Bally Sadharan Granthagar

Potuya Sangeet

Dutta, Gurusaday · 2009/09/22

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

পটুয়া সঙ্গীত

No text on this page.

No text on this page.

[ » : ]
المناخ , م م و د ر م ا ا د 3:۲۰
معايا من ملاهي ماه : 31
نیامدند ..
: زه ره که به همه به من اهتمامه با ، وما
* ای می باشد . با ، ثم ما ه ا . .
و شیلی
نه
سے
.
FEET

পটুয়া সঙ্গীত
গুরুসদয় দত্ত, আই. সি. এস.
OF
CALCUTTA
UNIVERS
o
ADVANCE
OF
LEARNING
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত
১৯৩৯

PRINTRD IN INDIA
PRINTED AND PUBLISHED BY BHUPENDRALAL BANERJEE
AT THE CALOUTTA UNIVERSITY PRESS, SENATE HOUBE, OALOUTTA.
Reg. No 780B.-July, 1999.B

হাজীবনে যাহার নিকট হইতে ব্যক্তিগতভাবে স্নেহ, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা লাভ করিবার অমুল্য সুযােগ আমার হইয়াছিল- যিনি ভারতের সংস্কৃতির ক্ষেত্রে গবেষণার পথ দেশবাসীর কাছে উন্মুক্ত করিয়া দিয়া গিয়াছেন— বাংলার সেই চির-গৌরব-ববি স্বর্গীয় স্যর আশুতােষ মুখােপাধ্যায়ের পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে বাংলার সংস্কৃতির পরিচারিকামূলক এই ক্ষুদ্র গ্রন্থখানি উৎসর্গ করিলাম।

No text on this page.

ন) বিষয়-সূচী ক্রমিক বিষয় কাহার নিকট হইতে সংগৃহীত পৃষ্ঠ ০ ০ • নিবেদন পরিচায়িকা কৃষ্ণের অবতার ২। কৃষ্ণলীলা ঐ ত্রিলোেকতারিণী চিত্রকর দেবেন্দ্র চিত্রকর বিজপদ চিত্রকর গােপাল চিত্রকর শশিভূষণ চিত্রকর ৪। ১২ কৃষ্ণ অবতার ১৭ দানখ পঞ্চানন চিকর উপেন্দ্র চিত্রকর ভূপতি চিত্রকর ঐ ৩৭ কৃষ্ণ অবতার ৮। ঐ ৯। ব্রজলীলা ১৩। ১১। কৃষ্ণ ঠাকুর ১২। কৃষ্ণলীলা রাম অবতার ১৪। রাম-লক্ষণ ১৫। রাম অবতার ১৬। রাম অবতার ১৭। সিন্ধুবধ ১৮। ১১ ৪৭ কীৰ্ত্তি চিত্রকর জনৈক যাদু পটুয়া ভক্তি চিকর গুণমণি একর সে চিত্রকর পঞ্চানন চিত্রকর ভূপতি চিত্রকর শশী চিত্রকর ৫৫ ৬১ শ-পরান পালা ২০। মহাদেবের শখদান পনন চিত্রকর ৭৪ পটুয়া সঙ্গীত ক্রমিক বিষয় কাহার নিকট হইতে সংগৃহীত পৃষ্ঠা ৮৫ ৮৯ ১০ ২১। ভগবতীর শঙ্খ-পরান পালা পূর্ণচন্দ্র চিত্রকর ২২। শখ-পরান ২৩। গৌরাঙ্গ অবতার গােপালচন্দ্র চিত্রকর ২৪। জগন্নাথ ও গৌরাঙ্গের গান কিশােরীমােহন চিত্রকর ২৫। গােপালন ভূপতি চিত্রকর ভগবতী-মঙ্গল গুণমণি চিত্রকর ২৭। পাচ কল্যাণী ত্রিলােকতারিণী চিত্রকর ২৮। চাষপালা গুণমণি চিত্রকর ২৯। শিবের মাছ-ধরা যতীন চিত্রকর প্রবন্ধ-তালিকা পুস্তিকা-তালিকা ৭ ১০৭ ১১৭ :: ১১৭ চিত্র-সূচী ০ ০ ০ প্রারম্ভ-চিত্র ••• ৩৫ * ০ ০ কালীয়-দমন শ্রীকৃষ্ণের ভারবহন ও পুতনা-বধ গােষ্ঠ-লীলা তাড়কা-বধ ও অহল্যা-উদ্ধার যমরাজা কদম্বমূলে শ্রীকৃষ্ণ ও সিন্ধুবধ ৪৫ ••• ৬৭ ৭২ নিবেদন ১৯৩০ হইতে ১৯০ অব্দ পর্যন্ত আমি বীরভূমের কালেক্টর ছিলাম ; তখন সেই জেলার পটুয়াদের নিকট হইতে বর্তমান গ্রন্থে মুদ্রিত পটগীতিগুলি সংগ্রহ করিবার সৌভাগ্য আমার হইয়াছিল। প্রখ্যাতনামা সাহিত্যিক পরলােকগত শিবরতন মিত্র মহাশয় এই গীতিকাগুলির মধ্যে ঐ জেলার গ্রাম্যভাষায় ব্যবহৃত শব্দগুলির ব্যাখ্যা- মুলক টীকা-প্রণয়নে এবং বৈষ্ণব-সাহিত্যের সহিত তুলনামূলক আলােচনার কাৰ্যে আমাকে সাহায্য করিয়াছিলেন। তাহার উদ্দেশে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা নিবেদন করিতেছি। লব্ধপ্রতিষ্ঠ কবি ও কথাসাহিত্যিক অনুজপ্রতিম শ্ৰীযুক্ত মনােজ বসু এই পুস্তকের সম্পাদনে অজস্র সহায়তা এবং মুদ্রণকাৰ্যে ও প্রসংশােধনে অক্লান্ত পরিশ্রম করিয়াছেন। চিত্রশিল্পী শ্রীমা সুধাংশুকুমার রায়ের নিকট হইতে আমি এই পুস্তক-প্রকাশে বিশেষ সাহায্য পাইয়াছি। ইহাদের নিকট আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতেছি। বঙ্গমাতার কৃতী সন্তান ডক্টর যুক্ত শ্যামাপ্রসাদ মুখােপাধ্যায় মহাশয় সাগ্রহে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ হইতে এই পুস্তক প্রকাশের ব্যবস্থা করিয়া আমাকে আমাকে চিরকৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করিয়াছেন। তাহাকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিতেছি। ১২ লাউডন স্ট্রীট কলিকাতা ২৫এ বৈশাখ ১৩৪৬ গ্রীগুরুসদয় দত্ত

No text on this page.

পরিচায়িকা পট ও পটুয়া সংস্কৃত ভাষায় ‘পট্ট’ বা ‘পট’ বলিতে মুলতঃ কাপড় বুঝায়। প্রাচীন ভারতে কাপড়ের উপর চিত্র লিখিবার রীতি ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। যে কাপড়ের উপর চিত্র লিখিত হইত, পট বলিতে বিশেষ করিয়া সেই কাপড়টিকেই বুঝাইত। কালক্রমে পটের ৮ শেষােক্ত অর্থ অধিকতর প্রচলিত হইল। এই জন্য ‘পটকার বা ‘পট্টীকার’ বলিতে চিত্রকর সমাজকে বুঝাইতে লাগিল।* ‘পট’ শব্দের উত্তর সম্বন্ধবাচক ‘উয়া' প্রত্যয়যােগে পটুয়া’ শব্দের উৎপত্তি। সাধুভাষা বা পুরাতন বাংলার শব্দ ‘পটুয়া’র আধুনিক প্রাদেশিক রূপভেদ পউট্যা, পউটা, পটো (পােটো)। পটুয়া’রা নিজেদের ‘চিত্রকর’ জাতি বলিয়া উল্লেখ করে। বাংলা দেশে ‘পটুয়া’ জাতি ছাড়াও অপর কোন কোন জাতির লােক চিত্র লিখিয়া থাকে। দৃষ্টান্তস্বরূপ আচাৰ্য-ব্রাহ্মণ ও কুম্ভকার সমাজের নাম করা যাইতে পারে। কিন্তু ইহারা জাতিতে চিত্রকর সংজ্ঞার অন্তর্গত নয়। ইহাদের বিষয় বর্তমানে আমাদের আলোচ্য নয়। এখন কাপড়ের উপর চিত্র লিখিবার রীতি প্রায় লােপ পাইয়াছে। কাগজের উপরেই সাধারণতঃ চিত্র লিখিত হয়; কিন্তু ‘পট’ নামটি রহিয়া গিয়াছে। কাপড়ের উপর অঙ্কিত প্রাচীন চিত্র এখনও দুই-চারিটি পাওয়া যায় ; আমার সংগ্রহেও উহা রহিয়াছে। ; বহুচিত্র দীর্ঘপট ও পটুয়া সঙ্গীত বাংলা দেশের পটগুলিকে সাধারণতঃ দুই শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়। (১) একচিত্র-সম্বলিত ছােট ঘােট চৌকা পট, * পটকার বা পটীকার বলিতে ততবারও বুঝাইত; কিন্তু ঐ অর্থ এখন অপ্রচলিত।

দ পটুয়া সঙ্গীত (২) পর-পর অঙ্কিত বহুচিত্র-সম্বলিত ‘দীঘলপট’ বা ‘আড়ানােপট’। এই বহুচিত্র দীর্ঘপটগুলি অবলম্বন করিয়াই পটুয়াগণ গীতিকাব্য রচনা করে এবং সুর-সহযােগে তাহা আবৃত্তি করে। বীরভূম, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি অঞ্চলের পটুয়াগণ ৮১০ হাত হইতে ২০২৫ হাত দীর্ঘ কাগজের উপর এই শ্রেণীর বহুচিত্র দীপট প্রস্তুত করিয়া উহার উপর এক-একটি কাহিনীর বিবৃতিসূচক পর-পর অনেকগুলি চিত্র অঙ্কিত করে এবং বাংলার নানা জেলায় ঘুরিয়া ছবি দেখাইবার সঙ্গে সঙ্গে ঐ কাহিনীগুলি সুর-সহযােগে আবৃত্তি করিয়া থাকে। প্রত্যেক দীর্ঘপটের দুই প্রান্তে দুইটি বাঁশের দণ্ড লাগান হয়; শেষ প্রান্তের দণ্ড হইতে জড়াইতে আরম্ভ করিয়া : সমস্ত পটটি গুটাইয়া রাখা হয়। সুতরাং দীর্ঘপটের প্রথম চিত্রের উপরিভাগে সংলগ্ন দণ্ডটি বাহিরে থাকে। পট দেখাইবার সময় জড়ানো পটটি একটি বাঁশের ছােট চারপায়ার উপর রাখা হয়; প্রদর্শক পটুয়া বাঁ হাতে উপরিভাগের দণ্ডটি তুলিয়া সর্বপ্রথমে প্রথম চিত্রটি খুলিয়া দেখায় ও ডান হাতে চিত্রে অঙ্কিত বিষয়গুলি নির্দেশ করিয়া তাহার কাহিনী সুর-সহযােগে বিবৃত করে। তারপর উপরের দণ্ডটি ঘুরাইয়া প্রদর্শিত প্রথম চিত্রটি তাহার উপর জড়াইয়া দ্বিতীয় চিত্রটি উন্মােচন করে এবং তাহার কাহিনী এইরূপভাবে বিবৃত করে। এই প্রকারে দীর্ঘপটে অঙ্কিত সমস্ত চিত্রগুলি প্রদর্শন করার সঙ্গে সঙ্গে তাহাদের বিষয়- বস্তুগুলি গীতিকাব্যে বিবৃত করা হয়। এই শ্রেণীর কয়েকটি গীতিকাব্য বর্তমান গ্রন্থে পটুয়া সঙ্গীত আখ্যায় প্রকাশিত হইল। পটুয়া-শিল্প ও পটুয়া-সঙ্গীতের পটুয়া-সঙ্গীতের অনুসন্ধান প্ররক্ষণ-ব্যবস্থা বাংলা দেশে আজকাল পটুয়া-শিল্পের প্রতি যে অনুরাগ প্রকাশ পাইতেছে উহা বাংলার গণ-সঙ্গীত, গণ-নৃত্য ও গণ-শিল্পের প্রতি নব অনুরাগের ইতিহাসেরই একটি অঙ্গস্বরূপ। এই নব অনুরাগ-সৃষ্টির ইতিহাস-সম্বন্ধে দুই-চারিটি কথা এখানে প্রাসঙ্গিক হইবে না।

পরিচায়িকা We ১৯২৯ অব্দের নভেম্বর মাসে আমি যখন মৈমনসিংহ জেলার কালেক্টর ছিলাম, তখন সেখানে সেই জেলার হিন্দুদের মধ্যে প্রচলিত বাউলসঙ্গীত ও বাউলনৃত্য এবং মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত জারি- সঙ্গীত ও জারিনৃত্য ইত্যাদি মূল্যবান্ গণ-সংস্কৃতির প্ররক্ষণ ও পুনঃ- প্রচলনের উদ্দেশ্যে একটি ‘গণ-গীতি ও গণ-নৃত্য সমিতি’র প্রতিষ্ঠা করি। ১৯৩০ অব্দে আমি বীরভূম জেলায় বদলি হই; এবং সেখানে রায়বেঁশে নৃত্য, কাঠিনৃত্য ও গীত, ঝুমুর নৃত্য ও গীত প্রভৃতি মূল্যবান পল্লী-সংস্কৃতির এবং তৎসহ পল্লীর অন্যান্য গণ-শিল্পের, যথা- প্রাচীর-চিত্রের, এবং কাষ্ঠ-ভাস্কর্যের পুনরাবিষ্কার করি। লােক- সমক্ষে সেগুলির মূল্য যথাযথভাবে বুঝাইবার জন্য এবং পল্লী-সংস্কৃতির সম্বন্ধে আরও গভীরভাবে গবেষণা করিবার জন্য আমি ১৯৩১ অব্দের জানুয়ারী মাসে ‘বঙ্গীয় পল্লী-সম্প-রক্ষা সমিতি’র প্রতিষ্ঠা করি। এই গবেষণায় প্রবৃত্ত হইয়া ১৯৩১ অব্দে বীরভূমের নানাগ্রামে ঘুরিয়া ঘুরিয়া সেই জেলার পল্লী-সংস্কৃতির অন্যান্য নিদর্শনের সহিত পটুয়া ও পটুয়া সঙ্গীতের সঙ্গে আমার পরিচয় লাভ হয়। পশ্চিম বাংলার রাঢ় প্রদেশের পটুয়াদের অঙ্কিত রঙ্গিন বহুচিত্র দীর্ঘপটের অস্তিত্ব-সম্বন্ধে বৰ্তমান বাংলার দুই-একজন শিল্পী ও শিল্প-রসিক তখনও অবগত ছিলেন বটে, কিন্তু ইহাদের চিত্র-শিল্পের প্রকৃত মূল্যের সম্বন্ধে খুব কম লোকেরই তখন ধারণা ছিল; এবং এই চিত্র-শিল্পের ব্যাপক প্রসারের সম্বন্ধেও শিক্ষিত-সমাজের অতি অল্প লোকই অবগত ছিলেন। বিশেষ করিয়া এই পটুয়াগণ পট-চিত্র-অঙ্কন ছাড়াও যে কাব্য রচনা করিয়া সেগুলি গাহিয়া চিত্র প্রদর্শন করিয়া থাকে, এবং সেই কাব্য- গুলির যে সাহিত্য-হিসাবে সবিশেষ মূল্য আছে তৎসম্বন্ধে আমাদের দেশের বর্তমান শিক্ষিত সমাজ তখন সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন বলিলে অত্যুক্তি হইবে না। ১৯৩২ অব্দের মার্চ মাসে কলিকাতায় ইণ্ডিয়ান সােসাইটি অব ওরিয়েন্টাল আর্ট (Indian Society of Oriental Art)-এর আনুকূল্যে সেই সমিতির ভবনে আমি একটি গণ-শিল্প-প্রদর্শনীর অনুষ্ঠান করি। ভারতের শিল্প-ইতিহাসে ইহাই প্রথম গণ-শিল্প- • ; পটুয়া সঙ্গীত প্রদর্শনীর বিধিবদ্ধ অনুষ্ঠান। এই প্রদর্শনীতে বাংলার নিজস্ব অলপনা- শিল্প, কথাশিল্প, মৃৎশিল্প ও কাষ্ঠভাস্কৰ্য-শিল্প প্রভৃতি নানা পল্লী-শিল্পের সঙ্গে যে কেবল পটুয়াদের অঙ্কিত বহুসংখ্যক রঙ্গিন বহুচিত্র দীর্ঘপট প্রদর্শিত হইয়াছিল, তাহা নহে; পটুয়া সঙ্গীতও যে একটি শ্রেষ্ঠ ও সরস শিল্প তাহা প্রতিপন্ন ও ঘােষণা করিবার জন্য আমি বীরভূমের তিন-চারি জন পটুয়াকে প্রদর্শনীর উদ্বোধন-উৎসবে উপস্থিত করিয়া তাহাদের দ্বারা তাহাদের অঙ্কিত বহুচিত্র দীর্ঘপট গীতি-কাব্যের সুর- সহযােগে গানের সঙ্গে প্রদর্শন করাই। ডক্টর শ্রীযুক্ত অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রবাসী-সম্পাদক শ্রীযুক্ত রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, ডক্টর শ্রীযুক্ত দীনেশচন্দ্র সেন, ডক্টর শ্রীযুক্ত সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রভৃতি মনীষিগণ পটুয়া-চিত্রের এই অপুর্ব প্রদর্শনী-দর্শনে ও পটুয়া সঙ্গীত- শ্রবণে মুগ্ধ হইয়া জাতীয় রসশিল্প-হিসাবে ইহাদের উচ্চ স্থান পাইবার দাবী স্বীকার করেন। প্রদর্শনীর পুর্বে গ্রামে গ্রামে ব্যক্তিগতভাবে অনুসন্ধান ও তৎসম্পর্কিত গবেষণার ফলে পশ্চিম বাংলার পটুয়াদের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা-সম্বন্ধে এবং তাহাদের অঙ্কিত চিত্র-শিল্প ও তাহাদের দ্বারা রচিত গীতি-কাব্যের শিল্প-হিসাবে মূল্য-সম্বন্ধে আমি যে সিদ্ধান্তে উপনীত হইয়াছিলাম, তাহা আমি একটি কবিতার আকারে লিপিবদ্ধ করি এবং ইংরাজীতে তাহার পদ্যানুবাদ করি। এই বাংলা ও ইংরাজী উভয় কবিতাই উল্লিখিত লােক-শিল্প-প্রদর্শনীর উথােধন-সভায় পঠিত হয়। পটুয়া-শিল্পের বর্তমান অবস্থা বাংলার পল্লীচিত্র-শিল্পের মধ্যে গ্রাম্য পটুয়াদের অঙ্কিত বহুচিত্র দীর্ঘপটগুলিই সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট ও উচ্চাঙ্গের রস-শিল্প। বাংলার সামাজিক ও ধৰ্ম্ম-সম্বন্ধীয় রীতি-নীতির পরিবর্তনে এবং বর্তমান শিক্ষার ফলে ইহা এখন বিলুপ্তপ্রায়। কিন্তু এই বিলুপ্তপ্রায় অবস্থাতেও ইহা যে এখনও বাংলার জাতীয় জীবনের একটি শ্রেষ্ঠতম গৌরবময় সম্পদ তাহা নিঃসন্দেহভাবে বলা যাইতে পারে।

পরিচায়িকা • অঞ্চলের বর্তমানকালে বাংলাদেশে কলিকাতার কালীঘাট পটুয়াদের অঙ্কিত চিত্রকলা সাধারণের কাছে পরিচিত। কালীঘাটের পটুয়াগণ শহুরে ও বিজাতীয় আবহাওয়ায় পড়িয়া তাহাদের প্রাচীন, বিশুদ্ধ ও সুন্দর পটাঙ্কন-কৌশল প্রায় হারাইয়া ফেলিয়াছে। কিন্তু পশ্চিম-বাংলার সুদূর পল্লীতে-পল্লীতে দীন-দরিদ্র গ্রাম্য পটুয়া-শ্রেণীর মধ্যে এখনও সেই প্রাচীন ধারা ন্যূনাধিকভাবে বর্তমান রহিয়াছে। তাহাদের পূর্বপুরুষদের অঙ্কিত পটের যে কয়েকটি নিদর্শন সংগ্রহ করিবার সৌভাগ্য আমার হইয়াছে, তাহাতে বাংলার এই পল্লীবাসী পটুয়া-শ্রেণীর চিত্র-শিল্পে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়া অবাক্ হইতে হয়। পঁচিশ-ত্রিশ বৎসর পূর্ব পর্যন্ত ইহারা এই সকল পট বাড়ি বাড়ি দেখাইয়া এবং তৎসঙ্গে রামলীলা-পটের, কৃষ্ণলীলা- পটের, শক্তি-পটের ও যম-পটের কাহিনী স্বরচিত গীতি-কবিতায় সহজ ও সরলভাবে বিবৃত করিয়া এবং সুললিত সুরে তাহা গাহিয়া গাহিয়া বিস্তর রােজগার করিয়া বেড়াইত। সম্প্রতি আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার ও শহুরে শিক্ষার প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ইহার চাহিদা এবং গুণগ্রাহিতা বাংলার গ্রাম হইতে বিলুপ্ত হইয়া যাইতেছে, এবং তাহার সঙ্গে সঙ্গে অনুপম শিল্পকলা-নিপুণ এই গ্রাম্য পটুয়াদের অল্প-সংস্থান হওয়া দায় হইয়া পড়িয়াছে। চাহিদার অভাবে বাধ্য হইয়া ইহাদের মধ্যে বেশীর ভাগ লােককেই পট-আঁকা ও পট-দেখান ব্যবসায় ছাড়িয়া দিয়া জন-মজুরের বৃত্তি গ্রহণ করিতে হইয়াছে। ইহা ছাড়া, হিন্দুধর্মের মূলনীতিগুলিতে অসাধারণ ব্যুৎপন্ন এই সুনিপুণ চিত্রকরগণ এখনও হিন্দুদের পূজার জন্য দেব-দেবীর ছবি আঁকা ও মাটির প্রতিমা গড়িবার কাজে ব্যাপৃত থাকা সত্ত্বেও ভারত-ইতিহাসের ও বাংলার ইতিহাসের প্রহেলিকাময় আবর্তনে হিন্দুসমাজের গণ্ডী হইতে বিতাড়িত হইয়া হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়েরই ঘৃণ্য বলিয়া বিবেচিত হইতেছে ; এবং এই দুই ধৰ্ম্ম-সম্প্রদায়ের গণ্ডীর বাহিরে অনশনে ও অর্ধাশনে অতি দুর্ভাগ্য দীন জীবন যাপন করিতেছে। সামাজিক নিদারুণ নিপীড়ন সত্ত্বেও ইহারা পুরুষানুক্রমে যে পটুয়া সঙ্গীত চিত্রকলা-সম্পদ সযত্নে চর্চা ও বহন করিয়া আনিয়া বর্তমান বাংলাকে দান করিয়াছে, তাহা অমুল্য ও অতুলনীয়; এবং জগতের চিত্র- শিল্পের আসরে ইহা যে একটি শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করিবে তাহা নিঃসন্দেহ। ইহাদের চিত্র-শিল্প-পদ্ধতি প্রাচীন ভারতের প্রাগ- বৌদ্ধযুগের আদিম চিত্রকলা-পদ্ধতির অবিরল প্রবাহিত, অভ্রষ্ট ও অবিচ্ছিন্ন পরম্পরাগত রূপ-ধারা বলিয়া মনে করা যাইতে পারে। ভারতের অন্যান্য প্রদেশে সেই অতি-প্রাচীন প্রাগ-বৌদ্ধযুগের চিত্র-শিল্প তাহার আদিম পদ্ধতির ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখিয়া বাঁচিয়া থাকিতে সমর্থ হয় নাই। কিন্তু বাংলার প্রতিভা যে সেই অসাধ্য-সাধনে সফল হইয়াছে, বাংলার দীন-দুঃখী পটুয়াগণের চিত্রকলা তাহার জীবন্ত প্রমাণ। ইহাদের বর্তমান অতি শশাচনীয় আর্থিক ও সামাজিক দুর্গতির মধ্যেও ইহারা উৎসাহ ও সুযােগ পাইলে এখনও বাংলার প্রাচীন নিজস্ব জাতীয় ধারা-অনুযায়ী রেখা ও বর্ণের অনুপম বলিষ্ঠতা, রসবত্তা ও সৌষ্ঠব-সম্পন্ন চিত্র অঙ্কিত করিতে পারে । আমার প্রণীত “চিত্রলেখা” পুস্তিকায়, “বঙ্গলমী” [ কার্তিক, ১৩৩৯; জ্যৈষ্ঠ, ১৩৪০ ] পত্রিকায় এবং এই পুস্তকের ৬৭ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত বৰ্তমান পটুয়াগণের অঙ্কিত চিত্রগুলিতে ইহার পরিচয় পাওয়া যাইবে। পটুয়ার প্রাচীন ইতিহাস প্রাগৈতিহাসিক যুগ বইতেই মানুষ চিত্র লিখিয়া আসিতেছে। ভারতবর্ষেও চিত্র-লিখন ও চিত্রপ্রদর্শন রীতি অতি প্রাচীন। প্রাচীন গ্রন্থসমূহে এই বিষয়ের প্রচুর উল্লেখ আছে। * ‘চিত্রলেখা' শব্দটি বহু প্রাচীন। প্রাচীন ভারতে ‘চিত্র’ শব্দে অঙ্কিত ছবি ও ক্ষোদিত বা উৎকীর্ণ ভাস্কৰ্য-শিল্প উভয়ই বুঝাইত। তখন তুলি দিয়া অঙ্কিত ছবিকে লেপ্য চিত্র ও উৎকীর্ণ চিত্র হইতে বিষ্ট করিবার জ লেখ্য চিত্র, এবং ছবি অঙ্কন করাকে চিত্রলেখন বলা হইত। বর্তমানে পটুয়াগণ চিত্রলেখা' কথাটির উপরি-উক্ত ব্যুৎপত্তি-সম্বন্ধে অনভিজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও পট আঁকা না বলিয়া ‘পট লেখা লিয়া থাকে। এই লেখা” কথাটি হইতেই তাদের সঙ্গে প্রাচীন চিত্রলেখকদের সংযােপ সহজেই অনুমান করা যায়। আমরা বর্তমান প্রসঙ্গে তাৰ চিৰাৰ মাৰলি চিনলিন ব্যবহার করিয়াছি।

পরিচায়িকা ১/০ বাণভট্টের হর্ষচরিত সপ্তম শতাব্দীর প্রথমপাদে রচিত হয়। সেখানে যমপট-ব্যবসায়ীর কথা লিখিত হইয়াছে- রাজা প্রভাকরবর্ধনের পীড়ার কথা শুনিয়া হর্ষবর্ধন শিকার হইতে ফিরিয়া রাজধানীতে প্রবেশ করিয়াছেন। হর্ষবর্ধন নগরে প্রবেশ করিয়া দেখিলেন—দোকানের পথে অনেকগুলি কৌতূহলী বালকদ্বারা পরিবৃত একজন যমপটিক বা যমপট-ব্যবসায়ী পট দেখাইতেছে। লম্বা লাঠিতে ঝুলাননা পট বা হাতে ধরিয়াছে, ডান হাতে একটা শরকাঠি দিয়া চিত্র দেখাইতেছে। ভীষণ মহিষারূঢ় তেনাথ প্রধান মূর্তি। আরো অনেক মূর্তি আছে। যমপট্টিক গাহিতেছে— মাতাপিতৃসহস্রাণি পুত্ৰদারশতানি চ । যুগে যুগে ব্যতীতানি ক তে কস্য বা ভবান্ ॥... বিশাখাদত্ত-প্রণীত সুবিখ্যাত মুদ্রারাক্ষস নাটক অষ্টম শতাব্দীতে রচিত বলিয়া পণ্ডিতেরা মনে করেন। তাহাতেও যম-পটের উল্লেখ রহিয়াছে; যথা- [ নানাস্থান হইতে গুপ্ত তথ্য সংগ্রহ করিয়া পাটলীপুজে ফিরিয়া চাণক্যের গৃহে প্রবেশমুখে] চর-পণমহ জমসস চলনে কিং কজ্জং দেবএহিং অগ্নেহিং। এসােকধু অভেত্তাণং হরই জীঅং চডপড়ন্তং । অপি চ পুরিসসস জীবিদব্বং বিসমাদো হােই ভত্তিগহিলাদো। মাবেই সব্বলােভং জো তেণ জমেন জীআমাে॥ জাব, এদং গেহং পবিসি জমপডং দংসঅন্তে। পবিসি গীআইং গামি। এতদ্ভিন্ন কালিদাসের (পঞ্চম শতাব্দী ?) অভিজ্ঞানশকুন্তলা এবং মালবিকাগ্নিমিত্র নাটকদ্বয়ে, ভবভূতির (অষ্টম শতাব্দী) উত্তর- রামচরিত নাটকে চিত্র-লিখনও চিত্ৰ-দর্শনের বিশেষরূপ উল্লেখ আছে। মধ্যযুগে পরাশরস্মৃতি, রূপগােস্বামীর বিদগ্ধ-মাধব নাটক এবং গােপাভট্টের হরিভক্তি-বিলাস গ্রন্থ হইতেও প্রাচীন সমাজে চিত্রানুরাগের পরিচয় পাওয়া যায়। গ ১y পটুয়া সঙ্গীত হর্ষচরিত ও মুদ্রারাক্ষসে যে যমপট্টিক অর্থাৎ যমপ-ব্যবসায়ীর উল্লেখ আছে, তাহারা সুদীর্ঘ পটের উপর ধর্মরাজ যমের মূর্তি এবং যমালয়ের নানা ভয়ঙ্কর দৃশ্য লিখিয়া গীতি-সহযােগে গৃহস্থ-বাড়ীতে সেই পট দেখাইতেন। যমালয়ে পাপী যে নিদারুণ শাস্তি ভােগ করে, চক্ষের সম্মুখে তাহা প্রত্যক্ষ করিয়া মানুষকে পাপ ও অন্যায় হইতে বিরত করিবার উদ্দেশ্যে এই পটগুলি গীতি-সহযােগে প্রদর্শিত হইত। বাংলার পটুয়ারা অদ্যাপি এইরূপ যম-পট দেখাইয়া থাকে। এমন কি তাহাদের দেখাইবার প্রণালীও হর্ষচরিতে উল্লিখিত প্রণালীর অনুরূপ। গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে পটুয়াদের পট দেখাইবার একটি ভঙ্গির ফোটোগ্রাফ ছাপা হইল। ইতিপূর্বে আমার যে গণ-শিল্প-প্রদর্শনীর উল্লেখ করিয়াছি, সেই সময়ে সুদূর পল্লী হইতে আগত একজন পটুয়া কলিকাতার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মুখে গান গাহিয়া পট দেখাইয়া- ছিল, ফোটোগ্রাফটি সেই সময়ের। হর্ষচরিতের বর্ণনার সহিত লােকটির পট দেখাইবার ভঙ্গি হুবহু মিলিয়া যাইতেছে। হর্ষচরিতের আমলে পটের সঙ্গে গান গাহিবার রীতি ছিল, এখনও আছে। এখন রাম অবতার, কৃষ্ণলীলা প্রভৃতি পটের শেষভাগে যমপটের স্থান ; কাজেই মুল-পালার শেষ অংশেই যমপটের গান থাকে। গ্রন্থের মধ্যে পাঠকেরা যমপট-সম্পর্কিত গান প্রচুর পরিমাণে পাইবেন। অতএব সন্দেহ নাই, এই চিত্রকর জাতি সুপ্রাচীন। প্রাচীন কাল হইতে ইহারা চিত্ৰ লিখিয়া লােকের মনােরঞ্জন এবং তাহাদের মনে ধর্মভাব উদ্দীপিত করিয়া আসিতেছে। ছবিলাল চিত্রকরের বীরভূমের পামুড়িয়া গ্রামে। তখন তাহার বয়স ষাট বৎসর। তাহাকে প্রশ্ন করা হইল, কি করিয়া তাহাদের জাতির উৎপত্তি হইয়াছে। পটুয়াজাতির উৎপত্তি- সম্পর্কে যে কিংবদন্তী পুরুষপরম্পরাক্রমে চলিয়া আসিতেছে, নিরক্ষর বৃদ্ধ পটুয়া তাহা বলিতে লাগিল। তাহারই ভাষায় উহা অবিকল লিপিবদ্ধ করিয়া লওয়া হইয়াছে- আমরা বিশ্বকর্মার পুত্র বটি, আমরা বাঙ্গালীর ছেলে ; কর্মদোষে ছােট হয়ে পড়েছি।

পরিচায়িকা ولود আমাদের একটি পূর্বপুরুষ মহাদেবের বিনা হুকুমে তাঁর ছবি এঁকে ফেলেছিল, তাতে তার ভয় হ’ল যে মহাদেব হয়ত রাগ করবেন। তখন মহাদেব সে দিকে আসছিলেন। পাছে মহাদেব জানতে পারেন যে সেই ছবি সে-ই একেছে, সে জন্যে সে তাড়াতাড়ি ছবি আঁকার তুলিটি মুখের ভিতর পুরে লুকিয়ে দেয়। তাতে তুলিটি সকড়ি হয়ে গেল। তখন মহাদেব বললেন, তুলিটি সকড়ি কেন করলে? সে বললে, ভয়ে। মহাদেব বললেন, সে তুলিটা দূরে ফেলে না দিয়ে মুখে দিয়ে সকড়ি করে অন্যায় করেছে। তাই তিনি রাগ করে বললেন, তােরা এর জন্ঠে পতিত হলি। যা, তােরা ছােট হয়ে সমাজে থাক গে। তারপর সব জ্ঞাতিরা কাঁদতে কাঁদতে এসে মহাদেবকে বললে- আমরা খাব কি করে? তখন মহাদেব বললেন-তােরা হিন্দুও হ’বি না, মুসলমানও হবি না। তোরা মুসলমানের রীত কবি আর হিন্দুর কর্ম করবি অর্থাৎ ছবি আঁকবি ও পড়বি। সেই থেকে আমরা মুসলমানদের মত নামাজ করি আর হিন্দুর মত দেব-দেবতার ছবি আঁকি ও সেই সব গান করি। আর আমাদের নামগুলি সব হিন্দুর মত-যেমন ভক্তি, হরেন্দ্র, নােঙ্গর, পঞ্চানন, সতীশচন্দ্র, গরীব, সমস্ত । ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের (একাদশ বা দ্বাদশ শতাব্দী) দশম অধ্যায়ে চিত্রকর জাতির উৎপত্তির একটি কাহিনী পাওয়া যায়। তাহার সহিত পুর্বোক্ত অশিক্ষিত পটুয়া-কথিত কিংবদন্তীর অনেক মিল অাছে। ব্রাহ্মণবেশী ভগবান বিশ্বকর্মার ঔরসে গােপকস্তাবেশী অপ্সরা ঘৃতাচীর গর্ভে চিত্রকর জাতির আদিপুরুষ জন্মলাভ করেন। বিশ্বকর্মা ও ঘৃতাচীর পুত্র জন্মিয়াছিল নয় জন :—তাহাদের নাম মালাকার (মালাকর ), কৰ্ম্মকার, শঙ্কার, কুবিক (তন্তুবায় ), কুকার, কাংস্যকার, সূত্রধার, চিত্রকার ( চিত্রকর), ও স্বর্ণকার। এই হিসাবে পটুয়ারা হিন্দুসমাজের অপর শিল্পি-শ্রেণীর সগােত্র, তাহাদেরই মত সম্মানাহ।

Slo পটুয়া সঙ্গীত চিত্রকরেরা কি কারণে এই সম্মান হারাইয়া সমাজে হীন বলিয়া পরিগণিত হইল, ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে তাহারও উল্লেখ আছে। ইহারা ব্রাহ্মণ-নির্দিষ্ট চিত্র-পদ্ধতির ব্যতিক্রম করিয়াছিল, তাই ব্রাহ্মণগণ কুদ্ধ হইয়া অভিশাপ দিয়াছিলেন ; তখন হইতে ইহারা সমাজে পতিত হইল। কিংবদন্তীতেও অভিশাপের কাহিনী পাইতেছি। মহাদেবই হউন, আর ব্রাহ্মণই হউন—পুরাণ ও লােক-প্রবাদ উভয়ই স্বীকার করিতেছে, চিত্রলিখন কর্মে তাহারা শাস্ত্রীয় রীতির বিরুদ্ধ পথ অবলম্বন করিয়াছিল বলিয়া সমাজ হইতে বিতাড়িত হইয়াছিল। পরশুরামের নিমােস্কৃত শ্লোকটিও এই অনুমানের পােষকতা করিতেছে বলিয়া বােধ হয়- ব্যতিক্রমেণ চিত্রাণাং সদ্যশ্চিত্রকরস্তথা। পতিততা ব্ৰহ্মশাপেন ব্রাহ্মণানাঞ্চ কোপতঃ । [ চিত্রকর চিত্ৰসকলের ব্যতিক্রম করায় ব্রাহ্মণগণ-দ্বারা ক্রোধে শাপগ্রস্ত হইয়া সদ্যঃ পতিত হইয়াছে। ] পটুয়ার জাতিভ্রষ্টতা-সম্পর্কে একটি অনুমান বাংলার গণজাতির হিন্দুধর্মের রূপ চিরকালই শাস্ত্রীয় ব্ৰহ্মণ্যধর্মের রূপ হইতে পৃথক হইয়া আসিয়াছে। বাঙ্গালীর স্বভাবতঃ অদম্য স্বাধীন আত্মা ধৰ্ম্মাচরণ-ক্ষেত্রে ও দেবমূর্তি-পরিকল্পনায় শাস্ত্রীয় বিধি-বিধানের খুঁটিনাটি দাসের মত মানিয়া লইতে পারে নাই ; পরন্তু তাহার আত্মার নিজস্ব ভাব ও রসপ্রেরণা-প্রসূত রূপে সে দেবদেবীর কল্পনা করিয়াছে । তাই বাংলার গণজাতীয় রাধাকৃষ্ণ-রূপকল্পনা পুরাণের পরিকল্পনা হইতে তাহার রাম-লক্ষমণ-সীতার পরিকল্পনা বাল্মীকি বা কৃত্তিবাসের রামায়ণের পরিকল্পনা হইতে পৃথক, এবং তাহার শিবদুর্গার পরিকল্পনা শাস্ত্রীয় ও পৌরাণিক শিবদুর্গার পরিকল্পনা হইতে পৃথক। গণজাতির প্রয়ােজনের আহ্বানে ও স্বকীয় আত্মার অনুপ্রেরণার ফলে বাংলার জাতীয় শিল্পী পটুয়গণ তাহাদের গীতিকায়, চিত্রে ও মৃন্ময়ী প্রতিম-পরিকল্পনার ক্ষেত্রে শাস্ত্রীয় বিধি-বিধানের প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন পৃথক।

