Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Sri Gitamrita-lahari Part 2 Vol. 2
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
জসীগীতা
শ্ৰীশ্ৰীকৃষ্ণ-বিষয়ক।
গানাৎ পরতরম্ নহি।
২য় ভাগ-২য় খণ্ড ।
স্বর্গীয় যোগেন্দ্রনারায়ণ মুন্সী
বিরচিত
৬ কাশীধাম, সােনারপুর হইতে
শ্রীপূর্ণেন্দুনারায়ণ মুন্সী দ্বারা
প্রকাশিত
সাধক ও ভক্তবৃন্দের
অমূল্য রত্নস্বরূপ।
**:
কলিকাতা।
২৫নং রায়বাগান ষ্ট্রীট, ভারতমিহির যন্ত্রে,
মহেশ্বর ভট্টাচাৰ্য্য দ্বারা
মুজিত।
.
১৩১৮ সন।
মূল্য আট আনা।
No text on this page.
No text on this page.
L
.
||
In
--
A
//
it
F
।
|
।
wip
.
T,
||
!
.
শগিরিশ নারাধন স্ত্রী।
গ
.
1
I
l এ,
T
যােগন্দ্রনারায়ণ মুন্সী
No text on this page.
ভূমিকা। গীতামৃত লহরী ১ম ভাগ ১ম ও ২য় খণ্ড ও ২য় ভাগ ১ম খণ্ড মুদ্রিত হইয়া প্রকাশিত হইয়াছে ও তাহাতেই পদকর্তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় লিখা হইয়াছে। এইক্ষণ ২য় ভাগ ২য় খণ্ড মুদ্রিত হইল। ১ম ভাগের ১ম খণ্ডেই লিখা হইয়াছে যে গীতামৃত-লহরী ১ম ভাগ যত খণ্ডেই শেষ হউক না কেন তাহাতে শ্রীশ্রীখামা বিষয়ক গীত থাকিবেক ও ২য় ভাগের সমস্ত খণ্ডেই শ্রীকৃষ্ণ বিষয়ক গীত থাকিবেক। এইখানি ২য় ভাগের ২য় খণ্ড সুতরাং ইহা শ্ৰীশ্ৰীকৃষ্ণ বিষয়ক গীতাবলীতে পূর্ণ, এই চারি খণ্ড যাহা প্রকাশিত হইল তাহার সকল খণ্ডের গীতগুলিই অমৃতের ন্যায় ও অমূল্য রত্ন স্বরূপ। যিনি মনােযােগ পূর্বক আদ্যন্ত এই গীতগুলি পাঠ করিবেন তিনিই বুঝিবেন একথা যথার্থ কি না, তবে সকলের পক্ষে অমূল্য রত্ন নাও হইতে পারে, এস্থলে তাহার একটা উদাহরণ দিতেছি যে-এক স্থানে একজন সিদ্ধ পুরুষ ছিলেন ও বহুলােক তাহাকে বিশেষ ভক্তি করিত ও নানারূপ ধর্মোপদেশ লইত । তৎকালে একটী শূলবেদনার বােগী ঐ সাধুর গুণানুবাদ অবশে মুগ্ধ হইয়া সাধুর সন্নিকটে গমন পূর্বক আত্ম অবস্থা জ্ঞাপন করিয়া তাহার শরণাপন্ন হইল। সাধুঢ়ী ঐ রােগীকে বারম্বার আর্তনাদ করিতে দেখিয়া বলিলেন যে আমি চিকিৎসক নহি তবে আমার নিকট একটি মহৌষধ আছে তাহা ভক্তিপূর্বক গ্রহণ করিলে জগতের সকল ব্যাধিরই উপশম হয়। তাহা ঐ রােগী ভক্তি [ { } পূর্বক অবশ্যই গ্রহণ করিবে বলিয়া শীঘ্র স্নানাতে পবিত্র দেহে সাধু সন্নিধানে উপস্থিত হইল। সাধু মহাপুরুষটি অতি আগ্রহ সহকারে হরিনাম মহামন্ত্ররূপ মহৌষধ রােগীর কর্ণে প্রদান করিয়া পবিত্র ভাবে তাহা জপের উপদেশ আদি দিয়া বলিলেন, তুমি যথানিয়মে এই হরিনাম জপ করিলে ও নিরামিষ আহার করিলে সকল কষ্ট হইতে অচিরাৎ ত্রাণ পাইবে। রােগী তাহাতে কিছু না বলিয়া আইসাকালীন পথিমধ্যে ভাৰিল যে এটি একটি পুরাতন নামমাত্র ইহাতে ব্যাধির কি হইরে ? তথাপি সাধু যখন বলিয়াছেন তখন ২৩ দিন একটু কষ্ট করিতেই হইবেক, এই মনে করিয়া সে ২৩দিন অতি বিরক্তির ও উৎকণ্ঠার সহিত ঐ হরিনাম জল করিয়া কোনই ফল না পাওয়ায় পুনরায় ঐ সাধুর নিকট গিয়া আয় অবস্থা জানাইলে সাধু উত্তর করিলেন যে “তােমায় ব্যাধির ঔষধ পরে দিতেছি আমি এই ধুনি হইতে একখানি প্রস্তর তোমাকে দিতেছি তুমি বাজারে ইহার কত মূল্য হয় জানিয়া আইস কিন্তু প্রস্তরখানি বিক্রয় করিও না, ফিরিয়া আনিও।” রােগী সাধুর কথিত মত সাধু-প্রদত্ত প্রস্তর লইয়া বাজারে বহিষ্কৃত হইল ও প্রথমে ৪৫টি তরকারীর দোকানে ঘুরিয়া তাহার এক কড়াও মূল্য না হওয়ায় শেষ এক শাক ওয়ালীর নিকট গেলে ঐ শাকওয়ালী তাহার সন্তান খেলিবে ভাবিয়া ঐ প্রস্তর দিলে তৎপরিবর্তে মূল্য স্বরূপ অন্ধ আটি শাক দিতে সম্মত হইল। রােগী প্রস্তর লইয়া সাধুর নিকট সমস্ত ঘটনা জানাইলে তিনি জহুরীদের নিকট যাইতে বলে-ক্রমে রােগীটা অনেক জহুরীর নিকট যায় ও ২০৪১০.২০ সহস্র মূল্য হইতে সর্বাপেক্ষা বড় জহুরী তাহার মূল্য অমূল্য ৰলেও সেই জহুরী দশ লক্ষ টাকাতে দিলে সে
[ • )
লইতে পারে এ কথাও বলিয়া দে। রােগী সেই প্রস্তর লইয়া
বড়ই আলাদের সহিত সাধুর নিকট গিয়া এত অধিক মূল্য
হইয়াছে এখনি বিক্রয় করিয়া টাকা আনয়ন করি” ইত্যাদি
বলায় সাধুটি তাহার কথার কোনই উত্তর না দিয়া প্লকারখানি
পুনরায় ধুনির ভস্মের মধ্যে রাখিয়া জপে বসিলেন, রােগী অনেক
কঁদাকাটি করিলৈ পর সাধু বলিলেন যে “হরিনাম মহৌষধকে
তুমি অমূল্য না ভাবিয়া যখন অর্ধ আট শাকের সমান জ্ঞান
করিয়াছ তখন তােমার ঐ ব্যাধি আমার উপশম করা অসাধ্য।”
সেইরূপ এই গীতামৃত লহরী যিনি অমূল্য রত্ন জ্ঞানে ভক্তিসহ পাঠ
করিবেন বা সুর সংযােগে গান করিবেন তিনি বন্ধুতই গীতামৃত
নামের সার্থকতা বুঝিতে পারিবেন
পারিবেন ও অমূল্য রত্ন ইহাও অবশ্য
স্বীকার করিবেন। আর যিনি আদ আটি শাকের ন্যায় ভাবিবেন,
তিনি অবশ্যই অবহেলা করিবেন।
পাঠক মহােদয় ও ভক্ত ভাবুকগণ সমীপে আমার এই বিনীত
নিবেদন যে গানগুলি সুর, তাল সংযােগে নিতান্ত কোন সুর
সংযােগে যদি গান করেন বা অন্যের নিকট শ্রবণ করেন তবে
অবশ্যই ইহার সম্পূর্ণ স্বাদ আস্বাদন করিতে পারিবেন, নতুবা
সঙ্গীত পুস্তক মাত্রই কেবল পাঠে তাহার সম্পূর্ণ স্বাদ পাওয়া
যায় না, এ বিষয় ১ম ভাগের ২য় খণ্ডেও লিখা হইয়াছে।
অলমতি বিস্তারেণ।
প্রকাশক
No text on this page.
গীতামৃত লহরী।
২য় ভাগ-২য় খণ্ড।
সূচিপত্র।
::
৪
একদত্ত মহাকায়
জয় যােগমায়া জগত্তারিণী
পৌর্ণমাসী পরমেশী
কেরে ও কাম
মথন ঠাম
ব্ৰজের সকলি
মধুব
তুমি মন কেনর তায়
ভাব েভ্রান্ত মন
হের রে মন হর হর
১০
ইতি মঙ্গাচরণম্।
প্রথম উচ্ছাস।
দেখে নন্দরমণী যেন
আহা ভাবের হিল্লোলে
বালক তুই আমায়
এ বালক সামা নয়
১
আহ! কালাের মাঝে এত
• ১৯
স্থির হয়ে একটাবার
ঐ রাঙ্গা ছেলেটীরে
ইতি গীতামৃত লহৰ্যাং ঐশ্রীগোপাল স্বরূপ বর্ণনং নাম
প্রথমােচ্ছাস।
...
[ ৩ ] ২৫ ২৬ २१ ২৮ ২৮ দ্বিতীয় উচ্ছাস। আমি বেদ-বিধি ছাড়ি যথায় কৃষ্ণ নামের হরি নামের গুণ হরিবােল বা হরি নামে কি না হয় কৃষ্ণ নাম কি মধুর কর রে সদা নাম হরি কে না নাচে যদি শান্তি চা রে কা চিন্তা মরণে ইতি গীতামৃত লহৰ্যাং শ্রীশ্রীহরিনাম মহিমা বর্ণনং নাম দ্বিতীয়ােচ্ছাসঃ । ৩০ ৩১ ৪ ৩৩ ৩৫ ৩৭ ৩৮ তৃতীয় উচ্ছাস। ও প্রেম নাইরে নাটকে প্রেম, অমূল্য ধন এমন ভাগ্য কবে হবে সেই প্রেমিক মহাজন মাধুৰ্য্য সাধক যত প্রাণের নিতাই ও ভাই ইতি গীতামৃত লৰ্যাং ঐশ্রীভগবৎ-প্রেম বর্ণনং নাম তৃতীয়ােচ্ছাস। ৩৯ ৪০ ৪১ | | চতুর্থ উচ্ছাস । ৪ ৪৩ •• ও) ৪৭ কে তুমি রে মন একে বারে হসনে রে রে অবােধ পাশা খেলায় ( ভবের) ঘুরকিতে মন একবার চেয়ে দ্যাখ রে তুমি হারায়েছ রে মন ধর রে ধর রে ঐ ৯ :: ৫২ ৩ ৫৪ ৫৬ ৫৭ ••• । ৫৮ মন রে একের দোষে নির্জনে মন, নীরদবরণ মতি মজ সে পর পুরুষে এম কি সঞ্চিত আছে কৃপাজলধি জলদবরণে ঘরের বিবাদ মিটাও ভীষণ ভৰ অরণ্যে ভয়ঙ্কর আশানদী গুরু কি ধন জানলে না মন আছ কি উৎসবে ওমন আর ভুলনা হরি বােল বলনা আবার তার হারালি এত বন্যার কথা নয় বিপদ ভয় বারণ ৬১ ৬২ ৩ * ৬০ [ ৩ ] যদি হতে চাও মন ৬৭ কেন সামান্য ধনের ইতি গীতামৃত লহৰ্যাং মনঃ প্রবােধে। নাম চতুর্থোচ্ছাসঃ । } ৭০ ••• ৭১ ৭১ ૧૨ ৭৪ ৭৪ ... ৭৬ পঞ্চম উচ্ছাস। চাদিতে গড়িল এ চোদল সাধন সিদ্ধি সহজে কেন যে বিরসে দংশিছে সদা শত ভাবি তাই কোথায় জুড়াইতে চাই, কোথায় জুড়াই আমি সাধে কি হয়েছি এ পাগলের কি ঔষধি সাধে কি ম খাই ও গ্রাম প্রেম মদে আমার সাধের কী আমি নিদারুণ পুত্রশােকে তুমি গুপ্ত ভাবে কত কাল আর এ জগতে সব অশুদ্ধ মধু-ধ্রুপদে বিপদে গানের যােগেই জাগে আমি সে গুরু হারায়ে ৭৭. ৭৮ ••• ৭৯ | | : ৮ ৮২ છે ? ৮৪ ৮৫ ভক্ত যে সে গুপ্ত ৮৬ ( |g. ৮৭ ৮৯ ৯০ ••• ৯১ ৯১ ৯২ ৯১ আজ আবার সেই রথ আমার পূজাত হ’ল না বড় যতনে সে ধন কে দেখে দেখাই কারে পাব কি সে পাইনা ওরে আর মানিনে ভজন উপকরণ যার নিত্যানন্দ স্বভাব যার প্রাণ কাঁদে ভাই যার কেমন বরণ কেমৰ গড়ন সকল বিদ্যাই এ সংসারে ডুবে যাই ডুবে যাই পড়ে অকুল তুফানে হরি তােমার লেগে বুঝিতে বুঝিতে বােঝ। এ সময় সখা! একবার ইতি গীতামৃত লহৰ্যাং শ্রীশ্রীভগবৎ-প্রেমাকরণ নিবন্ধন আক্ষেপ নাম পঞ্চমােচ্ছাসঃ। ৯৪ ৯৫ ৯৭ ৯৭ ৯৮ ৯ ৯ ষষ্ঠ উচ্ছাস। ১০১ হরি তােমার নাটক করা এ দীন সুধু তােমারি হরি হে শেষের সে দিনে ১০২ ১০৩ হে কৃষ্ণ কেশব ••• ১০৪ । ৭০ । ১০৬ ১০৭ ১০৮ ১০৯ ১০৯ রাধাধর বনােয়ারী হরি হে, কৃষ্ণ হে জয় গোবিন্দ গােপাল জয় কৃষ্ণ কেশব জয় গােবিন্দ গােলকপত্ি জয় নারায়ণ মধুসূদন জয় রাধারমণ রসধাম নাদবিন্দু সরােবরে চৌদিকে ফুটেছে ভাবে তােমায় বেদে সদ্য মধুনিরাকার সেত নয় আজকে আমি পেলাম ইতি গীতামৃতলহৰ্যাং ঐশ্রীভগবৎপদে সেবকত্ব বর্ণনং না যষ্ঠোচ্ছাস। ১১০ ১১১ ১১২ ১১৭ 1 ১১৯ ১২০ সপ্তম উচ্ছাস। শুভ সঙ্কীৰ্ত্তন রঙ্গে জয় গোেপাল জয় গােপাল জয় শ্রীরাধা গােবিন্দ ১২০ জয় জনার্দন দোলেরে আজি ইতি গীতামৃতলহৰ্যাং নিত্যকৃত শ্রীহরি সংকীৰ্ত্তনং নাম সপ্তমেচ্ছাস। ১২১ ১২১
সম্পাদকগণের মত।
১৩১৬ সালের পৌষ মাসে মাসিক পত্রিকা ‘সুমতি’তে ১ম
ভাগের ১ম খণ্ডে যে আগমনী ও বিজয়। সঙ্গীতাবলী আছে
তাহার যে সমালােচনা করেন।
শ্রীশ্রীগীতামৃত-লহরী, প্রথম ভাগ প্রথম খণ্ড, কাশীধাম
নিবাসী ৩ যােগেন্দ্রনারায়ণ মুন্সী বিরচিত ও শ্রীপুর্ণেন্দুনারায়ণ
মুন্সী কর্তৃক প্রকাশিত। রচয়িতার রচনা কৌশলে ও তাহার ভাব
প্রাবল্যে আমরা মুগ্ধ হইয়াছি। ভক্ত সাধক ভিন্ন এরূপ ভাবে মার
নামগীত করিতে পারে না। এই মাতৃ-সঙ্গীতের মধুর ভাবগুলি
যেরূপ মর্মস্পশী, সেইরূপ তাহার ভাষা সংযােজনাও পরিপাটি।
এই সঙ্গীত পুস্তক খানির পূর্ণ পরিচয়ে স্থানাভাব বশতঃ কেবল
মাত্র ইহার একটী মাত্ৰ গীত উদ্ধ করিয়া দিলাম। ইহাতেই
পাঠক বুঝিতে পারিবেন এই সঙ্গীত পুস্তকখানি কিরূপ উপাদেয় ।
“আঁধার মূলাধারে। আর কত দিন ঘুমায়ে রবি।
একবার জাগ কুলকুণ্ডলিনী! জেগে জাগা মা আমারে।
আপনিনা জাগিলে তােরে জাগাব কেমনে,
অবােধ মন জানেনা তুই জাগিবি কি বােধনে,
তাই রােদন বােধ আধ বােলে, মা মা সম্বােধনে,
আকুল হয়ে তারা তােরে, ডাকি যে বারে বারে ।
মহেশ বীণাপাণি বাণী, গুহ-গণেশ রমা রাণী,
সব যে ঘুমে বিভাের শিবরাণী তব সহকারে,
তুমি না জাগিলে তারা কেহ যে জাগে না,
জ্ঞানরূপা জ্ঞানদার নিদ্রা ত ভাঙ্গে না,
[ পn ]
ভাগ্যরূপ। ধনদায়, তােম। বিনা কে জাগায়,
জাগ জগজ্জননি গো! জেগে জাগাও মা সবারে ॥
সুমতি গণপতি মাের থাকে যদি মা ঘুমে ভাের,
কেমনে দশভূজা তাের, পূজা হয় তা বল আমারে-
শক্তি রূপ কুমারে মাের জাগায়ে দেমা আগে,
কর উপায় শিবে গো ! যায় বিবেক মাের জাগে,
জেগে তুমি জাগায়ে সবায়, পাপাসুরে দলি পায়,
চিদানন্দময়ী রূপে, একবার-দাড়াও মা হৃদাগারে।
জেগে—দশ করে শঙ্করপ্রিয়ে,
রাখ মা মাের দশেন্দ্রিয়ে,
যে দশভূজ প্রসারিয়ে,
রেখেছিলে ত্রিদশপুরে,-
তােরে-করিনু আবাহন কিন্তু বাহন দিতে নারি,
বড় খেদ র’ল গো প্রাণে নগেন্দ্রকুমারি।
তবে যদি মা কৃপাকরি, যােগেন্দ্রে কর কেশরী,
যুগে যুগে থেকে ও পায়, দেখি প্রাণ ভরে তােমারে ॥
১৩১৭ সালের ৭ই ভাদ্রের বাঁকুড়া দর্পণে লিখিয়াছেন।
গীতামৃত-লহরী ২য় ভাগ, ১ম খণ্ড যােগেন্দ্রনারায়ণ মুন্সী
প্রণীত। মূল্য।• আনামাত্র
প্রাপ্তিস্থান শ্রীমোহিনী নারায়ণ মুন্সী, সেরপুর পোঃ ( জেলা
বগুড়া)। ইতঃ পূৰ্ব্বে “গীতামৃত-লহরীর প্রথম ভাগের সমা-
লােচনা, বাঁকুড়া দর্পণে প্রকাশিত হইয়াছে। তাহাতেই
পাঠকগণ, ভক্ত কবি ও তাহার রচিত উপাদেয় গীতিকার সংক্ষিপ্ত
পরিচয় পাইয়াছেন। স্বর্গগত, পবিত্র হৃদয় মুন্সী মহাশয়ের
í nelo সুললিত পদাবলী ক্রমে ক্রমে প্রকাশিত হইতেছে দেখিয়া আমরা নিরতিশয় সুখলাভ করিতেছি। প্রকাশক শ্রীযুক্ত পূর্ণেন্দুনারায়ণ মুন্সী মহাশয় তজ্জন্য ভক্ত মণ্ডলীর বিশেষ ধন্যবাদের পাত্র হইয়াছেন। তিনি যে মহৎ কাৰ্য্যে হস্তক্ষেপ করিয়াছেন, তাহা হইতে পশ্চাৎপদ হইবেন না, ইহাই তাহার নিকট আমাদের বিনীত অনুরােধ । সমগ্র গান প্রকাশিত হইলে,উহা ভক্তি সাহিত্য ভাণ্ডারের এক মহামূল্য সম্পত্তি হইবে, তদ্বিষয়ে সন্দেহ নাই। আলােচ্য খণ্ড—৭টা বিভিন্ন উচ্ছাসে পুর্ণ—প্রথম উচ্ছাসে শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর স্বরূপ বর্ণন ২য় উচ্ছাসে, ক্রমান্বয়ে শ্রীশ্রীবংশীধ্বনি, শ্রীকৃষ্ণরূপ, শ্রীরাধিকাস্বরূপ, শ্ৰীমতীর আক্ষেপ রাগ এবং পরম ব্রহ্মস্বরূপ বর্ণন সূচক পদসমূহ সন্নিবেশিত করা হইয়াছে। কি ভাবের মাধুর্য্যে, কি ভাষার লালিত্যে, কি রচনা- নৈপুণ্যে, গীতামৃতলহরী নিজ নামের সার্থকতা রক্ষা করিয়াছে। চির দিনই এই সকল সুমধুর গান,ভক্তপ্রবর গ্রন্থকার মহােদয়ের মহিমা প্রচার করিবে, তদ্বিষয়ে সন্দেহ নাই। আমরা সমস্ত গীত- গুলির রসাস্বাদন করিয়া স্বর্গীয় আনন্দ লাভ করিয়া ধন্য হইয়াছি; ইচ্ছা হয়, প্রত্যেক গীতিকা, দর্পণের পাঠকগণকে উপহার প্রদান করি। কিন্তু তাহা আমাদের পক্ষে সম্ভবপর নহে। দুই একটী গান উদ্ধত করিলে পাছে গ্রন্থের সৌন্দর্য হানি করা হয়, তজ্জন্য সে বিষয়ে ক্ষান্ত থাকিলাম। অমিয় ভাব মধুর পদাবলি পাঠে যাহারা তৃপ্তিলাভ করিতে ইচ্ছা করেন,তাহারা এই গ্রন্থ পাঠ করিয়া পবিত্র হউন-পুলকিত হউন এবং প্রকাশক মহাশয়কেও উৎসাহিত করুন। গ্রন্থখানির বা সৌন্দৰ্যও বড়ই প্রশংসনীয়। ১৩১৭ সালের ২২ অগ্রহায়ণের বাঁকুড়া দর্পণে লিখিয়াছেন।
