Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Shri Shri Chaitanya Leelankur Part 1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলা ১ম ভাগ) নীলকান্ত মুখােপাধ্যায় গােস্বামী প্রণীত প্রাপ্তিস্থান- শ্রীদেবকীনন্দন ধৰ্ম্ম-প্রকাশ কাৰ্যালয় ৬৬নং মাণিকতলা ষ্ট্রীট, কলিকাতা। মূল্য ১১ এক টাকা মাত্র
ভূপেন্দ্র চন্দ্র গুহ, কর্তৃক পোঃ শিলিমপুর,
জিলা ঢাকা হইতে প্রকাশিত।
সন ১৩২০ সাল,
প্রিন্টার-~~ীমহেন্দ্রনাথ দত্ত, শ্রী সরস্বতী প্রেস লিঃ
১ নং রমানাথ মজুমদার ঐট, কলিকাতা।
এ অচৈতন্য লীলাঙ্ক।
সূচনা
মহাকবি শ্রীহর্ষ শ্রীহরষ বদনে,
রচেছিল কত ছন্দে নব নব গাঁথা;
তারি বংশে
কৃত্তিবাস কবি ;
পয়ারের শিরােমণি
রামায়ণে পুষ্ট বঙ্গভাষা।।
;
কৃত্তিবাস বংশজ বলরাম ঠাকুর,
বলাগড় জনমিল বিদিত জগতে;
তঁার বংশে
জনম আমার,
নীলকান্ত মোর নাম,
পরিচয় দিতে লাজবাসি ।
নিত্য নিত্য নূতন নৃতন প্রেমরসে,
পুরিয়া রেখেছে কাব্য যত কবিগণে
পূরাতানে
পুরাতন রচি;
পুরাতনে পুরারস,
পুরাতন দ্রাক্ষারস প্রায ।
নিত্য নব নব ভাবে নব নব রসে,
রসিক-পাঠকদল মানস-অলিতে,
মজি রহে
মধুর পিয়াসে,
পদে পদে মধুপানে ;
প্রেমানন্দে মজি রহে চিত।।
২
শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাম্বুর
জ্ঞানাভাব যােগাভাব কৰ্ম্মাভাব চিতে,
রচিব চৈতন্যলীলা মরুভূমি-হৃদে ;
গােময়ের
কীটের যেমতি,
পঙ্কজের মকরন্দ
পিয়িবারে সাধ হয় মনে ॥
অমিয় সৃজিতে সৃজি গরলের খনি,
ধাতা সৃজিয়াছে মোরে বিষ সম ;
মম চিতে
উপজয়ে বিষ ;
গৌরলীল।
তবু লিখি, লাজ-শির খেয়ে।
উপহিত চিত মম সতত চঞ্চল,
অবিদ্যা-পূরিত মন, জীর্ণতরী সম ;
৭।
নিরক্ষর ;
প্রাচীন বয়সে,
৮।
ব্যাধি-আলিঙ্গিত সদ। ;
রােগে শোকে পীড়িত এ কায় ।
ভাব প্রেম রস আলিঙ্গিয়ে শান্তিভাবে,
নিত্য নিত্যানন্দে নিত্য-চৈতন্য ভাবিয়ে,
সাধুগণ
সুধা পেয়ে মত ;
প্রেমধা পানে রত;
বিষ-ভাবে হবে কি অরুচি ?
উপক্রমণিকা
যুগল হেরিবে আশে নারদ দেবর্ষি,
অবতরি এ ভারতে যায় ব্রজধাম ;
রাধাকৃষ্ণ
হেরি তথায়,
উনমত্ত প্রায় ছুটি
প্রভাসের তীরে উপনীত।
শ্রীকৃষ্ণের লীলাখেলা অবসান হলে,
গােলকেতে যাবে দেহে কৃষ্ণ বলরাম,
হেন কালে
নারদ আসিল ;
দেখে শূন্য বৃন্দাবন
দিবসে হয়েছে অন্ধকার ।
নাই সেই মলয়ের সুশীতল বায়,
বন-উপবনে নাহি ফোটে নানাফুল,
কঁদিছে রে
পশুপাখীগণ,
ধেনু না চরে বিপিনে,
তরুগণ আছে নতশিরে ।
কণ্টকে আবরি পথ, করেছে আঁধার,
রবি শশী আলো নাহি করে হাসি হাসি
ভুজঙ্গ বিচরে ;
না করে আহার কেহ,
ভেক ও ভুজঙ্গ এক ঠাই ।
বিনাইয়া বিননাদিনী নাহি সাজে আর,
দিব। অভিসার নাহি করে বনমালী,
বাঁশী ফুকারিয়ে,
ভােলাতে গােপীর মন ;
নাহি আর যুগল মিলন ॥
৪ ঐশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর **An A * * * a. A ১৪। ত্রিভঙ্গ বঙ্কিম আঁখি বংশীবটচারী, নাহি গােচারণ খেলা সখাগণ সাথে, ধরাচূড়া করে করে বেণু, আর কি আসিবে হেথা; হেরিব কি মধুর মুরতি ? নব নটবর বেশ, পুলিন বিহারী, কোথা রাধারমণ সে রাধিকামােহন, হলপাণি কুলতা কই ? অরণ্য অরণ্য হেরি, শ্মশান মশানে পরিণত । ১৮। নাহি শিব-শিবানী এই ব্রজধামেতে, যাইব কৈলাসে ; বাজ বীণে, বলি হরি সুমধুর মধুময় রবে, হরি বিনে ববিনে, মজে রহ হরিনামে প্রেমে। ; ১৭। তড়িতে জড়িত একি নব কাদম্বিনী । বিদ্যুৎ খেলিছে যেন নবঘন কোলে, নৃত্য করে চমকি চমকি ; গ্রাসিল কি মণিকণী ভূগর্ভেতে গরজি গরজি ॥ ক্ষীণ শুনা যায় কার কলকণ্ঠ তান, অমৃত ঝরিছে কিবা পিক সম রব, হরিল রে মনপ্রাণ সব ; শবাকার হ’ল কায়, চলিতে চরণ নাহি চলে । হল মনে রাধাকৃষ্ণ মিলে উচ্চবাসে, মিলন-লাবণ্যরাশি ছুটে আকাশেতে ;
উপক্রমণিকা এ ভারত হবেরে আঁধার, অসিত নিরয় মত ; ভয়াবহ হইবে ধরণী। ২০। আর দেখ শূন্যপানে শ্বেতকায় গিরি, সৌদামিনী চমকিয়া ঢলি পরে কোলে, যথা ফণী প্রেমেতে মাতয়ে ভূধর পাইলে দেখা, চিত্র-বিচিত্র সাজেতে সাজি। ২১। বুঝিয়াছি হলধর চলেছে গােলােকে, ভারত-জনে দুঃখ-সাগর-গর্ভে ফেলি ; গেল গেল, ধর ধর সবে, না যাইতে অতি দূরে ; ধরিতে নারিলি কেহ তোরা । ২২। ফণী নহে, কু-লতা-ধৰ্ম্মপত্নী সহ উঠেছেরে দেবযানে দোহে হাসি হাসি, আলােকিত বদন-সমােজ, কোটী সৌদামিনী-আভা ; তাই হেরিয়াছি সৌদামিনী। ২৩। একি আর কায় কার রজত বরণ, ধাঁধিছে নয়ন মাের শুভ্র-জোছনায় ; চিরপ্রভা দুলিতেছে গায় ; ছুটিলরে আলাে-রশ্মি, গগন-মণ্ডল আলােকিয়া। ২৪। তাতে নয় স্বর্ণময় দেশ অনুপম, মধ্যে মধ্যে স্বর্ণ, মণি, হীরক আবাস ;
শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর মনােহর চাদের বাজার ; একি সােণার কৈলাস ? যােগীঋষি যার ধ্যান করে ? জ্যোতিঃ অভ্যন্তরে হেরি চন্দ্রচূড় বসি, অঙ্গের ধবল জ্যোতিঃ ত্রিভুবন ঝাঁপি ; মাথে জটা অতি সুদীঘল ; ফণীহার দুলিতেছে, জটে গঙ্গা করে কল কল। { কোটী বালভানু জিনি বদন-সরােজ, ঝলমল করে তাহে, অট্ট অট্ট হাসি, জোড়া ভুরু তিলফুল নাসা, দন্ত মুকুত। জিনিয়া ; আছে ঊর্জনের পদ্মাসনে।। অতি সুললিত কান্তি, লম্বােদর শােভা, বিভূতিভূষিত অঙ্গ জাতক ভুজ, হাড়-হার হৃদয়ে জড়িত ব্যাঘ্রচীরে চিরাবৃত, ত্রিশূল করে, কক্ষেতে ঝুলি । পদ-নখে শােভা করে কোটা সুধাকর, উজলিছে পদতলে তরুণ অরুণ ; বিষধর খেলিছে অঙ্গেতে, লাবণ্যে বিজলী কত নয়ন-রমন চিতহারী । বামেতে শােভিত দুর্গা সুবর্ণ-লতিকা, নিত্য রসে বসিয়াছে রতন আসনে ;
উপক্রমণিকা ৭ হাসি হাসি বলি প্রিয়ভাষা সৰ্বানন্দী সৰ্বানন্দ খেলিছে কত নৃতন খেলা। ধবল আকাশে যেন স্থির-সৌদামিনী, উন্নত উজ্জ্বল রূপ রমনীয় শােভা ; পৃষ্ঠে দোলে কাল কেশদাম শ্রীপদ পরশ করে, সুধাংশু বদনে মৃদুহাসি।। ৩১। খগ-চঞ্চুজিনি নাসা, কুরঙ্গ-নয়না, মুকুতা গাঁথনি যেন দন্ত সারি সারি, কপালেতে সিন্দুরের বিন্দু, ঝলসিছে ভানুপ্রায় ; সুচিত্র বিচিত্র গলে হাব। ৩২। পয়ােধর যেন শোভে নব কুমুদিনী, বিশ্বমাতা সুত সুতা পালে পয়েদানে, হরি-কটা শোভিত সুন্দর, পদ নখে কোটী শশী, অমূল্য বসনে অঙ্গ ঝাপ।। ৩৩। অতুল্য যুগলচ্ছটা উঠিছে গগনে, উড়িছেরে সুধাপায়ী আলােকের গায় ; উদ্ধানেত্রে কত দেবগণ, আত্মহারা হয়ে হেরে মাতিলরে, প্রেমানন্দ মনে। ৩৪। বম্ বম্ গালবাদ্য করে নন্দী তথা, জয়া বিজয় করিল চামর ব্যজন, শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর ৭। 5 * ৫৭ পূর্ণানন্দে কাল, মহাকাল, ভূত, পিশাচ, নাচিছে রঙ্গে তাথই থই করি। শিঙ্গা ডমরু কেহ বীণা বাজায় সুখে, গাহিছে পঞ্চম-স্বরে বলি হর হর ; কেহ দুর্গা, কেহ শিব-দুর্গা, কেহ হর হর বম, কেহ বৰব বম বলে । কর-জোড়ে ভগবতী বলেন মহেশে, “কলিযুগে ভারতের কি হবে উপায় ? বল নাথ বিবরিয়ে সব ; ভকতি-বিহীন হয়ে কে ভজিবে ভব ভবানীরে” । ৩৭। শিব বলে, “কি বলিব দুখের বারতা, সাধুজন থাকিবে না ভারত মাঝারে ; অধৰ্ম্মেতে, মিথ্যা ভাষনিতে, পাতকেতে পূর্ণ হবে ; তীর্থের মাহাত্ম না থাকিবে ‘অল্প-শস্য, অল্প-ধনী, অল্পজ্ঞানী হবে, অল্প-আয়ু হবে, অন্নগত সব প্রাণী, পিতাপুত্রে হইবে কলহ ; শােকগ্রস্ত হবে লােক, হত হবে ব্রাহ্মণের মান। “আর্য ও অনাৰ্যজাতি হবে একাচার, স্বধৰ্ম্মেতে না থাকিবে মানব সমাজ, উপক্রমণিকা ৯ বিলাসেতে মাতিবে সকলে, নারীতে হইবে রত, গুরু-শিষ্য মান্য না থাকিবে। ৪০। “লৌহগৃহে বসতি, লৌহপাত্রে আহার, আস্বাদন না থাকিবে কোন দ্রব্যাদিতে ; হাহাকার পড়িবে ভারতে ; শূদ্রের হইবে শিষ্য বঙ্গবাসী ব্রাহ্মণ জাতিতে”। ৪১। মহেশ্বর মুখে শুনি ভবিষ্য বারতা, করুণাময়ী দুর্গার করুণা হইল- “আশুতােষ । তুমি কর দয়া, সুবিধি কর ভারতে, যাহাতে লােক হয় ধার্মিক। ৪২। “বুদ্ধ, কল্কি অবতার শাস্ত্রের প্রমাণে, মুনিগণ লিখিয়াছে পূরবে বারতা, ধার্মিক না হবে তাতে লােক, বিষ্ণু-অংশ দুজনের ; কিসে জীব পাবে পরিত্রাণ? ৪৩। পার্বতীর ভাষে হব সুখী হয়ে মনে, মরমের কথা ভব বলিতে লাগিল- “শােন প্রিয়ে। মরমের কথা অধৈৰ্য্য সুদূর হবে, সুবিধান আছে ইহা মাঝে। ; ৪৪। শ্রীরাধিকা ব্রজধামে শ্যামের বিরহে, বিরহ দেখায়েছিল জীব শিখাইতে, শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর \\ \n, = মহাসতী ছিল পতিব্রতা, ভিন্ন দেহে এক আত্মা হয় ভালবাসার চরম ॥ ৫৫ ৪০। “অর্ধ-উন দশ দশা যবে লভে ছিল, যমুনা পুলিনে বাধা হয়ে অচেতনা, সত্যভামা, রুক্মিণী সুন্দরী, হাসি করে উপহাস; সে কারণে পুনঃ জন্ম হবে। “প্রভাসের তীরে মুষল আঘাতে হরি, নিম্বতরু মূলে যবে হ'ল তিরােভাব, সে সময়ে আত্মঘাতী হল সতী, সত্যভামা হইল যােগিনী। ৪৭ বলদেব মধ্য হতে অনন্ত ভুজঙ্গ, বাহির হইল যবে তিরােভাব কালে, স্বামী লাগি আসিল নাগিনী, রুক্মিণী হাসিল তায়, মনেতে করিয়া অহঙ্কার। ৪৮। “ক্ৰোধ করি কুলতা দিল অভিশাপ, বিষধর বিষে হবে অন্ত পরিণামে, শােন প্রিয়ে। বড়ই রহস্য, বলি গােপন বারতা, নাহি জানে কেহ আর ভবে। ৪৯। “লক্ষ্মী নাম ধরি রমা রুক্মিণী ভামিনী, বল্লভ আচাৰ্য সুতা লভিবে জনম, উপক্রমণিকা স্বামী-নিন্দা শুনিয়া শ্রবণে, পিতৃমুখে,-রুষিবে গাে সতী, দক্ষ সম জনকেরে । “ছিলে যবে পিতৃ-যজ্ঞে, ওগাে প্রাণ-প্রিয়া ! শিব-নিন্দা শুনি সতী ত্যজিলে জীবন, পতি নিন্দা শুনে পাগলিণী ; ধন্য ধন্য তব রীতি, ত্রিজগতে রহিল বিধান। “স্তব কায়া নিয়ে যবে ফিরি বনে বনে, চক্রিতে কাটিল তব পূণ্যময় দেহ, জীব লাগি ; একান্নটী ভাগে পেলে পূজা এ ভারতে; ভৈরব রূপেতে থাকি পীঠে ৫২। “শৈল-সূতা হয়ে পরে লভিয়া জনম, বিবাহ করিলে মােরে দেবী নারায়ণী। তব দশা হইবে লক্ষ্মীর, বিধাতা হইবে ফণী দংশনেতে যাইবে জীবন ॥ সত্যভামা আর, পুনঃ জনম লভিয়া, সনাতন দ্বিজ ঘরে বিষ্ণুপ্রিয়া নামে, লভিবে গো বিরহ যাতনা, সেই পাপে; পূৰ্ব ফলে সহমৃতা না হইবে সতী।। ৫৪। “লক্ষ্মী সরস্বতী লাগি শ্ৰীসচ্চিদানন্দ, নবদ্বীপে জনমিবে গৌরাঙ্গ রূপে, শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাম্বুর ছায়া রাধা হবে গদাধর ; নারদ হবে শ্রীনিবাস, বলরাম হইবে নিতাই । ‘তুমি আমি জনমিব অবনী মণ্ডলে, সীতা নামে ভবানীগগা লভিবে জন, শ্ৰীঅদ্বৈত হবে মাের নাম, বাস হবে শান্তিপুরে, পত্নী হয়ে রবে মম পাশে। “ব্রজের যতেক জীব লভিবে জনম, রাগী-ভক্ত হবে ওরা, শােন মহেশ্বরী। দ্বারাবতী মথুরার জন জনমিবে সবে আসি, নেহারিয়া সারথি কেশবে । “তারা সব বিধি-ভক্তি আচারণ করি, লীলাধাম লভিবে গাে, নিত্য রাখি দূরে ; হরিনাম করিব প্রচার, রাধা-শক্তি মাখি তাতে ; অযাচকে দিব হরিনাম । ৫৮। “কিঞ্চিৎ ধেয়ানে জানি নিগুঢ় বারতা, ব্ৰহ্মা আদি দেবে নাহি আভাষ তাহার ; মুনি ঋষি জানিবে কেমনে? কি সাধ্য জানিতে কণা ? শাস্ত্রে লিখা নাই সে কারণে। ‘ভাল ভাল, এক কথা হইল স্মরণ, বিরিঞ্চিও জনমিবে হরিদাস নামে ;
উপক্রমণিকা দুই শত বরষ পূরবে, তুলসী ও গঙ্গাজলে শক্তি বলে আকৰ্ষিৰ সবে । “এক শত বর্ষ আগে বিধাতা আসিয়া, জনমিবে হরিদাস গােলাপ নামেতে, বৃন্দাবনে- ধেনু-চুরি পাপে ; সেই পাপে কাজি ঘরে লভিবে জনম চতুঃমুখ । ‘চব্বিশ বছরে গােরা সন্ন্যাসী হইবে, স্বয়ং আচরি ধরম, জীবে শিক্ষা দিবে, ধন্য ধন্য হবে কলি-জীব ; সাধনের রীতি নীতি শিখাইবে মানব আচারে। রেবতী ও কুন্দলতা অনন্ত-শকতি, বসুধা জাহ্নবা নামে হইবেক খ্যাতি, শ্রীরাধার নিরমল প্রেম গাথিবে জীবের হৃদে, সর্বশক্তি পাবে জীবগণ ॥” মহেশের মুখে শুনি এ সব ভারতী, রচিল গনেশ ইহা সব বিবরিয়া ; শিব-ভাষ্য হল মহাতন্ত্র । পাঠ করি দেখ সবে, ঘুচিবেক মনের সন্দেহ। ৬৪। সেই সচ্চিদানন্দ জীব ভাগ্যে হল, নবদ্বীপে গৌরাঙ্গ নামে আবির্ভাব, ১৪ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর বলরাম হলরে নিতাই ; শিব অদ্বৈত নামেতে ; ছায়া-রাধা হল গদাধর || আবির্ভূত শ্রীনারদ নিবাস হয়ে, রুক্মিণী হ’লরে লক্ষ্মী, সত্যভামা আর- বিষ্ণুপ্রিয়া ; দুর্গা হল সীতা, কুলতা-শ্রীবসুধা, রেবতী যে হইল জাহ্নবা । বহু মানবের হৃদে রয়েছে সন্দেহ, অখণ্ড সচ্চিদানন্দ খণ্ড কেনে হয় ; নবদ্বীপে কেন এল হরি ? মানব ধরম পালি বিবাহ করে বা কেন পুনঃ। সৰ্বশক্তি পরিপূর্ণ অসীম ঈশ্বর, সর্বোপরি, সৰ্বমুক্ত, ইচ্ছাশক্তিধর ; জড়তার পরিচয় তাতে সম্ভবে কভু, হায় ! নিত্য চৈতন্যেতে পরে দোষ। ১৮। সৰ্বগুণে পরিপূর্ণ অথচ নিগুণ, পরিছিন্ন বিরহিত, বাঙমনাতীত, দৃষ্টিআড়ে তবু বর্তমান, কখন অখণ্ড খণ্ড খণ্ড কতু বা লীলাতে। অদ্বৈত-চরিত ভক্তি শাস্ত্রেতে বিদিত, সংক্ষিপ্ত জীবন কিছু করি পরচার, উপক্রমণিকা * * * অবনীর কত ভাগ্য ছিল, পদরেণু পেল ধরা, দেখিলরে মানব সমাজ। ৭। তপত কাঞ্চন ঠেলি উজল বরণ, মনোহর রূপ তার ভকতির মূল ঈশ্বরের সুলক্ষণ তাহে, ভক্তি হয় নাস্তিকেরাে, যে দেখিল একবার তারে ৭১। দূরদর্শী সুনীতিজ্ঞ হেরিয়া মানবে, লক্ষ লক্ষ লোক আসি ভকত হইল, তাহে ধৰ্ম্ম-শিখা নয়নে না ধরে রূপ, মগ্ন রহে রূপের শয়রে । ৭২। জলদগভীর প্রায় তার হরি-ধ্বনি, শুনি বৈরাগ্যের রেখা পরে হৃদয়েতে হৃদয়েতে হয় প্রেমানন্দ, মাতিয়েরে জীবগণ হরি বলে করে প্রতিধ্বনি ৭৩। অলৌকিক অদ্বৈতের শক্তির প্রকাশ, কত মৃত পায় প্রাণ, বলহীনে বল, সীতাপতি, মায়া দূরে ঠেলি, ফুল্লচিতে উপদেশি হরিভক্ত করিল সমাজ। ৭৪। করুণা মাখান সীতা, রূপে নিরুপমা, অমিয় লাবণ্য রাশি তমঃনাশকারী, শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর ৭ । " আকষিল শান্তিপুর বাসী যুবতী যতেক ছিল, মাতৃজ্ঞানে হল হরিভক্ত । হরিদাস-কথামৃত ভকত মণ্ডল, লিখিয়াছে কতশত সংখ্যা নাহি তার, পুনরুক্তি আমি না করিব, সে হেতু, সংক্ষিপ্ত লিপি ; তিন তিন লক্ষ নাম যার । হরি নাম ভাষা তার, হরি নাম ভাব, হরি নাম অন্ন-বস্তু, হরি নাম প্রাণ, অঙ্গকান্তি জলন্ত পাবক, বিমল কিরণ রাশি খেলিছে জীবাণু দল তায়। অদ্বৈতের শক্তি ভরে শান্তিপুরে আসি, কৃতাঞ্জলিপুটে হরি করে স্তব-স্তুতি, সীতানাথ, করুণা প্রকাশি সাধনেরি স্থান দিল গঙ্গাতীরে বিজন বিপিনে। ৭৮। দুই জনে গঙ্গা তীরে তুলসীর দলে, আকর্ষনি-মন্ত্র পাঠ করে রাত্রিদিনে, সীতানাথ, পরম দয়ার খনি, ভােলা আশুতােষ, আশুতোেষ সর্বশক্তিধর । কুরু পাণ্ডবের রণ অবসন্ন হলে, অবশিষ্ট ছিল যারা করে হাহাকার, উপক্রমণিকা ১৭ কালিরে ভূমে গরি দিয়া, হানি কর শিরে বুকে ; বাণ প্রস্থে করিল পয়ান। ৮। কুরুক্ষেত্র মাঝে ছিল উপবন-শােভা, সুবাসিত সুকুম ফুটিত বা কত, চুমে তাহে মন্দ সমীরণে ; ভ্রমর ঝারি তায় ফুননে মধু পানে রত । ৮১। পিক দল কুহু কুহু, শিখী কুল আর, করিতরে নৃত্য তারা আত্মহারা হ'য়ে, নবােন্নত নব নব তরু ফল ফ ল ভারে রয়, পাখী কুল কুজিত গাে জয় । ৮২। সেই বনে ধৃতরাষ্ট্র গান্ধারী বিদুর, কুন্তীসহ প্রবেশিল সাধনের লাগি ; পর্ণশালা বুচিয়ে তথায় রহিলরে সবে, হায়, ত্যজি সুখ বিলাস বৈভব । ৮৩। ভেটিতে তাদেরে যুধিষ্ঠির আদি সবে, উপনীত হল যেয়ে সেই তপােৰনে ; ম্লানমুখে কাতর হইয়ে প্রণমিল ধৃতরাষ্ট্রে আভ্রানিল শিরসি তাহার । ৮৪। হেন কালে বেদব্যাস আসিয়া তথায়, দেখে সব বামাগণ বিরস বদনা, ১৮ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর কঁদিছেরে পতি পুত্র হীনা ভূমে পরি বিলাপিয়া ; করুণায় আত্ৰ হল চিত। ৮৫। জলদগভীরে তবে সম্ভোধিল সবে, “স্বামী-পুত্র দেখাইব রজনী সময়ে ; কুরুক্ষেত্রে যতনােক হত, যে ভাবেতে যেবা ছিল, আনিব সকলে যােগ-বলে ৮৬। উদ্ধবাহু করে মুনি স্মরণ করিল, উপজিল মৃত-সেনা কানন-প্রান্তরে, হেরি সবে আনন্দে মাতিল ; উঠিল মঙ্গল-রব ধন্য ধন্য মহামুনি ব্যাস। ৮৭। ভারত মঙ্গল হেতু করুণা প্রকাশি, সীতানাথ উদ্ধবাহু করে স্মরি হরি সেইমত, আনিল সকলে আহছানিয়া অবনীতে । ৮৮। শ্রীগৌরাঙ্গ আবির্ভাবে অনন্ত স্রোতে, প্রবাহিত ভাব হল ভারত মাঝারে, উথলিল ভারত-হৃদয় ; নাচিল তরঙ্গে প্রেমে লক্ষ লক্ষ প্রাণীগণ প্রাণ। ৮৯। আকাশের তারা কিবা সাগর-লহরী, গুণিবার শকতি গগ। কারাে যদি হয়, উপক্রমণিকা ******** গৌরাঙ্গের লীলা-বিচিত্ৰতা বর্ণিতে না পারে সেও; বুঝিবে সে প্রেমিক যেজনে। ৯। বৃন্দাবনে গোপীকার বসন হরণ, সুপবিত্র রাসলীলা শুকের বর্ণন, চিত্তপটে অন্ধ তুলিকায় আঁকে কুট মাস দিয়ে সন্দেহের সমালােচনায়। শুকের পবিত্র লিখা অর্থ না বুঝিয়া, উপহাসে দেবদেবে পরম পুরুষে, বস্তুচুরি কাম-নিবারক, দেখালাে সে গুপ্ত তীর্থে, ঘুচিবেক মনের কালিমা । ৯২। জগতজননী কালী হরমনােরমা, বস্ত্র অলঙ্কারে সদা থাকিত ভূষিতা, জীবগি আচৰিল ধৰ্ম্ম ; শিব নিল বস্ত্রহরি নির্বিকল্প করিতে সমাধি। ৯৩। শবাকার সমাধিতে রহিল মহেশ, উলঙ্গী হইয়ে কালী দেখা’ল সাধন ; অদ্যাবধি সেইভাবে পূজি ত্রিজগৎ মাকে সবে ; দেখ সবে মনেতে বিচারি। ৯। ভগবতী অঙ্গ হতে দশ বিদ্যা হল, বিবাহ না করে শিব তবু তারা সতী, শ্রীচৈতন্য লীলার পরদার হল তাহার, কেহ নাহি বলে মন্দ, মাতৃজ্ঞানে পূজি মােরা সবে ৯৫। শ্রীকৃষ্ণ রমণী রাণী রাধা বিনােদিনী, তাহার অঙ্গেতে জন্মে সখিও মঞ্জরী ; ব্রজধামে গগাপিনী হইয়ে জনমিল জীব লাগি, কৃষ্ণভক্তি শিখাইতে সবে । ৯। পরিচ্ছেদ বিরহিত সমাধি শিখাইতে, ধৰ্ম্ম-পত্নী সহ করে এই আচরণ ; বস্তুচুরি করিল সভার কামের পরীক্ষা তরে ; সমাধির এই রীতি নীতি ॥ ১৭। শিবের যেমন কালী তারা দশজন, পাশমুক্ত হয়েছিল,-নিকামি শকতি নিয়ে সাথে নির্বিকল্প যােগ, সেইরূপ চিন্তামণি পাশমুক্ত পাখিতে সবে । ৯৮। একশত গােপবালা নিষ্কামি হইল ; অপরিছিন্ন সমাধি শিখাইতে জীবে করে রাস তন্ময় করিয়ে ; তদাত্মা হইল পরে ; পরদার না করিল কভু। ৯। অপরিচ্ছিন্ন সমাধি রাস বলি লিখে, লিলাম এ বারতা বিবৰিয়ে সব , উপক্রমণিকা । । । । = এক কৃষ্ণ বহু কৃষ্ণ হয়ে প্রতি জন সঙ্গে রাস- পারে কি করিতে জড়-লােকে ? == ১০০ | কামের আচার যার আছে বর্তমান, উলঙ্গ হইতে তার নাহিক শকতি ; লােক মাঝে ; ত্রৈলঙ্গানন্দজি স্বামী ভাস্করানন্দজী কামশূন্য হইয়া উলঙ্গ। ১০১। গৃহস্থ মহিমান্বিত মহাজনগণ ; সমাজের আরালেতে ভাৰ্য্যা নিয়ে বসি, রজনীতে সাধে নির্বিকল্প, কেহ বা অপরিচ্ছিন্ন সমাধিতে থাকে প্রেমানন্দে। ১২। একই সময়ে শিব শ্যামল সুন্দর, অনন্ত কৃষ্ণ ও শিব হয়ে ক্রিয়া করে ; ভ্রাতাগণ ! একজনে বই- রূপ ধারণ করিতে, পারি কি কখন প্রাণপণে? ১৩। মিথিলাতে শ্ৰজনক ক্ষত্রিয়-উদ্ভব, এক জনমেতে লভে ঋষি-পদ লাভ, সৌভাগ্যেতে সাধি নির্বিকল্প ব্রাহ্মণ হইল রাজা, সমাজের ভয় না করিত ৷৷ ১৪। গাধীর নন্দন ছিল বিশ্বামিত্র রাজা, লভিল সে ব্রাহ্মণত্ব সাধন বলেতে, পত্নীসহ সাধিত সমাধি, অপরিচ্ছন্ন সে রাস, ধাতা তুল্য করিল সৃজন।
প্রথম সর্গ
১০৫। শ্রীগঙ্গার গর্ভেতে নয়টি দ্বীপ হয়,
নবদ্বীপ বলি মােরা শােনহ ভারতী,
বর্তমান
গঙ্গা পুৰ্ব্ব-পারে
জগন্নাথ মিশ্র বাটা,
রূপান্তর হয়েছে এখন।
১৬। অশুদ্বীপ মাঝে জগন্নাথের আলয়,
দীন হীন ছিল মিশ্র, বুড়া-শিব ভক্ত ;
নববীপে
কুসুম কাননে
যেথায় ফুটিত ফুল,
জাতী যুথী শেফালি বকুল।
১৭। মলয়ার সমীরণ স্বন ধন্ রবে,
বহিতরে শতধারে এহেন কাননে,
অলিদল
১০৮।
গুণ গুণ স্বরে
মধুর পিয়াসে আসি
মধু পানে হত উনমত।
তরুণ তরুর পরে শিরিষ মুকুলে,
পড়িতরে ঝাকে ঝাকে পাখীকুল সবে,
পিকগণে
কুহুকুহু রবে
আকুল করিত চিত,
শিখী কুল আর নৃত্য করি।
এহেন কানন মাঝে রচি পর্ণশালা
বসতি করিত সদ। জগন্নাথ-শচী,
প্রথম সর্গ ২৩ + + প // // \\ \ । গঙ্গাস্নান করিত দুজনে ; ধর্মভীরু ছিল অতি, তপস্যাতে থাকিত সর্বদা ॥ ১১। ঠাকুর-মন্দির এক ছিল সুশােভন, পর্ণ কুটিরেতে ঘেরা বিচিত্র আলয়, শ্বেত-পীত রঙ্গের গাঁথনী ; ঝলমল মনােহর ; ভকতের চিতমুগ্ধকারি। ১১১। সুকাষ্ঠে নির্মিত এক সুরম্য আসনে, বিবিধ কুসুম দামে শয্যা বিরচিয়া, নারায়ণ রাখিত যতনে, ভােগ সরাইত তথা তুলসী স্থাপিয়ে গঙ্গাজলে। ১১২। বহিৰ্বাটী আঙ্গিনায় ছিল পর্ণশালা, সদাব্ৰত আতিথ্য ও বিশ্রামের স্থান, জগন্নাথ বড় পুন্যবান্ ; তাহার তনয় হয়ে নিত্য হতে এল পরমেশ। . ১১৩। অৰৈত আনিবে কৃষ্ণ যােগৈশ্বৰ্য্য বলে- বিজনে ধরণী ভাবে ধরণীধরকে ; চিতহারী সচ্চিদানন্দ নবদ্বীপে জনমিবে, সমাধিতে পরিজ্ঞাত হল । ১১৪। পূর্বদিকে উষা ভালে হেরি বাল-ভানু, যেন রে সিন্দুর লিপ্ত স্বর্ণমুদ্রা প্রায়, ২৪ শ্রীচৈতন্য লীলাম্বুর দণ্ডে দণ্ডে বরণ উন্নতি, তিমির নাশয়ে রবি, পুলকে পুরিত হয় জীব। ১১৫। সেইরূপ বিনাশিতে অজ্ঞান তিমির, গােরা-রবি সমুদিলে হৃদয় আকাশে, ধীরে ধীরে সুললিত ভাবে উন্নত হইবে জ্ঞান, প্রেমে জীব নিবে হরিনাম। ১১৬। ধরণীর হৃদে প্রেম-পয়ােনিধি ভরি, ছুটি অনন্তধাবে স্রোত প্রতি অঙ্গে, হেলিদোলি করয়ে নৰ্ত্তন বিদুরিল কঠিনতা আদ্র হয়ে প্রসবে নূতন '৷ ১১৭। একেতাে বসন্ত ঋতু চিতমনহারী, সহচর পরিমল আসিয়া জুটীল, চারিদিকে নব কিসলয়ে বনে উপবনে শােভে তরুণ কিশাের তরুগণ । ১৮। সুধারাশী সুধাকর সিঞ্চয়ে হরষে, শুষ্কতরু মুঞ্জরিয়ে ধবে ফুল ফল, অনিলেতে সৌরভ ছুটিল, মাতিল ভ্রমরকুল, গুণ, গুণ, রবে মধু পিয়ে। ১১৯। পিক কুল কুহু কুহু রবে সুমধুর ; প্রেমেতে মাতায় যত কিশােরী কিশাের, প্রথম সর্গ 'AWA শিল্পী কুল পুচ্ছ উচ্চ করি নাচিছে বিজন বনে, চাতকিনী করে পিয় পিয়। ১২০। নিবিড় নিবিড়ে যত ভূচর খেচর, শাবক শাবিকা নিয়ে খেলে প্রেমানন্দে, কল কল রবে উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে ফুল ফল করয়ে আহার । ১২১। বিশ্ব-কেন্দ্র হয় যার নিরমল প্রেম, যার নােম-কূপে স্থিতি অনন্ত ব্রহ্মাণ্ড, নর লীলা জীবগণ লাগি ; রাধারূপে অঙ্গ ঢাকি অবতীর্ণ নদীয়া নগরে । ১২২। সৈন্ধিীর বেশে ধরা হয়ে উপনীত, শচীমাতা সনে ক্রোড়ে রাখে প্রেমানলে ; নদেবাসী। দেয় হরিধ্বনি, আবির খেলিছে কেহ, রাধাকৃষ্ণ উঠায়ে দোলাতে। ৯২৩। নীরবগামিনী ছিল সুরধুনী নদী, প্রেমানন্দে উথলিল সাগর সমান, ভাসমান তরণী নাচয় তরঙ্গ ভঙ্গেতে রঙ্গে, ভীত নৌকারোহী ডাকে-হরি’ ১২০। দরপনে বিজলীর ছটা, মনােহর নিরখিতে,সেইরূপ হয় মনােহর ৪ শ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর শিশু গৌর ; নবদ্বীপধাম নবরূপে শােভান্বিত, লােক সব হল চমকিত ৷৷ ১২৫। কাসী বঁাশী জগঝম্প জয়ঢাক আর, হাের্শী মহােৎসবে বাজে সহস্র মৃদঙ্গ- জম জয় করে সব লােকে, দেয় উলু, বাজে শঙ্খ, ললনগণেতে গীত গায়। ১২৬। কি ভাষিতে কি ভাবি কি বুঝাব লোকে, সচ্চিদানন্দ জন্মিল জগন্নাথ ঘরে, শুভদিনে হ’ল আবির্ভাব ফাল্গুনী পূর্ণিমা দোলে, রাহু যবে চন্দ্রকে গ্রাসিল ॥ ১২৭। কোটী বাল-ভানু জিনি হেমের বরণ, রূপের লাবণ্যরশ্মি ছুটিল গগনে, হেরি চাদ সুবর্ণের ভা, চমকি হইল ম্লান, অস্তাচলে যাইতে চঞ্চল । ১২৮। এক রাহু ভয়ে শশী সভায় অন্তর, পুনঃ কি গ্রাসিবে মােরে এ নব রাহুতে, না না না না, বুঝেছি ভারতে হরি হ’ল আবির্ভাব, পিনাকীর সাধনের বলে । ধন্য হে মহেশ তুমি করুণা সাগর, জীবগণে নিস্তারিতে নর দেহ ধরি, প্রথম সর্গ ২৭ পাপী তাপী ভরাতে এসেছ, অদ্বৈত নাম ধরি, ধন্য তব করুণা অপার । ১৩। বদন সরােজ গৌর অতুল্য ভুবনে, ঝঙ্কারি ঝঙ্কারি অতি লােভে অলি-দল, মুখ-পদ্ম মধুর পিয়াসে উরে ঘুরে অনুক্ষণ, জোরা ভুরু তরল নয়ন। ১৩১। শিরীষ কোমল তার হৃদয়-কমল, নবনী জিনিয়ে তার তনু মনােহর সুবলিত, দলিত সুন্দর প্রকাণ্ড শরীর তার, ক্ষীণকটা সুচারু সুঠাম । ১৩২। আজানুলম্বিত ভুজ করিশুণ্ড সম, কর পদ নখরেতে কোটা চাদ কাদে, পদতলে তরুণ অরুণ ধ্বজ-বজ্র রেখাঙ্কিত, ভুবন ভুলিয়া পরে পদে। ১৩৩। কাল-স্রোতে শ্রীগৌরাঙ্গ যুবক হইল, যারে দেখে তারে বলে,—বল সবে হরি, সর্বশাস্ত্রে হইল পণ্ডিত, বিক্রম পুরেতে আসি বিদ্যালয় করিল স্থাপন। ১৩। সুধাকর সমুদিলে অন্ধকার হবে, নিত্যানন্দ-চাদ আজি হইবে উদয় ২৮ ঐশ্রীচৈতন্য লীলাম্বুর - ***** এক চাঁদে অন্ধকার হরে, কোটী চন্দ্র জিনি প্রভু, জীবের নাশিতে পাপরাশি । ১৩৫। পাপ তাপ লুপ্ত হের বীরভূম দেশে, ভারত-সৌভাগ্য-চাদ হইবে উদয় ; জ্ঞান-ইন্দু হৃদয় আকাশে কোটী সােম সম হবে ; ধৰ্ম্মছায়া পড়িবে ভারতে। ১৩। একচক্র গ্রামে হের হারাণের বাসে, রতনে মণ্ডিত হয়ে নাগিনীর দল, নরাতি কটিদেশ দোলি, কুসুম কানন মাঝে করি নৃত্য শুভবার্তা ঘােষে ১৩৭। ফুটিল কুসুম কলি বন উপবনে, উদিলেন সুধাকর সঞ্চারিয়ে করে, মনোহর রমণীয় শােভা, আভায় মােহন বেশ, হাসিল গাে কুসুমের দাম। ১৩৮। শীতল বাতাস ভুঞ্জি কুসুম নিচয়, পতি বক্ষে নিয়ে মুখে নাচে হেলি দুলি, গঙ্গাবারি গরজি গরজি উছলিল বেলাভূমি, করি শুভ কল কল ধ্বনি। * ১৭ ১৩৯। নরাকৃতি ফণী নাচে একচক্র দেশে, ধ্বনিত হইল ইহ। দিগদিগন্তরে, প্রথম সর্গ ২৯ কেন্দুবি বৈষ্ণব সকল নানুর দেশ হইয়ে চলে সবে একচক্র গ্রামে } ১৪। দিবা রাত্রি সপ্তদিন কীৰ্ত্তন হইল, . ভকতে যােগায় অন্ন ধরণী লুকায়ে, কেবা দেয় উত্তম আহার কেহ নাহি জানে ইহা, দেশবাসী হয় চমকিত । ১৪১। হারাণ হারান আজি জ্ঞান হারাইয়ে, চিত্রের পুতলি কিবা ধ্যান-ধরা যােগী, কখনও বাক্য অপব্যয়, উনমত বুলি বলি, লােকাগমে কভু অবরােধ। ১৪২। অতুল্য পঙ্কজাননী পদ্মাবতী নাম, হারাণ ললনা সেই পতিপ্রাণ সতী, জুড়ি পাণি বলে প্রাণনাথে, মৃদু মৃদু হাস্য করি, - “স্বপনের বলি বিবরণ F ১৪৩। “দশথাত্মজ যিনি দাশরথি রাম, বলরাম নামে হল বসুদেব সুত, সেই রাম আমারি গরভে তবাত্মজ জনমিবে, হেরিনু এ মঙ্গল আরতি । ১৪৪। “দ্বাদশ বরষে সেই সন্ন্যাসীর বেশে, মাধবেন্দ্র পুরী সহ করিবে গমন,”- ৩০ ঐশ্রীচৈতন্য লীলার চমকিল হারাণ ঠাকুর। বলে,-“ওলাে পাগলিনী ! তব ভাষা রসাভাস প্রায় ॥ ১৪৫। “প্রলাপ ভাষিলে তুমি স্বপনের ঘােরে, শৈল-কি বিদরে কভু আনন্দের নীরে ? মমঘরে। আসিবে কি রাম ? অমঙ্গল হের পুরে, সাপিনী নাগিনী কেন নাচে – ১৪৬। বিরস বদনে পদ্মা প্রত্যাগত হল ; নগর-বনিতা সব হুলহুলি করি, পদ্মাবতী কুটিরে সকলে প্রবেশিল প্রেমানন্দে ; পদ্মাবতী সবে সমাদরে । ১৪৭। গিরি শিরে ঘনঘটা বিজলীর সঙ্গে, খেলিছে গাে রাশি রাশি চঞ্চল আকারে, গরজিছে গভীর নিনাদে শুনি উপত্যকা-ধ্বনি, হেনকালে জনমিল রাম ১৪৮। গিরি বিদারিয়ে যেন তপন উদয়, পদ্মার উদর হ’তে সুবর্ণ বালক উদিলরে একচক্র দেশে, সােনার সূর্য হেন - রজনী হইল দিবাময় ॥ ১৪৯। ভাল ভাল এক কথা হইল স্মরণ, বিবরিয়ে সেই বার্তা করিব বর্ণন,- কে প্রথম সর্গ । । AAA 4 । . © ১০ হারাণের পূরব প্রতিজ্ঞা চিতেতে ভাসিল আজি মরমে মরিল দ্বিজবর ॥ সন্তান বিহীন ছিল হারাণ ঠাকুর, পুত্রের আশায় যায় ঔষধের লাগি, ব্রজধামে ; মাধবেন্দ্র পরী সন্ন্যাসীর শিরোমণি। তার কাছে যায় দ্বিজ মণি । মাধবেন্দ্র জানে রাম হারাণের ঘরে লােক নিস্তারিতে আসি লভিবে জনম ; হাসি হাসি বলে হারাণেরে, ছেলে হবে, কিন্তু দিবে স্বাদশ বৎসর রাখি ঘরে। ১৫২। হারাণ বলিল, -- “তবু হউক সন্তান, দিব হে তােমাকে পালি দ্বাদশ বছর ;” প্রতিজ্ঞায় হইয়ে আবদ্ধ ঔষধ আনিল ঘরে, খেল পদ্ম, গর্ত হল তবে , ১৫৩। পুরব বারতা ভাবি হায়াপ অধীর, দুরূহ বিরহানলে হ'য়ে হতজ্ঞান, ধরাপরে আছাড় পড়িল, প্রলাপ বুলিছে মুখে, ক্ষণে উঠি ইতি উতি ধায়। ১৫। শ্রীরামে পাঠায়ে বনে রাজা দশরথ, পরাণ ত্যজিয়েছিল পুত্র-শােকানলে, শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর সেই রাম আসিয়াছে ঘরে, জনক নাশিতে বুঝি, দ্বাদশ বরষ শেষে হায়। ১৫৫। পুত্র-কোলে দ্বিজমণি তিতে অশ্রু-নীরে, পাষাণ গলিত হয় শুনিলে বিলুপি, দহে হিয়া দাবানল প্রায়, ধৈরজ ধরিতে না, মূচ্ছিত হইল অতঃপরে । ১৫৬। সম্বিত পাইয়ে পুনঃ রােদন করিল পদ্মার ঙ্গান্তনা পেয়ে শােক সম্বরিয়ে, কাশীধামে গমন করিল, বিশ্বেশ্বর দেখিবারে, নাশিবারে শোক-বহ্নি আর । ৮ ১৫৭। দিনে দিনে বাড়ে সুত শশীকলা প্রায়, সদানন্দ চিত্ত হেরি নাম নিতানন্দ, সুশীলতা নিরমল চিত, বলবান সাতিশয় গাম্ভীর্য্যেতে সাগর সমান । ১৫৮।. সত্যবাদী, জিতেন্দ্রিয়, মুখে হরিনাম, ধীরাধীর সুললিত প্রাজ্ঞ মহােদয়, * যারে হেরে তাহারে বলিছে, বল হরিনাম সবে, অনায়াসে মায়া ছিন্ন হবে। কে ১৫৯। মাময় নিত্যানন্দ যারে তারে দয়া, দেশবাসিগণ সুখী নিতাই হেরিয়ে, প্রথম সর্গ WWW • ০৫ দুই শত বালক ভকতে মিলি হরিগুণ গায়, ক্রমে সব মাতে প্রেমানন্দে। ১৬। হারাণের বক্ষে বাজে তীব্র শােক-শেল, দুর্দিনের ছায়া আসি পশিল হৃদয়ে বালকের উপৰীত দিনে এয়ােদশ বরষের একাদশ দিবসে, মাধব ১৬১। নিতাই লইতে যবে আসিল ভবনে ; হেরিয়ে মাধবমূর্তি জ্ঞানহত পিতা, বাতাহত কালি পত্রের প্রায় উঠল কম্পন, উঠিল ক্রন্দন অতি রােলে। পায়ে পড়ি পঞ্চ দিন ভিক্ষা মেগে ছিল, পাঁচ দণ্ড ভিক্ষা নাহি দিল মাধবেন্দ্র, দত্ত অপহারী কেন হবে মহাশয় ? কেবা ইচ্ছে বাস নিয়েতে"। ১৬৩। জনমের মত পদ্মা বক্ষে নিতে চাহে, বার এক ক্রোড়ে নিতে না দেয় মাধব, নিতাইর করেতে ধরিয়ে, গেল চলি মাধবেন্দ্র গ্রামবাসী করে হায় হায় ।। ১৬৪। মূৰ্জিত হইয়া সবে ধরণী উপর, ছিল্পতরু প্রায় পরে নিতাই ভাবিয়া, ৩৪ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর পদ্মাবতী রহিল সুধী, অধীর হারাই বিজ আর যত গ্রামবাসী ললাকে। বল্লভ আচাৰ্য এক নবদ্বীপ ধামে, তাহার তনয়া হয় লক্ষ্মী তার নাম, নিরুপমা বিদ্যুৎ বরণী, আঁধারে করিছে আলাে সুলাবণ্যে স্থির সৌদামিনী। ১৬৬। সুভাষিনী স্নেহলতা সুরসিকা অতি, পৃষ্ঠে দোলে কেশদাম যেন কাল ফণী, তিল ফুল জিনিয়া নাসিকা, নয়ন তরল তার, মুখপদ্ম অতি মনােহর। ১৬৭। সবােজ শিরীষ কুচ শশাভিত বক্ষেতে, হরি-কটি জিনি কটি, নাচনি হাটনী, পদতল রমণীয় শােভা, চলিতে চঞ্চল, তবু রবি শশী না পারে হেরিতে । ১৬৮। জননীর স্থানে সতী প্রকাশে বারতা, গৌরাঙ্গে বিবাহ করিয়াছি চিত-মনে, পতিব্রতা সতীর সতীত্ব রাখ স্নেহময়ী মাতা, পিতার নিকট বল কথা। ১৬৯। সূতার ভারতী নারী স্বামীকে কহিল, ফুল্ল মনেতে বল্লভ করিল স্বীকার, প্রথম সর্গ Ww শুভ দিনে হইল বিবাহ শচী দেবী নিল কোলে, সুলজ্জিত নব পুত্রবধু । ১৭। গৌরাঙ্গের নাম দেশে হল পরচার ; ঈশ্বর লক্ষণ হেরি,-শাস্ত্রে যেই মত, হরিনামে সকলে মাতিল, উঠিল মঙ্গল রব, প্রেমেতে মাতিল গৌরদেশ । ১৭১। সুগভীর নাদে নাদী পশুরাজ প্রায়, হরি বলে গােরা নাচে ভকত সঙ্গেতে ; হেরে তারা এক সময়েতে অনেক গৌরাঙ্গ দলে দলে ফিরে নাচি ৷৷ ১৭২। উপদেশে ভক্তগণে গৌরাঙ্গ সুন্দর, ব্ৰজ জন ভাবে সবে করহ সাধন, ভক্তি পথে চল ভক্তগণ, প্রেমেতে পূরিবে অঙ্গ, হরিনাম করহ কীৰ্ত্তন। ১৩। জীব মাত্রে ইষ্ট জ্ঞান সকলে করিবে, তৃণ হতে নাচ জ্ঞান জানিবে আপনে, তরুম ধৈরজ ধরিবে, কারাে না লইবে দোষ, হরিনাম করিবে প্রচার। ১৭০। জ্ঞান, যােগ, কর্মে অতি কঠিন সাধন, তােমাদের পক্ষে ইহা নহে সুব্যবস্থা, শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর ভক্তিপথ অতি হে সরল, ভাই ব্ৰজের ভাবে, অচিরে পাইবে রাধারে। ১৭৫। বংশী-বট, শ্যামকুণ্ড, রাধা-কুণ্ড-যত কুঞ্জে কুঞ্জে রাধাকৃষ্ণ করেছিল কেলি, আপনার্থে বলি বিবরিয়া - পুলিন বিহারী হরি প্রেমের মূরতি বনমালী। ১৭৬। ভালবাসা বিনে তার না হয় সাধন, মঞ্জুরী হইতে সবে করহ লালসা, সাবধানে শ্রীরূপের দাসী হইতে করিবে যত্ন, তবে পাবে রাধা ঠাকুরাণী। ১৭৭। জীবন যৌবন দান করহ শ্যামেরে, ভাবের তরঙ্গে রঙ্গে ভালবাসা হবে, ভাবময়ে ভাবময়ে ভাব, মন প্রাণ ডুবি যাবে, গােপী ভাব হবে প্রেমভাবে । ১৭৮। বিধি-ভক্তি, বেদ-ধৰ্ম খলিত হইবে, কান্ত ভাবে কৃষ্ণ প্রাপ্তি দেহান্তে করিয়া, নিত্যধামে যাইবে চলিয়া, নব নব রসে মাতি নিত্য বাসে রহিবে সর্বদা ॥ ১৭৯। এই সব উপদেশ শুনি লক্ষ্মী দেবী, গরজি উঠিল দেন বিজাতীয় ফী ।
