Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Pratibha

Sheth, Harihar · 2010/02/19

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

প্রতিভা।
হরিহর শেঠ
--
প্রণীত।
চন্দননগর পুস্তকাগার হইতে
প্রকাশিত।
মূল্য এক টাকা।

প্রতিভা প্রেস, ২১১এ, বহুবাজার ধ্রুট, হইতে সুরেন্দ্রনাথ চন্দ্র কর্তৃক মুজিত

নিবেদন
* নাটক বচনা ইহাই আমার প্রথম। সমগ্র কোন একখানি নাটক
আব পড়িবার সুযােগ হয নাই; নাটকে অভিনষও বড় বেশি
* নাই। কষেক বৎসব পূর্বে সেদিবোপম শ্ৰীমনি আদিত্যনাথ
a বৃত্তীব বিশেষ চেষ্টায় মৎপ্রণীত ‘অভিশাপ উপন্যাসখানি বন্ধুবব
* ৯০, শ্ৰীশচন্দ্র সুরেব ঘাবা নাটকাকাবে পৰিণত হইযা অভিনীত হয়।
** 'বে প্রধানতঃ তাহাবই আগ্রহে ও অনুবোধে এই গ্রন্থখানি লিখি ৩
ছে। সসাব বঙ্গক্ষেত্রে সচরাচব যে সব অভিনব দেখিতে পাই
বই একটা অপৰিট অঙ্ক এই সামান্য নাটকখানিতে কটাইবাব
পথ পাইযাছি, কতদূব সাফল্য লাভ হইয়াছে তাহা বলিতে পারি না ।
নাটকীয চিনে সত্যেৰ ছবিও আমাদেব সমাজের দুর্নীতি দুব্বলতা
ধাৰণে কতটা সহায়তা কবে বুঝিতে পাবি না। (সবলা’, ‘ৰণিদান
।। প্রধু প্লেব’ দ্বাবা যদি সে ভাবে বিশেষ কাজ না হইয়া থাকে,
* *দ প্রতিভা' বড় কিছু কবিতে পাবিবে সে স্পর্ধা কবি না।
২। সমাজ দেহের মধ্যে যে সব দৌর্বল্য ও দুর্নীতি ফখুব শত গুপ্তভাবে
• বহিযা চল্যিাছে, ইহা পাঠে কোন পাঠকেবও তাহা লক্ষ্যে
আসে, তাহা হইলেও সার্থকতা অনুভব কবিব ।
শর্তমানে আমাৰ সমযাভাব ও অন্যান্য কাৰণে এই পুস্তক খানি
ত হইযা প্রকাশিত হওযার পক্ষে বিশেষ বাধা ছিল।
নারায়ণচন্দ্র দেব সহায়তা না পাইলে ইহা এক্ষণে প্রকাশ
যে পবিতাম বলি মনে হয় না। *খানে লিখি সেজন্য
'ছা জানান বাহুল্য মাত্র।
বে
চন্দননগৰ,
১৩২৮ সাল।
হরিহর শেঠ,

No text on this page.

নাট্রোল্লিখিত চরিত্রবৃন্দ পুরুষ। উমানাথ ••• ধনবান ভদ্রলােক। রমানাথ ঐ বন্ধু। হেমনাথ দেবেন্দ্রনারায়ণ জমিদার যুবক। ••• * * । দীনেশ যতীশ ঐ মােসাহেব। রমেশ নীলার নগেন বিনােদ নিমাই ঐ বিলাত প্রত্যাগতবন্ধু। ঐ গােমস্তা। গৃহস্থ ভদ্রলােক, উমানাথের বন্ধু। ভ্রাতা। উমানাথের এটর্ণী । দেবেন্দ্রনারায়ণের এটর্ণী। ঐ মামলাবাজ মােসাহেব। শঙ্করলাল প্রিয়নাথ, হরেন ••• বান্ধব সমিতির সভ্য। মনােহর গােপেশ্বর রামসুন্দর রাইচরণ গ্রামস্থ ব্রাহ্মণ। ভট্টাচার্য শিরােমণি জীবন প্রতিভার দূরসম্পর্কীয় ভ্রাতা। ঘােষাল মশাই দালাল। ম্যাজিষ্ট্রেট, ইন্টারপ্রিটার, ব্যারিষ্টার, দেওয়ান, চাপরাসি, পাহারাওয়ালা, হােমিওপ্যাথি ডাক্তার, কয়েদিগণ, জমাদার, মাতাল বন্ধুদ্বয় প্রভৃতি। ০ ০ ০ রাধারাণী প্রভাবতী বিভাবতী তারা লাবণ্য + + + সুধা স্ত্রী। উমানাথের মাতা। ঐ স্ত্রী। ঐ ঐ বিধবা ভাতৃজায়। রমানাথের স্ত্রী। দেবেন্দ্রনারায়ণের স্ত্রী। উহার দুরসম্পর্কীয়া ভগ্নী! জনৈক ব্যারিষ্টারের কন্যা। প্রতিভার বাল্য সহচরী। কেশবের স্ত্রী। দাসী। পিসিমা, বামুন মা, বাইজী ও দাসী। বসন প্রতিভা কমল। সরলা সৌরভ

প্রতিভা।
প্রথম অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য।
কেশবের অন্দর বাটীর সংলগ্ন কক্ষ।
(কশব ও সবলা ।
সরলা। তা হলে কি উযি ঠিক বলে ?
কেশব। আব উপায় কি আছে, সে দিকে যাই একটুও আশা দেখতে
পাই না। আমি জান্তুম্ বৃন্দাবন বাবুব কাছে গিযে কোন
ফল হবে না। নগেন সেদিন দু’বাব তিনবাব বলে, তারপর
কাল আবাব চিঠি লিখেছিল, তাই একবার চেষ্টা কবে
দেখলাম। ও ছেলেটিব আশা ছাড়তেই 'ল।
লিলা। আচ্ছা আমি বলছিলাম আমবা গৰীব, আমাদের আবাব মান
অপমান কি ? মেজ বঠাকুবেব কাছে একবার বলে দেখলে
হােত না ?
শব। ববং ভিক্ষে কবতে হয তাও হয়ত পাব, কিন্তু মেজদাদাব
কাছে আমি অব চাইতে পাব না। আগনবি লোকের কাছে
যেন কেউ কখন না হাত পাতে। সবলা, তুমি কষ্ট পাবে
ব'লে তােমায বলিনি , মেজদাদাব কতদিকে কত টাকা খরচ

প্রতিভা ।
*
হচ্চে, তিনি দেশে একজন দাতা বলে প্রসিদ্ধ। কিন্তু তােমার
অসুখের সময় একশ' টাকা ধার নিয়ে দিতে দু'মাস দেরি
হয়েছিল তার জন্য তার সরকারকে দিয়ে তিনি যে অপমান
করেছিলেন তা এজন্মে আমি ভুলতে পারব না। আমি তার
ভাই না হয়ে যদি তাঁর স্ত্রীর ভাই হতুম তা হলেও একদিন
আশা কতে পারতুম্ ।
সরলা। তবে আর কার কাছে যাবে ! তােমার অনেক বড় মানুষ বা
আছে তােমার কাছে শুনেছি, কিন্তু আপনার লােক ঘদি
ওরকম করতে পেরে থাকেন, তা হলে আর তাদের কাছ থেকে
কি করে চাইতে ব!
কেশব। বন্ধু অনেক আছে সত্য, বড় লােকও তার মণে অনেক আছে ;
কিন্তু সরলা, এ বিপদের সময়ের বন্ধু কয়জন পাওয়া যায় ?
সাহেবদের ক্লাবে চাদা দিতে, বাড়ীতে বর্নাচ দিতে, গার্ডেন
পার্টিতে অকাতরে টাকা খরচ করতে যারা কুন্থিত নয়, একটা
গরীব বন্ধুর বিপদে কিছু ধার দিয়ে একটু উপকার করতে
হলে, তাঁদের হাতে কিছু থাকে না, জমীদারীতে অজন্ম হয়।
সরলা। কেন, ও কথা বলােনা। সকলেই কি ওরকম ; উমানাথ বাবু
আমাদের কত উপকার করেছেন তা কি ভুলে গেছ ?
কেশব। উমানাথ দেবতা; তার উপকার যদি ভুলে যাই তা হলে
আমি পশুর অধম। কিন্তু এখন আমার আর কি সে মুখ
আছে যে আমি আবার তাকে বলব : আমি তা পা'রব না,
আমি শেষ স্থির করেছি, উমার অদৃষ্টে যা আছে তাই
হবে। আজ নগেন বাড়ী এলে একবার তার সঙ্গে পরামর্শ
করে শ্যামাচরণ রায়ের ছেলেটির সঙ্গেই কাল পাকা করব ।
;

",
৬
প্রথম অঙ্ক।
আর বাড়ীটি বাধা দিয়ে যা হয় করে হাজার বার শ' টাক
জোগাড় করা ভিন্ন কোন উপায় নাই। তারপর যা আমার
বরাতে আছে তাই হবে। আমরা যেমন আমাদের আর কি
পাত্র জুটবে !
সরলা। যা হবার তাই হবে, তুমি অত ভেব না। সমস্ত দিন রােদে
ঘুরে ঘুরে এলে, মুখহাত ধােও, একটু জল খাও।
( নগেন্দ্রনাথের প্রবেশ ও সরলার প্রস্থান।)
কেশব। কখন এলে, বেশ ভাল আছ ?
নগেন। হঁা ভাল আছি, এই আসৃচি : সম্বন্ধের কি হলাে ?
কেশব। টাকার যােগাড় কিছু করতে পারি নি, ঘটককেও কিছু উত্তর
.দিতে পারি নি।
নগেন। হরলাল বাবুর কাছে গেছলে ?
কেশব। তিনি নাবালক ভাইয়ের ওজর করে দিতে পারবেন না
বললেন। আমি স্থির করিচি আর কাকেও বলতে যাব না,
বল্লভপুরের ছেলেটা দুই হাজারের কমে যখন কিছুতেই হবে
বলেছে, তখন শ্যামাচরণ রায়ের ছেলের সঙ্গেই পাকা করি।
বােধ হয় নগদ হাজার ও শয্যা, বাসন, দান দিলে হতে পারবে ।
গেন। এই টাকাই কোথা থেকে জোগাড় হবে ?
কিশব। আমি মনে মনে ঠিক করিচি, কতকটা ব্যবস্থাও করিচি।
আমার অংশ বাঁধা দোবাে। তা ছাড়া আর কোন উপায় নাই।
মগেন। তােমার অংশ কি, বাড়ীর অংশ বলুচ ?
কেশব। হাঁ, বাড়ীর অর্ধেক অংশ।
নগেন। দাদা, যদি বাড়ী বাঁধা দিতেই হয়, তবে ও ছেলের সঙ্গে কেন,
বল্লভপুরের ছেলেটির সঙ্গেই স্থির কর, সমস্ত বাড়ীটিই বাধা দাও।

৪
প্রতিভা।
তুমি আমার অংশ রেখে তােমার অংশ বাধা দেবে এমন মনে
করেচ কেন ?
কেশব। ভাই উমার বিয়ে হলেই যে সকল দায় মিল তা নয়, আরও
আমার একটা, তােমার দু’টি আছে ; তারপর কখনও যে এ দেনা
পরিশােধ করতে পারব সে আশা নাই। তাই ঠিক করিচি
আমাদের যেমন অবস্থা তাতে শ্যামাচরণ রায়ের ছেলেই ভাল।
ঘােষাল মহাশয় ঠিক করে দিয়েছেন, দেবেন্দ্র বাবু আমার
অর্ধেক অংশ রেখে পনের শ' টাকা দেবেন, সুদ 'এক টাকা
হিসাবে। কালই লেখাপড়া হবে।
নগেন। যা অদৃষ্টে আছে তাই হবে। বাড়ী বাধা দিতে হয়, ত সমস্ত
দাও ; আর বামাচরণ ঘটককে ডেকে ঐ ছেলেটিই ঠিক কর।
প্রায় পনের শ’ টাকা খরচ করে ও ছেলের সঙ্গে কখন বিয়ে
দেয় ? একটু মাথা গোঁজবার জায়গা নাই, মুখ ছেলে ; এতাে
দেখে শুনে, হাত পা বেঁধে মেয়েটাকে জলে ফেলে দেওয়া ।
কেশব। আমার দ্বারা তােমার যে কখন এক পয়সার সাহায্য হবে
তা আমার মনে হয় না। তুমি যা ভাল বােঝ কর, আমি আর
কি বলব।
নগেন। দাদা, তুমি আমায় লেখাপড়া শিখিয়েছ ; ছেলেবেলা বাবা
মারা গেছেন তুমিই আমায় মানুষ করেচ; সামান্য বাড়ীর
অংশ দিয়ে তােমার কি ঋণ শুধ,ব? তুমি আমার যে সাহায্য
করেচ এত আমার কে করেছে ?
( উমানাথের প্রবেশ।):
কেশব। আসুন, আসুন, উমানাথ বাবু।

প্রথম অঙ্ক।
উমানাথ। কিহে কেশব, আর ত তােমায় দেখতেই পাই না, কেমন
আছ, সব ভাল ? নগেন, ভাল ?
নগেন। আজ্ঞা হা সব ভাল।
কেশব। হাঁ, শারীরিক সব চলচে একরকম। আপনার সব ভাল ?
বসুন।
| নগেনের প্রস্থান।
উমানাথ। কেশব ভাই আমি আপনি টাপনি বলতে পারি না, তােমার
আমাকে আপনি বলতে লজ্জা করে না?
কেশব। (মুখ সামান্য নত করিয়া লজ্জিত ভাবে ) কেমন ভুল হয়ে
যায়। তােমার ছেলেপুলে প্রভৃতি সব ভাল ?
উমানাথ। ঐ তােমারই মত শারীরিক সব একপ্রকার মন্দ নয়।
কেশব। কেন শরীর সব ভাল থাকলে তােমার আবার কষ্ট কিসের ?
মানুষ যা চায় তার তােমার কিসের অভাব ?
উমানাথ । লােকে তাই দেখে বটে, বাস্তবিক সাধারণতঃ মানুষ যা
চায় তার বিশেষ অভাব ভগবান আমায় কিছুই দেন নাই ;
কিন্তু আমার অদৃষ্টদোষে আমার মত শান্তিহীন জীবন খুব
কমই দেখতে পাওয়া যায়। সে কথার এখন আর দরকার
নাই।
কেশব। রমা কি এখনও সেই রকমই আছে, কিছু শােধূরায়নি ?
উমানাথ। সেত আছেই, তা ছাড়া নানান রকম আছে। আর বড়
সুবিধা নয়।
কেশব। আমরা মনে করি বুঝি আমাদের মত কষ্ট কারও নাই।
তােমার অবস্থা আমি জানতুম না।
উমানাথ। ভাই, তােমার কষ্ট কম নয় তা আমি জানি, কিন্তু তিনি
করুন, বােধ হয় আমার মত অশান্তিতে
আমার মত অশান্তিতে তুমি কখন
}

প্রতিভা।
* * । । । । । ।
।।।।।।।।।।।
ক. ।।।।। ••••••••••••••
। • ***
•
ভােগনি। যাগ, ও সব কথা, শুছিলাম তােমার মেয়ের
বিয়ে না ?
কেশব। এখনও ঠিক হয় নি ত, চেষ্টা হচ্ছে। যদি সব হয়ে উঠে ত
এই মাসেই দিবার ইচ্ছা আছে।
উমানাথ। শুনলাম শিবপুরের কাছে কোথা ঠিক হয়েচে না! কি
দিতে হবে ?
কেশব। না, ঠিক কিছুই হয় নি; ওখানে পেরে উঠব না অনেক
চায়। সুরে একটা ছেলে আছে সেইটির সঙ্গে যদি হয়,
কিন্তু এখনও টাকার—
উমানাথ। আমি সেই কথা শুনেই তােমার সঙ্গে দেখা করতে
এসেছি। শুনলাম তুমি নাকি দেবেনের কাছে বাড়ী বাধা দিয়ে
পনের শ' টাকা নেবার যােগাড় করে ? (কেশবের মস্তক
অবনত করণ ও নিরুত্তর) তুমি এ সময় আমায় জানাতে কুণ্ঠিত
হয়েছ কেন ভাই ? আমি তােমার বন্ধু, দেবেন বড়মানুষ কিন্তু
তােমার সে কেউ নয়। যদি টাকা ধার নিতে হয় আমার কাছ
থেকে নিও।
কেশব। ধার নিয়ে কখন শুধতে পারব সে ভরসা নাই। তােমার
কাছে বারবার নিলে রমানাথ বিরক্ত হতে পারে এই সব
ভেবে দেবেন্দ্র বাবুর কাছে বাড়ী বাঁধা দেবার স্থির করেছি।
তােমার উপকার আমি ভুলি নাই।
উমানাথ। তুমি যবে টাকা দিতে পার দিও, রমার সঙ্গে এ টাকার
কোন সম্বন্ধ নাই। এই আমি দু'হাজার টাকা এনেছি নাও,
যদি আরও কিছু দরকার হয় আমায় বলেই আমি পাঠিয়ে
দোবাে, কাকেও এ কথা কিছু বলবার দরকার নাই।

প্রথম অঙ্ক।
৭
কেশব। না উমানাথ বাবু, আমায় ক্ষমা কর, এ টাকা এখন রাখ ;
এবার আমার বাড়ীটি রেখে আমায় টা দিও, আমরা
দু’ভাইয়ে লেখাপড়া করে দেবে।
উমানাথ। কেশব তুমি ভুল কচ, সেবার টাকা দিতে তােমার দেরি
হয়েছিল বলে তুমি ভাবচ। ঈশ্বরের কৃপায় আমার দু'হাজার
টাকায় কি আসে যায়! এই সামান্য টাকায় বন্ধুর উপকার
কতে পারলে মনে কি তৃপ্তি, কি আনন্দ হয়, তা তােমায় কি
করে বুঝাব। অনন্ত অশান্তির মধ্যে ফেলেও দয়াময় মাঝে
মাঝে আমায় এইরূপ আনন্দ লাভের অধিকারী করে দিয়েছেন
মনে কবুলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। আচ্ছা বাড়ী
লেখাপড়া করতে হয় তাই হবে, এখন আমি চলুম ; সন্ধ্যার
সময় একটি লােক দেখা কবুতে আসবেন।
কেশব । একটু বস।
উমানাথ। আর একদিন দেখা হবে, এখন যাই।
[ উমানাথের প্রস্থান।
.
{ সবলার পুনঃ প্রবেশ।
সরলা। হাঁপা, তুমি কি গাে, একটু জল খেতে বললে না? উমানাথ
বাবু সত্যই দেবতা। তিনি এত বড় লােক ; আমাদের মত
লােকের কাছে নিজে কষ্ট করে এই উপকার করতে এসেছেন।
পৃথিবীতে এমন লােকও আছেন !
কেশব। সরলা, ভগবান আমাদের প্রতি মুখ তুলে চেয়েছেন। তার
দয়া না হলে আমি জেনে শুনেও যার কাছে যেতে সাহস
করিনি, তিনি নিজে এসে এমন অযাচিত অবস্থায় হাতে
টাকা গুজে দিয়ে যাবেন কেন ? গরীবের প্রতি এত দয়া

प
প্রতিভা।
হলে দেশময় তাঁর এত নাম কেন ? জগদীশ্বর তার মঙ্গল
করুন। আমরা গরীব, আমাদের দ্বারা আর তার কি
উপকার হবে ? যার টাকা নাই তার আর কি ক্ষমতা আছে ?
নগেন কোথা গেল ?
সরলা। ঠাকুরপাে পুকুরে গা হাত ধুতে গেছে।
কেশব। যাই তাকে বলে আসি।
[ উভয়ের প্রস্থান।
দ্বিতীয় দৃশ্য ।
দেবেন্দ্রনারায়ণের অফিস ঘর।
দেবেন্দ্র, দীনেশ ও যতীশ।
দীনেশ। আমার ত তা বিশ্বাস হয় না; ব্যাটার কত টাকা হয়েছে হা,
যে আজ একে দু'হাজার, কাল ওকে পাঁচ হাজার খয়রাৎ হচ্চে।
যতীশ। না, আমার মনে হয় এ কথা মিথ্যা নয়। বিশেষ আপনি
যখন এ কাজে দাঁড়িয়েছেন, তখন সে সাধ্যমত আপনার অপমান
করতে চেষ্টা করবেই
দেবেন্দ্র। সে কথা যা বলে মিথ্যা নয় । ও ব্যাটার জ্বালায় আজ দু’
তিন বৎসর ধরে আমার কোন public কাজে হাত দিয়ে
সুখ নাই। দেশে কতকগুলাে খােসামুদে জুটেছে, মনে করে
তাদের টাকার লােভে বশ করে রাখবে। কিন্তু তা হয়
aly, public mangg responsibility 6977; 67 capacity
হ'তে এখনও তিন জন্ম ঘুরে আসতে হবে।
তুমি ও কথাটা
শুনলে কোথা থেকে ?

প্রথম অঙ্ক।
যতীশ। শরৎ, গােপেশ্বর, ডাক্তার আর চাটুযে, এই ক’জনে আজ
সকাল বেলা পালেদের বােয়াকে ব’সে এই কথা ক’চ্ছিল।
অবশ্য সেই প্রসঙ্গে তােমাকেও অনেক অযাচিত certificate
দেওয়া হচ্ছিল।
দীনেশ। সেটা বলাই বাহুল্য।
দেবেন্দ্র। হ্যা হ্যা আমি জানি ঐ ক’ ব্যাটা আছে। আচ্ছা ক্রমে
ক্ৰমে ব্যবস্থা হচ্ছে। আজ ঘােষাল যখন সকালে আসেনি
তখনই আমার মনটায় একটু কা লেগেছে। তেওয়ারি
অনেকক্ষণ গেছে, এখনি ঘােষাল এলেই ঠিক বােঝা যাবে।
দীনেশ। যা বুঝবে তা আমি এখনই বুঝতে পাচ্ছি। তুমি এতবড়
একটা জমীদার ; জজ ম্যাজিষ্ট্রেটের সঙ্গে তােমার এত আলাপ;
এক ব্যাটা সামান্য মুদির এত তেজ চোখের উপর রােজ রােজ
দেখতে হবে । একবার আমায় বল না, ব্যবস্থা করতে পারি
কি না দেখ।
দেবেন্দ্র। সে সব ঠিক নয়, তা কিছু করতে হবে না। ঔষধের ব্যবস্থা
হয়েছে, যথা সময়ে action আরম্ভ হবেই।
যতীশ। হ্যা, ওর জন্যে আবার আপনি মাথা ঘামাচ্চেন, ততক্ষণ
( তেওয়ারির প্রবেশ ।)
তেওয়ারি। ( সেলাম করিয়া ) ঘােষাল ঠাকুর আয়া।
দেবেন্দ্র। হিয়া আনে বােল। (তেওয়ারির সেলাম করিয়া প্রস্থান)
দেখি, ব্যাটা কি বলে ।
(ঘােষাল মহাশয়ের প্রবেশ )
এসাে ঘষােল, সকালে আসবার কথা ছিল এলে না যে ?
ঘােষাল। আজ্ঞা, কাজটা নষ্ট হয়ে গেল ।

প্রতিভা।
দেবেন্দ্র। যদি পারবেই না ত এ কাজে হাত দিয়েছিলে কেন ?
সকালে তােমার জন্য wait করে থেকে আমার কাজের ক্ষতি
হয়ে গেল। তােমার যা ক্ষমতা তা আমি বুঝে নিয়েছি।
ঘােষাল। আজ্ঞা কি
করব ; উমানাথ বাবু নিজে গিয়ে
দীনেশ। আরে দৎ তাের আজ্ঞা কি করব, এখন কিছু উপায় থাকে
ত বল।
দেবেন্দ্র। আমি আট আনা কি চার আনা সুদে দোবাে।
ঘােষাল। আজ্ঞে সে টাকা পর্যন্ত দেওয়া নেওয়া হয়ে গেছে ; শুনলাম
লেখাপড়াও কিছু হয় নাই বা সুদের কথাও কিছু হয় নাই।
তিনি না কি কেশব বাবুর বাল্যবন্ধু।
যতীশ। ও সব বন্ধুটন্ধু ঢের দেখা আছে, আমার টাকা থাকলে
আমিও বাড়ী রেখে ওর ডবল টাকা
দিতুম, সুদ যত হােক
আর না থােক।
দেবেন্দ্র। তা হলে সে কাজ মিটে গেছে ? টাকা কত দিয়েছে
জান ?
ঘােষাল। আজ্ঞে শুনেছি দু’হাজার টাকা দিয়েছেন, দরকার হলে
আরও নাকি দেবেন বলেছেন।
(রমানাথের প্রবেশ ।)
দীনেশ। রমানাথ বাবু যে, আস্তাজ্ঞা হয়, ( চেয়ার ছাড়িয়া উঠিয়া
দাড়ান) ক’দিন কোথায় ছেলে বাবা।
দেবে। আচ্ছা ঘােষাল তুমি এখন যেতে পার।
| ঘােষাল মহাশয়ের প্রস্থান।
বাস্তবিক রমানাথ বাবুকে আজকাল আর বড় দেখতে পাওয়৷
যায় না। আপনি না এলে বেশ জমে না।

প্রথম অঙ্ক।
রমানাথ। আমি আর নেই কবে ; ক’দিন একটু গােলমালে ছিলুম
তাই এ দিকে আসা হয় নি।
যতীশ। এই আপনার নাম হচ্ছিল।
দেবেন্দ্র। যা হাে, আপনি আজকাল বিষয় কাজে মন দিয়েছেন
শুনে বড় খুসি হলাম।
রমানাথ।
कि
রকম!
আমার বিষয় কাজ ত মদ, ইয়ারকি,
আর আপনারা।
যতীশ। কৈ, আমরা কিছু শুনিনি। দেখবেন, দোহাই রমানাথ
বাবু, বিষয়কাজ দেখতে যেন আমাদের দেখতে ভুলবেন না।
দীনেশ। যতীশটা দেখছি একটী ফাষ্ট ক্লাস গাধা, উনি আজকাল
তেজারতি দেখচেন শোননি ? একাধারে মণিকাঞ্চন যােগ
দেখছি। এ ত সােণায় সােহাগ, আহা এর চেয়ে আনন্দ আর
কি আছে।
রমানাথ । কার তেজারতি দেখলাম ? কি বলুচ তােমরা বুঝতে
পাচ্ছি না।
দেবেন্দ্র। ঐ কেশর রায়কে বাড়ী মর্টগেজ রেখে আপনারা টাকা
দিয়েছেন না? সেই কথাই বলছে।
রমানাথ। আমরা কত কি করচি সে কথা ছেড়ে দিন, আমি কি
করছি দেখলেন বলুন। আমি এ বিষয়ের বিন্দুবিসর্গ জানি না,
আর কোনটাই বা আমি জানি।
দেবেন্দ্র। কি রকম, আপনি জানেন না। আপনাদের ত সমস্তই
জয়েন্ট প্রপার্টি, আপনাকে দাদা একবার জিজ্ঞাসাও করেন নি ?
রমানাথ। আমি এ কথা এই প্রথম শুনছি। আমার নিজের কোন

প্রতিভা ।
কারণে দশ টাকা দরকার হলেই আমি বড় পাই! আপনি
ত সবই জানেন।
দেবে। হ্যা তাত বটেই, এ আপনার আর একটা গুণ। আপনি
এ সবের ষ্টেপ, না নিয়ে কি করে থাকেন তা বুঝতে পারি
না। আমরা ত পারি না।
যতীশ। না রমানাথ বাবু, এ point এ আপনি বড় weak.
বাবুও প্রথম প্রথম অনেক করেছিলেন, কিন্তু এ কাল আলাদা।
এই আমি কি করলুম !
দীনেশ। আর আমায় এ জন্মে কিছু করতেই হলাে না; বাবা ব্যাটাই
সে কাজ করে গেছে।
রমানাথ। দেবেন বাবু, বিষয় আশয়ের কিছু বুঝি না; কি করব তাই
চুপকরে থাকি আর দেখি। আর যা হয় করে গােলমাল করে
দিন গুলা কাটিয়ে দি।
;
দেবেন্দ্র। বাঃ বিষয় আশয় আবার বােঝবার কি আছে। আর
বুঝতে বুঝতে এদিকে যে সব ফাক হয়ে যাবে। নিজের
interest আগে দেখা দরকার। তারপর আপনি একটু
আমােদ আহলাদ চান, এতাে ভাল। এ ত একটু আবশ্যক।
এই আমরা কি আমােদ আহলাদ করচি না; কিন্তু শ্বশুরের
মৃত্যুর পর যে দিন মনে করলুম তাঁর vast ষ্টেট নিজের
হাতে নিলুম। শাশুড়ি বেঁচে রয়েচেন, শ্বশুরও কায়দা করতে
কিছু শুরু করে যান নি।
যতীশ। কেন আপনার দাদাদের সঙ্গে মিটতে কতক্ষণ লাগল ?
দেবে। সে ছেড়ে দাও, সে বাড়িটা বাগানটা না হয়।

প্রথম অঙ্ক।
১৩
4. '। । । ।
* * * *
যতীশ। যা হােগ, তাই না হয় হল ; সেও তাে আপনি কাক
কোকিলকে জানতে দেন নি ?
দেবেন্দ্র। না রমানাথ বাবু, আমার principle ও রকম নয়।
একসঙ্গে থাকতে হয় থাকুন, interest must be divided.
আমি ত আপনার পক্ষে কিছু বাঁকা দেখতে পাই না।
আপনার বিষয় থাকতে আপনি পরের কাছে সুদ গু জবেন;
আর আপনার দাদা, নিজের নামের জন্য অজস্র টাকা জলের
মত খরচ করবেন, তার বন্ধুর মেয়ের বিয়ের সাহায্য করবেন,
কোথায় অনাথ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করবেন, কে পড়তে পাচ্চেনা
তার মাসহারা দেবেন। I cannot tolerate all those
selfishness. ঐযে আপনার mother এর নামে পুরীতে
সেবাশ্রম করলেন, ওতেত আপনারও
টাকা আছে।
কিন্তু
আপনি কি মনে করেন ওতে আপনার motherএর নাম
কিছু বাড়বে ? ও ওঁর নিজের স্বার্থের জন্য ভিন্ন আর কিছুই
নয়। আপনি কিসের জন্য cowardএর মত চুপ করে রয়েছেন?
দীনেশ। নিশ্চয়ই, আমি বলি আপনি একটা পাটি শন্ সুট আনুন।
রমানাথ। আদালত টাদালত ও আমার সুবিধে নয়। দেখুন আমি
খাতাপত্র কিছু বুঝি না ; আমাদের current business,
পাটিশনের অনেক ঝঞ্চাট। তাই এত কষ্টভােগ করেও চুপ
করে রয়েছি।
দেবেন্দ্র। না, সে সব এখন দরকার নাই, সে দরকার নাও হতে পারে।
আপনি ইচ্ছা করেন ত আমার দ্বারা যতদূর সম্ভব আপনার
সাহায্য হতে পারবে। আমি আমার নীলাম্বরকে ছেড়ে
দিতে পারি, সে এ রকম খাতাপত্রে ঘুন। এই চৌধুরিদের,

১৪
পালেদের,—সে কত খাতাপত্র করেছে, কত খাতা উড়িয়ে
দিয়েছে তার ঠিক নাই।
দীনেশ। আর আদালতেরই বা ভয় খাচ্ছেন কি, সে ভার আমার।
আপনাকে নড়তেও হবে না।
বতীশ। Of course আমাদের দ্বারা যা সম্ভব সে উপকার আপনি
পাবেন, সে বিষয় আপনি sure থাকতে পারেন ।
রমানাথ। দেবেন বাবু আমি অনেক দিন থেকে আপনার সঙ্গে এ
বিষয় একটা পরামর্শ করব মনে করেছিলাম, আজ কথায়
কথায় সে কথা হল, ভালই হল! যা হােক আপনি আমার
অনেক উপকার করেছেন, এখন শেষ পর্যন্ত অনুগ্রহ করে
দেখবেন।
}
দেবেন্দ্র। certainlv, এটা আমার duty মনে করি। না, দেখুন
আপনার যতই থাকুক এই আমার যে টাকাটা হয়েছে এটা
একেবারে দিতে আপনার ত একটুও অসুবিধা হতে পারে,
এ সাধ করে কেন ? আপনি বলেন ত আমি নীলাম্বরকে
আপনার সাক্ষাতেই ডেকে আপনাকে বুঝিয়ে দি’, যে আপনি
যা মনে করছেন কত শক্ত কাজ, সেটা কত সহজ
রমানাথ। না এখন থাক, আজ মাথাটা বড় কি রকম করচে। আজ
যাই আপনার সঙ্গে এ বিষয় পরামর্শ করব।
যতীশ। তা মাথাটা একটু করতে পারে বৈকি, এযে আমারই সহ
হচ্চে না।
দীনেশ। মাথাটা সেরে যাবে এক পেগ
রমানাথ। (কথায় বাধা দিয়া) না আজ থাক আমি চলি।
[ দীনেশের তাড়াতাড়ি কক্ষান্তরে গমন।

প্রথম অঙ্ক।
।।।।।।।
;
হে এনাে না আমি হয়ে যাচ্ছি।
[ রমানাথের পশ্চাৎ পশ্চাৎ গমন।
দেবেন্দ্র। যতীশ, আজ ঠিক কাজ হয়েছে। partition suit এখন
এনে কাজ নাই। নীলাম্বরকে দিয়ে আগে একটু ভিতরে
ঢােকা যাগ, না ; তারপর কাজ আছে।
যতীশ। আমি বলছিলাম, আদালতে অনেক ঝঞ্জাট এই সব ভয়টয়
দেখিয়ে ওর শেয়ারটা
দেবেন্দ্র। এখন চুপ কর না,
( দীনেশের প্রবেশ।)
চলে গেল ? টেনে গেছে ?
দীনেশ। হ্যা, তা না হলে এত সব যে মিথ্যা হয়ে যাবে।
দেবেন্দ্র। তাতে দীনেশ তালিম আছে। এখন শােন দীনেশ অনেক
কাজ আছে।
দীনেশ। সে সব হাঁ করতেই বুঝে নিয়েছি, এখন একটু ফুর্তি করা
যাগ, এসাে।
দেবেন্দ্র। না এখন ও সব নয়, একবার নীলাম্বরকে ডাক। তাকে
একটু জিজ্ঞাসা করা যাগ। তারপর আর একটা কাজ আছে ।
{ দীনেশের প্রস্থান।
কেশব ব্যাটাকে ভাল রকম শিক্ষা দিতে হবে।
যতীশ। যাদের কথার ঠিক নাই তারা আবার মানুষ কি, ওরও বড়
বাড় বেড়েচে, ওকে রীতিমত শিক্ষা দেওয়া দরকার।
( নীলাম্বর ও দীনেশের প্রবেশ।)
দেবেন্দ্র। নীলাম্বর, তুমি ত অনেকদিন পালেদের গদিতে ছিলে ;

প্রতিভা ।
'। । । ।
উমানাথ বাবুদের বিষয় সম্পত্তির কারবারের খাতাপত্র কি
রকম কিছু জানা আছে কি?
নীলাম্বর। পালেদের সঙ্গে ওঁদের কাজকৰ্ম্ম খুব কমই, তা হলেও
আমি কতকমতক জানি। আর জানি না জানি কি করতে
হবে বলুন। ওদের হেড, গােমস্তা বিনদ সরকার আমার সম্পর্কে
ভাইপাে হয়। সব কাজ মিটবে।
দেখ রমানাথ তার অংশ বের করে নেবে। তুমি তােমার
ভাইপােকে হাত করে রেখে দিও, এই সুযােগ দেখাে না
ফস্কায়। কিন্তু এখন খুব সাবধানে কাজ করে যেও। কি
করতে হবে না হবে পরে বলব।
নীলাম্বর। যে আজ্ঞা, কিন্তু উমানাথ বাবু একজন বুঝদার লােক,
একে বেকুব ঠাওরাবেন না, এতে অনেক কাঠখড় পােড়াতে
}
হবে।
দেবেন্দ্র। সে আর আমায় শেখাতে হবে না, তােমার ভরসা আছে ত ?
নীলাম্বর। আজ্ঞা আপনার বাপ মায়ের আশীর্বাদে নীলাম্বর এমন
অনেক উমানাথ রমানাথকে দেখেছে।
দেরেন্দ্র। আচ্ছা যাও। উকিলের কাছ থেকে সেই ডিক্রীর নকল
খানা আজ এনাে।
নীলাম্বর।
যে আজ্ঞা।
[ নীলাম্বরের প্রস্থান।
দেবেন্দ্র। যতীশ, কেশব ব্যাটাকে কি করে জব্দ করা যায় বল দেখি।
যতীশ। আপনার চাইতে কি আমার মাথায় মতলব বেশি আসবে ?
দীনেশ চন্দ্র কি বল ?
দীনেশ। আমার বাবা মতলব উতলব, বড় আসে না। লাঠৌষধি যা

প্রথম অঙ্ক।
১৭
দীনেশ।
আমাদের সাবেক আছে, কিম্বা বাঙ্গালা গােলা, যখন রায়েদের
গলি দিয়ে সন্ধ্যার পর আসবে ; বল ব্যবস্থা করি।
দেবেন্দ্র। মেরে কি লাভ হবে ? ব্যাটার মেয়ের বিয়ে ঘােচাতে হবে,
ধােপা নাপিত বন্ধ করতে হবে ; দেখি উমানাথ টাকায় কি
সাহায্য কতে পারে।
সে হলে বড় রগড় হয়, কিন্তু কি করে হবে তা’ত মাথায়
আচে না।
দেবেন্দ্র। সে আর ভাবনা কি, যেখানে রামসুন্দর চাটুয্যে, ভূপতি
বড়য্যে ইত্যাদি আছে! কিছু রূপচাদের কথা, এই ত। ওর
একটা বিধবা ভাজ আছে জান?
দীনেশ। খুব জানি। বাস, আর কিছু বলতে হবে না।
দেবেন্দ্র। শুনেচি কেশবের মেয়ের বিয়ে এই মাসের শেষেই হবে।
তুমি কথায় কথায় কাল সকালে চাটুয্যেকে একবার এদিকে
নিয়ে এসাে না; তারপর যা করতে হয় করা যাবে।
দীনেশ। কাল সকালে চাটুয্যেকে কোন অছিলায় আনব। অনেক
রাত্রি হয়ে গেছে, খাট্টা তত দেবে না, এখন সরে পড়া
যাক।
দেবেন্দ্র। আমিও আজ বসব না উপরে যাই।
[ সকলের প্রস্থান।
;

১৮
প্রতিভা।
তৃতীয় দৃশ্য।
উমানাথের অন্দরের সংলগ্ন বারান্দা।
উমানাথ ও পিসিমা।
পিসিমা। তােমার বাবা সব অন্যায় ! বড় দুঃখের এই বংশের প্রদীপ,
দু’খানা ভাল করে গয়নাও দিতে নেই ? আজ দাদা থাকলে
কত লােকজন খাওয়াতেন, কত দান খয়রাৎ করতেন তার
সীমা নাই। আজ বড় আহ্লাদের দিন বাবা ; তুমি কিনা
বারটী বামুন খাইয়েই সব সাবলে !
উমানাথ। পিসিমা তােমরা আশীৰ্বাদ কর বেঁচে থাক্‌, আমােদের
দিন অদৃষ্টে থাকলে অনেক আসবে। কতকগুলাে গয়না দিয়ে
কি হবে ? যা হয় দু'তিনখানা ত দিয়েছি।
পিসিমা। তােমার অভাব কি বাবা ? দাদা যা রেখে গেছলেন শুনতে
পাই তুমি তার দিগুণ বাড়িয়ে। তােমার দান ধ্যান, ক্রিয়া
কাজের জন্য তােমার জগৎ জোড়া নাম, আর এই সােনার
চঁাদকে পাঁচখানা গয়না দিতে, অন্নপ্রাশনে দশ টাকা খরচ
করতেই তােমার যত টানাটানি! বউ ও কত দুঃখ করছিল।
উমানাথ। খরচ করাই কি মস্ত কাজ পিসিমা ? এর জন্য মা দুঃখ
করেন কেন বুঝতে পারি না। এই সামান্য কথা নিয়ে আজ
ক’দিন ধরে
অনেকে অনেক কথা আমায় বলছেন। কিন্তু
মা ত সবই জানেন, তিনি বলেন এ আমার নিতান্ত বরাত
মন্দ। বাবা থাকূলে আজ দীন দরিদ্রের দান করতেন ।
নাচ, তামাসা দিতেন ; লােকজন খাওয়াতেন সত্য। সেটা তার
কাজ, তিনি তা পারতেন, আমি পারি না।
এটা আমার

প্রথম অঙ্ক ।
১৯
কাজ নয়। আশীর্বাদ কর আমার যা কাজ তা যেন সব আমি
করতে পারি। আমার কর্তব্যে না কিছু অবহেলা হয়, আমি
ভগবানের কাছে এই প্রার্থনা করি।
পিসিমা। বালাই, ও কথা কি বলতে অছে বাবা ! এও তােমার কাজ ।
তুমি চিরজীবী হয়ে এমনি করে দু’টী ভায়ে দশজনকে
প্রতিপালন করে আমার বাবার নাম বজায় রাখ।
উমানাথ। পিসি এবারে অনেক দিন পরে এসেচ, এ মাসটা থেকে
যাও।
পিসিমা। দিন কতক থাকতে ইচ্ছা হয়, কিন্তু থাকলে চলে না বাবা ।
বৌমাটী ছেলে মানুষ আর সংসারেই বা তেমন কে আছে ?
একটা কথা বলছিলাম, বৌমাকে এবার দেখলুম ত কেবল
হাড় ক’খানি সার, দেহে আর কিছুই নাই। কলকাতায়
নিয়ে গিয়ে একবার ভাল ডাক্তার দেখালে
হত না,
কি অসুখটা বলে। আর একটু খারাপ হলে কি আর
বাচবে ?
উমানাথ! যা হবার তা হবেই। কলকাতায়
( ভৃত্যের প্রবেশ।)
ভৃত্য। শরৎ বাবু এসেছেন।
উমানাথ। এইখানে আসতে বল।
| ভৃত্যের প্রস্থান।
পিসিমা বাড়ীর ভিতর যাও, শরৎ আচে।
{ পিসিমার প্রস্থান এবং অন্য দিক দিয়া শরৎ ও হেমনাথের প্রবেশ।
শরৎ। হেমনাথকে ধরে নিয়ে এলুম।
এস ভাই হেমনাথ, কবে এলে, সব, ভাল ত ?
উমানাথ।

২০
প্রতিভা।
হেমনাথ।
এই সােমবার দিন এসেছি, এবার একলাই এসেছি। গৃহিণী
বেশ সেরেচে ?
উমানাথ। সেরেছে। তার সারা বােধ হয় এ জন্মে আর হচ্চে
।
হেমনাথ। সে কি ? এখনও সারে নি ? অনেক দিন হয়ে গেল যে।
একবার চেঞ্জে নিয়ে গেলে হয় না।
শরৎ। সে কথা উমানাথকে বললা না ।
উমানাথ। তুমিও এই কথা বলবে তা হলে আর কাকে বল্ব। তুমি
কি ভাই আমার অবস্থা জাননা ?
শরৎ। আমি সবই জানি কিন্তু ভাই এটা বুঝতে পারি না। এটা
অবহেলা করা তােমার কোন মতে উচিত নয়, সব কাজের
আগে তােমার এটা করা উচিত মনে করি।
হেমনাথ। আমারও বিবেচনায় এটা কোন মতে neglect করা কর্তব্য
নয়।
উমানাথ। তােমাদের আর কি বলব ভাই, অবহেলা বলতে হয় বল
বা যা’ বল্‌বে বল, আমার কর্তব্যের ক্রটি তাতে সন্দেহ নাই।
এ রকম ক্রটির আমার ত অভাব নাই। তবে তিনিই জানেন
আমার এ সব অপরাধ কতদূর ইচ্ছাকৃত।
শরৎ। উমানাথ, আমায় আর এত বােঝাবার প্রয়ােজন নাই, আমি
কি না জানি ভাই। তবে বলি এই জন্য, আমার মনে হয়
এ বিষয় তুমি যেটা কর্তব্য বলে মনে কর সেটা তােমার ভুল।
নিজের স্ত্রীর চিকিৎসা করান বা শরীর রক্ষার জন্য চেঞ্জের
ব্যবস্থা করা তােমার বিশেষ কৰ্ত্তব্য।

প্রথম অঙ্ক। হেমনাথ। আমারও তাই মনে হয়। তমার ভাবনা কি ভাই? এত আমরা নয় যে খরচের জন্য ভাবতে হবে। উমানাথ। হেম, ও কথা যেতে দাও ভাই। তােমার এলাহাবাদে কেমন কোন অসুবিধা হচ্ছে না? হেমনাথ। না তা সব বেশ সুবিধা আছে। হাহে, ছেলের অন্নপ্রাশনে সব ফাকি দিলে কেন ? এত পয়সার মায়া তােমার কবে থেকে হ’ল ? উমানাথ। এই দিন কতক হয়েছে। হেমনাথ। না না, সত্যি এতদিকে তােমার এত খরচ; আর এতদিনের পর এই ছেলেটী হয়েছে এর ভাতে কিছু করলে না কেন? শরৎ। এ সময় হ’ল না, আম পাকুগ, আমােদ গেছে কোথা। উমানাথ। ভাই হেমনাথ, তুমি আমার শৈশবের বন্ধু তােমায় আমার লুকাবার কি আছে ? পুত্র পরিবার নিয়ে বিদেশে থাক, সংসার কি তা'ত বুঝলে না ? জগদীশ্বর করুন তােমায় যেন বুঝতে নাই হয়। কর্তব্য পালনই আমার বিবেচনায় সংসারের প্রধান ধৰ্ম্ম, কিন্তু এই কৰ্ত্তব্যসকল পালন করা সময় সময় কত কঠোর তা'ত জান না। সংসারের রহস্য অতি জটিল, এখানে যার জন্য চুরি কর সেই আবার চোর বলে এ উদাহরণের অভাব নাই ; আবার পরের ধন চুরি করচ তার সাহায্য করে এমন লােকেরও অভাব নাই। এ অদ্ভুত স্থান। আমার স্ত্রী আমার প্রাণের প্রাণ ধীরে ধীরে মরতে বসেছে তা আমি বুঝছি না, আমার চেয়ে অপরে বেশি বুঝচে ? আর এই অবস্থায় আমার ছেলের অন্ন- প্রশিন চুপি চুপি সেরে নিয়ে জেনে শুনে তা'র আঁধার হৃদয় আরও আঁধার করতে বাধ্য হয়ে অসীম আলায় জ্বলচি, কিন্তু

২২
প্রতিভা।
Wv\:* {\
fr\/| A? ।।: *::
..। ।।।
।।।।,, ,
তার জন্যও দশ জনের চোখে আমি কৃপণ বলে বিবেচিত হচ্চি-
হায় ভগবান, এ রহস্য কে বুঝিয়ে দেবে ?
শরৎ। হেম তােমার ভিতরের খবর কিছুই জানে না তাই জিজ্ঞাসা
করেছে, এখন এসবের আলােচনায় আর দরকার নাই।
হেমনাথ। সত্যই ভাই উমানাথ, এ বিষয়ে আমি বড় ভাগ্যবান।
সংসারের জ্বালা কাকে বলে তা আমি জানি না, কেবল কাছ
ছাড়া হয়ে থাকলে সময় সময় বিরহের জ্বালায় জ্বলে মরি এই যা
যাতনা। তােমার অবস্থা বুঝে আমার সত্যই বড় কষ্ট হচ্ছে।
য’ হােগ আমার জন্য একটু কষ্ট পেলে কিছু মনে করাে না।
উমানাথ। মনে কি করব ভাই, তােমার কি দোষ ! আমার অদৃষ্ট দোষে
এ কষ্ট পাচ্চি। নচেৎ সাধারণতঃ মানুষ যা চায় আমার সত্য
সত্যই তার প্রায় কোন অভাবই নাই। অর্থ, যশ, গৌরব,
স্নেহময়ী মাতা, সাধ্বী স্ত্রী, মেহের আকর পুত্র, আমার কিসের
অভাব, কিছুরই অভাব নাই। অভাব কেবল শান্তির।
হেমনাথ । ও কথায় আর কাজ নাই। তােমাদের সমিতি কেমন
চলুচে ?
উমানাথ। ও সব সমিতি টমিতি যেমন সচরাচর চলে থাকে তেমনি
চল্‌চে। দেবেন বাবু সমিতি স্কুল প্রভৃতি সব দেখছেন, আমি
আর ওর ভিতর নাই, শীঘ্র একেবারে ছেড়ে দেবো। আমি
একেলা আমার ক্ষমতা মত শরতের সাহায্যে ঘা’ পারি করি।
ও সব বিরাট দেশহিতৈষীদের সঙ্গে আমার সুবিধা হয় না।
তুমি চেষ্টা করে কলকাতায় বদলি হতে পারলে খুব ভাল হয়।
কিন্তু এখন এটা গােপন রেখাে।
হেমনাথ। নূতন লেটেখা আর হচ্চে? সে কাব্যখানা ছাপালে ?

