Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Byathar Puja

Chackraborty, Manomohan · 2010/03/31

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

ব্যথার পূজা
শ্ৰীমনােমমাহন চক্রবর্তী
প্রকাশক- ঐক্ষেত্ৰনাথ ঘােষ এম, এ
মু্য আট আনা

No text on this page.

প্রকাশকের কথা। পূজনীয় কবিবন্ধু শ্ৰীযুক্ত মনােমােহন চক্রবর্তী মহাশয়ের কতিপয় ঘােট ঘােট কবিতা, বিবিধ সময়ে, বিবিধ অবস্থায়, বিবিধ স্থানে রচিত হইয়াছিল। ইহার কোন কোনটী ব্ৰহ্মবাদী ও তত্ত্বকৌমুদীতে প্রকাশিত হইয়াছে। পূজার উপকরণরূপে পূজকের সহায়তা-মানসে সেই সমস্ত গুলিই পুস্তকাকারে প্রকাশিত হইল। এ উপকরণ-যােগে ইষ্ট-ধ্যানের অধিকারী পূজকের সংখ্যা কোন সমাজেই খুব অধিক আছে বলিয়া মনে হয় না। অধিকাংশ নরনারীই সুখের পুজা, আনন্দের পূজা করিতে প্রয়াসী। ব্যথার পূজায় অভ্যস্ত সাধক জগতে বিরল। বিপরিণকেই লােকে সচরাচর ডাকিয়া থাকে ; কুন্তীর ন্যায় বিপদবরণ কেহই করিতে চায় না। Worship of sorrow.” “দুঃখমেব পরা পূজা” ইহাই অধ্যাত্মিক জীবনের গভীরতম অভিজ্ঞতার উপলব্ধি ; খৃষ্টধর্ম ও বৈষ্ণব ধৰ্ম্মের প্রাণের মর্মকথা। ভগবান ভক্তের অশ্রু ঘুচান না, অশ্রু মুছান। আর ভক্তও ইহার অধিক কিছু চাহেন না। “Sorrow is at once the lot, the trial, and the privilege of man;" “Though He slay me, yet will I trust in him.” “বিপদঃ সস্তৃতাঃ শশ্বৎ তত্র তত্র জগদ্গুরাে !” “অদর্শনাৎ মৰ্ম্মহতাং করােবা, মৎ প্রাণনাথ স এব নাপরঃ।” “ব্যথার পূজা” পড়িতে পড়িতে, এই সকল বাণীর প্রতিধ্বনিই পাঠক শুনিতে পাইবেন, আর পাঠক যদি সাধক হন, শুনিতে শুনিতে, অধ্যাত্মযােগ-সূত্রে, কবির সহিত অশ্রু মিলাইয়া, ধন্য হইবেন। বরিশাল, ঐক্ষেত্ৰনাথ ঘােষ। ৪ঠা মাঘ-১৩৩৪। (ভূতপূৰ্ব অধ্যাপক।)

ব্যখারপূজা।
মূল্য ॥ আনা।
প্রকাশক
শ্রীক্ষেত্ৰনাথ ঘােষ এম, এ,
বরিশাল।
সাধনাপ্রিন্টিং ওয়ার্ক, বরিশাল।
মুকুন্দমুরারী মুখােপাধ্যায়
কর্তৃক মুদ্রিত।
১৩৩৪ সন ১০ই মাঘ।
v

উৎসর্গ।
আবাল্য-সুহৃদ
অভিন্ন-হৃদয়
স্বর্গীয় পঞ্চানন ব্রহ্মচারী মহাশয়ের
সুদূর
কৈশাের হ'তে হে বন্ধু-রতন !
অভিন্ন-হৃদয় মােরা ছিলাম দুজন।
দীর্ঘ দিন কাটি গেছে ধরার ধূলায়,
কত ধূলি লাগিয়াছে দু’জনার গায় !
ঝরিয়াছি দুজনেই দুজনার ধূলি,
সুখে দুখে পরস্পরে ছিলাম আগুলি।
পড়ে গেলে, ব্যথা পেলে, তব আঁখি জল,
সিক্ত করি গণ্ড মম-করিত শীতল !
দু’জনাই হইলাম জীবন-সন্ধ্যায়-
উপনীত, তুমি আগে চলে গেলে হায় !
ব্যথার ব্যথিত বন্ধু রহিল না মম,
তােমা সম এ জগতে, ওহে প্রিয়তম !
ব্যথা দিয়ে গাঁথা, তাই এ মালা আমার,
কে লবে আদরে গলে তুমি বিনা আর ?
ও লােকের শুদ্ধ শান্ত হে প্রিয় আমার,
(তাই) লহ গলে এ লােকের ব্যথা-উপহার।
তােমার
শ্ৰীমনােE
কল্যাণ-কুটির—বরিশাল—১লা মাঘ, ১৩৩৪।

No text on this page.

সূচী। কবিতা ... পৃষ্ঠা ••• ••• ••• অন্বেষণ ••• ... সন্ধ্যায় ডেকে নিলে ঘরে নিত্য গৃহ ৫ ••• . . . ৯ ••• ১০ ••• ••• দুঃখের সুপ্রভাত ? বিজনে তােমা না হারাই কৃপা তােমার সম্বল নাই কিছু সঞ্চিত বেদনা বােঝ ও পাওয়া পুণ্য প্রভাতে তুমি আর আমি তােমার আলােক ভক্তে ভগবান বর্ষদূত কাটে নাই মরতের মায়া বর্ষারাতে ১১ ১২ ১৩ ••• ••• ••• ১৪ = = . p r = = = এ ১৬ ১৭ এ এ + + ১৮ ১৯ ২০ ••• ner A ৭ " পৃষ্ঠা = ০ ২২ ••• কবিতা আমির নিগড় কি রহস্য ! লীলা . ২৪ ৮ ০ ০ ডাক সবে পুনঃ তবে ২৫ যখন ৫ ০ ০ পথে ২৭ ৪ ৮০ * * * ২৮ ৯ ২৯ ৫ . . ••• মৃত-মঙ্গল ভাঙ্গাবাশী দুঃখই মঙ্গল বলে দেও মােরে কবে ঘুচিবে দুর্দিন ? রহস্য অতিথিবরণ ... ••• ৫ । ৩২ ••• ৮ । ৩ . . ০ ০ ০ ••• ৩৪. ৩৪ . . . ৫ । ••• ৩৭ ॥ ৮০ অনন্ত বিশ্রমে ? সন্তাপিত জনে ! তােমাযুক্ত হব ধ্রুব তারা আবরাদুঃখ কে বঁচিল কবে ? হই যেন পার বর্ষ-বিদায় বিকল করােনা ••• ••• ৩৯ । ••• .৪০ পৃষ্ঠা . . . . . b ৪২ ৪৩ ৪৮৪ • • ও ও ও # ০ ০ ৪৪ ••• ৪৫ = = = ৪৭ # ০ ০ ৪৮ ৫. ৪৯ • ••• ... ০ ০ ০ • ৫১ # ০ ০ কবিতা ••• সঙ্গীর মায়ায় বর্ষ-বিদায় (২) তােমা বিনা আঁখি মম ঝরে তুল নিবেদন তােমার যেন নই কিসে আর বুঝিব বলাে? প্রেম-পথে তুমি দয়াল প্রতি দান উপরতের প্রতি তােমার বিধির জয় প্রবাসে মরণে জীবন যদি পায় বর্ষ চলে যায় উঞতীরে পাপমুদ পিতা ভগবান জাগরণে মাঘােৎসবে প্রার্থনা স্মৃতি রােগ শয্যায় . এ ৫২ ••• ৫৪ • • • ৮ ০ ০ ৫৪ • এ এ ৫৭ p r এ ০ ০ ০ # ৮০ ৬০ ৪ . . . ৫০ . । ••• ৬১ ••• ০ ০ ••• ৫০ ০ ০ ০

No text on this page.

ব্যথার পূজা।
-(o)-
ভাঙ্গল মেলা।
ভেঙ্গেছে ধরার মেলা সুখ-স্বপ্ন যত,
কিনিলাম বেচিলাম যাহা মনােমত।
হাত ধরাধরি করি আসিলাম যারা,
ডেকে দেখি কত জন নাহি দেয় সাড়া।
চেয়ে দেখি কারাে আঁখি ভাসে অশ্রুজলে,
কেহ বা লুকায় ব্যথা সুদূর বিরলে।
চলিতে চলিতে পথ কাঁদে কত জন,
সজাগ থাকিয়া যেন দেখে দুঃস্বপন।
কেহ ভীত চমকিত চলিতে অক্ষম,-
হারাইয়া বুদ্ধি বল শকতি উদ্যম।
সুখের পসরা কারাে তুলিতে মাথায়,
আছাড় পড়িয়া ভাঙ্গি মিশিল ধূলায়।
কারাে প্রেম পুণ্য যশ চোখের পলকে
উড়ে গেল হায় এ যে—দিবার আলােকে !
হিসাব কষিতে পথে বসেছি সন্ধ্যায়,
আমার কি লাভালাভ কে বলিবে হায় !

