Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Shastratattwa Vol. 1

Bidyabinod,mahendrachandra Ed · 2010/03/29

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

শাস্ত্ৰতত্ত্ব।
অষ্টোত্তর শতােপনিষৎ।
প্রথম খণ্ড।
তীর্থবিবরণ, মানবতত্ত্ব, সর্পাঘাত, ব্রহ্মচর্য,
ঋগ্বেদ,সঙ্গীতমালা প্রভৃতি গ্রন্থ প্রণেতা।
শ্রীমহেন্দ্রচন্দ্র তত্ত্বনিধি বিদ্যাবিনােদ কর্তৃক
সম্পাদিত।
। না প
কুমিল্লার উকীল-ঐবিশ্বেশ্বর চট্টোপাধ্যায়
কর্তৃক প্রকাশিত।
কুমিল্লা-সিংহ যন্ত্রে শ্রীললিতচন্দ্র চৌধুরী দ্বারা মুদ্রিত
১৩৩৪ সন।
মূল্য ॥ আনা

No text on this page.

ভূমিক। শ্ৰী শূক্ত মহেন্দ্র চন্দ্র তাপি মাশয় সাহিত্যক সমাজে সুপরিচিত। ইতিপূর্বে তিনি “মানবত’ নামে একখানা গবেষণাপূৰ্ব্বক গ্রন্থ প্রণয়ন করিয়। বঙ্গভাষার সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করিয়াছেন। সম্প্রতিক তিন বেদ বেদান্ত স্মৃতি, পুরাণ প্রভৃতি শাস্ত্র সমুদ্র বিলাড়নপূর্ব্বক ইহাদের সার সংগ্রহ করি। শাস্ত্র তত্ত্ব" নামক দ্বিতীয় সুবৃহৎ গ্রন্থ সুধীবর্গের নিকট উস্থিত করিতে প্রয়াসী হইয়াছেন। শাস্ত্ৰতত্ত্বের প্রথম ভাগ ৮ম খায় ঋগ্বেদের সুভ সংস্করণ ১২ ভাগ প্রকাশিত হইয়াছে। যাহারা এই সকল গ্রন্থ পাঠ করিয়াছেন তঁাহার। যে তাহার অসাধারণ পণ্ডিতার প্রমাণ পাইয়াছেন তাহার সঙ্গেই নাই। বর্তমানে শাস্ত্র তত্ত্বের তৃতীয় ভাগ প্রকাশের প্রয়াসী। ইহাতে হিন্দু শাস্ত্রর শীর্শ স্থানীয় উপনিষং সকল সহজবোধ্য বঙ্গানুবাদ ও ভাষ্য সহ প্রকাশ হইবে। ভারতীয় যাবতীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিকটই উপনিষং প্রামাণ্য। শাক্ত, শৈব, বৈষ্ণব, দ্বৈতবাদী, অদ্বৈতবাদী, বিশিষ্টাদ্বৈতবাদী, ভেদাভেদবঃদ সকলকেই ধর্গরাজ্যে উপনিষিদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করিয়া লইতে হয়। উপনিষদের প্রামাণ্য সম্বন্ধে কোনও মতভেদ নাই যাহা কিছু মতভেদ তাহা কেবল ইহাদের অংশ বিশেষের ব্যাখ্যার মধ্যেই বিবাদ। উপনিষদের অন্ততঃ প্রধান যে কয়খানি সেই কয়খানের জ্ঞান না থাকিলে অন্যান্য ধর্মশাস্ত্রের গূঢ় অর্থ অনেক সময় হৃদয়ঙ্গম হয় না। সুতরাং যাহাদিগের শাস্ত্র জ্ঞান লাভ করিবার ইচ্ছা তাহাদিগের সকলের পক্ষেই যে উপনিষদ পাঠ করা একান্তই প্রয়োজন ইহা বলাই বাহুল্য।

v কিন্তু সহজবোধ্য ও সুলভ মূলে। প্রথম উপনিষং সকলের এইরূপ কোনও সংস্করণ বঙ্গভাষায় আজ পর্যন্ত প্রকাশিত হয় নাই। কিছু পূর্বে পণ্ডিতপ্রবর শ্রীযুক্ত সীতানাথ তত্ত্ব ভূষণ মহাশয় সংক্ষেপে শঙ্কর ভাষ্যম সমন্বিত কয়েকখানা উপনিষদের উৎকৃষ্ট সংস্করণ প্রকাশ করিয়াছিলেন কিন্তু মূল্যের দিক দিয়া ইহাকে সুভ বলা যাইতে পারে না। তত্ত্বনিধি মহাশয় বঙ্গভাষার এই অভাব দূরীকরণ মানসে শাস্ত্র তত্ত্বের তৃতীয় ভাগে ভিন্ন ভিন্ন খণ্ডে আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত সব কয়খান উপনিষং সহজবােধ্য বঙ্গানুবাদ ও ভাষ্য সহ অতি অল্প মূল্যে প্রকাশ করিতে প্রয়াসী হইয়াছেন। প্রত্যেকখানা উপনিষদের মুল্য গড়পরতায় এক আনা ধার্য করা হইয়াছে, ইহা মুদ্রাঙ্কণের ব্যয়ই সংকুলন হইবে কিনা সন্দেহ। এই গ্রন্থ প্রণয়ণে তত্ত্বনিধি মহাশয়ের আর্থিক লাভ উদ্দেশ্য নহে, অবস্থা বিশেষে সকল শ্রেণীর শিক্ষিত লোকের নিকট গ্রন্থখানা সুলভ্য করাই তাহার উদ্দেশ্য। বর্তমান খণ্ডে প্রথমেই ঈশা, কেন, ব্রহ্মবিন্দু, ব্রহ্ম, নাদবিহু, হংস, নারায়ণ, ভিক্ষুক নামধেয় আট খানা উপনিষদ মূল ভাষা ও বঙ্গানুবাদ সহ প্রকাশিত হইয়াছে সহজবােধ্য বিধায়, নারায়ণের মাত্র বঙ্গার্থে প্রদত্ত হইয়াছে। এতং ভিন্ন উপনিং নামে অভিনব একখান গ্রন্থ ও পৃথক ভাবে মুদ্রিত হইয়াছে ; যদ্বারা উপনিষং তত্ত্ব সহজবােধ্য হইবে । প্রত্যেক উপনিষদের আরম্ভেই সহজবােধ্য বাঙ্গলায় ইহার মধ্যে কি কি জ্ঞাতব্য বিষয় আছে তাহা সন্নিবেশিত করা হইয়াছে। উপনিষৎ শীর্ষক উপক্রমণিকা খান পাঠ করিয়া পাঠক উপনিষদুক্ত তত্ত্ব সকলের একটা মোটামুটি জ্ঞান লাভ করিতে পারিবেন। তত্ত্বনিধি মহাশয় প্রাচীন ৭৫ বৎসর বয়স্ক। এই বয়সেও যে তিনি এই সুবৃহৎ এবং অত্যন্ত শ্রম ও ব্যয়সাধ্য ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করিয়াছেন-কেবল যে

হস্তক্ষেপ করিয়াছেন তাহা নহে, অসাধারণ উদ্যমের সহিত উহা সমাধা
করিবার ও যথাবিহিত চেষ্টা করিতেছেন-ইহা হইতেই জন সমাজে
উপনিষং জ্ঞান প্রচার করিবার জন্য তঁাহার কিরূপ তীব্র আকাঙ্ক্ষা
তাহা অনায়াসে উপলব্ধি করিতে পারা যায় ।
তত্ত্বনিধি মহাশয় -
যোচ বসক শতং জীবেকুসীতােহীনাবীবিয়ে।
একাহং জীবিতং সেয্যে বীবিয়মারভাতাদলহং ।
অর্থ—অলস এবং হীনবীৰ্য্য হইয়। শতবৎসর জীবিত থাকা
অপেক্ষা দৃঢ়বীৰ্য্য হইয়া এক দিবস বঁচিয়া থাকাও শেয়—এই বৌদ্ধ
বাক্যের সত্যতা হৃদয়ঙ্গম করিয়া যাবৎ আয়ু তাবৎ বঙ্গভাষার সেবা
করিবেন সঙ্কল্প করিয়াছেন । ভগবান তঁাহার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করুন।
কুমিল্লা
শ্রী প্রকাশচন্দ্র ন্যায়বাগীশ
১লা আশ্বিন ১৩৩৪ সন।
বি,এ।

গ্রন্থকারের নিবেদন পুরাকালে দেবত। ও ঋষিগণ বেদরূপ সমুদ্র মন্থন করিয়্য অমৃত উদ্ধার করতঃ তাহা পানে মৃত্যু হইতে মুক্ত হইয়া অমরত্ব লাভ করিয়াছিলেন। উনিষং সকলই সেই বেদ মন্থনলব্ধ অমৃত, বেদান্ত ও শ্রুতি নামে কথিত। বেদের চরম জ্ঞান, উপদেশ ও শিক্ষা ইহাতে নিবদ্ধ রহিয়াছে। আধ্যাত্মিক জীবন লাভের উপদেশাবলীতে তাহা পূর্ণ এবং দার্শনিক বিষয়েব ও সমাবেশ সন্নিবেশিত ব্ৰহ্ম বিদ্যালাভের একমাত্র পন্থা। পরমাত্মার সহিত জীবাত্মার এবং পরিদৃশ্যমান জগতের সম্বন্ধ ও বজ্জাত বিহিত বিষয়ের আলোচনা ইত্যাদি উপনিষদের উদ্দেশ্য। উপনিষং সকল অতি প্রাচীন উন্নত যুগের অসম্প্রদায়ীক প্রামাণ্য গ্রন্থ ; ইহাতে জীবাত্মা ও পরমাত্মার অভেদ জ্ঞান ও সাধনার প্রণালী, ব্রহ্মের সগুণ ও নির্ণত উভযই সবিস্তার বর্ণনা করা হইয়াছে। জীবাত্মা ও পরমাত্মা যে ভিন্ন নহে “তত্ত্বমসি” প্রভৃতি শ্রুতি বাক্যে তাহ। প্রতি হইয়াছে। তিনিই জগতের নিমিত্ত ও উপাদান কারণ, তাহ হইতে বিশ্বের সৃষ্টি, তাহাতেই স্থিতি এবং তাহাতেই লয় । “বথেনিনাভি জাতে গৃহত চ’"। যেরূপ উর্ণনাভি নিজ শরীর হইতেই তাহার তন্তু সকল বিকাশ করে এবং দেহেই সংগ্রহ করে, তদ্রুপ সৃজনকর্তা পরমাত্মা হইতেই পরিদৃশ্যমান জগতের সৃষ্টি, স্থিতি লয়। তিনি সর্বশক্তিমান ও জ্ঞানের আধার, জীবের হৃদয় গহ্বরে অধিষ্ঠিত, অাত্মার আত্মা, প্রতিপালক, চালক ও উপদেষ্টা তিনিই জীবভাবে অবিার নির্লিপ্ত ভাবে দ্রষ্টা। মুণ্ডক শ্রুতি বুলিতেছেন- • দ্বা সুর্ণ। সুযুজ। সখীয়া সমান বৃক্ষং পরিষস্বজাতে তয়োরণ্য পিপপলং সদ্বত্ত্যনন্যোহভিচাকশীতি। অর্থাৎ দেহরূপ বৃক্ষে দুইটি পক্ষী পরস্পরের সহিত সংযুক্ত থাকিয়া সখ্যতা ভাবে বাস করেন। এক জন বিষয়রূপ সুস্বাদু ফল ভক্ষণ করিতেছেন, অপর কেবল দৃষ্টা মাত্র। অবিদ্যা বাসনা জনিত কৰ্ম্মফল ভোক্তা সূক্ষ্ম গুণময় দেহাবস্থত, অহং বুদ্ধিবিশিষ্ট, মনােময় কোষাধিষ্ঠিত চৈতন্যই জীবাত্মা এবং আনন্দময় কোষমধ্যস্থ সৰ্বব্যাপী দুষ্টাই পরমাত্মা নামে কথিত। দেহাত্মবুদ্ধি দ্বারা মুহ্যমান জীব পরমাত্মাকে জানিতে পারে না; উপনিষৎ পাঠে অাত্মতত্ত্বজ্ঞান লাভ হইয়া থাকে। শ্রুতি বলেন--আদিতে সকলই এক ব্ৰহ্ম বা, ব্রাহ্মণ ছিলেন, কৰ্ম্ম গুণে চাতুবণ্যের সৃষ্টি হইলে ক্ষত্রিয় রাজগণই পরা বা অক্ষর ব্ৰহ্মবিদ্যা লাভের উপদেষ্টা ছিলেন। ছান্দোগ্য ও বৃহদারণ্যক উপনিষদে কথিত আছে, রাজা জনক, প্রবহণ জৈবালি, চিত্ররাজ, কাশীরাজ, অজাতশত্রু অশ্বতি, সনৎকুমার দেব সেনাপতি স্কুল প্রভৃতি ক্ষত্রিয় রাজগণ ব্রহ্ম- বিদ্যার উপদেষ্টা ছিলেন। ছান্দোগ্য শ্রুতিতে উল্লেখ আছে গৌতম ঋষি ব্ৰহ্মবিদ্যা লাভ জন্য রাজা প্রবহন জৈবালি সমীপে গমন করিয়া ব্রহ্মবিদজ্ঞান লাভের প্রার্থী হইলে জৈবলি বলিয়াছিলেন হে গৌতম আপনি যে ব্রহ্মবিদ্যা আমার নিকট প্রার্থনা করিতেছেন, এই বিদ্যা আপনার পূর্বে অন্য কোন ব্রাহ্মণ লাভ করেন নাই, সেইজন্যই লােক সকল ক্ষত্রিয়ের শাসনাধীন। উপনিষদে নিঃস্বার্থ পবিত্র ভাবে গাহস্থাশ্রমে থাকিয়া বেদবিধানুসারে জীবনযাত্রা করাই সর্বতােভাবে সমর্থন করা হইয়াছে। প্রায় সকল রচয়িতাই গৃহী এবং সেই মনীষিগণ গাহস্থ্য জীবনেই বিমল শান্তির ৩ !

গান গাইয়া গিয়াছেন। নিরতিশয় কৃচ্ছ, সাধন, কিম্বা সাংসারিক বিষয়ে ঔদাসিন্য বা একান্ত আশক্তি আধাত্মিক উন্নতির সহায়তা করা, তঁাহারা স্বীকার করেন নাই। মধ্যবর্তী পন্থা-সত্য সঙ্কল্প, সদাচার, সরলতা, অহিংসা, আত্মসংযম, ধ্যান, ধারণাদি দ্বারা বিষয় বাসনা দূর ও চিত্তশুদ্ধি করাই শ্রেয়স্কব। ঈশা, কেন মধয় বহু উপনিষৎ গ্রন্থ বৰ্তমান আছে, কিন্তু উপনিষং নামে কোন গ্রন্থ বাঙ্গালা ভাষায় থাকা অামরা জ্ঞাত নহি; সেইজন্য ব্ৰহ্মবিদ্যা জানিবার সহজ উপায় সমন্বিত উপনিষৎ” নামধেয় একখানা গ্রন্থ আমরা প্রকাশ করিয়াছি। ইহাতে উপনিষৎ সকলের নাম, সংখ্যা, কোন্ বেদেব অন্তর্গত কোন্ উপনিষং, শান্তিপাঠ মন্ত্র সকল এবং আত্মার বিশ্বব্যাপকতা, সৃষ্টিতত্ত্ব, দেহান্তর গ্রহণ, লয়রহস্য, পরলোক- রহস্য, পুনর্জন্ম ইত্যাদি বিবিধ বিষয় সকল সহজ ও সংক্ষিপ্ত ভাবে লিখিত হইয়াছে। উপনিং সকল দুর্মুল। ও দুষ্প্রাপ্য যদ্ধেতু ইচ্ছা স্বত্বেও অনেকে তাহ। পাঠ করিতে ‘ারে না, আমরা এই অসুবিধা দূরীকরণ মানসে বহু অর্থ ব্যয় করিয়াও নাম মাত্র মূল্য ছোট বড় সমস্ত উপনিষদের গড়ে এক আন। প্রত্যেকের মুল্য বাৰ্যে অষ্টোত্তরশতােপনিষং মুদ্রণ কায্যে হস্তক্ষেপ করিয়াছি। উনিষং মধ্যে ঈশা, কেন, কঠ প্রশ্ন, মুক, মাণ্ডুক্য, ঐতরেয়, তৈত্তিরীয়, শ্বেতাশ্বতর, কৌতিকী, ছান্দোগ্য ও বৃহদারণ্যক অতি প্রাচীন ও সর্বশ্রেষ্ঠ। এই কয়খানি শাঙ্করভাষা আছে এবং ব্রহ্ম, কৈবল্য, জাবাল, শ্বেতাশ, হংস, আরুণি গর্ভ, নারায়ণ পরমহংস, বিন্দুনাদ, শিরা ও শিখ। উপনিষদ সকল ও শ্রেষ্ঠ বলিয়া কথিত। এতং ভিন্ন বহু অনতিপ্রাচীন উপনিষৎ ও অষ্টোত্তরশত মধ্যে স্থানপ্রাপ্ত হইয়াছে। আমরা খণ্ড খণ্ড আকারে প্রত্যেক খণ্ডের মূল্য | অটি অনা ধাৰ্যে প্ৰকাশ করিব। আশা করি যােড়শ খণ্ডে সমাপ্ত হইবে, প্রত্যেক খণ্ডে গ্রন্থের আকার দৃষ্ট ৮ পেজি ফৰ্ম্ম। বিংশতি ফৰ্ম্মর নৃন হইবে না। বােম্বাই বেণ্টকেট, প্রেসের মুদ্রিত উপ- নিষ।বনে মূল ভাষ্যও বঙ্গার্থ এবং সহজবোধ্য জন্য প্রত্যেক উপ- নিষদের পূর্বে সংক্ষেপে গ্রন্থের উদ্দেশ্য বিবৃত হইয়াছে। এই গ্রন্থ প্রকাশে ব্যক্তিগতভাবে ধর্মযােগ প্রণেতা মনীষা শ্ৰীযুক্ত বাবু প্রকাশচন্দ্র ন্যায়বাগীশ বি, এ মহােদয় নানাপ্রকার উপদেশ প্রদান, মধ্যে মধ্যে সংশােধন, প্রথম খণ্ডের ভূমিকা লিখিয়া দিয়াছেন এবং পণ্ডিতপ্রবর শ্ৰীযুক্ত রজনীকান্ত কাব্য ব্যাকরণতীর্থ মহােদয় প্রথম খণ্ডের উপনিষদগুলির সংশােধন করিয়া সাহায্য করিয়াছেন তন্নিমিত্ত চির বাধিত এব° এই গ্রন্থ প্রকাশে মহামহোপাধ্যায় শ্রীযুক্ত দুর্গাচরণ সাংখ্য বেদান্ততীর্থ, শ্রীযুক্ত শ্যামাল গােস্বামী, শ্ৰীযুক্ত সীতানাথ তত্ত্বভূষণ, স্বর্ণীয় উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় শ্রীযুক্ত বাবু হরিপদ চট্টোপাধ্যায় মহোদয়গণের প্রকাশিত গ্রন্থ সকল হইতে যথেষ্ট সাহায্য প্রাপ্ত হইয়াছি, জন্য তাহাদের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতেছি। উপসংহারে বিনীত নিবেদন এই যে পূজার বন্ধ বলিয়া প্রেসের কা। বাহুল্যে প্রথম খণ্ডে ঈশা, কেন, ব্ৰহ্মবিন্দু, ব্রহ্ম নাদবিন্দু, হংস, নারায়ণ, ভিক্ষুক এই আটখান। উপনিষৎ প্রকাশ হইল যদ্ধেতু কঠ ছাপ। করিতে পারা গেল না। দ্বিতীয় খণ্ডে কঠ প্রভৃতি উপনিষং সব প্রকাশ হইবেক। এই খণ্ডে ৮ খান উপনিষদ । • আনা মূল্য ধার্য্যে প্রকাশ হইল, যাহারা অগ্রিম মুল্য ১ টাকা দিয়া গ্রাহক হইবেন তাঁহার। ৬, টাকা মূল্যে সমস্ত গ্রন্থ পাইবেন এবং উপনিষং নামক সতন্ত্র মূল্যের প্রায় শত পৃষ্ঠার একখানা গ্রন্থ উপহার স্বরূপ পাইবেন । তাড়াতাড়ি প্রুফ দেখার দোষে বহু বর্ণাশুদ্ধি ঘটিয়াছে পাঠকগণ সহৃদয়তাগুণে মার্জনা করিবেন । বিনীত - কুমিল্লা,- ১৩৩৪ বাং। শ্রীমহেন্দ্রচন্দ্র রায়।

No text on this page.

উৎসর্গপত্র
যাহার আন্তরিক সাধনা ও করুণায়, এই দীন
অভাজন নানা ঝঞ্জাবাতের মধ্যে পড়িয়া ও -
অকুলভবসাগরে অদ্যাপি ভাসমান থাকিয়া
শাস্ত্ৰতত্ত্ব প্রকাশরূপ দূরূহ কার্যে হস্তক্ষেপ
করিতে সমর্থ হইয়াছি ; সেই স্বর্গগতা
স্নেহময়ী মাতৃদেবী আনন্দময়ীর পবিত্র
নামে ব্রহ্মজ্ঞান লাভের পরমতত্ত্ব
অষ্টোত্তর শততাপনিষদের প্রথম
খণ্ড উৎসর্গীকৃত হইল।

No text on this page.

সূচীপত্র।
বিষয়
পৃষ্ঠা
৭-২০
২১-২৪
১। ঈশােপনিষৎ।
ঈশােপনিষদের সংক্ষিপ্ত
ঈশােপনিষৎ
মূল
ভাষ্য-বঙ্গার্থ
২। কেননাপনিষৎ।
কেনােপনিষদের সংক্ষিপ্ত
কেনােপনিষদ মূল ভাষ্য-বঙ্গার্থ
৩। ব্ৰহ্মবিন্দ পনিষৎ।
ঐ সংক্ষিপ্ত মূল ভাষ্য-বঙ্গার্থ
৪। ব্রহ্মোপনিষৎ।
ঐ সংক্ষিপ্ত, মূল ভাষ্য, বঙ্গাৰ্থ
৫। নাদবিন্দুপনিষৎ।
ঐ সংক্ষিপ্ত, মূল, ভাষ্য, বঙ্গাৰ্থ
৬। হংসােপনিষৎ।
ঐ সংক্ষিপ্ত, মূল, ভাষ্য, বঙ্গাৰ্থ
৭! নারায়ণগাপনিষৎ
৮। ভিক্ষোপনিষৎ ।
৭৭-৮৫
৮৬-৯৪
৯৮
৯৯ -১২

No text on this page.

ঈশােপনিষৎ ঈশোপনিষং শুরু যজুর্বেদীয় সংহিতা ভাগের অন্তর্গত ইহার অপর नांग বাজসনেয়সংহিতােপনিষৎ। প্রথমে ‘ঈশা” শব্দ-প্রযুক্ত থাকায় ইহাকে ঈশােপনিষং বলিয়া থাকে। শুক্ল যজুৰ্বেদীয় সংহিতার ৪৩টি অধ্যায় আছে, তন্মধ্যে প্রবন হইতে উনচত্বারিংশৎ অধ্যায় পর্যন্ত “দর্শপৌর্ণমাস যজ্ঞ হইতে অশ্বমেধাদি” কৰ্ম্মকাণ্ডেক্তি যজ্ঞ সকলের অনুষ্ঠানাদি বর্ণিত হইয়াছে, কেবল শেষ চত্বারিংশৎ অধ্যায়ে অষ্টাদশটি মন্ত্রে ব্রহ্মবিদ্যা প্রকাশক উপনিষং কথিত হইয়াছে। তত্ত্বজ্ঞান উপদেশীর্থে মহর্ষি ঈশা এই উপনিষদ রচনা করিয়াছেন। “ইহাতে কৰ্ম্মযােগের” সবিশেষ প্রশংসা করা হইয়াছে। ইহার প্রথমে “ঈশাবাস্যমিদ সর্ব: সংকিঞ্চ জগত্যাং জগৎ” এই মন্ত্রে অভিহিত হইয়। “অগ্নে নয় সুথারায়ে অস্মা” মন্ত্র পরিসমাপ্তি হইয়াছে। মন্ত্র সংখ্যা অষ্টাদশ! ভগবান শ্ৰীমচ্ছরাচাৰ্য্য ইহার ভাষ্য করিয়াছেন। এই উপনিষদের প্রধান উদ্দেশ্যই ব্ৰহ্মজ্ঞানকে মনুযযার আকাঙ্ক্ষার বস্তুর উপর স্থান দেওয়া। গুরুগৃহে শিক্ষা সমাপনের পর গুরু যেন শিষ্যকে শেষ উপদেশ দিতেছেন এই ভাবে লিপি হইয়াছে। মনুষ্যের পক্ষে জ্ঞান লাভের দুইটি পথ আছে. একটি ব্ৰহ্ম জ্ঞান, অপরটী বেদ নির্দিষ্ট কৰ্ম্ম সাধন। যাহারা ব্ৰহ্মর স্বরূপ নির্ণয়ে সমর্থ, তাঁহারা বিশ্ব জগতের ছােট বড় সমুদয় বস্তুকেই ঈশ্বর বলিয়া মনে করিতে পারেন; কেন না জাগতিক পদার্থ মাত্রই ঈশ্বরের মহিমান্বিত।

২ ঈশােপনিষৎ। ব্ৰহ্মজ্ঞানের নিকট অপরাপর জ্ঞান সমস্ত ধ্বংশ প্রাপ্ত হয় ; এবং ব্ৰহ্মজ্ঞানী মানব পার্থব বস্তুর আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করেন। যদি মনুষ্য মনের ও ইন্দ্রিয়গ্রামের উর্দ্ধে উঠিতে সমর্থ হয়, এবং সমস্ত জীবে লীন হয় ও সমস্ত জীব যদি তা হাতে লীন হয়, তবেই সে চরম লক্ষে উপনীত হইয়াছে এমত বলিতে হইবে। পক্ষান্তরে মনুষ্য যদি এতদূর উর্দ্ধে উঠিতে সমর্থ না হয়, তবে তাকে বেদ বর্ণিত ক্রিয়াকলাপগুলি পালন করিতে হইবে । এই দুই পথের যে কোন পথে যথারীতি চলিতে পারিলেই মানব মৃত্যুর পর সুখ লাভে সমর্থ হয়; এবং পরম ব্রহ্মজ্ঞান লাভের জন্য প্রস্তুত হইতে পারে। এই দুই পথ দ্বারা মানব যে জ্ঞান লাভ করে তাহা পরমব্রহ্মজ্ঞানের ফলের তুলনায় ক্ষণস্থায়ী ও নিম্নবর্তী যেহেতুক একমাত্র ব্রহ্মেই পূর্ণজ্ঞান ও সুখ বৰ্তমান। আমাদের উদ্ধে, অধে, সন্মুখে, পশ্চাতে, অন্তরে, বাহিরে, জাগতিক সমস্ত পদার্থে সজীব চৈতন্য স্বরূপে বৰ্তমান আছেন। যে সকল পদার্থ ইন্দ্রিয়াদির অগোচর, অথবা যে সকল বস্তু ইন্দ্রিয়গােচর তৎ- সমস্তই একমাত্র ব্রহ্ম সত্বায় পরিব্যাপ্ত। এই সমস্ত জগৎই পূর্ণব্রহ্ম হইতে অভিব্যক্ত হইয়াছে ; সুতরাং বাসন পরিত্যাগপূর্বক স্ত্রী- পুত্র-পশ্বাদি-ধন-জন-সম্পদ লাভের বাসন। রাহিত্যে একমাত্র ঈশ্বর চিন্তনে “আত্মাই সমস্ত জগৎ এবং সমস্ত জগতই আত্মরূপ” এই ভাবাপন্ন হওয়াই মানব জীবনের জীবনের চরম উদ্দেশ্য। যাহাই এই গ্রন্থে প্রদর্শিত হইয়াছে। মক্স সমূহেৱ সাৰাংশ। প্রথম মন্ত্রের বর্ণিত বিষয়-স্থাবর জঙ্গমাত্মক পরিদৃশ্যমান বিশ্ব- জগৎ সর্বব্যাপী ব্ৰহ্ম কর্তৃক অন্তরে বাহিরে সর্বতােভাবে পরিব্যাপ্ত ঈশােপনিষৎ। রহিয়াছে, তিনিই জগতের আধারভূত নিমিত্ত কারণ সত্যস্বরূপ, একমাত্র তাহার সত্তাতেই জগং পরিপূর্ণ ; তিনিই জীবরূপে সৰ্ব্বদেহে বৰ্ত্তমান আছেন ; এবং এই জগৎ বস্তুতঃ মিথ্যা হইয়াও তাহাকে আশ্রয় করিয়াই সত্যের ন্যায় প্রতিভাত হইতেছে। পরমাত্মারূপী আমিই জগৎ, এতৎভিন্ন জগতের আর পৃথক সত্তা নাই, এইরূপ সত্য জ্ঞানের উদয় হইলে মানবের সােহহং ভাব উপস্থিত হইয়া ব্ৰহ্মভাবাপন্ন হয়েন ; তখন স্ত্রী, পুত্র, ধন, সম্পদাদিলাভের কামনা থাকে না। সুতরাং জাগতিক সৰ্ব্ব পদার্থে আত্মদর্শন এবং আত্মাতে সৰ্ব্বভূত উপলব্ধি করিবার জন্য সর্ব বিষয়ে কামনা পরিত্যাগ করতঃ ঈশ্বর চিন্তন করিবে। ইহাই নিবৃত্তিমার্গানুগামী পন্থা। দ্বিতীয় মন্ত্রে এই উপদেশ প্রদত্ত হইয়াছে যে যাহারা নিবৃত্তি- ধৰ্ম্মানুপালনে অক্ষম, ভোগাভিলাষী ও আত্মতত্ত্ব জ্ঞান লাভে অসমর্থ তাহারা জীবিতকাল শতবর্য পর্যন্ত বেদবিহিত কৰ্ম্ম কাণ্ডোক্ত কৰ্ম্ম সকল ফলাকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগপূৰ্ব্বক অনুষ্ঠান করিবে। তাহা হইলেই কর্মে লিপ্ত হইবে না; যেহেতুক সৎকৰ্ম্মানুষ্ঠান ব্যতীত অশুভ হইতে নিজকে রক্ষা করিবার অন্য উপায় নাই, বাসনা না থাকিলেই কম্মের বন্ধন থাকে না। তৃতীয় মন্ত্রের অর্থ এই যে যাহার আত্মার অজর, অমর ভাব সকল ভুলিয়া তাহাকে জরা মরনাদি ভাব সম্পন্ন বলিয়া জানে, তাহারাই আত্মতত্ত্বজ্ঞানহীন অজ্ঞ লোক। মৃত্যুর পর তাহারাই আত্মবিস্মৃতির ফলে অসুৰ্য্য নামক ঘাের তমসাচ্ছন্ন লােকে গমন করতঃ বারম্বার সংসারে, জন্ম মৃত্যুর দুঃখ অনুভব করিয়া থাকে। সুতরাং আত্মার অমরত্ব ভাবই সাধনার বিষয়।

৫০ ঈশােপনিষৎ। চতুর্থ মন্ত্র বলা হইয়াছে আত্ম স্বরূপ ব্ৰহ্ম এক, নিশ্চল অথচ মন হইতেও বেগবান। ব্ৰহ্ম এত্তার প্রভাবেই মন ও ইন্দ্রিয়সকল অন্তরে, এবং বায়ু প্রভৃতি বাহিরে বিবিধ কৰ্ম্ম সম্পাদন করিতেছে । পঞ্চম মন্ত্রে ব্রহ্মের সৰ্বব্যাপিকত্ব স্বরূপ প্রকাশ করা হইয়াছে। তিনি অচল এবং নিষ্ক্রিয় হইয়াও সচল –সক্রিয় নিকটে --দূরে— অন্তরে-বাহিরে সর্বত্র সর্বভাবে বিরাজমান। অর্থাৎ অজ্ঞানতা বশতঃ যাহারা ব্ৰহ্মকে নিজ হইতে পৃথক মনে করে, তাহাদের সম্বন্ধে তিনি দূরে এবং যাহারা যােগবলে অভিন্ন ভাবে তাহাকে উপলব্ধি করিতে পারেন, তাহাদের নিকট তিনি অতি নিকট, অন্তরের অন্তরে অবস্থিত ষষ্ঠ মন্ত্রের অর্থ এই যে-যিনি আত্মাতে সৰ্বসৃষ্ট পদার্থকে অভিন্ন ভাবে দর্শন করেন এবং সৰ্ব্বভূতে আত্মস্বরূপ অনুভব করেন ; তিনি সৰ্বাত্ম দর্শনের ফলে কাহাকেও ঘৃণা করেন না অর্থাৎ দৈহভাব না থাকায় সকলকেই আত্মরূপে প্রীতি করিয়া থাকেন। সপ্তম মন্ত্রে বলা হইয়াছে—সমস্ত সৃষ্ট পদার্থে আত্মজ্ঞান জন্মিলে অর্থাৎ বিশুদ্ধ আত্মার স্বরূপতা সন্দর্শন করিতে পারিলে, জ্ঞানীর শােক ও মােহ থাকিতে পারে না। অষ্টম মন্ত্রে ব্রহ্মের স্বরূপ বর্ণনা করা হইয়াছে যথা-ব্রহ্ম অতীব দীপ্তিমান, অক্ষত, অমর, ব্রণরহিত, শুভ্র, স্থল, সূক্ষ্ম, শরীরবর্জিত, সর্বদর্শী, সর্বজ্ঞ, শুদ্ধ এবং অপাপবিদ্ধ। নন টতে চতুর্দশ এই ছয়টি মন্ত্রের তাৎপৰ্য এই যে দেবতা চিন্তন ও কর্মের ফল এ নহে। যাহারা আত্মজ্ঞানের অধিকারী তাহাদের পক্ষে কেবল কৰ্ম্মানুষ্ঠান, কিম্বা কেবল দেবতা চিন্তনরূপ ঈশোপনিষৎ। ৫ উপাসনাদি উভয়ই অনিষ্ট ফলপ্রদ , কিন্তু একত্রে জ্ঞান ও কর্মের সদানুষ্ঠানে যে শুভ ফলােদয় হয় তাহার স্বরূপ বলা হইয়াছে। যাহারা অবিদ্যা বা দেবতা চিন্তনে তৎপর, তাহারা অহমাদি অভিমানাত্মক অজ্ঞানে বিমােহিত হইয়া সুরলােক প্রাপ্ত হইলেও মােক্ষলাভ পাইতে পারে না। আত্ম পুরুষের শোক মােহাদি নাশ পাইয়া থাকে, এবং আত্মজ্ঞান হীন ব্যক্তিকে পুনঃ২ জন্ম মরণজনিত ক্লেশ ভােগ করিতে হয়। সমষ্টি ও ব্যষ্টিভূত প্রকৃতি ও হিরণ্য গর্ভাদির স্বতন্ত্র উপাসনাদি ও মােক্ষ লাভের অন্তরায়, ইহাদের একত্ৰ চিন্তনাদি কাৰ্য্যই শুভ ফলপ্রদ। সুতরাং সংসার সন্তপ্ত ব্যক্তির সর্বদা পরমাত্মার অনুধাবন করাই মােক্ষ লাভের একমাত্র উপায়। পঞ্চদশ মন্ত্রে অদিত্য সমীপে ব্ৰহ্মতত্ত্ব লাভের প্রতিবন্ধক মায়া” অপসরণ করিবার নিমিত্ত প্রার্থনা করা হইয়াছে। অবিদ্যা, মায়া, বাসনাই মুক্তির অন্তরায়, মায়া দ্বারাই সত্য আচ্ছাদিত। যােড়শ মন্ত্রে “সােহহং” তত্ত্বের অবতারণা করা হইয়াছে। সৃষ্টির বিচিত্র আধার সূৰ্যমণ্ডলের “তেজ” অপসরণ করতঃ কল্যাণপ্রদ ব্ৰহ্মস্বরূপ অবলােকনার্থে পুষা বা সূৰ্য্য সমীপেই প্রার্থনা করা হইয়াছে। ইহার তাৎপৰ্য এই যে অবিদ্যা বা মায়া দ্বারা আবৃত থাকিয়া সৰ্বব্যাপী আত্মার স্বরূপ দর্শনে বঞ্চিত আছি। মায়া বিদূরীত হইলেই আমি ও পরমাত্মা যে এক, এই সােহহং তত্ত্ব উপলব্ধি করিতে পারিব। সপ্তদশ মন্ত্রটি মৃত্যুর প্রাক্কালীন প্রার্থনা, ইহাতে বলা হইয়াছে- প্রাণবায়ু মহাবায়ুতে বিলীন হউক, দেহ অগ্নিতে দগ্ধ হইয়া ভস্মিভূত হে চিন্তনশীল মন! তুমি আজীবন কৃতকর্ম সমূহ ও কর্তব্য বিষয় ব্ৰহ্মপ্রতীকস্বরূপ ওঙ্কার স্মরণ কর। হউক।

