্য অধিকার ।
সে বল্লালসেন হ'তে কতকাল পরে।
মুসলমান আসে দেখ গৌড়ের ভিতরে ॥
ইতিপূৰ্বে মুসলমান হেথা নাই আসে।
ইহার প্রমাণ বহু পাবে ইতিহাসে ।
তেরশত শকে ইহা আছে নিরূপিত।
রচিল গােপাল, বৈদ্য-বল্লাল-চরিত। (৪৩)
দেব-বংশ-বল্লালের অনেক পরেতে।
বল্লালসেন বৈদ্যরাজা বিক্রমপুরেতে ।
ইহার প্রমাণ দেখ বল্লাল-রচিত।
মিলাইয়া দেখ দান-সাগর সহিত ॥ (৪৪)
(৪৩) “বৈদ্যবংশাবতংসােহয়ং বল্লালাে নৃপপুঙ্গবঃ।
তদাজ্ঞয়া কৃমিদং বল্লালচরিতং শুভ।
গােপালভউনামা চ তদ্রাজশিক্ষকেন চ।
অন্ধ রাজজমানে বসুভিৰ্বাণৈরধিকশাকে।
রুদ্রৈ দর্শিতে মাসে রাশিভিমাসসম্মিতৈঃ।”
অর্থাৎ ১৩০০ শকাব্দে
(৪৪) নিখিলচক্ৰতিলক-শ্ৰীমল্লালসেনেন পূর্ণে।
শশি-নব-দশ-মিতে শকবর্ষে দানসাগরে রচিতঃ।
অর্থাৎ ১০৯১ শক।
৬৪ কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী । হাজার একাই শকে সে দান-সাগর। দ্বিতীয় বল্লাল দেখ দু’শ বর্ষ পর। প্রথম বল্লাল বৈদ্যে দেয় নাই কুল। ইহাই নিশ্চিত কথা তাতে নাই ভুল। বৈদ্যের অস্তিত্ব যদি থাকিত তখন। অবশ্য করিত তিনি কৌলীন্যস্থাপন। কুলীন ব্রাহ্মণ কিংবা কায়স্থের কুল। বিচারি দেখিলে তার পাওয়া যাবে মূল। ব্রাহ্মণে কায়স্থে কুল লভিলা যখন। চবিবশ হ’তে ছাব্বিশ পুরুষ এখন। কায়স্থগণের সাক্ষী ব্রাহ্মণেরা হয়। উভয়ের কুলজিতে সৌসাদৃশ্য রয়। (৪৫। যদি কোন বল্লাল বৈদ্যে দানি থাকে কুল ; দ্বিতীয় বল্লাল বটে তাহারই মূল। চায়ুদাস কায়ুগুপ্ত ধরি যদি আদি। চৌদ্দ হ’তে বিশ পৰ্য্যা হয় অদ্যাবধি ॥ (৪৬) বিপ্র কায়স্থলনে কুল বৈদ্য নাহি পান। পুরুষের সংখ্যা ধরি পাইবে প্রমাণ। ৪৫) “বিশ্বকোষ” কুলীন ও কায়স্থশব্দ--“গৌড়ে ব্রাহ্মণ”— “সম্বন্ধনির্ণয়” প্রভৃতি দ্রষ্টব্য। (৪৬) “চন্দ্রপ্রভা” বা “বৈদ্যকুল-পঞ্জিকা, আনন্দচন্দ্র দাস- ত “ডাকৈর” প্রভৃতি বৈদ্যগ্রন্থ দ্রষ্টব্য।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
ছয় পুরুষেতে দুইশত বর্ষ ধরে।
দ্বিতীয় বল্লাল তাই দু’শ বর্ষ পরে।
নানা মত নানারূপ প্রবাদ রটা’ছে।
কিরূপেতে এই জাতি উৎপন্ন হয়েছে।
তাহারা অম্বষ্ঠ বলি স্বীকার করয়। (৪৭)
মিশ্র জাতি বলি পুনঃ দেয় পরিচয় ॥ (৪৮)
অষ্ঠের “বৈদ্য” অর্থ ধৰ্ম্ম-শাস্ত্রে নাই।
বৈদ্য শব্দে কবিরাজ বুঝহ সবাই ॥ (৪৯)
বৈদ্য, অম্বষ্ঠের দেখ বিভিন্ন পৰ্য্যায় ।
অম্বষ্ঠ বলিলে ভূকণ্টক বুঝায় । ( ৫০)
ভূজ্রকণ্টক, অস্পৃশ্য অধর্মাচারী হয়।
ক্ষৌরকার জাতিকেও অম্বষ্ঠ বলয়। (৫১)
(৪৭) “অম্বসম্বাদিক” “বৈদ্যকুলপঞ্জিকা” বা “চন্দ্রপ্রভা”
“বৈদ্যকুলতত্ত্ব ইত্যাদি দ্রষ্টব্য।
(৪৮) ১৩০৯ সালের আষাঢ় মাসের “ভারতী” পত্রিকা দেখুন।
(৪৯) “বােগহাৰ্যগদঙ্কারােভিযগ্বৈদ্যশ্চিকিৎসকঃ।” শব্দকল্পদ্রুম।
“স্রষ্টা বিধি-বিদ্বান্ আয়ুর্বেদী” ( রাজনির্ঘণ্ট )
কৈ ? বৈদ্য শব্দের অম্বষ্ট অর্থ ত দৃষ্টিগােচর হয় না।
(৫৫) মনুসংহিতা ১০ম অধ্যায় ২১ শ্লোকের মেধাতিথি-
ভাষ্য দ্রষ্টব্য।
(৫১) পণ্ডিত দীননাথ শাস্ত্রি-কবিরত্ন) প্রণীত “বেষ্টরহস্য”-
নামক গ্রন্থের ৬৭ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
৬৬
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
আর এক মত শুন কহি বিস্তারিয়া।
কোষ্টী নিশ্চিত কথা না পাই ভাবিয়া।
কুশময় এক শিশু গালব মুনির।
বৈশ্যানীতে হ’ল বলি করিয়াছে স্থির । (৫২)
এইরূপ মতভেদ দেখি এ জাতিতে।
নিজ দোষ ঘুচাইতে নারে কোন মতে।
আর এক ব্যাখ্যা শুন অপরূপ অতি।
অম্বা শব্দে মাতা হয় স্থা শব্দে তিষ্ঠতি । (৫৩)
পিতৃকুল না পাইয়া মাতৃকুল পায়।
এই হেতু অম্বষ্ঠ বলি সবারে জানায়।
পুত্রগণ শাস্ত্রমতে পিতৃকুল লভে।
মাতৃকুলে পরিচয় কে দিয়াছে কবে ?
বৃহদ্ধর্মপুরাণেতে পাবে দেখিবারে।
অম্বষ্ঠ সঙ্কর জাতি বৈদ্য নাম ধরে ।
লিখা আছে কিবা বৃত্তি ব্যবসা তাহার ।
শূদ্ৰধৰ্ম্মী হইয়া করিবে শূদ্ৰাচার ।
প্রদানিলা আয়ুর্বেদমাত্র অধিকার।
বেদ-পুরাণাদি নহে পাঠযােগ্য তার।
(৫২) আনন্দচন্দ্র দাস গুপ্ত প্রণীত “ডাকৈর” দ্রষ্টব্য
(৫৩) “তেষাং মুখ্যোহমৃতাচাৰ্যন্তস্থাবকুলে হি তৎ।
অম্বষ্ঠ ইত্যসাবুক্তস্ততে জাতিপ্ৰবৰ্তনাৎ।”
ভরতমল্লিক কৃত কুলপঞ্জিকা।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
শুক্র সে পুরুষরূপী নাহিক বিকৃতি।
ক্ষত্রদোষে সঙ্করেরা লভে মাতৃজাতি।
দশম অধ্যায়ে মনু পড় সারহিতে।
অম্বষ্ঠের সঙ্করত্ব পাইবে দেখিতে। (৫৪)
বৈশপত্নীগর্ভে জন্ম ব্রাহ্মণ-ঔরসে।
যাজ্ঞবল্ক্য পরাশর আদিতে প্রকাশে । ( ৫৫ )
এইরূপ দেশ মধ্যে প্রকাশ কাহিনী।
অম্বষ্ঠ সঙ্কীর্ণ জাতি এই কথা শুনি । (৫৬)
( ৫৪) “আচাণ্ডালাস্তু সঙ্কীর্ণা অম্বকরণাদয়ঃ”। অমরকোষ।
“অম্বষ্ঠাদি সঙ্কর সকল, জাতিপদবাচ্য বর্ণ নহে”
ভরত শিরােমণিকৃত মনুর অনুবাদ।
“সমানবর্ণা পুত্ৰাঃ সবর্ণা ভবন্তি। অনুলােমানু মাতৃবর্ণাঃ।
প্রতিলোমাস্বাৰ্যবিগহিতাঃ” বিষ্ণু ১৬ অঃ ।
(৫৫) বিমূর্ধাভিষিক্তো হি ক্ষত্রিয়ায়ং বিশঃ স্ক্রিয়া।
অষষ্ঠঃ শূদ্র্যাং নিষাদো জাতঃ পারশবােহপি বা।
যাজ্ঞবল্ক্য ১ম অঃ ৯১ শ্লোক।
বৈশ্যায়াং ব্রাহ্মণাজ্জাতােহছো মুনিসত্তম।
ব্রাহ্মণানাং চিকিৎসার্থং নির্দিষ্টো মুনিপুঙ্গবৈঃ। পরাশর ।
(৫৬) পণ্ডিত দীননাথ শাস্ত্রী কবিরত্ন প্রণীত বৈদ্যরহস্য
দ্রষ্টব্য।
যাজ্ঞবল্কীয় “বিন্নান্বেষ বিধিঃ স্বতঃ”। ইত্যাদি বচন ও কুল্লুক
ভট্টের টীকাবলম্বনে যাঁহারা অঙ্কের সঙ্কীর্ণত্ব ঘুচাইতে প্রয়াসী
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
অষ্ঠ গন্ধ-বণিক কাসারি শাঁখারি।
বিপ্র হ’তে বৈশ্য-গর্ভে জনম তাদেরি। (৫৭)
তথাপি বৈদ্যের নাম নাহিক উল্লেখ ।
হয় যে এ সব হতে পার্থক্য অনেক।
ভারত পঞ্চম বেদ জানে সর্বজন।
বৈদ্যের উৎপত্তি তাহে আছয়ে লিখন ।
বৈশ্য-পত্নী-গর্ভে জন্ম শূদ্রের ঔরসে।
বৈদ্য জাতি জনমিল একথা প্রকাশে । (৫৮)
অতঃপর দেখ ঔশনসসংহিতায় ।
বর্ণসঙ্করের কথা উল্লেখ যথায় ।
তাহারা পণ্ডিত শ্ৰীযুক্ত দীননাথ শাস্ত্ৰিকৃত “বৈদ্যরহস্য” পুস্তকের
২২২৩ পৃষ্ঠা দেখিলে জানিতে পারিবেন যে; ঐ বচন ও মত
শাস্ত্রীয় মীমাংসা, যুক্তি ও কুল্লুক ভট্টের পূর্ববর্তী টীকাকার মেধা-
তিথি প্রভৃতির মত দ্বারা সম্পূর্ণরূপে খণ্ডিত ও নিরাকৃত হইয়াছে।
এতৎসঙ্গে এই পুস্তকের ৪০ সংখ্যক টিপ্পনীও দ্রষ্টব্য।
(৫৭) “বৈশ্যায়াং ব্রাহ্মণাজ্জাতাে হম্বষ্ঠে গান্ধিকে। বণি।”
ইত্যাদি বৃহদ্ধর্মপুরাণ উত্তরখণ্ড ১৪ অঃ।
(৫৮) “চাণ্ডালে ব্রাত্যবৈদ্যৌ চ ব্রাহ্মণ্যাং ক্ষত্রিয়া চ।
বৈশ্যায়াঞ্চৈব শূদ্রস্য লক্ষ্যন্তেহপসদায়।”
মহাভারত অনুশাসন পৰ্ব ৪৯ অঃ ৯শ্লোক।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
চৌভাবে বিপ্র করে ক্ষত্রিয়ারমণ।
তাহাতে ভিষ জাতি লভিলা জনম ॥ (৫৯)
ব্রহ্মবৈবর্তেতে আছে এইরূপ জানি।
তীর্থ হেতু চলে এক ব্রাহ্মণ-রমণী ।
কামেতে মােহিত হয়ে অশ্বিনী-কুমার।
বাধা না মানিয়া তারে কৈলা বলাৎকার ।
হইল তাহার গর্ভ বিষম সঙ্কট।
এইরূপ বৈদ্যজাতি হইল প্রকট । (৬০)
বৈদ্য নিয়ে নানা জনে করে নানা বাদ।
প্রমাদভঞ্জনী আরও ঘটাচ্ছে প্রমাদ ।
বৈদ্যগণ কোন্ জাতি কোন্ বর্ণ হয় ।
তাহার সিদ্ধান্ত কিছু নাহিক নিশ্চয় ।
(৫৯) “নৃপায়াং বি প্রশ্চেৰ্যাৎ যাে জাতঃ স ভিষ স্মৃতঃ।”
উশনঃ সংহিতা।
{ ৬০) “গচ্ছন্তীং তীর্থযাত্রায়াং ব্রাহ্মণীং কুরুনন্দন।
দদর্শ কামুকীং কান্তঃ গুস্পােদ্যানে মনােহরে।
তয়া নিবারিতো যত্নাৎ বলেন বলবান্ সুরঃ।
অতীবসুন্দরীং দৃষ্ট। বীৰ্য্যাধানং চকার সঃ।
দ্রুতং তত্যাজ গর্ভং সা পুস্পােদ্যানে মনােরমে।
সদ্যো বভূব পুত্ৰশ্চ তপ্তকাঞ্চনসন্নিভঃ।
পুত্রং চিকিৎসাশাস্ত্ৰঞ্চ পাঠােমাস যত্নতঃ।
নানাশিল্পঞ্চ শস্ত্ৰঞ্চ স্বয়ং স রবিনন্দনঃ।” (ব্রহ্মবৈবর্ত )
৭০ কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী । কেহ বৈশ্য, শূদ্র বলি ভায় অশুচি । কেহ বা এমন ভাবে চাড়াল বা মুচি। (৬১) - (৬১) প্রমাদভঞ্জনী-টীকাকার বৈদ্যজাতির সুপ্রসিদ্ধ গঙ্গাধর কবিরাজ মহাশয় যাহা লিখিয়াছেন, আমরা “বৈদ্যরহস্য’ হইতে তাহা অবিকল উদ্ধত করিলাম, “বৈদ্যেরা কোন্ বর্ণ ও জাতি তাহাও লােকে নিশ্চয় জানে না, কেহ বলেন বৈশ্য, কেহ বলেন শূদ্র, কাহারও বা এমন বােধ যে, ইহারা চাড়াল বা মুচি। আবার দেখুন। চট্টগ্রাম-নওয়াপাড়ার রায়বংশের জনৈক প্রসিদ্ধ সেনলেখক (অনেকেই বলেন কবিবর নবীনচন্দ্র সেন ) “সংস্কারভ্রষ্ট বৈদ্যজাতি”-পুস্তকে এ সম্বন্ধে কি লিখিয়াছেন— “উপনয়নভ্রষ্ট বৈদ্যগণ বৈদ্য নহেন, তবে তাঁহারা কি বলিয়া পরিচয় দিবেন ? কায়স্থ কি শূদ্র বলিতে পারিবেন না। কায়স্থ- শূদ্রদের সঙ্গে গােত্র মিলিবে না। কায়স্থ-শূদ্রেরা তাহাদিগকে কায়স্থ শূদ্র বলিয়া স্বীকার করিবেন না। তবে ভূমিমালী ও জাল-জাবিদিগের ন্যায় বহিস্তন্ত্র জাতি বলিয়া পরিচিত হহতে পারেন। সংস্কারভ্রষ্ট বৈদ্যজাতি ২৭ পৃষ্ঠা। “তাহাদিগকে হয় ত বৈদ্য বলিয়া পরিচয় দিয়া মৰ্ম্মভেদী উপহাস সহ করিতে হইবে, না হয় হিন্দুসমাজের বহির্ভূত অনাৰ্য্য বহিস্তন্ত্র জাতি বলিয়া পরিচয় দিতে হইবে। তৃতীয় পথ আর নাই। ঐ ২৮ পৃষ্ঠা
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
ব্যাকরণ সূক্ষভাবে করিয়া বিচার।
বেদ হ’তে বৈদ্য শব্দ করে আবিষ্কার ॥ (৬২)
ব্যাকরণ-পটু যত জুগী মহাশয়।
যােগী শব্দ অপভ্রংশ জুগী শব্দ কয় ।
বৈদিক সংস্কার হেতু
বৈদ্য হয় যদি।
ব্রাহ্মণাদি বর্ণত্রয় পেত সে উপাধি।
তাহারা দ্বিজাতি বলি পৈতা দিতে চায় ।
কালের কুটিল গতি বুঝা বড় দায়।
একবার স্বর্ণ পুড়ে বেণেরা পতিত।
সহস্র পােড়ায় বৈদ্য দেয় উপবীত !
