Makardah Saraswat Library, Howrah

Chetabani Ed. 8th

Swami, Rajnaryan · 2009/08/18

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

*৮g tee
-খুব
গ্রাবন
১৮২

No text on this page.

অষ্টম সংস্করণ
ন
গুড়গাঁও, (পাঞ্জাব)

মথুরায় ভগবানের অতার অল্প দিনের একটি সত্য ঘটনা ভগবান কৃষ্ণচন্দ্র আদালতে প্রকট হইয়া সাক্ষ্য দিয়াছেন। দশ লক্ষ মনুষ এই ইতিহাস শুনিয়াছে। “ভগবান ভক্তের বশ,” এই কথাটি অবশ্য অনেকেই জানেন কিন্তু জানিয়াও অতি তাল্প লােকেই ইহা স্বীকার করিয়া থাকেন। আপনি ইহা শুনিয়া আশ্চৰ্য্য হইবেন যে কলিযুগে ভগবান ভক্তের লজ্জা নিবারণের জন্য সাক্ষাৎ প্রকট হইয়াছিলেন ও ভক্তের পক্ষে আদালতে সাক্ষ্য দিয়াছিলেন। এই পুস্তকে সকল বৃত্তান্ত পূর্ণরূপে করা হইয়াছে—কি প্রকারে ভক্তের সহিত ছলনা করা হইয়াছিল ও ভক্ত ভগবানের শরণ লইতে বাধ্য হইয়াছিল ও ভগবানের নাম সাক্ষীরূপে আদালতে লিখাইয়াছিল, ভগবান কি প্রকারে ভক্তের বশে আসিয়া সকল বৃত্তান্ত বর্ণনা করিয়াছিলেন, জজ সাহেব ভগবানকে সম্মুখে দেখিয়া কি ভাবে আশ্চৰ্য্য হইয়াছিলেন—পুস্তকটি পড়িলে আপনার হৃদয়ে ভক্তির তরঙ্গ উপস্থিত হইবে। সমস্ত বৃত্তান্ত এইরূপ সরলভাবে করা হইয়াছে যে একটি শিশুও ইহা পড়িয়া আনন্দ লাভ করিতে পারে। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এই পুস্তকথানি এত প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছে যে ইহার তৃতীয় সংস্করণ শীঘ্রই সমাপ্ত হইতে চলিয়াছে। কোথায় সেই নব্য যুবকেরা যাহারা বলিয়া থাকেন যে ভগবান কখনও প্রকট হইতে পারেন না, তাহারা আমা- দের ইতিহাসটি পড়ুন। অধিক লেখার কোন আবশ্যকতা নাই । অল্পই পুস্তক বাকী আছে শীঘ্র আনাইয়া লউন, একবার শেষ হইলে পরে কোন দামেও পাওয়া যাইবে না। হিন্দি ছাড়া বাংলা ভাষাতেও ছাপান হইয়াছে, মূল্য হিন্দি , বাংলা ও আনা, ডাক খরচ • আনা আলাদা দিতে হইবে। এক টাকা অগ্রিম পাঠাইলে ৫ খানি পুস্তক বিনা খরচে পাঠান হইবে। আজই লিখুন চেতাবনী কাৰ্যালয় (রেজিষ্টার্ড), গুড়গাঁও, (পাঞ্জাব) ” এই পুস্তকের সমস্ত গ ত গভর্ণমেন্ট দ্বারা রেজিষ্ট্রীকৃত হইয়াছে। অতএব অন্য কেহ এই বইখানি যে কোন কাষ ও ছাপাইলে বা কোন অংশ নকল করিলে বা এই বইখানির নাম ব্যবহার কমিলে অাইনত দণ্ডনীয় হইবেন। ১৯৪৩ খৃঃ অন্ধ নবম সম্পূর্ণ সংস্করণ *, * শ্রীশ্রীহরি * অকৃত্রিম চেতাবনী । রেজিষ্টার্ড ) জন্মগ্রহণ কয়য়াছেন। কলিযুগ সম্বৎ ২০০০ ক্রমাব্দে সমাপ্ত করে ও •াইন পর বা সতাযুগ বংসৰ পৰাতে অনেক পরিন হবে। এই সিদ্ধান্ত গুলি হিন্দুশাস্ত্র ছাড়া ইসলাম, ক্রিশ্চান, পারসী, শিখ প্রভৃতি মন্তু গ্রহ গুলি কই? রুপ প্রম করা লেখক- জগৎ বিখ্যাত পরমহংস শী১৮ স্বামী রাজনারায়ণ ষণাস্ত্রী জ্যোতিভূষণ ভক্তিযোগাগ্য। অনুবাদক —শ্রীসুধীন্দ্রনাথ সরকার এম, এ । প্রকাশক-চেতাবনী কায্যালয়, রেজিস্টার্ড গুড়গাঁও, পাঞ্জাব। সৰ্বাধিকার প্রকাশকদিগের দ্বারা সুরক্ষিত। ফেব্রুয়'রা Rs. 2 0 0 Febw_মুল্য ২, টাকা • ১৮,•• খণ্ড ৫৪ হইর প ১২৫ • আবশ্যক সূচনা আজকাল খাের কলিযুগ যাইতেছে। বই ভদ্রলােক সর্বদ। এমন কাজ করিয়া থাকেন যাহাতে অন্যের কথা ত দুর হটক এমন কি যাহারা ধৰ্ম্মকাৰ্য্য করিতেছেন তাহাদেরও ক্ষত হয়। এখন দেখুন, অামরা দ্রলােকদের উপর বিশ্বাস ক রয় তাহাদের পােষ্টকার্ডে লিখিত অড়র পাইবামাত্র অনেক টাকার বই পাঠাই দিয়া থাকি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের স হত আমরা বলিতে বাধ্য হইতেছ যে বহু ভদ্রলােক তি: পিতে পুস্তক অর্ডার দিয়া বিনা কারণে ফেরৎ দেন এবং সেই জন্য এতিদিন আমাদের কাৰ্য্যালষের ক্ষতি হয়। আমরা ভদ্রলােকদিগকে ইয়েস পাঠাইয়া নাইয়া থাকি যে যদি কোন ভুলচুক থাকে তবে পার্শ্বেল ফেরৎ না দেন এবং যাই। অতঃক্ত হয় আমাদের পত্র লিখিয়া ফেরৎ লয়েন। কিন্তু আমাদের কথায় তাহার বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেন না। অতএব এ বিষয়ে আমাদের বিনীত প্রার্থণা এই যে পুস্তকের অর্ডার দিবার সময় ডাক খরচ (পাষ্টে, রেজিষ্ট্রেশন ও ভি পি মাশুল) বিষয়ে বিবেচনা কহিয়া লইবেন এবং বড় অর্ডারের সহিত বিন্দুমাত্র ই- যুত না করিয়া অগ্রিম মূলের এক চতুর্থাংশ অংশ পাঠাইয়া দিবেন, কেননা ইহাই আমাদের কার্যালয়ের নিয়ম। ভিঃ পিঃ ফেরৎ দিলে সকল ক্ষতির জন্য আপনি দায়ী রহিবেন। ।

লিফাফার মধ্যে টিকিট পাঠাইবার প্রথা অনেক ভদ্রলােক নিয়মের বিরুদ্ধে লিফাফার মধ্যে পুস্তকের মূল বাবদ ডাকটিকিট পাঠান। এরূপ লিফাফার সহিত আমাদের অ লিফাফাও হারাইয়া যায় কারণ ডাবঘরের কর্মচারীরা টিকিটের লল, লিফাফা চুরি করে এবং ঐ লিফাফা আমরা না পাওয়ায় পুস্তক পাঠাইতে পারি না। তখন ভদ্রমহােদয়গণ পুনঃ পুনঃ আমাদের নিকট অভিযােগ করেন। এইরূপ প্রতিদিন চুরি হওয়াতে আমরা পুনঃ পুনঃ পােষ্টমাষ্টার, গুড়গাঁও এবং পােষ্ট অফিসের আরও অনেক উপরিতন কৰ্মচারীদের নিকট প্রতিদিন অভিযােগ পত্র পাঠাইতেছি। কিন্তু ইহা নিতান্তই দুঃখের বিষয় সন্দেহ নাই যে ডাক বিভাগ সততার জন্যে প্রসিদ্ধ হইলেও আমাদের ডাকের উপযুক্ত ব্যবস্থা হইতেছে না এবং আমরা অভিযােগ করা সত্ত্বেও চোরদিগকে শাস্তি দেওয়া হইতেছে না। সেই জন্য আমরা যেরূপ প্রতিদিন পোষ্ট অফিসে লিখিতেছি সেইরূপ ভদ্রমহােদয়গণের নিকটেও বিনীত নিবেদন করিতেছি যে তাহারা যেন মূল্য মণিঅডার আর পাঠাইয়া দেন। কারণ লিফাফার টিকিট পাঠাইলে ঐ লিফাফার সহিত অন্য লিফাফা ও হারাইয়া যায় এবং আমরা বিশেষ ক্ষতিগ্রস্থ হই এমন কি ভি: পিঃ অডারও লিফাফায় না পাঠাইয়া পােষ্টাছে পাঠাইবেন।

4 জ্যোতিষ বা ভবিষ্যৎ গণনা সম্বন্ধীয় কার্য্য জ্যোতি সংক্রান্ত কাৰ্ষ্য এবং স্বামীর সহিত পত্র হার সম্বন্ধে আপনাদিগকে জানানো যাইতেছে যে ফে। 'তষ সম্বন্ধীয় সমুদয় কাযাদি যথা কোঠিপত্র, বর্ষফল, বাজার দরের হ্রাস বৃদ্ধি, অনুষ্ঠান, শুভলগ্ন প্রভৃতি সমুদয় কাৰ্য্য আমরা পূJপাদ স্বামীর আজ্ঞানুযায়ী মুনিয়মে ১৯০৭ সাল হইতে যথা'ব হত করাইতেছি এবং স্বামিজীর নামে পরিও পন্য লিখিত জ্যোতিষের কাৰ্য্যাদি আমরাই করাইয়া পাঠাইয়া থাকি। কিন্তু প্রতি ডাকে চিঠি চুরি যাইবার জন্য আপনাদিগকে অনুরােধ করা যাইতেছে যে জ্যোতিষ সম্বন্ধীয় পত্রাদি ও সোজা আমাদের ঠিকানায় (চেতাবনী কাৰ্যালয়, রেজিষ্টার্ড, গুড়গাও, পাঞ্জাব। পাঠাইবেন। পূণ্যপদ স্বামিজী মারা যাওয়াতে তাহার নামে পত্র লিখিলে ঐ পত্র ডাকঘর রাখিয়া লইবে বা ফেরৎ যাইবে, সুতরাং আপনার কাজ হইবে না। অতএব পুস্তকের জন্যই হোক বা জ্যোতি সম্বন্ধীয় কার্যের জন্যই হোক পত্রদি আমাদের ঠিকানায় পাঠাইবেন আমরা উভয় বিষয়েই যথাবিহিত ব্যবস্থা করিব। আশা করি, সমুদয় বিষয়ে উপযুক্ত বিবেচনা কবিয়া কাৰ্য্য করিবেন, যাহাতে আপনাদের এবং আমাদের কার্যালয়ের কোন প্রকার ক্ষতি না হয় এবং ধর্মকাৰ্য্যের উত্তরােত্তর উন্নতি ও প্রবৃদ্ধি হইতে থাকে চিঠির জবাবে অন্য টিকিট দেওয়া ও ঠিকানা লেখা লিফাফা পাঠাইবেন। নিবেদক-রামকৃষ্ণ গুপ্ত চেতাবনী কাৰ্যালয়, রেজিষ্টার্ড) গুড়গাঁও, পাঞ্জাব। অাপনায় পুনশ্চ নিবেদন- অনুগ্রহপূর্বক পত্রাদি হিলি অথবা ইংরাজিতে লিখিবেন; বাংলা ভাষায় পত্র লিখিবেন না। কারণ আমরা বাংলা ভাষা জানি না। সুতরাং বাংলার পত্র লিখিলে কোন ফল পাইবেন না।

প্রস্তাবনা আজকাল যে সন্ত গ্রন্থ দেখতে পাওয়া যায় প্রায় সমস্তুতেই মতভেদ পাওয়া যায় । ইহার প্রধান কারণ এই যে প্রথমত: সাধাৰণ লােকেদে বিদ্যা অত্যন্ত অল্প হইয়া থাকে। দ্বিীয়: সাবান লােকেদের বিচারশক্তিও অত্যন্ত কম। আমি দিবারানি এই কথাই ভাবি যে এই গত কন মেলার মত ঘুরিতে থাকে। অর্থাৎ যরূপ কোন মেলাতে সাধাৰণ লােকে যে দিকে লােকের ভিড় ধাক্কা দিয়া লইয়া যায় সেই দিকেই চলখে থাকে সেইরূপ য‘দ কে ব ল যে সত্য পথ ইহাই ওৎক্ষণাং কতক গুল লােক বলিয়া উঠে যে, না, ইহ কই সত্য নয়। তাহা এই সত্য পথের সম্বন্ধে কোন কথা শুনতে পান্ত চায়না বা অ% কাহাকেও শুনিতে দেয় না। কেননা এই প্রকার লােকেরা বাদ তবাদই ভালবাসে। প্রত্যেক গ্রন্থও মতভেদ পাওয়া যায়। যদি কোন লেখক নিয়ে মতানুযায়ী কোন অর্থ বাহির করেন তৎক্ষণাৎ কতক গু ল লােক কোন কিছু বিচার না করিয়াই সেই পথে চলিতে আর করে। প্রতিদিন এই প্রকার বিরােধ চলতে থাকে। ইহার প্রতবিধানের জন্য বিদ্বান ব্যক্তিরা নিজ নিজ বুক অনুসারে এই মতভেদ দূর করিবার জন্য শাস্ত্রলোচনা করিয়া থানে এবং জনসাধারণকে সত্যম দেখাইবার জন্য কঠিন পরিশ্রম করেন। কিন্তু ইহা সত্বেও সাধারণ লােকের সত্যপথে চলিবার এ অত্যন্ত কম চেষ্টা দেখা যায়।

6
চেতনী পুত
লেখক অগৎবিখ্যাত পরমহংস ১০৮
স্বামী রাজনারায়ণ শাস্ত্রী ভক্তিযোেগাচাৰ্য মহাশয় ১৯২৪ সালে
চেতাৰণী” পুস্তকটি লিখিয়া ইহার প্রচার আরম্ভ করেন। কিন্তু
তখনও এনসাধারণের ১৯১৯ সালে সমাপ্ত মহাযুদ্ধের কথা
নুতন ছিল এবং সেই এই পণ্ডিতজীর মতামত বেদ, শাস্ত্র,
মনে
পুরাণ, ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের অনুকূল হওয়া
সবেও কেহ ইহাকে
স্বীকার করে নাই। সাধারণ লােকেরা আসন্ন মহাযুতের (যা
এখনও চলিতেছে) সম্বন্ধে ভবিষ্যৎবাণীকেও হাসিয়া উড়াইয়া দিয়া-
ছিল। কিন্তু আজ সমস্ত ঘটনা চেতাবীর ভবিষ্যৎবাণীর অসু-
সারেই ঘটিতেছে দেখিয়া অধিকাংশ বিরুদ্ধবাদীরা লজ্জিত হইয়া-
ছেন। সত্যই কলিযুগ সমাপ্ত হতে চলিয়াছে এবং এই এই
কেহ ভাল কথাও 'হ করিতে চায় না।
যদি আর পূণ্য
স্বামী রাজনারায়ণীর স্থানে এই ভবষ্যৎবাণী গুলি কোন বিদেশ
পণ্ডিত করিতেন তাহা হইলে এই সব লােকেরাই তাহার প্রশং-
সায় মুখর হইয়া উঠিত। কিন্তু এই ভবিষ্যৎবাণী (যাহা এখন সত্য
প্রমাণিত হইতেছে) একজন বিখ্যাত ভারতীয় পণ্ডিতে করাতে
লােকেরা তাহারা দেখানো সত্যমাৰ্গ গ্রহণ করা ত দূরের কথা,
খােলাখুলি তাহার বিরুদ্ধতা করিতেছে। ইহা প্রকৃত সত্য যে দিন
হইতে আমাদের
আমাদের দেশে বিনো অপমানিত হইতে আর হইয়া
হেন সেইদিন হইতেই ভারতবর্ষের কন্বেয়ে পতন হইতে আর
হইয়াছে। যাহাৱা প্রথমে চেতনীর সম্পূর্ণ বিরােধী ছিলেন তারা এখন

7
চেতনী” সত্য
হওয়াতে চোরের মত চুপি
চুপি নকল চেতনী চাপাইয়া উপার্জন করিতেছে ।
সাধারণের মনে সন্দেহ আনিতেছে। আপনারা সহজেই বুঝিতে
পায়েল এই বইখানি লিথিতে পৃথ্য বামিজী 'ক ভাবে
পরিশ্রম করিয়াছেন ও আমাদের ইকে চালাইবার কত কষ্ট ও
ক্ষতি স্বীকার করিতে হইয়াছে ও ইতেছে, কিন্তু ইার দিকে
এই সৰ জুয়াচোরদের বিন্দুমাত্রও দৃষ্টি নাই। তাহারা কেবল
নিজের লাভের দিকে দেখিতেছে, কিন্তু তাহাদের নানা উ চত যে
আমরা “চেতাবনীকে ভারত গভর্ণমেন্টের নিয়মানুসারে রেজিষ্টার্ড
করাইয়াছি এবং যদি আমরা এখন এই সমস্ত লােকেদের বিরুদ্ধে
মােকর্দমা করি তাহা হইলে ইহাদের বাঁচিবার কোন উপায়
থাকিবে না। জনসাধারণের উ:চত
যে তাহার
তারা এই সব
জুয়াচোরদের পুস্তক গুলি বর্জন ও অকৃত্রিম চেতানী,
রেজিষ্টার্ড কেনেন, যাহা কেবল চেতনী কাৰ্যালয়, রেজিষ্টার্ড,
গুড়গাঁও বার প্রকাশিত হইয়াছে। তাহাদের উ চত পুস্তকখানি
পড়িয়া ইহার প্রচার অন্যান্য লোকেদের কাছে করা, যাতে
তাহাদেরও ইহার বার লাইতে পারে।
ইহার পরে
১৯৩৭ সালে অামি অনুসারে চেতানী
কাৰ্যালয় (রে অষ্টাড), গুড়গাঁও, পাঞ্জাব ইহার প্রচার কার্য্য
গ্রহণ করেন।
পুস্তকটি চা লা ই বা র
বাবাদের
আর্থিক ক্ষতি স্বীকার
করতে হইয়াছে তাহার

৪ ৮ বর্ণনা করা এই ভূমিকার উদ্দেশ্য নহে। কিন্তু আমরা আপনাদের ইই জানাইতে চাই যে যদিও সকল ধৰ্ম্ম গ্ৰন্থই এই পুস্তকটির মতাবলম্বী ছিল তবুও সেই সময় আমরা बिनो নিতে পারি যে এই পুস্তকটির মত কবির পুস্তক ও লি কয়ে ব্যাথা ও অনেক গুলি পুস্তি অর্থ উপার্জ নর আশায় প্রকাশিত হইতেছে। ইহারা কেবল অর্থ উপার্জনের ও ধম্মকার্যে করিবার চেষ্টা করে। কিন্তু এখন প্রত্যেক লােকেরই চোখ খুলিয়াছে কেননা তারা দেখিতেছে যে অাজকাল যে সমস্ত ঘটনা প্রতিদিন ঘটিতেছে, তাহাদের কথা ১৯২৪ সালের চেতাবনীতেই দেওয়া ছিল এখং এখন প্রত্যেক ঘটনাই চেতাবনী অনুসারে ঘটিতেছে। ১। ইউরােপ আর নুতনভাবে গড়িয়া উঠিবে। ২। ভূমধ্য সাগরে ভয়ানক যুদ্ধ হইবে ও রক্তের নদী বহিবে। ৩। সুয়েজ খাল লইয়া ভীষণ গণ্ডগোল হইবে। ইত্যাদি বিষয় আমাদের ভবিষ্যৎবাণীর দিকে জনসাধারণের কয়েকমাস পুর্বেও সম্পূর্ণ বিশ্বাস ছিল না কিন্তু আজ সকল ঘটনাই ঠিক প্রমাণিত হওয়াতে বিরুদ্ধব দীরা সকলেই হইয়াছে ও জনসাধারণের মনে বিশ্বাস হইয়াছে সমস্ত ঘটনাও চেতান অনুসারেই ঘটিবে।

9
চেতাবনীর
উপদেশ
৩। “চেতাবনী”র উপদেশ হইতেছে যে ভয়ঙ্কর পরিবর্তন
ও সমূহ বিপদ আমাদের সম্মুখে আসিতেছে । আমাদের
পরস্পরকে ভালবাসা উচিত ও নিজ নিজ বিধি অনুসারে
ভগবানকে ভক্তি করা উচিত যাহাতে আমরা এই কলিগ
হইতে বাঁচিয়া সমাগত সত্যযুগ পর্যন্ত পৌছিতে পারি, প্রতি
দিন ভগবানের কীর্তন হওয়া উচিত, কাহারও বম্মে আঘাত
দেওয়া উচিত নহে, ইত্যাদি এই উপদেশ গুলি পত্যেক
মনুষ্যেরই পালন করা উচিত কিন্তু আমরা বুঝিতে পারিনা যে
কতকগুলি লােকে কেন ইহার বিরুদ্ধত করেন। তঁাহার।
কি চান কলিযুগ সমাপ্ত না হউক ও পাপ দিন দিন পৃথিবীতে
বাড়ীতে থাকুক ?
পূজ্য স্বামীজি নিজের নারায়ণ তরঙ্গ
নামক পুণকে লিখিতেছেন—
জন
ধৰ্ম্ম কে প্রচার কলিযুগ কে ঔর বঢ়ায়ে৷ ধুষ
পড় কর উসকা ভেদ না জানা, লেগে কে' ভরায়ে।
তত্ত্বজ্ঞান পাস নহি ফটক, পঢ়া হুয়' দোহরায়ে।
যিনকে। আপ পতা কুছ নাহি, ওহ উপদেশ সুনায়ে।
পার ভল। ঔ কিসকো ত রে, আপ ঝকোলে খায়ে।
নারায়ণ কলিযুগ কি লালা, কিস কিস বিধি সুনায়ে ।

10 গদ্যানুবাদ ধর্ম প্রচারকেরা কলির মহিমা আরও বাড়াইতেছেন। লেখাপড়া করিয়া ভেদাভেদ জ্ঞান জানিল না, তাহারাই আবার লােকেদের শেখাইতেছে । যাহাদের বিন্দুমাত্র তত্ত্বজ্ঞান হয় নাই, তাহারা কেবল যাহা পড়িয়াছে তাহারই পুনরুক্তি করিতেছে । যে নিজ কিছুই জানে না সেও উপদেশ দিতেছে। এইরূপ লােকে কি করিয়া জনসাধারণকে মুক্তির পথ দেখাইবে, যে নিজে মুক্তির সম্বন্ধে কিছুই জানে না। নারায়ণ, কলিযুগের লীলা কি প্রকারে (জনসাধারণকে ) শােনাইব। আপনাদের প্রতি আমাদের বিনীত নিবেদন এই যে আপনারা ধৰ্ম্মকাৰ্য মনে করিয়া এই সধ উপদেশ গুলির প্রচার করেন। চেতাবনী” অনুসারে আগত ভয়ঙ্কর সময় হইতে বাঁচিবার জন্য এখন হইতেই ভগবানকে কায়মনােবাক্যে ভক্তি করা উচিত ও প্রতি দিনকার বা প্রতিবাদ বৰ্জন করিয়া আনন্দে জীবন যাপন করা উচিত। আপনাদের আপনাদের আরও উচিত আপনারা আমাদের কঠিন পরিশ্রমের দিকে দৃষ্টিপাত করেন ও বােঝেন যে কি কষ্ট স্বীকার করিয়া আমরা আমরা ধর্ম- প্রচারের জন্য চেতানীকে হিন্দি, উর্দ, বাংলা, পাঞ্জাবী আগামী, গুজরাটি, মারাঠি, ইংরাজী, তেলেগু ইত্যাদি ভাষায় ছাপাইয়াছি। আপনাদের প্রত্যেকের কর্তব্য এই পুস্তকটির বহুল প্রচার করা যাহাতে প্রত্যেকে ইহার উপদেশ মুসারে ভক্তি-

মার্গে বিচরণ করিয়া সমাগত বিপদ বইতে রক্ষালাভ করেন। ইহাই
আপনাদের নিকট আমাদের বিনীত প্রার্থনা। নিবেদন ইতি-
রামকৃষ্ণ গুপ্ত
প্রার্থনা
লেখক—অল ইণ্ডিয়া সনাতন ধর্ম প্রচারক
প্রফেসর আত্মারাম ‘শােখ' দেহলবী।
দুনিয়া ওয়ালে শুয়ে কলঙ্কিত, নিষ্কলঙ্ক অব আও!
বচে খুচে যাে-ভক্ত তুমহারে, উনকো আন বাচাও।
‘সুমতি’ মাতাকে গৃহ উজিয়ারে, আও আও আও।
‘বিষ্ণুযশকে নৈন দুলারে, আও আও আও৷
কামী কপটি লােভী জুয়ারী, ঘর ঘর অত্যাচারী।
‘রত্বমুঠ তলওয়ার হাথ লে, পাপী রক্ত বহাও।
পূণ্য দেশ ভারত কি ভুমি, পাপো কি সরতাজ বনী।
মাতৃতুমি কি বিপতাকে ফির, শীঘ্র মিটানে আও৷
হাত জোড় কর ‘শােখ, তুমহারী যুহি প্রার্থনা করত।
গীতা মে যে বচন দিয়া হয়, পুরা কর দিখলাও।

1)
ভাবার্থ
গুগতের লোকেরা কলঙ্কিত হইয়াছে, হে নিষ্কলঙ্ক অবতার,
আপনি এখন অবতীর্ণ হউন।
আপনার যে অল্পসংখ্যক ভক্তেরা এখনও জীবিত আছে,
আপনি আসিয়া তাহাদের বাঁচান।
হে ‘সুমতি’ ১ মাতার গৃহ প্রদীপ আপনি শীঘ্রই উদয় হউন,
হে ‘বিষ্ণুশের’ ২ (চক্ষুর মত) আদরণীয় সন্তান, আপনি
শীঘ্রই উদয় হউন।
কামুক, কপট, লােভী ও জুয়ারী লােকেরাই এখন বেশী
হইয়াছে, ঘরে ঘরে অত্যাচারী জন্ম লইয়াছে।
বহুমুঠ তলওয়ার লইয়া আপনি পাপীদের রক্তপাত করুন।
ভারতবর্ষ, যাহা পূণ্য দেশ নামে অভিহিত ছিল
(তাহা) এখন পাপীদের লীলাভূমি হইয়াছে।
মাতৃভূমির বিপদ উদ্ধারের জন্য, আপনি আবার শী
উদয় হউন।
হাত জোড় করিয়া ‘শােখ’ এই প্রার্থনা করিতেছে যে
আপনি গীতায়’* যে প্রতিজ্ঞা করিয়াছিলেন তাহা পূর্ণ করিয়া
১।২। সুমতি ও বিষ্ণুযশ’-কৰি অৰতাষের মাতা ও পিতার
৩। রসমুঠ’-একফি অবতারের রত্নখচিত তরবারী।
* “গীতাসার” নামক পুস্তকখানি সুন্দর হিন্দি পদ্যে প্রকাশিত হইয়াছে
মূন্য • তিন আনা মাত্র।

13
ভজন
প্রভু অব নিষ্কলঙ্ক বন আও!
ভারতকি মঝরমে নৌকা ঝট পট পার লাগাও
গো ব্রাহ্মণ হায় বিপতা মে উনক দুখ মিটাও।
বর্ণ আশ্রম ধৰ্ম্ম পতাকা নিজ কর সে ফরাও।
পাপ কাম যাে করে অধৰ্মী উনকো মার ভগও।
গীতা ওয়ালা জ্ঞান শুনাকর অর্জুন সবকো বনাও।
উথল পুথল সব জগ মেটো শান্তি পাঠ পড়াও।
শ্রীমুখ কি বিমল চন্দ্রিকা চারে 'দশি ফৈলাও।
মায়া মােহ কি মহাতিমির মে আনকি যােত জ্বালাও।
‘শেখ ভুমহারে চরণকা সেবক উসকো দরশ দিখাও।

১৪
14
প্রভু এখন নিষ্কলঙ্ক অবতার হইয়া
জন্মগ্রহণ করুন।
ভারতের নৌকা সমুদ্রের মাঝে পড়িয়া বানচাল হইয়াছে,
আপনি আসিয়া তাহাকে পারে লইয়া যাউন।
গরু ও ব্রাহ্মণ ভীষণ বিপদে পড়িয়াছে, আপনি আসিয়া
তাহাদের দুঃখনাশ করুন।
বর্ণাশ্রমের পতাকা আপনি আসিয়া নিজ হাতে উত্তোলন করুন।
যে সব পাপীর পাপকায্য কহিতেছে আপনি আসিয়া তাহাদের
পরাজত করুন।
গীতার উপদেশ জনসাধারণকে শুনাইয়া তাহাদের প্রত্যেককে
অর্জুন ( ধীর ) করুন ।
উতে সব ওলট পালট হইতেছে, আপনি আসিয়া তাহাকে
(জগতকে) শান্তিদান করুন |
আপনার মুখের বিমলজ্যোতি সৰ্বজগতে ছড়াইয়া দিন,
মা ও মেহের ঘন অন্ধকারের মাঝে আপনি জানের প্রদীপ
যালান।
‘শােখ আপনার চরণ সেবক, আপনি তাহাকে দর্শন দিন।
নােট-শােৰ মহাশয়ের অনুপম ৰাণীসমূহ শীঘ্রই প্রকাশিত হইবে।
ইহার মূল্য কেবলমাত্র আমাদের খরচ অর্থাৎ ২, দুই টাকা হইবে।
পৃষ্ঠাসংখ্যা প্রায় ৩০০ হইবে। যাহারা পুস্তকখানি লইতে চাহেন
তাহাৰ অৰ ২১ দুই টাকা পাঠাইয়া এখনই কপি রিজার্ভ করুন।

শ্রীশ্রী ভগবানের কল্কিরূণ
এই স্বরূপ প্রকাশ করিবেন'।
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম, ৪-৭।

পরমহংস ১০৮ স্বর্গীয় শ্রীস্বামী
- রাজনারায়ণজী ষশাস্ত্রী
ধৰ্ম্মরত্নাকর
শ্রীরামকৃষ্ণ গুপ্ত,

অকৃত্তিম
চেতাবনী
( রেজিষ্টার্ড )
জয়তী বিবুধভর্তা শম্ভলে বাসুদেব
যস্মিন্ সর্বে যতঃ সর্বে যঃ সর্বে সর্বতশ্চয়ঃ
যশ্চ সর্বময়য়া দেবস্তস্মৈ সত্মনে নমঃ।
কলিযুগ শেষ হইতেছে এবং সত্যযুগ
আসিতেছে
কল্কি অবতারের জন্ম হইয়াছে
( রাজনারায়ণ ‘অম্মান', ষটশাস্ত্রী)
আমি বেদ, পুরাণ, শাস্ত্রসমূহ এবং জ্যোতিষ গ্রন্থাদি গভীর
মনযােগের সহিত অনুসন্ধান করিয়াছি, বিভিন্ন হিন্দু মতের
পুস্তক পাঠ করিয়াছি, মুসলমান ও খৃষ্টধর্মের পুস্তকসমূহ
অধ্যয়ন করিয়াছি। বর্তমানে যে সমস্ত ধর্ম প্রচলিত আছে
তৎসমুদয় বিচার করিয়াছি।
এই কঠিন পরিশ্রমের ফলে
এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইয়াছি যে সনাতন হিন্দুধৰ্ম্মই ঈশ্বরের
প্রকৃত ধর্ম এবং জগতের উদ্ধারকর্তা। আমি ক্রিয়া-কৰ্ম্মও
নিয়মপূৰ্ব্বক করিয়াছি কিন্তু যখন হইতে নিশ্চয় জানিতে
পারিয়াছি যে কেবল শক্তিই কলিযুগের ধর্ম তখন হইতে

