Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Ramakrishner Dedar Galpo
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
শিশুতােষ সিরিজের ২য় বর্ষের নবম সংখ্যা
রামকৃষেৱ দেদার গল্প
জ্যৈষ্ঠ-১৩২৯।
শিশির পাবলিশিং হাউস
কলেজ স্ট্রীট মার্কেট,
কলিকাতা।
মূল্য • আনা।
শ্রীশিশির কুমার মিত্র বি-এ,
শিশির পাবলিশিং হাউস,
কলেজ স্ট্রীট মার্কেট, কলিকা।
প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রিন্টার-আবদুল গফুর,
নিউ ব্রিটেনিয়া প্রেস,
২৪২-১ নং অপার সারকিউলার রােড,
কলিকাতা।
সূচীপত্র। বিষয়। পৃষ্ঠা। ০ ০ ০ ০ ০ ০ গ পাগলা হাতী রাম নাম হােমা পাখী ৪। কৃষ্ণ কিশাের হালদার পুকুর ৬। নিকষ বুড়ি ৪০০ ১৪ ০০০ ৪০০ ১৮ ০ ০ ০ চোখের জল ssc ••• ০ ০ ০ २४ ২ = ৫০ . . . ৮। শব সাধন অবধূতের গুরু গােবিন্দজীর পূজারী গােবিন্দজীর মালা ১২। হনুমানের ঘর কাক ভুষণ্ডী ১৪। ভগবানের দান ১৪। শ্রীরামচন্দ্রের বৈরাগ্য ১৫। দুই বন্ধু ••• ৪১ ৪৪ • • • ৪৭
No text on this page.
রামকৃষ্ণেৱ দেদার-গল্প পাগলা হাতী এক বনে এক সন্ন্যাসী বাস করিতেন। বনের ভিতর হার আশ্রম। সাধু সন্ন্যাসীর আশ্রম কাজেই বড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। সাধুর শিষ্যও অনেক গুলি। সশিষ্য সাধু সেই বনের ভিতর বাস করেন, আর দিনরাত ভগবান আরাধনায় দিন কাটান। অবসর সময়ে সাধু ভঁহার শিষদিগকে ধৰ্ম্ম উপদেশ প্রদান করেন। একদিন সকালে আশ্রমের সম্মুখে শিষ্যরা সাধূকে ঘিরিয়া বসিয়াছে, সাধু তাহাদের ধৰ্ম্ম উপদেশ দিতেছেন। নানা উপ- দেশের পর তিনি বলিলেন,-“শুধু তােমরা এইটুকু ভাল করিয়া মনে রাখিও-যে সকল জীবের ভিতরই নারায়ণ আছেন—এবং এইটুকু জানিয়া সকল জীব-
রামকৃষ্ণের দোর-গম
২
(म
কেই নমস্কার করিবে। ভগবান সকল জীবের
ভিতরই আছেন-কাজেই সকল জীবই নারায়ণ।”
ইহার কিছুদিন পরে হােমের জন্য সাধুর কিছু
কাঠের প্রয়ােজন হইল। তিনি তাঁহার একটী
শিষকে কিছু কাঠ সংগ্রহ করিয়া আনিবার জন্য বনে
পাঠাইলেন। গুরুর আদেশ পাইয়া শিষ্য কাঠ
আনিতে কুঠার লইয়া বনে প্রবেশ করিল।
আপন মনে শুখনা কাঠ খুঁজিতে খুজিতে বনের
ভিতর অগ্রসর হইতেছিল সেই সময় হঠাৎ তাহার
পিছন হইতে রব উঠিল,-“পালাও—পালাও।
পাগলা হাতী ছুটেছে—পাগলা হাতী ছুটেছে।”
পাগলা হাতী ছুটিয়াছে শুনিয়া সকলে
যেখানে পারিল-পলাইয়া আশ্রয় লইল। কিন্তু সেই
সাধুর শিষ্যটী পালাইল না; সে যেমন অগ্রসর হইতে
ছিল তেমনিই অগ্রসর হইতে লাগিল। পিছন
হইতে সকলেই চীৎকার করিয়া বলিতে লাগিল,-
“পালাও-পালাও—এখনি হাতীর পায়ের তলায়
যাইব।
পাগলা হাতী
কিন্তু সেই শিষটী সে কথা হৃক্ষেপও করিল না
সে মনে মনে ভাবিল,-“গুরু বলিয়াছেন সৰ
জীবই নারায়ণ --তবে আমি পালাইব কেন?”
দেখিতে দেখিতে সেই পাগলা হাতী তাহার
সম্মুখে আসিয়া উপস্থিত হইল। মাহুত হাতীর
উপর হইতে চীৎকার করিয়া বলিল,-“পালাও ---
পালাও।”
শিষ্য তবুও নড়িল না,সে নমস্কার করিয়া স্তব
স্তুতি করিতে লাগিল। কিন্তু পাগলা হাতী তাহার
স্তব স্তুতি শুনিবে কেন—সে তাহাকে শুড়ে করিয়া
তুলিয়া দূরে ছুড়িয়া ফেলিয়া দিয়া—সেইরূপেই উন্মত্ত
ভাবে ছুটিয়া চলিয়া গেল। হাতৗর শুড় হইতে
সজোরে মাটিতে পড়িয়া শিষ্য জ্ঞান হারাইল; শিষ্য
অজ্ঞান হইয়া পড়িয়া আছে--এ সংবাদ সাধুর
আশ্রমে পৌছিবামাত্র কয়েকজন শিষ্য যাইয়া ধরা-
ধরি করিয়া তাহাকে আশ্রমে লইয়া আসিল।
তাহার পর
ক্ষতস্থানে ঔষধ বাধিয়া
দিল। কিছুক্ষণ সেবা শুশ্রষার পর সেই শিষের
রামকৃষ্ণের দেদার-গল্প
৪
ক
চৈতন্য হইল, তখন সকলেই তাহাকে জিজ্ঞাসা
করিতে লাগিল,-“পাগলা হাতী আসিতেছে শুনিয়া
কেন তুমি পালাইয়া গেলে না?”
তখন সেই শিষ্যটা উত্তর দিল,-“গুরুদেব যে
বলিয়া দিয়াছেন—সকল জীবেই নারায়ণ আছেন।
তাই আমি নারায়ণ আসিতেছেন শুনিয়া পালাই
নাই।”
শিষ্যের কথায় সেই সাধু হাসিয়া বলিলেন,-
“বাবা, হাতী নারায়ণ আসিতেছিলেন সত্য কিন্তু মাহুত
নারায়ণও তাে তােমায় পালাইয়া যাইতে বলিয়া-
ছিলেন। তাঁর কথা শুনিলে না কেন? মাহুত
নারায়ণের কথা শােনাও তো তােমার উচিত ছিল।”
শিষ্য এ কথায় কোন উত্তর দিতে পারিল না---
চুপ করিয়া রহিল। সকল জীবের ভিতরই নারায়ণ
আছেন সত্য কিন্তু তা বলিয়া সকলের সহিত সমান
ব্যবহার করা চলে না। শাস্ত্রে আছে জল নারায়ণ
—কিন্তু সব জল কি খাওয়া চলে? কোন জলে
ঠাকুর সেবা হয় আবার কোন দলে কেবল বাসন
-
পাগলা হাতী
মাজা চলে। সেইরূপ সকল জীবের ভিতর নারায়ণ
আছেন সত্য কিন্তু তা বলিয়া হাতী নারায়ণ শুধু
ভাবিলে চলিবে না, মাহত নারায়ণের কথা শােনাও
উচিত।
রাম নাম
-
বিভীষণের নাম তােমরা নিশ্চয়ই শুনিয়াছ।
বিভীষণ রাবণের ঘােট ভাই। রাবণ রাক্ষস--- তার
দশ মাথা কুড়ি হাত। সে ছিল লঙ্কার রাজা। সেই
রাবণের ভাই বিভীষণ বড় রাম ভক্ত ছিলেন। এক
দিন তার কাছে একটী লােক আসিয়া বলিল,-
“আমাকে সমুদ্রের ওপারে একবার যাইতে হইবে।
আপনি তাে শুনি রাম ভক্ত—আপনি আমার উপায়
করিয়া দিন।”
বিভীষণ বলিলেন,-“তােমার সে জন্য কোন
চিন্তা নাই, আমি এখনি তাহার উপায় করিয়া
দিতেছি।”
এই বলিয়া বিভীষণ একটী পাতায় তিনবার
ৰাম নাম লিখিয়া সেই পাতাটী সেই লােকটীর
কাপড়ের একটা খুটে বাধিয়া দিয়া বলিলেন,—“যাও
এইবার তুমি অনায়াসেই জলের উপর দিয়া হাঁটিয়া
রাম নাম
যাইতে পারিবে। কিন্তু সাবধান আমি তােমার
কাপড়ে খুটে কি বাঁধিয়া দিলাম তাহা কিছুতেই
খুলিয়া দেখিও না।”
সেই লােকটী সমুদ্রের পারে যাইবার জন্য
সমুদ্রের উপর দিয়া হাঁটিয়া চলিতে আরম্ভ করিল,
ও অনায়াসেই সমুদ্রের উপর দিয়া যাইতে লাগিল।
এই ব্যাপারে সে একেবারে অবাক হইয়া গেল।
তাহার ভার ইচ্ছা হইল একবার কাপড়ের খোটা
খুলিয়া দেখে বিভীষণ তাহার কাপড়ের খেটে কি
বাঁধিয়া দিয়াছে। কিন্তু বিভীষণ তাহাকে দেখিতে
নিষেধ করিয়া দিয়াছেন --সে কথাও তাহার মনে
পড়িল । কাজেই সে তাহার সে ইচ্ছাটাকে দমন
করিবার চেষ্টা কৰতে লাগিল। কিন্তু সে যতই
অগ্রসর হইতে লাগিল ততই তাহার সেই ইচ্ছাটা
প্রবল হইতে প্রবলতর হইয়া উঠিতে লাগিল । সে
আর কিছুতেই সামলাইতে পারিল না—আর একটু
অগ্রসর হইতে পারিলেই পরপারে পৌছিতে পারা
যায়—সেই সময় সে তাহার কাপড়ের খোট খুলিয়া
রামকৃষ্ণের দেদার-গল্প
বিভীষণ যে পাতাটা বাধিয়া দিয়া ছিলেন তাহা বাহির
করিয়া দেখিল। দেখিল, পাতাটায় কিছুই নাই
'কেবল রাম নাম লেখা। লােকটীর এই দেখিয়া
কেমন যেন একটু অবিশ্বাস হইল,-মনে মনে
বলিল,-“আরে রামঃ। এটা তো কিছুই নহে।
বিভীষণ আমার সহিত আচ্ছা চালাকী করিয়াছে।”
যেমন তাহার এই কথাটী মনে পড়িল-~~ অমনি সে
টুপ করিয়া সমুদ্রের ভিতর ডুবিয়া গেল । বিশ্বাসই
পৃথিবীতে সব। যাহার বিশ্বাস আছে সে অসাধ্য
সাধন করিতে পারে। লোকটা বিশ্বাসের বলে
সমুদ্ধের উপর দিয়াও হাঁটিয়া যাইতে পারিয়াছিল ।
সে যদি বিশ্বাস না হারাইত তাহা হইলে অনায়াসেই