প্রথম অঙ্ক।
২৩
উমানাথ। আর লেখা! সে সব এ জন্মের মত হয়ে গেছে। সে
কাব্যখানা একবার দেখে প্রেসে দোবাে তা আর হয়ে উঠছে না।
( ভট্টাচার্য্যের প্রবেশ।)
প্রণাম ভট্টাচার্য্য মশায়, আসুন।
ভট্টাচাৰ্য। বাবাজি, একটা কথা বলব
উমানাথ। এমন কিছু গােপনীয় যদি না হয় তাহলে আপনি শরৎ বা
হেমের কাছে নিঃসঙ্কোচে বলতে পারেন।
ভট্টাচাৰ্য। কেশবের বড় সর্বনাশ ; কথাটা হচ্চে, শুনলাম দেবেন্দ্রনারায়ণ
বাবু নাকি বলেচেন কোন মতে তার মেয়ের বিয়ে বন্ধ করবেন,
তাকে একঘরে করবেন।
উমানাথ। কেন দেবেন বাবু এমন করবেন। আপনাকে কে বললে ?
ভট্টাচাৰ্য। আমায় শিরােমণি বললে। সে নাকি, কথাটা হচ্ছে, নিজের
কানে শুনেছে; রামসুন্দর রাইচরণের সঙ্গে, কথাটা হচ্চে, রায়ের
গলির মােড়ে দাড়িয়ে এই সব কি ষড়যন্ত্র করছিল। কথাটা হচ্চে
কি, তুমি কেশবকে টাকা ধার দিয়েচ সেইজন্য দেবেন্দ্রনারায়ণের
রাগ।
এখন ব্রাহ্মণের, কথাটা হচ্চে, জাত রক্ষার উপায়
৩
কি হবে ?
উমানাথ। দেবেন বাবুর এজন্য রাগের কারণ কি, তিনি আমার
যথেষ্ট সম্মান করে থাকেন। যা হােগ যদি সত্য হয় তবে ভয়ানক
কথা। ভগবান আছেন, নিরীহ ব্রাহ্মণের কোন বিপদ হবে
। আমি এখনই এ বিষয়ে সন্ধান নিয়ে যা করতে হয় করছি,
আপনি আশীৰ্বাদ করুন।
ভট্টাচাৰ্য। বাবা, নারায়ণ তােমার মঙ্গল করুন। কথাটা হচ্ছে কি,
তুমি যে লােকের নাতি আর যে লােকের ছেলে তুমি না হলে,

৪
প্রতিভা।
;
কথাটা হচ্ছে, আর গরীবকে কে দেখবে বাবা! উঃ কি দম্ভ,
আজই না হয় শ্বশুরের ধনে বড়মানুষ হয়েছে; তােমাদের, কথাটা
হচ্চে, খেয়েই ওরা মানুষ ; আমি ত জানি, ন-বাবু দেবেনের
বাপের কি উপকার না করেচে ; তিনি না দয়া করলে, কথাটা
হচ্চে, আজ.কি দশা হত। এখনও ওর পেটে তােমাদের ভাত
গজগজ করছে, আর তােমার অনিষ্ট চেষ্টা!
উমানাথ।
সে সব কথা এখন ছেড়ে দিন। আর চারদিন পরে বিয়ে,
চলুন এ কথা কতদূর সত্য একবার আগে সন্ধান নেওয়া যায়,
তারপর যা করতে হয় করা যাবে। [ সকলের প্রস্থান।
চতুর্থ দৃশ্য।
রামসুন্দর চাটুয্যের চণ্ডীমণ্ডপ।
রাইচরণ, রামসুন্দর চাটুযয্য, শিরােমণি মহাশয় ও তিনজন
গ্রামস্থ ব্রাহ্মণ।
১ম ব্রাহ্মণ। ভিতরের কথা কি করে জাব বল ; ভাল মানুষটীর মত
থাকে ওর মধ্যে এত ব্যাপার? দুর্গা বল, ওখানে আবার যেতে
আছে।
রামসুন্দর। এখনও চন্দ্র সূৰ্য্য উটছে, শিরােমণি খুড় বল কি,
ব্যাটার কি সাহস গাে ! তাই না হয় চুপি চুপি কোন রকমে
সেরে নে। না, সমাজ গেল !
রাইচরণ। এ কথা ত সবাই জানে, মাগী নাকি সােয়ামী থাকতেই নষ্ট
হয়েছেল।

প্রথম অঙ্ক।
২য় ব্রাহ্মণ। তা হলে কি হবে ? এই সমাজের বুকের উপর বসে ব্যাটা
দাড়ি ওপড়াবে আর আমরা হাঁ করে দেখব ?
শিরােমণি। আমরা বেঁচে থাকতে তা কখনই হতে পারবে না।
তারপর আমাদের অবর্তমানে বলতে পারি না কি হবে।
রামসুন্দর। আর কেশব ব্যাটারই কি আস্পর্ধা ; একটা ফুয়েতে উড়ে
যাবি, তুই কিনা উমানাথের ঠেস্ পেয়ে জমীদার দেবেন্দ্রনারায়ণ
ঘােষের অপমান করিস! তিনি নাকি পরম দয়ালু তাই এ সব
শুনেও শােনেন না। যা হােগ রাইচরণ আছে, খুড়ে রয়েছেন
আর তােমরাও সব রয়েছ, এর একটা বিহিত করতে হবে,
অতটা বাড় ভাল নয়।
রাইচরণ। নিশ্চয়ই করতে হবে। আমরা না হয় গরীবই, তা বলে ত
জাত দিতে পারব না !
২য় ব্রাহ্মণ। সে ত বটেই, সে ত বটেই।
শিয়ােমণি। আমরা ব্রাহ্মণ, সমাজের মাথা, আমরা না দেখলে এ সব
দেখবে কে? বিয়ের রাত্রে যাতে একজনও ওর বাড়ী না
মাড়ায় তা করতেই হবে।
৩য় ব্রাহ্মণ । ও চণ্ডালের বাড়ী কেউ যাবে না। প্রস্রাব করতেও
যাবে না।
রামসুন্দর। খুড়ে সে জন্য ভাবতে হবে না; আগে বিয়ে হােগ,
তারপর তার বাড়ী মাড়াবার কথা। এখন কি করে সমাজের
এই পাপ বিদায় হয় তার ঠিক কর। ও ত একঘরে বরাবরই
আছে, এখন ধােপা নাপিত বন্ধ করূতে হবে।
শিরােমণি । (একটু আস্তে আস্তে ) উদিকে বিয়েরও কোন গােল
লেগেছে নাকি ?

প্রতিভা।
;
রামসুন্দর। সেও বােধ হয় এতক্ষণ কেশবের কাছে খপর এসে গেল।
কি বল, একটা নিরীহ ব্রাহ্মণ আমরা পাঁচজন থাকতে জাত
দেবে ! সে তুমি নিশ্চিন্ত থেকো।
রাইচরণ। আমার কিন্তু একটু ভয় হয়। সেই চক্রাকার দুপিট ভাজা,
সে বড় সােজা জিনিষ নয় ; পাছে ও পাড়ার ঐ পরাণে, বিনােদ
এই ব্যাটারা না লােভ সামলাতে পারে ; বিশেষ বিনােদ,—ও
ব্যাটা উমানাথ বাবুর মাসহারা খায়।
রামসুন্দর। আরে মহাভারত! তুমি কি তাই মনে কর? কে
দু’খানা লুচির পিত্যেশ করে ! তবে ঐ যা বলে ঐ উমানাথ
ওই একটু ধোকা আছে।
১ম ব্রাহ্মণ। কিসে আর কিসে।
৩য় ব্রাহ্মণ। না হে ঐ একটা আমারও ভাবনা হয়।
( ভট্টাচার্য্যের প্রবেশ।)
শিরােমণি। আরে এসাে, ভায়া এসাে। এ সময় হঠাৎ এ দিকে যে ?
ভট্টাচাৰ্য। এই দাদা তােমারই কাছে। কথাটা হচ্ছে কি না একটু
বিশেষ না আটকালে আর এসেছি। আর আছে কে যে একটা
পরামর্শ করব। তা বেশ হয়েচে সব এখানে রয়েছ।
শিরােমণি। কি ব্যাপার বল দেখি ।
ভট্টাচাৰ্য। কথাটা হচ্ছে : উমেশের ছেলে আমাদের কেশবের বড়
বিপদ। এই মাত্র শুনে এলু, কথাটা হচ্ছে, তার নামে একটা
বনাম দিয়ে তাকে একঘরে করবার যােগাড় হচ্ছে। বরকত্তাও,
কথাটা হচ্চে, নাকি বিয়ে দেবেন না বলে বেঁকে দাড়িয়েছেন।
রামসুন্দর। এতে আর আশ্চর্য কি আছে, এ কাজের ত এই ফল।

প্রথম অঙ্ক।
1 + + + + +
ও কাজ ত পণ্ড হবেই, আপনি কি বলতে চান ওর বাড়ীতে
গিয়ে বসে পাত পেড়ে ফলার করে আসতে হবে ?
শিরােমণি। আমাদের ঐ কথাই হচ্ছিল। তা ভায়া জেনে শুনে কে
ওখানে যাবে বল। মাথার উপর একটা ধৰ্ম্ম আছে ত।
রাইচরণ। না, এ যে বিষম কথা, এ রকম পাপের প্রশ্রয় দিলে সমাজ
উৎসন্ন যাবে।
ভট্টাচাৰ্য। অবশ্য এ ভয়ানক পাপ তার সন্দেহ কি আছে ; কিন্তু
কথাটা হচ্ছে কি, আমার বয়স প্রায় ষাট উত্তীর্ণ হতে চলল কৈ
এ কথা ত এত দিন শুনি নাই, আজ হঠাৎ একথা কোথা থেকে
আসে ? এর ভিত্তি কোথায়, এ কথা সত্য কি মিথ্যা, কথাটা
হচ্ছে কি, এ সব ভাল করে না জেনে একটা ব্রাহ্মণের এরূপ
দণ্ডের ব্যবস্থা করাটা কি কৰ্ত্তব্য।
রামসুন্দর। আপনাকে পরামর্শ দেবার জন্য ডাকা হয় নাই। এর সত্য
মিথ্যা আমাদের আর জানতে বাকি কিছু নাই। জানতে হয়
আপনি জানুন গে।
ভট্টাচাৰ্য। রাম ভাই আমার কথাটা বুঝতে পাচ্চ না। রাগ কর কেন,
কথাটা আগে ভাল করে শােনই না। আমার ত কেশবের জন্য
ঘুম হচ্ছে না! কথাটা হচ্ছে কি পাছে এই গােলমালেতে একটা
মস্ত দাও ফস্কে যায়, এই জন্যই, কথাটা হচ্ছে কি, তােমাদের
কাছে এসেছি।
শিরােমণি। হাঁ হাঁ সেটা দেখতে হয় বই কি, ঝপ করে একটা করতে
নাই। ব্যাপার খানা কি খুলে বলত ভায়া।
ভট্টাচাৰ্য। উমানাথ বাবুর পুত্রের অন্নপ্রাশন হয়ে গেছে; কথাটা হচ্চে
তঁার অভিপ্রায় ব্রাহ্মণদের সকলকে একটী করে গিনি দেবেন,

২৮
প্রতিভা।
-, * * * * 7 •••••••••
''।
* * * * * * *
কিন্তু তিনি কেশবকে বা তার জ্ঞাতিদের ছাড়বেন না বলেন।
যদি এই সব গােলযােগ না মেটে তা হ'লে, কথাটা হচ্ছে, হয়
কা’কেও দেবেন না, না হয় রায়েদের সমাজে দেবেন। আর
তিনি বলেচেন এ বিয়েও কেউ বন্ধ করতে পারবে না এবং যদি
তাকেও একঘরে হতে হয় তবুও তিনি বিয়ের রাত্রে কেশবের
বাড়ীতে যাবেন। আর তা ছাড়া যারা যারা এই কাজের
উদ্যোগী তাদের নামে মানহানির নালিশ রুজু করিয়ে
ক্ষতিপূরণের দাবি করাবেন।
শিরােমণি। আহা উমানাথের মত ছেলে কি আজকের বাজারে
দেখতে পাওয়া যায় ! যেমন বংশে জন্ম তেমনি মেজাজ ।
সে কি কথা, কেশব কি আমাদেরই পর, তাকে দেখতে হবে
বৈকি, আমরা না দেখলে আর কে দেখবে !
রাইচরণ। তাত বটেই! কে কোথা শত্রুতা করে একটা মিথ্যা রটিয়েছে
তা বলে তাই আমাদেরও শুনতে হবে ? আমরা ব্রাহ্মণ, ব্রাহ্মণের
জাত রক্ষা করব না জাত মারব ! রাধে মাধব !
রামসুন্দর। তা না হলে আর ভগবান বড় করবেন কেন? উমানাথ
বাবুর যােগ্য কথাই হয়েছে। আমিও মনে করছিলাম বাবাজি
পুত্রের অন্নপ্রাশনে ব্রাহ্মণদের আশীর্বাদ নিলে না কি রকম হল।
একটা কথা বলছিলাম, আহা মিথ্যাই হােক, কিন্তু সমাজের কথা
ত বলা যায় না কি হ’তে কি হয়, উমানাথ বাবু না হয় এটা
আজ কালের মধ্যেই সেরে ফেলুন না; তা হলে আর কোন
ভাবনাই তার থাকবে না।
২য় ব্রাহ্মণ। চাটুযয্য বলেচে মন্দ নয়। আহা উমানাথ বাবু নির্বিরােধী
লােক, তিনি কি কা’কেও হতাশ করতে পারেন।

প্রথম অঙ্ক। ১ম ব্রাহ্মণ। আমি ত বলচি, কেশবের সঙ্গে আমার ছেলেবেলাকার আলাপ, তার স্বভাবও আমি জানি। গরীব হােক কিন্তু দেব চরিত্র। কখন কোন স্ত্রীলােকের দিকে মুখ তুলে চাইতে দেখি নি। ৩য় ব্রাহ্মণ। না না ও কথাই নয়, সে ত আমার আপনার লােক গাে, আমার ভগ্নীপতির ভাইয়ের সম্বন্ধি। আমরা বরং কখন কোথাও একবার গিয়ে বসিচি, কিন্তু প্রাণ থাকতে তাকে সে কথা কখন বলতে পারব না। ভট্টাচাৰ্য। তা হলে দাদা ও কথাটা বােধ হয় কিছুই নয়, ও একটা মিছে কথা কে রটিয়েছে। এখন যাই। শিরােমণি। তার আর সন্দেহ কি ভাই, কেশব অতি বিনয়ী, অতি সৎ, ও কথা মনে করলেও পাপ হয়। সেজন্য তুমি নিশ্চিন্ত থেকো। জাতমারা ওমনি মুখের কথা প্রায় ! [ ভট্টাচার্যের প্রস্থান। রাইচরণ। এখন কি করা যায় বল দেখি, দু’দিক কিসে বজায় থাকে? আর তা ছাড়া দেবেন্দ্র বাবু যদি সব বুঝতে পারেন ত বিপদ। শিরােমণি। আমিও ত তাই ভাবচি। রামাখুড়াে যা বলছিল তাই হ'লেই বেশ হয় কোন গােল থাকে না। উমানাথকে পার আছে, কিন্তু নারায়ণ বাকলে আর রক্ষা নাই। ১ম ব্রাহ্মণ। এর জন্য আর ভাবনা কি, চুপি চুপি বেশি রাত্রে সব চুকে গেলে কেশবের বাড়ী যাওয়া যাবে, কে জানতে পারবে? রামসুন্দর। না হে, কথাটা যত সাদা মনে করচ তা নয়। যা হয় একটা ঐ রকমই করতে হবে; কিন্তু আমার বড় ভাল লাগছে না, তােমরা দেবেন বাবুকে জান না। যাহােক তা বলে এটাও

৩০
প্রতিভা।
ছাড়া যায় না। খুড়াে, বেলা হয়ে গেল, এখন স্নান টান
করা যায় অন্য সময়ে তােমার সঙ্গে একটা গােপনে পরামর্শ
[ সকলের প্রস্থান।
পঞ্চম দৃশ্য।
মানাথের শয়নকক্ষ।
উমানাথ ও প্রভা।
উমানাথ। (স্বগত) এই যে প্রভা এখানে ঘুমিয়ে পড়েছে। আহা
এই অসুখ শরীরে আমার জন্য অপেক্ষা করতে করতে এই
চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়েছে। আজ তের বৎসর ধরে এই রকমে
কাটুল, জানি না আর ক’দিন এ স্বর্গীয় কুসুমের সৌরভ এ
হতভাগাকে বিভাের করে রাখবে। ভগবান, এ সােনার কমল ।
আমার জন্য পাঠিয়েছিলে কেন ? আর যদি দিয়েছিলে তবে
আমার এ দশা করলে কেন ? এ যে ভাঙ্গা ঘরে চাদের আলাে।
আহা কি সুন্দর, কি কোমল, কি স্নিগ্ধ ! যতই দেখি আশ
মেটে না, দেখি ভাল করে দেখি। জেগে থাকতে ভাল করে
দেখব সে সাহস নাই। আমি অপরাধী, অযােগ্য ; বলতে কি
মুখ তুলে কথা কইতে, এমন কি কেমন আছ এ কথা জিজ্ঞাসা
করতেও যেন সঙ্কোচ হয়। কর্তব্য সাধনই সংসারের প্রধান ধর্ম,
আমার এই বিশ্বাস অন্তরে নিরন্তর জেগে থাকলেও যে বার
বৎসর বয়স থেকে অবিশ্রান্ত ভাবে প্রাণপণে আমার সেবায়, শরীর
ও মনের অশেষ যাতনা নিয়ে সংসারের ছােট বড় সকলের
।
;

প্রথম অঙ্ক।
••• • • •
কাছে সভয়ে সন্তর্পণে মন যুগিয়ে নিজের শরীর পাত করতে
বসেছে, সেই সহধর্মিণীর প্রতি আমার কি কর্তব্য পালন কচ্চি?
বুঝি এ জন্মে এ কৰ্ত্তব্য পালনের দিন আর পাব না। আমার
মনে মনে যে অহঙ্কার আছে আমি যত দোষেই দোষী হই
কর্তব্যপালনে কখনও বিরত নই সে মিথ্যা। কিন্তু ভগবান
তুমিই জান আমার এ অবস্থায় সকল দিক বজায় রাখা কতদূর
সম্ভব। প্রভু আমায় ক্ষমতা দাও, আমায় রক্ষা কর। আর প্রভা,
আমি তােমার স্বামী, তুমি আমার কোন দোষ কখন দেখতে
পাওনা, তবে কি তােমার কাছে ক্ষমা পাবার প্রত্যাশাও নাই।
প্রভা। ( নিদ্রাভঙ্গের পর উঠিতে উঠিতে) তুমি কখন এলে, আমি
ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
উমানাথ। আমি এই কতক্ষণ আসছি, তুমি ভাল করে শশাওনি কেন ?
প্রভা। তােমার কি শরীর কোন রকম খারাপ হয়েছে ? তুমি ও রকম
করে দাড়িয়ে ওরকম করে চেয়ে রয়েছ কেন ? কেশব বাবুর
বাড়ীর বিয়ে দিয়ে সব বেশ নির্বিঘ্নে মিটেচে ত ?
উমানাথ। না আমার কিছু হয়নি! ঈশ্বরের ইচ্ছায় সব নির্বিঘ্নে
মিটেচে ; আমার বড়ই ভাবনা ছিল, তিনি আমার মুখ রক্ষা
করেছেন। কিন্তু শুনলাম দেবেন্দ্র বাবু নাকি আমায় দেখে
নেবেন বলেচেন !
প্রভা। সেজন্য আমি ভাবি না, তুমি ব্রাহ্মণকে বিপদ থেকে রক্ষা
করেচ, তােমায় ঈশ্বর দেখবেন। কিন্তু আজ তােমার কথায়
তােমার মুখের ভাব দেখে, আমার মনে কি রকম হচ্ছে, তা
আমি তােমায় বুঝিয়ে বলতে পারি না। তােমার কি হয়েছে
আমায় বল, আমার মন বড় অস্থির হচ্চে।

প্রতিভা ।
••••W
.।।
।।। ।
উমানাথ। কি বলব প্রভা,
আমি তোমার কাছে শত অপরাধী,
অপরাধীর যা হয়ে থাকে আমার তাই হয়েছে, আর কিছু নয়।
প্রভা। ও কথা বলে না, আমার মত ভাগ্য কার আছে? কার স্বামী
তার স্ত্রীকে এত ভালবাসে এত যত্ন করে ? বরং আমি তােমার
কিছুই করতে পারি না, অনেক সময় সংসারের কথা শুনিয়ে
তােমায় কষ্ট দি’। তুমি ওরকম মনে করলে আমার বড় কষ্ট হয়।
উমানাথ। তুমি আর কি বলবে, আমি কি জানি না আজ পর্যন্ত
একদিনের তরেও আমি তােমায় সুখী করতে পারিনি।
পারিনি কেন, চেষ্টাও করিনি বলে হয়। নীরবে তুমি অসুখ
শরীরে সংসারের কি জালা ভােগ করচ তাকি আমি বুঝতে
পারি না। তুমি একলা
সমস্ত রাত্রি জ্বরের যন্ত্রণায় ছটফট,
করেচ, বাবা অসন্তুষ্ট হ’বার ভয়ে আমি কলকাতা থেকে আসূতে
পারি নি, ছেলে মেয়েটাকে পর্যন্ত কেউ দেখেনি কি আমি
ভুলে গেছি! আজ বাবা স্বর্গে গেছেন, লােকের চক্ষে আমি
এখন স্বাধীন, কিন্তু ভগবান্ জানেন আমার চেয়ে পরাধীন কে
আছে! বুঝি অতি পাপ না করলে বাপের বড় ছেলে হয়ে
জন্মায় না। তা না হলে যার অভাব নাই সে তার স্ত্রীর
চিকিৎসা করাতে পারে না কেন? খাবার জন্য একটু দুধের
কথা বলতে না পেরে কণ্ডেন্সড মিল্কের ব্যবস্থা করে কেন ?
প্রভা, মনে করলে বুক ফেটে যায়। আমার চেয়ে দুর্ভাগা কে
আছে ? যে তার নিজের সংসারের সকলকে সুখে শান্তিতে
রাখতে অক্ষম, তার বাহিরে লােকের কাছে যশ গৌরব সব
মিথ্যা। আমার দ্বারা তােমার কোন শান্তির সম্ভাবনা নাই।
তুমি ভগবানের উপর নির্ভর করে।

প্রথম অঙ্ক।
* । ** ** **
-A4+
প্রভা। আমার কি কষ্ট, কোন কষ্ট ত’ নাই। সংসারের কথা বা
বলে ও আর কোথায় না আছে। তবে আমার মনে মনে
এই দুঃখ হয়, আমার দোষের জন্য মা চুপ করে না থেকে
আমায় বকেন না কেন? ঠাকুরঝি, মেজবৌ এরা আমাকে
না শিক্ষা দিয়ে অন্যকে বলেন কেন, ঠাট্টা করেন কেন? আর
ছােটবো সে ছেলেমানুষ তার কথা ধরি না। এর জন্য তুমি
কি করবে, তােমার কোন দোষ ত নাই বরং তােমায়
অনুরােধ, যেন মা-টাকে কোন দিন এজন্য কিছু বােললা না,
তা হলে আমার এখানে থাকা দায় হবে। আর আমার
অসুখের জন্য ত অনেক দেখিয়েছ, আমি পাপের ফলে ভুগচি
তুমি তার কি করবে। আমার সামনে তুমি ও কথা আর
কখন বলল না।
উমানাথ।
তােমাকে বলব না, কখনও বলিও না, আজ কথায় কথায়
বলে ফেললুম। কিন্তু দু'দিন পরে তুমি চলে যাবে, আমি জন্মে এ
কথা কখন ভুলতে পারব ?
মরে যাব বচ, মরে ত বসে আছি, সে দিন কি হবে যে
তােমায় রেখে আমি যাব।
উমানাথ। হবে না হবে আমায় বলবার দরকার নাই, মনে ত সবই
বুঝতে পাচ্চ।
প্রভা। আচ্ছা তাই হবে, এখন ওদের বিয়ে কেমন হ’ল, জামাইটী
দেখতে কেমন সব বল।
উমানাথ। জামাইটী দেখতে শুনতে মন্দ নয়, এখনও পড়ছে।
মােটের উপর মন্দ হয় নাই।
প্রভা। যা হােগ তােমার জন্যই এই বিয়েটা হ’ল, বড় সুখের কথা ।

৩৪
প্রতিভা
উমানাথ। কার জন্য কি হয় প্রভা, সকলই তাঁর দয়া। আমি
একটু উপলক্ষ, সেটা অবশ্যই আনন্দের কথা, কিন্তু এটা আমার
কৰ্তব্য ভিন্ন আর কিছুই করিনি; তিনিই জানেন এর জন্য
আমায় পরে ভুগতে হবে কিনা।
প্রভা। পরের উপকার করে যদি নিজেকে ভুগতে হয় সেও ভাল।
তুমি ত পরের টাকা দাও নি, নিজের থেকে দিয়েছ এতে আর
তােমার ভাবনা কি ?
উমানাথ। প্রভা তুমি এখনও ছেলে মানুষ আছ, সংসার কি তা জান
। আর এখন কথা ক'য়ে কাজ নাই, রাত্রি বােধ হয় অনেক
হয়ে গেছে, এখন ঘুমােও, না হলে কাল তােমার অসুখ
বাড়বে। আমি বাহির থেকে হাতটায় পাটায় একটু জল
দিরে আসি তা না হলে ঘুম আসবে না। কাল কলকাতায়
যাবার দরকার আছে আমাকেও সকাল সকাল উঠতে হবে।
[ উমানার্থের প্রস্থান।
প্রভা। (স্বগত) আমি কি হতভাগিনী, চারিদিকের এত অশান্তির
উপর আবার আমার জন্য তিনি কষ্ট পান। আমি তাকে সুখী
করতে পারব না, আবার কষ্ট দেবাে। পূৰ্বজন্মে কত পাপ
করিচি তাই এমন দেবতার মত স্বামী পেয়েও সংসারের শাস্তি
কোন দিন পেলুম না, মনের মত হতে পারলুম না। আবার
এ জন্মের এই পাপে পর জন্মে কি কষ্ট পাব জানি না।
( করযােড়ে) নারায়ণ; এই কর, যেন যতদিন বেঁচে থা তার
সেবায় কাটাতে পারি, সংসারের সব জ্বালা ভুলে গিয়ে কেবল
তার সুখের চিন্তায় যেন আমার দিনগুলি কাটে, আর এই
প্রার্থনা, দয়াময় প্রভু, আমার স্বামীকে দেখাে, তুমি ভিন্ন তাকে

প্রথম অঙ্ক।
দেখবার আর কেউ নাই। তাঁকে ধন, মান, নাম সবই
দিয়েছ, জীবনে একটু শান্তি দাও। যেমন তিনি বাহিরের
সকলের কাছে পরিচিত, তাদের চেয়ে যারা আপনার, যাদের
সুখ শান্তি তাঁর একমাত্র চিন্তা, তারা যেন তাকে সেই চখে
দেখেন। আমি তােমার করুণা পাবার যােগ্য নই, তােমার
কাছে আমার এ প্রার্থনা করবার অধিকার নাই, দেব, তবু
তােমায় ডাকা ভিন্ন আমার উপায় নাই তাই ডাকি। আমায়
ক্ষমা করাে, দুঃখিনীর এই ভিক্ষায় বঞ্চিত করাে না, আমি আর
কিছু চাহি না।

দ্বিতীয় অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য।
তারার কক্ষ।
তারা, লাবণ্য ও বামুন মা।
তারা। কেন, কিসের জন্য ভাল কাপড় পরুবে না, কি দুঃখে পাঁচ খানা
গয়না পরুবে না? তােমার পাঁচটা নয় সাতটা নয়, কত দুঃখের
একটা মেয়ে। বিষয় ত ওঁর নিজের নয়, বিষয় আমার শ্বশুরের,
কেন বলবে না, তুমি খুব বলবে।
বামুন-মা। সে ত বটেই মা, থাকতে পরুবে না খাবে না? অত ভাল
মানুষের মত থাকলে শেষে সব কাকে পড়বে। ছােটবাবু
ভাল মানুষ, আমােদ, আহ্লাদ নিয়েই থাকেন, তুমি অমন করে
থেকো না, না হয় শাশুড়ীকে দিয়েও ত বলতে পার।
লাবণ্য। আমি বুলি, সে কথায় কান দেয় না, বলে হবে হবে গয়না
পরে কি হবে।
তারা। গয়না পরে কি হয়, এমন কথাও ত কোথায় শুনি নি।
কেন বড় গিন্নীর ওর মেয়েদের ত সিন্দুক ভরা গয়না রয়েচে,
তােমরা দেখবে সেই জন্যই না হয় পরে না। এই সেদিন
একছড়া ভাল মুক্তোর শেলি এলাে, আমরা জেনেও জানি না।
আর আমি দু বছর ধরে উমামহেশ্বর বত্ত করব বলুচি সে টাকা
বার করতে হলেই সর্বনাশ হয়ে যায়। আমার না হয়
পােড়া কপাল, আমার কথা ছেড়ে দাও, তােমাদের সুখ

দ্বিতীয় অঙ্ক।
৩৭
*** , n://'
...\\n\•
দেখলেও আমার সুখ। শাশুড়ীর কথা বলাে না বামুন-মা,
অমন একচোখাে শ্বাশুড়ী হয় না।
বামুন-মা। ওমা সে কি গো, মাগীর এ ছেলে আর ও ছেলে আবার
আলাদা নাকি। আর তােমার পােড়া কপাল আর একবার
করে বল্‌চ মা, আহা তােমার ত কৰ্ত্তা বেঁচে থাকতেও কখন
একটা বারব্রত করতে দেখি নি, আর এখন উনি করাবেন!
সব অদৃষ্ট মা, সব অদৃষ্ট। আচ্ছা মা তুমিও ত শ্বশুরের বউ, তুমি
কেন তােমার ভাইয়েদের দিয়ে না হয় বলাও না।
তারা। আমায় ভগবান মেরেছেন, আমার আর দরকার নাই মা ;
ওরাই সব ভােগ করুগ, আমাকে পরের দোয়ারে না ভিক্ষে
করে খেতে হয় এখন এই আশীর্বাদ কর।
বামুন-মা। সে কি মা, ও কথা কি বলতে আছে মা, তােমায় ছােটবাবু
দেখবেন। আহা, তােমাদের সাক্ষাতে আর কি বলব মা,
তােমাদের দু’যায়ের গুণ ভুলতে পারি না। তােমরা আছ তাই
এক আধবার এ বাড়ীতে আসতে পাই, তা না হলে কি আর
টুতে পেতুম্ ।
তারা। ছােট ঠাকুরপাে নিজের আগে সামলাগ, তারপর ত আমায়
দেখবে। আহা সে ত শিব। তাই বলি বামুন-মা এখনও
ঠাকুরপাে বুঝতে পাচ্ছে না, এই বেলা সব কেয়ালাে করে নিগ,
হলে পরে একেবারে সঁকে পড়বে। আমার ভাইয়েরা
বলে রমানাথ বাবু নিৰ্বিবাদী লােক, তিনি এখন চক্ষুলজ্জায়
বলতে পাচ্ছেন না, সব ঠিক করে নিলে আর কি হবে।
লাবণ্য। বামুনদিদি, আমি সবই বুঝতে পাচ্ছি, কি করি বল।
আমি ত খেঙ্গরা, ঝাঁটা খেয়ে এ বাড়ীতে আছি, যতক্ষণে দেবে

প্রতিভা।
ততক্ষণে খাব, যতক্ষণে দেবে ততক্ষণে পরব। আমি ত
চাকরাণীর অধম হয়ে আছি। আমার অদৃষ্ট মন্দ না হলে ও
রকম হবে কেন। আমি যে একটা কথা বলব তা শােনবার
তা'র সময় নাই, দু’দিন রাত্রে আসেই নি।
বামুন-মা। কি করবে মা সে তােমার বরাত, তার জন্য তুমি ভেবাে না
মা; বয়স দোষে ও রকম হয় বৈকি, পরে সব শুধরে যাবে।
এই আমাদের উনি, নাতি নাতনী হয়েছে এখনও কি দোষ
সেরেছে ? ও সব পুরুষ মানুষের হয়েই থাকে।
তারা। ছােটবে, সে জন্য ভাবনা কি, তবে ঐ বলে এমন কথাও বলে,
ঐ ছাই ভস্ম গুলাে না খেতাে তা হলে আর কোন কথাই
ছিল না।
বামুন-মা। আজ মা আসি, আবার কাল আসব অখন।
রা। বসো না বামুন-মা, তােমার সঙ্গে দুটো কথা কই। যাবার
সময় ছেলেদের জন্য কিছু খাবার টাবার নিয়ে যেও।
বামুন-মা। তােমাদের আর দেবার কসুর কি মা, রােজই ত দিচ্চ।
তারা। মা, হাত তুলে যে একটা কাকেও কিছু দোবাে সে কপালই কি
করিচি, এখন সব গিন্নীর সােহাগের বড় বৌয়ের চাবির
( সৌরভ ঝির প্রবেশ।)
তারা। কিরে সৌরভি, কি হয়েছে যে অমন ক'রে আচি।
সৌরভ। না বাবু, আমি অমন করে থাকতে পারবুনি, আমার মাইনে
চুকিয়ে দিগ, আমি আজই চলে যাব। যেখানে যা’ব গতর
খাটিয়ে খাব, অত কথা শােনাবে কেনে গা।
লাবণ্য। কি হয়েছে আগে বলুন।

দ্বিতীয় অঙ্ক।
* *
* * *
সৌরভ।
। ( অনুচ্চ স্বরে) ওগাে সেই কথা গাে, বুঝতে পারনি ?
লাবণ্য। তা এখানে চেঁচিয়ে মরচিস কেন, গিন্নীর কাছে গিয়ে
চেঁচাগে না।
সৌরভ। গিন্নী ঘাটে গেছে তাই এ বারন্দায় এলুম। এদিক দিয়ে এখনি
আসবে; ঐ বুঝি আসচে। (উচ্চৈঃস্বরে) না বাবু এ রকম
করলে আমি আর কাজ কবুতে পারিবুনি, যে ক'দিন
অন্নজল ছিল হয়েছে, আমরা গরীব মানুষ গতর খাটাতে
পারুলে কাজের ভাবনা কি।
তারা। তা’ত বটেই সৌরভ, তােমাদের কাজের ভাবনা কি।
তােমরা দিন রাত মুখের রক্ত তুলে খাটবে আবার কথা সহ্য
কবে কেন। আহা, পেটের দায়ে না হয় খাটতেই এসেছে
তা বলে একদিন নয় দু’দিন নয় রােজ রােজ কি সহ্য করতে
পারে বামুন-মা?
বামুন-মা। কি বলব বৌ মা, আমরা পর, কি কথায় কি হবে ভয়
করে।
সৌরভ।
তারা। উচিত কথা বলবে তা আর ভয় কি।
। ( বামুন-মার প্রতি) না, আমার দোষ থাকে আমায় পাঁচশ
বার ঝাঁটা মারতে মারুতে তাড়িয়ে দিগ; তা নয় মিছিমিছি
একজনার নামে দোষ দেওয়া কেনে বাবু। রাখবে না স্পষ্ট
বললেই হয় এখনই চ'লে যাই, এত জায়গায় কাজ করিচি
এমন ত দেখি নি মা।
তারা।
আমরাও কখন দেখি নি। এরই মধ্যে কত এল কত গেল,
ছ'মাস কেউ টেকতে পারে না।

৪০
প্রতিভা।
সৌরভ। তােমাদের যায়ে বায়ে কি হবে, আমরা গরীব মানুষ
আমাদের উপর দিয়ে সে ঝাল ঝাড়া কেনে গা।
( রাধারাণীর প্রবেশ।)
রাধারাণী। সৌরভ, কি হয়েছে ? তুমি সকাল বেলা অমন করে
চেঁচাচ্চ কেন ?
সৌরভ। না মা কিছু হয় নি, আমারই সব দোষ ; আমার মাইনে
চুকিয়ে দাও, তােমরা অন্য মানুষ রাখ, আমি চলে যাই।
রাধারাণী। তােমায় চলে যাবার কথা ত বলিনি বাছা, কি হয়েছে
একটু আস্তে আস্তে বল না। বাইরে ব্যাটা ছেলেরা থাকলে
শুনে কি বলবে !
সৌরভ। আমি আর থাকবে না, আমারই সব দোষ আর সবাই
ভাল ।
রাধারাণী। না যদি থাক চলে যাবে, তা বলে একজনের দোষ দিয়ে
যাওয়া কেন। ও কি রকম স্বভাব তােমার ?
সৌরভ। আমরা ছােট নােক, হাড়ি মুচি, আমাদেরই ত দোষ হবে
মা, আমার দোষ হবে না ত কি আর তােমার বৌমায়ের দোষ
রাধারাণী। তুমি ত আচ্ছা মানুষ গা, তােমাকে কি কেউ হাড়ি,
মুচি বলেচে। বৌমা তােমায় কি বলেছে সেই কথা বল না, তা
হ'লেই ত মিটে যায়। বৌমা দোষ করে থাকে বৌমাকে
বল্ব, তা নয় মিছে কথা বাড়াচ্ছ কেন ?
সৌরভ। বড় বোঁদিদি আমার সঙ্গে ভাল করে কথা কয় না, মুখ
গোজ করে থাকে। আমাকে তার কাজ করতে দেয় না,
আজ তার কাপড় কাচতে আমায় বারণ করূলে। কে কাপড়

দ্বিতীয় অঙ্ক।
৪১
চুরি করেছে, তা আমাকে অবিশ্বাস কেন বাবু, আপনার ঘর
দোর খুঁজে দেখুগ। কোন দিন আমাকে চোর বলে বদনাম
দেবে, তখন গরীব মানুষ অন্য জায়গাতেও খেতে পাব না।
এই সেদিন মিছিমিছি আমায় কত কথা শুনিয়ে দিলে ।
রাধারাণী। তােমায় কি বউমা চোর বলেচে না তুমি তার কাপড়
চুরি করে বলেচে। না থাকতে ইচ্ছা হয় সরকার মশাই
এলে মাইনে মিটিয়ে দেবাে; ও রকম দোষ টোস দিও না।
(প্রভাবতীর প্রবেশ।)
ভাড়ার
প্রভা। সৌরভ, আমি তােমায় কি বলিচি ? আমি বিভার ছেড়া কাপড়
খানা কাচতে বারণ করিচি আর ত কিছু বলিনি। পরশু দিন
কাপড় খানা দেখতে পাইনি, তা তােমায় বা কা’কেও ত তার
জন্য কিছু আমি বলি নি ; সে কাপড় আজ দেখলুম
ঘরের জালার পাশে কে রেখে দিয়েছে।
সৌরভ। বল নি ? মনে করে দেখ, আমি ত বলিচি আমাদের কথা কে
বিশ্বাস করবে। আমি যে দিন থেকে এসেছি সেই দিন থেকেই
ত বৌদিদি আমার সঙ্গে নেগেচ, আর ত বাড়ীতে নােক আছে
তারাও ত দেখতে পাচ্ছে। তা যা' হােগ, মা আমার কাজে
দণ্ডবৎ, আমি চলুম ।
[ সৌরভের প্রস্থান।
রাধারাণী। না বামুনদিদি, এযে বড় অন্যায় কথা, একজনকার নামে
দোষ দিয়ে যাওয়া কেন ?
বামুন-মা। তাই ত ভাই, এখনকার মানুষ জন রাখাও দায় ।
প্রভা। (কাঁদিতে কাঁদিতে । আমার দোষ ত বরাবরই আছে, নারায়ণ

82
প্রতিভা
তিনিই জানেন আমি ওকে আর কি বলিচি। আমি গেলেই
সংসারের সব আপদ যায়।
{ রাধারণী ও প্রভাবতীর প্রস্থান।
তারা। দেখলে বামুন-মা শ্বাশুড়ীর বিচার ; শেষে কেঁদে জিতলে।
গরীবের আর কে আছে বল।
লাবণ্য। এই রকম একটা একটা করে সাতটী তাড়িয়েছে, আর এই
আটটা হ'ল।
বামুন-মা। তাই ত মা, ভদ্রনােকের মেয়ে এ কি স্বভাব মা। ছেলে
উপায় করে তা বলে ন্যায্য কথা বলব না? এ, (গালে অঙ্গুলি
স্পর্শ করিয়া) একি গাে এত ভয় কিসের, মাথার উপরে
ধম্ম নেই ?
দ্বতীয় দৃশ্য।
প্রতিভার পাঠগৃহ।
প্রতিভা।
গীত—মিশ্র সিন্ধু—একতালা ।
দিবস রজনী আমি যেন কার আশার আশায় থাকি।
তাই) চমকিত মন চকিত শ্রবণ, তৃষিত আকুল আঁখি।
চঞ্চল হয়ে ঘুরিয়ে বেড়াই, সদা মনে হয় যদি দেখা পাই,
“কে আসিছে” বলে চমকিয়ে চাই, কাননে ডাকিলে পাখী।
জাগরণে তারে দেখিতে না পাই, থাকি স্বপনের আশে,
ঘুমের আড়ালে যদি ধরা দেয়, বাঁধিব স্বপন-পাশে ;

দ্বতীয় অঙ্ক।
৪৩
। *;*, ৫
", ,,।।।।।।।।।।।
এত ভালবাসি এত যারে চাই, মনে হয় না ত সে যে কাছে নাই,
যেন এ বাসনা ব্যাকুল আবেগে, তাহারে আনিব ডাকি।
-রবীন্দ্রনাথ।
( দ্বারবানের প্রবেশ ।)
দ্বারবান। (ছেলাম করিয়া) একঠো বাবু আপকো সাথ, মুলাকাত
করনে মাংতা, নাম উমানাথ বাবু।
প্রভা। (গীত বন্ধ করিয়া) বাবুকে লে আও।
[ দ্বারবানের প্রস্থান।
(স্বগতঃ ) হে ঈপ্সিত বাঞ্ছিত, আজ এসছ, এস। কৈশােরের
সাধনার দেব তুমি আজ এসেছ, এ যে আশার অতীত কি
অবশ্য সম্ভাবী তা বুঝতে পারি না। কি করে তােমায়
সম্ভাষণ কবুব, কি করে তােমায় আত্মপরিচয় দোবাে জানি না।
, পরিচয়ের আবশ্যক কি ? কত বৎসর ধরে তােমাকে গােপনে
দেখেছি, যখন তা পাই নাই তখন চক্ষু বুজে অন্তরের মধ্যে
আমার হৃদয়াসনে বসে আছ দেখেছি, আজ সাক্ষাতে তােমায়
দেখব। মন স্থির হও; হে বিভু, তুমিই জান এ মিলনের কি
পরিণাম।
( উমানাথের প্রবেশ।)
(চেয়ার হইতে উঠিয়া একটু অগ্রসর হইয়া উমানাথের হস্তধারণ)
আসুন, আসুন, বসুন, আপনার আসাতে আমি অতিশয় সুখী
হলাম্।
উমানাথ। অনেকদিন হ'তে আপনার নাম জানা ছিল, আজ আপনার
সঙ্গে আলাপ করবার সুখলাভ হ'ল বড় আনন্দের বিষয়।
প্রতিভা। আমি অতি সামান্য, আপনি কৃপা করে এখানে এসেছেন