16
ভক্তবৎসল পূর্ণব্রহ্ম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি একনিষ্ঠ ভক্তি
আরম্ভ করি। ভগবান কৃপা করিয়া ভক্তিমার্গের জন্য এমন
সদগুরু মিলাইয়া দেন যে তিনি সঠিক ভক্তিমার্গের উপদেশ
দিয়া আমাকে বহু উচ্চে পৌছাইয়া দেন।
আমার ব্রাহ্মণ বংশে জন্ম এবং পণ্ডিত শ্ৰী ভবাণীদাসজী
যিনি কাশ্মীর রাজোর বিদেশী-মন্ত্রী ( Foreign Minister)
ছিলেন তার কূলে আমার জন্ম। ভগবান প্রথমে আমাকে
স্বপ্নে দেখা দেন এবং পরে ভক্তিযােগ অভ্যাসকালে কয়েকবার
দর্শন দিয়া কৃতার্থ করেন, আমাকে বড় বড় কষ্ট সাহায্য
করেন-আমি চাক্ষুষ প্রভুর মনােহর মূর্তি দেখিয়া জন্ম সার্থক
করিয়াছি।
সংবং ১৯৮১ অথবা সন ১৯২৪ সালে এভগবান আমাকে
আদেশ করেন—“আমি কল্কি অবতার রূপে বৈশাখ শুক্লা
দ্বিতীয়া তিথিতে জন্ম লইতেছি এবং কলিযুগ সমাপ্ত হইয়া
সত্যযুগ আসিতেছে । তুমি এখন ভক্তির প্রচার
যখন তুমি আমার আবির্ভাবের কথা প্রচার করিবে তখন
অল্প সংখ্যক ভক্তগণ সে কথা মানিবে কিন্তু উহাতেই সত্যযুগের
আরম্ভ হইবে। কলিযুগপ্রিয় দুষ্ট লোকেরা তােমাকে গালি
দিবে, প্রহার কহিতে উদ্যত হইবে কিন্তু তুমি ভয় পাইও না,
স্বামীজির সংক্ষিপ্ত জীবনী যদি পড়িতে চাহেন তবে “ভক্তির
(বাংলা) এর ১৯৪২ এর নৃতন সংস্করণ মূল্য ॥ ) পড়ুন।

17
আমি তোমাকে রক্ষা করিতেছি; আমার কয়েকজন ভক্তের
জন্ম হইয়াছে, তাহারা তােমাকে সাহায্য করিবে । অদূর
ভবিষ্যত পৃথিবীর উপর মহকষ্ট আসন্ন । ভূমিকম্প
হইবে, বন্যা আসিবে, অগ্নিকাণ্ড হইবে, দুর্ভিক্ষ এবং মহামারীর
প্রকোপ হইবে।
সৰ্বসাধারণ বিদিত আছেন যে এই জন্য আমি সেই সময়
হইতে সনাতন ধর্মের অন্যান্য সিদ্ধান্তের প্রচার অনেক কম
করিয়া বিশেষরূপে ভক্তিধর্মের প্রচার করিতেছি।
সম্বং ১৯৮১তে ভগবান আমাকে যে সব আদেশ দেন
তাহার উপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস হয়; আমি বিবেচনা করিলাম
যে যদি আমি আমার ধারণা অনুসারে সাধারণকে উপদেশ দিই
তবে এই ঘাের কলিযুগে অনেকে আমার কথা বিশ্বাস করিবে না।
কয়েকদিন চিন্তা করিবার পর আমি এ বিষয়ে বেদ, পুরান,
শাস্ত্র এবং জোতিষগ্রন্থসমূহের গভীর অনুসন্ধান আরম্ভ করিলাম
এবং যােগাভ্যাস দ্বারা ভগবানের সাক্ষাৎকার করিলাম এবং
এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইলাম যে সব্ব প্রথম এখান হইতে
১২০০ বৎসর পূৰ্ব্বে মনুস্মৃতির টীকাকার রাজপুত মহারাজা
মেঘাতিখি কলিযুগের কাল সম্বন্ধে এই ভুল করেন। উহার
পূৰ্ব্বে কোন প্রাচীন শাস্ত্রে কলিযুগের কাল সম্বন্ধে ৪ লক্ষ ৩২
হাজার বৎসর পাওয়া যায় না।
সমগ্র পণ্ডিতেরা মেঘাতিথির এই ভুল সিদ্ধান্তের অনুসরণ
করেন, কেহই এই সিদ্ধান্ত ভুল বা নিভুল এ সম্বন্ধে বিচার
করেন নাই।

1ঃ কলিযুগের আয়ু বা স্থিতিকাল সম্বন্ধে শাস্ত্রের প্রবল প্রমাণ মনুস্মৃতির প্রথম অধ্যায়ে ৬৭-৭• শ্লোকে চারি যুগের স্থিতি কাল কলিযুগ হইতে আরম্ভ করিয়া এই প্রকার লিখিত আছে – ৪৮••—৩৬০০-২৪০০-১২০০। মেঘাতিথি ভুল করিয়া সতাযুগ ৪৮০০ বৎসর বুঝিয়াছেন এবং সেই হিসাবে ত্রেতাযুগ ৩৬••, দ্বাপর ২৪•• এবং কলিযুগ ১২০০ বৎসর মনে করেন। পরে তিনি মনে করেন যে আমার সময় পর্যন্তই ত কলিযুগ কয়েক হাজার বৎসর গত হইয়া গিয়াছে অতএব ইহা ১২০০ বৎসর হইতে পারে না। তখন তিনি শ্রীমদ্ভাগবতের ১২ স্কন্ধ ২য় অধ্যায়ে এই শ্লোক পড়েন। দিব্যাদানাং সহস্রাতে চতুর্থে ত নঃ কত ভবিষ্যতি যদা নৃণাং মন আত্ন প্রকাশক। ৩৪। অর্থ- চার হাজার দিব্য বর্ষ অন্ত হইলে অর্থাৎ চার হাজার দিব্য বর্ষে (কলিযুগ গত হইলে) পুনরায় সত্যযুগ আসিবে যাহা মানুষের মন এবং আত্মাতে প্রকাশ হইবে। ভাগবতের এই শ্লোকের পূর্বের কয় পৃষ্ঠায় কেবল কলিযুগের বর্ণনা আছে। স্পষ্টই বুঝা যাইতেছে যে ইহা কলিযুগ i) সম্বন্ধেই লেখা হইয়াছে যে ইহা চার হাজার বৎসরে শেষ হইয়া পুনরায় সতাযগ আসিবে। এই শ্লোকে “দিব্য” শব্দ ব্যবহার করা হইয়াছে। মেঘাতিথি এই শব্দের অর্থ করিয়াছেন “দেবতা” এবং আজ পর্যন্ত প্রায় সব পণ্ডিতই এই অর্থ-ই করিতেছেন। যেহেতু মানুষের এক বর্ষে দেবতাদের একদিন হয় সেই জন্য মেঘাতিথি ভ্রমক্রমে কলিযুগের স্থিতিকালে ১২০০ বর্য মনে করিয়া এবং ইহা দেববর্ষ মনে করিয়া ৩৬• দিয়া গুণ করিয়া ইহাকে ৪৩২••• করিয়াছেন এবং কলিযুগের স্থিতি এত লিখিয়াছেন। ইহা সম্পূর্ণ ভুল। দিব্য শব্দের অর্থ কখনই দেবতা হইতে পারে । প্রথমতঃ আমি ইহা বেদ হইতে প্রমাণ করিতেছি। দেখুন ঋকবেদে ১। :৬৪। ৪৬ ইন্দ্র মিত্র বরুণমগ্নিমা রথে দিব্যঃ সমুপর্ণো গরুন। এবং সদ্ব প্রা বহুধা বদন্ত্যাগ্নিং যমং মাতা ন মাহু। এই মন্ত্রের দেবতা মূৰ্য্য এবং ইহাতে সূর্যেরই প্রসঙ্গ হইয়াছে। অর্থ- অগ্নিরূপী সূর্যকে ই, মিত্র, বরুণ বলা হয়। তিনিই দিব্য, সুপর্ণ এবং গরুত্মান। একই সৎকে বিদ্বানেরা নানা নাম দিয়াছেন। অগ্নি, যম ও মাতবিশ্বাও বলিয়াছেন।

20
এই মন্ত্র নিরুক্ত দৈবকাণ্ড ৩। ১৮ তেও আছে, সেখানে
দিব্য শব্দের উৎপত্তি এইরূপ করা হইয়াছে—দিব্যো দিবিজে।
অর্থাৎ যিনি দিবিতে প্রকট বা প্রকাশিত হন তাঁহাকে দিব্য
বলে। দিবি ঢুকে বলে। নির্ঘটক কাণ্ডে দিনের ১২ নাম
লেখা হইয়াছে। উহার মধ্যে দুর অর্থও দিন। এখন দিব্য
অর্থ হইতেছে এই যে “যে দিনে প্রকাশিত হয়” এবং ইহা
সকলেই জানেন যে সূৰ্য্য দিনে প্রকট বা প্রকাশিত হন্ অতএব
দিব্য সূর্যেরই নাম।
ঋগ্বেদ। ১৩৬। ১০ হইতেছে এই -
ইর্মান্ত্যাস সিলিক মধ্যমাস সং শুরণা সে। দিব্যাসো
অত্যা:
হংসা ইব শােয়ন্তে যদা ক্ষিপু দিব্য মত্মঃশ্বাঃ ।
এই মন্তে—“অশ্বেঅগ্নিদেবতা” অর্থাৎ আগুণের ঘেড়া
হইতেছেন সূৰ্য—ইহাতে সূর্যেরই বর্ণনা আছে।
এই মন্ত্রে নিরুক্ত দিব্য শব্দের ব্যুৎপত্তি দিব্য দিবিজে।
করিয়াছেন। কথা হইতেছে এই যে যিনি দিনে প্রকাশিত
হন ঐ দিব্য সূৰ্য। আর ইহাও স্পষ্ট লেখা আছে যে অত্যা-
দিত্যন্ততি অর্থাৎ এই নামে সূর্যের স্তুতি হইতেছে, অর্থাৎ
বেদে দিব্য সূর্যের নাম। দেবতাকে দিব্য কখনই বলে না
-এই সম্বন্ধে এই দুইটি প্রধান প্রমাণ বেদ হইতে দিতেছি।.
ঋগ্বেদে এই প্রসঙ্গে ১। ১৬৪ মন্ত্র ২ হইতেছে এই

“সপ্তযুঞ্জন্তি রথমে মেক চরিণম্। চক্ৰংচংকে- তর্বাচতেৰাং একোহশো বহতি সপ্ত না মাদিত্য সপ্তাস্মৈ শ্ময়ে বন তিসন্না ময়ন্তি সপ্ত ন মৃদয়। এই মন্ত্রের ব্যাখ্যা নিরুক্ত নৈগনকাণ্ড ৪ ২৭এ এইরূপ করিয়াছেন- ৬টি চাকা সাতটি কিরণ এক রথে যোভিত হয় ( রথ হইতে আকাশ) একটি সাত-কিরণ-বিশিষ্ট ঘােড়া যিনি হইতেছেন সূৰ্য্য । উঠার দিকে সাতটি কিরণ ঝুকিতে অর্থাৎ সাত ঋষি ইহার স্তুতি করেন। ইহার এক বর্গ ৩৬ দিন রাত হয়; ছয় ঋতু; ১২টি অর্ধবাস (Spoke) ১২ মাস; ইহা ৩,০টি পেরেকের দ্বারা যুক্ত, এই ৩২টি পেরেক ইহার ৩৮০ দিন রাত (ঋগ্বেদ ১। ১৬৪। ৪৮ ও দেখুন); সমস্ত ভুবন এই সূর্যের আশ্রয় আছে ইত্যাদি। এই সব সুর্যেরই প্রসঙ্গ শেদে চলিতে:ছ, সূৰ্য্য হইতেই দিনরাত, ১২ মাস, ৬ ঋতু আর ৩৬০ দিনের উৎপত্তি বলা হইয়াছে আর সুৰ্যেরই নাম দিব্য লেখ হইয়াছে। ব্যকরণ হইতেও দিব্য শব্দের অর্থ দেবতা হয় না। দি ধাতুকে “স্বোর্থে যৎ প্রত্যয়” দ্বারা দিব্য শব্দ হইয়াছে। ইহার ব্যুৎপত্তি হইতেছে এইরূপ—দিবি ভবং দিবা” অর্থাৎ সে দিব্যভাগে প্রকাশিত হয়, এবং দিনে সূৰ্যই প্রকাশ হইয়া থাকে অতএব কেবল ভাস্করকেই দিব্য বলে; দিবি কে বলে

সূর্যসিদ্ধান্ত ১৪। ২৯এও আছে
এবং দু দিনের নাম।
“ন তত্র দ্যু নিশাের্ভদো-
এখানেও দ্যু শব্দ তিন অর্থে-ই ব্যবহার করা হইয়াছে।
এইরূপ কোন প্রকারেই দিব্যের অর্থ দেবতা হয় না। ব্যকরণের
দ্বারা দেবতা অন্য “দেবাতল” প্রভৃতি সূত্রের দ্বারা হয়, এই জন্য
দিব্য এবং দেবতা শব্দের মধ্যে কোন সম্বন্ধ নাই; দিব্য ও
দেবতা শব্দ সম্পূর্ণ বিভিন্ন প্রকারেই গঠিত হইয়াছে।
কুল্লুকভট্ট নিজের মনুতিতে ১। ৩১ এর টীকা করিবার
সময়ে মেঘাতিথির অর্থ সম্পূর্ণ ভুল দেখাইয়াছেন যথা-
এতস্য শ্লোকন্যাদৌ যদে তন্মানুষ চতুর্যগৎ পরি-
গণিত এতদ্দোনং যুগ মুচ্যতে।
অর্থাৎ এই চারিযুগই মানুষের, ইহার সমান দেবতাদিগের
একযুগ হয়।
মেঘাতিথি চার যুগকে দেবতাদের যুগ এবং উহার বর্ষকে
দেববর্ষ লিখিয়াছেন, উহার খণ্ডন কুল্লুকভট্ট
৫ শত বর্ষ পূৰ্বেই করিয়াছেন। মেঘাতিথি এবং
কুলুকভট্টের মধ্যে ৬ শত বৎসর গত হইয়াছিল। এই
৬ শত বৎসর পণ্ডিতগণ চক্ষু বন্ধ করিয়া মেঘাতিথির
অনুসরণ করিয়াছেন, কুলুকভট যে উহা ভুল বলিয়াছেন

4
তাহা লক্ষ্য করেন নাই এবং আজ পর্যন্ত সব পণ্ডিতই
ঐ মিথ্যা বা ভুল মানিতেছেন।
এখন বিবেচ্য হইতেছে যে মেঘাতিথি উল্টা হিসাব করিয়া
কলিযুগকে ১২০০ বর্ষের লিখিয়াছেন এবং দিব্য শব্দের অর্থ
দেবতা করিয়া ১২০০কে ৩৬০ দিয়া গুণ করিয়া কলিযুগকে
৪৩২০ ০ ০ বর্ষের লিখিয়াছেন। কিন্তু দিব্যের অর্থ যখন কোন
পকারেই দেবতা হইতে পারে না তখন কলিযুগ ১২০০ বর্ষের
হইল। কিন্তু কলিযুগের স্থিতিকাল ১২০০ বর্ষ নহে কারণ
পঞ্চাঙ্গ অনুসারে কলিযুগের এখন পর্যন্ত ৫০০০ বর্ষের অধিক
অতীত হইয়া গিয়াছে। ইহা হইতে স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে
মেঘাতিথি ভুলক্রমে কলিযুগের স্থানে সত্যযুগ বুঝিয়া লইয়া
ছিলেন।
প্রকৃতভাবে সত্যযুগ ১২০০ বর্ষের হয়, ত্রেতা ২৪••
বর্ষের, দ্বাপর ৩৬•• বর্ষের এবং কলিযুগ ৪৮০ বর্ষের হয় এবং
ইহা এখন প্রায় শেষ হইতে চলিয়াছে। ভাগবতের শ্লে কে
কলিযুগকে ৪••• বর্ষের বলা হইয়াছে, সন্ধ্যা ও সন্ধ্যাংশের
জন্য •• বর্ষ এই মােট ৪৮•• বৎসর।
অন্য স্পষ্ট প্রমাণ
দ্বাদশ শ্রেন দেবনাঞ্চ চতুর্যগম।
চত্বারি ত্ৰীনি দ্বেচৈকৎ সহস্র গণিতং মত।
ককিপুরাণ । ৫' ১২

24 অর্থ- এইরূপ “দ্বদ শাব্দ সহস্রন দেবানাং ১২ হাজার বর্ষে দেবতাদের এক যুগ হয়—দেখুন মনুস্মৃতি ১। ৭-চতুর্যগম্” আর চতুর্যগকে, ৪-৩-২.১ ক্ৰমে গণনা করুন (ব্যাস বলিতেছেন) “মম” ইহাই আমার মত । ইহার সারার্থ হইতেছে এই যে ১২০০০ বর্ষে ৪ যুগ হয়, ইহাই দেবতাদের এক যুগের সমান এবং ৪ যুগের সংখ্যা এইরূপ ক্রমে গণনা করা হয় যথা ৪-৩-২-১ তার্থাৎ ৪ ১ ৪০০০ এই ৪-৩-২-- ১ যুগের ধৰ্ম্মের পাদ বা চরণ। সতাযুগে পু। চার পাদ ধৰ্ম্ম থাকে এবং তারপর প্রত্যেক যুগে এক পাদ করিয়া ধৰ্ম্ম কমিতে থাকে। এই প্রমাণ দ্বারা সত্যযুগের ••• বৎসর ও কলিযুগের ৪০০০ বৎসর বংসর বলা যায়। ইহার পরের শ্লোক নীচে লিখিত হইতেছে, টিকাকারেরা ইহার অর্থ ঠিক করেন নাই। । তাবচ্ছতানি চত্বারি ত্ৰীনি ত দে চৈক মের হি। সন্ধ্যক্রমেণ তেষান্তু সন্ধ্যাংশোহপিতথা বিধঃ ॥১৩ 5 অর্থ- যত হাজার বর্ষ সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলিযুগের স্থিতিকাল হইতেছে তাহাদের তত শত সন্ধ্যা ও সন্ধ্যাংশ হইয়া থাকে। অর্থাৎ যদি সত্যযুগের স্থিতিকাল ১০০০ বর্ষ হয়, তাহা হইলে ১০০০ বর্ষের সন্ধ্যা ১০০০ বর্ষের সন্ধাংশ হইবে। এই প্রকারে সত্যযুগ ১২০০ বর্ষর, ত্রেতা ২৪•০ বর্ষের, দ্বাপর ৩৬ ০ ০ বর্ষের ও কলিযুগ ৪০০ বর্যে হইবে। বিষ্ণু পুরাণ প্রথম ভাগ, তৃতীয় অধ্যায় দিব্যৈ বর্ষ সহস্ৰস্তু কত তােদি সংজ্ঞিতম্। চতুযুগং দ্বাদশ ভিদ্বিভাগ নিবােধ মে॥১১ অর্থ— দিব্য হাজার বর্ষ হইতে সতযুগ ত্রেতা ইত্যাদির সংজ্ঞা হইতেছে। চতুযুগ ১২০০০ বৎসরের হয়। উহাদের দিবাভাগ এই প্রকারে হইতেছে । চত্বারি তিনি দ্বৈ চৈকং কতাদি যক্রম। দিব্যাদানং সহস্রাণি যুগেদ্বাহু পুরা বিদঃ ॥১২৷৷ 26 অর্থ- ৪-৩-২-১ হিসাবে সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলিযুগ হইতেছে । প্রাচীন বিদ্বানেরা বলেন যে উহাদের সংখ্যা ১••• দিব্য বর্ষ হইতেছে। এখানেও ৪-৩-২-১ ধৰ্ম্মর পাদের সঙ্গে চার যুগের স্থিতিকাল নির্ণয় করা হইয়াছে অর্থাৎ ৪ পাদের সত্যযুগ, ৩ পাদের ত্রেত্যযুগ, ১ পাদের দ্বাপর । ১ পাদের কলিযুগ। হইতেছে, যেমন- ১ সত্য কলি ৪••• পরে পড়ুন- তৎপ্রমাণৈঃ শতৈঃ সন্ধ্যা পূর্বতাভিধীয়তে। সন্ধ্যা সন্ধ্যাংশ তৎতুল্যে। যুগসম্মাননুরােহি য ৷ অর্থ- তত একশত পরিমাণ সন্ধ্যা ও সন্ধ্যাংশ থাকে, ইহার মধ্যের সংখ্যাকে যুগ বলে। এখন বােঝা যাইতেছে যে চার পাদ ধর্মবিশিষ্ট সত্যগ বৎসরের হইতেছে, বৎসর সন্ধ্যা উহার ১০০ ২৭ 27 ১•• বর্ষের সন্ধ্যাংশ হইয়া থাকে । তাহা হইলে সতয গ মোট ১২০০ বৎসরের হইতেছে। এই প্রকারে ত্রেতাযুগ ২••• বর্ষের হইতেছে এবং ৪০ বৎসর সন্ধ্যা ও সন্ধ্যাংশ হইতেছে ; মােট বেতাযগ ২৪০ বর্ষের হইতেছে। দ্বাপর যুগ ৩০০০ বৎসরের হইতেছে এবং ৬০ ০ বৎসর সন্ধ্যা সন্ধ্যাংশ হইতেছে, অতএব ত্রেতাযুগ মােট ৩৬০০ বৎসরের হইতেছে। কলিযুগ ৪০০০ বৎসরের ও ৪০ বৎসর সন্ধা ও ৪০০ সন্ধ্যাংশ হইতেছে। শ্ৰীমদভাগবত মহাপুরাণ চত্বারি ত্ৰীনি দ্বৈচৈক কাদিযু যথাক্রম। সংখ্যা তানি সহস্রাণি দ্বিগুণানি শানি চ৷৷ অর্থ- এই শ্লোকে ৪-৩-২-১ এর ক্রমে সত্যযুগাদি জান— উহাদের সংখ্যা হাজার এবং শতকের সহিত দ্বিগুণ করিলে পাওয়া যায়। এখানেও ঐ কথাই হইতেছে-- ৪ পাদ চরণ ধর্ম বিশিষ্ট সত্যযুগ ১২•• বর্ষের, ৪ পাদ ধর্ম বিশিষ্ট ত্রেতা ২৪•• বর্ষের, ২ পাদ ধর্ম বিশিষ্ট দ্বাপর ৩৬•• বর্ষের এবং ১ পাদ ধৰ্ম্ম বিশিষ্ট কলিযুগ ৪৮•• বর্ষের হয়।

২৮ 28 সন্ধাং সন্ধ্যাংশয়োরন্তেরণয়ঃ কালঃ শত সংখ্যয়োঃ। তমেবাহুগৎ তৎজ্ঞায়ত্ৰ ধৰ্ম্মো বিধীয়তে ২১ অর্থ— ১০০ শত সংখ্যা বিশিষ্ট সন্ধ্যা এবং সন্ধ্যাংশের মধ্যে স্থিত কালকে যুগ বলে, উহাতে বিশেষ ধৰ্ম্ম হইয়া থাকে। ধৰ্ম্মশ্চতুস্পমনুজাঙ্কতে সমনুতে। স এবান্যে ধৰ্ম্মেণ ব্যতিপাদেন বর্ধতাঃ ॥২১। অর্থ- সত্যযুগে মানুষের চার পাদ ধৰ্ম হয়, পরে অন্যান্য যুগে এক পাদ করিয়া ধৰ্ম্ম কমিতে থাকে। এই শ্লোকে “মনুজান শব্দের দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যাইতেছে যে চার যুগ মানুষের হয় দেবতাদের হয় না, এবং ইহাও বুঝা যাইতেছে যে ৪-৩-২-১ এই ধর্মের পাদ যুগানুসারে, ইহা অঙ্ক নহে। দেবতাদিগের কেবল দিন এবং যুগ হয় চার মুগ হয় না। যদি এইরূপ মানিয়া লওয়া হয় তাহা হইলে দেবলােকেও কলিযুগ হইত এবং ইহাতে বড় বড় পাপও করা হইত। কিন্তু ইহা ভুল, কারণ দেবলােকে লেশমাত্র পাপও হয় না । এবং ইহা ব্যতীত সূর্যের গতিই এইরূপ যে উহাতে মনুষলােকে ৪ যুগ হয় কিন্তু দেবলােকে ৪ যুগ হয় না।

20 ধর্মের চার পাদ বা চরণ কৃতে প্ৰবততে ধৰ্ম্মঞ্চতুম্পাজ নৈবৃতঃ। সতং দয়া তপােদানমিতি পদ শিপে।১৯৷৷ অর্থ- সতাযুগে মানুষের চার ধৰ্ম্ম হয়-সত্য, দয়া, তপ এবং দান। ইহাই ধৰ্ম্মের চার পাদ । এই শ্লোকেও মানুষেরই কথা হইতেছে দেবতাদের নয়। ইহার সারাংশ হইতেছে-সত্য, দয়া, তপ, দান এই পূর্ণ চার পাদ ধৰ্ম্ম সত্যযুগে থাকে, ত্রেতাতে ধর্মের প্রথম একপাল লুপ্ত হয় অর্থাৎ সত্য কমিয়া দয়া, তপ, দান থাকে এবং দ্বাপরে দুই পাদ ধৰ্ম্ম-তপ এবং দান থাকে আর কলিযুগে কেবল এক দান থাকে। এই কারণে মনুস্মৃতিতে আছে “দানমেকং কলৌযুগে” কলিযুগ কেবল এক দানই ধর্মের পাদ। এই কারণ সংস্কল্পে আছে কলৌ একৌ চরণে” যাহাতে পণ্ডিতেরা কিছু দিন হইতে ভুলক্রমে ‘কলি প্রথম চরণে’ করিয়াছেন। আমি ইহা সম্পূর্ণ প্রমাণ করিয়া দিতেছি যে যুগের স্থিতিকাল লক্ষ বর্ষের নহে, হাজার বর্ষের। এখন আমি মনুস্মৃতির প্রমাণ ক্রমশঃ লিখিতেছি। মনুস্মৃতি হইতে প্রমাণ মনুস্মৃতি প্রথম অধ্যায়- 30 আহােরাত্রৈ বিভতে সূৰ্য্যো মাষদৈবিকে। পিস্বেপনায় ভূতানাং চেষ্টায়ৈ কমণাৎ মহঃ ॥৬৪। অর্থ- সূর্য মনুষ্য ও দেবতাদের রাত ও দিনের বিভাগ করে ; রাত ঘুমাইবার জন্য ও দিন কাজ করিবার জন্য । এই শ্লোকের দ্বারা আমরা বুঝিতেছি যে ইহার পরে মানুষ ও দেবতা উভয়েরই হিসাব চলিবে । পিতে রাহনি মাসঃ বিভাগস্তু ক্ষয়েঃ । কৰ্ম্ম চেষ্টা স্বহঃ ওঃ শুক্লঃ স্বপ্নায় শর্বরী ॥৫৬ অর্থ- মনুষ্যের এক মাসের সমান পূর্বপুরুষদের এক রাত । এক দিন হইয়া থাকে; কৃষ্ণপক্ষের দিন কাজ করিবার জন্য ও শুক্লপক্ষের রাত ঘুমাইবার জন্য। (এই ধৃষ্ণপক্ষে পূৰ্বপুরুষদের শ্রাদ্ধ হইয়া থাকে।) এখানে মনুষ্য ও পূৰ্বপুরুষদের প্রভেদ দেখান হইয়াছে। দৈবরাহনি বর্ষ বিভাগগুরোঃ পুন। অস্ত্রোদগয়নং রাত্রিঃ স্যাক্ষিণায়ন ॥৬৭ অর্থ- মানুষের এক বৎসরে দেবতাদের একদিন ও রাত হয়, Bl ৬ মাস উত্তরায়ণ দিন হয় ও ৩ মানে দক্ষিণায়ণ রাত হয়। এইখানে মানুষ ও দেবতাদের হিসাব দেখান হইয়াছে। এখানে মনু লিখিয়াছেন- ব্রাহ্মত তু ক্ষসহ যৎপ্রমনিং সমাসঃ । একৈকশে। যুগানাং তু ক্রমশনিবােধৎ ॥৬৮। অর্থ- ব্ৰহ্মার রাতদিন ও এক যুগের পরিমাণ সংক্ষেপে বলা হইতেছে । পূৰ্ব্ব পুরুষদের ও দেবতাদের হিসাব প্রথমে দেখানো হইয়াছে এখন যুগের যে হিসাব দেখানাে হইবে তাহা কেবল মানুষের। কেননা দেবলােকে চারি যুগ হয় না; যদি হইত তাহা হইলে সেখানে কলিযুগও হইত ও এই যুগে পাপও হইত। কিন্তু দেবলােকে পাপ হয় না। এইখানে টীকাকারের ভয়ানক ভুল করিয়াছেন। এখন মনোেযােগ দিয়া পড়ুন, এখানেও মানুষের হিসাব আরম্ভ হইতেছে। চয়াহু সহস্রানি বর্ষাণাং তত কতংযুগম। স্তন্ত তবচ্ছতী সন্ধ্যা সন্ধ্যাংশ তথাবিধ ॥৬৯৷৷ এই শ্লোকে “তৎকৃত” লেখা আছে, এখানে মানে এই। এই শদের দ্বারা ইহাকে কৃতযুগ হইতে আলাদা করা হইতেছে ; যেন ভাগবতের ১২।২। ৩৪ শ্লোক (যাহা প্রথমে দেওয়া হইয়াছে) পুনঃ শ দ দ্বারা পূর্ব কলিযুগের

3
বর্ণনা করা হইয়াছে, সেইভাবে মনু এই শ্লোকে ‘তৎ' শব্দ
ব্যবহার করিয়া পূৰ্ব্ব কলিযুগের ২০০০ বৎসরের বর্ণনা
করিয়াছেন। ইহার অর্থ হইতেছে-
৪ হাজার বর্ষ পর্যন্ত কলিযুগ পরে কৃতযুগ
সন্ধ্যা
অর্থাৎ কলিযুগ ৪০০০ বৎসরের হইতেছে ইহার ৪০০
৪০০ সন্ধ্যাংশ আছে। অর্থাৎ কলিযুগ মােট
৪৮•• বৎসরের হইতেছে। এই বিষয়ে মনােযােগ না দিয়া
ও ভাগবতের প্রমাণের উপর নির্ভর না করিয়া মেঘাতিথি
ইহাকেই সত্যযুগ বলিয়া মনে করিয়াছেন। অনেক পণ্ডিতেরা
ইহাকে সত্যযুগ প্রতিপন্ন করিবার জন্য তৎকৃতম্ এর জায়গায়
তুত করিয়া মনুস্মৃতি প্রকাশ করিয়াছেন। তু’র মানে
তাে' অর্থাৎ সত্যযুগের স্থিতিকাল ৮০০০ বৎসর। এই সিদ্ধান্ত
সম্পূর্ণ অমূলক।
এইভাবে শাস্ত্রকে বদলাইবার অধিকার
কাহারও নাই কিন্তু অনভিজ্ঞ লােকেরা এইভাবে অনেক পুস্তকে
অনেক প্রকার ভুল করিয়াছেন। ব্যাস তাে ভাগবতে ইহা
লিখিয়াই গিয়াছেন ‘বেদা পাখণ্ড দূষিতঃ অর্থাৎ কলিযুগে
পাপীরা বেদেও অনেক ভুল ঢােকাইয়া দিৰে।
যদি শাস্ত্রের কোন শব্দ কোন পণ্ডিত বুঝিতে না
পারেন তাহা হইলে তাহার উচিত ঐ শব্দের সাধারণ
অর্থ করিয়া ছাড়িয়া দেওয়া কোনও কিছু বাড়াইয়া
না দেওয়া। এই ভাবে কয়েকজন পণ্ডিতেরা শাস্ত্র, পুরাণ

প্রভৃতিতে এমন কি বেদেও অনেক গণ্ডগােল করিয়াছেন। এখন নিম্নলিখিত শ্লোকে পড়ুন- = ইতরে সন্ধেযু সসন্ধৎশশা চ ত্রিপু। একাপায়েন বতন্তে সহস্রাণি শতনি চ ॥ ৭। অর্থ- সন্ধ্যা ও সন্ধ্যাংশের সহিত অন্য তিন যুগের স্থিতিকাল ১ হাজার ১ শতকে যথাক্রমে বিয়ােগ করিলে পাওয়া যাইবে। অর্থাৎ ১০০ হইতে ১••• বিয়ােগ করিয়া ••• হইল ৪••• বর্ষের সন্ধ্যা ও ৪••• বর্ষের সন্ধ্যাংশ হইতে ১ শত বিয়ােগ করিয়া ৬•• হইল ; হইল; এই প্রকারে শেষ ফল ২০•• এবং ১২•• হইল। যদেতৎপরসংখ্যাতমাদানের চতুর্যগ। এতদ্দ্বাশসহস্রং দেবানাং যুগযুচ্যতে।।৭১ পূর্বে যে চারযুগ বলা হইয়াছে উহালের ১২••• বর্ষের সমান দেবতাদের একযুগ হয়। এখন হিসাব কর, কলি ••, দ্বাপর ২৪০•, সত্য ১২•• মােট ১২••• বর্ষ হইল। এই হিসাবে নুর এই শ্লোক অনুসারে। যুগে ৰা হয়। যদি 34 প্রায় টীকাকারদের মতে ইহা দেবতাদের বর্ষ মানা যায় তবে মানুষের একবর্ষ দেবতাদের একদিনের সমান হয় । ২০০০X ৩৬০ = ৪৩২০০০ • হয় কিন্তু শ্লোকে ১২০০ বর্ষের এল। হইয়াছে। বাস্তবিক ৪৩২০ ০ ০ ০ চার যুগের দিন। সূর্য। সিদ্ধান্ত ১। ১৫ শ্লোকে ইহাই আছে। তদ্বাদশ সহস্রাণ চতুর্যগাহৃত অর্থ- না, ১২••• বর্ষে চতুর্যগ হয়। দেবতাদের বর্ষ হয় উহাদের দিনরাত হয় বা একযুগ হয় যেমন ৭১ শ্লোকে আছে। যদি মেঘাতিথি ও বর্তমান পণ্ডিতদিগের মতানুযায়ী ৪ যুগকে দেবযুগ এবং ইহাদের ১২•• বর্ষের দেববর্ষ মানা যায় তবে এই শ্লোকের অর্থ হয়- দেবতাদিগের ৪ যুগের সমান দেবতাদিগের এক যুগ হয়। এইরূপ কথা সম্পূর্ণ হাস্যাস্পদ তথাপি অনেক পণ্ডিত ইহাই মানিতেছেন। এখন পরের শ্লোকে পড়ুন। জৈবিকানাং যুগানা তু সহস্রং পরিসংখ্যয়া। ব্রাহ্ম মেকমহজ্ঞেয়ং তাবতী রাত্রি রেব চ।৭২৷৷ অর্থ— দেবতাদের এইরুপ হাজার যুগে ব্রহ্মার একদিন একরাত