পরপারে পৌছিতে পারিত। বিশ্বাসই পৃথিবীতে
সব-বিশ্বাস করিতে পারিলে
অনায়াসে হইয়া থাকে।
হােমা পাখী
বেদে এক রকম পাখার কথা পাওয়া যায়।
তাহাকে হােমা পাখী বলে। খুব উচু আকাশে
এই হােমা পাখী বিচরণ করে। এই পাখা সেই
উচু আকাশেই ডিম পাড়ে। তারা ডিম পাড়িলেই
সেই ডিম আকাশ হইতে মাটীতে পড়িতে থাকে।
কিন্তু তাহারা এত উচু আকাশে ডিম পাড়ে যে সেই
ডিম পড়িতে পড়িতেই ফুটিয়া যায় ও ডিম হইতে
বাচ্ছা বাহির হয়। ডিম ফুটিয়া
বাজাও যেমনি
বাহির হয়—সেও অমনি মাটীর দিকে পড়িতে থাকে
পড়িতে পড়িতেই তাহার চোখ ফুটে ও ডানা
গজাইয়া উঠে। যেমনি সেই বাচ্ছাটার চোখ
ফুটিয়া উঠে অমনি সে দেখিতে পায় যে, সে মাটীর
দিকে পড়িতেছে—মাটীতে পড়িলে এখনি তাহার
হাড়গােড় ভাঙ্গিয়া চুরমার হইয়া যাইবে। তখন সে
রামকৃষ্ণের দেদার-গল্প
আর কিছুতেই স্থির হইয়া থাকিতে পারে না --অমনি
ডানা নাডিয়! উপর দিকে উঠিতে আরম্ভ করে --এবং
কেবলই উপরের দিকে উঠিতে উঠিতে একেবারে
মায়ের নিকট গিয়া উপস্থিত হয় ।
মানুষও ঠিক তেমনি জন্মাইবার পর মায়ার
ভেতর দিয়া কেবলই নিচের দিকে পড়িতে থাকে ।
কিন্তু এই ভাবে পড়িতে পড়িতে তাহাদেরও জ্ঞানের
সঞ্চার হয়—-মায়া কাটিয়া যায়—তখন তাহারা
আবার ভগরান লাভ করিবার জন্য উপর দিকে
ছুটিতে থাকে এবং ছুটিতে ছুটিতে একদিন ভগবান
লাভ করে।
কৃষ্ণ কিশাের
কৃষ্ণ কিশাের পরম ধার্মিক অতি নিষ্ঠাবান
ব্রাহ্মণ। দেব দ্বিজে উঁহার অসীম ভক্তি। অতি
সদাচারে দিন যাপন করেন কাহারও ছেওিযা
নেওয়া আহার করেন না। গ্রামের লােক কৃষ্ণ
কিশােরের আচার ও নিষ্ঠা দেখিয়া তাহাকে যথেষ্ট
ভক্তি শ্রদ্ধা করে--সকলেই বলে কৃষ্ণ কিশােরের
মত এমন স ব্রাহ্মণ আর আজ কাল কার দিনে বড়
একটা দেখিতে পাওয়া যায় না।
কৃষ্ণ কিশােরের একবার তীর্থ ভ্রমণ করিতে
ইচ্ছা হইল। তিনি তাহার সমস্ত বন্দোবস্ত করিয়া
তীর্থ ভ্রমণে বাহির হইয়া পড়িলেন।
নানা তীর্থ
ভ্রমণ করিতে করিতে তিনি শেষ বৃন্দাবনে গিয়া
উপস্থিত হইলেন। শ্রীকৃষ্ণের লীলাভূমি বৃন্দাবন
ধাম। বৃন্দাবনে উপস্থিত হইলে-বৃন্দাবনের ধূলি
অঙ্গে মাখিলে ভক্তের প্রাণ অ'কুল হইয়া উঠে।
বৃন্দাবনে উপস্থিত হইয়া ভগবানের লীলার কথা
যতই মনে হইতে লাগিল -ততই কৃষ্ণ কিশােরের
রামকৃষ্ণের দেদার-গল্প
যখন
প্রাণ আকুল হইয়া উঠিতে লাগিল। তিনি ঘুরিয়া
ফিরিয়া বৃন্দাবনের যাহা কিছু দেখিবার জিনিষ
সকলই দেখিতে লাগিলেন। একদিন কৃষ্ণ কিশাের
ঘুরিতে ঘুরিতে অনেক দূরে গিয়া পড়িলেন। তিনি
ভগবানের ভাবে এমনই তন্ময় হইয়া পড়িয়াছিলেন
ষে তাহার বেলার দিকে খেয়াল ও ছিল না।
তাহার চৈতন্য হইল তখন দেখিলেন মাথার উপর
সূৰ্য্য আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে
-রৌদ্রের তাপে
চারিদিক পুড়িয়া যাইতেছে। তিনি বেলার দিকে
চাহিয়া সত্বর গৃহে ফিরিবার জন্য দ্রুতপদে চলিতে
আরম্ভ করিলেন। কিন্তু এই ভাবে কিছুদূর চলিতেই
রৌদ্রের তাপে তাহার অতিশয় জন পিপাসা পাইল।
তিনি একটু জল পান করিবার জন্য নিকটেই একটা
কূয়ায় নিকট গিয়া উপস্থিত হইলেন। কূয়ার
নিকট উপস্থিত হইয়া দেখিলেন,
হইতে জল তুলিতেছে। তিনি তাহাকে বলিলেন,-
“ওরে ভাই --আমাকে এক ঘটী জল দে দিখি ।
আমার বড় পিপাসা পাইয়াছে।
একটী লােক কূয়া
-
স
। মুচি তিনবার শিব নাম উচ্চারণ করিয়া এক ঘটি জল তুলিয়া
No text on this page.
কৃষ্ণ কিশাের
যে লােকটী জল তুলিতেছিল সে কৃষ্ণ কিশােরের
গলার পৈতা দেখিয়া বলিল, -- “ঠাকুর মহাশয়, আমি
আপনাকে কেমন করিয়া জল দিব—আমি যে জাতে
মুচী।”
কৃষ্ণ কিশাের বলিলেন,--- তার জন্যে আর ভাবি-
বার কি আছে ? তুই এক কাজ কর--তিনবার
শিব নাম উচ্চারণ কর- তাহা হইলেই তাের দেহ
শুদ্ধ হইবে -“তারপর তুই আমায় জল তুলে দে ।”
মুচী তিনবাব শিব নাম উচ্চারণ করিয়া এক ঘটী
জল তুলিয়া কৃষ্ণ কিশােরকে প্রদান করিল।
কৃষ্ণকিশাের মহা তৃপ্তির সহিত সেই জল পান
করিলেন। ঈশ্বরের নাম করিলে দেহ মন শুদ্ধ
হইয়া যায়-এ বিশ্বাস যাহার আছে সেই যথার্থ
এমন বিশ্বাস না থাকিলে কি আর ভগবান
লাভ করা যায় ? তােমাদের যাহাতে ভগবানের
উপর এইরূপ বিশ্বাস হয়--বাল্যকাল হইতে তাহারই
চেষ্টা করা উচিত।
হালদার পুকুর
এক দেশে একটী পুকুর ছিল --লােকে সেটাকে
হালদার পুকুর বলিত। সেই পুকুরটার পাড়ে
সকলে বাহে করিয়া আসিত।
যাহার পুকুর তিনি
প্রত্যহই সকলকে গালিগালাজ করিতেন—যাহাতে
কেহ তাহার পুকুরের পাড়ে বাহে না করে তাহার
জন্য তিনি নানাভাবে সকলকে বারণ করিতেন।
কিন্তু তাহার কোন কথায় কেহ ক্ষেপই করিত না।
যেমন প্রত্যহ প্রত্যুষে সকলে হালদার পুকুরের পাড়ে
ৰাহে করিয়া যাইত তাহার শত নিষেধ সত্ত্বেও তাহারা
ঠিক তেমনিই বাহে করিয়া যাইতে লাগিল। যাহার
পুকুর তিনি এই ব্যাপারে একেবারে ব্যতিব্যস্ত হইয়া
উঠিলেন এবং কিছুতেই কিছু করতে না পারিয়া
শেষ সরকারকে এই বিষয় একটা ব্যবস্থা করিবার
জন্য দরখাস্ত প্রদান কয়িলেন। দরখাস্তের ফলে
হালদার পুকুর
সরকার হইতে একজন চাপরাশী আসিল এবং সে
সেই পুকুরের পাড়ে একটা কাগজ মারিয়া দিয়া গেল
– তাহাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা—এইখানে বাহে
করিও না। সরকার হইতে এই কাগজ মারিয়া
দিবার পর আর কেহ হালদার পুকুরের পাড়ে বাহে
করিতে আসিল না। একদিনেই সমস্ত বন্ধ হইয়া
গেল।
ভগবানের বিভূতি লাভ যে করিতে পারে নাই---
তাহার উপদেশের কোন মূল্য নাই। সে ভগবানের
কথা বলিলে লােকে হাসি ঠাট্টা
করিয়া থাকে।
উপদেশ দিতে হইলে চাপরাশের প্রয়ােজন। যাহার
চাপরাশ আছে—তাহার কথা লােকে হাসিয়া উড়া-
ইয়া দিতে পারে না। অপরের দুই শত কথায় যে
কাজ না হয় তাহার এক কথায় তাহা অপেক্ষা অনেক
বেশী কাজ হইয়া থাকে। কাজেই অপরকে উপদেশ
না দিয়া যাহাতে ভগবান লাভ করতে পারা যায়
মানুষের তাহারই চেষ্টা করিতে হয়।
নিকষা বুড়ি
তােমরা রাম রাবনের যুদ্ধের কথা শুনিয়াছ ।
বাবন রাক্ষস-লঙ্কার রাজা-~ভয়ঙ্কর বীর।
শ্রীরামচন্দ্রের সীতাকে হরণ করিয়া লইয়া যায়।
শ্রীরামচন্দ্র সমুদ্র বন্ধন করিয়া সীতাকে উদ্ধার করি-
বার জন্য লঙ্কায় এসে উপস্থিত হন। তারপর রাম
বাৰনে ভয়ানক যুদ্ধ হয়-যুদ্ধে রান সংশে নিধন
হয়। রাবন বধ করিবার পর শ্রীরামচন রাক্ষসপুরার
প্রবেশ করিলেন। শ্রীরামচন্দ্রকে পুরীর
ভিতর প্রবেশ করিতে দেখিয়া,—রাবনের মা বুড়ি
নিকষা ছুটিয়া পালাইয়া গেল। শ্রীরামচন্দ্রের সহিত
লক্ষণও রাক্ষস পুবীর ভিতর প্রবেশ করিয়াছিলেন,
তিনি নিকষ বুড়িকে ছুটিয়া পালাইয়া যাইতে দেখিয়া
বেশ একটু আশ্চৰ্য্যান্বিত হইলেন ।
তিনি তাড়া-
তা ডু শ্রীরামচন্দ্রকে জিজ্ঞাসা কঠিলেন, “দাদা,
একি ব্যাপার বলুন দেখি ? এই রাবনের মা নিকষা
১৭
নিকষ বুড়ি
-এত বুড়ী-এত পুত্রশােক
পাইয়াছে-তবুও
ইহার এত প্রাণের মায়া ? আপনাকে দেখিয়া
পালাইয়া যাইতেছে?”