[ ১ ] (ভক্তিগ্রন্থ) শ্ৰীশ্ৰগীতামৃত-লহরী -(১ম ভাগ, ২য় খণ্ড ) যােগেন্দ্র নারায়ণ মুন্সী বিরচিত মূল্য • আনা। প্রাপ্তিস্থান—প্রকাশক শ্রীপুর্ণেন্দু নারায়ণ মুন্সী—কাশীধাম সােণরপুরা এবং যদুনাথ বন্দোপাধ্যায় সেরপুর পোষ্ট (বগুড়া) আলােচ্য খণ্ডে, শ্রীশ্রীকাশীশ্বর, অন্নপূর্ণা, দশমহাবিদ্যা, দক্ষিণাকালী, শ্মশানকালী প্রভৃতি সাতটী' উচ্ছাস এষং আগমনীর পরিশিষ্ট সন্নিবেশিত হইয়াছে। গীতামৃত-লহরী বাস্তবিকই অমৃতের ভাণ্ডার ; ইহার প্রত্যেক গীতিকা, বিশুদ্ধ ভক্তহৃদয়ের পৰিত্ৰ উচ্ছাস, এই উপাদেয় শ্রীগ্রন্থখানি আমাদের নিত্য পাঠ্য গ্রন্থ স্বরূপ হইয়া অনাবিল আনন্দদান করিতেছে। সংসার- তাপদগ্ধ আমাদের নীরস হৃদয় উপাদেয় ভক্তিভাবপূর্ণ গীতিকা- গুলির রসাস্বাদনে, সরস হইয়া পড়িতেছে। ইহা পূজ্যপাদ ভক্ত গ্রন্থকারের পক্ষে গৌরবের কথা, সন্দেহ নাই। গ্রন্থ- খানির—প্রত্যেক গানে ভাবের মাধুৰ্য্য, ভাষার সৌন্দৰ্য্য, অনু- প্রাসের সুমধুর ঝঙ্কার, ফুটির। বাহির হইতেছে। সাধকপ্রবর রামপ্রসাদের গীতাবলী আলােচনায় যাহারা আনন্দ উপভােগ করেন, তাহারা সুধামধুর এই গীতিকাগ্রন্থের রসাস্বাদনে ঠিক তদ্রপ প্রীতি লাভ করিতে পারিবেন, এক। আমরা নিঃসঙ্কোচে বলিতে পারি। গ্রন্থের আদ্যন্ত মধুরতায় পূর্ণ, ইচ্ছা হয়, সকল গানই, ভক্ত পাঠকগণের সমক্ষে লইয়া ধরি ; তাহা কিন্তু সম্ভবপর নহে। প্রথম গীতিকাটিই, প্রিয় পাঠকগণকে উপহার প্রদান করিতেছি
১/০ )
“চরম চির বিরামধাম পরম রম্য কাশী নগরী।
ধরণীর শির-ভূষণরূপে শােভে শম্ভুত্রিশূলােপরি।
রাজা শ্রীবিশ্বনাথ, রাণী অন্নপূণেশ্বরী।
দীন দৈন্যে, হীন পুণ্যে, তােষে, পােষে কৃপা বিতরি।
পুরীর পঞ্চোক্রোশ বিস্তৃতি, অর্ধ চক্রাকারে স্থিতি,
এরও দল আকৃতি হেরম্ব-দ্বার-প্রহরী
হেথা সৰ্ব্বতীর্থ বিদ্যমান, সাধকগণ সিদ্ধস্থান,
মেখলাকারে বরুণা, অসী বিরাজে পুরী বেষ্টন করি।
জানিনা নিগুঢ় কাহিনী, হেথা গঙ্গা বিলােমবাহিনী।
পরমাদরে পুরীরপাদ প্রক্ষালিছে ও পূত-লহরী ;-
হেথা দেহ-অন্তে পায় রে মােক্ষ, মানব, দানব, যক্ষরক্ষ,
কীট পতঙ্গ, বন-বিহঙ্গ তৃণগুল্ম তরুবল্লরী।
এ যে জীবন মরণ সুখদধাম, আনন্দ কানননাম,
তায় ফোটে জ্ঞান-কুসুম দাম, ছােটে ভক্তিপ্রেম নিঝরী ।
যখনি জীবন হবে রে অন্ত, আপনি হর তারক মন্ত্র।
ফুকারিবে তাের শ্রবণ রন্ধে, তাকি যােগে আছি পাশরি।”
ভক্ত মাত্রেই,“গীতামৃত-লহরীর” উপযুক্ত আদর করিলে, আমরা
বাস্তবিকই যারপর নাই, আলাদিত হইব। আমাদের কোন
স্বর্গীয় প্রিয় কবি উদ্দেশে ইতঃপূৰ্ব্বে, আমরা প্রাণের স্বতঃ-
উচ্ছাসে একটা কবিতা লিখিয়ছিলাম, গীতামৃতের প্রেমিকপ্রবর
কবিকে লক্ষ্য করিয়া উহার পুনরুক্তি করিতেছি
মহা ভাব সাগরের অমৃত ছানিয়া-
পিপাসার্ত মানবের তৃষা নিৰারিতে,
কে তুমি হে করুণার নিঝর খুলিয়া,
,
১০ । অনিলে অপূৰ্ব্ব ধন নরে বিলাইতে। ফুটাইতে নন্দনের সৌন্দৰ্য্য বিমল, শুষ্ক, মরুপ্রায়, এই কঠোর সংসারে ; কে তুমি নূতন বন্যা প্রেম ঢল ঢল,- আনিলে হেথায়, দীন দুঃখীদের তরে। ধন্য তব পুত চিত্ত উদার হৃদয় তিল তিল সুষমায় সৃষ্ট, মনােরম, শ্ৰীশ্ৰগীতামৃত লহরী প্রেম রসময় ! বিশ্বেদার প্রেমকথা কে মন সুন্দর । শিখাতে প্রয়াসতব, হে ভক্ত প্রবর” । যাহা হউক স্বর্গীয় কবির কৃতী পুত্ৰ শ্ৰীযুক্ত পুর্ণেন্দু বাবু, তাহার পরমারাধ্য পিতৃদেবের সমগ্র গীতাবলী প্রকাশিত করিয়া ভক্তিসাহিত্যের গৌৰব বর্জন করুন। ভক্ত মণ্ডলী, তাহাকে উৎসাহ প্রদানে কুণ্ঠিত হইবেন না, ইহাই আমাদের অনুরােধ । শ্ৰীশ্রীগীতামৃত-লহরী ১ম ভাগ ১ম খণ্ড সম্বন্ধে শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকায় ১৩১৬সালের ২রা অগ্ৰহ্যয়ণ যে মত প্রকাশ করিয়াছেন নিম্নে তাহা দেওয়া গেল, পাঠকগণ দৃষ্টি করুন : শ্ৰীশ্ৰগীতামৃতলহরী ১ম ভাগ ১ম খণ্ড স্বর্গীয় যােগেন্দ্র নারায়ণ মুন্সী প্রণীত। ত্বদীয় পুত্র শ্রীমান্ পূর্ণেন্দু নারায়ণ ইহার প্রকাশক। এই পুস্তকখানি আগমনী ও বীজয়া বিষয়ক। গ্রন্থকারের পিতা শ্ৰীযুক্ত গিরিশনারায়ণ মুন্সী মহাশয় ভক্ত ও ভাবুক,—পিতার ধর্ম- প্রাণতা ও ভক্তি ও ভাব মন্দাকিনীর পুণ্যধারা যে ত্বদীয় পুত্রের হৃদয় ভূমিকেও কিরূপ সমুৰ্ব্বর ও পুণ্যক্ষেত্ররূপে পরিণত ১০/০ করিয়াছিল যােগেন্দ্রনারায়ণের রচিত সঙ্গীত সমূহই তাহার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। পুস্তকের ভূমিকায় প্রকাশ “ইনি জীবনের প্রথম ভাগে শ্যামা-বিষয়ক সঙ্গীতই অধিক রচনা করিতেন।” আলােচ্য গ্রন্থে পাঠক তাহার পরিচয় পাইবেন। “পরে গুরুদেবের নিকট দীক্ষা গ্রহণের পর হইতে কেবল শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু সংক্রান্ত ও বৃন্দাবন লীলাদি বিষয়ক গীতাদিই শেষ জীবন পর্যন্ত রচনা করিয়াছেন এবং সেই সকল গীতগুলিই অদ্ভুত প্রেম ও ভক্তি রস পূর্ণ। ইনি প্রত্য শ্রীহরিসংকীৰ্ত্তন ও শ্রীমদ্ভাগবত ও ভগবদগীতাদি গ্রন্থ পাঠেই সমস্ত সময় অতিবাহিত করিতেন। ভক্ত গ্রন্থকার সুজ্ঞানে নিয়ত রাসপঞ্চাধ্যায় প্রভৃতির শ্লোক পাঠ করিতে করিতে পরােলােক গমন করেন।” ২য় ভাগে শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতগুলি বাহির হইবে। জীবনবৃত্তের ক্ষীণ আভাসটুকু পাঠকবর্গের নিকট উপস্থিত করিয়া আমরা আলােচ্য গ্রন্থের আলােচনায় প্রবৃত্ত হইলাম। কেননা ভক্তি গ্রন্থে গ্রন্থকারের জীবনের ছায়া সম্যকরূপে প্রতিফলিত হইয়াছে। গ্রন্থকারকে বুঝিতে পারলে গ্রন্থ বুঝিতে আর কষ্ট হইবে না। গ্রন্থের প্রতিপাদ্য বিষয় আগমনী ও বিজয়া--শক্তি স্বরূপিণী দুর্গার বৎসরান্তে পিতৃভবনে আগমন ও প্রতিগমন। দক্ষ যজ্ঞের পর মহামায়া দেহত্যাগ করিয়া হিমাচল ভবনে মেনকার গর্ভে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন বলিয়া কথিত আছে। বর্ষান্তে দুর্গা একবার করিয়া পিত্রালয়ে আগমন করেন। স্নেহ প্রেমের পুণভূমি বাঙ্গালায় এই কন্যায় পিতৃগৃহে আগমন ব্যাপারটা কিরূপ আনন্দময় তাহা সকলই হৃদয়ঙ্গম করিয়াছেন। দেবীর আগমনের সঙ্গে কন্যার আগমন কল্পনা করিয়া স্নেহময়ী
[ ১ ]
জননী কিরূপ আগ্রহের সহিত আগমনী সঙ্গীত শ্রবণ করেন এবং
শ্রবণ করিয়া চিত্তের আবেগে তাহার নয়নকোণে স্নেহা
সঞ্চিত হইয়া উঠে ইহা কে না প্রত্যক্ষ করিয়াছেন ?
বৎসরান্তে প্রাণের পুতলি কন্যার চাদমুখখানি দেখিবার জন্য
মেনকা অধীরা হইয়াছেন। কন্যার স্নেহের ডােরে টান পড়িয়াছে,
তাই স্বামিকে সবিনয়ে দুর্গজানাইতেছেন ।
“মা মাের আছে কি মল
কে লয় তত্ত্ব তার
সম্বৎসর গত যে হ’ল ।
বাপ অচল মা অচল।
সাধ্য নাই এক পা চলা
তাই প্রাণ আমার বড় উতলা
হিমালয় যাওয়া বুঝি ফুরাল।
দাও বিদায় একবার দেখে আসি
রবনা তিন দিনের বেণী,
নবমীর পরে বাপের ঘরে
রবনা আর একটী তিলো—
তােমায় ছেড়ে কি থাকতে পারি
মা’য় না দেখলেও প্রণে মরি
গিয়েই আসিব হবে না দেরি।
বিদায় আমায় দিবে কি না বল ।
কন্যাহৃদয়ের স্নেহের আকুলতার কি সুন্দর অভিব্যক্তি।
ওদিকে গিরিরাণী ও ব্যাকুলা, তিনি গিরিরাজকে ধরিয়া
বসিয়াছেন;-
১০ ।
“যাও যাও গিরি যাও গিরিশ-ভবনে
বাঁচাও প্রাণ গিরিজায় এনে, ধরি চরণে।
বর্ষ গেল বর্ষা এল শরৎ গেলেই ভরসা গেল
যাত্রা কর ফর্ষা হলাে উষা লগনে।
শরৎ গেলে আর তাকে আনা যাবেনা, এ সময় বই
ভােলানাথ আর কি তাকে ছেড়ে দেবে ?
তাহার পর গিরিজায়া দুর্গা আসিলেন। মায়ের সঙ্গে গিরি-
জায়ার সাংসারিক প্রসঙ্গে সুখ দুঃখের কত প্রসঙ্গ উঠিল ।
সে
সকল প্রসঙ্গ সঙ্গীতের মধুর রসে সিক্ত হইয়া অতীব মনােজ্ঞ
হইয়াছে, কিন্তু এই সকল সামান্য প্রসঙ্গের মধ্যে উমা আপনার
আধ্যাত্মিক ঐশ্বর্যের কথা অতি সুন্দররূপে মায়ের নিকট উপস্থা
পিত করিয়াছেন। মেনকা যখন বলিলেন “মাগাে তুই নাকি
জামাই সঙ্গে শ্মশানে বাস করিস? উম উত্তরে বলিতেছেন :
সাধে কি মাগো আমি ঘাের শ্মশানে রই
মাের যত ছেলে পেলে
সারাদিন খেলে দেলে
বেলা গেলে খেলা ফেলে
সেথা এলে কোলে লই।
খেলার সাথী যারা ঘাের অরাতি
একাসেথা যায় ফেলে এলে কালরাতি
তখন তাদের আর কে রাখে মা আমাবই।
এই প্রসঙ্গের পর বিজয়ার করুণ কোমল’চিত্র ।
“নবমীর নিশি হলরে অবসান
উমায় নিতে ঐ এল ঈশান।”
?
( ১০০ ) মেনকার প্রাণ কাঁদিয়া উঠিয়াছে। কিন্তু মেয়ের ত আর থাকিবার উপায় নাই। মেয়ে যে সেখানে সংসার পাতিয়া লইয়াছেন। কিন্তু মায়ের প্রাণ তা বােঝে কই, বলিতেছেন। যাই যাই করে কেন উতলা আমার দ্বিতল গৃহের কাছে কি মা শীতল সেই বেলগাছের তলা ॥ কোথা কাটিয়েছ মা শিশুবেল। বাল্য সখির সাথে বিশ্বমুলে কি করেছ খেলা তখন এই ঘর ভালবাসিতে হেরিত গিরিবাসিতে -কি অসিত কিবা সিতে এই ঘরেই চঁাদ পূর্ণ কলা। মা তখন আত্মজীবন বিস্মিত হইয়াছেন। তাহার শৈশবলীলা- নিকেতন আজ কোথায় ? কিন্তু তবু কন্যাগতপ্রাণ জননী, মেয়েকে একটু খোঁটাদিয়া কহিলেন, তখন তো মা তুই বেলগাছ- তলা ভাল বাসিতিস না।” বিষাদকরুণ ভাবের এমন সুন্দর অভিব্যক্তি আমরা বহুদিন দেখিনাই। পড়িতে পড়িতে, সত্যই অশ্রু সংবরণ করা দায় হয়। ইহার ২য় ভাগও শীঘ্রই প্রকাশিত হইবে বলিয়া আমরা অবগত হইলাম। এই পুস্তকের মূল্য। চারি আনা। শ্ৰীযুক্ত মােহিনীনারায়ণ মুন্সী কাশীধাম, সােনার পুরা বা শ্ৰীযুক্ত হরিনাথ বিদ্যারত্ন কবিরাজের নিকট ১৭৮ নং কর্ণওয়ালিস- স্ট্রীট, পুস্তকের প্রাপ্তি স্থান। আবার ১৩১৬ সালের ১৫ই পৌষ ঐ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া
[ ১০ }
পত্রিকার ২য় ভাগের ১ম খণ্ড সম্বন্ধে কিরূপ মত প্রকাশ করিয়া
ছেন দেখুন -
গীতামৃত লহরী ২য় ভাগ ১ম খণ্ড
এইখণ্ডে শ্রীগৌরাঙ্গ বিষয়ক মনেকগুলি গান আছে। এই
গ্রন্থের রচয়ীতা স্বর্গীয়
যােগেন্দ্রনায়ায়ণ মুন্সী। প্রাপ্তিস্থান
সােনার পুব, কাশীধাম, প্রকাশক শ্ৰীযুক্ত পূর্ণেন্দ্রনারায়ণ মুন্সী,
মূল্য 10 আনা মাত্র।
গ্রন্থকার মহাশয় পরম ভক্ত ছিলেন। পত্রিকায় ইতঃ
পূর্বে তাহার
রচিত কতিপয় গান প্রকাশিত হইয়াছিল।
আক্ষেপের বিষয় এই যে গ্রন্থকার অতি অল্প কালেই এই নশ্বর
জগৎ হইতে পরােলােক গমন করিয়াছেন।
আমরা গানগুলি পাঠ করিয়া সন্তুষ্ট হইলাম। এই গ্রন্থে
শ্রীগৌরাঙ্গভক্তি ও ভক্তিরসের বহুল গান কীৰ্ত্তন আছে।
রচয়িতা মহােদয় প্রকৃত পক্ষেই যে ভক্তি রসে পরিপ্লত হইয়া
গান গুলি রচনা করিয়াছিলেন তাহার বহু নিদর্শন সহৃদয়
পাঠক মহােদয়গণের হৃদয়ঙ্গম হইবে, সুমধুর ভাবে সুললিত
ও প্রাণস্পর্শী রচনা নৈপুণ্য এই গীতামৃত লহরী
ইহার নামের সার্থক করিয়াছে। এই সকল গানে চিরদিনই
রচয়িতার অমরত্ব বিধােষিত হইবে ইহাই আমাদের বিশ্বাস।
আবার বাঁকুড়া দর্পণে ঐ সালের ১৭ই পৌষ ১ম ভাগের
১ম খণ্ড সম্বন্ধে কিরূপ মত প্রকাশ করিয়াছেন দেখুন।
শ্রীশ্রীগীতামৃত লহরী।—১ম ভাগ ১ম খণ্ড। যোগেন্দ্র
নারায়ণ মুন্সী প্রণীত। এবং শ্ৰীযুক্ত পূর্ণেন্দুনারায়ণ মুন্সী
কর্তৃক প্রকাশিত মূল্য। চারি আনা মাত্র। পূজ্যপাদ
স্বর্গীয়
ভাষায় ,
[ ১ ] গ্রন্থকার মহাশয় ২১৩ সহস্র সঙ্গীত রচনা করিয়া ছিলেন। তন্মধ্যে কতকগুলি শ্যামাবিষয়ক পদের সমাবেশে এই গ্রন্থখানি প্রকাশিত হইয়াছে। আলােচ্য গ্রন্থের প্রতিপাদ্য বিষয় আগমনী ও বিজয়া। সঙ্গীত গুলির আলােচনা করিয়া বুঝিলাম উহাদের প্রত্যেকটা সুধার ভাণ্ডার। পড়িতে পড়িতে ভাবিতে ভাবিতে এক অতীন্দ্রিয় সুখ অনুভব হইতে থাকে। পদ গুলির ভাব যেরূপ উচ্চ ভাষাও তদ্রুপ পরিমার্জিত। প্রেমভক্তি ভাবােচ্ছসময় এরূপ উপাদেয় সঙ্গীত গ্রন্থের রসা- স্বাদন বহুদিন করিনাই। আজ সে সৌভাগ্য লাভ করিয়া আনন্দিত, উপকৃত ও পবিত্র হইয়াছি। গ্রন্থে সন্নিবেশিত প্রায় প্রত্যেক পদই কবিত্বপূর্ণ ভাবােচ্ছসময় এবং অনুপ্রাসালঙ্কারে বিভূষিত। বড়ই সুমধুর বড়ই চিত্তাকর্ষক। সুমধুর আধ্যাত্মিক পদাবলী আলােচনায় যাহারা তৃপ্তিলাভ করিয়া থাকেন তাহারা এ গ্রন্থ ক্রয় করিয়া প্রকাশক মহাশয়ুকে উৎসাহিত করুন। পদগুলি বিশুদ্ধভাবে তাললয় সমন্বিত হওয়ায় উহাদের উপাদেয়তা বর্ধিত হইয়াছে। প্রত্যেকটী উদ্ধত করিয়া দেখাইবার যােগ্য; কিন্তু ক্ষুদ্র দর্পণে তাহা অসম্ভব। ২১টী স্থান উদ্ধত করিলেও গ্রন্থের সৌন্দর্য নষ্ট করাইবে তজ্জন্য এ বিষয়ে বিরত থাকিলাম। প্রকাশক মহাশয় স্বর্গীয়, গ্রন্থকারের সমস্ত পদ সংগ্রহ কবিয়া প্রকাশে কৃতকার্য হইলে উভয়েরই অক্ষয় কীর্তি জগতে বিঘােষিত হইবে। ভক্তমণ্ডলী এই সাধু উদ্যমে সুযােগ প্রকাশক মহাশয়কে প্রােৎসাহিত করিতে সঙ্কোচিত হইবেন না, ইহ: আমাদের প্রর্থনা। গ্রন্থখানির ছাপা কাগজ সুন্দর রূপ- [ ১ ] হইয়াছে। এ জেলার সঙ্গীতপ্রিয় ব্যক্তিগণের নিকট এ গ্রন্থের সমাদর হইলে আমরা বাস্তবিকই নিরতিশয় প্রীতি লাভ করিব। গ্রন্থ প্রাপ্তির ঠিকানা-শ্ৰীমােহিনীনারায়ণ মুন্সী পােঃ সেরপুর জেলা (বগুড়া)। আরও দেখুন ভট্টপল্লী নিবাসী অধুনা কাশীবাসী জগৎবিখ্যাত মহামহােপাধ্যায় রাখালদাস ন্যায়রত্ন মহাশয় ও অন্যান্য অনেক পণ্ডিত ও ভদ্র ও সঙ্গীতজ্ঞ মহােদয়গণ পদ- কৰ্ত্তার প্রণীত গীত শ্রবণ করিয়া যে করিয়া যে সকল মতামত প্রকাশ করিয়াছেন তন্মধ্যে পুস্তকের কলেবর বৃদ্ধি হয় জন্য অন্যান্য গুলি না দিয়া কেবল ন্যায়রত্ন মহাশয়ের মত নিয়ে দিলাম । বগুড়া সেরপুর নিবাসী উদারচেতা উদারচেতা জমিদার শ্রীযুক্ত গিরিশ নারায়ণ মুন্সী মহােদয়ের পুত্র কাশী-মৃত যেগেন্দ্রনারায়ণ প্রণীত ভক্তি রসােদ্দীপক গীতাবলী বারম্বার শ্রবণ করিয়াছি তথাপি শুশ্রুষানিবৃত্তি নাই। আমার বিশ্বাস উক্ত প্রণীত সঙ্গীত সমূহ মনােযােগ পূৰ্ব্বক সমালােচনা করিলে পারমার্থিক রসহীন হৃদয়েও শক্তি, শিব বিষ্ণুতে ভক্তির পূর্ণ সঞ্চার বিশেষতঃ শ্রীকৃষ্ণ প্রেমাসি, অবশ্য হইবে। কালে এই গীতসমুহ বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সবিশেষ আদরণীয় হইবার সম্ভব। ইতি ২৮শে কার্তিক ১৩১৫।
No text on this page.
ভ্রম-সংশােধন। পত্রাঙ্ক পংক্তি দ ২৮ অশুদ্ধ সর্গ মুররী স্বর্গ ১ মুরারি ১০ ১২।৪২ ১২৪৩ ? হারলি হারালি ৭০ ২৪ অসতয় অসময় ৭১ ১১ ৩৫৮|| ৩৫। ৭২ ৭ দোষে বশে ১৪ ক কি ৭৭ ১৬ ধি সাধ মিশ্র ৮১ ১ মশ্র নিশা ৮৩ নিসা ১১ ৫ ঘুবে বাঝে চিরকালী ঘুচবে ঝঝে চিরকালি ১০১
No text on this page.
গভম্বত-লহরী।
২য় ভাগ—২য় খণ্ড।
.