35
এখন হিসাব হইতেছে এই যে এক মানুষের চতুর্যগ বা
দেবতাদের একযুগ = ১২•••
একযুগ = ১২• ০• বর্ষের হয়। আর এইরূপ
১০০০ দেবযুগের সমান ব্ৰহ্মার একদিন = ১২••• X১••• =
১২০ ০০০ ০০ বর্ষ। এখন ব্রহ্মার একদিনে মানুষের ১২০ ০০০ ০০
X :৬৩ = ৪৩২০০৫
দিন অর্থাৎ মানুষের ৪৩২০ ••
দিনের সমান ব্রহ্মার একদিন হয়।
ইহাকেই সৃষ্টি সব
বল এবং ইহাতেই ব্রহ্মার রাত বা “প্রলয়” হয়। আক শ
পঞ্চাঙ্গ এবং প্রায় পুস্তকেই এই দিনগুলিকে বর্ষ লেখা হয় ।
ইহা সম্পূর্ণ ভুল। কতকগুলি পণ্ডিত ভূমে অন্যস্থানেও
দিনকে বর্ষ লিখিয়াছেন, উদাহরণ স্বরূপ সূর্যসিদ্ধান্ত অধ্যায়
১ শ্লোক ২০। ২১ পড়ন।
ইখং যুগ সহস্রেন ভুত সংহাকারকঃ।
কল্লো ব্ৰহ্ম মহঃ পােক্তং শবরী তস্য তাবতী ॥২৷৷
এই কারে দেবতাদের হাজার যুগে এক ভুতসংহারকার
কল্প এক সৃষ্টি ) হয়, ইহাই ব্রহ্মার একদিন এবং একরাত।
এখানে এক সৃষ্টিকে ব্রহ্মার একদিন এবং প্রলয়কে ব্ৰহ্মার
একরাত বলা হইয়াছে।
এখন পরে পড়ুন

36 পরমায়ু শতৎততয়াহােরাত্র সংখ্যয়া। আয়ুষােহৰ্দ্ধমিতং অন্ত শেষকল্লোহয়মাদিমঃ ২১ ব্ৰহ্মার পূর্ণ আয়ু দিনরাত হিসাবে. একশত। অর্ধেক আয়ু শেষ হইয়াছে ; বর্তমান সৃষ্টি উহার আগামী অর্ধেক আয়ুর প্রথম দিন। এই শ্লোকে কোন যায়গায় বর্ষ নাই কিন্তু দিন এবং রাতের বর্ণনা আছে। সমস্ত পঞ্চাঙ্গে ব্ৰহ্মার আয়ু পণ্ডিতের ১০০ বর্ষ লিখিয়াছেন, দিনকে বর্ষ করিয়াছেন এইরূপ ৪ অৰ্ব্বদ ৩২ কোটি দিমের সৃষ্টিতে সংবৎ হয়, 'ইহাকে বর্ষ লিখিয়া গিয়াছেন। অথব বেদের প্রমাণ শতৎতে যত হায়না দ্বৈ যুগে ত্ৰীতি চত্বারি রুম। ইন্দ্রাগ্নি বিশ্বেদেবান্তে নুমন্য তামহণয়ি মানা। সায়ণাচাৰ্য এই মন্ত্রের ভাষ্য এই প্রকার করিয়াছেন- “চতুর্ণাং যুগানাং 'সন্ধি সংবৎসরান বিহায় যুগ চতুষ্টয্য মিলিত্বা অযুত সংবৎসরঃ স্যুঃ তাহ বিভজ্য, কলিদ্বাপরাধ্য শ্রীনি তাে সাহিতনি চত্ত্বারি কতগ সাহিতনি কুর্ম ইতিশাসতে।

37
-
T
০ ০ ০
চ'র যুগের সন্ধি সংবৎগুলিকে ছাড়িয়া চতুর্যগের বর্ষের
মােট সংখ্যা দশ হাজার (১°, ) বৎসর হয়।
কলি, দ্বাপর,
ত্রেতার সহিত এই তিনকে এবং কুতযুগ (সত যুগ) এর সহিত
ইহা চার যুগ কথিত হয় এবং ইহার বিভ গ আমরা এই “কার
করিয়া থাকি । এ সম্বন্ধে বেদেও চার যুগের আয়ু বা স্থিতি
কাল দশ হাজার বৎসর লেখা আছে এবং এই সংসরগুলিকে
দেবতাদের বৎসর না বলিয়া কেবল সংব:সর বলা হইয়ছে
যাহার অর্থ মানুষের বৎসর। এই সঙ্গে এই মন্ত্র প্রথমে কলি-
যুগের কথা বলিয়া পরে দ্বাপর, ত্রেতা এবং সত যুগকে উল্টা
গণনা করিবার বিষয়ও বিবেচনা করিবার যােগ্য।
যেমন মনুস্মৃতির প্রথম অধ্যায়ের ৬৯ শ্লোকের অর্থ করিবার
সময় উপরে লিখিত হইয়াছে।
ভাবে
এই দশ হাজার বর্ষকে এইরূপ ভাবে বিভাগ করা হইয়াছে।
কলিযুগে ৪০০০ বর্ষ, দ্বাপর ৩০০০, ত্রেতা ২••• সত্যযুগ
১০০ বর্ষ, সন্ধ্যা এবং সন্ধ্যাংশ ইহার মধ্যে ধরা হয় নাই।
নির্ণয়সিন্ধুর প্রমাণ
চব্দিসহস্রাণি চত্বায়ক শতানি চ
কলেয়াদা গামিত্তি তদা পূৰ্ব্বমুগাশ্রিতা।
নির্ণয়সিন্ধু প্রকরণ • পূৰ্বার্থ।

3 38 অর্ণ- হইবে। যখন কলিযুগের চার হাজার এবং চারশত বর্ষ অতীত হইবে তখন পূর্বযুগের সমান ধৰ্ম্মসঙ্গত কাৰ্য্য হইতে আরম্ভ এখন কলিযুগের আয়ু ৪৪০০ বর্ষ বলা হইয়াছে। ইহা কলিযুগ এবং উহার সন্ধ্যার যােগফল । ইহার সন্ধ্যাংশ যােগ করিলে কলিযুগের ৪৮০০ বর্ষের হয়। অর্থাৎ নির্ণয়সিন্ধুকে স্পষ্টরূপে কলিযুগের আয়ু মাত্র ৪০০ বর্ষ বলা হইয়াছে ৫ লক্ষ ৩২ হাজার বর্ষের নাম ও নাই। উহা কেবলমাত্র পণ্ডিতদিগের ভ্রম। সিদ্ধান্ত শিরোমণির প্রমাণ আপনার জ্যোতিষশাস্ত্রে প্রসিদ্ধ পণ্ডিত ভাস্করাচার্য্য উপরােক্ত গ্রন্থে নিম্নলিখিত শ্লোক লিখিয়াছেন। স্ব স্বান্ত গরৈ যুগগ্নি যুগ্মভু গুণৈঃ। ক্রমেণ সুষবৎসরৈ কতাদয়ে যুগাঘ্রয়ঃ । অর্থ- ৪৩২০০০ হইতে ৪-৩-২-১ গুণ করিলে ক্রমশ সূৰ্যবৰ্ষ হইতে সতযুগাদির পাদ হয়। অর্থাৎ ৪ এর সহিত ৪৩২০০০ রাখ, ইহাকে পরে গুণ করিতে থাক। যেমন ৪ পাদ ধৰ্ম্মের সহিত = ৪৩২•••, 39 ৩ প'দের ত্রেতা = ৪৩২০ ০•২ = ৮৬৪ •• ; ২ পাদের দ্বাপর = ৪০২০০০ ৩: ২৯৬০ ••; ১ পাদের কলি = ৪৩২ • •X4 = ১৭২৮•••। ইহা দিন, বর্ষ নহে। শ্লোকে “সূর্য বংস” লে। হইয়াছে উহা দিনরাতের ;য়। সারার্থ ইহাই হই ন যে ৪ দ ধর্মবিশিষ্ট সত্যযুগের ৪৩২••• দিন হয় । ইহাকে ৩ দিয়া ভাগ কর, ইহাই ১১•• বর্ষ হইল। এইরূপে। তার = ৮ ৬৪••• দিনে ২৪ : বর্ষ দ্বাপবে -১২৯৬••• দিনে ৩০০০ বষ এবং কলিযুগের ১৭২৮০•• দিনে ৪৮০০ বর্ষই হয় । এই শ্লোক হইতেও চার যুগে ১২০০০ বৰ্ষই হয় । বিশেষ কথা হইতেছে এই বর্ষের স্থানে যুগের আয়ু বা স্থিতিকা। দিনের দ্বারা বলা হইয়াছে। সূর্যা একদিন এবং এক রাতের হয়। সূর্যসিদ্ধান্ত এখন সূর্যসিদ্ধান্ত হইতে বিস্তৃতভাবে যুগের স্থিতিকাল দেখা যাইতেছে। সূর্যসিদ্ধান্ত প্রথম অধ্যায় পড়ুন। ইহার পূর্বে বলা হইয়াছে যে ৬০ পলে এক নাড়ী হয়, এখন পরে পড়ুন- নাড়ী যায়তু নক্ষত্রমহরাং প্রীতিম্। তীং শতা ভবেন্সস সাবনােহকেদয়ে শুৎ ॥১২৷৷

40
৬০ নাড়ীতে এক নক্ষত্র আহে রাত্র ( দিনরাত) হয়, ৩০
অহোরাত্রে একমাস হয়, সূর্য উদয় হইতে আগামী সূৰ্য্য
উদয় পর্যন্ত যে সময় তাহাকে (দিবারাতকে) সাবন বর্ষ
বলে (ইহর অন্য নাম সূৰ্য্যাদ এবং সূর্য্য বৎসর । )
এ ব স্তিথিভিস্তুদ্ধসংক্রান্তা শের উচ্যতে।
মাসে দশতিব fব্য তাহরুচ্যতে ॥১৩
চন্দ্রবর্ষ তিথিতে হয় সৌরবর্ষ সংক্রান্তিতে হয় । ১২ মাসে
এক বর্ষ হয় এবং দিব্য বর্ষের (দেবতাদের এক দিন হয় )
এখানে "দিব।” শব্দের পর “দেবত। শব্দ নাই, ইহার প্রসঙ্গ
পরবর্তী শ্লোকে পাইবেন । পণ্ডিতেরা ইহার অর্থ শ্লোকের
বিপরীত করিয়াছেন।
সুর সুরাণমতোহন মহােরাত্র বিপন্থাৎ
তৎক্ষষ্টি টু গুণ দিবং বর্ষমাসুর মেব চ।১১৷৷
“দেবতাদের এবং অসুরদের দিনরাত বিপরীত হয়, ••
দিনে এক দিব্যবৰ্ষ হয়, এইরূপ অসুরদেরও হয়।” ইহার
সারার্থ হইতেছে এই যে, দেবতারা উত্তর ধ্রুব হইতে দূরে
থাকেন। যখন সূর্য্য ৬ মাস যাবৎ উত্তরায়ণে থাকে তখন
দেবতাদের দিন হয় এবং যখন সূর্য ৬ মাস যাবৎ দক্ষিণায়নে
থাকে তখন দেবতাদিগের রাত থাকে। দক্ষিন ধ্রুব হইতে
দূরে অসুরদের বাস, বেদে উহাকেই অসুরলােক বলা হইয়াছে।

৪১
4
সূর্য যখন উত্তরায়ণে থাকে তখন
অসুরদের রাত থাকে,
এবং সূৰ্য্য যখন ৬ মাস দক্ষিণায়ণে থাকে তখন অসুরদের দিন
থাক। এই রূপে যখন দেবতাদের দিন হয় তখন অসুরদের
রাত হয়-দেবতাদের এবং অসুরদের দিন রাত বিপরীত হয়।
সূর্যের এই উত্তর এবং দক্ষিণ গতি ৩৬০ দিনে হয় । ইহাই
একবর্ষ-ইহাকেই দিবাকর্ষ বলে । যেরূপ উপরের শ্লোকে
বলা হইয়াছে। দেবতাকে দিব্য বল না ।
এই গণনা
দেবতাদের উত্তর স্থান হইতে কর বা অসুরদের দক্ষিণ স্থান
হইতে কর, দুই দিক হইতেই সূর্যের ভ্রমণ (চক্র) ৩৬•
দিনই পূর্ণ হয়।
এই ৩৬০ দিনের দিব্যবৰ্ষ হইতেই জ্যোতি
শাস্ত্রে হিসাব করা
সংক্রান্তি হইতে যে সৌরব
উহা ৩৬৫ দিনের। উহার দ্বারা জ্যোতিষের
হিসাব করা হয় না, কারণ ৩৬৫ দিনকে সঠিকভাবে যােগ,
বিয়ােগ, গুণ, ভাগ করা যায় না, এবং উহা হইতে ঋতুও
হয় না, উহা কেবল যজ্ঞ ।
প্রভৃতি ক্রিয়াকর্মে ব্যবহার হয়।
সূর্যের উত্তরায়ণের জন্য যে গতি তাহার ৩৬০ দিনকেই
দিব্যবষ বলে। সূৰ্য্যসিদ্ধান্ত ১৪-২• লেখুন।
বংপ্রােক্তং তদ্ভবেদ্বিব্যং ভানোঙগণ পূর্ণাত
অর্থ---
যাহা পূৰ্ব্বে বলা হইয়াছে ( অর্থাৎ ৩৬ • দিনে দিবা
হয়), উহা সূর্যের এক ভণ পূর্ণ হইল হয়

২ 42 ইহা এই কথারই পােষণ করিতেছে যে ৩৬০ দিনে সূর্যের একচক্র পূর্ণ হয়, ইহাকে দিব্যবৰ্ষ বলে- দিব্য দেবতাকে বলে , দেবতাদের বর্ষকে বলে । মনুষ্যদের এই ৩৬০ দিনের দিব্যবষের সমান দেবতাদের একদিন হয়, অর্থাৎ সূর্যের এই উত্তরায়ণ এবং দক্ষিণায়ণের গতি মানুষের একবষে সমাপ্ত হয়, এই একবর্ষ দেবতাদের এক দিন রাতের সমান। এই কথাই উপরের ১৬ শ্লোকে “দিব্যাং তদহরূচ্যতে” কথাগুলিতে বলা হইয়াছে। তদ্বাদশ সহস্রানি চতুর্য,গযুদাহৃতম্ । সুর্যাক সংখ্যা দ্বিত্রি সাগরে রয়ুতাহতৈ ১৫ অর্থ- চার যুগের ( সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলির) সংখ্যা বারাে হাজার বর্ষের হয়, ইহার সূৰ্য্যা সংখ্যা ৪২••• বর্ষের হয়। '? পূৰ্ব্বে লেখা হইয়াছে যে সূৰ্য্য বৎসর সূৰ্য্যাব্দ এবং সাবমবর্ষ এক দিন রাত অর্থাৎ সূর্য উদয় হইতে আগামী সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়কে বলে । শ্লোক অনুসারে চারযুগ ১২••• বর্ষের হয় এবং উহাতে ৪৩২•••• দিন হয়। সন্ধ্যা সন্ধাংশ সহিত বিজ্ঞেয়ং ততুযুগ। কুতাদিনা ব্যবকেয়ং ধৰ্ম্মপদ ব্যবস্থায় ১৬

43
সন্ধ্যা এবং সন্ধ্যাংশের সহিত যে চার যুগ উহাতে ধৰ্ম্মের
পাদ অনুসারে সতাযুগাদির ব্যৰস্থিতি হয়। সত্যযুগে ধর্মের
চার পাদ হয়, ত্রেতায় ৩ পাদ, দ্বাপরে ২ পাদ এবং কলিতে
১ পাদ বা চরণ হয়। ইহাদের অনুসারেই মানুষের দশা হইয়া
থাকে। এই সব বিষয় পূৰ্বেই সবিস্তারে আলােচিত হইয়াছে।
পুরাণ ৪-৩-২-১ এর ইসারা এই চার যুগের চরণের
সম্বন্ধেই করা হইয়াছে।
যুগ দশমম ভাগশ্চতুস্ত্রিদ্ধেক সংগুণা।
ক্ৰমাৎকৃতযুগাদিনাং ষষ্ঠাংশ সন্ধ্যা স্বকঃ ॥১৭৷৷
অর্থ—
চার যুগের বর্ষের ( ১••• এর) দশম ভাগের সমান
ক্রমান্বয়ে সত্যযুগাদি হয়।
উহাতে ৪-৩-২, পাদ ধর্ম
থাকে। ঐ দশম ভাগের ষষ্ঠ ভাগের সমান যুগগুলির সন্ধ্যা
হয়।
ইহার স্পষ্ট অর্থ হইতেছে যে চার যুগের আয়ু ১২•••
বর্ষ। ঐ ১২
ঐ ১২:•• বর্ষের দশম অংশ ১২•• হইল, ইহাই
সত্যযুগের আয়ু বা স্থিতিকাল। ইহাকে ঋণ করিয়া পরের
যুগগুলির আয়ু বাহির করুন। যথা, ১২•• এর দ্বিগুণ ২৪••
ত্রেতা, ১২•• এর তিনগুণ ৩৬•• দ্বাপর, ১২•• এর চতুগুণ

১৪ 44 ৪৮•• কলি হইল এবং এই প্রত্যেক যুগের যষ্ঠ অংশ উহার সন্ধ্যার সময় অর্থাৎ ১২০০ এর ষষ্ঠ ভাগ ২০০, ইহা সত্যযুগের সন্ধ্যা; এইরূপ ত্রেতার সন্ধ্যা ••, দ্বাপরের সন্ধ্যা ৬০০ কলির •০ বর্ষ হইবে । সূৰ্যসিদ্ধান্তের এই প্রমাণ হইতে হইতে দুইটি কথা স্পষ্ট প্রমাণিত হইল-একটি হইতেছে এই যে দিব্য অর্থ বর্ষ, দেবতাকে দিব্য বলে না। দ্বিতীয় কথা এই যে যুগ লক্ষ বর্ষের হয় না এবং কলিযুগ কখনও ৪৩২••• বর্ষের নহে কিন্তু ৪•• বর্ষের । যে সব পণ্ডিতেরা “দিৰ্য” শব্দের অর্থ দেবতা বলিয়া জানেন তাহারা সম্পূর্ণ ভুল করেন, তাহারা ইহার অর্থ বুঝেন না। নয় প্রকারে বৎসর ব্ৰহ্ম দিব্যং যথা পিং প্রজাপত্যং গুরােথা সৌরং চ ত্যাবনং চান্দ্র মাক্ষং মানানি বৈন। অর্থ- ব্ৰহ্মবর্ষ (অর্থাৎ ব্রহ্মবর্ষ এই সৃষ্টির সমান হয়) দিব্যবৰ্ষ ( ইহা সূর্যের উত্তর দক্ষিণ গতি হইতে ৩৬০ দিনের হয় ), পিতৃবর্ষ (ইহা আমাদিগের ১ মাসের সমান হয়), প্রজাপতি (ইহা এক প্রতিসর্গ সৃষ্টির হয়), গুরুবর্ষ ( আমাদের ১২ বৎসরের

45
৪৫
সমান বৃহস্পতিলােকের এক বৎসর হয়) সৌরবর্ষ (৩৫৬ দিনের),
সাবন বৎসর সূর্যোদয় হইতে আগামী সূর্যোদয় পর্যন্ত এক দিন
রাতের হয়, ইহাই সূর্যাবৎসর বা সূৰ্য্যা, চান্দ্রবর্ষ (তিথি হিসাবে
হয়, ইহা ৩৫৪ দিনের হয়), নক্ষত্রবর্ষ (ইহা ৫১ ঘণ্টা এবং কিছু
পলে হয়)। এইরূপে শাস্ত্রে নয় প্রকারের বর্ষ লিখিত আছে।
অনেক পণ্ডিতেরা এই ভেদ না জানিয়া অনেক ভুল করিয়াছেন।
কলিযুগের কখন আরম্ভ
এমদ্ভাগবত স্কন্ধ ১২ অধ্যায় ২ শ্লোক ১১। ৩২। ৩৩
আছে।
যদা দেবষয়ঃ সপ্ত মঘাষু বিচস্তি হি।
তদা প্রস্তু কলিব্দদশাদ্বশত্মক ॥৩১।
যদা মঘভ্যো যাান্তি পূৰ্ব্বষাং মহর্ষয়।
তদানদাপ্রভৃত্যে কলিবৃদ্ধি গমিষ্যতি ।:৩২।
যস্মিন্ কৃষ্ণো দিবং যাতস্মিবে তদাইহনি।
এতিপন্নং কলিগ মিতি প্রাঃ পুরাবিদঃ ॥৩৩
যখন সপ্তর্ষি মঘা নক্ষত্রে আসিয়াছিল তখন কলিযুগের
আরম্ভ হইয়াছিল এবং যখন সপ্তর্ষি পূৰ্বাষাঢ় নক্ষত্রে আসিবে
তখন ১২০০ বর্ষ পরে কলিযুগ আরম্ভ হইবে—ইহা নন্দরাজার
সময় হইবে এবং যখন ভগবান কৃষ্ণ এই সংসার হইতে নিজের
ধামে যাইবেন তখন হইতে কলিযুগ আরম্ভ হইবে।”

৪৬
46
কলিযুগ কখন সমাপ্ত হইবে
২৭ নক্ষত্র।
এই সপ্তর্ষি আজকাল কৃত্তিকা নক্ষত্রে রহিয়াছে এবং ইহা
প্রত্যেক নক্ষত্রে একশত বৎসর থাকে। ইহা যখন মঘাতে
আসিয়াছিল তখন কলিযুগ আরম্ভ হইয়াছিল। মঘা হইতে
রেবতী পর্যন্ত ১৮ নক্ষত্র, আবার অশ্বিনী হইতে রেবতী পর্যন্ত
১৮+২৭= ৪৫। আবার অশ্বিনী হইতে কুত্তিকা
পর্যন্ত ৩। ৪৫+৩= ৪৮। এই হিসাবে কলিযুগের সময়
৪৮•• বর্ষ ইহা শ্রাবণ অমাস্যা সংবৎ ২০০০ বসরে
শেষ হইবে। কলিযুগের সম্বৎ পঞ্চাঙ্গে ৫০৪• লিখিত আছে,
ইহা ঠিক নহে। আজকাল এই সম্বৎ ৪৭৪৯ এবং তদনুসারে
বিক্রম সৰৎ ১৯৯৩।
এখন বিচার করিবার বিষয় হইতেছে এই যে কলিযুগ
কখন সমাপ্ত হইবে। প্রথম বিচার-ভাগবত ১২। ৩১। ৩২
-সেখানে ইহা লিখিত হইয়াছে যে ৪৮•• বর্ষের কলিযুগ
হয়। এইরূপে কলিযুগ তাে ৪০ বৎসর পূর্বে সমাপ্ত হইয়া
গিয়াছে, তখন হইতে ইহার সন্ধ্যা চলিতেছে উহাও বিক্রম
সংবৎ ২••• বর্ষে সমাপ্ত হইবে।
ঠিক সময়—কলিযুগ ঠিক কখন
শেষ হইবে
গত ১২। ২। ২৪ দেখুন।

৭৭
47
যদা চন্দশ্চ মূৰ্যশ্চ তথ। তিস্য বৃহস্পতি
এক রাশো সমেষ্যক্তি তথা ভবতি তৎকৃতম্।
ইহার অর্থ এই যে-
যখন চন্দ্র, সূর্য, পূষ্য। নক্ষত্র ও বৃহস্পতি এক
রাশিতে সমবেত হইবে তখনই সত্যযুগ হইবে।
ভাবার্থ হইতেছে এই যে যখন চন্দ, সুৰ্য্য ও বৃস্পতি
পুষ্যা নক্ষত্রে এক রাশিতে সম (সমান) অবস্থায় আসিবে,
তখন কলিযুগ সমাপ্ত হইয়া সত্যযুগ হইবে।
এই পূৰ্ণযােগ বিক্রম সম্বত ২••• সালে শ্রাবণ
অমাবস্যা বা ১লা আগষ্ট সন ১৯৪৩ সালে আসিবে.
কাশীর দশ বাষিক পঞ্চাঙ্গ (পত্রিকা) ছাপা হইয়াছে, উহাতে
সকলেই দেখিতে পারেন।
গ্রহের সমাবস্থা
এইরূপ। ইহার সব পুষ্যা নক্ষত্রের চতুর্থ চরণের শেষ ভাগে
কর্কট রাশিতে হইবে । ঐদিন ১৭ ঘণ্টা ৫৩ পলের কিছু
পূর্বেই কলিযুগ সমাপ্ত হইবে। আর পূর্ণ চারপাদবিশিষ্ট
সত।যুগ আরম্ভ হইবে। এইরূপ পূর্ণযােগ ইহার পূর্বে কখনও
আসে নাই। ভাগবতে টীকাকার পর এই শ্লোকের উপর
লিখিয়াছেন যে এইরূপ যােগ তাে প্রতি ১১ বর্ষ বা ২৪ বর্ষে
পড়িয়া থাকে, কিন্তু এই শ্লোকে সম শব্দের অর্থ হইতেছে
# দশ বর্ষ পঞ্চাঙ্গ মূল্য ২• টাকা “চেতাবনী কাৰ্যালয়,
গুড়গাঁওতে পাইবেন।

48
ঐদিন এই তিন গ্রহ এক সঙ্গে পুষ্যা নক্ষত্রে এবং কর্কট
রাশিতে আসিবে। সুতরাং মনে হইতেছে যে শ্রীধর পণ্ডিত
হইলেও জ্যোতিষ জানিতেন না, কারণ তিন তাে দূরে থাক
দুই গ্রহও এক রাশিতে একত্র হইতে পারে না। এই শ্লোকে
সমাবস্থার অর্থ আমি উপরে লিখিয়াছি যে যোগ ভাগবতের
এই শ্লোকে উল্লেখ করা হইয়াছে উহা ১২, ২৪ বা ৩৬ বর্ষে
আসা দূরে থাক আজ পর্যন্ত কখনও আসে নাই। যদি এই
যােগ পূৰ্ব্বে কখনও আসিত তবে তখন হইতেই সতাযুগ আরম্ভ
হইত। কিন্তু এখন পর্যন্ত সত্যযুগ আসে নাই । এরূপ যােগ
আসা সত্ত্বেও আসে নাই,—তখন ভাগবতে ব্যাসের এই
শ্লোক মিথ্যা মানিতে হইবে। কিন্তু ব্যাসের প্রমাণ মিথ্যা
হইতে পারে না, সুতরাং যাহারা অনুরূপ বলেন সেই সব
পণ্ডিতদেরই
ভুল
বলিতে হইবে ।
কলিযুগের আরম্ভের ৪০০ বর্ষের সন্ধ্যা অতীত হইয়া
গিয়াছে, তাহার পর ৪০০০ বৎসরের কলিযুগও এখন হইতে
৪০০ বৎসর পূর্বে অতীত হইয়াছে এখন ৪০০ বৎসরের সন্ধ্যংশ
চলিতেছে, ইহার সংবৎ ২০০০এ সমাপ্ত হইবে। কলিযুগের
বিশেষ ধৰ্ম্ম হইতেছে ভক্তি, ইহা কলিযুগে সমাপ্ত হইয়া
গিয়াছে। উহাতে রামানুজ, নিম্বার্ক, গােষ্টি, পূর্ণ, সুরদাস,
তুলসীদাস প্রভৃতি শত শত পরমভক্ত জন্মিয়াছিলেন। যেহেতু
সন্ধ্যাংশে এক ধৰ্ম্ম থাকে না, এই জন্যই অনেক বিভিন্ন মত
মতার উৎপন্ন হইয়াছে। কিন্তু ইহা
কিন্তু ইহা কলিযুগেরই সন্ধ্যাংশ
সুতরাং ভক্তি দ্বারা এখনও মানুষের কল্যাণ হইবে।

৪৯
কলিযুগের আরম্ভ হইতে বর্তমান কাল পর্যন্ত এই যোগ
আসে নাই, তবে কতকটা এইরূপ যােগ ১৯৭৬ এ আসিয়াছিল,
তখন শ্রাবণ মাবস্যাতে পুষ্যা নক্ষত্র ছিল এবং কর্কট রাশিতে
সূর্য্য এবং বৃহস্পতি ছিল, তৃতীয় চরণে সূৰ্য ছিল; পুষার
প্রথম চরণে বৃহস্পতি ছিল এবং তৃতীয় চরণে সূর্য এবং চন্দ্র
ছিল; কিন্তু বৃহস্পতি প্রথম চরণেই ছিল এই জন্য ভাগবতের
মােগ পূর্ণ হয় নাই। শ্রাবণ মাস্যো বিক্রম সংবৎ ২•••এ
এই তিন গ্রহই কর্কট রাশিতে এবং পুষ। নক্ষত্রের চতুর্থ
চরণে আসিবে, এই জন্য উহাই পুর্ণযােগ হইবে এবং তখন
হইতেই কলিযুগ সমাপ্ত হইয়া নিশ্চয়ই সত্যযুগ অ রম্ভ হইবে।
;
সৃষ্টি সংবৎ
৪২••
আজকাল যে সৃষ্টি সংৰং
বংলা লেখ।
হয় উহা ভূল।
ঠিক হিসাব এইরূপ-মনুস্মৃত অধ্যায় ১
শ্লোক ৬৯ হইতে ৭২ এ লেখা আছে (আমরা এই শ্লোক
উপরে উদ্ধত করিয়াছি) যে চারগ ১২••• বৰে হয় ই
দেবতাদের এক যুগের সমান, আর দেবতাদের এইরূপ হাজার
যুগের সমান ব্ৰহ্মার একদিন, ইহাই সৃষ্টির অবধি।
১২•••কে ১• দিয়া গুণ করিলে এককোটি বিশলক্ষ বৎসর
হয়, ইহাই সৃষ্টি সংবৎ। পণ্ডিতেরা ভুল করিয়া ইহাকে অদ
বর্ষের লিখিয়াছেন। অর্ধেকের কিছু বেশী সৃষ্টি অতীত
হইয়াছে এবং অর্ধেকের কম বাকী আছে।
ইহা ১২••••••
এখন

60
বৎসর, ইহাকে ৩৬ দিয়া গুণ করিয়া দিন করিলে ৪ অৰ্ব্বদ
৩২ ক্রোড় হয় কিন্তু ইহা দিন, বর্ষ নহে। আজকাল ইহাকে
ভুলক্রমে বর্ষ মনে করা হয়।
কলিযুগে কি কি হইবে
শ্রীমদ্ভগবত গ্ধ ১২ অধ্যায় ১ শ্লোকে ১ হইতে ৩৯ পৰ্য্যন্ত
তুরস্ক, গুরুগু, মৌন, শুংগ আদিৰ বৰ্ণনা করিয়া ৪০ শ্লে কে
ব্যাস মুনি লিখিয় ছেন :
“তুল্য কালা ইমে রাজন
“হে রাজা! এই সব রাজ্য একই সময়ে হইবে” অর্থাৎ
এই সব রজারা একই সময়ে হইবেন বলা হইয়াছে।
অধিকাংশ পণ্ডিতগণ এই শ্লোকের অর্থ না বুঝিয়া বলেন যে
এখনও ভাগবতে লিখিত রাজাদের রাজ্য হইবে তাহার পর
কলিযুগ সাপ্ত হইবে—ইহা উহাদের মুখতা।
ভগত স্কন্ধ ১২ অধ্যায় ১ শ্লোক ৩•শে লেখা আছে যে
দশজন গুরু রাজা হইবেন। প্রায় পণ্ডিতই
দশ
৪াণী ভিক্টোরিয়া হইতে গণনা করেন—ইহা উহাদের ভরি
ভুল।
সংস্কৃতে ইংরেজ জাতিকে গুরু বলে।
বংশক্রম সুফিয়ার পুত্র প্রথম জর্জ (George of England
গুরুও জাতির