লক্ষণের কথায় শ্রীরামচন্দ্র নিকষাকে নানাভাবে
অভয় দিয়া নিজের নিকটে ডাকিয়া আনিলেন ও
অতি মিষ্ট সম্ভাষণ করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন,-“তুমি
রাবণের মা–বয়েস তােমার যথেষ্টই হইয়াছে
এখনও তােমার প্রাণের এত মায়া ?”
শ্রীরামচন্দ্রের কথার উত্তরে নিকষা বুড়ি ভক্তি
গদ্গদ কণ্ঠে বলিল,-“রাম,—এতদিন বাঁচিয়া
আছি বলিয়াই না তােমার এত লীলা দেখিলাম ।
তাই আরও বাঁচিবার সাধ হয়-বাঁচিয়া থাকিতে
পারিলে তােমার আরও কত লীলা দেখিতে পাইব।”
যাহারা নিকষা বুড়ির মত মনে করে—ভগবানের
লীলা দেখিব বলিয়াই পৃথিবীতে বাঁচিয়া আছি-
তাহাদেরই পৃথিবীতে বাঁচিয়া থাকা সার্থক। এইরূপ
বিশ্বাস যাহাদের প্রাণে বদ্ধমূল হইয়া আছে তাহারাই
যথার্থ মানুষ।
২
চোখের জল
ভীষ্মদেব দশদিন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রচণ্ড যুদ্ধ করিয়া
শর-শয্যায় পড়িয়াছিলেন। ভার ইচ্ছা মৃত্যু তাই
অকালে মরিবেন না বলিয়া
না বলিয়া বহুদিন শর-শয্যায়
ছিলেন। তাহার পর যখন অকাল চলিয়া গেল তখন
তিনি দেহ ত্যাগ করিবেন স্থির করিলেন। এই সংবাদ
চারিদিকে প্রচারিত হইবামাত্র কুরু পাণ্ডব সকলেই
আসিয়া তাহার শর-শয্যার চারপার্শ্বে ঘিরিয়া পঁাড়া-
ভগবান শ্রীকৃষ্ণও পাণ্ডবদিগের পার্শ্বে
আসিয়া দাঁড়াইয়াছিলেন। যাহারা ভীষ্মদেবকে
ঘিরিয়া ঈাড়াইয়াছিলেন তাঁহারা সকলেই দেখিলেন,
—ভীষ্মদেবের দুই চক্ষু দিয়া ঝ ঝ করিয়া জল
ঝরিয়া পড়িতেছে। অর্জুনের এই ব্যাপার দেখিয়া
বড়ই আশ্চৰ্য্য বােধ হইল—তিনি ভগবান কৃষ্ণকে
জিজ্ঞাসা কবিলেন,—সখা, একি আশ্চৰ্য্য! পিতা-
মহ যিনি স্বয়ং ভীষ্মদেব—সত্যবাদী-জিতেন্দ্রিয়
চোখের জল
অষ্টবসুর অন্যতম
বসুদেহত্যাগের সময় মায়ায়
তাঁহার ও চক্ষু হইতে অশ্রু ঝরিতেছে। এর অধিক
আর আশ্চর্যের জিনিষ কি থাকিতে পারে ?”
অর্জুনের কথায় শ্রীকৃষ্ণ ভীষ্মদেবকে জিজ্ঞাসা
করিলেন, “আপনি স্বয়ং ভীষ্মদেব। কিন্তু মৃত্যু-
কালে, আশ্চৰ্য্য, মায়ায় আপনারও চক্ষু দিয়া অশ্রু
ঝরিতেছে ?”
শ্রীকৃষ্ণের এই কথা শুনিয়া ভীষ্মদেব মুখ তুলিয়া
একবার ভগবানের মুখের দিকে চাহিলেন,-গাঢ়স্বরে
বলিলেন,---“কৃষ্ণ কিসের জন্য আমার চোখ দিয়া
জল ঝরিতেছে সে কথা তুনি ত ভাল রকমই জান !
যখনই ভাবিতেছি স্বয়ং ভগবান পাণ্ডবদের রথের
সারথী কিন্তু তবুও তাহাদের দুঃখ বিষাদের সীমা
পরিসীমা নাই তখনই মনে হইতেছে ভগবানের
কাৰ্য্যের আমি কিছুই বুঝিতে পারিলাম না। এই
কথা যতই আমার স্মরণ হইতেছে ততই আমার চোখ
দিয়া জল ঝরিয়া পড়িতেছে।
ভগবান অনন্ত ;
তাঁহার শক্তিও তনন্ত।
রামকৃষ্ণের দেদার-গল্প
কাজেই তাহার কাৰ্যের মানুষ কোনই অন্ত পায় না।
তিনি কেন ও কি জন্য কোন্ কাৰ্য্য করিতেছেন--তাহা
বুঝিতে পারা মানুষের সাধ্য কি ? কাজেই তাহার
কাৰ্য কারণের বিচার না করিয়া কায়-মন-প্রাণে
তাহার চরণে নিজেকে অপর্ণ করাই প্রত্যেক মানুষের
উচিত।
শৰ সাধন
একজন মহা তান্ত্রিক লােক ছিল।
সাধন করিবে বলিয়া সমস্ত সরঞ্জাম সংগ্রহ করিয়া এক
নিবিড় বনের ভিতর প্রবেশ করিল। সেইখানে
স্থানে একটা স্থান একটু পরিস্কার করিয়া লইয়া একটা
পচা মড়ার আসনে বসিয়া ভগবতীর আরাধনা
আরম্ভ করিল। কিন্তু সে ভগবতীর সাক্ষাৎ পাইল
-চারিদিকে কেবল বিভীষিকা দেখিতে লাগিল।
শেষ সে ভয়ে দিশেহারা হইয়া পালাইবার চেষ্টা
করিতেছিল সেই সময় একটা প্রকাও বাঘ আসিয়া
তাহাকে মুখে করিয়া লইয়া গভীর বনের ভিতর
প্রবেশ করিল। সেই তান্ত্রিক যেখানে মড়ার আসন
করিয়াছিল—তাহার সম্মুখেই একটা গাছে একটা
লােক বাঘের ভয়ে সন্ধ্যার পূর্ব হইতেই উঠিয়া
বসিয়াছিল। সে সেই বৃক্ষের উপর হইতে অবাক
হইয়া সেই তান্ত্রিকের পূজা দেখিতেছিল।
রামকৃষ্ণের দেদার-গল্প
২২
যখন দেখিল সেই তান্ত্রিককে বাঘে লইয়া গেল, তখন
আর সে কিছুতেই বৃক্ষের উপর থাকিতে পারিল না।
সে ধীরে ধীরে বৃক্ষ হইতে নামিয়া পড়িল ও সেই
মড়ার উপর বসিয়া পড়িল। সরঞ্জাম সমস্তই চারি-
দিকে সাজান ছিল—সে সেই পূজাপণ দিয়া ভগ
বতীর আরাধনা আরম্ভ করিয়া দিল। অতি অল্পক্ষণ
সেই মড়ার উপর বসিয়া মায়ের নাম জপ করতেই
মা ভগবতী আসিয়া সম্মুনে দাড়াইলেন ও বলিলেন,
—“বৎস! আমি তােমার পূজায় প্রসন্ন হইয়াছি-
মনােমত বর গ্রহণ কর।”
স্বয়ং ভগবতী সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইতে
দেখিয়া সেই লােকটার আনন্দে একেবারে গায়ের
সমস্ত লােম খাড়া হইয়া উঠিল,—সে সাষ্টাঙ্গে মাকে
প্রণিপাত করিয়া ভক্তি গদ গদ কণ্ঠে জিজ্ঞাসা
করিল,-“মা-তােমাকে দেখে আমি অবাক হয়ে
গেছি। একটা কথা মা, আমি তােমাকে জিজ্ঞাসা
করিতে চাহি। মা এই তান্ত্রিক এত খাটিয়া এত
আয়ােজন করিয়া এতদিন ধরিয়া তােমার আরাধনা
শব সাধন করিতেছিল—কিন্তু মা তার প্রতি তোমার দয়া হইল না কেন ? আর আমি কোনদিন তােমার পূজা করি নাই – আমার ভক্তিও নাই-- গুণও নাই- আমার প্রতি তােমার কিসে এত করুণা হইল ?” মা ভগবতী হাসিতে হাসিতে বলিলেন, “বৎস! পূর্ব জন্মের কথা তােমার স্মরণ নাই। তুমি জন্ম জন্ম আমার সাধনা করিয়া আসিয়াছ । সেই কারণ তােমর এই সকল জোট পাট হইয়াছে • এবং আমার দর্শন পাইলে। এখন বল কি বর চাও ?” সেই লােকটা তখন মনােমত বর চাহিয়া লইল। মা ভগবতী তাহাকে বর দিয়া অন্তর্ধান হইলেন। পূৰ্ব জন্ম যে আছে এই জন্যই আমাদের মানিতে হয়। পূৰ্ব্ব জন্মের সংস্কার লইয়া মানুষ জন্ম গ্রহণ করে। পূৰ্ব জন্মে যে সৎপথে থাকিয়া ভগবানের ধ্যান ধারণা করিয়া আসে--- পরজন্মে অতি অল্প আয়াসেই সে ভগবান লাভ করিতে পারে।
