Jhikira Kedarnath Sadharan Pathagar, Howrah

Girish Granthaboli Part.13

Ghosh, Girish Chandra · 2010/04/16

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

গিরিশ গ্রন্থাবলী
( ময়ােদশ ভাগ)
১। শঙ্করাচাৰ্য, ২। গৃহলক্ষী, খালা-কা-৩য়, ৪। প্রেমের না,
৫। বিগতা-যৌবনা, ৬। মদিয়া, ৭। স্মৃতি। শূন্যপ্ৰৗ, ৯। বহুরূপ বিদ্যা,
১০। বর্তমান বঙ্গভূমি, ১১। পিতৃ প্রায়শ্চিত্ত, ১২ আৰু ও
বিবেকানন্দ, ১৩। বিবেকানন্দের গান
গিরিশচন্দ্র ঘােষ প্রণীত
উপেন্দ্রনাথ মুখােপাধ্যায় প্রকাশিত।
বসুমতী সাহিত্য-মন্দির।
১৬৬ নং বহুবাদার ট “বসুমতী ইলেটি মেসিন যজ্ঞে
পুত্র মুখােপাধ্যায় যারা মুজিত।

No text on this page.

গ্রন্থাবলী সিরিস।
গিরিশ গ্রন্থাবলী
( ক্রয়ােদশ ভাগ )
১। শঙ্করাচাৰ্য, ২। গৃহলমী, ৩। য্যায়সা-কা ত্যায়সা, ৪। কবিতা-মালা,
৫। বহুরূপী বিদ্যা, ৬। বর্তমান রঙ্গভূমি, ৭। পিতৃ প্রায়শ্চিত্ত,
৮। শ্রীরামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ, ৯। বিবেকানন্দের গান
গিরিশচন্দ্র ঘোষ প্রণীত।
শ্রীউপেন্দ্রনাথ মুখােপাধ্যায় প্রকাশিত।
বসুমতী সাহিত্য-মন্দির।
১৬৬ নং বহুবাজার স্ট্রীট “বসুমতী ইলেটিক মেসিন যন্ত্রে
পূর্ণচন্দ্র মুখােপাধ্যায় দ্বারা মুদ্রিত।
১৩২০
মূল্য ২ দুই টাকা।

No text on this page.

শঙ্করাচার্য্য।
( ধৰ্ম্মমূলক নাটক)
গিরিশচন্দ্র ঘােষ প্রণীত।
(১৩১৬ সাল, ২রা মাঘ, শনিবার, মিনার্ভা থিয়েটারে প্রথম অভিনীত )
উৎসর্গ।
আনন্দময় সহচর আনন্দধামবাসী-
কালীপদ ঘােষ।
ভাই,
আমরা উভয়ে একত্রে বহুবার শ্রীদক্ষিণেশ্বরে মূৰ্ত্তিমান বেদান্ত দর্শন
করেছি। তুমি এখন আনন্দধামে, কিন্তু আমার আক্ষেপ-তুমি নরদেহে
আমার “শঙ্করাচাৰ্য” দেখলে না। আমার এ পুস্তক তােমায় উৎসর্গ
করলেম, তুমি গ্রহণ কর।
গিরিশ।
.
সময়ঃসংক্ষেপার্থ !
চিহ্নিত অংশ অভিনকালীন পরিত্যক্ত হয়।

চলছে মহাদেব । গোবিন্দনাথ { পুরুষ। ব্যাসদেব। শঙ্করাচার্য। শঙ্করাচার্যের গুরু। এ ঐকচ রাঙা, মি:গণ --- সনন্দন (পরে পদ্মপদ), শান্তিরাম, গণপতি, মণ্ডনমিশ্র (পরে সুরেশ্বর), হাব। (পরে হস্তানলক), আনন্দগিরি, চিৎসুখ, তোটকাচাৰ্য্য। মামদাস ও সখারাম শঙ্করাচার্যের প্রতিবাসী। জগন্নাথ ঐ পুরাতন ভৃত্য। কুমারিল কর্মকাণ্ডের প্রবক। প্রভাকর ঐ শিষ্য। কাপালিক গুরু। উভৈরব কাপালিক। অভিনব গু তান্ত্রিক পণ্ডিত। শিউলি। ইন্দ্রাদি দেবগণ, জনৈক ঋষি, বিদ্যারগণ, চণ্ডালবেণী ভৈরবগণ, বৃদ্ধ বৌদ্ধ কাপালিক ও তৎশিষ্যগণ, চণ্ডালবালক, সুধা রাজার সেনাপতি ও সৈন্যগণ, কুমারিল ভট্টের শিষ্যগণ, পণ্ডিতগণ, শিউলি বালকগণ, মণ্ডনমিশ্রের পুরােহিত, অমরক রাজার মন্ত্রী, ব্রাহ্মণ ও প্রেতাত্মা, প্রভাকর । হাবার পিতা ) ও তৎপ্রতিবাসী, কাপালিকগণ, ভূতপ্রেতগণ, ভৈরব, অভিনব গুপ্তের শিষ্য, সুগার ব্যাধি, গৌড়পা, কাশ্মীয়-সারদাপীঠের মন্দির-রক্ষক, ইত্যাদি ইত্যাদি। (স্ত্রী) • • • মহামায়া। বিশিষ্ট শঙ্করাচার্যের মাতা। রমা ও গঙ্গা ঐ প্রতিবেশিনী। উভয়ভারতী মগুনমিশ্রের স্ত্রী (শাপত্রষ্টা সরস্বতী সরমা ও অম্বালিকা অমরক রাজার রাণীদ্বয়। কামকলা ক্লকচের উপপত্নী। শিউলিনী। মহামায়ার বিদ্যা ও অবিদ্যাসঙ্গিনীগণ, বিদ্যাধরীগণ, চণ্ডালিনীবেশী ভৈরবীগণ, দুইজন স্ত্রীলােক, কুমারী, নর্তকীগণ, যমজ-শিশুমাতা, শিউলিনীর প্রতিবেশিনী, অমরক রাজার অন্যান্য রাণীগণ, কলাবিদ্যাগণ, প্রভাকপত্নী, কামকলার সঙ্গিনীগণ, বিকটাগণ, কামাখ্যাদেবী ইত্যাদি ইত্যাদি।

শকগৰ্য্য। - প্রস্তাবনা। কৈলাস। মহাদেৰ, ৰা, ইন্দ্র, ও অন্যান্য দেবগণ। নরায় ধরাতলে ধর, জং ব্রা। হে সর্বজ্ঞ, কিবা তব অজ্ঞাত ভুবনে ; নিজ আচরণে, আদর্শ-প্রদানে, তথাপি চরণাম্বুজে করি নিবেদন, বৈদিক নিয়ম কর পুনঃ সংস্থাপন। হেরিয়ে নােমান ক্ষুধার্ত বালকে সূত্ৰ বেদার্থের করিতে প্রচার মাতার মমতা হয় যেমতি বর্ধিত, লইলাম ভার। তেমতি একান্ত আৰ্ত্ত দেবতামণ্ডল শিষ্যসহ হবে মম ধরায় বিহার। আসিয়াছে মনস্তাপ করিতে জ্ঞাপন, যুক্তিবলে বৌদ্ধমত করিব খণ্ডন, জগৎ-জনক, তব স্নেহ-বৃদ্ধি হেতু। দমিৰ দুষ্কতগণে আছে যে যথায়। নিষ্ঠ রত-বারণ-কারণ নারায়ণ, যাও ই, ধর নর-কায়- ব্রাহ্মণের বিদর্প করিতে দমন-- বাজ্যেশ্বর হয়ে রহ মম প্রতীক্ষায়, হইলেন বুদ্ধ অবতার , ঘুষিবে সুধম্বা নামে তোমা সবে ভবে। যুক্তিবলে পরাজিয়ে বেদজ্ঞমণ্ডলে যাও সবে মায়ার প্রভায় ধর নর-কায়। শূন্যবাদ প্রচারিলা রমেশ সংসারে। দেবগণ। জয় জয় উমাপওি জয় মহেশ্বর, হীনমতি নরে, দেবমায়া বুঝিতে না পারে, বেসুত্র প্রচারিতে প্রতিশ্রুত হয়। বেদবিধি যাগ-যজ্ঞ রহিত ধরায়। দেবগণের প্রস্থান। নিরীশ্বর স্বেচ্ছাচার শূন্যবাদ মতে, মহা। এস মহামায়া, লীলায় আশ্রয় কর নি। পাপভার বৃদ্ধি দিন দিন,- ( পট-পরিবর্তন ) যজ্ঞভাগ বিনা যত দেবতা মলিন। সঙ্গিনীগণসহ মহামায়ার আবির্ভাব। কর দেব উপায় ইহার, (গীত) * বেদবিধি করহ উদ্ধার, স্বপন-গঠিত সময় বহিয়ে স্বপন-গঠিত স্থানে। সংসারে কল্যাণ পুনঃ হউক্ স্থাপন। অষ্ট বরষ শাক-ইরষ জাগাও মানব-প্রণে ॥ মহা। চিন্তা দূর কর দেবগণ, স্বপনঘােরে আপন পাসরে, ধরার নােদন নিত্য স্পর্শে কর্ণে মোর, জনম-মরণে ঘূর্ণিত নরে, তাহে আমি মনে মনে করিয়াছি স্থির, মােহ তমসা যামিনী ঘােরা ধরি তবে নরের আকার, জড়িত স্বপন-ডােরে ; অতি গুহ তত্ত্ব আমি করিব প্রচার সহিয়ে যান, যাতনা কামনা, অবসাদ নাহি মানে। মানবকল্যাণ হেতু। মানব-বেদনা স্মরণে, স্বপন ঘাের হরণে, যেই গুহ তত্ব মম আত্মার স্বরূপ - ন-কিরণ-দানে - প্রিয় গৌরী-গণপতি-কার্তিকেয় হতে নর-শঙ্করে হের ধরাপরে, বিদ্ধ অমৈত-জ্ঞান দানিব সংসারে। জাগাইতে মােহ-নিদ্রিও পরে, যাবে কার্তিকেয় ভাবে, বিমল যোগানে। বৌদ্ধগণে মিয়া প্রভাবে কর্মকাণ্ড করিবে উদ্ধার । সঙ্গীতকালীন দৃশ্যপটে শঙ্করাচার্য্যের অষ্টবর্ষ- ধরি নরের আকার, শিষ্যরূপে তার ব্যাপী শীলা যথা—মাতৃক্রোড়ে শঙ্কর, মাতৃমুখে শরের পদ্মযোনি, কর্মকাণ্ড করহ প্রচার- পুরাণ শ্রবণ, ‘পিতার নিকট শঙ্করের শাস্ত্রপাঠ’ ‘গুরু- ‘মন’ নামেতে খ্যাত হও ধরাতলে। গৃহে শঙ্কর,'—দৃশ্য-চতুষ্টয় ক্রমান্বয়ে পরিদৃশ্যমান।

গিরিশ-গ্রন্থাবলী। প্রথম অঙ্ক। শঙ্কর। কেন মা-কেন এ কথা বলছেন? তােনা অসীম বলে আমি এক বৎসর বয়ক্রমে বর্ণ উচ্চা- রণ করতে শিখেছি, দ্বিতীয় বর্ষে তোমার মুখে প্রথম গর্ভাঙ্ক। পুরাণ শ্রবণ করে পুরাণ-পাঠে অনুরাগ হয়েছি, + শঙ্করাচার্যের বাট। * তৃতীয় বর্ষে পুরাণের অমৃতলহরী পান করে (শঙ্কর) অনির্বচনীয় আনন্দ লাভ করেছি। তােমার র। ব্যোম সমীরণ তপন সলিল ধরা, লালন-পালন, তোমার শিক্ষায় গুরুজনের সেবা অধঃ উ মধ্যস্থল পূর্ণ সমুদয়। অভ্যাস করেছি, গুরুর কৃপালাতে সক্ষম নিত্য যেন কর্ণেমাের আসে, হয়েছি, সেই অনির্বচনীয় করুণায় তিনি কহে কত জন অশরীরী ভাষে আমায় বেদবিদ্যা প্রদান করেছেন। তুমি “অলসে আবাসে কিবা হেতু? আদর্শ-জননী, সকলই তােমার শিক্ষাপ্রভাবে। প্রতীক্ষায় ব্ৰণ্ড তােমার।” মা গাে, বহু তপস্যায় তােমার খায় জননীর গর্ভে এ কি খোর মন্তি-বিকার। জন্মগ্রহণ করে। কে আমি ! বিশিষ্টা। বাবা, তুমি যে দিবারাত্র অন্যমনে থাকো, কেন হেন উত্তেজনা মম প্রতি। তােমায় বাহ্যজ্ঞান শূন্য দেখি। যেমন বিভাগ, না না, কভু নয় মন্তিৰিকাৰ, বিষয়ানুরাগ সেরূপ নাই, এতে আমার বড়ই সিংহ সম গর্জি অনিধার আশঙ্কা মনে হয়। অন্তরাত্মা কহে,-“ক। আঁখি নিমীলন, শঙ্কর। মা গাে, কিবা ফল সামান্য বিষয়-অনুরাগে? হের নিত্য চৈত-স্বরূপ তুমি। উচ্চ প্রাণে বিষয়ের অনুরাগ কি? কাৰ্য্যে নয়, এসেছ ধরায়, বিষয়জড়িত চিন্তু উন্নতি-সাধনে - যাও নিতাষামে পুনঃ কাৰ্য-অবসানে।” অক্ষম সতত মাতঃ। ( বিশিষ্টার প্রবেশ) জনম-পত্রিকা মম হেরি সাধুগণে করিয়াছিলেন তব সম্মুখে গণনা- বিশিষ্টা। বাবা, তুমি কেন এমন চুপ করে বসে দীর্ঘায়ু নহিক আমি। ক? তােমায় শান্ত্রপাঠ সমাপ্ত হয়েছে। যদি তৰে মাতা কয়দিন ভঙ্গুর জীবনে, তােমার অষ্টমষ বয়ঃক্রম না হতাে, আমি কি কারণে করিব বিষয়-আলােচনা ? তােমার বিবাহের উদ্যোগ তেম। তুমি চতুর্থ আশ্রম সার-শাস্ত্রে এ প্রচার, বিষয়ক মনােযােগ হও। তিনি বড় সাধ করে একমাত্র মুক্তিপথ চতুর্থ আশ্রম। মহাদেবের নিকট পুত্র-কামনা করেছিলেন, তাঁর তাই মা গাে, সন্ন্যাস-গ্রহণে সাধ সদা মনে, কৃপায় তুমি সেইরুপ পুত্ৰই জন্মগ্রহণ করেছ। দেই যদি অনুমতি, জননি, পায়- তাঁর মৃত্যুর সময় তুমি বালক ছিলে, তিন বর্ষ মানবজন হয় সার্থক আমায়। অতিক্রম কর নি, আমার হাত ধরে তিনি বিশিষ্টা। বৎস, বাক্যে তাের— অনুরােধ করেছিলেন, এই বালক হতে আমার আতঙ্কে শিহরে মম প্রাণ! সংসার উল হবে, পিতৃদেবগণের নাম চিরস্মর- যাদুমণি, অন্ধের নয়ন তুমি দুখিনীৰ ধন ; শীয় হবে, তুমি একে যত্নে লালন-পালন করে। পতিহীন অনাথিনী আমি- বাবা, আমি তাে তার সে আজ্ঞা পালন কতে তব চাকমুখ হেরি পাসরি সকল কালা; পাচি নে। দারুণ কথায়, * বিবাছুর প্রদেশের অন্তর্গত 'কালতি’ গ্রামে কেন পুত্র, দেহ ব্যথা মায়ের হৃদয়ে। শায্যের জন্মস্থান। এক্ষণে এই গ্রামের নাম শর। জনক-সমীপে মাত অনীকৃত ভূমি ক্যানডি। উচ্চশিক্ষা দামিতে সনে। । । .

য চা। 2 সাৰ মা আছিল পিতার, জগ। ৰা বাৰি, রােদে পুড়ে যৰি, তা আমার কি। ৰাহে কুমার ভয় ছেলেটার লেগে ভাত চাপা দিয়ে যাবি আয়। হয় তাঁর বংশরক্ষণে সম। বিশিষ্ট। আমি ঠিক করে রেখে দিয়েছি, তুমি না খতি-পা গঙে কেহ বলি, খাই। আমার বাবা শিবের মাথায় জল ঢেলে উচ্চগতি হয় সে বংশের, আসতে দেরী হবে। সেই পন্থা-প্রার্থী পুত্র তব, গ। বুঝেছি বুঝেছি, আজ বুঝি কি পালপাৰ- তাহে তুমি বিয়ান করো না জননি! শের দিন, গত চিরকুটে থাৰি, কিছু খাৰি নি। ছেলেটাকেও তাই বুঝি শিখুচ্ছি? (জগন্নাথের প্রবেশ) [ বিশিষ্টার প্রস্থান। জগ। হা মা, তুই যেন চিড়ে মড়া মাগী,বাবাঠাকুর নে রে নে, কি ল্যাপড় সায় কবি কয়, মরা থেকে ক্ষিদেতেষ্টা খেয়েছিস, কচি ছেলে- তােরে খাইয়ে তবে নাওয়া খাওয়া করবে। টাকেও সেই ধারা শিখুচ্ছি। এখানে দু’জনে শীগগির শীগগির সেরে নে, খেয়ে দেয়ে দুতেরে বি-বি কচ্ছিল, এখনাে খেতে দিস্ নি। হাটে যাব। তুই সন্ন্যাস চাচি তাে, তােৰ এতে বিশিষ্টা। বাবা জগন্নাথ, শঙ্কর কি বলে শােনাে, খুব ভাল সন্ন্যাস কিনে আনবে। অগ। কি বলে শােনাে,কচি ছেলে দু একটা শঙ্কর। এসেছি কি কাজে কি কাজে যায় দিন। বায়না নেবে নি? আমরা ওদিনে খাবার দেরী ভীষণ তরঙ্গ সঙ্গে খেলে মহামায়া, হলে হঁাতাল দিয়ে হাড়ী তেলে তবে ছাড় তুম। জীবকুল ভাসমান মহা অন্ধকারে, বিশিষ্টা। বাবা শােন-বলে ‘সন্ন্যাস নেবে। ঘােরে ফেরে জন্ম-মৃত্যু-ঘূর্ণিপাক-মাঝে। জগ। হাউড়ে মাগী, ছেলে ভুলুতে জানে নি। প্রম-বলে নহে তুলে কল্যাণ না চায় ; সন্ন্যাস বায়না নিয়েছে, বল না কেনে সন্ন্যাস বার বার ঠেকে, পুনঃ পুন দেখে, কিনে দেব। (শঙ্করের প্রতি) আয় রে আয়, শিখেও না শিখে হায় ! হাটে যাবে, ভাল ভাল সন্ন্যাস কিনে এনে মহান অতিক্রম করিবারে নারে, দেবে। নে রে খাবি আয়, চল্ মাগী দিবি আয়। জেনে শুনে আছি বা আপন পাসরি। ওঠ, ওঠ,-খাবি চল। অন্ধকারে কত দিন র’ৰকত দিন সৰ- শর। জগা দাদা, এখনাে সাবনা শেষ হয় নাই। ভ্রমে কম গাঢ়তর কমে। জগ। নেতখন খেয়েদেয়ে সাবি। আমরা যাই-যাই, হেথা আর তিল নাহি রব, বুড়াে মিন্সে, নাবার বেলা হলাে, ক্ষিদেয় পেট হাহাকার ধ্বনি হয় কতই শুনি, চুই চুই কচ্চে, আর তুই খাসনি। তা ছেলের ছেদিবছেদিৰ মায়ার বন দৃঢ় । দোষ কি বল, ঐ মাগী সব শিখােয়। জীবকুল ব্যাকুল সংসারে। শ। মা জগা দাদা, বলে ব্রাহ্মণের না সা সেরে শরের প্রস্থান। খেতে নাই। মার এখনো স্নান হয় নাই, মা স্নান করে এসে অয় দেবেন। জগ। ওই-ও-ও খেপলো পারা। আমার গালে জল। এখন দু’ক্রোশ পথ চাকে যাবি না কি? মুঙে চড়তে ইচ্ছা হচ্ছে। সেই ৰা বুঙ্গাকে তা যা মগা! এই ছেলেটাকে শিকেয় টাঙ্গিয়ে বলেছিলুম, তা শুনলে? যে কচিছেলেকে ঢাখা- কো। জাত যাবে যে, নইলে দেখম-কেমন পড়া শিখিও নি, মাথা ঠিক থাৰে নি। উপপাসী রাখিস,আমি তিনবার এড়া ভাত তেঁতুল * (ষার প্রবেশ) লঙ্কার চাটুনি দিয়ে খাওয়াতু। লেকি ল্যাখা- রমা। জগন্নাথ, বিশিষ্টা কি গানে গিয়েছে। পড়া সাৰি আয়, নে মাগী লেয়ে আয়। এই অগ। আরে সে মরে কেনাই, এখানে এক ২ মে ঘরে দুটি দল মাথায় দে কেনাই ? মাসী, ছাদের ছেলেটা বলতেছে কি জানাে, এই বিশিষ্টা। না বাবা, নদীতে অবগাহন করে। ৰাই আশায় তেছে। আমি সাগ-মিলেয়ে - গিরিশএবলী। মাথা ধুড়ে বন্ধুম, তা শুনলে নি। এখন গ। ক্যানে গাে-আমি কি করুম? আমার ল্যাপড়া শিখিওনি, এখন মাঠে খামারে নিয়ে খেত-খামারের কাজে যদি একটু এদিক ওদিক যাই, লাচুক কুহক;. দুদের ছেলে ল্যাখাপড়া পাও, তাহলে আমায় কানটা দিয়ে দিও। শিবিওনি,-তা মাগীও বু বুড় করে পুরাণ রমা। তুই আর কি কৰি? তাের তাে স মনে বলে, আর মিন্সেও পুথি নিয়ে বসে। এখন আছে। ছেলে যে দিন হলাে, লো হলো ছেলের যে মাথা বিগুড়লাে, সামাল দেয় কে? মিন্স, হুদো হুদো মাগী সব ছেলে দেখতে এলাে মমা। কি হয়েছে রে-কি হয়েছে। ? সাত পুরুষে কেউ চেনে যে, কোথেকে প। ওগাে মাসী, যদি দেখতে তো জানতে। না এলাে? আর এক মাগী এসেছিল গােটা দুটো চোক কপালে না তুলে বলে, দেখেছিলি? তার সঙ্গে গােটা আষ্টেক ছুড়ী। “আমায় ডাকতেছে - ডাকতেছে, আমি যাই।” গ। হা হা-সেই মাগীকে আজ মাঠের দিকে এই ছেলে বয়সে খেপে গেলাে মাসী, আমার দেখলুম। মাথামূড় খুঁড়তে ইচ্ছে কচে। মা। বটে! সে অলক্ষণে মাগী যত দিন দেশে থাকে, রমা। ওরে বাছা, খ্যাপেনি রে খ্যাপে নি। তৰে ছেলেপুলেকে সাবধানে রাখবে, বেরুতে দেবে শুনবি?-ঠাকুরপাে তখন বিদেশে, বিশিষ্ট না। তুইও বাছা মাঠে ঘাটে বেশী রাত করিসনি। দুড়ীকে মানা কতুম যে, ভর সন্ধ্যাবেলা শিবের জগ। ওগাে–ওই বুঝি সেই মাগী আছে! ন্দিরে যাস্ নি, তা সে বাছা বােজ না গেলেই রমা। এক পাশে দাঁড়া—এক পাশে দাড়া, মাগটা নয়। একদিন কালামুখী এসে বলছে কি বেরিয়ে যাক্, কি অলক্ষণ হয় কে জানে? জানিস-লজ্জার কথা, দুই ছেলের মতন, তাই ঠাকুরপাে মবার দিনও শুনেছি শশানে মাগীরা বলি-বলে ও দিদি,আমার গর্ভ হয়েছে। শুনে এসেছিল। অদূরে দৃষ্টিনিক্ষেপ করিয়া) তােদের আমার আহলাদ হলাে, বল্লুম-“বেশ তাে রে বাড়ীর ভেতর দিকে চল্লো যে রে! বেশ তো, তােনা নাগ-মিন্সেতে ছেলে ছেলে জগ। দাঁড়াও, আমি দেখে নিচ্চি [ ] হই অলুক্ষুণে করি। তা কালামুখী বলে কি জানিস্বল্প মাগী রে হই! ঘর বিগে যে চলেছি? তােরা ও দিদি, মন্দিরে আমার পেটে হওয়া সেদি- কে বটি বল্ তাে? জানিস্ বেটী,জগা এখনাে গেছে। ভাগ্যিস ঠাকুরপাে ফিরে এলাে- মরে নাই, তােদের ভিকুটা চলবে নি। ছেলে- তাই ল রক্ষে হলাে। টার মাথা বিগুড়তে এসেছিস্? জগ। ক্যানে মাসী ক্যানে ? ( অষ্টসখী-বেষ্টিত হইয়া মহামায়ার প্রবেশ ) মা। তুই ছোঁড়া আবার ন্যাকা-স্বামী ঘরে নাই, গর্ত হলাে, তাহলে কি আর মুখ দেখানাে মহামায়া। হ্যা বাবা হা। যেতাে। জগ। ভাল চাস তো এখান থেকে স্বা, নইলে কান্তে গ। তবে পেটে হওয়া সেগুলাে কি মাসী? দিয়ে তেরে নাক কেটে নেবাে। কমা। ওরে গর্ভসঞ্চার হয়েছিল। মাগী বুঝতে (মহামায়া ও সজিনগণের গীত) পারে নি, ওই শিবের মন্দিরে গর্ভ থেকে কোন বেলপাতা নেয় মাথা পেতে, গাল বাজালে হয় খুশী। উপদেবতা আশ্রয় করেছে। তা আমি এত মান-অপমান সমান তাে তার, মিলেকে বােঝালুম যে, ঠাকুরপাে, ভাল গুণিন- তার কাছে নয় কেউ দোষী। টুনিন এনে ছেলেকে দেখাও, তা আমার কথায় এত ত ভুলে থাকে, নেচে আসে যে তার ডাকে, কান দিলে? ‘বােম্ ভােলা বলে কেন, নাও না যেচে যা খুশী। জগ। না মাসী না, সােনার চাদ ছেলে, উপদেবতা যা ফেলে গেছে, নেয় সে ৰেছে,ভাল মন নাইই-ই। দৃষ্টি দেবে কানে? এহই, আমাকেও লাচায় গাে! বােম ভােলা,- বা। তুইও ঐ হাউজে বামূনের ভাত খেয়ে হাউড়ো বােম ভােলা- মেসি কি না। ( সকলের প্রান।

শঙ্করাচাৰ্য। যাবাে? চলতে পাচ্ছি নি। দ্বিতীয় গর্ভা। শঙ্কর। মা, তুমি না অনুমতি দিলে আমি কোথায় নদীতে স্নান করিতে যাইবার পথ। রমা। দেখ দেখি মাগীর আকেল। বাবা , ( রমা, গঙ্গা ও পশ্চাৎ বিশিষ্টার প্রবেশ) তােমার মাকে 'এতদুর আর অন করূতে রমা। এসাে না গো-এসাে না, এমন পায়ে পায়ে আসতে দিও না। এখন অথৰ্ব্ব হয়েছি গেলে তাে সাত দিনে নদীর ধারে পউছােবদা না। নেই এতদূর নাইতে এলি। এতদূর আসতে বিশিষ্টা। তােমরা যাও দিদি, আমার শরীর কেমন দিও না বাবা। কচ্চে। শঙ্কর। আপনারা আশীর্বাদ করুন, আপনাদের ( পথিমধ্যে উপবেশন। আশীর্বাদে মা শ্রোতস্বতী আমার উপর সন্তুষ্ট রমা। দেখ দিদি, তােমার মিছে ভাবনা দেখে বাঁচি হয়ে, আমাদের বাড়ীর নিকট দিয়ে যাবে- নে। আট বছরের ছেলে কোথায় যাবে? এই অনায়াসেই মা আমার অবগাহন-মান করতে আমাদের ঘরের ছেলে একটা বায়না নেয় না ? পাবে। এই যে ভূততা সে দিন মেলা দেখতে যেতে গঙ্গা। দেখছি লাে দেখছি—এই ছেলে নাকি চাচ্ছিল,আমি হাত ধরে টেনে এনে ঘুম সন্ন্যাস নিয়ে বেরিয়ে যাবে। কচি ছেলে- পাড়ালুম-ভুলে গেল। সন্ন্যাসী হওয়া মুখের আক্কেল কি বল, মার এতদূর আসতে দুঃখ , কথা কি না, দুদের ছেলে সন্ন্যাসী হয়ে বেরিয়ে তাই মনে করেছে, নদীটা বাড়ীর দোরগােড়ায় যাবে, উনি ভেবে বাঁচচেন না। এসাে—এসসা, নিয়ে আসবে। বেলা পড়ে গেলে নাইবে না কি ? রম। হা বাবা, তাই করাে। তােমাদের বাড়ীর বিশিষ্টা। না দিদি, তােমরা এগােও, আমি আর দোরের কাছ দিয়ে নদী নিয়ে যেও, তাহলে আমাদেরও কাছে হবে, নাইতে পারবে। ( শয়ন) (জগন্নাথের প্রবেশ) গঙ্গা। ও ভাই, দেখ, দেখ,-সত্যি সত্যি তিমি গেলো নাকি ? বউ- বউ! ও মা, কি করবাে গো জগ। এখন যদি হাতালি, তোর কোন্ বাবা রাখে! অপঘাতে না ম'লে তাের চলবে নি বিশিষ্টা। বাবা, দরিদ্রের নিধি দিয়ে কেন হ'রে নিতে লয় ? খুদে দাদা আয়, আমি মাকে ধরি ধরি চাচ? আমি যে জনমদুখিনী, আমার অন্ধের নিয়ে যাই। নড়ি কেন কেড়ে নিচ্চ ? আমি কি করে প্রাণ [ শঙ্কর ব্যতীত সকলের প্রস্থান। ধরুবো। আমি যে বাছাকে একদও না দেখলে শঙ্কর। এস দেৰি সলিলপিণি, শস্য-দামিনি, ত্রিভুবন অন্ধকার দেখি। এ কি এ কি! বাবা জব-প্রাণ-সস্তাপহারিণি, আমার ছেলে কোথা গেল—ছেলে কোথ। এস ভূধর-নন্দিনি, সাগরুগামিনি, দুখিনী ব্রাহ্মণী ক্ষীণা জননী আমার রমা। হাগা-এ কি সঙ্গ সদ্য বিকার হলাে নাকি। তৰ পূত-বারি চির-কাঙ্গালিনী। মাগী কি ব’চে গাে ! বরদে বন্দিনী, ভক্ত-নিস্তারিনি, (দ্রুতবেগে শঙ্করের প্রবেশ) এস গাে মা পশ্চাতে আমার শঙ্কর। মা মা-ওঠো মা? যথা সুরধুনী পতিত-পাবনী, বিশিষ্টা। বাবা, বাবা-আমার পুত্র দাও--আমার শুনি অগ্রগামী ভগীরথ-শখধ্বনি পুত্র দাও। ঋষি-শাপে ভস্ম ৰংশ উদ্ধার কারণ ; শয়। এই যে আমি তােমার কাছে রয়েছি। তেমতি গাে, হে তসলিলে, বিশিষ্ট। কে রে শঙ্কর। বাবা -মাখায় এস পাছে করতালি শুনি ছেড়ে যাবি নি ? বিলােল-তরঙ্গে-রাণি। --কি হবে!

গিরিশবলী। নিন্দা কমবে। মুতা-নিবর মহা। আমার সধবা বিধবা কি? আমায় যা বলে ফুৎকারে ফুৎকারে নিরন্তর করিয়া সুজন। ডাকে—তাই। যখন যে অবস্থায় পড়ি-সেই হৃদে ধর’ রবি-শশী-তারামাছবি, অবস্থায় থাকি। আমি সংসারে একরকম তাইতে সুন্দর দয়া হয় তব। বহুরূপী সেজেই বেড়াই। এসাে দয়মরি পাছে পাছে, বিশিষ্ট। মা, তুমি এই যুবতী, তােমার তো পথে দুখিনীর সন্তাপ বারিতে, পথে বেড়ান ভাল নয় মা, লোকে যে তোমায় ভেদি শাল তাল তমাল কানন, রক্ষা করি দেবতা ভবন- মহা। আমার আর কি আছে মা, আমার নিন্দ- পিতৃগণ স্থাপিত দাসের ; ভূতি দুই সমান। আমি আছি বল আছি, না এস নৃত্য করি তরঙ্গে তরঙ্গে পূতকায়া! আছি বল না আছি। আমার সকল অবস্থাই এস মাতা, সইতে হয়। শখ-ধ্বনি বিনা দাস ম করতালি। বিশিষ্টা। যদি তােমার আশ্রয় না থাকে, যদি ইচ্ছা ওই যে—এই যে-বরদে বরদে- করাে, আমার গৃহে থাকতে পারাে। কৃপাময়ী উল্লাসে নাচিয়া আসে। মা। কৃপা করে স্থান দাও-থাকবো। কিন্তু মা, সার্থক জীবন মম, আমি বড়ই চঞ্চলা,কখন কি ভাবে থাকি, আমিই মাতৃকার্যে জানি না। পতি রমণীর একমাত্র আশ্রয়, সে ককণায় সমাগত আমােদিনী বারি । আশ্রয় যার নাই, তার দশা কি, তা তাে তুমি ( করতালি দিয়া) জানাে মা! নমাে নমঃ শেখর-নন্দিনি জননি, বিশিষ্টা। আচ্ছা মা, তোমার যত দিন ইচ্ছা হয়, তরল-তরঙ্গিণি, সাগরগামিনি! এইখানে থাকো। পূতসলিলে, সন্তাপহারিণি, মা। মা, তুমি আমায় স্থান দেবে? আমি আশ্রয়- আমলা-মেদিনী-শস্য-বিধায়িনি। হীন হয়ে বেড়াই। আমার জাত নাই, কুল ভক্তইনাশ্রম-সম্পদ-সুখদে, নাই, মান নাই, অপমান নাই, আমার সব সমান নমস্তে টিনি, অভয়ে বয়দে। হয়েছে, 'আমায় স্থান দলে লােকে যে তােমায় [ করতালি দিয়া অর্থে অগ্নে শঙ্করের গমন নিন্দা করবে না। এবং পশ্চাৎ স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হওন। বিশিষ্টা। নিলা হয় হবে, অনাথাকে আশ্রয় দিতে আমি নিলাভয় করি না। এমন কি আমার তৃতীয় গর্ভা। পুত্রের অন্ন নিয়ে অনাথাকে দিতে আমার পতির আজ। শঙ্করাচাধের বাটীর সমুখ। মহা। আমি যদি কোথাও চলে যাই,তার পর এলে মহামায়া উপবিষ্টা। আমায় আশ্রয় দেবে? ( বিশিষ্টার প্রবেশ) বিশিষ্টা। হা মা, তুমি যখন কোথাও না আর পাবে, এসো। বিশিষ্ট। মা, তুমি কে? তুমি একাকিনী হেথা মহা। তবে মা, আমি এখন যাই, আবার আসবাে। ৰা রয়েই কেন মা? মহা। মা, আমি আশ্রয়হীনা, পতি-পরিত্যক, (জগন্নাথের প্রবেশ) আমায় আর এখন সেখান কি? জগ। হা, হা-তুই যা, তােরে আর আসতে বিনি। তােমার সবার মত বেশ খেচি। • এই নদীর প্রাচীন নাম পূর্ণা বা চুণী, এক্ষণে বিশিষ্টা। বাবা জগন্নাথ, ও অনাখিনী, ওকে কেন আলােই নামে পরিচিত। কথা ? হন নি।

শরাচার্য। গা। হা হা-ও সেই বটে। বেটী বহুরূপী, কাল এসেছিল-অনি গেরুয়া পরে আটটা ছুড়ী নিয়ে। আজ আবার ঢং করে শাঁখা পরে গেরস্তের বউ হয়েছে। মহা। বাবা, তুমি তাে আমায় চেনাে না, আমায় চিনলে কি আমি গৃহস্থের বউ, সানে থাকতুম। যেখামার চেনেতার কাছে তাে আমি থাকি না। গ। শােনা শােননা-বেটীর ঢংএর কথা শােননা ; বেটা সৃষ্টি ঘরে, আর বলে চিনলে সামনে দাড়ায় না। কাল বেটী কি করলে আমায় ধেই ধেই নাচালে! বিশিষ্টা। মা, তুমি কিছু মনে করো না, ও হেলা- গােলা মানুষ কারে কি বলতে কি বলে। তুমি এসো বাছা, তােমার যখন ইচ্ছা হয়, আমার কাছে এসে থেকো। মহ। মা, যদি বাঁধা থাকি, তােমার কাছেই থাৰৰ [ মহামায়ার প্রস্থান। জগ। মা, খুদে দাদা তাে যে সে লয়। শুচি, নদীটে নাকি টেনে হিচুড়ে নিয়ে এলাে গাে! ( শঙ্করের প্রবেশ) শঙ্কর। না জগা দাদা, মা ইচ্ছা করে এসেছেন। জগ। উই—তােরে চিনতে লালুম, তা আমার চেনাচিনিতে কাজ নেই, তােদের খেয়ে মানুষ, যত দিন পারি, তােকে ছোট ভাইয়ের মতনই দেখব। শর। হ্যা দাদা—তাই দেখাে। জল। আমি খামারে যাই । [ সকলের এস্থান। ধৰি ঘাের কুম্ভীর আকার, রূপ তােমায়, তটিনী-গলি-মধ্যে কর অবস্থান। যপি আমারে হের এ সংসারে করি আক্রমণ, সলিলে করিহ নিমগন, পাপ-পয়ে প্রাণীরে করহ নিত্য যথা। কিন্তু যদি পারি ল’তে সন্ন্যাস-আশ্রম, ত্যজি এই পূতরি করিও গমন। যুগযুগান্তরে অন্য দেহে কভু যদি আসি এ সংসারে, দেখা হবে ত সনে। ( নদীতে অবতরণ।) ( রমা ও গঙ্গার প্রবেশ) রা। লােকে যে বলে--কলিতে ছেলের মুখে আর পাগলের মুখে দৈববাণী হয়, দেখছি তো ভাই, তা তো সত্যি! ছেলেটা কাল বলে যে, নদীটা আমার বাড়ীর দোরগােড়ায় টেনে নিয়ে যাবো, তা তো ঠিক। গঙ্গা। আমাদের কর্তা বলে-অমন হয়। শদ অনেক নদীর মুখ ফেরে। নদীর মুখে নাকি চড়া পড়েছে, কাকের ঘোর বৃষ্টিতে এই দিকে জল ভেঙ্গেছে। রমা। ঠিক ওদের দোর দিয়ে জল ভাঙলাে, ওদের লক্ষ্মী-নারায়ণ ঠাকুরের মন্দিরের পাশ দিয়ে বেঁকে এলো, সােজা এলে মরিটে ডুবে যেতো। এ সব ভাই ঠিক দৈৰ ঘটনা মনে হয়। গঙ্গা। (সহসা নদীগর্ভে শঙ্করকে দেখিয়া) ও শঙ্কর ও শঙ্কর!-জলে নামি নেকুণীর দেখা দিয়েছে, ওরে উঠে আয়-উঠে আয়- শঙ্কর। (জল হইতে ) ওগাে, আমায় বুঝি কুমীরে ধরেছে, আমার মাকে ডাকো রমা। ওরে সর্বনাশ হলাে রে-সর্বনাশ হলাে, শঙ্করকে কুমীরে ধরেছে। ( বিশিষ্টার বেগে প্রবেশ) বিশিষ্টা। বাবা মহাদেৰ-রক্ষা করাে-রক্ষা করাে। শঙ্কর। মা, আমায় কালে ধরেছে, আমায় কেউ রক্ষা কতে পারবে না, তবে যদি আমায় সন্ন্যাস- গ্রহণে অনুমতি দাও, তাহলে আমার রক্ষা হয়। বিশিষ্টা। ওগাে আমার সর্ব নাও, কেউ রক্ষা করাে। চতুর্থ গর্ভাঙ্ক। শঙ্করাচার্যের বাটীর সম্মুখস্থ নদী। সংসার বাসনা আজি বৈরাগ্য-এভাবে এ শরীর ত্যজি শম হও তন্তর। [ ] ১০ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। শর। মা, রক্ষা নাই, অনুমতি দাও, বৃথা কেন বিশ্বাস হচ্ছে, শিবের মন্দিরে যে বিশিষ্টায় গর্তে জলে অৰুতরণ কচ্ছ? এই দেখ, আমায় দূর একটা ল্যাতি প্রবেশ করেছিল, এ কথা সত্য। জলে নিয়ে যাচ্ছে। মা, অনুমতি দাও, দুরন্ত শরের সকলই আশ্চৰ্য্য। কুম্ভীর এইবার গভীর জলে নিময় কবে- গঙ্গা। হ্যা ভাই, সব আশ্চৰ্য্য আশ্চৰ্য্য কথা শুনতে বিশিষ্টা। আমি অনুমতি দিলুম -আমি অনুমতি পাই। যখন গুরু-গৃহে ভিক্ষা কতো, এক দিলুম,-বাবা আয়- দুঃখিনী ব্রাহ্মণীর কাছে ভিক্ষা করূতে যায়, শর। (জল হইতে উখিত হইয়া) মা, কুম্ভীর ব্রাহ্মণী তিনটি আমলকী দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে আমায় পরিত্যাগ করেছে। মা গো, গর্ভে স্থান বলেছিল, “বাবা, বিধাতা আমাদের দীন-সুখী দিয়ে অশেষ যন্ত্রণা ভােগ করেছ, অশেষ ক্লেশে করেছেন, গৃহে মুষ্টিমাত্র অয় নাই,—কি দিয়ে লালন-পালন করেছ, আজ আমার জীবন দান তােমর সেবা কবে ? শুনতে পাই, ছয় কলে। মা, যে মহাপুরুষের আর জন্ম- বছরের ছেলে ধ্যান করে মা লক্ষ্মীকে বৈকু পত্রিকা দেখেছিলেন, তারা তােমার সম্মুখে আমি থেকে এনে তাদের ঘরে অচলা করেছে। অল্পায়ু, এইমাত্র প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু রমা। চল না দেখি, ওর মায়ে পােয় কি ক’ছে। তারা পরস্পর বলাবলি করেছিলেন, আমার গঙ্গা। না তাই, আমি দেখতে পাবে না। আট তাঁদের বাক্য কর্ণগোচর হয়, তারা বলেছিলেন, বছরের ছেলে সন্ন্যাস নিয়ে দেশত্যাগ করবে, আমার অষ্টবর্ধমাত্র পরমায়ু। আজ সেই অষ্ট দেখে বুক ফেটে যাবে। বর্ষ পূর্ণ ; কিন্তু তাদের আদেশ ছিল, যদি অষ্টম রমা। সত্যি সত্যি কি ওর মা মাগী ছেড়ে দেবে? বর্ষে আমি সন্ন্যাস গ্রহণ করি, আমার পরমায়ু গলা। শঙ্করের মা পরিহাস করেও কখন মিথ্যা কথা বৃদ্ধ হবে। আমি এ সংবাদ অবগত হয়েই বলে না, যখন অনুমতি দিয়েছে,বারণ করে না। পুনঃ পুনঃ তোমার নিকট সন্ন্যাস-গ্রহণের অনু রমা। আমরা ভাই প্রাণ ধরে পারতুম না। মিথ্যা মতি প্রার্থনা কবছিলেম। পুত্র মেয়ে তুমি সে কথায় নরক হয় ত’তো, ঐ ছেলেকে বিদায় অনুমতি দিতে সম্মত ছিলে; কিন্তু মা, আজ দিয়ে কি স্থির থাকা যায় ! প্রত্যক্ষ দেখলে, অমুক কাল কুম্ভাররূপে আমায় [ উভয়ের প্রস্থান বধ কতে উপস্থিত হয়েছিল। কপাময়ি, তুমি অনুমতি দান করে আমার জীবন রক্ষা করেছ। বিশিষ্ট। বৎস! আজ আমি বুঝলেম যে, কামনা পঞ্চম গর্ভাঙ্ক। অপেক্ষা হীনকাৰ্য্য আর পৃথিবীতে নাই। আমি কামনা করেছিলেম, পুত্র কামনা করে শঙ্করাচার্যের বাটা। অশেষ যন্ত্রণাভােগ করেছি। আজ আমি তােমা শঙ্কর ও বিশিষ্টা। হেন র পেয়ে গৃহ হতে বিদায় দেবব-মা শর। মা, তােমার অনুমতি পেয়ে মনে মনে গান হয়ে সকলের সম্মুখে প্রতিশ্রুত হয়েছি। আমায় গ্রহণ করায়, কালরূপী কুম্ভীরের কবল হতে কি যন্ত্রণা সহ কত ভগবান্ সৃজন করে পরিত্রাণ পেয়েছি। সন্নাসীর একদিনও গৃতে ছিলেন। আমি অভাগিনী রমণী, তাঁরই ইচ্ছা বাস অবৈধ ; বিদায় দাও। পর্ণ হোক! এসাে বাবা ঘরে এসাে, খাজ বিশি। বা, শুনেছি, তুমি সকল শান্ত পড়ে, তােমায় কোলে অবাঞ্জন দিই, কিন্তু কাল যেন বলতে পারাে, কি উপাদানে বিধাতা রমণী সৃজন আর সুৰ্য্যায় না দেখতে হয়। করেন। সামান্য মৃত্তিার দেহ হলে কি এত [ উভয়ের প্রস্থান। সৎ হয়? সে কি তােমার মত পুত্রকে স্যা- গা। হা লল, কিছু তো বুঝতে পারলুম না। মাগী সের অনুমতি দিয়ে প্রাণ ধ’তে পারে? তুমি অনুমতি দিলে আর কুমীর ছেড়ে দিলে চলে যাবে, তাতেও কি মৃত্যু হবে। জানি নি। । নােন, সকলই আশ্চৰ্য! আর আমার বা, কেন রমণ এত কঠিনা হয়।

শরীফ। ১) শর। কর নােক পরিহার হননি আমার, অপু শরীরে, এত দীপ্তি সৰ শৰায়ী প্রভামাত্র মানব-জীবন ; ভূত ভবিষ্যৎ অসীম অনন্ত মেঘময় ; শােক দু আনৰ বৈভব, ক্ষণস্থায়ী এ ক্ষণজীবনে। অসীম অনন্ত ভবিষ্যৎ। শস্থায়ী এ জীবনে ক্ষণিকের হেতু উপেক্ষিয়া ভবিষ্যৎ সুখের প্রয়াস, হেন কান্তি ভ্রান্তিময়ী অবিঙ্গ-প্রভাৰে। ৰাৰ গৃহ ত্যজি, কিন্তু প্রাণ মম রহিবে তােমার পাশে। দেখ মা দেখ মা—আনন্দিত পিতৃলােকগণে— সন্ন্যাস-এহণে মম। তুমি ভাগ্যবতী, সন্ন্যাসীরে দেছ গর্ভে স্থান। ছিল বালক সন্তান মাত্র রক্ষক তােমা, এবে মহা আমের বলে, দেবমণ্ডলে নিয়ত গবেন সবে রক্ষণে তােমার। ক্ষুদ্র শক্তি মম, তব সে কি সম্ভব আমা হতে। শত গুণে সেবাপ্রাপ্ত হবে গো ননি- কমলা আপনি ধনধান্তে গৃহ পূর্ণ রাখিবেন তৰ। তৃপ্ত ভুমি অতিথি-সেবায় চিরদিন, অতিথি না বিমুখ হইবে এই গৃহে। দান-ধর্মে পূজা-তে অহ না নিয়ত। যেইক্ষণে করিবে স্মরণ, করি সত্য পণ- সেই ক্ষণে আসিব মা তােমার সদনে। বিশিষ্টা। কেন বাবা, কেন আর দুঃখিনী জননীকে প্রতারণা করাে? আমি তােমার গুরুর নিকট শুনেছিলেন, তুমি দেৰকাৰ্য্যে এসেছ, দেবকাধ্যে ভুবন ভ্রমণ করে ধীরে উদ্ধারসাধনে নিযুক্ত থাকবে। আমি দুঃখিনী, আমায় কি তােমার অমণ থাকবে? বরণ থালেও তােমার সব কি করে দেবে যে, তুমি আমার নিকট আসবে? অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য সন্তান কামনা করে, তােমার পৈতৃক সম্পত্তি গতিগণকে দিয়েছ, তাঁরা আমার গ্রামাদনের জন্ম গ্রহণ করেছেন। আর আমি বিধৰা ৰূপ, আশা- বই বা গ্রাসাচ্ছাদন কি, ভিজায়ে অনায়াসে জীবন নির্বাহ হতে পারে। কিন্তু বাবা, তােমার চাদমুখ দেখে আমার আখাস হয়ে ছিল যে, গর্ভজাত পুত্রব হন্তে অগ্নি গ্রহণ কবে, সে আশায় আজ নিরাশ হলেন। শর। দেবকার্যে হয় যদি জনম আমার, তিলমাত্র তুলিব মাতায়, হেন কি সম্ভব তার দেৰকাৰ্যে নম বাহায়। সত্য কহি দেবতার নামে, যবে দেবি করিবে স্মরণ তন্যদুগ্ধ আবাদন পাৰ আমি মুখে ; যথা রহি তখনি আসিব, তিলেক না বিলম্ব করিব - অন্তকালে অগ্নিক্রিয়া করিব নিশ্চয়। চিন্তা দূর কর গাে জননি, অসঙ্কোচ-চিত্তে দেহ বিদায় আমায়। বিশিষ্টা। চিন্তা দূর করিব কেমনে, চিন্তার সাগর-মাঝে ফেলেছ আমায়। যার মুখ তিলেক না হেরি, দশদিশি অন্ধকার নয়নে আমার-- তারে না দেখিব, শান সমান গৃহে একাকিনী রব, বিজ্ঞ হয়ে কহ তুমি চিন্তা ত্যজিরে? আজীবন চিন্তা তব মাতার সহিনী মৃত্যুকালে চিন্তা সনে বিচ্ছেদ আমার। শর। জননি আমার এ হৃদিদৌর্বল্য দেবি কর পরিহার, নহে তব উপযুক্ত হেন দুর্বলতা। যেহেতু করেছ মা গাে পুত্রের কামনা, পূর্ণ করেছেন হয় তােমার বাসনা। দেৰকাৰ্য্যে জীবন-যাপন- অতি থানীয় কাৰ্যে বৰে পুত্ৰ তৰ। ক্ষণিক বিচ্ছেদ হেতু চিন্তা নহে শেয়, মাৰ মাতা দৈহিক বিচ্ছেদ, বিচ্ছে আশঙ্কা কেন কাপের মিলনে। যেই কালে করিলে প্রসব, হের সে আকার নাহি আর মম, কালে অন্য ব্যতিক্রম ঘটিৰে এ ক্ষণস্থায়ী কার। ।

নেবে; ১২ গিরিশ-খালী। তবে কোন দেহ পুত্রের তােমার, পত্র আসবে, তা আমিই পাবে। মাগম এক বিচ্ছে আশঙ্কা বার করে সন্তাপিত ? বেলা একমুটো খাওয়া আর একখানা কাপড় কৌমার, যৌবন-শরীরের করিছে বর্তন, সেটা বড় গায়ে লাগবে না। কিন্তু ছোড়া মৃত্যুকালে জীর্ণবাস প্রায় ফিরে এসে বিষয়টা কিন্তু ফিরিয়ে নেবে। পড়ে রবে শরীর ধরায়। সখা। মেজো খুড়ে, তুমি বিষয়টা আমাকে ও শারীরিক বিচ্ছেদ আশঙ্কা করে দুর দেখি, কই কে ফিরিয়ে নেয়? নাওতুমি নচক্ষে নেহার জননি, আমায় দাও। তুমি আমি বিশ্ব অবিচ্ছেদ, রাম। না রে ছোঁড়া-লােভ করিস, নিলােত দেখ, তুমি আমি-নাহি ভেদাভেদ, করিস, নি, ফিরিয়ে নেয় নেবে—ফিরিয়ে নেয় অনন্ত ও ব্যাপি আছি এক হয়ে। তোরে বল্লুম বলে কি সম্পত্তির আমি অলক্ষিতে কালহোত ধায়, পিত্যেশ রাখি। জ্ঞাতির বউ, যদি কিছু নাই-ই আর মা রহিতে নারি গৃহে-- থাকতাে, আমি প্রতিপালন কতুম না ? বিদাও তনয়ে, পদে প্রণাম জননি। ( বিশিষ্টার প্রবেশ) | শঙ্করের প্রস্থান। বিশিষ্টা। ওগাে, বাছা আমার কোন্ পথে গেল? বিশিষ্টা। চল চল--আমারই বা কিসের গৃহ, আমি আমি যে তার পিছু পিছু এসে তারে দেখতে তােমার সঙ্গে যাই।.। পাচ্ছি না। কোথায় গেল? আমি আর একটি | পচাৎ প্রস্থান। বারখবাে। আমি বিদায় দেবো তো বলেছি, আর একটিবার দেখে বিদায় দেবাে। ঐ যে ষষ্ঠ গর্ভাঙ্ক। -ঐ যে—ঐ বুঝি যাচে-ঐ বুঝি যাচে- রামদাসের বাটা। স। মেজো খুড়ো, তােমার বরাৎ ভাল, মাগী বুঝি এইখানেই অক্কা পায়। রামদাস ও সখারাম। রাম। আরে দুর পােড়াকপালে, তা হলে সর্বনাশ রামদাস। দেখ, ছোঁড়া ধাপ্পাবাজী করে আমায় হবে, ছোঁড়া এখনি ফিরে এসে মুখাগ্নি করবে প্রতিশ্রত করে নিয়েছে, কাজেই ওর মার আর বিষয় আশয় বেচে কিনে চলে যাবে। গ্রাসাচ্ছাদন আমায় যােগাতে হবে। কিন্তু সে বুকের উপর বসে আর এক বেটা ভােগ কৰে। খরচটা বাজে, ও আবার ফিরে এসে আপনার পৈতৃক বিষয় কেড়ে নেবে। ( মহামায়ার প্রবেশ) সখারাম। তুমি দেবে কেন? মহা। ও মা, আমি যে তােমার বাড়ী খাতে রাম। কি করবাে বল ? রাজা রাজশেখর ওর সহায়, এসেছি। ওঠো, না মা, ওঠো না। বয়ং ওর কুটীরে এসে টাকা ঢেলে গেছেন। রাম। এ আহলাদী বেটী আবার কে রেমা বলে সথা। ও সে টাকা ফিরিয়ে দিয়েছিল না ৩ছি। এলাে ! নাম। ঢং করে ফিরিয়ে দিয়েছে। বাবা জেনে মহা। ওঠো ওঠো-ঘুমিও না। (কা স্পর্শকাত) গেল-বড় সাধু, একেবারে গােলাম হয়ে রইল। বিশিষ্টা। (উখিত হইয়া) দেখিস, নে, ছদ্মবেশে রাজার লােক এসে ভারে এ কি! এ কি! এ কি দেখি একাকার। ভারে ওর বাড়ীতে সামগ্রী দিয়ে যায়। ওর মা বিশাল বিস্তর—আমি আমি-নাহি কেহ আর, রাজরাণীর মত দুহাতে বিলােয়! ঐ দেখ, দেখ, অসীম অসীম-দশদিশি অনন্ত অসীম ঐ সব সামগ্রী নিয়ে যাচে। ওঃবির মহ। মা, তােমার শঙ্করকে আমি দেখে এলু। সামগ্রী! খে, ওর মার গ্রামজাদনের আর সে বলে, মাকে নিয়ে বাড়ীতে থাক গে। আমি নিয়ে বড় বুদ্ধির কাজই করেছি। আমার আসছি, আমি এলুম বলে। বাড়ীতে মাগীকে নিয়ে আসূবে, যা তিনি বিশিষ্ট। এই বে—এই যে-এই যে আমার শ . শরাচাৰ্য। এসেছে। দেখ না দেখ, আমার এক শর ছিল -কত শঙ্কর হয়েছে-আমার শরময়। এই সে আমার কোলে , আমার স্তনপান কচ্চে পর, এই যে আমার আঁচল ধরে শর, এই বে আমার শর বেদ পাঠ কচে। মহা। হা মা, এসাে এসাে ঘরে এসো,তােমার শঙ্কর তােমার ঘরে, আমি তাইতে তােমায় দেখতে এসেছি। [ বিশিষ্টাকে লইয়া মহামায়ার প্রস্থান। সথা। মােজো খুড়ো, এ মাগী চোর! এ পুত্রশােকে পাগল হয়েছে, টাকা আছে সন্ধান পেয়েছে, হাতাবে, তাই ‘মা’ বলে এসেছে। খুড়াে, ও মাগীকে তাড়াও। রাম। তুই যা তাে বাবা, দেখ, তাে- স। খুড়ো, তুমিও এসাে,-ও ডাকাতনি, আমি একলা ওর কাছে যেতে পাবো না। ঐ দেখ, পাঁজাকোলে করে তুলে নিয়ে গেল বেটী ডাকাতনি, বেটীর সঙ্গে লােক আছে। রাম। চল তােচল তাে দেখি। [ উভয়ের প্রস্থান। পর মানব-শরীরে, করি নমস্কার শত চরণ-জলে। অনতিমিরে অন্ধ নয়ন আমার, জনঞ্জনে দিব্য চক্ষু করিতে প্রান, অবতীর্ণ তুমি ভগবান! কর কৃপা কাতর কিঙ্করে। ( জনৈক ঋষির প্রবেশ) ঋষি। বাপু, কার অনুসন্ধান করাে? শঙ্কর। প্রণাম যতিকর!-আমার ইষ্টদেবের নিকট আগমন করেছি, তিনি অন্তরে অন্তর আক। পুর্বক কৃপায় এ স্থানে আমার ল’রে এসেছেন। ঋষি। বৎস, বুঝেছি তুমি কে! [ ঋষির প্রদান। শঙ্কর। কিবা শান্তিময় স্থান। যেন তরুলতা ফুলপুষ্প একতানে করে বেদগান, অলির গুঞ্জন ঐক্যতানে সম্মিলিত ; ঈর্ষাষে-জ্জিত প্রদেশ, হেরি সমুদয় নিত্যানন্দময়। এ কি! অকস্মাৎ ঘাের কানারে প্ৰবাহিণী না জননী। শান্ত হও কল্লোলিনি, কনোলে তােমার - ভঙ্গ হবে সমাধি প্রভুর। শান্ত হও, শান্ত হও-কল-নিনাদিনি। এ কি! উচ্চতর কল্লোল উখিত, শুন বাণী, শান্ত হও না হননি, সমাধিতে বিয় নাহি করাে। তথাপিও উচ্চ- ক্ষমা কর অপরাধ- বন্ধ বই কমণ্ডলু-মাঝে যদবধি সমাধিস্থ রহিবেন প্রভু। [ নর্মদার শঙ্করের কমণ্ডলু-মধ্যে প্রবেশ) গােবিন্দ। (চক্ষু উন্মীলন করিয়া) বৎস, মুক্ত কর’ নর্মদায় ; হের জলচর ব্যাকুল সকলে, জল বিনা ত্যজিবে জীবন। (শরের নাকে মুক। কহ বৎস, কে তুমি,কি নাম তােমার। সপ্তম গর্ভাঙ্ক। নর্মদা-তীর-গােবিননাথের আশ্রম ধ্যানমগ্ন গােবিন্দ্রনাথ। = (শঙ্করের প্রবেশ) শর। হেরি এই বিদ্যমান গুরুদেব মম, রূপে অবস্থিত সমুখে আমার, প্রত্যক্ষ অনন্তদেব নন-কলেবরে ! হেরি যার সহৰ বদন ত্রাসিত হইল জনগণ, তাই ধরি মানব-মূরতি ভগবান পাতলপে বসিতেন এ মম পাতাল-ভুবনে। এৰে মম কল্যাণ-সাধনে যতিৰ উদয় হায় গেৰিনাথের কলেবরে। তুমি এখা, তুমি বিষ্ণু, তুমি মহেশ্বর, গিরিশ-এৰণী। শর। নাহি রূপ, নাহি নাম, বর্ণ বা উপাখি, নাহি জল, নাহি , পুষ, সমীয়- চিদানন্দ শিবময় রূপ আমার। গােবি। প্রত্যক্ষ হইল মম ব্যাসের বচন। অবগত হইয়াছি মুখে তঁাহার, বেৰিধি উদ্ধারের তরে, ধরণী-মাঝারে বিশ্বনাথ আসিবেন নয়-কলেবরে। হলে শিৰ অবতার, লক্ষণ তাহার- কমণ্ডলু-মাঝে হৰে আবদ্ধ তটিনী। বাড়াইতে গৌরব আমার আগমন ৩৭ এ আশ্রমে। এস কহি তত্ব-কথা শ্রবণে তােমায়। ( কর্ণে সন্ন্যাস-মন্ত্র প্রদান ) সান-আচারে যেই এই দ ধরে, নর মােচন সেইক্ষণে। ( এন) এই দণ্ড-বলে এমি ভূমণ্ডলে মিবে ইফত জনে। জনম সফল, বৎস, শিষ্যতে তােমার ; যাত্রা কর বারাণসীধামে। শঙ্কর। প্রভু, তব সে-অধিকার করুন প্রদান; কিছু দিন রহি এই স্থানে পূজিব রাজীৰ পদযুগ, অভিলাষ অন্তরে দাসের। গােবিন। হইয়াছে গুরুসেবা সম্পূর্ণ তােমার। সমাধির বির কল্লোলিনী কমণ্ডলু-গর্ভে বদ্ধ করিয়াছ তুমি, তাহে তৰ পূৰ্ণ গুরুসে। এস বৎস, যাত্রা করি দুই জনে, নাহর মহেশ-প্রস্তর একত্রে করিব দরশন। গুন, পুলকিত চরাচর, গন্ধর্ব কির জয় জয় যবে, সৰিছে তােমায় চৌদিকে। হের জগনী, কিন্নরী, বিদ্যাধরী আদি নৃত্য করে শিবগীৰ্ত্তনে- ত্রিভুৰনে জয় জয় রব। (বিকার ও বিভাধরীগণের প্রবেশ) সকলে। জয় জয় বিশ্বনাথ। শর। গুরুকে শাক্য প্রত্যক্ষ সকলি, বিকশিত বিজ্ঞান-নন- অনন্তের প্রতিরূপ হেরি । করব্যাপী সসীম ধরায় চক্রাকারে মায়া প্রবাহিতা, বধে কত কাৰ্য-কারণের শ্রেণী, গই আকাশে প্রকার; ‘আমি’ অহঙ্কার-ক্ষুদ্র কীটের ভিতর, প্রহেলিক! অনন্তের সসীম আকার গড়ে। এই ঘাের প্রহেলিকা-মাঝে আগত জীৰ নাৰি হেরে ; পূৰ্য যথা কুজঝটিকাবৃত, মায়া-বােরে চৈতন্য ঘদিত। ভীম মােলে কারণ-প্রবাহ বহে, ভাতে কচমা তারকা-- অন-অনন্ত কোটা খায়। অহমিতি গজিছে সলিল- অপূর্ব অখিলমণ্ডল, এ সমুদ—আমি নাৰ নময় সত্য নিত্য আনাপ। গােবিন। বৎস, শীলাৰ কাৰণ চৰুকৰ আৰমণ। সমাস-হণ পূর্ণ তৰ। ক ম বান- এর নিজ নে করি প্রমাণ। যাও তুমি বালাসীঘামে, এই দও কং এশিৰক্ত শী। (সকলে গত ) বিমল কান্তি বিরাজে শান্তি, নেহার নৱশ। বেসূত্র-মুক্ত ৰক্ত, সত্যমূর্তি সুন্দর। মােচন মােহন, সদন, নানােক রুন, উচ্চতান বেগান—পূর্ণ বনী-অধর। জয় জয় গত-যাতি, বতীশ বােগর শঙ্করাচাৰ্য্য। দ্বিতীয় অঙ্ক। : আমি ত লাচি। এটা মদ খেয়ে কি আল- তাবল বকে মে স্ত্রীগণ। আরে কি বকে রে—কি বকে! * [ শঙ্কর। (স্বগত) এ সুরাপায়ী তত গানের প্রথম গর্ভাঙ্ক। বড় বিয় কলে। (প্রকাশে) রে চাল, বারাণসী-মণিকর্ণিকার ঘাট। সত্বর পথ মুক্ত করে যা। চণ্ডল। আরে এটা খ্যাপা পারা! পেছকেনে? (গলামানার্থে শঙ্করের প্রবেশ) তােমার বাতটা তো বুঝতে পাচি। শ। গত জগৎপিতা বিরাজিত থামে স্ত্রীগণ। আরে কি বলে রে-কি বলে? বিশ্বের বিশ্বেশ্বমী আসি শঙ্কর। উন্মত্ততা পরিহার কর-দূর হ ! ধরাবাসী বিশ্বপ্রেমে, চণ্ডাল। দেখছি তত তুমি সন্ন্যাসী, লেকেন তােমার যাহে জগজ্জন লভি দরশন আলেটা তাে দেখি না। সাজাগােজা করে মুক্তিথনে হয় অধিকারী। গোন্তিকে ভােগা দিয়ে পেট চালাও। (কুকুরের শিব-শিয়ােজটাবিহারিণী সুরধুনী প্রতি নির্দেশ করিয়া) এই কেলােখলাের জাতে উত্তরবাহিনী বেড়ি পুরী, মেখলা যেমতি। যা আছে, তোমার তা মালুম নেই। তুমি কি কৃতার্থকতাৰ্থ নর-জনম আমার। নেলাখেলা বাৎ বলছ বটে। ( সদলে চণ্ডালবেশী মহাদেবের বেদরূপী কুকুর স্বীগণ। আরে কে বটে রে-কে বটে!] চারিটি সহ প্রবেশ) শঙ্কর। (স্বগত) এ বর্বরের আচরণে ক্রোধ সংবরণ করা কঠিন। (প্রকাশ্যে ) সত্বর আমার নিকট (সকলের গীত ) হতে দূরে অবস্থান করে। ভরপূর নেসা কেন কবি ফিকে। চণ্ডাল। আরে কেমন ধারা বাৎ বলে রে ? হা রে এটা সেটা দুটো ফিকে দেখে। কেলে, তাের অাতের কথা জানে না, সন্ন্যাসী মজা তত মজা আর ফিকে বেলকুল, হয়েছে ! কে কাকে কোথায় সতে বলছে রে? পূরা মজা লিয়ে থাক্ না মজগুল, হ কেলাে হ্যা রে ধলে, অন্নময় কে ছেড়ে তাকা ভেকা পারা চাসনে জুল জুল ; কোথায় যাবে রে? ওরে চৈতন্যকে জুদা কয়েরে। আপনা মজাতে দেল পুরা রেখে। সৎচিৎ অখণ্ড আনল রূপটা চেনে না, তাকে বে-মজা আসবে তত দিবি ফিকে। জুদা কতে চায় ! চৈতন্যকে ফারা কবে। শম। এ কি বিয়! পাপানােত্ত চাল-চণ্ডা এ কেমন মানুষটা রে? এর আকেলটা তাে লিনী কু সমভিব্যাহারে পথ রােধ করেছে। দেখি না। (প্রকাশ্যে) আরে চণ্ডাল, এ কিরূপ তােমার স্ত্রীগণ। আরে কে বটে রে-কে বটে! আচরণ? গঙ্গাসানের পথ রােধ করে উন্মত্তের শঙ্কর। (বগত) কে এ চণ্ডাল, এ যে বেদ-নির্ণীত ন্যায় নৃত্যগীতে মগ্ন আছ। তুমি অ, পথ বাক্য এয়ােগ ক!ে চালের মুখে এ কি দাও, দূরে অবস্থান করে। বার্তা! সত্য-অসঙ্গ, সৎ, অদ্বিতীয় সুখ চাল। (কুকুরকে সম্বােধন করিয়া) ছাদে কেলে, এবার তাে ভেদ নাই। এটা কে বটে রে? চল। আরে থােড় ঘােড়া আলে বুঝি আসছে শ্রীগণ। আরে কেটে রেকে বটে। রে ফেলল! আরে বলল, তাের মতে, শর। আরে বর্বর, তুমি কথায় কর্ণপাত কনাে? বাতটা সমজ করিয়ে দে! তাে-গঙ্গাতীকে দূরে গমন করে। সুর্য আর হাঁড়িয়ার সরাপ যে সূচকে,এ কি চল। (অন্ত কুকুরকে শৰােখন করিয়া) কি কুলা জুদা সূর্য? এ বাতটা বুঝে না বুঝে না, বলছে গেলে,কি বলছে বুঝতে পাচ্ছি? সােনার কলশীর বিচে আর জির হভিয় ৰিছে ১৬ গিরিশ গ্রন্থাবলী আকাশটা জুদা জুদা বলচে। ও তো ফারাক দেখে—এক দেখে না। ও কেমন সন্ধ্যাসী রে ? শ্রীগণ। আরে কে বটে রেকে বটে। চল। কি অভিমান রাখে রে। এ চণ্ডাল, এ সন্ন্যাসী, এ কি বলে রে? অাঁধারে এককে নানা দেখে, শুক্তিকে রূপা দেখে, দড়িকে সাপ দেখে,--এক জানে না, জুদা জুদা জানে।--তুই কেমন মাহৰ নে ? স্ত্রীগণ। আরে কে বটে রে --কে টে। শঙ্কর। মহাত্ম, কি হেতু ছলনা অঞ্চ দাসে? দেহ পরিচয়, কোন্ মহাশয় উদয় সম্মুখে মম। শত কোটী প্রণাম চরণে, অভাজনে ঈদৃশ করুণা তব। পূর মন-আশ, কর দেব স্বরূপ প্রকাশ, বন্য জন্ম হােকু দরশনে। অকিঞ্চনে করাে না বঞ্চনা, পাদপদ্ম-পরশনে দেহ অধিকার। চল। হেয় মম স্বরূপ আকার শক্তি-সমষিত, চারি বেদ শুনীরূপে সাথে। দেহ জানে আমি তব দাস, অংশ জীব জ্ঞানে, আত্মজ্ঞানে অভেদ, চৈতন্যে সংমিলিত। দিব্যজন জন্মিয়াছে তব দরশনে ; ভ্রান্তি দূর শাস্তিদাতা তােমার প্রসাদে। লােকনাথ, কোটী প্রণিপাত আশে পাশে পশ্চাতে সম্মুখে তব। মা। ভৰ প্ৰতি তুষ্ট অতি শুন যােগিবর! বৎস, তুমি বরুপ আমার, বেদজ্ঞ সর্বজ্ঞ মহাকৃতী। কর মম কাব্য সমাধান ভবে। কাৰ্য্য অবসানে,পুন এক আত্ম হব দুই জনে; বােধরূপে রহিব অনন্তকাল। বেদবিধি বিশৃঙ্খল হের ধরাতলে, জ্ঞানহীন শাস্ত্রব্যাখ্যাকার বেদমর্শ করেছে ছাদন। * [ বেবেত্তা বেদব্যাস, দ্বৈত মীমাংসা নির্মাণে করেছেন সাজ্যাদি খণ্ডন। ভ্রান্ত ব্যাখ্যা আবরণে লুগু সে সফল। সর্বজ্ঞ ব্যতীত, সাধ্যায়ত্ত নহে তো কাহার সাপ পুত্রের মর্ম করিতে প্রকাশ। তুমি মুনে, সর্বশক্তি সর্বজ্ঞতা আধাস্বরূপ অবনীতে অবতীর্ণ নরদেহে। ব্ৰহ্মতত্ব ক্ষতি সুনির্ণীত, অবৈতপরতা ভাষ্য করিয়া প্রস্তুত ]* জনহিত করহ সাধন, অগনতা করহ দমন, বিমল অবৈত-পন্থা দেখাও মানবে। আয় তব ভাস্কররূপ মােহ-তম করিবে বিনাশ। সহ শিল্প কমিয়ে প্রমণ ভ্ৰামত ওন করহ প্রিয়তম। (সহসা চালের মহাদেবমূর্তি ধারণ এবং চাল- চণ্ডালিনীগণের ভৈরব-ভৈরবীরূপে ও কুকুর চারিটির চারিবেদরূপে রূপান্তরিত হওন ) শঙ্কর। নমাে নমঃ চিদানন্দ শঙ্কর মহেশ, নমঃ লােকলােকের, প্রকাশ যাহার, যে আ সভায় জ্ঞাতা তাের ভাসমান, কাশীনাথ বিশ্বের শিব, ব্রহ্মবিদ্যা বিশ্বেশ্বরী চির-আলিহিত, এর এতু শত নমস্কার। শ্রোতব্য মন্তব্য বিধি-বিধায়ক গুরু, তিকুর যােগেশর শলী শন্তু ভৰ, বাতীত, শত শত নমস্কার পরে। সানলন, বােধরূপ চিন্ময়, বিএ, ঘটে এটে সম বিভাসিত নিপ আকাশ সম- পরনেমার মম। বার কৃপা-সুধাদানে সংসার-বহনে শতি প্রাপ্ত হয় জনগণ। নমাে নমঃ চরণে তােমার, [ সদলে মহাদেবের অনুন। শর। নমঃ বিশ্বের শক্তি দেহ হয়, হৰ কাৰ্যভার করি উনার শক্তিতে তােমার শক্তিময়। [ পরাগব্যর প্রান।

শরচাৰ্য। ১৭ (সনলনের প্রবেশ) সনদন। এ তাপপূর্ণ সংসার-অরণ্যে আর কত দিন একাকী ভ্রমণ ক’বাে? বহুস্থান ভ্রমণ ক’- লে, দৈববিড়ম্বনায় সজ্জনভ তাে হলাে না। তবে তাে বৃথা মানব-দেহ, মুক্তি-বাসনা কে পূর্ণ ক’মূৰে? মনুষ্যত্ব, মুমুক্ষুত্ব, সজ্জনসংসর্গ, তিনের যােগাযােগ ব্যতীত তাে মুক্তিলাভ হয় না। হায়, মহাজনের তত কৃপা হলাে না, দর্শন তো দিলেন না। (শঙ্করাচার্য্যের পুনঃ প্রবেশ) যথায় এমিনে-তব অজৰায়ু-পরশনে জীৰ স্নিগ্ধ হবে; কৃপায় তােমায়, অজ্ঞানতা-অন্ধকার হবে বিদূরিত ; ভানচক্ষুবলে- অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডে বন্ধ করিবে দর্শন। সনন্দন। গুরুদেব—গুরুদেব-পতিতপাবন দয়াময়, স্নিগ্ধ প্রণ, নবীন জীবন দান করেছ কপার। শঙ্কর। এস বৎস, ওই বটবৃক্ষমূলে আসন আমার, সাননে করিব দেহে শাস্ত্র-আলােচনা। [ উভয়ের প্রস্থান। দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক। শকর। এসাে কে কোথায়, মহাকাৰ্য্যে যে আছে সহায়, এসাে ত্বরা কাল বয়ে যায়। মহাকাৰ্য্যাের-ধৰ্ম্ম-সংস্কার, জানজ্যোতি বিকাশ ধরণীতলে ; স্বার্থপরতায় কপট ব্যাখ্যায় শাম আচ্ছন্ন ধরায়। শুদ্ধ তত্ব করিতে প্রচার, জীবের উদ্ধার, স্বেচ্ছায় সে মহাভার করেছি গ্রহণ। উচ্চ প্রয়ােজনে আবাহন করি তােমা সবে, এস, এস বিলম্ব না সহে আম, অনাচার ব্যভিচারে কলুষিত ধরা! সনন। এই যে যতীশ্বর স তেজপু মহাপুরুষ গুরুদেব আমার সম্মুখে ! অকিঞ্চনে চাহ প্রভু করুণা-নয়নে। বদগ্ধ শশকের প্রায় এমি এ ধরায় শান্তিহীন ব্ৰিতাপ-পীড়িত; বিকুলােব দীন দাস - কাবেরী তটিনীতটে চৌদেশবাসী, আশ্রিত শরণাগতে কর কপা দান। শঙ্কর। বৎস, তৰ দৰ্শন-আশায় প্রতীক্ষায় বহুদিন আছি কাশীধামে। শান্তিদাতা বৈরাগ্য তােমার, বিবেক বৈরাগ্য তব সাথী বিরক্ত সন্ন্যাসী তুমি ; সাহায্যে তােমার, বহুকাৰ্য্য করিব উদ্ধার। তসসি’ মহাবাক্য করহ গ্রহণ, না ত্যজিয়ে নারায়ণ তুমি আজি। [ ৩। শঙ্করাচার্যের বাটীর প্রাঙ্গণ। ( জগন্নাথের প্রবেশ) জগ। বামুনগুলাের আকেল দেখ দেখি, বাড়ীতে অতিথ-পতিত ফেরে না, তাইতে ভাবছে মাগীর পোতা টাকা আছে। মাগকে তাড়িয়ে তাই লিবে। মাগীকে তাড়াতে এলে हाजन ঝাড়বাে নি-যা থাকে বরাতে শেষে। সর্বস্ব দিয়ে গেল, তাতে মন উঠছে নি। (বিশিষ্টার প্রবেশ) বিশিষ্টা। কে রে, কে আমায় বলে ডালি! শঙ্কর এলি ? জগ। (স্বগত) ইসমাগীর আর বাঁচবার ধার নেই। ব্ৰহ্মদত্যি মাগী এলে যে দুটি খাওয়াতাে। সে বেশ ভূতের ভূত, আমি তাকে খুব ভালবাসি তবে একটু ভয়ও লাগে। বিশিষ্টা। বাবা এসাে-তুমি যে অনেকক্ষণ না বলে ডাকে। নি, তােমার মুখে মা বলা যে অনেক ক্ষণ শুনি নি। জগ। মা মা—তুই বাড়ীর বারুকে আসবি? চান কবি? আর কেন, একটু ফাঁকায় যাবি, ঘরে বসে কি কবি ? চান কবি আয় আয়, বিশিষ্টা। বাবা, আমার শঙ্কর এ বাড়ী ছেড়ে যাবে না। সে এখানটি না হলে বসে না, ঐ ঘরটি নইলে তার পড়া হয় না, ঐখানে সে ১৮ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। শুতে ভালবাসে,- খানে বসে দুটি খায়। মা। তুমি ভেবাে না, আমি খাওয়াবো। লােকে বলে, বিদ্যা শিখেছে-কিন্তু বাছা খেতে জগ। শােন-একটা পরামর্শ করি । জানে না। আমি না খাইয়ে দিলে খেতে মহ। কি? পারে না। আমি আবাগী স্নানে গিয়েছিলুম, জগ। তুমি আমার ঘাড়ে চাপতে পারে? তাহলে হেঁসেলে দেখবে এসো না, যেমন অয় তেমনি আমি এ বাগুলােনের কলজে ছিড়ে খাই। পড়ে আছে, বাছা খেতে পায় নাই। আর দেখ, তোমার সঙ্গে আমার এই কথা- গ। এ, মাগী একটা ভাত দাঁতে কাটে নি। আমার কেউ কোথাও নাই যে, রােজা এনে দূর তাের ল্যাখাপড়ার মূঙে ছাই! আমাদের ঝাড়ান-ঝােড়ান কবে। তুমি আপনি ছেড়ে চাবার ঘরে গ্যাখাপড়া শেখে না-বেশ আছে। দিয়ে যেও। আমার মাগছেলে যে নাই, তাহলে কি করে মহা। জগন্নাথ, তুমি আমায় ভয় কর কেন ? ছেলে শিখােয় দেখাতুন-পুথিমুখখা হলে তুমি মাকে ভালবাস,-আমি তােমার উপর আবাড়ে দিতুম। বামুন গুলো ওইটে যুত, বড় সন্তুষ্ট, আমি তােমায় বড় ভালবাসি করেছে, আমাদের ল্যাখাপড়া শিখােয় না । জগ। যা দেখ-ভালবাসায় কাজ নেই, তুমি ল্যাখাপড়া ছেলেকে শিখােয়, আর আপনারা মায়ের খোঁজ-খবরটা রেখাে, আমি পালপার্বণে পারে। এক আধটা কেলে ছাগল যােগাড় করে (মহামায়ার প্রবেশ) খাওয়াবাে। হাগা তুমি কেমন ধারা গাে-কেমন বেহ্মদত্তির বিশিষ্টা। বাবা বাবা-আমার হৃদয় ছেড়ে কোথায় ঘরের মেয়ে গাে ? মা ক’দিন পায় নি, তা গেলি? আমি যে তােকে না দেখে থাকতে দেখনি,আর ‘মা’ বলে ধেয়ে ধেয়ে এসাে। পারি নি। আমি যে চারদিক অন্ধকার দেখছি, লাও-পারাে দুটি খাওয়াও; আর দেখ—ওর আয় বাবা আম। জাতগুলােন মাগীকে বাড়ী থেকে খেদিয়ে মহা। মা-মা-কেন কাচ? তােমার শর দেবার যােগাড়ে ফিচে। চাষের জমী নিয়ে আসবে; শিষ্য পড়াচ্চে দেখে এলুম। মন উঠে নি, দুটো খেতে দিতে জিব বেরুচ্ছে বিশিষ্টা। অা-কখন আসবে? সে যে খায়নি! তা নেই দিগকে, তাে মাগীর ভূত বেঁচে থাক। তাকে ডেকে আনে। অতিথ-পতিত নাগা-ফকীয় কেউ তাে ফেরে মহা। না মা, সে এখন শিষ্যদের পাঠ দিচ্ছে নাই, তা দেখে পাড়ার লােক বুক ফেটে সে কি এখন আসবে? তার কি এক আধ ম’রুচে। সলা কচ্চে গাে, মাগীকে তাড়াবে, জন শিষ্য যে, পড়ান শেষ করে আসবে? সে বলেছে এসবে। তােমায় খেতে বলেছে, তোমার প্রসাদ নিয়ে মহা। আসুক, কার সাধ্য মাকে এখান থেকে যাবে, তবে সে খাবে। তাড়ায়। জগ। হুসন্ধান রাখে। এই যে কাশী থেকে গ। বেশ কথা, আমায় দেখে শুনে চিনে লােক এয়েছে, তার মুখে শুনলুম, খুদে দাদার রাখে। রাতভিতে একলা দুলে মাঠ থেকে পােণ পােণ শিষি সেবক হয়েছে। (প্রকাশ্যে ) আসি, আমার ঘাড়ে চেপে নি। তাও আজ হ্যাগা—তুমি কি করে আনলে ? একটি বামুন আনা করাও, দুটি রান্নাবান্না * [ মহা। আমি যে এই দেখে এলুম। করা। জগ। (স্বগত) হু-গাছ চেলে যাওয়া-আসা করে। না। তুমি যাও, আমি খাওয়াচি। (প্রকাতে) তা হাগ, একদিন গাছে চাপিয়ে জগ। হ্যা দেখ বাছা, তুমি ভাল বেহ্মদত্যির ঘরের ছেলেটাকে এনাে না, মাগী হা-হুতাশ করে- মেয়েটি বটে, কিন্তু তােমার ভুতুড়ে ভাবট গেলো দেখিয়ে নিয়ে যেও না। নি। ও বেটার শােকে প্রাণ ছাড়বে, তার মহা। সে আসবে না, আমি তাে তার খবর এনে নােল দিই। বুক, রাখাে?

শঙ্করাচার্য। ১৯ জগ। তুমি তার কাছে যাওয়া-আসা করাে না কি ?] হয়েছে। আ-মরি মরি—কি জটাজুটধারী, মহা। আমি যে তার কাছে নিয়ত আছি। আমরা কি সুন্দর ললাটে শশিকলা একেছে! কি উজ্জ্বল যে আছে, আমি যে তার শক্তি, তাকে ছেড়ে চোখের দীপ্তি! সখ করে কপালে আর একটি তাে আমি একা থাকি না। সুন্দর চোক একেছে। ও মা ও মা কি করে জগ। এ! তার কাছে আর তােমায় ঘেঁসতে হয় গাে-বুড়ো মিন্সেগুলাের আক্কেল নেই গা, নি! সে-সে বামুনের বামুন লয়, গায়িত্রী বিকেলে মিলে আমার বাছার অকল্যাণ হবে ঝাড়লে কাউকে আর টেকতে হবে নি। বােঝে না! দেখ’ মা দেখ’ মা-বারণ করে, মহা। সে কি ? আমি যে তারে ধরে নৃত্য করে আমার বাছার পায়ে যেন বিল্বপত্র দেয় না। কই বেড়াই। রে-কই,-আমার শঙ্কর কোথায় গেলি! বাছা, জগ। ঐ নাচন-কোন তফাতে-সে চিড়িং-চাড়া দেখে যা, পল আমার যুগ জ্ঞান হচ্ছে, কেঁদে ছাড়বে, তাের বাবার বাবা তার কাছে ঘেসতে কেঁদে চক্ষু অন্ধ হয়েছে, তো বিনা আমার দশ লাবে। দিক শূন্য! আয় যাই—আমার অঞ্চলের নিধি মহা। আমি কে জানে ? ঘরে আয়। এই যে আমার বাবা এসেছে, জগ। তুই বল্লি কই? আমি তো এগুতে এগুতে ওই যে—ওই যে—আমায় মা বলে ডাকছে। তাের গাই-গােত্র জানতে চেয়েছিলুম, আমি যার [ বেগে বিশিষ্টার প্রস্থান, তৎপশ্চাৎ মহামায়া ও গয়ায় গিয়ে তাের পিণ্ডি দিতে চেয়েছিলুম, তা জগন্নাথের গমন। তুই বল্লি কই? তা না বলেছিস নেই নেই, তুই যে এই মাগীকে দেখি শুনিস, এইতে মনে করি, তুই বাপের ঠাকুর পেত্নী। তা দেখ, তৃতীয় গর্ভাঙ্ক। ছেলের শােকে যা দেখছি, মাগী আর দিন কতক টেকবে, তার পর তাের খুসী হয় আমায় বলিস বারাণসী–গঙ্গাতীরস্থ শঙ্করাচার্য্যের আশ্রম-সম্মুখ। -আমি তাের পিণ্ডি দেবাে। গণপতি ও শান্তিরাম। মহা। যে হাতে পড়েছি, আমার কোটিকল্পেও গণপতি। সনদনের প্রতি প্রভুর সর্বাপেক্ষা নেই, নিস্তার নেই। চঞ্চল হয়ে বেড়িয়েছি বেড়াচ্ছি তা উনি ইচ্ছাময়, উনি সব করতে পারেন, বেড়াবাে। এ দিকে অনাচারী দেখতে পারেন না, কিন্তু জগ। আচ্ছা তুই কে ? সনন যে আচারভ্রষ্ট, তা দেখেও দেখেন মহা। আমায় চিনবে; আমি তোমায় পরিচয় । শীতের ভয়ে এক দিনও গঙ্গাস্নান করে না। দিয়েছি—বুঝতে পারে নি। যখন বুঝবে শান্তি। বড় ফিকির শিখেছে, বলে কি জানাে, তখন চিনবে। গুরুদেব বলেছে, “গঙ্গা আর আমি এক (গীত ) গুরু-গঙ্গা এক-তা আমরা জানি,তা আমাদের যে আমার চেনে, নামায় জেনে আপনি থাকে না। অত নিষ্ঠা নাই; আমরা গঙ্গাস্নান না করে তাে সবাই জানে, জেনে-শুনে মনে রাখে না। বিশ্বেশ্বর দর্শনে যেতে পারি নে। যে আমায় জানতে পারে, তার কাছে থাকি স’রে, (শঙ্করাচার্য্যের প্রবেশ ) এই ধরে ধরে ধরতে নারে, দেখে দেখে না। শঙ্কর। সনন্দন কোথা গেল? ভালবাসি খেতে আসি, খেলার ছলে কান্না-হাসি, গণপতি। (জনান্তিকে) পলকে প্রলয় দেখছেন কত দেখে কত ঠেকে, খেলা শেখে না। শান্তি। আজ্ঞে, আপনি যে পারে কি কাৰ্যে পাঠিয়ে গ। ভূতুড়ে গানও এমন মিষ্টি। ছেন। ঐ যে--ও পারে এসে সনশন দাড়িয়ে বিশিষ্ট। মা, দেখ’ দেখ’-ছেলে-বুদ্ধি কি না, শঙ্কর পার হতে পাচ্ছে না। আমার শিৰ সেজে এসেছে। আহা, দেখ’ দেখ’ শঙ্কর। সনন্দন-মনন, শী এসাে-সন -আহুতি-বিভুতিতে বাহার যেন রূপাের শরীর এসাে এসাে- গিরিশ-গ্রন্থাবলী। সন। (গঙ্গার পর পার হইতে স্বগত) যার ব্যাস। কে- তুমি-তুমি ভাষ্যকার? তুমি বালক, কৃপায় ভবসিন্ধু পার হ’বাে, তিনি আহ্বান গুহ বেদান্তসূত্রের ভাষ্য প্রস্তুত কৰবার স্প কচ্চেন, আমি সামান্য নদী পার হতে চিন্তা রাখাে নাকি? ক’চ্চি। শাস্তি। কে আপনি কাকে কি বলছেন? সর্বজ শর। সনন, এসো- মহাপুরুষকে কি ভাষায় সম্বােধন কচ্চেন? সনন। যাই প্রভু যাই—জয় গুরুদেব ! ব্যাস। ভাল ভাল সর্বজ্ঞ বটেন ? কি ভাষ্য (গঙ্গায় অবতরণপূর্বক আগমন এবং সনন্দনের করেছ হে-শুনতে পাই ? প্রতিপদক্ষেপে গঙ্গায় পদ্মের আবির্ভাব।) শঙ্কর। প্রভু, যে সকল গুরুপদস্থ মহাপুরুষের সুত্রার্থ শঙ্কর। বৎস, দেখ’- দেখ’-কি আশ্চর্য্য!-সন অবগত আছেন, তাদের আমি প্রণাম করি। নের পদবিক্ষেপের নিমিত্ত নদী-বক্ষে পদ্ম প্রস্তু আমি তাদের অনুগামী, আমি ভাষ্যকার বলে টিত হচ্চে। স্পা করি না, মহাশয় যদি অনুগ্রহ করে সনন্দন। ( নিকটবর্তী হইয়া প্রণামপূর্বক) প্রভু, প্রশ্ন করেন, আমি যথাসাধ্য উত্তর দিতে প্রস্তুত। দাসের প্রতি কি আজ্ঞা হয় ? ব্যাস। ভাল-ভাল,- আমি তােমার ভাষ্য-দর্শনে গণপতি। প্রভু, অজ্ঞানের অপরাধ মার্জনা করুন। উৎসুক। আমার অনেক প্রশ্ন আছে। এই (সনদনের প্রতি) ভাই সনন্দন,ঈর্ষাবশতঃ স্থানেই কি আমাদের প্রশ্নোত্তর হবে? তােমার কতই নিন্দা করেছি, এতে রুদেবের শঙ্কর। কৃপানিতে, যদি পদার্পণে আমার আশ্রম নিকট অপরাধী হয়েছি, তোমার কৃপা না হলে পবিত্র করেন, দাস কৃতার্থ হয়। সে অপরাধ মার্জনা হবে না। ব্যাস। ভাল ভাল, তােমার আশ্রমই উত্তম স্থান। সনন্দন। কেন ভাই - কেন ভাই-মিনতি ক'? [ শঙ্করাচার্য ও ব্যাসের প্রস্থান। তাই ভাইয়ে তো প্রেমের কলহ অনেক হয়। সনদন। ভাই, এ বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কে ? কোন অসা- গুরুদেব যখন তােমাদের শাস্ত্রব্যাখ্যা করেন, মান্য ব্যক্তি নিশ্চয় ; নচেৎ গুরুদেবের যেরূপ আমার মনে ঈর্ষা হয়, প্রভু বুঝি আমায় রূপ খ্যাতি জগদ্বিখ্যাত, কোন মহাপুরুষ ব্যতীত এর বাখ্যা করে বুঝিয়ে দেন না। কিন্তু পুত্রের প্রতি সহিত তর্কে অগ্রসর হতে সাহস করা সম্ভবপর পিতার সমান কৃপা, আমরা অজ্ঞানতা বশতঃ । বুঝতে পারি না। মাতা যেরূপ কোন পুত্রের গণপতি। তােমার ওই কেমন, চার দিকে মহা- কিরূপ আহার-বিহারে স্বাস্থ্য-বর্ধন হবে, তার পুরুষ দেখছ। ইদানীং কিছু বাড়াবাড়ি-যােগিনী ব্যবস্থা করেন, গুরুদেব তক্রপ অধিকারিভেদে দেখচ, সিদ্ধচারণ দেখছ, গজানন দেখ তােমার জ্ঞান-সুধা বিতরণ করেন। ভাই, এসাে—আমরা সম্মুখ দিয়েই সব বিশ্বেশ্বৰ-দর্শনে যায়, আর তাে গুরুদেবের জয়ধ্বনি করি। তাদের বিশ্বেশ্বরের মন্দিরে যাবার পথ নাই। সকলে। জয় গুরুদেবের জয়! সনন। ভাই, আমার সামান্য দৃষ্টি, মহাপুরুষেরা শর। বৎস সনলন, আজ হতে তোমায় পরপা যদি আমাদের হিতার্থে আমাদের নিকট সর্বদা বলে ডাকবাে। তােমার কি আশ্চর্য্য মহিমা, আগমন করেন, আমাদের ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে আমরা কি আশ্চর্য গুরুভক্তি, তােমার গুরুভক্তিতে বুঝতে পারি না। চল নামােনা যা-কিরূপ আমার ঈর্ষা হয়। গুরুভক্তিতে তােমার আদর্শ পূর্বপক্ষ সিদ্ধান্ত হয়। যে গ্রহণ কবে, ভ-সমুদ্র তার গােম্পদ। শান্তি। আর কি শুনবে,দু’কথায় গুরুদেব থ বানিয়ে (ছদ্মবেশে ব্যাসদেবের প্রবেশ) দেবেন। ব্যাস। অহে, এখানে কে আচাৰ্য আছেন, শুচি সনন্দন। না ভাই,আমি বড়ই উৎসুক হচ্ছি। ? তিনি না বেদান্তসূত্রের ভাষ্য করেছেন। গণপতি। আরে যেও এখন—শােনই নাকি তিনি কোথায় ? বুজরুকিটে কলে বল তো? নদীর জলে পদ্ম শ। প্রতু, দাস আপনার সম্মুখে। ফোটালে কি করে?

শঙ্করাচাৰ্য্য। ২১ সনশন। ভাই, আমি কিছুই জানি নে। গুরুদেব আজ কলেন, আমি চলে এলেম। ( সনের প্রস্থান। গণ। ভােজবিদ্যাটা ক্ষুদ্ৰ হ’ল বুঝি ? ওই সনন্দন একটা বিয়ের চোটে ওর কাজ গুছিয়ে নিলে ; পদ্মপাদ নাম বাগিয়ে নিয়েছে। এখন যেখানে যাবে-ওর সম্মান কত? আর ব্রাবি- ব্ৰহ্মবিদ্যা কষ্ট-সে আর আমার মাথামুও কি -তা বলাে না ? “তত্ত্বমসি-সসাংহপাঠ নিতে গেলে, এই নিয়ে লাটাকাটি হানাহানি। ওই সব আসছে, আশ্রমে ছিল, আবার এইখানে এসে কিটিমিটি বাধাৰে, আমি চলুম। | গণপতির প্রস্থান। (শঙ্করাচাৰ্য, ব্যাস ও সনন্দনের পুনঃ প্রবেশ) গণপতি। যা দেখ-বুঝেছ-বলে না! গুরুদেব নিরিবিলি ওকে ভােজবিদ্যা দেন। আমি তাই তো ভাবি, এত গুরুভক্তি কিসের ? অষ্টপ্রহর গুরুসেবায় থাকেন,এর অর্থ আছে—অর্থ আছে। শান্তি। না ভাই, পদ্মপাদ গুরুভক্ত মহাপুরুষ, ওর শ্রদ্ধায় নদীবক্ষে পদ্ম প্রস্ফুটিত হয়েছে। গণ। ইস ইস—তুমি যে একেবারে ভাবে গদগদ হয়ে গেলে! আজ থেকে উনি পদ্মপাদ হলেন কি? পদ্মপাদ কারে বলে জানাে? এক নারায়ণই পদ্মপাদ, আর পদ্মপাদ কে ? শান্তি। কেন, তুমিও ত তখন পদ্মপাদের নিকট মার্জনা প্রার্থনা করলে ? * [ গণ। আবার পদ্মপাদ--কানে যেন খোঁচার মত বাজে। এতে নারায়ণের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ হয়—জানাে? সে কথা যাক-এই যে, এত দিন পাঠ নিচ্ছি, কিছু বুঝতে-সুজতে পাচ্চ। আমি তো ভাই,বি চুই বুঝতে পারি নাই। উনি আজ এক কথা বলেন,কাল এক কথা বলেন। আমার এখানে পােষাবে না। স্পষ্ট কথা বলছি, অন্য একটা অধ্যাপক দেখে নেবে। শান্তি। ছিঃ ছিঃ-কি বচ—এতে যে অপরাধী হবে। এর চরণালয় পরিত্যাগ করে কোথায় যাবে ? গণ। ভাই, আমার স্পষ্ট কথা,-ভেবেছিলুম, দু’এ- কটা বিদ্যালাভ করূব। শুনেছিলুম, ওঁর কথায় কোন দরিদ্র ব্রাহ্মণের গৃহে লক্ষ্মী অচল হয়ে- 'ছেন, নদীর গতি ওঁর আজ্ঞায় পরিবর্তিত হয়েছে, নর্মদা-সলিল কমণ্ডলুস্থ করেছেন, তাই লােভে লােভে এসে পড়েছিলুম; তা কৈ, একটাও তো বিয়ে দিলেন না। দুটো একটা যদি ওষুধ- পালা শেখাতেন, তা হলেও বা হােক, একরকম করে-কর্মে খেতেম। বিফল পরিশ্রম করুলেম। শান্তি। কি হে—তুমি কি আমায় পরীক্ষা কষ্ট? ব্রহ্মবিদ্যালতের প্রয়াস না করে সামান্য চিকিৎসাবিদ্যার প্রয়াসী? ক্ষুদ্র ভােজবিদ্যা শিক্ষা করা তােমার ইচ্ছা। ব্যাস। ভাল ভাল, মধ্যাহ্ন-সন্ধ্যা সমাপ্ত আবার আমাদের তর্ক হবে। তুমি সুপণ্ডিত বট, তােমার তর্কশক্তি অতি প্রখর। আমি তােমার প্রতি পরম সন্তুষ্ট হয়েছি। তােমার সহিত তর্ক করে পরম আনন্দলাভ হয়েছে। এইবার দেখবো-তুমি কিরূপ উত্তর প্রদান করে। শঙ্কর। প্রভু, আপনি আনন্দলাভ করেছেন, এ অপেক্ষা দাসের ভাগ্য-প্রসন্নতার অধিক পরিচয় আর নাই। আমার ভাষ্যে যদি দোষ থাকে, আপনার দ্বারাই সে দোষ সংশােধিত হবার সম্ভাবনা। ব্যাস। হা হা, তুমি খুব সাবধানী তার্কিক, এই- বার তর্কে তােমার সতর্কতা বুঝবে। সনন্দন। আপনাদের শ্রীচরণে প্রণাম পূৰ্ব্বক দাসের নিবেদন, হরিহরের বাদানুবাদ তো কোটিয়ে অবসান হবে না। গুরুদেব, যদিচ আমি অজ্ঞান, আপনার কৃপায় আমি যেরূপ দৃষ্টিলাভ করেছি, তাতে আমার অনুমান-ইনি স্বয়ং ব্যাসদেব- সাক্ষাৎ নারায়ণ আর শঙ্করাচাৰ্য্য-সাক্ষাৎ শঙ্কর। “শঙ্কর শঙ্কর সাক্ষাৎ ব্যাসাে নারায়ণঃ স্বয় আমি উভয়ের চরণে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করি। আপনাদের উভয়ের বিবাদ, এ স্থলে আমাদের কি কৰ্তব্য আজ্ঞা করুন। শঙ্কর। বৎস পদ্মপাদ, তুমিই ধন্য ! আমি অজ্ঞ, বুঝতে পারি নাই, ইনি ব্যাসরূপী স্বয়ং নারায়ণ নিশ্চয়। হে লােকপালক, হে স্থিতিকর্তা না- যুণ, আপনি ঋষিৰূপ ধারণ করে অষ্টাদশ পুরাণ প্রণয়ন করেছেন, বেদ-বিভাগ করেছেন, ভারত ২২ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। সাগর নির্মাণ করেছেন। এ মহৎ কীর্তি আপ- নাতেই সম্ভব; আপনার বেসুত্রের ভাষ্য করতে আসি সাহসী হয়েছি, নিজগুণে দাসের প্রতি কৃপা প্রদর্শনপূর্বক আমার ভাষ্যের সংস্কার ব্যাস। ভায্যের সংবাদ তব পাই শিবলােকে, দুক্তের সূত্রের ভাষ্য অন্যে অসম্ভব, তােমাতেই সম্ভব কেবল। বেদম প্রচারার্থে তৰ আগমন, অভিলাষ পূর্ণ বৎস হইয়াছে মম, হয়ে সুত্রের ভাষ্য করেছ রচনা। শঙ্কর। প্রভু কাৰ্য যদি পূর্ণ মম ধরণীমণ্ডলে, পরমায়ু অবসান হয়েছে নিশ্চয়। কৃপায় করুন সাথী অপেক্ষা করিয়ে, জাহৰী-সলিলে আমি করি গুনু ত্যাগ। ব্যাস। অষ্টবর্ষ পরমায়ু করিয়ে গ্রহণ এসেছিলে ধরাতলে, কষ্ট বর্ষ বৃদ্ধি আয়ু সন্ন্যাস-গ্রহণে; ঘােড়শ বৎসর পূর্ণ যদি তােমার, হর নাই কাৰ্য্য অবসান। মায়া-আবরণ করি উনােচন- দেবলীলা কর’ দরশন, কেবা তুমি, এসেছ কি কাজে, নরসাজে কোথায় কে বসে দেবগণ। শিষ্যত্ব গ্রহণ ৰ প্ৰয়াস সবার, দিখিজয়ে হবে সবে সহায় তােমার। হের যােগবলে- বৌছগণ বিনাশ কারণ, কর্মকাও কমিতে প্রচার, কার্তিকের অবতার শঙ্কর আদেশে, বিখ্যাত ধরণীতলে কুমারি নামে। যবে তুমি দেবে দরশন, করিবেন ষড়ানন সুধামে গমন, শক্তিধর রয়েছেন তৰ প্রতীক্ষায়। বয়ং ৰক্ষা শিষ্য তার মন নামেতে, কেিশ্রণী-মাঝে সেই আচাৰ্য্য প্রধান, গার্হস্থ্যর প্রবর্তক নিবৃত্তিতে অনার তার। পার করি তায়, শুদ্ধ সত্ত্ব তত্ত্বমসি’ জ্ঞান করি দান, জ্ঞানকাণ্ড-মাহাত্ম প্রকাশ’ যতীখর। জ্ঞানলাভে কৰ্মকাণ্ড আয় কেন, মুক্তিপ্রদ কর্ম ক নহে, করই প্রমাণ মিশে করি তমসি’ দিব্যান দান। নারীরূপে সরস্বতী গৃহিণী তঁাহার, ধরাধামে বদ্ধ দেবী তব প্রতীক্ষায়। আয়ুবৃদ্ধি মম বয়ে হউক তােমার, ষােড়শ বৎসর রহ অধিক সংসারে। নাস্তিকতা পুণ্যভূমে হক বিদূরিত, ভ্রান্ত বেদব্যাখ্যা হােক নাশ, দুষ্কৃতি-দমন, পাপাচার নিবারণ কর’ বৎস প্রভাবে তােমার ; আন-সুৰ্য হােক প্রকটিত, ভারত উজ্জল হােক গৌরব-প্রভায়। শঙ্কর। প্রভু, বর প্রদান করুন, আপনার শক্তিতে আমার ভাষ্য যেন লােকসমীপে গৃহীত হয়। ব্যাস। তথাৎ। ( অন্তর্ধান ) শঙ্কর। কৃতার্থোহং-কৃতার্থেহম! শিষ্যগণের প্রতি) বৎস, তােমর প্রস্তুত হও, অদ্যই আমরা প্রয়াগধামযাত্রা করবাে। শান্তি। প্রভুর যেরূপ আজ্ঞা। সনদন। যদি অনুমতি হয়, একবার নগর-প্রান্তর ভ্রমণ করি। অতি মনােহর স্থান, যেন পােবন। শঙ্কর। বৎস, ওরূপ কৃত্রিম পােবন এক্ষণে ভারত- বর্ষে অসংখ্য, এই সকল প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধদিগের আবাস। ব্যভিচার, অনাচারের বিলাসভূমি। তুমি অগ্রসর হও, আমরা ঐ পথেই গমন কবো। সনন্দন। প্রভু, যদি এরূপ কুৎসিত স্থান, তবে আমাকে একক অগ্রসর হতে আজ্ঞা কষ্টে কেন? শঙ্কর। বৎস, কি বিরাট অত্যাচার মনের নিমি দেবদেব আমাদের উপর তারার্পণ করেছে। তা একাকী গমনে তুমি প্রত্যক্ষ কবে। ' অচিরে তােমার পগৎ গমন কচি। [ সকলের প্রস্থান শঙ্করাচার্য্য। চতুর্থ গর্ভাঙ্ক। (দুইজন স্ত্রীলােকের এক কুমারীকে লইয়া প্রবেশ) প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধাশ্রম। [ নর্তক ও নর্তকীগণের যুগলে বুগলে আগমন ] বুদ্ধ বৌদ্ধ-কাপালিক ও শিষ্যগণ। ১ না স্ত্রী। (কুমারীর প্রতি) বসাে, এইখানে বসে, শিষ্য। আপনার কি অদ্ভুত কৌশল! এ কুমারী যে এখনই দেৰী-শরীর লাভ করবে। তােমার প্রতি প্রভু বড় কপা, সেই জন্য তােমায় প্রধান আপনার করগত হবে, এ আমরা সম্ভবপর সঙ্গিনী কবেন। বিবেচনা করি নাই। আর অসূৰ্য্যম্পশ্যা, আপনি সন্ধানই বা কিরূপে কলেন ? কুমারী। কি বলছ? আমি ইষ্টদর্শনের নিমিত্ত এসেছি। আজ পূর্ণিমা, আজ ইষ্টদর্শন করাবেন কাপা। বাপু, থাকো—থাকো, ক্রমে ঐ সকল শক্তি -যােগিরাজ আমার নিকট প্রতিশ্রুত। সঙ্গিনী তােমাদেরও আমি প্রদান কৰে। তােমরাও কত শত রাজকুমারীকে বশীভূত করুতে পারবে। কবেন, এরূপ অনুচিত কথা কি জন্য বলছ? আমি চিরকুমারীত অবলম্বন করেছি, ইষ্টধ্যানে শি। অন্য চন্দ্রমাণালিনী রজনী, যদি আজ্ঞা দেন, চিরজীবন অতিবাহিত করুন। ফুলশয্যা প্রস্তুত আছে, কুমারীকে লয়ে প্রভু ২য় স্ত্রী। বালিকা! পূজার বিধি জানে না, দেহ আই বিহার করুন। কাপা। আমার অশীতিবৎসর বয়ঃক্রম অতীত দানে যেমন পূজা হয়, সেরূপ কি অপর পূজায় হতে পারে? ইনি তােমার ইষ্ট, এখনই বুঝবে হয়েছে। সেই সকল বালকের হৃৎপিণ্ডে যে যে, ইনি মনুষ্য নন, নররূপী দেবতা। চরণামৃত সমস্ত সুরা প্রস্তুত হয়েছে, সে সুরা উপর্যপরি পান কর। একপক্ষ পান করেও আমি প্রকৃত যৌবন লাভ করতে পারি নাই। আজ যে যমজ শিশু কুমারী। না, আমি ইষ্টদর্শন ব্যতীত চরণামৃত পান তাদের মাতার সহিত আনীত হয়েছে, তাদের করবাে না। কাপা। ব্যস্ত হয়ে না, আমার প্রসাদ প ন করবে। বক্ষের উষ্ণ শোণিতে সুরা প্রস্তুত করে পানি করি, দেখি—যদি সবল হই। (নর্তক-নর্তকীগণের নৃত্যগী। শিষ্য। কেন প্রভু, চণ্ডালের হৃৎপিণ্ডে যে নূতন ফুলকাননে-- মরা প্রস্তুত করেছিলেন, তার তত আশ্চর্য্য শক্তি চোখে চোখে মুখে মুখে থাকি দুজনে। আজ্ঞা করেছেন। অন্ত সেই সুরা পান করুন, ৰি আরে করে, কত রাখি আদরে, আমরা আপনার প্রসাদভােজী, প্রসাদভােজী, কুমারীর তারই সােহগে মাতি হৃদয়রাগে- আলিঙ্গনতৃষা দিন দিন বড়ই প্রবল হয়েছে। কত আশ-পিয়াস জাগে ; কাপা। কুমারীকে আজও আমাদের কাৰ্যতৎপর। দোহে দোহা চাহি কত সাধ মনে! করা হয় নাই। যদি তােমরা নিতান্ত ব্যগ্র রসঙ্গ তরঙ্গিত তারই সনে। হয়ে থাক, দেখি সুর ও সঙ্গীতপ্রভাবে আমায় কাপালিক। (কুমারীর প্রতি) প্রসাদ শন করে। আলিঙ্গনে কুমারী সম্মত হয় কি না। নক- কুমারী। এ কি কুৎসিত সঙ্গীত ! এ কি কুৎসিত নর্তকী ও উদ্দীপক সুরা লয়ে এসাে, আর নৃত্য! আমি এ কোন্ স্থানে এসেছি ? কুমারীকেও আনয়ন কতে.বল। শিষ্য। (জনান্তিকে) প্রভু, সহজে হবে না-হজে শিষ্য। প্রভু, আমরা সকল আয়ােজনই করেছি, হবে না। বিভীষিকা প্রদর্শন করা যা। কেবল আপনার আত্মা অপেক্ষা। কাপ। মাতার সহিত যমজ বালককে নিয়ে এসো। [ বাঁশরী বা সঙ্কেতকরণ। মাতৃহস্তে বালকের বক্ষ বিদারিত দেখুমন্ত্রপূত • ভারতে বৌদ্ধধরে অবনতির সময় এইরূপ সেই শােণিতের ফোঁটা ললাটে দিলেই মুগ্ধ হবে। কুৎসিত-প্রকৃতি অনেক কপটাচারী বৌদ্ধ ভারতের আর সেই চণ্ডাল-বালককে লয়ে এসে সম্মুখে নানাস্থানে প্রচ্ছন্নভাবে অবস্থান করিয়া জগতের বধ করাে। অকল্যাণকর সাধনায় নিযুক্ত থাকিত। [ জনৈক শিষের প্রস্থান।

২৪ গিরিশ-গ্রন্থাবলী (নৃত্য গীত চলিতেছে, এমন সময়ে মাতার সনদন। আমায় বধ কবে কয়ে, এদের পরিত্রাণ সহিত যমজশিশু ও চলি-বালককে লইয়া দাও । (সকলের উচ্চ হাস্যকরণ) শিষের পুনঃ প্রবেশ) কাপা। বন্ধন করে 'অগ্রে সন্ন্যাসীকে বধ কর। শিষ্য। নাও, চরণামৃত পান করাে। ( শিষ্যগণসহ শঙ্করাচার্য্যের প্রবেশ ) (যমজশিশু-মাতার চরণামৃত পানকরণ ) শঙ্কর। সন্ন্যাসীকে বধ করা নিতান্ত সহজসাধ্য নয় তােমার সন্তান রক্ষা হয় না, সেই নিমিত্ত প্রভু কাপালিক। (কমণ্ডলু হইতে জল, নিক্ষেপ তােমার প্রতি কৃপা করে এই যুগল সন বলি পূর্বক) দুরাচারগণ, নিস্পন্দ হও। গ্রহণ করবেন। এই যুগল শিশুর শােণিতে (কাপালিক ও তংশিষ্যগণের তদবস্থাপ্রাপ্তি হন) তােমার দেবতার ন্যায় পূর্ধ এই দণ্ডেই উদ্ভব ( সসৈন্যে সুধারাজার সেনাপতির প্রবেশ) হবে, সে পুত্রের কোন কালে ক্ষয় নাই। নাও, এই দুই ছুরিকা দ্বারা দুই শিশুর বক্ষ বিদীর্ণ সেনাপতি। এই যে, যতীশ্বর! আমরা মহারাজ করাে। (চণ্ডালের প্রতি) এই নে ছুরী নে, সুধম্বার অনুচর, যতীশ্বর ভ্রমণে বহির্গত হয়ে গুরুদেবের সম্মুখে বক্ষের রক্ত দান করুচণ্ডা- ছেন, রক্ষার্থে আমরা প্রেরিত। লত্ব ঘুচে ব্রাহ্মণত্ব ও অমরত্ব লাভ করবি। শঙ্কর। বীরবর, মহাদেবীই আমার রক্ষাকর্তী। চণ্ডাল। না না, আমায় ছেড়ে দাও, আমি বুকে নরনাথকে আমার আশীর্বাদ প্রদান কবে, চুরী মারতে পারবাে না। আর আমার অনুরােধ জ্ঞাপন কবে যে, এই ব্যভিচারীদিগকে যেন ভারতবর্ষ হ'তে বহিষ্কৃত শিষ্য। খ দ্বারা বন্ধ করবো? করেন। এদের বন্দী করে লয়ে যাও। কাপা। না, তিষ্ঠ, অগ্রে এই কাৰ্য্য সমাধা হোক। শিষ্য। (যমজ শিশু-মাতার প্রতি) নাও নাও, ( রাজসৈন্যগণ কর্তৃক কাপালিক ও তৎশিষ্যগণকে সন্তান বলি প্রদান করো। বন্ধনকরণ ) কাপা। যুবতীকে অগ্রে আমার কোলে স্থাপন করো, (যমজ শিশু-মাতার প্রতি) মা, তােমার পুত্রায় নচেৎ যুবতী ভীত হবে। শতবৎসর পরমায়ু লাভ করূবে। (কুমারীর কুমারী। কি বিভীষিকা! এ যে অনাচারী ব্যভি প্রতি) কুমারী জননি, অচিরে তােমার ইষ্টদর্শন চারী কাপালিক । হবে। (চণ্ডালের প্রতি) যুবক, তুমি কায়মনে শিষ্য। (যমজ শিশু মাতার প্রতি) নে-বলি দে। ব্রাহ্মণ-সেবায় রত হও, তােমার চণ্ডালত্ব দূর মাতা। না বাবা, আমার সন্তান না বাঁচে না বাঁচুক, হয়ে যােগি-গৃহে জন্ম হবে। আমি সন্তান বলি দিতে পারবাে না। জয় যতীশ্বর শঙ্করাচার্যের জয়! চণ্ডল। ও বাবা! মেরাে না-মেরাে না- শঙ্কর। সেনাপতি, এদের নিজ নিজ স্থানে লয়ে কুমারী। (আকষিত হইয়া) কপট সন্ন্যাসী, আমায় যাও। স্পর্শ করিস নে কাপা। প্রেয়সি, স্ত্রীলােকের মন-উদ্দীপনা মাত্র। [ সশিষ্য শঙ্করাচাৰ্য ব্যতীত সকলের প্রস্থান। কুমারী। মহাদেব-মহাদেব, রক্ষা করাে- বৎস, স্বচক্ষে অবলােকন করলে, কিরূপ অত্যা: চার! শক্তিধর কুমারিলট্ট বৌদ্ধগণের সম্পূর্ণ (বেগে সনকালের প্রবেশ) বিনাশসাধন করতে পারেন নাই। অনেকেই সনদন। ভয় নাই—ভয় নাই। (কাপালিকের কৃত্রিম পােবন নির্বাণ করে প্রচ্ছন্নভাবে অৱ- প্রতি) আরে দুয়াচার কাপালিক- স্থান কষ্টে। এদের প্রক্রিয়া যারা দানবীয় শক্তি কাপা। কে ও? সন্ন্যাসী!-তােনার মন্তকে লাভ হয়, সেই জন্য অনেক ভ্রান্ত জীব এই দু- প্রয়ােজন। (শিষ্যগণের এতি) বন্ধন করে চারদিগের অনুগামী। এই দুরাচার-কমন তার বধ করে। মহাদেব তােমাদের উপর স্থাপন করেছেন } সকলে।

শম্য। তেম সকলে মা এ করে, বলো, শিববাং-শিৰােহ। সকলে। শিৰােহং-শিৰােহ। (সকলের গত) মনােৰুহাচিদি নাহ, ন শ্রোত্ৰং ন জি ন চ আনে। মচ ব্যোম ভূমিন তেজো ন বায়ু শ্চিদানন্দরূপ শিৰােং শিৰোহম। নপুণ্যং ন পাপন সৌখ্যং ন দুঃখ, এ মন্ত্রোন তীর্থং ন বে ন যা। অহং ভােজনং নৈব ভােজ্যং ন ভােজ, চিদানন্দরূপঃ শিবােহহং শিবােহ। ন মে মেষরাগৌ ন মেলােতমােহে, মদো নৈৰ মে নৈব মৎসৰ্য্যভাব। ন ধৰ্মো ন চার্থে ন কামাে নমোেক্ষ- শ্চিদানন্দরূপঃ শিবােহহং শিবােহ। ন মৃত্যু শঙ্কা ন মে জাতিভেদ, পিতা নৈব মে নৈব মাতা ন জন্ম। ন বন্ধু মিত্রং গুরুনৈৰ শিষ্য- শ্চিদানন্দরূপঃ শিববাহহং শিববাহহ। অহং নিৰ্বিকলাে নিরাকাররূপে, বিভুব্যাপী সৰ্বত্ৰ সৰ্বেন্দ্ৰিয়াপা। ন বা বন্ধনং নৈব মুক্তিন’ ভীতি শ্চিদানন্দরূপঃ শিবােহহং শিববাহহমু। হেন কঠিন ব্ৰত ফোন এনেনে? সংসার খান হৰে তৰ কানে। প্রভু, তব আসীন কঠোর সাধনে কর্মকাণ্ড বেদেয় হয়েছে প্রবর্তিত যােগ্যব্রত সংস্থাপিত পুনশ্চ ভারতে। বিহনে তােমার কর্মকাণ্ড লুপ্ত দেব হবে পুনর্বার। শিষ্য প্রতি তব নেই জননীর প্রায়, পুল+মুখপানে চাই ফণায়, ক্ষান্ত হও মহাত্মন, পুত্রের মায়ায়। কুমারিল। চিন্তা দূর কর বৎসগণ! ছিল যে প্রয়ােজন শরীয়ধারণে, সে কাৰ্য্য হয়েছে সমাধান। যমাত্ৰ জেনে এ শরীর ; কাৰ্য্য অবসানে কিবা যন্ত্রের আদর? কর্মকাণ্ড বিলুপ্ত না হবে কদাচন। বেদবিধি উদ্ধার কারণ,ইয়াছে মহান্ উদ্ভব!- বালপুৰ্য প্রায় তার কিরণমালায় দশদিশ প্রকাশিত। মধ্যাহ্ন-মার্তণ্ড-ফ্যোতি যবে বিকশিবে, ভ্রান্তি-তম কোথাও না রবে- ভারতে হইবে পুনঃ উচ্চ বেদধ্বনি। প্রভাকর। প্রভু, কেন হেন ছলনা এ দীনপুত্রগণে! নিৰ্ম্মল শরীরে দেব প্রায়শ্চিত্ত কি! কুমারিল। জানো না জানে না বৎস পাপের প্রভাব। একমাত্র নিরঞ্জন নির্মল কেবল, সমল সকলি আর এ তিন ভুবনে, কেবল অপাপবিদ্ধ বিহু সনাতন। শুন বৎস, যৌবন যখন, বৌদ্ধগণে করিতে ছলনা করিলাম শিষ্যত্ব স্বীকার। শিষ্যত্ব না করিলে গ্রহণ, গুহ্য বৌদ্ধ-তত্ব নাহি হব অবগত। করি এই কপট আচার, হইলাম জ্ঞাত বৌদ্ধ গুহ্য সমাচার ; করিয়াছি ব্যক্ত ব্যভিচায় সে সবার। সুবৰা রাখার স্থানে পাইয়া আয়, সাধিয়াছি বৌজের সংহার। ২য় শিষ্য। বিনাশিয়ে কপট-আচারী ৰৌ গণে পাপর্শ হইল কেমনে? পঞ্চম গর্ভাঙ্ক। কুমারিলভট্টের আশ্রম। তুষানলে তত্যাগাভিলাষী তুষমঞ্চোপৰি উপবিষ্ট মারিলভট্ট, সম্মুখে প্রভাকর প্রভৃতি শিষ্যগণ। কুমারিল। যাই ৰৎস, তোমা সবে করিয়া কল্যাণ। পূর্বকৃত মহাপাপ-পাশ্চিত্ত কারণ, ভূষানলে দেহত্যাগ বিধান কেবল। শােক পরিহর, কর্তব্যে না হও পরায়ুখ। প্রতকর। প্রভু, অকৃতী এ অভাজনগণে, বা না করিছ কি কারণে। পাপ কি পরশে কতু এ দেব-শরীরে? তবে কেন স দারুণ আনলে ত সমর্পণ ?