৬
ঈশোপনিযৎ।
-
অষ্টাদশ মন্ত্রে সংপথে লইবার জন্য মুমূর্ষের প্রার্থনা করা হইয়াছে -
এই মন্ত্রী নিবৃত্তিমার্গ গমনে উৎসুক উপাসক কর্তৃক ব্ৰহ্মলােকে গমন
নিমিত্ত, অগ্নিরূপী সগুণ ব্রহ্মের নিকট উপাসনায় অসমর্থ হইয়া পুনঃ পুনঃ
নমস্কার দ্বারা প্রার্থনা করা হইয়াছে।

ঈশােপনিষৎ ।
বা
শুক্ল যজুর্বেদীয়া
বাজসনে সংহিতোপনিষৎ।
শান্তি পাই।
ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে।
পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে।
ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।
হরিঃ ওঁ ।
শান্তি পাঠের বঙ্গর্থি-ইন্দ্রিয় সকলের অগে চর সূক্ষ্ম পদার্থ ও
ইন্দ্রিয়ের গােচরীভূত পদার্থ সমূহ ব্ৰহ্মদ্বারা পরিব্যাপ্ত, এবং নিখিল
জগত পরিপূর্ণ ব্ৰহ্ম হইতে প্রকাশিত হইয়াছে। পূর্ণ স্বভাব ব্রহ্মেব
পূর্ণতা দ্বারা জগতব্যাপ্ত হইলেও ব্রহ্মের পূর্ণতার হাস হয় না।
১। ঈশা বাস্যমিদং সর্বং যৎকিঞ্চ জগত্যাং জগৎ।
তেন ত্যক্তন ভুঞ্জীথা মাগধঃ কস্যম্বি ধনম্।
শাঙ্কর গষ্যম্।
ঈশা বাস্তমিত্যাদি—ঈশ-ইষ্টে ইতী, তেন—ঈশা। [ ঈশিতা
পরমেশ্বরঃ পরমাত্মা সৰ্বস্ত। সহি সৰ্বমীষ্টে সৰ্বজনামাত্মা সম্

ঈশােপনিষৎ। প্রত্যগাত্মতয়া তেন ষেন রূপেন অত্মনা ]ঈশা বাস্য ( আচ্ছাদনীয়)। [ কিম্ ? ইদং সর্বং যৎকিঞ্চ (যং কিঞ্চিং) জগত্যা (পৃথিব্যাং) জগৎ ( তং সর্বং স্বেন আত্মনা ( ঈশেন) প্রত্যঙ্গাত্ময় অহমেব ইং সৰ্ব্বং ইতি ] তেন ত্যক্তেন (ত্যাগেন ) [ ন হিত্যক্তো মৃতঃ পুত্রো বা ভূতত্যা বা আত্মসম্বন্ধিতায়৷ অভাবাং আত্মনিং পালয়তি অতন্ত্যাগেন ইতি অয়মেব বেদার্থঃ ] ভুঞ্জিথা ( পালয়েথাঃ) { এবং তক্তৈষণ ক] মা গৃপঃ (গৃধিমাকাঙ্ক্ষাংমা কার্ষীধনবিষয়াম্) কম্বিং ধনং কস্যচিং (পরস্য স্বস্য বা ধনং মা কাক্ষরিত্যর্থঃ) ন কস্যচিং ধনমস্তি, যদ গৃধ্যেত আত্মৈবেদং সৰ্ব্বং ইতি ঈশ্বরভাবনয় সৰ্ব্বং ত্যক্ত অত আত্মন এ বেদং সৰ্বমাত্মৈব চ স মতে মিথ্য। বিষয়াং গৃধিং মা কার্ষীরিত্যর্থঃ ] ॥১॥ বঙ্গানুবাদ—সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডে যে সকল পদার্থ দৃষ্টিগােচর হয়, তং- সমস্তই আত্মরূপী ঈশ্বর দ্বারা আচ্ছাদন করবে অর্থাৎ কেবল পরমেশ্বরই সত্য, জগত উতে কল্পিত, সনস্তই মিথ্য। জ্ঞান পূর্বক ( ধ্বংশশীল ) জগতের সত্যতাবৃদ্ধি লােপ করিবে। কেননা তদ্রপ জ্ঞান জন্মিলেই হৃদয়ে সংসারাশক্তি ত্যাগরূপ সন্ন্যাসের আবির্ভাব হইবে। সেই ত্যাগ- রূপ সন্ন্যাস দ্বারা আত্মার অদ্বৈত নির্বিকার ভাব সংরক্ষণে তৎপর হও। অন্যের ধন প্রাপ্তির বাসনা করিওনা, কেননা সমস্ত পদার্থে আত্মস্বরূপ পরমেশ্বর ব্যাপ্ত থাকায় নিখিল জগৎই আত্মার অভিব্যক্তি, সুতরাং কাহার ধনের আকাঙ্ক্ষা করিবে? তাৎপৰ্য এই যে জগতের সমস্ত পদার্থই মিথ্যা; সুতরাং মিথ্যা স্ত্রী-পুত্র-ধন প্রাপ্তি বাসনা পরিত্যাগ পূৰ্বক সর্বত্র একমাত্র ঈশ্বর বিদ্যমান এই চিন্তা দ্বারা অত্মজ্ঞান লাভের চেষ্টা কর ॥১॥ ২। কুৰ্বন্নেবেহ কৰ্ম্মাণি জিজীবিষেৎ শতং সমা। এবং ত্বয়ি নাথেতােহস্তি ন কৰ্ম্ম লিপ্যতে নরে । ।

ঈশােপনিষৎ। শঙ্কর ভাষ্যম্- কুৰ্বন্নেবেতি। [নরঃ] কুৰ্ব্ব এব ইহ (নিৰ্বৰ্ত্তয়ব) কৰ্ম্মাণি । বর্ণাশ্রম বিহিতানি অগ্নিহােত্রাদীনি) জিজীবিষেং (জীবি- তুমিচ্ছেং) শতং (শত সংখ্যকঃ) সমঃ ( সম্বৎসরান্) [ তাবদ্ধি পুরুষস্য পরমায়ু নিরূপিত ] (১)। এবং ( এবম্প্রকারেণ ) ত্বয়ি ( জিজীবিষতি ) নরে (নরমাত্রাভিমানিনি) ইতঃ (এতস্মাৎ ) [ অগ্নিহােত্রাদীনি কম্মণি কুব্বতে বর্তমানা প্রকারাদন্যথা প্রকারান্তর নাস্তি, যেন প্রকারেণ অশুভং ] কৰ্ম্মন লিস্যতে (কৰ্ম্মনা ন লিপস্যসে ইত্যর্থঃ) অতঃ ( শাস্ত্রবিহিতানি কৰ্ম্মণি অগ্নিহােত্রাদীনি কুয়েব জিজীবিযেং)। কথং পুনরিদনবগন্যতে–পূৰ্বেণ মন্ত্রেণ সন্ন্যাসিনাে জ্ঞাননিষ্ঠোক্তা দ্বিতীয়েণ তদশক্ত কৰ্ম্মনিষ্ঠেতি ? উচ্যতে—জ্ঞান কৰ্ম্মণণাৰ্বিরােধং পৰ্বতবদকম্প্যং যথোক্তং ন স্মরসি কিম্ ? ইহাপুক্তম্-যােহি জিজী- বিযেৎ সকৰ্ম্ম কুব্ব। “ঈশবাল্যমিদমিতি” সন্ন্যাসশাসনাৎ। উভয়াে ফলভেদঞ্চ বক্ষ্যতি। “দ্বাবিমৌ পন্থানে অনুনিষ্ক্রান্তরে ভবতঃ --ক্রিয়াপথশ্চৈব পুরস্তাৎ, সন্ন্যাসশ্চোত্তরেণ নিবৃত্তি মার্গেণ এষণাত্রয়স্য ত্যাগঃ ॥২|| (১) বেদে শতবর্ষই মানব আয়ুর পরিমাণ ধাৰ্য্য হইয়াছে যথা- (ক) শতং জীব শরদে। বর্ধমানঃ শতং হেমংতাঞ্ছতমুবসংতান্। শত মিন্দাগ্নি সবিতা বৃহস্পতিঃ শতায়ুষ হবিষেমং পুনদু। ৪|১৬১সূ১০ ম ঋগ্বেদ। (খ) ইদং সু মে মরুতে। হর্ষতাে বচো যস্য তরমে তরসা শতং হিমঃ । ১৫৫৪৫ম ঋগ্বেদ। (গ) শতায়ুর্বৈপুরুষঃ শতং জীবতু। শ্রুতি। [ ২ ] ১০ ঈশােপনিষৎ। বঙ্গানুবাদ—শাস্ত্রবিহিত কর্মের অনুষ্ঠান পূর্বক শত বৎসর জীবন ধারণ করিবে, মনুষ্যত্বাভিমানী তুমি অত্মজ্ঞানবিহীন, কৰ্ম্মানুষ্ঠান ব্যতীত তোমার মঙ্গলের অন্য কোন উপায় নাই। যাহাতে কোন কাৰ্য তোমাতে সংলিপ্ত না হইতে পারে, তন্নিমিত্ত নিত্য নৈমিত্তিক শাস্ত্রবিহিত কৰ্ম্মানুষ্ঠান করাই তােমার পক্ষে সর্বথা কৰ্তব্য ॥২॥ আচাৰ্য্য দেব অপন ভায্যে এই মন্ত্রে নানাবিধ ভাবের অবতারণা করিয়া দেখাইয়াছেন। বেদ মানব আয়ু, শতবর্ষ নির্ধারিত করিয়া- ছেন- এই শতবর্ষ পরিমিত কাল আত্মতত্ত্বজ্ঞানের অনধিকারী মানব- গণ অগ্নিহােত্রাদি নিত্য ও নৈমিত্তিক কর্মের অাচরণ করিবে, কখনই কৰ্ম্ম হইতে বিরত হইবে না, যেহেতু অশুভ কাৰ্য্যের আক্রমণ হইতে মুক্ত পাইবার জন্য তদ্রুপ কৰ্ম্মানুষ্ঠান ভিন্ন অন্য উপায়ই নাই। পূর্ব মন্ত্রে কেবল ত্যাগীর বা সন্ন্যাসী সম্বন্ধে জ্ঞাননিষ্ঠার উপদেশ প্রদত্ত দ্বিতীয় মন্ত্রে অজ্ঞানী পুরুষ সম্বন্ধ কেবল কৰ্ম্মানুষ্ঠানে বিধান করা হইয়াছে। এক সন্ন্যাসী পক্ষে জ্ঞান ও কর্মানুষ্ঠান উভয় বিহিত হয় নাই ; কেননা জীবনেচ্ছু ব্যক্তি অবশ্যই কৰ্ম্ম করিবে এবং সন্ন্যাসী কৰ্ম্ম ত্যাগ ও ধনাকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করিবে, শ্রুতির বিধানমতে সন্ন্যাসী পুরুষ জীবন মরণের আকাঙ্ক্ষা করে না; কিন্তু কর্মী তাহা করে । “সন্ন্যাসী পুরুষ অরণ্যে গমন করিবে, সেখান হইতে আর ফিরিয়া আসিবে না” ইহাই বেদ বাক্য। ৩। অসূৰ্য্যা নাম তে লােকা অন্ধেন তমসাবৃতাঃ । তাংস্তে প্রেত্যাভি গচ্ছন্তি যে কে চাত্মহনন জনাঃ। হইয়াছে ; • (২) ভাষ্য--‘অসূৰ্য্যা: (সূৰ্যবিহীনঃ বা জ্যোতিবিহীন) অন্ধেন (অদর্শনাত্মকেন) তমসা ( অজ্ঞানেন) অ'বৃতাঃ তে লোকাঃ ঈশােপনিষৎ। ১১ [ সন্তি ] ; যে কে চ অত্মহনঃ জনাঃ ( আত্মানম্ মুন্তি হিংসন্তি অবিদ্যা দোষেণ বিদ্যমান অত্মানম্ তিরস্কুৱঁন্তি ইতি) তে প্ৰেত্য ( ইমং দেহং ত্যক্তা) তান্ (লােকান্) অভিগচ্ছন্তি (প্রাপ্ত বন্তি ) ॥৩ বঙ্গানুবাদ —যাহারা অত্ম তত্ত্বজ্ঞানবিহীন তাহারা মরণান্তে ঘােরতর অন্ধকারাবৃত অসুরােচিত অসূৰ্য্য লোকে গমন করিয়া থাকে। তাৎপৰ্য্য এই যে আত্ম। স্বতঃসপ্রকাশরূপে বিদ্যমান থাকা সত্বেও যাহারা অজ্ঞানতাবশতঃ অাত্মার স্বরূপ উপলব্ধি করিতে অক্ষম তাহা- রাই অত্ম হন, মরণান্তব তাহারা কমকল সংস'র বারম্বার জন্ম মৃত্যুর অধীন হইয়া থাকে ॥৩ (২) ভগবান শঙ্করাচার্যের ভয্য সুবৃহৎ ও নানাভাবে ভাবিত এবং ব্যাকরণাদির নানাতত্ব সমন্বিত সংস্কৃত ভাষানভিজ্ঞ জনগণের সহজবােধ্য নহে; সুতরাং আমরাঅনুবৃত্তি ভাষ্য ও অর্থানুভব জন্য প্রতি- শব্দাদি প্রদান করত সম্পূর্ণ ভায্য উদ্ধৃত করি নাই, বর্তমানে উপনিষদ সমূহের বিস্তৃত বহু সংস্করণ সুধীগণের পাঠার্থে প্রকাশিত হইয়াছে। যাহারা রীতিমতে সংস্কৃত শিক্ষালাভ না করিয়া উপনিষদোক্ত ব্ৰহ্মতত্ত্ব জানিতে চাহেন, তাহাদের জন্য আমাদের এই প্রয়াস। ৪। অনেজদেকং মনসােজবীয়ো নৈনদ্দে আপ্লব পূৰ্বমর্ষ। তদ্বাবতােহন্যানতত্যতি তিষ্ঠৎ তস্মিন্নপাে মারিশ্যা দধাতি ॥৪ ভাষ্যম্-“একং অনেজং ( অচলং) অপি মনসাজবীয়ঃ (বেগবওর মনস। অপ্রাপ্য। দেবাঃ (চক্ষুরাদীনি ইন্দ্রিয়ানি) পূৰ্বমর্ষ (পূৰ্বম্ এব গত) এনৎ (এতৎ ) ন আপ্নব (প্রাপ্তবস্তঃ ); তৎ তিষ্ঠৎ ( স্থিরম্ ) [ অপি ] ধাবতঃ ( দ্রুতং গচ্ছতঃ ) অন্যান্ (মনঃবাগিন্দ্রিয়-প্রভৃতী ) অততি (অতীত্য গচ্ছতি ইব) তমিন্ (পরমাত্মনি সতি) মাতরি ঈশােপনিষৎ। 2 ( মতিরি অন্তরীক্ষে শ্বসতি ইতি বায়ুঃ সৰ্ব্বপ্রাণী ভৃৎ ক্রিয়াত্মকঃ অপঃ ( কৰ্ম্মাণি-প্রাণিনাম্ চেষ্টালক্ষণানি) দধাতি (বিভজতি ধারয়তি বা) ॥৪ বঙ্গানুবাদ-আত্মা এক ও নিশ্চল হইয়াও মনাপেক্ষা সমধিক দ্রুতগামী বা বেগবান্। মারিশ্যা বা কৰ্ম্মফল বিধাতা হিরণ্যগর্ভ আত্মার সাহায্যেই জীবের বহুবিধ কর্মফল নিম্পাদন করিয়া থাকেন ॥৪॥ ভাষ্যমন্তব্য—এখানে আত্মার স্বরূপ বর্ণনায় বলা হইয়াছে আত্মা অচল, অথচ মন হইতেও দ্রুতগামী, দৃষ্টতঃ এই রূপ বিরুদ্ধভাব হইলেও ব্রহ্মের সােপাধিক ও নিরুপাধিক দুইটী অবস্থা ভেদে উভয় ভাবেরই সামঞ্জস্য হয়। যদৃচ্ছাভাবাপন্ন অন্তঃকরণরূপী মনে আত্মার অভিব্যক্তি হয় বলিয়াই মন সমন্বিত আত্মা সােপাধিক, সুতরাং আত্মা জবীয় বা বেগবান্। আবার সত্য, জ্ঞান, আনন্দ স্বরূপ ব্ৰহ্ম নিরুপাধিক অবস্থায় অনেজৎ বা নিশ্চল । ইন্দ্রিয়গণকে দেবগণের স্বতঃ প্ৰকাশীলতা রূপের তুলনায় দেব শব্দে অভিহিত করা হইয়াছে। ইন্দ্রিয়গণ মনের সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করিয়া থাকে, যখন মনই আত্মতত্ত্ব অনুভবে অসমর্থ তখন ইন্দ্রিয়াদি সাহায্যে অত্মতত্ত্বানুভাব কিরূপে হয় ? বস্তুতঃ একমাত্র আত্মার সদ্ভাবেই ইন্দ্রিয়াদির ক্রিয়া সম্পন্ন হইয়া থাকে । ৫। তদেজতি তজৈতি তদ, দূরে তদ্বন্তিকে। তদন্তরস্য সৰ্বস্য তদু সৰ্বস্যাস্য বাহ্যতঃ । ভাষ্যম-তৎ (ব্ৰহ্ম । এজতি ( চলতি ) তৎ ( ব্রহ্ম)ন এজতি (চলতি) তৎ দূরে, তৎ উ (ব্ৰহ্ম দূরে, অপি) অন্তিকে [ সমীপে ] তং অস্য সৰ্বস্য [জগতঃ] অন্তঃ [অভ্যন্তরে) তৎ অস্য সৰ্বস্য বাহ্যতঃ ॥৫ বঙ্গানুবাদ--আত্মা সচল ও নিশ্চল উভয় ভাবসম্পন্ন বটেন, আত্মা ঈশােপনিষৎ। ৬। অত্যন্ত দূরে অথচ অতি নিকটস্থ ও বটেন আত্মা পরিদৃশ্যমান নিখিল জগতের অভ্যন্তরে ও বহির্দেশে বিদ্যমান আছেন ॥৫ যস্তু সৰ্ব্বাণি ভূতানি আত্মবাে পশ্যতি । সৰ্ব্বভূতেষু চাত্মানং ততােন বিজুগুপ্সতে ৬ ভাষা—বঃ তু সৰ্ব্ব:ণি ভূতানি আত্মনিএব অনুপশ্যতি সৰ্ব্বভূতেষু চ আত্মনম, অনুপশ্যতি সঃ ততঃ ( তস্মাৎ এব দর্শনাৎ ] [ কিঞ্চিদপি ] • বিজুগুপ্সতে [ কস্যাপি ঘৃণাং ন করােতি ] ॥৬ বঙ্গানুবাদ—যিনি সৰ্ব্বভূত বা সৃষ্ট পদার্থকে আত্মতে দর্শন করেন, এবং সৰ্ব্বতে অত্মা দর্শন করেন, তিনি সৰ্ব্বাত্মভাব দর্শন নিবন্ধন কাহাকেও ঘৃণা প্রদর্শন করেন না। অথাৎ তঁাহার নিকট সকলই একাত্মভাব জন্মিয়া থাকে |৬|| ৭। যস্মিন্ সৰ্বাণি ভূতানি আত্মৈবাভূদ্বিজানতঃ। তত্র কো মােহঃ কঃ শােক একত্বমনুপশ্যতঃ । ভাষ্য—যস্মিন্ [ কালে ] বিজানতঃ | জ্ঞানিনঃ ] আত্মা এব সৰ্বাণি ভূতানি অভৃৎ [ তস্য একাত্মপ্রত্যয়ঃ প্রকাশতে] তত্র (তনি, কালে] [ এব] এক ত্বম, অনুপশ্যতঃ [দর্শনশীলস্য] কঃ মােহঃ কঃ [এব শােকঃ] [৭ বঙ্গানুবাদ- যে সময় সৰ্ব্বভূতই আত্মার সহিত এক এবং অভিন্ন বলিযা বোধ হয়, তখন একত্বদর্শী সেই জ্ঞানীর শোক মােহদি কিছুই থাকে না ; অর্থাৎ সৰ্ব্বভূতে একত্বশীর শোকই বা কি মােহই বা কি ? ফলত আত্মজ্ঞানবিমৃঢ় ব্যক্তিরাই শােকমােহে অভিভূত হইয়া থাকে ; তত্ত্বজ্ঞানিগণের শোক মােহাদির সম্ভাবনা নাই। স পৰ্যগচ্ছি,ক্রমকায় মন্ত্রণ মবিরং শুদ্ধমপাপবিদ্ধ।

১৪ ঈশােপনিযৎ। কবিৰ্মনীষী পরিভূঃ শ্বয়ম্ভু র্যাথাতথ্যােেহথা ব্যদধাচ্ছাশ্বতীভ্যঃসমাভ্যঃ। ভাষ্যম্-সঃ (পরমাত্মা) পরি ( সমস্যাং) অগৎ ( গতবান্ সৰ্বব্যপী ইত্যৰ্থঃ ) শুক্রম, (জ্যেতিষ্মৎ) অকায়ম, ( অশরীরম) অব্ৰণম, ( অক্ষতম্) অবিব (স্নাবাঃ শিরা যমিন, ন বিদ্যন্ত) শুদ্বপাপ- বিদ্ধ ( বিশুদ্ধ পাপবর্জিতম)। [ সঃ ] কবিঃ ( সৰ্ব্বদৃক,) মনীষী ( মনসঃ ঈশিতা নিয়ন্ত) পরিভূঃ ( সৰ্বেষাম, উপযুপরি ভবতি ইতি) সয়ঃ চ ( সঃ ] যাথাতথ্যতঃ ( সৰ্ব্বজ্ঞত্বাদ যথাভৃতঃ কর্ম সাধনতঃ ) শাশ্বতভ্যঃ ( নিত্যাভ্যঃ } সমাভ্যঃ (সম্বৎসরাখ্যেভ্যঃ সৰ্ব্বনি, কালে ইত্যর্থ: : অর্থান, (পদার্থনি) ব্যদধাত, ( বিহিতবান) ৮ বঙ্গানুবান—আত্মার স্বরূপ বর্ণিত হইতেছে—সেই পরমাত্মা আকাশের ন্যায় সর্বত্র ব্যপিয়া রহিয়াছেন, তিনি জ্যোতির্ময়, তিনি স্থূল সূক্ষ শরীর রহিত, অক্ষত শিরারহিত, নিৰ্ম্মল ও পাপপূণ্য সম্বন্ধ বৰ্জিত, ত্রিকালজ্ঞ, সর্বদর্শী, সর্বজ্ঞ, সর্বোপরি বিরাজমান আছেন ; তিনিই সংবৎসারথি শাশ্বত প্রজাপতিদিগকে সমুচিত কৰ্ম্মফল ও কর্তব্য সমূহ যথাযথরূপে বিভক্ত করিয়া দিয়াছেন ॥৮। ৯। অন্ধং তমঃ প্রবিশ্যন্তি যেহবিদ্যামুপাসতে। ততাে ভূয় ইবতে তমাে য উ বিদ্যায়াং রতাঃ। ভাষ্যম-“যে অবিদ্যাম, (বিদ্যায়াঃ অন্য অবিদ্যা তাম, অগ্নিহাে- এদিলক্ষণং কৰ্ম্মমাত্র, উদাসতে ( তৎপরঃ সন্তঃ অতিষ্ঠন্তি ) [ তে ] অন্ধং ( অদর্শনাত্মকং) তমঃ ( অজ্ঞান রূপং) প্রবিশন্তি। যে উ বিদ্য- যাংরতাঃ তে ততঃ ( তস্মাৎ ) ভূয়ঃ ইব ( বহুতরমেব ) তম প্রবিশন্তি ॥ বঙ্গানুবাদ-যে সকল ব্যক্তি অবিদ্যার উপাসনা করে অর্থাৎ জ্ঞান ঈশােপনিষৎ রহিত কৈবল্য কৰ্ম্ম-যেমন আত্মজ্ঞান লাভের প্রতিকুল অগ্নিহােত্রাদিক করিয়া থাকে, তাহারা অন্ধ তম বা অজ্ঞানান্ধকারে প্রবেশ করে। আবার যে সকল ব্যক্তি বিদ্যায় বা দেবতা চিন্তনে নিরত থাকে তাহারা তদপেক্ষ। অধিক অজ্ঞানতা 'কম্মের অাচরণ করিয়া থাকে এই মন্ত্রের তাৎপৰ্য্য এই—আত্ম জ্ঞানের অভাব ও ভােগাদি বিষয়ের অভিলাষই “আমি আমার” ইত্যাকার অভিমানাত্মক অজ্ঞানের মূল অগ্নিহোত্রা দি যজ্ঞানুষ্ঠানের ফল সুরলােক লাভ; এবং দেবতা উপাসন। প্রভৃতি বিহিত কৰ্ম্মানুষ্ঠান দ্বারা কখনই পরমাত্মজ্ঞান লাভ হইতে পারে না এই সকল কর্মের ফলও দেবলােক প্রাপ্তি কিন্তু পরমাত্মা জ্ঞানের ফলই—মােক্ষ প্রাপ্তি—যাহা একান্ত বাঞ্ছনীয়। ১০। অন্যদেবাহুর্বিদ্যায়হিন্যদেবাহুরবিদ্যুয়া। ইতি শুশ্রুম ধীরাণাং যে নশুদ্বিচচক্ষিরে । ভয্যম—বিদ্যা অন্যৎ ( পৃথক ) এব ( ফলম্ ইতি পণ্ডিত।) আহুঃ (বদন্তি ) অবিদয়া (কৰ্ম্মণা) অন্যৎ এব । যে নঃ ( অভ্যম,) তং (কম্ম চ জ্ঞানঞ্চ) বিচচক্ষিরে (ব্যাখ্যাতবন্ত ) { তেষাং ] ধীরাণ ( ধীমতাং ) [ বচনম ] ইতি (এব ) [ বয়ং } শুশমঃ (তবন্ত) ১০ বঙ্গানুবাদ-সুধীগণ বলেন বিদ্যা ও অবিদ্যার ফল পৃথক পৃথক, আমাদের নিকট যাহারা ঐ তত্ত্ব ব্যাখ্যা করিয়াছেন, সেই ধীর বা পণ্ডিতগণের নিকটেই আমরা ইহা শ্রুত হইয়াছি। অর্থাৎ বিদ্যা বা দেবতা চিন্তনরূপ কার্যের ফল “সুরলোক প্রাপ্তি” এবং অবিদ্যা বা যাগাদি কৰ্ম্মানুষ্ঠানের ফল ‘পিতৃলােক প্রাপ্তি” এমত শ্রুতির বিধান শুনিয়াছি ; এই সকল ফল লাভে পরমাত্মজ্ঞান হইতে পারে না।

১৬ ঈশোপনিষৎ ১১। বিদ্যাঞ্চাবিদ্যাঞ্চ যস্তদ্বেদোভয়ং সহ। অবিদ্যয়া মৃত্যুং তীত্ব বিদ্যয়ামৃতমশুতে। ভাষ্যম-যঃ বিদ্যাং চ অবিদ্যং চ তৎ উভয়ং সহ (একেনৈব পুরুষেণ উভয়ং অনুষ্টেয়ম ইতি) বেদ (জানাতি) [সঃ] অবিদয়া (কৰ্ম্মণা) মৃত্যুং ( স্বাভাবিকংকর্মজ্ঞানং) তীত্ব। ( অতিক্রম্য ) বিদয়া অমৃতম, ( অমৃতত্বম, দেবতাতুভাবং ! অণুতে ( প্রাপ্নোতি)।১১। বঙ্গানুবাদ—যে লােক জানে যে, বিদ্যা বা দেবতাজ্ঞান ও অবিদ্য। বা কৰ্ম্মানুষ্ঠান উভয়ের অনুষ্ঠান একত্রে হইতে পারে, সেই ব্যক্তি অবিদ্যা দ্বার মৃত্যুকে অর্থাৎ মুত্যুজনক কন্ম দিকে অতিক্রম করত, বিদ্যা বা দেবচিন্তন দ্বারা দেবতাত্মভাব লাভ করিতে পারে ॥১১ মন্ত্রের তাৎপৰ্য্য এই যে অবিবেকী লোক সকল যজ্ঞাদি কৰ্ম্মানুষ্ঠান কিম্বা দেবতার উপাসনা দ্বারা অত্ম তত্ত্ব লাভ করিতে না পারিয়া মৃত্যু ভয় দূর করিতে পারে না, অর্থাৎ তাহাদের কৰ্ম্মজনিত বারম্বার জন্ম মৃত্যু হইয়া থাকে। আত্মজ্ঞানির দেহ পাতের সঙ্গেই মুক্তি হইয়া থাকে। ১২। অন্ধং তমঃ প্রবিশন্তি যেহসতি মুপাসতে। ততাে ভূয় ইব তে তমাে যউ সম্ভত্যাং রতাঃ। ভাষ্য—“যে অসম্ভ, তিম্ ( অকারণাত্মিকান্ প্রকৃতিম) উপিসতে তে অন্ধ; তমঃ প্রবিশক্তি। যে উ সম্ভ,ত্যাং (কারণাত্মকে ব্ৰহ্মাণি ) রতাঃ তে ততঃ ভূয় ইব তমঃ [ প্রবিশন্তি ] । ১২। বঙ্গানুবাদ—যে সকল ব্যক্তিগণ অসম্ভতি বা প্রকৃতির আরাধনা করে তাহারা অন্ধতনে বা অজ্ঞন্ধিকারে প্রবেশকরে এবং যাহারা সম্প্রতি বা, হিরণ্যগর্ভাদি উৎপত্তিশীল দেবতারাধনা করে, তাহারা অধিকতর অন্ধকার বা অজ্ঞানে প্রবিষ্ট হয় । ১২। । l

ঈশােপনিষৎ
১৭
অন্যদেবাহুঃ সম্ভবাদন্যদাহুরসম্ভবা।
ইতি শুশ্রুম ধীরাণাং মে নস্তদ্বিচ্চক্ষিরে ।
ভায্যম্ -সম্ভবা (কারণাত্মকব্রহ্মো বাসনাং) অন্যং পৃথক ) এব
[ ফলম, উপদ্যতে ইতি পণ্ডিতাঃ ] আহু । বদন্তি ) অসম্ভবাৎ
( প্রকৃতেঃ উপাসনাৎ ) অন্যং ( পৃথক ) ফলম, আহুঃ । ইতি
যথ পূৰ্ব্বং | ১৩
বঙ্গানুবাদ—ধীর অর্থাৎ পণ্ডিতগণ সন্তুতি ও অসভুতির ফল পৃথক
পৃথক, এমত বলিয়া থাকেন। যাহারা উক্ত তত্ত্বের ব্যাখ্যা আমাদের
নিকট করিয়াছিলেন সেই ধীরগণের নিকট ইহা শ্রুত হইয়াছি।
১৪। সতিঞ্চ বিনাশঞ্চ যস্তদ্বদোভয়ং সহ।
বিনাশেন
মৃত্যু
তীত্ব। সস্তুত্যাহমৃতমতে।
ভাষ্যম,—“বঃ সম্ভুতিং চ বিনাশং ( প্রকৃতিং চ তৎ উভয়ম, সহ
( একেনৈব পুরুষেণ উভয়ম অনুসরণীয়ম, ইতি) বেদ (জানাতি)
[ সঃ ] বিনাশেন (প্রকৃতেরূপাসনয়া) মৃত্যু তী। (অতিক্রম)
সত্য (সস্তুতেরূপাসনয়।) অমৃতম অণুতে।
বঙ্গানুবাদ—ষে লোক জানিয়াছে যে অসভুতি বা প্রকৃতি ও
বিনাশ বা হিরণ্যগর্ভাদির উপাসনা একত্রে হইতে পারে সেই ব্যক্তি
বিনাশ বা হিরণ্যগর্ভাদির আরাধনা দ্বারা মৃত্যুকে অতিক্রম করতঃ
অসম্ভুতি বা অব্যাক্তাখ্য প্রকৃতি দ্বারা অমৃত ভােগ করে অর্থাৎ
প্রকৃতিতে লয় হয় । ১৪
১৫। হিরন্ময়েন পাত্রেণ সত্যস্যাপিহিতং মুখম।
তৎত্বং পূষন্নপাৰ্বণু সত্যধৰ্ম্মায় দৃষ্টয়ে।
[ ৩ ]
১৪

ঈশােপনিষৎ। ভাষ্যম—হে পুবন, এ জগতঃ পোষক সূৰ্য্যো বা পরম।অন্) [তব] হিরণয়েন (জ্যোতির্ময়ন) পাত্ৰেণ সত্যস্য ( আদিতমণ্ডলস্যব্ৰহ্মণঃ) মুখম, অপিহিতম, ( আচ্ছাদিতম)। সত্যধৰ্ম্ময় ( যথাভৃতস্য ধৰ্ম অনুষ্ঠাত্রে মহ্যম! দৃষ্টয়ে ( তব সত্য অন উপলব্ধয়ে) ত্বং তং অপবৃণু ( অপসারয়)। বঙ্গানুবাদ --হে পূষণ ! অথবা জগৎপােষক পরমাত্মন্ ! জ্যোতি- য় পাত্র অর্থাৎ সূর্যমণ্ডল দ্বারা অদিত্যমণ্ডলস্থ সত্যস্বরূপ ব্ৰহ্মপ্রাপ্তির পথ আচ্ছাদিত হইয়া আছে ; সত্যধর্মনিষ্ঠ আমাকে তাহা অপনীত করিয়া দর্শন করাও। ১৬। পূষন্নেকষে যম সূর্য প্রাজাপত্য ব্যুহ রশ্মান, সমূহ। তেজো যত্তে রূপং কল্যাণমং উত্তে পশ্যামি যােহসাবসৌ পুরুষঃ সােহহমশ্মি । ভাষ্যমহে পূষন, (সূর্য। হে একষে ( একঃ এব গচ্ছতি ইতি) হে যম (সৰ্ব্বস্য সংযমনাৎ ) হে সূর্য (রশ্নিনা প্রাণানাং সানাং চ স্বীকরণঃ গ্ৰহন।২) সূৰ্য্যঃ হে প্রাজাপত্য (প্রজাপতের পত্যং ) রশ্মীন, ব্যুহ (সংষময়) তেজঃ সমূহ ( একীকুরু উপসংহর) তে (তব) যং কল্যাণমম, ( অত্যন্তশোভনং) রূপং, তং তে ( তব প্রসাদং) পশ্যামি, যঃ অসৌ ( আদিতমণ্ডলতিঃ ) পুরুষঃ সঃ অহম, অক্সি (ভবামি)। বঙ্গানুবাদ—হে জগৎপােষণকারি পূষণ, হে প্রজাপতিনন্দন ! তোমার রশ্মিজাল অপসারিত কর, তেজকে সঙ্কোচিত করিয়া নেও তােমার যাহা অতীব কল্যাণময়রূপ তাহা দর্শন করি। এই যে সূৰ্য্য মণ্ডলস্থিত পুরুষ আমি তাহারই স্বরূপ।