প্রথম সর্গ MAN এ নিয়ে ভােলনি রাধায় ? রাধা কান্তি ধরি বুঝি নবদ্বীপে হ'লে আবির্ভাব ? ১৮। এত অপমান কার সহ হয় প্রাণ, সুধীরা অধীরা হয় সপত্নী বিরােধে, বারেকের তরে অভাগিনী আসে অন্তরে তব, অন্তরে রেখেছ প্রাণনাথ । ১৮১। “খলের পিরীতি হয় জল-রেখা সম, তিলকের প্রায় ভালে থাকে ক্ষণকাল, মুখে মধু সম্পটিয়া! জীবনেতে সপি প্রাণ জুড়াব জীবন। ১৮২। শ্রীলক্ষ্মী-গােবিন্দে রক্ত যত ভক্তগণ, বিধিমতে ভজে, মানি উতম ভজন, বেদ ছাড়ি ভজিতে বলিলে ব্রজের গােপিনী মতে- বাড়াইলে রাধার সােহাগ।” ১৮৩। এত বলি মান করি ভূমে শয্যা করি, কাদিয়ে নয়ন জলে ধরণী ভিজায়, মনেতে জানিল পুরবের সব কথা : উপদেশ দিলেক সতীরে- ১৮৪। “দ্বারকা-নিবাসী আর মথুরা-নিবাসী, ঐশ্বৰ্যেতে অনুরক্ত যত জীবগণ, চৈতন্য লীলার WWW অর্জুনের রথে . যে দেখিল কৃষ্ণরূপ নমিয়া ভৰিৰে তােমায়। ১৮। তনি সতী মান ত্যজি উঠিল ত্বরিত, নূতন প্রেমেতে করে দশ-এ সেবা, কিন্তু হায় কর্দমের প্রায় রহিলরে হৃদে দাগ, অঞ্চলেতে বাঁধিল পাবক। ১৮৬। বিক্রমপুর পােড়াগাছা বিদ্যার মন্দিরে, ছাত্র অধ্যাপনে গােরা গেল তথাকারে, পিতৃগৃহে গেল লক্ষ্মীসতী বল্লভ আচাৰ্য সূতা ; অহঙ্কারে যায় যা তথা । ১৮৭। বিরহ-ভুজঙ্গ বিয়ে কশা তিল তিল, হইলরে নিতি নিতি পূজন্ম ফলে, উন্মাদিনী এলােকেশী মা, গৌরাঙ্গ-ভাষণ মুখে, বেশ ভূষা দলিত পদেতে । ১৮। হেৰি হেন ভাৰ বলে কুপিত বল্লভ, ‘অহঙ্কারে প্রতি অঙ্গ করিছে নর্তন, লাে বালিকে। মানহীন জনে ইচ্ছা করে কর বিভা; প্রজ্ঞাহীনা, আগে না বুঝিলি।” ১৮৯। “কুল নাহি, জাতি শূন্য, অনাৰ্য্য আচার, বরিলে এ হেন বরে কি লাগি অবলা প্রথম সর্গ ভিখারীর ঘরে কি সুখ, থাকহ আমার ঘরে, অন্ন বস্ত্র পাইবে এখায় 4 ১৯। “ভূত নাচাইয়া ফিরে হরি হরি বলি, কাজীর পাড়াতে গেল নাহি জাতি ভয়, বুড়া শিব আলয়ে না যায়, যায় পােমা তলে, ক্ষেপেছে এ নবীন বয়সে। ১৯১। পিতার বদনে শুনি এ সব ভারতী, কুপি হইল লক্ষ্মীযেন হতাশন- ‘হেরিনা তব মুখ আর, সতীর নিকটে পতি পরম ঈশ্বর সম জ্ঞান। ১৯২। “রম কম পতি জীবন যৌবন, পতি তপ, পতি জপ, সাধন ভজন, পতি নিন্দা ! এ হেন ভারতী। পিতঃ! কি বলিব, হায়! এ দেহের কিসের গরিমা ?” ১৯৩। “মাের পতি পরমেশ গৌরাঙ্গ সুন্দর, তাহার দাসের দাস হতে হবে তব, জন্মান্তরে” ছুটিলরে উ- প্রায় সতী, কে রােখিবে মণি হারা ফণিনীর গতি ।। ১৯৪। কবরী খসিল, কায় ধূলি-ধূসরিত, ঘন ঘন খাস বহে সৰ সন রবে, ৪০ শ্রীচৈতন্য লীলার - গণে বলে ক্ষণে উঠে হায়, বিকার-রােগীর প্রায় হইয়াছে ভংসনে পতির । ১৯৫। হারাইল দিব্যজ্ঞান হ’ল উন্মত, হারাইল আনরূপ গৌরাঙ্গ রূপেতে ; বলে ধর! —এই যায় গােরা! নাথ মাের। প্রাণের ! বাহুপ্রসারিয়া ধনি ধায়। ১৯৬। গােরার তুলসী-বনে হয়ে উপনীত, “চতুর চঞ্চল গােরা ধর ধর ধর ! সখী ভাবে সম্ভাষে তুলসী, সখি।রধর ধর গােরা”- বলি ধনি ঢলিয়া পড়িল । P = ১৯৭। মালসাট দিয়ে ধনি উঠিল অমনি, ছুটিলরে বিজন বিপিনে একাকিনী, সম্বােধিকা বলে প্রভাকরে কঁদিয়া কাঁদিয়া ভাষা- “দিনমণি। শােনহ ভারতী-- ১৯৮। “হবে মাের ত-ত্যাগ লিপি আছে ভালে, মম শােকে সখা যেন না হয় কাতর, লক্ষ্মীছাড়া হয়ে মম পতি সন্ন্যাসী হইবে শােকে , শচী মাতা বঁচিবে কেমনে! ১৯৯। বলিও গাে শচী মাকে বারতা আমার, সেৰিয় তিল-অাধ তাহার চরণ, প্রথম সর্গ ৪১ ৩। / \\ \ In // / * ১১। মনসাধ মনেতে রহিল, পুরিল মাের ভালে; দেখ রেখো যতনে নাথেরে। ২০০। “পতির বিরহে প্রাণ আকুলিত মোর, জীবন যৌবন মাের সপেছিনু তায়, আমি তার সে হয় আমার,- তিল আধ নাহি ছাড়া । একাকিনী কেমনে থাকিব৷ ২০১1 ‘না পুরিতে আশ মাের না মিটিতে সাধ, চলি গেল নাথ মােরে ফেলি একাকিনী, প্রাণনাথ, আমার শােকেতে, রবে উনমত সদা ; উপদেশী বলিও তাহাকে। ২০২। “শােকেতে পাগল গােরা অধীর হইয়ে, নাহি যেন ভ্রমে কভু পশুপতি প্রায়, মমদেহ শিরেতে ধরিয়া, শ্ৰীঅঙ্গে লাগিবে ব্যথা, পােড়া দেহ দিও হুতাশনে ॥ ২০৩ কপিল গাে প্রতি- অঙ্গ বাত রােগী প্রায়, উপজিল মহাশ্বাস, হাঁপানী-কাতর, “অন্তর্যামী ? জানিছ সকলি, দেখা নাহি দিলে তবু ? এ খেদ রহিল মম চিতে।” ২৪। বলিতেবলিতে সতী হেরিলা আঁধার, সােনার প্রতিমা বুঝি হ’ল বিসর্জন, ৪২ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর We ধরণীর কোলেতে পরিল, “প্রাণনাথ!” বলি সতী, ছিন্ন তরু পরে যথা ভূমে । ২০৫। মনে মনে লক্ষ্মী-সতী জপে গৌর নাম, হইল আঁধার আজি এ গৌড়ীয় দেশ, দিবাভাগে ডাকিছে শিবায়, ঘুচিল রবির তেজ, বজ্রাঘাত হ’ল বিনা মেঘে। এ দিকেতে লক্ষ্মী-শূন্য বৈকুণ্ঠ ধামেতে, দিবাভাগে অন্ধকার ভূগর্ভ সমান, ধরাধামে বিরিঞ্চি আসিয়া কর জোড়ে করে স্তুতি, “ক্ষম মাতঃ অপরাধ মম।” ২০৭। ধীরে ধীরে বলে রমা,—“শোন বৎস্য ধাতা, দশিবেগাে তুমি মােরে হয়ে কাল-ফণী, জানি আমি সকল ভারতী, দোষ নাহি তব, বাছা ! কৰ্ম্মফল অবশ্য ফলিবে। ২৮। “মরণ নাহিক কারাে দেহ ত্যাগ শুধু, নব দেহে নব ভাবে যায় নব গৃহে, পতি নিন্দা শুনিয়ে শ্রবণে, মরিতেছি, বাছাধন! লােক শিক্ষা তরে এ ভারতে ২৯। “লােক নিস্তারিতে এলো শ্যাম সুন্দর, শ্রীরাধার ভাব কান্তি করি অঙ্গিকার, প্রথম সর্গ ৪৩ আমি জিতে হবে সন্ন্যাসী, তরিবে কোন জীব, বিষ্ণুপ্রিয়া হবে না ঘরণী। ২১০। ইহা বলি আশিষিয়া পুনঃ সম্বােধিল,- “বিলম্ব না কর বিধি জ্বলিতেছে হিয়া ধাতা কাদি বলে,-“মােরে ধিক, মাতৃহন্তাকারী সূত কেন মােরে করিয়াছ মাতঃ ২১১। সুমধুরে বলিলেন ব্রিজগত মাতা, “লক্ষ্মী তিরােভাব বিনে না করিবে জীব, রুষিবেক হরিহর দোহে ; আমার স্বরূপ বৈল ব্ৰহ্ম-হরিদাস হরিভক্ত। ২১২। শুনি ধাত। ভূজঙ্গের রূপ ধরি হায়, দংশিলরে কমলার চরণকমলে, ব্ৰহ্মলােকে উড়িল বিধাতা মন-খেদে, লক্ষ্মী দেবী ত্যজিল জীবন গােরা-শােকে। ২১৩। গুপ্ত-বিবরণ শচী না জানি বধু, সংজ্ঞাহীন হয়ে পরে ধরণীর কোলে, বিলাপিয়া কঁদে মাতা শশাকে, ন'দেবাসী কঁাদিলরে বিনায়ে বিনয়ে কত ছাদে। ২১৪। কাদিল বল্লভপতি বক্ষে হানি কর, শিরে হাত দিয়ে কঁদে বল্লভ আচাৰ্য্য, ৪৪ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর সবিস্তারে লিখিব কতেক কাদে পশু পাখী যত, ভূচর খেচর মাতৃহীন। লক্ষনীর ষড়পীই ২১৫। সতীমাতা দেহ যথা বিষ্ণুচক্রে কাটি, একান্নটি ভাগ হয়ে পড়ে ধরণীতে, একপীঠ একটি ভৈরব, তেমনি লক্ষীর নাভি ছয় খণ্ড করিল অদ্বৈত ॥ ২১৬। অদ্বৈত ফেলিল নাভি ছয় খণ্ড করি, বিবরিয়ে পরে বলি সে সব বারতা, লক্ষ্মী গেল বৈকুণ্ঠ নগরে, দেবগণ আননেতে, করে স্তব স্তুতি কর-যােড়ে । ২১৭। দেখ সব আর্যগণ মনেতে বিচারি, অপমৃত্যু নহে ইহ, ইচ্ছায় মরণ, মরে লক্ষ্মী জীব উপকারে, যেমন দধীচি মুনি ইন্দ্র লাগি ছারে নিজ প্রাণ । ২১৮। লক্ষ্মী প্রতি অভিশাপ কিছুই না গণি, জীব শিখাইতে করে এই সব লীলা ; এবে বলি পীঠ বিবরণ বিবরিয়া ভক্তগণে, স্থির মনে শুনহ ভাষণ।
প্রথম সর্গ ০৫ - ২১৯। একখণ্ড ফেলে দিল শ্বেতদ্বীপে হর, শ্বেতশায়ী হয়ে বিষ্ণু অংশরূপে আছে, হল পীঠ লক্ষ্মীর অংশেতে; তথাকার লােকে ভজি দেহ অয়ে যায় বিষ্ণুলােকে। ২২০। একখণ্ড ফেলি দিল যথা শাকদ্বীপ, গন্তোদশায়ী বিষ্ণু থাকেন অংশরূপে, হল পীঠ লক্ষ্মীর অংশেতে ; তথাকার লােকে ভঙ্গি বিষ্ণুলােকে করিবে প্রয়ান। ২২১। একখণ্ড ফেলে দিল প্লক্ষ দ্বীপ মাঝে, ক্ষীরােদশায়ী নামে বিষ্ণু অংশেতে স্থিতি, পীঠ হল লক্ষ্মীর অংশেতে ; তথাকার লােকে ভজি জীবনান্তে গেল বৈকুণ্ঠেতে। ২২২। তথাকার ভক্ত ভিন্ন ভিন্ন নাম ধরি, ভজিতেছে লক্ষ্মী-বিষ্ণু ভক্তি-প্রকৃতিতে, কোন সনে নাহিক ইহাতে ; বিশ্বাসে মিলিবে কৃষ্ণ তর্কে তারে পায় বহুকালে। ২২৩। একখণ্ড ফেলে দিল শাল্মলী দ্বীপ মাঝে, পাতালেতে গেল লক্ষী বাকি নিকটে, হল পীঠ লক্ষ্মীর প্রকাশ । বিষ্ণু-প্রদ্যুম্ন নামেতে বাকি করমে সদা পূজা।
৪৬ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর । এ!! - । । ১L 44 • % ৭ ২২৪। পরম মঙ্গলময় শান্তিপুরমণি, জীব অনুকূলে তিনি নহে প্রতিকুল, কোন তাপে হয় তাপিত, সুশীতলে চাহে রাখি, করমের ফলে ঘুরি মােরা। লক্ষ্মীর পুনর্জন্ম। ২২৫। দ্বাপরে অক্রুর মুনি-পুরীতে জনম, বাসুদেব সাৰ্বভৌম নাম ছিল তার, পণ্ডিতের শিরােমণি তিনি, ষড়ভূজ দেখা ভালে ছিলরে তাহার কাবরে ॥ ২২৬। পূর্ব অঙ্গীকার ছিল অক্রুর মুনিরে, তাহার পত্নীর ইচ্ছা ছিল চিতে সদা, লক্ষ্মী জনমিলে ঘুচিত এ দারিদ্রতা সচ্ছন্দে যাইত দিন চলে । ২২।। ঋতুস্নান করে যবে বাসুদেব জায়া, হেনকালে একখণ্ড তেজোময় রূপ, পশিলরে উদর মাঝারে ; সেই গর্ভে হল সুতা, যাটি নাম রাখিল তাহার । ২২৮। অনিরুদ্ধ নামে বিষ্ণু অংশ পূরবেতে, কটকে অমােঘ নামে লভিল জনম, বিবাহ সে করিল ষাটীরে, প্রথম সর্গ ৪৭ vds/v,My tv 9 বাঁশী ফুকারিয়ে সদা থাকিত সে শশুর আলয়ে। বিষ্ণুপ্রিয়ার বিবাহ। ২২৯। হেনকালে নিলাম্বর সীতানাথে নিয়া, উপনীত হ’ল আসি শচীর নিকটে, শাকরি বসাল মাতারে, সংকার করিল সবে, হরিধ্বনি করি উচ্চরােলে। ২৩০। অভিশাপমুক্ত করিবারে সত্যভামা, সনাতন গৃহে লােক পাঠায় গৌরাঙ্গ, বিষ্ণুপ্রিয়া নেহারি নয়নে পুত্তলিকা প্রায় রহে ঘটক ঠাকুর আঙ্গিনায় । - ২৩১। নবীন নীরদ নীচে চন্দ্রকান্ত মণি, ঝলসিছে ধরাপরে বিদ্যুত-লতিকা, অসম্ভব! স্থির ! অচঞ্চল ! অহহ! বালা কি রূপসী। চমকিছে ক্ষণ-আভা পায় ।। ২৩২। থাকে কি মানবে কভু এরূপ কিরণ ? ভুবন মােহিল হেন রূপের ছটায়, নেত্র রােগে হেন বুঝি হেরি, অথবারে ভ্রান্তি দূতী নভেছে আয় বৃদ্ধকালে। ২৩৩। এই কিরে সনাতন তনয়। সুন্দরী ? নিজ করে পুনঃ পুনঃ আঁখি মাৰ্জনিয়া ৪৮ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর **** ।। , নয়নেতে হেরিলরে ছবি, জ্যোতিঃ অভ্যন্তরে বসি মৃদু মৃদু হাসিতেছে সতী ২৩৪। আঁখি পালটীতে নাহি পারি হেন রূপে, নবীন নীরদ নহে,-কেশ রাশি রাশি, মণি নহে অহের বরণ, মুক্তা আভা নহে, ভ্রান্তি বদনের দশন পংক্তিতে। মৃদু হাস্য হেরি ভাবে-তড়িৎ ঝলসে, গোরা চিত হরিবেক এই বিষ্ণুপ্রিয়া, অতি মনােরম যােগ্যে যােগ্য মিলিবেক, বর পাত্রী হইবে সমান । ২৩৬। শচীর আলয় সদা রবে আলােকিত, প্রেমানলে মনােরলে মুখে যাবে কাল, নবনীত নিরমল কায়, হাসিতে ক্ষরিবে সুধা, বধূ লভি জুড়াইবে হিয়া। ২৩৭। রূপ চিন্তি দুই পদ অগ্রসর হতে, শবদ শ্রবণে মন আকুল হইল, ধীরে ধীরে আসিয়া নিকঠে জিজ্ঞাসিল,-“তৰ নাম ?” বিষ্ণুপ্রিয়া দিল পরিচয়। ২৩৮। চমকি উঠিল দ্বিজ সুধা-ধ্বনি শুনি, ‘হরিখনি এই রমা, মনেতে ভাবিল, প্রথম সর্গ ৪৯ বীণাপাণি বীণার ঝঙ্কার, অথবারে নববধূ কঙ্কণ-কিঙ্কিণী জিনি স্বর । ২৩৯। কোন্ বিধি নিরমিল বিরলে বসিয়া, ধন্য তায় যে রচে গাে কিরণে কিরণী, কি উন্নত বিমল কিরণ। উজলিল দশ দিক যেন কোটা চকামণি । ২৪। বালারূপে বাল ভানু লজ্জিত বদনে, লুকাইত হল কিবা পাতাল ভুবনে, দিবানিশি মরমে রহিল, ভুলিতে পারিনা তায়, চমকি ঝঙ্কারে মাের তনু। ২৪১। চিতে চিন্তি বিজ-সূত প্রত্যাগত হল, উত্তরিল যথা ব'সে আছে গৌর-মণি, জ্ঞপিলরে বিবরিয়া ভাষা; বিবাহ করিতে শচী করে অনুমতি সুখ-চিতে। ২৪২। হইল উভয় দলে বিবাহের কথা, পুরবালা যত গায় সুমঙ্গল গীত, প্রেমানন্দে দেয় উলুধ্বনি, করিল মঙ্গল রীত, শচীমাতা চিত পুলকিত। ২৪৩। অৰ্যামি-ভারতীর নিঠুর-ভাষণ। হেম নিদারুণ ভাষা কেমনে ভাবি ;
শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর বিষ্ণুপ্রিয়া পূরব জনমে ছিল সত্যভামা সতী ভাসিলরে ভবিষ্য বারতা :- ২৪৪। “স্বামীর বিরহানলে জ্বলিবে হৃদয়, উপবাসে উপবাসি হইবে সন্ন্যাসী বাসে বাসে, পীতবাসে ভজি জীব উদ্ধারিতে গােরা নির্বাসিত হইবে আপনি ২৪৫। নিবিড়ে নিবিড়ে সতী কালি বিস্তর, দুঃখ-পয়ােনিধি নীরে বাড়িল তরঙ্গ, পুরবের কথা স্মরি ধনী মুচ্ছিতা হইল, হায়, ক্ষণ পরে লভিল চেতন। ২৪৬। নয়নের নীর মুছে নিজ অঞ্চলেতে, গুরুজন ভয়ে কিছু ফুকারিতে নারে, বিরলেতে রচি ফুল-হার পুজিল গৌরাঙ্গ দেবে; অন্তর্যামি জানিল সকল ।। । ২৪৭। হেনকালে প্রিয়নম্র সখিদল যত, বিষ্ণুপ্রিয়। নিকটেতে হাস্য পরিহাসে বলে, “সখি । অপূর্ণা কেনে? সৌভাগ্য উদিত এবে, ধর বেশ ভুষণ যতনে। ২৪৮। “নব নটোবর বর রসিক নাগর, রূপে গুণে তুলা নাই ভারত মাঝারে, প্রথম সর্গ ৫১ ইচ্ছা হয় দিয়ে কুলমান জীবন সপি ও পদে ! কেনল তাের মলিন বয়ান” ? ২৪৯। আর সখি বলে,-নহে চপলা-চঞ্চলা, অধীরা হয়েছে ধনী স্বামী নাহেরিয়া, ধৈর্য্যধর কালি হবে বিভা, পাইবে মনের মত মনােহর নাগর সরে ।। ২৫। হাসি হাসি বলে সতী,-পােন প্রাণ-আলি ! মরমের কথা সব বলি বিবরিয়া, তোমাসনে হইবে দেখা তাহাতে চঞ্চল চিত, একে আর করহ চাতুরী । ২৫১। সখি বলে,-“হৃদয়-প্রেম-কুসুম বনে ফুটিলে কুসুম কলি, বাড়িবে আদর, সােহাগিণী হবি, প্রাণ-আলি ! ভুলে যাবি সব কথা, প্রেমানলে ডুবে যাবে প্রাণ। ২৫২। “ঈশ্বরের লক্ষণ গৌরাঙ্গ শরীরে, ভাবের তরঙ্গ হেরি বৈরাগ্য লক্ষণ, সৰ্ব্বত্যাগী যাতে নাহি হয় করিবি যতনে সেবা; রাখিবি লাে নয়নে নয়নে। ২৫৩। পতি-রতন করিবি যতন সদায়, পতি ধৱম করম তপ জপ মন্ত্র, ৫২ শ্রীচৈতন্য লীলার বিষ্ণুপ্রিয়া । নিবি হরি নাম, ভাল বাসিবে গৌরাঙ্গ, ভালবাসাই মধুর প্রেম”। বিষ্ণুপ্রিয়ার বিবাহ। ২৫৪। হেনকালে নহবত বাজিয়া উঠিল, মঙ্গল আরতি অধিবাস আদি করি, আমােদেতে মাতিল সকলে, রীত-কাজ যত ছিল করিলেক যুবতী সকলে। ২৫৫। আহােরাত্রি সংকীৰ্ত্তণ নবদীপ ধামে হরিনাম ধ্বনি উঠে নভাে দেশভেদী, হরি ধ্বনি বিনে নাহি শুনি, ভকত মণ্ডল মাঝে অদ্বৈত নৃত্য করিছে রঙ্গে।। ২৫৬। কেহ হাসে, কেহ কাদে, কেই নৃত্য করে, ধূলায় ধূসর কেহ যায় গড়াগড়ি, কেহ গীতা কেহ ভাগবত পাঠ করে প্রেমভরে, কেহ খােল বাজায় প্রেমেতে ২৫। সুরধুনীর ধারা প্রায় প্রেম-প্রবাহে, মাতিল ভকতগণ আত্মহারা হয়ে, দেবগণ করে পুষ্প-বৃষ্টি, মাদল বাজায় বলে, মহামহােৎসব আরছিল।
প্রথম সর্গ ৫৩ ২৫৮। বাজিতেছে নহবত টিকাড়া সানাই, জয়ঢাক জগঝম্প ঢোল কাসী বশী, শুভদিনে ওভক্ষণে ৰণি বিবাহ হইল, সবে প্রেমানন্দে দিলেক যৌতুক। ২৫৯। কুসুমে রচিল শালা অতি মনােহর, কুসুমের শয্যাপরি, পুষ্প উপাধান, চন্দনের আর কুমকুম, গন্ধে ভরপুর গেহ, সৌরভে মাতিল সবচিত। ২৬। বর-কন্যা নিল সেই আবাস ভিতরে, হাস্য পরিহাস করে যতেক মন্ট, গােলকেতে হ’ল পরিনত জগয়াবেরি আলম, হ'ল আজি নবীন আনন্দ। ২৬১। মহামহােৎসৰ হ’ল পর দিবসেতে, জলকেলি করে সবে আনন্দ অপার, সীতানাথ ভােগ সরাইল তুলসী ও গঙ্গাজলে, সে আনন্দ কি লিখিব আর । নিত্যানন্দ মিলন। ২৬২। গঙ্গাতীরে ছিল এক কুসুম-কানন, তরুণ বিটপী তথা উন্নত আননে, মনােহর কুসুমেরি ঝড় ৫৪ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর দলে পূজা লভে সুখে ; ছুটীল-সৌরভ রাণী রাশী । ২৬৩। অমিধুলােভে লদল মধুপান করে, পাখিকুল কুল কুল রবে তরুডালে, উড়ি করে, মুকুল আহার, ডােবে মন শান্তি রসে, পিকগণ করে কুহুধ্বনি। ২৬৪। মলয়ার সমীরণ স্ব স্ব করি, আলিঙ্গিয়া তরুঅঙ্গ খেলিছে বাহার, শিখী কুল নৃত্য করে যত, রমণীয় শােভা তাহে, স্বর্গভূমি যেন নিরমল । ২৬৫। রচি পর্ণশালা তথা গহণ-নিবিড়ে, নিত্যানন্দ হরিনাম করে নীরবেতে, একদিন শ্রীগৌরাঙ্গমণি কুম চয়নে যেয়ে সােনার তপন হেরে তথ। ২৬৬। চিনিলরে সুজহুরি মাণিক রতন, ভাই হলধর এল মিলিতে আমায়, নব দেখা নব নব রসে ; দৃঢ় আলিঙ্গনে ধরে, একে আরে না চাহে ছাড়িতে || ২৬৭। স্থির আঁখি-গােলকে গােকরেরূপ পান, নয়নে নয়ন, মন সহ মন মিশি, নিত্যনন্দ প্রেমে ডগমগ প্রথম সর্গ : ৫ উথলিয়া প্রেমসিন্ধু হইলরে ধ্যানধরা যােগী ।। ২৬৮। কোটী সুধাকরে কোটী বালভানু মিশি, ছুটিলরে রূপধারা অনন্তের পথে, দেবগণ চমকিত দেখি; স্নান হৈল বৈজয়ন্তি তেজপুঞ্জ অমর নিবাস ।। ২৬৯। না, না, না, না, বুঝিয়াছি নব রবি নৃহে, গােলকের রামকৃষ্ণ নররূপ হয়ে, জীবলাগি নবদ্বীপ ধামে অবতীর্ণ দুই, তাই জ্যোছনায় ভরিল লিলােক। ২৭০। কতক্ষণে ধীরে ধীরে বলেন নিতাই, তব অন্বেষণে আমি ফিরি বনে বনে, ভাল হল হেরিলাম তােম, আজি শুভদিন মাের, শান্তি নিকেতনে আজি স্থিতি। ২৭১। গদ গদ ভাবে গোরা হাসি হাসি বলে, প্রাণের বান্ধব তুমি প্রাণ-নিত্যানন্দ, চল ভাই আলয়ে আমার, থাকহ আমার বাসে দুটী ভাই একান্নে রহিব । গদাধর মিলন। ২৭২। ধীরে ধীরে দুই ভাই চলিল ভবনে ; স্যমন্তকমণিবৎ হের এক নর,
শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাম্বুর
সর্ব অঙ্গ
নবনী জিনিয়ে,
ধরিল গােরার পায়,
‘গদাধর’ বলি দেয় নাম।
২৭৩। গদাধর হেরি গােরা রাধা কৈল জ্ঞান,
আনন্দে বিভাের হয়ে নৃত্য করে সুখে,
নবদ্বীপ
হল উল্লাসিত
রাধা রাধা বলি গােরা
ভাসিল গাে প্রেমের সাগরে।
বাস মিলন।
২৭৪। ক্ষণকাল নৃত্য করি প্রেম সম্বরিয়া,
তিন জনে চলে যবে গৌরাঙ্গ ভবনে,
এক নর
ধবল বরণ,
যেন অকলঙ্ক শশী,
ভূমি পৃষ্ঠে যায় গড়াগড়ি ।
২৭৫। হেরি গৌড়বলে,—ওহে নিত্যানন্দ রায়,
ঐ মানবে হেরি যেন নারদ আকৃতি,
হেন কালে
বাস আসিয়ে
প্রণমিল গৌরপদে ;
বলি নাম দিল পরিচয় ৷
২৭৬। গােরা বলে বল হরি' চিনেছি তােমায়,
অদ্বৈতের কৃপা বলে হেরিনু সবায়,
প্রেমে মাতি
সবে বলে হরি,
নৃত্য করে বাহ তুলি,
কেহ ঢলি পরে ধরনীতে ।
প্রথম সর্গ «,,,।। ১ ^^^^ -WWW. ২৭৭। করী গুণ্ডাঘাতে যেন কমল কানন, ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পরে অবনি মাঝারে, সেই ভাবে মূচ্ছাগত সবে, জীবে শিখাইতে নীতি ;- জগদীশ দয়ার অকর।। ব্ৰহ্ম হরিদাস মিলন। ৭৮। ধৈয্য ধরি তিন জন গৌরাঙ্গ আলয় ফুল্লমনে চলিয়াছে অতি ধীরে ধীরে, - দেখিলরে যেন দাবানল আসিতেছে গােরাদিকে, অঙ্গের কিরণ হুতাশন। ২৭। প্রজাপতি নিজে,জানি গৌরাঙ্গ সুন্দর, ধাবিত হলেন গােরা বেগে সমীরণ ; “হরি আমি, কাজির ভনয়, ধৈরণা—আমায় গােরা, যাবে জাতি, জেতে মহম্মদ”। ২৮। গৌর বলে, “জীব মাত্রে ইষ্ট জ্ঞান করি, ইষ্টের জাতির কিবা আছে পরিচয়, জাতিভেদ অজ্ঞানীর পক্ষে, সাধকেরা নাহি মানে, জাতিভেদে সাধন বিনাশ। ২৮১। জীব-জনম ধরিয়ে পরম ঈশ্বর অনন্তরূপে, অনন্ত জগতে, অনন্ত লীলাখেলা করিছে অনন্ত, ৫৮ শ্ৰীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর * ৭nanan A+ + + + + na। ।। 11/\/\/\+ 15% সৰ্বস্থানে হয়ে ব্যাপ্ত, অপরিচ্ছন্ন ভাবে বিদিত”। ২৮২। ক্ষিতি, অপ, তেজ, বায়ু, আকাশ এ পঞ্চে গঠিত সকল দেহ দেখং বিচারি, অাত্মারূপে আছে জগদীশ ঘটে পটে বিরাজিত, বিচিত্র চিত্রে প্রকৃতি ভিয়” । ২৮৩। “গীতা মধ্যে কৃষ্ণ বাক্য আছে সুবিদিত, প্রকৃতি পুরুষরূপে বিরাজে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীকৃষ্ণকে কৃষ্ণ করে বিভা, কৃষ্ণ গর্ভে কৃষ্ণ আসে কৃষ্ণ বিনে কিছু নাহি আর। ২৮৪। “জ্ঞানীগণ আৰ্যজাতি অজ্ঞানী অনাৰ্য, লেখা আছে সেই তত্ত্ব বেদে বিবরিয়া, মনু স্মৃতি শাস্ত্রেতে লিখিল, অবিদ্যা কারণে ভেদ ; মায়াধীসে দেখে একাকার। ২৮৫। “ধ্রুব এক কৃষ্ণ রহে ৰিবিশ্ব ব্যাপিয়া, দেব মানব পশু পক্ষী কীট পতঙ্গ, স্থাবরাদি জঙ্গম পর্যন্ত ঘটে ঘটে বিরাজিত, এক কৃষ্ণ বিভিন্ন রূপেতে”। ২৮৬। “তাই বলি একজাতি মনুষ্য সমাজ, “একমেব অদ্বিতীয়ং আছয়ে গীতায়, রূপান্তর কি অবস্তর প্রথম সর্গ এ সকল বিচিত্রতা ; লীলা স্বয়ং করে ভগবান”। ২৮। অবিদ্যার ক্রিয়া আর দ্বেষ পরিহরি, ভজহ ৰজের ভাবে শ্যামল সুন্দর, বাক্য মন অগােচর শ্যাম, বেদে শাস্ত্রে না পাইবে; ভালবাসা রাগেরি ভজন”। ২৮৮। এত বলি অট্ট অট্ট হাসিয়ে গৌরাঙ্গ, আলিঙ্গন করিলেন বিরিঞ্চি জানিয়ে, হরিদাস ছিন্নতপ্রায় পতিত হইল পদে, বিবিধ করিল স্তব-স্তুতি। ২৮। নিত্যানন্দ-হরিধ্বনি প্রতিধ্বনি করি, ধাবিত হইল যত নদেবাসীগণ, নাচে গােরা নিত্যানন্দ রায়, নৃত্য করে হরিদাস শ্রীনিবাস গদাধর শক্তি। ২৯০। পঞ্চ প্রভু নৃত্য যেবা দেখিবারে পায়, আপনা পাসরি নাচে, কেঁদে গড়ি যায়, কোলাহল শবদ প্রচুর, ৩ হরিবােল হরিবােল রবে মিলে মৃদঙ্গ মধুর। ২৯১। পুরুষ যােষিৎ কিবা স্থাবর জঙ্গম, চন্দ্র সুৰ্য তারা আদি যত চরাচর, নাচিতেছে হইয়ে বিভাের, শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর বিশ্বতালে, তালে তালে, বিশ্বম্ভর ইচ্ছাতে সবাই। ২৯২। আপনি নাচয়ে সবে নাচন ইচ্ছায়, তালেতে পড়িছে পা তালের ইঙ্গিতে, আকর্ষণে টানিছে সকলে কলেরি দেহ প্রাণ, অগ্নিস্তুপে পতঙ্গ যেমন ॥ কেহ হেরে শ্রীগৌরাঙ্গ বাল-গােপ প্রায়, নৃত্যান্ত স্বেদ বিন্দু শােভিত কপােল, চাহে ভিক্ষা ক্ষীর দেও বলি, কভুবলে নেও কোলে স্তন্যদানে তৃপ্ত কর মাতঃ । ২৯৪। কেহ দেখে গৌরাঙ্গের নটবর বেশ, নব নব ভাব সব খেলিছে অঙ্গেতে, আঁখি দুটী- তরল চাহনি- শােভে পুস্পমালা, ডােবে মন রূপের সায়রে । ২৯৫। সহপাঠি সব হেরে গৌরাঙ্গে পণ্ডিত, ন্যায় স্মৃতি শ্রুতি যার করতলগত, কত যেন ভালবেসে বলে, মহাবিদ্যা পাঠ কর এ বিদ্যার তুলা নাহি ভবে। ২৯। মহাপ্রভু নৃত্য হেরি শত শত লােক, পড়িল চরণতলে রাখ গৌর বলি, ঝঞ্চাবাতে বিশাল বিটপী- প্রথম সর্গ ১৭। ৮v, ১ vacy ad 1 , 1 sar পত্র যেন ঝরি পড়ে, সেইরূপ পড়িল ধরায়। ২৯৭। শচীমাতা ছিল যবে বন্ধন শালায়, মেহের মশলা দিয়ে নানা তরকারি, মনসাধে ভুঞ্জাইতে সুতে, শুনিল শ্রবণ পাতি পুত্র সুর, কোলাহল মাঝে। ২৯৮। ছুটীল, রহিল ভুলে হস্তেতে খুতি, শ্রীমুখ ঘেরিল যদি শিথিল কুন্তল, তবু ছােটে শব্দ লক্ষ্য করি, হেনভাবে উত্তরিল যথা গােরা মানব-সমুদ্রে। বিশ্বরূপ বার্তা। ২৯৯। সসম্ভমে সবে ছাড়ে পথ, মাতা হেরি বাহজ্ঞান লভি গােরা দিল পরিচয় ; গোরা বলে, ধরমাতঃ কোলে তব হারাণ সন্তানে, শান্তিলভ এই বৃদ্ধ কালে”। ৩০ •। মাতৃজ্ঞানে নিত্যানন্দ প্রণমি, ভাষিল,- “মেহময়ী তব তুল্যা নাহি বিশ্বমাঝে, মা, মা, ওমা, ক্ষম অপরাধ , জনমে জনমে তুমি মাতৃরূপে পালিয়াছ মােরে । ৩১। দুই সুত সঙ্গে শচী চলিলরে ঘরে, অদ্বৈত, হরিদাস, শ্রীবাস গদাধর ঐশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর পরিচয় করি শচী মাতা নিল নিজ ভবনেতে, ভােজন করাল বিধিমতে । ৩০২। কৃতাঞ্জলিপুটে তবে নিতাই বলিল,- “পুরব জনম বার্তা বলি বিবরিয়া, বিশ্বরূপ নামেতে জননী সুত ছিনু তব মাতা, তাহে তুমি হের বিশ্বরূপ। ৩৩। রামেশ্বর-সেতুবন্ধে তিরােভাব হয়ে, বীরভূম দেশে পুনঃ হয়েছে জনম, রাঢ়ী শ্রেণী ব্রাহ্মণের মৃত হারাণ ঠাকুর পিতা পদ্মাবতী হয়ত জননী । ৩৪। জনক জননী নাহি ফিরি বনে বনে, গৌরাঙ্গ-জনম মাতঃ শ্রবণেতে শুনি, প্রত্যাগত হইয়ে এদেশে এসেছি ভাইর কাছে । জ্ঞানার্থ করি নিবেদন। ৩০ ৫। বিশ্বরূপ-তিরােভাব শ্রবণে শুনিয়ে, বিলাপিলা শচী দেবী কাতর ক্রন্দনে, উপদেশ দিলেন অদ্বৈত, নিত্যানন্দ রাখ কোলে দুই সুত হইল তােমার । ৩০৬। হেন কালে দৈববাণী সকলে শুনিল,- শুন শুন শচী দেবী বচন আমার, প্রথম সর্গ ---- **** সীতানাথ হয় মহেশ্বর নিত্যানন্দ বলরাম শ্রীগৌরাঙ্গ পূর্ণব্রহ্ম কৃষ্ণ। ৩৭। “গদাধর শ্রীরাধার প্রকাশ-মূরতি হরিদাস বিধি, জন্ম কাজির ঘরেতে, শচীমাতা দৈবকী তুমি গো ; অদ্বৈতের তপােবলে ধরাধামে আবির্ভাব সবে । ৩০৮। “জগন্নাথ বসুদেব নিশ্চয় জানিবে, বাস নারদ ঋষি হ’ল অবতীর্ণ ; নিজ নিজ শক্তি নিয়ে ভবে করিছে মানব লীলা জীব উদ্ধারিতে অবতার ।” ৩০ ৯। বিরাট সভায় সবে দৈববাণী শুনি দশ-সহ গ্রন্থ সবে করিল রচনা, উচ্ছিষ্টাদি করিয়ে চর্বণ লিখি বৈষ্ণবনুরোধে চৈতন্যের সংক্ষিপ্ত জীবন । ৩১। শচীমাতা, পুত্র স্নেহে, বিশ্বাস না করি, ষাট ষাটু বলি ধরে গৌরাঙ্গ নিতাই ; শচীমাতা বলে সীতানাথে রক্ষা বান্ধি দেহ তুমি আমার গৌরাঙ্গ নিতাইরে। ৫। ৩১১। “সৰ্ব্ব বিপ্ন নাশ হেতু তব হর নাম, সর্ব কল্যানের হেতু, সৰ্বচিত হারি, ৬৪ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলার গুরুদেব! করহে করুণা ; মুহর তব রূপ রাখ রাখ দুঃখিনীর ধনে”। ৩১২। সীতাপতি মৃদু হাসি বলিল ভারতী, “আমি জিতে নাহি তব বিপদের লেশ ; নিরীক্ষণ কর শচী মাতা তব পুত্রগণে এই, হরিনামে নিরাপদে রবে ।। বিষ্ণুপ্রিয়ার দশমঙ্গল। ৩১৩। সৰ্ব্ব মাঙ্গল্যে মঙ্গল বিষ্ণুপ্রিয়া সতী, দশ মঙ্গল আজি তার কর সুবিধিত”; ভাল ভাল বলি শচী মাতা বলিল সঙ্গিনী গণে, কর সবে মঙ্গল আচার। ৩১৪। সুরধুনী সুরেশ্বরী জানিলা অন্তরে, তরল তরঙ্গিণী স্মরিল। সমীরণে ; যার পদে জনম লভিল পরশিতে সেই পদ প্রেমানন্দে হইল চঞ্চল। ৩১৫, গঙ্গা বক্ষে বাঁধা ছিল যতেক তরণী, তরঙ্গেরি ভঙ্গে রঙ্গে নৃত্য করে সবে, জড়াজীর্ণ তরণী যতেক · নিমগ্ন হইল নীরে ; আরােহী করিছে সরণ।।
প্রথম সর্গ : ৩১। উখিয়া গচী তথা হেরিলা দুর্দশা,- উচ্চ বে বলে,-“গঙ্গে! বক্ষ বৎসগণে!” ক্রমে ক্রমে নিম যতে তীর হইল সবে ; গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া এল ঘাটে। ৩১৭। শ্রীহরি-তনয়া তটে যতেক তরুণী, নিরখি নিমগ্ন, মগ্ন আতঙ্কে অপার, ধীরে ধীরে যতে মণী করয়ে মল কাজ; তিতাইল অই গৌরাজের। জলকেলি। ৩১৮। গঙ্গার বাসনা মনে জানিয়া অদ্বৈত, জলকেলি অভিসারে মাতিল আপনি, নিত্যানন্দ সঙ্গে গদাধর শ্রীবাস ও হরিদাস সংকীৰ্ত্তন করি চলে কথা। ৩১৯। শ্রীগৌরাঙ্গ রীত কাজ করে প্রেমানন্দে, আপনি ভূধর যিনি, নিত্যানন্দ রায়, করে নৃত্য সঙ্গেতে অদ্বৈত, ধরণী কম্পিত তায়, ধূলায় ধুসর স-অঙ্গ। -- ৩২। হরি ধ্বনি রবে নভঃমণ্ডল ব্যাপিল, হরি নামে শ্রীগার বাড়িল তরল, রঙ মেখে কৃতার্থ অনিল, ?
৬১ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর কেলির সাহায্য লাগি সকলে নামিল জলখাৰে ৩২১। স্রোতে ভাসিরে গৌর সঙ্গে গদাধর, এক রমনীয় শোভা হইল তাহাতে, সুবর্ণের সরােজ ফুটন্ত, মুখমণ্ডল শােভা হেরি চিত মগ্ন সবাকার। ৩২২। মুখমণ্ডলােপরি লহরী উথলি, রবির কিরণ সহ যবে ঢলে পড়ে, মনলােভ হেরিল মানবে, হেম লােহিত মিলনে নব নব উজল কমল। ৩২৩। বিনােদিনী সুরধুনী বক্ষেতে বিনােদ, হৃদয়ের প্রেমানন্দে উঠিল উর্ধেতে, বিচিত্র চিত্রিত ঝিনুকেরি মুক্তাহারে সাজাইল মনেরি হরিষে। ২৪। হেরে সব পৌরজনগোর গলে হার, কে দিল অপূৰ্ব্ব হার কিছু না বুঝিল ; সীতানাথ নিতাই প্রভৃতি মরমের ভাব জানি প্রেমানন্দে মাতিল তখন। ৩২। ' কেলি করি সবে আসিল ভবনে, মহা মহােৎসব করে দিবা-সৰ্বরীতে, ভবনেতে বিরাট সভার প্রথম সর্গ ৬৭ 144 * * * * - WWW, মধ্যে দ্বিমণি গােরা কৃষ্ণকথা কহে মনখে। উপদেশামৃত। ৩২৬। নদে শান্তিপুর বিদ্যানগর কাটোয়া, কাঞ্চন নগর কান্নার যত লােক, ভারপাশ। সাজনগর ভাসদি পােড়াগাছা পঞ্চসার ভরে সমাজ। ৩২৭। প্রস্তাবিত সভ্য লােক একত্রিত হয়ে, সভাপতি নির্বাচন করিল অদ্বৈতে, ফুল্লমনে ধৰ্ম্মের ভারতী কহে গোরা নবাবে, নব নব ধর্ম উপদেশে। ৩২৮। “হরি হর ভেদজ্ঞান কভু না করিবে, যার যেই ইষ্ট তারে ভজনাকৈরে, তৃণ হতে নীচ জ্ঞান নিজে রাখিবে অন্তরে সদা, তরু সম ধৈরষ খায়ণ। ৩২৯। বীরভূম দেশবাসী জমদেব দ্বিজ, চণ্ডীদাস বিমঙ্গল এই তিন আর, রাদেশী বিদ্যাপতি নাম, রামানন্দ শুদ্র জাতি, এই পঞ্চ রসিক ভকত। ৩১। “পূরব জনমের ধরম পত্নী নিয়ে সাধন করেছে তারা নিষ্কামী ভাবেতে, ৬৮ শ্রীচৈতন্য শ্রীলঙ্কর Arc এ সময়ে কামেতে অাচ্ছন্ন জীব, কামের আচারে সাশিতে মারিবে কেহ হরি।। ৩৩১। ধ্যান, ধারণা, সমাধি, স, গম আর শৌচ, প্রত্যাহার, জ্ঞান, কর্ম, যােগ, অপ, হবে সবাকার সাধিতে কঠিন হবে, ভক্তি পথে করহ সাধন।” ৩৩২। “নাম-মত জি আর যাগ যজ্ঞ নই, ব্রজ-জন ভাব ভেকের সাধনা, দাস্ত, সখ্য, বাৎসল্য ভাবেতে, কান্ত ও মধুর ভাবে, সাধ যার যেই অধিকার।” ৩৩৩। যার যেই ইষ্ট মূর্তি হৃদয়েতে কি, ভাব-যােগ্য সাধ সেই ভাবের মূরতি, সিদ্ধ হবে ভারতের লােক, বিনা তন্ত্র মন্ত্র জপে, ভালবাস পাবে ভালবাসা।” ৩০। ভকতি সরল পথ নম্রতার খনি, সর্ব শ্রেষ্ঠ হয় কত মধুর সাধন, ভালবেসে হইবে সমাধি, অময় তাত্ম হবে, হেতু-শূন্য হয়ে সাধ গবে। ৩৩৫। সখ্যে ভালবেসে ধু, বাসলে মধু, দাতে কান্ত প্রেমে মধু মধু ভাব লখি, এম সর্গ ৬৯ মধু ভাবে মধু মধু মধু, সাধিলে সকল জীব, অন্তে নিত্যধাম লাভ হবে।” ৩৩। “ক্রিয়াত্বিকা পথ মত সব পরিহরি, ভকতির পথে চল নাম করি সার, ইষ্ট মন্ত্র বিশ্বাস করিবে, হৃদে আঁক ইরূপ, ইষ্ট সিদ্ধি হইবে সবার।” ৩৩৭। “সর্ব দেব দেবীর নাম একই,হরি, হরি বলিতে কাহারো নাহি কোন বাধা, ছাড় ব্রত বেদের আচার, ই নাম কর মূল, নিত্য-সিদ্ধ হবে জনে জনে।* ৩৩৮। “গৃহীর উত্তম পথ সাধ সব নয়, বাসনা হইবে ক্ষয় হবে মায়াধীশ, নাহি হবে জনম মরণ, অন্তে পাবে নিত্য-ধাম, ভাবময় দেই ভেবে হবে।” ৩৩। প্রতি শব্দ হরি, শময় ব্রহ্মহত, সজিৎ আনন্দ হরি পরমঈশ্বর, হরি নাম কৰ সৰ্ব্ব জীব ব্রজের মধুর ভাবে হরিময় হয় ভূমণ্ডল।” ৩৪। পতি বিহীন নারী জজের ভাৰ ধরি, হৃদয়ে আঁকি ভাবে মুরতি ইষ্টরূপ, শ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর AAAAAAAA ভালবাস পাবে ভালবাসা, প্রকৃতি গঠিত হয়ে প্রেমানলে যাবে নিত্যধামে। ৩৪ ১। “পতি বর্তমান যার অাছে মাতৃগণ, : পতি ধৰ্ম্ম, পতি কর্ম, পতি তপ, জপ, কর সেবা পতি হয় হরি যেমনি সেই পদ্মাবতী পতি ভজি পাইল শ্রীকৃষ্ণ ।” ৩৪২। “নিজ পতি হয় যদি অসিত বরণ, গলিত কি নিরক্ষর হীনবুদ্ধি নর, রমণীর পরম ঈশ্বর অন্তরে ভাবিবে সদ। এই সীতা-সাবিত্রী ধরম।” ৩৪৩। “ধৰ্ম্ম-পত্নী সহ ধর্ম আরিবে লােকে, ধৰ্ম্ম অর্থ কাম মােক কিছু না চাহিবে, ভক্তি মুক্তি সিদ্ধি নাহি চাবে, পরধর্ম না করিবে, পরকীয়া কভূ না করিবে।” ৩৪৪। “গুরুই স্বয়ং ব্রহ্ম জ্ঞান করিবে সবে, ঘটে পটে আছে গুৰু আত্মরূপ হয়ে, ইষ্ট জ্ঞান স্থাবর জমে সৰ্ব্ব জীবেতে ভাৰিবে, ই ভিন্ন না হেরিবে কভু।।" ৩৪৫। “অাপন ভজন কথা কভু না বলিবে, বহু লােক নিয়োকে তীর্গে মাইল # +১++ প্রথম সর্গ a স্বধৰ্ম্মেতে থাকিবে সর্বদা, পরধর্ম ভয়াবহ, ইষ্ট নাম উপদেশ দিবে।” ৩৪৬। সমাজের রীতি নীতি বহিৰ্ম্মখে রাখি, অন্তরঙ্গে বেদ ছাড়ি ব্ৰজ ভাবে ভঙ্গ, বেদাতীত , যাবত না হবে পাইবে প্রাণ-হরি গােপীভাব বেদাতীত হয়।” ৩৪৭। অতএব গােপীভাব সর্বশ্রেষ্ঠ হয়, ব্ৰজ জনে শ্রীকৃষ্ণকে মানব চিন্তিল, অনায়াসে কৃষ্ণে ভালবেসে অন্তে গেল নিত্য ধামে, ব্ৰজভাব আদর্শ জানিবে ।” ৩৪৮। শ্রীরাধিক। গােপী নিয়ে আসি ধরাধামে, ভজনের রীতি নীতি শিখাইল জীবে, গোপী ভাবে করহ ভজন যার যেই ইষ্ট আছে, অনায়াসে পাবে নিত।ধাম।” ৩৪৯। “গােপী পদ-রেণ ব্রহ্মা আদি দেবগণে, প্রার্থনা করয়ে সদা ভকতি করিয়ে, মহাতন্ত্রে আপনি শিব লিখেছেন দেখ সবে থাকিবেনা কিছুই সহে ।।” ৩৫। শ্রীরূপ মঞ্জরী দাসী ভাবিয়া অন্তরে, সখী জ্ঞান করি মনে চরণ সেবিবে, শ্রীচৈতন্য গলাঙ্কুর **** ** ১৭৭ ১৭/১, Ananda Ash তার রূপ ভাৰ কান্তি ধরি হইবে ভাবের নারী পুরুষের ভাব হবে দুর।” ৩৫১। “নিত্য ধামে ইষ্টমন্ত্র মন্থন করিয়ে, হরি নাম দুই বর্ণ জীব ভাগ্যে হল ; মহেশ্বর এল ধরাধামে, দয়ালের শিরোমণি অযাচকে দিচ্ছে হরিনাম।” ৩৫২। “প্রত্যক্ষ হেরহু সবে করি নিরীক্ষণ, সভাপতি সীতানাথ হয় মহেশ্বর, সভামধ্যে দেখহ তাহারে, ঘুচিবে মনের ধাঁধা, হের পঞ্চমুখ ত্রিপুরারী।” ৩৫৩। “বিরিঞ্চি চতুরানন হেয় হরিদাসে, এবাসে নারদ হের গদাধরে রাখা, নিত্যানন্দ মহাবিরাট, অনন্ত সহ মিসিয়া শক্তি সহ আইল ধরায় ॥” ৩৪। তবে সভ্যলােক সৰ কুতুইলে ভাবে, সত্য বাক্য ভাষে গােরা, কিছু নহে আন, দিব্য আঁখি পেল এনে অনে, কৃষ্ণ গৌরাঙ্গে হেরিল, মাতিসরে সবে প্রেমানন্দে।। ৩৫৫। প্রদক্ষিণ দণ্ডবৎ করে বার বার, সাষ্টাব্দে প্রণাম করে ছিল্পতরু যখা, প্রথম সর্গ ৭৩ দয়াময় আশুতােষ হর, শ্ৰী মদ্বৈত রূপ ধরি অযাচকে দিল হরি নাম । ৩৬। ধন্য করিতে কলি অসিল পঞ্চানন, তপঃকরি অনে তুরীয় সচ্চিদানন্দ, শ্রীরাধার উন্নত উজ্জ্বল বুস বিলাইতে সবে ; ঐগৌরাঙ্গ পরম দয়াল। ৩৫৭। কোটী সুধাকর হতে গোরাসুশীতল, অনন্ত সাগর তুল্য সুগভীর হয়, গৌরাঙ্গ অকৃত্রিম স্নেহে কোটী জননীর প্রায়, বরদানে কামধেনু সম৷ ৩৫৮। শ্রীগৌরাঙ্গ রূপ হয়, নিত্যানন্দ রস, শ্ৰীঅদ্বৈত শব্দ, গদাধর গন্ধ হয়, ঐনিবাস পরশ মাণিক, পঞ্চতত্ত্ব বহির্মুখে পঞ্চতত্বে করিয়ে ভকতি । ৩৯। এত বলি পঞ্চতত্ত্বে করিয়ে প্রণাম, নিজ নিজ দেশে সবে করিল প্রয়াণ, প্রভূগণ নিবাস ঘরে আনন্দ উৎসব করে, সীতানাথ গেল নিজ দেশে। % প্রহ প্রথম সর্গ সমাপ্ত।