কবিরাজী ব্যবসাকে তারা বলে আদি।
দ্বিজাতির চিকিৎসা শাস্ত্রে নাহি বিধি ॥ (৬৩)
৬২) “বেদাজ্জাতে হি বৈদ্যঃ সাদম্বষ্ঠো ব্ৰহ্মপুত্ৰকঃ”
বৈদ্যকুলপঞ্জিকা বা চন্দ্রপ্রভাবৃত বচন।
বিনােদলাল সেন গুপ্ত প্রকাশিত উক্ত গ্রন্থের ৫ পৃষ্ঠা দেখুন।
“আয়ুৰ্ব্বেদোপনয়নাৎ বৈদ্যো দ্বিজ ইতি স্মৃতঃ।”
উক্ত প্রকাশককৃত বৈদ্যকুলতত্ত্ব ৭ পৃঃ দেখুন।
(৬৩) “চিকিৎসক মৃগয়ােঃ শল্যহস্ত পাশিনঃ।
যস্ত কুলটায়াশ্চ উদ্যপি ন গৃহতে।”
বশিষ্ঠসংহিতা ১৪শ অধ্যায়।
“চিকিৎসক মৃগয়ােশ্চ তত্ততা জীবতত দ্বিজাতেরিত্যর্থঃ।”
প্রায়শ্চিত্তবিবেকে গােবিন্দানন্দটীকা দ্রষ্টব্যঃ
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
নন্দি-পুরাণেতে স্পষ্ট আছয়ে লিখিত।
দ্বিজাতি ঔষধ দিলে হইবে পতিত । (৬৪)
চিকিৎসক-অন্ন পূয় মলের সমান।
মনু যজ্ঞিবন্ধ্যে তার পাইবে প্রমাণ। (৬৫)
(৬৪) “অন্তজাতিকৃতঃ পাকো হস্পৃশ্যঃ সৰ্বজাতিভিঃ।
ইতি বিজ্ঞায় মতিমা বৈদ্যং পাকে নিযােজয়েৎ ।
মােহাদ্বিজাতিবর্ণাদ্যৈঃ পাচিতে খাদিতে সতি।
প্রায়শ্চিত্তীভবেৎ শূদ্রো জাতিহীনাে ভবেজিঃ।”
ভৈষজ্যরত্নাবলীধৃত নন্দিপুরাণবচন ।
(৬৫) “পূয়ং চিকিৎসকস্যান্নং পুংল্যান্নমিন্দ্রিয়।
বিষ্ঠা বাৰ্ধষিকান্নং শস্ত্রবিক্ৰয়িণাে মল।”
মনু ৪২২৫ শ্লোক।
“চিকিৎসকাতুরক্রুদ্ধপুংশ্চলীমতবিদ্বিষাং।
বােগ্ৰপতিতব্রাত্যদাম্ভিকোচ্ছিষ্টভােজিনা।”
মনু ৩য় অধ্যায় ১৫১ শ্লোক।
“চিকিৎসক দেবলকান্ মাংসবিয়িনস্তথা।
বিপনেন চ জীবন্তো বৰ্জ্জাঃ সুহব্যকব্যয়ােঃ।
“এষামন্নং ন ভােব্যং সােমবিয়িনস্তথা।”
যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা ১ অ।১৬২-১৬৫।
“ভুক্তে চিকিৎসকস্তান্নং তদন্নন্তু পুরীষবৎ।” মােক্ষধর্ম।
অলমতিবিরেণ।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
৭৩
রােগী বিনা যে করে ভিষক-স্পর্শন।
বহিছে বিধান স্নান সহিত বসন। (৬৬)
মাঝে মাঝে বৈশ্য বলি বলেছে সবাই।
বৈশ্যাচার তাহাদের কিছুমাত্র নাই ।
বৈশ হইবারে গেলে কি বাড়িবে মান।
সমাজেতে বৈশ্যদের নহে উচ্চ স্থান ৷ (৬৭)
নারী জাতি, বৈশ্য শূদ্র হয় হীন অতি।
ভগবদ্গীতা দেখ হইবে প্রতীতি। (৬৮)
বৈশ্য বলি যেই বৈদ্য ‘গুপ্ত’ পাঠ ধরে।
তার নারী ‘দেবী’ কেন ‘দাসী’ পাঠ ছেড়ে ?
(৬৬) “শবঞ্চ ভিষজং স্পষ্ট। সচেলং স্নানমাচরেৎ।”
বৃহন্নারদীয় ।
(৬৭) “বৈশ্যেন তু যদা স্পষ্ট শুনা শূদ্রেণ বা দ্বিজঃ ।
উপােষ্য রজনীমেকাং পঞ্চগবেন শুধ্যতি।”
অঙ্গিরাসংহিতা ৭ শ্লোক।
বৈশ্যশূদ্রাবপি প্রাপ্তৌ কুটুম্বেতিথিধৰ্মিণৌ।
ভােজয়েৎ সহ ভৃত্যেন্তাবানৃশংস্যং প্রয়ােজন।”
বিষ্ণুসংহিতা ৬৭ অ। ৩৭ শ্লোক
(৬৮) মাংহি পার্থ ব্যপাশ্ৰিত্য যেহপি সুঃ পাপযােনয়।
স্বিয়াে বৈশ্যাস্তথা শূদ্ৰাস্তেহপি যান্তি পরাং গতিং।”
গীতা নবম অধ্যায় ৩২।
৭৪
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
দেবীপাঠ উচ্চারিবে ব্রাহ্মণী ক্ষত্রিয়া।
দাসীপাঠ উচ্চারিবে বৈশ্য-শূদ্র-জায়া। (৬৯)
ভরত মল্লিক আদি কুলগ্রন্থকার।
শূদ্ৰ বলি বৈদ্যগণে করিছে স্বীকার । (৭০)
বৈদ্যকুল গ্রন্থে হেন আছয়ে লিখিত।
যুগে যুগে বৈদ্যজাতি হয়েছে পতিত ।
বৈদ্যদের শূদ্ৰধৰ্ম্ম কলিতে বিহিত।
এখন চলিছে দেখি তার বিপরীত।
বৈদ্য গ্রন্থে এক শ্লোক দেখি সমাহৃত ।
কোথাকার শ্লোক নাম দিয়াছে হারীত।
মনুমতে ষট্ সুত দ্বিজধৰ্ম্মী হয়।
পঞ্চ দ্বিজ বলিলে সমতা নাহি রয় ।
(৬৯) স্ত্রী দেবীতি বিপ্রাণাং ক্ষত্রিয়াণাঞ্চ কথ্যতে।
দাসীতি কৈশূদ্রাণাং কথ্যতে দ্বিজপুঙ্গব ।”
বৃহদ্ধর্মপুরাণ উত্তর খণ্ড ১২৪
৭) “শনৈঃ শনৈঃ ক্ৰিয়ালােদথ তা বৈদ্যজাতয়ঃ।
কলৌ শূদ্রসমা জ্ঞেয়া যথা ক্ষা যথা বিশঃ।”
চন্দ্ৰপ্ৰভায়াং বা বৈদ্যকুলপঞ্জিকায়াং ভরতধৃতবচন ;
“বৈদ্য শূদ্ৰজাতি মধ্যে প্রধান কুলীন
অকুলীন কাৰ্য্যে হবে সম্মানবিহীন।”
ঘটক—আনন্দচন্দ্র দাস গুপ্ত বৃত ড্রাকৈর ১০ পৃঃ ।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
বৈদ্যের উল্লেখ নাই মনুসংহিতায়।
বহুমত উপেক্ষা কি একের কথায় ? (৭১)
ভারত পঞ্চম বেদ পরাশর আর।
যাজ্ঞবল্ক্য কি বলেছে দেখ পুনর্বার।
ক্ষত্রিয়ের শ্রেষ্ঠ বৈদ্য এ নহে স্বীকার্য।
তাই হারীতের শ্লোক সর্বথা অগ্রাহ।
বস্তুত হারীতে হেন শ্লোক নাহি দেখি।
স্বার্থবশে কেহ নাকি দিয়াছেন লিখি।
দেখ এক পুৰ্ব্ব বঙ্গে আছয়ে বিধান।
এমন কি শূদ্রকেও করে কন্যাদান।
শূদ্রকন্যা বৈদ্যগণ পরিণয় করে।
পান-ভােজনের তাতে দোষ নাহি ধরে ।।
শ্রীহট্টের মধ্যে এই রয়েছে বিধান।
বৈদ্যগণ শূড়িদেরে করে কন্যাদান। (৭২)
জলাস্পৃশ্য শূড়িজাতি সুরা বিক্রি করে।
তীবরের বংশ শূড়ি শাস্ত্রের বিচারে।
(৭১) বিনােপাে যত্র বাক্যানাং প্রামাণ্যং তত্র ভূয়সা।
কাত্যায়নসংহিতা ২৭২৮ অঃ।
(৭২) “বৈদ্যরহস্য” ৩৯ পৃঃ এবং “ভারতী” বৈশাখ ১৩০৯
পরেশ নাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কৃত বাঙ্গালী-বিবাহশীর্ষক প্রবন্ধ
দেখুন।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
দ্বিজাতির বাধা আছে শাস্ত্রের ভিতরে।
বিবাহ সমান গােত্রে সমান প্রবরে। (৭৩)
(৭৩) “অসপিণ্ডা চ যা মাতুরসগােত্রা চ যা পিতু।
সা প্রশস্তা দ্বিজাতীনাং দারকর্মণি মৈথুনে। মনু ৩৫।
“ব্যভিচারেণ বর্ণানামবেথাবেদনেন চ।
স্বকৰ্ম্মণাঞ্চ ত্যাগেন জায়ন্তে বর্ণসঙ্করাঃ ॥” মনু ১০২৪
“অনন্তপূৰ্ব্বিকা কান্তামসপিণ্ডাং যবীয়সীম্।
অরাগিণীং ভ্রাতৃমতীমসমানার্ষগােত্ৰজাম্ ॥”
যাজ্ঞবল্ক্য ১৫২।
“অয়ােগাং দুষ্টবংশােখামশুল্কদানদুষিতাম্।
সবর্ণামসমানার্ষামমাতৃপিতৃগােত্ৰজা। ব্যাসসংহিতা।
“ন সগােত্রাং সমানাপ্রবরাং ভাৰ্য্যাং বিতে।”
বিষ্ণুসংহিতা ২৪৯ :
“মাতুলানীং সগােত্রাঞ্চ প্রাজাপত্যয়ঞ্চরেৎ।”
প্রায়শ্চিত্তপ্রকরণে পরাশর ১০১৪।
“বিতে বিধিবদ্ভাৰ্যামসমানাগােত্ৰজাম্।”
শথ ৪ অঃ ১ শ্লোক।
“অসমানপ্ৰবরৈর্বিবাহঃ। গৌতমসংহিতা ৪ অঃ (১)।
“সগােস্ত্রীপ্রসঙ্গেন জায়তে চ ভগন্দরঃ।”
ইত্যাদি শাত তপীয়-কৰ্ম্মবিপাকবচনে স্বগােত্রগমনং নিষিদ্ধ।
“গুরুণানুজ্ঞাতঃ স্নাত্বা অসমানার্ষামস্পৃষ্টমৈথুনাং
বীয়সীং সদৃশীং ভাৰ্যাং বিন্দেৎ” বশিষ্ঠ ৮ অঃ ১।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
৭৭
যাদের সগােত্রে চলে পরিণয় কাজ।
কোন মুখে দ্বিজ বলে মুখে নাহি লাজ !