গিরি+ৰণী। 4 কুমারিল। যে হােৰু সেহােক বৎস,শিশদাতা যেই, শঙ্কর। বাক্য মম ধর তেজীয়া! এক বা শিক্ষাদান যে জন কৰিৰে, মতিম হও হে সম্মত, গুরুপদবাচ্য সেই, শালের বান। যােগবলে করি তােনা যৌবন প্রদান, বৌদ্ধনাশে স্পর্শিয়াছে গুরুবধ-পাপ। পূর্বঅ দেহ লাভ করিবে এখনি। অন্য মহাপাপ মম করই এবা- চিত্ত তৰ অনুতও পাপে, যে সত্য করিতে প্রমাণ, ‘তামসি’ বাক্যে অপ হইবে নির্বাণ । বেদহীন বৌদ্ধবাদ খণ্ডন কারণ, তুলা যথা অগি-পরশনে, কোন এক বৌদ্ধ ধনে রাজার সভায়, নাগ্নিতে সে প্রকার দগ্ধ পাপ। আহিল সে বৌদ্ধ মম প্রধান শিক্ষক, মহাবাক্যে দেহে পাপ না রহিবে আর। দৃঢ়পণে কহিলাম সবার নিকটে হে ধীমা কর মােরে সম্মতি প্রদান। ঝম্প দিব গিরিশৃঙ্গ হতে, কুমারিল। মহাভাগ, অবসান কাৰ্য্য এ সংসারে বেদ যদি সত্য হয়, তবে মন প্রাণ। তবে আর পঞ্চভূত-নির্মিত বিকার শৃঙ্গ হতে পানে রহিল জীবন। সহিবারে কহ দেব কোন্ প্রয়ােজনে। কিন্তু সংশয়ব্যক বাক্য করি উচ্চারণ, মায়াধীশ তুমি প্রভু, তবু মােগশ্বর, বেদ যদি সত্য হয়—হেন দ্বিধা তাষে, মায়ার প্রভাব কি প্রকার পাপপর্শে হইলাম একচক্ষুহীন। দেখ দেব মানবশরীরে। যদি বাক্য উচ্চারণে সংশয় বুঝায় ; মহামায়া কাঁদে, ব্রহ্ম তার কাছে, সে মহাপাতকী, যার বেদেতে সংশয়। মুক্ত কর দারুণ বন্ধনে। বৃঢ়রূপে কর শেষ বচন গ্রহণ,- যাই নিজ ধামে, করিয়াছি আদেশ সাধন। সংশয় বুঝায় যাহে হেন বাক্য কতু- লতিতে পরম দেহ আজ্ঞা দেহ দাসে। বেদের সম্বন্ধে বৎস, কমে না প্রয়ােগ। অত্যুদয় তব জ্ঞান করিতে প্রচার ; প্রিয় পুত্র তােমরা আমার, লয়েছ অদ্বৈতবাদ স্থাপনের ভার, অন্তকালে কর দেহে অগ্নি-সংস্কার। তাহে নাহি হবে তব মােরে প্রয়ােজন। প্রভাকর। প্রভু, মার্জনা করুন, সন্তানগণকে মণ্ডন নামেতে সুধী মিশকুলােক, কঠোর আজ্ঞা প্রদান যাবেন না। কর্মকাণ্ড অধ্যয়ন করি মম স্থানে, কুমারিল। দেখ বৎস, পাপ-তাপ তীৰ কি প্রকার। কৰ্ম্মিশ্রেণী-মাঝে সেই আচাৰ্য প্রধান, পাপানল দেহ দহে দেখই আমার। গার্হস্থ্যর প্রবর্তক, নিবৃত্তিতে অনাদর তার। ( অকস্মাৎ কুমারিল ভট্টের দেহে অগ্নি উদীপ্ত হন। পরাজয় কর প্রভু তায় শিষ্যগণ। প্রভু কি কলেন—হায় হায়, কি হলাে । শুদ্ধতত্ব তত্বমসি' জ্ঞান করি দান, কুমায়িল। নােদন সংবণ করাে, আমার ধৈৰ্য্যচ্যুতি জ্ঞানকাণ্ড-মাহত্য প্রকাশ’ যতীশ্বর। করাে না। প্রভু, কোথায় তুমি! এখনাে জানলাতে কাকা আয় কেবল। তো দর্শন দিলে না ? এখনি তত দেহ-য ভন্ম মুক্তিপ্রদ কৰ্ম্ম ফতু নহে, হবে, আর কিরূপে তােমায় দর্শন কৰাে! কই, করহ মাণ প্রভু,এখনাে তো মা হলাে না। এই যে, মিশে করি তত্বমসি’ দিব্যজ্ঞান দান। এই যে দয়াময় কৃপা করে উদয় হয়েছেন। শঙ্কর। কছ ধীর, কোথা সেই মিশ্রের আশ্রম, (শিষ্যগণসহ শঙ্করাচার্য্যের প্রবেশ) কোন মহাশর সেই জন, শর। অহ ধৈৰ্য-অব তেজ। কিৰা কাৰ সিদ্ধ হবে পাখি রে । কুমারিল। প্রতু, আজ্ঞা দেন, অনলে দেহ আহুতি মম সহ বলে বা কি হেতু এৰেখিবে, প্রদান করেছি—পূর্ণাহুতি হলে তােমায় দর্শন কেনে মধ্যস্থ কে হবে ? করে স্থানে গমন করি। পাজা কে করিবে নির্ণয় 9 শীরা। ২৭ । . কুমিল। রেবাটীতে মাহিয়ঞ্জীৱৰাণী। খুৰ পাছড়েছিল। আর, মাথা না। পরে তার, ইৰ ককাৰ্যার, মস্তক অবনতকরণ ও শিউলীর পাল কর্তন) প্রধান খাত আছে সকলে। কেমন, আবার পালা परे कान - মন বোন, আমার কাছেই রইলাে, যা-গল তােল। মধ্য স্বীকার নােম পীরে তাহার ; [ মত্যাগ ও গুরুর পুৰাপ্রাপ্তি। সরস্বতী শাপগ্রস্ত হয়ে ব্রহ্মলােকে পালা কটা গুছিয়ে নিই, মাগী মানে। মিশ্রণয়িনীরূপে আছেন ভূতলে। (শঙ্করাচার্যের এদেশ) দম্পতীর পরাজয়ে মানিৰে বিষয় ; মােক্ষলুব্ধ যথা যেই সাধু সদাশয়, শঙ্কর। (স্বগত) কি আশ্চর্য বি, এমনিট আদরে অবত-পা করিবে আশ্রয়। বিগ গ্ৰহণ কবি। (একাছে) প্রভু কহি শুন মণ্ডনের আবাস-লক্ষণ, নের প্রতি কটাক্ষ করুন। তথা যেমগান করে পক্ষিগণ, শিউলী। . আরে কে রে? তুই কাকে বলছি। কর্ম হেতু পুনঃ পুনঃ বেদ উচ্চারণে এই গড়াগাছটা দেখে বুঝি বামুন ঠালি? বেদবাক্য শিখিয়াছে বন্যপক্ষিগণে। তােদের গায়ে বুঝি বামুন নাই, পৈতে চিনি মধুম স্বতত উখিত সেই পুরে, নি? তােদের গা-খানি তত যে, বামুনের কাৰ্য্য সিদ্ধ হবে বলে আনি কবীরে। দৌরাত্মি নাই। আমাদের এখানে কানে বড় যাবৎ এ পাপ-তনু ভস্ম নাহি হয়, জ্বালিয়ে যায়,আর যেগুলো জটা রাখে-সেগুলাে কৃপায় এ স্থানে তিষ্ঠ দেব দয়াময় । ডাকাত। ছােটলােকের ঘরে বউ-ঝি ব্যয় করে ( শিষ্যগণের প্রতি) রে-বউ-বি বার করে। 'তােদের গাখানি শুন মম প্রিয় শিষ্যগণ বেশ, বামুন নেই বেঁচেছিস। ত্রাণকর্তা হের, কর আশ্রয় গ্রহণ। শঙ্কর। প্রভু, আমার প্রতি কৃপা করুন। শঙ্কর। ভট্টরাজ, বললা—শিববাহহম- শিউলী। আ গেল যা, আমি বলছি--আমি বামুন কুমারিল। (শিষ্যগণের প্রতি) মহাবাক্য গ্রহণ নই। বামুন দেখবি তো চ-দেখাই গে। কননা, বলল—শিবােহ শিৰােহহ- তাের কথাকে কথা কেড়ে নিবে। আমি তাই সকলে। শিবােহহং শিবেংহ। ভয়ে বামুনের ছাই মাড়াই নি। আর যদি ( সকলের গীত) জোয়ান বউ-ঝি দেখেছে তাে অমনি নােস, সকিয়েছে। বউ-ঝিরা রাত করে সব কাগকে মনােহাচিদি নাহং ইত্যাদি। যায়, নইলে টেনে নিয়ে চলো। মদ খাওয়ানে বৰা ফুল পরালে, এই এমন বাধায়ের বাধায়ে এই বানগুলাে। * [ বুঝলিজাত-জন্ম আর রাখেনি। শর। আপনার বি আমায় দান করুন। শিউলী। আরে ওই—এ কোন গাঁয়ের ছেলেটা। প্রথম গর্ভাঙ্ক। . আমার সাত পুরুষে ল্যাখাপড়া করে নি। যদি বিয়ে চা, একটা ৰামুন দেখে ধাগা যা, তবে বাপথ। জল ভুলিয়ে লিৰে, কাট ফাটিয়ে লিবে। আর উভয় পার্শ্বে তাল, নারিকেল ও খবৃক্ষশ্রেণী। দে, তাের বাড়ীতে যদি তাের বুনটুন থাকে, (কাতালহন্তে জনৈক শিউলীর প্রবেশ) দেখা নি—দেখা নিৰাৰ মালা গলায় দি শিউলী। (একটি তার প্রতি লক্ষ্য করিয়া) এই জাত খাবে। এই তাে তোকে যা বামুন বার লেকে দেখছি তুই খুৰ ৰহয়, আবার দেখেছি কি বউ-ঝি সরিয়েছি। আর আমরা তাে --- তৃতীয় অঙ্ক।

গিরিশ-বিলী। উচিত নয়। পদে আছি, চাড়ালগুলাের বউয়ের জাত খাবে, দ্বিতীয় গর্ভা। সদ্য ছেলেটা দুটো নিজের মাকে ফেলে চেপে মাবে, শুকিয়ে তার উপর বসে মদ খাবে, মন মিশ্রের' বাটা। বলবে পরে বসে মধু খাচ্চে।] • বিচ্চ বেটার মন মিত্র ও উভয়ভারতী। যেন কেলে ভাে, আর জান্নান চড়াল রাত মণ্ডন। বিরক্ত করে তুলেছে—বিরক্ত করে ভিতে দেখেছে কি ঠেগিয়ে মেরেছে। শঙ্কর। শিৰ-শিবশিব ! কি অত্যাচার ! দেৰ তুলেছে। কোথা হতে এক সপ্রায় শাস্ত্র জ্ঞানহীন পাষণ্ডেরা এসেছে, পরিচয় দেয় সন্ন্যাসী, দেব, শক্তি প্রদান করুন, এই বামাচার দমন মূঢ়ে অবগত নয় যে, কলিতে সন্ন্যাস নিবে। করি। বেদ্বেষী বৌদ্ধ, মানব অহিতকর কুৎসিত এরূপ সন্ন্যাসগ্রহণ তাে করিতে বিধি আছে? শক্তি অর্জনের জন্য এইরূপ কুৎসিত আচারে মগুন। কে বলে বিধি আছে?-হয় বোর্থ প্রবৃত্ত হয়। বোঝে না, সেই জন্য বলে বিধি আছে। আর শিউলী। তুই কি চাড়াল? তাে স’রে না। জোয়ান সন্ন্যাসপ, বিধি থাকলেও সে পন্থা-গ্ৰহণ কপি চাড়াল মেরে হাড় বেছে নিয়ে মালা বানায়, তারা এক প্রকার বৌদ্ধের প্রায় আর মদে বুড়িয়ে রাখে। নাস্তিক, ককাও যাগযজ্ঞের প্রতি আস্থাহীন। শঙ্কর। প্রভু, দয়া করুন, আমি আপনার শরণাগত। ঈশ্বর, জ্ঞান, এই সমস্ত অযৌক্তিক বাক্য সৰ্ব্ব- শিউলী। তুই রস-টস খাস না কি? তা আয়- দাই আলােচনা করে। ভগবান্ জৈমিনি তােরে ঠোঙা করে ঢেলে দেবে। আর এই মীমাংসাশাস্ত্রে দৃঢ়রূপ প্রতিপন্ন করেছেন, মরূপ হচ্চে, দু’গরস খেয়ে নিল তো খেয়ে লিবি। ঈশ্বর ব্যতীত “ঈশ্বররা নাস্তি।” শর! প্রভু, আমি এ সকল প্রার্থী নই। উভয়। তুমি বুঝি আজ তর্ক করতে পণ্ডিত পাও শিউলী। তুই কি শিউলীর ছা? আমার কান্তে- নি, তাই আমার সঙ্গে তর্ক করুতে এসেছ ? খানা লিবি? মণ্ডন। এক প্রকার যথার্থই অনুমান করেছ। শঙ্কর। না, আপনি যে মন্ত্রে বৃক্ষের মস্তক অবনত উভয়। উভয়। কেন-এত লােকের সঙ্গে ব ব করে কল্লেন, আবার পূর্ববৎ হ’তে আদেশ দিলেন, মন ঠাণ্ডা হ’ল না? সেই মন্ত্র আমায় প্রদান করুন। মণ্ডন। আরে নাও, একটা যুক্তি খণ্ডন করার শিউলী। ও! তুই দেখেচি না কি? মাগী বুঝতে শক্তি কারাে নাই, তাদের সঙ্গে তর্ক করে কি পারে, ওই ডরে তাে রাত করে কামাতে আসি। তৃপ্তি হয় ? কেউ যদি দেখে তত ব’লবে ভূতুড়ে মন্ত্র শিখেছে। উভয়। না, আমায় মার্জনা করাে, আমি তােমার ৰামনাগুলাে ধরে নিয়ে গিয়ে বলি দেবে। সঙ্গে বসে সমস্ত রাত বকাবকি করতে পারব। শর। দিন প্রভু, আমায় কৃপা করে মন্ত্র দিন। । কল্য তােমার পিতৃশ্রাদ্ধ, ভােরেই আয়ােজন শিউলী। দুই কি শিউলীর ? কতে হবে। শর। না বাবা, আপনার দাস-আপনার পুত্র। মণ্ডন। কি অযৌক্তিক কথা সব বয়ে, শুনে তুমি শিউলী। ওরে পরাণটা জুড়িয়ে দিলি রে ! আমার হাস্য সংবরণ করতে পারবে না। আরে মুখ, ঘরে ‘বাবা’ বদ্বার হ্যালাে, সেটা যমে নিয়েছে। অযৌক্তিক কথা কি মন মিশ্রের সঙ্গে চলে! দ্যাখ, যন্ত্র তােরে শিখুচ্চি, যত দিন এ গাঁয়ে ঈশয় ফলদাত, এ অযৌক্তিক কথা শিষ্যকে থাবি, এক একবার আমায় বাবা ববি, আর বােঝা গে । নিত্য প্রত্যক্ষ দেখে কফিল তা না বলি--মাগকে এক একবার মা বলি। মানে না, একটা ঈশ্বর এনে ফলদাতা উপস্থিত মাগী ব্যাটাটার মধ্যে বড় কাদে জানি। তাের করে। আরে মূৰ্থ, অগ্নিতে হস্তক্ষেপ করলেই মুখে মা বাকি শুনলে তার মনটা একটু দগ্ধ করবে। কৰ্ম্মফল প্রত্যক্ষ, যুক্তিসাপেক্ষ, সামাই খাবে। আয়, মন্ত্র দিবে। নয়। যা প্রত্যক্ষ, তার বৈপরীত্য যুক্তি যার [ উভয়ের প্রান। প্রমাণ করার প্রয়াস পায়। f ২ উ। একটু স্থির হও ঠাকু, আমি তাে আর তৰু" শিউলিনী। আর ঘর আর কোন থাকে না। কছি না যে,তুমি আমার কাছে হাত-মূখনা। আমার ঘর বে অধর হয়ে গিয়েছে। মণ্ডন। আঃ, শােনন না-শােনন না—কথাটাই প্রতিবেশিনী। তা না, সাঁজ হয়ে এলাে, ইখানকে শােনাে না, আমি ভগবান জৈমিনি হতে শ্লোক বসে কি করবি? বা, সর্শার গেটে আসবে, উদ্ধৃত করে একেবারে সকলকে নিরস্ত করলুম। তার খাওয়া-দাওয়া দেখবি নি ? উভয়। আর বলায় কাজ নাই—থামাে। শিউলিনী। আর না, সে কি মুঙে ভাত দেই, আমি মন। ভুমি ৰ বার্থপর। এই তুমি যখন গণনাদি যে তার ডরে ঘরকে কানি নি, বুকে পাথর করে, আমি তােমার আমলের নিমিত্ত তােমার বেঁধে থাকি, আমাকে ফাতে দেখতে সে ভেউ নিকট গিয়ে সে সকল আলােচনা করি। আর ভেউ করে কানে, তাই ইথানকে কানতে এই। আমি আমােদ 'করে বলতে এসেছি, তুমি আমার সে চাদা গিয়েছে, আমায় পরাটা আমার তর্কের কথা শােনাে না। আজ হতে এখনো রছে। এতক্ষকে যে পাশ আমার প্রতিজ্ঞা,তােমার গীতও শুনবাে না,বীণা- কুড়িয়ে ঘরুকে আসতো, খাবার নেগে হত ৰান্তও শুনবাে না, তোমার অবিচারও দেখবো কতো, বড় বালেরে ছালাে, বলতো ঝাল । হ্যা, আমি এমন মিশ্র নই, আমার এক হয় নি, খুন হয়নি, গােসা করুততা; আমি ভুলিয়ে কথা, তখন বুঝবে। হ্যা--আমােদ করে বলতে ভালিয়ে মুখে খাবার দিতুম। এই ফাল পাড়ছে এসেছি, উনি শুনবেন না, কেবল দেখি? এই পালা কাটছে, এই হাতা-সেথা দৌড়ছে, উভয়। তুমি আমার বণা না শােনাে নেই শুনবে, এই মা বলে ঘরকে আসছে। মিন্সেকে কাজে আজ আমি তােমার তর্ক শুনবে না। যেতে দিতে নি, বলতো-কেনে—এখন আমি গুন। তবে যাও, আমার মন্দাগ্নি হয়েছে,আজ আমি ডাগর হয়েছি, আমি গাছে ভাড় ৰাৰো, হাটকে আহার কবে না। কাল পিতৃ-দ্ধ, চণ্ডী গিয়ে রস বেচবে। মােয় হাত থেকে বোটন- মণ্ডপে গিয়ে শয়ন করি। কাটা লিয়ে বলত—“গুড় বনাবাে। আমার উভয়। না না, রাগ করো না, শুনবােবই কি, তুমি সে চাঁদা বাটাকে যমে নিলে মা-যমে নিলে। জলযােগ কতে করতে বলবে, আমি শুনৰে যাবার সময় বলে, দু’চক্ষে জল গড়াচ্ছে বলে মণ্ডন। যাচ্ছি—যাচ্ছি, শােনাে না; শােন না “মা আমায় রাখতে লাৰি। তারা মাের উভয়। এসাে এসাে, সৰ এত্তত, নষ্ট হবে। ছাতিতে পা টা দে, আমার পরাণটা মণ্ডন। উদর এক মহা ৰিম, ভগবান জৈমিনি উ মিন্সের লেগে ঘরকে থাকি মাইলে এক বিল রের দৌরামে কেন অভিসম্পাত প্রদান করেন নি, আমি তাই ভাবি। প্রতিবেশিনী। তা সর্দারণী, কেনে কি কৰি। উভয়। এসাে এসাে পােভর মুখে যম, ঘর-ঘর কাছে। নে ও মণ্ডন। অতি মুঢ়ের ন্যায় কথা, কর্মফল প্রত্যক্ষ ঘরকে না, আবার মিলে এসে ঢৰে। [ মন মিশ্রের হস্তাধারণ পূর্বক টানিয়া লইয়া শিউলিনী। যাই মা, ঘর তো নয় না, আমার বন উভয়ভারতীর প্রস্থান। পারা কেচে। (শঙ্করাচাৰ্য্যকে লইয়া শিউলীর প্রবেশ) তৃতীয় গর্ভা। শিউলী। ওরে মাগী, দেখ দেখ,-কারে সাথে নিয়ে এসেছি দেখ ! আঁখি মেলে দেখ, দেখে পরাণ শিউলী-পনীয় অপরাণ। জুড়বে। শিউলিনী উপবিষ্টা ও সম্মুখে তৎপ্রতিবেশিনীগণ। শিউলিনী। আহা! কার ছ রে কার ? এতিবেশিনী। সর্শায়ণ, তুই ইরানকে ৰসে বলে শঙ্কর। মা, আমি তােমার ছেলে। কাৰি। আহ। কেনেকি কবি। যা ত্বকে । শিউলিনী। ও ৰায়। আমার মা বলে ডেকে নি, দিয়ে চলে যেত।

গিরিশ-গ্রন্থাবলী। আমি রাক্ষসী, আমার না বলা সয় নি! আয়, পরের বাছা, আমার মা বলে নি ? শঙ্কর। কেন মা, তুমি আমার মা, তােমায় কেন মা বলবে না? শিউলিনী। ওরে যাদুমণি -যাদুমণি-বাপন- আমার চাঁদাধন, আয় আয় ঘরকে আয়, আমার আঁধার ঘর আলাে কবি। শিউলী। মাগী মাগী,-চাদা, চাদ-মুখে আমায় বাপ, বলেছে! শিউলিনী। আয় চাদা আয়, ঘরকে বসবি আয়। প্রতিবেশিনী। (স্বগত) আহা, কার বাছা রে- আহা, কি চাঁদপারা ছেলেটি রে! মা বাকিতে মাগীর পরাণটা জুড়লাে ! (জনৈক পণ্ডিতের প্রবেশ) পণ্ডিত। হেথায় কোথায় নীল জৰা, মন মিশ্রেয় যেমন আক্কেল-শিউলীপাড়ায় নীলজ—দুল পুষ্প তার জন্য এখানে ফুটে থাকবে! জারে। ওই শিউলী ছেড়াগুলো কাকে বেষ্টন করে নৃত্য ক’চ্ছে। মুণ্ডিত মস্তক, গৈরিক বস্ত্র পরিধানে, এ তাে দেখছি একজন সন্ন্যাসী ৰা, রহস্যটা কি দেখতে হলাে। [ প্রদান। : চতুর্থ গর্ভা। শঙ্করাচার্য্যের আশ্রম। ( শিউলী-বালকগণের প্রবেশ) ম বালক। সর্দার নায়ি-সর্দার মামি! এ কি নূতন চাদা দাদা এসেছে ? শর। হ্যা ভাই, আমি তােমাদের চাঁদা দাদা। বালকগণ। বাঃ বাঃ, বেশ নুতন চাঁদা দাদা! ১ম বালক। চাঁদা দাদা, তুমি খেলা? শর। যা। বালক। তুমি আছো ? * শরুম। ঘা। ৩য় বালক। তুমি মােদের আদর কবে? শয়। তােমরা যে আমার ভাই, আদর কথাে না? বালকগণ। বাঃ বাঃ বাঃ। শিউলিনী। আয় আয়, তােরাও তাের চাঁদা দাদার সঙ্গে চল, আমি ফুলকো বানাবাে, তােরাও এক এক গাল খাবি। শঙ্করাচাৰ্য্য ও সনন্দন। সনন্দন। অন্য মণ্ডনের পিতৃশ্রাদ্ধ, দ্বারবানেরা কদাচ প্রবেশ করতে দেবে না। সন্ন্যাসী মশুক মুন পূর্বক নিজের পিণ্ড নিজে দান করে, সে নিমিত্ত গৃহে শব থাকায় যেরূপ কাৰ্য্য পণ্ড হয়, সন্ন্যাসীর আগমন সেইরূপ বিঘ্নকর, গৃহস্থের ধারণা। সেই হেতু পিতৃশ্রাদ্ধে সন্ন্যাসীর দ্বারস্থ হওয়ার প্রতি মণ্ডনের বিশেষ নিষেধ। আর শুনলেম, ওন মিশ্ৰ উগ্ৰস্বভাব। আপনার আগমনে কাৰ্য পণ্ড হলে আপনাকে অপমানিত কতে পারেন। শঙ্কর। বৎস, মহাদেব মহাদেবী দিয়াছেন ভার, দেবকাৰ্য করিব উদ্ধার, ইথে বি কদাচ না হবে। স্নেহময়ী জননী যেমতি রাখেন সন্তানে বক্ষে করিয়ে ধারণ, সেইমত জগন্মাতা এ দন সন্তানে মহাশক্তি আবরণে মনে সতত। দেবকার্যে বি অসম্ভব। করিয়াছি যিলাভ গুরুর প্রসাদে, বেই বিতাবলে মণ্ডনের গৃহ-পার্কে নারিকেল তরু করি মাের মস্তকে ধারণ গুন-শা-মাকে করিবে স্থাপন। চিন্তা ত্যাগ কর’ মতিমা মহামায়ী অসম সন্তানে- পুত্র তার কুত্রাপি না পারে পরাজয়। (বালকগণের গত) । ০ বাঃ বাঃ বাঃসুতন চাদা দাদা লিয়ে খেলবে। নেচে নেচে বাটে চৰে-হৰৰ-হেলদাে। খেলবে দুটাছুটি, খেৰৰ ধূলালুটী, খেলৰৰ ৰুলৰাপ, খেলবে তুড়িলাফ, চাকে কাধে লিৰ, কাঁধে চাপবে। চাঁদা দা লিরে, গাৰ তালি দিয়ে, লতার দোলায় সে হলবাে॥ [ বালকগণের গান গাহিতে গাছিতে প্রস্থান।

নাচ। পরম পণ্ডিতগণ হলে সম্মুখীন, বি তার এহামায়ী করেন হরণ; সেই হেতু সর্বত্র বিজয়, মম শক্তি-বলে নয়, অজেয় জগতে আমি মায়ের ভাবে। সনন্দন। বুদ্ধিশক্তিহীন এই দীন দাস তব, সলেহ-ঝটিকা করে আলােড়িত হৃদি। শী-তর্ক হৈল তবে ব্যাসদেব সনে; তাহে মম জন্মেছে ধারণা, মীমালা সম্ভব নহে তর্কলে কভু। শাজ্ঞানলাভে তব কিবা প্রয়ােজন? প্রত্যেক দর্শনশাস্ত্র ঋষি-বিরচিত, কিন্তু দর্শন বিরােধী পরম্পর; এ বিরােধে আকুল অন্তর মম। যদিও চরণাশ্রিত সন্তান তােমার, তথাপি সলেহ মনে হয় নিরন্তর, ব্রহ্মজ্ঞান অর্জন কিরূপে হবে মম, প্রত্যক্ষ কিরূপে হবে সত্যের মুরতি। শঙ্কর। বৎস, স্থিরচিত্তে করহ শ্রবণ, তর্কযুক্তি শক্তিহীন সত্য-নিরূপণে— তর্কে তাহা হয় নিরূপিত ; তর্ক-বুদ্ধি-নাশ হেতু তর্ক প্রয়ােজন গুন বৎস, যে কারণ হইয়াছে দর্শন রচনা। মানব-কল্যাণ হেতু মহাঋষিগণ, যে সময় মানবের অবস্থা যেমন, করেছেন উপযােগী দর্শন রচনা। বেদমর্শ-বর্জিত কুতর্করত জন- নিরাস কারণ, দর্শনের প্রয়ােজন। নির্মল হৃদয়ে হয় সত্যের উদয়, সত্যমূর্তি নাহি হয় দর্শনে দর্শন। সনন। মস্তিষ্ক ঘূর্ণায়মান দাস অকিঞ্চন, বিমল অতপন্থা বুঝিতে না পারি, নদাতা, করে জ্ঞান দান। শঙ্কর। বৎস! অস্তি, ভাতি, প্রিয় এই মহা বাক্যৰয়ে- সমূদয় বেদার্থ স্থাপিত। বিদ্যমান পরব্রঙ্ক, নিত্য প্রকাশ, প্রিয় তিনি,-এই সার জ্ঞান। এই মহা সত্যের আভাস যে মুহূর্তে পাইবে বয়ে, অরুণ-উরে যথা হয় তমােলাশ, সেইক্ষণে হৰে তৰ সন্দেহ দুরিত। “ তিতে হৃদয়গ্রাখিছিন্তে সংশয় হয় বৎস কানের প্রভায় । অন্তি, জাতি, খ্রিঃ-মহা আলােক-প্রভাবে আলােকিত হয় হৃদিল। তর্কযুক্তি দার্শনিক মীমাংসা সকল স্থান নাহি পায়, এক স্থানে বহু জানায়। সনন্দন। প্রভু। ব্ৰহ্ম অন্তি, সকাশ, প্রিয় বস্তু সেই, তিনি আমি দ্বৈত বােধ, অদ্বৈত কিরূপে? এক জ্ঞান অঝিবে কেমনে তিনি আমি তােক বানে? শঙ্কর। ধীরভাবে কর বৎস, মন সচিবে, আমা হতে প্রিয় আর কি আছে আমার? পুত্র পরিবার-প্রিয় বস্তু যা আছে সংসারে প্রিয় তাহা আমার বলিয়ে। অব প্রিয় মম আমার সমান, জন্মিলে এ জ্ঞান- আমি তিনি ভেদ নাহি নহে, প্রিয় স্থানে এক জ্ঞান জন্মে ব্ৰহ্ম সনে। এই প্রিয় জ্ঞানে ক্ষুদ্র অহম্ বিনাশ, ক্ষুদ্রত্ব ত্যজিয়া হয় অসীম অহন। ব্ৰজ্ঞানে বিলুপ্ত অহম, উদয় সােহং-ৰ অহংজ্জনে। মনবুদ্ধি অহঙ্কার লয় সমুদয়, আঅঙ্গনে অবস্থান কুল্লাহ ক্ষয়ে। সাধন-সাপেক্ষ এই মহা জ্ঞানার্জন, সাধন-নিবৃত্তি,-তেঁই সন্ন্যাস-গ্রহণ। সমনন। নিবৃত্তি সাধন যদি এই জ্ঞানার্জনে, তবে কেন আমা সবে দেন কার্যভার ? কি হেতু বা কাৰ্যভার করেন গ্রহণ। মণ্ডনের সনে বাদ কি প্রয়ােজন? শর। দেহধারী মাত্র বৎস মারার অধীন। মায়, কাধে নিয়ােগ কমিছে নিরন্তর। সৎ কাৰ্য্য প্রিকার। অসৎ কাৰ্যেতে জন করে আবৰিত, কাৰ্য ক্ষয় হয় সৎকাৰ্য অনুষ্ঠানে। সর্বশ্রেষ্ঠ কাৰ্য বিদান, ।

গিরিশ-গ্রন্থাবলী। যে কাৰ্য-প্রজবে, উঞ্জ। তুই আলাপ করেছি না কিছুই আলাপ এৰিথা-বিনাশে হয় মহা বিকার্জন। করেছিস না কি? রহ সবে ভাতৃবৃন্দ একত্র আশ্রমে, । খুব আলাপ-ইয়ার মেয়েমানুষ, আমার সঙ্গে চিন্তা কর দূর- যেচে আলাপ করেছে। করিবে মন মম শিষ্যত্ব গ্রহণ। ( অবিদ্যারূপিণী মহামায়ার প্রবেশ) [ উভয়ের প্রস্থান। পথ। মহা। কি হে হােক—কি দেখছ? পঞ্চম গঙাঙ্ক। গণ। গুরুজি, এগােও, পান্না দাও। মহা। উনি তােমার কে? গুরুজী না কি? এগিয়ে আন না। উগ্রভৈরব ও গণপতি। উগ্র। এগিয়েই তাে আছি-এগিয়েই তাে আছি, গণপতি। দোখাে গুরুজি, তােমার আগে যে এই তােমার প্রতীক্ষায় দাড়িয়ে আছি। প্রকৃতি বাগিয়ে রেখেছি, যদি তুমি হাত কতে মহা। আমিও তােমার জন্যে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। পান। তোমার মতন মােক পেলে আমি প্রেম করে উগ্র। কোথায়-কোথায় ? প্রাণ ঠাণ্ডা করি। গণ। দেখ গুরুজি, দেখলেই তােমার মুণ্ড ঘুরে গণ । গণ। তা দেখ মেয়েমানুষ, আমার গুরুজী খুৰ যাবে। রসিক। উগ্র। বটে বটে—কোথায় বন্দু দেখি ? মহা। শুধু সিকের কৰ্ম্ম নয়, আমার একটি কাজ গণ। এই সহরেই বেড়াতে দেখেছি, সে এলাে কতে হবে। বলে। উগ্র। কি হুকুম করাে–কি হুকুম করাে? উগ্র। তবে কোন সামান্য বনিতা। মহা। দেখ, মনের কথা তােমায় খুলে বলি, আমি গণ। না গুরুজিনা, পিরীতজপিরীতের বড় দুখিনী। জয়ে মরা। মনের মানুষ পায় না বলে কেঁদে উগ্র। তােমার কিসের দুঃখ, কি করতে হবে, বেড়ায়। 'ইকুম করে ? উ। তবে যােগাড় করে বাবা- যােগাড় করো। মহা। আমি শত্রুর জ্বালায় অস্থির হয়েছি, আমার গণ। যােগাড় কি আমার কর্ম রুজি ? তা বিস্তৃত রাজ্য, হঠাৎ শক্ত উপস্থিত হয়ে বুঝি হলে তাে আমি বাগিয়ে নিতু। বাগিয়ে আমার রাজ্য কেড়ে নেয়। তােমায় নিতে হবে। উগ্র। বল না বল না—কথাটা কি বল না ? উগ্র। তার কিছু আছে টাছে? শহা। আমি সত্যই বলেছি। আমার শক্ত প্রবল গণ। আছে না আছে, কেমন করে আলাে হয়ে দিন দিন আমায় রাজ্যচ্যুত করছে, তাই গুরুজি। অষ্টালার-ভূষিতা। সে দিন গজ- তােমার আশ্রয় নিতে এসেছি। গমনে আমার সামনে ঝঝ করে চলে গেল, উগ্ৰ। কি তােনার যৌবনরাজ্য না কি ? আমি হুমড়ি খেয়ে পড়তে সামলে গিয়েছি। মহা । হা-ধন-জন-যৌবন-সৌভাগ্য—সমস্তই ( অদূরে মহামায়াকে দেখিয়া ) ঔ—ঐ আমার অধিকারে। উ। আহা হা। দেখ শিষ্য, আমি একটি ফুল উগ্র। এ । পড়ে দেবাে, তুমি যােগাড় করে ঐ ফুলটি ওর মহা। তুমি মিথ্যা বিবেচনা করে না, এই আমার নাকের গােড়ায় ধরূতে চাও। অলঙ্কার খে,-এ বহুমূল্য তােমার মনে হয়, গণ। সে খুব সােজা,, এ দিকে খুব মােলায়েম কি? আর তুমি কি চাও আমায় বলল-মি যেনেয়। এলি তােমায় দেবে।

শঙ্করাচার্য। } ঝাড়ে? গণ। (অনাতিকে) গুরুজি, কিছু টাকা আদায় না। আমায় দেখছ-সুন্দরী, কিন্তু আমি তােমা করে না ? মার চেয়ে বড় ; তুমি আমার সঙ্গে প্রেম করছে মহ। কি-টাকা চাও। নাও—এই এক থলে আসছ। মােহর নাও, আমার যা কিছু আছে, সব তােমার উগ্র। ও শাস্ত্রে আছে, রমণী জননী-জননী রমণী দিতে প্রস্তুত, যদি তুমি স্বীকার পাও—আমায় মহা। এইতেই তুমি আমার প্রাণের অধিক। তু তুমি প্রাণ দেবে। শঙ্করাচার্যকে বধ করাে, তােমার এই শাস্তু জগছে গণ। (জনান্তিকে) গুরুজি, দিয়ে ফেলল—দিয়ে প্রচার করে ; তাহলেই আমার শত্রু-দমন হবে উগ্র। আমিও তো তাই খুঁচি-আমিও তো তা উগ্র। চুপ কর না বেটা, রসের কথা হচ্চে।(মহা খুঁজচি। শঙ্করাচাৰ্য্যকে বলি দিলে আমি তে মায়ায় প্রতি) হ্যা, তোমায় দিলুম, কায়মনপ্রাণ সিদ্ধি লাভ করি। তোমায় দিলুম। মহা। দেখ, তুমি আমার প্রিয় সন্তান। মহা । অমন নাচ-পূৰ্য্য সাক্ষী করে বলো, যে, গণ। (জনান্তিকে) ও গুরুজি, এ যে বেয়াড়া বাকি তুমি আমার। উগ্র। (স্বগত) কি বলে বেটী । উগ্র। তুই কি বুঝবি ছোড়া, ও খুব রসিক। গণ। জনান্তিকে) গুরুজি, ধোকা খাচ্ছ কেন? বলে গণ। এরা আবার ঝম্ ঝম্ করে কারা আসছে গাে : ফেলাে না। মহা। ওরা আমার সখী, বুঝেছ? যখন তুমি আমার মহা। তুমি পেছুচ্চো, আমি চললুম। আমি আর হলে, তােমার সঙ্গে সঙ্গে আমরা থাকবাে। এক জায়গায় মনের মতন লােক দেখে নিই গে। (অবিদ্যা-সহচরীগণের প্রবেশ) উগ্র। না না-পেছােবাে কেন—পেছােবাে কেন, (গীত ) কায়মনােবাক্যে আমি তােমার। হেসে হেসে কাছে বসে মনুমােহিনী মন মজাই যহা। তবে আমার শত্রু দমন করাে। আমার প্রধান যে রসে যে জন রসে, সে রসে তারে ভােলাই। শক্ত শঙ্করাচাৰ্য। কারু প্রেমিকা নারী, কার’ করে দিই তরবারি, গণ। কেন-কেন—তিনি তােমার শত্রু কিসে? মানের কানে কেউ জটাধারী ; মহা। তুমি ছেলেমানুষ—তুমি কি বুঝবে? ওই কাঞ্চনে বা সিংহাসনে, ভুলিয়ে আনি প্রাণের টানে, শঙ্করাচাৰ্য্য-সহায়ে আমার শক্র মাথা কাড়া পায় বা না পায় সাধের ফেরে, আশা ধরে পায়ে ফেরে, দিয়েছে, নইলে কোথা তারে এক কোণে বুঝে না বুঝতে পারে, ধরূতে সােনা ধরে ছাই । ঠেলে রেখে দিয়েছিলুম। এত দিন শঙ্করাচাৰ্য [ মহামায়া ও তৎসহচরীগণের প্রস্থান। হলে হয়তো সে মারা পড়তো। কে সে? উগ্র। নিদয় হয়ে চলে যাচ্ছ যে-নিদয় হয়ে চলে মহা। সে আমার ভী। এক মায়ের পেটে আমরা বাচ্চ যে ? যমজ সন্তান। ঠিক আমার মতনই দেখতে, [ উগ্রভৈরব ও গণপতির পশ্চাৎ পশ্চাৎ প্রস্থান। আমার ঐশ্বৰ্য্য আছে, তার বিনা ঐশ্বৰ্যতেই ঐশ্বৰ্য্য; আমার শক্তি আছে, তার বিনা শক্তিতেই ষষ্ঠ গর্ভাঙ্ক। শক্তি; আমার ভােগ আছে, তার বিনা ভােগেই আন। মন মিশ্রের কক্ষ। উগ্র। আচ্ছা, তােমার এত ঐশ্বৰ্য্য, তুমি তারে দমন পিতৃশ্রাদ্ধোত মণ্ডনমিশ্র ও পুরােহিত। করতে পারাে না ? (সহসা নতশির নারিকেলবৃক্ষ হইতে মুণ্ডিতমস্তক ও মহা। না-সে দুম। তারে দমন করতে যদি পারে ফছাধারী শঙ্করাচার্যের অবতরণ ) -সে একজন, বোধ হয় তুমি। মণ্ডন। এ কি বিয়! আরে অস্পৃশ্য শবদেহ-স্বরূপ উ। কিসে জানলে? কাৰ্য্যহা মুণ্ডিতমস্তক কোথা হতে। [৫] উগ্র।

৩৪ গিরিশ-গ্রন্থাবলী । আপনার তো চক্ষু আছে, দেখছেন—এই আবদ্ধ রাখে এবং চোরের ন্যায় সেই ভিক্ষুকের মুণ্ডিত মস্তক গলদেশ হতেই উঠেছে। গং ভক্ষণ করাে। মঙন। আরে গর্দভ, শিখা-ধারণ যজ্ঞােপবীত ধারণ মগুন। দুর হােক-ইনি আবার ব্রহ্মবিৎ সেজে- তােমর ভার হয়েছে, তাই ত্যাগ করেছ; কিন্তু ছেন! কোথায় ব্ৰহ্ম আর কোথায় তােমার দেখছি, গর্দভের ন্যায় কস্থাবহন করূতে পটু। মত মুর্থ ! কোথায় সন্ন্যাস আর কোথায় কলি। শঙ্কর। কিন্তু তােমাদের পুরুষানুক্রমে ক্ষতির নিবৃত্তি পরিপাটী ভােঙ্গন করে বেড়াবে বলে সন্ন্যাসী মার্গ ভার বােধ হয়ে আসছে। গর্দভ যেরূপ সেজেছ । কেবল অনুষ্টি-বহনে অক্ষম, সেইরূপ নিবৃত্তি- শঙ্কর। কোথায় স্বর্গ আর কোথায় তােমার মত মার্গ তােমাদের বংশে অসহ ; সেই নিমিত্ত দুরাচার; কোথায় অগ্নিহােত্র যজ্ঞ আর কোথায় নারী-সেবার জন্য কর্মী গৃহ ভাণে শিখা ও ঘাের কলিকাল ; তুমি নারীর সহিত বিহার যজ্ঞােপবীত ইন্দ্রিয়পরতার আবরণ করেছ। কবার জন্যে কৰ্মীর ভাণ করেছ। মণ্ডন। হা হা, বােঝা গেছে যােঝা গেছে, পুরােহিত। বৎস মণ্ডন, আমি তােমার পুরােহিত, স্ত্রীর ভরণপােষণে অক্ষম হয়ে তাকে পরিত্যাগ তােমার হিতার্থে বলচি, ইনি যতিবেশধারী করে এসেছ। এ দিকে শিষ্য করেছ, পুথির তােমার গৃহে আগত, এ ভেকের সম্মান নৃপতি ভার বহন করে লােককে ব্ৰহ্মনিষ্ঠা দেখাচ্চ। হ’তে সামান্য ব্যক্তিরও করা কর্তব্য। ইনি শঙ্কর। আর তােমারও কৰ্ম্মনিষ্ঠা কৰ্ম্মকাণ্ড বুঝ কপট ব্যক্তি হতে পারেন, কিন্তু ইনি যিনিই আমার কিছু বাকী নাই। ব্রহ্মচর্য পরিত্যাগ হোন, পিতৃশ্রাদ্ধের দিনে সমাদরে ভিক্ষা-গ্রহণের করে গুরুসেবায় অলস হয়ে স্ত্রীয় সেবা কতে জন্য তােমার অনুরােধ করা উচিত; এরূপ এসেছ; আর মধ্যে মধ্যে কিঞ্চিৎ ধৃত দাহন কটুত্তর করা উচিত নয়। দেখ, তুমি কুদ্ধ করে কর্মবীর নামে আপনাকে প্রচার কচ্চ। হয়েছ, কিন্তু এই বালক সন্ন্যাসী—পরিহাসলে মণ্ডন। আরে কৃতঘ্ন মুর্থ, স্ত্রীলােকের গর্ভে বাস তােমার কথার উত্তর প্রদান কচ্চেন, তিলমাত্র করেছিস, স্ত্রীলােকের দ্বারা পালিত হয়েছি বিচলিত নন। তুমি সুবােধ, ক্রোধ পরিহার আবার সেই স্ত্রীলােকের নিন্দা কচ্ছিস? অকৃতজ্ঞ করে এর অভ্যর্থনা করা। আমার অনুমান পামর ! হয়, ইনি সামান্য ব্যক্তি নন, এর ব্যঙ্গপরিহাসও শঙ্কর। আর তুমি পণ্ডিত! স্ত্রীলােকের স্তনপান শান্ত্রসঙ্গত; এতে বােধ হয়, ইনি শাস্ত্রজ্ঞ। করেছ, স্ত্রীলােকের গর্ভে জমেছ, আবার মণ্ডন। ব্রাহ্মণ, আপনি যথার্থ আজ্ঞা করেছেন। স্ত্রীলােককে ভাৰ্যারূপে গ্রহণ করে ইন্দ্রিয়লালসা (শঙ্করাচার্যের প্রতি) হে যতি, অদ্য আমার তৃপ্ত কক্ষ। গৃহে ভিক্ষা গ্রহণ করুন। মণ্ডন। তুই ব্রাহ্মণ হয়ে অগ্নি ত্যাগ করেছি, শঙ্ক। পণ্ডিতবর, আমি সামান্য ভিক্ষার জন্য শাস্ত্রমতে এতে ইহত্যার পাতক হয়, তা আপনার নিকট আগত নই, আমি সতিক্ষার জানিস? কামনায় সমাগত। আমার সহিত তর্কে প্রবৃত্ত শর। আমি ইত্যার পাতকী হতে পারি, কিন্তু হোন, এই আমার প্রার্থনা। কর্মকাণ্ড আপ- আত্মহত্যা অপো মহাপাপ আর শাস্ত্রে নাই। নার প্রিয়, কিন্তু বেদান্তসিদ্ধান্ত আমার জীবন। তুমি ব্ৰহ্মজ্ঞান লাভের চেষ্টা না করে আত্মনাশে আমার বাচ্চা, তর্কে পরাজিত করে আমায় প্রবৃত্ত হয়েছ, তুমি আত্মঘাতী। যে আত্মঘাতী, কর্মকাণ্ডে লিপ্ত করুন ; আর আপনি যদি তার অমােময় লােকে বাস হয়। পরাজিত হন- আমার অন্যতমত আয় মণ্ডন। তুই চোর, তুই আবাদের প্রতারিত করে করুন। পণ্ডিতবর, বিচায়ে প্রবৃত্ত হােন, নচেৎ চোরের ন্যায় এ স্থানে প্রবেশ করেছি। আমার নিকট আপনি পরাজিবীকার করুন, শঙ্কর। গৃহস্থের অন্নে ভিক্ষুকের অংশ আছে। আমি প্রত্যাবর্তন করি। তুমি ভিক্ষুককে বঞ্চিত করুবার জন্য গৃহবার মন। যতিবর, অনুমান হয়, আপনি সম্প্রতি এ শঙ্করাচার্য। এদেশে আগত। যদি অনন্তদেব, কণাদ, গৌতম সপ্তম গর্ভাঙ্ক। প্রভৃতি আমার সহিত বাদানুবাদে ইচ্ছুক হন, আমি পরাজিত, এরূপ বাক্য কখনও আমার মুখ বনপথ। হ’তে নি:স্ত হবে না। আমি উপযুক্ত তার্কিক, চিরদিনই তর্ক করি। সামান্য ব্যক্তির সহিত ( দুই জন পণ্ডিতের প্রবেশ) তর্কে আমার তৃপ্তি জমে না। যােগ্য পণ্ডিত উপস্থিত হলে প্রকৃত বেদমার্গ কি, তা প্রতিষ্ঠিত ১ম পণ্ডিত। আর কোথায় যাচ্চ-কি দেখবে? কার নিমিত্ত আমি সর্বদাই ব্যাকুল। মধ্যস্থ মণ্ডনের গলদেশের মালা শুষ্ক প্রায়! মন নিশ্চয় স্থির করুন,আমি বিবাদে প্রস্তুত। পরাজিত হবে। শঙ্কর। পণ্ডিতবর, এক নিবেদন, বিবাদে যার পর- ২য় পণ্ডিত। মাল্য প্রায় কি ? জয় হবে, তিনি নিজ মত পরিত্যাগ করে বাদীর ১ম পণ্ডিত। মণ্ডনের গৃহিণী উভয়ভারতী মধ্যস্থা মত গ্রহণ কবেন। যদি আমি পরাজিত হই, নিযুক্ত হন। তিনি সুযােগ্য মধ্যস্থই বটেন। মণ্ড- আমি সন্ন্যাস আশ্রম পরিত্যাগপূৰ্ব্বক শিখা ও নের স্ত্রী বলেন যে, এক পক্ষে তেজঃপুঞ্জ যতি-- যজ্ঞােপবীত পুনর্বার ধারণ করে আপনার ন্যায় নারায়ণস্বরূপ, আর অপরপক্ষে স্বামী-সতী স্ত্রীর গৃহস্থাশ্রম গ্রহণ করব। আর যদি আপনি সাক্ষাৎ নারায়ণ। এইজন্য কার জয় কার পরাজিত হন, শিখামুণ্ডনপূর্বক আমার নিকট পরাজয় --তিনি মুখে প্রকাশ করূতে অসম্মত। সন্ন্যাস-আশ্রম গ্রহণ করূবেন। যে ব্যক্তি পরা- ষতির গলায় একটি মালা প্রদান করেছেন, জিত হবেন, তিনি অপরের শিষ্যত্ব-গ্রহণে কুষ্ঠিত স্বামীর গলায় অপর একটি প্রদান করেছেন। হবেন না, এরূপ পণ কৰূতে আপনি প্রস্তুত ? যার গলদেশের মালা অগ্রে শুষ্ক হবে, তিনিই মণ্ডন। নিশ্চয়। আপনি বালক, অনভিজ্ঞতাবশতঃ পরাজিত প্রতিপন্ন হবেন। আমি মণ্ডনের গল- কলিতে নিষিদ্ধ সন্ন্যাসধৰ্ম্ম অবলম্বন করেছেন। দেশের মালা শুষ্ক প্রায় দেখে এসেছি। দেখছি আপনি মেধাবী দেখছি, আপনাকে সংসারী সর্বনাশ হলাে, লজ্জা রাখবার আর স্থান নাই, কতে পারুলে সমাজের হিতসাধন করা হবে। একজন বালক এসে সমস্ত প্রদেশ জয় করে কারে মধ্যস্থ স্থির কবেন, বিবেচনা করেছেন? যাবে, এ অতি অসহ! বিশেষ মণ্ডনের পর- শঙ্কর। আপনার গৃহিণী। জয়ে কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠিত হবে; তা হলে আর মশুন। উত্তম-উত্তম। আপনি তবে আমার গৃহিণীর আমাদের সম্মান কোথায় থাকবে। গুণব্যাখ্যা শ্রুত আছেন ? ২য় পণ্ডিত। চলে এলেন কেন? চলুন না, দেখা শঙ্কর। হ্যা-তিনি সাক্ষাৎ সরস্বতী, আমার এই যাক-শেষ কি হয়। রূপ ধারণা। ১ম পণ্ডিত। শেষ যা, তা আমি বুঝেই এসেছি। মণ্ডন। বিচারের দিন স্থির করুন। দুৰ্ম্মদ বালক-বােধ হয় যেন স্বয়ং জৈমিনিকে শঙ্কর। আমি সর্বদাই বিচারের জন্য প্রস্তুত,যদি আপ পরাস্ত কতে পারে। নার অভিমত হয়,কলাই বিচার আরম্ভ হােক। ২য় পণ্ডিত। তবে কি উপায়? মন। উত্তম। আসুন-অঙ্গ কৃপা করে ভিক্ষা ১ম। দেখি কি উপায় করতে পারি। যদি কোন গ্রহণ করুন। রূপে ওর শরীরে পাপ প্রবেশ করে, তা হলে [ শঙ্করাচাৰ্য্য ও মন মিশ্রের প্রস্থান। বিদ্যভ্রষ্ট হবে। যাতে গুরু-অপমান-জনিত মহা- পুরােহিত। এ কি, এই কি শঙ্করাচাৰ্য ? শুনেছি, পাপে লিপ্ত হয়, তারই চেষ্টায় এসেছি। শঙ্করাচাৰ্য্য স্বয়ং ৰহ্মাকে পরাজয় কৰূতে সক্ষম। ২য় পণ্ডিত। আপনি এ যতির বিদ্যাবুদ্ধি যেরূপ কে জানে বিচারের ফল কিরূপ হয়। বর্ণনা করছেন, তাতে এরূপ মহাপাপে লিপ্ত হবার তো কোন সম্ভাবনা নাই। [ প্রস্থান। ১ম পণ্ডিত। আছে।

গিরিশ-গ্রন্থাবলী (শিউলী ও শিউলিনীর প্রবেশ) অষ্টম গর্ভাঙ্ক। শিউলিনী। আরে মিন্সে, এখানে তো চাদাকে দেখছি নি, তবে কোন্ বিগে গেল রে ? তােকে মন মিশ্রের বাটীর বিচার-মণ্ডপ। ব, আমি ফুলকো বানাচ্চি, তুই বাছার সঙ্গে মন মিশ্র, শঙ্করাচাৰ্য ও পণ্ডিতগণ এবং যা। তুই গেলি নিতুই নড়তে লাড়লি। কাণ্ডার-অভ্যন্তরে উভয়ভারতী। ১ম পণ্ডিত। আরে, তুই কাকে খুঁজছিস? শিউলিনী। আমার চাদাকে খুঁজছি। হ্যা বাবাঠাকুর, মণ্ডন। মালা শুষ্ক কণ্ঠে মম প্রত্যক্ষ নেহারি, ছেলে বুদ্ধিতে কোন্ বিগে গিয়েছে, বলতে পার? পরাজয় বুঝিয়াছি অন্তরে অন্তরে। ১ম পণ্ডিত। (২য় পণ্ডিতের প্রতি জনাস্তিকে) তর্কশাস্ত্র-সিদ্ধ তুমি বেদজ্ঞ পণ্ডিত, কাকে খুঁজছে জান ?--শঙ্করাচাৰ্য্যকে। (শিউ প্রতি ছত্রে যুক্তি মম করেছ নিরাস, লিনীর প্রতি) চাদ। তাের কে? তারে খুজ- অংশে অংশে করি মম তর্ক-বিশ্লেষণ। ছিস্ কেন ? মহাশয়, জেনেছি নিশ্চয়, শিউলিনী। বাবাঠাকুর, সে আমার বাপধন, আমার প্রামান্য মানব তুমি নও; পরাণের পরাণ, সে চাদমুঙে আমায় মা বলেছে মান হত, দম্ভ বিচূর্ণিত গাে, আমার পরাণ জুড়িয়ে গেছে। আমি তার প্রভাবে তােমার যতীশ্বর। অন্য মৌর ফুলকো বানিয়েছি, সে খায় নি গাে, শঙ্কর। কহি আমি সভাস্থলে হে পণ্ডিতবর! আমার পরাণ কং কৎ কচ্চে। তর্ক-যুক্তি-শক্তি তব অতীব প্রখর, ২য় পণ্ডিত। সে তাের ছেলে নাকি ? বিদ্যাবুদ্ধি শাস্ত্রজ্ঞানে অদ্বিতীয় তুমি। শিউলিনী। হে গাে, সে আমায় চাঁদমুঙে মা বলেছে, পণ্ডিতসমাজ-মাঝে কহি সত্যবাণী, আমার বুকজুড়ােনাে চাদা! পরাজিত নহ কোন মতে; শিউলী। বাবাঠাকুর, আমি দু কেঁড়ে রস দেবাে, তর্ক-যুদ্ধে জিনে তােমা নাহিক ভুবনে। আমার চঁাদা কোথায় বলে দাও। কিন্তু -- শিউলিনী। অরে চাদা রে চাদা-বেসে আয়, খেয়ে মম সনে তর্কযুদ্ধে বা বিজড়িত ; তবে খেলাতে যাবি। বুঝ চিতে পণ্ডিতপ্রবর, ১ম পণ্ডিত। তাের চাদাতে হেথায় নাই। তর্ক-যুক্তি-বুদ্ধি-শক্তিবলে, শিউলী। তবে কোন্ বিগে গেল বাবাঠাকুর-কোন্ জান মাত্র হৃদয়ের ধন ! বিগে :গেল? ছেলে বুদ্ধি গাে-বাবার খাওয়া জ্ঞান-দীপ্ত নহে কদাচন, নাওয়া মনে থাকে নি। ] বৈরাগ্য না করিলে আশ্রয়। ১ম পণ্ডিত। তােরা আমার সঙ্গে আয়, তােদের বুদ্ধিবলে বুদ্ধি পরাজয় চাদাকে দেখিয়ে দিই গে। নিত্য হের শত শত হয় ; শিউলিনী। চলাে বাবাঠাকুর—চলে। মিন্সে তােমায় কিন্তু জেনাে বৈরাগ্যের অমােঘ প্রতাপ। দু কেঁড়ে রস দেবে। আমি তার চাদমুঙে হৃদি-মাঝে ধরে যে বিষয়-অনুরাগ, দুখানা ফুলকো তুলে দিয়ে পরাণটা জুড়ােব। তর্কযুক্তি বলে চাহে করিতে স্থাপন ; ১ম পণ্ডিত। আয়। (স্বগত) শঙ্করাচাৰ্য, এইবার শ্রেয় মাত্র বিষয়-অর্জন। তােমায় বুঝে নেবাে। স্বার্থ তারে করে প্রতারণা- ২য় পণ্ডিত। (জনান্তিকে) এ আবার কি কচ? যাগ-যজ্ঞে মতি স্বর্গসুখের কামনা এদের নিয়ে কোথায় যাবে? মুক্তি-তত্বে অন্ন দৃষ্টি তার। ১ম পণ্ডিত। চল না, তােমায় বলছি। বিবেক আশ্রয়ে হয় স্বার্থ বিদূরিত, করে সত্য প্রত্যক্ষ অরে। [ সকলের প্রধান। যুক্তি-বলে প্রত্যক্ষ না হয় পরাজয়। ;

শঙ্করাচাৰ্য। ৩৭ বৈরাগ্যে বিজিত তব তর্ক-যুক্তি-বল। প্রতিশ্রুত ছিলাম দুজনে পরাজয় হইবে যাহার, সে করিবে গ্রহণ আশ্রম অপরের। মান, যদি পরাজয় হইয়াছে তৰ, পণে তুমি বাধ্য মম আশ্ৰম-গ্রহণে। কিন্তু পণে মুক্ত করি তােমা সবার সম্মুখে। মন। যতিবর। হীনজ্ঞান কোন্ হেতু করহ আমায়? পণে মুক্ত কর যদি তুমি, কেন তাহা করিব গ্রহণ ? নিরাস করেছ, আমি বদ্ধ আছি পণে, এখনি প্রস্তুত তৰ আশ্ৰম-গ্রহণে। শঙ্কর। হে পণ্ডিতবর। স্বার্থের প্রভাব জেনাে এতই প্রবল, পরাজয়ে অভিমান নহে বিদূরিত ; অভিমানে পণে মুক্ত না কর গ্রহণ; কিন্তু জেনােমমাশ্রম অভিমানহীন। অভিমানহীন বিনা নাহিক কাহার সার পন্থা-সন্ন্যাস গ্রহণ-অধিকার। মণ্ডন। যতীশ্বর, কষ্ট নাহি হও মম ভাষে। দম্ভ-অভিমান-পূর্ণ নেহারি তােমায় ; দম্ভে মােরে ঋণে কর ত্রাণ, অভিমানে মম সনে তর্কে বাদী তুমি, অভিমানে সৰ্ব্বস্থানে করহ ভ্রমণ, শিক্ষাদান অভিমান রয়েছে নিশ্চয়। শঙ্কর। যদ্যপি জানিতে তুমি অভিমান কি, অভিমান হৃদে স্থান না পাইত আর। ঈশ্বর-প্রসাদে তুমি আমি সমজ্ঞান জন্মেছে আমার। ব্যথা পাই হেরি যথা অজ্ঞান-তিমির, যাই তথা ঘাের তম হরণ কারণ। সেই হেতু তব সনে দ্বন্দ্ব প্রয়ােজন। স্থিরচিত্তে শুন মতিমান, বক্ত নশ্বর জানহ সপ্রমাণ। কর্মজন্য স্বর্গলাভ নশ্বর নিশ্চয়। কোটিকর স্বর্গভােগে তাহে কিবা ফল! কোটিকল্প অন্তে যদি ভােগ শেষ হয়, ইথ পুনশ্চয়- পুনরায় কাৰ্য-প্রবর্তনা ; স্বর্গলাভ ক্ষয় পুনঃ পুনঃ হয়- ভাসে জীৰ অশান্ত এ স্রোতের প্রভাবে। কিন্তু জ্ঞানদীপ্তি পাইলে হৃদয়ে, যেই জ্ঞান আবরিত মায়ার প্রভাবে, স্বরুপ পায় দরশন, লভে তায় - নিত্যানন্দ অনন্তে বিশ্রাম। হেন শান্তি চাহে যদি প্রাণ, কর মম আশ্রম গ্রহণ। অতে নাহি জানে, বােঝে যার প্রাণে, বােঝে মাত্র সেই জন। অবিবেকী জন, স্বার্থ তারে করে প্ররােচন নিৰ্বাণ মরণ সম। কিন্তু যেই ত্রিতাপ-দহনে বুঝিয়াছে মনে শান্তিলাভ বিন নাহি যন্ত্রণা ঘুচিবে, সেই এই মহা-পন্থা লবে। যদি ত্রিতাপালায় প্রাণ তব চায় কর বিবেক আশ্রয়। স্বার্থ হবে ক্ষয়, আবরিত জ্ঞান-জ্যোতি হবে উদ্ভাসিত, শান্তি দেবী বসিবেন হৃদয়ে তােমার। মণ্ডন। গুরু-কল্পতরু। অহেতুকী কুপার আধার! এত কৃপা সন্তানে তােমার ? মহাকষ্ট করি অঙ্গীকার, সহি তিরস্কার, এসেছ মঙ্গলদাতা মঙ্গ-প্রদানে। চল দেব, দাসে লয়ে শান্তিময় স্থানে। ২য় পণ্ডিত। মিশ্র ! তুমি কুহকীর কুহকে কেন মুগ্ধ হচ। অনাচারী ভক্ত সন্ন্যাসী তােহৰি- বলে তােমায় পরাজয় করেছে। এখনি প্রত্যক্ষ দেখবে-ও সামান্য ব্যক্তি। মণ্ডন। হাঁ, কুহকী বটেন। যার কুহকে ভুবন মুখ, সেই কুহকী! আর সামান্য কি বলছেন, সামান্য হ’তেও সামান্য ;-নচেৎ আমার ব্যয় হীনের দ্বারে উনি প্রার্থী হন? (শঙ্করাচার্যের প্রতি) প্রভু, কৃপা করে অদ্বৈত-জ্ঞান দান করুন।

।। * ৩ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। শঙ্কর। বৎস, এ জ্ঞান বিকাশের পূর্বে একটি নেশা হবে নি, এক এক চুমুক দে আর গলা কাৰ্যানুষ্ঠানের প্রয়ােজন। সে কাৰ্য কাহারও ভিজো। ঝাল দে-টক্ দে কাল রেতে ভাল নিকট অতি সহজসাধ্য, কাহারও পক্ষে অতি করেছি রে- কঠিন। কাৰ্য—গুরুবাক্যে বিশ্বাস। তত্বমসি শঙ্কর। কেন মা, তুমি এত কষ্ট করেছ ? আমি বাক্য, গুরুবাক্যে মহাবিশ্বাস ব্যতীত কদাচ তাে ভিক্ষা করেছি। ধারণা হয় না। জেনাে, ভব-সংসারে গুরুই শিউলিনী। ক্যানে? তাের ভিক মাঙতে কি গজ একমাত্র সার বস্তু। জ্ঞানদাতা, মুক্তিদাতা, নেগেছে ? য’ দিন এই বুড়ো-বুঢ়ী আছে, ত’ পরমেশ্বৰ্য্যদাতা–ও ব্যতীত আর কেহই নাই। দিন তুই বসে বসে খা ক্যান? পাখি-পাখালি গুরুবাক্যে উপলব্ধি হয় যে, আমি মুক্ত, বদ্ধ নই। যা খেতে চাইবি, তাই পাবি। বুড়ো ফাঁদ পেতে আমি বদ্ধ, এ কল্পনামাত্র ; মুক্ত অবস্থাই আমার পাখিপাখালি খুব বাগিয়ে ধরে। কেনে গাছ- রূপ অবস্থা। গুরুবাক্যে এই পরম অবস্থা তলায় বসে থাকিস? আমার ঘর আলাে করে দর্শন হয়। মানবের হিতার্থে মায়াধীশ ঈশ্বর, ঘৰূকে এসে বােস, আর যা মনকে চায়, ব- নিজমায়ায় নরদেহ ধারণপূর্বক গুরুভাবে সংসারে রেদে দিই-- খা। বিচরণ করেন। অদ্বৈত-জ্ঞান-বিকাশের এক শঙ্কর। আমি গৃহী নই, আমি সন্ন্যাসী। মাত্র উপায় গুরুবাক্যে বিশ্বাস। অদ্বৈত-জ্ঞান- শিউলিনী। ওরে বাছা, ন্যাসানিসিতে তাের কাজ বিকাশের পর গুরু অন্তর্হিত হন। ভ্ৰম মােন নাই। ছেলেবয়সে ন্যাট্যাসা করি নি। এই করা গুরুর কাৰ্য। সেই কাৰ্যাবসানে নিত্য দ্যাখনা—মিন্সে ত্যা করে ভােমা মেরেছে,কাজ সত্য নিরঞ্জন গুরুদেব তার স্বরূপে অবস্থান কৰ্ম্ম পারে নি। করেন। শিষ্যও তখন দ্বৈত অবস্থা পরিত্যাগ শঙ্কর। মা! তােমার আর বাবার পৃথিবীতে তাে করে স্বরূপ-দর্শনে অবৈত-তত্ব উপলব্ধি করে। আর কাজ নাই। তােমাদের কর্ম অবসান হয়েছে। (শিউলী ও শিউলিনীকে লইয়া প্রথম পণ্ডিতের শিউলিনী। দেখ, দেখ, মিসে! ছেলেবুদ্ধি-কি বলে প্রবেশ) শােন্? বলে, কাজে কাই নি! কাজকর্ম ১ম পণ্ডিত। আরে মাগী, এই দেখ না, তাের চাদা করূবে নি বাবা তাে খাব কি বল? ঘরে কি বসে আছে। * পোতা কড়ি আছে ? শিউলী। হই যে—সব টিকিবাজ ভটচাজ দেখচি নে মাগি! ববি না খাওয়াৰি? ছেলেটা ! তা দেখ ঠাকুর, আমার বড় কিছু নেই, কাল রাত থেকে কিছু খায় নি, তার হুস আমার কাছে কিছু পাবে নি; তবে রসের রাখিস? আর আমায় বলছি স্যাসা খায়, কেঁড়েটা, ডেলের হাড়টে আর মৌওর রুট কর তাসা খাস তুই। বার চিমটেটা; আর দেখছে তো-পাতা শিউলিনী। আ আমার পােড় মু! মউয়াের ফুলকো শিয়ােনাে কাপড় পরনে। জোয়ান বউ-বিটাও ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। নে বাছা খা। (শঙ্করকে নেই যে, তােমাদের পুজো কর্তে দেব। তা স্পর্শকরণ) ও মিসেও মিসে, সব ফাঁক উথানকে আর ক্যানে লিয়ে যা। হয়ে যাচ্ছে! তুই আমি–আমি তুই। ম পণ্ডিত। আরে দেখ, না—ওই তাের চাদা মিসে আমি—আমি-আমি ! শিউলী। আরে মাগি-কোথায় কে রে-কোথায় ছেলে। শিউলিনী। আরে হহই বটে রে-হই তাে চাদা কে? (শিউলিনীকে স্পর্শকরণ) আরে নেই বসে বটে! ( নিকটবর্তী হইয়া) আরে বাপ নেই নেই রে! আরে হেই—সেই। ধন-এ বামুনগুলাের ইথানে এলি ক্যানে ? ১ম পণ্ডিত। যতির! এয়া তােমার কে এসেছে? আয় বাছা, কাল রেতে তাে কিছু খানেলে তােমার খাওয়া দাওয়া নিয়ে সব এসেছে দেখছি, এই রসেতে একটু গলা ভিজো,-এতে বেশী -তুমি খাও। বােধ হচ্ছে, তােমার আত্মীয়। শিউলী।

শঙ্করাচার্য্য। করি। উৎপন্ন করলেন। শঙ্কর। পরম আত্মীয়! দেখছেন না প্রভু, সাক্ষাৎ মন। প্রভু, দাসকে গ্রহণ করে সেবায় নিযু হরপার্বতী। গুরুদম্পতিরূপে আমায় খ করুন। করেছেন। যার বাক্যের প্রভাবে-জড় শ। চল বৎস, সকলে একত্রে পরমানন্দ উপভােগ কো-বৃক্ষ মস্তক অবনত করে আমায় মনের আলয়ে উপস্থিত করেছে। মিশ্র, তুমি আশ্চৰ্য্য সকলে। সচ্চিদানন্দ শিবােহহংসচ্চিদানন হয়েছিলে, দ্বারবানেরা কেন আমায় আসতে শিববাহহম্। বাধা দেয় নি। তােমার গৃহপার্শ্বস্থ নারিকেল (উভয়ভারতীয় প্রবেশ) বৃক্ষ মস্তক অবনত করে তােমার প্রাঙ্গণে আমায় উভয়। যতীশ্বর। আমার স্বামীকে নিয়ে কোথায় উপস্থিত করেছে। বৃক্ষের উপর আধিপত্য-লাভ যাও? (পথ রুদ্ধ করিয়া দণ্ডায়মান ) আমি এই গুরুর কৃপায় প্রাপ্ত হয়েছি। শঙ্কর। (স্বগত) শিব শিব-দেবী সরস্বতী বিম শিউলী। অদ্বিতীয় অখও সচ্চিৎ সুখরূপ। শিউলিনী। শিবােহহং শিববাহহং এই তাে স্বরূপ। উভয়। যতিবর! আপনি জ্ঞানী, আমার স্বামীকে ১ম পণ্ডিত। এ কি! এ কি কোন কুহক নাকি ? পূর্ণ পরাজয় করেন নাই। আমার স্বামী পর- সামান্য শিউলী শিউলিনীর মুখে এ কি উক্তি জিত, কিন্তু শাস্ত্রমতে আমি তার অর্ধাঙ্গ, আমায় তবে তো এই মহাপুরুষের অহিত-ইচ্ছায় মহা পরাজয় করে আমার স্বামীকে লয়ে যান। পাপে লিপ্ত হয়েছি। প্রভু, প্রভু-রক্ষা করুন। শঙ্কর। স্ত্রীলােকের সহিত তর্ক কিরূপ সম্ভব ? শঙ্কর। কেন মহাশয়, আমায় কি নিমিত্ত স্তুতি উভয়। যতীশ্বর, আপনি তাে অবগত আছেন, কচেন ? বাজ্ঞবল্ক্য গার্গীর সহিত ও জনক মুলভার সহিত ১ম পণ্ডিত। গুরুদেব, আমায় পায়ে ঠেলবেন না। বাদে প্রবৃত্ত হয়েছিলেন। আমার ন্যায় মহাপাপীকে উদ্ধার করাই আপ শঙ্কর। হা মা, যথার্থ বলেছেন। যিনি অত- নার প্রশংসা। শুনুন—আমি কিরূপ পাপাশয়। মতের বাদী, তিনি পুরুষ হন আর স্ত্রী হন, তার আপনি শিউলীর নিকট যে বৃক্ষ অবনত কবার সহিত আমি তর্কে প্রস্তুত। আপনি প্রশ্ন করুন, মন্ত্র শিক্ষা করেছিলেন, তা আমি জাতে পারি। আমি যথাসাধ্য উত্তর-প্রদানে যত্নবান হই। যখন মণ্ডন পরাজয়প্রায় বুঝলেম, তখন এই উভয়। সুন্দর কাকে বলেন? শিউলীর উদ্দেশে গিয়ে—এই শিউলিকে লয়ে এক সচ্চিদানন্দই সুন্দর। অপর সুন্দর কি। এসেছি। আমার মনে মনে কল্পনা ছিল যে, এই উভয়। রমণীতে কি সৌন্দৰ্য্য নাই ? ব্রাহ্মণ-সভাস্থলে আপনি এই শিউলির সম্মান শঙ্কর। সেই অতুল সৌন্দর্য্যের বিন্দুমাত্র, এবং সেই কতে পাবেন না। আর শিক্ষাদাতার সম্মান তারই প্রভাবে ক্ষণস্থায়ী। শ্ৰী, সৌন্দৰ্য, মাধুৰ্য্য, করলেই আপনি শক্তিষ্কৃত হবেন। এই সমস্তই সেই বৃহৎ বস্তুর অংশ। মাত্র সেই অভিপ্রায়েই আমি এই শিউলী শিউলিনীকে আর কোথাও ত কিছুই নাই। লয়ে আসি। কিন্তু আমি অজ্ঞান ! আমি উভয়। তবে নারীর হাবভাব-নারীর সৌন্দৰ্য্য কিছুই জানি না যে, জীবশিক্ষার্থে—এই মুক্তাত্মা উপলব্ধি করেন নাই পুরুষ-প্রকৃতি-শিউলি শিউলিনীরূপে অবস্থিত। শঙ্কর। সামান্য বিষয়—ওর উপলব্ধির তো বিশেষ যখন আপনার শিক্ষাদাতা—তখন এরা সামান্য প্রয়ােজন নাই। একের উপলব্ধিতেই ত সমস্ত নন-এ জ্ঞান আমার জন্মায় নি। এক্ষণে উপলব্ধ হয়। আমরা বৃথা সময় ব্যয় কচি। আমার নয়ন উন্মীলিত। এ সমস্ত আপনার আপনার কি শাস্ত্রীয় প্রশ্ন আছে-করুন। কপা। যখন কৃপা করে দর্শন দিয়েছেন, তখন উভয়। আমার স্বামীর সহিত বিচারে আপনি যে পদে স্থান দিন। (পদধারণ) সমস্ত শাস্ত্রজ্ঞ, এই ধারণা আমার জন্মেছে। তবে সকলে। জয় শঙ্করাচার্যের জয়। ( সকলের সাষ্টাব্দে কামশাস্ত্রের আলােচনা আমার সহিত হয় নি। এম) বলুন-কামকলা কিরূপ ও কয় প্রকার এবং ৪০ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। তার আধার কি? নর-নারীতে তার কিরূপ অবস্থান? শর। (গগত) সন্ন্যাসিগণের ধর্মবিরুদ্ধ প্রস্তাব। কিন্তু যখন বাদে প্রবৃত্ত, একে নিরস্ত করা আব- ক। (প্রকাশ্যে ) দেবি! মাসান্তে আপনার প্রশ্নের উত্তর প্রদান কবাে। আমায় একমাস কাল সময় প্রদান করুন। আপনি অবগত আছেন, বাদানুবাদে এরূপ প্রথা প্রচলিত আছে। উভয়। ভাল, আপনি সময় গ্রহণ করুন। ( শঙ্কাচার্যের প্রানােম) মন। প্রঙ্গ, সন্তানকে ভুলবেন না। শঙ্কর। চিন্তা দূর করে, সকলই সময়সাপেক্ষ। সময়ে দেবদেব তোমার মনােবাঞ্ছা পূর্ণ করেন। [ প্রস্থান। চতুর্থ অঙ্ক। প্রথম গর্ভাঙ্ক। ই দেহে এখনি পশিৰ। চল বৎস, অদূরস্থ পৰ্ব্বত-কলরে, লাবধানে রক্ষা কর যতিদেহ মম। মসান্তে এ দেহে পুনঃ করিব প্রবেশ। [ সনন্দন। প্রভু, পরকায়-প্রবেশ-শ্রবণে হয় মম আতঙ্ক উদয় । পশি পরকায়- যােগিছে মীননাথ মুগ্ধ হন তায়, কামরূপ কামকলা রমণী-প্রভাবে। যােগীশ্বর শিষ্য তার গােরনাথ নাম, বিশেষ প্রয়াসে মুক্তি দানেন গুরুরে। শর। ত্যঙ্গ ভয়, না কর সংশয়, মুগ্ধ নাহি হব কদাচন। বাঞ্ছা মম বিদ্যা- উপার্জন, কামতৃপ্তি বাসনাবর্জিত চিত। যেই জন বাসনা-বর্জিত, কদাচিৎ না হয় মােহিত ; ব্রজধামে কৃষ্ণলীল দৃষ্টান্ত তাহার। সনশন। প্রভু, শুনেছি শ্ৰীমুখে, মহা বলবান্ কাম মােক্ষপথে অরি। কামচর্চা কাম-আলাপনে জন্মে সংস্কার, বহু জন্ম গ্রহণের হেতু তায় হয়। শঙ্কর। শাস্ত্রমত বাক্য তব হে তীব্র সন্ন্যাসি। কিন্তু বৎস, করহ শ্রবণ, দেব:প্রয়ােজনে মম ধরা আগমন, কায়মনােবাক্যে যাচি জীবের কল্যাণ। করেছি উদ্যম। যদি তায় দৈব-বিড়ম্বনে কোন ক্রমে বিঘ্ন হয় মম, যদি পশি পরকায়, সংস্কার পরশে আমায়, বুঝিব অন্তরে, দেবকাৰ্য উদ্ধারের তরে- করিবারে মানবের হিত- সহি যথােচিত মহামায়া-ছলনা-প্রভাবে। শুন বৎস, নিজ স্বার্থ দিব বিসর্জন, যে হয় সে হয়, কাম-বিদ্যা রিব অর্জন। দেবকাৰ্য্য সাধনের তরে হব পশ্চাৎপদ আত্মবিসর্জনে। হয় বৎস, হৃদয়ে উদয় দেবদেব-পদাশ্রিত আমি, পৰ্বত-শৃঙ্গ। শঙ্করাচাৰ্য, সনন, শান্তিরাম প্রভৃতি শিষ্যগণ। শর। সন্ন্যাস-আশ্রম, মন না করিলে গ্রহণ, জ্ঞানকাণ্ড হবে না প্রচার। কিন্তু মহাবিঘ্ন তাহে বাগদেবী। মণ্ডন-গৃহিণীরূপে দেবী সরস্বতী, কামশাস্ত্র লয়ে দ্বন্দ মম দেবী সনে। কিন্তু কামচিন্তা যােগিদেহে অতি অনুচিত হয় তায় সন্ন্যাস-পতন। করি পরকায় আশ্রয়গ্রহণ কামশাস্ত্র করিয়ে অর্জন, পরাজিব মণ্ডন-পত্নীরে ; তাহে হবে মিশের সম্পূর্ণ পরাজয়। কর্মকাণ্ড করিলে খণ্ডন আনকাণ্ড ধরামাঝে হইবে প্রচার। (নেপথ্যে দৃষ্টিপাত করিয়া) যােগদৃষ্টে কৰি বিলােকন, আসি ওই নরপতি মৃগয়া কারণ- মহা শ্রমে হইয়াছে তনু-ত্যাগ তার। - দাসী। শয়ায়। ৪১ সংস্কার কভু না স্পর্শিৰে, কাৰ্য্যসিদ্ধি হবে। পুৰিবন, দেখচি। , আপনি মুখে • নিৰ্বিয়ে পশিয়ে পুনঃ এ যগি-শরীরে, টু জল জেন তত। বিমল অমৈত-পস্থা করিব প্রচার। ! মা দুর্গা, দুর্গতিনাশিনি, মা রক্ষা করে। এস বৎস, ৩৪ স্থানে রাখিব শরীর, হে শঙ্কর। এ কি-কোথায় আমি একা সাবধানে গৌরবে রাখিও সবে মিলি। কে? সনদন। হৃদি হয় এতু, সংকল্পে তােমার। । মহারাজ দেখুন, আমরা আপনার চরণের শর। চিন্তা কর দূর, চল পৰ্বত-গহ্বরে। ( সকলের প্রস্থান। শঙ্কর। মহামায়ার কি প্রভাব। কি ছিলেম, এ তো আমার স্থান নয়। নিদ্রাবস্থা কি জাগ্রত অবস্থা। (প্রকাছে) তােমরা কে ? দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক। সরম। মহারাজ, চিনতে পাচ্চেন না? আমরা আপনার দাসী। বনণী। শঙ্কর। ঘঁ, সত্য সত্য, আমি কে? সজ্জিহ চিতা-পার্শ্বে অমরক নৃপতির মৃতদেহ। সরমা। মহারাজ স্থির হন, আপনি মৃগয়ায় ক্লান্ত হয়ে উভয় পার্শ্বে সরমা, অম্বালিকা প্রভৃতি রাণীগণ, সম্মুখে মূচ্ছাপন্ন হয়েছিলেন। মন্ত্রী, ৰাহ্মণ ইত্যাদি। শঙ্কর। হু, রাজকায়ে-রাজা-চলাে গৃহে যাই। জীবের গর্তবাসের পর স্মৃতি থাকা অসম্ভব। চলো সরমা। (মন্ত্রীর প্রতি) বাবা, তুমি সুযােগ্য মন্ত্রী, চলল—অহহ, মহামায়ার কি ভীষণ প্রভাব। রাজ্যভার তুমিই গ্রহণ করে; আমি রমণী,রাজ্য- * [ (মৃতরাজার প্রেতাত্মার প্রবেশ) পরিচালনা তাে আমাতে সম্ভব নয়। আমি কে তুমি? মৃত রাজার প্রেতাত্মা! এ দেহে আর উদ্বাহের দিন পণ করেছিলাম যে, আমি জীবনে- তােমার অধিকার নাই। মরণে মহারাজের সঙ্গিনী। মহারাজ আমায় সরমা। মহারাজ, কি বলছেন? ছেড়ে যাবেন, তা তাে কদাচ হবে না। আমি শঙ্কর। না, কিছু না। (প্রেতাত্মার প্রতি) দেহের সহমরণে যাবে, তার উদ্যোগ করাে। মমতা এখনাে পরিত্যাগ করে নি। যাও, দেব- অন্যান্য প্রাণীগণ। দিদি, আমরা তােমার দাসী, দেবের কৃপায় প্রেতদেহ পরিত্যাগ করে দিব্যসহ আমাদের:ছেড়ে যেও না। ধারণ করে। যত দিন তােমার দেহ ভােগ করি, মন্ত্রী। হায় হায় ! কি কুলগ্নেই মহাৱা মৃগয়া- তত কল্প তুমি স্বৰ্গভােগ করে। কি হলাে- যাত্রা করেছিলেন। কে আমি? আমি রাজা, এই সকল রাজী লমা। বাবা, প্রাতঃকালে হাসি মুখে বিদায় নিয়ে এসাে-এসাে প্রেয়সি, গৃহে যাই চলে। এলেন, সূর্যাস্ত না হতে চমুখে ছায়া পড়লাে। (উপবেশন ) হায় হায়, আমাদের মত অভাগিনী কি কেউ জন্মগ্রহণ করেছে। এ জ্বালা কেবল অনলে সরমা। মহারাজ, স্থির হােন-স্থির হােন। নির্বাণ হওয়া সম্ভব। শঙ্কর। চিন্তা করাে না, আমি সবল হয়েছি, এসাে ব্রাহ্মণ। মন্ত্রী মশায়, আর কেন-শবদেহ চিতায় উত্তোলন করুন। (গাত্রোখানকরণ ) সরমা। বাবা, অপেক্ষা করাে, আমি সহমৃতা হব। অম্বালিকা। (জনান্তিকে সরমার প্রতি) দিদি, এ ব্রাহ্মণ। মন্ত্রী মশায়, যা হয় শী করুন। বাদশ দণ্ড কি কোন প্রেক্ত আয় করেছে ? অতীত হয়েছে আর শৰ-দেহ রাখা উচিত নয়। শঙ্কর। না না, প্রেই দেহ-মমতা ত্যাগ করে গলাত বিল হলে খেত আয় কতে পারে। করেছে। * মন্ত্রী। {সরমার প্রতি মা, দেখুন দেখুন-মহারাজ [ সকলের প্রস্থান। যেন চক্ষু উন্মীলন কচেন ? দেখুন দেখুন-মুখের [.] | প্রিয়ে।

গিরিশ-গ্রন্থাবলী। কিসে ? তৃতীয় গর্ভা। হয়। তাের ছিঃ ছিকারে আর কাজ নেই। আমায় ভূত করে দে, মাগীর দুধু আর আমি শঙ্করাচার্যের বাটীর সম্মুখ। দেখতে লাৰুচি। আমি খুদে দাদাকে বাড়ীতে জগন্নাথ ও মহামামা। আনবাে। জগন্নাথ। হরে, তুই কেমন পেত্নীটে বল? মাগীর মহা। তাের কথায় সে আসবে কেন? হাটা দেখছিস ? তবু তাের মনে দুঃখু হয় জগ। এসবে, এবে, আমি তার কাছে গিয়ে নেই ? মরবার আগে এক দিনকে ক্ষুদে দাদাকে বলবে, “আমি তাের জগ। দাদা, আমার কাঁধে লিয়ে আয়। চেপে সেখানে একবার বেড়াবি চল।” চখাে- মহামায়া। সে এখন রাজা হয়েছে, তাকে আবাে চখি হ'লে সে আমার কথা আর ঠেলতে লারবে। কি করে ? ধর ধর ঘাড়টা মুচুড়ে ধর। জগ। তবে তুই কিসের পেত্নী ? তুই যে বল্লি, মহা। জগন্নাথ, তােমার যে প্রেম, তুমি মুক্তা; মায়ের কাছে আবে? তােমার উপর আর আমার অধিকার নাই। মহ। সময় হলে আসবে। জগ। যাদে, তুই ও সব কি বলিস বল তাে? ক্ষুদে জগ। তােদের আবার কেমন সময় ? মাগী মলে দাদার কাছে শিখিস না কি ? এনে কি করবি? মহা। সে না শেখালে আমায় কে শেখাবে বল। মহা। আমি থাকতে ময়ূবে কেন? জগ। আচ্ছা, তার মা মাগীর উপর তাের দরদ জগ। তুই থাকতে যদি মরে নি, তবে তুই মলি হয় নি ক্যানে ? মহা। না হলে আমি সেবা করতে আসবাে কেন ? মহা। আমি তাে মরি নি, আমি অনাদি জগ। তাের ছাই দরদ ! মাগীর আকারটা দেখ জগ। তুই তো ভারি মিছকতুরে, তাের কথায় ছিস্? তবু একবার ছেলেটাকে এনে দেখাতে প্রত্যয় আর থাকবে নি। মহ।। কি করে জালি—আমি মরেছি । মহা। কেন জানি না জানাে? যে দিন ছেলের জগ। জ্যান্ত মানুষ আর কে কোথায় পেঙ্গা হয় ? সঙ্গে মাগীর দেখা হবে, সে দিন মার শরীর মহা! আমি তাে পেত্নী নই। থাকবে না। জগ। তোর বাপ পেয়ী। জগ। না থাকে না থাকবে, বেঁচে আর কি কচ্চে, মহা। আমার তো বাপ নাই হয় একবার চাদমুখখানা দেখে মবে। জগ। না থাকে নেই, আমার কথা একটা শুনবি? মহা। সময় না হলে তাে আর দেখা হবে না। মহা। কি বল ? জগ। তােরে লালুম, তাের ছেদো কথা কে জগ। ক্ষুদে দাদা কোন্ খানে আছে, আমায় বুঝবে বল ? বলে দে ( বিশিষ্টার প্রবেশ মহ। সে এখন অমরক রাজা হয়েছে। জগ। ভূতে চিনতে পারে ? বিশিষ্টা। মা, তুমি কে? আর আমার সঙ্গে মহা । তা পারে। প্রতারণা করো না। তুমি সামান্য নও, যদি জগ। তবে ধ, আমার ঘাড়টা মুচুড়ে ধরে মেরে কৃপা করে দর্শন দিয়েছ, পরিচয় দিয়ে কৃতার্থ ফেলে ভূত করে দে। করাে। মহা। কেন - ভূত হয়ে কি করবি? মহ। কেন মা, আমি তো তােমায় বলেছি, আমি জগ। কি করূবে, তা তখন তােকে শুনেবে। তােমার মেয়ে। ক্ষুদে দাদাকে এনে মাগীকে দেখাবো। বিশিষ্টা। না মা, আমায় ভড়িও না। আমি স্বপ্নে মহা। ছিঃ ছিঃ, ভূত হ'তে আছে। দেখেছি, ভূমি আমার শঙ্করের অর্ধাঙ্গ। আমায় জগ। তা তাের কি বল্ না--আমার যদি এখন সথ কে স্বপ্নে বলেছে, আমার শঙ্কর আর তুমি ভিন্ন লারলি ?

শঙ্করাচার্য। চতুর্থ গর্ভাঙ্ক। নও। পরিচয় না দাও, আমায় বল -সত্যই কি দেবদেব আমার জঠরে জন্মগ্রহণ করেছেন মহা। মা, দেবদেব তাে স্বয়ং তোমায় এ বলেছেন। বিশিষ্টা। তবে কেন মা আমার পুত্র-জ্ঞানে এ যন্ত্রণা? তবে কেন আমি তার চাদমুথ এক- দণ্ড ভুলতে পারি না? তবে কেন আমি মহা- মায়ায় আচ্ছন্ন ? আমি কত দিনে মুক্ত হব মা! আমি তাে দেহ হতে পৃথক হয়েছি, তবে কেন দেহ ছেড়ে যেতে পাচ্ছি না ? মহা। মা, তােমার যে কামনা,তােমার পুত্রের হতে অগ্নি নিয়ে দেহ ভস্ম করবে। বিশিষ্টা। সত্যই কি আমার বাসনা পূর্ণ হবে ? মহা। দেবমন্দিরে চল মা, দেবদেব স্বয়ং তােমায় ৭ কথা বলবেন। বিশিষ্টা। না মা, তােমার কথাতেই প্রত্যয় ; তােমার কথা দেবদেবের কথা পৃথক্ নয়। তােমার কথাতেই আমার তৃতীয় চক্ষু উন্মীলিত হয়েছে। আমি মা মায়ার প্রপঞ্চ বুঝেছি ; মায়া কেন বছি, তােমার প্রপঞ্চ বুঝেছি। আমার একটি সাধ পূর্ণ করাে, আমি তােমায় স্বহস্তে রাঙ্গা জবা দিয়ে সাজাব। এসাে মা, ঘরে এসাে। মহা। তুই পেত্নী পেত্নী করি, দেখছি-মা কত আদর কচ্চে। জগ। না না, যা যা-তুই পেত্নী লস। | বিশিষ্টা ও মহামায়ার প্রস্থান। অমরক রাজার অন্তঃপুর-সংলগ্ন উপবন। অমরক রাজদেহাতি শঙ্করাচাৰ্য্য। শঙ্কর। নিদ্রাগত অভিভুত প্রায় - স্বপ্নচ্ছন্ন রয়েছি কোথায় ? দিবানিশি কি যেন রয়েছি ভুলে। সৌদামিনী ঝলক সমান হয় কভু আলােকিত প্রাণ, যেন কোন জ্যোতি-মুৰ্ত্তি হেরি বিদ্যমান, হয় তায় আকুল অন্তর। আছি যেন আবদ্ধ পিঞ্জরে। মহাপ্রাণী রয়েছে শরীরে, কোন্ পথে যায় সে বাহিরে, প্রবেশে বা কোন পথে ! এ কি! কেবা আমি.. আছি বন্ধ এই ক্ষুদ্র কায়! জ্ঞান হয় ব্রহ্মাণ্ড ব্যাপিয়ে মম স্থান! - জগ । ওটা কে বটে? ক্ষুদে দাদা কি কে করেছে ? , এ তাে ধাড়ি মাগী! তবে এ কে ? ওই - ওই-যেন যেন-মনে মনে আঁচ দিচ্ছে। মা বল্পে-মহামায়া ? আঁ! ওই বেটী সব ঘুমােয় না কি? ক্ষুদে দাদা যে বলতো,এই মায়ায় ঘুরপাক খাওয়ায়। যা থাকে বরাতে, পরের মেয়ে মানবাে নি, ওকে চেপে ধরুবাে, বলবো-ব বেটী তুই কে? [ প্রস্থান। ( সরমা অম্বালিকা প্রভৃতি রাণীগণের রঙ্গরস সহকারে প্রবেশ) সরমা। এ কি মহারাজ, এইখানে পালিয়ে এসেছ ? তা যাও~~~ আর তােমার সঙ্গে কথা কব না- আমরাও চলুম। শুন মুবদনি, হয়াে না মানিনী, কামকলা-বিহারকুশলা, মাগি পরিহার, সমযােগ্য যােদ্ধা তৰ মই। বিশ্রাম কারণে, এসেছি এ স্থানে, দীক্ষা পুনঃ করিব গ্রহণ। পুনঃ কিবা নবরঙ্গ দেখিব রঙ্গিণ। দেখ দেখ হতেছে স্মরণ কোথা—কোথা-এ কি ঘাের আবরণ। সমমা। (জনান্তিকে) বােন, তােরা মহারাজকে নিয়ে উপবনে যা। আমি মন্ত্রী মহাশয়কে ডাকতে পাঠিয়েছি, মহারাজের ঝনে মুচ্ছাভাব হয়ে যেরূপ অবস্থা হয়েছিল, এখন মাঝে মাঝে আবার সেই অবস্থা দেখছি। অম্বালিকা। দিদি, দিবারাত্র অন্তঃপুরবাসে হয় তো মহারাজের মস্তিষ্ক ক্ষীণ হয়েছে। বলে ক'য়ে মহারজাকে মায্যে পাঠান যাক।

৪৪ গিরিশ-গ্রন্থাবলী কে সরমা। না দিদি, এর বিশেষ তত্ব আছে! আমরাই শিক্ষাপ্রিয় বালক যেমন, পরাজিত, এতে মস্তিষ্ক বিকল কি নিমিত্ত হবে ? অবিচল কটাক্ষ-ঈক্ষণ করে। অবশ্যই এর কোন গুহ কারণ আছে। মন্ত্রীর অঙ্গস্পর্শে নাহি শিহরণ, সঙ্গে পরামর্শ করবার প্রয়ােজন। পুরুষ-উচিত নাহি আগ্রহ কখন, শঙ্কর। পৰ্বত করে নিবিড় গহরে-- মুগ্ধচিত নহে সুরাপানে। কই—কোথা-করি অশেষণ। আসক্তিবিহীন, . [ শঙ্করাচার্যের প্রস্থান । কামিনীর গৰ্ব্ব হয় লীন, শতনারী ঈর্ষাহীন প্রভাবে বাজার। অম্বালিকা। এ কি! এ যে কোন বােগীর পুৰ্ব্বস্মৃতি ল’য়ে কুলবতী, গােপিনী যুবতী, বােধ হ'চ্চে। শ্রীপতির রাসলীলা বিহারের প্রায়, সরমা। আমারও সেইরূপ অনুমান হয়। যাও, নারী সনে বিহার রাজার। মহা-উদ্দীপক সুর। আমার ঘরে আছে, নিয়ে জনে জনে মানি পরাজয় ; পান করাও। ঈৰ্য্যানেত্রে না চায় যুবতা, অম্বালিকা। তাতেই বা কি ফল হবে, বুঝতে পরস্পর প্রতি, পারি না। সরা প্রভাবে মহারাজের তাে ক্ষণিক পূর্ণ মনােরথ সবে রাজার সেবায়। চঞ্চলতাও কখন দেখি নাই। কভু নৃপমুখে শুনিয়ে বচন সরমা। যাও যাও, মী আসছে। কাপে প্রাণ মম! [ অম্বালিকার প্রস্থান। যেন কোন পূৰ্ব্বস্মৃতি হয় উদ্দীপন, বিমন সতত হেরি । { মন্ত্রীর প্রবেশ) তেঁই জ্ঞান হয়, বৃঝি যতীশ্বর কোন মহাশর, মন্ত্রী। জননী রাজরাণি, ব্রাহ্মণের আশৰ্ব্বাদ গ্রহণ পশি নৃত নৃপতির কায় করুন। ভােগ ইচ্ছা করেন খণ্ডন। সরমা। মন্ত্রী, মহারাজের প্রতি লক্ষ্য করেছেন? মন্ত্রী। বুদ্ধিমতী সরস্বতী সম তুমি রাণী, যে দিন মহারাজ মূচ্ছাগত হন, তার পর হ'তে করেছ স্বরূপ অনুমান। মহারাজকে কি পূৰ্ব্ববৎ দেখছেন? তবে কি উপায় মন্ত্রী। মা, আমরা রাহকর্মচারিগণ মিলিত হয়ে যােগিবরে আবব্ধ রাখিতে নৃপদেহে ? গোপনে এই পরামর্শই করেছিলেম। পূর্বে হইয়াছে বুঝি বা সময়, রাজকার্যে মহারাজ এরূপ পারদর্শী ছিলেন না, ভােগ অবসানপ্রাম, শাস্ত্রালাপে পণ্ডিতমণ্ডলী পরাজিত। মা, ভােগ-অন্তে প্রবেশিবে নিজদেহে। আপনি কিরূপ লক্ষ্য করেছেন । সরমা। কর, বৎস, উপায়-বিধান, সরমা। নন ইনি পূর্ব-নৃপবর। আত্মহারা মােরা সবে ; -বিপদ-সময় নিশিদিন আশঙ্কায় বিকল অন্তর। তাই কহি মঞ্জিবর লাজ পরিহরি- মন্ত্রী। মা, আমরা মন্ত্রণা করে চতুর্দিকে দূত প্রেরণ যদিচ বিলাসে মগ্ন দিবস-যামিনী, করেছি, যথায় শবদেহ পাবে, তখনই তা দগ্ধ রঙ্গরস-কৌতুক-কলাপে রত, কবে। প্রতি শবদেহের মূল্য শতগুলা, আর কিন্তু কোন আসক্তি হেরি নে কভু। যােগীর শবদেহের মূল সহস্র মূত্রা ঘােষণা পূৰ্ব্বে নৃপবর, করেছি। উপস্থিত এ উপায় ভিন্ন অপর কোন ব্যথিত হতেন চারু কটাক্ষ-প্রহারে। উপায় তো লক্ষিত হচ্ছে না। এবে যেন শিক্ষার কারণ, মা। বাবা, এ কাৰ্য্য আমাদের পূর্বেই করা শঙ্করাচার্য। ৪৫ উচিত ছিল। যেরূপ লক্ষণ দেখছি, বহুদিন যে শাস্তি। বল না, আমরাই না হয় তোমার চেলা যােগীশ্বর এ দেহে অবস্থান করূবেন, এরূপ হচ্চি। সম্ভব নয়। পূৰ্বস্মৃতি জাগরিত হলেই যােগি গণ। ভাই, তা যদি হও, তা হলে বাপের কাজ বর নিদেহ গ্রহণ করূবেন। ওঁৎপর হন, তৎপর হন, অনুই করে। দূত নিযুক্ত করুন। শান্তি। কি যােগাড়টাই বলল? মন্ত্রী। হ্যা মা, সত্বর হওয়াই কৰ্ত্তব্য। কয়দিন গণ। দেখ, এ দেশের রাজা বেটা মরে গিয়েছে কয়েকজন যােগিপুরুষ মহারাজের অনুসন্ধান মনে করে চিতেয় চড়াতে যাচ্ছিল, খামকা বেটা কচ্চে, আমি তাদের রাজপুরে আসা নিবারণ বেঁচে উঠেছে। এই না-নগরে দিবারাত্র করেছি; বােধ হয়, এই যােগিবরেরই তারা আনন্দ চলেছে! সন্ন্যাসী-ফকিরের খুব আদর, শিষ্য, গুরুর সন্ধানে এসেছে, যেরূপ গােরক্ষনাথ রাণীদের কাছে পর্যন্ত যেতে পারে! আর মীননাথের অনুসন্ধানে এসেছিলেন। খালি 'ওষুধ খুজচে, কিসে রাজাকে বশ করতে সরমা। সতর্ক থাকুন, কোনরূপে না রাঙ্গদর্শন পায়। পারবে। রাণীরা প্রায় এক হাজার–পরমা [ উভয়ের উভয় দিকে প্রস্থান। সুন্দরী ! বাপ্পা-ধুখি লাগাতে পালে দু’চার বেটী হাতেও লাগতে পারে। তােমরা যদি আমার শিষ্য হয়ে আমায় জাহির করে, তাহলে পঞ্চম গর্ভাঙ্ক। বেশ মজায় সব থাকা যায়। কামিনী চাও--- কামিনী, কাঞ্চন চাও-কাঞ্চন, সব রকম মজা নগরপ্রান্তে পথিপাশস্থ বটবৃক্ষতল। চলে। আর পরম মান, রাজার মাথায় গিয়ে শান্তিরাম প্রভৃতি শঙ্করাচার্য্যের শিষ্যগণ। পা দাও। (গণপতির প্রবেশ) শান্তি। তা আমরা শিষ্য হব কেন, তুমি কেন শান্তি। দেখ দে, আমাদের সেই সহাধ্যায়ী গণ আমাদের শিষ্য হও না ? পতি নয় ? ওহে গণপতি-গণপতি- গণ। আরে শােন না, আমি যে তেমন তােমাদের গণ। (স্বগত) এই মজালে। সেই শান্তে বেটা মত মন দিয়ে বুলিগুলাে শিখি নি। তাই শান্তি। কি হে গণপতি, চিন্‌তে পাচ্চ না না কি ? মনে কচ্চি, আমি থাকবাে মৌনী, তােমরা সব । তুমিও চলেছ, আমিও চলেছি, চেনাচিনিতে বুলি ঝাড়বে। দুই এক পাই বখরা বেশী চাও, কাজ কি ? তাও নিও। শান্তি। কেমন আছ? শান্তি। রাজার সঙ্গে আলাপ হয়েছে ? গণ। তােমরা কেমন আছ ? বাবা, আমি সাফ, গণ। সে যাে নাই বাবা! রাজা খালি অন্দরে বুঝে চলে এসেছি, কিছু পেলে? না জল তােল রাণীদের নিয়ে আছে, দিনরাত সরাপ চলচে- আর পা টেপাই সার। আমােদ চলচে-গান চলছে। শান্তি। ভরপূর পেয়েছি, গুরুদেবের সংসারে অভাব শান্তি। রাজার সঙ্গে, কেউ কি দেথা করতে কিসের? পারে না ? গণ। তা তাে বটে, অভাব যা অম্নবন্ত্রের। গণ। দু'একটা গাইয়ে-গুণীকে কখনাে ডাকে। শান্তি। তুমি কোথাও কিছু পেলে না কি ? সন্ন্যাসী-ফকিরের রাজার কাছে ঘের যাে গণ। কোথাও কিছু নেই-বুঝলে? বুদ্ধির জোরে নাই; মন্ত্রী বেটারা খেদিয়ে দেয়। বড় মজার যে যা করে নিতে পারে। দেশ-বুঝলে, একটা মড়া—একশাে একশো শান্তি। তােমার তো বুদ্ধি কিছু কম নয়, কিছু টাকায় বিকোয়; সন্ন্যাসী-মুদ্দোরের দাম হাজার বাগালে ? টাকা। গণ। বাগাবাে কি, তেমন বাগমাফিক চেলা শান্তি। মুদ্দোর নিয়ে কি করে ? পাচ্ছি নে, নইলে এখানে যােগাড় খুব ছিল। গণ। কি জানি, বেটা বাপের পিণ্ডি চড়ায় ! তিপা- ৪৬ গিরিশ-এহাবলী। স্তর মাঠে রাবণের চিতের মত চুলি জছে, ঝুপ গণ। আরে আমায় চিনতে পাচ্ছ না? কাশীতে ঝাপ করে দিনরাত মড়া এনে ফেলচে। তােমার সঙ্গে দেখা। আমি শঙ্করাচার্যের শিষ্য ছিলেম, তুমিও তল্পী বইয়ে নিয়েছ। তবে (সনন্দনের প্রবেশ) তােমার কাছে ঢং-ঢংটা শিখে নিয়েছি বটে, শান্তি। (সনন্দনের নিকটবর্তী হইয়া জনান্তিকে) তাইতে একরকম চলে যাচ্ছে। সনন, গুরুদেব এই স্থানে নিশ্চয় আছেন। উগ্র। না, আমি আর তার অনুসন্ধান করি না। সনন। ( জনান্তিকে। আমারও তাই অনুমান গণ। বাবা, আমার চেয়েও সাফ, মিথ্যা ঝাড়তে হয়। নগর-ভ্রমণ করে দেখলেন, পুরবাসীরা জাননা। তা শােনাে, শঙ্করাচার্যের শিষ্যেরা সৰ দিবারাত্র আনন্দে মগ্ন,-কোথাও রােগ, শােক, এসেছে, এইখানেই শঙ্করাচাৰ্য কোথায় আছে। দৈন্য নাই। অতি সুব্যবস্থায় রাজ্য পরিচালিত। উগ্র। আচ্ছা,তুমি আমার নিকটে কি বিদ্যা চাও ? প্রজাগণ পরস্পর ঈর্ষা দ্বেষবর্জিত,যেন এক পরি- গণ। ঐ ভেকি বিদ্যা, ধূলােকে সােনা করা বার হয়ে একত্রে বাস কচ্চে। প্রান্তরে, উপবনে শেখাবে ? দেখলেম-সাময়িক শস্য, সাময়িক ফলপুষ্প উগ্র। হঁ্যা, শেখাবাে। তুমি যদি আমি যেরূপ বলি, অপৰ্যাপ্তরূপে ধরণী উৎপাদন করেছেন। সেইরূপ করে আমার কাৰ্য্যের সহায়তা করে। গণ। (স্বগত) কি বলাবলি কচ্চে। ( প্রকাশ্যে ) গণ। কি করূতে হবে, বলো ? কি হে তােমাদের আচাৰ্য্য এখানে এসেছেন উগ্র। কিন্তু দেখো, যদি আমার সহিত প্রতারণা কি ? করাে, কি আমার মন্ত্রণ প্রকাশ করে, তাহলে সনন্দন। তিনি কামরূপী, সৰ্ব্বস্থানেই বিরাজমান। তােনার নিস্তার নাই; স্বয়ং শিবও তােমায় রক্ষা ( জনান্তিকে শান্তিরামের প্রতি) এসো, রাজার করতে পাবেন না। আমার শক্তি দেখাে- সহিত কোনরূপে সাক্ষাৎ করা প্রয়ােজন। ( ধুলিমুষ্টি লইয়া সম্মুখস্থ বটবৃক্ষে নিক্ষেপ ও গণ। ওহে সনন্দন-ওহে সনন্দন! না-পদ্মপাদ বৃক্ষের জ্বলিয়া উঠা, পুনরায় ধূলিনিক্ষেপ ও না বল্লে বুঝি উত্তর দেবে না? বৃক্ষের পূর্বাবস্থাপ্রাপ্তি ) সনন। না, তুমি পদ্মপাদ বলে নাই, তােমার সঙ্গে গণ। তুমি আমার ধরম-বাবা, তুমি যা বলবে, আলাপ করবে না। ( জনান্তিকে শান্তিরামের আমি তাই শুনবাে। প্রতি) এসাে, রাজার সহিত সাক্ষাতের উগ্র। এই পুষ্পটি ল’য়ে রাণীর কাছে যাও। কিরূপ উপায় হয় দেখি। বােধ হয়, মহাপুরুষ গণ। বাবা, দরাজ তাে হুকুম দিলে, আমায় ঢুকতে যে রাজদেহে প্রবেশ করেছেন, কোন বিচক্ষণ দেবে কেন ? ব্যক্তি তা অনুমান করেছেন, সেই জন্য শবদেহ উগ্র। এই তােমার মস্তকে সিন্দুরের টিপ দিচ্ছি, দাহন কচ্চে। শীঘ্র গুরুদেবের সশরীরে না কেউ তােমায় নিবারণ করবে না। প্রত্যাগমন কলে বিপদের আশঙ্কা আছে। ( টিপ দেওন) [ গণপতি ব্যতীত সকলের প্রস্থান। গণ। (স্বগত) বাবা! এ বেটা আচ্ছা বুজরুক তো ! গণ। ব্যাটা কি বলাবলি কবুলেকি দাওয়ে ফিরছে। বেটার কাছে থাকতে হ’লল ! তবে মল-মূত্র এই সেই তান্ত্রিক ব্যাটা, যে ব্যাটা শঙ্করাচার্যের ঘাটে,মড়া খায়, এতেই বেটার কাছ থেকে সরে তত্ব করে। গুরুজি, গুরুজি, শশানাে শােনাে- পড়েছিলুম! ( উগভৈরবের প্রবেশ) উগ্র। কি ভাবছো ? গণ। বাবা, তােমার গােলাম বাবা, তোমায় প্রাণ সপলুম বাবা! আমি সােনা করা বিয়ে-টিয়ে গণ। যদি দুটো একটা বিন্তে ছাড়াে, তুমি যা খুজচ, চাই না ঐ সিন্দুর পড়াটা শিখিয়ে দিয়ে। আমি বলে দিই। যেখানে সেখানে যেতে পালেই, আমি একরকম উগ্র। আমি কি গুজ চি? কি বলে দেবে ? চালিয়ে নেব। এখন কি করূতে হবে বল? . উগ্র। কি বলছ ?

