Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Sri Sri Chandi
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
শ্রীশ্রীচণ্ডী)।
পদ্যানুe
ঐবিলাসচন্দ্রদেবশর্মা রায় প্রণীত।
ঢাকা, শক্তিপ্রেস হইতে
ঐবিপিনচন্দ্র বর্মণ কর্তৃক মুদ্রিত
মূল্য।/১০ সাড়ে পাঁচ আনা।
No text on this page.
বিজ্ঞাপন
বন্মের উৎকর্ম ভিন্ন জাতীয় জীবনে সমুন্নত ওয়ার
প্রত্যাশা বিড়ম্বনা মাত্র। জগতের অতুলনীয় কাব্য এব’
হিন্দুর পশ্ম জীবনের পরম পবিত্র নিত্য সহচর চণ্ডী
বৰ্ত্তমান সময়ে সাধারণের সমীপে অথবােধ ও মধুরতা
বিরহিত হইয়া সে ভাবে গঠিত হইতেছে তাহাতে
তৎ প্রতি প্রগাঢ় ভক্তির উদ্রেক না হয়। বরং ক্রমশঃই
লোবের উপেক্ষার ভাব পরিলক্ষিত হইতেছে। হিন্দু-
সমাজের তরলমতি বালক হইতে বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রত্যেকেই
যাহাতে চণ্ডীর কাথ গৌরব ও মধুরতা উপলব্ধি করিয়া
তুৎপাঠে আনন্দ অনুভব করিতে পারেন সেই উদ্দেশ্যেই
এই পদ্যানুবাদ প্রকাশিত হইতেছে। চণ্ডার যে যে
শ্লোক যে কয় চরণে রচিত হইয়াছে অনুবাদে ও যথাসাধ্য
তাহাই ব্যাখ্যা করিতে প্রয়াস পাইয়াছি। বালকগণ
পাঠে আনন্দ উপভােগ করার সঙ্গে সঙ্গে যাহাতে মাতৃ
ভাষাতেও কঞ্চিৎ জ্ঞানলাভ করিতে পারে তৎ প্রতিও
সাবশেষ দৃষ্টি রাখিয়াছি। বিশেষ কোন অনিবার্য কারণে
তাড়াতাড়ি মুদ্রিত হওয়াতে মধ্যে মধ্যে ভুল কান্তি থাকা
অসম্ভব নহে। সদয় পাঠকগণ পাঠ করিয়া যে যে
স্থল বেরাপে সংশোধন বা পরিবর্তন করা সঙ্গত মনে
করেন অামাকে জানাইলে সবিশেস অনুগৃহীত হইব।
ইতি ১৩১৬ সন।
নিবেদক—শ্রীবিলাসচন্দ্র দেবশম্মা রায়
উকীল মুর্শীগঞ্জ, ঢাকা, সা” মাইজপাড়া, শিমপুর ।
সূচীপত্র বিষয় শ্লোক সংখ্যা পৃষ্ঠা . প্রথম মাহাত্ম্য ৪ ৪ মধুকৈটভ বধ দ্বিতীয় মাহাত্ম্য মহিষাসুর সৈন্য বধ তৃতীয় মাহাত্ম্য মহিষাসুর বধ চতুর্থ মাহাত্মা মহিষাসুর বধ সমাপ্ত পঞ্চম মাহাত্ম্য ৪২ • • • • • • ১২৯ • • • দুত সংবাদ ••• • • • ৪৪ • • • S । , ••• ৬০ c । • • ৪১ ••• ষ মাহাত্ম ধূলোচন বধ সপ্তম মাহাত্ম্য চণ্ড যুণ্ড বধ অষ্টম মাহাত্ম্য রক্তবীজ বধ নবম মাহাত্ম্য নিশুম্ভ বধ দশম মাহাত্ম্য " লধ একাদশ মাহাত্ম্য দেবীর স্তন দ্বাদশ মাহাত্ম্য শুম্ভ নিশুম্ভ বধ এয়ােদশ মাহাত্ম্য • ,.. •• ৩২ ••• ৬১ । • • • • •• ২১ ৭৭ ••• ৭ ।। •••
চণ্ডী
ওঁ নমশ্চণ্ডিকয়ে
প্রথম মাহাত্ম্য।
মার্কণ্ডেয় বলিলেন। ১
সাবৰ্ণি অষ্টম মনু সূর্যের কুমার
জনমিল যেই ভাবে শােন সবিস্তার ।
২
মহামায়া প্রসাদেতে জন্মি রবি হতে
মন্বন্তর-অধিপতি হলেন কিমতে ।
স্বারােচিয-মন্বন্তরে চৈত্র বংশধর
সুরথ নামেতে রাজা অবনী ভিতর ।
৪
(বে) পুত্র নির্বিশেষে করে প্রজার পালন
বহুশত্রু হ’ল কোলাবিধ্বংসী * যবন।
ন্যূন বল যবনের সাথে করি রণ
মহাবলশালী রাজা হারিল যখন। ৬
* শূকর খাদক।
১
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
......nwar
WWW.AAAAAA\\\\
15,604\.
আসিপুরে হইলেন স্বদেশাধিপতি
তবু করে আক্রমণ প্রবল অরাতি। ৭
দুৰ্বল হেরিয়া দুষ্ট অমাত্য স্বগণ
হস্ত্যাদি ধনাগার করিল হরণ
সর্বস্বান্ত হয়ে নৃপ মৃগয়া ছলনে
অশ্বে চড়ি গেল একা গহন বিপিনে।
প্রশান্ত শ্বাপদাকীর্ণ মুনি শিষ্যগণ
সুশােভিত দেখিলেন মেধস আশ্রম ॥
করিলে সৎকার মুনি রহে কিছুক্ষণ
আশ্রমের চারিধারে করি বিচরণ। ১১
মমতা আকৃষ্ট হেতু চিন্তে অনুক্ষণ
পালিল যে পুরী মম পূৰ্ব্বপিতৃগণ।
১২
ত্যক্ত মম পুরী কিরে দুষ্ট ভৃত্যগণ
করিতেছে ন্যায়মতে এখন রক্ষণ।
সদাম শুরহস্তী প্রধান আমার
কি ভুঞ্জিছে বৈরিগেহে না জানিনু আর।
১৪
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
6
* * * *
নিত্য অনুগত যারা প্রসাদ ভােজনে
ধ্রুব সেবা করিতেছে অন্য নৃপগণে।
অতিক্লেশে ধনাগার সঞ্চিত আমার
অপব্যয়ে নাশিতেছে দুষ্ট দুরাচার।
১৬
সতত এরূপ চিন্তা করিয়া রাজন্
বিশ্রমে করে এক বৈশ্য দরশন।
১৭
জিজ্ঞাসিল নাম তার কেন আগমন
সশােক দুশ্চিন্ত ভাব করি নিরীক্ষণ।
১৮
শুনিয়া প্রণয় ভায বৈশ্য ততক্ষণ
অবনত শিরে ভূপে বলিল বচন।
বৈশ বলিলেন। ২০
সমাধি নামক বৈশ্য জন্ম ধনিকুলে
ধনলােভী দারাপুত্ৰ মােরে বিতাড়িলে । ২১
ধনহীন তাই দারাসুত উপেক্ষিত
ধনার্থে এসেছি বনে হয়ে ক্লিষ্টচিত।
এসেছি এখানে কিন্তু চিত্ত অবিকল
দারাত স্বজনের জেনে কুশল।
# পরমার্থিক ধনের জন্য ।
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
vvvvvaa%AA%\',
সুখে কি অসুখে আছে গৃহেতে এখন
কি চরিত্র হইয়াছে মম সুতগণ। ২৪
রাজা বলিলেন।
ধন লােভে বিতাডিল দারাতজন
তাদের কারণ কেন মমতা প্রবণ।
বৈশ্য বুলিলেন। ২৭
কহিলে যা সত্য বটে কি করি এখন
কিছুতেই নিরদয় নহে মম মন ।
ধন লােভে ভুলি স্নেহ করেছে তাড়ণ
তবু দারাসুতগণে স্নেহের প্রবণ।
২৯
নিগুণ বন্ধুর প্রতি স্নেহ কেন ধায়
বুঝে ও বুঝিতে নারি কি করি উপায় ।
নিশ্বাস বহিছে মন হয়েছে বিকল
নিঠুর না হতে পারি কি করিব বল ।
মার্কণ্ডেয় বলিলেন। ৩২
এইরূপে করি উভে কথােপকথন
মেধস মুনির পাশে করে আগমন।
শ্রীশ্রীচণ্ডী ।
মুনিসহ যথাযােগ্য করি আলাপন
উপবেশি নানা কথা জিজ্ঞাসে তখন।
৩৪
রাজা বলিলেন।
ভগবন্ ! বল মােরে জিজ্ঞাসি কারণ
চিত্ত অনায়ত্ত দ্রব্যে দুঃখ কি কারণ ॥
জ্ঞানী হয়ে মূখ সম হে মুনিসত্তম
রাজ্যে ও রাজ্যাঙ্গে মায়া কেন এত মম ॥ ৩৭
বৈশ্য এই দারাহুত বন্ধু নিগৃহীত
তথাপি তাদের তরে মমতা পীড়িত।
দেখি দোষ সংসারের তবু মায়াজালে
মুগ্ধ হয়ে ক্লেশ উভে পাই কিবা বলে ।
।
বল মহাভাগ ? জ্ঞানী হয়ে কি কারণ
বিবেকাৰ মূৰ্থ সম মমত্ব বন্ধন।
৪০
ঋষি বলিলেন। ৪১
সৰ্বজীবে আছে জ্ঞান বিষয় গােচর
বিষয় আছয়ে কিন্তু বিবিধ প্রকার।
৪২
শ্রীশ্রীচণ্ডী ।
কোন জীব দিবা অন্ধ রাত্রি অন্ধ পরে
উভকালে অন্ধকেও সমদশী পরে।
৪৩
মানবেরা জ্ঞানী কিন্তু শুধু তারা নয়
পশু পক্ষী মৃগ আদি সবে জ্ঞানী হয়।
৪৪
পশু পক্ষী জ্ঞান যথা আছে মানবের
মানবের যথা জ্ঞান আছে তাহাদের ।
৪৫
জ্ঞানী বটে নৃপ ! কিন্তু হের পাখীগণ
ক্ষুধাক্রান্ত থাকি নিজে পালে শিশুগণ।
৪৬
প্রতি উপকার আশে মানব নিচয়
ভালবাসে সন্তানেরে দেখ অসংশয়।
৪৭
বিশ্বস্থিতিকারী মহামায়ার বিধানে
পড়িতেছে মােহগর্তে মমতা-বন্ধনে।
৪৮
কি আশ্চৰ্য্য আছে এতে নিজে ভগবান্
মহামায়া মায়াবশে যােগ নিদ্রা যান ।
৪৯
মহামায়া ভগবতী জ্ঞানীর হৃদয়
সবলে টানিয়া ফেলে সংসার মায়ায়।
শ্রীশ্রীচণ্ডী ।
AtvnA/AAJ "',
চরাচর বিশ্ব এই ভঁহার সৃজন
যাঁহার প্রসন্নে মুক্তি লভে নরগণ। ৫১
বিদ্যারূপে মুক্তি হেতু তিনি সনাতনী
সর্বদেবেশ্বরী ভব বন্ধনকারিণী।
রাজা বলিলেন ।
মহামায়া বলি যার করিলে কীৰ্ত্তন
কেবা তিনি, কাৰ্য্য কি কি, কি ভাবে জনম।
জনম কেমনে তার কিরূপ স্বভাবা
কি মূর্তি ধারিণী তিনি শুনিতে বাসনা।
ঋষি বলিলেন !
জগন্মুর্তি নিত্যা তিনি বিশ্ব জয়িতা
শােন বলি বহুরূপে জনম বারতা
৫৭
দেব কাৰ্য্য সিদ্ধি হেতু যবে আবির্ভূত
জনম লভিল বলি ত্রিলোকে আখ্যাতা। ৫৮
প্রলয়ে জগৎ যবে সমুদ্ৰায়মাণ,
অনন্ত শয্যাতে বিষ্ণু যােগ নিদ্রা যান। ৫৯
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
বিষ্ণু কর্ণমলােৎপন্ন দৈত্য (১) দুইজন
করিতে উদ্যত হ’ল ব্রহ্মার নিধন।
বিষ্ণু নাভিদেশে থাকি প্রভু প্রজাপতি
হেরিয়ে অসুর তথা সুপ্ত জগৎ পতি। ৬১
জাগাইতে নারায়ণে হয়ে এক মন
অশেষে করিল যােগ নিদ্রার কীৰ্ত্তন।
হরি নেত্রাশয়া যিনি বিশ্বের ঈশ্বরী
জগদ্ধাত্রী দেবী সৃষ্টি স্থিতি লয় কারী ।
ব্রহ্মা বলিলেন ? ৬৫
স্বাহা স্বধা যজ্ঞ তুমি স্বর স্বরূপিণী
তুমি সুধাক্ষরা নিত্যা ত্রিমাত্রা রূপিণী ।
উচ্চারণ অসমর্থ ব্যঞ্জনরূপিণী
সাবিত্রী পরমা দেবি ! জগতজননী।
জগৎ সৃজন তব তুমিই পালিনী ৬৮
ধারণ করেছ তুমি প্রলয়কারিণী ।।
(১) দৈত্য =মধু কৈটভ নামা দৈতাদ্বয়।
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
**৭,৫৯৫
সৃষ্টিকালে সৃষ্টিরূপা পালনে স্থিতিরূপিণী ॥ ৭০.