কায়স্থের মধ্যে যারা হীন অতিশয়।
অথবা শূদ্রের মাঝে প্রধান যে হয়।।
“হাম বৈদ্য” বলি তারা বৈদ্য হয়ে গেছে।
এমন অনেক বৈদ্য চট্টলেতে আছে।
বৈদ্যদের মাঝে দেখি আরও এক রীতি।
লুকাইছে নিজ নিজ কুলের পদ্ধতি। (৭৪)
(৭৪) “বৈশ্বানরভরদ্বাজশালঙ্কায়নগােজাঃ।
রাজরক্ষিতকুণ্ডাদ্যা লুপ্তপদ্ধতয়ােহধুনা।
এতে সেনা ইতি খ্যাতাঃ ৰ্বৈশ্বানরগােত্রজাঃ।
ইত্যাদি।
অম্বসম্বাদিকা ৬৫ পৃঃ ।
“আমার পরম শ্রদ্ধাস্পদ পিতৃপ্রতিম কোন পিতৃজ ভ্রাতা যখন
ঢাকা কলেজে পড়িতে যান, তখন তিনি বংশের আর আর সকলের
ন্যায় ‘রায় ছিলেন। কে বলিয়াছিল “রায় কোন বৈদ্য-সম্প্রদায়
নাই। “রায় আমাদের নবাব-দত্ত সম্মানসূচক উপাধি, জাতীয়
উপাধি নহে। উপহাস সহ করিতে না পারিয়া তিনি রায়
কাটিয়া ‘সেন’ করিলেন এবং তাহার ভ্রাতাগণকে ও আমাকে
তাহার অনুবর্তী করিলেন। এরূপ নয়াপাড়ার বিখ্যাত রায়
বংশে আমরা কয়েকজন সেন হইয়া পড়িয়াছি। পূর্বপুরুষের
দোহাই ত এখানে পাটে নাই। অতএব বৈদ্য বলিয়া
পরিচিত হইবার জন্য যদি রায় ছাড়িয়া সেন হইতে পারিতাম,তবে
৭৮
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
মানব শরীর নিত্য রােগের নিলয় ।
তাই বৈদ্য সনে বাদ উচিত না হয়।
যাজ্ঞবল্ক্য আদি দেখ তাহার বচন। (৭৫)
তাহাতে বৈদ্যের দেখি এত আস্ফালন।
চিকিৎসক-হাতে থাকে লােকের পরাণ।
এ হেতু প্রশ্রয় সবে করয় প্রদান।
আবার চিকিৎসা বিদ্যা হয় অর্থকরী। (৭৬)
অর্থে কুল অর্থে মান অর্থে জাগজারি। (৭৭)
বৈদ্যদের শাস্ত্রসঙ্গত এমন উচ্চ ধৰ্ম্মগর্ভ উপনয়ন সংস্কারটী গ্রহণ
করিব না কেন?
সংস্কার-ভ্রষ্ট বৈদ্যজাতি ২৪ পৃঃ।
আমরা বৈদ্য নামধারিগণের মধ্যে এইরূপ উপাধি-পরি-
বর্তনের কথা শুনিয়া বিস্মিত হই নাই। ইহারা আপন প্রাধান্য
খ্যাপনার্থ পরিবর্তন করিতে না পারেন, এমন বিষয়ই নাই,
সুতরাং এ বেশী কথা কি ।
(৭৫) “বালবৃদ্ধাতুরাচাৰ্য্যবৈদ্যসংশ্ৰিতবান্ধবৈঃ।
বিবাদ বৰ্জ্জয়িত্বা তু সব্বান্ লােকান্ জয়েদ গৃহী।”যাজ্ঞবল্ক্য।
“আতুরস্ক ভিষঙ মিত্র” শুদ্ধিতত্ববৃতমহাভারতীয়-বনপৰ্ববচনং।
(৭৬) কচিদং কচিদ্ধম্মং কচিন্মৈত্রং কচিদশঃ।
বিদ্যাভ্যাসঃ কচিচাপি চিকিৎসা নাস্তি নিষ্ফলা।”বৈদ্যকে।
(৭৭) “যস্তাস্তি বিত্তং স নরঃ কুলীন।
স এব বক্তা স চ দশনায়ঃ।” হত্যাদি নীতিশাস্ত্রে।
“নৈনিম্বুলানাঃ কুলীনাঃ ক্রিয়ন্তে।” ঐ
“তদর্থমুপাৰ্জনং কুরু সথে অথেন সৰ্ব্বে বশাঃ।” ঐ
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
৭৯
এইরূপে সমাজেতে মাথা করি খাড়া।
আপনা আপনি সবে আপনাকে হারা।
চট্টলেতে মাঝে মাঝে দেখি এ আভাস ।
ব্রাহ্মণেরে তুচ্ছ
করি উচ্চাসনে আশ ।
সভাতে যে দিকে পথ হয় নির্ধারণ।
তার বিপরীত দিকে ব্রাহ্মণ-আসন।
সভার সম্মুখভাগে ব্রাহ্মণেরা বসে।
কায়স্থ বৈদ্য উভয়েই বসে দুই পাশে।
ব্রাহ্মণীরে অশ্বীসুত করিলেক বল।
সেই সূত্রে বৈদ্য নাকি এতই প্রবল ?
জোর করি বিপ্ৰাসন নিতে চায় তাই।
মান বাড়াইতে গেলে মানে দেও ছাই।
তাই এই সবাকারে এই কথা বলি।
তােমাদের সব গুড়ে পড়িয়াছে বালি।
এবেও সময় আছে সামলাও সবে।
সময় চলিয়া গেলে আর নাহি পাবে ।
বৃথা দ্বন্দ্ব নাহি কর কায়স্থের সনে।
রত হও তাহাদের পদানুসরণে ॥
একেইত হিন্দুদের মহা দুঃসময়।
দলাদলি আস্ফালনে কিবা ফলােদয় ।
ঘরের সােণাটী তুমি ঘর দোর ছেড়ে।
জঙ্গলেতে গিয়াছিলে ঋষি সাজিবারে।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী । যে পথ ধরেছ সবে আবৃত কণ্টকে। এখন আপন ঘরে ফির মন-সুখে । বিপ্রেরে করিলে পিতা উচ্চ নাহি হবে। গুরু, প্রভু সম্বােধিলে মহত্ত্ব বাড়িবে। (৭৮) মিশ্র আদি নানা গ্রন্থে লিখা আছে স্পষ্ট। আদিশূর মহারাজ ছিলেন অম্বষ্ঠ। অষষ্ঠ কায়স্থ ভেদ ক্ষত্রিয়ের জাতি। এ অম্বষ্ঠ নহে বৈশ্যা-বিপ্রের সন্ততি’ ॥ আদিশূর হ’তে জন্ম বলি যারা কয়। কায়স্থ অম্বষ্ঠ তারা না আছে সংশয়। (৭৯) (৭৮) “প্রণাম—আশীৰ্বাদ” রূপ চিরাগত লৌকিক ব্যবহারেও কায়স্থের ক্ষত্রিয়ত্বের নিদর্শন পাওয়া যায়। ব্ৰহ্মণ পণ্ডিত মুহাশয়গণ প্রণামকারী কায়স্থকে আবহমান কাল যাবৎ “জয়ােহ” অর্থাৎ (রণে) “জয় হউক” ইত্যাকার গৌরবসূচক ও মহিমব্যঞ্জক আশীৰ্বাদ করিয়া আসিতেছেন। রাজা ও ক্ষত্রিয়গণের প্রতিই এরূপ আশীৰ্বাদ একমাত্র প্রযােজ্য। ঘৃণিত শূদ্রকে “জয়ােহস্তু” বলিবার রীতি কোন ধর্মশাস্ত্রে বিহিত হয় নাই। (৭৯) ২৯ নং ফুট নােটে দ্রষ্টব্য। মিশ্ৰকারিকা, আইন-ই- আকবরী, টেলার সাহেবের ভ্রমণবৃত্তান্ত, ও বিশ্বকোষ প্রভৃতি দেখুন। পশ্চিমােন্তর দেশেও অম্বষ্ঠ-কায়স্থগণ অদ্যাপি বর্তমান আছেন। তাহারা কায়স্থ নামেই অভিহিত হন। বল্লাল-
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী
তরঙ্গে তরঙ্গময় অষ্টম লহরী।
তরঙ্গ দেখিয়া উঠে শরীর শিহরি
পুত্র লক্ষ্মণসেনের বংশধরগণ হিমালয়ের নিকট মণ্ডী রাজ্যের
রাজা বটে, তঁাহারা এখনও ক্ষত্রিয় বলিয়া পরিচিত।
৮ি এগুপ্তাশ্বয়ে জাতঃ শৃণু তাৰু কথায়ামি যে।
গৌড়াখ্যা মাগুরাশ্চৈব ভাটনাগর সেমকা।
অহিষ্ঠান শ্রীবাস্তবাঃ শৈকসেনস্তথৈবচ।
কুশলাঃ সৰ্ব্বশাস্ত্রে অষ্ঠাদা নরাধিপ।
বাচস্পত) ও শব্দ কল্পদ্রুম
ধত ভবিষ্যপুরাণ বচনম।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
নবম লহরী।
----
বিশাল অম্বুধি নীল দক্ষিণে পশ্চিমে বয়।
উত্তরেতে ফেনী নদী ফেনিল তরঙ্গময় ।
নস্পর্শী শৈলমালা গরবে তুলিয়া শির।
পূরবে প্রাচীর সম দাড়ায়ে রয়েছে স্থির।
শঙ্খ-কর্ণফুলী আদি ঢালিয়া রজত ধার ।
তরঙ্গে ধাইছে রঙ্গে যথা বঙ্গ পারাবার।
প্রচণ্ড বাড়বানল জ্বলিতেছে দিবানিশি।
আদিনাথ-চন্দ্রনাথ-শম্ভুনাথ-তীর্থরাশি।
শ্যামল শীতল কুঞ্জে গায় সদা পিকদল ।
এই সে চট্টল ভূমি প্রকৃতির লীলাস্থল।
দুর্ভিক্ষ ও মহামারী যবনের অত্যাচার।
গৌড় আর রাঢ় দেশ করেছিল ছারখার।
ব্রাহ্মণ-কায়স্থ আদি জাতিমাত্ৰ হ'য়ে ভীত।
স্বধৰ্ম্ম-রক্ষার তরে ধেয়ে গেল চারিভিত ।
ব্রাহ্মণ কায়স্থ বহু দূর হতে দূরান্তরে।
আসিয়া মিলিল হেথা সুরম্য চট্টলপুরে। (৮০)
(vo) The original immigrants arriving for safety's
sake in companies, the leader of each company came to
কায়স্থত-তরঙ্গিণী।
. বসতি করিয়া সবে কাটায় জীবন সুখে।
সমাজ বাঁধিলা পরে এই চট্টলের বুকে।
বিচারিয়া জনশ্রুতি প্রবাদ প্রসিদ্ধ কথা।
কায়স্থ-সমাজ-তত্ত্ব সংক্ষেপে লিখিনু হেথা।
এ
অতঃপর চটলের
কায়স্থের বিবরণ,
বিস্তারিয়া কহি শুন এবে।
ঘােষ বস্তু গুহ মিত্র, দের দত্ত দাস সেন,
প্রসিদ্ধ কায়স্থ এই সবে ।
নন্দী হােড় চন্দ্র গুপ্ত,
ইত্যাদি কায়স্থ বহু,
চট্টলসমাজে দেখা যায়।
ইহারা “দক্ষিণরাঢ়ী”, “বঙ্গজ কায়স্থ” যাঁরা
‘বঙ্গদেশী” কথিত এথায়।
possess as many patches of land as he had fallowers, or more;
and thus the patches that were cultivated by the followers
of one leader were grouped together etc. etc
*
They are the descendants of the early settlers who had
lo perforin frontier duties of a feudal nature and were
rewarded for their services, by grants of land etc. etc.