পরিচায়িকা ১০ করিয়া বাংলার নিজস্ব ভাব ও রসের ব্যঞ্জনাময় রূপ-কল্পনা করিতে সাহস প্রদর্শন করিয়া ব্রাহ্মণসমাজের কুটি উপেক্ষা করিয়াছিল বলিয়াই যে তাহারা সমাজ হইতে ব্রাহ্মণগণ-কর্তৃক পাতিত হইয়াছিল এইরূপ মনে হয়। কিন্তু ব্রাহ্মণগণ-কর্তৃক ও সমাজ-কর্তৃক নির্যাতিত হইয়াও এই জাতীয় ভক্ত সাধক শিল্লিগণ জাতীয় ভাবধারা ও রূপধারাকে যে বর্জন করে নাই, ইহা বাংলার গণজাতীয় আত্মার দুর্দমনীয় স্বাধীনতা-প্রিয়তারই প্রকৃষ্ট পরিচয়। বাংলার জীবন ও সাহিত্যে পটগীতির স্থান বাংলার জীবনে ও বাংলা সাহিত্যে পটগীতির একটি বিশিষ্ট স্থান আছে। বাংলার অধ্যাত্মজীবনে সর্বাপেক্ষা গভীর স্তরের ভাবধারা ও রসধারা এই পট-গীতিতে রূপায়ন লাভ করিয়াছে—সহজ অনাড়ম্বর ভাষায় ও ছন্দে। ইহা কোন অভিজাত-সমাজের ভাববিলাসব্যঞ্জক সাহিত্য নয়—জাতির সাধারণ জনগণের প্রাণ যে অনাবিল ও বিলাস-কলুষহীন ভাবধারার ও কল্পনাধারার জীবন্ত প্রবাহে ভরপুর ছিল তাহার এবং বাঙ্গালী হিন্দুর গভীর অন্তশ্চরিত্রের ও ধৰ্ম্মবিশ্বাসের রসপূর্ণ অথচ সহজ স্বাভাবিক ও সরলতামাখা রূপায়ন। বৌদ্ধ-পরবর্তী যুগ হইতে আরম্ভ করিয়া উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত বাংলার আত্ম-সংস্কৃতির ও সভ্যতার মূল-উৎসের সন্ধান এই পটগীতি বা পটুয়া সঙ্গীতগুলিতে যেরূপ সহজ, সরল, সুস্পষ্ট ও অনাড়ম্বরভাবে পাওয়া যায়, সেরূপ আর কোথাও পাওয়া যায় কি না সন্দেহ। পটুয়া, পটচিত্র ও পটগীতির অঙ্গাঙ্গী সম্বন্ধ অদ্যাবধি আমাদের দেশের শিল্পী ও কলারসিকগণ পটুয়াদিগের অঙ্কিত চিত্রের কেবলমাত্র চিত্র-হিসাবে মূল্য নির্দেশ করিবার প্রয়াস পাইয়াছেন। কিন্তু এইরূপ, প্রয়াস যে ভ্রমাত্মক তাহা এই চিত্র- শিল্পের প্রকৃতির সম্বন্ধে সম্যক অনুধাবন করিলেই প্রতিপন্ন হইবে। আজকাল শিল্পী বলিতে আমরা যাহা বুঝি, পশ্চিম-বাংলার পটুয়াগণ সেই শ্রেণীর শিল্পী নহে। ইহারা স্বকপােলকল্পিত অথবা - ১০ পটুয়া সঙ্গীত আত্ম-খেয়াল-প্রসূত কোন বিষয়ের চিত্র লিখনের চেষ্টা করে নাই। জাতির গভীর অধ্যাত্ম-জীবনে যে ভাব-নদীর ধারা অবিরত প্রবাহিত হইত, ইহারা সেই ভাবধারায় আপন আত্মাকে ওতপ্রােতভাবে পরিপ্লুত করিয়া একান্তভাবে তাহারই ভক্তসাধক হইয়া সেই ভাব- ধারা-সঞ্জাত রসাবলীর সহজ রূপ সৃষ্টি করিয়াছে—চিত্রে, কাব্যে ও সুরে। সুতরাং একাধারে ইহারা ভক্ত-সাধক, কবি, গায়ক ও চিত্র-শিল্পী-অর্থাৎ একদেশদর্শী শিল্পী নহে; শিল্পী নহে; আত্মার সুগভীর ভাবরসের ও ভক্তির, চিত্র-শিল্পের, কাব্যের ও সুরের স্রষ্টা ও সাধকরূপ পূর্ণাঙ্গ শিল্পী। জাতির অন্তরাত্মার গভীর ভাবরসের ও ভক্তির সরল ও একান্ত সাধনা ব্যতীত ইহারা এই পূর্ণাঙ্গ শিল্প রচনা করিতে কদাপি সমর্থ হইত না। ইহাদের রচিত গীতিকাব্যগুলি বাংলার হিন্দুজাতির গণ-সমাজের অধ্যাত্ম-জীবনের ধ্যানমন্ত্র-স্বরূপ। এই ধ্যানমন্ত্রগুলি সম্পূর্ণ আয়ত্ত করিয়া পটুয়াগণ তাহাদের সাহায্যে আপন আপন মনেমধ্যে সহজ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে রূপ কল্পনা করিয়া তুলিত; এবং সেই রূপ-পরিকল্পনা আপনা হইতেই তুলিকার টানে ও রং-এর বিন্যাসে পটভূমিতে বিনা আয়াসে প্রতিফলিত হইয়া উঠিত। সুতরাং ইহাদের চিত্র-লিখনের প্রণালী ও উৎস বর্তমান শিল্পীদের ধ্যানহীন আয়াস-সাধিত শিল্প- সৃষ্টির প্রণালী হইতে সম্পূর্ণ বিভিন্নই ছিল। তাই যদিও আজকাল অনেক শিল্পী পটচিত্রের অনুকরণে চিত্র লিখনের চেষ্টা করেন, তথাপি সেগুলি প্রাণহীন বাহ রেখা ও রং-এর বিন্যাসেই পর্যবসিত হয়,-ধ্যানলব্ধ রূপ-কল্পনা প্রতিফলনের সজীবতা, সরসতা ও শিষ্টতা লাভ করিতে সফল হয় না; জাতির আত্মার গভীরতম ভাব- রসের জীবন্ত রূপায়ন দান করিতে পারে না। পটঙ্গীতি ও পটচিত্রের জাতীয় স্বভাব ও স্ব- বাগত রূপ আয়াসলব্ধ ও অনুকরণগত নয় বলিয়া বাংলার এই ভক্ষাধক নীদের গীতিকাব্যের ভাব ও ভাষা এবং পটচিত্রের ধারা বাঙ্গালী পরিচায়িকা sleo জাতির আত্মার স্ব-ভাব ও স্ব-ধারায় গঠিত এবং একান্তভাবে বিজাতীয়তা-দোষ-বজ্জিত। বস্তুতঃ জাতির আত্ম-সংস্কৃতির দিক দিয়া বিচার করিতে গেলে এই পটগীতি ও পটচিত্রগুলি সম্যগভাবে বাংলার স্বাধীন শিল্প ও বাংলার আত্মার চিরন্তন স্বাধীনতা-পরায়ণতার প্রকৃষ্ট ও স্বতঃস্ফুর্ত নিদর্শন। বাঙ্গালীর জীবনকে আবার সংস্কৃতির ক্ষেত্রে স্বাধীনতা অর্জন করিতে হইলে বাংলার মানুষকে ও শিল্পীদিগকে এই জাতির স্ব-ভাব, সু-ছন্দ ও স্ব-ধারার সাধনা করিতে হইবে। এই দিক দিয়া দেখিতে গেলে জাতির ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে পটগীতি ও পট- চিত্রের মুল্য অসীম ও অতুলনীয়। পটচিত্র ও পটগীতির পরস্পর সহযােগিতা পটচিত্রগুলি পটগীতির হুবহু প্রতিকৃতি-মুলকভাবে রচিত হয় নাই; আবার পটগীতিগুলিও পটচিত্রের হুবহু বর্ণনাত্মক নহে। বস্তুতঃ ইহারা একে অন্যের পরিপােষক। চিত্রে যাহা রূপায়িত হইয়াছে, শিল্লিগণ গীতিকায় তাহার বর্ণনা না করিয়া তাহার অন্তর্নিহিত ভাব ও রসের অভিব্যঞ্জনা করিয়াছে এবং এক চিত্র হইতে অপর চিত্রের বিষয়-বস্তুতে উপনীত হইবার পথে মধ্যবর্তী ভাব ও ঘটনার রসাত্মক বর্ণনা করিয়াছে। গীতিকায় যাহা উহ, তাহার অভিব্যঞ্জনা দেওয়া হইয়াছে চিত্রে ; আবার চিত্রে যাহা উহ, তাহার অভিব্যঞ্জনা দেওয়া হইয়াছে গীতিকায়। জাতির গণ-সমাজের সাধারণ ভাষাকে পটুয়া-শিল্পিগণ আড়ম্বরহীন- ভাবে কাব্যে রূপ দিয়াছে। কোন কষ্টকল্পিত বা আয়াসসাধ্য অলঙ্কারের বালাই ইহাতে নাই, অথচ অন্তরের ভাবের প্রাচুর্যের ও ভক্তির একনিষ্ঠ প্রবাহের ফলে এই গীতিকাগুলি সহজ স্বতঃস্ফূর্ত রসসম্পদে ভরপুর। এই সকল গুণাবলীর বিদ্যমানতার ফলে বাংলার গণ-সাহিত্যে পটুয়া-গীতি গৌরবময় স্থান লাভ করিবে।

১০ পটুয়া সঙ্গীত বাঙ্গালীর জীবনের নিখুঁত রূপ স্বরূপের কি কৃষ্ণলীলা কাব্যে, কি রামলীলা কাব্যে, কি শিবের শখ- পরানাে কাব্যে, কি শিবের মাছধরা কাব্যে, কি গাে-পালন কাব্যে বাংলার স্ত্রী-পুরুষের ও বাংলার জীবনের এক-একটি নিখুঁত প্রতিকৃতি রচিত হইয়াছে। শিল্পীর জাতীয় ভাব তাহাকে সংস্কৃত রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ ইত্যাদির কেবলমাত্র অনুকরণে বিরত করিয়াছে। শিল্পী জাতির মজ্জাগত আদৰ্শগুলিকে আপন জাতীয় স্বভাবের ও ছাপ দিয়া সম্পূর্ণ নব সৃষ্টিময় শিল্প রচনা করিয়াছে। ধৰ্ম্ম, দর্শন ও পুরাণের মূল তত্ত্বগুলি যে বাঙ্গালী হিন্দুসমাজের গণ-জীবনে অতি সহজভাবে অনুসঞ্চারিত হইয়া দৈনন্দিন ভাব ও চিন্তা-ধারার অঙ্গীভূত হইয়াছিল, তাহার একটি বিশেষ পরিচয় আমরা এই পটুয়া সঙ্গীতের মধ্যে পাই। তথাকথিত অশিক্ষিত পটুয়া-রচিত সঙ্গীতগুলিতে দার্শনিক ও পৌরাণিক তত্ত্বগুলি অবলীলাক্রমে মিশিয়া গিয়াছে। বৈষ্ণব কবিতার ও পদাবলীর সঙ্গে কোথাও কোথাও সামঞ্জস্য থাকিলেও বৈষ্ণব কবিতায় ও পদাবলীতে যে আড়ম্বরপূর্ণ ভাব-বিলাসিতার উদাহরণ পাওয়া যায়, পটুয়া-গীতিতে তাহার সম্পূর্ণ অভাব লক্ষিত হইবে। পটুয়া-শিল্পীর বৃন্দাবন বাংলাদেশে, অযােধ্যা বাংলাদেশে, শিবের কৈলাস বাংলাদেশে, তাহার কৃষ্ণ, রাধা, গােপ- গােপীগণ সম্পূর্ণ বাঙ্গালী। রাম, লক্ষণ ও সীতা বাঙ্গালী, শিব ও পার্বতীও পুরা বাঙ্গালী। বড়াই বুড়ীর ছবি বাঙ্গালী ঠাকুরমা ও দিদিমার নিখুঁত রসময় প্রতিমূর্তি। রামের বিবাহ হইয়াছে ছাতনা- তলায়। পার্বতীর কাছে সব অলঙ্কার হইতে শাখার মৰ্য্যাদা ও আদর বেশী । এই জাতীয় শিল্লিগণের ধ্যানে দেবতাগণও বাঙ্গালী রূপ ছাড়া অন্য রূপ ধরিয়া থাকিতে সমর্থ হন নাই। বাঙ্গালীর সাধারণ জীবনকে দেবভাবে পরিকল্পিত করিয়া ইহারা জাতির আত্মাকে পরম গৌরবদান করিয়াছে। তাই বাংলার ঘরে ঘরে ও বারে দ্বারে সাধারণ নরনারীর পরিচায়িকা ১, ও বালক-বালিকার কাছে বৎসরের পর বৎসর প্রদর্শিত এই চিত্র- সশ ও বৎসরের পর বৎসর গীত এই গীতিকা-সম্পদ বাংলার গণ- শিকার ও গণ-সংস্কৃতির এক অমূল্য ও অতুলনীয় প্রণালীস্বরূপ হইয়া উঠিয়াছিল এবং বাংলার আবালবৃদ্ধবনিতার জীবনকে এক অদ্ভুত আনন্দ-সময় জগতের সন্ধান দিতে সমর্থ হইয়াছিল। বাংলার লােক বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতার দাসত্ব হইতে আপন আত্মাকে মুক্ত করিয়া যে কোন অধ্যাত্ম আদর্শই গ্রহণ করুক কেন, জাতির গণ-সমাজের কোটি কোটি নরনারীর জীবনকে প্রকৃত শিক্ষা ও প্রকৃত সংস্কৃতিতে পুর্ণ করিতে হইলে বাংলার পটুয়া-শিল্পীর অতুলনীয় শিল্প-প্রণালীরই অনুরূপ প্রণালী অবলম্বন করিতে হইবে। পটুয়াদের অঙ্কিত চিত্রশিল্পের মুল্য দেশ-বিদেশের অন্যান্য বিখ্যাত অতিমাজিত চিত্ৰপদ্ধতির স্যায় বাংলার এই নিজস্ব চিত্রপদ্ধতি বিশ্বমানবের আদিম যুগের সরল ভাব, পৌরুষের ভাব, অকৃত্রিমতার ভাব এবং সজীবতা, সরসতা ও তেজস্বিতার ভাব হারায় নাই। এক দিকে যেমন এই সকল গুণ ইহাতে সম্পূর্ণরূপে বিদ্যমান রহিয়াছে, তেমনি আবার এই মুক্ত ভাবের সঙ্গে সঙ্গে ইহা অন্যান্য আধুনিক মার্জিত চিত্রকলা-পদ্ধতির সমতুল অথবা তদধিকভাবে লাবণ্য ও লালিত্য যােজনা করিতে সমর্থ হইয়াছে। ইহাতে অতি-বিলাসিতার, অতি-আলঙ্কারিকতার ও অতি- সাম্প্রদায়িকতার মুদ্রা-দোষের অথবা কোনরূপ আড়ষ্টতা-দোষের ছাপ পড়ে নাই। এই চিত্রকলার ভাষার অক্ষর-প্রকরণ অতি স্বল্প ও সহজ। ইহা কেবল রেখার সতেজ, সুনিপুণ, প্রখর ও ভাবব্যঞ্জক প্রয়ােগ এবং অল্প কয়েকটি প্রাথমিক বর্ণের অমিশ্র ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। ইহার ভাষার ব্যাকরণ অতি সহজ ও অতি প্রাণ। পরিপ্রেক্ষিতের মাপকাঠির খুঁটিনাটি ও আলােছায়ার লীলাখেলার চতুরতা ও বাল্য মিশাইয়া ইহা কখনও আপনার ব্যাকরণকে অযথা জটিল করিয়া তুলিবার প্রয়াস করে নাই। ইহার আকার- বিদ্যাল এবং বর্ণসমাবেশ ও সময় অতিশােভন ও অনিন্দ্যসুন্দর।

। ১০ পটুয়া সঙ্গীত আলঙ্কারিকতার চূড়ান্ত কৌশলও যে এই চিত্রকরগণ গুৰ্শন করিতে পারে, তাহারও শ্রেষ্ঠ প্রমাণ এই সকল প্রাচীন পট হইতে পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলার এই প্রাচীন চিত্রকলায় কেবলমাত্র ইন্দ্রিয়- তৃপ্তির উদ্দেশ্যে রূপকল্পনার বিলাসিতার অযথা বাড়াবাড়ি নাই, অথচ ইহা রসপ্রাচুর্যে ভরপূর । ইহাতে অঙ্কিত মনুষগণের আকৃতি ও হাবভাব সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিমতা ও মুদ্রা-দোষ-বিহীন এবং সাধারণ মানুষের সহজ ও জীবন্ত ভাবে পরিপূর্ণ। এক দিকে বাংলার এই পল্লী-শিল্পীদের জীবজন্তু-অঙ্কনের ক্ষমতা যেমন অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচায়ক, তেমনি অপর দিকে মানুষের অন্তরতম মনােভাবের অবিকল ব্যঞ্জনা তুলির অবলীলাময় টানে ফুটাইয়া তুলিতেও ইহাদের ক্ষমতা অদ্বিতীয়। বৃক্ষলতাদির পত্রের অঙ্কনের অতি চমৎকার ও মনােহর আলঙ্কারিক রীতিও এই চিত্রপটগুলির ও এই চিত্রকরদের একটি অন্যতম বিশেষত্ব। এইসকল চিত্রপটে এক দিকে পুরুষ-দেহের বীরােচিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ও ভাব-ভঙ্গীর অঙ্কন-প্রণালী ও অপর দিকে নারীদেহের লীলায়িত রূপলাবণ্য-মাধুরীর বিচিত্র অঙ্কন-কৌশলের স্বভাবজাত সমাবেশ দেখিয়া অবাক হইতে হয়। অনুকরণ-মূলক অঙ্কন- বাহুল্য বর্জন করিয়া ইঙ্গিতে ভাবের ও রসের পরিপূর্ণ ব্যঞ্জনাশক্তি এই সকল চিত্রপটের একটি বিশিষ্ট লক্ষণ। ইহার একটি চিত্রেও কোন, রকম ভাবের অপরিস্ফুটতা অথবা ধোঁয়াটে ধরণ নাই। চিত্রে অতি- পরিস্ফুটভাবে কাহিনী বিবৃত করিবার অসাধারণ ক্ষমতা এই চিত্রকলা- পদ্ধতি ভারতের আদিমযুগ হইতে পুর্ণভাবে বজায় রাখিয়া আসিতে সমর্থ. হইয়াছে। রামপটে অঙ্কিত কৰ্ম্মযােগমূলক পৌরুষ-কাহিনীর ইতিহাস ও প্রাচীনভারতের পারিবারিক জীবন-প্রণালী, শক্তিপটে অঙ্কিত গভীর আধ্যাত্মিক জ্ঞানমূলক দার্শনিক সত্য, এবং কৃষ্ণপটের আধ্যাত্মিক প্রেমমূলক ভাব-তরঙ্গ-বাংলার এইসকল প্রাচীন শিল্পিগণ অতি সরল ও সহজভাবে সাধারণের বােধগম্য করিয়া চিত্রপটে অঙ্কিত করিয়াছে এবং উহাদিগকে অসাধারণ ভাবব্যঞ্জক অনিন্দ্যসুন্দর রূপ প্রদান করিয়া তাহাদের অদ্ভুত প্রতিভার পরিচয় প্রদান করিয়াছে। সর্বোপরি বাংলার পল্লীগ্রামের সরল প্রকৃতির স্ত্রী-পুরুষগণের চরিত্রের একটি পরিচায়িকা ১০ অনির্বচনীয় ও অতুলনীয় নিজস্ব মাধুৰ্য্যরসে এইসকল চিত্রপটের রেখা, বর্ণ ও রূপকল্পনা ওতপ্রােতভাবে পরিপ্লাবিত। বাংলার এই প্রাচীন চিত্র-শিল্পিগণ রস-শিল্পের সঙ্গে ধৰ্ম্মের যে ঘনিষ্ঠ ও অটুট সম্বন্ধ তাহা কখনও ভুলিয়া যায় নাই; এবং উহা মানুষের মনে অবিরত জাগাইয়া দিবার জন্য প্রত্যেক চিত্রপটের শেষভাগে যমরাজার সভায় চিত্রগুপ্তের অভ্রান্ত খাতার চিত্র ফুটাইয়া তুলিয়া এবং যমরাজার অনুশাসনে ধর্মের অন্তিম জয় ও অধর্মের অন্তিম পরাজয়ের কাহিনী অতিজ্বলন্তভাবে বিবৃত করিয়া সমাজে ধর্মভাবের প্রচলন বজায় রাখিবার অমূল্য সহায়তা করিয়াছে। পটচিত্রের নমুনা বৰ্ত্তমান গ্রন্থে পটচিত্রের একখানি রঙ্গিন ও আটখানি একরঙ্গা আলােকচিত্র প্রকাশিত হইল। মূল-চিত্রের সবগুলিই বহুবর্ণ চিত্র ; লীলায়িত রেখার সঙ্গে নানা রং- এর অতি মনােহর ও রসপূর্ণ সমাবেশ এই শ্রেণীর চিত্রগুলিকে শিল্প-হিসাবে অতি গৌরবময় বৈশিষ্ট্য দান করে। সুতরাং একরঙ্গা আলােকচিত্র হইতে মুল-চিত্রের শিল্প-সম্পদের ও রস-সম্পদের অতি অল্প আভাসই পাওয়া যায়। বচিত্র দীর্ঘপটের যে বিপুল সংগ্রহ আমার আছে, তাহার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট পটচিত্রগুলির প্রতিচ্ছবি এই গ্রন্থে দেওয়া সম্ভব হয় নাই। উৎকৃষ্ট শ্রেণীর রঙ্গিন ছবিগুলির নমুনা আমার লিখিত প্রবন্ধের সহিত ‘জার্নেল অব দি ইণ্ডিয়ান সােসইটী অব ওরিয়েন্টাল d' (Journal of the Indian Society of Oriental Art) এবং ‘রূপলেখা পত্রিকায় বাহির হইয়াছে। পাঠকগণ সেইগুলি দেখিয়া পটুয়াদের চিত্রশিল্প-প্রতিভার অপেক্ষাকৃত পূর্ণ রূপ উপলব্ধি করিতে পারিবেন। পটগীতির শ্রেণীবিভাগ ও প্রকৃতি পটগীতিগুলি সাধারণতঃ তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায় । যথা—(১) লীলা-কাহিনী—কৃষ্ণলীলা, রাম-লীলা, গৌরাঙ্গ-লীলা, ১৮৩ পটুয়া সঙ্গীত শিবপাৰ্বতী-লীলা। (২) পচ-কল্যাণী—এগুলি বিশেষ কোন লীলা- কাহিনী বা আখ্যায়িকা-অবলম্বনে রচিত নয়। নানা বেদেৰীসন্ধে ইড়ার পাঁচমিশালি সমাবেশ। (৩) গােপালন-বিষয়ক গীতিকা। কৃষ্ণলীলা, রাম-লীলা ও গৌরাঙ্গ-লীলা গীতিকার রচনাপ্রণালীর একটি বৈশিষ্ট্য আছে। পটুয়াগণ সমস্ত আখ্যায়িকার বিবরণ দিবার চেষ্টা করে নাই, আখ্যায়িকার যে ঘটনাগুলিতে বিশেষ করিয়া গভীর ভক্তিরস, প্রেমরস, বাৎসল্যরস অথবা দাম্পত্যরসের সমাবেশ আছে, সেইগুলিকে তাহারা বাছিয়া লইয়া ঐ রসগুলি নিবিড়ভাবে কাব্যে প্রকাশ করিবার চেষ্টা করিয়াছে। জাতীয় সংস্কৃতির অংশরূপে কাহিনীগুলি মােটামুটিভাবে জাতির সমগ্র জনগণের মনােরাজ্যের সাধারণ পটভূমিতে যে বিদ্যমান রহিয়াছে, ইহা তাহারা ধরিয়া লইয়াছে। তাই কাহিনীর অন্তর্ভুক্ত কেবলমাত্র গভীর রসপূর্ণ ঘটনাগুলিকে আরও উজ্জ্বল করিয়া তুলিবার জন্য তাহাদের অঙ্কিত চিত্রের এবং তাহাদের রচিত কাব্যের ও গীতের দ্বারা এইগুলির উপরই বিশেষ করিয়া উল ও রঙ্গিন আলােকসম্পাত করিয়াছে; এবং এই ঘটনাগুলির অনুভূতিকে জাতির জনগণের মনােজগতে বৎসরের পর বৎসর নূতন করিয়া জাগাইয়া তুলিয়া জাতির সাধারণ জনগণের জীবনকে অনুপ্রাণিত এবং একটি সম-সংস্কৃতির ঐক্যসূত্রে যুক্ত করিয়া রাখিবার অমূল্য সহায়তা করিয়াছে। শিব-পার্বতীর লীলাকে বাংলার চিত্রকরগণ বাংলার পারিবারিক ও দাম্পত্যজীবনের অনুরূপ করিয়া রচনা করিয়াছে। শিবকে তাহারা চিত্রিত করিয়াছে বাংলার গৃহস্বামিরূপে, এবং পার্বতীকে চিত্রিত করিয়াছে বাংলার সাধারণ গৃহিণীরূপে। শিব ও দুর্গাকে তাহারা শাস্ত্রীয় রূপ দিয়া জাতির সাধারণ জীবন হইতে বিচ্ছিন্ন অতি- দূরের জিনিষ করিয়া দেখে নাই, অথবা অভিজাত-সমাজের গৃহ ও গৃহিণীর বিলাসী রূপ দেয় নাই। দুর্গাকে বাগিনীর রূপে চিত্রিত করিতে তাহারা সাহস করিয়াছে। তাহাদের স্বভাবজাত অসাধারণ কবিত্ব-প্রতিভার ফলে তাহারা দেখাইতে পারিয়াছে যে, বাঙ্গীর মেয়ে সমাজের চক্ষে ঘৃণ্য ও অস্পৃশ্য হইলেও বাস্তবিক পক্ষে ভগবতীরই পরিচারিকা ১৬০ অংশ ; এবং প্রকৃত কবির ও স্পষ্টদশীর চক্ষে সকল সম্প্রদায়ের নারীর মধ্যেই ভগবতীর রূপ সমানভাবে বিরাজিত। বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনের মর্যাদার অতুলনীয় চিত্ৰণ এই সঙ্গীতগুলির একটি বৈশিষ্ট্য। শিবদুর্গার লীলাচিত্রের বর্ণনার ছলে বাংলার সাধারণ গৃহদাম্পতীর জীবনের নিবিড় কৌতুক-রসাত্মক দিকটা পটুয়াগণ তাহাদের সহজ কবিত্বশক্তির মধ্য দিয়া অতি সুন্দর অথচ সহজ বর্ণনা করিয়াছে। বাংলা কৌতুকরসসাহিত্যে ইহা উচ্চস্থান লাভের যােগ্য। ‘চাষ-পালা’ গীতিকার মধ্যে মহাশক্তির পরিচালনায় লমীর ভাণ্ডারের বীজের সাহায্যে ভীমের প্রয়ােগে পৃথিবীর সৃষ্টি একটি অনুপম সৌন্দৰ্য্যময় পরিকল্পনা। গাে-পালন গীতিগুলিতে কপিলার মর্ত্যে অবতীর্ণ হইতে প্রথমে অনিচ্ছা-প্রকাশ এবং পরে মনুষ্যজাতির সেবার জন্য দেবগণের সনির্বন্ধ মিনতিতে স্বীকৃত হইবার করুণ কাহিনী পড়িয়া পাষাণ-হৃদয়ও বিগলিত হইবে; এবং গাে-জাতির প্রতি হিন্দুর ভক্তির মুল-উৎস যে কোথায় তাহার সহজ ও সরল নির্দেশ পাওয়া আজকালকার নব সভ্যতার ফলে গােজাতির প্রতি বাংলার শিক্ষিত নারীদের অবজ্ঞা ও নির্দয়তাপূর্ণ ব্যবহারের যে নির্মম চিত্র পটুয়াগণ অঙ্কিত করিয়াছে, এবং তাহার কঠোর শাস্তির যে কবিত্বময় নির্দেশ করিয়াছে তাহা হইতে পরিচয় পাওয়া যাইবে যে, এই পটুয়াগণ কেবলমাত্র ভক্ত, সাধক বা ভাবুক কবি নহে, পরন্তু নির্ভীক ও স্পষ্টভাষী সমাজ-সংস্কারক। জাতির মনােরাজ্যের সর্বাপেক্ষা উচ্চ আদর্শগুলি পটুয়াগণ অপরিসীম নিষ্ঠা ও ভক্তিপূর্ণ সাধনার দ্বারা সঙ্গীত ও চিত্রে রূপায়িত করিয়াছে এবং উহাদের ভিতর দিয়া জাতীয় জীবনকে গভীর অধ্যাত্ম আদর্শে অনুপ্রাণিত করিয়া আসিতেছে। যাইবে।

No text on this page.

পটুম্মা সঙ্গীত (১) কৃষ্ণের অবতার শনি-নিগ্রহ রাজার পাপে রাজ্য নষ্ট প্ৰজা কষ্ট পায় গিন্নির পাপে গিরস্ত নষ্ট ঘরের লক্ষী উড়ে যায়। মহারাজের দেশে দেখ জল নাইক হ’ল রাজার প্রজাগণ কষ্ট পেয়ে পলাইতে লাগিল। নারদ মুনি কইছে শুনেন মহাশয় শনিকে বধিলে পরে তবে জল হয়। রথ ঘােড়া পিড়া সারথি সাজিয়ে মহারাজ শনিকে বধিতে চলিলেন। যত তত মারেন বাণ শনির উপরে কংস রাজার দেশে হরির নাম যেবা লিবে হাতে বেড়ী পায়ে বেড়ী বক্ষঃস্থলে পাষাণ চাপা দিবে। কোথা ছিলেন বসু-দৈবকিনী হরির নাম যে লিয়াছে। শ্বেত মাছির রূপ ধারণ করে নারায়ণ দেখায় স্বপন তােমার গর্ভে তিলেক দাওগা ঠাই। ছয় পুত্র হলরে বাপ কংস রাজা মেরেছে কাছিড়ে এক পুত্র হয়ে কিবা ভাগ্য হবে। ১৩ কংস-শাসন- দৈষকীর প্রতি স্বপ্ন গর্ভবা ১৫ ১-২ অনুরূপ উক্তি—৩৪ শত বৎসর পূর্বেকার কুমিল্লা অঞ্চলের অন্ধ কবি ভবানীপ্রসাদ ...ত মাণিক চক্রর গানে আছে- আমার পাপে রাজ্য নষ্ট ভাবি চাই মনে। তীহ পাপে খ্রিহ লক্ষ্মী পলাএ আপনে। ২ গিগৃং। ১• লিবেইবে। ১৪ ও-[অনুরূপ উকিরগা, খাওগা ইত্যাদি) ১৫ কােিড়—আছাড় মারিয়া।

একৃষ্ণের অ-যমুনা পার-সন্তান- পরিবর্তন ২৫ পটুয়া সঙ্গীত এক মাস দুই মাস মায়ের হইল কানাকানি তৃতীয় পঞ্চম মাসের সময় হ’ল জানাজানি। দশ মাস দশ দিন মায়ের শুভ পূর্ণ হ’ল বসুমতী দাইমা হয়ে নিজে কৃষ্ণকে কোলে কোরে নিল। আঁওয়ালে জওয়ালে দিচ্ছেন বসুদেবের কোলে বসুদেব লুকাইতে চলল নন্দালয়ে নন্দঘােষের ঘরে। কৃষ্টকে দেখে যমুনা উথলে উঠিল ভগবতী শৃগাল-মুৰ্ত্তি হয়ে যমুনা পার হ’ল। দশ মাস দশ দিন ছিলেন মায়েরি উদরে আমার গর্ভে চান করেন ঠাকুর ভাগ্য হােক মাের। এক কন্যা হয়েছে রাজা ভিক্ষা দাও মােরে কিবা কন্যা কিবা পুত্র মারগা রজক-পাথরের উপরে। হাতে হাতে ভগবতী স্বর্গ উড়ে গেল। আমাকে যে মেলি বেটা কংস দুরাচার তােকে যে মারিবে বেটা গােকুলে আছে ঘর। একে ত রাজার ভগ্নী পূতনা শুনে বিষ মেখে গমন করিল সই সই বলে যখন সম্বন্ধ করিল অন্তরযামিনী ঠাকুর সবই জানিল। “কোহা” “কোহ” করে যখন কেঁদে যে উঠিল দেখুন পূনার কোলে দিল। এক চুমুক, দুই চুমুক, তৃতীয় চুমুকের বেলায় পূতনা বধ হ'ল। পূতনা ম’ল ভালই হ’ল শব্দ গেল দূরে পূতনা পড়ে রইল চৌদ্দ ভুবন পৰ্বত সমান জুড়ে। পুত-বধ ১৭ কানাকানি-[ এক কান হইতে অপর কান অর্থাৎ] গােপনে জানাজানি। । ২১ অাওয়ালে সাওয়ালে—[াওল= The Poets, জরায়ু বা গর্ভকোষ]; জন্সিবামাত্রই শিকে অপরিভূত অবস্থায় বসুদেবের কোলে দিলেন। ৩৩ সম্বন্ধ করিল–আত্মীয়তা স্থাপনের চেষ্টা করিল। ৩৪ অনুযামিনী-অ্যামী। ৩৭ বেলায়-সময়ে (বা বারে)। ৩৯ চৌভুবন-ভুবন :-ভূলােক, ভুলোক প্রভৃতি সপ্ত স্বর্গ এবং অতল, বিতল প্রভৃতি সৎ পাতাল—এই চতুর্দশ ভুন। এই চৌদ্দ ভুবন জুড়িয়া অতি বিরাট পর্বতের মত।

পটুয়া সঙ্গীত ৪০ জন্মােৎসব বা নন্দোৎসব ৪৫ কৃষ্ণের জন্ম শুনে দেব দেবতাগণ বড় আনন্দিত হইল। শিব নাচে ব্রহ্মা নাচে আর নাচে ইন্দ্র গােকুলে গােপাল নাচে পাইয়ে গােবিন্দ। কি আনন্দ হলরে ভাই গােকুল নগরে নন্দের ঘরে নন্দোচ্ছব নন্দের মাথায় দধি দুগ্ধ ছানা মাখন ঢালিল। খােল বাজে করতাল বাজে মৃদঙ্গ বাজে হাতে বাকুমুরারি বাজে সখীগণের মুখে। চারি ধারে সখীগণ মধ্যে শ্যামরায় ঢলে ঢলে পড়েন দেখ রমণীদের গায়। বৃন্দাবনের মধ্যে তরুলতা এড়িবেড়ি যায় ভােমরা ভােমরী তায় হরিগুণ গায়। খেলা-রসে ছিলেন কানাই সুপলেরি সনে হরিবে গােপীগণের বস্ত্র তাই পড়ে গেল মনে। বস্ত্র দাও ঠাকুর পরিধান করি শুকনাে বস্ত্র পরে বুঝি নাম রাখিব কালী। ৫০ ব-হরণ ৫৫ ৪০.৪৬ কৃষ্ণের জন্ম শুনে ইত্যাদি—চৈতন্য মহাপ্রভুর সমকালের বৈষ্ণব কবি শিবাই দাস বা শিবানন্দ-চিত এতদ্বিষয়ে যে পদ অবলম্বনে এই ছত্রগুলি রচিত হইয়াছে তাহা নিয়ে দেওয়া গেল :- স্বর্গে দুন্দুভি বাজে নাচে দেবগণ। হরি হরি হরি ধ্বনি ভরিল ভুবন। ব্রহ্মা নাচে শিব নাচে আর নাচে ইন্দ্র। গােকুলে গােয়ালা নাচে পাইয়ে গােবিন্দ । নন্দের মন্দিরে গােয়ালা আইল ধাইঞা। হাতে নড়ি কান্ধে ভার নাচে থৈ থৈয়া। দধি দুগ্ধ বৃত ঘােল অঙ্গনে ঢালিয়া। নাচেরে নাচেরে নন্দ গােবিন্দ পাইয়া। আনন্দ হইল বড় আনন্দ হইল। এ দাস শিবাইর মন ভুলিয়া রহিল। ৪। বাকুমুরি-বাকা মুরলী। অনুরুপ-বাকুরা পাচনী হাতে রজিয়া রাখাল সাথে বাহিৰ হৈল মােহিণী-নন্দন। (জ্ঞানদাস) ৫ পলেরিল নামক কৃষ্ণের সখা।

৪ ; পটুয়া সঙ্গীত কালী কালী বলিস না গাে শুন গােয়ালার ঝি বিধাতা করেছেন কালাে আমার সাধ্য কি ? বস্ত্র যদি না দিয়াে ঠাকুর যাব কংস রাজার ঠাই কংসেরি তাপে ঠাকুরের জাতি কুল নাই। বারে বারে দিস না তােরা কংসের তুলনা অবােধ কালে বধেছিলাম কংসের ভগিনী পূতমা। গাছ হতে নাম ঠাকুর পেড়ে দাও ফুল ডাল ভেঙ্গে পড়ে মরবে শূন্য হয় গােকুল। ডাল বেড়ি যখন বস্ত্র পেড়ে দিল দৌড়াদৌড়ি করে সখীরা তখন নগরে চলে গেল। সাজ সাজ বলে বড়াই নগরে দিলে সাড়া বড়াই বুড়ীর বাত্রা পেয়ে নগরে দিল সাড়া। কেউ করলে রস-বিল্যেস কেউ সাজালেন দধির পশরা। নন্দ গেল বাথানে যশােদা গেলেন জলে খালি ঘর পেয়ে দুষ্টু ছেলে ননী চুরি করে নন্দরাণী দেখতে পেয়ে বান্ধেন যুগল করে। বেঁধাে না মা নন্দরাণী বন্ধন-জ্বালায় মরি হাতেরি মুরারি বেচে দিব ননীর কড়ি। সখীরা বলে আমরা যে মথুরা যাব ভার কে বয়াবে জগদীশ্বর হরি আছেন তিনি ভার বয়াবেন। বড়াই বুড়ীর মথুরা-যাত্রা অগ্রাম বিকিকিনি ৭০ ননী-চুরি गौना শ্রীকৃষ্ণের ভারবহন ৭৫ ও ঠাই-স্থান বা নিকট। ৫৯ তাপে—প্রতাপে, দৌরাত্ম্যে। ৬৭ বড়ই বুড়ী-(বড়+আই) মাতামহী (মায়ের পিসীমা)-ইহারই তত্ত্বাবধানে শ্ৰীমতী প্রভৃতি গােপীবৃন্দ মথুরার হাটে দধিদুখাদি বিকিকিনি করিতে যাইতেছেন। বাবার্তা বা সংবাদ। ও রস-বিল্যেস-রস-বিন্যাস। পারাপ বা পণ্য (সং-প্রসা)। ৬৯৭০-অনুরুপ বৈক প : যমুনার জলে গেল যশো নােহিণী। শূন্য ঘর পাঞল লুটে এ ক্ষীর নবনী। -ঘনরাম পাস। ৬৯ বখানে—আমের বাহিরে যে সূলে গরু পাল একত্র হয়। ৭০ বাবেল ফাইবে। শুল্য। e পটুয়া সঙ্গীত শুভ শুবার গর দিলেন বেশল্যা পাটের শিকা কৃষ্ণের কাঁধে লয়ে ভার চলিলেন রাধিকা। ঠাকুর বললেন আমি ত ভার বয়াই নাই জগতেরি সার শ্রীরাধিকার প্রেমের জন্য কান্ধে বয়াই ভার। জলে কৃষ্ণ থলে কৃষ্ণ কৃষ্ণ মহীমণ্ডলে একা কৃষ্ণ নাম ধরেন জগতসংসারে। বড় ধর, মা, বড় দুয়ার, বড় কর আশা সকল দ্য পড়ে রইবে গঙ্গার তীরে বাসা। বালিয়া-নিবাসী ত্রিলােকতারিণী চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ ] ৭৬ শুবার-সুবর্ণের। শিকাড়িতে বােনা ঝােলা বা রজ্জ্বনির্মিত আরবিশেষ। অনুরূপ—চণ্ডিকা বলেন বাছা লহ শিকা ভার (ক: ক: চণ্ডী, ২১৪ পৃঃ) ‘সিকিয়া বকুয়ে দিব দুইটা জলর হাঁড়ি —(মাণিকচত্র রাজার গান) লেল্যা পাটের শিকা [বিঃ=জলাভুমি] অলাভূমিতে উৎপন্ন এক প্রকার পাট হইতে এত শিকা। চণ্ডীদাস-প্রণীত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এন্তে মালিচা পাটের শিকার কথা উল্লেখ আছে- নালিচা কটি কাহাঞি মাঝ জলে ধুইল। বার পহর মিলে তাহা তুলিল। মুখরিলা বাছিল পাট করিল দুস। চারিশ দড়ি পাকাইল দামােদর। সুদৃঢ় বনে কৈল দুই সিকি। তলত গাখিল তার দুটি বেওয়া। বাহক যােড়িয়া গেলা যমুনার পারে। শাইল বড় চীস বাসলীবনে। ৭৯ বইবন করি।