প্রলয়ে সংহৃতি রূপা জগতঃ ব্যাপিনী
৭১
মহাবিদ্যা মহামায়া মহামেধাস্মৃতি
মহামােহা মহাদেবী তুমি মহাশূরী ॥
৭২
সকল কারণ তুমি ত্রিগুণ ধারিণী
কালরাত্রি মহারাত্রি সংমােহ রজনী ।
তুমি লক্ষনীশ্বরী লজ্জা বুদ্ধি স্বরূপিনী
৭৪
তুমি পুষ্টি শান্তি বট ক্ষান্তি স্বরূপিনী ।
খড়িগনী শূলিনী ঘােরা গদিনী চক্রিনী
শঙ্ণিী চাপিনী তুমি ভূশণ্ডী ধারিণী ।
সৌম্যা সৌম্যতরা, তার চেয়ে ও সুন্দরী
সকল দেবতা শ্রেষ্ঠা পরম-ঈশ্বরী |}
৭৭
৭৮
ভাবি, ভূত, বর্তমান যে শকতি ধরে
স্বরূপিনী তুমি দেবি ! বর্ণন অতীতে ।।
সৃষ্টিস্থিতি লয়কারী স্বয়ং শ্রীহরিরে
নিদ্রাবশে রেখেছে যে কে তােষিবে তারে।।
৭৯
.
Vy
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
......~~~~~~
আমি বিষ্ণু শিব জন্ম যাহ’তে লভেছে
তােমারে বর্ণিতে পারে কার সাধ্য আছে।
৮০
এই মতে নানাগুণ করিয়া কীর্তন
মােহ জন্মাইতে দৈত্যে করে নিবেদন || ৮১
“অচ্যুতের নিদ্রাভঙ্গ করিয়া ত্বরিত
মহাসুর বধ কাৰ্যে কর প্রণােদিত ৷”
৮২
ঋষি বলিলেন ।
তুষ্ট হয়ে ব্রহ্মাস্তবে দেবী মহামায়া
আবিভূত হইলেন ছাড়ি বিষ্ণু কায়
বিষ্ণু নেত্র আস্ত আদি হৃদি স্থান হতে
বাহিরিয়া দাড়াইল ব্ৰহ্মার গােচরে ॥ ৮৪৮৫৮৬
একাৰ্ণবে অহিশায়ী মুভ জনার্দন
নিদ্রাত্যজি দৈত্যদ্বয়ে করেন ঈক্ষণ৷
৮৭
দুরাত্মা অসুর অতিবীৰ্য্য পরাক্রম
ক্রোধে ব্ৰহ্মবধােদ্যত নেত্র আরক্তিম ||
৮৮
বাহু যুদ্ধে বর্ষব্যাপী পঞ্চাশ হাজার
কাটাইল জনার্দন সংগ্রামে তাহার ।
শ্ৰীশ্রীচণ্ডী।
বলােন্মত্ত মহাসুর মায়া বিমােহিত
বলে “চাহ বর বিষ্ণু তােমার ঈস্পিত”।
ভগবান বলিলেন। ৯২
তুষ্ট হয়ে মােরে যদি দিবে কোন বর
বধ্য:হও এই মাত্র মাগি এক বর
১৪
ঋষি বলিলেন।
৯৭
জগদ্ব্যাপী হেরি জল বঞ্চিত অসুর
বিষ্ণু প্ৰতি কহিলেন বচন মধুর ৷৷
বধ সেই স্থলে
নহে পুত জলে ৷৷
ঋষি বলিলেন ॥
তথাস্তু বলিয়া শঙ্খচক্র গদাধারী
১৮
জঘনে রাখিয়া শির চক্রে ছেদ করি।
১০১
১০২
ব্রহ্মাস্তবে এই মতে দেবীর জনম
প্রভাব ইহার আরাে শােন রাজোত্তম ||
ইতি মার্কণ্ডেয় পুরাণে সাবর্ণিক মন্বন্তরে
দেবী মাহাত্মে মধুকৈটভ বধ।
শ্ৰীশ্রীচণ্ডী
দ্বিতীয় মাহাত্ম।
ঋষি বলিলেন। ১
(যবে) অসুরে মহিষ পতি দেবে পুরন্দর
শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধ হ’ল ভয়ঙ্কর।
দেবসেনা পরাজিল অসুর নিকরে ,
ইন্দ্র পদে অভিষিক্ত মহিষ অসুরে ।
অগ্রে রাখি ব্ৰহ্মা পরাজিত দেবগণ
হরিহর সন্নিধানে করিল গমন।
৪
নিজ পরাজয় তথা অসুর পীড়ণ
যথাযথ ভাবে সব করিল বর্ণন। ৫
“সূৰ্য্য ইন্দ্র বায়ু চন্দ্র সর্বদেব কাজ
কাড়ি নিয়ে স্বর্গে করে অসুর বিরাজ।”
“স্বর্গ হতে দেবগণে তাড়াইয়া দিলে
মানব সদৃশ তাই ভ্রমি মহীতলে ॥”
৭
“কহিনু অসুর চেষ্টা লইনু শরণ
কিমতে বধিবে তায় করহ চিন্তন।”
৮
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
এত শুনি দেবমুখে শম্ভু জনার্দন
করিলা কুটী ক্রোধে ভীষণ আনন৷
৯
ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর কোপিত যখন
বাহিরিল মহাতেজ হইতে আনন।
১০
ইন্দ্র আদি অন্য সব দেব কায়া হতে
আবিভূত মহাতেজ মিলিল তাহাতে ।
জ্বলন্ত পৰ্বত সম ব্যাপ্ত দিণ্ডল
দেখে সব দেবগণ ভীষণ অনল ।
১২
সৰ্ব্বদেব শরীরজ তেজ অতুলন
সংমিলনে নারী মূর্তি করিল ধারণ ॥
শঙ্কুর তেজেতে হৈল তাহার বদন
বিষ্ণুতেজে বাহু যাম্যে কেশ সুচিক্কণ ।
১৪
১৫
চন্দ্রতেজে স্তনদ্বয় ঐন্দ্রে কটিদেশ
বারুণ্যে জঙ্রুে পৃথীতেজে নিতম্ব প্রদেশ ||
ব্ৰহ্মাতেজে পদদ্বয় অর্কেতে অঙ্গুলি
কৌবেরে নাসিকা বসুতেজে করাঙ্গুলি।
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
প্রাজাপত্য তেজে দন্ত সমুৎপন্ন হয়
পাবক তেজেতে হ’ল নয়ন ত্রিতয় ।
সন্ধ্যা তেজে ভুরূদ্বয় অনিলে শ্রবণ
অন্য দেবতার তেজে অপর গঠন ৷
১৮
দেব তেজোদ্ভব নারী করি দরশন
অর-দলিত-দেব আনন্দে মগন ।
শূল হ’তে নিয়া শূল দিলা মহেশ্বর
নিজ চক্ৰ হ’তে চক্র দেন গদাধর।
বরুণ দিলেন শঙ্খ শক্তি হুতাশন
মারুত দিলেন ধনু তুণ সহ বাণ।
বজ্ৰ হ’তে বজ্র নিয়ে সহস্র নয়ন
ঐরাবত-ঘণ্টা-আদি দেন সেইক্ষণ৷
যম দিল কালদণ্ড অঘুপতি পাশ
কমণ্ডলু অক্ষমালা ব্রহ্মার সকাশ।
সৰ্ব্বনােম কূপে রশ্মি দেন দিবাকর
মৃত্যু দেন খড়গ চর্ম অতি তেজস্কর ।
২৪
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
নিরমল হার তথা অজর অম্বর
দিব্য চূড়ামণি আর কুন্তল বলয়
শুভ্র অর্ধচন্দ্র বাহু ভূষণ কেয়ুর
অনুত্তম কণ্ঠভূষা বিমল নুপুর
অঙ্গুল সকলে অঙ্গুরীয়ক সুন্দর
প্রীতিভরে দিল তায় ক্ষীরােদ সাগর ।
২৭
বিশ্বকৰ্ম্মা দিল অতি নিৰ্ম্মল কুঠার
অভেদ্য কবচ অস্ত্র বিবিধ প্রকার।
২৮
অম্লান পঙ্কজ মালা শির বক্ষস্থল
জলনিধি দেন আরাে ক্রীড়ন কমল।
২৯
হিমালয় দিল সিংহ বিবিধ রতন
কুবেরের সুরাপূর্ণ পাত্র বিতরণ |
৩০
অনন্ত নাগাধিপতি বিশ্বের ধারণ
মহামণি নাগহার করে বিতরণ।
ভূষণ আয়ুধ দিলে অন্য দেবগণ
পুনঃ পুনঃ সাট্টহাসে দেবী সেইক্ষণ।
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
ভয়ঙ্কর সে নিনাদে জগত পূরিল
তারচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রতিশব্দ হ’ল ।
৩৩
সংক্ষুব্ধ সকল লােক সমুদ্র কাপিল
মহীধর সহ ক্ষিতি চালিত হইল ৷
৩৪
জয় হৌক দেবি ! দেব আনন্দ গাইল
ভক্তিনত মুনিগণ তাহারে তােষিল ।
৩৫
ত্রিলােক সংক্ষুব্ধ দেখি দেব-অরি যত
উদ্যতাস্ত্র সৈন্য সহ রণে সমুদ্যত ৷৷
আঃ কি হৈল ! ক্রোধে বলি মহিষ অসুর
শব্দ লক্ষ্য করি ধায় সসৈন্যে প্রচুর।
৩৭
পদভরে নতক্ষিতি ( কান্তি ) ব্যাপ্ত ত্রিভুবন
মুকুট গগন স্পর্শী করে নিরীক্ষণ ৷
৩৮
ধনুর্বাণ টঙ্কারেতে কাপায়ে পাতাল
সহস্র ভুজেতে দেবী ব্যাপ্তা দিল ।
নানা সস্ত্রে আলােকরি দিক দিগন্তর
আরভিল যুদ্ধে উ’তে অতি ভয়ঙ্কর।
৪০
শ্রীশ্রীচণ্ডী ।
১৭
চিক্ষুর চামর নামা অসুর সেনানী
চতুরঙ্গ বলম্বিত যুবিল আপনি।
১
ষাট হাজার রথ নিয়ে উদগ্র যুবিল
মহাহনু দৈত্য সনে কোটি রথ ছিল ।
৪২
পাঁচ কোটি রথ সহ অসিলােমানুর
ষষ্ঠিলক্ষে বালাখ্য বুঝিল প্রচুর।
৪৩
শত শত গজ বাজি কোটি রথ লয়ে
যুঝিল পরিবারিত অসুর সমরে।
১১
বিড়ালাক্ষ নামধারী অন্য সেনাপতি
পঞ্চাশত কোটিরথে যুঝিল অরাতি।
৪৫
৪৬
রথ নাগ হয় বৃত অপর অসুর
ঘুঝিল দেবীর সনে সমরে প্রচুর ॥
হাজার হাজার কোটি হস্তী অশ্ব রথে
পরিবৃত ম’সের হইল রণেতে।
৪৭
তােমরে মুসলে কেহ পরশু পটিশে
ভিন্দিপালে খড়েগ কেহ তথা শক্তি পাশে।
৪৮
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
শক্তি অস্ত্র হানি কেহ পাশাস্ত্র অপরে
খড়গাঘাতে দেবী-বধ উপক্রম করে।
৪৯
নিজ শস্ত্র অস্ত্র দেবী করি বরিষণ
অনায়াসে অসুৱাস্ত্র করিল ছেদন ।
অম্লান বদনা দেবী দেবর্ষি তােষিত
দৈত্য দেহে অস্ত্র ক্ষেপি রহে অবস্থিত।
কম্পিত কেশর ক্রোধে দেবীর বাহন
ঘােরে সেনা মাঝে যথা বনে হুতাশন।
যুধ্যমানা ভগবতী ত্যজিলে নিশ্বাস
শত শত সেনাগণ হইল প্রকাশ ।
দেবীর প্রভাবে তারা নানা অস্ত্র ধরি
যুঝিল সমরে বহু সৈন্য নাশ করি ।
৫৪
বাজায় পটহ কেহ শঙ্খধ্বনি করে
মৃদঙ্গ বাজায় কেই সে ঘাের সমরে।
ত্রিশূলে গদায় কিংবা করি খড়গাঘাত
শক্তি অস্ত্রে করে দেবী অসুর নিপাত ।
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
ঘণ্টা শব্দে মুগ্ধ হয়ে ভূমে নিপতিত
পাশ অস্ত্রে বদ্ধার হ’ল আকর্ষিত ।
তীক্ষ খড়গপাতে কারে করিয়া ছেদন
গদাঘাতে মারি কারে করিলা পাতন।
মুষল আঘাতে কার রুধির রমন
শূলে ছিন্ন বক্ষ কার ধরণী শয়ন।
নিরন্তর শরাঘাতে দৈত্য সৈন্যগণ
আসি রণাঙ্গনে করে প্রাণ বিসর্জন ॥ ৬০
কারাে হ’ল ছিন্ন বাহু কানাে গ্রীবাদেশ
ছিন্ন শির হ’ল কারাে ভিন্ন মধ্যদেশ।
ছিন্ন জঘ মহাসুর ধরায় পড়িল
বাহুনেত্র পদ দেবী খণ্ডন করিল।
মুণ্ডের ছেদনে কেহ পড়িয়া ভূতলে
পুনৰ্বার যুঝিবারে উঠিয়া দাড়ালে।
ছিন্ন মুণ্ড অস্ত্র ধরি সমরে যুঝিল
মিলাইয়ে বাদ্যলয় কেহবা নাচিল ।
৬৪
।
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
খড়গ শক্তি ঋষ্টি
হস্তে কার্টিয়া
মুণ্ডন
দেবি ! তিষ্ঠ তিষ্ঠ বলি করে সম্ভাষণ।
নিপতিত রথ নাগ অশ্বে রণস্থল
অসুরের জনতায় অগন্তব্য হ’ল ॥
অসুর সেনার মাঝে হস্ত্য শােণিত
মহানদী প্রায় যেন হ’ল প্রবাহিত।
অসুরের সেনা দেবী ক্ষণে করে ক্ষয়
তৃণ কাষ্ঠ রাশি যথা অনলে নাশয়।
৬৮
মহানাদ করি সিংহ দেবীর বাহন
অসুর দেহের প্রাণ করে নিঃসারণ।
দেবী আর দৈত্য সেনা যুঝিল ভীষণ
স্বর্গে করে পুষ্প বৃষ্টি যত দেবগণ।
ইতি মার্কণ্ডেয় পুরাণে বর্ণিকে মন্বন্তরে দেবী
মাহাত্ম্যে মহিষাসুর সৈন্য বধ |
শ্ৰীশ্রীচণ্ডী।
••
''MAANW15,';
তৃতীয় মাহাত্ম।
ঋষি বলিলেন | ১
নিরখি নিহত সেনা সেনানী চিক্ষুর
ক্রোধে অঙ্গিকার রণে যায় মহাসুর ।
তােয়বর্বে মেঘ যথা গিরি শৃঙ্গোপরে
শরবর্মে তথাসুর ব্যাপিল দেবীরে ।।
আনায়াসে শর দেবী করিয়া ছেদন
তাশ্ব গজ সসারথি করিল নিধন।।
৪
অত্যুন্নত ধ্বজ ধনু করিয়া ছেদন
ধনুর্ধারী দেহে বাণ করিল বিন্ধন। ৫
৬
ছিন্নধনু রথ অশ্ব সারথি বিহীন
খড়গচর্ম নিয়ে ধায় দেবী সম্মুখীন।
হানিয়া সিংহের মাথে খড়গ তীক্ষ্ণ ধার
বেগে দেবী বামভুজে করিল প্রহার ।
পড়িয়া বাহুতে খড়গ ভাঙ্গিল যখন
ক্রোধে শূল নিল নৃপ ! অরুণ লােচন। ৮
৭
રે રે
.