H. J. S. Cotton's History of Chittagong p. 4,
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী । সৌকালীন গােত্র ঘােষ, দেখহ গৈড়লা গ্রামে, (৮১) জামাই জুরি পাটনী কোটায়। ফতেয়াবাদ ধলঘাট, আর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্থানে, এই ঘােষৰংশ দেখা যায়। এ বংশের রামজীবন, ছিলেন গৈড়লা গ্রামে, সেন বংশ-কন্যা বিয়া করে। শ্যামরায় সেন যিনি, ছিলেন স্বনামখ্যাত, জাগা জমি দিলা জামারে ॥ বাৎস্য গােত্র ঘােষগণ, ধলঘাট কানুপাড়া, কাঞ্চনা ও শাকপুরা আছে। অন্য স্থানে সংখ্যা কম, নাম করা নাহি যায়, মাঝে মাঝে বসতি করেছে। গুহবংশ দক্ষিণ ভূষী, : আমুচিয়া শুচি যায়, কুয়েপাড়া আর নয়াপাড়া। (৮২) (৮১) গৈড়লা গ্রামের ৬ ভবানী ঘোেষ অতিশয় প্রসিদ্ধ লােক ছিলেন। ইহারই পুত্র শ্রীযুক্ত বাবু গােপীমােহন ঘােষ পেন-প্রাপ্ত ডিপুটী কলেক্টর। বাবু হরদাস ঘােষ একজন তেজস্বী লােক ও পেন্সনপ্রাপ্ত কর্মচারী। (৮২) এই গুহবংশের গােবিন্দরাম গুহ, রুদ্রবংশের মহেশ চন্দ্র রুদ্র এবং মাননীয় বাৎস্যগগাত্রীয় যজুৰ্বেদীয় ব্রাহ্মণ আদিত্যবর ভট্টাচাৰ্য একই সঙ্গে রাঢ়দেশ হইতে চট্টগ্রামে আসেন। আদিত্য-
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
কথা কচুয়াই গ্রামে, এ বংশ প্রচার আছে,
ভাটীখাইন আর ছনহরা।
আকিঞ্চন দাসবংশ,
আনন্দি রাম দাস নাম,
এ বংশের কন্যা করে বিয়া।
কেলিশহর হতে তিনি, আসিলেন নয়াপাড়া
নিজ গ্রাম বৰ্জন করিয়া ।
বগণ সংখ্যা কম, শ্রীপুর ও কোয়েপাড়া,
এহ দুই গ্রামে দেখা যায়।
মিত্রবংশ সেই মত,
শুধু নয়াপাড়া গ্রামে,
অন্য স্থানে নাহিক কোথায়।
অগ্নিবৈশ্য দত্তবংশ,
বিদগ্রাম শ্রীপুরেতে,
অবস্থিতি আছে দেখা যায়।
লক্ষী সরস্বতী দোহে সম ভাবে বিরাজিত,
প্রশংসা সকল লােকে গায়।
বর এবং মহেশচন্দ্র রুদ্র চক্রশালা ( ভাটীখাইন) বসতি করেন ও
গােবিন্দরাম গুহ দক্ষিণ ভূষী, বাসস্থান স্থাপন করেন। এই
গুহবংশের অপর এক শাখা ঢাকা জিলার অন্তর্গত বজ্রযােগিনী
গ্রামে অবস্থিতি করেন। এ বংশে বাবু মহিমচন্দ্র গুহ বি, এল,
বাবু ত্রিপুরাচরণ গুহ, বাবু বিপিনচন্দ্র গুহ, বাবু যােগেন্দ্র চন্দ্র গুহ
প্রভৃতি উকিলগণ বর্তমান আছেন।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
আছে জাগা জমিদারী, চৌধুরী উপাধিধারী,
এ বংশেতে আছে বহুজন।
ডেপুটী উকিল আদি, দাতা ধীর সহৃদয়,
অার কত করি বর্ণন।
শাণ্ডিল্যগগাত্রীয় দত্ত,
পীতাম্বর, রাজবল্লভ,
বাস করে শ্বশুর-আলয়।
গােপাল চৌধুরী-কন্যা, বিবাহ করিয়া দোহে,
নানাবিধ যৌতুক লভয়।
গােপীনাথ দীদার, হইয়া গৃহজামাতা,
এ বংশের কন্যা বিয়া করে।
গন্ধর্ষসেনের বংশ, চণ্ডিকাপ্রসাদ সেন, (৮৩
ঘরজামাতা রহেন শ্রীপুরে।
(৮৩) প্রবাদ আছে, চণ্ডিকাপ্রসাদ সেন ভ্রাতৃবধূদর্শনে
ধলঘাট হইতে শ্রীপুর চলিয়া যান এবং এই দত্তবংশের কন্যা
বিবাহকরতঃ তথায় বসবাস করেন।
এ সম্বন্ধে আর একটা
প্রসিদ্ধ প্রবাদ আছে যে, এই গন্ধৰ্ব্বসেন-বংশের আদিপুরুষ এবং
দস্থীদার বংশের আদি পুরুষ অতি দীনভাবে চট্টগ্রামে আসিয়া-
ছিলেন ; এবং চক্রশালা হইতে ধলঘাট-আগত কেদারবংশীয়
কোন ব্যক্তির বাড়িতে ছিলেন। পরে উক্ত চৌধুরীর। ইহাদের
আচার ব্যবহার দর্শনে ইহাদিগকে ভদ্রলােক বিবেচনায় কন্যা-
দানে নিজ বাসস্থানের সন্নিকট বাড়ী প্রস্তুত করিয়া দেন। ছনহরা
গ্রামেও দীদারবংশের পূৰ্বপুরুষ উক্তরূপে তথাকার মৌদগল্য
;
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী। কৃষ্ণাত্রেয় দত্তবংশ, কানুনগােয় নয়াপাড়া, দক্ষিণ ভূষী আর সুচিয়ায়। আমিলাইস গােমদণ্ডী, ইত্যাদি অনেক গ্রামে এই গােত্র দত্ত দেখা যায়। ধনী কালাচাদ দত্ত, নবাবেরে দিয়া অর্থ, ক্রোড়পতি লভিলা আখ্যান। * এই গােত্ৰীয় দত্তগণ, কানুনগােয় পাড়াতে দেখ লভিয়াছে প্রভূত সম্মান। • ধৃতকৌশিক দত্তংশ, কেবল ছনহরা মাঝে, বড়ই প্রাচীন ঘর হয়। (৮৪) পূর্বাপর সমভাবে, ইহাদের জমিদারী, চট্টলেতে খ্যাত অতিশয় ॥ সেনবংশীয়গণ কর্তৃক স্থাপিত হন। এই দত্তবংশের ৮ রাম- জীবন দত্ত ও ৮ প্রসন্নকুমার দত্ত ডেপুটী কলেক্টর এবং উকিল ৩ চৈতন্যচরণ দত্ত প্রভৃতি পরােপকারী খ্যাতনামা উকিল ছিলেন। বর্তমানেও বাবু অম্বিকাচরণ দত্ত ডেপুটী কলেক্টর এবং অনেক নেক উকিল বর্তমান আছেন। * কালাচাঁদ দত্ত আমিলাইস গ্রামের দত্তগণের পূর্ববর্তী। ইহার নবাব দত্ত উপাধি “ক্রোড়িয়ান ছিল। । কানুনগােয়-পাড়ানিবাসী দত্তগণের “কানুনগােয়” উপ- ধিও দৃষ্ট হয়। (8) "Among the old Kayastha families are the Dattas কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী। বসায় গােলাম শূদ্র, নাপিত রজক হাড়ি বেণে যুগী আদি জাতি যত। এ বংশে মুকুন্দ দত্ত, নবদ্বীপে কবিরাজ পরম বৈষ্ণব ভাগবত। (৮৫) of Chhanbara in Patiya. They originally came to Chittagang from South West Bengal (Dakhin Rarh) early in the 16th century. A member of this family, Sitaram was naib in the service of Dewan Mohasingh (1754-1758), and obtained the title of "Bhaiya" This man went to Benares, and brought back an idol of the Goddess, “Dashabhuja" and subsequently obtained from the Nawab of Bengal considerable "lakbiraj grants as Debottar" in the name of this Goddess. These lands are still held revenue free," Mr. C. G. H. Allen's Final Report of the Chittagong Survey & Settlement. p. 24. (৮৫) বলা বাহুল্য, ইনি সংস্কৃত ও কবিরাজী পড়িবার জন্য নবদ্বীপে গিয়াছিলেন এবং তথায় বৈষ্ণবধৰ্ম্মে দীক্ষিত হইয়া- ছিলেন। ইহার নামে দুটি অতি প্রাচীন পুকুর অদ্যাপি উক্ত গ্রামে তাহার নামের সাক্ষ্য প্রদান করিতেছে। এবং উক্ত মুকুন্দ ঠাকুরের আমলের ১৭টা শালগ্রাম চক্র এবং ১৫টী বড় আকারের অতি প্রাচীন ধরণের পিতলের লক্ষ্মী-গগাবিন্দ প্রতিমা এই বংশধরগণের বাড়ীতে অদ্যাপি স্থাপিত আছে। দেখিলে আখেরা বলিয়া প্রতীতি হয় এই বংশীয় শ্ৰীযুক্ত বাবু জগচ্চন্দ্র দত্ত একজন সত্যনিষ্ঠ ও কর্তব্যপরায়ণ লােক। ইনি বর্তমানে জজ-আদালতের প্রধান
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
৮৯
খ্যাত সীতারাম দত্ত, নবাব হইতে “ভায়া”
করিলেন উপাধি গ্রহণ।
রামসেবক রামদুলাল, শস্তু-গঙ্গারাম গুহ,
জামাতা লইয়া এথা র’ন।
ধলঘাট-গ্রামবাসী, ছিল ব্রজলাল সেন,
এ বংশের স্থাপিত যে হয়।
কাশ্যপগগাত্রীয় দাস, নামেতে বিজয়রাম,
এই ভাবে ছনহরা রয়।
মৌদগল্য-দত্তবংশ, ধলঘাট ডেঙ্গাপাড়া,
হাবিলাশ দ্বীপে আছে আর।
আমিলাইস কথা কচুয়াই, ইত্যাদি অনেক স্থানে
দেখা যায় এ গােত্র বিস্তার।
এ বংশের জয়গােপাল, গণ্যমান্য জমিদার,
ধলঘাটে করিলা বসতি।
সেই জগবন্ধু দত্ত,
কে না জানে তার তত্ত্ব
“চট্টলনক্ষত্র” যার খ্যাতি।
নাজির ও ব্যবহারিক বুদ্ধিতে অদ্বিতীয়। এথাকার প্রধান ও
প্রাচীন উকিলেরাও ইহার বুদ্ধিপ্রাখর্যের প্রশংসা করিয়া
থাকেন।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
এই গােত্ৰীয় দত্তকুলে, ছিলা ডেঙ্গাপাড়া গ্রামে
পূর্ণচন্দ্র দত্ত মহাশয়।
সুলেখক বাগ্মিবর,
শ্রেষ্ঠ ব্যবহারবি
যাঁর নাম চট্টলে অক্ষয়।
এ বংশের ত্রাহিরাম,
ছিলেন দেওয়ান হেথা
পাসিতে বড়ই সুপণ্ডিত।
পুণ্যবন্ত ছিল অতি,
অন্তে পেল কাশীধাম
ইতিহাসে নাম বড় খ্যাত। (৮৬)
পরাশর-দত্তবংশ, বড়ই সম্মানী তার
বাঁশখালী দক্ষিণ ভূর্যীতে।
আনােয়ারায় কুমিরায়, এই বংশ দেখা যায়
আর কোথা না পাই দেখিতে ।
ধরি বহু জমিদারী, নবসেনা সঙ্গে করি,
রাঢ় ছেড়ে আসে চট্টলেতে।
নিকটে যবন নাই,
বড়ই মনােজ্ঞ ঠাই,
বান করে সে কোকদণ্ডীতে। (৮৭)
(5) "Trahiram Munshi of Dengapara iy famed for his
reputation as a Persiou writer. He retired unable to cope
vith the additional work imposed on the office by the
resistless force of Mr. Harvey. He also died at Benarus,"
H. J. S. Cotton's History of Chittagong, p. 166.
(৮৭) এই বংশের রঘুনাথ চৌধুরী, মুন্সী রামদাস চৌধুরী
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
আলম্যান দেববংশ,
সুচিয়ায় বাসস্থান
প্রাচীন প্রসিদ্ধ বংশ হয়।
সে বংশের কৃত্তিবাস, সুচিয়াতে সুপ্রকাশ,
যাঁর কীর্তি রয়েছে অক্ষয়। (৮৮)
মহেন্দ্রা সেনের আদি, সত্যরাম সেনে তিনি,
করিলেন নিজ কন্যা দান।
বরকে আমামা দিলা, এই হেতু সেই স্থান,
বর নামে বরমা” আখ্যান।
মেয়েকে দিলেন যাহা, “মাইগাতা” তার নাম,
মেয়ের নামে হ’ল পরিচয়।
কৃত্তিবাস দৌহিত্রীরে,
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার,
তথা গিয়া করে পরিণয়।
ও মুন্সী তারাকিঙ্কর বড়ই খ্যাতনামা লােক ছিলেন। আনােয়ারা
গ্রামের বাবু নবীনচন্দ্র দত্ত এমডি সিভিল মেডিকেল অফিসার।
বাবু অশ্বিনীকুমার দত্ত এম,এ, এ বংশের উচ্চ শিক্ষিত যুবক।
(৮৮) এই বংশে দক্ষিণ ভূর্ষী গ্রামের নিধিরাম চৌধুরী অতি-
শয় খ্যাতনামা ও সম্মানী লােক ছিলেন। বাবু দুর্গাচরণ চৌধুরী,
বাবু রামকৃষ্ণ চৌধুরী, বাবু জগবন্ধু চৌধুরী, বাবু গােলােকচন্দ্র
চৌধুরী প্রভৃতি খ্যাতনামা উকিলগণ বর্তমান আছেন।
৯২
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
ছিল জাগা জমিদারী চৌধুরি উপাধি তাই
সকলেই করে ব্যবহার।
ইহারা সম্মানী ঘর চট্টল কায়স্থ মাঝে
ছিল পূর্বে ক্ষমতা অপার। (৮৯)
চৌধুরী অনন্তরাম,
ছিলেন ক্ষমতাশালী,
নানা জাতি করিয়া সংহতি।
চক্রশালা পুরী মাঝে, পবিত্র শ্রীমতী তটে,
পাড়িগ্রামে করিলা বসতি।
পুণ্য তীর্থ “রাজঘাটা”
মণিকর্ণিকার সম,
যথা লােক করে স্নান দান।
মুচিল প্রাচীন নাম, চৌধুরীর ক্ষমতায়,
হইল চৌধুরিপাড়া নাম। (৯০)
(৮৯) এই বংশ, রাঘব-কানুনগােয়ের বংশ এবং মধুরাম
কানুনগােয়ের বংশ, এই তিন ঘর ইতালি
আঞ্চলিক প্রসিদ্ধ।
(৯০) অনন্তরাম চৌধুরি-পাড়ায় বর্তমানে যত বাসিন্দা
আছে, সকলেই তাহার স্থাপিত। ইনি অগ্রদানী প্রভৃতি ব্রাহ্মণ
হইতে ধােপর ব্রাহ্মণশ্রেণী বাহির করেন; পূর্বে এ দেশে
থােপার ব্রাহ্মণ ছিল না।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
এই বংশ বহু শাখা,
বিস্তারিত নানা স্থানে,
দক্ষিণভূষী (৯১) পাটনি কোটায়।
কথাগ্রামে ফতেয়াবাদ, রাঙ্গুনিয়া আদি স্থান,
সর্বত্রই সম্মানী সবায়।
কাশ্যপগােত্র দেববংশ,
চট্টলেতে সমধিক,
নানা ভাগে রহিয়াছে এথা।
রাঘব কানুর বংশ, সুবিখ্যাত ধলঘাটে, (৯২)
নিধি বিশ্বে আনিল জামাতা ॥
(৯১) দক্ষিণভূর্ষীর খ্যাতনামা শ্ৰীযুক্ত গােবিন্দদাস কবিরাজ
বহুদর্শী ও সংস্কৃতজ্ঞ কবিরাজ। সঙ্গীত ও কবিতা-রচনায় ইহার
বিশেষ পারদর্শিতা আছে। রাজকীয় কাৰ্যেও এ বংশে অনে-
কেই প্রসিদ্ধিলাভ করিয়াছেন। বাবু নবচন্দ্র চৌধুরী পেন
প্রাপ্ত রাজকর্মচারী বিচক্ষণ লােক বটেন, অরচন্দ্র চৌধুরী
খ্যাতনামা লােক ছিলেন।
Among the Kanungoes who are employed, the best
work was done by Babu Mohim Chander Chowdhury and
Mohendra Lal Chowdhury,
Mr. Allen's Settlement Final Report, p. 150.
(*2) See for Anandaram Kanungoe and other, p. 165
and 186 of Cotton's History of Chittagong,
এই রাঘব কানুনগােয়ের বংশ ধলঘাটের ভদ্রলােকের মধ্যে
আদি বাসিন্দা এবং বড়ই প্রসিদ্ধ ও সম্মানী।
৯৪
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
শাখিল্য শঙ্কর দত্ত,
ব্রজলাল ওয়াদ্দাদার,
ঘরজামাতা এই বংশে আসে।
মধুরাম দেববংশ, ভাটীখাইন ধলঘাট,
আছে আর শাকপুরা দেশে।
মধুরাম দেব বংশে, কানুনগােয়ে মজুমদার,
প্রভৃতি উপাধি দেখা যায়।
বিদ্যা-বুদ্ধি-অর্থবলে,
চিরকাল এই বংশ,
চট্টল সমাজে শােভা পায়। (৯৩)
দেববংশ বিস্বাংগ্রীরা, আছিল বিশেষ খ্যাত
কথা কচুয়াইতে বসতি।
তাহাদের ক্ষমতায়,
সে নামের পরিবর্তে,
বিস্বীংগ্রীর পাড়া নামে খ্যাতি।
(as) See for land-holders Chhatra Narayan Chowdhury
& others, Cotton's History of Chittagong, p, 165 & 186.