ছিল।
অবধূতের গুরু
শ্রীমদ্ভাগবতে আছে এক অবধুতের চব্বিশটা গুরু
এই চব্বিশটী গুরুর ভিতর চিল
মৌমাছিও তাহার গুরু ছিল। একবার তিনি এক
জায়গা দিয়া আসিতেছিলেন সেই সময় দেখিলেন,
—একটি পুকুরে জেলেরা মাছ ধরিতেছে। জেলেরা
জাল হইতে মাছ বাহির করিয়া ডাঙ্গায় ফেলিয়া
দিতেছিল। সেই সময় একটী চিলছে। মারিয়া
একটী মাছ লইয়া গেল। কিন্তু যেমনি চিল মাছ
লইয়া আকাশে উড়িল অমনি মাছ দেখিয়া প্রায় এক
শত কাক কা কা করিয়া তাহার পিছনে পিছনে তাড়া
করিয়া চলিল। মাছ লইয়া চিল যেদিকে যায়—
কাকগুলাও কা কা করিয়া সেই দিকেই ছুটে।
এই
ব্যাপারে চিল একেবারে অস্থির হইয়া উঠিল ।
একবার উত্তর দিকে, একবার দক্ষিণ দিকে ক্রমাগত
ছুটাছুটি করিতে লাগিল। এইরূপ ছুটাছুটি করিতে
অবধূতের গুরু করিতে মাছটী তাহার নিকট হইতে মাটিতে পড়িয়া গেল। চিলের নিকট হইতে মাছটীকে পড়িতে দেখিয়া কাকগুলা এতক্ষণে চিলকে ছাড়িয়া সেই মাছটার আবার পিছনে ছুটিল। ছুটাছুটি করিয়া চিলটা একেবারে পাইয়া উঠিয়াছিল। সে এই- ক্ষণে একটা গাছের উপর আসিয়া নিশ্চিন্ত হইয়া বসিল। অবধূত এই চিলের নিকট হইতে এই শিক্ষা করিলেন, --যে বাসনা থাকিতে মানুষ কিছুতেই নিশ্চিন্ত হইতে পারে না। চিলটার নিকট যতক্ষণ ওই বাসনারূপ মাছটা ছিল ততক্ষণই তাহাকে ছুটা ছুটি করিতে হইতেছিল। মাছটী ত্যাগ করিবার সঙ্গে সঙ্গেই তাহার শান্তি আসিল, সে নিশ্চিন্ত হইল। এইরূপ মৌমাছিও অবধূতের একটী গুরু ছিল। মৌমাছিরা বহু কষ্টে বহু পরিশ্রম করিয়া চাক বাঁধে ও মধু সঞ্চয় করে—কিন্তু তাহা অপরে আসিয়া ভাঙ্গিয়া লইয়া যায়। অবধূত মৌমাছির নিকট এই শিখিলেন,-সঞ্চয় করা ভাল নয়।
রামকৃষ্ণের দেদার-গল্প
সঞ্চয় করিলে ভগবানের উপর মানুষের সম্পূর্ণ
নির্ভর থাকিতে পারে না। সেই জন্যই সাধুদিগের
সঞ্চয় করা একেবারেই উচিত নহে। ভগবানের
উপর যাহার সম্পূর্ণ নির্ভর করিতে পারে তাহার
আর ভাবনা চিন্তা করিনার কিছুই থাকে না।
গগাবিন্দজীর পুজারী
জয়পুরের গােবিন্দজীর পুরােহিতরা পূর্বে
বিবাহ করিতেন না। তখন তাহাদের সম্মানও
খুব ছিল।
একবার বিশেষ কোন একটা কাজের
জন্য জয়পুরের মহারাজা গােবিন্দজীর পূজারীকে
একবার তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিবার জন্য তােক
দিয়া ডাকিয়া পাঠান রাজার লােক গিয়া মা-
রাজের আদেশ যখন পূজারীকে জানাইল তখন
পূজারী বলিলেন,-“আমার রাজ দরবারে যাইবার
অবসর নাই,—রাজার যদি দরকার হয় তাহা হইলে
তিনি আসিয়া আমার সহিত সাক্ষাৎ করিতে
পারেন।
রাজার লােক গিয়া সেই কথায় রাজাকে বলিল ।
গােবিন্দজীর পূজারী তঁাহার বাসনা কামনা যাহা
কিছু সমস্তই গােবিন্দুজীর পায়ে অৰ্পণ করিয়াছিলেন।
কাজেই তাহার তাে কোন কামনা নাই, তিনি
রামকৃষ্ণের দেদার-গল্প এক হইল। রাজাকে ভয় করিবেন কেন! রাজার কাজ- কাজেই রাজাকে আসিতে হইল। তাঁহার পর রাজা মন্ত্রীর সহিত পরামর্শ করিয়া গােবিন্দজীর পূজারীর বিবাহ দিয়া দিলেন। বিবাহ হইবার পর আর পূজারীর সে দম্ভ রহিল না। বিবাহ করিবার সঙ্গে সঙ্গে তাহার শত কামনা আসিয়া উপস্থিত তখন আর রাজাকে ডাকিতেও হইল བ། } তখন তিনি প্রতিদিনই রাজ দরবারে যাইতে আরম্ভ করিকেন। না যাইয়া উপায় কি ! পুত্রের অন্নপ্রাশন দিতে হইবে -পুত্রের পৈতা দিতে হইবে, পুত্রের বিবাহ দিতে হইবে ---প্রতিদিনই পয়সার প্রয়োজন। ভগবানের যাঁহারা পূজারী তাহাদের বিবাহ করা উচিত নয়। বিবাহ করিলে শত কামনা আসিয়া মানুষকে জড়াইয়া ধরে—মানুষ স্বাধীনতা হারাইয়া ফেলে। কাজেই তাহারা যে সম্মান লাভের উপযুক্ত সেই সম্মানটুকু তাহারা নিজেরাই হারাইয়া ফেলেন।
গােবিন্দজীর মালা জয়পুরে এক সময় নিয়ম ছিল-আরতির সময় গােবিন্দজীর গলায় যে মালা পরাইয়া দেওয়া হইত সেই মালা পরদিন প্রত্যুষে রাজবাটীতে পাঠা- ইয়া দেওয়া হইত। মহারাজা সেই মালা পরিয়া দরবারে বসিতেন। একদিন আরতির পর গােবিন্দ- জরি পূজারীর ইচ্ছা হইল, গােবিন্দজীর মালটী একবার গলায় পরেন। বৃদ্ধ পুরােহিত মালাটী পরিয়া সারারাত্রি কাটাইলেন । সকালে যখন তাহার মনে পড়িল, মালা লইতে এইবার রাজবাটী হইতে লােক আসিবে তখন তিনি তাড়াতাড়ি মালাটী গলা হইতে খুলিয়া যথাস্থানে রাখিয়া দিলেন। নিয়ম মত রাজবাড়ীর লোেক আসিয়া মালাটী লইয়া গেল। তাহার কিছুক্ষণ পরেই রাজবাড়ী হইতে লােক আসিয়া পূজারীকে বলিল,-“মহারাজ আপনাকে এখনি একবার সাক্ষাৎ করিতে বলিয়াছেন।” সহসা এমন সময় মহারাজের এরূপ জরুরী
রামকৃষ্ণের দেদার-গল্প
ডাক পড়িবার কারণ কি পূজারী ঠিক করিতে
পারিলেন না। তিনি তখনই মহারাজের সহিত
সাক্ষাৎ করিবার জন্য রাজবাড়ীতে গিয়া উপস্থিত
হইলেন। পূজারী সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইবা মাত্র
মহারাজা জিজ্ঞাসা করিলেন, “পূজারি, গােবিন্দজীর
মলি। কাল রাত্রে কে পরিয়াছিল ?”
পূজারীর বুক কাপিয়া উঠিল,-“সে একেবারে
অবাক হইয়া গেলেন। মহারাজা কেমন করিয়া
জানিতে পারিলেন যে মালা কেহ পরিয়াছে। তিনি
ভয়ে কাপিতে কাপিতে বলিলেন,---“মহারাজা ও
মালা আবার কে পরিবে। সারারাত্রিই তাে মাল।
গােবিন্দজীর গলায় ছিল।”
মহারাজা গম্ভীরস্বরে বলিলেন, “তবে এই
মালায় সাদা চুল কোথা হইতে আসিল ?
