Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Jamai-barik Ed.7

Mitra Bahadur,dinobandhu · 2009/10/11

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

জামাই-বারিক।
প্রহসন।
রায় দীনবন্ধু মিত্র বাহাদুর
প্রণীত।
"Of all the blessings on earth the best is a good wife ;
A bad one is the bitterest curse of human life."
সপ্তম সংস্করণ।
গ্রন্থকারের পুত্রগণ কর্তৃক প্রকাশিত
কলিকাতা :
১১৫ নং আমহাষ্ট ষ্ট্রীট ক্রাইটিরিয়ণ প্রেসে
শ্রীনারায়ণ চন্দ্র ঘােষ দ্বারা
মুদ্রিত।
সন ১৩০৪ ।

No text on this page.

উৎসর্গ
---
সদ্গুণরাশি
শ্ৰীযুক্ত বাবু রাসবিহারী বসু
সদুদারচরিতে
ভ্রাতৃস্নেহভাজন রাসবিহারি,
তুমি যে যে প্রদেশে অবস্থান করিয়াছ, সকলেরি অল্প অল্প বৃত্তান্ত তােমার
লিপিসমূহে প্রাপ্ত হইয়াছি। সেগুলিন এমনি মধুর, একবার পাঠ করিলেই
কণ্ঠস্থ হইয়া যায়। যদিও আমি অনেক স্থানে ভ্রমণ করিয়াছি, তােমাকে কিন্তু
কখন কোন স্থানের ইতিবৃত্ত দিই নাই ;-ইতিবৃত্ত দূরে থাক, “তোমার সমুদায়
লিপির উত্তর দিয়াছি কি না সন্দেহ। বহুকালের পর তােমাকে একটা অপূর্ব
স্থানের ইতিবৃত্ত দিতে সক্ষম হইলাম ; সে স্থানের নাম “জামাই বারিক”
অভিন্নহৃদয়
দীনবন্ধু মিত্র

নাট্ট্যোলিখিত ব্যক্তিগণ
পুরুষগণ।
বিজয়বল্লভ, জমিদার।
অক্ষয়কুমার, বিজয়বল্পতভর জামাতা।
পদ্মলােচন, অভয়কুমারের প্রতিবেশী ।
মাধব বৈরাগী, আশ্রমধারী বৈষ্ণব।
পারিষদগণ, ঘটক, চোর, জামাইগণ।
নারীগণ।
কামিনী, বিজয়বল্লভের কন্যা এবং অভয়কুমারের স্ত্রী।
ভবী ময়রাণী, কামিনীর প্রতিবেশিনী।
হাবার মা,
বিজয়য়বল্পতভর পরিচারিকাদ্বয়।
পাঁচি
বগলা,
পদ্মলােচনের স্ত্রীদ্বয়।
বিন্দুবাসিনী
দাসীগণ, বৈষ্ণবীগণ।

জামাই-বারিক।
প্রহসন।
প্রথম অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
কেশবপুর-বিজয়বল্লভের বৈটকখানা।
বিজয়বল্লভ, ঘটক এবং পারিষদ-চতুষ্টয়ের প্রবেশ ।
বিজ। (গদিতে উপবেশনানন্তর) তবে ও সম্বন্ধ ছেড়ে দিতে হল।
ঘট। এমন পাত্র কিন্তু আর মিলবে না; দেখতে কার্তিকটা, লেখা-পড়ায়
যত দূর ভাল হতে হয়, বয়স্ কম বলে এ বারে এন্ট্রান্স পাশ করতে দ্যায় নি।
প্র, পারি। প্রতিবন্ধকতা কি ?
বিজ। আমি আদ্যিরস কত্তে চাই,-একটী কুলীনের মেয়ের সঙ্গে
ছেলেটির বিয়ে দিয়ে তার পরে পৌত্রীটী সম্প্রদান করি ; তা ছেলেটা দুই বিয়ে
কত্তে চায় না।
দ্বি, পারি। ছেলের বাপের মত কি ?
বিজ। এ কালে ছেলে কি বাপকে মানে? বাপের নিতান্ত ইচ্ছা
আমার সঙ্গে এ ক্রিয়া করেন ; কিন্তু ছেলে বাপের নয়, কোন মতে বিয়ে
করূতে স্বীকার হয় না।
ঘট। যে কাল দিন পড়েচে, অদ্বািরস প্রায় উঠে গেল।-রামকানাই বাবু
পুত্রের প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বে ধনের লোভে বড় মানবের মেয়ের সঙ্গে তার সবার
বিয়ে দিয়েচেন ; সে জন্যে কারাে কাছে মুখ দেখাতে পারেন না; ভদ্রসমাজে,
তীয় ইকো বন্দ।
;