পটুয়া সঙ্গীত (২) কৃষ্ণলীল। ভূমিকা ১০ হরি বিনে বৃন্দাবনে আর কি ব্ৰজের শােভা আছে জলে কৃষ্ণ স্থলে কৃষ্ণ কৃষ্ণ মহীমণ্ডলে। একা কৃষ্ণ নাম ধরে জগতসংসারে বকা মুরারি বাজে গােপীগণের মুখে। খােল বাজে মৃদঙ্গ বাজে বাজে করতাল তার মধ্যে নৃত্য করে মদনগােপাল। দুই ধারেতে দুই সখীগণ মধ্যে শ্যামরায় ঢলে ঢলে পড়ে গাে সখী রমণীদের গায়। কেও নাচে কেও বাজায় কেও দিচ্ছে তুড়ি বৃন্দাবনের মাঝে নিই বলেন হরি হরি। পাহাড়ে বস্ত্র লয়ে গােপীগণ স্নানে নামিল একে একে গােপীর বস্ত্র চুরি করে ডালেতে বঁধিল। ঝড় নাই জল নাই বস্ত্র কেবা হরে নিলজ্জ চোরা কালা বসন চুরি করে। বস্ত্র দাও প্রাণবন্ধু কাপড় দাও হে পরি শুকন বস্ত্র পরে নাম রাখব কালী। কালী কালী বলল না শােন গােয়ালার ঝি বিধাত করেছেন কালাে আমার সাধ্য কি ? কাপড় যদি না দিবি কানাই যাব কংস রাজার ঠাই কংসের পেতে গােপীদের জাতি কুল নাই। ব-হরণ ২০ • তুড়ি-অঙ্গুলীর ধ্বনি। ১১ পাহাড়ে-পুষ্করিণীয় চতুর্থ উচ্চ তীরভূমি। ১৫ পরি–পরিন করি। ১৫ (৫৪-৬৫) অষ্টব্য। ১৬ পরেশমিয়ান করি। • আপলো।

৭ দধির ভার- পটুয়া সঙ্গীত গাছ হতে নাম ঠাকুর পেড়ে দাও ফুল ডাল ভেঙ্গে পড়ে মরবে শূন্য হইবে কুল। ডাল বেড়িয়ে ঠাকুর বস্ত্র পেড়ে দিল ছােটাছুটি গােয়ালার কন্যা গৃহে চলে গেল। সাজ সাজ বলে বড়াই বুড়ী নগরে দিলেন সাড়া বড়াই বুড়ীর বার্তা পেয়ে সাজলাে গােয়ালপাড়া। কেও করে কেশবিন্যাস কেও করেছেন তুরি হস্ত ভরে বার করলেন সুবর্ণের চিরুণী। অর্ধেক দূরে যেয়ে ঠাকুর বসলেন বনমালী মুখে বস্ত্র দিয়ে হাসে রাধা-চন্দ্রাবলী। যেথা দধি না বিকাবে সেথা লয়ে যাব মুনির খেয়ালে শ্যামনগরে ফিরাব। দইএর লােব পৌণে পাঁচ বুড়ি দুধের লব কড়ি একটি কড়া কম হলে মারব চোঙ্গার বাড়ি। আগে যায় নন্দরাণী পেছুতে বড়াই ভারখানি বয়ে যায় এই শ্রীনন্দের কানাই। নাগবতী দুটি কন্যা উপস্থিত হইল খররা খরসি মায়ের হৃদয়ের কাঁচুনি। নিকুঞ্জ পারগগা দ্বারের প্রহরী। আ-আ-আ । অজগর চূড়াতে মা বসিলেন বিষহরি জয় দিয়ে বন্দিলাম গাে মা জয় বিষহরি। অষ্ট নাগে ভর করে পদ্মের কুমারী পদ্মফুলে জন্ম মা তাের পদ্ম নাম কমলা পদ্ম নাম কমলা মা তাের পদ্ম নাম কমলা। বহন ৩৫ ৪৩ বিষহরি ২৫-৩০-দ্রষ্টব্য (৬৬-৬৮)। ৩০ সে। পাঁচ বুড়ি-৪ গণ্ডা কড়ি মূল্য। সব কড়ি-বয় কড়ি মূল্য। ৩৪ চোদাচো= সচ্ছিন্ন বংশদণ্ড) গােদোহনের বা দুগ্ধাদি-সংরক্ষণের আধারবিশেষ। ও কচুনি-কঁচুলি। ৪• অশর চুড়াতে—অজগর সর্পের মন্তকে। ১১ বিষহৰিমনসা দেবী (বিষ হরণ করেন যিনি)।

গােষ্ঠ-সজ্জা যমরাজ ও পটুয়া সঙ্গীত আজ শ্রীদাম সুদাম দামােদর সুপল গােষ্ঠেতে সাজিল ৪৫ সিঙ্গুলি ধবলি গাভীর পাল ছেড়ে দিল। পালিন দেখ ফেলে গায় বনের পালা জলা খায়। চূড়া দিলে ধড়া দিলে পাঁচুনি দিলে হাতে গােধেনু চরাতে যায় দাদা বলরামের সাথে। এইখানে এই কৃষ্ণ এই দেখ এই নাগরিয় থানা আজ কৃষ্ণের গলে দিলে বনমালা। অবির পুত্র যমরাজা যম নাম ধরে বিনা অপরাধে যম কাউরি দণ্ড নাই করে। একজন বলতে তারা দুই জনে যায় কেও ধরে চুলের মুষ্টি কেও ধরে গায়। পাপী লােক হলে লােহার ডাঙ্গে বেড়ে গাে তার মস্তক ফাটায়। ভাল জল থাকতে যে জন মন্দ জল দেয় মৃত্যুকালে নরককুণ্ডে মুখে তার জল দেয়। চেঁকি পেতে যে জন লােককে ধান ভানতে না দেয় মৃত্যুকালে যমের দূতে চেঁকিতে তার মাথাতে পাহাড় দেয় ৬০ মস্তকে তার হাড়ের চিড়ে কুটে খায়। আপনার পতি ছেড়ে যে জন পরপতি ভজে খেজুর গাছে চাপি নারীর যম ভণ্ড করে। জগন্নাথের পুরী যেতে যাত্রিগণ বড় পায় গাে দুখ দেখিলে জনম হয় গাে দেখিলে চান্দ মুখ। ৬৫ নরকযন্ত্রণা ৪৬ সিঙ্গুলি-বলি-শামলী থৰলী। ৪৭ পাল--অ ৷ বৃনে পর। ৪৮ ধড়া পরিধেয় । • নাগৰিয় খানা-নাগর বা গ্রীকৃষ্ণের স্থান। ২ অবির পুত্র-(বির পুত্র) এবিত যন্ত। ৫ করি-কায়ও। ৫৬ -। পড়ে-বাড়ি মারিয়া বা আঘাত করি। ৫ টা মুখ দেবের চদন। ।

পটুয়া সঙ্গীত ড়ির খায় তােড়ানি মা গাে কুবেরের খায় ঝাঁটা খাট পালঙ্ক পড়ে রবে নদীর তীরে বাসা। হায় রে হরি বিনে বৃন্দাবনে আর কি ব্রজের শােভা আছে, হরি বিনে বৃন্দাবনে, এ, এ, এ। [ আয়াস-বেলেবাড়ী-নিবাসী দেবেন্দ্র চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ ) ( ৩১ কৃষ্ণলীলা নতার কদমুলে নাগরিয়া থানা বনের বনফুল গেঁথে কৃষ্ণের গলে বনমালা। হাত বাঁকা পায় বাঁকা বাঁকা মাজাখানি চরণে নেপুর বাঁকা চূড়ার টানুনি। বৃন্দাবনে তরুলতা এড়ি বেড়ি যায় ললিতে বিশাখা দুইজন চামর চুলায়। সাত বহিনা তারা গাে জলখেলা করে পাহাড়ে বস্ত্র থুয়ে সখীরা নেমেছিল জলে। ঝড় নাই বাতাস নাই দিদি বস্ত্র কেবা হরে নন্দের বেটা চিকণ কালা গােপীদের বস্ত্র চুরি করে একহাত রাখিয়ে দিয়ে একহাত তুলে কৃষ্ণের কাছে মাগে বস্ত্র মিনতি করিয়ে। ১০ ৩ ৬৬ হাড়ির খায় ইত্যাদি—পুরীর ‘হাড়ি ঝাটা’ সর্বত্র প্রসিত ]। জানি—আমানি (অন্নপানি বা অল্প জল ; ফাশি—তুশি=অল্প, পানি=ল)। নতা তানিয়া। মঙ্গখানি-মধ্যদেশ, কটিদেশ, কোমল। নেপুনুর। টানি—বিস্তৃতি। ১• চিকণ কাল- চিকণ =চিকণ=উফল)। প প :-(১) বরণ চিকন কালা তাহেতে না পীতা পরিধান করে।'—প তঃ ১৯২ :

२० মপুরায় বিকিকিনি পটুয়া সঙ্গীত বস্ত্র দাওহে নির্লজ কানাই কাপড় দাওহে পৰি আজ থেকে হব তােমার মােল শ রমণী। সেই কথা শুনে কৃষ্ণ কাপড় দিল পেড়ে কার কোন কাপড় রাধে সওগাে চিনে। আজ খােল বাজে করতাল বাজে আর বাজে বড়ি বৃন্দাবনের মাঝে ঠাকুর মুখে বলেন হরি। আজ বেউড় বাঁশের বাঁকখানি যার তরুল পাটের শিকে কৃষ্ণর কাঁধে ভার দিয়ে চলছেন রাধিকে। ভার লাও ভারতী লাওগাে গােয়ালিনী দুরন্ত বেঁকের জ্বালায় কন্ধ জ্বলে মরি। খেয়েচো রাধিকার কড়ি ঠাকুর, হয়েচো বিগারী আজ কেন বল ঠাকুর ভার বইতে নারি। যে দেশে না বিকাবে দধি সেই দেশে নিয়ে যাব নগরে নগরে তােমার ঘুরাইয়ে বেড়াব। আজ আনিয়ে না নাশ পেটারী ঘুচায় ঢাকুনী হস্ত দিয়ে বার করে সুবর্ণার চিরুণী। কেশগুলি আঁচুড়িয়ে করেন গােটা গােটা কেশের মাঝে তুলে দিছে সিন্দুরের ফোটা। নন্দ গেল বাতানেতে যশােদা গেল ঘাটে শূন্য ঘর পেয়ে ঠাকুর সে দিন ননী চুরি করে। এটে ক’সে বেঁধাে না মা বন্ধন জ্বালায় মরি নগরেতে ভিক্ষা করে মা শুধব ননীর কড়ি। ২৫ ননীচুরি ৩০ ১৯ যেউড়বাশ—একমাতীয় বাশ, এই বাশ অতি দৃঢ় । তরুল পাটের শিকে-[ তরুল=তরুণ =নূতন ] (৭৬), ২২ বেকের=বাকের। ২৩ বিগারী—বেগার বা ম, যাহারা কোনরূপ পারিশ্রমিক লয় না যা না। ২ নাশ পেটাৰী-বেশবিন্যাসের এ্যাদিসংরক্ষণের জন্য পেটাৰী ৰা আধার। ৩১ বাতাসেতে-খানেতে; বাথান-আমের বাহিরে যে স্থানে গরুর পাল এর হয়। ৩১২ (৬৯-৭০) শ্ৰষ্টব্য। ও এলো।

ht ১ শ্রীকৃষ্ণের ভারবহন আজ বেউড় বাঁশের বাঁকখানি যার তরল পাটের শিকে কৃষ্ণর কঁাপে ভার দিয়ে চলছেন রাধিকে। [পৃ: ১০] . পূতনা-বধ এক চুমুক, দুই চুমুক, তৃতীয় চুমুকের বেলায় পূতনা বধ হ’ল পূতনা ম’ল ভালই হ’ল শব্দ গেল দূরে— পৃতনা পড়ে রইল চৌদ্দ ভুবন পৰ্বত সমান জুড়ে পৃ: ২]

No text on this page.

৪৩ ৪৫ পটুয়া সঙ্গীত আজ সাজ সাজ বলে নগরে দিল সাড়া ৩৫ বড়াই বুড়ীর বড়াই বুড়ীর বাত্রা দিয়ে সাজল গােয়ল পাড়া। পসরাসজ্জা দইএর পসরাগুলি সখীরা মস্তকেতে নিল মস্তকেতে নিয়া সখীরা দরিয়ার ঘাটে গেল। দরিয়ার ঘাটে যেয়ে সেদিন মাঝিকে ডাক দিল আজ পার কর পার কর মাঝি বেলা পানে চেয়ে দধি দুগ্ধ নষ্ট হ’ল সময় গেল ব’য়ে। দানখও সব সখীকে পার করিতে লিব আনা আনা বা নৌকাখণ্ড শ্রীরাধাকে পার করিতে আমি লিব কানের সােনা। কানের সােনা লাও কড়ি লাও ঠাকুর তাও দিতে পারি এই যে দরিয়ার মাঝে হেঁটে যেতে নারি। আজ সব সখীকে পার করিতে লিব বুড়ি বুড়ি বড়াই বুড়ী পার করিতে লিব পাটের শাড়ী। পাটের শাড়ী চাও মাঝি তাও দিতে পারি সমুদ্র দরিয়ার মাঝে আমি হেঁটে যেতে নারি। আজ চেয়াে কড়ার মাঝি লও ঠাকুর আট কড়া দিব তাই বলে কি তােমায় আমি পাটের শাড়ী দিব। আজ কাঠের দেশে থাক মাঝি কাঠের কিবা দুঃখ ভাঙ্গা লায়ে খেয়া দিতে কতই পেছ সুখ। ভাঙ্গা লয় ভাঙ্গা লয় আমার বরজরিয়া কাঁড়ি কত হস্তী ঘােড়া পার করেছি শ্রীরাধে কি এতই ভারী। কতগুলিন রাখালগণ জল খেতে নেমেছিল কালীদহের কূলে বিষ পান করিয়ে পড়ল কালীদহের জলে। ৫৫ ৩৫-এ-দ্রষ্টব্য-২ (২৫-২৬)। ৩৭ বিয়াৰ-নদীর। ৪৫ বুড়ি বুড়ি—এত্যেকের জন্ঠ এক বুড়ি বা ৪ করিয়া । হে লায়েনৌকার। ৫৩ ঝাড়ি-তালগাছের নির্মিত নৌকা।

পটুয়া সঙ্গীত কালীয়দমন কোথায় ছিলেন কৃষ্ণ কালীদহে ঝাঁপ দিয়েছিলেন কোথায় ছিলেন কালীর নাগ মস্তকে তুলে নিন। নাগবতী কন্যারা সে দিন উৎপন্ন হল। ফুল এনে প্রাণ ধের্য্য ধর গাে আমার ফুল বিনে প্রাণ গেল। [ পাকুড়হাস-নিবাসী বিপদ চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ ] ( ২ ) কৃষ্ণলীলা যুগল-বিলাস জলে কৃষ্ণ স্থলে কৃষ্ণ কৃষ্ণ মহীমণ্ডলে একা কৃষ্ণ নাম ধরে জগতসংসারে। কালিয়া কদমূলে নাগরিয়া থানা বনের বনফুল দেখুন ঠাকুরের গলে। কাচবেড়া কাঞ্চনবেড়া আরও বেড়া ধরা রাধাকৃষ্ণ রাধাকৃষ্ণ ভিন্ন নাই একই রঙ্গে যােড়া। খােল বাজে করতাল বাজে মৃদঙ্গ বাজে হাতে বাকুমুরি বাজে সখীগণের মুখে। চারি ধারে সখীগণ মধ্যে শ্যামরায় ঢলে ঢলে পড়েন দেখুন রমণীদের গায়। খেলারসে ছিলেন কানাই গােপীদের সনে হেরিয়ে গােপিকার বস্ত্র পড়ে গেল মনে। পাহাড়ে বস্ত্র থুয়ে সখীগণ সিনানে নামিল স্নান আহ্নিক করে সখীরা পাহাড় পানে চায়। ঝড় নাই ঝঙ্কর নাই গােপীর বস্ত্র কেবা হরে নন্দের বেটা চিকণ কালা গােপীর বস্ত্র ডালেতে বেঁধেছে। ১০ ১৫ ১১-২৮-অব-১ (৫), ১৯২৪)।

২০ ২৫ পটুয়া সঙ্গীত বস্ত্র দাও বস্ত্র দাও ঠাকুর পরিধান করি শুকনা বস্ত্র পেয়ে নাম রাখিব কালী। কালী কালী বলিস্ না গাে শুন গােয়ালার ঝি বিধাতা করেছেন কালাে আমার সাধ্য কি ? বস্তু যদি না দিবে ঠাকুর যাব কংস রাজার ঠাই কংসের তাপে কানাইএর জাতি কুল নাই। বারে বারে দিস্ না তােরা কংসের তুলনা অবােধ কালে বধেছিলাম ভগিনী পূতনা। গাছ হতে নাম কানাই পেড়ে দাও ফুল • ডাল ভেঙ্গে পড়ে মরবে শূন্য হয় গােকুল। ডাল বেড়ি বস্ত্র পেড়ে দিল দৌড়াদৌড়ি গােয়ালার কন্যা গৃহে চলে গেল। সাজ সাজ বলে বিলা বড়াইবুড়ী নগরে দিল সাড়া বেশ-বিন্যাস বড়াইবুড়ীর বাত্রা পেয়ে সাজলাে গােয়ালপাড়া। ৩০ ঘুচাওয়ে বেশ পেটারী সুবর্ণার চিরুণী সুবর্ণার চিরুণীতে কেশগুলিকে করলে গােটা খােটা তার মধ্যে তুলে নিলেন চন্দনের ফেঁটা। সখীরা বলে আমরা যে মথুরা যাব ভার কে বাঁধিবে জগদীশ্বর হরি আছেন তিনি ভার বােয়ান। সুব সুবর্ণার বাঁক দিলেন বেলুল্ল পাটের শিকে মথুরায় কৃষ্ণের কাঁধে লয়ে ভার চলিল রাধিকে। বিকিকিনি- ঠাকুর বলে আমি তাে বওয়াই নাই ভার জগতেরি সার সজা শ্রীরাধিকার প্রেমের জন্য স্কুলে বই ভার। বড়াই বলে খেয়েছেন রাধের মজুরী কানাই হয়েছেন বিগারী ৪০ এখন কেন বল কানাই ভার বইতে নারি। যেথা দধি দুগ্ধ না বিকাবে কানাই যেথা লয়ে যাব মনেরি খেয়ালে শ্যাম হে তােমাকে নগরে ফিরাব। ৩৫ ৯-u-৩ (৩৬)। ও মুর্ণার ক—অর্ণনির্মিত বাক বা ভার।

৪৫ দনলীলা বা নৌকাখণ্ড পটুয়া সঙ্গীত আমরা বেচিব দই দুগ্ধ তুমি সাধবা কড়ি একটি কড়া কম হলে মারব চোঙ্গার বাড়ি। লজ্জাতে লজ্জিত হয়ে কানাই বসলেন দানের ঘাটে। সব সখীকে পার করিতে আজ লিব আনা আনা শ্রীরাধাকে পার করিতে লিব কর্ণের সােনা। সােনা লাও সাড়ী লাও ঠাকুর সকল দিতে পারি দুকূল যমুনা গঙ্গা হেঁটে যেতে নারি। তিনখান কাষ্ঠ দিয়ে তবে নৌকা নিৰ্মাণ করিল। নৌকার গুমানে ব্রজ গােপিনী করেন পার। ডরায় গােয়ালের কন্যা বুকে মারেন ঘা কাজ নাই কানাইয়া তােমার ভাঙ্গা লা। ভাঙ্গা লয় চূরা লয় আমার মজুরিয়া কাড়ি হস্তী ঘােড়া পার করেছি রাধে কতই ভারী। কাঠের দেশে থাক কানাই কাঠের কিবা দুখ ভাঙ্গা লায়ে খেয়া দিতে কতই পেছেন সুখ। এপারের নৌকা কানাই ওপারে নাগাইল দৌড়াদৌড়ি গােয়ালের কন্যা মথুরা চলিল। ভাগ্যবতী মা যশােদা নবনী চাটায় দাদা বলরাম বাছুর ধরে রয়। কালকৃষ্ণ ধবলমুখী গাই দোয়ায় মনের সুখে চোঙ্গাতে না আঁটে দুগ্ধ ঢালেন চন্দ্রমুখে। চূড়া দিল ধড় দিল পাঁচুনি দিলেন হাতে গােধন চরাতে যাবেন দাদা বলরামের সাথে। রামের হাতে শ্যামকে দিয়ে বলেন ইন্দ্ররাণী আমার গােপাল গােষ্ঠে যাবে এনে দেবে তুমি। ৬০ গােষ্ঠলীলা ৪০ সাধবা ফড়ি-মুল্য আদায় করিবে। ৪৬ দানের ঘাট—যে ঘাটে নৌকা পার হইবার শুরু বা মাশুল আদায় হয়, ২ মানে-অহঙ্কারে বা গর্বে। —ষ্ট্য—৩ (৪২-৫৫)। $ চোদা-গােলদহনের পাত্রবিশেষ। না খাটে—সঙ্কুলান হয় না। * ধড়া-পাটুনি-পরিধেয় বস্ত্র ও গরু চরাইবার লাঠি।

পটুয়া সঙ্গীত ৭০ ৭৫ খাবার সময় খেতে দিও ক্ষীর সর নবনী তরুর ছায়াতে রেখ গােপাল গুণমণি। সাজ সাজ বলে রাখালগণ গােষ্ঠেতে সাজিল লবন তমালবন মধুবন নিকুঞ্জবন ঠাকুর সকলি নিৰ্মাণ করিল। মধুবনে মধু খেয়ে দাদা বলরাম ঢলিয়া পড়িল। সেইখানে ছিলেন গিরি গােবন মার মার ব’লে গিরিধর পড়িতে লাগিল। দ্বাদশ রাখালগণ কড়ে আঙ্গুলের ঠেকা দিয়ে পৰ্বত ধারণ করিল সেইদিন হতে ঠাকুরের গিরিধর নাম যে রাখিল। কালীদহের কূলে ছিল কেলিকদম্বের গাছ কালীয়-দমন তাতে চড়ে কৃষ্ণচন্দ্র দিয়েছিলেন ঝাঁপ। কালীগ আজ আহার বলে সকলে ঘেরিল ৮০ নাগবতী দুইটি কন্যা উপস্থিত হইল। নাগের মাথায় পদ দিয়ে দেখুন ঠাকুর নাচিতে লাগিল। নাগ বলে দেখুন আমার যশােভাগ্য হল কৃষ্ণের পাদপদ্ম বুঝি মস্তকে উঠিল। জয় দিয়ে বন্দিলাম মা জয় বিষহরি অষ্টনাগে ভর করেন পদ্মের কুমারী। পদ্মফুলে জন্ম মা পদ্ম নাম কমলা খয়রা খরসী মা তাের হৃদয়ের কঁচুলী। অজগর বােরাতে বসিলেন বিষহরি বিষহরি ঊনকোটি নাগ মার কর্ণের মদন কড়ি। ৯০ ৫ রবির পুত্র যম রাজা যম নাম ধরে বিনা অপরাধে যম কারু দণ্ড নাহি করে। চুত্রগুপ্ত মহুরী তারা দিবারাত্র লেখে যারসমন কপালের লিখন বিধাতা লিখেছে যমরাজ ও নরক-যন্ত্রণা অপর নােয়তে—অজগর সর্পের মতকোপরি। ৯. মাকড়ি-কর্ণের অলরুবিশেষ।

১৬ পটুয়া সঙ্গীত ভাল লােক হলে দেখুন কৃষ্ণদূতে যায় মন্দ লােক হলে যমদূত সদ্য যান। কেউ ধরে চুলের মুষ্টি কেউ ধরে পায় পাপী লােক হলে শীঘ্র করে যমালয় পাঠায়। আপনার পতি ত্যাজ্য কোরে যে নারী পরপতি সেবা করে তার মত পাপী দেখুন নাইকো সংসারে খেজুর গাছে চড়ে নারীর যমদও করে। ভাল জল থাকতে যে জন মন্দ জল দেয় মৃত্যুকালে নরককুণ্ডের জল তাকে যমদূতে দেয়। সত্য দ্বাপর ত্রেতা কলি চার যুগে পড়িল কলির রাজা স্ত্রীকে ঘাড়ে লয়ে, বুড়া মার মাথায় চাল ডালের টোপলা দিয়ে গঙ্গাস্থান চলিলেন। ঢেকি পেতে যে জন ধান্য না ভানতে দেন মৃত্যুকালে লােহার টেকি পেতে চিড়া কুটে খায়। মিথ্যা কথা মিথ্যা প্রবঞ্চনা মিথ্যা সাক্ষী দেন গুরু গােবিন্দ নাম যিনি না লেন তপ্ত সাঁড়াশী করে তার জিহ্বা টেনে লেয়। হীরামুনি নাম বেশ্যা ছিল গহক পাপের পাপী অন্নদান বস্ত্রদান সাধু সঙ্গে হরিনাম করে প্রাণ পরিত্যাগ করিল কৃষ্ণদূতে পুষ্পরথে বৈকুণ্ঠে লয়ে গেল। যা খাওয়াবেন যা বিলাবেন ঐ না রহিবে সার ১১৫ কৃষ্ণ নামে দান কল্লে বৈকণ্ঠে ধরা রয়। বড় ঘর বড় দুয়ার বড় কর আশা সকল দ্রব্য পড়ে রইবে গঙ্গাতীরে বাসা। ১১০ ১১৮ . ( আয়াস-নিবাসী গােপাল চিত্রকরের গান হইতে লিপিব ] টোপল-পেট। ২ গহক পাপের পাপ [‘গহক- দেশজ শ; নিরতিশয় )।

পটুয়া সঙ্গীত ১৭ ( ৫ ) কৃষ্ণ-অবতার শ্রীকৃষ্ণের কানিয়া কদম্বমুলে নাগরিয়া থানা বনফুল গাঁথিয়ে কৃষ্ণের গলে বনমালা। হাত বাঁকা পায় বাঁকা বাঁকা মাজাখানি চরণের নূপুর বাঁকা চূড়ার টামুনি। চূড়া বাঁধে নানা ছদে অলকা দুলালী তাও দেখে ভােলে ব্রজের যােল শ রমণী। তার ধারে ধারে নাম লিখেছে রাধা বিনােদিনী চার কড়ার বাঁশী নয় ঠাকুর পিতলের হেঁয়ানি। কোন কোন গােপী বলে, বাঁশ শিয়া নয় তরল বাঁশের ডগা ডাকে নাম ধরে বাঁশী সদাই রাধা রাধা। সেই বাঁশী দিবানিশি করে অপমান সেই বাঁশীতে ভােলায় সকল ব্রজগােপীগণ। পাড়ে বসন রেখে তবে জলখেলা করে গােপীর বসন লয়ে কানাই সেদিন ডালে বন্ধন করে। জলখেলা করতে গােপী পাড় পানে চায় শুকান বস্ত্রখানি দেখিতে না পায়। ঝড় নাই ঝঙ্কর নাই বস্তু কেবা লয় নন্দের বেটা চিকণ কালা গােপীর বসন ধরে লয়। কে নিলে বস্তু সকল গােপীগণ কেঁকায় বলে চল চল যাব আমরা কংস রাজার ঠাঁই २० কৃষ্ণের অভিতাপে আর জাতি কুল নাই। কৃষ্ণ বলে বারে বারে তােমরা দিওনা কংসের তুলনা আমি শিশুকালে বধেছি কংসের ভগিনী পূতনা। বস্ত্রহরণ ৮ পিতলের হেয়ানি-পিতল দিয়া বাখানাে। ১৮ কোশীৎকার করে।

৩৫ পটুয়া সঙ্গীত বলে, পুরুষ বট শ্যাম নাগর সব তােমার সাজে আমরা যদি পুরুষ হতাম মরে যেতাম লাজে। পরের নারীর বসন লয়ে কেবা ডালে বাঁধে। জলখেলা সাঙ্গ হল, সকল গােপী গৃহে চলে যায়। তখন সাজ সাজ বলে বড়াই নগরে দিল সাড়া বড়াই বুড়ীর বাত্রায় সাজিল গােপের পাড়া। কে কে যাবি গােপী সকল তােমরা মথুরার হাটে চল তখন রাধে বলে ওগগা দধির ভার লবে কে ? বলে নন্দের বেটা চিকণ কালা ওকে দধির ভার লয়ে দাও সুভ সুবর্ণার বাঁকখানি বেল্প পাটের শিকে কৃষ্ণের কাঁধে ভার দিয়ে গাে লয়ে চলিল রাধিকে। আমাদের যেথায় বিকাবে দধি সেথায় নিয়ে যাব মনের সহিত তােমায় নগরে ঘুরাব। কৃষ্ণ বলছে আমরা তাে বইনা ভার জগতেরি সার রাধা-প্রেমের জন্য তাইতে কাঁধে বইছি ভার। তখন দধি দুগ্ধ ছানা মাখন লয়ে চলিল দানখণ্ডে গিয়ে তখন উপস্থিত হইল। শীঘ্রগতি পার কর কানাই তুমি বেলাপানে চেয়ে দহি দুগ্ধর সময় যাচ্ছে ব’য়ে। দুগ্ধের লব পণ পণ নবনীর লব বুড়ি কড়া কতি হলে আমি মারব চোঙ্গার বাড়ি। বড়াই বলে কাজ নাই কানাইয়া কৃষ্ণ তােমার ভাঙ্গা লা ডরাইছে গােপের নারী কপালে মারে ঘা। কৃষ্ণ বলে ভাঙ্গা লয় টুটা লয় ভক্তি-ভাবের তরী হস্তী ঘােড়া পার করেছি ওগাে শ্রীরাধা কত ভারী। অরবহন দানলীলা ৪৫ ২৮-৩ (৩৫-৫); ৪ (২৯৫৬)। ৩০ বেলপাটের সিকে-[ বিল্ল=জলাভূমি) জলাভূমিতে উৎপন্ন একপ্রকার পাট হইতে একা এইব ১ (৭৬)। ১০ লা লা নৌকা।

পটুয়া সঙ্গীত সব সখীকে পার করিতে লিব আনা আনা শ্রীরাধাকে পার করিতে লিব কানের সােনা। সােনা লাও শাড়ী লাও সকল দিতে পারি তবু তাে দুকূল যমুনার জলে হেঁটে যেতে নারি। এই ঘাটের নৌকাখানি ওঘাটে লাগাল মথুরায় গমনে সকল গােপী চলিল। মথুরাতে গিয়ে গােপী করে বেচা কেনা দ্বারে বাজছে নহবতখানা প্রেম কাঙ্গালী যেতে মানা। ডাকিলে উত্তর মেলে না বুঝি বিষয় পেল এইখানে সকল খেলা সাঙ্গ হয়ে গেল। ৫৫ ৫৮ [ রুসুমযাত্রা-নিবাসী শশিভূষণ চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ ] ( ৬ ) দানখণ্ড নিত্য নিত্য যাও তুমি সকলে ভাঁড়াইয়া বিরলে পেয়েছি তােমায় না দিব ছাড়িয়া । নিত্যি নিত্যি যাই আমি করি বেচাকিনি কভু তাে শুনি নাই ঠাকুর ঘাটের মহাদানী। ঘাটের ঘেটেল আমি পথের মহাদানী আজ দানের সততা কেড়ে লােব তােদর বাধা বিনােদিনী। দুগ্ধের লােব পণ পণ নবনীর লােব বুড়ি কড়া কমতি হলে মারব চেঙ্গার বাড়ি। কাজ নাই কানাইয়া নাগর তােমার ভাঙ্গা লা • যেটেল-খাটিয়াল; নদীর ঘাটের পথরক্ষক এবং শুৰু ৰা মাশুল আদায়কারী। মহাদানী-মাশুল আদায়কারী সর্বোচ্চ পদস্থ ব্যক্তি। [নও বা মাশুল)। সতো-সতি, সঙ্গে।

২. ১০ পটুয়া সঙ্গীত ডরাইছে গােপের কন্যা কপালে মারেন ঘা। সব সখীকে পার করিতে লিব আনা আনা। শ্রীরাধাকে পার করিতে লিব কর্ণের সােনা বড়াইকে পার করিতে লিব পাটের শাড়ী। সাড়ী লাও সােনা ও সকলি দিতে পারি তবু তাে দুকূল যমুনা হেঁটে যেতে নারি। এ ঘাটের নৌকা তখন ও ঘাটে লাগাইল নৌকাতে পার হয়ে সখীরা মথুরায় চলিল। ১৫ ১৭ ( ৭ ) কৃষ্ণ-অবতার কিরূপে জন্মিল হরি দৈবকীর উদরে ( ওগাে) নানা রঙ্গে করেন খেলা কদম্বেরি তলে। কানিয়া কদম্বমূলে নাগরিয়া থানা বনফুলে গেঁথে কৃষ্ণের গলে মালা। হাত বাঁকা পায় বাঁকা যার যাঁকা মাজাখানি চরণে নূপুর বাঁকা চূড়ার টানুনি। চূড়া বাঁধে মন ছাদে ব্ৰজের অলকা দুলালী তা দেখে সব ভুলে গেল ব্ৰজেনাে গােপিনী। কোন চূড়া শ্বেত লেত কোন চূড়া কালী গঙ্গাজল নাম, চামরে আউটত বালী। একেতে বিদুর বৈষ্ণ, কৃষ্ণপ্রেমে ভােলা কৃষ্ণের হাতে দিয়ে চোকা ভূমে ফেলে কলা। ভূমেতে পড়িল কলা বিদুর নয়নে হেরিল কৃষ্ণের রাতুল চরণ ধরিয়া তখন কাঁদিতে লাগিল, ১০ শ্রীকৃষ্ণ-বিদুর- সংবাদ ১১ লে-বিভাের। ১২ 6ো-খেলা।

২১ ১৫ বস্ত্রহরণ ২৫ পটুয়া সঙ্গীত একে ত বিদুর বৈষ্ণম না কাঁদিয় তুমি। ভূমেতে পড়ুক কলা কুড়িয়ে খাব আমি। বিদুরকে চাইতে ভক্ত বিদুরের মা নিরবধি বল রে বাপ কৃষ্ণ ভজ গাে। পাহাড়ে বসন রাখিয়ে গােপীগণ শেয়ানে নামিল জলখেলা করিতে সখীগণ সব পাহাড় পানে চায়। একে একে গােপীদের বসন কানাই ডালেতে বাঁধিল। ঝড় নাই, ঝঙ্কর নাই, মােদের বস্তু কেবা হরে ? নন্দের বেটা চিকণ কালা বসন চুরি করে। কেউ কাঁদে জলে বসে কেউ পাহাড়ে কেউ কেউ কঁদিছে কৃষ্ণের রাতুল চরণে ধরিয়ে, কাপড় দাও হে নির্লজ কানাই, বস্ত্র দাও হে পাড়িয়ে আজ হইতে হব ঠাকুর তােমারই রমণী। কাপড় না দিলে যাব কংস রাজার ঠাই কংসের পিতে গােপীদের জাতবিচার নাই। বারে বারে কি দিস্ রাধে কংসের তুলনা শিশুকালে বধেছি কংসের ভগিনী পূতনা। সাজ সাজ বলিয়ে বড়াই নগরে দিলেন সাড়া বড়াই বুড়ীর যাত্রায় সাজিলেন গােয়ালপাড়া। বার করিলেন নাশ-পেটারী ঘুচাইলে ঢাকুনী হস্তভরে বাহির করিলেন সুবর্ণার চিরুণী। সুবর্ণার চিরুণী আনি নখকে চিরে নিল মলঙ্গে মাথার কেশকে তেলেতে ভিজাইল। কেশগুলি আঁচুড়ে রাধে করেন গােটা গােটা তাহার মধ্যে সুবিধ করে চন্দনের ফোঁটা। শ্বেত সুবর্ণার বাঁকখানি, ওগাে বেলুন পাটে শিকে কৃষ্ণের কাঁধে দিয়ে ভার চলেছেন রাধিকে। বড়াই বুড়ীর যাত্রা ৪০ ১ শেলনে-সিনে মনে। ৩ বার-বার্তা, কথা বা আজ্ঞা পাইয়া। ৩০ -পেটরী-বেশি করি অ্যাসিলিত পেটানী।

দানশীল পটুয়া সঙ্গীত ভার কভু বই নাই আমি জগতেরি হরি দুরন্ত বেঁকের জ্বালায় কন্ধ জ্বলে মরি। রাধিকে বলে ঠাকুর খেয়েচো রাধির কড়ি হয়েছ বিগারী আজ কেন বলল দীননাথ ব্ৰজে ভার বইতে নারি। ভারখানি নামিয়ে বসিল বনমালী মুখে বসন দিয়ে হাসে চন্দ্রাবলী। ই ঘাটের দানী ঠাকুর কবে হলে দানী দান দিয়ে নৌকায় চাপ রাধে বিনােদিনী। সব সখীকে পার করিতে লিব আনা আনা শ্রীরাধিকে পার করিতে লিব কানের সােনা। সােনা লাও সাড়ী লাও ঠাকুর আমি সব দিতে পারি মধ্যে দরিয়ায় তবু হেঁটে যেতে নারি। তা শুনিয়া পার করে দিল। একে একে গােপীগণ সব মথুরায় চলিল। [ পানুরিয়া-নিবাসী পঞ্চানন চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ ] ( 8 ) কৃষ্ণ-অবতার হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধু, গােপেশ্বর, গােপকান্ত, রাধাকান্ত নমন্তিতং পদে। কৃষ্ণ ভাব, কৃষ্ণ চিন্তা, কৃষ্ণ কর সার যে ধরিয়া না ভজিবে, নন্দেরি কুনার। কদম্বতলাতে কৃষ্ণ মুরারি বাজায় রাধামাধব তারা তফুলা জোগায়। ৪৩ বেঁকে-বাঁকের বা ভায়ের। ১৮ অলী-মাশুল গান্ধী [ ন-গুৰুৰা মাশুল ]।

পটুয়া সঙ্গীত ১০ রাধা জোগায় তম্বুলা, বিমলা করে পাখা ময়ুরের পশ্চাতে অনেকে করে শােভা। বিন্দাবনের তরুলতায় এড়িবেড়ি যায় ভ্রমরা মরি তারা কৃষ্ণগুণ গায়। বিন্দাবনের পক্ষগুলি বড় পূর্ণমান দিবারাত্র তারা করে কৃষ্ণগুণগান। কৃষ্ণনাম পরমপদ যেবা নরে পূজে কৃষ্ণনাম করি ঢাল যে জন যমের সঙ্গে যােঝে। অনন্তশয়নে হরি শয়ন করিল লক্ষী এসে পদসেবা করিতে লাগিল। তেত্রিশ কোটী দেবতা করিয়ে যুকতি বলে অসুর মার, হে গদাধর রাখ হে সৃষ্টি। দেবতাদের কথা প্রভু ঠিলিতে নারিল জয়া বিজয়া দুই জন সঙ্গে করে লইল। জয় জয় বলে প্রভু মর্তে দিলেন পা প্রথমে দৈবকীর ঘরে কৃষ্ণ তােলেন গা। খাট পেড়ে দৈবকী সুনিদ্রা যায় শিয়রে থাকিয়ে হরি চৈতন্য জানায়। তােমার গর্ভেতে দাওগে কৃষ্ণেরে ঠাই। দৈবকী স্বপনেতে কহিছেন কাহিনী যে আমার গর্ভেতে নাহি স্থলখানি। সাতপুত্র স্থল দিলাম কংসে বধিল তােমাপুত্রে স্থল দিলে কতই পাব সুখ। আমপুত্র স্থল দিলে বই পাবে সুখ বধিব পাটের রাজা নরপতি কংসাসুর। ক্ষত্রিয় মারিয়া আমি নিত্রি করিব বলি রাজার ছলিতে পাতালপুরী যাব। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ২০ দৈবকীর স্বপ্ন ২৫ ৩০ ১ পাশ। ১২ কাম করি ঢালকৃষ্ণনামকে আত্মরক্ষার উপায় করি।