পূজারী ভয়ে জড়সড় হইয়া বলিলেন,-“মহারাজা
ও চুল গােবিন্দুজীরই চুল। গােবিন্দজী অনেক
দিনের কাজেই তাহার কালাে চুল সাদা হইতে
আরম্ভ করিয়াছে।”
গােবিন্দজীর মালা
পূজারীর এই কথায় মহারাজা একেবারে অবাক
হইয়া গেলেন। ঠাকুরের কাল চুল সাদা হইতে
আরম্ভ হইয়াছে—পূজারী কি বলিতেছে ? তাহাও
কি সম্ভব ? তিনি পূজারীকে বলিলেন, তােমার
এ কথা সত্য কি মিথ্যা আমি দেখিতে চাহি। কাল
সকালে আমি স্বয়ং গােবিন্দজীর মন্দিরে যাইব।”
পূজারী গােবিন্দজীর নাম স্মরণ করিতে করিতে
বাড়ী ফিরিয়া আসিলেন। তিনি আহার করিতে
পারিলেন না—এই বিপদ হইতে কেমন করিয়া
উদ্ধার হইবেন সেই চিন্তাতেই সারাদিন কাটিয়া
গেল। সন্ধ্যার পর তিনি নিয়মিত যেমন গােবিন্দ,
জীর আরতি করিতে মন্দিরে গমন করেন সেই দিনও
তেমনই গমন করিলেন। কিন্তু আরতি করিতে
পারিলেন না। গােবিজীর মুখের দিকে চাহিবা
মাত্র তাহার নয়ন ফাটিয়া ঝরঝর করিয়া কেবলই
জল ঝরিয়া পড়িতে লাগিল। তিনি কাঁদিতে
কঁদিতে কেবলই বলিতে লাগিলেন,-“প্রভু আমাকে
এ বিপদ থেকে উদ্ধার কর। আজ চল্লিশ বৎসর
রামকৃষ্ণের দেদার গল্প
যদি কোন
তােমার পূজা করিয়া আসিতেছি।
অপরাধ হইয়া থাকে ক্ষমা-কর।”
পূজারীর চোখের জল আর কিছুতেই রােধ
হয় না। সে চোখের জলের ভিতর দিয়া কোন
ক্রমে গােবিন্দজীর আরতি শেষ করিল। কাল
প্রত্যুষেই মহারাজা গােবিন্দজীর মাথার চুল দেখিতে
আসিবেন। পূজারী একবার গােবিন্দজীর মাথার
দিকে চাহিলেন। গােবিন্দজীর মাথার চুলগুলি কালাে
মিসমিস্ করিতেছে। পূজারীর বুকের ভিতরটা ঢিপ,
ঢিপ করিয়া উঠিল—তিনি এ বিপদ হইতে উদ্ধার
হইবার কোন উপাই খুঁজিয়া
পাইলেন না।
রাত্রে তাহার আর বাড়ী ফেরা হইল না,-মন্দির
হইতে তাহার পদদ্বয় আর এক পাও অগ্রসর হইতে
চাই না। তিনি গােবিন্দজীর পায়ের তলায়
পড়িয়া চোখের জলে ভাসিতে লাগিলেন। সারা
রাত্রি চোখের জলের ভিতর দিয়া কেমন করিয়া
কাটিয়া গিয়াছে--তাহ তিনি জানিতেও পারেন নাই ।
কাদিতে কাদিতে শের রাত্রে বােধ হয় তাহার একটু
গোবিন্দীর মালা তন্দ্রা আসিয়াছিল। সহসা মন্দিরের দ্বার ঠেলাঠেলির শব্দে তাহার নিদ্রা ভঙ্গ হইয়া গেল। চোখ মেলিয়া দেখিলেন, ভাের হইয়াছে—দিনের আলাে মন্দিরের ভিতরে উকিঝুকি মারিতেছে। তিনি ভীত কম্পিত হৃদয়ে মন্দিরের দ্বার খুলিয়া দিলেন । মন্দিরের সম্মুখে মহারাজা স পারিষদ উপস্থিত। পূজারি মন্দিরের দ্বার খুলিবামাত্র তিনি বলিলেন, “পূজারি, আমি গােবিন্দজীর চুল দেখিতে আসিয়াছি। দেখি কেমন গােবিজীর চুল পাকিয়া সাদা হইয়াছে।” পূজারী কোন উত্তর দিতে পারিল না, সে ফ্যা ফ্যাল্ করিয়া মহারাজার মুখের দিকে চাহিয়া রহিল । বাজ। আর কোন কথা না বলিয়া মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করিলেন,তাঁহার পিছনে পিছনে পারিষদ- গণও মন্দিরের ভিতর প্রবিষ্ট হইল । কিন্তু ঠাকুরের সম্মুখে গিয়া সকলে একেবারে স্তম্ভিত হইয়া দাঁড়াইল। একি! সত্যই তো গােবিন্দজীর মাথার সমস্ত চুল সাদা ধবধব করিতেছে, একগাছিও কঁচা বা কালো নাই। মহারাজা হাঁটু গাড়িয়া বসিয়া গােবিন্দজী,
রামকৃষ্ণের দেদার-গল্প
৪
হইল।
প্রণাম করিলেন। তিনি এতদিনে বুঝিলেন, সত্যই
তাহার ঠাকুর জীবন্ত। পূজারীও ঠাকুরের মাথার
দিকে অবাক হইয়া একদৃষ্টে চাহিয়াছিলেন। একি !
কাল যে ঠাকুরের মাথার চুল কালাে কুচকুচে
দেখিয়াছি। একরাত্রে কেমন করিয়া এমন সাদা
তাহার প্রতি ঠাকুরের একি করুণা!
মহারাজা পূজারীর পদধূলি মাথায় লইয়া বলিলেন,-~
“পূজারি আমি ‘তামার কথায় অবিশ্বাস করিয়া-
ছিলাম। আমি মানুষ আমার বিশ্বাসও মানুষের
তােমাকে অবিশ্বাস করিয়া আমি অন্যায়
করিয়াছি; আমাকে ক্ষমা কর।”
মহারাজ সপারিষদ মরি হইতে বিদায় হইয়া
গেলেন। আর পূজারী আবেগে আনন্দে নয়ন-জলে
গােবিন্দজীর পদদ্বয় ধুইয়া দিতে লাগিলেন। ভগবান
লাভের একমাত্র উপায় আকুলতা। তেমন আকুল
হইয়া ভগবানকে ডাকিলে না আসিয়া তিনি থাকিতে
পারেন না। পূজারী আকুল হইয়া কাদিয়াছিলেন-সে
নাকুলতায় কি ভগবান স্থির থাকতে পারেন ।
গােবিন্দজীর মালা
যাহা মানুষে কখন ভাবিতে পারে নাই--পূজরীর
আকুলতায় তাহাই সম্ভব হইল। গােবিন্দজীর
কালো চুল সাদা হইয়া গেল।
ছিল। হনুমানের ঘর একজন লােকের পাহাড়ের উপর একখানা ঘর অনেক পরিশ্রম করিয়া সেই লােকটী এই বরখানি প্রস্তুত করিয়াছিল। সেই লােকটীর এই ধরখানি ছিল বড় প্রিয়। সে মহা আনন্দে এই বরখানিতে বাস করিত। এই ভাবে কিছুদিন যাই- বার পর একদিন হঠাৎ ভয়ানক ঝড় উঠিল। সেই লােকটীর পাহাড়ের উপরের কুঁড়ে ঘরখানি ঝড়ে মড় মড় করিতে লাগিল। কেমন করিয়া ঘরখানি রক্ষা হয় সেই লােকটী সেই চিন্তায় বড় ব্যাকুল হইয়া উঠিল । তখন হঠাৎ সেই লােকটার মনে পড়িল যে হনুমানের পিতা হইতেছেন পবন দেব। উপর পিতার স্নেহ না থাকি। যাইতে পারে না। হনুমানের ঘর বলিলে নিশ্চয়ই পবন দেব এ ঘরখানি রক্ষা করিবেন। তাই সে ঘর হইতে একটু মুখ বাহর করিয়া ঝড়কে সম্বােধন করিয়া কেবলই
হমানের ক্ষর
-
বলিতে লাগিল,-“বাবা পবনদেব, ঘরখানি ভাঙ্গিও
-ঘরখানি ভাঙ্গিও না—এ ঘরখানি তােমারই পুত্র
হনুমানের।”
কিন্তু তবুও ঘর মড় মড় করিতে লাগিল।
লােকটা ভাবিলরামের ঘর বলিলে হয়তো ঘর
খানা চিয়া যাইতে পারে। পবনের পুত্র হনুমান
শ্রীরামচন্দ্রকে চিরদিন মানিয়া আসিয়াছে আর পবন
মানিবে না ? সে আবার বলিতে লাগিল,-“হে
পবনদেব ঘরখানি ভেজ না—-ঘরখানি ভেত না-এ
ঘরখানি শ্রীরামচন্দ্রের।”
কিন্তু লােকটার সে কথাতেও কিছু হইল না।
ঝড় উত্তরােত্তর বাড়িয়াই উঠিতে লাগিল।
মড ড়
করিয়া ঘর ভাঙ্গিতে আরম্ভ করিল। তখন লােকটা
প্রাণ বাঁচাইবার জন্য ঘর হইতে বাহির হইয়া
আসিল এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘর খানিও ঝড়ে মড় মড়
করিয়া ভূমিসাৎ হইল। তখন লােকটা শালার
ঘর-বলিয়া পাহাড় হইতে নামিয়া গেল।
যতক্ষণ ঘরখানি দাড়াইরা থাকে ততক্ষণ মানু-
রামকৃষ্ণের দেদার-গল্প
৩৮
যের তাহার উপর মায়া ; ততক্ষণ সেইখানি রক্ষা
করিবার জন্য নানা উপায় উদ্ভাবন করে। কিন্তু
একবার ভাঙ্গিয়া গেলে আর মায় থাকে না।
সংসারও ঠিক তেমনি যতক্ষণ মানুষ তাহার ভিতর
থাকে—ততক্ষণ মানুষ কেবল আমার আমার করিয়া
উন্মত্ত হইয়া থাকে। কিন্তু একবার সংসার বন্ধন
ছিন্ন হইলে আর তাহার ভাবনা চিন্তা থাকে না।