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
আকাশে ভাতিল যাহা রবি বিম্ব প্রায়
সেই শূল ক্ষেপিলেন দেবীর কায়ায়।
নিরখি আগত, দেবী শূল নিক্ষেপিল
শূল সই হার শতধা হইল ।
১০
মহিষের মহাবীৰ্য সেনানী নিহতে
গজারঢ়! চামখ্য আসিল রণেতে ||
দেব। প্রতি শক্তি অস্ত্র করিলে ক্ষেপণ
হুঙ্কারে করিলা দেবী নিষ্প্রভ, খণ্ডন।
ভগ্ন নিপতিত শক্তি নিরখি অসুর
শূল প্রক্ষেপিলে দেবী ভাঙ্গিকরে চুর। ১৩
গজ কুম্ভান্তরে থাকি দেবীর বাহন
তার সনে বাহু যুদ্ধ করিল ভীষণ।
১৪
গজ হতে এসে নেমে উভয়ে তখন
পরস্পর প্রহারেতে করিলেক রণ।
আকাশে উঠিয়া বেগে দেবীর বাহন
করাঘাতে চামরের ছেদিল মুণ্ডন ৷৷
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
h5tWide
শিলাবৃক্ষাদিতে দেবী উদগ্ৰে মারিল
দণ্ডমুষ্টি লাঘাতে কুরালে হানিল ।
গদাপাতে উদ্ধতাখ্য ভিলিতে বাস্কলে
তার অন্ধকে দেবী বাণেতে হানিলে ।
১৮
উগ্ৰাস্য উগ্রবীৰ্য্যাখ্য মহাহনূর,
ত্রিশূলেতে ত্রিনয়না নাশে মহাসুর।
১৯
অসিঘাতে বিড়ালের শিরছেদ করি
দুৰ্দ্ধর দুৰ্ম্ম খ বাণে দেয় যমপূরী।
.
মহিষ অসুর হেরি নিজ সেনা ক্ষয়
মহিষ আকারে ত্রাসে দেব সেনা চয় || ২১
তুণ্ডাঘাত খুরাঘাত লাঙ্গুল তাড়ন
শৃঙ্গে বিদারিয়ে কারে করিল নিধন।
২২
কারে বেগে কারে নাদে ভ্রমণে কাহারে
নিশ্বাস পবনে ফেলে ভূতলে কাহারে ।
প্রথম সেনানী নাশি বধিতে বাহন
বাইলে মহিষাসুর, দেবী রুষ্টা হন।
২৪
২৪
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
খুরক্ষুন্ন মহীতল অসুর কোপিত
ভীমনাদে শৃঙ্গেফেলে অত্যুচ্চ পৰ্বত ।
২৫
সবেগ ভ্রমণে করি মহী বিদারণ
ল আহতে অব্ধি করিল প্লাবন। ২৬
লাঙ্গল
শৃঙ্গে বিদারিয়া মেঘ খণ্ডন করিল
নিশ্বাস অনিলে গিরি ভাঙ্গিয়া পড়িল।
ক্রোধােদ্দীপ্ত আগমন করি নিরীক্ষণ
অসুর বধিতে দেবী হইলা কোপন।
পাশ অস্ত্রে মহার করিলে বন্ধন
মহিষ আকার যুদ্ধে ত্যজি ভক্ষণ ।
২৯'
ধরে সিংহরূপ, দেবী ছেদিলে মুণ্ডন
খড়গহস্তে দেখাদিল পুরুষ ভাষণ ।
খড়গ চৰ্ম্মসহ, বাণে করিলে ছেদন
মহাগজরূপ সেই করিল ধারণ।
শুণ্ডে টানি মহাসিংহে করিলে গর্জন
খগাঘাতে শুণ্ড দেবী করিলা ছেদন।
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
মহাসুর ধরি পুনঃ মহিষ আকার
সংক্ষোভিল চরাচর ত্রিলােক সংসার।
ক্রোধে চণ্ডী অত্যুত্তম মদ করি পান
পুনঃ পুনঃ হাসে দেবী অরুণ লােচন।
৩৪
বলবীৰ্য মদোদ্ধতার করি গরজন
শৃঙ্গ-ক্ষিপ্ত-গিরি করে দেবীতে ক্ষেপণ
কহিতে লাগিলা, তাহা ঢুকরি শরে
মদোদ্ধত মুখরাগ অব্যক্ত অক্ষরে।
দেবী বলিলেন।
৩৭
গর্জ মুঢ় ! মধু পান করি যতক্ষণ
তােমারে বধিলে দেব করিবে গজ্জন।
ঋষি বলিলেন ।
এই বলে উর্ধে উঠে করি আরােহণ
কণ্ঠ ঘেরি পদে, (বক্ষে) শূল করিল বিন্ধন। ৪০
নিজাননে জাতসুর অর্ধ নিমিত
থাকিতে করিলা দেবী বীর্য্যেতে সংবৃত।
২৬
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
অৰ্ধজাত মহাসুর করে যবে রণ
অসিঘাতে মুণ্ডছেদি করে নিপাতন ৷
৪২
হাহাকার করি দৈত্যসেনা পলাইল
অশেষে অমরগণ আনন্দিত হ’ল ||
৪৩
মহর্ষি সহিত দেব চণ্ডীরে তষিল
গন্ধৰ্ব্ব করিল গান অষ্পর নাচিল ।
৪৪
ইতি মার্কণ্ডেয় পুরাণে বর্ণিক মন্বন্তরে দেবী
মাহাত্ম্যে মহিষাসুর বধ ॥
চতুর্থ মাহাত্ম্য।
ঋষি বলিলেন ১।
সসৈন্য মহিষাসুর হইলে নিহত
নত করি গ্রীবা স্কন্ধ যতেক অমর
আনন্দ পুলকজাত চারুকলেবর
তােষিলেন চণ্ডিকায় হইয়ে প্রণত ৷৷ ২
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
.....
সর্বদেব-শক্তিমূলে যেই প্রকাশিত
বিরাজিছ ধরামাঝে দেবাদি পূজিতা
ভকতি হৃদযে মাতঃ করি নমস্কার
সাধহ কল্যাণ দেবি ! দেব সবাকার।
৩
ব্রহ্মা বিষ্ণু শিব আদি যত দেবগণ
করিতে অশক্ত যার মহিমা কীর্তন
নাশিতে অশিব ভয় পালিতে সংসার
করগাে মনন দেবি ! করি নমস্কার ।
৪
লক্ষীরূপে স্থিতা যিনি সুকৃতি ভবনে।
অলক্ষমা স্বরূপা পুনঃ পাপাত্মা সদনে
কৃতধী হৃদয়ে বুদ্ধি শ্রদ্ধা সাধুজনে
সুকুলজে লজ্জারূপা রক্ষ বিশ্বজনে |
কি বর্ণিব চিন্তাতীত এরূপ তােমার
অসুর বিনাশকারী বীৰ্য্য চমৎকার
প্রকটিলে যে চরিত্র দেবাসুরা হবে
অচিন্ত্য বর্ণনাতীত তাই কে বর্ণিবে। ৬
সত্ত্ব রজ স্তমােময়ী জগত কারণ
হরিহর অজানিত (কি) ছার দেবগণ
ર
শ্রীচণ্ডী।
• • • • • •
••••••••••।।।।।।।
সৰ্বারভূতা,বিশ্ব তব অংশভূতা
পরমা প্রকৃতি আদ্যা দেবী অবিকৃতা। ৭
স্বাহা স্বধা দেব যজ্ঞ পিতৃ হবিৰ্দানে
উচ্চারিলে প্রীতি সৰ্ব্বদেব পিতৃগণে
স্বাহা স্বধা অংশ তব অন্য কিছু নয়।
তাই স্বাহা স্বধা বলে তােনাকেই কয় ।
৮
মুক্তির কারণ দেবি! বিদ্যাস্বরূপিণী
চিন্তার্তাতা সুমহতী ঐশ্বৰ্য শালিনী
মােকাম জিতেন্দ্রিয় তাই মুনিগণ
কামক্রোধ ত্যজি তােম চিন্তে অনুক্ষণ। ৯
বেদের আশ্রয় রম্যা শব্দ স্বরূপিনী
বেদ তুমি দেবী তুমি ঐশ্বৰ্য্য শালিনী
বার্তারূপা দেবী তুমি জগত পালিনী
জগতের দরিদ্রতা দুঃখ বিনাশিনী ।
মেধা তুমি সৰ্ব্বশাস্ত্র সার বিজ্ঞায়িণী
দুর্গম সংসারে একা সাগর তরণী
লক্ষীরূপে কৈটভারি হৃদয় বাসিনী
দুর্গা গৌরী তুমি শশি মৌলি বিহারিণী ।
চণ্ডী।
ক্ষীণহাসি নিরমল স্বর্ণকান্তি সম
যে মুখ তােমার দেবি ! পূর্ণচন্দ্রোপম
আশ্চৰ্য্য! মহিষাসুর নিরখি নয়নে
আত্মক্রোধে প্রহারিল সহসা বদনে।
১২।
চন্দ্র কান্তি সম দেবি ! সুন্দর বদন
ক্রোধে যবে হয়েছিল ভৃকুটীভীষণ
মরিল অসুরেন্দ্র করি নিরাক্ষণ
আশ্চর্য ঘটনা বটে আশ্চর্য ঘটন
কোপিত যমের মুখ দরশন করি
বাঁচিতে পারে কি কেই পারে কি না মরি।। ১৩
।
আনুকূলি দেবগণে হয়ে কোপান্বিত
সংহর সংহর দেবি ! অসুরে ত্বরিত
হলে তুমি কোপবর্তী সুবিশাল বল
অসুরের, পাবে নাশ অসুরের দল।
১৪
প্রসন্ন যাহারে তুমি অভীষ্ট দায়িনি।
জনপদ মাঝে হয় সেইতাে সম্মানী
ধন কিংবা যশােরাশি চতুৰ্বর্গ যত
নিরুদ্বিগ্ন পুত্ৰভৃত্য ( দারে) কৃতার্থ সতত ।
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
তব প্রসন্নতা হেতু লােক পুণ্যবান
প্রতিদিন করিতেছে ধৰ্ম্ম অনুষ্ঠান
তাই তারা স্বর্গধাম অধিকারী হয়
লােকয়ে ফলদাত্রী তুমি অসংশয় ।
শঙ্কটে ভয়াজনে করিলে স্মরণ
কর জীব-ভীতিনাশ, কল্যাণ সাধন
শুভ মতি দেও তারে অভয়ে যে ডাকে ।
দরিদ্রতা দুঃখভয় হারিণী চণ্ডিকে !