ঈশােপনিষৎ। ১৭। বায়ুরনিমমৃতমখেদং ভষ্মান্তং শরীরম। ওঁ ক্ৰতাে স্মরকৃতং স্মৃর কতাে স্মর কৃতং স্মর। ভাষ্যম-অথ ( ইদানীং) [ মম মরিষাতঃ ] বায়ুঃ { প্রাণঃ } [ সর্বাত্মকং ] অনিলম, অমৃতং [ প্রতিপদ্যতাম্ | ইদং শরীরম, ভস্মন্তং [ ভূয়াৎ ]। ওঁ ( ইতি ব্ৰহ্মস্মরণঃ) হে ক্ৰত ( মনঃ) কৃতং (এবং কালম অনুষ্ঠিতং কম্ম) স্মর। পুনৰ্ব্বচনমাদরার্থম, ॥ ১৭ বঙ্গানুবাদ—ইদানীং মদীয় প্রাণবায়ু সৰ্বাত্মক মহাবায়ুতে বিলীন হউক, আমার শরীর অগ্নিতে ভস্মসাৎ হইয়া যাউক, হে মন! তুমি এইক্ষণ যাবজ্জীবনের অনুষ্ঠিত কাৰ্য সকল স্মরণ কর। ১৭। ১৮। অগ্নে নয়নুপথ রায়ে অস্মান, বিশ্বানি দেব বয়ুনানি বিদ্বান্। যুয়ােধ্যস্মজ্জহুরাণ মেনন ভূতিষ্ঠাং তে নম উক্তিং বিধেম। ভায্যম—হে অগ্নে ! অম্মান, রায়ে ( ধনায়--কম্ম ফলভােগায় । সুপথ (শোভনেন মার্গেন ) নয় (প্রাপয় ) হে দেব (ত্বম) বিশ্বানি ( সৰ্বানি) বয়ুনানি ( কৰ্ম্মাণি প্রজ্ঞানানি) বিদ্বান, (জনন)। অস্মৎ জুহুরাণং (কুটিল এনঃ (পাপং) যুয়ােধি ( বিয়েজয় বিনাশয় ) মন্তব্য—এই মন্ত্রটি মৃত্যুর প্রাক্কালীন প্রার্থনায় বলা হইতেছে হে শুভাশুভ সংঙ্কল্পকারিন, মন, ! বাল্য হইতে এপর্যন্ত যে সকল কাৰ্য্য করিছ তাহা একবার স্মরণ কর। এখন আমার প্রাণবায়ু সূক্ষ্ম বায়ুকে প্রাপ্ত হউক, লিঙ্গ বা সূক্ষ্ম শরীর দেহ হইতে বহির্গত হউক, স্থল দেহ অগ্নিতে ভষ্মীভূত হউক।

২০
ঈশােপনিষৎ।
১৮
ভুয়িষ্ঠা (বহুতরাং) তে ( ভুভ্যং) নম--উক্তিং (নমস্কার বচন)
বিধেম (নমস্কারেণ পরিচরেম ইত্যৰ্থঃ )।
বঙ্গানুবাদ—যে অগ্নিদেব ! তুমি আমাদিগকে সুপথে লইয়া যাও !
হে দেব আমাদের কাৰ্যসকল তােমার নিকট বিদিত আছে, আমাদের
অনিষ্টকারী পাপরাশি বিদূরীত করিয়া দেও, আমরা তােমাকে বারম্বার
নমস্কার করিতেছি।
১৮ ॥
ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে।
পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে ॥
ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।
হরিঃ ওঁ ।
ঈশােপনিষৎ সমাপ্তা।

কেননাপনিষৎ । ৩৪টি মন্ত্র । কেনােপনিং বা সামবেদীয় তবলকারোপনিষৎ । ইহার প্রতিপাদ্য বিষয় ব্রহ্মবিদ্যা নিরুপণ করা। ইহা চারি খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ডে ৮টি, দ্বিতীয় খণ্ডে ৫টি, তৃতীয় খণ্ডে ১২টি, চতুর্থ খণ্ডে ৯টি মন্ত্র ; সমষ্টিতে কেন শব্দটির ব্যবহার থাকায় ইহার নাম কেননাপনিষৎ হইয়াছে। “কেনেযিতং পততি প্রেযিতং মনঃ” মন্ত্র হইতে আরম্ভ হইয়া “যে বা এত মেবং বেদাপহত্য পাপমানং অনন্তে মন্ত্রে পরিসমাপ্তি হইয়াছে। এই উপনিষদের সারমর্ম এই যে-তপঃ, দম, কম্ম, বেদ ও বেদাঙ্গাদি ব্রহ্মবিদ্যা প্রাপ্তির উপায় ; এবং সত্য উহার আশ্রয়। ইহার ভাষ্য মধ্যে শঙ্কর ভাষ্যই প্রধান। প্রথম খণ্ডে বর্ণিত হইয়াছে সৰ্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, চক্ষু কর্ণাদি ইন্দ্রিয়ের অগোচর ব্ৰহ্মই পরিচালক ও প্রবর্তক। তঁাহার এক মাত্র প্রেরণায় মন, প্রাণ, চক্ষু, কর্ণাদি ইন্দ্রিয় সকল নিজ নিজ কৰ্ম্ম সমাধান করিতেছে ; কিন্তু কোন ইন্দ্রিয়ই ব্ৰহ্মকে গ্রহণ করিতে সমর্থ নহে, অর্থাৎ ব্ৰহ্ম ইন্দ্রিয়াদির অগােচর অবাঙমনস। মানুষ যে সকল বিভূতির উপাসনা করেন, তাহা ব্রহ্মের সগুণরূপ ; ব্রহ্মের নিগুণ স্বরূপের মাহাত্ম্য ও উপাসনা ইন্দ্রিয়াদির অগোচর ॥

কোনােপনিযৎ। ৫ দ্বিতীয় খণ্ডে উক্ত হইয়াছে যাহারা ব্ৰহ্মকে জানিয়াছি বলিয়া মনে করেন, বস্তুতঃ তাহারা তাহাকে জানিতে পারেন নাই, কেননা নিরাকার ব্ৰহ্ম বুদ্ধাদির অতীত। নিগুণ ব্রহ্মকে নিয়ে অল্প শক্তি বৃদ্ধিতে ধারনা করা অসম্ভব। পরন্তু যাহারা বুদ্ধির বিশেষ বিশেষ জ্ঞানের সাক্ষীস্বরূপ ব্রহ্মের বিকাশ ধারণা করিতে পারিয়া, অবগত আছি” ও জানিনা” এইরূপ ভাব হৃদয়ঙ্গম করিতে ও বুদ্ধি বৃত্তির প্রতিস্ফুরণেই ব্রহ্মের একাত্ম ভাব উপলব্ধি করিতে সমর্থ হইয়াছেন, তাহারাই ব্ৰহ্মজ্ঞানে উদ্বোধিত হইয়া অন্তে মােক্ষ লাভের অধিকারী হইতে পারেন। পরিমিত যে কোন বস্তুকে আরাধনা করা যায়, তাহা ব্রহ্মের বিভূতি স্বরূপ হইলে ও তাহাকে অসীম ব্রহ্মের পূর্ণস্বরূপ বলা যাইতে পারে না বিধায় তদর্চনে মোক্ষলাভের আশা সুদূরপরাহত ; তবে শ্রদ্ধা ও ভক্তির সহিত তদারাধনায় স্বর্গভােগ হইয়া থাকে। আবার যাহারা প্রতি পলে প্রত্যেক বিষয় বুদ্ধির কাৰ্যে ব্ৰহ্মরূপের স্ফুরণ দেখিতে পান, তাহারাই ব্ৰহ্ম ভাব কিছু জানিতে সমর্থ হইয়াছেন, এবং তৎফলে দেহান্তে মােক্ষাভের অধিকারী হয়েন। সিদ্ধিলাভে পুনঃ পুনঃ মৃত্যুভয় বিদূরিত হয় না, আত্মশক্তিতে ব্রহ্মের স্বরূপ উপলব্ধি করিতে পারিলে অর্থাৎ সাধনা বলে “অহংভাব” পরিত্যাগ করিতে পারিলেই অমৃতত্ব লাভ হইয়া থাকে । তৃতীয় খণ্ডে ব্রহ্মের স্বরূপতত্ত্ব একটি সুন্দর উপাখ্যান দ্বারা বর্ণিত হইয়াছে—দেবাসুর সংগ্রামে ইন্দ্রাদি দেবগণ অসুরদিগকে পরাস্ত করিয়া বিজয় উৎসবে উৎফুল্ল হইয়া অভিমান পবসে আপনাদিগের শক্তির জন্য অতীব গর্ব করিতেছিলেন। কিন্তু তাহারা জানিতেন না যে এই বিজয় একমাত্র ব্রহ্মেরই কৃপা শক্তির ফল। দেবতাদিগের এই মিথ্যা- ভিমান দূরীকরনার্থে ব্ৰহ্ম সগুণ রূপ ধারণ করিয়া অদ্ভুত জ্যেতিঃ কেননাপনিষৎ। স্বরূপে তাহাদের সম্মুখে প্রাদুর্ভূত হইলেন। এই জ্যোতিঃ পদার্থটি কি ইহা জানিবার জন্য দেবরাজ ইন্দ্র প্রথমে অগ্নিদেবকে প্রেরণ করিলেন। অগ্নিদেব জ্যোতি স্বরূপ ব্রহ্মের সমীপবর্তী হইলে, তিনি প্রশ্ন করিলেন তুমি কে? এবং তোমার শক্তি কি ? অগ্নি সাহঙ্কারে বলিলেন অামি অগ্নি, জাতবেদ। নামে অভিহিত, এই জগতে যে-কিছু বস্তু আছে আমি তাহা ভস্মীভূত করিতে সমর্থ । ব্ৰহ্ম ইহা শ্রবণ করিয়া আত্ম গৰ্ব্বকারী অগ্নির সম্মুখে একগাছি তৃণ নিক্ষেপ করতঃ বলিলেন ইহাকে দগ্ধ কর। অগ্নি নিজের সমস্ত শক্তি প্রয়ােগ করিয়াও তুচ্ছ তৃণগছি দগ্ধ করিতে সমর্থ না হইয়া প্রত্যাবৃত্ত হইয়া সুররাজকে বলিলেন, এই যক্ষ যে কে তাহা হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিলাম না। এইরূপে ইন্দ্ৰকর্তৃক বায়ু দেবত। জ্যোতিঃ সমীপে প্রেরিত হইয়া আত্মশক্তির পরিচয় দিতে অসমর্থ হইয়া, নিজ শক্তিহীনতা দূষ্ট লজ্জায় প্রত্যাবৃত্ত হইলেন। অবশেষে দেবরাজ ইন্দ্র স্বয়ংই জানিবার জন্য ঐ জ্যোতিঃ সমীপে গমন করিলে; তাহাকে যেন উপেক্ষা করিয়াই সেই জ্যোতিঃ স্বরূপ তিরোহিত হইলেন এবং তখনই এক পরম রমণীয় স্ত্রীমূর্তি হৈমবতী উমানামে আবির্ভূত হইলেন। চতুর্থ খণ্ডে বর্ণিত হইয়াছে—উমাদেবী ইন্দ্রকে বলিলেন, তোমরা যে যুদ্ধে অসুরদিগকে পরাভূত করিয়া নিজ বলের গর্ব কবিতেছিলা, প্রকৃত প্রস্তাবে তাহা তােমাদের নিজ নিজ শক্তির কাৰ্য্য নহে, সত্ত্বা ভিন্ন অপর কাহারও পৃথক কোন শক্তি নাই, সেই সব্বশক্তিমান ব্রহ্মের শক্তি বলেই তােমর জয় লাভ করিয়াছ। তাহার অসীম শক্তির প্রেরণা বলেই অসুর বিজয় কাৰ্য্য সম্পন্ন হইয়াছে। তােমরা মিথ্যাভিমান পরিত্যাগ কর। অগ্নি, বায়ু, ইন্দ্ৰ ব্ৰহ্ম সাক্ষাৎ কারের ফলেই দেব সমাজে প্রাধান্য লাভ করিয়াছিলেন। অতএব ২৪ কেননাপনিষৎ । কেনােপনিষদের শেষের কয়েকটি মন্ত্রে আধ্যাত্ম ও অধিদৈবত ভেদে দ্বিবিধ ব্ৰহ্মসাধন, এবং তপস্যা, সত্যনিষ্ঠা প্রভৃতি ব্ৰহ্মলাভের উপায় সকল ও তাহার ফল শ্রুতি বর্ণিত হইয়াছে। এই উপনিষদে জগতে ব্ৰহ্ম সত্ত্বা ভিন্ন অন্য কিছুই নাই, জাগতিক পদার্থ সমস্তই ব্রহ্মের শক্তি বলে পরিচালিত, তঁাহার আজ্ঞভিন্ন একটি বৃক্ষপত্র ও মৃত্তিকাতে পতিত হইতে পারেনা। সৃষ্টি স্থিতি লয় কাৰ্যাদি একমাত্র ব্রহ্মের শক্তি বা ইচ্ছাধীন হইতেছে ইহাই প্রদর্শিত হইয়াছে। অবিদ্যা জনিত মায়ানমাহে আচ্ছন্ন মানবের “আমি আমার ভাব কেবল অহঙ্কারের স্মরণ মাত্র। যতদিন মানব ইহা পরিত্যাগ করিয়া একমাত্র ব্রহ্মের স্বরূপ তত্ত্বে নির্ভর করিতে না পারিবে ততদিন মঙ্গলের সম্ভাবনা নাই বিধায় ব্রহ্মশক্তিতে আস্থা স্থাপন কর। সর্বতোভাবে কর্তব্য। 2 কেননাপনিষৎ । সামবেদীয়া তবল কারোপনিযৎ। প্রথম খণ্ডঃ। শান্তি পাই। ওঁ অসন্তু মমঙ্গানি বা প্রাণশ্চক্ষুঃ শ্ৰোত্ৰমথােবল ইন্দ্রিয়ানি চ সর্বাশি। সৰ্ব্বং ব্রহ্মোপনিষদং মাহং ব্ৰহ্ম নিরাকুৰ্যাং মা মা ব্ৰহ্ম নিরা- করােং অনিরাকরণমনিরাকরণ মেহস্তু । তদাত্মনি নিরতে য উপনি- যং ধৰ্ম্মান্তে ময়ি সন্তুতে মরিসন্তু । ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ । ভাষ্যম-গম অঙ্গাণি বা প্রাণঃ চক্ষুঃ শ্রোত্রম্ অহ বল, শক্তি) সৰ্বাণি ইন্দ্রিয়ানি চ আপ্যায়ন্তু (পরিপুষ্ট ভবন্তু)। উপনিষদং ব্রহ্ম সৰ্ব্বং (সম্পূর্ণ রূপং) অহং ব্ৰহ্ম মা নিরাকুৰ্য্যাম (মা অস্বীকুৰ্যাম ) ব্ৰহ্ম মা { মাম) মা নিরাকরাে' ( প্রত্যাখ্যানং ন অকবােং) [ তস্য সমীপে ) অনিকারনম, ( অপ্রত্যাখ্যান) অস্তু। তদাত্মনি নিরতে ময়ি উপনিষংসু যে পৰ্মা: [ কথিত ] তে সন্তু তে ময়ি সন্তু ৪ কেননাপনিষৎ । বঙ্গাৰ্থ—আমার অঙ্গ সমূহ বাক্, প্রাণ, চক্ষু, কর্ণ, বল ও ইন্দ্রিয় সকল পরিপুষ্ট হউক। উপনিষদ প্রতিপাদিত ব্ৰহ্ম আমার নিকট সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হউন। ব্ৰহ্মকে আমি যেন অস্বীকার না করি, এবং আমাকে যেন ব্ৰহ্ম প্রত্যাখ্যান না করেন ; ব্রহ্মের নিকট আমার, এবং আমার নিকট ব্রহ্মের নিয়ত সম্বন্ধ বৰ্তমান থাকুক। উপনিষদ কথিত ধর্ম সমূহ অত্মনিষ্ঠ আমাতে প্রতিভাত হউক । ১। কেনেষিতং পততি প্রেষিতং মনঃ কেন প্রাণঃ প্রথম প্রতি যুক্ত। কেনেষিতং বাচমিমাং বদন্তি চক্ষুঃ শ্রোত্রঃ ক উ দেবো যুনক্তি। ভাষ্যম, - কেন ইষিতম্ (নিয়মিত অভিপ্রেতংবা ) [ এব ] প্রেষি তম্ ( প্রেরিতম, মনঃ পততি ( ঋবিষয় প্রতিগচ্ছতি) কেন যুক্ত ( নিযুক্তঃ ) [ সন, ] প্রথমঃ ((শ্রষ্ঠ) প্রাণঃ প্রৈতি ( স্ব স্ব ব্যাপার প্রতি গচ্ছতি। কেন ইষিতাম, ( অভিপ্রেতং) ইমাং বাচম, বদন্তি (লােকা ইতিশেষঃ ) চক্ষ শ্ৰোত্ৰম, চ ( স্বে স্বে বিষয়ে) ক উ ( অপি) দেবঃ ( দোতিনবান ) যুনক্তি নিযুঙক্তে প্রেরয়তবা : ১ বঙ্গর্থি—মন কাহার ইচ্ছায় নিয়ােজিত হইয়া স্ববিয়াভিমুখে যাইতেছে ? শ্রেষ্ঠ প্রাণ কাহ কর্তৃক প্রেরিত হইয়া স্বকার্য সম্পাদন করিতেছে ? মনুষ্যেরা কাহার ইচ্ছায় প্রণােদিত হইয়া বাক্য উচ্চারণ করিতেছে ? এবং চক্ষু কর্ণ প্রভৃতি দ্যোতিমান ইন্দ্রিয় সকলকে কেইবা কাৰ্যে প্রেরণ করিতেছেন ? ? ২। শ্রোতস্য শ্রোত্রং মনসো মনাে যদ, বাচে। হ বাচং স উ প্রাণস্য প্রাণ।

কেননাপনিষৎ। চক্ষুষশ্চক্ষুরতিমুচ্য ধীরা প্ৰেত্যাহ্মল্লোকাদমৃতা ভবন্তি । ভায্যমূষং ( যঃ) শ্রোতস্য শ্রোত্র ( শৃণােতি অনেন ইতি শ্রোতং তং কাৰ্য প্রবৃত্তি নিমিত্ত) মনসঃ ( অন্তঃকরণস্য) মনঃ [ যদ, } বাচে৷ হ বাচং ( যচ্ছলো যদথে শ্ৰোত্রাদিভিঃ সর্বৈ সন্বধ্যতে। সঃ (পরমাত্মা) প্রাণস্য প্রাণঃ ( প্রাণঃ তৎকতং হি প্রাণস্য প্রাণন সামর্থ্য) [ তথা ] চক্ষুষশ্চঃ ( রূপপ্রকাশকস্য চক্ষুষাে যজ্রপগ্রহণ সামর্থং তং আত্ম চৈতন্য অধিষ্ঠিতসাৈব অতশ্চক্ষুষশ্চঃ [ শ্রোত্রদের শ্ৰোত্রাদি লক্ষণং যথোক্তং ব্ৰহ্ম জ্ঞাত্বেতি বিদিত্ব ] অতিমূচ্য (শ্রোত্রাদি আত্মভাবং পরিত্যজ্য) ধীরা ( ধীমন্ত পণ্ডিতাঃ) অস্মাৎ লােকাৎ ( পুত্রমিত্ৰকলত্র বন্ধু মহংভাব সংব্যবহার লক্ষণাৎ ত্যক্ত সৰ্ব্বেষণাভূৎ প্ৰেত্য (মৃত্ব) অমৃতাঃ ( অমরণ ধৰ্ম্মাণঃ) ভবন্তি ॥২ বঙ্গর্থি—যিনি শ্রোত্র বা কর্ণের কাৰ্য প্ৰবৰ্ত্তক, মনের ও মন, যিনি বাক্যের পরিচালক, তিনিই প্রাণের প্রাণস্বরূপ, এবং চক্ষুর চক্ষুস্বরূপ ; অর্থাৎ বন্ধ হইতেই এই সব ইন্দ্রিয়াদি স্ব স্ব কাৰ্য্যে নিয়মিত আছে। পণ্ডিত বা জ্ঞানী ব্যক্তিগণ ইহা অবগত হইয়া মরণান্তে অমরত্ব লাভ করিয়া থাকেন । ন তত্র চক্ষুর্গচ্ছতি ন বাগগচ্ছতি নােমন। ন বিধােন বিজানীমাে যথৈতদশিষ্যাৎ । অন্যদেব তবিদিতাদখাে অবিদিতাদধি। ইতি শুশ্রম পূৰ্বেষাং যে নস্তদব্যাচ চক্ষিরে ॥ ৩ ভাষ্য—যস্মাৎ শ্ৰোত্ৰাদেরপি খােদ্যাত্মভূতং ব্ৰহ্ম অতঃ- ন তত্র ( তস্মিন্ বহ্মণি) চক্ষুর্গচ্ছতি (স্বানি গমনাসম্ভবৎ ) তথা ২৮ কেননাপনিষৎ , ন বাগ, গচ্ছতি। বাগ ন গচ্ছতি [ তদবং ] মনাে ন গচ্ছতি (ন তংচক্ষুরাদি গোচরম ইত্যথঃ ) [ বয়ং তং ব্ৰহ্ম ] ন বিদ্মঃ (জানীমঃ) [ অতাে ন বিজানীমঃ যথা (যেন প্রকারেণ ) [ এতদ ব্ৰহ্ম ] অনুশিষ্যাৎ ( উপদিশেং শিয্যায় ইতি}। অন্য দেব (পৃথগেব ) তৎ ( ব্রহ্ম) বিদিতা (তংবিদিক্রিয়া বৰ্ম্ম ভূতং) অথথা ( অপি ) অবিদিতা (বিদিতবিপরীত অজ্ঞতাং) অপি (উপরিঃ অর্থে ) ইতি ( এবং শুশ্রুম (তবঃ) [ বয়ং ! পূৰ্বেষাং ( আচাৰ্যানাং বচন ' যে { আচার্য্যা) নঃ ( অভ্যং) তদ, (ব্রহ্ম) ব্য।চ্চক্ষিরে ( ব্যাখ্যাতবন্ত বিস্পষ্ট: কথিবন্তঃ )। ৩ বঙ্গর্থি-তথায় চক্ষু যায় না, বাক্য গমন করিতে পারে না, মনেও গ্রহণ করিতে পারে না, অথাৎ ব্রহ্মকে চক্ষুদ্বারা দর্শন, বাক্য দ্বারা প্রকাশি, মন দ্বারা সংকল্প করা যায় না। ব্ৰহ্মকে আমরা জানি না, এব” ব্রহ্ম তত্ত্ব সম্বন্ধে শিষ্যকে অাচার্য্য যে সকল উপদেশ দেন তাহাও বুঝিতে পারি না। ব্ৰহ্ম বিদিত ও অবিদিত অর্থাৎ স্থল সুক্ষ্ম হইতে পৃথক বা স্থল সূক্ষ্মতীত। যে সকল আচার্যগণ পূর্বে আমাদের নিকট ব্ৰহ্ম তত্ব ব্যাখ্যা করিয়াছিলেন, আমরা সেই পূৰ্বাচার্যগণের নিকট ঐ উপদেশ শ্রবণ করিয়াছি। ৩ মন্তব্য—ব্রহ্মজ্ঞান কেবল উপদেশাদি দ্বারা লভ্য নহে। বিবেকবে- রাগ্যাদিযুক্ত গভীর ধ্যানেই প্রাপ্য। ৪। যদ্বাচনভূদিতং যেন বাগভদ্যতে। তদেব ব্ৰহ্ম ত্বং বিদ্ধি নেদং যদিদমুপাসতে।৪ ভাষ্যম-মং (চৈতন্য মাত্র সওকং) বাচা (বাগিতি বর্ণানাং অভিব্যঞ্জকং করণ অনভূদিতং (অপ্রকাশিত) যেন (ব্রহ্মা ) কেননাপনিষৎ { বাক্‌ অভুদ্যতে ( চৈতন্যজ্যোতিষা প্রকাশ্যতে)। তদেব ( আত্মস্বরূপং) ব্ৰহ্ম [ নিরতিশয় ভূমাখ্যং বৃহত্ত্বাদ ব্ৰহ্মেতি ] বিদ্ধি । বিজানীহি ) ত্বম। নেদং ( ব্রহ্ম) যদিদং ইত্যুপাধিভেদ বিশিষ্ট অনাত্মেশ্বরাদি ) উপিসতে (ধ্যায়ন্তি) ॥৪ বঙ্গাৰ্থ-যিনি বাক্যের অপ্রকাশিত কিন্তু যাহার সহায়তায় বাক্য উচ্চারিত হয় ; তাহাকেই তুমি ব্ৰহ্ম বলিয়া জানিবে। “ইদং” অর্থাৎ নামরূপাদি বিশিষ্ট জড় বস্ত সকল যাহাকে উপাসনা করে বস্তত তাহা ব্রহ্ম নহে ॥ যমুনসান মনুতে যেনাহুর্মনাে মতম। তদেব ব্রহ্ম ত্বং বিদ্ধি নেদং যদিদমুপসিতে। ভাষ্য-মন ইত্যন্তঃকরণং বুদ্ধিমনসােরেকত্বেন গৃহতে) (মনুতে অনেনেতি মনঃ তেন ] মনসা যং ( চৈতন্য জ্যোতিঃ ) ন মনুতে (ন সঙ্কল্পয়তি নাপি নিশ্চিননাতি লোকঃ) যেন (ব্ৰহ্মণা) মতং ( বিষয়ীকৃত ব্যাপ্তং) অহুঃ ( কথয়ন্তি ) [ ব্ৰহ্মবিদ । তদেব [ মনস আত্মানং প্রত্যকচেয়িতারং ] ব্ৰহ্ম বিদ্ধি ( বিজানীহি ) ন ইদং (ব্ৰহ্ম) যদিদং { ইতুপাধিভেদ বিশিষ্টম, অনাত্মেশ্বরদি) উপিসতে (ধ্যায়ন্তি) ৫ বঙ্গাৰ্থ-মনের দ্বারা লােকে যে চৈতন্য জ্যোতিকে ভাবনা করিতে কিম্বা নিশ্চিত রূপে ধারণা করিতে পারে না; কিন্তু ব্ৰহ্মবিদগণ যাহা দ্বারা সমুদ্ভাসিত হইয়া মনেব বিষয় চিন্তার সামর্থ জন্মে বলিয়া থাকেন, মনের চৈতন্য সম্পাদক সেই পরমকেই ব্ৰহ্ম বলিয়া জানিবা । উপাধি বিশিষ্ট অনাত্ম ঈশ্বর বলিয়া যাহার উপাসনা করা হয়, তাহা প্রকৃত ব্রহ্ম নহেন।৫ ..কেনােপনিষৎ। ৬। যাকুষান পশ্যতি যেন চক্ষুংষি পশ্যতি । দৈব ব্ৰহ্ম ত্বং বিদ্ধি নেদং যদিদমুপাসতে । '# ‘ভম্যং চক্ষুষ। ন পশ্যতি ( ন বিষয়ী করােতি) { অন্তঃকরণ- বৃত্তি সংযুক্তেন লােক] যেন চক্ষুংষি ( অন্তঃকরণ বৃত্তি ভেদ ভিন্না চক্ষুবৃত্তী:) পশ্যতি চৈতন্যাক্স জ্যোতিষ বিষয়ী করােতি বারােতি ) তদেবেত্যাদি পূৰ্ব্ববৎ ॥৬ বঙ্গ’র্থ—লোকে চক্ষু দ্বারা যাহাকে দেথিতে পায় না, অর্থাৎ যিনি স্বয়ং চক্ষুর গোচরীভূত বিষয় না হইয়াও চক্ষুর বৃত্তি সকলকে পরি- চালিত করেন বিধায় চক্ষু পদাথ সককে দৃষ্টি বা অনুভব করিতে পারে তঁাহাকেই ব্রহ্ম বলিয়া জানিবে । ইদং শব্দ বাচ্য জড়বস্তু সকল, যাহার উপাসনা করা হয় তাহা বস্তুতঃ ব্ৰহ্ম নহে ॥৬ ৭। যচ্ছােত্রেণ ন শৃনােতি যেন শ্রোত্ৰমিদং তম্ । তবে ব্ৰহ্মত্বং বিদ্ধি নেদং যদিদমুপাসতে । ভাষ্যম্-যং শ্রোত্রেন (কর্ণেন) ন শৃণােতি (দিগ, দেবতাধিষ্ঠিতেন আকাশ কার্যেণ মনােবৃত্তি সংযুক্ত ন বিষয়ী করোতি লােক, ) যেন শ্রোত্রং ইদং তম; { যং প্রসিদ্ধং চৈতন্যাত্ম স্ন্যোতিষা বিষয়ী কৃতী তৎ এবং আত্মানং ব্ৰহ্মত্বং বিদ্ধি নইদং [ ব্ৰহ্ম ] যং ইদং (ইত্যুপাধিভেদ বিশিষ্ট অনাত্মশ্বরাদি) উপিসতে (ধ্যায়ন্তি। ৭ বঙ্গানুবাদ - লােক সকল শ্রবণেন্দ্রিয় দ্বারা যাহাকে শ্রবণ করিয়া বিষয়ীভূত করিতে পারে না, অর্থাৎ যিনি শ্রবণেন্দ্রিয়ের বিষয়ীভূত নহেন কিন্তু শ্রবণেন্দ্রিয় যাঁহা কর্তৃক বিষয়ে পরিচালিত হয় ; তাহাকেই ব্রহ্ম কৈনােপনিষৎ বলিয়া জানিব।। মানবের। বিভিন্ন রূপ বিশিষ্ট যে সকল জড়বস্তুকে উপাসনা করে তাহ। বস্তুতঃ ব্ৰহ্ম নহে ॥৭ যৎ প্রাণেন ন প্রাণিতি যেন প্রাণ প্ৰণীয়তে । তবে ব্ৰহ্ম ত্বং বিদ্ধি নেদং যদিদমুপাসতে ॥৮ ইতি প্রথম খণ্ডঃ। ১৮ ভাষ্যম্যং প্রাণেন (ভ্রাণেন পার্থিবেন নাসিকা পুটন্তরস্থিতেন অন্তঃকরণ প্রাণবৃত্তিভ্যাং সহিতেন ) ন প্রাণিতি (গন্ধবৎ ন বিষয়ী করোতি } যেন (চৈতন্যাত্মজ্যোতিষ অবস্যত্বেন স্ববিষয়ং প্রতি। প্রাণঃ প্ৰণীয়তে (প্রোতে) তং এব ইত্যাদি সৰ্ব্বং সমান । ৮ বঙ্গানুবাদ-নাসারন্ধে স্থিত প্রাণ বা ঘ্রাণেন্দ্রিয় অন্তঃকরণ বৃত্তি প্রাণ সংযুক্ত হইয়া ও যাহাকে গন্ধ দ্রব্যের ন্যায় অনুভব করিতে অসমর্থ ; অথচ যে আত্ম চৈতন্য দ্বারা প্রাণ উদ্ভাসিত হইয়া স্বকীয় বিষয় কাৰ্য্যে তৎপর হয়, তাহাকেই ব্ৰহ্ম চৈতন্য আত্মা বলিয়া জানিবা। ইদং বলিয়া জড়াদি যে সকল পদার্থকে লােকে উপাসনা করে, প্রকৃত পক্ষে উহারা ব্ৰহ্ম নহে। ৮ উপরােক্ত মন্ত্র কয়েকটির তাৎপৰ্য্য এই যে-শ্ৰুতি কথিত “সৰ্ব্ব খলিং ব্ৰহ্ম” চরাচর সর্ব পদার্থে ব্রহ্মের বিদ্যমান থাকা সত্বে ও কোন জড় কিম্বা দৈহিক ইন্দ্রিয়াদি এবং কল্পিত দেবতাদি ব্ৰহ্ম নহেন। ব্ৰহ্ম স্থল সূক্ষ্ম ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য বস্তুর অতীত অবাঙ মনহেগােচর ; তাহার প্রেরণাতেই মন, বুদ্ধি, ইন্দ্রিয়াদি পরিচালিত হয়, যদ্ধেতু শ্রবণ-মনন দর্শন বাগাদি কার্য। করিবার ক্ষমতা উৎপন্ন হয়। পার্থিব যাহাদিগকে বর্তমানে উপাসনা করা হয়, তাহা ব্ৰহ্ম নহে এবং তদারধনায় আত্ম - ৩২ কেননাপনিষৎ তত্ত্বজ্ঞান লাভ হইতে পারে না। অাত্ম তত্ত্বজ্ঞানের ফলেই কামনা, এবং তৎপ্রণােদিত কৰ্ম্ম প্রবৃত্তির হেতু সংসার বীজ অজ্ঞান বিদূরিত হয়। তখনই সর্বত্র এক মহান আত্মার পরিব্যাপ্তভাব দৃষ্টে হৃদয় গ্রন্থি (অহঙ্কার। ছিন্ন হয়, সমস্ত সংশয় ও ভয় দূর হইয়া জীব-ব্রহ্মের অভেদজ্ঞান উপলব্ধি পূৰ্ব্বক একাত্মভাব জন্মিয়া থাকে। “আমি আমার ভাব ও শোক মােহাদি কিছুই থাকে না বলিয়া অপার আনন্দ সাগরে মগ্ন হয় যাহাই জীবমুক্তি নামে কথিত । প্রথম খণ্ড সমাপ্ত।