গণেশ বন্দনা।
বেলয়াল-একতালা।
এক দন্ত মহাকায় লম্বােদর গজানন।
হর বিঘ্ন কাল ভয়ে সতত উদ্বিগ্ন মন ।
আশুতােষ নন্দন, আশুতােষ বর্ধন,
পিপাসু মন করহে কৃপাবারি তাহে বিতরণ।
তুমি গণাধি নায়ক বিনায়ক নিরঞ্জন -
ওঙ্কার স্বরূপ তুমি নিগমাগম ভূষণ,
সিদ্ধিপ্রদ কামদ, মৃদঙ্গ বিশারদ,
ও পদ ভব সম্পদ বিপদ ভয় বারণ ।
গীতামৃত-লহরী।
সান্ধ্য সিন্দুর ছটা, সুন্দর বরণ ঘটা,
করপদ নখরে ইন্দু, ইন্দুর বাহন :-
শঙ্খচক্র গদাম্বুজ, সুশােভিত চারি ভুজ,
যাচে পদাঘুজ যােগেন্দ্র অভাজন ॥১॥
গীতামৃত-লহরী
€k
শuraat
শ্ৰীশ্ৰীযােগমায়া বন্দনা।
মল্লার-ইংরি ।
জয় যােগমায়া জগত্তারিণী ।
শ্রীবৃন্দাবন বিহারিণী -
রাধাশ্যাম রস সঙ্গ রঙ্গ সঙ্টন কারিণী।
চন্দ্ৰ ভালা চন্দ্রক চূড় সােদরা,
চপলাজিত পীত লাবণ্য ধরা,
ব্রজলীলা নাটক উদঘাটন করা,
সারাৎসারা পরানন্দ প্রচারিণী ।
তুমি মধুরাধিক অতিমধুরা চতুরা,
মাগাে বিরহ-বিধুরা যত মথুরা-বধূরা,,
তােমারি কৃপায় তারা গোবিন্দে পায় তারা,
তুমিই রাস মহাস বিস্তারিণী
১ গীতামৃত-লহরী। তুমি ত্রিপুরা সুন্দরী আদ্যা পুরাতনী, পুরাও যােগেন্দ্রর সাধ পরাত্মনী, রাধাকৃষ্ণ পাদপদ্ম রসাস্বাদ, পাই যেন অন্তে গাে হর মনােহারিী ॥২॥ ঐ ২য় গীত। মল্লার-ইংরি । পৌর্ণ মাসী পরমেশী পরাৎপর।। ব্যাস ভাষ মহারাস প্রকাশিনী ত্রাস নাশিনী তারাত্রিবিধ তাপহরা । মূলম্বুজ ঘাের গহ্বর শায়িনী, সহস্রার বিগলিত সুধা পায়িনী, নিত্যাসিদ্ধ সদানন্দ দায়িনী, ব্রজলীলা সহায়িনী বিলাস তৎপরা । শ্রীনন্দ-নন্দিনী, সম্বিৎ সন্ধিনী, হলাদিনী রূপিণী, গােপিনী বন্দিনী, মদন মদোন্মদা, মধুর ভাষ প্রদা, মত্ত ভ্রমর সদ্ম মধুর-নিনাদিনী :- হামৃত-লহরী তুমি ছন্দ বন্ধ নয়, প্রবন্ধ ভাষিণী, ভব বন্ধন মােহ বিবন্ধ নাশিনী, শ্রীরাধাগোবিন্দ, চরণারবিন্দ, বল কিসে পায় যােগেন্দ্র, উপায় কর মা ত্বরা ॥ ৩॥ শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু বন্দনা। সুরট মল্লার-একতালা । কেরে' ও কাম মথন ঠাম, দামিনী দাম জিনিয়া বরণ। মুখে অবিরাম, হরে কৃষ্ণ রাম, মধুর নাম অমিয়া ক্ষরণ । এযে পরতত্ত্ব স্বরূপ বিগ্রহ, ভাণ মাত্র ভক্ত ভাব পরিগ্রহ, ভাগ্যবান জনে করি অনুগ্রহ, করে অহরহ প্রেম বিতরণ জানিতে রাধার প্রেম মহিমা, আর আস্বাদিতে নিজ মাধুরিমা, ধরি অপরূপ রাধার ভঙ্গিমা, ভাব নিধি ভবে করে বিতরণ
গীতামৃত-লহরী ।
বেদোপনিষদে ব্ৰহ্ম যার খ্যাতি,
তিনি মাত্র এর শ্ৰীঅঙ্গের ভাতি,
কি বুঝিবে মূঢ়, নারে চন্দ্রচূড়,
ভেদিতে এ গুঢ় ভাব আবরণ।
ওযে-কভু আশ্চৰ্য্য ঐশ্বৰ্য্য প্রকাশে,
উজ্জ্বল ছটায় কোটী সূৰ্য্য হাসে,
কভু শ্রীরাধার মাধুৰ্য্য উচ্ছাসে,
মনের উল্লাসে করে সন্তরণ -
তাই অবিকল মন্দাকিনী পারা,
পদ্ম-নেত্রে বয় অবিরল ধারা,
প্রেমে মাতােয়ারা বাহ্য জ্ঞান হারা,
হেমাঙ্গে ঝলকে ভাব অভরণ।
হের জ্ঞান আঁখি করি উন্মীলন,
একাধারে রাধা কৃষ্ণের মিলন,
করিলে উহার লীলানুশীলন,
অবিলম্বে হয় প্রেমেরি স্ফুরণ :-
বস্তুত এ বস্তু যে না চেনে ভাই,
কলিযুগে তার পরিত্রাণ নাই,
কোটী বিপ্ন বাধা উপেক্ষিয়ে তাই,
যােগেন্দ্র লয়েছে ও পদে শরণ। ৪।
গীতামৃত-লহরী।
৭
ঐশ্রীবৃন্দাবন কনা।
সুরট মল্লার- একতালা।
ব্ৰজের সকলি মধুর লাগে।
মধুর আকাশ, মধুর বাতাস,
মধুর সুবাস বয় সােহগে ।
চাদে মধুর
মধুর কিরণ,
মধুর
মধুর ছাদে করে বিকীরণ,
মধুর সূৰ্য্য, ঢালে মাধুৰ্য্য,
তপত তপন তরাসে ভাগে।
সেথা-মধুর মধুর তরুলতাগুলি,
নত শীরে চায় সে মধুর ধূলি,
যেন—মধুর বিহগ মধুরব তুলি,
বীণার গরব ভাঙ্গে :-
• মধুর শুকের মধুর গান,
মধুর পিকের মধুর তান,
সবারি সেথা মধুর প্রাণ,
মধুর ব্রজের মাধুরী মাগে।
সেথা—মধুর মধুর কতই 'কুঞ্জ,
মধুর মধুর কুসুম পুঞ্জ,
,
গীতামৃত-লহরী।
মধুর ভৃঙ্গ মধুর গুঞ্জ,
গীত গায় সদা মধুর রাগে :-
শুনিয়া মধুর মুরলী গীত,
মধুর যমুনা উজান ধাবিত,
সারি সারি সারি পুচ্ছ প্রসারি,
মধুর ময়ূর নাচে অনুরাগে।
.
সেথা—মধুর মধুর খমক খােল,
মধুর মধুর উঠিছে রােল,
মধুর ভজন গানে প্রাণে,
জাগায় রাগিণী রাগে :-
মধুরাধিক মধুরা মধুরা,
প্রেম চতুরা গােপ বধুরা,
মধুর রাধা মাধবে ঘিরে,
যােগেন্দ্রের মানসে জাগে । ৫।
ব্ৰহ্মা বিষ্ণু শিব বন্দনা।
আশােয়ারি টোরি—আড়া।
তুমি—মজমা কেনরে তায়।
ওরে—যার পায় এই জগত লুটায়।
গীতামৃত-লহরী।
ওরে—দয়া করে এ আঁধারে যে আলাে ফুটায়,
ও ভাই অসার আশা হাসা কঁাদার ধান্ধা
যে টুটায়।
উথলে ভাগিরথী যার পায় আর জটায়,
যার কমুণ্ডলে থেকে কুল কুল রব রটায় ।
ওসে তিনেই এক একেই তিন,
ঢাকা মােহ ঘন ঘটায়,
যােগেন্দ্র চিন্তে পাল্লে জিন্তে পায়রা ঐ কৃতান্ত
বেটায়।
তিনে এক হলে নিত্যানন্দ যে ঘটায়,
ভবের আঁধার টুটে যায় সে আনন্দ ছটায়। ৬।
০
১
।
শ্রীশ্রীরামচন্দ্র বন্দনা।
ভৈরব-কাওয়ালী। *
ভাবরে ভ্রান্ত মন, ভবার্ণব কর্ণধার নবদূর্বাদলরুচি
শ্যামে। ভয় কিরে তব
ভধামে, ভানু-সুত ভয়ে ভীত ভাবরে ভব-বিভব
ভানু-কুলােদ্ভব শ্রীরামে।
গ
এই গীতটী পদকর্তার বাসস্থান সেরপুরের একটী লােকের
নিকট পাওয়া গিয়াছে।
১০
গীতামৃত-লহরী
রুদ্রাক্ষ-মূলে বসি, রুদ্রাণীরে বামে করি,
রৌদ্র জল
সহ্য করি, আহার নিদ্রা পরিহরি, বিরূপাক্ষ
ভাবেন সদা যে রামে
বৈকুণ্ঠনিবাসিনী স্বয়ং লক্ষী স্বরূপিণী ধরণী-নন্দিনী
সীতা যার বামে ;
সেই যােগেন্দ্র বাঞ্ছিত ধনে, ভূলে রলি অসাধনে,
কি জানি কি ঘটে পরিণামে ॥ ৭।
শ্রীশ্রীহরি হর মিলন।
ললিত-পঁপতাল।
হেররে মন হরি হর কি অপরূপ মিলন
আধ ধবল আধ শ্যামল সুচিক্কণ ।
আধ গভীর থির ক্ষীরদ নীর নিধি নিন্দি,,,
আধ নীরদ রুচি নিরমল কালিন্দী,
আধ হিল্লোলে দোলে, আধ কল্লোলে উছলে,
আধ মােহে মধুর বােলে আধ নাদ ভীষণ।
আধ শরত বসন্ত, আধ বরষা হেমন্ত,
অধি শিশির, অধ নিদাঘ নিদারুণ।-
গীতামৃত-লহরী।
an
আধ তরুণ তরুদল শশাভিত কুঞ্জবন,
আধ প্রতপ্ত মরু মরীচিকা করে সৃজন,
আধ নীলকান্ত মণি, আধ চন্দ্র কান্ত জিনি,
অভেদ ভাবে, ভাবে যােগেন্দ্র যুগল চরণ ॥ ৮ |
-
No text on this page.
গীতামৃত-লহরী।
২য় ভাগ- ২য় খণ্ড।
on
য।
প্রথম উচ্ছ্বাস।
ললিত-ঝাপতাল।
দেখে নন্দ-রমণী যেন চন্দ্র চিরে নখরে।
নন্দন বদন মাঝে ব্রহ্মাণ্ড বিরাজ করে।
তাহে, বিরাট মূরতিধারী পুরুষ তার
কিবা জ্যোতিঃ ;-
সে যে, কিরণে অতি আললাকিত ভূদি
সপ্ত জগতী ;-
দেখে আনন্দ সলিলাবৃত নয়নে বিশ্বলীলা,
সংসার বিস্মরি বিস্ময় ভরে।
১৪
গীতামৃত-লহরী।
দেখিল গােলকধামে যুগল রূপ মাধুরী,
নীল কমল শ্যামে, বামে কনকে মাখা বিজুরি ;
কমল কুসুম কোমলা কমলা বিহরে।
সত্ত্ব গুণ ধরি ব্রহ্মা ব্ৰহ্মলোকে জীব সৃজে,
রজে পালন করিছে হরি, সংহারিছে শিব নিজে,
তমগুণ ধরি সবে, পুন অসিন করি শবে,
ভাবিছে কেশবে, ঐ হেরিল হরে।
দেখে ইন্দ্রলােক, শচী, নন্দন উপবনে,
রত অদিতীনন্দন ইন্দ্র চিত বিনােদনে,
দেখে অমরাপুরী পরিপূরিত অমরে।
এরূপে রাণী দেখে স্বর্গ, মর্ত্য রসাতল যত,
দেখে নিয়ত জীব কুল করিছে উৎসব কত,
বিরাজিত অরুণ ইন্দু, শৈল, নদ নদী সিন্ধু,
দেখে তরুণ তরুদল শশাভিত ভূধরে। •
দেখে বদনে বৃন্দাবনে,
তাহে নন্দ আদি গােপে,
দেখে যশােদা যশােদায়
অনিমেষ নয়ন সঁপে,
সে যশােদা এ গােপালে আছে কোলে করে।
গীতামৃত-লহরী।
যােগেন্দ্র কহে কি মায়া হরিহে
প্রকাশিলে তুমি,
ভাসিলে প্রলয় জলে যাচিলে ত্রিপাদ ভূমি,
ছলিলে সে বলিরাজে, একি দেখি বদন মাঝে,
যে ধরণী সৃজন কর ধর হে তা উদরে |||১৯৷৷
কীৰ্ত্তনাঙ্গ-যৎ।
অহা-ভাবের হিল্লোলে কে মাের হৃদয়
দোলায়রে
হৃদয় দোলায় তারে দোলাইব আয়রে ।
কে যেন অলক্ষ্যে থাকি, বলিছে অামারে ডাকি
খােল খােলরে আঁখি, বৃথা দিন যায়রে,
ভুলে আর থেকো নারে জীব মােহ মায়ায়রে।
দেখরে, নীলকমল কানু, বসেছে পাতিয়ে জানু,
হাসিয়ে হাসিয়ে ননী চায়রে :
আবার-ঐ দেখরে ধরে বেণু,
উড়ায়ে ব্রজের রেণু,
সখা সনে গােঠে ধেনু চরাইতে ধায়রেঃ-
বাৎসল্য সখ্য ভাব তােরে ঐ দেখায়রে ?
# এই গীতটী পদ কর্তার পঞ্চদশ বৎসর বয়সের রচন!। বহু
১৬
গীতামৃত-লহরী
হের কিবা অপরূপ, লাবণ্য রসের কূপ,
সজল ঘন নিন্দি শ্যাম কায়রে ;
বামে হের হেমময়ী প্রেম প্রতিমায়রে ।
এই ওর মধুর ভাব, এ ভাবে যার অভাব,
সেকি নিত্যানন্দ কভু পায়রে -
উহার -যে ভাবে তাের মন মাতে,
মত্ত হয়ে রও তাতে,
শান্ত দাশ্যে রাখ সাথে, সেই তাের সহায়রে,
হায় যােগেন্দ্রে সকলি অভাব, পাবে তা
কোথায় রে। ২। ১০ |
আলিয়-তেতালা।
বালক তুই আমায় আলি কি করিতে পার
কাজ নাই৷ভাইভবে: ডুবে যাই এবার ;-আহা—
কমল হারে কোমল হাতে, আমি দেখতে ত—
পাবনা তাতে, করাল কেরােয়ল রে বালক
ভীম দণ্ড কঠোর যার।
দিনের রচনা জন্য সকল স্থান বুঝা যায় না, যেরূপ পাইয়াছি,
তাহাই লিখিত হইল;-
গীতামৃত-লহরী।
১৭
Pre
আমার, জরাজীর্ণ ভরিখানি দেখরে ভাই, হায়রে
কোন্ প্রাণে কেমন করে, বসাব তায় বালক তােরে,
তায় আবার পাপের অনন্ত বােঝাই, তাতে--
ছ’টি মাঝি তাদের দয়া মায়া নাই, তারা---
নানাবিধ ছলে বলে, ডুবাবে তােয় ঘাের অতলে,
দেখতে তােরে পাবনা আর সেই ভাবনা অনিবার।
যে বাঁশী বাজাচ্ছ, আহা! শুনি তাই,
হবেনা তাের তরি ব’তে, ভবের এ ভীষণ স্রোতে,
শুনিতে শুনিতে বেণু ভেসে যাই ; ও তা
ছাড়িসনা ভাই যতক্ষণ না কূলটী পাই, আহা
তানে তাের কি মাধুরী, এই যে তুফান তায় না ভরি,
সাবধান ছাড়ি না তা তানেই
আছে প্রাণ আমার ॥
আমি যে যোগেন্দ্র তাকি জাননা, আমার #
যোগের গানে মহাযােগ নৈলে ঘাের দুর্ভোগ,
সইতে হয় কালের অবমাননা; একটী বার—
কৃপাদৃষ্টি হাননা, আমার—মানস উপকূলে বসি,
বাজাও বঁাশী কাল শশী, আমি-~-এ তরঙ্গ
বুকে ধরি সুখে তরি পারাবার ॥ ৩১১।
পাঠাওরে যােগেন্দ্র কয় কি তুমি জান না।
*
১০
গীতামৃত-লহরী ।
সুরট মল্লা-একতালা।
এ বালক সামান্য নয়।
ওকে, চিবি কি সহজে,
বহুরূপী ও যে, কভু বিরাট কভু খর্ব হয়।
দুরন্ত এ শিশু এই আছে অন্তরে,
কটাক্ষেতে ছুটে যায় দূরান্তরে,
স্থলে জলে হলাহলে ওকি ভরে,
কাল ওরে দেখে করে ভয় !
মাধুরীতে ওর মােহ করে মন,
দেখে না কেহ তা মােহে নিমগন,
একবার যদি আঁখিতে লাগে ও,
আকিতে রাখিতে সাধ যে হয় ;-
যে কমল করে কেরােয়াল দিতে,
অবােধ রে তাের ব্যথা লাগে চিতে,
সেই করালে, পৰ্বত যে তুলে,
করেছিল ইন্দ্রের গর্ব লয় ।
ঐ বালক দাবানল করে পান,
বঁাচায়েছে ব্রজ-রাখালের প্রাণ,
যমলাৰ্জ্জুন ভঞ্জন করি,
দিয়াছিল বলের পরিচয় ;-
গীতামৃত লহরী।
ঐ কমল করে খেলিবার ছলে,
বকচক্ষু বিদারিল কুতূহলে,
কেশ আকর্ষিয়া ও কর কমলে,
পাঠাইল কংসে যমালয় ।
এনী ধার ও করে, করবাল হারে, তায়-
কেটেছে রজকে একই প্রহারে, তার
কি হবে ও ছার কেরােয়ালের ভারে,
ওত ঐ করে নিতুই ওয়;
ও বড় দয়াল ভবের ঘাটে থাকে,
সম্বলহীন যে জন্ পার করে তাকে,
দেখে অতি দীন্ যােগেন্দ্ৰ তােমাকে,
পারে যেতে বারে বারে কয় । ৪।১২।
ললিত-একতালা।
* *
।
আহা! কালাের মাঝে এত আলােক।
আমায়—ভুলা’লাে ঐ কাল বালক।
স্বর্গ মর্ত্য রসাতল ঐ আলােকে ভরা ত্ৰিলােক।
দেখতে তত পাবনা রে আর
পড়ে যদি চোখের পলক।
२०
গীতামৃত লহরী
ঢেলে—জলদের সঁচে চঁাদ আর বিজলী,
কে গড়িল এই জ্যোতির পুতুলী,
হৃদাকাশে মাের নাচে হেলিদুলি,
নিরখি ভুলি ভূলােক ?
ঐ—ললিত লাবণ্য গলিত অমৃত,
মন চকোরের ধরে না পুলক।
আহা কি উজ্জ্বল তনু, শিরে ইন্দ্র ধনু,
কেবলে রে চুড়ায় শিখির পালক।
ওযে—অন্তরে বাহিরে বাজায় মুরলী,
গুঞ্জরে যেন রে শত মত্ত অলি,
আকাশের গায় পলকে লুকায়,
পলকে দ্যায় ঝলক -
অলকা ঝলকে ভালে, তার কোলে
দোলে অলক।
আমার—রতি মতি মাতিল রে নাসায়
দেখে মতির নলক।
হায় রে আমার হ’ল একি,
যে দিকে চাই ওরেই দেখি,
এ শিশু কেবল, করিল পাগল,
হাসাইল সব লােক।
-
গীতামৃত-লহরী।
২১
যােগেন্দ্র কয় জানা মন ঐ তে রে
এই ভবের পালক।
কোন ভয় থাকেনা রে, ঐ ছেলে
যদি হয় চালক। ৫|১৩।
সুরট--তোলা।
স্থির হয়ে একটা বার ব’ ভাই।
খেতে বসে অমন করে আর
ছুটে পালাস না কানাই।
তাের সনে ভাই নিতি নিতি,
খেতে বড় পাই যে প্রীতি,
তুই জিতিস্ কি আমি জিতি,
তাতে কিছু ক্ষতি নাই।
দেখতে দেখতে যায় যোবেলা,
আর বাকখনঃকরবি খেলা,
দীন বলে ভাই কল্লে হেলা,
তােরে ফেলে কার কাছে যাইঃ-
খেলেমন মাতেন। কারাে সাথে,
পাই তাতে ফল হাতে হাতে,
२२
গীতামৃত-লহরী।
কত বােঝাইচাপায় মাথে,
দুখ পাই যাতে করে সে তাই।
দীন দয়াময় শুনে তাের নাম,
আশা করে খেতে এলাম,
কপাল গুণে তুই হলে বাম,
একূল ও কূল দুকূল হারাই :-
তাই যােগেন্দ্র কেঁদে আকুল,
এ অকূলে কিসে পায় কূল,
তুই যদি না হস্ অনুকুল,
সকল আশায় পড়ে যে ছাই ॥ ৬১৪।
০।
তিলক কামোদ-আড় কাওয়ালী ।
ঐ রাঙ্গা ছেলেটীরে নিয়েথাকি ভাই
এই ভাঙ্গা ঘরে।
কাঙ্গালের কুঁড়ে খানি, তাররূপে যে
ঝলমল করে।
নিদারূণ দুখ পেয়ে, পালাতে সে চায় ধেয়ে,
সেধে কেঁদে ধ’রে বেঁধে, রাখি তায়
হিয়ার ভিতরে।
গীতামৃত-লহরী
২৩
সামান্য সােহাগের দুধে, মিটে না
ছেলেটীর খিদে,
সদাই মরি এই খেদে, বেদনায় প্রাণ বিদরে।
দেখে তার উঁদ মুখ, পাইরে অতুল সুখ,
সে সুখে বিধি বৈমুখ,দেখতে নিলেই দৃষ্টি হরে।
জড়াইয়ে মােহজালে, রাখে ভাই নানা জঞ্জালে
কবে ছেলে গলায় ফেলে, যােগেন্দ্র
মরে সেই ডরে।
উঠবে যখন কালের তুফান, পড়তে
চাবে ভাঙ্গা ঘর খান,
তখন নাকি ঐ করবে ত্রাণ, তাই
রাখি এত আদরে। ৭১৫।
ইতি গীতামৃত লহৰ্যাং শ্ৰীশ্ৰীগােপাল স্বরূপ বর্ণনং নাম
প্রথমােচ্ছাসঃ ।
.
-
No text on this page.