তুমি বিনা প্রাণিগণ কল্যাণ সাধিতে
দয়াদ্র হইবে চিত্ত কার ধরণীতে।
১৭
হইবে জগতে সুখ অসুর নিধনে
সঞ্চিবেনা পুনঃ পাপ নরক গমনে
সংগ্রামে হইলে হত পাবে দিব্যলােক
তাই দেবি ; সংহারিছ দেবার লােক।
অন্যথা করিলে দৃষ্টি যারা ভত্মসাৎ
তাদের বিনাশ হেতু কেন শস্ত্রাঘাত
শস্ত্রাঘাতে পাবে স্বর্গ জানিয়ে আপনি
করেছ যে বিবেচনা অতি সাধ্বী জানি ।।
ঐশ্রীচণ্ডী ।
উগ্র খড়গ প্রভা, তীক্ষ্ণ কান্তিপুঞ্জ শূল
কেননা হানিল দৃষ্টি দেবারির কুল
অংশুমৎ ইন্দুখণ্ড সম তবানন
নেহারিল তাই দেবি ! না হ’ল পতন।
দুৰ্বত্ত-বৃত্ত-শমন তােমার চরিত
হৃতদেব অসুরের নাশক বিক্রম
বৈরিকুলে যথা দয়া করি প্রকটিত
অচিন্ত্য তুলনাতীত অবর্ণ অসীম।
২১
শক্রয় প্রদা তবরূপ মনােহর
পরাক্রম তব দেবি! উপমা রহিত
হৃদে কৃপা কিন্তু দেবি! সমরে নিঠুর
না হেরিনু ভবে আর এহেন চরিত। ২২
তারিলে অখিল বিশ্ব নাশি অরিকুল
গেল চলি দিব্যধামে সংগ্রাম নিধনে
দেবগণ ভীতিত হইল নিম্মুল
তাই করি প্রণিপাত তােমার চরণে।
শূল, খড়গ ঘণ্টাধ্বনি ধনু-জ্যা টঙ্কারে
করহ পালন দেব। আমা সবাকারে।
২৪
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
আত্ম শূল পরিভ্রমি সৌম্য ঘােররূপে
যাহে বিরাজ ত্রিলােকে
হস্তস্থিত খড়গশূলে দিক্ চতুষ্টয়ে
পালহ দেবতা সবে সহ ধরণীরে ৷ ২৫ || ২৬ || ২৭
ঋষি কহিলেন।
২৮
নন্দন কানন জাত পুষ্প গন্ধার্জিত
হইলা চণ্ডিকা দেবী দেবতা তােষিত ॥ ২৯
ভজিদেয় দিব্যধূপে প্রসন্ন আননে
সম্ভাষিলা চণ্ডী দেবী নত সুরগণে। ৩০
দেবী বলিলেন।
হয়েছি সন্তুষ্টা স্তবে তােমা সবাকার
যাচ দিব সেই বর ঈপ্সিত সবার ।
দেবতাগণ বলিলেন ।
বধিয়া মহিষাসুর করেছ সকল
নাহি আর বাকী কিছু চাহিতে সুফল ।
৩৪
তবু যদি দিবে বর ওগগা মহেশ্বরি !
বিপদে করিও ত্রাণ যবে তােমা স্মরি ।
ঐশ্রীচণ্ডী ।
এই স্তবে যে মানব তােষিবে তােমায়
দিও মা অমলাননে! বিভব নিচয়
বিত্ত ধন দারাস্তুত ঐশ্বৰ্য্য সম্পদ
বাড়াইয়ে দিও তার অম্বিকে ! সতত।
৩৭
ঋষি বলিলেন।
আত্মা আর জগদর্থে করিলে তােষিত
“তথাস্তু” হইবে বলি দেবী অন্তর্হিত।
জগত্ৰয় হিতৈষিনী দেবী পূৰ্বকালে
কহিলাম যথা দেব দেহে জনমিলে।
৪০
শুম্ভ নিশুম্ভাদি দুষ্ট দেবারি নিধনে
দেব উপকার হেতু ত্রিলােক রক্ষণে।
৪১
যেই ভাবে গৌরী দেহে হয় সমতা
শোন বলি যথাবৎ সেসব বারতা 1
ইতি মর্কিণ্ডেয় পুরাণে সাবণিক
মন্বন্তরে দেবী মাহাত্ম্যে মহিষাসুর বধ সমাপ্ত।
৩৪
পঞ্চ মাহাত্ম।
খবি বলিলেন ।
১
মদৰলে যবে শুম্ভ নিশুম্ভ অসুর
হরেছিল যজ্ঞভাগ ইন্দ্রের ত্রিলােক।
২
কুবের বরুণ চন্দ্র আদি দেবতার
কেড়ে নিল সূৰ্য্য যম অগ্নি অধিকার।
তিরস্কৃত ভ্ৰষ্ঠরাজ্য হয়ে পরাভূত
হৃত স্বর্গ স্বাধিকার হইতে বিচ্যুত ।
8
আসিয়া মিলিলা তবে সর্ব দেবগণ
চণ্ডিকার বর প্রতি করিলা স্মরণ।
নাশিবে আপদ সদ্য করিলে স্মরণ
দিয়াছিল এই বর প্রতি দেবগণ ॥ ৬
এইরূপে দেবগণ ভাবিয়া মনেতে
হিমালয়ে গেল চলি দেবীরে তােষিতে। ৭
দেবগণ বলিলেন।
নমাে দেবী মহাদেবী প্রকৃতি কল্যাণী
নমাে দেবী পালয়িত্রী মঙ্গল সাধিনী।
১
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
৩৫
********
•••
•••••
৭.৭** *, '." /
নমাে দেবী রুদ্রা, গৌরী, ধাত্রী রূপধারী
নমে দেবী নিত্যা তুমি জ্যোৎস্না রূপিণী ।
নমাে দেবী ইন্দুরূপা আনন্দ দায়িনী
নমাে দেবী কল্যাণীনি সম্পদ রূপিণী ।
নয় দেবী সিদ্ধিরূপা রাজলক্ষ্মীশ্বরী
অলক্ষীকপিণী দেবী নমো মহেশ্বরী
নমাে দুর্গা ব্রহ্ম রূপা দুর্গম তারিণী
কৃষ্ণ থুরূপা দেবী সকল জননী।
১২
সৌম্যাতি রুদ্র রূপিণী জগত পালিকে ।
দেবমূর্তি ক্রিয়ারূপা নমামি অম্বিকে।
বিষ্ণু মায়ারূপে যিনি সৰ্ব্বভূতে স্থিতা ১৪। ১৫
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা।
১৭।১৮
চিৎরূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা।
বুদ্ধিরূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ২০২১
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা।
শ্রীশ্রীচণ্ডী ।
নিদ্রারূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ২৩া২৪
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা ॥
ক্ষুধারূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ২৬/২৭
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা ।
২৮
ছায়ারূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ২৯৩০
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা ॥
শক্তিরূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ৩২৩৩
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা।
৩৪
তৃষ্ণারূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ৩৫৩৬
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা ।
ক্ষান্তিরূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ৩৮৩৯
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা ।
৪০
জ্ঞাতিরূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ৪১৪২
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা।
৪৩
লজ্জারূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ৪৪৪৫
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দি ।
৪৬
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
শান্তিরূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ৪৭৪৮
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা।
৪৯
শ্রদ্ধারূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ৫০l৫১
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা।
কান্তিরূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ৫৩৫৪
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা।
লক্ষীরূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ৫৬৫৭
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা।
বৃত্তিরূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ৫৯৬০
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা
স্মৃতিরূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ৬২৬৩
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা।
৬৪
দয়ারূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ৬৫৬৬
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা ||
তুষ্টিরূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থি ৬৮৬৯
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা।
৩৮
শ্ৰীশ্রীচণ্ডী।
মাতৃরূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ৭১৭২
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা।
৭৩
ভ্রান্তিরূপে যেই দেবী সর্বভূতে স্থিতা ৭৪৭৫
প্রণমামি মাহেশ্বরী মায়েতি শব্দিতা।
পঞ্চভূত দশেয়ি অধিষ্ঠাত্রী তুমি
সকল জীবেতে ব্যাপ্ত চণ্ডিকে ! নমামি ।
৭৭
চিৎরূপে যিনি সর্বভূতের আধার ৭৮৭৯
নমস্কার করি য় করি নমস্কার ।
দেবাসুর রণে যিনি দেবতা সংস্তুতা
প্রতিদিন হন যিনি সুরেন্দ্র সেবিতা
উদ্ধত দৈত্য তাপিত দেবতা, যাহার
ভকতি বিনম্র দেহে করে নমস্কার
স্মরণে বিপদ রাশি বিনাশ কারণ
হোক তিনি শুভদাত্রী বিপদ বারণ ।
دساادنیا
ঋষি বলিলেন।
(রাজ) এইরূপে স্তব যবে করে দেবগণ
স্নান হেতু জাবীতে দেবীর গমন।
৮৪
শ্রীশ্রীচণ্ডী ।
কাহার এস্তব কর করিলে জিজ্ঞাসা
দেবী দেহ সমুদ্ভূতা বলিলেন শিবা।
“শুম্ভ নিশুম্ভের রণে হয়ে পরাজিত
মােরে স্তব করিতেছ দেব সমবেত”।
৮৬
পাৰ্বতী শরীর কোষ হতে সমুদ্ভুত
কৌষিকী বলিয়া তাই ভুবনে বিখ্যাতা ॥ ৮৭
কৌষিকীর আবির্ভাব হইল যখন
হিমাচল কৃতাশ্রয়া পার্বতী তখন
কৃষ্ণবর্ণে দেখা দিলা হয়ে আবির্ভূত
কালিকা নামেতে তাই সংসারে আখ্যাত।
ধরিয়া সুন্দর রূপ কৌষিকী রহিল।
চণ্ডমুণ্ড ভৃত্য আসি তাহারে দেখিল ৪
বলিল তাহারা আমি শুম্ভ মহারাজে
হিমাচল শােভমানা কে নারী বিরাজে। ৯০
অত্যুত্তম রূপ কেহ দেখেনি কখন
জান এই নারী কেবা করহ গ্রহণ ॥ ৯১
৪০
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
৯২
দিঘণ্ডল উদ্ভাসিয়া স্ত্রীর সুন্দরী
রয়েছে দেখিতে যােগ্য হয় দেবতারি ।।
প্রভো) ত্রিলােকের শ্রেষ্ঠ হস্তী অশ্ব রত্ন মণি
শােভিছে তােমার গৃহে কত মহামণি ।
ইন্দ্র হতে আনিয়াছ গজ ঐরাবত
উচ্চৈঃশ্রবা হয় আর তরু পারিজাত।
৯৪
হংসযুক্ত অত্যত ব্ৰহ্মার বিমান
রয়েছে শােভিয়া তব আপন প্রাঙ্গন । ৯৫
কুবেরের মহাপদ্ম নিধি হয়েছে আনীত
কিঞ্জল্কিনী পদ্যমালা সাগর অর্পিত।
স্বর্ণস্রাবি (বরুণ) ছত্র, প্রজাপতি শ্রেষ্ঠ রথ
শােভিতেছে তব গৃহে অতি মনােহর।
৯৭
যমের ( উৎ) ক্রান্তিদা শক্তি এনেছ হরিয়া
বরুণের পাশ, সর্ব সাগর রতন
ঝলসিছে নিশুম্ভের বাহুতে শােভিয়া ৯৮
দিয়াছে অগনি তব অদাহ্য বরণ ॥ ৯৯
শ্রীশ্রীচণ্ডী
৪ ১
(দৈত্যেন্দ্র !) অন্য যত সৰ্বশ্রেষ্ঠ এনেছ রতন
কল্যাণী এ রত্ন কেন না কর গ্রহণ। ১০০
ঋষি বলিলেন।
শুনিয়া বচন শুম্ভ চণ্ড মুণ্ড মুখে
পাঠাইল সুগ্রীবেরে দেরীর সম্মুখে ।
দেবীকে বলিবে যথা বলিনু আপনি
বাতে প্রীতি সহ আসে করিবে তেমনি ॥ ১০৩
গেল দূত যথা দেবী সুন্দর প্রদেশে
কহিতে লাগিল মৃদু সুমধুর ভাষে।
দূত বলিলেন ।
১০৫
( দেবি !) ত্রিলােকের অধিপতি শুম্ভ মহারাজ
পাঠাইল দূত মােরে তােমার সকাশ | ১০৬
যার আজ্ঞা দেবগণে রহে অব্যাহত
যার তরে দেবগণ রণে পরাজিত
যে বারতা লয়ে মােরে করেছে প্রেরণ
অশেষে কহিনু সব করহ শ্রবণ | ১০৭
৪২
শ্রীশ্রীচণ্ডী
সমস্ত ত্রিলােক মম দেব মম বশে
সৰ্ব্ব যজ্ঞভাগ অশেষ বিশেষে।
১০৮
“ত্রিলােকের শ্রেষ্ঠ গজ মানিক রতন
বশীভূত আছে মম সুরেন্দ্র বাহন ||
“সাগর মন্থনে দেব যে অশ্ব রতন
লভেছিল, তাও মােরে করেছে অর্পণ ॥ ১১০
“দেব গন্ধৰ্ব্ব উরগে যা কিছু রতন
সকলি আমার বশে হয়েছে এখন ।
১১।
“রত্নভুজ বলি মােরা জানে সৰ্ব্বজন
স্ত্রীর সুন্দরি ! কর মােদেরে গ্রহণ ॥ ১১২
(চঞ্চলা পাঙ্গি!) লােক মাঝে তুমি বট রমনী রতন
ভজ মােরে কিংবা কর নিশুম্ভে বরণ। ১১৩
অতুল ঐশ্বর্যে রবে করিলে গ্রহণ
তাই বিবেচিয়া কর আমাকে বরণ।
১১৪
ঋষি বলিলেন ||
১১৫
জগদ্ধাত্রী দেবী শুনি দূতের বচন
সুগম্ভীর মৃদু হাসে কহিল তখন।
১১৬
শ্রীচণ্ডী।
৪৩
\/WA
দেবী বলিলেন || ১১৭।
(হে দূত !) শুম্ভ নিশুম্ভের কথা যে বলিলে তুমি
ত্রিলােকের অধিপতি জানি সত্য আমি ।
১১৮
শােন দূত) ক্ষীণমতি শিশুকালে যে করেছি পণ
কি করিয়া মিথ্যা তাহা করিব এখন ॥
১১৯
দর্প নাশ করি যিনি জিনিবেক রণ
তুল্য বলশালী তায় করিব বরণ । ১২০
যে হয় তাদের শীঘ্র আসি একজন
জিনিয়া সংগ্রামে মােরে করুক গ্রহণ।
দূত বলিলেন। ১২২
গৰ্ব না করিও দেবী! কে আছে ত্রিলােকে
দাড়াইতে সাধ্য কার দেবারি সন্নিধে ॥ ১২ত
ত্রিদশ দাড়াতে নারে যার দৈত্য রণে
যাইবে শুম্ভের পাশ একাকী কেমনে ।
১২৪
ইন্দ্রাদি তিষ্টিতে নারে যাহার সংযুগে
কেমনে অবলা তুমি যাইবে সম্মুখে ।
১২৫
৪৪
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
কেশাকর্ষণ অগৌরব হইবে তােমার
নাহি যদি যাও তথা বচনে আমার ।
দেবী বলিলেন ৷ ১২৭
সত্য বটে শুম্ভ আদি অতি বলবান
কি করি করেছি পণ না করে চিন্তন।
১২৮
যা বলিনু কহ যেয়ে অসুরেন্দ্র প্রতি
করিবেন যুক্ত যাহা দৈত্য অধিপতি।
ইতি মার্কণ্ডেয় পুরাণে সাবর্ণিক মন্বন্তরে দেবী
মাহাত্মে দেবীর দূত সংবাদ।
ষষ্ঠ মাহাত্ম।
ঋষি বলিলেন।
১
শুনিয়া দেবীর বাণী ক্রোধেতে বিহবল
আসিয়া বলিল নৃপে বৃত্তান্ত সকল ৷
২
দূত মুখে শুনি কথা সক্রোধে দেবারি
সম্বােধিয়া বলে দৈত্যে ধূম্র নাম ধারী।
শ্রীশ্রীচণ্ডী
।
যাও ধূম! সৈন্য সহ যাও শীঘ্র করি
কেশাকৰ্ষি নিয়ে এস সেই দুষ্টা নারী।
৪
দেব, যক্ষ, গন্ধৰ্ব্ববা পরিত্রাণে তার
নাশিবে, আসিবে যেই, সম্মুখে তােমার।
ঋষি বলিলেন ।
৬
পাইয়া আদেশ দূত ধূম্র নাম ধারী
ছ’অযুত সেনা নিয়ে গেল শীঘ্র করি।।
৭
হিমাচল নিবাসিনী দেখিয়া দেবীরে
উচ্চভাষে বলে দূত তথা যাইবারে । ৮
“প্রীতিতে যদি না যাবে প্রভুর সদনে
বল করি নিব কেশাকর্ষণ পীড়ণে” ।
৯
দেবী বলিলেন ।
দানব প্রেরিত
সৈন্যে পরিবৃত
তুমি নিজে বলধারী,
যদি বল করে নিয়ে যাবে মােরে
বল কি করিতে পারি ।
৪৬
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
.