কেনোপনিষৎ দ্বিতীয় খণ্ডঃ। যদি মন্তসে সুবেদেতি দমেবাপি নূনং ত্বং বেথ ব্ৰহ্মণো রূপ। যদস্য ত্বং যদস্য দেবেথ মু মীমাংস্যমেব তে মধ্যে বিদিতম্। ভাষ্য—যদি (কদাচিৎ ) মন্টসে সু বেদেতি (সুষ্ঠ বেদাহং ব্রহ্মতি ( কদাচিৎ যথাশ্রুতং দুৰ্বিজ্ঞেয়মপি ক্ষীণ দোষঃ সুমেধাঃ কশ্চিৎ প্রতি- পদ্যতে কশ্চিন্নেতি সাশঙ্কমাই যদীত্যাদি ] [ তহি ] নূনং (নিশ্চিতম, ত্বং দম্ ( অল্পম) এব অপি বেখ (জানীযে। ব্রহ্মণণা রূপং (স্বরূপম ) যদ ( যদ্যধিদৈবতপরিচ্ছিন্নস্য) অস্য । ব্ৰহ্মণেরূপং) দেবেযু বেখ কম্ | তদপি নূনং দমেব বেখ ইতি মনােহহম্। যদধ্যাত্মম, যদধিদৈব তদপি চ দেবেষুপাধি-পরিচ্ছিন্নত্বাদ, দত্বং ন নিবৰ্ততে ] যত এবম, অথ = ( তস্মাৎ ) মধ্যে অদ্যাপি মীমাংসং ( বিচাৰ্যম) এব তে ( তব ) [ ব্ৰহ্ম ]। এবমাচাৰ্যোক্ত শিষ্য একান্তে উপবিষ্টঃ সমাহিত সন্ যথােমাচাৰ্য্যেন আগমমর্থত বিচাৰ্য স্বানুভবং কৃত্বা আচাৰ্যসকাশ- মুপগমোবাচ-গন্যে অহম, অথ ইদানীং বিদিতং ব্রহ্মেতি ॥১ বঙ্গানুবাদ—যদি তুমি মনে কর যে তুমি ব্রহ্মের স্বরূপ বিশেষরূপ জানিয়াছ, তাহা হইলে বুঝিতে হইবে তুমি সেইরূপ অল্পই জানিতে পারিয়াছ। কেননা ব্রহ্মের ভৌতিক বা চরাচর দৃশ্য জগত এবং দেবতা- ৩৪ 'কেননাপনিষৎ। দিগের মধ্যেও অধিদৈবত স্বরূপ যে রূপ দৃষ্ট হয় তাহাও অল্প অতএব আমি ( আচাৰ্য) মনে করি তােমার পরিজ্ঞাত ব্ৰহ্ম স্বরূপতা যুক্তিসহ বুঝিবার আবশ্যক ( শিষ্য আচার্যোপদেশ প্রাপ্তে বিচারতর্ক দ্বারা তদভিপ্রায় হৃদয়ঙ্গম পূৰ্ব্বক গুরু সমীপে বলিলেন এখন আমি ব্ৰহ্মতত্ত্ব বুঝিতে পারিয়াছি এমত মনে করি ॥১ তাৎপৰ্য্য মানব ভােগ বাসনা শূন্য হইয়া মনস্থির করত সমাধিযুক্ত হওয়া পর্যন্ত সুখভােগের স্থান এই বিশ্ব জগতে কিম্বা দেবলােকে কোথায় ও সদানন্দ চিন্ময় ব্ৰহ্ম স্বরূপতা লাভ করিতে পারে না। ২। নাহং মন্যে সুবেদেতি নাে ন বেদেতি বেদ চ। যাে নস্তবে তদবেদ নাে ন বেদেতি বেদ চ। ভাষ্যম্-নাহং মন্যে সু বেদেতি (নৈব অহং মন্যে সুবেদ ব্রহ্মেতি) [ নৈব তহি বিদিতং ত্বয়া ব্ৰহ্ম ? ইত্যুক্তে আহ ] নো ন বেদেতি বেদ চ (বেদ চেতি চ শব্দাং ন বেদচ)। কথমিতি উচ্যতে ? যে (যঃ ) [ কশ্চিৎ নোহস্মাকং সব্ৰহ্মচারিণাং মধ্যে তং-মছুক্তং বচনং তত্ত্বতে বেদ সঃ ] তদ, [ ব্ৰহ্ম ] বেদ। [ কি পুনস্তদবচন মিত্যত আহ ] নাে ন বেদেতি বেদ চেতি ॥২ বঙ্গানুবাদ : ব্ৰহ্মকে আমি বিশেষরূপে জানিতে পারিয়াছি এরূপ মনে করি না, অথচ একেবারেই ব্রহ্মকে জানিনা ইহাও মনে করিতে পারি না। যিনি “জানিতে পারিয়াছি ও জানিনা” উভয় কথার ভাব পরিগ্রহ করিতে পারেন, তিনিই ব্রহ্মকে জানিতে পারেন ।২ মন্তব্য-বেদাদি শাস্ত্র অভ্যাস দ্বারা ব্ৰহ্ম সম্বন্ধে পরােক্ষ জ্ঞান মাত্র উপলব্ধি হয়, কিন্তু মন নিশ্চল পূর্বক গভীর ধ্যান ধারণা ব্যতীত কেনােপনিষৎ অপরোক্ষ ব্ৰহ্মজ্ঞান লাভের আশা নাই। সুতরাং ধ্যান অভ্যাস করা আবশ্যক। যস্যা মতং তস্য মতং মতং যস্য ন বেদসঃ। অবিজ্ঞাতং বিজানতাং বিজ্ঞাতমবিজানতাম্। ভাষ্যম্ --যস্য (ব্ৰহ্মবিদঃ) অমতম্ ( অবিজ্ঞাত অবিদিতং) [ ব্রহ্মেতি মত অভিপ্রায়ঃ নিশ্চয়ঃ ] তস্য মতং (জ্ঞাতং সমগ, ব্রহ্মেত্যভিপ্রায়ঃ । যস্য [ পুনঃ ] মতং ( জ্ঞাতং ) [ বিদিতং ময়া ব্রহ্মেতি নিশ্চয়ঃ ] ন বেদ [ এব ] সঃ { ন ব্ৰহ্ম বিজানাতি সঃ )। অবিজ্ঞতং বিজানতামিতি অবিজ্ঞতম্ ( অমত অবিদিত মেব ব্রহ্ম) বিজানতাং ( সমগবিদিতবতামিত্যেৎ)। বিজ্ঞাতং (বিদিতং ব্রহ্ম) অবিজা- নতা ( অসমগ দর্শিনাং ইন্দ্রিয় মনােবুদ্ধিবে আত্ম দর্শিনামিত্যর্থ ||৩ বঙ্গানুবাদ—যিনি মনে করেন ব্রহ্মকে জানিতে পারি নাই বস্তুতঃ তিনিই ব্রহ্মকে জানেন ; আবার যিনি মনে করেন আমি ব্ৰহ্মকে জানিতে পারিয়াছি, বস্তুতঃ তিনি ব্রহ্মকে জানেন না। যেহেতু অবিজ্ঞজনেরা ব্ৰহ্মকে বিজ্ঞাত বলিয়া মনে করে এবং বিজ্ঞব্যক্তিরা ব্ৰহ্মকে অবিজ্ঞাত বলিয়াই মনে করেন ৩ ৪। প্রতিবােধবিদিতং মতমমৃতত্বং হি বিন্দুতে। আত্মনা বিন্দুতেবীৰ্যং বিদ্যয়া বিনতেংমৃতম্ ॥ ভাষ্য—[প্রতিবােধৎ প্রতিবোধ-বিদিতাত্মাৎ তস্মাৎ] প্রতিবােধ বিদিতম, (এব মতমিত্যভিপ্রায় ) [ বােধস্যহি প্রত্যগাত্মবিষয়ত্বঞ্চ ] মমমৃতত্বে (হেতু। নহি আত্মনােহনাত্মত্বং ( অমৃতত্বং) [ ভবতি ] কেননাপনিষৎ। [ আত্মত্বাদাত্মনােহমৃতত্বং নিৰ্ণিমিত্তমেব ] আত্মনা ( স্বেন-স্বরূপেণ ) বিনতে ( লভতে । বীৰ্যং (বলং সামর্থম) “ধনসহায়মন্ত্রৌষধিতপো যােগ কৃতবীৰ্যং মৃত্যু ন শব্বোতভিভবিতুম, অনিত্যবস্তুকৃতত্বাৎ” অতত বিদ্যায় ( আত্মবিষয়য়া) বিতেমৃতম, ( অমৃতত্বম) নায়মাত্মা বলহীনেন লভ্যঃ” অতঃ সমর্থো হেতু—“অমৃতত্বং হি বিনতে” ইতি ॥৪ বঙ্গানুবাদ—যিনি ব্রহ্মের স্বরূপ জ্ঞানবিষকচিন্তা দ্বারা উপলব্ধি করিতে সমর্থ হয়েন, তিনিই অমৃতত্ব বা মােক্ষ লাভ করেন। অর্থাৎ ব্ৰহ্মবিদ্যার অভ্যাসেপৱমাথভজ্ঞান লাভ দ্বারা মুক্তি এবং জীবাত্মার জ্ঞান দ্বারা স্বর্গাদি সিদ্ধি লাভ হই" থাকে। ৪ { ৫। ইহচেদবেদীদথ সত্যমস্তি ন চেদিহাবেদীষ্মহতী বিনষ্টি। ভূতেষু ভূতেষু বিচিত্য ধীরা প্রেত্যাশ্মল্লোকাদমৃতা ভবন্তি । ভাষ্য—ইং ( অম্নি লােকে) চেৎ [ মনুষ্যঃ ] (যদি) অবেদী ( আত্মানং বিদিতবান যথােক্তং) অথ ( তদ) অন্তি সত্যম, মনুষ্য- জনি অস্মিন্ সম্ভাবব বা পরমাথত। সত্যং বিদ্যতে) ন চেদ, ইহ ( জীবংশ্চেং অধিকৃত) অবেদীং (ন বিদিতবান) [ তদা ] মহতী (দীর্ঘা অনন্তা। বিনষ্টিঃ ( বিনাশনং-জন্মমরণাদি সংসার গতিঃ '। [ তাদেবং গুণ দোষৈ বিজানন্তে। ব্রাহ্মণাঃ ] ভূতেষু ভূতেষু সৰ্ব্বভূতেষু স্থাবরেষু চরেযুচ একমাত্মত্ত্বং ব্রহ্ম) বিচিত্য { বিজ্ঞায় সাক্ষাৎকৃত্য) ধীরা ( ধীমন্ত) প্ৰেত্য ( ব্যাকৃত্য মহংভাবলক্ষণাৎ অবিদ্যারূপাৎ কেননাপনিষৎ। অস্মাৎ লােকাং উপরম্য) [ সৰ্বাত্মৈকত্বভাব অদ্বৈতম আপন্না সন্তঃ ] অমৃতাঃ । মরণধৰ্ম্মরহিতা) ভবন্তি { ব্ৰহ্মৈব ভবন্তীত্যথঃ | বঙ্গানুবাদ-ইহলােকে যদি মনুষ্য ব্রহ্মের স্বরূপ তত্ত্ব জানিতে পারে, তবে তাহার মানব জন্মেই সত্য লাভ হয় ; অর্থাৎ তিনি মৃত্যুকে অতিক্রম করিয়া মােক্ষলাভ করেন। আর যদি মনুষ্য ইহলােকে পরমাত্মার বিষয় জানিতে না পারে তবে তাহার বিনাশ অর্থাৎ জন্ম মরণাদি প্রবাহময় সংসার প্রাপ্তি হয়। ধীর বা জ্ঞানীগণ সর্বভূতে একমাত্র ব্রহ্ম সত্ত্বা অবগত হইয়া মরণান্তে অাত্মভাব লাভ করিয়া অমৃতত্ত্ব বা ব্ৰহ্ম স্বরূপ হইয়া থাকেন ॥৫ মন্তব্য—সৰ্ব্বভূতে ব্ৰহ্ম সত্ত্বার উপলব্ধি করিতে হইলে অবিরত নিত্য চৈতন্য স্বরূপ নিজ আত্মার ধ্যান করিতে হইবে, এবং ধারণা নিশ্চল হইলেই সর্বত্র অদ্বৈতভাব প্রকাশ হইবে।' এইজন্য সাধু বলিয়াছেন “হরদমে গুরুর নাম জপ” । ইতি কেনােপনিষদে দ্বিতীয় খণ্ড সমাপ্ত।

কেনোপনিষ= তৃতীয় খণ্ড । ব্ৰহ্ম হ দেবেভ্যো বিজিগ্যে তস্যহ ব্ৰহ্মণে বিজয়ে দেবা অমহীয়স্ত। ত ঐক্ষন্তাম্মাকমেবায়ং বিজয়ােকমেবায়ং মহিমমতি। ভাষ্যম্--ব্রহ্ম ( যথেক্তি লক্ষণং পরং) হ (কিল ) দেবেভ্যোঃ (অর্থায়ঃ) বিজিগ্যে (জয়ং লরূবং দেবানামসুরাণাঞ্চ সংগ্রামে অসুরাণা জিত্ব দেবেভ্যো জয়ং তৎফলঞ্চ প্রাচ্ছৎ) তস্য হ (কিল ) ব্ৰহ্মণে। বিজয়ে দেবাঃ (অগ্ন্যাদয়ঃ) অমহীয়ন্ত (মহিমানং প্রাপ্তবঃ) [ তদা আত্ম সংস্থস্য প্রত্যঙ্গাত্মনঈশ্বরস্য সৰ্বজ্ঞস্য সর্বক্রিয়াফল—সংযােজয়িতু প্রাণিনাং সর্বশক্তে জগতেঃ স্থিতিং চিকীর্ষোঃ অয়ং জয়াে মহিমাচ ইত্যানন্তঃ ] তে (দেবাঃ) ঐক্ষন্ত (ঈক্ষিতবস্তঃ অগ্ন্যাদিস্বরূপ পরিচ্ছিন্নাত্ম কৃতঃ ) অম্মাকম্ এবায়ং বিজয় অস্মাকমেবায়ং মহিম (অগ্নিবায়িত্বদি লক্ষণ জয়ফলভূতােহস্মাভিমুভূয়তে) [ নাস্মং প্রত্যগাত্মভূতেশ্বরকৃতঃ ইত্যে মিথ্যাভিমান লক্ষণবতাম্ ] ॥১ বঙ্গানুবাদ—কোন এক সময়ে দেবগণের হিতার্থে ব্ৰহ্মশক্তি কর্তৃক অসুরগণ পরাজিত হইলে, দেবগণ ব্ৰহ্মকৃত জয়কে নিজেদের জয় মনে করিয়া বিজয় গৌরব অনুভব করিয়াছিলেন। প্রকৃত পক্ষে এই বিজয় যে সর্বশক্তিমান : অন্তরস্থ ঈশ্বর কত তাহা জানিতে না পারিয়া অহং জ্ঞানে মিথ্যা গর্ব করিতেছিলেন ৭১

কেনােপনিষৎ
২।
তদ্বৈষাং বিজজ্ঞেী তেভ্যো হ প্রাদুর্বভূব।
তন্ন ব্যজানত কিমিদং যক্ষমিতি ॥২
ভাষ্য—[ এবং মিথ্যাভিমানেক্ষণবতাং ] তৎ হ (কিল । এষা
( মিথ্যেক্ষণং বিজজ্ঞৌ ( বিজ্ঞাতবদ, ব্ৰহ্ম) তেভ্যো (দেবেভ্যে) হ
( কিল অর্থায়) প্রাদুর্ব ভূব। তৎ ( প্রাদুর্ভূতং ব্ৰহ্ম) ন ব্যজানত
( নৈব বিজ্ঞাতবন্তো দেবাঃ) কিম্ ইদম্ যক্ষ (পূজ্যং মহদ্ভুতম্) ইতি ॥২
বঙ্গানুবাদ-দেবতাদিগের এই মিথ্যা অভিমান বুঝিতে পারিয়া
ব্রহ্ম তাঁহাদের সমীপে অতি তেজপুঙ্গরূপে প্রকাশমান হইলেন। কিন্তু
দেবতারা প্রকাশমান ব্ৰহ্ম রূপ সন্ধৰ্শন করিয়াও সেই মহান্ অত্যন্ত ত
পূজনীয় রূপের স্বরূপ নির্ণয়ে সমর্থ হইলেন না ॥২
৩। তেহগ্নিমক্রবন্ জাবেদ এতদ্বিজানীহি।
কিমেতদ, যক্ষমিতি। তথেতি।
৪।
তদভ্যদ্রবৎ তমভ্যবদৎ কোহসীতি ।
অগ্নিবা অহমস্মীত্যব্রবীজ্জাবেদাবা অহমম্মীতি ।
৫। যস্মিং শুয়ি কিং বীৰ্যমিতি। অপীদংসৰ্বং
দহেয় যদিদং পৃথিব্যামিতি।
৬। তস্মৈ তৃণং নিদধাবেতহেতি। তপ্রেয়ায়।
সর্বজবেন তন্ন শশাক দগ্ধ। স ততএব
নিবৃতে নৈতদশকং বিজ্ঞাতু যদৈত্যক্ষমিতি।

কেনােপনিষৎ শঙ্কির ভাষ্যম্। তে (দেবাঃ) অগ্নিম্ অব্ৰুব (উক্তবন্তঃ ) হে জাতবেদঃ ! ( অম্বং গােচরস্থং যক্ষং) বিজানীতি (বিশেষতে বুধ্যস্ব) কিম, এবং যক্ষম ইতি। তথা ইতি (তথাস্তু) ॥৩ তৎ { যক্ষম,) অভি অদ্রবং ( তংপ্রতি গতবান) [ অগ্নিঃ ] তম্ চ 'অভ্যবদং ( অগ্নিং ] ( প্রত্যভাষত) কঃ অসি ইতি। [ এবং ব্ৰহ্মণ পৃষ্টোইগ্নিঃ ] অব্রবীৎ-অগ্নিঃ বৈ (অগ্নিনামহংপ্রসিদ্ধঃ) জাবেদা ইতি চ [ নামদ্বয়েন প্রসিদ্ধতয়া অত্মানং শ্লাঘয়ন ] ৪ [ ইত্যেব মুক্তবন্ত ব্ৰহ্ম অবােচৎ] যমিন এবং প্রসিদ্ধ গুণ নামবতি) ত্বয়ি কিম, বীৰ্যং ( সামর্থ্যম) ইতি। [ সােহব্রবীৎ ] ইদং ( জগৎ } সৰ্ব্বং দহেয়ং ( ভস্মিকুর্যাম) যং ইদং (স্থাবরাদি ) পৃথিব্যাম, ইতি। পৃথিব্যাম, ইসলক্ষণার্থম, ॥৫ তস্মৈ । এবমভিমানবতে) | ব্ৰহ্ম ] তৃণং নিদধে [ পুরােহগ্নে স্থাপিতবং ] “ব্ৰহ্মণা” এতং (তৃণমাত্ৰং মমাগ্রত দহ ইতি। তদুপ্রেয়ায় (তৃণসমীপং গতবান) সৰ্ব্বজবেন ( সর্বোৎসাহতেন বেগেন গত্বা) তং ন শশাক ( নাশকং দগ্ধ ম ! সঃ (জাবেদাঃ) তত এব (যক্ষাৎএব) নিবৃতে (প্রতিগতবান) নৈত (যক্ষম,) অশকং (শবান) অহং) বিজ্ঞাতুম, বিশেষতঃ-যদেত, যক্ষমিতি ॥৬ বঙ্গানুবাদ দেবগণ তদ্দষ্টে অগ্নি নামক দেবতাকে সম্বোধন পূর্বক বলিলেন হে জাতবেদ! আমাদের সম্মুখস্থ অত্যদ্ভুত পদার্থটি কি ? তুমি যাইয়া অবগত হও। অগ্নি তাহাই হউক বলিলেন ॥৩ অগ্নি দেবরাজ ইন্দ্রের আদেশে সেই তেজপুঞ্জ যক্ষসমীপে উপস্থিত হইলে তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন তুমি কে? অগ্নি আত্মাভিমানে বলিলেন আমি জাবেদা, অগ্নি নামে ও প্রসিদ্ধ।৪ কেনােপনিষৎ। ৪১ ব্ৰহ্ম জিজ্ঞাসা করিলেন, তােমার শক্তি কিরূপ? অগ্নি বলিলেন পৃথিবীস্থিত সমস্ত পদার্থকেই আমি দগ্ধ করিতে সমর্থ । সেই তেজোময় যক্ষ অগ্নি সমীপে একটি তৃণ স্থাপন করিয়া বলিলেন ইহাকে দগ্ধ কর। অগ্নি তৃণ সমীপে গমন করিয়া সৰ্বশক্তি দ্বারাও তৃণ গাছটী দগ্ধ করিতে সমর্থ হইলেন না! অগ্নি দেবগণ সমীপে প্রত্যাবৃত্ত হইয়া বলিলেন যক্ষ যে কি পদার্থ তাহা আমি অবগত হইতে পারিলাম না । অথ বায়ুমব্রুবন্ বায়বেতদ্বিজানীহি কিমেদ, যক্ষমিতি তথেতি। ভাষ্যম্অথ ( অনন্তরং) [ দেবাঃ ] বায়ুং অব হে বায়াে এতং ( অস্মং গােচরস্থম,) বিজনীহি । বিশেষতঃ বুধ্যস্ব) কিম ইদম, যক্ষম ইতি [ বায়ু উবাচ । তথা (তথাস্তু) ইতি। ৭ বঙ্গানুবাদ-অনন্তর বায়ুকে দেবগণ বলিলেন হে বায়ে! এই যক্ষ কে? তাহা তুমি জানিয়া আইস, বায়ু বলিলেন তথাস্তু অর্থাৎ তাহাই ৮। তদভ্যদ্রবৎ তমভ্যবদৎ কোহসীতি। বায়ুবা অহমম্মীত্যৰবীন্মাতরিশ্বা বা অহমশ্মীতি। ভায্যম [বায়ুঃ] তৎ (যক্ষম) অভ্যদ্রবৎ (প্রতিগতবান,) তম, ( বায়ুং) তৎ (যক্ষ ) অভ্যবদৎ ( প্রত্যভাষত : (ত্বম) কঃ অসি ইতি। বায়ুঃ অব্রবীৎ অহম, বায়ুঃ বা মাতরিশা অস্মি ইতি ॥৮ বঙ্গানুবাদ-যক্ষের সম্মুখে বায়ু উপস্থিত হইলে তিনি জিজ্ঞাসিলেন, 'তুমি কে ? বায়ু বলিলেন আমি বায়ু, আমি মাতরিশা নামে প্রসিদ্ধ ॥৮ ৪২ কৈলােপনিষৎ। --- ৯। তস্মিংস্কৃয়ি কিং বীৰ্যমিতি। অপীদং সর্বং আদ- দীয়ং যদিদং পৃথিব্যামিতি। ভাষ্যম- যক্ষঃ উবাচঃ তনি। এবং প্রসিদ্ধ গুণনামবতি) ত্বয়ি কিম, বীৰ্য্যম [অস্তি] ইতি [বায়ুঃ] অব্রবীৎ পৃথিব্যাম, ইদম যং [অস্তিতৎ] সৰ্বম, অপিআদদীয়ম, (গৃহীয়াম ) # ৯ বঙ্গানুবাদ –যক্ষ বায়ুকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার বীৰ্য্য ও ক্ষমতা কি? বায়ু বলিলেন এই পৃথিবীস্থিত সমস্ত পদার্থই আমি গ্রহণ করিতে পারি। ৯। ১০। তস্মৈ তৃণং নিদধাবেতদাদস্বেতি। তদুপপ্রেয়ায় সৰ্বজবেন তন্ন শশাকাদাতুম। স তত এব নিবৃতে নৈতদশকং বিজ্ঞাতুং যদেতদ, যক্ষমিতি। ১১। অথেন্দ্রমবন, মঘবতেদ, বিজানীহি কিমেদ, যক্ষমিতি। তথেতি তদভ্যদ্রবৎ। তস্মাৎ তিরােধে। স তস্মিবােকাশে স্রিয়মাজগাম বহু শােভমান। মুমাং হৈমবতীম। তাং হোবচ কিমেতদ, যক্ষমিতি। ১২। ইতি তৃতীয় খণ্ড। শাকর ভাষ্যম্। ১০। তস্মৈ ( এবমভিমানবতে) | ব্ৰহ্ম ] তৃণং নিদধা (পুর বায়ু স্থাপিতবৎ ) [ব্রহ্মণ এতৎ (তৃণমাৱমমাগ্রতঃ ) আদৎ ইতি।

কেননাপনিষৎ। ৪৩ তং (তৃণম) উপপ্রয়ায় ( সমীপং গতবান) সৰ্বজবেন (সর্বোৎসাহ- কৃতন বেগেন) তং ন শশাক আদাম, (গ্রহিতুম) সঃ (বায়ুঃ ) ততঃ ( যক্ষাৎ ) সঃ এব নিবৃতে (নিবৃত্তঃ প্রতিগতবান, নেতৎ ( যক্ষন) অণকং ( শক্ত যান । [ অহং] বিজ্ঞতু ( বিশেষতঃ ) যৎএতং যক্ষং ইতি। ১২। ১১। অথেন্দ্রমবন, মঘব এতং বিজানীহি ইত্যাদি পূৰ্ব্ববৎ। তথেতি তদভ্যদ্রবং। তস্মাৎ ( ইন্দ্রাৎ আত্ম-সমীপেগতা তদব্ৰহ্ম) তিরােদধে ( তিরোভূতম). [ ইন্দ্ৰব্ৰহ্মণস্তিয়ােধনকালে যমিন্নাকাশে আসীং ] সঃ ( ইন্দ্ৰঃ) তমিন, এব আকাশে [ তন্থেী কিং তদ, যক্ষমিতিধ্যায়ন, ন নিবতেহয়াদিবং তস্য ইন্দ্রস্য যক্ষে ভক্তিং বুদ্ধা বিদ্যা উমারূপিনী প্রাদুরভূং ] স্ত্রীরূপা। স ইন্দ্র [ তাম, উমাং] বহু শোভমানাং শােভন তমাং বিদ্যাং) হৈমবতীং (জ্ঞাতুম, সমর্থেতি কৃত্বা তাম । উপজগাম। [ ইন্দ্রঃ ] তাং ( উমাং) ই (কিল) উবাচ (প্রপচ্ছ) কিমেতৎ (দর্শয়িত্ব) তীররাভূত যক্ষমিতি। বঙ্গানুবাদ। ১০। যক্ষ বায়ু সমীপে একটী তৃণ রাখিয়া বলিলেন ইহা তুমি গ্রহণ কর। বায়ু তথায় গমন করিয়া সমস্ত বল দ্বারাও গ্রহণে সমর্থ হইয়া দেবগণ সমীপে প্রত্যাবৃত্ত হইয়া বলিলেন যক্ষ যে কে ? তাহা আমি জানিতে পারিলাম না। ১১। অনন্তর দেবতারা ইন্দ্রকে বলিলেন হে মঘবন, ইন্দ্র ! এই যক্ষ কে ? তাহা তুমি জানিয়া আইস। ইন্দ্র তাহাই হউক এই বলিয়া

৪৪
কেনােপনিষৎ।
;
তদভিমুখে গমন করিলেন । কিন্তু সমীপবর্তী ইন্দ্রের নিকট হইতে যক্ষ
তখন অন্তহিত হইলেন ।
১২। তখন আকাশে হেমাভরণে ভূষিতা বহু শােভযুক্ত হৈমবতী
উমা দেবীকে দৃষ্টি করিয়া, তংসীপে ইন্দ্র গমন পূর্বক জিজ্ঞাসিলেন
এই যক্ষ কে ?
তৃতীয় খণ্ড সমাপ্ত।

== কেনোপনিষ= চতুর্থ খণ্ড। ১। সা ব্রহ্মেতি হােবা। ব্ৰহ্মণে বা এতদ্বিজয়ে মহীমধ্বমিতি ততাে হৈব বিদাঞ্চকার ব্রহ্মেতি । ভাষ্যম—সা ব্রহ্মেতি হোবাচ । হ (কিল ) ব্ৰহ্মণঃ বৈ (ঈশ্বরস্বৈ) বিজয়ে ( ঈশ্বরণ জিতা অসুরা যুয়ং তত্র নিমিত্তমাত্ৰম, ) [ শূয়ং] মহীমধ্ব [ মহিমনিং প্রাপুথ )। এতং ইতি ক্রিয়াবিশেষণার্থ। ততঃ (তস্মাৎউমাবাক্যাং) হ এব বিদাঞ্চকার ব্রহ্মেতি ( ইন্দ্র অব- ধারণাৎ ততে। হৈবোতন্ত্রেণ)। ১ বঙ্গানুবাদ—সেই উমাদেবী বললেন উহা ব্রহ্ম এই বিজয় ব্ৰহ্মকৃত তোমরা নিমিত্তমাত্র। ব্রহ্মের বিজয়েই তােমরা গৌরব লাভ করিয়াছ, তোমাদের অভিমান মিথ্যা। উমা বাক্য দ্বারা যক্ষ যে ব্রহ্ম ইহা ইন্দ্ৰ বুঝিতে পারিয়াছিলেন। ১ তস্মাদ বা এতে দেখা অতিতরামিবাদ্যান, দেবান, যদগ্নিায়ুরিন্দ্ৰঃ তে হেনম্নেদিষ্ঠং পস্পশুস্তে হ্যেনৎ প্রথমাে বিদাঞ্চকার ব্রহ্মেতি। ভাষ্যম—তস্মাৎ (ঐশ্বৰ্য্যগুণৈঃ} অতিতরামিব (শক্তিগুণাদি- মহাভাগৈঃ) অন্যান দেবান, ( অতিতরাম, অতিশয়েন শেরত ইব এতে দেবাঃ)। যং অগ্নিঃ বায়ুঃ ইন্দ্ৰঃ তে হি (দেবাঃ) [ স্মাৎ ] এনং : ব্ৰহ্ম) নেদিষ্টং ( অন্তিকতমং প্রিয়তম,) স্পঃ ( স্পষ্টবস্ত ) ৪৬ কৈনােপনিষৎ। তে হি এনং ( ব্ৰহ্ম) প্রথমঃ ( প্রধান সন্ত ইত্যেতদ) বিদাঞ্চকার ( বিদঞ্চ) ইত্যেতদ, ব্ৰহ্মতি ॥ ২ বঙ্গানুবাদ—অগ্নি--বায়ু- ইন্দ্র দেবতাএয় কথোপকথন ইত্যাদি দ্বারা ব্রহ্মের সমীপবর্তী হেতু অনান্য দেবগণকে অতিক্রম করিয়া মহিমাদি গুণে প্রাধান্য লাভ করিয়াছিলেন। ২ ৩। তস্মাদ, বা ইন্দ্রোহতিতরামিবাগান, দেবান, স হ্যেনম্নেদিষ্ঠং পম্পৰ্শ সহ্যেনৎ প্রথমাে বিদাঞ্চকার ব্রহ্মেতি। ভাষ্যম— [ যস্মাৎ অগ্নিবায়ু অপি ইন্দ্ৰবাক্যদেব বিদাঞ্চকুতুঃ ইন্দ্ৰেণ হি উমাবাক্যাং প্রথমং তং ব্রহ্মেতি অত ] তস্মাৎ বৈ ইন্দ্র অতিতরাম, ( অতিশয়েন শেতে ইব) অন্যান, দেবান। স হি এনৎ নেদিষ্ঠং (প্রিয়তমং) স্পর্শ যস্মাৎ স হেনৎ প্রথমাে বিদাঞ্চকার ব্রহ্মেতি উত্তীর্থং বাক্যম, ॥ ৩ বঙ্গানুবাদ—যেহেতুক ইন্দ্র প্রথমে উমাদেবী নিকট ব্ৰহ্মতত্ত্বটি বুঝিয়াছিলেন। সেই জন্য অন্যান্য দেবতাগণকে অতিক্রম করত প্রাধান্য লাভ করিয়াছিলেন । শেষশিং পূর্বেই বাখ্যাত হইয়াছে বিধায় পুনরুল্লেখ নিয়ােজন। ৩ ৪। তস্যৈষ আদেশে। যদেতদবিহুতো ব্যহতদ, আ ইতীনন্যমীমিষদ, আ ইত্যধিদৈবতম । ভাষ্যমতস্য (ব্ৰহ্মণঃ) এষঃ আদেশঃ ( উপমাপদেশঃ) যৎ এতৎ ( প্রসিদ্ধ লােকে) বিদ্যুত ব্যত ( বিদ্যোতনং কতবদিতি)।

কৈমােপনিষৎ ৪৭ আ ( ইতি উসমাথে) বিদ্যুদিব হি সদাত্মানং দর্শয়িত্ব তিরােভূত ব্ৰহ্ম [ দেবেভ্যঃ ] আ ইব [ বিদ্যুতন্তেজঃ সং বিদ্যোতিতবদিব ইত্যভিপ্রায়ঃ ] কোহসৌ ? ন্যমীমিষং। [ যথা চক্ষুঃ মমিষ ( নিমেষংকৃতবৎ ')। ইতি অধিদৈবতম, ( দেবতাবিষয়ং ব্ৰহ্মণ উপমানদর্শনম, । বঙ্গানুবাদ -ব্রহ্ম বিষয়ে সাদৃশ মূলক আদেশ প্রদর্শিত হইতেছে— বিদ্যুতের স্ফুরণ যে প্রকার চক্ষুর নিমেষ যেরূপ, ব্রহ্মের বিকাশ বা আবির্ভাব ও প্রতীতি তদ্রুপ। দেবতা বিষয়ে উপমান প্রদর্শিত হওয়ায়, ব্রহ্মের আদেশকে “অধিদৈবত” উপদেশ বলিয়াছেন । ৪ ৫। অথাধ্যাত্মম,। যদেতদ, গচ্ছতীব চ মনােহনেন চৈতদুপস্মরত্যভীক্ষং সঙ্কল্প। ভাষ্যম—অথ (অনন্তরম) অধ্যাত্মম, ( প্রত্যগাত্মবিষয় আদেশ উচ্যতে )—যদেতং গচ্ছতীব চ মনঃ (এতদ ব্ৰহ্ম ইব বিষয়ী করোতি) যচ্চ অনেন (মনসা) এতৎ ( ব্রহ্ম) উপস্মরতি (সমীপতঃ স্মরতি সাধক) অভীক্ষং (তৃশং। সঙ্কল্পশ্চ (মনসে৷ ব্ৰহ্মবিষয়ঃ মন উপাধি- কাদ্ধি মনসং সঙ্কল্প স্মৃত্যাদি প্রত্যয়ৈঃ অভিব্যজ্যতে ব্ৰহ্ম বিষয়ীক্ৰিয়মান মিব) [অতঃ স এষ ব্ৰহ্মণঃ অধ্যাত্মমাদেশঃ ] ৫ বঙ্গানুবাদ-অতঃপর আধ্যাত্ম তত্তবিষয়ক উপদেশকথিত হইতেছে – মন যেন ব্রহ্মকে বিষমকৃতকরে অথবা ব্রহ্মের নিকট গমন করে বলিয়াই বােধ হয়। সাধক মনের দ্বারা সর্বদা ব্রহ্মকে স্মরণ করেন, এ বিষয়ে এইরূপ সঙ্কল্প বা মানচিন্তা করতে হয়। ইহাই ব্ৰহ্মসম্বন্ধে আধ্যাত্ম উপদেশ । ৫ ৪৮ কেনােপনিষৎ মন্তব্য-নিৰ গুৱ ভক্ষ চিস্থার নামই আধ্যাত্ম উ'দেশ। যিনি ব্ৰহ্ম বিষয়ে মানস সঙ্কল্প বা ধ্যান করেন তাহার মনে আত্মভূতব্ৰহ্ম অভিব্যক্ত হয়েন। মনই ব্রহ্মর অভিব্যক্তি স্থান, মানস চিন্তার উৎকৰ্যানুসারে ব্রহ্মের অভিব্যক্তির উৎকর্ষতা হয় । স য তদ্ধ তদ্বনং নাম তদ্বনমিত্যুপাসিতব্যম। এতদেবং বেদ অভি হৈনং সৰ্বাণি ভূতানি সংবাঞ্ছন্তি। ভায্য-তং ( ব্ৰহ্ম) হ। কিল ) তদ্বনং নাম (তস্যবনং) তদ্বন তস্য প্রাণিজাতস্য প্রত্যগাত্মভূতত্বাং বনং বননীয়ং সম্ভজনীয়ং) [তস্মাৎ] তদ্বনম ( ইত্যনেনৈৰ গুণাভিধানেন) উপসিতব্যম, ( চিন্তনীয়মিতি) স যঃ ( কশ্চিৎ ) এতদ ( সথোং ব্রহ্ম) এবং বেদ ( উপাস্তে। অভি ২ এন (উপাসক) সৰ্বানি ভূতানি অভি সংবাতি হ{ প্রার্থয়ন্তএব ) [ যথা ব্ৰহ্ম ] ৬ বঙ্গানুবাদ -অপিচ ব্রহ্মই তদ্বন’ নামে প্রসিদ্ধ অর্থাৎ প্রাণী- গণের ভজনীয় (বন অর্থে তাহার প্রাণীগণের এবং ধন, অর্থে ভজনীয় বা উপাসনীয়। যে কোন ব্যক্তি কথিতরূপে ব্ৰহ্মকে অবগত হয় এবং লোক সকল বন্ধের নিকটই অভিষ্ট ফল প্রার্থনা করে ৬ ৭। উপনিষদ ভাে ৰূহীত্যুক্তা ত উপনিষদং ব্রাহ্মীং বাব ত উপনিষদমক্কমেতি। ভাষ্যম্--[ শিষ্য উক্তং জয়া ] ভাে ( ভগবন্!) উপনিষদ জহি ইতি। তে। তুভ্য) উক্ত উপনিষদম, বাব ( নিশ্চয়ং) তে ব্রাহ্মীং (বহ্মবিষয়িণীম্ ) উপনিষদ অক্ৰম ইতি ॥৭ কেনােপনিষৎ। বঙ্গানুবাদ --শিষ্য প্রাগুক্ত উদেশ প্রাপ্তে গুরুকে 'বলিলেন ভগন! উনিং বিষয়ক উদেশ ‘আমাকে প্রদান করুন। গুরু বলিলেন তোমাকে উ পনিং বলিয়াছি। উপনিষদ ব্ৰহ্মসম্বন্ধিনী বিদ্যা অর্থ পরমাত্মার বিষয়ই বলা হইয়াছে।' ব্ৰহ্ম বিদ্যার দৃঢ়ীকরনাথে “অৰ্জনবাব” (নিশ্চন বলিয়াছি' এমত পদ সংযোগ হইয়াছে। ৭ ৮। তস্মৈ তপো দমঃ কর্মেতি প্রতিষ্ঠাবেদাঃ সৰ্বাঙ্গানি সত্যমায়তনম্ । ভাষ্যতস্যৈ তস্যঃ, উপনিষদ) তস: { কায়েন্দ্রিয় মসাং নিগ্রহঃ ) দমঃ ( চিত্তসংযম ) কৰ্ম্ম (অগ্নিহােত্রাদি (বেদাঃ ( বেদাধ্য, য়নম) সৰ্বাঙ্গানি ( সৰ্বানি বেদাঙ্গানি—শিক্ষ, কল্প, ব্যাকরণ নিরুক্ত ছদঃ জ্যোতিষ ইতিমট । ইতি প্রতিষ্টা (পাদৌ ইব) ( এষ হি সংস্থ ব্রহ্মবিদ্যা প্রতিতিষ্ঠতি) এতানি তপ আদীনি বন্ধ বিদ্যায় প্রাপ্ত পায় ভূতানি ইত্যথ;) সত্য [ তস্যাঃ ? আয়তন ( অশ্রয়ভৃতম্ ।।৮ বঙ্গানুবাদ - ব্রহ্মবিদ্যা লাভের উপায বলা হইতেছে মনাদি ইন্দ্রিয় নিগ্রহরূপ তপস্যা, বিষয় পর। খতাই দম, অগ্নিহােত্রাদিই কৰ্ম্ম বেদ বেদাঙ্গ শিক্ষা, কল্পসূত্র, ব্যাকরণ, নিরুক্ত ছন্দ, জ্যোতিষ ) সকম উপনিস প্রাপ্তির উপায়। একমাত্র নত। নিষ্ঠাই তাহার আশ্রয়স্থান ॥৮ মন্তব্য-ব্ৰহ্মবিদ্যা লাভের জন্য একমাত্র সত্য{বলম্বনই প্রধান বেদ বেদাঙ্গকে পদের সহিত তুলনা করায় ইহাই বােধগম্য যে মানুষ যেমন পদের উপর ভর দিয়া চলিয়া থাকে, ব্রহ্মবিদ্যা লাভ জন্য তদ্রুপ বেদ বেদাঙ্গ সমস্ত প্রতি নির্ভর করিয়া চল।। যে বা এমেবং বেদাপহত্য পাপানন্তে স্বর্গে ললাকে জোয়ে প্রতিতিষ্ঠতি প্রতিষ্ঠিত। উপায় ।