শঙ্করাচার্য। ৪৭ উগ্র। রাণীকে এই ফুলটি দাও গে। (পুষ্প প্রদান ) সােনায় লোহায় বসে বসে, ব’ল,-এই ফুল রাজাকে শুকতে দিলে রাজা তৰে লােহার শেকল খসে, তার বশীভূত হবেন, আর কয়েকটি রমণী তার যত্নে গড়ে সােনার শেকল, কিনতে মেলে না। নিকট পাঠাবাে, তাদের অষ্টপ্রহর যেন রাজার সে শেকল শক্ত লােহার, অতে আঁতে বাঁধুনি তার, সঙ্গে থাকতে দেন। বলল, তাহলে আর রাজ হার ব’লে পরেছে গলে, অমনি ফেলে না। শরীর ত্যাগ করে যােগী নিজশরীরে যেতে লােহার শেকল মনে হবে, পাবে না। তখন চায় সে শেকল খােল, গণ। বাবাঠাকুর, ব্যাপারখানা কি ? চেনে, যে চোক পেয়েছে, চোক না পেলে, না উগ্র। পরে জানবে; যাও-আজ্ঞামত কাৰ্য্য করে। সনদন। দেখ-দেখ ভাই, এ তাে সামান্য রমণী [ গণপতির প্রস্থান। নয়। সঙ্গীতের ভাবে বােধ হয়, যেন সাধন-প্রথা নিশ্চয় রাজশরীরে শঙ্করাচার্য প্রবেশ করেছেন। সম্পূর্ণভাবে অবগত। সঙ্গীতহলে আমাদের রাজাকে বলি দিতে পারুলেই যােগিবরকে বলি উপদেশ প্রদান ক'লে, যেন-বিদ্যমায়ার প্রদান করা হবে, আমি অষ্টসিদ্ধি লাভ করবে। সংঘর্ষণে বিদ্যামা ও অবিদ্যামায় পরস্পর ধ্বংস এখন যাই, অবিদ্যা-শক্তির অবিদ্যা-শক্তির নায়িকাগণকে হলে জীবের চৈতন্য লাভ হয় না। (মহা- আবাহন করে রাজসমীপে প্রেরণ করি। তারা মায়ার প্রতি মা, তুমি কে গা ? অমাবস্যা পর্যন্ত রাজাকে মুগ্ধ করে রাখতে মহা। তােমাদের মা। নিশ্চয় পাবে। সনন্দন। যদি মা, এ মহাবিপদে আমাদের উপায় [ প্রস্থান। ( সনন্দন, শান্তিরাম ও শিষ্যগণের প্রবেশ) মহা। তাই তাে এসেছি। এ বেশে রাঙ্গদর্শন পাবে না; এস, তােমাদের গায়ক সনন্দন। ভাই, সর্বনাশ! কোন প্রকারে তাে রাজ সাজিয়ে দিই। দর্শন পাওয়া গেল না। সন্ন্যাসীর রাজার নিকট সনদন। মা, আমরা তাে যন্ত্র-বিদ্যা ও সঙ্গীতবিদ্যা যাওয়া একেবারেই নিষেধ। গুরুদেব তো কোন বিদ্যাই অবগত নই। দেখছি, মহামায়ার প্রভাবে রাজশরীরে আবদ্ধ মহ। এসাে, আমি তােমাদের শিখিয়ে দেবাে। হয়েছেন। এ দিকে তাে শবদেহ দাহনের সনন্দন। (অন্যান্য শিষ্যগণের প্রতি ) এসাে ভাই। আজ্ঞা প্রচার হয়েছে। কি জানি, যদি কোন শান্তি। কি হে, এ উন্মাদিনীর সঙ্গে কোথায় সুচতুর দুত গুরুদেবের দেহের সন্ধান পায়, যাবে ? আমাদের একদিনে সঙ্গীতবিদ্যা, যন্ত্র - তাহলে তাে দেহ দগ্ধ হবে। আমাদের মধ্যে বিদ্যালাভ হবে না কি অপর উপায় করা যারা দেহরক্ষার্থে নিযুক্ত আছে, তারা তাে রাজ- কর্তব্য। শক্তি প্রতিরোধ করতে পারবে না। বিষম সনন্দন। ভাই, তােমার প্রত্যক্ষ মহাদেবীকে চিনতে সঙ্কট উপস্থিত। গুরুদেব স্বয়ং না উপায় কলে পাচ্চ না ? ইনি ব্যতীত উপায় নাই। তাে উপায় দেখছি নে। প্রভু, আশ্রিত সন্তান- শান্তি। তবে চলল। তুমিই আমাদের নেতা, গণের প্রতি বিরূপ হবেন না! প্রভু, স্বয়ং উপায় যেরূপ বলবে, তাই করবাে। উদ্ভাবন করুন। ( সকলের প্রস্থান। ( মহামায়ার প্রবেশ) ও যন্ত্রী । । - (গীত) পরলে পরে সাধের বাঁধন, খুলে খােলে না। কাঁটা দিয়ে কাটা তােলা কথায় চলে না।

৪৮ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। যষ্ঠ গর্ভা। ভােজবাজি প্রায় এই আছে এই কোথা যায়, অমরক রাজার বিলাস-গৃহ। নির্ণয় না হয় কিছু তার! সরমা ও অম্বালিকা। বুঝ কিবা স্বপ্নের প্রভাব। স্বপন-গঠিত বহে অনন্ত সময় সরমা। রাজাকে ফুলটি মুকতে দেবো কি না সর্গ মত্ত রসাতল-অনও এ স্থান, ভাবছি, কি জানি যদি কিছু অনিষ্ট ঘটে। সমুদয় স্বপ্ন বিনির্মিত। আমার এ সন্ন্যাসীকে বিশ্বাস হয় না। ব্যোম সমীরণ স্থল জল চন্দ্রমা তপন, অম্বালিকা। ফুল শুকে কি আর অনিষ্ট হবে ? অনন্ত অনন্ত বিশ্ব স্বপনে সৃজিত। সরমা। * অবশ্য কোন অবিদ্যাশক্তির প্রভাব এই ঘাের স্বপ্ন ফুলে আছে। এ সন্ন্যাসী শক্তিসম্পন্ন, আমার স্বপ্ন নয়—স্বপ্ন বুদ্ধি-স্বপন সকলি। ধারণা হয়েছে; কিন্তু এ শক্তি সংসারের অহিত, সত্য কিবা কে জানে সন্ধান। সাধক। যদি কোন যােগিরাজ মহারাজের কেবা জ্ঞানবান্ শরীরে সত্যই প্রবেশ করে থাকেন, তিনি সত্য-তত্ত্ব করিবে প্রচার ; রাজদেহে অবস্থান করুন, এই আমাদের কামনা; কেমনে এ স্বপ্নদোর হবে বিদলিত। কিন্তু তার কোন অনিষ্ট না ঘটে। যােগীর যােগীর সরমা। মহারাজ, দেখুন, কেমন সুন্দর ফুল-কেমন অনিষ্টসাধনে মহাপাপের সঞ্চয় হয়। সুন্দর আঘ্রাণ। অম্বালিকা। দিদি, যে পথে চলেছ, সেই পথেই শঙ্কর। ( ফুল লইয়া অঘ্রাণপূর্বক) কে বলে স্বপ্ন চলল। যােগিরাজকে রাজদেহ হতে বহির্গত -এই তাে, এই তো সব বিদ্যমান-এই তত হতে দেওয়া কোনরূপেই উচিত নয়। তা হলে সুন্দর সংসার। আমাদের বৈধব্য ঘটবে, রাজ্য ছারখরে যাবে। সরমা। মহারাজ, ফুলটি সুন্দর নয় ? যদি উপায় থাকে, কেন না করবো? তােমার শঙ্কর। ফুল নহে সুন্দর সুন্দরি-- যদি ভয় হয়, আমায় দাও,আমি ফুল শোঁকাচ্চি। তব করম্পর্শে সুন্দর কুসুম, সবম। কিন্তু ] এই যোগীর নিকট কি পণ তােমার অধর রাগে রঞ্জিত প্রসূন, করেছি জানো? যদি আমাদের কার্যসিদ্ধি সৌরভ-পরশি তব কর, হয়, মহারাজাকে নিয়ে ঘোর শ্মশানে উপস্থিত সোন্দৰ্য-গঠিত তব কায় । হতে হবে। দাস-দাসী কারেও সঙ্গে নিতে এসাে প্রিয়ে বিলম্ব না সয়, পাবে না । অধর-সুধার আশে তৃষিত এ প্রাণ, অশ্ব। সে তখন দেখা যাবে। শিরায় অনল খেলে কটাক্ষে তােমার, সরমা। ফুল শোঁকাতে চাও শোকাও। কিন্তু বােধ আলিঙ্গনে কর সুশীতল। হচ্চে সন্ন্যাসী-কাপালিক। কপালিকদের আন সুরা-আন সুরা-জলুক অনল, রাজবলি, যােগিবলি প্রয়ােজন হয়। ভােগতৃষ-হলাহল হউক প্রবল, অম্বা। না না, তােমার ভাই সকলকে সন্দেহ। ভােগমাত্র সার বস্তু মানব-জীবনে। আমরা কেঁদে কেটে ধরেছিলুম, তাই আমাদের প্রতি কৃপা করেছেন। ( নেপথ্যে সঙ্গীতধ্বনি) সরমা। আচ্ছা ভাই, তােমার কথাই শুনি, ফুল মরি মরি! বানাকণ্ঠ-বিনিঃসৃত কি সুন্দর গান! শোকাবাে। অনিলে মিশিল যেন! ( অমরক রাজদেহাতি শঙ্করাচার্য্যের প্রবেশ) সঙ্গীতনিপুণা কেবা সহচরী তৰ ? শঙ্কর। দেখ দেখ স্বপ্নের সংসার, বিমুগ্ধকারিণীগণে আন সন্নিধানে। কার বিনা কিছু নহে আর। ও স্বালিকা। (নেপথ্যে দৃষ্টিপাত করিয়া সরন শঙ্করাচার্য। ৪১ প্রতি জনান্তিকে) দিদি, বােধ হয়, সন্ন্যাসী যাদের গান করতে পাঠিয়ে দেবেন বলেছিলেন, তারা আসছে। ( উগ্রভৈরব-প্রেরিত অবিদ্যা-সঙ্গিনীগণের প্রবেশ) (নৃত্য-গীত ) চাদ উঠেছে, ফুল ফুটেছে, বইছে মলয়-বায়। সােহাগে গাইছে পাখী, চকোর উধাও ধায়। অবশে এলােকেশে, অরুণ-আঁখি চায় আবেশে, কালী পড়ে খসে, কাতর পিপাসায়। ভরা লাবণ্য জলে, তরঙ্গ রঙ্গে চলে, হিল্লোলে কমল দোলে, উথলে মধু যায় । শঙ্কর। মাত প্রাণ, কর পান আনন্দলহরী, গাও গাও, সুরাপাত্র দেহ বিধুমুখি ! তােল তান-মত্ত কর প্রাণ- ব'য়ে যাক বিলাস-নিঝর। { বাসঙ্গিণীগণ সহ মহামায়া ও যইস্তে সনন্দন, শান্তিরাম প্রভু, শঙ্করাচার্মের শিষাণের প্রবেশ ) অষ্ট কুলাচলাঃ সপ্ত সমুদ্রা, ব্ৰহ্মপুর-রদিনকর-রুদ্রা। ন জ নাহং নায়ং লােক- শুদপি কিমর্থং ক্রিয়তে শােক। বালস্তাবৎ ক্রীড়াসন্তরুণস্তাবত্তরুণীরক্ত। বৃদ্ধস্তাবচ্চিন্তামগ্নঃ, পরমে ব্ৰহ্মণি কোহপি ন লগ্নঃ ॥ শঙ্কর। এ কি এ কি, ঘোর আবরণ। সত্য বােধ অনিত্য স্বপনে। কি ঘোর ছলনে- রয়েছি আবদ্ধ এই স্থানে। বিশ্বব্যাপী আত্মা বদ্ধ এই ক্ষুদ্র দেহে। ( অবিদ্যাসঙ্গিনীগণের গীত ) রমণী রমণকুশলা। করে সুরা পেয়ালা ভরা নয়ন-বিলোলা, শিহরে আবেশেভরে সুরত- বিলা। স (গীত) ক৷ তব কান্ত কস্তে খুলঃ, সংসারোয়মতবিচিত্র। কস্য রং বা কুত আয়াতস্তং চিন্তায় দিও ভ্রাতঃ । ১। কুরু ধনজনযৌবনগং, হরতি নিমেষাৎ কাল সৰ্বম্। মায়াময়মিদমখিলং হি, ব্ৰহ্মপং প্রবিশশু বিদিষা। নলিনীদলগ হজলমতিতরশং, ওবজ্জীবনমতিশয়চপলম্ । গণমিহ সজ্জনসঙ্গতিরেকা, ভবতি ভবার্ণবতরণে নৌকা। যাবজ্জননং তাবন্ম, তাবজ্জননী-জঠরে শয়ন। ইতি সংসারে ক্ষুটতর-দোষ কথমিহ মানব তব সন্তোষ দিনমিন্তে সায়াত, শিশিরবসন্তৌ পুনরায়াতঃ । কাল’ ক্রীড়তি গচ্ছত্যায়ুস্তদপি ন মুঞ্চত্যাশাবায়ুঃ | সুবরমন্দির-তরুমূলবাস, শয্যা ভূতলমনিং বাসঃ । সর্বপরিগ্রহ-ভােগত্যাগ, কষ্য সুখং ন করােতি বিরাগঃ [ ৭। শঙ্কর। যাও যাও নাহি আর মাধূরী এ গীত, জ্ঞানারুণে বিকসিত চিত-শতদল ; বিনিত অবিদ্যা-আঁধার। আর বদ্ধ রাখিতে নারিবে। দেহ হতে পৃথক্ তো আমি । কিন্তু কোথা থ? কোন পথে হব বহির্গত ? অবিদ্যাসঙ্গিনীগণ। মহারাণী মহারাণী,-এদের তাড়িয়ে দেন, নইলে সদ্বনাশ হবে। মহামায়া। (অবিদ্যাসঙ্গিনীগণের প্রতি) এসে', মেশাে আমার শরীরে, আর কার নাহি অধিকার। কাল গত, সুদিন আগত, নাহি রবে মায়ার প্রভাব আর । এসে বিদ্যারূপে হই পরিণত; ত্য স্থান নাহি যথ' অধিকার। [ বিদ্যা ও অবিদ্যাসঙ্গিনীগণের পরস্পর মিলিত হইয়া মহামায়ার সহিত প্রস্থান। শঙ্কর। সত্য সত্য, এই তো নেহারি- মন নিজ স্থান পরিহরি ভ্রমে গুহা-লিঙ্গ নাভিস্থলে, কামপূর্ণ স্থান,-পাশবীয় ইচ্ছার প্রতি গিরিশ-গ্রন্থাবলী। । এই কলুষিত স্থানে এমে সদা মন ! সামান্য মক্ষিকা যথা পুরীষ-প্ৰয়াসী, সেইরূপ নিম পদ্মদলে ভ্রমে মন, জড় প্রায় নাহি কোন জ্ঞান। হৃৎপদ্ম-যথা ব্ৰহ্ম-জ্যোতি দীপ্তিমান বারেক না উঠিবারে চায় । উঠ মন! তুমি মধুমক্ষিকার প্রায়, হৃৎপদ্মে বসি হের উন্ধে পদ্ম কণ্ঠমাঝে রাজিত ষোড়শদলে শুন শুন ব্ৰহ্মগাণা হইতেছে গান, অন্য শব্দ স্তব্ধ সমুদয় ! উঠ উচ্চতর-এ-দ্বয়-মাঝে, নেহার দিল পদ্ম দামিনা-গঠিত যেন, জ্যোতির্ময় স্থান। হ স্থির! হের মন কিবা ব্যবধান তুমি আর সহস্রার পদ্মমাঝে। কর ষট্‌পদ্ম ভেদ, ব্ৰহ্মরন্ধুে হের মুক্তিপথ, ব্ৰহ্মরন্ধে, পথ-ব্রহ্মন্ধে পথ। চল পদ্মপাদ - [ অজানিত বিস্তৃত সম্মুখে পন্থায়, একদিকে টানে বাসনায়, অন্যদিকে বৈরাগ্যের আকর্ষণ। আকর্ষণে ছিন্ন হয় বাসনা-বন্ধন, কিন্তু বাজে বেদনা হৃদয়ে। সত্য জ্ঞান করিতাম যাহা, সুশােভিত সুন্দর সংসার, বিবেক দেখায় তাহা প্রপঞ্চ কেবল। মহা দ্বন্দ্ব-হয় তাহে আকুলিত মন। সত্যমূৰ্ত্তি হেরি হয় ভয়ের সঞ্চার। প্রপঞ্চ সকলি। জ্ঞানালােক-ঝলকে ব্যথিত হ-প্রাণ। সত্য মূর্তি মনােহর বিবেক-নয়নে, বাসনা-জড়িত-চিত করে বিচলিত।] [ ব্রহ্মর ভেদ করিয়া শঙ্করাচার্যের অমক রাজদেহ পরিত্যাগকরণ এবং শঙ্করাচার্য্যের শিষ্যগণের প্রস্থান। অম্বা। সর্বনাশ হলাে, সনাশ হলাে! কে আছ, রাজবৈদ্যকে সংবাদ দাও। সরমা। কারে সংবাদ দেবে? যােগিরাজ রাজ- দেহ পরিত্যাগ করেছেন। এসো, আমরা প্রস্তুত হই, চিতানলে বৈধব্য-যন্ত্রণা নিবারণ করবাে। চলে, রাজদেহ তুলসীমঞ্চে লয়ে (উভয়ভারতীর প্রবেশ) উভয়। কি মিশ্র মশায়, আমায় ছেড়ে যেতে চান—যাবেন, তার আর ভাবনা কি ? কিন্তু আচাৰ্য আমায় না পরাজিত করলে আমি ছেড়ে দেব না। আমার সহিত মাসায়ে বিচার করবেন বলেছিলেন। কিন্তু কই, একমাসের অধিক তাে অতীত হয়েছে। তবে আর কেন, এসো—যেমন ছিলুম, তেমনি থাকি। মণ্ডন। আমার ইচ্ছা বটে, কিন্তু যেমন ছিলুম, তেমন আর থাকবার উপায় নাই। ইচ্ছা হয়, আবার বিশ্বাস করি -সকলই সত্য, কিন্তু উপায় নাই। যখন স্থির চিন্তায় বসি, আচাৰ্য্য স্মরণ করে চিন্তাপ্রবাহ যে কোথায় যায়, তা নির্ণয় করতে আমি অক্ষম। আনন্দময় অসীম সাগরের আভাস যেন চক্ষে নিপতিত হয়। মনে হয়, স্বর্গাদি তুচ্ছ কামনা ল’য়ে কি প্রকারে এত দিন কর্মকাণ্ডে নিযুক্ত ছিলেম! ভেবেছিলেম, কৰ্ম্মই সৰ্বস্ব, কিন্তু কেন-কিসের কৰ্ম্ম---আমার কর্ম কি ? কিন্তু সেই মুহূর্তে আবার তােমার কণ্ঠস্বর শুনতে পাই, তুমি আমার নয়ন-পথে পতিত হও, তখনি বাসনা বলে—“কেন, এই তাে ভােগের সংসার, ভােগই মােন, অপর মােক্ষ কি?” উত। অমন গম্ভীর হয়ে কথাবার্তা কইলে আমি কিন্তু তােমার কাছে থাকবাে না। হায় রে, কি যাই। সপ্তম গর্ভাঙ্ক। মন মিশ্রের বাটী । মণ্ডন মিশ্র। যন। এত দিন এক স্রোতে বহিত সময়, অন্তরের দ্বন্দ্ব মম না ছিল কখন ; এৰে সন্ধিস্থলে উপনীত জীবনপ্রবাহ।

শঙ্করাচাৰ্য্য। ; ভয়ই দেখালুম! আমি চলে গেলে তো তুমি মণ্ডন উভয়ভারতি, উভয়ভারতি—তুমি কে ? বাঁচো। এত দিন তােমায় চিনি নাই! এতদিন তুমি মন। তােমার আজ এ কৌতুক-কলাপ কি পরিচয় দাও নি ! পরিচয় দাও-তুমি কে? কি নিমিত্ত ? দেখছি, তােমার চিত্ত অতি প্রফুল্ল ; ভাগ্যে আমার গৃহিণী হয়েছিলে? বােধ হয়, আমার প্রতি দোষ দিয়ে তুমি ইচ্ছা উভয়। শােনাে মিশ্র, ব্ৰহ্মলােকে সপ্তর্ষি বেদপাঠ ক'রেই চলে যেতে চাচ্চ। কচ্ছিল, আমি চতুমুখের পার্শ্বে ছিলেম। ঋষি- উভয়। কোথায় চলে যাব? আমার যাওয়া ইচ্ছা? মুখে বেদবাক্য ঋলিত হওয়ায় আমি হাস্য এতদিন বিচ্ছেদের আশঙ্কা ছিল, সে আশঙ্কা করি। সে নিমিত্ত সপ্তর্ষি লজ্জিত হন। চতুর্মুখ আর থাকবে না। ক্রুদ্ধ হয়ে আমায় অভিশাপ প্রদান করেন যে, মণ্ডন। তােমার কথার ভাব ত আমার অনুভূতি মানবী হয়ে ধরণীতলে অবতীর্ণ হও। অভিশাপে হচ্চে না। তােমার মুখে কদাচ অসঙ্গত কথা আমার আনন্দ হলাে। নির্গত হবে না। তুমি এই মৃত্যুর আগার মণ্ডন। এ দারুণ অভিশাপে আনন্দ ? সংসারে ব’চ-চিরদিন অবিচ্ছেদে থাকবে? উভয়। শােননা মিশ্র, কি নিমিত্ত ঋষিজিহ্বায় বেদ- যদি বিচ্ছেদ না হয়, সে তো কেবল মরবধি। বাক্য স্খলিত হয়েছিল। ধরায় বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার উভয়। জীবন-মরণ আমাদের তাে নাই ; আমরা হওয়ায় যাগযজ্ঞ ধরণীতে লুপ্ত হয়। সেই জন্য পরস্পর প্রেমে আবদ্ধ, সে বন্ধন মৃত্যুতে দেবতারাও মলিন হয়, চতুর্বেদও মলিন আবরণে ছিড়তে পারবে না। আজ এই অনিত্য বন্ধন আবৃত হয়। সেই আবরণ উদঘাটিত হবে, বিমল মুক্ত হয়ে সেই চিরন্ধনে পরস্পরে এক হয়ে অদ্বৈত-পন্থা সূৰ্য্যের ন্যায় মােহ-তম নাশ করবে, থাকবে। আমি উপস্থিত থেকে সেই নররূপী শঙ্কর দর্শন *[ মন। উভয়ভারতি উভয়ভারতি, তুমি কি দেবদেবের নলীলা কল্পে কল্পে আমায় ছেড়ে যাবে ? কদাচ হয়; সেই লীলা দর্শন করবাে-এই উভয়। দিন দিন তুমি ত ভারি পণ্ডিত হচ্ছ ? আমার আনন্দ হয়েছিল। এক্ষণে নররূপী চ্ছেদের নাম বুঝি ছেড়ে যাবে? তুমি মনে ক’চ্ছ, শঙ্করের নিকট পরাজিত হয়ে বিধিবাক্যে বুঝি সন্ন্যাস নিয়ে আমায় ছেড়ে পালাবে? তা আমি অভিশাপমুক্ত। এই মূর্তিতে তােমার ছাড়বাে না-পালাতে পাবে না। আর পালা- সহিত এই শেষ দেখা; কিন্তু জেনাে, আমরা বেই বা কোথায় ? তােমার আচাৰ্য্য আর অবিচ্ছেদ। আমি কে জেনেছ, গুরুর প্রসাদে আমার সঙ্গে বিচার করতে আসবে না। আমার অচিরে উপলব্ধি করবে-তুমি কে। অতি কঠিন শাস্ত্রের তর্ক, এ পড়ে শেখে না, [ উভম্বভারতীর অন্তর্ধান। ঠেকে শেখে। ] মিশ্র, মিশ্রশুভক্ষণ উপস্থিত, মন। কোথায় গেল? এই যে তােমার আচাৰ্য্য। শঙ্কর। দিব্যচক্ষে দর্শন করাে, ওই মা শ্বেতশতদল- (শঙ্করাচার্য্যের প্রবেশ) বাসিনী-শ্বেত পদ্মাসনে বিরাজিতা। তুমি মন নাম পরিত্যাগ করে আজ হতে বাবা, আমি পরাস্ত। ‘সুরেশ্বর’ নামে খ্যাত হও। মােহমালিন্য দূর শঙ্কর। মা, তবে বর দেন যে,যত দিন আমার ভাষ্য করে চলাে-মহাকাৰ্য্যে গমন করি । প্রচলিত থাকবে, তত দিন আপনি আমার মঠ- পট পরিবর্তন। রক্ষিণী হবেন। মা বিদ্যারূপিণী, তুমি না সংসারে বিদ্যমান থাকলে আমার ভাষ্য পৃথিবীতে কনলবনে সরস্বতী। ( কলাবিন্তাগণের গীত) লুপ্ত হবে। উভয়। বৎস, তােমার কাৰ্যে আমি সহায় মাত্র, কবি-রবি-ছবি নখরে ঠিকরে। তােমার ইচ্ছা কদাচ অপূর্ণ থাকবে না। রাগ-বঙ্গ গুঞ্জরে করে, মােহ নাশি বেদহাসি অধরে। ০ গিরিশ-গ্রন্থাবলী ধ্যানগঠিত শ্বেত-মুরতি, দিব্যাম্বর। শ্বেত-জ্যোতি, ২য় বালক। কেন ওর খাবার কেড়ে খাবি? ভূষণসিত জ্ঞানভাতি সহস্রারে বিহরে। ৩য় বালক। তাের ইচ্ছা না হয়, তুই খাস নি। শ্বেতাঙ্গিনী ভারতী, শ্বেত-সরােজে আরতি, (হাবার হস্ত হইতে খাবার লইয়া ২য় বালক আলােকিত ভ্রান্তি-রাতি, শ্বেত কিরণনিকরে। ব্যতীত সকলের আহার ) হাবা বুড়ী হােক, নাও চোখ বােজ, চোর হও। ১ম বালক। এই হাব, চোখ টিপে ধর না, কিসের পঞ্চম অঙ্ক। বুড়ী হলি ? ধর না চোখ টিপে,-( মাথায় চড় মারিয়া) এটা পারি নে ? ২য় বালক। কেন ওকে মারুচিস্? নে খে। প্রথম গর্জাঙ্ক। ( বালকগণের ক্রীড়া ও গীত) পল্লী-প্রান্তস্থ পথ। ক্রীড়ারত বালকগণ। ঐ হা ১ম বালক। বুড়ী হবে কে ? তুই বুড়ী হ। ২য় বালক। বাঃ, মজা দেখ না ? আমি খেলবে। না, বুড়ী হয়ে চুপ করে বসে থাকবে? ৩য় বালক। ওরে ওরে আসছে, ওকে বুড়ী করি আয়। ১ম বালক। না, না-ও ইচ্ছে হয় বসবে, নইলে উঠে কোথা চলে যাবে। ২য় বালক। আচ্ছা ভাই, ও অমন কেন ? একদিন খেতে চায় না। ম বালক। তবে আর হাবা কি ? ওর মা খাবার দিয়েছে, আমি কত দিন ওর হাত থেকে কেড়ে খেয়েছি, কিছু বলে না। ২য় বালক। তুমি ভাই ওকে বড় মারে। ১ম বালক কিছু বলে না, তাই হাতের সুখ করি। ২য় বালক না ভাই, ওকে মেরে-টেরাে না। ৩য় বালক দেখ, ওকে ঘােড়া করবি? ২য় বালক না না-কেন বামুনের পিঠে চাপবো ? ১ম বালক। ওরে আয় না, আয় না -ও কাধে নিয়ে বেড়িয়ে বেড়াবে এখন। ৩য় বালক। না ভাই, এখন তুমি চোর হয়েছ, খেলা দাও। ( খাবার হস্তে হাবার প্রবেশ ও চুপ করিয়া একস্থানে উপবেশন ) এই হাবা এসে বসেছে। ১ম বালক। (অন্যান্য বালকের প্রতি ) ওরে, খাবার নিয়ে এসেছে, খাই আয়। হয়েছে—টু দিয়েছি, লুকোবো না ছোঁ দেখি ? তাড়া দাও, তা হবে না, চোর হয়েছ-চালাকি ? ছাই জানিস্ লুকোচুরি ; ছুবি ? তাের মুরােদ ভারি, এক ছুটে ছোঁব বুড়ী, ভাঙ্গবো তোর জারী, সাত চাদ গায়ে দেব, ঝাড়বাে মাথায় চমকি। ( ৩য় বালকের ছুটিয়া আসিয়া প্রথমে হাবা [ বুড়ী ] কে স্পর্শকরণ এবং তৎপশ্চাৎ ১ম বালকের ৩য় বালককে স্পর্শকরণ) ১ম বালক। আমি তোকে ছুয়েছি, তুই চোর হয়েছি। ৩য় বালক। আমি বুড়ী ছুলে,তার পর তুই আমায় ছুয়েছি। ১ম বালক। মিছে কথা বলিস নে, আমি আগে ছুয়েছি। ৩য় বালক। তুই মিছে কথা বলি নি, আমি আগে বুড়ী ছুয়েছি। ১ম বালক। আচ্ছা, বুড়ী বলুক। হাব', বল্ তো -আমি আগে চুই নেই? আমি আগে ছুয়েছি, তার পর ও তােকে ছুয়েছে। বল্ না -বল না বেটা (প্রহারকরণ ) ২য় বালক। ওকে মারিকেন ওকে মারিস ? ১ম বালক। ওরে, ওর মা আসছে—পালাই চল- [ বালকগণের পলায়ন। কেন ( প্রভাকর ও তৎপত্নীর প্রবেশ) প্রভাকর-পত্নী। দেখ দেখি, বসে বসে মার খাচ্চে। খাবার হাতে দিলে বেরিয়ে আসে, আর ছেলে- শঙ্করাচাৰ্য্য। গুলাে কেড় নেয়। তুমি তো ছেলেগুলােকে কৃপা করুন,-বহুদিন অপুত্রক ছিলেম, শেষ কিছু বলবে না! মেরে হাড় গুড়ো করে দেয়, অবস্থায় এই পুত্রসন্তান লাভ হয় ; কিন্তু খাবারগুলাে কেড়ে খায়। পুত্র প্রাপ্তে আমার ও আমার ব্রাহ্মণীর যন্ত্রণা শত- প্রভাকর। আমি কিছু বলি নি, যদি এতেও চৈতন্য গুণে বর্জিত। পুত্রের বয়ঃক্রম এয়ােশ বৎসর, এদের সঙ্গে খেতে ইচ্ছে হয়, কি রাগ কিন্তু অদ্যাবধি একটি বাক্য নিঃসরণ করে নাই, হয়,তা হলেও বুঝবো যে, জ্ঞানসঞ্চার হচ্চে। দিবারাত্র অন্য মন। ভােজ্যবস্তু মুখে দিলে প্রভাকর-পত্নী। আর তােমার মার খেয়ে জ্ঞানে কখনাে আহার করে, পরিধেয় বস্তু সৰ্বসময়ে কাজ নেই। পােড়ারমুখাে ছেলেরা!--আমি কটিদেশে থাকে না, শুচি-অশুচি জ্ঞান নাই, আর বাছাকে বেরুতে দেব না। যজ্ঞােপবীত দেহ হতে পড়ে যায়, তার প্রতি (জনৈক প্রতিবাসীর প্রবেশ) লক্ষ্য নাই। সমবয়স্কের সহিত কথন ক্রীড়া করে না, কোন দুষ্ট বালক যদি কখনাে প্রহার প্রতি। ওহে প্রভাকর—প্রভাকর, এই দিক দিয়েই বা অন্যরূপ পীড়ন করে, তাতে কোন প্রকার মহাপুরুষ যাবেন। তুমি একেবারে পায়ে ধরে বিরক্তি প্রকাশ করে না। মানবের আকার- পড়,আর ছেলেটাকে পায়ে ফেলে দাও। মাত্র, কিন্তু জড়ের ন্যায় অজ্ঞান। প্রভু, আপ- ক্ষমতার কথা বল্ববা কি হে, আমি সচক্ষে নার কৃপায় মৃতবালক জীবন পেয়েছে,-আমার দেখলুম, মরা ছেলেটা বাঁচিয়ে দিলে । এই জড়বালকের উপায় করুন। দেখুন- প্রভা-পত্নী। হ্যা জ্যাঠা, -সত্যি? কাষ্ঠবং আপনার পদতলে পতিত রয়েছে, যে প্রতি। হঁাগাে, মরা ছেলে কোলে করে মা মাগী অবস্থায় রাখুন, সেই অবস্থায় থাকে। কাচে, তাদের ভাগ্যক্রমে সেই স্থান দিয়ে মহা শঙ্কর। আপনি জড় বলছেন, কিন্তু আপনি আমায় পুরুষ যাচ্চেন ;-দেখে দয়া হলাে, বল্লেন, প্রণাম করূতে বলেন, তা তো বুঝলে? ‘কঁচো কেন, তােমার পুত্র ত মরে নাই। প্রভাকর। কিছুই বােঝে নাই। আমি আপনার ওমনি মৃতপুত্র যেন ঘুম ভেঙ্গে উঠলাে। পদপ্রান্তে নিক্ষেপ করলেম, সেই অবস্থাতেই প্রভাকর। আমার প্রতি কি দয়া হবে ? পতিত রয়েছে। প্রভু, আপনি মস্তকে পদার্পণ প্রতি। অবশ্যই হবে, উনি দয়ার সাগর । শঙ্কর। বালক, তুমি কে ? কেনই বা এই জড়ের ( শঙ্করাচাৰ্য্য এবং সনন্দন, মগুমি, আনন্দগিরি, ন্যায় অবস্থান কচ্চ ? (হাবার মস্তকে হত্যার্পণ ) চিৎসুখ, তােটকাচাৰ্য, শান্তিরাম হবা। নাহং মনুষ্যো ন ৪ দেবঙ্গে, প্রভৃতি শিষ্যগণের প্রবেশ) ন ব্রাহ্মণক্ষত্রিয়বৈশুশূদ্রাঃ। ন ব্রহ্মচারী ন গৃহী বাস্থে, শঙ্কর। সুরেশ্বর, এ কোন্ দেশ? যেন কোন ভিক্ষুন চাহং নিজবােধরূপ। মহাপুরুষের আবাসস্থল বােধ হচ্ছে। দেখ দেখ, মাধব-মালতী পরস্পর আলিঙ্গিত ও পুষ্পিত, শঙ্কর। (প্রভা করের প্রতি ) শুন দ্বিজবর, তােমার যেন শান্তিদেবী বিরাজ কচেন ; প্রান্তর শস্য- বালক কি আত্ম পরিচয় দিচ্ছে। শালিনী, পাখীরা অসঙ্কুচিতচিত্তে মনুষ্যের নিকট হাবা। তপন-কিরণে যথা ভুবন প্রকাশ, বিহার করে গান কচ্চে, যেন হিংসা-দ্বেষ-বর্জিত সেইরূপ মনশ্চক্ষু ইন্দ্রিয়াদি যত স্থান। হেথায় নিশ্চয় কোন মহাপুরুষ অবস্থান ক্রিয়াবান্ যাহার প্রভাবে, ক৯েন। আকাশের তুল্য শুদ্ধ নিরঞ্জন যেই- প্রতি। ( প্রভাকরের প্রতি জনান্তিকে) নাও, নিত্যজ্ঞান স্বরূপ সে শুদ্ধ-আত্মা আমি। ১ নাও-পায়ে ধরে। বহ্নির উষ্ণতা যথা বহ্নির স্বরূপ, প্রভাকর। (হাবার হস্ত ধরিয়া) নে, প্রণাম কর। নিত্যজ্ঞান স্বরূপ যাহার, (শঙ্করাচার্যের পদপ্রান্তে রক্ষা করিয়া) প্রভূ! জড়মতি প্রকৃতি যে বিরাট, আশ্রয়ে ৫৪ গিরিশ-গ্রন্থাবলী । চন্দ্র-প্রতিবিম্ব যথা চঞ্চল সলিলে বহু চ হয় অনুমান, পরমাত্মা পরমপুরুষ তুমি দেব, তেমতি এ বহুভাবে মায়ায় প্রকট, কৃপা কর নিরাশ্রয় জনে। = সচঞ্চলা কাৰ্য্যে পরিণতা, অদ্বিতায় নিত্যজ্ঞান স্বরূপ অহম্। ২ বনের প্রতিবিম্ব দর্পণে যেমন বদন হইতে নহে পৃথক্ কখন, বুদ্ধিরূপ মুকুরে বিম্বিত আত্মা তথা জীব-ভাব করিয়ে কল্পনা, ভিন্ন ভাবে আপনার পরমাত্মা হতে সেই নিত্য বােধরূপ পরমাত্মা আমি। ৩ প্রতিবিম্ব নাহি রহে মুকুর বিহনে, সেইরূপ অাত্মবুদ্ধি হইলে বিলীন, পরমাত্মা বিম্বিত যাহা3ে, অখণ্ড অসঙ্গ আত্মা রহে বিদ্যমান, সেই পরমাত্মা মন আত্ম-পরিচয়। ৪ মনের যে মন, যিনি চক্ষুর নয়ন, ইন্দ্রিয় যাহারে নাহি পায় দরশন, আমি সেই মুক্তজ্ঞান আত্মার স্বরূপ। ৫ বহু জলপাত্রে যথা তপন বিম্বিত, অদ্বিতীয় নিৰ্ম্মম সে চিৎ সপ্ৰকাশ-- নানা ঘটে নানা রূপে হয় বিদ্যমান, আমি সেই নিত্যজ্ঞান আত্মার স্বরূপ। ৬ এক সূৰ্য্য যথা রূপ প্রকাশ কারণ, বহু চক্ষু হেরে তাহা তাহার প্রভায়, সেইরূপ এক বহু বুদ্ধিতে প্রকাশ, বহু জ্ঞানে বহু বুদ্ধি এক বস্তু হেরে, বহুভাবে বিম্বিত সে নিত্য আআ আমি।। মেঘাচ্ছন্ন হেরি দিবাকর, প্রভাহীন রবি জ্ঞান করে মূঢ়জন, সেইরূপ চিৎ বস্তু মায়া-আবরণে বদ্ধ জ্ঞান করে আপনায়, সেই নিত্য চিৎরূপ স্বরূপ আমার। ৮ জগতে সমস্ত বস্তু যাহাতে প্রকাশ, অণু হতে বৃহতের আধার-স্বরূপ, স্বচ্ছরূপ বস্তুগত আকাশ যেমন- সেই নিত্য জ্ঞানরূপ স্বরূপ আমার। কৃপাপ্রার্থী তব প্রভু, আশ্রিত তােমার, হে গুরু, হে বিকার-বিহীন মহাত্মন, স্ফটিকের পার্শ্বে রক্তজবা সংস্থাপনে আরক্ত শুটিক হয় জ্ঞান, হে বালক, তুমি জীবন্মুক্ত পুরুষ, করগত আমলকীফলের ন্যায় ব্রহ্মতত্ত্ব তােমার হস্তগত। তুমি হামলক নামে জগতে বিখ্যাত হও। তুমি বহুজন্ম তপস্যার ফলে সংস্কার-বর্জিত। তুমি ব্ৰহ্মজ্ঞানী মহাপুরুষ, ব্ৰহ্মজানে অবস্থান করাে। (প্রভাকরের প্রাত) পণ্ডিতবর, প্রত্যক্ষ দেখ লেন—আপনার পুব্দ জড় নয়। আপনি গৃহী, এ অসঙ্গ পুত্র আপনার প্রয়োজন নাই। পুত্রসন্তান আমায় দান করুন। ভা-পত্নী। না--না, আমার যেমন জড় ছেলে ছিল, সেই জড় ছেলে থাকুক, আমার ব্রহ্মজ্ঞানী ছেলে চাই না। আমি এ সন তােমায় দেবাে না,-আমার বাছা জড় হয়ে আমার ঘরে থাকুক। শঙ্কর। মা, কারে পুন্ন ব’ছ ? স্মরণ করাে, তুমি তোমার শিশু পুত্র লয়ে যমুনায় স্নান করতে গিয়েছিলে ; যমুনায় পতিত হয়ে তােমার শিশুর প্রাণবায়ু নির্গত হয়। এই সাধু তােমার রােদনে দয়াচিত্ত হয়ে তােমার শিশুর শরীরে প্রবেশ করেছেন। তুমি ভেবেছিলে, তােমার পুত্র মূর্হাপন্ন হয়েছিল—তা নয়, তুমি এই মহাপুরু- ধকে গৃহে লয়ে এসেছ। পাছে সংস্কার স্পর্শ করে, সেই নিমিত্ত জড়ের ন্যায় ইনি অবস্থান কতেন। এই সাধুর প্রভাবে এ প্রদেশে শান্তি পূর্ণ। মা, তােমার গৃহে নারায়ণ আছেন, পুত্র- ভাবে তঁার সেবা করাে, যােদর ন্যায় নারায়ণ- পুত্র লাভ করবে। প্রভা। ব্রাহ্মণি, এসস - গৃহীর আবাসে যােগর প্রয়োজন নাই। পুত্ৰজ্ঞানে এত দিন যে এই ব্ৰহ্মবি মহাপুরুষের সেবা করবার সুযােগ প্রাপ্ত হয়েছি, সে আমাদের পরম ভাগ্যফলে। পুত্রের মমতা এই যােগিবরের পদে অর্পণ করে। প্রভা-পত্নী। যতীশ্বর, এ দেহে মহাপুরুষ থাকুন আর যেই থাকুন, আমি এত দিন পুজ্ঞানে পালন করেছি। পুত্রমেহ যে কি কঠিন বন, আপনি শঙ্করাচাৰ্য্য। যতি, আপনি কি জাবেন ? আমি অতি শঙ্কর। আমি তােমায় পদ্মযােনিরূপে দর্শন করেছি। অভাগিনী! দেবী সরস্বতী তােমার গৃহে আবদ্ধ ছিলেন, শঙ্কর। না দেবি, তুমি সুভাগিনী, মুক্তাত্মার সেবা এখনাে তােমার সঙ্গিনী, নচেৎ এরূপ টীকা করেছ,-অচিরে মায়াজ্য পরিত্যাগ করে সামান্য শক্তিতে প্রস্তুত হয় না। (হামলকের প্রেমরাজ্যে নারায়ণকে পুত্ররূপে প্রাপ্ত হবে। প্রতি) হস্তামলক, তােমার তাে কথাই নেই, প্রভা। যতীশ্বর, আপনার বস্তু আপনি গ্রহণ করুন, তুমি সংসাশ্রমে যেরূপ ছিলে, এ আশ্রমেও কিন্তু সংসার আমার অন্ধকার জ্ঞান হচ্চে। সেইরূপ। তা তােমায় কোন ভাষ্য-রচনার প্রণাম। (পত্নীর প্রতি) এসো, গৃহে যাই, আদেশ করে, তােমার আনন্দের বিঘ্ন ক’ববাে নারায়ণকে মনােবেদনা জানাই। না, তুমি নিয়ত ব্ৰহ্মানলেই অবস্থান করো। [ উভয়ের প্রস্থান। [ সকলের প্রস্থান। প্রতিবাসী। প্রভু, আমায় পদধুলি প্রদান করুন। আমার জীবন সফল হােক। ব্রাহ্মণকুলে আমি একজন জ্ঞানহীন মূঢ় ব্যক্তি। দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক। [ শঙ্করাচার্য্যের পদস্পর্শ করিয়া প্রণামকরণ। পৰ্বতােপরি কাপলিকের আশ্রমের নিকটবর্তী বন। শঙ্কর। দেবদেবের প্রসাদে অচিরে দিব্যজ্ঞান লাভ শঙ্করাচার্য্য। প্রতি। প্রভু, আজ আমার পরম ভাগ্য, যতীশ্বরের শঙ্কর। এ কোন্ স্থান? প্রকৃতি যেন কোন পৈশা- দর্শন স্পর্শন ও আশীৰ্বাদ লাভ করলেম । চিক শক্তিতে আচ্ছন্ন। তরুলতা মলিন, বিহঙ্গ [ প্রতিবাদীর প্রস্থান। রবহীন,-যেন অশান্তির আবাসস্থান। (শান্তিয়ামের প্রবেশ) শঙ্কর। এসে। হামলক, তােমার কাৰ্য্য অবসান হয়েছে। আমাদের এখনাে বহুকাৰ্য্য অসমাপ্ত। শান্তি। প্রভু, আজ আপনাকে ছাড়বে না, আমার ( আনন্দগিরির প্রতি) আনন্দগিরি, তুমি ধন্ঠ, সকলের সাক্ষাতে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা করে, তােমার ভাষ্য জনসমাজে পূজ্য ও হিতকর হবে। সবাই হাসবে আর বললে, এটা এত আহামুখ! সনন, চিসুখ, তােমাদের ভাষ্যপাঠেও আমি আজ একলা পেয়েছি, ছাড়বে না। আমার পরম তৃপ্তিলাভ করেছি। বড় গােল বেধে গিয়েছে, আমি মেধাহীন- সনন্দন। প্রভু, আমি অপরাধী, আপনি সুরেশ্বরকে আমি কিছু বুঝতে পারি না। যখন ভাষ্য-রচনার আদেশ প্রদান করেন, আমরা শঙ্কর। কি বাপু, কিবুঝতে পারাে না ? অনেকেই বিরূপ হয়েছিলেম, বিশেষত: আমি। শান্তি। এই প্রভু বলেন,-অদ্বিতীয়, অসঙ্গ, অখণ্ড, ভাবতেম, যে ব্যক্তি সংসারে লিপ্ত ছিলেন, কর্ম সচ্চিদানন্দ এ ব্ৰহ্মই বিদ্যমান-অর সকলই -কাণ্ড যার জীবন ছিল, তিনি বিমল অদৈত মায়া। আর দেবদেবী, নেড়ামুড়ি যা যেখানে ভাষ্যের টীকা কিরূপে করবেন। সে এম আমার দেখেন, অমনি ছন্দেবনে স্তব রচনা করেন। খনি হয়েছে। গঙ্গা, নর্মদা প্রভৃতি যে যেখানে নদী আছে, শঙ্কর। সুরেশ্বর, প্রারব্ধ বলবা। প্রারন্ধে তুমি এমন কি, ডােবা নালা বাদ যায় না, তার ত তব অপর দেহ ধারণ করে বাচস্পতি মিশ্ররূপে আওড়ান,-সকলকেই তাে মুক্তিদাতা বলেন। তােমার কাৰ্য্য সমাপ্ত করবে। তখন আমার কিন্তু বৈষ্ণব এলে তাকেও থ করে দিচ্ছেন, ভাষ্যের টীকা পূর্ণ হবে। সুরেশ্বর, তুমি কোন শৈব এলেও তাই,-যেখানে যে উপাসক আছে, আভাস পেয়েছ কি তুমি কে ? খুজে খুজে গিয়ে তাে তাদের পরাস্ত করেন। মন। আমি আপনার দাস, অপর আভাস অামার এর কোটা ঠিক আর কোটা অঠিক, আমি প্রয়ােজন নাই। বুঝবাে। বলুন?

গিরিশ-গ্রন্থাবলী দিন-মন পর্যন্ত তাে বুঝতে পারি, তার পর আমার স্বরূপ আবার কি ? মন পৰ্য্যন্ত তাে জানাে ? কার মন বল দেখি ? শঙ্কর। যতদিন দেহবুদ্ধি রহে, পূজা, স্তব, যাগযজ্ঞ অতি প্রয়ােজন। মুক্ত-আত্মা প্রভৃতি রহেন পূজারত যত দিন দেহবুদ্ধি রয় । সমাধি ব্যতীত নহে দেহবুদ্ধি লয়। এই হেতু মুক্ত-আত্মাগণে নিয়ত রহেন দেবদেবী-পূজারত। মুমুক্ষু যে জন, দেবদেবী করিয়ে সাধন মুক্তিপথে হয় অগ্রসর ; উপাস্য বস্তুতে তাহে জননা প্রিয় জ্ঞান, ধ্যানমুগ্ধ অনিশি রহে, ইষ্ট মুক্তি হেরে সে হৃদয়ে। ক্রমে দিব্য জ্ঞানােদয় উপাস্য সহিত হেরে অভেদ আপনি ; দেবদেবী উপাসনা তেঁই প্রয়াজন। শান্তি। প্রভু, আপনার কথা ভারি গোলমেলে, যদি এ সব প্রয়ােজন, তবে দশ-বিদেশ ঘুরে তর্ক করেন কেন ? শঙ্কর। হীনবুদ্ধি নরে, বিদ্য'-দম্ভভরে হীনজ্ঞান করে মুঢ় ভিন্ন সাধকেরে। অহঙ্কারে ভাবে ভ্রান্ত অন্য সম্প্রদায়, সত্য উপলব্ধি মাত্র কেবল তাহার । শান্তি। আর আপনিও তো তাই বলেন, বলেন- অদ্বৈতবাদই সত্য, আর সব ঠিক নয়। বলতে আসে, অমনি মুখ থাবড়ে দিয়ে তো তার মত উটে দেন। শঙ্কর। দিব্যজ্ঞানে ভাবে মনে যেই ভাগ্যবান্, ইষ্ট তার জগতের ইষ্টের স্বরূপ নিত্যানন্দময় বিধু ব্যাপ্ত চরাচরে, ইষ্ট যার প্রিয় নিজ সম, তর্কে রহি বিরত সে মহাজন সনে। অস্তি, ভাতি, প্রিয় এই মহাবাকায় করিতে স্থাপন, মম তর্ক প্রয়ােজন, ইহার অধিক নাহিক শাস্ত্রশিক্ষা আর। সেই প্রিয় বৈষ্ণবের স্বামীর সমান, পত্নীজ্ঞানে শাক্ত ভজে তঁারে, প্রকৃতি প্রভেদে--প্রিয় যে সম্বন্ধ যার, যেরূপ সম্বন্ধ করে ঈশ্বরের সনে। শান্তি। ও যান,আপনার ছোঁদো কথার ভেতর আমি সেদোতে পাবে না। আমায় বলে শান্তি। বড় সোজা কথাটি জিজ্ঞাসা কল্লেন কি না। তা জানলে আপনাকে বিরক্ত করতেন কি না, আমিই আচাৰ্য্য বনে যেতেম। আপনি মরা মানুষ বাঁচান, বােব কথা কওয়ান, আমায় একটু বুদ্ধি দিয়ে দিন, যাতে একটু বুঝতে পারি। শঙ্কর। বৎস, সাধন প্রয়ােজন। সাধন করাে- সমস্ত বুঝবে। শাস্তি। যা কতে হয়--সে আপনি করুন। সাধন করে তো মন বশ করতে বলেন ? সে আমার কৰ্ম্ম নয়। সে সব পদ্মপাল প্রভৃতিকে বলুন। আমি চোখ বুজে মন স্থির করূতে নিৰ্মনে ব’ লেই, মন বেটা বরং সােজায় ছিল ভাল, চোখ বুজলেই অমনি সৃষ্টি সংসার দুরতে চলে। এ মন নিয়ে—কি সাধন করবে! বলন? আমি একটা সােজামু িবুঝেছি, আমার মিষ্টি ও লাগে, “ধ্যানমূলং গুরােমুত্তিঃ পূজামুগং গুরোঃ পদ মন্ত্রমূলং গুরােবাক্যং মোক্ষমূলং গুরোঃ কৃপা।” এই মন্ত্র আউড়ে আমি নমস্কার কবলেম, যা কর-কবেন। কর। বংস, সার তত্ত্ব তােমার উপলব্ধি হয়েছে, বহু সাধনফলে এ ধারণা নন্ম। ব্ৰহ্মান তোমার করগ; ( মস্তকে হস্ত দিয়া আশীর্বাদ) (स या শান্তি। মশায়, আপনি মাঝে মাঝে ফাঁকি ও চালান। কাল সকালে যদি ব্ৰহ্মজ্ঞান না হয়, কাল আবার আপনার সঙ্গে পেড়াপীড়ি করবে। এই ব’ণে রাখলেম! শঙ্কর। দেখ, এ অতি কুৎসিত স্থান। এ স্থানে আশ্রম করা উচিত নয়। পদ্মপাদ প্রভৃতিকে ডাকো, আমরা অদ্যই আমরা অদ্যই এ স্থান এ স্থান পরিত্যাগ কব। [ শান্তিরামের প্রস্থান।

শঙ্করাচাৰ্য । (উগ্রভৈরবের প্রবেশ ) আপনি সর্বজ্ঞ, আপনার অবিদিত নাই, পর- কাৰ্যে দধীচি আপনার অস্থি প্রদান করে। কে আপনি ? ছিলেন। আমায় মস্তক প্রদান করে জগতে উগ্র। আমি আপনার চরণাশ্রিত--ভিক্ষা প্রার্থী। দধীচির ন্যায় যশস্বী হউন। শঙ্কর। কি আজ্ঞা করুন? শঙ্কর। উত্তম। আমি এ ভঙ্গুর দেহ তােমার কাৰ্য্যে উগ্র। আমি আত্মােন্নতির ইচ্ছা করি। প্রদান করবে। যথার্থ বলেছ—পকাৰ্য্যে দেহ, শঙ্কর। আমার উপদেশ-গ্রহণে ইচ্ছুক কি ? অর্পণ মানবের উচ্চ কৰ্ত্তব্য। কিন্তু নির্জন কোন উগ্র। না, আমার অন্য পন্থা, অদ্বৈত-পন্থা নয়। স্থান ব্যতীত আমার শিষ্যেরা তােমার কাৰ্য্যে আমি শক্তির প্রয়াসী, সিদ্ধাই-অৰ্জন আমার ব্যাঘাত উৎপাদন করবে। কামনা। উগ্র। আসুন—আসুন প্রভু, এখন আপনার শঙ্কর। তবে কি নিমিত্ত এ স্থানে আগত ? শিষ্যেরা উপস্থিত নাই, - আমার আশ্রমে আগুন উগ্র। আপনার দ্বারা সেই সিদ্ধাই লাভ করবো। --সে অতি নির্জন। শঙ্কর। কিরূপ, প্রকাশ করুন। [ উভয়ের প্রস্থান। উগ্র। আমি বহুদিন ভৈরবের উপাসনার পর, তিনি প্রসন্ন হয়ে আমায় আজ্ঞা দেন যে, যদি কোন (গণপতির প্রবেশ ) রাজা বা নিৰ্মলা সাধুর মস্তক হােমে আহুতি গণ। কি করবো, কোথায় যাবাে ! পথ চিনতে প্রদান করতে পারি, তাের অভীষ্ট সিদ্ধ হবে, পাচ্ছি না, কেন এ দুরন্ত কাপালিকের কাছে অষ্টসিদ্ধি লাভ করবি। এসেছিলুম! আমায় নরবলি দেয় তো নিস্তার শঙ্কর। মহাশয়, যদি অদ্বৈতপস্থা অবলম্বন করেন, পাই। হায় হায়--ইচ্ছা করে আপনার সর্ব- অষ্টসিদ্ধি প্রভৃতি ক্ষুদ্র শক্তি পদদলিত করে নাশ করেছি। আনন্দধামে উপনীত হবেন। উগ্র। না, আমার সামান্যই প্রয়াস--আমার অষ্ট [ স নন্দন, মুণ্ডন মিশ্র, আনন্দগিরি, চিৎমুখ, সিদ্ধিই বাসনা। আমার ভিক্ষা, আপনি আমার হামলক, শান্তিরাম প্রভৃতি শিষ্য- বাসনা পূর্ণ করুন্। গণের প্রবেশ) শঙ্কর। আমি কিরূপে আপনার বাসনা পূর্ণ সনন্দ। কই—গুরুদেব কোথায় গেলেন ? করবাে ? গণ। পদ্মপাদ,পদ্মপাদ-রক্ষা করাে। উগ্র। যদি আমার উপকারার্থে ইচ্ছা করেন, অন সনন্দন। কি গণপতি,-কি হয়েছে ? য়াসেই পারেন। আপনি সর্বদাই প্রচার করে গণ। উগ্রভৈরব নামে এক বের কাপালিকের থাকেন, এ অনিত্য শরীর পরকার্যে নিযুক্ত করে হাতে পড়ে আমার প্রাণান্ত পরিচ্ছেদ! রাখাই কৰ্ত্তব্য। আমি আপনার সেই বাক্যের সনন্দন। কেন--কি হয়েছে ? পরীক্ষা ক’চ্ছি। যদি পরকাৰ্য্যার্থে শরীর ধারণ গণ। দেথ, শত শত কুৎসিত কৰ্ম্ম আমায় করে থাকেন, আমি যারা ইষ্টলাভ করি, করতে হয়,-সতীকে ভুলিয়ে আনতে হয়, দেহের দ্বারা সেই কাৰ্য্য করুন। কোথায় কোন চণ্ডাল আছে, অনুসন্ধান করে শঙ্কর। আমায় কি কতে বলেন? তাকে ভুলিয়ে আতে হয়। যদি না করি উগ্র। নিবেদন করেছি, এক নির্মল সাধুর মস্তক মারে, খেতে দেয় না। পালাতে পারি না, আহুতি দেওয়া আমার প্রয়ােজন। আমি সমস্ত পালাতে গেলে,-“কি যাদু করেছে, পালাতে স্থান অন্বেষণ করে পবিত্র সাধু কোথাও দেখ গেলে পথ ভুলে যাই। সমস্ত দিন ঘুরে-ফিরে লেম না। বৌদ্ধ তান্ত্রিক অনেক আছেন, কিন্তু ফের ওর আস্তানায় এসে পড়তে হয়। যে দিন তাঁদের চিত্ত আমার ন্যায়ই সমল। অতএব পালাবার চেষ্টা করি, সে দিন আর যন্ত্রণার শেষ আপনি আপনার মস্তক ভিক্ষা দিন। প্রভু, থাকে না। যে সব যুবতী স্ত্রীলােক কুকার্যের { ৮ ] গিরিশ-গ্রন্থাবলী নিমিত্ত এনেছে, আর এমন কি-যারা জানে যে ময়, যে যা প্রার্থনা করে, তারই প্রার্থনা রক্ষা তাদের বলি দেবার জন্যে এনেছে, মেয়েই হউক, পুরুষই হউক, যে খৰ্পরে পড়েছে, পালাতে নন্দন। অা—কি সর্বনাশ! চলো-কাথায় পারে না। ভাই. তােরা আমায় রক্ষা কর। কাপালিকের আশ্রম দেখাবে। সনন। সে কাপালিক কোথায় থাকে ? গণ। এসাে-এসাে। গণ। এখানেই থাকে। কিন্তু সে কোন্ স্থান সনন্দন। চলো, সেই পাষণ্ডই গুরুদেবকে স্তবস্তুতি আমি চিন্‌তে পারি না। আমি কোথায় করে কার্যোদ্ধার করবে। উনি পরকার্যে রয়েছি, আমি বুঝতে পাচ্চি নে। মস্তক দিতেও প্রস্তুত হবেন। সনন্দন। তােমার কোন চিন্তা নাই, গুরুদেবের [ সকলের প্রস্থান। শরণাপন্ন হও, আমাদের সঙ্গে এসো। গণ। শােন শােন,-আচাৰ্য্য এখানে আসবেন, তাই এই পৰ্বতে কাপালিক এসেছে। সে গুরু- তৃতীয় গর্ভাঙ্ক। দেবকে খোঁজে, ওরে বলি দিতে চায়। উনি কোন্ রাজশরীরে যখন ছিলেন, তখন থেকে উগ্রভৈরবের আশ্রম। বলি দেবার জন্যে ঘুচে। ভাই, তাের পায়ের শঙ্করাচাৰ্য্য ও উগ্রভৈরব ধূলাে দে। শঙ্কর। তুমি প্রস্তুত হও, আমি তোমায় মস্তক ( সকলের পদধুলি গ্রহণ।) দেবার জন্য ধ্যানস্থ হচ্ছি। তােরা কি জানিস! এ কথা আর কেউকে উগ্র। আমি প্রস্তুত, কেবল খড়গপুজা করে খা- গ্রহণ করি। বলতে গেলে কে যেন আমার গলা টিপে ধ’তাে, কিন্তু তােদর তাে ব’তে পারলুম। [ খঙ্গ আনয়নার্থে গমন। আমি গুরুদেবের কাছে অপরাধী, তােরা বলে, শঙ্কর। মেদিনীতে মৃত্তিকা মিশা ও, কয়ে আমার অপরাধ মাপ করতে বলি। মিল জলে সলিল দেহের, ( চমকিত হইয়া) এই যে আমার ভূত নেবে অনিলে অনিল, তেজ সহ তেজ, গিয়েছে, এই যে আমি পথ চিনতে পাচ্চি? ও ঘট নাশে ঘটাকাশ আকাশে মিশাও। ভাই-ও ভাই-তােষা পায়ের ধুলাে দে, ( সমাধিস্থ হওন) আমায় আর পায়ে ঠেলিস্ নি, আমায় তােদর সঙ্গে রেখে দে। ( পুনরায় সকলের পদধুলি (খা লইয়া উগ্রভৈরবের পুনঃ প্রবেশ) গ্রহণ) সনন্দন। এসাে, তিনি দয়ার সাগর, তােমায় মার্জনা উন্ন। এইবার মনস্কামনা সিদ্ধ হবে, এইবার অষ্টসিদ্ধি করবেন। লাভ করবে। এ কম্লান্তে ইচ্ছা হয়, অপর কম গণ। ও ভাই, ও ভাই- আজ কি তিথি, আম পৰ্যন্ত জীবিত থাকবে। কেবল ভােগ-কেবল বস্যা কি ? হ, আজ আমাবস্যা,-আজ গুরুদেব ভােগ! ভােগ অপেক্ষা মােক্ষে কি সুখ! বহু বলি দেবার চেষ্টা পাবে। কঠোর করেছি, এইবার কেবল ভােগ। ব্রহ্মা- সনন্দন। তুমি কি বলছো ? শুের স্বাদ বস্তু উপভােগ, বহ্মাণ্ডের সুন্দরী শান্তি। ভাই, আমার বড় আশঙ্কা হচ্ছে, যখন রমণীর সেবা-গ্রহণ, ইচ্ছায় সর্বত্র ভ্রমণ, ইচ্ছায় তােমাদের ডাকতে যাই, একজন তান্ত্রিক- মূর্তি ধারণ। (শঙ্করাচার্যকে লক্ষ্য করিয়া) জবার লা গলায়, কপালে রক্তচন্দন লেপন নিশ্চল হয়ে রয়েছে, এইবার কাৰ্যোজার করি। করেছে ; বোধ লো আশ্রমের দিকেই আসছে। জয় ভৈরবজি। গুরুদেব কি তারই সঙ্গে গেলেন। তিনি দয়া- (খগােত্তলন ) শঙ্করাচার্য। ( দ্রুতবেগে সনজনের প্রবেশ) কার। পদ্মপাদ - পদ্মপাদ, প্রকৃতি হও,-এর সনন। আর দুরাচার পাষণ্ড নররূপী দৈত্য।- তিস্থ হও, শান্তি-শান্তি। সনন্দন। প্রভু, আমি কোথায় ? এই যে সেই দুষ্ট (গর্জন করিয়া সননের নৃসিংহমূর্তিতে প্রকাশ কাপালিক! একে কে নিধন কলে? গুরুদেব হইয়া কাপালিককে বিদীর্ণকরণ ) গুরুদেব!—তিনি কোথায় গেলেন—তিনি মণ্ডন মিশ্র, আনন্দগিরি, চিৎসুখ, শান্তিরাম, কোথায় গেলেন ? হামলক ও গণপতির প্রবেশ) শঙ্কর। বৎস,কার অনুসন্ধান কচ্চ-নৃসিংহদেবের ? তিনি যার হৃদয়বাসী, আমার শত্রু নষ্ট করে মণ্ডন। এ কি। গুরুদেব কি নৃসিংহদেবকে আৰা- তার হৃদয়েই প্রবেশ করেছেন। হন করেছেন। গুরুদেবের কৃপায় আমরা মণ্ডন। তুমি কোথায় ছিলে? সকলে কৃতার্থ । সনন। ভাই, আমি গুরুদেবের বিপদ জেনে শঙ্কর। (নৃসিংহদেবের স্তব) নৃসিংহদেবকে স্মরণ করেছিলেম, তারপর আর নিয়ায় নর, কেশরী উদ্ধে, আমার কিছু স্মরণ নাই। প্রকট ভীম তনু অসুর বিরুদ্ধে, শঙ্কর। পদ্মপান, সাধারণ ব্যক্তির পদ রক্ষার জন্য নমস্তে নৃসিংহদেব। গঙ্গাবক্ষে পদ্ম প্রস্ফুটিত হয় না। তােমার সাধন- হিরণ্যকশিপু-নিপাত নখরে বলে রক্ষাকর্তা নারায়ণ নৃসিংহরূপে আমায় রক্ষা করেছেন। শক্ররূপ বিভু তারিতে নফরে, মুক্তি-প্ৰদায়ক এব॥ গণ। ( সাষ্টাঙ্গ হইয়া) প্রভু, আমার অপরাধ অনাদি এক সৃষ্টি প্রারম্ভে, মার্জনা করুন। মণ্ডন। প্রভু, এই গণপতির দ্বারা আমরা কাপা- প্রদ-বচনে সম্ভব শুভে, ভক্তাধীন নমস্তে। লিকের সংবাদ পেলেম। নরক নিবারণ, দুস্কৃতি-হরণ, শঙ্কর। আমি অবগত আছি। শুন গণপতি, ভীত-নিরাশ্রয়-সঙ্কটশরণ, গুরুশিষ্যের সম্বন্ধ তুমি জান না, এই জন্য আমায় চরণ বর্ণপ্রদ হন্তে ! কত ক্লেশ দিয়েছ, তা তুমি অনুভব কতে পার গর্জন-স্তম্ভিত অসুরপ্রদে, নাই। তুমি শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলে, সন্দিহান গর্ভ-নিপাতিত ভীষণনাদে, হয়ে আমার স্থান ত্যাগ করে। তুমি ত্যাগ দুৰ্জন কম্পিত দাপে। করেছিলে, কিন্তু নিয়তই আমার অন্তরাত্মা দয়া পয়ােধি, নিধি সম্পদদাতা, তােমার মঙ্গলের নিমিত্ত তােমর সহিত অবস্থান রাতুল পদ ভব-অর্ণব-ত্রাতা, করেছে। আজ তুমি আমার নিকট প্রত্যাবর্তন দীনতারণ তাপে। করেছ, এতে আমার কিরূপ আনন্দ জানাে? সৃষ্টিস্থিতিলয়-বিধানকারী যেরূপ কোন সংসারী ব্যক্তির দ্বাদশ বৎসর নিরুদ্দেশ একমাত্র পুত্র গৃহে প্রত্যাগমন কলে ভ-হৃদাসন নিয়ত বিহারী, রাধিত নর-নাগে। তার হৃদয় আনন্দে পূর্ণ হয়, আমারও সেইরূপ । পাপ পন্থা কিরূপ ভীষণ দেখেছ, সকলের নিকট শঙ্কা-সঙ্কুল-ত্রিভুবন শ্রীপতি, সেই ভীষণ মূর্তি প্রকাশ করে, জীবের কল্যাণ উথলিত প্রলয়-সম্বর মুরতি, সাধন করাে। দীনাশ্রিত জন মাগে। [ সকলের প্রস্থান (নৃসিংহদেবের অন্তর্ধান ) গুন। প্রভু, দেখুন, দেখুন-সংজ্ঞাহীন পদ্মপাল দণ্ডায়মান।

৬০ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। চতুর্থ গর্ভাঙ্ক পঞ্চম গাঙ্ক। কাপালিকগুৰু ক্ৰকচের আশ্রম। বটবৃক্ষতল। কচ, কামকলা ও কাপালিকগণ। ( কামকলার প্রবেশ) কচ। কে এ শঙ্কর! শুনলেন, আমার প্রিয় শিষ্য উগ্রভৈরব কাপালিককে বধ করেছে! যথার কামকলা। কচ, তুমি জ্ঞানহীন! আমার দাস যায়, তথায় পণ্ডিতগণকে বিচারে পরাস্ত করে। করেও রমণীর কটাক্ষ প্রভাব বােঝাে নাই। আমার দূত সংবাদ এনেছে যে, কাপালিক, তুমি কাপালিক, মন্ত্রই জানো, রমণীর মন্ত্র বিনাশে কৃতসংকল্প হয়ে রাজা সুধা সসৈন্যে অবগত নও। সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডে কে কোথায় শরীর- সজ্জিত। আমাদের ক্রিয়া-বলে সশিষ্য শঙ্কর ও ধারী, যে নারীর কটাক্ষে না বিদ্ধ হয়। শঙ্কর সসৈন্যে রাজা সুধার বধসাধন করা সত্বর তাে পরকায়ে রমণীর আস্বাদ পেয়েছে। সে আবশ্যক। আমার হাবভাবে, অঙ্গসঞ্চালন-দর্শনে, আমার কামকলা। তোমরা সকলেই বুদ্ধিহীন, একেবারে পশ্চাৎ পশ্চাৎ কুকুরের ন্যায় অনুগামী হবে। ভয়ে অভিভূত। সশিষ্য শঙ্করকে বধ কি নিমিত্ত আরে পুরুষ ! নারীর নিকট তােদের দণ্ড কবে ? আমাদের মতাবলম্বী করা যাক, তা কিসের? বুঝি আছে, আমি সঙ্গিনীবেষ্টিত। হলে সমস্ত ভারতবর্ষ আমাদের নিকট অবনই- হয়ে মাধুরীজাল বিস্তার করবাে। দেখি—যােগী- মস্তক হবে। মীন আবদ্ধ হয় কি না! ১ম কাপ।। তুমি কি মনে করেছ, শঙ্কর সামান্য ব্যক্তি, তুমি কটাক্ষে অভিভূত কবে ? [ প্রস্থান। কমিক। কেন, শঙ্কর তাে মনুষ্য, স্বয়ং শঙ্কর শঙ্করাচার্য্যের প্রবেশ) বিচলিত হয়েছিলেন। আমায় পরীক্ষা কতে দাও। শুনেছিলেম, অঙ্গনা-সম্ভোগের নিমিত্ত শঙ্কর পরদেহে প্রবেশ করেছিল, এ আস্বাদ যে শঙ্কর। বহুকাৰ্য এখনাে সম্মুখে। পেয়েছে, তারে বশ করা অতি সহজ। আমি সাস্থ্য, পাতঞ্জল, মীমাংসক, ন্যায়, প্রতিশ্রুত হচ্চি, তারে বশীভূত করূবো। বৈশেষিক দর্শন প্রভৃতি হীনজ্যোতি বেদান্ত-তপন অভদয়ে। কচ। যাও, পারো উত্তম। পরাজিত পঞ্চ উপাসক, কামকলার প্রস্থান। আছিল নির্মলচিত্ত যে পন্থী যথায়, অামাদের আর নিশ্চিন্ত থাকা উচিত নয়। যথায় করিয়াছে শিষ্যত্ব গ্রহণ, যে জৈন ও বৌদ্ধ তান্ত্রিক,-বৈষ্ণব, শৈব, প্রধান সকলে রত বেদান্ত প্রচারে। গাণপত্য প্রভৃতি পঞ্চোপাসকরূপে প্রচ্ছন্নভাবে একমাত্র অজিত কুটিল কাপালিক। অবস্থান কচ্ছে, তাদের নিকট সংবাদ প্রেরণ বৌদ্ধগণ প্রচ্ছন্ন হইয়ে করেছি। তারা সব সুসজ্জিত হয়ে আছে। অদ্যাবধি নানাভাবে আছে নানা স্থানে আমরাও সুসজ্জিত হয়ে অগ্রসর হই, মায়ানদী স্বার্থপর পাষণ্ড সকলে প্রস্তুত করে রাজা সুধম্বার গতিরােধ করি। মানব-অহিত কার্যে নিযুক্ত নিয়ত। পরে ভৈরবদেবকে পূজায় সন্তুষ্ট করে, তার সে সবার বিনাশ ব্যতীত, মারণ-শক্তিতে সমস্ত নষ্ট করবে। এসো- শান্তি নাহি হইবে স্থাপিত। অামরা অগ্রসর হই। গৃহস্থিত বহ্নি যথা দগ্ধ করে গৃহ, [ সকলের প্রদান। সেইমত সে সবার সিকিশক্তি যত, বিনাশিৰে পৈশাচিক-চম।

শঙ্করাচাৰ্য্য। ৬১ . ; (সঙ্গিনীগণ সহ কামকলার পুনঃ এশে ) কামকলা। শঙ্কর, আজ হতে আমি তােমার দাসী, (গীত ) আমি যােগিণী আরাধনায় যােগিনীশক্তি লাভ করেছিলেন, তোমার কমণ্ডলুর বারিস্পর্শে আমি হেরে মাধুরী যে নারীর অধরে। শক্তিহীন। আজ হতে তােমার দাসী। তুমি ছি ছি সখি, মিছে অাঁখি তার কিসের তরে। সতর্ক হও। এই যে ঘােতর দুর্যোগ দেখছ, করে না নারীর আদর, এত তার কিসের কদর, —এ কাপালিক-মায়াভাবে। তুমি শিবশক্তি কিসের এত গুমর নিয়ে থাকে লাে সে গুমরে। প্রকাশ ব্যতীত এই উগ্ৰমায়া নিবারণ করুতে তার কাছে যেতে কে চায়, যেতে যে বাধে লাে পায়, পারবে না। এখনি শত সহস্র বজ্রপাত হবে, তার গায়ের হাওয়া কি সয় গায়। সসৈন্য রাজা সুধম্বা ও সশিষ্য তুমি বড্রাগ্নিতে প্রেমরসে যার প্রাণ রসে না, ধবংস হবে। শুকিয়েছে প্রাণ জোর করে। শঙ্কর। আমি জগন্মাতার আশ্রিত, সামান্য কাপালিক- কামকলা। আহা মরি মরি! তােমার পূর্ণ-যৌবন, শক্তি আমার অনিষ্টসাধন কবে না। আপনি যুবতীসঙ্গ পরিত্যাগ করে নিঃসঙ্গ কেন বসে যান, যদি আমার সাহায্য করবার ইচ্ছা করেন, আছ ? তুমি পণ্ডিত, শিক্ষাই করেছ, তর্কে কাপালিকগণের ভৈরব-পূজার ব্যাঘাত করুন্। পণ্ডিতকে নিরাশ কতে পারে। কিন্তু খণ্ডা • [ কামকলা। কিরূপে কল্‌বাে-আজ্ঞা দাও? নন্দ বিনা যে ব্ৰহ্মানন্দ লাভ হয় না, তা কি তুমি শঙ্কর। কচ যখন ভৈরব-পূজায় নিযুক্ত হবে, তুমি জান না? আমরা যুবতী, পরস্পর ঈৰ্য্যাবর্জিত। মােহিনীরূপে তার সম্মুখীন হয়ে মনশ্চাঞ্চল্য উৎ- তােমার সেবার জন্য এসেছি। তুমি ভােগের জন্য পাদন করবে। তাহলেই ভৈরব রুষ্ট হবেন। পরদেহে প্রবেশ করেছিলে। রাজরাণীরা অশি- কামকলা। বাবা, আমাদের উপায় করে। ক্ষিত অঙ্গনা, তাদের সহিত কি আনন্দ পাবে? শঙ্কর। দেবদেবের কাৰ্য্যে সহায়তা করাে, দেব আমাদের সেবায় নর-শরীরে নিত্যাননের আভাস কাৰ্যের সহায়স্বরূপ কৈলাসে যােগিনীরূপে বাস প্রাপ্ত হবে। কবে। চিরদিন কপট ব্যক্তির ধ্বংসের কারণ শঙ্কর। স্বাগত জননি, হবে। এসো এসাে অবিদ্যারূপিণি, [ প্রণাম করিয়া সকলের প্রান। মায়াশক্তি-স্বরূপিণি- মহাকার্য্যে হও না সহায়। (সনশনের প্রবেশ) করাে সংহারিণী প্রভাব বিস্তার, সনন্দন। প্রভু, সম্মুখে সহসা বিপুল নদীস্রোত অনাচারে নাশ অনাচার, প্রবাহিত, রাজা সুধ। আপনার সাহায্যে যে বিদ্যারূপে বিহর সংসারে। সকল সৈন্য প্রেরণ করেছেন, তাহা অগ্রসর হয়ে এসো কুৎসিতারূপিণি, কাপালিক-প্রদেশে প্রবেশ কতে পারে নাই। দুর্জনের শান্তি-বিধায়িনি, আর যেরূপ ঘাের দুর্যোগ উপস্থিত, তাতে তাে দুতি কাপালীগণে করহ বিনাশ। বিষম অনিষ্ট হবার সম্ভাবনা। রূপ পরিহর—নিজ রূপ ধর, শঙ্কর। চিন্তা দূর করে, রাজাকে সসৈন্যে আমার কুৎসিতা, বিনাশ করে কুৎসিত প্রকৃতি, পশ্চাতে আতে বলাে, এ মায়ানদী অনায়াসেই হও নিজ সংহার-কারণ। আমরা পার হয়ে যাবে। (কমণ্ডলু হইতে বারিনিক্ষেপণ) [ সকলের প্রস্থান। কামকলা। দেহে অগ্নিবর্ষণ হচ্চে। দোহাই শঙ্কর -দোহাই শঙ্কর! রক্ষা করাে। আমরা প্রতিজ্ঞা কচ্চি, তােমার শত্রুবিনাশে সহায় হব। শঙ্কর। যাও মা যাও, দুষ্কৃতগণের ধবংসবিধান কমাে।

গিরিশ-গ্রন্থাবলী ষষ্ঠ গর্ভা। বহ ঘাের প্রলয় পবন, উথল প্রলয়-বারি সাগর হইতে। মন্দির-প্রাঙ্গণমধ্যস্থিত হোমকুণ্ড। [ হােমকুণ্ডে আহুতি প্রদান। পূজারত কচ। ( বিকটাগণের আবির্ভাব) কচ। হে প্রভু, হে রুদ্রমূর্তি বিকট ভৈরব, নৃত্যগীত। আবির্ভাব হয়ে পূজা গ্রহণ করো। শত্রু বিনাশ করে তােমার ভক্তগণের হিতসাধন করাে । খুট খুট খুট, খুট, গুট, গুট, গুটু গুট ঝাকে ঝাকে ঝেকে ঝেকে। ( সুসজ্জিত কামকলার প্রবেশ) কি কি কি কিল খিল খিল খিল খিল ডেকে হেঁকে একে বেকে। কি কামকলা, তুমি হেথায় কেন? কামকলা। আমি অঞ্জলি প্রদান করূবাে। তুড়, তুড়, তুড়, তুড়, তুডি, হকারি চিকুরি, কচ। আজ কি মােহিনাবেণ ধারণ করেছ ! আজ তড়, তড়, তড়, তড়, তালি, হাড়ে হাড়ে চালি, আমি তােমার সংসর্গে ইন্দ্রের ইন্দ্রাণী উপভােগ ঘুট, ঘুট, ঘুটু ঘুট কেলে মেঘে ঢেকে, ঝড়ি বুড়ী ছছটে, কে কে সে। সে হেঁকে। অপেক্ষা পরমানন্দ উপভােগ করুবাে। মনো- কল কল কল কল মােহিনি, পূজা সমাপ্ত করে ভৈরবের কৃপায় চলে নোনা জল, তাথাই থাই, অতি মাতি খাই, অগ্রে শত্রু বিনাশ করি। কামকলা। শীঘ্র সমাপ্ত করো, আমিও পিপাসী। গন গন গন গন্ গন্ আগুনে সেকে। একচ। অপেক্ষা করে অপেক্ষা করাে, আমি শঙ্কর। মহাবিদ্যা হও মা উদয়, পূর্ণাহুতি প্রদান করি। ক্ষুদ্র শক্তি করহ হরণ। [ বিকটাগণের অন্তর্ধান। (শঙ্করাচার্যের প্রবেশ) শঙ্কর। কাপালিক । কাপালিক, দেখ মন্ত্র বিফল তােমার। একচ। ককট। কে তুমি? ত্যজ দত্ত, শঙ্কর। তােমার শত্রু, তােমার সমস্ত অধিকার এখনি বুঝিবে মম শক্তির প্রভাব। রাজসৈন্তে পরিবৃত, কিন্তু এখনাে তোমার ভুত প্রেত পিশাচ দানব, জীবনরক্ষার উপায়বিধান কচ্চি। হও আবির্ভাব ভৈরবের নামে প্রতিশ্রুত হও যে, মানব-অহিত কর পরাভব এই হিংসক যােগীরে। কর কাৰ্য্যে আর নিযুক্ত থাকবে না; তােমার [ হােমকুণ্ডে আহুতি প্রদান। দলস্থ সকলকে হীনপন্থা হতে বিরত করূবে। (ভূত-প্রেতগণের আবির্ভাব) ভারতবর্ষে কাপালিকগণের মধ্যে তুমি প্রধান, নৃত্যগীত। তুমি আমার বশ্যতা স্বীকার করে জনহিতকর অদ্বৈতপন্থ। স্থাপনের সহায় হও, গুহ কদাকার দে-দেরে দেরে দেনা হানা। সম্প্রদায় বিনষ্ট করে, নচেৎ মৃত্যুর নিমিও প্রস্তুত মা মার মার মার ধ ধ ধ ধ, হও। কাট, কাট, কাট, কাট, খানা খান। কচ। তুমি মৃত্যুর নিমিত্ত প্রস্তুত হও।- তড়, তড়, তড়, তড়, তােড়ে ৩ড়ি, আয় আয় বিকটা প্রকৃতি, মাটি ফাড় পাড় পাহাড়, কুক্রিয়ায় যে আছ যথাঃ- মােচ ঘাড়, • চিবো হাড়, এসো শী মহামারি, বায়ুসঞ্চালনে ; গুমে শুমে পােড়া হাওয়া, এসাে, হও মহাৰণে অশনি সম্পাত, ভলকে ভলকে উৰু ধোঁয়া ;

শঙ্করাচার্য্য ৬৩ তেল মােল গণ্ডগােল, আছে। নিষ্কাম ব্যক্তি ব্যতীত, মহাশক্তি অন্য আকাশ জোড়া তুফান তােল; আধারে বহুদিন অবস্থান করে না। ফেরকে ফণা গর্জে এসে, (ভৈরবের শূলাঘাতে কাপালিকের মৃত্যু। দুনিয়া মেখে ফেল না বিষে ; এক গাড়ে—নিঃঝাড়ে, হে প্রভু, হে রুদ্রেশ্বর, হে স্বয়ম্ভু, দাসকে আজ্ঞা দেন, এই দণ্ডে যুদ্ধার্থে সমাগত দশসহ কাপা- যে আছে-না বাঁচে, লিককে ভস্মসাৎ করি। বুড়াে যুবাে মাগী ছানা। শঙ্কর। হে ভৈরবদেব, হে শিবসহচর। ধর্মরক্ষা, শঙ্কর। হর শক্তি হে নন্দীকেশর, পৃথিবীরক্ষার ভার ভৈরবদের উপরেই অর্পিত, শিবশক্তি-প্রভাবে তােমার। -মানবের মজলবিধান করুন। [ ভূতপ্রেতগণের অন্তর্ধান। ভৈরব। শিব-আজ্ঞা শিরােধার্য। হে প্ৰলয়াগ্নি, উদ্দীপ্ত হয়ে কাপালিকগণকে ভস্ম করাে, প্রচ্ছন্ন কাপালিক, বৌদ্ধগণ বিনষ্ট হক, পৃথিবীতে সতী-নাশ, এখনাে করহ নিজ মঙ্গল সাধন, কুমতি করহ পরিহার। নরহত্যা প্রভৃতি দানবীয় কাৰ্যকলাপ কপটা- কচ। তিষ্ঠতিষ্ঠ । চারীগণের সহিত ভস্ম হােক। এস এস বিকট ভৈরব, (ভৈরবের অন্তৰ্থান) বিপক্ষের দম্ভ চূর্ণ কর আবির্ভাবি। (শান্তিরামের প্রবেশ) করি এই দুষ্টের নিধন, নিজ পূজা ভূমণ্ডলে করহ স্থাপন, শান্তি। প্রভু, প্রভু—আশ্চৰ্য্য ঘটনা! কাপালিকগণ রক্ষা করাে আশ্রিত সকলে। মায়াবলে উষ্ণ জলপ্রবাহ সৃজন করে সৈন্যসামন্ত বিনষ্ট করতে প্রবৃত্ত হয়েছিল। সহসা বিদ্যুৎ- ( হােমকুণ্ডে আহুতি প্রদান ) বরণী এক রমণী সেই মায়াস্রোত নিবারণ ( হােমকুণ্ড হইতে ভৈরবের আবির্ভাব করেছেন। বহু উৎপাত উৎপাদন করেছিল, ভৈরব। আরে দুরাচার কাপালিক, তাের এখন সেই রমণীর প্রভাবে সকলি বিফল হয়েছে। জ্ঞানােদয় হলাে না? প্রত্যক্ষ দেখলি, বিশ্ব সহসা যেন মৃত্তিকা হতে মহা-অগ্নি উখিত হয়ে ধ্বংসকারী অমঙ্গল শক্তিসকল আবাহন করে- কাপালিকগণকে ভস্মসাৎ কচ্চে। ছিলি, সমস্ত শক্তি যার শক্তিতে বিমুখ হ’লল, শঙ্কর। চল বৎস, দুস্কৃতিগণ নিজ দুষ্কৃতিরূপ অগ্নিতে এখনাে তার পূজা না করে বিরুদ্ধাচরণ কচ্ছিস? দগ্ধ হয়েছে। উপস্থিত এ স্থলে আমাদের কাৰ্য এখনি তাের বিনাশ সাধন করি; ধরার অমঙ্গল- সমাপ্ত। এক্ষণে কামরূপের তান্ত্রিকগণ পর- শক্তি মঙ্গলময় নররূপী শঙ্করকে অবলম্বন করে জিত হলেই ভারতবর্ষের কোন স্থান অপরাজিত মঙ্গলশক্তিতে পরিণত হােক। থাকবে না। (সচকিত হইয়া) মা --মা! ঐকচ। আমি যে হই, আপনার নিকট আমি শান্তি। প্রভু, অকস্মাৎ এরূপ চঞ্চল হলেন কি অপরাধী নই, আপনার আমি উপাসক। ভৈরব। তুই উপাসক নয়, মন্ত্রবলে আমায় বশীভূত শঙ্কর। বৎস, আমি মাতৃদর্শনে গমন ক’ব। মা কৰি, এই তাের কাম্যকল্পনা। কিন্তু স্বয়ংই আমায় স্মরণ করেছেন, আমি মুখে তার স্তন্য তার বিঘ্ন উৎপাদন করেছি, কামাসক্ত হয়ে দুগ্ধের আস্বাদ পেয়েছি। তােমরা সকলে মিলিত আমার পূজায় প্রবৃত্ত হয়েছিস। তাের পূজা হয়ে অন্তই কামরূপ অভিমুখে অগ্রসর হও। প, তাের মন্ত্রে আর আমি বাধ্য নই। বিনাশ আমি মাতৃদর্শনান্তর তথায় উপস্থিত হবে। প্রাপ্ত হ। তাের বিনাশে পৃথিবীতে প্রচার শান্তি। যথা আজ্ঞা। হােৰু যে, উৎকট কামক্রিয়ায় ধ্বংস হবার আশঙ্কা [ শান্তিরামের প্রস্থান। নিমিত্ত ?

৬৪ গিরিশ-গ্রন্থাবলী শঙ্কর। এস, বায়বীয় দেহী, আর কি মাকে দেখা দেবে না? তুমি যে বায়ুভরে লহ মােরে মাতৃসন্নিধানে। আমার সাগর ছেচা মাণিক! আয় বাপ- গগনমার্গে শঙ্করাচার্যের প্রস্থান মরণ সময় দেখা দে! বাবা, তুমি তাে মিথ্যা- বাদী নও, তবে কেন দেখা দিতে আসছ না। ( শঙ্করের শূন্য হইতে অবতরণ ) সপ্তম গর্ভাঙ্ক। শঙ্কর। এই যে মা-আমি এসেছি। শঙ্করাচার্য্যের বাটী। জগ। ক্ষুদে—ক্ষুদে-তুই ঝিকুড় ঝামা ! একবার (শয্যাশায়িতা বিশিষ্টার নিকট মহামায়া ও জগন্নাথ) চোখ চেয়ে দেখ—মাগীর কি হাল করেছি! এই তাে উড়ে এতে পারি, এত দিন একবার বিশিষ্টা। কই মা, এখনাে তাে আমার শঙ্কর এলাে এতে নারূলি, তা হলে তো মাগীর এমন ? আমার তো সে বলেছিলাে, আমি স্মরণ বেহাল হয় নি ক’ৰূলেই সে আসবে। সে তো আমার মিথ্যা- মহা। জগন্নাথ এসো, আমরা একটু অন্তরালে যাই, বাদী নয়, তবে কেন এখনো বিলম্ব কচ্চে? এ ওদের মায়ে-বেটায় কথা হােক। জীর্ণদেহে আর অধিকক্ষণ তাে প্রাণ থাকবে না, জগ। ক্ষুদে, একবার মা বলে ডাক্-মাগীর প্রাণটা -আমি জোর করে ধরে রেখেছি, আমি শীতল হোক, আমি শুনে যাই। বাছাকে একবার দেখবো বলে ধরে রেখেছি, শ। মা-মা, তুমি যে মুহূর্তে স্মরণ করেছ, বেরুতে দিই নাই। সে আমায় ‘মা’ ব'লে তােমার স্তনদুগ্ধের আস্বাদন আমার মুখে ডাকবে, শুনে তবে যাবে। তবে কেন মা- এসেছে। সে বিলম্ব কচ্চে ? জগ। তুই কি দুধ খেয়েছিলি? মাগীর মাইয়ে দুধ জগ। (মহামায়ার প্রতি) হাগা, তুমি যে হও' বাছা, ছিল না, পাথর কুচি দিয়ে তােরে পেলেছে। তুমি কিন্তু বড় ছ্যাচড়া,--আমাদের মত পরাণটা আহা যা হােক, তবু মাগী শেষ দেখাটা তােমাদের লয়। তােমাদের ঘুরপাক খাওয়ান বুদ্ধি- ওই ঘূরপাকই খাওয়াও। মানুষের দরদ [ জগন্নাথ ও মহামায়ার স্থান। জানাে নি। লিয়ে এসাে, মাগী একবার দেখে মরু। ওঃ--ক্ষুদের একবার দেখা পেলে বিশিষ্টা। বাবা, আমার সময় উপস্থিত, পুত্রের কাৰ্য্য করে। কানদুটো গুড়ে ধরে হিঁচড়ে টেনে আনতুম । “জগা দাদা—জগা দাদা” কইতো, আমি শঙ্কর। (শিবের স্তব ) ভাবতুম, ভালমানুষ। দয়ামায়ার ধার দিয়ে চলে নাই। দেবতাগুলো আর জায়গা পায় নি, নগেন্দ্র-নন্দিনী নাথ নিরীশ্বর, ভালমানুষ দেখে তার পেটে ছেলে হন। নিনি রজতনিভ ‘নকর। আমার যদি কেউ ছেলে হ’তে অতো তাে নিশানাথ নবরঞ্জিত মূৰ্দ্ধনী, ন্যা ঝেড়ে তাড়াহুম-হয় কে দেবতা। নগ্ন নীলগল নাগধর। যদি মায়া-দয়ার মাথা খাবি, তবে মানুষের নকারায় নম। ঘরকে কেন আসি।' গাছ থেকে স্কুলে পড় কেন্নাই। তারপর ধনুক লিবি লে, বাশ লিতে মন্মথ মর্দন, মুরতি মহান, মহেশ মণ্ডিত মানব-ভাল। হয় লে, মাথা মুড়তে হয় মুড়াে,-কে তােরে কি বলতে যেতাে। মহামায়াধর মহিমা-অর্ণব, বিশিষ্টা। বাবা শঙ্কর, আমি যে তোমার আশপথ মৃড় মৃতালন করাল কাল। চেয়ে এখনো জীবন রেখেছি! বাপ আমার, মকারান নম। লে।

শঙ্করাচার্য্য। T শিভশঙ্কর শশধরশেখর, পট পরিবর্তন-পুনরায় পূর্ব দৃশ্য। শক্তিসমন্বিত শিখরবাসী। শঙ্কর। মা মা-যে রূপে গর্ভে স্থান দিয়েছিলে, শ্বেত-অস্থিল শরীরশােভিত, যে রূপে লালনপালন করেছিলে, সে রূপ হরণ ভস্মশ্বেতসিত অধরে হাসি। কলে। বিশ্বজননি! সন্তানকে ভুলে থেকো না। শকারায় নম। (জগন্নাথ ও মহামায়ার পুনঃপ্রবেশ) বাঘার বিভু বিরিঞ্চি-বন্দিত, জগ। ওই যা—আহা ছেলে দেখবার জন্যে মাগীর বিশ্বেশ্বরবর অভয়কর। পরাণটা ছিল ! আহা, জন্মদুখিনী গাে-- ব্যোমকেশভব, ববব্যোম ঘনরব, দুখিনী ! মিন্সে-মাগীতে পেটে খায় নি, ভাল বাহনবৃষভ বিষণধর। একখানা পরে নি,পরের লেগেই পাগল। বকারায় নম। আমি চাষার ছেলে, মা বলেছি,তা ও যতীশ্বর যত যাজি যােগেশ, ক্ষুদেকে চেয়ে যত্ন করে আমায় পেলেছিল গো । যােগাসন যমদণ্ড হর। শঙ্কর। জগা দাদা-জগা দাদা--আজ আমরা যােগমায়াৰ্চিত যােগী যাগব্রত, মাতৃহীন হলেম। যশস্বিন যুগ-অন্তকর। জগ। কঁদিস্ নে,-কাঁদিস নে, মাগী জুড়িয়েছে, এখন বেটার কাজ কর। আমি এখন কোন যকারায় নমঃ। খানকে যাই—কি করি? মাগীকে এক একবার বিশিষ্টা। বাবা, ডমরু-ধ্বনি শুনছি, আমি শিবলােকে দেখে যেতুম, মা বলে ডাকতুম—পরাশটা জুড়- যাবে না। শিবে আমার পুত্রজ্ঞান হয়েছে, তুম। আমি এখন কি করি-বলতাে ক্ষুদে ! আমি শিবলােকে দেবদেবের পূজা করতে শঙ্কর। জগা দাদা জগা দাদা-তুমি শিব-পারিষদ, পাবে না। নারায়ণ আমাদের কুলদেবতা, চিরপূজ্য হয়ে থাকবে। নারায়ণ’ নাম উচ্চারণ করে স্বামী আমার জগ। আর পারষদে কাজ নি! এখন কবে মরি, প্রাণত্যাগ করেছেন, তিনি নারায়ণ-সেবায় তুই এক একবার দাদা বলে মনে করি। নিযুক্ত আছেন,আমি তার সহিত মিলিত হয়ে ( চমকিত হইয়া) হারে ক্ষুদে—কি ভেকী নারায়ণ-সেবায় নিযুক্ত থাকব-এই আমার দেখাস রে? ওরে গাছপালা সব যে সাফ হয়ে সাধ। যাচ্চে রে! ক্ষুদে ক্ষুদে-তােরে চিনে নিয়েছি। (মহামায়ার প্রতি) মাগী মাগী, জেনেছি তুই শঙ্কর। (নারায়ণের স্তব) কে! আমিই এক -আমিই অনেক। আমি নত আশ্রিতা তাপিতা মাতা। -আমি নই, সেই-ই আমি-সেই-ই আমি। মরণে দেহি চরণ ত্রাতা ॥ [ প্রস্থান। নায়কবর নব জলধর। রাধারমণ রসিকপ্রবর । মহামায়া। আরও কি ঘুঝবে-আরও কি ঘােরাবে? যজ্ঞেশ্বর জগজীবন। শঙ্কর। ইচ্ছাময়ি, সে তাে তােমার ইচ্ছা, আমার ণকার নিত্যানন্দ ঘন । ইচ্ছা নয়। তুমি যতদিন ঘােরাবে, ততদিন এখনো তাে বঙ্গদেশ অপরাজিত, পট পরিবর্তন—বিষ্ণুলােক। এখনাে তো আমায় সংসারে সর্বজ্ঞ প্রচার করাে বিশিষ্টা। এই যে-এই যে গােলকবিহারী মুরলী নাই; এখনাে তো কাশ্মীরে পারাপীঠে বিদ্য- খারী! এই যে আমার স্বামী পরিষদরূপে তার ভদ্রাসনে স্থান পাই নাই। আমি তােমার ইচ্ছা পার্শে! আমি ভাগ্যবতী, সার্থক পুত্র গর্ভে ধীন, তােমার ইচ্ছা পূর্ণ না হলে আমি কিরূপে ধারণ করেছিলেম! নারায়ণ (মৃত্যু) নিস্তার পাবাে? [১] ঘুরবাে।

৬৬ গিরিশ-গ্রন্থাবলী অষ্টম গর্ভাঙ্ক। মহা। ভাল ভাল-আমায় দুষবে বই কি! আমি আর কি কবে, আমি ত স্বাধীন নই, কেঁতে বেড়াই। কামরূপ-কামাখ্যাদেবীর নাটমন্দির। { প্রস্থান। অভিনব ওও, তৎশিষ্য ও পলায়িত ( রামদাস ও সখারামের প্রবেশ) বৌদ্ধ কাপালিকগণ। রামদাস। এই যে শঙ্কর, হেথায় কি মনে করে ? শঙ্কর। মাতার মুখাগ্নি করবো। রাম। বটে, তােমার ছেলেবয়স থেকে এত ভি- কুটী? মুখাগ্নি করে মাতার সম্পত্তির অধিকারী হবে। কথার কথা বলে গিয়েছিলে, সম্পত্তি তােমায় দিলুম, মাকে দেখাে। তা মুখাগ্নি করাে, আমরা চৰুম। শঙ্কর। আমি সন্ন্যাসী, সম্পত্তির তো প্রয়াসী নই। রাম। কলির সন্ন্যাসী কি না, তাই মুখাগ্নি করবে। তারপর শ্রাদ্ধের অধিকারী হয়ে, রাজাকে বলে বিষয় কেড়ে নেবে, তা নাও। সৎকার তুমি একলা করাে, আমরা ও দেহ স্পর্শ করব না? তােমার জন্মবৃত্তান্ত তো আমরা জানি, শিবগুরু ঘরে ছিল না, তােমার মা গর্ভবতী হয়েছিল। সথারাম। মেজো খুড়াে চলাে চলাে,-এখানে থাকলে গ্রামে একঘরে করবে। অভিনব। হাদে শাস্ত্রজ্ঞান আছে কেডার? তন্ত্র- মর্ম অনুভব করূচে কেডা? শঙ্করটা তাে সে দিনকার ছাওয়াল শুনচি ; শক্তি মানবার চায় নি, কাশীতে ঠেছিলাে! কামরূপ আবার চায় আসুক, হােত মুখটা ভােত কন্যা লয়্যা চক্রে বসাইমু। ১ম বৌদ্ধ। প্রভু, যিনি শৈব সম্প্রদায়ের প্রধান, যিনি শাক্ত সম্প্রদায়ের প্রধান,বৈষ্ণব, সৌর, জৈন, বৌদ্ধ, গাণপত্য,-যে যে সম্প্রদায়ের প্রধান ব্যক্তি যে স্থানে ছিল, সকলে পরাজিত হয়ে শঙ্করের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছে। রাজা সুধা অনুসন্ধান করে যেখানে যে বৌদ্ধ কাপালিক, জৈন প্রভৃতি প্রচ্ছন্নভাবে আছে, তাদের বিনাশসাধন ক’চে। আমরা পলায়ন করে, ভারতের একপ্রান্ত হতে অপর প্রান্তে এসে আপনার শরণাপন্ন হয়েছি। অভিনব। ভালই কবচ, মহামারীর প্রসাদ পাতি থাতো, চক্ৰ কতি থাহে, শঙ্করাট'রে আতি দাও, তখন বােঝবার পাবাশৰ্মারাম কেডা? এহন যাও নিশ্চিন্ত হয় বাসায় ব’প যাইয়া। ভয়টা কিসির ? দ্যাখ বা এনে, শঙ্কইরা আইসা পদসেবা ক’বা। বৌদ্ধগণ। প্রভু, আমরা আপনার শিষ্য, আমাদের রক্ষা ভার আপনার উপর। অভিনব। ই-হ-বচি যে-নিশ্চিন্ত হ’য় যাও। [ বৌদ্ধকাপালিকগণের প্রস্থান। { উভয়ের প্রস্থান। শর। শুকাষ্ঠে মাতৃদেহ হহ আচ্ছাদিত, গৃহে হােক্ চিতার নির্মাণ। আজি হতে শূদ্রাচারী এ হীন প্রদেশে শবদেহ দগ্ধ যেন হয় গৃহমাঝে । ভিক্ষু আসি ভিক্ষা নাহি করিবে গ্রহণ। অগ্নিদেব, করে মম হও প্রজ্জলিত, দগ্ধ করি মাতৃকায়া। [ সহসা শুককাষ্ঠে শবদেহ আচ্ছাদিত ও অগ্নি প্রজ্জলিত হওন। শিষ্য। কত, আপনি শঙ্কইরার সাথ তর্ক কবার চাও না কি ? অমন কাজে যাইও না, মান খােৰা-কলাম। মুই তার তর্ক দ্যাখছি, কথার তাের উঠতি থাহে, টিবে কে! তাই বলতিছি, একটা উপায় করাে, তর্কে যাইও না। অভিনব। হ-হ-শুছি বড় তার্কিক,- শুনছি বড় তার্কিক।

শঙ্করাচার্য। ৬০ শিষ্য। যা শোচ, তা পাকা জাবা। গ্রহণ করে বিষ্ণলীলার সহায় হবে, তখন এই অভিনব। তুমি কি করবার সলা দাও ? বামাচার দমিত হয়ে অদ্বৈতমার্গ গ্রহণ করবে। শিষ্য। তোমার নি মারণ আসে? একটা রােগ ( অন্তৰ্মান) চাইলা নিয়া শঙ্কয়িরার শরীরের মধ্যে প্রবেশ শঙ্কর। মা কামাখ্যাদেবী কি সন্তানকে দর্শন করাও। দিলেন। জননীর আদেশ শিরােধার্য। অভিনব। ঠিক চো–ঠিক্ বলচো—ওই বন্দর ( ভগন্দর ব্যাধির প্রবেশ) মােগ চাল, যন্ত্রণার চোটে এ দ্যাশ ছাইরা রর দিবে। শঙ্কর। তুমি কে ? শিষ্য। মারণ কবার চাও না ক্যান? ব্যাধি। আমি ভগন্দর ব্যাধি, অভিনব গুপ্তের অভিনব তার বিপ্ন আছে। শুচি--বর যােগী, অভিচারে প্রেরিত হয়েছি। কিন্তু অনুমতি তার মানে বিল্প হইলিই আপন মরণ উপস্থিত ব্যতিত আপনার দেবদেহে প্রবেশ করূতে সাহস হইব। ওই কর্কচ কাপালিক মারণ চাইলা ক'চ্চি না। ছিলাে, বিষ্ণু হওয়ার তারে ভৈরবে মাইরে শঙ্কর। কেন, দেহমাত্রই তাে তােমার অধিকার ? ফেলাইচে। ওই বগন্দর রােগ চালান কমু। ব্যাধি। হে সর্বজ্ঞ, নিস্পাপ শরীরে তো আমাদের আজই রাতারাতি চলে—অভিচার করি। অধিকার নাই। শিষ্য। অ—এই কৌশলই করাে। শােন্‌চি শঙ্কর। আমি নিস্পাপ নই, আমি জগতের পাপ- শঙ্কইরা আইজই তােমার সাথ বিচার করবার তাপ গ্রহণ করে ভ্রমণ করেছি। তুমি আমার আবাে। দেহে প্রবেশ করে। অভি। আইচ্ছা তুমি এহানে রও, বা-পুজায় ব্যাধি। প্রভু, জগতের পাপ গ্রহণ করেছেন সত্য, আছি। কাইল যাইয়া বিচার করমু। কিন্তু সে পাপ আপনার অনুমতি ভিন্ন আপ- শিষ্য। ভালাে ভালাে-কাইল আর বিচার করবাে নাকে স্পর্শ করতে পারে না। আর আমরা কেডা। বগন্দরের জ্বালাতেই অস্থির কবে। ব্যাধি, অশুচি অবস্থা ব্যতীত আমাদের প্রবেশ (শঙ্করাচাৰ্য্য ও মন মিশ্রের প্রবেশ) অধিকার নাই। আমার নিবেদন এই,আমি অভিনব গুপ্তের অভিটার-বলে আহুত হয়েছি, শঙ্কর। আপনিই কি আচাৰ্য্য অভিনব গুপ্ত ? যদি আপনার দেহে স্থান না পাই, আমি সেই শিষ্য। না, আমি তার শিষ্য, তিনি এহন পূজায় পাষণ্ডের দেহ অধিকার করে, তার পাপের দণ্ড আছেন। বিধান ক’বাে। শঙ্কর। আপনি আমার এই শিষ্যকে তার নিকট শঙ্কর। না, তাতে অভিচার বিদ্যা ব্যর্থ হবে। ল’য়ে যান, আমার মন্তব্য আচার্যের নিকট বিদ্যা শাস্ত্রমূলক, আমি শাস্ত্র রক্ষার্থে এসেছি, প্রকাশ করবে। শাস্ত্র নষ্ট করবে না। এসাে, আমি পাপকে শিষ্য। আচ্ছা, চলেন চলেন। (বগত) এহনই আমার শরীর অধিকার কতে প্রশ্রয় দেবাে। ট্যার পাইবেন অনে। ভােগ ব্যতীত পাপের নাশ হয় না, জগতের [ মণ্ডন মিশ্রকে লইয়া শিষ্যের প্রস্থান। পাপের ভােগ আমার শরীরেই হােক। ব্যাধি। প্রভু, জগতের সমস্ত সৃষ্ট বস্তু আপনার (কামাখ্যাদেবীর প্রবেশ) সায়, আমাদের কেন জন অহিতকারী সৃজন শঙ্কর। মা, তুমি কে? করেছেন? কামাখ্যা। আমি এই স্থানে থাকি। শশানাে, শঙ্কর। তােমরা জন-অহিতকর নও, তােমাদের তাড়- তুমি বৃথা পরিশ্রম করে এ দেশে এসেছ। নায় পাষণ্ডহৃদয়ে ধৰ্ম্ম বুদ্ধি প্রবেশ করে। এসাে কপটাচারি বামাচার প্রদেশে সরল অদ্বৈতপন্থা গােপনে আমার দেহে প্রবেশ করবে। গৃহীত হবে না। তুমি পুনৰ্বার বঙ্গদেশে জন্ম- ( উভয়ের প্রস্থান। এ ৬ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। করুকু। নবম গর্ভাঙ্ক। * গুপ্তের অভিচারে ভগন্দর মােগগ্রস্ত হয়েছেন। সেজন্য চিকিৎসকেরা এ রােগ শান্তি কতে কামরূপ:শঙ্করাচার্য্যের আশ্রম। অক্ষম। সনদন, মণ্ডনমিশ্র, শান্তিরাম, গণপতি, আনন্দগিরি, সনন্দন। ভাই তুমি কিরূপে সংবাদ পেলে ? চিৎসুখ, তােটকাকাৰ্য্য প্রভৃতি শঙ্করাচার্যের শিষ্যগণ। হস্তা। রাজ-বৈদ্যের। অসাধ্য বলায় আমি অশ্বিনী- সনদন। ভাই, পবিত্র দেবশরীরে কিরূপে দুষ্ট কুমারদ্বয়কে আহ্বান করেছিলেন। তাদের নিকট সংবাদ প্রাপ্ত হলেম, তর্কে পরাজিত হবার ভগন্দর রােগ প্রবেশ করলে ? ভয়ে, অভিচার করে গুরুদেবকে এই খল রােগ- মন। ভাই, এ সকল আমাদের পাপের ফলাফল। এন্ত করেছে। গুরুদেব আমাদের পপ গ্রহণ করে এই ব্যাধি- যন্ত্রণা ভােগ কচ্চেন। আহা, দেখ দেখ- সনন্দন। তুমি এখনো দুরাচারকে ভস্ম করাে নি ? হস্তা। রােগের তাড়নায় গুরুদেব শার্ণ হয়েছেন। আমি গুরুদেবের নিষেধ, তাই আমি নিজ শরীরে অনেক অনুসন্ধান করলেম, এদেশে তো রােগ গ্রহণের প্রার্থনা কচ্চি। সুচিকিৎসক নাই। সনদন। হােক গুরুদেবের নিষেধ, আমি গুরুবাক্য সনন্দন। রাজা সুধা দুইজন ভীষক লয়ে এসেছিলেন, সভ্যন-জনিত মহাপাপভার বহন করব, তথাপি কপটাচারীর প্রাণবধ করূতে নিরস্ত হব না। তারা বলেন, এ রোগ তাদের অসাধ্য। হে গুরুদত্ত চেতন মন্ত্র ! তােমার প্রভাবে খল (হামলক ও শঙ্করাচার্য্যের প্রবেশ এবং হস্তামলকের রােগ অভিচারী অভিনব গুপ্তের শরীরে প্রবেশ করযােড়ে শঙ্করাচার্যের সম্মুখে দণ্ডায়মান ) শঙ্কর। কি হামলক ? ( অভিনব গুপ্ত ও তৎশিয্যের প্রবেশ) হন্তা। প্রভু, আমার প্রার্থনা পূর্ণ করুন। শঙ্কর। তুমি আকাশের ন্যায় নিলিপ্ত পুরুষ, তোমার অভিনব। ছাই হ--আমার অভিচারের বলটা আবার প্রার্থনা কি ? ছাহেবগন্দরে জেরে ফেচে। (প্রকাশ্যে ) হস্তা। প্রভু, আমি আপনার দাস, আমায় বঞ্চনা শঙ্কর কেডা? আমি তর্ক করবার আইচি। কবেন না। সনন্দন। হে থলব্যাধি, যদি এই দণ্ডে গুরুদেবের শঙ্কর। ওহে, তােমরা শােন শোন--আজ মোনী শরীর ত্যাগ করে এই পঙ-শরীরে প্রবেশ না হামলক আমার নিকট কি প্রার্থনা ক’চ্ছে। করাে, আমি অভিচারীর সহিত তােমায় বিনষ্ট আনল। গুরুদেব, আপনার নিকট তো বহু বস্তু করূবাে। প্রার্থনীয় আছে। অভি। (অধীর হইয়া) ওরে বাপরে-বাপরে শঙ্কর। এ বাতুলের প্রার্থনা কি জানাে ? মইল্লাম রে-মইল্লাম রে-গ্যালাম।-- আনন। আপনি অন্তর্যামী, আপনিই জানেন। শঙ্কর। স্থির হােন-স্থির হােন্—কি হয়েছে? শঙ্কর। এ বাতুল আমার ভগন্দর লােগ প্রার্থনা অভি। আমারে ক্ষমা করেন,আমারে রক্ষা করেন! করে। আরে পাগল, রােগ তােমায় কিরূপে ওরে গ্যালাম রে-গ্যালাম। মইষে চড়া প্রদান কবে? আমারে মারবার আইতেচে-কনে যামু হস্তা। প্রভু, আজ্ঞা করুন, আমি আকর্ষণ করে সনশন। যমালয়ে যাও। [ সশিষ্য অভিনব গুপ্তের পলায়ন। শঙ্কর। ( ব্যস্তভাবে) না না হামলক, তােমার শরীর রােগগ্রস্ত হলে আমি রােগের যন্ত্রণা শঙ্কর। পদ্মপাদ কি কলে ? তােমার বাক্য তাে অপেক্ষা শতগুণ যন্ত্রণা পাব। ব্যর্থ হবে না, নরহত্যা হবে যে? হস্তা। ভাই পদ্মপদ, গুরুদেব আমার প্রতি বিমুখ। সনশন। প্রভু, পশুহত্যা সামান্য পাতক, আপনার গুরুদেব অভিচার বিদ্যার সম্মান রক্ষার্থে অভিনব দর্শনে আমার দেহে স্থান পাবে না। দুষ্টের লই।