৪৪
প্রতিভা।
এ আমার অতি ভাগ্য। আপনি কাল আসবেন চিঠিতে
লিখেছিলেন ;
; কাল না আসায় আমি মনে করছিলাম বােধ
হয় আপনি এলেন না।
উমানাথ। কাল আমি কলকাতায়ই আসতে পারিনি। কাল একটু
বিশেষ দরকার ছিল, আপনার চিঠি পেয়ে যখন আমি উত্তর
লিখি তখন সেটা আমি জানতাম না। আজ এখন আপনার
কোনরূপ অসুবিধা হল না ত ?
প্রতিভা। উমানাথ বাবু আপনি কি বলেন, অসুবিধা ! আপনার মত
একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও দেশের সুপরিচিত লােকের সঙ্গে
সাক্ষাতে পরিচয় হওয়া এ আমার পরম সৌভাগ্য। আমি
আপনাকে লিখেছিলাম আপনি অনুমতি করলে আমি নিজে
গিয়ে আপনার সঙ্গে আলাপ করে আসতু।
উমানাথ। আপনি কষ্ট করে যাবেন সে কি কথা ; আর আপনি
আমাকে ও কথা বলতে পারেন না, আপনার লেখা অতি সুন্দর।
আপনার বইখানি আমি সমস্ত পড়িচি, কোন কোন কবিতাটী
দুই তিনবার পড়িচি। আপনার উপহারের জন্য আমার ধন্যবাদ
গ্রহণ করবেন। আপনার “বিফল স্বপন,” “আকাঙ্খা” প্রভৃতি।
কবিতাগুলি আমাকে অত্যন্ত ভাল লাগে। এই কবিতাটী যখন
প্রথম “সুপ্রভাতে” বেয়ােয় তারপর থেকেই যখন যে কোন কাগজে
আপনার কোন কবিতা দেখতে পাই আমি অতি আগ্রহের
সহিত উহা পড়ি। সত্য বলতে কি আপনার লেখার একটা
মস্ত গুণ যে অনেক সময় কবিতাগুলি পড়ে অজ্ঞাতে কবির
প্রতি যে একটা সহানুভূতি আসে তা সচরাচর অন্য লেখাতে
হয় না। আপনার সনেটগুলি নিরাশ হৃদয়ের কাছে বড় মিষ্ট।

দ্বিতীয় অঙ্ক।
৪৫
প্রতিভা। আমার লেখা আপনাকে ভাল লেগেছে, আমি শুনে খুব
সুখী হ'লাম, আমার ঐ লেখা সার্থক হয়েছে। ঐ দুটি কবিতাই
আপনার
উমানাথ। আমার কি,চুপ করে রইলেন ?
প্রতিভা। ও দু’টি কতকটা আপনারই উদ্দেশে লেখা, “সমীরণে”তে
আপনার “পথহারা” প'ড়ে আমি উহা লিখেছিলাম।
উমানাথ (অল্পক্ষণ মুখ নীচু করিয়া ক্ষণিক নিস্তব্ধ থাকিয়া) আপনি আমায়
চিনতেন না, কখন পূৰ্বে দেখেনও নি, কেন আপনার মনের
ভাব ওরূপ হয়েছিল ? আমি জানতাম না যে আমার এই
সামান্য কবিতাটী কাহারও হৃদয় কোন দিন স্পর্শ করেছিল।
প্রতিভা। উমানাথ বাবু, আমার আর ক্ষমতা নাই যে আমি আমার
কোন কথা গােপন রাখি। আপনি অপরাধ নেবেন
। আমি আপনার অপরিচিতা, কিন্তু আপনি এ হতভাগিনীর
কাছে অপরিচিত নন। আমি অনেকদিন থেকেই আপনাকে
জানি, অনেক সন্ধ্যা আপনার এই মােহন মুরতি দেখতে দেখতে
কেটেছে, অনেক রজনী আপনার চিন্তাতেই কেটেছে। কালের
পরিবর্তনেরে সঙ্গে আপনার ও আমার অবস্থার পরিবর্তন
হয়েছে, এখন আর আপনার দর্শনসুখলাভ আমার ভাগ্যে
ঘটলেও আপনার মধুর চিন্তা আমি এখনও ছাড়তে পারি
নাই। আপনি যখন কলেজে পড়তেন এবং প্রতি সন্ধ্যা
বেলা আমাদের বাের্ডিংয়ের পাশে সেই পার্কে বসে আপনার
বন্ধুদের সঙ্গে গল্প কতেন, আপনার লেখার আলােচনা করতেন,
আমি তখন থেকে আপনাকে জানি। আমি মাসিকপত্র পড়তে
ছেলেবেলা থেকেই ভালবাসি। আমি বৈকাল বেলা প্রায়ই

৪৬ প্রতিভা। বাের্ডিংয়ের জানালা থেকে, ছাদ থেকে মাঠের দিকে চেয়ে ফুটবল খেলা দেস্তাম, যুবকেরা এখানে ওখানে বেড়িয়ে বেড়াত গল্প করত তাই দেখতাম। একদিন তখন সন্ধ্যা অতীত হইয়া গিয়াছে, '—এখনও আমার ঠিক মনে রয়েছে—যখন আপনার “শেষ দেখা কি “প্রতিশোেধ” বাহির হয় তাহার কয়দিন পরে হঠাৎ আমার কানে গেল, দুইজন ঠিক জানালার নীচে ঐ গল্পের কথা আলােচনা করূছে। আমার সেই গল্পটি বড় ভাল লেগেছিল, কথােপকথনে যখন বুঝিলাম ঐ যুবকদের মধ্যে একজন উহার লেখক, তখন তাঁহাকে দেখবার জন্য বড় ইচ্ছা হতে লাগল। কিন্তু তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে, গ্যাসের আলােয় ভাল দেখতে পেলাম না। তাহার পরদিন হ'তে প্রতিদিনই আমি আপনার অপেক্ষায় বসে থাকতাম্ এবং যতক্ষণ সুবিধা হ’ত ব'সে ব'সে দেখতাম্। কেন দেখতাম তা বেশ বুঝতে পারতাম না, দেখতে ভাল লাগত তাই দেখতাম্। কখন কখন সঙ্গিনীরা সে জন্য বিদ্রুপও কবুত। তারপর যে দিন প্রথম “প্রদীপে” আপনার ছবি দেখলাম, তখন আমি আর বাের্ডিংয়ে থাকি । সন্ধানে' জানিয়াছিলাম আপনিও আর পার্কে যাইতেন না, কিন্তু আমার আর সংশয় রহিল না, তিন বৎসরে আপনার যে ছবি মনের মধ্যে একে নিয়েছিলাম মিলিয়ে দেখলাম এ ছবি তাঁহারই। তারপর হতে দেখুন সেই ছবির একখানি miniature ফটো দিন রাত্রি আমার কাছে রয়েছে। ( এক- খানি ক্ষুদ্র ছবি একটী সােনার লকেট হইতে বাহির করিয়া দেখান ) উমানাথ। আপনি বিদুষী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চউপাধিতে ভূষিতা, একজন সুলেখিকা বলে পরিচিত, একজন বিখ্যাত ব্যারিষ্টারের

দ্বিতীয় অঙ্ক।
৪৭
কন্যা। আপনি আমার মত একটা সামান্য লােকের স্মৃতি এতদিন
যত্ন করে মনে করে রেখেছেন, আশ্চর্য! অবশ্য আমি অযােগ্য
হ'লেও , এজন্য নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি এবং আপনার
যথেষ্ট অনুগ্রহ বলে মনে করি, কিন্তু আমার মনে হয়-
প্রতিভা। আপনি কবি, আপনি কবিতা গল্প লিখে অন্যের হৃদয়
স্পর্শ করতে পারেন আর আপনি এটা আশ্চৰ্য্য মনে করছেন।
আপনার কি মনে হয় বলছিলেন বলুন।
উমানাথ। আমার ক্ষমা করুন আমি সে কথা আর বলতে পারব না।
যাহা হউক আপনি আমার লেখা এত ভালবাসেন ইহা আমার
বিশেষ আনন্দের বিষয়। আপনার হৃদয় ভাবময় তাই ও
সামান্য লেখা আপনার অত ভাল লেগেছিল। আপনার কবিতা
আমার ঐ সব লেখার অপেক্ষা অনেক উচ্চশ্রেণীর, আপনার
দুই একটী গান গ্রামােফোনে শুনেছি তাহাও অতি মনােহর।
প্রতিভা। আমার লেখা আপনাদের চ’খে ধৃষ্টতা মাত্র। আমার
কোন গানটী আপনার ভাল লেগেছিল ?
উমানাথ। আপনার গান দুইটা মাত্র আমি শুনেছি, দুইটীই আমায়
খুব ভাল লেগেছিল, সে আমার এখন মনে নাই। গানগুলির
ভাবও চমৎকার। আপনি কতগুলি গান রেকর্ডে দিয়াছেন ?
প্রতিভা। পাঁচখানি দিয়াছি।
উমানাথ। আমি যখন এখানে আসি আপনিই কি তখন গাইছিলেন ?
প্রতিভা। (লজ্জিতভাবে) হ্যা, আমিই গাইছিলাম, আপনি শুনতে
পেয়েছিলেন ?
উমানাথ।
সে গান অতি মধুর, এমন সুমিষ্ট গলা বােধ আমি কখন
শুনি নাই। আপনাকে বলতে পারি না যদি আপনার কোন

৪৮
প্রতিভা।
AAAAAAAAAW
*AAAAAAA1,074\\\/\/\/\\\//••••
অসুবিধা না হয় তাহা হলে আপনার একটী গান আপনার
মুখে শুনতে বড় ইচ্ছা হচ্ছে।
প্রতিভা। আমার অসুবিধা কিছুই নাই, আপনার যদি ভাল লাগে
তা হলে অবশ্যই আপনাকে আমার গান শুনিয়ে বিশেষ সুখী
হব।
গীত।
যােগিয়া-বিভাষ—একতালা।
নয়নে তােমারে পায়না দেখিতে রয়েছ নয়নে নয়নে।
হৃদয় তােমায় পায়না জানিতে হৃদয়ে রয়েছ গােপনে।
বাসনার বশে মন অবিরত, ধায় দশদিগে পাগলের মত,
স্থির আঁখি তুমি মরমে সতত জাগিছে শয়নে স্বপনে।
সবাই ছেড়েছে নাই যার কেহ, তুমি আছ আর আছে তব স্নেহ,
নিরাশ্রয় জনপথ যার গেহ, সেও আছে তব ভবনে।
তুমি ছাড়া কেহ সাথী নাই আর, সমুখে অনন্ত জীবন বিস্তার,
কাল পারাবার করিতেছ পার, কেহ নাই জানে কেমনে ।
জানি শুধু তুমি আছ তাই আছি, তুমি প্রাণময় তাই আমি বাঁচি,
যত পাই তােমায় আরাে তত যাচি, যত জানি তত জানিনে।
জানি আমি তােমায় পাব নিরন্তর, লক লােকান্তরে যুগ যুগান্তর,
তুমি আর আমি মাঝে কেহ নাই, কোন বাধা নাই ভুবনে।
--রবীন্দ্রনাথ।
উমানাথ। অতি সুন্দর !
আপনাকে কি বলে মনের ভাব জানাব,
কি বলে প্রশংসা করব বুঝতে পারি না। আপনাকে অনেকটা
কষ্ট দিলাম।
-

দ্বিতীয় অঙ্ক
৪৯
প্রতিভা। আমার কষ্ট কি, আপনার ভাল লেগেছে ইহাতে আমার
গান গাওয়া সার্থক মনে হচ্ছে। আপনার সঙ্গে মাঝে মাঝে
সাক্ষাতের সুযােগ হলে বিশেষ সুখী হ'ব। আপনার নুতন
বই “প্রহেলিকা” আমি দেখি নাই।
উমানাথ। আমিও বলা বাহুল্য তাতে বিশেষ আনন্দ অনুভব করব।
আমার “প্রহেলিকা” আমি বাড়ি গিয়েই একখানি উপহার
পাঠিয়ে দিব, অনুগ্রহ করে গ্রহণ করলে সুখী হ’ব।
প্রতিভা। নিশ্চয়ই সে আমার অত্যন্ত আদরের জিনিষ হবে।
আমার বাবাও আপনার লেখার প্রশংসা করেন, তাকেও
পড়তে দিব। তিনি সে দিন “অমৃতবাজারে” আপনার নারী-
শিল্পাশ্রমের প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা পড়ে বলছিলেন ইহা
বর্তমান সময়ের সম্পূর্ণ উপযােগী হবে। আপনার সঙ্গে তিনি
আলাপ কবুলে আনন্দিত হবেন।
উমানাথ। তাঁর সঙ্গে আলাপ করতে আমিও অত্যন্ত সুখী হ'ব।
তিনি কি এখন বাড়িতে আছেন ?
প্রতিভা। উপরে আছেন, আসুন তার সঙ্গে আপনার আলাপ
করে দি।
[ উভয়ের প্রস্থান।

প্রতিভা।
•/••••••••••••••••••••••••••••••••••••
তৃতীয় দৃশ্য।
দেবেন্দ্রনাথের প্রকোষ্ঠ।
দেবেন্দ্র ও সুধা।
দেবেন্দ্রনারায়ণ ইজিচেয়ারে ইণ্ডিয়ান মিরার হস্তে ও মুখে সিগারেট
এই অবস্থায় শায়িত।
(সুধার প্রবেশ।)
দেবেন্দ্র। এখনই যে এলে, কিছু ফরমাস আছে নাকি ?
সুধা। কেন, এখন কি আতে নাই ?
দেবেন্দ্র। না থাকবে না কেন, তােমার সংসারের দেখা শুনা যা’
বল সে সব হয়ে গেছে এর মধ্যে, তাই বলছি। সংসারের
কাজটা কি তা’ত আমি কখনও বুঝতে পারলাম্ না। সংসার
নিয়েই তুমি মরূবে। ভাল করে খাও দাও, সন্ধ্যার সময়
মােটরে করে বেড়াতে চল, আমি ত এই বুঝি। একটু
enlightened হও।
সুধা। তুমি না দেখলে আর কি করে বুঝবে বল। তােমার সঙ্গে
মােটরে বেড়াবার জন্য আর একটাকে নিয়ে আসতে হবে।
আমার ত ও সব পােষাবে না, সংসার ত না দেখলে চলে না।
দেবেন্দ্র । আজকের কাগজে কি লিখেছে জান
তা আমি কি করে জানব, কি লিখেছে বল না শুনি।
দেবে। সে দিন ম্যাজিষ্ট্রেটকে নিমন্ত্রণ করে সেই যে address
দেওয়া হয়েছিল; আমি পঞ্চাশ টাকা হাতে দিয়েছিলাম।
কাগজে অনেক প্রশংসা করে শেষে লিখেছে আমারই চেষ্টায় ও
যত্নে উহা হয়েছিল।
সুধা। আচ্ছা এ সব তারা কি করে জানতে পারে, কে লিখে দেয় ?
?

দ্বিতীয় অঙ্ক ।
।।।।।।।।
*
দেবেন্দ্র। তারা নিজেরাও কখন কখন আপনি খপর পেয়ে লেখে,
আবার লিখে টিখে পাঠাতেও হয়, সময় সময় কিছু খরচ
করতেও হয়। আমার অনেক এডিটারদের সঙ্গে আলাপ
আছে, মাঝে মাঝে নিমন্ত্রণ করি তাই খােমােদ করে।
সুধা। আচ্ছা এই সাহেবদের এনে এত খরচ কর, এখানে ওখানে
প্রায়ই সাহেবদের চাদা দাও এতে কি লাভ হয় ? এর চেয়ে যাতে
দেশের গরীব দুঃখীরা খেতে পায় এই রকম একটা অতিথিশালা
করে দিলে বেশ হয় না! আমার ত বড় ইচ্ছা হয়।
দেবেন্দ্র। এতে কি হয় শীঘ্র দেখতে পাবে, বােধ হয় এই আচে
New Years dayতে একটা যা হয় হ’ব।
হয় হ’ব। এর চেয়ে আর
আমাদের কি হতে পারে। এই অতিথিশালা যা’ বলুচ
ভাল লােকেরা বলেন ওসব করে দিয়ে দেশের অনিষ্ট করা
হয়, দেশের কতকগুলা গরীব লোেককে আরও কুড়ে করে
দেওয়া হয় মাত্র, লাভ কিছু হয় না। আর তা ছাড়া প্রকৃত
খেতে পায় না এমন লােক কই দেখতে ত পাই না। তার
চেয়ে আমার বােধ হয় একটা মেয়েদের সাধারণ ক্লাব, করে
দেওয়া ভাল।
সুধা। তাই না হয় একটা করে দাও, এত টাকা কি হবে ?
দেবেন্দ্র। যা হয় একটা করব। কিন্তু এর চেয়ে মাঝে মাঝে পঞ্চাশ
একশ’ না হয় দু’তিন শ’ টাকা খরচ করে কঁকি দিয়ে কাগজে
কত নাম হয় সেটা কি মন্দ। টাকা আছে তাই এ সব আরও
দরকার। এ সব না হলে এ সিন্দুকের টাকা সিন্দুকেই থাকবে,
লােকে কেও জানতেও পারবে না। আর এই নামের জোরে
যে টাকা আছে লােকে মনে করবে তার চারগুণ আছে।

প্রতিভা ।
সুধা। টাকার কথা বাহিরের লােকে জালে কেবল ডাকাতের ভয়
বাড়বে, আর কি লাভ হবে ?
দেবেন্দ্র। আচ্ছা ও সব অর্থতত্ত্বের লেকচার পরে শােনা যাবে। এখন
মনে কছিলাম আসচে সপ্তাহ নাগাদ দিনকয়েকের জন্য
একবার দার্জিলিঙ্গ বেড়িয়ে আসা যাবে।
সুধা। সে আবার কোন বৎসর না যাচ্চ। তুমি যাবে আমার লাভ
একলা ঘরে কড়িকাট গােণ, আমায় নিয়ে যাও ত বল।
আচ্ছা এই সময়ে সেখানে কি হয় ?
দেবে। এবার নিয়ে যাব গাে তাই বলছি, তুমি লজ্জাটা একটু এবার
এখানে রেখে যেও দেখি, তা হলে তােমায় খুব বেড়িয়ে আনতে
পারি। সেখানে এই সময় কত বড় বড় লোেক যায়, তুমি
যদি একটু এখানে সেখানে আমার সঙ্গে বেড়াও টেড়াও,
তা হলে কত সহজে তাদের সঙ্গে ফাকি দিয়ে আলাপ হয়,
জান ?
সুধা। আমার পােড়া কপাল, তুমি ত কতদিন আমায় এজন্য বলেছ,
আমি যে পারি না কি করব বল। তাই ত বলি তােমার
এ সবের জন্য আর একটীকে আন, আর আমি যেমন আটপৌরে
আছি তেমনি থাকব। সংসার দেখব, বাবার সেবা
করব, মাকে দেখব। আমার ক্ষমতায় যে ওসব হয় না কি
করি।
দেবে। দেখ সুধা, আমি তােমায় অনেকবার বলেচি। আর একটা
ছেড়ে সাতটা বাড়িতে এনে রাখতেও আমি ভয় করি না।
আমি তােমাকে এই শেষবার বলচি তােমার আমার ইচ্ছামতই
চলা উচিত। আর এক কথা, তুমি বােলে শােন না বাবার

দ্বিতীয় অঙ্ক।
যা’ অসুখ তাতে ডাক্তারেরা বলেন ওঁকে ছোয়া কোন মতে
উচিত নয়, থাইসিস বড় খারাপ অসুক। তুমি ওর
গায়ে পায়ে হাত টাত বুলিও না বা ওঁর গেলাস বাটীতে কিছু
খেও না ।
সুধা। তুমি কি করে বচ, লােকে কি বলবে! বাবার এ অসুখ
নূতন নয়, ওঁর সেবা করলে আমার আবার কি হবে ? আর
কতদিনই বা বাচবেন। একটা কথা তােমায় ভয়ে বলতে
পাচ্ছি না, মা ক’দিন ধরে একবার তােমার সঙ্গে দেখা করবেন
বলছেন, আজ এ বাড়িতে এসে বসে আছেন।
দেবেন্দ্র। কেন তার আবার কি দরকার ? এখনই অন্য লােক আসবে
এখন দেখা হবে না, এ মাসের খরচের টাকা কি পৌছয়নি ?
সুধা। খরচের টাকার জন্য নয়, ঠাকুরঝি লিখে পাঠিয়েছে তাদের
সেখানকার কালি কবিরাজ বড় ভাল, কে একবার দেখালে
হয় ত বাবার উপকার হয়, তাই মা একবার তােমায় সেই কথা
বলবে।
দেবেন্দ্র। মিছিমিছি টাকাগুলাে নষ্ট করে কি হবে, ও অসুখ আবার
কখন ভাল হয় বুঝি। আমি আর ও সব অত পারব না, অন্য
ছেলেরা আছে ত তারা পারেন না। আমি এ রােজ রােজ
এত হুকুম শুনতে পারব না, তুমি মাকে স্পষ্টই বল ।
সুধা। আমি তোমায় কি বােঝাব, দেখ বড় ঠাকুরদের নিজেদেরই
কত কষ্ট, মাহিনার জন্য তারকের ইস্কুল থেকে নাম কেটে
দিয়েছে শুনলাম, রাধুটা সেদিন অসুখ থেকে উঠেচে একজোড়া
জুততা নেই.যে পায়ে দিয়ে বেড়ায়। ওরা যা পারচেন বাবা
মাকে দেখছেন, আর কোথা পাবে ?

৫৪
প্রতিভা।
দেবেন্দ্র। তুমি বাড়ির ভিতর যাও; ঐ দীনেশ আসছে।
ধা। আমি যাচ্ছি, কিন্তু মাকে আমি ও কথা বলতে পারব না,
যদি বলতে হয় তুমি বােলল ।
[ সুধার প্রস্থান ও অল্প পরেই দীনেশের প্রবেশ ।
দীনেশ। কি ব্যাপার অমন করে যে ব'সে আছ ?
দেবেন্দ্র। আরে জ্বালাতন্, জ্বালাতন্! কেবল ফরমাস ছাড়া আর
কথা নাই। শাস্ত্রকার ঠিকই বলে গেছেন মেয়েদের মুখের
লাগাম কখন অলিগা রাখতে নাই, একটু যদি আস্কারা পেয়েছে
ত অমনি পেয়ে বসেছে।
দীনেশ। এ সুদ্ধ want of education, আর কিছুই নয়।
দেবেন্দ্র। যাগ, এখন কতদূর কি হ’ল বল, ব্যাটা রাজি হয়েছে কি না?
দীনেশ। অতি কষ্টে, একশ’খানি মুদ্রা বাড়তে হবে।
দেবেন্দ্র। কুচ, পরােয়া নেই। তা হ'লে কালই ব্যাটাকে দিয়ে
নালিশ করে দাও। এবার ঐ উমানাথ, হেমনাথ, সব ব্যাটাকে
দেখে নিতে হবে। আর দেখ এ সব কোন কথা কিছুমাত্র না
প্রকাশ পায়। আমি শুনেছি রামচরণ বলে একটা বেনেটোলায়
লােক আছে, সে নাকি অবিকল যেমন সহি দেখাবে ঠিক সেই
রকমটি করে দিতে পারে। উমানাথের নামে একটা civil
আর একটা criminal দুটো এক সঙ্গে লাগিয়ে দিতে হবে।
দীনেশ। না, উমানাথেরটা এখন করলে সুবিধা হবে না; আগে
পাটিশনটা হতে দাও, তারপর যা হয় করা যাবে।
দেবেন্দ্র। তাই হবে, তবে এখন থেকে লােকটাকে হস্তগত করে
রাখতে হবে। আর দেখ এটণী নিমাই বিশ্বাসের সঙ্গে আমি
কাল দেখা করেছিলাম, যেমন সহি টহি করাতে হবে যা বলবার

দ্বিতীয় অঙ্ক।
আমি সব বলে দিয়েছি। তুমি রমানাথকে সঙ্গে করে ঠিক
সন্ধ্যার সময় কাল যাবে। দেখাে রমানাথ কিছুতেই যেন
বুঝতে না পারে যে আমিও এটণীর কাছে দেখা করেচি।
দীনেশ। আমার মনে হয় তােমার নিজের এটর্ণী রামবাবুর দ্বারায়
করালেই ভাল হত।
দেবেন্দ্র। না তাতে একটু রিস্ক আছে। একি আর রামবাবুর
পরামর্শ ছাড়া হচ্ছে। সে জন্য চিন্তা নাই। চলাে একটু
billiards খেলে আসা যাগ।
[ উভয়ের প্রস্থান।
চতুর্থ দৃশ্য।
এটণী নিমাই বিশ্বাসের সদর বাটির কক্ষ।
রমানাথ ও দীনেশ।
রমানাথ। দীনেশ বাবু আপনারা বলছেন, কিন্তু আমার এখনও
এ কাজে কেমন বড়ই বিরক্ত লাগছে। তারপর উকিল এটর্ণী
বাড়ি হাঁটাহাঁটি এ সব আমার দ্বারা হবে বলে ত আমার
বিশ্বাস হয় না।
দীনেশ। আপনি অনর্থক ভাবছেন কেন, আমি গ্যারান্টি হচ্চি
আপনার একটী আধলাও খরচ হবে না, সব ষ্টেট থেকে খরচ
হবে। আর আপনি আজ একবার নিমাই বাবুকে উইলের
কপিখানি দেখিয়ে যা পাওয়ার টাওয়ার দিতে হয়, সহি টহি
দিতে হয়, করে দিয়ে যান, তারপর সব ভার আমার।

প্রতিভা।
AAAAAAAAAAA
/
vA/NA\\\\\\\\/\/\/\/\/yvvA/WWW
রমানাথ। সবই বুঝছি, কিন্তু আমার মনে যা হচ্ছে তাই আমি বলছি।
দীনেশ। আপনি সাদা লােক, ও সব কাজ আর কোন ভদ্রলােকের
ভাল লাগে। তবে কি জানেন বিষয় থাকলেই ওই সব জ্বালা
আছেই। জগৎ ত আর আপনার মত নয়। যা হােগ দেবেন
যখন আপনার সহায় আছে, তখন আপনার আর চিন্তার
কারণ কিছুই নাই।
রমানাথ। দেবেন বাবু অবশ্য আমায় বিশেষ অনুগ্রহ করছেন, কিন্তু
আমার তাঁর কাছে বড়ই লজ্জা বােধ হয় ; তার দেনাটা শােধবার
জন্যই আমার অনিচ্ছাসত্ত্বেও এ কাজে লেগেছি।
দীনেশ। রমানাথ বাবু আপনি সে জন্য ভাববেন না, দেবেনকে আমি
ত ছেলেবেলা থেকে জানি, অমন ভদ্রলােক দেখতে পাওয়া
যায় না। ওঁর টাকার জন্য হয় ত আপনার ও সব দরকার
নাই।
( নিমাই বাবুর প্রবেশ)
নিমাই। কতক্ষণ এসেছেন ? (নমস্কার করণ)
রমানাথ। (নমস্কারান্তে) এই অল্পক্ষণ এসেছি।
দীনেশ। নিমাই বাবুর এর সঙ্গে বুঝি এতদিন আলাপ ছিল না?
ইনি অতি ভাল লােক, নিজের ভালমানুষির জন্য বিষয় আশয়
সব নষ্ট হ’বার যােগড়ে হচ্চে।
নিমাই। আলাপ ছিল না কিন্তু নাম শােনা আছে অনেকদিন থেকে।
ওঁর দাদার সঙ্গে মনে হচ্চে একবার ট্রেণে আলাপ হয়েছিল।
কি প্রয়ােজন বলুন।
দীনেশ। ওঁর দাদা পৈত্রিক বিষয় আশয় সম্বন্ধে বড় ওঁকে আমল দেন
, সব ফঁাকি দিবার মতলব মনে হয়, তাই সেই বিষয় পরামর্শ

দ্বিতীয় অঙ্ক।
winmanninn
Ans: 1. •••14A
করে আপনি যে রকম ভাল মনে করবেন সেই মত করা
হবে।
রমানাথ। তিনি ফাঁকি দিচ্ছেন কি না তা অবশ্য আমি ঠিক করে
বলতে পারি না, তবে তাঁর মননগত ভাব কি তা বেশ বুঝতে
পারা যাচ্ছে না। আমি ইচ্ছা করছি আমার যা কিছু অংশ
তা আমি বিভাগ করে নি, আর একত্রে জড়িয়ে রাখবার
আবশ্যক নাই।
নিমাই। বেশ, এ একটা পার্টিশন্ সুট আনলেই হবে। আগে আমি
প্রথম আপনাদের ষ্টেটটা কার, কি রকম natureএর, কে কে
claimant আছে এই সব historyগুলাে জানতে চাই। এই
ষ্টেট কি আপনার fatherএর ?
রমানাথ। আজ্ঞে হ্যা, বিষয় সমস্তই আমার বাবার। তিনি নিজে
সমস্ত উপায় করেছেন। আমরা উপস্থিত দুই ভাই, আমার
আর এক মধ্যম ভাই ছিলেন, বাবা থাকতেই তাঁর বিধবা স্ত্রীর কিছু
মাসহারা ব্যবস্থা করে গিয়াছেন। আর বাড়ীতে দ্বাদশটি শিব
আছেন তার পূজাদির জন্য কতকগুলি বিষয় দেবােত্তর করে
গেছেন। আমাদের সংসার খরচ, বাবার বাৎসরিক শ্রাদ্ধ, বিবাহ
আদির সব খরচ পত্র আমাদের কারবার থেকে হবে, উইলে
লেখা আছে। তবে যদি কারবার কখন নষ্ট হয়ে যায় তা
হ'লে চিনেবাজারের ও রসাপটির বাড়ির আয় থেকে চলবে।
নিমাই। আপনাদের ত রংয়ের কাজ, সে আমি জানি খুব বড়
কারবার, এখন কে দেখেন ?
রমানাথ। সব কর্মচারীরা আছে তারাই দেখে, দাদাও দেখেন।

প্রতিভা।
দীনেশ। দাদা নামেই দেখেন, সে চলতি কাজ যে বসবে সেই চালাতে
পারবে।
নিমাই। আপনার পিতার মৃত্যুর পর থেকে আপনার দাদাই বরাবর
দেখছেন না আপনিও কিছু কিছু দেখেন?
রমানাথ। বাবা বেঁচে থাকতেই দাদা দেখছেন, তাঁর সঙ্গে আমার
বেশ মেলে না বলে আমি আমাদের কাজের কোন খবরই
রাখি না, তার উপরই সমস্ত ভার আছে।
দীনেশ। ওঁর দাদারও ইচ্ছা নয় যে রমানাথ বাবু কাজ কর্ম দেখেন,
তাই উনি আরও জান না।
নিমাই। আপনাদের উইল খানা একবার দেখা দরকার।
রমানাথ। উইলখানি দাদার কাছে, উহার কপি এনেছি এই দেখুন।
( উইলের কপি প্রদান)।
নিমাই। (কিয়ৎকাল উইলখানি দেখিয়া ) আপনার সম্বন্ধে
রকমটা করেছেন কেন?
রমানাথ। কি বিষয় বলচেন executor সম্বন্ধে ?
নিমাই। এই executor সম্বন্ধে, account সম্বন্ধে, উইলের terms
সম্বন্ধেও বলছি। তিনি স্ব ইচ্ছায় এই রকম উইল করেছিলেন।
রমানাথ। মাকে সংসারের মধ্যে জড়িয়ে রেখে যেতে বাবা পছন্দ
করেন নি, তাই তাকে executor করেন নি। আর আমি
নিজেই আমাকে executor করতে বারণ করেছিলাম। আর
ও সব কেন লিখেছেন জানি না, বােধ হয় আমি তখন পড়তুম,
কাজ কর্ম দেখতুম না এই জন্যই ওরকম করেছেন।
নিমাই। যখন উইল করেন তখন কি আপনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন
?

দ্বিতীয় অঙ্ক।
AWAA'Wh
''''''
রমানাথ। না ।
দীনেশ। উইলের সময় মতলব করে ওঁকে থাকতে দেওয়া হয় নি,
ইচ্ছা করেই ওঁর অসাক্ষাতে ওঁর বড় দাদা তার নিজ ইচ্ছামত
উইল করিয়ে নেন।
নিমাই। আপনাদের পার্টিশনের কোন গােল হবে না, কিন্তু এই
উইলখানা যেন একটু কেমন কেমন, যদি এ ঠিক হয় তা হলে
এতে আপনার অনিষ্ঠ সম্ভাবনা রয়েছে। আপনার বিশ্বাস কি
এ সাক্ষী টাক্ষি, আপনার পিতার সহি টহি সব ঠিক ?
দীনেশ। আমি ত রমানাথ বাবুকে এ কথা বলেছি, এ বিষয়ে সন্দেহ
আছে।
রমানাথ। আমি এ পর্যন্ত উইলখানি নিজে কখন দেখি নাই।
আমার ভগ্নীপতি এই কপিখানি আমার বাবার মৃত্যুর পাঁচ
ছয় মাস পরে আমায় দিয়াছিল।
নিমাই। অবশ্য ঠিক্ কি কোন রকম গােলমাল কিছু আছে সেটা
আপনি বলতে পারেন, আমার ত মশায় কেমন একটু ধোকা
ধোকা লাগে। আপনি পিতার কনিষ্ঠ পুত্র, আর আপনার
পিতা অতি মহাশয় লােক ছিলেন তিনি এ রকম উইল করতে
পারেন তাত আমার যেন কি রকম মনে হয়। সাক্ষীরা কি
সকলেই এখনও জীবিত আছেন ?
রমানাথ। না সকলেই মারা গেছেন, একজন মাত্র কেবল এখনও
বেঁচে আছেন। দেখুন সত্যই বলচি আমার দাদার উপর
উইল সম্বন্ধে কোনদিন এ রকম সন্দেহ হয় নি, কিন্তু আজ
আপনার কথা শুনে যেন আমারও একটু সন্দেহ হচ্চে।
নিমাই। সেটা আপনি একবার ভাল করে চিন্তা করে দেখবেন,

প্রতিভা।
•••• •• N\\\///••••••••••••••••••••••••
তারপর যেরূপ বিবেচনা হয় সেইমত করা যাবে। আমরা
এই রকম উইলের কেশ আকসা দেখছি।
দীনেশ। তা হলে কি উইলখানা আপনারও বিশ্বাস জাল ?
নিমাই। অবশ্য তা আমি ঠিক কি করে বলব, তবে এই পর্যন্ত বলতে
পারি এ রকমটা প্রায় দেখতে পাওয়া যায় না, আর রমানাথ
বাবুর মুখে দাদার বিষয় যতটুকু শুনলাম তাতে একটু সন্দেহ
হয় বৈকি
রমানাথ। তা হলে কি এখন উইলটার সন্দেহ না মিটলে আর কিছু
হবে না ?
নিমাই। না, না, তা কেন ? আপনি এটা কি ভাবে চালান যাবে
ঠিক করুন, আমি ইতিমধ্যে account submit করবার জন্য
একখানা চিঠি দি’। উইল যদি ঠিকও হয় account দেখাতে
বাধ্য।
দীনেশ। মশায় চিঠি ফিঠিতে কিছু হবে না, আপনি উমানাথ মল্লিককে
জানেন না, সে ও সব ঘােড়াই কেয়ার করে। রমানাথবাবু
সাদাসিদা লােক, কি করলে ভাল হয় আপনিই পরামর্শ দিন।
আপনি জানবেন যে শেষে জাল উইল তৈয়ারির জন্য একটা
criminal পৰ্যন্ত না করলে হবে না। এই আমি ব'লে
রাখলাম, আপনি দেখবেন।
নিমাই। তা হ'লেও একখানা চিঠি দিতে ক্ষতি কি? আগে একখানা
চিঠি দেওয়া দস্তুর।
আর
উইলখানা যে জাল তার প্রমাণের
জন্যও ত prepare হতে হবে।
রমানাথ। মহাশয়, আমি এ সব বড় বুঝি না, যা ভাল হয় আপনি
করবেন।

দ্বিতীয় অঙ্ক।
৬১
নিমাই। আচ্ছা, সে জন্য আপনাকে বেশী ভাবতে হবে না, এ কেস
most ordinary. আমি যা করতে হয় সব করে দেবে।
আপনি কাল একবার আমার অফিসে আমার সঙ্গে দেখা
করবেন, তারপর যা যা করতে হয় করে নােবাে।
রমানাথ। তা হলে এখন যাই, কাল বৈকালে আমি দেখা করব।
নমস্কার।
দীনেশ। নমস্কার মশাই। [ রমানাথ ও দীনেশের প্রস্থান।
নিমাই। (স্বগত) অনেকদিনের পর একটা কেসের মত কে পাবার
যােগাড় হয়েছে। পার্টিশনের সঙ্গে সঙ্গেই উইল কেসটা চালাতে
হবে। উইল কে যে রকমেই হােগ, যদি জাল prove নাও
হয় constructionনিয়েই শেষ পর্যন্ত চলবে। বড়লােকেরা
উইল করে যান এ ত আমাদেরই জন্য। Thousand and
one thanks to my dear friend Devendra Babu.
পঞ্চম দৃশ্য।
উমানাথের কক্ষ।
উমানাথ।
উমানাথ
। আমার একি দশা হলাে। আমার নিজের প্রতি বিশ্বাসের
কথা মনে করে, আমার কলঙ্কহীন চরিত্রের কথা মনে করে
মনের মধ্যে যে অহঙ্কার ছিল আজ তা কোথায় ! আমার
আশৈশব মনের দৃঢ়তা, কৈশাের ও যৌবনের শিক্ষার এই
পরিণাম! স্বপ্নে যে ভাব কখন মনে হলে ভগবানের কাছে

৫
প্রতিভা।
••••••••••••••••••••••
সহস্র ক্ষমা প্রার্থনা করেও তৃপ্তি হ'ত না, আজ তা সত্যে
পরিণত হতে বসেছে। আমার সংসারসাধনার এই ফল।
এই পবিত্র সংসারে জন্মগ্রহণ করে এমন ধার্মিক পিতার পুত্র
হয়ে আমার এই অধঃপতন। প্রাণের প্রতিমা প্রভার অমল
প্রেম আজি প্রতিভার মােহেতে পড়ে ভেসে যেতে চলেছে।
সংসারের পূর্ণ আবর্তনের ভিতর ফেলেও কি আমার কর্মফলের
শেষ হচ্ছে না? দয়াময় এ আবার কি বিভীষিকা ! এখন
রামাযুগির সঙ্গে আমার প্রভেদ কি ? সে না হয় একটা হাড়ির
মেয়ের প্রেমে মজেছে, আর আমি একজন বিলাত ফেরৎ
ব্যারিষ্টারের মেয়ের প্রেমে মুগ্ধ। আমার একি মতিভ্রম হ’ল !
আমি প্রতিভার বাড়ী আবার গেলুম কেন? তার সঙ্গে
সাহিত্য আলােচনা করে তার সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধির, তার গভীর
জ্ঞানের পরিচয় নিয়ে কি হ’ল ? স্ত্রীশিক্ষা, নারীশিল্পাশ্রম নিয়ে
তার সঙ্গে আলােচনা করতে গেলুম কেন ? তা না হলে ত,
তার হৃদয়ের উদারতা এমন করে আমার কাছে ধরা পড়ত
না ? তার গান শুনবার আগ্রহই বা হ’ল কেন ? তেমন
সুকণ্ঠ যে কখনও শুনিনি মনে হয়েছিল। আমার চরিত্র বল
কোথায় ভেসে গেল ! প্রতিভা, প্রতিভা, আমায় রক্ষা কর,
আমায় ক্ষমা কর। স্পষ্ট করে লিখেচ আমায় ভালবাস, যদি
যথার্থ আমায় ভালবেসে থাক, তবে তােমার পথ থেকে
আমাকে দূর করতে পারলেই যথার্থ ভালবাসার কাজ হয়, নচেৎ
আমি যাই, প্রভা যায়, আমার বংশগৌরব যায়। সহস্র জ্বালা
সহিয়াও কোন রকমে এখন যা বজায় রেখেছি সেই মল্লিক
পরিবার বুঝি উৎস যায়।

| দ্বিতয় অঙ্ক।
•••••।
(প্রভাবতীর প্রবেশ।)
প্রভা এসছ, এস, তােমার জন্যই আমি অপেক্ষা করচি।
প্রভা। কেন কি হয়েছে ?
উমানাথ। প্রভা, কি হয়েছে কি বলব! তােমায় বলব বলেই আজ
ঠিক করিছি, কিন্তু কেমন করে বলব তােমায় ?
প্রভা। আমায় কখন কোন দিন ত কিছু বলতে তােমার একটুও
বাধে না।
কি হয়েছে
হয়েছে বল আমার মন বড় অস্থির
হচ্চে।
উমানাথ। তােমায় বলব, কিন্তু কি করে তুমি তােমার এ দেহে এ
মনে তা সইবে প্রভা ? কল্পনায় কোন অমঙ্গল আশঙ্কা করে
এখন তােমার মন যে অস্থির হচ্চে, না জানি এ পাপিষ্ঠের
সে পাপ কথা শুনে তুমি কত ব্যথা পাবে, কত অস্থির
হবে !
প্রভা। যদি তােমার আমাকে বলতে একটুও কষ্ট হয় তা হলে
আমায় বলল না, নচেৎ আমাকে শীঘ্র বল।
উমানাথ। আমার যত কষ্টই হাে, তােমারও যত কষ্ট হােক্,
তােমায় না বলে আমি থাকতে পারব না। তুমি দেবী,
আমাকে ক্ষমা করতে পারি কোরাে, না পার না কোরাে।
প্রভা, আমি তােমার কাছে শত অপরাধে অপরাধী সত্য ;
একদিনের জন্যও আমি তােমাকে সুখী করূতে পারি নি, কিন্তু
দেবতা জানেন সে আমার ক্ষমতার অতীত এবং সে জন্য আমার
জীবনে অশান্তি কিরূপ। আমি যত দোষই করে থাকি,
এদিন তােমার অবিশ্বাসী ছিলাম না। যা তুমি কোন দিন
কল্পনাও করনি এখন আমি তাই। আমি অবিশ্বাসী, নিষ্ঠুর,

৬৪
প্রতিভা।
se1 • • •.
অযােগ্য ; তােমার সােনার সিংহাসনে আজ তােমার অজ্ঞাতে
পিশাচকে বসাতে প্রবৃত্ত হয়েছি। আমি আর একজনকে
একটু একটু করে ক্রমে অনেকটা ভালবেসে ফেলেছি, যার
কবিতা পড়তে তুমি ভালবাস—সে সেই প্রতিভা।
প্রভা। ত’ বেশ করেচ, এরই জন্য এত চিন্তা! এতক্ষণে আমি
নিশ্চিন্ত হলাম। আমাদের সংসারের অবস্থা তেমন নয়, তা
হলে আমি ভাগ্যবতীকে এই বাড়ীতে এনে রাখতে বলতাম।
উমানাথ। প্রভা তুমি কি বলছ, তুমি কি মানুষ ! তুমি আমায়
ক্ষমা করলে ?
প্রভা। কি বল, ও কথা কি বলতে আছে। আমি তােমার
চরণাশ্রিতা দাসী। তুমি যাকেই ভালবাস, যত ভালবাস,
সে হয় ত দু’ দিন। তুমি আমার, চিরদিন আমারই থাকবে,
জন্মান্তরেও আমার, কখনও অন্যের হতে পার না।
হােক বড় ভাগ্যবতী, যে তােমার ভালবাসা পেয়েছে তার চেয়ে
ভাগ্যবতী কে আছে!
উমানাথ। তােমার মত স্ত্রী যা’র আছে, তার চেয়ে ভাগ্যবান্ কে
আছে, প্রভা ! আমার আঁধারের প্রদীপ, নয়নের মণি, আজ
তুমি আমায় রক্ষা করলে। আমার হৃদয়ের তুমুল ঝটিকা
সহসা থেমে গেছে, বুকের ভিতর যে ভীষণ দাবানল জ্বলছিল
তা যেন এক ফুৎকারে তুমি নিবিয়ে দিলে। আবার যেন
আশার ক্ষীণ আলাে দেখতে পাচ্ছি, মনে হচ্চে হয়ত ভগবান
আমায় আবার উদ্ধার করবেন। তুমি প্রতিভার কথা শুনবে?
প্রতিভা কলিকাতার একজন ব্যারিষ্টারের মেয়ে, সে উচ্চশিক্ষিতা
কুমারী, আমার লেখা কাগজে পড়ে, আমার ছবি দেখে আমায়
সে যেই

দ্বিতীয় অঙ্ক।
সে ভালবাসে। তারপর একদিন আমায় নিমন্ত্রণ করে, আমি
যাই ; তার সুকণ্ঠ, তার হৃদয়ের উদারতা, ’র শরীর ও মনের
সৌন্দৰ্য আমার মনকে সেই দিনেই একটু যে বিচলিত করেছে
তা’ ত তখন বুঝিনি। তাহার পর পত্রের দ্বারা, পুস্তক-উপহার
ও ফটো-বিনিময়ে ক্রমে সেই বিচলিত ভাব প্রণয়ে পরিণত
হয়েছে। এই দেখ তা’র ফটো। ( সুন্দর রৌপ্যনির্মিত
ফ্রেমে আঁটা ফটো প্রদান।)
প্রভা। বেশ চেহারা, যেমন গুণ, তেমনি রূপ। আমি ভাল করে
লিখতে জানিনে, তা না হলে একখানি চিঠি লিখে আলাপ
করতুম।
উমানাথ। তুমি চিঠি লেখ তা হ'লে সে খুব আহলাদিত হবে, তুমি
আজই লেখ। পার যদি ত আমার হয়েও তুমি একখানি
চিঠি লেখ। আজ আমার লেখবার আর ক্ষমতা নাই।
প্রভা। ' হ'লে ঠিকই লিখব। আচ্ছা, প্রতিভার এখনও বিয়ে
হয় নি কেন? তার বাবা মা এ সব জানেন ? তারা কি
ব্ৰহ্মজ্ঞানী ?
উমানাথ। হ্যা তাহারা ঐ ভাবেরই বটে, আমার সঙ্গে প্রতিভার
আলাপ আছে জানেন, এতদূর এগিয়েছে তা বোধ হয় জানেন
। বিয়ে করা হয় ত প্রতিভার ইচ্ছা নয় ।
প্রভা। তবে একদিন আমাদের বাড়ী নিমন্ত্রণ করলে আসে না ?
উমানাথ। নিমন্ত্রণ করলে নিশ্চয়ই আসে, কিন্তু সে কি করে হ'তে
পারে। সে স্ত্রীলােক, আমাদের বাড়ীর যা অবস্থা, একজন
পুরুষ মানুষ বন্ধুকে নিমন্ত্রণ করবার ভরসা নাই, প্রতিভাকে
নিমন্ত্রণ করবপ্রভা, আমি লজ্জাহীন, তাই তােমায় একটা