৫ কেনােপনিষৎ। ভাষ্যম্য বৈ এতা । ব্ৰহ্মবিদ্যাং “কেনেষিতং” ইত্যাদি) এবং (মহাভাগ্যং “ব্ৰহ্ম হ দেবেভাঃ” ইত্যাদি স্তুতঃ সৰ্ববিদ্যা প্রতি- ষ্ঠা) বেদ “অমৃতত্বং হি বিতে” (ইব্যুক্তমপি ব্ৰহ্মবিদ্যাফলম) অন্তে ( নিগময়তি) অপহত্য পাপন অবিদ্যা ক মকৰ্ম্ম লক্ষণ সংসার বীজং বিধুয়) অনন্তে (অপৰ্যন্তে) স্বর্গে লােকে (মুখকে লক্ষনীcভ্যৎ। জ্যেয়ে (জ্যায়সি সৰ্বমহত্তরে স্বাত্মনি মুখে এব) প্রতিষ্ঠিতি ন পুনঃ সংসার মাপদ্যতে ইত্যভিপ্রায় ) ॥ সমাপ্তমিদং শ্রীমঙ্ঙ্কর বিরচিত কেনােপনিষদ ভাষ্যং বঙ্গানুবাদ—যিনি সৰ্ব্ব বিদ্যার আশ্রয় স্বরূপ ব্ৰহ্মবিদ্যা যথাক্তরূপে অবগত হইয়াছেন, তিনিই অবিদ্যারূপ কৰ্ম্মম্বুক পাপ সমূহ অপনীত করিয়া আত্ম স্বরূপ অনন্তৰহ্মে অবস্থিতি করেন, আর্থাং মুক্তি প্রাপ্তি হেতু পুনঃ স সারে আইসেন না | ইতি চতুর্থ খণ্ড। কেননাপনিষং সমাপ্ত । শান্তি পাঠ।

অঙ্গবিন্দপনিষৎ। অথৰ্ব্ববেদীয় ব্ৰহ্ম বিন্দপনিষদের মূল প্রতিপাদ্য বিষম “মনকে বিষয় বাসনা হইতে আকৃষ্ট করিয়া একমাত্র ব্রহ্মচিন্তন, এবং জীবও আত্মার প্রভেদ জ্ঞান তিরােহিত করিয়া সােহহংভাব অবলম্বন করা। চারি খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ডে ৫টি, দ্বিতীয় খণ্ডে ৫টি, তৃতীয় খণ্ডে ৫টি, চতুথ খণ্ডে ৭টি, মন্ত্র সমষ্টিতে ২২টি মন্ত্র । ইহার আরম্ভ--ও মনােহি দ্বিবিধঃ ক.কম সানুগ্রাহকজৈন ভস্ম্যহং বাসুদেব ইতি মন্ত্রে পরিসমাপ্তি হইয়াছে। ইহার শাঙ্কর ভাষ্য নাই, নারায়ণ কৃত দীপিকা আছে। ইহার স্থূল মন্ম এই যে—প্রথমে মনকে নিজের আয়ত্বাধীনে রাখা, মন শুদ্ধ ও অশুদ্ধ ভাবে দ্বিবিধ। কামনা সঙ্কল্প মন অশুদ্ধ, এবং কামনা বর্জিত মনই শুদ্ধ। বিষশক্ত মন বন্ধনের এবং কামনা বর্জিত মনই মুক্তির সােপান। মুমুক্ষ ব্যক্তি সর্বদ। মনকে বিষয়ে মগ্ন করিবেন না। মন বিষয় প্রতি অনাশক্ত হইলে হৃদপদ্মে সমিরুদ্ধ হইয়া যাইবে, তখন কামনাদি ভােগ বাসনা থাকিবেনা। ইহাই পরমপদ মুক্তি লাভের উপায়। প্রথমাধিকারীর পক্ষে প্রণব মন্ত্র “ওঁকার” জপ দ্বারা চিত্ত নিরােধের অভ্যাস করিতে হইবে। ব্ৰহ্ম নির্বিকল্প, অনন্ত, নিরঞ্জন বা অবিদ্যা- মালিন্য রহিত, অপ্রমেয় ও অনাদি । তিনিই আত্মারূপে সর্বজীবে ব্ৰহ্মবিদ পনিযৎ। বর্তমান। সীলগত চলা এক হইলেও যেমন বহু রিলক্ষিত হইয়া থাকে, তদ্ধ। আত্ম। এ উপাধিবিশেষে নাকরে পরিদৃষ্ট হয়। থাকে । যেমন শট বিনাশ হইতে ঘটকাশ মহাকাশে সংমিলিত হইয়া লােকত ঘটাকসের বিনাশ পরিলক্ষিত হয়, সেই প্রকার দেহ বিনষ্ট ইলে ৪ আত্মার বিনাশ হয় না,' বাবং নায়। ছুন্ন থাকে। তাবং হৃদপুণ্ডরীকে অধিষ্ঠান করেন, মায়া ; অজ্ঞান অপসারিত হইলে ১ কেবল এক আত্মার উপলব্ধি হয় । গুরুর উপদেশ ও শাস্ত্র পাঠে জ্ঞান চক্ষু প্রাপ্ত হইয়া আত্মার সাক্ষাৎকারে সচেষ্ট হইবে, আত্ম জ্ঞান লাভ হইলেই অহং ভাব বিদূরীত হইয়। সোহং ভাব অথং আমিই ব্রহ্ম ঈদশী জ্ঞানের অভ্যুদয় হয় । যিনি সর্বভূতে চৈতন্য স্বরূপ অবস্থিত অছেন, আমিই সেই বাসুদেব স্বরূপ, এইরূপে জাব ও ব্রহ্মের ঐক্য চিনই মুক্তির হে;;

ব্রহ্মবিন্দপনিষ।
প্রথম খণ্ড।
ওঁ মননাহি দ্বিবিধং প্রাক্তং শুদ্ধঞ্চাশুদ্ধমেবচ।
শুদ্ধং কাম সঙ্কল্পং শুদ্ধং কামবিবর্জিতম্ ॥ ১
মন; ছি দ্বিবিধ প্ৰেক্ত; কথিতং } শুদ্ধ: অশুদ্ধং এব চ কাম
সঙ্কল্প কামান সঙ্কল্পতে তং) অশুদ্ধ কামবিবর্জিতং কামনা রহিত
।
বঙ্গর্থি মন দ্বিবিধ. এক শুদ্ধ, দ্বিতীয় অশুদ্ধ, কামন। সঙ্কল্প মনই
তা শুদ্ধ এব’ কামনা রহিত মনই শুদ্ধ ১
মন এব মনুষ্যাণাং কারণং বন্ধ মােক্ষয়ে।
বন্ধায় বিষয়াশক্তং মুক্ত নির্বিষয়ং স্মৃতম্ ॥২
মনঃ মনুষ্যাগাং বন্ধন মোক্ষরঃ (মুক্তিঃ ) কারণ এব ঋতম { কথিত)
বিষয়শ’ ( বিষয়ে অরুষ্ট ) । মনঃ ] বন্ধায় ( বন্ধস্য কারন )
নির্দিষয়ঃ ( নিঃসঙ্কল্প ভাবং যঃ ] মুক্তং ২
বঙ্গথি--মানবের মুক্তি ও বন্ধনের কারণই মন । সৰ্ব্বদ বিষয়
চিন্তনে ব্যাপৃত মন বন্ধনের এবং নির্বিষয় মুক্তির কারণ ইহ।
সুনিশ্চিত ॥২
অতাে নিৰ্বিষয়স্যাস্য মনসাে মুক্তিবিষ্যতে।
তস্মান্নিৰ্ব্বিষয়ং নিত্যং মনঃ কাৰ্যং মুমুক্ষুণা ॥
অত: ( অনন্তর) অস্য নিৰ্দিষয়স্য মনসঃ মুক্তিঃ ইষ্যতে। স্মং
( কারং) মুমুক্ষুণা ( সাধকাণাৎ ) মনঃ নিত্য নিষিয়ং কার্য্য।
}

৫৪ ব্ৰহ্মবিন্দ পনিষৎ। বার্থ-বিষয় বাসন। বর্জিত মন হইলেই মুক্তির সম্ভাবনা, সেই জন্যই মুক্তিকামী ব্যক্তিগণ সর্বদা মনকে নির্বিষয় করিবে অর্থাৎ মনকে সৰ্ব্বদা বিষয়ে আশক্ত করিবেন ॥৩ নিরস্তবিষয়াসঙ্গং, সন্নিরুদ্ধং মনে হৃদি। যদাযাত্যুন্মনীভাবং তদা তৎ পরমপদম্ ॥৪ মন বিষয় অংসয় সঙ্গং নিরস্ত ১ হৃদি নিরুদ্ধ ( তিষ্ঠতি) যদা উন্মনীভাবং (বিষয় বাসনা বর্জিত ভাবং যাতি তদা ( তস্মিনকালে) তং ( মুক্তিরূপং) পরমং পদং ভবতি ॥৪ মন বিষয়ে অনাসক্ত হইয়া হৃদ মধ্যে সংশ্নিরুদ্ধ থাকিয়া যখন কোন বাসনাদি চিন্তনে বর্জিত থাকে তখনকার অবস্থাকেই মুক্তি স্বরূপ পরম- পদ বলা যায় ৪ তাবদেব নিরােদ্ধব্যং যাবদ্ধ দি গতং ক্ষয়ম্ । এতজ, জ্ঞানঞ্চ ধ্যানঞ্চ অতােহন্যো গ্রন্থবিস্তর ॥৫ [ মনঃ ] যাবৎ হৃদি (হৃংপুণ্ডরীকে) ক্ষয়ং (বিয়ং গত (প্রাপ্নোতি) তাবৎ এব তং নিরােব্যং (সংনিরুদ্ধং) কুরু। এতজ, জ্ঞানং চ ধান চ বিকসিতীতি। অতঃ অতঃপর অন্য গ্রন্থবিস্তর (গ্রন্থবিবৃতি) কেবলম, ও বঙ্গাৰ্থ-মন যাৰং হৃদি পুণ্ডরীকে বিলয় না হয়, তাবং কাল পৰ্যন্ত বিষয় হইতে আকৃষ্ট করিয়া নিরুদ্ধ করিয়া রাখিবে। এই প্রকার অভ্যাস দ্বারা জ্ঞান ও ধ্যান বিকশিত হইয়া মুক্তি লাভ হয় । ইহাই সকলের সারবাক্য জানিবে, এতং ভিন্ন যাহা কিছু বন্ধ হইয়াছে তাই। গ্রন্থবিস্তৃতি মাত্র ৫ প্রথম অধ্যায় সমাপ্ত ব্ৰহ্মবিন্দপনিষৎ দ্বিতীয় খণ্ড। নৈব চিন্ত্যং ন বাচিন্ত্যম চিন্ত্যং চিন্ত্যমেব চ। পক্ষপাত বিনিমুক্তং ব্রহ্ম সম্পদ্যতে তদা ॥৬ নৈবেতি। [ ননু মনঃ কথ: নিৰ্বিয়ং স্যাং তস্য চিন্তনীয়াং'] অচিন্ত্য ( চিয়িং অশক্যং যং তত্ত্বঃ) তং নৈব চিন্তাং অস্তি চিন্ত্যমেব ( চিন্তয়িতু যােগ্যমেব যং বিষয়জাতং তং অচিন্ত্যম) [ চিন্তয়িতু- মযোগ্যং বিস্মরণীয় নাস্তি ন স্মৰ্ত্তব্যং নাপি বিত্তব্যং )। পক্ষপাতঃ ( তত্ত্বচিন্তনম তত্ত্ববিস্মরণঞ্চ। বিনিম্মুক্তং ( রহিতং } { যদা ভবতি 'তদা ( তস্মিনকালে } ব্ৰহ্ম সম্পদ্যতে ( প্রাপ্লেতি )।৬ বার্থ- তত্ত্ব প্রতার্থ অচিন্ত্য বলিয়া তাহার চিন্তা সম্ভব নহে, যেহেতুক উ। মনের অগোচর। আবার সর্বদা চিন্তনীয় বিষয় সমুহ চিন্তার অযােগ্য যেহেতু ঐ সকল চিন্তনীয় বিষয় সকল অলীক বস্তু। মন যখন আত্মতত্ত্ব চিন্তন কিম্বা অনাত্ত্ববিষয় পদার্থাদির বিস্মৃতি 'ইহার কোন পক্ষেই গমন না করিয়া নিরালম্ব থাকে তখনই ব্রহ্মরূপে সম্পন্ন হইয়া থাকে। স্বরেণ সয়েৎ যোগং অস্বরং ভাবয়েৎ পরম্। অস্বরেণ হি ভাবেন ভাবব না ভাবব ইষ্যতে ॥৭ স্বরেণ ( প্রণবেণ। যােগং ( চিনিরােধং) সন্ধুয়ে ( আরভেত) অরং ( শব্দাতীতং পরং (ব্ৰহ্মং) ভাবয়েৎ ( চিয়ে)। ভাবেন ( চিন্ত্যমানেন) ভাবঃ (পরং ব্রহ্ম) অভাবঃ (শূন্য) ন ইষ্যতে (গম্যতে ) । বঙ্গর্থি- ওঁকার জপ খারই প্রথম চিত্ত নিরোধ বা যােগাভ্যাস করা

ব্রহ্মবিন্দপনিষৎ
কর্তব্য।
এতং ব্যতীত সাধক শব্দালিত পরন ব্রহ্মের চিন্তা করিবেন।
এই চিন্তা করিতে করিতেই ব্রহ্ম লাভ হইয়া থাকে ।৭
দেব নিষ্কলং ব্ৰহ্ম নির্বিকল্পং নিরাঞ্জনং।
তব্ৰহ্মাহমিতি জ্ঞাত্ব। ব্ৰহ্ম সম্পদ্যতে ধ্রুবম্ ॥৮
তদেব ব্রহ্ম নিল ( বুদ্ধাদিক রহিত নিৰ্ব্বিকল্পং নিরাঞ্চন
( অবিদ্যা বিরহিত তং ব্রহ্ম অ ইতি জ্ঞ। (বিদিজা
ধ্রুব
( নিশ্চিত ) ব্ৰহ্ম সম্পদ্যতে ব্রহ্ম স্বরূপঃ ভবতি)।৮
সেই ব্ৰহ্ম বুদ্ধাদিক লাবিন অবিদ। মালিন্য রহিত ও নির্বিকল্প।
এই ব্রহ্মই অহম অর্থাৎ জীব দেহস্থিত গাত্মা ও ব্রহ্ম এক এই ঐক্য
জন্মিলেই জীব ব্রহ্ম সম্পন্ন হয়েন ৮
নির্বিকল্পমনমুঞ্চ হেতুদৃষ্টান্ত বর্জিত।
অপ্রমেয় মনাদ্য জ্ঞাত্বা চ পরমং শিবম্ ॥৯
নির্দিকল্পং অনন্ত হেতু দৃষ্টান্ত বজ্জিত অপ্ৰেময় অনাদ্যং : ব্ৰহ্ম !
ত্ব। (বিদিত্ব) { সাধক: ] পরমং (শ্রেষ্ট ) শিবম্ (মঙ্গল শুভং)
পদ প্রাপ্নোতি ॥
বঙ্গাৰ্থ-নিৰ্কিল্প, অনন্ত, হে ৪ তুলনারহিত অপ্রেমে অনাদি
ব্ৰহ্মকে বিদিত হইতে পারিলে মঙ্গল প্রদ পরমপ! মুক্তি লাভ
হইয়া থাকে।
ন নিরোধে ন চোৎপত্তির্ন বন্ধো ন চ শাসন।
ন মুমুক্ষা ন মুক্তিশ্চেদিত্যে পরমার্থতা। ১০
নিরোধে { মরণম) উৎপত্তিঃ চ বন্ধ: 5 শাসনম ( উপদেশ)

ব্ৰহ্মবিদ পনিষৎ।
মুমুক্ষা ( মুক্তমিচ্ছ।) মুক্তি[ তন্য অত্মনঃ ] ন অস্তি। যা ইত্যে
চেদ, বুদ্ধি ) { } পরমাগতা (সত্যথিজ্ঞ তা সম্পন্ন ) । ১০
বঙ্গ।র্থ আত্মর উৎপত্তি, মৃত্যু, বন্ধন, শাসন, মুক্তির ইচ্ছা বা
মুক্তি নাই। সাধকের যখন এবম্বিং বুদ্ধির উদয় হয়, তখনই তাহার
সত্যদার্থে জ্ঞানের অভূদয় । ১০
দ্বিতীয় খণ্ড সমাপ্ত।
তৃতীয় খণ্ডঃ।
এক এবাঝা মন্তব্যে জাগ্ৰৎ স্বপ্নসুষুপ্তি।
স্থানৰয়াদ্ব্যতীতস্য পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে। ১১
আত্ম। এক এব জাগ্ৰং-স্বপ্ন সুপ্তিষু মন্তব্যঃ ( ত্রিবিধ অবস্থায়
বিরাজমানঃ )। [ তন এবম্বিৰ। স্থানত্রয়া ব্যতীত স্য ( নিষ্ক্রান্তস্য )
[ জনস্য পুনঃ জন্মঃ ন বিদাতে ॥ ১১
বঙ্গার্থ—অাত্ম। জা গ্ৰং স্বপ্ন-সুযুপ্তি এই ত্রিবিধ অবস্থাতে বিরাজমান
আছেন, যিনি এই স্থানত্রয় হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া চতুর্থ (তুরীয়াবস্থা)
উপলব্ধি করিতে পারিয়াছেন, তার পুনর্জন্ম হয় না। ১১
এক এব হি ভূতাত্মা ভূতে ভূতে ব্যবস্থিত।
একথা বহুধা চৈব দৃশ্যতে জলচন্দ্রবৎ। ১২
বঙ্গাৰ্থ-চন্দ্র যেমন এক ইয়া ও জলের মধ্যে বহু সংখ্যক রূপে
পরিদৃষ্ট হয়ে, তদ্রুপ অত্মা এক হইয়াও সৰ্ব্বভূতে বিভিন্ন উপাধি
বিশেষে নানাবিধ অকার অধিষ্ঠিত আছেন । ১২
ঘট সংবৃতমাকাশং লীয়মানে ঘটে যথা।
ঘটে। লীয়তে নাকাশং তদ্বজ্জীববা নভােপম। ১৩
[ ৮ 1
।

৫৮
ব্ৰহ্মবিন্দ পনিষৎ।
বঙ্গাবটের মধ্যস্থ আকাশ ঘট বিনাশ হইলে যেমন মহাকাশে
মিলিত হইলে ও ঘটাকাশ বিনষ্ট হইয়াছে এমত লৌকিক কথার ব্যবহার
হইয়া থাকে ; তদ্রুপ উপাধি বিনষ্ট হইলে জীব বিনাশ হইয়াছে এমত
কথা ব্যবহার মাত্র হয়।
বস্তুতঃ শরীয়াদি বিনাশে আত্মার বিনাশ
হয় না। ১৩
ঘটবদ্বিবিধাকারং ভিদ্যমানং পুনঃ পুনঃ।
তদ্ভগ্নং ন চ জানাতি স জানাতি চ নিত্যশঃ ॥ ১৪
ঘটবং বিবিধ অকার: ভিদ্যমান ( দেহজালং) নিত্যশঃ ( নিত্যম)
[ আত্মানং ] ন জানাতি। সঃ ( আত্মা ' পুনঃ ২ ভিদ্যমানং শরীর
জানাতি ॥১৪
বাথ-ঘটের ন্যায় বিবিধ আকার দেহাদি বারম্বার বিনাশ পাইলে
ও আত্মাকে অল্পত হইতে পারে না কিন্তু আত্মা দেহ প্রভৃতিকে
সর্বদাই জানিতে পারেন। ১৪
শব্দমায়াবৃতাে যাবত্তাবত্তিষ্ঠতি পুষ্করে।
ভিয়ে তমসি চৈত্বমেকমেনু পশ্যতি ॥ ১৫
ইতি তৃতীয় খণ্ডঃ।
শক [ মাত্র যা ] মায়া ( অবিদ্যা) [ ন বান্ধুবী ] [তয়া] আবৃত।
যাবৎ তাবং পুষ্করে ( হৃদপদ্মে ) [ আত্মা ] তিষ্ঠতি। ভিন্ন জ্ঞানেন
নিবৃত্তে) তমসি ( অস্য জ্ঞানে) এক জম্ভবতি ] একমেবচ
অনুপশ্যতি ॥ ১৫
ইতি তৃতীয় খণ্ডঃ ।
যঙ্গার্থ—মায়া শব্দ মাত্র ই অবাস্তব। এই মায়া বা অজ্ঞান দ্বারা
অঅ যে পর্যন্ত অচ্ছাদিত থাকেন, তাবৎ কাল আত্মার হৃদয়ে

ব্রহ্মবিন্দ পনিষৎ। অধিষ্ঠান ভিন্ন সর্বত্র আত্মার উপলব্ধি হয় না। সেই অজ্ঞানতা বা অবিদ্যারূপ মায়া তিরোহিত হইলেই আত্মার সর্বব্যাপকত্ব অনুভূতি হইবে । ১৫ মন্তব্য মানব অজ্ঞানে আচ্ছন্ন থাকিয়া অহম জ্ঞানে হৃদয়স্থিত আত্মার সর্বব্যাপকত্ব অনুভব করিতে পারে না। মায়াচ্ছেদন হইয়া যখন জ্ঞানােদয় হইবে তখনই নিজ হৃদয়স্থিত আত্মা যে সর্বত্র অবস্থিত তাহা জানিতে পারিবে। চতুর্থ খণ্ডঃ । শব্দাক্ষরং পরং ব্রহ্ম যস্মিন্ ক্ষীণে যদক্ষর। তদ্বিদ্বানক্ষরং ধ্যায়েদ যদীচ্ছেচ্ছান্তিমাপুয়াৎ ১৬ শব্দাক্ষরং ( শব্দ ব্ৰহ্ম) পরং ব্রহ্ম (চৈতনং) [ এতদ্‌য়ং বৰ্ততে ] বিদ্বান্ (পণ্ডিত) । এতয়ােৰ্ম্মধ্যে] যস্মিন্ ক্ষীণে [ সতি] যদক্ষরম, [ ক্ষীণং ভবতি) দক্ষরম, যদি ধ্যায়েদ (চিয়েৎ ) যৎ ইচ্ছে (অভিলাষ্য) [ তহি] শান্তিং আপুয়াৎ ( প্রাপ্লেতি) ১৬ বার্থ—শব্দব্রহ্ম ওঁকার ও পরব্রহ্ম চৈতন্য উভয়ই বিদ্যমান আছেন। এই দুই মধ্যে শব্দব্রহ্ম ক্ষয়প্রাপ্ত হইলেও পরব্রহ্ম অক্ষয় থাকেন ; সেই জন্য সুধী শান্তিকামিগণ অক্ষর পরব্রহ্মের ধ্যান করিলেই শাস্তি বা মুক্তি লাভ করিবেন। দ্ধে বিদ্যে বেদিতব্যে হি শব্দব্রহ্ম পরঞ্চ যৎ। শব্দ ব্ৰহ্মণি নিষ্ণাতঃ পরং ব্ৰক্ষাধিগচ্ছতি ॥১৭ বার্থ—শব্দব্রহ্ম ও পরব্রহ্ম এই দ্বিবিধ বিদ্যাই জানা আবশ্যক, শব্দ বিদ্যায় সিদ্ধ হইলেই ব্ৰহ্মবিদ্যা অধিগত হয়, তদন্যথায় অর্থাৎ

ব্ৰহ্মবিদ পনিষৎ
-
শব্দময়ী বেদের অধিকরী না হইলে বহ্মবিদ্যজ্ঞান অবগত হইবার
সম্ভাবনা কোথায় ? ১৭
গ্রন্থমভ্যস্য মেধাবী জ্ঞান বিজ্ঞান তত্ত্বতঃ ।
পলালমিব ধান্যার্থী ত্যজেদ গ্রন্থমশেষতঃ ॥ ১৮
মেধাবী গ্রন্থাভ্যাসেন কবদ্ধি। জ্ঞানং { শব্দম) বিজ্ঞান
( সাক্ষাৎকারঃ) [ উভয়েঃ } তত্ত্বতঃ (তত্তং জ্ঞাত্বা অশেষত গ্রন্থ
ত্যজেং যথা ধান্যার্থী পলালং (তৃণং) ত্যজেং ইতি । ১৮
বঙ্গাথ–গ্রন্থধ্যয়ন ইত্যাদি দ্বারা মেধাবী মানবগণ শাব্দিক জ্ঞান
ও বহ্ম সাক্ষাৎকার জ্ঞানের তত্ত্ব জ্ঞাত হইয়া গ্রন্থাদি ত্যাগ করিয়া ধ্যান
করিবেন যেমন ধান্যার্থীজনগণ তৃণ সহ ধান্য কর্তন করতঃ তৎপর ধান্য
লাভ করিয়া তৃণকে পরিত্যাগ করে। ১৮
গবা অনেক বর্ণানাং ক্ষীরস্যাপ্যেকবর্ণতা।
ক্ষীরবৎ পশ্যতে জ্ঞানং লিঙ্গিনস্তু গবাং যথা ১৯
গবা (সৌরভেয়নাম) অনেক বর্ণানাং | অপি সতীনাং যৎ )
ক্ষীরং তস্য) এক বর্ণানাং | ভবতি ] [ বিদ্বান্ গ্রন্থেযু ] ক্ষীরবজ,
জ্ঞানঃ পশ্যতি { পরীক্ষ্য গৃহ্নাতি) যথা লিঙ্গিনঃ (বেত্রধারিণঃ আভীরা
গাং (ক্ষীর গৃহ্নত তদং। ১৯
বঙ্গথি --গাভী সকল বহু বর্ণের হইলে ও দুগ্ধ যেমন এক বর্ণ হয়,
এবং বেত্রধারী গােপেরা যেমন নানা রঙ্গের গাভী সকল হইতে একি
বর্ণের দুগ্ধ দোহন করে। তদ্রুপ নানাবি শাস্ত্র অধ্যয়ন করিলেও
আত্মতত্বনামক একি জ্ঞান গ্রহণ করা উচিত। ১৯

ব্রহ্মবিন্দ পনিষৎ। ৬১ ঘৃতমিব পয়সি নিগুঢ়ং ভূতে ভূতে চ বসতি বিজ্ঞান। সততং মন্থয়িতব্যং মনসা মন্থন ভূতেন। ২০ বঙ্গাথ-ঘূত যেমন দুগ্ধের মধ্যে নিগুঢ় ভাবে থাকে, তদ্রপ যাবতীয় ভূতেই বিজ্ঞানময় আত্মা বিদ্যমান আছেন। যেমন মন্থনদণ্ড দ্বারা দুগ্ধ মন্থনপূৰ্ব্বক ঘত নিষ্কাষণ করা যায়, তদ্রপ মনে মনে সমস্ত বিষয় চিন্তা পরিহারে ভাবনা করলে আত্মতত্ত্ব জ্ঞান লাভ হয়। ২০ জ্ঞাননেত্রং সমাদায় চরেদ্বহ্নিমতঃপরম্। নিষ্কলং নিৰ্ম্মলং শান্তং তদ্ৰব্ৰহ্মাহমিতিস্মৃতম্ । ২১ জ্ঞাননেত্রং (শাস্ত্র:তা গুরু ত গৃহীত্ব।) অতঃ পরম, বহ্নি (বৈশ্বানর- মনুভবরূপং) চরেং ( সাধয়ে [ যদ্ব। বহ্নি প্রণবং উচ্চরৎ । তং নিলং নিৰ্ম্মলং শান্তং [ জ্ঞান ] ব্ৰহ্মাহম ইতি এবং আকার স্মৃত। ২১ বঙ্গাথ--শাস্ত্র হইতে কিম্বা গুরু প্রমুখং জ্ঞাননেত্র পাইয়া তৎপর আত্ম সাক্ষাৎকার লাভের চেষ্টা করিবে। এই প্রকারে আত্ম- সাক্ষাৎকারার্থে প্রণব জপ দ্বারা প্রবৰ্ত্ত হইলে নিষ্কল, নিৰ্ম্মল, শান্তস্বরূপ ব্রহ্মই আমি ইত্যাকার জ্ঞানের উদয় হইবে অথাৎ তখন (সােহহং জ্ঞান লাভ হইবে। ২) সৰ্ব্বভূতাধিবাসশ্চ যদৃভূতেষু বসত্যপি। সৰ্বানুগ্রাহকবেন তদস্ম্যহং বাসুদেবস্তদম্মহং বাসুদেব ইতি। ২২ ইতি চতুথ খণ্ড। অথৰ্ব্ববেদীয় ব্ৰহ্মবিন্দপনিষৎ সমাপ্ত।

ব্ৰহ্মবিন্দ পনিষৎ। সৰ্ব্বভূতাধিবাসং ( সৰ্বেষাং ভূতানাং,অধিবাসঃ অস্মিন্) যচ্চ ভূতেষু অধিবসতি। সৰ্বানুগ্রহকর্তৃত্বেন বাসুদেব ইতি প্রসিদ্ধম। তদ, অহম, অস্মি { স এব } বাসুদেব (ঈশ্বরঃ) [ জীবেশ্বরয়ােব্রহ্মণি ঐক্যং ইতি অর্থঃ ] দ্বিরুক্তি সমাপ্ত্যর্থ। ২২ বঙ্গাথ - যিনি সকল ভূতের অবলম্বন হইয়া সৰ্ব্বভূতেই বাস করেন, সকলের প্রতিই যাহার করুণা প্রদর্শিত হইয়া থাকে, আমিই সেই বাসুদেব স্বরূপ স্বয়ং ঈশ্বর এই প্রকারে জীবে ও ব্রহ্মে ঐক্য সাধনা করিবে । ২২ ব্রহ্মবিদ পনিষৎ সমাপ্ত।

ব্রহ্মোপনিষ। ব্ৰহ্মাপনিষৎ গদ্যে লিখিত আমরা বােম্বাই সংস্করণ অষ্টোত্তর- শততাপনিষদ, গ্রন্থ দৃষ্টে ইহার আলােচনা করিয়াছি, তাহাতে শ্লোক সংখ্যা নাই আমরা ভাবানুবর্তে একট। সংখ্যা ধার্য্য করিয়া ২১টি মন্ত্র পাইয়াছি। বঙ্গদেশে প্রচলিত ব্ৰহ্মপনিষদের ৩৮টি মন্ত্র আছে, তাহাতে তান্ত্রিক বিধানানুসারে সন্ধ্যাদির কথাও দেখিতে পাওয়া যায়, বৌদ্ধধর্মের শ্রমণ শব্দটি সংপ্রবিষ্ট হওয়ায় ইহা যে বৌদ্ধযুগের পর সংকুচিত হইয়াছে, তাহা অনুমান করা যাইতে পারে। ইহার নারায়ণকৃত দীপিক। অাছে। আমরা ভগবান শঙ্করাচার্ষাকৃত উপনিষদ সকলের ভাষা সযােজনা করিযাছি। অন্যান্য উপনিষদের বঙ্গথি দেওয়া হইয়াছে মাত্র। শ্রেষ্ঠ বিধায ইহাব ব্যাখ্যা প্রদত্ত হইল। এই উপনিষদের প্রথমেই “অথাস্য পুরুষস্য চত্বারি স্থানানি ভবন্তি মন্ত্র এবং অন্তে আত্মবিদ্যাতপােমূলং তৎব্রহ্মেপনিষং পদং মন্ত্র আছে । সর্বভূতের অন্তরে ব্রহ্ম বিদ্যমান মানব দেহের মধ্যে তাহার অনু- ভূতির প্রধান চারিটি স্থান আছে যথা—নাভিস, হৃদ কমল, মস্তক। এই সব স্থানকে ধ্যান করিলে সহজেই তাহার সত্ত্বানুভূতি লাভ হয়। জীবের চারিটি অবস্থার কথা বর্ণিত হইয়াছে যথা-জাগ্রত, স্বপ্ন, সুষুপ্তি ও তুরীয়াবস্থা। যে অবস্থায় জীব ধৰ্ম্মাধর্ম পরিত্যাগ না করে এবং শুভাশুভ কার্য্যের অধিকারী থাকে তাহই জাগ্রত, ইন্দ্রিয়াদির কাৰ্য্যের বিলয়াবস্থাই স্বপ্নাবস্থা, সুষুপ্তি কালে জ্ঞানের অস্তিত্ব লােপ ৬৪ ব্ৰহ্মাপনিষৎ। পার, অাত্মজ্ঞানী তৎকালে জ্যোতি দাথ দর্শন করিয়া পরমানন্দ ভােগ করেন, তৎপরবর্তী অব্যক্ত অবস্থার নাম তুরীয় বা নিত্যশান্তির অবস্থা। এই গ্রন্থে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরিক পুত্র সারণের কথা সবিস্তারে বলা হইয়াছে, বজ্ঞোপবীত কৰ্ম্মাঙ্গিন বিধায় দ্বিজাতি ত্ৰয় নিয়ত তাহা শরীরে ধারণ করিবেন ইহা পবিত্র ব্রহ্ম নাম স্মরণকারী। বেদান্তদ্বারা পরব্রহ্ম প্রতিপাদিত হইয়াছেন বিধাব ব্ৰহ্ম বেদান্ত সূত্রেই প্রতিষ্ঠিত আছেন ; এবং তিনিই সূত্র নামে কথিত, যে সুখী হৃদয়স্থ এই ব্রহ্মরূপ সূত্র অবগত হইয়াছেন তিনিই প্রকৃত যজ্ঞসূত্ৰধারী। সন্ন্যাসীগণের ধৰ্ম্ম সম্বন্ধে ও ই-তে বিস্তর উপদেশ প্রদত্ত হইয়াছে। ব্ৰহ্ম অবাঙ মানসগোচর অথচ সপ্রকাশ, সর্বদশী অব্যক্ত। “ খদি ব্ৰহ্ম” বেদের এই মহান তত্ব এই গ্রন্থে সুন্দর প্রকাশিত হইয়াছে। যিনি ব্রহ্ম কি ? ইহা অবগত হইতে পারিয়াছেন তিনি সজ্ঞ এবং সর্ব পদার্থে আত্মদশী হইয়া থাকেন, ব্রহ্মের ধ্যান, চিন্তনই যথার্থ শান্তি লাভের উপায় সকল এই গ্রন্থে বর্ণিত আছে ।