দ্বিতীয় উচ্ছাস
ভৈরবী-একতালা।
আমি—বেদ বিঞ্জি ছাড়ি, বেদনা হারি,
হরি নাম সদা গাই রে।
তাতে হয় হক মম, লক্ষ জনম, তায়
কিছু ক্ষতি নাই রে।
সেই ঘন বিড়ম্বি নিবিড় নীল, কান্তিটী
যেন ভুলিনে তিল,
নিত্য
নৃত্য করে যেন মাের,
চিত্ত পুলিনে তাইরে।
সন্ধ্যা অামার হ’ক বন্ধ্যা তাতে নাই কোন শোক,
তর্পণ জল অর্পণ বিনা রুমুক পিতৃ লােক,
ঘুমুক জগত নিন্দা খ্যাতি, তুষুক দুষুক স্বজন জ্ঞাতি,
আমি কিছুতেই ঐ শ্যামল ভাতি,
ভুলিতে নারিব ভাই রে ।
২৬
গীতামৃত-লহরী ।
চাহে যােগেন্দ্র সদা গােবিন্দ নামানবে ভাসিতে,
আর সাধ চিতে, ভকত সহিতে,
নাচিতে, কাদিতে, হাসিতে,
কবে হেন শুভ দিন আসিবে,
প্রেমানন্দে পরাণ ভাসিবে,
মােহ অন্ধকার নাশিবে, দিব-মোক্ষের
মুখে ছাই রে। ১১৬ ।
ভৈরবী-একতালা ।
যথায় কৃষ্ণ নামের ধ্বনি :-
কি অভিমানে, যাওনা সেখানে,
কি ধনেই হয়েছ ধনী।
নিধনের ধন, যত কিছু, বিনা নাম চিন্তা মনি।
যারে তুমি চাওরে অবােধ,
এই নামে সে মনির খনি।
যুগে যুগে যােগে জেগে
যারে পায়না যােগি ঋষি মুণিঃ-
নামের গুণে সেধন তুমি পেতে যে পার এখনি ।
যাহার তুমি পড়সন্ধ্যা কর পূজা দিন রজনীঃ
নামে অন্তে ফলবে যেফল,
তাকি মন বুঝেও বােঝনি।
।
২৭
গীতামৃত-লহরী।
নামের কি অদ্ভুত লীল, গলায় রে শীলা অশনি।
পােড়ায় পাপ তাপ যত, প্রচণ্ড প্রতাপ এমণি।
যােগেন্দ্র ঐ নামের গুণে, মৃত্যুঞ্জয় হয়েছে শুনি।
এমন সুধায় অরুচি যার,
তার মিছে ভার ধরে ধরণী ॥ ২১৭।
পাহাড়ি পিলু-একতালা।
হরি নামের গুণ নাই জাতে বাঁকি।
নামে টোটে কৰ্ম্ম বন্ধ জন্ম অন্ধ পায়রে আঁখি।
নামের গুণে গরল সুধা, হয় দেখিরে তরল সুধা।
ও’কে নিঙ্গড়িলে এ নিগুড় রস,
নিগম সুধা সিন্ধু ছাকি।
কে আবার এ নামের মাঝে নবীন নটবর সাজে,
ত্রিভঙ্গ জলদ কান্তি, যতনে রেখেছে আঁকি।
মুরতি টী নামের রােলে,
প্রেমে আবার হেলে দোলে,
যে দেখে সে সকল ভােল,
যােগেন্দ্র কয় নয়রে কঁকি ॥ ৩১৮ |
০
২৮ গীতামৃত-লহরী। বারোয়া-ঠুংরি। হরি বােল বন্না ওরে ভাই। সবাই মিলে ও নাম নিয়ে আয়রে নাচি গাই। তুলে গলে নামের মালা, ভুলে যাই ভবের জ্বালা, খুলে পড়ক মায়ার বাঁধন কায়ার বালাই কাজ কি পূজা যজ্ঞ যাগে, নামটী যদি জিহ্বায় জাগে, কি আনন্দ তার আগে, সর্গ আর কি চাই- মাতে যারা হরি নামে, তার কি আর পরিনামে, কামনার নরকে নামে গােলকে পায় ঠাই। হরি পদে প্রাণ সঁপে সদা হরি নাম জপে, তরিল সঙ্কটে প্রদ তাকি শােন নাই। পাতকী যোগেন্দ্রের মত, দীন হীন কত শত, নামের জোরে ভব ঘােরে তরে শুনতে পাই । ৪১৯। মুলতান-একতাল হরি নামে কি নাহয়। কতছন্দ ছােটে কত চন্দ্র ফোটে টোটে অন্ধকারচয় ৷
গীতামৃত-লহরী।
মুখের
মুখে
আলােকে ভরে এ নিখিল বিশ্ব সুরভি পবনে বয়।
শুক পিকাবলী, তােলে হরি বলি,
কাকলি সুধাময় ।
নিগম উক্ত,
নিকসে নিগুঢ় শ্লোক সুক্ত,
নামেরি গুণে বধিরে শুনে, মুকেও কথা কয়
নামের কত ককু গুণ, জ্বলে প্রেমাগুণ,
পাতক করে ক্ষয়।
প্রাণ চাতক, পীয়ে ও পিযুষ, পুলক প্রমােদে রয় ।
নামই সবার সুচনা, নামে নিখিল রচনা,
নামেই হয়রে,
নিতি নিতি, স্থিতি, পালন লয়।
নামে কৰ্ম্মা কৰ্ম্ম, ধৰ্ম্মা ধৰ্ম্ম, নাশেরে সমুদয়,
হরণ করেরে করণ কারণ, জনম মরণ ভয়।
কর নারে অনুধাবন, নাম যে ভুবন ভাবন,
মজে হেন পাবন নামে, নাম যে নরক দয়ঃ ৪
কত অসম্ভব লীলা উদ্ভব নামে হয় মিছে নয়।
নামে যােগেন্দ্র জগৎ জাগায়
গায়রে নামেরি জয়। ৫২০।
দয় অর্থাৎ যে স্থানে নদীর গভীর জল থাকে।
*
গীতামৃত-লহরী ।
ইমন-একতালা
কৃষ্ণ নাম কি মধুর, ওরসে মাতনা রে মন,
যাতায়াত জাত যাতনা হবে দূর ॥
ছুটিবে মায়ায় বন্ধ, ফুটিবে রে কোটি চন্দ্র,
উঠিবে তরঙ্গ প্রেমানন্দ সিন্ধুর ॥
হয় নয় স্বাদ নিয়ে, সাধ পুরা পরখিয়ে,
পেলেরে ওসুধা হতে হবে না আর ক্ষুধাতুর
তাই বলিরে যােগীন্দ্র ভজ সদা শ্রীগােবিন্দ,
নাম মকরন্দে মজ, হও যদি চতুর ॥ ৬২১।
।
গৌরি-একতালা।
কররে সদা নাম প্রসঙ্গ।
কুসঙ্গ ভুজঙ্গ সঙ্গ, রঙ্গ রস দেরে ভঙ্গ ।
দিন্ ত অন্ত এল কৃতান্ত, চিন্ত হরি চরগণাপান্ত,
অন্ত কালে বিনা শ্রীকান্ত কে হবে রে ।
তাের অন্তরঙ্গ ।
ভরসা যত বরষার মত কল্লোলে কত তােলে
তরঙ্গ,
হেলিয়ে দুলিয়ে যেতেছে চলিয়ে নিরাতঙ্কে
ততায় ঢালিয়ে অঙ্গ -
গীতামৃত-লহরী।
৩১
কাল ফুৎকারে উড়ে যাবে সব,
সমুখে দেখিবে বিশাল অর্ণব,
সে সময়ে সুধু ভরসা কেশব,
আর যতু দেখ সব বৈরঙ্গ।
মিছে খেলা খেলে কাটালি বেলা,
হেলায় হারালি পারেরি ভেলা,
সাঁতারে পাথারে যাবেরে প্রাণ কিসে পাবি ত্রাণ,
নাহি আতঙ্ক।
দেখিনি এহেন ধাঁধা, সমুখে সে তাের তরণী বাঁধা,
ত্বরা করি ঘােট, তাহে গিয়ে ওঠ, না হতে
যােগেন্দ্র অবস অঙ্গ। ৭২২ ॥
মলার-ঝাপতাল।
হরি কে না নাচে তােমারি এ নামে।
আহা সাঙ্গ পাঙ্গ সনে নাচো শ্রীগৌরাঙ্গ হেঃ-
ভাসে অপাঙ্গ সদা প্রেমে।
ওসেনেচে নেচে, যেচে যেচে
বিলাও ঐ নাম হেঃ-
বাছােনা কোন বর্ণ সাজাও আচণ্ডালে
ঐ প্রেম রত্ন দামে।
গীতামৃত-লহরী।
আহাতব বিরাট তাণ্ডবে, নাচে শাখী পাখী,
নাচে নিখিল বিশ্ব, ডাকে সে প্রাণারামে ।
ধাধা গুড়ত, ধাধা গুড়ত মৃদঙ্গ তরঙ্গ উঠে হে
করঙ্গ ধারী, তার মাঝে নাচো সুন্দর সুঠামে।
কত পাষাণ গলে যায়, প্রেম-নদী উজান ধায়,
অলখিতে দলিত করে সে কামেঃ-
যােগেন্দ্রো হে দীননাথ, এ দৃশ্য দেখিলনা ত,
করিতেছে সে দিন পাত, শমন সংগ্রামে।
তায়, দিয়ে ও অযাচিত প্রেম হেম বিভূষণ,
পতিত পাবন প্রভু রাখহে আরামে ॥ ৮২৩।
মল্লার-একতালা।
যদি শান্তি চারে মন।
ঐকান্তিক মানসে ভাবরে ঐকান্তি যে কান্তিতে
মুগ্ধ যোগীগণ।
মােহময়ী প্রমােদ মদ সেবনে,
হইয়ে উন্মত্ত রিপু প্রলােভনে,
* এই ৯ ও ১০ নম্বরের গান দুইটী পরে পাওয়া গিয়াছে।
এই ২টা ৩য় উচ্ছাসে দেওয়া উচিত ছিল কিন্তু বাবার নম্বর
কাটা অসুবিধা জন্য ২য় উচ্ছাসেই দেওয়া হইল।
গীতামৃত-লহরী।
মদন মােহন মুররী বদনে ভুলে রলি বল
কি কারণ।
যতই যাবি পাপ পথে, অশান্তির স্রোতে,
হ’তে হবে ততই ভাসমানঃ-
ইহ পর কালে আর পাবিনা নিস্তার,
কালের হাতে
শেষে যাবে প্রাণঃ--
হরি পদ ধ্যান হরি নাম গান,
বিনা শান্তি আর কিসে বর্তমান,
নৈলে ভেবে দেখ তুমি এই কৰ্ম্ম ভূমি,
সুধু শােক দুঃখের নিকেতন ॥ ৯২৪।
ললিত-ঝাপতাল।
কা চিন্তা, মরণে রণে রাখ হরি চরণে মতি।
তরিতে ভবসিন্ধু যদি সাধ তব সম্প্রতি।
যে পদে রাখিলে লক্ষ্য লক্ষ অশ্বমেধ ফল,
ভাব—মুদে অক্ষ বক্ষ মাঝে নীরদ মুরতি।
কেন-নয়নে দর দরিত বারি,
দীন সুহৃদ দুরিত বারী,
৩৪
গীতামৃত-লহরী।
হরি চরিত ত্বরিত শুন—তরিতে দুৰ্ম্মতিঃ-
রবেনা কোন ভীতি, প্রীতি রাখ সে পদ পঙ্কজে,
হরি যে অনুরাগে কেনা, কে না জানে অবনী মাঝে,
না জেনে যােগেন্দ্র ভােগে এত দুর্গতি ॥১০/২৫।
ইতি গীতামৃত-লহৰ্যাং শ্রীশ্রীহরিনাম মহিমা বর্ণনং নাম
দ্বিতীয়ােচ্ছাসঃ।
frinlipi
ক
তৃতীয় উচ্ছ্বাস
সুরট মল্লার--এক তালা
ও প্রেম নাইরে নাটকে নভেলে
নাইরে বেদ পুরাণে, তন্ত্রে কি কোরাণে,
নাই রে ভাই বাইবেলে ।
।
চিন্ময় এ প্রেম চিতে যদি চাও,
বিষয়ের সেবা ফেলে।
সদা-ভক্ত পদধূলি, শিরে লও তুলি,
তবেই যদি কিছু মেলে।
'এ প্রেমে অভেদ মিলন বিচ্ছেদ,
লালসা উদ্বেগ আদি পরিচ্ছেদ,
এতে-অ কম্প স্বেদ, স্তম্ভ স্বর ভেদ
মহা ভাব সদা খেলে।
এ প্রেম-পার্থিব প্রেমে করে যে ভুল,
স্কুলে তার ভুল, মূলে সে বাতুল,
গীতামৃত-লহরী।
সমােহের বিভ্রমে, অমৃতের ভ্রমে,
জ্বলন্ত গরল গেলে ।
{
এ প্রেম-নাইরে প্রাণায়ামে ধ্যানে ধারণায়,
নাইরে জপেতপে ব্রত পারণায়,
লুকায় এ প্রেম জ্ঞানের তাড়নায়,
তর্কের বাতাস পেলে :-
সুধুশ্রুত মাত্র নাম এ প্রেম উপজে,
আগে নাদ পরে প্রকাশে রূপ যে,
জীবশেষে গুণাভাসে, পূর্ণানন্দে ভাসে,
নির্বাণ দুপায় ঠেলে ।
এ যে—উন্নত উজ্জ্বল অলৌকিক রস,
নয়রে বাহিক রূপাদির বশ,
এতে—নাইরে কামগন্ধ, অহেতু সম্বন্ধ,
মাতে যুবা বৃদ্ধ ছেলে :-
এ প্রেম—গুপ্ত ভাবে আছে সপ্ততল মঠে,
কৃষ্ণের কৃপায় কারাে প্রাপ্তি ঘটে,
অভাগা যােগেন্দ্র, এ প্রেমের কেন্দ্র,
হাতে পেয়ে ছেড়ে এলে ॥১২৬
৫
গীতামৃত-লহরী।
খাম্বাজ-একতলা
প্রেম, অমূল্য ধন•••(ব্রহ্মাণ্ডে )
সংসারে তা জানে রে ক’জন।
প্রেম বিনা আর, কি আছেরে সার,
তা বিনে অসার অখিল ভুবন।
প্রেমের কাছে কি হেমের আদর,
প্রেম অন্তরে প্রকাশ বাহিরে অন্তর,
সিন্ধু নিখিল ব্যেপে আছে, কিন্তু সবাই যাচে,
কেউ দেখে নাই স্বরূপ কেমন।
সেই নিৰ্ম্মল প্রেমের সুঠাম স্বরূপ,
গােপিকা কমলে প্রমত্ত মধুপ,
অনেকে চেনে না, কেউ তায় কেনেনা,
বিনা মূল্যে কিন্তু মেলে সে রতন।
এ ধন -(রাজার) স্বর্ণময় অট্টালিকায় আছে,
কাঙ্গালের কুটীরাে উজ্জ্বল করেছে,
এ ধন যার আছে, সেই যেচে দেয়
বেছে বেছে,
জাতি খ্যাতি কিছু বাছেনা সেজন ২২৭৷৷
•0
৪
৩
গীতামৃত-লহরী।
খাম্বাজ-একতালা।
এমন ভাগ্য কবে হবে।
রসনা সৰ্ব্বথা, ত্যজি অন্য কথা,
হরেকৃষ্ণ নাম সর্বদা লবে ।
শ্রীহরি লীলা স্মরিব মাত্র,
পুলকে শিহরি উঠিবে গাত্র,
মানস মাের দিবস রাত্র,
ঐ হরি প্রেমে বিবশ রবে ।
দূরে যাবে দম্ভ দ্বেষ অহঙ্কার,
ভাবের আবেশে ছাড়িব হুঙ্কার,
শ্রবণে পশিলে নামেরি ঝঙ্কার,
প্রেমধারা চক্ষে ববে।
হাসিব কঁদিব নাচিব গাইব,
যাহারে পাইব হরিরে চাহিব,
দীন ভাবে পদে শির নােয়াইব,
হেরিলে ভক্ত সাধু বৈষ্ণবে ।
যদি ব্রজে যাই ও রজে লুটাই,
আর যে সৌভাগ্য তার সম নাই,
গিয়ে যােগ পীঠে, এযুগল দীঠে
হেরিব রাধাবল্লভে।
গীতামৃত-লহরী।
যােগেন্দ্রের কৈ তেমন সাধন,
পাবে গােপিকার সঙ্গোপিত ধন,
পঞ্চ ভাবা শক্তি, নব বিধা ভক্তি,
বিনা কে পায় সে রাধামাধবে। ৩২৮
সুরট মল্লার-একতালা।
সেইত, প্রেমিক,মহাজন।
হরিনাম প্রসঙ্গ তরঙ্গ বদনে সৎসঙ্গ অনুক্ষণ ।
ভাবে গদ গদ বিদগ্ধ প্রাণ,
মনের মানুষ পেলে হাতে পান বিমান,
নাইক অভিমান মান অপমান
সমান ভাবে তার মন ;-
হরি গুণ শুনিলে অমনি,
নয়নের পথে বহে সুরধুনী,
মত্ত মাতােয়ারা লুটায় ধরণী, তত্ত্ব পথে বিচরণ ॥
বিষয় বিষ তারা বাসেনাক ভাল,
হৃদয় মন্দিরে বৈরাগ্যের আলাে,
সত্যের ধ্বজা তুলে, মর্ত্যের কথা ভুলে,
স্বর্গের ভাবে মাতা রন ;-
}
৪০
গীতামৃত-লহরী।
বৈরিভাব নাই কাহারাে সহিত,
আপনার ভাবে আপনি মােহিত,
ত্রিজগতে তার তুলনা রহিত, যােগেন্দ্র যাচেরে
তাহারি চরণ ॥ ৪২৯।
ভৈরব-কাওয়ালী ।
মাধুৰ্য সাধক যত,
বৈষ্ণব
সম্মত,
মাগে ও মন্মথ-মথন মােহন রূপ।
শ্যামল সমুজ্জ্বল, শান্ত সুশীতল,
কান্ত ভাব নব কৈশাের নট-ভূপ।
নামে মত্ত তারা প্রেমে আত্মহারা,
ধ্যান ধরে রে অতি অপরূপ।
নবীন নীরদে মথি, মিশায়ে চাঁদের জ্যোতি,
রচে ও মূরতি রুচি অনুরূপ।
দলিত করিয়ে কাম, গড়ে ও ললিত ঠাম,
লাবণ্যে করে বিদ্যুতে বিদ্রুপ।
বর্ণ মালা জপে, গলে বনমালা সঁপে,
উছলে কতই তায় রসকূপ,
ওরূপ--যখনি হিয়ায় বাজে, তখনি মুরলী বাজে,
গুঞ্জরে যেন রে প্রমত্ত মধুপ,
৪১ গীতামৃত-লহরী। মহাভাব হিল্লোলে, মূরতিটী হেলে দোলে, অরূপে আরােপে অনন্ত স্বরূপ। বিচিত্র ভাব জালে, অলকা পরায় ভালে, কোন কালে হয় না ওরূপে বিরূপ। রাখিয়ে হৃদয়াম্বুজে, সাদরে সর্বদা পূজে, জ্বালায়ে ভক্তির দীপ প্রেম-ধূপ, দিয়ে—চিদানন্দ চূড়া মাথে, যােগেন্দ্র চূড়ান্ত মাতে, রাখে না কামনা আর কোন রূপ। সদা ও উদার পদারবিন্দ মকরন্দ- মধুর রসে রয় লােলুপ। ৫|৩০ | কীৰ্ত্তনাঙ্গ—একতালা। প্রাণের নিতাই ও ভাই নিত্যানন্দ একবার হৃদে হও জাগরূক্। হায় হায়, দেখতে আর পারি না রে, পাপী তাপীর মলিন মুখ। ঘাের কলির ছলনায় ভাই, ঘুমায়ে পড়েছে নিমাই, অদ্বৈতের যে তিরােভাব তাই তিলার্ধ নাই সুখ।
82
গীতামৃত-লহরী।
,
দেখে ঘাের কলির গ্রাস; বড় কাতর হরিদাস,
ভবে তিষ্ঠিতে সে চায়না আর একটু ॥
বাস সব শ্রীহীন দেখে,আঁধারে আছে গাঢেকে,
দেখলে তারে হয় রে বড় দুখ ।
কলির প্রভাবে সকলি আকুল, দেখছে কলি
ফুটছে না ফুল,
কে দেয় রে এই অকূলে কূল,তুই হ’লে বৈমুখ ।
আবার, জাগায়ে সেই ভক্তবৃন্দে,
প্রাণ খুলে ডাক শ্ৰীগগাবিন্দে,
আবার রে সেই প্রেমের স্রোতে
পাপধরণী ভাসুক। ৬৩১।
ইতি গীতামৃতলহৰ্যাং শ্রীশ্রীভগবৎ-প্রেম বর্ণনং নাম
তৃতীয়ােচ্ছাস।
চতুর্থ উচ্ছাস।
সুরট মল্লার-একতালা।
তুমি কি সে
কে তুমি রে মন! করি রে বিনয়, দাও পরিচয়,
কররে আমার সংশয় মােচন।
মধু-মাতােয়ারা অলি,
কিম্বা বসন্তের আধ ফোটা কলি,
নক্ষত্র কি বিধু, তস্কর কি সাধু,
মায়াবী কি তপঃ সিদ্ধ মহাজন।
অলি কি কখন নলিনী ত্যেজিয়ে,
কেতকী কাননে কেলি করে গিয়ে,
অলি হলে কিরে, বিষয় কেতকীরে,
এত প্রিয় ব’লে করতে আলিঙ্গন,
যেতে তত্ত্বমসি-সমীরণ ভরে,
সূক্ষ পথে নাদ বিন্দু সরােবরে,
খেতে কত মধু কৃষ্ণ ইন্দিরে,
নিত্যানন্দ রসে হ’তে নিমগন ।
৪৪
গীতামৃত-লহরী ।
যদি সদ্য প্রস্ফুটিত পুষ্প বলি তােরে,
হরি পাদপদ্মে দিতে চাই সাদরে,
অনি—অঞ্জলির ফুল অঞ্জলির ক্রোড়ে,
হও রে বিশীর্ণ বুঝিনে কারণ ;-
দেখ মন শাস্ত্র করি আলােচনা,
দূষিত কুসুমে হয় না দেবার্চনা,
কীটাদি দংশিত, কিম্বা প্যুষিত,
পুষ্পে সন্তোষিত হন্ কি নারায়ণ ।
ক্ষণেই প্রফুল্ল ক্ষণেই বিশীর্ণ,
এত নয় কভু কুসুমের চিহ্ন,
দেখে তাের ছাদ, জ্ঞান হয় চাদ,
হ্রাস বৃদ্ধি তাের দেরি মতন ;-
তাতেও সন্দেহ হয় নিরবধি,
বহেনা ত তােতে অমৃতের নদী,
হরিভক্তি রূপা অনূঢ়া-কুমুদী,
হয় কি প্রমােদিত পেয়ে তাের কিরণ ॥
করেছি রে শেষে সঠিক সিদ্ধান্ত,
কৃষ্ণানিশির তুমি নক্ষত্র নিতান্ত,
ধ্বান্ত আর, আলােকে, ভ্রান্ত কর লােকে,
নাই কিন্তু তার একটা নিদর্শন ;-
গীতামৃত-লহরী ।
৪৫
হলে সে উদয় স্পষ্ট দেখা যায়,
কাল পুরুষেরে আকাশের গায়,
তাের উদয়ে. ঐ, কালান্তকে কই,
স্মৃতির চক্ষে মােরা করি বিলােকন।
কে বলিবে তুই কেবলি যে চোর,
চোর হলে র’ত চতুরতা তাের,
চোরের এই রীত, চোরেই পিরীত,,
বিপরীত তাের দেখি আচরণ ;-