ঋষি বলিলেন।
১২
শুনি কথা, দেবী প্রতি হইলে ধাবিত
হুঙ্কারে করিলা দেবী ধূয়ে ভস্মীভূত ॥
অরের মহাসৈন্য ক্রোধ সহকারে
শক্তি আদি তীক্ষ্ণ বাণ হানিল দেবীরে ।।
১৫
দেবীর বাহন সিংহ কম্পিত-কেশর
পড়ি ক্রোধে উচ্চনাদে দৈত্য সেনােপর। ১৫
কারে কর-প্রহারেতে বদনে কাহারে
আক্রমিয়া মহাক্রোধে বধিল অসুরে।
নখেতে বিদীর্ণ করে:উদর কাহার
তলাঘাতে ছিন্ন শির করিল তাহার ।
ছিন্ন বাহু শির, সিংহ করিয়া অপরে
উদর শােণিত পান করিল বিস্তরে ।
এইরূপে ক্ষণকালে কোপিত বাহন
অসুরের বল যত করিল নিধন । ১৯
।
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
৪৭
At/}
দেবী করে ধূম্র বধ সিংহ বলক্ষয়
শুনি দৈত্য অধিপতি কোপান্বিত হয়।
কম্পিত অধরে ডাকি চণ্ড মুণ্ডারে
আদেশ করিল কত অশেষ প্রকারে।
চণ্ড ! মুণ্ড ! হয়ে বহু সৈন্যে পরিবৃত
যাও তথা আন সেই নারীকে রিত।
২২
এনাে কেশেধরি কিংবা করিয়া বন্ধন
সংশয়ে, করিও সবে অস্ত্রে প্রহরণ।
হত প্রায় হলে দুষ্টা, সিংহেরে মারিয়া
বেঁধে নিয়ে অম্বিকারে আসিবে চলিরা |
২৪
ইতি মার্কণ্ডেয় পুরাণে সাবর্ণিক মন্বন্তরে দেবী
মাহাত্মে শুম্ভ নিশুম্ভ সেনানী ধূম্রলােচন বধ।
সপ্তম মাহাত্ম।
ঋষি বলিলেন ।
১
আজ্ঞা পেয়ে চণ্ড মুণ্ড আদি দৈত্যগণ
অস্ত্র সহ চতুরঙ্গে করিল গমন।
২
৪৮
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
**************
সুবৰ্ণ শৈলেন্দ্র শৃঙ্গে কেশরী-বাহন
মৃদু হাসি চণ্ডিকারে করিল ঈক্ষণ।
৩
বাণ অসি ধরি করে ধরিতে উদ্যত
আসিলা নিকটে তার অসুর উদ্ধত ৷৷
৪
তা দেখি অরির প্রতি কোপিত ভীষণ
মসীবর্ণ হ’ল কোপে দেবীর বদন।
অসি পাশ ধারী কালী করাল বদন
ললাটেতে জনমিল, কুটী ভীষণ ॥
বিচিত্র যষ্টিধারিনী নরমালা বিভূষণা
ব্যাঘ্ৰ চৰ্ম্ম পরীধানা শুষ্ক মাংসাতিভীষণ ॥
ভীতীপূর্ণ লােলজিহ্বা অতি বিস্তার বদনা
নাদে পূর্ণ দিgণ্ডলা নিমগ্নাক্ত নয়।
হারিয়া মহাসুরে পড়ি ক্ষিপ্র গতি
ভক্ষণ করিলা সেনা ত্রিদশ অরাতি।
পার্ষি গ্রাহাঙ্কুশ গজ যুদ্ধ ঘণ্টাধারী
দিলা সব মুখে ফেলি এক হস্তে ধরি ।
শ্রীশ্রীচণ্ডী ।
snow
vinnum
অশ্ব সহ অশ্বারােহী সরথ সারথি
দশনে চৰ্ব্বন করে মুখে ফেলি অতি ।
কারে ধরি কেশে কারে ধরি গ্রীবাদেশে
পদাঘাতে মারি কারে মর্দিলা উরসে # ।
১২
নিক্ষিপ্ত অসুর শস্ত্র মহা অস্ত্রগণ
মুখে ধরি ক্রোধে কৈ’লা দন্তেতে চূর্ণন ।
মহাবল অসুরের যত সৈন্যগণ
ভক্ষণ, মর্দন কিংবা করিলা তাড়ণ ।
খট্টাঙ্গে তাড়িলা কারে অসিতে হানিলা
দন্তাঘাতে হত কৱি অসুর নাশিলা ।
ক্ষণ মধ্যে দৈত্যবল হেরিয়া নিধন
ধাইল কালীর প্রতি চণ্ড সেইক্ষণ৷
শরবর্ষে চার চক্রে মুণ্ডবীর
আচ্ছাদিল ত্রিনয়না দেবীৱ শরীর।
প্রবেশিয়া চক্রগুলি দেবীর বদন
মেঘমাঝে অর্কবিম্ব শােভিল যেমন |
১৮
উরসেবক্ষে।
শ্রীশ্রীচণ্ডী
রােষে ভীম হাসে কালী ভৈরবনাদিনী
দংষ্ট্ৰোজ্জ্বল ভীমব। দুর্দর্শ দন্তিনী।
হং শব্দেতে অসি নিয়ে চওে ধেয়ে গেল
কেশে ধরি শির তার তখনি ছেদিল ।
চণ্ড হত দেখি মুণ্ড দেবী প্রতি ধায়
দেবী খড়গাঘাতে সেও পড়িল ধরায় ।
হত চণ্ডমুণ্ডে দেখি অন্য সৈন্যগণ
ভাত হয়ে চারিদিকে করে পলায়ন।
২২,
চণ্ড মুণ্ড শির কালী করিয়া গ্রহণ
উচ্চহাসে চণ্ডী প্রতি কহিলা তখন
যুদ্ধ যজ্ঞে মহাপশু দিনু উপহার
শুম্ভ নিশুম্ভকে নিজে করহ সংহার ।
২৪
খাষি বলিলেন।
২৫
মহাসুর শির সহ হেরি কালিকারে
কল্যাণী চণ্ডিকা কহে সুমধুর সুরে ।
শ্রীশ্রীচণ্ডী ।
চণ্ড মুণ্ড শির নিয়ে এলে যেই হেথা
চামুণ্ডা বলিয়া লােকে হইবে বিখ্যাতা ॥
২৭
ইতি মার্কণ্ডেয় পুরাণে সাবর্ণিক মন্বন্তরে
দেবী মাহাত্ম্যে চণ্ড মুণ্ড বধ ।
অষ্টম মাহাত্ম্য।
ঋষি বলিলেন ।
সেনা সহ চণ্ড মুণ্ড হইলে নিহত
বহু সৈন্য ক্ষতি হেতু কোপাবিষ্ট চিত।
অসুরের অধিপতি শুন্ত বলবান্
যুদ্ধার্থে সকল সেনা করে আজ্ঞাদান ।
সড়শীতি দৈত্য সেনা বহু সৈন্যেবৃত
চৌরাশী কম্বুক তথা যাউক ত্বরিত ।
১
পঞ্চাশত কোটি বীৰ্য্য শত ধৌ সেনা
কালকা দৌহৃতা মৌৰ্য্যা কালকেয়াসুরা
শীঘ্র করি মমাদেশে যুদ্ধের কারণ
হইয়া সজ্জিত সবে করুক গমন ।
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
৭
আজ্ঞা করি এই মতে ভৈরব-শাসন
বহুসেনা নিয়ে শুম্ভ করিল গমন।
নিরখি আসিতে শুম্ভ সেনানী ভীষণ
জ্যাশব্দে করিলা দেবী পূরিত ভুবন।
নৃপ :) মহানাদ করিলেক দেবীর বাহন
ঘণ্টা শব্দে দেবী তায় করিলা বর্ধন।
৮
দিষ্মণ্ডল ব্যাপী নাদে বিস্তারি আনন
টাদির শব্দ কালী করিলা হনন ৷
শুনি ক্রোধে ভীমশব্দ দৈত্য সৈন্যগণ
দেবী, সিংহ, তথা কালী করিল বেষ্টন।
ভূপ!) সুরদ্বেষী বিনাশিতে এহেন সময়ে
সাধিতে কল্যাণ শ্রেষ্ঠ দেবতা নিয়ে
ব্রহ্মা বিষ্ণু গুহেশাদি ইন্দ্র দেবতার
দেহজাত শক্তিগণ স্বরূপে আকার
যাহার যেমন রূপ ভূষণ বাহন
সেইভাবে রণ ভূমে করিলা গমন। ১২১৩১৪
অক্ষসূত্র কমণ্ডলু হংসযুক্ত রথে
প্রথমে ব্রহ্মার শক্তি ব্রহ্মাণীখ্যাতিতে। ১৫
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
M
VV JV১\\\• • • • • •
ত্রিশূল বরধারিণী অর্ধচন্দ্র, বিভূষণ
বৃষারূঢ়া মাহেশ্বরী অহিবলয় শােভনা ৷
কৌমারী কার্তিকাকৃতি ময়ূর বাহনা
আসিলা রণেতে শক্তি-হস্তা বরাননা।
১৭
আসিলা বৈষ্ণবী শক্তি গরুড় বাহনে
শঙ্খ চক্র গদা ধনুঃ খড়গ অস্ত্র সনে । ১৮
হরির বাহন নামে যক্ষ্মীয় মূরতি
বরাহ রূপেতে এলাে ভঁহার শকতি ।।
উৎপাটিয়া তারা যেন কেশর আঘাতে
নারসিংহী শক্তি এলাে নৃসিংহ রূপেতে ৷
সহস্র নয়না ঐন্দ্রী গজরাজোপরে
বজ্র হস্তে গেল রণে শক্ররূপ ধরে ।
দেবশক্তি পরিবৃত কহিল ঈশান
(চণ্ডিকে !) মম প্রীতিকর কর অসুর নিধন ॥ ২২
শিবাশত নিনাদিনী ক্রুদ্ধাতি বিহলা
দেবী দেহ হতে দেবী চণ্ডী বিকাশিলা ।
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
খুজট শিবে দেবী' কহিলা ডাকিয়ে
শুম্ভাদির পাশে যেতে দূতরূপী হয়ে ॥ ২৪
গর্বিত দানবপতি শুম্ভ নিশুম্ভরে
বলিও যুদ্ধার্থ যত অন্য দানবেরে ।” ২৫
“যাইতে পাতালে যদি বাসনা জীবনে
ত্রিলােক ইকে, হবি দিয়ে দেবগণে।” ২৬
“বল গর্বে যদি চাহ যুদ্ধ করিবার
দানব পিশিতে তৃপ্তি হইবে শিবার।” ২৭
যথা দেবী করে শিবে দূতত্বে নিয়ত
তাই শিবদূতী বলি ভুবনে বিখ্যাত।
শিব মুখে দেবী-বাণী শুনি দৈত্যগণ
রােষ ভরে দেবী পাশে করিল গমন।
প্রথমেই ক্ষেপি শর শক্তি অস্ত্র যত
সক্রোধে অসুর করে দেবীকে বিব্রত।
অজ্ঞর নিক্ষিপ্ত শর শূল চক্ৰ কুঠারি
ধনুর্বাণে দিলা দেবী খণ্ড খণ্ড করি । ৩১
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
•
করি শূলে বিদারণ খাঙ্গে মর্দন
শুম্ভার পাশে দেবী করে বিচরণ।
যে স্থলে ব্রহ্মাণী যান কমণ্ডলু জল
নিকেপি অসুরে করে নিস্তেজ নিৰ্বল ।
ত্রিশূলেতে মাহেশ্বরী বৈষ্ণবী চক্রেতে