ব্যথার পূজা।
অন্বেষণ।
।
বিদ্যাবিত্ত জ্ঞানার্জনে ধায় নাই চিত,
সে কি নয় দয়া তব হে দয়াল পিত!
বুঝেছি তা এতদিন জীবনের পথে,
এখন মানে না শান্তি আর কোনমতে।
রূপ-রস-গন্ধ-ভরা ধরণীর বুকে
ভ্রমিতে আনন্দ নাই, নিদ্ৰা নাই সুখে।
এ ধরার যাহা কিছু হ’ল পুরাতন,
হৃদয় কাঁদিছে—কোথা হে চির নূতন
নিত্য লুকাইয়া আছ হ'য়ে সৰ্ব্বগত,
না পাই দর্শন তবু আজও মনােমত।
অন্বেষণে কাটে দিন ঘুরিয়া বেড়াই,
সজন বিজন গিরি কিছু বাকি নাই।
সকলি দেখিছ যদি তবে আপনায়,
লুকায়ে কাদাও কেন ভিখারী আমায়?
বল তবে এমনি করে হয়ে তােমাহারা,
অন্বেষণ কি হবে সার-সঙ্গী অশ্রুধারা ?
গিরিডি-৩২শে আষাঢ়, ১৩৩২।

ব্যথার পূজা।
«««
A
সন্ধ্যায়।
কোথায় চলেছি ভেসে হারা’য়ে সে জ্ঞান,
আজিও করিতে বসি অধ্রুবের ধ্যান।
প্রবাস আবাস হয়ে এখনাে ভুলায়,
প্রাণ-পাখী ভুলে যায় যাইতে কুলায়।
মনের মতন যাহা যতনে রক্ষিত,
হারায়ে এখন হায় হৃদয় ব্যথিত!
একে একে যদি হয় বন্ধন-মােচন,
জড়ায় আবার আসি শত যে নূতন।
প্রবুদ্ধ হইয়া পুনঃ পড়ি ঘুমাইয়া,
ঘুম-ঘােরে কাদে প্রাণ এ মায়া স্মরিয়া।
রম্য কাম্য সেই যারা ছিল প্রাণ-পুরে,
ঘােরে ফিরে আজও তারা বেদনার সুরে।
ভুলায় উদ্দেশ্য কভু আসিয়া উপায়,
কায়া ছাড়ি শান্তি খুঁজি বসিয়া ছায়ায় ?
আবার আসিছে সন্ধ্যা বিছায়ে অর্ধ ল -
রাখিতে ধ্যানের ঘরে মােরে অচঞ্চল।
কাদে প্রাণ—উঠ গান-তাইত সন্ধ্যায়,
আমি যে অশান্ত আজও কত যে ব্যথায় !
শক্তি মিথ্যা, তপঃ মিথ্যা---বৃথা অহঙ্কার,
বুঝিলাম এত দিনে তব কৃপা সার।
পটুয়াখালি স্টীমার—২০শে ভাদ্র, ১৩৩৫।

৪
ব্যথার পূজা।
ডেকে নিলে ঘরে।
আনিলে অনেক দূর—কোথা ছিনু পড়ে
ডেকে নিলে ঘরে মােরে কত স্নেহ-ভরে।
স্থিরজ্যোতিঃ রত্নদীপ জ্বলিতেছে শত,
ঘরে কি বিচিত্র শােভা-আলােকিত কত !
ইঙ্গিতে বলিলে–দেখ মেলিয়া নয়ন,
সম্মুখে অক্ষয় ধন--অনন্ত জীবন।
বাহিরে ঘুরিয়া আর কত ক্লান্ত হবে,
বিপথে ভ্রমিয়া ভ্রান্ত কত দিন রবে ?
কাচেতে কাঞ্চন জ্ঞান কবে যাবে ঘুচে,
অকারণ-অশ্রুজল কবে যাবে মুছে ?
ধরার ধূলির পরে রস-গন্ধ-মাঝে,
হও ক্ষান্ত যেতে আর ক্ষুদ্র তুচ্ছ কাজে।
থাক ঘরে, চিনে লও স্বজন স্বধন,
এ ঘরেই মিলবে তব রত্ন-সিংহাসন।
আমি তব পিতা মাতা সখা বন্ধু গুরু,
আমি নিত্য রস-উৎস, প্রেম-কল্পতরু।
নিশ্চিত নিবাস আমিসর্বসুখ-খনি,
আমাতেই ঋদ্ধি সিদ্ধি প্রেম-স্পর্শমণি।
গিরিডি কার্তিক, ১৩৩২।

ব্যথার পূজা।
নিত্যগৃহ।
নিত্য তােমার নিরাময়পুর এত মধুর লাগে,
এই নিরালা বিজন বিনা বুঝি নাইতাে আগে ?
নিজের গৃহ ব’লে এল নিশ্চিন্ত নির্ভর,
ভাঙ্গাগড়ার রাজ্য ছাড়ি উদ্ধে নিরন্তর।
জড়ের দেহ ধরার ধূলায় রয়েছে আসীন,-
ভুলে যাই যে সেই কথা, একি সুখের দিন !
এই ঘরে মাের আনাগােনা দীর্ঘ দিবস ধরে,
এমন করে পাইনিতাে আর, আজকে যেমন করে ?
এমন শােভন বিশ্ব তােমার আজ লাগে না ভালাে,
নিভিয়াছে সকল প্রদীপ, চন্দ্র সূর্যের আলাে।
তুমিই শুধু সারা ঘরে অনির্বাণ জ্যোতিঃ,
মরণ-হারা জীবন হেথানাইকো দিবা রাতি।
একি সত্য ! একি নিত্য ! একি অচঞ্চল !
এই ঘরে কি রাখবে মােরে করিয়া অটল ?
গিরিডি, খৃষ্টান হিলের পাদদেশে।
৩রা নবেম্বর, ১৯২৫।

ব্যথার পূজা
দুখের সুপ্রভাত ?
দুখের দুয়ার খুলে যে দিন এলে আমার ঘরে,
সে দিন হ'তে বন্দী আমি তােমার অ-ই করে।
সার পথে ছড়াইয়া নিবিড় অন্ধকার,
আমারে দেখালে পথ বড় চমৎকার !
মিলা’লে জীবনে এক আঁধারের মেলা,
ব্যথার করুণ সানাই বাজে সন্ধ্যা সকাল বেলা।
বেহাগতানে বিষাদ-গীতি কতই কথা বলে,
মৰ্ম্ম-বাঁধন ছিড়ে যায় তার তপ্ত অশ্রু জলে।
সন্ধ্যা উযা দিবা নিশা-আঁধারে আমার
বেলয়, বেতাল কভু তাহার হয়নি একটী বার।
ব্যথার সুরে আসন পাতা পুজা উপাসনা,
পরা পূজার ঘরে সারা দুঃখেরি সাধনা !
নিঠুর করুণ দেবতা গাে ! করি প্রণিপাত,
আনিবে কি নিত্য নবীন দুখের সুপ্রভাত ? ৬
}
বরিশাল-আশ্বিন, ১৩৩৩

ব্যথার পূজা।
৭
বিজনে।
নিরালা বিজনে আজ তুমি আর আমি,
এত দিনে মিলিয়াছি হে জীবন-স্বামি ।
ভেঙ্গেগেছে যেন দেশ-কালের প্রাচীর,
নাহি কোন ব্যবধান—যােগ সুগভীর।
কত না ভরসা আশা ল’য়ে সঙ্গোপনে,
আশ্রয় নিয়েছি জান বিরলে বিজনে-
দেখিয়া লইবে বলে—যা কিছু আমার,
ভাল মন্দ পাপ পুণ্য কৰ্ম্ম চিন্তা-ভার।
নিজেরে আড়াল করি ঢাকিয়া তােমায়,
কত দিন দেখি নাই আপনারে হায় !
“তুমি যে অন্তরযামী সৰ্ব্বজ্ঞ মহা”
কি গভীর মনস্তাপ হারা’য়ে সে জ্ঞান,
কাণে আসিয়াছে সংসারের কুমন্ত্রণা,
হইয়াছে কতরূপে আত্মপ্রবঞ্চনা!
কি যে ভ্রান্তি ! ভাবিয়াছি—“দেখিছনা তুমি,
লুকাননা তােমার কাছে এ অন্তর-ভূমি!”
ঘুচাও এ ঘনীভূত অবিদ্যা-আঁধার,
কর চক্ষুষ্মন্ ত্বরা জ্যোতিতে তােমার।
দৃষ্টি মম বদ্ধ থাক তব আঁখি-পরে,
আমারে হারাই আমি তােমার ভিতরে।
৭
গিরিডি-১লা”শ্রাবণ, ১৩৩২।

৮ ব্যথার পূজা। তােমা না হারাই। দুর্গম দুস্তর পথ-সাহারার মরু, তার মাঝে তুমি মাের বিশ্রামের তরু! পড়ি’ ভ্রমে, পথশ্রমে কাতর যখন, তব হাতে কতবার শীতল ব্যজন- পাইয়াছি, চলিয়াছি—হয়েছি সবল,- মুছিতে মুছিতে পথে নয়নের জল ! দিশাহারা সঙ্গীহারা হয়ে কতবার, দিবার আলােকে আমি দেখেছি আঁধার। কি আর বলিব আমি ? করেছ লজ্জিত, পলকে বিতরি পুনঃ জ্যোতি অযাচিত! সে আলােকে মরু পার হ’তেছি এখন, রক্তাক্ত আজিও যদি যুগল চরণ ! আছে ব্যথা, নাহি কথা বলিবার স্থান, থাকিয়া থাকিয়া তবু কেঁদে ওঠে প্রাণ! কত হারালাম পথে খুঁজিয়া না পাই, চির-সঙ্গী! এই ভিক্ষা—তােমা না হারাই। বরিশাল-~৮ই শ্রাবণ, ১৩৩৪। (১)

ব্যথার পূজা।
কৃপা তােমার।
}
ভক্তিপুরে বিহার তােমার ওহে ভক্তরাজ!
ভক্তি-ধনে কাঙ্গাল আমি ডাকিতে পাই লাজ ।
গানে গানে বন্দনা মাের পুরাণ হয়ে গেল,
যত মাথা মৰ্ম্ম-কথা শেষ হয়ে যে এল।
কৰ্ম্ম আমার অকৰ্ম্ম হায় ! হয়েছে সে জ্ঞান,
জ্ঞানের গৰ্ব খর্ব হয়ে—বুঝেছি—অজ্ঞান।
আত্মশক্তি পুরুষকার—ছিল বড় বল,
গেছে সে ভুল ;-পদে পদে হইয়া নিস্ফল ।
সেবা-ধৰ্ম্মে সাধু কর্মে তােমারে খুঁজিয়া,
নিরাশ চিতে সে পথ হ’তে এসেছি ফিরিয়া ।
শ্যামল পত্রে হরিৎক্ষেত্রে নভ-নীলিমায়,
ফুলের গন্ধে মলয়-ছন্দে খুজেছি তােমায়--
কোথায় তুমি? ভাঙ্গল নেশা! কাটিয়াছে যাের,
মহাশূন্যে উদাস ধরা চক্ষে ভাসে মাের।
দৈন্য আমার এত দিনে বুঝিয়াছি হায়,
“নাতিদীন না হইলে ভক্তি না মিলয় !”
কেমন করে হব দীন তােমার কৃপা বিনে?
লুকানাে আমিত্ব মাের যায়নি এত দিনে !
আশা আমার-কৃপা তােমার দীন ভিখারী করে,
সন্ধ্যাবেলায় ডাৰে আমায় সেই নিরালা ঘরে।
বরিশাল-আষাঢ়, ১৩২৯।