5। and Elector of Hanover) হইতে সন ১৭১৮ খৃষ্টাক এই আরম্ভ হইয়াছে। ইহার গণনা এইরূপ হইবে- ১৭১৫ খৃষ্টাব্দ হইতে ১৭২৭ পর্যন্ত। ১৭২৭ ১৭৬০ - ১৭৬০ ১৮২০ : ১৮২ ১৮৩০ : ১৮৩০ ১৮৮৭ ৭ (১) প্রথম জর্জ ( ২) দ্বিতীয় (৩) তৃতীয় (৪) চতুর্থ (৫) উইলিয়ম (৬) রাণী ভিক্টোরিয়া (৭) সপ্তম এডওয়ার্ড (৮) পঞ্চম জর্জ (৯) অষ্টম এডওয়ার্ড (১) ষষ্ঠ জর্জ ১৮৩৭ ১৯০১ : ১৯০১ ১৯১৩ ত ১৯১• ১৯৩৫ : ১৯৩৬ রাজত্ব করিতেছেন ইনিই দশম গুরু। এই সম্রাটের সংখ্যা ইংলণ্ডের ইতিহাসে সন সহিত দেওয়া আছে এবং এই সংখ্যাই মহর্ষি ব্যাসের ভাগবতে আছে। এবং বর্তমান পৃথিবীতে এই সম্রই এক প্রসিদ্ধ মহারাজ হইবেন। যে আসন্ন মহাযুদ্ধের বর্ণন চেতাবনীতে করা হইয়াছে সেই যুদ্ধের আস্তে ইংরেজ সম্রাটের বিশেষরূপ বিজয় হইবে। ঐ ৰৰ্বে লণ্ডনের উপর মহা বিপদ আবি, জল হইতে বড়ই আশঙ্কার বিষয় হইবে। ঐ সময় বর্তমান জগতের বহু রাজা থাকিবে না। জাপান, জাৰ্মানী, ইটালী, তুর্ক, আমেরিকা প্রভৃতি বহু দেশ ধ্বংস হইয়া যাইবে। আরব দেশের অত্যন্ত দুর্দশা হইবে।

52
স্থানে সমুদ্রের প্লাবন হইবে ইত্যাদি বহু ঘটনা শীঘ্রই ঘটিবে।
ইহার পর কল্কি ভগবানের কৃপায় সমস্ত দেশে পূর্ণ শান্তি স্থাপিত
হইৰে। এইজ সকলেরই শান্তিতে থাকি। এখন হইতে
ভগবানে ভক্তি আরম্ভ করা উচিত।
পরমহংস ১৮ গামী রাজনারায়ণ ষশাস্ত্রী
গুড়গাও ( পাঞ্জাব)।
ফাজিলকা (পাব)।
নােট আমার চেতাবনী অনুসারে ইউবােপের বৈজ্ঞানিকেরাও
লিখিয়াছেন। আমার চেতাবনী লিখিবার
পর পুস্তকের
দ্বিতীয় সংস্করণে আমি ইউরােপের বৈজ্ঞানিকদের বিচার
দিয়াছি এবং ঐ বিচার আমার বিচারের সহিত মিলিয়াছে।
আর প্রকৃত প্রসাবে হইবেও এইরূপ।
এখন ভাগবতে যে সব কলিযুগ ঘটবার বিষয় লেখা আছে
আমি তাহার অনুবাদ লিখিতেছি—
ভাগবত ১২।২। শ্লোক ১ হইতে ১৫ পর্যন্ত
প্রবল কলিযুগের প্রভাবে দিনে দিনে ধর্ম, সত্য, পবিত্রতা,
ক্ষমা, দয়া, আয়ু, বল ও স্মরণশক্তি ধীরে ধীরে নাশপ্রাপ্ত
*ভগবান কি দেশে কি প্রকারে শান্তি স্থাপন করিবেন এবং
কোথয় ২ ঘাের যুদ্ধ করিবেন তঁাহার সমস্ত বৃত্তান্ত ভগবান করি
জীবন চরিত ৰা ‘কল্কি রামায়ণ’এ পড়ুন। মূল্য বাংলা সংস্করণ।
আনা ডাকমাশুল • দুই আনা।

58
হইবে । কলিতে অর্থ-ই মানুষের জন্ম, আচার ও গুণের
উন্নতির কারণ হইবে। অর্থ দ্বারাই ধর্ম এবং ন্য য়ের সাধন
হইবে । ২' পরস্পর প্রতি স্ত্রী পুরুষের সম্বন্ধের কারণ হইবে,
কুল, গােত্র প্রভৃতি কেহই বিচ'র করিবে না। বেচা কেনাতে
অনেক কপটতা হইবে। কামচর্চার অধিকার স্ত্রী পুরুষকে
শ্রেষ্ঠ আসন দিবে, কুল বা আচারের দিকে কেহই দৃষ্টি দিবে
একমাত্র যজ্ঞােপবীতই ব্রাহ্মণের চিহ্ন রহিবে ।
এবং মৃগচর্ম প্রভৃতিই সন্নাসীর চিহ্ন রহিবে, আসরের দিকে
কেহই দৃষ্টি দিবে না। অর্থ না বায় করিতে পারিলে ন্যায়
বিচার পাওয়া যাইবে না । চঞ্চল এবং বাক্যবাগীশেরই
পণ্ডিত বলিয়া গণ্য হইবেন। গরিবেরা নীচ গণ্য হইবে,
ঠাটবাট যাহারা রাখিবে তাহারাই সাধু বলিয়া গণ্য হইবে।
পরস্পর স্বীকৃত হইলেই বিবাহ হইবে, স্নান করা কেহ পছন
কবি না।
দূরের জলাশয়কে লেকে তীর্থ মনে করিবে;
গুরু, পিতা, প্রভৃতিতে কেহই মানিবে না।
অনেক প্রকারের
কেশ মন্তকে রাখাই সােন্দৰ্য্য মনে করিবে। নিজের পেট
ভরানােই বিশেষ কৃতিত্বের বিষয় হইবে, বাগাড়ম্বর সত্যবাদিতা
বলিয়া গণ্য হইবে । ৬। কুটুম্ব পালন চতুরতা মনে কবে এবং
নিজের কীর্তির জন্যই লােকে ধৰ্ম্ম অ'চরণ করিবে।
প্রকারে পৃথিবী দুষ্ট লােকে ভরিয়া গেলে। ৭। যে কেহ বলবান
হইবে সেই শ্রেষ্ঠ বলিয়া গণ্য হইবে। অর্থাৎ লােলুপ ও নিষ্ঠুর
আপনার প্রজাদের অর্থ এং স্ত্রী হরণ করিয়া লইবে ।
যে সব লােক এইরূপে লুষ্ঠিত হইবে তাহারা নিজদেশ ত্যাগ
রাজারা

54.
৭
করি। তাদেশে যাইবে এবং সেখানে বিবিধ কষ্ট স্বীকার
করিয়া জীবিকা নির্বাহ করিবে।
লোকেরা অনাবৃষ্টি
অতিরিক্ত রাজকর
এবং পরস্পর ঝগড়া বশতঃ নাশ প্রাপ্ত
হইবে।
অনেক ক্ষুধা-তৃষ্ণা এবং বহুরােগ ও চিন্ত
বশতঃ পীড়াগ্র হইবে । কলিতে মানুষের আয়ু গড়ে ২০
হইতে ৩ বৎসবের হইবে । লোকদিগের দেহ খৰ্ব্ব
হইবে এবং বর্ণাশ্রম ধৰ্ম্ম লােপ পাইবে । ১১। লোকেরা নাকি
হইব, রজ গণ নিধৰ্ম্ম ত্যাগ করিবেন এবং লােকে অকারণে
মিথ্যা বলিবে । ১৩। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশগণ শূদ্রর
সমান হইয়া যাইবে, গরু ছোট ছোট হইবে, সন্ন্যাসী ও সাধুর
গৃহস্থের মত রহিবে । স্ত্রীর পিতা ভ্রাতাই নিকট আত্মীয় বলিয়া
গণ্য হইবে।
১৪।
গুল দি ছোট ছোট হইবে. বৃক্ষাদি ক্ষুদ্র
হইবে, মেঘে সমান্য বৃষ্টি এবং বেশী বিদ্যুৎ চমক হইবে, কেহই
অতিথি সেবা করিবে না । ১৫।
এই যে সব কথা কলিযুগে ঘটিবে বলিয়া ব্যাস
লিখিয়াছিলেন এ সব ইতিপুব্বেই ঘটিয়াছে। ইহার পূর্বে
ভাগবত স্কন্ধ ১২ অধ্যায় ৩ শ্লোক ৩• হইতে কলিযুগে ঘটিবে
এইরূপ অন্যান্য কথার যে বর্ণনা আছে নিম্নে তাহার অনুবাদ
দিতেছি-
লােকেরা দুৰ্বদ্ধি, ভাগাইন, অতিভােজী ও দরিদ্র হইয়া
বিষয় ভােগে মগ্ন রহিবে । স্ত্রীর ব্যাভিচারিণী ও দুষ্ট।
হইবে। ৩১। দেশে চোর অনেক হইবে, পাষণ্ড লােকের।

5
.
বেদ দূষিত করিবে অর্থাৎ উহার মধ্যে অন্য কথা মিশাইবে
২াহ্মণেরা কেবল ভোজন ও ভােগ তৎপর হইবে ।
ব্রহ্মচারীর চার ভ্রষ্ট হইবে, গৃহস্থ লোকে ভিক্ষা করিবে
স ধুর। বন ছাড়িয়া লােকালয়ে থাকিবে, সন্ন্যাসীর অর্থ লাভ।
হইবে । ৩৩ : স্ত্রীলােকের প্রবঞ্চক, অতিভােজা বন্ধু
সন্তানবতী, নির্লজ্জ, নিষ্ঠুর এবং কলহ ও ছলনাপ্রিয়া
হই,
৩৪। ব্যবসায়ীরা প্রবঞ্চনা করিবে, লােকের দায়ে
ঠেকিলেও কুকর্মের দ্বারা জীবিকার্জ করা পছন্দ করিবে।
চাকরেরা উত্তম কিন্তু দরিদ্র প্রভুকে ত্যাগ করিবে,
প্রভুরাও পুরাতন চাকর তাড়াইয়া নিবে এ দুধ বন্ধ হইল
গাভীকে ত্যাগ করবে। ৩৩। স্ত্রৈন লােকেরা মাতাপিতাকে
ত্যাগ করিবে ' ও স্ত্রীর আত্মীয়দিগকে আপন জানিবে ।
নীচ লোকেরা পম্বার বেশ ধারণ করিয়া দন লইবে এবং
ধৰ্ম্ম নহীন পণ্ডিতের উচ্চাসনে বসিয়া লােকদিগকে উপদেশ
দিবে। একদিকে বর্ষার অভাববশতঃ অকাল অন্যদিকে
রাজকর অতিরিক্ত দিতে হইবে, ফলে কষ্টে পড়িয়া প্রজাদের
অকৃতি পিশাচের হায় হইবে। ৩৯, ৪• কলিতে লােকেরা
সামান্য অর্থের জন্য ও স্নেহ পরিত্যাগ করিয়া শত্রুতা করিবে
এবং সঙ্গীদিগকে না মারিতে পারিলে আত্মহত্যা কৰিৰে । ৪)।
বিষয় ভােগ এবং উদর পুর্তির জন্য লােকেরা নিজের মাতা,
পিতা, পুত্রকেও ত্যাগ করিবে। ৪২। কলিযুগে বেদের
বিরুদ্ধে চলিয়া লােকেরা পরমগুরু অচ্যুত ভগবানেরও
৩৭.
-

56
পূজা করিবে না যাহাকে হিলােক-স্বামী ব্রহ্মা সর্বদা
খ্যান ও নমস্কার করিতেছেন।
৪৩।
এই সব কথাও পূর্ণ হইয়াছে, কিছুই বাকী নাই, ইহা
হইতেও
বুঝা
উচিত যে কলির শেষ হইয়াছে, কল্কিপুরাণে
লেখা আছে যে কলির শেষে নদী সচল কিনারাতেই
বহিবে। ইগ কলির শেষ হইবার এক প্রত্যক্ষ প্রমাণ যে
গঙ্গা প্রভৃতি সমস্তই নদীই সব জায়গা ছাড়িয়া কিনারাতেই
বহিতেছে ।
অন্য চিহ্ন
যুগ পরিবর্তনের সময় অনেক কার আশ্চর্য ঘটনা ঘটে
এখনও সেইরূপ হইতেছে। কয়েক স্থানে রক্তের বৃষ্টি হইয়াছে,
পাথরের বৃষ্টি হইয়াছে ; এলাহাবাদে
এলাহাবাদে দুইবার প্রাতঃকালে
সূৰ্য্যকে ঘুরিতে দেখা গিয়াছে এবং তখন উহার মধ্য হইতে
ধুম বাহির হইয়াছে ; বিহারে ভয়ানক ভুমিকম্প হইয়া,
কোয়েটায় ভুমিকম্পে সর্বনাশ হইয়াছে, তুকিতে প্রবল
ভূমিকম্প হইয়া গিয়াছে, কয়েকবার প্রবল বন্যা হইয়াছে
পাপকৰ্ম্ম সীমা ছাড়াইয়া গিয়াছে। ভ্রাতা ভগ্ন। ও পিতা পুত্রাতে
পৰ্য্যন্তও ব্যভিচার হইতেছে।
;
ভুল ধৰ্মকৰ্ম
ভাগবতে লেখা আছে যে কলিতে ধর্মকর্ম নাশপ্রাপ্ত

37
হইবে। ইহাতেও বুঝা যায় যে আজকাল ধর্মবিরুদ্ধ কাৰ্য্য
হইতেছে। ইহাও লেখা আছে যে ব্রাহ্মণ শূদ্র সমান হইৰে-
“বিপ্রাঃ কুমার্গে গতা”, বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণও বিপরীত পথে
চলিবে। আজকাল বিদ্বান ব্রাহ্মণের এইরূপ অধঃপতন
হইয়াছে বলিয়াই সর্মবিরুদ্ধ কার্যাদি হইতেছে। যেপ যুক্ত
পিতৃপুরুষের শ্রাদ্ধ করা উচিৎ কিন্তু পণ্ডিতেরা বিপরীত কাজ
করিতেছেন, কারণ যাহারা মৃত্যুর পরে পুনরায় পৃথিবীতে
জন্মিয়াছেন তাঁহাদেরও শ্রাদ্ধ করা হইতেছে কিন্তু ইহা বেল
বিরুদ্ধ।
শ্রাদ্ধ কেবলমাত্র “পিতরদিগেরই করা উচিত।
“পিতর” তাহাদিগের বলে যাহার সারাজীবন বড় বড় যজ্ঞ
করেন, দান করেন, কুপ, জলাশয়, ধৰ্ম্মশালা এবং বিদ্যালয়
স্থাপন করেন, পরােপকার করেন এবং প, হল, যােগ
প্রভৃতি কাজে জীবন বায় করেন; এইরূপ লােকেরা গত
প্রদ্ধি হয়েন এবং মৃত্যুর পরে পিতৃযান মার্গে পরলােক যাত্র।
করেন ও ইহাদিগকে পিতর বলা হয়। শ্রাদ্ধ কেবলমাত্র ইহাদেরই
হয়। ছান্দোগ্য উপনিষদ ৫। -৩- ৪ এবং বৃহদারণ্যক
উপনিষদ । ২ ১৬ দেখুন ।
গীতাতেও ইহার বর্ণনা আছে
যে মানুষের মৃত্যুর পরে পুনরায় পৃথিবীতে জন্মলাভ করে,
উহাদের শ্রাদ্ধ হয় না কিন্তু আজকাল পণ্ডিতেরা তাহাদের
শ্রাদ্ধ করেন। যদি তাহাদের জন্য দান করেন তবে তাহার
ফল উহাদের অবণ্য পৌছে কিন্তু ইহা করিবার জন্য কোন
পণ্ডিতের আবশ্যকতা নাই । কতক পণ্ডিত একথা জানেন কিন্তু
এই প্রচলিত বিপরীত থার বিরুদ্ধে কিছু বলিতে চ'হেন না ।
১।

৫
58
এইরূপ লােকেরাই সারা ব্রাহ্মণ জাতির দুর্নাম এবং হিন্দু-
জাতির নাশ করিয়াছেন কিন্তু এখন এই ব্রাহ্মণ জাতিতেই
কল্কি ভগবান অবতার লইয়াছেন, তিনি ধৰ্ম্মের সম্পূর্ণ মর্যাদা
ঠিক করিয়া দিবেন এবং সত্যযুগ আসিতেই ব্ৰহ্মণরূপ ধাৰণ
করিয়া জগতের উদ্ধার করিবেন। ভাগবতে এবং কল্কিপুরাণ
অনুসারে কলিযুগে ব্রাহ্মণ পতিত হইৰে। দেবী ভাগবতে ত
এতদূর লেখা আছে-
যে পুৰ্ব্বে রাক্ষস রাজন হে কলো ব্রাহ্মণঃ স্মৰতঃ।”
“যাহারা গত ( দ্বাপর যুগে রাক্ষস ছিল তাহারা কলিতে
ব্রাহ্মণ হইবে।”
কিন্তু কলিযুগে একজন দুইজন খাটি ব্রাহ্মণও হইবেন
কারণ বীজ নষ্ট হয় না। উহাদিগকে চিনির সঙ্কেত কল্কি
পুরাণে আছে-“ঐ ব্রাহ্মণেরা পরমভক্ত, তপস্বী ও সত্যবাদী
হইবেন ; অন্যেরা কলিযুগী
ব্রাহ্মণ হইবে ।
এইরূপ কতিপয়
সৎব্রাহ্মণদিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মহাত্মা শ্ৰীপণ্ডিত বিষ্ণুযশ মহাশয়ের
ঘরে জগৎস্বামী পূর্ণব্রহ্ম ভগবান কল্কি অবতার হইয়াছেন,
এখন পুনরায় ব্রাহ্মণজাতি উন্নত হইবে।
শ্রাদ্ধে হােম হয়, পিণ্ডদান করা হয়, তিরদিগকে স্বর্গ
হইতে ডাকা হয়, উহারা সূর্যকিরণের সহিত আসেন; উহাদের
কুপায় সন্তান জন্মে, ধনবৃদ্ধি হয়, পরে ব্রাহ্মণ ভােজ হয়। "কিন্তু
আজকাল ব্রাহ্মণেরা আপনাদের পানভােজনের ব্যবস্থা

59
করিয়াছেন এবং প্রত্যেক মৃত ব্যক্তিরই করাইতেছেন। এই
রূপ মুত্তিপূজাও * নিয়মানুযায়ী নহে, অন্যান্য সমুদয়
কর্মকাণ্ডও বিপরীত হইতেছে । এই জন্যই ত
কাহারও সফল হয় না। লক্ষ লক্ষ হিন্দু অন্য ধৰ্ম্ম
অবলম্বন করিয়াছে এবং সনাতন হিন্দু ধর্মের সর্বনাশ
হইতেছে। কাহারও ভাল লাগুক বা মন্দ লগু ও
আমি ধৰ্ম্ম এবং হিন্দুজাতির মঙ্গলের জন্য নির্ভয়ে সব
কথা স্পষ্ট লিখিতেছি।
কল্কি অবতারের জন্মলগ্ন
ঐশুভ সংবৎ ১৯৮১ বিক্রম বৈশাখ মাসে শুক্লপক্ষে তিথা
দ্বিতীয়াং সোমবারে কৃতিকাভেঃ তং সং ৫ শােভন যােগ
৫১। ২৩ শ্ৰসূর্যোদয়াদিষ্টম ১৪। ১৫ মোের্ক গতাংশ।
বিষ্ণু বিংশতি ধাতু সম্বৎসরে সূৰ্য্য উত্তরায়ণেবসম্ভঋতু।
পূর্ণব্রহ্ম বাসুদেব ভগবান কৃষ্ণই কল্কিরূপে জন্মগ্রহণ
করিয়াছেন। তাহার জন্ম ব্রাহ্মণ কুলভূষণ মহাত্মা
পণ্ডিত শ্ৰীষ্ণুিযশ মহাশয়ের বাড়ীতে মুমতী দেবীর
গর্ভে শম্ভল গ্রামে হইয়াছে।
তাহাকে পরশুরাম
ব্রহ্মার আজ্ঞানুসারে মহেন্দ্ৰ পৰ্বতে লইয়া গিয়াছেন
* মূর্তি পূজার সঠিক বিধি জানিবার জন্য ভক্তিসার’ পড়ুন ।
মূল্য বাংলা সংস্করণ আনা মাত্র।

60
চেতাবনীতে যে ম্যাপ দেওয়া আছে তাহা হইতে
মহেন্দ্র পর্বত পাওয়া যাইতে পারে। সেখানে কোন
মনুষ্য যাইতে পারে না। ভগবান সম্বৎ ১৯৯: এ সব
প্রাচীন ঋষি এবং মহষিদের সহিত সর্বপ্রথম বাংলা দেশে
প্রকট হইবেন। পরে মগধ, বিহার, হরিদ্বার, দিল্লী ৩
মথুরায় আসিবেন। মথুরাতে কিছু সময় থাকবেন পরে
সমস্ত পৃথিবীতে ঘুরিবেন এবং পাঞ্জাব ও পারস্তদশ
হইয়া পশ্চিমে যাইবেন।
শ্রীজন্মকুণ্ডলীয়
১ * বু
নমাে নমঃ

প্রয়ােজনীয় কথা কল্কিপুরাণের প্রথমাংশ তিীয় অধ্যায়ে শ্লোক ১৫তে ভগবানের জন্ম বৈশাখ শুক্ল দ্বাদশী (১২) তে হইবে লেখা আছে কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আমাকে দ্বিতয়াতে (২) হইবে এইরূপ আজ্ঞা দিয়াছেন আমি যখন কল্কিপুরাণে এই কথা পড়ি তখন আমি তিনবার যােগাভ্যাস করিয়া অনুভব করি এবং আমি দ্বিতীয়াতেই জন্ম হইবে বলিয়া জ্ঞাত হই। এই জন্যই আমি দ্বিতীয়াই মানিয়া লইয়াছি। জন্মলগ্নে বিশেষ যােগ পড়িয়াছে। প্রসিদ্ধ জ্যোতিষগ্রন্থ রণবীর জ্যোতিষ মহানিবন্ধে আছে যে- ত্রিকোণেসিতবা দেবেড সৌচ্চেকেন্দ্র গতেজ। চরলগ্নে যা জন্ম যােগাে যমাবতারজঃ। অর্থ- ত্রিকোণে শুক্র বা বৃহস্পতি হইবে, কেন্দ্রে উচ্চের শনি হইবে ও চরলগ্নে জন্ম হইবে—তাহা হইলে এইরূপ যােগে অবতারের জন্ম হইয়া থাকে। এই যােগ পূর্ণভাবে কুণ্ডলীতে পড়িয়াছে। কর্কট লগ্নকে চর লগ্ন বলে ত্রিকোণ (পঞ্চাঙ্গ ঘরে) বৃহস্পতি আছে, কেন্দ্রে ( চতুর্থ ঘরে) উচ্চে শনি আছে আর এই যােগের চেয়েও বিশেষ কথা এই যে কুণ্ডলীতে সূৰ্য্য, মঙ্গল এবং চন্দ্রও উচ্চ স্থানে আছে।

62 ভুল পঞ্চাঙ্গ সমূহে ভুলকথা লেখা আছে যেমন সত্যযুগে মৎস ও কুৰ্ম্ম অবতারের কথা। এই অবতার গত সত্যযুগে হয় নাই কিন্তু ২৮ চতুর্যুগ পূৰ্বে যখন বৈবস্বত মন্বন্তর আরম্ভ হইয়াছিল তখন এই অবতার হইয়াছিল। , এইরূপ সত্যযুগের একলক্ষ বর্ষ স্থিতিকাল লেখাও কল্পনা মাত্র। মনুস্মৃতি ১। ৮। ৩ এ লেখা আছে। অয়ােগ্যঃ সৰ্ব্বসিদ্ধার্থশ্চতুর্বর্ষং শতায়ুশঃ। কৃতে ত্রেতাদিষ, হোেমায়ু সতি পাদশঃ । অর্থ- সত্যযুগে সব লােক রােগহীন হয়, উহাদের সব মনস্কাম পূর্ণ হয়, আয়ু চারশত বৎসর হয়, পরে ত্রেতাদি যুগে এক এক পাদ আয়ু কম হইতে থাকে। অর্থ ও সত্যযুগে আয়ু ৪•• বর্ষ, ত্রেতায় ৩••, দ্বাপরে ২০০ ও কলি যুগে ১০০ বর্ষ হয় কিন্তু ইহা পূর্ণায়ু, সমস্ত লােকের এই আয়ু হয় না। কলিযুগের পূর্ণায়ু ১•• বর্ষ বটে কিন্তু সমস্ত লােকের এত আয়ু হয় না। শাস্ত্রে সত্যযুগে মানুষের পূর্ণায়ু ৪•• বর্ষ লেখা আছে। কিন্তু পঞ্চাঙ্গে পণ্ডিতেরা এই আয়ু এক লক্ষ বর্ষ লিখিয়াছেন। এইরূপ অজ্ঞান লােকেরা জ্ঞানের অভাববশতঃ, বেদ, শাস্ত্র ও পুরাণেও নানা ভূলকথা লিখিয়াছে।

65
যদি ভগবানের জন্ম বৰ্তমান কল্কি পুরাণ অনুসারে দ্বাদশী
লওয়া হয় তাহা হইলেও উপরিলিখিত যােগ পূর্ণ হয়। আমার
মতে যেরূপ কয়েকখানি গ্রন্থ কয়েকটি শব্দ পণ্ডিতেরা ভুৱ
ক্রমে বদল করিয়া ফেলিয়াছেন । এইরূপ খুব সম্ভব ‘দ্বিতীয়ায়াং'
এবং যায়গায় ‘দ্বাদশা' করিয়াছেন। এই দুই শকেই ছন্দ রক্ষা
আমি আমার চারবারের তক্ষ্য অনুভবকে সত্য জানিয়া
‘ৰিতীয়ায়াং'কেই ঠিক মনে করি ।
কল্কি ভগবানের রং ভগবান কৃষ্ণেরই মত। তাহার
শ্বেত রংএর ঘােড়র নাম দেবদত্ত, উহা আকাশেও
ভ্রমণ করিতে পারিবে। তঁাহার শরীর খুব বড় এবং
হৃষ্টপুষ্ট হইবে।
শম্ভল কোথায়
কোথায় আছে
যদিও
শম্ভল সম্বন্ধেও পণ্ডিতদের মধ্যে খুব ভ্রম চলিতেছে।
পুরাণের টীকাতে পণ্ডিতেরা ইহাকে জিলা মােরাদাবাদের মধ্যে
লিখিতেছেন।
প্রাচীন পুস্তকে জিলা মােরাদাবাদ
কোথাও নাই তবুও পণ্ডিতেরা জিলা মােরাদাবাদ
মোরাদাবাদ দেখিতে
পাইলেন। যখন ভগবান ব্যাসের সময়ে লেখা হইয়াছিল
তখন ভারতবর্ষে কোথাও জেলা তহশীল প্রভৃতি ছিল না।
এইরূপ ছিরি বিভাগ ইংরেজ গভর্ণমেন্টই করিয়াছেন।
ইহা ঠিক নহে। আমি অনেক অনুসন্ধান করিয়া এই সিদ্ধান্তে
উপনীত হইয়াছি। পুস্তকে যে এসিয়ার ম্যাপ আছে তাহাতে

৬৪
64
দেখুন গােবির প্রসিদ্ধ মরুভূমি চীনের উত্তরে আছে, উহার
নীচে লিয়াউটং খাড়ি আছে, পূর্ষদিকে কোরিয়া আছে
পূর্ব এবং উত্তরে মাঞ্চুয়ি আছে। ঐখানে শম্ভল আছে
যেখানে ভাংসল কল্কি অবতাবের জন্ম হইয়াছে।
ঐখানে পূৰ্বে চারিদিকে সমুদ্র এবং পাহাড় ছিল কিন্তু
এখন মরুভূমি হইয়াছে । এই বালির পাহাড় হাওয়াতে
উড়িয়া অন্যান্য স্থানে আসিয়া থাকে। বাহিরের কোন লােক
ঐখানে যাইতে পারে না, উহার দক্ষিণ দিকে চীনদেশ ।
এই শম্ভলকে বৈবস্বত মনু বৰ্তমান সপ্তম মম্বরের প্রথমে
সত্যযুগে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছিলেন। প্রথমে গোবী সমুদ্রের
তীরে প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল, তীরের অন্যদিকে ইহা অপেক্ষা
অধিক বসতি হইয়াছিল। ইহার পরে গোবতে শমুল নামীয়
সহর বসানো হইয়াহিল। ঐখানে কোন কোন পৰ্বত বিশ মাইল
পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, এবং নীচ পাহাড়ে মধ্যে বড় বড়
ঘাটি
সমগ্র পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই সমুদয় স্থানকে শম্ভল বলা
ডাক্তার এনি বেসেণ্ট এই
এই বিষয় বিস্তৃত ভাবে
লিখিয়াছেন। ব্ৰহ্মার পুত্র সনকসন, সনৎকুমার ও সনাতন
ঐ শম্ভলে থাকেন। বর্তমানে বৈবস্বত মনু, দেবাপি, মরু,
মহর্ষি ভৃগু ও কয়েকজন অন্য ঋষিও ঐখানে থাকেন। প্রত্যেক
সপ্তম বর্ষে মহষি প্রভৃতি একত্র হইয়া থাকেন, উহাদের মধ্যে
সনৎকুমারের উপদেশ হইয়া থাকে। সুইডেনের 'অধিবাসী
Sir Sven Hedin ১৮:১১ ষ্টাব্দে সেখানে গিয়াছিলেন তারপর
হইত।

১) আর কেহ সেখানে যায় নাই। তাহার সব সঙ্গীরা বালির ঝড়ে মারা গিয়াছিল। তিনি ফিরিয়া আসিয়া উপরের বৃত্তান্ত লিখিয়াছেন উহা ছাপানাে পুস্তক আকারে পাওয়া যায়। ! শমুল সম্ভল নহে কল্কি পুরাণে লেখা আছে যে শম্ভল সাত হােন অর্থাৎ ১৮ ক্রোশ পর্যন্ত বিস্তৃত আছে কিন্তু মােরাদাবাদ জেলার সম্ভল এক ক্রোশ ব্যাপী এ নহে। এই কারণে যে গুলে শ্রীভগবান কল্কির জন্ম হইয়াছে উহা গােবী মঙ্গোলিয়ার শম্ভল- এসিয়ার ম্যাপ দেখুন! মারাদাবাদ জেলার গগু গ্রাম সম্ভল, ইহা শম্ভল নহে পণ্ডিতেরা নিজেদের অজ্ঞতাবশতঃ এবিষয়েও গল্প রচনা করিয়া রাখিয়াছে । ঐ স্থানে ভগবানের জন্ম হইবামাত্রই ব্রহ্মার আজ্ঞায় পরশুরাম মাতাপিতা সহিত তাঁহাকে মহেন্দ্ৰ পৰ্বতে লইয়া গিয়াছেন। পঞ্চাঙ্গে कद्धि অবতারের জন্ম শ্রাবণ মাসে ইবে লেখা আছে । ইহাও ভুল। উক্ত 'পুরাণে ভগবানের জন্ম বৈশাখ মাসে হইবে লেখা N আছে । এইরূপ পণ্ডিতেরা বড়ই গােলযােগ করিয়া রাখিয়াছেন। কল্কি পুরাণের প্রমাণ কল্কি পুরাণ প্রথমাংশ প্রথম অধ্যায় কলিযুগে কি কি হইবে লেখা আছে । সে সব কথা শ্ৰীমদ্ভাগবত হইতে পূর্বে 66 দেওয়া হইয়াছে উহা ছাড়া যাহা আছে নীমে লিখিতেছি। স্থানাভাবে শ্লোকগুলি দিতে পারিলাম না কিন্তু তাহাদের সঠিক অর্থ দিতেছি। “কলিযুগের সন্তান নিয়ে আপনার ভগ্নী যাতনার গর্ভে কয়েক সহস্ৰ পুত্ৰ উৎপন্ন করিয়াছিল, এইরূপে কলিতে অনেক ধৰ্ম্মনিন্দুকের জন্ম হইয়াছিল । ২১। এই সব দুরাচারী মাতা- পিদ্বেষী লােকেরা ব্রাহ্মণকূলে জন্মগ্রহণ করিয়া বেদশাস্ত্র- বিমুখ, দরিদ্র এবং শূদ্রের দাস হইয়াছিল। ১৪। এইরূপ ব্রাহ্মণেরা কুতর্কী, অহঙ্কারী, ধৰ্ম্ম, বে, মাংস, মদ্যবিক্রেতা, ব্যাভিচারী ও ক্রুর হইবে; . এই সব মূখের পাপী এবং মঠ নিবাসী হইয়া কলির অনুচর হইবে। ১৫, ১৬, ১৭। এই সব বিবাদপ্রিয়, কেশের শােভনকারী, সুদখাের ব্রাহ্মণেরা কলিযুগে পূজ্য হইবে, লােকেরা গুরুজনের নিন্দা করিবে, সাধুরা পাষণ্ড হইবে । ১৯। কলিযুগে এইরূপ আহা যাহা হইবে তাহা লিখিবার পর লেখা আছে যে পৃথিবীতে শস্য কম হইবে এবং নদীগুলি কিনারায় বহিবে, স্ত্রীলােকেরা অশ্লীলভাষী হইবে, ব্রাহ্মণেরা চণ্ডালদের ঘরে পূজা প্রভৃতি ক্রিয়াকর্ম করিবে, বিধবার সংখ্যা বেশী হইবে, বৃষ্টি কম হইবে, রাজা প্রজার রক্ত শােষণ করিবে। ৩৩, ৩৪, ৩৫। কলির শেষের এই সব কথা ঠিকই হইয়াছে। স্ত্রীলােকেরা লজ্জাহীনা হইয়াছে। এবং ইহা এক স্পষ্ট c