২৪ পটুয়া সঙ্গীত গভবাস ৩৫ ৪০ এতেক বলিয়া কৃষ্ণ স্থল নাহি পেল শ্বেতমাছির রূপ ধরি গর্ভেতে পূজিল। এক মাস, দুই মাস, শুনি কানাকানি পঞ্চমী গর্ভেতে মায়ের লোকে জানাজানি। সপ্তমী গর্ভেতে তখন রাজারে শুনিল নাগড, কালডগু পহরা রাখিল। জগদ্দল পাথর বসুর বুকে চাপাইল গর্ভপূজা করিতে নারদ মুনি এল। গর্ভে হতে শ্রীহরি কহিছেন কাহিনী বলে ও নারদ ভাদুরী অষ্টমী দিনে কৃষ্ণের জনম তামাম মথুরা সব শিলে বরিষণ। মারিবে কংসের চর না পাইয়া চেতন এতেক বলিয়া নারদ বিদায় হইল। গর্ভে হতে শ্রীহরি ভূমিন্তে পড়িয়া চতুর্ভুজ হলেন। আচম্বিতে বসুদেবের বন্ধন খুলে গেল। বার হয়ে দেখ বস্তু বাধে কোন অনুবাদ আজ আমারে লয়ে চলাে নন্দালয়। বসুদেব আসিয়া ছওয়াল কোলে লইল যমুনার ধারে প্রভু আসি ভাবিতে লাগিল। হেথা মা দুর্গা নবী অন্তরে জানিল শৃগালের রূপ ধরি যমুনা পার হইল । সেই অনুসারে বসু জলেতে নামিল সপ্তত তালগাছ জল একুই হেঁটো হল। হাত ফুকুলে কৃষ্ণচন্দ্র জলেতে পড়িল পদ্মপুষ্পের উপরে কৃষ্ণ খেলিতে লাগিল। ৪৫ যমুনা পার ৫০ ৩৮ জগদ্দল-ত্যন্ত লমী এর। ০১ আলীশত্রল। ৭" অনুব-এতিকুলতা (অনু=পশ্চাৎ বা=বিবাদ)। ৫৪ এই ফেটে -এ টু পরিমাণ (অর্থাৎ জলের গভীরতা হাঁটু পর্যন্ত)। ৫৫ হলে-মত হয়।

পটুয়া সঙ্গীত ২৫ বসুদেব দেখে কাঁদিতে লাগিল ব্রাহ্মণের কান্না প্রভু সহিতে নারিল। লম্ফ দিয়ে কৃষ্ণ কোলেতে উঠিল নিশিযােগে নালয়ে ছওয়াল বদল করিল। পুত্র বদল দিয়া বসু কন্যা বদল লিল সেই কন্যা আসি দৈবকীর কোলে দিল। দৈবকী বলে যে আমার ঘরের সােনার চাদ কার ঘরে দিল, কার ঘরের পােড়ামুখী মাের কোলে দিল। ছওয়াল ওঁয়া-চেঁয়া করে কঁদিতে লাগিল কুড়িটা অসুর এসে পুরীটা ঘেরিল। দৈবকীর কোলের ছওয়াল কাড়িয়া লইল ধােবার পাটে আছিরে মারিতে হুকুম হইল। হাত ফুকুলে মহাময়ী স্বর্গবাহিনী হইল। স্বর্গবাহিনী কহিয়ে যায় আমারে মারিতে তােরা বীর জম্মিলি ততাদের রাজাকে যে মারিবে, সে গােকুলে জন্মিল। তখন কাঁদে রাজা খাটে আর গা বােন বােন পূতনা করে ঘন ছাড়ে না। এসসা বােন বসাে বাটা স্তম্বুল খাবে শিশুকালে গিয়ে কৃষ্ণরে বধিবে। একে বােন পূতনা রাজা আজ্ঞা পেল বিষের স্তন দুটি নির্মাণ করিল। সই সম্বা করে গেল নন্দের বাড়ী বলে সই তােমার ঘরের কেমন ছওয়াল দাও মাের কোলে। ৮০ নির্বদ্ধির গােয়ালার মেয়ে বুদ্ধি নাইকো ঘটে শ্রীপুত্র লয়ে দিছে, পূতনারি কোলে। ৭০ ৭৫ খােম পাটে ইত্যাদি-খােপার কাপড় কাঁচিবার পাটাতে আংড়ি মামির ৬৯ ফুলে-ফস্কাই ৭০ অসুল-তাম্বুল, পান; বাটা-তাম্বুল মাখির পাত্র ৭৯ সই সখ করে—সই সম্বন্ধ পাতাইয়া ১ ৮৫ পটুয়া সঙ্গীত কৃষ্ণচন্দ্র ভগবান, অন্তরে জানিল আমাকে মারিতে আজ পূতনা মাসী এল। কর স্তনপান কৃষ্ণ কর স্তনপান চুমকারির ঘায়ে পূতনার বধিল পরাণ। পড়ল বিটী পূতনা আশাবদ্ধ গেল দুর এমতে প্রকারে মরে দাতার শত্তর। [ বনকাপাসী নিবাসী উপেন্দ্রচন্দ্র চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ ] ৮ ca ৫ ব্রজলীলা কানাইয় কদমুলে নাগরিয় থানা বনের বনফুল গেঁথে হরির গলে বনমালা। হাত বাঁকা পায় বাঁকা বাঁকা মাজাখানি চরণের নেপুর বাঁকা যেন চূড়ার সাজুনী। বাঁধিল বিনােদের চূড়া ময়ুরপুচ্ছ দিয়ে নবরঙ্গ মালতীর মালা দিচ্ছেন চূড়াতে বেড়িয়ে। পরের নারীর বসন ধরে সদাই বল বস নিজের কড়ি ভেঙ্গে ঠাকুর বিয়ে নাইকো কর। বিয়ে করব কি হে রাধে, তাই নাইকো দায় তােমার মত রসবতী খুজলে কোথা পাই ? আমার মত রসবতী খুজলে কোথা পাবে গলাতে কলসী বেঁধে যমুনায় ঝাঁপ দিবে। চারি কড়ার বাঁশী নয় ঠাকুর পিতলের হেয়ানী ধারে ধারে লেখা নাম রাখে কলঙ্কিনী। ১০ * চুমাৰি-চুমকের টানে ও বিটা-কন্যা, মেয়ে (এখানে অবজ্ঞাচক শব্দ) • বিয়ের কড়ি ফেনিজের পয়সা খরচ করিয়া ১ পিলের নানী-পিতল মি বা ২৭. ১৫ २० ২৫ পটুয়া সঙ্গীত বৃন্দাবন করিলেন হরি, বৃন্দাবন করিলেন। বৃন্দাবনের তরুলতা এড়ি বেড়ি যায় ভ্রমরা ভ্রমরী তারা কৃষ্ণগুণ গায়। পাহাড়ে বস্ত্র থুয়ে গােপীকাগণ জলখেলা করে কোথা ছিল চোরা কানাই, গােপীদের বস্ত্র চুরি করে। স্নান করে গােপীকাগণ পাহাড় পানে চায় শুখান বগুলি দেখিতে না পায়। ঝড় নাই বাতাস নাই যে বস্ত্ৰ উড়ে যাবে নন্দের বেটা চিকণ কালা হরি ও বসন চুরি করে। বস্ত্র বস্ত্র করে সখীরা করেগাে চীৎকার কদম গাছে চেপে হরি বাঁশরী বাজায়। কেউ জলে বসে, কেউ কাঁদে পাহাড়ে। বস্ত্র দাও হে নিল ট কানাই বস্ত্র দাও হে কাপড় দাও হে পরি শুখান বন্ত্রে যেন দেখাে না মুছ কালী। কাল কাল বলিস না ও গােয়ালার ঝি বিধাতা করেছে কাল আমার সাধ্য কি ? বস্ত্র দাও ওহে ঠাকুর কাপড় দাও পরি আজ হতে হলেম ঠাকুর আপনার চরণের দাসী। বস্তু যদি না দেবে যাব কংস রাজার বাড়ী। বারে বারে কি দাও রাধে কংসেরি তুলনা শিশুকালে বধ করেছি কংসের পূতনা ভগিনা। কংসের বিচারে সখীদের জাত-কুল নাশ। ওই কথা বলে সখীদিকে কাপড় দিল পেড়ে কার কোন্ বস্ত্র রাধে লাও হে চিনে। সাজ সাজ বলে বড়াই নগরে দিছে সাড়া বড়াই বুড়ীর বার্তা শুনে সাজে গােয়ালপাড়া। ৩০ ৪০ ২। সিলনি, নিলাজ বা বেহায়া -- ২৬ ৪ ', ৫০ পটুয়া সঙ্গীত বার করিল নাশ-পেটারী খুলিল ঢাকুনী হস্ত ভরে বাহির করে সুবর্ণার চিরুনী। সুবর্ণার চিরুনী আনি নখে চিরে দিল গঙ্গাজলি মাথার কেশ তেলেতে ভিজাইল। কেশগুলাে আঁচুড়ে রাধে করে গােটা গােটা তাহার মধ্যে তুলে নিছে যেন সিরিয়া টোপা। নাশ-বেশ করে সখীরা দধির পসরা নিচ্ছে মাথে চলিল গােয়ালার কন্যে ওগাে মথুরারি পথে। শুভ সুবর্ণার বাঁকখানি বেলুল্যা পাটের শিকে কৃষ্ণের স্কন্ধে দধির ভার চলিছে রাধিকে। আগেতে সুন্দরী রাধে পেছুতে বড়াই বাঁকখানি লয়ে যায় শ্রীনন্দের কানাই। তরুতলে ভার নামাইয়া বলে হরি হরি শ্রীরাধিকার প্রেমের ভার কন্ধ জ্বলে মরি। ঠাকুর খেয়েছ রাধিকার কড়ি, হয়েছ বিগারী আজ কেন বললে ছাড়বাে ভার বইতে নারি। দইএর সােবব পণ পণ দুধের সােবব কড়ি এক কড়া কমি হলে মারবাে চোঙ্গার বাড়ি। যে-না দেশে বিকাবে সেই-না দেশে যাব মনেরি উল্লাসে শ্যামকে নগরে ফিরাব। পার কর কাণ্ডারী হরি আমার বেলা পানে চেয়ে দধি দুগ্ধ নষ্ট হল সময় যাচ্ছে ব’য়ে। নিত্য নিত্য যাও বড়াই দানীকে ভড়িয়ে পেয়েছি তােমার নাগাল বিরলে বসিয়ে । আজ না দিব ছাড়িয়ে এ ঘাটের দানী ঠাকুর কভু নাইকো শুনি দান দিয়ে চেপে যাও রাধে বিনােদিনী। ৪২ পাশ-পেটামী-দেশ- বিদের ব্যাদি সংরক্ষণের পেট ৬• -না-শব্দ এখানে নিষেধাৰ্থক নহে। উক্ত কথায় জোর দিবার এ এই ভাবে গান-না তা ও ৭০ ৭৫ পটুয়া সঙ্গীত যাবার বেলাতে দানের কড়ি পাতি নাই আসবার বেলাতে দানের যৌবন করব দান। হাতে ধরে সখীদিকে নৌকাতে বসাইল। কোথা রাখচে দধি কোথায় রাখচে পা। ওগাে ডরাইচে গােয়ালার কন্যে কপালে মারচে ঘা লাজ নাই কানিয়া কৃষ্ণ তােমার ভাঙ্গা লা। কাঠের দেশে থাক ঠাকুর কাঠের কিবা দুঃখ ভাঙ্গা লায়ে খেয়া দিতে কতই পাচ্ছেন সুখ . ভাঙ্গা লয় চুরা লয় অসুরিয়া কড়ি হস্তী ঘােড় করেচি পার রাধে কতই ভারী। সব সখীকে পার করিতে লিব আনা আনা ওগাে শ্ৰীমতীকে পার করিতে কানের লিব সােনা। সব সখীকে পার করিতে লিব বুড়ি বুড়ি ওগাে শ্ৰীমতীকে পার করিতে লিব পাটের সাড়ী। সাড়ী ও সােনা লাও সকলি দিতে পারি এ দরিয়ার মাঝে ঠাকুর হেঁটে যেতে নারি। এ ঘাটের তরী উ ঘাটে লাগিল মথুরায় যাবার বিলম্বে দধি উড়িয়া গেল। ৮৫ ভাল লারে-ভালা নৌকায় ৭৮ অরূপ প- দুকুলে বহিছে বার কাঁপিয়ে মার গায় নত নবীন কারী। তরণী নবীন নয় র দিতে করি তম ভাল নাম বসিতে না পারি। যসি বলে গােবিন্দই পার হবে ভয় নাই কত করি পায়। দেবতা গর্ব কত পার করি শত শত যুবতীর যৌবন কত তার। (বং দাস ১ বুড়ি বুড়ি-এত্যেৰু সৰ ৰতি ও িড়ি ৯ কাল কৃষ্ণ ধলা গাভী দুইছে মনের সুখে চোদাতে দধি নাহি আঁটে ঢালে চন্দ্রমুখে। তালবন তমালবন মধুবনের মধু খেয়ে রাখালগণ ঢলে ঢলে পড়ে। শিঙ্গায় করে জল এনে ছিদামের মুখে দিল এক লক্ষ গাভী দাদা বলরাম ঘুরাইল। দে রে ভাই শিঙ্গায় শান ঘরে আছে নন্দরাণী শুনে জুড়াক রে জীবন। কালীদহে ঝাঁপ দিয়ে তুলিবে কখন আহার বলে কালীনাথ ঘেরিল সকল। নাগবতীর কন্যাগুলি উপস্থিত হল ওগাে নাগেরি মস্তকে ঠাকুর নাচিতে লাগিল। আমার কি ক্ষণে হইল দেখা শ্যাম-বিনােদিনী রাধা কি ক্ষণে হইল দেখা। ১৫ . [ দাদপুর নিবাসী ভূপতি চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ ] ( ১০ ) কৃষ্ণলীলা বটপত্রে ভেসেছিলেন প্রভু নারায়ণ চরণসেবা তার করেছিলেন লমীঠাকরুণ। শঙ্খচক্রগদাপদ্ম চতুভুজ ধরা মকর কুল প্রভুর পলে বনমালা। হাতে বেড়ী পায়ে বেড়ী বুকেতে পাষাণ বন্দীশালে কারাগারে কংসের কাছে চিরকাল। শিয়রে বসিয়ে নারায়ণ স্বপ্ন দেখায়। কত নিদ্রা যে মা দৈবকীর রায়। তােমার গর্ভে আমাকে তিলেক মাত্র দিবে ঠাই । ১৭ অব্যে ৪ (৬৪) এ-সলাম ৩১ ১০ ১৫ ২০ পটুয়া সঙ্গীত হয় পুত্র হল কংশ মারিল কাহিরে তােমাকে বল দিলে আমার কিবা লভ্য হবে। আমাকে থল দিলে মা তুই বড়ই পাবি সুখ পাছে রাজা বধ করিব নর কংসার। কোন মতে কৃষ্ণ বল নাহি পেল শ্বেত মাছির রূপ ধরে গর্ভেতে প্রবেশিল। হাতের বেড়ী পায়ের বেড়ী বুকের পাষাণ খসিয়া পড়িল যতগুলি কংসের সেনা সুখে নিদ্রা গেল। পঞ্চম মাসে লােকে সব করে কানাঘুষি মাসে ন-মাসে গর্ভ হ’ল জানাজানি। দশ মাস দশ দিন পরিপূর্ণ হ’ল ভাদ্র অষ্টমীর দিনে কৃষ্ণ জন্ম হল। দৈবকীর কাঁদনে গাবিনী গাব ছাড়ে হেরাে হেরাে গাছের পা সব খসে খসে পড়ে। ফলে ফুলে যখন কৃষ্ণ ভূমিস্তে পড়িল দাইরূপে বসুমতী হস্ত পেতে নিল। সুবর্ণার চাকুতে কৃষ্ণের নাড়ি ছেদন করে আঁওলে ওলে দিল ওগাে বসুদেবের কোলে। বসুদেব কংসের ভয়ে লুকাইতে যায় নালয়ে নন্দ ঘােষের ঘরে। ছিপি ছিপি জল হয় ঘরে অন্ধকার পাতালে নাগ বাসুকী ঠাকুরকে ছত্র ধরে যান। যমুনার ধারে দেব দরশন দিল ঠাকুরকে দেখে যমুনা উতলতে লাগিল। ২৫ ১. হিরে- কাহাড় বা আছাড় মারিয়া ২. গাবিনী গাব ছাড়ে-গজিপ গর্ভপাত হয় ২ হেনাে হেনে তল ২৪ ভূমিতে-ভূমিতে ২০ ওলে ওলে-১ (২১) পটুয়া সীত বসুদেব দেখে যমুনা ভাবে মনে মনে দশ মাস দশ দিন ছিলেন ঠাকুর দৈবকীর উয়। আমার গর্ভে স্নান কর ভাগ্যে থােক আমার কোন মতে বসুদেব পার নাহি পেল। শৃগালমুৰ্ত্তি হয়ে ভগবতী যমুনা পার হইল শৃগালের নাম দেখে বসুদেব যমুনায় পা দিল। হাত পিছুলে কৃষ্ণ যমুনায় পড়িল মা যমুনা পুত্র বলে ঠাকুরকে কোলে কোরে নিল। আঁকাবকি করে বসুদেব হাতড়াতে লাগিল যমুনাকে কোল দিয়ে দুই বাহু তুলে দিল। বাহু তুলে কোলে কোরে নালয়ে নন্দ ঘােষের ঘরে দরশন দিল। ৪০ ৪২ আকাবকি করে-অতিশয় ব্যস্ত হইয়া ৪২ হাতড়াতে-খুঁজিতে ৪৫-৫৭ নন্দোৎসব উপলক্ষে শিবাই বা শিবানন্দ দাস রচিত একটি পদ ইতিপূর্বে (৩ পৃঃ) উদ্ধৃত হইয়াছে; আর একটি পদ উদ্ধৃত হইল। এম এ ধ্বনি ব্ৰ ভরিন রে। উপনন্য অভিনন্দ সল না না পঞ্চ ভাই নাচে বাহু তুলিয়া রে।। যশেখর যশােরে সুদেবাদি গােপন নাচে নাচে আনন্দে ভুলিয়া রে নাচে র নাচে রে মন সঙ্গে লৈয়া গােপবৃন্দ হাতে লাঠি কাছে ভার করিয়া রে। খেলে নাচে খেলে গান সুতিকাগৃহেতে যায় ফিরমে বালক মুখ হেরিয়া রে। দখি দুগ্ধ তারে তারে ঢালয়ে অনী পরে কেহ শিরে ঢালে দধি ভুলিয়া রে। লগুড় লইয়া করে আওল ধীরে ধীরে নলের অননী নাচে বরিশী বুড়ী রে। যত বৃ গােপনী জয়কার ধ্বনি করি আশিস করে শিশু ৰেঢ়িা রে। নওঁক বা কত নাচ শত শত ধেনু ধার উচ্চ কমিয়া রে। তাের হইল গােপ সব অপরূপ সেব এ দাস শিবাই নাচে ফিরিয়া রে।

পটুয়া সঙ্গীত ৩৩ কি আনন্দ হ’ল বড় ও গাে কি আনন্দ হ’ল গােয়ালার ঘরে গােবিন্দ জন্ম নিল। এলাে রে বড়াই বুড়ি হাতে নিয়ে লড়ি নাতিনী হয়েছে বলে যায় গড়াগড়ি। গােয়ালা এল ধেয়ে আরে গােয়ালিনী এল ধেয়ে হাতে লড়ি কঁাধে ভার নাচে থেয়ে থেয়ে। গােয়ালার ব্যবহার দই ঢলে ভারে ভার কাদা হ’ল নন্দেরি আগনে রে ভাই। শিব নাচে ব্রহ্মা নাচে আর নাচে ইন্দ্র গােকুলে গােয়ালা নাচে পেয়ে রে গােবিন্দ। নন্দের দুলাল নাচে কোলে করে কানু ব্রাহ্মণের উপরে যায় নলক্ষ ধেনু। ১ ব্যবহার-নীতি ২ আগনে- আঙ্গিনায় ( ক ) গােপ গোপীগণ দধি ঘৃত মাখন ঢালত ভাহি ভার। কং শিবরাম সকল দুঃখ মিটন আনন্দে কে কফ পার। ( খ ) দখি ঘৃত নবনী হরিদ্ৰা হৈয় ঢলিত অঙ্গন মাঝে। কহ শিবরাম দাস আননে নাচত গাওত ব্ৰজনৰ-রাতে। (শিবরাম) করি। লক্ষ লক্ষ গাভীবৎস অলঙ্কৃত ব্রাহ্মণে করয়ে দান আপনা পাসরি। গায়ক ব্রাহ্মণ ভাট করে উতরােল। • দেহ দেহ নেই নেই শুনি এই রোল। (-উবদাস) বিবৃশমভুলক্বতিং গােধনৈপি পূর্ণ। ( বিবৃ অলঙ্কার ও গােখনের বারা পরিতৃপ্ত হইয়াছিল) পটুয়া সঙ্গীত নন্দরাণী দই ঢালে নন্দেরি শিরে হেন সময়ে খবর দিল কংসেরি হজুরে। করণে-পুত্তর জন্ম নিল রাজা দৈবকীর উদরে করণে-পুস্তুর মার কাছিরে রজকের পাষাণে। এক কাছাড় দুই কাছাড় তিন কাছাড় মেল হাতের কায়া হাতেই থাকল, শঙ্খচিল হয়ে ভগবতী উড়িতে লাগিল। আমাকে মারবি রাজা তুমি বরাবর তােকে যে মারবে তার গােকুলে হবে ঘর। পূতনা পূতনা বলে ডাকিতে লাগিল ঘরে ছিল পূতনা বাটীর বাহির হল। এস গাে পূতনা বাটার তম্বল খাবি গগাকুল বৃন্দাবনে জন্ম নিল তাকে বধ করে আসবি। কংসের আজ্ঞা পেয়ে পূতনা বিষের স্তন নিৰ্মাণ করিল। গােকুল বৃন্দাবনে পূতনা দরশন দিল। নন্দ গেল বাগানে যশােদা গেল জলে খালি ঘর পেয়ে কৃষ্ণ উঠিছে কঁদিয়ে। আঁকা বকি করে কোলে করে নিল মাসীমা মাসীমা বলে কোলে চেপে এল। বিষেরি স্তন পূতনা ঠাকুরকে খাওয়াতে লাগিল এক চেয়ে পূতনা বধ হল। পূতনা মল দ্রুতনা করে শব্দ গেল দূরে হেন সময়ে খবর গেল কংসেরি হুজুরে। ৭০ ৭৫ ৬০ কণে-পুত্তৰ-কা-সন্তান ৬ গো-চুকে ৭। না-ওমর, অবলম্বন বা অলি ৭৮ সা হককংসের সিট

No text on this page.

3 গােষ্ঠ-লীলা চূড়া দিল ধড় দিল পাঁচুনি দিলেন হাতে গােধন চরাতে যাবেন দাদা বলরামের সাথে। [পৃঃ ১৪] পটুয়া সঙ্গীত তর দিল বালা দিল পাচুনি দিল হাতে ওগাে সাজায়ে কুড়ায়ে দিচ্ছে দাদা বলরামের সাথে। [ দাদপুর-নিবাসী ভূপতি চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ ] (১১) কৃষ্ণঠাকুর রাধাকৃষ্ণ ৫ গােষ্ঠ-লীলা রাধাকৃষ্ণ দর্শন কর কদম্ব কিশােরী চাঁদমুখে মুরলী বাজান ধরি ধরি। ললিতা বিশাখা রসের তম্বল যােগান বিন্দাবনের তরুলতা অতি ভাগ্যবান্। চূড়া বেঁধে দে গাে ও মা মুরলী দে হাতে গােধন চরায়ে আসি বলাই দাদার সাথে । পরিপাটী নাই নাগরের চূড়াটী ডাগর ধেনু বাছুর লয়ে কৃষ্ণ গােষ্ঠেতে সাজিল। সাজিল গাে যত গােপী দিগম্বরী হয়ে জলখেলা করে গােপী আনন্দিত মনে। কৃষ্ণ লয়ে গােপীর বসন চড়িল কদমে ডালে ডালে গােপীর বসন রাখিল বাঁধিয়ে। দাও হরি নারায়ণ বস্ত্রখানি বসন দিলে পরি বস্ত্র বিনা সব গােপী লজ্জাতে মরি। ১০ জলকেলি -হরণ ৭৯ ভর-তাড় (বাহতে পরিবার বল-বিশেষ) পচুনি-গ চাইবার ছােট লাঠি • তামুল ৰা পান পটুয়া সঙ্গীত ২০ मान-मोगा নৌকা-খণ্ড २० যার যে গােপীর বসন কৃষ্ণ বাড়াইয়ে দিল বসন পাইয়া গােপীর আনন্দিত মন। পথ বুঝে বসেন কৃষ্ণ কেল-কদম্বের তলে এই পথে গােয়ালিনী দধি বেচিতে যায়। কিসের পসরা রাধা মস্তকের উপর এক ভাড় দই দুগ্ধ এক ভাড় ঘিয়। পথের পথিক নয় রাধিকা ঘাটের মহাদানী ভাঁড় ভর্তি করে লােব এই পঞ্চাশ কাহনে। তখন কিবা বড়াই বুড়ি সম্বন্ধ জুড়িলেন তুমি আমার ভাগিনা ভাগিনী দুবরাজ। ভাল সম্বন্ধ পাইলি বড়াই ভাগিনা মিলাইলি। এত কথা শুনে কৃষ্ণের পাটার পারা বুক রাধিকার ললাভে কৃষ্ণ দধির নিল ভার। আগুতে সুন্দর রাধা পেছাতে বড়াই তার মাঝে র লয়ে যায় নন্দের নন্দন। ভার বইতে নারি রাধা ভারের কিবা রঙ্গ। তবে কেন খালি কৃষ্ণ দধিরি মঞ্জরী এই ভার লয়ে চল মথুরার পুরী লােকে যে শুধালে বলবে রাধিকার বিগারী। রাধা বেচেন দধি দুগ্ধ কৃষ্ণ গুণে কড়ি। নাউড়ে হয়ে কৃষ্ণ কিনারে নামিল পাঁচখানি কাঠের নৌকা ঘাটে সৃজন করি। সব সখীকে পার করিতে লিব আনা আনা শ্রীরাধাকে পার করিতে লিব কাণের সােণা। ভারী কৃষ্ণ ৩০ ২৬ পাটার পার। বুক-পাটার মত সুবিস্তৃত বা সুপ্রসারিত বক্ষ ২৮ আশুতেঅর্থে ৩০ বিগারী-বেগার (বিনা বেতনের মজুর) ৩৫ লাউড়েনৌকা খেয়া দিবার মাঝি ৩৭ 3 নাহলে যুগণমিলন পটুয়া সঙ্গীত হাতে ধরে শ্রীরাধাকে নৌকাতে চাপাইল খেয়া দিতে নৌকাখানি দরিয়াকে লিল। দরিয়ার মাঝে নৌকা কাঁপিতে লাগিল। শ্রীরাধিকা ভয় পেয়ে কৃষ্ণের গলে ধরে। শ্যাম কোলে করে প্রভু যমুনায় দিল ঝাঁপ। ছি ছি হেন লজ্জা নাগর লজ্জা নাইকো বাসর পরের রমণী দেখে জলে ডুবে মর। কাল কৃষ্ণ ধল গাইটী দুহে মনের সুখে। ভড়ে না আঁটে দুগ্ধ ঢালে চন্দ্রমুখে। বৃন্দাবনে রাসলীলা করে কোন জন যত কৃষ্ণ তত গােপী বলি পুণ্যবান্। জয় ঠাকুর মহাপ্রভু করিবে কুশল গারুস্থের মঙ্গল চিন্তিবে নারায়ণ। ৪৫ গােদোহন রাসলীল ৫০ [কুসমা- দুমকা নিবাসী কীর্তি চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ ] ১২ ) কৃষ্ণলীল। লতান্য কদমের তলে ঠাকুর বাজাচ্ছেন মুরলী ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম মা বংশীতে দিলেন শ্যাম। ছলনা করিয়া কৃষ্ণ মায়ের কোলে যায় বলে চূড়া বেঁধে দাও গাে মা মুরলী দেও মা হাতে গােধন চরাতে যাব বলাই দাদার সাথে। গােষ্ঠ-সজ্জা ১৬৫১ অষ্টব্য (৪৫-৫১), ৪ (৬৩-৬৪), (৮৭-৮৮) ১৭ জাটসঙ্কুলান হয় ১ গাস্থের-গৃহস্থের ১ লতা-লতানীরা গাছ পটুয়া সঙ্গীত . -হরণ ১৫ চূড়া বেঁধে দিচ্ছে মায়ে লবগন্ধ দিয়ে শ্রীদাম সুবল বলরাম গােধন চরায় ভাণ্ডীর বনেতে যেয়ে গাভী যে উঠায়। যােল সখী গােপকন্যা না ধরে পরাণ কঁখে কলসী লিয়ে সখী যমুনাতে যায়। হাতেতে তেলের বাটী কাখে কুন্ত কলসী যমুনার ছিনানে গােপী আনন্দিত মন। ভূমেতে বসন রাখি যমুনায় দিল ঝাঁপ কোথায় ছিলেন চোরা কানাই জানিবারে পায়। বসনখানি লয়ে কৃষ্ণ কদম্বে চড়িল ডালে ডালে গােপীর বসন বাঁধিয়ে রাখিল। এক সখী বলে দিদি জলের কিবা রঙ্গ কানাই নিলেন গােপীর বসন চড়েছে কদম্ব। দিবেন প্রভু নারায়ণ বস্ত্র দেওনা পরি বসন বিনেতে লজ্জা গতে মরি। বলে জোড় হস্ত কর রাধা কর পরণাম তবেই আর গৌরাঙ্গী বস্ত্র দিব দান। একে একে গােপীর বসন বাড়ায়ে ভাল দিল। বসন পাইয়া গােপী আনন্দিত মন। বলে পথ বুঝে বসেন কৃষ্ণ নদের কানাই এই না পথে গােয়ালিনীরা দধি বেচতে যায় বলে ভারের উপর পসরা দেখি রাই আর ভারে কি। আর ভারে দই ও দুগ্ধ আর ভারে ঘি— পথের পথিক তুমি ওখাবার কি? পথের পথিক লইগা ঘাটের মহাদানা ভারগতি করিনিগাে এবঞ্চ করনা। २० ২৫ ভারী শ্ৰীকৃষ্ণ লগ-নর একান্ত ব্য ২৯ ধাৰাইৰাৰ ৰা জিজ্ঞাসা করিবার। তুমি সেকথা জিজ্ঞাসা করিবার কে?

৪০ দান-লীলা পটুয়া সঙ্গীত মানন সুরথী লেব রত্ন-সিংহাসন। এতক বলিয়া কৃষ্ণ ভার লইল কাঁধে বলে আগুতে সুন্দর রাধা পিছেতে বড়াই তার মধ্যেতে ভার লয়ে যায় নির্লজ্জ কানাই। ভার বইতে নারে রাধা ভার বড় ভারী কেনে কৃষ্ণ খেলে তুমি দধির মজুরী এই ভার নিয়ে যাবে মথুরার পুরী। ইন্দ্র ইন্দ্র বলি কৃষ্ণ স্মরণ করিল ইন্দ্রে আনে জল, পবনে আনে ঝড়, মায়ানদী সঁতার দিয়ে ডাঙ্গালে উঠিল। মাঝখানে কাঠের নৌকা কৃষ্ণ ঘাটে তেষ্ট করিল লাউরে হইয়ে কৃষ্ণ কিনারে রহিল। সব সখী পার করিতে লিব আনা আনা রাধিকারে পার করিতে লিব কাণের সােণা। বলে বৃন্দাবনে থাক কৃষ্ণ কাঠের কিবা দুঃখ ভাঙ্গা নায়ে খেয়া দিতে কত পাবে সুখ। ভাঙ্গা নৌকা নয়গো রাধে অসুরের কাড়ী জগৎ সংসার পার করেছি তুমি কত ভারী। মাঝ দরিয়ায় যাইয়ে কৃষ্ণ কাঁপাইয়ে দিল ভয় পাইয়ে শ্রীরাধিকা কৃষ্ণের গলে ধরে। ধরাধরি হয়ে কৃষ্ণ যমুনায় দিলেন ঝাঁপ পদ্মপাতে গােলকমূৰ্ত্তি ডাঙ্গায় উঠিল। খােল বাজে বেণু বাজে বাজে করতাল। কালাে কৃষ্ণ ধলাে গাই দুহে মনের সুখে ভারে না আঁটান দুগ্ধ ঢালেন চন্দ্রমুখে। ৪৫ ৫ যমুনা-জলে যুগলমিলন ৫৫ গো দোহন ৩০ আগুতেলে ৩৭ তুমি কেন দখি ৰহির মজুরী গ্রহণ করিলে? ২ তে মিল-তেষ্ঠ—তি, অর্থাৎ স্থিত করিল বা নৌকা বাধিল ৫ বলে গাইতে বর্ণের গাভী (খলাে =ধবল)। ৬ না টানসমুলান হয় না।

৪০ পটুয়া সঙ্গীত ভাগ্যবতী যশােদা মাই নবনী খাওয়ায় সপ্তরাত সপ্তদিন গােকুলে বাদল। গিয়া পর্বত ধারণ করেন প্রভু চক্রপাণি। বৃন্দাবন যাইয়ে কৃষ্ণ রাস আরম্ভিল কুঞ্জে কুঞ্জে কৃষ্ণ গােপী ঘেরিয়া রহিল। গগাবর্ধন: ধারণ s [ সাওতাল পটুয়ার (যাদু পটুয়া) গান হইতে লিপিবদ্ধ ] ৫৮ বাদলবর্ষা, ক্রমাগত বারিবর্ষণ। ৫৮-৫৯ অনুরূপ বৈষ্ণব পদ এই যত বাসিগণ পুজা কৈল গােবর্ধন করিল ইন্দ্রের অর্জন। করিল জৈনের পূজা শুনি ইন্দ্র মহারাজা ক্রোধ করি ডাকে মেঘগণ। মহাক্রোধে ইদেব একালের মেঘ চারি জনে ডাকিয়া আনিল। অতি কোপ মন করি নলের গােল হরি ডুবাইতে তারে আজ্ঞা দিল। উড়াইল বৃক্ষ ঘর পবনে করিয়া ঝড় মুষল ধামা পড়ে জল। ঝলকি তড়িত পাত জলে ছৰ্ণ হৈল উচ্চস্থল। মন হয় বজ্রাঘাত কৃষ্ণের আদেশ পায়া গোধনাদি সৰ লৈ গােবর্ধনের সইল শরণ। কৃষ্ণচএ অতি আন্ত এসারিয়া বাম হত ধরিলেন গিরি পােবন । ।

পটুয়া সঙ্গীত ৪১ ( ১৩ ) রাম-অবতার ১০ ওগাে রাজার পাপে রাজ্য নষ্ট প্রজা কষ্ট পাবে আর নিপুত্রিকা। (এই যে) অজ রাজার পুত্র রাজা নামে দশরথ (এই যে) সভা করিয়া বসলেন রাজার যতেক প্রজাগণ। রাজার পাপে রাজ্য নষ্ট প্রজা কষ্ট পাবে (এই যে) অপুত্রিকা বলছে রাজাকে অযােধ্যারি লােকে। নারদ মুনি কয় কথা সব শােনেন মহাশয় (এই যে) শনিকে জিনিতে পার তবে রাজার রথসজ্জা হয়। (এই যে ) রথ উড়ে স্বর্গ-পথে গগনমণ্ডলে (ওগাে) কোথায় ছিলেন জটায়পক্ষ, দেখ রথকে নামায় ভূমিতলে। এই যে রথ রথী সারথি ঘােড়া সকলি নামাইল এই যে নিজের গলায় পুষ্পমালা খুলে জটাইর গলে দিল। তুমি আমার মৈত্র পাখী তােমার আমি মিতে (এই যে) বিপদ সময়ে যেন মনে রেখাে মিতে। (এই যে) রথখানি বাঁধিলে রাজা শাল বিরিক্ষির তলে এই যে) শীঘ্র করে আসি আমি (বনের ) মৃগ শীকার করে। (এই যে) নিলে ঘােড়া খাসা জোড়া, (রাজার) পায়েতে পা মুড়ি (মােজা) গলাতে তুলসীর মালা (যার) বিনন্দের পাগুড়ি। (এই যে) বনের ভিতর একাদশী ব্রত করে ব্রাহ্মণ আর ব্রাহ্মণী (এই যে) শীঘ্র করে জল আনাে বাপ প্রাণের সিন্ধুক মনি। ১৫ ১ অনুরূপ উক্তি-ন পাপে রাজ্য নষ্ট ভাল চাহ মনে। তাহ পালে হিলমী পলাএ আপনে। (মাণিকচন্দ্রের গান—ভবানীপ্রসাদ) ১৩-নামায়ণ (কৃত্তিবাস) আদি কাণ্ডে—(১) দশরথে শনির দৃষ্টি ও জটায়ুর সহিত মিত্ৰতা এবং (৪) শয়খরাজ শনির শুর-প্রদানএস দ্রষ্টব্য।

৫২ পটুয়া সঙ্গীত (এই যে আমি নিত্য আসি নিত্য যাই সরােবরে ঘাটে, ২০ আজত যাবনা পিতা, আমার প্রাণ কেঁদে উঠে। (ওগাে) ধৰ্ম্ম করে মরে যদি পাণ্ডবের নন্দন (ওগাে) তবে লােকে ধৰ্ম্ম করে কিসেরি কারণ। (এই যে) কাঁদিতে কাঁদিতে সিন্ধুক অমৃত নিল হাতে (এই যে) জল পূরিতে যায় সিন্ধুক মনি সেই সমােবরের ঘাটে। ২৫ এ দিকে জলের শব্দ রাজার দেখ কৰ্ণগত হইল (এই যে) বনের হরিণ বলে দেখ বাণ যে মারিল। ওরে কে মেলিরে ব্রহ্মাস্ত্র বাণ আমার অঙ্গ গেল জ্বলে (এই যে) পিতা মাতা কান্দে দুই জন দেখ বনেরি ভিতরে। (এই যে ) অমৃত নয় জল দাও গাে যাব পিরি নিকটে (এই যে) বাণে কাতর হয়ে সিন্দুক মনি পড়ে গেল যমুনারি জলে। (এই যে ) ঘােড় পৃষ্ঠে নেমে রাজা মরা সিন্দুক করে কোলে। মরা সিন্দুক করে রাজা ফেরে বনে বনে এখানে হাত পড়িয়ে কে দেখেন ডাকেন উচ্চৈঃস্বরে। ওরে সিন্ধুক এলি না কে এলি বাপ আয় রে করি কোলে। ওগাে তােমার সিন্দুক নয় গাে মণি নামে দশরথ আমি না জানাতে বধ করেছি তােমারি নন্দন। কি কথা শুনাইলি রাজা তাের কি বোেইল মুখে (এই যে ) বজ্রাঘাত হইল দেখ যেন দ্বিজ অন্ধক মুনির বুকে। এই যে পুত্র যদি আছে রাজার তু নিপুত্রিকা হবি আর পুত্র যদি না আছে রাজার তু পুওর বর পেলি। ওগাে সিন্ধুক এলি না কে এলি বাপ আয়রে করি কোলে একবার মা কথা বল রে বাপ জুড়াক রে জীবন। তােমার সিন্দুক নয় গাে মুনি আমার নাম দশরথ আমি না জানাতে বধ করেছি তােমারি নন্দন। হায় হায় করিয়া কপালে মারে ঘা কোথা গেলি প্রাণের সিন্দুক কেবা বলে মা। ৪৫ এ ৰেমেইলদিয় হই ৪): পটুয়া সঙ্গীত সাত নয় পাঁচ নয় আমার এক সিন্ধুক মণি কি অপরাধ করেছিল দণ্ড দিম আমি। মৎস্য চিনে গহীর গমিন পক্ষ চিনে ডাল মায়ে চিনে পুত্রের দেন প্রাণ কাঁদে মার। ওগাে যে মাটীতে বৃক্ষ থাকে সেই তাে মাঠের মাথা একা মায়ের পুত্র মলে মা দাড়ায় বা কোথা। তাের রাজ্যে যাবি না রাজা করি আশীর্বাদ ওগাে বাউটে সন্তান বখাে সাঘাে আপন বাদ। চার পুত্তর হবে রাজার রাজা যাবে বন পড়ে রবে খাট পালঙ্গ ত্যাজিবে জীবন। নিজে মুখে যে দিন বলবি রাম যাবে বন। এই কথা বলিয়া -দেখ একজনার সাথে মৃত্যুই তিনজনার হইল, এই যে বনের ভিতর রাজা দেখন চিতা সাজাইল। ঘড়ার ঘড়ার মৃত নয়ে ডাহন করিল ডাহন করিয়ে রাজা অযােধ্যাকে গেল। অযােধ্যাকে যেয়ে রাজা ভাণ্ডার ভাঙ্গিয়া ব্রাহ্মণে করে দান। ওগাে শত শত মুনিতে বলে রামের হােক কল্যাণ। গহীন—গহীন=দুস্তর বা গভীর। অনুরূপ উক্তি (১) বিরই সাগর মাের গহীন পীর বড়রি এহাত কেমনে হইব পার। চণ্ডীদাস, কুকীর্তন (২) মন রসময় তনু অন্তর গহীন। নিমগন কতই রমমী-মন-মীন। -গােবিন্দদাসপ ফ তঃ, ৭৪ পদ ৫০-৫১-অনুরুপ উতি- মাছে চিনে গহিন গমিন পকূখী চিনে ডাল। এ চেনে পুতের দয়া জার বক্ষে শ্যাল। গােপীচরে পান, ৭১৬-১৭ (গহিন গমিন-পীর জমিন) হনদাফন 35. পটুয়া সঙ্গীত ৭৫ বাপ যার বিভাণ্ড মুনি মা তার হরিণী তাহার গর্ভে জন্ম নিলে নামে হৃষ্যশৃঙ্গ মুনি। রাম না জন্মাইতে ছিল ষাইট হাজার বচ্ছর (এই যে ) বাল্মীক মুনি পুঁথি রচনা করেছে পেয়ে ব্রহ্মার বর। এখানে যজ্ঞতে উঠিল চরু রাজা মেগে নিল। কৈকেয়ী সুমিত্রা যার চরু ভক্ষণ করে। (এই যে ) অন্ধকের বরে অযযাধ্যায় রাম জন্ম নিলে। (এই যে) দূৰ্বদলশ্যাম যার কমল-লােচন সভ করে বসিলে রামের ভাই যে চার জন। যেমন রামের গাণ্ডীব বাণ তেমনি রামের ছটা নবীন বয়সে রামের মস্তকেতে জটা। (এই যে) সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে দশরথ পিতা। এখানে অশ্বমেধের যজ্ঞ করিতে মুনিদের গেল সাধ এখানে শ্বেত কাগ পক্ষী এসে যজ্ঞে পাতিলে প্রমাদ। (এই যে ) শ্বেত কাগার ভয়ে মুনিরা পলায় দেশ দেশান্তরে এমন কে বীর আছে যে রাম আনিতে পারে। (এই যে) রাজার গুরু বিশ্বামিত্র মুনি রাম আনিতে পারে (এই যে) দিব্য মালা চাপার কলি লয়ে রামের তরে। এই যে) ধীরে যাত্রা করে দেখ অযােধ্যানগরে। ঘরে কয় রাণী বার্তা দ্বারে গেল মুনি বসিতে আসন দিলে পথের আগে জল। কোথাকারে যাও মুনি কও দেখি বচন। ছমাস হাঁটি এলাম আমি অযােধ্যা ভবন। তােমার ঘরে জন্ম নিলেন রামলক্ষণ দিতে হবে মুনিদের যজ্ঞেরি কারণ। রাজা বলে প্রাণ চাও ধন চাও.মুনি সব দিতে পারি আমি আপনার জ্ঞানে রামকে কভু বনে দিতে নারি। ৮৫

No text on this page.