১০
ব্যথার পূজা
সন।
সম্বল তােমার নাম,
আর কিছু নাই হাতে,
দীর্ঘ পথের সন্ধ্যা এলে,
ভ’রতে পারি যাতে।
জ্ঞান-বিজ্ঞানের দণ্ডধ রে
চলতে অনেক বাদ্ধা,
আমিত্ব সে আছাড় পড়ে
মাখে ধূলাে কাদা।
রজঃ আসি রাশি রাশি
উড়ায় কৰ্ম্ম-কেতু
চেয়ে দেখি একটীও তার
রচে না যােগ-সেতু ।
সাধু-সঙ্গ সৎপ্রসঙ্গ
আনি কিছু দূর,
কঠোর কঠিন দুস্তর পথ
করেছে মধুর।
সাধন-ভজন যা আয়ােজন
সব মনে লয় ফাকি,
স্বচ্ছ সরল শিশু হয়ে
যদি নাহি ডাকি। ১০
বরিশাল-বােগ শয্যায়-১৬ই আষাঢ়, ১৩৩৩।

ব্যথার পূজা।
নাই কিছু সঞ্চিত।
তােমার লাগি যে দিন আমার ঝরে দু’টি আঁখি,
এ জগতে, সে দিন, পেতে রয় না কিছুই বাকি।
বিষাদ-ভরা বিপুল-ধরা আনন্দেতে হাসে,
উর্ধে সূৰ্য্য চন্দ্র তারা ভাব-তরঙ্গে ভাসে।
ফুলবাগানে ফোটা ফুল কয়নি যার কথা,
হেসে হেসে জানায় সাঝে নূতন করে কথা !
দুঃখ পেয়ে বিরাগ-ভরে দূরে ছিল যারা,
করুণ-সুরে হৃদয়পুরে বাজায় বাণী তারা।
সুপ্ত যা-লুপ্ত তারা—ভেবে এত দিন,
ক্ষুব্ধ চক্ষে ধরা-বক্ষে ছিলাম কত দীন ।
দিনের শেষে নবীন বেশে—একি অভিনয় !
একে একে সবাই তারা এসে কথা কয় ?
অন্ধ নেত্রে হে অন্তত কি পরশ তব !
বিশ্বরূপে একি শীলা দেশি নব নব ?
অশ্রুবিন্দু হতে যেন না হই বঞ্চিত।
তােমায় পেতে অশ্রু বিনা নাই কিছু সঞ্চিত! ১১
বরিশাল-ই ভাদ্র, ১৩৩৩

১২
ব্যথার পূজা
বেদনা।
।
উষা আসি হাসাইতে চায়,
আলােক-আননে করি খেলা,
: মনমুগ্ধ যেন কি নেশায় ।
দেখিল না প্রভাতের মেলা।
ফুল ফোটে, পড়ে যায় ঝ'রে,
বিলাইয়া সুগন্ধ সুষন্ন,
আঁখি অন্ধ কোন্ সে আঁধারে ?
বাড়ে বেলা ঘুম ভাঙ্গিল না ।
প্রভাতী গাহিয়া গেল পাখী
গুনিল না বধির শ্রবণ!
আপনারে আপনি দে ফাকি,
টুটিল না কুহক-স্বপন !
সর্ব অঙ্গে বুলাইয়া হাত,
সমীর অমৃত দিল মাখি,
ঘুচিল না ঘাের অবসাদ,
জানিল না—কে গেল কি রাখি।
কোথা হতে আসি এ বেদনা,
প্রাণে এক করিয়া আঘাত,
আচম্বিতে জাগায় চেতনা,
কে জানে এই লুকানাে কার হাত? ১৫
বরিশাল-জ্যৈষ্ঠ, ১৩২৯।

ব্যথার পূজা।
বােঝা ও পাওয়া।
তুমি কি তখন বুঝাও তােমায়,
স্নিগ্ধ উজল আলােক-ছায়ায়-
ফানের ঘরে প্রাণের আসন যখন দীপ্যমান ?
যখন—ছন্দ নবীন গন্ধ মধুর,
সুধারসে সব ভরপূর !
জীবনজুড়ে নীরব সুরে বাজে কি এক তান?
যখন-স্বপ্নপুরের সুপ্ত ভাষা-
জাগায় প্রাণের লুপ্ত আশা,
স্মৃতির বুকে ফোটে কুসুম আপন-সুষমায় !
যাতে---নাইকো মায়া নাইকো মুক্তি
নাই জাগরণ নাইকো সুপ্তি,
কার সে আভাস করে উদাস মােহন মহিমায় ?
যখন—রয়না ব্যথা, হয় না কথা,
নাই নিবৃত্তি, আকুলতা ;
ভাব কি অভাব, আলােক আধার, নাইকো দিবা রাতি ;
যাতে-জড় কি অজড়, যায় না বােঝ,
নাই ব্যবধান—সরল সােজা ;
তখনি কি পাইহে তােমায় গােপন-পুরের সাথি? ১৩
বরিশাল--কার্তিক, ১৩২৩।

১৪
ব্যথার পূজা।
পুণ্য প্রভাতে।
পূণ্য-পূত প্রভাতের শ্যামলা ধরণী,
অঙ্কে তব শােভিতেছে হে বিশ্বজননী |
ফোটে ফুল অলিকুল মত্ত মধুপান
ফুল্ল-ভূষা হাসে উষা
পূরব যিমানে।
ভাগে এ-গাহে গান হিগ পঞ্চমে
মধুময় ধারা বয় পশিয়া মরমে।
অন্ধ রাতি দেখে ভাতি কেঁদে যায় চলে
অরুণ-থে হাসে ভানু উদয় অচলে।
সুপ্ত যত—ছিল মৃত, উষার সমীরে,
শুধালাগি ওঠে জাগি আখি মেলি ধীরে
যত শব্দ ছিল স্তব্ধ জাগায় ঝঙ্কার,
নিষ্কিয় জগতে একি কৰ্ম্মর প্রচার ?
একি শীলা আদি মাতা ভুবন-মােহিনী ?
আনন্দে পােহাও নিত্য আঁধারামিণী?
কোন্ সে অতীত যুগে কি সুধা-সিঞ্চনে,-
চিলে প্রভাত হেন থাকি সঙ্গোপনে ? ১৪
বরিশাল--মাঘ, ১৩২৭)।

ব্যথার পূজা ।
তুমি আর আমি
আবার নিভৃতে মােরে রাখ লুকাইয়া,
নিবৃতির নিত্য-রসে ভরে যাকুহিয়া।
তুমি আর আমি থাকি প্রাণে যাহা পাই
বুঝিবারে কেহ তাহা এ জগতে নাই।
ধীরে ধীরে দেও আসি সেই যে পরশ,
হৃদয় ছাপিয়া ওঠে—প্রেমের হরুষ।
বর্ণে গন্ধে নানা ছন্দে ফোটে কত ফুল,
শুষ্ক মৃতকল্প মােরে করিয়া আকুল।
ভুলে যাই আপনা-েমরতের ব্যথা,
অবিচ্ছেদে শুনি শুধু অমৃতকার।
মৃত্যু সে মরিয়া যায়—বিশ্ব ভাসে সুখে,
আনন্দ-লহরী-লীলা চৈতন্যের বুকে !
গরিডিকার্তিক, ১৩৩২

ব্যথার পূজা।
nA
A/C
৮. '
তােমার আলোেক।
তুমি যখন আপন রূপে
সন্ধ্যা-প্রদীপ আলাে,
আঁধার-ঘেরা হৃদয়-কুটির
তখনি হয় আলাে।
আকাশ-ভরা চন্দ্র-তারা
গৃহের প্রদীপ-ভাতি,
প্রভাত করে দেয় কি তারা
আমার মােহ-রাতি।
আঁখি মু’দে বসি তাই,
হয়ে যুক্ত-কর ;
তােমার প্রদীপ জ্ববে বলে,
আঁধার করি ঘর।
লুকানাে পাপ গােপন-পুরে--
মনের অগােচরে,
ঐ আলােকে বন্দী হয়ে
মাথাটি হেঁট করে।
সৃষ্টি যদি মুছে হয়-
শূন্য—আঁধারময়।
তুমি (ই) জবে জ্যোতিরূপে,
মাের হবে না লয়।
---
বরিশাল-জ্যৈষ্ঠ, ১৩২৪

ব্যথার পূজা। ভক্তে ভগবান্। তোমার চরণ বরণ করি ধরায় ধন্য যারা, বিপুল বিশ্ব-কোলাহলে তাদের তাে নাই সাড়া। দিবস তাদের আঁধার-রাতি, আঁধার ঘরে আলাে । সৃষ্টি আড়াল করি সেথায় তুমিই কি দীপ জ্বালাে ? নিৰ্বা রসনা তাদের দৃষ্টি অচঞ্চল কতই বাণী শুনায় আনি-ধ্রুব সুমঙ্গল। সবাই করে যেথায় বসি বিতর্ক-বিচার- আপন মােহে নিবিড় করি সমস্যা-আঁধার। সেথায় ভক্ত-অধর-কোণে একটী মৃদু হাসি ফুটে উঠি দেয় সরায়ে আঁধার রাশি রাশি। যেথায় ওঠে রাত্রি দিবা গর্জি অভিমান, দম্ভভরে দৃষ্টি ধরা সরার সমান। প্রেমিক তােমার সেথায় গিয়ে দাড়ালে একবার, সুধার ধারা বয়ে যায়—একি চমৎকার ? নিন্দা-বাণে বিদ্ধ যেথা মানব-সন্তান, যতই না সে হউক না হেয়, ওহে ভগবান্ ! ভক্ত কেন কেঁদে আকুল? একি অপরূপ । ভক্ত-প্রাণের লীলায়ও কি তােমারি স্বরূপ ? ১৭ === বরিশাল-আষাঢ়, ১৩২৮।