67
প্রমাণ যে নদীগুলিও কিনারায় বহিতেছে । কয়েক বর্ষ হইতে
গঙ্গা, যমুনা প্রভৃতি নিজের স্থান ছাড়িয়া কিনারাতেই বহিতেছে
ইহা প্রত্যক্ষ প্রমাণ। শ্লোকে আছে
“নদী তীরেহবরে পিতা
পরে দ্বিতীয় অধ্যায়ে লেখা আছে যে কলিতে ব্রাহ্মণেরা
ধর্মকর্মহীন এবং ভােগপরায়ণ হইবে। ৬৪।
ইহাও ঠিক দেখা
যাইতেছে । কিন্তু কিছু ব্রাহ্মণ প্রকৃত ব্রাহ্মণ হইবেন, কারণ
বীজ নাশ প্রাপ্ত হয় না। প্রকৃত ব্রাহ্মণের চিহ্ন এইরূপ লেখা
আছে
আচাপরায়ণ, সত্যবাদী, ধীর, সম্মাত্মা, বিষ্ণুভক্ত ব্রাহ্মণেরা
সর্বদা পফুল্ল থাকিয়া সংস্কারকে রক্ষা করিবেন। ৪৩।
কথাও দেখা যাইতেছে যে ব্রাহ্মণ বেদ বিক্রয় করিতেছে,
মাংস বিক্রয় করিতেছে ও মাসিক বেতন লইয়া ধর্মোপদেশ
দিয়া ধৰ্ম্মও বিক্রয় করিতেছে।
ককি পুরাণের তৃতীয়াংশের ৪র্থ অধ্যায়ে আছে যে যখন
ভগবান কল্কির সহিত মরুর সাক্ষাৎ হইবে তখন তিনি নিজের
সূর্য্যবংশের বৃত্তান্ত শুনাইবেন ও কহিবেন যে তিনি ভগবান
রামচন্দ্রের বংশজাত এবং ঐ বংশের শীল্প নামী রাজার পুত্র ।
ইহার পরবর্তী শ্লোকে আছে-
কলাপ গ্রাম ম'সদ্য বিদ্ধি সত্তপসি স্থিত।
তব বরং বিজ্ঞায় ব্যাসত্যবতী ।

69
এ যাবৎ পৰ্য্যন্ত আমি কলাপ গ্রামে থাকিয়া তপস্যা
করিয়াছি, সত্যবতীর পুত্র ব্যাসের নিকট আমি আপনার
অবতারের বৃত্তান্ত শুনিয়া-
প্রতীক্ষকাল লাং কলে প্রাপ্ত ব্যক্তিক
এ কোদ্য ঘসাং রাশেনাশনং ধৰ্ম্ম শাসন
যশঃ কীর্তির সর্বকামপুর পরাত্মনঃ ॥৬
আমি কলিযুগে একলক্ষ বর্ষ আপনার প্রতীক্ষা করিয়া
আর আপনার নিকটে আসিয়াছি।
আপনি পরমাত্মা,
আপনার নিকটে আসিলে কোটি জন্মের পাপরাশি নাশ হয়
ধর্ম বৃষ্টি হইয়া সমস্ত কামনা পূর্ণ হয়।
এখন বিবেচনার বিষয় হইতেছে এই যে ভগবান রাম
ত্রেতাযুগে ছিলেন এবং মরুর জন্মও তখনই হইয়াছিল।
আজকালকার পণ্ডিতদের ভুল হিসাব অনুসারে গত দ্বাপরের
৮ লক্ষ ৩৪ হাজার বর্ষ গত হইয়া কলিযুগের ৪ লক্ষ ৩২ হাজার
বর্ষ গত হইবার পর ভগবান কল্কি আসিবেন।
এই একাৰে
কল্কির জন্ম হইবার পূর্ব পর্যন্ত ১২১৬••• বর্ষ হওয়া দরকার
কিন্তু মা বলিতেছেন যে আমি একলক্ষ বর্ষ পৰ্যন্ত প্রতীক্ষা
করিতেছি”—ইহা হইতে বুঝা যায় যে উপরের কয়েক লক্ষ
বর্যের কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং মৰু ব্যাসের নিকট কল্কি
তারের কথা নিয়াছেন সুতরাং ব্যাসের আজ পৰ্য্যন্ত মাত্র

69
৫ হাজার বর্ষ হয়। ব্যাস পরের সমাপ্তির সময় ছিলেন
যদি তখন হইতে কলিযুগের শেষে কৰি আসিবেন ধরিয়া
লওয়া যায়, তবে ঐ ৪৩২০০০ বর্ষ হয়, এখন আবার এক লক্ষ
বর্ষের কি প্রয়োজন হইতেছে। ইহার অর্থও এইরূপ
যে ইহা সূৰ্যবৰ যাহাকে দিন বলে কলি ত এখন হইতে
৩৯৭ বৎসর পূর্বে সমাপ্ত হইয়া গিয়াছে ও তখন হইতে কলির
সন্ধ্যাংশ চলিতেছে, ইহা ২০০০ সম্বতে সমাপ্ত হইয়া যাইবে।
কল্কি আসিবার সময় কলিযুগের শেষ, মরু ইহার ১ লক্ষ বর্ষ
অর্থাৎ একলক্ষ দিন অর্থাৎ ২৭৭ বর্ষ ৯ মাস ১০ দিন পূর্বে
ইহতে কল্কি ভগবানের জন্য অপেক্ষা করতেছেন । তিনি
ব্যাসের নিকট শুনিয়াছেন, ব্যাসের ৫০০০ বর্ষ হইয়াছিল এবং
উহার পর ভগবানের প্রতীক্ষা করিতেছিলেন। অতএব স্পষ্টই
প্রমাণ হইল যে মরু কলির সমাপ্তি হইতেই ২৭৭ বর্ষ ৯ মাস
'১০ দিন পর্যন্ত প্রতীক্ষা করিবেন, তখন ভগবান কল্কির দেখা
পাইবেন। আমাদের নিভুল শাস্ত্রীয় বিচারে মরুকে ভগবান
কল্কি-বিক্রম সম্বং ১৯৯৯তে দেখা দিবেন। কল্কি পুরাণের
এই প্রমাণ এত প্রবল যে ইহা হইতেই কলিযুগের কয়েক
লক্ষ বর্ষ হওয়া সম্পূর্ণ ভুল বুঝা যাইতেছে এবং মুখ
পণ্ডিতদের কথা মিথ্যা প্রমাণিত হইতেছে।
ভক্তগণের অবতার
ককিপুরাণ ৩-১২তে আছে-
যথাৰতরঃ কৃষ্ণ তথা তৎসেবিনামি।১৫

70
যেরূপ একুষ্ণের অবতার হয়, সেইরূপ তাহার ভক্তদেরও
অবতর হয়।
একথা সত্য যে ভগবান কৃষ্ণের সময় উদ্ধব সে কালের
ভক্ত ছিলেন এবং এরূপ গােপীগণেরও ভক্ত ছিল।
এমন কি
সময়ে সমস্ত দেবতাগণ স্ত্রীদিগের সহিত অংশাবতার।
হইয়াছিলেন;
সেইরূপে এখনও কল্কি ভগবানের গ্রামের
অনেক পূর্বেই দেবতারা এবং তাহাদের স্ত্রীগণ ভক্তরূপে জন্ম
লইয়াছেন। সুরদাস এই জন্মে চক্ষুনি নহেন, তুলসীদাস,
গােপীভক্ত, নাভা, নামদেব, রামানন্দ,
রৈদাস,
সৈনাক্ত ও আরও কয়েক জন ভক্তের জন্ম হইয়াছে। আমি
কয়েকজনের সাক্ষাৎ পাইয়াছি। পর ন ভক্তিমতী মহারাণী
মীরাবাইও জন্ম লইয়ছেন, ইহারা ভিন্ন ভিন্ন রূপে আছেন,
সকলের সম্মুখে প্রকট হইবেন না। ভক্ত তুকারাম ও নরসীও
আসিয়াছেন। আমি এপর্যন্ত ইহাদিগেরই সন্ধান পাইয়াছি
কবীর,
এক প্রধান সন্দেহের মীমাংসা
বাল্মীকি রামায়ণ বালকাণ্ড ৪, শ্লোক ৯৩তে আছে-
দশ বর্ষ সহস্রাণি দশ বর্ষ শতনি চ
রামে' রাজ মুপাসি৷ ব্ৰহ্ম ললাকে গমিষতি।
ভগবান রাম ১১••• বর্ষ পৰ্যন্ত রাজ্য করিয়া ব্ৰহ্মলােকে
যাইবেন।

7। এই বর্ণনার উপর নির্ভর করিয়া অনেক পণ্ডিত এমক্রমে এই সন্দেহ করিয়াছেন যে যদি ত্রেতাযুগ ২৪০০ বর্ষের ইত তাহা হইলে রাম কিরূপ ১১••• বৎসর রাজা করিতেন? কিন্তু এই সব পণ্ডিতেরা কোন বিষয়ে অনুসন্ধান করিবার কষ্ট স্বীকার করেন না। সাধরেণের অবগতির এ গানাইতেছি যে বর্ষ কয়েক প্রকারের হয়। এক, দিব্যবৰ্ষ ৬• দিনের হয়—এ বিষয়ে বিস্তারিত আলােচনা পূর্বে করিয়াছি। সৌরবর্ষ ৩৬৫ দিনের হয়। সূৰ্য্যা বা সূৰ্যবৰ্ষ ২৪ ঘটায় অর্থাৎ এক সূর্যোদয় হইতে আগামী সূর্যোদয় পর্যন্ত হয়- প্রাচীন সময়ে এই বই বেশী প্রচলিত ছিল। এক চন্দ্রবর্ষ তিথির হিসাবে ৩৪৫ দিনে হয়। এক নক্ষত্ৰবৰ্ষ ৫২ ঘণ্টায় ভগবান রামের রাত ১১ •• সূর্ষবর্ষের ছিল। বাল্মীকি রামায়ণ উক্তরকাণ্ডে ৬৩ সৰ্গ ৫ম শ্লোকে দেখুন- প্রাপ্ত যৌবন কালে পঞ্চ বর্ষ সন্ত্রক অকালে কালমাপন্নং মমদুঃখায় পুত্রক। অর্থাৎ ভগবান রামের রাজ্যে এক ব্রাহ্মণের পুত্র পাঁচ হাজার বৎসর বয়সে মারা গিয়াছিল। ঐ ব্রাহ্মণ নিজের পুত্রের মৃতদেহ ভগবানের নিকট আনিয়া অভিযােগ করিতেছে যে এই পাঁচ হাজার বৎসর বয়স্ক পুত্র আপনার রাজ্যে যৌবনের পূৰ্বেই কেমন করিয়া মারা গেল ? এই শ্লোকের উপর প্রসিদ্ধ রামাভিরামী 72 লিখিয়াছেন— “পঞ্চবষ সহস্রক বর্ষ শব্দোত্র দিন পর কিঞ্চিৎ নুনাং চতুর্দশ বষ মিত্যর্থ।” অর্থ- পাঁচ হাজার বর্ষ, এখানে বর্ষ শব্দের অর্থ দিন, পাঁচ হাজার বর্ষ কিছু কম ১৪ (চৌদ্দ) বর্ষের সমান হইতেছে। এতদনুসারে রামের রাজত্বের ১১••• বর্ষ সূৰ্যবৰ্ষ অর্থাৎ বর্ষ ৬ মাস ও ২০ দিন পর্যন্ত রাম রাজত্ব করিয়াছিলেন । এই রূপে বহুস্থানে অনুসন্ধান না করিবার জন্য অনেক পণ্ডিতের মনে এমন দৃঢ় ধারণা হইয়াছে যে কষ্টকল্পনা করিয়া কলি- যুগকে সৰ্ব্বদইে ৪ লক্ষ ৩২ হাজার বর্ষই মনে করেন। পুস্তকের প্রসঙ্গ বিরুদ্ধ যেখানে অনেক বর্ষ লেখা থাকে সেখানে বুঝা উচিত যে উহা সূর্যাবর্ষ বা দিন। প্রসঙ্গানুয়ার কম বর্ষ লেখা থাকিলে তাহাকে দিব্যবৰ্ষ বুঝা উচিত যেমন ভগবান রামের বনবাস ১৪ বৎসর চিল ইহা দিবাৰ (১৫ আকাশের গােলযােগ আকাশের দিকে লক্ষ্য করুন নক্ষত্রমণ্ডলের দীপ্তি কমিয়া

7
গিয়াছে। মঙ্গলের গতির সহিত পরিবর্তন হইয়াছে, সূৰ্যে গভীর
ফাটল পড়িয়াছে, সপ্তষিদের গতিও বদলাইতেছে, উত্তর ও
দক্ষিণ বের দীপ্তি কমিয়া গিয়াছে, রাশিগুলিতেও পূর্বের
দীপ্তি নাই। ইহার কারণ হইতেছে এই যে তারাগণ কলি-
যুগের অনুসারে চলিবে। অনেক রােগের অকালমৃত্যুর এবং
অনাবৃষ্টি প্রভৃতির যােগ তারাগণের সহিত রহিয়াছে। সর্বদাই
কলিযুগের শেষে তারাগণ এইরূপই হইয়া থাকে। সত্যযুগের
আরম্ভ হইতেই পুনরায় দীপ্তি পাইয়া থাকে।
এই অবস্থা প্রত্যক্ষরূপে কলির শেষের সূচনা করিতেছে।
তারামণ্ডলের
বিশেষ দ্রষ্টব্য
তৃক এবং ধর্মোপদেশকদিগকে জ্ঞাপন করা যাইতেছে যে
আমরা বহু পরিশ্রম করিয়া এই চেতাবনী পুস্তককে রাধেশ্যামের
অনুয য়ী সঙ্গীতে রচনা করিয়া মুদ্রিত করিয়াছি ইহার
মূল্য
মাত্র খরচ অর্থাৎ • (বারাে আনা) মাত্র। এবিষয়ে আমরা
সঙ্গীতপ্রিয় লােকদিগের মনযােগ আকর্ষণ করিতেছি।
।
চেতানী কার্যালয়,
গুড়গাও ( পা )

7
ভগবান রামচন্দ্র বইতে বৰ্ত্তমান উদয়পুরের মহারাজা
পর্যন্ত
বংশাবলী
কলিযুগের সমাপ্তির প্রত্যক্ষ প্রমাণ
ইহা হইতেও যুগ লক্ষ বর্ষের প্রমাণ হয় না।
এ বিষয়ে আমরা জয়পুর, যোধপুর, উদষপুব ও
কাশ্মীরের মহারাজগণের মনােযােগ
আকর্ষণ করিতেছি।
আমি শাস্ত্রসমূহের প্রবল
প্র ম ন হইতে
হইতে স্পষ্টরূপে
বুঝাইয়াছি যে কলিযুগ শেষ হইতেছে। এখন আর এক
প্রত্যক্ষ প্রমাণ স্বরূপ লিখিতেছি যে আমি জয়পুর হইতে
ভগবান রামচন্দ্রের বংশাবলী বর্তমান রাজা মানসিংহ পর্যন্ত
পাইয়াছি। ঐ হিসাবে ভগবান রাম হইতে মহারাজ মানসিংহ
পর্যন্ত কেবলমাত্র ২৩১ পুরুষ হয়। আজকালকার জ্ঞানহীন
পণ্ডিতদিগের এবং পঞ্চাঙ্গগুলির অনুসারে কলিযুগের ৫৪০
বৎসর অতীত হই য়াছে। এবং গত দ্বা প র যুগের
৮৬৪••• বর্ষ অতীত হইয়াছে, তাহার পূর্বে ত্রেতা যুগের
সাংশে গবান রামচন্দ্রের অবতার হইয়াছিল।
কালের হিসাবে ত্রেতার সন্ধ্যাংশ ১৮০০০ বর্ষ হইল। মােট
৫• +৪+১•••• = ১৭৬৫৪ বর্ষ হইল । এত বর্ষে

15 n : কেবল ২৩১ পুরুষ হওয়া যে অত্যন্ত কম, ইহা পাগলেও বুঝিতে পারে। প্রকৃত প্রস্তাবে শাস্ত্র অনুসারে কলি ৪৮০০ বর্ষের হইবে ইহার এ পর্যন্ত ৪৭৯৭ বর্ষ অতীত হইয়াছে আর গত দ্বাপরযুগ ৩০০০ বর্ষের ছিল, উহার পূৰ্বে ত্রেতার সন্ধ্যাংশ ২০০ বর্ষের ছিল যাহাতে রাম ছিলেন। ইহা মােট ৪৭৯৮+ ৩৬:০+২ • =৮৫৯৭ বর্ষ হইতেছে। এই সময় রামচন্দ্রের পরে অতীত হইয়াছে এবং ইহাতে রাজাদের ২১১ পুরুষ হওয়া সম্পূর্ণ ইহা প্রবল প্রত্যক্ষ প্রমাণ। এখন আমি সর্বসাধারণের জানিবার জন্য ভগবান রামচন্দ্র হইতে জয়পুরের বর্তমান মহারাজা সাহেব পর্যন্ত বংশাবলী লিখিতেছি । ও গবান রামের দুই পুত্র-লব ও কুশ। লব হইতে মহারাজ উদয়পুরের (মেবার) রাজবংশের উদ্ভব হইয়াছে, ও কুশ হইতে জয়পুর, , যোধপুর ও কাশ্মীরের রাজবংশের উদ্ভব হইয়াছে। ইহাদের বংশের ধারা প্রায় একই প্রকারের। ঠিক। ১০। গুল ১৪। উকৎ বর্জনা ভগন ন বাম পুণ্ডরীক ৭। মে ১। কুশ । দেবানীক ২। অতিথি ৯। অহীন । নিধি রু ৪। নল ১১। পরিয়া শন ১৭। ববিতাশৰ • ১৮। বিসহ ১৯। হিরণ্যনাত ২। কৌশল লবন 16 ২১। ব্রহ্মনিষ্ঠ ৪৪। অপ্রত কঅবাধ ৪৫। মরুদেব ৬৪। বুধযেন ধর্মসেন ৬। ২৪। ৪৭। সেন প ধ্রু সন্ধি ২৫। সুদর্শন ২৬। অগ্নিবর্গ ২৭। শী ৭ । লোকসেন ৪৮। অতরি ক ৪৯। সুবর্ণ অমিত্র ৬৮। ক্ষ্মীসেন ৬৯। সে। ২৮। মরু दरखाछ পাবহি কামসেন ৭১। রবিসেন ৭২। কত্তিসে। সুসন্ধ কয়ে ৩১। আমব ৭৩। মহাসেন মহখান শুদ্ধোধন ৭৪। ধর্মসেন ৩। দ্বলু রাহুল ৭৫। অমরসেন ৩৪। বৃহতৃত্রি ৫৭। সেনজিত ৭৬। অয়সেন ৫৮। ক্ষুদ্রক ৭৭। অমৃতসেন বংস ৫৯। কুক ৭৮। ইন্দ্রসেন ৩৭। বসবুহ ৬। স্বরথ ৭৯। রজমই ৩৮। প্রতিব্যাম ৩১। সুমিত্র রকমই ৩৯। দিবাকর বিশ্বরাজ ৮১। শিবমই ৪। সহদেব এইখান হইতে ৮২। দেবলমই ৪১। বৃহদ মােধপুরের রাজবংশ ৮৩। রিদ্ধিমই আরম্ভ হইয়াছে ৮৪। রেবমই ৪৩। প্রতি ৬২। কুৰ্ম ৮। সিভিমই 7; ৭৭। ১৩২। হত্যপাল ৮৬। বংশকুমই ১৯। শ্যামমই ১১। সামপাল ভীমপাল ১৩। কামপাল মহামই ৮৮। ১১১। গঙ্গাপাল ১৩৪। চন্দ্রলাল ৮৯। মই মহস্তুপাল ১৩৫। গােবিন্দপাল ৯০। উদয়পাল রা: মই ১১৩। মহেন্দ্রপাল ১১৪। রাজপাল ১৭। রঙ্গপাল ৯১। রামমই ৯ । সুরতিমই * লমই মদনপ । ১৩। রঙ্গপাল আনপাল ১৩১। পুস্পপাল হরিপাল ৯৪। শুরমই ১১৭। বসতপা 1 ১১। কমই ১১৮। জিয়পাল ১৪১। অমরপাল কমই ৯৬। ১১৯। ছত্রপা 1 ছত্রপাল ১৪২। জসমই ১৪৩। মহিমপাল গােতমই ১৮। ১৪৪। সােনপাল নল ১৪৫। ধীরপাল ১২। ব্রহ্মপাল ১২১। বিষ্ণুপাল ১২২। ধুন্দলাল ১২। কৃষ্ণপাল ১২। লুহঙ্গপাল ১২৫। ভৌমপাল ১৪৬। সুগন্ধপাল ১৪৭। পদ্মপাল ঢােল ১। লক্ষ্মণরায় ১২। রাজভানু ১। বজ্রধাম অয়পাল ১০৪। মধুব্রহ্ম ১২৭। অশ্বপাল ১৫। মঙ্গলনায় ১২৮। শ্যামপাল ১০৬। বিক্রমরায় ১২৯। অঙ্গপাল ১৭। অনঙ্গপাল ১৩০। যুদ্ধপাল ১৮। পাল ১০১। বসােল ১৪৮। রুপাল ১৪৯। বিষ্ণুপাল ১৫। বিনয়পাল ১৫১। অক্ষমপাল ১৫২। ভৈরবপাল ১৫৩। সহজপাল ১৫৫। দেবপাল 78 শ্ৰীপাল ১৫৫। ত্রিলােচনপাল ১৬৮। পরমপাল ২০১। জাস্থদেব :৫৬। বিলােচনপাল ১৭৯। ইন্দ্র পাল ২২। পজবনী ১৫৭। রসিকপাল ১৮। গিরিপাল ২০৩। ২০৩। মলয়সী ১৫৮। ৮১। মহিপাল ২০৪। বীজলদেব ১৫৯। সুরতােল ১৮২। কর্ণপাল রাজদেব ১৬০। শকুনপাল ১৮৩। স্বৰ্গপাল কল্যাণপাল ১৬১। অতিপাল ১৮৪। উগ্ৰপাল ২০৭। কুতিলদেব ১৬২। গজপাল ১৮৫। শিরপাল ২০৮। জোণসী ১৬৩। যােগেন্দ্রপাল ১৮৬। মনপাল ২৯। উদয়কর্ণ ১৬৪। মৌজপাল ১৮৭। পরাশ্চপাল ২১•। নৃসিংহপাল রত্নপাল ১৮৮। বরচন্দ্রপাল ২১১। বনবীর ১৬৬। খামপাল ১৮৯। গুণপাল ২১২। উদ্ধবন ১৬৭। পরিপাল ১৯০। কিশােরপাল ২১৩। চন্দ্রসেন ১৬৮। বৃষ্ণপা ল ১৯১। গম্ভীরপাল ২১৪। পৃথ্বীপাল ১৬৯। বীরচন্দ্রপাল ১৯২। তেজ পাল ২১৫। ভারমল ১৭•। ত্রিলোচনপাল ১৯৩। সিদ্ধপাল ২১৬। ১৭১। ধনপাল ১৯৪। কাস্থদেব মহারাজা মানসিংহ ১৭২। মুনিপাল ১৯৫। দেবানিক ২.৮। জগৎসিংহ ১৭৩। নখপাল .১৯৬। ইসেহসি ২১৯। মহাসিংহ ১৭৪। প্রতাপপাল ১৯৭। সোঢ়দেব ২২• মিরজা ১৭৫। ধর্মপাল ১৯৮। দুলহরায় রাজা জয়সিংহ ১৭৬। বিভুপাল ১৯৯। কাকিলদেব ২২১। রামসিংহ ১৭৭। দেশপাল ২০।হমদেব ২২২। কসিংহ

৭১
79
১১৩। বিষ্ণুসিংহ ২২৬। প্রতাপসিংহ ২২৮। রামসিংহ
২২৪। মহারাজা ২২৭। গতসিংহ ২২৯। সওয়াই
সওয়াই জয়সিংহ
মাধবসিংহ
২২৫। মাধবসিংহ ২২৮। জয়সিংহ
মুহা।
মানসিংহ
বর্তমান মহারাজা
জয়পুরের জয় বিনােদী
পঞ্জিকা
যেরূপ ভারতবর্ষের সমস্ত পঞ্চাঙ্গে (পঞ্জিক'তে) যুগের সংখ্যা
ভূমে লক্ষ বর্ষের দেখা হইয়াছে ঐ প্রকার ভুল জয়পুর
ষ্টেটের তয়বিনােদা পঞ্চাঙ্গেও লেখা হইয়াছে। বরং জয়পুরের
পঞ্চাঙ্গে এইরূপে
ভুলের
বিস্তার চেষ্টা সবচেয়ে বেশী । ইহাতে
লেখা আছে যে রাজা বলির পরে ১৯৬•৮৮৯০৩• বর্ষ গত
হইয়াছে। এই পঞ্চাঙ্গ জয়পুরের মহারাজা সাহেবের আদেশে
জয়পুরের জ্যোতিষীরা লিখিয়াছেন। যদি জয়পুরের সমস্ত
পতিমণ্ডলীর বৃদ্ধির এই দশা হইয়া থাকে তবে বুঝিতে হইবে
যে তাহারা পণ্ডিতমণ্ডলী নহেন বরঞ্চ পুর্ণভাবে মূখমণ্ডলী কারণ
তাহাদের যুগ সম্বন্ধে সাধারণ জ্ঞানও নাই।
০
এক সৃষ্টিতে ১৪ মন্বন্তর হইয়া থাকে, এক মন্বন্তরে ৭১ যুগ
আজকাল সপ্তম বৈবস্বত মন্বন্তরের চতুর্যগী চলিতেছে।
এক চতুর্যগীর অবতারদিগের নাম এবং উহাদের চরিত্র সেই
চতুর্যগী পৰ্যন্ত থাকে, পরবর্তী চতুর্যগী পর্যন্ত থাকে না।

80
চতুযুর্গী ১২••• বর্ষের হয়। রাজা বলি, যাহাকে বামনাবতার
দেশ হইতে দূর করিয়াছিলেন, গত ত্রেতাযুগের প্রথম সংখ্যাতে
হইয়াছিলেন, তারপর আ পর্যন্ত মাত্র ১৭৯৫ বর্ষ
হইয়াছে।
যদি আজকালকার জ্ঞানহীন পণ্ডিতদের কথা
মানা যায় তাহা হইলে গত কলিযুগ, ৫০৪• বর্ষ+গত দ্বাপর
৮৬৪••• বর্ষ হয় + গত ত্রেতা ১১৯৬••• বর্ষ মােট ২১৬৫৪
বর্ষ হয় কিন্তু জয়পুরের সরকারী পঞ্চাঙ্গে ১৯৬৮৮৯০৪• বর্ষ
লেখা আছে, ইহা কতদূর মূখত, ইহার সীমা নাই। এই
প্রকার এই পঞ্চাঙ্গে শ্রীভগবান রামের সময় এখন হইতে
১২৫৬৯০৪• বর্ষ লেখা আছে। ইহা দ্বিতীয় মূখ।
ভগবান রামের সময় ঠিক জানিতে হইলে মহাভারতের
আদি পৰ্ব ২য় অধ্যায়ে ৩য় শ্লোকে দেখুন -
ত্রেতা দ্বাপর যােঃ সন্ধেী রাম শস্ত্রভৃংবর
অসৎগাথিংক্ষত্রজঘনার্ষচোদিত।
ত্রেতা এবং দ্বাপরের সন্ধিতে শাস্ত্রধারীদের মধ্যে শ্রেষ্ট রাম
ক্রোধ করিয়া কয়েকবার ক্ষত্রিয়দের নাশ করিয়াছিলেন।
ইহা মহাভারতের পরশুরামের বর্ণনা। আর ইহাও
রামায়ণ হইতে স্পষ্টরূপে জানা যায় যে পরশুরাম ও ভগবান
নাম একই সময়ে ছিলেন। এই জন্য ভগবান রাম তখন
ছিলেন যখন ত্রেতার সন্ধ্যাংশ ছিল এবং দ্বাপরের সন্ধি আসন্ন

'
৪
তাহার পর খুব বেশী হইলেও ৮৭৮৬ বর্ষ হইয়াছে—ইহা আমি
পূৰ্বেই লিখিয়াছি। জয়পুরের রাজপণ্ডিত মধুসূদন ওঝা,
তিনি অনেক বৎসর এই পঞ্চাঙ্গ দেখিতেছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত
এই ভুল দূর করিতে পারেন নাই।
অন্য পঞ্চাঙ্গের দশা
অনেক পঞ্চাঙ্গে যুগ প্রভৃতির ভুল হিসাব দিয়া ইও
লেখা হয় যে সত্যযুগে মানুষের পরমায়ু এক লক্ষ বর্ষ ও
বাল্যাবস্থা দশ হাজার বর্ষের হয়। ত্রেতার আয়ু দশ হাজার
বর্ষ, দ্বাপরে হাজার বর্ষ, কলিযুগে ১•• বর্ষ ; কলিযুগের আয়ু ত
ঠিক আছে কিন্তু অন্য যুগে এত আয়ু ভুল ! আমি ইহার পূর্বে
মনুস্মৃতি প্রথম অধ্যায়ের ৬৩ শ্লোক উদ্ধত করিয়া লিখিয়াছি
যে সত্যযুগের মানুষের আয়ু ৪•• বর্ষের হয়, পরে অন্যান্য যুগে
১•• বৎসর করিয়া কমিয়া যায়। বলিতে পারি না এই সৰ
পণ্ডিতদের মাথায় প্রত্যেক বিষয়ে লক্ষের হিসাব কোথা হইতে
ঢুকিয়াছে। এই সব পণ্ডিতেরা আপনাদের যজমানদের ঘরে
ক্রিয়াকর্মও এইরূপ উল্টাপাল্টাই করিতেছেন।
মার্তণ্ড পঞ্চাঙ্গ
পাঞ্জাবে কুরালী হইতে • এইরূপ এক মার্তণ্ড পঞ্চাঙ্গ
বাহির হয়। উহাতে সৃষ্টি সংবৎ এবং যুগসমূহের সম্পূর্ণ ভুল
হিসাব ও প্রতিযুগে মানুষের আয়ুও সম্পূর্ণ ভুল দেওয়া

৮২
৪
হইয়াছে।
এই পঞ্জিকার পৃষ্ঠপােষক বাঘাটের রাজা সাহেব
কিন্তু রাজাসাহেব কি করিতে পারেন? বাঘাটের রাজগুরু
পণ্ডিত মথুরা প্রসাদেরই যুগ সম্বন্ধে কোন জ্ঞান নাই। এইরূপ
পঞ্জিকা এবং পণ্ডিতেরাই হিন্দু জনসাধারণের মধ্যে বিষম ভুল
ধারণা জন্মাইয়া রাখিয়াছেন।
পঞ্চাঙ্গ মাৰ্ত্তণ্ডের কর্তা পণ্ডিত মুকুন্দবল্লভের সহিত যুগের
হিসাব সম্বন্ধে কুরালীতে আমার তর্ক হইয়াছিল।
তখন তিনি
আমার উপযুক্ত উত্তর দিতে অক্ষম হয়েন তখন সাধারণ
লােকেরা হাসিতে আরম্ভ করে। তখন তিনি সকলকে মূখ
বলিয়া দেন। ইহাতে লােকেরা ক্রুদ্ধ হয় এবং তাহাকে ক্ষমা
প্রার্থনা করিতে বাধ্য করে। তখন তিনি ক্ষমা ভিক্ষা করিয়া
নিজের প্রাণ রক্ষা করেন। ইহার পরে তিনি চেতাবনীর
বিপক্ষে চেতানী সমস্যা” বা “সত্যযুগের স্বপ্ন” নামক এক
পুস্তক প্রকাশিত করেন, যাহাকে জনসাধারণ জিজ্ঞাসা পর্যন্ত
করে নাই। এখন সমুদয় ঘটনাবলী চেতাবনী অনুসারে ঘটিতেছে
দেখিয়া পণ্ডিতজী নিজেই লজ্জিত হইয়াছেন।
আৰ্যসমাজে যুগসমূহের হিসাব
আর্যসমাজের প্রবর্তক স্বামী দয়ানন্দ এবং মহাত্মা গান্ধী
নিজের পুস্তকে সমস্ত ধৰ্ম্মের রূপ সম্পূর্ণ ভুলভাবে সাধারণের
সম্মুখে প্রকাশ করিয়াছেন। ঋগ্বেদাদির ভাষ্য ভূমিকায় চার
যুগের হিসাবের জন্য মনুস্মৃতি অধ্যায় ১ শ্লোক ৬৮ হইতে ৭৩