প্রতিভা।
কথা আমার জিজ্ঞাসা করতে বড় ইচ্ছা হচ্চে, তুমি সত্য ক'রে
বলবে কি, প্রতিভার বিষয় এই সব কথায় তােমার কি কোন
কষ্ট হচ্ছে না ?
প্রভা। তুমি বলবে তবে আমি সত্য করে বলব, না হলে তােমার
কাছে আমি মিথ্যা বলব ? আমি সত্য বলচি আমার কোন
কষ্ট হচ্ছে না।
উমানাথ। তুমি সত্যই দেবী, আমি নরকের কীট। তােমার হৃদয়ের
উচ্চতা, উদারতা বুঝি সে ক্ষমতা আমার নাই। আমি আবার
বলচি তুমি আমায় রক্ষা করলে। তুমি যদি সাধারণ স্ত্রীলােকের
মত হ’তে, তাহলে আমার দশা কি হ’তাে তা ভাবতেও পারি
। আমার মনে হচ্চে আজ হ’তে আমার জীবনের একটী
নুতন অঙ্ক আরম্ভ হ'ল।
ষষ্ঠ দৃশ্য।
উমানাথের বাটির ভিতরের ঘর।
রাধারাণী ও হেমনাথ।
রাধারাণী। তুমি বদলি হয়ে বাড়ি এসেছ শুনলুম, বেশ হয়েছে বাবা
এখন এইখানেই থাকবে ত ?
হেমনাথ। হ্যা বাড়ীতেই থাকব, তবে এখান থেকে আপিস যেতে
আসতে একটু কষ্ট হবে।
রাধারাণী। তা একটু কষ্ট হবে কি করবে বাবা ; বৌমা, তােমার
মা সব ভাল আছেন ?
হেমনাথ। সকলে ভাল আছেন।

দ্বিতীয় অঙ্ক। ) রাধারাণী। বাবা আমি তােমাকে একবার ডেকেছিলুম। হেমনাথ। কি বলুন, আমি সেই জন্যই এখন এসেছি। রাধারাণী। তুমি আমার পেটের সন্তানের মত, তাই তােমাকে আমি অনেক কষ্টেই ডেকেছি আমার ঘরের কথা বলব বলে। বাবা আমারত এ সংসারে আর থাকা চলে না, আমার ক্রমে অসহ হয়ে পড়েছে। তাই বাবা তােমায় বলচি উমাকে বলে কয়ে বুঝিয়ে সুঝিয়ে আমাকে অন্য কোথাও পাঠিয়ে দাও। আর আমার এক দণ্ড এখানে থাকতে ইচ্ছা নাই। আমি অনেক দিন এ বাড়ীতে এসেছি, আমার শাশুড়ী ছিলেন না, আমি ছেলেবেলা থেকে এই সংসার দেখছি, কিন্তু আর বাবা এ সংসার চালান আমার অসাধ্য। হেমনাথ। সে কি কথা, আপনি বাড়ীর গৃহিণী, আমি যতদূর জানি আপনার ছেলেরা বিশেষতঃ উমানাথ আপনাকে খুব ভক্তি করে, আপনার কিসের দুঃখ, কিসের কষ্ট! আর আপনি যদি চলে যান তা হলে ত সংসার একেবারে ছারেখারে যাবে। রাধারাণী। আমার ছেলেদের দোষ নাই বাবা, উমা আমাকে কি ভক্তি করে সে কি আমি জানি না। আমি তার কষ্ট আর দেখতে পারি না বলেই যেতে চাচ্ছি। আমার আবার দুঃখ কিসের! উমা আমার কোন দুঃখই রাখেনি, আমার অদৃষ্টের দোষ, আর কা’রও দোষ নাই। তুমি বাবা যে রকম করে পার উমাকে বলে কয়ে আমায় কাশী পাঠিয়ে দেবার বন্দোবস্ত করে দাও। হেমনাথ। আপনি অত ব্যস্ত হবেন না, আমি উমানাথকে বলব, কিন্তু একটু ভেবে দেখুন আপনি গেলে আপনার উমানাথের আরও কত কষ্ট হবে, আপনার বড় বউ-

প্রতিভা।
• • •••
( উমানাথের প্রবেশ। )
উমানাথ। হেম কতক্ষণ এসেছ, মায়ের কাছে আমাদের সংসারের
কথা শুচ ?
হেমনাথ। এই একটু আগে এসেছি। মায়ের কষ্টের কথা শুচি।
রাধারাণী । উমা, বাবা আমি টের দিন এই সংসার কচি, এখন
আমার বয়েস হয়েছে, আর বউমারাও এখন সব শিখেছে।
তােমরা এখন তােমাদের সংসার দেখ, আমায় কাশীতে বা অন্য
কোথাও পাঠিয়ে দাও, আমি হেমকে এই কথা বলছিলাম।
উমানাথ। তা দোবাে, মা তুমি গেলে সংসারের যেটুকু এখনও আছে
সেটুকুও যাবে। তা যায় যা’গ, তবুও তােমার এখান থেকে
যাওয়াই ভাল, আরও কিছুদিন আগে যেতে পারলে ভাল হত।
আমারও আর সংসারে দরকার নাই আমিও যেখানে হয় চলে
যাই। রমানাথকে তার বিষয় বুঝিয়ে দেবার জন্য আজ
আমাকে এই উকিলের চিঠি দিয়েছে ; আর কেন মা, এর আগে
কি আমার মরণ ভাল ছিল না ? রমার বয়স যখন সাত বৎসর
তখন বাবা মারা গেছেন, তাকে লালন পালন করেছি, বাবার
সমস্ত সম্পত্তি এতদিন রক্ষা করেছি, বাড়িয়েছি, তুমি সবই
জান। এখন তার বয়স হয়েছে, বিবেচনা হয়েছে, আমার
কৰ্তব্য করেছি। তাকে আর বিষয় কি বুঝিয়ে দোবাে, সে
সংসার করুগ, আমায় কিছু কিছু মাসে মাসে পাঠিয়ে দিলেই
হবে। আমিও চলে যাই, তােমার কাছে থেকে কাশীতে
বাস করি।
রাধারাণী। বালাই সে কি কথা বাবা। জন্ম জন্ম তুমি সংসার কর,
তুমি ও কথা মুখে এনাে না। রমার এতদূর আস্পর্ধা হয়েছে ?
}
?

দ্বিতীয় অঙ্ক।
তা দিগ, উকিলের চিঠি বাবা, তুমি কিছু মনে কর না। তুমি
কিসের জন্য যাবে, কিসের জন্য তাকে তােমার বিষয় দেবে?
তা’র যা কিছু তাকে ফেলে দাও, তুমি আর কি করবে, তার
অদৃষ্টে যা আছে হবে। তােমার কিসের ভাবনা? ভগবান
তােমায় দেবেন। তুমি থাকলেই কর্তাদের সব বজায় থাকবে,
তা না হলে সবই মিছে। আর আমি যে যেতে চাচ্চি বাবা,
আমার দ্বারা ত আর সংসারের কোন উপকারই নেই। আমি
কখনও বউএদের যত্ন করতে পারলুম না। আমি যদি ভাল
হতুম তা হলে সংসারের এমন দশা হবে কেন ?
উমানাথ। না মা, যার সংসারের সকলকে সন্তুষ্ট রাখবার ক্ষমতা নাই
তার এখানে না থাকাই ভাল। আমি চুরি করিনি প্রবঞ্চনা
করিনি, খাতাপত্র সবই আছে। যা’তে রমার ভাল হয় সেই
চিন্তা ভিন্ন কখনও কিছু ভাবিনি, আজ সে আমাকে এই
অবিশ্বাস করেছে, আমি আবার সমাজে মুখ দেখাব ? সে ত’
আমায় একবার বললেই পারত, একবার একটা মুখের কথা
মাত্র। মা তােমার কোন দোষ নাই, তুমি এই সংসার এতদিন
ত পালন করেচ, আর এখনই বা পাচ্ছ না কেন? তবে এটা
ঠিক তােমারও অদৃষ্ট মন্দ, তা না হলে তােমায় এ কষ্ট পেতে
হচ্চে কেন ?
রাধারাণী।
সে কথা আর একবার করে ? এখনও কত কি বরাতে
আছে তা কে জানে। পুণ্যবান্ তাঁরা সব চলে গেছেন, আমি
এই সব দেখবার জন্য বেঁচে আছি। তুমি এ সংসারে সকলকে
সন্তুষ্ট রাখবে! এ দেবতারও অসাধ্য। তােমার আবার দোষ।
তুমি নিজের শরীরের দিকে না চেয়ে, সংসারের শত জ্বালায় কান

৭
ananda
1,544
দিয়ে এত সহ করে আছ এতেও তােমার দোষ! আমি
কি দেখতে পাচ্ছি না আমার সােনার বৌএর বােগের জ্বালায়,
এই সংসারের আশায় কি দশা হয়েছে ? তােমায় আবার
লােকে বলবে কি, আমি রমাকে ডাকি, তার কি মতলব
জিজ্ঞাসা করি।
হেমনাথ। ভাই সে ভাবনা একবারও মনে স্থান দিও না। রমার যদি
সে জ্ঞান থাকবে তা হলে আর ভাবনা কি ?
উমানাথ। হেম, ভাই সংসার বড় অদ্ভুত জায়গা তুমি জান না।
ভাল করে তাকেই লােকের কাছে অনেক সময় নিন্দিত হতে
হয়, আমি কর্তব্য পালন করতে চেষ্টা ভিন্ন আর কিছু করিনি।
মা, তুমি রমাকে ডেকো না, হয় সে আসবে না, আর না হয়
তােমাকে হয়ত কতকগুলাে যাচ্ছেতাই শুনিয়ে দেবে।
রাধারাণী। আমার অনেক সহা আছে, আমি তাকে ডেকে বলি।
হেমনাথ। তা বললেই বা, কথার খােলসাই ভাল, তার যা বিষয়,
আশয় সে বুঝে নিগনা, এর জন্য আবার উকিলের চিঠি কিসের ?
এত ভাবনা করতে গেলে চলে না। আমি তাকে ডাকচি।
[ হেমনাথের প্রস্থান।
উমানাথ। মা, আবার কি অদৃষ্টে আছে ভগবানই জানেন, এখন না
ডাকলেই বােধ হয় ভাল হত।
রাধারাণী। তােমার এত কিসের ভয়? আমি তাকে বলব, আমি
তা’র খাইও না, পরিও না।
( হেমনাথ ও রমানাথের প্রবেশ।
রমা তুমি বিষয় বিভাগের জন্যে দাদার নামে উকিলের চিঠি
দিয়েছ ?

দ্বিতীয় অঙ্ক।
১
;
রমানাথ। হ্যা, দিয়েছি, কেন কাজটা কি অন্যায় হয়েছে ?
রাধারাণী। অন্যায় নয় ত কি ভাল কাজ হয়েছে, ভাগ হতে ইচ্ছা
হয়েছে, তা'ত স্পষ্ট বললেই হত। দাদা ত তােমার চুরি
করেনি, কি বিষয় উড়িয়ে দিচ্ছে না, তােমার বিষয় বাড়িয়েই
দিৱেচে।
রমানাথ। হ্যা, সে কথায় আর কাজ নাই ; তুমি মেয়ে মানুষ মেয়ে
মানুষের মত থাক, আমায় আর তােমার অত বােঝাতে হবে না,
তুমি এখন নিজের পথ দেখ।
রাধারাণী । না আমি কিছু বুঝিনে ঠিক বটে, কিন্তু তােমার দাদা
তােমার মত নয়, এটা জেনাে। তুমি পৃথক্ হবে, তােমার দাদা
তু তাতে কিছু বলছেন না। তােমায় এখনই সব দিচ্ছে, তা
এর জন্য নালিশ মােকদ্দমা করাটা কি পৌরুষের কাজ ?
রমানাথ। আমি যা ভাল বুঝেছি তা করেচি ও করবাে, তােমার
কাছে পরামর্শ নিতে ভুলে গেছি। তােমার বলতে একটু
লজ্জা করে না? তুমি কি এই সংসারে কাণা হয়ে থাক, সব
দেখতে পাও না? যতক্ষণে উনি দেবেন, ততক্ষণে আমি খেতে
পাব, ততক্ষণে আমি পরুতে পাব। উনি কি নিজের থেকে
দেন? উনি আমার মত হবেন কেন? আমি মাতাল, আর উনি
মাতালের বড় ভাই হয়ে তাকে ফাকি দিয়ে দেশের লােকের
কাছে দাতা! বন্ধুদের বিপদে সাহায্য করতে অজ্ঞান !
উমানাথ। রমা, তুমি কখন কোন অপরই রাখ না, তুমি না জেনে
ওরকম বলুচ কেন? সরকারির একটী পয়সাও আমি কখনও
নিজের জন্য বা কা’কেও দেবার জন্য খরচ করিনি। খাতাপত্র
সবই ত আছে, তােমার নিজের দেখবার ক্ষমতা নাই, তুমি

৭২
প্রতিভা।
। । । । । ।
তােমার কোন ভাল লােক দিয়ে ইচ্ছা করলে সবই দেখতে পার,
তা হলে বুঝতে পারবে বাবা কি রেখে গেছলেন আর আমি
কি করিচি। তােমার অংশ তুমি নেবে এর জন্য আমায় বললেই
হত।
রমানাথ। হ্যা সে খাতাপত্র ঠিক হয়েছে তা জানি, সে সব কৈফিয়ৎ
কোর্টে দিও, তােমার সঙ্গে আমার বেশী কথা কইবার দরকার
নাই।
[ রমানাথের প্রস্থান।
রাধারাণী। কি রমা তাের যতদূর মুখ ততদূর কথা !
[ রাধারাণীর প্রস্থান।
উমানাথ। এরই নাম সংসার। সংসারের এই সব নিত্য ঘটনাকে
যে উপেক্ষা করে থাকতে পারে সেই সুখী। যে মা জন্ম হতে
আজ পর্যন্ত অসীম কষ্ট সহে বুকে করে মানুষ করেছেন,
সকল ক্লেশ তুচ্ছ করে কত রাত্রি জেগে ওর জন্য বসে
কাটিয়েছেন তার এই লাঞ্ছনা। আর আমি,--ভগবান্ তিনিই
জানেন আশৈশব কোন দিন সহােদরের মেহ ভিন্ন অন্য কোন
ভাব তার প্রতি আমার হয়েছে কি না, তার উন্নতি, তার
হিত ভিন্ন অন্য চিন্তা কোন দিন স্থান পেয়েছে কি না।
কায়মনােবাক্যে ভগবানের কাছে সর্বদা তার কল্যাণ কামনা
করিচি, তারই পুরস্কার স্বরূপ, আজ আমি আমার ছােট ভাইয়ের
চ’খে জুয়াচোর, জালিয়া। মহাপাপ না করলে বড় ভাই হয়ে
কেউ জন্মগ্রহণ করে না। হা ভগবান্, এই অদৃষ্টে ছিল !
হেমনাথ। উমানাথ ভাই, তুমি জ্ঞানী, বুদ্ধিমান ওসব মনে রেখ না।
রমানাথের আচরণ ভেবে বৃথা মনকে কষ্ট দিও না। ও মুর্থ,
বিকৃতমস্তিষ্ক, তা না হলে জগতের প্রত্যক্ষ দেবতা গর্ভধারিণী

দ্বিতীয় অঙ্ক।
१७
মাকে ওরকম করে বলতে পারে।
ভদ্রলােকের। ছেলে
লেখাপড়া শিখে তার এই পরিণাম । সকলই সময়ের দোষ,
অদৃষ্টের দোষ। এখন যে সময় পড়েছে তাতে যে চোর সেই
সমাজে ভাল লােক বলে পরিচিত, আর যে সাধু সেই চোর।
যারা নিজের মাকে খেতে দেয় না, গালি দেয়, অথচ ভারত
মাতার উদ্ধার চিন্তায় মগ্ন, তারাই এখন সুসন্তান ; সংসারের কেহ
মরে গেলেও চেয়ে দেখবার সময় নাই, শেষে গুলিশাের দিয়ে
মড়া ফেলতে হয়, অথচ অন্যের বাড়ীতে রােগীর সেবা করতে,
মরে গেলে সৎকার করতে যারা তৎপর তারাই হচ্চেন সাধু।
যারা নিজের মায়ের পেটের ছােট ভাইকে ঠকিয়ে বাড়ী থেকে
তাড়িয়ে দেয়, অথচ দেশের লােকের উন্নতির জন্য কোমর বাঁধেন,
নিজের সুখসচ্ছন্দ, বিলাসিতার জন্য বিদেশী বসন, বিদেশী ভূষণ,
বিদেশী আহার, বিদেশী শুয়ারের বিষ্ঠা ভিন্ন যাদের একদও চলে
, অথচ দেশের লােককে স্বদেশী দ্রব্য ব্যবহারের জন্য লম্বা লম্বা
বক্তৃতা দিয়া থাকেন তারাই হচ্ছেন দেশহিতৈষী। যারা
অংশীদারের ‘চুরি ক'রে, বন্ধুর বিশ্বাসঘাতকতা করে ধরা না
পড়েন তারাই এখন ধার্মিক। এই ত এখন আমাদের দেশের,
আমাদের সমাজের অবস্থা। এখন যে যত পরকে ফাকি দিয়ে
আত্মসাৎ করতে পারে, জুয়াচুরি করে এড়িয়ে যায়, সে তত
বুদ্ধিমা; আর যে কথার ঠিক রাখবার জন্য, অসৎ উপায়
অবলম্বন করে স্বার্থ বজায় না রেখে বরং তা জলাঞ্জলি দিয়ে,
নিজের ক্ষতি করাও শ্রেয় মনে করে, লােকের কাছে এখন সেই
বােকা, সেই মূখ।

তৃতীয় অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য।
বান্ধবসমিতি গৃহ।
প্রিয়নাথ, হরেন, মনােহর ও গােপেশ্বর।
প্রিয়নাথ। আমার মনে হয় সাধারণের টাকা ও ভাবে খরচ করলে
সেটা নষ্ট করাই হবে, তা ছাড়া এতদিনে আমাদের এ সমিতির
প্রতি লােকের যেটুকু সহানুভূতি জন্মেছে সে টুকুও হারাতে
হবে, তার ফলে হয়ত একদিন ইহা উঠে পৰ্যন্ত যেতে পারে।
গােপেশ্বর। সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। ও সব ক্লাব ট্রাব এ সব জায়গায়
কোন দরকার নাই। ওর অপেক্ষা উমানাথ বাবুর proposa'টা
খুবই দরকারী। আর পাবলিকেও বেশ appreciate করবে
বলে মনে হয়।
মনােহর। অবশ্য দেশের গরীবের ছেলেরা বিশেষ অনাথ বালকেরা
যদি লেখা পড়া শিখতে পায় তার চেয়ে আর ভাল কি হ'তে
পারে। কিন্তু এতে অনেক টাকার দরকার। আর পার্ক টার্ক
হ'লে লােকের বেড়াবার খেলবার সব সুবিধা হবে। লােকের
health যাতে ভাল থাকে সেটাও আমি মনে করি একটা
ভাববার বিষয়।
হরেন। আচ্ছা ৩টা বেজে প্রায় ২০ মিনিট হ'ল, আর সব কেউ
আসবেন না নাকি? আর একটু দেখা যাবে ?

তৃতীয় অঙ্ক।
v.. ?!! 14.4V vv\/\/\/\:vvvvvvvvvvvvvvvvvvv • • • • • • • • • •
প্রিয়নাথ। উমানাথ বাবু আসবেন কিনা বলতে পারি না। রমেশ
বাবুর সঙ্গে কাল দেখা হয়েছিল তিনি আসবেন। দেবেন বাবু
পরশু দার্জিলিং থেকে এসেছেন, তিনিও আসতে পারেন। ...
গােপেশ্বর। হ্যা তিনি আসবেন। উমানাথ বাবুকে নাকি district
boardএর chairman nominate করেছে ?
মনােহর। He declined to accept it.
প্রিয়নাথ। এইটুকুই আশ্চৰ্য্য, যিনি এ সব পােষ্ট গ্রহণ করলে দেশের
কাজ হয়, তিনি হতে চান না, আর যারা বেশ আসর সাজান
গােছের, যাদের সঙ্গে সাধারণে কথা কইতেই সাহস করেন না,
যারা আপনার বিজ্ঞাপন প্রচারেই ব্যস্ত তারা আগে এ সকলে
অগ্রসর হন। তাদের দ্বারা কাজের অনেক অসুবিধাই হয়,
উপকার একটুও নয়।
( দেবেন্দ্রনারায়ণের প্রবেশ।)
হরেন। আসুন দেবেন্দ্র বাবু। আপনার জন্যই অপেক্ষা।
দেবেন্দ্র। আমার একটু দেরী হয়ে গেছে। জষ্টিস্ সেন আমার
বাড়ীতে এসেছিলেন, তাঁকে ষ্টেশনে পৌঁছে দিয়ে আসতে বিলম্ব
হয়ে গেল।
গােপেশ্বর। তাই ত বলি, দেবেন বাবু ঠিক punctua! তাঁর দেরি ত
কখন হয় না। আপনার ত বাড়ী থেকে আসতে তিন
মিনিট লাগে।
দেবেন্দ্র। শােফারটার অসুখ হয়েছে, আজ ল্যাণ্ডোখানা করে এলুম।
এবার দার্জিলিং থেকে এসে আজ এই প্রথম বেরুচ্চি। আজ
শরীরটা বেশ ভাল নাই, important বিষয় একটা রয়েছে তাই
এলাম।

প্রতিভা।
মনােহর। How have you enjoye:1 this season of
Darjeeling ?
দেবেন্দ্র। বেশ ছিলাম, আমি ওদিকে গেলে খুবই ভাল থাকি।
আর এখন অনেক বড় বড় লােক সব গেছে, লেফন্যান্ট গবর্ণর
রয়েছেন, বিস্তর ব্যারিষ্টার, জজ সব গেছেন। আজ গার্ডেন
পার্টি, কাল বল্ এ সব প্রায় বােজই আছে। আপনাকে ত
বললুম আপনি গেলেন না।
মনােহর। Winterg যদি কোথাও যান ত দেখা যাবে, তখন
আমাদের Christmasএর ছুটিও থাকবে।
গােপেশ্বর। আপনিও ত একটা পাটি দিয়েছিলেন কাগজে
দেখেছিলাম।
দেবেন্দ্র। কি কাগজে দেখেছিলেন—Bengaleeতে? গবর্ণর সাহেব ও
তার wife দুইজনেই এসেছিলেন। কি রকম ভদ্র তারা ।
দার্জিলিঙ্গে আমার কেমন লাগে, আমাদের districtএর কথা,
মিউনিসিপ্যালিটির chairnian আমি হইনা কেন এই সব কথা
আধ ঘণ্টা ধরে কইতে লাগলেন। যাগ, আর কি কারও জন্য
অপেক্ষা করতে হবে ?
গােপেশ্বর। আর বােধ হয় কেউ এলেন না।
দেবেন্দ্র। আজকে আমাদের agenda of business কি আছে ?
প্রিয়নাথ। আজ প্রথম ঐ পার্ক, আর সাহায্যের জন্য দুইখানা
application আছে দেখতে হবে।
দেবেন্দ্র। মাঝে একটা মিটিং হয়েছিল শুনলাম, তাতে এ বিষয়টা
ছিল কি ?

তৃতীয় অঙ্ক। ৭৭ ••• • • • • ''।। । প্রিয়নাথ। না সে সামান্য দু’ একটা বিষয় ছিল। সে রিপাের্ট টা আগে পড়া যাগ, না। দেবেন্দ্র। থাক সে আর দরকার নাই। এখন আজকের কাজ সারা যাক। প্রথম পার্ক সম্বন্ধে আপনাদের কার কি মত বলুন, তারপর ক্লাবের কথা হবে। আমার ত বিশ্বাস মশায় একটা পার্ক এ রকম টাউনের পক্ষে essentia'ly necessary, both sanitary pointএ ও টাউনের হিসাবেও। অনাথ গরীবদের কথা যা বলছেন, আমার ত মনে হয় তাদের field খুব vast, অনেক মিল আশে পাশে রয়েছে। তাদের education দেবার চেষ্টা করলে আমার ত মনে হয় দেশের arts and industryর ক্ষতি করা হবে। আমার personal opinion এই। মনােহর। Certainly. গােপেশ্বর। আমারও ত তাই মনে হয় দেশের art, industry দিকে আমাদের সব প্রথম দেখা উচিত ও না হলে আমাদের উন্নতির উপায় নাই। দেবেন্দ্র। (অন্যান্য মেম্বরদিগের প্রতি আপনাদের কি মত মশায় ? হরেন। দেবেন বাবু যা বল্‌চেন তা ঠিক বটে, তবে শিক্ষাটা কি, গরীব, কি মধ্যবিৎ, কি ধনী বোধ হয় সকলেরই আবশ্যক। কিন্তু পার্ক টার্ক গুলােও দরকার, ও সব টাউনের শােভা। দেবেন্দ্র। না ও সব নয়; আপনার যা personal opinion তা বলুন। হরেন। পার্কই হােগ। দেবেন্দ্র। বেশ, (প্রিয়নাথের প্রতি চাহিয়া) মশায় এইবার আপনার কি মত বলুন।

৭৮
প্রতিভা।
AAAAWWANAN
প্রিয়নাথ। আমার বিবেচনায় পার্ক হওয়ার অপেক্ষা উমানাথ বাবুর
প্রস্তাবটা খুবই আবশ্যকীয়। গরীবের ছেলের বিশেষ যাদের
বাপ মা নাই তাদের যাতে শিক্ষা হয় তা না করে বিলাসিতা
বাড়াবার জন্য সখের বাগান বা খেলবার, চা কে খাবার আড্ডা
করা এতে ত আমি মত দিতে পারি না, বিশেষ যখন যথেষ্ট ফণ্ড
রয়েছে। অবশ্য আপনাদের সকলের যা মত হবে তাই হবে,
আমার যা মত আমি বললাম। আমার ইচ্ছা donorদের
কাছে এ বিষয় মত লওয়া হউক।
মনােহর। না সেটা হতে পারে না, impossible. কমিটী যা ভাল
বিবেচনা করবে তাই হবে। আপনি না হয় বলতে পারেন
সব মেম্বরদের opinion লওয়া। কিন্তু তাও নিয়মবিরুদ্ধ
যে হেতু আজকের মিটিংএ এটা pass হ’বার বিরুদ্ধে কোন
কারণ নাই।
গােপেশ্বর। যাগ এটা ত ঠিক হ’ল ; ক্লাব করা সম্বন্ধে কার কি মত,
এই রকম স্বাধীন ভাবে সকলে বলুন।
প্রিয়নাথ। আমার বিবেচনা হয় আজ যখন অধিকাংশ সভ্য মহাশয়েরা
উপস্থিত নাই তখন এ রকম একটা বড় বিষয় আজ কোন রকমে
হওয়া উচিত নয়, সুতরাং আমার ইচ্ছা আজ এ বিষয়টা স্থগিদ
থাক।
মনােহর। I do not see any reason why this matter
should be postponed. কমিটীর rule অনুসারে যে কয়জন
মেম্বর উপস্থিত আছেন এতে আজ এ বিষয়টা postponed
রাখবার কোন কারণ আমি ত দেখি না।

তৃতীয় অঙ্ক।
দেবে। সমিতির নিয়মানুসারে আজ না হবার কারণ নাই,
আপনারা object করেন সে আলাদা কথা।
গােপেশ্বর।. তাত বটেই।
প্রিয়নাথ। অবশ্য আপনারা করতে পারেন, কিন্তু আমার মনে হয়
এই সমিতির প্রধান পৃষ্ঠপােষক উমানাথ বাবু, যার দ্বারায় আজ
আমাদের সমিতির এই সব করবার সামর্থ্য হয়েছে বললেও
অত্যুক্তি হয় না, অন্ততঃ এ মিটিংএ তার উপস্থিত থাকা দরকার।
আর তা ছাড়া মিটিংয়ের নােটিশ অন্ততঃ দুই দিন আগে দেওয়া
উচিত এবার তা হয় নাই।
হরেন। না তা এবার হয়নি বটে; circularটা খুব দেরীতে পাওয়া
গেছল বটে।
দেবেন্দ্র। তবে তাই হােগ। তা হলে আজকের আর কিছু কাজত
নাই, আমার একটু আবশ্যক আছে আমি যাই ।
[ দেবেন্দ্রের প্রস্থান।
•
দ্বিতীয় দৃশ্য।
বাটীর সংলগ্ন উদ্যান।
প্রতিভা।
প্রতিভা। (স্বগত) আমার কি ছিল, কি হয়েছে, আবার কি হবে
কিছুই যে ভেবে ঠিক করতে পারি না! মাগাে আজ তুমি
কোথায়, কত দিন হ'ল তুমি আমায় বাবার কাছে রেখে

৮০
প্রতিভা।
• Ahnaf\/\/\;
।।।।।।
অনন্তবাসে চ'লে গেছ, এতদিন তােমাকে ত এত মনে পড়ত না।
মা আর যে পারি না। আজ বাবা তুমি কোথায়! তােমার
যত্নে মায়ের কথা ভুলেছিলাম। তােমার অসীম স্নেহের পরিবর্তে
অতুল ধনরাশি দিয়ে আজ প্রায় এক বৎসর হ’ল আমাকে একেলা
রেখে চলে গেছ। আর আমাকে এখন সে সব সদুপদেশ দিয়ে
শিক্ষা দেবে কে? এই বিশ্বসংসারে এখন আমি একা। সংসারের
রহস্য কিছুই বুঝি না। ভগবান তােমার অনন্ত রাজ্যে আমি
ক্ষুদ্রাদপি ক্ষুদ্র কীট, আমার এই সংসার সাগরের ঘাের আবর্তে
ফেলে তুমি জগতের কি মহাকাজ সাধন করচ তুমিই জান।
আমি বুদ্ধিহীনা, বিবেকহীনা, অবলা, আমার শিক্ষা ব্যর্থ।
আমি আর পারি না, দেব, আমায় উপায় দেখিয়ে দাও, যা
অসম্ভব তার আশা মন থেকে কেড়ে নাও, যাকে মনে করে
দুঃখ হয়, দেখলে রাগ ও ঘৃণায় দেহ জ্বলে উঠে সে হতভাগ্যের
মনের আকাঙ্খও কেড়ে নাও। যাকে পাব না তার শুধু
চিন্তায় যেন মনকে তৃপ্ত করতে পারি অন্য বেশী আকাঙ্খ যেন
মনে আর স্থান না পায়। আর এই কর প্রভু যেন তাঁর ধ্যান
করতে করতেই এই ক্ষুদ্র জলবুদ্বুদ অনন্ত জলে মিশিয়ে যায় ।
(কমলের প্রবেশ।),
কমল। এ সময় এখানে একলাটি বসে রয়েছ ?
প্রতিভা। কি করি কোথাও আর ভাল লাগে না।
কমল। প্রতিভা ভাই কিছু স্থির করলে কি? এমন করে দেহপাত
করলে কি হবে।
প্রতিভা। কি স্থির করব কমল, একি বসন ভূষণ যে ইচ্ছা হয় পরু,
হয় ফেলে দেব। আমার দ্বিতীয় পথ স্থির করবার কিছু

তৃতীয় অঙ্ক
নাই। আমি জানি তিনি আমার হবেন না, কিন্তু সত্য
বলতে কি ভাই, পলে পলে দণ্ডে দণ্ডে আজ কতদিন ধরে তার
অজ্ঞাতে তাঁর চরণে আমার সর্বস্ব অর্পণ করেছি। তাঁকে পাবার
উচ্চাশা আমি হৃদয়ে একটুও রাখি না। আমার বেশী আশা
কিছু নাই, যাতে তাঁকে গােপনে মাঝে মাঝে দেখতে পাই
আমি কেবল তাই চাই। আমি স্থির করিচি আমি এখান থেকে
চলে যাব, কোথা যাব কেউ জানবে না, সেই হৃদয়ের দেব
যেখানে আছে কোন প্রকারে গােপনে সেইখানে বাস করব,
এ হতভাগিনীর জন্য আর ভাবতে হবে না।
কমলা। সে কি প্রতিভা, যিনি তােমার কথা হয়ত মনেও করেন না,
তুমি তার জন্য তােমার এই নবীন বয়সের সব সাধ আহাদ
ত্যাগ করতে উদ্যত হয়েচ ? তুমি বেশ ছেড়েছ, গান ছেড়েছ,
টেনিস ছেড়েছ, সাধের কবিতা লেখা পর্যন্ত ছেড়েছ, তােমার
জন্মস্থান, পিতার সাধের আবাস ছেড়ে যাবে ? এ বাড়ীর দশাই
বা তা হলে কি হবে ?
প্রতিভা। কমল! ভাই! আমার সাধ আদি আর কিছুই নাই।
বুট জ্যাকেট এঁটে, চসমা চোখে দিয়ে, নিত্য নূতন সাজে সেজে
এখানে ওখানে বেড়িয়েছি, কত বাবু, কত মিষ্টারের সঙ্গে কত
আলাপ করেছি, খেলেছি ; সেই বেথুন কলেজে পড়বার প্রথম
দিন থেকে প্রেসিডেন্সীর ফোর্থ ইয়ার পর্যন্ত একে একে কত
জনের ছবি এ হৃদয়ে প্রতিফলিত হয়েছে আবার ধীরে ধীরে
মুছে গেছে তার ঠিক নাই; কিন্তু অনেক চেষ্টা করেছি, বুঝি
সাধ্যের অতীত করে চেষ্টা করেছি কিছুতেই এ ছবি অন্তর
থেকে যায় না। আমি মনে সংকল্প করেছি এ বাটী বিক্রী করে
ফেলব, বালিগঞ্জের ও অন্যান্য জায়গার বাড়ীগুলিও বিক্রী করে
৩

৮২
প্রতিভা।
* • • • • • • • • AN\r\n\/
WAN
AnannaAnAAAAAAAAAA%।
সব কাগজ করে তারপর রাধানগরের উমানাথ বাবুর বাড়ীর
নিকটে একখানি বাড়ী কিনে বা ভাড়া নিয়ে সেইখানে গােপনে
বাস করব। আর যদি সম্ভব হয় ত কোন কৌশলে তাকে
যাতে মাঝে মাঝে দেখতে পাই তার উপায় করব।
কমলা। তা হলে সবই এক রকম মনে মনে ঠিক করে রেখেছ,
কিন্তু আমি আর তােমাকে বেশী কি বুঝব? তাতে কি তােমার
যাতনা কমবে ? তুমি তাকে দেখবে অথচ তার সঙ্গে কথা না
কয়ে, তাকে ভাল করে না পেয়ে থাকতে পারবে?
প্রতিভা। মনে ত হয় সেই হ'লেই আমার যথেষ্ট, আমি আর অন্য
আশা করি না। প্রভু জানেন আমার অদৃষ্টে কি আছে।
কমলা। ভাই যদি ইহাই তােমার স্থির হয়ে থাকে, তবে শরীরের যত্ন
করে কি লাভ হবে ? তােমার আজন্ম কি খাওয়া কি পরা
অভ্যাস, আর এখন কি ভাবে আছ ভেবে দেখ দেখি।
প্রতিভা। কমল, আমার এই সামান্য একটু পরিবর্তন দেখে তুমি
ভাবচ। আমার পরিবর্তনের এখন কিছুই হয় নাই। আমায়
হয়ত সেজেগুজে কত পরিবর্তন করতে হবে। আমায় প্রতিভা
ব'লে কেউ চিনতে পারলে আমার বাসনা এমনই অপূর্ণ থেকে
যাবে। আজ তুমি আমায় জুতা জামা পরা বিবির সাজ না
দেখে আশ্চৰ্য্য বােধ করচ, কিন্তু আমি এই আট মাসে কত
অভ্যাস করিচি কিছুই জান না। আমার নুতন জীবনের সবই
নূতন করে তুলতে হবে। এস আমার সঙ্গে, দেখবে আমি
প্রাণের জ্বালায় কি আত্মপ্রতারণায় বড় হইচি।
কমলা। সেখানে আবার কি আছে ?
প্রতিভা। দেখলেই বুঝতে পারবে।
[ উভয়ের প্রস্থান।

তৃতীয় অঙ্ক।
তৃতীয় দৃশ্য।
বাগান-বাটী।
রমানাথ, দীনেশ, যতীশ, বাইজী ও বন্ধুদ্বয়।
দীনেশ। নাও হে বিবিজান, ধর আর এক গ্লাস।
বাইজী। মাফ, কিজিয়ে, হাম জাস্তি পিতে নেহি।
১ম বন্ধু। না, বাইজি সাব, তা হবে না, তা হ'লে ফুর্তি জুড়িয়ে যাবে,
চালাও।
রমানাথ। হােগ আর এক পেগ, আমি বলচি কুচ, পরােয়া নেই।
( দীনেশের বাইজীকে মদ্য প্রদান।)
যতীশ। কুচ পরােয়া নেই।
বাইজী। বন্দেগি বাবু সাব,। (মদ্যপান)
দীনেশ। রমানাথ বাবু নি। (মদ্য প্রদান )
রমানাথ। দাও, খুব চলুগ। মদ বন্ধ দিওনা দীনেশ।
দীনেশ। এইবার একখানা গান ধর।
বাইজী। যাে হুকুম।
গীত।
সারঙ্গ-চৌতাল।
“নয়না নাহি নিদ গেঁই রে নিশিদিন মােরি
ছাতিয়ান লাগেও অধীরকে।
এত মােহন মুখ মুরলী, শুনত শােধ নয় হিয়ি হে,
ক্যায়সে ধৈর্য ধরে, গারে হােতে ঘর ঘরকো।”

৪
প্রতিভা।
১ম বন্ধু। মরে যাই বিবিজান, আমার জান আচা করচে।
রমানাথ। বেশ বেশ খুব মিঠে।
বাইজী। আপকি মেহেরবানি।
যতীশ। বিবিজান্ মেহেরবানি তোমার। এখন একখানা বাঙ্গলা
গান যদি গাও।
২য় বন্ধু। হ্যা বাবা এসব হিন্দি ফিন্দি বুঝি না, একখানা বাঙ্গালা
গান লাগাও।
বাইজী। হামরা বাঙ্গলা গান আপলােকো কেয়া আচ্ছা লাগে।
দীনেশ। আলবত, লাগেগা ।
রমানাথ। হুইস্কি কই, সব দাও না। (বন্ধুদ্বয়ের মদ্যপান, দীনেশের
মুখের কাছে গেলাস ধরিয়া গােপনে ফেলিয়া দেওয়া )
গীত।
মিশ্র-কওয়ালী ।
কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া,
তােমার চরণে দিব হৃদয় খুলিয়া।
চরণে ধরিয়া তব কহিব প্রকাশি
গােপনে তােমারে সখা কত ভালবাসি ।
ভেবেছিনু কোথা তুমি স্বর্গের দেবতা
কেমনে তােমারে কব প্রণয়ের কথা ?
ভেবেছিনু মনে মনে দূরে দূরে থাকি ।
চিরজন্ম সঙ্গোপনে পূজিব একাকী ।

তৃতীয় অঙ্ক।
৮৫
।।।।।।।।।।।।
•••••••••••••••111•".' • • • • •
কেহ জানিবে না মাের গভীর প্রণয়,
কেহ দেখিবে না মাের অশ্রুবারিচয়।
আপনি আজিকে যবে শুধাইছ আসি
কেমনে প্রকাশি কব কত ভালবাসি ?
রবীন্দ্রনাথ।
২য় বন্ধু। অতি চমৎকার গান।
(শঙ্করলালের প্রবেশ)।
দীনেশ। কে বাবা তুমি এখন ?
শঙ্করলাল। আমি শঙ্করলাল বাবা, আমায় এখন চিনতে পাচ্ছ না।
যতীশ। কি ! গালাগাল ! বাড়ী ব’য়ে বাপ ভােলাতে এসেছ।
১ম বন্ধু। গালাগাল ।
রমানাথ। এস চাটুয্যে, কি মনে করে, খাও এক গ্লাস।
২য় বন্ধু। ঠাকুর, তুমি বাবা বামুন ; একটু পায়ের ধুলা দাও।
(পা ধরিতে অগ্রসর হওয়া )
শঙ্করলাল। যাও আমার কাছে আবার মাতলামি কেন ?
২য় বন্ধু। চোটোনা বাবা একটু পায়ের ধুলে দাও। ( পুনরায় পা
ধরিতে যাওয়া, এবং পা সরাইয়া লইলে) কি, পায়ের ধুলাে
দেবেন রাস্কেল ?
শঙ্করলাল। যতদূর মুখ ততদূর কথা, হারামজাদ জান না এখনি মাথা
ভেঙ্গে দোবাে, মাতলামি ঘুচে যাবে। রমানাথ বাবু আজ সাত
দিন ধরে আপনার সঙ্গে কোন রকমে দেখা করতে পাচ্ছি না।
ক্রমে বাড়ী ছেড়ে ত পরের বাগানে এসে ফুর্তি করচেন, বাবুদের
টাকার কি বলুন।

৮৬
প্রতিভা।
'। ', ' । •••।।।।
..।। ।।
দীনেশ। আপনার তাগাদা থাকে দিনের বেলা বাড়ীতে যাবেন, এখানে
আপনি অপমান করছেন, আপনি চলে যান।
২য় বন্ধু। অপমান! এখনি জুতিয়ে দেবাে, আমায় জান না।
শঙ্করলাল। তবে রে ব্যাটা, চোপরাও বলচি শুয়ার। (চপটাঘাত করণ)
রমানাথ ! . এখন একটু ফুর্তি কর ঠাকুর, আমার কাছে এস। টাকা
দোবাে।
শঙ্করলাল। আপনার লজ্জা করে না, সৰ্বস্ব উড়িয়ে শেষ দেনা করে
মদ খাচ্চেন, আর মেয়ে মানুষ নিয়ে আমােদ করচে !
সকলে। লাগাও শালাকে, লাগাও।
( রমানাথ ভিন্ন সকলে প্রহারে উদ্যত )।
রমানাথ। আমােদ কর না বাবা, একি ।
শঙ্করলাল। মরে গেলুমরে বাবা, ছাড়, বলচি ছাড়।
দীনেশ। বাবুকে অপমান, আমাদের জান না?
১ম বন্ধু। জান না?
(পাহারাওয়ালার প্রবেশ।)
পাহারাওয়ালা। এ কেয়া বাবুল, ছােড়, দেও, খুন গি,
ছােড় জলতি ।
রমানাথ। বাড়ীর ভেতর ঢাের তােমার কি এক্তার আছে ? চলে
যাও এখান থেকে।
শঙ্করলাল। জমাদার আমায় মেরে ফেলে, আমায় রক্ষা কর।
পাহারাওয়ালা। বাবু আপ, উঠিয়ে, কোন্ আপলােককে মারা হয় ?
শঙ্করলাল। রমানাথ বাবুর কাছে তাগাদায় এসেছিলুম উনি হুকুম দিলেন
আর বেদম মারলে। এই দেখ সব কেটেকুটে গেছে। তুমি

তৃতীয় অঙ্ক।
৮৭
না এলে এইখানেই মরে যেতুম। তুমি সাক্ষী, আমার হাত পা
ভেঙ্গে দিয়েছে, আমি উঠতে পাচ্ছি না।
রমানাথ। পুলিশ বলে বাড়ীতে ঢােকবার right নেই, চলে যাও
বচি, তা না হলে ভাল হবে না।
দীনেশ ও বন্ধুদ্বয়। চলে যাও বলচি তা না হলে পাগড়ি উড়িয়ে
দোবাে।
পাহারাওয়ালা। ফিন্ মাৎ বলিয়ে, চুপ রহাে বাবু, পুলিশকে আপনােক
এসা বাৎ বন্দুতে হেঁ। (শঙ্করলালের প্রতি । বাবু থােড়া সে
আপ রহিয়ে, হাম আবি তুরন্ত আতা হায়।
[ পাহারাওয়ালার প্রস্থান।
চতুর্থ দৃশ্য।
উমানাথের বাটীর সংলগ্ন উদ্যান।
উমানাথ ও কেশব।
(উমানাথ পদচারণ করিতেছেন, কেশবের প্রবেশ।)
কেশব। উমানাথ বাবু, একলাটি বাগানে এ সময়।
উমানাথ। এস ভাই কেশব, কি করি একটু বাগানে বেড়াচ্চি, আর
আমাদের বাড়ীত আসই না।
কেশব। সন্ধ্যার পর একটা টিউশনি পেয়েছি তাই আর আসতে পারি
। আর আমাদের খপর টপরও ত বড় নাও না, আগে বরং
মাঝে মাঝে খপর নিতে।