ব্যথার পূজা
যবনিকা-অন্তরালে ভাগ্য-বীথিকায়,
কি সনেশ কার তরে কেমন সজ্জায়
আনিয়াছ বর্ষদূত !–সবি অবিদিত,
জানিতে সন্ত্রস্ত তবু,—ভীত-পুলকিত !
নব নব রূপে ফোটে তােমার মহিমা,
অনন্ত যাত্রার পথে কোথা তার সীমা ?
পলে পলে গড়ি উঠে তব দিব্য রথ,
অনাদি কালের বক্ষে সােজা তার পথ।
জীব নাহি পায় ঠাই দাড়াতে জগতে,
কোথা হতে কোথা যায় ভাসি মহাস্রোতে
সংগ্রামে হইয়া শ্রান্ত শান্তির ভিখারী,
তব মুখপানে চেয়ে আছে নর-নারী-
ভিক্ষা এই-“দুঃখ হতে মহাপরিত্রাণ,
নতশিরে বহিবারে বিশ্বের কল্যাণ।”
সে শিব-বারতা তুমি দিবে কি এ বার ?
দাড়াইয়া তাই সবে ঘিরিয়া দুয়ার !
মহাকালরূপী যিনি, তুমি তার দূত,
কে বলিবে এ ধরায় তুমি অনাহুত ?
খােল যবনিকা তবে দেখি তব রূপ,
আছে কি না ভালে চিহ্ন—“মঙ্গল স্বরূপ ?” ১৮
farmeta_Sarattet. 99291

ব্যথার পূজা।
১৯
কাটেনাই মরতের মায়া।
কথার উপরে উঠি কথা,
গুমড়িয়া অছাড়িয়া মরে,
উদ্বেলিত সাগরের বুকে,
উর্মি যথা উর্মির উপরে।
কণ্ঠ কই হ’ল না নীরব !
চঞ্চল অধীর আজও হিয়া,
কভু ক্ষোভে, কভু গ্লানি-রােষে
উঠিতে উন্মুখ গরজিয়া।
এখনাে হ’ল না শান্ত মন,
দেবাসুরে চলেছে সংগ্রাম !
বহে বাসনার রক্ত-নদী ;
কে বলিবে কোথায় বিশ্রাম ?
লজ্জা-ভয়-ত্রাসে মন ভীত,
আসে বেলা হয়ে অবসান ;
বিষন্ন আঁধার চারি ধার,
নাহি জাগে"আনন্দের গান।
' দেহ মাগে বিশ্রাম কাতরে,
প্রাণ চাহে সুশীতল ছায়া ;
পরমেতে ধ্বনি শুধু এই
“কাটেনাই মরতের মায়া।” ১৯
1
কলিকাতা-ভাদ্র, ১৩৩২ !

ব্যথার পূজা।
বর্ষারাতে।
নিশীথ রাত নিবিড় আঁধার,
মেঘে ঘেরা আকাশ-তল,
তপ্ত ধরার বুকে ঝরে,
বৃষ্টি-ধারা অবিরল।
সৃষ্টি যেন গেছে মু’ছে,
স্মৃতি শুধু আছে জাগি ;
হারাণাে তার যত কিছু
অন্বেষণ অজি পাবার লাগি।
ঘরের হয়ে বাইরে যারা,
ছিল অতি দূরে দূরে,
মিলন তাদের কি বিচিত্র !
একই করুণ ব্যথার সুরে।
শান্ত স্তব্ধ হৃদয়-পুর!
নাই কে। নিদ্রা-জাগরণ,
অলক্ষ্যেতে কে দিয়ে যায়,
রটি ধ্যানের আসন ?
এ লােক সে লােক নহে দু’লােক,
নিত্য এ যে একই সাথে ;
মেহের আঁধার জড়ের বাঁধন,
কে কাটে এই বর্ষারাতে ? ২০
আষাঢ়-১৩২।

ব্যথার পূজা। পাই না নিরবধি। হৃদয়-কোণে সঙ্গোপনে কে তুমি আমার? সন্ধ্যা-উষায় নিবিড় নিশায় এসে বারেবার ? দেখি দেখি না যায় দেখা, অরূপ মাধুরী, ধরি ধরি যায় না ধরা খেলাও লুকোচুরি ? কতই চেনা, কতই জানা, কতই আপনার। তবু এমন নিত্য নূতন দেখি নাতত আর ? জানি আমি দিন-যামিনী থাক সাথ সাথ, ধরুতে বুকে, রাতে সুখে বাড়ায়ে দু’হাত। দেখি আবার দৃষ্টি তােমার আমারি নয়নে, কি আবেশে এক নিমেষে কি যে চলে প্রাপে! অশ্রু মুছে উঠি বেঁচে-তালস চিত- ভাব-লুপ্ত শত সুপ্ত জাগায় সুখের গীত। কোন্ পিয়াসাষ কিসের নেশায় তুমি এমন করে, চিরযুক্ত, সঙ্গমুক্ত! চাহিতেছ মােরে? বােঝ ব্যথা, কওনা কথা, এ কেমন দরদী ? দুঃখ আমার এই অনিবার—পাই না নিরবধি !.২১ বরিশাল-ভাদ্র-১৩৩১

ব্যথার পূজা।
“আমি” নিগড়া
আর কিছু নয় পথের বাধা, আমার বাধা আমি,
সাক্ষী চেতা হয়ে আর কি না জান, স্বামি !.
তােমার দেওয়া ওজন করা ‘আমি’র স্বাধীনতা,
সেই কি নহে চিরদিনের তােমার অধীনতা ?
অফুরন্ত দিগ্‌দিগন্ত প্রসারিত পথ,
আমারে ভুলায়ে নিয়ে ধায় মনােরথ ?
উত্থান-পতন শত, জয়-পরাজয়,
এপথে করিছে কুরুক্ষেত্র অভিনয়।
দুঃখ পাপ.পরিতাপ রিহ-দহন,
আমি’র কর্মফল হ'য়ে দেয় দরশন।
তােমার অধীন না হইয়া যতই বিপদ
পদে পদে স্বেচ্ছাচার-বিরুদ্ধ বিপথ।
যে দিন থাকি অধীন অব—কি কহিব আর ?
দেখি—মুক্ত মিষ্ট উদার অখিল সংসার।
আমি’র নিগড় কাটবে কবে, মুক্ত মহীয়া!
অধীন হয়ে হব কবে স্বাধীন সন্তান ? ২২
বরিশাল-ভাদ্র-১৩৩৩।

ব্যথার পূজা
কি রহস্য !
ব্যথা দিয়ে বুলাও হাত
এ কোন্ প্রেমের রীতি ?
দুঃখের বােঝা দিয়ে শিরে,
দুর কর দেও ভীতি ?
কঁাদাইয়া বাহির কর
তপ্ত অশ্রুজল,
মুছাইতে পাত পুনঃ
মেহের অঞ্চল ?
অনুতাপে দগ্ধ করি
হৃদয়-রুমল,
খাটি সােণা করতে চাও
পরশে, উজ্জ্বল ?
জাধারে ঘিরিয়া অক্ষ
করিয়া নয়ন,
অন্তরে আর দীপ
মালাও নূতন ?
জ; দেহ গুম কর
রচিয়া শ্মশান,
আত্মায় অমৃত-রস
করাইতে পান? ২৪
বরিশাল-মাথ=১৩৩১।

২৪
ব্যথার পূজা।
rvvvvvv
Ay"
লীলা।
আমারে লইয়া লীলাময়, লীলা তব
চলিয়াছে এ ধরায় নিত্য নব নব ।
কত হাসি কত হর্ষ কত গন্ধভরি;
ফুলের মতন ফুটি ঝরিল আবার !
ভাববন্ধু গীতছন্দ কত না রাগিণী,
আমারে ঘিরিয়া সুখে পােহাল যামিনী।
মেহ-দয়া প্রেম-প্রীতি স্রোতের মতন,
কত দিক হতে আসি ভাসা’ল জীবন।
কত শক্তি ভাবভক্তি কৰ্ম্ম নিরমল,
প্রকাশিত হ’ল কত রূপ-অচঞ্চল !
কিন্তু আজ, অদৃশ্য সে অতীতের যত,
ধরা ছোঁয়া যায় না যে, তা স্বপনের মত !
রােগ শােক দুঃখ তাপ অাঁধারের বেশে,
ধীরে ধীরে আসিতেছে যেন দিবাশেষে।
আঁধারে তােমার শীলা নহে ভয়ঙ্কর,
দেখেছি তাহাতে জ্যোতিঃ মঙ্গল-সুন্দর।
(এবে) দেহ জীর্ণ, প্রাণ শীর্ণ, চিত্ত ভয়াতুর,
প্রার্থনা—দরশ-দানে রাখিও মধুর।
জড়ে নহে লীলা সাঙ্গ, চৈতন্যের দেশে-
করিও অনন্ত লীলা নব নব বেশে। ২৪
গিবিচি দাৱন-১৩০
.