শঙ্করাচার্য। ৬৯ মরণে পৃথিবীর ভার লাঘব হবে, এ প্রদেশে সতীর সতীত্ব রক্ষা হবে, অভিচারীরা এই পশুর পরিণাম দর্শনে ভীত হয়ে আর দুরন্ত ক্রিয়ায় প্রবৃত্ত হবে না। আর আমি আপনার নাম স্মরণ করে জনসমাজকে আশীর্বাদ কচ্চি, যে শঙ্কনলীলা আলােচনা করবে, তার প্রতি দুষ্ট- শক্তি বলহীন হবে। শিষ্যগণ। জয় নররূপী শঙ্কর শঙ্করাচার্যের জয়! শঙ্কর। বৎস, সকলে প্রস্তুত হও, এ প্রদেশে আমাদের কাৰ্য্য সমাপ্ত, আমরা কাশ্মীর অভি- মুখে গমন কবে। যেমন সপ্তদ্বীপ ধরায় জন্ধু- দ্বীপ সর্বোৎকৃষ্ট, জম্বুদ্বীপে যেরূপ ভারতবর্ষ শ্রেষ্ঠ সেইরূপ ভারতবর্ষ মধ্যে কাশ্মীর সর্বশ্রেষ্ঠ, যথায় সৰ্ববিদ্যা-প্রকাশিনী সারদাদেবী বিরাজ মানা। অদ্যই সকলে গমনার্থে প্রস্তুত হও। [ শিষ্যগণের প্রস্থান। পুণ্যভূমি ভারতের এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত ব্ৰহ্মজ্ঞান প্রচারিত। তােমায় বেদান্তভাষ্য ব্যতীত বৌদ্ধ-দর্শন খণ্ডিত হতাে না। ভগবান নারায়ণ বুদ্ধশরীরে বেদ অস্বীকার করে বােদ্ধি সত্ব স্থাপন করেছিলেন, তােমার ব্রহ্মতত্ত্ব প্রচারে বেদমৰ্য্যাদা রক্ষা হয়েছে । বৌদ্ধ দর্শন যে বেদের অন্তর্গত তা তুমি সপ্রমাণ করেছ। তােমার অল্প কাৰ্য্যই অবশিষ্ট আছে, কাশ্মীর গমনে কাৰ্য পূর্ণ হবে। তথায় বাগদেবীর বিদ্যাভদ্রাসন স্থাপিত। সেই বিদ্যাভদ্রাসনে উপবেশন করে সংসারে প্রচার করাে যে, তােমার প্রবর্তিত পস্থাই শ্রেষ্ঠ। সর্বজ্ঞ ব্যতীত বিদ্যাভদ্রাসনে উপবেশনের কারাে অধিকার নাই। তুমি সেই মন্দিরের দ্বাররক্ষক অপরাজিত পণ্ডিতগণকে পরাজিত করে, অদ্যাবধি অনুদঘাটিত দক্ষিণ ভার উন্মুক্তপূৰ্ব্বক আসন গ্রহণ করে। পণ্ডিতবর্গের পরাজয়ে সকলের প্রতীতি জন্মাবে যে, তুমি সৰ্বজ্ঞ। তােমার মতই প্রকৃত মােক্ষপ্রদ গৃহীত হবে। আমার বরে বােগশক্তিতে সশিষ্য মায়িক স্থান অতিক্রম করে অচিরে তথায় উপস্থিত হও। শঙ্কর। প্রভু, আপনার বাক্যে কৃতাৰ্থ হ'লেম। আমার কাৰ্য্য বিফল নয়, আপনার আশ্বাসবাক্যে প্রতীতি হচ্ছে। আপনার চরণে শতকোটী প্রণিপাত গৌড়। বৎস, বর প্রার্থনা কর। শঙ্কর। প্রভু, আপনার দর্শন লাভ করেছি, আমার আর বর প্রার্থনা কি! আজ্ঞা করুন, নিয়ত ব্ৰহ্মতত্ত্বে নিমগ্ন থাকি। গৌর । তথাস্তু । [ প্রস্থান। ( মণ্ডন মিশ্রের প্রবেশ) কতদিনে হবে মম কাৰ্য্য অবসান, কৰ্ম্মভূমে কত দিন করিব ভ্রমণ। ধন্য মহামায়া- ধন্য এ ভৌতিক দেহ মায়ায় গঠিত, চৈতন্য আচ্ছন্ন যার অদ্ভুত প্রভাবে। প্রারব্ধ-গঠিত দেহ না হইবে ক্ষয় কাৰ্য্য অবসান বিনা। বলবান্ কাষের আসক্তি অদ্যাবধি। বিদ্যা বা অবিদ্যা মায়া উভয়ই শৃঙ্খল ; স্বর্ণ-লৌহ শৃঙ্খলের প্রভেদ যেমতি বিদ্যা আর অবিদ্যার প্রভেদ সেরূপ,-- উভয়ই বন্ধন, কাৰ্যে কাৰ্য ক্ষয় বিনা বন্ধন না যায়। কে বলিবে কতদিনে কাৰ্য্য ফুরাইবে! (গৌড়পাদের প্রবেশ) একি, আমার পরম সৌভাগ্যের উদয়! পরম গুরু গৌড়পাদের পাদপদ্ম দর্শন কলেম! গৌড়। বৎস, তােমার চিন্তায় আমি আকর্ষিত। আমার পরমগুরু ব্যাসদেবের দর্শনলাভ করেছ, তাঁরই আদেশে ভাষ্য-প্রচারে প্রবৃত্ত হয়েছ, তােমার কাৰ্য্য সম্পূর্ণ প্রায়। তােমার ভাষ্য- প্রচারে অযথা শাস্ত্র-ব্যাখ্যা খণ্ডিত হয়েছে, মগুন। প্রভু, রাজা সুধা আপনার নিমিত্ত রথ লয়ে উপস্থিত আছেন। শঙ্কর। বৎস, সন্ন্যাসীর পদদ্বয় ব্যতীত তাে অপর রথের প্রয়ােজন নাই। চলাে-রাজদর্শনে গমন করি। [ সকলের প্রস্থান।

৭০ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। দশম গর্ভাঙ্ক। ( বার উদঘাটিত হওন-শঙ্করাচাৰ্য্য ও সনদন, মণ্ডনমিশ, আনন্দগিরি, তােটকাচাৰ্য, ইস্তাম, কাশ্মীর-সারদাপীঠ। চিৎসুখ, শান্তিরাম, গণপতি প্রভৃতি শিষ্যগণের প্রবেশ) মন্দির-রক্ষক। শিষ্যগণ। জয় সর্বজ্ঞ যতীশ্বর শঙ্করাচার্য্যের জয়। মন্দির-রক্ষক। এই কি শঙ্করাচাৰ্য? পবিত্র বিদ্যা- মন্দির-রক্ষক। এতদিনে কি কাশ্মীরের গৌরব, ভদ্রাসন কি এই বালক কর্তৃক অধিকৃত হবে? বীণাপাণি বাদেবীর মহিমা-এই বালক সন্ন্যা- দৈববাণীও কি মিথ্যা? (শঙ্করাচার্যের প্রতি) সীর দ্বারা বিলুপ্ত হবে। মার মন্দিরের দ্বার- পণ্ডিতবর, আপনি বিদ্যাবলে পণ্ডিতবর্গকে সমূহ দিগ্বিজয়া পণ্ডিতগণ দ্বারা রক্ষিত। জনে পরাস্ত করে দক্ষিণদ্বার উন্মুক্ত করেছেন, কিন্তু জনে অদ্বিতীয় দার্শনিক; যাদের তর্কশক্তি আমায় নিরস্ত করুন। যে ব্যক্তি নির্মলচিত্ত সমস্ত ভারতে প্রচারিত, যাদের সম্মুখীন হতে নয়, তাৰে সৰ্ব্বজ্ঞ বলে স্বীকার করা যেতে কেহই কখন সাহসী হয় না,-এই দুর্দম বালক পারে না। কেবল তর্কবলে অন্যকে পরাস্ত তাদের প্রতিভা বিনষ্ট কচ্চে। যিনিই এই করে বিদ্যার পরিচয় হয় না, প্রকৃত জ্ঞানলাভই বালকের সম্মুখীন হচ্চেন, তিনিই পরাজয় বিদ্যার পরিচয়। আপনি যদি শঙ্করাচাৰ্য হন, স্বীকার করে অবনত মস্তকে এই বালককে এইরূপ লােকপরাম্পরায় শ্রুত আছি যে, অঙ্গনা- বারপরিত্যাগ কচ্চেন। মার মনে কি আছে সঙ্গের নিমিত্ত আপনি পরকায় প্রবেশ করে- কে জানে! এই বালক কি সৰ্ব্বজ্ঞ ? মার ছিলেন। অতএব আপনার আসক্তিবর্জিত বিদ্যা-ভদ্রাসন কি অধিকার করবে ? চিত্ত আমি কিরূপে অবগত হব ? সে পরিচয় পেলে, এ সারদাপীঠে বিদ্যা-ভদ্রাসনে আপ- ( কয়েকজন পণ্ডিতের প্রবেশ) নাকে স্থান দিতে আমি প্রস্তুত নই। মায়ের কৃপায় আমি এই স্থান রক্ষায় নিযুক্ত আছি। ১ম পণ্ডিত। মহাশয় সৰ্ব্বনাশ ! কে এ কুহকী? তােট কাচাৰ্য। আপনি সারদাদেবীর পীঠ রক্ষায় এর সম্মুখে বাকশক্তি বিজড়িত! বৈশেষিক নিযুক্ত থেকে ও কি নিমিত্ত এরূপ অযৌক্তিক নৈয়ায়িক, সৌগত, মীমাংসক প্রভৃতি অদ্বিতীয় ভাষা প্রয়ােগ কচ্চেন? যদ্যপি পূর্বজন্মে কেউ পণ্ডিতগণ পরাস্ত হয়ে দ্বার পরিত্যাগ করেছেন। শূদ্র থাকে, পরজন্মে ব্রাহ্মণ হয়েও কি তার বেদে সাংখ্য, দার্শনিক,যার বিজয়-পতাকা এতাবৎকাল অধিকার হয় না ? গর্বে উড্ডায়মান ছিল, তিনিও সন্ন্যাসীর নিকট শঙ্কর। হে মহাত্মন, আমি আমার আত্মতৃপ্তির জন্য পরাজয় স্বীকার করেছেন। দিগম্বরপন্থী পথ- এই আসনে উপবেশনে ইচ্ছুক নই। আমি রােধ করেছেন, কিন্তু তার উদ্যম নিশ্চয়ই বিফল দেবদেব মহাদেবের আদেশে বেদান্ত-ভাষ্য প্রস্তুত হবে। বালকের তর্কশক্তিতে কাহারও জয়- করেছি। নারায়ণস্বরূপ ব্যাসদেব ভাষ্যপাঠে লাভের আশা নাই। আমার উপর সন্তুষ্ট হয়ে বরপ্রদান করেছেন। ২য় পণ্ডিত। এখনও দেখুন-দক্ষিণদ্বার রুদ্ধ। তথাপি জনসমাজে সৰ্ব্বজ্ঞ’ বলে যদি আমি দিগম্বরপন্থী সাধারণ পণ্ডিত নন, তিনি নিশ্চয়ই প্রামাণ্য না হই,তা হলে আমার ভাষ্য জনসমাজে বালককে নিরস্ত ক’রূবেন। মা সারদাদেবী:-- গৃহীত হবে না। এই আসনে স্থানলাভ সৰ্বজ্ঞতার নিজ সিংহাসন নিজেই রক্ষা করূবেন, বিদ্যা পরিচয়। আমি দেবদেবের আজ্ঞানুবর্তী হয়ে ভদ্রাসনের গৌরব কদাচ নষ্ট হবে না। আমার ভাষ্য-প্রচারে প্রবৃত্ত। যদি আমি কৃত- দৈববাণী। না। কাৰ্য হয়ে থাকি, সারদাদেবী স্বয়ং আমায় স্থান ২য় পণ্ডিত। ঐ শােন-দৈববাণী শােননা। দান করবেন। ১ম পণ্ডিত। ঐ দেখ–দক্ষিণ বার উদঘাটিত দৈববাণী। বৎস, তুমি একমাত্র এই আসনে যােগ্য ;

শঙ্করাচার্য্য। একাদশ গর্ভাঙ্ক। কৈলাস-সন্নিকট পৰ্বত প্রদেশ। (মহামায়ার প্রবেশ) গীত। অসঙ্কোচে আসন গ্রহণ করে, তােমার উপবে- শনে আসনের মর্যাদা রক্ষিত হবে। শঙ্কর। দার্শনিক ঋষিগণে, কুটবুদ্ধি মানবের নিরাশ কারণে, দমিবারে চার্বাক সকলে, দেশকাল অনুসারে করেছেন দর্শন রচনা। যােগমার্গ, কমার্গ আদি বিরচিত সময়-উচিত প্রয়ােজনে। এবে মুক্তিপন্থা প্রসারিত ঈশ্বর-কৃপায় । বেদান্তসূত্রের অর্থ জগতে প্রচার আত্মার প্রকাশ, অবিদ্যা বিনাশ, ব্রহ্মজ্ঞানে আত্ম-দরশন, গুহতত্ত্ব ‘তত্ত্বমসি’ প্রকাশ ভুবনে। মহাবাক্য হৃদিমাঝে করিয়ে ধারণ-- . জনগণে আত্মজ্ঞানে কর অবস্থান। মা সারদে তব পীঠে মম কাৰ্য হােক সমাধান। ( শঙ্করাচার্যের সারদাপীঠে উপবেশন ) সদর-রক্ষক। প্রভু, অজ্ঞানের অপরাধ মার্জনা করুন্। আপনি যে সাক্ষাৎ জ্ঞানময় শঙ্কর, অজ্ঞানতাবশতঃ তা আমার উপলব্ধি হয় নাই। সর্বজ্ঞ যতীশ্বর আমার প্রণাম গ্রহণ করুন। এতদিন সারদামাতার আসন রক্ষক ছিলেন, আজ হতে আপনার অসন-রক্ষক-পদে নিযুক্ত করে কৃতার্থ করুন। শঙ্কর। পণ্ডিতবর, অামার আসন নয়, জননী সন্তানকে ক্রোড়ে স্থান দিয়েছেন মাত্র। মাতার আসনের আপনিই যােগ রক্ষক। সকলে। জয় নরশঙ্কর শঙ্করাচার্য্যের জয়। শর। হে বিরক্ত সন্ন্যাসীগণ, এখনাে প্রচার কার্য্য সম্পন্ন হয় নাই। তােমরা দেশদেশান্তরে এই অদ্বৈত-ভাষ্য প্রচার করাে। আমি কেদার নাথ দর্শন করে কৈলাস দর্শনে ইচ্ছুক। তােমা- দের মধ্যে যারা আমার সঙ্গী হবার ইচ্ছা করো, -এসাে-আমরা অদ্যই যাত্ৰা করি। ( সকলের প্রস্থান। কব করে আর সে বিনা কে জানে, কি বেদনা তারি বিহনে । বিরহ-গাথা থরে থরে গাঁথা, রহিবে নীরব বিজনে। নয়নবারি মিশাও নিহারে, ঘন শ্বাস মিশ পবনে, হৃদয়তপ তপনে মিলাও, কঠিন কায় মিল গিরিসনে, শূন্য প্রাণ গগনে। বিনা প্রাপাধার, আমি আমি নই, প্রাণে প্রাণে বাঁধা তাই প্রাণমই, কতই সহেছি কত সহে আর, মিছার কেন বা সই- বিফল আশা হৃদয় মাঝে রাখিব কেমনে যতনে । *[ (গণপতির প্রবেশ) গণপতি। (স্বগত) ওরে বাপরে! সেই কাপালিক ব্যাটার অবিদ্যা ! এখানে কি করতে মরতে এলাে! পালাই-বেটী না দেখে। মহ। বাবা -শােন শােন—- গণ। কেন বাছা--তুমি পরের মেয়ে পরের বউ, আমি সন্ন্যাসী মানুষ,কেন তােমার কথা শুনবে? মহা। আমি যে তােমাদের মা, আমার কথা শুনৰে ? গণ। মা আছ মা-ই আছ, তুমি ভালয় ভালয় পথ দেখ, আমিও ভালয় ভালয় পথ দেখি । আর বাছা তােমার পাল্লায় পরছি নে। মহা। শােন না, তােমার গুরুর সংবাদ দিচ্চি। গণ। কে সেই তােমার কাপালিক? সে বেটা অক্কা পেয়েছে, তা জানাে না বুঝি? তাই আমায় ধোঁকা লাগাতে এয়েছ ? মহা। তুমি কি মনে ক’চ্চ? আমি সে তো নই, আমি যে তােমার সত্যি মা। | তােমার চোখ ঢাকা রয়েছে, আমি তােমার চোখ খুলে দিতে এসেছি। তুমি আমায় কে মনে করেছ ? আমি १२ গিরিশ-গ্রন্থাবলা সে নই, সে তােমার বিমাতা, আমি তােমার মনােব্যথা কহে এই জনশূন্য স্থানে। সত্যি মা। দেখ, দেখ, নারীমুৰ্ত্তি কে অগ্রগামিনী ? গণ। বাছা, তােমার আর মা-গিরিতে কাজ নাই। সনন। হতেছে স্মরণ, মহা। বাবা, আমি না পথ ছেড়ে দিলে পথ দেখতে পূৰ্ব্বে যেন এই মূৰ্ত্তি করেছি দর্শন। পাবে না। তােমার চোখের আবরণ এখনাে ঘােচে আছিলেন গুরুদেব যবে পরকায়ে, নাই। তুমি এখনো তােমার গুরুকে চিনতে নাহি পাই কোন মতে রাজদরশন, পারে নাই। তাই তোমায় বলতে এসেছি, অকস্মাৎ কৃপা করি আসি এক নারী- তােমার গুরু মানুষ নয়, তােমার গুরু সাক্ষাৎ সঙ্কটে করিল মাতা উপায় বিধান। শঙ্কর। এই কথাটা মনে রেখে তা হলেই হেরি অবয়ব মম হয়, অনুমান, তুমি মােক্ষ প্রাপ্ত হবে। অগ্রগামী রমণী-মূরতী সে সুন্দরী! গণ। (স্বগত) না, সে বেটী তাে নয় । ( প্রকাশ্যে ) মহা হিতৈষিণী সেই জননী স্বরূপ, তুমি কে মা? তাহে কেন অনিষ্ট আশঙ্কা কর তুমি ? মহা। বাবা, আমি বল্লেও তাে বুঝতে পাবে না। মণ্ডন। নহে এ সামান্য নারী হয় অনুমান। তােমার বিমাতাও মরেছে, আমি যেদিন মরবে। প্রধান। প্রকৃতি। সেই দিন চিনবে।] মহাশক্তি ধরি নারী-কায় ভ্রমেণ ধরায়, তার বিরহ সঙ্গীতে ভয় হয় চিতে, [ মহামায়ার প্রস্থান। লীলা বুঝি অবসান প্রায় ; [ গণ। তাই তো—তাই তাে, আমি যেন আর অচিরে বা শিবশক্তি হয় সংমিলিত। এক রকম সব দেখছি। আমি নিদ্রিত না জাগ- (শঙ্করাচাৰ্য, শান্তিরাম হস্তামলক, আনন্দগিরি, রিত! আমি কোথায়, আমার শরীর কি হলাে! চিৎমুখ, হােট কাচাৰ্য প্রভৃতি শিষ্যগণের প্রবেশ) এ সব কি ? গুরুদেব-গুরুদেব-চরণে স্থান দাও! ]* *[ শান্তি। প্রভু প্রভু-দেখুন অকস্মাৎ গিরিশৃঙ্গ (মণ্ডনমিশ্র ও সনদনের প্রবেশ ) ভেদ করে সলিল উথিত হচ্চে। প্রভু, ফিরুন, হেথায় বিপদ হতে পারে। সন। অদ্যাবধি ভারতবর্ষের সমস্ত পণ্ডিতমণ্ডলীকে শঙ্কর। না বৎস, ভগবতী কিরূপ কৃপাময়ী দেখ। পরাজয় করে কাশ্মীরের সারদাপীঠে বাগ; তােমরা দারুণ শীতে ক্লিষ্ট হয়েছ, সেই নিমিত্ত দেবীর সিংহাসনে উপবেশন করতে কেহই সক্ষম এই উষ্ণ প্রস্রবণ গিরিভেদ করে উখিত হন নাই। গুরুদেব যখন সমস্ত পণ্ডিতমণ্ডলীকে হয়েছে। এর উষ্ণতায় স্থান উষ্ণ অনুভৰ পরাজয় করলেন,-অকস্মাৎ দৈববাণী হলো ক’চ্ছ না ? আশঙ্কার কোন কারণ নাই। -“বৎস, আমার আসনে উপবেশন কর তুমি সনন্দন। প্রভু, সকলই আপনার করুণা। একমাত্র যােগ্য। আমার আজ্ঞায় আসন গ্রহণ গণ। বাবা বাবা, তুমি শিব আমি জেনেছি, করে ভারতবর্ষে ‘সর্বজ্ঞ’ নামে প্রচারিত হও।” আমায় বলেছেন। ভাই সুরেশ্বর, সমস্ত ভারতে অদ্বৈত মত স্থাপিত, শঙ্কর। দেখ দেখ, গাপতি কি বলে শোেনন। পূণ্যভূমি জ্ঞানসূৰ্য্যে আলােকিত। ভাই, তুমি সকলে। জয় শঙ্করাচার্যের জয়।] আনন্দ সংবাদে দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করলে কেন ? শঙ্কর। বৎস, এ জনহীন প্রদেশে কয়দিন রমণীকণ্ঠ মণ্ডন। শুন ভাই, অন্তর বিকল কিবা হেতু। নিঃসৃত কোন সঙ্গীতধ্বনি শুনেছ ? তুষা-আবৃত থাের পৰ্বত প্রদেশে, মণ্ডন। হ্যা প্রভু, আমি পদ্মপাদকে সেই কথাই নিত্য রজনীতে ব’লছিলেম,-বােধ হলে কোন রমণীমূর্তি দুরে বামাকণ্ঠে কেব! করে সকরুণ গান? দৃষ্টিগােচর হলাে। যেন কোন নারী বিরহবিধুরা, শঙ্কর। উনিই আমায় সংসারে এনেছেন, আবার মা শঙ্করাচাৰ্য্য। ৩ উনিই আমায় সংসার হতে লয়ে যাবার জন্য এসেছেন। বৎস, আর আমি এ স্থানে কারে অবলম্বন করে থাকবো ? চিৎসুখ। প্রভু, কি নিদারুণ কথা বলছেন? আমা- দের পরিত্যাগ করে যাবেন? জানেন তো, আপনি এই নরমূর্তিতেই আমার হৃদয়েশ্বর। শঙ্কর। বৎস, কারে পরিত্যাগ করবে?—তােমা- দের হৃদয়ে আমার ভাষ্য স্থাপিত। তােমরা আমার হৃদয় অপেক্ষা প্রিয়,তােমাদের সাহাযযাই আমার কার্য সম্পন্ন। বৎস, চলাে--কৈলাস দর্শন করি। কৈলাস হ'তে প্রত্যাগমন করে নি নিজ কার্যে নিযুক্ত হয়ে ! ( সকলের প্রস্থান। পট পরিবর্তন। ( কৈলাস । দেবগণ বেষ্টিত বৃষভােপার হর-গৌরা। শঙ্কর। বৎস, নলীলা অবসান মম। নিজ নিজ কার্য-অন্তে তােমরা সকলে, যােগৰলে হবে অবগত - তােমা সবে জনে জনে কে। কাৰ্য্য অবসানে, মম সম নিজ স্থানে করিও প্রয়াণ । সনন্দন। প্রভু, আপনি লীলা সংবরণ করলেন, কিন্তু আমরা অনাথ হলেম। বৎস, খেদ পরিত্যাগ করো। স্থলে বেদান্তচৰ্চা হবে, কেননা-সেই স্থলেই আমরা যুগলে উপস্থিত হ’ব, হৃদয়-মধ্যে নিয়তই আমাদের দর্শন পাবে। শঙ্কর। (সমবেত সঙ্গীত) বৃষভ-আসনে জগত পিতা, জগত জননী বামে। কনক-রজত মিলিত ললিত, রাজিত যুগল ঠামে। হর—গৌর কপূর, গৌরী-চম্পা সুন্দর, মনােমালিন্য-হরণ মুরতি, দীন-শরণ চরণ-জ্যোতি, জর জয় জয় হর পাৰ্বতী, দ্বিদল চণক পুরুষ প্রকৃতি নিত্য চেতন নিত্য শকতি, লীলানিত্যধামে | সবনিকা পতন।

গৃহলক্ষী
ব
আদর্শগ্নহিণী।
( সামাজিক নাটক )
মিনার্ভা থিয়েটারে প্রথম অভিনয়—শনিবার, ৫ই আশ্বিন ১৩১৯ সাল।
--
কৃতজ্ঞতা স্বীকার।
•
আমার পূজ্যপাদ পিতৃদেব জীবনের শেষভাগে “গৃহলক্ষী” লিখিতে
আরম্ভ করেন; কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা নিবন্ধন এবং অন্যান্য নানা কারণ
বশতঃ নাটকখানির চতুর্থ অঙ্ক পর্যন্ত লিখিয়া, রচনা স্থগিত রাখেন। তাহার
স্বর্গারােহণের পর পুস্তকখানি অভিনয়ের বিশেষ উপযােগী দেখিয়া তাহা
সম্পূর্ণ করিবার জন্য পূজ্যপাদ পিতৃদেবের পিতৃদ্বয়ে আমার পরম শ্রদ্ধাস্পদ
শ্ৰীযুক্ত বাবু দেবেন্দ্রনাথ বসু খুল্লতাত মহাশয়কে অনুরােধ করি এবং ইহার
দ্বারা পঞ্চম অঙ্কটি লিখাইয়া লই।
দেবেন্দ্র বাবুর শ্রম যে বিফল হয় নাই,
অল্প সয়ের মধ্যে “গৃহলক্ষী”র প্রথম সংস্করণ নিঃশেষিত হওয়ায় এবং
অভিনয়কালে দর্শকবৃন্দের উচ্চ প্রশংসালাভ করায় তাহা সুপ্রকাশিত হইয়াছে।
ঐসুরেন্দ্রনাথ ঘােষ।

চরিত্র। (পুরুষ) ঐ উপেন্দ্রনাথ ধনাঢ্য ব্যক্তি। শৈলেন্দ্রনাথ উপেন্ত্রের কনিষ্ঠ ভ্রাতা। नौब्रम পুত্র। মন্মথ ঐ শ্যালিকা-পুত্র। বৈদ্যনাথ বন্ধু। নিতাই ঐ বন্ধু (হাইকোটের উকীল)। হীরু ঘােষাল ঐ প্রতিবেশী । ভৈরব ... ঐ ভৃত্যয়। गया শিবু এটাণ। নকুলানন্দ শরৎ উচ্ছল যুবক। সতীশ প্রমথ ঐ বন্ধুগণ। বিহারী ডাক্তার, উপেন্দ্রবাবুর বাটীর জমাদার ও দ্বারবান্দ্বয়, পুলিস ইনস্পেক্টার, জমাদার ও পাহারাওয়ালাগণ, রেজিষ্ট্রার ও তৎকৰ্মচারী, জনৈক ভদ্রলােক, পাওনাদারগণ, আদা- লতের পিয়াদাগণ ইত্যাদি। } অবধূত। ( স্ত্রী) বিরজা উপেন্দ্রের বিধবা জ্যেষ্ঠভ্রাতৃবধু। তরঙ্গিণী সরােজিনী अवि ••• ফুলী কুমুদিনী শৈলেরে স্ত্রী। কীৰ্ত্তনওয়ালী । ঐ কন্যা। বারাঙ্গনা। কুমুদিনীর মাতা, বারাঙ্গনাগণ ইত্যাদি। সংযোেগস্থল-কলিকাতা ।

গহলক্ষী বা আদর্শ গ্রহিণী। প্রথম অঙ্ক। ( বিরজার পুনঃ প্রবেশ) বিরজা। হ্যা, কি বলছিলি? তর। দাড়াও, তোমার সাত পৃথিবী ঘােয়া হোক, প্রথম গর্ভা। বসুমতী স্থির হােন্, তবে ত বসে কথা শুনে উপেরে অপুর। বিয়া। না রে, সৰ হয়েছে, এইবার কাপড় ছেড়ে গায়ে ঘটি দুই জল ঢেলে মালা ফিরিয়েই শশাবো। উপেন্দ্র ও তরঙ্গিণী। উপেন্দ্র। এই রাত্রে গায়ে জল ঢালবে। উপেন্দ্র। এবারটা পূজোর ঝগড়া আমার সঙ্গে বিরজা। ও আমার অভ্যাস আছে। (তরঙ্গিণীর চলবে না,-শৈলেন আছে, নীরদ আছে, তাদের এতি) নে—বল-কি বলছিলি? সঙ্গে করা। তর। বলছেন কি জাননা, দিদি,-এবার ছােট শি। দিদি, এসাে না গো। ঠাকুরপাে আর নীরের হাতে সংসার দিয়ে নেপথ্যে বিরা। যাচ্ছি। ক্ষেমা, বামুনঠাকুরকে নিশ্চিন্ত হয়েছেন। ওরে কিছু বললে বল- ব’ল গে, ছােটবাবুর ময়দা-টয়া সৰ ঠিক করে বেন,-“যাও নীরদের কাছে যাও।” ছােট রাখে, তার আর সময় হলাে। আর সব ঠাকুরপাের তব চোখের চামড়া আছে, নীরের কেন দমে রেখে দেয়, ছােট বউএর উপর ভার কাছে চাইতে গেলে কাটু-ক্যাটু করে শুনিয়ে দিয়ে যেন তিনি না শুতে চলে যান। দেবে! তবে ইনি একেবারে বিবাগী হন নাই। ( বিরজার প্রবেশ) ছােট বউএর আর বউমায় পূজোর গয়না গড়নর যিয়া। কি রে, কি ? ভার উনি রেখেছেন। তর। ’ গা, এবার পুজোর খরচের ভার নীরের বিরজা। হ্যাগা, তা ক’দিন হতে শুনছি বটে, নীর উপাশের চেয়ে কঞ্চি শক্ত। এক আধ- সব কক্ষে কৰ্মাচ্চে,- ও ছেলেমানুষ- খানা লুচী পেতু, এবার পুজােয় তাও পাব না সৰ গুছিয়ে পারবে। দেখছি। উপেন্দ্র। সব ব্যবস্থা করাই ত আছে, এদিককার বিরা। দাড় দিদি, আমি বুঝি ভাঁড়ার ঘরের খরচপাতি সর সাওয়ানজী কবে, ওরা হিসেব- চাৰিটে ফেলে এসেছি। পত্র দেখবে। আর আমিও ওদের হাতে দিয়ে [ বিৱজার প্রস্থান। ক্তি নিশ্চিন্ত নাই। চিরকালই কি বাঁচব, নেপথ্যে বিরা। কোথা ছিল। ওরা সৰ বিষয়-আশয় কোথায় কি না, বুঝে নেপথ্যে যি। আমার তেল বার করতে দিলে নেনে? বিরজা। শুনছি নাকি খুড়ো-ইপােয় পতি নেপথ্যে বিলা। মনেরও ঠিক নাই। নি খিটিমিটি হয় ?

(S গৃহলক্ষ্মী। ৭৭ তর। নীৰে সমূলে সুমলে টেনে রাখতে চায়, বােনপো নয় আমার বোনপে-অমন ছেলে আর পােয় কাজ হত। হ উপেন্দ্র। সেনার এ খবর কে দিলে? উপে। ওর মতন ছেলে হাজারে একটা দেখতে বিরা। কেন, মেনা বলে,-“বড় মা, মেশে। পাই না। দাদা থাকলে এতদিন একে বাড়ী মশায়কে লাে যে, দাদাতে হােট মেশােতে ঘর-দোর করে দে স্থিতু করতেন। বনবে না। (নীরদের প্রবেশ) উপেন্দ্র। হা-হা-ওদের খুড়াে-ভাইপাের খরচ নীরদ। বাবা, হিসেপত্র আমার মা দেখতে বলেন, ' নিয়ে তর্ক হয়েছিল বটে। তা মােনা কোখেকে দেখছি, খরচের দায়ী আমি হব না। জানলেও ত ঘরে বসে পড়ছিল ? উপেন্দ্র। কেন? বিরজা। কে, মোনা? জানে না-তোমার সংসারে এমন কিছু কাজ আছে? ও দাসী- নীরদ। আমি কাঁহাতক লুকিয়ে রাখবে? ছােট- চাকর কি দিয়ে ভাত খাচ্চে-জানে। (তরঙ্গিণীর কাকা দশ পনের হাজার টাকার চেক কেটেছেন। বলেন, দাদাকে বলি নি। সে কাগ মা- প্রতি) এ দিকে ত তােমার বােনপাে বােকার খরচ ক’তে দেননি। কাল আমার সঙ্গে তর্ক মতন বেড়ায় দেখতে পাও-ও সব জামেসব কিসের? উনি পাঁচ হাজার টাকার ফের চেক পারে। পড়া শুনােয় ত শুনেছি, ওর সঙ্গে কাটতে চান, আমি চে-বই দিই নাই। কোন ছেলে পারে না; সে দিন বাগান থেকে সেই কাৎলা মাছটা এসেছিল,-কুটুলে। সে দিন উ ে। যা-যা – এখন । নীরদ। আপনি একটা বিলি করুন, মােজ মােজ হুকুর বেলায় বসে আমার সুপুরী কৃচিয়ে দিলে। আমি ঝগড়া কতে পা’রূৰো না। আর এমন সুন্দর তোড়া, ও যে খিড়কীতে ফুল- উপেন্দ্র। আচ্ছা--আচ্ছা--তা হবে। বাগান করেছে, সেই বাগান থেকে তােয়ের [ নীরদের প্রস্থান। করে এনে ছােটবউ আর বউমাকে দেয়- তােমায় আর কি বলবাে। তােমার কাছে তর। তােমাল ভয়ে আমি বলি নাই। ছােটবুর ভয়ে আনে না, পাছে তুমি বকে। আজ ছানার একটু বেচাল হয়েছে। নীরে আমায় বলতো, ৬ালনা খেলে, ও কার রায়া——ঐ শােনার। আমি বিশ্বাস করি নাই। কিন্তু এখন দেখতে একটা উনুন কিনে এনেছে, আমার ঠে6ে পাই, দিন দিন রাত করে আসে। ছােটবউ আনাজ নিয়ে এক একদিন রাধে। সালায়, সেই জন্যই বামুনঠাকুরকে বলে, উপেন্দ্র। তা তােমায় তােড়া এনে দেয় না ? “চলে যাও, আমি খাবার দেব।” বামুনঠাকুরের বিরজা। ( হাসিয়া) একদিন এনেছিল, আমি দোষ নাই। আড়মড় কথা কয়ও শুনতে পাই, ব’লুম, ঠাকুরপুজোর ফুল নষ্ট করলি? সেই বােধ হয় কিছু খায় টায়। ইক ওদের ঘরে দিয়ে আসে। বিরজা। এ কথাটি কেন মুখে গাে দিয়ে চেপে ও ঠাকুরপুজোর ফুল নষ্ট করে কেন? রেখেছ দিদি ? মাসীগিরি ফলান হচ্চে। তর। কি কবে, বলে কে দোষী হবে বল? বিরজা। তাই বটে! ও কি কিছু নষ্ট করে? উপেন্দ্র। কিসের দোষ? যদি তুমি এতটাই তােমার বােন মরে গেল, পাঁচ বছরের ছেলেটি বুঝেছিলে, আমায় এক দিন বলা উচিত ছিল। বাড়ীতে এসেছে। সেই দিন থেকে কখন তর। বলবে আর কি, তুমি কি জান না,-না আবদার করে বলেছে—এই জিনিসটে খাব? দেখতে পাও না ? বাগান থেকে ঝােড়া ঝােড়া ফুল আসছে, ও উপেন্দ্র। না, দেখতে পাই না,দেখতে পেলে আপনি ফুলগাছ পুতে দুটো ফুলে তােড়া তােমার মত চুপ করে থাকতেন না। বলে বলে, তাই নষ্ট করে। তুমি মাঝে মাঝে দেবী বে মনে করে বলেনি—আশ্চৰ্য্য। শও শুনতে পাই। ও তার কর। তােমার কাছে আমার সই আশ্চর্য্য। উপেন্দ্র।

গিরি-অস্থাবলী। উপে। তা হবে। করে আনতে। নিতা খেতো। এ কি সর্বনাশ বিরা। তা মন কি বলছে। এদের দুজনের হলাে—এ বাড়ীতে মদ সেধেনে ভাই-অন্ত প্রাণ! পশুর মরে গেলেন, তার নেপথ্যে শৈলেন্দ্র। কুচ পরােয়া নাই, আমি কারাে ছ’মাস পেরুলাে না, শাশুড়ী ঠাকরুণ আট মাসের একারির ভেতর নাই। অত হিসেৰকিতেবের ছেলে রেখে চলে গেলেন,আমি একদিন ভেতর আমার চলবে না। ধমকালে আমায় তেড়ে আসতো। ( শৈলেন্দ্রের প্রবেশ) উপেন্দ্র। বড়বউ, যা শুনছি, এ যদি সত্য হয়, আর শৈলেন্দ্র। দাদা, নীরে কি না বলে-চেকবই সবও মনে হচ্ছে, তা না হলে ওর এত টাকার দেবে না? কেন-তােনার বিষয়ে হাত দিচ্ছি দরকার কি? বড়বউ, জানােত, না খাওয়া না নি, তুমি কোণে বসে থাকতে পার, আমি যদি ধাওয়া-মামলা-মােকদ্দমা করে তাই কি সব পারি। খরচ কৰাে না-ভােগ ক’বাে বিষয় পেলুম? দেইজীদের আর বুড়ো মল্লিকের না—তবে বিষয় হয়েছে কি কতে? গ্রাস থেকে দাদা বিষয় বার করে গেলেন, উপেন্দ্র। নীরে -নীরে- আর তিনি পুণ্যাত্মা, ভুগতে আমায় রেখে গিয়ে নেপথ্যে নীরদ। আষ্টে- ছেন। বড়বউ, তােমায় বলি নাই, এর মধ্যে দু’বার হাও নােটের টাকা চুপি চুপি চুকিয়ে শৈলেন্দ্র। নীয়েকে ডাকছেন কি,-আমি নীরের দিয়েছি। মনে করলুম, বিষয়-কর্মের ভার দিই, কি তােয়াক্কা মাখি? বিরজা। চ-চল, শুবি চল। ভার পড়লে শুধরে যাবে। তা এতদূর বাড়া- বাড়ি কৰে, আমি বুঝতে পারি নাই। সত্যি শৈলেন্দ্র। কে বড় বউদিদি, প্রণাম। দেখ-. পাঁচশাে টাকা মাসােহারায় কি আমার চলে? কি মদ ধরেছে ? কম করে একটা garden party তিন শো তর। সত্যি মিথ্যে আর কি। খেতে বসেছিল, টাকার কমে হয় না। এই ধরাে না- মাংস দিতে গিয়েছিলুম, মুখে ভ ভক্‌ ক'রে বিরজা। নে চল-চল- গন্ধ, পেয়েছি। উপেন্দ্র। তােমার পেটে যে এত কথা চাপা থাকে, শৈলেন্দ্র। যাচ্চি, ন্যায্য কথা বলে- ( শৈলেকে টানিয়া লইয়া বিরজার প্রস্থান। তা আমি জানতুম না। চেপে রাখাই ভাল, অনেকবার বলে দোষী উপেন্দ্র। নীরে- হয়েছি। ( নীরদের প্রবেশ) উপেন্দ্র। যদি তােমার নীরে হতো, তা হলে চেপে রাখতে পারতে না। ( বিরজা প্রতি) বড় নীর। অঙ্কে-এই যে আমি। বউ, মিছে আটু-পাটু-সংসার রাখতে পাবে উপেন্দ্র। তােমারও কি কিছু মাসােহারা বাড়িয়ে । যখন মদ সেখােলাে, তখন আর উপায় দিতে হবে না কি ? নাই-ও রােগের ওষুধ নাই। আর যা মন নীরদ। আতে খাতা দেখুন, দুমাসের মাসােহারা যায় করুক, আমি কোথাও চলে যাই, আমার মা আছে। ভাবনা ঢের ভেবেছি আর পারি না। উপেন্দ্র। চল, বাইরে চল, ওয়ানজীর বাসায় বিরজা। রাগ করাে না, ঠা হও, নয় সব খানে- লােক পাঠা। খারাপ হবে। মেজো বউ, তােরে বলবাে কি, তর। হা গা, এই রাত্রেই ওকে মাই দিয়ে আমায় বাঁজা মাইয়ে দুদ উপেন্দ্র। নাও নাও—থামাে। এসেছে। ও এমন অধঃপাতে যেতে বসলাে। [ উপেন্দ্র ও নীদের প্রস্থান। এ আমাই পােড়া কপাল-আর কিছু নয়। ঠাকুর যে পরকে বিশ্বাস করে বিষয় খুইয়ে- (বিরজার পুনঃ এবেশ) ছিলেন, সে ত ছিল তার। ওরা দু’য়ে মােট বিজ। মেজ ঠাকুর-পাে কোথায় গেল? ওর ।

৭৯ গৃহলক্ষী। ত। দাওয়ানজীকে ডাকতে পাঠিয়ে বাপ-বেটায় শৈলেন্দ্র। বড় বউদিদি কিছু বলেছেন? খাতা দেখতে চল্লো। আজ আমায় তম্বি হচ্ছে সমাে। বড়দিদি ঋলেন, বল্লেন-পাঁচভূতে খারাপ বলি নি কেন? বল্লে দোষী হ’তু, মনে করেছে। কতেন—ভায়ের নামে লাগাচ্চি। উনি যে শৈলেন্দ্র। তুমিও মনে মনে কত গালাগা দিয়েছ। বানােটে টাকা দিয়েছেন বল্লেন-সে হাগু- সরো। আমি তােমায় গালাগাল দেব? নােটটা কিসের? নীরে থর নিয়েছে, হাও- শৈলে। সমস্ত রাত ঘুমােখনি দেখছি। নােট কেটে ইয়ারবন্ধুদের প্রায় দিয়েছে। নীরে সরে। না না- বলতে গিয়েছিল, তা বলছে কি জানো? শৈলেন্দ্র। তবে কি কেঁদে কেঁদে চোখ লাল করেছ? তােদর ও সৰ কথায় থাকা আবশ্যক সয়াে। তুমি আর অমন করাে না। তুমি যখন নাই। তা কাজ কি বাপু! দিদি, তুমি জানাে বমি করাে, মনে হলাে, তােমার দম আটকে , ঢের দিন ঢের কথা হয়ে গিয়েছে। বলে, যাবে। আমি মুখে কেন গাে দিয়েছিলুম, আমি উত্তর শৈলেন্দ্র। আচ্ছা, আমি রােজ রাত করে আসি, কলুম না। বল্লে বলতাে, কান-ভাঙ্গানি দিচ্ছে। মুখে একটু মদের গন্ধও পাও, আমায় কিছু বিরজা। তা তুই আমায় চুপি চুপি বলি নি কেন? জিজ্ঞাসা করাে নি কেন? তর। শেষটা আমার ঘাড়ে এসেই পড়তো। সরো। আমি কি জিজ্ঞাসা কবে ? সেবার কাপড় বিলােনর কথা বলি নাই? কত শৈলেন্দ্র। আমি উচ্ছয় গিয়েছি। কথা শুনেছি, তা ত জাননা? সরাে। বালাই। বিরজা। তা আয়, তুই খাবি আয়। শৈলেন্দ্র। শােনন, কুমুদিনী বলে এক চুড়ী থিয়ে- তর। না দিবি, আমার মুখে আজ কিছু উঠবে না। টার করতো, তাকে শরৎ, যে আমাদের বাড়ী বিরজা। তা তুই না খাস, সমস্ত দিন খেটে মচ্চি, আততা, সে রেখেছিল। সেই শরৎ আমাদের আমার খাবার দিবি আয়। মােন আমায় বলে কজনকে একদিন তার বাড়ীতে গান শুনতে ছিল যে, বড় মা, বড় বড় সব জুড়ী করে ঘােট নে যায়। মেশাের কাছে ভাল ভাল সব ঘুঘু আচে। আমি সরাে। সে কথা আমি শুনে আর কি করূবাে, তুমি তারে কে দিয়েছিলুম, বলেছিলুম,-“তা আর খেয়াে না। তাের কি, তুই ও সব কথায় থাকি নি। শৈলেন্দ্র। শােননা, শুনলে বুঝবে, আমি পায়ে বেড়ি পরেছি। (সরােজিনীর প্রবেশ ) সরাে। সে কি ? সরাে। ও দিদি, বমি কচ্চে। চাপ, চাপ, মাসের শৈলেন্দ্র। দুই এক দিন অমুনি গান শুনতে যাই, মত কি উঠছে, বুঝি নাড়ী পচে বেরুচ্চে। শরৎ সঙ্গে থাকে, এক দিন হীরু খােল বিজা। দুর পােড়াকপালী ! আমাকে বল্লে-“ছােট বাবু, শুনতে পাই, [ বিরজা ও সরােজিনীর অস্থান। মােজ তােমরা গান শুনে এসো, আমায় একদিন তর। নীয়ে ঠিক বলে, ভাইয়ের চরিত্রটা নিজে শােনাও না।” বুকুন। সরাে। হীরু ঘােষাল শুনেছি, বড় ভাল লােক নয়। [ প্রস্থান। শৈলেন্দ্র। স্থির হয়ে শােনন, আমি হীরু ঘােষা- লকে নিয়ে সেখানে গেলুম; মনে কলুষ, শরৎ দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক। এখনি ইয়ার-বন্ধু নিয়ে আসবে, আসতে দেরী দেখে হীরু ঘােষালকে ডাকতে পাঠালুম, সেও শৈলেজের কক্ষ-শৈলেন্দ্র ও সয়ালিনী। ফিরলাে না। ক্রমে কথায় কথায় রাত হয়ে শৈলে। মা কাল কিছু বলেছেন? গেল, আমি উঠধ্যে মনে ক’চ্চি, এমন সময় সরে। আমি ত তা জানি না। দেখি, শরৎ একলা এসে উপস্থিত হলাে,-আমায় ৮০ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। দেখে মুখ ভার কলে। আমার কথার ভাল সময়। তা তুমি তাকে কিছু থােকা দিয়ে দাও, করে জবাব দিলে না। আর সেখানে যেও না। পরে। কেন, তার সঙ্গে কি ঝগড়া হয়েছিল ? শৈলেন্দ্র। সে কথা আমি তারে বলেছিলুম, সে শৈলেন্দ্র। না। শরৎ একটু বসেই কুমুদকে বলে, “আমি তােমায় না দেখলে গলায় ছুরি ডেকে বাইরে গেল। আমি কিছু বুঝতে পা দেব।” আর তার আটুপাটু দেখে আমারও লুম না। মিনিট দশ বাদে চুড়ীর গলা শুনতে কতকটা টান হয়েছে। পেলুম, বলছে-“আমি ইয়ার-বন্ধুকে ব’তে সয়ো। তা তুমি তার বাড়ীতে এক আধবার যেও, দেব না। এতে তুমি না থাকে, যাও, চাইনে। কিন্তু মদ খেও না । শরৎ বলে, “আচ্ছা তাই। আমি ব্যাপার কি শৈলেন্দ্র। ওই ত হয়েছে মুস্কিল, তার বাড়ী গেলে জানতে উঠছি, এমন সময় কুমুদ ফিরে এসে পাঁচ জন যােটে, উপরােধ এড়ান যায় না, একটু আমার হাত ধরে বসালে। একটু খেতে বেশী হয়ে যায়। সরাে। কেন---ওদের কি হলাে? সরে। তা তুমি তাকে লুকিয়ে আমাদের বাড়ী শৈলেন্দ্র। বলছি,শােননা-কুমুদ বল্লে-“দেখ ভাই, এনাে। আমার অন্যায়টা বােঝে, তোমার সঙ্গে আমার শৈলেন্দ্র। সে কি হয় ? আলাপ ছিল না, উনিই তােমায় সঙ্গে করে সরে। কেন হবে না? আমি কাকেও বলবাে না, এনে আলাপ করে দিয়েছেন। তুমি ভদ্রলাে আর আমি দোর বন্ধ করে দেব, কেউ আমা- এসেছ, আমি তােমার খাতির করে বসিয়েছি, দের মহলে আসতে পাবে না। এই আমার অপরাধ। বাবু তােমায় সন্দেহ শৈলেন্দ্র। আচ্ছা, তােমার কি মনে হয়, সে সত্যিই করে, জবাব দিয়ে চলে গেলেন। আমি আমায় না দেখলে ময়ূবে ? এ কদিনেই কি ১ বলম, আমায় সন্দেহ করেছে ?” কুমুদ বল্লে, এত ভালবেসেছে ? “হ্যা, নইলে আর বন্ধু কি? মনে করেছেন, সরাে। তােমায় ভালবাসা ত বিচিত্র নয়, যে দেখবে, এক শো টাকা করে আমায় দিতেন, তা সেই ভালবাসবে। পেলে আমি আর খেতে পাব না? ওঁর শৈলেন্দ্র। এখানে আনলে তােমার মনে বিষ হবে বন্ধুবান্ধবের সুখ্যাত গায়ে সয় না। তােমার ? কথা এক দিন বলেছিলুম বলে কত ঠাট্টা! সরাে। রিষ হবে? তুমি যদি দশটা বিয়ে করে, আমার একটা পেট আর দুখানা কাপড়, অত তা হলে কি তুমি আমার পর হবে ? ভবডনির ধার ধারি নে। ওর এক শাে টাকা শৈলেন্দ্র। সেও তােমার সঙ্গে আলাপ কতে চায় তােমাদের জুতো ফিরিয়ে দে আমি পাব। সরো। তা বেশ, তুমি এনে। সরাে। হ্যাগা, এক শো টাকা করে দিত ? শৈলেন্দ্র। তুমি আর একটি কাজ করতে পারে? শৈলেন্দ্র। ও আর বেশী কি দিত,-গাইতে জানে, সরাে। কেন পারবাে না ? নাচতে জানে, মজলিসি মেয়েমানুষ। শৈলেন্দ্র। আমি আর এক বিপদে পড়েছি, ব্যাঙ্ক শৈলেন্দ্র। আমারও শরতের উপব মন চটে গেল, থেকে হাজার পনের টাকা বার করে নিয়েছি। আমি তারে বন্ধুম, “তুমি শরৎকে আর আসতে তা সব আমি খরচ করি নি, এক জন বন্ধুলােক দিয়াে না, তােমার খরচপাতি আমি দেব।” এই বিপদে পড়েছিল, তারে জেলে নিয়ে যায়, তাইতে যাতায়াত সুরু হলো। পাঁচজন ইয়ারের খাতিরে বেশী ভাগ খরচ হয়েছে। আর কুমীর গয়না একটু একটু মদও চল্লো। কাল বাগানে বেট ছিল না, খানকতক গয়না গড়িয়ে দিয়েছি। কর হয়ে গিয়ে এই ঢলাঢলি। আর বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বাগান-টাগান যেতেও সরে। তা ৰেড়ি পায়ে দিয়েছ কি? ক রচ হয়েছে। শৈলেন্দ্র। বুঝতে পাচ্ছ না, এক জনের সরাে। তা আর বিপদ কি ? মেজ ঠাকু কি সে । মেরেছি। টাকা দেবেন না?

। গৃহলক্ষী। ৮১ শৈলেন্দ্র। দেখেন না কেন? আমি ভাবছি যে, তৃতীয় গর্ভাঙ্ক। নীরাের পরামর্শ শুনে আমায় যদি পৃথক করে উপেজের বহির্বাটী দেন। আমার বলতে ভয় করে, তুমি বড় বউ দিদিকে বলে যদি এর কোন মীমাংসা করে নী, হীরু ঘােষাল ও মন্মথ। দিতে পার ত বড় ভাল হয়। আর বলো, আমার হীরু। ছিঃ ছিঃ, ছােটবাবুর মুখ একেবারেই আগা পাঁচশাে টাকায় আঁটে না, হাজার খানেক টাকা হয়ে পড়েছে, একেবারে যাজেই! যেখাবাড়ী যদি আমায় মাসােহারা করে দেন, খ র পূজার গিয়ে পাঁচ বেটা মাতালের সামনে মেজো কর্তাকে সময় যদি হাজার চারেক দেন, তা হলে আমার যা মুখে এলাে, তাই বল্লেন। রাম রাম-নে চলে যায়। কানে হাত দিতে হয়! বলেন কি না, মেজো সরাে। তা আমি বলে ঠিক করতে পারি। তুমি বাবু ওঁর বিষয়টা ফাঁকী দিয়ে নিতে চান। যাও, চানটান কর গে, ভেবাে না। তােমায় মন্মথ। তা ঘোষাল মশায় কার ঠেঙে গুনলেন ? গলায় কাপড় দিয়ে মিনতি ক'চ্চি, আর যা হীরু। আরে আমি স্বকর্ণে শুনলুম। করাে, মটা খেও না । মন্মথ। আপনি সেথায় যান না কি ? শৈলেন্দ্র। দেখ আমি মদ খেতে চাই না, ভাল হীরু। আরে না না, ছােট বাবুর পাল্লায় ত পড়াে লাগে না, আর দেখতেই ত পাচ-বরদাস্তও নাই। আমি কি অত জানি, বল্লেন,-“চল হয় না। পাঁচ জনে ধরে, চক্ষুলজ্জা এড়াতে ঘােষাল, বেড়িয়ে আসি।” উনি যে হোতায় নে পারি না। যাবেন, তা কে জানে? সয়না। এমন কি চক্ষুলজ্জা? তুমি বলো, অমন মন্মথ। তার পর বুঝি আপনাকে ঘরে দোষ দিয়ে পেড়াপীড়ি কর ত আমি তােমাদের সঙ্গে রাখলেন, আর বেরুতে দিলেন না। মিশবো না। তুমি ও ছাই ছুয়ো না। যাও, হীরু। সে একরকম দোর দেওয়াই, চাদর কেড়ে চানটান করে দু’টি খেয়ে একটু শােও। নিলেন, কি করি বল? শৈলেন্দ্র। আচ্ছা, কুমুদকে এখানে আনলে তােমার মন্মথ। কাজেই মশায়কে বসে শুনতে হলাে। আমি মনে কিছু হবে না? শুলুম না কি, আপনার নাক টিপে ধরে মদ সরাে। না, তােমার পা ছুয়ে বলছিনা। সে খাইয়ে দিয়েছেন? তােমায় ভালবাসে, আমি তােমায় বলছি, আমি নীরজ। আরে, চুপ করাে না মন্মথ, কি বলেন শোন তারে বােনের মত ভালবাসবে। । (হীরু ঘোষালের প্রতি) বাবাকে বুঝি খুব শৈলেন্দ্র। আমি মেজদার কাছে কেমন করে গালমন্দ হলাে? কি বলেন ? মুখ দেখাব ভাবছি। সে আমার মুখে আর শুনে কাজ নাই। সরাে। তুমি ভেবো না, তিনি বাড়ীর ভেতর এলে মন্মথ। তা হলে ওঁকে গিয়ে আবার জিব দুলতে হবে, তুমি তারে বলো, আর অমন কাজ করুবাে না ; নইলে মুখ সাফ হবে না? তা হলে তিনি আর কিছু বলবেন না। নীরদ। তা আপনি বাবাকে সৰ বল্‌বেন, ৰাৰা শৈলেন্দ্র। তুমিও স্নানটান কর গে। তুমি সমস্ত আমাকেই দোষেন, তা ওদের টাকা, ওঁরাই রাত জেগেছ, আমি বুঝতে পেরেছি। খরচ করবেন, আর আমি ওঁদের কথায় থাকবে [ শৈলেজের এস্থান। । আজ আমি খাতা বুঝিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত। সরে। মন্মথ ত মিছে বলে না, ঐ পােড়ারমুখােরাই (বৈদ্যনাথের প্রবেশ) সর্বনাশের গােড়া। ( প্রস্থান। যৈন্ত। কি ঘােষাল, খবর কি? কার ব্যাটা মলো, কে জেলে গেল, কে বিধবা হলাে, কার সর্বনাশ হলাে—তুমি ত ঘুরে ঘুরে পরের গল দেখেই বেড়াও। ১১ হীরু।

রার্থিনে। কি বল ? মশায়। গিরিশ-গ্রন্থাবলী। হী। বড় আমুদে লােক, আমায় দেখলেই ঠাট্টা সে বলে, আমি চালকলা বেঁনে খাই, অত খবর করেন। ( বিরক্তভাবে নীদের এস্থানেজাগ) হীরু। না, বসাে, আমি তােমার সঙ্গে ছড়া কাটুতে, বৈদ্য। নীরাে, বাড়ীর ভেতর যাচ্ছ, তােয় বাবাকে পারবো না। আমি চনুন। বৈদ্য। চল্লে কেন, ছােট বাৰু কি বলেছে, উপেনকে খবর দিও। [ নায়দের প্রস্থান। বনে যাও। যা মুখে এসেছে-বলেছে, তুমি আর সইতে পারুলে না, তাই উঠে চলে এসেছ হীরু। তা তােমায় দেখিনে যে—দেখিনে যে? বৈদ্য। আর দেখবে কি করে বল? এ বাড়ীতে মন্মথ। উনি যাচ্চেন না; আপনি চলে গেলে, কি ঢােকার যো আছে, চকলে হিংসের বুকের মেশাে মশায়ের কাছে আসবেন এখন। আমি ছাতি ফেটে যায়। মেলােমশায়কে বলবে—কি বলেন ঘােষাল মন্মথ। কেন বৈদ্যনাথ বাবু-কেন বৈদ্যনাথ বাৰু ? বৈদ্য। ঐ জিজ্ঞাসা করো না ঘােষালকে! ওর হীৰু। আমার আর কি, ভায়ে ভয়ে পীরিত- বদান্ত আছে, আমরা এত বরদাস্ত করতে পারি প্রণয় থাকে, দেখতে ভাল হয়। না। ঘোষাল, তোমার খুব বদরান্ত,--তুমি বৈ। কেন, ভয়ে ভয়ে বাবাজি করে শুনতে পাই, দুবেলা এ বাড়ীতে এস অরুচি হয়েছে না কি ? একটা তোমায় মন্মথ। ত। ওঁর অনুগ্রহ আছে। ছােটবাবুর সঙ্গে পরামর্শ জিজ্ঞাসা করি, কোন দালালীটে গাড়ী করে যাওয়া আসা আছে। সুবিধা বল দেখি? মনে ক'চ্চি, পেন্সনটা নিয়ে বৈদ্য। অ! তুমি সৰ কখন করে ঘােষাল ? সেই শুরু করুন। বেশ্যার দালালী সুবিধা, না আর পয়ােপকারই বা ফ’রে বেড়াও কখ? হানােটের দালালী সুবিধা, না মকদ্দমার হীরু। বসাে না-তামাক খাও না। দালালী সুবিধা? তুমি পাকা লােক, তিন বৈত। বসবাে কি, আগে খাবারটা দাও, ভয়ে ভয়ে রকমই তো চানাচ। বাধবে? কি বুঝছ ? হী। নাও নাও, আমার তােমার মতন খামো হী। সেইটে কি ভাল? করবার সময় নাই। বৈদ্য। ভাল নয়?—সংসটা ছারখরে যাবে (প্রস্থানেলােগ) আমরাও যেমন বাজার করি গামছা কাধে করে, ( নকুলান জবধুতের প্রবেশ) এরাও তেমনি বাজার কৰে, দেখে চক্ষু জুড়াবে। অব। (হীন ঘোষালকে ধরিয়া) কোথা যাও, মন্মথ। না মশায়, উনি তেমন নয়, উনি মেটামেটি শােনন-তােমার ভারি বিপদ দেখছি। সে কতেই এসেছেন। তাই বলছিলেন, ছােটবাবু দিন তুমি সন্ধ্যার সময় বটতলা দে চলে মেজো মেশাে মশায়কে গালাগালি করেছেন। যাচ্ছিলে, অমনি তােমায় ভূতাে চাড়াল হীরু। দোষগুণ সৰ বল্‌তে হয়-দোষগুণ সব বলতে পেয়েছে। হয়, নইলে মিটবে কিসে? আমি তাে আর হী। কি অবধূত—কি অবধূত-ক’ ছিলুম পরের কাছে বলতে যাই নি। বৈদ্য। বলছিলে বই কি। চৌরাস্তায় দাড়িয়ে হাত অব। ভূতােৰ, তুই আমার হাত এড়াতে নেড়ে সৰ পৰিচয় দিচ্ছিলে, নইলে আমি আর পাৰি মা, আমি তােরে দু ফুয়ে পড়া। শুনলুম কোখেকে যে, এদের সব বাধাবাধি বৈত। তুমি তাড়াতে পাবে না-তুমি তাড়াতে হবে। পাবে না, ওরে আছুড়ে ভাল ভূতে হী। সে এদের এই পুরুত বলছিল। আমি তারে পেয়েছে। কে দিলুম। অব। তা হতে পারে, তবে সে ভূতের বাপ। যেত। সে বলবে কেন? তুমি তাকে সাক্ষী নিলে, হী। নাও, ছাড়ো-যতো, আমার কাছে। উড়লাে ?

- গৃহী। বৈ। ছেড়ে যাও অবধূত, ওর এখন টের কাজ খোর যেটা বলছে, আমায় ভূতাে চাড়ালে ও এখন বিলির দুকরী জালালী করতে পেয়েছে-আমায় ছদড় যেতে চাই- যাবে। আমার মাথায় চোনা ঢালতে চায়। আর হী। দেখ, ওরকম ঠাট্টা-তামাসা করাে না, বৈদ্যনাথ বাবু টোয়াচ্চেন। ও সব আমার ভাল লাগে না। উপেন্দ্র। ছেড়ে দাও অবধূত-ছেড়ে দাও। অব। না, ও বুলো স্যার মটুকা ভাঙ্গবে। অব। যা ভূতাে, আজ হাত এড়ালি, তাের মাথা হীরু। তোর আজ খুব সোজা কম হয়েছে, আমি মূড়োবাে। দেখতে পাচ্ছি। উপেন্দ্র। কি হয়েছে বন্দিনাথ ? অব। চড়ালের ভূত কি না, ভারি জোর করেছে, ও ঠিকঠিক বলে, বলেওরে চাল ভূতে একটা ছাদন-দড়ি পেতুম, কেমন চাঙ্গালভূত পেয়েছে। দেখডুম, তােমার আড়কাটায় টাঙ্গাতুম । উপেন্দ্র। কি অবধূত, তুমি সেজো পেত্নী ছাড়াতে মন্মথ। অবধূত মশায়, আমি আছি। পানাে ? হীরু। না বাবা, ও তামাসা নয়। কি জানি, অব। বড় শক্ত পেত্নী। কামিক্ষে থেকে ডাকিনী ও গাঁজাখাের বেটা এখনই বেঁধে ফেলতে আনতে হয়। পারে। বৈদ্য। কেন—তুমি ঝড়াও না? অব। হ—ভূতো-(মুখে ফু দেওন)। অব। না-ও বড় খারাপ-সে আমার কাঁধে হী। দেখ দেখি, বেটা ফু দিয়ে থুথুতে মুখটা চাপবে। ভরিয়ে দিলে। উপেন্দ্র। মন্মথ, যা তো। অব। ব্য, ঘােল বেঁচে গেলে। মন্মথ। আসুন না অবধূত 'লায়। মন্মথ। না অবধূত মশাই, এখনাে বেঁচে নাই, উপেন্দ্র। না না-থাক্ থাক। ( মন্মথের প্রস্থান। ভূতাে ওর মাথায় চেপে আছে। অব। তবে চট করে দু’ঘটি চোনা নিয়ে এসে তবে কি অবধূত-তুমি সেজো পেত্নী ছাড়াতে দেখি, ওকে নাইয়ে দিই। পারে না ? অব। ও এ পায়ে ছাড়বে না। গাঙ্গ, পারে গিয়ে ( উপেন্ত্রের প্রবেশ ) গী দিতে হয়, তবে ছাড়ে। উপেন্দ্র। (বৈদ্যনাথের প্রতি) কিছু শুনেছ? উপেন্দ্র। এই যে ব’দে, মরি নি ? বৈদ্য। ম’বাে তাে তােদের ভায়ে ভায়ে লাঠালাঠি বৈদ্য। শুনেছি বৈ কি। উপেন্দ্র। কি করি বল দেখি ? দেখবে কে? বৈদ্য। ফেরাতে হলে একেবারে লাগাম কৰূপে উপেন্দ্র। ময়ূথ, দেখ, তাে ছােট বাবু কোথায় ? হী। তিনি অনেকক্ষণ বেরিয়ে গেছেন। ফিবে না; একটু ছুটতে দিতে হবে। উপেন্দ্র। বটে! এই যে সকালে পা ছুঁয়ে মাপ উপেন্দ্র। তাই তাে আমি কিছু বলিনি। বলি চাইলে, ৰ’ললে আর বেরুব না। একটু আধটু বেড়ায়-চেড়ায়-বেড়াক। কিন্তু অব। সেতো পেত্নীতে টেনেছে—সেজো পেত্নীতে- মদ ধরেছে—আর তো রক্ষে নাই ? এরই মধ্যে টেনেছে- হাজার পচিশ টাকা খরচ করে ফেলেছে। বৈদ্য। অবধূত, সেজো পেত্নীতে কি ক'রে পেলে? CARD I Double W-(woman and wine ) অব। ঐ ভূতত চড়ল জুটিয়েছে। এ তো সােজা নয় ? যৈ। ঠিক বলেছ অবধূত। অব। সােলা?-একেবারে গাছে তুলে আছাড় উপেন্দ্র। জুতো চড়ালটা কে? দেবে। ৰৈত। কে হে ঘােল ? বৈদ্য। তা তুমি ছাড়াতে পারবে না—তবে আর কি খ। এই দেখ দেখি মেজো বাবু—এই গাঁজা- তুমি অবধূত।

৮৪ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। ? ও পেত্নী ছাড়ে পেঙ্গী দিয়ে। ভূতটুত হয় বৈদ্য। কি অবধূত-কোন গাছের পেত্নী, সন্ধান -জলবিছুটিতে যায়। করূতে পারাে ? উপেন্দ্র। কি করা যায়? পাঁচশো টাকা করে অব। আমার কর্ম নয়, ও ভূতাে চাড়াল পাবে। মাসােহারা নিচ্ছে, তাতে চলে না, এত কি ও পেত্নীকে বাগাতে পারবে না-ও পেঙ্গীকে খরচ ? বাগাতে পারবে না। ও সেজো পীর তিন বৈদ্য। খরচ করলে খরচ কি? দাও দেখি তোমার পুহরে একটা ভূত থাকে, সেই ভূতটো বেটীকে বিষয়টা, তিন মাসে না ফুকে দিয়ে আবার দেন। ঘোরায়, তাকে যদি দুধ-কলা দে বশ করতে করে জেলে যেতে পারি ? তােমার মত তত পারে, তা হলে বাগলে বাগতে পারে। রাত্রে দু'জনকে ডেকে পােলাও খাওয়া নয়, আর বৈদ্য। এই যে অবধূত সব জানাে দেখছি? ব্রাহ্মণপণ্ডিত নিয়ে দুটো খােসগল্প করে টাকাটা অব। জানি বৈ কি—আর জন্মে যখন রাজপুত্র সিকো দেওয়াও নয়? একটা নামজাদা মেয়ে ছিলুম, ঐ সেজো পেত্নীর ঝাঁকে পড়ি, দেখলুম, মানুষ নীলামে ডেকে নিতে এক রাত্রে দশ তিন প্রহর রাত্রিটিও হয়, সেই ভূতটো এসে সিস্ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। খরচ কবে? দেয়, আর বেটী অমনি ধড়মড়িয়ে উতে “বাবা তা বল-হীরে ঘােষালের নতন দু’একটা দালাল বাবা ব'লে ছুটে যায়। ধরিয়ে দিচ্ছি। বৈদ্য। দেখ, মাথা খারাপ হয়ে এক রকম পাগ,- বৈদ্য। তা তুমি একটা পেত্নী জোগাড় করো। লামাে করে, কিন্তু ঠিক বলে। ও বেটীদের এক অব। একটা কুননা পেত্নী মজবুত–পাই তবে তাে। জন ভালবাসার মানুষ থাকে, সেই বেটাকে যদি এ সেজো পেত্নীর হাত ছাড়াতে কুননা পেত্নী কিছু দিয়ে বশ করূতে পারে, তা হলে হলেও পারে, আর কারাে সাধ্য নাই। হ'তে পারে। বৈদ্য। ও নেসার ঝেকে বলে ঠিক। তা তোমার অব। উহু-গাঙ্গ, পার কতে হবে--গাঙ্গ, পার হাতে ঢের যে পরীটয়ী আছে শুনতে পাই, কতে হবে। তারা কিছু কতে পারে না? বৈদ্য। আজ চলুন। অব। ওরে বাপ, বে-পরীর ঝাঁকে ফেলে, তা হ'লে উপেন্দ্র। যবে কেন-একত্রে খাই গে এসো না। একেবারে উধাও করে নিয়ে যাবে, ইডেন বৈদ্য। না হে, আমি খেয়েছি । গার্ডনে হাওয়া খাওয়াবে। ( প্রস্থান। উপেন্দ্র। দেখ, একবার ভাবি পৃথক করে দিই, উপে। এস অবধূত, তুমি রাজপুত্রের আগের আবার ভাবি, আজ পৃথক করে দেবে, কাল জন্মে কি ছিলে বলবে চল—শুনতে শুনতে যাই। পথের ভিকিরী হবে। অব। না, সে জন্মে ছিলুম-কাল-পেঁচা। যার অৰ। সেজো পেত্নীকে চার খাওয়াতে হয়। না চার চালে গিয়ে বস্তু, তার ভিটে মাটী উঁটি হতাে। খাওয়াতে গেলে ঘাড়ে চাপবে। তবে আলাক - রাজপুত্রের পরের জন্মে সেটা। লতার বিচি আর কনক ধুতরার শেকড়-না উপেন্দ্র। অবধূত, তােমায় একতাড়া তুরিতানন্দ -রুগী না গাঙ্গ পার কলে উপায় নাই। বেটী পাঠিয়েছি পেয়েছ ? গলা পেরুতে পাবে? পায়ে-পােল হয়েছে। অব। হাসের গােনও ছিল। উপে। দেখ—ও কথা বলছে মা নয়, কোথাও | উভয়ের প্রস্থান। বেড়াতে নিয়ে যাবো। বৈদ্য। যাবে কি? চতুর্থ গর্ভাঙ্ক। শব। ও কি যেতে চায়—কুপােয় পুরে নে যেতে কুমুদিনীর বাটীর কক্ষ। উপে। কে সে বেটা, সন্ধান করতে পারুলে না হয় সতীশ, বিহারী, এমথ ও কুমুদিনী। কিছু টাকাকড়ি কলাই। সতীশ। কই, এখনাে যে বাৰু আসেনি।

গৃহলক্ষী। কুমু। বাবু আজ আসবেন না, আমায় সেথায় যাবার আপনি। কুমুখিবি এক গ্লাস হাতে করে কুম হয়েছে। দিলেই তখনই মদ ছাড়া দেখতে পাৰে। সতীশ। যাবে না কি ? কুমু। না না-ছাড়ব মনে করেছে—ছাড়ক। মদ কুমু। রাম! আমি শরতাকে বলে পাঠিয়েছি, সে খেলেই নানা রকম বিষ করে আর ঝগড়া করে। আবে। প্রমথ। মদ ছাড়বে কি? তা হলে কি আর কিছু প্রমথ। অমন কাজ কর না, ধরা পড়ে যাবে। বাগাতে পারবে? তড়ী মামা আছে বলেই সে দিন রাত দুপুরে চাবি ফেলে গেছি ব'লে ক'রে খচ্চ, নইলে কি শুধু সাবানে আর ছো এসেছিল—জান তাে ? চুলে খোঁপা বেঁধে চলতো? কুমু। আমি সব দিক না সামলে কি শরতাকে কুমু। নে নে, কামদেব পুরুষ কি না। চুপ, ক- আনি। সদর দেওয়া থাকে, ওর সাড়া পেলেই বুঝি আসছে। এসেই খানিক গজ গজ, কবে। শরকে ভাড়াটের ঘরে পাঠিয়ে দিই (শৈলেন্ত্রের প্রবেশ) প্রমথ। আমায় কিছু জুয়েলারি কিনিয়ে দাও, সতীশ। আসতে আজ্ঞা হয়, এত late কেন, বিবি- তোমারই তো লাভ। সাহেব ব’চে, হাজরে কাটবে। কুমু। আমি কি চেষ্টা করিনি। আমি তারে বিষ শৈলেন্দ্র। তােমায় গাড়ী পাঠিয়ে দিলুম-গেলে না দেখিয়ে বলেছিলুম, “শরতার নূতন মেয়েমানুষ কেন ? আমায় হীরের ঝাপটা দেখিয়ে গেল। ও বলে, কুমু। তােমার যেমন আক্কেল-কোথায় যাবে? “আমি টাকা হাতে পাচ্ছিনে, দাদার সঙ্গে (বন্ধুগণের প্রতি) শােননা ভাই, ওর বৈঠক গােলমাল যাচ্ছে।” খানায় যাই, আর ওর ভাই-ভাইপাে আমায় প্রমথ। তা তােমার কি? টাকার ভাবনা কি? দৰােয়ান দিয়ে গলাধাক্কা দিন। হাওনােট কাটুক না, দশটা মহাজন মুখিয়ে শৈলেন্দ্র। কি। এত ভাই-ভাইপোর তােয়াক্কা আছে। এই বেলা কিছু হাতিয়ে নাও, বুঝলে? রাখি নে। হাতে থাকতে থাকতে বাগিয়ে নাও। মণি : কীৰ্ত্তনী তার মেয়ে ফুলীকে জোটাবার চেষ্টায় কুমু। না—ভয়ে খুন হন, আর বলেন-তােয়াকা রাখি নে ! এত যদি, একটা জিনিস কিনে দিতে আছে। সে বেটী আড়চে, ঘরে মানুষ আনতে বল্লে -কেন বল “মেজদাদা টাকা আট- চায় না, নইলে এতদিন তোমার বেহাত হয়ে কেছে ?” মুখের সাপট এমন অনেকে করে । যেতো। (হীরু ঘোষাল ও শির উকীলের প্রবেশ) কুমু। তা হােক, আমি আর পারি না। মােজ মােজ ঘ্যা-ঘ্যানানি, ইয়াৰ-বন্ধু এলে বেজার, মুখাে- হীরু। মশায়, বিশ্বাস করেন না, এই শুনুন শিবু মুখি করে থাকো। বিহারী। আরে অত কেন? শরতের কাছে তো শিবু। কি বিবি সাহেব, ভাল আছেন তো ? পেটভাতা, কিছু বাগিয়ে নাও না, আর প্রায় কুমু। যেমন পায়ে রেখেছেন। তত দশটার পর চলে যাচ্ছে, তোমার তাে শিবু। আমাদের পুটিমাছের প্রাণ, আপনাকে কি কোন দিকে আটক নাই। আমরা রাখতে পারি? যে রাবার, সে কুমু। এখন আর দশটা কি ? দুপুর, সাড়ে দুপুর রেখেছে। শরৎ ফিরে ফিরে যায়, আর আমার উপর রাগ হীরু। যা মশায়—কাজের কথা হ। আমি ধরে আলুম, মক্কেল বসিয়ে রেখে চলে বিহারী। তুমি বলতে পার না, মাছটা গেঁথে ছিপ এসেছেন। হাতে দিয়েছ, খেলিয়ে তুলি। শিবু। হা হে, বিষয়টা পেলে, দাদার হাত-তােলার সতীশ। শুনছি নাকি—বাবু মদ ছাড়বেন ? ভেতর রয়ে গেলে? আর যে নিতাই বাবু কি বিহারী। ঢের দেখেছি—যেতে দাও না আপনা ডিড, গােয়ের কছেন শুচি। বাবুর ঠেঙে।

গিরিশ-বাৰী। শৈলে। কিসের ডিড়? হীরু। আপনিই লইয়ায়, আবার কোথায় লইয়ার শি। সে যাই হােক, আমাদের না দেখিয়ে প, খুলতে যাবেন ? করে একটা সই করে ফেলল না। শিবু। তার জন্যে আটকাবে না। তবে দেশ হীরু। মশায়, অত শতর কাজ কি? ওর বিষয় কিছুতে সই করে যেন হাত-পা বাঁধা দিও না, ওকে কেন বার করে দিন না ? সালিসিনামাটা বুঝে বুঝে সই করাে। শৈলে। মেজদাদা তাে বলছেন। শৈলেন্দ্র। সে আপনাকে দেখিয়ে সই কৰে। হীরু। সে বলছেন মুখে, হােট ৰায় সরল প্রাণ, শিবু। বেশ কথা, আমি চল্প, client বসিয়ে রেখে তাই বুঝে গেছেন; অত বড় বিষয়টা নাড়ছেন, এসেছি। চাচেন-ওতে লাভ কত! [ প্রস্থান। শৈলেন্দ্র। না না, উনি বলছেন—আমিই পেছুচ্চি। বিহারী। তােমাদের তাে মামলা-মকদ্দমা চুলে, নানা ভজকট, আমি ম্যানেজ করতে পারবাে এখন আমাদের কাছারী বসুক। । শৈলেন্দ্র। তােমরা ভাই আমােদ কয়ে, আমি শি। ম্যানেজ টা আর কি ? বাধা বিষয়, আপনি ওতে নেই। ( কুমুদিনীর প্রতি) চলো- পারেন, একটা ম্যানেজার রাখুন, retired তােয়েন হও। Sub Judge ঢের আছে। আর এতে পাই, কুমু। না, আমি গলাধাক্কা খেতে যাব না। দু তিন লাখ টাকা ব্যাঙ্কে বসিয়ে রেখেছেন, সতীশ। বাঃ! তুমি তো বেশ লােক হে! আপনি তাে টাকা পুঁতে রাখার সঙ্গে সমান। আপনার থাকবে না, মেয়েমানুষ নিয়ে চল্লে, তবে আমরা কিছু করতে হবে না, সেই টাকা বার করে নিন কাছারী কৰ কাকে নিয়ে ? দেখি, আমি ছত্রিশ পার্সেন্ট সুদে খাটিয়ে দিচ্চি, হীরু। না না—যাও না কুমুদ, ওর কি একটা সেই সুদ থেকেই আপনার আদেক হাত-খরচ মতল আছে। চলে যাবে। কুমু। মতল আর ছাই, মাথায় ভূত চেপেছে, শৈলেন্দ্র। এত সুদ খেতে গেলে সে টাকা আদায় । আমি যাব না। হয় না, মেজদার কাছে দালাল এসেছিল, ঐ শৈলে। যেতেই হবে। জন্যে দেন নাই। কুমু। আমি চল্লম-তুমি বকো। শি। পাটি বুঝে দিতে পারুলে আদায় হয় না? [ কুমুদিনীর প্রস্থান। আদায় হয় না হলে আমি বুঝবে, আপনি শৈলেন্দ্র। কোথা যাও ?- টাকা বার করে নিন। শৈলেন্দ্র। মেজদা ঘরােয়া একটা পাটিসন করতে [ পশ্চাৎ পশ্চাৎ প্রস্থান। চাচ্ছেন, তা আমি রাজী হই ? হী। দেখ, বলে কয়ে এরে পাঠিয়ে দাও, মজা শি। না, ঘরােয়া করে না, তাতে ঠকৰে। আছে। হী। ঠকাবার মতলবেই তাে ঘরােয়া কবুতে সতীশ। ও আজ শরতকে বলে পাঠিয়েছে, ও যাচেন। যাবে না। শৈলেন্দ্র। না না, মেজাদা সে মানুষ নয়। হীরু। চলাে চলো-বুঝিয়ে পড়িয়ে পাঠিয়ে দিই। শিবু। তাই তোমাদের বড় বউকে হাত-ভেলায় আজ গেলে রগড় বাধবে। রেখেছেন। ওর life interestএ যে আয়, তা এমথ। দাড়াও ৰাৰা-একটু টেনে নিই। ততার বড় দাদা মরা ইস্তক হলে একটা বিষয় [ী ঘােষালের স্থান। কেনা চলতাে। ঘরােয়া পাটিসনে রাজী হবেন নাঘরােয়া পাটিসনে রাজী হবেন না। আর, হীরু। নিয়েই এসাে না। নেহাৎ রাজী হন, আপনার পক্ষ থেকে একজন বিহারী। হীরে বেটা ওদের পথে না বসিয়ে ছাড়চে ইরাকে দেখিয়ে নেবেন। না।

नकली সতীশ। আমাদেরই কোন্ পথে বসতে বাকী! আর (মণি কীৰ্ত্তনীর প্রবেশ গােটা দুই ডিক্রীজয়ি হলেই ভদ্রাসনখানা মণি। এই যে বাড়ী ছেড়ে এখানে এসে শোনা গিয়েছে। বাবুর বাঁধা গান গাওয়া হচ্ছে। ব্যাখ-এখনও বিহারী। তুই যে বুঝে চল্লি নি? যে,- যেন ঠ্যাকার করে কাকে বলে সতীশ। আজ বাবা, দেখি, তুমি কত দিন বুঝে আসতে দিছিস্ না, তার পর তােমায় আগুত্র চলে। দেখ, একটা কথা ভাবচি-আমাদের এসে বে করে নিয়ে যাবে নয়! ওঃ, সাবিত্রী ৰা হয়, তা তা হয়েছে; এটা কেন আর এসে জয়েছে কি না, চাকান সতী থাকবেন। আমাদের সঙ্গে মাথা মুড়ােয় ! যা হােক, দশদিন ফুলী। আচ্ছা আচ্ছা, তুই যা- টেকে থালে আমাদের চলবে! মণি। আচ্ছা, তুই অমন করিস্ কেন? তােরে এমথ। আরে নে নে-কানে ঢের মিবে, ঐ বই মল্লিকবাড়ী কীর্তন করতে নিয়ে গিয়েছিলুম। আর সহরে কাপেন নাই। হীরু ঘোষাণ বলে, মল্লিকদের ছেলে তােরে চার সতীশ। সাদা শােটা। হাজার টাকা দিতে চায়, আর দুশাে টাকা করে প্রমথ। রাজা সাদায় আমাদের কি এসে যায়। মালােহারা দিতে চায়। কদিন আমাদের বাড়ীর ঝাপটাটা গচাবে মনে করেছিলুম, তা কাল সামনে জুড়ী করে ঘুরেছে - দেখেছি। দেখা যাবে। [ সকলের প্রান। ফুলী। মা, তুমি এই গঙ্গার তীরে কি বলছ? তুমি কীর্তন গাও, কৃষ্ণনাম করাে, আর আপনার পেটের মেয়েকে এই সব কথা বলছ। তুমি পম গর্ভাব্দ। আসরে গাও যে, ব্যভিচারিণীর উদ্ধার নাই, আর গজাতীর । তুমি গঙ্গাতীরে এই সব কথা বলছ? যাও, (গীত) আমি দোরে দরে গান গেয়ে ভিক্ষা করে খাৰ। হে দীনশরণ, বন্ধন-মােচন, তুমি ও সব কথা যদি বল, তােমার বাড়ীতে তাপে তাপ ৰাৰ ত্ৰিতাপৰায়ণ, থাকব না। নিঠুরতা নয়, হে করুণাময়, মণি। ওলাে, বুঝেছি লাে বুঝেছি। আমাদেরও করুণা তােমায় কলু-হরণ। তোদের বয়স ছিল, মােনা বাবুর পীরিতে তােমারে পাসরি, তবে আমি হরি, পড়েছ, মােন বাবুকে বিয়ে করবে-নয় ? বন্ধ মায়া-ঘোরে মােহে ডুবে মরি, ফুণী। সে যে বড় ভাগ্যিমানী, যে মাথা কেটে ঘাের পাপ-পঙ্কে কেমনে হে তরি, তপিস্তে করেছে, সে তার গলায় মালা দেবে। বিনা পাপহারী পঙ্কজ-চরণ আমার যা জন্ম, আমি তার পা থােয়াতেও ভীষণ পাথার না করি বিচার, পারি না। সুখ-সাধে দুখ-গরে সাঁতার, মণি। আচ্ছা, তাের মল্লিকদের ছেলে পছন্দ না বাসনার ছলে উন্মাদ চীৎকার, হয়, আরও তাে সব ঘুরছে, তাদের ঘরে আয়গা শাসন- শত মন কারণ। দে। আর মােনা বাবুকে আনতে চা, তাও নময় নিয়ত ভ্রমণ, আন—আমি কিছু বলবাে না। অন্ধের নয়ন নহে নিমীলন, ফুণী। মা, তুমি যদি ফের ও সব কথা বলবে, নিৰিড় তিমির তাহে আৰমণ, আমি গঙ্গায় গিয়ে উবাে। কভু নাহি পশে বিবেক-কিরণ, মণি। তবে থাক এই গঙ্গাতীরে,-আমার আর পৰি পায়তমার কপায়, বাড়ী কিনে। আলােফ-ঝলকে আগে ব্যথা পায়, ফুণী। মা, আশীর্বাদ করে, মা গঙ্গা আমায় নি অন্তর নির্মল লােক, 'দেন। পেতে কান উল-বরণ। মণি। হুঁ, , অমন ঢের ঢং আমি জানি-আমায় গিরিশ-গ্রন্থাবলী = আর শেখাতে হবে না। আমার এক কথা, (কুমুদিনীর নৃত্য-গত) যদি আমার মতে চলি, 'তবে বাড়ী ফিরি, রমণীর মুখের হাসি, গরলরাশি সুধা করে। নইলে এই গঙ্গাতীয়েই থাক-আর ভিক্ষে করে সে হাসি প্রেমের ফাঁসি, সাধ করে প্রাণ গলায় পরে। খাস-আমি তোরে বাড়ী ঢুকতে দেব না। যে বলে মন মজে না, আপন মন তো সে বােঝে না, [ প্রস্থান। দেখেনি যে,-তুচ্ছ করে, ফুলী। (গঙ্গার প্রতি) মা, এই পৃথিবীতে কি নারী কে চিনতে পারে? আশ্রয় পাব না, না পাই-তােমার কোলে যে বলে পারি—চিনতে নারে। আশ্রয় দিও। দেখেছে যে নারীর অখি, (জনৈক বৃদ্ধাকে লইয়া মন্মথের প্রবেশ) জানতে কি তার আছে বাকী, মন্মথ। এই যে ফুলী !--দ্যাখ,-এই বুড়ীটা গাড়ী সুধা-গরল একাধারে, চাপা পড়েছে, ডান হাতটা একেবারে গেছে। জেনে শুনে প্রাণ না মানে, একে হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে। তুই একে তবু গরল হৃদে ধরে। নিয়ে ঐ গাছতলাটায় ব’, আমি ততক্ষণ এক খানা গাড়ী নিয়ে আসি। কুমু। মানময়ি ! পায়ে ধরি, মান ভিক্ষা দাও। ( সকলের প্রস্থান। বদন তােলে, একটি চুমো খাই । ( আলিঙ্গন করিতে অগ্রসর হওন ) ষষ্ঠ গর্জাঙ্ক। সরাে। (সরিয়া গিয়া) ও দিদি-ও দিদি-ও সরােজিনীর কক্ষ। দিদি-ছোঁড়া, কাছে আসিসনি। (উচ্চৈঃস্বরে ও দিদি-ও দিদি- সরােজিনী ও শৈলেন্দ্র। শৈলেন্দ্র। চুপ করো না কুমুদ ; তুমি তাে আনতে সরােজিনী। তুমি আবার মদ খেয়ে এসেছ? বলেছ, মেয়েমানুষ দেখতে পাচ্ছ না? শৈলেন্দ্র। একটু খেয়েছি, এস হে নেপথ্যে বিরজা। কি রে-কি রে (পুরুষবেশী কুমুদিনীর প্রবেশ) সরে। তুমি নিয়ে যাও—নিয়ে যাও, ওরা সব দেখ, কেমন আমার ইয়ার এনেছি, এর কাছে আসছে। একটু ইয়ারকি শেখাে, নইলে কি খালি প্যান- ( বিরজা ও তরঙ্গিণীর দ্রুত প্রবেশ ) প্যান্‌ ক'রে কাদলেই আমি বাড়ীতে থাকবে ? আমাদের ইয়ারের প্রাণ, ইয়ারকি চাই- শৈলেন্দ্র। (স্বগত) সব ইয়াকি মাটী কলে। বিরজা। ও মা-এ কে ? কে রে তুই ? ঝি, বুঝলে? সবনা। ও মা-কে গো ? ঝি-মেজো কর্তাকে খবর দে তাে। ঝেটিয়ে শৈলেন্দ্র। চেয়ে দেখ, তােমায় খেয়ে ফেলবে না। তাের মুখ ভেঙ্গে দেবব, তা জানিস? দেখ দেখি—কেমন ফিট্‌ ইয়ার ছােরা--পছন শৈলেন্দ্র। বদিদি, মুখ সামলে কথা কও বলছি। কুমু। দেখি না-দেখি না—ওর হয় ? ঝাটা কত সরে। বাড়ীর ভেতর কাকে নিয়ে এয়েছ গাে? দেখি না। আমি এ বাড়ীতে পা ধুতেও আসি সেধে । পায়ে ধরে কু। কেন প্রাণ, পছু হচ্চে না? তোমার ভাতার এনেছে, তবে বাড়ীতে থাকে না, আমি একটি থাকবো, এসেছি। তােমায় তুলে সমস্ত রাত বুকে করে রাখবে। বিরজা। এ কে। মেয়েমানুষ না কি? সরাে। ও মা, কাছে আসে যে গাে ! শৈলে। মেয়েমানুষ নয় তাে পুরুষমানুষ। . আর (ঘােটা দিয়া এক পার্ধে অবস্থান) আমি যদি আমার ইবন্ধুকে আমার স্ত্রীর কুমু। আর ঘােমটা কেন প্রাণ! বদন তুলে কাছে আলাপ করে দিয়ে জানি, তাতে কার এটো হেসে কথা কও। কি ?

গৃহলনা। বিয়। তছাড়া ছেড়া, এই কু'জড়াে খান বির। ভগবান, এত অদৃষ্টে ছিল। ককে বাড়ীর ভেতর বেটাছেলে সাজিয়ে (উপত্রের প্রবেশ) এনেছ? তাের আসে নাই, একেবারে উ, গেলি? উপে। এ কি হচ্ছে। বু। কি, আমি কুডো খানকী? শৈল, তাের শৈলেন্দ্র। কিছু না, আপনি কেন হেথায় এলেন ? সঙ্গে এই পৰ্য্য, আমায় অপমান করতে বিরজা। উনি খানকী এনেছেন বাড়ীতে, আর এনেছিস? এই চাল-ঝাড়নী মাগীকে দিয়ে আমাদের সৰ ৰার করে দিচ্ছেন। আমার অপমান ক’চ্ছি? উপে। শৈলেন, শেষ এত দুর হল! আমার না ত। ও মা!-আম্পর্ধা দেখ। মানন, যে তােমার মাই দিয়ে মানুষ করেছে, বিরজা। ঝি,মুড়ীকে ঝেটিয়ে বিদেয় করে দে তো। তারে বলছ-বেরােও। তুমি কি সব ভুলেছ ? তােমার বংশ ভুলেছ-মান ভুলেছ-মৰ্যাদা কুমু। এসে না–এসাে, না,-চলল না-দেখি কেমন ঝাটা। ধুনীর মাকে দিয়ে একবার ভুলেছভ্রাতৃস্নেহ ভুলেছ-মাতৃতুল্য বড় ঝটা দেখিয়ে দিচ্ছি। শৈল, বাড়ীতে পুরে ভাজকে ভুলেছ? শৈলেন, তােনাকে বাটে বল্পে আর তেমাের গাল হয় না। আজও এমন অপমান কলি। এ! আমার কপালে এই বাটে নাই যে, তার মার মত বড় ভাজকে বলে ছিল-আমার কপালে এই ছিল ! -বেয়াে- বড় ভাইকে মুখের উপর এমনি (মাথা খুড়িবার ভাণ) শৈলেন্দ্র। (বাধা দিয়া) থাম্ না-থা না- জবাব করে-সাধ্বী স্ত্রীর সঙ্গে কুলটাকে আলাপ করে দিতে আসে! ছিঃ! তোমাকে তাের পায়ে পড়ি-থাম না, আমি অপমান দেখিয়ে দিচ্ছি। (বিরজা ও তরঙ্গিণীর প্রতি) আর কি বলবাে,-আমার মৃত্যু-ইচ্ছা হচ্ছে। আমার ঘর থেকে তােমরা সব বেরােও। উনি শৈলেন্দ্র। (অস্ফুট স্বরে) ফুলী বাড়ীতে আসতে পারে, সে বুঝি খড়দর মা-ঠাণ। পাড়ায় পাড়ায় ঘোরেন, গঙ্গা নাইতে যান, ওর আবার ইজত। [ কুমুদিনী ও তৎপশ্চাৎ শৈলেন্দ্রের প্রস্থান। হয়। ঠাকুরপাে, বড়দিদিকে কি বলছ ? নেপথ্যে কুমুদিনী। খবরদার, আমার গায়ে হাত শৈলেঞ্জ। যাও - যাও,আর ফোড়ন দিয়ে কাজ নাই। দিস নি, আমার বাড়ীমুখখ হবি তাে জুতো মণি কীৰ্ত্তনীর মেয়ে ফুলীকে এনে যে ইয়ারকি খাৰি। হয়, তাতে কিছু হয় না? বাড়ীর ভেতর নেপথ্যে শৈলেন্দ্র। দাড়া না- দাড়া না,-ঘাট এনে যে দশজনের সামনে নাচ হয়, গান হয় মানছি—ঘট মাছি তাতে কিছু হয় না? উপেন্দ্র। বড় বউ, কি সর্বনাশ হল! আর এ ৰিয়জা। হতচ্ছাড়া, যা মুখে আসছে-বলছি বাড়ীতে কেন ? ওই হেথায় থাকুক, আমরা হয় হ'ছড়ি—দূর হ। চল—কোথাও চলে যাই। ভগবান। আমার মৃত্যু কু। আর অতয় কাজ নাই, দুর কে হয়-দেখে নাই। দাদা, আমার এই দেখতে হতে হতে যাচ্ছি,-আমি শেষনা দেখে যাচ্ছি নে। আমি সঁপে দিয়ে গিয়েছিলে? সব গেল-পিতৃপুরু- তত কারাে দাসীবৃত্তি করে বাড়ীতে থাকি যে কীর্তিকলাপ সব লােপ হলাে, ধিক্ আমার নি। গলায় কাপড় বিয়ে সেধে এনেছে, জীবনে। বে এসেছি। বিরজা। ঠাকুরপাে, তুমি ও কি কই? আমি বিয়া। (শৈলেজের প্রতি) এই সব কথাগুলাে স্থির আছি, আর তুমি অমন চল হট ? তুমি দুই দাড়িয়ে নছি মুখে লাখি মাছি নি ? কাকে বলছ, কার উপর অভিমান কচ্ছ? ও শৈলে। খবরা-খবরদার বলছিৰেয়াে, অধঃপাতে গেছে- ও আলাদা হয়ে যা খুশী আমার ঘর থেকে বেরােও-নইলে হাত ধরে তা কর। ও বয়ে গেছে বলে সব ক্রিয়াক রাম করে দেবাে। বন্ধ কৰে? তুমি বাড়ী থেকে চলে যাবে ?

গিৰিলা। দ্বিতীয় অঙ্ক। কেন-কি হয়েছে? ও যা ও যাক— এপাতে সয়ে। কি হবে দিবি? যার কতােগও করুক-তুমি বিজা। আধাৰতজী কি এমনই কনে। ৩০ কাল পাঁচজনকে ডেকে একটা ব্যবস্থা করাে। যাবে—জাবি মি, আমার ঘরে আয়। ৬। আর ব্যবস্থা নয়, আর আমি বন্ধু [উভয়ের স্থান। দা কষে না, সংসার ছাৱেয়ে যাক, কীর্তি কলাপ: লোপ হােক, বিষয় ছারখার হোক, পুজোর টাকা নেড়ে প্যায়দায় খাওয়া আর আনি মুখ দেখতে চাই নে। যা অদৃষ্টে থাকে হবে। বিরল। মেজো বউ, ঘরে নিয়ে যা। উপেন্দ্র। উঃ, এত বড় স্পর্ধা—দুনিয়া দৃকপাত নাই। প্রথম গর্ভা। তর। মিছে রেগে মাথা গরম কচ্ছ কেন, সন্ত উপেরে বহির্বাটা। রাত ঘুম হবে না। শােবে এসো। উপে। যথেষ্ট হলাে। উপে, নিতাই, শৈলেন্দ্র ও নীরদ। [ তরঙ্গিণী ও উপপত্রের প্রস্থান। শৈলেন্দ্র। নিতাই বাবু, আপনি মেজদাকে বলুন, সরে। দিদি, আমার দশা কি হবে? আমার মাপ করুন ; আমি বড় হয়েছি বটে- বিরা। কেন দিদি, তুমি রাজলক্ষ্মী, রাজলক্ষ্মী কিন্তু বুজিতে বড় হইনি। আমি ছেলেবেলায় হয়েই থাকবে। কোন দুষ্ট ছিলুম, তেমনি আছি। ছেলেবেলায়, সলাে। তােমর যে তিন্ন করে দেবে, আমি ওরে দুষ্টমি করে কত গালাগালি দিয়েছি, কোথায় দাড়াব? তখন তো মাপ করেছেন। তবে এখন কেন বিরা। হােট বউ, কাকে তির কবে? যে আমাকে পৃথক করে দিতে চাচ্ছেন? বিষয়ক দিন আমার দেহ-এনে ভিন্ন হবে, সে দিন শৈল তে আমায় শেখান নি, বিষয় পেলে তো আমি আমায় প্রাণ থেকে যাবে কি না, জানি না। রাখতে পারব না। তুই কি ভাবছি, শৈলেনের উপর আমি নিতাই। তা বেশ, বিষয় যদি না তুমি manage নেগেছি। ও নেসার ঝেকে বেরিয়ে যেতে করতে পারে, তােমার মেন্দদার উপর তার বলেছে, সত্যি সত্যি যদি গলাধাক্কা দেয়, তা দিও, আর তােমার মেজদার সঙ্গে সঙ্গে থেকে হলেও কি আমি ওরে পর কতে পারবে? কমে বুঝতে শেখো। তােমরা পৃথক হই না, তুই জানিস্ নি, কি করে ওরে মানুষ করেছি। কার কি বিষয়, সেইটে ঠিক করে নি। এ ভগবতি, কি কলে। শৈলেন আমার, আমি তাল শৈলেন, আমি তােমাদের কয়, আমি সৎ- খাইয়ে দিলে খেতে পারতো না-দাদা বলে পরামর্শ দিচ্ছি তােমরা যেমন এক সংসারে এক আমার আঁচলে মুখ লুকিয়ে এসে কাদতো। অরে আছ, তেমনিই থাকবে। সেই শৈলেন আমার এমন হলাে কেন? শৈলেন্দ্র। বিষয় বা না হলে কি নয়? সরাে। ও দিদি, ওর অপরাধ নাই, আমি না বুঝে উপে। না, তােমার কি আছে না আছে—জেনে আসতে বলেছিলুম। মােজ বাড়ী থেকে নাও। তুমি খরচ করতে গেলে আমি বাধা বেরিয়ে যায়, আমি মনে করেছিলুষ, ওকে দিই; তুমি পাচজনের কথায় হয় সে মনে আনলে যা থাকবে। আমায় মাপ করাে করে, বুঝি আমার কিছু তাতে লাভ আছে। যিনি! আমি এত ৰে আনি নে। পুর শৈলেন্দ্র। না মেজা, আমি কখনো মনে করি কাম মনে করে চেঁচিয়ে উঠেছিলুম। । খরচের টানাটাৰিলেহেৰেল কেমন বিয়া। তােমার অপরাধ কি দিদি, তুমি সতীনী, কাঁদছ সেই রফ করি। গবে খা খাবণ তুমি বেশ কৰে, কেনে না। হয়ে গিয়ে কি বলে ফেলে । . মনে মিই বলছেন? গৃহক। ১১ । আমি বয়ে গেছি, আমার গুর নাও, দাও, এয়া তোমাদের বিষয় বিভাগ করে তা না হলে আমার সর্বনাশ হবে। আমি কিছু নে। আনি নি গুনি নি, আমার হাতে বিষয় পড়লে শৈলেন্দ্র। যদি না করলে না হয়—তা দিন। হদিনে সৰ ঠকিয়ে যেতে। নিতাই। তবে এই মধ্যস্থনা কাগজখানা তুমি উপে। তুমি যাতে আনতে শুনতে পারে, সেই নাও, পড়ে দেখে, এতে কি তােমার আপত্তি এতে নীরেকে আর তােমাকে বিষয় দেখতে আছে, বলাে- শুতে দিয়েছিলুম, তা তুমি বুঝে চলে কই ? শৈলে। আমার আর আপত্তি কি? আমি কি শৈলেন্দ্র। নিতাই না, আপনি বলুন, উনি আমার বুঝি?নি-আমি সহি করে দিচ্ছি। শেখান, ঐ নীরের সঙ্গে আমি পারিনে। ও ( সহি করিয়া দেওন) টিপে টিপে বুড়ো পিতামহর মত কথা কয়, নিতাই। দেখ, আর মত ৰ'লাে না। এতে আমার সন্ধানীর বলে যায়। সকল বি ভাল হবে। নইলে, দেখলুম তাে মীদ। কেন কাকাবাবু, আমি আপনার কখনন -তোমার ভাইপোর সঙ্গে বনে না, তােনার অসমান করি, তবে কেন বাবার কাছে এমন দাদার শরীরের ভাদ্র আছে; আর হাজার হােক নীরাে ওর ছেলে, তােমার একটু বায়- নিতাই। নীরা, তুমি এখান থেকে যাও। দোষ হয়েছে, নীয়াের কথাই হয় তাে ওঁর বেশী নীয়। (উঠিয়া) আমি যাচ্ছি, কাকাবাবু অন্যায় বিশ্বাস হবে-হয় তাে তোমায় কি একটা ব’ বছেন।যেমন নিয়ম বাবা বেঁধে দিয়েছিলেন, বেন, তুমি সরল-প্রকৃতি, পাঁচজনের কথায় এক সেই নিয়মে আমি চলতে চেয়েছি—এই আমার দিন রাগ করে কোন উকীলের হাতে গিয়ে দোষ। বাবার কাছে হিসেব নিয়ে আমায় যেতে পড়বে, আর বিষয়টা ছয়ন হয়ে যাবে। তুমি হতো, উনি তাে যেতেন না। জানাে না, দশ বেটা ঘুমুছে—কিসে তােমাদের শৈলেন্দ্র। নীরাে, বস, আমি তাের নামে লাগাই সর্বনাশ কতে পারে। নি, তুই যদি আমার সঙ্গে ঝগড়া কত্তি, গালা- শৈলেন্দ্র। মেজদাদা, যা করতে হয় কক্ষ, কিন্তু গাল দিতি, তাতে আমার কিছু হতাে না। আমায় পর কবেন না। আমি বলতুম—বাবা, আমার খরচটা না হলে উপে। আমি তােমায় পর কবৰ? তুমি কেন চলবে না, তুই মেজদাদাকে বলে এটা পাশ এমন হলে? কেন এ ছাই খেতে শিখলে? করে দিস। তুই “গাষ্য-অন্যায্যউচিত কেন তুমি ঘরের লক্ষ্মী ছেড়ে অনাচারী হলে? অনুচিত” এই সব বলতিস্তাই তো আমার আমি পর কব!—শৈলেন—শৈলেন—দুই নীরদ। তাইতে বলতেন,-“তাের তো বাপের জানিস্ তুিই আমার কে? আমার স্ত্রীপুত্র এক- বিষয় খরচ কচ্ছি নে” দিকে-সৰ্বৰ একদিকে-তুই একদিকে।তাের মৈত্রে। সেটা কি আমি সত্যি সত্যি বলেছি ? তা সঙ্গে পৃথক হবে-তাের সঙ্গে পৃথক হবে। হলে ভয় ভয় করে, তােরকছে চাইবে কেন? নিতাই। ও কি-ও ফি উপেন-ঠাণ্ডা হও। নীরদ। সত্যি মিথ্যে আমি জানি নে, সে আপনার উপেন্দ্র। শৈলেন—শৈলেন-আমার মাথার ভেতর বুবুন। কেমন ক'ছে, আমি চম-আমার দম আটকে [ প্রান। যাচ্ছে। [ প্রধান। উপেন্দ্র। আমি বুঝছি, তােমাদের দুজনে ব’ৰে [শৈলেজের পশ্চাৎ পশ্চাৎ গমন। না; কিন্তু আমি তাে চিরদিন থানাে না ? (নেপথ্যে উপেন্ত্রের পতনশ) তুমি তোমায় বিষয় বিভাগ করে নাও। নেপথ্যে শৈলে। এনে শীগগির জল আন-শীগ- শৈলে। কি কতে হবে। গির এল গান। নিতাই বাবু শীগগির জায়ন, নিতাই। এই মথুর বাবু, কুবাবু, ভবানী বাৰু মেজ পড়ে গেছে এদের মিলনের উপর তােমরা দুভায়ে তার [ নিতাইয়ে দ্রুত প্রস্থান। ? ;

গিরিশ-বলী। দ্বিতীয় গাঙ্ক। সজল। আর শৈলেনের সি পেল আলেও নেবেন না, হয় সিকি, নয় দুজন। কুমুদিনীয় গৃহ। শিব। (গত) থাকে, তোমার দেখে নিচ্ছি। সতীশ। ভাবছেন কি?-ময়ার বাড়া খাল নাই, হীরু ঘােষাল, সতীশ ও শিবু উকীল। আমি ইনসলভেন্ট নেব। যা—সব বুঝি ফেসে গেল! নিতে ব্যাটা সব মাটী কলে! (কুমুদিনীর প্রবেশ) সতীশ। কি হৰু, গলায় ছুরি দিতে দিলে না? হী। কি–ফিচার এসেছিল কেন ? হী। আরে নাও, ঠাট্টা রাখে। ছ'মাস মেহনত কুমু। কুমু। দেখ দেখি আমার মাথামুড় খুড়তে ইচ্ছা করে গিয়ে এনেছিলুম, নিতে বেটা সৰ তেন্তে কছে চিঠি লিখেছেন,আজ আর আসবেন না। দিলে। সতীশ। তা কঁদবে না কি? চোখে আঙ্গুল দেবাে,, শিবু। কি—কি হয়েছে কি বল না ? শরকে খবর দেবাে। হী। ঘনােয় পাটিসন ইৰো-বেকুবকে এত কুমু। যা-মিছে ভাল লাগে না। আজ তিন দিন ৰােঝলুম যে, নিতের কথায় কান দিস নে। বীরের ঝাপ্টাটা ঘরে রেখেছি, প্রথম বেচায় সতীশ। শিবু বাবুর হাতে পড়, খড় শাণিয়ে তিন দিন দামের জন্য আনাগােনা কচ্চে। বুঝুন রেখেছেন। শিবু ৰা, ভদ্রলােকের কতটা কথার খেলাপ শিবু। কেন-কি খাড়া পালিয়ে রেখেছি। হয়ে। সতীশ। তবে কি ছুরি বাগিয়ে রেখেছেন, আমার সতীশ। তাই তাে। কথার খেলাপ তাে তােমাদের মত জৰাই করূবেন? জা’তে হকার যাে নাই। সত্যভঙ্গ হলাে। শিবু। আমি আছি বলে এখনাে ওয়ারেন্ট ধরে হী। কেন—কেন—বাবু আসবেন না কেন? নাই, সাতখানা ওয়ারেন্ট থামিয়ে রেখেছি। কুমু। তার মেজো ভাইয়ের কি মাথা গরম হয়েছে। সতীশ। বল কি ?-এমন? তােমায় খরচায় তা হয়েছে তাে কার কি রে বাপু।—টাক ওয়ারেন্ট বার করে একত্রে আমায় ধ’বে ক’টা তো পাঠিয়ে দিলে হতো! না কি ? সতীশ। ওঃ! বেজায় অন্যায়-বেলায় অন্যায়। হীরু। আরে নাও-নাও—কাজের কথা কইতে হী। শিবু বাবু, আমি চল্লেম-আমি চল্লেম, দাও। (শিবুর প্রতি) শিবু বাবু, এখন ও দেখি কত দুর হলাে। যদি ফেরাতে পারি,চেষ্টাটা কথায় কান দেবেন না, এখন উপায় কি করি করি। আর তোমার নিতাইএর কি আকেল সূন। বম যে—এখন ওদের ঘরােয়া পাটিসন সে কোন্ না মেজোর তরফ থাকতে? এই যে হতে চলল্লা! আপনি দুপয়সা পেতেন, সেইটে সইছে না, শিবু। ই-ছেলেমানুষ পেয়ে ঠকাবে আর কি! পরের ভাল দেখতে পারে না। সতীশ। তাই তাে শিৰু বাৰু,আৰ তােমার ঘুম হবে শিবু। যে ৰা বুঝবেতার আর কি করবে বল ? কি? তা এক উপায় আছে ঘােষাল। পাটশনটা একলা খেতে চাচ্ছেন, তা খান; সুটটা হলে যা হয়ে যাক, বিষয়টা বাড়াতে শিবু বাবুর হাতে পেতেন, তার সিকিও পাবেন না। ফেলে দিয়ে, আমার মতন বাড়িয়ে দেবেন। হীরু। বেকুৰি। শি। তিনটে মর্টগেজ আদায় করে দিলুম কি না! সতীশ। চামা-চামার-এমন বড় কাৎলা সতীশ। তা দিয়েই বই কি? সে টাকা আদায় পড়েছে পাঁচ জনে না করে খেতে চায় না। করে নিয়ে, তােমার মা কত সাে? এখন হী। আমি চমচলে, ৰা ধৰয় , ধাের করে সে তােত আমায় এনে দিতে হবে? ওখানে দিচ্ছি। শিবু। তােমার ঠেঙে আরোও নিই নে, যা শিবু। এসাে না আমায় গাভীতে।(ভিকে) আউট পটে। ভেবাে না, যখন আগুন ধনেখুইয়েলে t গৃহলী। উৰে। তুমি এই নীয়ে ৰাৰে ৰাগিয়ে রাখে, ফুণী। কি করে নুতন নুতল ফুল তৈরি করে, সে জছে, হলি ফটয়ে দেবে। এই যে শেকে বলেছিলে? [ হীরু ঘােষাল ও শিবু উকীলের খান। মন্মথ। লে আমি একখানা বই দেবাে –পড়ি, সতীশ। তার ভাবনা কিসের? আমি যাচ্ছি, শরৎকে এখন যা। আর শিখতে চান, আমি শনাকে বৰৰ দি গে। অনেক শিখিয়েছি আমি বলে দেব, আর কাছে কু। সে আবার কদিন ঝগড়া করে গিয়েছে। শিখি। বাবু অনেক রাত্ৰি অৰখি বসেছিল—সে এসে ফুণী। আজ যে একখানা নূতন গান বেঁধে নেবে ফিরে গেছে। বলেছিলে ? সতীশ। সে এখন পাঠিয়ে দিচ্ছি। তুমি আমার তুমি আমার মন্মথ। এখন আমি বড় ব্যস্ত আছি। একটা কথা শুনবে? ফুলী। আমি আর একটি কথা বলতে এসেছি। কু। কি? মম্বুথ। সে বলিস্ এখন। সতীশ। শরকে আনাে আর যাই করে, সে ওর { মন্মথের এস্থান। চোখে ধূলো দিয়ে চলবে। কিন্তু কাপ্তেনটা ফুলী। আমি তােমার মনের কথা টের পাই। পাজী পেয়েছ, বেশ বাগিয়ে নিতে পাৰে, পাচ হীরে ঘােষালটা সুতির লােকের সর্বনাশ করে বেটাকে দিয়ে ঘোড়াকে নষ্ট করে না। শিৰে বেড়ায়, এখন তোমাদের সংসার ভাবার জন্যে উকীল আর হীরের সঙ্গে শৈলেনের চটাচটি উঠে পড়ে লেগেছে। তুমি তারে কতে করে দাও। তুমি যা দোহাৱা মেয়ে নিতে পারাে চাও; আমি ওরে এ বাড়ী থেকে বল করে ; পাঁচ জনকে খাইয়ে কি হবে? তা। আমি ছল শিখেছি; ছল শুনে তুমি কু। কি করে চটাচটি ক’ব? এই হীরে রাগ করো না। যােশরতার কথা সব জানে। জমা। আরে বেটী তু আমি ? তেরি ওয়ান্তে রােটি সতীশ। তুমি বলাে না,-এই হীরে, শিবু উকী- রাখাথা, তু য, আয়েগি লে যা না। একঠো শের সঙ্গে তােমায় দোটাতে চায়। পদ গা বেটী। কুমু। ও হীরে সব বলে দেবে। ফুলীর গীত। সতীশ। তুমি এ কথা বল্লে হীরের ছায়া দেখলে, চুমুক চলত রামচন্দ্র বাজাত পায়নিয়া, জুতাে নিয়ে তাড়া কৰে। কিল কিলা, উঠত ধায়, গত ভূমি লটুপটায় কুমু। তুমি যাচ্ছ-চলো, আমার নূতন বেহারাকে খার মায় গােথলেত, দরখ কি রাণীয়। তােমার সঙ্গে পাঠিয়ে দিই; শতার বাড়ীট অঞ্চল মন অ ঝড় বিবিধ ভাত সাে দুলাড় দেখিয়ে দিয়ে; সে ভারি রাগ করে গিয়েছে। তন ধন ৰাড় ভাই হত মৃদু বাণীয়া, জানি একখানা চিঠি লিখে রেখেছি, সে চিঠি, মুক চলত রামচন্দ্র বাজত পানিয়া। খানা দেবে। তােমায়ই চিঠিখানা দিতুম, আমি মেওয়া মিষ্টান হাল আউয়ে সে লে হুলাল লােক পাঠালে আর একটু মান ভাবে। আউর লেহুলাল পান বাঁশি তন্মনিয়া, [ উভয়ের প্রস্থান। তুলসীদাস অতি আনল দেখ, মুখারবিন্দ রঘুবরকে ছৰি সমান রঘুর ছবি বনিয়া, তৃতীয় গর্জা। হক চলত রামচন্দ্ৰ ৰাজত পায়নি। উপেবাবুর বাটীর সম্মুখ। অনা। বহুৎ গঠি পদ, দেল তর হাে যাতা! ফুলী। হ্যা বাবা, তােমার মেয়েটির খবর সত্যি? দেশে আমার উপৰি। জমা। আরে বেটা, কিষণজি দিয়া,কিষণী লিয়- (অধুয়ে মন্মথ ও তৎপশ্চাৎ ফুলীয় এৰেণ) ক্যা করে। সেখ, বেটী, এক একে নেয়া ফুলী। নােনা ৰা- পাশ আয়া কিয়ে; তেরি মূ যে পোকা য। কি রে ফুলী ? মাফিক,দেশকে জীউ মাখা নেতা।