এই বংশে বর্তমানেও পেন্সনপ্রাপ্ত ডিপুটা কলের পূর্ণবাবু
ও তৎপুত্র নরেন্দ্রবাবু বি,এল, ডাক্তার দীনরঞ্জন এম,ডি এবং
ভাটীখাইন গ্রামবাসী ডাক্তার বেণীবাবু এম, ডি এবং মহিম
বাবু বি, এল প্রভৃতি উচ্চ শিক্ষিত লােক আছেন। উক্ত বেণী ও
মহিম বাবুর পিতা যাত্ৰামােহন বাৰু পেন্সনপ্রাপ্ত সরকারী
কর্মচারী। তিনি জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শী।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
অদ্যাপি বিষিংগ্রি-পাড়া, ঘােষে বিষিংগ্রীর খ্যাতি
দৈন্য দশা ঘটিয়াছে কালে।
এখন নির্বংশ প্রায়, দুই এক ঘর দেখা যায়,
মেল ঘর সরকারের খিলে ।
শাকপুরা লালাবংশ,
বিখ্যাত চট্টল দেশে,
শুনিলে আশ্চর্য্য বােধ হয়।
আছিল ক্ষমতাপম্ন, নিতান্ত প্রতিভাশালী,
লাল। রামরায় মহাশয়। (৯৪)
চট্টলের বড় ঘর,
প্রায় অধিকাংশ দেখি,
কুটুম্ব হইল তাঁর সনে।
লালা সনে সম্বন্ধেতে, আপনাকে ধন্য মানে,
আপনারে আপনে বাখানে।
দিঘী পুকুর হাট ঘাট কতই মহৎ কাজ
চট্টলেতে করিয়া গিয়াছে।
সময়ের স্রোতে আহা! দুর্বল হইয়া এবে
এই বংশীয় তথায় রয়েছে । **
(a8) “Lula Raw ray of Shakpura in remembered by a
haut (Ft) in the neighbourhood of his village and by a
bridge over the Boalkhali which still bears his name,
He died at Benaras,"
Cotton's History, p. 166.
এই বংশের এক শাখা নয়াপাড়া গ্রামেও আছে।
* সাকপুরা গ্রামের মোগল্য সেনগণ এ বংশের ঘরজামাতা।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
কাশ্যপ-দেব মজুমদার,
সুচক্রদণ্ডী রাঙ্গণীয়া
এই বংশ করিছে নিবাস।
জম্বুরাজচিকিৎসক,
ষষ্টী বৈদ্য নামে খ্যাত,
দান-ধৰ্ম্মে সর্বত্র প্রকাশ।
মধু চৌধুরীর বংশ, রয়েছে শিকারপুরে,
কাশ্যপ গােত্র দেব ধৰ্ম্মপুরে।
এ দেবেরা সুচিয়াতে, রাঙ্গণীয়াতেও আছে
চৌধুরী উপাধি খ্যাতি ধরে।
কথা কচুয়াই গ্রামে,
গোঁসাই ও কীৰ্ত্তন নামে,
দুই বংশ কাশ্যপেতে আছে।
শেষােক্তের এক শাখা, সুলতানপুর গ্রামে
এথা হ’তে চলিয়া গিয়াছে।
ঢেমশায় কাশ্যপ দেব, কৃপারাম চৌধুরী বংশ,
তাহাদের বড়ই প্রচার।
মৌদগল্য-গগাত্রীয় দেব, আমিলাইস নয়াপাড়া
সুচক্রদীতে আছে আর।
গৈড়লার আদি বাসী, কাশ্যপ বিশ্বাস-বংশ,
দেব নামে রহিয়াছে খ্যাতি।
সেই সঙ্গে হরি নাউ, দুবল ঠাকুর আর,
চন্দ্র বিশ্বাস স্থাপিলা বসতি।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী । ৯৭ বাসুকি সেনের বংশ, কানুপাড়া নয়াপাড়া, সারােয়াতলী আর হাতিয়ায়। তাহারা প্রবল অতি, সারােয়াতলী কুয়েপাড়া (৯৭) এই বংশ আছে জোয়ারায়। (৯৬) ইহারা প্রাচীন বংশ, বড়ই প্রতিজ্ঞাশালী মুন্সেফাদি ছিল বহুজন। এ গােত্ৰীয় দুইজন, অতিশয় সসম্মানে, রায়-কন্যা করেন গ্রহণ। শ্ৰীযুত রায়ের বংশ, জগদীশ স্বীয় কন্যা, কনকমঞ্জরা শিবপ্রিয়া। বহু টাকা অর্থ সহ, উপসত্ত্ব জমিদারী, যৌতুক সহিত দিলা বিয়া । (৯৭) (৯৫) শ্ৰীযুক্ত বাবু কমলাকান্ত সেন একজন লব্ধপ্রতিষ্ট ও অর্থশালী উকিল। ইনি চট্টগ্রামবাসীদের মধ্যে বি,এল পরী- ক্ষোত্তীর্ণদের সর্ব প্রথম ও পথপ্রদর্শক। এই বংশে আরও উকিল দৃষ্ট হয়। সাবােয়াতলী গ্রামে অভয়াচরণ সেন দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী জমিদার ছিলেন। এই বংশ ঐ গ্রামের প্রথম ভদ্রলােক বাসিন্দা। (৯৬) জোয়ারা গ্রামেও ইহারা প্রথম ভদ্র বাসিন্দা। (৯৭) এই শ্ৰীযুত রায়ের বংশের একটু পরিচয় না দিলে গ্রহ অসম্পূর্ণ রহিয়া যায়। ইহারা নয়াপাড়া গ্রামের প্রসিদ্ধ মৌদগল্য- গােত্রীয় সেন, ইহাদের জমিদারী আছে। ইহারা জাতিতে ৰৈ
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
এ গােত্ৰীয় বনমালী, জোয়ারা গ্রামেতে বাস,
সেনবংশে খ্যাত অতিশয় ।
শক্তিশালী জমিদার, ছিল চাউলের জমা,
এ বংশীয় আছে ছনহরায়।
কি কায়স্থ তাহার বিচার আমরা করিব না। ত্রিপুরা জিলা
হইতে এ বংশের পূর্বপুরুষ এখানে আসিয়াছেন, ইহা সব্ববাদি-
সম্মত। তথাকার এই গােত্ৰীয় সেনগণ পুরুষানুক্রমে আপনা-
দিগকে কায়স্থ বলিয়া পরিচয় দেন, ইহাই প্রকাশ। চট্টগ্রামে
অতি প্রাচীন কাল হইতে প্রচলিত
“আদ্যবৈশ্বানরো শক্তি * ধন্বন্তরী তথৈব চ।
দত্তশাণ্ডিল্যােন্থাশ্চ ষড়েতে বৈদ্যনায়কাঃ ॥”
বচনে এই গােত্রের উল্লেখ নাই। মৌদগল্যগােত্রীয় সেন প্রকৃত
বৈদ্য নয় বলিয়া একটী পরম্পরাগত প্রবাদ বাক্যও এতদ্দেশে
চলিয়া আসিতেছে। ত্রিপুরার ইতিহাস “রাজমালা” গ্রন্থে উল্লেখ
আছে ( ৪৭২ পৃঃ)—“আর কতকগুলি ভদ্রলােক সুবিধা
ও প্রয়ােজনানুসারে কখন বা কায়স্থ এবং কখন বা বৈদ্য বলিয়া
ঘােষণা করেন।” ইত্যাদি। আবার এই শ্ৰীযুত রায়ের বংশ
উন্নতির সময়েও ইহাদের বাসুকিগােত্ৰীয় সেন ও কাশ্যপগােত্রীয়
গুহগণের সহিত সাগ্রহ বৈবাহিক সম্বন্ধ পরিলক্ষিত হয়। এই
রায়বংশের কৃতি-লেখকপ্রণীত “সংস্কারভ্রষ্ট বৈদ্যজাতি” পুস্তকে
প্রকৃত বৈদ্য হওয়ার জন্য রায়-পরিবৰ্তনে সেন হওয়ার বিষয়
এমন কি,
* এ গােত্রীয় সেন নানাস্থানে ছিন্নভাবে ঘরজামাতা দৃষ্ট হয়।
চাদগাঁও, বিনাজুরি প্রভৃতি স্থানেও দেখা যায়।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী। আত্রেয়গােত্রীয় দাস, ছনহরা পরৈকোর, কোয়েপাড়া কেলি সহরেতে। (৯৮) উল্লেখ দেখা যায় (৭৪ সংখ্যক ফুট নােট দেখুন)। বস্তুতঃ এই বংশীয়েরা বড়ই পরিবর্তনপ্রিয় বলিয়া একটী কিংবদন্তী ও প্রচলিত আছে। সুচতুর ভরতমল্লিক দুই শতাব্দমাত্ৰ পূৰ্ব্বে স্বপ্রণীত চন্দ্ৰপ্ৰভা গ্রন্থে দেব, চন্দ্র, ধর, কর, নন্দী, কুণ্ড, রক্ষিত, সােম প্রভৃতির ন্যায় মৌদগল্য গােত্র সেনকেও বৈদ্যশ্রেণীর অন্তভূত করিয়া না লইয়াছেন এমন নহে। কিন্তু এ দেশে প্রাগুক্ত উপাধিধারিগণ বৈদ্য বলিয়া পরিচয় দিতে চাহেন না। এতদ্ভিন্ন অন্যত্র মৌদগল্য সেন সম্বন্ধে কিছু দৃষ্ট হয় না। গগাত্রীয় সেনগণের নয়াপাড়া, হাওলা, ছনহরা, ছনদণ্ডী, ফতেয়া- বাদ, আনােয়ারা, ভাটাখাইন প্রভৃতি স্থানে বসতি দেখা যায়। তাহার মধ্যে নয়াপাড়ার শ্ৰীযুত রায়ের বংশধরগণের যথেষ্ট সম্মান আছে। ইহাঁদের সম্বন্ধে মিঃ এলেন সাহেবের রিপাের্ট উদ্ধৃত করিলাম :- "The Srijukta family of Noapara in Ravzan thanın (the name of the place vieans the hanılet -f cows' in the Arrakanese language) are the descendants of Srijukta Chowdhury, whose brother Syam Ray Chowdhury was converted to Mohammadanism and founded the family. of Asadali Khan of Barauthan in Anowara. This family appears to have cmigrated from Rarhi to Tippera early in the 16th century. Rajaram Chowdhury a muktiyar in the court of Marsbed Kuli Khan, Governor of Bengal, from 1700 to 1725 A. D. was the 1st, member of this family to settle in Chittagong, Babu Nabin Chandra Sen, the poet, is a member of this family." (৯৮) এই বংশীয় একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তি পঞ্চানন ভট্টাচার্যের p. 24.
১০০ কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী। ধৰ্ম্মপুর আমিলাইস, ইত্যাদি অনেক স্থানে মাঝে মাঝে পাইবে দেখিতে । পূৰ্বপুরুষ সহ কেলিসহর গ্রামে বাসস্থান স্থাপন করেন। বল বাহুল্য, ইহরাই কেলিসহর গ্রামের সর্বপ্রথম ব্রাহ্মণ ভদ্রলােক বাসিন্দা। এ বংশের আর এক শাখা ছনহরা গিয়াছে ; তৎ- সম্বন্ধে এ বংশীয় কবি ভবানীশঙ্কর দাস ১৭১ শকাব্দে তৎপ্রণীত চণ্ডীকাব্যজাগরণে যাহা লিখিয়াছেন, নিম্নে উদ্ধৃত করা গেল। বলা বাহুল্য, এ বংশের মধু বিশ্বাস, ছনহরাগ্রামের অন্যতম প্রাচীন বাসিন্দা মৌদগল্যগােত্রীয় কুঞ্জবেহারী সেনের বংশের পূৰ্ব্ববর্তীর কন্যা বিবাহ করতঃ তথায় বাড়ী ভিটা প্রাপে স্থাপিত হয়েন। “মাের আদিপুরুষ জন্মিল রাঢ়। গ্রাম। আত্রেয়গােত্রে কুলে জন্ম নরদাস নাম। মহাভাগ্যবন্ত কায়স্থ ছিলেন নরদাস। রাঢ়া ভোমে বদিখি প্রদেশে নিবাস । গ ভান বংশে জন্মিলেক কৃষ্ণ হৃদান। পূৰ্ব্বদিকে ব্রজ কৈল হইয়া আনন্দ। নিরান্নের নিয়ম যে না যায় খান। চট্টগ্রামে আসিলেক আগি সেই স্থান । চাটিগ্রাম রাজ্যে এক দেবগ্রাম স্থানে। তথা গিয়া নিজ পুরী কৈলানন্দ মনে।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
ভবানীশঙ্কর দাস,
ছনহরা গ্রামে বাস,
লিখে চণ্ডী কাব্য জাগরণ।
সুকবি গােবিন্দ দাস, দেব গ্রামে ছিল বাস,
কালিকামঙ্গল বিরচন ॥
কাশ্যপগােত্র দাসবংশ,
ধলঘাট কচুয়াই
কেলিসহর সুলতানপুরে।
দক্ষিণ-ভূষী ছনহরা, সরকারখীল জোয়ারা
জ্যৈষ্ঠপুরা গ্রামে বাস করে।
*
তান পুত্র জান্মলেক শ্রীমধুসূদন।
মাের পিতৃ-পিতামহ সেই মহাজন।
গতি করিলেন সেই স্থান ত্যাগ করি।
নিবাস করিলেন সুখে চক্রশালাপুরী।
তান মুখ্য পুত্র জন্মে নামে শ্ৰীয়মন্ত ।
মহাসুখে বঞ্চিলেক সেই ভাগ্যবন্ত ।
শ্ৰীযুত নয়ন রাম তাহার তনয়।
আমার জনক জান সেই মহাশয় ॥”
বর্তমানে চক্রশালার অন্তর্গত ছনহরা।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী । ধলঘাটের দাসগণ, বড়ই সম্মানী তারা গণ্যমান্য ছিল অতিশয়। উচ্চ রাজ-কর্মচারী, দাতা ধীর সুবিদ্বান্ এ বংশেতে বহু দৃষ্ট হয়। ছিল রাজ সরকারে, ইহাদের প্রতিপত্তি এখনও আছে নিদর্শন। রাজ-অনুগ্রহ-বলে, স্বল্পহারে জমিদারী লভে তারা এই সে কারণ। (৯৯) এ গােত্রীয় দাসগণ, কচুয়াই গ্রামবাসী, কবিরাজী ব্যবসা প্রধান। পুরুষানুক্রমে দেখ, এই বংশে একজন, খ্যাতনামা কবিরাজ হন। * বাবু প্রসন্নকুমার দাস চট্টগ্রামে বর্তমানে একজন লব্ধ- প্রতিষ্ঠ উকিল। (wa) "Some of them also possess lands under the denomination of 'ghyripanchigy', the grants of which conld not bave been made to them in consideration of their office, as it extends to many other iubabitants of this province, and the original sanad was prior to their being in the office, Cotton's History, p. 186.