ব্যথার পূজা।
ডাক সবে পুনঃ তবে।
যে পথ দেখায়ে সেই এনে ছিলে ডেকে,
ছাড়ি নাই সেই পথ ঝঞ্চা বৃষ্টি দেখে।
চলিয়াছি দীর্ঘ দিন নিয়ে তব নাম,
যে নামে দিয়েছ হাতে তােমারি নিশান।
মরণ ভুলিয়া যাই নাম গেয়ে তব,
বসি নাই পথে, পেয়ে শক্তি নব নব।
এ ক্ষুদ্র জীবন নিয়ে যাদুকর সম,
কত খেলা খেলাইলে--কি যে অনুপম !
এ পথের বড় দান দিলে যে আমায়,
“তুমি প্রভু, আমি দাস”—লিখে পতাকায়।
কিন্তু প্রভু, এ পথের বেলা অবসানে,
ডাকিতেছ একে একে অমৃত-ভবনে।
ধীরে ধীরে কণ্ঠ যত হতেছে নীরব,
নিস্তব্ধ আনন্দধ্বনি,নিস্তেজ উৎসব।
আসিছে না পিছে কেহ, ধরিতে নিশান,
বহিতে নাম-বারতা হয়ে আগুয়ান্।
দুর্গম দুস্তরপথ বলে কি সকলে
আসিবে না, নমিবে না, এ নিশান-তলে ?
ডাক সবে পুনঃ তবে, কর শক্তি দান,
উঠুক আবার তব নামের ত ফান! ২৫

ব্যথার পূজা
যখন।
আঁধার যখন নিবিড়, তখন
তোমার আলােক দেখতে পাই,
আলােক যখন হাসায় ভুবন
আমি অন্ধ —তুমি নাই।
বিশ্ব যখন নিদ্রা-মগন
তােমার আহ্বান জাগায় মােরে,
সবার যখন হয় জাগরণ ;
(আমি) লুপ্ত-চেতন ঘুমের ঘােরে।
বিপদ যখন গর্জে ভীষণ
ফুটাও মুখে হাসির রেখা,
সম্পদের সুখ যােল আনায়
দেখতে না পাই তােমার লেখা ?
বন্ধু-স্বজন সবাই যখন,
এক এক করে দাঁড়ায় দূরে,
তােমার আসন রচ তখন,
আমার শূন্য হৃদয়পুরে।
বরিশাল-বৈশাখ, ১৩২৫।

ব্যথার পূজা। «««« earvanan পথে। তবু আছি, তােমার হওয়া, তােমায় পাওয়া, কে জাত এত কঠিন ? বুঝি এখন, পথে যখন কাটে আমার রাত্রি দিন। আশায় বাঁচি, এক দিন তােমার হব আমি ; আমার যাহা, লইবে তাহা হয়ে আমার হৃদয়-স্বামী। আবার প্রাণে, সঙ্গোপনে কতই ব্যথা জেগে উঠে, ঝরে আঁখি, চেয়ে থাকি, মুখে কথা নাহি ফুটে। পথ যে তবু, ছাড়ি কভু, হয় না ইচ্ছা ঘরে যাই ; তােমার লাগি, সকল ত্যাগি, সুখের বাড়া দুঃখকে পাই। সুখে দুখে, ধরার বুকে, পথের তাে শেষ হয়ে এল, তার পরেতে, কোন্ সে পথে খুব তােমায় ?—বেলা গেল। বরিশাল-কার্তিক, ১৩২৮।

২৮
ব্যথার পূজা
মৃত্যু-মঙ্গল।
মৃত্যু যে তােমার রূপ অমৃত-স্বরূপ,
অবিদ্যার অন্ধ-ভীত--দেখি অন্য রূপ ।
তােমা হতে এ জগৎ আসিল তােমার,
আলােকের পশ্চাতে রচিলে আঁধার।
কেহ বােঝেইচ্ছামূলে এ আধার মায়া,
কেহ দেখে মৃত্যু-তম অমৃতের ছায়া।
মৃত্যু রাখিয়াছে খুলি অমৃত-ভাণ্ডার,
মৃত্যু বিনা কার শক্তি আছে বাঁচিবার ?
রােগ-শােক-ব্যথা দিয়ে নিয়ে
অমৃত-পরশ-দানে বঁাচাও সবারে।
সত্য হয়ে নিত্য হয়ে, আছ দ্বন্দাতীত,
বদ্ধ আমি মৃত্যু-ঘেরে সদাই চকিত।
শুধু সত্যে নাহি তব অমৃত-পরশ,
প্রেমের সংযােগে পাই পরশ সরস। ২৮
মৃত্যু-দ্বারে,
A
বরিশাল-~রােগ শয্যায় ১৫ই মাঘ, ১৩৩৩;

ব্যথার পূজা।
AAAAAAv
ভাঙ্গা বাঁশী।
ভাঙ্গা বাঁশী হয়ে আছি পড়ে গৃহ-কোণে,
আর কি বাজাবে মােরে আদরে যতনে ?
জড়তা-বিষাদ-ঘুণে ধরিছে অন্তর,
আসে না আশার বায়ু করিতে অন্তর।
রুদ্ধ হয়ে যাইতেছে যত ছিদ্রপথ,
চাপা দিয়ে চিরতরে শত মনােরথ ।
বিস্মৃতি-বিভ্রম কত লুতন্তু সম,
আমারে জড়ায়ে জাল বাঁধিছে নিৰ্ম্ম।
স্বপ্নে তবু বারে বার উঠি চমকিয়া,
কে যেন বাজা’তে আসে অধরে ধরিয়া।
বরিশাল-২৬শে আষাঢ়, ১৩৩৩।
দুঃখই মঙ্গল।
আমার তরে তােমার বিধান কোন্ মঙ্গলের পথে,
বুঝিতে দিলে না তা’ যে, আজও কোন মতে।
অন্তরে বাহিরে দুই আঁধারের খেলা,--
মিলাইছে নিত্য নূতন দুঃখের আঁধার-মেলা।
আমিই কি মনােমত সুখের লীলাভূমি,
দুঃখরূপী হ'য়ে তাই লীলা কর তুমি ?
দুঃখ কর মিষ্ট তবে,-মিষ্ট অশ্রুজল !
মাথা পাতি’ বিধান মানি-দুঃখই মঙ্গল !
বরিশাল-বৈশাখ, ১৩৩৪

ব্যথার পূজা।
বলে দেও মােরে।
দিতে গিয়ে যে দিন ঘরে রিক্ত হয় আসি,
সে দিনওতাে আমিই আমারে ভালবাসি।
সঞ্চয় কিছুই যার থাকিছে না ঘরে,
বিলাইতে নেশা তার দৈন্যের ভিতরে ?
দৈন্যেরে করিয়া বড় হারাইয়া যাওয়া,
হে অনন্ত ! সে কি হয় তােমারেই পাওয়া ?
মানিলে আপনারে, না বঁাচা’লে হায় !
তােমার আসন আমি রচিব কোথায় ?
তব সঙ্গে কত রঙ্গে চলেছে কি খেলা,
বুঝিতে হার মেনে যাই--কেটে যায় রেল?
প্রাণাধার শক্তিরূপী তুমি জ্ঞান-গুরু,
তােমাতে ভরসা আশ প্রেম-কল্পতরু।
আসন তােমার পাতব কোথায় আমার ভিতরে
কি খুব কি বিলাইব বলে দেও মােরে।
বরিশাল-আশ্বিন, ১৩৩৪।

ব্যথার পূজা।
৩১
কবে ঘুচিবে দুর্জিন?
বুঝিয়াছি অপরাধ করিয়াছি পায়,
কত নিশি জাগরণে কাটিয়াছে তায়।
সহিয়া দারুণ ব্যথা, ফেলি অশ্রুজল,
ছাড়ি নাই আশা তবু-হইব শীতল।
কাঁদিয়া কতই সুখ চরণে তােমার,
তুমি জান, আমি জানি, কে জানিবে আর ?
ছেড়ে নও, দূরে নও—আমারে লইয়া,
চলেছে তােমার লীলা জীবন-ভরিয়া।
দরশ-পরশ-দানে কত কত বার,
রাখিয়াছ বাঁচাইয়া ভুলিব কি আর ?
নিজ অপরাধে হায়! হে পরম ধন,
অবিচ্ছেদে মিলে না যে তব দরশন।
কবে হব তব পদে অপরাধ-হীন,
দরশন-ভিখারীর ঘুচিবে দুর্দিন ? ৩২
গিরিডি-অগ্রহায়ণ, ১৩৩২।

৩২
ব্যথার পূজা
রহস্য।
যত ছিল জানা,
হইল অজানা,
চেনা সে অচেনা হ’ল ;
ছিল যত পথ,
হইল বিপথ,
সমুখে পশ্চাৎ এল।
আদি যাহা ছিল,
অনাদি হইল,
সলীমে অসীম ভাসে ;
ঘুম-ঘােরে যত,
সবাই জাগ্রত,
নিশীথে দিবস হাসে।
অণুতে বিশ্ব,
অজুড়ে দৃশ্য,
স্বপন পাইছে কায়া,
মরণে জীবন,
দেহ ধন জন,
ধরিছে মৃত্যুর ছায়া।
জন্ম সে বিদায়,
উবা যে সন্ধ্যায়,
একি দেখি, হে নমস্য !
পুলিবে কি তুমি, বুঝিব কি আমি,
মােরে ঘিরি যে রহস্য ?
বরিশাল-ভাদ্র, ১৩২৭।

ব্যথার পূজা। ৩৩ অতিথি-বরণ। জয়-পরাজয় আর উত্থান-পতন, লাভালাভ, ক্ষতি-বৃদ্ধি, জীবন-মরণ ; দুঃখ-দ্বন্দ্ব-শােক-তাপে ভরিয়া অন্তর, এলে কি অতিথি তুমি নূতন বৎসর? শৈশব-যৌবন-জরা করি অভিনয়, কত বার কত রূপে দিলে পরিচয়। অনাদি কালের বক্ষে অনন্ত জীবন- ধরিয়া দেখালে কত মায়ার স্বপন। কি লেখা রেখেছ ঢাকা মানবের ভালে, কেহানাহি জানে, অন্ধ-ভবিষ্যের জালে। শত সমস্যার অ-ই নিবিড় আঁধার, আসিছে কি সঙ্গে তব ঘিরি চারি ধার ? সন্দেহ-আকুল প্রাণ, আনন্দ কোথায় ? বিষয় দুর্বল চিত্ত দুঃখেরে ডরায়। অজ্ঞাত অগম্য তুমি হলেও সবার, অতিথি-আরাধ্য-বেশে এস গাে আবার ! ঘাত-প্রতিঘাত আর সংসার-ঝায়, শ্রান্ত হিয়া ক্লান্ত কায়া ধূলাতে লুটায়। তাই যে বরণ-মাল্যে বরিতে তােমায়, প্রতি পদে পাই বাধা নবীন উমায়। ৩৪ বরিশাল-বৈশাখ, ১৩২৮

৩৫
ব্যথার পূজা।
৭.।।।
কেন ?
কেউ শােনে না কারাে কথা, কেউ বােঝাে না কারাে ব্যথা,
বিবাদ-বিতর্কে সদা উঠায় হলাহল ;
আমিত্ব-আঁধারে অন্ধ,
পথ হারায়ে সদা দ্বন্দ্ব,
চলতে গিয়ে সংঘর্ষণে জালিছে অনল !
নিজের ঘরে আপন জনে, দেখে দেখে বিষ-নয়নে,
দিবা নিশি প্রাণে হানে তীক্ষ্ণ নিন্দা-বাণ ,
তােমার হাতে গড়া জীবন, তারে তুচ্ছ করি এমন,
কেন টায় অকল্যাণ ওহে ভগবান্ ? ৩৫
বরিশাল-শ্রাবণ, ১৩২২
'অনন্ত বিশ্রামে ?
দেহ-যন্ত্র হবে অচল অ-ই যে অচিরে,
বুঝিতেছি কোথা যেন চলেছি ধীরে।
ধরেছে মন্থর গতি চরণ যুগল,
বাহু দুটী দিনে দিনে, শিথিল বিকল !
রসনা কয় মৃদু বাণী কতই করুণ,
নাই সে তেজ তাহার মাঝে, নাই সে আগুন।
অন্ধ দুটী আঁখি-তারা, ডুবি অন্ধকারে।
তবু খোঁজে—এত দিন চাহিয়াছে যারে।
চলিয়াছি দীর্ঘ পথ দারুণ সংগ্রামে,
এবারে কি নিবে তবে অনন্ত মিশ্রামে ?