তাড়কা-বধ যত শত বাণ মারে ধরে ধরে খায় এই রঘুনাথের গাণ্ডীব বাণে তাড়কা-বধ হয়। [পৃঃ ৪৫] ৪৫ ১০০ পটুয়া সঙ্গীত মুনি বলে রাম পাঠাইতে পাপিষ্ঠ ওগগা কান্দে জীবন নিজ মুখে বলিবি যে দিন রাম যাবে বন। রামলক্ষণ লুকায়ে থুয়ে ভরত সঙ্গে লইল (ওগাে) বাড়ির বাহির হয়ে নাম জিজ্ঞাসা করিল। তাের নাম কিরে বাপু তােরি বা নাম কি। আমার নাম ভরত মুনি ভাইএর নাম শত্রু ওগাে ঘরে আছে মুনি মশায় শ্রীরামলক্ষণ। এই কথা শুনে মুনির অঙ্গ গেল জ্বলে (ওগাে) মুখে অগ্নি চোখে অগ্নি ছুটিতে লাগিল ওগাে) সেই অগ্নিতে রাজার অযােধ্যা পুড়িল। রাজা বলে কদদূর গেল বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ আনগা ফিরায়ে শ্রীরামক্ষমণ দিব চরণ ধরে। রামলক্ষণ মুনির আগে দিল (ওগাে) শ্যাখ দিল, ধানদূৰ্ব্বা আশীর্বাদ করিল। ছদিনের পথে যাবি না ছমাসের পথে যাবি ছমাসের পথে যজ্ঞ দরশন ছদিনের পথে আছে তাড়কা একজন। উত্তর দক্ষিণা বীর সুখে নিদ্রা যায় (ওগাে) শাল গাছের আড়ে মুনি তাড়কাকে দেখায়। তাড়কা দেখে মুনি কাঁপে থরে থরে (ওগাে) মুনিকে লুকায় লক্ষণ শাল পাতের ভিতরে। যত শত বাণ মারে ধরে ধরে খায় এই রঘুনাথের গাণ্ডীব বাণে তাড়কা-বধ হয়। (ওগাে) অহল্যা পাষাণ হয়েছিল গৌতম মুনির শাপে (ওগাে) তাহার দেহ মানব হইল রামের চরণের ধূলাতে। পার কররে ধীবর মাঝি পার করে মােরে (ওগাে) ওপার হইয়ে ধীবর বর দিব তােরে। ১০৫ ১১০ ১১৫ ১৩ কদু-তদুর • শা ৯:২১, ৪৬ ১৩০ পটুয়া সঙ্গীত পার করি কি ঠাকুর মহাশয় প্রাণে লাগে ভয় আমার কাষ্ঠের নৌকা যদি মনুষ্য কভু হয়। নির্বোধ বলিরে ধীবর নির্বোধ বলি তােরে ( ওগাে) কাষ্ঠের নৌকা কভু মনুষ্য হতে পারে। কি দিব রাম নামেরি তুলনা চরণের ধূলায় পাষাণ মানৰ ধীবরের নৌকা হােক সােণা। ধেনুকভাঙ্গা পণ ছিল রাজার জনকেরি ঘরে ১২৫ (ওগাে) তেত্রিশ কোটি দেবতা এসে ধেনুক নড়াইতে না পারে। রাজা বলে এই ধেনুক যে ভাঙ্গতে পারবে, সীতা কন্যা দিৰ দাৰ। নিজে রামচন্দ্র বলবান্ ধেনুকে দিল টান ঐ গিটে গিটে, ধেনুক ভেঙ্গে করিলে সাতখান ততক্ষণ জনক রাজা সীতা কন্যে দিলে দান। সীতে কন্যে দান করে দিল ওগাে দুই ভেইয়ের বিয়ের কথা একত্রে হইল। বশিষ্ঠ মুনি আদি রামকে হয়নাতলায় নামুখখা করালেন। (ওগাে) পালকী সারি কত সাজিয়ে রাখিল। ঢােল বাজে, না বাজে, ওগাে আর বাজে কাশী : ১৩৫ তােলপাড় করে নয়ে যাইছে মিথিলার ঘাটি। পরশুরাম বলে রে ভাই আমার চেয়ে রাম কে আছে আমার চেয়ে রাম যে আছে সে আমার সঙ্গে যুকু দিয়ে যাবে। পরশুরাম রামচন্দ্র মােরতর যুদ্ধ, আরস্তিল (ওগাে) হাতে হাতে পরশুরামের বল হরে নিল। অবির পুত্র যম রাজা যম নাম ধরে বিনা অপরাধে জীবের দণ্ড নাহি করে। চিত্রগুপ্ত মহুরী দুজন দিবারাত্র লেখা পড়া করে। একজন বলতে যমের দুইজন যায় তােলাতুলি করে রাজার নিকটে দেয়। ১৪৫ ১৪০ ১০হয়নাতলা-মানাতলা (বিবাহের অধিবাসস্থান বা মণ্ডপ) ১৫০ পটুয়া সঙ্গীত ওগগ লােহার ভয় বেড়িয়ে পাপীদের মস্তক ফালয়। পরের বাড়ির ধম কড়ি যে চুরি করে খায়, মিথ্যে কথা কয় তপ্ত সাঁড়াশী কয়ে জিহ্বা কেড়ে নেয়। ভাল জল থাকতে যিনি মল জল দেয় উপবাসী তারে লয়ে যেয়ে খারানি জল খাওয়ায়। হীরা নাম বেশ্যা ছিল মহাপাপের পাপী অনুদান বস্ত্রদান ব্রাহ্মণকে গরু দান করে ছিলেন বিষ্ণুদূত আসিয়ে তারে পুষ্পরথে বৈকুণ্ঠে গমন করেন। আপনার চেঁকি থাকতে যেজন টেকি নাহি দেয় বক্ষস্থলে লয়ে তার চেঁকিতে পার দেয়। কলির রাজা কলির প্রজা কলির হৈল শেষ বৃদ্ধ মার চরকা দিয়ে আপনার স্ত্রীকে স্কন্ধে লয়ে রাজা গঙ্গা-আনে করিলেন গমন। আপনার পতি থাকতে পর-পতি হরণ করে খাজুর গাছে লাগিয়ে তার উচিত প্রহার করে। [ ভক্তি পটুয়ার গান হইতে লিপিবদ্ধ ] ( ১৪ ) রাম-লক্ষণ রামনাথ রণ পতিতপাবন রাম ভুবনমােহন নীলে আজ ডুবাইলি জানকীর তরী সেদিন জলে ভাসান শিলে ধেনুক ভাঙ্গা পণ আছে রাজা জনকেরি ঘরে ত্রিশ কোটীর দেবতা ধেনুক নড়াইতে না পারে। ১০১ রানি ল—কাপড় সি জল -পালপাড় (পাতন বা পাড়ন) - পটুয়া সঙ্গীত হরের ধেনুক দেখে রাম সে দিন নিজে বলবান্ আজ হরের ধেনুক ভেঙ্গে সেদিন করিলে তিনখান। হরের ধেনুক ভেঙ্গে সীতা করনা পেলে দান। শুভদিন দেখিয়া রামের বিয়ে জুড়ে দিল কাহার বেগার বরযাত্ৰ সব একত্রে সাজাল। অগড় দগড় বাজনা বাজে সেদিন গলে বাজে কাশী তােলপাড় করে চলিল সব মিথিলার মাটী। যাইতে যাইতে পরশুরামের সঙ্গে রাস্তায় দরশন হল পরশুরামের সঙ্গে রাম সেদিন যুদ্ধ আরম্ভিল। পরশুরামকে পরাভব করে রাম সেদিন বিয়ে করে রযােধ্যাকে যায় জলধারা দিয়ে রামের মা রামুকে সেদিন বাড়ী লয়ে যায়। বলে দুয়ারে ঢুকিতে রাম কপালের লিখন পায় আজ লিখন পড়িয়ে বলে গুণের ভাইরে লক্ষণ রাত্র প্রভাত হলে বুঝি আমাদিগকে যেতে হবে বন। কেড়ে নিচে তার বালা সেদিন কাণেরি কুণ্ডল। সৎমা হয়ে পড়ায় রামকে গাছেরি বাকল। বাকল পড়িয়ে তবে বনে বিদায় দিল। চৈত্র বৈশাগ্য মাসে রাম হলেন বনচারী উপরে রবির তাপ সেদিন নীচে খর বালি (আজ) চলিতে না পারেন মা জানকী প্রাণের বিকুলি। ১৫ ৭ কানা-কন্য। ৯ কাহার বেগার-বাহক ও বেকার মজুর ১৪ রমযাখ্যাকে—অযযাখ্যাকে ১৯ তার বালা- বালা-( তাড়-বাহর তৃশবিশেষ) ২ পড়িয়ে পরিয়ে, পরিধান করাইয়া ২ এর উত্তপ্ত ২ বিলি-ব্যাকুলতা পটুয়া সঙ্গীত ৩ রাম ভাঙ্গে রশােকের ভাল লক্ষণ ধরে সীটে শিরে তাহার হওয়াতে মা জানকী যান ধীরে ধীরে। যাইতে যাইতে গুহক চণ্ডালের ঘরে যেয়ে দরশনাে দিল। স্তুতি ভক্তি করে গুহক চণ্ডাল সেদিন চরণে ধরিল। লগমণ বলে গুহক চণ্ডাল মদ খায় মাংস খায় দাদা যার নাকে মদ্র গলে মৃণাকার করেন না প্রভু চণ্ডালে করে কোলে। ভাই লক্ষণ তােরে বােধ নাই, চণ্ডাল আমার সিদ্ধ, ভক্ত চণ্ডালের আমি গুরু (আজ) ভক্তে নাম রেখেছি, ভক্তের বাঞ্ছাকল্পতরু। বলে এইখানে থাক চণ্ডাল, তুমি এইখানে থাক, (আজ) আসিবার সুমই তােমায় মুক্তি করে যাব। (আজ) পঞ্চবটীর বনে কুঁড়ে নির্মাণ করে ছিল। (আজ) শালপত্রের কুঁড়েখানি (সেদিন) খড়কেরাে টিপুনী, বলে তে বসে পাশা খেলেন জানকী নন্দিনী। তারা পাশা খেলেন সারাসারি (বলে) লক্ষণকে রাখিলেন দেখুন দ্বারেবাে প্রহরী। পাশা খেলিতে খেলিতে পাশা পড়লাে ভূমিতলে (আজ) রাবণের ভগ্নী সূর্পণখা যায় সেদিন পুষ্প তুলিবার সলে। (আজ) সূর্পণখা নয়ন বাঁকা আড়নয়নে চায় (আজ) বিয়ে কর বিয়ে কর বলে লক্ষণের কাছে যায়। লক্ষণ বলে আমি চৌদ্দ বছর খেদা রাখবাে না কি নিদ্রা যাব না পােড়ামুখী আমার সম্মুখ থেকে বিদায় হ। ওই কথা শুনে সেদিন একটা দুৰ্বাক্য বলিল ক্রোধ করে, বিমুখ হয়ে রাবণের ভগ্নীর সেদিন নাসিকা কাটিল। ৪০ ৪৫ ২০ অশোক ২ নাকে ম গলেনাক দিয়া মদ নির্গত হয় ৩• সিজুসিভক্ত এ সময়কালে ৪৩ ধো- পটুয়া সীত ৫৫ : রাবণের ভগ্নী সূর্পণখা সেদিন লাপানে ধায় (আজ) রাবণের কাছে যেয়ে জানাইৰাৱে যায়। রাবণ বলে জয়ী হাের নাক চুল কোথা যায় কেবা নেয়। বলে পঞ্চবটী বনে দুজনে রামা লখা বলে বালক এসেছে রাণী মন্দোদরী হইতে তারা একটা নারী এনে।ে (আজ) তারা আমার নাক চুল কেটে নিল। ঐ কথা শুনে রাবণ মায়া মারীচ কিল। একা ছিলেন মারীচ সেদিন দুজো আজ্ঞ পেল স্বর্ণমৃগ হয়ে কুঁড়ের দ্বারে সেদিন নাচিতে লাগিল। ঐ মৃগ দেখে সীতার মন পাগল হল। ঐ মৃগ ধর ঠাকুর আমরা পুষিব পালিব বলে চৌদ্দ বছর বন ভবন হলে আমরা দেশে চিহ্নিত লয়ে যাব। নারীর কথা শুনে সেদিন মৃগ ধরতে যায় দুরন্ত মায়া মৃগের সেদিন নাগাল নায়কো পায়। বাণের চোটে মৃগ কেটে সেদিন দুখান হয়ে গেল মৃগ কাটিয়ে দেখুন মারীচ বেনােইল। মারীচের সঙ্গে রাম সেদিন যুদ্ধ আরম্ভিল। লক্ষণ লমণ করে মারীচ প্রাণ পরিত্যাগ করেছিল লক্ষণের কথা সীতার কর্ণগত হলাে। সীতা বলে দে হে দেবর লক্ষণ, তােমার দাদা গিয়াছে মায়ামৃগ শিকার করতে তার কোন বনের মধ্যে ব্যাঘাত হয়েছে, তােমায় খনে খনে সকছে তুমি শীঘ্র যাও। বলে সীতা গাে, আমার দাদা তিনি সেনা ব্ৰহ্মতন দূর্বাদলশ্যাম ৭০ আমার দাদাকে জিনিবে এমন বীর কেহ নাই। ৪৮ বেরে-বাইয়া ১ । মনেরী হইতে-রাণ মন্দোদরী হইতে সুন্দরী -এ; নিতি-নিনি ৭৫ পটুয়া সঙ্গীত বলে জানিলাম, জানিলাম, লক্ষণ তােদের ভেইএর ঠাপাঠারি (আজ) ভরত নিলে রাজ্যপাঠ বনে তুই কি হরবি নারী। ঐ কথা শুনে লক্ষণের সেদিন রঙ্গ জ্বলে গেল কুঁড়ের বাহির হয়ে, ধেনুকের ফলি করে তিনটি অঙ্কু দিল। সীতা গাে অঙ্কুর ভিতর থাকলে, তােমার বিপদ নাশ হবে। অন্তু পার হইলে সীতা তােমার বিপদ ঘটবে। দশমুণ্ড লুকায়ে রাবণ সেদিন যােগীর বেশে গেল ভিক্ষা দাও গাে মা জানকী ভিক্ষা দাও গাে মােরে। ভিক্ষা দাও গাে মােরে তােমার ভিক্ষা নােব নিয়ে বেড়াব নগরে। বলে কি ভিক্ষা দোব যােগিবর, কি দিব তােমারে আসবে আমার দেবর লক্ষণ ভিক্ষা দেব গাে তোমারে। বলে সী গাে তােমার সেই দেবর লক্ষমণের গণ্ডীবাণ দেখে আমার পরাণে বড় ভয় হয়। ভিক্ষা দাও চলে যাই। অতিথ বৈমুখ হবে বলে সেদিন ভিক্ষা দিতে গেল এক অদ্ভু, দুই অঙ্কু, সীতা সেদিন তিন অঙ্কু পার হইল। রাবণের কাছে ছিলেন মায়ারথ রামের সেদিন সীতা হয়ে নিল। মৃগ শীকার করে রাম তবে কুঁড়ের দ্বারে গেল। শূন্য কুঁড়ে দেখে রাম সেদিন অচৈতন্য হল । ভাই লক্ষণ আমাদিগগে বনে দিয়ে আমাদের মল পিতা (আজ) হলাম দুভাই বনচারী বনে হারাইলাম সীতা। (আজ) রাম কাঁদে স্থির না বান্দে পড়ল ভূমিতলে হাতের গণ্ডিবাণ ফেলে ভাই লক্ষণ করে কোলে। উঠ দাদা উঠ রঘুমণি আজ সকলের সকলাে আছে আমার কেবল তুমি। ৮৫ ৭১ ঠাঠায়ি পরস্পর ইমার ৭ কলি-ফলা ; অস্কু—দাগ বা টি ১০০ ৫২ পটুয়া সঙ্গীত বলে সীতা মলে পাব আমরা কোটাররা কামিনী দাদা মলে অনাথ হব, কোথায় পাব আমি। বলে এইখানে রাম লক্ষণের কথা সাঙ্গ হয়ে গেল। আজ) যমকে জবাব দিতে হবে, মুখে একবার হরি হরি বল। বলে অবির পুত্র যমরাজা যম নাম ধরে (আজ) বিনা অপরাধে জীবের দণ্ড নাইকো করে। চিত্রগুপ্ত মহুরী রা দিবারাত্র লিখছে কালদূত আর বিষ্ণুদূত যমের পাহারাতে আছে। একজন বলতে তারা দুজনা যায় কেউ ধরে চুলের মুষ্টি কেউ ধরে পায় তােলাতুলি কোরে তাকে যমপুরী পাঠায়। ১০৫ ১০৭ [ দ্বারকা-নিবাসী গুণমণি পটুয়ার গান হইতে লিপিবদ্ধ ] (১৫ রাম-অবতার রাম রাম পিভু রাম কমলােচন দিব্যাদলে শ্যাম রাম জানকীই জীবন। রথের উপরি রঘুনাথ কিঞ্চিৎ ভূমিস্তলে হৃদয় পেসম নাম, মধুর বাক্য বলে। বামে সীতা, ববি ডাইনে লক্ষণ রত্ন সিংহাসনে বসে প্রভু নারায়ণ। ৭-৯৮-ণের শক্তিশেল-প্রসঙ্গে রামচন্দ্রের উ-ি দেশে দেশে কলত্রাণি দেশে দেশে চ বান্ধব। তত দেশ ন পাখি ঘর ভ্রাতা সহােয়ঃ ১ পিতু .विपिनपूसापन (রামায়ণ, সাকা) ১০ ১৫ পটুয়া সঙ্গীত যাহার নাম লইলে খণ্ডিবে দেহের পাপ। পুরাণে ছিলেন বাল্মীক মনি জানিলেন আপনি ছিরাম জম্মিবে প্রভু জানিছে আপনি। পিতা হবে দশরথ অজির নন্দন। রামের কথা কিবা কব বাখান যাহার গুণে বনের বন্দী পাষাণ ভাসে জলে। শীকার করিতে রাজা করিলেন সাজন অন্ধমনির স্তপবনে রাজা দিল দরশন। সিন্ধুমনিকে বাণ মারে সুরয নদীর কোলে রাম নামের ধন্যি করে সিন্ধু জলেতে পড়িল। রাম নামের ধন্যি রাজা কর্ণেতে শুনিল হাতের ধেনুক বাণ রাজা ভূমিস্তে রাখিল। পালি কোলে কোরে আসি সিন্ধুমনির নিকটে আসিল। নেপুরের উনুঝুনু প্রভু শুনিতে পাইল। এসাে এসাে বলে সিন্ধু বলে সম্ভাষা করিল। এক নিবেদন করি গাে, মনি মহাশয় তােমার সিন্ধু মারা গেছে সুরয নদীর কূলে। আরে কি কাৰ্য্য করিলি রাজা কি কাৰ্য্য করিলি আমার অন্ধের নড়ি রাজা তু কেন ভাঙ্গিলি। আমি যেমন পুত্রশােক পাইলাম আচম্বিতে এমনি পুত্রশােক রাজা পাবি অযােধ্যানগরে। অপুত্রবর ছিল রাজার পুত্রবর হইল সহস্তি সহস্তি করে নাচিতে লাগিল। মিথিলা নগরে আসি যজ্ঞ আরম্ভিল ঋষ্যশৃঙ্গ মুনি এসে যজ্ঞ পূর্ণ দিল যজ্ঞ থেকে দুইটী তরু জুটিল। ২০ ৩০ ৯ দিরামরাম ১. অজির-কাজের ১৪ পবনে--তপােবনে ১৫ যাবসাযু ১৭ তিধ্বনি ১৯ পাতালি কোসে-কোলে শায়িত করিয়া ২ স—সবণ ২৬ আচম্বিতে—হঠাৎ ২ সহভি-তি ৪০ পটুয়া সঙ্গীত মিথিলা, কৈকয়, কৌশল্যা, বঁটিয়া খাইল রাম, লক্ষণ, ভরত, শত্রুর চার সই জন্মিল। কত বাদ্য বাজনা বাজিতে লাগিল। আনন্দেতে দশরথ পুত্র লয়ে কোলে লক্ষ লক্ষ চুম্ব দেন বদনকমলে। রামলক্ষণের কথা বিশ্বামিত্র শুনিতে পাইল শ্রীরাম লইতে প্রভু যাত্রা করিল। রামলক্ষণ চাইতে দশরথ, রামলক্ষণ লুকায়ে থুয়ে ভরতশত্ন দিল। ভরশক্রয় লইয়া প্রভু যাত্রা করিল তেমাথা রাস্তায় এসে বাত্রা শুধাইল। ছদিনের পথে যাবে না ছমাসের পথে যাবে ? ছদিনের পথে প্রভু কিবা ভয় আছে ? তাড়কা রাক্ষস বধে হে পণে। তাড়কার নাম যখন জাতশত্রুর শুনিল ভরে ভরে কম্পমান কাঁপিতে লাগিল। বিশ্বামিত্র মনি তখন অভিসম্প করিল অযােধ্যানগরে মনির শাপেতে অগ্নিবৃষ্টি হল। রামলমণ তাহা জানিতে পারিল বিশ্বামিত্র মনি পুনরায় আসি রালমণে লইল আচম্বিতে মেঘবৃষ্টি হয়ে অগ্নিনির্বাণ হইল। তেমাথার রাস্তায় এসে বা শুধায় ছদিনের পথে যাবে না বাপু মাসের পথে যাবে ? ছদিনের পথে প্রভু কিবা ভয় আছে । তাড়কা রাক্ষস বধে হে পরাণে। তাড়কা বধিতে রাম চলিল বনেতে তাড়কার সঙ্গে যুদ্ধ হইল বহুতর। ৪৫ ৪৩ বার্তা • অলিগসিপাত ৬৫ পটুয়া সঙ্গীত তরুণীর ঘটেছে রামচন্দ্র খেয়ায় পার হইল কাষ্ঠের তরুণী রামের রেণু ঠেকাইতে স্বর্ণময় হইল। পঞ্চবটীর বনে এসে রাম দিল দরশন তাড়কা রাক্ষস বধিল পরাণে। পড়ল বিটী তাড়কা শব্দ গেল দূর এমত প্রকারে মরে দাতার শত্তর। শ্বেত কাগ বধে রাম বধে উদয়গিরি কুল ছেড়ে বিবাহ হচ্ছে জানকী সুন্দরী। হরের ধেনুক ভেঙ্গে রাম সীতা পেলেন দান বিয়ে কোরে রাম দোলায় চড়ে যান। ঘরের দুয়ারে অক্ষর দেখিবারে পায় চৌদ্দ বৎসর রামের বনবাস। পিতার সত্য পালিতে রাম চলিল বনবাস। রাজপােষাকে ত্যাগ করিল রাম জটা বাকল পরিধান। ৭০ (বনকাপাসী-নিবাসী উপেন্দ্রচন্দ্র চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ) ১y ) রাম-অবতার ওগাে রাজার পাপে রাজ্য নষ্ট প্রজা কষ্ট পাবে অপুত্যিকা বলছে রাজাকে সব যােধ্যার ললাকে। নারদ মুনি কহে বচন শুন মহাশয় শনিরে জিনিতে পারলে রাজা রথশয্যা হয়। –তরণ ৬৪ বিটীকা (এখানে অৰ) ৫ পটুয়া সঙ্গীত নীলে গোঁড়া খাসা জোড়া ওগগা পায়েতে পামরী গলাতে তুলসীর মালা বিনন্দে পাগুরী। যতশত বাণ মারে শনিরি উপরে শনির দৃষ্টিতে রথ ওড়ে স্বর্গ বনে। রাজা বলে রথ রথী সারথি ঘােড়া ওড়ে স্বর্গবনে, কোথা ছিল জটায়ু পক্ষ রথকে নামায় ভূমিতলে। প্রাণদান দিলি জটা আমায় বনমাঝারে নিজ গলের ফুলের মালা দিয়ে জটা পেখের গলে। গলেতে দিয়ে মালা যার মত্যতা করিল তুমি আমার মিতে পক্ষ, আমি তােমার মিতে, বিপদ সময়ে যেন মনে রেখ মিতে। বনে থাকি বনজন্তু আমি মত্যর কি জানি তােমার সঙ্গে ধৰ্ম্ম মত্যতা রাজা, মনে রেখাে তুমি। এইখানে থাক মি আমার রথ আগুলিয়া শীঘ্র আসি কানন হতে মৃগ শীকার করে। একাদশী করে দুই জন অন্ধক ব্রাহ্মণী পারণের জল আনতে যাবে প্রাণের সিন্ধুমণি। সিন্ধু বলে নিত্য যাই নিত্য আসি পিতা সরােবরের ঘাটে আজত যাব না পিতা প্রাণ কেঁদে উঠে। মনি বলে ধৰ্ম্ম কোরে মরে যদি পাণ্ডবের নন্দন তবে লােকে ধৰ্ম্ম করে কিসেরি কারণ। কাদিতে দিতে অমিত্য নিল হাতে অমিত্য মুখে জল পড়ে সরােবরের ঘাটে ঘােড়াপৃষ্ঠে মহারাজ শীকারে সাজিল চৌকসী বনে ঘুরে রাজা শীকার নাহিক পেল। ২০ ২৫ ৬ পাত্রীপাড়ী-মাখার পাগ বা সবিশেষ ১০ সত্য-মিত্রতা চৌকসী-চাৰিক্রোশ পরিধিযু বন (চৌজাশী) ৪০ পটুয়া সঙ্গীত জলের শব্দ রাজা কর্ণে যে শুনিল শব্দভেদী বাণ তখন রাজা যে জুড়িল বনের মৃগ জল খেচে বলে সিন্ধুকে বধিল। কে মেলিরে ব্রহ্মাস্ত্র বাণ, অত গেল জ্বলে পিতা মাতা কাঁদছে দুজনে বনেরি ভিতরে। শীঘ্র করে জল দাওগাে আমার পিরি নিকটে ঘােড়া হইতে নেমে রাজা সিন্ধুকে নিল কোলে। মরা সিন্ধুকে কোলে করে ফেরে তপােবনে কি করিলাম, কোথায় এলাম, আমার এই ছিল কপালে। ব্রহ্মহত্যা করলাম এসে বনেরি ভিতরে স্ত্রীহত্যা, ব্ৰহ্মহত্যা, গােহত্যা, আর করি সুরাপান চারি পাপের পাপী যারা লেবে রামের নাম। ক্ষুধাতে, তৃষ্ণাতে মনি ওগাে ডাকে বাহু তুলে সিন্দুক এলি না কে এলিরে, আয়রে করি কোলে। একবার মা কথা বলরে, আজ জুড়াবে জীবন তােমার সিন্ধুক নয় আমার নাম দশরথ জানাতে বধ করেছি তােমারি নন্দন। হায় হায় করিয়ে কপালে মারে ঘা কোথা গেলি প্রাণের সিন্ধুক কেবা বলে মা। সাত নাই পাঁচ নাই, আমার ওগাে একা সিন্ধুক মুনি কি অপরাধ করেছিল দণ্ড দিতাম আমি। মৎস্য চেনে গহীর গম্ভীর পক্ষ চেনে ডাল মায়ে চেনে পুত্রের বেদন, প্রাণে কাঁদে যার। যে মাঠেতে বৃক্ষ থাকে, সেইতাে মাঠের মাতা ওগাে একা মায়ের পুত্র মলে মা দাড়ায় কোথা। মনি বলে তাের রাজ্যে থাকি না রাজা আমি করি আশীর্বাদ কিবা উঠে সন্তান বধ, সাধ আপন বাদ। ৪৫ ৫২-৫৩ ১(৫০-৫১) এব্য পটুয়া সঙ্গীত ৬০ ৬৫ ৭০ পুত্র যদি আছে রাজার নিপুত্ৰকা হবি পুত্র যদি না আছে পুতুর বর পেলি। চার পুত্র হবে তােমার ওগাে রাম যাবে বন পরে রবে খাট পালঙ্গ তেজিবি জীবন। শাপ দিয়ে মুনি প্রাণ তেজিল তিন জনের চিতা রাজা একস্তে সাজাইল । চুয়া চন্দন কাষ্ট কিবা বনে কিনেছিল কলসীতে ধৃত যার অগ্নিতে গলিল। শতকাৰ্য করে রাজা ভাণ্ডার চলে যায় ভাণ্ডার ভাঙ্গিয়ে ব্রাহ্মণে করে দান। এই সকল মুনিতে বলে রাজার হােক কল্যাণ। বাপ তাে তবে বিভাও মুনি মাতার হরিণী যার গর্ভে জন্ম নিল নামে ঋষ্যশৃঙ্গ মুনি। এই সকল মুনি আসিয়ে যজ্ঞ আরম্ভিল যজ্ঞে উঠিল চরু রাজা মেগে নিল। কৌশল্যা, সুমিত্রা, কৈকয়ী রাণী ওগগা চরু ভক্ষণ করে অন্ধকের বরে রযােধ্যায় রাম জন্ম নিলে। দিব্যদলশ্যামে রামে কমল-লেচন সভা করে বসিল রামের ভাই যে চারি জন । যেমন রামের গাণ্ডীবন, তেমনি রামের ছটা নবীন বয়সেতে যার মস্তকেতে জটা। সম্মুখেতে দাড়িয়ে আছে আপনার দশরথ পিতা বিমুখে রাখিলে যার ভরত শত্রুঘন। সম্মুখেতে আছে আপনার গুণের ভাই যে লক্ষণ অশ্বমেধ যজ্ঞ করিতে মুনিদের গেছে সাধ হেরম্বনে রাক্ষস এসে যজ্ঞে পাতিল প্রমাদ। ৭৫ ৭০ একতে-একত্র, এসজে রযোধ্যায়-অযােধ্যায় দিব্যদলাম-দূর্বাদলশ্যাম ৮২-১২৯ ১ (৭৫১৪১) প্রব্য ৭৫ ৮৫ পটুয়া সঙ্গীত রাক্ষসী দেখে মুনিরা পলায় দেশ দেশান্তরে। পালায়াে না ভাই উপায় বলে দিই রাম যদি আনতে পার যজ্ঞ রক্ষা হয়। ছমাসের পথ কেবা যেতে পারে রাজার গুরু বিশ্বামিত্র তিনি রাম আনিতে পারে। দিব্যমালা চাপার কলি রামের তরে লয়ে ধীরে ধীরে যাত্রা করে মুনি রযােধ্যানগরে। ঘরে কয় বাণীবাৰ্তা, দ্বারে গেলেন মুনি বসিতে আসন দিলে ওগাে পদ্মের আগে জল। কোথাকার যাও মনি কও দেখি বচন ছমাস হাঁটিয়া এলাম আমি রসােধ্যা ভুবন। তােমার ঘরে জন্ম নিল শ্রীরামলক্ষণ ওগাে দিতে হবে মনিদের আজ যজ্ঞেরি কারণ। প্রাণ চাও ধন চাও মনি আমি সব দিতে পারি আপনার জ্ঞানে রামকে কভু বনে দিতে নারি। রাম পাঠাইতে পাপিষ্ঠ তােমার কাতর জীবন ওগাে নিজে মুখে বলবি যেদিন রাম যাওগাে বন। রামলক্ষণ লুকায়ে রেখে ভরত সঙ্গে দিল, ওগগা বাড়ীর বাহির হয়ে নাম জিজ্ঞাসা করিল। তাের নাম কিরে বাপু, তােরি বা নাম কি ? আমার নাম ভরত, মনি, ভেয়ের নাম শত্রু। মুখে অগ্নি চোখে অগ্নি ছুটিতে লাগিল সেই অগ্নিতে রাজার রযােধ্যা পুড়িল। কতদূর গেল বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ, তাকে আনগা ফিরায়ে আমি শ্রীরামলক্ষণ দিব মনির চরণ ধরিয়ে। রাম লক্ষণ মনির আগে দিল সেঁকে ছিল ধান দুব্বো আশীর্বাদ করিল। ১০০ ১০৫ ৯৪ রযোধ্যা-অযােধ্যা পটুয়া গীত ১১৫ ১২০ দু’দিনের পথে যাবি না মাসের পথে বাৰি দু’মাসের পথে যজ্ঞ দরশন দিনকার পথে আছে তাড়কা একজন। উত্তর দক্ষিণা বীর সুখে নিদ্রা যায় ওগাে শাল গাছের আড়ে মুনি তাড়কা দেখায়। তাড়কা দেখে মনি কঁপে থরে থরে মনিকে লুকায় লক্ষণ শাল পাতার ভিতরে যত শত বাণ মারে ধরে ধরে খায় এই রঘুনাথের গাণ্ডীবাণে তাড়কা বধ হয়। তাড়কা মলল ভালই হলাে শব্দ গেল দূরে পড়ে রইল তাড়কা বীর চৌদ্দ ভুবন জুড়ে। অহল্যা পাষাণ হয়েছিলেন, গৌতক মুনির শাপে তাহার দেহ মানব হল, রামের চরণের ধূলাতে। পার কররে ধীবর মাঝি আজ পার কর মােরে উপার হয়ে, ধীবর বর দিব তােরে। পার করি কি ঠাকুর মহাশয়, আমার প্রাণে লাগে ভয়- কাষ্টের নৌকা যদি মনুষ কভু হয়। নির্বোধ বলিরে ধীবর, আমি নির্বোধ বলি তােরে কাষ্টের নৌকা কভু মনুষ্য হতে পারে। কি দিব রাম নামেরি তুলনা চরণের ধূলায় পাষাণ মানব, ধীবরের নৌকা হােক সােনা। প্রভু নারায়ণ রামচন্দ্র যারে দেবেন বর লমী রাখিবেন তার যুগ যুগান্তর। ধেনুক ভাঙ্গা পণ ছিল রাজা জনকেরি ঘরে ; ওগাে তেত্রিশ কোটী দেবতা এসে, ধেনুক নড়াইতে না পারে। ১২৫ ১২২ গৌতক-গৌতম r যমরাজা রবির পুত্র যমরাজ। যম নাম ধরে বিনা অপরাধে যম কারু দণ্ড নাহি করে। [ পৃঃ ১৫]

No text on this page.