দ্বিতীয় সর্গ।
নিত্যানন্দের বিবাহ।
৩৬০। শরত আকাশে যদি ঘনঘটা হয়,
সমীরণে উড়াইয়া নেয় দেশান্তরে,
হয়ে, মৃদু রবে,
বিন্দু বিন্দু বরিষয়,
রবি তেজ আবরিয়া থাকে ।
৩৬১। সেইরূপ নিত্যানন্দ হৃদয়-আকাশে,
বসুধা জাহ্নবী তরে বিরহ-মেঘলা,
সাজিলরে
নিৰ্ম্মল হৃদয়ে,
চমকে চপল মন,
হাস্য-আস্য আবরিল হায়।
৩৬২।
প্ৰেমনীর নয়ন বাহিয়ে পড়ে ধারা,
অপােবদনেতে রহে আঁখি-জল মুছি,
গেল শান্তি
রেখাটা মুছিয়ে,
ধৈৰ্য্যচ্যুত হল চিত,
সুদীর্ঘনিশ্বাস ছাড়ো.ঘন ।
৩৬৩। গগনেতে সাজিলেপয়ােল, শিখিকুল
নৃত্য করে যথা প্রেমভরে, অথবারে
যােগ রত
যােগ চিত হেন,
একের অভাবে আর
পুরণাঙ্গ নহে প্রস্ফুটিত।
AAAAAAAAAAA দ্বিতীয় সর্গ ৭৫ vinnamaan ৩৬৪। নিত্যানন্দ যশঃবার্তা শুনি সেই মত, বসুধা জাহ্নবীর বিরহ তরঙ্গিণী, উথলিল হৃদয় সাগরে, চঞ্চল করিল চিত, দিশাহারা হইল পরাণি। ৩৬৫। ফুকারি কঁদিতে নারে, ভয়ে গুরুজন, তুষের অনল প্রায় জ্বলে ধিকি ধিকি, বিলেতে বসি দুইজনে, হৃদয়ে আঁকিয়ে রূপ, ধ্যানে রহে যােগিনীর প্রায় । ৬৬। সর্বঅন্তর্যামী শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু, অন্তরে জানিল যত আমূল বারতা, বলে শচী- মাতাকে গৌরাঙ্গ, সকরুণ ভাবে ভাষা, ‘নিত্যানন্দে করাও বিবাহ। ৩৬৭। ফুল্লমনে শচীমাতা বলিল ভারতী, “বিবাহ করাও এনে সুন্দরী বনিতা, ভবংশ সুশীলা হেরিয়ে আনিবে মা ঘরে ধ্রুব, মন-মলিনতা নাহি রবে। ৩৬৮। “নিত্যানন্দ শাণ্ডিল্য গােরে বংশধর, ভিন্ন গােত্র হেরি আন, রাঢ়ীশ্রেণী হয়, ঘটকেরে কহ প্রেরণ, শুভদিন আছে কল্য, অনুমতি দিল শচীমাতা।
শ্রীচৈতন্য লীলার AAAAAAAAAAA * ««« ৩৬৯। গৌড়দেশ-সি শ্ৰীতপন চক্রবর্তী, কন্যাদ্বয় আছে তার পরমা সুন্দরী, শ্রবধা জাহ্নবী দেবী, কুমারী বালিকাদ্বয় একবরে দিবে দুই সুতা। ৩৭। স্বর্ণলতা সুভাষিণী কৃশাঙ্গিনী সতী, ঝলসে বরণ দেহ যেন বাল-রবি, গুণবতী সৰ্বাঙ্গ সুন্দরী, কটী ক্ষীণ দোহাকার, মুনি-মন হরে দেহ রূপে। ৩৭১। ঘটক চলিল সেই তপনের পুরে, অন্তঃপুর প্রবেশিয়া প্রফুল্লিত চিতে, আঙ্গিনায় সােনার পুলি খেলিছে পুতুল নিয়ে, অবাক নেহারি দ্বিজবর । ৩৭২। রূপ হেরি সউল্লাস হৃদয়ে তখন, ঝলসিত নেত্রে, মনে করে ইতস্ততঃ, মনুষ্যের, এরূপ লাবণ্য অসম্ভব মনে করি ; চমকিত হ'ল মাের চিত। ৩৭৩। বরুণী যুগলে যেবা লাবণ্যের ধারা, ঝলমল করে রূপ উজলি উজলি, মনােহর মনােহর সনে শােভিত হইবে ভাল ; আনন্দিত হবে শচীমাতা। { দ্বিতীয় সর্গ ৭৭ AAAAAAAAAAAAA ra Ar Anondo = 651 64 AA%a6a A- ৩৭৪। পরম্পর দেহ পক্ষে স্থির হলে কথা, নারীগণে করে সবে মঙ্গল-আচার, নহবত বাজিল সুস্বরে, উলুধ্বনি ঘন ঘন শুভক্ষণে হইল বিবাহ। ৩৭৫। শচীমাতা নিজালয়ে বধুদ্বয় আনি’ আমােদ প্রমােদে রত বিবিধ প্রকার, গৌরাঙ্গের অপার মহিমা অনন্তে না পায় অন্ত- লিখিবারে কি আছে শকত । ৩৭৬। সুবর্ণের হার বালা শিথি পাতি যত, রচিত খচিত হীরা মাণিক্য প্রবালে, শচীদেবী বধু পরিচয় করি প্রফুল্লিত চিতে, আশীষ করিল দুই জনে । ৩৭৭। সংকীৰ্ত্তন আরম্ভিল শচীর ভবনে, মালতীর তরুবরে ধরে পক্ক আমু, সেই আম্রে হ’ল মহােৎসব, আশ্চৰ্য্য মানিল সবে, প্রেমানন্দে মাতিল নিতাই। ৩৭৮। নিজে আচরিয়ে ধৰ্ম্ম জীবে উপদেশে, কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গােরা হয় অচেতন “প্রাণনাথ, শ্যামল সুন্দর ! বিতরি করুণা-কণা দাসী বলি দেও প্রেম-সেবা” ৭৮ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর anWW WWW ৩৭৯। প্রেমের তরঙ্গে গােরা ইতি উতি খায়, হাসে কঁাদে নাচে গায় ভক্তসহ,হল কুম্ভকৃতি স্কন্ধহীন শির কভূ পিণ্ড যায় দূরে, এ ভাবেতে জীবেরে শিখায় । সন্ন্যাসের সূচনা। ৮। শ্রীকৃষ্ণ-বিরহে যত গােপ গােপাঙ্গনা, যে ভাবে যে জন করিতরে উপাসনা, সে ভাবতে করিবে সাধন, তবে হবে নিত্য-সিদ্ধ, এই হয় সাধনানুরাগ। ৮১। সখ্যভাবে দাম সখার যে বিরহ, দাস্যভাবে সখীগণ যে দুঃখ পাইল, বাৎসল্যেতে নন্দ যশােমতী বিরহ ব্যথিতা যত কান্তভাবে মঞ্জুরি সকলে । ৩৮২। মধুরভাবে শ্রীরাধা ঠাকুরাণী ভাবি, বিলাপিয়ে উন্মতা হত গাে চেতন বিরহেতে তন্ময় তদাত্ম হয়েছিল তা সবার ; সেই মত করিবে সাধন। ৩৮৩। ভাবের তনস্ত শক্তি কে করে নির্ণয়, পঞ্চ ভাবের যে ভাব হয়রে উদয়, দ্বিতীয় সর্গ ৭৯ A সেই ভাবে আদরশনেতে যার যেই ভাব হল, সেই ভাবে করহ সাধন। ৩৮৪। সর্বভাব হ'তে শ্রেষ্ঠ সুমধুর হয়, জীবে শিখাইতে রাধা যে ভাব করয়, সেই ভাবে কৃষ্ণ হয় বশ, অন্তে যায় নিত্যধামে ; বিবরিয়ে বলিলাম ভাষা। ৮৫। শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য প্রতি বলয়ে অদ্বৈত, “মাধুৰ্য্য মানব-লীলা করিবে এবার, নররূপে হইয়ে সন্ন্যাসী, উপদেশ দিবে জীবে, ভয় না করিবে কেন লােকে । ৩৮৬। “এক স্থানে বসি পার জীব নিস্তারিতে, শিখিবে না তায় জীব সাধন ভজন, গুরু বিনে হইবে নাস্তিক পঞ্চরস আস্বাদিতে, পারিবে যত জীবচয় ৷ ৩৮৭। “দেবতা মানবে কভু প্রণয় না হয়, মানুষে মানুষে হয় গাঢ় ভালবাসা, অতএব মানব ভাবেতে নিজে আচরিলে ধৰ্ম্ম, অনায়াসে শিখিবে ধরম”। ৮৮। ভাল তাল বলি গােরা বলে অদ্বৈতেরে, সন্ন্যাসী হইব আমি ত্যজি গৃহবাস, ৮০ শ্রী শ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর *** - . vy ঐক্ষেত্রেতে নিয়ত রহিব, শক্তি বলে অন লো? ব্ৰজ উপাসনা শিখাইব”। ৩৮৯। গোর। হৃদি মাঝে এবে বৈরাগ্য সলিলে, বিবেক পবনাঘাতে বাড়িল তরঙ্গ, রিপুগণ ভগ্নোৎসাহে করে সন্তরণ দুঃখে, পদে পদে গণিল প্রমাদ । ৩৯। গলিত তুষার কিংবা বরিয। প্লাবনে, প্লাবিত করিলে ধরা আলে নাহি মানে, গৌরাঙ্গের বিষয়-বাসনা আল, বেগে গেল টুটি অনুরাগ প্রলয় তরঙ্গে। ৩৯১। চলিতে হইবে নিতি মানব আচারে, রীতি নীতি শিখিতে যায় কণ্টক বনে, বিচরণ বিজন বিপিনে করেগে গৌরাঙ্গ রায়, পথ ও বিপথ নাহি মানে ।। ৩৯২। এদিকে অদ্বৈত নিত্যানন্দ গদাধর, হরিদাস নিয়ে ভক্ত দেশ দেশান্তরে, যারে তারে হরিনাম দিয়ে ভকত করিল লােক, জগা মাধা হইল উদ্ধার ।
দ্বিতীয় সর্গ ৮১ WW va হরিদাসের ব্রাহ্মণ। ৩৯৩। ভাল ভাল এক কথা হইল স্মরণ, রাম-গারু রাম-থালি মাটিয়া ভাণ্ডেতে, কেন ভােগ মহােৎসবে দেয়, বিবরিয়ে বলি কথা, শােন সবে ইহার বারতা। ৯৪। ব্ৰজেতে সচ্চিদানন্দ যবে আবির্ভূত, প্রতীতি না হইল ব্ৰহ্মার ক্ষণকাল, পরখিতে অসি ব্রজধামে, ধে বৎস সসাগণ হরি নিল বিচার না করি। ৩৯৫। অন্তর্যামী কৃষ্ণ ইহা বুঝিয়ে অন্তরে, অঙ্গ হ’তে করে সৃষ্ট যত হয়েছিল, সেই পাপে . চতুরাননের জনম হইল, হায়, মলয় কাজির সুত হয়ে। ৩৯৬। হরিদাস নাম তার রাখে পিতা-মাতা, ভিন লক্ষ হরিনাম করে দিব-রাতি ; একদিন গােপীনাথপুরে হবে এক মহােৎসব, উনান ধরাতে কেহ নারে। ৩৯৭। নদেবাসী ব্রাহ্মণ সমাজ একে একে, জালিতে নরিল অগ্নি বেদ উচ্চারিয়ে, ৮২ ঐশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর দৈবপাকে ব্রাহ্মণ-সমাজ অধােমুখী হয়ে বসে, মহােৎসব পণ্ড হয়ে যায়। . ৩৯৮। করঘােড়ে বলে হরিদাস সভাসদে *অমল জালিয়ে দিব, আমি অবহেলে, মেটে গরু মেইটে থালাতে, ভােজন করিবে সবে, এই সৰ্ত্ত রহিল আমার।” ৩৯৯। পণ্ডিত ব্রাহ্মণ ছিল যত সমাঝে, স্বীকারী কহিল সবে উপহাসচ্ছলে, “রাম যবে যায় নির্বাসনে মেটে থালা গারু আনি ভােজন করয়ে রাম-সীতা । ৪০০। নব ঘটে নব থালে বিশুদ্ধ আহার, মেটে নব-ঘটে হয় দেবতা আশ্রয়, পূর্ণ কুম্ভ যাত্রাকালে শুভ, সর্ব শাস্ত্রেতে বিহিত, আহার করিব সবে তায়”। ৪০১। গঙ্গাতীরে গেল হরি, হরি-সাধনেতে, উনান জলিল বিনা অনলে অনিলে, হেরি সবে বিস্ময় মানিল, হরিদাসে ধন্য দিল ; হরিদাস হইল ব্রাহ্মণ।
দ্বিতীয় সর্গ ২৫০ GAAN ৪২। গঙ্গাধর শিরােমণি পণ্ডিত প্রধান, ব্ৰহ্ম-হরিদাস নাম রাখে ধ্যানে জানি, গদাধর নিবাস দোহে বন্ধন করিল সব বিবিধ ব্যঞ্জন সযতনে। ৪০। রাম-থালা রাম-গারু ক্রয় করি তবে, প্রসাদ পাইল সবে স্বভক্তি হৃদয়ে, হৃদয়ের অন্ধ আবরণ ঘুচিল বুধগণের রাম-গারু-থালা ব্যবহারে। সন্ন্যাসীর ধর্ম। ৪• ৪। অহহ! এ দুঃখের গাথা, গাহিব কেমনে, নবদ্বীপ দিবসে আঁধার হবে হায়, গৌরাঙ্গ হইবে সন্ন্যাসী, বিরহ যাতনা রাশি জীবগণ লভিবে নিশ্চয়। ৪৫। সমানে সমান ভালবাসে এই রীতি, প্রকৃতি ধর এই বিধির বিধান, ভালবাসা, সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসী গৃহীতে গৃহীতে হয়, জীবনে মরণে আত্মীয়তা ৪৬। গৌরাঙ্গ সন্ন্যাসী হবে শুনি এ ভারতী, কেশব ভারতী এল প্রফুল্লিত চিতে, ৮৪ শ্ৰীশ্রীচৈতন্য লীলার WWWWWWWWWWWWWWWWWWWWWWWWWa f বিজনেতে, শ্রীগৌরাঙ্গ কয় ভারতী ভারতী সনে তেরােদিনে হইৰ সন্ন্যাসী ৪৭। ভারতী বলিল শুন সন্ন্যাসী ধরম, নিবিড় কাননে কিবা দেবতা আশ্রমে, দূরদেশে করিবে আশ্রম, ভিক্ষান্নে ভােজন রীতি, কুশাসনে করিবে শয়ন । ৪৮। দীক্ষা নাহি দিবে কভু গৃহস্থ-মানবে, সন্ন্যাস বিনষ্ট হয় সঙ্গেতে গৃহস্থ, নারায়ণ জানিবে সন্ন্যাসী, ভদ্র-কর্ম না করিবে, বিচরিবে দণ্ড করে করি । ৪৯। বহির্বাস একখানি সঙ্গেতে রাখিবে, সঞ্চয় না করিবেক' ভােজন কারণ, কমণ্ডলু সঙ্গেতে রাখিবে, কায়ার ছাড়িবে মায়া, রমণীর মুখ না হেরিবে। ৪১। সর্বদা করিবে ক্ষমা যত জীবগণে, উদবেগ নাহি দিবে আত্মসুখ লাগি, এক বর্ণ ততুল না খাবে, বিষয় আলাপ ত্যজি ধৰ্ম্ম উপদেশ দিবে সবে । ৪১১। বেদ-অভিমানীগণে শিক্ষা নাহি দিবে, নিৰ্বেদ করিয়ে তারে দিবে উপাসনা, দ্বিতীয় সর্গ ৮৫ ০৭৭০৭৭* Awaaaan বেদাতীত সাধকের বাসে, করিবে গমন সদা, গৃহী বলি দ্বেষ না করিবে। ৪১২। বেদের বিধানে বদ্ধ বেদের আচার, হেন বাসে সন্ন্যাসীরা কভু না যাইবে, এই বার্তা ভাবিয়ে ভারতী প্রত্যাগত হল দেশে, শ্রীগৌরাঙ্গ আসিল ভবনে। ৪৩। ঈশ্বর পুরীর স্থানে দীক্ষিত হইতে, অনুমতি লয় প্রভু অতি সবিনয়ে ; মাতৃস্থানে হইবে বিদায় চিন্তিত গৌরাঙ্গমণি— মাতৃস্থানে কিসে পাব ত্রাণ । চৈতন্যের সন্ন্যাস। ৪১৪। সুবর্ণের শশী গােরা নদেতে উদয়, ভারতী ভীষণ রাহু গ্রাসিবে সমূলে, নিরদয় নিঠুর প্রকৃতি দয়া নাহি তার চিতে ধিক্ ধিক্ পুরুষ কঠিন। ৪১৫। নারীর কোমল হৃদি শিরীষ-কুম, অবল সরলা তাহে সদা পরাধীন, কামী সুখে সুখী নিরবধি, প্রকৃতি ধরম তাই- পুরুষ পৌরুষ ভালবাসে
৮৬
শ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর
৪১৬। মধুর পিয়াসে আসি ভ্রমর যেমতি,
কত না আদরে তার প্রেয়সী কুসুমে,
মধু ফুরাইলে
অন্য ফুলে পুনঃ বসে,
পূৰ্ব ফুলে না করে আদর।
৪১৭। প্রভাকর সনে প্রেম করে কমলিনী,
সুখী নহে এক তিল থাকিয়ে সলিলে,
প্রবল আতপে
নীর নেয় শূন্য পথে,
বারি বিনে পদ্মিনী কাতরা।
৪১৮। চঞ্চল চপল আত পুরুষের চিত,
আত্মসুখ লাগি সদা চিতিত অন্তর;
শ্রীগৌরাঙ্গ
অন্তরে অন্তর
করিল রে বিষ্ণুপ্রিয়া,
নাৰীবধে ভয় না করিল।
৪১৯। বিষ্ণুপ্রিয়া-শচীমাতা হৃদয়ে পড়িল,
দুঃখচ্ছায়া সুগভীর চিরদিন তরে,
দীর্ঘশ্বাস
পরিত্যাগ করি
বলে বিষ্ণুপ্রিয়া সতী,
কপালেতে লাগিল আগুন।”
৪২০। “দশদি শূন্য হেরি কাদে মাের প্রাণ,
দক্ষিণ নয়ন মম ঘন নৃত্য করে,
দিবাভাগে
শিবাগণ ডাকে,
দক্ষিণে ভুজঙ্গ হেরি,
উল্কাপাত হইতেছে পুরে।
দ্বিতীয় সর্গ ৭ W MW == ৪২১। “বিবহ যাতনা শেল পশিল অন্তরে, ধৈর্য ধরিতে নারি প্রাণ বাহিরায়,”- হেনকালে কাদিয়ে কঁদিয়ে শচীমাতা বলে ধীরে, “শোন বলি প্রাণ বিষ্ণুপ্রিয়া !” ৪২। “অঞ্চলেরি ধন গােরা হইবে সন্ন্যাসী, বরজ হানিবে কিলাে শিরে আজু মাের, ন’দেবাসী করে কানাকানি, ফুকারিয়ে নাহি বলে, অঙ্গুলি দোলায়ে দেখাইছে। ৪২৩। “কেশব ভারতী নামে দারুণ সন্ন্যাসী, বড়ই নিষ্ঠুর সেই অদূরদরশী, যাদু করি – তুলাইল পুতে, বৈরাগ্য উদয় হল, তদবধি সংসার না করে। ৪২৪। “বিরলে কাঁদয়ে বৎস আহারে অরুচি, বিপ্ৰকৃষ্টে বিবরণ কায়, নাহি হাসি, কচি খােকা কিছু নাহি জানে, কতবলি উপদেশ, অঞ শুধু করে বরিষণ। ৪২৫। “সাবধানে যতনে আদরি যাদুমণি, প্রেম-সূতে বাঁধি রাখ ধরিয়া পরাণে, নবরসে নবীন বয়সে ডবিবে সংসার-রসে, ভুলিবেক সন্ন্যাসীর ভাব”।
শ্রী শ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর VMqn ৪২৬। শচীর বারতা শুনি কঁাদে বিষ্ণুপ্রিয়া, বিরহ-সাগরে ডোবে হৃদয়েরি ভারে, হেরিল রে নয়নে আঁধার, পড়িল ধরণী-কোলে, মুচ্ছিতা হইল শশাকে সতী । ৪২৭। চেতন পাইয়ে বলে কান্দিতে কঁদিতে, “কুস্বপ্ন হেরেছি মাতা আজি রাত্রিশেষে, বিনা মেঘে শিরেতে অশনি পতিত হইল শিরে,- কঁদি তাই ভূমে গড় দিয়া”। ৪২৮। এ দিকেতে শ্রীগৌরাঙ্গ বিজন বিপিনে, মাতৃস্থানে বিদায়ের চিন্তিল উপায়, চিতে চিন্তি হ’ল শান্তিভঙ্গ, আননে না সরে বাণী, প্রতিঅঙ্গ ঝঙ্কারে চিন্তায় ॥ ৪২৯। বৃদ্ধ মাতা মরিবেক পুত্র শোকে সত্য, চিন্তিতে চিন্তিতে গত হল দশদিন, মেনীরে ভিজিল শ্ৰীঅঙ্গ; অনুমতি পাব কিসে, সেই হেতু চিন্তিল অন্তরে। ৪৩০। একদিন শচীমাতা ক্রোঙুেতে বসিয়া, গলাধরি বলে গােৰা কঁদিয়া কাঁদিয়া, রাধি দে মা পিষ্টক ভাজিয়ে তব পাক ভুইতে, বড় সাধ হয়েছে অন্তরে।
তীয় সর্গ ৮৯ . ৪৩১। স্নেহে মাতা মুখ চুম্বি শিয়ােস্রাণ নিল, অঙ্গে হাত বুলাইয়ে বলে আশীৰ্বাদি, ষাট ষাট আকুটিয়ে ছেলে, চঞ্চল চপল গোরা, অঞ্চলের নিধি প্রাণধন। ৪৩২। “বিবিধ দ্রবোতে কালি করিব রন্ধন, সখাগণ নিমন্ত্রিত কর সমাদয়ে,” ; হাসি হাসি বলে শ্রীগৌরাঙ্গ,- নিত্যানন্দ সঙ্গে করি বাজার করিব মাতা কালি । ৪৩৩। রােষাভাসে আসিলরে কেশব ভারতী, বিস্ফারিত আঁখি ঘন বহিলরে শ্বাস, দূরে থাকি নয়ন ইঙ্গিতে গৌরাঙ্গে ডাকিয়ে নিল ; উডিলরে শচীর পরাণ । ৪৩৪। প্রণাম করিলে গোরা ভারতীর পায়, ক্রোধভরে ভারতীয় বাহিরিল উক্তি- “মায়া ত্যাগ নবীন বয়সে বড়ই কঠিন কথা; মিথ্যা বাক্য বল সন্ন্যাসীরে। ৪৩৫। “মিছা ভাষা বড় দোষ সন্ন্যাসী সহিত, ত্রয়ােদশ দিবসের দশ অনুহিত, ধিক ধিক্ মায়াধীন জীব, চপল চঞ্চল অতি ; উপহাস যোগ্য আমি নহি। ১২ থ ৪৩৬। “নবীন বয়সে তুমি বালকের প্রায়, বসিয়াছ মাতৃক্রোড়ে একি বিপরীত ? মায়াখণি তােমার হৃদয়ে, সন্ন্যাসীর যোগ্য নহ, মায়া ঘুমে আছ নিতি নিতি । ৪৩৭। “ছাড় মাতা, ছাড় পত্নী, ছাড় পরিবার, কেহ নহে কারাে, হও মায়াধীশ আজি, রবিতে বাঁধিবেরে যবে নয়নে হেরিবে ধাঁধা, প্রতি অঙ্গ হইবে শিথিল । ৪৩৮। “মায়া ঘুমে আর ঘুমাইবে কত কাল, জাগ জাগ হওরে চেতন যমদণ্ডে, চল চল বিলম্ব না সহে ; কালি আছে শুভদিন, সন্ন্যাসী করিব কালি তােরে”। - ৪৩৯। কৃতাঞ্জলিপুটে বলে গৌরাঙ্গ সুন্দর, “অবধান কর গুরু এ দাসের কথা, মাতৃস্থানে লব অনুমতি ছল কি চক্রান্ত মূলে, পরশ্ব যে হইব সন্নাসী ॥ ৪৪। কুষিল ভারতী যেন জলন্ত পাবক; আঁখি রক্তাকার, অঙ্গ কাপে থর থর, ভারতীর হ'ল ৰুদ্র-মুত্তি, শমন সমান ক্রোধ, হেরিয়ে গৌরাঙ্গ অধােমুখী।
দ্বিতীয় সর্গ ৪৪১। “লােভমুগ্ধ! অরে মুঢ় ! ছল চতুরতায়, প্রতারণা করি মােরে হও প্রতারিত ; মায়াধীন চপল চঞ্চল, স্থির তব নহে মতি, মিথ্যা বাক্যে ভুলাতে বাসনা”? ৪৪২। সাষ্টাঙ্গে প্রণমি বলে গৌরাঙ্গ-সুন্দর, “অনুজ্ঞা দেহগাে মােরে একদিন তরে, চাহি ভিক্ষা; কালি রজনীতে কাঞ্চণ-নগরে যাব, পরশ্বই লইব সন্ন্যাস”। ৪৪৩। “সুন বচনে মম নহে মুগ্ধ মন, মায়াধীনে মায়াধীশে না হয় পীরিতি, মিথ্যাভাষা পরিচালনেতে ভুলাইতে সাধ তব সন্ন্যাসী না হবে তুমি কভু”। ৪৪৪। “শুন, গুরুদেব! মম মরম বারতা, কল্য রজনীতে আমি যাইব নিশ্চয়। তপােধন! ক্ষম অপরাধ, করুণা বিতরি দাসে, অটুট হে আমার এ বাণী ॥” ৪৪৫। হেনকালে নিত্যানন্দ আলয়ে আসিল, ভয়েতে ভারতী যােগী করিল পয়ান, শচীমাতা পাগলিনী বেশে সম্বােধিল,-“নিতাই। গােরা নিতে এসেছে ভারতী।
শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর ৪৪৬। “কি জানি মন্ত্রণা দিল মাের যাদুধনে, যাদু করিয়াছে কিব। ভুলাবার আশে, চোখে চোখে করিয়ে ইঙ্গিত বিরলে বলিল বাণী, সন্ন্যাসী করিবে অনুমানি। ৪৪৭। “বড়ই নির্দয় সে যে পাষাণ-হৃদয়, মাের বুকে বরজ হানিবে নিদারুণ, মরিবরে আমি অনশনে, কিবা গরল ভক্ষণে, মাতৃবধ হইবে গােরার ॥” ৪৪৮। নিত্যানন্দ বলে,-মাতা, ভয় কর কেনে, কিবা সাধ্য ভারতীর করিতে সন্ন্যাসী, শ্রীগৌরাঙ্গ জগত জীবন, কে নিবে হরিয়ে তারে ? সুখে মাতা কর ইষ্ট নাম।” ৪৪৯। চিতে চিন্তি শ্রীগৌরাঙ্গ আসিল ভবনে, শােক-চিত, আঁখি ছল্ ছল্, ধীরে আসি প্রণমিল মায়ের চরণে, অশ্রনীর পরে ধরা, ভাষণি ভাষিতে নাহি পারে ৪৫। গদগদি ভাষে গােরা কৃতাঞ্জলী হয়ে, “বন্ধনের আয়ােজন দিব আনি কালি, বাজারেতে অরুণ উদয়ে যাইব জননী ত্বরা, নিমন্ত্রিত করিব সকলে।”
দ্বিতীয় সর্গ ৪৫১। কাদি কাদি বলে শচী, কিসের রন্ধন, সন্ন্যাসী হইবি তুই শিরে বাজহানি, মরিবরে পশি গঙ্গাজলে, কিবা জল-পাবকে, জীবন রাখিয়ে কিবা কাজ । ৪৫২। শচীর বচন শুনি গৌরাঙ্গ কপি, পড়িল চরণ তলে যেন ছিন্ন-তরু, “জননী গাে ! বলি পদে ধরি, তােরে না ছাড়িব কভু, আজ্ঞা নিয়ে চলিব সদায় ॥ ৪৩। “ভারতীর স্থানে আমি দীক্ষা নিব মাতঃ, সুদিন জানিতে তাই গিয়েছিনু তথা, শান্ত-চিত্তে করই শয়ন, ইষ্ট নাম জপ করি ; কেহ কারাে নহে সুত-সুতা”। ৪৫৪। ফুল্ল চিতে শচী দেবী গৃহ মাঝে গেল, বধূ স্থানে বিবরিয়ে বলিল বারতা, বিষ্ণুপ্রিয়া অন্তর বুঝিয়ে, নীরবে থাকিল সতী। শচী দেবী করিল শয়ন। ৪৫৫। শয়ন আগারে গােরা পশিল শয়নে, নীরবে কাদিয়ে ধনি চরণ সেবা, নেত্রনীর পড়িল পদে, বুঝিল গৌরাঙ্গ রায়, বিরহেতে কাদে বিষ্ণুপ্রিয়া।
৯৪ শ্ৰীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর ৪৫৬। “শােনই ভারতী-সতী আমার ভারতী, ভারতী করিব গুরু তাহে সচিন্তিত, নরদেহ ধারণ করেছি ধরম করিব আগে, কেন চিতে চিন্ত অকারণ। ৪৫৭। “একাত্মায় ভিন্ন কায় ধরি ওগাে সতী, জনমে জনমে, দেবি, তুমি প্রাণ-প্রিয়ে, ধৈৰ্য্যধর, রােদন সম্বর, তােমা ছাড়া নহি কভু, তুমি শক্তি জীবনে মরণে”। ৪৫৮। করযােড়ে বলে সতী করিয়ে বিলাপ, ‘মনস্তাপ পাব পূৰ্ব করম দোষেতে, প্রতারণা ভাষণি কহিলে মনস্তুষ্টি না হইবে, দাসী বলি করিও করুণা। ৪৫৯। “লয়েছ মানবদেহ লােক নিস্তারিতে, আমাকে করিবে ত্যাগ জীব-উপকারে, জীতেন্দ্রিয় নবীন বয়সে, আদর্শ লইবে জীবে ? এ কলির জীবে তা হবে না” ০ ৪৬। বলিতে বলিতে রাতি প্রভাত হইল, কাদিয়া উঠিল রমা প্রভাত জানিয়া, প্রাতঃকাজ করে বিষ্ণুপ্রিয়া, বিরহে অধীরা তবু, নেত্ৰ-নীরে ভিজিল শ্ৰীঅঙ্গ ।
দ্বিতীয় সর্গ • ১৮n th৭। " ১ । ৪৬১। প্রাতে উঠি শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু, প্রাতঃক্রিয়া সম্পাদন করিল ত্বরায়, নিত্যানন্দ সঙ্গেতে লইল, বাজারে চলিল ত্বরা, নিত্যানন্দে বলিছে গৌরাঙ্গ ৪৬২। “শুন শুন ভাই মাের মরম বারতা, জীব নিস্তারিতে মােরা এসেছি ধরায়, তােমা অমা হইবে বিরহ, সন্ন্যাসী হইব আমি, অন্তর্যামী জান সব তুমি । ৪৬৩। “সংসারে থাকিবে তুমি মাতার পালনে, যখনি কাদিবে মাতা বসিও কোলেতে, ক্ষুধা হলে দি ও অন্নজল, সেবিও চরণ যুগে, অন্ন বস্ত্র পাঠাইব আমি । ৪৬৪। রজনী শেষেতে অঙ্গ সংসার ছাড়িয়া, সন্ন্যাসী হইব মুই কাঞ্চন নগরে, হরিনাম করি বিতরণ, শক্তি সঞ্চারিব জীবে, উজ্জ্বল রস উন্নত করি। ৪৬৫। “পুরীতে করিব বাস কাশীমিশ্র পুরে, তুমি অন্তর্যামী জান সব কথা মাের, রথযাত্রা সময়ে যাইও, হবে দরশন তথা, অনুক্ষণ করিও কীৰ্ত্তণ ॥”
শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর ৪৬৮। বিরহ বারতা শুনি অধীর নিতাই, "বিনা মেঘে বজ্র মাের হানিলে গাে শিরে, কি অভাবে হইবে সন্ন্যাসী? ছয় মাস থাক ঘরে, শচীমাতা হৃদয়-অনন” । ৪৬৭। শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য বলে,-“পরাণ নিতাই ভারতীর আগ্রহেতে করি ভাই ত্বরা ; ক্রোধ- যুক্ত হয়ে বলিলেন কটু ভাষা, তাই শীঘ্র লইব সন্ন্যাস ॥” ৪৬৮। বিরহেরি শেল গুলি বক্ষেতে বাজিল, অধীর হইল আজি ধরাধর হায়, মহাবাতে যেন রাত পড়ে ধরণী কোলেতে সেই দশা হইল নিতাইর । ৪৬৯। নিতাই নয়ন জল প্রবাহিত হয়ে, অভিষিক্ত করিরে শ্রীগৌরাঙ্গ পদ, “মহাবাহু ! সঙ্গ হারা হয়ে কেমনে বঞ্চিব ঘরে, বারি বিনে বাঁচে কি শফরী ? ৪৭। “নেত্র পলকেতে যারে খুজি শতবার, এত বিলম্বেতে হেরা সাজে কি তাহারে ! সঙ্গ হার একতিল তরে কখনি না হব তব, আমি তব সঙ্গে সঙ্গে যাব।
• ১৫ • vvvv9d. 19 | ১ 5 দ্বিতীয় সর্গ ......~~~~ ৪৭১। শচীমাতা-বধুমাতা, কঁদিবে বসিয়া, পাষাণ গলিত হবে নিয়ে বিলাপ শান্তিহারা শােকাকুল চিতে হইবেক উন্মাদিনী, কে রক্ষিবে এ বিপদে, হায় ॥ ৪৭২। হাসি বলে গৌরচন্দ্র, “শােন নিত্যানন্দ, এ বিশ্ব-পালক তুমি, হে মহা বিরাট ! ধৈৰ্য্য ধর, ওহে মায়াধীশ। কটাক্ষে করুণা করি ; রক্ষিওরে শচী-বিষ্ণুপ্রিয়া । ৪৭। “ধরণী কাপিলে স্থির নহে কোন জন, তেমতি তােমার দুঃখে দুঃখী হবে সবে।” নিত্যানন্দে অলিঙ্গিল গােরা, শান্তিময়-শান্তিদাতা! বাজার করিল দুটি ভাই। । ৪৭৪। নানা দ্রব্য ক্রয় করি শচীর দুলাল, ফুল্ল চিতে এনে দিল শচীর নিকটে, ছানাবড়া, দুগ্ধ লাউ পুলী, চিতই পাটীলন, রসবড়ী সীতাভােগ যত । ৪৭৫। পলান্ন, মিষ্টান্ন, অন্নদা, বগল পুলী, রাম সীতা ভােগ, চসি, সাউলি অমৃত, ব্যঞ্জনাদি বিবিধ প্রকারে রন্ধন করিয়ে শচী নারায়ণে নিবেদিল তায়। ১৩ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর in ৪৭৬। নিমন্ত্রিত সখা সহ গৌরাঙ্গ-নিতাই, ভােজন করিল সুখে অমিয় সমান, শচীমাতা বধূগণ নিয়ে আহার করিল তবে ; বিষ্ণুপ্রিয়া দিল নীরবে । ৪৭৭। শচী বলে “বধূ, কেন কঁাদ বিলেতে ?” বধূ বলে, “রজনীতে পালাবে নিশ্চয়,” শচীমাতা চমকিত চিতে দীর্ঘ শ্বাস ত্যাগ করি বলে, “বধূ! বুবে সাবধানে।” ৪৭৮। নিত্যানন্দে বলে শচী হও সাবধান, রজনীতে গােরা মাের যাইবেক ত্যজি, বাছাধন! রহিও জাগিয়া, কেশব ভারতী যেন নাহি নেয় মাের যাদুমণি। ৪৭৯। অন্তর্যামী অন্তরেতে হয়ে অবগত, আহ্বানিল নিদ্রাদেবী মধুর বচনে, গোরা বলে,- ‘মমালয়ে আসি সকলের নয়নে আবির্ভূতা রবে সারা রাত। ৪৮। স্তবধ রজনী, নিদ্রা নিঃশব্দে বসিল, নয়ন চেতনহীন চৈতন্যের গণ ; নীরবেতে রহিল গৌরাঙ্গ, গভীর রজনী হলে শয্যা হতে উঠিল ত্বরিতে।
দ্বিতীয় সর্গ 4000 ৪৮১। নিদ্রামগ্না বিষ্ণুপ্রিয়া হেরে স্বপনেতে, কেশব ভারতী এল গৌরাঙ্গ নিকটে হেন কালে বিদায় চাহিল গৌরাঙ্গ সুন্দর কঁদি, “প্রিয়ে, মোরে করহ বিদায় !” ৪৮২। স্বপনের ঘােরে দেবী ভারতীর প্রতি, “যাও, যাও” বলি বােল বলে উচ্চৈঃস্বরে, শ্রীগৌরাঙ্গ লইল বিদায় জনমের মত ছলে, বিষ্ণুপ্রিয়া না জানিল হায় ! ৪৮৩। শয়ন মন্দিরে যথা আছে শচীমাতা, চলিল গৌরাঙ্গ তথা লইতে বিদায় ; বলে ধীরে, “শোনগাে জননী ! এই জনমের তরে চাহিগাে বিদায় তব পায় !” ৪৮৪। মায়ের চরণ ধৰি কঁদে শ্রীগৌরাঙ্গ ; শ্ৰীশচী দেখিছে স্বপ্নে বধূ যাবে জলে ; বলে শচী— ‘যাও তুমি চলে বিলম্বে হবে না কাজ, শীঘ্র যাও আপনার কাজে। ৪৮৫। কঁদিতে কাদিতে গােরা প্রদক্ষিণ করি, তিনবার শ্রীগৌরাঙ্গ লইল বিদায়, তিনবার বলে “ৰাও যাও”; এ সব গৌরাঙ্গ-লীলা— কে বুঝিবে রহস্য ইহার ?
শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর ৪৮৬। দশমাস দশদিন জঠরেতে ধরি, উপবাসে উপবাসি পালিলে জননী। প্রসবিলে কুসন্তানে মাত ! পেয়েছ যাতনা কত মল মূত্র কতনা ফেলেছ ! ৪৮৭। “নিজ মুখে ভাল যাহা লাগিত তােমার, নিজে নাহি ভুঞ্জে তুমি দিতেগাে আমায় ; স্তন্য পান দণ্ডে দণ্ডে করি প্রাণ রক্ষা করেছিগাে ; মাতা গুরু এ জগৎ মাঝে! ৪৮৮। “কুপুত্র হইলে, মাতা কভু কু না হয়, হেন জননীরে ছাড়ে কুলাঙ্গার মতে, মাতৃ ঋণ নারি শােধিবারে ; জীবন মরণ আর- যাহার প্রসাদে পায় হরি।” ৪৮৯। এত বলি উচ্চৈঃস্বরে কাদিতে কাদিতে, প্রণমিয়া মায় পুনঃ পুনঃ শ্রীগৌরাঙ্গ, চলিলরে কাঞ্চন নগরে, মদ-মত্ত করী সম ; ন’দেপুরী হইল আঁধার । ভূচর খেচর যত কাদিল অপার, কদে ঝিল্লি ঝিল্লিরবে শিবাগণ আর ; হাহাকার ৪৯০। জাগিলরে বিষ্ণুপ্রিয়া দেখে শূণ্যময় শয্যা,হায় !
দ্বিতীয় সর্গ ১০১ WAAAAA ৪৯১। কপালেতে করাঘাত করি শতবার, উচ্চৈঃস্বরে কাদে সতী, বিলাপি হেরিল, শয্যামাঝে হার পড়ি আছে- আছে সব,—নাই এক, শয্য', বস্ত্র, পাদুকা যুগল। ৪৯২। কম্পিত শরীর সতী পড়িল আছাড়ি, অচেতন হল রমা ঘন বহে শ্বাস, ক্ষণপরে চেন পাইল ‘প্রাণনাথ’! বলি কাদে, সম্বিত হারায় পুনঃ পুনঃ ॥ ৪৯৩। বধূ রােদন শুনি শচীমাতা জাগি, আছাড়ি পড়িল মাতা ধরণী উপর, বুকেতে হানিল, মুর্ভূিতা হইল শচী, বসুধা জাহ্নবী ধেয়ে ধরে। ৪৯৪। কঁদে শচী, বিষ্ণুপ্রিয়া, নিত্যানন্দ রায়, বসুদা জাহ্নবীকাদে ধরাতে পড়িয়া, এলমেতে ধরণী মণ্ডলে হয় যেন হাহাকার, সেইরূপ শচীর ভুবনে। ৪৯৫। ক্রন্দনের রােল শুনি এল গদাধর, শ্রীবাসাদি ভক্তবৃন্দ যেখানে যতেক, ছুটাছুটা দৌড়াদৌড়ি করি ধাইল পাড়ার লােক, বাল বৃদ্ধ যুবক যুবতী।
১০২ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর ৪৯৬। বৎস ছাড়ি ধেনু ছােটে, ধেনু ছাড়ি বৎস, স্তন ছাড়ি হােট শিশু, শষ্যা ছাড়ি নােগ, মহাবাতে কদলীর তরু যথা শায়িত ধরায়, সজীব তেমতি পড়িল। ৪৯৭। ফুল না ফুটিল আজি তরু না মুঞ্জরে, গুঞ্জরে না আজ অলি, পিক হল মূক, .শবিহীন অস্তদ্বীপে সব, কঁদিয়ে মলিন রবি, উজানি বহিল স্রোতস্বতী। ৪৯৮। হাহাকার বােল যদি উঠিল গগনে, চঞ্চল হইল যত দেব দেবীগণে, দেবদৈত্য কাদিল নীরবে, নদে হল অন্ধকার, গােরা-রবি চির-অস্তমিত । ৪৯৯। পুত্র শােকে শচীমাতা হ’ল উন্মাদিনী, সম্বরিতে বস্তু ব্ৰস্ত হল মুক্তকেশী, হাসি বলে শচী, “কেন কঁাদ বিষ্ণুপ্রিয়া? গােরা মাের দেখে কি বলিবে ? ৫০০। “দাড়িয়ে ভারতী তুমি নিমাই কারণে? সন্ন্যাসী না হবে মাের অঞ্চলের ধন ; যাও যাও এথা হতে যোগী, হবে অপমান আজি, বিতারিত করিবে নিমাই।
দ্বিতীয় সর্গ ১০৩ 1 ৫১। “সাত নহে, পাঁচ নহে, মাের এক দুত, বিধবা অঞ্চল-ধন যাদু মাের একা, নিরদয় নিঠুর মুরতি, তবু দাড়াইয়ে হেথা ? নিল কঠিন বড়,হায় ! ৫২। “যা যা যেয় নারে আকুটীয়ে ছেলে, চঞ্চল চপলাপ্রায় স্থির নহ তিল, কোথা যাও ? সন্ন্যাসী হইতে ? ধৰু ধৰু নিত্যানন্দ, বাঁধিয়া রাখিব আজি ধরে । ৫০৩। “ক্ষুধায় কাতর কিরে করি অভিমান, দাড়ায়ে রয়েছ খােট ধরি আঙ্গিনায় ? এস কোলে, স্তন পিয় সুখে, ধূলায় ধূসর হেরি ; এত বলি যষ্ঠি নিল কোলে । ৫০৪। “মার মা ভারতীরে-কে আছ কোথায়, ধর ধর মার মার,গেল পলাইয়া”, দৌড়িলরে একাকিনী শচী— নিমাই নিমাই করি,- ধরণীতে পড়িল আছাড়ি । ৫০৫। ধরিলরে নিত্যানন্দ দু’বাহু প্রসারি, কঁদি কঁাদি বলে,-“ধৈৰ্য্য ধরগো জননী, অবধান কর শচীমাতা, সম্বরহ পুত্রশােক; আমি আনি দিব শ্রীগৌরাঙ্গ।”
১০৪ ঐশ্রীচৈতন্য লীলার ৫০৬। “কেরে তুই জ্বালাইলি অগ্নি মাের চিতে। নিমাই গিয়েছে কিরে আমায় ছাড়িয়ে ? যাট, ষাট কচি খোকা মাের ! অঙ্গনে রয়েছ বসি ? ভারতীরে আসিতে না দিব।” ৫০৭। অট্ট অট্ট হাসি বলে,-“চিতধূম কেনে? শচীরে পুড়িছে কিবা চিতার অনলে ? দহিলরে চিত্ত চিতাজালি, পুত্র শোকানলে হায় । নিত্যানন্দ! আয় মাের বুকে।” ৫০৮। “নিদারুণ পুত্রশােকে প্রাণ বাহিরায়, ইহা বলি মুচ্ছিতা হইল ভূমে মাতা; নিত্যানন্দ করিল চেতন, বসিল শচীর কোলে ; বিলাপিয়া কঁাদে শচীমাতা। ৫৯। পেয়ে ধীরে নিত্যানন্দ উপদেশ-বারি, ধৈর্য ধরিল যত ন’দেবাসী লােক, বিষ্ণুপ্রিয়া কাদে বিলাপিয়া ধৈর্য না ধরে বধূ, শচীমাতা আর হাহাকারে । ৫১০। নিত্যানন্দ চলি গেলা গৌরাঙ্গ আনিতে, মহাশশাকে বিষ্ণুপ্রিয়া হ’ল অচেতন ; ধরণীতে শবাকার ভাবে, পড়িল গাে বিষ্ণুপ্রিয়া ; কার প্রাণে সহে এই দুঃখ ।
দ্বিতীয় সর্গ * । । •••• ««« ৫১২। “কেশব ভারতী নিতে আসিয়াছে মােরে, তিলেক দাড়াও, আমি আসি তব পাশে, এত বলি আটিল বসন, খসিল করবী মাথে, এলাইয়া পৃষ্ঠে দোলে কেশ। ৫১৩। হইলরে ভদ্রকালী বিকট-দশনা, কুটী ভৈরব নদে কপিল মেদিনী, আরক্ত-নয়না, ঘন ঘন ইহুঙ্কারে, ভয়ে লােক হল কম্পমান্। ৫১৪। নিকটেতে না রহিল সবে পলাইল, লক্ষে কম্পে বসুন্ধরা, হ’ল বিপরীত, হরিধ্বনি করে উচ্চৈঃস্বরে, পথে বিপথেতে ধায়, নাহি মানে স্থানাস্থান সী ॥ ৫১৫। কপিল শ্রীচী হেরি ভয়ঙ্কর রূপে, রােদন সম্বরি চলে ঐনিবাস বাসে, “শ্রীবাসরে।” বলে শচী মাতা, “বধূ হ’ল কালী বেশ, কি হইল, কি করি উপায়” ? ভয়ে ভীত শ্রীনিবাস আরম্ভে কীৰ্ত্তন, ছুটিল কীৰ্ত্তনে রমা বিপরীত গতি ; ভকরাে হেরয়ে গৌরাঙ্গ নাচিছে আঙ্গিনা মাঝে ; গৌর শশাকে ভকত তন্ময় । ১৪ ১০৬ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলার এ nswers ««« ৫১৭। বিষ্ণুপ্রিয়া মহাশক্তি চৈতন্য ভামিনী, একাত্মায় ভিন্ন-ত, ভারত জননী, প্রকৃতিস্থা হইল সুন্দরী, লজ্জিত, অননে বসি অবগুনিত করে মুখ । ৫১৮। শচীর সঙ্গেতে ধনি ভবনে চলিল, কঁদি কঁদি আঁধার হেরিল চতুর্দিক, নয়নের নীরে পথপথ ভিজিয়া হইল কাদা, দীঘল নিশ্বাস বহে ঘন । ৫১৯। নদীয়া নগরবাসি যুবতী সকল, সতীর সতীত্ব হেরি হল চমকিত, ধন্য ধন্য পতি-প্রাণা সতী! ত্রিভুবনে নাহি হেন, জয় জয় করে সর্বলোক। ৫২। পতিতে বিমুখ নারী ধিক্ দিয়ে চিতে, পতি-সেবা কর্মে তারা মন নিবেশিল, হরিনাম, দিবস শর্বরী, করে মন প্রাণ ভরি বৈষ্ণবী হইল সৰ্ব্বনারী। ৫২১। চাতকিনী নবঘন জীবন বিহনে, অন্য নীর পান নাহি করে প্রাণ গেলে, তেমনি হে সতী পতিব্রত; পতি বিনে নাহি জানে; বিষ্ণুপ্রিয়া তাহার আদর্শ।
দ্বিতীয় সর্গ
১০৭
৫২২। ত্রেতাযুগে দেখ সীতা জনক দুহিতা,
পরখিতে রাম, দিল অগ্নিকুণ্ডে ফেলি,
সীতা সতী,
রাম ভিন্ন তবু
জানিত, না হেরিত ;
পেল আরাে কতেক যাতনা।
২৩। নির্বাসিত করে সীতা বাল্মীকির বনে,
‘হা রাম’ ‘হা রাম’ বলি কাদিত জানকী,
ততােধিক
চিরনিৰ্বাসিতা সতী ;
যেবা হেরে হৃদয় বিদরে।
৫২৪। জগত-জীবন কৃষ্ণ লােক নিস্তারিতে,
অবতীর্ণ ধরা মাঝে মানব রূপেতে,
শ্রীরাধার
প্রেম বিতরিয়ে,
ব্ৰজের মানবলীলা
প্রকাশিতে, হইল সন্ন্যাসী ॥
৫২৫। কোন দিনে কোন যুগে যাহা নাহি দিল,
কলিতে উজ্জ্বল রস উন্নত করিয়া,
যারে তারে,
অষাচকে যাচি,
দিল প্রেম ছড়াইয়া,
দয়ালের শিরােমণি গােরা।
দ্বিতীয় সর্গ সমাপ্ত।
তৃতীয় সর্গ
( কাঞ্চন নগরে )
অল বেরিয়ে যেন পতঙ্গের দল,
উড়ে ঘুরে প্রদক্ষিণ করে পাবকেরে,
সেই ভাবে
কেশব ভারতী,
গা-জল-রােগী প্রায়,
গােরা চিস্তি হইল অধীর।
ক্ষণে উঠে ক্ষণে বসে ইতি উতি ধায়,
কর্ণ পাতি রহে কভু শবদ শুনিতে,
পথ পানে
করে নিরীক্ষণ,
অশনে শয়নে তার
দীর্ঘশ্বাস বহে ঘন ঘন ।
৫২৮।
দুঃখের বারতা এবে কি ভাষিব হায়,
হৃদয় বিদীর্ণ হয় সন্ন্যাস বর্ণিতে,
উদিলরে
কাঞ্চন নগরে,
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু,
বালভানু জিনিয়ে বরণ ॥
সুবর্ণের ভানু যদি হেরিল ভূতলে,
ছুটিল নগরবাসি মানব নিচয়,
কেহ বলে
সােণার মানুষ,
কোটা রতি জিনি রূপ,
নৈদে হতে হয়েছে উদয়
তৃতীয় সর্গ ৫৩০। এত শুনি সব লােক ধাবিত হইল, নয়ন রমিল রূপে ভুলিল, বলল :- “ধিক ধিক কেশব ভারতী, কঠিন পাষাণ চিত, বুকে শেল হানিল কাহার ?” ৫৩১। কেহ বলে জাগন্নাথাত্মজ নিমাদ, বশীকরণেতে যােগী এনেছে টানিয়া, অতি বুধ নবীন বয়সে, ধার্মিক প্রবর হয়, হরিনামে মাত্রায় নদীয়া । ৫৩২। করযােড়ে বলে শুনি শচীর নন্দন, “মিছা যে কেন কর ভারতীর প্রতি, ভারতীর নাহি কোন দোষ, নিজেচ্ছ।য় হব যােগী, মােরে সবে কর আশীর্বাদ।” ৫৩৩। গােরার ভারতি শুনি নিজ নিজ বাসে, চলিল সকল লােক বিস্ময় মানিয়া, হাহাকার কমে য লােক, কেহ যায় নবদ্বীপে, শচীকে বলিতে এ সংবাদ । ৫৩৪। কেশব ভারতী তবে সুচিন্তিত চিত্তে, মধু শীলে আনে তাকি মুণ্ডনের তরে, বলে মধু “শােন হে ভারতী ছুরি দিয়ে কার বুকে আনিয়াছ জগত জীবন?