ব্যথার পূজা
সন্তাপিত জনে ?
অজিও উঠিছে তাপ হয়নি বারণ,
আছে জানি আমাতেই লুকানাে কারণ।
তাপিত চিত্তের সমাধানে,
ক্ষীণ ম্লান আত্মদৃষ্টি দানে-
কত দিবা-বিভাবরী কাটিতেছে মাের,
পেয়েছি সন্ধান, তবু নাহি কাটে ঘাের !
ওঠে তাপ—পােড় মন, চিত্ত জ্ব'লে যায়,
কালিমা জমিয়া ওঠ এ নিত্য আত্মায় !
বড় ভয়—সাথী হয়ে যায় সাথে যদি,
মুছিবার নহে তবে, ররে নিরবধি।
চিরবন্ধু ওহে গুরু, স্বামি !
জানিতে অদাহ্য আমি,
ভস্ম না হইয়া তবু জ্বলিব দহনে ;
এই কি শাসন তক সন্তাপিত জনে ?
}
বরিশাল—আশ্বিন, ১৩৩৪।

ব্যথার পূজা।
তােমা যুক্ত হব কব তারা।
ওহে শান্ত। ওহে শিব ! বল আর কত রহিব,
আজও তাে চঞ্চল চিত শান্ত নাহি হায় !
কল্পনা-কুহকে চড়ি, কত ভাঙ্গি কত গড়ি
স্থির ভূমি তাই মাের হারাইয়া যায় ।
এখনােত কত সাধ,
ঘটে হরষ- বিষাদ,
উত্থান-পতন শত হাসি অঞরাশি,
নিয়ে আলােক, আঁধার, জীবনের চারিধার,
দিবা নিশা সম এষে ঘিরিতেছে আসি ।
তবু হে উজল-নব।
শান্ত শিব রূপ তক,
দেখাইছ বারে বার একি সঙ্গ-রীতি ?
শুধু তাই এত দিনে, বুঝেছি তােমারে বিনে,
কাটে না আঁধার রাতি, অমঙ্গল-ভীতি।
(তবে) এ নহে প্রচুর প্রভু, হারাই যদি কভু
শান্ত রূপ-শান্তি যাতে নিত্য-রসধারা-
ডুবি তাতে পূর্ণকাম, ভুলিব চঞ্চল ধাম,
ধুলিমুক্ত তােমাযুক্ত হব ধ্রুব তারা। ৩৮
বরিশাল-আষাঢ়, ১৩৩

ব্যথার পূজা।
৩৭
আরো দুঃখ।
দিবা শেষে পুরবীর তানে-
ছুটে আস কি মহা উদাস ।
আপনারে ভাই হারাইয়া,
খুজে ফিরে আকুল নিশ্বাস !
ভাঙ্গে ঘুম নিশীথ-নিশায়,
কেঁদে ফেরে বেহাগ-রাগিণী,
জেগে ওঠে বিষাদের গান,
সুপ্তিগত অতীত-কাহিনী।
দেখিতে দেখিতে আসে উষা,-
সঙ্গে নিয়ে গুঞ্জন করুণ,
ভৈরবীর মুচ্ছনার ঘরে-
জাগে ব্যথা মধুরে
দ্বিগুণ।
চাহি যাহা, পাইনি তা কভু,
এইত দানের বিধি তক,
মুখ চেয়ে চেয়ে দেখি এবে.
আসে দুঃখ নিত্য নব নব।
বসে তাই দৈন্যের দুয়ারে,
পাব বলে হে পূর্ণ তােমায়-
প্রাণে আশা–আরাে দুঃখ আসি,
তব ক্রোড়ে বসাবে আমায়।
৩
জানি ১৩৩২

৩৮
ব্যথার পূজা।
কে বঁচিল কবে?
ওহে সত্য, ওহে নিত্য, ওহে সুনিশ্চিত,
ডুবিয়া তােমাতে এযে হতেছি বিস্মিত!
মহাকাল-স্রোতে ঐ বিশ্ব ভেসে যায়,
মুক্তির বাতাস আসি লাগিতেছে গায়।
ঘাের ভূকম্পন আর জলধি-গর্জন,
ঝঙ্কা-বৃষ্টি বজ-নাদ জ্যোতিষ্ক-পতন,
শব্দ নাহি পশে কর্ণে, না পরশে দেহ,
তােমাতে নিশ্চিন্ত আজ নিরাপদ গেহ !
শান্ত আমি—সুখী আমি ভুলি জড়দেশ,
তুমি আদি অন্ত মম—তুমি মম শেষ।
ভাসিয়াছি বহুদিন কত ঘাটে ঘাটে,
মিয়াছি-দিশাহারা, কত হাটে বাটে!
কিনিলাম কত কি যে, কিছু তার নাই,
যত্নে রাখিলাম.যায় হয়েছে তা’ ছাই।
যেখানে বন্ধন দৃঢ়, একান্ত নির্ভর,
সবি লুপ্ত-নাহি চিহ্ন—শূন্য সুদুত্তর।
এ হেন দুর্দিনে একি দেখা’য়ে স্বরূপ,
ডুবিবার তরে মােরে করাইছ চুপ।
দিও না দিও না আর ভাসিবারে তবে,
তােমাতে না ডুবে ভবে কে বাঁচিল কবে ?
পিবিধি-৩১শে আষাঢ়, ১৩৩২।

ব্যথার পূজা।
~
any
'হই যেন পার।
তরী কেম ঘাটে এসে ফিরে ফিরে যায়,
মনে হয় পারে নিতে ভুলেছে আমায় ।
নিশ্চিত দিনের কথা, হায়রে অনিশ্চিত,
ভিড়বে কবে আবার তরী-সদাই ভাবে 'চিত।
নিশ্চিন্ত নিরালা তাই নাহি যায় থাকা,
কোথাও মাথার বােঝ নাহি যায় রাখা।
প্রতিদিন সন্ধ্যা আসে অস্ত যায় ভা,
আঁধারে ঢাকিয়া ফেলি” অণু পরমাণু।
আমারেও ডুবাইতে চায় সে আঁধার,
অন্তরের আলাে যেন নিভে বার বার ।
স্থির জ্যোতিঃ! কর স্থির, আলােক আমার,
তরী এলে অবহেলে হই যেন পার ! ৪১
।
বরিশাল-আশ্বিন, ১৩৩৪ ।
বর্ষবিদায়।
নূতন হয়ে এসেছিলে হে বন্ধুরতন !
তােমায় সবে বিদায় করে বলে পুরাতন ?
তােমার বক্ষে রাখি মাথা যত প্রেমিক কৰি,
তোমারি ফুল-বর্ণ-গন্ধে রচি কত ছবি
অমর হ’ল এ মরতে ! জীবনদাতা তুমি ;
আজি তােমার নাইকো হেথা দাড়াইতে ভূমি ? ৪২
বরিশাল-চৈত্র, ১৩২১

৪• ব্যথার পূজা। বিফল করােনা। আজিও ধ্যানের আসন হ’ল না অটল, কি বাতাসে এক নিমেষে করে দে চঞ্চল। প্রভাত-সন্ধ্যা-নিশীথে অ-ই তব পদ-তলে, আসন বিছানাে মাের ধ্যানে পাব বলে। কিন্তু হায়! কোন্ সুদূরে সূক্ষ্ম কৰ্ম্ম-জাল, আছে ঘেরা, সদাই টানেলাহি কালাকাল । অধীর চিত্ত করিতেছে কাটিতে বন্ধন- যে সংগ্রাম, কে বুঝিবে হে অন্তরধন ? পদে পদে পরাজিত !—দুঃখ অবিরাম, কে ঘুচাবে দুর্বলের দারুণ সংগ্রাম? বড় ব্যথা—আছে পাতা ধ্যানের আসন, বসিতে শকতি নাই, কেমন শাসন ? দিন যায়, মাস যায়, বর্ষ যায় চলে, আজিও জড়ায়ে জালে ভাসি অশ্রুজলে। কর নাথ ! কর নাথ! এ জাল-মােচন, বিফল করােনা চা-ধ্যানের আসন। । ৪৩ বরিশাল-অগ্রহায়ণ, ১৩৩৪।

ব্যথার পূর্জা - খেয়া ঘাটে। আজিও উঠিছে তাপ- নিগুঢ় দহন, বুঝিয়াছি ইনি শান্ত মনের মতন। বিষাদে বদন স্নান জলে ভরা আঁখি, আসিতে সন্ধ্যার ঘোর বেশি নাই বাকি।' বহু দূরে যাত্রা-গৃহ রহিয়াছে পড়ে সেখানে ফিরিয়া যাই এখন কি করে? অশান্ত রেখ না পথে হে শান্ত-মঙ্গল। দূর কর গুঢ়তপ হই গাে শীতল। খেয়া-ঘাটে রাখ মােরে ইচ্ছা যত দিন, করিও না নিফরুণ- প্রেম-ধৈৰ্য-হীন। ৪e ববি: faturant s, ১৩৩৩।