এঙ্গোপনিষৎ।
ও সহনববস্থিতি শান্তি পাঠঃ ।
ব্ৰহ্ম কৈবল্য জাবালঃ শ্বেতশ্বেী হংস আরুণিঃ ।
গর্ভে। নারায়ণে। হংসে বিন্দুনাদ শির শিখা। ১
এতাস্ত্রয়ােদশ।
বঙ্গাথ-ব্রহ্ম, কৈবল্য, জাবাল, শ্বেতাশ্বর, ংস, অরুণি, গর্ভ,
নারায়ণ, পরমহংস, ব্রহ্মবিন্দু, নাদবিন্দু, অথৰ্বশির, অথৰ্বশিখা নামধেয়
এয়ােদশ উপনিষদের ও শ্রেষ্ঠত্ব বিঘােষিত হইয়াছে।
ও অথাস্য পুরুষস্য চারি স্থানানি ভবন্তি নাভিঃ
হৃদয়ং কণ্ঠং মূগ্ধাচ। ১
নারায়ণােদীপিকা।
পর্যস্য উক্ত ক্ষণসা স্থানানি তত্র ধ্যানে সতি শীঘ্রমভিব্যক্তে ।
নাভি; (মণিপুরচক্র:) হৃদয়ং (অন) কংকণ্ঠ: বিশুদ্ধি চক্রং) মূর্ধা (আজ্ঞা
চক্রম): অধরাদ্যনেক ধ্যান স্থান সত্বেওপি প্রাশ্যথং চতুর্ণাং গ্রহণ, ১
বঙ্গাৰ্থপূৰ্ক কথিত শরীর ভান্তরস্থিত পুরুষের চারিটি স্থানই
প্রধান বলিয়া নিদ্দিষ্ট হইয়াছে, যদিচ তিনি সর্বত্রই বিদ্যমান। এই
স্থান চারিটি নাভি, হৃদয়, কত ৫ মস্তক বলিয়া কথিত । ১
অথ চতুষ্পদং ব্রহ্ম বিভাতি। ২
বাখি।----ন কিমেভানি স্থানানি নিৰ্দিশ্যন্ত সাধারদীনি ইত্যত
আই তত্ৰেতি। তত্র তেষু স্থানে ব্ৰহ্ম বিভাতি (বিশেষণ ভাতি) অল্প
ধ্যানেন প্রকাশতে। ২
{

ব্রহ্মোপনিষৎ।
~
বঙ্গাথ-উপরোক্ত চারি স্থানে চতুষ্পদ ব্ৰহ্ম প্রকাশমান আছেন,
অর্থাৎ এই চারি স্থানে ব্ৰহ্ম সৰ্ব্বদ। বিশেষ ভাবে প্রাদুর্ভূত থাকায় অল্প
ধ্যানেই তাহার উলব্ধি হইয়া থাকে। ২
জাগরিতে ব্রহ্মা স্বপ্নে বিষ্ণু: সুষুপ্তৌ রুদ্ৰস্তুরীয়মক্ষরম্ ॥ ৩
ব্যাখাস জাগরিতে ব্রহ্মা, স্বপ্নে বিষ্ণু, সুযুপে রুদ্রঃ, তুরীয়
(অব্যক্ত স্থানে । পরম অক্ষরম্ । ৩
বথি—জাগ্রতাবস্থায় সেই আত্মা ব্রহ্মা, স্বপ্নাবস্থায় বিষ্ণু, সুষুপ্ত
( নিদ্রাবস্থায় যে সময় কোনরূপ কামনা বা স্বপ্নাদিনাথাকে) রুদ্র এবং
তুরীয় { বর্ণিত তিন অবস্থার অতীত অব্যক্ত অবস্থাতে তিনি অক্ষর
( পরমাত্মা বলিয়। কথিত হন। ৩
স আদিত্যো বিষ্ণুশ্চেশ্বর।
স্বয়মমনমশ্রোত্ৰমপাণিপাদ, জ্যোতিৰ্বজ্জিত। ৪
ব্যাখ্যা—স চতুরবস্থঃ আত্মা আদিত্যঃ বিষ্ণু ঈশ্বরশ্চেতি। স স্বয়ং
অমনস্ক: (মনোরহিতঃ) অশ্রোম, (কর্ণহীনঃ) অপাণি পাদঃ (হস্ত পাদবিহীনঃ
ইন্দ্রিয়াদি রহিতম্ ইতি ভাবঃ)। স জ্যোতিরূপমেব । ৩
বঙ্গাথ - তিনি আদিত্য, বিষ্ণু ও ঈশ্বর নামে কথিত। ইনি নাদি
ইন্দ্রিয় বর্জিত, ইহ’র কর্ণ, হ, পদ নাই, অদ্বিতীয় জ্যোতিস্বরূপ
প্রকাশমান ৪
এ লেক ন লােকা দেবা ন দেব। বেদ। ন শেদা যজ্ঞ ন যা
মাতা ন মাতা পিতা ন পিত। মুষা ন সুষা চাণ্ডালে। ন চাণ্ডালঃ
পৌপােন শৌকশ শ্ৰমণ ন শ্ৰণঃ তাপমােন তাপস এক মব তৎ
পরব্রহ্ম বিভাতি নিৰ্বাণ ।

ব্রহ্মোপনিষৎ । ব্যাখ্যা--স্য স্বরুপমাহ স্বয়মিতি। সুষা পুত্রবধু শূজদ, ব্রাহ্মণাৎ জাতশ্চাণ্ডালঃ। নিষাদচ্ছিদ্রয়াং জাতঃ পুরুশ ভিল্পঃ স এব পৌরুশ শ্ৰমণ ইতি। সােহপি নীচ জাতিভেদঃ তাপসঃ যতি ৫ বঙ্গাৰ্থ—যাহাতে স্বৰ্গাদি লােক সকল, দেবতাগণ, বেদ সল, যজ্ঞ, মাতা, পিতা, পুত্রবধূ, চণ্ডাল, পুকশ, শ্রমণ, যতি প্রভৃতি কাহারও কোন সত্তা নাই; তিনি এক অদ্বিতীয় ব্ৰহ্ম স্বরূপে প্রকাশমান মুক্তিপ্রদায়ক। ৫ ন তত্র দেবা ঋষয়ঃ পিতর ঈশতে ॥ ৬ প্রতিবুদ্ধঃ সৰ্ব্ববিদিতি। ৬ ব্যাখা--ত জ্ঞানিনি দেবা ঋষযঃ তিরশ্চ ন ঈশতে (ঋণ এয়াতীতে ভবতীত্যথ। প্রতিবৃদ্ধেয়ঃ স সৰ্ব্ববিং (সৰ্বমাত্মত্বেন বুদ্ধবান্। ন হ্যায়ন এব ভয়ং ভবতীতি তােঃ)। ৬ বঙ্গাথ-- প্রতি বুদ্ধ অথাৎ ব্রহ্মজ্ঞানী সৰ্ব্ব পদাথে আত্মদর্শী হইয়া থাকেন। সেই জ্ঞানীর নিকট দেবতা-ঋষি-পিতৃগণ কোন বিষয়েরই অগী বা আশী হয়েন না। অথাৎ ব্রহ্মজ্ঞানী দেবঋণ, পিতৃঋণ, ঋষিঋণ প্রভৃতি হইতে সমাক মুক্ত হয়েন ॥ ৬ হৃদি। দেবতাঃ সৰ্বা হৃদি প্রাণ প্রতিষ্ঠিতাঃ । হৃদি প্রাণাশ্চ জ্যোতিশ্চ ত্রিবৃৎ সূত্রঞ্চ তদ, বিদূরিতি। হৃদি চৈতন্যং তিষ্ঠতি ॥ ৭ ব্যাখ্যা-বিদিতবেদিতব্যস্য সন্ন্যাসং বিবক্ষুববাহ দেব পূজাদি ত্যাগ সাহসমিত্যাশ্যান্তরের সমস্তীতি প্রতিপাদয়তি মন্ত্রো হদিস্থ ইতি। দেবতাঃ (ব্রহ্মাদ ইন্দ্রিয়াধিষ্ঠাতার প্রাণাঃ (বাগাদয়ঃ প্রাণঃ) ৬৮ ব্রহ্মোপনিষৎ । মুখ্যপ্রাণঃ) জ্যোতি (বিষয় প্রকাশঃ শুদ্ধ ব্ৰহ্ম চ সৰ্বমূল ভূতনব্যক্তমপি হৃদ্যেবস্তীত্যাহ ত্রিবৃদিতি। সত্বরজস্তমসাং পরস্পর সঙ্করেণ নবগুণ মব্যক্তং ত্রিবৃং সৰ্ব্বকৰ্মাং বাহং নবতন্তুকঞ্চ সূত্র প্রকৃতিশ্চ তন্তবঃ মহৎ (অব্যকৃত নিষ্পন্নমুপৰীতম '৭ বঙ্গাথ-জ্ঞানীর হৃদয়ে সমস্ত দেবগণ ও ইন্দ্রিয়াধিঞ্ছিত দেবগণ, মুখ্যপ্রাণসকল, জ্যোতি পদার্থ অধিষ্ঠিত থাকে। সত্তরজমগুণ ত্রয়ের পরস্পর সাঙ্কৰ্য্যহেতু সর্বমূর্নীভুত অব্যক্ত পদার্থ সৰ্ব্ব কৰ্ম্মাঙ্গ নবতন্তুময় সূত্র স্বরূপ ( উবীত ) ব্রহ্ম সদা হৃদয়ে অবস্থিত । হৃদয়ে চৈতন্যস্বরূপ ব্ৰহ্ম সদা প্রতিষ্ঠিত অাছেন । ৭ তাৎপৰ্য্য এই মন্ত্রে ত্রিবৃংসূত্র পদ দ্বারা সত্ত্ব রজতম গুণ ত্রয়ের সঙ্কৰ্য্য হেতু অব্যক্ত মহং ব্রহ্ম হৃদয়ে সদা অধিষ্ঠিত থাকায় এবং ব্ৰহ্মপুত্র ( বেদান্ত) দ্বারা ব্ৰহ্ম বেদ। বিধায় তাহাকেই যজ্ঞোপবীত সহ তুলনা করা হইয়াছে, নবস্তু নিৰ্ম্মি সুত্র বাহ্য সুৰ মাত্র। যজ্ঞােপবীতং পরমং পবিত্ৰং বৃহম্পত্যেৎ প্রজাপত্যেৎ সহজং পু, স্তাৎ। আয়ুষ্যমগ্র প্রতিমঞ্চ শুভ্রং যজ্ঞােপীতং বলমস্তু তেজঃ ॥ ৮ স্থললাপবীতস্য বাচক পরিধান মন্ত্রন জ্ঞাত। প্রতি মুগ্ধ পরিধেহি। হে শিষ্য বলং (বলপ্রদ.) তেজঃ ওঁহঃপ্রদ) অন্তু তব ইতি অয়ং মন্ত্রোহপি হৃদি চৈতন্যে ছি তন্বয়ঃ ॥ ৮ বঙ্গার্থ—হৃং প্রদেশস্থ চৈতন্যে অধিষ্ঠিত যজ্ঞোপবীতকে শরীরে ধারণাৰ্থ কথিত মন্ত্র। এই যজ্ঞোপবীত উৎকৃষ্ট, পবিত্র, ইন্দ্রিয়াদি- সহজাত, আয় বৃদ্ধিকারক, অবিদ্যানাশক, শ্বেতবর্ণ, তেজ ও বল প্রদায়ক। ৮ মর্থিঃ।

ব্রহ্মোপনিষৎ । - সখি বপন তংপা - এই মন্ত্রে যজ্ঞেপিবিতের উপকারিতা বর্ণিত হইয়াছে, দ্বিতীগণ গলদেশে লম্বিত তন্তুময় উপবীত ধারণ করতঃ সৰ্ব্বদা হৃদ:প্রদেশস্থত চৈতন্যস্বরূপ ব্ৰহ্মপুত্র পরব হ্ম বা পরমাত্মাকে সদা স্মরণ ও ভানুধাবন করিবে । কত্ব; বহি:সূত্রত্যজেদধঃ। যদক্ষরং পরং ব্রহ্ম তৎসূত্রমিতি রয়েং । সূচনা সূত্রমিত্যাহু সূত্র নাম পরপদম্ । তৎ সূত্র বিদিত সেন স বিগ্রো বেদ পায় । তেন সব্বমিদং প্রোতঃ ত্রে মণিগণাইব। সুত্র ধারয়েদ, যােগী যােগবিৎ তত্ব- দশিবান্। বহি; সূত্র ত্যজেস্বিদান, যােগমুত্তমমাস্থিত; ব্ৰহ্মভাবময় সূত্র’, এরয়েদ, যঃ সচেতনঃ । ধারণাত্ত সূত্রন নোচ্ছিষ্ট নাশুচিভবেং সূত্রমন্তর্গতং যে জ্ঞানযজ্ঞোপবতি!!ম। তে বৈ সূত্রবিদে। লােকে তে ঢ যজ্ঞোপবীতিন: ৯ কৰ্ম্মঙ্গভূত তদুপৰীতত্যাগেন সন্ন্যাস যােগমাহ সশিখমিতি। শিখ! ন রক্ষণীয়।। বহিঃ বাহহাপবীত) বুধঃ বিঃ) তস্যৈবাধিকার । সূচনাদিতি। সচাতে বেদান্তের্গত চা: তৎ সূত্রম্। নোচ্ছিষ্ট ও তি। ৯ বঙ্গাৰ্থ-বাহাপবা কম্মাঙ্গভূও বটে। তা ত্যাগ পূর্বক সন্ন্যাস গ্রহণ করিতে হয়। অত্মজ্ঞানী যোগী শিখা সহিত মস্তকমুণ্ডন পূৰ্কক শরীরস্থিত বাহ্যসূত্র পরিত্যাগ করবে। অক্ষর পরমব রূপ সূত্ৰধারণ করাই তাহার উচিত। বেদান্তদর্শনে পরব্র প্রতিপাদিত হইয়াছেন বিধায় বেদান্তকে সূত্র গ্রন্থ বলিয়া থাকে, ব্রহ্মের পরমপদই সূত্র বলিয়া কথিত সুতরাং যিনি সেই সূত্র জানিতে পারিয়াছেন, তিনিই বেদপারগ। সূত্র গ্রন্থিত মালার ন্যায় ব্রহ্মসূত্র গ্রন্থে (বেদান্ত) সমস্ত ব্রহ্ম তত্ত্ব গ্রথিত রহিয়াছে, তত্ত্বদর্শী যােগীর পক্ষে ব্ৰহ্মসূত্ৰই সৰ্ব্বদ। হৃদয়ে ধারণ করা কর্ত্তব্য। তত্ত্বজ্ঞানীব্যক্তি যোগারম্ভে বহিসূত্র পরিত্যাগ ব্রহ্মোপনিষৎ । - - করিবেন এবং ব্রহ্মসূত্র ধারণ করিয়া প্রকৃত চেতনাবান্ হইবেন । ব্রহ্ম সূত্র ধারণ করিলে অশুচি ও উচ্ছিষ্টত। দোষ পরিহার হয়। জ্ঞান- যজ্ঞােপবীতধারী ব্ৰহ্মসূত্র ধারণ করিলেই তঁহাকে সূত্ৰক্ত যজ্ঞােপবীতি বলা যায়। জ্ঞান শিখিনাে জ্ঞাননিষ্ঠা জ্ঞান যজ্ঞােপবীতিনঃ। জ্ঞানমেব পরং তেষাং পবিত্রং জ্ঞানমুচ্যতে । ১০ { জ্ঞানমেব শিখ। যোং তে জ্ঞান শিখিনঃ জ্ঞাননিছা ( স্থিতিঃ । যেষা তে) জ্ঞাননিষ্ঠা (জ্ঞানমিব যজ্ঞোপবীত; যেষা তে। জ্ঞান সজ্ঞোপবীতিনঃ যেষা জ্ঞানঃ পরমং 'শ্রেষ্ঠ) পবিত্র জ্ঞানম্ উচ্যতে। ১০ বঙ্গাথ - জ্ঞানরূপ শিখধারণ, জ্ঞাননিষ্ঠা সম্পন্ন জ্ঞানস্বরূপ যজ্ঞােপবীতধারী হইলে পরম পবিত্র উত্তম জ্ঞান লাভ করা যাইতে অগেরিব শিখা নান্যা যস্য জ্ঞানময়ী শিখা। স শিখীত্যুচ্চতে বিদ্বান্নেতার কেশধারিণঃ। ১১ । অগ্নে শিখা ইবন অন্যা। যস্য জ্ঞানময়ী শিখা [ অস্তি। সঃ বিদ্বান শিখী ইতি উচ্যতে ইতরে। অন্য জুনান : কেশধারিংঃ ( উচ্যন্তে ] । বঙ্গার্থ—যাহার জ্ঞান অরূপ শিখা বর্তমান আছে তঁাহার শিখা অগ্নিশিখার নয় উজ্জ্বল হইয়া থাকে । যে বিদ্বান বা তত্বদর্শীব্যক্তি জ্ঞানশিখাধারী তিনিই শিখি বলিয়া কথিত; অন্যেরা থা; জ্ঞানবান হইয়া যাহার কেবল বাহ্যশিখা ধারণ করিয়া থান, তাহারা * । কেশগুচ্ছ গাত্র ধারণ করেন।

ব্ৰহ্মোপনিষৎ ।
৭১
কৰ্ম্মণ্যধিকৃত যে তু বৈদিকে ব্রাহ্মণাদয়ঃ ।
তৈঃ সন্ধাৰ্যমিদং সূত্রং ক্রিয়াংতদ্ধি বৈ স্মৃতম্ ॥ ১২
যে ব্রাহ্মণদয় (দ্বিজাতি ত্ৰঃ) কৰ্ম্মণি অধিকৃত সরাগঃ তৈরেব বহিঃ-
সূত্র: সংসম্যক ধাৰ্য্য ন নিবৃত্তে িযাৎ কৰ্ম্মাঙ্গ স্মৃতম। অঙ্গিনিবৃত্তো
অঙ্গস্যপ্রয়ােজনহাৎ ১২
বঙ্গাথ---দ্বিজাতিত্র ( ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশা) যাহারা বৈদিক কার্যে
নিযুক্ত থাকেন, তাহাদের পক্ষে বহিসূত্র (যজ্ঞোপবীত ধারণ করা
কৰ্তব্য ! মেহেতুক ই ক্রিয়ার অঙ্গ । ১২
শিখা জ্ঞানময়ী যস্য উপবীতঞ্চ তন্ময়।
ব্রাহ্মণ্যং সকলং তস্য ইতি ব্ৰহ্মবিদো বিদুঃ ১৩
নিবৃত্তস্য শিখা সূত্রাদিত্যাগে প্রত্যবায়াভাব বক্ত: তয়ােরূপকং
আহ শিখেতি। ব্রহ্মবিদ বেদবিদঃ ১৩
বঙ্গাথবেদবিং বিদ্বানগণ বলেন, যাহার জ্ঞানময়ী শিখা ও
জ্ঞানময় সূত্র আছে, তিনিই সকল ব্রাহ্মণের আশ্রয। ১৩
ইদং যজ্ঞােপবীতং তু পরমং যৎ পরায়ণম্।
স বিদ্বান্ যজ্ঞােপবীতী স্যাৎ স যজ্ঞস্তং যজানং বিদুঃ ১৪
বাহোপবীতিভ্যো জ্ঞানােপবীতিনা বিশেষমাহ ইদং ইতি। ইদং
জ্ঞানাখ্যং যজ্ঞোপবীতম। যজ্ঞ বিষ্ণু অত্মা তস্য উপবীতং বেষ্টকং

ব্রহ্মোপনিষৎ। । তদারমিতি যাব। তং পবিত্র বাহাক্ষয়। উচ্চ সৎপরায়ণ, যস্য পরং অয়নঃ স বিদ্বান স স স বিষ্ণো। কিঞ্চ রক্তস। যাদি ত্যাগে প্রত্যবায় অস্থি . ৪ বঙ্গ।থ-~-পরন জ্ঞানযজ্ঞসূত্রই যিনি আশ্রয় করিয়াছে, সেই জ্ঞানী ব্যক্তিই যথাণজ্ঞোপবীতধারী। তিনি বিষ্ণু ও বিষ্ণুতুল্য। ১৪ একোদেব সৰ্ব্বভূতেষু গৃঢ় সর্বব্যাপী সৰ্ব্বভূতান্তরাত্মা। কর্মাধ্যক্ষ সৰ্ব্বভূতাদিবাসঃ সাক্ষী চেত। কেবল নিগুণশ্চ ॥ ১৫ একস সতে। নানাভতে স্থিতিরলেকিকোশ্ম'। নচ সত্তাদে দৃষ্টাজালৌকিক ইতি বাচ্যম। তস্বরূপাতিরিক্তস্য সত্ত্বাদেরনভূপগমা। সৰ্বব্যাপী। এক্য সতঃ সৰ্ব্বাঙ্গেন সৰ্বব্যাপ্তির তম । সৰ্ব্বভূতান্তরাত্মা একস্য ৰান্তরত্বে দৃষ্টান্তে। নাস্তি। কৰ্ম্মাধ্যক্ষ: কৰ্ম্মলদাতা: সব্ব- ভুতাদিবাসঃ অধিকাৰমিঃ সব্বাবস্থায় ত্বাব্যভিচার। যা সব’- ভূতানি অধিবসতি। সাক্ষী সাক্ষাদক্ষত ন দ্বিন্দ্রিয়াদিব্যবধানেন । চিতিরভাবিতেতথ্যঃ চেয়িতেতথঃ অথবা পৃথিব্যাদি সঞ্চয়।। কেবলঃ সজাতীয় বিজাতীয় ভেদশূন্যঃ । নিগুণ অদ্বিতীয়। ১৫ বঙ্গার্থ সেই দেব এক হইয়া সব্বভূতে গৃঢ় ভাবে অবস্থিত। তিনি সর্বব্যাপী, তিনি সর্বভূতের অন্তরে অত্মা স্বরূপ। তিনি কৰ্ম্মাধ্যক্ষ বা কর্মফলদাতা, সর্বভূতের অবলম্বন, তিনিই সর্ব কৰ্ম্মের সাক্ষী বা সুষ্টা, চৈতন্যস্বরূপ ভেদাভেদ শূন্য অদ্বিতীয় বা নিগুণ সত্বরতম গুণের অতীত ১৫ ব্রহ্মোপনিষৎ। একো মনীষী নিস্ক্রিয়াণাং বহুনামেকং সন্তং বহুধা যঃ করােতি। অমত্মানাং যেহনুশ্যন্তি ধীরাযোং শান্তিঃশাশ্বতী নেতরেয়া। ১৬ একো মনীষী। অসাধারণ পণ্ডিত। অনেন জ্ঞান শক্তিরুক্তা। নিষ্ক্রিয়াণাং বহুনাং মধ্যে একঃ [ ক্রিয়াবান ]। নির্ধারণস্য স্বজাতীয়- পেক্ষা। অনেন ক্রিয়াশক্তিরুক্তা। একং আত্মানং সন্তং যাে বহুধা করােতি মায়িত্বাৎ। আত্মস্থম, ( বুদ্ধিম)। ধীরা ধীমন্ত। শাশ্বতী শান্তিঃ (মােক্ষ)। ন ইতরেষা উক্ত সাধন রহিতানাম্ ॥ ১৬ বঙ্গাৰ্থ—যিনি অসামান্য জ্ঞান শক্তিমান, নিষ্ক্রিয় বহু পদার্থ মধ্য যিনি একমাত্র ক্রিয়াবান, যিনি আমাকে আশ্রয় করিয়া এক আত্মাকেই নানাবিধরূপে প্রকাশিত করেন, এইরপে বুদ্ধিস্থ আত্মাকে যে সকল আত্মজ্ঞানীরা দর্শন বা অনুভূতি করিতে পারেন ; তাহারই অক্ষয় অনন্ত শান্তি প্রাপ্ত হয়েন, অন্যের তাহা পাইবার সাধ্য নাই। ১৬ আত্মানমরণিং কৃত্ব। প্রণবঞ্চোওরারণিম। ধ্যাননিৰ্মথনাভ্যাসাদ্দেবং পশ্যন্নিগুঢ়বৎ ॥ ১৭ আত্মানং (বুদ্ধি ) অরণিং কৃত্বা প্রণবঞ্চ উত্তরারণিং। নিগুঢ়বৎ (লকানিক্ষিপ্তেন তুল্যং স্থিতম)। অভ্যাস দেবং ( ব্ৰহ্মরূপং) পশ্যে ( সাক্ষাৎ কুৰ্যাং)। ১৭ বঙ্গার্থ-আত্মা অর্থাৎ বুদ্ধিকে (অরণি যজ্ঞার্থে অগ্ন্যুৎপাদনকারী কাষ্ঠ বিশেষ) এবং প্রণব বা ওঙ্কার মন্ত্রকে উত্তরারণি করিয়া, ধ্যান স্বরূপ অর্থাৎ পুনঃ পুনঃ অবিচ্ছেদে ব্ৰহ্মনাম চিন্তনরূপ মন্থন কাৰ্যাভ্যাস করিলেই আত্ম দেবতা ব্রহ্মের স্বরূপ প্রত্যক্ষ করা যাইতে পাচ্ছে। যজ্ঞকাৰ্য্য সম্পাদনাৰ্থে অগ্নি উৎপাদনাথে যে দুইখানি কাষ্ঠ ঘর্ষণ করা হয়, 1

৭৪
ব্রহ্মোপনিষং।
তাহার নিম্নস্থ কষ্ঠের নাম অরণি এবং উপরের কাষ্ঠের নাম
উত্তরারণি। ১৭
মন্তব্য-মুণ্ডকোপনিষদে প্রণব লক্ষ্য করিয়া এবার একটি
মন্ত্র কথিত হইয়াছে যথা-
প্রণববা ধনুঃ শরােহাত্মা ব্ৰহ্মতল্লক্ষ্যমুচ্যতে।
অপ্রমনে বেদ্ধব্যং শরবত্তন্নয়াে ভবেৎ।
তিলে তৈলং দধনীব সর্পিরাপঃ শ্রোতঃস্বরনিযুচাগ্নিঃ।
একমাত্মাত্মনি জায়তেসৌ সত্যেন তপসযােহনুপশ্যতি ॥ ১৮
অত্মা ঈশঃ। আত্মনি বুদ্ধে। সত্যেন বাঙনিয়মেন।
তপসা শরীর নিয়মেন। অনুপশ্যন্তি তেন গৃহতে। ১৮
বঙ্গার্থতিলের মধ্যে যেমন তৈল, দধি মধ্যে যেমত ঘৃত বা মাখন
নদীর স্রোত মধ্যে যেমন জল, অরণি কাষ্ট মধ্যে যেমন অগ্নি গৃঢ় ভাবে
থাকে, তদ্রুপ পরমাত্মা বুদ্ধিকে আশ্রয় করতঃ অন্তরে বাস করেন।
যাহারা সত্যব্রত (বাঙনিয়মাদি দ্বারা মৌন ও তপস্যা ( শারীরিক
নিয়মাদি। প্রতিপালন করেন, তাহারাই আত্মাকে প্রত্যক্ষ করিতে
পারেন। ১৮
উননাভির্যথা তন, সৃজতে সংহত্যপি।
জাগ্ৰৎ স্বপ্নে তথা জীব গচ্ছত্যাগচ্ছতে পুনঃ ॥ ১৯
জাগ্রত জীবঃ। তথা স্বপ্নে স্বপ্নদশাং গচ্ছতি। পুনঃ স্বপ্নাদাগচ্ছতে
জাগ্ৰদ্দশাং গচ্ছতি ॥ ১৯
বঙ্গাথ-উর্ণনাভ (মাকর) যেমন স্বয়; তন্তুজাল উৎপন্ন করতঃ
আপন শরীর মধ্যেই তাহা সংহার করে, তদ্রুপ জীব সকল

ব্রহ্মোপনিষৎ।
জাগ্রতাবস্থায় স্বকীয় ইন্দ্রিয়াদি সংপ্রসারণ পূর্বক স্বপ্নাবস্থায় পুনরায়
আপনাতেই স’ হার করে। ১৯
নেত্রস্থং জাগরিতং বিদ্যাৎ কণ্ঠে স্বপ্নং বিনিৰ্দিশেৎ ।
সুষুপ্তং হৃদয়স্থন্তু তূরীয়ং মূৰ্দ্ধি সংস্থিতম, ॥ : ০
অবস্থা বিশেষে পুংসঃ স্থানভেদমাহ নেত্রস্থমিতি।
স্বপ্নং সপ্নবম।
হৃদয়স্থং সুষুপ্ত মুদ্ধি মস্তকে তুরীয়মিতি। ২০
বঙ্গাথ শরীরের অবস্থা ভেদে পুরুষের অবস্থান কথিত হইতেছে--
যখন নেত্রে আত্মা অবস্থিত থাকেন, তখন তাহাকে জাগ্রতাবস্থাপন্ন,
কণ্ঠ মধ্যে অবস্থান সময় স্বপ্নাবস্থাপন্ন, হৃদয়ে অধিষ্ঠান সময়ে সুষুপ্তাবস্থাপন্ন
এবং মস্তকে অধিষ্ঠান কালে তাহাকে তুরীয়াবস্থাপন্ন বলিয়া থাকে। ২০
যতাে বাচে। নিবৰ্ত্তন্তে অপ্রাপ্য মনসা সহ।
আনন্দমেজ্জীবস্য যং জ্ঞাত্বা মুচ্যতে বুধঃ । ২১
আনন্দং আনন্দ। এতৎ এষঃ। যং পরমানন্দং জ্ঞাত্ব
মুচ্যতে। যমিত্যস্য বিশেষণদ্বয়ং সৰ্ব্বেতি।
বঙ্গাৰ্থ—যিনি বাকা ও মনের অগােচর, সেই আনন্দস্বরূপ
পরমাত্মাকে জানিতে পারিলে সুধীব্যক্তিগণ অনায়াসেই সংসারসাগর
হইতে মুক্তিলাভ করিতে পারেন । ২১
তাৎপৰ্য হৃদি পরমাত্মাকে জানিতে পারিলেই সানিশ্চিন্ত ও
অব্যাহত শান্তি লাভ হয়, যাহাই মুক্তি বলিয়া কথিত । ২১

ব্ৰহ্মাপনিষৎ। সৰ্বব্যাপন মাত্মানং ক্ষীরে সর্পিরিবাৰ্পিতম। আত্মবিদ্যাতপােমূলং তদব্রহ্মোপনিষৎ পদম,। তহ্মোপনিষৎ পদমিতি। ১২ ও সহ নাববত্বিতি শান্তিঃ। ইতি ব্রহ্মোপনিষৎ সমাপ্তা। “সৰ্ব্বব্যাপিনং আত্মানং ক্ষীরে দুগ্ধে সর্পিারব ঘরেব অর্পিত ব্যাপ্তম। (ইদানীং এতৎ গ্রন্থস্য নাম নিরুক্তি আত্মেতি ব্ৰহ্ম আত্মা তস্য উপনিষং বিদ্যা সৈব তপঃ তস্য জ্ঞানময়ং তং ইতি তেঃ)। তস্য মূলং পর কারণং অয়ং গ্রন্থ ইত্যুপচারাৎ গ্রন্থােইপি ব্রহ্মোপনিষদিত্যর্থ। তং তস্মাৎ। নিরুক্ত্যন্তরম'হ সর্ব সব্বে ইলি। সব্বং ব্রহ্মেত্যুপনিষং রহস্য জ্ঞান যস্যাঃ সা ব্রহ্মোপনিষিদিত্যর্থ। দ্বিরুক্ত সমাপ্ত্যার্থ। ইতিশব্দশ্চ তদ্দ্যোতকঃ” । ২২ বঙ্গ-পরমাত্মা সর্বব্যাপী, দুগ্ধে যেমন ঘৃত বিদ্যমান থাকে সেই প্রকার আত্মা সমস্ত বিশ্বে ব্যাপৃত থাকিয়া অবস্থান করিতেছেন। এই গ্রন্থের ব্রহ্মবিষয়ক উপদেশ সকল মূলতত্ত্ব বিধায় ইহার নাম ব্ৰহ্মাপনিষং। অথবউ সনিষদ বিদ্যা প্রভাবে “সৰ্ব্বং খদিং ব্রহ্ম এই মহান তত্ত্ব জ্ঞানের উদয় হয় বলিয়া এই গ্রন্থের নাম ব্রহ্মোপনিষদ হইয়াছে। ব্রহ্মোপনিয: সমাপ্ত।

নাদবিদ, পনিষৎ। ও বাঙ, মে মনসীতি শান্তিঃ। নাদবিন্দপনিষদে অ+ উ + ম, বিন্দু ও নাদ পঞ্চাক্ষরাত্মক প্রণবকে হংস সংজ্ঞক পক্ষী কল্পনা করিয়া অকার উহার দক্ষিণ পক্ষ, উকার বাম পক্ষ, মকার পুচ্ছ, ও অর্ধমাত্রা নাদবিন্দু শিরঃরূপে বর্ণিত হইয়াছে। অর্ধমাত্রা নাদবিন্দুর নামে উপনিষদের নামকরণ হইয়াছে, আমরা যে কয়েকখণ্ড গ্রন্থ পাঠ করিয়াছি, তন্মধ্যে কোন গ্রন্থে ইহাকে ঋগ্বেদীয়, কোন গ্রন্থে অথৰ্ব্ববেদীয় উপনিষং বলিয়া আখ্যাত করিয়াছে। মন্ত্র সংখ্যা সাধারণতঃ উনবিংশতি কোন গ্রন্থে অধিকও পরিদৃষ্ট হয়। ইহার নারাযণকৃতদীপিকা আছে, আমরা তাহা উদ্ধৃত করিয়া বঙ্গাৰ্থ প্রদান করিলাম ! ইহা পদ্যে রচিত । ইহার প্রারম্ভে “ও অকারাে দক্ষিণঃ পক্ষ উকারস্তুত্তরঃ স্মৃতঃ মন্ত্র এবং তেনৈব ব্ৰহ্ম ভাবেন পরমানমতে শেষমন্ত্রে সমাপ্তি হইয়াছে। কল্পিত প্রণবরূপী হংসের চরণ, দেহ, চক্ষুদ্বয়, জানু, কটি, নাভি প্রভৃতিতে সত্ব-রজ-তমােগুণ, ভূর্ভুবাদি সপ্তলােক অবস্থিত ; প্রণব দ্বাদশ মাত্রা সম্পন্ন বর্ণিত হইয়াছে। যােগীগণ হংসরূপী প্রণবালম্বনে সদা চিন্তা করিতেন; এবং এইরূপ বিভিন্ন মাত্রার চিন্তার সময়ে প্রাণত্যাগ করিলে মাত্রানুসারে নানাবিধ ফলশ্রুতির বিষয় কথিত হইয়াছে। মুল কথা প্রণবই মুক্তির সােপান, অনবরত একমনে প্রণব ধ্যান করাই সুধীগণের কর্তব্য।