হানিলা দানব, ক্রুদ্ধ কৌমারী শক্তিতে।
৩৪
ঐন্দ্ৰীৱ কুলিশ পাতে ঃ বিদারিত শত
রুধির বমন করি ভূতলে পতিত ।
৩৫
বিদীর্ণ হৃদয় দন্তে, তুণ্ডে বিতাড়িত
চক্ৰে বিদারিত হয়ে ভূতলে শায়িত।
খাইল কতেক, নখে চিরিয়া অন্যেরে
ভীমনাদে নাৱসিংহী সমরে বিচরে।
অট্টহাসে শিবদূতী করিয়া নিধন
ফেলিয়ে ভূতলে করে অসুর ভক্ষণ ।
দেখি ক্রুদ্ধ মাতৃগণে অসুর মর্দন
দেবতারি সেনা যত করে পলায়ন ।
কুলিশপাতে== বজ্রাঘাতে ।
f
শ্রীশ্রীচণ্ডী
*. ।
মাতৃগণাৰ্দিত সেনা দেখি পলায়ন
ক্রোধে রক্তবীজ করে যুদ্ধে আগমন।
৪৩
যাহার শােণিত বিন্দু পড়িলে ভূতলে
সমকায় মহাসুর জন্মে সেইকালে
৪১
গদাপাণি মহাসুর ঐন্দ্রীর সমরে
বিতাড়িত ইন্দ্ৰ বজে শােণিত উদগারে ॥
শােণিত পতনে তার তুল্য পরাক্রম
উপজিল মহাসুর অতুল বিক্রম।
৪৩
যত বিন্দু রক্তপাত হইল তাহার
সমবীৰ্য্য মহাসুর জন্মে পুনৰ্ব্বার ॥
৪৪
শােণিত-সম্ভব সেই মহাসুরগণ
ভীম অস্ত্রে যুদ্ধ করে সহ মাতৃগণ।
৪৫
বজ্রপাতে মুণ্ড যবে হইলে নিহত
শােণিত প্রবাহে জন্মে পুনঃ শত শত। ৪৬
বৈষ্ণবী সমরে চক্রে করিলে হনন
গদাঘাতে ঐন্দ্রী তায় করিল তাড়ণ ॥ ৪৭
৫৭
বৈষ্ণবীর চক্রাঘাতে রুকির সম্ভব
সহস্র সহস্রাসুরে আবরিল ভব ।
৪৮
অসিতে বারাহী শক্তি অস্ত্রেতে কৌমারী
ত্রিশূলে হানিলা রক্তবীজে মাহেশ্বরী।
৪৯
মহাসুর রক্তবীজ কোপবিষ্ট মনে
একে একে হানে গদা সৰ্ব্ব মাতৃগণে ॥
শক্তি শূলাদিতে স্বয়ং হইলে আহত
রক্তপাতে পুনঃ জন্মে দৈত্য শত শত ৷৷
অসুর শােণিত জাত অসুরে ভুবন
পরিব্যাপ্ত দেখি, ভীত হ’ল দেবগণ ॥ ৫২
ত্রিদশে বিষন্ন হেরি রণে ত্ৰস্তা কালী
সম্বােধিয়া চামুণ্ডায় বলিলেন বাণী ।
(চামুণ্ডে !) ব্যাদানিয়া মুখ তব কর রক্ত পান
শস্ত্রাঘাত নিপতিত রক্ত সম্ভাবিত
মহানুর জাত যত করহ ভক্ষণ
বিচরণ কর রণে হইবে ক্ষয়িত ॥ ৫৪৫৫
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
ক্ষীণ রক্ত হবে ওরা করিলে ভক্ষণ
জন্মিবে পুনঃ দৈত্য করিবারে রণ ||
এত বলি দেবী তারে শূলেতে বিন্ধিলা
রক্তবীজ-রক্ত কালী বদনে ধরিলা । ৫৭ ।
গদামারে রক্তবীজ চণ্ডিকার গায়
কিছুমাত্র ব্যাথা নাহি দেবী তাহে পায় ।
আহত অসুর হ’তে রক্ত পড়ে যত
চামুণ্ডা বদন পাতি পান করে তত।
রক্তপাতে কালীমুখে যেই দৈত্য হয়
রক্তবীজ সহ রক্ত খায় সমুদয় ।
রক্তপীত রক্তবীজে মারি শূল বাণ
অসিবজ ষ্ট্যাদিতে নাশিলা পরাণ ।
রক্তবীজ মহাসুর বক্তশূন্য হ’ল
শাহত হয়ে ভূপ! ভূতলে পড়িল ।
৬২
ঋষ্টি = অস্ত্রবিশেষ।
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
(নৃপ !) অতুল আনন্দে ভাসে যত দেবগণ
রক্তপানে মদোন্মত্ত নাচে মাতৃগণ।
ইতি মার্কণ্ডেয় পুরাণে বর্ণিক মন্বন্তরে দেবী
মাহাত্মে রক্তবীজ বধ ॥
নবম মাহাত্ম্য।
রাজা বলিলেন ।
১
মাহাত্ম্য দেবী-চরিত অসুর নিধন
যে কহিলে ভগবন্ ! বিচিত্র কথন। ২
রক্তবীজ নিপাতনে নিশুম্ভ কোপন
কি করিলে শুম্ভ পুনঃ শুনিতে মনন ||
ঋষি বলিলেন। ৪
বহু সেনা সহ রক্তবীজের পতন
নিরখি নিশুম্ভ শুম্ভ হইল কোপন। ৫
মহাসৈন্য হেরি হত নিশুম্ভ ক্লোপন
মুখ্য সেনা সহ রণে করিল গমন। ৬
শ্রীশ্রীচণ্ডী
অগ্রে পৃষ্ঠে পার্শ্বে তার দৈত্য ক্রোধভরে
দংশি ওষ্ঠপুট যায় দেবী বধিবারে ।
নিজ সৈন্য পরিবৃত শুম্ভ বলবান
যুবি মাতৃগণে ধায় চণ্ডী সন্নিধান।
৮
দেবী সহ শুম্ভাদির অতিভীম রণ
শরবর্ষ হয় যেন মেঘ বরিষণ ॥
৯
নিজবাণে অসুরাস্ত্র করিয়া খণ্ডন
শুম্ভাদিরে শস্ত্রে দেবী করিলা তাড়ণ।।
সুশাণিত খঙ্গ দীপ্ত চৰ্ম্ম করে ধরে
দেবীর বাহন শিরে নিশুম্ভ প্রহারে !
১।
সিংহাহত হেরি দেবী খুরপ্ৰে,তখন
অষ্টচন্দ্ৰ চৰ্ম্ম, অসি করিলা খণ্ডন।
১২
খড়গ চৰ্ম্ম হলে ছিন্ন শক্তি নিক্ষেপিল
হেরি তাহা মহাদেবী চক্রে দ্বিখণ্ডিল ।
কোপিত দানব তবে শূল নিক্ষেপিল
মুষ্টিপাতে দেবী তাহা চূর্ণ করি দিল।
১৪
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
আঘূর্ণিত গদা দৈত্য ক্ষেপে চণ্ডিকায়
দেবীর ত্রিশূলে কিন্তু ভস্ম হয়ে যায়।
হস্তেতে পরশু নিয়ে দানব আসিলে
দেবী-বাণে হ’ল হত, পড়িল ভূতলে ৷
নিশুম্ভ ভীম বিক্রম হইলে নিহত
দেবীকে নাশিতে গেল শুম্ভ কোপান্বিত।
রথে চড়ি অষ্টহস্তে দীর্ঘাস্ত্র ধরিয়া
রহিলেক সুশােভিত আকাশ ব্যাপিয়া ।।
১৮
নিরখি আগত, দেবী করিল বাদন
শঙ্খ ঘণ্টা ধনুর্বাণ অতীব ভীষণ ।
ঘণ্টাশব্দে দিgণ্ডল আপূরিত করি
দানব সেনার তেজ দিল ক্ষয় করি ।
২০
বিদূরিত গজমত্ত নাদেতে বাহন
স-আকাশ দশদি পূরিল ভুবন ||
আকাশে উঠিয়া কালী পৃথিবী তাড়িল
করতালি শব্দে পূৰ্ব শব্দ নিবাড়িল ।
২২
# rণ্ডী ।
অশিব অট্টাট্ট হাসে হাসি শিবদূতী
ত্রাসিলা অসুরে যত, ক্রুদ্ধ শুম্ভ অতি ৷৷
তিষ্ঠ তিষ্ঠ দুরাত্মন্ ! বলিলে অম্বিকা
জয় জয় শব্দ করে আকাশে দেবতা।
২৪
আমি শুম্ভ ভীম শিখা শক্তি নিক্ষেপিল
উল্কাবাণে অগ্নিজ্যোতি দেবী নিবারিল ।
২৫
(জ) শুম্ভনাদ পরিব্যাপি সমস্ত ধরণী
ভীম প্রতিঘাত শব্দে জিনিত আপনি।
দেবী ক্ষিপ্তবাণ শুম্ভ দেবী শুম্ভ-শরে
আপন শরেতে শত শত খণ্ড করে ।
২৭
শূলের আঘাতে, চণ্ডী অতি কোপবতী
মুচ্ছিত ভূতলে পড়ে শুম্ভ নরপতি।
নিশুম্ভ চেতনা লভি ধরি নিজ শর
বিন্ধিলা দেবীর দেহ, বাহন কেশর। ২৯
দিতিজ* দানবাযুত বাহু প্রসারিয়া
চক্র অস্ত্রে চণ্ডিকারে রাখে আচ্ছাদিয়া !
* দিতিজ = নিশুম্ভ
শ্রাশচ'।
দুগাত্তি নাশিনী দুর্গা ক্রোধে স্বীয়বাণে
দৈত্য ক্ষিপ্ত চক্ৰবাণ কাটে সেইক্ষণে।
সেনা পরিবৃত দৈত্য চণ্ডীকে বধিতে
গদা নিয়ে গেল ধেয়ে ক্ষিপ্র গতিতে।
শিত-ধারণ খগে-দেবী সে গদা কাটিল
শূল অস্ত্র নিয়ে দৈত্য অবস্থিত হ’ল ।
শূল হস্তে সমাগত নিশুম্ভ অরিরে
আপন শূলেতে চণ্ডী বিন্ধিলা হৃদয়ে।
৩৪
জনমিয়া হৃদি হতে পুরুষ ভীষণ
“তিষ্ঠ তিষ্ঠ” বলে দেবি ! করে সম্বােধন।
উচ্চহাস্য করি দেবী নির্গত অসুরে
পাতিল ভূতলে খড়েঙ্গ শিরচ্ছেদ করে ৷৷ ৩৬
দন্তেক্ষত গ্রীবাদেশ, দেবীর কেশরী
ভুঞ্জিল অসুর, অন্য কালী শিবদূতী। ৩৭
* শিত-ধার = অত্যন্ত ধারাল
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
কৌমারী শক্তিতে হত, (মন্ত্রপূত) ব্রহ্মাণীর জলে
নিবারিত মহাসুর সব পলাইলে।
মাহেশ্বরী শূল তথা বারাহী (তুণ্ড) আঘাতে
ছিন্ন চূর্ণীকৃতার পড়িল মহীতে।
ঐন্দ্রীহস্ত-বজে কেহ বিষ্ণু-চক্রে পরে
খণ্ড খণ্ড হ’ল যত দানব সমরে । ৪ ০
হইল বিনষ্ট কত ভয়ে পলাইল
কালী শিবদূতী, সিংহ অপরে খাইল।
৪১
ইতি মার্কণ্ডেয় পুরাণে বর্ণিক মন্বন্তরে
দেবী মাহাত্ম্যে নিশুম্ভ বধ সমাপ্ত।
দশম মাহাত্ম।
ঋষি বলিলেন। ১
প্রাণ সম ভ্ৰাতা হেরি সসৈন্যে নিহত
কোপান্বিত শুস্কাসুর বলে এই মত ।
২
শ্রীশ্রীচণ্ডী
বলগৰ্ব দুষ্টে দেবি ! গরব না কর
পর বলাশ্রয়ে যুদ্ধে অভিমান কর ।
দেবী বলিলেন ।
৪
{ রে দুষ্ট চেয়ে দেখ !)