83 পৰ্যন্ত দিয়াছেন কিন্তু উহার টীকা না পড়িয়া আপনার মন হইতে যাহা খুসি লিখিয়াছেন। আৰ্যসমাজী পণ্ডিতদের সহিত আমার বহুবার শাস্ত্রীয় তর্ক হইয়াছে এবং তাহারা সম্পূর্ণ পরাস্ত হইয়াছে। যুগ সম্বন্ধেও কয়েকবার তর্ক হইয়াছে তাহাতেও তাহারা সম্পূর্ণ পরাস্ত হইয়াছে। দয়ানন্দ জ্যোতিষ পড়েন নাই এ বিষয়েও যাহা খুসী লিখিয়াছেন। গুরু গােবিন্দ সিংহ ইনি পাঞ্জাবের একজন প্রসিদ্ধ মহাত্মা। ইনি দশম গ্রন্থসাহেবে এবং অন্য স্থানেও কলিযুগের সমাপ্তি বিক্রম সম্বং ২•••এ হইবে লিখিয়াছেন। ইনি ২০•• বিক্রম সম্বংকে “বসা” সংবৎ বলিতেন। ইনি কল্কি অবতারও মানিয়াছেন ও সে সম্বন্ধে দশম গ্রন্থসাহেবে লিখিয়াছেন পাপ সমুহ বিনাশন কে কল্কি অবতার হয়েছে তরকশ তুরঙ্গ শুপছ বহুকরকাঢ় করপান খপায়েঙ্গে কিসে জুং কেহর পর্বতসে তিশ শােভা দেওয়াল পাওয়েজে বঢ়ে ভাগ ভয়ে উস শম্ভলকে হরিজী হরি মন্দির শায়েজ। অর্থ- পাপসমুহকে বিনাশ করিবার জন্য ভগবান কল্কি অবতার রূপে জন্মগ্রহণ করিবেন । তিনি একটি সাদা ঘােড়ায় 84 আরােহণ করিয়া থাকিবেন ও তাহার হাতে তরবারী থাকিবে। তিনি কেহর (মহেন্দ্ৰ) পৰ্বত হইতে অবতরণ করিয়া অপূৰ্বরূপে শােভা পাইবেন। সেই শম্ভলের ভাগ্য অতি উত্তম যেখানে হরি নিজের মন্দিরে ?ত্য গমন করবেন। । অন্য এক স্থানে ইনি লিখিয়াছেন। উঠে সব দেশনকো দুলে পটসিটে সব রাজন যুলো এই প্রকারে আরও লিখিয়াছেন এবং উহা সব ঠিক। সাংসারিক দশার বর্ণনা করিবার সময় ইনি শস্যের সম্বন্ধে বড়ই উচুদরের কথা লিখিয়াছেন। ইনি এই সময়ের সাখীতে লিখিয়াছেন- সের রুপয়ে দা অন্ন বিকাওয়ে এইভী সভ্য। হথ ন মায়ে এক টাকায় এক সের অন্ন পাওয়া যাইবে; তাহাও সহজে লােকেরা পাইবে না। গঙ্গায় আয়ু সমাপ্ত হইয়াছে ইহা একটি প্রসিদ্ধ কথা যে কলির শেষে গঙ্গার আয়ু শেষ হইয়া যাইবে। উহার প্রবাহ রুদ্ধ হইয়া যাইবে। : নিম্নলিখিত শ্লোক এই বিষয়ে প্রসিদ্ধ 85 পৃথ্বী গঙ্গয়া হীনা ভবিষ্যত্যন্তিমে কলো তবে বিষ্ণুস্তফতি মেদেনীং নরপুঙ্গব । অর্থ- ৪ কলির শেষ পৃথিবী গঙ্গাশূন্য হইয়া যাইবে এবং ভগবার বিষ্ণুও ভূমিকে ছাড়িয়া দিবেন। ১৯৫৫ বিক্রমী সংবৎ পৰ্যন্ত পঞ্চাঙ্গে (পত্রে) গঙ্গার আয়ু লেখা হইত --যেরূপ ১৯৫০ এর পঞ্চাঙ্গে (পত্রে) গঙ্গার আয়ু ৬ বৎসরের লেখা রহিয়াছে, ১৯৫১র পঞ্চাঙ্গে ৫ বৎসরের লেখা ছিল, :৯৫৪র ৯৫৪ পঞ্চাঙ্গে বৎসর, ১৯৫৩ ৩ বং, ১৯৫৪ এ ২ বৎসর এবং ১৯৫৫র পত্রে ১ বৎসর লেখা ছিল। এই হিসাবে গঙ্গার আর সে মাহাত্ম্য নাই। জ্ঞানহীন ও স্বার্থপর পণ্ডিতেরা সাধারণকে একথা জানিতে দেন না। লােকেরা এখন বৃথাই গঙ্গায় তীৰ্থ করিতে হইতেছে। ১৯৫৫ সংবতে ভারতবর্ষে ভীষণ সােরগােল পড়িয়াছিল। বহুসংখাক হিন্দু এই বৎসর এই কথা ভাবিয়া গঙ্গাস্নানে গিয়াছিলেন যে এই বৎসর গঙ্গার আয়ু শেষ হইয়া যাইবে। সাধারণের মধ্যে এই বৎসর কতকগুলি পণ্ডিতেরা ছােট ছােট পুস্তক লিখিয়া বিতরণ করিয়াছিলেন, উহাতে মনগড়া শ্লোক লিখিয়া লােকদিগকে এইরূপ ঠকাইয়াছিলেন যে গঙ্গার আয়ু শেষ হয় নাই। এই সব পণ্ডিতদের ভয় হইয়াছিল যে যদি লােকেদের মনে এইরূপ ধারণা হয় যে গঙ্গার আয়ু শেষ হইয়াছে তাহা হইলে গঙ্গা- স্নানের জয় যে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় হয় তাহা চলিয়া যাইবে।

88 কারণ কোন লােকই গঙ্গাতীরে যাইবে না। সেই সময় হইতে পঞ্চাঙ্গে আয়ু লেখা বন্ধ করা হইয়াছে। এই প্রকারে পণ্ডিতেরা সাধারণকে প্রবঞ্চনা করিয়াছেন। যমুনার মাহাত্ম ১৯৯২ বিক্রম সংবং যমুনার শেষ আয়ু ৪৬৩৮ বর্ষ এখন যমুনার পুণ্য এবং মাহাত্ম্য থাকিবে ও হরিদ্বারের পরিবর্তে ব্রজধামকে ( মথুরা, বৃন্দাবনকে) সত্যযুগের তীর্থ মানা যাইবে। চাণক্যনীতির এই শ্লোক প্রসিদ্ধ হইয়াছে। কলৌদশ সহস্রানি বিষ্ণুতি মেদিনী তদৰ্দ্ধং জাহ্নবী তােয়ং তদর্পং গ্রামদেবতা। অর্থ- দশহাজার বৎসর গত হইলে বিষ্ণু ভগবানের वाम পৃধিবীতে থাকে না উহার অর্ধ অর্থাৎ পাঁচ হাজার বর্ষ পর্যন্ত গ্রামের দেবতারা থাকেন । এই শ্লোক চাণক্যনীতির, ইহার অর্থ হইতেছে এই যে চার যুগে ১২••• বর্ষ হয়। উহার মধ্যে ১••০৪ বর্ষ গত হইলে কলিযুগে মহাপাপের জন্য ভগবান আপনার বাস উঠাইয়া লয়েন। এই প্রকারে ভগবান বিষ্ণুর বাস এখন হইতে ২৪০০ বর্ষ পূৰ্বে উঠিয়া গিয়াছে। এই ২৪•• বৎসর পূর্বে সেই সময় ছিল যখন বৌদ্ধে সারা ভারতবর্ষকে নাস্তিক

87
করিয়া দিয়াছিল। ঐ সময় বামমার্গ মত এবং অারও
কতগুলি নাস্তিক মত উৎপন্ন হইয়াছিল। স্বামী শঙ্করাচাৰ্য্য
উহাদের নাশ করিয়াছিলেন-তখন হইতে বিষ্ণুর নিবাস
উঠিয়া গিয়াছে।
যেখানে ১•••• বর্ষ কলিযুগে গত হইয়াছে লেখা আছে ;
যদি ইহা কলিযুগেই বর্ষ হইত তবে লেখা হইত যে “কনি
যুগের ১•••• বর্ষ গত হইলে”, আর ১০ •••এর আদ্ধেক
৫••• হয়, এত দিন গঙ্গার আয়ু বলা হইয়াছে।
লােকেরা কলিযুগ যুধিষ্ঠিরের রাজা হইতে আরম্ভ হইয়াছে
মনে করে, এই হিসাব পঞ্চঙ্গে আজকাল কলিযুগী সংবৎ
৪•৫• বর্ষের ধরা হয়। এই হিসাব অনুসারেও গঙ্গার আয়ু
গত ১৯৫৬ সংৰতে শেষ হইয়া গিয়াছে। তারপর ৪১ বর্ষ গত
হইয়াছে, তখন হইতে যমুনার মাহাত্ম্য চলিতেছে।
গঙ্গার ধারার প্রবাহও রুদ্ধ হইয়াছে, কয়েকস্থানে গঙ্গায়
বাঁধ দেওয়া হইয়াছে—জিলা বুলন্দশহরে নরোরাতে বাঁধ
দেওয়া হইয়াছে। ঐ স্থান হইতে হাজার নামক খাল বাহির
হইয়াছে, নীচ হইতে বড় খাল বাহির হইয়াছে। কয়েক বর্ষ
পূৰ্বে ঐ বাঁধের বিরুদ্ধে হিন্দুরা খুব আন্দোলন করিয়াছিলেন।
কিন্তু কলিযুগে এইরূপ হইবার ছিল এইজন্য কোন ফল হইল
। ২৬ বৎসর পূর্বে বদ্রিনারায়ণ হইতে ৫০ মাইল নীচে
কর্ণয়াগ হইতে পৰ্বত পড়াতে গঙ্গার ধারা বন্ধ হইয়া

৪ গিয়াছিল। সেখানে তাল প্রমাণ জল জমিয়াছিল—উহাকে লােকেরা বৃহত্তাল বলিত। সেখানের লোকেরা এই ধারা বন্ধ হওয়াতে গঙ্গার আয়ু শেষ বলিত। যেমন গত যুগ সকলের তীর্থ এখন পর্যন্ত আছে কিন্তু উহাদের মাহাত্ম্য নাই, সেইরূপ গঙ্গ বহিতে থাকিবেন কিন্তু তাহার মাহাত্ম্য থাকিবে না। পুষ্কর গত সত্যযুগে তীর্থ ছিল, ত্রেতায় নৈমিষারণ্য ছিল। দ্বাপরে কুরুক্ষেত্র ছিল আর কলিযুগে গঙ্গ। তীর্থ ছিল—উহার পুণ্যের আয়ু সংবং ১৯৫৬তে শেষ হইয়া গিয়াছে। এখন সত্যযুগের তীর্থ যমুনা যাহার তীরে পূর্ণব্রহ্ম ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বাল্যকালে খেলা করিতেন। এখন যে সব পর্ব কুম্ভ প্রভৃতি আসিবে উহ সব মথুবা বৃন্দাবনে হয়। উচিত। একটি মনগড়া শ্লোক একজন পণ্ডিত আমাকে একটি শ্লোক শুনাইয়া উহার দ্বারা কলির আয়ু বেশী ইহাই প্রমাণ করিয়াছেন- যুধিষ্ঠীরে। শিক্ৰম শালিবাহনাে ততত নৃপ দ্বিজয়াভিনন্দন ততগুনাগার্জুন ভুপতি কলে কন্বিষডেতে ক কারা স্বতঃ।

৯ ৪ অথ যুধিষ্ঠির, বিক্রম, শালিবাহন, বিজয়াভিনন্দন, নাগার্জু, কল্কি এই ৬ জন শক বর্তক কলিযুগে জন্মিবেন । এই শ্লোক কাহারও কপোলকলিত বা মনগড়া, কার কেবল শালিবাহনই শক জাতির ছিলেন । ইহারই সংবৎ: শাকা বলে । যুধিষ্ঠির প্রভৃতির সংবংকে শাা বলে না সংবং বলে। এই জন্য এই শ্লোক ভুল। ঐ পণ্ডিত আমাণে এই শ্লোক শুনাইয়া পরে নিম্নলিখিত হিসাব দিয়াছেন- “যুধিষ্ঠিরের সংবৎ ৩০৪৪ বর্ষের, বিক্রমের ১৩৫, শালি বাগানের ১৮০ ০ ৩, বিজয়াভিনন্দনের নাগার্জুনে আর করি বর্ষ ৮২১। ০ আমি জিজ্ঞাসা করিলাম যে উপরের শ্লোকে বর্ষের এ সব সংখ্যা কোথায় দেওয়া আছে ? তখন তিনি অপ্রস্তুত হইয়া চুপ করিয়া রহিলেন। দ্বিতীয় কথা হইতেছে এই বিক্রমের সংবৎ মাত্র ১৩৫ বৎসর লেখা হয়, কিন্তু ইহা আজকাল ৯৯৭। এইরূপ কয়েকজন পণ্ডিত যুগের বিষ, নূতন নূতন শ্লোক বানাইয়া কলিযুগ ৪ লক্ষ বর্ষের প্রম করিবার জন্য বড়ই গোলযােগ করিয়া রাখিয়াছেন। অন্য) প্রমাণ আমার এই পুস্তকের হিসাবে বিক্রম সংবৎ ২• • • সেই স্বর্ণযুগ পৃথিবীতে আসিতেছে বাহকে স্বর্ণরাজ Kingdcr"

90
of Heaven 27.07
যাহার প্রতীক। বড় বড় সম্রাটেরাও
করিতেছেন । ইহা আত্মযােগ ও পরম শান্তির যুগ হইবে ।
মুসলমানদের ধর্মপুস্তক অনুপাবে এই যুগে কয়ামত
আসিবে। আমার বিবেচনায় কয়ামতের গুর্থ হইতেছে এই যে
এই যুগ কোন পাপ থাকিবে না । মদীন"লীর প্রসিদ্ধ
পুস্তক মক্নুম বুখারিতে লেখা আছে যে-
১০০ বর এক
“ক্তিরা চতুর্দশ শতাব্দীতে দুই তৃতীয়াংশে কয়মত
আসিবে ও হজরত মংহদী প্রকট হইবেন :
তৃতীয়াংশ ৩৩ বর্ষ ৪ মাস হয়, দুই তৃতীয়াংশ ৬৬ বম ৮ মাসের
সংবত ২০০০ এ শ্রাবণ অমাবস্যায় হিজরী সন্ ১৬২,
মস রজব, তারিখ ২৮, অর্থাৎ চতুর্দশ শতাব্দীর দুই তৃতীয়াংশই
হইবে ।
এই হিসাব অামার হিসাবের সহিত মিলিতেছে।
এই পুস্তকে এক জায়গায় লেখা আছে যে কয়ামত নিকটে
আসিয়াছে, নরকের আগুণ ছাইয়া গিয়াছে, সারা পৃথিবীর
উপরে অন্ধকার বিস্তৃত হইয়াছে। হে ভারতবাসী, তােমাদের
চোখ খুলিয়াছে বা খােলে নাই, ড্রিায় ভরা আছে বা নাই
বিবেচনা করিয়া উঠ পৃথিবী নাশ হইতে চলিয়াছে, যাহা
কিছু করিবার এখনই করিয়া লও” এই যে ভারতবাসীকে
সম্বোধন করা হইয়াছে ইহা বিচার্য বিষয়। সহী বুখারী
নামক পুস্তকে লেখা আছে ‘যখন ভূমিকম্প হইবে, স্ত্রীলােকেরা
শিথিল চরিত্র হইবে ইত্যাদি তখন কয়ামত আচিবে; ইহাও

৪। ; কল্কি ভগবানের শরীর খুব বড় হইবে, বুক খুব প্রশস্ত হবে। জরকন্তু পেগম্বরের খলিফা কাম, আপনার পুস্তকে জামাম্পানিতে এই বিষয়ে বর্ণনা করিয়া লিখিয়াছেন যে “এক বৃহৎ শরীর বিশিষ্ট মহাত্মা আসিবেন, তিনি সমস্ত পৃথিবীতে ন্যায় এবং ধর্মের বিস্তার করিবেন, লােকেরা পাপ তাগ করিবে; ঐ সময় সূয, বৃহস্পতি কর্কট রাশিতে এ সিবে । তিনি পাস্যদেশে আসিবেন। গ- বতে কলি সমাপ্তির যে যোগ দেওয়া হইয়াছে ইহা তাহারই পােষণ করিতে,,। এইরূপ শেষ সনেমী “নাপ্ত গুহ” পাত্র কাতের বর্ণনা দিয়া লিখিয়াছেন “যেদিন পৃথিবীর লােকেরা কঁাদিতে থাকিবে, সেদিন • a পাহাড় হইত লোক নামিবার শব্দ শুনিবে : উহারা তোমাদিগকে উৎসাহ দিবেন, তােমাদের সহিত পেম করবেন; উহাদের দলপতির বুক প:শ দেখিব : তােরা উহাদের সহিত প্রেমপূর্ণ ভাবে নিলিবে কারণ ভগবানের ইহাই ইচ্ছা।” ইহা সব কল্কি ভগবানেরই কথা, ঠাহরই শরীর বড় এবং বুক প্রশস্ত হইবে, তাহার সাথেই মহষিদের দল আসিবেন, তাহারাই ভগবানের স’ হত থাকিয়া পৃথিবীতে শান্তি ও আনন বিস্তার করিবেন এই কথা অনেক পুস্তকেই আছে। মুসলমানদের মুজদ আকবর বকেয়ুম সাহেব কয়েক মাস পুঝে বর্তৃতা দিয়াছিলেন, জরত মহম্মদের ভবিষ্যৎবাণী যখন পীতবর্ণ চ্যাপ্ট নাকবিশিষ্ট জাতি

92
দেওয়াল সিকিন্দী হইতে পার হইবে তাহার পর কয়ানত
আসিবে, এবং জগত ওলটপালট হইয়া যাইবে। এখন জাপন
দয়াল সিকিন্দ্র পার হইয়াছে এবং ঐ ভয়ঙ্কর পরিবর্তনের
সময় নিকটে আসিয়াছি” ইহা হইতে বাঁচিবার জন্য সকলের
প্রেমের সহিত ও পূর্ণ শান্তিতে থাকা উচিত।
প্রসিদ্ধ যােগী মহাত্মা অরবিন্দ ঘােষ পণ্ডিচারীতে থাকেন
তিনি নিজের ইংরাজী পুস্তক yoga and it's Object”: যোগ
ও উহার সাধন) এ লিখিয়াছেন—“কলি শেষ হইয়া গিয়াছে,
প্রাচীন জ্ঞান ও সভ্যতা নাশপ্রাপ্ত হইয়াছে। এখন সেই সময়
আসিয়াছে যখন উপরে উঠিবার কথা আরম্ভ করা উচিত ।
এই সময় আসন্ন সত্যযুগের জন্য প্রস্তুত হইবার সময় ইত্যাদি।”
এই অরবিন্দ ঘােষ একজন মহাপুরুষ!
এই প্রকারে কিছু দিন পূর্বে পাদ্রী ওয়াল্টার বেনের
এক প্রবন্ধ লণ্ডনের পত্রিকা সাণ্ডে এক্সপ্রেসে ছাপা হইয়াছিল
যাহাতে লেখা ছিল যে আমি মিশর দেশের প্রাচীন সিদ্ধ
মিনারের উপর লেখা পড়িয়াছি যে শীঘ্রই সত।যুগ ১০০০ বর্ষের
জন্য আসিবে।” পাদ্রী সাহেব ইহাও লিখিয়াছেন যে “এক
ঘাের যুদ্ধ আসন্ন হইয়াছে যাহাতে সমস্ত পৃথিবী যােগ
দিবে। এই যুদ্ধ ১৯৩৬ খৃষ্টাব্দে হইবে।” আমি ইহার কয়েক
বর্ষ পূৰ্বেই লিখিয়াছিলাম যে ১৯৩৬ এ খুব জোরের সহিত যুদ্ধের
আয়ােজন হইবে, যদিও উহার আরম্ভ পূৰ্বেই হইবে।
বদ্ধ- ইটালি ও আবিসিনিয়ার মধ্যে ১৯৩৫ খৃষ্টাব্দের অক্টোবর

03 পাতা মুড়িনে না। মাসেই আরম্ভ হইয় ছিল । আমি ১৯১৫ খৃষ্টাব্দে লিখিয়া- ছিলাম যে ভূমিকম্প ও বন্যাতে বহুলােকের মৃত্যু হইবে উহাও ইয়ছে এবং হইতেছে । খৃষ্টাব্দ পুস্তিকায় লিখিয়াতি লাম যে নিকট ভবিষ্যতে ভয়ানক সময় আসিয়াছে, যখন থিতে বড় বড় কষ্ট আসি—উহাও হইতেছে। কিছুকাল পূৰ্ব্বে গুনের প্রসিদ্ধ জ্যোৰী এ, নীলর লিখ:‘ছলেন--তাগামী দুই বৎসরে পৃথিবীতে এত বড় পরিবর্তন হইবে যে বলা যায় না পৃথিবার লোকেরা উহ। কিরূপ বরিবে” এই বথা ও আমার মতের সহিত মিলিয়াছে। ‘মষ্টার ওয়েল * কিছুদিন পর্ব লিখিয়াছিলেন যে ধরণী রক্তের নদীত স্নান করিবার জন্য প্রস্তুত হয়। সহ রহিয়াছে। গুনের প্রসিদ্ধ জ্যোতিষী শেরে। লিখিয়াছিলেন- “যুদ্ধের জোর ১৯৫৮ সালে হইবে, হুলোক বেকার হওয়ার জন্য অনাহারে মরিবে। আমার হিসাবে এই বিশ্বব্যপি যুদ্ধ ১৯৪২ সালে প্রায় শেষ ইয়া যাইবে এবং ১৯৩৮শে আরম্ভ হইবে। ১৯৩৯শে যুদ্ধের বড়ই সােরগােল হইবে-- ইহা আমি পূৰ্বেই লিখিয়াহি। ইহার পর জগতে খাদ্যের অত্যন্ত অভাব হইবে এবং কয়েক প্রকারের রােগ দেখা দিবে। ১৯৩৯ সালে বা সম্বং ১৯৯৬ হইতে ১৯৯৮ পর্যন্ত জগতে, দশা অত্যন্ত খারাপ হইবে। ১৯৯৮এর বৈশাখ মাসে ককি

94
ভগবান প্রকট হইবেন। পরবত্তি বর্ষে অথাৎ ২০০০ বিক্রম
সংবতে কাল সমাপ্ত হই। সত্যযুগ আসিবে। কল্কিপুরাণ
এ লেখা আছে “ককি ভগবান প্রকট হইবার
পরবত্তী বর্ষেই কলি সমাপ্ত হইবে।
ফুান্সের প্রসিদ্ধ লেখক বোম। বোল লিখয়াছেন
-আজকাল এমন সময় আসিয়াছে যখন আমাদের
সভ্যতা নাশ হইতে বসিয়াছে ইহার পর অন্য সভ্যতা
স্ত হইবে। ইহা ঠিক যে কলির সভ্যতা নাশ হইবে
বিক্রন সংবাতে
অন্য
সভ্যতা
সত্যযুগ
টার কিছু পূৰ্ব্বে ভারতবর্ষের বহিবে এক দেশ এবং এক
বড় সহয় সমুদ্রে ডুবিয়া যাইবে । যখনই
যুগ পরিবর্তন হইয়াছে
তখনই এইরূপ হইয়াছে। গত সত্য যুগ শেষ হইবার সময়
এইরূপ খুব বড় দেশ ডুবিয়া গিয়াছিল। উহার ঠিক নাম
জানিতে পারা যায় নাই। ইউরোপের বিদ্বানের। উহার নাম
অনেক লােকে আমাদের লিখিয়া থাকেন যে বৈশাখ মাস
অতীত হইয়াছে কিন্তু কল্কি ভগবান প্রকট হয়েন নাই কেন?
ইহাদের সন্দেহ মিটাইবার জন্য তাহার বিষয়ে এখন কি হইবে
পুস্তকখানিতে দেওয়া হইয়াছে। এই পুস্তকখানি পড়িলে
আপনারা জানিতে পারিবেন যে শ্ৰকল্কি ভগবান এখন কোথায়
আছেন ও কি করিতেছেন ও শীঘ্রই কি ঘটিবে ইত্যাদি বিষয়ে পূর্ণ
বর্ণনা করা হইয়াতে। মূল্য • আনা মাত্র।

96
এলেন্টস দিয়া এইরূপ লিখিয়াছেন যে উহা হিন্দুদের প্রাচীন
সভ্যতার কেন্দ্র ছিল । ইউরােপের লােকেরা এই সহর ১২০০
বর্ষ পূৰ্ব্ব ডুবিয় ছিল লিখিয়াছিলেন, ইহা ঠিক, কারণ গত
সতাযুগ
০ ০ বর্ষ পূর্বেই
তা হইয়াছিল ইহার পর
ত্রেতাযুগের আরম্ভের সময় লঙ্কা ডুবিয়া গিয়াছিল ।
দ্বাপর আরম্ভের সময় দ্বারকা ডুবিয়া গিয়াছিল।
অ: গত
পণ্ডিতদের মধ্যে সােরগােল
এই সব কথা স্পষ্টরূপে উদ্ধৃত করাতে পণ্ডিতদের মধ্যে
সােরগােল পড়িয়া গিয়ছ ;
পণ্ডিত ইহা মানিয়া
লইয়া বলিয়াছেন “ইহা ঠিক, কিন্তু সাধারণ লোকেরা বলিবে
যে এত বড় কথা অন্য পতিরা কেন বলেন নাই ?
এইরূপে সমস্ত পঞ্চাঙ্গ ভুল হইয়া যাইবে । আর যদিও শ্রাদ্ধ
পিতরদিগেরই হয় কিন্তু প্রত্যেক মৃত ব্যক্তিই শ্রাদ্ধ করিবার
প্রথা হইয়াছে, ইহা যদি বন্ধ করা যায় তবে সাধারণ লোকের
আমাদিগকে পরিহাস করবে যে এতদিন এ কথা কেন বলেন
নাই ? কিন্তু আমি হিন্দুধৰ্ম্মের এবং তিন্দু »াতির নাশ হইতেছে
দেখিয়া কাহারও মানহানি বা ধনহানির প্রতি লক্ষ্য রাখি
ভগবানের আদেশ সকল লােক মানিবে না। সুতরাং
কেহ যদি আমার কথা না মানে তবে আমি দুঃখিত নহি।
1
নাই।
ইঞ্জিলের প্রমণ
মরসের ইঞ্জিলে এ বিষয়ে যা লেখ
আছে তাহার

9t
সার হইতেছে এই যে যীশুখৃষ্ট বলিয়াছেন অনেক লােক
আমার নাম লইয়া পৃথিবীতে আসিবে (এইরূপ পূৰ্বই
হইয়াছে) উহারা অনেক লােককে ভুল বুঝাইবে। যদি তােমরা
যুদ্ধ বিগ্রহের কথা শুন তবে ভীত হইও না, উহা অবশ্য
হইবে ।
উঠা শীঘ্রই সমাপ্ত হইবে না । জাতির পর জাতি
বাদসাহের পর বাদসাহ আফমণ কবি, ভূমিকম্প হইবে, এই
সব বিপদের সূত্রপাত মাত্র ভাই ভ'ইকে ও পুত্র পিতাকে
মারিবে আমার নাম লইবার জন্য লোকেরা তোমার শত্রু
হইবে । ঐ সময় কড়ই কষ্টের হইবে, তখন সূর্যের উপর
অন্ধকার ছাইয়া যাইবে, চন্দ্র দীপ্তি পাইবে না, আকাশে
তারকা পতন হইবে । আকাশ ও জগত টলিবে কিন্তু
আমার কথা টলিবে না
যীশু খৃষ্টের এই সব ভবিষ্যৎবাণী ঠিক হইয়াছে—সূর্যের
উপর অন্ধকার হইয়াছে, চল দীপ্তি পাইতেছে না। সংবৎ
২••• শ্রাবণ অমাবস্যতে যখন কলি শেষ হইয়া সত্যযুগ
আসিবে তখন সূর্যগ্রহণে সর্বগ্রাস হইবে, সমস্ত অন্ধকার
হইয়া যাইবে । এই গ্রহণ কলিশেষে হইবে ও সূর্যের উদয়
সত্যযুগের আরম্ভে হইবে। শ্রাবণ পূণিমায় এত বড় চন্দ্রগ্রহণ
হইবে যে চঁাদ প্রকাশ হইবে না। কয়েক স্থানে ভূমিকম্প
হইয়া গিয়াছে আর যুদ্ধ আরম্ভ হইয়াছে। এই যুদ্ধে
পৃথিবীতে প্রচণ্ড জ্বালা কইবে ইহা আমি কয়েক বর্ষ
হইতে লিখিতেছি।

এ7
মালাবুদ
কবলুল
কয়ামত
ইতএক আরবী পুস্তকের নাম। ইহা খুেল অকবৰ
মুহিউদ্দন ই:ঝ আরবাব লিখিত। ইহাতে কয়ামত আসিবার
পূৰ্বর সব লক্ষ লেখা আছে-“কামত আসবার পূর্বে
এই সব কথা হইব, শান্তি ও নি। থাকিবে না, পূর্বের
লকরা পশ্চিনের প্রশংসা করিবে, স্ত্রীলোকেরা পুরুষ সমান
হইতে চেষ্টা কৰিলে, লােহা »ণা হইতেও মূল্যবান হইবে,
রূ র ত এক ধাতু বাহির হইবে, বাজরে খ ওয়া ভাল
মনে করা হইলে, স্ত্র; :লাকের নিক্ষেভাবে ৰাইবে, সূর্য।
উঠিার পর ও লোকের শয়তাগ করিতে চাহিবে না, লোকের
পাখীদের মত তক'ণ উড়িয়া বড়াইবে, লােক নিজেদের
ত শীঘ্রই অন্য দেশে প ঠকবে, খ ই র জ ন লোহার তত
হইবে, প লও লোহার হইবে, বাহন প্রাণশূন্য হইবে, উহা
হাজার হাজার মাইল চলিবে { যথ; লগাছী, মাতা পিতার
মন থ কিৰে ন', ধৰ্ম্ম থাকিবে না, রাতে সূর্যের মত আলো
জ্বতিবে, লেকেরা ঐ খ'লে। • করিবে"- এই সকলই
ইতেছে।
স মি এক বিশেষ রহস্যের কথা প্রকাশ করিতেছি
৮ম মুসলমানদিগের মধ্যে প্রসিদ্ধ আছে যে “কয়ামতের দিন
সূর্য সব নজর উপর অর্থাৎ নীচে উঠিৰে”, এই পুস্তক হইতে
প্রমাণ হইতেছে যে ? কত তবে উহা বৈদুতিক
আলো ( Electric Light । যেরূপ উপরে লেখা আছে যে সূৰ্য্য
নীচে উঠবে ও লোকে উহা পছন্দ করিব--এখানে রাত শব্দের
।

9s
দারাও ইহাই বুঝাইবে যে সহরের স্তম্ভের উপর প্রবল আলাে
সূর্যেরই অ'লেকের সমান।
আরবীতে লিখিত পুস্তক শ ত্ম ফী মাফত”
যাহা মক্কার হমমাদিয়া পুস্তকালয় আছে ত হাতে লেখা আসে
যে “যখন ঝগড়া ও ব্যাভিচার খুব বেশী হইবে তখঃ • এক
পুরষ আসিবেন। তিনি অত্মণক্তিপূর্ণ হইবেন ও আগ্নেয় স্ত্রীকে
বিফল করিয়া দিবেন। তঁাহার নিকট কেবল তবী
থাকিবে, তিনি সম্বনে বিজয়ী হইবেন। কোন স্থানই
তাহার সৈন্য লইয়া যাইবার আ২শ্য কইবে না। তিনি
আত্মশক্তি ত সর্বত্র সেনা পাঠাইবে, সৃষ্টি তাহার অ দেশ
পালন করিবে, তিনি ধরণীকে স্বর্গে পরিণত করবেন, তাহার
দয়াতে বৃদ্ধও যুবক হইয়া যাইবে।”"ইহা সব কল্কি ভগবানের
বর্ণনা আর তাহার আসিবার সময়ও ঠিক দেওয়া হইয়াছে।
কিতাব হামামে আখিরুজ্জম দেখুন খৃষ্টানদের পয়গম্বর
{(Prophet) দনিয়ালের ভুষ্যিৎবাণী সকলেই জানেন।
তাহার কথা সব আমার কথার সহিত মিশিয়ছে।
সুরদাসের ভজন
৩
প্রসিদ্ধ ভক্ত সুরদাসের নিম্নলিখিত ভজন সজনবিদিত।
কেহ কেহ ইহাকে তুলসীদাসের ভজন বলেন, ইহা ঠিক নহে।
ভজনটি এইরূপ