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
১০৩
“বৈদ্য-বিশারদ” বংশ, বলিয়া ঘােষয় তারা
দেশ মাঝে সৰ্ব্বলােকে জানে। (৯৯)
শ্রনীলকমল দাস, চট্টলেতে সুপ্রকাশ,
ধন্বন্তরি সমান বাখানে।
বশিষ্ঠগােত্রীয় দাস,
বেতাগীতে করে বাস
অন্যত্র না পাবে দরশন।
গৌতম গােত্রীয় দাস, বরমাতে সুপ্রকাশ
কুলের মর্যাদা বিলক্ষণ।
গার্গগগাত্রীয় দাস, সাধনপুরেতে বাস
অন্য স্থানে নাহিক কোথায়।
নিজামপুর আদি স্থানে, কাশ্যপগগাত্রীয় দাস
স্থানে স্থানে দেখ দেখা যায় ।
মৌদগল্যগগাত্রীয় দাস, শিকারপুরেতে বাস
লালাবংশ নামে খ্যাত হয়।
শ্রীপুর হ’তে ভৈরব সেনে, রসিকলালা কন্যাদানে
এ গ্রামে বসতি করয় ॥
কাশ্যপ গােত্রীয় নন্দী, সুলতানপুর ফতেবাদ, (১০০)
ধলঘাট জঙ্গল-খাইনেতে।
(৯৯) এই বংশের উকিল বাবু কামিনীকুমার দাস বি,এল
এবং তদভ্রাতা প্রভৃতি উচ্চ শিক্ষিত লােক আছেন।
(১০০) ফতেয়াবাদের শ্রীযুক্ত বাবু ঈশ্বরচন্দ্র নন্দী স্বনামধন্য
ব্যক্তি। ইনি রেভিনিউ বাের্ডে দক্ষতার সহিত অনেক দিন
১০৪
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
সাধনপুর কাঞ্চনায় এ গােত্ৰীয় দেখা যায়
কানুপাড়া দক্ষিণভূষীতে ।
আনায়ারা সারােয়াতলী এই দুই গ্রামেতেও
নন্দীদের আছয়ে বিস্তার।
সুলতানপুর ফতেবাদ এই দুই নন্দি-বংশ
বড়ই প্রাচীন জমিদার ।
সুকবি ঐকর নন্দী রচে অশ্বমেধ পর্ব
পরাগল খানের সময়
কবিত্বের অতুলন
তার বংশধরগণ
কাঞ্চনেতে বসতি করয়।
সুলতানপুর নন্দি-বংশে
স্থাপিলা বহু জামাতা
গৈড়লার সেনবংশধর।
কাজ করিয়াছেন। বর্তমানে ইনি ডিপুটি কালেক্টর-পদে
প্রতিষ্ঠিত রহিয়াছেন। পটিয়া মুন্সেফীর স্বনামখ্যাত সুযােগ উকিল
বাবু বিপিনবিহারী নন্দী কাব্যামােদী ও সাহিত্যপ্রিয় লােক
ইনি; বড় সুন্দর কবিতা রচনা করিতে পারেন। বাবু দুর্গাদাস
নন্দী বি,এ উচ্চশিক্ষিত যুবক।
* গােলােকচন্দ্র নন্দী পেস্কার বড়ই ধার্মিক ও দাতা লােক
বলিয়া খ্যাত ছিলেন। দেবগ্রামে পেস্কারের হাট প্রভৃতিতে
এখনও তাহার কীর্তি ঘােষণা করিতেছে।
ফতেয়াবাদ গ্রামের চাদ নন্দীর বংশধরগণ বহু পুরুষ হইতে
জমিদার।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
গন্ধর্ব সেনের বংশ
কচুয়াইর দাসবংশ
ঘরজামাতা আছিল বিস্তর।
আনােয়ারা আইচবংশ, বড়ই প্রাচীন ঘর
বিশেষ ক্ষমতাপন্ন হয়। (১০১)
বরম-সেনের বংশ
ব্রাহিরাম সেন নাম
এ বংশে ঘরজামাতা রয়।
আকিঞ্চন দাসের বংশ ঘরজামাতা এই কুলে
চণ্ডীচরণ কাস্থগিরি আসে। (১০১)
বুরুম-চরার ভরদ্বাজ
রাজীবরামবংশীয়
ঘর জামাতা আসিলেন শেষে।
শালঙ্কান গােত্র দাস নামেতে বিজয়রাম
উক্ত রূপে করে অবস্থান।
ধােরলা হইতে তিনি আসিলেন সেই দেশে
পরিত্যাগ করে নিজ স্থান ।
(১১) সমস্ত দেবগ্রামে (বর্তমান আনােয়ারা) একঘর
মুসলমান বাসিন্দা নাই এবং এই আইচবংশের স্থাপিত অনেক
গােলাম বেহারা হাড়ী প্রভৃতি শূদ্র আছে। ইহাই তাহাদের
বিশেষ কীর্তি।
(১০১ক) আকিঞ্চন দাসের বংশে আলামপুরের স্বনামখ্যাত
v মাগন দাস আমিনের শাখাই বর্তমানে বড়ই ক্ষমতাপন্ন ও
শিক্ষিত।
১০৬
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
আনােয়ারার প্রায় ভদ্র আইচের ঘর জামাতা
জায়গা জমি পেয়ে হয় স্থিতি।
শাকপুরা ফতেবাদ, মাঝে মাঝে অন্য স্থানে
দেখা যায় আইচ-বিস্তৃতি।
নাহাবংশ শাকপুরা
পরিচিত দেখা যায়
অন্যস্থানে নাহি দেখি আর ।
রাহুত-বংশীয়গণ
সুচক্রদণ্ডী কাশীয়াইস
গুজরা জলদিতে সুবিস্তার।
রুদ্রবংশ পুরাকালে
আছিল প্রবল অতি
ভরত রুদ্র ছিল দেশের রাজা।
সহ মগরাজগণ
করিলা ভীষণ রণ
বলশালী ছিল মহাতেজা।
অদ্যাবধি চক্রশালা সাতপাড়া মাঝে দেখ
সপ্তদীঘী আছয়ে খােদিত।
কেদার-বংশ পূর্ববর্তী এ বংণের ঘরজামাতা
রাঘব নামেতে পরিচিত ।
মেনকা নামেতে কন্যা রূপে গুণে অতি ধন্য।
কৃষ্ণচন্দ্ররুদ্রের তনয়া।
আসিয়া মেখল হতে রহিল শ্বশুরালয়ে
সেই কন্যা বিবাহ করিয়া ॥ (১২)
* এই রাহুতগণ শক্তৃিগােত্ৰীয়।
(১২) এই রাণব দাসের বংশের উত্তরপুরুষ কন্দর্পরায়
--
কায়স্থত-তরঙ্গিণী ।
১০৭
কাস্থ-গিরি-বংশধর বিখ্যাত দুর্লভ রাম
জামাতা হইয়া হেথা রয়।
কুয়েপাড়া রাঙ্গণীয়া, রুদ্রেরা সম্মানী তথা
পাটনিকোটায় কতিপয় ।
ধােরলা পাটনিকোটা বাৎস্যগােত্র সিংহগণ
শাণ্ডিল্য সিংহেরা নয়াপাড়া
গৌতমগােত্রীয় বল নাহি আর কোন স্থানে
কেবল ধােরলা কানুপাড়া ।
যােরলার বলবংশে ছিল অতি দানী মানী
রামকান্ত বল মহাশয়।
কবিরাজ মহেশবল
সংস্কৃতজ্ঞ অতুলন
চট্টলে সুখ্যাতি অতিশয় ।
জুমদার চক্রশালাতে বড়ই প্রসিদ্ধ লােক ছিলেন। তিনি
দ্রদিগের মধ্যে শ্রেণীভাগ করিয়াছিলেন এবং শ্রোত্রিয়
ব্রাহ্মণকে কৌশলে জাতিত্যাগ করাইয়া অগ্রদানী ব্রাহ্মণ ও
হাড়ী জাতির ব্রাহ্মণ বিভাগ করিয়াছিলেন। ইহার কৃত বেহারা-
গণ এখন মজুমদারী বেহারা বলিয়া খ্যাত। পরে এই বংশীয়
এক শাখা কেলিসহর এবং আর এক শাখা ধলঘাট গিয়াছিলেন।
তন্মধ্যে কেলিশহর-শাখাই বিশেষ পরিচিত ও সম্রান্ত। তথায়
কেদার চৌধুরী নামক ব্যক্তি বিশেষ প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিলেন,
ভঁহার নামেই এখন ঐ বংশের সকলেই পরিচয় দিয়া থাকেন।
১০৮
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
করবংশ বেতাগীতে খাঞ্জাহা নগরে আছে
নেজামপুরে শাকপুরায়।
পালিতবংশীয়গণ
রাঙ্গণীয়া কাঞ্চনপুর
অন্য স্থানে না দেখি কোথায়।
মাদার্শায় আছে পাল
সুচক্রদণ্ডী কতিপয়
মাঝে মাঝে আছয়ে বিস্তার।
চন্দ্রবংশ হাইদগাঁও কধুর খিল কাঞ্চনায়
ফতেয়াবাদেতে আছে আর ।
রাহাবংশ ফটকছড়ি, রাঙ্গণীয়া গ্রামে বহু
ফতেয়াবাদ আর ধলঘাটে ।
ধরগণ শাকপুরা ডাবুয়া ফতেয়াবাদ (১০৩)
কুণ্ডগণ খৈয়াছড়া বটে । (১০৪)
ভরদ্বাজ রক্ষিতেরা, নয়াপাড়া সাধনপুরে
কালিয়াইস আর জোয়ারাতে ; (১০৫)
ফতেবাদ কানুপাড়া, মাঝে মাঝে অন্য দেশে
সম্মান আছয়ে সমাজেতে।
১০৩) ফতেয়াবাদ গ্রামের দাতারাম চৌধুরী স্বনামধন্য গুরুষ
ছিলেন। তাঁহার বংশে গােলােকচন্দ্র কাস্থগিরি গৃহ-জামাতৃ-
রূপে ছিলেন।
(১৪) বাবু গৌরচন্দ্র কুণ্ড চট্টগ্রামের একজন প্রসিদ্ধ উকিল
বটেন। তাহার ভ্রাতা ঈশান বাবু ও গিরিশ বাবু বিচক্ষণ
লােক ছিলেন।
(১০৫) নয়াপাড়া গ্রামের দেওয়াঞ্জীর জমিদার। জোয়ার।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী । কাশ্যপগােত্রীয় হােড় কচুয়াই এক ঘর বরমাও আছে বাঁশখালী। প্রতাপী প্রতাপরায় রাঢ় হ'তে ন’পাড়ায় রাজকার্যে বহু অর্থশালী । কালীভক্ত কালীপ্রসাদ উকিল মন্তরাম বরমাতে ছিল এই দুই। গুপ্ত-বংশধরগণ নয়াপাড়া হাইদগাঁও স্থানে স্থানে দেখিবারে পাই। সুলতানপুর গ্রামে কুলবংশ লালগণ হাওলা গ্রামেতে সুপ্রচার। আছে বহু জমিদারী খ্যাত লালা প্রাণহরি ছিল তিনি উকিল-সরকার। ভরদ্বাজগােত্রধারী ব্ৰহ্মদাস একমাত্র নয়াপাড়া গ্রামে আছে স্থিতি। ইহার প্রাচীন ঘর রহিয়াছে কুটুম্বিতা বহু ভদ্রলােকের সংহতি। গ্রামে রক্ষিতগণও প্রাচীন ঘর। সেই বংশের মুন্সেফাদি বড়বড় চাকরীও ছিল। মুন্সেফের হাট প্রভৃতিতে এ বংশের পূর্ব- কীৰ্ত্তি ঘােষণা করিতেছে। এই বংশের বাবু ক্ষেমেশচন্দ্র রক্ষিত একজন কৃতী লােক। এবং নয়াপাড়ার বাবু জগচ্চন্দ্র রক্ষিত এই জিলার একজন প্রতিষ্ঠ উকিল।
১১০
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
নাগবংশ সারওয়াতলী বৰ্ধনগণ কাশীআইস
কয়েক ঘর আছে শুচিয়ায়।
আত্রেয়গােত্রীয় দীপ কুয়ােপাড়া সুচক্রদণ্ডী
অন্য স্থানে নাহিক কোথায় ॥
নেজামপুর হাট হাজারি, ফটকছড়ি সাতকানিয়া
নানা স্থানে কায়স্থ দেখা যায়।
কুমিরা ও সীতাকুণ্ড রাউজান বাঁশখালী
সর্বত্রই বিস্তার এখায় ।
নবম লহরী ছুটে ফেনিল উচ্ছাসে বহি
মিশে ঢেউ তরঙ্গে তরঙ্গে।
ঝঞাবাত বিলােড়িত কি মহা বিপ্লবে যেন।
রাঢ় ছেড়ে ছুটে পূর্ববঙ্গে । (১০৬)
(১০৬) গ্রাম, গােত্র ও ব্যক্তিগণের নামাদি সন্নিবেশিত
করিতে হইল বলিয়া এ প্রকরণে ছন্দ ও ভাষার প্রতি তত
লক্ষ্য রাখিতে পারা যায় নাই।
এই পুস্তকে যে সব গণ্যমান্য লােকগণের নাম লিখা হইল, ইহ
ছাড়া আরও অনেক বংশে অনেক কৃতিলােকের নাম না জানা
বিধায় অনুল্লেখ রহিয়া গেল। উত্তরখণ্ড প্রকাশের সময় অন্যান্য
বিষয়ের সহিত তাহা প্রকাশ করিতে বাসনা রহিল।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
১১১
দশম লহরী।
ঃঃ
অতঃপর শুন শালঙ্কান ইতিহাস।
যেইরূপে এই বংশ চট্টলে প্রকাশ।
পাতসা ঔরঙ্গজেব সুবিখ্যাত অতি
নীলকণ্ঠ নামে তার ছিল সেনাপতি।
হিন্দুস্থান-অধিবাসী লালা-খ্যাতিধারী।
ক্ষাত্ৰতেজ অতুলন শত্রুনাশকারী।
সম্রাটের যুদ্ধ কাৰ্য্যে ছিল নিরবধি।
“রাজা সংগ্রামসাহা” লভিলা উপাধি।
পূর্ববঙ্গে পর্তুগীজ মগ দস্যগণ।
লুটিয়া প্রজার বৃত্ত করে উৎপীড়ন।
এই হেতু দেখি তিনি প্রজার দুর্গতি।
পাতসাহ পাঠাইলা নিজ সেনাপতি।
বাখরগঞ্জেতে তিনি হয়ে উপনীত।
স্বীয় নামে গড় এক করিল স্থাপিত। (১০৭)
(309) See Calcutta Review on Chittagoog Feringies
Vol, 53, p. 78,
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী। যুঝিল দস্তর সহ ভীষণ আহবে। ক্রমে ক্রমে পরাজয় করিলেন সবে । নিজ বীৰ্যে কাৰ্য্যে তিনি করিলা প্রচার। ক্ষত্রিয়ের জাতি ধৰ্ম্ম মহিমা অপার ॥ (১০৮) (১০৮) রাজা সংগ্রাম সাহা যে রাজপুতজাতীয় ছিলেন,তদ্বিষয়ে যােধপুরের রাঠোর-রাজ-সেনাপতি ভট্টকবি, ১৭৪১ সংবতের যুদ্ধে মােগল-সেনাপতি সংগ্রামের নিকট পরাস্ত হইয়া কি বলিয়াছিলেন, নিম্নে তাহার অনুবাদ দেওয়া গেল :- “তিনি বাদসাহের সেনাপতি সংগ্রামের নিকট বিনীতভাবে নিবেদন করিলেন,-আপনি স্বজাতীয় ভ্রাতৃদলে মিলিত হউন।” Todu's Rajasthau, Vol. II. Page: 61. ইহা রাজা সংগ্রামসাহের শেষ বয়সের ঘটনা। আবার কবিকণ্ঠহার বৈদ্যগ্রন্থের “দুর্দৈবাশনিসম্পাদ্রঘুনাথাে যুব' মৃতঃ। সংগ্রামসাতনয়। পাণিগ্রহণপীড়িতঃ ॥” ইত্যাদি। এবং বৈদ্য-ঘটক আনন্দচন্দ্র দাসগুপ্ত-কৃত ডাকৈর গ্রন্থে ফরিদ- পুরের মাধবসেন শালঙ্কায়নগােত্রীয় সংগ্রামের সহিত সম্বন্ধ করাতে কুল গিয়াছিল বলিয়া- “আত্মীয় বান্ধব ছাড়ি, হৈয়া নানাদেশান্তরি, মনেতে দুঃখিত ভাব রয়।” ইত্যাদি লিখিয়াছেন এবং শালঙ্কায়নগোত্রীয়কে “হাম বৈদ্য” অর্থাৎ নিজ কথিত বৈদ্য বলিয়াই বলিয়াছেন। যথা :- = কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী। ১১৩ সংগ্রামের পরাক্রম কি কহিব কথা। গড় তার অদ্যাপি দেখিতে পাবে তথা। “সংগ্রাম সাহা রাজা বলে, হাম বৈদ্য দ্বিজকুলে, বিপদে কহিনু বচন।” এরূপ বহুতর বৈদ্যগ্রন্থপাঠে জানা যায়, বৈদ্যগণ স্বয়ংই পূর্বে শালঙ্কায়নগােত্রীয় সংগ্রামকে তাহাদের স্বীয় জাতি বলিতে আপওি করিয়াছেন। চট্টগ্রামের কোন কোন বৈদ্য ও এরূপ আপত্তি করেন। রাজস্থান পাঠে ইহা জানা যায় যে, তিনি উচ্চবংশীয় এবং রাঠোর প্রভৃতির এক জাতীয় ছিলেন, রাঠোরেরা রাজপুত, ইহা সকলেই অবগত আছেন ; তবে এখানে এরূপ প্রশ্ন উঠিতে পারে যে, যদি তিনি উক্ত কুলােবই হইলেন, তবে বৈদ্যেরা আপত্তি করিলেন কেন? ইহার উত্তর এই যে, বাঙ্গালীরা চিরদিনই ভিন্ন দেশীয়কে অপ্রীতির চক্ষে দেখে, বিশেষতঃ সংগ্রাম যখন বঙ্গদেশে আসেন (১৭শ শতাব্দীর মধ্যভাগে কি তাহার কিঞ্চিৎ পূৰ্ব্বে ) তাহার পৃষ্ঠপােষক ও স্বদেশীয় লােকও এতদ্দেশে ছিলেন না এবং এখনও ফরিদপুরে বাখরগঞ্জে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে যে—ব্রাহ্মণ ও কায়স্থগণ পরামর্শ করিয়া নবাগত সংগ্রাম সাহাকে বৈদ্যদের ঘাড়েই চাপাইয়া দিয়াছিলেন। ইহার অর্থ আর কিছুই নহে। সংগ্রাম উচ্চবংশীয় হইলেও ভিন্ন দেশবাসী বলিয়াই তাহারা স্বীয় সমাজের অন্তর্ভুক্ত করিতে চাহেন নাই। দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা যায় যে, বঙ্গদেশীয় ব্রাহ্মণগণ কনােজিয়া,উৎকল- বাসী বা মিথিলাবাসীদের সহিত এখনও বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হইতে ইচ্ছুক নহেন।