“জগতে একাকী আমি কে আছে অপর
আমাতেই প্রবেশিছে বিভূতি আমার।”
ব্ৰহ্মাণী প্রমুখ যত দেবশক্তিগণে
প্রবেশিল দেবী-দেহে, দেবী একা রণে ॥
৬
দেবী বলিলেন।
৭
প্রকাশি বিভূতি মম বহুরূপধারী
(স্থিরহও !) দেখ রণে একা আমি সেরূপ সংহারি।
ঋষি বলিলেন। ৯
সৰ্ব দেবার মাঝে অতীব ভীষণ
প্ৰবৰ্ত্তিল দেবী শুম্ভ উভয়ের রণ ।
শােণিত শরবরষে শস্ত্রাস্ত্রে ভীষণ
সৰ্ব্বলােক ভয়ঙ্কর পুনঃ করে রণ। ১১
৫
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
**A/**
অম্বিকা নিক্ষিপ্ত শত দিব্য অস্ত্রগণ
প্রতিঘাতে করে তায় দৈত্যেন্দ্র ভঞ্জন।
দানব বিমুক্ত যত দিব্য শরগণ
হুঙ্কারে লীলায় দেবী করিলা ভঞ্জন।
শতশর ক্ষেপি দৈত্য দেবী আচ্ছাদিল
রুষ্ট হয়ে ধনু তিনি বাণেতে কাটিল
১৪
ধনু কেটে গেলে দৈত্য শকতি ধরি
কব্লস্থ থাকিতে দেবী চক্রে ছেদি দিল ।
১৭
ভানুসম দীপ্ত চৰ্ম্ম খড়গ নিয়ে করে
ধাইল অসুরাধিপ দেবী বধিবারে ॥
ধনুমুক্ত শিত # বাণে চণ্ডিকা তখন
সূর্যদীপ্ত চক্রে খড়গ করিল খণ্ডন।
হত-অশ্ব বিসারথি দৈত্য ছিন্নশর
দেবী বধে সমুদ্যত ধরিল মুগর ।
নিশিত শর সংযােগে কাটিলে মুদগর
মুষ্টি উঠাইয়ে ধায় অসুর প্রবর৷
১৮
* শিত = ধারাল।
ঐশ্রীচণ্ডী।
দেবী-হৃদে মুষ্টিহানে অসুর যখন
তলাঘাতে বক্ষে দেবী কৰিলা তাড়ন ।
২।
দেবী-তল-প্রহারেতে পড়িয়া ভূতলে
পুনরপি দৈত্যরাজ সহসা উঠিলে ।
২১
দেবীকে ধরিয়া উঠে আকাশ মণ্ডলে
নিরাশ্রয়া তবু দেবী অশেষে যুঝিলে। ২২
আকাশে থাকিয়া বাহু যুদ্ধ পরম্পর
দেখে সিদ্ধ মুণিগণ বিস্ময় অন্তর।
এইরূপে বাহুযুদ্ধ করি কিছুকাল
উর্ধে ঘুরাইয়ে দেবী ফেলে ধরাতল ।
২৪
ধরণী নিক্ষিপ্তার মুষ্টি হানিবারে
ধায় বেগে দুষ্ট আত্মা দেবী বধিবারে।
আগত হেরিয়া সেই সৰ্ব্বদৈত্যেশ্বরে
বক্ষে শূল বিন্ধি, দেবী ধরাশায়ী করে ।
দেবী শূলে ত্যক্ত প্রাণ ধরায় পতিত
সদ্বীপ নগেন্দ্র পৃথ্বী হ’ল বিচলিত ।
১৮
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
দুরাত্মা হইলে হত অখিল ভুবন
প্রসন্ন, অতীব সুস্থ, নিৰ্ম্মল গগণ ।
২৮
উল্কা বিরহিত মেঘ প্রশান্ত হইল
নদীগুলি নিজ পথে প্রবাহিত হ’ল ॥
২৯
আল্লদে মগন দেব হইল অন্তরে
গন্ধর্ব করিল গান সুললিত স্বরে।
কেহবা করিল বাদ্য নাচিল অস্পর
অনুকূল বহে বায়ু অতি মনােহর ৷
নিজ রশ্মি বিলাইয়ে রহে দিবাকর
জ্বলে অগ্নি শান্ত সুরে দি দিগন্তর ।
ইতি মার্কণ্ডেয় পুরাণে সাবর্ণিক মন্বন্তরে
দেবী মাহাত্মে শুম্ভ বধ সমাপ্তি।
৩২
১
একাদশ মাহাত্ম।
ঋষি বলিলেন।
অসুরেন্দ্র হলে তথা আহবে নিধন
রাখি অগ্রে অগ্নিদেবে যত দেবগণ
ইষ্ট লাভহেতু আশে বিকাশি আনন
কাত্যায়ণী তুষ্টি হেতু করিলা কীর্তন।
২
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
প্ৰপন্ন পীড়িত জন দুঃখ বিনাশিনি !
হওমা ! প্রসন্ন বিশ্বরক্ষা বিধায়িনি।
চরাচর বিশ্বমাঝে তুমি বিশ্বেশ্বরি।
হওমা ! প্রসন্না রক্ষা করগাে ঈশ্বর।
৩
ক্ষিতিরূপে ধরে আছ জগত সংসার
তুমি বিনা কেবা আছে বিশ্ব মূলাধার
অলঙ্ বলশালিনী জলরূপে তুমি
করিতেছ আপ্যায়িত এই বিশ্ব ভুমি ।
৪
অনন্ত বিক্রমা তুমি বিষ্ণু শক্তিরূপে
বিশ্বের নিদান তুমি মহামায়ারূপে
মােহিত রেখেছ সবে, মুক্তির কারণ
হও যবে সুপ্রসন্না মুক্ত ত্রিভুবন।
জগতে যতেক বিদ্যা নারী অবস্থিত
মূরতি তােমৗরি দেবি ! তব অংশভূতা
মাতারূপে একা তুমি বিরাজ সংসার
কি করিব স্তুতি নহে স্বরূপ তােমার ।
সৰ্ব্বভূতা যবে, স্বর্গ মুক্তি প্রদায়িনি
কি স্তুতি আছে গাে, দেবি। তব স্বরূপিণি |
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
বুদ্ধিরূপে সৰ্বজন হৃদয় বাসিনি ।
স্বর্গাপবর্গদে দেবি ! নমাে নারায়ণি ।। ৮
কল কাষ্ঠা (১) রূপে পরিণাম প্রদায়িনি ।
বিশ্বনাশ হেতুভূতে নমাে নারায়ণি !!
মঙ্গলে বরেণ্যে শিবে সৰ্বার্থ সাধিনি ।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নমাে নারায়ণি :
সকল মঙ্গল বর মঙ্গল কারিণি !
তুমি গৌরী শিবে সর্বসিদ্ধি প্রদায়িনি ।
ত্রিনয়নে মাতঃ ! তুমি জগত রক্ষিণি।
নমস্কার করি দেবি ! ওগাে নারায়ণি।
সৃষ্টি স্থিতি বিনাশের শক্তি স্বরূপিণি।
গুণাশ্রয়ে ৪ গুণময়ে ৭ নমাে নারায়ণি ॥
সৃষ্টি স্থিতি বিনাশের শক্তি স্বরূপিণি।
ত্রিগুণের মূলাধার ত্রিগুণ রূপিণি
দেবি ! সনাতনি ।
নমাে নারায়ণি। ১১
(১) কলাকাষ্ঠা = অষ্টাদশ নিমেষে যতটুক সময় তাহার নাম
काई | ত্ৰিশ কাষ্ঠায় এক কলা।
গুণাশ্রয়ে =সত্ত্ব রজ তম গুণের আশ্রয় স্বরূপ
গুণময়ে=ঐ ত্রিগুণ স্বরূপিনী ।
শ্ৰশ্ৰচণ্ডী ।
পদানত দীনজন দুঃখ বিনাশিনি।
সৰ্বজন দুঃখহরা নমে! নারায়ণ।
হংসযুক্ত রথস্থিতে ব্রহ্মাণীরূপিণি ।
কুশাগ্রবারিবর্ষিণি নমাে নারায়ণি ।।
ত্রিশলাহি চন্দ্র ধরা বৃষভ বাহিনি।
মাহেশ্বরী স্বরূপিণি ! নমাে নারায়ণি।
ময়ুরকুরুটাবৃতা শকতি ধারিনি।
কৌমারীরূপ সদৃশে নমাে নারায়ণ ।
শঙ্খ চক্র গদাধারী বৈষ্ণবী রূপিণি।
প্রসন্নতা কর লাভ নমো নারায়ণি । ১৬
মহাচক্রধারী শিবে বরাহরূপিণি ।
দংষ্ট্ৰোদ্ধত বসুন্ধরে নমাে নারায়ণি ।
দৈত্য বধে কৃতােদ্যমে নৃসিংহরূপিণি ।
ত্রিলােকের ত্রাণকারী নমাে নারায়ণি !
১৮
সহস্র নয়না মহাবা কিরিটিনি।
বৃত্রাসুর বিনাশিনি! নমস্তে ইন্দ্রানি ।।
ঐশ্রীচণ্ডী
\//\'';';'।
শিবদূতীরূপে মহাদৈত্য বিনাশিনি!
ঘােররূপে! মহারাবে ! নমাে নারায়ণি ! ২০
ভীম দন্তাননে ! শিরােমালা সুশােভিনি!
চামুণ্ডে ! মুণ্ড মথনে ! # নমাে নারায়ণি ! |
লক্ষি লঞ্জে স্বধে ধ্রুবে পুষ্টি স্বরূপিণি :
শ্রদ্ধে বিদ্যে মহারাত্রি নমাে নারায়ণি ! | ২২
মেধা স্বরূপিণি : শ্রেষ্ঠে ! ঐশ্বৰ্য্য শালিনি ।
সরস্বতি। দেবি! তুমি মঙ্গলদায়িনি।
প্রসন্নতা কর লাভ সংহার রূপিণি!
নিয়তি ঈশানি দেবি ! নমাে নারায়ণি ! ২৩
সর্বশক্তি সমন্বিতে সৰ্ব্ব স্বরূপিণি
সৰ্বভয়ে রক্ষ দুর্গে নমো সৰ্ব্বেশানি! ২২
ত্রিলােচন সুশােভিত (তব) সুন্দর বদন
সৰ্ব্বভূতে কাত্যায়ণি ! করুক রক্ষণ। ২৫
ভীমশিখা অতি উগ্ৰ অসুর নাশন
ত্রিশূলেতে রক্ষভয়ে নত দেবগণ। ২৬
* মুণ্ড মথনে= মুণ্ডার বিনাশিনী।
শ্রীশ্রীচণ্ডী
**
জগদ্যাপী শব্দে ঘণ্টা দৈত্য তেজ নাশে
তাহে সুত পাপ নাশ জননী বিশেষে ॥ ২৭
দৈত্য-রক্ত-মেদ-লিপ্ত খড়গ করােজ্জ্বল
নত দেবগণে চণ্ডি! করুক মঙ্গল ॥
তুমি যদি হও তুষ্টা সব রােগ নাশে
তােমার বােষেতে ইষ্ট কামনা বিনাশে
তােমার আশ্রিত জনে বিপদ না হয়
তবাতি জন সদা সবার আশ্রয় ।
বহুমূর্তি ধরি দেবি ! ধৰ্ম্মদ্বেষী যত
সংহারিলা মহাসুরে করিয়া নিহত
তুমি বিনে কেবা আর আছে গাে এমন
করিবে নিধন দেবি ! করিবে নিধন ।
বিদ্যা, শাস্ত্র, আদ্যবাক্য, * বিবেক দীপেতে
তুমি বিনে কেবা আর আছেগগা জগতে
অতি ঘাের অন্ধকার মমতা গহ্বরে
ঘুরাতেছ বিশ্ব তুমি নিয়ত সজোরে ৷৷ ৩১
* আবাক্য =বেদবাক্য।
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
উগ্র বিষধারী নাগ, রাক্ষস সকল
দ্য সেনানী শত্রু, সাগর দাবানল
কয়ে যে স্থলে তুমি থাকি সেই স্থল
চরাচর বিশ্বধাম পালিছ সকল ।
বিশ্বেশ্বরী তুমি কর বিশ্বের পালন
বিশ্বাত্মিকা হয়ে কর বিশ্বের ধারণ
ভক্তিন যে তােমায় বিশ্বপূজ্য হয়
তাই বিশ্বাশ্রয়া তুমি ত্রিলােকেতে কয়।
অসুর বধিয়া সদ্য, তথা সৰ্ব্বক্ষণ
অরিভীতি হ’তে কর মােদের রক্ষণ
সৰ্ব্ব জগতের পপি উপসর্গ চয়
সুপ্রসন্না হয়ে দেবি ! কর শীঘ্র ক্ষয় ।
৩৪
ত্রিলােক প্ৰণত জনে বর প্রদায়িনি!