৮৮ প্রতিভা । উমানাথ। এ কথা সত্যই বটে, আর বােধ হয় আমি কখন কারও খপর নিতে পারব না। আমার শ্রদ্ধের সময় যদি এ বাড়ীর কেউ আবার খপর নেয়ত বলতে পারি না। কেশব। কেন উমানাথ বাবু এমন অশুভ কথা বলুচ। তােমার সামনে বলে থােসামােদ করা হয়, তােমার মুখ চেয়েই এখন আমাদের এখানে বাস করা, নচেৎ রাধানগরে আর মানুষ কে আছে। এখন এখানে হিংসা, পরশ্রীকাতরতা, পরনিন্দা ছাড়া লােকের আর কিছুই নাই। উমানাথ। ভাই তােমরা পাঁচজনে স্নেহ করে যা বল ; আমার আর সে মুখ নেই। এখন যত শীঘ্র এ মুখ নিয়ে পৃথিবী থেকে যেতে পারা যায় ততই ভাল। যার দ্বারা দেশের এ সবের কিছু উপকার হবার সম্ভাবনা নাই, আত্মীয় বন্ধুগণের কোন দুঃখ কষ্ট দূর হ’বার উপায় নাই, অথচ নিজের সুখ শান্তিরও লেশমাত্র নাই, তার ভাই বেঁচে থেকে কি ফল ? কেশব। তা হলে আমাদের কি করা উচিত তা ত ভেবে পাওয়া যায় না। উমানাথ। তােমাদের—চিরদিন সম্ভব নয়, তা না হলে বলতুম চিরদিন বেঁচে থাকা উচিত; আর কিছুর জন্য যদি নাও হয়, ত বাঙ্গালীকে আদর্শ ভ্রাতৃপ্রেম দেখাবার জন্য অন্ততঃ। ভাই, তােমাদের পয়সার অভাব, তাই তােমাদের দয়া ধৰ্ম্ম, পরদুঃখ- কাতরতা প্রভৃতি মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণগুলির বিকাশ নাই, তােমাদের অন্তরে লুক্কায়িত মহৎ ভাবগুলি লােকে অনেক সময় বুঝিতেও পারে না। কিন্তু নাই বিকাশ থাক, নাই লােকে বুঝতে পারুক তাতেই বা ক্ষতি কি, বরং মনে হয় বুঝি তাতেই

তৃতীয় অঙ্ক।
বেশি লাভ, কেননা তােমাদের যেমন অর্থের একটু অভাব তেমনি
নিজের অহংএর জ্বালায়ও পুড়তে হয় না। প্রতিষ্ঠার জন্য
মনুষ্যত্ব ভুলে যেতে হয় না।
কেশব। উমানাথ বাবু ও সব তােমার বাজে কথা। আমাদের
মনুষ্যত্ব কি আছে ! আমরা জগতের আবর্জনা! তবে একটা কথা
যা বললে আমি সহস্রবার স্বীকার করি ; নগেনের মত ভাই
বুঝি কারও হয় না, এ বিষয়ে আমি নিজেকে পরম সৌভাগ্যবান
মনে করি। কেন, আজকাল পৃথক হয়েও রমানাথ কি আবার
কিছু গােলমাল করছে নাকি ?
উমানাথ। কেশব ভাই, সে কথা আর তােমাকে কি বলব। আমার
সঙ্গে আর সে কি গােলমাল করবে। একে ছােট ভাইয়ের সঙ্গে
পৃথক হতে হয়েছে, সেই দুঃখেই লােকের কাছে আমার মুখ
দেখাতে ইচ্ছা করে না, তারপর তার ব্যবহারে, তার কাৰ্য্যে
ক্রমে বাবা ঠাকুরদাদার নামে কলঙ্ক পড়ছে। সে সব কথাও
যদি ছেড়ে দি', দিনে দিনে তার যে অধঃপতন হচ্চে তা'তে সে
ক’দিন বাঁচবে ; আর বিষয় আশয়ও বােধ হয় এই ক'মাসেই
কতক পরে ঠকিয়ে, কতক উড়িয়ে দিয়ে নষ্ট করেছে। চ’খের
উপর সব দেখচি, সব বুঝচি কিন্তু কোন উপায় নাই।
কেশব। এতদিন ত তার জন্য কত জ্বলেচ, আবার এখন আলাদা
থেকেও এত জ্বালা ! মায়েরও কষ্ট, সবই অদৃষ্ট।
মানাথ। মায়ের জন্যই ত আরও ভাবনা, তাঁর মৃত্যু হলেই এখন
মঙ্গল আর বেশি কি বলব। আমার কথা ছেড়ে দাও, আমার
সব সহ্য হয়ে গেছে, এতদিন আমি তাকে প্রাণের অধিক স্নেহ
করে আমি তার শত্রু; তার বিষয় রক্ষে করে, বাড়িয়ে দিয়ে

প্রতিভা।
AAAAAAAAAAAAAAAAAA^\\n\\\
৭।
আমি চোর! আমার সে জন্য কোন দুঃখ নাই, এখন রমা
ওরকম করলে তার কি দশা হবে তাই ভেবেই আমি গেলুম।
আমার কর্তব্য আমি কি করে পালন করব।
কেশব। তুমি আর কি করবে, তােমার যখন ক্ষমতার অতীত,
তােমার যখন কোন দোষ নাই, তখন তােমার এই ভেবে মনকে
কষ্ট দেওয়া ঠিক নয়।
উমানাথ। ভাই কেশব, মনের শান্তি কি কখন আসতে পারে ?
সে যে মায়ের পেটের ভাই।
কেশব। উমানাথ বাবু, আমাকে মেয়ের বিয়ের সময় সাহায্য করে
তােমাকে রমানাথের দ্বারা নানা লাঞ্ছনা পেতে হয়েছিল
শুনেছিলাম। আমি এজন্য তােমার কাছে অনেক অপরাধী
আছি, আমি এখনও সে টাকা সমস্ত শুধতে পারলুম না।
উমানাথ। আরত প্রায় সবই দিয়ে দিয়েছ, সামান্যই বাকী আছে,
সেজন্য তুমি ব্যস্ত হয় না। আমি সে টাকা তােমাকে সরকারি
থেকে দিই নি, সেজন্য রমানাথের কিছু বলবার ত ছিল না।
তুমি তার জন্য কেন ওরকম মনে করচ ?
কেশব। আচ্ছা রমানাথের সঙ্গে যতীশ, দীনেশ প্রভৃতি এরা ক’জনে
জুটেই বােধ হয় ওর সর্বনাশ করতে উদ্যত হয়েছে, না? এদের
ধরে কি কোন রকমে জব্দ করে দেওয়া যায় না? শুনেছি
দেবেন্দ্রবাবুও ভেতরে ভেতরে আছেন।
উমানাথ। জব্দ কে কাকে করে ? . তবে যদি ওদের সঙ্গে যাতে না
মেশে তা করতে পার ত একটা মস্ত উপকার করা হয়।
আজকাল ওর দেবেন্দ্রের সঙ্গে একটু বেশি গােছের আলাপ বলে

তৃতীয় অঙ্ক।
as
মনে হয় বটে, কিন্তু দেবেন্দ্র গুণী লােক, লেখা পড়া জানে সে
অকারণ কোন অনিষ্ট করবে তা আমার মনে হয় না।
কেশব। উমানাথ বাবু তুমি যেমন লােক সেই রকমই সকলকে দেখ।
সংসারে সকল দিক ত দেখ নাই। আমি আজ তােমার কাছে
অনেক দিনের পর যে দেখা করতে শুধু এসেছি তা নয়, আমি
থাকতে পাচ্চি না। ভাই তুমি সাধুলােক, শয়তানের কাছে
সাবধান। দেবেন্দ্রনারায়ণকে তুমি এখনও চেন নাই, রমার
যে দশা হচ্ছে আমি কতক কতক জানি, কিন্তু সে পিশাচ
তাতেও ক্ষান্ত নয়, তােমার সর্বনাশের জন্য সে সর্বদা উদ্যোগী ।
তােমাকে এই সাবধান হ’বার কথাই বলবার জন্য আমি এতক্ষণ
চেষ্টা করছিলাম। আমি এখন চললাম, আমার বড় বিশেষ
দরকার আছে পরে দেখা করব। [ কেশবের প্রস্থান।
উমানাথ। (স্বগত) কে জানে কা’র মনের কি কথা। দেবেন্দ্র
আমার সর্বনাশ করতে উদ্যত কেন ? তার অভাব নাই, আমার
সঙ্গে শত্রুতা নাই। তবে তার এ প্রকৃতি কেন? কেশব
নিশ্চয়ই কোন ভুল বুঝেছে, হতে পারে দেবেন্দ্র অহঙ্কারী বা
একটু দাম্ভিক। কিন্তু সে ত আমার সঙ্গে কখনও মন্দ ব্যবহার
করে নাই। তবে কিসের জন্য আমার সর্বনাশ করবে ? না তা”
সম্ভব নয়, কেশবের ভুল।

৯২
প্রতিভা।
। । । । । । ।।।।
পঞ্চম দৃশ্য।
দেবেন্দ্রনাথের অফিস ঘর ।
দেবেন্দ্র, যতীশ ও শঙ্করলাল।
যতীশ। যা’ বলুন, দীনেশ সে দিনের কাজটা খুব excellently
manage করেছে। শঙ্করলাল ! তুমি কি বাবা ম্যাজেন্টা গুলে
নিয়ে গেছলে, কপালে লাগতে না লাগতে অমনি রক্ত পড়তে
লাগল। পাহারাওয়ালা ব্যাটাও চেঁচাতে না চেঁচাতেই থিয়েটারের
actor এর মত ঠিক হাজির হয়েছিল।
}
শঙ্করলাল। ঠিক ধরেচেন যতীশ বাবু; আর পয়সার কি গুণ, পাহারা-
ওয়ালা ব্যাটা বেমালুম ম্যাজিষ্টারের কাছে বললে যে রমানাথ
বাবু আমাকে মেরেছে, সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে। ঠেলাটা
বুঝেছেন, এক বছরের কম আর নয়।
দেবেন্দ্র। হা charge খুব serious হয়েছে, এতটা আমি আশা
করিনি। দীনেশের বাহাদুরি যথেষ্ট আছে, কিন্তু সে এখনও
এলনা তাই ত।
যতীশ। দীনেশ কাজ না মিটিয়ে কখনই আসবে না। আমার মনে
হয় রমানাথ বাবুকে কাল হাজির করিয়ে একেবারে কাজ শেষ
ক'রে দিলেই ভাল হয়।
দেবে। না এখন তাকে দিন কতকের জন্য জেলে পুরে বেশী কিছু
কাজ হবে না, ভবানীপুরের বাড়ীতে যেমন লুকিয়ে রাখা গেছে
এখন থাকুগ।
কাল ওয়ারেন্টটা বেরুলেই অনেক কাজ
হবে।

তৃতীয় অঙ্ক।
শঙ্করলাল। আজ্ঞে হ্যা, এই ঠিক যুক্তি, জেলে পােরাত এই হলেই
হাতের মধ্যে রইল। আচ্ছা রমানাথ বাবুর মনের মধ্যে ভয় বেশ
আছে ত ?
দেবেন্দ্র। ভয় বিলক্ষণই আছে, নেশার ঘােরে সেই যে মেরেচে এ
বিশ্বাস তার মনে ঠিকই আছে। তার সম্বন্ধী ব্যাটার জন্য
আমার যেন একটু ধোঁকা ধোকা হয়।
অতীশ। হা সে একলা ত সব করবে। তারপর তার নিজের প্রাণের
ভয় নাই ?
শঙ্করলাল। বাবু সাহেব আপনি নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকুন, কেবল
আমি যা বলি আপনি তাই করে যাবেন। আপনি এখন
আগে ডাক্তারকে
ঠিক করে ফেলুন
দেখি।
আপনি
কিসের জন্য ভাবছেন, এখানে ত আসামী অকুস্থলে উপস্থিত
ছিল ; এমন কত শত কেস মেরে দিলুম যেখানে আসামী
ফরিয়াদীর দেখা সাক্ষাৎই হয়নি। কিছু ভাবনা নেই, কিছু
ভাবনা নেই। আমার কপালের দাগটা ঠিক আছে ত ?
দেবেন্দ্র। হাঁ সে ঠিক আছে। তাইত দীনেশটা এখনও কি করছে ?
কাল deposition আছে; সন্ধ্যা হয়ে গেল এখনও ফিরল না।
সে না এলে ত ডাক্তারের কথা কিছু ঠিক মত বােঝা যাচ্ছে না।
শঙ্করলাল। দীনেশ বাবুর সঙ্গে যদিও আমার খুব বেশি আলাপ নাই,
শুনেছি তিনি এ কাজে খুব হুসিয়ার আছেন। আপনার
কাঞ্চনপুরের দাঙ্গার মােকদ্দমা ত তিনিই তদ্বির করেছিলেন।
( দীনেশের প্রবেশ। )
এই নাম করতেই দীনেশ বাবু এসে হাজির হয়েছেন।
দেবেন্দ্র। কি দীনেশ, এত দেরি ? খপর কি, ডাক্তার কৈ
?

৯৪
প্রতিভা।
'।
দীনেশ। দেরী! কি ঝারী কাজরে বাবা! এতকাল ধরে উকিল
মােতার চরিয়ে খাচ্চি, এ রকম ত কখন দেখিনি। মােটা
পয়সা দিয়েও একটা কথার খােল উত্তর পেতে এক ঘণ্টা।
কাগজ দেখছেন ত কাগজই দেখছেন, কি বলে যাচ্চি একবার
কাণ দিয়ে শােনরে বাবু! তারপর যদি বা সেখানে কোন
গতিকে কাজ মিটুল, ডাক্তারের বাড়ী প্রায় একঘণ্টার উপর
বসে। তার আর নাবার সময়ই হয় না। নাবলেন ত
এ আসে সে আসে কথা কইবার আর সুযােগ পাই না। যা
হােগ কাজ মিটেছে, তিনি আজ আসবেন না, কাল যথাসময়ে
যা করতে হয় সব করবেন, মদ্দাৎ এদিকার কিছু কমল না।
শঙ্করলাল। তা হলে আর দেখতে হবে না, উকিলটা নিশ্চয়ই খুব
বড় গােছর। ভাল করে কথা না কওয়া, খােলসা উত্তর না
দেওয়া, এ সব বড় বড় এটর্ণী, উকিল, ডাক্তার প্রভৃতির লক্ষণ।
রাশি রাশি টাকা দিয়েও, উত্তরটির বেলা ভাল বুঝতে পারবে না,
কিছুতেই মন পাবে না, কথা কইতে ভয় করবে, জানবে তারাই
বড় উকিল, বড় ব্যারিষ্টার বা বড় ডাক্তার।
দেবেন্দ্র। সেটা যা বলেচ শঙ্করলাল।
শঙ্করলাল। না মশাই, আমার ও খুব জানা আছে। এই শুনুন, বড়
বড় ভট্টাচায্যি
পণ্ডিতরা একটুতেই
চটে উঠবেন। বড়
কবিরাজদের বচন আর আড়ম্বর। বড় হােমিওপ্যাথি ডাক্তারদের
কেবল গল্প ও বড়াই! বড় কবিদের কবিতার অনেক স্থলে
মানে বুঝা যাবে না। বড় বক্তাদের কথায় ও কাজে মিল
থাকবে না। বড় পাবলিকম্যান যত হিতকর কাজই হােক যাতে
নিজের কিছু স্বার্থ বা করবার ক্ষমতা নাই তা পণ্ড করবার

তৃতীয় অঙ্ক।
গােপনে সাধ্যমত চেষ্টা করবেন। বড় ভদ্রলােক কথার ঠিক
রাখবেন না। বড় দেশহিতৈষী চাঁদার খাতায় নাম সহি করে
টাকা দেবেন না, যেখানে স্বার্থে হাত পড়বে তা করবেন না,
যেখানে আহােন্নতির সম্ভাবনা নাই সে উন্নতির জন্য এগুবেন না,
পাবলিকের টাকা সুযােগ হলেই মেরে দেবেন। এই সব হচ্চে
লক্ষণ।
দেবেন্দ্র। তাইত হে বড় বল্লে যে! বড় ফরিয়াদীর কি লক্ষণটা তাত
বল্লে না, একবার যাচিয়ে নিতুম ।
শঙ্করলাল। সে আর বলব কি মশায় ফলেন পরিচয়
দীনেশ। ওই মনােহর বাবু আসছেন। আমি বলতে ভুলেছিলুম,
আমি কাল ওঁর সঙ্গে দেখা করে কথায় কথায় একথা সেকথায়
মােকদ্দমার কথা তুলে রমনাথের জন্যে যে দেশে মেয়েছেলে
নিয়ে বাস করা ক্রমে দায় হয়ে উঠেছে এ সব বলেচি। আরও
যা যা দরকার সব শুনিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে তােমার সঙ্গে
দেখা করে, সেই মত কথা কয়ে এসেছিলাম, আজ আসবার কথা
ছিল। ব্যাটা বড় ঘুঘু, কথা কইতেই সব বুঝে নেয়। আমরা
এখন এদিক দিয়ে সরে পড়ি, তুমি গুছিয়ে গাছিয়ে ঠিক করে
নাও।
( সকলের প্রস্থান, অন্য দিক দিয়া মনােহরের প্রবেশ। )
দেবেন্দ্র। (চেয়ার হইতে উঠিয়া দাঁড়াইয়া নমস্কারান্তে ) আসুন
মনােহর বাবু, ক’দিন আপনার কথা মনে কছিলুম। আপনি
কি আর রাধানাথ বাবুর বাড়ী পড়াতে আসেন না? আর কৈ
আমাদের এদিকে বড় আসেন না ?

প্রতিভা।
•••••••••
।।।।।।।।
মনােহর। প্রায় রাত্রি হয়ে যায় তাই আর বড় আসা হয় না।
আপনিও আর ক্লাবে যাওয়া এক রকম ছেড়ে দিচ্চেন, একি ?
দেবেন্দ্র। না মশাই, অনেক কষ্টে সমিতি খাড়া করা গেছল বটে,
আমার আর সুবিধা হবে না। indirectly ওখানে অপমান
হতে যাওয়া। উমানাথের যে সব খােসামুদে আছে আমি
তাদের সঙ্গে হা হা করতে পারব না। আমি টের পয়সার
গরম দেখেছি, আমি কাজ চাই। আপনারা সমিতি নিয়ে
থাকতে হয় থাকুন। আমি ও ঘুঘুর বাসা পােড়াবার চেষ্টায়
আছি ।
মনােহর। আপনি ছাড়লে সমিতি একমাসও চলবে মনে করেছেন।
শুধু টাকায় কি হয়, আপনার মত interest কে নেয়? আমিও
to tell the truth মােসাহেবি সহ্য করতে পারি না, আমিও
resign দোবাে মনে কচি।
দেবেন্দ্র। আর মশায় সত্য বলতে কি উমানাথের ভাইটার জন্যে
আমার আরও ছাড়তে ইচ্ছা হয়। ক্রমে যে রকম হয়ে উঠছে
এবার বােধ হয় মেয়াদ না হয়ে আর যায় না। আর হওয়াও
উচিত। রমানাথ এখানে আগে আগে মাঝে মাঝে আসত,
অনেকটা শুধরে এনেছিলাম। বড়বাবু দেখলেন তা হলে ত
নিজের কাজ হাসিল হ’বার সুবিধা হয় না, কাজেই নানা কথা
লােকের কাছে বলতে লাগল। আমি স্পষ্টই শেষে এখানে
আসতে বারণ করলুম। আহা ভাললােকের ছেলে, কষ্টও হয়।
কাল না মােকদ্দমা ?
মনােহর। কাল মােকদ্দমা, আমি ইহাতে জুরির ফোরম্যান আছি।

তৃতীয় অঙ্ক।
৯৭
দেবেন্দ্র। আপনারা আছেন দেখুন যদি কোন রকমে এবার নিষ্কৃতি
দিতে পারেন, অন্ততঃ শেষ যদি সামান্য ফাইনের উপর দিয়েও
যায়।
মনােহর। আপনি এর কিছু শুনেছেন কি ?
দেবেন্দ্র। কেন মশায়, বেচারির জেলে যাবার কারণ হ'ব ? আপনি
একজন জুরি, আপনার কাছে আমার কোন কথা বলে bias
করা উচিত নয়। যাগ, ও সব কথা, আমি ক’দিন থেকে
আপনাকে একটা কথা বব মনে করচি, যদি কিছু মনে না
করেন বলি।
নাহর। কি বলুন না, I am always at your service, সে জন্য
এত কিন্তু হচ্চেন কেন ?
দেবেন্দ্র। . দেখুন Social Conferenceএ এবার আমি একজন
delegate হয়ে যাচ্ছি। দেশের বিধবা বালিকাদের বিবাহ দেওয়া
সম্বন্ধে আমার কিছু বলবার ইচ্ছা আছে, কিন্তু আমার উপস্থিত
অনেক কাজ, সময় মােটে নাই। আপনি যদি ছােটখাট অথচ
খুব ভালগােছর একটি speech লিখে দেন। আমি কিন্তু
আপনার এই পরিশ্রমের জন্য উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিতে চাই।
মনােহর। সেকি দেবেন বাবু, এর জন্য আপনি পারিশ্রমিক আবার
কেন দেবেন, আমি পাঁচ সাতদিনের মধ্যে লিখে দোবাে।
মােকদ্দমা এখন কাল পরশুর মধ্যে ঢুকে গেলে বুঝতে পারি।
আপনার এ মােকদ্দমাটায় কি সাজা হওয়া উচিত মনে হয় ?
দেবেন্দ্র। আমার বলাটা ঠিক নয়। আপনি অনুরোধ করচেন, সত্য
বলতে গেলে সাজা পাওয়া একশ’বার উচিত । দেখুন দেখি
লােকটাকে কি সােজা মার মেরেছে, শুনছিলাম একটা চোখ

৯৮
প্রতিভা।
নাকি গেছে। তা হলে মনােহর বাবু আমার ও কথাটা যেন
মনে থাকে।
মনােহর। নিশ্চয় মনে থাকবে। তা হলে এখন যাওয়া যাগ।
দেবেন্দ্র। কি বলব, রাত হয়ে যাচ্চে অনেকটা যেতে হবে।
মনােহর। আচ্ছা। (নমস্কার করণ, দেবেন্দ্রের প্রতিনমস্কার করণ)।
[ মনােহরের প্রস্থান।
ষষ্ঠ দৃশ্য।
রমানাথের শয়নকক্ষ।
লাবণ্য ও অরা।
লাবণ্য। আজ প্রায় একমাস হয়ে গেল একখানি চিঠি পৰ্য্যন্ত দিলে
।
এ রকম করে লুকিয়ে লুকিয়ে আর কতদিন থাকবে।
দাদা শেষ দিন বলে গেছেন কলকাতায় আছে কোন ভাবনা
নাই, আপিলে নিশ্চয় খালাস পাবেন। দাদা দু সপ্তাহ হ’ল
জিনিষপত্র যা কিনে দিয়ে গেছল তাও প্রায় সব ফুরিয়ে এলাে।
ডাক্তার দেড়শ’ টাকার বিল দিয়েছে, গয়লা ফর্দ দিয়েছে,
কাপড়ওলার টাকা দিতে হবে, চৈত্র মাস সকলকার দেনা
শােধ করতে হবে। হাতেও আমার এমন কিছুই নাই, কি
হবে দিদি ?

তৃতীয় অঙ্ক।
। । । । । । ।
তারা। বুঝতে সবই পাচ্চি, কি বলি। ঠাকুরপাের জন্যে তুমি
ভেবােনা, দেবেন বাবু শুনিচি খুব তদ্বির কচ্চেন। আমি
সংসারের জন্যই ভাবছি, চারিদিকে খরচ—চলে কি করে ।
চিনেবাজারের বাড়ীর ফাল্গুন মাসের ভাড়া সব এসেছে কি ?
লাবণ্য। হায়
হায় আমার কপাল, সে বাড়ীও দেবেন বাবুর কাছে
বাধা পড়েছে, কি তার সঙ্গে লেকাপড়া আছে সুদের টাকা
ভাড়াটেদের কাছ থেকে তিনি আদায় পান। শুনেছিলুম
আর মাসে মাসে কত দিতে হয়।
তারা। তা হলে এখন কি উপায়, দাদার কাছে কাল চিঠি লিখে
হয় লােক পাঠাও।
লাবণ্য। দাদাকে খপর পাঠিয়েই বা কি করব ; তার কি আছে ?
যতক্ষণে তাকে দোবাে ততক্ষণে তিনি সব কিনে কেটে দেবেন।
আমি বলছিলুম, সেজদিদি, তুমি আমাকে এখন একশ’ টাকা ধার
দাও, আমি তােমায় সুদ দোবাে।
তারা। আমি কোথা কি পাব দিদি, আমি নিজে খেতে পাইনে।
আমার থাকলে কি আর তােমায় বলতে হত ।
লাবণ্য। তবে কি হবে, আমার এখনও দু’চারখানা গয়না আছে,
তােমার যদি না থাকে একখানা গয়না কারাে কাছে বাধা দিয়ে
যদি টাকা আনতে পার।
তারা। তা দেখ ছােট বো আমার মাসি কাশী যাবার সময় আমার
কাছে তার কিছু টাকা রেখে গেছে, বলেছিলাে যদি তেমন
তাল লােকের গয়না টয়না রেখে বেশি সুদে টাকাগুলি খাটিয়ে
দিতে পার ত দিও। তা আমি সেই টাকা থেকে দোবো।

প্রতিভা।
••••••••
( ' সৌরভের প্রবেশ। )
সৌরভ। ওগাে ছােট বোঁদিদি, তােমার বড় জা তােমাকে দেখতে
আসছেন, খিড়কির বাগানে ঢুকেছেন দেখে আমি তােমায়
বলতে এসেছি।
লাবণ্য। তিনি আবার কি করতে এসেছেন, যা উপরে নিয়ে আয়।
[ সৌরভের প্রস্থান।
তারা। তিনি কেন এসেছেন আর বুঝতে পাচ্ছি না, কাটা ঘায়ে নুনের
ছিটে দিতে এসেছেন, এ সময় একবার আসবে না গা। আমি
কাপড় কাচতে যাই কাজ রয়েছে, তুমি তাকে তােমার বাড়ীতে
খাতির যত্ন করে বসাও।
লাবণ্য। না সেজদিদি, তুমি একটু বােসে। বড়দিদি বাড়ীতে
এসেছেন তুমি যেও না। [ প্রভার প্রবেশ ও তারার প্রস্থান।
প্রভা। ছােটবৌ কেমন আছ ? কি চেহারা হয়ে গেছে! চামেলি
কোথা ? ( লাবণ্য মাথা নিচু করিয়া বসিয়া নিরুত্তর থাকিয়া
কাদিতে লাগিল ) কেঁদোনা ভাই ভগবানকে ডাক, ঠাকুরপে
নিশ্চয় মুক্তি পাবেন। মুখ তােল, আমার সঙ্গে কথা কও।
অন্য উপায় না দেখে উনি শেষে তােমার কাছে ঠাকুরপাের
কথা জিজ্ঞাসা করতেই আমাকে পাঠিয়ে দিলেন। ঠাকুরপাের
লুকিয়ে থাকায় তিনি বলেন আরও খারাপ হচ্চে। সে এখন
কোথায় আছে ?
আজ একমাস তার কোন খপর নাই, বোধ হয় কলকাতায়
আছে। ছেলে মেয়েরা সব ভাল আছে ?
প্রভা। হ্যা সব আছে ভাল। তা এই এক মাসের মধ্যে কোন স্থপর
দেয় নি বা চিঠি লেখেনি ?

তৃতীয় অঙ্ক।
।।।।।।।।।।
. * * * *
লাবণ্য। না, দাদা বলেছিলেন কলকাতায় আছেন, আপিলের
মােকদ্দমা শেষ না হলে আসা ভাল নয়, ওয়ারেন্ট রয়েচে ধরবে।
প্রভা। তার হয়ে মােকদ্দমা কে চালাচ্ছেন ?
লাবণ্য। দাদা দেখছেন আর তার বন্ধুবান্ধবরা দেখচেন শুনেছি,
কি হচ্চে না হচ্ছে আমি কিছুই জানি না, আমার আর কে
আছে ?
প্রভা। ছােট বৌ, উনি বলছিলেন, ঠাকুরপাে কোথা আছে জানতে
পারলে, তার কাছে সব শুনে যা করলে ভাল হয় তা তিনি
করতে পারেন। আর যতদিন না ঠাকুরপাে আসেন, এই মনের
কষ্টের উপর দেখবার বিশেষ কেউ নাই, কষ্ট হচ্ছে, তাই
বলছিলেন—আমার কাছে থাকবে চল। কি বল ?
লাবণ্য। আমার গেলে কি করে চলবে, বাড়ীতে সর্বস্ব রয়েছে,
যেমন বরাত করে এসেছি তেমনি ত ভুগতে হবে ।
প্রভা। তুমি কিছু মনে কর না, তুমি যদি মত কর এখানে দেখবার
জন্য আমি সব বন্দোবস্ত করতে পারি। এও যেমন তােমার
বাড়ী সেও তেমনি তােমার বাড়ী সেও শ্বশুরের বাড়ী এও
শ্বশুরের বাড়ী। তোমার কি চেহারা হয়ে গেছে দেখদেখি।
চল দিনকতক এক সঙ্গে থাকি। সেজ বৌও একলা থাকতে
পারবে না, সেও ঐখানে থাকবে। আর তা ছাড়া এখানে হয়ত
ঠাকুরপাে খরচ পত্রের কিছু ব্যবস্থা করে যায়নি সংসারের খরচ
ও নিত্য চলবে কি করে? চল ভাই অমত কর না।
লাবণ্য। আমার কাছে টাকা কড়ি বিশেষ কিছু নাই সে কথা ঠিক,
সে সব তার কাছে থাকে ; আমার কাছে গয়না আছে, যদি তাই
রেখে আমায় এখন দু একশ’ টাকা দিতে পার ত বরং এই

১০২
প্রতিভা।
উপকার কর; আর তাকে যদি কোন সুবিধা করে দিতে পারেন
ত বড় ঠাকুরকে বােললা । আমাকে যাবার জন্য বােললা না।
প্রভা। যদি তােমার হাতে টাকা কড়ি না থাকে এই চৈত্র মাসের
শেষে সব বাজার দেনা দিতে হবে, এই জন্যে তােমার বড় ঠাকুর
পাঁচ শ’ টাকা তােমায় দিতে দিয়েছেন। এই নাও। ভাই
তুমি বলে বিশ্বাস করবে না, তিনি ঠাকুরপাের জন্য ভেবে
অস্থির হচ্ছেন।
লাবণ্য। এ টাকা আমি আবার দোবাে।
প্রভা। আচ্ছা তাই দিও। কিন্তু ছােট বৌ তুমি বুঝতে পাচ্চ না,
তুমি ভাল করে ভেবে দেখাে, ঠাকুরপাে যতদিন না আসে
আমার বাড়ীতে গেলেই ভাল হয়। একথা তুমি ভেবে ঠিক কর
আমি আবার আসব। তুমি ভেবে ভেবে শরীর পাত করােনা।
বেলা গেল এখন ভাই আসি।
( প্রভার প্রস্থান ও অন্য দ্বার দিয়া তারার প্রবেশ।
তারা। ছােট বৌ করলে কি, দুটো মিষ্টি কথায় ভুলে গেলে।
কথায় বলে মার চেয়ে যত্ন যার সে হচ্ছে ডাইনি। ও টাকা
পারত এখনও শিগগির গিয়ে ফেলে দিয়ে এসাে, বুঝতে
পাচ্চ না এই সময় তােমাকে হাত করতে পারলেই ত কাজ,
বেনাে জল ঢুকিয়ে ঘােরর জল শুদ্ধ বের কোরাে না। তােমার
মাথার ঠিক নেই, তােমারই বা দোষ দোবাে কি, দেখনা গােড়া :
কেটে আগায় জল দেওয়া ; বিষয় কঁকি দিয়ে, বাড়ী থেকে বার
করে দিয়ে, এখন হচ্চে,-এও তােমার বাড়ী, সেও তােমার
বাড়ী। ভাল চাও ত ও টাকা একদিনও রেখাে না।
[ তারার প্রস্থান।
}

তৃতীয় অঙ্ক।
লাবণ্য। (স্বগতঃ) সেজদিদি যা বলচে সেকি মিথ্যা, জা কখন কি
আপনার হয়? সত্যিই কি এর জন্য একদিন পায়ে করে
থেৎলাবে ? না না কেমন করে তা বলব, উপরে ভগবান
আছেন, যদি ওদের মনে মন্দ মতলব না থাকে ত কেন এ কথা
ভেবে পাপের বােঝা বাড়াব। যাই হােক তিনি এলেই এ টাকা
না হয় ফেরৎ দোবাে, এখন হাতে কিছুই নাই; এ দোবাে না।
দয়াময় ঈশ্বর, আমায় ক্ষমা কর, আমার স্বামীকে ফিরিয়ে এনে
দাও। এই দুঃখের সময় অভাগিনীর কষ্ট দেখে আজ চিরশত্রুর
হাত দিয়ে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছো, আমায় কৃপা কর, আমার
স্বামীকে ক্ষমা করাে, তাকে রক্ষা করাে।

চতুর্থ অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য।
দেবেন্দ্রনাথের ভবানীপুরের বাটীর উপরের ঘর।
দেবেন্দ্র ও রমানাথ।
দেবে। আপনি দেখুন আমার যা ক্ষমতা তা আপনার জন্য করেছি,
এখন আবার কি করে আপনি বলেন ? আমার আপনার
কাছে পাওনা সব টাকা কখনও পাবার আশা আছে কি?
আপনি না হয় আপনার দু’খানা বাড়ীর দলিল পত্রগুলাে আমার
কাছে ফেলে রেখে দিয়েছেন। পূর্বেকার ও হালে সুদ কত
পাওনা হয়েছে কিছু ভাবেন কি ? এই মােকদ্দমাটায় সব
শুদ্ধ প্রায় দশহাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে, এখনও এটণীর
একখানা বিলের টাকা দিতে বাকী আছে। আর এই
মােকদ্দমার জন্য কি পরিশ্রমই না করিচি সব ত জানেন।
আপনার অদৃষ্ট নেহাৎ মন্দ, তাই এততেও কিছু করতে পারলুম
।
রমানাথ। দেবেনবাবু আপনি যা বলচেন সবই ঠিক, কিন্তু আপনি
দেখলে এখন আমার আর উপায় কি। আমার আর এখন
কে আছে, কি আছে ? আমার যা কিছু ছিল সবই গেছে,
কলকাতার বাড়ী জমিজাৱাত সবই ত আপনার হাতে।
কাগজ যা ছিল সব একে একে গেছে, এখন থাকবার মধ্যে

চতুর্থ অঙ্ক।
••• ••• • • • •17
,,,
!!*** ' ••"।
কেবল বসত বাড়ীখানি। আমার পরিবারের হাতে কিছুই
নাই, না খেতে পেয়ে তারা মারা যাবে। সেই দু’মাস হ’ল একশ
টাকা আপনি দিয়েছিলেন তারপর আর কিছু পাঠাতে পারি
নি। দয়া করে আজ আর একশ’ টাকা দিন।
দেবেন্দ্র। রমানাথবাবু আমার কোন ব্যবসা নেই, আয় বাদা, সুদও
যদি ঠিক মত না পাই ত কি করে বােজ আপনাকে টাকা
যােগাই। আপনার সব যদি নষ্ট করে ফেলে থাকেন ত
সেটা আমার দোষ নয়। আপনার জন্য আমার বিশেষ কষ্ট
হয় কিন্তু কি করব বলুন।
রমানাথ। আমি কাশারিপাড়ার বাড়ীখানা মনে করচি বিক্রী করে
কতকটা খােলস ক’ব, আপনি ওখানা বিক্রী করে দেবার
চেষ্টা দেখুন। কিন্তু কৃপা করে আজ আর একশ’ টাকা
আমার বাড়ীতে পাঠিয়ে দিবার ব্যবস্থা করুন। আমি আপনার
সব মিটিয়ে দোবাে। আপনি আমার জন্য কি করছেন তা কি
আমি জানি না ? যদি বলেন আমি আমার ভদ্রাসন বাড়ীর
দলীল আপনাকে দিয়ে রাখতে পারি। আপনাকে আমার
অবিশ্বাস নাই।
দেবেন্দ্র। না না, আপনি অবিশ্বাস করেন তা কি আমি বলচি ।
ও বাড়ীর দলিলপত্র আমায় দিতে হবে না, আমি একশ’ টাকা,
কাল বাড়ী যাব, গিয়ে সরকারের হাত দিয়ে পাঠিয়ে দোবাে।
আপনি সেজন্য নিশ্চিন্ত থাকুন। আমি বলছিলাম কি, কাশারি-
পাড়ার বাড়ীখানি তাড়াতাড়ি বেচবেন, যদি কোন রকমে
আমার হাত নাগাদ সব সুদগুলাে মিটিয়ে দিতে পারেন ত
বাড়ীটা থেকে যেতে পারে।

প্রতিভা। •/••••••••• Ww40/AAAA/ A/ ''•••••••• রমানাথ। কোন রকমে আর আমি কি করে সুদব, আমার আর ত রকম নেই, সব রকমই ফুরিয়েছে। ভদ্রাসন বাড়ীখানা এখনও আছে বটে, কিন্তু সেটা ত কোন মতেই বেচতে পারব না দেবেনবাবু, তা হলে যে স্ত্রী পুত্র নিয়ে একেবারে রাস্তায় দাড়াতে হবে! বাধা দিব বলছেন ! আমার যে বাধা দেওয়া বেচা একই কথা, সুধবার কথা যে এ জন্মে আর হবে না দেবেন- বাবু। না, কাশারিপাড়ার বাড়ী বিক্রী করাই ভাল মনে হয়। দেবেন্দ্র। আপনি এখন এ অবস্থায় লুকিয়ে থেকে কি করে বাড়ী বিক্রী করবেন? তা হলে একজনকে আপনার power of attorney দিতে হবে। রমানাথ। আপনাকেই power of attorney দিতে পারি, আর তাই বা কেন, আপনিই একটা দাম ঠিক করে নিয়ে নিন। দেবেন্দ্র। বাপরে, আমি কি আপনার বাড়ী নিতে পারি ! না আমি power নিয়ে আপনার বাড়ী বিক্রী করতে পারি, আজই আপনার না হয় একটু অভাব হয়েছে। আপনি সেবারও বাড়ী বিক্রীর কথা বলছিলেন। ভবানীপুরেই আমার একটা বন্ধু ভাললােক এটর্ণী আছেন, আমি তার কাছে জেনেছিলাম তিনি বললেন এ অবস্থায় power দেওয়া দরকার। আপনি যদি একান্তই তাড়াতাড়ি করেন তাকে দিতে পারেন। আর power দিতে হলে general power দেওয়াই ভাল কারণ এ অবস্থায় যখন যা দরকার হবে সবই তিনি করতে পারবেন। রমানাথ। তবে আজই তাঁকে একবার আনালে হয় না, আজই ও কাজ সেরে দি।

চতুর্থ অঙ্ক।
১০৭
দেবেন্দ্র। তিনি উপস্থিত জগদীশপুরে তাঁর মেয়ের অসুখের জন্য
গেছেন। যদি দরকার হয় এই জন্য আমি তার কাছ থেকে
একখানা লিখিয়ে রেখেছি সেইখানা সহি করে দিলেই হবে।
উঠিয়া ড্রয়ারের ভিতর হইতে উহা বাহির করিয়া রমানাথের
হস্তে দেওয়া )।
রমানাথ। এইত বেশ, আমি এতে সহি করে দি।
এত রেজেষ্ট্ৰী
করতে হবে ?
দেবেন্দ্র। রেজেষ্ট্রী তিনি সব করে নেবেন সেজন্য ভাবনা নেই।
যদি ইচ্ছা করেন সই করে দিতে পারেন। (পকেট হইতে
ফাউন্টেন পেন বাহির করিয়া হস্তে দেওয়া)।
রমানাথ। (কাগজ হস্তে করিয়া) এই খাটায় সই করে দিই?
দেবেন্দ্র। হ্যা দিন। সম্পত্তির নামটা বসিয়ে দিন।
রমানাথ। (সহি করিয়া কগজ ফেরৎ দিয়া) এই নিন শীঘ্র যাতে
উহা বিক্রী হয় তার চেষ্টা করতে বলবেন। দরটা কি হয়
একটু জানাবেন।
দেবেন্দ্র। নিশ্চয়, যা’ ভাল দর পাওয়া যায় আপনাকে জানিয়ে আপনি
বলে তবে বিক্রী করা হবে। আপনাকে একটা কথা
বলতেও পাচ্ছি না আর না বললেও উপায় নাই। আমি
সেই জন্যই এবার কলকাতায় এসেছি।
রমানাথ। কি বলুন।
দেবে। আপনার আর এখানে থাকা নিরাপদ নয়, কেউ কেউ
জানতে পেরেছে আর আমারও তাতে বিপদ আছে। তাই
বছিলাম একবার অন্ততঃ দিনকতক অন্যত্র যাওয়া একান্ত
দরকার হয়েছে।

১০৮
প্রতিভা।
•••••••••••••••
রমানাথ। দোহাই দেবেনবাবু, ( তাড়াতাড়ি দেবেনবাবুর পদ ধারণ)
আমি আর কোথা যা’ব, আমায় আপনি ভিন্ন আর কে রক্ষা
করবে! আমার আর স্থান নাই।
দেবেন্দ্র। (পা সরাইয়া) আপনি পায়ে হাত দেন কেন। আপনার
জন্য আমি কি বিপদগ্রস্ত হব। এখানে থাকলে আপনি
অতি সত্ত্বর ধরা পড়বে। আপনি আজই অন্যত্র যান।
আপনি কলকাতায় অন্য কোন বন্ধুর বাড়ী যান না। এখানে
আর আপনার থাকা কোন মতেই উচিত নয়।
রমানাথ। আমি দিন রাত বাড়ীর ভিতর থাকি এখানে কিছুতেই
আমায় ধরূতে পাবে না। আপনি দয়া করে তাড়াবেন না।
দেবেন। আমি বলচি এখানে থাকায় আমারও বিপদ আপনারও
বিপদ, তা না হলে আপনার থাকায় আমার কি ক্ষতি হচ্চে?
না যদি যান দেখবেন আমার দোষ নাই। গদা, গদা-
( উচ্চৈঃস্বরে )
রমানাথ। গদা 'বােধ হয় বাইরে টাইরে গেছে; কেন, কি দরকার
আমায় বলুন
না।
দেবেন্দ্র। সে কি আপনাকে বলতে পারি, এক পয়সার বরফ ঐ
মােড়ের দোকানটা থেকে আনতে বছিলুম, বড় জল পিপাসা
পেয়েছে, ব্যাটা গেল কোথা।
রমানাথ। আমি আছি তাতে দোষ কি হয়েচে। (গমনােদ্যত )
দেবেন্দ্র। না না, আপনি যাবেন না, আপনার বাহিরে না যাওয়াই
ভাল।
রমানাথ। এইখানে গেলে আর কি হবে।
[ রমানাথের প্রস্থান

চতুর্থ অঙ্ক
১০৯
দেবেন্দ্র। (উঠিয়া জানালা হইতে রাস্তার দিকে দেখিয়া, স্বগতঃ )
বাস আর কি, এইবার দেখি উমানাথের কতদূর বুদ্ধির দৌড়টা।
ভাইয়ের বিষয় এইবার রক্ষা কর, কত টাকা আছে এইবার
ভাজ ভাইঝিকে খাওয়াও ত বাবা। বাপ পিতামহের নাম
রাখতে ধরাকে সরা জ্ঞান কর, দেখি বাপের ভিটেয় কে
এইবার সন্ধ্যা দেয়। শেষ বসত বাড়ীর অর্ধেক অংশ কিনবে!
দেখা যাগ, কে কার অর্ধেক অংশ কেনে। এ যজ্ঞ শেষ হ’ব
হ’ব হয়েছে, এইবার তােমার পালা। দেখি এইবার “বান্ধব
সমিতির” তোমার বান্ধবরা তােমায় কেমন রক্ষা করূতে পারে।
এ অন্য কেউ নয়, এইবার দেখি পায়ে তেল দিতে হয় কি না।
আমার নাম দেবেন্দ্রনারাণ ঘােষ।
দীনেশের প্রবেশ ।
দীনেশ। বাস্ নিশ্চিন্ত। আরে ভাই ব্যাটার কান্না যদি দেখতে।
আমি একটু আড়ালে ছিলুম আমায় দেখতে পায় নি। আমি
ব্যাটা এত বড় পাষাণ, আজ রামা ব্যাটা আমার চ'খে জল
ফেলিয়েছে। ব্যাটা রাস্তায় যে বসে পড়ল আর উঠতে চায়
, হেড, জমাদার একটা ছােটখাট রুলের গুতো দিলে
তবে উঠল।
দেবেন্দ্র। কাজ ত মিটিয়েছ, থাক ও কথা। দাও দেখি আজ
একগ্লাস, একটু আমােদ আসুগ।
দীনেশ। (মদ্য ঢালিতে ঢালিতে। হাঁ আজ অনেক দিনের পর
good boy হয়েচ, নাও (মদ্য দেওয়া )।

প্রতি।
দ্বিতীয় দৃশ্য।
বিভার পড়িবার ঘর।
উমানাথ, বিভা ও প্রভা।
উমানাথ। কিগাে মা, অনেক দিন আর রামায়ণের গান বলনি ত,
কি পড়া হচ্ছে দেখি। (বিভার হস্ত হইতে পুস্তক গ্রহণ)
আগে যে মাষ্টার মশাই পড়াচ্ছিলেন তিনি ভাল পড়াতেন না
এই নূতন গুরুমা পড়ায় ভাল ?
বিভা। না বাবা এই গুরুমা খুব ভাল করে পড়ায়, আমায় খুব
ভালবাসে।
প্রভা। সত্যিই ইনি বিভাকে খুব ভালবাসেন, কত বই, প্যাটান
সব দিয়েছেন। এই দেড় মাসে কেমন সব সুতার কাজ
তৈয়ারী করতে শিখিয়েছেন। বচেন, তাঁর ছবি আঁকবার
কাগজ পেন্সিল সব আছে এনে বিভাকে ছবি আঁতে
শেখাবেন।
উমানাথ। তিনি যখন এতই যত্ন করে শেখান, তা হলে যদি তার
অসুবিধা না হয় তা হলে না হয় দুপুর বেলা এসে চারটা পর্যন্ত
পড়ান ; আমি মাহিনে আরও আট দশ টাকা বাড়িয়ে
দিতে পারি। ছােট বোমার যদি অমত না হয় তা হলে
চামেলিও এর কাছে পড়তে পারে।
সে আমি ছােট বৌকে বলেছিলুম, সে অনেক কথা বলে।
বলে গরীবের মেয়ের আবার লেখাপড়া শিখে কি হবে। এই
গুরু যে রকম ভাল লােক আমার বােধ হয় মাইনে আর
বেশী না দিলেও সে আরও বেশীক্ষণ বা দুবেলাও হয় ত পড়াতে

চতুর্থ অঙ্ক।
।।।।।
••• •••••• • • • •1.
পারেন। আর বেশী লেখাপড়া শিখে কি হবে ? কোথায়
পড়বে! একটু শেখাই ভাল।
উমানাথ। ঐ আমাদের মস্ত ভুল। লেখাপড়া শেখা ছেলেদের
যেমন দরকার সকল মেয়েদেরও তেমনি দরকার। গেরস্তর
মেয়ে যাদের শ্বশুর বাড়ী গিয়ে কাজকর্ম করতে হবে, সংসারের
সকল বিষয় দেখতে হবে সকলকে নিয়ে চলতে হবে, তাদের
শেখা আরও বেশী দরকার। এই শিক্ষার অভাবেই মেয়েরা
নিজেও অশেষ কষ্ট পায়, আর সংসারেও অশান্তি বাড়ে। এই
দেখ না, ছােট বৌমা যদি শিক্ষিতা হতেন তা হলে এ অবস্থাতেও
এত অশান্তি কষ্ট বোধ হয় ভােগ করতেন না, আর কে বলতে
পারে হয় ত এ অবস্থা হােতই না। দেশের সর্বপ্রকার
উন্নতি আমার মনে হয় মেয়েদের শিক্ষার উপর নির্ভর করচে।
তারা না ভাল শিক্ষা পেলে, তাদের ভাল মন্দ বুঝবার ক্ষমতা
না হলে তাদের ছেলেরা কখন ভাল হতে পারে কি ? আমার
মনে হয় স্ত্রীলােকদের শিক্ষার সঙ্গে আমাদের দেশের সব রকম
উন্নতির ঘনিষ্ট সম্বন্ধ।
প্রভা। যদি মেয়েদের লেখাপড়া শেখান এত দরকার তবে ছেলেদের
ইস্কুলের মত যেখানে সেখানে মেয়ে ইস্কুল করে না কেন ?
বিয়ে হবার পরও যা’তে দিনকতক পড়তে পারে, সে ব্যবস্থা
কলেও ত ভাল হয়।
উমানাথ।
সে ব্যবস্থা ত করতে পালে ভালই হয়। আর যেখানে
সেখানে বালিকাবিদ্যালয় ও যা’তে গরীবের মেয়েরা অমনি
পড়তে পারে তাও করা একান্ত দরকার।
প্রভা। তুমি যে স্কুল করে দিয়েছ তাতে ত সব অমনি পড়তে পায় ?