১৪০ ১৪৫ পটুয়া সঙ্গীত ৬১ রাজা বলে এই ধেনুক যে ভাঙ্গতে পারবে সীতে করণে দিব দান। নিজে রামচন্দ্র বলবান, ধেনুকে দিল টান গিটে গিটে, ধেনুক ভেঙ্গে করিলে সাত খান। ততক্ষণে জনক রাজা, সীতে কতে দিল দান সী কষে দান পেয়েছিল। দুই ভেয়ের বিয়ের কথা একত্রে হইল বশিষ্ঠ মুনি আসিয়ে ছর তলায় রামকে নানমুখখা করাইল। পালকী সােয়ারী কত সাজিয়ে রাখিল। ঢােল বাজে নাগরা বাজে আর বাজে কঁসি ততালপাড় করে নয়ে যেচে মিথিলার মাটী। পুরুষরাম বলেরে ভাই, আমার চেয়ে রাম কেবা আছে। আমার চেয়ে রাম যে হবে, সে আমার সঙ্গে যুদ্ধ দিয়ে যাবে। পুরুষরাম রামচন্দ্র ঘােরতর যুদ্ধ আরম্ভিল হাতে হাতে পুরুষরামের বল হরে নিল। অবির পুত্র যম রাজা যম নাম ধরে বিনা অপরাধে জীবের ডণ্ড নাহি করে । যমদূত আর কালদূত, দুই জনে পেয়াদা পহরা আছে। চিত্রগুপ্ত মহুরী তারা দিবারাত্র লেখাপড়া করছে একজন বলতে যমের দুই জনা যায় তােলাতুলি করে রাজার নিকটে দেয়। লােহার ডাঙ্গুরে বেড়িয়ে পাপীদের মস্তক ফাটায় পরের বাড়ী ধন কড়ি যে চুরি করে খায়। ১৪৩ নানমুখখা—নান্দীমুখ এদি ১৪৭ পুষরাম-পরশুরাম অবির—রবির ১০১-১৭• (১) (১৪২-১৬১) দ্রষ্টব্য ১৭ ডাহুদণ্ড ১৬০ ০ পটুয়া সঙ্গীত দরবারে মিথ্যা কথা কয় তপ্ত সাঁড়াশী দিয়ে তাহার জিহ্বা কেড়ে নেয় ভাল জল থাকতে যে জন মন্দ জল দেয় উপুরীকে নিয়ে যেয়ে চামের পরােতে করে খারানী জল খাওয়ায়। আপনার চেঁকি থাকতে যেজন টেকি নাহি দেয় বক্ষস্থল লয়ে তার চেঁকিতে পার দেয়। কলির রাজা কলির প্রজা কলির হল শেষ বৃদ্ধ মার মাতাতে চরখা দিয়ে পরিবারকে কন্ধে লয়ে কলি রাজা গঙ্গাস্থানে করিলেন গমন। হীরানামে বেশ্যা মহাপাপের পাপী ছিল অন্নদান বস্ত্রদান, ব্রাহ্মণকে গরুদান করিল। সাধু প্রাণ পরিত্যাগ করিলেন, বিষ্ণুদূত আসিয়া ১৭০ পুষ্পরথে কোরে লয়ে, বৈকুণ্ঠে গমন করে। ১৬৫ ১৭১ পামুড়িয়া নিবাসী পঞ্চানন চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ ] ( ১৭ ) সিন্ধুবধ রক রাজার পুত্র রাজা নামে দশরথ শােভা করে বসে রাজা যত প্রজাগণ। অপত্রিকা বলে রাজা দেশে নাহি রহিব আজ হতে রযােধ্যা মােরা পরিত্যাগ করিব। ১৬২ উপুৰী—যমপুরী; পরোথলে ১৬৪ পা-পাড়-(পাতন বা পাড়ুন) পূর্ববর্তী ৪টা গানের সহিত এই প্রসঙ্গের অনেক মিল আছে। ১ রা রাগ-অজ রাজা २लाण-मन • আপত্রিকা-অপুত্রক • রসােধ্য—আযােব ১০ পটুয়া সঙ্গীত রাজার পাপে রাজ্য নষ্ট প্ৰজা কষ্ট পায় গিন্নীর পাপে গৃহস্থ নষ্ট লক্ষী উড়ে যায়। নারদ মুনি বলে, কথা শুন মহাশয়, শনিকে জিনিতে পারলে রথশয্যা হয়। নারদের কথা রাজা কর্ণেতে শুনিল শনিকে জিনিবার জন্য রথ সাজাইল। জামাজোড়া নিল ঘােড়া পায়েতে পামরী গলাতে তুলসীর মালা বিনন্দে পাগুরী। শনি রাজা বসে আছেন ধৰ্ম্ম-সিংহাসনে শনিরি রিষ্টিতে রথ ওড়ে স্বর্গ পানে। রথ রথী সারথি ঘােড়া উড়িতে লাগিল কোথায় ছিল জটায় পক্ষ, রাজ ধরে নামাইল। আপনার গলের পুষ্পমালা রাজা জটায়ুর গলে দিল জনমে জনমে রাজা মত্যতা পাইল। আমার মিতে জটা তােমার আমি মিতে ওগাে বিপদে সম্পদে যেন মনে রেখাে মিতে। বনে থাকি বনের পশু রাজা মত্যর কিবা জানি আমার সঙ্গে মত্যতা রাজা পায়েছ আপনি। এইখানে থাক মত্য রথ আগুলিয়া আজ মৃগ শিকার করে আনি বনল কাননে। ২০ অনুরূপ উক্তি-রাজার পাপে রাজ্য নষ্ট ভাবি চাহ মনে। স্ত্রীর পাপে গৃহলক্ষ্মী পলায় আপনে। (ময়নামতীর গান'—ভবানীপ্রসাদ) ১১ পামরী-পায়জামা বা মােজার মূল্যবান্ বিশেষ ১২ পারী—পাগড়ি (শিরােভূষণ) ১৪ রিতে-পাপে বা কল্যাণে। ১৬ জটায় পক্ষ-জটায়ু পক্ষী ১৮ মৃত্যতা—মিত্ৰত বা মৈত্রী ১৯ জটাজটায়ু ২১ মত্যতা-মিত্রতার ৩০ পটুয়া সঙ্গীত বত একাদশী করেছিল বনের অন্ধক ব্রাহ্মণ। পারণের জল আনরে বাপ গুণের সিন্ধুমনি। নিত্য নিত্য যাই পিতা সরােবরের ঘাটে আজতে যাব না পিতা কি আছে কপালে। কাল গেছে বাপ একাদশী আজ ব্রাহ্মণ ভুজন শিগির করে জল আন বাপ করিব পারণ। ওই কথা শুনে সিন্ধু কমুগুল লিল হাতে কাঁদিতে কাঁদিতে জল আনিতে যায় সরােবরের ঘাটে। সরােবরে জল পােরে আনন্দিত মনে জলের ভুকভুকি রাজা কর্ণেতে শুনিল। বনের মৃগয়া হরিণ বলে বাণেতে বধিল। কে মেলি ব্রহ্মাস্ত্র বাণ আমার দেহ গেল জ্বলে। মাপিতা কাঁদছে আমার ওগাে বনেরি ভিতরে কাল গেছে বত একাদশী আজ ব্রাহ্মণ ভুজন শিগির করে জল লয়ে যাও করবে পারণ। এই কথা বলে সিন্ধু প্রাণ পরিত্যাগ করিল সরােবরের ঘাটে সিন্ধু ভাসিতে লাগিল। সিন্ধুকের কথা শুনে রাজা ওগাে ঘােড়া হতে নামিল আজ মরা সিন্ধুকে রাজা কোলেতে করিল। স্ত্রীহত্যা ব্ৰহ্মণহত্যা করিলাম সুরাপান চার পাপের পাপী হলাম মুখে আনে রাম নাম। মরা সিন্ধুক কোলে কোরে রাজা বেড়ায় বনে বনে খিদাতে তৃষ্ণাতে মুনিরা ওগাে ডাকে উচ্চৈঃস্বরে। মুনির ডাক যখন রাজা কর্ণেতে শুনিল মরা সিন্ধুক কোলে কোরে মুনির দ্বারে গেল। পাতার মচমচি মুনি কর্ণেতে শুনিল। ৪০ ৪৫ ৫০ ২৫ বত-ব্ৰত ২৯ ভুন-ভােজন পটুয়া সঙ্গীত কে এলি বাপ সিন্ধুক এলি বলরে বচন মা বলিয়ে করে বাপ জুড়াক রে জীবন । তােমার পুত্র নয় মুনি করি নিবেদন জানাতে বধ করেছি তােমার নন্দন। কি বেয়ােইল মহারাজা তােমার কি বেরাইল মুখে আকাশ পাতাল ভেঙ্গে পড়ে অন্ধক মুনির বুকে। হায় হায় বলে অন্ধকিনী কপালে মারছে ঘা কোথায় গেলি গুণের সিন্ধুক একবার মা বলে যা। পাঁচ নয় ছয় নয় আমার একা সিন্ধুক মনি কি অপরাধ করেছিল আনলে ডণ্ড দিতাম আমি। একা সিন্ধুক মেলি না রাজা মেলি রে তিন জন রাজার যদি না আছিস পুত্তর পুর বর পেলি। অপুত্র মহারাজা ওগাে পুত্তর বর পেল মরা সিন্ধুক কোলে কোরে নাচিতে লাগিল। চার পুত্র পাবি রাজা রামকে দিবি বন খাট পালঙ্গ পেরে সেদিন আমার মতন তেজিবি জীবন। রাম না জন্মাইতে ছিল ষাট হাজার বৎসর বাল্মীক মুনি ছিল পুথি পেয়ে ব্রহ্মার বর। ব্ৰহ্মণশাপে অন্ধকমুনি দশরথকে দিল সিন্ধু সিন্ধু বলে প্রাণ পরিত্যাগ করিল। তিন জনের সতকাৰ্য একস্তে করিল নিমকাষ্ট দিয়ে চিতা সাজাইতে লাগাইল। চুয়া চন্দন ধৃত ঢালিতে লাগিল তিন জনের সতকাৰ্য্য করে রাজা অযযাধ্যাকে গেল রামচন্দ্র জন্ম ললাবো বলে মুনিগণ যজ্ঞ আরম্ভিল। ৭০ ৭৫ [ দাদপুর-নিবাসী ভূপতি চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ। ; একত্রে সতকাৰ্যসৎকার; একন্তে লােকে বলে- লইবে বলিয়া ৭৫ ৯ পটুয়া সঙ্গীত (১৮) সিন্ধুবধ ১১ রজ রাজার পুত্র রাজা যার নাম দশরথ সভা করে বসে আছে লয়ে প্রজাগণ। রাজার পাপে রাজ্যনষ্ট প্ৰজা কষ্ট পায় গিন্নীর পাপে গৃহস্থ নষ্ট যার লক্ষী ছেড়ে যায়। প্রজায় বলছে, শুন দেখিন রাজা মহাশয় শনিকে জিনিতে পারলে রথ যাত্রা হয়। শনিকে জিনিতে মহারাজ রথ সাজাইল ধেনুকা টঙ্কার শনি চেতন পাইল। যত শত বাণ মারে শনি ভক্ষণ করিল শনি জিনিতে মহারাজা রথ উড়ে গেল। রথ রথী সারথি ঘােড়া উড়িতে লাগিল কোথায় ছিল জটায়ুপক্ষ রথ ধরে চৌকুশী বনের মধ্যে নামাইল। রাজা নিজ গলার পুষ্পমালা জটার গলে দিল। তুমি আমার মিতে জটা তােমার আমি মিতে ব্রিপদ কালে এসব কথা যেন মনে রেখাে মিতে। এইখানে থাক জটায় বলে বনে পুষ্পরথ আগুলে আমি আসি তােমার জন্য বনে মৃগশীকার করে। চৌকুসী বনের মধ্যে রাজা শিকার নাই পায় তাঁবু টাঙ্গিয়া রাজা বনের পাশে রয়। সেই চৌকুশী বনের মধ্যে আছে অন্ধক আর অন্ধক। একাদশী আছে কোরে ব্রাহ্মণ আর ব্রাহ্মণী। পারণের জল আনতে পাঠায় গুণের সিন্ধুমণি ১৫ ত্ৰিপদ-বিপদ ১৮ চৌসী-চারিক্রোশ জুড়িয়া

No text on this page.

কদম্বমূলে শ্রীকৃষ্ণ কানিয়া কদম্বমূলে নাগরিয়া থানা বনফুল গাঁথিয়ে কৃষ্ণের গলে বনমালা। হাত বাঁকা পায় বাঁকা বাঁকা মাজাখানি চরণের নূপুর বাঁকা চূড়ার টানি। [ পৃঃ ১৭ ] [ একটি বর্তমান পটুয়ার অঙ্কিত পট-পৃঃ ১, দ্রষ্টব্য) সিন্ধুবধ কে মেলি রে দুরন্ত বাণ অঙ্গ গেল জ্বলে । শীঘ্র কোরে লয়ে চল মা বাপের কোলে। ঘােড়ার পৃষ্ঠে মহারাজ নামিতে হইল মরা সিন্ধু কোলে কোরে রাজা চলিতে লাগিল। পৃঃ ৬৭ ) পটুয়া সঙ্গীত ৬৭ নিত্য নিত্য যাই পিতা সরােবরের ঘাটে আজতাে যাবনা পিতা আমার কি আছে কপালে। দশ নাই পাঁচ নাই, একা সিন্ধুমনি শীঘ্র কোরে পারণের জল আন সিধূমনি। কঁদিতে কঁদিতে সিন্ধু কুম্ভ নিল হাতে জল আনিতে যায় সিন্ধু সরােবরের ঘাটে। সিন্ধু জল পােরে রাজা কর্ণেতে শুনিল শব্দভেদী বাণ রাজা ধেনুকে জুড়ে দিল। ৩০ বনের মৃগ বলে সিন্ধুকে বধ করিল। বাপরে বলে পড়ে গেল সিন্ধু সরােবরের জলে কে মেলি রে দুরন্ত বাণ অঙ্গ গেল জ্বলে । শীঘ্র কোরে লয়ে চল মা বাপের কোলে। ঘােড়ার পৃষ্ঠে মহারাজ নামিতে হইল মরা সিন্ধু কোলে কোরে রাজা চলিতে লাগিল। পাতার মচমচানি কর্ণেতে শুনিল সিন্ধু সিন্ধু রব কোরে ডাকিতে লাগিল। কে এলিরে বাপ সিন্ধু এলি এস করি কোলে। সিন্ধু নয় বন্ধক মুনি রাজা নামে দশরথ জানাতে বধেছি বাপ তােমারি নন্দন। কি বেরােইল রাজা দশরথের মুখে বজাঘাত ভেঙ্গে পড়ক অন্ধক মনির বুকে। কি অপরাধ করেছিল আমার সিন্ধুমনি ধরে কেন আন নাই তার ডণ্ড দিতাম আমি। ওই কথা শুনে মায়ে কপালে মেরেছিল ঘা আমার পুত্র মেরে রাজা আমার প্রাণ কাদাইলি পুত্রশােকে দাবানলে তুই তার জীবন পরিত্যাগ করিবি। পুত্রের বাপ হােস রাজা নিপুত্রি হবি পুত্রের বাপ না হােস রাজা চার পুত্র পাবি। 8 ৪৫ রন্ধক মুনি—অন্ধমুনি ৬. পটুয়া সঙ্গীত ৬০ পুত্রের বর পেয়ে রাজা আনন্দিত হল মরা সিন্ধুক কোলে কোরে রাজা নাচিতে লাগিল। একা তুই মারিস নাই সিন্ধু মেরেছিস তিন জন এই তিনজনার সৎকাৰ্য্য করিবি এখন। মায়ের পিতার পুত্রের একুই ঝিলে সাজাইল কলসী কলসী ঘৃত ঢালিতে লাগিল। সৎকাৰ্য্য করে রাজা গঙ্গাস্নানে গেল গঙ্গাস্নান কোরে রাজা রযােধ্যাকে গেল। কৈকয়ী রাণী কৌশল্যা সুমিত্রা রাজাকে জিজ্ঞাসা করিলেন তােমার মতন অধাৰ্মিক রাজা নাইকো কোন জন। এই কথা বলে রাণী কান্দিতে লাগিল চরু খেয়ে রাম জন্মাইল। রবির পুত্র যম রাজা যম নাম ধরে মিনি অপরাধে কারও ডণ্ড নাই করে। কৃষ্ণদূত আর বিষ্ণুদূত তার পহরাতে থাকে যাকে যখন হুকুম করে, এরাই তখন ছােটে। যার যেমন কৰ্ম্মের ফল এই যমপুরীতে আছে। ভাল জল থাকতে যেজন মন্দ জল দেবে যমের কাছে সে জন খারানি জল পাবে। ধানভানারিকে যে জন চাল কম দিয়েছিল লােহার টেকিতে কোরে তার যমপুরীতে হাড় পিযে লিল। পতি নিন্দা শাস্ত্রমতন নয় তাহার শাস্তি যমপুরীতে খাজুর গাছে হয় । হীরামুনি বেশ্যা ছিল মহাপাপের পাপী অন্নদান বস্ত্রদান ফলদান বহুত করেছিল সেইজন্য কৃষ্ণদূত পুষ্পরথে মাথায় করে বৈকুণ্ঠে গেল। [ পাকুড়হাস-নিবাসী শশীপটুয়ার গান হইতে লিপিবদ্ধ ] ৭০ ৭৫ ৫৫ এই ঝিলে—একই চিতা নভানা—িযাহা ধান হইতে চাইল এত করে পটুয়া সঙ্গীত ৬৯ ( ১৯ ) শঙ্খ-পরান পালা ব্যাঘ্ৰ ছাল বিছিয়ে বসেন শিব দুর্গাপতি হরের বামে বসলাে চণ্ডিকা পার্বতী। বাম করে বসে দুর্গা কহিছে বচন এক বাক্য বলি দেখ দেব ত্রিলােচন। আমার বাইএর শঙ্খ নাই তােমার নাইকো লাজ একে বাই শঙ্খ দিবে স্বামী দেবরাজ। রূপা সােনা পর গৌরী আকালে বিচে খাবি আঙ্গ। উলি শঙ্খ পরে কোন সরগে যাবি। রূপা সােনা পরতে আমার গতর বেদনা করে আঙ্গা উলি শঙ্গ পরতে বড় সাধ লাগে । মর মর ভাঙ্গড় বুড়াে চক্ষে পড়ুক ছানি চোকে না দেখতে পাবি হীরে লাল কুচনী। চেক খাক তাের মামিতা চোক খাগা তাের খুড়াে জেনে শুনে বিয়ে দিলে লাঠি ধরা বুড়াে। ঘর থেকে বেরােইতে গৌরীর মস্তকে ঠেকিল চাল বামে গেল কাল সাপিনী ডাহিনে শৃগাল। আজ মায়ের মাথার উপর ডেকে গেল কালবরণের পেঁচা। বিনা মেঘে বরষণ হচে রক্ত নেচা-নেচা। ৮ ৩ বাম করে – বাম দিকে ৫ বাইএর -বাহর ৬ বাই-শাখা, চুড়ি প্রভৃতির গুচ্ছ বা গাছ। আঙ্গ। উলি – রাঙ্গ রুল গতর- দেহ বা শরীর ১২ কুচনী বেশ্যা (কুচ, বা শোভা যাহাদের অবলম্বন ) ১৬ মে গেল কাল সাপিনী ইত্যাদি – মনুরূপ উক্তি—বামে সর্প দেখিলেন শৃগাল দক্ষিণে।” (কৃত্তিবাস) ১৮ নেচা-নেচা - চাপ-চাপ বা পোকা-পোকা ৭৮ २. ২৫ ৩০ পটুয়া সঙ্গীত চেঁকির বাহন নারদ গেছে ব্ৰহ্মারি ভুবন রাস্তার মাঝে মামীর সঙ্গে হল দরশন। আজ কেন দেখি মামী তাের বিরস বদন ? তাের মামাকে চেয়েছিলাম দু বাই দিতে পারে নাই গােসা করে যাচ্ছি বাপের বাড়ী। কুচনী-পাড়ায় থাকে মহাদেব কুচনীর মাথা খেয়ে আমি চললাম কার্ত্তিক গণেশ দুই ছেলে লয়ে। কোলে নিল কার্ত্তিক হটিয়ে লম্বোদর গােসা করে চললে। গৌরী মাতাপিতার ঘর । আজ আমি শুভ যাত্রা নাহি দেখি কেন ঘরে থেকে বাহির করলাম কার্ত্তিক গণপতি। একা বসে আছ মামা রত্ন সিংহাসনে কার্ত্তিক গণেশ ভাই না দেখি কৈলাস ভুবনে ? তাের মামী চেয়েছিল দু বাই শঙ্খের কড়ি দিতে পারি নাই গােসা করে গেল বাপের বাড়ী। কতদূর গেল তােমার মামী আনগে ফিরায়ে কাল শঙ্খ কিনে দিব নগরে ভিক্ষা কোরে। দু কাটি বাজিয়ে নারদ করিলেন গমন মামীর দ্বারেতে নারদ দিলে দরশন। পালাবি তো পালা মামী প্রাণ জীবন লয়ে ভাঙ্গড় মামা দেখতে পেলে বধিবে পরাণে। তােমার পিতা দক্ষ রাজা ধনের অধিকারী শখ পরিবার সাধ থাকে তাে যাওনা বাপের বাড়ী। দু কাটি বাজিয়ে নারদ করিলে গমন মামার দ্বারেতে নারদ দিলে দরশন। আমার কিরে দিলাম মামা দিলাম শত শতবার কার্ত্তিক ভেয়ের কিরে দিলাম পঞ্চবার। ৪০ ৪৫ ২৩ গােসা -য়াগ ৪৪ কিরে-শপথ বা দিব।

পটুয়া সঙ্গীত ৭১ তবু গুণের মামী না এলাে গাে ঘর। উপায় দে রে নারদ ভাগ্নে বুদ্ধি দেরে মােরে তাের মামী কৈলাসে আসিবে কি প্রকারে। মামী হলো বাদীনী তুমি হওগা বাগা বড়বনের বাঘ সেজে পথে দাওগা দেখা। ঠিক বলেচি নারদ ভাগিনা যুক্তি বড় নয়। বড়বনের বাঘ সেজে পথে দাড়াইল কার্তিক গণেশ দুটি ভাই ডরিয়ে উঠিল। ভয় কি আছে কার্ত্তিক গণেশ ভয় কি মোরে আছে বাপের বাড়ী যাব আমি বাহন পেলাম কাছে। কাছ মেরে কাপড় পরে চড়িবার যায় বােম বােম বলিয়া বাঘ বন দিয়ে পালায়। যাহক রে নারদ ভাগনা তাের বুদ্ধি হতভাগা ধরেছিলাম করে তাের মামী চাপে নাই আমারি ঘাড়ে। তাের বুদ্ধি হতভাগা জলে ডুবতে হয় সাতবার গঙ্গাস্নান না করলে দেহের পাপ না যায়। উপায় দে রে নারদ ভাগ্নে বুদ্ধি দে রে মােরে তাের মামী কৈলাসে আসিবে কি প্রকারে। যদি মামা সাজতে পার শেখারী বরণ রূপে গুণে মামীর সঙ্গে হবে দরশন। এই কথা শুনে মহাদেবের মনেতে লাগিল গরুড় পক্ষী বলে মহাদেব ডাকিতে লাগিল। স্বর্গে ছিল গরুড় পক্ষী মৰ্তে নেমে এল। আয় দেখিরে গরুর বীর বাটার তাম্বুল খাবি এক বাই শঙ্খ এনে আমার হাতে দিবি। ৬০ ৭০ ৫৩ ভরিয়ে-ভীত হইয়া ৫৬ কাছ মেরে-মালকেঁাচা মারিয়া ৬৪ শেখায়ী বরণ-শমীর রূপ १२ পটুয়া সঙ্গীত ৭৫ bo কতকগুলি গরুড় পক্ষী চরিবারে গেল চরিবারে যেয়ে গরুড় বীর ভাবিতে লাগিল। এক ডেনাতে বাঁধে সমুদ্র এক ডেনাতে হেঁচে কতগুলি শঙ্খ পারে তুলে দিচে। শঙ্খগুলি নিয়ে মহাদেবের কাছেতে দিল বিশ্বকৰ্ম্মা ব'লে মহাদেব তিন ডাক দিল। আয়রে দেখি বিশ্বকৰ্ম্মা বাটারি তাম্বুল খাবি নিজহাতে শঙ্খগুলি নির্মাণ করে দিবি। কারিকরের হাতে শঙ্খ তৈয়ার করে দিল শেখার গুড়িগুলি মহাদেব গায়েতে মাখিল । শেখঘষা লড়িখানি ডান বগলে লিল। সিদ্ধির ঝােলা গাঁজার কলকে বা বগলে লিল। শখের পসরা মহাদেব মাথায় তুলে নিল এক ডাক দুই ডাক তিন ডাক দিল শিবের খুড় শাশুড়ী ঘরের বাহির হল। শঙ্খ পরাবার লেগে শিবের খুড় শাশুড়ী করে তাড়াগড়ি মাথায় বসন দেয় না তারা করচে হুড়াহুড়ি। ওই কথা শুনে গৌরীর মনেতে লাগিল। সোনার খাটে বসে গৌরী রূপার খাটে পা শঙ্খ পরতে বসল কার্ত্তিক গণেশের মা। গাছি গাছি শঙ্খ পরার মন্ত্র করে সার যাবার সময় যাবি শঙ্খ নড়িয়ে চড়িয়ে আসবার সময় আসবি না শঙ্খ বজাঘাত পড়িলে। ৮ ৫ ৯০ ; ৭৩ ডেনাতে—ডনাতে; বাঁধে-আটকায় ; ছেচে --সেচন করে ৭৪ পারে পাহাড়ে, তীরে ; দিচে—দিয়েছে ৮১ শেখঘষ। লড়িনি—শাখা ঘষিবার প্রস্তরময় ক্ষুদ্র দণ্ড ৮৩ পারা–বিজয়ের বস্তু বােঝ ৯২-৯৩ শস্থ পরিবার সময় যেন ধীরে ধীরে মুক্তির ভাগ অতিক্রম করে; কিন্তু বজ্রাঘাই ইলেও যেন শখ আর বাহির না হয়, অর্থাৎ যেন কখন শঙ্খ হস্তচ্যুত না হয়।

M “বস্ত্রহরণ” জখেলা করতে গােপী পড়পানে চা শুকান বস্তু খানি দেখি না! পায় । ঝড় নাই ঝঙ্কর নাই বস্তু কে লয় নন্দের বেটা চিকণ কালা গােপীর বন ধরে লয় [১৭ পৃঃ দ্রষ্টব্য]

No text on this page.

পটুয়া সঙ্গীত কোথায় তােমার বাড়ী শাখারী কোথায় তােমার ঘর ? সূৰ্য্যপুরে থাকি আমি ইন্দ্রপুরী ঘর আমার নাম দেব শাখারী পিতা সদাগর। বড়ঘরে দা আছে আনগা পাড়িয়ে হাত কাটিয়ে শঙ্খ দিব বাহির করিয়ে। হাত ও যাব তাকেও পারি শঙ্খর রক্ত না লাগিবে নগরে বিক্রী করতে গেলে ডাকাতি বলিবে। ১০০ কৌটী ভাবে চায় গৌরী ক্রোধ ভাবে চায় তবু যে দেব শাখারী ভস্ম নাহি হয়। ওইখানে গৌরীর ক্রোধ ক্ষান্ত হল শিবদুর্গার যুগল মিলন কৈলাসেতে হল। অবির পুত্র যম রাজা যম নাম ধরে চিত্রগুপ্ত মহুরী তারা দিবানিশি লেখে যার যেমন কপালের ফল ইহারা দুজনে লেখে কালদূত আর বিষ্ণুদূত যমের পহরাতে থাকে। একজন বলতে এরা দুই জন দড়ে কেরু ধরে চুলের মুষ্টি কেরু ধরে ঘাড়ে। ১১০ লােহার ডাঙ্গসে পাপীর মস্তক ছেদন করে। কলিকালে কল্কি অবতার রুগী পড়ে আছে, ডাকতারে হাত ধরে বসে আছে। মাথার উপর দাড়কাক ডাকছে, যমে মানুষে টানাটানি করছে, বুকে পাষাণ চাপাইয়াছে। ১১৫ চুলের মুটী ধরে তুলছে আর বসাইতেছে। কাউকে শুলি দিয়াছে। ১• অবির—রবির (সুৰ্যপুত্র যম) ১৯ দড়েদৌড়ায় কে-কাহারও ১১১ ডাস-অম্বুশ (হস্তী চালাবার গু-বিশেষ) ৭৪ পটুয়া সঙ্গীত হীরামণি বেশ্যা অনুদান বস্ত্রদান দান-ধ্যান হত করেছিল। কৃষ্ণদূতে পুষ্পরথে স্বর্গে নিয়ে গেল। আপন পতি নিন্দা করে পরপতি ধরে খাজুর গাছে তুলে উচিত সাজা দেয়। খেয়ে বলে খাই নাই নিয়ে বলে নিই নাই-- জিহ্বা সাড়াশী দ্বারা টেনে বার করে। হামান দিস্তাতে ফেলিয়ে পাক দিচ্ছে। ১২৪ (২০) মহাদেবের শঙ্খদান নম নম দুর্গা নম নারায়ণী ওগাে কৃপা কর দুষ্কহর বিপদ রণী। বিপদে পড়িয়ে মা করিলে স্মরণ আপনি তরাবেন আজ দুঃখনিবারণ। ব্যাঘছাল আসনে বসিলেন যুগপতি হরের বামে বসিলেন চণ্ডিকে পার্বতী।। বাম করে বসে গৌরী বলিছেন বচন এক বাক্য বলি শুন দেব ত্রিলােচন। আমার বাই শঙ্খ নাই তােমার নাইকো লাজ দুইটী বাই শঙ্খ দাও সােয়মী দেবরাজ। কোথায় নাচে নীল শঙ্খ কোথায় খুঁজে এলি কি বুঝিয়ে দান শঙ্খ আমারে মাগিলি। ওই যে আছে বীর বসােয় আমার ওই সিদ্ধির ঝুলি ১০ বাই-শাখা বা চুড়ির গুচ্ছ বা গাছ।

৭৫ ২০ পটুয়া সঙ্গীত উয়ােকে বেচিলে হব জনমকার ভিখারী কড়ারি ভিখারী দুর্গা কড়ার জন্যে মরি। কোথায় গেলে পাব আজি দু’বাই শঙ্খের কড়ি আমার ঠিয়ে লে গৌরী দিব্যি গেটের সােনা উয়ােই ভেঙ্গে পর আজ নাকেরই নাকচোনা। রূপােসােনা পর যা আকালে বিচে খাবি রাঙ্গা উলি শাক পরে কোন স্বর্গে যাবি ? রূপাে সােনা পরতে আমার অঙ্গ বেথা করে রাঙ্গা উলির শঙ্খ পরুতে বড় সাধ লাগে। তােমার পিতা দক্ষ রাজা তিনি ধনের সদাগর শঙ্খ পরার সাধ থাকেতে যাওনা পিতার ঘর। শুনিলি শুনিলি পদ্মা ভাঙ্গড়ের বচন সদাই কি মা-বাপের ঘরে পরে আভরণ। ভাঙ্গড় ভাঙ্গড় বলে আজ না দিও গাল হাতে ধরে বলেন মহাদেব শঙ্খ দিব কাল। দুর্গা বলে এইখানে থাক ভাঙ্গড় বুড়াে, কুচানীর মাথা খেয়ে আমি চললাম পিতার বাড়ী কার্তিক গণেশ লয়ে। কোলে নিলেন কার্ত্তিক হটিয়ে লম্বােদর ক্রোধ করে যাত্রা করে মাতা-পিতার ঘর। ঘরে থেকে বেরােইতে মস্তকে ঠেকে চাল ; ডানে যায় শৃগাল রূপ বামে কাল সাপ। মিনি মেঘে বরষণ জলে রক্ত নেচা নেচা-- মাথার উপর ডেকে যায় কালবরণী পেঁচা। = কড়ারি--কড়ার ( এক কড়াও ভিক্ষা করতে হয়) ১৮ ঠিয়ে-ঠাই বা নিকটে উমরাই-উহাই ; নাকচোনা-নাসিকার অলঙ্কার বিশেষ কুচানী-বেশ্যা .-. ৭৬ ৪০ ৪৫ পটুয়া সঙ্গীত এমন কেউ থাকে গাে বিবুরী এসে লিতে লাজলজ্জা খেয়ে মহাদেবের আজ থাকিতাম এক ভিতে। চেঁকি চেপে গিয়াছে নারদ ব্ৰহ্মারি ভুবন আসিতে মামীর সঙ্গে পথে দরশন। কেন দেখি মামী গাে তােমার বিরস বদন মামাতে মামীতে কেঁদল কিসেরি কারণ। ভাগনে রে তাের মামাকে চেয়েছিলাম আমি দুবাই শখের কড়ি; মিছে কেঁদল করে পাঠাইলে বাপের বাড়ী। এইখানে থাক মামী তিলেক বসিয়ে মামাকে আসিয়ে জিজ্ঞাস তােমায় নােব সিয়ে। খিড়কী দুয়ােরে নারদ ওগাে তেঁকিটী বঁধিল সদর দুয়াের যেয়ে দরশন দিল। একা কেন বসে মামা, মামী কোথা যায় ? কার্ত্তিক গণেশ ভাই বিনা কৈলাস আঁধার হয়। কতদূর গেল নারদ ভাগনা আনগা ফিরায়ে দুটি বাই শঙ্খ দিব নগর মাগিয়ে। আলকুশীর গুড়ি নারদ কতক গুলাে সঙ্গে কোরে নিল কুন্দুলের পড়াে নারদ বগলে ঢাবিল । দু’কাটি বাজিয়ে নারদ গমন করিল। সেখান হইতে হইল নারদের গমন মামীর কাছেতে নারদ দিলে দরশন। মামী বলে—ধেয়ােনা ধেয়ােনা নারদ, তুমি ওইখানে দাড়াও কি বলেছে তােমার মামা সত্যি কথা কও। পালাবি তো পালা মামী প্রাণ জীবন লয়ে মামা বসেছে দুয়ারে ত্রিশূল হাতে করে ; ৬০ ৩৮ ৪৭ লিতে-ইতে নােব সিরে—আসিয়া লইয়া যাইব আলকুণী-যন্ত্রণাদায়ক লোমযুক্ত ফল-বিশেষ পড়াে-পড়ুন বা অভিজ্ঞ ০৪ ৭৭ ৭০ ৭৫ পটুয়া সঙ্গীত ধরতে পেলে বধিবে আজ তােমারে পরাণে। দুর্গা বলে গাল দেয় ভবানী নারদের মাথা খেয়ে কতই ছলা জানিস নারদ চক্ষের মাথা খেয়ে। সেখান হইতে হল গাে নারদের গমন মামার কাছেতে যেয়ে দিল দরশন। আপনার মাথার কিরে আমি দিলাম বারংবার কার্ত্তিক গণেশ ভেইএর কিরে দিলাম গো আবার। কুঁদুলের ঝি বটে মামা যেদিন কুঁদুল নাইকো পাই ; বেনাগাছে চুল জড়িয়ে গড়াগড়ি যায় । কুঁদুলের ঝি বটে মামা কুঁদুলকে কেবা পারে দেবতার বধূ জলকে যায় না তার কুঁদুলের ডরে। কেন তখনি বলিলাম মামা বিয়ে নাইক কর সহুরে নহুরে মামী অনবড়াে নাগর । বুদ্ধি বল নারদ ভাগিনা, বুদ্ধি বল মোরে তাের মামী ঘরকে আসে কেমন প্রকারে। সাজতে যদি পার মামা বাঘেরি বরণ রূপে গুণে মামীর সঙ্গে হইবে দরশন। বাঘমুৰ্ত্তি সেজে মহাদেব ডিঙ্গে লিল পথে গর্জাইল গণেশের মা বাহন পেল পথে। লক্ষ্য দিয়ে চাপতে যায় বাহনেরি ঘাড়ে জয় রাম শ্রীরাম বলে বুড়াে গমন আজকে করে । কি বুদ্ধি দিলিরে নারদ ভাগনা কি দিলিরে মােরে ধরতে পেলে তাের মামী পুরুষ বধ করিত কেমনে। মামা গাে এই কি তােমাদের হাত ভেয়ে ভয়ে কঁাধে চাপা ছিল কিছু সাধ। বুদ্ধি বল নারদ ভাগনা বুদ্ধি বল মােরে রে মামী ঘরকে এসে কেমন প্রকারে। সাজতে যদি পার মামা শাখারীর বরণ রূপে গুণে মামীর সঙ্গে হবে দরশন। গরুড় গরুড় বলে মহাদেব ডাকিতে লাগিল কোথায় ছিল গরুড় পক্ষ মৃত্তিকায় নামিল। ৫ ৭৮ পটুয়া সঙ্গীত আয় গরুড় বাটার তম্বুল,খা শীঘ্র করে সমুদ্রর শঙ্খ মেরে আনগা। একেত গরুড় জাত দ্বিজ আজ্ঞ পেল উড়িতে উড়িতে গরু ও গমন করিল। সেখান হইতে হল গরুড়ের গমন সমুদ্রের ধারে গরুড় দিল দরশন। সমুদ্রের ধারে গরুড় ভাবে মনে মনে ১০০ এমন সমুদ্র আজি মরিবে কেমনে। এক ডেনাতে বন্ধন করে এক ডেনাতে হেঁ বেলা দুপুরে সময় শঙ্খ মেরে আনে। সেই শঙ্খ হেতেরে কাটিয়ে নির্মাণ করিল শঙ্খের গুড়ি কিবা গায়েতে মাখিল । শঙ্খ মাজা লড়ি খানি বগলে ঢাবিল শঙ্খের পসরা কিবা মস্তকেতে নিল। শঙ্খ নেবা নেবা বলে গো নগরে হাঁক দিল দুর্গা বলে আয় পদ্মা বাটার তমূল খা। কোন গাঁয়ের শাখারী বটে ওকে দুয়ােরে বসাগ। কোথাকার শাখারি ঠাকুর পদ্মা বলে কোন্ নগরে ঘর তােমার শঙ্খ পরিবে অভয়া মঙ্গল। এক দুয়াের দুই দুয়াের পেরিয়ে মহাদেব ভাবে মনে মনে আমি না জানি শঙ্খ পরাইতে পরাব কেমনে। শঙ্খ দেখতে এল শিবের খুড়শেষ শাশুড়ী গায়ে বস্ত্র নেয়না তারা করে হুড়াহুড়ি। ১১৫ ১০২ হেঁচে-জল সেচিয়া ফেলে ১৪ হেতেরে-অস্ত্র-দ্বয় ১•৬ লড়ি—ছড়ি; শঙ্খ মজিবার ছড়ি ডালি-দাবাইয়া রাখিল ১৯ অনুরূপ উক্তি - বৈস যৈস অহে বাপু বাটরে পান খাও'—গােবিন্দচন্দ্রের পাঁচালী ১১• সাগা-বসাওগ বা বসিতে দাও পটুয়া সঙ্গীত ৭৯ ১২৫ মহাদেব বলে কে কে পরবে শঙ্খ কিনে কিনে পর আমার শঙ্খের মূল্য তােমরা কেবা দিতে পার। তেল জল লয়ে গাে শাখারীর আগে দিল । সােনার খাটে বসে দুর্গা রূপার খাটে পা শঙ্খ পরতে বসিল কার্ত্তিক গণেশের মা। গাছে গাছে পরায় শঙ্খ মন্ত্র করে সার যাবার বেলা যাবি শঙ্খ না বেরােবি আর। ওরে শঙ্খ করাতে না যাবি কাটা শিলনােতে ওরে শঙ্খ না যাবি ভাঙ্গা। ধন ধান লয়ে কিছু শাখারীর আগে দিল তা দেখে শাখারীর হরি ভক্তি উড়ে গেল। ধন ধান নিব না মাণিক মুক্ত কত আমার তালাইয়ে শুকায়-- তা কুড়াইতে দাসী বাঁদীর অঙ্গে বেথা হয়। সােনার কুমড়া কত গড়াগড়ি যায়। পদ্মা বলে ধন ধান মাণিক মুক্তো যদি তােমার তালাইয়ে শুকায় তবে দারুণ শঙ্খের পসরা কেন মস্তকেতে বও। জাতিহীন নই পদ্মা বিত্তিহীন হই— সেই কারণে দারুণ শঙ্খের পসরা মস্তকেতে বই। ধন ধান লিব না বঞ্চিব বাসর। কি করিলাম কোথা এলাম আপনার মাথা খেলাম নালা কাটিয়ে জল ঘরকে আনিলাম। ১৩৫ অনুরূপ উক্তি সোনার খাট বৈগে মৈনা রূপার খাটে পাও। দণ্ডকে দণ্ডকে পড়ে শ্বেত চাওয়ের বাও । —গােবিন্দচন্দ্রের পাচালী ১২৮ মাণিক মুক্তা ... তালাইয়ে শুকায়—অনুরূপ উক্তি---‘হীরা মণিমাণিক্য লােকে তলিতে (ত্যনাইএ) শুইত'—ময়নামতীর গান—ভবানীপ্রসাদ ১৩৪ বিত্তিহীন-বৃত্তিহীন।

৮০ পটুয়া সঙ্গীত ১৪০ মনের ক্ৰোধ করি শখ ভাজিতে গেল নােড়া চূর্ণ হল, শঙ্খের গায় ঘা নাইক লাগিল। উচু পিড়ে দেখে ঠাকুর গজ্জিয়ে বসিল। শিব ভগবতী বাসরে মিলন হইল শিবদুর্গা নাম একবার বদনে বল। [ পাড়িয়া-নিবাসী পঞ্চানন পটুয়াৰ গান হইতে লিপি ] ১৪৩ ( ২১ ১ ভগবতীর শঙ্খ-পরান পালা ৫ ব্যাঘ্ৰ ছাল বিচিয়ে বসিল শিবদুর্গাপতি হরের বামে বসিল চণ্ডিকা পার্বতী। বাঁ দিকে থেকে গৌরী বলিছে বচন এক বাক্য বলি প্রভু, দেব ত্রিলােচন। শিব নিন্দা করাে না শিবের করে। সেবা দিতে পারি ইন্দিপদ ধনে করিবে রাজা। আমার বাইএর শঙ্খ নাই, তােমার নাইক লাজ দুইটী বাই শঙ্খ দিবে, স্বামী দেবরাজ। কড়ার ভিখারী গৌরী কড়ার জন্যে মরি কোথায় গেলে পাব আমি দু’বাই শঙ্খের কড়ি। যতক্ষণে মাগি ভিক্ষা ততক্ষণে খাই বুঝে শুঝে শঙ্খ চেও মাের ঠাই। এ আমার বসােয়া এ সিদ্ধির ঝুলি এই বেচিলে হব নাচের ভিখারী। তােমার পিতা দক্ষরাজা ধনে সদাগর শঙ্খ পরতে সাধ থাকে তাে যাওনা পিতার ঘর। ১০ ১৪০ নােড়া--এর- (লিনাড়া) ১ বিচিরে-বিহারে, বিস্তার করিয়া পটুয়া সঙ্গীত শুনিলি শুনিলি পদ্ম ভাড়ের বচন সদাই কি মা-বাপের ঘরে পরে আভরণ। চোখ খাক মাের মা বাপ পিতা চোখ খাগ মাের পরে দেখে শুনে বিয়ে দিয়েছে ওগাে আমায় ভিখারীর ঘরে। চোখ খাগ মাের মা বাপ পিতা চোখ খাপ মাের খুড়াে, জেনে শুনে বিয়ে দিয়েছে লাঠি ধরা বুড়ে। থাক থাক ভাঙ্গড় বুড়ো, কুচনীর মাথা খেয়ে চলিলাম পিতার বাড়ী কার্তিক গণেশ লয়ে। কোলে নিল কার্তিক, হাঁটিয়ে লম্বােদর ক্রোধ মুখে যাত্রা করে গৌরী মাতা পিতার ঘর । ঘর হইতে বেরিয়ে মস্তকে ঠেকিল চাল ভাইনে শৃগাল গেল, বাঁয়ে কাল সাপ। বিনি মেঘে জল হয় রক্ত নেচা নেচা মাথার উপরে ডেকে গেল লক্ষমীর কালপেঁচা। আজি কি আমার যাবার যাত্রা লক্ষণ ত নাই কেন আমি বার করিলাম কার্তিক গণেশ দুইটা ভাই। যদি থাকত নারদ ভাগিনা আমায় যেত লয়ে ওগো যাব না যা না করে, যেতাম নারদ ভাগ্নের সঙ্গে। টেকির বাহনে নারদ করিছে গমন ব্রহ্মার ভুবনে গিয়ে ওগাে দিলে দরশন। আগতে মামীর সঙ্গে হল দরশন। কোথাকার যাও মামী, কোথায় গাে গমন ? আজ কেন দেখি মামীর মলিন বদন মামাতে মামীতে কোন্দল কিসের কারণ ? তােমার মামাকে চেয়েছিলাম দুবাই শখের কড়ি শঙ্খ দিতে পারে না যাচ্ছি পিতার বাড়ী। এইখানে থাক মামী, মাের বিলম্ব চেয়ে মামাকে জিজ্ঞাস করে তােমায় যাব লয়ে। ১৭ ভাড়-সিদ্ধিখাের ২৩ কুচনী বেশ্যা ২৯ নেচা-বন, জমাট ৪১ দুবাই শখের কড়ি-দুই বাহুতে পরিবার জন্য শাখার মূল্য ৩৫ . ৪০ পটুয়া সঙ্গীত মামীকে বসিয়ে নারদ-করিলেন গমন ৪৫ কৈলাস ভবনেতে গিয়ে দিলে দরশন। একা কেন বসে মামা কৈলাস ভুবনে মামীতে মামাতে কোন্দল কিসেরি করি। তােমার মামী চেয়েছিল বাপ দুবাই শখে, কড়ি শখ দিতে পারি নাইরে তাই গেল পিতার বাড়ী। যে দিন হেমন্তর বিটী কোন্দল নাই পায় ওগাে বেনাগাছে চুল জড়িয়ে গড়াগড়ি যায়। যেদিন হেমন্তর বিটী মায়ের ঘর গেল ওগাে কৈলাস ভবনে আমার কোন্দল ঘুচিল। নারদ ভাগ্নে বাপরে কোন্দলকে কে বা পারে ওগো দেবতা পশু জলকে যায় না তার কোন্দলের ডরে। কত দূর গেল তাের মামীকে আনগে ঘুরাইয়ে দুইটী বাই শঙ্খ দিব নগরে মাগিয়ে। এই কথা নারদ কর্ণেতে শুনিল কোন্দল ধুকুড়ী নারদ বগলে ডাবিল। মামীর কাছে যেয়ে নারদ দরশন দিল পালাবি ত পালা মামী প্রাণ জীবন লয়ে। ওগো দুয়ারে বসেছে মামা ত্রিশূল ঘাড়ে কোরে ওই আসচে মামা বেটা ভাঙ্গ ধুতরাে খেয়ে। মরুক মরুক তাের মামা চক্ষে পড়ক ছানি ওগাে দুটি চোখে দেখতে না পাই হীরে নাম কুচানী। মামীকে বিদায় দিয়ে নারদের গমন কৈলাস ভবনে নারদ দিলে দরশন। মামাগাে কার্তিক গণেশের ভেয়ের কিরে দিলাম বারম্বার তবু ত মামী এল না কৈলাস ভুবন। ৬০ ৭০ ধুকুড়ী-বুলি বা কঁধা ; কোন্দল-ধুকুড়ী -কোন্দল পটু। যথা- ‘দেবী বলে দুর বেটা কোন্দল-ধুকুড়ী'—নুরামধর্মমঙ্গল রাখিয়া বাহন ঢেকী কোন্দল-পুকুড়ী- ঐ .