সুপ্রসন্না হও পূজ্যে ! বিশ্বাৰ্ত্তি হারিণি !
দেবী বলিলেন ।
জগতের উপকার যেই বরে হয়
যাচ দেব ! ইচ্ছা যাহে দিব সুনিশ্চয় ৷
৩৭।
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
::
দেবতাগণ বলিলেন। ৩৮
( অখিলেশ্বরি !)
ত্রিলােকের সৰ্ব্ব বিপ্ন করি প্রশমন
যুগে যুগে কর দেব-বৈরি বিনাশন ।
দেবী বলিলেন
৪০
৪১
বৈবস্বত মন্বন্তরে অষ্টাবিংশ যুগে
শুম্ভ ও নিশুম্ভ অন্য পুনশ্চ জন্মিবে।
নন গােপালয়ে জন্মি যশােদা উদরে
বিন্ধ্যাচলে বিনাশিব সেই দানবেরে ।
৪২
ভীমরূপ পৃথিবীতে ধরি পুনৰ্ব্বার
বৈপ্রচিত্ত দৈত্যগণে করিব সংহার ।
৪৩
ভয়ঙ্কর মহাসুর করিলে ভক্ষণ
দাড়িমী কুসুম সম দন্তের বরণ ।
৪৪
স্বরগে দেবতা মর্ত্যে মানব তখন
রক্তদন্তী বলি স্তবে করিবে কীৰ্ত্তন। ৪৫
পুনঃ যবে শতবর্ষ অনাবৃষ্টি হবে
অযােনিজ জন্ম নিব মুনিগণ স্তবে
৪৬
শ্রীশ্রীচণ্ডী
শতনেত্রে মুনিগণ করিব ঈক্ষণ
শতাক্ষী বলিয়া লােকে করিবে কীৰ্ত্তন।
৪৭
যতদিন অনাবৃষ্টি রবে সুরগণ
আপনার দেহে শাক করিয়া সৃজন।
৪৮
সকল লােকের প্রাণ করিব রক্ষণ
শাকস্তুরী নাম লােকে করিবে কীৰ্ত্তন।
৪৯
দুর্গম নামক দৈত্য করিব নিধন
তাই দুর্গা বলে মোরে করিবে কীৰ্ত্তন।
হিমাচলে ভীমরূপ পুনশ্চ ধরিব
মুনিদের ত্রাণহেতু রাক্ষস বধিব ॥ ৫১
আনম্ৰ দেহেতে মুনি কীৰ্ত্তন করিবে
ভীমাদেবী বলি নাম বিখ্যাত হইবে।
অরুণাখ্য মহাবিঘ্ন করিলে জগতে
বহুষট পদবৃত ভ্রমর রূপেতে
ত্রিলােকের শুভহেতু নাশিব তাহায়
ভ্রমরী নামেতে স্তুত হইব ধরায় ॥ ৫৩৫৪
শ্রীশ্রীচণ্ডী
।
광명
•"
,,,, ** * * * *
এইরূপে হবে যবে দানবের ভয়
অবতীর্ণ হয়ে অরি নাশিব নিশ্চয় ৷
ইতি মার্কণ্ডেয় পুরাণে সাবণিক মন্বন্তরে
দেবী মাহাত্মে দেবীর স্তুতি ।
দ্বাদশ মাহাত্ম্য।
দেবী বলিলেন |
এই স্তবে যে তােষিবে সমাহিত জন
নিশ্চয় করিব তার বিঘ্ন বিনাশন ।
২
মধু কৈটভের নাশ অসুর * মর্দন
শুম্ভ নিশুম্ভের বধ যে করে কীৰ্ত্তন ।
G
অষ্টমী নবমী কিংবা চতুর্দশী দিনে
ভক্তিভাবে মাহাত্ম্য যে শােনে একমনে ।
পাপ তাপ দরিদ্রতা ইষ্ট বিয়ােজন
পাপ জাত বিঘ্ন কিছু না রবে কখন।
৫
অসুর = মহিষাসুর।
শ্রীশ্রীচণ্ডী ।
শত্রু দ্য শস্ত্রানল রাজা কিংবা জলে
রহিবেনা অন্য ভয় তার কোন কালে ।
মাহাত্ম আমার তাই শ্রেষ্ঠ স্বস্ত্যয়ন
ভক্তি চিতে পাঠ তথা করিবে শ্রবণ ॥
মহামারী সমুদ্ভব অনিষ্ট নিচয়
এ মাহাত্ম্যে নাশিবেক ত্রিবিধাপচয় ॥
প্রত্যহ যে গৃহে মম স্তব পাঠ হয়
কভূ নহে ত্যক্ত মম থাকি সে আলয় ।
৯
বলিদানে পূজা হােমে কিংবা মহােৎসবে
মাহাত্ম্য সকল মম পড়িবে শুনিবে ।
জ্ঞানী কি অজ্ঞানী যেই পড়ি এই স্তুতি
বলি পূজা হােম করে তাতে মম প্রীতি।
শরদে বাৰ্ষিকী মহা পূজার সময়
শুনি এ মাহাত্ম্য মম ভক্তি যুত হয়। ১২
প্রসাদে আমার হবে মানব নিশ্চয়
ধন ধান্য সুন্ধিত সৰ্বাপদ ক্ষ’য় ।
শ্রীচণ্ডী।
মাহাত্ম্য সুন্দর মম উৎপত্তি কখন
যুদ্ধ পরাক্রম, শােনে নির্ভয় সেজন।
১8
শক্রক্ষয় হয় তার কল্যাণ সাধন
বংশ বৃদ্ধি হয় সুখ যে করে শ্রবণ।
সৰ্ব্ব শান্তি কর্মে তথা দুঃস্বপ্ন দর্শনে
উগ্র গ্রহ পীড়াদিতে মাহাত্ম শ্রবণে।
উপসর্গ নাশ গ্রহ পীড়া অতিশয়
মানবের দুঃখ স্বপ্ন সুখ স্বপ্ন হয় !
১৭
ভুত গ্রস্থ বালকের শান্তির কারণ
পরস্পর বিসম্বাদে মৈত্রী সংঘটন।
অশেষ দুৰ্ব্বত্ত-বল হানির কারণ
রক্ষভূত পিশাচের পঠনে নাশন।
মাহাত্মের ফল বহু কি ক’ব ঈদৃশ
পঠনে শ্রবণে নােক আমার সদৃশ।
পশু পুষ্প অর্ঘ্য ধুপ দীপ গন্ধ দানে
নিত্য অভিষেকে কিংবা ব্রাহ্মণ-ভােজনে !
২
#ীশ্রীচণ্ডী।
নানা ভােগ্য দ্রব্য কিংবা সম্বৎসর দানে
যথা প্রীতি হয় এক মাহাত্ম্য শ্রবণে ॥ ২২
সৰ্ব পাপ হয় ক্ষয় আরােগ্য বর্ধন
সর্ব প্রাণি ভয় নাশ করিলে শ্রবণ।
২৩
যুদ্ধে দুষ্ট দৈত্য-নাশ, মম আচরণ
বৈরিকৃত ভয় নাশে, করিলে শ্রবণ।
২৪
ব্রহ্মকৃত, ব্রহ্মর্ষির তথা তব স্তব
শুনিলে সুমতি শীল হইবে মানব । ২৫
অরণ্যে প্রান্তরে কিংবা পড়ি দাবানলে
দ্য শত্রু পরিবৃত আক্রান্ত অস্থলে ॥ ২৬
সিংহ ব্যাঘ্র কিংবা বন হস্তি অনুসৃত
ক্রোধি রাজাজ্ঞায় বধ্য কিংবা কারাগত।
২৭
পােতস্থ সমুদ্রে যদি বায়ু বিচলিত
দারুণ সংগ্রামে যদি শস্ত্র নিপতিত ৷৷
২৮
ঘাের কষ্টে পড়ি কিংবা বেদনা পীড়িত
সঙ্কটে তড়িবে না স্মরি এ চরিত ।
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
*১৭. '...'){1}{:} • •,
সিংহ আদি দৈস্য কিংবা যত বৈরিগণ
মাহাত্ম্য শ্রবণে করে দূরে পলায়ন ।
ঋষি বলিলেন ।
প্রচণ্ড বিক্রমা চণ্ডী বলি এই মত
দৃশ্যমান্ দেবগণ হ’তে অন্তর্হিত |
* নাশে নিরাতৃঙ্ক যত দেবগণ
যজ্ঞভাগ, স্বাধিকার করিল গ্রহণ |
মহাবীৰ্য্য দেবরিপু বিক্ৰমে ভীষণ
জগত বিনাশী শুম্ভ নিশুম্ভ কোপন
দেবীর আহবে হলে দৈত্য সহ হত
প্রবেশিল পাতালাতে অন্য দৈত্য যত ৷ ৩৪৩৫
(রাজ) নিত্যা দেবী, তবু করি জনম গ্রহণ
পুনঃ পুনঃ করিতেছে জগত পালন ।
তিনি বিশ্ব প্রসবিনী মােহিত কারিনী
তষিত যাচকে জ্ঞান ঋদ্ধি প্রদায়িনী। র৩৭
মহামারী কালে কালী প্রলয় সময়
সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড ব্যাপ্ত নৃপ ! সুনিশ্চয়।
* :-: সম্পদ !
শ্রীশ্রীচণ্ডী।
কভু মহামারী কভু সৃজন কারিনী।
পালন কারিনী কভু দেবী সনাতনী।
৩৯
সম্পদ সময়ে তিনি লক্ষীরূপা হন
অভাবে অলক্ষীরূপা বিনাশ কারণ ৪০
গন্ধে পুষ্পে ধূপে স্তবে করিলে পূজন
দেন তিনি ধৰ্ম্মে মতি, ধন পুত্র জন ॥ ৪১
ইতি মার্কণ্ডেয় পুরাণে সাবণিক মন্বন্তরে দেবী
মাহাত্মে শুম্ভ নিশুম্ভ বধ সমাপ্ত ||
ত্রয়ােদশ মাহাত্ম।
ঋষি বলিলেন ।
১
সুন্দর মাহাত্ম তব কহিনু ভূপতি
প্রভাবর্তী জগদ্ধাত্রী যথা ভগবতী ।
২
বিষ্ণু মায়ারূপে যথা হন বিদ্বাবতী।
বৈশ্য ! তুমি নিজে তথা অন্য আর যত
হয়েছ, হতেছে,বে সকলে মোহিত ৷৷
৪
শ্ৰচণ্ডী ।
ওহে মহারাজ ! লভ দেবীর শরণ
ভােগ, স্বৰ্গমুক্তি হেতু কর আরাধন |
মার্কণ্ডেয় বলিলেন ।
৬
রাজ্যক্ষয়ে দুঃখী তথা মমতা প্রবণ
নির্বিঘ্ন সুরথ সহ বৈশ্য মহাজন
প্রণমিলা মুনি, শুনি তাহার বচন
তপস্যা করিতে উভে করিল গমন | ৭৮
নদীর পুলীনে বসি অম্বিকা দর্শনে
দেবী সূক্ত জপে, তপ করে দুই জনে। ৯
মৃন্ময়ী মুরতি তার করিয়া নির্মাণ
পুষ্প ধূপায়ি তর্পণে করে আরাধন। ১০
একমনে নিরাহারে সংযত আহারে
নিজ দেহ রক্ত দেয় উপহার তরে।
তিন বর্ষব্যাপী যবে করে আরাধন
বলে পরিতুষ্টা দেবী দিয়ে দরশন।
১২
দেবী বলিলেন। ১৩
৮৪
শ্রীশ্রীচী।
যাচ যেই বর ভূপ! কুলের নন্দন
পরিতুষ্টা হয়ে তাহা দিব এইক্ষণ।
১৪
মার্কণ্ডেয় বলিলেন ।।
এত শুনি নরপতি মাগে এই বর
পরজন্মে পাই যেন রাজ্য অনশ্বর
এজনমে শাবল করিয়ে নিধন
পাই যেন রাজ্য পুনঃ যেছিল আপন।
প্রাজ্ঞ বৈশ্য মাগে বর পেতে তত্ত্বজ্ঞান
“আমি ও আমার ভাব” করি বিনাশন।
১৭
দেবী বলিলেন।
অল্পদিনে পাবে তুমি রাজত্য তােমার
শত্রুগণ নাশিভুঞ্জ রাজ্য অনিবার |
মৃত্যু পরে সূৰ্য্য হ’তে লভিয়া জনম ২১
সাবণি নামেতে মনু হইবে অষ্টম।
বৈশ্য বর ! চাহিয়াছ তুমি যেই বর ২৩
দিতেছি সে তত্ত্বজ্ঞান সিদ্ধিলাভ কর ।
২২
শ্ৰচণ্ডী।
৮৫
মার্কণ্ডেয় বলিলেন । ২৫
বর পেয়ে ভক্তিভাবে যবে স্তব করে ২৬
f
অন্তর্হিত হন দেবী, বৈশ নৃপ বরে ।
২৭
ক্ষত্রিয় সুরথ দেবী-স্থানে পেয়ে বর ২৮
সূৰ্য্য হ’তে জন্ম লভি (সাবর্ণি) মনু নাম ধর। ২৯
ও তৎসৎ
ইতি মার্কণ্ডেয় পুরাণে সাবর্ণিক মন্বন্তরে
দেবী মাহাত্ম্য সমাপ্ত।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.