কাক্ ভুষণ্ডী কাকু ভূষগুীর বড় অহঙ্কার হইয়াছিল । কাহাকেও মানিত না। শ্রীরামচন্দ্র অবতার --অব। তার বলিয়া সকলেই তাঁহাকে মানিল—কিন্তু ভূষণ্ডী কা কিছুতেই স্বীকার করিল না যে শ্রীরাচন্দ্র অব- তার। তারপর যখন চন্দ্রলােক, দেবলােক কৈলাশ ঘুরিয়াও শ্রীরামচন্দ্রের হাত হইতে কিছুতেই নিস্তার পাইল না তখন শেষ নিজে আসিয়াই শ্রীরাম- চন্দ্রকে ধরা দিল ও তাহার শরণাগত হইল। শ্রীরামচন্দ্র তখন ভূষণ্ডী কাকে ধরিয়া মুখের ভিতর ফেলিয়া গিলিয়া ফেলিলেন। ভূষণ্ডী শ্রীরামচন্দ্রের উদরের মধ্যে প্রবিষ্ট হইয়া দেখিল,—সে তাহার সেই গাছের উপর নিজের বাসাতেই বসিয়া রহিয়াছে। কাক ভূষণ্ডীর অহঙ্কার চূর্ণ হইল—সে বুঝিল শ্রীরাম- চন্দ্র দেখিতে মানুষের মত বটে কিন্তু তাহার উদরে
রামকৃষ্ণের দেদার-গল্প
নিখিল ব্ৰহ্মাণ্ড। আকাশ, চন্দ্র, সূৰ্য, নক্ষত্র, সমুদ্র,
পর্বত, জীব জন্তু সবই তাহার উদরে রহিয়াছে।
অহঙ্কারের জন্যই মানুষের বিশ্বাস কম।
অহঙ্কারের জন্যেই ভগবানকে চিনিতে পারে না।
যাহার অহঙ্কার নাই সেই ভগবানকে চিনিতে পারে।
তাহাকে নিজে হইতে আসিয়া ভগবান দেখা দেন।
ভগবানের দান
একজনের ছেলের ভারি
ছেলের ভারি অসুখ। কিছুতেই
আর সারে না ডাক্তার জবাব দিয়া গেছে। ছেলেটা
যে ভাল হয়ে উঠবে তার কোন লক্ষণই নেই। সেই
সময় একজন কবিরাজ
এসে বল্লেন,“স্বতী
নক্ষত্রে যদি বৃষ্টি হয়—আর সেই বৃষ্টির জল যদি
মড়ার মাথার খুলিতে পড়ে-সেই জলে যদি সাপে
বিষ ঢেলে দিয়ে যায় --তাহলে সেই বিষের জলে
যদি ঔষধ তৈরী করিয়া তােমার ছেলেকে খাওয়াইতে
পারা যায়-~-তাহা হইলে তােমার ছেলে বাচিত
পারে।”
লােকটী ছেলেটীর জন্য একবার শেষ চেষ্টা
করিয়া দেখবে স্থির করিল। দিন ও নক্ষত্র দেখিয়া
সে ঔষধের সন্ধানে বাড়ী হইতে বাহির হইয়া পড়িল।
সে রাস্তায় চলিতে চলিতে আকুল হৃদয়ে কেবলই
ভগবানকে বলিতে লাগিল,-“ঠাকুর-আমার
রামকৃষ্ণের দেদার-গল্প
ઉર
ছেলেটাকে বাঁচাও--তুমি জোট-পাট করিয়া দিলেই
হয়।”
সে ঠাকুরকে ডাকিতেছে আর পথ চলিতেছে--
চলিতে চলিতে দেখিল রাস্তার এক পার্শ্বে একটা
মড়ার খুলি পড়িয়া রহিয়াছে। মড়ার খুলি দেখিয়া
লােকটার ভার আনন্দ হইল ---আকু কণ্ঠে বলিল,
—“ঠাকুর যখন মড়াব খুলি দেখাইয়া দিয়াছ, তখন
এইবার একটু বৃষ্টি দাও।”
সত্য সত্যই একটু পরেই বৃষ্টি পড়িতে আরম্ভ
করিল। দেখিতে দেখিতে সেই বৃষ্টির জলে মড়ার
খুলিটী পরিপূর্ণ হইয়া উঠিল। তখন সেই লােকটী
গদগদ কণ্ঠে আবার বলিল, -“ঠাকুর মড়ার খুলিও
দিয়াছ স্বাতী নক্ষত্রে বৃষ্টিও দিলে – এইবার ইহাতে
একটু সাপের বিষ দাও।”
লােকটা আকুল ভাবে এই
ভাবে এই কথা কেবলই
ঠাকুরকে জানাইতেছে সেই সময় সহসা চাহিয়া
দেখিল একটা ব্যাংকে একটা সাপ তাড়া করিয়া
আসিতেছে—ব্যাংকে ছোবল মারিবার জন্য সাপটা
f।
ম
vrw'
গগন
“ঠাকুর, তােমার দয়া হইলে সকলই সম্ভব হয়—
No text on this page.
ভগবানের দান
যেই ফণা তুলিল অমনি ব্যাংটা সেই মড়ার খুলিটা
লাফাইয়া পালাইয়া গেল। সাপের সমস্ত বিষটা
সেই মড়ার খুলির উপর পড়িল। এই ব্যাপার
দেখিয়া সেই লােকটা আর স্থির হইয়া বসিয়া
থাকিতে পারিল না। আনন্দে দুই হাত তুলিয়া
নাচতে নাচিতে কেবলই বলিতে লাগিল,-“ঠাকুর,
ঠাকুর তােমার দয়া হইলে সকলই সম্ভব হয়।”
আকুলতায় সকলই সম্ভব হয়। আকুন হইয়া
মানুষ যখন ভগবানকে ডাকিতে থাকে তখন সে ডাক
ভগবানের কর্ণে পৌছিবেই পৌছিবে। আকুলতা
না থাকিলে কোন কাজেই মানুষ সিদ্ধি লাভ করিতে
পারে না।
শ্রীরামচন্দ্রের বৈরাগ্য
শ্রীরামচন্দ্র গুরুর কাছে বিদ্যালাভ করিতে
ছিলেন। অধ্যায়ণ শেষ করিয়া যখন তিনি সমস্ত
জ্ঞানের অধিকারী হইলেন—তখন তিনি তঁাহার
গুরুদেবকে বলিলেন,-“গুরুদেব আমি সংসার ত্যাগ
করিতে চাহি।”
শ্রীরামচন্দ্র সংসার ত্যাগ করিবেন এ সংবাদ
সমস্ত অবােধ্যময় প্রচার হইয়া পড়িল। সকলেই
হায় হায় করিতে লাগিল। এমন সােণার চঁাদ
ছেলে সংসার ত্যাগ করিয়া যাইবে দুঃখ আর কাহার
দশরথ পুত্রকে নিজের কাছে ডাকিয়া
আনিয়া অনেক বুঝাইলেন—কিন্তু শ্রীরামচ
কিছুতেই বুঝিতে চাহেন না। তিনি সংসার ত্যাগ
করিতে একেবারে স্থির প্রতিজ্ঞ।
প্রতিজ্ঞ। দশরথ অন্য
উপায় না দেখিয়া শেষ বশিষ্টকে ভাকিয়া পাঠাইলেন।
বশিষ্ট আসিয়া উপস্থিত হইলেন,-দশরথ বশিষ্টকে
রামচন্দ্রের বৈরাগ্য
সমস্ত ব্যাপার বলিয়া রামচন্দ্রকে বুঝাইতে
বলিলেন। বশিষ্ট শ্রীরামচন্দ্রের নিকটে গিয়া উপস্থিত
হইলেন—দেখিলেন রামচন্দ্রের তীব্র বৈরাগ্য
আসিয়াছে। শ্রীরামচন্দ্রকে সবােধন করিয়া
কহিলেন,-শুনিলাম তুমি গৃহ ত্যাগ করিতে স্থির
করিয়াছ। কিন্তু আগে বিচারে আমাকে পরাস্ত
কর, তবে গৃহ ত্যাগ করিবে। তোমাকে কেবল
আমি একটা প্রশ্ন করিতেছি সংসার কি ঈশ্বর
ছাড়া—তাহা যদি হয় তাহা হইলে তুমি অনায়াসেই
সৃংসার ত্যাগ করিতে পারো।”
বশিষ্টের কথায় শ্রীরামচন্দ্র মনে মনে চিার
করিয়া দেখিলেন—ঈশ্বর ছাড়া সংসারে আর কিছুই
নাই। ঈশ্বরই জীব জগৎ সমস্তই হইয়া আছেন।
শ্রীরামচন্দ্র বশিষ্টের প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে
পারিলেন না, তিনি চুপ করিয়া রহিলেন। কাজে
কাজেই তঁাহার সংসার ত্যাগ করাও
হইল না।
ভগবান সমস্ত জাবে ও সমস্ত স্থানেই আছেন।
রামকৃষ্ণের দেদার-গল্প
৪৬
কাজেই তাহাকে পাইবার জন্য সংসার ত্যাগ করিবার
একেবারেই প্রয়ােজন হয় না। নিবিড় বনে গেলেও
ভগবান মিলে না—আবার সংসারেতেও ভগবান
মিলে না। যাহার প্রাণে একান্ত ভক্তি, প্রগাঢ়
আকুলতা আছে সেই কেবল ভগবান লাভ করিয়া
থাকে।
দুই বন্ধু
ছিল ।
দুই বন্ধু সন্ধ্যার সময় বেড়াইতে বাহির হইয়া-
রাস্তায় বেড়াইতে বেড়াইতে তাহারা দেখিল
এক জায়গায় ভাগরৎ পাঠ হইতেছে। দুই বন্ধুর
ভিতর একজন বলিল,-“এস ভাই একটু ভাগবত
শােনা যাক।
অপর বন্ধু বলিল,-“ভাগবত শুনিয়া কি হইবে
চল বরং একটু থিয়েটার দেখিয়া আসি।”
কিন্তু প্রথম বন্ধু তাহাতে কিছুতেই স্বীকৃত হইল
না—সেইখানেই ভাগবত শুনিতে বসিয়া গেল।
দ্বিতীয় বন্ধু একবার উকি দিয়া দেখিয়া থিয়েটার
দেখিতে চলিয়া গেল। কিন্তু কিছুক্ষণ থিয়েটার
দেখিবার পর--তাহার কেমন বিরক্তি বােধ হইতে
লাগিল। তাহার থিয়েটার দেখিতে একেবারেই
ভাল লাগিতেছিল না-সে মহা বিরক্ত হইয়া মনে
মনে বলিল,-"ধিক আমাকে--বন্ধু আমার ভাগবত
শুনিতেছে আর আমি কিনা থিয়েটা দেখিতে
রামকৃষ্ণের দেদার-গল্প
আসিলাম। আমার বােধ হয় চিরজীবন নরকে
থাকিতে হইবে।”
এদিকে যে ব্যক্তি ভাগবত শুনিতেছিল,--
তাহারও ভাগবত শুনিতে শুনিতে বিরক্ত বােধ
হইতে লাগিল -সেও মনে মনে ভাবিতে লাগিল,