১৪ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। ফুলী। তা তুমি পূলে ক’বার ফুল তুললে না? ফুলী। যাও, দেখতে পাৰে এখন। শা। দনােন লোেক কই যায় নেই, গানমে (ফুলীয় এল। গিয়া, দেউড়ি ছােড়কে কায়েসে যায় ? মা। যেটা ঘােড় দেওয়ানাকা মাফি! বহুত ফুলী। ওই তায়া এলাে বলে, তুমি ফুল তােলে। মিঠি পদ গাহাথি! গে, আমি দাড়িয়ে আছি। এই তাে বাদেয় বাগানে তুলবে। কেউ এলে আমি তােমায় হীরু। মাদারী, সত্যি না কি ? জমা। হা বাবু ডাকবে। হী। তোমার মেয়ে ? এল। আচ্ছা বেট, জিত রও-জিতা ও। জমা। বাবু [ মাদারের নি। হী। বড় চমৎকার দেখতে ? (হী ঘােষালের প্রবেশ) জা। হা বাবু প্রতিমা মাফিক থি। তা হী। কি ফুলী, তোর বরাত খারাপ, আমার কথা মেলা বক্তা কামে কচ্ছিনি। শুনলে এতদিন তে-ভােলায় হী। তােমার বক্ত তো ভালই! আমি আছি, থাকিস, জুড়ী চড়ে হাওয়া খেতিস্। ভয় কি ? ফুলী। কই, তুমি পরখ দেখাও দেখি, একজনের জমা। কেয়া বলতে হে। ৰাৰু ? মানুষ জুটিয়ে দাও দেখি। দেখিতার-কি হীরু। তুমি তো একটি জামাই জোটাতে চাচ্ছ? করে দাও ? জমা। সে তাে ঠিক হয়া থা, যর গিয়া-কেয়া হী। কে-কে-তাের মা ছুন্নী এনেছে না কি? কে-কে ? হীরু। সে তােমার ভাবনা নেই। সে তােমার ভাবনা ফুলী। এই জমাদারের মেয়ে। নেই, আমি তােমার ভাল জামাই ফুটিয়ে দেবে। হী। জমাদারের মেয়ে কি ? তােমার বেটাকে খুব বড় মানুষের কাছে রাখিরে ফুলী। হা গােদেশ থেকে এসেছে। রং যেন দেব, তােমার বেটী খুব সুখে থাকবে। তােমার ফেটে পড়ছে-আমার মতন বয়েস-মাথায় ফখ ঘুচে যাবে, 'তুমি মাসােহারা পাবে। ঠিক আমার মত। তার কি না, কি মুখ, কি তােমার বেটাকে আমায় দাও। চোখ ! আমি তার বঁাদীর যুগ্যিও নই। এই জমা। কেঁও শালে! সেরা বেটীকা পাশ তােক। জমাদানের কাছে এসেছিল। জমাদার বলে, তেজতা যায়। ততার মাকে বলে এর একটা হিল্লে করে দিতে হয়। আজ আনাে-আননা তােমার বেটীকে পারি? আমি বন্ধুমহীরু ঘােষালকে বলে। আনন। হী। দুর! তাের মিছে কথা ! জমা। এই তােমকো ভেজে হুয়া। ঋী। তুমি তাকে জিজ্ঞেস করাে না, মিছে কি (হী ঘােষালের গলা টিপিয়া ধরণ) সত্যি বুঝবে। আমি তারে পাঠিয়ে দিচ্ছি, ফুল হীরু। ওরে বাপ রে-খুন কলে মে-খুন তুলতে গেছে। [ ফুলীর প্রস্থান। হী। নবী বাবুর হিন্দুস্থানী মেয়ে মানুষের উপর (জান করিয়া রােমানদের প্রবেশ) বোক! দেখি যদি হাতে লাগে । কােন। আরে কে কয়ে জমাদারকে ( দূরে ফুলীর সহিত জমাদায়ের প্রবেশ) কয়ে যায়, আগাম বাগা- (হী ঘােষালকে ছাড়াইয়া দেন। ফুলী। আমি আর তোমার কাছে আসবে না। দাড়িয়ে দাড়িয়ে তােমারও গালাগাল দি (নীয়, মন্মথ ও গামা ভূতের প্রকােণ) আমায় গালাগাল দিচ্ছে। সকলে। কি হয়েছে—কি হয়েছে? জমা। কে রে? মা। শালে হাম লউ জেনে নী। কােয়ান, আমাকে নিয়ে যাও, ঠাণ্ডা এসেছ? কেন, বেশ কয়েদি। (হীরু ঘােষালের প্রতি পাজী বেটা, ফের যদি ৰাজ (হীর বেগে বানীয় ভিতর পলায়ন) ঢুৰিসূতিৰে তাড়াবে। দুচো বেটা, বে- ১ম পয়েন। আরে যানে সেও মাদারজীষানে বাড়ী বসে শির উকীলের সঙ্গে পরামর্শ করে, আর যার খাও, তার বুকের উপর বলে দাবি দেও। মাকে লইয়া রােয়ানয়ের প্রস্থান। ওপড়াও! আমি মাসােহারা দিই, তাই সংসার চলে, আর আমার সঙ্গে গাে? [নীরদেয় বাটার ভিতর একান। হীরু। কেন ছােট বাৰু, আমার গে সে খ না, । হােট দা বাবু, ঐ ফুলী বেটী ছিলো আমি তাে আপনাদের হিত বই অবিতে নাই। তাের ঐ ঘেউ ঘেউএর কি ক ? কি করে শৈলে। ফের পাজী, সােনা-মা গালে থাবড়া! জব কতে হয়, কাথ। ছুড়ী খুব বাধায়ে। হীরু। অত রাগ কেন—এত রাগ কেন, আমি ও কি করেছে ? নীরাে বাবুর কাছে এসেছিলুম, তা আমি যাচ্ছি, খামা। ঐ হীরু বুকে দিয়ে মাদারের বেটা আমি যাচ্ছি। আমি ভাল বই মনে নেই। বা ফতে বলেছে। বিনা অপরাধে অপমান ক'চােন, তা করুন। মন্মথ। বটে! এখনি খুন হয়ে যেতাে। ফুলী শৈলেন্দ্র। তবে রে পাজী! এ চিঠিতে কি লিখছে ? কোথায় ভাকু তাে। তুই ঘরের বউ বা’র ফর্তে পারি। [ উভয়ের প্রস্থান। নীর। কি-কি-কিসের চিঠি ? হীরু। বুঝি কুমূহ কি চিঠি লিখেছে; তার আমার উপর রাগ, বুঝি আমার নামে কি লাগিয়েছে। চতুর্থ গর্ভাঙ্ক। শৈলেন্দ্র। কি লাগিয়েছে? শিবু উৰীলের সঙ্গে উপেন্দ্র বাবুর বহিৰ্বাটী। তারে নােটাতে চাও? নীরদ। তাই নেতার চিঠি পড়ে, আপনি, ওকে নীরদ ও হীরু ধােষাল। অপমান ক'ছেন? নীরদ। বটে! মােনা -মােনা শৈলেন্দ্র। নীরে, মুখ সামলা। নীরদ। কিসের মুখ সামলান ? বাড়ীতে বেশ্যা (মন্মথের প্রবেশ) আনবেন, যেখার কথায় বাড়ীতে ভদ্রলােকের মন্মথ। কি বলছ? অপমান করবেন ! যান হীৰু বাবু, আপনি নীরদ। পাজী, তেতুড়ে, তুই হীরু ঘােষাল মশা- আমার ঘরে বন গে। য়ের সঙ্গে লাগিস। হীরু। না-না-আমাকে নিয়ে গণ্ডগােল কেন, হীরু। না না, নীরাে বাবু-যেতে দাও। আমাকে নিয়ে গণ্ডগােল কেন? নীর। দুর করে দেখাে-জুতাে মেয়ে দুর করে শৈলেন্দ্র। নীরে, খৈ, মেজদার মুখ চেয়ে অনেক দেবে! সই করেছি, জুতিয়ে তাের মুখ ছিড়ে দেবাে। (পত্রহকে শৈলেন্দ্রের প্রবেশ) নীর। সে পারেন পাচ বার, আপনি গুলাে। শৈলে। কি কছি নীরে-কি কসি? কিন্তু তাই বলে আপনি একজন ভদ্রলােককে নী। দেখুন দেখি—সে দিন শেমােক শিখিয়ে অপমান করে তাড়াতে পারেন না, আপনার দিলে, শেষাে ক্ষেপা কুকুরে কামড়েছে বলে ঘেউ একলার বাড়ী নয়। ঘেউ কলে, ৰাহ্মণ ছাতাচার ফেলে পালালাে। শৈলে। এর বাড়ী নয়—তাের বাড়ী, আর বাবার অনু শুনে দেখতে আসে, দেখি তুই কি করে হীরকে রাখিস? মােনা, দলকে দিয়ে মার খাওয়ালে। বেটার হাত ধরে বার করে দে। শৈলে। কি, হীরে দেখতে এসেছে? ঘর ভাঙছে নীল। ওঃ! তাই তাে বলি, তেজুড়ে এত গেল! ৯৬ গিরিশ-এয়াবলী। হলে কি করে ? আপনিই সৰ শিখিয়ে শিখিরে এখন আপনার প্রিয় হয়েছি, আপনার পার দেন ? ধূলে নিয়ে চলে যাবে। কিন্তু একবার বুঝে শৈলেন্দ্র। শিখিয়ে দিই—খুব করি। (হীরু দেবেন, মেজো মেসােমশায়ের এই সঙ্কট ঘােষালের এতি) বেরে শালা-নােমান। বামে, ঘােল মশায় মারে থেকে কত হয়ে রােমান নীরদ। দৰােয়ান ডাকবেন না, মােন আমা- নীল। তুমি লেখাপড়া শিখেছ, তােমায় লােকে দেরও মাইনে খায়। হীৰাব, বার বৈঠক বুড়ি বলে, তোমার পরামর্শ নেব বই কি? থানায় গিয়ে বসুন। বলাে-আর কি বলবে? শৈলেন্দ্র। বেরাে বেটা- মন্মথ। নীরাে দাদা, যদি হেতায় থাকতু-বহুম। (হীরু ঘােষালের হত ধরিয়া আকর্ষণ আপনি জুতো মালেও নিয়ন্ত হতুম না। কিন্তু (নীয়দের মাঝে পড়ি। হাত ছাড়াইয়া দেওন) বােৰ হয়, আপনার কোন বিশেষ কাৰ্যে আমি (শৈলেৰে জোধে নীলদকে প্রহার ) বাধা দিচ্ছি, নইলে অত বিরক্ত আমার উপর হ’তেন না। কিন্তু অনেক সয়েছেন, এইটি ভিক্ষা মন্মথ। (মাঝখানে পড়িয়া) হােট বাবু-ছােট চাচ্ছি,-মেসোমশায়কে দেখবার জন্য একজন বাবু, মেসো মশায়ে বড় অসুখ। চাকরেরও তাে দরকার, যে ক’দিন না উনি [ অপ্রতিভ হইয়া শৈলেজের প্রস্থান। আরাম হন, আমি রাত্রে এসে ওঁ কাছে হীরু। নীয়ে বাবু, অপরাধ কি জানেন ? উনি খাবাে। পাঁচ হাজার টাকার হীরের ঝাপটা কিনে দিচ্ছি হীরু। তুমি থাকবে না—তুমি যাবে কোথা? সব লেন, তাতে প্রতিবন্ধক হয়েছি। দি দেখবে শুনবে কে? মন্মথ। কি ঘােষাল মশায়, তা কাৰ্যসিদ্ধি করেছেন! নীল। বটে তত? আসুন ঘােষাল মশার, কথাটা নী। ফি মন্মথ বাবু, দু’ঘ মামুর জন্য কি, শুনি। দাড়িয়ে আছ না কি? না তুমিই হীৰু ঘােষালকে [ উভয়ের প্রধান। বাড়ী থেকে বার করে দেবে ? মন্মথ। মােন বাৰু, একটু ফ্যাসাদে পড়েছ? স্মথ। আজ্ঞে না, আমার এত বড় কি আশা; দুনিয়া আছে, খেতে পাৰে,-ভেবাে না। তবে আমি বড় মাকে প্রণাম করে চলে যাব। এই,-বড় মাকেই বা কি বলি, আর মেসে হী। মন্মথ বাবু, কথাটা বেইমানি কথা হয়। মশনের ব্যামাে দেখেই বা কি করে যাই। বড় আপনি নীরাে বাবুর মাসতুতাে ভাই, নীরো বাবুর মাকে বলা হবে না, তা হলে হীরে ঘােষালের মা আপনার মাসী; বড় বউ ঠাণ তাে বা হবে, আমার জন্য বড় মা আপনি পৃথক আপনার কেউ নন; তবে যদি তার সম্পত্তির হবে। পেটের ছেলে থাকলে এতটা টান হতো লােত থাকে, মোেদ করেন, সে আর কি না-জানি নে। ইস, চোখ, দিনে এ কথা। বলতে হয় মাসীকে বলে চলে যাবে। আতে জানে। কিছু ঠিক হলাে না। আর নেই বা কোথা? বড় ইয়াগ করে একটা কথা বলেছে, তাতে কি অমন কাটান (ফুলীর প্রবেশ) ছিটেন করে জবাব দিতে হয়। ফুণী। মান বাবু, আমায় ডেকেছ? মন্মথ। মশায়, চুপ কল্লেন কেন?-আর একটু মাখ। হাঁ, তুই হীৰু ঘােষালকে দমােয়ান দিয়ে উপদেশ দিন। মার খাইয়েছি। হীরু। না না—তুমি ছেলেউপদেশের কথা ফুলী। হ্যা। বলতে হয় বই কি-উপদেশে বলতে মন্মথ। দেখ, তােরে আমি ভালমানুষ জান, হয় বই কি। তুই তো ভারি বজাত। হীৰু দেশের সঙ্গে মন্মথ। নীলাে, আপনাদের পরে আমি মা লাগতে গেলি কেন?

react ও 'T কোন নাই। । নই , খে শর অগ ফেpapexy-তেজগাখি রে!ি. नगरपति, । তুমি তো लो। समबनि रंगाको भावानर cort diagonosis রই করে। সোমবার বেলা সাহেবের পেটে পেতে, আমি না তুকে গেলে কেন ? জৰে এই মা না; আলমারি মতন থাকি। যে, এখন আর তেড়ে বিষয়ক না ফুণী। জনৰে কোখেকে-তুমি তো আমাদের সে ৰি ঘরে ও নি। আমি সাপের , বি- মল। আর কোন নাই? গাজা উঠেছে—টের পেয়েছি। কিন্তু আমি ডান। No-no-o- কাফাৰৰ না। পারি যদি কেউ কাঙ্গালে • গারের বন। বি তুলে নেবো। মন্মথ। এটা সমিতে কাটুলল, এখন বড় মন্মথ। আ স দড়ি, হােয় সব হারিখেছে। মানহত চা পালে হয়। ফু। 'নাে-তা দেখবে কেমন করে নি। [ এখান। মম। তুই যে বড় মার পায়ে ধরে, আমার সামনে ধ সাক্ষী করে বলেছি যে, কুখ- গাহৰি নি ? পঞ্চম গর্ত। ফুলী। তা তো হযই না। তবে সাপের ভাৰ উপেয়ে অপুর। -ফণা ধনে-ফোস করেনা কামালেই তো বিয়া ও তালিক। মন্মথ। দুই জন বুদ্ধি করি তো আমার কাছে । বিদি, তুমি নৱেকেই দােষাে, আর টি- আসিস নি। বাবুলীনকে মেরে হাড় ভেঙ্গে দিয়েছে। ফুলী। অমন বুদ্ধি বো, তােমার কাজ করেও এই-মামুনের ছেলে বাড়ীতে এসেছে, উনি তাঁর নেবে। যেনেমায় কি চিঠি লিখেছে সেই আগে কাকে খ। এ লেকে মার কাজ কতে হবে জুতো মেয়ে তা থেকে বার করে নেবেন। ‘, দূর- নীয় কোনো মতে নেবাড়ীতে এসে ফুলী। বলেই কি দূর?-তা হব না। ছে, অপমান করে কেন? এই নীরকে [ফুলী এন। এনে চোরের মা! বি। চোখ যায় না, এ এক মুখে । बबई गालिबान পাগল বটে। নেই আম। হাজার হেৰুড়ো, গর কি বলে! ওর কি মন খারাপ ছে? এলি বেণী না ৪ বঙ্গাল বলের খাতির এদিকে lে , চমৎকার শেখে। বলেন-ও কােন মেয়ে কই, কিন্তু । তুমিই এক খ গুনে লাগান ও নি, ছেলেবেলা থেকে পেটে, ন, যা আল-ই তো সৰ গৰি খে।

৯৮ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। ও নীরের ভেতুড়ে বিরজা। ঐ ভাণাদিকচ্ছে? ফটা যখন (সরােজিনীয় প্রবেশ তুঙ্গে, তখন বনি-এই লীরে আজ দিন ধরে শয়ে। ও দিদি-তােমার পায়ে পড়ি গাে-তােমা- ঠেসিয়ে ঠেসিয়ে কথা বলছে, আজ তত পুৰ দেয় পায়ে পড়ি গো! -“তেড়ে টেকুড়ে যাচ্ছেতাই বলে গলাধাক্ষা বিরজা। নে নে স'। (তরঙ্গিণীর প্রতি) পৃথক দিয়ে বিয়ে করতে চায়। হতে চাও, পৃথক হও; হাঁড়ি আলাদা হয়, ভয়ে তর। তাই এসে তােমায় লাগিয়েছে বুঝি? ভেয়ে মুগ্ধ দেখাদেখি না থাকে, সে তােমরা ঝাড়ই এক আলাদা। বােৰ গে,-নামায় দেখিও না, আমার টানাটানি বিরজা। ও ঝাড় কি, তা তুমিই জানে, কিন্তু কি?-সংসারটা বজায় থাকতাে এই, না থাকে মােনা লাগার ছেলে নয়। –আমার হাত কি?-ব’লুতে এসেছ-তােমার তর। নীরে বলেছে,-ও বাড়ীতে থাকলে আমি নীরেকে মেরে হাড় ভেঙ্গে দিয়েছে,-রাগের বাড়ীতে থাকবে না। মাথায় একটা গায়ে হাত তুলেছে, সেইটে, শুনে বিরজা। সে নীরে বুঝুক! ওকে যে ভেতুড়ে বা আর নীরে যে চোপা করেছে, নীরে অকি বেন-তাড়াবেন, সে আমি থাকতে হবে না। পেড়ে কথা কয়েছে, যে হারে ঘােষাল তোমার, বড়কর্তা ওকে এনেছিল, ও বড়কর্তার খায় ঘয়ে আসে নি, দরােয়ান একা তােমার মাইনে বড়কর্তার বাড়ীতে থাকে। খায় না,-এ সব দেইজিগিরি কথা শোেনানি, ন। এ সব দাবােনি, ছেলেকে একটা কথা ধমকে তর। ওঃ! তােমার যে মার চেয়ে দরল। আমার বলতে পারােনি, মোনাকে তাড়াতে এসেছ বােপাে, আমি এনেছিলুম, আমি যদি এখন না আর বখয়া করতে এসেছ ? তা ভাগ-বরা রাখি, তা বড়কর্তারই কি, আর তােমারই কি? করতে চাও-ভাগ-খরা করো, আমারও ভাগ- বিরজা। বােপাে তােমার বটে, কিন্তু ছেলেবেলা বখরা করে দিয়ে। তুমি ক'দিন ধরে খালি থেকে তুমি ওকে নখে মারে। নীয়ে পড়া ছােট বাবুর দোষই দেখাচ্চ। জোয়ানকি বয়সে মদ পাতাে না, স্কুল পালাতো, ও সব বলতে খায়, একটা কাজ করে ফেলেছে; যদি তােমারই বলে সেই ইস্তক তােমাদের রাগ। এই যে ছেলে কতো, তা হলে সইতো, -এ দেওর, মেজঠাকুরপাের অসুখে প্রাণমন উৎসর্গ করে তাই তোমার সইছে না। সমস্ত রাত জাগলে, সেটা হলো না--আর ও তর। তুমি বড় কেঁটিয়ে বলল, কেন গা - হলাে ঘরভাঙ্গা ! কিসের এত কাটুকাটানি? ছােটবাবু না হলে তর। তুমি বড় কেঁটিয়ে শােনা। সংসার না চলে, না চলুক, তোমার মেজ দেওর বিরজা। আমি কেঁটিয়ে শােনাই না-হক কথা বলি। বলে আমাদের মা-পােকে বার করে দাও, তর। হক কথা নয়-এক-চখে কথা কও। ওর আর তােমার মােনা আঁটকুড়ে ঘরের পাে হয়ে টিপ নিতে ছােটবাবু নীরেকে মেরে হাড় ভেঙ্গে থাকুক। দিলে, আর মােন হল ওর সে। সরাে। ও দিদি !-ও দিদি, তােমাদের পায়ে পড়ি। বিয়া। এক-চখাে কথা কয়ে থাকি-কয়েছি, বিরজা। নে-থাম চুড়ি! ( তরঙ্গিণীর প্রতি) আর কথা বাড়ানে। কি বল্লি কি বল্লি -মায়ে-পেয়ে চলে যাবে ? হয়। কথা বাড়াবাড়ি কি? ছোটবাবু যে মা, তর। যাব না তো কি ? রাত দিন কে সইবে? আর লামাে করবেন,...ধরে মারবেন, আর মােনা তােমারই এত ঠেসিয়ে ঠেসিয়ে কথা কিসের? তারে মােজ মােজ টোয়াবে, আর তুমি মােনাকে এত কথায় আমি এলো রাখিনে। আগলে পড়বে, এ কেন সইব গা? বিরজা। মেজো বউ, বুঝলুম, আর মুখের,ঝগড়ার বিয়া। কি—য়েছে কি, কথাটা কি শুনি। কথা নয়; যা ভালাে তো ভাদুক। তােমার ছােটকালে পৃথক হবে? ত হও—মােনার যখন আমার সঙ্গেই বনচে না, আমার আর কথা নিয়ে থেকো না। বনানর দরকার নাই। ওঁদের জােরে তেৱে নই। গৃহল। একত্রে থাকুন আর ভিন্ন হােন, আমায় ভিন্ন ছোঁড়া-চীনেই সংসারে জমশ ইি করে দাও। জানে না। । বলি সে ভিন্ন কর কর্তা তাে আর আমি (মঅধের প্রবে) হারে মােনা, নীরে না কি তােকে তেতুড়ে বলে বিরজা। তুমি বই আর কে ? ওদের দু’ভেবের বাড়ী থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছিল ? তো নিতাই উকীল এসে মিটমাট করে দিচ্ছিল, মথ। কে বলে বড় মা? নীরােদা রাগলে তােমার তর সঙ্গে না। আমি বকাবকি কতে অমন কত কি বলে, আমিও কত কি বলি। চাইনে, যা ভাল হয় ভাই-তােমার ভাতারকে বড়মা, আমার এই টাকা ক’টা রাখাে। (নােট ডেকে করাে। প্রদান ) তর। এর আর ভাল মন্দ কিসের? ভাই ভাই বিজা। হারে, তুই টাকা কোথা পাস? জলপানি ঠাই ঠাই-আছেই। ছােটবাবু মারূবেন, থেকে জমা না কি ? মাতলামাে করবেন, ভদ্রলােক বাড়ী এলে মন্মথ। নানা তারে অপমান করে তাড়াবেন, আমি বলি গে বিরজা। এ যে দু’হাজার টাকার দুখানা নােট যে বড়গিন্নীর হুকুম, এ সব স’য়ে থাকতে দেখছি! কোথায় পেলি ? পারে – থাকবে, নইলে যে যার পথ দেখ। মন্মথ। কেন, বড় মা—আমি যে ফুলের বাগিচা ও মা, এত কিসের গা ? করেছি, ফুল বেচি, সাহেবের খুব পছন্দ করে, বিরজা। যা ক’রূতে হয় করিস, একদিনে পালাবে খুব দাম দিয়ে নেয়। , সবে ব্যামাে থেকে সেরে উঠেছে, একটা বিরজা। তা এ টাকা আমার কাছে রাখছিস কেন? কিচিকিচি করে ব্যামােটা বাড়ানি-ভিন্ন হতে ব্যাঙ্কে জমা দে না, সুদ পাবি। চাস-আমি বলে ভিন্ন করে দেবে, দু’দিন মন্মথ। সে এখন ব্যাঙ্কে কোথায় রাখব ; আমার সবুর ক। চাকরী হয়েছে, বড় মা ! তর। উঃ, কত দরদ। বিরজা। কোথা? [ প্রস্থান। মন্মথ। বিদেশে-আমি যাব। বিরজা। বিদেশে-কোথা যাবি? বুঝেছি-বুঝেছি সরো। হ্যা দিদি তোমরা ভিন্ন হবে ? নীরের কথায় অভিমান করেছি বুঝি? বিরজা। না না -তুই এ সব কথা কিছু ছােট- মন্মথ। না—বড় মা ! বাবুকে বলিনি। বিরজা। দেখ, মােনা-আমার সঙ্গে মিছে কথা কস সমাে। আমি ব’লবাে-আমি তােমাদেব দাসী ; নি। খবরদার, যেতে পারি নি, তুই কেন অভি- দিদি! আমি তােমাদের পায়ে পায়ে থাকবাে। মান করেছিস? তুই কি ওদের খাস, না ওদের দিদি, ছােটবাবু সংসারের কিছু জানে না, আমি ও বাড়ীতে থাকি? আমি তাের মা। তুই কিছু জানিনি; তুমি নীলকে বােঝাও, আমা- আমার কাছে থাকি। আর রাগ করে যে দের যেন ভিন্ন করে না দেয়। আমি ছােটবাবুর বেরিয়ে যেতে চাচ্ছি, আমি বুড়ো মানুষ, যদি পায়ে ধরে বলবে, নীরােকে কখনও আর কিছু ব্যায়ােজ্জমা হয়, কে দেখবে? ওদের তাে বলবে না। সৰ ভাগৰখরা হতে চল্লো। আমায় দেখবে বিরজা। না—না,-যা—আমি নীরােকে বলবাে, শুনবে কে? নে-নেতুই রাগ করিস নি। তুই কাদিসনি। ময়ুথ। বড় মা, তুমি যে আমার মা, তা কি আমি সঙ্গে। (পদধুলি গ্রহণ) আজ জানি। আমার মা বেঁচে থাকলে এত বিরজা। জন্ম-এয়ে হও, ব্যাটা কোলে কয়ে রাঙ্গ, নেহ করতেন কি না জানিনে। যেথায় থাকি, রাণী হয়ে ঘৰ-ঘরকন্না করাে। এক দও কি তোমার খোঁজ না নিয়ে থাকবে। [ সােজিনীয় প্রস্থান। আমি? আমার মনে হয়, মা ভগবতীর মূর্তি তােমার মূর্তি। তাে এম ফয়ে বে কাজে ভৈৰা। কই, ছােট বাবু তাে দেন নাই। বাই, সেই কাজ আমায় পূর্ণ। । হােট বাৰুকু দিলে বৈ কি। বিলি? বিয়া। নে নে ছোড়া, পর পর কথা এই বেটা কুনি খেয়ে যাবে। মা, তোর কিসের কিমান ? তৈম। অাহােট বাবু দিয়েছে। মন্মথ। বড় মা, এদের সংসার ভাৰে। তুমি হী। দিলে না? তাের সাক্ষাতে এই যে এই আমায় রেখে কেন লােকের কাছে সে হবে? কুম দিয়ে গেল। তােমার নামে যদি কোন কথা শুতে হয় , ভৈরৱা। ছােট বাবু হুকুম দিয়েছে ঠিক বলছ। আমার বুকে বাঘাত হয়ে। তুমি আমায় হক। হােট বাবুর যে লাউ খেতে ইচ্ছা হয়েছে রে? মানা করো না। তুমি আজই বুঝতে পাৰে, তৈর। লাও ভৰে, তােমার মাচা ওজড় করি। কতদুর কি হয়েছে। তুমি পা’য় ধূলা দাও, তুমি [ উভয়ের স্থান। ভেবাে না, আমি যেখানে থাৰে, গোল পা’র ধুলােতে আমি রাজেশ হব। (প-খুলি গ্ৰহণ) সম গর্তা। বিরজা। আচ্ছা, তুই যা, যাবি। আজ কিছু উপেত্রের অন্তঃপুর। করি নে, আমি কাল যা হয় তােক বলবাে। উপে, তরঙ্গিণী ও নীরদ । ( মন্মথ গমনােত) দেখিস, আমার দিব্যি, কোথাও যাসনি। উপেন্দ্র। তােমাদের মন্তব্যটা কি?-বাড়ী ছেড়ে [ উভয়ের উভয় দিকে প্রস্থান। পালাবাে-কি ক্ষেপে গিয়ে ধেই ধেই করে নাচবাে-না ভাইকে খুন করে ফাসী যাব? কিহলে ভাল হয় বল—তাই কছি। ষষ্ঠ গাৰু। তর। তুমি ভাইকেই বা খুন কৰে কেন—আংটো হয়ে নাচবেই বা কেন? আমাদের মায়ে- পােয়ের একটা ব্যবস্থা করে দাও। ভাল কথা হী ঘােষাল ও ভৈর। নেই, মন কথা নেই—দিদি মুখ-ঝাটা দেবেন, হী। ভৈরষা, তুই এক কাজ কতে পারি? অতি নিয়ে কথা কবেন যে, ভাতারকে তৈর। খুৰ পাবো, আমি এখন খু সেয়ানা নিয়ে ভিন্ন হবি। তােমার ভাই আসনে হয়েছি। হকে কে মাতে, তিনি মদ খাবেন, নাচ হী। আমার মাচায় সৰ লাউ পাড়তে পারি? বেন, খাী আনে, আমার এই বউটিকে ভৈরব। খুৰ পাৰে, আমার হাত খুৰ সাফাই আজ বাদে কাল আনবাে মনে কচ্ছি। এর গছে। ভেতর আমরা থাকতে পারবে না, এ তুমি হী। আমায় মাচাটা ভেঙ্গে দিতে পারি? ভালই বল, আর যাই বল। ভৈরব। খুৰ পাৰে, তিন পাড়ায় ভাবে। উপেত্র। নীয়ে বাবু, তােমারও ওকালতী কি য। পারবি বলছি-মেজোৰাৰু তােরে যে তােমার গণিী কহেন ? নীরদ। কেন মশায়, আমি তো কিছুলি নাই। তৈর। তাই তাে, তার একটা হশি, করে। মার খেয়েছি, লেগেছে, মার কাছে এসে বলেছি, মঙ্গ। দুই পাৰি নি। এই পরখ আমার এতে আপনি যা বলে। তৈর। খুৰ পাৰে, তুমি বল কে। আপনাকে দেখতে এসেছেন, তাকে উনি । তোকে যখন মেজোৰু কােচ একটা বের কথায় অপমান করেন, নো- কে ভালে?” তুই বলবি–“ছােট বাবু খানকে বিয়ে বাড়ী থেকে বার করে দেবেন, দিয়ে। আমি একা থাকলেডি, এই অপরাধে মা।।

গৃহলক্ষী। ফোন অপরাধ ক্ষম, উনি শাসন কতেন, শৈলেন। মা তেলেছে, খুব কমেছে; ও খ তাতে মাখা ভূলে কথা কই, উনি মারতেন পায়ে ঝং সে। বীজ গােল ভৈরবকে তে করতে এৰি মইতুল। এ চাক আপনি সঙ্গে করে নে গিয়ে মাচা দিয়েছে। নফলের তে বিনা দােষে অপমান করবেন? তম। দিবি, এত গােণাে না কি যে উপে। এ পানি শুনেছি, এ অর্জি নেছি, এখন বলেছে। আমায় কি করতে হবে, সেইটে বলে। এই উথে। কেন, খাবে কেন? সব মীমাংলা বই তে আমি মরণাপন্ন, তােমাদের মা নাই, কচ্ছি। শুনছি নাকি তুমিও তােমার সব বুঝে নই, তা হল, কি করতে হৰে ৰল। পড়ে নিতে চাও? ত। তা বেশ তো, তুমি সায়ো না-আমি না হয় বিরজা। তুমি ঠাণ্ডা হও; সে কথার পিঠে কথা ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ী যাই, এমন কি এটা হয়ে গেছে। লােক যায় না। এখানে থেকে নােচকচি, উপেন্দ্র। কেন, কথার পিঠ কথা কেন? যখন তুমিও বেজার হও। মিটছে, তখন সব দিক বিটে যা। উপে। হ্যা, আমায় শান্তিতে রেখে চলে যাবে- শৈলেন্দ্র। নীরদ, তােমার কাছে কি অপরাধে সােলা মীমাংসা করেছ, তার পর বাড়ী ঘর-দোর অপরাধ আমি যে, এই অপবাদটা রটা। বখরা হয়ে, মাঝে পাচিল উঠলে আসবে। কত বড় কথাটা বল দেখি? তর। ভাগ-বৰা , বাড়ীর ভেতর পাচিল ওঠে, নীরদ। বড় ছােট কথা তো আমি জানি নি, যা তার সঙ্গে আমার সুবাদ কি? আমি বারােমাস সত্যি, তা বলেছি। বিশদিন এই খোটা খেয়ে থাকবে, তা পাৰুৰৰ শৈলেন্দ্র। তুই ভারি পাজী। আমার কি কৰি না। মনে করেছিল? পৃথক করে দিবিদ। নীরদ। আপনার অসুখ বলে সব কথা বলি নাই। ফলীকান্দা কচ্ছিস কেন? উপেন্দ্র। খুব অনুগ্রহ, সকল কথা খুলেই বল। বিরজা। থাম না শৈলেন। নীয়। ছােটবাবু ভৈরকে হুকুম দিয়ে ঘােষাল শৈলেন্দ্র। থাৰে কি গাে? শুনছিহী ঘােলকে মশায়ের লাউ-মাচা ভেঙ্গে লাউ পেড়ে নিয়ে বলে দিয়েছে, পুলিশে নালিশ কতে। হেন, ব্রাহ্মণ কাদতে কাদতে এসেছিল; আমি উপেজ। হ্যা নীয় ? আর কি বলব! নীর। উনি এখন কত রকম কেন? উ উপেন্দ্র। কেন, সেপাসের নালিস ক’তে বলল আমার নামে কি না বলছেন! । শৈলেন্দ্র। কি কি, তাের নামে কি কি বলেছিল। নীর। আপনি আমার উপরেই রাগ ক’চ্ছেন, তা নীরদ। আর কি বলবেন?. ৰাৰ কৰে যবে, কি বাে। আমি টছি, আমি কার সঙ্গে ইসারা করি। (শৈলেৰে এবেশ) আর কি বলে সই হন-নে। আমি সত্য পথ ধরে আছি, আমি তাতে তা করি না। শৈলেন্দ্র। মেজা, দেখুন, আপনার ব্যানাে বলে শৈলেন্দ্র। তাের আগাগোড়া মিছে। কোন কথা আমি আপনাকে জানাই নাই। নীর। আপনার মত অত শিক্ষা আমার নাই। নীয়ে রটাচ্ছে, আমি ভৈৰাকে হুকুম দিয়ে হীরু শৈলে। দেখচে, জুতাে খাবি। মােশালের লাউমাচা গজিয়েছি; ভৈরব। তার নীয়। দেখুন-আমার অপরাধ কি দেখুন। বড়ি নষ্ট করেছে, এসব কি বলুন? উপেন্দ্র। দুজনের কাছেই যােড় হাত কৰি বির উপে। আমি আর কি বলবাে বল? আমার হও। সৰ বুঝেছি, যাতে তােমাদের মনে। বলার আর কিছু নাই। পূর্ণ হচ্ছি। (বিকার এনে ) শৈলে। কেন মেলা-আমায় কি অপল। বি। খাৰু-খাৰু, আজ ও সৰ কথা থাক না উপে। অপরাধ করে না-অপআখ আমায়!

হ'লাে ! গিরিশ-গ্রন্থাবলী। এতদিন বুঝতে পারি নাই, তাই টানাটানি উড়িয়ে পুড়িয়ে দে, পথে পৰেৰ ভিক্ষে করুক। করেছি; তা দেখ বাবা নীরদ, শৈলেনের সঙ্গে দাদা-দাদা-শৈলেনকে দুর করে দাও, আমি প্রাণ ধরে পৃথক হতে পাবো না, তুমিও আমার নীয়েকে সৰ দিয়ে যাও। শৈলেন এক ছেলে,-শ্রীপুত্রও ত্যাগ করতে পারবাে না। আমার কে? ভাই বই তাে ন !–ভাই ভাই এতদিন শান্তিতে চলে এসেছে-তােমাদের ভাল ঠাঁই ঠাই আছে। নীরে আমার আপনার, লাগে নাই ; মারামারি, দাঙ্গা, ফৌল্পী, স্ত্রীপুত্র আপনার ! হাইকোর্ট ক’তে চাও, তার উপায় করে দিচ্ছি, বিরজা। তােরা দেখছিস কি?-শীগগির ডাক্তার প্রাণ ভরে করো। দু একদিন সবুর করো, ডাতে । আমার যা আছে, তা তােমার নামে লিখে দিচ্ছি। উপেন্দ্র। না না—ডাক্তার কেন—ডাকায় কেন? তার পর তােমরা খুড়ো-ভাইপােয় ভাগৰখরা উকীল ডাকো-আমি নিজেই যাচ্ছি। বাড়ীর করে নাও, আমায় জুটি দাও। মাঝখানে পাচিল তােল, পূজোর দালান বিরজা। কেন, তুমি অত ব্যস্ত হচ্ছ কেন? নিতাই ভাঙ্গ-ভাল-ভাঙ্গ-পাচ্ছি নি! (মূচ্ছা) ততা বলে গেল, ভাগ-বখরা করে দিচ্ছে। ( মন্মথের প্রবেশ ) তােমার যে অসুখ বাড়বে, স্থির হও না। মন্মথ। বড় মা, তুমি দাঁড়িয়ে রয়েছ, এইটে উপেন্দ্র। আর আমায় কারো দরদ ক’তে হবে না। দরদের আর দরকার নাই। আমার এ উপেন্দ্র। (উঠিয়া) বেশ হয়েছে- খুর হয়েছে- যন্ত্রণা আর সহ হবে না। বউদিদি, তােমায়ও তাের কি তোর কি ! বলছি, বিষয় রইলাে, আমি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি মন্মথ। মাসীমা, ব্ৰণ্ডীর বােতল কোপা ? ই- নে; তােমার আপনার কড়াগা বুঝে নাও। নাড়ী যে ভারি ক্ষীণ। নীরাে দাদা-শীগগির বিরজা। সে আমার যা হয় কবে; যা যা ডাক্তারকে খবর দিন-শীগগির ডাক্তারকে তোরা যা। খবর দিন- উপে। না--কেউ যেও না। শােনাে নীরদ, শৈলেন্দ্র। আমি যাচ্ছি-আমি যাচ্ছি- ডাক্তারের হাওয়া বদলাতে যেতে বলছে। বিষয় [ প্রস্থান। আমার স্বকৃত রােজগারের নয়, বিষয় পৈতৃক, মন্মথ। মেশাে মশায়,-মেশাে মশায়—একটু তুমি ওয়ারিসান, তােমায় লেখাপড়া করে দিয়ে জল খান। যাচ্ছি। তুমি যা বােঝে,তাই করে। আমার উপেত্র। না না -জল খাবো না-জল খাবাে না খাবার মত আমি রাখছি, আর সব তােমায় এ বাড়ীতে জলখাওয়া আমার হয়েছে। দিচ্ছি। বড়বউদিদি, তােমারও কেয়াল ক’য়ে নীরদ। মন্মথ-মম্মথ!—মদ দিও না, মদ দিও নাও; না করে না, তােমায় দিব্যি আছে। --অারাে গরম হবে। বিরজা। ছি! দিব্যি দিও না। মন্মথ। না, নীয়াে দাদা, আমি কি কচ্ছি, আমি উপে। একশােবার দিব্যি দেবে; নও, সৰ জানি, মেডিকেল কলেজ আমায় সে অধিকার বুঝে সুজে নিয়ে আমায় ছুটি নাও। গাদা ছুটি নিয়ে গেছে, আমিও ছুটি নিয়ে বাবাে। নাও , বুঝে মুঝে নাও, এখনি নাও, দেরী (ডাগর ও শৈলেন্ত্রের প্রবেশ) করাে না। না নাও, সকলকে খুন কমবে। বিরজা। ডাক্তার বাবু-ডাক্তার বাবু-সর্বনাশ আমায় পাগল পেয়েছ—আমায় নাচাবে মনে হয়েছে। বুঝি ক'জনে মিলে মানুষটাকে করেছ? সে াে নাই, আমি শক্ত আছি। আমরা আছড়ে মালুম। আহ! সংসার নিয়ে বিয়া। দেশ-দেখ কি সর্বনাশ হয় দেখ! পাগল; আমরা ওরে চিরদিন জালালু, শেষে উপেন্দ্র। সর্বনাশ হােক—সর্বনাশ হক, সকলের প্রাণ দিতে বলেছি। মনােৰা পূর্ণ হয়। দা আমায় বলে- ভাজার। ঠাণ্ডা হােন, ঠাণ্ডা হােন-দেখতে দিন। দিয়েছে।

গুহলক্ষী। শৈলেন্দ্র। নীরে, বাবা-গেম যতে ধছি, তুমি যেন আমাদের মায়ায় পড়ে, আমার হাত সব ভুলে যা, দাদা বেঁচে উঠুক, তুই বংশের এক গোলার উপর থেকে সংসারে বাদীর মতন ছেলে, দুই সৰ্বৰ নি, আমার হাততােলার খাইছে। কিন্তু আমি তাে মনেজানে আনি, উপর রাখিস। বড় বৌদিদি, কি কযুলুম তােমার বিষয় তােমায়, আমরা তার অধিকারী কি কলুম-কেন ঝগ ক'রেছিলুম। নই। মন্মথ। আমি 30 drops ব্ৰাণ্ডী দিয়েছি। বিয়া। তােমায় ঐ এক আজগুবি ভাবনা, আমার ডাক্তার। আর এক ডােঙ্গ দাও, you have sa বিষয়ের আর অধিকারী কে? আর কার ved the patient's liſe. Terrible nervo সংসারে বাদীগিরি ক’চ্ছি? আমি হাতে তুলে us weakness. (4+6 stimulant t'ia ate, দিলে তবে তােমরা খেতে পাও। collapse না হয়ে পড়ে। সকলে ঘর থেকে উপেন্দ্র। এই ৰােৰাে; আমায় নিশ্চিন্ত হতে স'রে যান। এ ঘরে আপনাদের কারাে অধি বলছে ;- তুমি বিধবা মানুষ, তােমার এত কার নাই। মন্মথ থাকবে, আর আমি যে টানাটানি কেন? তুমি এ সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে nurse পাঠিয়ে দিচ্ছি, সে থাকবে। তীর্থধর্ম কেন কর না ? শৈলেন্দ্র। হ্যা। ডাক্তার বাবু, ভয় নাই তাে? বিরজা। তা চলে, কোথা বেড়াতে যাবে, আমি ভাজার। ভয় নাই আর কেন? রোগের চেয়ে তােমায় রেখে আসি। তােমাদের ভয়! এই অবস্থায় খেয়ােখেইয়ি উপে। আমায় রেখে আসবে, আমার মন রেখে করে যেন মানুষটাকে না মায়া, একটু ঠাণ্ডায় আসতে পারবে না। তুমি ঠিক অবস্থা বুঝতে থাকতে দাও। পাচ্ছ না, তাই আমাকে বেড়াতে যেতে বলছ। বিরজা। বাবা, বল বল - প্রাণটা পাবে তো? আমি দেখছি, নীরের বুদ্ধি ভাল নয়। শৈলেনে ডাক্তার। উপস্থিত তে বিশেষ ভয়ের কারণ দেখছি ওতে নিয়ে থাকতে পাবে না। ও আইন নে। আর গােলযোগ কিছু না হয়। শিখেছে, খালি আইন তােলে। আর হীরু উপেন্দ্র। ভয় নাই—ভয় নাই -ম’রবে না,-ম'লে ঘােষালকে যদি সত্যি শৈলেনের নামে নালিশ এত দেখবে কে? ভয় নাই-ভয় নাই ক’তে বলে থাকে, এ কি তুমি সহজ মনে ভাক্তার। ঘুমের ওষুধটো দিয়ে হে! বিরজা। তুমি শৈলেনের জন্যে ভেবো না। কুচুটেপনা জানে না; বয়েস-দোষে খারাপ হয়ে পড়েছে, ধরে যাবে; অমন হয়। এই তোমার ব্যানাের কদিন একবার বিকেলে ঘুরে আসতো, একদিনও মদভাল,ছোয় নাই। আমার পায়ে ধরে কেঁদে বলেছে, দাদা বা প্রথম গর্ভাঙ্ক। করবেন করুন। ওর সরল প্রাণ, ও বলেছে -একটা ঝোকে পড়েছি, কাটাতে পাড়ি নি ; উপেজের অন্তঃপুর। যখন বুঝেছে, গুবরে যাবে। উপেন্দ্র, বিরজা ও তরঙ্গিণী। উপেন্দ্র । তাহলে আমায় বেড়াতে যেতে হয় না, বিরজা। ডাক্তাররা বলছে, তুমি বেড়িয়ে এস। আমি আজই আরাম হই। আমি মনে করি, তােমার প্রাণ থাকলে সব বজায় থাকবে। ওরে তফাৎ করি, কিন্তু আমি দেখতে পাই, তুমি বেরিয়ে পড়, সংসারের যা হয়-বে। সম্পূর্ণ আমার মুখ চেয়ে আছে। উপেন্দ্র। ডাক্তার তাে বলছে, কিন্তু আমি তো (শৈলেন্ত্রের প্রবেশ) নিশ্চিন্ত হতে পালে নয়! • দাদার উইল- মতে তোমার বিষয়ে আমি একজিকিউটাৰ। বিজা। ঐ দেখ, দেখি, তাের কাছে তোর দায় ক’চ্ছ ? তৃতীয় অঙ্ক।

গিরিশ-গ্ৰৰণী। বেড়াতে যেতে পাচ্ছেনা। বলে, ভােত নীৱেতে শৈলেন্দ্র। আপনি যা বলবেন, আমি তা করবে। ঝগড়া কবি, ও সেখানে নিশ্চিন্দি থাকুৰৰকি উপে। পাৰে? দেখল করে বিনে করে ? শৈলেন। বড় বউ-দিদি, আমি আর কিছু ৰে বিয়া। হা গা, তুমি অমন ক’ কেন? শাে- ; নীরে খা করে করুক, আমি আর কি আবে তত বুয়ে। বলবাে না। উপে। বড়বউ, আমাকে দেখেছিলে-দেবতাকে পে। তুমি কি বল ?-তোমার যে ভূতে পার। দেখেছিলে। দার সই জানাে ; বা শৈলে। না যে, আমি শােধরার চেষ্টা বির মত সায় যায় ফr আই খাই কৰে। তবে আমার মাসােহারা বাড়িয়ে দিক-লােকানকে এতিলন কএর দেন, আমার ওতে চলে না। বাইরে যে কি দৈত্যের সংসার আছে—তা জান পেত্র। শৈলেন, তুমি আমায় বিপদগ্রস্ত করেছ। ! কি পিশাচের নৃত্য, তা শুনলে ভূমি কানে শৈলে। কেন মেঙ্গা -কেন? আল কেৰে। যে, মাতার কথা শুনেছ, টবে। তােমার মাসােহারা বাড়িয়ে দেবে, সে অতি তারা কি পদার্থ যদি মানতে, তাদের কি কুহক, সহজ কথা। সে তােমারই টাকা–তােমার তা যদি তোমার ধারণা থাকতো, তাহলে শৈলে দেবে। তুমি রচ করে সব উড়াও, সে নের জয়ে আমারই মত ব্যাকুল হতে! তোমার তােমাই যাবে। আমি তােমার মা তােমায় শৈলেন ঘূর্ণিপাকে পড়েছে, তা থেকে তুলতে নিয়ে এখনি নিশ্চিভি হতে পারি। আমি অনেক পাবাে কি না-জানি নে। ভেবেছিনিশ্চিন্তি হই; কিন্তু মনে করি, বিরজা। হারে-কি করেছি? আর আমার মাথায় আগুন জ্বলে। তুমি উপেন্দ্র। ও জানে না কি করেছে-ও সরলপ্রকৃতি, কিছুই বােঝে না, সংসারের কিছুই জানে না, কালসর্পকে বিশ্বাস করেছে, উচ্চ আমোদের বিষয় পেলে তুমি তিন দিনে ওড়াবে। এ অাদ না পেয়ে, নীচ আমােদে রত হয়েছে। অবস্থায় আমি কি কৰাে-আমি বিষম সঙ্কটে সদগুণে বুঝেছে, জীবনের সার এই কুৎসিত পড়েছি। অন্যের যেমন ভাই হয়, তুমি যদি আমােদ। শৈলেন, শােননা-আমি যা বলি, সেই ভাই আমার হতে, চিন্তার কোন কারণ শুনবে? ছিল না। আমি বিষয় বাড়িয়েছি বই নষ্ট করি শৈলে। আজ্ঞে হ্যা, শুনবাে। নাই। আমি তােমাদের কড়ায়- গর বিষয় উপেন্দ্র। দেখাে, পেছােব না ? বুঝিয়ে দিতে আজই পারি।-তুমি বুঝেছ কি শৈলেন্দ্র। আজ্ঞে না, আপনি যা বলবেন আমার কি সঙ্কট? নবব। বির। না-না-ও বুঝেছে। বুঝে চৰেই কি। উপে। তবে এত হও; আজই আমি বেড়াতে পে। না বড় বউ, তুমি বােঝ না; তুমি মনে যাবাে, তুমি আমার সন্তে চলে। তুমি এই ক—যেমন বিজয়া দশমীতে সিড়ি খেয়ে কোলকাতা সহর দেখেছ, আর তাে কিছু দে নেশা করে, এ সেই রক, মনে করেই ছাড়া নি?-শায় কি, দেখ চলে। যে অর্থ যা-কিন্তু তা নয়। আমি সান নিয়েছি তুমি ধূলো নে খরচ ক’, দেখবে-সেই ও জুটেছে, যারা উই দেয়াল সব बर्ष बानि पौवन पान बटक লেকের সঙ্গে ওর আলাপ। এ যে পাৰে। রচ কতে চাও, চলে দেখাই গে— শৈলেন সামলে উঠতে পারে, তা আমি জানি কত ৰচ কর জায়গা আছে। দেবে, । শোনাে শৈলেন, যদি এ সংসর্গ ছমি ভাগ কত রে মন জিনিস আছে। এত না করে, একেবারে ত্যাগ-কাকবে না হও, আমি গাড়ী নিতে পাচ্ছি। তাহলে তুমি সালাতে পাৰে। নচেৎ জেনে শৈলে। আজই? তােমায় নাৰায় আর কোন উপায় নাই। উগ। আজই—এখনই।

ছিলুম। উপেন্দ্র। গৃহলক্ষী। ১০৫ শৈলে। যে আয়। কুমু। দুই তত জোটালি, আমি কি জুটতে চেয়ে- বিজা। কি ভাই? উগে। আজ তত গাড়ী রিজার্ভ হবে না; একদিন শরৎ। আমি জুটিয়েছিলুম-বড় মন্দ করেছিলুম ? আগে নইলে হয় না। রিজার্ভ গাড়ীতে না জুটিরেছিলুম—দু’পয়সা পাবে-নাত ৯টা গেলে শৈলেনের কষ্ট হবে। কিন্তু ওকে ৯টার সময় বিদায় করবে। তা নয়, গালাগালি বাড়ীতে রাখতে আমার ভরসা হয় না, কখন ফুৰু ইয়ারকি চালাৰে। এক ঘুমের পর যে উঠে করে বেরিয়ে পড়বে। রাত হলে ওর মন আসা, তা আমার পোষাবে না। আনচান কৰে, লুকিয়ে পালাবে। আর তারা কুমু। তা এখন কি তুই ছেড়ে দিতে বলিস? তা ফিতে দেবে না। চ, কোথা নিয়ে যাবি, চল—এ বাড়ীতে থাকা বিরজা। কালকের দিনটে ভাল নয়—কাল চলবে না। আমি ছেড়ে দিলে, মা তুলতামাদি তের। ঝগড়া করে। এই মাসে প্রায় চার পাঁচ উপেন্দ্র। সন্ধ্যের পর দিন ভাল আছে, আমি হাজার টাকার গয়না দেবার কথা। প্রমথত পালী দেখেছি। ভাবছি, সেই সময় যাত্রা হীরের ঝাপটাটা কিনে দিবে বলেছে। করে, সিখির বাগানে গিয়ে থাকবো। বন্ধু শরৎ। চার পাঁচ হাজার! কই, আমায় পাঁচ খাে বান্ধব নিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে কাল ৮টার টাকা দে দেখি, আমার দেনাপন্ন হয়েছে। ট্রেণে বেরিয়ে যাবে। কুমু। হ্যা, হাতে টাকা পেলে ভূতীর ঘরে গিয়ে বিরজা। বেশ পরামর্শ ঠাউরেছ। ওঠো, তােমায় কি আমি চিনি নি! পয়সার ও যাবে কি? আবার পাঁচজনের পরামর্শে জন্যে ঝাটা মেরেছে, তাই আমার কাছে মত বদলাবে না তো ? এসাে। আমিই তােমার জন্যে মরি, তােমার মত বদলিয়েই আছে, দেখলে না, গোজ কি আমার উপর মন আছে। গোজ করে চলে গেল। শরৎ। তবে কি বাবা, আমি রাস্তায় রাস্তায় কার উপেন্দ্র। তা আমি তো চেষ্টা করে দেখি। ঝি যাচ্ছে, খুঁজবে, আর তুমি দোতলায় পাঁচ বিরজা। এদিকার কি বন্দোবস্ত কৰে ? ইয়ার নিয়ে মজা ওড়াবে! উপেন্দ্র। ভাবছি, নীয়ের নামে মোক্তারনামা কুমু। তুই এই পুজোটা পর্যন্ত সবুর কর, আমি দিয়ে যাব, অবিশ্যি নিতই উকীল সব কবে মাকে বুঝিয়ে ওকে ছেড়ে দিচ্ছি। কমাবে বলেছে কিন্তু তবু আমার নাম সই শরৎ। আমি ছাড়তে বলছি নি বাবা! আমার মদ- কর ভার বইলাে, ও কি করতে কি কবে, ভাঙ্গের খরচটা জুটিও। পাঁচশাে টাকা না তাই ভাবছি। পারাে, বড় দেনায় জড়িয়ে পড়েছি, শ’হই তিন বিরজা। কি–ও টাকাকড়ি নষ্ট করবে-ভাবছ? টাকা জোগাড় করে দাও। খােবারই দেনা উপেন্দ্র। যা-যা হবার হবে, আমি তাে ওকে পাঁচশ টাকা হয়ে পড়েছে, চার আনা করে নিয়ে বেরিয়ে যাই। কামিজটে কাচতে নেয়। [ প্রান। কুমু। আচ্ছা, দেখি। আমার হাতে টাকা নেই। শরৎ। তােমার একখানা গয়না দাও না, বাধা দিয়ে দ্বিতীয় গর্ভা। নিচ্ছি। আমার বাবা স্পষ্ট কথা, ফাকা পরিত কুমুদিনী গৃহ। তােমার সঙ্গে চলবে না। তােমায় কাপ্তেন জুটিয়ে দিয়েছি, আমারও কিছু চাই। তা নইলে কুমুদিনী ও শরৎ। বাবা, আমিও আর এক বেটীকে বাগিয়ে শরৎ। তােমরা যে ব'সে ব'সে রাত দুপুর পর্যন্ত সাগিয়ে নেব। ইয়াকি দেবে, আর আমি ফিরে ফিরে যাবাে, কুমু। তা নেবে বই কি! তুই ভারি বেইমান । তা বাবা পােষাবে না। আমি ওর জন্যে মমি-আর আমার মুখের সামনে [ ]। ৩ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। হীরু। কথা শােনন না! তা যাস—তাের যেথা ইচ্ছা কুমু। কেন, ছেড়ে যাক না, বলছিলি যে? বা’! উনি না এলে আর আমার মুখে ভাত শরৎ। সােনার চাদ, তুমি ঝগড়া করো, আমি উঠবে না। তােমার ভালই খুঁজি। তুমি দু, একশাে টাকা শরৎ। আচ্ছা বাবা, চল্ল এই পর্যন্ত। দিতে আমার সঙ্গে খিচিমিচি করে, আর আমি যদি ডাকতে পাঠাও, টের পাবে। তােমায় গাদা গাদা পাইয়ে দিচ্ছি। নে-লেখ, কুমু। আচ্ছা, যখন ডাতে পাঠাবাে তখন। (বালা লেখ, হাত ছাড়া হলে এমন একটা কাপ্তেন খুলিয়া) নে—এই নে, আর যদি কিছু চাইবি, বাগাননা ভার হবে। তখন দেখবি। কুমু। দোয়াত-কলমটা আবার কোথায় ফেলেছি, শরৎ। এ বালা তাে আমিই দিয়েছিলুম, এর চৌদ্দ ও ঘরে বুঝি। আনা পেতল, এ বেচে আর কি হবে। [ প্রস্থান। কুমু। তুই এমনিই বেইমান। আর আমি কোথায় ওহে, নীরদ তােমায় ডেকেছে। কি পাব, রেখেছি কি? এক এক করে তাে শরৎ। কেন বল দেখি, কেন বল দেখি? সে আমার সবই নিয়েছি। চেনে না কি ? (হী ঘােষালের প্রবেশ ) হীরু। সে সব জানে, সে বিচ্ছু ছেলে। হীরু। কিসের ঝগড়া? এ দিকে সর্বনাশ! বাবু হীরু। সে বাড়ীতে দেখা করূতে চায় না, বলে শরৎ। তা চল না যাই, মতলবটা দেখি। ভাই নিয়ে বেড়াতে বেরুলো। দু'তিন মাস ফিরছে না। মতলবটা, বেড়িয়ে মন শােধরাবে, মােন। দেখবে। সে তােমাদের ক্লাসে পড়তাে, তোমায় চেনে। তােমায় ছেড়ে দেবে। এখন ঝগড়া রাখ, যদি শরৎ। বাড়ীতে দেখা করাটা ঠিক নয় বটে, রাখতে পায় ত’ তার উপায় দেখ। শৈলেন আমার উপর চটা; তবে কোথায় দেখা শরৎ। কি! কি! ব্যাপার কি ? কুমু। এই তােরই নিশ্বেসে নিশেসে তো আমার হীরু। তার বাড়ীর সামনে ক বেটা গাঁজাখাের বাবুটি যেতে বলো! আছে। শরৎ। আরে থা—জোটালে কে ? কি হীরু ! ব্যাপারটা কি ? শরৎ। সে আবার কে ? হীরু। সে এক বেটা পাগল, ওর বড় দাদার ইয়ার হীরু। আরে, সে ব্যাপার ঢের। কোন রকমে ছিলাে, তার পর শবাধন না কি করতে গিয়ে যাওয়াটা ভণ্ডুল করূতে পারে—দেখ। গাড়ী ক্ষেপে গিয়েছে। সেই ইস্তক ওর বাড়ীর রিজার্ভ হয়নি বলে আজ রাতটে সিথির বাগানে সামনে শিবের মন্দিরে একটা ঘর করে দিয়েছে, থাকবে, কাল রেলে চড়বে,তা হলেই আর ওর খরচপাতিও সব দেয় । ফাকে পড়লে। কুমু। তা আমি কি কবে ? ( কুমুদিনীর প্রবেশ) হীরু। একখানা পত্র লেখ যে, তিন দিন যদি না কুমু। ও আমি পারুলুম না। দেখা পাই, বিষ খাবাে। শরৎ। কি লিখলি ? কুমু। কি করে পাঠাবাে, তুমি ত ব’ছ-বাগানে কুমু। শৈলেন, যদি না দেখা করিস তাে বিষ খাব। হীরু। তুমি শীগগির লেখাে। ওদের শেমে চাকর হীরু। ঐ হবে, ঐ হবে-দাও। এসাে--যাবে? কাপড়-চোপড় নিয়ে বাগানে যাবে, তারই হাতে শরৎ। চলাে। দেব। তুমি চিঠি লেখ, নীয়া বাবু ঠিক পৌছে কুমু। যাবি কেন, আজ থাক না। এখানে খাওয়া- দেবে। দাওয়া কর না, আজ এখন তাে সে আসতে শরৎ। লেখ-লেখ। পাবে না। করি? গিয়েছে ?

গৃহলামী। ১০৭ শরৎ। তােমার মুখ দেখে পড়ে থাকলে কি হবে এখানেও জলি, অ মি এক দণ্ড স্থির থাকতে চা, পয়সা-কড়ির তত চেষ্টা করতে হবে ? পারি না। কুমু। ম গে যা, তাের মুখ দেখতে নাই। (নীরদের প্রবেশ ) [ শরৎ ও হীরু ঘােষালের প্রস্থান। নীরদ। কাকাবাবু, আপনার সেই রিভভারটা আমায় কি গুণ করেছে। মা তাে বলে মিছে ফের পাশ করাতে হবে। নয়, ও হ’তেই আমি মজবাে। এত মনে করি, শৈলেন্দ্র। তা তুমি পাশ করিও। আর দেখা করবে না, ও ডেকে গিয়েছে—এক নীরদ। তাতে একটা নম্বর থাকে, আমি নম্বর আধ দিন ফিরিয়ে দিয়েছি, আবার বিছানায় জানি না, সে নম্বর না হলে তো পাশ হবে না। মুখ গুজে সমস্ত রাত কেঁদেচি। ও চলে গেল, শৈলেন্দ্র। সে কি-ই-নম্বর টম্বর তাে দেখি আমার যেন নাওয়াখাওয়া ভাল লাগছে না। নাই। এই চাৰি নাও, আমার বৈঠকখানার [ প্রস্থান। আলমারীতে আছে, দেখে নাও গে। এই চাবি নাও, আমাকে দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা তৃতীয় গর্ভাঙ্ক। চেক কাটা’লে কেন ? সরােজিনীর কক্ষ। নীরদ। টাকার তো দরকার হবে। আমার নামে মােক্তারনামা তাে আঙ্গ.সবে রেজিষ্টারী আফিসে শৈলেন ও সরােজিনী। গিয়েছে, পেতে দেরী হবে, তা না হলে তাে শৈলেন্দ্র। তুমি কেঁদো না, বেড়াতে যাচ্ছি, তার আমি চেক কাটতে পাবো না। ওঁর কাছে জন্য তোমার ভয় নাই, আমি বেশ ভালই চেক কাটাতে গেলে এখনই বলবেন-“কি থাকবে। কিন্তু আমি থাকতে পারূবাে না ; হিসেব-কি কিতে” এখন তাড়াতাড়িতে কি আমার প্রাণ কেমন কচ্চে। করে হিসেব করি? সরো। আচ্ছা, তাহলে বড়ঠাকুরকে বলে তুমি শৈলেন্দ্র। তা বেশ কছে। থাক না, তুমি যাবে কেন? [ চাৰি লইয়া নীরদের প্রস্থান। শৈলেন্দ্র। না না, তুমি বুঝতে পাচ্চ না, আমার কি শােন, তুমি না হয় সঙ্গে চলল। আমি হয়েছে। এখানে থাকলে আরও অধঃপাতে একদিনও দাদার সঙ্গে থাকতে পারবাে না। যাবে। কি করবো, তুমি আমায় বশ করবার আমার এখন থেকে মন হু হু কচ্চে। কেন জন্য গুণগান কতে পারে ? তার জন্যে এমন করি-বুঝতে পারি নে। সরাে। সে কি ? পাজী, সে আমায় ভালবাসে না, সে ঝগড়া শৈলেন্দ্র। স্বামি-গুণগান করা আছে, আমি শুনেছি, করে, তবু তারে না দেখলে থাকতে পারি ও কেউ কেউ জানে। তুমি সন্ধান করাে। । কি হলো—এ আমার কি হলাে। আমার বােধ হয় কি করেছে, নইলে আমি সরাে। তােমার যদি অমন প্রাণ কেমন করে, এমন হলুম কেন? তুমি বউ-দিদিকে বলে লােক তাহলে তুমি বেড়াতে যেও না, আমি বড় খোজো, যদি কেউ গুণগান কতে পারে, কেউ দিদির পায়ে ধরে বলছি। যদি কিছু খাইয়ে আমায় তােমার বশ করিয়ে শৈলেন্দ্র। তুমি কিছু বােঝ না, তুমি বােকা, দিতে পারে। আমার সর্বনাশ হয়েছে বুঝতে পাচ্ছ না? সরাে। ও মা, না না, এমন কথা মুখে এন । আমায় গুণ করেছে। আমি মার কাছে শুনেছিলুম, কার কথায় কি খাইয়ে, তার স্বামীকে মেরে ফেলেছিল। ( নীরদের পুনঃ প্রবেশ) শৈলেন্দ্র। সেও ভাল, এ ভারি যাত। আমার নীরদ। কাকাবাবু, সে আলমারী খােলা রয়েছে, মনে হচ্চে-মেজদা রাগে মাগুক, আমি দুটে তাতে তাে রিভলভার নাই। খালি গােটা- সেইখানে চলে যাই। সেখানে গেলেও এলি, কতক ডিকেনটার রয়েছে, আর বােতল আছে, sobo গিরিশ-গ্রন্থাবলী। = আপনি অায় কোথায় রেখেছেন-মনে করুন। তুমি তােয়ের হয়ে এসাে। সময় বয়ে যায়, একদিন আপনি হাতে করে নিয়ে গিয়েছিলেন, যাত্রা কতে হবে। আমি দেখেছি। মন্মথ জিজ্ঞেস করেছিল, শৈলেন্দ্র। তা আজ তো যাওয়া হলাে না, আজ আপনি বলেছিলে-কাকে দেখাবেন। বাড়ীতে থাকলে কি হয় ? শৈলেন্দ্র। উ-সেখানে কি ফেলে এসেছি। না, বিরজা। কাল দিনটে খারাপ, আজ ভাল দিন হাতে করে এনেছি, আমার আছে, যাত্রা করে ঠাই-নাড়া হয়ে বাগানে গিয়ে নীরদ। তা থা—আমি এক রকম পাশ করাবে। থাকো গে। আমরাও সব যাচ্চি। এখন। কাকীমা, দেখেছ--উনি কোথায় কি শৈলেন্দ্র। আমি চলুম। রাখেন, তার ঠিক রাখতে পারেন না। দেখলে [ বিরজা ও তরঙ্গিণীর পদধূলি গ্রহণ করিয়া তােদেখলে তাে? শৈলেজের প্রস্থান। শৈলে। সত্যি আমার ভুলাে মন, সৰ তুলি। [ তরঙ্গিণীর ও বিরজার প্রস্থান, পশ্চাৎ সমােজ কিন্তু একবারও তাে তাকে ভুলি নি। কি নীর বিরজার অঞ্চল ধরিয়া আকর্ষণ। সর্বনাশ হলাে! বিরজা। কি রে ? সরাে। ও দিদি, আমার মন কেমন হয়ে গেল, (বিরজা ও তরণিীর প্রবেশ) তুমি ওরে যেতে দিও না। মেজ বউদিদি, আমি পাগল, আমি তােমায় কত বিরজা। হারে, তুই এমন আলবড়ে কেন? কি বলেছি,-কিছু মনে করাে না, তােমার ভাইএর সঙ্গে বেড়াতে যাচ্ছে, যাক না কেন- নীরােও যেমন, আমিও তেমন। ধরে যাবে। মনে আর কি করুবাে-মনে আর কি সরাে। ও দিদি-আমার সর্বনাশ হবে-আমার কবে? তুমি নেশার ঝোকে কি বলেছ - এমনি মন হয়েছিল, সেই দিন হঠাৎ বা মলেন। তা কি ধরি? বিমজা। দেখ, আবাগী, মুখে গােবর টিপে দেবে। শৈলেন্দ্র। বড় বউদিদি, তুমি দাদাকে বলল, আমি সময়। না দিদি, তুমি ব’কো না, আমার মন হু হু একেবারে দু’মাস বেড়াতে পারবাে না। করে কাদছে। কি হবে—কি হবে, মনে হচ্চে, বিরজা। তা না পারি নেই পাবি, তাের মেজ সর্বনাশ হবে কে বলছে! দাদাকে এক জায়গায় রেখে ব্যবস্থা-ট্যাবস্থা বিরজা। চোপ, বেহায়, অমঙ্গল কথা মুখে আনি করে চলে আসবি। আর তোদের বাসাটাস নি! ওরা ঠাকুর প্রণাম ক’তে যাচ্চে, আয়- ঠিক হ'লে, হয় তাে আমিও ছােট বউকে নিয়ে ঠাকুর প্রণাম কৰি আয়। যাবাে। [ উভয়ের প্রস্থান। শৈলেন্দ্র। মেজ বউদিদি, তুমি একে দেখাে ; ও ভারি বােক, কিছু জানে না। ও আমায় একটা কথা বলতে জানে না, আমি চলে গেলে কেঁদে চতুর্থ গর্ভাঙ্ক। কেদে ম’বে। তুমি ওকে দেখাে, বড় বউদিদি শিবমন্দিরের সম্মুখ। সংসার নিয়ে থাকেন। ও বড় দুঃখী, মেজো বউদিদি, ও বড় দুঃখী। নকুলানন্দ অবধূত। তর। দেখব না তো কি ভাসিয়ে দেবে ? (খাবার লইয়া ফুলীর প্রবেশ) শৈলেন্দ্র। তুমি কেদো না, তােমায় কান্না দেখলে অব। কে রে বেটী, কে রে বেটা আমার রাগ হয়, বেড়াতে যাচ্ছি, ভালই ফুল। বাবা, বড় গিল্পী তােমায় এই রসগােল্লা পাঠি- তো হচ্ছে। ও কিছু বােঝে না—কিছু বােঝে না। অৰ। খবরদার বেটী, মুখ সামলে কথা ক'। বিয়া। তােমার দাদা গাড়ী জুততে বলেছেন, ফুলী। কেন বাবা, কি হলাে?

গৃহলক্ষী। ১০১ অৰ। আবার বেটী “বাবা”! তােমার মা গচাবে? (প্রকাশ্যে ) বাবা, এই মন্দিরটে সাফ করি, ফুলী। তৰে তােমায় কি বলবাে? বিপিটগুলাে ফেলে দিই। অব। বলৰি ভৈরব। না, তা হলে ভৈরবীর (ফুলীর মন্দিরে প্রবেশ) ঝাক এসে বাড়ে পড়বে। অব। বেটীর ডাকিনী অংশে জন্ম, না যােগিনী ফুলী। তা পড়লেই বা বাবা । অংশে-না নায়িকা অংশে। অৰ। বেটা, পড়লেই বা, সামলায় কে রে বেটী- (শরৎ ও হীরু ঘোষালের প্রবেশ) সাম্লায় কে? আমি নন্দের গােপাল, হাম হীরু। তুমি এইখানে বসে আলাপ করাে না, দিয়ে বেড়া! বুঝলি? গাজটাজা খাও না। ফুলী। হ্যা বুঝলুম বই কি বাবা—তুমি নন্দের [ হীৰু ঘোষালের প্রস্থান। গােপাল!. অব। কে তুয়ি ? অব। না, তাতেও প্যাচ আছে। বৃন্দাবনে বাঁশ শরৎ। আমায় চেনেন না অবধূত মশায় ? বাজাতে হবে, গােপিনী বেটীরা ধড়াখানাও কেড়ে অব। চিনেছি, তুমি মুচি ভূতের বাচ্ছা- নেবে। শরৎ। অবধূত মশায়, একটা টিপ করি দাও। ফুলী। তবে কি হবে ? অব। ও, টিপ তৈরি কবি ? তুই নন্দীর নাতী অব। আমি কার্তিক হব, ময়ূর চড়ে উড়বে। দেখছি, দেখি কেমন তুই মজবুত ভূত। তুই ফুলী। সেও তত বিধবারা নিয়ে গিয়ে পূজো তৈরি কর, আমি বেলগাছের বেহ্মদত্যির সঙ্গে কবে। আলাপ করে আসি, সে এক আধ টান টানে। অব। তাকে পা’রুবাে। পুলো খেয়ে “মা” বলে [ প্রস্থান। ফুৰু উড়বে। ফুলী। বাবা- (নীরদ ও হীৰু ঘােষালের প্রবেশ) অব। ফের বেটী বাবা- হীরু। এই শরৎ বাবু। ফুলী। খাবার কি ধরে রাখবাে? নীরদ । আচ্ছা আচ্ছা, তুমি দেখ, মােন কোথায় ? অব। (গ্ৰহণ করিয়া) নে, গােটাকতক তুলে নে, সে যেন এ দিকে না আসে। কুমারী সেবা হােক। হীরু। (স্বগত) বাবা, এত কি পরামর্শ আমায় ফুলী। না বাবা, সে তখন এসে প্রসাদ পাব। ছাপিয়ে। আমি শরত বেটার কাছে ঠিক বা’র অব। তবে বেটী তাের সেই নবমীর গানখানা ক’চ্চি। শুনিয়ে যা। নীরদ। যাও না, যাও না-দাড়িয়ে রইলে কেন ? মােনা খালি আমার তকে ফিচে গানে ? ফুলীর গীত। হীরু। (স্বগত) আমিও তকে রইলুম। শিহৰি মা মনে হবে, কাল সকালে নিয়ে যাবে। [ প্রান। মরি আসে কৈলাসে গে, কেমনে মা দিন কাটাবে। নীয়। (সমীপবর্তী হইয়া) শরৎ বাবু? রবিশশী নাহি হেরে, ঘন মেঘে রাখে ঘেরে, শরৎ। কি নীরদ বাবু, আপনি আমায় ডেকেছেন ? ভূতদানা তার সদাই ফেরে, মুখপানে তার কে চাবে নীরদ। হ্যা, আপনি আমার একটি কাজ করুতে ভিক্ষে করে আনলে পরে, তবে হাড়ী চড়বে ঘরে, · পারেন ? আমি আপনাকে একশাে টাকা দিই। মন বােঝাব কেমন করে, কপাল পােড়া ঘােচাবে। শরৎ। কথাটা কি ভেঙ্গে-বলুন? আপন ঝোঁকে ক্ষেপা থাকে, মানুষ নয় বােঝাব কাকে, নীরদ। আজ যদি কাকা বাবু কুমুদের বাড়ী সে দেখৰে কি দেখবি তাকে, নিত্যি ভাং ধুতুরা ফেরেন, সেখানে একটা ঝগড়া করে ফৌজদারী খাবে । বাধাতে পাবেন ? ফুলী। (স্বগত) হীরে ঘোষাল কাকে সঙ্গে করে শরৎ। বাবা, বড় মানুষের সঙ্গে কে লাগবে বল? আছে। কি মতলব আছেন-লুকিয়ে অবাে, শেষটা কি জেলে যাব ?

১০ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। নীরদ। তা যদি না যেতে হয়, আর উলটে কিছু নীরদ। নােট। আদায় কতে পারেন, তাহলে? শরৎ। যদি নম্বর আটক করে ? যে বিচ্চ, দেখচি, শরৎ। সে সব না বুঝে, জবাব করতে পাচ্চি নে। পানাে বাবা। নারদ। এমন যদি কাজ হয়, আপনি যদি প্যাচে নীরদ। আমি নগদ টাকা দিয়ে নােট নিয়ে দেব। পড়েন, আমিও প্যাচে পড়বাে-তাহলে নইলে নােট পুড়িয়ে ফেলবেন। আমি পাঁচ পারেন ? হাজার টাকা পােড়াতে দিচ্চিনি, কাজের জন্যই শরৎ। বাবা, যে রকম আঁচ দিচ্চ, এতো দিচ্ছি। একশো টাকার কাজ নয়। একটা গুরুতর শরৎ। আচ্ছা, বাবা, দেখি। রকম মতলব করেছ। নীরদ। আপনার কোন ভয় নাই, এই রিভলভারের নীরদ। আপনি ঠিক ঠাওরেছেন-একশাে টাকা গায়ে দেখবেন, কাকাবাবুর নাম লেখা। কথাটা বায়না। বুঝুন, উনি বেড়াতে যাচ্চেন, আপনারা সুযােগ শরৎ। বাবা, বেশী রকম উঠতে পারবে না, চড় পেয়ে আমােদ কচ্চেন। উনি সন্ধান পেয়ে চাপড়টার উপর যদি চলে তাে হয়। রেগে রিভলভার নিয়ে খুন করূতে গেছেন। নীরদ। পাঁচ হাজার টাকা পেলেও নয় ? দু'বার রিভলভার ছুড়েওছেন। আপনি প্রাণের শরৎ। কি-খুন-খারাপি রকম না কি ? দায়ে পালাবার উপায় না পেয়ে ওঁরে মেরে নীরদ। তা যদি হয় ? পালিয়েছেন। তার পর attemped at murder শরৎ। না-ইয়াকিটা আটা দিয়ে বেড়াই, এর নালিশ করূবেন, মানের দায়ে আমাদের অতদূর উঠতে পারবাে না। টাকা দিয়ে মেটাতেই হবে। নীরদ। কাজ খুৰ সােজা, আমি যা দেবার তা শরৎ। বড় প্যাচোয়। কাজ বাবা! এতদূর কখন এগুই নি। দেবব, আর আপনিও কাকাবাবুর ঠেঙে কিছু আদায় কতে পাবেন। নীরদ। আমি আপনার পেছনে আছি, মামলায়- শরৎ। আচ্ছা, রকমটা কি শুনি? মকর্দমায় কখন আপনার টাকার অভাব নীর। আপনাকে তাে দেখলেই কাকাবাবু ঝগড়া হবে না। করবেন। আপনি কে ঠেলে ফেলে দিয়ে শরৎ। আচ্ছা দেখি দাও। একটা রিভলভার দিচ্ছি, দু’বার দেয়ালের নীরদ। এই নিন, আর এই পাঁচ কেতায় পাঁচ গায়ে ছুড়বেন। আর আপনি পালিয়ে গিয়ে হাজার টাকার নােট। থানায় জানাবেন, আপনাকে খুন করতে [ নােট দিয়া নীরদের প্রস্থান। এসেছিল। শরৎ। গাঁজাটা টেনে যাই-বড় ফ্যাসাদের কাজ। শরৎ। এ অবধি এক রকম হতে পারে। (প্রস্থানােত ) কত দাম? নীরদ। কি চান ? ফুলী। (স্বগত) কিছু তো বুঝতে পারলুম না, শরৎ। দু হাজার। একে ভােলাতে পাবে না। নীরদ। আর যদি বারান্দা থেকে ফেলে দেন, (ফুলীর মন্দির হইতে বাহির হইয়া কতকগুলি তাহলে ক’হাজার ? বিল্বপত্র শরতের গাত্রে নিক্ষেপ ) শরৎ। ও বাবা, খুন হবে যে? সুখী লােক—যদি শরৎ। কে বাবা! কামিজ খারাপ করে দিলে ? মারা যায় ? ফুলী। কেন মশায়, ফুলের ঘায়ে মুচ্ছা যান না কি? নীরদ। আচ্ছা, একটা লাঠি-টাটি মেরে জখম করা ? শরৎ। কি কি, রকমখানা কি ? শরৎ। কত টাকা? ফুলী। আর আপনার সঙ্গে রকম কি বলুন- নীরদ। পাঁচ হাজার ? একটা লের ঘা সয় না। শরৎ। টাকা না নােট? শরৎ। বাসি বেলপাতার ঝুরি কি সর? কামিজটায় ১১১ উপেন্দ্র। দাগ লেগে গেলাে, টাটকা ফুল হয়, হৃদয়ে অব। কি রে বেটী, উড়তে চল্লি? তা যা, আমিও রাখি। ওড়াই। ফুলী। ইস—আপনি রসিক বটে ! [ পশ্চাৎ প্রস্থান। শরৎ। কোথায় থাকো চাদ । ফুলী। আপনার সঙ্গে থাকবে মনে কচ্ছি। পঞ্চম গর্ভাঙ্ক। শরৎ। আমি কোন নারাজ। ফুলী। ও বাবুটি কে—কার সঙ্গে কথা কচ্ছিলেন ? সিখির বাগানবাড়ী। শরৎ। কে-কোন্ বাবু? তােমার অত খোঁজে কাজ কি ? উপেন্দ্র। ও-উদ্বেগে সমস্ত রাত ঘুম হলাে না। 'ফুণী। তবে বাবু-ভেয়ের খোঁজ কারা কবে ? গাড়ীতে তুলতে পারলে তবে নিশ্চিন্ত! ও শরৎ। কেন—আমায় পছন্দ নাই ? আমােদ-আহলাদ কিছু করে নাই, ছটফট ফুলী। আপনি ত আর যেচে কথা কন্ নি। করেছে। আমার খালি মনে হচ্ছে, উঠে শরৎ। বাড়ী কোথায় ? পালাবে। রাত আর নেই- ফুলী। সঙ্গে আমুন-দেখবেন। (শৈলেন্দ্রের প্রবেশ) শরৎ। এখানে কি কচ্ছিলে ফুলী। এই বাবার কাছে হাত দেখাতে এসেছিলুম, কে ও-শৈলেন ? কোথায় যাচ্ছিস্? উনি বড় গণৎকার। শৈলেন্দ্র। আমি আসছি। শরৎ। সত্যি নাকি ? উপেন্দ্র। আসছি কি-৮টার সময় গাড়ীতে উঠতে ফুলী। পরখ করে দেখুন না, উনি ঠিক বলে হবে, আসছি কি ? দেবেন, আপনি কি করতে এসেছেন,—ভাল শৈলেন্দ্র। আমি এখনি আসছি, নৈলে সর্বনাশ হবে। হবে কি ম হবে ? উপেন্দ্র। সর্বনাশ হবে কি রে ? শৈলেন্দ্র। সত্যি বলছি—সর্বনাশ হবে। ( অবধূতের প্রবেশ) উপেন্দ্র। তাের হাতে ও কি ? ফুলী। বাবা, এর হাতটা দেখ তো। শৈলেন্দ্র। চিঠি। মেজ দাদা, আমি এখনি আসবে। অব। ও নন্দীর বাচ্ছা, এই যে রক্তচন্দন বিল্বিপত্র উপেন্দ্র। দেখ, বুঝেছি, সে বেটা চিঠি লিখেছে । গায়ে পড়েছে। একবার চোখােচাখি চা তাে। তাই তুই যাচ্চি। যেতে পাবি নে। ইস্! একটা ঝঝনে ভূত তাের পেটের ভেতর শৈলেন্দ্র। আমি যাব, নইলে স্ত্রীহত্যা হবে। তুমি সেদিয়েছে। কটমটিয়ে চা, আমি এক টানে জানাে না মেজ দা, সে বড় একয়ে। সর্বনাশ বা’র করি। (ইত্যবসরে ফুলীর শরতের পকেট হবে, আফিং খাবে, নয় গলায় দড়ি দেবে। হইতে রিভভার তুলিয়া দেখুন) উপেন্দ্র। হতভাগা, তাের লজ্জা-শরম কিছুই নাই। শরৎ। (চমকিত হইয়া) ইস-তুই চোর না কি ? শৈলেন্দ্র। মেজদা, সত্যি ব’ছি,আমি মদ খাই নি। পাহারাওয়ালা ধরিয়ে দেব জানিস্ ? আমায় না দেখতে পেলে সে মরূবে, নিশ্চয় ফুলী। চক্চ কচ্ছিল, কি ও—তাই দেখছিলুম। মরূবে। একদিন ঝগড়া করে আমার সামনে শরৎ। ছেলেদের জন্যে পুতুল কিনেছি। আফিং মুখে পুরেছিল, মুখ থেকে আঙ্গুল দিয়ে আফিং বার করে নিয়েছি, আঙ্গুলে এখনাে [ প্রস্থান। দাঁতের দাগ দেখ। ফুলী। .(স্বগত) কিছু বুঝতে পারলুম না, শৈলেন উপেন্দ্র। শােন্ শৈলেন, তুই বেড়াতে যাবি, তােক বাবুর পিস্তল দেখলুম। কি ফন্দী করলে, ভাল বাধা দেবার জন্যে ছল করে এই চিঠি লিখেছে। বুঝতে পারলুম না। পেছু পেছু যাই, দেখি তুই যেতে পাবিনে, তা হলে তাের বেড়াতে কোথায় চল্লো। যাওয়া হবে না।

গিরিশ-গ্রন্থাবলী। শৈলেন্দ্র। আমি একবার যাবো, এখনি ফিরে । আর আমায় দূষা না-আর আমার অপ- আসবে। রাধ নাই। আর আমার কাকে কিছু বলার উপেন্দ্র। আমি তােরে যেতে দেবাে না। মুখ নাই। ও সত্যি সত্যিই খুন করতে পারে। শৈলেন্দ্র। আমি যাবই, আমি কারাে কথা শুনবে না। বিয়া। যাক—যা-উচ্ছয় গিয়েছে, যা। উপেন্দ্র। তুই পাগল হয়েছি, আমি তােরে বেঁধে তর। লাঠি তুলেছিল? গাড়ীতে তুলবে। উপেন্দ্র। যথেষ্ট হলাে, হমুদ হলাে। আমি কি শৈলেন্দ্র। না মেজদা, স্ত্রীহত্যা হবে, বাড়াবাড়ি করে নির্বোধ, কি বােকা, আমি কার জন্য টানাটানি । তােমার মান থাকবে না, আমি যাবই। করি? আমি মরতে বসেছি, তবু ভাই ভাই উপেন্দ্র। শোন, যদি যা’স,তাহলে এই পর্যন্ত,আজ ক’চ্চি। ছিঃ ধিক্ আমায়! বড় বউ, সব আলাদা থেকে তাের মুখ দেবাে না। হওয়াই ঠিক। আমি কাশী যাচ্চি, নীরের নামে শৈলেন্দ্র। আমি তােমার পা ছুয়ে বলে যাচ্চি, মােক্তারনামা দিয়েছি। নিতাই একটা ভাগ- আমি এখনি ফিরে আসবে। বাঁটরা করে দিক, সহমানে হয় ভালাে, নৈলে উপেন্দ্র। না, তুমি যেতে পাবে না। তুমি বুড়ো যা হয় হবে। মন্দ হয়েছ, আজও তুমি বেশ্যার ছল বােঝে না! বিরজা। সে যা হয় হবে—তুমি এসো। তুমি ও যদি আমার মুখ চাও ত আমার কথা ঠেলল না সব কিছু ভেবাে না, আপনার শরীর আখ, শৈলেন। লজ্জা, বা ত্যাগ করে অনেক স’য়েছি, বেড়াতে যাও। ভাবছ কি-তুমিই বা কি আর সইবে না। যদি যাও, আর তুমি আমার কবে -আমিই বা কি করূবাে? ওর অদৃষ্টে ভাই নও। যা আছে—হবে। ও কি না-খুন করবে শৈলেন। না হয় নাই হবো, আনি যাবই। বলে! আমি বলি-কাকে বলচে। দেখ, তুমি উপে। আমি তােরে কিছুতে যেতে দেব না। মন থেকে ওকে কুটো ছিড়ে ফেলে দাও। ও শৈলেন্দ্র। ছেড়ে দাও মেজদা-ছেড়ে দাও মেজদা, তােমার কুলাঙ্গার ভাই। ও তােমার প্রাণে কেন অপমান হবে ? আমি গােল্লায় যাই- মাতে বসেছে। মরি, তাতে তােমার কি! আমি তােমার কথায় উপেন্দ্র। আশ্চর্য্য—এমন করে বয়ে যায়। থাকবে না, তুমি আমার কথায় থেকো না -- ( প্রস্থান। উপেন্দ্র। ছুচো, যা মুখে আসে ব’লছিস? নীরে নীরদ। জ্যেঠাই মা, কাকাবাবু পাগল হয়েছেন। নীরে- আমি শুনছি, ওকে কি খাইয়ে এমন করেছে। নীরদ। (প্রবেশ করিয়া) আচ্ছে-আজ্ঞে ও ভাগ-বখরা করে দেওয়া নয়-ভাগ-বাখরা উপেন্দ্র। দোর বন্ধ করে দে তো। করে দেওয়া নয়, ওকে মদ খাইয়ে সর্বস্ব লিশে শৈলেন্দ্র। খবরদার-খুন ক’ববা-ছেড়ে দাও- নিয়ে হাত পা বন্ধ করা উচিত। বাবাকে বুঝিয়ে [ লাঠি তুলিয়া উপেন্দ্রকে ধাক্কা দিয়া বেগে প্রস্থান। বল গে-ভাইএর খাতিরে আর না কোলকাতায় থাকেন। ডাক্তার বলেছে -তাহলে আর (তরঙ্গিণীর প্রবেশ) বাঁচবেন না, আর বেড়াতে যাওয়া না বন্ধ হয়। উপেন্দ্র। অা-অ্যাকি মনের ভ্রম! বিরজা। বেড়াতে যাবে বই কি, তুই সব ঠিকঠাক ক। ( তরঙ্গিণীর কথা কহির উদযােগ ও নীরদ। উনি আবার না বেঁকেন। নীরদের ইঙ্গিতে নীরব হন) বিয়া। না—আমি বেঁতে দেবাে না। আহা! (বিকার প্রবেশ) ভাই ভাই করে প্রাণটা দিতে বসেছে। মেল- বিরজা। কি গাে-কি গাে-হ'লো কি ? বউ, বামুনকে বল-খানকতক লুচীটুচি ভেজে উপে। শৈলেন আমায় ধাক্কা মেরে চলে গেল। দিক, আমি ওর কাছে যাই। ৮টার ভেতর বিরা। তা যাক-মরু গে। তুমি বেরিয়ে পড়ে। ভাত খেয়ে যেতে পাবে না। [ প্রস্থান।

১৩ গৃহলী। নীরদ মা, তুমি ও সময় কথা কইতে যাচ্ছিলে? রাস্তায় দেখেছি, ছােটবাবুর রিভলভার নিয়ে তাহলে ঐ ভেয়ের রাগ আমাদের উপর গেছে, যে নিয়ে গেছে তারে চিনেছি, বুঝি খুন পড়তো। তুমি কোন কথা ক'য়ে না, ওরা কৰে। এসাে-এসো দেওর-ভেজে যা হয় করুন। এবার আর ঠিক [ উভয়ের দ্রুত প্রস্থান। হচ্ছে না! খুব বাড়াবাড়িই হয়ে গিয়েছে, লাঠি তুলেছিল। ওর কি হায়া আছে, লাঠি মালে হায় সপ্তম গর্ভা। হতাে? হতচ্ছাড়া মিসে, ভাই ওর পিণ্ডি দেব। নীয়। তুমি দেখ না মা, কি হয়? কুমুদিনীর কক্ষ। [ রণিীর প্রস্থান। কুমুদিনী ও শরৎ ( খামার প্রবেশ) নেপথ্যে শৈলেন্দ্র। দোর খােল’, দোর খােল’ শেমে-এত দেরীতে চিঠি পেলে যে ? কুমু। কি-কি-ভােরের বেলায় এসে ডাকাত শেমে।। আদ্দেক রাত্রি অবধি খাওয়া-দাওয়া হলাে, পড়েছ কেন? তার পর ঘুমিয়ে পড়লাে। বড় মা-ঘােট না ( শৈলেন্দ্রের প্রবেশ) -কাছে কাছে ছিলো, আমি দিতে বাগ পাইনি। শৈলেন্দ্র। কে তাের ঘরে ? তােমার বাবাকে ঘরে নীরদ। তা, তুই ঠিক সময়ে দিয়েছি। পুরে রেখে আমাকে চিঠি লিখেছ ? [ উভয়ের প্রস্থান। কুমু। যে হােক না—তাের কি ? শরৎ। হ্যা হ্যা শৈলেনবাবু, আমার মেয়েমানুষ যষ্ঠ গর্ভাঙ্ক। কেড়ে নিয়েছ, আমাকে ব’ছ-কে তাের ঘরে? শৈলেন্দ্র। তবে রে শালা ! পথ। শরৎ। তাই তো রে শালা ! আমার মেয়েমানুষের মন্মথ ও ফুলী। সঙ্গে ইয়ারকি ? শৈলেন। খুন ক’বি নাকি-খুন ক’রুবি নাকি? মোনা বাবু -মোনা বাবু-সর্বনাশ [ শরতের পিস্তলের দুইবার আওয়াজ করিয়া লাঠি তাের গায়ে রক্ত কিসের? কি হয়েছে ? লইয়া শৈলেন্দ্রের মন্তকে আঘাতকরণ। দুলী। ও কিছু নয় --পড়ে গিয়েছি। শীগগির খুন করলে-খুন ক’বলে- | এসো, ছােটবাবুকে বাচাও। শরৎ। খুন করলে-খুন কলে- মন্মথ। কোথা যাবে ? কুম। কি করলি—মেরে ফেলি কুলী। এসস - এসো—মুদের বাড়ী, সেখানে [ শরতের শৈলেন্দ্রের বান হতে এতক্ষণ খুন করেছে। পিস্তল দিয়া দ্রুত প্রস্থান। মন্মথ। খুন করেছে কি ? ফুণী। এসাে--এসােবতে বলতে যাচ্ছি। ( কুমুদিনীর মা ও অন্যান্য বারাঙ্গনার প্রবেশ । মন্মথ। তুই যে F’তে পাচ্ছি নি, ধুকছি? ফুলী। চলাতে পার্বােচ’তে পা রূবো--এসাে ওরে কি সর্বনাশ কবুলি । গাড়ী করে যাই এসো। কুমু। শরতাকে গুলী করেছিল, শরত লাঠি মেরে মন্মথ। আমি তো সে বাড়ী ভানি নি। পালিয়েছে। ফুলী। আমি সে বাড়ী দেখে এসেছি, ঘৰ দেখে কুমুমাঅ্য। খুন হলাে না কি?-মুখে জল দে এসেছি, 'পরামর্শ কতক শুনে এসো,-চিঠি -মুখে জল দে! [১৫-১৬] কলী। হয়েছে। মথ। কুমু না।

১১৪ গিরিশগ্ৰহাৰী। ধতে বলল। (ফুলী ও মন্মথর বেগে প্রবেশ) মন্মথ। জমাদার সাহেব, তােমার পাহারাদাকে ফুলী। এই দেখ—সর্বনাশ। ( মন্মথর সত্বর শৈলেন্ত্রের ক্ষতস্থানে চার ফুলী। জমাদার সাহেব,ও জামাতে কি আছে দেখ, দিয়া ব্যান্ডেজ করণ ) জামাটা সঙ্গে নাও। মন্মথ। কে মারূলে? শরৎ। জামা কাচতে দিতে হবে—জামা কাচতে কুমু। ওগাে-আমি কিছু জানি না। মারামারি দিতে হবে, জামা কি হবে? হয়েছে, আমার ঘরে মানুষ ছিল দেখে, বাবু জমা। দেখি বাবু, কি আছে ? (জামার পকেট পিস্তল ছুড়েছিল, সে লাঠি মেরে পালিয়েছে। হইতে নােট বাহির করিয়া) এ যে তাজা নােট এই দেখ-ঘালে গুলীর দাগ দেখ। -পাঁচ হাজার টাকা। বাবু, আপনাকে টাকা ফুলী। দেখবে বই কি—কাকে দেখাচ্ছ ? চুপ করাে, দিয়া খুন করিতে আসিয়াছিল না কি? আপা- তােমার যে ঘরে জন্ম, আমারও সেই ঘরে জন্ম। নাকে তো আমি জানি, এ নােট কোথায় চুপ করে থাকে, সব শুনেছি। শরৎ বাবু পাইলেন ? কিছু বলছেন না?-আচ্ছা চলেন।' জিজ্ঞেস করেছিল- “দোরের পাশে কে ?” তুমি -হাকিমের কাছে বলিবেন। বলেছিলে---“মা বুঝি?” সে তােমার মা নয়- ফুলী। শরৎ বা ছেলের জন্যে পুতুল কিনেছিলেন, আমি। নিয়ে যাবেন না ? (পুলিস লইয়া শরতের প্রবেশ) জমা। পুতুল কি রে ক্ষেপি ? লী। ঐ যে পুতুলটো । শরৎ। আমি প্রাণের দায়ে মেরেছি--আমি প্রাণের মন্মথ। ফুলী, কি বলছিস্? দায়ে মেরেছি। জমা। ( পিস্তল তুলিয়া লইয়া) এইটা পুতুল ৩t বাবু, যখন খুনখারাপি হয়েছে, এইটা পুতুল ! এই পুতুলটা কি বাৰু কিনিয়া- তােমাকে তাে ছাড়বাে না। আর মেয়েমানুষ ছিল না কি? ততা ঠিক আছে, ওকে তাে গুলী করে নাই। মন্মথ। জমাদার সাহেব ও পাগল-ওর কথা কি লাঠিটে বড়জোর লাঠি মারিয়াছেন। হাকিম যেমন শুনছ! বলবে, তেমনি হবে, আপনাকে আজ থানায় জমা। কেন বা, এর বিচে বাৎ আছে না কি ? থাকতে হবে, খুনটা বুঝছেন না ? আপনি তো এমন কাজের নন, তবে ধমক ফুলী। হ্য। মশায়, আপনি খুনটা বুঝছেন না। দিচ্ছেন কেন জমা। এ কি, পাগলীটে এখানে কেন ? তাের নন্ম। মশায়, ও সব কথা কইবেন এখন- হাত- গায়ে লউ কিসের? পাতালে নিয়ে 5: ন। লী। আমি ছুটে আসতে পড়ে গিয়েছি। জম। চলেন--চনে। (কুমুদিনীর প্রতি বির, জমা। এই পিস্তল ছুড়িয়াছিল? বা হাতে চুড়ি- সিধেয় মিটবে না। আছে দেখছি। ও মা! কি হনের লােক সব বাড়ী আসতে। মন্মথ। জমাদার সাহেব, হাসপাতালে নিয়ে চলে। দিয়েছিনু গো । ( কুমুদিনার প্রতি) হা বাছা, তােমাদের ধরে ভমা। টেকা বাজিয়ে নিয়েছ, তবে আসিতে দিয়াছ, একটু মদ আছে? জমা। আছে বই কি।ঐ তাে নটখটি বাধাই- সৰ এর বিচে আছে!-চলাে। স্বাছে। ঐ যে বােতল। । সকলের প্রস্থান। কুমু। ( মন্মথের মদ লইয়া শৈলেন্দ্রর মুখে দেওন) শৈলেঞ্জ। ও মা! মা । শরতের প্রতি) বাবু, ফের থানায় চলিতে চতুর্থ অঙ্ক। বৈদ্য। বেদা। কিসে? গৃহলক্ষী। ১১৫ নিয়েছেন। আরএসওর, কতকগুলে ভূয়াে হাওনােটও নীরাে দাদা করেছিলেন, সেগুলােও ৪৪ এভােকরে নিয়েছেন। সব জড়িয়ে প্রায় প্রথম গর্ভাঙ্ক। লাখ টাকা; হােট বাবুকে তার দায়ী কচ্ছেন। বৈদ্য। নিতাই কি বলে ? উপেন্দ্রের বহিৰ্বাটী। মন্মথ। বলেন—শিবু উকীলকে মন্মথ ও বৈদ্যনাথ। ঠিকঠাক করে নিয়েছে, এখন আর উপায় কি ? মন্মথ। উনি তত লাঠি খেয়ে অজ্ঞান, এ.দিকে ওর এ দিকে সব টাকাকড়ি আটক করেছেন, নামে Charge এলাে, উনি রিভলভার নিয়ে পাটিস সুটের খরচায় সর্বস্ব যেতে বসেছে, খুন করতে গেছেন। এখনাে ছােট বাবুর শিবু উকীলকে বিশ্বাস। বৈদ্য। তবে তুমি মেটালে কি করে ? নীয়রা দাদা, লাগিয়ে ভাঙ্গিয়ে আনার উপর মন্মথ। ফুলী দেখেছিল, নীরাে দাদা শরৎকে রিভল আর বড় মার উপর ছােট বাবুর মন ভাঙ্গিয়েছে । ভার আর পাচ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। তার ধারণা যে, আমরাই সৰ ভাঙ্গচি দিয়ে সে টাকা শরতের পকেটে পাওয়া গেল। মেলােমশাইকে খারাপ করেছি, নরো এ দিকে নীরে দাদা কি করেছেন, জানেন ? ঐ ‘দাদাকে খারাপ করেছি। এ বড় - পাঁচ হাজার টাকার নােটের নম্বর আটক আমরা সব মিলে স্কুলে ক’চ্ছি। করেছেন। বড় বউ ঠাণ কোথায়? সে বাসে বা তার পর মিটল মন্মথ। তিনি মেসো মশায়ের সঙ্গে কাশতে দেখা করতে গেছেন। মন্মথ। আমি নিতাই বাবুকে সমস্ত বলুম। শরৎও বৈদ্য। ইস! এতটা হয়ে গিয়েছে। আমি যখন কেলে, সে বল্লে আমি জেলে যাই আর য ওয়ালটায়ার বেড়াতে গেলেন, তখন ঝি এর হই, আমি সব খােলাসা কথা বলবো ; এইতে সূত্ৰপাত কিছু হয় নাই ? নীরা. দাদা ভয় পেলে, আর সেই পাঁচ হাজার মন্ম। না, তার পরেই এই হাঙ্গাম । টাকা ছেড়ে দিয়ে আর কিছু ঘুষ-ঘাষ দিয়ে বৈদ্য। এ সব খবর তুমি আমায় লেখ নই কেন এক রকম তো মিটিয়ে রেখেছি! সে মিটে থ। আপনি মরণাপন্ন, শরীর সায় শয়ছেন, নিয়েছে। আর তখন আমিও এত ফজী % উঠতে বৈদ্য। তবে ? পারি নাই। শ। এই সব খবর পেয়ে মেলােমশায় কাশী বৈদ্য। ওহে, তুমি এ বাড়ার সঙ্গে আমার সুবাদ থেকে এলেন, ভায়ের উপরেই রাগ কল্লেন। নিন না, তাই প. লে- নাই। অত: নীরে। দাদার উপর সমস্ত দানপত্র ক'রে দিয়ে হয়েছি কার হতে ? বড় বাবু আ' নাঃ পাটসন সুট, করতে বলে চলে গেলেন। সেই করেছেন। তােমার ব? না যে সে পাটি সুট, চলেছে। *খেন, সেই চোখে আমায় • ন বৈদ্য। আর নীরো যে শৈলেনের কাছে হাটে যা হবার হয়েছে। কি ক1 ;; কিনে নিয়েছে, সে কথাটা কি, । আপন ছােট বাবুর সঙ্গে । ৫ন, মন্মথ। ছা; বা যখন শখগ, তখন নীরে। ক'রে ওর চোর চুটিয়ে দেন। দাদার দর দেখে, কি ? আম রাত জাগি, বিদ্য। ছোরা এতো ॥ : আচ্ছ। আমায় উঠিয়ে দিয়ে উনি এত গত বসেন। দেখি ! সেই সময় ছোট বাবুর প্রিয় হয়ে, ছােট বা থ। 'নায়, একটা যে সব উনপাঁজুরে লেক টাকা ধার দিয়ে বিশ্বাস করবেন না। ছিলেন, সেই সব নােট এলােস ক'রে বৈদ্য। কেন রে মূখ ?

কি হবে! না। বৈদ্য। ১১৬ গিরিশ-বলী। মন্মথ। আপনি যে মােন দেশে গিয়েছিলেন, আমি শুনতে ইচ্ছা হয়েছিল, নীবাের মাথা কেটে আর সে মােন নেই—আমি আর সত্যবাদী নাই, ফেলি। ভুমি স্থির হও, অধৰ্ম্মপথে চলো না। আমি জালিয়াত-জোচ্চোর ; হীরু ঘােষাল মন্মথ। অধর্মপথে চল্লে কি হবে? হয় তাে আমার প্রভৃতি যত অসৎ লােক-আমার বন্ধু। আমার দুনাম হবে, হয় তো আমি বিপদগ্রস্ত হবে, সম্বন্ধে যে অপবাদ শুনবেন—বিশ্বাস করবেন। হয় তো আমার এ জীবন বৃথা হবে। কিন্তু মশায়, আমি সকল কাজ করতে প্রস্তুত। বড় মা আমার গলা ধরে কেঁদেছেন, চক্ষের জল বৈদ্য। সে কি রে—কি বছিস? তাের কথা ফেলেছেন,বলেছেন-মােনা, শুনেও আমি বিশ্বাস করতে পাচ্ছি নে। আমি দেখবাে-কি হয়, আমায় বারণ করেন মন্মথ। বিশ্বাস করুন। এ ইতি তােমার কেন হলাে? বৈদ্য। ওরে শােন্ শশা মন্মথ। কেন হলাে? বড় বাবু আমায় অনাথ অব মন্মথ। না, আমি আর শুনব না। আপনি ছোেট স্থায় কুড়িয়ে এনেছিলেন। বড় মা’র স্নেহে আমি বাবুকে শির উকীলের হাত থেকে ছাড়িয়ে রাজপুত্রের ন্যায় কাটিয়েছি-লেখাপড়া শিখেছি। নেন। আপনারা সকলে আমায় স্নেহ করেন—প্রশংসা বৈদ্য। আচ্ছা আচ্ছা, আমি নিতাইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করেন। আমি বড় বাবুর মৃত্যুশয্যায় কাছে করে, যা হয় কচ্ছি। বঙ্কি যে-সব টাকা কড়ি ছিলুম। যদিচ আমি তখনও বালক,তথা আমি আটক হয়েছে, আমি কিছু টাকা দিচ্ছিনে, তার আন্তরিক মনােভাব বুঝতে পেরেছিলুম। যদি কিছু সচ্ছল হয়, দেখ। তার কায়মনােবাক্যে ইচ্ছা ছিল—বেন পিতৃ- মন্মুথ। না মশায়, আমি উপস্থিত সংসার একরকম পুরুষের গৌরব বজায় থাকে। তিনি সেই জন্য চালাচ্ছি, আমার nursery থেকে প্রায় হাজার বড় মাকে তার অংশ দিয়ে গিয়েছেন। তার মনে দশেক টাকা জমেছে, তা থেকে এখন চলবে। আশঙ্কা ছিল যে, পাছে ভায়ে পায়ে ঝগড়া হয়ে শেষ যা ব্যবস্থা হয় করবেন। সমস্ত নষ্ট হয়, বড় মা অংশ থাকলে ঠাকুরসে ( প্রস্থান। চলবে। বড় মাও স্বামীর আজ্ঞা পালনের জন্য, সংসার বাজায় রাখবার জন্য আত্মথে জলা- বৈত। ছােরা ভারি রেগেছে, রাগ হতেই পারে, ঞ্জলি দিয়ে সংসারকার্য নির্বাহ করে আ আমি কাশীতে একবার উপেনের সঙ্গে দেখা ছিলেন। সেই সংসার নীরাে দাদা জুচ্চরি করে ভাঙ্গছেন। আমি প্রতিজ্ঞা করেছি, দেখব, ( নিতাই উকীলের প্রবেশ) ওঁর কতদুর জুরি। বৈদ্য। তুই খেপেছিস-খেপেছি। ছোড়া হারে নিতে, কোলকেতায় বসে—এই সব गा। দেখিল বুঝি ? মন্মথ। আজ্ঞে না, আমি খেপি নি। অনেক রাত্রি নিতাই। দেখলুম বই কি—কি করব বল? জেগে চিন্তা করেছি। আপনি জানেন, অসৎ আমায় কি ঘেসতে দিলে ? পুলিস কে কাটিয়ে নতি হৃদয়ে স্থান দেওয়া কি যন্ত্রণা—সেই দিলুম। নীরেশৈলেনকে বােঝালে कि দারুণ যন্ত্রণা ভােগ করেছি। সত্যে জলাঞ্জলি জানি? যে, আমি শৈলেনের বিপক্ষ হয়ে দিয়েছি-সদিচ্ছায় জলাঞ্জলি দিয়েছি। আমার শৈলেনকে যে ব্যাটা লাঠি মেরেছিল-ঐ শরৎ এখন চিন্তা কিসে নীরাে দাদার সর্বনাশ কি, তারে বাঁচিয়ে দিলুম। আর এখন তার কর্বো। ধারণা যে, আমি পরামর্শ দিয়ে এই পাটিস বৈণ। মন্মথ, তুমি কি মনে করেছ, কোন কুকার্যের সুটটা করিয়েছি। দ্বারা সৎকাৰ্য্য হয়? আমি তােমার মনের অবস্থা বৈদ্য। তা এখন উপায় কি ? বুঝতে পেরেছি। আমার ও তােমার কথা শুনতে নিতাই। বড় বউঠাকরুণের বিষয় কোলে করে করি?

আর নুতন গৃহলক্ষী। ১১৭ নেওয়া-আর কোন উপায় নাই। তিনি এখন ছেলেকে দানপত্র লিখে সর্বণ দিয়েছি, আর রাজী হতে হয়। আমার কি আছে যে দেখবাে ? বৈদ্য। এখন শিবে ব্যাটার হাত থেকে শৈলেনকে বিরজা। কি হয়েছে—সব শুনেছ? শুনতে পাই বা’র কবার কি ? ততা, তুমি বাড়ী থেকে চিঠি এলে খােলদা না- নিতাই। শৈলেন বােঝে তবে তাে ? আর শুধু পড়ে না—অমনি ফেলে দাও। বুঝলে হবে না, ওর cost না দিলে উকীল উপেন্দ্র। শুনতে হবে না, শােনর কিছু নাই। change হবে না। তবে রেল ভাড়া করে এসেছ, না শুনিয়ে নিশ্চিত। বৈদ্য। তা দেখ—যা লাগে, আমি দিচ্ছি। হবে না; শােনাও ! শােনাবে তাে এই-মক নিতাই। ওরে, সে তাের কেরাণীগিরি করে টাকা মা রুজু হয়েছে, বিষয় বখরা হচ্ছে, টাকাকড়ি জমিয়ে পাটিস সুটের খরচ দিতে পারি নি। পাঁচ ভূতে লুটে খাচ্ছে, শৈলেন আবার কোন দেখ,-শৈলেনকে যদি বােঝাতে পারি, তার মাগীর কাছে যাচ্ছে, আর একটা খুননাখুনি পর যা করতে হয়, আমি করবাে। হাঙ্গাম বেধেছে, নীরাে কাকাকে ফাসার বৈদ্য। আচ্ছা, আমি যাচ্ছি। চেষ্টায় আছে,-এই তােনা আর কিছু ? এ নিতাই। সেই দিক ঠিক কর, আর বড় বউকেও সব তত শুনে এসেছি, কতক দেখেও এসেছি বুঝিয়ে সুঝিয়ে দেখা যাক—কত দূর হয়। কি শশানাবে। বিরজা। তুমি রাগ করেই সর্বনাশ ক’বলে, তােমার [ উভয়ের প্রস্থান। দোষেই সব গেল। উপেন্দ্র। রাগ কবৰ না, স্থির থাকবে, বিষয়- দ্বিতীয় গর্ভা। আশয় বন্দোবস্ত ক’বাে-এই বছ? রাগ কাশীধাম-উপেজের বাসাটী। করে আসিনি, আপনার ইজ্জৎ বাঁচাতে এসেছি। সেখানে থাকলে হয় তো অপঘাতে মরুতে উপেন্দ্র ও বিরজা। হতাে। হয় ছেলে মা’তাে, নয় ভাই মারতো। উপেন্দ্র। এ কি—বড় বউদিদি-এসেছ ?-ব’সস। নয় তাে কলঙ্কের ভয়ে আত্মহত্যা করতে বিরজা। না এসে কি করি বল ?-সর্বনাশ হলো এ যে মামলা-মােকদ্দমায় সব যেতে বিরজা। কেন গাে, কিসের কলঙ্ক -কিসের ব'সেছে! আত্মহত্যা ? উপেন্দ্র। যাওয়া কি ভাল নয়। থেকে কি হবে? উপেন্দ্র। কি-কি বল্লেকিসের কলঙ্ক ? তুমি মানুষকে বেশ্যার জন্য গুলী কবে, ছেলে টাকার কি দাদার স্ত্রী নও? তুমি কি সেই বড় বউদিদি জন্য বাপের কথা শুবে না, কাকাকে বাঁধিয়ে নও? আর কি কেউ সেই রকম সেজে দেবে,স্ত্রী স্বামীকে দেখবে না, কিসে ছেলের এসেছে? তুমি ব’লছ—কিসের কলঙ্ক ? বেশ্যা- সৰ্ব্বস্ব হবে—এই নিয়ে দিবারাত্র বিব্রত থাকবে। লয়ে খুননাখুনির মকদ্দমা আমাদের গুটিতে বেশ হচ্ছে, এ টাকা যাওয়াই ভাল। সব হ'লল,-আর বছ—কিসের কলঙ্ক ? ফাকি দিয়ে নিয়েছিলাে, সে তত বেশ ছিলুম, বিরজা। তুমি সৰ শােনন নি, তুমি শৈলেনের উপর চিন্তা ছিল না ; স্ত্রী বশ ছিল, ছেলে বশ ছিল, রাগ ক'রে নীরের নামে সব লিখে দিয়েছ। ভাই বশ ছিল-- সব তােমার নীরের জোটাজোট—তা জানো? বিজা। তা এখন কি মনে করেছ, এইখানে উপেন্দ্র। জানতুম না—তাই শৈলেনের উপর রাগ বসে থাকবে, আর সব যাবে? করে নীরের নামে সৰ লিখে দিয়েছি—সত্য, উপেন্দ্র। তা যা না—আমার কি?-সৰ্বৰ তো কিন্তু এখন দেখছি-খুব ভাল করেছি। যদি আর আমার নয় ? যে দিন শুনলুম-বাড়ীতে সত্য হয়-নীরে কাকাকে ফাঁসাবার জন্যে এত ফৌজদুরী-খুনে মৰুদমা,সেই দিন তাে মতলব খাটিয়েছে, তাহলে বাপকে বিষ দিয়ে যে ?