শ্রীরাধার সনে যার চির সখ্য,
সেই, মুনী মনন-চোরে নাই তাের লক্ষ্য,
তাতে সঁপলে প্রেম, কিছার রত্ন হেম,
মােক্ষ পদেও তাের হ’ত অযতন।
সাধুরা যেমন হয়ে বুভুক্ষিত,
পরদ্বারে যেতে হয় না দুঃখিত,
মান অপমান, ভাবেরে সমান,
পরধন লাভে নাই আকিঞ্চন ;--
তেনি, পরমার্থ তুমি হাতে পেয়ে ছাড়,
পরাধীনে থেকে দিনে দিনে বাড়,
সাধু-সঙ্গ ফলে, যে সুফল ফলে,
পাই কি সে ফল ? তােরে করে আরাধন।
গীতামৃত-লহরী।
মিছাই তােমায় সাধুব’লে ভাবি,
কেহ নয় তুমি নিশ্চয় মায়াবী,
থেকে দেহ যন্ত্রে, সম্মােহন মন্ত্রে,
নানা ভাবে জীবে করাও নৰ্ত্তন ;-
তােমারি কুহকে জ্ঞান আঁখি ঢাকা,
কুহ নিশায় দেখি কার্তিকের রাকা,
প্ৰজীর্ণ পালঙ্কে, রাক্ষসীর অঙ্কে,
নিরতিঙ্কে নিদ্রা যাই অনুক্ষণ ।
তুমি, তপঃসিদ্ধ মহা পুরুষ কি তবে,
নিয়ত সাঁতাররা মহান্ অর্ণবে,
খাও হাবুডুবু, ভয় নাই তবু,
মহাসুখে কাল কররে যাপন ;-
ক্ষিপ্তপ্রায় ক্ষিপ জ মরুৎ ব্যোমে,
তাের মত কেবা তড়িদ্বেগে ভ্রমে,
তুমিরে যােগীন্দ্র, শ্রীরাধা-গােবিন্দ,
পদারবিন্দ মােরে করাও দরশন। ১৩২।
।
ললিত-খেষ্টা।
একেবারে হ’সনেরে মন গাধা।
বিষয় বাণিজ্য কর তাতে দি না বাধা।
গীতামৃত-লহরী।
৪৭
অষ্ট যামের অর্ধযাম না হয় তারাে আধা।
নয়ন মুদে ভাব হৃদে শ্যামের!বামে রাধা ।
যুগল নামে সেধে নেরে সারি গামা পাধা।
নিখাদে তান উঠবে যখন ছুটবে মনের ধাঁধা ।
যােগেন্দ্রের রাখরে কথা ঘুচবে কালের বাঁধা।
নিরাপদে হবেরে তাের সকল কাজ সমাধা।
যদি বলি পাপী আমি পুরুবে কি মাের সাধা।
সেভয় তুমি ক’র নারে, তার সাক্ষী
জগা মাধা। ২/৩৩ |
সুরট মল্লার--একতালা।
রে-অবােধ পাশা খেলায় দেখি যে তাের বড়ই সক্।
ঢাছ পাশা হেঁকে ডেকে, চাছ গুটি একে বেকে,
বিপক্ষের ঘরে ঢুকে মাছ কত ঠকাঠ।
নকল খেলা খেছ বসি,
হালে ব্যাজার জিতলে খুসি,
ফতি বৃদ্ধি আছে কি তায় কানা কড়া কপর্দক্ ।
এটি
কতক দিনের
তরে, আমাদেকি,গুটিক'রে,
খেলছে যে কাল বিছাইয়ে মায়ার ছক্ ।
৪৮
গীতামৃত-লহরী।
তাকি ভাই দেখনা চোক্ষে, বসেছে তাের বিপক্ষে,
# দিয়া দানী ছজন তাদের কি চটক্ ।
তারা ঘুরাচ্ছে তােয় ঘরে ঘরে,
সকাল হতে সন্ধ্যাতক।
পাকাচ্ছে কঁাচাচ্ছে কত, অবিরত মনের মত,
ঘরে যেতেই মেরে দিচ্ছে, আচান।
ত্রিগুণের পাণ্টী তিন খান, যা বলে ফেলাচ্ছে দান,
পড়ছে তাই করছে যে তােরে আটক।
যােগেন্দ্র কয় জাননা যে খেলয়াড়টী ভয়ান।
জিন্তে যদি চাও তবে, চিন্তে কর শ্রীমাধবে,
সে বই ভবে কেহ নাই আর নিস্তার,
তারি হাতে সঁপে গুটি, তুই একবার নেরে ছুটী,
দুটি দিন বাদে দেখতে পাবি কি পুল,
তিলেক মধ্যে জিবি ত্রিলােক,
বিনামূলে কিনৃবি হক্,-
ভূলােক তুচ্ছ হবে গোলােক চোখের কাছে
দিবে ঝলক ॥ ৩৩৪
* দিয়া দানী, যে নিজে না খেলিয়া অন্যের পক্ষে গুটি
চালনা করে।
গীতামৃত-লহরী।
৪৯
মিশ্র ভূপালী-খেমটা।
(ভবের ঘুকিতে মন্ চখি ঘুরায় তােরে।
ঘুচলে ঘুরকি, নিকট দূর কি,
চোখের কাছেই সকল ঘােরে ।
সূৰ্য্য শশী কোথায় রয়, কোথায় হতে হয় উদয়,
কোথায় অস্ত, সে সমস্ত,
দেখুঁতে পাওনা মায়ার ঘােরে।
দেখতে পাওনা, তারার গতি,
লােকান্তরের কি পদ্ধতি,
পাও না জা’ন্তে, হাতে কান্তে,
বদ্ধ হও রে কালের ডােরে।
ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর, বরুণ বায়ু বৈশ্বানর,
ইন্দ্রাদি রয় মুঠের ভিতর,
এ ঘাের মােহ নিশির ভােরে ।
জন্ম মরণ জরা ব্যাধি, দূরে যাবে সকল আধি,
ছােরে না তােয় আর কামাদি,
বস্ রে ভাই সমাধি ধরে।
# বেদ উক্ত নাম সূক্ত, জপলে মােহ হবে মুক্ত,
ম’লেও রবি শ্ৰীযুক্ত,
যােগেন্দ্র তুই যােগের জোরে ॥৪৫||
* পাঠান্তরজপ হরি নাম সূক্ত ভব পাশে হবি মুক্ত,
যােগেন্দ্র এ ভবের সুখ দেখলি রে সব পরখ করে ।
গীতামৃত-লহরী।
সুরট মল্লার-কাওয়ালী ।
একবার চেয়ে দ্যাখ রে তাের উপর খােপ।
দেখবি তােতেই রাধা তােতেই কৃষ্ণ,
তােতেই যশােদা নন্দ গােপ।
দেখ বি—ততাতেই ব্ৰজের বালকে,
ঝলকিছে কোটী চাদের আলােকে,
দেখ বি—তােতেই গােপ-কামিনী,
করিছে দামিনী-দর্প লোপ |
তােতেই—যমুনা কল নাদিনী,
মুরলী তানে উন্মাদিনী,
দেখবি—তােতেই মােহন, কুঞ্জ শােহন,
অতি গােপন লতিকা ঝােপ।
দেখবি তােতেই পূৰ্ব্বরাগ রঙ্গ,
নিত্য রাস রস তরঙ্গ,
গােচারণ গিরি ধারণ,
করিতে বারণ ইন্দ্রকোপ ।
দেখবিতােতেই পূতনা ঘাতন,
তােতেই দানব নিপাতন,
তােতেই রােপেছে চতুরানন
লীলা কল্প তরুর ধােপ,
গীমৃত-লহরী। তাই বলি মায়া আবরণ তােল, যােগেন্দ্রের ঘুচে যাক্ সব গােল, জ্ঞান আঁখি খােল, হরি হরি বােল, হরি পদে মন কর আরােপ ॥ ৫৩৬ ॥ কালেংড়াযৎ। তুমি, হারায়েছ রে যে রতন পাবেরে তা খুঁজে দেখ। পেলে ঐ প্রেম ইন্দুকে এ হেম সিন্দুকে রেখ। বৈরাগ্য রেখ প্রহরী, কার সাধ্য লয় হরি, তুমিও ভাই হরি নামের হুঙ্কার ছেড়ে জেগে থে’ক। আঁধারে থাকা কি ভাল, জ্বাল ভক্তি প্রেমের আলাে, তার, ছটা দেখলে ডরে কাল, ছ টা চোরি হবে ভে’ক। রাখলে যােগেন্দ্রের কথা , পেতে আর হবেনা ব্যথা, সে ধন, প্রতিদিন হয়, যত সঞ্চয়, তার একটী হিসাব লেখ। ৬৩৭।
২
গীতামৃত-লহরী।
সুরট-কাওয়ালী ।
মন ধররে ধরে ঐ মনাে চোরে
ওসে বাঁশী ধরা ধড়া পরা, সহজে দেয়না ধরা,
লুকায়ে লুকায়ে,' মােহ ঘােরে ঘােরে।
ওসে—তমাল দলিত নব মেঘ মাল নিভ,
কাল বরণে যদি ধরিতে সাধ তব,
জ্ঞানালাে জ্বাল তবে, এ তমােজালাে যাবে,
দেখবে তাের আছে অন্তরালাে করে ;
দেখা পেলে তার যেন ছেড় না ছেড় না আর,
একবার ছেড়ে দিলে খুজে পাওয়া হবে ভার,
ধরে ওরে বাঁধ জোরে, কঠিন প্রম ডােরে ; .
যােগেন্দ্রে রেখ ওর প্রহরী করে । ৭৩৮।
আলিয়া-তেতলে।।
মন তাের একের দোষে পাঁচের ঘরটী নষ্ট পায়।
হয়ে প্রধান তুই নাই তাের কষ্ট তায়।
ষড় রিপুর সঙ্গে মিলে, নিয়ত কাল বেড়াস খেলে,
চান্না একবার চোকটী মেলে,
পরের ঘাড়ে চাপাস দায়।
গীতামৃত-লহরী।
থাকতে তুই বর্তমান যদি, গাঁচ জনাতে পৃথক হয়,
ঘুচবেরে তাের সকল আশা, প্রবল হয়ে রিপুচয়,
ডুবাবে তােয় অকূল অগাধে নিশ্চয়।
লুটে জমি পাঠাবে তােয় যমালয়,
দূর করে দে রিপুকুলে, পাঁচের সঙ্গে মিলে জুলে,
লাভ দূরে থাক মূল রক্ষার কর উপায়।
অলসেতে ভােগে লােক, নানা রােগ শােক দুখ,
প্রত্যক্ষ দেখেও তবু, হ’লনা জ্ঞান একটুক,
বিবেক বলে এখনাে বঁধরে বুক,
অলসে কমলা হন্ রে বৈমুখ,
শ্ৰী নাই যার চিত্তমাঝে, শ্রীনাথ কি সেথা বিরাজে,
যােগেন্দ্র তা বােঝে না যে,
এ যে বিষম অনুপায় ॥৮৩৯৷৷
০
মুলতান-একতালা।
নির্জনে মন, নীরদবরণ, চরণ স্মরণ কর রে।
যাবে—-লাঞ্ছনা তাড়না, ঘুচিবে ভাবনা জ্বর রে।
মায়ার বন্ধন হবেরে শিথিল,
বিষয় বাসনা রবে না এক তিল,
পূর্ণশান্তিময় হেরিবে নিখিল, বঁধবে না শমন করে।
৫৪
গীতামৃত-লহরী।
যে—যা কয় কো’ক, ক’রনা রে শােক,
ডাক সে ত্রিলােকনাথে ;
ভেবে দেখরে মন, মুদিলে নয়ন,
কেউত যাবে না সাথে ;
দারাসুতে কেবল বাড়ায় মমতা,
তাড়ায় ভাব ভক্তি ছাড়ায় হরিকথা,
তাদের কথা শুনে কেন পাসরে ব্যথা,
নাই কি প্রাণে তাের ডররে ।
এই অপার ভবে আর, সে বই নাই নিস্তার ,
উচ্চ নিচ তার কাছে সমতুল; পড়ে এ ভব বিপাকে,
যে জন তারে ডাকে, অনায়াসে সে যে পায় কূল,
এ হেন বান্ধবে ভুলনা ভুলনা,
অসার প্রসঙ্গ তু’ল না তুল না
বিষয় পরিহরি বল হরি হরি,
পাবিনে আর অবসর রে ॥৯৪ |
০
খাম্বাজ-একতালা।
মতি-মজ সে পর পুরুষে। ত্ৰিজগত গুরু সে,
যা চাবে তার পাশে, পাবে অনায়াসে,
জাননা কল্পতরু সে ।
গীতামৃত-লহরী।
পর সে কিন্তু পর নয়, যার পরশে পরম সুখখাদয়,
যারপর নাই সে যে প্রেমময়, ওরে তার পর কেবা,
পরখে তায় যে, দুখ ভার করে গুরু সে।
নাহি রে তার রূপের শেষ,
মুনি জন মনােমােহন বেশ,
গুণ বিশেষ গুণ অশেষ, সে যে লম্পটশীল,
ভুলায় নিখিল, নাচায়ে দুটী ভুরু সে।
সে পর পুরুষে কে না যাচে,
মহাসতী তার বুকে নাচে,
যোগেন্দ্র কয় যে চায় তায়,
ওসেত্যজে হেম রতন, পরে প্রেম ভূষণ,
মাখে বিবেক অগুরু সে ॥১০৪১।
t
০
আলিয়া-তেতালা ।
এমন কি সঞ্চিত আছে সাধনবল ।
তুইকি সাহসে ভ্রান্ত চিত, দেবেন্দ্র অর্চিত,
হর বিরিঞ্চি বাঞ্ছিত পদাশ্রিত হ’তে চাস রে বল।
ও মন ! ভবের দুর্লভ, ভবের হৃদিপদ্মের ধন,
হয়ে যে পদপ্রত্যাশী,
গীতামৃত-লহরী।
; উদাসী যােগী সন্যাসী, যুগযুগান্তরে করে
কঠোর যােগ সাধন,
তবু ও চরণে ছায়া পায় না মন,
যেমন বামন চায় ধতে শশধর,
পঙ্গুর সাধ লজ্জিতে ভূধর, তেম্নি ধারা দুরাশা
তাের এ কেবল ॥
যদি—কণা মাত্র থাক্ত দেহে ভক্তি জোর,
কঠোর সাধন থাকুক দূরে, দিনান্তে দীনবন্ধুরে,
ডাতে যদি হয়ে তার প্রেমে ভাের ;
তবে—কথঞ্চিত সাজিত এ আশা তাের ;
নৈলে—ম’জে সতত পাপার্ণবে,
পেতে সাধ পদ পল্লবে,
মুক্ত হতে চারে এ মায়া শৃঙ্খল ॥১১৪২৷৷
ভৈরব-একতালা।
কৃপা-জলধি জলদ বরণে ।
মন—ভাবনা, ভাবনা, রবে না, রবে না,
ভবসাগর তরণে।
সদা-মরণ-বারী চরণ তরি,
ভকতি প্রেমাভরণে।
গীতামৃত-লহরী।
~
ছেড়ে—পাপ বরত, সাজ অবিরত,
রত রও নাম স্মরণে।
শুদ্ধাচারে সাধরে রে,
শ্রদ্ধাদি উপকরণে।
কি ছার রতন, কররে যতন,
ভাব কুসমাহরণে ;-
তারে—প্রাণনাথ বলি, দেরে প্রেমাঞ্জলি,
কি ফল কাল হরণে ;-
ভুলনা ভুলনা ভু’লনা যােগেন্দ্র,
ওপদ জীবনে মরণে ॥১২৪২।
ভৈরবী মিশ—তাল আড়া ঠেকা ।
ঘরের বিবাদ মিটাও ত্বরা,
নইলে সাজেনারে মন্ তাের,
পরের সনে দ্বন্দ্ব করা ।
ঘরে ছটী শত্রু সহ (ও তাের )
অহরহ ঘাের কলহ,
জোর করে তার সকল বিষয়
বেদখল যে কল্লে ওরা।
৫৮
গীতামূত-লহরী ।
আর) থেকে মােহ মদে মাতা,
(আহা) দেখেও যে দেখনা তা,
একি অসম্ভব ভাব তাের,
জ্ঞান নাইরে বাঁচা মরা ॥ ১৩৪৪।
}
সুরট-তেতালা।
ভীষণ ভব অরণ্যে কর বাস।
শমন সিংহে কি নাহি রে ত্রাস ;
তা কি জাননা রে মন মৃগ,
সে যে তােরে করবে গ্রাস।
যারে, প্রিয় ভাব সে ছ ব্যাধে,
বেঁধে রেখেছে অবাধে,
অবােধ রে তাের গলে দিয়ে মায়া ফাস।
এখন তাদের ত্যাজ সহবাস, ওরে এড়াতে, বন্ধন
ও মন সাধন বল কর প্রকাশ।
না হয় কর রে কামাদি বশ,
পাবি না ফুরালে দিবস,
অবশ দেহে ত্ৰাণ পাবার অবকাশ।
ডাক যােগেন্দ্রের সাথে, থাকিতে দিন দীননাথে,
মৃগেন্দ্রের হাতে যদি বঁচার আশ, তবে হবে না
গীতামৃত-লহরী।
আর ভবে বাস, ত্বরা এ বন পরিহরি,
হরিণ, যাবি রে শ্রীহরির পাশ। ১৪৪৫
০
বাগেশ্রী-আড়া।
ভয়ঙ্কর আশা নদী নাহি পারাপার।
মনােরথ জল তৃষ্ণা তরঙ্গ বিস্তর।
তাহে, ভাসেরে ক্রোধ কুম্ভীর,
সে নদী, অতি গভীর
ভীষণ মােহ আবৰ্ত্ত ঘুরে
অনিবার।
ধৈৰ্য্য রূপ তরুবর, ভাঙ্গেরে অষ্টপ্রহর,
অতীব উন্নত চিন্তা স্বরূপ দুধার ।
যােগেন্দ্র পুরুষ যারা, তপােবলে তরে তারা,
এ বারি তরিতে মন ।
কি সাধ্য তােমার ॥১৫৪৬।
মুলতান—একতালা।
গুরু কি ধন জালে না সে অসৎ সঙ্গে থেকে
আলি শােনার বরণ ধরে, গেলি কালী মেখে ।
দিনান্তে সে দীননাথে, উৰ্দ্ধ মুখে উৰ্ধ হতে,
ভাবে ভুলে প্রেমে মেতে, দেখলি না রে ডেকে
গীতামৃত-লহরী।
বিপদের উপরে বিপদ, তথাপি ভাব না শ্রীপদ,
কথায় বলে লােকে নাকি শিখে ঠেকে,
তােরে, তার দেখি বিপরীত,
যতই বিপদ ততই অহিত,
যােগে যা বলে বিহিত,
তাই শােন আজ থেকে ১৬৪৭৷৷
সুরট—একতালা।
মন—আছ কি উৎসবে মেতে ।
দেখবে—দুদিন পরে তাের, দুর্দিন পড়ে ঘাের,
যমঘরে হবে যে’তে।
তাের—বিষয় মদিরা পামে নিয়ত,
সদসৎ জ্ঞান হয়েছে নিহত,
ও তাের—সদা দম্ভ দ্বেষ, অধর্মে আবেশ, .
ক্ষান্ত দিবি কবে এতে।
উচ্চৈঃস্বরে ডাক সৰ্ব্ব বর্ণ যারে,
বর্ণনায় যার সর্ব বর্ণ হারে,
ভাবতে যদি সেই ভবকর্ণধারে,
ও রে, পার তবে পেতে ;-
গীতামৃত-লহরী।
যােগেন্দ্র তা ছেড়ে কিবা অভিলাষে,
অভিভূত সদা অলসে বিলাসে,
ও তাের—হত কি বিপদ, যদি অভয়দ,
ও পদ পল্লবে চে’তে ॥১৭৪৮
ললিত ভৈরব-রামপ্রসাদি ।
ও মন আর ভুলনা তারে,
ওযে—তারে, এই ভব পাথারে,
( বলরে) হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কাল পালাবে সে হুঙ্কারে।
প্রাণের দুয়ার, খােলরে একবার, ওরে
ওতে আমার আছে দেখবার ; দেখব
গােপীর সঙ্গোপিত ধন, ঐ পীতবসন ছেলেটারে ॥
ওরে, ওকে বড় ভালবাসি, ওর রূপে ঝরে সুধারাশি
কি সুন্দর মধুর হাসি, আহা বাঁশীটী অধরে ;
দেখলে কত আনন্দ যে পাই,
সে কথা বল্ কিরে ভাই,
ব্ৰহ্মপদ তুচ্ছ করে, ভাসি রসের পারাবারে।
দেখার মত দেখতে চেলে,
ডাকার মত ডাক্ট দিলে,
৬২
গীতামৃত-লহরী
অনি এসে দাঁড়ায় ছেলে,
ঐ কেলে সােনা হৃদ্মাঝারে ।
তখন, দেখতে পাইরে কত স্বর্গ,
চাইনে আর চতুৰ্বর্গ,
ভব রােগে হয় যােগেন্দ্র,
আরােগ্য যে একেবারে ॥১৮৪৯
বারোয়া-ঠুংরি ।
হরি বােল বল্ আমার মন।
পরিণামে হরিধামে করবিরে গমন।
দেখায়ে তার রূপের ছটা
শুনায়ে তাঁর লীলার ঘটা,
ঘরে আছে শত্রু ছটা, কর তাদের দমন ।
ঘরেই তার রূপের মেলা,
ঘরেই তাঁর লীলা খেলা,
দেখনারে করে হেলা, নিকটে শমণ।
জপে তপে হবেনা কিছু,
মিছে ধাও তার পিছু পিছু,
গীতামৃত-লহরী।
প্রেম ভক্তি অনুরাগে, .
যােগেন্দ্র যেমন জাগে,
তেম্নি ধারা অন্তর্যাগে,
আত্মায় কর রমণ। ১৯৫০।
{ রামপ্রসাদি শুর})
কালেংড়া-জৎ।
আবার তায় হরলি।
কত-লাঞ্ছনা গঞ্জনা তাড়না সহিয়ে
যে রতন পেয়েছিলি ।
সে রতন পেলে, পাগল হই বলে,
তাকি, ভাসায়ে দিলি রে মােহের কল্লোলে,
এত যদি মন, ছিল তাের মনে,
কেন তবে দিয়েছিলি।
সে রতন পয়ে মেতেছিলি চিত,
তাই, করে ছিলি মাতালে পিরীত,
দেখছি তত তায় বিপরীত,
তারা চোখে মুখে দিয়ে বালি ;
.
হ’রে নিল সেই মহামূল্য ধন,
ভবের দুর্লভ জীবনের জীবন,
৬৪
গীতামৃত-লহরী।
তারে হয়ে হারা, সারা দিন কেঁদে কেঁদে
সারাহলি।
খুজেও পাইনা ভাবের মাতাল,
তাই ভাবি মন আকাশ পাতাল,
তাই কার লিখাে মাথা, খুঁজো তার পাতা,
তাতে দেখযে কেবল পাতালি ।
যােগেন্দ্রের এই নিবেদন ভাই;
এ সকল ছেড়ে চল বিরলে যাই,
দু’টী পায়ে ধরি, বল হরি হরি,
পাবি সে রতন আজি কি কালি ॥ ২০৫১।
সুরট-একতালা
এত বার কথা নয়, বল্তে মনে বড় ব্যাথা হয়।
মন সম্মুখে থাকিতে সুধার সাগর, .