১১০ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর Arra AWAA ৫৩৫। “মায়াধীশ হও যােগী আমি মায়াধীন, নবীন বয়সে কেন হইবে সন্ন্যাসী ? চলে যাও আপন ভবনে ; স্পর্শিব না কেশ আমি ; মধু শীল গমনে উদ্যত। ৫৩৬। মধুর হৃদয়ে গােরা শক্তি সঞ্চারিল, গৌরাঙ্গে হেরিল মধু পরম ঈশ্বর, মধু বলে, “তুমি ভগবান, ক্ষোরি করি চাই কড়ি, ভবপার করিবে হে নাথ।” ৫৩৭। ইঙ্গিতে সম্মত বুঝি নাপিত-নন্দন, জোরি করি গৌরহরি হইল বিদায়, ভারতীর হ’ল দিব্যজ্ঞান, বলে চৈতন্যের প্রতি, তব গুরু হইতে না পারি । ৫৩৮। ভারতীকে আশ্বাসিয় গৌরাঙ্গ-সুন্দর, মন্ত্র শিখাইয়া দিল ভারতীর কাণে, সেই মন্ত্র দিল শ্রীগৌরাঙ্গে, মাতৃ স্থানে চাহি ভিক্ষা, তবে প্রভু চলিল নগরে। ৫৩৯। শচী নামে দ্বিজ-সূতা ছিল পতিহীন, তার স্থানে মাতৃ-জ্ঞানে যাচে গৌর রায়, নিঃসন্তান, সেই শচী দেবী, বাৎসল্যে পুরিল কায়, কাদি কঁদি আনি ভিক্ষা দিল .
তৃতীয় সর্গ ১১১ MAN,M/NAN/ ৫ ৪ ।। এ সময়ে নিত্যানন্দ উপনীত হলে, পালাল ভারতী ভয়ে নিজ বাস প্রতি, সমান হে। রূপ নিরুপম, তপত কাঞ্চন কায়, রূপেতে ভূবন উজলিল। ৫৪১। শ্রীগৌরাঙ্গ বলে,-“ভাই আলয় ত্যাজিয়ে, কেন এলে অসময়ে, অবধৌত রায় !” উত্তরিল,- “নিব শান্তিপুরে, শচীমাতা নেহারিবে, না হেরিলে মরিবে নিশ্চয় । ৫৪২। তোমার গভীর লীলা সাগর অনন্ত, সফরীর তুল্য আমি অন্ত কিসে পাব, যশােমতি, তব শচীমাতা, তারিতে এসেছ যদি, ভাল তব ভকতে করুণা।” ৫৪৩। এত বলি নিল গােরা শর্টীর নিকটে, কেশহীন মুণ্ড আর করধৃত দণ্ড, কাঙ্গালেরি বেশ হেরি মাতা, আলিঙ্গিল ভুমিল, বাতাহত কদলীর মত । ৫৪৪। ঈষৎ হাসিয়ে গোবা শক্তি সঞ্চারিল, পূরব জনম শী অন্তরে জানিল, প্রেমানন্দে প্রতি অঙ্গ হায় নৃত্য করে প্রেমভরে, রামকৃষ্ণ হেরিল শ্ৰীশচী ১১২ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর ৫৪৫। কাঞ্চন নগর ব্ৰজ ভূম মনে করি, মাতিল গাে শচীমাতা পেয়ে হারাধন ; আঁখিয়ে, বহে প্রেমধারা, সুরধুনী ধারা প্রায়, অঙ্গের দুকুল ভিজি যায়। ৫৪৬। ছুটিলরে বংসহার ধেনু উন্মতা, ধরিলরে গােউর নিতাই দুই জনে, নিল কোলে অধর চুম্বিল শিঃ ড্রাণ লয়ে শচী প্রেমনীরে ভিজাইল কায় । ৫৪৭। পুনঃ পুনঃ হেরে শচী বদন দোহারি, অঞ্চলেতে মুছাইল শ্রীমুখ কমল, “রামকৃষ্ণ। বহুদিন পরে মনে কি পরেছে মায়ে? আর ছেড়ে দিব না দু'ভাই । ৫৪৮। ক্ষুধায় কাতর হেরি মলিন বদন, ক্ষীর সর আনি দিল দোহার আননে, বিধিমতে রন্ধন করিয়ে ভােজন করায় সুখে, দেবতা দুর্লভ দোহাকারে। ৫৪৯। নেত্র পলকেতে শচী হারায় শ’বার, সিনান করায় দোহে ভৃঙ্গারের জলে, নিতি নিতি মহা মহােৎসব শ্রীহরির সংকীর্তন, কাঞ্চন নগর হল ধন্ত ।
তৃতীয় সর্গ ১১; «» ৬ * : ১১।।। 1 দিগ দিগন্তর হতে আসে কত ভক্ত, এই ভাবে দশ দিন প্রবাহিত হল ; তদন্তরে, বলিল গৌরাঙ্গ, “শোন গাে জননী, বাণী, সন্ন্যাসীর গৃহ-বাস দোষ । ৫৫১। “বিদায় দেও গাে মাতঃ ধরি তব পায়, সন্ন্যাসী-ধরম যায় গৃহস্থ আশ্রমে, ইষ্টনাম কৈরাে দিবা রাতি, ভয় নাহি তব মাতঃ, জীবনান্তে যাবে গােলকেতে। ৫৫২। অনিলে যেমতি কাপে কদলির পাতা, সেই ভাবে কম্পিত হইল শচীদেবী, সাগরের বিষম আবর্তে যে ভাবে তরণী ডােবে সেই ভাবে পড়িল ধরায়। অচেতন শচীদেবী ঘন বহে শ্বাস, মাতৃবধ হ’ল বলি ধরিল নিতাই, শচী শিরে নিজে ঢালি জল, চেতন করাল তবে, বসালরে ধরণী উপরে। ৫৫৪। সম্বিত পাইয়া শচী করে হায় হায়, করাঘাত কত শত হানে নিজ শিরে, বিয়েতে গৌরাঙ্গ সুন্দর, সানিল বহুভাবে, রােদন সম্বনে কতক্ষণে। ১৫ ১১৪ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর vro ৫৫৫। “নিলাচলে যেয়ে মাতা স্বরগ দ্বারেতে, হেরিবে আমারে মাতা নিতি নিতি তথা”; শচীদেবী চলিল অচিরে, জগন্নাথ দরশনে ; দুই ভাই বিদায় হইল শান্তিপুরে দেবের দেবতা শিব মানব রূপেতে অদ্বৈত আচাৰ্যরূপে আছে শান্তিপুরে, অন্তরে জানিল, তাহার ভবনে কালি আসিবেক গৌরাঙ্গ নিতাই। ৫৫৭। নবদ্বীপে শচীপাশে বারতা পাঠায়, পরিবার সহ যেন আসে শান্তিপুরে, শ্রীগৌরাঙ্গ, নিত্যানন্দ রায়, আসিবেক মমালয়ে ; হেরিবেক নয়ন ভরিয়ে। ৫৫৮। জল বিনে মীন হেন ছট ফট করে, গােরা বিনে সেই দশা হয়েছে সবার, অনাহারে, শচী বিষ্ণুপ্রিয়া, কঙ্কাল হয়েছে সার, কাদি কাদি হয় অচেতন। ৫৫। ভকতের মুখে শুনি গৌরাঙ্গ বারতা, শবকায়ে প্রবেশিল নবীন জীবন, করী সম প্রবল শকতি ধরিল নদীয়াবাসী শান্তিপুরে করিল গমন।
তৃতীয় সর্গ ১১৫ ^^^^^^^^^^^^^^•••• "As 4, 5 • • • • • • • • • •৭৭ ৫৬। সীতানাথ ফুল্লচিতে কুসুম-কাননে, খনক অনিয়া রচে কুসুম-আবাস, মনােহর নয়ন-রঞ্জক কুটীর রচিল তথা কিশলয়ে রচিত খচিত । ৫৬১। চৌদিকেতে নব নব পল্লব কুটীর, বংশদণ্ডে বিরচিল চিত মনােহারী, সদ্যস্ফুট কুসুমে মণ্ডিত করিল খনক বর এবিশ্বেতে নাহি হেন শােভা। ৫৬২। নতােন্নত যত পথ করিল সরল, নেতের বসনে তাহা সব আবরিল, দুই পার্শ্বে কুম লতিকা রম্ভারু ঘেরি আছে, পূর্ণ কুম্ভ রাখে তরুমূলে । ৫৬৩। স্থানে স্থানে হরি সংকীর্তন আরম্ভিল, মহা-মহােৎসব হ’ল অদ্বৈত ভবনে, শান্তিপুর কৈলাস ভবন, পুলকিত সৰ্ব্ব চিত ; রমাগণে দেয় জয়ধ্বনি। ৫৬৪। আগুয়ান কত পথ হ’ল সীতাপতি, পশ্চাতে ভকত করে নর্তন কীৰ্ত্তন, নর্তনেতে ধূলা উড়ি গায় ধূসর হইল কায়, উনমত নব নব প্রেমে।
১১৬ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর তরুণ অরুণ জিনি নিন্দিত বরণ, উজলিল ধরা পরে শ্রীগৌরাঙ্গ শােভা, প্রভু দোহে হাসিতে হাসিতে কীৰ্ত্তনেতে দিল যােগ গৌরাঙ্গ নিতাই দুটী ভাই । দশ-সহস্র লােকের কল কল ধ্বনি, হরিনাম ধ্বনি, উঠে আকাশের গায়, দেব দেবী পুষ্প-বৃষ্টি করে, দেবযানে থাকি হেরে ; জয় জয় ধ্বনি শান্তিপুরে। ৬৭। লম্ফে ঝম্পে চলে লােক আত্মহারা হয়ে, বৈষ্ণবের পদরজঃ পেয়ে বসুন্ধরা, ছদ্মবেশে বিবিধ কুসুমে সাজাইল পঞ্চপ্রভু তৃপ্ত আঁখি না হইল তবু । ৫৬৮। অন্নপূর্ণা সীতাদেবী গেলেন রন্ধনে, অমৃত সদৃশ পাক করে ফুল্লচিতে, পঞ্চাশত ব্যঞ্জন রাঁধিল, বিবিধ পিষ্টক আর, দধি দুগ্ধ ঘৃত ছানা ননী । ৫৬৯। খাও খাও, দেও দেও, হয়েছে উত্তম, এই গােল উঠিল যে করিল ভােজন, পঞ্চভােগ নিবেদিল সীতা পঞ্চ প্রভুর আহারে, ভোজন করয়ে পঞ্চজনে।
তৃতীয় সর্গ ১১৭ ৫৭। ভোজনান্তে আচমন সকলে করিল, তাম্বুল কপূর দিল মুখশুদ্ধি লাগি, এইভাবে পঞ্চদশ দিব। গত হয় অবহেলে ; দিবারাত্রি করে হরিনাম। ৫৭১। ঐগৌরাঙ্গ শান্তিপুরে শুনি শচীমাতা, গৌরাঙ্গ-জননী ছুটে আত্মহারা হয়ে, পাগলিনী, লজ্জা পরিহরি পথ-বিপথে চলয়ে, নৈদেবাসী সবে আসে সঙ্গে । ৫৭২। গৌরাঙ্গ ক্রোড়ে করি করে অশ্রুপাত, অপবিত্র অশ্রু ধারা প্রবাহিত হয়ে গৌর অঙ্গ হল অভিষিক্ত ; গোরা রাখে বক্ষ মাঝে, মুখ চুম্বি শিরােম্রাণ লয় । ৫৭। গােরা বলে, মাগাে, মুই তােমার কিঙ্কর, তব আজ্ঞাধীন আছি যতদিন খাস, নিলাচলে করিব বসতি যাবত জীবন রবে, অনুমতি চাহি তব স্থানে। ৫৭৪। “জীবের জীবন দেখ রে টলমল, অাখি পাটীতে আশা নাহিক জীবের, প্রেমেমাখা হরিনাম কর, কেবা কাহার তনয়, এ জীবন মাত্র আত্মীয়তা।
১১৮ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর - avad, ««««««« ৫৭৫। ভাল ভাল দুটি কথা হইল স্মরণ, বিবরিয়া বলি আমি এ সব ভারতি, শ্রীরাধার প্রেমের সাগর মথিতে উদয় হরি, হরিনাম প্রেমেরি স্বরূপ ৫৭৬। “যেই নাম সেই প্রেম হয় মাখামাখি, কলিযুগে মূল মন্ত্র হয় হরিনাম, ব্রজজন- ভাবে হরিনাম করিবে গাে যেবা জীবে, অনায়াসে যাইবে গােলকে। ৫৭৭। “হরিনাম লইতে সকলে অধিকারী, অতএব রাধা-প্রেম পেল জনে জনে, দ্বাপরেতে বংশীধ্বনি শুনি হ'ত সর্বচিত হৃত, কলিযুগে হরি চিত-হারী”। ৭৮। বলিতে বলিতে আর ভাব মনে হ’ল “রাধা-প্রেম সুধাসিন্ধু সুগভীর হয়, অনন্তেতে হয় পরিণত, বিতরিলে না ফুরায়, সে প্রেমের নাহিক তুলনা। ৫৭৯। “বরিষা কালেতে যথা সাগরের নীর, প্লাবিত করয়ে ধরা অনন্ত স্রোতেতে, নাহি কমে পারাবার, নীর প্রত্যাগতে, নাহি বৃদ্ধি, সেইমত হয় রাধা-প্রেম।
তৃতীয় সর্গ ১১৯ www.wwbvvvvvvvvvvvvvv ১/w" ৬৬, ১৮ ৫৮। ভালবেসেছিল, মাগাে, যশোদা যেমতি, তুমিও সে ভাবে যদি ভালবাস কৃষ্ণে, দেহ অন্তে যাবে গােলকেতে, রবিহুত ভয় নাই; ইষ্টনাম কর অনুক্ষণ”। ৫৮১। ভাল ভাল বলি শচী ফুল্লচিতে বলে,- নীলাচলে করিহ বসতি বাছাধন ! মধ্যে মধ্যে শান্তিপুরে আসি দেখা দিবে যাদুমণি, রাখিবে মায়ের এই কথা” । ৫৮২। বিষ্ণুপ্রিয়া প্রতি গােরা দিল উপদেশ, “পতিব্রতা সতী তুমি জগত মাঝারে, তব রীতি শিখিয়া সকলে পতিতা সতী হবে ; ধন্য ধন্য তােমার মহিমা। ৫৮৩। “আমার পাদুকা তুমি করিবে সেবন, বিষ্ণুপ্রিয়া-পরিবার রহিবে জগতে, শচীমায়ে পালিও যতনে নিজের জননী সম, প্রাণিমাত্রে উদ্বেগ না দিবে । ৫৮৪। “নিলাচল হ’তে শান্তিপুরেতে আসিব, শচীমাতা সহ আসি হেরিও আমায়, অন্নবস্তু পাঠাইব আমি, বিরহে না কর শােক, জীব নিস্তারিবে হরিনামে।
১২০ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর ৫৮৫। “প্রাণাধিকে! প্রাণেশ্বরী। দোষ ক্ষম মাের, হরিনাম বিতরিতে আনে সীতানাথ, যােগীবেশে বিতরিব জীবে, জনমিব বার তিন, জান তুমি সকল ভারতি। ৫৮৬। “পর দুই জনমেতে সন্ন্যাসী না হব, গৃহে থাকি হরি নামে হব গে দীক্ষিত, বিতরিব হরিনাম জীবে তব সঙ্গে গৃহবাসে ; গৃহজীবি পাইবে নিস্তার । ৫৮৭। শ্রীরাধা মঞ্জরী আর সখিগণ নিয়ে, অবতীর্ণ পুনঃ হবে ভারত মাঝারে, নিত্যানন্দ বসুধা জাহ্নবী শ্ৰীঅদ্বৈত সীতাদেবী ঐনিবাস গদাধর লক্ষ্মী। ৫৮৮। “আমার শরীরে বিষ্ণু হবে আবির্ভূত, এই সব প্রভুগণ লভিয়া জনম, জনে জনে দিবে হরিনাম, এই জনমে যেমতি, ভারতীর ভয় না রহিবে। ৫৮। “এ সকল গুহ কথা, হেরি মুহমান জ্ঞপিলাম তােমা এবে, শুন প্রাণপ্রিয়ে ! শান্তি-মনে যাও নিজালয়ে, হরিনাম দিতে জীবে, তব যশঃ জগতে রহিবে ।
তৃতীয় সর্গ
১২১
* ! 5 65
«« ««« «f
- v , Ww
৫৯০। ভূমে পড়ি বিষ্ণুপ্রিয়া প্রণাম করিল,
শচীমাতা সঙ্গে করি এল নবদ্বীপে,
নিজ নিজ
আলয়েতে সবে
করিল গমন তবে ;
মহাপ্রভু যাবে নীলাচলে ।
তৃতীয় সর্গ সমাপ্ত
১৬
চতুর্থ সর্গ।
( নীলাচলে )
৫৯১। শ্রীগৌরাঙ্গ গদাধর ব্ৰহ্ম হরিদাস,
নীলাচলে গমন করিল তিন জনে,
রাজ পাণ্ডা,
হেরে স্বপনেতে,
জগন্নথ বলে তারে,
কৃষ্ণ আসে গৌর রূপ ধরে।
জগন্নধ সেবকের হৃদয়-কাননে,
প্রেম-ফুল ফুটিলরে বিবিধ প্রকার,
রাগ সূতে
গাথি প্রেম-ফুল
বিচিত্র রচিল হার,
সাজাইতে শ্যামল সুন্দর ।
৯৩। চিত্তপটে অকিল সে নবীন নীরদ,
ত্রিবন্ধ শ্যাম চিন্তামণি ব্রজজনা ভাবে,
শিরে চূড়া
করেতে বাঁশরী
পীতাম্বর পরিধানে,
পদের উপরি রাখে পদ ।
৫৯৪। প্রেমফুল হার দিল সাধের শ্রীকৃষ্ণে,
প্রেমানলে অশ্রুধারা পড়ে দর দর,
অনিমিষে
হেরে রূপ-শােভ,
মােহন মুরতিখানি,
হেনকালে উপনীত গােরা
চতুর্থ সর্গ ১২৩ ৫৯৫। কেহ বলে চন্দ্রকান্ত মণি কি চপল, উজলিল শ্রীমন্দির-পূরী জল স্থল, ঝলমিল নীলাম্বু অবধি, গৌরক্ষণপ্রভা রূপে, চঞ্চল চরণে দ্রুত গতি। কেহ বলে জলধর কোলেতে চপল, অনিলে ঠেলিয়ে কিরে নামাইল ধরা, কেহ বলে মেঘ বক্ষ মাঝে নৃত্য করে সৌদামিনী, কেহ বলে তরুণ অরুণ। ৫৯৭। কেহ বলে গােলােকের সুবর্ণ-চন্দ্রিমা, জগবন্ধু দরশনে ভূতলে আগত, কেহ বলে মানব রূপেতে, স্বর্ণলেপা জগন্নাথ বিলাস করয়ে অবনীতে । ৫৯৮। নিরীক্ষণ করে সবে হারায়ে পলক, ধ্যান-ধরা যােগী মত, পুরবাসী যত ছুটিলরে বালক বালিকা যুবক যুবতীগণ প্রাচীন প্রাচীন যত ছিল। ৫৯৯। কোন একজন বুধ পাণ্ডারে বলিল,- তিনটী দেবতা এল মানব রূপেতে, চিত হারি রূপ নিরুপম, নয়ন রমিত হ’ল আঁখি পালটিতে নাহি পারি।
১২০ শ্রীশ্রীচৈতন্য জীবন্ধুর AAAA ৬০। “কোন্ বিধি নিরমিল বিলে বসিয়ে, ধন্য ধন্য তারে দেই শতবার মাের, কালিমল রূপেরি কিরণে, নয়নে না ধরে রূপ, না হেরেছি না শুনেছি কভু । ৬১। “তার মধ্যে একজন ভূবন-মােহন, অনন্ত বদনে নাহি বর্ণিতে শকতি, যুগ্ম ভুরু তিল-ফুল নাসা কুরঙ্গ-নয়ন বাঁকা, দশন মুকুতা সারি সারি। ৬০২। “বিশাল বক্ষের পাশে জানুস্পর্শি কর, নাচিতেছে ক্ষীণ কটী অনিল হিল্লোলে, বাল-ভানু জিনিয়ে বরণ, কাল আভা চমকিত ; অরুণ বসন তাহে পরা। ৬০৩। “শ্রীমুখ-সরােজ গড়া দয়া-নবনীতে, অরুণ চরণ তার ভকতির মূল, ঘন ঘন হরি হরি বলে, নবীন বয়সে যােগী, হের হের পণ্ডা মহাশয়”। ৬০। ধ্যান-ভঙ্গ হয়ে পাণ্ডা অঙ্গনে হেরিল, শ্রীকৃষ্ণমূতি, যেন নব কাদম্বিনী, বংশী নাহি করে কমণ্ডলু দক্ষিণ করেতে দণ্ড শ্যাম অই গৌরাঙ্গেতে ঢাকা।
চতুর্থ পর্গ ৬০৫। বামে এক দলিত ললিত হেমাঙ্গিনী, ঢাকিয়াছে পুরুষের আবরণ দিয়ে, দক্ষিণেতে যেন হুতাশন, চতুরানন শােতি আসিয়াছে মনুষ্য আকারে ৬০৬। প্রণাম করিল পাণ্ডা মহাবাহু জানি, জেরি শ্যামসুন্দর এসেছে ধরায়, সমাদরে রাখিল যতনে কাশমি আলয়েতে, প্ৰসাদ আনিল ত্বরা করি। ( সার্বভৌম জয়) ৬৭। নবীন সন্ন্যাসী এক পুরুষ প্রধান, আসিয়াছে নীলাচলে চেল সঙ্গে করি, রাষ্ট হল দিগদিগন্তরে, লক্ষ লক্ষ লােক আসি ভুলিগেল রূপগুণ হেরি । ৬০৮। সৌরে হেরে রবি, গানপত্যেতে গনেশ, শৈবে হেরিছে শিব, শাক্তরা ভগবতী, বৈষ্ণবেতে রাধা-কৃষ্ণ হেরে, রামাউতে হেরে রাম, আল্লারূপ হেরিল পাঠান ॥ যার যেবা ই সে হেরিছে সেই রূপ, সচ্চিদানন্দে ইহা সকলই সম্ভবে, কেহ হেরে সাকার, জ্যোতির্ময়, কেহ হেরে নিরাকার, কেহ হেরে পরম ঈশ্বর।।
১২৬ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর . " ৬১০। নীলাচলবাসী বাসুদেব সার্বভৌম, সর্ব শাস্ত্রে সুপণ্ডিত মহিমা-মণ্ডিত, মায়াবাদী তেজ এসম মানে, ভাবে সদা মনে ; ভারতের প্রসিদ্ধ পণ্ডিত। ৬১১। ধৈর্য্যে বীর্যে গাম্ভীর্যে পাণ্ডিত্যে প্রবীণ, গণ্য মান্য সবে করে বিশুদ্ধ ব্রাহ্মণে, রাজ বাড়ী দ্বারস্থ পণ্ডিত, অহঙ্কারী সার্বভৌম, শ্রবণ করিল গৌর কথা। ৬১২। গৌরাঙ্গ সন্নিকটে বাসুদেব আসি, বিচারিল দশ দিন, পরাস্ত হইল, শ্রীগৌরাঙ্গে হেরি ষড়ভুজ সরস হইল চিত, প্রণমিতে হারাল গেয়ান । ৬১৩। তবে সাৰ্বভৌমে বলে গৌরাঙ্গ রায়, “প্ৰসাদ করিবে সেবা একাদশী দিনে, বৈষ্ণবের জাতির বিচার করিবে না বাসুদেব, বৈষ্ণবে শ্রীকৃষ্ণে নাহি ভেদ। ৬১৪। “তুরীয়-শ্রীকৃষ্ণ বেদ বিধির অতীত, অবিধেয় রাগ অনুরাগে ভালবাসা। & মg জপ তপ রীতি পরিত্যাগ কর চিতে, প্রকৃতি করহ ভালবাসা।
চতুর্থ সর্গ ১২৭ r/far ৬১৫। “প্রবৃত্তি নিবৃত্তি ছাড় অন্তর অন্তরে, ভালবাসার প্রকৃতি জনমিবে চিতে, নয়নেতে সদা ভালবাসা আঁকিবে যখন, তবে বিশ্বময় হবে ভালবাসা। ৬১৬। “আত্মসুখ যড়রিপু-ক্রিয়া পরিহরি, ভালবেসে ভালবেসে হবে প্রেম রস, সুমধুর হবে ভালবাসা, চঞ্চলত যাবে দূরে, ভালবাসা হইবে মুরতি। ৬১।। “হৃদয় মাঝারে ভালবাসা-পারাবার, তার মধ্যে ভালবাসা-মধুর-জীবনে, মন:হংস বিচরিবে প্রেমে ভালবাসা হবে নীতি, কৃষ্ণ বিনে কিছু না হেরিবে। ৬১৮। “স্কুলে মূলে ভালবাসা নয়নে অঙ্কিবে ; প্ৰবৰ্তে সাধন হবে ভালবাসা-রীতি, ভালবাসা নিত্য-সিদ্ধ হ'লে মঞ্জরীর ধরি কায় নিত্যধামে যাবে অন্তকালে। ৬১৯। সখ্যে বাৎসল্যে দান্যে কান্তে ভালবাসা, মধুরেতে ভালবাসা সুমাধুৰ্য্য প্রেমে, ভালবাসা নহে পরিচ্ছিন্ন, অপরিছিন্ন শ্রীকৃষ্ণ, অসীম শকতি ভালবাসা।