“আমি কি বােকা ! বন্ধু কেমন থিয়েটার শুনিয়া
আমােদ করিতেছে—আর আমি কিনা ইহারা কি
ব্যাড় ব্যাড় করিয়া বকিতেছে-- তাহাই বসিয়া বসিয়া
এখানে শুনিতেছি।”
তাহার পর দুই বন্ধুর যখন মৃত্যু হইল—তখন
যে ভাগবত শুনিতেছিল তাহাকে যমদূত আসিয়া
লইয়া গেল আর যে থিয়েটার শুনিতে গিয়াছিল
তাহাকে বিষ্ণুদূত আসিয়া বৈকুণ্ঠে লইয়া গেল।
ভগবানের নিকট কিছু ঢাকা থাকে না। তিনি
মানুষের উপরটুকু দেখেন না-- তিনি মানুষের ভিতর
দেখিয়া থাকেন।
( ১ )
লক্ষী ছেলেদের জন্য
তাদের বাবা
নিরুপমা
তেল এনে দেন—কারণ এ তেলটা যেমন নির্মল,সুর,উজ্জল তেমনি
মধুর স্নিগ্ধ সুরভি-ভারাক্রান্ত। ছােট ছেলেদের নরম চুলগুলিকে আরও
রেশমের মত করে দেয় আর সুগন্ধে তাদের হৃদয়টিকে সর্বদাই প্রফুল্ল
রাখে। দুষ্ট ছেলের বাবার যদি একবার তাদের এক শিশি নিরুপমা
দেন তবে বােধ হয় তারাও চাঞ্চল্য তুলে লক্ষ্মী হয়ে লেখাপড়ায় মন দেয়
দিনরাত খেলিয়ে বেড়ায় না। (এটি পরীক্ষিত)
মূল্য (পপুলার)-১, টাকা, ডজন ৯
সােনা পানি মেয়েদের
মা যখন তাদের কচি কচি চুলে
পাতা কাটতে বসেন তখন জলের বাট গামছা কসমেটিক চবিতে তৈরী
পমেড প্রভৃতি কত তােড়জোড় নিয়ে বসেন-কিন্তু যদি তারা জানতেন যে
ভেলভেট ক্রীম
বলে একটা জিনিষ আছে যা তেল চিটেও নয় অথচ চক্চকেও নয় কিন্তু
তা আবার মাখলেই-চুল যেমন ইচ্ছা তেমনি করে সাজান যায় অথচ
বালিসে বা বিছানায় তেল চিটে গন্ধ হয় না—তাহলে, তাহারা মেয়েদের
নামে নিজেরাও একটু ব্যবহার করিয়া ফেলিতেন। দাম তো বেশী নয়।
৬ আঃ মূল্য •
শৰ্মা ব্যানাচ্ছি এণ্ড কোং-
৪৩নং স্ট্র্যাণ্ড রােড, কলিকাতা ।
1
( ২ )
নরে বসিন্না সিরাপ প্রস্তুত
গ্রীষ্মকালে সকলেরই সরবৎ খাইতে ইচ্ছা হয়। আমরা
নানা রকম এসেন্স যথা, গােলাপ, কমলা, কলা,
আনারস, লেবু, ইত্যাদি প্রস্তুত করিয়া থাকি।
উহার ফোটা চিনির পানার সহিত
ব্যবহার করিলে সিরাপ
প্রস্তুত হইবে।
মূল্য প্রতি শিশি • হইতে ১১
পী মুখার্জি এণ্ড কোং,
সুগন্ধি দ্রব্য বিক্রেতা,
৩নং কলেজ স্ট্রীট মার্কেট (দোতল ) কলিকাতা।
Telephone No
524. Burrabazar
( জড়ােয়া । প্রীতিবালার ভাবনার অন্ত নেই। হঠাৎ মেয়েটির বিবাহ স্থির। স্বামী বিদেশ হইতে যে দিন পৌছিবেন, তার পরদিনই সুমতির বিবাহ। তিনি টাকা কড়ি পাঠাইয়াছেন, প্রতি যেন দেবরটিকে সঙ্গে লইয়া জড়ােয়া গহনা-টহনা পছন্দ করে কিনে ফেলেন। তিনি ত বলিয়া খালাস, প্রীতির যে সাহস হয় না। দেবরটি ছেলেমানুষ, তিনি স্ত্রীলােক। প্রীতি জানালার ধারে বসিয়া গালে হাত দিয়া ভাবিতেছেন। দেবর সুনিয় ঘরে ঢুকিয়া দলিল-~হয়েছে বৌদি, হয়েছে। সব দেখে শুনে এসেছি, গাড়ীও ডেকে এসেছি, চল। ঠাকুৱলাল হীরালালের দোকানে সব পাবে। আর কি বলব বৌদি—কি সুন্দর কাজ। কত বড় বড় লােকের মেয়েরা যে এসে সব কিনে নিয়ে যাচ্ছেন-কি বলব? প্রথম প্রথম যখন কিছু জানতাম না, তখন হীরে মুক্ত কিনতে গিয়ে কত যে ঠকেছি--কিন্তু এদের কাছে কেউ একটা পয়সাও ঠকে না—তাই না, তাদের দোকানের এত না। তাই ত তাদের দোকান এত বড় হয়েছে। প্রতির একটা মন্ত দুর্ভাবনা কাটীয়া গেল। তিনি তখনি ১২ নং লালবাজার স্ত্রীটে উপস্থিত হইয়া সমস্ত কিনিয়া ফেলিলেন। প্রতিম স্বামী আসিয়া বলিলেন-আমি ত ভেবেই সারা। তােমরা কতদূর কি করলে! দেখে ভারী খুশী হয়েছি। কিন্তু-শবলিয়া সকলের অসাক্ষাতে প্রীতির গণ্ডে খুসীর চিহ পরিয়ে দিলেন। Copy right reserved by-S, P. H. ।
৪)
একদিনে
(একমিনিটের গল্প)
শােভা কাউকে কিছু বলবে না, নিজের মনে কেঁদেই সারা! তার
যে প্রাণের বন্ধু মেনির বিয়ে, চিঠি খানা পেতে তার দেরী হয়ে গেছে,
আজই বিয়ে। সে যে তাকে একছড়া হার দেবে বলেছিল, সে আর
হল না-কেঁদেই সারা।
তার ভাই হিরণ অনেক ভাকাডাকি সাধ্যি সাধনা করার পর দোর
খুলে, কাঁদতে কাঁদতে বলে ফেলে।
এনে হিরণ ত হেসেই বাঁচে না ! পােড়র মূখীর এই জন্যে এত
কান্না! তা বলিসনি কেন রাক্ষুসী! চ—আমার সঙ্গে, কি অর্ডার
লিবি।”
পােড়ার মুণী ছল ছল চোখে বল্লে—আজই বে দাদা।
আজই-আজই ! তুই চ। বি, বিশ্বাসের দােকানে, এখন
অভার দিয়ে আসি, বিকেল পাঁচটার ভেতর পাওয়া যাবে।
ছেড়ে আয়, মুখটা ভালাে করে ধুয়ে ফেল,কেঁদে কেঁদে ফুলে উঠেছে।
এটা গল্প নয় সত্যি কথা! ছেলে মেয়েরা, তাদের মা মাসীরা
১৭২ নং ৰোবাজার ঐটে বি, বিশ্বাসের দোকানে গিয়ে বা চিঠিতে
অডার দিয়ে পরখ করতে পারেন।
Copy right reserued by-S. P. H.
দেশী সাবান
( গল্প )
দুই সঙ্গীতে অনেক দিনের পরে দেখা। কমলিনী বল্লে-আর
বলাে না ভাই, মরে গেলুম। কি যে হাওয়া এসেছে, ছেলেগুলাে
খোস পাঁচড়ায় সারা হয়ে গেল। এত তেল ওষুধ লাগানাে হয়ে
কিছুতেই কিছু হচ্ছে না ভাই।
মৃন্ময়ী বলে, খােস পাঁচড়ার কি ওষুধ আছে বােন। ও শুধু ধন্য।
ভাল করে থাে, সেরে যাবে।
তা ত যােব কিন্তু যত ভাই বাজে দেশী সাবান উঠেছে, কোনটাতেই
কিছুই হচ্ছে না। উনি আবার প্রতিজ্ঞা করেছেন, বিদেশী জিনিষ
ওষুধ অবধি কিবেন না।
তার ত দরকার নেই কমল। চালমুগরা, নিম, কার্বলিক, এ সব জ
দিশ হয়েছে, আমি নিজে ব্যবহার করেছি।
কোথায় মৃয়ী ?
ওমা তাের ভাই কিছু জানিস্ নে বুঝি ? অবাক কলি যে!
বালিগঞ্জে মস্ত কারখানা হয়েছে, কলিকাতা সােপ ওয়াল
তার নাম। আমরা ত গায়ে মাখার বাথ, লেবেঞ্জার, বকুল হােয়াইট
রােজ, চন্দন-সব ওদেরই ব্যবহার করি। দেখলে তুই অবাক হকি।
শুধু তাই ।
আমি ত ধােপার জালায় অলাতুন হয়ে ওদের
বাঙ্গালী-পল্টন দিয়েই কাপড় চোপড় কাচিয়ে নিচ্ছি।
সত্যি?
,
সত্যি নয় ত কি মিথ্যে ? দেখ না একবার পরখ করে। পশমী
কাপড় কাচবার সাবানও চমৎকার-নিৰ্ম্মলিন।
তুই ঠিকানাটা লিখে দিয়ে যা ভাই।
ঠিকানা আর কি ? সব জায়গায় পাওয়া যায়। আফিস্ হল
১৭ নং এজরা স্ট্রীট
Copy right reserved by S.P. H.
খদ্দরের পােক।
ভাই বােনেরা ভাবছে, নিতুর কাপড় নেই, জামা নেই, সে বুকি
নেমতন্ন যাবে না। নিতুর মাও তাই জানেন! নিতু ঘরে জোর দিয়ে
আছে। কেউ তাকে ডাকছে না—সবাই ত জানে নিতু কেমন
একবগ গা ছেলে, খদ্দর ছাড়া কিছু সে পরে না,আজ আবার মস্ত এক
বড় লোেক আত্মীয়ের বাড়ী নেমতন্ন-সেখানে কি আর খদ্ধর পরে
যাওয়া চলে।
গাড়ী এসেছে, ভাই বােনেরা কোলাহল করিতে করিতে যাচ্ছে,
নিতু খুট করে দোর খুলে সামনে এসে দাঁড়াল। নিতুর কাপড়, জামা,
চাদর একেবারে ঝ ম করছে।
এ সব কোথা পেলিরে নিতু? এ কিসের তৈরী রে ?