১১ গিরিশবলী। কর্তা হতে চাইবে এটা বড় বিচিত্র নয়! উপে। ভােলার ব্যবস্থা ঠিক আছে। দা তাইতে তােমায় বললুম-কেন অপঘাতে তােমার র অংশ দিয়ে গেছেন, তুমি নিতাইকে মরুবাে, যার যা ইচ্ছে করুক—আমি নিশ্চিন্দি ডেকে চুপি চুপি আমায় সজন বিবেচনা করে হয়ে শশীবাস করতে এসেছি। দানপত্র করে দিয়েছিল। তাতে লেখা ছিল বিলা। আমি বুড়ো মানুষ-কোথায় যাই। যে, শৈলেন যদি আমায় বসে থাকে, তাকে উপে। কেন ?—তােমার তত সূর্য রয়েছে, আমি তােমার অংশের অনেক দেবাে। তুমি মামলা-মােকদ্দমা করে কোলে করে বিরজা। তবে আমি এখন কোথায় দাঁড়াই ? নাও। উপেন্দ্র। আমি নীরেকে যে দিন সর্বস্ব দানপত্র বিয়া। আমি বুড়াে বয়সে আদালতে দাড়াবে লিখে দিই, তার আগের দিন তােমার গান কোলে করে নেব? পত্রের পিঠে লিখে দিয়ে রেষ্টোরী করে উপেন্দ্র। সে তােমার ইচ্ছে। আমি কিছু সঙ্গে দিয়েছি যে-দানপত্ৰ নামঞ্জুর, দানপত্র স্থির নিয়ে আসিনি, বিষয় পড়ে রয়েছে। তুমি মস্তিষ্কে লেখেন নাই, স্বামীর শােকে বিবাগী আপনার সম্পত্তি রক্ষা করে। পারাে কিছু হবেন মনে করে মস্তিষ্কের তাড়নায় দানপত্র থাকবে-ঠাকুর-সেবাটা চলবে। আমায় বলতে লিখে দিয়েছেন, স্থির মেজাজে লেখেন নাই, এসেছ-মিথ্যে, আমার তো হাত নাই। সুতরাং তা নামঞ্জুর। তুমি যাও, তােমার বিষয় যদি আর একদিন দেরীতে আতে, তা আশয় দেখে নাও গে। হ'লে আমায় হেতা আর দেখতে পেতে বিরজা। আমি অত পাবদা না, আমারও খান না, আমি এখান থেকে চলে যেতেম ; কোথায় কতক কাগজ বের করে না, তার স্বাদ থেকে যেতেন—খবর পেতে না,আর যাও, নইলে আমি বৃন্দাবনে বসে খাই, ঠাকুর দর্শন তো জ্বালানের হাত থেকে বাঁচবে না ? বিরঙ্গা। কেন ?—আমি এসেছি ব'লে—তুমি উপেন্দ্র। এই না তুমি বিষয় রক্ষা করবার জন্যে আপাতন হয়েছ? আমায় অনুরােধ ক’চ্ছিলে? আমার হাত উপেন্দ্র। তুমি একা নও, নীরদের গর্ভধারিণ নেই, তুমি যা পারো টেনেটুনে রাখো, যদি এসেছেন। কেন—জানে? আমি কিছু থাকে ঠাকুরসেবা চলবে । ওরাও যখন নীরদকে বিষয়-আশয় সব দিয়েছি। আমার মারামারি কাটাকাটি করে ফতুর হবে, নামে কিছু কোম্পানীর কাগজ আছে, আমার থেকে যদি দু’মুটো দাও—খেতে পাবে। নইলে খরচ চলার জন্য সে আলাদা করে রেখেছি। সব যাবে। এখন • দেখাে-তােমার বাসী নীরবাবু, মকদ্দমা-খরচার টানাটানি হচ্ছে, করাে । সেই কাগ ভাঙ্গাতে চান,সেইজন্য এসেছেন। ( দুই রগে পান দিয়া তরঙ্গিণীর প্রবেশ । কাৰ ৰুগড়া করে মাথা ধরে পড়ে আছেন, তর। হাততামাদের জ্বালায় মানুষ কাশীবাসী তাই এতক্ষণ উঠে এসে তােমায় গলাধাক্কা দেন হয়েছে, এখানে গাড়ী ভাড়া করে এসেছ নাই। তােমার কথা বলা হয়েছে, শুনেছি, জ্বালাতন কতে। তালয় ভালয় চলে যাও। ভাল চাও~-দেশে বিরা। আলাতন করবাে কেমন করে ? ফিরে চাও, কারুর মুখ চেয়াে না, নিতাইকে তুমি আগে এসে অগিলেছ? মেজো বউ, বলে আপনার বিষয় কেয়ালাে করে নাও, তোর লজ্জা নাই--সরম নাই,-ছেলেকে নইলে ওদের সঙ্গে জড়িয়ে থেকে পথে ফুসলে ফাসলে সংসারটা ছারেখারে দিতে বসেছিস্? বিরজা। তুমি তাে আপনি নিশ্চিন্ত হয়েছ, আমার তর। আর তুমি সৰ বজায় রাখতে বলেছ ? ব্যবস্থা করে দাও নি কেন? চলো—আমার তুমিই তো লাগানি-ভাঙ্গনি ক'রে দেশত্যাগী ব্যবস্থা করে দিয়ে আসবে। করিয়েছ। “ভাই ভাই” করে তো মঙে করি। তাই আমি চলুম। সেছিলো এখনাে মনস্কামনা পূর্ণ হয় নাই উপে। আমিও চললুম। তাই এখানে এসেই। কেন গে-কেন গাে-তােমাদের যেতে বিজা। মনস্কামনা পূর্ণ আমার হবে না কেন হবে কেন?••আমি যাচ্ছি পরামর্শ টো। তােমার হয় নাই এখনাে তোমার দেওর [তরঙ্গিণীর প্রস্থান। ময়ে নি, এখনাে আমি বেঁচে আছি। আমার বিষয়ে ভাগ আছে, এখনাে যা হােক উপেনের উপেক্স। দেখলে, এখন যা ইচ্ছা হয় কয়। হাড় খানা খাড়া আছে, এখনাে তােমার [ উপেন্দ্রের প্রদান। পূরো গিন্নী হয় নি। বিকা। কাশীনাথ, অপরাধ নিও না, আমি আর তর। তােমার মুখে আগুন লাগুক-মুখ পুড়ে কারাে মুখ চাইবে না। যাক—একথা কুকথা বলে গাল দিতে এসেছ। [ স্থান। আলালের ঘরের দুলাল মােনাকে সর্বস্ব দিতে পারনি বলে হিংসেয় ফেটে মঞ্চ। বাড়ীর গিন্নী-বাড়ীর কল্যাণ করেন। তৃতীয় গর্ভাঙ্ক। উপেন্দ্র। তুমি দাড়িয়ে কি শুনছ? আমি তােমায় কুমুদিনী কক্ষ। শ যেতে বল্লে যাবে না। তা থাকো দু’জ- নায় ঝগড়া করে। মেজো বউ, শােননা, যদি শরৎ ও কুমুদিনী। এখান থেকে তুমি বিদেয় না হও, আমি বিদেয় শরৎ। আজ থেকে আমি এ বাড়ীতে আর আসবে। হলুম। হয় তােমরা দু’জনে বিদেয় হও, নয়- । তােমার মা যে আমায় দেখলেই ঝগড়া কবেন, আর আমি তােমার ঘােসামােক করতে তর। বিদেয় আর কি–বিদেয় তো হয়েই আছি, আসবােতা হচ্ছে না। আমায় চাও, এ বাড়ী ভাল কথা বলতে এয়েছিলুম—মন্দ হলাে। থেকে বেরিয়ে চল। তা কি পরামর্শ করূবে করে দেওর-ভেঙ্গে কুমু। কোথায় যাব?-তাের এক পয়সার মুরােদ আমি চলে যাচ্ছি। আমার নীরে বেঁচে থাকুক, এক মুটো অর দেবে, কারাে পিত্যেশী শরৎ। চল—আমি ঘর ভাড়া করেছি। আর আমি নই যে, ‘বড় দিদি-বড় দিদি- কুমু। ঘর তত ভাড়া করেছি—আমার পেট করে বাদীগিরি কবাে। চালাবে কে ? বিরজা। না, তােমার সে দিন কেটে গিয়েছে। তাই শরৎ। গয়নার বাক্স নিয়ে চল, বেচে কিনে একটা রগে পান দিয়ে ঝগড়া করতে এয়েছ। এখন কারবার কবাে। আমিও বাড়ী ছেড়ে-মাগ- মনােবা যা আছে, তা মায়ে বেটায় পূর্ণ করো। ভাতারের মতন দু’জনে থাকবাে। তবে তােমার বেটাকে বলে আমার বখরা কুমু। তুমি কারবার করবে। এই তিন বার ভারি আমায় দিইয়ে দাও। আমি ঠাকুরবাড়ীতে ভারি গয়নাগুলাে নে গিয়ে কারবার কলেন। পড়ে থাকবে, তােমাদের ছায়া মাড়াতে আসবাে আর আমার আছে কি ? না। শরৎ। যা আছে-এখন ঢের আছে-নে। তর। ইস্তা হলে তাে সব হেজে যাবে কুমু। ঐ ক’খানা পেলে বাচ বুঝি ? মজে যাবে। গিন্নী-গিন্নীত্ব করবেন না ! শরৎ। বাঁচা মরা কি ? সে গয়না বেচে কি আমি তোমার আবার বিষয় কি, তুমি তো সব কারবার করেছি? সে তাে তোরে বলেইছি দিয়েছ। বিধবা মেয়ে মানুষের আবার বিষয় -আমি খরচ করেছি। মাইরি বলছি—এবার কিসের ? শূর্পণখা হয়ে তাে সব জালিয়ে কাজকর্মে মন দেবাে; হাজার দুই টাকা পেলে পুড়িয়ে খেয়েছ। কলার কারবার করে দু'দিনে ফেপে উঠবে। বিয়া। উপেন, আমি চললুম। তাহলে তাের ঘরে আর মানুষ জন আনতে নেই। ০ হবে না, আমারও কারাে মােসাহেবি ফরুতে শরৎ। চলাে। হবে না। হীরু। গােটা আষ্টেক চুড়ী দােগাড় করতে হবে। জুমু। না ভাই, তুমি যেমন আসছে—এস। শরৎ। তার আয় ভাবনা কি? (কুমুদিনীর মাতার তুমি যখন আসবে, যে থাকুক, আমি উঠিয়ে এতি) ওগাে-আজ থেকে বিদেয় হলে বাছা, নেবাে, আমি তােমার সঙ্গে যাবাে না। শেষে আর তােমাদের বাড়ীতে আসছি না। কি তিকে করবো? কু। কেন আবিনি—কেন আসবিনি। আমি শরৎ। তবে তুমি আমায় চাও না? তােরে কি বলেছি। কুমু। সে তুমি যা বলাে, আমি আর গয়নাগাটি শরৎ। কে ৰাৰাএ কচকচির ভেতরে আসে। বেচবাে না। [ হীরু ও শরতের প্রস্থান। শরৎ। ওঃ! বুঝেছি-বুঝেছিৰাৰ দিচ্ছ, তা কুমু। (মায়ের প্রতি) দেখ, হারামজাদী, শরতা স্পষ্ট করে বলেই তাে হয়! যদি না আসে, তােকে আমি বাড়ী থেকে দূর কুমু। এর আর স্পষ্টাস্পষ্টি কি? আমি কি মনাে? করে দেবাে। এই ফৌজদারী হওয়া থেকে কোন মানুষের মাতা। তা দিবি বই কি,তা না হলে পিরীত ছেলে তাে তাের ভয়ে আমার ঘরে আসতে চায় চলবে কেমন করে? । আর ৯টা না বাজতে বাজতে তত তুই কুমু। তবে রে হারামজাদী! এই কাণা বৈরাগীকে আমার ঘরে এসে বসবি। নিয়ে তুমি পিরীত করাে না! ঝাঁটা মেয়ে মুখ শরৎ। আর আমার এই বুকের উপর দে’ যে ভেসে বোে। বাগান মাচ । আমি এক দিন একটা কথা মা। অ দিবি বই কি? পােড়ারমুখী, আর্সিতে বলেছি। আমি আপনিই স’য়ে থাকি। যদি নিজের মুখ দেখতে পাও না? “দাদ-দাদ” আমার সঙ্গে আলাপ রাখতে চাও, চলাে, গয়ন- বলে আর কত দিন চলবে। রং ঢাকা গুলি বেচে কয়লার কারবার করি, দু'জনে দিয়ে আর ক'দিন;ঢাকবি। যখন সর্বাঙ্গ ছেয়ে থাকি। আর না চাও—এই পৰ্যন্ত। নেবে, শরতা কোথায় থাকে-দেখবাে। (কুমুদিনীর মাতার প্রবেশ) কুমু। দাদ নয় তাে কি রে হারামজাদী, তাের চোখে মাতা। হ্যাগা—তুমি কেমন ভদ্রলােকের ছেলে গা, আগুন লাগুক। মেয়ে মানুষটাকে পথে বসাতে বসেছ। আবার মাতা। তুই --মহাের বাড়ী আমি থাকতে গয়না নিতে এসেছ? চাইনে। [ প্রস্থান। কুমু। খুব করেছে, তাের বাবার কি? হারামজী কুমু। বেয়ে বেটি । বেনাে- [ প্রস্থান। মাতা। হা লােহা-বেয়ােবব বই কি? পিরীত করে টুনি নিয়ে দোরে দোরে ঘুৰি। চতুর্থ গর্ভাঙ্ক। কুমু। দূর হ’-হারামজাদী, নইলে বেটিরে শৈলেনের কক্ষ। মুখ ছিড়ে দোৰ। (হী ঘােষালের প্রবেশ) শৈলেন্দ্র ও সরােজিনী। হীরু। আরে থামাে থামাে-ঝগড়া রাখাে-শরৎ শৈলেন্দ্র। আমিও পথে বসলুম, তােমাকেও পথে চলে এসাে—দাও আছে-একটা দাও আছে। বসালুম। নীরা আমার সর্বনাশ করেছে। শরৎ। কি রকম—কি রকম ? সাে। তা তুমি ভেবাে না, দিন এক রকম করে হী। আরে এসাে না বলছি—গােটা কত মেয়ে যাবে। আমি রাখব বাড়বেতােমর মানুষ যােগাড় কতে হবে। ঐ মােন একটা সেবা কবে-তােমার কোন কষ্ট হবে না। দাও খেলেছে, চলাে না শুনবে। একখানি গাড়ী রেখে—বেড়াৰে=একটা চাকর ?

গৃহলক্ষী। সৈখােনইরের কাজকর্ম কবে-তা হলে কিছু দিয়ে হ্যাণ্ডনােট সই করিয়েছে। তাদের তাের কি কাছে তাে টাকা আদায় হবে না, ও এখন শৈলেন্দ্র। কি হয়েছে তুমি জানাে না, তাই আদালতে বলতে চাচ্চে যে, আমার কাছে যেন বছ—ক কি? আমি পথে বসেছি। হ্যাণ্ডনােট কিনে নিয়েছে। তাদের কাছ সরাে। কেন-কেন-তােমার তাে বখরা আছে, থেকে টাকা আয় কতে পাচে না, আমার বখরা তো পাবে। কাছ থেকে টাকা আদায় করবে। আমি সে শৈলেন্দ্র। বৰা কৰে হবে, তা জানি নি; এখন টাকার জামিন হয়ে পড়েছি। নীরের কাছে লাখের উপর দেনা হয়েছি, আমায় সরাে। তুমি কি সে সব ৰেচেছ। করে বলে দেয়। শৈলেন্দ্র। বেচবাে কেন--বল্লুম তাে বুঝতে সরাে। কেন—তুমি তাে এক পয়সাও ওর কাছে পাবে না। এই শিবু উকীলকে দিয়ে আমার বার করে নি, ওই বরং তােমার কাছ থেকে ঠেছে একখানা চিঠি নিয়েছে, আমি যেন টাকা নিয়ে গিয়েছে। মজমা-খরচার জন্যে হ্যানেটগুলাে নীরােকে শৈলেন্দ্র। কি করেছে জানাে? আমায় তাে বেচেছি। মােনা আমায় বলেছিলাে, আমি ফন্দী করে মার খাওয়ালে। তার পর রাতদিন বিশ্বাস করি নাই, আজ নানাে উকালের চিঠি সেবা, খুনি মকদ্দমা—আমার কাছে নাকে দিয়েছে সেই চিঠি পড়ে দেখি-এই সর্বনাশ! কেঁদে বলতাে, “কাকাবাবু, খুনি মকদ্দমা, সরে। তুমি কি করূবে মনে করেছ? আমার কাছে টাকা নাই, বাবা টাকা দিতে শৈলেন্দ্র। মনে করেছি, এ বাড়ীর অংশ বেচে চাচেন না, কি করবাে ?” আমি হ্যানােটে এখান থেকে চলে যাব। নীরে দিন দিন ধার করূতে চাইলাম, তা কি কলে জানাে? আমাকে যে রকম বিপদে ফেলার চেষ্টা কছে, সমে কি করলে? আর এখানে থাকতে সাহস হয় শৈলেন্দ্র। শােন মতলৰখানা, আমায় বল্লে কি । আমার Share বেচলে নগদ টাকা কিছু জাননা? আমি তােমার নামে কতকগুলাে হাতে পাব, তাতে শিবু উকীলের cortএর টাকা হানােটে সুদে খাটিয়েছি । সেই দেনা কতক চুকবে, আর কিছু টাকা দিয়ে তাল- হাণ্ডনােটগুলাের পিঠে তুমি সই করে দাও, তলায় এখানি বাড়ী দেখে এসেছি,তােমার নামে আর তােমার কাছে যারা ধার করেছে, তাদের কিনবে! সেইখানে গিয়ে থাকবে। তবে টাকা- নােট যদি তােমার কাছে থাকে, তাতে সই কড়ি সৰ আদালত থেকে আটক হয়েছে। পেট করে দাও, আমি সেইগুলাে 'বাধা রেখে টাকা চবে কিসে, সেই এক ভাবনা। যােগাড় কচ্চি। আমি বিছানায় পড়ে, অত সরে। আচ্ছা আমার কত টাকার গয়না ? ফন্দি বুঝতে পারি নিসই করে দিয়েছি। শৈলেন্দ্র। বেচলে হাজার পাঁচ ছয় হবে। সরা। হা হা, আমায় উঠে যেতে বলতো, কি সরাে। তাতে মুদিখানার দোকান হয় না? সই কতে বটে। তা—তাতে কি হয়? শৈলেন্দ্র। এই যে-তুমি একটা নােজগারের উপায় শৈলেন্দ্র। সেই সমস্ত হ্যাণ্ডনােটের টাকা আমার শিখেছ দেখছি। কাছে আয় করবে। সন। কেন কেন-তাতে দোষ কি? আমি সরাে। কি করে ? মােনার ঠেয়ে শুনেছি, খেটে খেতে দোষ নাই, শৈলে। বলছি, কিন্তু তুমি তা বুঝতে পাবে না। মােনা মিথ্যে কথা কয় না। তবু-বলছি শোেন—কত বড় ফনীটে শােন শৈলেন্দ্র। তাই মােনাতে তােমাতে মুদিখানার সনে। এর কি কোন উপায় নেই। দোকান করাে। শৈলেন্দ্র। কি করেছে শােন- বলেছিল যে, আমার সরাে। তুমি না বলে কেন কৰ? নামে টাকা ধার দিয়েছে-সে মিছে কথা। শৈলেন্দ্র। তােমার কথা শুনে আমা’ বুক ফেটে আটাকহক হাটে ছোড়া নিয়ে, তাদের কিছু যায়। ০ বি! ; ২২ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। সরাে। আমায় মাপ করাে, আমি আর কিছু শােন নি?—আমাদের সব ঠকিয়ে নিয়েছিল বলব না। রাধাবল্লভী আবার পাইয়ে দিয়েছেন। এসে শৈলে। শােন সনজিনী ; তােমার মত নির্মল -এসাে। স্ত্রী হয়, আমি স্বপ্নেও জানতেন না; আমি [ শৈলেন্ত্রের হত ধরিয়া-সনােজিনীয় স্থান। রত্ন চিনলুম-কিন্তু শেষে। এই বন্ধু আমার ধুলােয় লুটাবে। এ খেদ আমার রাখবার জায়গা নেই। তুমি সিংহাসনের ষােগ্য, তোমায় পঞ্চম গর্ভাঙ্ক। আমি বুদ্ধির দোষে পথে ৰসালুম। আমায় উপেত্রের বাটী নীরদ ও ফুলী। সরাে। কেন তুমি অন কচ-আমি তাে পথে ৰসিনি ! তুমি ভেবাে না, দিদি বলতেন, মােনা নীরদ। শােন-শােন- বলে,-যে ধৰ্ম পথে থাকে, ধর্ম তার রাত ফুলী। শুনবে কি-তােমার সঙ্গে আলাপ করতে দুপরে অল্প জোটান! তুমি তো কখন অধর্ম আসি কি না, তাই শুবাে? করােনি! আমিও অধৰ্ম্ম করিনি,আমি নীরদ। তবে কার সঙ্গে আলাপ করতে এসাে- কখনাে মিথ্যে কথা কইনি,আমরা দুঃখ পাবাে মন্মথর সঙ্গে ? , তুমি ভেবাে না। ফুলী। হাঁ, মন্মথর সঙ্গে,-তার চাল নাই, চুল নাই শৈলেন্দ্র। অধৰ্ম্ম করিনি ?-তােমায় ফেলে কাল- -মন্মথর সঙ্গে। সাপিনীকে বুকে নিয়েছি ; দেবতা সাক্ষী নদি । তবে কার সঙ্গে শুনি করে তােমায় বিবাহ করেছি, তােমার ভার ফুলী। কেন, ছােটবাবুর সঙ্গে। যার তােমাদের নেবাে অঙ্গীকার করেছি, সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ বিষয়ের দুবখরা। বড়গিন্নীর বিষয়ের এক হয়েছে,-আমি অধম, নীরের চেয়েও অধম। বখরা। সে এখন তার মেয়েমানুষ ছেড়েছে, নীরে আপনার স্বার্থ দেখে, আপনার স্ত্রীকে আমি যদি জুটতে পারি, মানুষ হয়ে যাবে। পথে বসায় না। আমি অলস, আমােদপ্রিয়। নীরদ। হাঃ হাঃ- আমি তােমার সর্বনাশের হেতু। ফুলী। হালে যে ? সময়। তুমি কেন এমন কচ্ছ, শুনেছি—বয়েস নীরদ। ছােট বাবু পথে বসেছে—তার এ বাড়ীর কালে এমন সব্বাই করে। দেখ—আমি কিছু অংশ আমি কিনেছি, তাকে এখান থেকে উঠে মনে করিনি, তােমার পা ছুঁয়ে বলচি । যেতে হবে। শৈলেন্দ্র। যদি আমায় কেউ জিজ্ঞাসা করে যে, ফুলী। উঠে যেতে হবে কেন ? বড়মার বাড়ীর সকলের চেয়ে পাপী কে? আমি উত্তর কি অংশ বড়মা তাকে দেবে। দিই জানাে, যে আমোদপ্রিয়, ব্যভিচারী, সেই নীরদ। তুই বুঝি তাই মনে করেছিস? সে হবে মহাপাপী। ব্যভিচারী চোর হয়, খুনে হয়, না-সে হবে না। সে কাকা বাবুতে বড় বংশের পিণ্ডদাতা সন্তানকে রােগগ্রস্ত করে, মা’তে মন-ভাঙ্গাভাঙ্গি হয়ে গিয়েছে। আর নিজে কলুষিত হয়, স্ত্রীকে কলুষিত করে, সন্তা- বড়মা’র বিষয় ?-সে এখন মকদ্দমা চলু, তার নকে কলুষিত করে, বংশের ধারা কলুষিত করে। পর নেবে। বড় মা বাবাকে সব লিখে দিয়েছে। কিন্তু আর উপায় নেইআক্ষেপে ফিরবে না। ফুলী। লিখে দিয়েছে বই কি? আবার তােমার সমাে। শােন শােন-আমি উপায় ঠাউরেছি। বাপ উল্টে তােমার বড় মা’কে লিখে দিয়েছে এসাে এসো—রাধাবল্লভজীর কাছে চলে নীরদ। তুই কি করে জানলি? মন্মথ বলেছে আমরা দুজনে রাধাবল্লভীর কাছে দুঃখের বুঝি ? কথা জানাই—রাধাবল্লভী উপায় করবেন, খুলী। হাঁ, মথ ত বলেছে। -সত্যি বলচি সত্যি বলচি। দিদি বলতেন নীরদ। এ সব কথা মন্মথর সঙ্গে হয় বুঝি ? / b গৃহলক্ষী। ১২ कलीग বইকি, সে যে আমায় ভােলায়। বলে 'ফুল। তােমার কথায়ই আমার বিশ্বাস হয় না। মি বড় মা’র বিষয় পাৰে, তােরে দেবে। তুমি কি কম দমটি আমায় দিচ্ছিলে। আমি সে তােলবার মেয়ে নই। আমি একটা মীদ। দুই তবুৰৰিম? দাও মাৰ ৰ'লে এত দিন অপেক্ষা কচি,নইলে ফুলী। দম নয়।আমি পড়তে জানি, তুমি আমায় কত লােক সাধাসাধি । হাওনােট দেখাতে পারাে? নীর। তাই হােটবাবুর কাছে দাও মারবে মনে নীরদ। দেখাতে পারি, তুই পড়া। ক’চ্ছে। তা সে জো নাই—সে জো নাই- সুলী। অনেকক্ষণ কথা ক’চ্চি, আমি চললুম, বাড়ী তে নিয়েইচি, আর মন্মথকে জিজ্ঞেস লােকে কি বলবে! যদি দেখাতে পার, আর কৰি-আমি তার সব হঠাণ্ডনােট এড়ােস হাজার টাকা দাও,তুমি যা বলল শুনি। করে নিয়ে তারে ভাসিয়েছি। তুই তাে লেখা- নীরদ। আচ্ছা, আজ রাত্রে তুই আমাদের সিথির জানিস—বুঝি তাে? আমি সেই আগুননটের বাগানে যা, শেমমা তােরে গাড়ী করে নিয়ে টাকা তার কাছে আদায় কবো- বুঝেছিস? যাবে। সেইখানে টাকা দেবাে, আর হ্যাণ্ডনােট ফুলী। হা-হা-শুনেছি বটে। আমি চলুম। দেখাবাে। নীরদ। চল্লি কেন-চল্লি কেন-শােন না? তুই । আমি সে মেয়ে নই, আমি কায়দার ভেতর বড় মানুষ হতে চাস? আমার সঙ্গে আলাপ যাব না। যদি আলাপ করতে চাও, তােমাদের ক--আমি তাের ভাল করে দেবে। শিবের মন্দিরে যে অতিথির ঘর আছে, সেখানে ফুলী। হাঁ, তুমি আমার ভাল কবে ! তােমার আলাপ ক’তে পারি—সেখানে লােকে দেখ,- শরীরে ভালবাসা আছে ? লেও আমায় কিছু ববে না, সেখানে হামেস। নীরদ। তুই যে বিশ্বাস করি নি-আমি তােরে যাওয়া আসা করি। আর তুমিও তো যাও, ভারি ভালবাসি, এক দিন যদি তাের না দেখি, রাত ১০ টার পর দেখা করবাে। আমার প্রাণ কেমন করতে থাকে। সত্যি ফুলি, নীরদ। এই কথা তাে ? আমি তাের জন্যে মরি। ফুলী। আমার কথা ঠিক, তুমি ঠিক থাকলে হয় । ফুলী। তুমি কারাে জন্যে মরাে না, তােমার কথা [ ফুলীর প্রস্থান। আমি বিশ্বাস করি না। নীরদ। বেটীকে একবার বাগে পেলে হয়, বেটী ভারি নীরদ। কি হ'লে বিশ্বাস করি? পাজী। হাওনাের্টগুলো দেখিয়ে বেটীর বিশ্বাস লী। সত্যি কথাটি বলল দেখি, মন্মথর সঙ্গে ষড় জন্মাবে; টাকা চাইলে বলবাে উকীলকে করে আমায় দম্ দিচ্চ কি না? দিতে হয়েছে, হাতে টাকা নাই, কাল দেবাে। নীর। কি দম্ দিলুম? টাকা শশা খানিক দিলেই বেটী বিশ্বাস কবে ? লী। কি দম্ দিলে ? ছােট বাবু এমনি আগ', বেটীর কি চমৎকার দুটি ঢলঢলে চোখ। তোমায় সব সই করে দিলে-নয় ? তোমার (তরঙ্গিণীর প্রবেশ) বাপ, যা তােমায় তেজ পুর কবে-“তুমি আমার ভাল করে দেবে। কি না, কি হলাে ? নীরদ। কে বলে যে-কে বলে রে ? তর। দিলে না। তার উপর তােমার বড় মা’র সে যে বলুক ; বড় মা আর কি করূতে কাশী ভংচি,-সে বাড়ী ছেড়ে বেরিয়ে চলে গেল। গিয়েছেন? আমি তাঁর সঙ্গে দেখা ক'রে জিজ্ঞেস চাকরেরা বলে, কোথা রেল-ভাড়া করে করতে এসেছিলুম,-“কি হলাে?” তা—তিনি যাচ্চে। তত ফেরেন নাই। আমি ছােটবাবুর বাগানে নীরদ। থাক, আমি ঠিক করে দিচ্ছি। আমি চলুন। পাগল হয়েছে বলে দরখাস্ত লিখে রেখেছি, নীরদ। চবি কেন—চবি কেন-শােন না। কাল আদালতে দাখিল কৰ্বো। কি চাস বল না, আমি দিচ্চি। তর। তুই দরখাস্ত করে কি করবি? কোম্পানীর । , ফুলী।

কবি? ১২৪ গিরিশ-অস্থাবলী। কাগজগুলাে যে তার মে-তুই কি করে রচা কত? বাড়ী পেরেছেীকার করি। তুমি ডিক্রীজারি করে, attach করে, বেচে শীরদ। সে ব্যাঙ্কে জমা আছে—সে ব্যাঙ্কে জমা কিনে নিতে পারবে? সে খরচ জোটাতে আছে। সে ঠিক হবে এখন। আর তারে পাৰে? তা চেয়ে নগদ টাকা পাচ-নিয়ে পাগল সাব্যস্ত কতে হবে। নইলে বড় মা যদি নাও। মকদ্দমা করে, তাহলে বড় মা’র অংটা বার মথ। কত টাকা দেবেন। করে নিতে পাৰে। নীরদ। দু'হাজার টাকা নে। তর। ওরে পাগল বলে কি হবে ? মন্মথ। আমি ও পুড়িয়ে ফেলবাে-দেবে না। নীর | জান না-মানপত্র ফিরিয়ে দে গেছে। আমি শিবু। আচ্ছা-আচ্ছা-চার হাজার টাকা নাও। বল্যাে-পাগল হয়ে এই কাজ করেছেন, মন্মথ। পাঁচ হাজার টাকা দেন-অর্ধেক করে দেন। আদালত তা বিশ্বাসও করবে, থাকা খাকা শিবু। ওহে-জাও গে যাও-চার হাজার টাকা কেউ বিষয় ফিরিয়ে দেয় । ঢের হয়েছে। হাইকোর্ট সুট-পাচ সাত হাজার তর। ঠিক হয় ঠিক হয়, যদি করতে পারি, তা টাকা খরচা পড়ে যাবে কোথায় পাবে ? হলে বড় গিরীও জব -ও-ও হয়। হীরু। বােকা—বােকা,-বলে বুঝবে নীর। মা, তুমি রেল থেকে এসেছ, ঠাণ্ডা হও গে, বলে বুঝবে না! আমি সৰ ৰবাে এখন। মন্মথ। আমি কিন্তু নগদ টাকা নেবাে। [ তরণিীর প্রস্থান। শিবু। আচ্ছা আচ্ছা, তাই হবে। আমার অফিসে টাকার ভারি দরকার। শিবু উকীল যদি নিয়ে যেও। মােনাকে ৰাগিয়ে শরতার হাওনােট দুখানা মাখ। কখন? হাত কত্তে পারে, তাহলে এক ঢিলে দুই পাখী, শিবু। কাল ১০টার সময়। —ফালে কিছু টাকা পাওয়া যায়, আর মন্মথ। আমি কিন্তু চেটেক নেবে না, নন্দুরি শরত ব্যাটাও একটু কষ্ট হয়। পার্বাে কি ? নােটও নেবাে না, নীরে। দাদা আবার নােটর দেখা যাক, বুদ্ধিবলে কি না হয়। নম্বর আটক করে দেবেন। নীরদ। অা—এমনি আর কি। (হীরু ঘােষাল, মন্মথ ও শিবু উকীলের প্রবেশ) মম্মথ। না—তুমি সব পার। এই যে শরতাকে মন্মথ। এই তত নীয়ােদ রয়েছেন, কি বলছেন- নােট দিয়েছিলে, তার নম্বর আটক করে বলুন? দিয়েছিলে। হীরু। তুমি তাে ভারি বােকা, নগদ টাকা পাচ্ছ- নীরদ। সই করে দিবি তাে। নিয়ে যাও না। তুমি কি শরতের কাছে কিছু মন্মথ। না—তা কৰাে না। আদায় কতে পারে ? শিবু। ও ছােট বাবুর Blank endorse আছে । মৎ। না, পাবো না-নীরাে দাদা কঁচা ছে সই করতে হবে না। তবে ঠিক রইল। কি না? তাই টাকা দিয়ে শরতের হাওনােট মন্মথ। হ্যা। মিম্মথের প্রস্থান। দু'খানা নিতে চাচ্ছেন? উনি সন্ধান পেয়েছেন, নীরদ। কি বুঝতে পারলুম না ব্যাপার কি। শরৎ রিপন রাইটে দশ পনের হাজার শিবু। ব্যাপারটা কি জানাে, শরতকে ছোট বাবু টাকার বাড়ী পেয়েছে, তবে হ্যাণ্ডনােট কিনতে পাঁচ হাজার করে দু'বারে দশ হাজার টাকা ধার চাচে। আমি দুখানা ছােটবাবুর কাছে গিয়ে দেন, সেই হাওনােট ময়ূথ কি জানি কি ক'রে এমড়ােল করে নিয়েছি, আমি ও দুখানা দেবে সই করে নিয়েছে। , আমি শরতের বাড়ী বেচে আদায় করবে। নীয়। তা হলে সব হাওনােট ঘােটকাকা আমায় শিবু। সে নানা নটি তা জানো? মকদ্দমা সই করে দেয়নি? ফি পজি দেখেছ! আরও করে আদায় কর তােমার কী নয়। মকদ্দমা গুনােট ছিল।

গৃহলী। ১২৫ শিবু। তাই তাে দেখছি। তার গল্প শুনুন, এখন দিন বিক্রী হয়ে গেছে। লােকে খিদের চোটে মােন কি করে সন্ধান করেছে, শরৎ তার মার পাটকেলে কামড় দেয়—এ তাই। বাপের বিষয় পেয়েছিলাে, মা মারা গেছে, ও হীরু। শিৰু বাৰু, এদের গতি বড় ভাল নয়, এই এখন সেই টাকা আদায় ক’তে আমার কাছে সময় যা কিছু পাওয়া যায়, হাতিয়ে নাও। নিতাই গিয়েছিল। আমি আপনাকে বলে গেলুম না, উকীল যে রকম লেগেছে, বড় বউয়ের বিষয় একটা দাও আছে ? ও সেই দুখানা ওনােট। কোনাে না করে ছাড়ছে না। হীৰু। শিবু বাবু, ঐ ফাগুনােট দুখানা পেয়েই শিবু। আমি আর তা ভাবছিনি? বড় বউকে দশ নালিশ করে দেবেন। শত টো নীয়রা বাবুকে বছরের আয়ের ভাগ দিতে দু'পক্ষই জেরবার যাচ্ছেতাই বলে গালাগাল দেয়। আবার হয়ে পড়বে। শাসায়-বাগে পেলেই খুন কৰ্বো। হীরু। তা হলে শৈলেনের খরচা যে আপনি ঘর 'শিবু। ঐবিষয়টা পেয়েছে কি না। তাইতে নফর থেকে চালাচ্ছেন, তার কি হবে ? চপর হচ্চে। ঐ attachment before শিবু। বাড়ীর share বেচে কিছু দিয়েছিল,আর Judgement করে আমি শীল ফ’চ্চি। নীরদ বাকী আছে, তার একটা উপায় করতে হবে। বাবু, কাল যেন টাকাটা পাই। তা না হলে হীরু। তা হলেই হলাে, তা হলেই হলো। আমি ছোঁড়া আবার অন্য কোন উকীলের কাছে যাবে, আপনাকে প্রথম জুটিয়েছিলুম। আপনি ফাকে সে নিজে খরচা দিয়ে ওর হয়ে মােক কৰে। পড়লে আমার কলঙ্ক হবে-কলঙ্ক হবে। নীরদ। শরত ব্যাটাকে জব্দ কতে পালে হয়, (খামার প্রবেশ) ব্যাটা আমায় ফাসাবার যােগাড় করেছিল। শ্যামা। বাবু বল্লেন, উনি টাকা আনার বাড়ী হী। ওঃ, গাল যে দেয়। একবার বাড়ীখান পাঠিয়ে দেবেন। শীল করুন তত তা হলে ব্যাটার একবার গান বুঝি। যষ্ঠ গর্ভা। শিবু। বসবাে কি? চেক একখানা দেবেন? উপেরে অতিথিশালার পশ্চাদ্ভাগ। নীরদ। দেখি, অত টাকা ব্যাঙ্কে হবে কি। মন্মথ ও শরৎ। [ নীরদের প্রস্থান। মন্মথ। তােমার নামে শীগগির হাট নালিশ হবে। তুমি জবাব দেবে, তুমি যা শুনােট দাও হীরু। শিবু বাবু, মােন পাঁচশো দেবে বলেছে, নাই-ও লাল। আপনিও পাঁচশাে দেবেন, শৈলেন বাবু ফেল শরৎ। তা আমি সই করেকি করে বলব যে জাল ? হওয়া ইস্তক তেমন কোথাও কিছু হাত লাগছে, মন্মথ। আরে তাতে তােমার কে " নেই, এ না। জাল কমার বিচার কেবল সহ ‘ন হবে না। শিবু। আচ্ছা আচ্ছা, হবে, মকদ্দমাটা দাই না। এর ভেতর একটা মজা আ ধ কাগজে নীয়ােবাৰু বড় চালাক, কিছু আদায় করতে হ্যাণ্ডনােট দু’থানা লেখা, ৬. গ স্বদেশ হবে। মিলের, মােটে মাস আষ্টেক ’ 'মদ খােবা হীরু। কি করে—কি করে ? হয়েছে। আর তােমার হাও, তারিখ শি। পাড়াও না, আগে affidavit করে হচ্চে আড়াই বছরের .•* । যখন আদালতে দু’থানা হাওনােট ফাইল করি। এই হাওনােট সই করেছে, ৩০ কাগজ বার মানকে শ্রীঘর দেখতে হবে, নয় যা জন্মায় নি, ঐ কাগজই জাল দবে। চাইব, তাই দিয়ে মেটাতে হবে। দু'খানা হাও শরৎ। কিছু হবে বলতে পারে । নােটই জাল, মােন খুৰ বুজি করে নতুন ধরণের মন্মথ। জেল হবে। জাল করেছে। আর যে বাড়ীর লােভে নীরদ- শরৎ। আরে না না, আমি ; কৃ দিয়ে চন্দ্র হাশুনােট দুখানি কিচেন, সে বাড়ী অনেক চ্চিনে। নগদ রেস্ত কিছু চ, ।

গিরিশ-অস্থাবলী। মন্মথ। কেন বল দেখি? তুমি ও নীরদবাবুকে দেখলে শুনলে যে অতিথিয় এগুলাে জৰ কৰাৰ জৰ খুৰ নাক করেছিলে? পড়ে যাবে। আপনি শুন গে—আমি দেখে শরৎ। করেছিলুম বটে, এখন আর তা নাই। শুনে আর চলে যাচ্ছি। কুমী বেটীর সর্বাঙ্গে কি বেরিয়েছে। তার অৰ। সে কি ?—তা কি হয়? চলে—আমি রােজগারের পথ বন্ধ হয়েছে। চার ধারে তােমার সঙ্গে যাই। দেনা, দাঁড়াতে পাচ্ছি না, কিছু চাই। নীর। কেন-কেন-ভয় পাচ্ছেন অবধূত মন্মথ। তা’ যা চাও পাবে। নীয়ােদা যখন ন’শায়। মেটাতে আসবে, বিশ, পচিশ, ত্রিশ, হাজার অব। আরে আজ দু’ঝাঁক পরী উড়ে উড়ে এসে যা চাও, দিতে হবে। ঐ বেলগাছে বসেছে! বেহ্মদত্যিই আজ শরৎ। যা থাকে অদৃষ্টে, আমি জাল বলবো বেটার বে-নাচ-গান কৰে। আমার আর কি ? নীরদ। না না-আপনাকে যেতে হবে না মথ। চুড়ী টুড়ীগুলাে এসেছে? আপনাকে যেতে হবে না। শরৎ। সব মজুত,-আমিও মজুত। একবার অব। সে কি ?—তােমার মতলবটা কি। তুমি যদি চারে ফেলতে পার, উনি আর এড়ানে কি পরীর রাজ্যে উড়বে না কি ? । তা ছুড়ীদের কেন, আমরা দু'তিন জন নীরদ। (স্বগত) ভাল বেটা গাজখােরের পাল্লায় হলেই তাে ঠিক করে দিতুম। পড়েছি। (প্রকাশ্যে) হ্যা অবধূত মশায়, মন্মথ। না, কে আবার বলে দিত। দেখােনা, ভুলে গেছি—বড় মা কাশী থেকে এসে আপ- ছুড়ীর ঠিক কৰে এখন। আর চুড়ীদের নাকে কেন ডেকেছেন, বলেছেন এই রাতেই কেউ কোথাও চেনে না, পূজো দিতে এসেছে। দেখা কতে। তোমাদের দল দেখলে অবধূত চিনতে পারুতে। অব। তুমি কেন বলে না—এ রাত্রে যাই কি কি জানি কি হতে কি হতাে, এ ঠিক ক'রে? আজ দুকুর রাত্রে বেহ্মদত্যির বেটার হয়েছে। সিদ্ধেশ্বরীর বাচ্ছাদের সাত বে, আমার পুরােহিতগিরি করতে হবে। পুরুষে কেউ চেনে না। নীরদ। সে এসে কবেন এখন, সে এসে শরৎ। দুই রদ্দা যা ঝাড়বােতা আমায় মনেই কবেন এখন। আছে। অব। না-সেটা কি ভাল দেখায় ? ও বেল মন্মথ। (স্বগত) আগে ছােটবাবু ওনােটের গাছটিতে অনেক দিন আছে, অনেক দিনের দায় থেকে বাঁচুক, তার পর জাল মামলায় আলাপ, মনে দুঃখ কবে, সে ভাল দেখায় না । ফেলে নীরদা’কে একবার বেড়াজালে ঘেরূবাে। নীরদ। (স্বগত) এ ব্যাটাকে নিয়ে তাে ভারি, বাছাধন কত কুটবুদ্ধি করে কেটে বেরােন, মুস্কিলে পড়লুম। একবার দেখব। (প্রকাশ্যে শরতের প্রতি) অব। বড় ধূমধামের বিয়ে বুঝেছ ? ডানা : চণ হে চল, গা-ঢাকা হই, ঐ আছে। লুকিয়ে সব ঝম ঝম করে পরী এসে সেপােলাে। (স্বগত) পার্টিস সুট না মেটালে কিছুতেই তারা সৰ খাওয়া-দাওয়া করবে। গােটা দশ ছাড়বাে না। মৌচাক ভেঙ্গে নিয়ে গেছে, মধু খাবে। { উভয়ের প্রস্থান। নীরদ। পরীতে মধু খায় বুঝি ? অৰ। আর পাকা তেলাকুচো চোষে। ( অবধূত ও নীরদের প্রবেশ) নীর। তা বে দেবেন, আপনি কি পাবেন ? এত রাত্রে কি করতে যাচ্ছ বাবাজী ? আজ অব। একটা মনসা-কাঠের তাকুণ্ড। বড় ফ্যাসাদ, স’রে পড়াে-আজ স’রে পড়াে- নীরদ। তবে যাচ্ছেন না যে? কাল দিনের বেলায় এসাে। অৰ। এই বাবাকে একটু তুয়িতান দিয়ে, নীয়। দিনের বেলায় ফুরুৎ যে না হােক, বাৰা ঝিমুবে-আর আমি সরে পড়বে। } 'অব।

১২০ গৃহলকী। দ। তৰে তাই যান,তবে তাই বান, শায় রাতে আসবে। আমি একলা বসেছিলুষ, দরি করুবেন না। কে যেন আসে পাশে হল, কে যেন সে দেতােমায় যদি ওড়ায়, তা হলে পাশে কাছে। মন্দিরের চক্রটা ধরূৰে। নীর। আরে দুর—এই আলাে জললে সব থেমে নীয়। তাই করবে—তাই কব। যাৰে। বাতাসের শব্দ শুনতে পাচিনে। অৰ। আর যদি ফু ঝাড়ে, কাছ খুলে কাপড় ঝেড়ে ফুলী। না-আমার ভয় হচ্ছে। পাৰে। নীরদ। তবে আমার বৈঠকখানায় চ। নীরদ। যে আজ্ঞে, তাই করবে—তাই করুন। ফুলী। বাপরে!—তা কি হয়—সবাই টের পাৰে। অব। আর যদি কোন বেটী ৰে কৰূতে চায়, তার নীরদ। ভয় নাই-ভয় নাই-বােস। মা যেটীর কান দুটো ধরে মুচড়ে দেবে। [ দেশলাই জ্বলিয়া ৰাতি এললিতকরণ। বুঝলে—আমি চলুম,-বাবাকে শয়ন দি’গে। তাের কপাল ফিলল। আমি এই পেশা ( অগ্রসর হইয়া) আর যদি মধু খাওয়াতে চায় টাকা দিয়ে একটা ভাল বাড়ী ভাড়া করেছি, -দুটো ঢেকুর তুলবে। তােকে সেইখানে রাখবে, আর জিনিসপত্র ( অগ্রসর হইয়া ফিরিয়া এণ্ডায়মান ) খাট-বিছানা সব ঠিক করে দিয়েছি। দেখবি নীমদ। আজ্ঞে হ্যা—তাই করবে। যেন ইত্ৰালয়। অব। আর শােনন—শােননা,যদি বাসর-ঘরে ফুলী। তুমি কখন কলে? ঐ তাে তােমার বসায়, তুমি একটা দুটো উলটো ডিগবাজী মিছে কথা, এইতে আমার অবিশ্বাস হয়। নীরদ। আর অবিশ্বাস কেন চাদ—আর অবিশ্বাস নীরদ। আজ্ঞে হ্যা-আজ্ঞে হ্যা। কেন? এই তােমায় হাওনােট দেখাচ্ছি। অব। আর দেখ,—যদি ছাঁদনাতলায় নিয়ে যায় ফুলী। আমি এক এক করে দেখবো, ছােট বাবুর নীর | আজ্ঞে হ্যা-আজ্ঞে হ্যা--আমি আছি সই চিনি, সই দেখবাে। তুমি যে যার তার আমি আসছি নামে হ্যাণ্ডনােট দেখাবে-তা হবে না। আর অব। আচ্ছা, তুমি এসাে—আমি শয়ন দি গে । আটখান হ্যাণ্ডনােট আমি শুনেছি--আটখানা আমি গুণে দেখবাে। [ অবধূতের প্রস্থান। নীরদ। আহা-দেখ,। নীরদ। আপদ গেল। (হ্যাণ্ডনােট প্রদান) [ প্রস্থান। ফুলী। হ্যা - ছােট বা সই বটে। এই একখানা -এই দুখানা- সপ্তম গর্ভাঙ্ক। নীরদ। এই দেখএই দেখ—এই সাজিয়ে দিচ্ছি অতিথিশালার অভ্যন্তর। দেখ। (তপ করণ ) सुनो ফুলী। (হ্যাণ্ডনােটগুলি লইয়া) এই তাে হ্যাণ্ড- নােট। টাকা কই ? ফুলী। এত দেরী কচ্চে কেন? ঐ আসছে। নীরদ। আমি অদেক কথা রাখলুম। তুমি (নীয়দের প্রবেশ) আদ্দেক কথা রাখাে। তার পর টাকা দিচ্ছি, কে রে ফুলী ? টাকা কি ফাঁকি দেবে? এততেও আমায় ফুলী। হা, আজ থা—আমি চললুম। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না? এসাে প্রাণ, প্রাণ জুড়ােও। বড় ভয় ক’চ্ছে, রাত দুপুর হ’লল—এখানে ফুলী। (অনুনাসিক স্বরে) ও নীরে-ও নীরে উপদেবতা আছে। -নীরে—আমি ফুলী নই তাের ঘাড় নীরদ। আর নেটং করিসূনে। ভাঙ্গবাে। ফুলী। না না—আজ থাক, কাল তখন সন্ধ্যে নীরদ। তুই কত ঢং-ই জানিস? নারদ। ০ ১২ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। (লুকায়িত বারানগণের প্রবেশ) অব। ডাকাত কোথা—সব পরীর বাচ্ছা পোড়ে গেল। বাজনাগণ। (অনুনাসিক গরে) ও নীরে নীরে ও ফুলী নয়—ফুলী নয় তোর ঘাড় নীয়। ঐ ফুলী! পাহারাওয়ালা ডাকো, বেটাকে বাঁধিয়ে দেবে। ভাঙ্গবে। নীরদ। অ—এ সব কি ? বদমাইসি জুচ্চয়ী অব। ফুলীর মতন দেখেছ, সেই পরীর রাণ, বারাঙ্গনাগণ। (অনুনাসিক স্বরে) (অনুনাসিক স্বরে) ও নীরে- এখনাে তােমার বাড়ে ভর করে রয়েছ। তোর ঘাড় ভাঙ্গবে-ঘাড় ভাবে! নীরদ। তবে রে ব্যাটা গাঁজাখাের, তুমি এর ভিতর আছ। ( নীরদকে বেষ্টন করিয়া বারাঙ্গনাগণের গীত । অব। উঃ বার হয়েছে। বিচেল (ড়ি বেধে এইবারে তাের বরাত ফিরেছে। মাথায় কলসী কতক কোয়ার জল ঢালতে দোসর' করে রাখবে তােরে হবে। পাঁচীর মা তাই আছে এচে। নীরদ। সব ব্যাটাকে বাঁধিয়ে দেখাে-সৰ ব্যাটাকে গান শােনাবে খােনা রে, বাঁধিয়ে দেবাে। হাওয়া খাৰি পেটটি পূরে, অব। ইস্, বাঁধতে হবে, নইলে আজ খুনখারাপি দিনেরেতে,তেশূন্যেতে বেড়াবি ঘুরে ; সাজ সকালে সেওড়া জলে, নীরদ। ওরে বাপরেশাল বাঁধতে চায় রে। ঝুল খাৰি খুৰ উলটো ধাঁচে। ( প্রস্থান। অৰ। দাড়াও দাড়াও, তিন ফুয়ে তােমায় ঝাড়িয়ে (ও নীরে-ও নীরেও নীরে!) দিচ্ছি। নৱ। চোর চোর-খুন করলে-খুন কলে! [ অবধূতের পশ্চাৎ পশ্চাৎ প্রস্থান। [ বারাঙ্গনাগণের উচ্চৈঃস্বরে হাততালি দিয়া গান। [ এই অবসরে ফুলীর নােটগুলি আগুনে দগ্ধকরণ। অষ্টম গর্ভাঙ্ক। ফুলী ফুসফুসফুস, হ্যাণ্ডলেট তাের পুড়ে উপেরে অস্তপুর। বিরজা। নীয়। পুলিস-পুলি, পাহারাওয়ালা-পাহারা ওয়ালা ( উপেন্দ্রর প্রবেশ) [ ফুলীর প্রস্থান। বিজা। একি ঠাকুরপো ! তুমি এমন হয়েছ (শরতের প্রবেশ) কেন ? শরৎ। খাও রসগােল্লা। (প্রহার) উপেন্দ্র। যা হবার তা হয়েছি, পাগল হয়েছি। নীর। ও বাপরে খুন কল্লে রে-- শােন নি ? বিজা। পাগল হয়েছ কি ? [ নীরদ ব্যতীত সকলের প্রস্থান। উপেন্দ্র। কেন গােন নি ? নীয়ে তার গড় অবধূতের প্রবেশ) ধারিণীর সঙ্গে পরামর্শ করে, আমি পাগল হয়েছি অব। ইস্ নীরদ, বাসরে সেধিয়েছ! ডিগবাঙ্গী বলে আদালতে দরখাস্ত করেছে। আমার খাও- ডিগবাজী খাও। খােরাকির কোম্পানীর কাগজ আটক করেছে। নীমদ। এক্ষে-কর, অঙ্গে কর, আমায় খুন আমায় পাগল সাব্যস্ত করবে। নইলে সে করে। কোম্পানীর কাগজ হাতে পাবে না, তােমার অব। চট করে ডান বগলটা সেতো। বিষয় হাত কতে পাবে না। আমি পাগল না নী। অবধূত মশায়, সৰ ডাকাত ছিল। হলে, তােমার বিষয় যে তুমি পাবে। হলো ধু! } উপেন্দ্র। খাবাে ? কিসে ? গৃহী। বিরজা।' অ্যা বল কি! কি সর্বনেশে কথা। পুৱা কৰিফেন করাবি? তুমি বষাে-বসাে। সরে যা! উপেন্দ্র। আর গগবে না, এবাড়াতে আমার খান তর। ওগাে-উলার হয়ে ক্ষেপেতে নীরে, নাই। এ বাড়ীতে থাকূলে আমার গানে লােক ভাৰু লােক ডাক বেঁধে ফেলে গা; দেবে, তাই পালাচ্ছি। বড় মনে সাধ ছিল, নইলে খুনােখুনি কৰে, খুনােখুনি কমবে। শৈলেনকে দেখবে -সে তো এ বাড়ীতে উপেন্দ্র। , খুননাখুনি কৰে। নাই। যদি অপঘাত মৃত্যুর সাধ না থাকে- [ তরঙ্গিণীর গলা টিপিয়া ধরণ। তুমিও পালাও। নীর। খুন কণে, খুন কলে। [ কত এহুন। বিরজা। তুমি স্থির হও—স্থির হও, কে তােমায় বিরজা। কি করে, কি করে, খুন হয়ে যাবে! গারদে দেয় দেখি! তুমি নাও নি-খাও নি? আর নাওয়া খাওয়া, এখন যতদিন বাচি উপেন্দ্র। কিছু বলে না, বড় বউদিদি কিছু বলে , এই জলেই সব হয়ে যা! (তরঙ্গিণীর ভিক্ষে করে তো খেতে হবে। সবল আটক প্রতি) এখনাে মরি নি। হয়েছে, ভিক্ষে করে খাবে, নইলে কোথায় (বৈদ্যনাথ, নিতাই ও মন্মথের প্রবেশ বিরা। ছি! ছিঃ! এমন সন্তানও জন্মায়। এবং তরঙ্গিণীকে মূক্তকরণ উপেন্দ্র। ঠিক সন্তান, কলির সন্তান! আমি চললুম বৈদ্যনাথ। কি করাে উপেন, কি কয়? আমি পালাই, আমার পায়ে বেড়ী দেবে— নিতাই। বড় বউদিদি, শীগগির জল আনন। আমি সত্যি পাগল হয়েছি। আর পাগল হয় ( বিরজার জল আনয়ন ও তরঙ্গিণীর মুখে দেন। বৈজনাথ। এ কি উপেন, কি করলে? ( তরঙ্গিণীর প্রবেশ) উপেন। কি করেছি,পাগল হয়েছি,জানাে না? দেখে এসাে এসাে-ঘরে এসাে,-আর শক্ত টের পাচ্ছ না? কাজ দেখে বুঝতে পাচ্ছ না? হাসিও না। ঘরে এসে—এখানে কি ক’? তর। ওরে বাবা রে, খুন করেছে রে- বেড়ী এনেছো! এইখানেই পরিয়ে উপেন্দ্র। মরিস্ নি, মরিসনি? স্ত্রীহত্যা করা দাও। না, একটু দেড়ী করে দুটো কথা কই! অদৃষ্টে নাই। [ তরঙ্গিণীর স্থান । ত। আর কথা কয় না; এসাে এসাে। বৈদ্য। উপেন উপেন, চলে এসাে, চলে এসাে। উপেন্দ্র। তুমি কি জাত ? তােমার কোন্ ঘরে উপেন্দ্র। যাচ্ছি, রাস্তায় রাস্তায় তাে ঘুরুতেই হবে, জন্ম? তুমি কি মানুষের ঘরে জন্মছ? ঠিক ভিক্ষে করে তত খেতেই হবে, আর তো বলল—ঠিক বলো! তােমার জোড়া পৃথিবীতে উপায় নেই, আর তাে উপায় নেই! কুলের আছে! তােমার ভারে পৃথিবী নেবে যায় না। ধ্বজা পুত্রেক সর্বস্ব দিয়ে ফকির হয়েছি, । নীরে-নীরে। শীগগির আয়—শীগগির আয়, কি শােন নি ? এখানে তাের জ্যেঠাই সােহাগ করে পাগল নিতাই। এসাে, এসাে, রাস্তায় ঘুরূবে কেন? ক্ষেপাচে! আমার বাড়ী নাইবদের বাড়ী নাই ? বৈদ্য। উপেন, চল, চল। (নীরদের প্রবেশ) উপেন্দ্র। চল যাই, একবার শৈলেনকে আমায় নীরদ । জেঠাই মা, তােমার সঙ্গে আমাদের মুবাদ দেখিও, যতক্ষণ তারে না দেখি, এ পাগদেহে কি? বাবাকে তাে পাগল করে সব লিখে এখবে। কিন্তু শীগগির দেখিও, আমার নিয়ে, আবার কেন ? ৰাৰ আনৰাৰ দিন ফুরিয়ে এসেছে, এ পাপদেহে আর প্রাণ আষন। খাতে চায় না। উপেন্দ্র। দুসৰে-নে-গায়ে হাত দিনে। বিরজা। ও মা, সানি যে গাে! সই তো হয়েছে, কেন নরহত্যা কৰিকেন (রানে গমন। [ ১৭-১৮] উপেন্দ্র। .

নামই নয়! গিরিশ গ্রন্থাবলী। উপেন্দ্র। এই দেখ, আমার সুসন্তান দেখ, আমায় বিরজা। নিতাই ঠাকুরপাে, মনে ক’য়েছিলুম, শ্বশুরের ধরিয়ে দেবার জন্য গান এনেছে। বংশ ক্ষেমা ঘেরা কৰে । কিন্তু আর কারাে মুখ ( ইনস্পেক্টার ও পাহারাওয়ালাগণকে লইয়া চাৰ না। তুমি আদালত থেকে শীগগির হুকুম নীরদের প্রবেশ) বা’র করে। দশ বছর হল, আমার এই দশা হয়েছে, আমি বিষয় থেকে একটি পয়সা নীরদ। বিনােদ বাবু, বাথােথরাে। নিই নি। পেট-ভাতায় এদের সংসারে বাদী- বিনােদ। কই খুন কই? গিরি কচি। এখন কড়ায় গণ্ডায় আমার উপেন্দ্র। বাবা, ফাসী হবে না, ফাঁসী হবে না। ভাগের ভাগ বুঝে নেব। খুন হয় নাই, বেঁচে গিয়েছে, বেঁচে গিয়েছে। বৈদ্য। চলাে না হে-চলো না- নী। বিনােদ বাবু, ধরুন, গারকে নিয়ে যান। উপেন্দ্র। দাঁড়াও দাড়াও, বাছার মুখকান্তি দেখছি খুনে হয়েছেন। মা, মা, এ দিকে এসাে, -চাদমুখ দেখছি,আমার বংশের তিলককে সার্জন সাহেবকে বলাে। দেখছি। (তরঙ্গিণীয় প্রবেশ) বৈদ্য। এসাে এসাে। তর। আর কি বলব বাবা,আমায় খুন করেছিলো নীরদ। (তরঙ্গিণীর প্রতি জনান্তিকে) শা, দেখ বা, আমার গলা টিপে ধ’য়েছিলো বাবা! , আমি যদি গারদে না দিই তাে আমার নিতাই। বিনােদ, সব বুঝতে পেরেছ তাে? বিনােদ। উপেন বাবু পাগল হয়েছেন না কি? উপে। মরি মরি নৗরচন্দ্র রে! তর। উন্মাদ হয়েছে, খুনে হয়েছে। আমায় খুন ( সকলের প্রদান। করূতে করূতে রেখেছে, বেটাকে শাসিয়েছে। নীরদ। বিনােদ বাবু, গারদে নিয়ে চলুন। ছাড়া থাকলে খুন করবেন। পঞ্চম অঙ্ক। নিতাই। বিনােদ, কিছু বুঝতে পাচ্ছ না? চলে, সব বলছি। বৈদ্য। (উপেরে হাত ধনিয়া) চলে, চলাে। প্রথম গর্ভাঙ্ক। উপেন্দ্র। আহা, কুলতিলক, কুলতিলক, বংশ রেজেষ্টারী আফিস। পবিত্র করে জন্মেছ ! তুমি যে দিন জন্ম, দাদা দেশে ঢাকঢোল রাখেন নাই, তুমিও খুব সতীশ, শরৎ ও হাঁ ঘােষাল। ঢাকঢোল বাজালে। ধন্য তুমি, তােমার গর্ত, সতীশ। বল কি? নীরে–পনের হাজার টাকা ধারিণী ধন্য, তােমার জন্মদাতা ধন্য! তােমার দিয়েমেটালে না? ফোরুমারী কে! একে- চিন্তা নাই, আমি আর বেশী দিন বাঁচবাে না, বারে যে চৌদ্দ বৎন বনবাস ? চাঁদ জেলে তুমি দাড়িয়ে ভাবছ কেন? মতলব করে, পাগলা গারদে দিও। হীরু। সখ ! নারদ। বিনােদ বাবু, পাগল হয়েছেন-বুঝতে শরৎ। শুধু সখ নয় বাবা-নিতাই উকীল বড় বাে’ পাচ্ছেন না। বিষয় আদালত থেকে বার করেনিয়েছে। বড়বো বিনােদ। পাগল হয়েছেন, না করেছেন, কিছু ঠাকরুণের ধনুকভাঙ্গা পণ-কড়ায় গণ্ডায় বুঝতে পাচ্ছি না। দেখে শুনে আমিই পাগল ভাগের ভাগ বুঝে নেবেন। কম ত নয়, তিনি এবার যােগাড় হয়েছি। দশ বছর বিধবা হয়েছেন, বিষয় থেকে একটি তর। নীরে, ভাল সার্জন ডেকে নিয়ে আয়, ভাল পয়সা নেননি, তাকে তার শ বছরের আগে সান ডেকে নিয়ে আয়। ভাগ বুঝিয়ে দিতে খুড়ো-ভাইপাের জীব বেরিয়ে যনাে। ৫া না, তাই ভাকান, আমার কর্ম নয়। পড়েছে। তাইতে নীয়ের হাতে নগদ যা কিছু [ইলেক্ট পাওয়াগণের নি। ছিল, সৰ গেছে। যাবে ?

না। গৃহলক্ষী। সতীশ। জটা বিষয় বাধা দিয়ে কেন দিক না । কিনারা হচ্ছে, তখন আর শৈলেনের বাড়ী নেৰে পনর হাজার বৈ ত নয় ? হীরু। বুঝতে পাজে না, অত বুদ্ধি নাই। তুমি শরৎ। কামড়ে কামড়ে ইট পাঠকেল খাবে । বুঝি আজকাল দালালীগয়েছ? বাড়ী, ঘর, দোর না খেলে ওর রাত্রে ঘুম হয় শরৎ। নিতাই উকীল কি সে যে রেখেছে? সহজে হস্তান্তর করা যায়, এমন সব বিষয় ক্রোক সতীশ। কি করে নেবে বল না, সব খরচাই যদি করেছে। চুকন ? সতীশ। তাহলে শিবু উকীলত শৈলেনের কাছে হীরু। তিনখানা হাশুনােট ভিী করে জইয়ে ফাকে পড়ল ? রেখেছে-এক দিকে শৈলেন বড়বৌর পর শরৎ। তেমনি কাঁচা ছেলে কি না; শিবু উকীল লিখে দেবে, আর এক দিক দিয়ে শিবু উকীল কাকে পড়বে কি? শৈলেনকে ফতুর করবে। তালতলার বাড়ী attach করবে। শৈলেন দেনা জ্বালায় অস্থির হয়েছে, পাওনা- (শিবু উকীলের প্রবেশ) দায় তিস্তুতে দিচ্ছে না, তাই মৎলব করেছে, তালতলার বাড়ীখানা বেচবে। শিবু। ওহে শরৎ, হীরু, তােমাদের দুজনের এক- সতীশ। সেই বাড়ীর দলিল রেজেষ্টারী করে নেবার জনকে শৈলেনকে identify করতে হবে। জন্মে ত আমি এসেছি, আমার একজন আত্মীয় শরৎ। তা ত করব, কিন্তু এদিকে যে নীরে ফি, জবাব দিয়ে গেল। কিনছে। শরৎ। বুঝে সুজে কিননা, বাবা! ওর ভেতর গােল শিবু। পাগল আর কি! সাফ জবাব, দৰে আছে। শৈলেন স্ত্রীধন বলে পরিবারকে দিয়ে কি? ওর শ্বাশুড়ীর হাতে টাকা আছে, আমি বাড়ী বেচাচ্ছে; কিন্তু তা নয়, বাড়ী বেনামী। তার কাছে যেতে বলেছি তার সব প্রমাণ শিবু উকীলের কাছে আছে। হীরু। মশায়, ও সব মন্মথর পটি,-তুমি শুনন না। সেই প্রমাণের কাগজ-পত্তর হস্তগত ক’বার শিবু। পাগল হয়েছ ? টাকা দিয়ে না: মেটালে জন্মে, শৈলেন শিবু উকীলের কাছে হাঁটাহাঁটি পুলিপােলাও যাবে যে ? সে আমি ঠিক করেছি, কান্নাকাটি ক’চ্ছে-পায়ে পৰ্য্যন্ত ধরেছে। তােমাদের ভাবনা নেই। টাকা দিয়ে মেটা- হীরু। পায়েই ধরুক, আর মাথাই খুঁড়ক, শিবু তেই হবে। কাল মকন মুলতুবি (নব, উকীল সেগুলিকে ইষ্টি-কবচ করে রেখেছে। তাহলেই টাকার যােগাড় হবে। শরৎ। আর এ দিকে শৈলেনকে বলছে—আমি শরৎ। জজ যদি মুলতুবি না দেয়? cost এর দরুণ যে টাকা পাব, তার একটা শিবু। দু’পক্ষ মিলে দরখাস্ত করব, postpone কিনারা করে দাও। তােমার বড় বৌদিদি মলে হতেই হবে। তােমরা থেকো, আমি অফিস তুমি তার অর্ধেক বিষয় পাবে, সেই স্বত্ব আমায় ঘর থেকে একটা কাজ সেরে আসছি। কিমও লিখে দাও, তাহলে আর তালতলার বাড়ী নিয়ে আসতে আর বেশী দেরী নাই। কোনও গােল ক’ৰ না। শুনছি—আজ সেই সতীশ। শিবু বাবু, আমি আপনাকে একটা কথা স্বত্ব রেজেষ্টারী করে নেবে। জিজ্ঞাসা করব। সতীশ। তবে আর কি! তালতলার বাড়ী নিয়ে [ উভয়ের প্রশন। শিবু উকাল আর কোন গােল করবে না। হীরু। এ দিক যা হয় হবে। এখন একটা মাল হাতে শরৎ। না! সাধু সাধু! দেখে শেখে, আর এসেছে-বল গেরস্তর মেয়ে, সােয়ামী ঠেকে শেখে, শিৰ উকালের কাছে ঠেকেও যে যন্ত্রণা দেয়, মানুষ খুঁজছে--বেরিয়ে আসবে। তোর শিক্ষা হয় নি। শরৎ। এ সব কথা কি তােমার বাড়ীতে এস সতীশ। কি জানিস, আয় খরচায় জন্যে অমন বলে গেল? করে জড়িয়ে রেখেছিল। সেই costএর যখন হী। কাজের কথায় ঠাট্টা নয়। কাল সন্ধের ।

১৫ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। পর গঙ্গার ধারে দেখাচার মুড়ি নে একলা তাগাদা, আজ বাড়ী ৰেচ টাকা পাৰ খনন, বসে কাঁদছিল। আমি সৰ কথায় কথায় ভাব তাই এখন পর্যন্ত ধাওয়া করেছে। বুঝে নিলুম। (রেজিষ্ট্রার, কর্মচারী প্রভৃতির প্রবেশ) শরৎ। চেহারাখানা কি রকম দেখলে? শিবু। আগে আমার পিলখানা রেজেরী হয়ে হীরু। বললুম চাদর মুড়ি দিয়েছিল। সে আর দেখতে যা। হবে না। সে মিষ্টি কথা কইলে, তাতেই বুঝ (দলিল দাখিল করণ) নুম, একেবারে পরী না হােক, সুন্দরী বটে। কাল তােমার মকদ্দমা, আমি পরশু গঙ্গার ধারে রেজি। কি গলিল ? থাকতে বলেছি। একেবারে গয়নার বাক্স নিয়ে শিবু। বলুন শৈলেন বাবু। বেরিয়ে আসবে। তুমি রাজী না থাক,-বল, শৈলেন্দ্র। মর্টগেজ দলিল। বিরজা দাসীর অর্ধেক আমি অন্য লােক জোটাব। সম্পত্তির আমি উত্তরাধিকারী। শিবুবাবু হাগু- শরৎ। আর কাজ কি তােমার অন্য শােক জুটিয়ে। নােটের দরুণ আমার নিকট অনেক টাকা পান, সেই টাকার জন্য এই দলিল লিখে দিচ্চি। (শিবু উকীল, শৈলেন্দ্র ও সতীশের প্রবেশ ) রেজি। সক্ত কবে কে? শৈলেন্দ্র। শিবুবাবু, আমি আপনার শরণাগত, শিবু। এই হীৰু ঘােষাল। গলায় গলায় হয়েছে, সামলাতে পাছি না। রেজি। ঘােষাল মশায়ের দেখছি, এখানে মাসে অামায় বক্ষা করুন,খেতে, বসতে, শুতে দুই একবার যাওয়া আসা আছে। তাগাদা। এতদিন যাদের বিষয় দেখিয়ে রেখে হীরু। কি করি হুজুর! অনেকের সঙ্গে আলাপ, ছিলুম, নিতাই দা ক্রোক দিতে তারা আর কাৰু কথা ঠেলতে পারি না। থামছে না। জীবনে যে সব কথা শুনিনি, তা শিবু। হুজুর, এর সনাক্ত যদি গ্রহণ না করেন, শুনছি—হজম ক’চ্ছি। আপনি সহায় হয়ে আমার অপর পােক আছে। আমার বাড়ীখানি বেচিয়ে দি। দু’দিন একটু রেজি। না না, উনিই করূবেন। কেমন মশায়, হাঁফ ছাড়বার সময় পাই। (সতীশের প্রতি। আপনি একে চেনেন কি? সতীশ, টাকা এনেছ ত ভাই ? হীরু। আজ্ঞে, শৈলেন বাবুকে চিনি নি? চিনি শিবু। শৈলেন বাবু, আপনি ব্যস্ত হচ্ছেন কেন ? বই কি! আমার দলিলখানা রেজেয়ী হয়ে যাক, তার পর রেজি। বেশ—সই করুন। (শৈলেন্দ্রের প্রতি) পা বলেছি, তার নড়চড় হবে না। আপনিও সই করুন। ( কর্মচারীর প্রতি) সতীশ। না হে শৈলেন বাবু, আমি শিবুবাবুকে নাও হে, এদের fiinger print নাও। সব কথা জিজ্ঞাসা করেছি, উনি বলেছেন, (জনৈক ভদ্রলােকের প্রবেশ) কোন গােল হবে না। যে গলা বাড়িয়ে দিয়েছে, তার গলায় কি কেউ ছুরি দেয়? উনি বলে ভদ্র। কই হে সতীশ, কতদূর? ছে, ও বাড়ী ভুমি বলে কিনতে পার। সতীশ। এই যে হচ্চে। এই দলিলখানা, শৈলেন্দ্র। দেখ ভাই, শেষ যেন কোন গােল না হয়ে যাক। কর্মচারী। (শিবুকে) এই নিন আপনার রসিদ সতীশ। গােল কি? তুমি যাতে একটু ঠাণ্ডা হতে পার, আমি সেই চেষ্টাই করব। আর সতীশ। শৈলেন বাবু, দলিল present করুন। শিবুবাবু আমার কথা দিয়েছেন, কোন গােল রেজি। কি দলিল ? ক’ঝবেন না।-যা এখন দুর্গা বলে ত ঝুলে শৈলেন্দ্র। বিক্রয় কওয়ালা। তালতলায় আমার পড়, তার পর যা রাতে আছে হবে। খ্রীর একনি বাড়ী আছে, তার স্ত্রীধনসম্পতি শৈলে। দেখুন, পাওনাদারদের এমনি মজার ইনি কিনবেন। নিন।

এই দেখুন। গৃহণী। ১. শি। শ্রীধন-সম্পত্তি আপনি বিজ কবার কে? শিবু। আপনি cheating charge আনুন, ওকে শৈলে। সরোজিনী আমার নামে বিক্রয় জেল দিন, আমি সানী নেব। কওয়ালা মেজোমী বা power দিয়েছে ভদ্র। আর যা মশায়, আমি ও বাড়ী আর কি । সতীশ, এস বাড়ী যাই। শিবু। সলােজিনী দাসী এখানে উপস্থিত নাই, [ শিবু উকীলের প্রস্থান। থাকলে হাকিমকে ফৌজদারী সােপর কতে সতীশ। তুমি যাও, আমি পরে দেখা করে, তােক বলম। শৈলেন্দ্র। শিবু বাবু আমায় দয়া করুন, রক্ষা সব বৰ। [ ভদ্রলােকের স্থান। করুন। সতীশ। সে কি শিবু বাবু, তুমি এই আমায় বলে, রেজি। ছিঃ! ছিঃ! শৈলেন বাবু, আপনি বন্ধ কোন গােল নাই। ঘরের ছেলে, এ সব কি? সত্যপথ, সদ্ব্যবহার —লােকে আপনাদের কাছ থেকে শিখবে, তা ভদ্রলােক। চুপ করে না-চুপ করাে না-ইনি কি বলেন—শােনা যাক। কি হয়েছে মশায় ? আপনারাই পথ দেখাচ্চেন? আর ধারে শিবু। হবে আর কি হবে আর কি? এ সব জোচ্চোয়ের পাল্লায় রেজিষ্ট্রেশন কতে হবে, তাঁরা অপেক্ষা করুন, আমার chamber এ একটি স্ত্রীলােক এসেছে, পড়েছেন। আমি তঁার দলীল রেঞ্জেী করে আসি। শৈলেন্দ্র। শিবু বাবু, কি কথা বলে দয়ার উদ্রেক করতে হয়, জানি নি। আপনার পায়ে ধরি, [ রেজিষ্ট্রারেব প্রস্থান। অামায় রক্ষা করুন। ১ম পাওনাদার। কি হ’ল মশায় ? আমরা টাকা শিবু। বটে, জুরীর আর জায়গা পাও নি? পা না? চুপ করে রইলেন কেন? এটা আদালত—তা জান? এখানে এসেছ এলেন যে-এইখানে সব চুকিয়ে দেবেন? জচ্চ রী ক’রূতে? তুমি পায়ে ধছ বলে কি আমি অধৰ্ম্ম কৰ? নিরীহ ভদ্রলােককে শৈলেন্দ্র । হা ভগবান্ । ঠকাবে, দাড়িয়ে দেখব? ২য় পাওনাদার। ও—আবার ভগবান্ দেখান ত। মশায় কি হয়েছে-বলুন। আছে। বলি ধৰ্ম্মজ্ঞান আছে না কি? শিবু। ভাগ্যিস আমি আদালতে উপস্থিত ছিলুম, সতীশ। মলয়, মড়ার উপর খাড়ার ঘা আর কেন কি হয়েছে জিজ্ঞাসা ক’ছেন? জোচ্চোরে মিলে দিচ্ছেন ? ইনি জোচ্চোর নন। রয়ে বসে নি- আপনার টাকা ঠকিয়ে নিচ্ছে। আপনারা পাবেন। ভদ্র। কেন মশায় ? ৩৪ পাওনাদার। আর পাবেন। এমন ঠকের শিবু। বাড়ী সরােজিনীর নয়, ইনি তার নামে পাল্লায় কখনাে পডি নি! আর আছে কি? বেনামী করেছেন। তার ভেতরে অনেক গােল। পাব কি ? আমার কাছে সব প্রমাণ আছে, দেখতে ৪র্থ পাওনাদার। নাও নাও-া পাও, ছায়া চার চান-আমার আফিসে যাবেন। আর কিনতে কেড়ে নাও-ছাতা চাদর কেড়ে নাও। ইচ্ছা হয়—কিনুন। কিন্তু রাখতে পারবেন না। সতীশ মশা’য়, মাপ করুন। (শৈলেন্দ্রের প্রতি) আমার ডিক্রী আছে, এর সম্পত্তি জোর করে চল, শৈলেন বাবু, বাড়া চল। নেব। ১ম পাওনাদার। নিনে হাতের মুখটা করে নাও ভদ্ৰ। ৰটে! বটে! (শৈলেজের প্রতি) ছিঃ ! ত হে! দুটো কান আচ্ছা করে 'লে দাও ছিঃ! মশায়, আপনি ভদ্রলােক, এমন জুচ্চ রী টাকা যা পাব, তা ত দেখছি। মতলব করেন। (সতীশের প্রতি) সতীশ, সতীশ। শৈলেন, বাড়ী চল, তােমায় রেখে যাই তােমার উপর ভর দিয়েছিল। এই ভদ্রলােক এ সব আর কি শুনবে? সময় বিগুণ হলে থাকলে ত ঠকম। এমনি সব হয় দুমবাজী ?

भिविनयशवनी ? . শৈলে। তাই তাই ত—দুঃখ কি ? কিছু না । কাশী থেকে এসে আয় তাদের দেখতে কিছু না। এমনি হয়—এমনি হয়। পেলুম না। আমার বুকে শে বিধে রয়েছে। সতীশ। চলবাড়ী যাই। নিতাই ঠাকুরপাে, তুমি আর একবার যাও। শৈলেন্দ্র। বাড়ী?—চল ! এমনি হয়-এমনি হয়! নিতাই। আমি কালই যাব। ২য় পাওনাদার। চল হে, চল। টাকা ত কোচড় ৰিজা। আর ঠাকুরপােকে বলে, আমি মেয়ে ভরে পাওয়া গেল। মানুষ, আমার ঘাড়ে সৰ এমনি করে ফেলে সতীশ। আবার ’কে ফাড়ালে কেন? ও সৰ দিয়ে পরের বাড়ী কি বসে থাকা ভাল? আর কি শুনছ ? নিতাই। পরের বাড়ী কি বউদিদি। আমাকে কি শৈলেন্দ্র। কিছু না-কিছু না, এমনি হয়-এমনি পর মনে কর? বড় দার আমার সঙ্গে কি সুদ ছিল, তা তুমি যত জান, তত ত আর ( সকলের প্রস্থান। কেউ জানে না! সে সব কথা কি ভুলে গিয়েছ? বিরজা। ভুলিনি ভাই, কিন্তু কেন যে ভুলিনি, তা ত জানি না। আট বছরের মেয়ে, এদের সংসারে দ্বিতীয় গাঙ্ক। এলুম, তখন ভাল করে হাত তুলে খেতে শিখি নি। মানুষ মুন্নষ করে শ্বশুর-শ্বাশুড়ী আমার উপেরে বাটী গলায় সংসার দিয়ে স্বর্গে গেলেন। বিষয় গেল, বিরজা ও নিই। রাধাবল্পতজীর কৃপায় আবার ফিরে পেলে। নিতাই। বউ দিদি, নীরে আর শৈলেনের উপর তখনও দেখেছি, এখনও দেখছি। তুমি যে টাকার ভিী পেয়েছ, তা সৰ টাকা ( উপেত্রের প্রবেশ) নগদ দিতে পারবে না, ওদের বিবস্ত্র ক্রোক দিতে হবে। তাসব তােমার নামে কিনি ? উপেন্দ্র। বড় সু-খবর এনেছি, বড় সু-খবর এনেছি, বিরজা। ঠাকুরপাে কি বলে? বড় বউদিদি, সন্দেশ নিয়ে এসো ! মুখের পিতাই। সে বলে, তোমায় জিজ্ঞাসা কতে। পানে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে আছ কি? বিরজা। তুমি কি বল ? মনে কচ আমি পাগল ? মেডিক্যাল বাের্ডে নিই। আমি ত তােমায় জিজ্ঞাসা ক’চ্চি। বানােজন সাহেব ডাক্তার সার্টিফিকেট দিয়েছে, বিজ।। নিতাই ঠাকুরপাে, তুমি শৈলেনের কাছে আমি পাগল নই। তােমার নীরে আর আমাকে আর একবার যাও। পাগল বলতে পাচ্ছে না। নিতাই। আমি আরও দশবার যেতে রাজি আছি। নিতাই। কি শুনে তুমি আবার ছুটে এলে ? একে কি গেলে ফল কি? তার সে ধনুকভাঙ্গা পণ। ডাক্তার বলে, তােমার heart week, কোন বাড়ী বেচে গেছে, এ বাড়ীতে আর আসবে না। রকম উত্তেজনা, চলাবলা ভাল নয়। হাতে যা টাকা ছিল-গেছে, ছােট বউমার উপেন্দ্র। চোপরাও, বক্তৃতা করিস্ কোর্টে। গয়নাপত্তয় সব গেছে। চারুদিকে দেনা ; তবু বিরজা। স্থির হও, ঠাকুরপাে, স্থির হও! वि কার সাহায্যও নেবে না। কথাটাই বল না ? বি।। ঠাকুরপাে, মাই দিয়ে মানুষ করেছি, আমি উপেন্দ্র। অতি সুসংবাদ,-অতি সুসংবাদ, কুলের কি তার উপর রাগ করে থাকতে পারি। এই তিলক তােমার নীরে। অজগর পুরী, আমার মনে হয়, আমি শ্মশানে বিরজা। স্থির হয়ে বল। ব’স বস, অত ঘঁপিও বসে আছি। আমি না বসলে শৈলেন খেতে । নীরে আবার কি করেছে ? পাব না। সেই শৈলেন আমার পর হল। উপেক্স। ধর বংশধর-জাল করে হাতে গেছে। ছােট বউ চলধ'রে ধ'রে ফিত। ঠাকুরপাে, বিলা। অা, কি সর্বনাশ! রাগের মাথায় বলেছি আর তাের মুখদর্শন কৰ নিতাই। তুমি কার কাছে এলে? ।

গৃহলনা। শুনতে পাবে। উপর। তাের মহুরীর কাছে। বল্লে জজ করবে? খবরদায়া খুনােখুনি হবে, খুনােখুনিবে। postpone দিলে না। ফৌজদারী সােপর জীবনে অনেক সাধ ছিল, দানার নামে ডাক্তার করবার হুকুম দিয়েছে। আমিন চাইলে, আদা খানা করে দেবাে, বড় বউদিদির নামে অতিথি লতে কেউ জামিন হলাে না। হাতে নিয়ে শালা হবে, এমনি আরও কত কি। তখন পাগল গেছে, এ বংশের ছেলে জামিন পেলে না। ছিলুম, এখন ভাল হয়েছি, ভাইকে ফকির ধর্মের কল আপনি নড়ে। করতে নীরদচন্দ্রকে বিষয় নিয়েছি। এখন দুটি ( উপেরে কম্পন, বিরজার পাখা লইয়া ব্যজন) সাধ আছে-নীরের ফাসী দেখবাে, আরআর বাতাস ক’চ্ছ কি? মব না-নীরের ফাসী আর শৈলেনকে একবার দেখব! কি মমতা, দেখে মব না। কি মমতা! বহস্তে পুত্র বধ করা যায় না। নিতাই। জাল কলে• ফাঁসী হয়, তাকে কোন্ ছােট ভাই লাঠি মারতে এলেও তারে ভােলা উকীলে বলেছে? যায় না। উপেন্দ্র। মহারাজ নন্দকুমারের হয়েছিল, নীরেরও বিরজা। ঠাকুরপাে, চেঁচিও না, মেজবউ এখনি ৷ হৰে। ফকির হয়েছি—ফকির হয়েছি, নইলে আজ কালীঘাটে পূঙ্গে দিতুম। নিতে চ- উপেন্দ্র। আহা, কুললক্ষ্মী গােকুললক্ষ্মী! আমা- কালীঘাটে যাই। দের ছােটখাট সংসারে তেমন জুত, হলাে না, বিরজা। স্থির হও ঠাকুরপাে-স্থির হও। একটা বড় রাজারাজড়ার ঘরে পড়তো ত রণ- উপেন্দ্র। বাতাস ক’চ্চ-মাথা ঠাণ্ডা কবে? রঙ্গিণী হয়ে নাচত! সংহাররূপিণী একটা চিরকাল তোমার ঐ একদশায় গেল। এখনো বলি না নিয়ে ঠাণ্ডা হবে না। বড় ঘুম পাচ্ছে, শিখলে না, এখনাে পরের জন্যে মাথা ব্যথা। না একটু ঘুমুই গে। ম'লেস্বভাব যায়না। সংসার বজায় কবে ? মনে [ উপেন্দ্রের প্রস্থান। করেছ আবার সব কেমন ছিল, তেমনি হবে? বিরজা। রাধাবল্লভ, আমার সােনার সংসার ছার- তােমার মরণ হয় না? তুমি মবে কবে? খারে দিলে! নিতাই ঠাকুরপাে, কি দেখছ, বিরজা। ঠাকুরপাে, তােমার মুখে ফুলচন্দন পড়ক, আমার নীয়েকে খালাস করে এনে দাও। ঠাকু? আমায় এখনি রেখে এসাে, আমি আর সইতে রপােকে আর তােমার বাড়ী যেতে দেব না পারি না। রাধাবল্লভ। আমি না হলে ওকে কেউ ঠাণ্ডা করতে পাবে নিতাই। বউদিদি, তুমিও দেখছি যে, পাগলের । শেষ কি সত্যি পাগল হবে! এক একটা মত পাগলামি আরম্ভ কলে? ধাক্কা আসে, আর এমনি হয়ে পড়ে। হ্যা উপেন্দ্র। চোপ, ষ্টুপিড, তুই না সঙ্গে করে আমায় নিতাই :ঠাকুরপাে, হাজতে ভাগ করে খেতে মেডিক্যাল বাের্ডে নিয়ে গিয়েছিলি? দেয় ত ? ৰিৱজা। নিতাই ঠাকুরপো, কি হবে? আমায় নিতাই। আহা, তা আর দেয় না! নিয়ে চল, আমি জামিন হয়ে ছোঁড়াকে খালাস বিরজা। তুমি কি এর কিছু জানতে না? করে আনি। নিতাই। আমি ত আজ আদালতে বেরুই নি। নিতাই। বউদিদি, তুমি না বল, আর কারাে মুখ শুনছিলুম-পনের হাজার টাকায় রফার কথা হচ্চে। তা তােমায় বক্ষ মনে করেছিলুম। বিরজা। নিতাই ঠাকুরপাে, আমার শ্বশুরের বংশে বিরজা। যাও, যত টাকা লাগে, যা করতে হয়, ‘কলঙ্ক হবে, তুমি যাতে জামিন হয়, কর। নীরেকে খালাস করে আন। নইলে তােমার উপেন্দ্র। কি, জামিনে খালাস কৰে? খুন কর, সঙ্গে আর কথা কইব না। ফেটে কুচি কুচি করে গলায় ভাসিয়ে দেব। নিতেকে কাটুন। তােমায় কাৰৰ। আর ঐ [ নিতাইয়ের প্রস্থানােম। সর্বনাশী মেজ বৌকে কাটুৰৰ। আমিনে খালাস দেশ, নীরেকে এনে আমায় এখান থেকে ০ চাইবে না।

भिविनवशयनी। কোথাও পাঠিয়ে দাও, আমি তীর্থে তীর্থে ঘুম। বাস হয় নাই। কোন বয়সে ধক ক আর সইতে পারি না। হয় যেন বাবু। [ নিতাইয়ের প্রস্থান। মন্মথ। কেন—দুই ত এই সৰ ধৰ্মক কচ্ছিস? (ফুলাম এবেশ) পরের উপকার করে নেড়াচ্ছিদ-দশনে ফুলী। বড় মা, তুমি তীর্থে যাবে বলছ। তাের কত সুখ্যাত করে! তুই ত মনের বিরজা। আর মা, এ সংসারে আমার জায়গা নাই। সুখে আছি। পাপে পরিপূর্ণ হয়েছে। ফুলী। আছি কিন্তু ফুলী। কোন তীর্থে যাবে বড় মা, আমি তােমার মন্মথ। আবার কিন্তু কি ? সরে যাব। ফুলী। তােমার কাছে মিছে কথা বলব না মােনা বিরজা। তুই ছেলে মানুষ, কোথায় যাবি? তাের বাবু। পরের কাজ কতে কতে খুব সুখ কি এরই মধ্যে তীর্থধর্শের বয়স হয়েছে? হয়। কিন্তু আমার কখন কখন মনে হয়, ফুলী। ও মা, এমন কথাও ত কোথাও শুনি নি । বুঝি ঐ সুখটুকু পাবার জন্যে পরের কাজে ঘুরি। ধৰ্মকৰ্ম্মর আবার বয়স কি মা ! বস কম বলে মনে হয়—পরের হিত করে বেড়াই—আমার কি যমে ছাড়বে? ধর্ম হবে বলে। সুখ হবে-ধর্ম হবে—এ সব বিরজা। বালাই, ও কি কথা বলছিস? ত ব্যবসা, মােন বাবু। মার কাছে থাকলে ফুলী। বড় মা, আমি তীর্থ দেখতে বড় ভালবাসি। কুৎসিত ব্যবসা শিখতুম, তােমার কাছে একটা কোলকাতার ভেতর আর তার আশে পাশে গৌরবের ব্যবসা শিখছি। মােন বাবু, এর যত তীর্থ আছে, নিত্য ঘুরে ঘুরে সব দেখে চেয়ে কি উচু কাজ নেই? থাকে যদি, আমায় বেড়াই। শেখাও। বিরজা। চুড়ী বেশ কথা কয়, আবার ঐ একটা মন্মথ। আছে, তুই কি তা পাবি? পাগলামী করে বসে। কোলকাতায় আবার ফুলী। তুমি বলে দাও, পারি না পারি, চেষ্টা করব। ফুলী। মা, তুমি দেখ নি,-কত তীর্থ আছে—একটা মন্মথ। তােকে শেখাব কি করে?—আমি শুনেছি, আছে—সতী তীর্থ, কাল দুকুর বেলায় তুমি যখন বইয়ে পড়েছি—কিন্তু এখনও বুঝতে পারি নি। গঙ্গাস্নানে যাবে, তােমায় নিয়ে গিয়ে দেখিয়ে কেমন জানি ? তুই না বলি-পরের হিত আনব। করি, সুখ হয় বলে-ধৰ্মলাভ হবে বলে ? বিরজা। হা রে ফুলী, কাছে এমন তীর্থ আছে, যখন এই সুখের প্রত্যাশাটুকু তাের মন থেকে আমি নাম শুনি নাই! আচ্ছা, কাল তুই যাবে, ধৰ্মলাভের আশা বিসর্জন দিতে পাবি, আসি, আমি গিয়ে দেখে আসব। যাই— তখন আর তাের মনে ঐ ‘কিন্তু টুকু ঠাকুরপাে কোথায় দেখি। মেজ বউ আবার থাকবে না। হয় ত পাগল ক্ষ্যাপাটে। [ প্রস্থান। ফুলী। কি ৰছ মােনা বাবু, বলল- ফুলী। (স্বগত) মনে হচ্ছে যেন কোথায় যাই- মন্মথ। বললুম, ত, তুই এখন বুঝতে পারি নি। কোথায় যাই-বড় মা যদি তীর্থে যায়, সঙ্গে শােন দুই হীন কুলে বেশ্যার ঘরে জন্মেছিস; যাৰ। মােন বাবু পাকোর ব্যাঙ আর শুনেছিদ—ব্যভিচারিণীর উদ্ধার নাই। তাই সাগরের কথা বলেছিল। আমার মনে হচ্ছে, কুপথ ছেড়ে সুপথে এসেছি। লােকের হিত যেন ছােট্ট পাতকোটিতে আমার আর করুলে ধৰ্ম হয়, স্বর্গ হয়, এমনি আরাে কত কি পােষাঙ্গে না, এটা যেন সাগরে গে’ মিশতে হয়, তাই করি। কিন্তু সহস্রবার বেশ্যাজন্ম হক, বিষ্ঠার কীট হই, নরকের কৃমি হয়ে (মন্মথের প্রবেশ) থাকি, তবু লােহিত করব, এই ভেবে যখন মােনা বা বড় মা বল্লে, তাে এখন থাকার লােহিত কতে পাবি, তখন আর কিন্তু তীর্থ কি-রে? চালে।

গৃহলক্ষণী। ১ থাকবে না; এর নাম আবিসর্জন-শয়ের মুখে খাচ্ছি। তুমি যে রকম করে বল, আমি জন্য আপনাকে বলি দেওয়া। এর চেয়ে উচু এখনি নছি। কথার কথা নয়, সত্যি। তুমি কাজ আর নাইবুঝলি ? কি শােননি, সতীরা হাসতে হাসতে আগুনে ফুলী। আত্মবিসর্জৰ আপলকে বলি দেওয়া। পুড়ে মরুত। মরুতে আমি ভয় করি না। কিন্তু বুঝতে পার্ব কি না, পরে বব মােন। বাবু। তােমার জন্য ভয় করি। কান না, আঘাতী [ এক দিক দিয়া ফুলী ও অন্য দিক দিয়া অন নাকে ভাবে ? [ মথের প্রান। নেপথ্যে। শৈলেন বাবু বাড়ী আছেন ? চালয় টাকার জন্য এসেছি। দেবেন কি না, একটা তৃতীয় গর্ভাঙ্ক। খােলদা বাৰ দিন। মশায় বাড়ীতে আছেন, গলা পেয়েছি। এই কি ভদ্রলোকের কর ? শৈলেৰে তালতলার বাটী, সমৰছর ধরে খােরাক জুগিয়ে এলুম, আর এখন শৈলেন্দ্র ও সরােজিনী। গা ঢাকা দিয়ে বেড়াচ্ছেন? ভাল জোচ্চোরের শৈলেন্দ্র। সমােলিনি, এখান থেকে এক জায়গায় পাল্লায় পড়া গেছে বাবা! স্বা, তুমি আমার সঙ্গে যাবে ? শৈলেন্দ্র। শুচ কি ? নরক কি এর চেয়ে বেশ ? সরাে। তুমি সঙ্গে করে আমায় যেখানে নিয়ে যাবে, যে আগুনে এখানে পােড়াচ্ছে, সেখানে কি আমি খাব। তেমন আগুন আছে ? তুমি না খেতে পার, শৈলেন্দ্র। তােমার ভয় কৰ্বে না? আমি খাই। সরাে।' তােমার সঙ্গে আমার ভয় কি? তােমার সরাে। (শৈলেন্ত্রের হাত ধরির বিষপানে বিরত সঙ্গে যমের বাড়ী যেতে আমার ভয় নাই! ভূয় করিয়া) কি বলে তােমায় বােঝাব? তােমায় করবে বলছ কেন? কোথায় যাবে? বােঝাবার মত কথা আমি জানি নি। শােন, শৈলেন্দ্র। কোথায় যাব? সে বড় চমৎকার স্থান। আমি সতী, আমার কথা কখন মিথ্যা হবে না। সেখানে পেটের ভাবনা ভাবতে হবে না, দেনার তুমি অনেক সয়েছ, আর দু’দিন ধৈৰ্য থয়। তাগাদা থাকবে না, কেউ জোচ্চোর বলে গাল ভগবান্ নিশ্চয় উপায় কবেন। দেবে না। এখানে দুশ্চিন্তায় চোখ বুজতে শৈলেন্দ্র। এখন বচ ভগবান্ উপায় করবেন ? পাচো না, সেখানে গেলে ঘুম হবে। এমন এখনাে বলছ ধৈৰ্য্য ধর? ভগবান্ কার উপায় ঘুমুব যে, আর কেউ জাগাতে পারবে না। করেছেন? কত লক্ষপতি ভিখারী হচ্ছে, কত সরাে। তুমি কি বলছ? তােমার কথা শুনে যে ক্রোড়পতির সন্তান অনাথ হয়ে পথে পথে আমার পেটের ভিতর, হাত-পা সেদিয়ে যাচ্ছে। বেড়াচ্ছে, তােমার মত কত নিৰ্ম্মল কুলবধু পেটের তােমার হাতে ও কি ? তাড়নায় বেশ্যাবৃত্তি কচ্ছে! কার উপায় হচ্ছে, শৈলেন্দ্র। এই সেই মহাঘুমের মহৌষধ। দরিদ্রের তা আমার হবে? আপনি না উপায় কলে, এমন বন্ধু আর নাই। উপায় হবে না। তােমার কথায় অনেক ধৈৰ্য্য সরো। আঁতুমি বিষ খাবে মনে করেছ ? ধরেছি, আর ভূচি নি, হাত ছাড়, ভগবান শৈলেন্দ্র . বিষ কি ? দুঃখের সাগর মন্থন করে হতে কোন উপায় হবে না। তাঁর দয়া নেই, এই সুধা উঠেছে। তাপিতের এমন শাস্তিদাতা তার চেয়ে সয়তানের দয়া আছে, তাই ক্ষত আর নাই। যার অর্থ আছে, মান আছে, সুখ হৃদয়ের এই ঔষধ দিয়েছে। হাত ছাড়, তােমার আছে,আশা আছে, সে বিষকে বিষ বলে শিউরে প্রয়ােজন থাকে, অন্য পথ দেখ। আমার পথ উঠবে, তুমি আমি তয় করব কেন? এত যন্ত্রণায় , আমি চিনেছি। তােমার মতে ভয়? সরাে। এই পথ ছাড়া আর কি পথ দেখাতে সয়ে। ভয়? তােমার পায়ে মাথা রেখে মৰ, পাচ্ছ না? সে আমার ভাগ্য! তুমি দাও, আমি হাসি- শৈলেন্দ্র। আর কি পথ? বা মানুষের ছেলে, ১৩ গিরিশ-গ্রী। চিরদিন ইয়ারকি দিয়ে কাটিয়েছি। লেখাপড়া (সরােজিনীয় দ্রুত গৃহে প্রবেশ) শিখিনি, কাজকর্ম জানিনি। বড় বউদিদি শৈলেন্দ্র। কই গে, কোথায় গেলে? নরকের নিতাই দাদাকে চার পাঁচ বার পাঠালেন, অভি- ভয় করছিলে না? এই দেখ, সব নরকের মান করে গেলুম না। মােনা দোেপর দূত। আর ঐ সাক্ষাৎ নরকের রাজা! চুকিয়ে দিতে চাইলে, অপমান করে তাড়ালু, শিবু। বেলি, যে ঘরে ঐ মেয়ে মানুষ সে ধুলাে, পাছে আমার কথা বড় বউদিদিকে বলে, তাই ঐ ঘরে আগে চাবি দাও। ফুলী এলে গালাগালি দিয়ে তাড়াই। তােমার (সরােজিনীর বাহিরে আগমন ও বেলিফের বাপের বাড়ী থেকে তিন চার বায় করে তােমায় চাৰি দেখুন) নিতে এল, গেলে না ; আর কি পথ আছে ? বাড়ী বেচে দেনা শুধব মনে কলুম, শিবু উকী- শৈলেন্দ্র। চল, এখন বুঝছ কেন বিষ খেতে লের পায়ে পৰ্য্য ধরুলশ, আদালতে জোচ্চোর চাচ্ছিলুম। চল, এইবার গঙ্গায় ঝাঁপ দিই গে। বলে গাল দিলে। লােকের ভবিষ্যৎ আশা শিবু। কেন হে শৈলেন বাবু, বিষ খেতে যাবে থাকে, তাই নিয়ে জীবন ধারণ করে, আমার কেন? গঙ্গায় ঝাপ দিতে হবে কেন ? তােমার তা-ও নাই। বড় বউদিদির বিষয়ে আমার এমন পরিবার থাকতে আবার ভাবনা ? উত্তরাধিকার শিবু উকীলকে লিখে দিয়ে এসেছি। শৈলেন্দ্র। Rascal ! সকল পথ বন্ধ হয়েছে, এখন এই মহাপথ মাত্র ( শিবু উকীলকে পদাঘাত করণ) খােলা। তােমার যেতে ইচ্ছা হয়, চল; নইলে শিবু। এই পাড়াে শালাকো। আমায় বাধা দিও না। ১ম পিয়াদা। হুজ্জতি করবে! ( প্রহার নেপথ্যে। শৈলেন বাবু, ভয় নাই, তাগাদা করতে আসিনি, দোর খােল, একটা কথা কও। সরে।। ওগাে, মেরা না, মেরাে না, তােমাদের শৈলেন্দ্র। তােমার সাধ থাকে, এই সব উপহাস পায়ে পড়ি। ছেড়ে দাও বাছা, আমরা চলে মােন, আমার হাত ছাড়। মনে করেছিলুম, তােনায় ফেলে পালাব না, তাই এত করে শিবু। কেন, চ ল যেতে হবে কেন ? তুমি আমায় বােঝাচ্ছিলুম, তুমি বুঝলে না। হাত ছাড, হুকুম কর, আমি সবই ছেড়ে দিয়ে চলে যাচ্ছি। কখনাে তােমার গায়ে হাত তুলিনি, কালসর্প সয়ো। ভগবান, কেন আমি স্বামীর কথা শুনে নিয়ে খেলা কর না,হাত ছাড়। বিষপান করলুম না? পরপুরুষে আমায় কুচনে সয়ে। তুমি মারাে কাটো, যা ইচ্ছে কর, আমি দেখছে, ভগবান্ আমায় জরাগ্রস্ত কর। রাধা- কখনাে তােমায় এ নপাত করতে দেবাে না। বল্লভী, তােমার মনে এই ছিল। তুমি অনন্ত নরকে ডুবতে যাচ্ছ, আমি দাড়িয়ে শিবু। বাড়ী কোন ছার, সুন্দরি, তােমার জন্য দেখব? তবে আমি তােমার কিসের স্ত্রী ? আমি প্রাণ দিতে পারি। নেপথ্যে। দরজা ভেঙ্গে ঢােক’ না। শৈলেন্দ্র। ছেড়ে দাও, ছেড়ে দাও, ওঃ, প্রাণ কি বেরােবার নয়। (দ্বার ভঙ্গ করিয়া শিবু উকীল, আদালতের ( পিয়দাগণের শৈলেন্দ্রকে প্রহার) বেলিফ, পিয়াদা প্রভৃতির প্রবেশ) সরাে। কে আছি, খুন কলে, ধুন করলে! কুল স্ত্রীর উপর অত্যাচার, রক্ষা কর, রক্ষা কর। শিবু। সব ঘরে চাবি দাও, আর শীল কর, কোন নির্দোষকে মেরে খুন কলে, রক্ষা কর, রক্ষা জিনিষপত্তর নিয়ে যেতে দিও না। এক কর, দেখবার কেউ নাই ? রাধাবল্লভ। কাপড়ে বার করে দাও। (সরােজিনীকে দেখিয়া স্বগত) ও, কি রূপ। কি চোখ! কি ( বিরজা ও উৎপশ্চাৎ ফুণীর বেশ ) কপাল! কি ভুরু। বিরজা। শৈলেন, শৈলেন। ওগাে কে তােমরা? যাচ্চি। ?

? গৃহলক্ষী। কেন আমার বাছাকে ধরেছ? ছেড়ে দাও, শিবু। মিথ্যা কথা, সাক্ষী কে ? ছেড়ে দাও। ফুলী। সাক্ষী ধর্ম। সাক্ষী তােমার অন্তরাত্মা। ১ম পিয়াদ।। (শৈলেন্দ্রকে ছাড়িয়া দিয়া) আরে আর সাক্ষী তােমারই ঐ সব লােক। মামি, ছারিয়ে দাও, হারিয়ে দাও! টেকা আনন, ১ম পিয়াদা। (প্রবেশ করিয়া? হাঁ হাঁ, কত, তৰে তত ছাৰে । আপনি চড়াও হইয়াছিলেন, বেইজ্জত কতি বিরজা। আমার সর্ব নাও, সর্বস্ব নাও! ওগাে, যাইছিলেন। তােমরা জানাে এ রাজার ছেলে, কপালদোষে বিরজা। নিতাই ঠাকুরপাে ! দাও, ওকে বাধিয়ে ওর এই দশা ! আহা, মেয়েছে, মেরেছে? দাও, যেমন করে পার, এর বিহিত কর। তােমাদের কি দয়ামায়া নেই! ওর যে ননীর নিতাই। তুমি বলৰে, তবে করব? (শিবুর প্রতি) গা! শৈলেন, শৈলেন, তুই আমার উপর অভি শিবু, তােমায় একবার আমি দেখব! এখন মান করে খুন হ’তে বসেছিস্? কত টাকা দূর হও। চাও, আমি সর্ব দেব। [ শিবু উকীল ও পশ্চাৎ পিয়াদার প্রস্থা। শিবু। কোথাকার ঝাড়াঝাড়ুনী মাগী এসে বলে সর্বস্ব দিচ্চি । দুর করে দাও মাগীকে। (সরাে- ফুলী। বড় মা, আমি যাই, আমার কাজ আছে। জিনীকে বিরতার নিকটবর্তী হইতে দেখিয়া ) [ প্রস্থান। সুন্দরি,তুমি কোথায় যাও? (অঞ্চল ধারণােদ্যোগ) বিরজা। ফুলী, তুই সত্যি বলেছিলি, যেখানে ফুণী। আরে নরকের পিশাচ। আর এক পা আমার শৈলেন, আমার ছােট বউ, সে আমার এগুৰি ত এই ছােরা তাের বুকে বসাব। তীর্থের চেয়েও বেশী। (ছোরা প্রদর্শন। নিতাই। বউদিদি, তুমি এদের নিয়ে বাড়ী যাও, শিবু। আরে ম'লো, এ বেটী আবার ছাের বার এখানকার যা করতে হবে, আমি সৰ ক’চ্ছি। করে ফেলে যে ! ( এনি। ফুলী। শিবে, তুই আমায় চিনিস্ নি ? তােদের মত বাঘ-ভালুকের কাছে যখন যেতে হয়, তখন বিরজা। দিদি চল। আমার লক্ষ্মী ঘরে নিয়ে এই আমার সহায় : (নিতাই উকীলের প্রবেশ সরাে। দিদি, আমি ত তােমার দাসী, ওকে জিজ্ঞাসা কর। নিতাই। বড় বউদি, ফুলী, শিবু উকীল! এ বিরজা। শৈলেনকে? আমি যখন এসেছি, ওকে সব কি ব্যাপার। বির, নিতাই ঠাকুরপো, তুমি খুব সময়ে এসেছ, কান ধরে নিয়ে যাব। (শেলেন্দ্রের প্রতি। নীরেকে বাড়ী বেচে অভিমান করে যানি, এদের পাওনা কড়ায় গণ্ডায় ফেলে দাও। সে বাড়ী ত আমি কিনেছি। আর আমার নিতাই। কিহে শিবু? বেলিফ, এই দশটা টাকা উপর রাগ ? হারে শৈলেন, কি দোষ তােদের নাও, তোমরা জল খেও শিবু, এদের নিয়ে কাছে করেছি যে, এই শাস্তিগুলো আমায় বাইরে দাড়াও গে, আমি যাচ্চি। [ বেলিফ, ও পিয়াদাগণের প্রস্থান। শৈলেন্দ্র। বড় বউদিদি, আমায় মার্জনা কর। শবু। আমি বাড়ী সিজ, (seize) কতে এসেছি, বিরজা। চ’-বাড়ী চ’ : এখানকার যা সব তাের টাকা না পেলে যাৰ না। এরা সব এসে বে দেনাপত্তর আছে, নিতাই ঠাকুরপাে তা সব আইনি করে আমার বাধা দিচ্ছে, আমি আদা চুকিয়ে দেবে। লত কৰে। শৈলেন্দ্র। কিন্তু বউদিদি, তােমার ঋণ কেমন করে ফুণী। আর ঐ পাষণ্ড কুলস্ত্রীর উপর অত্যাচার শােধ যাবে? মা প্রসব করেছিলেন, তুমি মাই কতে যাচ্ছিল, আপনি ওকে বাঁধিয়ে দিন। দিয়ে মানুষ করেছ; আমি অকৃতজ্ঞ, তােমার যাই। দিচ্ছিস?