13
ব্যথার পূজা।
সঙ্গীর মায়ায়।
যার কেহ নাই তুমি যে তার,
তাই তাে প্রভু, আমি তােমার।
যারা ছিল সঙ্গী সাথী, দুঃখেতে ব্যথার ব্যথী,
তারাই যে আনিছে আঁধার ।
সঙ্গ যাদের ছিল মিষ্ট অতি,
অন্তরে হইত প্রেমের আরতি,
ভার চিন্তা-কৰ্ম্ময়ােগে, দুঃখে বিপদে কি রােগে,
ছিল যারা নিয়ে ইষ্টে মতি ;
কৰ্ম্ম-চক্রে ঘুরি ফিরি তারা,
জঞ্জালে রচিয়া অন্ধকারা |
দুলিল সম্পর্ক শত, মুছি সুখ-স্মৃতি যত,
অবশেষে হ’ল সঙ্গী-হারা ।
তুমি দাড়ালে না কভু দুরে,
পাপে-পুণ্যে ডাক একি সুরে,
নাহি চাহি প্রতি দান, আপনারে কর দান,
ব্যস্ত যেন মাের তরে ঘুরে।
কি করেছি এত দিন আমি
তােমা হতে (বেশী ভালবেসে স্বামি ।
রা-পথে পান্থ জনে, সঙ্গীরা যেন স্বপনে !

ব্যথার পূজা। ঘুম যদি ভাঙ্গিলে সন্ধ্যায়। জাগরণে পাব কি তােমায় ? থি পরে তবে থাক, হাতে হাত দিয়ে রাখ, ঘুমাই—সঙ্গীর মায়ায়! ৪৫ বরিশাল-১৫ই অগ্ৰায়ণ, ১৩৩৪। বর্ষবিদায়। জীবন-নদী নিরবধি কোন সাগরের পানে আকুল প্রাণে উদাস গানে ধায় যে কি সন্ধানে। হর্ষ-জোয়ার এসে তাহার দুকূল ভেসে যায়, ভাটার টানে দৈন্য-দারুণ কার্ সে পিয়াসায়? কৰ্ম্ম-বেলায় পড়ে হেলায় চিহ্ন—রজ অম- সত্ত্ববিহীন ; মুক্তা-শূন্য শুষ্ক শুক্তি-সম। তরঙ্গের অঙ্গে অধীর বুবুদের প্রায়, মাস ঋতু সম্বৎসর তেমনি কি মিলায় ? অর্থ তাহার কে কবে আর ? দুই তীরেতে যারা স্তবৃক্ষ ভূধর, উর্দ্ধে রবি-চন্দ্র-তারা! ৪৬ বরিশালচৈত্র-১৩

ব্যথার পূজা।
তােমাবিনা।
এ জগত, তােমা বিনা শূন্য সুদুস্তর,
দিবস আঁধারে ঘেরা-রূপ ভয়ঙ্কর।
যত আশা ভালবাসা সব যায় মুছে,
দুর্বহ ধরার ভার সব যায় ঘুচে।
জাগে এক অন্ধ ভীতি—নির্মম নিবিড়,
ছায়া বিস্তারিয়া যেন মৃত্যু-সমাধির !
বিস্মৃতি বিছায়ে তার তিমির-অঞ্চল,
ঢেকে ফেলে অতীতের সম্পদ সকল।
সে আনন্দ, সে সুগন্ধ, সে প্রেম-লহরী
খেলে না জীবনে নব নব রূপ ধরি।
তােমা ছাড়া সব হারা—আমি কি আমারি ?
সুদুস্তর অন্ধকার কি করে সাতারি? ৪৭
বরিশাল-শ্রাবণ, ১৩৩০

ব্যথার পূজা।
আখ মরে!
ক্ষুদ্র অশ্রুবিন্দু-মাঝে যে পরশ তব !
হে অনন্ত! অমৃতেরসে কি রূপ নব?
দিনান্তে একটা কার পেলে এ পরশ,
কে মাগি তক পদে ভােগ্নর দরশ ?
সুখে কান্দি, দুঃখে কাঁদি, কাদি পেয়ে ভয়,
বিচ্ছেদে, মিলনে কাদিপশু অশ্রুময় !
কোথা হতে নেমে আসে শীতল বাতাস,
জুড়ায় তাপিত হিয়া, যায় হা হুতাশ!
কি শান্তি সান্ত্বনা মানে অশান্ত জীবন,
কে বুঝিবে এ রহস্য না করি ক্রন্দন?
বিরলে বিজনে তাই ভ্ৰমি. আশ-ভরে,
কোনাে ছলে পুনঃ যদি আখি মম ঝরে !
s
করিল-১৩২

ব্যথার পূজা।
ভুল।
এ পারের এই দরিয়া
ভুল না যদি ভাঙে,
কি হবে তার ওপার গিলে
পড়লে অাধার গাঙে ?
চোখে মুখে আজও ঘাের,
স্মৃতি ঘেরা ভুলে,
এমন সুহৃদ হ’ল না কেউ
দৃষ্টি দিতে খু’লে ?
কেহ কহে-আত্মহারা
ভুলে গেছে পথ,
দূরে থেকে কেহ কয়,
বড় যে বিপদ!
জীবন-তরী তরঙ্গেতে
হাবুডবু খায়,
সঙ্গী যারা তীরে মিছে,
করে হায় হায় !
চির সঙ্গী, অন্তৰ্য্যামি !
এ পারে কি তার
ভুল ভাঙ্গিয়ে নিয়ে যাবে
হয়ে কর্ণধার ? ৪৯

ব্যথার পূজা।
৪৭
নিবেদন।
জগদীশ ! এজগতে যারা মনােমত,
দূরে দাড়াইল তারা সরি হাত-শত ?
ছিল যারা সদা-সঙ্গী বেদনা-বিধুর,
ধরিল মুরতি আজ কি রুদ্র। নিঠুর ।
ভুলিয়াছে অতীতের স্বর্ণ-সুপ্রভাত,
জানে না যে চিতেছে—অন্ধ দুঃখ-রাত।
বিশ্বতি-অর্গল রুদ্ধ হৃদয়-দুয়ার
বিফল য়ােদন দ্বারে, কে খুলিবে আর?
সংসার-কুহেলি-জালে বধির-শ্রবণ,
কে শুনিবে ? মােহ-মুখে কালস মন।
সুখছলে জড়েরিত জমায়ে জঞ্জাল,
বুঝিছে না গুরুভারে কত যে কাঙাল।
হিতকথা শুনে ব্যথা পাইছে মরমে,
বিরূপ বিরুদ্ধ তাই ধর-করমে।
ধ্রুব সত্য ধরূতে চিত্ত অসমর্থ হয়।
অসত্যের শূন্যে যেন নচিছে কুলায়।
আমি বসে দূরে, সদা ভাসি অশ্রুজলে,
উঠে
শুধু নিবেদন ও পদকমলে-
“ভ্রমে যারা ভাঙ্গিতেছে সম্বন্ধ-মধুর,
ভুল তাদের ভেঙ্গে দাও প্রেমের ঠাকুর ।”
বরিশাল-১৬ই পৌষ-১৩২৪।

৪ ও
ব্যথা পূজা।
তােমার নেই।
(আমিষ্ঠ নামে জেগে আছি কই?
(এষে রূপালগন্ধে আজো ঘুমাইয়া মই।
এখনাে কত কামনা, শত বিলালবাসা,
অসমাবেশে মুখে তাদের কথা কই।
দুঃখ-বিপদ-দুর্দিনে, যায় না যেদিন তােমা বিনে,
বিগ-বারণ বলেই সে দিন তােমার নামটা লই।
অপরাধী তব পদে, কতই আমি পদে পদে,
দণ্ড তোমায় শান্ত হয়ে কোথা তবু সই ?
নাম যে বােস; নাম ঘোষণামেলা মিটেপিয়াসা,
দেলে, ওহে অরূপ কিসে মগ্ন হই ?
রয়ত না দিন আমার লাগি, জেগেও গুৰু নাহি জাগি,
ঘুম-ঘােরে শুধু কালোমেনিশান বই।
যত বলি তব কথা,
যতই গাহি তব গাঁথা,
হৃদয়ে দারুণ ব্যথা তােমার যেন মই । ৫১
বরিশাল-কার্তিক, ১৩৩৪।
কাফি রাগিণীগ তালে গত হইতে পারে।

ব্যথার পূজা।
^^
কিসে আর বুঝি বলল? *
তােমার হাতের দণ্ড আমার
আজও-ততা লাগে না ভালো,
তাই, অপরাধী নিরবধি
কেঁদে কেঁদে দিন ফুরালাে।
নিবিড় করে আছ আঁধার,
ঘিরিয়ে আমার চারিধার,
আমি ভয়ে মরি ওহে হরি,
দেখে তার পিছে আলাে ।
গােপন প্রাণের মলিনতা
অন্তর্যামী জানিয়ে ,
বুঝি পােড়াইতে নিজের হাতে,
এমনি করে আগুন জ্বালাে ?
খটি করেই নিতে মােরে,
ফেছছা যে পরীক্ষা-ঘােরে,
এতেও যদি নাহি বুঝি,
কিসে আর বুঝিব বলাে?
বরিশাল-ভাদ্র, ১৩৩৪।
* কাফি রাগিণী—একতালায় গীত হইতে পারে।
(৭)