নাদবিন্দুপনিষৎ।
ওঁ অকারে। দক্ষিণ: পক্ষ উকারস্তুত্তরঃ স্মৃতঃ।
মকারস্তস্য পুচ্ছং বা অর্ধমাত্রা শিরস্তথা। ১
নাদবিন্দ পনিষদো দীপিকা।
প্রণবঃ পঞ্চধাকারােকারমৈৰ্বিন্দুনাদযুক।
অন্ত্যো নাদস্ততাে বর্ণস্ত্রিখণ্ডে নাদবিন্দনি।
তত্ৰাদ্যমাত্ৰত্ৰয়: সাৰ্দ্ধমাত্র হংসাভিধান পক্ষিরূপকেন তাবঘ্নিবিনক্তি
ও অকার ইতি। পক্ষঃ পতং যেন ক্ষীত্যুচ্যতে পুচ্ছঃ অন্তত্ব। বৈ
প্রসিদ্ধে। শিরঃ উত্তমম্ উদ্ধােকফলত্বাৎ | ১
বঙ্গাৰ্থ—ওঁকারকে হংখ্য পক্ষী কল্পনা করতঃ প্রণবের অকার
দক্ষিণ পক্ষ, উকার বাম পক্ষ, মকার পুচ্ছ এবং অর্ধমাত্রা নাদবিন্দু
উত্তমা বা মন্তক স্বরূপ। ১
পাদৌ রজস্তমস্তস্য শরীরং সমুচ্যতে।
ধৰ্মশ্চ দক্ষিণং চক্ষুরধর্মশ্চোত্তরং স্মৃতম্ ॥২
নারায়ণ দীপিকা।
রজম পাদৌ অধস্ত সামান্যাৎ। সত্ত্বং শরীরং সর্বাধার।
ধর্মাধর্মেী চক্ষুষী গতি হেত্বাৎ । ২
বঙ্গাথ-কল্পিত সেই হংসের রজ ও তমােণ পাদ, সত্বগুণ দেই,
ধৰ্ম্ম দক্ষিণ চক্ষু, অধর্ম বাম চক্ষু ।

নাদবিন্দ পনিষৎ।
ভূলােকঃ পায়েস্তস্য ভুবােলােক জানুনােঃ।
স্বলোকঃ কটিদেশ তু নাভিদেশে মহগৎ। ৩
সপ্ত লােকান্ হংস শরীরে বিভজ্য দর্শয়ন্তি ভূলোক ইত্যাদি
ঔওরাধাৰ্য্য সাম্যাং ভূরাদীনা পাদাদ্যায়ত্বম্। ভুবলোক ইতি।
ভুবশ্চ মহাব্যাহৃতেরিতি সকারাস্য উত্বরেফয়োৰ্বিধানাং উত্বপক্ষে উত্বে
গুণে চ রূপম। মহর্জগৎ মহলোক। ৩
বঙ্গাথ'--হংদেহে সপ্তলােক প্রদর্শিত হইতেছে ভূলােক হংসের
চরণদ্বয়, ভুবলেক উহার জানুদ্বয়, হর্গলোক উহার কটিদেশ এবং
মহলেকি উহার নাভি স্বরূপ । ৩
জনলোকস্তু হৃদয়ে কণ্ঠদেশে তপস্ততঃ।
বােললাট মধ্যে তু সত্য লােকাব্যবস্থিতঃ । ৪
বোললাট মধ্যে চ সত্য লােকঃ তু চাথে। ৪
বাথ কল্পিত হংসরূপী প্রণবের হৃৎপ্রদেশে জনলােক, কণ্ঠে
তপােলােক, এবং হৃদয়ের মধ্যবর্তী ললাটদেশে সত্যলােক অবস্থিত
রহিয়াছে । ৪
সহস্রার্ণমতীবাত্র মন্ত্র এষ প্রদর্শিতঃ।
এবমেং সমারূঢ়ো হংস যোগ বিচক্ষণঃ।.
ন ভিধ্যতে কৰ্মচাবৈ পাপকোটিশতৈরপি। ৫
এষ--ওঁকাররূপ প্রদর্শিত মন্ত্র সহস্রাণম, সহস্র (সংখ্যক মন্ত্রম। অতি
অতিক্রম, ইব স্বৰ্গাদিফলদানায় সমর্থ ইতি ভাব। হংসয়ােগ
বিচক্ষণঃ প্রণব রূপ হংস বিষয়ক যঃ যােগ ভস্মিন) বিচক্ষণঃ পটু এবম

নাদবিন্দপনিষৎ । পূৰ্বরূপেণ এনম, ওঁকার মন্ত্র সমারূঢ়চ্চিং পাপ কোটিশতৈ শত- কোটিপাভৈঃ অপি কর্মচারৈঃ তদারূঢ় উপাসকোপিন ভিদতে ন প্রাপ্ততি ইতি ভাবঃ ॥ ৫ বঙ্গাথ-ওঁকার মন্ত্রটি সহস্ৰ সংখ্যক অন্য মন্ত্র জপেব ফলকে অতিক্রম করতঃ বিশেষ ফল প্রদান করিয়া থাকেন। ওঁকারকে হংসরূপে কল্পনা করিয়া যোগে যিনি বিশেষ পারদর্শী হইয়াছেন তিনি পূৰ্ব্বকথিত রূপে ওঁকার ধ্যান করতঃ স্বর্গাদি লােকে গমন করিয়া থাকেন। इश्म- যোগকারী উপাসকের পাপ শতকোটি সঞ্চিত থাকিলেও তনুষ্ঠানজনিত পাতকে লিপ্ত হইতে হয় না । ৪ আগ্নেয়ী প্রথমা মাত্রা বায়ব্যৈ বশানুগা। ভানু মণ্ডল সঙ্কাশা ভবেন্মাত্র তােত্তরা। পরমাচাৰ্দ্ধমাত্ৰাচ বারুণীং তাং বিদুবু ধাঃ। ৬ ওঁকারস্য ইসরূপণে পিসিনা: ফলােঞ্চোক্তা চতণাং মাত্ৰাণা: দেবতামাহ আগ্নেয়তি। এষা মধ্যবৃত্তিহৃদুভয়ােঃ বশানুগাবশবর্তিনী। উত্তরা মকারাখ্য: ভানুমণ্ডলসঙ্কাশ। অথ। ভানু দেবত্যা। অর্ধমাত্রা বুধার জ্ঞানিনঃ তাম, অৰ্দ্ধমত্রাম, বারুণী চ বরুণ দেবতাকা জলাপি- পতীং বিদুঃ ৬ বঙ্গা-হংসরূপী প্রণবের চারিটি মাত্রার কথা বলা হইতেছে। প্রথম মাত্রা অগ্নি আকারের দেবতা, দ্বিতীয় মাত্রা উকারের দেবতা বায়ু, এই দ্বিতীয় মাত্রা মধ্যস্থিত হেতু প্রথম ও তৃতীয় মাত্রার বশকারিণী, তৃতীয় মাত্রা মকারের দেবতা সূৰ্য্য ইহা সূর্যমণ্ডলবৎ দীপ্তিমতী, জ্ঞানীগণ সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠু অর্ধমাত্রার দেবতা বরুণকে জানেন ৬ ৰহ্মোপনিষৎ। ৮১ কালয়েইপি যশস্যমা মাত্রা নং প্রতিষ্ঠিত। এয ওঁকার আখ্যান ধারণাভিনিবোধত। ৭ ঘােষিনী প্রথমা মাত্রা বিদ্যুম্নালা তথা পরা। পঙ্গীচ তৃতীয়সচ্চতুর্থী বায়ুবেগিনী। ৮ পতঞ্চমী নামধেয়াচ ৰষ্ঠী চৈী বিধীয়তে। সপ্তমী বৈষ্ণবী নাম শঙ্করী চ তথাষ্টমী। ৯ নবমী মহতী নাম বেতি দশমী মতা। একাদশী ভবেন্মোনী ব্রাহ্মতি দ্বাদশী মতা। ১০ ইদানীং চতুস্পামুদাত্তাদিভেদেন লক্ষণং প্রত্যেকং তিশ্ৰস্তিস্রো মা দর্শয়িতুমাহ কালয়েইপি প্রতিষ্ঠাতা নির্ধারিতা। (এষা মাত্রা চতুষ্টয় শরীর ওঁকার আখ্যাত দ্বাদশনাং কালানাং মধ্যে স্থানতত নামশ্চিন্তারূপাং ধারণা দশতি ধারণাভিরিতি। ৭। ঘোষঃ প্রজ্ঞা তফল ঘােষিনী প্রথম মাত্রা, বিদ্যুম্মালী যক্ষরাজঃ তল্লোকপ্রদাবিদ্যু- ন্মালা তথা অপর মাত্রা, তৃতীয়াচ পতঙ্গী পক্ষিণী চতুর্থী চ আকাশগতি- . প্রদত্ব বায়ুবেগিনী শীঘ্রগতিপ্ৰদা।৮। পঞ্চমীচ নামধেয়া পিতৃ- লােকপ্রদত্বাৎ। পিতরােহি নামভিরিজ্যন্তে, “যন্নান্মা পায়েৎ পিং তং নয়েৎ ব্ৰহ্মশাশ্বতম, ইত্যুক্তেঃ যষ্ঠ চ ঐন্দ্রী ইন্দ্ৰসাযজ্যপ্রদাং, সপ্তমী চ বৈষ্ণবী বিষ্ণুলােকপ্রদত্বাৎ, তথা অষ্টমী শাঙ্করী শিবলােক- প্রদত্বাৎ ৯। নবমী মহতী মহলোকপ্রদত্বাৎ, 'দশমীচ বা ধ্রুবলােক প্রদত্বাৎ, একাদশী মৌনী মুনীনাং লােকং তপোলােকং প্রদদাতি নে, দ্বাদশী ব্রাহ্মী ব্ৰহ্মলােকং গময়তি তেন, তত পরম্ভ ফলং নাদান্তেন লভ্যতে। ১০ বার্থ-উপরােক্ত ' মাত্রা চতুষ্টয়ের উদাত্তাদি ভেদে প্রত্যেক মারই তিনটি তিনটি মাত্রা থাকায় প্রণব দ্বাদশ মাত্রা বিশিষ্ট। এই

নাদবিন্দপনিষৎ।
দ্বাদশ মাত্রা সম্পন্ন ওঁকারের নাম ও স্থান ধারণার জন্য অবগত হওয়া
আবশ্যক। প্রথম মাত্রার নাম ঘােষিনী উহা অজ্ঞাদাত্রী। দ্বিতীয়
মাত্রার নাম বিদ্যুমালা উহা যক্ষলােকপ্রদায়িনী। তৃতীয় মাত্রার নাম
পতঙ্গী উহা আকাশগতি প্রদায়িনী। চতুর্থ মাত্রার নাম বায়ুবেগিনী
উহা বায়ুর ন্যায় শীঘ্রগতি প্রদায়িনী। পঞ্চমী মাত্রার নাম দেয়া
উহা পিতৃলােক প্রদায়িনী। ষষ্ঠী মাত্রাকে ঐশ্রী কাহ,
ইন্দ্রের সাযুজ্য লােক প্রদানকারিণী। সপ্তমী মা তার নাম বৈষ্ণবী
উহা বিষ্ণুলোক প্রদায়িনী। অষ্টমী মাত্রার নাম শাঙ্করী যেহেতুক
উহা শিবলােক প্রদায়িনী। নবমী মাত্রাকে মহতী কহে উহা মহলোক
প্রদানকারিণী। দশমী মাত্রার নাম ধ্রুব ।
দশমী মাত্রার নাম ধ্রুব। যেহেতুক উহা ধ্রুবলােক
প্রদায়িনী। একাদশী মাত্রার নাম মৌনী উহা পলােক বিধায়িনী।
দ্বাদশী মাত্র ব্রাহ্মী নামে অভিহিত কেননা উহা ব্রহ্মলােক
প্রদায়িনী। ৭-১০
প্রথমায়াং তু মাত্রায়াং যদি প্রাণৈযুিজাতে।
স রাজা ভারতেবর্যে সার্বভৌমঃ প্ৰজায়তে। ১১
দ্বিতিয়ায়ং সমুংক্রান্তো ভবেদ, যক্ষে। মহাত্মবান।
বিদ্যাধরক্তৃতীয়ায়াং গন্ধর্বস্তু চতুর্থিকাম্ ॥ ১২
পঞ্চম্যামথ মাত্রায়াং যদিপ্রাণৈৰ্বিযুজ্যতে।
উষিতঃ সহদেবত্বং সােমলােকে মহীয়তে । ১৩
যষ্ঠ্যামিন্দ্রস্য সাযুজ্যং সপ্তমাং বৈষ্ণব পদম, ।
অষ্টম্যাং ব্রজতে রুদ্র পশুনাঞ্চ পতিস্তথা। ১৪
নমাঞ্চ মহলোকং দশমঞ্চ ধ্রুবং ব্ৰজেং।
একাদশা তপােলােক দ্বাদশং ব্রহ্ম শাশ্বতম ।

নাদবিন্দ পনিষৎ। নবমং ইদানীং তদ্ধারণা স্থির চিত্তস্য প্রাণবিয়ােগে ফলমাহ। যদি তু প্রথম মাত্রায় ধারণাভিরুপাসনাকালে প্রাণৈঃ বিমুজাতে মিয়তে সং ভারতবর্ষে সার্বভৌম রাজা প্রজায়তে। ১। দ্বিতীয়ায়াং মাত্রায়াং সমুংক্রান্ত উৰ্দ্ধগত সন, মহাত্মবান যক্ষঃ ভবেৎ। তৃতীয়ায়াং বিদ্যাধর চতুথিকাম, মাত্ৰাম প্রাপ্য সমুংক্রান্তসন, গন্ধর্বঃ তু ভবেৎ। ১২॥ অথ যদি পঞ্চম্যাং মাত্রায়াং প্রাণৈঃ বিযুজ্যতে ব্ৰিয়তে বা তহি দেবত্বং প্রাপ্য সােমলােকে মহীয়তে গচ্ছতি ॥ ১৩ ষষ্ঠ্যাং মাত্ৰাং ধারণ সময়ে চেং মিয়তে তহি ইন্দ্রস্য সাযুজ্যম, প্রাগ্নেতি। সপ্তম্যা মাত্রায়াং ধারণ সময়ে চেৎ মিয়তে তহি বিষ্ণুত্ব, ভবেৎ অষ্টম্যাং মাত্ৰাৱাং ধারণ কালে যঃ খ্রিয়তে তছি পশুপতি দেবং পদং প্রাপ্নোতি । ১৪। মাত্রায় চেৎ মিয়তে তহি মহলোকম, গচ্ছতি। দশম্যাং মায়া চ ধ্রুবলোকং প্রাপ্নোতি। ১৫। একাদশ্যং মাত্রায়াং তপােলােকম, তথা দ্বাদশাং শাশ্বতম, নিত্যম ব্ৰহ্মলােকম, প্রাপ্নোতি । ১৬ বাথ-পূর্বে কথিত দ্বাদশ মাত্রা ধ্যান কালে যদি সাধকের প্রাণত্যাগ হয় তবে কোন মাত্রার ধ্যানে কি ফল তাহাই অতঃপর বর্ণিত হইতেছে-প্রথম মাত্রার ধ্যান কালে মৃত্যু হইলে ভারতবর্ষে সেই যােগী সার্বভৌম নরপতি হইবেক। দ্বিতীয় মাত্রা চিন্তার কালে প্রাণত্যাগ হইলে উৰ্দ্ধগতি হইয়া যক্ষত্ব সেইরূপ তৃতীয় মাত্রায় বিদ্যাধরত্ব ও চতুর্থ মাত্রায় উপাসনাকালে মরণ হইলে গন্ধৰ্বত্ব লাভ হয়। যিনি পঞ্চমী মাত্রার উপাসনাকালে দেহত্যাগ করেন তিনি দেবদেহ প্রাপ্ত হইয়া সােমলােকে গমন করেন। ষষ্ঠ মাত্রার ধারণাকালে উপাসকের মৃত্যু হইলে ইন্দ্রের সাযুজ্য প্রাপ্ত হয়েন। সপ্তমী মাত্র। ধারণায় দেহ ত্যাগ হইলে বিষ্ণুত্ব এবং অষ্টমী মাত্রায় পশুপতি মহাদেবের স্বরূপ লাভ করেন। যে সাধক নবমী মাত্রার ধ্যানকালে মৃত্যুপথে পয়ান ৮৪ নাদবিন্দপনিষৎ। করেন তিনি মহুলোক, সেই রূপে দশম মাত্রায় ধ্রুব লােক ও একাদশ মাত্রায় তপােক এবং দ্বাদশী মাত্রায় ধ্যান কালে দেহত্যাগ করিলে নিত্যধাম ব্ৰহ্মলােক প্রাপ্ত হয়েন। ১১-১৬ ততঃ পরতরং শুদ্ধং ব্যাপকং নিষ্কলং শিবম্ । সদোদিতং পরং ব্রহ্ম জ্যোতিষামুদয়য়া যতঃ ॥ ১৭ পঞ্চমাক্ষরস্য নাদাস্তস্য বিনামকস্য ফলমাহ তত ইতি। তত পরতরং পরং ব্রহ্ম ইত্যম্বয়। পরতরং পর: নিষ্কলং কলাঘদশমাত্রা তদ্বিষয়াতিগং নিষ্কলং ব্যাপক ব্যাপনশীলং শুদ্ধম, নিস্পাপং শিবম, মঙ্গলম, যতাে জ্যোতিষাং মন আদীনাং চক্ষুরাদীনাম, সূৰ্য্যাদীনাং চ উদয়ঃ আবির্ভাবঃ সদা উদিতম, ভাসমান, [ তস্য ভাসা সৰ্ব্বমিদং বিভাতি ইতি তেঃ ] বঙ্গাথ-পঞ্চমাক্ষরত্মক নাদউপাসনার ফলশ্রুতি, প্রণবের পঞ্চম বর্ণ বিন্দুতে,ধারণা সময় যার দেহত্যাগ হয়, তিনি পরম শ্রেষ্ঠ দ্বাদশ মাত্রার অতীত শুদ্ধ, সৰ্বব্যাপী, নিত্য প্রকাশমান, মঙ্গলময় পরাৎপর পর ব্রহ্মকে লাভ করিয়া থাকেন এবং ইহার জ্যোতি দ্বারাই সাধকের অন্তঃকরণ জ্যোতিষ্মন বা প্রকাশমান হয়। ১ অতীন্দ্রিয়ং গুণাতীতং মনােলীনং যদা ভবেৎ। অনৌপম্যমভাবং চ যােগযুক্তং তদাদিশেৎ ॥ ১৮ সদা অতীন্দ্রিয়ং ইন্দ্রিয়াগােচরম গুণাতীতং গুণত্রয়রহিতং সত্ত্বগুণ- শ্রিতং মলনালীন ভবেৎ তদা অণৌপমম, অতুলনীয়ম, অভাবং যােগযুক্ত প্রাপ্তযােগমিতি আদশেৎ“কথয়েদিত্যর্থ। ১৮ বাথ-ব্রহ্ম গুণত্রয়াতীত, ইন্দ্রিয়াদির অতীত, নিরুপম, ভাবনা বিরহিত, ( সাধকের মন যখন সত্ত্বগুণাশ্রয় করে, তখন সমস্ত বিষয় ।

নদবিন্দপনিষৎ।
৮
;
চিন্তা পরিহার পূর্বক জীবাত্মা ও পরমাত্মার এক প্রতিপাদন হয়।
ব্রহ্মে মন লীন হইলেই সাধক যােগযুক্ত হয়েন - ১৮
তদ্ভক্তস্তৎসমাসক্তঃ শনৈর্মঞ্চেৎ কলেবরম্।
সুতিাে যােগচারেণ সর্বসঙ্গবিবর্জিতঃ ॥ ১৯
তস্মিভক্তিস্য স তদ্ভুক্ত। তস্মিন্ মনােস্য তন্মনা অসত্তা
বিষয়েষু অথবা তন্মনা সক্ত ইতি পঠনীয়ম্ ; সক্ত আসক্তস্তত্রৈব ।
যোগচারেণ যােগমার্গেন সুস্থিতঃ সুস্থোভূত সন্ সৰ্ব্বসঙ্গ বিবর্জিত
ভবতি ॥ ১৯
বঙ্গাথ-ব্রহ্মে ভক্তিপরায়ণ ও চিত্তসমাধান পূর্বক বিষয়াশক্তি ও
সঙ্গবর্জন করতঃ যােগ সাধন দ্বারা দেহত্যাগ করাই সাধকের সর্বতো-
ভাবে কৰ্তব্য কৰ্ম্ম। ১৯
ততে বিলীন পাশেইসৌ বিমলঃ কেবলং প্রভু।
তেনৈব ব্রহ্মভাবেন পরমানন্দমশুতে পরমানন্দমশুতে। ২০
ততঃ বিলীন বিনষ্টাঃ পাশা কৰ্ম্মাণি, বিমল অবিদ্যাদিমলানি
কেবলঃ শুদ্ধ প্রভু জীবভাবরহিতঃ অসৌ' যোগী সাধকবা, তেন
পূর্বোক্ত প্রকারেণ ব্ৰহ্ম ভাবেন পরম আনন্দ অশ্নতে। দ্বিরুক্তিঃ
গ্রন্থসমাপ্ত।থ।। অত্র প্ৰণ বসৎ নাদবিলোনিরূপণাদারাদিবৰ্ণত্রয়ে
সত্যপি প্রধান্যায়াদবিন্দপনিষং সংজ্ঞা। ২০
বাথ-যে সাধক সমস্ত কর্মবন্ধন দুর করিয়া অবিদ্যাকে পরিহার
করিতে সমথ, তিনি জীবভাব বিসর্জনপূর্বক সর্বব্যাপী শুদ্ধ ব্ৰহ্মভাবে
পরমানন্দ লাভ করিয়া থাকেন। গ্রন্থ সমাপ্ত অনুসূচণায় পরমানন্দমতে
পদ দ্বিরুক্তিবাচক।
নাদবিন্দপনিষৎ সমাপ্ত।

হংসাপনিষৎ। হংসোপনিষদে বিংশতি মন্ত্র আমরা বােম্বাই মুদ্রিত গ্রন্থ অবলম্বনে উদ্ধৃত করিয়াছি। ইহার প্রথমে “ভগবন, সধৰ্ম্মজ্ঞ সৰ্ব্ব শাস্ত্র বিশারদ মন্ত্র এবং অন্তে ও বেদ প্রবচনমিতি” আছে। ইহার মন্ত্র সংখ্যা বিংশতি। এই উপনিষৎ তন্ত্রের প্রাদুর্ভাব সময় লিখিত, কেননা ইহা শিব পাৰ্বতি সংবাদ। ইহার প্রধান তত্ত্ব এই যে মনুষ। দিবারাত্রি মধ্যে একুশ হাজার ছয়শত ছয় বার নিঃশ্বাস প্রশ্বাস পরিত্যাগ ও গ্রহণ করিয়া থাকে। সরােবরে যেমন হংস বিচরণ করে, মানবগণও তদ্রুপ সসার সাগরে বিচরণ করিয়া থাকে বিধায় জীবাত্মাকে হংস নামে আখ্যাত করা হইয়াছে। হংস শব্দের বর্ণ বিপর্যয় করিলে সােহহ, হয় এবং উকার সকার ও হকার বাদ দিলে, ওঁকার পরমাত্মার প্রতীক শুদ্ধ ব্রহ্মের বাচক প্রণব হয়। যাহাই মানবের উপাস্য প্রধান জপমন্ত্র এই হস শব্দটিকে অজপা মন্ত্র বলিয়া উপনিষুদে বর্ণিত হইয়াছে, মানব বুদ্ধির অজ্ঞাতসারে এই হংস মন্ত্র পূর্বোক্ত সংখ্যা প্রতিদিন জপ হইতেছে। এই হংসের স্বরূপ কল্পনা মূলক বর্ণন করিয়া জীবাত্মা ও পরমাত্মার অভিন্ন জ্ঞানে হৃদপদ্মে ধ্যানের উপদেশ এবং অষ্টল হৃদপদ্মের কর্ণিকার কোন স্থানে পরমাত্মার অধিষ্ঠান হইলে কি ফল ও শরীরের কি ভাব হয় তাহাই বিস্তাররূপে বর্ণিত হইয়াছে। মুল কথা প্রতি নিঃশ্বাস প্রশ্বাসে পরমগুরু ব্ৰহ্মনাম ওঁকার জপ করা এবং সােহহম, ভাব মনে আনয়ন করাই ইহার প্রধান উদ্দেশ্য। বৈষ্ণব সমাজে ইহার একটি কথা আছে “হরদমে গুরুর নাম নিব, দমে দমে লইবা নাম, কামাই নাহি দিবা” অর্থাৎ অনবরত শ্বাস প্রশ্বাস সঙ্গে পরম গুরুর নাম জপ করিলে, মুক্তিলাভ হয়। ইতি

ওঁ
হংসাপনিষৎ।
ইংখ্যোপনিষৎ প্রােক্তনাদার্লিয়ত্ৰ বিশ্রমে।
তদাধরং নিরাধারং ব্ৰহ্মমাত্রমহং মহঃ ।
ও পূর্ণমদ ইতি শান্তিঃ।
গৌতম উবাচ।
ভগবন্ সৰ্বধৰ্ম্মজ্ঞ সর্বশাস্ত্রবিশারদ।
ব্ৰহ্মবিদ্যা প্রবােধোহি কেনোপায়েন জায়তে। ১
ব্যাখ্যা-গৌতমঃ উবাচ (কথয়ামাস) ভগবন্ সৰ্বধৰ্ম্মজ্ঞ সৰ্বশাস্ত্র
বিশারদ। কেন উপায়েন ব্রহ্মবিদ্যা প্রবোধঃ আবির্ভাবঃ) হি জাতে
(উপদ্যতে ॥
বঙ্গর্থি—গৌতম ঋষি জিজ্ঞাসা করিলেন হে ভগবন্! (সনৎকুমার)
আপনি সর্বধর্মজ্ঞ এবং সর্বশাস্ত্রবিশারদ কি উপায়ে ব্রহ্মবিদ্যা লাভ
করা যাইতে পারে, তাহা আমাকে নিশ্চয় বলুন ॥
সনৎকুমার
উবাচ ।
বিচাৰ্য সৰ্ব্ববেদেষু মতং জ্ঞাত্বা পিনাকিন।
পার্বত্যা কথিতং তত্ত্বং শৃণু গগৗতম তন্মম ॥ ২
ব্যাখ্যা--সনৎকুমার উবাচ। সব্ববেদেষু বিচাৰ্য্য পিনাকিং
( মহাদেবস্য) মত জ্ঞাত্বা পার্বত্যা কথিতং তং তত্ত্বং মম (মৎসকসৎ)
বার্থ-ঋষি সনৎকুমার বলিলেন সমস্ত অর্থাৎ চারিবােদ আলোচনা
পূবক মহাদেবের মতানুসারে পার্বতী দেবী কথিত তত্ত্ব অামার নিকট
वन न ।

হংশােপনিষৎ। অনাখ্যেয়মিদং গুহং যােগিনা: কোশসন্নিভম্। হংসস্য গতিবিস্তারং ভুক্তিমুক্তি ফল প্ৰদম্ ॥ ৩ ব্যাখ্যা ইদম, ভুকিমুক্তি ফলপ্রদম (ভোগ মুক্তিফলপ্রদ কং) হংস (হংসাখা। জীবদ্য; গতিবিস্তারং (গতিপ্রবঞ্চ ) যােগিনাং কোশসভিং ( কোশঃ তুল্য) গুহ ( অতীবগোপনীয়ং অনাখ্যেয়ং ( অকথনীয়ম, | তত্ত্ব]। ৩ বঙ্গাথ"- জীবের ভক্তিমুক্তি প্রদানকারী এই গতি প্রপঞ্চতত্ব সকল যােগীগণের কোশের ন্যায়, অতি গোপনীয় বিধায় ইহা অপ্রকাশ্য ঘটে। ৩ অথ হন পরমহস নির্ণয়ং ব্যাখ্যাস্যামঃ। ব্রহ্মচারিণ শান্তায় দাস্তায় গুরুভক্তায়। হংহংসেতি সদা ধায়ন, সপ্তেযু দেহে ব্যাপাবৰ্ত্ততে । যথাহগ্নিঃ কাষ্ঠেযু তিলেযু তৈলমিব তং বিদ্যি মৃত্যুমতেতি। গুদমবষ্টভ্যারদ্বিায়ুমুখাস্য স্বাধিষ্ঠান। ত্রিঃ প্রদক্ষিণী কৃতং মনিপূরকং চ গত্বা অনাহত মতিক্রম, বিশুদ্ধ প্রাণম্নিরুধ্যাজ্ঞমধ্যায় ব্রহ্মর ধ্যায় বিমাত্রোহমিতে সব্বদ' ধ্যায়। ৪ ব্যাখা - অথ ( অনন্তরম হংস পরমহংস নির্ণয়ং ( যাথার্থ্য নিশ্চয়ং) ব্যাখ্যাস্যামঃ। ব্রহ্মচারিণে (ব্রহ্মচর্যায়) শান্তায় দাস্তায় । উপরত বাহারেস্ট্রিয়ায় ব্যাপারায় ) গুরু ভক্তায় হ সঃ হংসঃ ইতি সদা ধ্যায় সর্বেষু দেহেযু, (শরীরেযু) বাপ্য বৰ্ততে। যখ। হি (নিশ্চতং) অগ্নি কাষ্ঠেযু তিলে তৈলম, ইব তং ( সৰ্ব্বদেহ ব্যাজম, আত্মানং) বিদিত্বা (জ্ঞা ) মৃত্যু (সংসার) অত্যতি (ন প্রাতি)। গুদ (পায়ুঘর) ।

হংসােপনিষৎ। రా অবষ্টভ্য ( নিরুধ্য) আধারাং বায়ুং ( প্রাণাখ্যং) উত্থাপ্য (উগ্ধং আক্রম্য) সাধিষ্ঠানং ( লিঙ্গপদ্মং) খ্রিঃ (ত্রিবারং) প্রদক্ষিনীকৃত্য মণিপূরকং ( নাভিপদ্ম): চ গত্বা অনাহতং (হৃদপদ্মং) অতিক্রম বিগুদ্ধে ( কণ্ঠচক্রে) প্রাণান, নিরুধ্য (প্রাণবায়ুং অবােধং কৃত্বা) আজ্ঞাঃ ( সন্ধিস্থ আজ্ঞাচক্র বা দ্বিদল পদ্মম) অনুধ্যায়ন, ( অনুচিন্তন) ব্ৰহ্মরন্ধং ( মূৰ্দস্থং সহস্রদলপদ্মং ব্ৰহ্মণঃ স্বয়ং প্রকাশস্য আধারস্থানম, ) ধ্যায়ন ( চিন্তন) ত্রি মাত্রঃ (তি মাত্রাযস্য সঃ ওঁকারঃ) অহম, ইত্যেব ( অনেন প্রকারেণ । সৰ্ব্বদা। অনবরতং } ধ্যায়ন, (ধ্যান কুৰ্বন, ১৪ বঙ্গাৰ্থ-অনন্তর আমি হংস ও পরম হ'সের ব্যাখ্যা করিব। , শান্ত দান্ত ও গুরুভক্ত ব্রহ্মচারীদিগকে হংস ও পরমহংসের স্বরূপ বর্ণন করিব। এখানে জীবকে হংরূপে বর্ণনা করিবার তাৎপর্য এই যে হংস যেমন সরোবরে বিচরণ করিয়া থাকে জীবও তদ্রপ সংসাররূপ জলধিমধ্যে বিচরণ করে ; আর পরমহংসের ব্যাখ্যায় ইহাই বলা যাইতেছে যে, যিনি জীব ও ব্রহ্মের অভেদ জ্ঞান অনুভব করিতে পারিয়াছেন তিনিই পরমহংস। যেমন কাষ্ঠের মধ্যে অগ্নি, তিলের মধ্যে তৈল বর্তমান থাকে, সেইরূপ পরমহংস বা পরমাত্ম। আকাশের ন্যায় সর্বত্র প্রাণী দেহে ব্যাপিয়া রহিয়াছেন, তাহার (পরমাত্মার ) সাক্ষালাভ করিতে পারিলে জীবের সংসারগমন আর ঘটে না। ব্ৰহ্ম সাক্ষাৎ লাভের উপায় বর্ণিত হইতেছে যথা –“সাদগুল ফ দ্বারা পায়ুদ্বার রোধ করতঃ পায়ু ও শিশ্ন মধ্যস্থ মূলাধার চক্র হইতে প্রাণবায়ুকে উদ্ধভাগে স্বাধিন বা লিচক্র তিনবার প্রদক্ষিণ করাইয়া মণিপুর বা নাভিচক্ৰমূল ভেদ করিয়া হৃদস্থিত অনাহতচক্ৰ অতিক্ৰম পূৰ্ব্বক কণ্ঠমধ্যস্থ বিশুদ্ধ চক্রে প্রাণবায়ুকে নিষেধ করিবে এবং তৎপর মধ্যস্থ দ্বিদলপদ্মে ভেদ করিয়া সহস্রদলপদ্মতি অনিন্দময় ব্ৰহ্মকে ওঁকার অং স” এইরূপ নিয়ঙ্কর ধ্যান করিরে, [ ১ ] ৯ হংসােপনিষৎ । । । অথাে নাদমাধরাদ, ব্ৰহ্মরন্ধ্র পর্যন্তং শুদ্ধস্ফটিক সঙ্কাশং স বৈ ব্ৰহ্মপরমাত্মেত্যুচতে৫ ব্যখ্য-অথে নদং । ত্রিবর্ণাত্মক ওঁকারং) অধারাং (গুদলিঙ্গান্তবর্তিনঃ চক্র) ব্ৰহ্মরন্ধ। ( সহস্রদলচক্র) পর্যন্ত শুদ্ধস্ফটিক সঙ্কাশ ( বিশুদ্ধ স্ফটিকবৰ্ণং) স (নাদঃ ওঁকারঃ ব্রহ্ম (পরমাত্মা) ইতি উচ্যতে (কথাতে)। ৫ বঙ্গার্থতঃপর লিঙ্গমূল মূলাধার চক্র হইতে ব্রহ্মর সহস্রদলপদ্ম পর্যন্ত বিশুদ্ধটি কবং বর্ণ বিশিষ্ট নাদ। ত্মা ও কার বা প্রণবের ধান করিতে থাকিবে । এই দরূপ বকেই ব্রহ্মবাদীগণ প্রাণ ত্ম। ব্ৰহ্ম এবং পরমাত্মা বলিঃ। ব্য{খ্য করেন। ৫ অথ ইস ঋষিরব্যক্ত গাত্রীচ্ছন্দ পরমহংলে। দেবত। ২মিতি বীজং স ইতি শক্তি: সােহ২মিতি কীল কম। যট, সংখ্যাইহােরাত্ৰয়ােরক- বিংশতি সহানযট শতাধিকানি ভবন্তি সুৰ্যার সোমায় নিরঞ্জনায় নিরাভাসায় সূক্ষ্ম প্রচোদয়াদিত্যগ্নীষােনাভাং বৌযড় হৃদয়ঙ্গন্যাস করন্যাসৌ ভবতঃ । এবং কৃত্বা হৃদয়হদলে হংসাত্মানং, প্যায়েৎ ॥ ৩ ব্যাখ্যা—অথ হল ঋমিঃ অব্যক্ত গায়ত্ৰাচ্ছন্দঃ পরমহংস দেবতা হম, ইতি বীজ সঃ ইতি শক্তিঃ সঃ অহম ইতি কীলক। { অজ, সা] ষট সংখ্যায় অধিকানি একবিংশতি সংশ্রণি ষটশতদল অহােরাত্রয়ােঃ ( অহনি রাত্রোঁচ) [ জনি ] ভবন্তি। সূৰ্য্যায় তোমায় নিরঞ্জনায় নিরাভাসায় তসূক্ষ্ম প্রচোদয়া ইতি অগ্নীযোগাভাং বৌষট হৃদয়াদি অন্যানকন্যাসে ভবতঃ । এবং ন্যাসঃ ক। হৃদয়ে অষ্টদলে (ইসরােরুহ) হসং অন ব্যয়ে। ৬ বঙ্গাৰ্থ-এই মন্ত্রের ঋষি বা দুষ্ট। হং বা জীব, অবাক্তগায়ত্রী ইহার ছন্দ, পরমহংসদেবতা, হম, বীজ সঃ শক্তি এবং ‘সো” কীক । ।