প্রতিভা।
উমানাথ। তা’তে যারা ইচ্ছা করে অম্‌নি পড়তে পায় বটে, কিন্তু
সে একটা ছােট স্কুলে কি হবে ? অন্ততঃ আরও ঐ রকম দুটো
হলে আশপাশের গ্রামের পর্যন্ত সব মেয়েরা পড়তে পায়।
আমার যদি আরও টাকা থাক্ত, তা হলে আমি নিশ্চয়ই তা
করে দিতুম। যদি কল্কাতার মত গাড়ি করে নিয়ে যাবার
ব্যবস্থা ক'রে বড় মেয়েদের, যাদের বিয়ে হয়েছে তাদেরও
শিক্ষার উপায় করতে পাতুম তা হলে কতুম।
প্রভা,
আমার ত আর টাকা নাই, সে আশা সে সাধ মনেই রইল।
প্রভা। দেশে ত অনেক বড় মানুষ আছে, তাদের বলে সবাই চেষ্টা
করে কর না কেন? আমার কাছে যে দু'হাজার টাকা রয়েছে
সে আমি কি করব, তুমি ইস্কুলে খরচ কর।
উমানাথ। তোমার ও সামান্য টাকায় কি হবে, প্রভা ! দেশে
টাকা দিতে পারে, এমন লােক আছে ঠিক, কিন্তু তাদের এ
সবদিকে খেয়াল নাই। তাদের কাছে এই সব অভাব বুঝিয়ে
দিতে পারলে, ঝোঁক করিয়ে দিতে পারলে, অনেক কাজ হতে
পারে। আমাদের সমিতির কথা শুনেছ ত, তার কাজই
এই সব করা। অনেক টাকা আমার না থাকলেও, পাঁচ
জনকে নিয়ে একদিন আশা ছিল বটে যে অন্য জায়গায় না
পারি এখানকার সমস্ত অভাব যাতে যায় তা করব, কিন্তু
ভগবান্ আমায় তা করতে দেবেন না। মনের ঠিক না থাকলে
কোন কাজই হয় না। আমার শান্তি কোন দিনই নাই।
অল্প বয়সে বাবা মারা গেছেন, তারপর থেকে আজ পর্যন্ত রমার
জন্য একদিনও শান্তি নাই। সে বৃদ্ধির দোষে, অদৃষ্টের ফলে
আজ জেলে, আমার সহস্র ইচ্ছা থাকল্পে ও আমি তার কিছু

চতুর্থ অঙ্ক।
ঘুচবে।
উপায় করতে পারলাম না। যা'র এ ক্ষমতা নাই সে কোন্
গুপে দশ জনের সঙ্গে দেশের কাজ করবে। তার জন্য সৰ্ব্বদাই
ৰে আমার দেহের ভিতর একটা বড় কাটা ফুটে রয়েছে।
প্রভ। ঠাকুরপাের জন্য তুমি ত চেষ্টার কসুর ক’রনি, তুমি আর
কি করবে। তােমার সব কথা শুনে-আমি মুখ, চিররুগ্ন
মেয়ে মানুষ—তবু, আজ আমার ইচ্ছা কচে, সে আমি রােজ
বােজ মেয়েদের স্কুলে গিয়ে তাদের জন্য কিছু করতে পারি
করে আসি। আমার সমস্ত গয়নাগুলি পৰ্যন্ত ইস্কুলের জন্য
দিতে ইচ্ছে করছে।
'উমানাথ। সত্যই, প্রভা মেয়েদের দ্বারাই মেয়েদের এ অভাব একদিন
তারা ভিন্ন তাদের দুঃখ এত ভাল করে কেউ
বুঝবে না, তােমার মত মন যদি সকলের হত তাহলে আর
ভাবনা কি ছিল। আমরা তােমাদের ঘরে এসেন্স আতরের
মত বিলাসের জিনিষ করে রেখে, ঘরের কোনে জন্তু করে
রেখেই আমাদের দেশের দিন দিন অধঃপতন আনছি। মনে
হয় ভগবানের ইচ্ছায় শীঘ্র এ দিন যাবে।
প্রভা। ঐ বিভার গুরুমা আছেন।
উমানাথ। আমি ওঘরে যাই।
প্রভা। না না, তুমি ব’স। বিভা ওঘরে পড়বে।
উমানাথ। না, ও এই খানেই পড়ক।
[ উমানাথের প্রস্থান ও তৎপরে অন্য দ্বার দিয়া প্রতিভার প্রবেশ।
প্রভা। আসুন, এই আপনার কথা, মেয়েদের পড়াশুনার কথা সব
হচ্ছিল।
প্রতিভা। কার, উমানাথবাবুর, সঙ্গে কথা কচ্ছিলেন ?

১১৪
প্রতিভা।
প্রভা। আর কার সঙ্গে কথা ক’ব! দেশে যা’তে মেয়েদের সব
শেখবার ব্যবস্থা হয় তিনি তাই বলছিলেন।
প্রতিভা। তিনি না হলে দেশের জন্য আর কে ভাববেন ? তা না
হলে তঁার দেশবিদেশে এত নাম কেন ? আমরা ছেলেবেল
ইস্কুলে, তারপর বেথুন কলেজে পড়েছি। উমানাথবাবুর বালিক
বিদ্যালয়ে যেমন পড়া হয়, এমন সুন্দর প্রণালীতে আর কোথাও
বোধ হয় শেখান হয় না। আমি একদিন একজন শিক্ষয়িত্রীর
সঙ্গে পাঠশালাটী দেখতে গেছলাম, অনেকক্ষণ সেখানে ছিলাম ।
আহা কি সুন্দরই শেখান হয়, এই শিক্ষাই আমাদের প্রকৃত
দরকার। এই শিক্ষার ব্যবস্থা দেশে দেশে হওয়া দরকার।
প্রভ। আপনার সঙ্গে কি সেই শিক্ষয়িত্রীর অালাপ আছে না কি ?
প্রতিভা তিনি আমার কাছে প্রায়ই আসেন। আমরা এক সঙ্গে
পড়েছিলাম।
প্রভা। একদিন তাকে সঙ্গে করে আনবেন না।
প্রতিভা। আম্ব।
প্রভা। তা হলে আপনি বিভাকে এখন পড়ান, আমি যাই।
[ প্রভার প্রস্থান।
প্রতিভা। বিভা, তােমার বাবা কি বলছিলেন ?
বিভা। অনেক দিন রামায়ণের গল্প বলিনি তাই বলছিলেন। কেমন
পড়া হচ্ছে জিজ্ঞাসা করছিলেন।
প্রতিভা। তুমি কি বল্লে ? কেমন পড়া হচ্ছে বল্লে ?
বিভা। অমি বললুম খুব ভাল পড়া হচ্ছে। '
প্রতিভা। তিনি আর সব আমার কথা কি কচ্ছিলেন ?

চতুর্থ অঙ্ক।
১১৫
:/1/1/+A\\
বিভা। কি সব মেয়েদের পড়াশুনার কথা বলছিলেন, আমি সব
বুঝতে পারি না।
প্রতিভা। (বই হস্তে লইয়া) পড়।
তৃতীয় দৃশ্য।
কারাগার।
রমানাথ ও কয়েদীগণ।
১ম কয়েদী। (রমানাথের প্রতি) এই শালা, সবাই ব'সে আছি,
তুমি শালা বুঝি চুপ, করতে পার না।
২য় কয়েদী। বুঝচি না জনাদারকে দেখাবে যে সে সব চেয়ে বেশী
কাজ করে।
রমানাথ। তােমরা অনেক ভেঙ্গেছ আমার এখনও ঢের বাকি রয়েছে ;
শেষ কতে পালে চাবুক মাবে এই জন্য ভাঙ্গচি।
২য় কয়েদী। থাম থাম্ অর ল্যাকামাে করতে হবে না, আমরা
শালারা একলা মার খাব।
( জমাদারের প্রবেশ ও কয়েদীদের কাৰ্যে মনােনিবেশ করা)।
জমাদার। কেয়া হােত হার, সব, শাল। বৈঠকে মৌজ কতা হায়।
চালাও (রমনাথের প্রতি তাে ঘুমাতা থা, আবি একে
ঝুড়ি নেহি হুয়া ?
রমানাথ। না জমাদার মশাই আমি সমস্তক্ষণই ভাঙ্গচি, একবারও
সিনি, এই দ্যাখ, আমার হাতে কত ফোস্কা উঠেছে।
}

প্রতিভা।
• '৬৯'\\\ ,
জমাদ র। চোপরাও শালা (বেত্রাঘাত) কাম করুতা নেহি ফিন্ যান্তি
বাত বাের্তা।
রমানাথ। ( আঘাতে শুইয়া পড়িয়া কাদিতে কাদিতে ) জমাদার,
আপনার দুটী পায়ে পড়ি আমায় আর মেরাে না। আমার
আর ক্ষমতা নেই। ভগবান্ আর পারি না।
( উমানাথের প্রবেশ ।)
রমানাথ । কে দাদা, দাদা এসেচ, আমায় বাঁচাও দাদা, আর যে
পারি না। দাদা আমায় ক্ষমা কর, তুমি না ক্ষমা করলে আমি
আর বাচব না।
উমানাথ। রমা চুপ কর, চুপ কর, কোদা না।
মানাথ। আমার প্রায়শ্চিত্ত এখনও শেষ হয় নি। তুমি ক্ষমা কর।
তােমার কাছে যাবার উপায় নাই, তা না হলে তােমার পায়ে
ধরে ক্ষমা চাইতু। তােমায় কষ্ট দেওয়ার এই ফল হচ্চে।
মউনাথ। এখন চুপ কর। কি কি ঘটনা হয়েছিল সব স্থির হয়ে
আমাকে গােড়া থেকে বল, আমি ঠিক কি ঘটনা কিছুই জানি
। এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে আর উপায় নেই, তবু
দেখি যদি কিছু করতে পারি।
বমানাথ। এখন আর কি করবে বড় দাদা, আমি এইখানে থেকে
পাপের ফল ভােগ করব সেজন্য এখন আর কোন চেষ্টা করা
। যদি পার আমাকে, সাহেবকে বলে কয়ে, একটা কোন
রকম সােজা কাজের ব্যবস্থা করে দাও আমি খােয়া ভাঙ্গতে
পারি না, মার খেয়ে এই দেখ আমার ঘাড়ের ছাল উঠে গেছে।
আর বাড়ীতে না খেতে পেয়ে না মারা যায় এই কোরাে !

চতুর্থ অঙ্ক
১১৭
আর একবার মুখ ফুটে বল যে আমার সব অপরাধ আজ
ক্ষমা করলে।
উমানাথ। রমা আমি তােমার কোন দোষই মনে করে রাখিনি,
ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি তুমি মুক্তি পেয়ে এবার সব
দোষ শুধরে যাবে। চামেলি, ছােট বৌমা, শারীরিক বেশ
ভাল আছে, তাদের জন্য কিছুমাত্র ভাবনা নাই, তারা আমার
কাছে আছে। তােমার এখানে যাতে কষ্টের কিছু লাঘব
হয় তার জন্য আমি আজই চেষ্টা করুব। আমি এই জন্যে,
আর তোমার বিষয় আশয় এখন যা আছে তা যদি রক্ষা হয়
এই সব জিজ্ঞাসা করবার জন্যই কতকটা এখানে এসেছি।
তােমার মােকদ্দমা রুজু হবার পর অনেক লােকের কাছে
তােমার সন্ধান জানতে চেষ্টা করেছিলাম, কেউ বলে দিতে
পারেনি। হয় ত তখন তােমার সঙ্গে দেখা হলে অনেক
সুবিধা হত।
রমানাথ। বড় দাদা, তােমার দোষ নাই, তােমায় চিনতে পারি
নি বলেই আমার এ দুর্দশা। এখন আমার চোখ ফুঠেছে,
আমার বিষয় আশয় আর কি অাছে যে রক্ষা করবে ?
তােমার দ্বারা রক্ষা হবে সে উপায়ও বড় রাখিনি, তখন তা
বুঝিনি, এখন এই জেলে থেকে সব বুঝতে পাচ্চি।
আমার বিষয় রক্ষার ভার কার উপর আছে জান ? যে আমায়
জেলে পুরেছে তার উপর, সেই দেবেন্দ্রনারায়ণের উপর, যার
কাছে বুজেছিনু যে তুমি আমার সর্বস্ব
ফাকি দিচ্চ।
সব নষ্ট করেছি, জানি না বাড়ীখানা এখনও আছে কি না,
যদি এখন উপায় থাকে ত, সেইথানা রাখতে চেষ্টা কোরো।

১১৮
প্রতি।
উমানাথ। কারাে দোষ নয়, সবই অদৃষ্টের দোষ, জানি না হয় ত
দেবেন্দ্রবাবু ঘটনাচক্রে উপলক্ষ্য হয়েছেন। যা’গ, এখন ওসব
কথা, তােমার কাগজ নগদ টাকাকড়ি বােধ হয় সবই নষ্ট
করে ফেলেচ, কলকাতার বাড়ী, দুটো বশত বাড়ী এ সবই
বাধা পড়েছে নাকি? না কোনটা বিক্রী করে ফেলেছ ?
রমানাথ। আমি কি করিছি তা আমিই ঠিক জানি না, এই মাত্র
জানি আমার আর কিছুই বােধ হয় ফিরে পাব না। যা জানে
দেবেন্দ্রবাবু আর দীনেশ। আমি মদ খেয়ে বদমাইসি করে
আমার সিকিটাকাও নষ্ট করিনি। আমায় মদ খাইয়ে কখন
বা জেলের ভয় দেখিয়ে যখন যা বলেচে সই করে দিয়েছি।
যেদিন ধরিয়ে দেয় তার একটু আগেও কা’র নামে কি একটা
পাওয়ার না কি সই করিয়ে নেয়।
উমানাথ। সেটা কিসের পাওয়ার ? কার নামে সই করে দিয়েছ ?
জমাদার। বাবু আপুকে দোজা কৈ বাত পুছনেকে। হােয় ত
পুছিয়ে, এ সব বাত হিয়া কয়না ঠিক নেহি।
উমানাথ। কেন জমাদার, এতে তােমার কি ক্ষতি হবে, তােমাকে
আমি খুসি করব। দেখ, যদি এর কোন উপকার হয় কেন
তুমি বাধা দাও।
জমাদার। কেয়া খুসি কিয়েগা আপ। দেবিনবাবু একটো বড়
আমি, উকো নামে কাহে এ লােক জুটাবাত লাগাতা।
নেহি বাবু দো কুচ, কহেনা কে হােয় ত কহিয়ে, নয়ত
বাহার চলিয়ে, হিয়া এসব কহেনা কা হুকুম নেহি।
উমানাথ। আচ্ছা রমা, এখন আর কিছু কথার আবশ্যক নাই।
যদি কথা কইবার কোন ব্যবস্থা করতে পারি ত শীগগির
;

চতুর্থ অঙ্ক।
১১৯
আর একদিন আব ।
তুমি যতদূর পার সব মনে করে
রেখাে।
জমাদার। হ্যা, বাবুসাব, এহি ঠিক হােগা, হুকুম্ মিলনে সে আলবৎ
হাম ছােড় দেগা, উখং যাে খুসি আপকা পুছিয়ে। দেখিয়ে
হা হুকুমকা নােকর।
উমানাথ। আচ্ছা, জমাদার তুমি শােন, (জমাদার একটু সরিয়া
সামান্য আড়ালে যাইলে একখানি দশ টাকার নােট হাতে
দিয়া) এই তােমার বকশিস্ নাও। (রমানাথের প্রতি।
এখন যাই রমা।
জমাদার। বন্দিগি মহারাজ ।
{ জমাদারের পশ্চাতে পশ্চাতে উমানাথের প্রস্থান।
চতুর্থ দৃশ্য।
দেবেন্দ্রনাথের ভবানীপুরের বাটীর বারান্দা
দেবেন্দ্র ও বাবাজী।
বাউলের সুর।
কা’র হিসাব লিখছি বসে,
মনের চোক্ষে, আপনার কাজ মূলতুবি রেখে।
ও তাের চুল পেকেছে,
দাত পড়েছে,
পরের চোখে দেখছিস্ চোখে।

প্রতিভা।
তবু তুই পরের বেঠিক, করছি রে ঠিক,
আপনার বেঠিক ঠিক না দেখে ।
লিখেছি পরের বাকী জায়, আপনার দিন যায়,
তাের ঠিকানা নাই সেদিকে।
পাগলেও আপনার ভাল, বােঝে ভাল
আপনার ভাল না বােঝে কে।
শুনেছি লােকে শিখে,
লােকে দেখে,
হাবা লােকে ঠেকে শিখে ।
নিকেশে ঠেবি যে দিন,
বুঝবি সে দিন,
সরবে না তাের বাক্য মুখে ।
ফিকিরচাদ বলে খেদে,
দিন থাকিতে,
আপনার হিসাব নেরে দেখে।
যদি রে থাকে বেঠিক,
কর তা ঠিক,
তবেই নিকাশ দিবি সুখে।
-কাঙ্গাল ফকিরচাঁদ
দেবেন্দ্র। বাবাজী আজকের গানটা বেশ, এই নাও পয়সা ( পয়সা
দেওয়া )
বাবাজী। আর একটী শুনবেন কি ?
দেবেন্দ্র। এই ভাবের আর কোন গান যদি তােমার থাকে ত আৰু
একটী গাও।
(বাবাজী পুনরায় গান আরম্ভ করিবার উদ্যোগ করিতেছে এমন
সময় রমেশ ও নিমাইয়ের প্রবেশ )
রমেশ। Hallo মিঃ ঘােষ, কেমন আছ ?

চতুর্থ অঙ্ক। দেবেন্দ্র। Good morning রমেশ, এস এস, নিমাইবাবু আসুন। নিমাই। দেবেনবাবু গান শুনছিলেন! এই বাবাজীর গান ! ছি ছি কি ক্যাড, তােমার মত enlightened লােক এই twentieth centuryতে এখনও এই গান শশানে এ বােধ হয় আমি দেখলে বিশ্বাস করতুম না। দেবেন্দ্র। না হে অতি সুন্দর গান, আমি কলকাতায় এলেই প্রায় বাবাজী এসে আমায় গান শােনায়। (বাবাজীর প্রতি) আর নয় বাবাজী তুমি আজ এখন সরে পড়। [ বাবাজীর প্রস্থান। তারপর রমেশ, কোথা আছ ভাই এখানে, তােমার boy রমেন, গোপেন সব ভাল ? রমেশ। সব খুব ভাল। আমি এই সামান্য দূরে সরকার লেনে থাকি। আমি জানি তােমার এই বাড়ী ভাড়া আছে, এখানে মাঝে মাঝে আস তা কে জানে। নিমাইয়ের মুখে শুছিলাম মাঝে আর একবার এসেছিলে। তারপর, Family কোথা? দেশের খবর সব ভাল ? দেবেন্দ্র। ছেলেপুলেরা সব বাড়ীতে, এইবার এইখানেই সব আনব। দেশের কথা আর বােলো না, এখন সেখানে সবাই বড় লোেক, সেখানে আর ভদ্রলােকের বাস করবার মত নাই। রমেশ । কেন হে এই সেখানে শুনলুম্ ক্লাব, করেচ, এত ধুমধাম করে সব সেদিন fete কবুলে, ম্যাজিষ্ট্রেট, সেজন্য তােমার কত প্রশংসা করেছেন। সেখানকার সকল public কাজে প্রতিভা। ......... » •••••••• • e কাগজে তােমারই নাম ত কেবল দেখি, আর তুমি সেই দেশ ছেড়ে আসবে ? আজকাল তােমাদের সেই বান্ধব না কি সমিতি কেমন চলছে? সে একটা গাঁজার আড্ডায় দাঁড়িয়েছে। ক্লাবটায় মহা উপকার হয়েছে, সন্ধ্যার সময় বিস্তর মােটর জুড়ি এসে দাড়ায় তুমি দেখলে চমকে যাবে। ভাই দেশের জন্য এত wholeheartedly কাজ করি, দেশের জন্য আমি প্রাণ দিতে স্বীকার কিন্তু সেখানকার লােকগুলাে বড়ই নেমকহারাম। আমাদের fete বাস্তবিক অতি চমৎকার হয়েছিল, তােমায় কার্ড পাঠালাম একদিনও ত দেখতে গেলে না? রমেশ। Excuse me ভাই, opening ceremonyর দিন আমার যা’বার বড় ইচ্ছা ছিল, কিন্তু পূৰ্ব্বে হ'তে একটা engagement ছিল তাই যেতে পারি নি। আমি কাগজে যেদিন যা বেরিয়েছে সব দেখেছি, Chronicleএ তােমাদের সব ছবি বেরিয়েছিল দেখলাম। দেবে। Commissioner প্রভৃতির group খান দেখেছিলে ? রমেশ। হ্যা, সেই সব ছবির কথাই ত বলছি, তােমাকেও ত তাতে দেখলাম। দেবেন্দ্র। আমিই receive করেছিলাম। নিমাই। আপনি আমাদের সমিতিকে গাজার আচ্ছা বললেন কেন, সমিতির দ্বারা আমাদের ও পাশের গ্রাম সকলের বিশেষ উন্নতি হয়েছে শুনেছি। আপনি ত তার সেক্রেটারি শুনেছি। দেবেন্দ্র। আমায় সেক্রেটারি হ’বার জন্য অনেক বলেছিল আমি স্বীকার হই নাই।

চতুর্থ অঙ্ক। নিমাই। রমেশ। হ্যা হে, আজকাল উমানাথ আর বই টই কিছু লিখচে ? কে বলছিল সে নাকি প্রায় হাজার টাকা খরচ করে একটা charitable dispensary করে দিয়েছে। তা’র patriotismএর কথা, আজকাল যা’র তার মুখে শুনি। কে বল্লে, গুজোব, ওসব। আজকাল সেখানে দেবেন্দ্রবাবুই backbone হয়ে দাড়িয়েছেন। দেবেন্দ্র। শুছিলাম বটে কি দিয়েছে। জাতে কুমাের, একটা idiot; ও পঞ্চাশ হাজার দিয়ে যা না করতে পারবে আমি পঞ্চাশ টাকা খরচ করে তার চেয়ে বেশি কব। এই মনে কচি ম্যাজিষ্ট্রেট যাবার পূর্বে একটা গার্ডেন পাটা দোবাে, দুই একটা সামান্য গােচের entertainment আর একটু light refreshment বড় জোর দু’শ’ টাকা খরচ হবে, কিন্তু দেখবে এইতেই ধুম পড়ে যাবে। রমেশ ! কেন উমানাথ ত অনেক ভাল কাজ করে দিয়েছে। দেবে। হ্যা, তা একটা সুবিধা আছে ; বােকা, বেশ গায়ে হাত বুলিয়ে ভােগাতে। এক কাপ, খাও। চা হস্তে খানসামার প্রবেশ।) রমেশ। কতদিনের পর তােমার বাড়িতে এসেছি। (রমেশ ও নিমাইয়ের চা পানে উদ্যত ) দেবেন্দ্র। সে সব পাবে ঐ যার নাম ক’চ্ছিলে উমানাথের কাছে। কি cadaverous বলত! কতকগুলাে লুচি তরকারি করে পাঁচ সাতশ’ লােক নিমন্ত্রণ করে হৈ হৈ রৈ রৈ ব্যাপার কি বর্বরতা! আমি ও সব আদৌ like করি না।

১২৪
প্রতিভা।
নিমাই। কেন আপনি আপনার মেয়ের বিয়ের সময় অনেক লােক
জনকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন, খুব খাইয়েছিলেন।
দেবেন্দ্র । Never, আমি choicest কয়েকজন বন্ধু বান্ধবকে বলে-
ছিলাম। পেলেটি light refreshment serve করেছিল।
আমার কাছে ও সব নেই।
রমেশ । Last time তােমার কাছে শুনেছিলাম তােমার জামাই বেয়াই
তােমাদের সঙ্গে ভাল করে deal করছে না। এখন কেমন ?
দেবেন্দ্র। বােলাে না, এমন ছােট লােক আর হবে না। মেয়েটাকে
জলে ফেলে দেওয়া বলে যে, এ তাই হয়েছে।
নিমাই। তারা সামান্য ব্যবসাদার, আর আপনি একটা এত বড়
জমিদার আপনি তাদের সােজা করে দিতে পারেন না।
দেবেন্দ্র। নিমাইবাবু, আপনার মেয়ে নেই, আপনি জানেন না।
জামাই আর বেয়াই ও আলাদা রকম জানােয়ার ; বিদ্যা, বুদ্ধি,
কল, প্রতিষ্ঠা, ধন সবই ওদের কাছে পকেটে পুরতে হয়।
বাড়ীর ইদুর বিড়ালটা পৰ্যন্ত সােজা নয়। সেখানে আর
জমিদারগিরি ফলানো চলে না।
রমেশ। দেশের এদিকের কিছু করতে পাচ্চ না। (পকেট হইতে
ঘড়ি দেখা) ওহে আর না, আজ উঠি কের্টের বেলা হয়ে এলাে।
তুমি এখন আছ ত?
দেবেন্দ্র। না তােমাকে আর detain করব না। হ্যা এখনও ২৪
দিন আছি। নিমাইবাবু আপনারও কি তাড়াতাড়ি আছে,
আপনার সঙ্গে একটা কথা ছিল।
নিমাই। আজ্ঞে না, তেমন কিছু তাড়াতাড়ি নাই, আমি রমেশবাবুকে
একটু এগিয়ে দিয়ে আসছি। [ রমেশ ও নিতাইয়ের প্রস্থান।

চতুর্থ অঙ্ক।
দেবেন্দ্র। (স্বগতঃ ) উঃ অসহ, এমন অনুষ্ঠান নেই যাতে আমার
নাম নাই, এমন লােকহিতকর সভা সমিতি নেই যার সংস্রবে
আমি থাকি না, এমন দেশের কাজ দেখি না যা আমি ছাড়া
হতে পারে। দেশের সামান্য কনেষ্টবল হ'তে জজ, ম্যাজিষ্ট্রেট,
পৰ্যন্ত সকলেই আমায় খাতির করে, সকলেই আমার সঙ্গে
আলাপ করতে ব্যস্ত। আমার মত বাড়ী, আমার মত গাড়ী,
আমার মত সম্মান আর কার আছে, সে সব ভেঙ্গে গিয়ে কিনা
এক ব্যাট। অহঙ্কারী, মুখ কুমােরের এত তেজ, তিনি হলেন
দেশের patriot! আমি যদি দেবেন্দ্রনারায়ণ ঘোষ হই, তা
হলে একবার দেখে নােবে, দেখে নেবো, দেখে নেবো।
( নিমাইএর পুনঃ প্রবেশ। )
আসুন নিমাই বাবু আপনার সঙ্গে একটা বিশেষ পরামর্শ আছে ;
আপনাকে একটু বিশেষ help করতে হবে।
নিমাই। সেকি কথা দেবেনবাবু! I am always at your service,
আপনি আমায় যা করতে বলবেন, আমি তাই করতেই প্রস্তুত
আছি।
দেবেন্দ্র। নিমাইবাবু, আমি জানি যে আপনি আমার একজন বিশিষ্ট
বন্ধু, অনেক কাজে আপনি নিজেকে বিপন্ন করে আমাকে সাহায্য
করেছেন, আপনার ঋণ আমি কিছুতেই ভুলতে পারব না।
নিমাই। আপনি কি বলছেন। আপনার মতন একজন শিক্ষিত
স্বনামধন্য patriot যে আমাকে বন্ধু বলে মনে করেন ইহাই
আমি যথেষ্ট অনুগ্রহ মনে করি।
দেবেন্দ্র। আমাকে patriot স্বনামধন্য বলছেন। আমি কে ? আমিত
দেশের কেউ নই ; উমানাথ বাবুই ত দেশের সব।

প্রতিভা।
সব লােকের মুখেই উমানাথ, উমানাথ, উমানাথ। আমি
দেশের জন্য প্রাণপাত করছি, অথচ আমার নাম কেউ করে না,
একি কম দুঃখ নিমাইবাবু।
নিমাই। এটা ভারি আশ্চৰ্য্য কিন্তু। উমানাথের পয়সার শেষ হয়েছে ।
ভাই যে মাতাল, ভদ্রলােকের অযােগ্য সেদিন জেলখেটে বেরল ;
মুখ, তার উপর জাতে কুমার। তার এতটা অহঙ্কার ! না
দেবেনবাবু, ওকে একটু জব্দ করা দরকার হয়েছে।
দেবেন্দ্র। শুনুন নিমাইবাবু, আমিও সেই কথাই ভাবছিলাম, বেটাকে
ভিটে থেকে তাড়াতে হবে, বেটাকে রাধানগর থেকে তাড়াতে
হবে, তাতে যত খরচাই হক। রমনাথের মকদ্দমার সময়
বেটা কি কম বেগ দিয়েছে। কলকাতা থেকে এক ব্যারিষ্টার
নিয়ে এসে হাজির-ভাইটাকে জেল থেকে বাঁচাবে ! বেটা ত
জানে না দেবেন্দ্রনারায়ণ যা করবে মনে করেছে তা করবেই।
নিমাই। রমানাথটার ঠিক প্রতিফল হয়েছিল। আপনাকে কিছুতেই
তার বাড়ীর অংশটা বেচলে না! কি বদমায়েসি দেখুন ত!
এখন তার বাড়ীর অংশটা রাখুক দেখি? বাড়ীর দলিলখানা
আপনার হাতেই আছে না?
দেবেন্দ্র। হা সে সব আছে। কিন্তু শুধু রমানাথের অংশে হচ্ছে না,
উমানাথের অংশটাও চাই। অপমানিত হয়ে ছেলে মেয়ের হাত
ধরে যেদিন উমানাথ বাড়ী থেকে বেরিয়ে যাবে সেদিন আমার
শান্তি হবে, তার পূর্বে নয়।
নিমাই। চলুন, দেবেন বাবু, ভিতরে চলুন? এখানে দাড়িয়ে আর নয় ;
ভিতরে বসে পরামর্শ করা যাক।
[ উভয়ের প্রস্থান ।

চতুর্থ অঙ্ক।
••••AAAAAA
পঞ্চম দৃশ্য।
উমানাথের কক্ষের বর্থিদেশ।
প্রতিভা।
প্রতিভা। (স্বগতঃ ) আমি চোর নই, ডাকাত, নই, আমার অসীম
ভালবাসার প্রতিদান পাবার ভিখারি নই, আমি আমার মন
প্রাণ সবই স্বেচ্ছায় সমর্পণ করে, পৃথিবীর বাহিরে সুখসম্বন্ধের
যা কিছু সব ত্যাগ করে একাকী এই বিদেশে দাসত্বকে বরণ
করে নিয়ে বাস করচি। কেন, কিসের আকাঙ্খায়। এক
অধবার গোপনে দেখবার আশায়, আর কিছুই নয়। দেখা
দিবার সাধ নাই, জাতে বুঝতে দেবর বাসনা নাই, কেবল
যদি মাঝে মাঝে দেখতে পাই এই জন্য। ভগবান আর যে
পারি না। হৃদয়ের স্বামী আমি গোপনে অন্ধকারে দাড়িয়ে,
জানালার পাশ দিয়ে তোমায় চেয়ে দেখছি, দেখ চি মাত্র ; এই
দেখবারই পিয়াসী, আর কিছু চাই না, প্রাণ ফেটে যায় তবু
আর কিছু চাই না, অতুল যশোেরশি নিয়ে তুমি সুখে শান্তিতে
থাক আমি এই চাই, তবে কেন আমার বুকের ভিতর এমন
অব্যক্ত যাতনা, চোরের চেয়েও কেন আমার বেশী ভয় !
প্রাণনাথ, হৃদয়বল্লভ, কে আমাকে এ প্রশ্নের মীমাংসা করে
দেবে ?
(প্রভার প্রবেশ)
প্রভা। এলা, “নিশীথে, এই
অন্ধকারে এখানে এমন সমর
আপনি দাড়িয়ে আছেন, আপনার একি ব্যবহার ? (প্রতিভা

১২৮
প্রতিভা।
। * * * * * * * *
মুখ নিচু করিয়া নিরুত্তর অবস্থায় দাঁড়াইয়া রহিলেন।) আপনি
কথা কইচে না, আপনার এমন সময় এখানে কি দরকার?
প্রতিভা ।
কি বল্ব দিদি চুপ করুন, 'আমাকে
করুন।
প্রভা। আপনার কথাবার্তা ভদ্রলােকের মেয়ের মত, আপনি শিক্ষিত,
আমার কন্যার শিক্ষার ভার আপনার উপর দিয়া আমরা নিশ্চিন্ত
আছি, আপনার এমন চরিত্র? কি ঘৃণার কথা ।
প্রতিভা। দিদি, আমি আপনাকে দিদি বলে ডাকি, উপরে ভগবান
আছেন তিনিই জানেন আমি যথার্থ আপনাকে বড় ভগ্নীর মত
মনে করি। আমি মিথ্যা বলব কেন, অপরাধ করেছি অম্লান
বদনে দণ্ড নােবো। আমার কি দরকার, কি উদ্দেশ্য আপনি
সবই শুনেছেন ত। আমি পাপ জানিনা, পুণ্য জানিনা,
আমার উদ্দেশ্যের ভিতর যে ঘৃণার তিল মাত্র নাই তা আমি
জানি, চোরের অধম আমার কাজ হয়ে থাক্‌তে পারে, কিন্তু
দিদি আমি হৃতসৰ্বস্বা হলেও চুরির সাধ আমার অনেক দিন
গিয়াছে। দেবী, ভাগ্যবতী, আমার অন্নদাতা জ্যেষ্ঠা ভগিনি,
আমায় ক্ষমা করুন, কৃপা করে আমার অপরাধ বিস্মৃত হউন,
এ হতভাগিনীর নাম ভুলে যান, আর আপনাদের এই পবিত্র
নিকেতন আমার সংশ্রবে কখনও কলুষিত হ'বে না। আমি
বিদায় হই। হে আমার চিরবাঞ্ছিত, আমি বিদায় হই।
বিভা, বিভা, প্রিয়তমা বিভা, ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি
তােমার মঙ্গল হউক। দিদি আপনার পায়ে ধরে ভিক্ষ
চাই এ কথা প্রকাশ করবেন না, আমায় ক্ষমা করুন। বিদায়।
[ প্রতিভার প্রস্থান।

চতুর্থ অঙ্ক ।
*
** ।।।।।
এভা। (স্বগতঃ ) কি ভরসা, কি স্পর্ধা, আমরা এই বাড়িতে রইচি,
জেগে রইচি, এমন সময় এখানে গােপনে আতে সাহস করে ?
আমার সঙ্গে এত প্রণয় কি এই জন্য ? একজন দেবতাকে
যে ভালবাসে বলত, সে কে ? সে কি আমার এই হৃদয়ের
দেবতা ! না না তা নয়, ভালবাসা দু’দিক না হলে হয় না।
সে কথা মনে হলেও পাপ।
( দ্বার খুলিয়া উমানাথের প্রবেশ ।)
উমানাথ। কে, প্রভা ?
কে, প্রভা ? এখানে এমন করে দাড়িয়ে কি ভাবচ ?
প্রভা। না ভাবি নি।
উমানাথ। একটু অন্যমনস্ক মত দেখচি, কি হয়েছে প্রভা বল ?
প্রভা। (স্বগতঃ ) যাবার সময় প্রকাশ করতে বারণ ক'রে গেল,
এখন করি কি। কার
কার কাছে আমি লুকাব ! না না---আমি
বলে থাকতে পাব না।
উমানাথ। প্রভা কি হয়েছে শীঘ্র বল, আমার বড় ভাবনা হচ্ছে।
প্রভা। তােমার কাছে আমি না বলে কি করে থাকব। বিভার গুরুমা
এখন একলা এখানে দাড়িয়ে সার্টির ভিতর দিয়ে তোমার দিকে
চেয়ে আপন মনে কি বলছিল। এখন মনে হচ্চে যেন আরও
দু’তিন দিন বিভার পড়া শেষ হলে নেবে যাবার সময় এখানে
দাড়িয়েছিল, আমাকে আসতে দেখেই নেবে গেছল।
উমানাথ।
বল কি, তুমি ত সর্বদা তার প্রশংসা করতে, তুমি ঠিক
দেখেছ কি ?
প্রভা। আমি ঠিক দেখেছি, কথা ক'য়েছি। আমি প্রশংসা কবুতুম,
ভদ্রলােকের মেয়ের মত কথাবার্তা, হাবভাব, সবই ভাললোকের
মত ; কি করে বুঝব ভিতরে এরূপ।

প্রতিভা।
1:, * ' ' ,114 :' *110।
উমানাথ। কথায় বলে স্ত্রী চরিত্র। এখন কোথায় গেল?
প্রভা। চলে
চলে গেছে, বলে গেল চিরদিনের মত বিদায়, আর এখানে
কখন আসবেন না।
উমানাথ। আর আসবে না। মেয়েটার কষ্ট হবে, সে তাকে ভালবাসে।
তুমি তাকে কিছু বললে নাকি ?
প্রভা। আমি যেতে বলিনি, আমি কেবল বলেচি আপনার একি
ব্যবহার, আপনার হাতে মেয়ের শিক্ষার ভার দিয়ে রেখেছি
আর আপনার এই ঘৃণিত চরিত্র।
উমানাথ। প্রভা, ভগবান যা করেন আমাদের মঙ্গলের জন্য, কে জানে
আজ তুমি না দেখলে ক্রমে এর কি পরিণাম হত। একদিন,
সে অনেক দিন হ’লমনে আছে কি, আমায় তুমি রক্ষা করে।
ছিলে, আবার তুমি হয় ত আমায় রক্ষা করূলে। সকলই তাঁর
প্রভা। আমি আবার তােমায় কবে রক্ষা করেছিলুম, আর আজই বা
তােমায় আমি কি রক্ষা করলাম। আমি তােমাকে রক্ষা করব।
তুমি দেবতা, আমি তােমার দাসী, আমি তােমায় রক্ষা করব?
তােমার দেব চরিত্র রক্ষা করুবার জন্য অন্যের সাহায্য দরকার
উমানাথ। তােমার মনে নাই, সেই একদিন, সে ত এক স্বপ্ন বলে
যেন এখন মনে হচ্ছে। তার নাম প্রতিভা।
তা'র নাম প্রতিভা। সে চোখ, সে
মুখ এখনও স্পষ্ট মনে রয়েছে।
প্রভা। আমায় বলেছিলে, আমার মনে পড়ছে। এতদিনের মধ্যে
তার আর কোন থপর পাওনি ?