সংসার নরকে ডুবে রয় ।
ওসে উদ্ধারের উপায় একবারাে ভাবেনা,
সাধু সঙ্গ কিম্বা সুপথে যাবেনা,
দগ্ধবিষে রুচি দুগ্ধ খাবে না, মােহ মদে
মুগ্ধ অতিশয় ।
গীতামৃত-লহরী।
কতই বুঝাই কিছুতে বােঝে না,
হৃদয়ের মাঝে কি আছে খােজেনা,
কামাদির সহ কদাপি যােঝেনা,
পূজে না গুরু পদদ্বয় ;
বুঝিনা উহার কিযে অভিপ্রায়,
আস্তিক হয়েও নাস্তিকের প্রায়,
মাৎসর্য প্রভাবে মত্ত থাকে প্রায়,
ভগবানে নাই ভক্তি ভয়।
জেনেও যেন মন কিছুই জানেনা,
রাধা কৃষ্ণ পানে দৃষ্টি হানে না,
ধ্যানেও একবার ও ভাব আনে না,
মানে না কৰ্ম্মাদি চতুষ্টয় ;-
ও যে দুষ্ট জন সঙ্গে তুষ্ট রয় ভারি,
বােঝেনা কখন ইষ্ট আপনারি,
এ যে অদৃষ্টের লিখন, যােগেন্দ্রের এখন,
ভরসা শ্রীহরি দয়াময় ॥ ২৫২।
সুরট জয়জয়ন্তিঝাপতাল।
বিপদ ভয় বারণ, যে জন রে মন,
ভঁরে কেন ভজনা, মজ বিষয় বিষ-সাগরে।
গীতামৃত-লহরী
নিকট তাের বিকট কাল-সঙ্কট করাল রে ;-
তখন হবে কি কেউ সাথী,
সে সাঙ্গাতি যে অরাতি হবে
কাল রাতি না আসিতে ভরে ডাকরে ।
ওভাের র বাসা ভাসায়ে দে
প্রেম অশ্রুধারে ;-
ভাষার আশা পুরারে হরি নাম হুঙ্কারে।
ওােের নাসার িন গেলে কি হয়,
আর-আসার ভয় যাতে না রয়,
তারি উপায় ক ত্বরায়, ঘেরিল রে আঁধারে ;-
হেথা—যাতেই কেন সুস্থ না চাও
তাতেই ঘাের বিভ্রাট,
দেখে শুনে জ্বলে আগুনে ঘুচিলনারে ঠাট নাট,
হেথাকার সব ফঁাকি, বুঝিবিরে মুদিলে আঁখি,
যােগেন্দ্র ভুলেছ তা কি, পড়ে এ
মােহ ঘােরে ॥২২৫৩।
মল্লার—কাওয়ালী ।
যদি—হ’তে চাও মন কৌল চূড়ামণি,
পঞ্চ ভাব পঞ্চতত্ত্ব, অভেদ জেনে লও সত্ব,
প্রেমানন্দে মত্ত রও দিন রজনী।
গীতামৃত-লহরী।
অত্যধিক মদ্য পানে যে অবস্থা আনে প্রাণে,
সেই ভাব শান্তরস তত্ত্ব জ্ঞানে সবাই জানে,
মতি রেখে শক্তি-পদে, এ সাধনা ভক্তি মদে,
তুমি তার অন্যথা কর বিনা সদ্গুরু করণী।
মাংস সাধকের অর্থ আত্মসেবা পরায়ণ,
তাই তার দাস্য নাম দিয়াছে বৈষ্ণবগণ,
মৎস্য সেত মৎস্ব রূপী, সখ্যভাব তায় আরােপী,
দেখায়েছে সরল সাধন শরণী ;-
আত্মার প্রকাশ আর ঈশ্বরের জন্ম এক,
বাৎসল্য মুদ্রা তাই ভিন্ন নয় ভেবে দেখ,
মৈথুন মধুর রস, শ্রীগােবিন্দ যাতে বশ,
যােগেন্দ্র মাগে ঐ রস রাধাভাব
উদ্দীপনী । ২৩৫৪।
সিন্ধু-আড় কাওয়ালী ।
কেন সামান্য ধনের আশে, পরবাসে পরবশে,
কারাবাসে কর কাল যাপন।
এড়াবে কি জাত মৃত যাতায়াত দায়,
তায়—এধনে বাড়াবে আরাে যাতনারে মন ।
গীতামৃত-লহরী।
শতদল-দল জল, জীবন চঞ্চল,
টলমল করে অনুক্ষণ;
তাহে তড়িত রেখা সম সুখেরি দেখা পেতে,
পেতেছ কতই কঁাদ নাহি নিরূপণ ॥
এত কি প্রবল তাের দারুণ ধন পিপাসা,
যত পাও তত চাও তথাপি মিটেনা আশা,
যে জন এ ধন চায়, ত্বরা সে নিধন পায়,
জেনে শুনে কেনরে সেধনে, এত ভাল বাসা-
যে ধন নয়ন মন আনন্দ বর্ধন,
শমন বন্ধন করে বিমােচন,
পাইলে যে সম্পদ, তুচ্ছ ইন্দ্রপদ,
কররে যােগেন্দ্র সেই ধন উপার্জন ॥ ২৪৫৫।
ইতি গীতামৃতলৰ্যাং মনঃপ্রবােধধ নাম
চতুর্থোচ্ছাস।
র
S
}
পঞ্চম উচ্ছাস।
সুরট মল্লার-কাওয়ালী ।
চাদিতে গড়িল এ চৌদল কোন কারিকরে।
চাদি সােনা তার কাছে ছার,
চাদিমার গৌরব হরে ।
বিসর্গের কড়িতে ঝােলে,
তিন গাছি দড়িতে দোলে,
সে দড়ি জড়িত রে ভাই, তড়িৎ সূৰ্য্য সুধাকরে ।
চৌদলের মাথার উপর, সহস্রদল পদ্মের টোপর,
পঞ্চাশত বর্ণের ঝালর, শােভে তার পর্ণ কেশরে ।
দ্বিদলের মূলে গাঁথা, যােড়শদল ফুলের ছাতা,
নীচে তার আসন পাতা, দ্বাদশ দল পদ্মের উপরে।
কিবা তার শােভার ঘটা, প্রভাত প্রভাকরের ছটা,
দেখ না তায় একাকারে, রাধাকৃষ্ণ বিরাজ করে।
তার নীচে তিন মঞ্চে, বিধি বিষ্ণু শিব বঞ্চে ;
যােগেন্দ্র সদা বাঞ্ছে, ঐ রূপ জাগে অন্তরে ॥১৫৬৷৷
•০
৭০
গীতামৃত-লহরী।
সুরট-কাওয়ালী ।
সাধন সিদ্ধি সহজে কি হয়।
যদি—কৃপা করেন কৃপাময় তবেই হয় নৈলে নয়।
জপের মাত্রা কল্লে বৃদ্ধি, এযাত্রায় হবেনা সিদ্ধি,
জপাৎ সিদ্ধি যদিও শিব কয়।
কলির জীব দুর্বল অতি, নিয়ত কাল চঞ্চল মতি,
তবে জপে স্থির কি তারা রয়।
ব্ৰজের প্রেমে মন না সঁপে, বৃথায় জীব শীতাতপে,
তপের তাপে তনু করে ক্ষয় ;
তাই ভাব সাধনা করে ভক্ত নাম-গানে মত্ত রয়।
অহৈতুকী অনুরাগে, সে জন জাগে অন্তর্যাগে,
তারি ভাগ্যে শীঘ্র ফলােদয় ;-
গােপীর ভাবে গুপ্ত ভাবে, ভাবে তারা পদ্মনাভে,
নাই সে ভাবের সময় অসতয়
তারা—সে ভবদুল্লভ, রাধাবল্লভ পদপল্লব,
অচিরাৎ লভে অসংশয়।
যােগেন্দ্র কোন্ পুণ্য বলে
কবে সে প্রেম সঞ্চয় ॥২৫৭||
E
গীতামৃত-লহরী।
৭১
ভৈরবী--একতালা।
কেন যে বিরসে বিরলেতে বসে,
নয়নেরি জলে ভাসি।
মরমেরি ব থা মরমে জাগে তা,
সরমে না পরকাশি।
কে হেন সুহৃদ আছে, দুখ কর কার কাছে,
জ্বলে যে অনল হিয়ার মাঝারে,
কে নিভায় বল আসি ।
পড়েছি বিষম বাঁধনে, ধায়নারে মন সাধনে,
ধরম করম সকলি গেলরে,
কেমনে কাটী এ ফঁাসি ॥৩৫৮||
ভৈরবী-একতালা ।
দংশিছে সদা শত ভুজঙ্গ জারিল অঙ্গ বিষে।
বিনা-কাল কালীয় দমন এ জ্বালা,
জুড়াই আমি কিসে।
সতত বিতত পাপে বিব্রত অসৎ সঙ্গে মিসে;
ভাবি-ভজি গােবিন্দ পদারবিন্দ
মােহে মজি নিমিষে।
१२
গীতামৃত-লহরী।
সংসার ঘাের তপনতাপে শােষিছে পরমায়ু,
তবু-করিনাক কভু সেবন সাধুসঙ্গ—শীতল বায়ু।
শ্ৰীশুক মুখ গলিত শ্রীহরি,
ললিত লীলা পীযূষ লহরী,
পরিহরি আট প্রহরি বিহরি, বিষ সাগরে হরিষে ॥
দান ধ্যান জপ তপ কিছু হলনা ভাগ্য দোষে,
বিজ্ঞান পথ রুদ্ধ নিয়ত শুদ্ধ রিপুর দোষে ;-
কি হবে যােগেন্দ্রের পরিণাম,
অলস রসনা নিতে হরিনাম,
বিনা সদ্গুরু সংযােগ, এ কিরে দুর্ভোগ,
পাইনে সাধন দিশে ॥৪৫৯৷৷
মূলতান— -একতালা।
ভাবি তাই কোথায় যাই।
আমার আপনার বন্তে কেহ নাই ;-
আছে, ভাৰ্যাদি তনয়, জ্ঞাতি বন্ধুচয়,
সবাই শত্রু দেখি যে দিকে চাই।
রাখাল সখা সেই কাল বালকটীকে,
এ কাল তুফানে কতই দেখিলাম ডেকে,
* পাঠান্তরে সবাই বৈরী আমি দেখতে যে পা
গীতামৃত-লহরী।
ওসে, একবারও আসে না, ভয় তাে নাশে না,
পাতকীর সখা সে নাকি ভাই।
অকূল সমুদ্র তরঙ্গ উত্তাল,
জীর্ণ তরি তায় ছিন্ন ভিন্ন পাল,
শক্তি নাই যে ধরি ভক্তি কেরয়াল,
ঘাের আন্ধার যে দিকে চাই;
তার মাঝে মা মাের খ্যাপা দিগম্বরী,
কালের বুকে খেলে ছুটোছুটি করি,
ওসে, নাচে আর নাচায়, ফিরেও না চায়,
কে বাঁচায় এখন কারে বা পাই।
পিতা মাের পাগল ভােলা আশুতােষ,
যােগ ভাঙ্গিলে তার ভরঙ্কর রােষ,
ডাকিনে ভয়ে, আছি নিরব হয়ে,
কাল জয়ের আশায় ছাই;
আঁখি দুটী মুদে বাকি কটা দিন,
ভাবতে চাই হৃদে সে নীল নলিন,
কামাদি তায় বাদী, ভাঙ্গে সে সমাধি,
যােগেন্দ্রের গতি কি হবে সুধাই ॥৫৬০
গীতামৃত-লহরী।
ভৈরবী+একতালা।
জুড়াইতে চাই, কোথায় জুড়াই,
জুড়াবার নাই স্থান রে।
যেথা সেথা যাই, যে দিকেই চাই,
নিরখি ঘাের শ্মশান রে ।
বহেনা রে আর সুখের বাতাস,
চারিপাশে সুধু শশাকের উচ্ছাস,
শুনি হা হুতাশ, সদীর্ঘ নিশ্বাস,
সদাই উদাস প্রাণ রে।
সর্পসম সবে ঢালে হলাহল,
তাহে অশান্তির ঘাের কোলাহল,
জ্বলিতেছে চিতে যেন চিতানল,
তিলেকো নাহি নিৰ্বাণ রে ॥
দয়া করে মােরে বলে দেরে ভাই,
কোথা গেলে পর শান্তিসুধা পাই,
কোথা শান্তিদাতা, ত্রিজগৎ ত্রাতা,
বলে দে তারি সন্ধান রে ॥৬৬১৷
০
ললিত ভৈরব-একতালা।
আমি—সাধে কি হয়েছি পাগলের মতন।
বিষয়ে কি বাসে বসেনা এ মন।
গীতামৃত-লহরী।
ওরে—দয়াল গুরু দয়া করে মােরে
দিয়েছিল একটী অমুল্য রতন।
ও তার—যতন না জেনে, কি ধন না চিনে,
অতলেরি তলে হয়েছে পতন।
সে ধন, পে’লে পরে ভাই, তবে শান্তি পাই,
ঘুচে যায় আমার এভাব এখন।
তা—আর কি পাব রে, তন্ন তন্ন করে,
বাহিরে আর ঘরে করি অন্বেষণ।
কাননেও আমার খুজিতে বাঁকী নাই,
জলে স্থলে খুজি কোথাও না পাই,
ও নীল আকাশে, তারা শশী হাসে,
তারা কি আমার হয়ে আপন ;-
এনে দেবে সেই মনচোরা ধনে,
রেখেছিনু যে ধন অতি সঙ্গোপনে,
তা ফেলিল রে হরে, পেলে সেই চোরে,
যে রূপেই হ’ক করিব দমন ।
সে ধন হারা হয়ে দেবতা দুর্লভ,
এই—আনন্দ কানন অন্ধকার সব,
কোনখানে সুখ, পাইনে একটুক,
বুক ভরা কেবল হুতাশন ;-
• ৭৬
গীতামৃত-লহরী।
সেধন পেলে স্বর্ণ অট্টালিকা ফেলে,
থাকতে পারি পর্ণ কুটীরের তলে,
সে যে—দুৰ্ব্বলের বল, দরিদ্রের সম্বল,
সঙ্কটের ঔষধি অন্ধের অঞ্জন ।
যােগেন্দ্রের ভাই ছিল বড় সাধ,
সেধনটী নিয়ে করিবে আলাদ,
ভাগ্যে তা হ’লনা, কার এ ছলনা,
বুঝিতে পারিনা মােহে নিমগন ;
যার ধন সেই জানে আর জানে না কেউ,
সেই কি নিয়েছে তু’লে এ দুখের ঢেউ,
তারি কাছে যেয়ে, দেখতে চাই চেয়ে,
চায়না যেতে ভাই চঞ্চল এমন ॥ ৭৬২।
1
ঝিঝিট-পােন্তা।
...
এ পাগলের কি ঔষধি। #
ওযেভাবে গলে হরি বলে নৃত্য করে নিরবধি।
কভু হাসে কভু কঁাদে, ধরূতে চায় আকাশের চাঁদে,
মুক্ত হয়ে মায়ার ফঁদে, তরূতে চায় মহাজলধি ॥
* পদকর্তা" গীত রচনা করিতে করিতে বায়ুর পীড়াগ্রস্তের ন্যায়
হন, সেই সময় এইটি ও আর কয়টি গীত রচনা করেন।
গীতামৃত-লহরী।
৭৭
কি হয় তার বিষ্ণুতেলে, দ্বিগুণ আগুন উঠে জ্বলে,
শান্ত কি সে হয়, না মলে,
হাজার নাওয়া খাওয়াও দধি ॥
ভক্তি মধু সহকারে, চিন্তামণি ব্লেস তারে,
পান করালে কিছু সারে
যােগেন্দ্রের এ দারুণ ব্যাধি ॥ ৮৬৩।
মল্লার-কাওয়ালী।
সাধে কি মদ খাই ওরে ভাই।
এই—প্রেম মদ খেলে, হৃদি শতদলে,
প্রাণ গােপালে দেখা যে পাই।
কাহারাে কথা মানিব না, এ মদ কখন ছাড়িব না,
বাড়ায়ে মাত্রা, করিব যাত্রা,
শমনের মুখে দিয়ে যে ছাই।
এমদে নাই অবসাদ, নয় বিস্বাদ মধুর স্বাদ,
সদা আনন্দ নাই বিষাদ
সাধ করে তাই সাদরে খাই ;-
মিনতি মানা ক’রনা, মম, কৌল ধৰ্ম্ম হ’রনা,
দেখে এ দোষ, করনা রােষ,
নাখেলে আমি মরে যে যাই। ৯৬৪ ॥
৭
গীতামৃত-লহরী।
সুরটমিশ্র-একতালা।
ঐ শ্যামপ্রেম মদে মাতরে মন্ মাতাল। #
ছাড়রে এ সব মদ, ওতে ঘাের বিপদ,
তায়-পদে পদে দেখতে হয়রে অনন্ত গভীর
পাতাল।
একবার ঐ প্রেমের মর্ম বুঝে,
যারা অন্য মদে মজে,
ঐহিক পারত্রিক তাদের ঘাের করাল ।
ওরে, তাই বলি এ ধনমদ, জনমদ, তমমদ
পরিহার কররে ভাই থাক্তে কাল ;-
চেয়ে দেখনা ঐ সম্মুখে কাল ।
কোন মুখে মুখ দেখাস রে তায়
সে তোর—মাথায় যে জাতায় চাতাল।
(তাই ঘন ঘন ভূমিকম্প ইত্যাদি)
ঐ—প্রেম মদের আছে ভাটী,
সে যে অতি পরিপাটী,
একটী বার চুয়ালে চলে রি কাল।
ফুরায় না অনন্ত যুগে, কে যেন তা দেয় যুগে,
রসাল জিনিয়া তা যে সুরসাল ;-
এ গীতটিও বায়ুর পীড়ার সময় রচিত হয়।
গীতামৃত-লহরী।
ও রসের রসিক, আর যে নাই অধিক,
কেবল ঘুরে মরে এ যোগীন্দ্র হয়ে ও রসের
কাঙ্গাল । ১০৬৫।
}
ঝি ঝিট খাম্বাজ-আড় খো।
আমার সাধের কল্কী ভেঙ্গে গিয়ে
কল কি ছিল প্রাণে।
এই বসুধার দুর্লভ সুধা যার পেতাম টানে টানে।
সাজায়ে তায় প্রেমের গুড়ক,
টানলে কত হত যে সুখ,
মিটে যেত ভবের ভুক্ ভাই
ততেম দুখ তুফানে।
আবার পেয়েছি রে যে নূতনটী,
তাতে আরাে মজালুটী
খুজে খুজে পাইনে জুটি, খাওয়াব কোন্জনে।
তায় হরি নামের উঠছে যে ধূম,
টানে টানে ছুটছে রে ঘুম,
যােগেন্দ্রের হল না সুখ
একা একা পানে। ১১৬৬।
এটিও বায়ুর পীড়ার সময় রচিত হয়
গীতামৃত-লহরী।
সুরট মল্লার-একতালা।
আমি—নিদারুণ পুত্রশােকে। #
কি আনন্দে মজ, কাঁদি না কেন যে,
জানে কি অন্য লােকে।
হৃদে-উথলে কতই ভাবেরি সিন্ধু,
আঁধারে হাসে হে অযুত ইন্দু,
চেয়ে, ও মুখ কমল, ভুলি হে সকল,
ঝরে প্রেমজল। চোকে ।
চৌদিকে উঠেছে ঘোর হাহাকার,
তুমি—তার মাঝে হাস একি চমৎকার,
হাসিয়ে হাসাও, আনন্দে ভাসাও,
কোন্ মদিরার ঝোঁকে;-
কেহ কয় ওর কি পাষাণ বুক,
কেহ কয় বিবেকী প্রেমিক ভাবুক,
কেহ কয় জ্ঞানী কেহ কয় লাজুক,
কোন রূপে শােকে রাখে। ১২৬৭ ।
পদকর্তা তাহার জ্যেষ্ঠ পুত্রের অভাবপর এই গীত রচনা
করিয়াছিলেন।
গীতামৃত-লহরী।
৮১
পুরবী মিশ্র -একতালা।
তুমি গুপ্ত ভাবে লুপ্ত প্রেম বিলাতে আমায়।
হল, ঘাের কলির প্রভাবে ও তা ব্যক্ত যে ধরায়।
ঘুচে গেছে মেহের ধন্দ, সহায় তুমি নিত্যানন্দ,
অন্ধকার আর আমার প্রাণে কি স্থান পায়।
আমি খেয়েছি এতদিন যে মদ,
পেয়েছি তায় কি আমেদ,
তাই একবার তাপীর চিতেরে দিতে এ প্রাণ চায়।
আময় কিছু না বলে, সে অদ্যৈতও গেল চলে,
আছাে তুমি চৈতন্য হয়ে অচেতন প্রায়।
আহা জীব তরানাে ভার হ’লরে কলির
তাড়নায় ॥
এ ঘাের মায়া ঘুম ভেঙ্গে প্রভু
আবার যদি উঠে জেগে,
আবার বেগে প্রেমনদী ধরা যে ভাসায়।
সে আশা কি পূরিবে প্রভু, তুমি কি জাগিবে কভু,
রাখিবে কি রাঙ্গা পায় এই অভাগায় ;-