হংসােপনিষৎ। দিবা রাএি মধ্যে অজপমন্ত্র ২১৬০ ৬ বার নিঃশ্বাস প্রশ্বাসরূপে প্রতি হইয়া থাকে। সূৰ্য্যায়, সোমায়, নিরঞ্জনা, নিরাভাসায় তসূক্ষ্ম বৌষট, মন্ত্রে অঙ্গন্যাস কন্যাস প্রভৃতি কাৰ্য্য করিবে এবং এবম্বিধ প্রকারে ন্যাদি কাৰ্যান্তে হৃদয়স্থিত অষ্টদল পদ্মে পরমাত্মার ধান করিবে । ৬ অগ্নীমােমৌ পক্ষাবোরঃ শিরোবিস্তু নেত্র: মুখং রুদ্রে রুদ্রানী চরণৗ বাহু কালচাগ্নিশ্চোভে পার্শ্বে ভবতঃ পতনাগরিশ্চ শিষ্টোভয়- পার্শ্বে ভবত। ৭ বাখা-অগ্নিষােমো ( অগ্নিঃ উময়। জীব ব্ৰহ্মণ ! সহ বর্তমান সােমঃ তৌ) পক্ষে ও কারঃ শির বিন্দু তু নেত্রং মুখং রুদ্রঃ চরণে ( পদৌ ) রুদ্রানী বহুচকালঃ { অন্তকঃ । অগ্নিঃ চ উভে পার্শ্বে ভবতঃ । পশ্যতি অনাগার (বৈরাগ্যং) চ শিষ্ট উভয় পার্শ্বে ভবতঃ ৭ বার্থ-অগ্নি ও সােম পক্ষীর পক্ষের ন্যায় হংসরূপ জীবের দক্ষিণ ও বামভাগে অবস্থিত , বি ইহার নেত্র, ওঁকার মস্তক, রুদ্র মুখ, রুদানী পদদ্বষ, অন্তক বাহুদ্বয় জ্ঞান এবং বৈরাগ্য এক পার্শ্বে ও অগ্নি উভয় পাশে । ৭ এযোহসৌ পরমহংসে ভানুকোটি প্রতীকাশশা যেনেদং ব্যাপ্তং তস্যাধা বৃত্তির্ভবতি পূৰ্ব্বদলে পুণ্যে মতিরাগ্নেয়ে নিদ্রালস্যাদয়ে ভবন্তি যাম্যে ক্ররে মতিনৈঋত্যে পাপে মনীষ। বারুণ্যাং ক্রীড়া বয়বে গমনাদৌ বুদ্ধিঃ সৌম্যে রতিপ্রীতিরীশানে দ্রব্যাদানে ॥ ৮ ব্যাখ্যা—এষঃ অসৌরমহংসঃ ( ব্রহ্ম) ভানুকোটি প্রতীকাশঃ (কোটি সূর্যাসম প্ৰভঃ) যেন ( স্বয়ং প্রকাশেন) ইদং (সং) ব্যাপ্তং। তস্য অষ্টধা (অষ্টপ্রকার ) বৃত্তিঃ ভবতি। পূৰ্ব্বদলে (হৃদপদ্মস্যঃ পূৰ্ব স্যাং দিশি পত্রে) পুণ্যে (শুভ কর্মণি) মতিঃ [ ভবতি] আগ্নেয়ে নিদ্র। আলস্যাদয়ঃ ভবন্তি। যাম্যে (দক্ষিণাস্যাং দিশি) কুরে হংসােপনিযৎ। ৬ ( হিংসাদিনাং পাপ কৰ্ম্মণি ) মতিঃ [ ভবতি ] নৈঋতে পাপে মনিষ। (মতি) চ বারুণ্যাং (পশ্চিমায়াং দিশি) ক্রীড়া ভবতি। বায়ব্যে গম নাদৌ বুদ্ধিঃ ভবতি, সৌম্যে (উত্তরাস্য! দিশি) রতি-প্রীতিঃ (যােযিৎ সেবা জন্যে) প্রীতিঃ (প্রাঃ) ভবতি ঈশানে বা'দানে মতি ভবতি ॥ ৮ বঙ্গা--স্বপ্ৰকাশ পরমাত্মা আকাশের ন্যায় সমস্ত জগত জীবাত্মার সহিত অভিন্ন ভাবে পরিব্যাপ্ত রহিয়াছেন তিনিই এই রমহংস কোটি সূর্যের ন্যায় প্রভাসম্পন্ন হইয়া অবস্থান করিতেছেন। তিনি বুদ্ধিতে যখন অবস্থিত করেন তখন হৃদপদ্মস্থিত অষ্টদলে আট প্রকার মতি হয় । যখন ঐ পদ্মের পূর্বদিকে বর্তমান থাকেন, শুভ কৰ্ম্মে বুদ্ধি হয় অগ্নি কোনস্থ পত্রে থাকিলে নিদ্রালস্য প্রমাদ উপস্থিত হয়। দক্ষিণদিগস্থ পত্রে অবস্থান কালে হিংসাদিজনক কার্য, নৈঋতে থাকিলে পাপকর্মে মতি হয়। পশ্চিমে থাকিলে ক্রীড়ায় আশক্তি, বায়ু, কোনে থাকিলে বিদেশে গমনে মতি, উত্তরদিকে থাকিলে স্ত্রী সেবার প্রীতি জন্মিয়। থাকে এবং ঈশান কোণে থাকিলে দ্রব্যাদি গ্রহণে লােভ উপস্থিত হয়। ৮ স এব জ প কোটাং নাদমনুভবত্যেবং সৰ্ব্বং হংসবশাম্মদো দশবিধে। জায়তে। চিনিতি প্রথমঃ। চিঞ্চিনিতি দ্বিতীয়া। ঘন্টানাদস্তৃতীয় শঙ্খনাদশ্চতুর্থঃ । পঞ্চমীনাদঃ সন্তালন: সপ্তমােবেনাদেহিষ্টমো- মৃদঙ্গনাদো নবমমা ভেরীনাদে দশমো মেঘনাদে। নবম পরিত্যজ্য দশমমবাভ্যসেং। ৯ ব্যাখ্যা—সঃ (হসােপাসক সাধবঃ) এব জকোট্যং (এককোটি জপেন) নাম, (হৃদয়ং ধ্বনি) অনুভবতি। এবং সৰ্ব্বং হংসবশা নাদ দশবিধ জায়তে। চিন, ইতি প্রথম নাদঃ। চিন চিন ইতি দ্বিতীয় নাদঃ ! তৃতীয় ঘন্টানাদঃ (ঘণ্টাধ্বনিবং)। শঙ্খনাদঃ চতুর্থঃ। পঞ্চম নাদঃ তন্ত্রী (বীণাধ্বনিবং) ষষ্ঠ: নাদঃ তাল ধ্বনিং। সপ্তম বেণুধ্বনিবং নাদ।

হংসােপনিযৎ। অষ্টম ভেরীনাদঃ (ভেরী ধ্বনিবং) নবমঃ মৃদঙ্গনাদঃ (মৃদধ্বনিবৎ নাদঃ) দশমঃ মেঘনাদঃ। নবম নবপর্যস্তানাদঃ) পরিতাজ। (ত্যাগিং কৃত্বা) দশম, { মেঘনাদ, এব অভ্যসেং | ৯ বঙ্গাৰ্থ—-হংসমন্ধোপাসক এক কোটি বার জপ করিতে পারিলে হৃদয় মধ্যে নানাবিধ শব্দ শুনিতে পান। এই হংসন্ত্র জপের ফলে দশ প্রকার নাদ সঞ্জাত হইয়া থাকে। প্রথমে চিণ, এইরূপ ধ্বনি, দ্বিতীয়ে চিণ, চিণ, ধ্বনি, তৃতীয়ে ঘণ্টাধ্বনি, চতুর্থে শঙ্খধ্বনি, পঞ্চমে বীণাধ্বনি, যষ্ঠে তালধ্বনি সপ্তম বংশধ্বনি, অষ্টমে ভেরীধ্বনি, নবমে মৃদধ্বনি, দশম মেৰবংশব্দ ধ্বনি অনুভুত হইয়া থাকে। এই সকল ধ্বনির মধ্যে প্রথম হইতে নবম পর্যন্ত ধ্বনি পরিত্যাগ পূৰ্ব্বক কেবল দশম মেঘধ্বনি- বং নাদেরই অভ্যাস করিবে । ৯ প্রথমে চিঞ্চিণী গাত্র দ্বিতীয়ে গাত্র ভঞ্জনম, । তৃতীয়ে খেদন যাতি চতুর্থে কম্পত শিরঃ। পঞ্চমে স্ৰবত তালু ষষ্ঠেইস্তনিষেণ । সপ্তমে গৃঢ় বিজ্ঞান, পরা বাচা তথাইষ্টমে । অদৃশ্যং নবমে দেহং দিব্যচক্ষুস্তথাইমলম, । দশমং পরমং ব্রহ্ম ভবে ব্রহ্মাত্মসন্নিধৌ। ১০ ব্যাখ্যা-প্রথমে (নাদে) চিঞ্চিণী গাত্রং (চিঞ্চিণীশব্দৰং গাত্ৰং ভবতি) দ্বিতীয়ে গাত্র ভনং (গাত্রভঙ্গং) [ ইব ভবতি ] তৃতীয়ে শ্বেদনং ( ঘশ্ম) যাতি। চতুর্থ শিরঃ কম্পতে। পঞ্চমে তালু সুবতে। যষ্ঠে অমৃতনিষেবণ, ( অমৃততাপম, ইব ভবতি । সপ্তমে গৃঢ় বিজ্ঞানম, (তত্ত্বজ্ঞানং) [ প্রাতি] অষ্টমে চ পরা (শ্রেষ্টা মনােজ্ঞ ) বাচা ( বাক্ ) [ ভবতি ] নবমে দেহ অদৃশ্য ত দিব চক্ষুঃ অমলং চ ১৪ হংসােপনিষৎ । { ভবতি ] দশমং পরমং ব্রহ্ম ভবদ ব্ৰহ্ম। অসন্নিবৌ (পরমাত্মনা মন্নিধিঃ অভেদ ইতি ভাবঃ ॥ ১০ বার্থ—প্রথম নাদে শরীরে চিণ চিণ করে, দ্বিতীয় নাদে গাত্রভঙ্গ তৃতীয়ে ঘৰ্ম্ম উৎপন্ন হয় ; চতুথে শির কম্পন, পঞ্চমে তালু হইতে অমৃত স্রাব হয়, যষ্ঠে অমৃত পান তুল্য বােধ হয়, সপ্তমে নিগুঢ় তত্ত্বজ্ঞান লাভ হয়, অষ্টম শ্রেষ্ঠ দৈব বাক্য উদ্ভব হয়, নবমে অদৃশ্য শরীর ও দিব্য দৃষ্টি উৎপন্ন হয়, দশমে জীব ও ব্রহ্মের সন্নিকর্য নিবন্ধন হেতু ব্ৰহ্মত্ব লাভ ঘটিয়া থাকে। ১০ তস্মিন্মনো বিলীয়তে মনসি সঙ্কল্প বিকল্পে দগ্ধে পুণ্য পাপে সদাশিবঃ শাত্ম। সর্বত্রাবস্থিত স্বয়ং জ্যোতিঃ শুদ্ধ বুদ্ধে' নিত্য নিরঞ্জন শান্ত প্রকাশ ইতি। ১১ ব্যাখ্যাতস্মিন মনঃ বিলীয়তে মনসি সঙ্কল্প বিকল্পে বিলীনে সতি। পুণা পাপে দগ্ধে সদাশিবঃ মঙ্গলরূপঃ) [ভবতি] শক্ত, ত্মা ভূত্ব। সৰ্ববস্থিত স্বয়ং জ্যোতিঃ (স্বপ্ৰকাশঃ) শুদ্ধাঃ (পবিত্র) বুদ্ধঃ (জ্ঞানস্বরূপঃ) নিত্য নিরাঞ্জনঃ শান্ত (সন] প্রকাশ:ত ইতি। ১১ বার্থ-সেই সময়ে অর্থাৎ জীব ও ব্রহ্মে অভেদ জ্ঞান হইলে মনের সঙ্কল্প বিকল্পদি সমস্তই চায় প্রাপ্ত হয়, পাপ পুণ্য দগ্ধ হইয়া মন সদ। মঙ্গল- ময়রূপে অবস্থিত করেন এবং নিত্য শুদ্ধ বুদ্ধ নিরাঞ্জন স্ক্যোতিস্বরূপ শান্তভাবে প্রকাশিত হযেন ॥ ১১ ইতি বেদ প্রবচনং বেদ প্রবচন। ১২ ওঁ পূর্ণমদ ইতি শান্তি ইতি অথৰ্ব্ববেদে হংসােপনিষৎ সমাপ্তা। ব্যাখ্যা বেদ প্রবচনম, (বেদস্য আজ্ঞারূপং বাক্যং) দ্বিরুক্তি সমাপাপ।। বঙ্গাৰ্থ-ইহা বেদের অা। গ্রন্থ সমাপ্তি জন্য বেদপ্রবচন দুইবার কথিত হইয়াছে । হসেপনিষং সমাপ্ত।

নারায়ণেপনিষৎ। ওঁ সহববত্বিতি শান্তিঃ। নারায়ণের নামানুসারে ইহা নারায়ণােপনিষং নামে আখ্যাত। ইহার ভাষ্য নাই এবং সহজবােধ্য বলিয়া কেবল বঙ্গাৰ্থ প্রদত্ত হইল । চারি বেদের চারিটি বৃহদাকার মন্ত্র সমন্বিত নারায়ণের স্তুতিপূর্ণ গ্রন্থ। নারায়ণ জগৎস্রষ্টা, মন, প্রাণ, ইন্দ্রিয়, বায়ু, আকাশ, জল, পৃথিবী আদিত্য, রুদ্র, বসু, দেব, ঋষি, গন্ধ, মনুষ্য, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, রুদ্র, স্থাবর, জঙ্গম, সমস্ত সৃষ্টি পদার্থ উদ্ধ, অধঃ, সম্মুখ, পশ্চাৎ সমস্ত নারায়ণময়। যিনি “ও নারায়ণায় নমঃ” এই অষ্টাক্ষর সমন্বিত মহামন্ত্র একাগ্ৰহৃদয়ে সদা জপ করেন তিনি অন্তে মুক্তি লাভ করেন। প্রাতঃকালে এই মন্ত্র জপ করিলে রাত্ৰিকৃত সমস্ত পাপ এবং সায়হ্নে জপ করিলে দিবাকৃত পাপ নষ্ট হয়। মধ্যাহ্ন সময়ে আদিত্যমুখী হইয়া শ্রদ্ধা পূৰ্ব্বক অষ্টাক্ষর মন্ত্র পাঠ করিলে পঞ্চমহাপাতক ও উপপাতক সমূহ বিনষ্ট হইয়া থাকে। এই উপনিষদবলম্বনেই হিন্দুদিগের শিলারূপী শাল গ্রাম নারায়ণের পূজার সৃষ্টি হইয়া থাকিবে। ইহা অনতি প্রাচীন হইলেও শ্রেষ্ঠতালাভ করিয়াছে। যেহেতু সমস্ত ব্ৰহ্মাণ্ডই নারায়ণ বা ব্ৰহ্ম । ওঁ অথ পুরুষোবৈ নারায়ণেইকাময়ত প্রজাঃ সৃজেয়েতি। নারায়ণাৎ প্রাণাে জায়তে। মন: সর্বেইন্দ্রিয়াণি চ। খং বায়ুজ্যোতিরাপঃ পৃথিবী বিশ্বসাধারিণী। নারায়ণাৎ ব্ৰহ্ম জায়তে। নারায়ণারূদ্রো জায়তে। নারায়ণাদিম্রো জায়তে। নারায়ণাৎ প্রজাপতি প্রজায়তে। নারায়ণাৎ দ্বাদশাদিত্য রুদ্রাবসবঃ সৰ্বাণি ছন্দাংসি নারায়ণাদেব সমুৎ- ( ১৩ ] নারায়ণােপনিষৎ। ঋগে দ- পদ্যন্তে। নারায়ণ প্রবন্তে। নারায়ণে প্ৰলীয়ন্তে এতৎ শিরোহধীতে। ১ বঙ্গাৰ্থ—সেই আদি পুরুষ নারায়ণ প্রজা সৃষ্টির কামনা করিয়াছিলেন নারায়ণ হইতেই প্রাণ, মন, সৰ্বেন্দ্রিয়, আকাশ, বায়ু, তেজ, জল, পৃথিবী সৃষ্টি হইয়াছে। ব্রহ্মা, রুদ; ইন্দ্র, প্রজাপতি, দ্বাদশ আদিত্য, বস্ত সকল, রুদ্রখ্য দেবতা সকল, চ্ছন্দ (বেদ মন্ত্রাদি ) নারায়ণ হইতেই হইয়াছে। নারায়ণ হইতেই সৃষ্টি স্থিতি ও লয় হইতেছে। ইহা ঋগেদের সার। অথ নিতে নারাযণঃ। ব্রহ্ম। নারায়ণঃ শিব নারায়ণ শক্রশ্চ নারায়ণ! 'কালশ্চ নারায়ণঃ। দিশশ্চ নারায়ণ। বিদিশ নারায়ণ। উর্দ চ নারায়। অধশ্চ নারায়ণ;। অনুবহি নারায়ণঃ । অন্তবহিষ্ণ নারায়ণ। নারায়ণ এবেদ সৰ্ব্বং যত যচ্চ ভব্যম। নিস্কলঙ্ক। নিরঞ্জনে। নিকিন্সো নিরাখ্যতঃ শুদ্ধ দেব একো নারায়ণে ন দ্বিতীয়োনি কচি। য এবং বেদ স বিষ্ণুরব ভবতি স বিষ্ণুরব ভবতি। বিষ্ণুরেব ভবতি। এবং যজুৰ্বেদ- শিরোধীতে। ২। বঙ্গাথ-নারায়ণ নিত্য, ব্রহ্মা, শিব, শক্র বা ইন্দ্র, কল, দিক্‌বিদিক্‌ উর্দ, অধঃ, অন্থর, বাহির সমস্তই নারায়ণ। পরিদৃশ্যমান জগৎ সমস্তই নারায়ণ। , হা গত হইয়াছে এবং যাহা ভবিষ্যতে হইবে তৎসমস্তই নারায়ণ। নারায়ণ নিষ্কলঙ্ক, নিরাঞ্চন, নির্বিকার, অরূপ, শুদ্ধ, এক, তাহার দ্বিতীয় নাই। যিনি এই তত্ত্ব অবগত হইতে পারিয়াছেন, তিনিই বিষ্ণুতুল্য এই মই যজুর্বেদের সার জানিবে । ও মিত্যেগ্ৰে ব্যাহরেং। নম ইতি পশ্চাৎ। নারায়ণয়ত্যুপরিষ্ঠাৎ ওমিত্যেকাক্ষরম + ন ইতি দ্বে অক্ষরে। নারায়ণায়েতি পঞ্চাক্ষরাণি। এতদ্বৈ নারায়ণাস্যাষ্টার পদম। যে। ই বৈ নারায়ণগষ্টাক্ষর, পদ নারায়ণোপনিষৎ । মধ্যেতি । অনপবঃ সব্ব মায়ূরেতি । বিলাতে প্রাজাপত্য রায়স্পেষং গৌপত্য ততােমৃতত্বগতে। ততোহমূতত্বমত ইতি। এতৎ সামবেদ শিরােধীতে । ৩ বঙ্গাথ-ওম উচ্চারণ করিয়া নারায়নায় নমঃ এই মন্ত্রাচ্চারণ করিবে । ওঁ একাক্ষর, নম দুই অক্ষর, নারায়ণ পঞ্চাক্ষর সংমিলিত হইয়া নারায়ণের অষ্টাক্ষর মন্ত্র। ওঁ নারায়নায় নম অষ্টাক্ষর সংযুক্ত মন্ত্র জপে আয় বৃদ্ধি, সন্তান, ধন, গো প্রভৃতি সম্পত্তি প্রাপ্তি এবং অন্তে অমৃতত্ত্ব লাভ হইয়া থাকে। ইহাই সামবেদের সার-জানিবে। প্রত্যগানন্দ' ব্ৰহ্মপুরুষং প্রণবম্বরূপম, অকার উকারোমকার ইতি। তা অনেক সমভবং তদোদোমিতি। য মুক্তা মূচ্যতে যােগী জন্ম সংসার বন্ধনাৎ। ওঁ নমাে নারায়ণায়েতি মন্ত্রোপাসকো বৈকুণ্ঠভূবনং গমিষ্যতি। তদিদং পুণ্ডরীক বিজ্ঞানঘনং তস্মাওড়িদাভমাত্রম্ । ব্ৰহ্মণ্যো দেবকীপুত্রঃ ব্ৰহ্মণ্যেমধুসূদনঃ। ব্ৰহ্মণ পুণ্ডরীকাক্ষা ব্ৰহ্মণেi- বিষ্ণুরুচ্যতে ইতি। সৰ্বভুতস্থমেকং বৈ নারায়ণং কারণপুরুষম, কারণ পরং ব্রহ্ম ওমিতি। অথৰ্বশিরােহধীতে। ৪ বঙ্গাৰ্থ-প্রণবম্বরূপ ব্ৰহ্মপুরুষ প্রত্যানন্দ অকার, উকার, মকার। ওম” এই অক্ষর মন্ত্র উচ্চারণকারী জন্মমৃত্যু সংসার বন্ধন হইতে মুক্ত যােগী নামে কথিত। “ওঁ নারায়ণায়নম” এই মন্ত্রোপাসক বৈকুণ্ঠ ভবনে গমন করেন। সেই বিজ্ঞানঘন পুণ্ডরীকই এই পরিদৃশ্যমান বিশ্ব। বিদ্যুতভার ন্যায়, তিনি কৃষ্ণ, মধুসূদন, পুণ্ডরীকাক্ষ ও বিষ্ণু নামে উক্ত ; নারায়ণই সর্বভূতের এক অদ্বিতীয় কারণ পুরুষ “ওম ইতি পরব্রহ্ম" ইহাই অথর্ব বেদের সার। প্রাতরধীয়ানাে রাত্রি কৃতং পাপং নাশয়তি। সায়মধীয়ানাে দিবস- কতং পাপং নাশয়তি। তৎসায় প্রাতরধীয়মাননা পাপ অপাপােভবতি। - ৫ নারায়ণগাপনিষৎ। মধ্যংদিনমাদিত্যাভিমুখােহবীয়ানঃ পঞ্চমহাপাতকোপপাতকাং প্রমুচ্যতে। সৰ্ব্ববেদপারায়ণ পুণ্যং লভতে। নারায়ণ সাযুজ্যমবাতি শ্ৰীমত্মারায়ণ সাযুজ্যমবাতি য এবং বেদ । ৫। ওঁ সহববত্বিতি শান্তিঃ। ইতি নারায়ণােপনিষৎ সমাপ্ত। বঙ্গাথ-প্রাতঃকালে উপরােক্ত মন্ত্র পাঠ করিলে রাত্ৰিকৃত পাপ, সায়াহ্নে পাঠ করিলে দিবাকৃত পাপ নষ্ট হয় । সন্ধা ও প্রাতঃকালে পাঠ করিলে পঞ্চমহাপাতক অপাতক বা বিনাশ হইয়া যায় এমত কথিত হইয়াছে। নারায়ণের সাযুজ্য প্রাপ্ত হয়। যে ইহা জানে সে নারায়ণ সাযুজ্য প্রাপ্ত হয় দ্বিরুক্তি। নারায়ণোপনিষং সমাপ্ত। ভিক্ষু,কাপনিষৎ। ভিক্ষুকোপনিং অতি ক্ষুদ্র গ্রন্থ সাতটি মাত্র মন্ত্র ইহাতে উক্ত হইয়াছে। প্রথম মন্ত্রে ভিক্ষু সম্প্রদায়কে চার ভাগে বিভক্ত করিয়া কুটীচক, বহুদক, হংস ও পরমহংস নামে আখ্যাত করা হইয়াছে। দ্বিতীয় মন্ত্রে ভরদ্বাজ প্রভৃতি কুটীচক সম্প্রদায়ের এবং ৩৪৫ মন্ত্রে বহুদক হংস ও পরমহংস সন্ন্যাসীগণের নাম ও যােগমাগবস্থিত বিবরণ এবং ৬৭ মন্ত্রে উঁহাদের আচরণ, বাসস্থান ও মৃত্যুর পর মােক্ষাদির কথা বলা হইয়াছে। এই উপনিষং সম্ভবতঃ পরবর্তী কালের সন্যাসী সম্প্রদায়ের রচিত বলিয়া মনে হয়। ভিক্ষুনা: পটলং যত্র বিশ্রান্তিমগমংসদ। তত্ৰৈ পদং ব্রহ্মতন্তু ব্ৰহ্ম মাত্ৰং করােতি ॥ ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং ইতি শান্তিঃ।

ভিক্ষুকোপনিষৎ। ওঁ অথ ভিক্ষুণাং মোক্ষার্থিনাং কুটীচক বহুদক হংস পরমহংসাস্যেতি চত্বরঃ। ১ ওঁ অথ মােক্ষাথি নাং ভিক্ষনাং কুটাচক বহুদক হংস পরমহংসাশ্চ ইতি চতুবিভাগ। ১ বঙ্গাথ-অনন্তর মােফার্থী ভিক্ষুগণের চারিটি সম্প্রদায়ের কথা বলা হইতেছে যথা-কুটীচক, বহুদক, হংস ও পরমহংস। ১ কুটীচকা নাম গৌতম ভরদ্বাজ যাজ্ঞবল্ক্য বশিষ্ঠপ্রভৃতেইষ্টা গ্রাসংশ্চরতে যােগমার্গে মোক্ষমেব প্রাথষন্তে। ২ গৌতম, ভরদ্বাজ, যাজ্ঞবল্ক্য, বশিষ্ঠ প্রভৃত কুটিচকণ অষ্টগ্রাস' অল্প চরন্তং (ভক্ষয় ) যােগমার্গে মােক্ষ প্রাথয়ন্তে ইচ্ছন্তি)। ২ বঙ্গাৰ্থ-গৌতম, ভরদ্বাজ, যাজ্ঞবল্ক্য, বশিষ্ট প্রভৃতি কুটীচক সম্প্রদায়ের ঋষিগণ অষ্টগ্রাস অল্প ভক্ষণ পূর্বক যােগমার্গাবলম্বনে মুক্তির প্রার্থনা করিয়াছিলেন। ২ অথ বহুদক। নাম ত্ৰিদণ্ড কমণ্ডলু শিখা যজ্ঞােপবীতকাষয়বস্ত্রধারিণাে- ব্ৰহ্মর্ষি গৃহে মধুমাংসং বজয়িত্বাষ্টো গ্ৰাসান, ভৈক্ষাচরণং কৃত্বা যােগমার্গে মােমেব প্রাথয়ন্তে ৩ অথ বহুদকা নাম দিও, কমলু, শিখা, যজ্ঞসূত্র, কাষায় বয়- ধারিণঃ ভিক্ষুকাঃ ব্ৰহ্মর্ষি গৃহে মধু ( মিষ্টদ্রব্য) মাংস বর্জিত্বা (ত্যাগ কৃত্বা অষ্টগ্রাসেন ভক্ষাচরণং কৃত্বা যােগমার্গে [ তিষ্ঠম ] মােক্ষং এব প্রাথ যন্তে। ইচ্ছস্তি)। ৩ বঙ্গাথ-বহুদক নামক ভিক্ষু সম্পদায়ীগণ ত্ৰিদণ্ড; কমণ্ডলু, শিখা, যজ্ঞোপবীত ওকাষায় বস্ত্র পরিধান করতঃ ব্রহ্মর্ষি গৃহে মিষ্টদ্রব্য, মাংস প্রভৃতি বর্জন করিয়া অষ্টগ্রাস আহার পুর্বক যােগমার্গে অবস্থান মুক্তি কামনা করিয়া থাকেন। ৩ • ভিক্ষুকোপনিষৎ। অথ হংসানাম মৈকরাত্ৰং নগরে পঞ্চরাত্ৰং ক্ষেত্রে সপ্ত রাত্ৰ তদুপরি ন বসেয়ুঃ। গোমূত্রগােময়াহারিণ নিতাং চান্দ্রায়ণপরায়ণ যােগমার্গে মােক্ষষেব প্রাথযন্তে। ৪ অথ ( অনত্মরং ) কে হংসা ? যে গ্রামে এক রাম নগরে পঞ্চরাত্র, ক্ষেত্রে (নগর বহিঃস্থ প্রদেশে ) সপ্ত রাম, ন তদুপরি বসে। গােময় আহারিণঃ ( সংগ্রহকা: সন্ত) নিত্য চান্দ্রায়না পরায়ণাশ্চ যােগ- মার্গে মোক্ষং এব প্রাথয়ন্তে ( ইচ্ছন্তি)। ৪ বঙ্গাথ-তদন্তর বলা হইতেছে হংস কাহারা? যাহারা গ্রামে এক রাত্রি নগরে পঞ্চরাত্রি এবং নগর প্রান্তে মাঠ সপ্তরাত্রির অধিক বাস করেন না। ( তাহারাই হংখ্য যােগী)। ইহারা গােমূত্র ও গোময় সংগ্ৰহণ করিয়া প্রতিদিন চান্দ্রায়ণ ব্রত- পরায়ণ হইয়া যােগমগাবলম্বনে প্রার্থনা করিয়া থাকেন। ৫ অথ পরমহংসা নাম সংবৰ্ত্তকারুণি শ্বেতকে জড়ভরদত্তাত্রেয় শুক বামদেব হারিতক প্রভৃতয়ােহষ্টো গ্রাসারন্তো যােগমার্গে মোক্ষ- মেব প্রার্থয়ন্তে ॥ ৫ কে পরমহংসা? সম্বৰ্ত্তক, অরুণি, শ্বেতকেতু, জড়ভরত, দত্তাত্রেয়, শুক, বামদেব, হরিতক:প্রভৃতয়ঃ যে অষ্টগ্রাসন, ভক্ষাচরণ, কৃত্বা যোগমার্গে মোক্ষঃ এব প্রার্থয়ন্তে (ইচ্ছন্তি । ৫ বাৰ্থতদন্তর পরমহংস কাহার। বলা হইতেছে ? সম্বৰ্ত্তক, আরুণি. শ্বেতকেতু, জড়ভরত, দত্তাত্রেয়, শুক, বামদেব, হারিত প্রভৃতি যােগ- মাগবিলম্বনে অষ্টগ্রাস ভক্ষণ পূর্বক মুক্তি প্রার্থনা করিয়াছিলেন। ৫ বৃক্ষমূলে শূন্য গৃহে শ্মশানবাসিনো বা সম্বরা বা দিগারা বা। তেষাং ধৰ্ম্মাধৰ্ম্মো লাভালাভৌশুদ্ধাশুদ্ধ দ্বৈতবর্জিতা সমলােষ্ট্ৰশ্মকাঞ্চনা সৰ্ববর্ণেষু ভৈক্ষাচরণংকৃত্বা সৰ্বত্ৰাত্মৈবেতি পশ্যন্তি ৬ অথ } ভিক্ষুকোপনিষৎ। ১০১. বৃক্ষমূলে বাসিন শূন্য গৃহে বাসিনঃ শ্মশানবাসিনঃ সম্বরা (সবা) বা দিগাম্বরা ( বিবস্ত্রা) বা ন তেষাং ধৰ্ম্ম অধর্মঃ লাভঃ অলাভঃ শুদ্ধ অশুদ্ধ: দ্বৈত ভৰি তে বৰ্জিতা লােষ্ট্রে ( অনি) কাঞ্চণেষু সমভাবাপন্ন, সন্তঃ সৰ্ববর্ণেযু ভক্ষাচরণকৃত্বা সৰ্ব্বত্র আত্মা এব ইতি পশ্যন্তি ॥ ৩ বঙ্গাথ—তাহারা সবস্ত্র বা বিবস্ত্র হইয়া বৃক্ষমূলে, শূন্যগৃহে, শ্মশানে বাস করিয়া, ধৰ্ম্ম, অধম্ম, লাভ অলাভ, শুদ্ধ, অশুদ্ধ, দ্বৈতভাৰ বৰ্জিত হইয়া লেষ্টে ও কাঞ্চনে সমজ্ঞান সম্পন্ন হইয়া, সকল বর্ণের অন্ন গ্রহণ করিয়া, সব্ব ঐ সকলকে একাত্ম ভাবে দর্শন করিয়া থাকেন। ৬ অথ জাতরূপ ধরা নিদ্বন্দ্ব। নিষ্পরিগ্রহ শুরুধ্যানপরায়ণ। আত্মনিষ্ঠা প্রাণসংধারণার্থং যথােক্ত কালে ভৈক্ষমচরণকৃত্বা শূন্য গার দেবগৃহ তৃণ- কূটবল্কিবৃক্ষমূলকুলালশালাগ্নিহােত্রশালা নদী পুলিনগিরি-কদর-কুহর কোটরস্থণ্ডিলে বাস কৃত্ব তত্র ব্রহ্মমাগে সমাক সম্পন্নঃ শুদ্ধমান পরমহংসচরণেন সংন্যাসেন দেহত্যাগ কুন্তি তে পরমহংসা নামেত্যুপনুিষং। ওঁ পূর্ণমদ ইতি শাকি। ইতি ভিক্ষুকোপনিষং সমাপ্তা। অথ জাতরূপধরা নিদ্বন্দ্ব। নিঃ পরিগ্রহ {ন অপরপ্রত্যাশিত ) শুক্ল। ব্ৰহ্ম ) ধ্যানপরায়ণঃ আত্মনিষ্ঠাঃ প্রাণ সংধারণাথে যথা উপযুক্ত কালে ভক্ষম, চরণ, কৃত্বা শূন্য অগারে (গৃহে) দেবগৃহে তৃণকূটে বল্মীকে বৃক্ষমূলে কুলালশালীয়া অগ্নিহােশানা ( যজ্ঞগৃহে ) নদীপুলিনে ( নদীতটে ) গিরিকরে (গিরিগহ্বরে। স্থণ্ডিলে বাসংকৃত্বা ব্ৰহ্মমাগে সম্যক সম্পন্নঃ শুদ্ধ মানসাঃ ৩দ্ধান্তকরণঃ সন্তঃ পরমহংস আচরণে সন্যাসেন ( সন্যাসধৰ্ম্মে। দেইতাগিং কুব্বস্তি তে পরমহংস নাম ইতি উপনিষং। ৭ ১০২: ভিক্ষুকোপনিষৎ বাথ-যাহারা অন্যের কোনরূপ প্রত্যাশা না করিয়া নিভাবে আত্মনিষ্ঠা তৎপর হইয়া ব্ৰহ্মধাপরায়ণ হইয়া যথা সময়ে উক্ত প্রকারে ক্ষুন্নিবৃত্তি পূৰ্ব্বক বৃক্ষমূলে, শূন্য গৃহে, দেবালয়ে, তৃণ কুটীরে, যজ্ঞশালায় নদীতটে গিরিগহরে স্থণ্ডিলে বাস করতঃ ব্রহ্মমাগে থাকিয়া শুদ্ধান্ত করণে সন্ন্যাসামে দেহত্যাগ করেন তাহারাই পরমহংস নামে আখ্যাত • মুক্তিকামী ৭

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Shastratattwa Vol. 1

Author
Bidyabinod,mahendrachandra Ed
Title
Shastratattwa Vol. 1
File name
Shastratattwa Vol. 1
Text
OCR done
Citation
1927
Published
2010/03/29
Publisher
Bishweshwar Chattopadhya, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
122
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Uponishat
Keywords
Bhikhoponishat
DLI number
511386
Barcode
4990010018537.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
jCUn4zPwOWg
Download PDF

Shastratattwa Vol. 1