চতুর্থ অঙ্ক।
উমানাথ। না, মনে হচ্চে আমিই বােধ হয় শেষে যা’তে ভুলে যেতে
পারি তার জন্য কোন চিঠি পত্র যা’তে না পাই তার ব্যবস্থা
করেছিলাম। কিন্তু প্রভা, তােমায় সত্য বলতে কি, রমার
জন্য মনে কিছু মাত্র শান্তি নাই ; তার উপর তােমার অসুখ
বেড়েছে, তবুও এতদিনের পর আজ তার কথা মনে করে যেন
কি একটা ভাব হচ্চে। সেই দিনের প্রথম যৌবনের কথা
আজ অনেক দিনের পর মনে এসে আবার যেন সেই পুরাতন
দিনের স্মৃতি জাগিয়ে তুলছে। প্রভা ও সব কথা এখন যেতে
দাও অন্য কথা কও।
প্রভা। বিভার গুরুমার স্বভাবও বােধ হয় বেশ ভাল নয়, একদিন
কথায় কথার আমায় বলেফেলেছিল যে একজনকে সে জীবনে
ভালবেসে ছিল, তাকেই মনে মনে আত্মসমর্পণ করেছিল, সেই
জন্যই বিয়ে করেনি।
উমানাথ। বটে, এ সব কথাও হ'ত ?
প্রভা। তা’ আলাপ সালাপ হলেই হয়।
উমানাথ। তা যদি তার, কথা সত্য হয় সেটা তার গুরুতর অপরাধ
নয়। ভালবাসা ত প্ৰভা হিসেব করে হয় না।
ষষ্ঠ
দৃশ্য।
নদীরধারের পথ।
হেমনাথ ও উমানাথ।
হেমনাথ। যে যা’ কাজ করে তার ফল তাকে ভুগতেই হয়। তুমি
কি করবে ভাই ।

প্রতিভা।
উমানাথ। কি বল, মায়ের পেটের ভাই, যে পিতার সম্মানে আজ
দেশের পাঁচজনের কাছে আমি এত মেহ পেয়েছি, সকলে
আনন্দের সহিত আমার সঙ্গে কথা কয়, আর সেওত সেই
পিতারই সন্তান। আহা, বুদ্ধিদাথে তার কি দুর্দশা, কি কষ্ট
আমি ভাল খাচ্চি, পরিষ্কার বিছানায় শুচ্চি, হেঁসে খেলে বেড়াচ্চি,
আর রমা জেলে কি খেয়ে, কোথা শুয়ে কি মনােকষ্টে কাটাচ্ছে !
আমারইত ভাই। আর মা, মনে করলে বুক ফেটে যায়, তিনি
আজ মনের দুঃখে প্রাণের জ্বালায় তীর্থবাসী।
হেমনাখ। এইবার ত রমানাথ বেরুবে, মাকে আনবার জন্য একবার
এইবার চেষ্টা কর।
উমানাথ। আমি লিখেছিলুম, তাকে আনবার জন্য লােক পাঠাচ্চি।
মা লিখেছেন, তিনি আর আসবেন না। আর আমিও তাকে
জোর করে আনতে ইচ্ছা করি না। তিনি দূরে থেকে কল্পনায়
সুখের চেয়ে দুঃখই অনেক পান সত্য, কিন্তু এখানে আমাদের
যে অবস্থা দাঁড়াচ্ছে, আমার শরীর ও মনের ক্রমে যে অবস্থা হচ্ছে,
তারপর যদি শরতের কথা সত্যই হয় তা হলে এ বাড়ী ছেড়ে
'আমাদের চলে যেতে হবে। রমা বেরিয়ে এখানে থাকবে
কি বিবাগী হয়ে কোথা চলে যাবে তারই বা ঠিক কি। মা
এসে এই সব দেখবেন ? আর পারি না, ভাবলে মাথা খারাপ
হয়ে যায়।
হেমনাথ। উমানাথ, তুমি কি পাগল? তােমার দুঃখের কষ্টের বিষয়
অনেক আছে তা আমি না বলতে পারি না। কিন্তু তুমি যে
দেশের লোকের দুঃখ মােচনের জন্য, দরিদ্ৰ আৰ্ত্তদের সেবার জন্য
চিকিৎসার জন্য পৈতৃক ও তােমার সমস্ত জীবনের উপার্জিত

চতুর্থ অঙ্ক
সমস্ত সম্পত্তি অকাতরে খরচ কচ্ছ, সমস্ত দিন অক্লান্ত পরিশ্রম
করে দেহপাত করচ, তার কি কোন ফল নাই ? মাথার উপরে
কি ধৰ্ম্ম নাই ! ও শরৎ উমেশ খুড়াের কথার ভাবে অনুমান
করেছে।
উমানাথ। আর খরচ কচ্চি বলচ কেন, এই যে দেশের চারিদিকে
ক’ মাস ধরে দুর্ভিক্ষ হয়েছে আমাদের গ্রামের আশে পাশেও
ক্রমে একটা একটা করে কলেরা দেখা দিচ্ছে আর এই
চতুর্দিকব্যাপী ম্যালেরিয়ায় দেশ উৎসঃ যাচ্ছে, আমি তার কি
করতে পাচ্চি । আমি নিজে নিজের সংসার নিয়ে সুখে খেয়েদেয়ে
হেসেখেলে বেড়াচ্ছি। এই যে সমিতি টমিতি এতে কি হচ্চে।
সত্যই বটে, দেশের লােকের সুখসচ্ছদ বৃদ্ধির জন্য, শিক্ষার জন্য
প্রাণের মধ্যে খুবই উদ্যম ছিল, খুব আশা ছিল মরবার আগে
হয়ত দেশের দরিদ্র সাধারণদের মলিনমুখে হাসির রেখা দেখে
যেতে পা’ব। খুবই ভরসা ছিল এই বান্ধব সমিতি প্রকৃতই
একদিন দেশে বন্ধুর সকল কাজ করতে পারবে। কিন্তু কৈ
সে আশা কোথা? আমার আর কি আছে যে তাদের
দিকে চাইব। আমি এতদিনে ত; 'দের কি করতে পেরেছি ?
যদি কিছু করে থাকি নিজের প্রতিষ্ঠা লাভেরই ব্যবস্থা
করেছি মাত্র।
হেমনাথ। তোমার একরকম যথাসর্বস্ব খরচ করে ফেলে, তবুও
তােমার কষ্ট। বান্ধব সমিতি কি প্রকৃত দেশের দরিদ্রদের বন্ধু
নয়? নামে যত সভ্যই থাক এর যা কিছু কর্মক্ষেত্র তা' তােমা
হ’তেই প্রসারিত হয়নি কি? তুমি না জানলেও, সমস্ত দেশ
জানে তুমি কি করেচ, কি না করে।

১৩৪
প্রতিভা।
উমানাথ। ভাই হেমনাথ, আমি খরচ করেচি বলে কষ্ট নয়, সব শেষ
হয়েছে, আমার অসহায় দেশবাসীদের, যারা আমার মুখ চেয়ে
থাকে, তাদের জন্য খরচ করবার আর নাই তাই আমার কষ্ট।
পরের কাছে আমার সমস্ত বাকী জীবন উৎসর্গ করেও যদি,
অর্থে যে সব দুঃখ যায় ত’ করবার মত অর্থ যদি পাই, আমি ত’
করতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু আমায় দেবে কে ভাই, এক
একবার মনে হয় সমিতির ফণ্ডে যা কিছু আছে, এমন কি উহার
বাড়িখানি পৰ্য্যন্ত বিক্রী করে যতটুকু হয়, আপাততঃ যারা খেতে
পাচ্ছে না তাদের খাবার ব্যবস্থা করি ; কিন্তু এখন সে যে
সাধারণের সম্পত্তি, আমার আর ত সে ক্ষমতা নাই।
হেমনাথ। তুমি যদি reserve ফণ্ডের সমস্ত টাকাটা এ সময় খরচ
করতেই প্রস্তাব কর, তাতে কি তুমি মনে কর কেউ আপত্তি
করবে ?
দেবেন্দ্র ও হরেন্দ্রনাথের প্রবেশ। )
উমানাথ। আসুন দেবেনবাবু, আসুন হরেনবাবু।
দেবেন্দ্র। আপনার কাছে আপনার বাড়িতে গেছলাম, শুনলাম
আপনি হেমবাবুর সঙ্গে বেরিয়েছেন। সেবাশ্রমে গেছলাম
দেখতে পেলাম না। তখন আর অন্য জায়গায় ত থাকেন না
জানি, তাই এদিকেই হরেনবাবুকে ধরে নিয়ে এলাম। এ সময়
এখানে যে ?
উমানাথ। মনটা বেশ ভাল নেই, বাড়িতেও ভাল লাগে না কি করি।
সমিতিতে কেউ না থাকলে প্রায়ই এখানে বৈকালে এসে
খানিকক্ষণ বেড়িয়ে যাই। আপনাদের সব ভাল ত ?
*

চতুর্থ অঙ্ক
দেবেন্দ্র। চলে যাচ্চে একরকম। রমানাথবাবুর জন্য আমরাও
বিশেষ দুঃখিত। হাঁ উমানাথবাবু, কি করচেন, famineএর
অবস্থাত ভয়ানক হয়ে উঠেছে, এ সময় একটু ভাবুন।
উমানাথ। আমি আর কি করব, আর ভাববই বা কি, আমার আর
ত বিশেষ কিছু নাই। এখন আপনার ভাবুন, আপনি মনে
করলে অনেক কাজ করতে পারেন। ভগবান আপনার যথেষ্ট
ক্ষমতা দিয়াছেন ।
দেবেন্দ্র। আমি কি করি বলুন, আমার চারিদিকে জ্বালা, আজ
Allen club, Ft Friend's society, 950 athelitic club
রােজই চাদা, আমি আর পারি না। কাল ম্যাজিষ্ট্রেট কানপুর
relief fund এ কিছু sti'stantial রকমের সাহায্য করবার
জন্য আমায় এক পত্র লিখেচে। প্রকৃতই এ সময় ওখানে বা
ম্যাজিষ্ট্রেটের হাতে কিছু ভাল রকম আমাদের একটা sum দিতে
পকূলে ভাল হয়।
হরেন্দ্র। Of course এ সময় না সাহায্য করলে আর কবে করবেন।
আর কিছু ভাল রকম দিতে পারলে গভর্ণমেন্টেরও এই সমিতির
উপর খুব ভাল opinion থাকবে।
দেবেন্দ্র। তা হলে দেখুন না এই anniversaryর সময় ম্যাজিষ্ট্রেটকে
এনে president করে দি।
উমনােথ। প্রেসিডেন্ট হাে’ক বা না থােক প্রকৃতই এ সময় আমাদের
গ্রামে গ্রামে বেড়িয়ে যা’তে কিছু বেশি সাহায্য করতে পারি
তা’র উপায় করা একান্ত দরকার। আমি হেমনাথের সঙ্গে
সেই সব কথাই কচ্ছিলাম। বছিলাম না হয় সমিতির বাড়ি
পৰ্যন্ত বেচে ফেলে সাহায্য করা যা’গ। আমার ম্যাজিষ্ট্রেট,

প্রতি।
। • • • • • • • • • • • • • • • • • ,
ট্যাজিষ্ট্রেটের জালা বড় নাই, কিন্তু এ জালাটা খুবই অনুভব
করি।
হরেন্দ্র। নিশ্চয়।
দেবেন্দ্র। না, বাড়ি বিক্রী করতে হবে কেন? আমি বলছিলাম
আমাদের অত হাঙ্গামায় দরকার কি, হাজার দুই টাকা
আপাততঃ ম্যাজিষ্ট্রের কাছে পাঠিয়ে দি।
উমানাথ। আপনি ত জানেন cliarity fuad আর কত আছে।
আমার বােধ হয় দু’ হাজার টাকাও নাই। আপনারা সকলে
যদি মত কৱেন আমি reserve findএর টাকা এ সময় খরচ
করে ফেলতে প্রস্তুত, তাতে যদি আপাততঃ সমিতি বন্দ হয়েও
যায়, রাজি আছি।
দেবেন্দ্র। না, না সমস্ত খরচ করাটা আমার মত নয়। আপনি
এত টাকা দিয়ে দেশের এমন একটা কাজ করে দিয়েছেন
এট। উঠে যাবে তা কি কখন হয় ! এ সম্বন্ধে আমি
বলি আসচে রবিবারে একটা মিটিং ক করে একটা ঠিক
করা যাগ, কত টাকা আর কারই বা হাতে
যাবে।
উমানাথ। আমার মনে হয় নিজেরা চাল, ডাল, ঔষধ সব কিনে
লােক নিয়ে বিতরণ করে আসাই ভাল। আরও মনে হয়
এ দুঃসময়ুে যদি দেশের গরীবদের একমুঠা অন্নের ব্যবস্থা
করতে না পারা গেল, তবে এ সমিতির কি দরকার ? কতক
টাকা reserve fund থেকেও. খরচ করা আমার মতে
উচিত।

চতুর্থ অঙ্ক।
* *
***,,,4••
দেবেন্দ্র। আচ্ছা এ সম্বন্ধে মিটিংয়ে যেরূপ হয় সে দিন কথা কওয়া
যাবে; আজ এখন আসি। ক্লাবে বিলিয়ার্ড খেলবে বলে
আমার জন্য সব অপেক্ষা করবে।
[ দেবেন্দ্র ও হরেন্দ্রের প্রস্থান।
উমানাথ। তােমরা দেবেনবাবুর সন্ধন্ধে প্রায়ই যে সব কথা বল
আমি ত তা একদিনও বুঝতে পারি না। দয়া, মমতা প্রভৃতি
শিক্ষিত ধনী লােকের যে সব গুণ থাকা উচিত তার সবই আছে
অামি ত দেখতে পাই। আর আমি র কাছে কি দোষই বা
কৰিচি যে তিনি শত্রুতা করবেন। তােমাদের ও সব ভ্রান্ত
ধারণা।
হেমনাথ। ভাই, আমাদের ধারণা ঠিকই, একদিন নিশ্চয়ই বুঝতে
পারবে। তুমি উমানাথ ত উমানাথ, তােমার কি দোষ
জান না। তােমার দোষ, তুমি নিস্বার্থ দান কর, দেশের
গরীবদের তুমি অাশ্রয়দাতা, দেশের লােক তােমার যশ শত
মুখে শেষ করতে পারে না। যা দেবেন বাবু করতে চান
, সে কাজ করে তুমি দেশের ও দশের যতক্ষণ পর উপকার
কর। এই সব তােমার দোষ। মুখে তােমার সঙ্গে যে অমন
মিষ্টি কথা কয় ও কেবল কাজ নেবার জন্য, নচেৎ তােমার
সৰ্ব্বনাশ চিন্তাই ওর কাজ। জানবে শুধু তােমায় নয়,
কামার কুমােরকে যত বিদ্বান্, যত ভাল লােকই হক, ওরা
ছােটলােক বলে। কেবল না হলে চলে না তাই মুখে কপট
হাসি নিয়ে মাঝে মাঝে মিষ্টি কথা কয় ; ভিতরে চিরদিনই
বিসের ছুরি।

পঞ্চম অঙ্ক।
.
প্রথম দৃশ্য।
দেবেন্দ্রনাথের কক্ষ।
বসন ও সুধা।
বসন। কি করবি বােন, তুই মেয়ে মানুষ তাে ও সব, কথায় কান
দেওয়া কেন। তুই সংসারের মানুষজনকে দেখবি, দীনদুঃখী
অতিথিদের খেতে দিবি তাের ও সব মিছে ভাবা কেন ? ওরা
পুরুষ মানুষ, জমিদার, ওরা কি করছে সে কথা ওরা বুঝবে,
জমিদারদের ওসব না করলে কি চলে ? অমন সব বড়
মানুষদের অন্য কত দোষ থাকে, সে সব যে নেই এই তাের
ভাগ্য মনে করি।
সুধা। সে দোষ বরং ভাল, দিনরাত লােকে শাপ দেবে, আড়ালে
সকলে গালি দেবে, আমি একটা ছেলে নিয়ে ঘর করি আমার
বড় ভয় করে। দিদি আমি কি যে করি কিছুই ঠিক করতে
পারি না। আমাকে কি বা বলে, আমি কি বা জানি ! তবু
আমি যা জানি, যে সব লােকের সর্বনাশ করেছেন যখন একে
একে মনে হয় বুক শিউরে ওঠে। আমার একতিলও সুখ নাই ।
বসন। সুধা, তুই এখনও যেন সেই ছেলে মানুষটী আছি। তাের
এমন বাড়ি, এত গয়না, এত দাসদাসী আর তাের একতিল
সুখ নাই! অমন অলক্ষণে কথা আর মুখে আনি নে।
পুরুষ মানুষের ওসব দোষ নয়।

পঞ্চম অঞ্চ।
;
সুধা। কি বল দিদি, একগা গয়না পরা কি দশজন দাসদাসীর উপর
কর্তৃত্ব করাই কি সংসারের সুখ ? এমন বাড়িতে থেকে এমন
কষ্টে বেঁচে থাকার চেয়ে বনে গিয়ে মনের সুখে কুটীরে বাস
করাও আমার মনে হয় ভাল। আমার পরমগুরু, আমার
বতে নাই, দিদি ভেবে দেখ দেখি, দেবগ্রামের চাটুয্যের
কা’র জন্য পপের ভিখারী; আহা বিহারিবাবু, কে
তাকে
সৰ্বস্বান্ত করেছেন; সদগােপদের কি দোষ, ভিটেটুকু বিক্ৰী
হয়ে গেল ; রমানাথ বাবুর এমন দশা করেও তিনি ক্ষান্ত নন,
সমস্ত দেশের লােক, সকালে বিছানা থেকে উঠে যাঁর নাম
করেন, দেবতার, মত যাকে মনে মনে পূজা করেন, যার
বাপপিতামহের অন্নে এরা মানুষ হয়েছেন, আজ শুধু হিংসায়
কিনা তাকে তার জন্মস্থান পৈতৃক ভিটা থেকে যাতে চলে
যেতে হয় তার ব্যবস্থা করছেন। ধৰ্ম্ম আর কত সহিবে দিদি
একটা ছেলে কার জন্য তিনি এসব করছেন, তাঁ’র অভাবই
বা কি ?
বসন। তুমি আর কি করবে বােন, মধুসূদনকে ডাক। তুমি এই
সব যার যার নাম করলে দেবেনই কি এ সব করেছে। আমি
ত শুনেছিলুম রমানাথবাবু মদ খেয়ে সব বিষয় উড়িয়ে দিয়ে,
বেশ্যাবাড়ি খুন করে না কি করে জেলে গেছল, আর
তা’রই দেনার দায়ে উমানাথ বাবুদের বাড়ি বিক্রী হয়ে
যাচ্চে।
সুধা। আমিও তাই শুনেছিলুম, কিন্তু সেদিন রাত্রে যখন বৈঠকখানার
পাশের ঘরে বসে পরামর্শ হচ্ছিল তখন আমি বারান্দার কাছ
থেকে বঁাড়িয়ে যা শুনলুম্ তা’তে প্রাণ কেঁপে ওঠে, তবু, আমি

১৪০
•••••••••••••।
•• • • '৬৯১৫।
* *
সব কথা ভাল বুঝতে পারলুম না। সেই দিন থেকে আমার
বড় ভাবনা হয়েছে।
বসন। কি শুনলে ?
সুধা। আমি সব ভাল বুঝতে পারিনি, কে একজন নিতাইবাবু আছে,
আমি যা বুঝতে পারলুম, তাকে দিয়ে ভিতরে ভিতরে জাল
জুয়াচুরি করে উনিই সব করাচ্ছেন। সে সব কথা আমি আর
বতে পারব না। আচ্ছা দিদি একটু কি ভয় করে না?
উমানাথ বাবুর স্ত্রী সতীলক্ষ্মী দিনরাত চখের জল ফেচেন, এ
কখন ধৰ্ম্মে সহিবে কি? কি উপায় বল দেখি?
বসন। আমি আর কি বলব বোন। যদি বলি ত আমি একটু
বব কি।
সুধা। না দিদি তা হলে আর আমার মাথা থাকবে কি? আমি দশ
বার দিন হ’ল একদিন একটু বলেছিলুম, সেই দিন থেকে
অামার সঙ্গে আর কথা কন না। যদি আমার নিজের কোন
উপায় থাকে ত তাই বল। আমার মৃত্যু হলে সব যাতনা
থেকে নিষ্কৃতি পাই।
বসন। দেবেন কলকাতা থেকে অসূবে কবে ?
সুধা। কি জানি দিদি আমায় কি কিছু বলে গেছে। উমানাথ বাবুর
এই নূতন সৰ্ব্বনাশ শেষ না করে বােধ হয় আসবেন না।
( দেওয়ানের প্রবেশ ।)
দেওয়ান। মা, যতীশবাবু কলকাতা থেকে আজ এসেছেন, বাবু,সেখানে
কি একটা বড় বিপদে পড়েছেন, লােহার আলমারিতে যে টাকা
আছে তাই থেকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে বলেচেন আমায়

পঞ্চম অঙ্ক।
১৪১
নিয়ে যেতে হবে। আর আপনি একটু সাবধানে থাকবেন
বলে দিয়েছেন।
সুধা। কি বিপদ হয়েছে আমায় এখনি বল ।
দেওয়ান। তা যতীশবাবু, খােলসা করে কিছু বললেন না, তিনি
এখানে কি সেই সব বিষয়ের কাজ আছে সেরেই দুই তিন দিন
পরে যাবেন বলেন।
সুধা। আমিও তােমার সঙ্গে যাব, আমি এখানে থাকতে পারব না।
দেওয়ান। না মা, আপনি অধীর হবেন না, তার কোন অসুখ বিসুখ
হয়নি, সে কথা আমি জিজ্ঞাসা করিচি।
সুধা। অথ না হােতর যে কোন বিপদ হােক, আমি এখানে
কি করে থাকব ?
দেওয়ান। কি হয়েছে আমি আজ গিয়ে সব জেনে আসি তারপর
হয় যেতে হয় যাবেন। আপনি নিজ হতে গেলে তিনি
বড়ই রাগ করবেন।
সুধা। তিনি আমার কোন কাজের আর এখন রাগ না করেন
আমি বলব আমি নিজে জোর করে এসেছি, তােমায় কিছু
বলবেন না।
দেওয়ান। না মা অত অধীর হবেন না। এখন আমি যাই
আপনি টাকা বের করে রাখুন, একটু পরেই বেরুতে
হবে।
| দেওয়ানের প্রস্থান।
সুধা। দিদি শুনলে ত, আমি নিশ্চয় বলচি তার কোন ভয়ানক বিপদ
হয়েছে। আমার মন ব’চে তার নিশ্চয় কোন বিশেষ অমঙ্গল
হবে।

४२
প্রতিভা ।
বসন। কি জানি আমি ত কিছুই বুঝতে পাচ্ছি না। আচ্ছা, আমি
ঝিকে দিয়ে দাওয়ান মশাইকে একবার আলাদা জিজ্ঞাসা করে
দেখি ।
[ বসনের প্রস্থান।
সুধা। (স্বগতঃ ) দয়াময়, মধুসূদন আমার স্বামীকে রক্ষা কর। তাঁর
সব অপরাধের ফল আমায় ভুগতে দাও। তার উপস্থিত বিপদ
থেকে উদ্ধার করে যাতে তার ভাল মতি হয় তাই কর, আর
তা যদি না কর তবে আমার এই মূহুর্ত্তে মৃত্যু দাও। আমি
অজ্ঞান, অবলা প্রাণ ভরে তােমায় কখন ডাকিনি, আজ এই
বিপদে পড়ে তােমার আশ্রয় নিয়েছি, আমায় ক্ষমা কর।
আমি সহস্র জ্বালায় জ্বলে পুড়ে মরি সেও ভাল তিনি যেন কুশলে
কেন। নারায়ণ, মধুসূদন আমার বড় ভয় হচ্চে। দেখাে
মা দুর্গা, যেন তিনি এ বিপদ থেকে রক্ষা পান।
দ্বিতীয় দৃশ্য।
উমানাথের বৈঠকখানার ঘর।
উমানাথ ও শরৎ।
শরৎ। কি মিছে ভাবছ, একটা উপায়ের চিন্তাকর, নিশ্চিন্ত হইয়া
থাকা কিছুতেই উচিত নয়।
উমানাথ। আমি ক উপায় করব ভাই। রমানাথ তার বাড়ির
অংশ বেচে ফেলেছে, আমি কি করব। আমি কেবল ভাবছি
তাহার যদি টাকার দরকার ছিল ত আমাকে বললে না কেন?
অন্য বিষয় বেলে না কেন? বাপ পিতামহের ভিটাটা নষ্ট

পঞ্চম অঙ্ক।
১৪৩
করলে ! ছি! ছি ! রমা কি করলে আমি তাই কেবল
ভাবছি।
শরৎ। আমারও কেমন আশ্চৰ্য্য লাগছে। জেল থেকে বাইরে
এলে পর কেশবের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল—শুনলুম সে
একেবারে বদলে গেছে ; তােমাকে এত কষ্ট দিয়েছে বলে সে
কাদতে লাগল। সেই রমানাথ বাড়ি বেচেছে ! ভিতরে
একটা কিছু আছে।
উমানাথ। আমি ভাই ভিতরে কিছু থাকা ত দেখছি না ;
তবে রমার বিষয়, বাপপিতামহের ভিটা রক্ষা করবার চেষ্টা
করতেই হবে। আমি হেমনাথকে জেলায় পাঠিয়েছি খবর
নিতে ; যে কিনেছে তাকে কিছু বেশী টাকা দিয়ে বিষয়টা
ফেরৎ লওয়া যায়, তার চেষ্টা ক’ব। এই যে হেমনাথ
'আসছে।
( হেমনাথের প্রবেশ।)
হেমনাথ, কি খবর ভাই, তােমাকে এমন ধারা বিমর্ষ দেখছি
কেন ?
হেমনাথ। ভয়ানক ষড়যন্ত্র, ভয়ানক ষড়যন্ত্র ! তােমার বাড়ির অংশ
নিলামে বিক্রি হয়ে গেছে, এ কথা কি তােমার বিশ্বাস হয় ?
উমানাথ। নিলামে বিক্রি হয়ে গেছে ? আমার অংশ ! সে কি করে
হবে, কিসের দায়ে বিক্রি হ’ল, আর আমি তার কিছুই জানতে
পারলুম না? তুমি কি ভুল শুনে এসেছ হেমনাথ।
হেমবাথ। না ভাই, ভুল শােনবার উপায় ছিল না। লােকের কথায়
আমিও বিশ্বাস করিনি। আমি আদালতে সন্ধান নিলুম, নিয়ে
দেখলুম যে সত্যই তােমার বাড়ি বিক্রি হয়ে গেছে। আর

১৪৪
প্রতি।
বেশী খবর নেবার সময় ছিল না, তবে এই মাত্র শুনেছি যে কে
টাকা পেত, সে ডিক্রি করে নিলাম করিয়েছে।
উমানাথ। যাক্, অদৃষ্টে যা আছে তাই হবে ; আর ভাবতে পারি না।
আমি কারও কাছে টাকা ধরি তা ত মনে হয় না। ভগবানের
ইচ্ছা অবশ্যই পালিত হবে। যে বাড়িতে বাবা, ঠাকুরদাদা ও
আরও কত পুরুষ জন্মেছেন, জীবন কাটিয়ে গেছেন, যেখানে
থেকে আমি এত বড় হয়েছি, সেই বাড়ি জন্মের মত ছেড়ে
মাওয়াই যদি তার অভিপ্রেত হয় তাই হবে। যা তুমি যা
জানতে গেলে তার কি হল ?
হেমন্নাথ। কলিকাতার কে একজন নিমাই বিশ্বাস রমানাথের অংশ
কিনেছে। নিমাই বিশ্বাস একজন এটর্ণি আছে, শুনেছি
দেবেন্দ্রনারায়ণের সঙ্গে তার জানা শুনা আছে। এ সব
দেবেন্দ্রনারায়ণের কাজ ; এ চক্রান্ত বাহির হয়ে পড়বেই, বাড়ি
তােমাদের কখনই ছেড়ে যেতে হবে না, তা হলে যে চৰ্য্য
মিথ্যা হবে ।
.
সা।
( দাসীর প্রবেশ।)
দেবেন বাবুর পরিবার আপনার কাছে কি বিশেষ দরকারের
জন্য এসেছেন, আপনাকে একবার বাড়ির ভিতর আসতে হবে।
উমানাথ। দেবেন বাবুর পরিবার ! কোন দেবেন বাবু, দেবেন্দ্রনারায়ণ
ঘােষের স্ত্রী ?
দাসী। আজ্ঞে হঁ্যা।
উমানাথ। আচ্ছা যাচ্ছি।
[ দাসীর প্রস্থান।
এ আবার কি, কিছুই বুঝতে পাচ্ছি নে। ভগবান্ ।

পঞ্চম অঙ্ক।
১৪৫
L:
( বাহিরে প্রভা ও সুধার আগমন ও দাসীর পুনঃ প্রবেশ।)
কেশব। আমরা বাইরে একটু বসিগে।
[ কেশব ও শরতের অন্য দ্বার দিয়া প্রস্থান।
দাসী। এইখানেই ইনি এলেন।
সুধা। বাবা, আমাকে রক্ষা করুন। আপনি না কৃপা ককূলে আর
উপায় নাই। আপনার পায়ে পড়ি আমাদের বাঁচান।
উমানাথ। আপনি বসুন; ছি ছি ! ও কথা কি বলতে
আছে!
আপনি নিজে কেন এসেছেন? আমি এখনও বিশেষ শুনিনি
কি হয়েছে, আপনি সব কথা বাড়িতে বলুন।
সুধা। আমার লজ্জা কি! আমার স্বামীকে হাজতে দিয়েছে। সকলেই
বচেন আপনি ভিন্ন কেউ তাকে রক্ষা কতে পারবেন না।
উমানাথ। দেবেন্দ্র বাবুকে হাজতে রেখেছে ! তিনি কি করেছেন?
সুধা। কি করেছেন জানিনা, আজ বার দিন তিনি বাড়ি ছাড়া, আগে
শুনেছিলাম তিনি বিপদে পড়েছেন, আজ খপর এসেছে তাকে
হাজত করেছে।
উমানাথ। আপনি বাড়ির ভিতরে যান, আমি আপনার বাড়ি গিয়ে
সব জেনে যদি কোন উপায় থাকে নিশ্চয় করব। আপনি
চিন্তা করবেন না। (প্রভার প্রতি) ওঁকে নিয়ে যাও।
সুধা। বাড়িতে সরকার মশাই পৰ্যন্ত নেই, কল্কাতায় গেছেন।
আপনার কারও সঙ্গে দেখা হবে না।
উমানাথ। 'আচ্ছা, আমি যেখানে সন্ধান পাওয়া যায় তার চেষ্টা
কচি। আপনি বাড়ির ভিতরে গিয়ে বসুন।
সুধা। আপনি বলুন তাকে বাঁচাবেন, তা না হলে আমি এইখানে
ময়ূব।

প্রতি। Manninn উমানাথ। আপনি স্ত্রীলােক, আমার বন্ধুপত্নী, এখন অসহায় । আমি আপনার কাছে প্রতিজ্ঞা করুচি, যদি আমার ক্ষমতায় হয় তা হলে আমার দ্বারা যা’ হতে পারে তা নিশ্চয় হবে। [ সুধা ও প্রভার প্রস্থান। (স্বগতঃ) হ ভগবান, তােমার লীলা কে বুঝবে, দেবেন্দ্র- নারায়ণের স্ত্রী আজ স্বামীর উদ্ধারের জন্য একাকী এখানে এসেছেন। দয়াময়, দেখ যেন আমার মুখ থাকে। তৃতীয় দৃশ্য। প্রতিভার বাসাবাড়ির শয়ন কক্ষ। প্রতিভা ও কমল। প্রতিভা। কমল, তুমি এসেছ, এ অভাগিণীকে মনে করে দেখতে এসেছ ? কমল। সে কি কথা ভাই, তােমার এমন অসুখ শুনে দেখতে না এসে কি থাকতে পারি। বিধাতার বিধানে এখন আমরা অনেক তফাৎ হয়ে পড়লেও সে ছেলে বেলাকার দিনগুলি একেবারে ভুলে গেলি! প্রতিভা। সে বড় সুখের দিন ছিল কমল। সেই মায়ের স্নেহ, বাবার আদর, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সেই শত আশা শত কল্পনা, সেই নিজের কবিতায় নিজে বিভাের হয়ে থাকা, সেই শৈশব সহচরীদের সঙ্গে স্কুলে যাওয়া, এক সঙ্গে খেলা করা, গল্প করা কত আনন্দের ছিল! মনে পড়ে সেই বৎসরান্তে পূজার সময় গিরিডিতে যাওয়া, সেই নদীর তীরে ঘাসের উপর বসে গল্প করা

পঞ্চম অঞ্চ।
১৪৭
mon
তখন আপনাতেই আপনি ভুলে ছিলাম, জগৎ তখন অপরিচিত
ছিল, সে কত আশার কত সুখের ছিল ।
কমল। প্রতিভা, ভাই, মুছে ফেল এখন সে দূর অতীতের ছবি। যে
স্মৃতিতে হৃদয়ের জ্বালা বেড়ে ওঠে, সে স্মৃতিকে ভুলে যাও।
স্বপন সুখের হ'লেও স্বপন, মনে কর সে স্বপন চলে গেছে, এ
এখন অনন্ত জাগরণের সময়।
প্রতিভা। যদি স্বপন হয় কেন ভাই সারাজীবন সেই সােণার স্বপনে
ডুবে রইলুম না ! কেমন করে সে অতীতের স্মৃতি যা এখনও
পলে পলে বুকের মাঝে থেকে পােড়াচ্ছে তা আমি ভুলে যা'ব ?
থাক সেই সব জ্বলন্ত স্মৃতি এখনও যে ক’দিন এখানে থাকতে
হয়। ভবিষ্যতের প্রতারণায় আর ভােলাতে পারবে না,
অতীত যত কঠোর হাে’ সেও মধুর, ভবিষ্যতের কুহক বড়
নিদারুণ।
কমল। এ আলােচনায় আর এখন কাজ নাই, এখন এখান থেকে চল;
ভাল করে চিকিৎসা না করলে এ দেহ আর ক’দিন থাকবে
ভাই।
প্রতিভা। কোথায় যা’ব কমল, এ দেহের আর কি দরকার? এখন
এইখানে থেকে শীঘ্র শীঘ্র যাতে বিদায় হতে পারি তাই প্রার্থনা।
এ প্রার্থনা মানুষের কোনদিন কোন অবস্থাতেই করতে নাই।
তােমার এই বয়স, অতুল বৈভব, কেন তুমি এমন কথা মনে কর।
তুমি আমার বাড়ি চল, সেখানে ভাল করে চিকিৎসা কবুলে
নিশ্চয়ই শীঘ্র সেরে যাবে। জীবনে আজ পর্যন্ত যা কিছু অলীক
যা কিছু স্বপন সব যত্ন করে ভুলে যাও, আবার নূতন করে
জীবন আরম্ভ কর।
কমল।

প্রতিভা। ১৪৮ vwvvvvvvvvvvvvv ••••••/ WWW প্রতিভা। তুমি কি পাগল! তুমি কেমন করে আমার কথা বুঝবে ? তুমি যা ভবিষ্যতের কথা বলুচ তাই স্বপন, আর যা’কে অলীক ব, স্বপ্ন বচ তাই চির সত্য, চির বাস্তব। আমি যেখানেই যাই, যাই করি, এখানে থেকে মরার চেয়ে কিছুই বেশী সুখের নয়। ** কমল। এখানে একলা এই কঠিন রােগ নিয়ে তুমি কি করে থাকবে, আর কিসেরই বা আশায় ? আমি তােমায় না নিয়ে যাব না। প্রতিভা। এ রােগ বেশী দিন থাকবে না সে বিষয় তুমি নিশ্চিন্ত থেকো, এ রােগ যখন ছাড়বে খবর পেলে আর একবার এখানে এসাে। আমি আর বাকি ক’দিনের জন্য কোথাও যাব না, একলা হলেও এই খানেই ভাল। আর আশার কথা যা’ বলচ, আমি এমন কি আশা করে সর্বস্ব ছেড়ে এখানে এসেছিলাম ? সে বড় কিছু নয়। জীবন আবার নুতন হবে সত্য, কিন্তু আকাঙ্ক্ষা নূতন নাই। ভগবান্ এ জনমে যা দিলেন না, কায়মনােবাক্যে প্রার্থনা করি যেন পর জনমে সেই পুরাতনের সেবায় জীবন কাটাতে পারি। কমল। তা হলে কি একবারে ঠিক করেছ যে এই খানেই থাকবে ? প্রতিভা। নিশ্চয়ই, সে কথা আবার বলুচ। কমল। যদি একান্তই তাই স্থির করে থাক তবে তােমার কাকাকে বা অন্য কোন আত্মীয়কে বলে যা’তে এখানেই তােমার ভাল চিকিৎসা হয় তা কর। আমি এখানে কিছুদিন এসে থাকতেও পারি। প্রতিভা। চিকিৎসা বেশ হচ্চে, আর এখন লােকের সঙ্গে থেকে নূতন অসুখের সৃষ্টি করব কেন? এখন এই কদিন একান্তে হৃদয় পঞ্চম অঞ্চ। ১৪ ১ ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^• * * * আসনে বসিয়ে হৃদয় দেবতার পূজা করূতে করতে জীবন শেষ হলেই আমি আর কিছু চাই না। কমল। প্রতিভা ধন্য তুমি, ধন্য তােমার উৎসর্গ। আমার মত বাসনা- লালসাপূর্ণ লােকের সঙ্গে কি তােমার ভাই তুলনা হয়? কিন্তু বড় দুঃখ, হয়ত এখন এই সময় এই অবস্থায় তুমি ইচ্ছা করলে একটু সুখে মরতে পার। তােমার দেবতা শুনেছি সত্যই দেবতা, নিশ্চয়ই তিনি জানতে পারলে তােমার এ অবস্থায় তােমার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। আর কে বল্‌তে পারে হয়ত তার সাক্ষাতেই তােমার অসুখ ক্ৰমে শীঘ্র ভাল হয়ে যেতে পারে। প্রতিভা। তার দেখার ভিখারী ত আমি কোন দিনই নই, আমি তাকে যদি মাঝে মাঝে কোন রকমে চ’খের দেখা দেখতে পাই এই ত আশা। বিধাতার যখন সে ইচ্ছাও নয় তখন আর কেন ? অন্তরে বাহিরে যে মূর্তি গড়ে দিনরাত পূজা কচি, এই পূজা করতে করতে যেন আমার প্রাণ যায় এই প্রার্থনা কর। কমল। প্রতিভা, আর আমি তােমায় অনুরােধ করব না, আমি সত্যই ভ্রান্ত, আমায় ভাই ক্ষমা কর। আশীৰ্বাদ কর যেন এই প্রেমের অধিকারিণী হয়ে নারী জন্ম সার্থক করতে পারি। চতুর্থ দৃশ্য। কেশবের বাটীর পার্শ্বস্থ বাগান। কেশব, রমানাথ, শরৎ ও ভট্টাচাৰ্য। কেশব। ভট্টচাষি মশাই আমি অন্যায় কিছু করুচি তা আমার এক- বারও মনে না হলেও সত্যই আমার বড় ভয় করছে।

প্রতিভা। ভট্টাচাৰ্য। বাবাজি, আমি বলুচি নারায়ণের নাম স্মরণ ক'রে কাল বেরিয়ে যাবে, দুষ্টের দমন হওয়াই আবশ্যক। আর তা ছাড়া উমানাথের মত মহাত্মার বিপদে সহায় হওয়া শুধু তােমার নয় আমাদের সকলেরই কর্তব্য। ভগবান্ আছেন, কথাটা হচ্ছে কি, তুমি দেবেন্দ্র বাবুর কিছু মাত্র ভয় কোরাে না। কেশব। দেবেন্দ্রনাথের জন্য ভয় তা মনেও স্থান দেবেন না, উমানাথ বাবুর জন্য আমার প্রাণ দেবার আবশ্যক হলে তা করা উচিত, আমি তা করতে ধৰ্ম্মতঃ বাধ্য। আমি তার জন্য ভয় করি না, • সাক্ষী টাক্ষী দেওয়া আমার কোন পুরুষে হয় নাই তাই কেমন ভয় শরৎ। কেশব বাবু, আমরাই কি বারমাস সাক্ষী দিচ্ছি ? আপনি ত একজন প্রধান সাক্ষী, আমি সে তুলনায় কতটুকুই বা জানি, আর আমারও এইবার একাজে হাতে খড়ি হবে। দেবেন্দ্রনাথ শত শত লােকের সর্বনাশ করেও ক্ষান্ত হয় নাই, রমানাথের সর্বনাশ করে 'কে জেল দিয়েও তার আশা মেটেনি, শেষ কিনা গরীবের আশ্রয় দেবতুল্য উমানাথের সর্বনাশে প্রবৃত্ত হয়েছে। যদি দরকার হয় মিথ্যা সাক্ষী পর্যন্ত দোবাে তাতে যা হয় হবে। রমানাথ। কেশব বাবু, যদি এ মােকদ্দমায় জয়লাভ হয় সে আপনারই জন্য। আপনি সকলের অজ্ঞাতে নীরবে কতদিন ধরে কত কৌশলে দেবেন বাবুর ষড়যন্ত্রের বিষয় গােপনে জানবার চেষ্টা করেচে, দাদাকেও এসব কোন দিন খুলে বলেন নি। আমি মাতাল, লম্পট, সমস্ত জীবন দাদাকে কষ্ট দিয়েছি, আমার জন্যই মা একরকম দেশত্যাগী, দাদা দেবতা আমায় ক্ষমা করেছেন, কিন্তু আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত নাই। দেবেন বাবু আমার চতুর্থ অঙ্ক সৰ্বস্ব নিয়েছেন, তার প্রতিশােধ যদি নাও নিতে পারি কেবল যদি দাদার এই বিপদে আপনাদের সাহায্যে আমার দ্বারা তার একটুও উপকার হয় তা হলেই এখন আমি কৃতার্থ মনে করি। ভট্টাচাৰ্য। রমানাথ, তােমরা ধার্মিকের ছেলে, গত অপকর্মের জন্য তােমার এখন অনুশােচনা এসেছে, ভগবান্ তােমার প্রতি আবার মুখ তুলে চাইবেন। আমি ব্রাহ্মণ, বুড়াে হইচি, আমি বলছি উমানাথ বাবুর কোন বিপদ হবে না। সত্যকে কেউ পরাজয় করতে পারে না, দেবেন্দ্র অর্থলােলুপ পিশাচ, তার মিথ্যা চিরদিন জয়ী হবে তা কখনই হতে পারে না। কেশব। আমরা অতি সামান্য লোেক, বড় লােকেদের কথা বুঝতে পারি । আমি আজ প্রায় দশ মাস ধ'রে, কখন ভিখারী সেজে, কখন গােপনে, দেবেন্দ্রনাথের অনেক ভিতরের কথা যা বুঝেছি তা’তে সে যা কিছু পাপ করে অর্থের জন্যই প্রায় সব, কিন্তু উমানাথ বাবুর প্রতি তার যা আক্রোশ এ যে সেজন্য তা আমার একবারও মনে হয় না। এ কেবল হিংসা, উমানাথের এই যে দেশপূর্ণ যশ এ তা’র অসহ, উমানাথ থাকতে তার প্রতিষ্ঠার পূর্ণবিকাশ হ’বার কোন সম্ভাবনা নাই সেই জন্য ; ফাকি দিয়া কিসে প্রতিষ্ঠা লাভ হয়, কিসে কাগজে নাম বাহির হয়—রাজ সম্মানের সঙ্গে সঙ্গে উমানাথ থাকতে দেশে সেই মত সম্মান লাভ হচ্ছে না বলেই তার হিংসা ; সে আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভের জন্য পাগল। ভট্টাচাৰ্য। প্রতিষ্ঠার জন্য পাগল নয় কে বাবা, উমান্নাথের মত আর কে আছে বল? • এ সংসারে সকলেই প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য লালাইত। কেউ চায় অর্থের দ্বারা প্রতিষ্ঠা, কেউ চায় দয়াদাক্ষিণ্য প্রকাশ ১৫২ প্রতিভা । করে প্রতিষ্ঠা, কেউ চায় উকিল, চিকিৎসক, কবি হয়ে প্রতিষ্ঠা, কেউ চায় রাজসম্মান দ্বারা প্রতিষ্ঠা, কেউ চায় সমাজে সম্মান লাভ করে প্রতিষ্ঠা, আবার কেউ বা রাজসম্মান স্বেচ্ছায় ত্যাগ করে বা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা লুকিয়ে রেখে চায় প্রতিষ্ঠা। প্রাসাদবাসী রাজরাজেশ্বর সে যেমন প্রতিষ্ঠার কাঙ্গাল, সংসার- ত্যাগী কৌপীনধারী বৈষ্ণব ব্রহ্মচারীও সাধুজনসুলভ প্রতিষ্ঠার ভিখারী দেখতে পাওয়া যায়। শরৎ। যাগ, এখন এসব আলােচনার দরকার নাই। আজ একবার উকিলের কাছে যাবার কথা আছে যাই। রমানাথ, তুমি যেমন ক’দিন আছ তেমনি এইখানেই একটু গাঢাকা দিয়ে থাক। : রমানাথ। আমি আর কোথা যাব, সে দিন দাদীর কাছ থেকে পালিয়ে এলে আর রক্ষা ছিল। দাদা হয়ত এরপর আমার উপর আরও রেগে যাবেন, তা যা হয় হবে সে কথা আমি আর এখন ভাববাে না। এ মােকদ্দমা শেষ হবার আগে আর আমি তার কাছে যাব না। এখন ত প্রায় সন্ধ্যা হয়েছে একবার তােমার সঙ্গে আমিও উকিল বাড়ি যাই, রাত্রে আসব। ভট্টাচাৰ্য। আমি কাল প্রাতে উঠে তােমাদের সঙ্গে দেখা করব, এখন যাই। এখন কাজ আর কিছু নয়, ক’টা বাইরের সাক্ষী যা আছে, কথাটা হচ্ছে কি, টাকা দিয়ে কোন রকমে না ভাঙ্গায় এইটুকু দেখে যাওয়া দরকার। ( ভট্টাচাৰ্য, রমানাথ ও শরতের প্রস্থান। সরলার প্রবেশ।) কেশব। তুমি কোথা থেকে এলে ? সরলা। আমি ঘাটে যেতে যেতে দেখলাম তােমরা বাগানে দাড়িয়ে পঞ্চম অঙ্ক। ৩ আস্তে আস্তে কি কথা কচ্চ, আমি আর ওদিকে না গিয়ে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে রইলুম। এত আস্তে আস্তে এখানে দাড়িয়ে তােমরা কিসের পরামর্শ কছিলে গা? কেশব। তােমায় কোন দিন বলিনি, আমি মাঝে মাঝে কলিকাতায় যেতাম তুমি জিজ্ঞাসা করলে আমি বহুম একটু দরকার আছে। সরলা, তােমার মনে আছে সেই একদিন ইন্দুর বিয়ের জন্য আমাদের বাড়ী বাধা দিতে যাচ্ছিলুম এমন সময় উমানাথ বাবু আমাকে টাকা দিয়ে রক্ষা করলেন। সেই উমানাথ বাবুর বাড়ী বেচে নিয়ে তাকে ভিটে ছাড়া করবার জন্য দেবেন্দ্র যােগাড় করেছিল, কিন্তু ভগবানের কৃপায় তা হবে না। আমি গােপনে তার সব ষড়যন্ত্র জানতে পেরে রমানাথ বাবুকে দিয়ে মােকদ্দমা করিয়ে দুষ্ট দেবেন্দ্র পাপের উচিত সাজা যা’তে পায় তার ব্যবস্থা করছি। সরলা। তুমি কি করে বড় লােকের ষড়যন্ত্র জাতে পারলে ? কেশব। সে কথা আর একদিন বলব, তখন তুমি বুঝতে পাবে। এখন দয়াময়ের কাছে প্রার্থনা কর যেন আমাদের পরম হিতৈষী উমানাথ বাবু বিপদ থেকে সহজে মুক্তি পান, আমার মনস্কামনা যেন সফল হয়। সরলা। তােমার দ্বার। তার উপকার হবে, এমন কপাল আমাদের

১৫৪
প্রতিভা।
পঞ্চম দৃশ্য।
এটণী বিনােদ বাবুর অফিস।
বিনােদ বাবু ও উমানাথ।
( বিনােদ বাবু বসিয়া লিখিতেছেন, উমানাথের প্রবেশ।)
বিনােদ। আসুন উমানাথ বাবু খপর কি, অনেক দিন আপনাকে
দেখিনি, সব কুশল ত?
উমানাথ। আজ্ঞা হঁ্যা, অনেকদিন এদিকে আসিনি। সব কুশল হলে
আর এমন সময় আপনার কাছে আসি, শারীরিক এক রকম
মন্দ নয়।
বিনােদ। আপনার ভায়া আজ কাল কেমন ?
উমানাথ।
এখন অন্য উৎপাত কিছু দেখচি না, কিন্তু আর এক মস্ত
বিপদ ঘটিয়েছে, সেই জন্যই আজ এখন আপনার কাছে আসা।
বিনােদ। কি করেছে বলুন শুনি।
উমানাথ। আমায় কিছু না বলে কয়ে আমার একটী বন্ধু ও তার
মামা শ্বশুরের সঙ্গে যুটে দেবেন বাবুর নামে একটা Cheating
কেস ও আর দুইটা কি কে এনেচে, দেবেন বাবুকে
হাজতে রেখেছে।
বিনােদ। কোন দেবেনবাবু ?
, আপনাদের লােক্যাল বাের্ডের
চেয়ারম্যান্ মিঃ ডি, এন, ঘােষ নাকি ? যিনি পরশুদিনের
গেজেটে New Year's Honourএ রায় বাহাদুর হয়েছেন?
উমানাথ। হঁ্যা তিনিই।
বিনােদ। কি হয়েছে সব বলুন।
}

পঞ্চম অক।
উমানাথ। ঠিক যে কি হয়েছে তা আমি বলতে পাব না, আমি যা
শুনেছি তাই বলি। দেবেনবাবু আমার বন্ধু, আমি লােকের মুখে
কখন কখন শুনতে পাই বটে যে তিনি আমার বা রমানাথের
অনিষ্ট করবার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু আমি তা কখন বুঝতে
পারিনি। আমার সঙ্গে সাক্ষাতে আমায় খুব ভালরূপই ব্যবহার
করে থাকেন। রমানাথ যে মারপিটের দায়ে সাজা পেলে,
এখন শুচি দেবেন বাবুই নাকি মিথ্যা মােকদ্দমা সাজিয়ে এসব
করিয়েছিলেন। তারপর সে যখন জেলে, সেই সময় কি জাল
করে তার যা কিছু বাড়ি টাড়ি ছিল সব বেচে কিনে নিয়েছেন,
বসত বাড়ির আমার অংশও বিক্রী হয়ে গেছে, শুনছি তিনি
আমার নামে কি টাকার ডিক্রি করে নিলাম করিয়ে বেচে
দিয়েছেন।
বিনােদ। রমানাথ বাবু পূৰ্ব্বে যখন মদদ খেতেন তখন কোন রকম
মর্টগেজ, দেন নাই ত?
উমানাথ। আমায় সে ত কিছুই বলে না, যখন জেলে ছিল তখন
একদিন আমি দেখতে যাই, সেইদিন তার কথার ভাবে মনে
হয়েছিল, যে তার সব বিষয় আশয়ই নষ্ট করেছে আর সেই
সময়েও দেবেন বাবুর উপর রাগ দেখেছিলাম। তারপর জেল
থেকে বেরিয়ে একদিন মাত্র বাড়িতে ছিল, তারপর আমায় না
ব’লে কলকাতায় গিয়ে কি প্রমাণ সংগ্রহ করে এই সব
করেছে।
বিনােদ। তা হলে হয়ত forgeryর চার্জ আনা হয়েছে। যাগ, তা
এখন আপনি কি কবুতে চান?
উমানাথ। Forgeryই বটে। দোষের কথা ভগবান জানেন। দেবেন্দ্র