•
ব্যথার পূজা
প্রেম-পথে।
ভ্রান্তিবশে আনি পথে ভাবে অপলাপ,
হারায়ে ফেলিল যারা নিরালা আলাপ !
ভয়ের প্রাচীরে দুরে রচিয়া আড়াল,
নিজেদের লুকাইতে ব্যস্ত সদা কাল।
লজ্জা দ্বিধা সঙ্কোচেতে ফিরে দূরে দূরে,
নিঃস্ব হয়ে যায় যারা হৃদয়ের পুরে!
আশা ও ভরসা যত গিয়াছে ফুরায়ে,
স্নেহ-প্রীতি-হর্ষ-রস যেতেছে শুকায়ে ।
মরমে জাগিয়া তীব্র অপরাধ-বােধ,
সুখের সকল দ্বার করিয়াছে রােধ।
দ্বারে দৌবারিক এক—আছে অভিমান,
কারু সাধ্য খােলে দ্বার হয়ে আগুয়ান্?
কেহ খুলে দিত যদি আর্জবের পথ,
আলােকে হইত তারা শুদ্ধ-মনােরথ ।
রাখিও না প্রেম-পথে দ্বিধা নিদারুণ,
"স্বচ্ছ সত্য কর প্রেম, পরশে করুণ।
আপন হয়ে বাইরে যারা বেড়ায় মিয়া,
জানিবে কি ঘরে তাদের আবার ফিরিয়া ? ৫৩
বরিশাল-২৫শে পৌষ, ১৩৩৪

ব্যথার পূজা।
তুমি দয়াল। *
তুমি দয়াল! তুমি দয়াল!
আমি তােমার নামের কাঙ্গাল !
নামেই-তত দিন গেছে ভালাে,
পেয়েছি পথের আলো,
কত অাধার কেটে গেল--
মােহের জঞ্জাল।
জেনেছি নাম মহৌষধি;
আরােগ্য হয় সকল ব্যাধি
জপি তাই নাম নিরবধি,
নাই যে কালাকাল।
নামে ডুবে যখন এ প্রাণ,
ঘুচে দেশ-কালের ব্যবধান
একই রেখায় দাড়ায় সমান,
ইহ-পরকাল ?
নামেই-ততা পাই তােমারে,
আমি হারাই এই আমারে,
যুক্ত হলে, মুক্ত দ্বারে,
থাকে না আড়াল।
==
বরিশাল--রােগশয্যায়-১৩৩৩।
* ঝিঝিট-একতালায় গীত হইতে পারে।

ঝঞ্চর পূজা।
vvv
প্রতিদান?
ব্যথা দিয়ে ঘরে ফিরে ব্যথা,
ধ্বনি হতে প্রতিধ্বনি যথা।
মরমে-নিৰুদ্ধ অশ্রু-ধার,
বাহিরিতে পায় না দুয়ার।
আপনাতে আপনার গান,
করে দেয় দিবা অবসান!
গুমড়ি গুমড়ি মনােরথ--
ক্ষুব্ধ-স্নান, নাহি দেখে পথ।
লাজ, ভয়, সন্ত্রাস-চঞ্চল
করে তারা মরম বিকল।
অতীতের সুখ-স্মৃতি যত,
জলে জল-বিম্বেরি মত!
বাহিরের শ্যামলা ধরণী,
যেন ঘন আঁধারের খনি ।
আছে গৃহ সঙ্গী পরিজন
স্বপ্ন-পটে ছবির মতন।
বলে দেও ওহে ভগবান্ !
ব্যথার কি এই প্রতিদান? ৫৫
বরিশাল-২৫শে পৌষ-১৩৩৪।

ব্যথার পূজা।
উপরতের প্রতি।
অনিত্যের দেশে তুমি ছিলে ছােট ঘরে,
মরতে অমর আত্মা কোথা বাস করে ?
পরমা জননী তাই নিলেন ডাকিয়া,
নিত্য মুক্ত কোলে যেথা উঠিবে ফুটিয়া।
যে কোল পাইতে সদা চলিয়াছে লােক,
যেথা দ্বন্দ্ব, অন্ধকার, নাহি রােগ শােক।
আগে গিয়ে এ পারের জাগালে সবারে,
মােরাও প্রস্তুত তাই, যাইতে পারে।
মােদেরে বিতরি গেলে যত অতি তব,
ফুরাবে না, হবে তাতে পূজা নব, নব।
বরিশাল-১৮ই খাবণ-১৩৩৪

৫৪
ব্যথার পূজা।
তােমার বিধির জয়।
কেউ জানে না তােমার মত আমার গােপন-কথা,
কেউ বােঝে না তুমি য়েমন রােঝ মৰ্ম্ম-ব্যথা !
(তাই) শুনুক বা না শুনুক কেহ বেদনা-কাহিনী
কি দুঃখ তায়? শুছ তুমি দিবস-যামিনী।
নিন্দাস্তুতি, হাসি অশ্রু, আধার কিম্বা আলাে,
ওহে শিব ! তােমার হাতে কোনটী নহে ভাললা ?
রাজা তুমি, রাজ্য তােমার, আমার কিবা ভয়?
আমি যেন গাইতে পারি তােমার বিধির জয় !
বরিশাল-৫৬ বৎসর পূর্বে রচিত।
প্রবাসে।
ভেঙ্গে দিয়ে গৃহবাস আনিয়া প্রবাসে,
প্রবাসীরে দিলে, স্থান সুরম্য আবাসে ,
কিন্তু, সঙ্কুচিত চিত—স সাবধান,
পর গৃহ-বাস বলে ভয়ে কাঁপে প্রাণ।
আরাম-বিরাম তরে কত আয়ােজন ;
পুরণ হ’তেছে নিত্য যত প্রয়ােজন।
সােল আনা সুখ যেথা আছে মাের লাগি,
নিশীথে ভাঙ্গিলে ঘুম কেন রাত জাগি ?
এ ধরায় গৃহ ছেড়ে যদি এত ভয়,
তােম হারা হলে বল কে দিবে অভয় ? ৫৮

ব্যথার পূজা।
স্মরণে জীবন যদি পায়।”
ওহে শান্ত! ওহে শিব। কোমল করুণ ।
একি তব মূর্তি নব প্রচণ্ড দারুণ ?
যে প্রেম-সক্তৃত বিশ্ব-মধুর রচনা,
তার মাঝে এ কেমন মঙ্গল-ঘােষ। ?
অজ্ঞানতা-অন্ধকার, রুদ্র ভয়ঙ্কর।
দেশাচার,যাতে দেশ খঞ্জ নিরন্তর ।
অন্ন বিনা জীর্ণ তনু লক্ষ লক্ষ প্রাণ,
বস্ত্র রিনা কোটি কন্যা লাজে ম্রিয়মাণ ?
নিত্য সঙ্গী—য়ােগ শােক দুঃখ ও গঞ্জনা,
সম্পদ যাদের শুধু বিপদ-লাঞ্ছনা।
ভূকম্পন ঝঙ্গাবাত সাগরপ্লাবন,
ভারতে ভীষণ একি দৈব অনুক্ষণ?
গেছে ধন, গেছে মান, গেছে মনুষ্যত্ব,
ধৰ্ম্মেতে এসেছে গ্লানি হারাইয়া সত্য।.
উঠিয়াছে হাহাকার জগৎ জুড়িয়া !
ভারত পাষাণ-সম ক্রন্দন-রােধিয়া।
ভগ্ন গেহে জীর্ণ দেহে অর্ধ মৃত হয়ে,
ছিল যারা এত দিন আপন-আলয়ে,
প্রকাশি কি অবশেষে এ বিনাশ-ধারা-
তাদেরে ডুবালে জলে করি গৃহহারা ?

ব্যথার পূজা।
মহা মঙ্গলের সাড়া পড়েছে কোথায় !
তার কি প্রমাণ তবে এই
মৃত্যু
হায় ?
বুঝাও এবার তব বিধি বিশ্বরাজ,
মরণে জীবন যদি পায় দেশ আজ ৫৯
সাইক্লোন উপলক্ষে—বরিশাল-কার্তিক, ১৩২৬।
বৰ চলে যায়।
।
শােক-তাপ দুঃখ-ভার বিচ্ছেদ-বেদনা,
পুঞ্জীভূত আঁধারের নিষ্ফল কামনা,
মহােথানে জয়-গানে হর্ষ-কোলাহল,
হৃদি-যন্ত্রে সিদ্ধ মন্ত্রেপ্রসাদ বিমল
সময়ের সিন্ধু-নীরে বর্ষবিন্দু-বুকে,
রূপী হয়ে দিল ধরা যারা সুখে দুখে ;
সবাই মিলন-তটে মাগিছে বিদায়-
অন্ধ যাত্রী কেঁদে কহে—“বৰ্ষ চলে যায়।
বরিশাল-চৈত্র, ১৩৩২।

No text on this page.

বিজ্ঞাপন। ১ পূজনীয় পিতৃদেৰ শ্ৰীযুক্ত মনােমমাহন চক্রবর্তী মহাশয়-প্রণীত- নিম্নলিখিত পুস্তক বরিশালের পুকালয় সকলে, ' কল্যাণ-কুটিরে গ্রন্থকারের নিকট, ২১১নং কর্ণওয়ালিস্ টি, ৫৭-১নং কলেজষ্ট্রীট,- কলিকাতা মণ- ঢাকা পূৰ্ব্ববাঙ্গালা ব্রাহ্মসমাজে প্রাপ্ত হওয়া যায়। শ্ৰীকল্যাণকুমার চক্রবর্ত্তী কল্যাণ-কুটির, বরিশাল। ৯। সঙ্গীত ও সঙ্কীর্তন ( ২য় সংস্কৃরণ } ২। কীৰ্ত্তন ও বন্দনা ৭ । এ ৩। অর্ঘ্য ( অধাত্ম কবিতা) 1 . * * ৪। বিবিধ সঙ্গীত (২য় সংস্করণ) M ০ । ৫। কবিতা-বিকাশ ( স্কুল পাঠ্য) ১৮। বুদ্ধির চাষ ( বালক-বালিকাদের জন্য হেঁয়ালি) ৭। দুইটী অভিভাষণ ৫। বাথর পূজা ( অধ্যাত্ম কবিতা-নৰ প্ৰকাশিত ) • এ

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Byathar Puja

Author
Chackraborty, Manomohan
Title
Byathar Puja
File name
Byathar Puja
Text
OCR done
Citation
1927
Published
2010/03/31
Publisher
Khettranath Ghosh
Language
Sanskrit
Pages
78
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Bedana
DLI number
510975
Barcode
4990010018166.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
jliH1Bzkx8p
Download PDF

Byathar Puja