১১৪ কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী পূর্ববঙ্গে এ বংশীয় বসবাস করে। বহু কীর্তি নােয়াখালী চট্টল ভিতরে। অনেক বিস্তৃত হ’ল এ বংশীয়গণ। চট্টলে করিলা কেহ রাজত্বস্থাপন। রাজ-কুল বলি মান্য ছিল সবাকার। স্থাপিলা দ্বাদশ বাড়ী তেরটী খামার। ইতিহাস ইত্যাদি পাঠে জানা যায় যে, মােগল বাদশাহগণ মুসলমান হইলে ও হিন্দুগণের মধ্যে রাজপুতদিগের প্রতি তাহাদের শৌর্য-বীৰ্য্যাদি গুণে অনুরক্ত হইয়া উচ্চরাজসম্মানে ভূষিত করি- তেন এবং উচ্চ রাজকার্যে নিযুক্ত করিতেন। ইত্যাদি নানা কারণে দেখা যায়, ইনি অম্বষ্ঠ বৈদ্য বা অণ্ঠ কোন মিশ্র বা সঙ্কর জাতীয় ছিলেন না। কাজে কাজেই উক্ত মহারাষ্ট্রীয় ভট্টকবি সেনাপতির কথা মতে এবং শৌর্য-বীর্যে ব্যবসায়ে ও উপাধি ইত্যাদিতে দেখা যায় যে ইনি রাজপুতই ছিলেন। এই শালঙ্কায়ন গােত্রীয়গণ হিন্দুস্থানী বলিয়া এখনও পূৰ্ব্ববঙ্গে একটি অতি প্রাচীন প্রবাদ প্রচলিত আছে। কিন্তু রাঙ্গা সংগ্রাম সাহার অভ্যুদয়ের কয়েক বৎসর পরে অর্থাৎ অদ্য হইতে কিঞ্চিদধিক দুই শতাব্দ পূর্বে সুচতুর বৈদ্যকুল-গ্রন্থ কার ভরত মল্লিক এই শালঙ্কায়ন গােৰটীও বৈদ্য গােত্রের অন্তর্গত করিয়া লইয়াছেন। যাহা হউক, এই গােত্রটা বৈদ্যগগাত্রের অন্তর্গত করাতে বৈদ্য- জাতির মুখােজ্জল ব্যতীত যে কোন ক্ষতি হইয়াছে এমন বোধ হয় না।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
১১৫
মহাতীর্থ চন্দ্রনাথ আদিনাথ-ধামে ।
মঠাদি স্থাপিলা কত দেবতার নামে ।
দীঘী সেতু তড়াগাদি দিলা অগণন।
ধৰ্ম্মনিষ্ঠ ছিল দান-ধ্যান-পরায়ণ।
লাল নগর কৃষ্ণখালি হাট বহুতর।
বাঁধিলা জাঙ্গাল কত দেখিতে সুন্দর
বিখ্যাত মুরারি ঘাট জগদম্বা আর।
বাগ মণিরাম কীৰ্ত্তি সহর মাঝার।
এ বংশের খ্যাতনামা “ভায়া” মণিরাম।
ধৰ্ম্ম কৰ্ম্ম চট্টলেতে রাখিলা সুনাম।
স্থাপিল। পার্বতী নান্নী তার বনিতায়।
কেলি সহরেতে মঠ পিতার চিতায়। (১০৯)
(১০৯) ধৰ্ম্মপরায়ণা পাৰ্বতী, প্রসিদ্ধ কেদারবংশের কন্যা
ছিলেন। এই ঐশ্বৰ্যশালিনী মহিলা আপন পিতৃ-শ্মশানে বিষ্ণু
মন্দির প্রদানে পতিকুল ও পিতৃকুলের মুখােজ্জল করিয়া গিয়া-
ছেন। মন্দিরগাত্রস্থ শিলালিপিতে এই শ্লোকটী খােদিত
রহিয়াছে :-
“শৈলেন্দুকালামৃতরশ্মিসংথ্যে
শাকে চ বিষ্ণোঃ পরিতােষহেততঃ।
শ্রীপাৰ্বতী সৰ্বগুণাতিরামা
দদ্যাঠং শ্রীমণিরামরাম।”
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
জনু লালা যােগীরাম লালা মহাশয়।
চট্টল মাঝারে কীর্তি রাখিলা অক্ষয়।
রাণী দুর্গাবতী ঠাকুরাণী প্রভাবতী।
দান-ধৰ্ম্মে চট্টলেতে রাখিছে সুখ্যাতি।
আবাদ করিয়া দেশ বিপ্ৰে প্ৰদানিলা।
প্রমাণ রাণীর খিল দেখ চক্রশালা ।
তাদের ভাণ্ডারীগণ যেখানেতে রয়।
অদ্যাপি ভাঙারগাঁও তারে সবে কয়।
ছিল যথা খামারের পশু অগণিত।
ভুবন গােয়রা সেই স্থানে পরিচিত।
এই বংশের খ্যাতনামা দুর্গাদাস খান।
চট্টলেতে এই বংশে ইনিই প্রধান।
যােগীরাম লালা পুত্র নন্দরাম ধীর।
বাড়ব নিকটে রচে শিবের মন্দির। ১১০)
ইনি এতদ্ভিন্ন দীঘী পুষ্করিণী খনন প্রভৃতি বিবিধ সদনুষ্ঠান
করিয়াছিলেন।
(১১০) “রাজবংশােদ্ভব হয় শালেঙ্কান গােত্র,
নন্দরাম নামে এক যােগীরাম পুত্র।
মহাদানী আছিলেক সেই মহাজন,
পুত্র তুল্য করিয়া পালিত প্রজাগণ।
দিব্য মঠ দিয়া আছে পাষাণে রচিত
বাড়ব-অনল-কুণ্ড-মঠ-সন্নিহিত।
কায়স্থত-তরঙ্গিণী।
১১৭
কুলগাঁও হতে আসি ভরদ্বাজগণ।
বুরুম চড়া বাসস্থান করিলা স্থাপন।
মধু বিশ্বাস ভরদ্বাজ বুরুমচড়া হ’তে।
পরিণয়ে বদ্ধ হয় পরইকোরাতে।
জায়গা জমিদারী দিয়া করায় বসতি।
তাহাতে হইল তাদের বিশেষ উন্নতি। (১১১)
মঠ মধ্যে শিব লিঙ্গ করিছে স্থাপন।
কি কহিব সেই মন্দির অপূৰ্ব্ব-লক্ষণ।”
কবি শঙ্কর দাসের জাগরণ।
সীতাকুণ্ডের বিরূপাক্ষ শিব ও মন্দিরও এ বংশীয়গণের স্থাপিত ।
ইংরাজ গবর্ণমেন্টের আমলে এই ভরদ্বাজ বংশের বিশেষ উন্নতি
পরিলক্ষিত হয়।
(১১১) “Gouri Sanker is a name still remembered in
all parts of the District; his grand-son Umesh Chandra
is now an Inspector of Police in Nadia, Baidya Nath
was Gouri Sankar's first Cousin, Har chandra Ray is a son
of Baidya nath was presented to Lord Dalhousi as the
principal zuminder of Chittagong at the time of that
Viceroy's visit,"
Cotton's History, p. 166.
ইহাদেরও অনেক সৎকীৰ্ত্তি আছে। বিশেষতঃ হরচন্দ্র
বাবুর সমদর্শিতা এবং অন্যান্য বিবিধ সদগুণে চট্টগ্রামের কায়স্থগণ
বৈদ্যগণের মধ্যে বিশেষ সম্মান ও প্রতিপত্তি লাভ করিয়াছিলেন।
বর্তমানেও বাবু যােগেশচন্দ্র রায় জমিদার, পেন্স প্রাপ্ত
সবজজ বাবু চন্দ্রকুমার রায়, ডিপুটী কালেক্টর বাবু শরচ্চন্দ্র দাস
১১৮
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী ।
পরৈকোরা গ্রাম ধন্য চট্টলের মাঝ ।
তাহে সুপ্রসিদ্ধ সালঙ্কান ভরদ্বাজ।
জনার্দনসুত দয়ারাম নন্দরাম।
ভরদ্বাজ বংশে জন্ম দুই ভাগ্যবান্ ।
নন্দরাম কীৰ্ত্তি কত করিব বাখান।
শম্ভুনাথে অম্ব দিতে করেন বিধান।
পৰ্বত হইতে রচি পাষাণের সিড়ি।
শম্ভ, পূজিবার আসে মন্দাকিনী-বারি। (১১২)
বৈদ্যনাথ আর গৌরীশঙ্কর দেওয়ান।
ইংরাজ আমলে দেখ বড় ভাগ্যবান্ ।
দানধৰ্ম্মে উভয়েই ছিলা অকাতর।
রাখিলা অক্ষয় কীৰ্ত্তি চট্টল ভিতর।
( ফতেয়াবাদ নিবাসী ), উকিল, বাবু নগেন্দ্রকুমার রায়
বি, এল প্রভৃতি খ্যাতনামা ব্যক্তি এই বংশের মুখােজ্জল
করিতেছেন।
(১১২) “ভরদ্বাজ গোত্র বৈদ্য বংশেতে উৎপত্তি।
নন্দরাম নাম জনার্দনের সন্ততি ।
কি কহিমু সেই ভাগ্যবন্তের কথন।
শম্ভুনাথে অর্চিবারে আনি দিছে বণ॥”*
কবি ভবানীশঙ্কর দাসের জাগরণ।
* বজল।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী। ১১৯ বাবু হরচন্দ্র রায় খ্যাত জমিদার। এক নামে পরিচিত চট্টল-মাঝার। শালঙ্কান সংস্রবে অনেক বড় হয়। দস্থীদার আদি কত ঘরজামাতা রয়। মদন দেওয়ান কন্যা অম্বিকা সুন্দরী। কালিদাস দস্থীদার রয় বিয়া করি । (১১৩) ছনহরা ছাড়ি রহে শ্বশুরের বাড়ী। লভিলা তথায় তিনি জায়গা জমিদারী । ‘ভায়া’ মণিরাম কন্যা সর্বমঙ্গলারে। রামকৃষ্ণ ওয়াদ্দার রহে বিয়া করে। (১১৪) (১১৩) এই দস্থীদার বংশের নীলমণি দস্থীদার বড়ই স্বনাম খ্যাত লােক ও অত্যুৎকৃষ্ট শিল্পী ছিলেন। দীদার বংশের মধ্যে ধলঘাটের শাখা বড়ই প্রবল। এই শাখাতে অনেক খ্যাতনামা লােক ছিলেন এবং বর্তমানেও বাবু দুর্গাদাস দীদার, উকিল সরকার এবং সেরেস্তাদার বাবু প্রাণকৃষ্ণ দীদার প্রভৃতি বিশেষ বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান্ লােক আছেন। এই বংশের ছনহরা শাখাও সম্মানী। (১১৪) ওয়াদ্দাদার বংশের যে সকল খ্যাতনামা ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করিয়াছেন, তন্মধ্যে বাবু মুরলীধর চৌধুরী মহাশয় বিশেষ উল্লেখযােগ্য। চট্টগ্রামের বর্তমান ইংরাজীশিক্ষিত কৃত- বিদ্য ও লব্ধপ্রতি অনেকেই ইহার ছাত্র। ইনি স্থানীয় কলে- জের একজন বিচক্ষণ শিক্ষক ছিলেন। সম্প্রতি পেন্স ভােগ
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
জুগীরাম লালা কন্যা করুণা সুন্দরী।
নন্দরাম সেন রহে তাঁকে বিয়া করি। (১১৫)
আত্রেয় গােত্ৰীয় দাদ খ্যাত ছনহরায়।
বিশ্বাস দুল ভরাম জনমিলা তায়।
ভায়া মণিরাম কন্যা বিবাহ করিয়া ।
তথা হতে পরৈকোরা গেলেন চলিয়া।
শালঙ্কানে খ্যাতনামা ছিল বহু জন।
গৌরীচরণ কালীচরণ দেওয়ান বৃন্দাবন।
কানুনগােয় রামদুলাল ও রামকিশাের।
লালা রামহরি আদি কিঞ্জল কিশাের।
ইত্যাদি প্রসিদ্ধ লােক ইংরাজ আমলে।
আছিল অনেক তার সংখ্যা কেবা বলে ।
মহাত্মা শরত বাবু ধাৰ্মিক সুজন।
মহা জ্ঞানবন্ত ছিল সেই মহাজন।
সম গ্ৰ মহিষখালী দ্বীপ-অধিপতি।
পালিলা প্রজারে যেন আপন সন্ততি।
করিতেছেন। এই বংশ ধলঘাট, ডেঙ্গাপাড়া, ভাটাখাইন প্রভৃতি
স্থানে আছে।
(১১৫) কথিত আছে,কাঞ্চনা গ্রাম হইতে নন্দরাম সেন
শালঙ্কান বংশের কন্যা বিবাহ করিয়া ভূ-সম্পত্তি প্রাপ্তে পরৈ-
কোড়া গ্রামে অবস্থিতি করেন।
কায়স্থ-ততরঙ্গিণ। ১২১ সাধু সন্ন্যাসীর সেবা করিত সদায় । মহন্ত গােমতিবন ছিলেন সহায়। সন্ন্যাসীর বেশে তিনি কাটাইল কাল। তৎপুত্ৰ কৈলাস বাবু বিক্ৰমে বিশাল। (১১৬) শ্ৰীযুত প্রসন্নকুমার তাহার তনয়। কীৰ্ত্তির সৌরভ যার চারিদিকে রয়। রূপে গুণে অনুপম উদার অন্তর । দানশীল পরদুঃখমােচনে তৎপর বাণী কমলার দ্বেষ আছে অবিরত। প্রসন্নকুমারে কিন্তু প্রসন্ন সতত। (>>) On the 5th January 1786 Mr. Croftes, who at that time was colleétor of Chittagong, sold his right, title, and interest for Rs 40,000 to Kali Charan Kanungoe. Kali Charan was Dewan of the District at the time of this trausaction, and died in 1790. He was succeeded in his property by his widow Problabaty who did not die till 1826. She had no children of her own, but adopted one Chaudi Charan who died in 1820, leaving a son Sarat Chandra. Sarat Chandra being a minor, the Estate came ou Prabirabaty's death, under the Court of Wards. Sarat Chandra died recently and the present Zeminder is his son Kailas Cinandra. Cotton's History of Chittagong, Page 233.