প্রতিভা ।
……..............
••• •••\\\\/\+
বাবু দেশের একটা সম্মানী লােক। একি! দোষ প্রমাণ হলে
তখন না হয় যা হয় হত, এখন হাজতে দেওয়া অতি অন্যায়
কাজ হয়েছে। এখন কি উপায়ে তার নিষ্কৃতি হয় ?
বিনােদ। আপনি তাকে ছেড়ে দিতে চান ? রমানাথ বাবুর কাছ
থেকে আপনি সবিশেষ জানেন নি কেন?
উমানাথ। আমি তার এই সব কাজের জন্য অত্যন্ত রাগ করেছি দেখে
সে বােধ হয় ভয়ে আমার সঙ্গে আর দেখা করূচে না। দেবেন
বাবু কি করেছেন জানি না, যদি সত্যই তিনি দোষ করে থাকেন,
তবুও আমার ইচ্ছা এক কাজ করে ফেলেচেন সেই জন্য অমন
একজন সন্ত্রান্ত লােকের সম্মান নষ্ট করতে নাই। আমি উকিল
টুকিল কিছুই দিই নাই, আমার দেওয়া দরকার কিনা জানি না,
মােকদ্দমা শুচি এই ১২ই তারিখে।
বিনােদ। উকিল দিলে ভাল হয়। আপনি কিছু না করলেও খুব সম্ভব
complainantএর মধ্যে আপনার ও নাম আছে। যতদূর
আপনার কাছে শুনে বুঝচি এখন আর withdraw করবার
কোন উপায় দেখি না। আপনার কি দেবেন বাবুকে আদতে
দোষী বলে মনে হয় না।
উমানাথ। যদিই বা হয় কোন সাজা পান এ আমি মােটেই
ইচ্ছা করি না। আপনি যে উপায়ে সম্ভব এর
ব্যবস্থা
করে দিন। আপনি ত জানেন আমি মােকদ্দমা আদতে
ভালবাসি না ।
বিনােদ। উমানাথ বাবু, ক্ষমাই শ্রেষ্ঠ গুণ, ক্ষমার চেয়ে আর কি আছে,
কিন্তু এখন ত কোন উপায় দেখ চিনা, আর তা ছাড়া এখন সে
চেষ্টা বিশেষ করে করতে গেলে আপনার বা রমানাথ বাবুর

পঞ্চম অঞ্চ। •••••••••••• '';' পক্ষে খারাপ সম্ভাবনা খুব আছে। আমি এ সম্বন্ধে কাগজ পত্র- গুলাে একটু চেষ্টা করে যদি পারি ত কাল না হয় পরশু দেখে তারপর ঠিক বুঝতে পারব। উমানাথ। আমিও বিশেষ চেষ্টা করব যদি কিছু জাতে পারি ত আপনাকে জানাব। আমাদের কি খারাপ হতে পারে ? বিনােদ। আপনি যখন ক্ষমা করতে প্রস্তুত, তখন আপনার ভবিষ্যতে কোন ঝোঁক না আসে বা ড্যামেজ না আনতে পারে এইটুকুমাত্র দেখে সেই চেষ্টা করাই আমাদের কর্তব্য। মােকদ্দমা যত না হয় ততই মঙ্গল। মা নাথ। একথা সকলে ত বুঝেন না, এর বিপরীতই দেখতে পাই। বিনােদ। তা না হলে আমাদের এত লােকের পেটভরে কোথা থেকে উমানাথ বাবু। এই জন্যই আমাদের এত দুর্দশা বাড়ছে। উমানাথ। তা হলে আপনি অনুগ্রহ করে যা করতে হয় একটু সত্বরই করূবেন। যদি উকিল দেওয়া বা কোন ভাল কৌলি দিলে ভাল হয় মনে করেন যাকে মনে করবেন নিযুক্ত করে রাখবেন। বিনােদ। আচ্ছা, আচ্ছা, সে সব যা করতে হয় করব, আপনি দুই তিন দিন পরে একবার আসবেন। উমানাথ। আমি শনিবার দিন আপনার সঙ্গে দেখা কবুব, এখন আসি। [ উমানাথের প্রস্থান। বিনােদ। (স্বগতঃ ) আমি এতদিন এই কাজ কচি, কত রকম লোক দেখেচি, কত ধার্মিককে দেখেছি, কিন্তু উমানাথ বাবুর ১৫৮ প্রতিভা। মত লােক কখনও দেখিনি। এত ক্ষমা, এত দয়া কি রক্তমাংস- গঠিত মানুষের সম্ভব। যে তার সর্বনাশের জন্য চোর ডাকাতের অপেক্ষা ভয়ানক কাজ করতে প্রস্তুত হয়েছে, তার পাছে সম্মান নষ্ট হয় তার চিন্তা, আর সেই জন্য আমার কাছে পরামর্শ করতে এসেছিল। ধন্য উমানাথবাবু, ধন্য তােমার দয়া, ধন্য তােমার ক্ষমগুণ। (নীলাম্বরের প্রবেশ।) নীলাম্বর। প্রণাম মশাই। বিনােদ। কি নীলাম্বর তােমায় যে অনেকদিন দেখিনি, এখনও কি তুমি পালেদের কাজ করচ ? নীলাম্বর। সেখান থেকে অনেকদিন ছেড়ে দিয়েছি, এখন দেবেন্দ্রবাবুর সেরেস্তায় আছি। বিনােদ। কোন দেবেন্দ্র বাবু? নীলাম্বর। দেবেন্দ্রনারায়ণ ঘােষ। বিনােদ। এখন কি দরকার ? নীলাম্বর। বাবুর নামে ষড়যন্ত্র করে একটা মামলা রুজু করেছে, বাবুকে হাজৎ করেছে। তিনি আমার মুখে আপনার কথা শুনে কোন রকমে ব’লে পাঠিয়েছেন আপনাকে তার কেটি নিতেই হবে। তাকে যে রকম করে হয় এ মিথ্যা মােকদ্দমা থেকে রক্ষা করতেই হবে। এই কেসের জন্য যা খরচ কতে হয় করবেন এখন আপাততঃ হাজার টাকা নিন। (টেবিলে হাজার টাকার নােট রক্ষা করণ। বিনােদ । নীলাম্বর তুমি টাকা রাখ। তােমার বাবুর এটর্ণী আছে ত? নীলাম্বর। আজ্ঞা, আমাকেই এখন সব ব্যবস্থা করতে হচ্ছে, আমার

পঞ্চম অঞ্চ।
আপনাকে যত বিশ্বাস আছে এত আর কাকেও বিশ্বাস
হয় না।
বিনােদ। নীলাম্বর, সাবধান, তুমি আমার কাছে প্রতারণা করূতে
এসেছ। আজও তােমার এই বয়সে সেই চরিত্র নিয়ে আছ।
তােমার সাহস ধন্য, তুমি আমায় ঘুষ দিয়ে কাজ নিতে এসেচ ?
অধিকাংশ এটর্ণীর মত আমিও ঘুষ নােবাে তােমার বিশ্বাস ?
তুমি বৃদ্ধ হয়েচ, তােমার মাথার উপর শকুনি
উড়চে তুমি
পরকালের ভাবনা ভাবনা। আজ যে মনিবের জন্য তুমি এই
ঘৃণিত কাজ করতেও কুণ্ঠা বােধ করনি, সেই মনিব কি
উপরে যে মনিবের মনিব আছে তার কাছে তােমার হয়ে জবাব
দেবে? তুমি আজ পর্যন্ত তােমার মনিবের কত পাপ কাজে
সহায়তা করেছ মনে ক'রে দেখ দেখি, বল দেখি আজ পর্যন্ত
কখন মনে তিলার্ধ শান্তি পেয়েছ কি? তুমি যাও, আমার
সম্মুখ থেকে চলে যাও। মনে করে উপরে তােমার মনিবের
উপর আর একজন মনিব আছেন যাঁর কাছে সব লেখা থাক্‌চে।
নীলাম্বর। বাবু, আজ আমার চ’থ ফুটল, আর আমি চাকরির ভয়ে
করব না, আর আমি পাপের ভার বাড়াব না।
আপনি আমায় পায়ের ধূলা দিন, আপনি আমায় ক্ষমা করুন,
আপনি আমার পিতা। আমি উমানাথবাবুর বাড়ী বিক্রী যাতে
রদ হয় তাই করে আমার পাপের যতটুকু হয় প্রায়শ্চিত্ত
কব। আমি আর কাহাকেও ভয় করি না।
পরকাল নষ্ট

প্রতিভা।
ষষ্ঠ দৃশ্য ।
ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্ট।
ম্যাজিষ্ট্রেট, ইন্টারপ্রিটার, ব্যারিষ্টার, সরকারি উকিল, চাপরাসি,
জমাদার, দেবেন্দ্র, রমানাথ, উমানাথ, দীনেশ,
যতীশ, নিমাই ইত্যাদি।
ম্যাজি। (মানাথের প্রতি একখানি দলিল দেখাইয়া ) Is this not
your signature ? এ সহি তােমার না আছে ?
রমা। হা হুজুর, আমার সহি।
স-উকি। আপনি এ কাগজে কবে সহি করে দিয়েছিলেন?
রমা। ওয়ারেন্টের ভয়ে যখন ভবানীপুরে লুকিয়ে ছিলাম, তখন
একদিন দেবেন্দ্রবাবুর কথাতে এই কাগজখানা সই করে দিই।
স-উকি। এখানা কিসের দলিল ?
রমা। আমার কাশারিপাড়ার বাড়ি বেচবার জন্য পাওয়ার দেওয়া।
কাশারিপাড়ার বাড়িই কেবল আমি বেচবার পাওয়ার
দিয়াছিলাম। (দলিলের প্রতি দৃষ্টি করিয়া) কিন্তু দলিলের
নীচে দেখছি আমার বসত বাড়ীর অংশও বেচবার পাওয়ার
দিয়েছি, এ অংশটা আমার হাতের লেখা নয়। আমি যখন দলিল
সহি করিয়া দিই তখন বসত বাড়ির কথা লেখা ছিল না।
এবং আমি লিখে দিই নাই।
স-উকি। এ দলিলের সাক্ষী নীলাম্বর সরকার তােমার সহি করবার
সময় উপস্থিত ছিল ?
রমা। নীলাম্বর সহি করিবার সময় উপস্থিত ছিল না, সম্ভবতঃ পরে
কাগজে সহি দিয়া থাকিবে।

পঞ্চম অঞ্চ।
*** /
উকি। তােমার বসত বাড়ীর দলিল কোথায়?
রমা । আমার বসতবাড়ীর দলিল দেবেন্দ্রবাবুর কাছে। তার আশ্রয়ে
ছিলাম, তাকে ত কোনরকম অবিশ্বাস করিনি, দলিল ও সমস্ত
কাগজপত্র তাঁর কাছেই রেখেছিলাম। তখন কি জানতাম
যে দেবেন্দ্রবাবুই আমাকে ধরাইয়া দিবেন, আমার ও দাদার
সর্বনাশ করবেন !
স-উকি। তুমি যে কাগজপত্র দেবেনবাবুর কাছে রেখেছিলে সে সবগুলি
কিসের?
রমা। বিষয়সংক্রান্ত চিঠি ও অন্য কাগজ, দাদার হাতের লেখা চিটি
দু’এক খানা তার মধ্যে ছিল।
স-উকি। (একখানি কাগজ দেখাইয়া) এটা কার সহি ?
রমা। এটা দাদার সহির মতন দেখাচ্ছে কিন্তু ‘উ’এর টানটা দেখে
মনে হয় যে তার সহি নয় ।
ম্যাজি। (ব্যারিষ্টারের প্রতি) Do you want to put him any
question ?
ব্যারি। Yes Sir. ( রমানাথের প্রতি) তুমি মারামারির জন্য, জেল
খেটেছিলে?
রমা। হঁ্যা জেলে গিয়াছিলাম, আমি মদ খেতাম আমার এই দোষ
ছিল। তখন জানতুম না, পরে জেনেছি দেবেন বাবুই ষড়যন্ত্র
করে আমায় জেলে পাঠিয়ে, আমার সর্বস্ব নিয়েছে।
ব্যারি । আমি যা বলি তা’র কেবল উত্তর দাও। তুমি যখন
কারিপাড়ার বাড়ী বেচবার পাওয়ার দাও, তখন তােমার
দেন যা ছিল তা কি কাঁসারিপাড়ার বাড়ী বেচলেই শােধ
যেত ?

প্রতিভা।
AAA
AA
র। কাঁসারিপাড়ার বাড়ি উচিত মূল্যে বিক্রি হলে খুব সম্ভব শোধ
ব্যারি। তুমি সমস্ত দেনা শােধ করবার জন্যে ও দাদার সঙ্গে তােমার
ঝগড়া ছিল তাকে জব্দ করুবার জন্যে কাঁসারিপাড়ার বাড়ি
ও বসত বড়ি দুইই বেচবার পাওয়ার দিয়েছিলে—এ কথা সত্য
কি না বল ?
রমা। না, আমি বসতবাড়ি বিক্রি করবার পাওয়ার দিই নি।
ব্যারি। তুমি এটর্ণি নিমাইবাবুর বাড়ি কখন গেছ ?
রমা। হ্যা গেছি, দাদার সঙ্গে মােকদ্দমার সময় পরামর্শ করতে নিমাই
বাবুর বাড়ি গেছি।
ব্যরি। আর কখনও যাও নি ?
রম। না, সেই মকদ্দমার সময় ছাড়া যাই নি ।
ব্যারি। আমি বলছি যে এই পাওয়ার তুমি নিমাই বাবুর বাড়িতে
বসে সহি করেছিলে, দেবেনবাবুর ভবানীপুরের বাড়িতে নয়।
রমা। না ভবানীপুরের বাড়িতেই সহি করি।
ব্যারি। তােমার দাদা উমানাথবাবুর টাকাকড়ি সব নষ্ট হয়েছে ?
রমা। দেশের কাজে তিনি তার অধিকাংশ টাকাই দান করে
ফেলেছেন। আর আমি মােকদ্দমা করে থেকে কারবার উঠে
গেছে, তা বলে তার খাবার পরবার কিছুই অভাব হয় নি।
ব্যারি। তার কোন কাজের জন্য চার পাঁচ হাজার টাকা ধার লওয়া
কি একেবারেই অসম্ভব ?
রমা। একেবারেই অসম্ভব নয়, কোন লােকের জাতি কুল রাখার
জন্য টাকার দরকার হলে যে কোন রকমে হক জোগাড় করে
দেবেন, তবে

, পঞ্চম অঞ্চ। ... worino ........... ব্যারি। বা, আর ত কিছু তােমাকে জিজ্ঞাসা করা হয় নি। তুমি যেতে পার (রমানাথের নামিয়া পার্শ্বে গমন) স-উকি। দ্বিতীয় সাক্ষীকেশবচন্দ্র রায়। পেস্কার। কেশবচন্দ্র রায়কে বােলাও। পিয়াদা। কেশবচাদ রায়, কেশবচাদ রায়, কেশবচা- (কেশবের প্রবেশ ও সাক্ষীর কাটগড়ায় গমন। ইন্টার। বল আমি ধৰ্ম্মত অঙ্গীকার করিতেছি- কেশব। ধৰ্ম্মতঃ অঙ্গীকার করিতেছি, যাহা বলিব সত্য, সত্য ভিন্ন মিথ্যা বলিব না, কোন কথা গােপন করিব না। স-উকি। তােমার নাম কি ? কেশব। কেশবচন্দ্র রায়। ম্যাজি। টুমি কি জান বােল। কেশব। আমি এই দ্বিতীয় দলিলের কথা জানি। একদিন ভবানী- পুরের বাড়িতে এ সম্বন্ধে নিমাইবাবুর সঙ্গে পরামর্শ হচ্ছিল শুনেছি,—উমানাথবাবুকে কি ক'রে জব্দ করা যায়, বাপ- পিতামহের ভিটা থেকে উঠাতে না পারলে জব্দ হবে না। অমনি নিমাই পরামর্শ দিলে যে একখানা জাল হানােট তৈয়ারি করে, তার বলে নালিশ করতে হবে। আর সমন টমন সব চেপে দিয়ে একেবারে বাড়ি নিলাম করিয়ে দিয়ে কারও নামে কিনে নিয়ে উমানাথকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলেই ঠিক শােধ লওয়া হবে। উমানাথবাবুকে, গুণ্ডা দিয়ে মারবার ষড়যন্ত্র আমি সব নিজের কাণে শুনিচি। দীনেশ এই কাগজ লিখিয়ে এনে যখন দেবেন্দ্রবাবুর হাতে দেয় তখন সেখানে এটর্নি নিমাইবাবু

প্রতি।
...............
AAAAAAAaa%
•••12/
13
.
ছিলেন। দেবেন্দ্রবাবু সেইদিন দীনেশের হাতে পাঁচশত টাকা
দেয় আমি দেখেছি।
ব্যারি। তুমি দেখে তার কি প্রমাণ আছে? কেন তুমি সেখানে
গিয়াছিলে ?
কেশব। আমি দেবেন্দ্রবাবুর কুমতলব বুঝতে পারতুম। উমানাথবাবু,
আমার বড় হিতৈষী। আমি ছেলেবেলা থেকে বেশ গান
গাইতে পারতুম। উমানাথকে বিপদে ফেলবার কোন দুষ্ট
মতলব আছে কি না জানবার জন্য আমি অন্য উপায় না দেখে
ছদ্মবেশে বাউল বা ভিখারি সেজে তার বাড়িতে যেতুম। তার
গদাই নামে চাকরটাকে আমি মাঝে মাঝে দুই এক টাকা
দিতুম ; সে আমাকে গােপনে অনেক খবর দিত, আমাকে
লুকিয়ে কথা শুনতে-দেখেও বলে দিত না।
ব্যারি। তুমি উমানাথবাবুর কাছ থেকে টাকা নিয়েছ ?
কেশব। হ্যা আমি কর্জ নিয়েছিলাম।
ব্যারি। তুমি কখন সুদ দিয়েছ ?
কেশব। না, আমি সুদ দিতে চেয়েছিলাম তিনি সুদ নেন নাই।
ব্যারি। তুমি এখন আর কিছু তার কাছে ধার ?
কেশব। হা সামান্য তিনি পাবেন।
ব্যারি। তুমি এবার নিয়ে কতবার সাক্ষী দিয়েছ ?
কেশব। জীবনে এই আমি প্রথম সাক্ষী দিতে এসেছি।
বারি। তুমি উমানাথবাবুর কাছে টাকা নিয়ে কোন হাতচিঠি লিখে
দিয়েছে ?
কেশব। না, আমি তার কাছ থেকে তিন চার বার টাকা নিয়েছি কোন
বারই তিনি কিছু লিখে নেন নি, আমি লিখি দিতে চেয়েছিলাম।

পঞ্চম অঙ্ক। autfi Now from these statements your Honour will easily understand that this man is evidently paid for his false evidence and moreover I can prove that his character and the company he keeps are most objectionable. He is a professsional witness, Fai I strongly object to what my learned friend says. I can prove to your Honour that the witness possesses an excellent character. He is a teacher in a government school and is held high in the estimation of his people. itfi My client is a man of position and of high education, he has been doing much for his country and our benign Government appreciating his merit very recently bestowed on him the title of Rai Bahadur; his unique qualities can not permit him to commit such grave crimes. I pray your Honour would please take a note of the most defamatory remarks made by my learned friend and I shall prove to your Honour by evidences that my client was not even present at Bhawanipur on the day in questiones. att for ' Yes, Mr. Mitter, I shall be very much pleased to see my friend, Mr. Ghose innocent, but this has to be proved. itfacere afs) Please produce your other witness.

প্রতিভা } '; উকিল। নীলাম্বর সরকার। ইন্টার। নীলাম্বর সরকারকে বােলাও। জমাদার। লীলবার সরকা! লীর সরকা! লীলবর- নীলাম্বর সরকারের প্রবেশ, সাক্ষীর কাটগড়ায় গমন ও শপথ পাঠ।) উকিল। তােমার নাম কি ? নীলাম্বর। আমার নাম নীলাম্বর সরকার। ইন্টার। তুমি কোন জাতি ? নীলাম্বর। হুজুর আমি জাতিতে কায়স্থ। ব্যারি। তুমি কি কর? নীলাম্বর। আমি জমিদার শ্রীযুক্ত দেবেন্দ্রনারায়ণ ঘােষের জমিদারি সেরেস্তায় মুহুরিগিরি করি । ব্যারি। তুমি কার পক্ষে সাক্ষী দিবার জন্য এসেছ ? নীলাম্বর। আমি সত্যের পক্ষে সাক্ষী দিবার জন্য এসেছি। যা সত্য, যা আজ পনের বৎসর ধরে দেখে আসৃচি তাই বলতে এসেছি। ইন্টার। তােমায় যা’ জিজ্ঞাসা করা হচ্চে তুমি তারই ঠিক উত্তর দাও। বাজে বকূলে সাজা হয়ে যাবে। নীলাম্বর। সাজার ভয় আর করি না, মনিবের জন্য অনেক জাল জুয়াচুরি, মারপিট, ঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার সহায়তা করিচি, আজ যে সাজা হয় হােক, ধৰ্ম্ম ঢের সয়েছে আর সইবে না। উমানাথ বাবু দেবতা, দেখি তার কে অনিষ্ট করতে পারে। astfel Your Honour will no doubt understand what nonsense this man is speaking. I doubt whether he is in his senses.

পঞ্চম অঞ্চ। উকিল। তুমি এই মােকদ্দমা সংক্রান্ত দেবেন্দ্র বাবু যা কিছু জাল ও ষড়যন্ত্র করেছেন সে সম্বন্ধে কি জান? tfi I object to such a question. নীলাম্বর। হুজুর, এই রমানাথ বাবুর নামের যে দলিল উহা সম্পূর্ণ জাল, রমানাথ বাবুর নামে যে মারপিটের মােকর্দমা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ সাজান। শঙ্করলালকে কেউ মারেনি, তাকে ঐরূপ শিখিয়ে পাঠান হয়েছিল, সে জন্য তাকে দু’শ’ টাকা দেওয়া হয়েছিল। তারপর ভবানীপুরের বাড়িতে দেবেন বাবুই রমানাথ বাবুকে ভয় দেখিয়ে লুকিয়ে রেখে তার কাছ থেকে জোর করে সব লিখিয়ে নিয়ে শেষে ইন্সপেক্টার ললিত চাটুযয্যকে দিয়ে ধরিয়ে দেন। মদন রায়ের জমিদারি বাড়িঘর ইনি মিথ্যা মােকদমা করে নিয়েছেন। stfel I don't want these things from him. { উকিলের etro ) You may produce if you have any more witness to examine. ইন্টার। তােমাকে যা জিজ্ঞাসা করা হচ্চে তা ছাড়া তুমি পাগলের মত বক্‌চ কেন? ব্যরি। He is surely a mad chap, উকিল। তুমি উমানাথ বাবুকে গুণ্ডাদিয়ে মারবার ষড়যন্ত্রের কিছু জান ? নীলাম্বর। আজ্ঞা দীনেশ আবদুলকে ডেকে এনেছিল, কথা হয়েছিল हम উমানাথ বাবুর পা হাত ভেঙ্গে দেবে, তাকে পাঁচশ টাকা দিতে হবে দীনেশের সঙ্গে কথা হয়। উমানাথ বাবু সমিতি থেকে রাত্রে যখন বাড়ি আসবেন সেই সময় মারবে এ কথাও হয়। যতীশ, শঙ্করলাল, দীনেশ এদের সঙ্গে পরামর্শ করে এই সব ঠিক হয়।

১৬৮
eroot
ম্যজি। (উকিলের প্রতি ) Have you got anything more to
* ask?
tfi Yes, your Honour ; this witness will speak
further regarding the second charge and I shall
produce more important evidences as well.
দেবে। No need of further evidence, I confess to
your worship that I am guilty of all the charges
brought against me. Punish, punish me, Sir I
clo deserve it.
TYFI What's this ! optata for 76667, taranta atat
দুশ্চিন্তায় মাথা খারাপ হয়েছে দেখচি । ( ম্যাজিষ্ট্রেটের প্রতি)
The accused is a gentleman of high repute, he is
quite innocent and as he had never been in the
box before, he is somewhat bewildered. I pray
your Honour to postpone the hearing to-day and
pass an order to remove the accused immediately
and place him under proper medical care. I still
hold my client quite innocent and I have got
sufficient evidence to prove his innocence.
wife I Very well Mr. Mitter, I am quite agreeable to
your proposal ; he can withdraw what he has
said.
676974 No Sir, I admit every bit of what Nilambar
has said as true and I am prepared for the worst.
Pray, deliver your judgment Sir.
নিমাই। দেবেন বাৰু আপনি একি বল্‌চে?

পঞ্চম অঞ্চ।
\\ . • ••••••
pitfei My friend, you will be punished for your
confession, think once more.
686341 I have thought enough and I am prepared for
the punishment.
উমানাথ। হুজুর দেবেন বাবু প্রকৃতই ভাল লােক, দৈবগতিকে
কুলোকের পরামর্শে হয়ত এ কাজ করে থাকবেন। আমার
প্রার্থনা আপনি দেবেন্দ্র বাবুকে খালাস করে দিন, আমি
আমার নালিশ তুলে নিচ্ছি। যদিও non-conpoundable
offence, আপনি মনে করলে নিশ্চয় খালাস দিতে পারেন।
দেবেন্দ্র। না, আর না, আমার নােক নীলাম্বরের অসহ্য হয়েছে,
আর না, আমি কৰ্ম্মফল ভােগ করব, আর দয়া করে আমার
পাপের বােঝা বাড়াবেন না। উমানাথ বাবু যদি পারেন যতীশ,
দীনেশ প্রভৃতি আর সবকে বাঁচান। আর ম্যাজিষ্ট্রেট, সাহেব
আপনাদের আইনের ধারার উচ্চ দণ্ড যা আছে আমার প্রতি
সেই দণ্ডের হুকুম দিন, আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত হক; আমায়
চির জীবনের জন্য দ্বীপান্তর দিন।
উমানাথ। দেবেন বাবু, ভাই, তােমার দ্বারা আমার কোন অনিষ্টই হয়
নাই, তুমি আমার বন্ধু, আমাদের উভয়ের পিতা পিতামহের
সময় থেকে সম্পর্ক। তােমার উপর আমার রাগ নাই, আমি
সকলের সাক্ষাতেই বলছি আমি আগে জালে কখনই এতদূর
হত না, এ মােকদ্দমা আমি রুজু করি নি। তুমি আমার
ভাইয়ের মত, আমার উপর অভিমান করে না। তুমি ক্ষান্ত
হও, আজ দশ বৎসর ধরে যেমন দু’জনে দেশের সেবায়
কাটিয়েছি এস এবার থেকে দু’জনে একপ্রাণ হয়ে দেশের জন্য
মাতৃভূমির কল্যাণের জন্য বাকি জীবন উৎসর্গ করে ধন্য হই।

প্রতিভা। apie I Mr. Umanath, I do really admire your greatness. I have never come across such a noble character in the whole course of my career as a Magistrate. I do feel proud in having you as my friend. At your request, I shall secure pardon for Mr. Ghosh and get him discharged, only he must help us in bringing these scoundrels to book. Arrest them- Totat, fpicam, and farate, Inspector. Good bye, Mr. Umapath. সপ্তম দৃশ্য। উমানাথের বাটীর বারান্দা। প্রভা, বিভা ও দাসী। প্রভা। (দাসীর প্রতি) আর কে সেখানে আছে দেখলে ? দাসী। কে আর থাকবে বৌদিদি, একটী তােমাদেরই বয়সী তার কে হয় জানিনা সেই শুনলুম ক’দিন এসে রয়েছে। প্রভা। তিনিই কি আমাকে চিঠি লিখেছেন? দাসী। তা আমি জিজ্ঞাসা করিনি, বােধহয় তিনিই নিখে থাকবেন, তা হলে আর নেখবে কে? গুরুমা ত বিছানায় পড়ে আছেন। প্রভা। একেবারে তিনি কি আর উঠতেই পারেন না? দাসী। বলে উঠবে! একেবারে বিছানার সঙ্গে মিশে রয়েছে, কথা কইতেই বলে কত কষ্ট হচ্ছে। প্রভা। তা হলে অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেছে বল।

পঞ্চম অঞ্চ।
১৭১
m
ANAN
দাসী। খুব খুব, তাতে আর আছে কি, কেবল হাড় ক’খানাতে প্রাণ
টুকু এখনও লেগে আছে বৈত নয়। আহা বৌদিদি কি আর
বলব তােমায়, তেমন বর্ণ একেবারে যেন কালি হয়ে গেছে,
দেখলে বুকটা যেন ফেটে যায়। বাঁচবের আশা আর কিছুই নাই।
প্রভা। আহা এমন হয়েছে, আমাদের এত কাছে থাকতেও আমরা
শুনিনি! এ অসুখ কত দিন ধরে হয়েছে শুনলে কিছু ?
দাসী। সেই মানুষটী আমার কানে কানে বলে বৌদিদি, যে দিন
থেকে আমাদের বাড়ী থেকে ছেড়ে দিয়ে গেছে সেই দিন থেকেই
বেয়ারাম ধরেছে। আমায় অনেকবার বলে দিলে একবার
যেন সবাই দেখতে যান, বাবু শুদ্ধ, যেন অতি অব্বিশ্যি যান।
প্রভা।. বামার মা, তা হলে আমিই হয়ত তার এই মৃত্যুর কারণ,
তার কাছে একবার যাবার জন্য বড় আমার প্রাণের ভিতর
কেমন কচ্চে, কিন্তু আমি এ মুখে কি করে যাব।
বিভা। মা, আর দেরি করলে হয়ত তাকে দেখতে পাবে না, আজই
বাবা এলে চল, আমিও যাব মা।
প্রভা। বিভা, তাঁর যাবার জন্য আমাকেও অনেক অনুনয় করে
লিখেছে, তিনি কি যাবেন !
বিভা। আমি বলব তা হলেই বাবা যাবেন।
দাসী। বৌদিদি তােমরা তিন জনেই যেও, এ সময়ে আর কি মনে
করবে বৌদিদি। বিভাকে বড় ভালবাসে, এ সময় দেখলেও
মনটা সন্তুষ্ট হবে।
প্রভা। তােমায় তিনি নিজে কিছু বলেন কি ?
দাসী। তােমাকে বিভাকে দেখতে ইচ্ছে হয় অনেক কষ্টে এই কথাটী
একবার আমায় বলেছিল, সবাই কেমন আছে জিজ্ঞাসা করেছিল

১৭২
প্রতিভা।
আর বিছু বলতে পারূলে না, চখের জলে আর কোন কথা
বেরুন না।
প্রভা। আহা হয়ত টাকার অভাবে কত কষ্টই হচ্ছে, হয়ত সেই জন্য
চিকিৎসা করাতেও পারে নি, শেষে বিদেশে বিঘােরে প্রাণ যাবে!
দাসী। না বৌদিদি, ট্যাকার জন্যে বােধ হয় তার কষ্ট নেই, জিনিষ পত্র
ঘরদোর দেখে মনে হয় সে কষ্ট নেই, তার রােগের যন্তন্নাই বড়।
যা হাে তুমি গিয়ে যা করূতে হয় সব ব্যবস্থা করে এস।
মানুষটা বড় ভাল, আমায় আমার দেশের কথা, কত কথা সব
জিজ্ঞেস করুত।
প্রভা। আর আমি তার এখন কি কবুতে পারব, বাবু এলেই আমি
তাঁকে বলব, গিয়ে একবার দেখে আসব এই পর্যন্ত।
দাসী। তাই যেও বৌদিদি, আমিও আবার কাল গিয়ে দেখে আসব।
এখন ঘর ধুতে হবে যাই।
[ দাসীর প্রস্থান।
বিভা। মা, গুরুমার জন্যে আমার বড় মন কেমন কচ্চে।
প্রভা। বিভা মা, কঁদিস্ নে, তিনি ভাল হয়ে যাবেন, ভাল হলে
আবার তােমায় পড়া’তে বলব।
অষ্টম দৃশ্য।
প্রতিভার কক্ষ।
প্রতিভা ও কমল।
প্রতিভা। কত বৎসর হয়ে গেল, নীরবে যে আলা মনের মধ্যে লুকিয়ে
রেখেছি, যার মূৰ্ত্তি হৃদয়ের মাঝে রেখে পূজা করেই অসীম তৃপ্তি
পেয়েছি, কমল, ভাই, আজ এ সময় সমস্ত রােগের জ্বালাকে
।

পঞ্চম অঞ্চ।
১৭৩
.t. । । । '
W'1','! • • •':/v/
ঠেলে রেখে একবার তাকে দেখবার জন্য এত অধীর হচ্ছি
কেন ?
কমল। বােধ হয় তিনি আজ আসবে তাই তােমার মনের ভিতর
এমন হচ্ছে।
প্রতিভা। তিনি কি আসবেন, দেরি হলে কি আর দেখা হবে ? উঃ
বড় যাতনা ।
কমল। ভাই প্রতিভা, এ অবস্থায় এত অধীর হও না, এতে অসুখ
বাড়বে।
প্রতিভা। আর কি বাড়বে কমল, আর কি বাড়বার কিছু বাকি
আছে। আজ আর রাত কাটবে না। আমি গ'র আশা
করি না।
কমল। ও রকম কথা কেন মনে কচ, তুমি ত পর পর ভাল হচ্চ,
ডাক্তার বলচেন। তুমি যে বারণ কচ্চ, তা না হলে আমি নিজে
গিয়ে বলে, কি তােমার যথার্থ পরিচয় দিয়ে লিখলে, আমি
বলচি উমানাথ বাবু তােমাকে এ সময়ে নিশ্চয়ই
সময়ে নিশ্চয়ই দেখতে
আসবেন।
প্রতিভা, কমল ভাই, তুমি এ সময় না এলে আমার কি দশা হত।
তােমার কাছে আমার একটা অনুরােধ, আমি মরলে—
( জীবন ও ডাক্তারের প্রবেশ ।)
ডাক্তার। আজ আপনি এখন কেমন আছেন ? দেখি দিন ত আপনার
হাতটা।
কমল। আজ বড় যন্ত্রণা হচ্চে, আজ অতি কষ্টে কথা কইছেন।
জীবন। প্রতিভা, কোনখানটা কি যাতনা হচ্চে ডাক্তার বাবুকে সব
ভাল করে বল।

১৭৪
প্রতিভা।
........
প্রতিভা। সমস্ত শরীরে যন্ত্রণা হচ্ছে কি আর বলব।
ডাক্তার। কেন আজ ত আপনি অনেক ভাল আছেন দেখছি, আপনার
অসুখ ত বার আনা ভাল হয়ে গেছে। { জীবনের প্রতি)
কি খেতে ইচ্ছে করেন ?
জীবন। কিছুই ত খেতে চান না, কাল সমস্ত দিনরাতে বােধ হয়
একপােয়া দুধও খান নাই।
ডাক্তার। না, না, খেতে হবে, এখন খাওয়া দরকার। এই কাহিলের
জন্যইত এত কষ্ট পাচ্ছেন।
জীবন। আমি বলছিলাম আর একজন কোন বড় ডাক্তারের সঙ্গে
একবার consult করলে হয় না।
ডাক্তার। আপনারা ভয় পাচ্ছেন কেন, এর কি হয়েছে, আজ একটু
বােল খান, কাল আমি ভাত দোবাে। এখানে আর কোন্
ব্যাটা ডাক্তার আছে যে consult করব ? এ্যালােপ্যাথি
ব্যটাদের আমি যম মনে করি।
জীবন। না সে সম্বন্ধে আপনি যা ভাল বুঝবেন্ তাই করবেন, আমরা
আপনার হাতে রেখেই নিশ্চিন্ত আছি। আজ একটু ওষুধ
দেবেন না ?
ডাক্তার। আপনারা লে ম্যান, আপনারা মনে করেন রােজ রােজ
ওষুধ দিলেই বুঝি ভাল হয়। এ সব higher dilution ওষুধ,
দশ দিন পনের দিন অন্তর আমরা এক ডােজ দিয়ে থাকি।
আচ্ছা শিশিটা নিয়ে আসুন, আজ একটী ডােজ, ওষুধ দোবাে
রাত্রে খাইয়ে দেবেন, তারপর আর সাত দিন পরে আর একটা
ডোজ দোবাে, বাস্।
[ ডাক্তার ও পশ্চাৎ পশ্চাৎ জীবনের প্রস্থান।
.

পঞ্চৰ অঞ্চ।
প্রতিভা। বুকের ভিতর জ্বলে যাচ্ছে, একটু জল।
কমল। (মুখে জল দিয়া), ভাই শুনলে ত ডাক্তার খাবার জন্য বিশেষ
করে বলে গেলেন।
প্রতিভা । আমার এখন বড় কষ্ট হচ্ছে, মামা কোথা গেলেন ?
কমল। মামা বােধ হয় বাইরেই আছেন, ডাব ?
প্রতিভা।
( প্রভা ও বিভার প্রবেশ। )
প্রভা। আপনার এমন অসুখ তা আমি জানি না, এখন কেমন
আছেন ?
প্রতি। দিদি এসেছেন! বিভা—
প্রভা। (চোখের জল মুছাইয়া দিয়া) আপনি ভাল হয়ে যাবেন,
কাঁদবেন না, এই বিভাও এসেছে।
কমল। বাবু এলেন না ?
প্রভা। তিনিও এসেছেন, বাহিরে বসে আছেন।
প্রতিভা। তিনি এসেছেন। (কমলের প্রতি এইখানে
নিয়ে এসাে।
[ কমলের প্রস্থান ।
দিদি বড় যাতনা, আমার বড় ভাগ্য আপনি এসেছেন, তিনি
এসেছেন। (বিভার প্রতি) বিভা, মা, কাছে এস। ভাল
আছ ?
বিভা। ' আপনি কেমন আছেন, আমি ভাল আছি।
প্রতিভা। আমার বড় অসুখ, আমার শেষ সময় হয়েছে।
প্রভা। আমাদের এত কাছে রয়েছেন, বিদেশে একলা, আমাকে
একটু খবর পাঠান নি কেন?
প্রতিভা। দিদি, আমার আর বাঁচবার দরকার নেই, তাই অপর

প্রতিভা।
দিই নি, এখন আশীর্বাদ কর যেন মৃত্যুর আর বিলম্ব না হয় ।
প্রাণ যায়, বড় পিপাসা, জল।
| “প্ৰভা। ( জল দিয়া) আপনার যাতনা কি হচ্ছে ?
( কমল ও উমানাথের প্রবেশ।)
(প্রভা মাথার কাপড় একটু বেশি টানিয়া দিয়া সরিয়া গিয়া
অন্যদিকে একটু ফিরিয়া বসিলেন।)
কমল। আপনি অনুগ্রহ করে একটু কাছে এসে বসবেন, আপনার
জন্য উনি বড় আশা করে আছেন।
উমানাথ। (উপবেশনান্তে একটু অন্য দিকে চাহিয়া কমলের প্রতি)
উনি আমার মেয়েকে অনেক পড়াশুনা শিখিয়েছেন, বাড়ীতে
ওঁর সকলের সঙ্গে বেশ জানাশুনা আছে, আর তা ছাড়া বিভার
উপর ওঁর জোর আছে। আমার সঙ্গে ? আবশ্যক কেন
আমায় একটু সময় থাকতে ব'লে পাঠান নি? এখন দেখছি ত
বড়ই দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
প্রতিভা। আমার প্রাণের দেবতা এসেছেন !
উমানাথ। কে আপনি? এ স্বর যেন কখন শুনেছি মনে হচ্ছে।
প্রতিভা। একদিন শুনেছিলেন, সময় থাকতেই বলেছিলুম, আর
সময় নাই, আর দুঃখ নাই, আজ সেই সোণার ছবি ফুটে
উঠেছে।
উমানাথ । ( প্রতিভার দিকে চাহিয়া) কে আপনি, প্রতিভা ?
প্রতিভা। একদিন আপন মনে আপনার হাত ধরে আহ্বান করেছিলাম,
আজ দয়া করে একবার দাসীর হাতে হাত দিন। আর ক্ষমতা
নাই। ( উমানাথ হস্ত নিকটে আনিলে উহা উভয় হস্তে ধারণ
করিয়া প্রকার প্রতি) দিদি মনে আছে একদিন বলেছিলাম

পঞ্চম অঙ্ক
আপনাকে বলব; আজ শুনুন, ইনিই আমার ইহ ও
দেবতা—ইনিই আমার সেই প্রাণেশ্বর।
উমানাথ। আপনার এ অবস্থায় বেশি কথা কইবেন না, আমি
বুঝতে পাচ্ছি না, আপনি ভাল হন, আপনার কাছে সব
প্রতিভা। প্রাণ যায়—বড় কষ্ট-প্রাণেশ্বর আজ আমার
(কমলের প্রতি চাহিলেন)।
প্রভা। দিদি, আমায় ক্ষমা কর, আমি না বুঝে তােমাকে কি
দিয়েছি, আমিই তােমার মৃত্যুর কারণ।
প্রতিভা। না।
কমল। ( বিছানার নিচে হইতে একখানি উইল লইয়া
প্রতি প্রতিভা কিছুদিন পূর্বে একটা উইল করেছে।
পিতার নগদ ও স্থাবর অস্থাবর যে সব সম্পত্তি ছিল তা
বিক্রি করে সাত লক্ষ টাকার কোম্পানির কাগজ কেনেন,
ঐ টাকার সুদে আরও দুই লক্ষ টাকার কাগজ হযেছে
সমস্ত কাগজের মধ্যে আট লক্ষ টাকার কাগজ উনি
নামে সই করে দিয়েছেন এবং উহা সমস্ত স্ত্রীলােকদেব
জন্য বান্ধব সমিতিতে দান করেছেন। নগদ দশ হাজাব
ও যা কিছু অলঙ্কার আছে সমস্ত বিভার বিবাহে যৌতুক
দিয়েছেন। আর বাকি পঞ্চাশ হাজার টাকা ও একলক্ষ
কাগজ আপনার স্ত্রী শ্রীমতী প্রভাবতীকে দিয়েছেন, ও
এই পঞ্চাশ হাজার টাকায় একটী মন্দির তৈয়ারি কবে তা
পাশের ঘরে আপনার যে প্রস্তরমূৰ্ত্তি আছে উহা প্রতিষ্ঠা বা
আর ঐ লক্ষ টাকার সুদ থেকে দেশের ইংবাজি
কিশােরী ও যুবতীরা যাতে এইখানে এসে উপযুক্ত শিক্ষাৰ স্বা

প্রতিভা ।
* -
স্বামীভ ক্তি শিখতে পারে আর হিন্দু রমণীর কর্তব্য শিক্ষা করতে
পারে, আপনার সাহায্যে তার ব্যবস্থা করেন। (উইল উমানাথ
বাবুর হস্তে সমৰ্পণান্তে, পার্শ্বের ঘরের দরজার পরদা সরাইয়া)
এই সেই প্রস্তর মূর্তি-আদর্শ চরিত্র, আদর্শ স্বামী, আদর্শ বন্ধু,
আদর্শ দাতা, প্রতিভার আরাধনার দেবতা শ্ৰীউমানাথ।
। প্রতিভা, প্রতিভা, { প্রতিভার নিকটে আসিয়া) অহিহ,
৭শেষ, সকল জালার অবসান ! মানুষের এই কৰ পরিণাম ।
হিতা, তুমি বিঙ্গেত, আমি পরাজিত। ধন্য তােমার উৎসর্গ।
। তামার মৃত্যুর সঙ্গে সতাই তুমি আজ মুক্ত। যাও দেবী, সেই
কামনার অনধিগম্য সেই দেশে, যেখানে, ত্যাগ ও ক্ষমার
বস্থার আছে, যেখানে অত্যাচার অনাচারের প্রতিকার আছে,
যেখানে অত্যাচার, অনাচার, অবিচার নাই। যাও সেই
পাশ যেখানে অনন্ত জ্বালা জুড়াবার জন্য মরণের অপেক্ষায় বসে
{কতে হয় না, বা যেখানে জ্বালা নাই, যন্ত্রণা নাই, প্রতারণা
ই, মৃত্যু নাই। যাও সেই দেশে যেখানে একের
Mানকে প্রাণ দিতে হয় না বা প্রাণের জন্য যেখানে মায়া নাই,
মতা নাই, সকলের জন্য সকলের প্রাণ উৎসৃষ্ট। যেখানে
কাঙ্খর তাড়না নাই, প্রণয়ে বিরহ নাই, প্রতিষ্ঠার জন্য
pন্মাদনা নাই। আজ বুঝলাম আমার অহঙ্কার ব্যর্থ, কৰ্ম্ম মিথ্যা
সাপনা বিফল, কিন্তু আজ আমার সফল স্বপন।
জন্য।
,
বনিকা পতন

No text on this page.

No text on this page.

Pratibha

Author
Sheth, Harihar
Title
Pratibha
File name
Pratibha
Text
OCR done
Citation
1921
Published
2010/02/19
Publisher
Chandannagar Pustakagar
Language
Sanskrit
Pages
189
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Plays
Keywords
Dinesh
DLI number
511281
Barcode
4990010018443.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
jCE59zSrUKm
Download PDF

Pratibha