খদ্দরের, ম! বাবা কমলালয় থেকে কিনে দিয়েছেন।
এই যে কাজ দেখছ এ ত দেশী সুতাের তৈরী। চলমা।
মার মুখে হাসি ফুটে উঠল ।
নিতুর দাদা জিজ্ঞাসা করিলেন-কমলালয় কোথা রে নিতু।
ঐ যে কলেজ স্ট্রীট মার্কেটের নীচে, দাদা।
কাল আমাকে নিয়ে যাবি?
Copy right reserved by --S. P. H.
( ৭ ) ছেলেমেয়েদের সর্বশ্রেষ্ঠ মাসিকপত্র সড়ক বার্ষিক মূল্য ৩, আমার দেশ সক ষান্মাষিক— প্রতি সংখ্যা সম্পাদক- শিশিরকুমার মিত্র, বি, এ মাঘ ১৩২৭ সাল হইতে প্রতি মাসের ১৫ই তারিখে প্রকাশিত হইতেছে। প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, ছড়া ও ছবি প্রভৃতির অফুরন্ত আয়ােজন ছেলেমেয়েদের জন্য এরূপ সৰ্বাঙ্গ সুন্দর-মাসিকপত্র ভারতবর্ষে আজ পর্যন্ত আর একখানিও প্রকাশিত হয় নাই। প্রতি মাসে দুইখানি করিয়া রঙিন ছবি ও ২০২৫ খানি এক রঙা ছবি থাকে। হাসির গল্প, ছড়া, বৈজ্ঞানিক গল্প, ধাঁধা, প্রবন্ধে ৫০ পৃষ্ঠার উপর লেখা থাকে। আমার দেশের গ্রাহক না হইলে আপনার ছেলেদের শিক্ষা অসম্পূর্ণ থাকিয়া যাইবে। আজই গ্রাহক হউন
ছেলেমেয়েদের আশা ও তৃপ্তি
শিশুতােষ
সিরিজ
সম্পাদক-শিশিরকুমার মিত্র, বি, এ
আশ্বিন ১৩২৭ হইতে প্রতি প্ৰাসে একখানি করিয়া প্রকাশিত
হইতেছে। প্রত্যেক বহিতে অনেকগুলি করিয়া একরঙা ছবি আছে।
মােট। এন্টিকে, রঙ বেরঙের কালিতে ছাপা।
সভাক বার্ষিক মুল্য ৪, ষান্মাষিক মূল্য ২ প্রতি সংখ্যা।
১ম বর্ষ
১। পৃথিবীর জন্ম ১৩। বাপ্পাবীর
২। প্রকৃতির পরাভব ১৪। পৌরাণিক জন্মকথা
৩। কানুর কীৰ্ত্তি ১৫। হাজী মহম্মদ মহসীন
৪। আৰ্য্য ও অনাৰ্য্য ১৬। কৰ্ম্মদেবী
৫। আজগুবি জন্মকথা ১৭। মজার গল্প
৬। ছেলেদের বিষ্ণুপুরাণ | ১৮। ভীষ্ম
৭। গল্পে রামকৃষ্ণ
১৯। রামকৃষ্ণের নূতন গল্প
৮। সত্যযুগের কথা ২০। জাতকের গল্প।
৯। উদোল বুডাের ২১। রামকৃষ্ণের দেদার গল্প
সাঁওতালী গল্প
২২। ঠাকুরদের গল্প
৫। রামকৃষ্ণের আরাে গল্প
২৩। হামির
১১। সতী
১২। উদোল ভাের
আরাে গল্প
( ৯)
ছেলেমেয়েদের পাঠোপযােগী কয়েকখানি বই
ডিরেক্টর কর্তৃক অনুমােদিত
শ্ৰীযুক্ত নরেন্দ্রকুমার মিত্র, বি, এস-সি,
(গ্লাসগাে) এম, আর, স্যান, আই (লগুন) প্রণীত
১। বিজ্ঞান চিত্র গল্প
চিত্র ও গল্পের মধ্য দিয়া বিজ্ঞানের কথা ছেলেমেয়েদের বলা হইয়াছে।
দ্বিতীয় সংস্করণের মূল্য ১১
রায় বাহাদুর ডাক্তার দীনেশচন্দ্র সেন, বি, এ, প্রণীত
২।
সফরে ভোগ
রায় বাহাদুর ডাক্তার দীনেশচন্দ্র সেন, বি, এ, প্রণীত
বৈশাখী
প্রত্যেকখানি কয়েকটি গল্পের সমষ্টি-সন্মােহিনী ভাষায় তৃত পরীর গল্প
এত্যেকখানিতে ৫• খানির উপর ছবি আছে।
রমেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী, বি, এ,
৪।
রােমের গ
রােমের চিরন্তন ঐতিহাসিক গল্প—মুল্য ।
( ১০)
ঐবরদাকান্ত
মজুমদার
৫।
আবার বলো
শিশুদের রূপকথা।
দ্বিতীয় সংস্করণ-মূল্য •
শ্ৰীঅবিনাশচন্দ্র দাস
হিতােপদেশ।
পথে পয়ার ছন্দে লেখা। উপহারের পক্ষে এ বইর তুলনা নাই
আগাগােড়া আট পেপারে ছাপা। মুল্য পণ
বিজয়রত্ন মজুমদার
সত্য গ্রাহী কে? যিনি সত্যকে আশ্রয় করিয়া থাকেন। সত্যের
অনুরােধে শত যন্ত্রণা, শত অত্যাচার সহ্ন করেন—কিন্তু নিগ্রহকারীর
প্রতি কোনরূপ শত্রুভাব পােষণ করেন না—তিনিই।
ডেনিয়েল সক্রেটিস, মারাই, যীশু, গান্ধী সত্যগ্রাহী। তাহাদের
জীবন কাহিনী-তাহাদের ত্যাগের মাহাত্ম ছেলেমেয়েদের সরল ভাষায়
বুঝাইয়া দেওয়া হইয়াছে। মূল্য •।
ছেলেমেয়েদের কয়েকখানি যুগান্তকারী বই ছাপা হইতেছে---
‘চিত্রে ও গল্পে’ সিরিজের
১। স্বাস্থ্য চিত্রে ও গল্পে
২। শিল্প-কলা চিত্রে ও গল্পে
দেশ-বিদেশ চিত্রে ও গল্পে
শুশ্রুষ চিত্রে ও গল্পে
ছেলেদের গান্ধী
৪
রায় বাহাদুর ডাক্তার দীনেশ চন্দ্র সেন প্রণীত
৬। সরলবাঙ্গলা সাহিত্য
ছেলেমেয়েদের অবশ্য শিক্ষণীয় এই সব বিষয়গুলি চিত্র ও গল্পের
মধ্য দিয়া বলা হইয়াছে। এই বইগুলির জন্য আপনি এখনই অর্ডার
নিন।
( ১২) শিশুদের জন্য- শ্ৰীযুক্ত যতীন্দ্রনাথ পাল প্রণীত ১। হাসির ছড়া ২। মজার ছড়া শিশুদের হাতে দিন, পড়িতে পড়িতে হাসিয়া তাহারা লুটো পুটি খাইবে। যেমন সুন্দর হাসির ছড়া—তেমনই সুন্দর হাসির ছবি-অথচ উপদেশ পূর্ণ মূল্য প্রত্যেকখামি।• আনা মাত্র।
( ১৩ )
শ্ৰীযুক্ত নগেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, বি, এস, সি, সম্পাদিত
পাৰ্বণী
(১৩২৭)
পাৰ্বণী একখানি বার্ষিক পত্র। শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের
মিলিত চেষ্টায়, এবং নগেন্দ্রবাবুর প্রাণপাত পরিশ্রমে এই
পুস্তকখানি বাহির হইয়াছে। দুখানি তিনরঙা ছবি
আছে,
লিখিয়াছেন ঃ-
শ্ৰীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গল্প).
শ্ৰীযুক্ত অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শ্ৰীমতী ইন্দিরাদেবী চৌধুরাণী
প্রযুক্ত সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
শ্ৰীযুক্ত মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়।
যুক্ত চুনীলাল বস্তু
শ্ৰীমতী প্রিয়া দেবী
@মতী সীতাদেবী
যুক্ত দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর (স্বরলিপি)
( ১৪)
তপন
হিন্দু নারীর প্রত, পার্বণ
সংযম শিক্ষা অনেক পাশ্চাত্য
পণ্ডিতকেও স্তম্ভিত করিয়াছে,
হিন্দুর নিকট এ সম্বন্ধে অধিক
বলা নিষ্প্রয়ােজন। আমাদের শুধু এইটুকু বক্তব্য আছে যে
এ বাজার সংস্করণ ব্রতকথা নহে। ইহার প্রত্যেকটি ব্ৰত
প্রাণ মন দিয়া লেখা। প্রত্যেকটি ব্রতের গল্পাংশ মুখে
শােনার মত মিষ্টি। তাহার পর তিন রঙা ৪৫ খানি
ছবি, ও এক রঙা অসংখ্য ছবি। গােলাপি এন্টিকে
ছাপা, প্যাডে বাঁধাই। মূল্য ১০ টাকা মাত্র।
শিশির পাবলিশিং হাউস
কলেজ স্ট্রীট মার্কেট, কলিকাতা।
উপন্যাস বড়
নূতন বধু
আমাদের দেশে বালিকাদের
পাঠোপযােগী
একটা দেখা যায় না ।
নূতন বন্ধু পড়িলে আমােদের
সঙ্গে সঙ্গে বালিকাদের কচি
কচি মনগুলি সুগঠিত হইয়া উঠিবে। ইহাতে বন্ধুত্বের
জন্য স্বার্থত্যাগের চিত্র আছে ; স্নেহের, প্রেমের সর
মধুর আখ্যান আছে। ইহাতে পুরুষ চরিত্র আদৌ
নাই। কিশােরী চরিত্র লইয়াই গল্পটি লেখা। গোলাপি
এন্টিকে ছাপা। তিন রঙা ও এক রঙা ছবি আছে।
প্যাডে বাঁধাই। মূল্য ১ মাত্র।
শিশির পাবলিশিং হাউস
কলেজ স্ট্রীট মার্কেট কলিকাতা
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.