তােমাবিনা কে আছে যে যােগেন্দ্রে
জাগায় ॥ ১৩৬৮। #
এ গীতটি ও ঐ বায়ুর পীড়ার সময়ের
৮২
গীতামৃত-লহরী।
তিলক কামােদ-আড় কাওয়ালী ।
কত কাল আর হবে আমার
বিষয়ের ব্যানা বেলুতে।
জ্বালায় জ্বলে ম’লেম হরি
জনম গেল জঞ্জাল ফেতে।
কত ভাঙ্গি কত গড়ি, গড়তে গড়তে, কূপেই পড়ি,
খুলতে নারি, মায়ার দড়ি,
আঁধার দেখি আঁখি মেতে ।
মিটল না যােগেন্দ্রের আসা,
ভাঙ্গে এখন সাধের বাসা,
মিছে হ’ল যাওয়া অশা,
তােমার সনে নারুলেম খেলতে। ১৪৬৯
কালেংড়া-ঝাপতাল।
এ জগতে সব অশুদ্ধ কেবল শুদ্ধ সেই একই।
যেখানে যাই ঘাের অন্ধকার,
কেবল আলাে তারেই দেখি ।
বিত্তাদি অনিত্য স্বত্ব, এই মিথ্যাতে ভাই
হ’লে মত্ত,
কেবল মাত্র একই সত্য আর যে সব ফাকি ।
গীতামৃত-লহরী।
৮৩
যাতে সেই নীরদকান্তি,
তাতেই শান্তি আর অশান্তি,
যােগেন্দ্র কয় হয় কি না হয়, দেখরে মেলে আঁখি।
যার পায় ঐ ভাগীরথী,
যে দেখে নাই তার জ্যোতি,
শত ভাগীরথী স্নানে পবিত্র হয় সে কি। ১৫|৭০।
মল্লার-আড়কাওয়ালী।
সুধু-ধ্রুপদে বিপদে ত্রাণ আর হবিনে।
বিপদে পদ ভাব ভাই, কালের অধীন রবিনে।
ঐ-নাম গেয়ে তােলরে গ্রাম,
মাতিবে নগর গ্রাম,
পূরিবে তাের মনস্কাম, পাপীর দুখ আর সবিনে।
সা রে গামা পাধা নিশা,আজ হ’তে ঐ নামে মিশা,
ঘুচে যাবে মদের নিশা, দিবায় নিশা দেখবি নে।
নামের—মুচ্ছানায় মুচ্ছা যাবে,
ভবের এসব তুচ্ছ হবে,
একবার—সে পুচ্ছধারীর তান কি
উচ্চরবে ধরুবিনে। ১৬৭১
৮০
গীতামৃত-হরী।
মুলতান—কাওয়ালী ।
গানের—যােগেই জাগে সুধু মহাধ্যান।
তায়—টুটে যায় রাগ, উঠে অনুরাগ,
ঘটে ঘাের বিরাগ বিষয়ে বিজ্ঞান।
আর—চিনিলে না মালকোষে, পুরেছি মাল কোষে,
পরজে পর যে করেছি তার,
কেবল—জেগে উঠে যড়জাদি সপ্ত সুরে,
আমার—প্রাণ অপান সমান উদান ব্যান।
আমার দেশে দ্বেষ ভারি,তাহ-বাহারি নেহারি;
বাগীশ্বরী বাগ্ হ’রে যে ন্যান্।
এসব—দীপকে কেবল, জ্বালায় অনল,
বসন্তে দেখায় কেবল বিলাস উদ্যান ;-
আর--মজে কে দারাতে, তাতে মন কি মাতে,
৩ সে, ছায়া নটী আর ছায়া কি দ্যান ;
ওতে যদি মেতে, এই দিনে রেতে
ভুলে যাই ভাই এ ধ্যান জ্ঞান।
ওরে–ছাড়িলে আশার তান,আশার অবসান,
তাতে—কেবল নট খটের অধিষ্ঠান ;
অহং প্রভাবে, হাম্বীরের ভাবে,
সােহং ভাবের করে অন্তর্ধান ;-
গীতামৃত-লহরী।
দেখে—সুরের কিরণে, নট নারায়ণে,
আনন্দে উথলে স্বাধিষ্ঠান।
উঠে সে আনন্দের ধারে, যাবে সহস্ৰারে,
যদি, না ভােলে যােগেন্দ্র এ মূলতান ॥১৭৭২
সুরট-একতালা।
আমি—সে গুরু হারায়ে বড়ই কাতর। ৪
বিষয় গুরুভার, কিসে বই আর,
বুকে যে আমার জ্বলন্ত পাথর।
সেই—শ্রীনাথের ভাব, হয়ে আবির্ভাব,
আকুল করেছে তাপিত অন্তর।
সেভাবে, ভাবিতে না দিলে,
আমায় বাঁধিলে, শােকানলে,
তেয়াগিব কলেবর।
পেয়েছিল যে ভাব শুক নারদাদি,
বালক ধ্রুবের যে ভাবে সমাধি,
গুরু—তাই দিয়েছিল কে হয়ে বাদী,
হরিল আমার সেই সুধাকর ;-
১;
এই সকল গীতের অনেক স্থান কাটকুট জন্য বুঝা কঠিন,
যেরূপ পাইতেছি তাহাই দিলাম ।
১৬
গীতামৃত-লহরী।
সাক্ষাৎ ভগবান অখ্যাত নিমাই,
যে—বিখ্যাত রত্ন বিলাইত ভাই,
আমি—গােবিন্দের কৃপায় পেয়েছি যে তাই,
ভবে, সেই যােগীন্দ্রের দুস্তরে আতর ॥১৮৭৩
সুরট মল্লার-কাওয়ালি ।
যে সে গুপ্ত কথা ব্যক্ত যে করেনা ভাই,
যত সব মােহােম্ম, না বুঝে সে সার তত্ত্ব,
উন্মত্ত বলে তারে তন্ত্রেও নিষেধ তাই,
তাই স্বয়ং ভগবান্ ঘুচাতে জীবের সে ধাঁধা,
অবতীর্ণ কলি যুগে, হৃদে হরি বাহিরে রাধা,
ওসে-প্রেম বিলাত, যারে তারে,
খেয়ে, সে সুধা ভারে ভারে,
আনন্দে নাচিত বিশ্ব, কালের মুখে দিয়ে ছাই।
অনেকেই চিনে না তারে, নাম মাত্র জানে কেউ,
একবার চিনিলে সে কি গণে রে এই ভবের ঢেউ,
ওসে-নেচে মাের প্রভুর প্রায়,
যেচে প্রেম বিলাতে চায়,
কেহ ভাল বাসে না তায়,
দুঃখে জ্বলে পুড়ে যাই,
গীতামৃত-লহরী।
৮৭
সেই দশা এ অভাগার, প্রেম.বিলা’তে পারে না,
সহায় হয়ে এ সঙ্কটে, কেউ যে তারে তারে না,
তার, সদ। নাম সাধনে সাধ, লইতে ও রসাস্বাদ,
ঘাের কলিতে সাধে বাদ,প্রলয়ের আর দেরি নাই।
তাই, ঘন ঘন ভূকম্পন, বেগে বহে প্রভঞ্জন,
উপাড়ে বন, ভাঙ্গে ভবন, দেখতে পাই,
তাতেও কেহ বুঝেনারে, মজেনা সে গুরুর পায়,
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ বলেনা কেহ উভরায়,
ওনাম সুধা-বৃষ্টি বই, সৃষ্টি আর থাকে কই,
একবার দৃষ্টি কেহ করে নারে এখনও যে আছে
নিমাই। ১৯৭৪।
বেহাগ-একতালা।
আজ আবার সেই রথ ।
কোথা গেলে পরে, রথের উপরে,
দেখব প্রাণেশ্বর পুরবে মনােরথ ।
চারিদিক্ মাের ঘাের অরণ্যে ঘেরা,
সম্মুখে মহাপৰ্বত।
কোন দিক দিয়া যারে ছুটিয়ে,
কে দেখায়ে আমায় দিবে রে সে পথ ।
গীতামৃত-লহরী।
অনেক দিন তারে দেখি নাই রথে,
সে আশাত ভেসে গেছে কাল স্রোতে,
দেখিবার উপায় নাই কোনমতে,
হয়েছি তাই জড়বৎ।
মন রথে যদি তুলতে পারি তায়,
তবে দেখা হয়, নৈলে নিরুপায়,
ভাগ্যে কি তা হবে, সংসার আহবে,
জিন্তে কি পারিবে যােগেন্দ্ৰ সতত ॥ ২৭৫।
০
বিভাস-একতালা।
আমার পূজাত হ’ল না, সাধ মিটিল না,
মনের বেদনা রইল যে মনে।
বুক ফেটে যায়, কোন প্রাণে হায়,
দিব বন ফুল অতুল চরণে।
কত ফুল ছানি, গড়েছে না জানি,
মাধুরীর সঁচে রাঙ্গা পা দুখানি,
ফুল দিতে পাছে ব্যাথা পায় তাই,
ভয় হয় ভাই, কঁপে পরাণি,-
ও পা পূজিবার ফুল কি মিলে না,
আছে এক ঠাই সেথা ত গেলে না,
গী তাত-লহরী।
চৈতন্যের উদ্যানে, সে যে কল্পতরু দানে,
অযাচিত ভাবে বিলায় জগত জনে।
সে ফুল আনতে হয় বাদী, নিদারুণ কামাদি,
দারা সুতদল তারাও প্রতিবাদী,
ছলে বলে কলে মায়ার শিকলে,
কতই কৌশলে রাখে রে বাঁধি ;
ওরে, ব্ৰজ গােপিনীর গােপিত উদ্যানে,
ফুটিত সে ফুল শুনেছি পুরাণে,
ওতা, কেউ পায়না ছুঁতে, কেবল নন্দের সুতে,
লুটে নিত সব যােগেন্দ্র তা জানে ॥ ২১৭৬।
মূলতান-একতালা।
বড় যতনে সে ধন মেলে।
বিলাসে অলসে বল সে রতন পাবেকি অবহেলে ।
সে ধন, ব্ৰহ্মাণ্ড দুর্লভ ব্রহ্মার অগােচর
নাইরে বেদ বাইবেলে।
তন্ত্র মন্ত্র পুরাণ কোরাণ সব দেরে জলে ফেলে ।
যদি সেধনে চা’স রে ভাই যা, যা,
শুক নারদাদির ঠাই,
পেয়েছে সেধন ধ্রুব প্রহ্লাদ পাঁচ বছরের ছেলে।
গীতাম্লহরী।
ছিল ব্রজ গােপিনীর গােপিত সেধন
সব গৌরাঙ্গে দিয়েছে ঢেলে ;-
ও তা, ঘরে ঘরে ঘুরে, অন্ধ আতুরে,
যেচে যেচে সব দিলে। ২২৭৭।
'০:
ললিত-একতালা।
কে দেখে দেখাই কারে।
কি রূপ জাগে হৃদ মাঝারে।
অরূপীর রূপ, অতি অপরূপ,
অনুরূপ নাই ত্ৰি সংসারে ।
ওত, নয়রে কাদম্বিনী নীলকান্ত মণি,
কোটী কোটী চন্দ্র জিনিয়া লাবণি,
উজ্জ্বল বিমল, রূপে অবিরল,
শান্ত শীতল জ্যোতি বিহারে।
অনন্ত ভাবের, অনন্ত রূপের,
সীমাদিতে ভাই কেউ কি পারে ?
দেখরে আসিয়া, ডুবাইল হিয়া,
অরূপীর রূপ পারাবারে।
পলকে পলকে নব নব ভাব,
তাহে নব নব রূপ আবির্ভাব,
গাত"মৃত-লহরা ।
যােগেন্দ্র দেখে ও রূপের প্রভাব,
কেবলি ভাবের পাথারে সাঁতারে ॥২৩৭৮||
সাহানাযৎ।
পাব কিসে পাইনা দিশে মিশেপড়ি নানা দলে।
ফলে কিছু ফলে না ফল, কেবলি ডুবি অতলে ।
দেখে ভাগবৎ খান, সাহসে বেঁধেছি প্রাণ,
পাব এবার পরিত্রাণ অপার এই ভব জলে ।
ধ্যানে প্রাণে করে ঐক্য, শ্যাম ধনে রাখব সখ্য,
ভৃত্য ভাবে মহামােক্ষ, লুটবে নিত্য পদতলে।
যােগেন্দ্র তুই কোনমতে,
উঠে গােপীর প্রেমের পােতে,
ভেসে চলরে ভাবের স্রোতে
ছােবে না কাল ছলে বলে ॥২৪৭৯৷৷
টোরি—ইংরি ।
ওরে আর মানিনে কারাে থােকা।
সেই চিন্তামনী, পুরুষ রমণী,
যুগলরূপে মাখাচোকা।
ওসে নীরদ ঘটা, দামিনী ছটা,
নিরখিয়ে ভাই হয়েছি বােকা।
১২
গীতামৃত-লহরী।
এখন বাকী কেবল, আঁখি তুলিতে,
মানস পটে রূঢ়ী টোকা ।
ও রূপ হিয়ায় নিরখি, কত হই সুখী,
খ্যালে যেন ঠিক খুকি থােকা।
আহা কত ভাঙ্গে গড়ে, হেসে গলে পড়ে,
নাইকো রে তার লেখা জোখা।
ঐ পদারবিন্দ, ছেড়ে যােগেন্দ্র,
আর কি হয় রে বিষয়ের পােকা।
ও রূপ, দেখে সে নিতরে, বাহিরে ভিতরে,
ও সে, যে রূপে মেতেছে, যে রস পেতেছে,
সাধ্য কি আর তারে রােখা । ২৫৮০।
মল্লার-ঝাপতাল।
ভজন উপকরণ যার কেবল নয়ন জল।
কাঁদে আর বাঁধে কালাচঁাদে সে তাে অবিরল ;
অ তার গঙ্গাজল, রােমাঞ্চ যে দুৰ্ব্বাদল ;
ভাগ্যবান বিনা কে হেন অর্ঘ্য দান করে বল ।
(যে জন) প্রেমানন্দে হেলে দুলে,
ভাবে ভুলে ভাবের ফুলে,
পূজা করে প্রাণ খুলে, প্রাণেশের পদকমলে।
গীতামৃত-লহরী।
তাহারি চরণ রজে, এ দীন যােগেন্দ্র মজে,
সে যে কৃষ্ণ তেজে তারেই ভজে,
পাইতে ব্ৰজেরি সম্বল ॥ ২৬৮১।
o:
মিশ্র ভৈরব-একতালা।
নিত্যানন্দ স্বভাব যার ভাই
তার কাছে কি কাদা ভাল,
আনন্দে কুসুমাঞ্জলি আনন্দে তার চরণে ঢাল।
অনিন্দ নিধান সে যে, অনিন্দ চায় সকল ত্যজে,
যে যেভাবে তারে ডাকে সেইভাবে
সে কাটে কাল।
সে তােমার তুমি তার, এই ভাব সাধনা সার,
ধ্যানে প্রাণে রেখ ঐক্য, গুরুবাক্য সদা পাল।
কৃপায় তার ঘু বে ধাঁধা, কেটে যাবে মায়া বাঁধা,
ছুটবে তখন হঁাসা কঁাদা, আঁধার ঘরেই
ফুটবে আলো।
সে তােমার হৃদয়কাশে, কঁাদলে কঁাদে
হাসলে হাসে,
কেঁদে কেন তার পাশে বিষাদ হুতাস জ্বাল।
৯৪
গীতামৃত-লহরী।
যােগেন্দ্র আনন্দে থাকে, আনন্দে গােবিন্দে ডাকে,
আনন্দ আলােক সেথা,
ঝলকে ঐ চিকণ কাল ॥ ২৭৮২।
1
বেহাগ-আড়া।
প্রাণ কঁদে ভাই যার তরে, পাবে তারে অচিরে,
তােমার তাপিত অন্তর, সেই জলধর,
ভাষাবে আনন্দ নীরে।
সময় হলে আপনি এসে, ব্রজের বেশে হেসে হেসে,
অধরে মুরলী ধরে দাড়াবে হৃদয়-মন্দিরে।
সে যে আনন্দের তানে, বিষাদ যেন রয় না প্রাণে,
বিষয়ের বিষ পানে কাতর হলে পাবি কি রে।
যখন নিখাদে নদি উঠবে শুধু,
ফুটবে কমল ছুটবে মধু,
যােগেন্দ্র তুমি তায় দেখবে কাল
কালীর শিরে॥ ২৮৮৩।
সিন্ধু ভৈরবী -জৎ।
কেমন বরণ কেমন গড়ন কে দেখেছে এ সংসারে।
আবরণ আভরণ দেখে বরণ কি কেউ বলতে পারে ।
গীতামৃত-লহরী।
রজত মণি হীরক্ স্বর্ণ, সূৰ্য্যাদিতে কই সেবর্ণ,
বর্ণাতীত কি যে বর্ণ, বর্ণনায় বর্ণ যে হারে।
বেদাদি তাই হয়ে ক্ষুন্ন, বলেছে তঁায় আকার শূন্য,
এ সিদ্ধান্ত বিকার পূর্ণ, ভক্তে স্বীকার করতে নারে।
কেবল অনুভবানন্দ, স্বরূপে রাখ সম্বন্ধ,
অন্ধ মনের ঘুচবে ধ্বন্দ, কাজ কি আর দ্বন্দ বিচারে।
পঞ্চ ভূত পঞ্চ তন্মাত্র, তার আভার আভাস মাত্র,
ও রূপ বুঝিবার পাত্র,
যােগেন্দ্রের হৃদমাঝারে ॥ ২৯/৮৪৷
আলিয়া-তেতালা ।
সকল বিদ্যাই এ সংসারে ভয়ঙ্কর।
দম্ভের ঘর, দুখেরি আকর,
কৃষ্ণ ভক্তি সার বিদ্যা, ছেড়েরে মন মায়ানিদ্রা,
শুদ্ধাচারে, শ্রদ্ধাভরে, সাধন কর ।
কি যশ আকাঙ্ক্ষা কর মন আমার,
করি কীৰ্ত্তি মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যা,
রাধাকৃষ্ণ ভক্ত আখ্যা,
সেই ওরে সাক্ষাত শিব অবতার,
সেই মুক্ত শিরােমণি অনিবার,
গীতামৃত-লহরী ধনি মধ্যে তারেই গণি, কৃষ্ণপ্রেম মহামণি, উজলে দিন রজনী যার অন্তর । কৃষ্ণ বিচ্ছেদ হ’তে দুঃখ নাইরে আর, শ্ৰেয় কৃষ্ণ ভক্ত সঙ্গ, পেয় কৃষ্ণ নাম প্রসঙ্গ, ধ্যেয় সে ত্রিভঙ্গ রূপ ধ্যানের সার, হেয় সেই কৃষ্ণপ্রেম নাইরে যার, রাধাকৃষ্ণ লীলা গান, শ্রবণ মধ্যে প্রধান, যােগেন্দ্রের অন্তে স্থান, যুগল পদে নিরন্তর। ৩০ |৮৫। o- বাউল মিশ্র ভয়রো-খেমটা । ডুবে যাই ডুবে যাই। ধর ধররে কাণ্ডারি ভাই। তুমি নাকি চির দিনের বন্ধু দীনের বন্ধু শুন্তে পাই। এই অকুলে পড়িয়ে, আকুল হইয়ে, সকাতরে সখা ! ডাকি তাই। চৌদিকে ঘাের নিবিড় আঁধার, অপার পাঁথার জানিনে সাঁতার,
গীতামৃত-লহরী।
পাব কি নিস্তার, এ সঙ্কটে আর,
ভাঙ্গা তরি একা কেমনে বাই ;
তুমি যদি কৃপা চক্ষে হের হরি,
ব’স একবার আসি কেরয়াল ধরি,
হ’ক না ভাঙ্গা তরি, কটাক্ষেতে তরি,
যােগেন্দ্রের তেমন ভাগ্য নাই। ৩১৮৬।
0
ললিত—একতালা।
পড়ে অকূল তুফানে, আকুল প্রাণে,
সাধে কি তােমারে ডাকি।
দেখেছি বেদ পুরাণ তন্ত্রে,
নিদানের সখা তুমি হে নাকি।
হরি তুমি নাকি ভব ৰারি, ভবসাগর কাণ্ডারী,
তুমিই নাকি হে কাল দমন কৃষ্ণ কমলাখি ।
এই অপার ভব-সমুদ্র, তায় আমি অতি ক্ষুদ্র,
হরি তুমি না তারিলে কে আর তারে,
যােগেন্দ্র যে একাকী ॥৩২৮৭।
ঝিঝিট খাম্বাজ-মধ্যমান।
হরি তােমার লেগে কেঁদে
কেঁদে সারাদিন হই যে সারা।
৯
গীতামৃত-লহরী ।
তবু সাড়া পাইনা হে নাথ,
এ কেমন তােমার ধারা।
প্রাণ প্রদীপ এইত নেবে,
আর কবে দেখা দিবে,
তােমার কথা ভেবে ভেবে,
হ’লেম যে পাগলের পারা।
ঝলক দেখা দিয়া গেলে,
যে গেলে আর কই এলে,
এ ঘাের অকূলে ফেলে,
উচিত কি যােগেন্দ্রে মারা ॥ ৩৩৮৮।
.