89
অবে মন ধীরজ কেও না ধরে (ধুয়া)
: ঘনাদ কা কা বেট। সো পূনি জন্ম ধরে
পুর, পশ্চিম, দক্ষিণ, উত্তর, চহে দসি কাল পরে
অকাল মৃত জাম ব্যাপে প্ৰা বহুত মরে
দুষ্ট দুষ্ট কে' এয়সা কাটে জায়সে কাঠ ভরে
এর সহস্র নৌ সী (সই পর, এসে যোগ পরে
সর্ম তক সত্য যুগ বী: ধর্ম কী বেল বঢ়ে
কর্ণ ফুল পৃয়া পব ফুলে, নিজ দশ। ফিরে
“সুর স” ইয়ে ওর কী :সা টবে নাহ টরে।
মন ।
ধরিতেই
মেঘনাদ
তুমি কে। ধৈর্য
না ।
বালণর পুত্র তা বর জন্মগ্রহণ করিফে পূর্ব, পশ্চিম, দক্ষিণ
ও উত্তর চতুর্দিকে অকাল মৃত্যু ছড়াইয়া পড়িবে ও অনেক
• জ মার; যাই । দুষ্টের। নিজেদের মধ্যে মারামারি করিয়া
মরিবে যে ৫ করে কীটপতঙ্গের কাঠকে বিনষ্ট করিয়া দেয় ।
১৯• বৎসর পরে এমন ৫াগ পড়িবে যাহার পরে ১•০০০ বৎসর
পর্যায় সত্যযুগ tfলব ও সৰ্ব্বস্থানেই ধম্মের প্রসার হইবে।
পৃথিবীর উপর সােণার ফুল হইবে ও জগতের দশা পুনর্বার
ভাল হইবে । সুরদাস” বলিতেছেন যে ইহাই হরির লীলা
কেহ টলাইতে চাহিলেও টলিবে না।
১
ইহাতে এক হাজার নর শো”র উপর লেখা আছে ইহা
১১•• হইল এবং ইহার পরে আজকালকার সময় চলিতেছে

TO0
ইহারই সমাপ্তির পরে সত্যযুগ আসি। এখানে সুদাস
সত্যযুগ তাজা বর্ষের লিখিতেছেন। ২•• বর্ষ স*। '
ধরিলে সত্যযুগে মোট ১;•• বৰ হয়।
সমস্ত ধৰ্ম্মেই এরূপই লেখা আছে কিন্তু আমাদের পাণ্ড ।
নিজেদের ধর্ম পুস্তকেরই অধ্যয়ন আলােচ• করেন ন-আর
যখন কয়েক ভাষা না জানিলে অন্য ধম্মের পুস্তক পড়া যায় না
তখন তাহারা কি বুঝিবেন। উহার কেবল মিথ। মান এবং
অহংকারে পূর্ণ। পৃথিবী ধ্বংস হইলে উহারা নিজেদের অহঙ্কর
ছাড়িবে না।
সনাতন ধৰ্ম্মের বেদশাস্ত্র, পুবাশ ও জ্যোতিষ পুস্তক
সমুহ, খৃষ্টান মুসলমান ও পাশীদের ধর্মপুস্তক সকল
গুরুগোবিন্দ সিংহের বাণী, নক্ষত্রদিগের গতি, মহাত্মা
অরবিন্দ ঘােষের পুস্তক, পরমভক্ত সুরদাসের ভন ও
ইউরােপের বৈজ্ঞানিকদের লেখা হইতে স্পষ্টরূপে
প্রমাণ হইতেছে যে কলিযুগ সমাপ্ত হইয়া পৃথিহীতে
ভীষণ পরিবর্তন হইবে আর তাহার সময়ও সকলে ইহাহ
(১৯৪৩ খৃঃ অঃ) লিখিয়াছেন কিন্তু কতকগুলি পণ্ডিত
যাহারা কেবল যেমন তেমন করিয়া বিবাহ আদি সংস্কার
করিতেই জানেন, যাহারা এ বিষয়ে কোনই বিচার বা বিবেচনা
করে নাই তাহারা নিজ অহঙ্কারে এই কথার বিরুদ্ধ
করিতেছে। কতকগুলি বামমার্গ (শাক্ত) মতের পণ্ডিত
নিজেদের উদর পূত্তির জন্য সনাতন ( প্রকৃত) হিন্দু পণ্ডিতের

সহিত যোগ দিয়াছে, টংগিক চিনিব ল; ই:তছে এই
যে উঃ ভগবানে ভক্তি ও বিয়ে কয় নাম সঙ্কীৰ্ত্তনৰ
বিপকে 9ধ্ব ভক্ত দৈ:স তর সইত ইঃ বেঃ ঝগড়া
হইয়৮ি ল স! ধৰ্ম্ম +f• নধি সভার করব ৯ : উপ দশকও
এইরূপ ।
ইয়াবা সনাতন সম্মের নুতন নন এথ যাক ।
করিতেছে য? এ লোকের মুগ্ধ । য় য়
এইরূপ
ইরা
সাধ রণের মনে ভূল ধারার সৃষ্টি করিতেছে
এই সব লোকেরা সাধারণ বিষয়ের উপর অর্থ সংজ হইত
শস্ত্র থ ক লইয়া পক্ষে, কঠিন কঠিন বিষয় সম্বন্ধ
ইদ? বিন্দুমাত্র ও জ্ঞান নাই।
হিন্দু ধান
যখন হাজার বৎসর পরে
স্বামী শঙ্করাচ:র্য। বামতের
( শক্তি তের) খণ্ডন করিয়াছিলেন তখন হইতে ঐ সব
পণ্ডিতরা সনাতন ধর্মীদের মধ্যে লুয়ত ইয়াছে। উর
অত্যন্ত শিথিল ১ার। 1:ন্দুদের কখনই উহাদিগকে জের
ভিতরে আসি, দে ওয় উi •য়। উদিগের চিনিবার কক
লক্ষণ আমি বলিয়া দিয়াছি.. উহারা মাংস খায় ও নেশা করে।
ইহারা কখনও বৈষ্ণব সাজিয়া থাকে কিন্তু ভাবানের চরণে
উহাদের ভক্তি নাই। ইহাদের সঙ্গে কতগুলি ভবঘুরে লাক
থাকে। ইহার সমস্ত ব্রাহ্মণ জাতির বদনাম করিতেছে।
আমার উপদেশ
অবশেষে মনুষ্যমাত্রের প্রতি আমার উপদেশ এই যে
কলিযুগ সমাপ্ত হইয়া সত্যযুগ শীঘ্রই আসিতেছে, তার
পূর্বে

102
পৃথিবীতে বড় বড় দুর্যোগ আসি:ব। অতএব প্রত্যেকেরই
উ.চত যাহাতে হা হইতে ত্ৰাণ পাইয়া সত্যযুগে পােছিতে
পারেন । এজন্য এখন হইতেই পূর্ণ শান্তি:ত থাকেন, কাহারও
৫তি শত্রুভ ব না রাখিয়া :ত্যকে ধম্মের লোক নিজ নিজ
মৰ্ম্মানুযায়া উপায়ে ভগবনের পুজা করেন। সনাতন হিন্দু
ধৰ্ম্মর লোকেরা শুগা ক ও কানে। মঞ্চৰ্ত:নর
দ্বারা ভবানর গ + করন
গবনয় (" তায়।
হইয়া নৃত্য-গীত করেন ও ভগবান ন্ন করন। হ:মি
দেখিয়া আনন্দিত হইয়াছি যে কীর্তনের ঢ: যযগায়
বিস্তৃত হইয়াছে কিন্তু এখন । :. মিতু হবে হাঁকছে না ।
আমি সর্বত্র ইহার সংশােধন করতেছি। কারণ সত্যযুগ
অমিত এবং সকলেরই শান্তি ও ধৰ্ম্মসঙ্গ , ভবে জীবন
য পন করা উচিত ।
আর্যসমাজের পুস্ক সত্যার্থ প্রকাশে
প্রায় সমুদয় ধৰ্ম্মমতের খণ্ডন করা হইয়াছে। ইফতে সব
লােকেই বিরক্ত হইয়াছে। আৰ্য সমাজের উচিত যে এই
সয় তর্কবিতর্কের কথা ত্যাগ করা, যাহাতে কোনরূপ বিরােধ
হইতে পারে । এখন সকলের শান্তিপূফক নিজ নিজ
মতানুসারে আনন্দের সহিত জীবন যাপন করা উচিত।
(১৯:৮ খৃঃ অব্দ )
শাস্ত্রার্থ
কলিযুগ সমাপ্ত হইতেছে কিনা ও কল্কি অবতারের জন্ম
হইয়াছে কিনা এ বিষয়ে পণ্ডিতদের সহিত আমার বহুস্থানে

103 স্ত্রীয় তর্ক হইয়াছে । হইতেছ এ পণ্ডিতদর মধ্যে খুব সারগন পড়িয়া গিয়াছে। কয়েকস্থানে পণ্ডিত ওমর • মণ’ক অস্বীকার করিতে পারেন নাই । বিহার সংস্কৃত ক লজের ফেসারের সহিত : ফবপুব আমার যে শ স্ত্রীয় তর্ক হইয়াছি – বোধ হয় তা কি ভুলেন নাই । সাহরণ- পুরের বিধ্বংপসিদের সহিত আমার তিন দিন তর্ক হয় 'ইল ও তাহারা বিশেষভাবে পরাস্ত হইয়ালি । পরে তা'য স!' সাত যখন আমার তর্ক : ইয়াছিল তখন ঐ সব পরাজিত পণ্ডিত আর্যসমাজের সহায়তা করেন, যে আর্যসমাজ রান কুক গালি দিয়া থাকেন। গার্যাশনাক্তের হার হইয়াছিল। এটওয়'তে যে তর্ক হইয়ালি তাহাত ও ৫ জ্জার!নকে হাব স্বীকার করতে হইয়:লি । এইর দ্বারভাঙ্গা, মির্জাপুর, কাণপুর, দিলু. জিল। কুংলিতও তর্ক হইয়াছি ।। কাণর পণ্ডিতেরাও আমার দেওয়া নাণগুলির খণ্ডন করতে পারেন নাই । লাহোর ওরিয়েন্টাল কলেজের পণ্ড মহামহােপাধ্যায় মাধব ভাণ্ডারী শাস্ত্রী ত' তর্ক না করিয়াই পলায়ন করিয়াছিলেন । যদি কেই ঘরে বসিয়ঃ যাহা খুসি লিখিয়া ছাপ ইয়া নয়, তাহ। আমি গ্রাহ্য করি না। আমি কয়েক বৎসর হইত প্রত্যেককে আহবান করতেছি যে যদি কাহারও সাহস থ'কে তাহা হইলে তর মুখে সিয়' ; সঙ্গে শাবির

001
অামি
করুক, কিন্তু ভরু লোকেরা কখও কনখও বহর কাগজে
ব! ঘরে বনিয় তামার মতের খণ্ডন করি লেখ :
আবার ঘােষণা করি যে যদি তামার মতের বিরুদ্ধ পক্ষের
কিছুন': ব্রাহ্মণত্ব থাকে
ব্রাহ্মণত্ব থাকে 'তাহা হইলে
তাহারা শ বিচার
কয়াি মের সহিত ঠিক সিদ্ধ!
এখন আর
তও ভুলব মধ। রথ উচিত নহে। (১৯৩৮ সাল)
কি শীঘ্রই ঘটিবে
কলিযুগ সমাপ্ত হবার পর সমস্ত সৃষ্টিতে ভয়ানক
পরিবর্তন হইবে। কষে টি স্থান জলে ডুবিয়া যাইবে
বিশ্বব্যাপি যুদ্ধ হইবে,
জগতে লােকসংখ্যা অনেক
কমিয়া যাইবে কেবল ধর্ম। র। লোকেরাই সত্যযুগে
থাকিরে, ভুগ্ধসাগরে (Mediterranean Sea) ভয়ানক
যুদ্ধ হইব ও রক্তের নদী বহিবে। মঙ্গোলিয়া. শা,
রব মহাসাগর প্রভৃতি স্থানে ভয়'নক যুদ্ধ হইবে ও
সুয়েজ খাল (Suez Ganal) ইরা ভাৰণ ঝগড়া হইবে।
সমুদ্রর নিকটবর্তি স্থানগুলি ধ্বংস হইবে।
যখন কল্কি অবতার সমস্ত জগতে বেড়াইবার পর ভারত
ফিরিয়া আসিবেন তখন তাহার বিবাহ পরমপূজ্য শ্রীপদ্ম র
সহিত হইবে। যেখানে যেখানে গোমাংস খাওয়া হয় ও
*শ্রীকল্কি অবতারের পূর্ণ বৃত্ত স্তু শ্ৰীকস্কি জীবণী অর্থাৎ কল্কি
রামায়ণ (বাংলা) এ পাইবেন, মূল্য ৭, অনা মাত্র।

105 চ্যঃ বেদ, এবারও যেখানে অনেক কুকুর দেখিতে পাওয়া যায় সেই সমস্ত যায়গা কল্কি অবতার ধ্বংস করিয়া দিবেন কেননা এই সমস্ত জায়গায়ই কলিযুগের ভিত্তি। প্রত্যেক চতুগীর ভিত্তি তাহার পরের চতুর্যগীতে ধ্বংস হইয়া যায়। এই জন্যই গত চতুর্যগীর কোন বৃত্তান্ত এই চতুর্যগীতে পাওয়া যায় না। শাস্ত্রসকল ও পুরাণসমূহে আনেক জিনিষ বাদ পড়ে ও অনেক বাজে জিনিষ মিশিয়া তহ ই হইয়াছে। হিমালয়ের উপরে সিদ্ধাশ্রম আছে, সেখানে সব ধৰ্ম্মপুস্তক সুরক্ষিত ভাবে থাকে । সত্যযুগ আসিলেই ঋষিরা সেখান হইতে সমস্ত পুস্তক লইয়া আসিবেন, এবং বর্তমান পুস্তক- গুলি এই যুগেই নষ্ট হইয়া যাইবে। শাস্ত্রসমূহে এই চতুর্যগীর অবতারের কথা পাওয়া যায় । শেষ অবতার শ্রীকল্কি ভগবান। পরের চতুর্যগীর অবতারদের নির্ণয় আগত সত্যযুগের ঋষিরাই করিবেন। শ্রীকল্কি ভগবান আগত চতুর্যগের ধৰ্ম্মমর্যাদা সম্বন্ধে নিয়ম বাঁধিয়া দিনে ও তখন হইতে নুতন সংবত চলিবে। বর্তমান যুদ্ধের পরিণাম বর্তমান সঙ্কটের প্রকৃত ফলাফল ১৯৪৩ সালে লোকেই বুঝিতে পারিবেন। উহার প্রথমেই জগতে এত নরহত্যা অন্যান্য গণ্ডগােল হইবে যে সকল লােকেই হায় হায় করিবে। এমন অবস্থা হইবে যে সহরের বড় বড় বাড়ী খালি পড়িয়া থাকিবে, সোণা, রূপ। সপ এই সময়ে

106
এদিক দক
ছড়াইয়া থাকি: কাহারও ম দিক মন
থ বিবে না, জা, স্থলে ও মে সর্বত্রই কেবল মৃতুই
দেখিতে প য়া যাইবে। যে সকল তোকেরা এখনও আগের জন্য
কুকর্ম করিতে পশ্চাৎপদ হইতেই না তাহাদের
দুর্দশা হইবে।
এই ভবিষ্যৎ বর্ণনা একজন মহাত্মার মুখ হইতে বাহির
হইয়াছে যিনি জীবিত অবস্থাতেও জীবন্মুক্ত ছিলেন ও যিনি
ভবিষ্যৎ সকলই দেখিতে পারিতেন। পঁচ ছয় মাসের
মধ্যেই এই সমস্ত বিষয়ের ত্যতা প্রমাণিত হইবে ।
( ‘সত্যযুগ হইতে উদ্ধৃত।)
আপনার কর্তব।
।
এই ভয়ানক সময়ে আপনার কর্তব। এই যে প্রতিদিন
নিজেদের মধ্যে বৈরভাব পরিত্যা: করিয়া শামির সহিত
জীবন কাটান। নিত্য ভগবানের ভজন কীর্ত্তন হওয়া উচিত
কেননা ভগবানের সুদর্শন চক্র এখন ভারতে শীঘ্রই চলিবে
যাই। শীঘ্রই পাপীদের বিনষ্ট করিবে, (ইহার পূর্ণ বিবরণ
চেতাবনীর দ্বিতীয় ভাগ বা “এখন কি হইবে”, পুস্তকখানিতে
পড়ুন ।
যে সব লােকেরা এই পরিবর্তন হইতে বাঁচিয়া সত্যযুগ
পর্যন্ত পৌখিবে, কল্কি ভগবানের কৃপায় তাহাদের মধ্যে

১৭
107
বালকা নবযুবক হইব ও বৃদ্ধরা যুবক হইয়া যাইবে।
শ্রী কলি ভগবানের পূর্ণস্বরূপ দর্শনের পর শিশুরাও বলিষ্ঠ
শরীর সইয়া জন্মিবে।
কলিযুগ সমাপ্ত হইবার সময় যুদ্ধ ও রেগে' এত লোক ও পশু
মরিলে যে সমস্ত বায়ুমণ্ড ৭ দুর্গন্ধে পরিপূর্ণ হইবে কিন্তু শ্ৰীকল্কি
ভগবান সিবামাত্র তাহার পবিত্র শবার ওই:ত সুগন্ধ নির্গত
হইবে ও তাহা দ্বারা সমস্ত তুর্কি নষ্ট হইবে। কলিযুগ সংবত
২০০০ বিক্ৰী শৰ্থ ও ১ল! অাগষ্ট ১৯৪৩ সালে সমাপ্ত
হইবে। সেই দিন খুব বড় সুগ্রহণ হইবে। এই গ্রহণ
কলিযুগে আরম্ভ হইবে ও তার পরদিন ১২-১৪ মিনিটের
পর সত্যযুগে সমাপ্ত হইবে।. উহার দ্বারা গগনমণ্ডল
শুদ্ধ হইয়া যাইবে,
পিতার সামনে পুত্র মরিবে না,
কোন স্ত্রী বিধবা হইবে না, অনেক ফসল হইবে, মানুষের
আয়ু ৪০০ বৎসর হইবে, বা ঠিক সময়ে হইবে, কোন লােক
অসুস্থ হইবে না, হাসপাতাল থাকিবে না, আদালত থাকিবে
, লোকেরা কোন পাপ করিবে না, সকলেই পূর্ণ আনন্দে
সময় কাটাইবে, ব্যভিচার হইবে না, কেহ বেশ্যা হইবে না,
খাদ্যদ্রব্য সস্তা হইবে।
কলিযুগের সমস্ত ধন সত্যযুগের লোকেরা পাইবে,
সােণ। এত বঁচিবে যে তাহা বাড়ী তৈয়ার করিবার
কাজে লাগিবে। সত্যযুগের নিয়মানুসারে অনেক নূতন
সহর হইবে। গরুবাছুর অনেক হইবে, জঙ্গল পশুপক্ষীতে

১৮
108
ভরিয়া থাকিবে, সােণার টাকা চলিবে, হীরা জহরত অনেক
হইবে, লোকেরা ধন সঞ্চয় করিয়া রাখিবে না। প্রত্যেক
কলিযুগে অনেক প্রকারের মত মতান্তর জন্মিয়া থাকে কিন্তু
সত যুগে লোকের কেবল এক ঈশ্বর
সনাতন ধর্মকে
মানিবে।
ইউরােপের জেনারল পুডেনডফ লিখিয়াছেন যে
ইউরোপ ধ্বংস হইবার দিকে চলিতেছে। এসিয়ার
লােকেরা ইউরােপীয়ানদের স্থান গ্রহণ করিবে। দিল্লী
ও মথু। আর একবার উন্নতির শিখরে উঠিবে। দিল্লী
আবার স্বর্ণময়ী বলিয়া খাত হইবে। প্রত্যেক ধর্মের
পত্রি পুস্তক সমুহে এক নৃতন অবতারের আগমনের কথা
বর্শাতে ১০ হাজার বৌদ্ধ ভিক্ষু গৌতম বুদ্ধের
নূতন অবতার অর্থাৎ কল্কি অবতাকে অভ্যর্থনা করিবার জন্য
প্রস্তুত হইতেছ কিন্তু ভারতবর্ষের হিন্দুরা অজ্ঞান ব্রাহ্মণদের
দ্বারা পরিচালিত হইয়া অন্ধকারে ডুবিয়া আছে। ইহাদের,
এখন চেতনা হওয়া উচিত।
প্রত্যেক মনুষ্যের পাপ ত্যাগ
করিয়া ভক্তিমার্গে চলা উচিত। সকাল সন্ধ্যা কীৰ্ত্তন করা
উচিত ও ভগবানের কাজে অর্থব্যয় করা উচিত।
পাওয়া য'ধু।
বৌদ্ধদের সঙ্গে যুদ্ধ
কন্তুি ভগবান যখন ভারতবর্ষে আসিবেন তখন বৌদ্ধদের
সঙ্গে তাঁহার ভয়ানক যুদ্ধ হইবে। অর্থাৎ চীন, জাপান,

I09
মঙ্গোলিয়া, তিব্বত প্রভৃতি দেশে এই যুদ্ধ হইবে ও তাহাতে
রক্তের নদী হইবে। শুকদেব মহাশয় সঙ্গে থাকিবেন ও
অনেক সৈন্যও তাহার সঙ্গে থাকিব। ইহাদের সকল সৃষ্টি
বিনষ্ট ইয়া যাইবে। জাপানের এক অংশ জলে ডুবিয়া
যাইবে।
ধ্বংস হইবার তাহাদের দুঃখী স্ত্রীরাও কল্কি
ভগবানের সঙ্গে যুদ্ধ করিতে আসিবে। উহাদের মধ্যে অধিকাংশ
স্ত্রীলােকদের ভক্তি দেখিয়া ভগবান উাদের মুক্তি দিবেন।
এক ভয়ানক যুদ্ধ কীট দেশেও (বর্তমান পাটনা)
হইবে। তখন আমেরিকাওযােগ দিবে ও ভূমধ্যসাগরে
(Mediterranean ) ভয়ানক গণ্ডগোল হইবে।
ভারতবর্ণ ও অন্যান্য দেশে খাদ্যদ্রব্য মােটেই পাওয়া
যাইবে না। জাৰ্মানী নিয়ম বিৱদ্ধ কাজ করিবে,
মাপ নিজের সনদের ছাড়িয়া পলায়ন করিবে।
বস্তায় চলিতে চলিতে ভগবান মরুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবেন
যিনি ভগবান রামের সময় হইতে তপস্থা করিতেছেন ও শ্রীককি
অবতারের প্রতীক্ষা করিতেছেন। ভগবান সেখান হইতে
* আপনারা মনে রাখিবেন যে আমাদের এই ভবিষ্যৎ বাণী
১৯২৪ সালে লেখা হইয়াছিল যে সময়ে ইহাকে সত্য বলিয়া
মানিয়া লইতে কেহই প্রস্তুত ছিল না। কিছুদিন পূর্বে পর্যন্ত

১১: 1।) গঙ্গার কিনারায় আসবে। ও মহারাজা শান্তনুর ভাই, অর্থাৎ পিতামহ ভস্ম ও তঁাহ'র কাকা দেব্যপীর সহিত মিলিত হইবেন : ঐ দুইজন প্রত্যেক যুদ্ধ ও কার্য্যে ভগবানের সঙ্গে রহিবেন এক দিকে সকলকে পরাস্ত করিয়া কল্কি ভগবান মরু দেবাণী ও রাজ। বিশাখযুরে সহিত দিগ্বিজয়ের জন্য অন্যদেশে অর্থাৎ ইউরােপে যাইবেন। : ৯৪২ সালের আরম্ভেই প্রত্যাবর্তন করিয়া কিছুকাল পরে মরু দেবাপীকে তাঁহাদের রাজা দিবেন । সল্কী পুরণে লেখ আছে যে গবানের ভক্তরাও পৃথিবীতে তাৰতীর্ণ হইবেন। কয়েকজন অবতীর্ণ হইয়াছেন। পৃথিত কেহই স্বীকার করিত না যে ভূমধ্য সাগরে ভয়ানক গংগােল হইবে, সুয়েজ খালে যুদ্ধ হইবে, জাৰ্ম্মণী নিয়ম বিরুদ্ধ কার্য্য করিবে ইত্যাদি। কিন্তু এখন সকলের বিশ্বাস হইয়া গিয় ছে যে জার্মণী স্ত্রি জনসাধারণ ও সহর গ্রামের উপর বােমা বর্ষণ করিয়া ঘেতর অত্যাচার ও পাপকৰ্ম্ম করিতেছে, ভূমধ্যসাগরে ও প্রশান্ত মহাসাগরে ভয়ানক যুদ্ধ হইতেছে, সুয়েজ খাল লইয়াও গণ্ডগােল ইতেছে, আমেরিকাও যুদ্ধে যােগ দিয়াছে ইত্যাদি। যদি আমাদের সত্য সিদ্ধান্তগুলি আপনার হৃদয়ে বিন্দুমাত্রও প্রভাব বিস্তার করিয়া থাকে তাহা হইলে আপনার মূখ্য কর্তব্য এই যে শান্ত বাণীর প্রচারক আমাদের এই চেতাবনী পুস্তকখানির নিস্কাম- ভাবে প্রচার করা। যদি আপনাদের কাহারও বিশ্বাস না হয় যে (চতাবনী ১৯২৪ সাল হইতে প্রচার হইতেছে তবে আমাদের এখন কি হইবে’ (মূল্য •) পুস্তকখানি পড়ুন যাহাতে সকল বিষয়ই প্রমাণ করা হইয়াছে। .

زند 111 বর্ণ'শ্ৰম ধৰ্ম্ম বেদের তরে চলিবে । বর্ণসঙ্কর থাকিবে না ই পূর্ণ আনন্দ ও ধৰ্ম্মের সময় হইবে। এই সস্ত স য গ আরম্ভ হইবার ১•• সংসারের সন্ধির মধ্যেই ঘটিবে ভক্তদের অবতার রউপরে উল্লেখ করিয়াছি যে গবানের ভক্তদিগের অবত; ইয়াছে। এই বিষয় সম্বন্ধে কেহ কেহ লি।” নামক পুস্তকের উল্লেখ করিয়া আমাদের লিখিয়াছেন যে মহাত্মা গান্ধি ভক্ত কবীরের অবতার এবং হরিজন আন্দোলন ও চরকায় সুতাকাটার ৬ই ইহার : কৃষ্ট • কৃষ্ট প্রমাণ। মহাত্মার জীবন- কালেই ভারত স্বাধীন হইয়া যাইবে ও তিন ১৩ দিন এই স্বাধীন ভারতকে স ন করিবেন এবং পরে স্বাভাবিকরূপে মৃতু মুখে পতিত হইবেন ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের মতামত জ নিতে চ: হন এং ইহাও জিজ্ঞাসা করুন যে কোন কোন ভক্তের জন্ম হইয়াছে ও কোথায় আছেন। আমরা আমাদের ভক্তদিগকে নিবেদন করিতেছি যে ভগবান রামের সময়েও মুষ্টিমেয় ভক্ত ছিলেন যাহারা স্বরূপ জাতিন ; অ সকলে তাহাকে একজন পরাক্রমশালী রাজা বলিয়:ই জানিতেন। এই প্রকারে শ্রীভগবান কল্কির স্বরূপ অতি অল্পসংখ্যক লােকেই নিবেন ও যাহারা জানিবেন তাহাদেরই কল্যাণ হইবে। তঁাহার প্রকৃত

12
নাই।
ভগবানের ভক্তদিগেরও অবতার জন্মগ্রহণ করিয়াছেন কিন্তু
অতি অল্পসংখ্যকই নিজের স্বরূপ সম্বন্ধে কোন জ্ঞান রাখেন।
অধিকাংশ ভক্তদিগের নিজের পূৰ্বজন্ম সম্বন্ধে কোন জ্ঞান
যে সময় তাদের নেতারা তাহাদের জ্ঞান দান করিবেন
তখনই তারা নিজেদের প্রকৃত
প্রকৃত সত্ত্ব সম্বন্ধে জানিবেন
শাহনুমানেরও নিজের বল সম্বন্ধে কোন জ্ঞ ন হিল • যখন
তাহাকে ভগবান জ্ঞানদান করিয়াছিলেন তখনই তিনি কৃত
তথ্য জানিতে পারিয়াছিলেন। এই প্রকার অনেক তথ্য আছে
যাহা কেবল ভক্ত:নরাই নু ভব করিয়া থাকেন। যাহার।
কেবল ব দ তিবাদ ও বিরোধ শক্রতা লইয়া কাল কাটাইয়া
থাকে তাহারা এই রহস্যকে কি বুঝিবে । বিপদের ঘণ্টা
বাজিয় গিয়াছে অতএব এই কলিযুগের পপ ও ভয়পূর্ণ
সময় হইতে বঁচিয়া সমাগত স্বর্ণময়ী যুগ পর্যন্ত সেই ভক্তরাই
বাঁচবেন যাহারা পরস্পরের সহিত শান্তির সহিত থাকিবেন,
যাহারা দুষ্টদের জ লতনেও শান্তি ও ধৈৰ্য্য ত্যাগ করিবেন ন ও
সংসাকে সত্য পথের উপদেশ দিবেন। কেবল এই ভক্তদের
লইয়াই সত্যযুগের আরম্ভ হইবে ।
ভয়ানক ভুল
অনেক লােকে মনে করেন যে সম্বভ ২••• প্রলয় হইয়া
যাইবে অর্থাৎ সংসার নষ্ট হইয়া যাইৰে, সকল জিনিস ধ্বংস
হইয়া যাইবে ইত্যাদি। এই প্রকারে নানা ভুল মত প্রচলিত
হইতেছে। কিন্তু ইহা ঠিক নহে। এই প্রকার মনুষ্যেরা

113
“চেতাবনী” কে বুঝিবার ষ্টোমাত্রও করেন নাই। তাহারা
জানেন না যে যুগ কি বা যুগের পরিবর্তন কাহাকে বলে এবং
যুগ পরিবর্তনের সময়ে কি কি ঘটিয়া থাকে ; সন্ধ ও সন্ধi:শ
কাহাকে বলে ও সন্ধি ও সন্ধাংশ মনুষ্যদের কি প্রকার আচার
ব্যবহার ও ধৰ্ম্ম ইয়া থাকে। এই কার মনুষ্যদিগকে
আমাদের পুস্তকটি বাধার পড়া উচিত।
শাস্ত্ৰনুসারে সম্বত ১ ০ ০ ০ এ কলিযুগের ২০০ বর্যের সন্ধ::
সমাপ্ত হইবে । আসল কলিযুগের ত’ ৪ ০ ০ বৎসর পূবেই শেন
হইয়া গিয়াছে; এখন কলিযুগের সন্ধাংশ চলিতে ে; এই
সময়ে কখনও এক ধৰ্ম থাকে না,
এই জন্যই আজকাল
শত শত মতামতের উংপত্তি হইয়াছে। এখন সধত ২০ ৫ ০ এ
কলিযুগ সমাপ্ত হয়। সত্যযুগের একশত বৎসরের সন্ধি
আরম্ভ হইবে যাতে সত্যযুগের অনুসারে
সত্যযুগের অনুসারে কাৰ্য্য আরম্ভ
হইবে । কিন্তু পূর্ণ সত।যুগ ইহার পরই আরম্ভ হইবে ও
বৎসর পর্যন্ত চলবে ; ইহার পর ১০ ৩ বষের সন্ধ্যাংশ
সত্যযুগের সন্ধি সংশের
সহিত ১০
ৎসর হইবে । যুগের সকল হিসাব প্রথমেই
দেওয়া হইয়াছে । ( আর, কে, জি)
বর্ণসঙ্কর
: ৩াদ শাস্ত্রে লেখ; তাই যে বিভিন্ন জাতীয় পিত।
মার সৎ • দগ ?
বসর