১২২ কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী। মান্ বিনােদলাল তার জ্যেষ্ঠ সুত। জমিদারী শাসনেতে আছে নিয়ােজিত। ছনদণ্ডী রাজনীয়া ধােরলা গ্রামেতে। দেখা যায় এই বংশ পাটনি কোটাতে। রায়, লালা, দাস, আর চৌধুরী প্রভৃতি। বর্তমান স্থানে স্থানে ভিন্ন ভিন্ন খ্যাতি। শালঙ্কান-সংগ্রাম বংশ খ্যাত বাঙ্গালাতে। পূর্ণচন্দ্র পূর্ণভাবে নারিনু বর্ণিতে। (১১৭) দশম লহরী ছুটে মৃদু মনােহরা । বিতরি স্ফটিক স্বচ্ছ সুশীতল ধারা। (১১৭) পটীয়া থানার সুচক্রদণ্ডী, কচুয়াই, ছনহরা প্রভৃতি গ্রামে কাস্থগিরি (বর্তমানে খাস্তগির) বিশ্বাস প্রভৃতি ঔপাধিক শালঙ্কায়ন গােত্রধারী লােকের বাস আছে। ইহাদের মধ্যে অনেকেই সংগ্রাম সাহার বংশধর বলিয়া আপনাদিগকে পরিচয় দিয়া থাকেন। কিন্তু নিতান্ত আধুনিক সঙ্কলন -“অম্বষ্ঠ- সম্পাদিকা” গ্রন্থে এই বংশকে অষ্ঠ বলিয়াই উল্লেখ করা হই- যাছে। সংগ্রাম সাহা অম্বষ্ঠ কি বৈদ্যজাতি এতৎ সম্বন্ধে এ স্থলে পুনরালােচনা নিপ্রয়ােজন, পরন্তু শালঙ্কায়ন, গােত্রধারী রাজা সংগ্রাম সাহের বংশধরগণ যে অদ্যাপি চট্টগ্রামে অবস্থিতি করি- তেছেন, ইহা তাহাদের কথাতেও বিলক্ষণ প্রমাণিত হইতেছে।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী।
পরিশিষ্ট।
বঙ্গদেশীয় কায়স্থদিগের উপাধি ও গােত্র ।
গৌতম।
উপাধি
গােত্র
ঘােষ সৌকালীন, শাণ্ডিল্য, বাৎস্য।
বম্ব
কাশ্যপ, কঙ্কীশ, কষি।
মিত্র বিশ্বামিত্র।
অগ্নিবেশ্য, আলম্যান, কৃষ্ণাত্রেয়, কাশ্যপ, ঘৃতকৌশিক,
ঘৃতকুশিক, পরাশর, বশিষ্ঠ, ভরদ্বাজ, মৌদগল্য,
শাণ্ডিল্য, সৌপায়ন।
আলম্যান, কাশ্যপ, বাকি, ধন্বন্তরি, মৌদগল্য।
আলম্যান, কাশ্যপ, গৌতম, পরাশর, বশিষ্ঠ, বাৎস্য,
ভরদ্বাজ, মৌদগল্য, শাণ্ডিল্য।
দাস আত্রেয়, আলম্যান, কাশ্যপ, গর্গ, গৌতম, বৃকৌশিক,
বশিষ্ঠ, মৌদগল্য, শালঙ্কায়ন।
• সিংহ গৌতম, ঘৃতকৌশিক, বাৎস্য, ভরদ্বাজ, শাণ্ডিল্য,
সাবর্ণ।
পালিত ভরদ্বাজ, শাণ্ডিল্য।
নাগ
সৌকালীন।
নাথ কাপ।
আলম্যান, কাশ্যপ, জামদগ্ন্য, মৌদগল্য, গৌতম।
ম ভরদ্বাজ, শাণ্ডিল্য।
চন্দ্র
কাশ্যপ, ভরদ্বাজ, মৌদগল্য, গৌতম।
পাল কাশ্যপ, ভরদ্বাজ, শাণ্ডিল্য।
১২৪ কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী। উপাধি গােত্র নন্দী আলম্যান, কাশ্যপ। কাপ, গৌতম। রাহা শাণ্ডিল। সােম লৌহিত, কাপ। বল গৌতম, আলম্যান। রুদ্র কাশ্যপ। আলম্যান, কাশ্যপ। আলম্যান, চন্দ্রঋষি, ভরদ্বাজ। রক্ষিত বাৎস্য, ভরদ্বাজ, মৌদগল্য। কাশ্যপ, ভরদ্বাজ। হােড় কাশ্যপ, মৌদগল্য। আলম্যান, শক্তি। কাশ্যপ, ধৃতকৌশিক। আদিত্য আলম্যান। আলম্যান। চাকী গৌতম। কাশ্যপ। ব্রম ভরদ্বাজ। বিষ্ণু ব্যাঘ্রপদ, ভরদ্বাজ, শাণ্ডিল্য, গৌতম। কুল কাপ। রাণা কাপ, দাভ্য, হংসল । নন্দন কাশ্যপ, গৌতম। আচ্য মৌদগল্য, কাশ্যপ, শাণ্ডিল্য। দীপ আত্রেয়।
কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী। ১২৫ শ্রীশ্রীহরিঃ শরণম্। বঙ্গদেশীয়-রাঢ়ীয়-বঙ্গজ-বারেন্দ্রকায়স্থানাং ক্ষত্রিয়দ্যোতকং ব্যবস্থাপত্র। বেদ-স্মৃতি-পুরাণ-তন্ত্র-কাব্যেতিহাসাদিবচনপ্রমাণেরেত দেশীয়ানাং কায়স্থানাং ক্ষত্রিয়-শাখান্তর্নিবিষ্টত্বং প্রতিপাদিতমিদং বিদাং মত। স্বাক্ষর। শ্রীহরির্জয়তি। হাবিলাসদ্বীপ-গ্রামবাসি তর্কপঞ্চাননােপা- ধিক-শ্রীনবকুমার শর্মণাম্। ছনহরাবাসি ন্যায়ভােপাধিক শ্ৰীঅখিলচন্দ্ৰ শৰ্ম্মণা। চক্রশালানিবাসি শ্রীদুর্গাচরণ তর্করত্না- নাম্। ভাটিখাইনগ্রামবাসি শ্রীরামদয়াল তর্কসিদ্ধান্তানাম্ । ঐশিবাে বিজয়তে। কানুনগােয়পাড়ানিবাসি শ্রীলক্ষ্মীকান্ত বিদ্যা- রত্নানাম্ ॥ শ্রীহরিঃ শরণম্। গুবাকতলীনিবাসি শ্রীরামকৃষ্ণ স্মৃতি- রত্নানাম্ ॥ কেলিসহরগ্রামনিবাসি সরস্বতুপাধিক শ্ৰীঅন্নদা- চরণ শৰ্ম্মণাম। ভাটিখাইনগ্রামনিবাসি শ্রীগুরুদাস শিবরামণী- নাম্ ॥ চক্রশালাবাসি শ্রীকালীকান্ত শিয়ােমণীনাম্ ॥ শুচিয়াগ্রাম- নিবাসি শ্রীনন্দকুমার শিয়ােমণীনা। শ্রীশ্রীবিশ্বেশ্বরাে জয়তি। দেব- গ্রামনিবাসি শ্রীনীলাম্বর তর্কবাগীশানাম্ ॥ চক্রশালা-কথাকচুয়াই গ্রামস্থ শ্রীনচন্দ্ৰ সাৰ্বভৌমস্য। নয়াপাড়াগ্রামনিবাসি শ্রীকৈলাস- চন্দ্র স্মৃতিরানা। কানুনগােয়পাড়ানিবাসি শ্রীগৌরীশঙ্কর স্মৃতিরানাম। চক্রশালাগ্রামবাসি শ্রীরাশিচন্দ্র কৃতিরানাম্। ভাটিখাইনগ্রামনিবাসি শ্ৰীকালীকান্ত স্মৃতিভূষণানাম্ ॥ চক্রশালা- নিবাসি শ্ৰীঅন্নদাচরণ বিদ্যালঙ্কারাণাম্। ধলঘাটনিবাসিনাং শ্রীপীতাম্বর তর্কভূষণানাম্ ॥ মঠপাড়ানিবাসি শ্রীদুর্গাচরণ ন্যায়- বাগীশানাম্ । পাল গ্রামবাসি শ্রীদুর্গাচরণ তর্করত্নানাম্ ॥ ওঁ তৎ- সৎ। চেচুরিয়াগ্রামনিবাসিনাং শ্রীকালীকুমার শিনােরঙ্গানাম্ ।
১২৬ কায়স্থতত্ত্ব-তরঙ্গিণী । জলদিনিবাসিনাং নিশিকান্ত বিদ্যাবাগীশানা। চেচুরিয়াগ্রাম- বাসিনাং শ্রীসুরেশচন্দ্র বিদ্যাবিনােদানা। ভাটিখাইননিবাসি উমাচরণ তর্করত্নানাম্ । কোয়েপাড়ানিবাসি শ্রীঅখিলচন্দ্র ন্যায়রত্নানাম্ ॥ শ্রীদুর্গা শরণম্। গুবাকতলীগ্রামবাসি হরশঙ্কর স্মৃতিপঞ্চাননানাম্ ॥ ছনহরানিবাসি শ্রীগােবিন্দচন্দ্র স্মৃতিরত্না- নাম্ ॥ মঠপাড়াবাসি শ্ৰীকালীকুমার তর্কভূষণানাম্ ॥ ভাটিখাইন- নিবাসি অখিলচন্দ্র বিদ্যারত্নানাম্ ॥ মঠপাড়ানিবাসি শ্রীচন্দ্রকান্ত সার্বভৌমানাম্ ॥ মঠপাড়াবাসি শ্রীউমাচরণ তর্করত্নানাম্ । কায়স্থ-সম্বন্ধে শাব্দিকগণের মত। ১। একঃ প্রজাপতিরাখ্যাত আয়াে বাহুস্তথৈব চ। তত্রস্থাে যৎ সমুদ্ভূতঃ কায়স্থবর্ণ উচ্যতে।” ২। “ক্ষত্ৰশব্দেন কায়ং স্যাদিয়েতি স্থিতিবাচক। ততঃ ক্ষত্রিয়শব্দেন কায়স্থ ইতি বােধ্যতে। ৩। “ককারং ব্রাহ্মণং বিদ্যাদাকারং নিত্যসংজ্ঞকম্। আয়ত্ত নিকটং জ্ঞেয়ং তত্র কায়ে হি তিষ্ঠতি কায়স্থােহতঃ সমাখ্যাতো মসীশঃ প্রাজ্ঞ চ যৎ।” ইহা দ্বারাও দেখা যায় যে, কায়স্থ ও ক্ষত্রিয় একার্থবাচক। কায়স্থের লক্ষণ। “ব্রহ্মবিৎ পরাভক্তি শণসূত্র ধারণ। দানমধ্যয়নং ধ্যানং পরােপকারিতা তথা । যজনং শান্ত্রতনে প্ৰজানাং পরিপালন। রাজকর্মক্ষমাশৌচং কায়স্থলক্ষণং খৃতম্ ॥” তথাচ ভবিষ্যপুরাণে ভীষ্ম বাক্যম্। “বৈষ্ণৰ দানশীলা পিতৃযজ্ঞপরায়ণাঃ। সুধিয়ঃ সৰ্ব্বশাস্ত্রে কাব্যালঙ্কারবােকা। পােষ্টারে। নিজবৰ্গাণাং ব্রাহ্মণানাং বিশেষতঃ।” সমাপ্ত।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.