সুরট মল্লার-কাওয়ালী।
বুঝিতে বুঝিতে বােঝা গেলনা।
কেমন করুণা তব হে দীনবান্ধব
পেয়েও এ দীন তা যে পেল না ।
উঠাইয়ে অম্বরে, ডুবাইলে সাগরে,
সে সুদিনাআর ফিরে এল না ;
আরত শুনিনে বাঁশী, আরত দেখিনে হাসি,
আর তুহিয়ায় আসি খেল না ।
গীতামৃত-লহরী।
৯
৯
বিরলে বিরসে বসি, কঁাদি হে কালশী,
তথাপি করুণা আঁখি মেলনা,
কেনবা নিদয় হলে, কোথায় লুকায়ে র’লে,
বিরহ অনল আর জ্বেল না,
শীঘ্র দাও হে দেখা, থাকিতে পারিনা একা,
যােগেন্দ্রে পায় আর ঠে’লনা ॥ ৩৪৮৯।
সুট মল্লার—একতালা।
এ সময় সখা ! একবার মােরে,
দেখা দাও আসি হৃদয় মাঝে।
বাড়িয়ে উঠিয়া বায়ুর বেগ,
কাল মেঘ এল ভীষণ সাজে।
জানি কি যেন বজরের মত
সজোরে আমার বুকে যে বাঝে।
কি দারুণ ব্যথা, সরে না হে কথা,
পুড়ে গেল প্রাণ অনল ঝাঝে।
ঘাের আঁধার ঘেরিল চৌদিকে,
দংশিছে দেহ সহস্র বৃশ্চিকে,
যে দিকে নিহারি দেখি বিভীষিকে,
বিকট বাজনা বাজে -
গীতামৃত-লহরী।
নাজানি আজি ঘটে কি প্রমাদ,
চৌদিকে সুধু বিকট নাদ,
ভব দুর্লভ শ্রীপদ পল্লব,
এখনাে যােগেন্দ্রে দিতেছ না যে ॥ ৩৫৯০।
ইতি গতামৃতলহৰ্যাং শ্রীশ্রী ভগবৎপ্রেমাকরণ নিবন্ধন
আক্ষেপ নাম পঞ্চমােচ্ছাসঃ।
ss
ষষ্ঠ উচ্ছ্বাস
মল্লার—আড় কাওয়ালী ।
হরি তােমার নাটক করা আমার কৰ্ম্ম নয়।
করাও তুমি যারে দিয়ে হয়।
ছিলাম ছেলে হলেম ভাই,
সাজলেম পতি হলেম পিতাই,
একা হয়ে কত সাজ আর করি অভিনয় ॥
ছ’বেটা যুটেছে এসে, সাজায় আমায় নানা বেশে,
সাজে কেবল সাজাই পে’তে হয়;
মাখায় ছাই ভস্ম চূণ আর কালি,
তাই তুলতে যায় চিরকালী,
হয়না কাজ, তুমি নারাজ, তাইতে বড় ভয়।
কাজটী ভাল হলে, পরে, পুরস্কারি পাব পরে,
বড় আশা ছিল রসময় ;--
১০২
গীতামৃত-লহরী।
সে আশায় পড়েছে ছাই,
পুরস্কারে আর কাজ নাই,
দাও, মানে মানে যােগেন্দ্রেরে
বিদায় এই সময়। ১৯১।
খাম্বাজ একতলা।
এ দীন সুধু তােমারি অধীন,
হে বিশ্ব বিধাতা, তুমি পিতা মাতা,
তুমিই দীন ত্রাতা জানি চিরদিন।
দারাপত্য ভ্রাতা ভগ্নি আদি যত,
সবাই স্বার্থপর আত্মসুখে রত,
স্বার্থপর তাই আত্ম পর জ্ঞান হত,
পাষাণের মত সবাই যে কঠিন।
তােমা ধনে যাদের নাইক ভালবাসা,
তাদের কাছে ভাল বাসা পাবার আশা,
সুধু বিড়ম্বনা বাড়ে তায় ভাবনা,
ছাড়ে না যাতনা ঘুচে না দুর্দিন।
মিছে তাদের মায়া পাশে বাঁধা আছি,
দয়া করে কঁাস কেটে দিলে বাঁচি,
গীতামৃত-লহরী।
১৩
পাশে চারি পাশ ঘেরা, সাধ্য নাই পাশফেরা,
হয়ে আছি যেন জালে বাঁধা মীন।
তুমি নবন্তি নিভ অতীব কোমল,
লাবণ্যে তােমার ত্রিজগত, উজ্জ্বল,
অতুলমা তব, করুণা বৈভব,
এ দীন পেলনা হে তার কণা মাত্র চিন।
যােগেন্দ্রের পানে কৃপানেত্রে চাও,
কৃতান্ত রূপাতে কটাক্ষে বাঁচাও,
মােক্ষ পদ খানি বক্ষে তুলে দেও,
চক্ষে হেরে রূপ পদে হই লীন ॥ ২৯২।
ঝিঝিট খাম্বাজ-মধ্যমান।
হরি হে-শেষের সৈ দিনে, তােমা বিনে,
আর বন্ধু কই।
ভেবে দেখলাম সবাই বইরি,
হরি হে তােমা বই।
ওপদ ভরসা করি, ভাসালেম
এ ভয় তরি,
মগ্ন যেন হয় না হরি
তুফান যে বড়ই। •
১০৪
গীতামৃত-লহরী।
নিদানের নিদারুণ ঝড়ে,
তরি ঘাের তরঙ্গে পড়ে,
তখন-যােগেেের নিও ক্রোড়ে
কর যােড়ে কই। ৩৯৩।
দরবারি কানেড়া-একতালা।
হে কৃষ্ণ কেশব করুণাময় কাতর ভয়ভঞ্জন।
নীলাঞ্জন লাঞ্ছন ঘনবরণ ভকন রঞ্জন।
দীনদয়াল দুরিতদমন,
দামােদর সুহৃদ রমণ,
নারায়ণ নীরজনয়ন,
নিরয়-বারী নিরঞ্জন।
নব নটবর কিশাের কানু,
ভানুজা হৃদি সরােজ ভানু,
মুঞ্জ কুঞ্জ বন ভূষণ,
মুনি মানস খঞ্জন;
শােভে মুকুট ময়ুর পীঞ্জে,
অধরে বেণু অমিয়া সিঞ্চে
কুসুম রেণু, রঞ্জিত তনু,
কোটী চন্দ্র গঞ্জন।
গীতামৃত-লহরী ।
কংস কেশী কৈটভহর,
কণ্ঠে রতন কৌস্তুভ ধর,
কস্তুরী, তিলক ললাটে,
চরণে নূপুর গঞ্জন;
কন্দর্প দর্প হারী,
অন্তর করবিহারী,
কৃপা করি হরি যােগেন্দ্রের,
হও হ নয়ন অঞ্জন ॥ ৪৯৪।
ভুপালী ইমন—কাওয়ালী ।
রাধা ধর বনােয়ারী রাধাধর সুধাপান ভিখারী ।
কেয়ুর কুণ্ডল হার বিভূষণ, নারায়ণ নরকারি।
পিঞ্ছ মুকুট মণি সমুজ্জ্বল, সজল জলদরূপধারী।
নব নটবর নট খঞ্জনােচন, সঙ্কট মােচনকারী ;-
বংশী বট যাবট যমুনাতট, লীলা পট হে তােমারি।
রাস নটন রস রসিক সুনাগর, রমণীজন মনােহারী ।
জয় জগদীশ যজ্ঞেশ জনার্দন, জয় যাদব যবনারি ।
ধাতা পাতা নিখিল বিধাতা, যাতায়াত দুখবারী ;
যােগেন্দ্র হৃদয়ে বিহর হে পীতাম্বর,
নিশিদিন ওরূপ নিহারী॥ ৫৯৫।
১০৬
গীতামৃত-লহরী।
কীৰ্ত্তনা—একতালা।
হরি হে, কৃষ্ণ হে ওহে দীননাথ ;-
তুমি পাতকী বান্ধব একবার হৃদয়ে দাও হে দেখা,
তুমি পাপীবর সখা শুনিহে বেদে।
পড়ে দুখে, তাই আজ সখে, ডাকিহে সখেদে ।
প’ড়ে ভবপাকে, (হরি) তােমায় যে জন ডাকে,
তার হে তাকে, লয়কালে তার ভয় থাকে,
তায় কি লয়ে, বেঁধে (কালে)
আমি ত্রাণ পাবহে কিসে, মজুলেম বিষয় বিষে,
কুমতি বশে, দিনান্তে ডাকি না হরি,
তােমা হেন সুহৃদে ॥ ৬৯৬ |
ইমন—কাওয়ালী ।
জয়-গােবিন্দ গােপাল গােপীজন রঞ্জন ।
গােবর্ধন গিরি ধারি গােপাঙ্গজ,
গরুড়ধ্বজ গজ সঙ্কট মােচন।
গেহ স্বজন ধন পরিহরি যে বা
দেহ প্রাণ সঁপি করে তব সেবা,
ধ্যানে নেহারে তব মাধুরী মাধব
দেহ তারে পদ তরণী নিরঞ্জন ।
গীতামৃত-লহরী ।
১০৭
গতি কি হবে আমার গোলকবিহারী,
রতি ত হল না প্রভু নামে তােমারি,
মতি যে সতৃত মাের, বিষয় রসে বিভাের,
অনিত্য সম্পদ করে আকিঞ্চন ;-
যােগেন্দ্র তাই নাথ আতঙ্কে কাঁপে,
প্রাণান্ত হয় বুঝি কৃতান্ত দাপে,
নিতান্ত জেনেছি হে ত্রিতাপ তাপে,
নিস্তার নাই আর কালিয়গঞ্জন। ৭৯৭।
০
মল্লার-কাওয়ালী ।
জয়কৃষ্ণ কেশব কেশী কৈটভ কৃন্তন,
কালীয় মন্থন কুঞ্জবিহারী।
কলুষহারী কলিমন, কেলিনট,
কালিন্দীতট রঞ্জনকারী।
জয়-কংস বিঘাতন, পূতনা পাতন,
সত্য সনাতন সঙ্কটবারী ।
শিখণ্ড-শেখর, শ্যামল সুন্দর,
অখণ্ড মাধুরী মুনিমনােহারী।
হে—কামমথন; তব, নাম কখন,
করি-যতন যে জন, করে শ্রবণ কীর্তন,
১০৮
গীতামৃত-লহরী
তার যাতায়াত জাত যাতনা মােন,
কর হে আতঙ্কনিবারী;-
তার—ভাঙ্গে মায়া ঘুম, ছাড়ে বিষয়ধূম,
যােগেন্দ্র সম ফিরে ওনাম ফুকারী,
পায়—পরমপ্রীতি, যায় চরম ভীতি,
তারমরম নিতি করে ভজন তােমারি ॥৮৯৮
খাম্বাজ-একতালা।
জয় গােবিন্দ গােলােকপতি গোবর্ধনধারি ।
মরি মরি কি বা মােহনভঙ্গি বঙ্কিম বনােয়ারি।
ময়ূর মুকুট মাথে, মােহন মুরলী হাতে,
কুঙ্কুম মৃগমদ চন্দন কুসুম রেণু অঙ্গে লেপন,
রমণী জন রঞ্জন তুমি মুনি মানসহারী।
তুমি যমুনাতট চারি, বংশীবট বিহারী,
কঠিন কপট লম্পট শঠ, নিপট নট নাগর বট,
তুমি বট ষটপদ সমান কনক কমলধারী।
তুমি হে বহু বল্লভ, তব দুর্লভ পদ পল্লব,
বল্লব কুলকামিনী যত, যতনে
তােমারে সেবে নিয়ত
ভাগ্যহীন দীন যােগেন্দ্র পেল না
সে অধিকারী। ৯৯৯।
গীতামৃত-লহরী।
১০৯
।
খাম্বাজ-একলা।
জয় নারায়ণ মধুসূদন দুৰ্জ্জন দনুজারি।
ব্রজ বধুগণ সঙ্গ রঙ্গ রসিক রাসবিহারি ।
মুনি মানস সরস হংস,
মণি
কুণ্ডল অবতংস,
সংশয় ভয় বারণ হরি কংস ধ্বংসকারী ।
ধর নীল নীরদ কান্তি, হর মানস তম ভ্রান্তি,
ঐকান্তিক মগন যেজন, ঐ কান্তিতে ত্যজি স্বগণ,
হরি—বিষয়াyি শান্তিধামে,
তারে লয়ে যাও হে মুরারি।
হর-বহু বিপদ বিবন্ধ, আমি দেখি
নাহে মােহ অন্ধ,
কি সাধন বলে বল যোগেন্দ্র, পাবে হে তব পদারবিন্দ
কেমনে পার হবে কেশব ভীষণ ভববারি ॥১০১০০
কালেংড়া-কাওয়ালী ।
জয়-রাধারমণ রসধম দামােদর,
বামন বামদেব মন রঞ্জন,
নবঘন গঞ্জন শ্যামল সুন্দর ।
শ্রী বৃন্দাবন ললিত লীলা নট,
গােপ-ললনা প্রেম লােলুপ লম্পট,
১০
গীতামৃত-লহরী।
শশাঙ্ক লাঞ্ছন, লাবণ্য শােভন,
শ্রীবৎসাঙ্ক হৃদয়ে কৌস্তুভ ধর।
জয়কালিন্দীতট বিলাস রঙ্গি,
অনঙ্গমােহন ত্রিভঙ্গভঙ্গী,
ত্রিভুবন বিনােদ, বেণু বিশারদ,
পদনখরে ধর শারদ শশধর ;-
জয়—ভােগ সৌখ্য মহা মােক্ষ বিধাতা,
ত্রৈলােক্য অলক্ষ্য সালােদাতা,
যােগেন্দ্র সকলি উপেক্ষি হে ত্রাতা,
যাচে হে যুগল পদে কেবল দাস্যবর। ১১১০১।
o
ভূপালী-একতালা।
নাদ বিন্দু সরােবরে ।
শ্যামল অমল, একটী কমল, সদা ঝলমল করে।
কত—তড়িত লতায়, জড়িয়েছে তায়,
প্রেমানন্দ ভরে।
কোটী কোটী দি কিরণ জিনি,
লাবণি তায় ঝরে ॥
অন্তরে বাহিরে কিরণের ঘটা, স্থলে জলে অম্বরে।
যার ফুটেছে নয়ন, টুটেছে স্বপন,
নেহারে সে নরবরে।
১১১
গীতামৃত-পরী
~~~
সেথা অবিরত কত, ভ্রমরের, মত,
জানি কি গুঞ্জরে।
পশিয়ে সে রব শ্রবণকুহরে,
তনু মন যে শিহরে।
সৌরভময়, মধুর মলয়, চৌদিকে সঞ্চরে।
ভূলােক ভােলে মানস মাের প্রাণ পুলকে ভরে।
সেই শীতল অতুল, শতদলমূল সতত সেবন তরে।
ভাসে যােগেমন-মরাল,
আনন্দ লহরে । ১২১২।
সুরট-একতালা।
চৌদিকে ফুটেছে ভাবের কুসুম,
নীরব নিঝুম নিখিল ধরণী।
তার মাঝে একি, অপরূপ দেখি,
বিজরী জড়িত নীলকান্ত মণি।
রূপে ঝরিছে সুধার ঝরণা,
গলিয়া পড়িছে কতই লাবণী।
অবনী মােহন মাধুরী হেন,
কে গড়িল আহা! ছাঁকিয়া নবনী।
প্রেমে গলিয়ে, ঢলিয়ে ঢলিয়ে,
এ উহার গায় পড়িছে টলিয়ে,
১১২
গীতামৃত-লহরী।
দেহে দেহ রূপে যেতেছে মিলিয়ে,
অভেদ হইয়ে পুরুষ রমণী ;-
কোটী চন্দ্র কিরণে উজলি,
খেলিছে যেন রে একটী পুতলি,
পলকে আবার, যুগল বিহার,
যেমনি আছিল নেহারি তেমনি।
চৌদিকে ছুটেছে অতুল সুবা,
মৃদুল মৃদুল বহিছে বাতাস,
ফুটাইয়া কলি ভেদিয়া কাকলি,
বাজিছে মুরলী মদন মাদনী ;-
দেহে—হাসিছে ভাসিছে মিশিছে আবার,
পলক ঝলকে নাশিছে আঁধার,
ক্ষণে উজলিয়া যােগেন্দ্রের হিয়া,
জানি কোথায় পশিছে অমনি ॥ ১৩১০৩।
জয়জয়ন্তী-তেতালা।
তােমায়-বেদে আদ্য পুরাতন বলে।
মােরা—নিতুই নূতন দেখি তোমায়,
তােমারি করুণা বলে ।
গীতামৃত-ল ব্রী।
কে কয় তুমি শূন্যময়, কৰ্ম্ম তোমার সত্য নয়,
অনন্ত মূর্তিতে তুমি ব্যক্ত যে ভক্ত মণ্ডলে
তুমি কভু নয় মায়ার অধীন, মায়ায় মূর্তি ধর প্রবীণ
বিরাট নাম তাই তােমার, শাস্ত্রে গায় চিরদিন,
অনু সূক্ষাত্মন তুমি, আকাশ পাতাল ভূমি,
কি মায়ায় কায়ায় ব্যাপিয়ে র’লে ;
কি মায়ায় সঙ্কীর্ণ রূপে, পরম সূক্ষা নােম কূপে,
অখণ্ড ব্ৰহ্মাণ্ড তুসিরেখেছিলে চুপে চুপে,
শরদের চাঁদ নখে ধরি,
নীরদের দর্প হরি, কি মায়ায় ক্ষীরােদে হরি,
ভেসেছিলে বট দলে।
একার্ণব জল কাণ্ডে, ডুবালে যখন ব্রহ্মাণ্ডে,
আব্ৰহ্মতৃণ কিছু
রাখিলে নাহে তব ভাণ্ডে, পৃথীর ভার পরিহরি,
কি মায়ায় তখন,হরি,
অনন্ত শয্যায় শুয়েছিলে
কি মায়ায় প্রলয় সলিলে, নিদ্রায় হয়েছিলে তাের,
না বলিলে তব লীলে, বুঝিব কি সাধ্য মাের,
কি মায়ায় হে আত্মতপা, লক্ষী তখন সেবিত পা,
কি মায়ায় ব্রহ্মার জন্ম তােমার ঐ নাভী কমলে।
১১৪
গীতানুলহরী।
আগেও সত্য মাঝেও ত্য তুমি
সত্য রূপেই ব্যক্ত পিছে,
ব্ৰহ্ম তব জন্ম কর্ম লীলা ধৰ্ম্ম কে কয় মিছে,
ও তা অপ্রাকৃত অলৌকিক, কদাচই নয় অলীক,
ভক্ত বই বােঝে কি সকলে;
তুমি লাদিনী সন্ধিনী সম্বিৎ ত্রিবিধা শক্তির সহ
যােগমায়া আশ্রয় করি লীলা কর অহরহ।
তােমার মায়াতীত এ প্রভাব, আবির্ভাব তীবােভাব,
স্থির ভাবে যেজন ভাবে সেই তােমার ভাবে গলে ।
মায়ায় তুমি মুহুর্মুহু একা হয়ে বহু হও,
স্থূল সূক্ষা ভাবে তুমি স্থাবর জঙ্গমে রও। #
জগৎ জোড়া ব্ৰহ্মরন্ধ্রে, মুরলী মধুর মন্দ্রে,
প্রেমানন্দে নাচাও প্রকৃতি দলে ;-
তুমি সচ্চিদানন্দ রূপে অন্তরে বাহিরে আছ,
যােগেন্দ্র জানেনা তারে কি ভাবে নাচায়ে নাচ, #
' (পাঠান্তরে অন্তরে বাহিরে রও)
* এই গীতটি দ্বিতীয় ভাগে প্রথম খণ্ডের সপ্তম উচ্ছাসের
৩ নম্বরে আছে। ঐটা বহুদিন পূর্বের রচিত, শেষে বৈষ্ণব ভাব
বিরুদ্ধ বলিয়া সংশােধনীতে এই গীতটী রচনা করিয়াছিলেন।
গীতামৃত-রী।
১১৫
ও যে-ধৰ্ম্মাধর্ম সকল ত্যেতে
কেবল তোমার নামে মজে,
সেই ত বােঝে স্বরূপ তােমার
বহু সৌভাগ্যের ফলে ॥১৪১০৪৷৷
মূলতনি—একতালা।
সুধু—নিরাকার সেত নয়।
যার নাম নিলে যার লীলা শুনিলে,
অপার আনন্দ হয়।
সে ত—বর্ণনার অতীত রূপ বর্ণ বটে,
ঘটে কিন্তু তার দেখা এই ঘটে,
মরি—কি উজ্জ্বল নির্মল, শ্যামল সুশীতল,
দ্বিদল কমল করে আলােময়।
সে যে-সহস্র দল পদ্মে, শুদ্ধ চিৎসম্মে,
কচি প্রকাশ হয়ে গােপনে রয়।
কোন ভাগ্যবান, পায় সে সন্ধান,
যে নাপায় সেইত অরূপ কয়,
রাখেনা সম্প্রতি সম্পদ সহ যে,
ব্ৰহ্মার দুর্লভ নিধি সেই পায় সহজে,
গীত-লহরী।
ও যে-নাই বিধি নিষেধে, দ্বৈতাদ্বৈত ভেদে,
নাইরে তন্ত্র বেদে সুনিশ্চয়।
যদি দেখতে চাও তারে, যা মূলাধারে,
গাও কুল কুণ্ডলিনীর জয়।
সেই—নিত্য প্রমােদিতা, রাধা যে নিদ্রিত,
| যত্নে ভারে জাগাও করনা ভয়,
জাগায়ে যােগেন্দ্র ধ্যান যােগে ভারে,
একবার যদি নিতে পার সহরে,
ভাবে ব্রহ্মানন্দ রূপের পারাবারে,
দেখবে কতই সুধার ধারা বয় ॥
তখন-ছুটবে বাহ ধ্যান, টুটবে জ্ঞানাজ্ঞান,
একেবারে সঁতে হবিরে লয় ।
হাজার যদি সাধি, সে ঘাের সমাধি,
ভাঙ্গবে না তাের আর কোন সময়,
১দ্ধি তখন পেলেও
তুচ্ছ করবে তুমি তৃণ গুচ্ছ বলে,
দেখবে রূপের খেলা সে রাস মণ্ডলে,
রাধাকৃষ্ণ ময় সমুদয় । ১৫|১৫।
গীতামৃত বী।
১১৭
পাহাড়ীরা।
আজকে আমি পেলাম রে প্রাণ
এত দিন্তত ছিলাম মৃত।
কে ঢেলে দিল রে আমার কানে কৃষ্ণ নামামৃত।
এত দিনে ফুটল আঁখি মােহেতে ছিল মুদিত।
রসনায় এল রস ওষ্ঠ যে হ’ল স্পন্দিত
বুঝিলাম স্বাদ আস্বাদন ভবে কি মিঠে কি তিত।
নাচিয়ে উঠিল বৃক্ষ প্রেমে হয়ে আনন্দিত।
উঠিয়ে দাড়াল কর পায়ে বল হ’ল সঞ্চিত।
গগাবিন্দ গুণ কীৰ্ত্তনে যােগেন্দ্র
মাতারে চিত। ১৬১০৬।
ইতি গীতামৃত লহৰ্য শ্রীশ্রীভগবৎ পদে সেৰকত্ব
বর্ণনং নাম ষষ্ঠোচ্ছাস।
No text on this page.
11 u|
সপ্তম উচ্ছাস।
রাগিণী রাজ বিজয়-তাল কীত্তনাঙ্গ একতালা।
শুভসঙ্কীৰ্ত্তন রঙ্গে।
একবার এস হে দয়াল শ্রীগৌরাঙ্গ,
সাঙ্গ পাঙ্গ সঙ্গে।
আলি—নাম মহােৎসবে, মধুর তাণ্ডবে,
মাতাও সবে প্রেম তরঙ্গে।
আহা—পতিত পাতকী,অধম নারকী,
তারহে আসি মুঙ্গে -
নৈলে—গতি নাই আর, ওহে কর্ণ ধার,
অকূলে
মরি আতঙ্কে ॥
আসি—উদ্ধারহে নামে, স্থাবর জঙ্গমে,
ব্ৰহ্মাদি কীট পতঙ্গে।
ওহে-প্রাণ রমণ, করহে দমন,
দারুণ কলি ভুজঙ্গে।
আহা-ভজন পূজন হ’লনা কিছুই,
কামাদি কুজন সঙ্গে।
১২০ গীতি-লহরী। ~~ দীন—যােগেন্দ্রেরদিন, গত হয় যেন তােমারি নাম প্রসঙ্গে। ১০৭। কীৰ্ত্তনা-একতালা। জয় গােপাল জয় গােপাল গােপাল গিরিধারী। জয় গােবিন্দ গােপীকান্ত গহন কুঞ্জ চারী। জয় ব্রজেন্দ্র নন্দন, কল মুরলী বাদন, অপ্রাকৃত নবীন মদন মন বিনােদনকারি। জয় আনন্দ বর্ধন, মােহ বিবন্ধু মােচন, দীন যােগেন্দ্রে পদারবিন্দে রাখরাখ মুরারী ॥২১০৮ দশকুশী। জয় শ্রীরাধা গােবিন্দ, জয় শ্রীগােকুলানন্দ, গােপীনাথ মদনমােহন। (একবার দয়া করহে) জয় রাধা দামােদর, জয় শ্যাম সুন্দর, জয় বৃন্দা বিপিন শোভন। ০ * এই গীতটী ২য় ভাগের ১ম খণ্ডের ১ম উচ্ছাসে ৪ নম্বরে আছে, এইটী পদকর্তা প্রতিদিন নিত্য সঙ্কীৰ্ত্তনের প্রথমে গাই- তেন, সেই জন্য নিত্য সংস্কীর্তনের পদের অগ্রে এখানে দেওয়া হইল; এই ৫টা পদ ছাড়াও অনেক মহাজনের ও নিজে পদ নিত্য সঙ্কীর্তনে গাইতেন।
9. ।
।
গীতাহরী।
১২১
জয় বঙ্ক বিহারী, নিখুঁত নিকুঞ্জচারী,
জয় জয় শ্রীরাধারমণ।
জয় জয় কৃষ্ণচন্দ্র, ভকত নয়নানন্দ,
যােগেন্দ্রে বিতর শ্রীচরণ ॥ ৩১০৯।
০
বেহাগ-ঠুংরি ।
জয় জনার্দন জগ বন্দন রাম।
জয় শ্রীরাধা রঞ্জন নবঘন শ্যাম।
জয় কালীয় মন্থন, কেশী নিকৃন্তন,
কলুশ হারী হরি মঙ্গল ধাম।
জয় নবীন নটবর, পূরট পটধর,
জয় বৃন্দাবন জীবন, গােপিনী
মােহন। । ৪|১১০ ।
কীর্তনা-একতালা বা ঝাপতাল।
দোলেরে আজি রাধা গােবিন্দ রতন
রচিত হিন্দোলে।
শােভভরে থির দামিনী যেন নব নীরদ কোলে।
গ
এই টী গীত ছাড়াও আরও পদকর্তার নিজের রচিত গীত
নিত্য সঙ্কীর্তনের ছিল তাহার কোন কাগজ তল্লাসে পাওয়া
,
১২২
হরী।
~~
নব তমালে বেষ্ট করি,
হেলিছে দুলিতে
বল্লরী,
চারি পাশে সহচরী সব, ভাসে প্রেম হিল্লোলে ।
কুসুমগন্ধ মােদিত বন, মন্দ মন্দ বহিছে পবন
মুঞ্জ কুঞ্জ মুখরিত শুক কোকিল কল রােলে।
সঙ্গিনী সব রঙ্গে ভঙ্গে, মৃদঙ্গ সারঙ্গ সঙ্গে,
রাধা কৃষ্ণ রস প্রসঙ্গে, মধুর তান তােলে ।
ময়ুর ময়ুরী করিছে নৃত্য, ভ্রমর নাদে * ছে চিত্ত,
মানস লােভা, মিলন শােভা,
হেরে যােগেন্দ্র ভােলে ॥ ৫১১১।
=
ইতি গীতামৃত লহৰ্যাং নিত্য কৃত শ্রীশ্রীহরি সংকীৰ্ত্তনং
নাম সপ্তমােচ্ছাসঃ।
গেল না, যে ৫টী গীত মুখে মুখে জানা ছিল তাহাই দেওয়া
গেল। এই গীতটীর শেষের অন্তরা ১ম অংশ যাহা জানা ছি
তাহাই দেওয়া হইল।
* এই গানটী পদকর্তা নিত্য সংকীৰ্ত্তনের শেষে মধ্যে মনে
গাইতেন।
সমাপ্তি
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.