গিরিশ-গ্রন্থাবলী। মনে ব্যথা দিয়েছি। আমায় মানা কর। বানি, আমাদের সমান কতে পারে না। আমি বুঝতে পারি নি-আমি বর্বর। তােমার নাম রেমা, আর আমার না বিরজা। আশীর্বাদ করি, ছেলে হােক, পালন কবার ব্যথা বুঝবি। শরৎ। দেখ, আর গোফ পাপনিতে কা [ সকলের এন। বিন্দির বাড়ীতে ঘর খালি আছে। সেই নিয়ে গিয়ে ভােলা যাক। ভেসে বেড়াচ্ছি, একটা চতুর্থ গর্ভা। বাড়া বজায় হবে। হীরু। তুমি ত বিন্দির বাড়ী নে গিয়ে তুলবে। গঙ্গাতীর। দরকার হলে একখানি ক'রে গয়না বেচবে, (নীরদের প্রবেশ) আর তােমার বেশ চলবে; তার পর আমার? নীরদ। দুনিয়া বিরূপ। শাশুড়ী বেটীর পায়ে ধরে নীরে, শৈলেন ফেল হওয়া ইন্তক একটা পয়সার কালুম, মেটাবার জন্য টাকা দিলে না। আজ মুখ দেখি নাই। দেনা হয়েছে, এখন দু'এক ফৌজদারী সােপর কলে। আদালতে কেউ হাজার না হলে দাড়াতে পাচ্ছিনি। জামিন হ’ল না! এ সব অনর্থের মূল মােনা। শরৎ। দেখ, ভরি ফ্যাসাদে লােক। আর দোষ কার? ওরই ষড়যন্ত্রে জাল হাও- হীরু। তােমার ভয় হয় চলে যাও, আমি অত লােক নােটের সৃষ্টি। জীবনে প্রতিপদে আমার কণ্টক জোটাব। হয়েছে। আর কি জন্য জীবন-ধারণ? জেলের শরৎ। (স্বগতঃ) বটে! মেয়েমানুষটা আসুক আগে। জন্য? এ বংশে যা কখন হয় নি, তাই হবে। (প্রকাশ্যে ) আছ বাবা, গণ্ডা চেনেক পর কখন না-কখন না! জামিনে খালাস দাও দিকি হাত নেহাত খাকৃতি, ঝ। এতেও বোধ হয় মােনার কি অভিসন্ধি আছে। একটু টেনে আসি। তুমি নৌকো ঠিক করে যে দিকে চাই—সেই দিকেই মােন। কিন্তু এস। কিন্তু বাবা, তুমি ত গোঁফ পরুলে না। সত্যি মােনাকে ত খুজে পাচ্চি নি। কাল হীরু। আমার এই চেহারায় দেখেছে যে? দু’জনকে ফিরে এসেছি, আজ দেখি কি হয়! চল চল। নূতন মানুষ দেখলে যাবে কেন? সে ঠিক হবে [ প্রদান। -ঠিক হবে, কিন্তু আদেক বখরা। (ফুলীর প্রবেশ) [ উভয় দিক্ দিয়া উভয়ের প্রস্থান। ফুণী। চল, চল। ছায়ার মত তােমার সঙ্গে সঙ্গে ( ৰাক্স-হন্তে কুমুদিনীর প্রবেশ) ফিরছি। বাঘের মত শীকার খুজে বেড়াচ্ছ। তােমার অন্তরের ছবি তােমার চোখে দেখতে কুমু। কত লােককে কাদিয়েছি, কত লােক ঠকিয়েছি, কত সতীর মনে ব্যথা দিয়ে সােমা পাচ্ছি। চল, চল । [ এস্থান। ভুলিয়ে নিয়েছি। মাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে (শরৎ ও হীৰু ঘােষালের প্রবেশ) দিয়েছি। মা পথে পড়ে মরেছে। আমার । শরৎ। কই বাবা, তােমার বাক্স-হাতে মেয়েমানুষ ? শান্তি হবে না ত হবে কার? কি কুৎসিত লােগ, হী। সে আসবে-আসবে। ভদ্রলােকের মেয়ে আমার আপনাকে আপনি দেয়া হয়, তা পরের সন্ধ্যা না হলে বেরুতে পারে? একটু গা-ঢাকা দোষ কি? সব সয়, কিন্তু শরত, হীরু যােক হয়, তবে ত আৰে। শােন, এই গোঁফ দেখা হলেই দূর দূর করে, সয় না। দিন-রা পর। আমি নৌকা ঠিক করে আসছি। ও সৰ্বাঙ্গ যেমন অচে,মনও তেমনি অহে। কাল পারে নিয়ে গিয়ে এক রকম করে গয়নার বাক্স সাপিনী আপনার বিবে কি আপনি এমনি ক'রে নিয়ে আমরা সটুকাৰ। তার পর লেলােয় বলে! দু'জনে মিলে, সৰ্ব্ব ফাঁকি দিলে, উঠে একেবারে বন্ধমান। বখরা কিন্তু যা বলেছি, কেড়েকুড়ে নিলে, পথে কানে এখন কাছে আদা-আদি। গেন্ত মেয়ে, কখনও বাড়ীর গেলে, ঘেষায় দুর দুর করে। এ জালা সয় না ।

১৪ ওঠা যাঁ। । নকে জ করতে পারি, তবে মনের আল রসিক, উনিও তেমনি। নৌকায় করে সব একটু দূঙ্গোয়। পতিতপাবনি, তোমার রসিকা হবে। চলুন প্রেমান বাবু, নৌকায় বড়িয়ে পাপ চিন্তা কন্দি। মা, বর দাও- মনস্কামনা সিদ্ধ হয়, এই স্থানে শান্তি কুমু। (ৰিকৃতরে) বেচাদ বাবু, আমি গেয়তম তােমার কোলে এসে আপ জুড়। এ পথ কেমন, জানি নি, বড় যন্ত্রণায় বেরি- কি পূর্ণ হবে না? হবে-আমার মন মেছি, আপনার পায়ে ধচি, অবলাকে মজানে বলছে-হবে। এক টানে জােড়া কাৎলা গাঁথবে। এই বাক্স আমার টোপ। আর (বাক্স রাখিয়া পদ ধারণ) দু’চারখানা পাতয় পরি। তেমন ভারি হয় নি। হী। (স্বগত) এই বেলা বাক্সটা হাতাই। (বাক্স গয়নাগাটি ত কিছু রাখাে নি সব নিয়েছ। এখন তুলিয়া) ওঃ, ভারি আছে—ভারি আছে। এই পাথরকুচি নাও। আমার আপনা আপনি শরৎ। (বিকৃতন্বয়ে) রাম-রাম পা ছাড়ন, আমি হাসি পাচ্ছে। গেরস্তর মেয়ে মােয়ামীর আপনার পায়ে ধব, আপনি কেন ? জালায় বেরিয়ে যাব। ঐ যে একজন আসছে, হীরু। বৈশ হ’ল, গােড়াতেই একটা বােঝাপড়া মুড়ি দিয়ে বসি। মড়া আবার গোঁফ পরেছে। হয়ে গেল, চলুন-চলু, শীগগির এখন নৌকায় ( চাদর মুড়ি দিয়া কূলবধুর ন্যায় উপবেশন) ওঠা যাক। এখানে আবার লােক জমে (শরতের প্রবেশ) যাবে। শরৎ। (স্বগত) ও পারে কিছুতেই নে যাওয়া রৎ। (বিকৃতম্বরে) দেখুন শেতল বায়ু, আমি ঠাউরেছি, একে আর ও পারে নিয়ে যাব না, হবে না। ঐ বিলির ঘরে নিয়ে গিয়ে তুলব। এই পারেই বাড়ী ঠিক করেছি। দু’জনে থাব, হী ঘােষাল জোটাতে, ওকে কিছু দেবাে। কি বল গা ? ( অপর দিক দিয়া হীৰু ঘােষালের প্রবেশ কুমু। (বিকৃতম্বরে) আমায় বেখানে রাখবেন, হীরু। এই যে প্রেমাদ বাবু এয়েছেন। (জনান্তিকে সেইখানে থাকব। কেমন বাক্স হাতে, চাদর মুড়ি,-সব ঠিক-ঠাক, হীরু। তা কি হয় তা কি হয়! গােড়ায় কথার পেলে ত? আদাআদি চাই। (কুমুদিনীর খেলাপ! তুমি চলে এস -চলে এস। (কুমু প্রতি। এই নাও গাে, খুব সুখে থাকবে—খুব দিনীর হস্তধারণ) সুখে থাকৰে। প্রেমাদ বাবু ভারি সজ্জন। শরৎ। কই, নে যাও দেখি, তুমি কেমন নে যেতে ওপারে তােমার জন্য বাড়ী ঠিক করেছেন। পার? ছাড় শালা হাত ! (একহন্তে কুমুদিনীকে গেরস্তর মতনই থাকরে ধরিয়া অপর হন্তে হীরুকে প্রহার) রং। ( বিকৃতস্বরে) শেতল বাবু, ওঁর নামটি কি? হীরু। ছাড়, শালা হাত। (শরৎকে বাক্স দ্বাৰা মু। (বিকৃতারে) আমার নাম কেনা দাসী। প্রহার)। যদি পায়ে রাখেন, আমি তাই হয়েই থাকব। শরৎ। চল গাে চল আমার সঙ্গে! ও শালা চোর। হীরু। শু শুনুন, প্রেমাদ বাবু, কেমন নসিক হীরু। আমার সঙ্গে চল, ও শালা গাঁটকাটা। দেখুন। সত্যি কি তােমার নাম কেনা দাসী কুমু। পাহারাওলা, পাহারাওলা, আমার বাক্স কেড়ে গা ? কুমু। (বিকৃতপরে) না, ও বলছিলুম। আমার হী। আমাকে ফাঁকি দিয়ে গহনা নেবে। এই নাম সীমণি। ফাঁকি দেওয়াচ্ছি। (গঙ্গায় বাক্স ফেলিয়া দেখুন ৎ। (বিকৃতজ্বরে) শেতল, বলুন,-পায়ে ও টানাটানিতে কুমুদের রূপ প্রকাশ) রাখা কি বলছেন, আমি ওকে মাথার মণি উভয়ে। এ কে? কুণী যে। করে যাব।' কুষ। হা হা কুমী, চিনেছিস্ বেইমান। পাহারা হী। এ হয়-শােন গাে শােন। তুমি যেমন ওল, আমার বাক্স কেড়ে নিচ্ছে। নিচ্চে।

১৪২ গিরিণী। দিলে। । (দুই দিক দিয়া দুইজন পাহারাওলার প্রবেশ কুমু। জোচ্চোর, বিশ্বাসঘাতক, 'লম্পট, তাের মনে, ১ম পাহা। গঙ্গাজীমে কেয়া ফেকু দিয়া রে? এত ছিল ? অনাথা শ্রীলােকের সর্বনাশ কুমু। পাহারাওল সাহেব। এই দুই মিলে আমার কলি ? তােদের জন্য কত ভদ্র সন্তান পথে বাক্স কেড়ে নিয়ে গঙ্গায় ফেলে দিয়েছে। এই বসেছে, কত রাজার ঘর উচ্ছর গেছে, কত নাও সাহেব, এ আবার গোফ (গোঁফ টানিয়া নিরীহ স্ত্রীলােক অকূলে ভেসেছে! ঘৃণিত বেকার লণ্ডন) পরেছে। সঙ্গে যারা প্রবঞ্চনা করে, জেল কি, নরকেও শরৎ। আঃ বেটি, মহাব্যাধির রস দিয়ে মুখটা ভরিয়ে তাদের উপযুক্ত শান্তি হয় না। তােরা হীন, ঘণিত কের চেয়েও ঘৃণ্য। হীরু। আমার গা ভরিয়ে দিয়েছে। ( সকলের প্রস্থান। শরৎ। (স্বগত) তােমার এখন হয়েছে কি শালা ! এ দিকে একটা হেস্ত নেত হােক, তার পর রস দেখাচ্ছি। শালা বড় করে আমান্ধ বাধিয়ে পঞ্চম গর্ভাঙ্ক। দাও। মন্মথর গঙ্গাতীরস্থ নার্শারি। ১ম পাহ। শালা লােক পুরানাে বদমাইস, মােচ চেয়ারে উপবিষ্ট অধ্যয়নরত মন্মথ। চঢ়ায়কে আয়া! চল থানামে। কুমু। পাহারাও সাহেব, এরা বকেয়া গাঁটকাটা, (নীরদের প্রবেশ) আমি ভিক্ষে শিক্ষে করে যা কিছু জমিয়েছিলুম, নীরদ। এই যে মন্মথ বাবু! আজ দু'দিন ধরে নিয়ে মামীর বাড়ী যাচ্ছিলুম। এরা পথে বাক্স ফিরে ফিরে যাচ্চি। একা যে? গুপ্ত বৃন্দাবনে কেড়ে নিয়ে গলায় ফেলে দিয়েছে। এর নাম রাসেশ্বরী কই ? ফুলী কই ? বলেছে শেতল, এর নাম বলেছে প্রেমাদ। মথ। নীরাে না, তােমার মন বড় অপৰিত্ৰ। কুলীর ১ম পাহ। হা-হা-শেতল আউর প্ৰেমৰ্চা নাম তুমি মুখে এনাে না, তাহলে তাকে কলঙ্ক পুরাণ বদমা। (২য় পাহারালার প্রতি) নেই নীরদ। আর তুমি এমন পবিত্র যে, তােমার স্পর্শে ২য় পাহা। হা-হা-দোনােকা হুলিয়া হয়। সে দেবত্ব প্রাপ্ত হয়। মরি মরি, কলঙ্কভঞ্জন হীরু। আরে কোন্ শালা শেতল হ্যায় -আমি হীরু কৃষ্ণচন্দ্র আমার! তা হবে না ! তুমি যে ঘােষাল। সাধু, পরােপকার কর, রাস্তা থেকে তােক তুলে কুমূ। ঐ শােনন, আবার বলছে হীরু ঘােষাল। নে গে সেবা কর, নিরন্নকে অন্ন দাও ! ১। তােমার আরও নাম আছে না কি? ভণ্ড! জালিয়াৎ। ২য় পাহা। হ্যায়ই ত-ও শেতল হ্যায়, হীৰু হ্যায়, মন্মথ। নীরােদা! আমি জাল করিয়েছিলুম বটে, পী হ্যায়, আর কভি কভি পাঁচকড়ি হােত। কিন্তু সে আমার স্বার্থের জন্য নয়। তুমি অর্থ- হ্যায়। শালা পুরানা মা। লােতে সংসারটাকে উচ্ছল দিচ্ছিলে, বড় না ১ম পাহা। আর এই শালা প্রেমচা, এক সঙ্গে আমার গলা ধরে কেঁদে বলেছিলেন, “মােনা, হামারা চাপরাস ছিনায় লিয়াথা, চল শালা কি হবে। তার সে ব্যাকুলতা আমাকে জ্ঞান- থানামে। (রুলের গুতা প্রদান ) শূন্য করেছিল। আমি মৎলব করেছিলুম, হীরু। আরে থাম থাম, কথাটাই শােননা - তােমাকে কোন রকম বিপদে ফেলে, সর্ব- ২য় পাহা। (রুলের গুতা দিয়া) খামে চল পালা, গ্রাসী মকদ্দমার মুখ থেকে তােমাদের সংসারটা থানামে সব বাত হোগা। রক্ষা কৰ। তাই জাল নােট সৃষ্টি করে কুমু। সেলাম-সেলাম। ছিলুম। কুৎসিত চিন্তা হয়ে স্থান দেওয়া, শরৎ। বেটী, তাের মনে এত ছিল, শেষ হাতে খড়ি কুসঙ্গে বেড়ান যে কি যন্ত্রণাদায়ক, তা তুমি বুঝতে পারে না। যখনি কষ্ট হত, বড় মার স্পর্শ কৰে। ভেইয়া? দিলি?

থা গৃহলক্ষী। ১৪৩ চোখের জল মনে পড়ত, আর আমি সব ভুলে রাসলীলা করবি, আর পারে বলে জ যেতুম। সেই ছবি ধ্যান করব। তার আগে তে। ব'লে যাওৰ'লে যাও,-আমি স্থির খুন কর। হয়ে শুচি। মন্মথ। খুন করবে? তাহলে ত তুমি মথ। আমি ভেবেছিলুম, তুমি বিপদে পড়লে বন্ধুর কাজ করবে। আমি তােমার সর্বনাশ পার্টস সুট তুলে দেবে, সংসারটা বজায় হবে। করেছি কিন্তু এখনও বছি, আমি নিজের কিন্তু সে দিক দিয়েই গেলে না। তবু আমি বার্থের জন্য করিনি। মকদ্দমা ওঠবার আগে শিবু উকীলকে postponement নিতে ব'লে তুমি যদি আমার কথা শুনতে, পাটিস সুট ছিলুম। জজ দিলে না, সকল সঙ্কল্পই বিফল হ’ল। ব্রফ কতে, তাহলে তােমাকে হাতে যেতে নীরদ। কিন্তু আমার সঙ্কল্প বিফল হবে না। মৎ হত না। আমাকেও অনুতাপে দগ্ধ হতে লব করেছিলে, বড় মা’র বিষয় হাতে পেয়েছ, হত না। নীরাে জা, আমি অপরাধ করেছি, ছােট কাকাকে এক রকম পেটভাতায় রাখ আমায় মার্জনা কর। যে দণ্ড দেবে দাও,আমি লেই হবে, আর আমায় ভাসিয়ে সমস্ত বি- বুক পেতে নেব। মৃত্যু এখন আমার শান্তি। টা হাত করে ফুলীকে নিয়ে মজা কবে। নীরদ। ফুলি। পুলি! এখানে থাকৃতিস্ ত দে তুমি যে নিঃস্বার্থ-সাধু !- সয়তান! তিস, তাের পেয়ারের মােনা বাবুকে কি করে মন্মথ। নীরাে দা, আমি স্থির করেছি কোর্টে গিয়ে খুন করি। বলব, আমিই তােমায় জব কবার জন্যে জাল নােট তােমায় বেচেছি। ( খুন করিতে অগ্রসর হওন ও ফুলীর পশ্চাৎ নীর হইতে আসিয়া হস্ত ধারণ) । সাধু সাধু! ওঃ! আশ্চৰ্য্য স্পর্ধা তাের। তুই এখনও আমার সানে দাড়িয়ে কথা ফুলি-কুলি, এই যে ফুলী! ফুলী বেঁচে ক’চ্ছি। লজ্জা ক’চ্ছে না? : তুই কি মনে থাকতে তুমি মােন বাবুর গায়ে একটি চড় করেছি, আমি তাের কথা বিশ্বাস করি ? তুই দিতে পারবে না। ভেবেছি, এই স্তোক দিয়ে আমার হাত থেকে নীরদ। কুলি, স, বাধা দিস্ নি। বেঁচে যাবি। মনের কোণেও স্থান দিস নি। লী। আজ দু’দিন তােমার পেছু পেছু ঘুরছি মন্মথ। তােমায় আর কি করে বিশ্বাস করাব ? তােমার চোখে তােমার অন্তরের অভিসন্ধি নীরদ। বিশ্বাস কৰ না, তাের কথা সত্য দেখেছি। আমি থাকতে তােমার মন হলেও বিশ্বাস করুৰ না। শশা, তাের সিদ্ধ হবে না, মােন। বাবুকে মায়ূতে পাৰে। সঙ্গে আমার অনেকদিনের দেনাপাওনা। আজ নীরদ। তবে তুমিই মর, মর,, মর। তারই হিসেব-নিকেস করতে এসেছি। জানিস অস্ত্রাঘাত ও ফুলীর পতন) নি, বার বার আমার মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে মন্মথ। নীরাে দা, কি ক’বুলে–কি করলে? ছিস? ছােট কাকাকে যখন খুনি মামলায় না, যে দণ্ড তুমি আমায় দিলে, এর কাছে । ফেলি, তুই তার উদ্ধারকর্তা। ফের যখন লাখ দণ্ড অতি তুচ্ছ! ফুলি, আমার প্রাণর টাকার দায়ে ফেলম, ফুলীকে দিয়ে নােট করবার জন্য, তাের অমূল্য জীবন তুই বিসর্জন পুড়িয়ে তুই তাকে বাঁচালি, ফুলীকে পাছে দিলি? আম, নির্মল কুসুমকলি ! নীরাে দা, আমি তাের কাছ থেকে নি, এইজন্য চক্রান্ত তুমি দাঁড়িয়ে কেন ? আমাকেও মার। এখন করে আমার দ্বীপান্তরে পাঠাবার বন্দোবস্ত আমার প্রাণবধ করা করুণা। আত্মঘাতী করেছিস। ক্ষুধাতুর ব্যান্ত্রের মুখ থেকে হওয়া মহাপাপ! নীরাে দা, আমায় মানে, আহার কেড়ে নিয়ে ভেবেছিলি, তাকে পিজ জীবনে একটা ভাল কাজ করাে। আমার খুন নেয় পুবি। আজ আমার হাতে তাের নিস্তার কলে তােমার অশেষ পুণ্য হবে। মানে- নেই। মনে করেছি, তুই ফুলীকে নিয়ে মান, বাড়িয়ে রৈলে কেন ? ?

দাও। ১১ গিরিশবাবলা। ১। না, আর তােকে খাব না, তােকে কি (মন্মথর বাণ্ডী লইয়া পুনঃ প্রবেশ দিয়েছি, আমি বুঝেছি, দুই বেঁচে থেকে শখ। ফুলি, খা। এলে মন। মন্মথ। নীরো দা, শােনন, তুমি পালাও, শীগগির ফুলী। মােন বাবু, ওষুদ আর খাব না, গঙ্গাজল পালাও। ঐ ঘরে কাপড় আছে, এই রক্ত খা বেটা, বাবার চরণামৃত খা, আমার মাখা কাপড় জামা ছেড়ে তুমি পালাও। কমণ্ডলুতে আছে। নীদ। তাের মতলব যাই হােক, আপাতত তাের (কমণ্ডলু হইতে চরণামৃত প্রদান ) কথা । ফুলী। মােনাবাবু, আমায় একটু তুলে ধরাে, আমি [ নীরদের কাভিমুখে দ্রুত প্রস্থান। গঙ্গা দেখবাে। মন্মথ। (নেপখ্যাভিমুখেমালি, মালি, শীগগির অব। দেখবি বই কি রে বেটী, দেখবি বই কি। পুলিশে খবর দে, খুন হয়েছে। আহা, চক্ষু (গঙ্গাভিমুখী করিয়া ফুলীকে শয়ন করান) যেন সজীব রয়েছে, যেন মহা ধ্যানে মগ্ন । ও! তােকে আজ কোলে নেবে কি না। পরের জন্য আত্মবিসর্জন! আমায় ভাল বেটীর, হাত তুলে তুলে নাচন দেখ ! ঐ দেখ, শিক্ষা দিয়ে গেল। আমি কথার কথা শিখিয়ে বেটা তাের মত সব আকাশ ছেয়ে এসেছে, ছিলুম, ফুলী আমায় কাজে শেখালে। তােকে নিয়ে যাবে বলে। (ইনস্পেক্টার, জমাদার ও পাহারাওয়ালাগণের প্রবেশ) ইনস্। মা, এই গঙ্গা সামনে, তােমায় একটি কথা জিজ্ঞাসা করি। মা, কে তােমার ছুরি মেরেছে ? ইনস্। এ কি!-কে এ কাজ করলে? ফুলী। নীরদ বাবু। মন্মথ। আমি । ইস। অবধূত, শুনলে ? বল্লেনীরদ বাবু। ইস। আপনি ফুলীকে হত্যা করেছেন? (জমাদারের প্রতি) জমাদার, নীরদবাবুকে চেন। মন্মথ। হ্যা। ঘাটে ঘাটে পাহারা বসিয়ে দাও, ষ্টেশনে ষ্টেশনে ইনস্। মন্মথ বাবু, এ কি সম্ভব ? লােক রাখ, আসামী যদি পালায়, তুমি দায়ী। মন্মথ। সবই সম্ভব। আমার অবাধ্য হয়েছিল, ঠিকাগাড়ী করাে। [ জমাদারের প্রস্থান । সেই রাগে মেরেছি। ফস কাপড় চাদর পয়ে তাড়াতাড়ি গিয়ে নীরদ ইনস্। । এ কি-ন’ড়ে উঠল কেন? চোখ মেলচে ! বাবু আমায় বলে গেল,-“নশারিতে খুন কুম্থ। ফুলি, ফুলি! ওঃ! মুচ্ছা হয়েছিল—বুঝতে হয়েছে। একজন এ বাড়ী সাচ্চ (seaich) তেপারি নি। একটু ব্ৰাণ্ডী দিই, যদি কিছু কর, দুজন পাহারায় এখানে মােতায়েন থাক-- ২য় পাফল হয় আমি চট করে ম্যাজিষ্ট্রেটের অর্ডার নিয়ে পী [ এস্থান। আচি। ( নকুল অবধুতের প্রবেশ) মন্মথ। (জনান্তিকে) ইনস্পেক্টার বাবু, যাতে শেষ ১মঅব। আজ বাবার বিয়ে, দাও তােমার বাগান কাৰ্যটার কোন বিঘ্ন না হয় একটু দেখবেন। থেকে দুটো নাগেশ্বর ফুল পেড়ে। (ফুলীকে ইনস। আপনারা গঙ্গাতীরে নিয়ে গিয়ে রাখবেন, দেখিয়া) এ বেটা এখানে পড়ে যে! রং মেখেছে, আমি এলুম বলে। বাবার বিয়ে দেখতে যাবে বুঝি। তাই ত বটে, [ প্রস্থান তাইত বটে! ঐ যে সব ঝম ঝম্ করে আসচে অব। ঐ বেটী দেখতোর রথ এল! যা বেটা যাচ্ছে! হরগৌরী মিলন দেখগে যা! বেটী নায়িকা ছিল ফুলী। (চৈতন্যলাভ করিয়া) বাবা! কি না, বাবার মন্দিরে যখন যেত, পায়ে মুখ অব। বাই বল, আর বেটাই বল, বেটী, আজ ৰাজত-শুনছুম। বেটী শপত্ৰষ্টা হয়ে বেশ আর তাের সনে ঝগড়া কৰ না। ঘমে জন্মেছিল। ওর মা কীর্তন গাইত কি না।

১০ এ সেটা যখন বাবার কাছকে কে গান এ ত করেছি। তিনি তার কত, তখন সেতু, যার গা জলে ভেসে কে এই সৰ নােট লিখে দিয়েছিলেন। ছে। সেটা না গেলে কি হয়-গৌরীর মিলন আপনার পানে সে ছিড়ে ফেলছি। (তথা হয়? দেখ বেটা, এই ফুল নিয়ে মা-বাবাকে ক) আপনার বর্তমানে উনি যে আপনার মাকে জাৰি। কে বি পেতেন, তা আমার বিয়ে দিয়ে (ফুলীর গাত্রে ছড়াইয়া দেওন) ছিলেন। আমি তা বিনতে (reconvey) হরি নাম গান করে তাের না, তাের মত মেয়ে করে দিচ্ছি, এই নি তার দলিল। (দান) পেয়েছিল। হরিনাম শােন্ বেটী! (ফুল দিতে মা, আমি আর কলকাতার কুৰে না, পশ্চিমে দিতে) হরিবোল-রিবােৰিােল। কোথাও একটা করবে, আমায় দয়া করে লী। আবিসর্জন। যােলাবাবু বুঝতে ছেড়ে দি। পেৰিছি কি বিরজা। নিতাই চাকুরপাে, তুমি না ছিলে কে (3) ক্ষমা করতে? থ। ফুলি, ফুৰি, সৰ ফুল’! নিতাই । না, শিবু উকীলকে কিছুতেই ক্ষমা করা অৰ। চল চল— গঙ্গা অধীর হয়েছে, বেটীকে হবে না। তার কোলে দিইগে চল। মিছে কালে ঘুরে বিরজা। না নিতাই ঠাকুরপাে । বৈদ্যনাথের প্রতি) নোচ্চি, বেটী আজ আমার চোখ ফুটিয়ে দিতে। বদি ঠাকুরপাে, কি বল? শরণাগতকে পীড়ন •ফুলীকে লইয়া সকলের প্রস্থান। কলে অং হবে। রাশভজী রাগ করবেন। আমার ভয়ের ভিটে থেকে কেউ কখনাে মন গর্জা। বু হয়ে যায় নাই। ভূমি ওঁর ন্যায্য পাওনা ওঁকে চুকিয়ে দিও। উপেজের বাটীর কক্ষ। নিতাই। শিবু, কাল দেখা করো। বিরজা, নিতাই ও বৈশাখ শিবু। এই দেবীকে আমি কটু কথা বলেছিলুম। নতাই। বউদিদি, শিবু উকীলের নামে এক [ প্রস্থান করলে, আদালতে পাঁচ রকমের লােৰু পাঁচ ৰৈ। বউদিদি। উপেন কেমন আছে? কথা কইৰে, একটা কুৎসা রটনা হবে। বিরজা। আর থাকাথাকি কি ভাই-মে মানুষ আর বর। কি, শিবু উকীলকে ক্ষমা করব? আমার কেমন বিভুল হয়েছে; কখন কুলবধুর অপমান করেছে। নিজেকে মনে করে মরে গেছে, কখন একটু তাই। সে কি বলতে এসেছে, তুমি শোেনন, জান হয়। একটা কাগজের টুপি হাতে করে 'তার পর যা বলৰে-কর। (বৈদ্যনাথের বেড়ায়। রাধাবল্লভীর মনে কি আছে জানি এতি) ৰ'দে, শিবুকে নিয়ে যায়। । ওর ভরসা আর কিছু করি নে। (বৈদ্যনাথের প্রদান। (শিবু উকীলকে লইয়া বৈশাখের পুনঃ প্রবেশ (উপেত্রের প্রবেশ) এক বিরজার তালে গান) উপে। কে তােমরা পালাও-পালাও। মা- শি। বউদিদি,এই দেরের পাশে আছেন,কি যেটায় আর কি পরামর্শ ক।ে যখনই অমনি ফুকার করে, তখনি কাউ মাউ উঠান, আমার নানা করুন। আমি করে আগুন জ্বলে উঠে। পা দু আপনিই আপনার এ এ কি। আর হবার আগে নি ফিফা ক'। পাগল কেন আদালতে তার নামে নালিকে। বলে উপেনের পায়ে বেড়ি দেবার আগে আমার বৈশাখ , নেটলে আমায় দেন। তেমনি ফিসফাস করেছিল। উপেন মনে কে য, আমি নিজে যেটা দিয়ে শৈনের লে। কাল থেকে আবার ফুসফুল । [ ] নেই।

১৬ দেখি । বিজ। সত্যিকাতে একের পর পেয়েছিল। আমি বুঝতে পারি নি, নয়। কাল সাড়ে নীরে হায় হয়ে মানা কর, আমায় যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে। এল। তার পর থেকে দুজনে পরামর্শ উপে। শিক্ষা হয়েছে। চলেছে। এত কিসের পরামর্শ গা? হাজত বৈলে। মেজ, দেনায় মাথায় চুল বিক্রী হয়ে থেকে ফিরে এসে অবধি শুয়ে রয়েছে। যে হারে জোজোর খ্যাতি হয়েছে, শট গারাে সঙ্গে দেখা না, পরামর্শ না, সন্ধ্যে হলে একে অপমান করেছে। এতেও যদি শিক্ষা একবার করে দোর খুলে বেরােয়, কার কাছে হয়, তবে আর কিসে হবে তা জানি নি যাকে মানে? উপেন্দ্ৰ। ৰটে বটে !এতদূর হয়ে গেছে! উপেন্দ্র। পালাও পালাও, মাগীটা বলছে, নর লম্পটে তাের স্ত্রীকে অপমান করেছে? ... ৰলি খাবে—খাব।” এড়া ৰছে বেশ হয়েছে বেশ হয়েছে। কি ব্যক্তি “দেবে—দেবে। উপেন মরে গিয়ে বেচে কথাটা বুঝি। লম্পটে তাের খ্রীকে অপ- গেল। নইলে তাকে ধরেই বলি দিত। মান করেছে। তবে ত তাের খুৰ শিক্ষা নিতাই। উপেন, কি মরেছে-মরেছে বল? হয়েছে। বাক-তা বেশ হয়েছে। তার এই ত দিব্যি আমাদের সামনে দাড়িয়ে রয়েছ। তাই উপেন বেচে থাকলে এতটা হত না। আমায় চিনতে পায় না। আমি কেবল তা, তুই ত তাকে লাঠি মেরে মেরে ফেলি। এখন আর কাঁদলে কি হবে? তা কাকা উপেন্দ্র। তোমায় চিনি, তুমি নিতাই উকীল। দলে অনেক ভাল জুড়ােয়। আমার চোখে এই বলে, আর এই তার বড় দিদি। জল নেই,চোখের জল সব আগুন হয়েছে, বৈ। তবে যে ৰছ-উপেন মরেছে। তাই সর্বশরীর বলছে। উপে। মনেছে-মছে-উপেন মরেছে। শৈলেন্দ্র। নিতাই দা, কি কুলাঙ্গার জমেছিলুম। (শৈলেনের প্রবেশ) যুধিষ্ঠিরের মত তাই আমার জন্য পাগল হল! উপে। চুপ ক-ভাইয়ের এ দিনে। শৈলে। আমার একটু জো এসেছে, আর অমনি এখনি মায়ে-পােয় তাের পায়ে বেড়ি দিয়ে চলে এসেছ? চল,আমি বাতাস করিগে, পাগলা গারকে পাঠাবে। উপেনাক পাঠা- একটু ঘুমাৰেচল। নিতাই , যে খৰু লি-গলাে তাই বেচে গেল। যে কাগজে একটা বড় গাথায় টুপি করেছেন, বৈঃ। উপেন তুই ত মমি নি, এই ত ক সেই স্কুলে বেন না পরিয়ে সেইটে আছিস। কখন কখন না যেন। আর বলেন উপেন। না, না -ম’য়েছে-রেছে-তােমরা জান মালা করে এনাম পেয়েছি। বউদি, তুমি । তার ছেলে নগর করেছিল। গো, কি এই সব দেখতে আমার বাড়ী আনলে। দের বুঝি নিমন্ত্রণ করে নই, খুব ঘটা করে দান- তুমি না বলে, তােকে নেবার ঠাকুর সাগর করেছিল। বাপের এক ছেলে-খানসাগর পাে প্রাণ রেখেছে। মো, আমার চিনতে করূৰে না? ঘরােয়ানা ঘরের ছেলে-নসাগর পায়ে না? করবে না? খুৰ দানসাগর হয়েছিড় বড় উপেন্দ্র। চিনেছি-চিনেছি-তুই শৈলেন। দুই উকীল কাউন্সিল সৰ সহ-কত আই লাঠি মেরে উপেনকে মেরে ফেলেছিলি। তােকে নেৱ সৰ বিচাৰ হ’ল-খুৰ নাই কাজ করেছে। একটা গো ভাতে গোটা তাের ছাড় ঘটী, ৰাটী, ঘড়া, গাড়, খাট, বিছানা, গাড়ী, ভাবে ব'লে, উপেন্দন তােকে ছেড়ে দিতে জুড়ি, বাগানবাড়ী সৰ দান করেছে। ভূ- চায় নি। তুই লাঠি মেরে উপেনকে মেরে ফেলে অশেষ পুণ্য, তাই তালুকলুক পৰ্য্যন্ত জন চলে গেলি। করেছে। আর সােণাপ মুগ যুগ হতে শৈলে। মো, সত্যিই তখন আমার পেজে বিলিয়েছে। তার পর লেলিতা स्वार-चोर बाल-ला ला (নী, তৎপগৎ তরণি, তৎপগং ই গতবার যায় নি। ।ৈ উপেন, কে এল?তুই যেন জমাদার, পাহাঙিলা প্রভৃতি একে) উপেন্দ্র। কেন হাইকোর্টে। কৰে না-কবে তর। ওগোসা করে রক্ষা করে নাবাপকে র্গে নেবে না? বাপকে অবজ নীলেকে পুসি’রূতে এসেছে। গান কমূলে, তার সঙ্গে এই ঘটুক দিলে। মটু mi In the name of the King, I amest দিতে হয়। বাপ বে! নেবে না। এই যে- you for murder. (টুপি পরিয়া) কেমন দেখাচে বল দেখি? নীরদ। মিথ্যা কথা—প্রমাণ কি? কার কুমে বিরজা। ঠাকুরপাে, তােমার এই না চােখে সরে এসেছ? ইস। নীরদ বাবু, সতর্কতা অবলখন না করে কি উপে। বেঁচে থাকলেই দেখতে হয়। অনেক ৰাষের ঘরে ঢুকেছি? এই দেখুন-জিষ্ট্রেটের দেখতে হয়, তাই উপেন মরেছে। নইলে ওয়ারেন্ট। ভাইকে পথের ভিখারী দেখতে হত, লম্পট্যে বিরজা। ওগাে-ঠাকুরপােকে দেখানুপাতে হাতে কুলৰধুর অপমান দেখতে হত, ছেলে জাল করেছে দেখতে হত,তাই মরেছে বৈ ও নিতাই। উপেন, উপেন উপেন তাই মরেছে। উপে। অনেক খেতে হয়-নেক খেতে হয়। নির্মল কূলে কুলস্ত্রীর অপমান, জাল, নাহত্যা, (মথের একে) রমহলে গুলি, হাতে হাতকড়ি। অনেক অথ। বড় মা, তোমার ফুলী ফুলের মত পুড়ে দেতে হয়। আরও দেখবার সহ আর কেন? চার পাে পরিপূর্ণ হযে-কেন? সকলে। অা—ফুলী গুড়ে মরেছে? হৃদয় ফি পাথরের চেয়েও কঠিন। -ও! ম। খুন হয়েছে। -পতন) সকলে।'কে খুন কতোকে খুন কলে? সকলে। কিহলাে--কি হলো— মন্মথ। না, ছুরি মেরেছে নীরাে না; কিন্তু খুন বিরল। ঠাকুরপাে, আমি পতিপুত্রী, আমার করেছি আমি। মা, আমারই হীন কৌশলে ভার করে দিয়ে যায়? মােন, এক দুই জান মােলর সৃষ্টি। তার জন্যে নীয়ে জা’র ঠাকুরপােকে বাঁচিয়েছিল, এবার কর। ক্রোধ,—তার ফলে কুণীর মৃত্যু। অথ। (পরীক্ষা করা ) The train উগে। কুলৰধুর অপমান, নারীহত্যা! বেঁচে straim_blood vessel কেটে গিয়না থাকলে অনেক দেখতে হয় অনেক দেখতে দিয়ে রক্ত চটছে, আর আশা নাই, এবার হয়। । মা, আমার বিদায় দাও। আমি নামাজে তর। কি হলাে—একদিনে পতি পুত্র ইয়- এবার যােগ্য নই-আমার মহাপাপের প্রায় বু। (পত)। শ্চিত্ত নাই! শুনেছি, ভগবান করুণাময়, তাঁর সকলে। কি হলাে-কি হলো? চরণ অবদন করৰ-যদি শান্তি হয়। বৈত। উপেন, ফেলে চলে গেলি? ভাই রে বিজা। মোনা, শােন। তাের হৃদয়-নিঃস্বার্থ নিতাই। উপেন, উপেন--- দয়। তুই ভুল করেছিলি, অসৎ উপায় বিরজা। ডেকো না, ডেকো না—বড় জয়েছে অল রেছিলি। অসহপায়ে সহ একটু ঠাণ্ডা হয়ে ঘুমু! আর কেন? নিতাই সি হয় না। ভগবান্ মন দেখেন,তােকে মা ঠাকুরপাে, তােময়া ওর বন্ধু ছিলে এখন বন্ধুর করবেন। তুই যেমন তার কাজ করছি বা শেষ ক, তা কারো। আহ! রাজশন শতি পৰি। খুলে পড়ে লােটাজে। শৈনে ,

১. গিরিণী।
ৰংশের মান-মাল এখন তাের হাতে। যেৰে, নিতাই। উদিদি, খত ভূমি, যত জোমার বৈধ?
৩ঠ যা হয়েছে, আর ত উপায় নেই চিনি। সারে কেমন করে থাকতে হয়, তুমি শেখালে?
নিতাই ঠাকুরপাে, নীরে বংশের একমাত্র সন্তান,
তােমার মত ৰাই কুলনী-আল-গৃহিণ।
বাতে ফাগীটা না হয়, প্রাণপণ চেষ্টা কর, পিং সমাজের কল্যাণের জ বাজার করে ঘরে
পুরুষের জন্য বা থাকবে।
তুমি বিরাজ করে।
যবনিকা।

য্যায়সা-কাত্যায়সা।
(প্রহসন)
সুপ্রসিদ্ধ ফরাসী নাট্যকার মলেয়ারের “ Amour Medecin” অবলম্বনে
প্রহসনােল্লিখিত চরিত্র।
পুরুষ।
হারাধন
“ম্যানিয়া” এ বড়লােক।
( পর হইবার আশায় কন্যার বিবাহান-বিরাে)
রসিকমােহন
মোেত যুবা।
(তনমালার অনুরাগী)
সনাতন
হারাধনের প্রতিবাদী।
মাণিক
হারাধনের তৃত।
(গবে না।
মিঃ নন্দী (তভাষী)
এলােপ্যাথিক ডাক্তার।
কি ঢোল (মহুভাষী )
এয়ী, এসোওয়ালা, ছবিওয়ালা, পােষাকওয়ালা, হােমিওপ্যাথিক ডার, বৈ, হকি
পশুচিকিৎসক ড্রেসাের, গাে-বৈদ্য, বাকাগণ, পুরােহিত, নাপিত, মালী,
বরযাত্রী ও কন্যাশ্রীগণ ইত্যাদি।
শ্রী।
নমালা
হারাধনের ।
(রসিকমােহনের অনুরাগিনী।
হারাধনের গৃহে এতিপালিত বাণী।
ধাত্রী, জোঁকওয়ালী, ৰেদিনী, এনােগণ, ৰাণীগণ, পুরীগণ ইত্যাদি

য্যায়সা-কা-ত্যায়সা। যতটা সয় নয়, প্রস্তাবনা। হারা। দেখ মাকে তুই একটু বুঝি দুঝি- মাণিক। এতে হা। হারা। বল দেখি-মেয়ে আমার কি আর কার ? মাণিক। আক্তে-মায়ে- য। চোপও বেটা-বল যেন আমার কি দুনিয়া পুরোনাে, যে চলবে না যে না ঢং। হিনী টপকে গেল, কালি মেখে সাজৰে সং। মাণিক। আজ্ঞে কোন মেয়েটী তার বেশী ভাল নয়, রা। বল বেটা, আমার মেয়ে আর কোন মেয়ে। চাচোন কি হি ধরে সয় ? মাণিক। তাতে আপনারই মেয়ে, আপনারই মেয়ে চোলে বেজায় নাকা, দেখিয়ে নেৰে কৰেরং। হারা। তবে আর কে কি বলে। নেয়ান ল গুনে শেখে, সেও ভাল যে শেষে দেখে, গাণিক। আজ্ঞে কে কি বলে, কে কি বলে? বেকুবের হাড়ে হাড়ে শিখতে হয় ঠেকে, হয়। যােত বছরের মেয়ে হয়েছে—হােক। নৰ কাণ জাগনি মলে, তালি দে লােক দেখে রং। মাণিক। আজ্ঞে হােহােক। হার। তবে আর কি। প্রথম দৃশ্য। মাণিক। আজ্ঞে তবে আর কি। হার। অপরদার .যেটা কারুকে বাড়ী ঢুকতে দিৰি নি। (ধন্য একে) মাণিক। আজ্ঞে তা কি হবাভী দুরে কে? মা। বেটাদের বায়না কত-দশ হাজার নগদ, হায়। দেথ, ঘটক বেটাকে দেখাব কি অমন বিশ হাজার গর, হীরে মাণিক, সােণাৱশাের দোরে খিল দিয়েছি। খাট বিছানা, আবার নিজের মেয়েটা; চোর মাণিক। আজ্ঞে হুড়কো দেবে। দারে ধরা পড়েছি-সাদি নেই দো! আমার হারা। শােন মাণকে, বেটাদের আস্পর্ধার কণ মেয়ে বড় হা তাে র বাবার কো হা। শােন। বে কভি নেহি দো! জাত জানান। মাণিক। আঞ্জে ৩ৰো বই কি—শুৰৰ বইকি। জাঙ্গা! ৰটেৰে দেবে। বেটারা লুচি খাবেন? হার। এখনি শােন্ বেটা। আর আমার মেয়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁৰে নৰা- মাণিক। আজ্ঞে কাণ পেতে খাড়া রয়েছি। বেয়-বেটা নবাৰ জামাই বাড়ী নিয়ে যাবেন,- হায়া। বেটারা বলে, বােল বছরের মেয়ে হলাে, আবার নামীদাও, টাকা দাও-সে পর একটি পাত্র ডেকে এনে ৰে ও বার আমি নই, সে পাত্র আমি নই। বলে, গান সামগ্রী দিয়ে ৰোও—আবার নগদ কিছু দিতে হবে। শুনেছি বেটারে (পিকের একে) মাণিক। এতে সে পাত্র আপনি লনে পাৰ মাণিক। এতে খুৰ গজে কথা বলেই শনি।। গলে। হারাধনের বাটী।

১৫১ শুনতে না পাই। কার মানলে বের হবে। মুখপােড়, ঝাটাখেকো। আমি কাকুতি मावि बनविस-किस। মিনতি করি-গর এর চাও না। হারা। আমার বিষয় সে কৰে। চাইতে বয়ে মুখে থুতকুড়ি দিয়ে যাও মাণিক। ইতা আর করতে হয় নি। তেমনি লােন খেলাৰে । রা। তবে আর ফি-আমি চললুম, তুই হসিয়ার গয়ৰ। তৰে আমি ৰামুনভীর হয়ে কাছে চলন্ত আমার মনের ক তাকে বলিগে। মাণিক। আজে খুৰ সিয়ায় ইনু। মাণিক। কেনে—তাকে ৰৰি কেনে আর কি হারা। দখি। [ হারাধনের নি। কাণ নাই, আমি কি গুনতে জানি নে ? গর। তবে এলে নাকি শাে-কুল ফুল করণ) দ্বিতীয় দৃশ্য। আশিক। তুই গলা হাঁকায়ে বল—মন ফুল ফু হারাধনের বাটীর সম্মুখ। ফলে নৰা কেমন করে? বার নখে মালিক। গর। তুই লােরের আড়াল হতে ও পাস (গরবের এবেশ) মাণিক। তুই গলা হাঁকায়ে বল দেখি-কেন গরব। (গত) আমারও যেমন পােড়া কপাল, দিদিমণিরও তেমনি। ভাগ্যিস গিল্পী ঠাই দিয়ে গরৰ। (স্বগত) ছোড়া আমায় ভালবাসে, বলে ছিল, তাই পেটের জ্বালায় ভিক্ষে করতে হয় তাে আমাদের জাত। বুখপােড়া যেন পান নি। আহা মাগী যেন মেয়ের মতন করে পায়ে ঘােরে। ওইতে তাে আমার রাগ হয়। পেলেছে। আর তার মেয়ের এই পোেড়া কপাল। ( অস্পষ্ট এক করণ) আমার যেন বাবা টাকাকড়ি দিতে পারে নাই, মাণিক। আরে বুঝতে পাচি। তাই বে হলাে না। ও মা, বুড়া মিলে, টাকার গর। হাের দিয়ে কি বােঝা যায়। কঁাড়ির উপর বসে আছিস, তুই মেয়ে আইবুড়ো মাণিক। বােঝা যায় না।-তুই ঠায়ে ৰৱেই বুঝৰে। রাখছিস কি দুঃখে! দিদিমণি যে তেমন নয়, গরব। ও মনের কথা ঠায়ে বল্লেও বােঝা যায় এ বইতে এই তো কি ঘুর ঘুর রে না। তুই বল দেখি, কেমন বুঝতে পারি। যােরে, দিদিমণিও জানালা দিয়ে চেয়ে থাকে। মাণিক। মাণিক। ও গরব-গরবমণি-- আমরা হতুম, জানালা দিয়ে উলে গিয়ে যে গর। আমর মুখপােড়! কি ফুস । পড়ে কয় তবে তার কাজ। মাণিক। (ভিতর হইতে) এই গৱৰি ৰেটী আসছে, মাণিক। ফুসফুস কৰে কেনে ? এই যে গলা দেয় দিই। এবার বন্ধ করণ) কারে বলছি- গৰগৰমণি-লুমি গরব। (অগ্রসর হইয়া) মাণকে, দের দিচ্ছি মা বে কবে? গরব। এই দেখ কি তড়বড়, তড়বড় করে, আমি মাণিক। কৰ্ত্তা না তােরে পাড় বেড়াতে যান একটাও বুঝতে পাচ্ছি নে। কয়েছে, আবার পাড়া বেড়াতে গিয়েছ? এই মাণিক। বুঝতে পাচ্ছিস নে—তবে শােন। (দোর কর্তাকে ডেকে দেখাচ্ছি। খুলিয়া বাহিরে আসিয়া) ও গরব—গরবমণি- ১। আহা মাণিক, আমি তােমার এতে মরি, আমি তােমার জন্যে মরি। আর তুমি আমায় এ রকম কর। শর। ও মাণিক-মাপিটাল-তােমার কা শাকি। আহ মরে না, মরে জানাে নাও। কালে একটা মনের কথা বলিপাড়া। গৱৰ। তােকে কত সােল করি- মাণিক। আছ কি কৰি বল ? মালিক। সােহাগ তাে দু ভূ-কলে-“মাণকে গৰ। দুই চােখ বুজে ফাণ পেতে স্বাভা, আমি .

এতে আছে মনের কথা বলবে, নইলে কেউ গাণিE নিতে পাবে। ই গেমসােহাগ গয়ি। এটা কৰি । মাণিক। আচ্ছা, আমি চোখ মুদে গড়িয়েছি, তুই গৰ। বল। (চক্ষু মুদিয়া দণ্ডায়মান) কবে না । গয়ৰ। আচ্ছা আমি বলছি, দু দাড়া। (যাটার শত রান ধন শােনার পাখি ভিতরে প্রবেশ করিয়া র ব বরণ) তুই কি আমার পর। মাণিক। কই বলি নি। [ উভয়ে এল। গর। (ভিতর হইতে) তুই দাঁড়া–কর্তাকে বলি, তুই পাড়া বেড়াতে গিয়েছিলি। মাণিক। ও গৰ—তােমার পায়ে ধরি গরব। যেন তৃতীয় দৃশ্য। গুণে ও গবে! হারাধনের বৈঠকখানা। গৱৰ। —তুই পাঙ্গা, আগে কর্তাবাবুকে বলি,তুই সনাতন বাবুর কাছে সকতে গিয়েছিলি। (হারাধনের প্রবেশ) মাণিক। ই-গরবের ই-এই নাক বড়ছি হারা। ওঃ শাস্ত্র কি মিছে।-গিন্নী যদি ম'লে তাে কাল মলছি, ঘাট করেছি—আর অমন করবে নি। মেয়ে বিয়ে গেল। তাই তে তো বলে বিপদ গয়ৰ। আমি যা বলবে—তা শুনবি? একলা আসে না। মেয়ে যদি বিয়ােলাে তে আণি। শুনবাে-শুনুৰােড় একাশি করে বড় হলাে,-কোখেকে পাড়ার লােকও জুটলাে শুনবাে, তুই যা বলবি শুনবাে। -বলে বৈ দাও। আচ্ছা মেয়ে হৰি-বড় হৰি গর। আচ্ছা তবে আয়। হতে মুখ গুড়ে অমন, বসে থাৰি কেন ? (দের খুলিয়া সেন) কেন-তা আমার পােঝ! কথাই কইবে না -তত বােৱাৰে কি? এই দেখ দেখি, এই এত উভয়ের গত) এলি বিপদ একেবারে ঘাড়ে চাপাে। আবার মাণিক। বিপদ মেয়েটাকে না দেখলে বাঁচিনে, মেয়েটার নাক কাণ মশালি, এখন পীৱিত একটু কর। হাসি না দেখলে বাচিনে। মনে করলুম তােক রাখবো না;-মন খারাপ হবে-টাকা নাড়বে- ও ছিঃ ছিঃ তাের পলিতে ভূতে করে ভর। চাড়বে। টাকা নেড়েও সােয়ান্তি পাইনে, মাণিক। মেয়েটাকে মনে পড়ে। মেয়েটার কি হলাে- গরবিনী গরবমণি, কনা কথা, চাওনা ফিরে। তাই তো কি হলাে- (জহুরী, ছৰিওয়াল পােৰুওয়ালা ও এসে . মুখখানা তাের গােমঙ্গপানা, আঁতকে উঠি, ওয়ালার প্রবেশ) চাইবাে ফিরে। মানিক। (বগত) এই দেখ, মালকে বেটা নদৰ খুলে এত তাের গরব কিসে? দিয়েছে। (একা) এখন তাে যাও গাে যাও, এখন আমার বড় মন খারাপ। রূপের গৰমৰ মিলে। জহুরী। আরে তাই তাে আপনার সঙ্গে দেখা . বিক। কতে এলু। তাইতে তো আছি মনে! সকলে। আর তাই তাে তত এ-তাই তে তে এল। যদি বলি কিরে? সখি দাঁড়াচেনে। হয়। আর বি गांव-छावना। সলে। আহা বিপদ নেই এসেছি-বিপদ নেই হয়। । সমা। আমি যে সিকমােহন বলে ঠিক (সনের এ) করেছি, রূপে-গুণে, কুলে-কলে বের হয়ে হয়। আর মেয়ে - কিছু খরচ হবে না- হৰিওয়া। বা মেয়ের ঝামে।-তৰে সতে হলাে। হারা।ই! পােবায়াল। ব্যাওয়াটা জানতে হলাে। সনা। রসিকমােহবের সঙ্গে মেয়ের বিবাহ যাও। এসোল। উপার কতে হলাে। হারা। আর তিনি বে করে, আমার মেয়ে হারা। আর উপায় –উপায়ের বার। টির হাত ধরে নে বাড়ী চলে যান। এর সকলে। লকি-সে কি ? বপনে-খুনে রে- [ জত এল। হার। তা বই কি-কোন কথা ভাঙ্গে না,দিবা রাত্রি সনা। এইখানে এসেছ দীও বাগাতে? চুপ করে ভাবে, চোখ ছল ছল করে, নিখেস জহুরী। আমরা তাে ৰাগিয়েছিলুম, আপনি যে ফেলেহনে করে আকাশ পানে চেয়ে থাকে। বাগড়া দিলেন। হরী। এর আর কি, সােলা উপায়। এই স্বদেশী সনাতন। নাও নাও সরে পড়ি এসো, এখানে স্যার গড়ন একছড়া হীরের বঙ্গবাসী নেক বাগদাগ চলবে না, দেখছ না—টাকা খরচ হবে লেস” কিনে দেন, এখুনি এক গাল হাসবে। বলে মেয়ের বে দিচ্ছে না। বলে কি জানাে, ছবি। ওতে হবে না, এতে হবে না—এই কাশে আমার মেয়ে আমার থাকবে না, পরকে দেবে? কোকিল-কুজিতকুকুটীর চিত্র” খানি দেন, (মাণিকের প্রবেশ এখনি হেসে লুটোপুটি খাবে। পােক। নানাতে হবে না—এই স্বদেশী মাণিক। ম’শয়ে ভেতরে থাকবেন কি বাইরে সাচ্চা দের অঙ্গলে জ্যাকেটটা কিনে দেন থাকবেন বলুন, আমি দের দোৰ। দেখি, গায়ে দিয়ে আয়নায় মুখ দেখবে, আর সনা। কেন বাপু, দোর দেবে কেন? আহলাদে আটখানা হবে। মালিক। আজ্ঞে কর্তার কুম-লের দিতেই হবে। এসেন্স। আঃ, ওতে কি হবে,—এই স্বদেশী সনা। দোর তাে দেবে, আবার খুলে দেবে তো? বয়কট এসেন্স দেন, তবে-আর রােগ- মাণিক। আঙ্কে কাল সকালে-কার হুকুম। লাই দেশ ছেড়ে পালাবে;-প্রাণ ঠাণ্ডা হবে না। তবে আমরা চম। -মন ঠাণ্ডা হৰেলৰৰ কি, এসেল কে মাণিক। আজ্ঞে থাকেন থাকুন, কত লাগল ভাল হয়েছে। বলেন নেই ; কিন্তু মোর আমি দেবে। হারা। আর আমার বুঝি পাগল করতে এসেছ। সন।আচ্ছা, বাপু, তুমি দের দাও, আমরা চললুম। না। তাই তাে, তাই গে,-যে যার মাল বেচতে (সকলের গত) এসেছেন। ওঁর স্বদেশী স্যাৱা হামিল্টন, ওর বিক্রেতাগণ। দেশী ছবি ফরাসী, ওঁর দেশী বডি র্যাঙ্কিনের খেছি দেশহিতে জীবন দিতে চার জনে। আর ওঁর গদেশী এসেন্স কার্যণীয়। কর্তা ওতে সনাতন। ভােলে না হো এতে ভােলে না। তােমা ভিকুটিতে চারটি সমান কমবেশী নাই ওজনে। ফের মত দেশী জুটেই স্বদেশী কাজটা মাটী জয়ী। কতে বসেই। আহ, ভক্ষণে লােকের দেশ ঠিক স্বদেশী ‘ববাসী নেকলেস নে পরে, জিনিস ঝোক হয়েছে, তোমরাও এক ও দেশহিতৈষী ঠিক বলি তারে, পেয়েছ-মত বিদেশী জিনিস এনে জুরি করে দেশের মূ আলাে সে করে; দেশী বলে থাপ্পা দিত। কর্তা আমাদের সব ছবি। বােঝে। (হারাধনের এতি) আর ক “কোকিল-কৃজিত- কুকুটীয় দেশী সৰীয় নোেযমে বড় হয়েছেন সময় হয়ে দেখলে কনে দেশপ্রেমে রুৰে চেনে।

গিরি+বলী। E আইলে জ্যাকেট বঙ্গের অঙ্গচ্ছে, মাণিক। আজ্ঞে দেখুন-আমার দোষ নই। আয়না ধরে বুকে দেখে প্রেমের যে, সে আবে, সে বড় বাধানে, দিদিমণির সঙ্গে জ্যাকেটে জমাট বাঁধে বন্ধুচ্ছেদের খে; সঙ্গেই ফেরে। আজ্ঞে, চলুন তবে। না। নতন কলে! নে তােরে যেতে হবে সাধের এসে শাধের নাম বটে, , আমিই ব্যক্তি। কলে পরে দেশপ্রেমে করে সে ছটফট, [ হারাধন ও তৎপগৎ মাণিকের খান। ঝাড়ে লেক্চার চটপট, হয় বীরাঙ্গনা চট; বিভাগ- ফিরি দেশের তরে ফিরি করে, চতুর্থ দৃশ্য। অনাগধুৰ গণে। রতনমালার কক্ষ। এরা মনে কবে কে জানে, রতনমালা → গরব। কি আছে যষের মনে। (হারাধনের প্রবেশ) (মাণিকের প্রস্থান ও না লইয়া পুনঃ প্রবেশ) হয়। শােন রতন, আজ আমি একটা হেস্তনেস্ত মাণিক। কবে—তৰে ছাড়ব। তাের কি হয়েছে, শুড়ি গুড়ি দাও পড়ি, যাও বাড়ী, বলতেই হবে। বৰিনি ? নইলে এই গাদনা ঝাড়ি, থাকতে পাবে এখানে। রতন। কই কি হয়েছে? হেথায় চলবে নি কো গান, হায়া। কি হয়েছে। অমন মুখ গােমড়া করে আমি মাণিক, নই পাড়ে রােয়ান, থাক কেন? কি চাও, একটা মুখের কথা খুব সেটে দেবৰ দের এটে, খসালেই তাে হয়। কোন্ জিনিস তােমায় দিই কার কড়া হুকুম নাও শুনে। নাই?-গয়না দিয়েছি, পােক দিয়েছি, ছবি [ মাণিক ব্যতীত সকলের প্রস্থান। দিয়ে ঘর সাজিয়ে দিয়েছি, ঘরের নীচে ফুলবাগান । আর একটা কি করে দিয়েছি, লেখাপড়া শিখিয়েছি, গান - । এরা গােলদা কি রইলাে,খা দিতে হবে। মেছি, বুনতে শিখিয়েছি, ছবি আঁকতে শিখি- গেল বই কি? যদি বলে, কোথায় গেল? য়েছি, ফটোগ্রাফ তুলতে শিখিয়েছি, কাড়ি দের খুলে পপছু পেছু দৌড়বাে? দেখবাে কাড়ি টাকা খরচ করেছি কোথায় যায়? না, এখনি দেখবে নাকি? গরব। মাথা কিনেছ। (দৌড়াইবার উপক্রম) হারা। চুপ মাগী চুপ। গিল্পীর আসকারাতে খুব বাড়িয়ে তুলেছে। (তনের প্রতি) হ্যা রে, এক- (হারাধনের পুনঃ প্রকেশ ) ছড়া হীরের “বঙ্গবাসী নেকলেস” নিৰি? হারা। মাণকে, কি কচ্ছিস? গৰ। ধুয়ে খাবে!-টের নেকলেস আছে। মণিক। আতে, দৌড়ৰ মনে করে কাপড় গুচুচ্ছি। হায়া। রবিবার ছবি নিবি? হারা। কেন রে বেটা ? গর। গােল গােল বােম্বাই মুখ দেখে স্বর্গে যাবে। মাণিক। আতে, যদি জিজ্ঞেসেন—ওয়া কোথায় হারা। দ্যাখ বলে না,-“বঙ্গের অঙ্গচ্ছেদ ক্যাকট গেল, তা হলে তো বলতে পারে, তাই পােদ পেছু দৌড়ব ভাবছি। শ। ঠা-নােলতে পাৰে। হয়। নে, তুই রতনকে ডেকে আন। হারা। শিশি কতকট এসেন্স” নিৰি শাকি। এতে গরব দিশতে আসে। গৰ। এটা আদা চুসি নিৰিা এসেন্স কি ককে নিৰি।

बाबमा-का-भावना ল জানে না কি? গয়। তার এত ডেৰে মা, আমি বােগাড় কৰে। লেনি আর ধরে না। রতন। তুই আমায় আফিকিনে এনে দিবি। হয়। তবে কি চায়-দুই ছাই আমার বল না? গর। ত।দিদিমণি, তোমাদের এদ্দিন খাচ্চি, পচি, গম। চায় একটবর? গিমী কত যত্ন করেছে, কর্তা কত আবদায় সয়, হন। চোপ, মাগী চোপ-ত বড় মু তত বড় কথা। তুমি তার এক মেয়ে, সখ করে আমি খেতে প। তবে কাতলা মাছে মুড়ে যাবে। চাচ্চ, একটু আফিং এনে দিতে পাবাে না, হয়। সত্যি নাকি সত্যি নাকি? লােকে যে বেইমান বলৰে। গৰ। সত্যি না তো আর কি? সত্যি কথা বলে রতন। তুই কি সত্যিই আমায় আফিং এনে দিবি? তাে আয় শুনবে না। ঠাট্টা কচ্ছিস? হার। কি সত্যি কথা-ব না। গর। হ্যাগা, তােমার এমন খাটো মন, বি গর। ঐ যে বললুম, বর চায়। করাে না, তৰে বুঝি তুমি ঠাটাক’? হয়। বর চায়-ছেলের হাতে মাে। বর চার রতন। বুঝেছি বুঝেছি, আমায় বিষ এনে দিয়ে ৰদর চায়-উল্ল চায়—ভাল চায়!-তিন বাবাকে বলে দিবি। বল কি চাস? বব-বলছি? নইলে গরব। মাইরি না, তােমার গায়ে হাত দিয়ে বলছি। আমি আত্মহত্যা কবাে, বাড়ী থেকে বেরিয়ে (গায়ে হাত দিয়া) হলাে ? বাবে, বিবাগী হয়ে চলে যাবে। অতন। গৱৰ, তােকে মনে কতু, তুই আমার রতন। কি বলবো। আপনার। তুই আমার হাতে করে বিষ দিবি? গরব। (জনান্তিকে) বল না কেন- বর চাই। গর। এ কাজ তো দিদিমণি, আপনার লােকেই হারা। (গত) আমি সরে পড়ি,—কি আনি যদি বলে ফেলে। কথায় কান দেবে না। (প্রকাশ্যে রতন। আমার দুঃখ কেউ বুঝছে না। দুই বল্পি নি, আমি চললুম বিরাগী হয়ে। গয়ৰ। তােমার টং কেউ বুঝছে না বলে ? [ হারাধনের প্রস্থান রতন। ২ কিরে ? গরব। হাগা দিদিমণি, বলি, মুখ ফুটে বলতে পারে গরব। টং নয় তাে কি? আমি কি মেয়েমানুষ যে বর চাই ? নই, আমি কি কাণা? আমি কি দেখি নি। তন। নে, তুই আর জামার উপর ভ্রালাস নি, জানলা খুলে তাকিয়ে থাকে, তখন সে আসৰে। আমার মরনই ভাল। সে চলে গেলে, অবুক ধড়ফড় করতে থাকে, গরব। হাসে এক রকম মন্দ নয়। চ’খােচখি হলে ওমনি আহলাদে আটখানা রতন। তুই আমার সঙ্গে ঠাট্টা করি? হয়ে যাও। গর। ঠাট্টা কি গো, তােমার এত আলা, মরে রতন। জালা—আমােদে আটখানা, বুক ধড়ফড় জুড়ােবে। —এ সব কি লাে? রতন। মরণ বল্লেই তাে মরণ হয় না। গরব। ঐ সৰ গােঐ সব গরব। তা হবে না কেন গাে, ঠিক মরণ হয়। রতন। বা, তুই তাে বেশ গল্প করতে পারি। রতন। কিসে? গরব। আরাে গল্প বলি শােননা,-এক জনের বাপের গৰ। এই দড়ি, ছুরী, আফিং, গঙ্গায় ডােবা এক মেয়ে, মা ছেলে আর কেউ নেই, বাগ রতন। তুই ঠাট্টা কচ্ছিস আমি সত্যি বিষ পেলে মিলে মেয়ের বে দেবে না, জামাই মেয়েকে বাড়ী থেকে নে যাবে, মেয়ের ছেলে হলে বিষয় গরব। তা বেশ তাে গাে, যদি মন হয়ে থাকে, ভােগ করবে। খুব জটি করে বসে আছে, বিষ খেতে চা, খাও না। যেখানে আট আনা লােকের কথায় কান দেয় না। এ দিকে মেয়ে আফিংএর ভূমি, সেখানে বিষের ভাবনা; জানলা খুলে এদিক ওদিক দেখে, মনের মতন রন। ফি কে এনে দেবে। শোকেও দেখা গেলে, হাহুতাশ করে,বাপকেও খাই।

উপায় কতুম। भिविन्यासी। কিছু বলতে পারে না, তেৰে তেৰে সোনার সরলা নায়ী, চলতে থাকে কারি বলি হতে লাগলাে। বুঝরে যায় নানা আনাে জি; রতন। তার পর কি হলাে? না হতে পেরে, হতে যেতে দেবেন না কাজী। গৰ। দিনরাত আকাশ পানে চেয়ে বসে থাকে, চাঁদ দেখে, ফুল শেক, খায় না-ায় না, শেন বন। তার মনে কি আছে, জাৰিনে ভাই। আমি না-ঘুমােয় না, বাপকেও কিছু বলে না, জানে আড়াল থেকে শুনেছি তার সঙ্গে সম্বন্ধে ক বললেও বাপ নেবে না । নিয়ে তাদের পাড়ার সনাতন বাবু এসেছিলেন। রতন। তার পর কি করলে? বাবা তত মাকেকে দিয়ে বাড়ীতে লােক গৱৰ। সে কি কলে ,আনিনে। আমরা হলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। গরব। তােমার সঙ্গে কি করে দেখা হলাে। অতন। কি উপায় কতি? রতন। সে অনেক দিনের কথা, একদিন নূতন বির গর। উপায়ের ভাৰ? নে খুলে উপায় সঙ্গে মাসীর বাড়ী হ’তে ভাড়াটে গাড়ী করে হা না ? আসছি, আসবার সময় হকালা মাগী, গলীর রতন। কি উপায়—কি উপায়? ভেতর দিয়ে আসূতে আসতে পথ চিনতে পারুলে গরব। আমি তো বলেছি, অমনি উপায় হয় না, ; গাড়োয়ানও বাড়ী চেনে না, আমি তো মনের কথা ভাজলে তবে উপায় হয়। কেঁদে সারা,-সেই সময় দেখা। রতন। সত্যি গয়ৰ-কিছু উপায় আছে? জিজ্ঞাসা করে খবর নিয়ে, কোচৰায়ে উঠে গর। কিসের গাে? বাড়ী রেখে গেল। আমিও গ্যাসের আলােয় তন। আচ্ছা, তুই এখনাে ঠাটাচ্ছিস? আমার আমার হৃদয়-দেবতাকে দেখলুম। অবস্থা তাে সব, জেনেছি, তাের কাছে আর গর। অমনি প্রেমের গ্যাস জেলে বুঝি বাড়ীতে লুকোচুরি কি? বইয়ে পড়েছি, কিন্তু পরের চলে এলে? হয় যে এত ক'রে ভাবতে হয়, যার সঙ্গে কেবল রতন। নইলে এত জলছি কিসে? চখের দেখা, কখনাে কথা ইনি, কাছে বসি রতন। তাই তাে এ গ্যাসের আলাের প্রেম, বড় নি, সে যে জীবনের সর্বস্ব হয়, তা আগে বিসি দবে প্রেম! তা কিছু কথাবার্তা হলাে ? কম না। এখন আর কি করবাে, দেখছি, রতন। না, দেখলুম, আমার মুখপানে চেয়ে রয়েছে, এমনি করে জ্বলতে জ্বলতে জীবন যাবে। আমি লজ্জায় চোখ ফিরিয়ে নিলুম। তার পর গৰৰ। জীবন যাৰে। নড় ছড়া জীবন কিনা, থেকে দেখতে পাই, নােজ আমার জানালার গেলেই হলাে। বালাই! তুমি সব কথা খুলে পানে চেয়ে চেয়ে রাস্তায় বেড়ায়। এখন বল- বলে-কবে দেখা হলাে, কোথায় দেখা হল,এ কিছু উপায় কতে পারি ? যে দেখছি চোরে কামারে দেখা নাই, রাজমহলে গৰ। এর উপায় যদি না করতে পারি, তবে গরু সিল! তুমি একা কছ, না সে লােকটাও বের আর গরব কি? তােমায় কিন্তু যা বলি, তােমার জন্যে বলছে, সব জানা চাই, দাজ তা কতে হবে। পুষের পাতায় না পড়ে। রতন। কি কতে হৰে ৰকি করতে হবে ? গৱৰ। বেশী কিছু নাগৰ, গৰ, করে খেতে হবে (গরবের পত) আর বিছানায় শুতে হবে। পুরুষের নানান দমবাজী। রতন। আবার ঠাট্টা? মন বােঝা নয় তো সােজা,সত্যি প্রেম কি কারসাজি। গরব। ঠাট্টা নয়, তুমি চুপ করে বিছানা কামড়ে গে যে কত কানে, পায়ে বর ও না, পড়ে থাকো, জানি কাকে বলি গে, তোর নারীর প্রাণ বঁধে ফেলে । ব বামে। খতে পেলে পায়ে ঠালে, কঁা সাধা ভােলা। রতন। সে জয় ।

বাসা-ভ্যাল। পঞ্চম দৃশ্য গর। ডাকলেই ব, ভাজার রোগ ঠাওর পাল, টিকিনি কি ঠাওর পায়। হারাধনের ভিতর বানী মতন। আর ঢৰু চকু করে ওষুধ যে গিললাৰে। গৰৰ। সে আমি আছিস ওযুখ পুকুই কৰে। হান্নান ও মাহি। তাতে কি হবে? হয়। মাকে। গৰ। তার পর বৈরাজ এলে তােমায় আমায় করে বাড়ী নিয়েযাবেন। হয়। কালকে আসতে দিনি ত ? রন। সে কি না? মাণিক। আয়ে, তেমন গণিকের মালিক নই। গৱৰ। সে আছে আছে-তুমি এখন ঘরে গিয়ে হয়। কেউ এসেছিলাে? রােগ হয়ে পড়। আমি চললুম, তােমার বাপকে মাণিক। অনেক লােক। হয়। ঐ সনাতনে বেটা-ঐ যে স; করে- নিয়ে খবর দিই গে। সে এসেছিল। রতন। উপায় হতে পারি তো? গৰ। না পারি, নিজেন আফিং এনে দেবে। যাও মাণিক। আজ্ঞে না। ৰা, চুপি চুপি শােও গে, দেখ না গৱৰে গৱৰ হয়। তবে কে এসেছিল রে। মাণিক। ৰেলগেছে বাগানের বাণী ডালা নিয়ে টাই। এখন তুমি রােগ হতে পারলে হয়। এসেছিল। রজন। তা খুব পাৰে, বেঁৰৰ চুৰে, মাথা হর। সে চোখ গেল? চালবো, হিহি করে হাসবে, ফোস ফোঁস করে কাঁদৰে, কখনাে গুম খেয়ে পড়ে থাকবে, মাণিক। সে বাড়ী চলে যায়। আমি ভাল- খানা কাহাড়ে ফেলে গর্দান দিলু, সে তে। তা হলে তাে হবে? তো করে পালালাে। গৰৰ। বেশ হবে—খুব হবে-খাট আর মত হয়। আ ম বেটা-ডালা ফেলে দিলি কেন? (উতরের পত) মাণিক। আজ্ঞে-তাইতে কেন ফেললুম। হারা। যা বেটা, কোথা ফেলেছি, বুড়িয়ে নিয়ে ঘাপটি মেরে ছিল পিরীত, চাগাড় দিলে এইবারে। (মাণিকে স্থানােম) না হলে হিষ্টারিয়া হয় না পিরীত বাহারে। শােন শােন-বেতেরা খাজনা দিতে এসেলি? এমন কি বাত মার পিরিতে হৰে বাহার, মাণিক। ঝাকে ঝাকে। আমি না নিয়ে আমি গত চিরকুটে খাদে পড়ে একধারে। সৰ তাড়া কলু। হার। যা যেটা সর্বনাশ করে, যা এখনি সৰু তিরকুটী দাতপাটী, সেইখানে পরিত টি ডেকে নিয়ে আয়। এইবার-তােমাকে পান। মাণিক। এতে, এই চ—এই চলুন। [ মাণিকের প্রস্থান। নিনে পাৰি হারি, কুলনারী- হয়। দেখ, ব্যাটা আহামুখ। যাই ডালাখান বেঁৰে চুৰি চাৰে মাখা, কইৰােনা কোন কথা কোথায় ফেল্পে দেখি। ফোস ফোস নিয়ে ফেলে কোপাৰ বারে বারে। (কপট কলন করি বেগে গবে প্রবেশ) মরি মরি এমন গতি পায় কি আর বারে তারে, মর। ও মা, খােৰাবৰ-কিসর্বনাশ! বাপবিলে পীরিত যেমন পেলে তােমারে। াে গেল, শুনলে এখনি গায় ঝাল কেৰে। উ। য। কি কি -কি হয়েছে—টোচ্ছি কেন? যে প্রতিটি না আসে, গীমিত কিরি। এ। একি হলাে রেহাই এখন সর্বনাশ ( এখন। কি করে? কগেল কেন?

হারা। ওরে—এই যে আমি! কেন বাইচণ্ডী যায়। এর পর পর ? হৰে নাচিস? কি হয়েছে না? গব। গড়াগড়ি করো না কাৰা, আমাকে পর। হায় হায়-বাপ শুনলে গলায় গড়ি থেকে। মেয়ে তাে নয়, যেন গাত্রী। এমন সর্বনাশ হয়। তার পরও গরব-আর কত দম ফেলবি? হারা। ওরে, কি হয়েছে কি? গরৰ ও গয় গর। এখনাে একটু কোে- গরব। আমি জলে ঝাঁপ দিই গোকে এ খবর হায়া। না বাছা, আর দম ফেলিস্ নিল, দিতে পার্বো না। হারা। কি সর্বনাশ হয়েছে! মা বলবে না, গৱৰ। তার পর পুকুপানে চেয়ে বলতে লাগলো, কেবল ধেই ধেই করে নাচবে। “ৰাগই যদি বিবাগী হলাে, আমার আর তাৰে গর। ওগো, তোমরা কেউ কর্তাকে ডেকে দাও থেকে কাজ কি, মরণই ভালাে?” হা। ওরে, এই যে আমি ? হারা। বলে বলে ঝাপ দিলে? গয়ৰ। আমি ওমন দমৰাজীতে ভুলিনি; যাও, গৱৰ। না, কর্তাকে ডেকে দাও! হারা। তবে কি কলে-তৰে কি কলে? হা। আরে, এই যে কর্তা-ঘাথ, না? গরব। আস্তে আস্তে বিছানায় গিয়ে তুলল। গর। আমি চোখে দেখতে পানি, আমার হার। আঃ, বাঁচলেন, সৰ্বরকে বুকে দম ধরেছে! ওরে, কি সর্বনাশ হলাে রে গর। সর্বকে কি কর্তাবাবু শােন আগে হয়। ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়েই রইলাে!এই হার। আবার কি? ৰে আমি, দেখ না, আমি কা—আমি ক— গরব। বিছানায় শুয়ে এই ফোস ফোস করে গৱৰ। তুমি কর্তা?-ধাড়াও তােমার লেক কান্না! কাদতে কাদতে একেবারে অন, দেখি ঠাউরে—ওগো, আমি চোখে দেখতে আর নড়েও না, চড়েও না। পাচ্ছিনে গো- হার। তার পর তার পর কি, শগগির । হার। গাখ, না বেটা-কাখ, না-গোঁফ দেখান) গল। তাড়াতাড়ি করাে না কাৰাবু, আমাৰ সৰ গর। কর আমাদের দা লা পা ফেলে পা মনে কতে দাও। য। আর মনে করি নি গরব! বব- হা। এই রে টো—এই রে বোপায়চারি করুণ) গয়ৰ। হ্যা, এইবার মনে হয়েছে—গা মুখ সৰ পাশ গর। কর্তা আমাদের কারি মানে- হয়ে গেল, যত কি “দিদিমণি দিদিমণি, হয়। তবে রে বেটী কাপনা- সাড়াও নাই শকও নাই। নাকে হাত দিয়ে গরব। আমিই তাে কর্তা—তুমিই তাে কর্তা দে-িও না, নিওে নাই। –ওগাে, সর্বনাশ হয়েছেগাে সর্বনাশ হয়েছে। হারা। আঁা-নিখেন নাই ? হায় হায় কেন দিদিমণি গাে- আমার কুতি হলাে—কেন আমি বিবাগী হৰ হারা। তাের কায়া রাখ, কি হয়েছে ? বলুন। হারে নিখেস নাই? গৰৰ। কেমন করে বলবাে গাে-কর্তা যে এক গর। ছিল না—অনেকক্ষণ ধরে মূখে জলের ঝাপটা মে- দিতে দিতে নাড়তে ছাড়তে চোখ মিলে চাইলে। হারা। ওরে, তােৱে ৰগ্ৰতা করি, শগগির বল? ছােট করে বয়ে ‘বাবা। আবার অঙ্গন। গর। কর্তা বাবু, সেই যে তুমি কত মুখাড়া সেই থেকে একবার চেতন চ্চে, একবার দিলে, বলে, “ৰিাগ যে। সেই এনে দিলি অন হচে। ওরে কি নাত শুইয়ে দিল কে- মণি একেবারে ঘরে চলে গেলাে। আজকের দিন কাটলে বোঁচি। পর বাগানের দিকে গিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে যায়। কি সর্বনাশ হলাে—কি সর্বনাশ হলো- গুহ পানে চেয়ে চেয়ে গণেকে। চায়ি করে, ৰৈ থা। বাসি। বে। । pe -- (গণিৰে একে) পিলপাউডার মির এড়ান এতে নাই কো কার, হার। ওরে বেটা, গম । বিক। যে আছে। (মাণিকের গমনােলােগ) তৈল আর বটিকা আমার, হারা। যা কোথায়? মােন কোথা যেতে (সঃ) আন্দা পারে ঘােয় বিকার, হবে বলে দিই, ছুটে যাবি। হকি। শাবিক। যে আয়। ( ছুটিয়া গমন। দমফুল যা, এয়’ মেরি হালুয়া ; হারা। ওয়ে আবাগের ব্যাটা, শশা শােন, আমার হােমি ভার। সর্বনাশ হতে বসেছে, তার উপর আর আমি গৰিউল ঝাড়ি উল্টে বইয়ের পাত, লাস্ নে। ওলটাতে ওটাতে পাতা রােগী কুপােকাত ) মালিক। আজ্ঞে না, আর জালাৰ নি। হয়। যেখানে যত ভাজা-বদি পা, ধরে নিয়ে আমরা সৰ শিক্ষিত দাই, পরিচয় আর কি চাই? আয়। নগর যা। গো ।ৈ মাণিক। নে আজ। [ মণিকের প্রস্থান। মুই গােদাগা, গৰু দাগি, হারা। হায় হায় ! কি হলাে—কি হলো? কি সর্ব- পশু-চিকিৎসক। নাশ হলাে! (গরবের প্রতি) চল্ চল, দেখে কুকে মলম মাধাই- ঘােড়াকে খাওয়াই ওয়াই, [ উভয়ের প্রস্থান। যেদিনী। বাত ভাল করি, দাতে পাের। গল করি ৰেদিনী বসাই শিতে রক্ত চুষে খাই, লোকওয়ালী। চিকিৎসকের বাজার। আমি ধেড়ে ধেড়ে লোক লাগাই, অ্যালােপ্যাথিক ডাল, মিঃ নন্দী ও মিঃ ঢােল ড়েন। হােমিওপ্যাথিক ডাক্তার, বৈ, হকি, থালী- আমি ড্রেস করি আর পিচকিরি বাগাই, , গাে-বৈত, পচিকিৎসক, বেসিনী, মাণিক। সবাই দেখছি পােতনােগ বড় শত জোকওয়ালী, ট্রেলার ও মালিক। এসে গিটগট, চলে এসাে. কর এখন ৰ; (গীত) তােমাদের দিক হতে হয় যাতে চিকিৎসকগণ। এপার ফি ওপা-মেয়ে মরে আর বাঁচে। এসেছিসকাল সকাল এড়িয়ে রােগী যায় পাছে। যে মনে আর বাঁচে। করে আল খুদফা মুখ চেয়ে আছে। [ মাণিকের গগতে সকলের ভলিসহ এন। ওলাউঠো প্লেগ বসন্ত রমাণ, আমরা আছি তাই সহরে করেছে ৰা, ম্যালেরিয়ার খালা তামাশা সপ্তম দৃশ্য। আমরা সৰ লায়েক ভারি বুঝদারে বােৰে আচে। হারাধনের বহিৰাটী। লােকের ভিড় কমাই, তাই সহরে হই, রােগে কষ্টা চালান দিত হই। হলধন ও মাণিক। গাড়ী গাড়ী চালান নেবার টাটকা ওয়াইলৰ কাছে। মাণিক। আর মাকে েআহা বলতে পাৰে যষ্ঠ দৃশ্য যাবে; কই ? গিরিএৰলী। নি। এই যে যেখানে ছিল, সৰ বেয়ে গৰৰ। (কেওয়ালীর প্রতি) নাও এর কপালে এনেছি। দু’টো জোঁক বসাও। (বেদিনীর প্রতি) তুমি হারা। আরে বেটা, ডাক্তার বলি আনতে বলল, শিঙ্গে বসাও। (গাে-ৰৈজ্যের প্রতি। আর তুমি এ কি করেছিস? হেদো গােতে গা। (পশুচিকিৎসকের প্রতি) মাণিক। আজ্ঞে ডাক্তারে যদি না শানে, হােমা আর তুমি তােমার ঘােড়ার দাওয়াই খাওয়াও। পাখী লাগবে; তায় না থই পায়, ৰদি গুলি মাণিক। হাঃহাঃ. হাহাঃ খুব মস্করা কচ্ছি। ঝাড়বে; তাতে না বাগে, হকিম হালুয়া খাও- গৱব। আরে না নামসর নয়—তাের বড় এতেও না সামাল খান, ডাক্তার ফাড়বে ব্যায়াে। আর পিচকিরিওয়ালী পিচকড়ি ঝাড়বে, আর মাণিক। বেশবেশ- ল্যাংড়া জড়াবে, আর জোকওয়ালী জোক গরব। নাও গাে নাও—তােমরা কাজ করাে। (গাে- লাগাবে, আর বেদিনী বেটী শিব্দে বসাবে। বৈদ্যের প্রতি) নাওনাও ছাদো। হারা। আর সব কাদের এনেছিস্? গাে-বৈদ্য। (দড়ি লইয়া অগ্রসর হইয়া) কই-গৰু মাণিক। আজ্ঞে গরু দাগতে জানে, ঘােড়র বাত ভাল করে, কুকুরের ঘায়ে মলম দেয়। গরব। (মাণিককে দেখাইয়া) এই যে গৰু। ও হারা। আরে বেটা, সর্বনাশ করেছিস,সর্বনাশ গরু ছিলাে, মানুষ হয়েছে। ছাঁদো-ছাদো। করেছিস, বিদেয় কর, বিদেয় কর (গােবৈদ্যের মাণিককে বাঁধিতে অগ্রসর হওন) মাণিক। আজ্ঞে বিদেয় হবে নি—সব কে মাণিক। তবে রে বেটা, তুমিও মস্করা ক’? এসেছে। গরব। ছাদো গােছলে,—এখনি হা করে ( ডাক্তারগণের প্রবেশ) খেপে উঠবে। মাণিক। ওরে বাপরে,-ছাবে কিরে? সকলে। আমাদের valueable time, বসে থাকতে গরব। ধরে খরােনাও জোঁক লাগাও, শিঙ্গে পারি নে। বসাও, পিচকিরি দাও- (বৈদ্যের প্রবেশ) (সকলের অগ্রসর হওন) ।ৈ আমিও বৈদ্যরাজ, আমারও সময় খাটো মাণিক। ওরে বাপ রে-সারলে রে [ পলায়ন। (হকিমের প্রবেশ) ড্রেসার। রােগী যে পালাল—পিচকিরিকাকে দেবে? গরব। তুমি পিচকিরি আপনি নাও। হকিম। হাম হকিম, হামার ফুসৎ কম। নেকি। আমাদের টেকা দাও–টেকা দাও-- হব। আচ্ছা-~আসুন আপনারা, মেয়েটিকে বেদিনী। আমরা চলে যাই, আমরা না ডাকে দেখবেন। আসি নি। { চিকিৎসকগণকে লইয়া হারাধনের প্রস্থান। (ন্যা লইয়া মাণিকের প্রবেশ) (ধাত্রী, গাে-বৈষ্ণ, পশুচিকিৎসক, ৰেদিনী, মাণিক। আয় কোন শালা ছাদৰি- জোকওয়ালা ও ড্রেসারকে লইয়া ৰেদিনী প্রভৃতি। আরে দেইয়ারে দেইয়ারে- গরবের প্রবেশ) [ সকলের গােযােগ করিয়া প্রস্থান। গর। ও মাণিক-মাণিক আমার- মাণিক। আরে কিরে গৰি-কিরে গরবি-আজ (হারাধনের পুনঃ প্রবেশ) যে তাের সােহাগ বড়। গৰ। তঁা গা কর্তা বাবু, মেয়েটির আর কতক্ষণ? গৰ। মাণিক, একটু বসাে। হারা। কতক্ষণ কিরে বেটা? যাণ। হাঃ হাঃ, আমার বরাত খুলেছে। কেন গােৰ যত ডেকে এনে তো? (উপরে) এর নাতি বা জোড় করে। রুন যার- কাকিলা। না। বৈদ্য। বৈদ্য। বৈদ্য। জড়িয়ে একটা খুলে মেয়ে আর সাতে পাৰে হয়। অঙ্কে যা হয় আপনারা উপায় করুন— নায়া উপায় করুন, মেয়েটা বাচবে তাে? হয়। চুপ বোঁট চুপ, ওয়া সৰ আছে। শুনলে ডাঃ ঢােল। (মন্থর ভাষায়) বড়-শফট। এখনি সব রাগ করে বেরিয়ে যাবে। এমটিক অর্থাৎ যাতে বমি করে, এমন ঔষধ গরব। সে তত ভাল গাে, মেয়ে তাে গিইয়েছে, ব্যবহার করুতে হবে। তােমার বাঁচার উপায় হবে। ডাঃ নদী। এমটিক! by no means কখনই (বৈ ও হকিমের প্রবেশ) , পাগেটিভ-জোলাপ দিতে হবে। शंत्री আসুন—আসুন কবরেজ মশায়, আসুন ঢোল। জোলাপ দিলে এখনই রােগী মারা যাবে। হকিম সাহে, কি দেখলেন? নন্দী। বন করালে এক মিনিট বাচবে না। ও ডাক্তারেরা দেখছেন-দেখুন নােগটী ঢােল। আপনার authority কি? ত্রিদোষপূর্ণ, তৈল ঔষধ ব্যবহার কতে হবে। নন্দী। আপনার authority কি ? হকিম। নেই, হালুয়া খিলাও-হালুয়া খিলাও, যব ঢােল। authority!-জোলাপ দিয়ে সেদিন সারা পশিমা নিকাল যায়েগা, তৰ বেমারি ছুট নন্দী। নাও নাও, সেদিন বমি করিয়ে তুমিও এক- একটাকে মেয়েছ। বাগা। টাকে মেরেছ। আরে হালুয়া খাইলে প্যাট ফুলে ময়ূবে। হারা। মশায়, ঝগড়া কবেন না-ঝগড়াবেন তৈল ঔষধ দিয়ে বায়ুর সাম্য করা চাই। হকিম। নেই আউর সরবৎ পিলাও। , আপনাদের এই ফি নেন, রোগটা কি ঠাও- এই রালেন? মগজ ক ক তেল শিরমে মালিস করে ঠাণ্ডা ঢােল। মােগ-ক্যাকহেসিয়া। হে জাগা। নন্দী। ক্যাকহেসিয়া!-কখনন -কখনাে আরে লও-ও-তােমার কর্ম নয়- হতে পারে না, সম্ভব নয়-অসম্ভব!—it is তোমার ক নয়। তােমার রাজমিস্ত্রীরে যাইয়ে asphyxia (অ্যাসফিসিয়া)। হালুয়া খাওয়াও, সরবৎ পিয়াও, আরে ইসে ঢল। মশায়, উনি অন্যায় বলছেন। মালিস করাে। নন্দী। অন্যায় বলছি, একি ছেলের হাতে পিটে, হকিম। কেয়া বুরা বােলতে হাে ! যা তা বল্লেই হলাে—যে এলুম, ফি নিলুম চলে হ, হক বলতিছি। গেলুম। ঠাওরাতে হবে, ভাবতে হবে, বিবে- হাকিম। আও দেখে চনা কতে হবে, বিচার কতে হবে, চিন্তা বৈদ্য। কি আমি মুসুরির ঝােল খাইয়ে বারুইচি, কতে হবে, তবে একটা কথা বলতে হবে। আমারে কম পাইছ ? হরা। (স্বগত) এক শালা সুর ধরেছে একেবারে [ উভয়ের দ্বন্দ করিতে করিতে প্রস্থান। টিমে তেতালায়, আর এক শালা চৌদুম । গরব। কর্তা বাবু- কর্তা বাবু, দুর্গা বলাে! তােমার ঢােল। মহাশয় বুঝুন,আপনার একমাত্র কন্যা,এদিক রাহু-কেতু কাটলাে। ওদিক কিছু হলে পাগল হবেন, কেমন কি না ( অ্যালােপ্যাথিক ডাক্তারদ্বয়কে আসিতে দেখিয়া ) বিবেচনা করুন; রোগ হলো সাংঘাতিক,মৃত্যু হতে এইবার শনি-মঙ্গল আছে, এইটে সামলে যাও পারে। ঔষধ দিতে হবে খুব বিবেচনা করে। তো অনেক দিন টেকবে। নন্দী। নিশ্চয়, তার জন্যে যা কতে হয়, আমি (মিঃ নন্দী ও মিঃ ঢােলের প্রবেশ) প্রস্তুত। একি ছেলের হাতের পিট, যে এলুম ডাঃ নন্দী। (দ্রুতভাষায়) আপনি মিছিমিছি কতক ফি নিলুম, চলে গেলুম। গুলাে টাকা খরচ করে কতকগুলাে আনাড়ি ঢোল। আপনি অন্যায় বলছে-অ্যাফিসিয়া কেবল জড় করেছেন। বহিনি হােমিওপ্যাথ কখনই হতে পারে , বরং অ্যাপােপ্লেসি ওরা রােগের কি জানে, প্যাথলজি পড়েছে ? বলা যেতে পারে। ( ২১-২২] বৈদ্য।

সিরিয়ী। ; নন্দী। নন্দী। নী। ননসেন্স, বাজে কথা, বরতে পারাে হা। এ তাে হলাে—এখন সে আৱৰাৰু ধনুষ্টঙ্কার। কারণ শরীরের রক্ত, মাংসপেশিরা, कि কচ্চেন? (নেপথ্যাভিমুখে উচ্চৈঃস্বরে) অস্থি, মজ্জা সম বিকৃত হয়ে রােগীকে ধরে মশায়, কি হচ্ছে আপনার? মত করে ফেৰায় চেষ্টা কচ্চে। এর লক্ষণ নেপথ্যে। সিট নিচ্চি-সিমটম নিচ্চি হাঁসফাস, এ পাশ ও পাশ, ঘন ঘন খাস, হা হারা। আসুন-আনুন, বেরিয়ে আসুন। তাশ,-কখনাে বা কাসে, কখনাে হাসে, কখনাে নেপথ্যে। দাড়ন-দাড়ান-বই খুলে সিটম ঝম্পন, কখনাে ৰা কম্পন, ফুসফুস দাহন, নাড়ী মিলুচ্চি অতি দ্রুতগতি, কখনাে বা মৃত্বগতি, ঘন ঘন গরব। আসুন—আসুন। মাথা চালা, সর্বাঙ্গে জ্বালা-আঁাসফিসিয়া (পুকে পড়িতে পড়িতে হােমিওপ্যাথিক বলে কোন শালার বেটা শালা। ডাক্তারের প্রবেশ) হারা। (স্বগত) বাপ! যেন পাঞ্জাব যেন হােমিও। বলতে পারেন, শুয়ে ক’বার পাশ ফেরে? চালালে। (প্রকাশ্যে ) মশায় হয়েছে তাে ? জ্বর উপর মাছি বসে কি না? এখনো আছে, সব নিঃশ্বেস হয় নাই। গরব। আঙ্কে উনি বলতে পাবেন না, উনি রা। আপনার থাক-এবার ঢোল মশায় কেমন বতে পাবেন না, আমি বলছি। ঘুমিয়ে বাজেন দেখি । পাশ ফেরে, পায়ের উপর ভর দিয়ে দাড়ায়, মশা ঢোল। 'অপমান -Defaumation. কামড়ালে গা চুলকায়, মাছি বসলে তাড়ায়, Delamation-Duin nation. আর তােমার মত ডাক্তার পেলে—ঝেটিয়ে বিষ 66179 1 Dan nation-Du fool! ( opgespoo ঝাড়ায়। দ্বন্দ্ব ) হােমিও। কি-কি, অপমান-অপমান ! আমি হারা। মশায়—ঠাণ্ডা হােন ঠাণ্ডা হােন। চললুম। নন্দী। কি? ঠাণ্ডা হবাে-শালা ঢােল বলে all fool, চললুম! ( প্রস্থান ও তৎপশ্চাৎ মাণিকের ভঙ্গীসহ গমন। ঢোল। চললুম ! হারা।কাড়ি কাড়ি টাকা নিলে, ঝুড়ি ঝুড়ি বলে, ( উভয়ের প্রস্থানােম। তড়তড়িয়ে সরুলল! যাক এ বেটাদের কাজ (মাণিক ও গররে প্রবেশ) নয়। কোন রকম টোটকা ওষুধ চেষ্টা করা যা মাণিক। এজ্ঞ কেউ যেতে পাবেন নি কেউ যেতে [ হারাধনের প্রস্থান। পাবেন নি। গরব। এইবার আমার ডাক্তার খজতে বেরুই- গরব। আজ্ঞে, এই রেড়ীর তেল আর নুন এলে যে এক তুড়িতে রােগ ভাল কবে। যেম এনেছি, কে বমি করূৰেন কে জোলাপ নেবেন? ভরা রস যৌবন, তেমনি রসিক বন্দিও তো টোল। আমি বমি কবে না-রােগী বমি কৰে। চাই। এ রােগে বায়ু- পিকফ তিনই প্রবল, নন্দী। আমি মােলাপ নেব না-আমি জোলাপ তবে বাইয়ের ভাগটা কিছু বেশী। আমি যে রুগী নেব না, রােগী জোলাপ নেবে। আর রােজা দুই-ই হয়ে হাড়ে হাড়ে বুঝছি। গরব। বক্ষ নারায়ণ, আপনারা খেলেই রুগীর ও বালাই ডাকতে হয় না, খামকা এসে জুলুম ওয়: হবে ; আপনারা মলেই রুগী বাঁচবে। করে। মাণিক। খাও ডাক্তার বাবু! খাও,তােমাদের চারটি গায়ে পড়ি খাও! গরবের গীত। নন্দী। সত্য খাওয়াৰে নাকি! (লম্ফ দিয়া পলায়ন। যৌবন কেন আসে কে জানে। টো। ও পু ও বাপু! ওকে ধরাে, আমার পায়ে বাণ ডেকে গালত’রে যেন বয়ে চলে উজানে । বাত, আমি পালাতে পারবাে না। ফিরে বয় মনের ধারা, থাকে না কুল-কিনারা [ বীরপদে স্থান! ভেসে গিয়ে কূল না পেয়ে হয় দিশেহারা ;

बाबमाणावमा দৃশ্য। করে ? ডােৰে ওঠে তুফান খেলে,খন তােলে কখন কেলে, মাণিক। ওমন কৰি তে হােৱে ৰে কৰো নি। পায়ে পায়ে নে , প্রাণ কাপের টানে। গৰৰ। বে কবে বই কি!-গাণিষ্টাদ-মাণিক ততরে কার কানে কাণে। আমায় তােমাকে কি আমি ছাড়বে, বে [গরবের প্রস্থান। কবােই কবে। (উচ্চৈঃস্বরে বিভীবিক। দেখাইয়া) ওরে তাের বুকের রক্ত খাবার জয় আমার জিব শুকিয়ে উঠছে।-মাণিক সামনে অষ্টম পাড়া, সামনে দাড়া,-আমি তােরে বে কবে পথ। -আমি তােরে বে কবে। হাড়িঝি চণ্ডীর দেহাই, আয় আয়, বুকের রক্ত মুখে আয়। (গরবের প্রবেশ) মাণিক। ওরে বারে! [ মালিকের পলায়ন। গরব। ঐ দেখ, আবার মাণকে ছোড়া পপছু গরৰ। হাঃ হাঃ হাঃ-যা-আপদ গেল। এখন পেছু আসছে। ওকে তাড়াই, না তাড়ালে রসিক চূড়ামণি কোথায় দেখি। ঐ যে আসছে। রসিক বাবুর সঙ্গে দেখা করা হবে না। (সিকের প্রবেশ) দেখাই, নইলে সঙ্গ ছাড়বে না। বিস্তর রসিক। পিরীতে খুব আকেল দিলে বাবা! পিরীতে কাকুতি-মিনতি করে ; এক একবার ইচ্ছে হয় যে রাস্তায় রাস্তায় এমন ঘােড়দৌড় করায়, তা ছোঁড়াকে বে করি। বড় বােকা, তা বােক তুম না,আবার রাতদুরে বুকে? উপর ভাতার না হলে, নাকে দড়ি দে বেড়াবে কি টেকীর পা পড়ে। একবার চোখের দেখা দেখতেম, তা তাে তিন দিন গা ঢাকা! নয়ন- (মাণিকের প্রবেশ) বাণ শুনেছিলুম, এমন হাড়ে হাড়ে বেঁধে, তা কে মাণিক। ও গরব গরব! তুই যা বল্লি, তাই তো জানে! দোতালা ঘর, বিদ্যাসুন্দরের মত উঙ্গ করুং, ডাক্তারদের তাড়াহু। তুই বিয়ে কবি কাটতে পারুলেও তােত সুবিধা নাই। মাখাল বলেছিলি, বিয়ে কর। বিয়ে কবি তাে ? ঠাকুরের বরে যদি একটা সুরাহা লাগে, দোহাই গরব। এসেছি-আয়, আমার সঙ্গে চল্। মদন রাজা, একটা পথ দেখাও, তােমায় পাচ- শণিক। কোথায় যাচ্ছিস্? কড়া সিন্নি সেবাে। ঐ যে—ঐ না গবভরে গরব। ও পাড়ার ডান বুড়ী বৈষ্ণবীর কাছে যাচ্ছি, গরবিনী এই দিকে আসছে? চাউনিটে যেন চ। আমার উপরে একটু নেকনজর বােধ হচ্ছে, 'দেখি মাণিক। ছিঃছিঃ। সেখানে কেন রে ? কথা কয়ে। গরব। কারুকে বলি নি, তােরে বে কবে, তাই গরব। (স্বগত) এই যে দিদিমণির মতন মনে মনে তােরে এখন চুপি চুপি বছি। আমি ওর কাছে আছে গড়ছে। নেহাৎ এক হাতে তালি ডাইনে মন্ত্রী শিখেছি, এখন গাছচালা মন্ত্রী বাজে নাই। শিখতে যাচ্ছি। রসিক। ও গরগরবমণি। মাণিক। ডাইনে মন্ত্র শিখেছিস্ কিরে ? গরব। ও মা, রাস্তার মাঝখানে কে ডাক গো? গরব। নইলে আর জােরে বে কবতে চাচ্চি রসিক। এই যে আমি ডাছি, তােমার নাম গৰৰ কেন? তাের কাছে শুয়ে থাকবাে আর একটু একটু করে তাের বুকের রক্ত খাবাে। গরব। না। মাণিক। নে নে, ঠাট করিস্ নে, তাের কথা শুনে রসিক। তুমি হারাধন বাবুর বাড়ী থাকে না? ভয় লাগে। গরব। ও মা, এ কে গাে, পাগল নাকি? গরব। ভয় কির, তাের বুকের রক্ত খাবাে, তাকি রসিক। কেন গগ, পাগল কি দেখলে ? তুই টের পাবি? এই ভা, তুই সামনে দাঁড় গয়ব। আমি পাগল চিনি। দেখি, একটু খাই, তুই টেরও পাবি নে। রসিক। পাগল চেনাে? ?

- ১৬৪ গিরি-অস্থাবলী। গরব। চিনি বই কি? কাপড় দেয়, ঝজি সইতে পারে না। মলয় রসিক। কি করে চিনলে? হওয়ায় গায়ে সেকা পড়ে, ফুলের গন্ধে মাথা গল্প। এই তােমায় দেখে। ধরে, আর ভােমরা দেখলে আঁৎকে উঠে দেরে মাসক। তােমার খুব জবর ঠাওর, পাগলই কয়েছ। খিল দেয়। আর ঘন ঘন ভিমি যায়। পরব। তবে আর কি, পথ দেখ, আমি চললুম। রসিক। আমার রােগ ধরে,-আমিও ঠিক রসিক। কোথায় চল্পে বল না? অশনি করি। গরব। আমার পাগলের সঙ্গে পাগলামাে কার গরব। ও, তবে তােমর কঁচা প্রেম, পাকা প্রেম সময় নাই, সরাে। হলে সে আর একরকম। রকি। আমি তাে পাগল নই। রসিক। আমার কাঁচা পাকা দুরকমই, গরব। এ তুমি এমন মিথ্যাবাদী, আপনার মুখে গরব। কই-তােমায় তো প্রেমে জখম দেখছি নি ? বলে পাগল, আবার বছছা পাগল নই। আমি ( উভয়ের গীত) চললুম, আমার কাজ আছে। রসিক। কোথায় যাচ্ছ? পাকলে প্রেম জখম হয় বেজায়। গয়ব। জসিক খুজতে। নিশিদিন করে সে হায় হায় রসিক। ব্য! তবে আর কি, এই তো থাকে থেকে থেকে গালে-মূখে দুহাতে চড়ায়। থান্ তােমার সামনে বজায়, আমি নামে রসিক, রসিক। কাজে রসিক। হায় হায়-(গালে চপটাঘাত করণ) গরব। মিছে কথা । গরব। রসিক। সে কি, আমি এত বড় রসিক, তােমার কখন বা হিঃ হিঃ হাসে, পছন্দ হচ্ছে না। কেক কেদে কন হাসে, গর। না, তােমার রসিকের চেহারাই নয়। কখনাে গুম খায়, আকাশপানে চায় রসিক। তােমার রসিক কিসে হয় নি। রসিক। ওঃ, প্রাণ যায়! (হাস্য, ক্রন্দন, কাসি, গরব। রসিক আঁদাড়ে-শাদাড়ে ঘুরে বেড়ায়, গালে পরে গু খাইয়া আকাশপানে দৃষ্টিপাত করণ ) মুখে চড়ায়, দিন রাত বিরহে হা-হুতাশ করে, ঘন ঘন দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়ে,আর গাছ দেখতে পেলে যখন প্রেম বুকে বাজে, দুহাতে বুক চেপে থাকে, একেবারে ডালে গিয়ে চড়ে। খামকা তেওড়ে উঠে, ঘুরপাক সে খায়। রসিক। তবে আর কি, তবে আমিই সেই। রসিক। গৰ। রসিক হলেই হলাে, রসিক ওমনি প্রেমে বুক যায়, প্রেম গলায় গলায় টুপ-টুপে হবে, যেন মুনে ফেলা জারক নেবুটি! (বুক চাপিয়া বসিয়া হঠাৎ খিচিয়া উঠিয়া যার বদহজমি হবে, একবার গা চাটলেই ভাল গরবের চারিদিকে ঘূর্ণন) হবে। রসিক। আমিও প্রেমের সুনে টুপ-টুপে হয়ে আছি গরব। বেশ বেশ দেখছি ষে, থামাে থামাে- তােমার বাহজমি হলে বুঝতে পাতে। এমন প্রেমে জমাট হয় না কার সােজায়। গরব। আবার তাতে না দেওয়া। রসিক। সােজা তাে নয় বুঝেছ, এখন অভয় দাও। রসিক। আমিও লঙ্কার ঝােল মাখা। গৰৰ। অভয় দিতেই তাে এসেছি,তুমি না ভয় পাও। গরব। তুমি ঠিক বছ—প্রেমে টুপ-টুপে ? রসিক। তবে রতনমালা কি আমার কাছেই রসিক। ঠিক। তােমায় পাঠিয়েছে ? গরব। আচ্ছা দেখি, তুমি চাদ দেখলে কি কর ? ও মা, তোমার কাছে কেন? ও পাড়ার বলিক। হাঁ ক'রে চেয়ে থাকি। ভজহরিকে ডাকতে যাচ্ছি। গরব। হলো না, প্রেমিক চাদ দেখলে চোখে রসিক। আর নাকানিচোবানি খাইয়াে না।

ফ্যাসাকা-ত্যাশা। ১৬৫ শুনে বুঝি। নিয়ে থাকবে। গর। তুমি অবধূত হতে পাবে? মানুষ, পাবে না, তোমার সনাতন খুড়াের রসিক। অবধূতের আবার লক্ষণ কি, আওড়াও, কাছে তালিম নাও। রসিক। আমায় তালিম নিতে হবে না, মদন গরৰ। ঝাড়িয়ে দিদিমণিকে আরাম করতে রাজাই আমায় তালিম দেবেন। পাবে? গর। না না, তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করি গে চলাে। রসিক। একটু জবর হেঁয়ালির ধাতে চলেছ, একটু বের সব জোগাড় করূতে হবে, বরযাত্রী, কন্যা, সাদা কথায় বুঝিয়ে দাও। যাত্রী নিমন্ত্রণ কতে হবে। গরব। পিরীতে খলে কি হয়, তা তাে তুমি আপ রসিক। তাতে কি হবে? নিই দেখালে, তবে এর উপর একটু রং চড়িয়ে, গরৰ। ঐ তো বললুম, তুমি ছেলে মানুষ, সব দিদিমণি আমার বিছানায় শুয়ে পড়েছে। আমি বুঝতে পাবে না। চলুন, সনাতন বাবুকে কর্তাকে বলেছি, দিদিমণির ভারি অসুখ। কর্তা সৰ বলি গে। তিনি যেমন যেমন বলেন, মিসে ডাক্তার, বন্দি, হকিম, কত কি আলে, সেই রকম করো। কিন্তু রসিক বদ্দি নইলে তাে রােগ ভাল হবে [ উভয়ের প্রস্থান। না,তাই রসিক বদ্দি খুঁজতে এসেছি। এখন (বঙ্গরমণীগণের প্রবেশ) বৈদ্যরাজ, চলুন। রসিক। চলােচলো-কোথায় যেতে হবে বলে ? (গীত) . আমি যমের বাড়ী যেতেও রাজী আছি। কাঙ্গালী বাঙ্গালীর মেয়ে, কাজ কি বিবিয়ানা বাই। গরব। বালাই! তা হলে আমার দিদিমণি কাকে বুকে-পিটে সেটে ধরে, জ্যাকেট বডির মুখে ছাই । এখন চলছে কপেড়ে সাড়ী, রসিক। তাই তাে, ঠিক বলেছ, যমের বাড়ী যাওয়া শাঁখার আদর বাড়ী বাড়ী, হলাে না, তবে কোথায় নে যাবে চলাে। ভেঙ্গে কাচের বাসন কাচের চুড়ি, গরব। অত তাড়া কলে চলবে না, তােমায় তাে ঘুচেছে কাচের বালাই। কৰ্ত্তা চেনেন না ? পরেছে ধুতিচাদর, বেড়েছে তাতির আদর, রসিক। না। আমার নাম জানেন, শুধু আমার কচের কদর এখন, লিভারপুল আমদানি নাই। সম্বন্ধ নিয়ে সনাতন খুড়াে আনাগােনা করেছেন। দেখেছে ঠেকে শিখে, সাহেবয়ানা বেবাক ফিকে, গরব। এখন কর্তা এমন লােক খুলছেন, যে বলে না সাজতে বিবি, সাবান ছেড়ে ব্যাসম তাই। ঝাড়ান-ঝােড়ান করে ভাল কতে পারে। তুমি সাহেব বলে দিতে ধোঁকা,নাম রাখে না আঁকাবাঁকা, অবধূত সেজে আমার সঙ্গে এস। (এখন) বলতে বাঙ্গালীর ছেলে, রসিক। আচ্ছা বাবা,-প্রেমে যােগ সাজাবে বাঙ্গালীর আর সরম নাই। সাজাও, রাজী আছি। এখন সাজিয়ে কুঞ্জে বুঝি বা এতদিনে গরবের দিন এলাে ভাই। নিয়ে চলাে। [ সকলের প্রস্থান। গর। শুধু যােগী সাজলে তো হবে না, একটু ঝাড়ান মন্ত্র শিখতে হবে। রসিক। আচ্ছা চাদ, তােমার পাঠশালের পড়ে। নবম দৃশ্য। করে নাও। হারাধনের বহিৰ্বাটীর প্রাঙ্গণ। গরব।' এমন মন্ত্র ঝাড়তে হবে যে, এক ঝাড়নে (হারাধনের প্রবেশ) তােমাদের দুজনের রােগ আরাম হয়। পাবে তাে ? হারা। কি উপায় হবে? টোটকা ওপুধেও তাে রসিক। পারুবে—খুব পারবাে। কিছু হলাে না। ক্রমেই বৃদ্ধি- ক্রমেই বৃদ্ধি। গরব। এতে একটু চালাকি চাই, তুমি ছেলে আগে কত সন্নাসী অবধূত আসতো, শুনেছি, গিরিশবলী। তারা ফু দিয়ে, ছাই দিয়ে ময়া বাঁচাতে পারে। গর। হাসােহাগের চেয়ী করে না,-- কি করবাে-কি হবে? আমার মত হো হো করে হাসে। (মাণিকে এবেশ) অন্তরাল হইতে মাণিক। হেসে নি গাে—হেসে নি; বেটা ক্ষকে এসেছে। মাণিক। কর্তা বাবু-কৰ্ত্তা বাবু, বড় ফ্যাসাদ হারা। খাম্বা হাসতে যাৰৰ কেন? কি হয়েছে বেধেছে গাে- হয়। কি রে —িআবার কি ফ্যাসাদ ? ব? মাণিক। এই গৰুৰী বেটী হজুত করে আমায় বে গরব। সে আমায় মাথার দিব্যি দিয়ে বলেছে, না হাসলে কিছুতে বলবাে না, হাঃ হাঃ হাঃ-হাসো কতে চায়। হায়া। নে নে থামবেলকোপনা রাখ। কর্তাবাবু হাসসা-হিঃহিঃ---হিঃ- মাণিক। না কর্তাবাবু, তােমার পায়ে ধরি, বেলকো হারা। এই নে বেটী, হিঃ হিঃ হিঃ-এমন পাগল পনা নয় কাবাবু। দেখি নি, হলাে? এখন কি বল ? গরব। হয়। বে কতে চায় তো কি? তবে শােনন—এইবার দিদিমণির অসুখ মাণিক। বড় হাঙ্গামা গাে-বুকের রক্ত চুবে। ভাল হবে। হারা। বুকের রক্ত চুষবে কি ? হারা। কি বলিস, কি বলিস, কেমন করে কেমন মাণিক। হেঁ গো হেঁ, এক চুমুক বুকের রক্ত থাৰে, করে ? তৰে ছাড়বে। আমি দেশের মানুষ দেশে গরব। আমি সেই তাকে পায়ে হাতে ধরে এনেছি। চ'লে যাই। হারা। কাকে রে ? হারা। এই দেখ, গবি যেটা এ বােকা বেটাকে কি গরব। ও মা! তুমি কিছু শােন নি নাকি? সহর ভয় দেখিয়েছে। নে তুই ভাবি নে, তাের কে শুদ্ধ লােকে ধন্যি ধন্তি কচ্চে। বলে সাক্ষাৎ কি করে ? পঞ্চানন শিৰ। সবাই বলছে, ইনি আর দিন মাণিক। ওই এলাে গাে- কতক সহরে খালে, নিমতলা আর কাশীমিত্রের [ বেগে প্রস্থান। ঘাট হাওয়া খাবার বাগান হবে। আমি স্বচক্ষে হারা। কি কৰাে, কি হবে, আমার বয়াতে তেমন দেখেছি কর্তাবাবু, একজনের মা মা ছেলে একটা সন্নিসিফমিলি জোটে না। কোলে করে এনে পায়ের কাছে ফেলে দিলে, (গমনের প্রবেশ) তা তিনি কি চুলেন? একটা তুড়ি দিতেই গ। হা-হা-হা- ছেলেটা ধড়মড়িয়ে উঠে টিপ করে তার পায়ে হারা। মাগীর আকে দেখেছ! ৰেটী সকলের একটা গড় করে, মায়ের আঁচল ধরে তিড়িং সঙ্গে ঢং করে বেড়াচ্ছে। কার সব্বনাশ, তিড়িং করে নাচতে নাচতে ঘরে চলে গেল। কারুর পৌষ মাস! কি হয়েছে কি ? আসতে কি চান, কত করে হাতে পায়ে ধরে গরব। হি-হি-হি- তোমার নাম করে, তবে এনেছি। হয়। অ ম-তুই খেপলি নাকি? হেসে মর হারা। কই, কোথায় তিনি? ছি কেন? গর। এখনি ডেকে আনবাে? গরৰ। হু-হু-হঃ- হারা। আবি না তাে কি? হায়।। কি কাণ্ডটা বল্ দেখি? গরবের প্রস্থান। তাের আগে কি ? বাড়ীতে না ব্যায়াম? দাড়া বেটী, তাের এদ্দিনে বুঝি আষ্ট প্রসন্ন হলাে। হাসি বার কচ্চি। (অবধূতবেশী রসিকমােহনের সহিত গরব। হােহােঃ- হে-কৰ্তাৰ হাসাে গো গরৰে পুনঃপ্রবেশ) মলিক। তেরা গলা হেয়। হারা। তাের ব্যাপার দেখে সত্যি হাসি পাচ্ছে। ও ঠাকু খােটাই বুলি ৰ'লাে না,উনি বুঝতে কি কাটা বল দেখি? পারেন না। হাঁস।

৭ । vায়ক। বলছি। হয়। এ কি-ইনি? এ যে এখনো ভাল করে না। এখন দাড়ান দেখি, ই করুন। (হারা- দাড়ী ওঠে নি, ইনি নোগ ভাল কবেন। ধনের হাঁ করণ) গয়ৰ। চুপ করে কা বাৰু, ও সব কথা বলে না, মাণিক। (রসিকের প্রায় নিকটে আসিয়া) ওগাে, শুনলে চটে চলে যাবেন। বড় দাড়ী হ'লেই বুঝি আমিও হচ্ছি, এই বেটীর রােগটা ঠাওরাও। বেশী বিয়ে হয়? নাড়ীর সঙ্গে বিদ্যের সঙ্গে কি? হায়া। খ, -দিক্‌ করিনি। (মাণিকের অশু- দাড়ী বড় রাখলেই যদি পণ্ডিত হয়, তা হলে রাতে গমন) বােকা পাটালে এক একটা দিগগজ পণ্ডিত। রসিক। ইস, তাই তােমােগ বড় সাংবাতিক মাণিক। (অন্তরাল হইতে) রােস, দিদিমণি এক হয়ে উঠেছে। আচ্ছা মশায়, হাসুন দেখি। বার ভাল হােক, একে ধরে বেটীর ডাইনে বিত্তি ( হারাধনের হাতকরণ ) ছাড়াবে। মাণিক। (অন্তরাল হইতে) এই দেখ আমিও হারা। মশায়, আমি শুনেছি, আপনি চিকিৎসা (হাস্যকরণ) শাস্ত্রবিশারদ। হারা। আবার আলাতন করে। রসিক। না, চিকিৎসাশাস্ত্র এমন কিছু নয়, রসিক। আচ্ছা, জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলুন তবে কি জানেন, আমি দৈববিদ্যা লাভ করেছি, (হারাধনের জোরে নিশ্বাস ত্যাগণ) মন্ত্র, কজ, জলপড়া, ঝাড়াঝােড়া, নানারূপ মাণিক। (অন্তরাল হইতে ইঙ্গিত করিয়া তােরে সুকৌশল আমার করগত। নিশ্বাস ত্যাগ করণ) গরব। শুনছ কর্তাবাবু-গুছ? রসিক। হু --মানসিক পীড়া। আর কিছু দিন হারা। (স্বগত) তাই তো অদ্ভুত লােক। (প্রকাশ্যে) আগে খবর দেওয়া উচিত ছিল। বড় বাড়া- আমি সেই কথাই বলছি, আমি সেই কথাই বাড়ি হয়ে উঠেছে। হারা। হা ঠাকুর, তবে কি—এখন কোন উপায় সিক। দেখি, আপনার হাত দেখি (হারাধনের নাড়ী হবে না ? দেখিয়া) আপনার কন্যার দেখছি উৎকট পীড়া। রসিক। সে আপনার কন্যাকে দেখলে বুঝতে হারা। মশায়, কেমন করে বুঝবেন? পারবাে। রসিক। তাই যদি না বুঝবাে, তবে আর চিকিৎসা হারা। তবে চলুন। করি কি? কি জানেন, আত্মা বৈজায়তে রসিক। যাবাে কোথা? আমি স্ত্রীলােকের পুত্র” বাপকি বেটা সিপাই কি ঘােড়া। আপ মন্দিরে কখনাে প্রবেশ করি না। আপনার নার ও আপনার কন্যার দেহের একই ধরণ। মেয়ে মলল কি বাচলাে- তাতে আমার কি? একটি স্ত্রীলােক পাগলের মতন হয়েছিল, তার আমার চিরকুমারব্ৰত ভঙ্গ হবে ? বট—বেশ বাপকে তিন কিল মালুম, আর তার পাগলামি ততা আপনার উপদেশ? কোথায় সে মাগী, ছেড়ে গেল। তুই কেন আমায় এখানে আলি ? মাণিক। (রসিকমােহনের নিকটে আসিয়া) মাণিক। এ গরকে দেখাইয়া। ওই যা–ওই ওগাে, আমাকে গােটা দুই তিন কিলিয়ে, গবি র ডাইনে বিত্তি ছাড়াও। হারা। মশায় ঘাট হয়েছে, মাফ করুন, কথাটা সি নে নে চুপ ক—স’র যা। (মালিকের হঠাৎ আমার মুখ থেকে বেরিয়ে গেছে। তবে অালে গমন। কি করে রােগী দেখবেন ? রসিক। আপনাকে পরীক্ষা করে আপনার রসিক। হাঃ হাঃহাঃ হাঃ-এই, এই ভাবন? কন্যার সব রােগ নির্ণয় করবাে। কি জানেন, তিন তালিতে তাকে হেথা তুলে আনবে। আমি স্ত্রীলােকের দেহ স্পর্শ করি না। জন্মাবধি এক-দুই-তিন (তালি প্রদান) আমার স্বভাবতঃ ঘৃণা। বিবাহ তাে করবেই (রতনমালার বেগে প্রবেশ করিয়া বসিয়া পড়ন। , স্ত্রীলােকের দেহও কখনও স্পর্শ কৰে হারা। বাপ- কি কাণ্ড!