১২৮ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর ১ *** At a ++++ ৬২। গৌরাজের নাহি আর কোনও সাধন, জীব শিখাইতে হল আধা-ভাবাপন্ন, প্রাণনাথ প্রাণের বল্লভে, প্রেম-ফুলে রচি হার, বলে, নাথ ! দিব উপহার। ৬২১। ব্রজবিহারী রাসচারী বনয়ারী, ভালবাসি নাই, কিসে পাব ভালবাসা, যে তােমাকে চিতে ভালবাসে, থাক তার হৃদিবাসে, এই বাস নহে তব যােগ্য । ৬২২। কেন ওগাে ! ভালবাসা, পাই না হৃদয়েতে, এই হৃদিবাসে নাহি আসে পীতবাসে, বিষয়শে শুধু ভালবাসে, ভালতাে না বাসে হরি, মধুর মধুর ঐনিবাসে । ৬২৩। দিলে প্রাণ ধৰ্মকৰ্ম্ম জাতি মান কুল, কৃষ্ণ অনুকুলে দিলে কুল পায় কুল, দুকুলেতে যারা রাখে কুল, একুল ওকুল যায় অকুলে পড়িয়ে যায় কুল ।। ৬২৪। যার কুল জলে তার চিত যায় জ্বলে, তৃষিত চাতকী যথা কাদম্বিনী বিনে, ভালবাসি হাসি হাসি তৈছে প্রেম-বারি বরিষণে রাখে অনুগা প্রেমিকা প্রাণ ।
চতুর্থ সর্গ Mus • • • ৬২৫। “শুন বাসুদেব মরমের ভালবাসা, ভালবেসে পাবে, ভালবাসা অনুরাগ রাগাত্মিক অহৈতুকী বিনে, নাহি পাবে শ্যামরায়, জ্ঞান কৰ্ম্ম যোেগ কি ভক্তিতে ॥ “রাগে অনুরাগে যবে ফোটে প্রেম ফুল, নবীন সৌরভে কালা-অলি ভালবাসি, হৃদি-বাসে মধুর পিয়াসে আসিবে প্রাণের হরি, রহিবে তাহার মনজুড়ি”। ৬২৭। চৈতন্যের মধুমাখা উপদেশ শুনি, বাসুদেব স র্বভৌম পড়ে পদতলে, ব্রজভাবে ভাব মিশাইয়ে পূরব বার পানি, বাৎসল্য ভাবেতে রহে মজি। ৬২৮। স্বরূপ, রামানন্দ, শ্রীরূপ, দমােদর, মধুর ভাবে তাহারা সাধে নিরন্তর, রাধাকৃষ্ণ মিশি জনমিল জানিল গৌরাঙ্গরূপে, কৃষ্ণ রূপ রাধা রূপে ঢাকা। ৬২৯। ব্রজধামেতে শ্রীরূপ করিল আশ্রম, উজল করিতে রাধাকৃষ্ণের মহিম, লুপ্ততীর্থ করিতে উদ্ধার, বৃন্দাবনে বাস করি, গৌরাঙ্গ আদেশিল তায়। ১৭ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাম্বুর । ৬৩। মধুময় সুমধুর ভাবেতে ভাসিয়ে, কাম-বীজে কাম-গায়ত্ৰীতে উপাসনা, দিল জীবে ; দশ সহক ভক্ত হইল তাহার, সুমধুর কান্তভাবে ভজে। ৬৩১। সনাতন ভট্ট রঘু শ্ৰজীব গােস্বামী, গােপাল ভট্টাদি সব শান্ত ভক্ত ছিল, বিধিমতে চৌষট্টি অঙ্গেতে ভুজন করিল সবে, ব্রহ্মচর্য কৈরে আচরণ। ৬৩২। গৌড়দেশ সুপবিত্র করিল নিতাই, কান্ত ভাবে জনে জনে দিয়ে উপাসনা, ব্রজভাবে বিংশতি সহ ভকত করিল লােক, প্রেম-ভক্তি পেল অবিরাম ৬৩৩। শ্ৰীঅদ্বৈত-চাদ বঙ্গদেশবাসিগণে, সখ্য-ভক্ত করিল পঞ্চ বিংশ সহস্র, সখ্যভাবে মাতাইল লােক, হরি বলি নৃত্য কৈরে প্রেমানন্দে হইল বৈষ্ণব। ৬৩৪। শ্রীনিবাস দাস্য-প্রেম ভালবাসি আর, আসামেতে ভক্ত করে পঞ্চ সহ, দাস্য-প্রেমে মাভিল সকল, হরি হরি বলি নাচে, প্রেমাস্বাদি হইল বৈষ্ণব।
চতুর্থ সর্গ ১৩ + AWAA••• • • • • • • Anan ।। ৬৩৫। গদাধর মধুর মূরতি মধুময়, রাঢ়-দেশ মধুভাবে ভকত করিল, করে ভক্ত দ্বাদশ সহ, মধুলােভী যত নর, মঞ্জরী সদায় হয়ে ভাবে । ( সরস্বতী জয়) ৬৩৬। শ্রীকৃষ্ণ-চৈতন্য প্রভু যায় কাশীধামে, ভূচর খেচর নর তরু লতা যত, পথে পথে উদ্বারিল কত অনন্তে না পায় অস্ত, আমি ক্ষুদ্র কি লিখিব তাহা । ৬৩৭। জ্ঞানীতে হেরিছে জ্ঞানী, যােগী হেরে যােগী, কৰ্মীতে হেরয়ে কৰ্মী, ভক্তজন ভক্ত, এই ভাবে আছে কাশীধামে, কীৰ্ত্তন করয়ে রঙ্গে, পঞ্চভাবে হ’ল বহু ভক্ত। ৬৮। পঞ্চ ষষ্ঠী সহ শিষ্য আছে যার, প্রকাশ আনন্দ নামে বৃহস্পতি সম, গৌরাঙ্গেরে উপহাসি নিন্দা গাহিত সন্ন্যাসী মাঝে, ভাবুকের সন্ন্যাসী-ধরম । ৬৩৯। “বেদ নাহি মানে গােরা না মানে বিধান, ব্ৰহ্ম-উপাসনা হি করে মধ্যাচাৰ্য, দ্বৈতবাদী দুঃখ-মূল ভজে, অদ্বৈতবাদী না হয়, হরি বলে নাচে প্রেমানন্দে।
১৩২ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর 1*1" ? ৬৪। “বাসুদেব সাৰ্বভৌম পণ্ডিত ভারতে, যাদু করি করিয়াছে তাহারে ভকত, সাবধান ! গৌরাঙ্গ নিকটে যাতায়াত নাহি কর, ‘হরি বলা হবে নাহি ভুলে ৬৪১। দৈবযােগে এক দিন রাজপথে দেখা, সরস্বতী বলে,-“এ কোন্ পুরুষ প্রধান ? বিশ্বের নররূপী হয়ে আসিয়াছে কিবা হেথা, শিষ্য বলে, “এই সে গৌরাঙ্গ” ৬৪২। সম্মান করিয়ে সরস্বতী বসাইল, শিষ্টাচার দৈন্যতায় কেহ না জিনিল, বাক্যালাপে উভয়ের হৃদে প্রেমানন্দ উপজিল, বেদ-শাস্ত্র আরম্ভে বিচার। ৬৪৩। বিচারে পরাস্ত যদি হয় সরস্বতী, কৃষ্ণ-রূপ নেহায়ে গৌরাঙ্গ কায়াতে, প্রণমিল • শিষ্যগণসহ, তব কাতি করে কত, বর্ণিবারে না হয় শকতি । ৬৪৪। যাইট হাজার শিষ্য নিয়ে সরস্বতী, ভকত হইয়ে সবে বলে হরি হরি, হরি-ধ্বনি উঠিল গগনে কীৰ্ত্তন করিল কত, সে আনল লিখি কেমনে।
চতুর্থ সর্গ ১৩৩ 5/5 * * * ৬৪৫। লক্ষ লক্ষ হৰি-ভক্ত হইল তথায়, পশু পাখী স্থাবর জঙ্গম তরুলতা হবিলে হেলিয়ে দুলিয়ে, নৃত্য করে মেখে, হেরি সবে হ’ল চমৎকার। ৬৪৬। কৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু স্বয়ং ভগবান, যড়ৈশ্বৰ্য্য পূর্ণ সৰ্ব্ব শক্তিময় হয়, ভামিল রে সরস্বতী প্রতি, ‘শুনই প্রকাশনী শব্দময় ব্ৰহ্ম হয় হরি। ৬৪৭। “শিব হরি ভেদ জ্ঞান করে যেই জন, নিরয় মাঝারে হয় তাহার বসতি, রজঃগুণে বেদের জন, কি বুঝিবে তাহা বিধি, জ্যোতির্ময় ব্ৰহ্ম করে ব্যাখ্যা ৬৪৮। “জ্যোতি: অভ্যন্তরে আছে শ্যামল-সুন্দর, ধিভুজ নব নীরদ উজল বরণ, আলাদিনী শক্তি সহকারে প্রেমের মূরতি হয় ; সদাশিব মাত্র ইহা জানে। ৬৪৯। “বেদে উপনিষদে তব পাণ্ডিত্য গভীর, বিরিঞ্চির বাক্য নরে বুঝিতে না পারে, দেবঋষি ব্ৰহ্ম ঋষিগণ নিত্য তত্ত্ব নাহি জানে, বাক্য মনাতীত যাহা হয়।
১৪ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর ৬৫ । রাগ অনুরাগ ভিন্ন বিধির বিধানে, পাইবে না কভু সচ্চিদানন্দ সাধনে, দ্বন্দ্বতীত ত্রিগুণ রহিত আনল রহিত শান্তি” ; নবতত্ত্ব শুনি ভাসে প্রেমে । e ৬৫১। “ভক্তের কারণে হরি গােলোক হইতে সাঙ্গ-পাঙ্গ সঙ্গে করি আসিল ধরায়, রাগাংগা ভকতি প্রকাশি দেখাইল শ্রীরাধিকা ; সে আদর্শ কেহ না ধরিল ৷ ৬২। “পঞ্চ-রসিক সেব্য-সেবক ধরমেতে, সাধিল পূরব পত্নী কিশােরীর ভাবে, হ’ল নারে সাধন নিত্যের, সচ্চিদানন্দ না পায়। শ্রীরাধার ধর্ম প্রকাশিব । ৬৫৩। ব্ৰজ জনের ভাবাতে সিনান করিলে, অনায়াসে প্রাপ্ত হয় সচ্চিদানন্দ, গােপী ভাবে রাগ অনুরাগে সাধহ নিহতু ভাবে, আত্ম-সুখ দূরে পরিহরি।। ৬৫৪। “যার যেই মন্ত্রে দীক্ষা সৰ্ব্ব মন্ত্র হরি, ব্রজভাবে করিবে সাধন মানবেতে, নব নব রাগ উপজিয়ে ভালবাসা জনমিবে, অন্তেতে পাইবে নিত্যধাম।।
চতুর্থ অর্গ ১৩৫ we , AA ৬৫৫। “ধ্যান ধারণা সমাধি ত্রিত্রাটক যত, যাগ যজ্ঞ হােমাদি নিম্ন অধিকারে, নিত্যরস হবে না সাধিত, লও শুধু হরিনাম, হরিনামে সৰ্ব্ব কাৰ্য হবে। ৬৫৬। “পরীক্ষিত পুত্র জন্মজয় রাজা ছিল, অশ্বমেধ-যজ্ঞ করে এই কলিকালে, তার যজ্ঞ বিনষ্ট হইল, কাটা অশ্ব নৃত্য করে, দুগ্ধ নাহি ঝরে অশ্ব হতে । ৬৫৬। “কাটা-শির নৃত্য করে পরে রক্তধারা, অশ্বমুণ্ড স্বর্গপথে না উড়িল, হায় ! করে নৃত্য হেরি হাসিল দ্বিজের সুত, জন্মেজয় হ’ল ক্রোধমতি । ৬৫৭। “খৰ্গাঘাতে দ্বিজ-পুত্র কাটিয়া ফেলিল, ব্ৰহ্ম বধ করি রাজা করে হায়! হায় ! মুনিগণ যায় পলাইয়া, ব্ৰহ্মহত্যা পাপ হেবি কুষ্ঠরােগ হ’ল নরবরে। ৬৮। “যত্র জীব তত্র শিব তন্ত্রের লিখন, শিবলীলা নিন্দন না করিবে কখন, রজোগুণ বলে রাজসিকে, তামসিকে তমঃ কাজ, এ সব না দিবে উপদেশ ।
১৩৬ শ্রী শ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর ‘আৰ্য্য ও অনাৰ্য জাতি করে একাচার, সাকার পূজনে করে পর ঘাতন, জিয়াইতে নাহি পারে কেহ, বধ জন্য হয় পাপ, অন্তে হয় নরকে নিবাস। ৬৬। “ব্রাহ্মণ ত্রিগুণাতীত সর্বশাস্ত্রে কয়, থাকিবে তাহারা সব ব্ৰহ্ম-সভাবে, অনার্যের কাৰ্য বলিদান করি হয় মহাপাপী, পর পর জন্ম হয় পুনঃ || ৬৬১। “সত্য ত্রেতা দ্বাপরের ভজন ত্যজিয়া, হরিনাম মূলমন্ত্র জপ অনুক্ষণ, উপদেশি দিবে সবে নাম, তারকব্রহ্ম হরির করিবেক সাত্ত্বিক আচার। ৬৬২। রথযাত্রা কাল এবে হ’ল উপনীত, প্রত্যাগত হব আমি নালাচল পুরে, নিত্যানন্দ অদ্বৈত গদাধর শ্ৰীনিবাস ভক্তগণ আসিবেক অাম। দরশনে” । ৬৬৩। ইহা বলি চৈতন্য করিল প্রস্থান, সরস্বতী যায় হরিনাম বিতরিতে, অযাচকে দেয় হরিনাম, বৈষ্ণব করিল বহু ; মহাপ্রভু চলে নীলাচলে ।
০ চতুর্থ সর্গ ১৩৭ ১১। নিলাচলে চৈতন্য ৬৬৪। শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু নিলাচলে এলো, লক্ষ লক্ষ ভক্ত আসি করে দরশন, মহােৎসব হয় নিতি নিতি, মুকুন্দ কীৰ্ত্তন করে, প্রেমানন্দে নাচে গৌর হরি। ৬৬৫। নিত্যানন্দ গদাধয় অদ্বৈত আচার্য্য, শ্রীনিবাস স্বরূপ রামানন্দ মূরতি, সঙ্গেতে আসিল, গণনা অতীত হয়, মহাপ্রভু নিজে দেয় বাসা । ৬৬৬। চির পরবাসে কারো বান্ধব থাকিলে, নব দেখা তার সঙ্গে হলে পুনৰ্ব্বার, যেমন আনন্দ, তেমতি হইল সবে, পরস্পর করে আলিঙ্গন। ৬৬৭। প্রভু অলিঙ্গিয়া কেই ছাড়িতে না চায়, আঁখি পালটিতে হয় মর্মাহত লােক, প্রেমানন্দ হয় বিরত, বাড়িল রে নিরবধি ; প্রতি অঙ্গ নৃত্য করে প্রেমে । ৬৬৮। পঞ্চপ্রভু বসিলেন কাশীমিশ্র বাসে, শ্বেত রক্ত পীত বরণ নয়ন-রমিত, তিনবর্ণ মিলিত হইয়ে হ’ল নবীন বরণ, তার আভা উঠিল আকাশে। ১৮ ১৩৮ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর ৬৬৯। ভক্তগণ মাঝে পশি সে নব বরণ, পূরব বরণচ্ছিাদে এ নব বরণে, হইল রে সব একাকার, রমণীয় শােভা হেরি বিম্ময় মানিল যত লােকে। ৬৭। তরুলতা, কুটীর, আঙ্গিনা, নিরখিয়া, নব একরূপ হেরে যাত্ৰিক-মণ্ডলে, মণি জিনি বরণ উজলে, শান্তিময় শােভা হল ; দেবগণে করে পুষ্প-বৃষ্টি। ৬৭১। প্রসিদ্ধ বকুল তলে ব্ৰহ্ম হরিদাস, তিন লক্ষ হরিনাম করে নিতি নিতি, ৬৭২। প্রভুগণ আসিয়াছে তনি হাটিয়ে আসিল দ্রুত, প্রভুগণে করিল সম্মান । পরষ্পর প্রণমিলে আর আলিগিলে, প্রভুগণ প্রেমানন্দে করে আশির্বাদ, বেলা হলে করে মানদান, মহা প্রসাদ লইতে বসিলরে বিংশতি পঙক্তিতে ৬৩। পরিবেশন করিল শ্রীকৃষ্ণ-চৈতন্য, এক সময়ে প্রসাদ দিল প্রতিজনে, যত ভক্ত ভতন গোরা হইল এক সময়ে, সত্যখান রাজ। তা হেরিল।
চতুর্থ সর্গ * 'A ৬৭৪। রাজপরিবার যত হ’ল উন্মত, ভকত হইল সবে হরি হরি বলে, ভােজনান্তে ভকত বৈষ্ণব আচমন করি সবে তাম্বুল কপূর করে সেবা। ৬৭৫। গৌরাঙ্গ বিরহে অতি তাপিত হৃদয়ে, বাসুদেব সাৰ্বভৌম ছিল নিজালয়ে, পত্নীসহ আসি করে দেখা, প্রভু করিল আদর, একে একে সবে সম্ভাসিল । ৬৭ ৬। হরি-সংকীৰ্তন হ'ল, চৌষট্টি দলেতে, মহাসংকীৰ্ত্তন রথে হ’ল এক দিন, সংকীর্তন বহু হ’ল, গোর। প্রতি দলে করে নৃত্য, চৌষটি হইল গৌরাঙ্গ। ৬৭৭। জীব-শিক্ষা দিতে নিজে আচরি ধর্ম, পঞ্চ-প্রভু দলে দলে করয়ে নর্তন, নিজে নাচি নাচায় ভকত, ধূলায় ধূসর কায় ; ভকতে করে অনুকরণ। ৬৭৮। “হরি বল” ভীমরব ছুটিল আকাশে, প্রলয়ের ঝঞ্জাবাতে সাগর-লহরী, ভাঙ্গি যবে পরে বেলা ভূমে, রবেতে মিলয়ে রব, সেইরূপ হরি-ধ্বনি রব।
১৪০ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর । ৫. * * * * * ১। ৭৫%। ৬৭৯। দারুকার্য কারুকার্য বিচিত্র রথের উপরে শােভিছে এক রতনমণ্ডিত সিংহাসন, তদুপরি যত্নে, নেতের বসন শােভে, তদুপরি কুসুমের শয্যা। ৬৮০। কুসুমেরি হার ৩ায় থরে থরে রাখে, সুচুয়া চন্দন আর আতরে চর্চিয়ে, জগন্নাথ বসাইল তাহে, রাজ-পাণ্ডগণে আসি; তিন রথ হ’ল একত্রিত । ৬৮১। নহবতে বাজিল রে নাগারা টিকার, কাসী, বাঁশী, ঢােল, জয়ঢাক, জগঝম্প, যাত্রিকেরা করে হরি-ধ্বনি, রমণীরা দেয় উলু, পদভরে কঁপিয়ে মেদিনী। ৬৮২। সংকীৰ্ত্তন রব যদি তাহাতে মিশিল, ভূচর খেচর সব প্রমাদ গণিল, নৃত্য করে থাকি বিমানেতে, অপ সরাগণেরা সুখে, কেবল কৃতান্ত স্লান-মুখ । ৬৮৩। ধৰ্ম্মরাজ বলে মাের রাজ্য গেল, হায় ! হরিনাম ধ্বনি যদি আসে নিরয়েতে, পাপীগণ কেহ না রহিবে, উদ্ধারি যাবে গােলকে, চিস্তি দ্বার করে অর্গলিত।
চতুর্থ সর্গ ১৪১ ৬৮৪। সপ্তদিন অহােরাত্রি কীৰ্ত্তন হইল, প্রেমে উন্মত যত ভকতের দল, আত্মহারা নামামৃত পানে, ভূমে গড়ি দিল কেহ, লক্ষে কম্পে নিলাচল ভূমি। ৬৮৫। নরেন্দ্র-সরােবরে করিল জলকেলি, সল্পজলা সরােবর পঙ্কময় হ’ল, চারি পারে পর্ণশালা তার, তীর্থ-ঘাত্রি ছিল বহু, পর্ণশালা চিত্ৰিল কদ্দমে। ৬৮৬। জলকেলি অবসান হলে ভক্তগণ, প্রসাদ পাইতে এল কাশী মিশ্র ঘরে, প্রেমানন্দে প্রসাদ লইল, বিশ্রাম করিল তবে, রজনী বঞ্চিল হরিনামে। ৬৮৭। প্রত্যুষে উঠিয়ে প্রাতঃক্রিয়া সমাপিয়া, মহাপ্রভু স্নানে এল কাশীমিশ্র-পুরে, প্রভুগণ বেষ্টন করিয়ে বসিল ভকতগণে, উপজিল রমণীয় শাে । ৬৮৮। শরতের নিরমল অম্বর উপরি, নক্ষত্র বেষ্টিত শশী যেমন শােভয়, সেইভাবে শােভিত হইল পঞ্চ প্রভু, ধরাধামে, নয়ন-রঞ্জন চিতহারী ।
{ ১৪২ শ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর নিমাইর সাধনােপদেশ ৬৮৯। এইভাবে একমাস গত সবাকার, সৰ্ব্ব চিন্তা পরিহরি নিলাচলে রহে, সুচিন্তিত হ’ল মহাপ্রভু স্বদেশে পাঠাতে সবে, ভক্ত প্রতি দিল উপদেশ । এক কোটি সাধক জিনি একটী জ্ঞানী, এক কোটি জ্ঞানী ঠেলি একজন ন্যাসী, এক কোটি ন্যাসী ফেলি দিয়ে একজন যােগী হয়, এক কোটী যােগী জিনি ভক্ত। ৬৯১। “এক কোটি ভক্ত জিনি এক সখ্য নর, তাহা হৈতে শ্রেষ্ঠ হয় বাৎসল্য ভকত, তাহা হৈতে শ্রেষ্ঠ হয় দাস্য, তাহা হৈতে শ্রেষ্ঠ কান্ত, তাহা হৈতে শ্রেষ্ঠ হয় মধূ । ৬৯২। “ব্রজ জনের এই পথ পঞ্চম হয়, যার যেই মত ইচ্ছা করহ সাধন, হবে ভাব, ভাবে হবে প্রেম, প্রেমে হবে ভালবাসা, ভালবাসায় হইবে মধু। ৬৯৩। "সুমধুর ভালবাসা হৃদয়ে প্রবাহি, প্রতি অঙ্গ মাতিবে নবীন প্রেম-সে, হবে রাগ, পরে অনুরাগ, বিরাগে মঞ্জরী হবে, সর্ব অন্তে যাবে নিত্যালয়ে।
চতুর্থ সর্গ ১৪৩ ॥ * - ৭৬% ।। ৬৯৪। “সন্ন্যাসী না হবে কেহ, গৃহাশ্রমে থাকি, ব্ৰজ জনার বামুতে ভাব ধরিয়ে, নিলে ভাব, মনােময় কায়ে ভাবেরি প্রকৃতি হবে, আত্ম-সুখ পাইবে সব। ৬৯৫। “এক ব্যক্তি বহু মন্ত্রে দীক্ষিত না হবে, নিরপিবে জ্ঞানে, প্রতি দেব এক হয়, মায়াধীশ অনাসক্ত হয়ে, সাধিবে বিকার ছাড়ি, সমাধি হইবে অতঃপরে। ৬৯৬। “অষ্ট সাত্ত্বিক ভাব যে বিকার ধরম, হাস। কাদা নাচা গাওয়া দুরে যাইবে, তন্ময় হইবে তদাত্মা, যে ভাব গােপীর হ’ল সেই ভাব হবে তোমাদের। ৬৯৭। “উচ্চজাতি নরে শিষ্য কভু না করিবে, তৃণ হৈতে নিচু হয়ে চলিবে সমাজে, ডরুম ধৈর্য ধরিবে, কারো না লইবে দোষ, উদ্বেগ না দিবে কোন জীবে । ৬৯৮। “ধন্য ধন্য বৃন্দাবন ধন্য নন্দগ্রাম, ধন্য ব্রজ গােপ গােপী ধন্য সে জাবট, ধন্য ধন্য পশু পাখী সব, ধন্য বন উপবন, ধন্য ধন্য তরুলতা আদি।
১৪৪ শ্রীশ্রীচৈতন্য লীলাঙ্কুর « ? । . . ** . ৬৯৯। “ধন্য ধন্য যমুনা-পুলিন, বংশীবট, ধন্য শ্যামকুণ্ড, রাধাকুণ্ড, কীট, ভূজঙ্গ, নিধুবন আর, ধন্য নিকুঞ্জেরি বন, ধন্য কুসুমেরি সরােবর। ৭০। “ধন্য গিরি গােবর্ধন কালীয় দমন, ভব ভবানী যথা করিত বিচরণ, ব্রহ্মা আদি সব দেবগণে, কণিকা প্রেমের তরে, জনমিয়া ছিল যে তথায়।। ৭১। “আপনি সচ্চিদানন্দ ভকত কারণে, নিত্যধাম পরিহরি গােপের ঘরেতে, শ্রীরাধাজী মঞ্জরী সখীর সহিতে করিল লীলা, কৃষ্ণভক্তি শিখাল অপার । ৭২। গােপীর কণিকা প্রেম পায় যেই নর, দেবতা দুর্লভ হয় প্রতি জনে জনে, ভজ রে গােপিনী ভাবেতে ; যাহার যেমত ভাব অনায়াসে পাবে নিত্যধাম । ৭৩। ইহা বলি শ্ৰীকৃষ্ণ-চৈতন্য মহাপ্রভূ, স্নান লাগি চলিল ভকতগণ সঙ্গে, স্নান করি প্রসাদ ভক্ষিল, বিশ্রাম করিয়া সবে বিদায় হইল প্রভু-স্থানে।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.