৭৫ ৮০ পটুয়া সঙ্গীত বুদ্ধি দে রে নারদ ভাগ্নে উপায় দেরে মােরে তােমার মামী কৈলাস আসিবে কেমন প্রকারে । আমার বুদ্ধি সাজতে পার মামা ওগো বাঘেরি বরণ রূপে গুণে মামীর সঙ্গে হবে দরশন। ওই কথা.যখন শিবের মনেতে লাগিল বাঘবরণ শিব সাজিতে লাগিল। নেড় টেড় নিয়ে বাঘ চৌদ্দ হাত হল, বড় বনের বাঘ হয়ে পথে আগুলিল। কোলে ছিল কার্তিক গণেশ ডরিয়া উঠিল কেঁদো না কেঁদো না বাপ কপালে কিবা আছে ভালই হল কার্তিক গনেশ বাহন পেলাম কাছে। কাছ মেরে কাপড় পরে দুর্গা চড়িবারে যায় বােম বােম বলে বাঘ বন দিয়ে পালায়। তাের বুদ্ধি হতভাগা নারদ ধরেছিলাম আমি লাফ দিয়ে আমার ঘাড়ে চড়ে নাই তাের মামী । ঐ কথাটী মামা তুমি বলো না কারু কাছে তােমাদের সব ভেয়ে ভেয়ে কাঁধাকধি আছে। দেখ মামা রাসলীলা করেছিল ঠাকুর শ্রীবৃন্দাবনে রাসলীলা করেছিল সব গােপিনীদের সনে। রাসলীলা করে রাধা বলে আমি হেঁটে যেতে নারি দয়াল প্রভু বলে এসাে রাধে আমি স্কন্ধে করি । তবে বুদ্ধি বল নারদ ভাগনা উপায় বল মােরে তােমার মামী কৈলাস আসবে কেমন প্রকারে । যদি সাজতে পার মামা শেখারী বরণ তবে রূপে গুণে মামীর সঙ্গে হবে দরশন। এই কথা মহাদেবের মনেতে লাগিল শেখারী বরণ মহাদেব সাজিতে লাগিল। ৮২ কাছ-কাছা ৮৭ কাঁধাকধিকঁাধে করার অভ্যাস ৯৪ শেখারী শাখারী ১১০ পটুয়াসঙ্গীত সেদিন বিশ্বকর্মা বলে তখন ভাবিতে লাগিল আসিয়ে সে বিশ্বকচরণ বলি। এসাে রে বাপ বিশ্বকর্মা বাটার আব্দুল বাবি শীঘ্র কোরে দুবাই শখ আমার নির্মাণ করে দিবি। একেতে সে বিশ্বকৰ্ম্মা তখন শিবের আর পেল জয় জয় বলে শখ বানাইতে লাগিল। দুই বাই শখ ঠাকুর নির্মাণ করিল, শখ দেখে মহাদেব অনিন্দিত হল। শেখারী বরণ শিব সাজিতে লাগিল শেখারী পসর ঠাকুর আকিনেতে সাজিল। শেখারীর গুড়ি ঠাকুর গায়েতে মাখিল শেখা মাজা লড়িখানি বাম বগলে ঢাবিল। জয় জয় বলে শিব কৈলাস বাহির হল হেমলা নগরে গিয়ে দরশন দিল। শেখা নেবা বলে তখন তিন ডাক দিল ঘরে ছিল পদ্মাবতী শুনিতে পাইল। আনগাে শেখারী আমাদেরি বাড়ী তােমার শেখা পরিবে অভয় মঙ্গলি । বড়লােকের ঘরকে যেতে বড় লাগে ভয় কেউ মারিবে লাথ গােড়ালি কেউ মারিবে চড়। এক ঘর দেখাইতে যখন ফিরে ঘর দেখাইল । শেখারীর পসরা ঠাকুর ঘরেতে নামাইল। সুবর্ণের পাটীখানি শেখারীর থানে দিল। ঘরে ছিল শিবের খুড়শেষ শাশুড়ী গায়ের কাপড় নেয় না তারা করে হুড়াহুড়ি। বাঁদিকে বসিল শিবের মেনকা ঠাকরুণ কোথাকার থাক শেখারী কোথা তোমার ঘর: সূর্যপুরে থাকি আমি আমার ইন্দ্রপুরে ঘর ১২ ১২৫ ১০। দুই বাই শখ -দুই বাহুই পরিবার *খ ১০৯ ডবিল-চাপিয়া ধরিল ১১২ শেখা নেবাশাখা লইবে পটুয়া সঙ্গীত নামটা আমার দেশেখারী গাে পিতা সদাগর শখ বেচিতে এসেছি মা তােমাদের নগর। গ্রাম সম্বন্ধে হল আমাদের জামাই। শেখারী বলেন মা ঐ সম্বন্ধ চাই। জয় জয় বলে শেখারী কাগজ খুলিল ধান দূর্বো লয়ে শেখারীকে আশীর্বাদ করিল। তেল জল লয়ে ওগাে যার হাতেতে মাখাইল ওগাে জয় জয় জয় বলে শঙ্খ পরাইতে লাগিল। সােনার খাটে বসিলেন দুর্গে, রূপের খাটে পা শঙ্খ পরতে বসিলেন কার্তিক গণেশের মা। গাছি গাছি শঙ্খ পরায় মন্ত্র করে সার। যাবার বেলাতে শঙ্খ নড়ে চড়ে যাবি আসিবার বেলাতে শঙ্খ নাহি বেরােবি। দুই বাই শঙ্খ যার পরিধান করিল ধন ধান লয়ে গাে শেখারীর আগে দিল। ধন ধান দেখে শেখারীর রঙ্গ জ্বলে গেল কোটীক নয়নে দুর্গে চাহিতে লাগিল। তবু তাে দেব শেখারী ভস্ম নাহি হল ওগাে হাতের অঙ্গরী খুলে দেখাইতে লাগিল। শ্বেত মাছির রূপ ধরে গায়েতে বসিল এইখানে শিবদুর্গার মিলন হইল। শিব জপরে মন, হেলনে তরি বেদন, বদন ভরিয়ে মুখে বল বােম বােম, শিব জপরে মন। ১৪০ ১৪৫ ১৪ [ কাতুরহাট-নিবাসী পূর্ণচন্দ্র চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ ] ১৪১ পটুয়া সঙ্গীত ( ২২ ) শঙ্খ-পরান এক দিবসে বসে রে হর কৈলাস পর্বতে গৌরী বিনে ব্যাকুল হয়েছেন ভােলানাথে । এরা ত চিন্তিত হর গায় ভস্ম মেখে কি মত প্রকারে আজ দেখিব অমৃতে। নাইয়েরে গিয়েছেন গৌরী তাতে নাইকো দায় কাত্তিক গণেশ পুত্র আমার অম্নেতে নালায়। হেথা থেকে কাজ নাহি যাব সেই দেশে বুঝিব গৌরীর মন আজ শাখারির ব্যাশে। বিশ্বকৰ্ম্মা বলে রে শিব ডাকেন ঘন ঘন, অস্ত্র হাতে বিশ্বকৰ্ম্মা দিলেন দরশন। অস্ত্র হাতে বিশ্বকৰ্ম্মা হেঁট করিলেন মাথা কি জন্য ডেকেছেন আজ দেবের দেবতা। আইস বটে বিশ্বকৰ্ম্মা বাটার তাম্বুল খাও গৌরীর রি হস্তে দু’বাও শঙ্খ আমার গটে দেও। আজ্ঞে পেয়ে বিশ্বকৰ্মা শঙ্খ নেলেন কাটি গটিলেন দু’বাও শঙ্খ দেখতে পরিপাটি। আপতাপ মহাতাপ লক্ষী গড় জলে বিচিত্র করিলেন আজ হিমূল হরিতালে। লতাপাতা ফুলপাল তাহে আশ্বি কাটা জমন, নবমেঘ একত্র হইয়ে দিব্য করে ছাটা। শঙ্খেতে দিয়েছেন লেখে শিবদুর্গা নাম চতুর্দশ লিখিলেন কত অষ্টদশ পুরাণ। শঙ্খ পেয়ে তুষ্ট হইলেন দেব শূলপাণি ভস্ম ভূষণ ত্যাজ্য কবি সাজিলেন শাখারু। ১৫ २० ৫ নাইয়েরে—হিন্দি ‘নৈহর' = পিত্রালয় (বা জ্ঞাতিগৃহ)। নাই+হর জাতি নাতি নাই ?) হ- গৃহ (স। যেমন বাসর>হর বা বাসর) ১৪ গটে দেও---গড়িয়া দাও ১৮হিমুল-হিঙ্গুল ২০ জমন-যেমন ৮৭ ২৫ ৩০ ৩৫ পটুয়া সঙ্গীত শিবের বাম স্কন্দেহে সিদ্দিন ঝােলা, শখ থােয় তাতে জয় দুর্গা বলে চললেন ভােলানাথে। শিবের দক্ষিণ হস্তে নিমির ছটা চললেন ধরি ধরি উপনীত হলেন আজ হেমন্ত রাজার পুরী। তবে শখ নেবানেব বলে ডাকেন ঘনে ঘন অন্তপুরে থেকে গৌরী করিলেন শ্রবণ। দ্বারেরাে বাহির হলেন দেবী চন্দ্রমুখী কে এনেছ কেমন শাখা এদিক আন দেখি। ঐ কথা শুনিয়ে শিবের বাড়িলেন আনন্দ পুরীর মদ্দি চলে গলেন হয়ে পেরমানন্দ। তবে পিড়ের উপর বসে রে শিব শখ দিলেন খুলি জ্বলিত করিল আজ হেমন্ত রাজার পুরী। জমন পেরভাত কালে পূর্বদিকে উদয় ভানুকর তমন মত শঙ্খেতে আজ করছে দীপ্তকার। শঙ্খ দেখি তুষ্ট হলেন দেবী চন্দ্রমুখী, . জমন মধুর লােভে মাত হয়ে উরে ফেরে অলি । শঙ্খ বেছতে আইছ তুমি শখের ব্যাপারী কোন্ বা দেশে ঘর তােমার কি নাম শাখারী। তবে শঙ্খ বেছতে আইছি আমি শখের ব্যাপারী বঙ্গদেশে ঘর আমার নাম জয় শিব শাখারী। তবে পার্বতী বলেন গাে তত বিধাতারি কাম তােমার নামের নাম কি আমার বাড়ীর মাষির নাম। তুমি মিতে আমি মিতিন কেউ না কারাে পর আমার হাতে দিবা শঙ্খ কত নিব। দর? তুমি মিতিন আমি মিতে কেউ না কারাে পর তােমার হাতে দিব শখ তার কি নিব দর ? তবে পার্বতী বলেন মাশাে বলি যে তােমাকে, নগর মাঝে আইছে শখ কিনে দাও আমাকে। ৪০ ৪৫ ৩৪ মন্দি–মধ্যে ৪০ মাতমত্ত ৮৮ পটুয়া সঙ্গীত ৫৫ ৬০ তার র’জা নাইকো বাড়ী দ্বারে নাইকোন মিছি মিছি কেন গৌরী করেছেন যােদন। তবে পার্বতী বলেন মাগাে এই শঙ্খ রাখি। শখের বদলে কাকন শাখারুকে দিব। তবে তৈল জল দিয়ে হস্তের উঠালেন মলা, শখ পরিতে বসিলেন গৌরী ষােল কলা। টানিলে না খসে শঙ্খ বাড়ালি না ভাঙ্গে আশীর্বাদ করিলেন আজ জয় জগদীশে। পার্বতী বলেন দিলে বটে সাহা সত্য করি কওদি মূল্য দিব কত টাহা। তবে তুমি মিতিন আমি মিতে কেউনা করে। পর তুমি আমি দু’জনেতে থাকিব এক ঘর । ব্যাঙ্গের কি সাধ্য আছে লঙেঘ সমুদ্র বানরের কপালে তবুও শােভে কামসিন্দুর। বাপে যদি শােনে তােমার এই সকলে কথা। জট গাছি কাটিয়ে তােমার নাড়া করবে মাথা। তবে মেনকা বলে বেটা এমন কথা কয় এখনি খুলে দেই শঙ্খ গৌরী হেতা আয় । টানিলে না খসে শঙ্খ বাড়লি না ভাঙ্গে গৌরীর হস্তে শঙ্খ যেন বজ হয়ে আছে। পাটার উপর ধুয়ে নােড়া দিয়ে মারলো বাড়ি। নােড়া ভাঙ্গো দুখান হইয়ে দু'দ গেল পড়ি। শব্দ শুনেছি গৌরী তুমি বড় সতী চিনিতে না পার তুমি আপনার পতি। পঞ্চ ভাত ব্যান করিলেন রন্ধন, শিবদুর্গা দুজনাতে করিলেন ভােজন। তবে এই পর্যন্ত কবিতা সাঙ্গ হইয়ে গেল শিবদুর্গা মিলন হলে শিবর ধ্বনি বল। ৭০ ৭৫ ৬১ সাহা-শাখা ৬২ টাহ-টাকা পটুয়া সঙ্গীত ৯ (২৩) গৌরাঙ্গ-অবতার নবদ্বীপ অবতারে নিতাই গৌর দেখুন নাচিতে দিনে দিনে দুগ্ধ খায় নিমাই দোলেন মায়ের কোলে। দিন ক্ষণ করে দিল পণ্ডিত পাঠশালে। পড় রে বাপ প্রাণের নিমাই কৃষ্ণ গুণমণি পড়তে না পারে নিমাই পণ্ডিত মেলেন ছড়ির বাড়ি। সদাই পড়ছে নিমাই দেখুন গৌর-গুণমণি। ক্রোধ হয়ে গদাধর পণ্ডিত তবে নিমাইকে মারিল কাঁদিতে দিতে নিমাই চন্দনতলা গেল। চন্দনতলায় নিমাই দেখুন ষড়ভুজ মূর্তি দেখাইতে লাগিল রমরূপে ধেনুকধারী কৃষ্ণরূপে আসি অচৈতন্য রূপে নবীন সন্ন্যাসী। ডাের নিলে, কৌপীন নিলে নিমাই করঙ্গু নিল হাতে চলিল গাে শচীর দুলাল পাতকী তাতে। পড়ে রইল খাট-পালঙ্গ বাঁধ বন্ধন বালা নিমাই বিনে তােলা রইল কেশরীর মালা। খাট পালঙ্গ পেড়ে দেখুন শচী মাতা সুখে নিদ্রা যায় যমের ভগ্নী কালনিদ্রা শচীমাতাকে নিদ্রাতে চাপায়। এক ডাক দুই ডাক নিমাই তৃতীয় ডাক দিল তৃতীয় ডাক দিয়ে নিমাই সন্ন্যাস ধৰ্ম্মে গেল। কেশবী ভারতী এসে কিবা মন্ত্র দিল সেই দিন হইতে প্রাণের নিমাই উদাসীন হইল। রাত্রি প্রভাত হইল কোকিলে করে না শয়নে মন্দিরে ছিলেন শচী মাতা ঝেড়ে তােলেন গা। ২০ ৫ মেলেন-মারিলেন ১১ কর-করঙ্গ ১০ কেশরীর-কিশোরীর ২১ করে রায় কাড়ে, ব ব করে, পটুয়া সঙ্গীত কেন জম্ম নিলিরে বাপ নিমবৃক্ষে মূলে হয়ে যদি মরিতি না করিতাম কোলে। কাল তােরে দিলাম বিয়া কুলীনের ঝি ঘরে বধূ বিষ্ণুপ্রিয়া তার উপায় হবে কি ? বিষ্ণুপ্রিয়া শচীমাতা দেখুন কাঁদিতে লাগিল। দেখ রে নদীয়ার লােক বাড়ীর বাহির হয়ে নিমাই গেছেন সন্ন্যাস ধৰ্ম্মে কেউ রাখ বলে কয়ে। কেউ বলে প্রাণের নিমাই গাঙ্গে ডুবে মল কেউ বলে প্রাণের নিমাই সন্ন্যাস ধৰ্ম্মে গেল। মধুপুর মধুপুর বলে দেখুন নিমাই যেতে যে লাগিল মধুপুরের মধু দেখুন নাপিতকে ডাকিতে লাগিল। কাটোয়ার ঘাটে প্রভু মস্তক মুড়াইল। রঘুনাথ ভট্টদাস মুকুন্দমুরারী মুখে বলেন হরি ভাবে পড়ে টদাস খেছেন গড়াগড়ি। বড় ঘর বড় দুয়ার বড় কর আশা সকল দ্রব্য রইবে পড়ে গঙ্গার তীরে বাসা। ৩০ [ আয়াস-নিবাসী গােপাচত্র চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ ] (২৪) জগন্নাথ ও গৌরাঙ্গের গান জয় জয় মহাপ্রভু জয় নিত্যানন্দ জয় আদ্যচন্দ্র জয়। গৌর ভক্ত বৃন্দ হরিনামে বল ঠাকুর প্রভু জগন্নাথ যাহার নাম লইলে খণ্ডিবে দেহের পাপ। ১ জয় আচ-অদ্বৈত চন্দ্র (জয়াদ্বৈত চন্দ্র) পটুয়া সঙ্গীত সুপর্ণের জয় হস্ত কপালে মাণিক প্রভুর গলেতে দোলে মালা দেখিতে সুন্দর। ডাইনে আছেন বলরাম মধ্যে ভগ্নি তার বামে নীলা চন্দ্র আছেন আপনি। ঠাকুরের দুয়ারে অন্ন প্রসাদ বিকায় শূদ্রে আনিলে অন্ন ব্রাহ্মণেতে পায়। চার কড়া কড়ি দিয়ে হাড়ির ঝাটা খায়। হাতাহাতি কোলাকুলি ভকতে বলে হরি কেউ কেউ তুলিয়া লইছে চরণেরই ধূলি। এই হরিনাম ভাই যেবা নরে পূজে হেলায় বৈকুণ্ঠে যাবে জনম যাবে সুখে। পুণ্যের শরীরে পাপ নাই। খােলের শব্দ শুনে খােল কত্তাল বাদ্য বাজে গােরা নাচে আপন মনে ধরে হরির নাম দিচ্ছেন বালকগণের কানে। নবদ্বীপে চাদ বন্ধন শচীর নন্দন প্রেমানন্দে করিলেন পূর্ণ শচীর নন্দন। ভাই নিত্যানন্দ জীবন দিব দাম ভীতে অবতার করিলে প্রভু নদীয়ার মাঝার। কলি যুগের অবতার করিলেন দুইটী ভাই কৌতুকে ধরিল নাম চৈতন্য নিতাই। রাধামাধব বন্ধন মনের কৌতুকে ভাই নিত্যানন্দ জীবন দিব ডান ভীতে রামরূপে ধনুকারি। কৃষ্ণরূপে বাঁশী তিনমূৰ্ত্তি নয়ে গৌরাং হলেন সন্ন্যাসী নিমাই যাবেন সন্ন্যাসে তাহা নাইক দায় তােমার বিষ্ণুপ্রিয়ের ২০ ২৫ ৪ পর্ণের—সুবর্ণের ৯ পাখার বা ভক্ষণ করে ১• জগন্নাথক্ষেত্র পুরীতে ‘হাড়ির ঝাটা সৰ্বজনপ্রসিত ১৬ কত্তাল-করতাল ৪ পটুয়া সঙ্গীত বধূনারী কি হবে উপায়, বিষ্ণুপ্রিয়ের বধু নয় মা ৩০ জলন্ত অগ্নি কি দিয়ে রাখিব দিয়ে মুখের বাণী সুরধনী। তীরে নিমাই দণ্ডেক দাড়িও তােমার চাঁদ মুখে নিরখিয়ে তবে মায়ে ছেড়ে শচী মায়ের বাক্য নিমাই দূরেতে রাখিল। কণ্টকনগরে আসি দিল দরশন কণ্টকনগরে যখন বেলা সাত ঘড়ি খেউরী করিতে বসিল কেশব ভারতী। গােরা কেমন রে নাপিত তুই কেমন রে, তাের হিয়ে কি দেখে মুড়াইলি মাথা। নবীন দেখিয়ে সুদ শােচো গঙ্গা মৃত্তিকার ফোটা কোথা থুলে বেণুবাঁশী কোথায় থুলে লােটা কোথায় তােমার চিকাপুচ্ছ কোথা গােপীনারী কি অখিলের নাথ হলেন দণ্ডিধারী। হাতে লইলেন কোমণ্ডল দণ্ডে ধরিলেন ছাতি প্রভু জীবের লাগিয়ে ফেরে অখিলার পতি। আর চিন্ন বাই রূপনাথ সনাতন শ্রীনরহরিদাস ভুবনমােহন চূড়া পড়ে ভূমিতলে গদাধর পণ্ডিত কাঁদে চূড়া লয়ে কোলে। ওপথে দেখেছ আমার নিমাইকে যাইতে ? গলার তুলুসীর মালা অল্প বয়সে জগাই মাধাই তারা দুই ভাই অসুর হরি দিয়ে তাদের দর্প করলেন চুর হরিনামে দুই ভাই। বৈরাগ্য হইল, আনন্দতে দুই ভাই নাচিতে লাগিল, দাতা লয়ে মহাপ্রভু তুমি দেবেন বর গৃহস্থের মন বাঞ্ছা করিবে কুশল। [ সােনাকান্দি-নিবাসী কিশােরীমােহন চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ ] ৪৫ ৫৫ ৪২ চিকাপুচ্ছ—শিখিপুচ্ছ, কোম-মও ৫ অখিলার-অখিলের পটুয়া সঙ্গীত (২৫) গােপালন গরুরি পালন কর, গরু বড় ধন যার গােয়ালে গরু নাই তার বৃথাই জীবন। ই আদি দেবগণ সকলি দেবতা কপিলার সঙ্গে মা কহে কোন কথা। কপিলা বলে চল যাব অবনীমণ্ডলে দধি-দুগ্ধ লইলে দেবগণ পূজিবে কেমনে। সরগে ছিলেন কপিলা মৰ্ত্তপুরে এল নরলােকের ঘরে ঘরে ফিরতে লাগিল। গরু নাড় গরু চাড় গরু বড় ধন যার গােয়ালে নাই তার বৃথাই জীবন। পৃথিবীর মধ্যে মা গরু বড় ধন তার সেবা করেছেন প্রভু নারায়ণ। চালভাজা কড়কড়ে ভাজা যে জন গােহালেতে খায় গুটি গুটি বসন্ত তার গরুর গায়ে হয়। ভাদ্রমাসে গােয়ালে যে জন মাটী দেয় বছর বছর পাল তার মাটী হয়ে যায়। পান খাইয়া য়ে জন গােহালিকে যায় রক্ত পিনাস হয়ে গেয়ের বাছুর মরে যায়। ভাদ্র মাসে তাল গােলানি গরুকে খাওয়ায় গলে বেতাল হয়ে গরু মরে যায়। রবিবারে গােহালে যে মৎস্য ভাজা খায় এটুলি উকুন তার গরুর গায়ে হয়। অনুদয়ে যে জন গােহালিকে যায় গজাস্থানের ফল গােহালে বসে পায়। গরু নাড় গরু চাড়-গরু নাড়াচাড়া কর ১ পাক-গরুর পাল ১৯ তাল গােলানি-পান তালে মাড়ি (গ) পটুয়া সঙ্গীত ২৫ ৩০ প্রাতঃকালে ছনছড় সন্ধ্যে দিও বাতি তাহার ঘরে বিরাজ করে লক্ষী ভগবতী সাত বউকে ডাক দিয়ে কহে নীলবতী গরু বাছুরের সেবা কর মা তোমরা নিত্যি নিত্যি। সাত দিন সাত বউএর পালি বেঁটে দিল প্রথম গােয়ালকাড়া বড় বোটীর হল। প্রথম বড় বউ কুলেরি নদন তােমা হতে হবে মা গরুরি পালন। গরু নাড় গরু চাড় গরু বড় ধন তার সেবা করেছেন প্রভু নারায়ণ। সাত দিনে সাত বউএর পালি বেঁটে দিল। ছােট বউ ছিল মা আলার ঘরে দুলাে গােয়াল কাড়িবার নাম শুনিলে বৌ গায়ে মাখে ধূলাে। নবউটী ছিল মা তাহার নাম নিত্য গােয়াল কাড়িবার নাম শুনিলে তাহার নিত্য মাথা ধরত। আর একটি বউ ছিল নামে চন্দ্রকলা গােয়াল কাড়িতে যায় বৌ ঠিক দুপুরবেলা। মধ্যম বউ বলে দিদি জ্বলার উপর জ্বালা ভেবে গুণে দেখ গা ফুলবউটীর পালা। ফুলবউটী বলে দিদি গায়ে এল জ্বর গোয়াল কাড়িতে পারব না বােন নিকিয়ে দিব ঘর। পঞ্চ বউএর পালি গেল বড় বউটী এল। এস এস বড় বৌ কুলের নন্দন তােমা হতে হবে বউ গরুরি পালন। ভাণ্ডার ভাঙ্গিয়ে দিল নানা অলঙ্কার হাঁসুলী দিল বউকে গলাতে মাদুলী ওগাে উমুরি ঝুমুরি সােনার সীতেপাটি। ৪০ ৪৫ গােরালকাড়া-গোয়ালের আবর্জনা মুক্ত করা আমার ঘরের দুলাে-আলালের ঘরের দুলাল পটুয়া সঙ্গীত পরিধান করিতে দিল দিব্য পাটের সাড়ি গােয়াল কাড়িতে দিল নবউকে সুবর্ণের ঝুড়ি। রম-ঝম করে বউ গােয়ালে দিছে পা খিচ গােবর দেখে বউ কপালে মারে ঘা। মর মর মুনিশ খাটার ঘরে বিয়ে হত আত্ৰ দিন খাটিতাম তারা গরু কোথা পেত। সাধের শঙ্খতে যদি গােবর লাগাব ঘরে যেয়ে বাড়া ভাত কেমনে খাইব। সুবুদ্ধির বিটী তাকে কুবুদ্ধি ধরিল তুলিয়া ঝাটার বাড়ি গরুকে মারিল। মর মর বলে গাভীকে গাল দিল অঝরণে গাভী গরু কঁদিতে লাগিল। কাঁদিতে কঁদিতে গাভী ঘরের বাহির হইল। ছােট বউটী বলে দিদি, মজা হয়ে গেল হেঁচ মারুলী সাজসলতে জঞ্জাল ঘুচিল। ভাল হইল শ্বশুরবাড়ীর পাট ঘুচে গেল শন্যো গােয়ালে বউ নাচিতে লাগিল। দধি-দুগ্ধ বেচি আসেন নীলবতী তাহার কাছে বিদায় মাগে লক্ষী ভগবতী। এস ভগবতী ছেড়ে যাবে কতি কোথায় রে কপিলার পাল, কোথা রে গমন আজ কেন দেখি মা তােমার বিরস বদন। অঝরণে গাভী কঁদিতে লাগিল। তােমাদের বউগুলি অনবরণ গো ৭০ ৭৫ ৫৭ ৫৫ খিচ গােবর—গােমূত্র ও গােময় অত্র দিন--রাত্রিদিন অঝরণে অঝোর নয়নে ৬৬ ছেচ মারুল—ছড় মাতুলী ৬৭ পাট–শশুরবাটী বা শ্বশুরের স্থান ৭৫ অনবরণা—অদ্ভুত প্রকৃতি ৭১ কতি- কোথায় ৮৫ পটুয়া সঙ্গীত মেরেছে ঝাঁটার বাড়ি মা ভেঙ্গেছে পাঁজর গলায় বস্ত্র দিয়ে কপিলের পায়েতে পড়িল। একলক্ষ গাভী গরু ঘুরে নাহি এল বউ বউ বলে তখন বাড়ীতে ডাকিতে লাগিল। ঘরের ছিল বউগুলি ঘরের বাহির হল নাপিত ডাকিয়ে বউদের কেশ মুড়াইল। পেটের ভুটী কেটে সার কুঁড়ে পুতিল। গায়ের রক্ত কেটে আলিপনি দিল। ব্যতের জিহ্ব লয়ে কলার পাতে থুল হেঁটোর চাকি কেটে গাে পিদীম গড়াইল। হাতের আঙ্গুল কেটে সলতে বানাইল মাথার ঘৃত লয়ে গােয়ালে বাতি জ্বেলে দিল। মাথার খুলি নিয়ে ধুপসী বানাইল হাড়চূর গুড়া নিয়ে ধুপসীতে দিল। ধূপ-ধুনা সঁজ-সলতে গােয়ালেতে দিল এক লক্ষ গাভী গরু ঘুরে আসিল এক লক্ষ ছিল গাভী ছয় লক্ষ ছিল বছর বছর পাল বাড়িতে লাগিল। সংসারের মধ্যে মা গরু বড় ধন তার সেবা করেছেন প্রভু নারায়ণ আদ্যাশক্তি ভগবতী আছে যার ঘরে পরম সুন্দর গােয়াল যম কাঁপে ডরে। ৯৫ [ জানিবামী ভূপতি চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ পটুয়া সঙ্গীত ৯৭, ভগবতী মঙ্গল ১০ গরু নাড় গরু চাড় গরু বড় ধন যার ঘরে গরু নাই তার বৃথাই জীবন। গরুর সেবা করেছিলেন প্রভু নারায়ণ। ইন্দ্ররাজা দেবগণ বসিয়া আকনে কপিলার পৃষ্ঠে কথা কহেন সেখানে। কপিলা ডাকিয়া তবে বলিছে বচন তােমায় যেতে হবে মা রবনী মণ্ডল। আমি ত যাব না মা রবনী মণ্ডলে আমার মহিমা নরললাকে কিবা জানে। গােদানড়ী দেবে মা নারিব বহিতে দুচক্ষে তুলি দিয়ে ঘুরাবে বক্র বিনা অপরাধে বিধি লাগাবেন চক্র। মনে মনে জনে জনে বােঝা চাপাইবেন পৃষ্ঠে চলিতে না পারিলে পাঁচুনি মারয়ে পিঠে। দুটি পা ছন্দন করে দুগ্ধ নেবে হেঁকে আমরা দুধের বালকরা বেড়াব সব কেঁদে। আমি তাে যাব না মা রবনী মণ্ডলে তুমি যদি না যাও মা রবনী মণ্ডলে নরলােক পবিত্র হইবে গাে কেমনে। তােমার দুগ্ধ ঘেঁকে নয়ে দেবগণের সেবা হবে। এই কথা কপিলা কর্ণেতে শুনিল। নিৰ্ম্মল ব্রাহ্মণের ঘরে অধিষ্ঠান হইল কপিলাকে দেখে ব্রাহ্মণ ভাবিতে লাগিল। মুরারি ঘােষ বলে সেদিন মনে পড়ে গেল। ২০ ও বনী মণ্ডল-অবনী মণ্ডল ১৩ ৩০ ৩৫ পটুয়া সঙ্গীত বাবা মুরারি ঘােষ আজ থেকে গরুর সেবা কর বাপু তুমি গরুর সেবা করলে পরে ভাগ্য হবে মরে গঙ্গাস্নানের ফল কিছু দুয়ারে বসে পাবে। সাত দিন সাত বৌএর পালিত করে দিল প্রথম পালিতে মাতার বড় বৌএর হল। পরিধান করিতে দিল বউকে দিব্য পাটের সাড়ি গােহাল কাড়িতে দিল সুবর্ণার ঝুড়ি। রমুঝুনু শব্দে গােয়ালে দিলেন পা খিচ-গােবর দেখে বউ কপালে মারে ঘা। বউ বলে নিগরুর ঘরে যদি মাের বিবাহ হইত তবে কেন সােনার শঙ্খয় গােবর লাগিত। সুবুদ্ধি বউ ছিল কুবুদ্ধি ধরিল উলটা ঝাটার বাড়ি গরুকে মারিল। ঝাঁটার বাড়িতে গরুর পাঁজর ভেঙ্গে গেল পঞ্চমাসের গর্ভ সেদিন খসিয়া পড়িল। কঁদিতে কাঁদিতে গরু অন্য পালে গেল অন্য পালে গেল গরু ঘুরে নাইক এল। চালের বাতা ধরে বউ নাচিতে লাগিল ভাল হল শ্বশুর-বাড়ীর পাল ঘুচে গেল। আজ থেকে গােয়াল কাড়া জঞ্জাল ঘুচিল। দই-দুগ্ধ বিচিয়া আসিছেন নীলবতী তার কাছে বিদায় মাগিছেন ভগবতী। বলে তােমার বড়বৌ আনবরনা বড় মেরেছে ঝাঁটার বাড়ি ভেঙ্গেছে পাঁজর। পান খায় পিকি ফেলে গােহালের ভিতর। রাত্রে প্রভাত হলে পরে দেয় না, ছড়া ঝাটি সন্ধ্যে লাগিলে পরে দেখায় না বাতি। ৪০ ৪৫ ৩১ সুবর্ণা-সুবর্ণ বা সােনার ৩৩ কি-গােমুত্র পটুয়া সঙ্গীত বাড়া ভাত মৎস্য রাঁধা গােহালে বসে খায় রক্ত পিনাসি মার গরুর নাকে হয়। ভাদ্র মাসের দিনে যে জন গোয়ালে মাটি দেয় ডাংরা পিলুই হয়ে তাহার গরু মরে যায়। রবিবারের দিনে যে জন মৎস্য ভেজে খায় উকুন এঁটুলি মাতার গরুর গায়ে হয়। শনি-মঙ্গল বারের দিন গােবর বিলায় দিনে দিনে গেরস্থালী মেটিয়ে যায়। এই সকল পালন যদি পালিতে মা পায় ওবে গিয়ে নবলক্ষনীর পাল ঘুরে যায়। তােমার সাক্ষাতে বউকে নরবলি দেব। নাপিত ডাকিয়ে বৌএর মস্তক মুড়াইল জিহ্বা কাটিয়া বউএর কলার পাতে থুইল। হাতের দশটি আঙ্গুল লয়ে পলিতা পাকাইল হেঁটোর মালুই চাকি লয়ে প্রদীপ গড়িল। মস্তকের খাপুরি লয়ে ধুপসী করিল ধূপ-ধুনা দিয়ে কপিলা ঘরে নিল। এক লক্ষ ছিল গাভী সওয়া লক্ষ হইল বছর বছর পাল বাড়িতে লাগিল। আদ্যাশক্তি ভগবতী আছেন যার ঘরে গােহালে পরমসুখে তার যম কঁপে ডরে। শিবনিন্দা করাে না শিবের করাে সেবা শিব দিতে পারে ইন্দ্রপদ ধনে করে রাজা। ৭০ ৭৪ [ দ্বারকা-নিবাসী গুণমণি পটুয়াৰ গান হইতে লিপিবদ্ধ ] .১০৩ পটুয়া সঙ্গীত ( ২৭১ পাঁচ কল্যাণী ৫ অযুগ্রব রাতি মা বসে আছেন বিষহরি পদ্মপুষ্পে জন্ম মায়ের নামটী কমলা। সকল দেবতা থাকতে মা মনসার সঙ্গে বাদ। ছয় পুত্র ডংশিল ছয় বধূ করলে আড়ি তবু না বাদ ছাড়ে দেখ চন্দ্র অধিকারী। কওহে কালী কাত্যায়নী অম্বিকা ভবানী চণ্ডমুণ্ড বধ করাে মা অসুরনাশিনী। পাতালেতে মহীরাবণ কালীপূজা করে ভয়ঙ্কর মূর্তি মায়ের খণ্ড-খড়গ হাতে। বামহাতে খড়গ মায়ের গলে মুণ্ডমালা হের নয়নে চেয়ে দেখ মা পদতলে ভােলা। এ ভােলা নয় পতি মা আর এক ভােলা আছে দ্বিজ রামপ্রসাদ হয়েছে চরণ পাবার আশে। মরাখাকী গঙ্গা ললা তাের বুকে জেবরহনী শৃগালে কুকুরে মায়ের যেন করে আনাগােনা। শিব শিব বলে ইন্দ্র পাটে হল রাজা চতুরমুখী ব্ৰহ্মাণ করিবে শিবের সেবা। দয়াল শিব বিশ্বনাথ দেবী ত্রিপুরারি সকল ধন দিয়ে প্রভু আপনি ভিখারী। ঘােষণ ঘােষা হাড়ের মালা সব মেখেছেন গায় জটের ভিতর যুবতী গঙ্গা তরঙ্গ বয়ে যায়। ভাঙ্গ খায় ধুতরা খায় ভাঙ্গের খায় গুড়ি। কেউকে ধন দেন ঠাকুর আড়িতে গাপিয়ে কেউর দিন যায় মা গাে ভাবিতে গুণিতে। २० ৪ ১ অযুব- ভশিল—দংশন করিল আড়ি-ঝগড়া ২৩ আড়িতে গাপিয়ে—আড়ি (ধাদি মাপিবার ঝুড়ি-বিশেষ) যারা মাপিয়া পটুয়া সঙ্গীত • ১০১ নির্ধনাকে ধন দেন নিপুত্রিয়াকে পুত্র অন্ধ লােকে চক্ষু দেন দেব ত্রিলােচন। নমঃ নমঃ নমঃ দুর্গা নমঃ নারায়ণী কৃপা কর দুঃখ হর বিপদতারিণী। দুঃখে পড়ে মা গাে করিবে স্মরণ তুমি না তরাইলে সে তরায় কোন জন। বামে লক্ষমী-সরস্বতী ডাইনে লক্ষী-ভগবতী সিংহপৃষ্ঠে ভগবতী অসুরনাশিনী। নগরদীপ বন্দে মাতা শচী ঠাকুরাণী। তার গর্ভে জন্ম নিলে গুণের গৌরাঙ্গ আপনি। দিনে দিনে দোলে মাতা শচীমাতার কোলে দিনখ্যান করিয়া দিলে নিমাইকে পণ্ডিত পাঠশালে। লিখিতে না পারে নিমাই পড়িতে যে নারে ক্রোধিত হয়ে পণ্ডিত ঠাকুর মেলে ছড়ির বাড়ি কঁদিতে কঁদিতে নিমাই চন্দন-তলায় গেল সুরভুজ মূর্তি ধারণ করে পণ্ডিতকে দেখাল। জোড়হস্ত করে পাণ্ডত ভাবেন বিশ্বাস। বুঝে মেরেছি প্রভু ক্ষম অপরাধ ডাের নিলে কপনি নিলে করঙ্গ নিলে হাতে . চলিল শচীর দুলাল কলির জীব তরাইতে। সভা করে বসল দেখ ভাই চারিজন বামদিকে রাখিল সাঁত। ডাইনে লক্ষণ। আটদিন নেব হনু রামমরি চরণ। রামনাম লেবে পাপী এড়াবে এবার মরিলে মনুষ্য-জন্ম না হইবে আর। হরি হরি বল ভাই ঠাকুর জগন্নাথ যার নাম লিলে পরে খগুন হবে পাপ। ৪০ ৪৫ * • নগরদীপ-নবদ্বীপ দিনখ্যান—দিনক্ষণ (শুভক্ষণ নির্ণয় করিয়া) সুরভুজ-বড়ভুজ কপনি-কৌপীন ৬ ১০২ পটুয়া সঙ্গীত জগন্নাথ যে মহাপ্রভু শুনিবর কাহিনী ডানদিকে বলরাম মধ্যে সুভদ্রা ভগিনী। জগন্নাথের পথ যাত্রী বড় লাগে দুখ জনম সফল হবে দেখলে চাদমুখ। ৫৫ ( কলিথা-নিবাসী ত্রিলােকতারিণী চিত্রকরের গান হইতে লিপিবদ্ধ ] ( ২৮ ) ৫ চাষপালা দেহতে সুখ নাই গৌরী ভিক্ষাতে না যাব তােমা হতে অন্ন আজ আর ঘরে বসে খাব। ভাল বুদ্ধি বলেছ হে দেব ত্রিপুরারি আজ পইলা পাতে যা দেব তাই নাইকো ঘরে দেখি। কাল ভিক্ষা করিলাম দুর্গা কুচনি নগরে কি বুঝে বল গৌরী অন্ন নাইকো ঘরে। হাতেখড়ি নাওনা ঠাকুর নাওনা কেন লেখা উচিত কথা বলতে গেলে মুখ করাে না বেঁকা। কাল ভিক্ষা করিলেন ঠাকুর ছ পুরুষা চাল কোন কালকার ধারতে ঠাকুর ধন কুবিরের ধার। পাঁচপুরুষা দিয়ে তার লেঠা চুকাইলাম পুরুষা খানেক চাল থাকে অন্ধন করিলাম। অন্ধন করিয়া তােমাদের তিন বাপবেটাকে দিলাম তােমাদিগে বেবসিয়ে অন্ন আমি উপবাসী। ১০ ৫৫ চাঁদমু-জগন্নাথদেবের চন্দ্রযান ৪ পইলা পাতে ইত্যাদি খাইবার সময় প্রথম যাহা দেওয়া হয় (অর্থাৎ ঘরে অন্ন বা চাউলের সংস্থান নাই) । লেখা—হিসাব বোবাকা পুরুষ-পশুরী-পাচসের পরিমাণ মাপ-বিশেষ ১১ লেঠা-ঝঞ্চাট, গােযােগ ১৪ বেসিয়ে পরিবেশন করিয়া পটুয়া সঙ্গীত ১০০, চালের লেখা পেলাম দুর্গা কালকের ধন্য কোথায় যায়। ১৫ তিনটি পাে ধানের লেখা শুনহে গোঁসাই। পাে খানেকের চিড়ে-সন্দেশ খেয়েছে তােমার ছেলে পাে খানেকের ধানের তােমার সিদ্ধির নকুল ভাজা গেল। পাে খানেক ধন্য থাকে মেজেতে পড়িয়া কার্ত্তিক গণেশের বাহন জলপান করেছে। ধানের লেখা পেলাম দুর্গা কালকের কড়ি কোথাই যায়। তিনটি পণ কড়ির লেখা শুনহে গোসাই দেড় বুড়ি আর ভাঙ্গা ফুটো দেড় বুড়ি তার ভাল । কড়া দশেকের চিড়ে-সন্দেশ মেরেছে তােমার ছেলে কড়া দশেক কড়ির তোমার সিদ্ধি কেনা গেল। কড়া দশেক ক্রোধ করে দিয়িছি টেনে ফেলে। কড়ার লেখা পেলাম দুর্গা কালকের বাড়ি কোথা যায় ? হেই গাে মাতা হেই গাে পি এই কি নাজের কথা ইন্দুরে খেয়েছে বড়ি কতই দেবাে লেখা। তােমার কালে তােমার মাথায় নাই কেন মাথা। ওই কথা শুনে মহাদেব ইন্দুর মারিতে যায় লুটিয়ে লুটিয়ে ইন্দুর শিবের সদাই ধরে পায়। বলে মেরো না মেরাে না ইন্দুর গণেশেরি ঘােড়া যার ঘরে ইন্দুর নাই সেই যে লক্ষীছাড়া। কোলে নিল কার্ত্তিক হটায়ে লম্বােদর ক্রোধ করে যাত্রা করে ধন-কুবিরের ঘর। কুবিরা দেখিয়ে সেদিন বুদ্ধি করিল মুটো খানেক ধন্য নিয়ে উঠানে ছড়াইল। ১ পাে-পােয়া নকুল–চাট (মাদক দ্রব্য সেবনের পর যে মুখরােচক খাদ্য ব্যবহৃত হয়) ১৯ কার্ত্তিক গণেশের বাহন-ময়ুর ও মুষিক মেয়েছে—খেয়েছে ১৪. ৪ ৪৫ পটুয়া সঙ্গীত আটাকাটি দিয়ে ধন্য কুড়াইতে লাগিল বলে কোথাকার যাও দুর্গা কও দেখি বচন। বলে ভিক্ষাতে যায় নাই হে আজ দেব ত্রিপুরারি পরশু খানেক চাল দাও যে উপস রক্ষা করি। লেবার সময় লাও দুর্গা খাবার সময় খাও শুধবার বেলা হলে কুন্দলী পাকাও। ওই কথা শুনে দুর্গা কৈলাসকে গেল। ধ্যান-যজ্ঞে বসে আছেন ভােলা মহেশ্বর। নির্বোধ বলি তােরে দুর্গা নির্বোধ বলি মােরে বাড়ীতে আছে সিদ্ধির ঝােলা আন বাহির করে। তিন কোণ ধরিয়ে মহাদেব এক কোণ ঝাড়িল মাণিক-মুক্তাতে কত বাখার বেধে দিল । দুর্গা বলে ভিক্ষার মায়া ছাড় ঠাকুর চাষে দাও গাে মন চাষ যে দুল্লভ জিনিস এ তিন ভুবন। ভুইএ লাগাও মুগ-মুশুরী পগারে লাগাও কলা নৈবেদ্য বাড়াবে ঠাকুর ধৰ্ম্ম-সেবার বেলা। বয়স হলাে বৃদ্ধ আমি গণেশের মা খাটিতে নারি চাষে। ৫৫ কার্তিক-গণেশকে চেয়ে বয়েস তােমার বুড়াে: কার্ত্তিক গণেশ সঙ্গে দেব ঝড়বে ক্ষেতের হুররা। চাষ কৃষাণ কর মহাদেব সুখে অন্ন খাবে । বড় বড় মণিলাগ দুয়ারে বসে পাবে। কোথা পাব হাল জোয়ান লাঙ্গলের ইসে চাষের সামগ্রী লইলে চাষ করিব কিসে। চাষ চাষ করে দুর্গা না কর জঞ্জাল কোথায় পাব হাল বলদ কোথায় পাব ফাল। হাতের ত্রিশূল ভাঙ্গ ঠাকুর গড়াও কোদাল-ফাল আমার বাঘ তােমার বসােয় মর্ত্যে জোড় হাল। ৬৫ ৩৯ আটাকাটি-আঠাযুক্ত কাঠি ( পাখী পরিবার জন্য আঠালিপ্ত কাঠি বা শিক) খবারে মরাই বা গােলা পগার-বৃহৎ উচু আইল ৫ মণিলা-মুনির নাগাল অর্থাৎ বড় বড় মুনি তোমার আয়ত্তের মধ্যে আসিবে পটুম্মা সঙ্গীত শিব বলে বাঘে বসােয়াতে হাল দুর্গা কভু নাইকো শুনি। ৭। ক্ষুধা-তৃষ্ণাতে বাঘ সেদিন করবে টানাটানি। বলে হাল যদি জুড়বাে দুর্গা বীচন পাব কতি। বীচনের কারণে তবে ভীম পাঠিয়ে দিছি। হেদে বলে ভীমরে বাটার তাম্বুল খাবি শীঘ্র করে লক্ষমীর ঘরে বীচন আনিবি। একা ছিলেন ভীম সেদিন দ্বিজ আ পেল লক্ষমীর ঘরে যেয়ে ভীম দরশন দিল। লক্ষী দেখে ভীমকে শুধাইতে লাগিল। বলে কৈলাস থেকে এলে বাপ ভীম গদাধর কও দেখিনি কেমন আছেন ভােলা মহেশ্বর। চাষ-কর্ষণ করবে তােমার ভােলা মহেশ্বর বীচনের কারণে পাঠাইলে তােমারি নগর। অন্য লােককে ধন্য দিলে ধন্যর বারি পায় মহেশ্বরকে ধন্য দিলে মূলে চুলে যায়। বীচন যদি লিবি ভীম জামিন ঠাওর কর। পৃথিবী খুজে ভীম জামিন নাইকো পেল চঁদ-সূরয দুইটী ভাইকে ডাকিয়া আনিল। চঁদ-সূরয দুইটী ভেয়ে তােমরা থেক সাক্ষী শামুক খানেক বীচন ভীমকে দিলাম নাপন করে দিচি।৮৫ ক্ষেতে হলে দু’শামুক ভীম দিয়ে যাবেন আমারে। ৮০ ৬৮ ৭৯ ‘বসােয়া-শিবের বাহন ষণ্ড কতিয়ে বারি—বাড়ি বা বৃদ্ধি ; ঋণ-স্বরূপ ধান্য দিলে, পরিশোধের সময়, তাহার সুদ-স্বরূপ চতুর্থাংশ বা তদ্রুপ কিছু অতিরিক্ত ধাশ্য দিবার রীতি প্রচলিত আছে। অনুরূপ উক্তি সর্শতঙ্কার বাড়ি খাইত দেড়বুড়ি জিত। বারমাসভরিয়া বছরের খাজনা নিত ॥—মাণিকচন্দ্রের গান লে চুলে—মূল ধাই পরিশোধ হয় না বাড়ি পাওয়া ত দূরের কথা ৮১ ঠাওর—ঠাহর বা ঠিক কর, স্থির কর শামুক খানেক—একটি শামুখের থােলার যে পরিমাণ ধান্ত ধরিতে পারে নাপন করে—পরিমাপ করি দিচি—দিতেছি ১৪ ১০৬ ৯৫ পটুয়া সঙ্গীত বীচন যদি লিবি ভীম ভােজন করে যাবি এই দুটো ধানের লেগে দুজন জামিন লিলি। পেটে খেতে মাগাে আমি জামিন কোথা পাব। বলে যত খাও তত ভীম পেটে খেতে দিব পেটে খাবার দিতে জামিন নাইক নােব। ওই কথা শুনে ভীম কুদিয়ে বসিল। নখের টঙ্কারে ভাঙ্গে লােহার পঞ্চবেল সইসে নিচুড়ে সেদিন গায়ে মাখে তেল। বাহান্ন পৌটী চাল খেতে বাহান্ন পৌটী ডাল শত হড়া ঘৃত দিলে নব মণ চাল। সেই সকল সমান ভীমকে নাপন করে দিল হড়ার কান ধরে ভীম যমুনাকে গেল। ভীমকে দেখে যমুনা পলাইতে লাগিল। পালাইওনা যমুনা হে তুমি আমার দাদা কিম্বা তমার আমি ভাই। একটু জায়গা দাও যে রসুই করে খাই। ভীমের গদাতে সেদিন তিউড়ী খেচিল আড়াই মুড়ােতে সেদিন পাক নিৰ্মাণ হইল। গড়ার কান ধরে সেদিন মাড় গড়াইল ঘাড় জোলা বলে একটা নদী নিৰ্মাণ হল। যােল ক্রোশ জুড়ে কলার আঙ্গোট ফেলিল পর্বত সমান অন্ন সাজাইতে লাগাইল। গরম অন্নতে ভীম ধৃত ছিটাইয়া দিল মুণের ছড়া দিয়ে সেদিন ভােজনে বসিল। সেই সকল সামনে ভীমের আড়াই গেরস হল চৌষঢ়ী পণ আমের আঁটী চুষে চুষে খেল। ১০০ ১১০ ০ ৯২ কুদিয়ে--কুদিয়া, কুর্দন করিয়া বা লক্ষ জিয়া, ফুর্তি করিয়া ৯০ সিচুড়ে-ছিড়িয়া ও মন্দিত করিয়া পৌটী—১৬ বিশ পরিমাণ ১৩ তিউড়ী খেচিল-আখা প্রস্তুত করিল ১৪ জুড়ে-উড়ে মুড়ে ১• আজোট-অশু কালিপত্র গেরসএস ১১১ ১০৭ ১১৫ পটুয়া সঙ্গীত নােট ধরে জল খেতে যমুনা শুকাইল মা দুর্গার বর ছিল যমুনা উথলে উঠিল। লক্ষী এসে শুধায় বাবার অন্নেতে কুলাইল বলে জলে থলে মাগো আমার পণ পেটী হল। বলে বীচন বাঁধিয়ে তবে কৈলাসকে গেল বাঘ-বসােয়াতে হাল মর্তে জুড়ে দিল। এক চাষ দু’চাষ ভীম তিন চাষ করিল তিন চাষ করে সেদিন বীচন ছড়াইল। জয় হরি শ্রীহরি বলে মই জুড়ে দিল পূৰ্বেতে জুড়িয়া মই পশ্চিতে তুলিল। মই ঝড়া বলে একটা পর্বত নিৰ্মাণ হল আদ্যাশক্তি ভগবতী কোন বুদ্ধি করিল। ১২- ১২৪ [ দ্বারকা-নিবাসী গুণমণি পটুয়ার গান হইতে লিপিবদ্ধ ] (২৯) শিবের মাছ-ধরা ব্যাছল আসনে বসিলেন যুগপতি নারদে ডাকিয়া দুর্গা বলিছে বচন। অন্য লােকে চাষ করে ঘুরে আসে ঘর চাষ করতে গেছে আমার ভােলা মহেশ্বর। উপায় বল নারদ বাছা বুদ্ধি বল মােরে তােমার মামা ঘরকে আসে কেমন প্রকারে। নারদ বলে যদি মামী ধরতে পার বাদিনী বরণ রূপপগুণে মামার সঙ্গে হবে দরশন। ১১৩ নােট--অগ্রণী পণ পেটী-পৌণে পেট–পেট চতুর্থাংশ অপু যহিয়া গেল ১২২ পশ্চিতে–পশ্চিমে ১০৮ পটুয়া সঙ্গীত ১০ ২০ নারদের কথাটি দুর্গার মনেতে লাগিল স্বর্গের কামিলা বলে ডাকিতে লাগিল। স্বর্গে ছিলেন কামিলা সেদিন মর্ত্যে আসিল। হেদে বলি কামিলা বাটার তাম্বুল ল খাবি শীঘ্র করে জাল দড়ি নির্মাণ করিবি। একা ছিলেন কামিলা ঠাকুর দ্বিজ আজ্ঞ পেল আড়াই দিবসের মধ্যে জাল নির্মাণ হইল। ঘন ঘন পাশ ফেলাই গিয়ে লেখা নাই জালিখানটি নির্মাণ করিলেন কামিলা গোঁসাই। জাল-দড়ি নির্মাণ করে দুর্গার আগে দিল জাল-দড়ি দেখে দুর্গা হাস্য-বদন হল। যাও বাছা কামিলা মােরে দিলাম বর মৃত্তিকাতে দেউল দালান দেবতা লােকের ঘর। দন্ত করে পাড়িলেন দুর্গা নাশের পেটারী হস্তভরে বার করিলেন সুবর্ণার চিরুনী। সুবর্ণার চিরুনীখানি নখে আঁজি দিল ডালঙ্গে মাথার কেশ তেলেতে ভিজাইল। কেশগুলি আচুড়ে দুর্গা করেন গােটা গােটা তার মধ্যে তুলে নিলেন সিরিয়া ফেঁটা। আগুরু চন্দন কত তিলক ধরিল মাণিকমুক্তা সিথায় তুলে নিল। কানে নিল কর্ণ-ভূষণ নিলেন কর্ণ-বাল। মুখখানিকে সাজালেন মা পূর্ণিমার আলা। জাল নিলে দড়ি নিলে নিশে দিয়া নড়ি বিলতে বাঁধিলেন খোপা কাকে মৎস্যর হাড়ি। জয় জয় বলে দুর্গা গমন করিল স্বরূপপুরের মাঠে গিয়ে দরশন দিল।. • কামিল-কারিগর বা শিল্পী ২২ লাশের পেটাৰে- বিসােপযােগী এ্যাদি রাখিবার পেটরা ৭ নড়িলা কাকে—কক্ষে পটুয়া সঙ্গীত ৪০ ৪৫ স্বরূপপুরের মাঠে দুর্গ। চতুর্পানে চায় ধান বই ঘাস মাঠে দেখিতে না পায় । ধ্য দেখে ধন্যবতী ধন্য ধন্য বলে বাহবা শিবের চাষ হরের শঙ্করে । ভাল কৃষক করেছিলেন ভােলা মহেশ্বর এতদিন কার্ত্তিক গণেশ সুখে খাবেন ভাত। কোন ধান ভাঙ্গিব শিবের কোন ধান রাখিব । গঙ্গাজলি ধান লয়ে ধৰ্ম্মসেবা করে এই ধান ভাঙ্গিলে তাের প্রতি কান্ত হবে। গঙ্গাজলি ধান ভেঙ্গে পাতিলেন অবতার চারিদিকে বাঁধ বেঁধে মধ্যে রাখেন বায় । এলাে জাল ফেললে ঠিকনে দিলেন খুটো হস্তে টিপনে জল ছেচেন মুঠো-মুঠো। হস্তে জল ঘেঁচেন দুর্গা মুখে গীত গায় জলের ঝাপঝপানিতে লক্ষ যােজন ধেয়। যেখানে না পায় মৎস্য তুলে মারে বাড়ি ভাঙ্গে না শিবের ধান ছিটে করেন গুড়ি। কাদা পড়িয়া ধন্য ছাড়েন ভুরভুরি। কাদা পড়িয়া ধন্য জপিয়া খেলেন জল বসির আসন শিবের করে টলমল। শিব বলে দেখরে নারদ মুখেরি বচন কোন দেবতা ঠেলে দিলে বসিবার আসন। নিত্যি বসে থাকি আমি রত্নসিংহাসনে আজ কেন মাের প্রাণ ব্যাকুল করে। খড়ি নাড়ে খড়ি চাড়ে খড়ি দিলে রেখে বাদীর কন্যা নামে খড়ি হল প্রহর ট্যাক। আশ্বিন-কার্তিক মাসে রােদে ঝলমল জানি কোন ধান ভুয়ের মরে গিয়েছে জল। ৫ ৩ এ ছিটে-ছিড়িয়া খড়ি নাড়ে খড়ি চাড়ে-নাড়া-চাড়া করে ১১০ ৭৫ পটুয়া সঙ্গীত হেদে বলি ভীম রে বাটারি তস্থূল খাবি শীঘ্র করে ধান ভুইএর সংবাদ আনিবি। একা ছিলেন ভীম ক্ষেত্রে সেদিন শিবের আজ্ঞা পেল শ্বেত ক্ষেত নেতের ধরা বেড় দিয়ে পড়িল চৌদ্দ মণ লােহার নেপুর পায়ে তুলে নিল। আশি মণ লােহার গদা বাম কাঁধে চাপাল সাজন-কোজন করে ভীম যান রােষে যােষে। একে একে ছে ফেলেন ভীম বার বারকোশে। স্বরূপপুরের মাঠে গিয়ে ব্রহ্মডাক ছাড়ে ভীমের শব্দতে আকাশ পাতাল নড়ে। তিন কোণ ভিড়িয়ে ভীম ঈশান কোণে চায় দিব্যি বা বাদীর কন্যা দেখিবারে পায়। কোথায় গাে রূপের বাদীনী কোথায় তােমার ঘর ধন্য ভেঙ্গে মৎস্য মার বুকে নাইকো ডর। মৰ্ত্তপুরে থাকি আমি স্বর্গপুরে ঘর আজ মৎস্য ধরতে এলাম শিবের নগর। পালাবি তাে পালা গাে রূপের বাদিনী। কেড়ে নিব জাল দড়ি নেথিয়ে ভাঙ্গব ঘড়ি। ধরে লয়ে যাব তােরে মামার বরাবরি যতগুলি ধান ভেঙ্গেছে গুণে নিব কড়ি। দুর্গা বলে জানিরে জানিরে ভীম তাের মামাকে জানি ডেকে দেরে তাের মামাকে ছিচে দেকরে পানি। শিবের হয়ে কোন্দল করিস আয় বেটা বসে। শিবের হয়ে কস কথা শিব হয় তাের মেসাে। ভীম বলে মেসসা লয় ও বাদীনী মামা বটে মাের তার ভুয়ে ধন্য ভাঙ্গ স্বামী হয় কি তাের। ওই কথা শুনে দুর্গার ব্ৰহ্ম জ্বলে গেল মহা ক্রোধ করে বচন বলিতে লাগিল। ৮৫ ৯ যেতের ধরা পট; ধরা= ধড়াছােট বস্ত্র পেপে ১ নেখিয়েলাথি মারিয়া ৬৮ নেপু-নুপুর ৮২ বরি—নিকট ৭১ ১১১ পটুয়া সঙ্গীত কি বােল বলিলি ভীম আগিয়ে কহ কথা খােলার চোটেতে তাের কেটে দেব মাথা। ছােট জাতের মেয়ে পেয়ে গাল পাড়িছ মুখে অমনি ঠেলে ফেলে দিয়ে দাঁড়াইব বুকে। গর্দানেতে ধরে তােমায় পুতে যাব পাকে। ওই কথা শুনে ভীমের নাহি সরে রা কলাগাছের মতন তরাসে হালে গা । দন্ত করে পড়ল ভীমের পাৰ্বতীয়া চূড়ড়া আর দিকে বার কোশ ধান করেছে গুড়াে। দম্ভ করে পড়ে ভীম দন্তে নিচে কুটো পরাণে না মার বাঙ্গীনী লাথি মার দুটো। যেই বা বাদীর কন্যা আনমন হইল হাতের গদা ভূমে ফেলে গুড়ি গুড়ি পলাইল। গুড়ি গুড়ি পালাইতে ভীমের হেঁটোয় গেল ছড় মায়া করে দুর্গা সেদিন বলে ধর ধর। দড়ে যেয়ে খেলেন ভীম তিন সরােবর ধ্যান যজ্ঞে বসেছিলেন ভােলা মহেশ্বরী । চরণে ধরিয়ে ভীম কাঁদেন শ্ৰীমতী উপারে ছিল ভীম মামা বুদ্ধি ছিল মােরে ভাগ্যে পূর্ণে বেঁচে এলাম বাদী কন্যার হাতে। শিব বলে কেমন রূপের বাদ্দীনী কেমন চরিত মেয়ে হয়ে পুরুষ বধ শুনি বিপরীত। ভীম বলে কাল নয় গাের নয় মামা মধুর বরণখানি দূরে হতে দৃষ্টি করলাম ঘরে যেমন মামী। ১০৫ ১১০ ১১৫ গানেতে--মন্তকে ৯৭ নাহি সারে কথা বাহির হয় না ধানমনস্ক—অন্যমন ১০৫ হেঁটোর-হাটুতে ১৪-দড়ে-দৌড়িয়া খেলেন ভীম তিন সরােবর—পিপাসায় তিন সরোবর জল পান করিল ১২০ ১১২ পটুয়া সঙ্গীত রৌদ্রতে মিলায় বাদীনী হেঁয়াতে জুড়াই মুঠে কঁকাল পাওয়া যায় কোমরে ভাঙ্গের কেশ। বাঙ্গীনী বলে বাদীনী নয় চৌদ্দ রাজার ঠাট ধান বাড়িতে হতে বাঙ্গীনী বলে কাট কাট। বাঙ্গীনীর গায়ে আছে অষ্ট আভরণ বাঙ্গীনীকে হরলে পাবে চৌদ্দ রাজার ধন। হাদে বলি ভীমরে বাটার তল খাবি শীঘ্র কোরে মাের বসােয়া সাজোয়া করিবি। একা ছিলেন ভীম সেদিন শিবের আজ্ঞা পেল ডােরে ধরে শিবের বসােয়া বাহিরে আনিল। যাবে গাে শিবের বসােয় যাবেন অনেক দূর চার পায়ে তুলি দিলেন বাজন্ত নূপুর। রয়ে ঝুঁয়ে বেঁধে দিলে মাণিক মুক্তার ঝাড়া বসােয়াটি দেখতে হলে নয়নেরি তারা। বসােয়া সাজস্য করি শিবের আগে দিল বসােয়াটি দেখে ঠাকুর হাস্য-বদন হল। আমার কিছু দে রে ভীম অষ্ট আভরণ আর ধন দিলে শিবকে ধান ধরিবার নড়। বসােয়র পৃষ্ঠের উপর তুলে দিলেন গাজার ধুকরী বসােয়র পৃষ্ঠের উপর তুলে দিলে মাণিক-মুক্তার থলে পরিধান করিলে শিব ব্যাঘ্র-ছাল। ভাঙ্গ ধুতুরা খেয়ে ঠাকুর বসােয়ায় চাপিল শিঙ্গে ডম্বুর নিয়ে তখন ঢুলিতে লাগিল। জয় জয় বলে ঠাকুর গমন করিলেন স্বরূপপুরের মাঠে গিয়ে দরশন দিল। ১৩৫ ১৪০ ১১৬ ছেরাতে-ছায়াতে ১১৭ মুঠে—মুষ্টিতে ১২• অষ্ট আতরণ—অষ্ট ঐশ্বৰ্য্য-( অনিমা লঘিমা ইত্যাদি অষ্ট ঐশ্বৰ্য্য) বা অলঙ্কার ১২৩ সাজে-সজ্জা ১২৮ রয়ে রয়ে—প্রতি রােমে সাজ-সজ্জা করি।