14
১১৪
পাপপূর্ণ । এই দ্বিজ তয় লােকদিগের ঐরূপই সন্তান হইয়া
থাকে । উহাদের রক্ত এবং অ'চরণে বিভিন্নতা দেখিয়া ঋষিব।
উহাদিগকে অত্যন্ত জাতি বলিয়াছেন। তাদের সে যাহারা
ঐ অবস্থায়ই থাকে তারা কিছু ভাল হয়। শেষের অন্ত জ
( অদ্ভুত) জ তির মধ্যে অতিরিক্ত মিশ্রণ হওয়ায় তাহার
পাপযােনি হইয়া গিয়াছে। ব্যসস্মৃতি, যমস্মৃতি, ভগবৎ
পভূতিতে ইহার যথেষ্ট প্রমাণ আছে ।
।
তজন (২২৭)
অব হেঁ গই ভ্রষ্টাচার। ধুয়া।
বহুতোনে চোটি কটবাই, দিয়ে জনেই উর।
পণ্ডিত পড় কর বেদশাস্ত্র জানেন' উসকা সার।
বর্ণ-শ্রম ধৰ্ম্ম ভি ছুট, বৃথা হােত পুকার।
দুষ্টলােক ব্যতিচার করত হায়, ভেষ গেরুয়া ধার।
এসে কলিযুগমে হরিভক্তি মুক্তি কা আধার।
অতি অধৰ্ম্ম বঢ়েগ' জগমে, মরে বহুত সংসার।
পড়ে বড়ে অকাল বর্ষামে, রােগ করে বামা।
অত্যাচার বহুতহি গড়ে করে দুষ্টন সংহার।
তৎপশ্চাৎ অপনে চীবোপর, দয়া করে করতার।
ধৰ্ম্মকা প্রেম জগতমে ফায়লে, সবকা হে উদ্ধার।
সাত দে। হাজারমে আয়ে নিস্কলঙ্ক অবতার।
নারাণ লীলধারি কি, লীলাপর বলিহার ।।

115 গদ্যানুবাদ এখন অনেক ভ্রষ্টাচার অন্ত হইয়াছে। কেহ বা নিজের শিখা কাটাইয়াছে, কেহ বা উপবীত পরিত্যাগ করিয়াছে। পণ্ডিতেরা বেদশাস্ত্র পড়ে কিন্তু উহার সারমর্ম কিছুই জানে না। বর্ণাশ্রম ধৰ্ম্মও লোক পরিত্যাগ করিয়াছে, লােকে মিছাই চীৎকার করিতেছে । দুষ্টলােক গরুয়া ধারণ করিয়া বাচি করিতেছে। এই প্রকার কলিযুগে রিভক্তিই মুক্তির অপার । জগতে অধৰ্ম্ম এখন আরও বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইবে অনাকর (অকাল) মৃত্যু হইবে । শষ্যক্ষেত্রে অকাল পড়ি এবং অনেক ৰোগ বাড়বে। দুষ্ট:দর অত্যাচার অনেক বাড়িয়া যাইবে । হার পর ভগবান জগতের উপর দয়া করিবেন। ( যাতে ) প্রেমের ধৰ্ম্ম জগতে ছড়াইয়! পড়ে ও সকলের উদ্ধার হয়। সম্বং ২০ •• এ নিষ্কলঙ্ক অবতারের আবির্ভাব হইবে। লাময় নার য়ণের লীলার কি অপার মহিলা। যজ্ঞোপবীত ও শিখা পূর্বকালে যজ্ঞোপবীত ও শিখার জন্য বহুবার রক্ত বহিয়া গিয়াছে । মুসলমানদের সময় হিন্দুর ইতর জন্য অনেক অ- ত্যাগ করিয়াছেন। কিন্তু এখন কলির জে র এত বেশী হইয়াছে

15
যে হিন্দুরা যজ্ঞােপব ত ও শিখা স্বেচ্ছায় ত্যাগ কৰিতেছেন :
আর ক্রিয়াকৰ্ম্ম ত’ সমস্ত নষ্ট হইতেছে * অন্য জাতির
লােকেরা কোন না কোন উপায়ে ব্ৰহ্মণ বা রাজপুত হইবার
চেষ্টা করিতেছে। বাস্তবিক লােকেরা জন্ম হইতেই ব্রাহ্ম,
ক্ষত্রিয় ইত্যাদি হইয়া থাকে। ইহাই চার বর্ণ । বর্ণসঙ্কর
পরে হইয়াছে। লোকেরা যাই করুক না কেন এন্মে
বর্ণের পরিবর্তন হইতে পারে না। কম্ম অনুসারে পরজন্মে বর্ণ
পরিবর্তন হইতে পারে। উচ্চজ তির হিন্দুরা ত’ যজ্ঞােপবীত
ফেলিয়া দিতেছেন আর নাপিত, চামার, ছুতার প্রভৃতি বর্ণসঙ্কর
জাতিরা যজ্ঞোপবীত ধারণ কতেছে। ব্যাস ঠিকই লিখিয়াছেন
নীচ মহাত্মং গতাঃ অথাৎ কলিযুগে নীচলেকেরা উচ্চে
উঠিবে।
নূতন কল্কি অবতার
আমি চেতাবনীতে পূৰ্বেই লিখিয়াছি যে আমি কল্কি
ভগবানের আসিবার কথা বিক্রম সংবৎ ১৯৮১ অর্থাৎ ১৯২৪
সালে সাধারণকে জানাইয়াছিলাম।
উহার কয়েক বৰ
গত হইবার পরই কয়েকজন অর্থলােভী ধূর্ত লোকেরা নিজ
দিগকেই কল্কি অবতার বলিতে আরম্ভ করিয়াছে। উড়িষ্যাতে
এক সাধু এই কাজ করিতেছ, এই কয়েকজন স্বার্থপর লােক
হিন্দুদের ব্রত ও পূজাপাঝণ (মূল্য ॥:) পড়িলে জানিতে
পারিবেন।

‘নজেকেই কল্কি অবতার বলিয়া ঘাষণা করিতেছে।
এরূপ
বিহাৰ হইতে আমার নিকট এক পত্র আসিয়াছে যে অমৃতসবে
এ পাব! ভগবানদাস থাকেন তাহ'র পুত্র ভোল ন থই কল্কি
অবতার কি না? আমি সাধ রণকে সাবধান করিতেছি যে
অমৃতসরের লালা ভগবানদাস ও তার পুত্র ভােলানাথকে
আমি জানি, দুই জনেই ধৰ্ম্মের কিছুই জানেন না।
লােকদিগকে
জলে ফেলিবার জন্য অনেক কিছুই হইয়া থাকে। তারা সরল
:কুতি কেলিগকে ঠকাইয়া বড়লােকের মত দীবন যাপন
করি:ছ।
মৃতসারে লাহােরে উহ'দের শেষ বব জ!!
যাই । প'র।
হণ ২াল। ডয়লে
মুসলন আপনাকে ইমাম মেহদি ও কল্কি অবত র বলিয়
ঘোষণা করছে। পাঞ্জাবের সটোরের নিকট ও একজন
লোক কল্কি অবতার হইয়া বসিয়াছেন। এই রূপ কাকে স্থানে
কয়েকজন থলােভী নিজেকে • তার বলিয়া
ঘোষ।
করিতেছে। সাধারণকে সাবধান করা যাইতেছে :য তাই ।
যেন ইহাদের কাহারও বঞ্চনাতে না ভুলিয়া যান ।
ইহাদের লিখিত মিথ্যা পুস্তক ক্রয় না করেন।
2।
.জলা
সম্প্রতি জিলা বালিয়া হইতে বিষ্ণুবাবা
নামক এক ব্যক্তি পত্র লিখিয়াছে
এই পত্র :৯৩৮ সালে গুড়গাতে আমার নিকট লেখা
হইয়াছিল, উহাতে লেখা ছিল যে প্রকৃত প্রস্তাবে ঐ ব্যক্তিই

১৮
s
ককি অবতার।
এবং তিনি আমার নিকট আসিতে চাহিয়া-
ছিলেন। আমি তাহাকে আমার নিকট আসিতে মানা করিয়া
দিয়াছিলাম । এই প্রকার জেলা জৌনপুর হইতে এক ব্যক্তি
নিজের সম্বন্ধে অনেক কিছু লিখিয়াছিল। যখন আমি তাহার
কোন কথা মানিলাম না তখন ক্ষমা +র্থনা করিয়া সে
লিখিয়াছিল যে আমি যেন তাহাকে পায়ের ধূ। দিই ইহাতেই
তাহার কল্যাণ হইবে যিন কিছুকাল পূব্বে হতার ইয়া
বসিয়াছিলেন, পরে তিনিই চরণের দাস হইতে প্রস্তুত হইলেন।
সাধsণকে সাবধান করা যাইতেছে যে ত হারা যেন এই সব
বঞ্চ কইতে সতর্ক থাকে।
আমার শেষ উপদেশ
কলিযুগ সমাপ্ত হইয়া সত্যযুগ আসিতেছে। এখন সকলে
সমাগত সত্যযুগের জন্য বন্দোবস্ত করা উচিত। ১ জ : ৭
সহিত মেলামেশা করা উচিত নহে যদিও তাহারা উঁচু হইতে
চেষ্টা করে।
ভগবান রাম তপােনিযুক্ত শূদ্র শম্বুককেও হত্যা করিয়া
ছিলেন।
নীচ লােকদিগকে বিশ্বাস করা শাস্ত্রে পাপ
লিখিয়াছে কারণ তাহাদের শিরায় শিরায় পাপ এবং প্রবঞ্চন।
পূর্ণ থাকে। এইজন্য উহাদের নিকট হইতে দূরে থাকা উচিত।
আজকাল লােকেরা ধর্মের মর্যাদা সম্পূর্ণ নষ্ট করিয়া দিয়াছে
ইহার শীই সংশােধন করা উচিত।

119
সত্যযুগ দর্শনম
আহম্মদাবাদের
শহরেরাম ব্রহ্মর্ষি লিখিত কয়েকখানি
ধৰ্ম্ম পুস্তক আমার নিকট আসিয়াছে।
হ'লে
আমার “চেতনীর”, ”চারের জন্য ইনি এই পুস্তকের বিশেষ
বিষেশ অংশ আমার অনুমতি অনুসারে ছাপাইয়া লােকদিগ”ে
ইহ'র অনুযায়ী চলিবার জন্য খুব জোর দিয়াছেন। এ।
নিজেও কিছু কিছু লিখিয়াছেন—উহা সবই ঠিক। অানি
ব্রহ্মষির এই মূল্য কাজের জন্য অত্যন্ত আনন্দিত হইয়াছিল।
সৰ্ব্বস্থানেই মহাত্মা
বিদ্বান লোকে চেতাবনীর সহিত
একমত হইয়া ইহার প্রচার করিতেছেন। এখন এক আধ জন
মহামূখ-ই চেতাবনীর বিরুদ্ধতা করিতেছে। চেতাবনী পড়ুন
এবং অন্যকে পড়ান, ইহাতে সকলের কল্যাণ হইবে।
সত্যযুগ প্রচারক মহাসংঘ
১। সনাতন ধর্মগুরু এহরেরাম ব্ৰহ্মর্ষি মহারাজ
ঠিকানা-পণ্ডিতপােল, সারঙ্গপুর, আহম্মদাবাদ, গুজরট।
‘সত্যযুগ দর্শন’ এর পচারক। ইনি গুর ট, কচ্ছু,
কাঠিয়াওয়াড়, মারবার, মেবার, নিমাড. সিন্ধু, আফ্রিকা প্রভৃতি
অনেক দেশে নিজের বক্তৃতা দ্বারা ও লক্ষ লক্ষ পুস্তিকা বিতরণ
করিয়া প্রচার কার্য করিতেছেছেন।
স্বামী নারায়ণ
রাজনারায়ণ শাস্ত্রী,
চেত:বনী ক'ৰ্য্যালয়

12) রেজিষ্টার্ড, গুড়গাঁও হইতে লক্ষ লক্ষ পুস্তক দ্বারা আগত সত • যুগের সম্বন্ধে প্রচার করিতেছেন। ইলের রাজ্যের বৈষ্কাশলার সুপ্রসিদ্ধ গণিত জ্যোতিষী পণ্ডিত গােপীনাথ দীননাথ শাস্ত্রী চুটল কর মহাশয় ‘যুগ পরিবর্তন' পুস্তকনারা চার করিতেছেন। ২। সত্যযুগ আশ্রম, বাবগঞ্জ, এলাহাবাদ হই ত ‘সতাযুগ' মাসিক পত্রিকা দ্বারা প্রচার করিতেছেন। কাণী, টেডিনিম হইতে পণ্ডিত মদনমােহন মহাশয় প্রচার করিতেছেন। রামনাথ মহাদেবের,মহন্ত স্বামীজি মহারাজ, ছোটি বড়ি পনে'তি, নৰ্ম্মা, ভায়া চাননাদ ”চারকার্য করিতেছেন। . : ৭। 'নবযুগ' লীলামন্দির, দেওঘর, বৈদ্যনাথধাম ইতে প্রচারকার্য চলিতেছে বদরীকাশ্রন নিবাসী পণ্ডিত বাচস্পতি শৰ্ম্মা রাজ- জ্যোতিষী মহাশয় দ্ব:রভঙ্গ হইতে ১'র করিতেছেন। ৯। শ্রীউষ:পতি সিংহ ভূতপূর্ব ডেপুটি কলেকটার মহাশয় ‘সত্যযুগ-আগমন’ দ্বারা প্রচার করিতেছেন। ঠিকানা-পঞ্চঠি দেউড়ী, পা মধৈপুর জিলা দ্বারভাঙ্গা।

1 ১০ । শ্রীখেলনাথ ঝ', গ্রাম বৈয়াম পোঃ কোটিয়া, জিলা দ্বারভাঙ্গ। ( বিহার) 'কলিযুগ সমাপ্ত হােকর সত্যযুগ অরন্ত’ পুস্তিকা দ্বারা প্রচার করিতেছেন। ১১। শেঠ চিনরাম গাড়ােদিয়া, শেগান বেরার হইতে চেতাবনীর মারাঠি সংস্করণ দ্বারা প্রচার করিতেছেন। - ১২। সেক্রেটারী হনুমনালাইয়াম, গুট, মন্ত্র জ হইতে তেল সংস্করণ দ্বারা প্রচার করিতেছেন। মারুথী বুক ডিপো, গুণ, মাদ্রাস্ট তামিল । কিনা ও সংস্কৰ দ্বাৰু ?', করিতেছেন। সত যুগ , না 'খা, কাশা হইতে পণ্ডিত সূয্য- ৫সদ শাস্ত্র। পিকে ৫ার করিতেছেন। ই) ছাড়া নক প্রচার করিতেছেন। চেতনা পড়ুন ও ওকে পড়ান ৩৯! ইলেই আপনার কল্যাণ হইবে। কলিযুগের সমাপ্তি ও সত্যযুগের আগমনের সূচনা কলিযুগ সমাপ্তির ও সত। যুগ আসিবার কথা আমি, বিক্রম সংবৎ ১৯৮ অথ ৎ ১৯২৪ সালেই সাধারণকে জ নাইয়ছিল ম। তখন অনেক অল্পবুদ্ধি লােকেরা ইহা মানে নাই । পর ইউরােপের বৈজ্ঞানি করা এবং প্রসিদ্ধ জ্যোতিষীর এই তাহার 1 ১ কথাই ভবিষ্যংবণী কবেন সংবাদপত্র কবেন । তখন লোকেরা আমার লেখার প্রতি গভীর মনযােগ দিতে আরম্ভ করে। এই কথা আমি চেতাবনী নামক হিনি পুস্তকে প্রকাশ করি উহা ১ লক্ষ ৮৬ হাজারের বেশী বিক্রয় হইয়া গিয়াছে । এখন এই পুস্তক কয়েক Cাষা কাশিত হইতেছে। ইউরােপের বিদ্বানেরা পৃথিবীতে গদব শুকাতে কি হইবে এ সম্বন্ধে যাহা কিছু লিখিতেছেন তা পূৰ্ব্ব হইতেই চেতাবনীতে লেখা হইয়াছিল। কোন দ্বিানই চেতালীর অতিরিক্ত একটী ভবিষ্য; বাণী ও করত •বে নাই । সম্বং ২০০০ অথবা ভাবী মহাভারত এই নামের এক পুস্তক সিদ্ধ যোগীবাজ শ্ৰীৰত স্বামী কেশবানন্দ ১৯৩৬ খৃষ্টাব্দে লিখিয়াচেন । ইহা হ'ব লিখিত 'চতাসনীরই সমর্থন করিয়া যাহা কলিযুগ লক্ষ বাবে বলে তাহাদের শতবাদ করিয়াছেন । “বী ভারত” বেনারসের ( কাশী) পণ্ডিতেরা আমার চেতনী সম্বন্ধ বিচার করিয়াছেন। শ্ৰীযুক্ত পতি মদনমোহন লাল শৰ্ম্ম “ভাবী ভারত” “সতাযুগের আরম্ভ” নামীয় এক পুস্তক লিখিয়াছেন যাহাতে স্পষ্টভাবে আমার এবং আমার চেতনীর নাম উল্লেখ করিয়া প্রশংসা করিয়ানে অথাৎ অামার চেষণীয় সম্পূর্ণ সমর্থন করিয়া যাহারা কলিযুগ লক্ষ বর বলে তাহাদের প্রতিবাদ করিয়াছেন।

18 প্রসিদ্ধ পণ্ডিতদের সম্মতি অ ন + স্থানের পণ্ডিতেরা কলিযুগের সম্বন্ধে বড় বড় শ স্ত্রীয় তর্ক করিয়'ছেন পরে আমার প্রত্যেক শাস্ত্রার্থে নিরুত্তর হইয়া পর ও বিচার করিয়াছি ও তাহারা স্পষ্টভাবে অ'মার কথা সীকার করিয়াছেন । উইদের এক জানর পত্র নীচ দেয়া যাইতেছে। • ৮ শীম ন পণ্ডিত রামচন্দ্ৰ শৰ্ম্ম শাস্ত্রী, ভূতপূৰ্ব্ব ধ্যাপক মহারাজা मारक কলেজ, সওয়াই জয়পুর লিখিয়াছেন- ཚོ স্বামী পণ্ডিত রাজনারায়ণ যশাস্ত্রী আচার্য, ভক্তি যােগাশ্রম, ফাজিলকা চেতনী লেখক। এই চেতাবনতে হিসাব লিখিয়াছেন। শাস্ত্রের প্রমাণ হঠাত দেখানো হয়। যে কলিযুগ ৪৮০০ বর্ষের হয় বর্তন কলিগ বিক্রম সংবং ২০০০ হাজারে শেষ হইয়া সত্যযুগ আসিবে ইহা সম্পূর্ণ ঠিক। আশা করি ইহার পরিশ্রম হইতে লােকেরা লাভবান হইবেন।” যুগের হিসাব = ( পাক্ষর) শাস্ত্রী খামচ শৰ্ম্ম ভূতপূৰ্ব অধ্যাপক সংস্কৃত কলেজ ত: ১২ মার্চ, সন ১৯৩৭ সওয়'ই জয়পুর এখন কি হইবে এই সময়ে সংসারে ভয়ানক গণ্ডগোল হইতেছে । সকলেই

12
বলিতেছে যে সম্বত ২০০০ এ কলিযুগ সমাপ্ত হইয়া সত্যযুগ
আসিতেছে ও ভগবান ক স্ক কটি হইছেন। কিন্তু সত্য
বৃত্তান্ত সকলে জানিতে পারে না যে ভগবান কি কারে কট
হইয়া থাকেন ও লীলা কাি থাকেন। আমরা কি করিয়া
ভগব নের দর্শনলাভ করিতে পারি।
অতি শীঘ্রই ভগবানের
সুদর্শন চক্র কি করিবে ?
এই বিষয়ে জগতের সাধু মহাত্মা ও
বিদ্বানরা কি বলিতেছেন ? আপনি কি জানেন যে পাণ্ডবদের
সময়ে ১৩ দিনের শুক্লপক্ষের রােহিণী শকট ভেদ যে যােগ ছিল
যাহাতে মহাভারতের প্রলয়ঙ্কর যুদ্ধ হইয়ছে, এখন সেই যোগ
চলিতেছে। এই যােগে কি কি ঘটিবে । আধুনিক ইউরােপীয়
সভ্যতা সম্পূর্ণ বিনাশ প্রাপ্ত হইবে ও নূতন দেশনেতাদের
আবির্ভাব হইবে যাহারা নূতন আইন রচনা করিয়া এই নূতন
জগতের পরিচালনা করিবেন । ইহার পূর্ণ বিবরণ দ্বিতীয় ভাগে
দেখুন।
এই বইখানিতে সম্পূর্ণ বর্ণনা করা হইয়াছে। এই
পুস্তকখানির নাম 'এখন কি হবে। মূলা-হিন্দি ॥•,
বাংলা ১, উদ্•, ডাকমাশুল • আনা আলাদা দিতে
হইবে। মূল্য কথমে পাঠানাে উচিত ।
জরুরী নােট
কিছু নূতন ঘটনা যা চেতাবনী অনুসারে জগতে সম্প্রতি
ঘটিয়াছে, তাহা এই সংস্করণে দেওয়া হইয়াছে। তাহা ছাড়া
চেতনীর সমস্ত অংশই ১৯২৪ সালে লেখা হইয়াছে।

15
আমাদের সততা
অাক'ল
যে সব
কথা
কাগ ও
রােজ
পরিবর্তনের
দেখতেছন, তাহা আমাদের চেতানীতে ১৯২৪ স ল হইই
দেওয়া আছে এবং আমরা দৃঢ়ভাবে বলিতে পারি যে আগামী
ঘটনাসমূহ ও চেতধনী গনুসারে ঘটবে।
প্রসিদ্ধ জ্যোতিষীর ভবিষ্যৎবাণী
(১৭.১.৩৬ তারিখের সাণ্ডে ক্রনিকল দখুন।)
‘একজন মহান নেতার শীঘ্রই আবির্ভাব হইবে, যিনি
পৃথিবীকে এই সঙ্কট নয় মুহূর্তে রক্ষা কবেন। সৌরমণ্ডলের
চারটি মুখ্য গ্রহের অবস্থান হইতে আমি বুঝিতে পারিতেছি
যে, ১৯৪১ সালের মে মাসের এই গ্রহগুলিব সন্ধিক্ষণে এই
নেতার আবির্ভাব হইবে।” এইভাবে এডার্ড লিণ্ডে।
নামে একজন প্রসিদ্ধ জ্যোতিষী People নামে পত্রিকায়
লিখিয়াছেন।
তাহার মধুর
“তিনি একজন শক্তিশালী বক্তা হইবেন।
স্বরে সকলেই আকৃষ্ট হইবে তিনি একজন স্বভাব-কবি
হইবেন ও তাহার প্রতি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ হইতে সঙ্গীতের প্রকাশ
হইবে। তাহার প্রত্যেক কাৰ্য্যই অদ্ভুতরূপে সফল হইবে।
যে তাহার নিকট একবারও আসিবে সেই বুঝিতে পারিবে যে
এইরূপ মধুর স্বভাবের সুন্দর মনুষ্যের সংস্পর্শে সে কখনও
আসে নাই।

126 tofa যেখানেই যাইবেন, সাধারণ লোকেরা তাহাকে ভালবাসিবে ও তঁ'হ'র অনুসরণ করিবে। তঁাহার প্রধান কার্য্য ইবে আজকালক'র যুদ্ধবিগ্রহের মূল কারণগুলিকে ধ্বংস করা। তিনি যখন হইতে এই কাৰ্য্য আরম্ভ করিবেন, তখন হইতেই অস্ত্রব্যবসায়ীরা নিজেদের অথ ও শক্তি তাহার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ . রূপে নিয়ােগ করিবে ও তাহাকে ধ্বংস করিতে চেষ্টা করি। কিন্তু তিনি এক অতি আশ্চর্য্য উপায়ে এই লােকদের উ.দ্দশ্য সম্পূর্ণ রূপে বাথ করিবেন ও উহাদের উপর বিজয়লাভ করিবেন তিনি সর্বসময়েই জনসাধারণের সেবায় ব্যাপৃত থাকিবেন। তার্থাৎ তিনি সমাজ সংস্কারের দিকে প্রধানতঃ লক্ষ্য রাখবেন এবং পৃথিবীর ই'তাসে তিনিই প্রথম জনসাধারণের সৰ্ব্ব- গুণ ন্বিত নেতা হইবেন। অন্য কোন দিকে তাহার লক্ষ্য থাকিবে না। । এই মহান ব্যক্তিটি সম্পূর্ণরূপে সফল হইবেন কেননা তিনি সর্বদাই দেশ ও জাতি হইতে উর্দ্ধে থাকিবেন তাহার নেতৃত্বে স্ত্রীলােকেরা তাহাদের অধিকার সমূহ ফিরিয়া পাইবে। তাহারা কেবল পুরুষদিগের সমান হইবে না পরন্তু তাহারা পুরুষদের জীবন ও প্রত্যেক কাৰ্য্যই মধুর করিয়া তুলিবে । রাজনীতিবিদেরা স্ত্রীলােকদিগের দ্বারা জীবনকে মধুরতর করিবার দিকে লক্ষ্য রাখিবেন। তাহার প্রচারের ফলে পৃথিবীর অর্থনৈতিক সমস্যাসমূহে

JW
আA
অনেক পরিবর্তন আসিবে।
*নিজের
নি’জর মুদ্রা প্রচলিত আছে । অর্থনীতিবিদেরা জগতে নিজের
ষড়যন্ত্র দ্বারা অনেক দুঃখই আনিতেছে, তখন এই সকলেরই
পরিবর্তন হইবে ও পৃথিবীর সর্ব্বত্রই একই প্রকারের মুদ্রা
চলবে।
আমার মতে এই সন ও উন্নতির সহিত ৩ামদের অর
একটি মহান উদ্দেশ্য সাধিত হইবে, অর্থাৎ পৃথিবীর সকল দেশেই
‘fলগ অফ নেশনস'এ সম্মিলিত হইবে।
• এব আপনারা যখন এ বৎসরের বড়দিনের উৎসব পালন
কবিন বিন আপনার। আজকালকার দুঃখ সমূহের কথা
ভুলিয়া যাইবেন
হৃদয়ে
नाक
নিলেন কেননা
আমাদের উদ্ধারক। শীঘ্রই আসিতেছেন।
ভক্তিসার (রেজিষ্টার্ড )
ভক্ত করিবার ও ভগবান অবধি পেঁছিবার বিধি।
ভক্তি কি, কলিগে ভক্ত কি করিয়া কা উচিত,
ভগবানকে কি প্রকারে পাওয়া যায় ও তাহ'র সাক্ষাৎ দর্শন
কি করিয়া হইতে পারে ইত্যাদি বিষয়ে এই পুস্তকখানিতে
সম্পূর্ণ বর্ণনা করা হইয়াছে। এই পুস্তকখানি একটি মূল্য
রত্নবিশেষ ও এই সময়ে প্রত্যেক মনুষ্যেরই পড়িয়া জ্ঞানলাভ
করা উচিত। মূল্য বাংলা ॥d, হিন্দি, উর্দু /•, ডাকমাশুল
৮৯ আলাদা দিতে হইবে।
চেতাবনী কাৰ্যালয় (রেজিষ্টার্ড ),

সম্বত ২০০০এ সূৰ্য্য গ্রহণ এই সময়ে ভারতবর্ষে সূর্যগ্রহণ সম্বন্ধে প্রায় সর্বত্রই আলোচনা হইতেছে। ইহার একটি কারণ এই যে অকৃত্রিম চেতাবনী (রেজিষ্টার্ড) পুকখানিতে শ্রাবণ অমাবস্যা সম্বত ১•০০ এ সূর্যগ্রহণ লেখা আছে। এই বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে কেবল স্বর্গীয় পূজ। ঘ ১০৮ স্বামী রাজনারায়ণ ষটশাস্ত্রি মহাশয়ই বলিতে পারিতেন। কিন্তু জনসাধারণের নিকট হইতে এই বিষয়ে প্রতিদিন পত্র আসাতে আমরা কিছু বলতে বাধ্য হইতেছি। সত্য এই যে আনাদের বহুদিনের প্রচারকার্য সত্ত্বেও কিছু লােক এখনও শালে পড়িয়া আছেন। স্বামিজী যে সমস্ত ভবিষ্যৎ- বাণী—বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, অকাল মৃতু, বন্যা, অতিরিক্ত বর্ষা, প্লেগ, ভূমিকম্প, কলিযুগের শেষ ও সত্যযুগের আগমন ইতাদি— চেতাবনীতে করিয়াছেন তাহা সমস্ত পৃথিবীর জন্য, কোন বিশেষ দেশের জন্য নহে এই সমস্ত ভবিষ্যৎবাণীই এখন সমস্ত জগতেই সম্পূর্ণ সত্য বলিয়া প্রমাণিত হইয়াছে। অতএব যদি সূম গ্রহণ কেবল ভারতবর্ষে না হইয়া তথ্যান্য দেশে হয়, তাহা হইলে আশ্চর্য্য হইবার কি আছে । অনেক পঞ্জিকা লেখকেরাও ইহা স্বীকার করিয়াছেন যে এই সময়ে সূর্যগ্রহণের যােগ আছে। তবে আমরা কি করিয়া বলিতে পারি যে সূর্যগ্রহণ হইবে না? সূর্য গ্রহণ সম্বন্ধে উর্দুর মুফিদ-আলম পঞ্জিক', কুরুক্ষেত্র পঞ্জিকা ও হিন্দি পঞ্চাঙ্গদিবাকর দখুন তন্য জোষিরাও গ্রহণ ইরে এই মত দিয় ছেন মনে রাখিবন, ভগবানের ইচ্ছায় সব কিছুই হইতে পরে ও হইতেছে ও তাহার কুপ'তেই জগতে আবার শ %ি স্থাপিত হইবে। এখন আমাদের প্রতিদিন ভগবানের নাম জপ করা উচিত। তিনি নিশ্চয়ই কল্যাণ করিবেন। ওঁ শান্তি। ধৰ্ম্মরত্নাকর রামকৃষ্ণ গুপ্ত। podypt Excelsior Printing Works, Delhi Papor supplied by the Proke at control ratou ) - 7৮৩

বাংলাভায় দ্বিতীয় সংস্করণ তহলি
শ্রীভগবান কল্কি অবতারের জীবন চরিত
অর্থাৎ
• রামায়ণ
ই
১৯৪৩ সালের সংস্করণ ছাপা হইয়া গিয়াছে।
ভগবান কল্কি অবতারের বিষয় এই পুস্তকে সমস্তই দেওয়া
তিনি কোথায় কোথায় ভ্রমণ করিবেন, কাহাদের উপর
কুমণ করিবেন, তিনি সপরিবারে কোথায় কোথায় অবস্থান
রিবেন সমস্তই এই
পুস্তকে
সন্নিবিষ্ট হইয়াছে। এভগবান কল্কি
বতারের বিবাহ যে জগৎ মা পদ্মাবতীর সহিত হইবে, তাহারও
ম্পূর্ণ বিবরণ এই পুস্তকে দেওয়া হইয়াছে। তিনি কোন রাজার
ন্যা হইবেন, তাহার কি কি লীলা হইবে সমস্তই বিস্তারপূর্বক
পুকে
বর্ণিত হইয়াছে। শ্রী ভগবান কল্কি অবতারে ভ্রাতাগণ,
তািপিতা তথা সমস্ত পরিবারের বৃত্তান্ত এই পুস্তকে দেওয়া হইয়াছে।
মস্ত বর্ণনা এমন সরল ভাবে করা হইয়াছে যে একটি বালকেও
হা পড়িয়া জ্ঞানলাভ করিতে পারে যে আগামী কালে কি কি
টনা ঘটিবে।
অতিরিক্ত অর্থবায় ও কাগজের দাম পূৰ্ব্বাপে ফা তিন চারিগুণ
ৰ্দ্ধিত হওয়া সত্ত্বেও কেবলমাত্ৰ-ধৰ্ম্ম প্রচারের নিমিত্ত • আনা
খি হইয়াছে, ডাকমাশুল স্বতন্ত্র • আনা দিতে হবে। ভিঃ
তে আনাইতে হইলে রেজিষ্ট্রেশন খরচা • পৃথক দিতে হইবে।
নে মিলিয়া অর্ডার দিলে ডাক খরচ কম লাগে। বড়
হিত ২৫% দাম অগ্রিম পাঠান আবশ্যক।

এখ
দ্বিতীয় সংস্করণ
নূন ভি
অতি শীঘ্র ভগব
(ছে
চেতনীপড়িয়াছে
এই সময়ে সংসারে
বলিতেছে সে সম্বত ২
আসিতেছে ও ভগবান
সত। বৃত্তান্ত সকলে জাি
প্রকট হইয়া থাকেন ও
করিয়া ভগবানের দর্শন
ভগবানের সুদর্শন চক্র নি
মহাত্মা ও বিদ্বানরা কি
পাণ্ডবদের সময়ে ৩ দিন
যােগ ছিল যাহাতে ম
এখন সেই যােগ চলিতে
ইত্যাদি গুপ্ত কথা এই বই
এই পুস্তকখানির নাম ‘এখ
বাংলা ১, উদ, ॥p, ৬
হইবে; মূল্য প্রথমে পাঠ
আয়
চেতাবনী কাৰ্যালয়
আপনার সহরে নিম্নলিখিত

No text on this page.

No text on this page.

Chetabani Ed. 8th

Author
Swami, Rajnaryan
Title
Chetabani Ed. 8th
File name
Chetabani Ed. 8th
Text
OCR done
Citation
1843
Published
2009/08/18
Publisher
Chetabani Karjalaya, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
139
Library
Makardah Saraswat Library, Howrah
Classification
Essays. Articles.
Keywords
Essays about the four mythological aeons
DLI number
512552
Barcode
4990010019616.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
kv5Q2ZscMPn
Download PDF

Chetabani Ed. 8th