১৬ গিরিশ-গ্রন্থাবলী। মাণিক। বলিহারি রােজা, তিন তলিতে দিদি- রসিক। আমরা দুজনেই এক পায়ে পড়ে। মণিকে চেলে অনিলে। হায়। (দুর হইতে গল্পৰের প্রতি) এত ফুসফুস গরব। ঠাকুর, আপনি আসুন, এইখানে বসুন। করে কি বলছে। চলুন কর্তাবাবু, আমরা এ ঘর থেকে যাই। গর। ঝাড়ফুক কষ্টে কাবাবু-ঝাড়ফুক কচ্চে। মাণিক। বাবি কোথা--তুই বেটী ব’স কর না। দেখছে না, দিদিমণির মুখে হাসি বেরিয়েছে। হারা। সে কি, যাব কেন ? মসিক। গরব তােমায় সব বলেছে তাে ? গরব। সে কি, রােজা দিদিমণিকে সব কথা রতন। সবই বলেছে, আমি ঠিক আছি। বাবা জিজ্ঞেস করে, তবে তো? চলাে—চলাে আসছেন, আমি এখন যাই। দাড়িয়ে কি দেখছো? এই বুঝি আবার [ রতনের প্রস্থান। চটলে, আর আমি খােসামােদ করে ডেকে আনতে পারবাে না। হারা। (নিকটে আসিয়া) কেমন দেখলেন ? হারা। নানা-না-চ। রসিক। দেখবে আর কি, সমুহ বিপদ উপস্থিত। গরব। মাণকে মুখপােড়া, চ'লে আয়। হারা। কি-কি ঠাকুর, আরােগ্য হবার কোন মাণিক। তাের পেছু চলুন এই যে- আশা নাই [ হারাধন ও গরবের একদিক দিয়া এবং মাণিকের রসিক। আশা আছে, উপায় করুত পালে হয়। অন্যদিক দিয়া প্রস্থান। হারা। উপায় আছে ? রসিক। (তনের সম্মুখে হস্তসঞ্চালনে ঝাড়নের রসিক। আছেও বটে—নাইও বটে। ভাণ করিয়া) রতন,বেশ মেঘনাদের যুদ্ধ করেছ। হারা। মশায়, আমরা মুখ্য সুখ লােক, আপনি জানালার আড়াল থেকে দেদার নমনাবণ হেনেছ, পণ্ডিত, আপনার সব কথা বুঝতে পাচিনে। আর আমি প্রাণের জ্বালায় রাস্তায় ছুটোছুটি যদি কোন উপায় থাকে, আপনি করুন। করেছি। আর তুমি তােফা নিশ্চিন্ত আছ। আমি বুঝতে পেরেছি, আপনার দ্বারাই আমার রতন। তা ববে বই কি, রাস্তা থেকে তােমায় কন্যা আরােগ্য হবে, নয় তাে নয়। তিরন্দাজি কি কম? তুমি তাে নিশ্চিত ছিলে, রসিক। আপনার কন্যার পীড়া সম্পূর্ণ মানসিক। আমি গরবকে দিয়ে ধরে এনেছি, তবে তো? আমি বিশেষ পরীক্ষা করে দেখলাম, মস্তিষ্কের রসিক। তা বেশ সন্ন্যাপী সাজিয়েছ; এখন বাড়ী বিকার উপস্থিত। সেই জন্য একটি বাতিক ডেকে যেন অমনি বিদায় করাে না। সৃষ্টি হইয়াছে, বিবাহের বাতিক। এর মনে রতন। আমার তাে আর কিছুই নাই, সম্বলের মধ্যে দিনরাত বিবাহের বাসনা প্রবল। ছিঃ ছিঃ ! কি একটি প্রাণ ছিলো, তা তত জোর করে কেড়ে লজ্জা! কি ঘৃণার কথা ! মশায়, সমাজ থেকে নিয়েছ। বিবাহের কুপ্রথা কবে উঠে যাবে ? রসিক। আচ্ছা ভাল, যদি আমার জোর চলে, তবে হারা। অতি উচ্চপ্রকৃতি--অতি উচ্চ দরের লোক। জোর করে নে তোমায় বুকে নাথি (বাহু গরব। মানুষ নয় বাবু, মানুষ নয়। প্রসারণ) হারা। এখন কি উপায় হবে। রতন। থামাে থামােবাবা দেখছেন। আমাদের রসিক। দেখুন, যে সব লক্ষণ দেখলুম, তাতে শী বড় যদি জানতে পারেন, তবে তাের বুজরুকি উপায় না করলে মৃত্যু সন্নিকট। সব বেরিয়ে যাবে। গরব। দিদিমণি, তােমার কপালে এই ছিল (কপট রসিক। যাে কি? আমি তাে শুধু তালি দিয়েছি কলন) —তুমি যে রকম বুজরুকি করে পাগলের মতন হারা। হায় হায়, কি হবে। মশায়, আমি ছুটে এসে বসে পড়লে, তাতে আমিই ধোকা আপনার গােলাম হয়ে থাকে, আপনি রক্ষা খেয়েছিলুম যে, সত্যি বা কি হয়েছে। ৰতন। আমার ওস্তাদ কেমন-গরণিী! রসিক। ব্যস্ত হবেন না, স্থির হোন। এক্ষণে सानिमा-का-यांना আপনার কন্যার উপায় কি জানেন? বিবাহের হারা। দোহাই আপনার, দোহাই আপনার (কলন) একটা অনুকর কতে হবে। রসিক। খামে থামে, কি চাও বলল। বুঝেছি হার। বিবাহের অমুক ক রকম। মাগীতে যখন ডেকে এনেছে, তখন সমূহ বিপদ। রসিক। যেমন মধ্বাভাবে গুড়, ফুলচন্দন দিয়ে হারা। ঠাকুর, আজই বিবাহের লগ্ন আছে—এই পূজা না করে যেমন গাজলে ফুলচন্দনের অনু গগাধুলিতে। আপনি দয়া করুন, আপনার কর করে পূজা করা হয়, তেমনি মিছিমিছি অক্ষয় পূণ্য হবে; আপনি মিছিমিছি বর সেজে একটা বিবাহব্যাপার বাধাতে হবে। সবই বসবেন, মিছিমিছি সম্প্রদান হবে, তার পর মিছে মিছিমিছি বিবাহ হবে। আমার মেয়ে আমার বাড়ীতে থাকবে, আপনি হারা। আজ্ঞে যে হবে ? আপনার আস্তানায় চলে যাবেন। (রসিকমােহনের কপট ক্রোধ প্রকাশপূৰ্ব্বকগমনােম) রসিক। শুধু তােত সম্প্রদান মিছিমিছি হলে হবে না, গরব। (ব্যস্ততার ভাণ করিয়া) ষা, সর্বনাশ করলে, তােমার কন্যার প্রত্যয়ের জন্য, বিবাহের সমস্ত বাপই শত্রু, মেয়েটাকে খুন কলে। উৎসব করা চাই। হারা। মশায় চলে যাচ্ছেন কেন, শুনুন না। হারা। তাই তাে, সময়াভাব, কি করি? রসিক। কি শুনব, আমার বাজে কথা ক’বার রসিক। তােমায় দেখে দুঃখ হচ্চে। আচ্ছা, তুমি সময় নাই, যতক্ষণ আপনাকে নিয়ে বক্‌চি, তত স্থির হও, আমি অভয় দিলুম। এক দুই তিন ক্ষণ দশ বারটা লােকের প্রদান কতে তালি আর কে কোথায় আছিস সব চলে। পাতেম। ( বদকারগণের প্রবেশ ও বাদ্যকরণ ) হারা। (স্বগত কোথায় যাই, মিছিমিছি কে বে মাণিক। ইস, সব চেলিয়ে আছে। কতে আসবে! যদি অনেক খুজে কোন হারা। (বাদ্যকারগণের প্রতি) তােরা বেটারা কে ? বেটাকে পাই তো সে দাও বুঝে একটি কাড়ি বেয়রা আমার বাড়ী থেকে, মজা পেয়েছ নয়? টাকা নেবে। তা না হয় নিলে, কিন্তু পাত্র [ সভয়ে বাদকারগণের প্রস্থান। পাব কোথা। একেই বৰষা উপায় করতে ! রসিক। ওদের সূঙ্গে সঙ্গে আমিও বেরেলুম। সাহস হয় না, যেমন গুণী, তেমনি তিরিলে, (গমনােদ্যোগ). মেজাজের ঠিক নাই রসিক। কি ঠাওরালেন? আমি যাব না থাকবে ? হারা। কেন মশায়, কেন? আমার কি অপরাধ দেখুন, আমার সময়ের মূল্য আছে। রসিক। আমি ওদের ডেকেছি, তুমি বার করে গরব। কি হবে কৰ্ত্তা বাবু, কি হবে? তুমি এত জানাে, আর এর একটা উপায় করতে পাচ্ছ না? হারা। (স্বগত) যা আছে অদৃষ্টে বলে ফেলি, হারা। আজ্ঞে, আপনি কখন্‌ ডাকলেন ? এসপাব কি ওসপার, মেয়ে এনেও গেছে রসিক। তিন তালিতে তােমার মেয়েকে তুলে আলুম, এখনাে তা বিশ্বাস করে না ? দৈত্য- মনেও গেছে, প্রকাশ্যে ) ঠাকুর আপনি বে দানা ভূত-প্রেত-জিন যে যেখানে আছে, আস্কৃত কমূলে হয় না? রসিক। বটে! আমায় ডেকে এনেছিল, সে মাগী হবে। এক-দুই-তিন তালি। কোথায়? আমার হাতে আজ তার মৃত্যু আছে। হারা। ও বাবা, এ যে ভূতগত ব্যাপার! মালী গরব। ওরে বাপ রে, এখনি ভস্ম কবে! বেটা ফুলের মালা আছে, নাপিত বেটা এসে হাজির, পুরুত মহাশয় শালগ্রাম হাতে করে । (গরবের পলায়ন ) ও বাবা, খাতায় খাতায় লােক! হারা। দোহাই ঠাকুর, আপনার সাত দোহাই। তুমি আমার ধরম বাপ, আমায় রক্ষা করে। [ আলী, নাপিত ও পুরােহিতের যথাক্রমে রসিক। চুপ করাে, আমি কাতরা দেখতে প্রবেশ ও প্রস্থান। মাণিক। দেখছ কি কৰ্ত্তাবাবু, উড়ােন মন্ত্র ঝাড়ছে, হলাে ? দিচ্চ। পারি নে।

দেখাে কেনা-গয়লা বাড়ী থেকে স্বামী ও । হয়। সে কি! বিবাহ করতে? দই-ক্ষীর চালছে, ময়র-বাড়ী থেকে লুচিমতা সিফ। বিবাহ কত কি? ও, হ, ই, বটে আর ঘেমে বামুন ছক্কার গামলা নিয়ে ভাড়ার বটে, চলুন চলুন। সকলের প্রতি। বিগে চলেছে। হারা। (স্বগত) নিশ্চয় এ কোন মহাপুরুষ। ( এনােগণের প্রবেশ) রসিক। দাঁড়িয়ে ভাবছেন কি, মেয়ে সাজিয়ে (গত) আনুন, সব আমি ঠিক করে নিচ্ছি। দেখি লাে সামলে থাকি বয় গুণি ভারি। [ হারাধনের প্রস্থান। নয় যেমন তেমন বরণ করা, চাই হুসিয়ারি। মাণিক। ঠাকুর, এই গরবির ডাইনেগিৰিটে ভালাে বর মুখপানে চেয়ে, তিন তালি দিয়ে, করাে। কি জানি মজায়, কোথায় চেলে নে গিয়ে ; রসিক। ওর আর কি, তুমি যে করে ফেল্লেই ভাল বর যেমন তেমন নয়, ওর তুড়ি কথা কয়, হয়ে যাবে। একে ছাদনাতলা, কুলবালা, কি হ’তে কি হয়; গৰ। ও মা, সে কি গাে, কি লজ্জা! শুনি গুণের টানে প্রাণ টেনে নে, [ হাসিয়া গরবের প্রস্থান। মজায় এ কুলনারী। মাণিক। আজ্ঞে, বে ফলেই ডানগিরি ভাল হয় ? যেন এয়ােগিরি-হয় না ঝকমারি। রসিক। হয় বই কি, বে করলে মেয়েমানুষের আর [ এখােগণের প্রস্থান। রােগ থাকে না। মাণিক। তবে আর যায় কোথায় ? দশম দৃশ্য। [ মাণিকের প্রস্থান। (সনাতনের প্রবেশ) হারাধনের বাটী সনাতন। (রসিকের প্রতি) বাবাজি, কাণ্ডটা যেন হারাধন, সনাতন, পুরােহিত, বরযাত্রী যাদুবিদ্যা হয়েছে। আমি ভাবছিলুম, পাছে ও কাযাত্রিগণ। তুমি না পারে, ফসকে যায়; তোমার এমন (বর-কন্যাবেশে রসিকমােহন ও পােক্তাই আমি , জানতুম না। এ না হলে মতনমালার প্রবেশ) বুলাে বে দিত না। হারা। (রসিকের প্রতি) ঠাকুর, এইবার আমার মাসক। খুড়ো, এ তােমারই তালিম, এখন চুপ কন্যা সেরেছে তাে? আর তাে ভয় নাই ? করে, না আঁচালে বিশ্বাস নাই। রসিক। আজ্ঞে, নারায়ণ সাক্ষাতে আপনি সম্প্রদান সনাতন। আর আচানাে কি বাবাজি, পান চিবােনন করেছেন, পুরােহিত মন্ত্র পড়েছে, এই সব বর- হয়ে গেছে। (নেপথ্যে বাদ্যকারগণের প্রতি ) যাত্রী কন্যাত্রী উপস্থিত, ভয়ের কারণ তাে তােরা বাজা বাজা। কিছুই নাই। এখন আমাদের আশীর্বাদ [ সনাতনের প্রস্থান। (এক দিক হইতে পুরােহিত, নাপিত প্রভৃতি ( হারাধনকে উভয়ের প্রণাম করণ ) ও অন্যদিক হইতে সজ্জিতা রতনমালাকে হারা। এ কি ঠাকুর, কাকে প্রণাম ক’চ লইয়া হারাধনের প্রবেশ) রসিক। আজ্ঞে, আপনি যখন কার হলেন, পিতার পুরােহিত। লগ্ন বয়ে যায় কৰ্ত্তা, করা সম্প্রদান ক রূপ, আপনাকে প্রণাম করবাে না তাে কি? বেন চলুন। হয়। এ অনুকল্প প্রণাম-এ অনু প্রণাম। হারা। (বসিকের প্রতি) চলুন মশায়, চলুন অফ ভাল ভাল, এইবার আমার কন্যা বাড়ীর ভেতর গ্রহ করে। রসিক। কোথায় যাবে? রসিক। হা, বাসরে আরো উতরে যাৰ বইকি। যা?

যালক-তালা। বেটা? বার। গরও অনুকল্প নাকি? হারা। শালগ্রাম নেই মাতা, মুক্তি নেই মাঙত, রসিক। আজ্ঞে, সম্বন্ধটা অকল্প হয়েছিল, বিবাহ আমার খষ্টানী মত। বেছে বেটা, পাহারালা তাে ঠিকঠাক হয়েছে শ্বশুর মশায়। ডাবাে।. রতনখালার প্রতি) বাড়ীর ভেতর হারা। অ্যাশয় কিকার গর? যা বেটা? নইলে চুল ধরে নে যাব। রসিক। আজ্ঞে, মশায়ের কা, মশায়ই আমার রতন। আজ্ঞে, যার পদে আমায় সমর্পণ করেছেন, গর, এ তাে জলের দাগ নয় যে, মুছে ফেলতে তাঁকে ছেড়ে আমি কোথায় যাব? চান। হাৱা। সমর্পণ করেছি বেটী ? সাধুভাষা কইচ হয়। খর-কোন্ তেড়ের ভেড়ে শ্বশুর ? তাের বেটী ? গে কোন্ ৰাৰা সমর্পণ করেছে। চোদ্দপুরুষ শ্বশুর হােক। শশুর কিসের? গবে। হাগা-সে কি গাে ? তুমি তো বাবা। জুরির আর জায়গা পাও নি? হারা। তবে রে বেটী-সব্বাই জোটপাট খেয়েছ? সনাতন। তোমার কন্যাকে বিবাহ করেছে, তুমি বেটী, ব্যানাে ভাল করতে রােজা এনেছ? শশুর নও? ঠাকুর রাগ করে চলে যাবে ? ওরে বেটা, এখন হারা। বিবাহ করেছে। হারে বেটা, বিবাহ যে গলাধাকা দিলে যায় না। বাড়া বেটা, তাের কিরে বেটা ? তবে রে বেটা, তুই কে রে মাথা মুড়িয়ে ঘােল ঢালবাে বেটা ! মাণিক। আজ্ঞে, ও কিছু করবেন নি, আমিই : রসিক। আজ্ঞে আমি সিমােহন। করে দিচ্ছি। ও বেটা-তুমি রসূকে বেটা! তবে রে হারা। খুৰ নাকাল কর, সব বেটাযেটাকে নাকাল বেটা, তােমার চিরকুমারব্রত বেটা। তুমি ক। স্ত্রীলােকের মন্দিরে যাও না বেটা! তুমি সনা। ভায়া, আর অমন কষ্ট কেন?বে তাে আর বাসরে যেতে ঘুরঘুর করুচ বেটা ? তবে রে ফিবে না? ? পাহারাওয়ালা ডেকেও কিছু বেটা, বিবাহ-প্রথা উঠিয়ে দেবে বেটা? স্ত্রীলােক হবে না। স্পর্শ করাে না বেটা? তাই আমার মেয়ের হার। ফিরবে না, ওর বাপ ফিরবে। আমায় হাত ধরে ব’য়েছ বেটা ? তেমন বাপের বাপ পাও নি, এর হেস্তনেস্ত রসিক। আজ্ঞে না, আমারও মন, আপনার করে কি ছাড়বাে ? কন্যারও মন এরূপ বিবাহে তো আমার সম্পূর্ণ রসিক। মশায়, আপনি ক্রুদ্ধ হ’চেন কেন? এই দেখুন, আমার যথাসর্ব আপনার কন্যার নামে হারা। .মত বই কি রে বেটা, বেরো বেটা। জুচ্চরী, লিখে এনেছি। আপনি তার ‘তুষ্টি। আপ জুরি! পুলিশ ডাকো——ও মাণকে, ও গরবি, নার কন্যা আপনারই থাকবে, তার উপর আমার মাথায় জল দে। কখনাে না-অামি আজ হতে আমি আপনার পুত্র হলেম। মেয়ে ছাড়বাে না। ( দলিলাদি প্রদান ও হারাধনের পাঠ) সনা। ভাষা, বয়স্থা মেয়ে করে ঘরে রেখেছিলে, সনা। আর ভাবছো কি? বর-কনে আশীর্বাদ সে আপনার পথ আপনি করে নিয়েছে। তুমি করে বাসরে পাঠাও। বাধা দিলে কি বিধাতার বিধান খণ্ডন হবে ? হায়া। (পাঠ করিয়া) অ' সনাতন, এ সব কেন আর গােল ক’? এই পাত্রের কথা কথা তাে তুমি সম্বন্ধের সময় কিছু বলে নি ? তােমায় দুশাে দিন বলেছি। এমন সুপাত্র আর আমার মেয়ে যদি পর না হয়, আমার বে দিতে কোথাও পেতে না। আপত্তি নাই, এ তােমারই দোষ। হারা। বলেছ তো আমার মাতা কিনেছ! সুপাত্র মাণিক। আজ্ঞে, দোষ এই গরুবি। নেই মাতা,আমার বাড়ী থেকে সব নিকালে। রসিক। ঢােষই তাে, এইবার তুমি ওকে বে রসিক। আজ্ঞে, শালগ্রাম সম্মুখে বিবাহ দিয়েছেন, করে। এ কি বলছেন? মাণিক। এতে, আর যায় কোথায়! আমি ল্যাক। যত।

কবিতা-মালা। প্রেমের জ্বালা। অনল-তাপে গলে শিলা, গলে না তাে নারীর ফায়া, মজে তবু ভাল বাসে, নারীর প্রাণে নাইকো হায়া বিগতা-যৌবনা। বলি ওলাে নবীন কলি, তোর প্রাণে ভাই সয়তো এত, ফুলে ফুলে বেড়ায় অলি, অলির ছলা বুঝিনে তাে! অন্য ফুলে পিয়ে মধু, গুন্ গুনিয়ে আসে যখন, কে জানে তুই লাে কেমন, সােহাগ করে হাসিস তখন। ভাবি মনে শিখি মেনে, তাের কাছে তার ক’তে যতন, কাছে এলে, আগুন জ্বলে, অমনি ভেসে যায় লাে নয়ন। সয় কত তাের কোমল প্রাণে, যানে করে বিশেষ বিষে, ফেলে তােরে সে চায় পায়ে, দেখে শুনে ভুলিস্ কিসে? কোথায় পেলি ভালবাসা, থাকি ভাল ভালবেসে, সয় যদি তাের বুকে এত, ঝরি কেন শুকিয়ে শেষে ? বলে বলুক মুখের কথা, প্রতিদান সে চায় না প্রেমে, লুকিয়ে রেখে আগুন বুকে, তাের মত সে শুকায় ক্রমে। সয় বলে সই সয় লাে কত, সইতে কি হয়েছি নারী, ছি ছি ছি ধিক জীবনে, জীবনের সা নয়নবারি। গেছে দিন আছে তার স্মরণ কেব- আছিল ললিত কায়, কোল মেখলাম, বিভাগ সীমন্ত-রেখা ধবল সরল, অধরে আর রাগ, ভ্রমরার অনুরাগ ফুটিত ঈষৎ হাসে মুকুতার দল, উথলি, যৌবন-তরঙ্গ ঢল ঢল, আছে তার স্মরণ কেবল। ২ তখন আসিত আর না দেখি এখন, ধনী-মানী যুবা কত, বেশ করি নানা মত, গুণগ্রাম-বিকসিত সুঠাম বদন; কেহ বাধা কেশ-পাশে, কে বা হাসির ফাসে, কাহার হৃদয়ে বিদ্ধ কটাক্ষ ঈক্ষণ, ইঙ্গিতে প্রস্তুত দিতে জীবন-যৌবন,-- কারে আয় না দেখি এখন। সেির নিদাঘ-বি, মেঘ-বরিষণ, কুজঝটিকা-চাকা দিশা, হেমন্তের তীব্র নিশা, ঝটিকা কাকা ঘােয় তরঙ্গ নর্তন, কৰিঅমান। ১৫ উপেক্ষিত দু জনে, আসিত আমার ধ্যানে, প্রাচীর পর্বত সাক্ষরিত এখন, দেখে যে য ওও ৰত অৰত, সহি বিমেধ-বরিষণ। h বিলাসী নেহারে হারিণী-অধরে, রসতী দূতী আমি তার । ভাসাই মাতাই মন বসের শহরে, মনে থেকে তাদের হায়। নীচ সহে নীচ মজে করি নীচ সেবা, তলালী ভাবের অধিনী; মনে মনে বুঝে দেখ নিল মােনে যে মত্ততার মঞ্চ এ মেদিনী। কেন এলাে কেন গেলাে শখের বন, এৰে যদি দেখি কারে, ফিরে নাহি চাহে বায়ে ডাকিলে চিনিতে নাতে ফিরায় বদন ; বেণীতে নাহিক ফাঁস, অধরে কুহকী হাল, বেঁধে না নয়ন, গেছে চপল যৌবন, করি নাই আবাহন করি নি বর্জন, এলাে গেলো সুখের স্বপন। স্মৃতি। কাচ বাঁধি অঞ্চলে কাঞ্চনে অবহেলা, কন দিব দেহ দান, প্রাণ দিয়ে নেব প্রাণ, প্রণয়-বন্ধন পরে হবে কিবা খেলা ; চাহিম উপাসনা, কাদাইব-কাদিব না, বুঝে বেদনা সহি বেদনা একেলা, দান-প্রতিদানে ধরা আনন্দের মেলা, কাঞ্চনে করেছি অবহেলা। বহু দিন পরে কি দেখি আবার, সে দু’টি নয়ন সােহগে মাখা ; সাথে সমীরণ খেলে ধীরে ধীরে, অলকায় আধ বন ঢাকা। সেই তাে পােলাপ সলাজ কপােলে, সেই তাে গোলাপ অধরাগে, মৃদু হাসি সনে বিষাদ মিলিত, কেন যেন এ তো দেখিনি আগে। ৫ মদিরা। সেই তাে তটিনী সাগরগামিনী, শশী-হাসি-ছবি হৃদয়ে ধরে ; সেই তাে কলিকা ঈষৎ দুলিয়া, শিহরিছে ধীর সমীর-করে। সরলা তরল আমি মানব-মােহিনী, সমত রুল মম কত ; বাসনার অনুগামী আনদায়িনী যে চাহে যে ভাবে তাহে রত। বাইপাশে বাধি নয়নে নয়ন, যতনে দেখেছি বদন খানি; আজ’ ধরি ধরি ধরিতে তাে নামি, অামার আমার আমি তাে জানি। যােগাসনে উচ্চ ধ্যানে উচ্চ কামনায়, আমি তার হৃদি-আমােদিনী ; বিরাগী বাসনা তুচ্ছ করে যে হেলায়, উনাদের আমি উন্মাদিনী। এলো এলাে এলাে, আবার ফুরালাে, চলে গেল কেন, কি অভিমানে, ছিল তো বেদনা মরমে লুকা'য়ে, কেন বারিধারা নয়নে আনে। শুর ধরি তরবারি শক্র-শষে ধান, নৃত্য আর অঞ্জ ঝন ঝনে; তৃণান করে প্রাণ বীর গরিমায়, বলিনী সঙ্গিনী রণাঙ্গনে। এসেছিল সে কি দেখে গেল এসে, প্রাণে প্রাণ আর কাদে না কাঁদে, কেঁদে গেছে সে তো দেখেছে কেঁদেছি, কাদিতে কাদাতে এলাে কি সাথে!

১৭৬ দিয়েছি আহুতি হৃদয় সুসা, দুজনে যে এতে ছিলাম ব্রতী, নীরস জীবনে গেছে তাে সকলি, তবু কেন পুনঃ জাগিছে স্মৃতি। ; গিরিশ-গ্রন্থাবলী। আমােনি প্রমােলিম জীবনসঙ্গিনী ক্ষুদ্র গৃহ নাট্যশালা প্রায়, যােহাগ হৃদয়-রূগে রজনী রঙ্গিনী সোনার স্বপন ধরে যায়, কালের কুটিল , চমকিয়া স্বপ্ন ভঙ্গ, শূন্য গৃহ-নহে ত উজল নাট্যাগার, শূন্য প্রাণশূন্য ও সংসার। শূন্যপ্রাণ। কুলের তিলক কৃতী সুন্দর কুমার, উচ্চ স্থানে প্রাপ্ত উচ্চাসন, শ্রদ্ধাবান আজ্ঞাকারী নিয়ত পিতার, শত স্রোতে বহে উপার্জন ; শমন হরিল তায়, হদি বিদ্ধ শেল-ঘাম, চিত্রপ্রায় ব্যথা নাহি বুঝে বেদনায়, শূন্যপ্রাণশূন্যেতে মিশায়। * মা বলে কাঁদিয়ে শিশু কাছে যেতে চায় সবে মিলে করে নিবারণ, কাদিছে, কেন মা নাহি কোলে নেয় তায় ভাসে আঁখি না বুঝে কারণ ; যত্নে করে কত জন, কোলে নিতে আকিঞ্চন, মাতৃহারা শূন্য ধরা কে তারে ভুলায়, শূন্যপ্রাণ-শূন্যপানে চায়। সুখের কৈশােরকাল সুখের সংসার, না চাহিতে মিলে প্রয়ােজন, পাঠ করি পিতৃস্থানে স্নেহ পুরস্কার, সবার আদর ভাঙ্গন ; অকস্মাৎ বজ্রাঘাত, বহিছে শ্মশান-বাত, চিতায় পিতার মুখে অনল প্রদান শুন্যপ্রাণ-নেহারে শ্মশান। একক বান্ধবহীন প্রবাশে নিবাস কেহ আর নাহি আপনার, বাক্যে অশক্ত দেই-কৃপার প্রয়াস, হৃদে সদা আত সমর, কাটে দিন নাহি রহে, স্মৃতিমাত্ৰ কথা কহে, গােধূলি আলােক পিছে, সম্মুখে আঁধার, শুন্যপ্রাণ-কিছু নাহি আর।

বহণ বিদ্যা। • কিংবদন্তী আছে যে, কুম্ভকর্ণ রাবণকে বলে, কেবল মানসিক ধ্যানে নয়, খ্যালছৰি ভঁহার দেহে ‘সীর প্রতি যখন তােমার অনুরাগ, তুমি রামরূপ পরিণত করিয়া অভিনেতাকে অভিনয় করিতে হয়। রিয়া তাহার মন হরণ করিলে না কেন ?” রাবণ তাঁহার মাংসপেশী সকল ইচ্ছামত চালিত হওয়া চাই উত্তর করিলেন, “আমি এরূপ কল্পনা করিয়াছিলাম, -প্রেমিকের প্রেমিকা দর্শনে তাহার প্ৰেমৰ বনে কিন্তু যে রূপ ধারণ করিতে হয়, সে রূপ ধ্যানের অঙ্কিত হওয়া আবশ্যক। কাহাকেও বা মৃত্যুশয্যায় প্রয়ােজন; নচেৎ সে রূপ ধারণ করা যায় না। মুমূর কাায় দর্শক দেখিৰে। ৰে ভাবে অভিনয় হই- রামৰূপ ধারণ করিতে গেলে রামের ধ্যানের তেছে, সেই ভাব সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গে, একা পাইবে। প্রয়ােজন, কিন্তু নামৰূপ ধ্যান করিলে ব্ৰহ্মপদ এ সকলে বেশের (Make up) সাহায্য অত্যাবশ্যক। তুই হয়, পরবধূর সঙ্গ-প্ৰয়াস করিব কি?” কথাটী কোন বা দেশের সাহায্য ব্যতীত যুদ্ধ সাজিতে পারে জগতে রামচন্দ্রের স্বরূপ প্রকাশ করে, বহুরূপী না, প্রৌঢ়াৰস্থার অভিনেতাকে সাজে সাহায্য নটের কাৰ্যেও বিশেষ উপদেশপ্রদ। মিনার্ভ ব্যতীত প্রণয়মুগ্ধ যুবা দেখাইবে না। অভিনেতা থিয়েটারে অর্ধেন্দুশেখরের শােকসভায় পঠিত যে ধ্যানে নিজ ভূমিকানুসারে প্রত্যেক ভুমিকায় বেশ প্রবন্ধ *অর্চনায়”-“অভিনয় ও অভিনেতা*--নামে পরিবর্তন করিতে না শিখিলে তিনি ভ্রম উৎপাদন প্রকাশিত হইয়াছিল, তাহাতে অভিনেতার কর্তব্য করিতে সক্ষম হইবেন না। গদাধারী ভীমের সম্বন্ধে দুই এক কথা বলিয়াছিলাম। বলিয়াছিলাম, বেশ ধর্মপ্রাণ যুধিষ্ঠিরের সাজিবে না, শত্রসংহার- অভিনেতা যে ভূমিকা গ্রহণ করিবেন, কেবল সে কারিণী এলােকেশী দ্রৌপদীর বেশভূষা মলিনবসনা ভূমিকা বুঝিলেই অভিনেতার পক্ষে যথেষ্ট নয়, সে জানকী হইতে বিস্তর প্রভেদ হইবে। অবশ্য, এক ভূমিকার ধ্যান অভিনেতার প্রয়ােজন ; যে ধ্যানমুগ্ধ ব্যক্তির সকল ভূমিকা শােভা পায় না। যথা- হইয়া অভিনেতা অনেক সময়ে নাটককারকে মুগ্ধ কোন খুলকায় খর্বাকৃতি লােদর ব্যক্তি হাস্যরস করিয়াছেন। অনেক সময়ে অভিনয়কালীন নাটক- উদ্দীপনের বিশেষ উপযুক্ত। সুন্দর সুগঠন পুরুষ অভিনয় দর্শনে বুঝিয়াছেন যে,তিনি যাহা শিখি- নায়কের উপযুক্ত, অবশ্য খাকার কখনও দীর্ঘা- ছিলেন, তাই তিনি নিজেই বােঝেন নাই, অভিনয় কার হয় না, স্কুল দেহ কখনও সুঠাম হয় না। কিন্তু দর্শনে তাহা বুঝিলেন। অভিনয় ও অভিনেতা সুঠাম দেহ যাহা অভিনেতার হওয়া উচিত, তাহা প্রবন্ধে তাহার দৃষ্টান্তও আমরা, দিয়াছি। জিজ্ঞাস্ক বেশসাহায্যে বিকৃত করা যায়; এবং যদি আকারে হইতে পারে—যে নাটককার লিখিয়াছেন, অথচ বিশেষ অন্তরায় না থাকে, রূপবান পুরুষ না হইলেও বােঝেন নাই কিরূপ? তাহার কারণ এই, যে তাহাকে রূপবান সাজান যায়। কিন্তু প্রত্যেক তন্ময় অবস্থায় তিনি লিখিয়াছেন, তাহার পর সে অভিনেতাকে প্রত্যেক ভূমিকায় বুঝিতে হইবে, অবস্থা তাহার স্মরণ থাকে না। অভিনেতার তনু- কিরূপ সজ্জা তাহার ভূমিকার উপযােগী হয়। অঙ্গে নাটককার তাঁহার তয়ত্ব প্রত্যক্ষ করেন, এই প্রেমিক উপযােগ সরল সুঠাম কোমল বাহ সব্য- তাঁহার চমৎকৃত হইবার কারণ। বলিয়াছি, ভূমিকা সাচী অর্জুনের চলিবে না। ধগুণ ঘর্ষণে কঠিন- (part) বুঝলেই অভিনেতা হয় না, নাটককার সকল হন্ত, যাহা শখ এরা আবরিত করিয়া অর্জুনকে সময়ে অভিনেতা নয়। সেক্সপীয়র 'হামলেটের’ Ghost বিরাট-গৃহে অজ্ঞাতবাস করিতে হইয়াছিল, তার মাত্র সাজিতে পারিতেন। কেবল ভূমিকা বুঝিয়া নয়, সে রমণ চিত্তাকর্ষক বীরমুক্তি একরূপ এবং পঞ্চ- ناود গিরিশ-গৰী। ৰাণধারী মদনমূর্তি অপ-বেশের সাহায্যে পুৰু করিয়াছে, কোঞ্চা পলা পরিয়াছে, পােকা- তাহ দর্শক দেখিৰে। কোন শিক্ষার কি কােশের কও কাফ্রীর মত। কাজীর চলম মুরুয়ণ করি প্রয়ােজন,তাহারালয়ের অধিকারী, ম্যানেজার বা মাছে। ইহাতে সহজে কাকে চেনা কোন ॥ নাটককার অপেক্ষা অভিনেতার বােঝা আৰক। নেই যার মা। পণ-সাহায্যের কল্পনায় তাহার কিরূপ মূর্তি হওয়া অভিনেতা কুরূপই সাজু, ৰা সুপই সাজ উচিত, তাহা অভিনেতাই অবগত। অবশ্য, নাটক এখন কি,ভিখারী পালিলেও বে সাজে কেয়? কার এরূপ ধাৰণা করিয়াই লিখিয়াছেন, তিনি উত্ৰেক হয়, সে সাজ পরিহার্য। কেন না, খড়ি আরা অকিয়াছেন, রং ফলাইতে হইবে কিয়াছেন, রং ফলাইতে হইবে আমাের করিতে আসিয়াছে, গলিতকুমােণ ভি অভিনেতাকে, ছবিকে প্রাণ দিতে হইবে অভিনেতাকে, দেখিয়া তাহার আমােদর নিতান্ত ব্যাঘাত হই ই অভিনেতার ধ্যানের প্রাণ,জতে তাহা জানে না। এ আবার এক তর্কের স্থল ; কেহ বা বলিকে পাশ্চাত্য বড় বড় গভিনেতা ও অভিনেত্রীর অভিনেত্রীর কাভাবিক বােন উচিত। কিন্তু যদি বােঝে, অভিনয়ে দেখা যায় যে, খ্যান অনুসারে বেশের পর কবিতা ও ভাৰ এক নয়, কলাবিদ্যালে ভাৰ বৰ্তন হইয়াছে। যথা Mrs. Siddons-এর Lady ছবি হৃদয়ে উত্তর করিয়া দেয় মাত্র, কলৰিকা আন- Macbeth-এর বেশ এবং Sara Barnhardt (বাণ- প্রদ, যদি ইহা সকলে বুঝিতেন, তাহা হইলে স্বাভা- হার) এর Lady macbeth-এর বেশ ধ্যানাসারে বিক’ ‘বাভাবিক বলিয়া এত চীৎকার করিতেন না। প্রভাে। মিসেস সিডনসের Lady Macbeth চিত্রকরের ন্যায় ভিনেতারও রং বােৰা পাৰ উগ্রভা, আমিসঞ্চালনকারিণ, কুর্শা নারী ক। চিত্রকর যেমন তাঁহার অতি ছবি কোথা মূর্তি। বাণহার (Barnhardt) লেডী ম্যাকবেথেয় হইতে দর্শক দেখিৰে, তাহা লক্ষ্য করিয়া সেইরূপ স্বামী অনুরাগিণী মূর্তি। তিনি সিংহাসনপ্রয়াসী নন ; রং দেন, অন্যাবস্থায় তাহার ছবি দেখিলে তাঁহার মিসেস সিডনস্ উচ্চাভিলাষী সিংহাসনপ্রয়াসী। চিত্ৰৰিা সেরূপ বােঝা যায় না। অভিনেতাও সেই আমাদের যে প্রবন্ধ অর্চনায় প্রকাশিত হইয়াছে, রূপ দর্শক যাহাতে তাহার সজ্জিতরূপের ছবি সম্পূর্ণ তাহাতে উল্লেখ করিয়াছি যে, এ দেশে মামলীলাতে পায়, সেই অনুসারে রং মাখিবেন। দৃশ্যপট দিনের প্রতিবৎসর যেরূপ রাম, লক্ষণ, সীতা বদল হয়, বেলায় দেখিলে এ কথা স্পষ্টরূপে প্রকাশ পাইৰে। বিলাতে সেইরূপ প্রতি বৎসর রােমিও-জুলিয়েট বদল রজনীতে দূর হইতে দর্শক দেখিৰে, চিত্রকর সেই হয়। কিন্তু প্রতি বৎসরে প্রত্যেক মােমিও জুলিয়েট চাৰে লিখিয়াছেন। দৃশ্যপট দীপালােকে দূর হইজে কোন না কোন প্রকার নুতনভাবে দর্শকের সম্মুখীন মােৎপাদন করে, দিবালােকে মােটা মােটা রংয়ের হয়। প্রত্যেক রােমিও-জুলিয়েটের ধ্যান পরস্পর দাগ দেখা যায়। দাগ দেখা যায়। অভিনেতাকেও রং মাখিবার সময় তা এবং সেই ধানানুসারে তাহাদের পরিচ্ছও বিবেচনা করিতে হইবে যে বৈঠকখানায় যেরূপ পাউ পরিবর্তিত হয়; নতুবা দর্শক নুতন দেখিত না। ডার মাখিয়া সুন্দর হইলে চলে, রঙ্গমঞ্চ হইতে সেরূপ। অভিনেতার খ্যানের মূর্তি অভিনেতার প্রকৃত চলিবে না। বেশী করিয়া লাল রং অহার গালে মুর্তি নয়। সাজের সাহায্যে তাহার শরীরে ধ্যানের দিতে হইবে, তবে গােলাপ আভার ন্যায় দূর হইতে মূর্তি যতদুর প্রকাশ পায়, নিশ্চয় তাহাকে তাহা দেখাইবে। কুঞ্জ চক্ষু বৃহৎ দেখাইতে গেলে চোখের করিতে হইবে। রং, পরচুলা, মােম ও পরিচ্ছদ ওভূ- কোণে কাজলের রেখা বিশেষ করিয়া দিতে হইবে তির সাহায্যে এত দূর মূর্তির পরিবর্তন হওয়ার সম্ভৰ ৰা চকু কোটগত করিতে হইলে চোখের কোলে যে, পরিবর্তিত মুক্তিতে পরমাত্মীয়ের নিকট উপস্থিত বেশী করিয়া কালাে রং দেওয়া আবশ্যক। দোকানে হইলেও তাহাকে চেনা যাইবে না। একজন সুর শচুল ভাল দেখিয়া লইলে চলিবে না। পরচুলা পুরুষ কাজী সাজিয়াছে, কালো রংএ রং ঢাকিয়াছে। তাহারই উপযুক্ত হওয়া উচিত। ভূমিকা (part) নাকে অগ্রভাগ দড়ি দিয়া তুলিয়া দড়ি রংএর সহিত অনুসারে বৃহৎ ললাট বা ক্ষুদ্র ললাট হওয়া তাঁহার মিশাইয়া দিয়া কাফ্রীর নাসিকা করিয়াছে, গালের প্রয়ােজন, তাহাকে প্রয়োজন অনুসারে ফরমাল হাড় মােম দিয়া উচু করিয়াছে, মােন দিয়া ঠাট দিতে হইবে, ভাল পলাটি দেখিয়াই পরিলে চলিৰে ;

বন ভূমি। আমরা দেখিতে পাই, যদি কে পরে দেখি মা পাইলে ফকিকে সন্তুষ্ট করিতে পাৱিছেন না। তাহাতে লেক ন ক দেখায়। পরিশেষে আমাদের ব্যব্য যে, কালাজ্যে ঘনি নিজের আকার অনুসারে অনুকরণ না এণ করিয়া কানাজ্যে গর্শককে আনা হায় & ৰে ভাৰ হকে শােভা পায়, সেই ভাবে চুল কাৰ্য। সেই কাব্যেয় সহায় সর্বশ্রেষ্ঠ ধ্যান; দ্বিতীয় , গাইনে পুর দেখা অতএকৰূিপ -তানাহারে অভ্যাস ; তৃতীয়-সা। তৃতীয় ও পরিজে তাঁহাকে ভাল দেখাইবে, তাহা হইলেও লজ্জার হন সামান্য নয়। তিনি অভিনয় খেলার বিশেষ বােঝ আৰক। করিতে না পারিবেও যদি তিনি ভূমিকা অনুসারে নাটকের ভাল ভূমিকাইয়া সকলেই কাড়াকাড়ি ঠিক সাজিতে পারেন, তাহাতেও ভুরি ভুরি প্রশংসা । কিন্তু কোন ভূমিকা তাঁহার শােভা পাইৰে, ভাজন হইবেন। অভিনেতার কাৰ্য্য যিনি সামান্য ভূষা কৰিলে সে ভূমিকায় তাকে কি ন করেন, তিনি খ্যাভ্যাস ও সাজের কথা দেখাইবে, ইহা বিবেচনা না করিয়া যদি ম্যানেজারের কিছুই বুঝিবেন না, যিনি বুঝিবেন, তাঁহার এই প্রতি কেহ জুজ হন, তাহা যে কেবল অসঙ্গত হইবে, এবন্ধ লিখিলাম। যিনি না বুঝিবেন, তিনি যেন বৃদ্ধ তাহা নয়—তিনি যে ভূমিকা না পাইয়া হইয়াছেন, বলিয়া আমায় মার্জনা করেন। বর্তমান ভূমি। থিয়েটারের বর্তমান অবস্থা লইয়া অনেক সংবাদ গাইত, অপেক্ষাকৃত ভারি অঙ্গের পালার সুর পত্রে মধ্যে মধ্যে সমালােচনা হইয়া থাকে। অনেকে হইতে সঙের সুয়ের আদর অনেকের নিকট হইত। মই মত, দর্শক কুরুচিসম্পন্ন হইয়াছে; নাটক অভিনয় সঙ, গালাগালিও দিত। তাই লােকের বিশেষ প্রিয় হইলে, লােকসমাগম হয় না। রং-তামাসা নৃত্য হইত। গালাগালির আদর ছিল যে, সংবাদপত্রের গত—সর্শক এই সকলই দেখিতে ভালবাসে। ৰা সম্পাদকে সম্পাদকে অতি অৰৰ ভাষায় গালি হইয়া বঙ্গভূমির অধ্যক্ষের দর্শকের রুচির উপযােগী চলিত এবং ঐ সকল সংবাদপত্রেরই গ্রাহক অধিক যান করেন। আবার কোন কোন সমালােচক হইত। যিনি গালাগালি দিতে সুনিপুণ হইতেন, ক্ষেরই দোষ দেন, তাহাদের মতে সাধারণের -আর তাঁহার বেশী ছিল। ইংলী বিকার যতই টি মার্জিত করিয়া লওয়া উচিত। অধ্যক্ষেরা যদি কােন দোষ দেন না, ইংরাজী বিদ্যায় কতৰিক্ত ব্যক্তি কিঞ্চিৎ গতীকার করেন, ক্রমে রুচির পরিবর্তন গণ দেখিলেন যে, সমাজের এরূপ রুচি ভাল নয়। হয়। এই উভয় শ্রেণীস্থ সমালােচকই কতক সত্য সমাজের বড় বড় লোেক নাটক অভিনয়ে প্রবৃত্ত হই- বনে। লেন। সে সময়ে নাটকের বড় চটক হইল। নাটক- থিয়েটারের প্রাদুর্ভাবের পূর্বে কৰি, আৰু সম্প্রদায়ের মধ্যে রুচিসম্পন্ন ব্যক্তি অনেক ছিলেন ; পাঁচালী ও যাত্রার প্রাদুর্গৰ ছিল। হাফ, আড়া, সঙ্গীতজ্ঞ ব্যক্তিরা সঙ্গীত শিক্ষা দিতেন, সাজসরঞ্জাম কবি ও পাচালীতে গালি গালাজ চলিত এবং ঐ সকল পরিদরি নাঢ্য ব্যক্তি অর্থব্যয়ে প্রস্তুত গালি-গালাজ লইয়া সমাজে সকলে যিশেৰ আন করিতেন ও পারিবারিক অলঙ্কারাদি আনাইয়া করিত। যাত্রায় বড় একটা কথাবার্তা ছিল না। অভিনেতাগণকে সাজাইতেন। অতি উচ্চ শ্রেণীর একটা কথার পর,তবে প্রকাশ করে বল দেখি? নাটক না হইলেও অধিকাংশ দর্শক তাহার রসাস্বাদন বলিয়া গান গায় হইত। সেই গানের কত আদর না করিতে পারিলেও ফুতবি ব্যক্তির প্রশংসার ছি, কিন্তু বিশেষ আদার সঙের। সঙ, হালকাসুরে অনুকরণ করিয়া সকলেই প্রশংসা করিতেন। টিকিট ১৮. গিরিশ-এঘৰশী। যেমনটি ds, কিনিতে পাওয়া যাইত না, সাধারণের মধ্যে খাদে : পারে, এরূপ লােক অভিনয়কাৰ্যে ৰতী। অদৃষ্টে টিকিট যােগাড় করিয়া নাটক দেখা ঘটিত,চটকে অনেক দিন চলিল। তাঁহারা নাটক ভাল লাগুক আর না লাগুক, অঙ্গের কিন্তু সে চটক আর নাই। এক্ষণে প্রায় নিকট তাহার সৌভাগ্যের পরিচয় দিবার নিমিত্ত যাহা জানে, কিরূপে পটপরিবর্তন প্রভৃতি রঙ্গা দেখিয়াছেন, তাহা শতগুণে বর্ণনা করিতেন। আভ্যন্তরীণ কার্য সম্পন্ন হইয়া থাকে । অপর ও গান যাঁহাদের অদৃষ্টে নাটক দেখা হয় নাই,নাটক অভি- কাৰ্য্যক্ষম না হইলে অভিনয়-কাৰ্যে ব্ৰতী হয়। শক নয় না জানি কি ভাবিতেন। কোথাও একখানি কি, কেহ বা নিজ অনিয়াংশ (Part.) পা নাটকের অভিনয় হইলে, সেই অভিনয়ের কথা কিছু পারে না। তােতা পাখীর ন্যায় সঙ্গে সঙ্গে গবে দিন চলিত। অভ্যাস করাইয়া দেওয়া হয়। অভিনয়ে সাধারণের পক্ষে অনেক আশ্চর্য্য হয়, তাহা ঠিক পারে না,-বিকৃত করিয়া বলে জিনিস ছিল। কোথা হইতে অভিনেতারা আসে, কোন গভীর ভাবাপন্ন কথা, সেই ভাবের উপযােগ৷ কিরূপে পট উত্তোলন ও পট পরিবর্তন হয়,-মূল্যবান্ সুর আনিতে না পারিয়া একটা কৃত্রিম সুরে পরিচ্ছদ,-যাত্রার ন্যায় দর্শকের নিকট হাত পা মুখ বলিয়া থাকে; এরূপ স্কুলে নাটক অভিনয় হওয়া নাড়িয়া পরস্পর কথা কওয়া, রজারাণী, রাজমন্ত্রী একরূপ কঠিন হইয়া উঠিয়াছে। কিন্তু নাচ- প্রভৃতির আবির্ভাব—এই সমস্তই অদ্ভুত জ্ঞান হইত। তামাসা গান কতক শিক্ষা করিতে পারে। নিম্ন যাহারা কাব্যরসাস্বাদন করিতে পারিতেন, তাহাদের অঙ্গের সুর শিক্ষা করা অনায়াসসাধ্য। প্রহসনে তো কথা নাই, বাঁহারা রসাস্বাদন করিতে (Pantomiine) যে সকল চরিত্র থাকে, তাহা সহ- পারিতেন না, তাহাও লােকে পাছে বেসমজদার জেই বুঝিতে পারে, অভিনয়ও কতকটা স্বাভাবিক বলে, এই ভয়ে প্রশংসা করিতেন। কিন্তু তাহাদের হয়। অধ্যক্ষের সাজ, পোষাক, পট প্রভৃতি উপ- যাত্রা বা কবির রুচির পরিবর্তন হয় নাই। রং যােগী করিয়া দেন। একখানি সামান্য ঘর আঁকা তামাসা নীচ অঙ্গের আমােদ প্রভৃতিও পূৰ্ব্ববৎ পটোর পক্ষে সহজ হয়, দর্জী কি পােক নির্মাণ রহিল। করিতে হইবে,-তাহা বুঝিতে পারে, পরচুলওয়ালা বড়লােকের অনুকরণ করিয়া, নানাস্থানে থিয়ে কিরূপ চুল তৈয়ারি করিবে, তাহাও জানে, এই সকল টার হইতে লাগিল। চলিত রঙ্গমঞ্চে নানাস্থানে কারণে অভিনয় কতকটা ভাল হয়। তাহাতে, অভিনয় হওয়ায়, পূর্বে যাহারা বড়লােকের থিয়েটার আবার কোন ব্যক্তি-বিশেষকে লক্ষ্য করিয়া পঞ্চরং দেখিতে পাইতেন না, তাহাদের থিয়েটার দেখিবার লেখক রচনা করেন। যাহাকে গালি দেওয়া মন, বিশেষ সুযােগ জন্মিল। এই সকল অভিনয়ে অনেক তাহার ন্যায় অভিনেতাকে সাজান হয়। পূৰ্বেল্লি- কৃতবিদ্য থাকিতেন। পূৰ্ব্ববৎ তাহাদের মতে মত খিত কবি শ্রোতার রুচি দিব্য পুষ্ট করে। দিয়া সাধারণেও তাঁহাদের প্রশংসা করিত। কিন্তু কিন্তু নাটকের বেলা বিষম হুলুস্থুল পড়ে ; সখের থিয়েটারেও সৰ্বসাধারণের দেখিবার সুযােগ যাহারা অভিনয় করিবে, তাহারা সে সৰ চরিত্র হইত না,-প্রকাশ্য রঙ্গালয় হওয়ায় সে অভাব দূর বােঝে না; বরের সজ্জা পরিয়া সমস্ত জগতের রাজা আবির্ভূত হন,রাজমুকুট রাজ অলঙ্কার কুমারটুলী প্রকাশ্য রঙ্গালয় “নীলদর্পণ” লইয়া আরম্ভ হইতে আইসে। রাজার ন্যায় চলিতে জানে না- হয়। নীলদর্পণ বাঁহারা অভিনয় করেন, তাহারা বলিতে জানে না। বীরত্ব প্রকাশ করিতে যাইলে ইতঃপূর্বে অভিনয়কাৰ্যে অনেকটা দীক্ষিত। নীল- অভিনেতা গােঙারের ন্যায় চীৎকার করে। বহুদিন দর্পণও অনেক মহলা দেওয়ার পর সাধারণের সম্মুখীন হইতে ঐরূপ চীৎকার শুনিয়া দর্শকও তাহা বীর- হয়। তখনও সকলে জানিতেন না,-কিরূপে দৃশ্য- রস ভাবিয়া “এক্সেলেন্ট (Excellent) করিয়া পট চালিত, কিরূপে অভিনেতারা সজ্জিত হইত। উঠেন। একখানি রাজসভা বহুদিন হইতে চিত্রিত। এখন খুব চটক, যাহারা অভিনয় করেন, কিছু বােধ- আছে, সমস্ত পৃথিবীর রাজা সেই সভায় আসিয়া শােধও আছে। অন্তত শিখাইয়া দিলে শিখিতে উপস্থিত হন। পটো জানে না,রাজবাড়ী কিরূপ, হইল।

এক ব্যক্তি যদি ‘না’ ও ‘ভামসিংহ সাজেন, দর্শক আছে, সে উন্নতি অনেকটা সমালোচকের সাহায্যে। বর্তমান বঙ্গভূমি। ১১) দর্জী জানে না, মাজ- পােক কিরুপ, পরচুল আখে। তাহা অধ্যেক্ষেও বুঝল, এবং হাজের ওয়ালা কখনও রাজা দেখে মাই, কোন অধ্যক্ষের সতর্ক হওয়া উচিত। উপদেশে রাজা হইলেই বাউন্নীচুল হয়,ইহা জানিয়াছে অন্যান্য দেশে যথায় বঙ্গভূমি উন্নতি লাভ করি. নাই। পালার নাম শুনিয়া ইনি ভীমসিংহ’ কি নল’ সাজি- সকল দেশেই অভিনয়কাৰ্য শিক্ষা করিতে হই য়াছেন বুঝিতে পারিবেন। তাহার পর এক সপ্তাহ তেছে। প্রায়ই অশিক্ষিত ব্যক্তিরা অভিনয়কার্যে রিহারস্যাল দিয়া অভিনয় হইতেছে, সকলের নিজ প্রথম ব্ৰতী। রাজসাহায্যে, ধনাঢ্য ও পদস্থ ব্যক্তির নিজ অংশ অভ্যাস হয় নাই, সুতরাং প্রমটারের সাহায্যে নাটক অভিনীত হইত। মােগ্য ব্যক্তি কথার প্রতি কান রাখিতে হইয়াছে। প্রটারও শিখাইত এবং সমালােচকের দ্বারা যথাযােগ্য প্রশংসা উচ্চৈঃস্বরে চেঁচাইতে বাধ্য,-তাহার স্কুন্তেই অভি- পাইত। কোন অংশ অভিনয় করিয়া একেবারে নয়ের প্রাণ, তিনি উচ্চৈঃস্বরে চীৎকার করিতেছেন, কেহ সর্বোৎকৃষ্ট বলিয়া গণ্য হইতেন না। নাট- শ্রোতা ডবল অভিনয় নিতে পাইতেছেন। কৃতবিন্য কের ভাব, সমালােচকেরা বুঝাইয়া দিতেন এবং দৃশ্য- হইয়া “কবি হাফ আড়াইয়” কচি মন পূর্বক পট প্রভৃতি যথা উপযােগ হওয়ায় সাধারণের প্রীতি- যিনি উচ্চ রুচি লাভ করিয়াছেন,তাহাকেই “পালাই কর হইত। সাধারণ দর্শকেরা দৃশ্যকাব্যের দৃশ্য পালাই” ডাকিতে হয়, অপর সাধারণের ত কথাই অংশে বিমােহিত হইতেন এবং কাৰ্য অংশ সমালাে- চক হইতে বুঝিতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ বাঙ্গা- নাটক বােঝাও কঠিন,-এক্টার এটেস কঠিন,এটার এসে লায় সেইরূপ সমালােচক বিরল। যে শ্রেণীস্থ লােক নাটক বুঝাইয়া দেয়, সুযােগ্য এটার না থাকিলে এটার, প্রায় সেই শ্ৰেণীস্থ ব্যক্তি সমালােচক। যে অজি উচ্চ নাটকেরও হতাদর হইয়া থাকে, তাহা তার পর তাহারা কখনও হৃদয়ের শিক্ষা পায় নাই। কৃতবিদ্য ব্যক্তিমাত্রেই জানেন। এটার একটেস কাগজ হাতে আছে, তাহাতে যাহা নয়, তাহা তো একে লেখাপড়া জানে না, তাহার উপর বহু লিখিতে প্রস্তুত। তাহার মধ্যে কেহ কেহ বা নাটক চেষ্টায় যে এটেসটিকে শিক্ষিত করা যায়, তাহাকে রচনা করিয়াছেন, সেই নাটক অভিনীত হইবে, অনেক কাপ্তেন বাবু ষ্টেজ হইতে লইয়া যান। যে প্রত্যাশা করিয়া কোন থিয়েটারের অযােগ্য প্রশংসা এটার একটু ভাল হইয়াছে, এত বন্ধু জুটিয়া করেন ; কেহ নভেল লিখিয়াছেন, সেইখানি নাট্যা- তাহার সুখ্যাতি আরম্ভ করে যে, তাহা দ্বারা আর কারে পরিবর্তিত হইয়া অভিনীত হউক আকাকা কাৰ্য্য হইতে পারে না। তাহার পর অধ্যক্ষদেরও করেন। সুতরাং থিয়েটারের প্রধান ব্যক্তির প্রতি পুরাতন লােকদিগকে রাখিবার চেষ্টা কম, তাহারা নানা প্রকার তোষামােদ-বাক্য প্রয়ােগ করিতে হয় ভাবেন, একজনকে তত শিখাইয়াছি, আর একজন এবং কাগজেও অলীক প্রশংসা করিতে বাধ্য হন। কেও শিখাইয়া লইব। কোন একখানি নাটক সুখ্যা অন্যান্য লােভের প্রত্যাশা রাখিয়াও সমালােচক তির সহিত অভিনীত হইবার দিনকতক পরে দেখিতে চাটুকার হইয়া পড়েন। যথার্থ সমালােচনা কমিবারও পাওয়া যায় যে,প্রায় সমস্ত অংশ পরিবর্তিত হইয়াছে, তাহার শক্তি নাই। কোন ভাষায় কোন উচ্চ যাহারা প্রথম বারে অভিনয় করিয়াছিল, তাহারা শ্রেণীর নাটক পড়েন নাই। মাতৃভাষা বাঙ্গালা বলিয়া আর নাই—এরূপ পরিবর্তন যে কেবল অধ্যক্ষের বাঙ্গালা খবরের কাগজে তাহাদের লেখা চলে। দোষে হয়, তাহা নয়, অভিনেতা ও অভিনেত্রীর তাহারা সমালােচক হওয়ায় বঙ্গভূমির সর্বাপেক্ষ দোষেও হইয়া থাকে। যাহারা অভিনয় করে,একবার সর্বনাশ হইয়াছে। সুখ্যাতি পাইলে তাহারা মাথা কিনিয়া লয়। মুখ, এই তো এক শ্রেণীর সমালােচক। কোন কালে হৃদয়ের শিক্ষা হয় নাই, সুতরাং কৃতজ্ঞতা এক শ্রেণীর সমালােচক আছেন, তাঁহারা কৃতবিম্ব কাহার নাম অনেকেই জানে না,আমরা কি হইয়াছি বলিয়া অভিমান রাখেন। তাহাদের চক্ষে কিছুই ভাবে, অধ্যক্ষও মনে ভাবেন, এর এত স্পর্ধা সহিব ভাল লাগে না। বাঙ্গালায় সেক্সপীয়ার নাই বলিয়া কেন, দুর হইয়া যাক কলহের অন্যান্য কারণও তাহারা কলন করেন ; আরভিং নাই, সারা ১২ গিরিশ-খালী। বাণহার্ট নাই-ইটালী দেশীয় চিত্ৰকৰ নাই--বে রঙ্গভূমির সুখ্যাতি করিয়াছেন। এডুইন আল- তাহাৱা নাটক দেখিতেই ৰা ৰাইৰেন কি?-আর ডের জনতনশ গুতকে বাঙ্গালা অভিনয়ের বিশেষ সমালােচনার কথাই কহিবেন কি?-ই যদি প্রশংসা লিখিত, অতএব সমালােচকগণের নিকট এবার ভাবিতেন যে, বঙ্গের ভূমির এই প্রথম সবিনয় নিবেন, তিনিও বাঙ্গালী, বাঙ্গালীর অব অবস্থা, যাহা হইয়াছে, তাহা বিন সাহায্যে ; সম্পূর্ণ জানেন। তুলনায় ইংরেজের সমকক্ষ- ইহার অধ্যক্ষের নানা প্রতিবন্ধক অতিক্রম করিয়া বানালী কোন বিষয়েই হইতে পারে নাই, তবে যদি কতক কৃতকার্য হইয়াছে এবং যে কতক কৃতাৰ্য বঙ্গভূমি না হইয়া থাকে, তাই তিনি যত দোষের হইয়াছে, তাহার প্রমাণস্বরূপ অনেক ইংরাজশকের ভাবেন, তত নয়। প্রশংসাপত্রে দেখিতে পাইবেন। লেডী ডফরিণ যে সকল বিষয় ক্ষেপে স্পর্শ করিয়াছি,সময়ান্তরে হার চক্ষে বাঙ্গালী বাবু সম্পূর্ণ ঘৃণ্য,তিনিও তাহায় অত্যক বিষয়টি ব্যাখ্যা করিবার ইচ্ছা রহিল। পিতৃপ্রায়শ্চিত্ত। । আশুতাের চিকিৎসাবিদ্যা ও বিজ্ঞান-শিক্ষার্থে নীচা—ইহাই তাহার অসন্তোষের কারণ। উইলে ফ্রান্সে যাইবার প্রার্থনা করায় তাঁহার পিতা বলেন, দেবেন্দ্রকে সিকি সম্পত্তি দিয়া সমস্ত বিষয় আত- “কেন, কি দুঃখে যাইবে? আমার অতুল সম্পত্তি, তােষকে দিয়া যান। তােময়া দুই ভাই মা, বড়-মানুষী করিয়া চলিবে। পিতার মৃত্যুর পর যখন উইল-পাঠ হইল, দেবে আশুতােষ বিশেষ জিদ করায়, তাহার পিতা হয় ত্রের ক্রোধের সীমা রহিল না। দেবেন্দ্র পিতাকে প্রদর্শন করেন যে, “যদি যাও, আমার সম্পত্তির এক নানা কুৰাক্য বলিতে লাগিলেন; কিন্তু আশুতােষ কপর্দকও তােমায় দিব না, তােমার বৈমাত্রেয় কহিলেন, “ক্ষান্ত হও, আমি পিতার অমতে ইউ- ভ্রাতার নামে উইল করিয়া যাই।” কিন্তু আশুতােষ মােপ-যাত্ৰা করিয়াছিলাম। তিনি বলিয়াছিলেন যে, নিষেধ না শুনিয়া শিক্ষার্থে ফান্সে গেলেন। ইউরােপে যাইলে তিনি আমাকে সম্পত্তি হইতে আশুতােষের মাসিক দুই শত টাকা ছাত্রবৃত্তি বঞ্চিত করিবেন। এক্ষণে আমি পিতৃক রক্ষা ছিল ও বে কলেজে তিনি পড়িতেন, তা কোন করি। উইলে আমার যাহা দিয়াছেন, তাহা একজন ধনাঢ্য ফরাসী কর্তৃক স্থাপিত। তথায় তােমার; কিন্তু তােমার সিকি সম্পত্তি ব্যতীত, ব্যবস্থা ছিল যে, বিজ্ঞান-শিক্ষার্থে ফরাসীদেশে যাইলে এ সম্পত্তিতে তােমার স্বেচ্ছাচার চলিবে না। অতিথি- তাহার ব্যপােন কলেজ হইতে হইবে। তিনি শালা প্রভৃতি যে সকল ক্রিয়াকলাপ আছে, এই যাওয়ায় প্রথমেই তাঁহার পিতা ক্রুদ্ধ হন। কিন্তু সম্পত্তির আয় কারা তাহা প্রথমতঃ রক্ষিত হইবে; পুত্রের যশঃসংবাদ দিন দিন শােনায় পিতার মন নরম সে সকল ব্যয় নির্বাহ হইয়াও যাহা বাকী থাকিবে, হয় এবং পুত্রকে ইংলও যাইয়া ব্যারিষ্টারী শিখিতে তাহা সামান্য নহে; সে গায়ে তােনার সিকি সম্প- আদেশ দেন। ছয় বৎসর পরে আশুতােষ ব্যারিষ্টার ত্তিতে হস্তক্ষেপ না করিয়াও একজন গণ্য বড়লােকের হইয়া প্রত্যাগমন করিলেন এবং এন্টি করিয়া এত চলিৰে গৃহে স্থান পাইলেন। নেৰেচি ততবের বৈমাত্রেয় ভাই এবং আশুতােষের বৈমাত্রেয় জাত দেবেন্দ্রের উপর উভয়ের বয়সে তিন বৎসর মাত্র পার্থক্য, তথাপি তাঁহার পিতা বিরক্ত ছিলেন। যেৰে মূখ ও তিনি বেজেকে ভালবাসিতেন। লেখাপড়ায় অষত্ব পিংকি। ১৫ দেখিয়া শাসন কৰিতেন বটে, কিন্তু যেমন, শিত এই সমস্ত দেবেন না, '। আজ মাসাধি হইল, তার প্রতি অধিক জেঠে শস্তানবৎ সে একদিন আশুতােষ আসিয়া যাহার বাড়ী ঠকাইয়া কে, দেবেলের প্রতি সেই গেহই ছিল; না পড়িলে লােকে কোনও । সে ঐ কোণে বসিয়া বশেষতঃ তাহার বুদ্ধিমতী,বি এত্যুশয্যায় দেৰে করে না। বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিটি ছিলাম, তাহার অকে সপক্ষী- পুতে সমপণ করিয়া যান-বলেন, আমাদের বংশৰলীয় নিয়ম। কি ন ফুসফুস করে। “বাবা, এ ভাগ নিশ্চমূহইবে, দিন দিন কর্তায় বিপদের সুযােগ অনুসন্ধান ক কখ ফেলে। সেই বিরাগভাজন হইতেছে, তুমি ইহার শত দোষ মানা লােতে চেষ্টা করি আপনাকে বিপদ ছােট ছােট করিয়া দেৰেত্রকে বিপদ হইতে রক্ষা করিও। মূল্যে জহরতাদি কেননা, হয় তত গ ইহাতে নেৰেত্রের প্রতি মধ্যে মধ্যে কু হইলেও মরে নাই, হইতে পারে। এ সময় তোমার তা নয় বিমাতার মৃত্যুশয্যায় অনুরােধ অয়ণ রাখিয়া আত তাহাতে দেৰে কটুক্তি করিয়া বলিল,-“যা আছে। তেব শত দোৰ নামা করিতেন। যা করেছ, সে সব জুরি করে। আপনার প্রসে । দেবে অতি নীচকেতা। শ্রাতার তিন দিন কর না, আমায় উপদেশ দিতে এসেছ। আন্ত উন্নতি দেখিয়া ঈর্ষান্বিত হইত। তাহার সর্বদাই তােয় বিরক্ত হইয়া গেলেন, কিন্তু মনে মনে ভাবি- চেষ্টা ছিল,কোথায় কি সম্পত্তি অল্প মূল্যে কিনিবে; লেন, বড় মন্দ বলে নাই। আমি তাে লােকের নানাবিধ দ্রব্য ক্রয় করিবার সখও তাহার ছিল। এই নিকট টাকা লই, কিন্তু টাকার সম্পূর্ণ কাজটা করা রতের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য ; অল্প করে বহুমূল্য কোনও হয় না। এ জজের ঘরে একবার, ও জলের ঘরে দ্রব্য কিনিতে পারিলে, দুই চারিজন সমপ্রতি বন্ধু একবার বেড়াইয়া কিসে ফি অধিক হয়, তাহারই বান্ধবকে নিমন্ত্রণ করিয়া আসিয়া দেখাইত, কেমন চেষ্টা করিয়া থাকি। সমস্ত বড়লােক আমার মকেল, অল্পমূল্যে ফাকি দিয়া জয় করিয়াছে। বন্ধুরা সক কিন্তু প্রায়ই তাহাদের মকদ্দমা মিথ্যা ; অনেক সেই ধনাঢ্য ব্যক্তি, এবং দেবেরে মত কোথায় সময়ে গরীব প্রজাপীড়ন। এ কাৰ্য্যটা আর করিব কি অল্প মূল্যে পাইবেন খোজেন। মজলীস করিয়া না। তাহায় সমব্যবসায়ী বন্ধুবৰ্গ এ সঙ্কল্প বাতুলতা পরস্পর কথাবার্তা হয় কে কেমন সেয়ানা ; তাহারই বলিয়া উপহাস করিল এবং সকলেই বলিল,-“মক- বাহাদুরী--অতি নীচ আলাপ -কে কেমন তাহার মা সত্য মিথ্যা জানা তো আমাদের ফাৰ্য্য নয়, রক্ষিতা বেশ্যাকে ফাঁকি দিয়াছে; কে কোন দরি- মক্কেলের পক্ষসমর্থন করাই আমাদের কার্য। কাৰ্য্য দ্রের নােদনে কর্ণপাত না করিয়া বেতি সুদে গৌরবের-কাৰ্য দোষের নয়, কেন পরিত্যাগ আসল ভারি করিয়া সম্পত্তি বেচিয়া লইয়াছে; করিবে ?” আশুতােষ বলিলেন, “আমার বিজ্ঞানচর্চা, অমুক বাবু পাঁচ হাজার টাকা দিয়া জুড়ি কিনিয়াছে, বিশেষ উদ্ভিদবিদ্যা-চৰ্চ্চাই অনলপ্রদ। আমি সেই কিন্তু তাহার একটা খোঁড়া হইয়াছে, আহা! কি কাৰ্যই করিব।” দুঃখের বিষয়। সকলেই দেবেন্দ্রকে উপদেশ দিয়া আশুতােষ কাৰ্য্য পরিত্যাগ করায় দেৰে খুৰ বলিত, তুমি তাে এ দিকে এত দাওবাজ,পাল-পাৰ্বণ খুশী। দাদা যে ঝুড়ি ঝুড়ি টাকা রােজগার করে, অতিথিশালার খরচ কমাইয়া দাও না কেন? দেবেন্দ্র তাহা আর হইবে না, দু হাতে খরচ করা, দান করা নিশ্বাস ফেলিয়া উত্তর করিত যে, তাহার কুচুটে ভাই চলিবে না; সখ করিয়া নিত্য নূতন ঘােড়া কেনা বন্ধ যেরূপ ব্যবস্থা করিয়াছে, তাহাতে তাহার কিছু করি- হইবে। কিন্তু দুই এক বৎসরে সে আনন্দ নিরাননে বার যাে নাই। পরিণত হইল। আশুতােষ ঔষধের বাগান করি দেৰেত্বের সরােজিনী নামে পরমা সুন্দরী স্ত্রী ছিল, আছেন। ঔষধ প্রস্তুত করেন, সমস্ত পৃথিবীব্যাপী যশ একটিমাত্র পুত্রসন্তান,নাম নৃত্যগােপাল,অতি সুবােধ ; ও জাহাজ জাহাজ ঔষধ রপ্তানী হইহাতে কমা কিন্তু স্ত্রী-পুত্রের প্রতি তাহার কোন ষত্ব ছিল না। দূরে থাকুক, চতুগুণ আয়বৃদ্ধি হইয়াছে। দাদাকে বিশেষতঃ সরােজিনী, অভিসম্পাত কুড়াইতে বারণ কিরূপে টক দিই, দেৰেত্রের মনে এই চিন্তাই দিবা- করায় একরূপ তাহার সহিত আলাপ রহিত রাত্র। এমন সময় এক ব্যক্তি একখণ্ড হীরক বিক্রয় করিতে আসিল। হীরকখানি প্রায় কহিনুরের সম- গিরিশ-গ্রন্থাবলী। বাণহার্ট নাই,ইটালী রেকরিয়া দেখা গেল, কৃত্রিম হীরা বিক্রয় করেন বটে; কিন্তু তাহাতেও তাহার তাহাৱা নাটক দেখিতেই সামান্য। এ কি চোরাই নিস্তার নাই, অচিরে তিনি জলমগ্ন হইয়া মারা যান। সমালােচনার কথাই বয়ে সম্পূর্ণ প্রমাণ হিয়াছে। এইরূপে যার যার নিকট এই হীরা ছিল, তাহারা একবার ভাবিতেন বেছে, বি ো সত্যই তাহার প্রায় সকলেই সপরিবারে মৃত্যুমুখে পড়ে। শেষ অবস্থা, যাহা হইয়', দেশবাসী, হীরা বিক্রয় করিয়া যাহার কাছে ছিল, সে হীরা বিক্রয় করিতে আসে ইহার অধ্যক্ষেরা নাও বিলম্ব করিতে পারে না। যে কিন্তু পথে এক বিকটাকার মূর্তি দেখিতে পাইয়া কতক কৃতকাৰ্য, এ হীরা ক্রয় করিতে পারিবে না। মুচ্ছা যায়, তাহার মৃত্যুর পর তাহার ভাই এই হীরা হইয়াছে, তাহার। টাকা কে সহজে বার করবে ? পায় এবং পূর্বোক্তরূপে হাসপাতালে মৃত্যু হইয়াছে। প্রশংসাপত্রে দাম করিয়া ত্রিশ হাজারে সে হীরা ক্রয় মৃত্যুর পূর্বে সে একজন ঢােমকে এই হীরা দিয়া- হার চক্ষে ও পূর্বপ্রথামত বন্ধুবান্ধবগণকে নিমন্ত্রণ ছিল, সেই ডােম তিন টাকায় একজনকে বিক্রয় -- কারণ, হীরক দেখাইবেন। করে। চোরাইমাল কিনিয়াছে বলিয়া পুলিশ বন্ধুগণ আসলেন, হীরার প্রকৃত মূল্য কত,যাচাই তাহাকে ধরে, কিন্তু আদালতে প্রমাণ হয়, চোরাই করিবার জন্য তারা একজন জহুরী সঙ্গে লইয়া মাল নয়। সেই ব্যক্তিই ইহা দেবেন্দ্র বাবুকে বিক্রয় আসিলেন। তারা প্রদর্শিত হইল, কিন্তু জহুরী করিয়াছে। সে আমার নিকট বলিয়াছিল যে, যদ্যপি দেখিবামাত্র শিহরিয়া উঠিল। জহুরী বলিল, সে ইহা দেবেন্দ্র বাবুকে বিক্রয় করিতে পারে, তাহা “বাবু, কি সৰ্ব্বনাশ করিয়াছেন?” সকল জিজ্ঞাসা হইলে সে আর মরিবে না।” করিল,-“কেন, কেন -এ কি সত্য হীরা নয় ?” সকলে জিজ্ঞাসা করিল,-“তােমায় কি নিমিত্ত জহুরী বলিল, “তাই হীরা, কিন্তু সর্বনেশে হীরা।” বলিয়াছিল ?” সকলে বলিয়া উঠিল, “কেন, কেন?” জহুরী বলিল, জহুরী উত্তর করিল, “সে একজন জহুরী, আমি *এই হীরার লোভে পারস্যের রাজপুত্র এক ওমরাহ- দূষিত হীরা জানায়, তাহাকে হীরা রাখিতে নিধ ত্রকে জলে ডু• মারিয়াছিল। কিন্তু সেই করি। সে জন্য সে আমায় উত্তরে এই কথা বলে। হীরক পরিয়া রাজপুত্র যখন শয়ন করিতে যান, আমি জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম, দেবেন্দ্র বাবুকে বিক্রয় দেখেন সেই মৃত ওমরাও পুত্র তাহার ঘরে আসি- করিতে তাহাকে কে বলিয়াছে। সে একটা চমৎকার আছে—স্ত প্রাণ করিয়া হারা চাহিতেছে । দিন ঘটনা বলিল। বলিল,-“বাসায় শুই আছি, রাত্রি- দিন এরূপ হওয়ায় পারস্য রাজকুমার হারা বিক্রয় যােগে স্বপ্ন দেখিলাম,যেন পারস্য উপসাগরে একখানি -রলেন। যাহর নিকট হীরা থাকে, তাহার নিকটই সজ্জিত নৌকা। নৌকা হইতে কে এক ব্যক্তি এক- সেই মৃত ওনাহপুত্র যায়। এক মাস এই হীরা জনকে জলে নিক্ষেপ করিল। দেখিলাম, সে উঠিয়া বাহার অধিকারে থাকে, অকস্মাৎ হার মৃত্যু হয়।” তীর হইতে যে তাহাকে জলে নিমগ্ন করিয়াছিল, এ কথায় সকলে উপহাস করিল। জহরী বলিল, তাহাকে জল নিমগ্ন করিল। পরে উভয়ে উঠিয়া “মহাশয়, উপহস করবেন না। এ হীরা শেষ যাহার আসিয়া অনেক স্থানে ভ্রমণ করিতে লাগিল। যথায় নিকট ছিল, সে হঠাৎ একদিন পথে পড়িয়া যায়, যায়, তথায় সকলে মরে। শেষে হাসপাতালে যাইয়া চিকিৎসালয়ে অ'না , কয়, অজ্ঞান অবস্থা হই ছিল, একজনকে মারিল। কিছু পরে দেখি, প্রথমে যে সেই অবস্থাতে হব বুকিত। তাহাকে দেখিয়া জলমগ্ন হইয়াছিল, সে আমায় বলিল,-আমি কে বােধ হইত, যেন কেহ ৩াহার নিকট আসিয়াছে এবং জানিস? হাসপাতালে হীরার কথা শুনিয়াছিস-সে সে সভয়ে তাহার প্রতি দৃষ্টি করিতেছে। এইরূপ হীরা আমারই। হীরা তাের নিকট আছে, তুই যদি দুই তিন দিন গত হইলে তাহার মৃত্যুদিবসে চৈতন্য দেবেন্দ্র বাবুকে বেচিতে পারি, তাের ভাল হইবে। হয়। তখন সে ডাক্তারকে আদ্যোপান্থ সমন্ত বৃত্তান্ত দেবেরে শাস্তির সময় উপস্থিত হইয়াছে, আমরা বর্ণনা করিয়াছিল। ডাক্তার তাহা লিখিয়া লইয়া সকলে মিলিয়া তাহাকে শান্তি দিব।” এ কথায় ছিলেন। বৃত্তান্ত এই যে, পারস্য বাজকুমার ওমরাহ- নানাকার বাদানুবাদ হইতে লাগিল, কেহ বিশ্বাস পুলকে বধ কারয় হীরা গ্রহণ করেন 'ও ভয় পাইয়া করিল, কেহ বিশ্বাস করি না।

পিতৃ-প্রায়শ্চিত্ত। ১৫ তাহার পাশে দাড়াইয়া হাসে। আজ মাসাধি হইল, মাস পরে বন্ধুরা শুনিল যে, দেবেন্দ্র তাহারা একা আসে না। যাহার বাড়ী ঠকাইয়া পাগল হইয়া সেই হীরাখানি জলে ফেলিয়া দিয়াছে। লইয়া ছিলাম, সে বুড়াে আসে, সে ঐ কোণে বসিয়া দেবে সত্যই পাগল হইয়াছে। দেবেন্দ্রের কাসে। যাহার তালুক কিনিয়া ছিলাম, তাহারা পুত্র নিত্যগােপাল আশুতােষের নিকট আসিয়া মায়ে বেটায় দোরের পার্শ্বে বসিয়া ফুসফুস করে। বলিল, “জেঠা মহাশয়, বাবা যেন কিরূপ হইয়া গিয়া- মাগী ফোস ফোস করিয়া নিশ্বাস ফেলে। সেই ছেন, তাই মা আপনাকে বলিতে আসিয়াছেন।” নিঃশ্বাসে সাপের জাওয়ালী সৃষ্টি হইয়া, ছােট ছােট ভাদ্রবধু অন্তরালে থাকিয়া নিত্যগােপালের দ্বারা ফণা তুলিয়া ঘরময় বেড়ায়! সব মরিয়াও মরে নাই, হুরীর গল্পের কথা জানাইলেন। এই জহুরীকে সকলের চর্ম নাই, মাংস নাই, তবু জীবিত আছে। দুইবার তিনি চোরাই মাল কেনা অভিযোগ হইতে হাড়ে হাড়ে বাজাইয়া নাচে, হাঃ হাঃ করিয়া হাসে; রক্ষা করেন। জহুরীর কাছে গিয়া জিজ্ঞাসা করায় চক্ষু নাই-তবু চোখের কোঠর দিয়া আমাকে লক্ষ্য জহুরী বলিল যে, “মহাশয়, আমি হীরার লােভে করে! এখনি সৰ আৰে-এখনি সব আসবে মিথ্যা গল্প করিয়াছিলাম, তবে যে হীরানি বেচিয়া- তোমরা পালাও - পালাও।” ছিল, সে ডােমের নিকট খরিদ করিয়াছিল সত্য ; আশুতােষ জহুরীকে সঙ্গে আনিয়া ছিলেন। অন্য সেই ভােম হাসপাতালে এক ব্যক্তির বিশেষ শুশ্রুষা ঘরে ছিল, ডাকাইলেন। জুহুরী মিথ্যা গল্প করিয়া- করে, সেইজন্য মৃত্যুকালে সে ব্যক্তি হারাখানি দেয়। ছিল বলিল। কিন্তু দেবেন্দ্র উচ্চ হাস্য করিল। সে একজন সৈনিক, চীন যুদ্ধে লুঠ করিয়া হীরাখানি দেবে বলিল,-“কি মিছে -কি মিছে। ঐ যে পাইয়াছিল। ডােমের নিকট কেনার পর পুলিস- তারা দু'জনে আসিয়াছে! ঐ যে সব সিড়িতে কে হইয়াছিল—সত্য। ডােমের নিকট যে কিনিয়া- উঠিতেছে ! বলিতেছে,-হীরা গঙ্গাতে ফেলিয়া ছিল, তাহার ধারণা ছিল, হীরা প্রকৃত হীরা নয়। দিয়াছিস,ডুব দিয়ে তােল। ঐ দেখ, ওমরাও পুত্র আমি অল্প দামে হীরাখানি খরিদ করিব, এইজন্য হাত পাতিয়া বলিতেছে,-“দে হীরা আমায় দে। ও ঝুটা হীরা—এই ধারণা তাহার করিয়া দিই।” যা-যা-জলে থেকে তুলিয়া আন্! শুনিতেছ না- আশুতােষ জিজ্ঞাসা করিলেন, “পারস্যের রাজ শুনিতেছ না ?” আশুতােষ বলিলেন, “তুমি স্থির কুমার—এ সব কথা কি ?” জহুরী বলিল, “আমি হও, আমি ডুবুরী দিয়া,হীরা উঠাইয়া আনিব।” এরূপ একটী গল্প নভেলে পড়িয়া ছিলাম। হীরাখানি দেবেন্দ্র বলিল,-“না না-ডুবুরী আনিলে হইবে না, দেবেন্দ্র বাবুর নিকট ভয় দেখাইয়া লইব, এই উদ্দেশ্যে আমাকেই তুলিতে হইবে। হীরা আনিলেও নিস্তার এই গল্প করি।” নাই,-এই ওরা সব বাড়ী ফিরিয়া চাহিতেছে, প্রিয়নাথ নামে অশুতােষের এক সহাধ্যায়ী জায়গা-জমী চাহিতেছে-জিনিস পত্র চাহিতেছে।” সুযােগ্য ডাক্তার ছিলেন। তাঁহাকে সঙ্গে লইয়া আশুতােষ সতর্ক লোকজন নিযুক্ত করিয়া ভ্রাতাকে দেখিতে গেলেন ! দেখিলেন, দেবেন্দ্রের দিলেন। ভাদ্রবধুকে বলিলেন,-“বো বিশেষ মূৰ্ত্তির সম্পূর্ণ পরিবর্তন হইয়াছে। কেবল চৰ্মাবৃত- সতর্ক থাকিবে, যেন কোনরূপে উঠিয়া না যায়। দেহ, মুখ পাণ্ডুবর্ণ, বিকট-জ্যোতিযুক্ত চক্ষুদ্বয়, যেন নিত্য আসিয়া ভাইয়ের তদ্বির করেন। ক্রমে পৈত্রিক ঠিকরিয়া আসিতেছে। গভীর দুশ্চিন্তাক্রান্ত হইয়া বাটীতে আসিয়া ভ্রাতার তদ্বিরের জন্য রাত্রিযাপন বসিয়া আছে। আশুতােষ জিজ্ঞাসা করিলেন, করিতে লাগিলেন। সর্বদাই ভ্ৰাতার নিকট সতর্ক “দেৰে, তাের কি অসুখ হয়েছে ?” দেবেন্দ্র লােক থাকে। বায়ু সেবনের নিমিত্ত লইয়া যান। বলিল,-“না না কিছু না, আর উপায় নাই, তারা এই সকল উপায়ে যেন নিদারুণ ব্যাধির কিঞ্চিৎ সকলে একত্র হইয়াছে,-আমি কোন রকমে ফাঁকি উপশম হইতে লাগিল। ক্রমে এতদূর উপশম হইল দিয়া কাটাইতেছি।” জহুরীর গল্পের কথা বলিল। যে, স্ত্রীর সহিত দেখা সাক্ষাৎ করেন, স্ত্রীর প্রতি বলিল,-“হীরা ফেলিয়া দিয়াছি, তথাপি সেই :ওম তাহার আর পূর্বের উপেক্ষার ব্যবহার নাই, ইহাতে রাও পুত্র হীরা চাহিতে আইসে। পারস্য রাজপুত্র সকলের মনে আশা জন্মিল। [ ২ ] ১৮৬ গিরিশ-গ্রন্থাবলী নিত্যগােপাল তখন দশবৎসরের বালক কিন্তু স্থির ধার। জন্মিয়াছিল যে, তাহার অসতর্কতাতেই চিন্তাশীল। পিতার অবস্থার কথা চিন্তা করে। এক তাহার স্বামী বাটী হইতে বহির্গত হইয়া আত্মহত্যা দিন প্রিয়নাথের সহিত আশুতােষের কথায় বুঝিতে করিয়াছে। এই ঘাের দুশ্চিন্তায় দুই তিন মাস পরে পারিল, তাহার পিতার পাপজনিত মস্তিষ্ক বিকার। তঁাহারও মৃত্যু হইল। বালকের প্রতি যদিও দেবেরে মেহের অভাব ছিল, আশুতােষ নিত্যগোপালকে ৰাটী লইয়া গেলেন। কিন্তু বালক মাতার দুঃখে দুঃখিত হইয়া পিতার বিষয় নিত্যগােপাল সকাতরে জ্যেষ্ঠতাতকে মিনতি করিয়া ভাবিত। একদিন গঙ্গাভঙ্গি-তরঙ্গিণী’ পড়িয়া বালক বলিল, “আমি গয়াধামে পিতা মাতার পিণ্ডদান; জানিল যে, ব্ৰহ্মশাপে সগরবংশ ধ্বংস হওয়ায় গঙ্গা করিব।” আশুতােষ নিজেই সঙ্গে করিয়া লইয়া আনিয়া ভগীরথ, বংশের উদ্ধার সাধন করিয়াছিল। যাইতেন, কিন্তু বিশেষ কাৰ্যবশতঃ যাইতে পারি- বালক ভাবিতে লাগিল, পিতার পাপ মােচনার্থে সে লেন না, উপযুক্ত লােক সমভিব্যাহারে পাঠাইয়া- কি কোন কাৰ্য করিতে পারে না? আশুতােষের দিলেন। ইহার দুই চারিদিন পরে আশুতােষ নিত্য- অপেক্ষাও যেন বালক পিতার অবস্থার প্রতি লক্ষ্য গােপালের হস্তাক্ষরে একখানি পত্র পাইলেন। রাখিতে লাগিল। সকলের মনে আশার সঞ্চার হই পত্র পড়িয়া স্তম্ভিত হইলেন। নিত্যগােপাল লিখি- আছে, কিন্তু বালকের হৃদয়ে নাই। যে কারণেই আছে যে, তাহার পিতা অপঘাতে মরিয়াছেন, তাহার হউক, তাহার মনে হইত যে, তাহার পিতার কোন একমাত্র প্রায়শ্চিত্ত তিনি করিবেন। ভগীরথ পিতৃ- রূপ উপশম হয় নাই ; বাহিক উপশমমাত্র। আশঙ্কা পুরুষ উদ্ধার্থে কঠোর তপস্যায় গঙ্গা আনয়ন করি- পিতৃব্যকে জানাইল, কিন্তু আশুতােষ সাম্বনা য়াছিলেন। ভগীরথের সার্থক জন্ম। নিত্যগােপাল বাক্যে বলিলেন,-“তুমি বালক, বুঝিতে পারিতেছ শুনিয়াছে যে, সন্ন্যাস গ্রহণ করিয়া ব্ৰহ্মজ্ঞ হইতে , তােমার পিতা আরােগ্যের পথে আসিয়াছে। পারিলে চতুর্দশ পুরুষ উর্জে ও নিম্নে মুক্ত হয়। তাই এরূপ আশারও যথেষ্ট কারণ, স্ত্রীর গৃহে শয়ন করিতে পিতৃপুরুষের হিতার্থে নিত্যগােপাল সেই পথ গ্রহণ দেবেন্দ্র নিত্য যান এবং ভাদ্রবধুর দ্বারা আশুতোষ করিয়াছে এবং তাঁহাকে তাহার বিশেষ অনুরােধ সংবাদ.. পান যে, উত্তরােত্তর উন্নতিই বটে, কিন্তু যে, যে সকল ব্যক্তির নিকট মন উপায়ে তাহার অকস্মাৎ একদিন প্রাতে একটা গােযােগে আশু পিতা সম্পত্তি অর্জন করিয়াছেন, সে সকল, তাহ- তােষের নিত্রা ভঙ্গ লইল। দেবেন্দ্ৰ হাত মুখ ধুইতে দেয় যে উত্তরাধিকারী আছে, তাহাদিগকে পুনরপিত যাইয়া, আর ফিরিয়া আইসে নাই। অনেক অনু হউক। বক্ৰী যে বিষয় থাকিবে, সমস্ত যেন সৎকার্যে সন্ধান হইতে লাগিল। দেবেন্দ্রের তত্ব পাওয়া গেল নিয়ােজিত হয়। পত্র পাঠে আশুতোেষ নিশ্বাস ন!। বৈকালে সংবাদ আসিল যে, হেদোয় একটা ছাড়িলেন। তিনি বিবাহ করেন নাই, ভাবিয়া- মড়া ভাসিয়া উঠিয়াছে, মৃতদেহ তীয়ে তােলা হই- ছিলেন, সমস্ত সম্পত্তি সুবোধ নিত্যগােপালকেই আছে, সকলেই বলিতেছে—সে দেবেন্দ্র। ব্যগ্রচিত্তে দিবেন। কিন্তু তাহার হৃদয়ে শােকমিশ্ৰিত আনন্দও আগুতােষ গিয়া দেখে যে, দেবেন্দ্রই বটে! দৃঢ় জন্মিল, একবিন্দু অশ্রুপাতও হইল। গদগদবচনে মুষ্টিতে কাদা ধরিয়া রহিয়াছে। বলিলেন, “আমাদের নিমিত্ত দেবেন্দ্রের এইরূপ অপঘাত মৃত্যুর পর সরাে- পিতৃদেবগণের পুণ্যে কে মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ জিনীর আর আত্মগ্লানির সীমা রহিল না। তাঁহার করিয়াছে। কুল উদ্ধারের শ্রীরামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ। ; ভক্তচুড়ামণি ভ রামচন্দ্র দত্তের কথায়, রামচন্দ্র এ কি–এরূপ কখনাে দেখেন নাই। কিছুই বুঝিতে দত্তের সমভিব্যাহারে বিবেকানন্দ প্রথমে দক্ষিণেশ্বরে পারেন না—অথচ আকৃষ্ট। যান। রামচন্দ্র দত্ত সুবাদে তাহার ভাই এবং বাল্য খ্যাপার কথা রাম দাদাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, কালে শিক্ষক ছিলেন। বিবেকানন্দের সাংসারিক পরিচয় পাইলেন,-খ্যাপা কামিনী-কাঞ্চনত্যাগী। নাম নরেন্দ্র ছিল এবং বীরেশ্বরের মহাদেবকে মানত এই পরিচয়ে তাহার আকর্ষণ শতগুণে বৃদ্ধি পাইল। করিয়া তাহার জন্ম হওয়ায়, তাহার মাতা ও নিকট আশৈশব তিনি কামিনী-বিদ্বেষী ; শিশুকালে মৃগয় আত্মীয়ের বীরেশ্বর বলিতেন; ক্রমশঃ বীরেশ্বর শ্রীরামমূৰ্তি কিনিয়া আনিয়া খেলা করিতেন; কিন্তু নাম বিলে” নামে পরিণত হয়। রামচন্দ্র তাহাকে যে দিন শুনিলেন, তিনি সীতাকে বিবাহ করিয়া “বিলে” বলিতেন। বিবেকানন্দের মুখে শুনিতাম, গৃহী হইয়াছিলেন, সে দিন হইতে সে পুতুল তাহার একদিন রাম দাদা বলিলেন,-বিলে, কি এদিক ভাল লাগিল না। যােগীশ্বর মহাদেবের পুতুল ওদিক্‌ ব্রাহ্মসমাজে ঘুরে বেড়াস্-যদি ধৰ্ম্ম কৰ্ম্ম আনিলেন, একটা বড় কলকে কিনিয়া আনিলেন, করবার ইচ্ছে থাকে, দক্ষিণেশ্বরে চ;-এদিক সেইটী মহাদেবের গাঁজার কলিকা হইল এবং সেই ওদিক ঘুরে বেড়ালে কিছু হবে না।” রামবাবুর গাঁজার কলিকা লইয়া তিনি গাঁজা টানিবার ভান সহিত বিবেকানন্দ দক্ষিণেশ্বর আসিলেন, তিনি করিয়া বাল্যখেলা করিতেন। সন্ন্যাসী শিবের পরমহংসদেবের গৃহে প্রবেশ করিবামাত্র, পরমহংদেব প্রতি বাল্যকালে বড়ই শ্রদ্ধা ছিল। তাঁহার পিতামহ ব্যস্ত হইয়া, তাহার নিকটে আসিলেন এবং বিবে- সন্ন্যাসী হইয়া গৃহত্যাগ করেন, সেই আদর্শে তাহার কানন্দ যেন তাহার বহুদিনের পরিচিত, এইরূপ শৈশব কাল হইতেই সন্ন্যাসী হইবার সাধ জন্মে। ভাব প্রদর্শন করিলেন। বিবেকানন্দকে ধরিয়া পরে ইংরাজী শিক্ষার প্রতাপে যদিচ শিব-উপাসনা তাহার ঘরের পশ্চিমদিকের চাতালে লইয়া গেলেন, পৌত্তলিকতা মনে করিতেন,কিন্তু যােগের প্রতি অনু- বলিতে লাগিলেন, “তাের অপেক্ষায় রহিয়াছি, তুই রাগের কিছুমাত্র হ্রাস হয় নাই। এই অবস্থায় যখন আসিতে এত দেরী করলি? গৃহীলােকের তিনি শুনিলেন যে, দক্ষিণেশ্বরের পাগল কামিনী- সহিত কথা কহিয়া আমার ওষ্ঠ দগ্ধ হইতেছে, এখন কাঞ্চন-ত্যাগী, তখন সেই পাগলের প্রতি তাঁহার তাের সহিত আলাপ করিয়া জুড়াইব!” বিবেকা- প্রগাঢ় শ্রদ্ধা জন্মিল। তিনি ভাবিতে লাগিলেন, নন্দ বলিতেন, “আমি ভাবিতে লাগিলাম, এ কি কামিনী-কাঞ্চনত্যাগী পুরুষ কখনই সামান্য ব্যক্তি উন্মাদ! রাম দাদা আমায় কার নিকট আনিল ? নন। তঁাহার সহিত মতের বিরােধ হইতে পারে, বুদ্ধি উন্মাদ বলিতেছে, কিন্তু প্রাণ আকৃষ্ট ! অদ্ভুত কিন্তু এ উচ্চত্যাগের আদর্শ আর কোথাও নাই। খ্যাঅদ্ভুত তাহার আকর্যণ—অদ্ভুত তাহার ‘স্বভাবজাত ত্যাগী বিবেকানন্দ’ সৰ্বত্যাগী মহাপুরু- প্রেম ! ব্যাপাও ভাবিলাম, মুগ্ধও হইলাম! সে ষের দ্বারা প্রগাঢ়রূপে অাকৃষ্ট হইলেন। পুনঃ পুনঃ এক অপুর্ব অবস্থা। বিবেকানন্দ যখন বাড়ী দক্ষিণেশ্বরে না গিয়া তিনি স্থির থাকতে পারতেন ফিরিলেন, পরমহংসদেব তাহাকে আসিবার নিমিত্ত না, প্রেমের শৃঙ্খল দিন দিন তাহাকে প্রগাঢ়রূপে পুনঃ পুনঃ অনুরােধ করিতে লাগিলেন। বাড়ী আবদ্ধ করিতে লাগিল। খ্যাপার অমানুষিক প্রেম আসিয়া বিবেকানন্দ ঐ খ্যাপার কথাই ভাবেন। - এ প্রেম জগতে তিনি কোথাও পান নাই; গুরুর اما؟ গিরিশ-দাবলী। গেলেন। করেন ! প্রেমে বিবেকানন্দ একেবারে আত্মহারা হইয়া করাে। আমি বলিয়াছি বলিয়া বিশ্বাস করি ; এই অবস্থায় দক্ষিণেশ্বরে দক্ষিণেশ্বরে যাতায়াত ।” কিরূপে দেখিয়া শুনিয়া লইতে হয়, তা একদা পরমহংদেব উপদেশ প্রদান করি- বিবেকানন্দ জানেন না। দেখিবার শনিবার উপায় তেছেন, উপদেশের প্রতি বিবেকানন্দের লক্ষ্য নাই। দিন দিন গুরুর নিকট বুঝিতে লাগিলেন। নিতা পরমহংসদেব ডাকিলেন, বলিলেন,-“শােন না, কথা নিত্য গুরু দেখাইয়া দেন, নিত্য নিত্য শিষ্য দেখিতে শােন না।” বিবেকানন উত্তর করিলেন—“কথা পান যে, সমস্ত প্রত্যক্ষ। জড় বিজ্ঞানে যেরূপ শুনিতে আসি নাই।” পরমহংস জিজ্ঞাসা করিলেন, প্রত্যক্ষ করা যায়, আধ্যাত্মিক বৈজ্ঞানিক সত্য ও —“তবে, কি করিতে আসি? বিবেকানন্দ উত্তর সেইরূপ প্রত্যক্ষের বিষয় ! গুরু উপদেশে ও সাধ- দিলেন, “তােমাকে ভালবাসি, তােমাকে দেখিতে মার চক্ষু উন্মীলিত হইলেই প্রত্যক্ষ করা যায়। ক্রমে আসি।” এস্ত পরমহংসদেব উঠিয়া, বিবেকানন্দকে আভাস পাইলেন, সমাধি মস্তিষ্কের বিকার নয়, আলিঙ্গন করিলেন, উভয়ে আলিঙ্গনপাশে বদ্ধ হইয়া গুরুর নিকট সমাধিলাভের প্রার্থী হইলেন, অনেকক্ষণ স্থির রহিলেন। বলিলেন,- “আমায় পরম পদার্থ নির্বিকল্প সমাধি এইরূপে গুরুশিষ্যের প্রেমের লীলা চলিতে দান করুন। আমি আপনার কৃপায় সমাধিস্থ হইয়া লাগিল। ঈশ্বরীয় প্রসঙ্গ, বাদানুবাদ, তর্ক-বিতর্ক থাকিব!” গুরু তিরস্কার করিয়া বলিলেন,-“এই প্রায়ই হয়! বিবেকানন্দ সমাধি প্রভৃতি মানেন না। নিঝিকল সমাধি পাইলেই তুমি পরিতৃপ্ত ? ইহা সমাধিকে বলেন,-“ও তোমার মাথার ব্যায়াম!” তো পূর্বে এক দিন, তুমি দক্ষিণেশ্বরে আসিবার দেবদৃষ্টিতে পরমহংসদেব যাহা দর্শন করেন, তাহা সময়, তােমার বক্ষে হস্ত দিয়া দিতে প্রস্তুত ছিলাম, তার্কিক বিবেকানন্দ বলেন,-“ও তােমার মস্তিষ্কের তুমি ভয় পাইয়া বলিলে,-করো কি গাে, আমার যে ভ্রম! অন্ধবিশ্বাসে সাকার মূৰ্ত্তি মান।” বিবে- বাপ আছে, মা আছে!” দক্ষিণেশ্বরের এ ঘটনা কি, কানন্দ বলিতেন, এইরূপে তাে তর্কবিতর্ক করি। পাঠকের জানিতে ইচ্ছা হইতে পারে। বিবেকানন্দের একদিন মহংসদেব জিজ্ঞাসা করিলেন, “ভাল, তুই নিকট শুনিয়াছিলাম,একদিন দক্ষিণেশ্বরে পরম- অন্ধের বিশ্বাস কাকে বলিস?” (পরমহংসদেব হংসদেব তাহার কোমল হস্ত বিবেকানন্দের বক্ষে অন্ধ বিশ্বাসকে অন্ধের বিশ্বাস বলিতেন) জিজ্ঞাসা প্রদানমাত্রই সমস্ত শূন্যাকার হইয়া যাইতে লাগিল। করিলেন, “অন্ধের বিশ্বাস কাকে বলিস?” গদ গদ তিনি মহাভয়ে ব্যগ্র হইয়া বলিলেন,-“করো কি হইয়া বিবেকানন্দ বলিতেন, সেই দিন বিষম দায়ে গাে! আমার যে বাপ আছে,-মা আছে।” ঠেকিলাম ! বলিতেন,অন্ধবিশ্বাস বুঝাইবার সমাধি লাভের প্রার্থী হইলে আমরা বলতে চেষ্টা করা দূরে থাক, আমি স্বয়ং অন্ধবিশ্বাস ছিলাম, গুরু শিষ্যকে তিরস্কার করিলেন, বলিলেন- কাহাকে বলে, যত বুঝিবার চেষ্টা করি, ততই দেখি, “জীবের যাহা পরম বস্তু, তাহা তােমার নয়। তুমি একটি অর্থহীন কথা ব্যবহার করি মাত্র। অন্ধ কেবল স্বার্থপর হইয়া আপনার নিমিত্ত জগতে বিশ্বাসের লক্ষণ যতই দিবার চেষ্টা করি, সব লক্ষণ আসো নাই। তবে কেন সমাধিস্থ হইয়া থাকিবে অযৌক্তিক হয়। বিদ্যা-বুদ্ধি যত ছিল, সব নাড়া প্রার্থনা করিতেছ? সংসারে আসিয়াছ, সংসারের চাড়া করিতে লাগিলাম, অন্ধবিশ্বাসের লক্ষণ কার্যকর। জীবের নির্বিকল্প সমাধি হইলে পর, আর হয় না। এইরূপে শিক্ষিত বিবেকানন অশি- তাহার আর ফিরিবার শক্তি থাকে না। এক ক্ষিত খ্যাপার নিকট আপনাকে পরাজিত জ্ঞান বিংশতিদিবস গতে শরীর ত্যাগ হয়। তুমি শক্তি করিতে লাগিলেন। বান, সমাধিলাভের পরও ফিরিবে, তােমার মহ'ৰ্য্য বৈজ্ঞানিক তর্ক যুক্তি, সিদ্ধবিশ্বাসের নিকট পড়িয়া রহিয়াছে। কাৰ্য্য সমাধা না করি জগৎ কোনরূপ অগ্রসর হইতে পারে না। পরাস্ত হইয়া ত্যাগ করিতে পারিবে না। সমাধি চাও, সমাধি বিবেকানন্দ, গুরুর নিকট যাহা শুনেন, তাহাতেই পাইবে।” বিশ্বাস স্থাপন করিতে চান। গুরু বলেন,-“না, এ অকস্মাৎ একদিন কাশীপুরের বাগানে বিবেকা- তােমর পথ নয়-সম দেখিয়া শুনিয়া বিশ্বাস নলের একটি অবস্থা হইল, যে সকল ভক্তেরা তাহার শ্রীরামকৃ ও বিবেকানন্দ। داد ক ছিলেন, তাঁহার মৃতবৎ অবস্থা দর্শনে ভীত মহা জ্ঞানসাধারণের চক্ষে মহা ভক্তি আবরণে । জমে বিবেকানন্দ সংজ্ঞা লাভ করিলেন। আবরিত ছিল, বিবেকাননে র ভক্তি জ্ঞান আৰরণে নিকট সংবাদ গেল, গুরু হাসিতে লাগিলেন। আবরিত। উভয়ের একই ভাব, কাৰ্য্যে ভিন্ন ভাৰ কানও উপস্থিত হইলেন। গুরু বলিলেন, ধারণ। ধারণ। মহা মহা বৈজ্ঞানিকের সহিত বিবেক- হা চাও তাহা এই, এই নির্বিকল্প সমাধি। নন্দের সংঘর্ষ হইবে, সেই নিমিত্তই তিনি কঠিন মার নিমিত্তই তুলিয়া রাখিলাম, কিন্তু উপস্থিত জ্ঞান আবরণে আবরিত হইতেন। কিন্তু যদি কেহ ক্সি আবদ্ধ রহিল, চাবি আমার নিকট থাকিবে। ভাগ্যক্রমে তাহাকে গান করিতে শুনিয়া থাকেন, করাে, কাৰ্যান্তে পাইবে।” তাহার চক্ষে প্রেমা দেখিয়া থাকেন, কণ্ঠরােধ হইয়া কি কার্যে বিবেকানন্দ গুৰু কর্তৃক আদিষ্ট গদ গদ-ভক্তিবিভােৰ মহাপুরুষ দর্শন করিয়া ইয়াছিলেন তাহা সসাগরা পৃথিবী দেখিয়াছে। থাকেন, তিনি হৃদয়ে অনুভব করিবেন, জ্ঞান-ভক্তির বিবেকানন্দ কাৰ্য্য করিতেন, বলিতেন, তাহার পার্থক্য লোকে অজ্ঞানবশত করিয়া থাকে। জ্ঞান গুরুর কাৰ্য্য করিতেছেন। কেহ কেহ এ বিষয় ভক্তি এক, জ্ঞান বিবেকানন্দ ভক্ত পরমহংস অভেদ। সন্দিহানচিত্ত। পরমহংসদেবের ভাবের সহিত সহিত এই অভেদ জ্ঞান লাভে তিনি বুঝিবেন, পরমহংস- বিবেকানন্দের ভাবের পার্থক্য অনুভব করেন। দেব বলিতেন যে, “ভাগবত, ভক্ত, ভগবান” তাহা সম্পূর্ণ ভ্রম। এই মাত্র প্রভেদ, পরমহংসদেবের সত্য। স্বামী বিবেকানন্দের গান। রাগিণী মালকোষ-তাল যৎ। তারা উজ্জ্বল পশিল ধরাপর, নিৰ্ম্মল গগন বিকাশি। রত্নগর্ভা নারী রত্ন প্রসবিল বিভোর বাল সন্ন্যাসী। রবিকরকর্ষিত, কুজঝটিকা ঘন আবরে দিনকর-কান্তি, মামাবলম্বন, কারা প্রকটন, শীলা আবরণ ভ্রান্তি ; গুরুপদ ধারণ, আত্মসমর্পণ, মহাদে নদ মহা সম্মিলন, দর্শ উচ্ছ্বসিত স্রোত মহান, দুরত্ব অশান্তি বিধৌত মেদিনী জমন-মার্জিত শাস্তি প্রদান; সশিপদ হৃদে সাধে ধরি গায়াআকিঞ্চন গান, কৃপকণা অভিলাষী। রাগিণী বাগেশ্রী-- তাল একতালা । কে রে এ নরেন্দ্রবর বীরেশ্বরদেহধারী। সিদ্ধ মহাবিদ্যাবলে অবিদ্যাবিনাশকারী ॥ তমাচ্ছন্ন বসুমতী, হেরি কি ব্যথিত যতি, বিলাইতে জ্ঞান-জ্যোতি, কে এনেছে সহকারী। রহি পরহিতে রত, শিখাবে কি মহাব্রত, এসেছ আশ্রিত রত, জন-মন-তাপহারী । গুরুপদে বলিদান, জীবন-যৌবন-মান হয়েছ কি অধিষ্ঠান, সাজিতে দীন-ভিখারী। সাহানা-ধামার। ভুবন ভ্রমণ কর যােগীবর যার ধ্যানে। তঁাহারি সন্তানগণ চেয়ে আছে পথ পানে । উচ্চব্রতে আত্মহারা, এমি সসাগরা ধরা, মােহিলে মানব-চিত, প্রভুর গৌরব-গানে। নানা দেশে নানা ভাবে জয়ধ্বনি এক তানে । রামকৃষ্ণ হৃদে ধর, হৃদয় আকৃষ্ট কর, ইষ্টপূজা পূর্ণ তব, পুলক-আলােক দানে। জন-মন-পুলকিত, মােহ-নিশা অবসানে ।

কালিদাসের উপা বসুমতী-সাহিত্য-মন্দির, ১৬৬নং বহুবাজার স্ত্রীট, কলিকাতা। করি বিশ্ববিমােহন মহাকবি প্রত্যেক হিন্দু সন্তানের অবশ্য গ্রহণয় তা বক্ষণীয় করণীয় হিন্দু-সৰ্বস্ব। নিতা গ্রন্থাবলী অষ্টাদশ সংস্করণ—এই পৰ্য্যন্ত ৭৫ হাজার খিতে সমগ্র মুলাবাদ বিরাট এন্থাবলী। বিক্রয় হইয়াছে,-সংশােধিত ও পরিবর্তিত।যরূপ হিন্দুর নিকট হিন্দুসৰ্বশ্বের পরিচয় দিবাহ্য ও ১। রঘুবংশ। ২। কুমারসম্ভব। প্রয়ােজন নাই। বর্ণাশ্রম-ধর্মাবলম্বী চাতুব্বর্ণে সাধ- ৩। মেঘদূত। ৪। ঋতুসংহার। ৫। নবােদয় জন্য এই সৰ্ব্বশাস্ত্র মন্থনে হিন্দু-সৰ্বৰ সংগৃহী ক্রমে ৬। পুষ্পবাণবিলাস। ৭। শৃঙ্গাররােষ্টক | ইয়াছে, প্রতিদিনের প্রাতরুখান হইতে শৃঙ্গারতিলক। ৯। তখােধ। ১০। সায়ংকাল পর্যন্ত হিন্দুর নিত্যকর্ম, কাম্য দ্বাত্রিংশপুত্তলিকা। ১১। মালবিকাগ্নিমিত্র। পূজা, অর্চনা, স্তব, ধ্যান, হােম প্রভৃতি হইতে ১২। শকুন্তলা । ১৩। বিক্রমােবশী। ব্রাহ্মণের স্নান, আহ্নিক, সন্ধ্যা যাবতীয় বিষয় অধ্যায়ে অধ্যায়ে হিন্দু-সৰ্বৰে আছে,এই গ্রন্থের ১৪। মহাকবির জীবনী। পুনঃপ্রচার হইল। ইহাই এই শ্রেণীর প্রথম গ্রন্থ এই বিরাট হইতেও বিরাট গ্রন্থাবলী সাতটি বল্লী ও একটা পরিশিষ্টে ৭৪ পৃষ্ঠায় মূল্য ৬,লে ২ মাত্র। গ্রন্থ সম্পূর্ণ হইয়াছে, সুচারু কাপড়ের বাঁধাই। হিন্দু-সৰ্বস্ব—যে হিন্দুর গৃহে নাই, তিনি ৭১am •wে২৭। কখনই নিষ্ঠাবান নহেন। বসুমতী সম্পাদক মুক্ত শশিভূষণ মুখােপাধ্যায় প্রণীত নূতন অলৌকিক রহস্যময় কাগজ দুর্মুল্য হইলেও হিন্দু-সৰ্বস্ব-পূৰ্ব্ব সুলভ মূল্য ১• এক টাকা পরলােক ও প্রেততত্ত্ব চারি আনাই রহিল। নামক বঙ্গভাষায় যে নূতন আধুনিক বৈজ্ঞানিক অধ্যাত্মজগতের প্রহেলিকা, যাহা এখন সত্যে বহুদিন পরে নৃতন সংস্করণ প্রকাশিত হইল। পরিণত হইয়াছে—যাহার আললাচনায় বহু বেদান্তের সেই স্বনামধন্য প্রামাণ্য মহাগ্রন্থ মনীষিগণ ভৌতিক অদৃশ্য জগতের রহস্য পঞ্চশী উদঘাটন করিয়া সমগ্র জগৎকে বিস্ময়বিমুগ্ধ মহাত্মা আনন্দচন্দ্র বেদান্তবাগীশ মহাশয়ের করিয়াছেন,সেই শাস্ত্র-বহু গ্রন্থ অবলম্বনে অনুবাদ। অতি বিস্তৃত টীকা সমন্বয়ে অতি আজ বাঙ্গালা ভাষায় লিখিত হইল। মৃত্যুর পর সরল ব্যাখ্যায় অলঙ্কত। নির্ভুলভাল কি হয়?-শােক-বিজয় করা যায় কি না- | কাগজে অতি সুন্দর মুদ্রণ-কাপড়ের বাঁধাই। পরলােকগত আত্মার সাক্ষাৎকার হয় কি না? মূল্য মাত্র ২১ দুই টাকা। যে প্রিয়জন বিচ্ছেদে সংসার অরণ্যে পরিণত হয়, তাহার দর্শন-লাভ সম্ভব কি না?- আর মহাত্মা কালীপ্রসন্ন সিংহ—অনুদিত পকেট জন্মান্তর রহস্য কি ? জানিতে হইলে এই নিত্যসিদ্ধ প্রামাণ্য পকেট সাইজে নির্ভুলরূপে ধরুণ ১ : গ্রন্থখানি অগ্রে পাঠ করুন। এ শ্রেণীর পুস্তক। কাপড়ে উত্তম বাঁধাই বিতরিত কাপড়ে উত্তম বাঁধাই বিতরিত হইতেছে মধ্যে ইহাই প্রধান গ্রন্থ। মূল্য ১৯ টাকা মাত্র। নামমাত্র মূল্য।• প" না। উপেন্দ্রনাথ মুখােপাধ্যায়। গা বসুমতী সাহিত্য-মন্দির, ১৬৬ নং বহুবাজার স্ত্রীট, কলিকা শ্রীমদ্ভগবদ গত ।

No text on this page.

No text on this page.

Girish Granthaboli Part.13

Author
Ghosh, Girish Chandra
Title
Girish Granthaboli Part.13
File name
Girish Granthaboli Part.13
Text
OCR done
Citation
1917
Published
2010/04/16
Publisher
Basumati Sahitya-mandir,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
199
Library
Jhikira Kedarnath Sadharan Pathagar, Howrah
Classification
Bengali Drama
Keywords
Natak
DLI number
514714
Barcode
4990010016766.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
VMLT id
ia7Ix2ALPel
Download PDF

Girish Granthaboli Part.13