১৪৫ . ১৫০ পটুয়া সঙ্গীত স্বরূপপুরের মাঠে ঠাকুর চতুর্পানে চায় দিব্যি বা বাদীর কন্যা দেখিবারে পায়। কোথায় গো রূপের বাদীনী, কোথায় তােমার ঘর ধন্য ভেঙ্গে মৎস্য মার বুকে নাইকো ডর। দুর্গ। বলে সরগ পুরে থাকি আমি মত্তপুরে ঘর আজ মৎস্য ধরতে এলাম তােমারি নগর। জালমাছ খলিসা ধরি, গােদ। যার ব্যাঙ কাকুড়ি না এড়াই তার ভাঙ্গি দশটী ঠ্যাং। পালাবি তে পালাগাে রূপের বাদীনী আমার ঘরে ভীম আছে দুরন্তর তিনি। দুর্গা বলে জানিহে জানিহে তােমার ভীম যত মরদ আমার ভয়ে তােমার ভীম পালিয়ে গেল ঘর। তােমার শিঙ্গাডম্বুর কেড়ে নিব তােমাকে কিবা ডর। ওই কথা শুনে ঠাকুর লজ্জাতে পড়িল এক পা দুই পা করে পেছুতে লাগিল। বাবুই ঋটিতে বসােয়া বন্ধন করিল ত্রিশূল গাদিয়ে শিব শিঙ্গা ডম্বুর থুইল । মাথার বাসুকী নাগ আদাড়ে ফেলাইল হাসিয়ে হাসিয়ে বচন বলিতে লাগিল। বাপ কুল মা কুল তাের শ্বশুর কুল শুনি। দুর্গা বলে শ্বশুরের নামের আমি কি দিব তুলনা চটী দেবতা আছেন তারাও একজনা। বড় ভাসুরের নাম শােন ব্রহ্মা জল-মাঝি ১৫৫ ১৬০ ১৪৫ সরগপুরে—স্বর্গপুরে ১৪৭ জালমছি--চিংড়িমাছ যার ব্যাংজাড় (বড়) বেঙ ১৪৮ কাকুড়ি না এড়াই-কাকড়াও বাদ দিই না দুরন্তর-দুরন্ত মরদ সাহসী পুরুষ ১৫৬ বাবুই ঋটিতে--বাবু নিৰ্বিত রজ্জুতে আদাড়ে--ক্ষুদ্রষন বা জঙ্গল, জঞ্জাল ফেলিবার স্থান ১৫৮ ১৬৫ ১৭০ ১১৪ পটুয়া সঙ্গীত ঘর স্বামীর নাম শােন মহেশ বাদীয়া ছেলে দুটীর নাম শােন কার্ত্তিক গণপতি। শিব বলে ছেলে দুটীর সম্বন্ধে তুমি আমার সই বাঙ্গীনী তােমার আমি সয়া এলে গেলে বুড়ােকে করিতে চেও দয়া। সই হাতের খােল পেলে আমি খানিক ঘেঁচি। দুর্গা বলে আমার সঙ্গে জল ছিচলে জাতি নাশ হবে। শিব বলে যে না জাত হও বাদীনী ওই জাতি হব তােমার রূপে গুণে এ জাতি মজাব। পৃথিবীর মধ্যে এত নব জাতি ছিল সকলকে বঞ্চিত করে কি তােমাকেই রূপ দিল। এক দিককার পাটে তােকে রাজা করে থােব মাণিক-মুক্তোতে গাে বাকার বেঁধে দোব। ১৭৫ ঘরে আছে দুর্গা তােমার দাসী রেখে দিব। দুর্গা বলেন মাণিক-মুক্তো যা দেবে সকলি পেটে খাব। অঙ্গুরী দাওনা তােমার নিশানা রাখিব । শিব বলে অঙ্গুরীটা চাওনা লো রূপের বাঙ্গীনী বলে বুঝিলাম বুঝিলাম তােমার আনুলাে বড়াই। লক্ষ টাকার জয়বণ্ট সঁপতে পারছি আমি কড়া দশেকের অঙ্গুরী দিতে নারছ তুমি। ওই কথা শুনে ঠাকুর লজ্জাতে পড়িল আপনার হাতের অঙ্গুরীটী বাঙ্গীনীকে দিল। শিব যে জল হেঁচিবি ওই ডােবার নাই জল সব নদীর নাম করে মেলেন স্মরণ। উপায় নদী কোপায় নদী লল্ল দামােদর ১৮০ ১৮৫ ১৮ লোজল-সেচনের জন্য ভগ্নাংশ মৃন্ময়পাত্র ১৭৫ বারবার বা ধাতের গােল দেব-দিৰ ১৭৮ নিশানা-চিহ্ন ১৮• অনুলাে বড়াই-মিছামিছি বড়াই বা নির্থক বাহাদুরী ১৮৭ উপায় নদী ইত্যাদি-এই সৰ নদীর মধ্যে কয়েকটি নদী বীরভূম জেলার মধ্য mি প্রবাহিত ১১৫ ১৯৫ २०० পটুয়া সঙ্গীত পশ্চিম হতে এলাে নদী চিলে ঘাড়মােরা আর নদী এলেন কত অমল কমলা। আর নদী এলেন কত তরঙ্গেরি মাতি মাড়জোলা ভাসিয়ে এল এলেন পদ্মাবতী। সব নদীর জল দুর্গা খামিক্ষে আনিল বা করের আঙ্গুল কোরে সুলঙ্গ কাটিল সুলঙ্গে শুলঙ্গে কোরে জল উঠিতে লাগিল। খােলা করে জল ছিচে কোমরে দিলেন হাত বুঝিলাম বুঝিলাম ঠাকুর জল হেঁচিবার সাধ এই মুখে খাবে ঠাকুর তুমি বাঙ্গীনীর ভাত। পালাবে তাে পালাও ঠাকুর শিঙ্গে ডম্বুর লয়ে ওই আসছে মহেশ বাদী ভাঙ্গ ধুতরাে খেয়ে। বার মণ সিদ্ধি খায় তের মণ ভাঙ্গ জল হেঁচিবার নাম করলে সমুদ্রে ধরে টান। গােটা গােটা বাঁশ টানে তিনটী কাটি সার আমার কাছে দেখিলে পাঠাবে যমের ঘর। উচুপারা আইল দেখে দুর্গা লাফ দিয়ে চলিল ধনাগােদার বাপ বলে মিথ্যা ডাক দিল। হাতের খােলা ডোবায় ফেলে ঠাকুর ভুয়ে লুকাল। একবার উঠে একবার বসে ভােলা মহেশ্বর একলা বাঙ্গীনী বই মনিষি দেখিতে না পায়। দুর্গা বলে এইখানে থাক ঠাকুর দণ্ডেক বসিয়ে আমি আসি মা গঙ্গায় স্নান করিবারে। স্নান করিতে গিয়ে দুর্গা কুশ পড়ে গেল আহুবাণ মেরে তারে জীবন দান দিল। কুশমিটে বাদী বলে তাই সৃজন হল জালদড়ি দুর্গা সে দিন তারে সঁপে দিল। ২০৫ ২১০ ১৯৩ সুল—সুড়ঙ্গ। ২•৮ ই-তিন্ন ২৬ ভুয়ে—ভূমিতে ২১২ আহবান-আয়ুৰাণ ২১৫ ২২০ ১১৬ পটুয়া সঙ্গীত জয় জয় বলে দুর্গা সে দিন কৈলাসেতে গেল এই বেলাতে কই রে নারদ এই বেলাতে কই তুলে থােরে হাল জোয়াজ তুলে থােরে মই। তাের বাদী মামা ঘর এল তাের বাদী মামী কই অঙ্গুরীটী দেখি না হে অঙ্গুলের উপর। শিব বলে না দিও গাল দুর্গা না দিও গাল ভাঙ্গ ধুতরাে সিদ্ধিগুলো খেয়েছিলাম কাল। ভুই নিড়াইতে বসেছিলাম বড় ধানের ভুয়ে অঙ্গুরীটী গিয়েছে পড়ে তাও নাইকো মনে। দুর্গা বলে ইন্দ্রপুরের বাণীনী এসেছিল মৎস্য বেচিবারে অঙ্গুরীটী বন্ধক দিবে ফিরচে ঘরে ঘরে। অঙ্গুরীটী বন্ধক লেয় না অভাগিনীর ডরে পুরুষখানেক চাল দিলাম কাহন পাঁচ ছয় কড়ি চিনে বাদ রেখেছি হে মাণিক অঙ্গুরী। অঙ্গুরীটী ফেললে যখন শিবের বরাবরে অঙ্গুরীটী দেখে ঠাকুর পড়িলেন ফাপরে। শিব বলে বাদীনী নয় ওগো দুর্গা অভয়ামঙ্গল ওই প্রকারে বােঝ তুমি পরপুরুষের মন। জয় জয় দুর্গা তুমি দিও বর ধনে পুতে সুখে রাখবেন ভােলা মহেশ্বর। ২২৫ ২৪ [ দ্বারকা-নিবাসী যতীন চিত্ৰকৰূেরন হইতে লিপিবদ্ধ । ২২৭ পুরুষ-পী (পাঁচ সের পরিমাণ যাহারা পট ও পটুয়া-সম্বন্ধে বিশেষভাবে অনুসন্ধান করিতে চান, তাঁহাদের অবগতির জন্য নিয়ে বর্তমান গ্রন্থকার-লিখিত কয়েকটি প্রবন্ধ ও পুস্তিকার উল্লেখ করা হইল। ১৩৯) প্রবন্ধ-তালিকা বাংলার রসকল-সম্পদ (প্রবাসী—বৈশাখ, ১৩৩৯ The Art of Bengal (Modern Review-May, 1932) 01 The Indigenous Painters of Bengal (Journal of the Indian Society of Oriental Art-June, 1933) 81 Indigenous Paintings of Bengal (Roopa-Lekha 1932) The Tigers' God in Bengal in Bengal Art (Modern Review-November, 1932) ৬। পটুয়ার প্রাচীন ইতিহাস (বাংলার শক্তি-পৌষ, ১৩৪৫) ৭। পটুয়া-সঙ্গীত (বাংলার শক্তি-চৈত্র, ১৩৪৫) The Living Traditions of the Folk Arts in Bengal (Indian Art and Letters—Vol. X, No. 1, 1936) -No. 12, পুস্তিকা-তালিকা si Catalogue, Exhibition of Bengal Folk Art (Published by the Indian Society of Oriental Art, Calcutta, 1932) ২। পটুয়া (৬বি, মির্জাপুর ষ্ট্রীট, কলিকাতা হইতে প্রকাশিত) ৩। চিত্রলেখা (৬০ বি, মির্জাপুর স্ট্রীট, কলিকাতা হইতে প্রকাশিত )

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Potuya Sangeet

Author
Dutta, Gurusaday
Title
Potuya Sangeet
File name
Potuya Sangeet
Text
OCR done
Citation
1939
Published
2009/09/22
Publisher
Bhupendralal Mukherjee, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
169
Library
Bally Sadharan Granthagar
Classification
Kinds Of Music.
Keywords
Music by painter by caste
DLI number
513065
Barcode
4990010020078.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
k1eY4JzWBa6
Download PDF

Potuya Sangeet