জামাই-বারিক। [প্রথম তু, পারি। তিনি না কালে-আউট ঘট। তা নইলে তাকে কে নিন্দে করত ? তাঁর বন্ধুরা বলে “রামকানাই । এক কামড়ে তিনটী মাথা খেলে।” চ, পারি। কার কার ? ঘট। পুত্রের, পুত্রের প্রথম স্ত্রীর, আর বড় মানুষের মেয়ের। বিজ। এ বংশে আদ্যিরস ভিন্ন একটীও মেয়ের বিয়ে হয় নি। আমি সুপাত্রের অনুরােধে কুলাঙ্গার হব ? ও সম্বন্ধ বিসৰ্জন দাও। ঘট। তবে জঙ্গলবেড়ের কঁচিল বাবুর ছেলের বাবুর ছেলের সঙ্গেই সম্বন্ধ স্থির করা যাক। বিজ। সুতরাং। প্র, পারি। ছেলেটা কেমন ? ঘট। কৃষ্ণবর্ণ কটা চুল ; 'কূপ বলে হয় ভুল সুগােল গভীর আঁখিদ্বয় ; কিবা শােভা নাসিকার, যেন কুৰ্ম্ম-অবতার ; কপােল-যুগল লৌহময় ; ঠোট হেরে সারে শােক, যেন দুটী মােটা জেঁক, অবশ রুধির করে পান অতি লম্বা পদ দুটী, যেন গরানের খুটী, কেটে মাটি করে খান খান ; বসনে বিষম আটা, আজন্ম করেনি পরশন ; । রাখাল-রাজের ভাব, কাটেন গরুর জাৰ, ধেনু লয়ে গােষ্ঠে গােচারণ ; গেটে কলকে হাতে নিয়ে, ঘুটের আগুণ দিয়ে, খান তামাক সেজে খায় । লেখা পড়া হড়াপােড়, কিন্তু কুলীনের গােড়া, কুললক্ষ্মী অন্ধ করুণায়। বিজ। তুমি শিং ভেঙ্গে বাছুরের দলে মিশে, তাই কুলীনের ছেলের এত নিন্দা ক; ছেলেদের ইচ্ছা ভাল পাত্রীর সঙ্গে বিবাহ হয়, তুমি তাদের সঙ্গে একমত অমচ। কভু রজকের পাটা ৫ ।...

গর্ভাঙ্ক প্রথম অঙ্ক। ঘট। আমার মতামত কি, আমাকে যেমন অনুমতি কবেন আমি তেমনি করব ; তবে স্বরূপ বর্ণনা না কলে আমাকে পরিণামে দোষ দিতে পারেন। দ্বি, পারি। ছেলেটীকে জামাই-বারিকে এনে ফেলতে পাল্লে পাঁচ দিনে সংশােধন হবে ; আপনি জামাইদিগের উন্নতির অনেক উপায় করেছেন। পদ্মলােচনের প্রবেশ। বিজ। আসতে আজ্ঞা হয়। পদ্ম। বসতে আজ্ঞা হয়। বিজ। অভয় কুমার রাগ করে বাড়ী গিয়েছে, আমি তিন চার বার লােক পাঠালেম, তা কোন মতেই এল না; শুচি সে মহাশয়ের বড় অনুগত ; আপনি অনুগ্রহ করে অভয়কে বুঝিয়ে এখানে পাঠিয়ে দেবেন। পদ্ম। সে জন্য আপনাকে অধিক বলতে হবে না, আমি বাড়ী গিয়েই অভয়কে পাঠিয়ে দেব। বিজ। আমি জামাইদের যেমন যত্ন করি, তা এরা সকলি জানেন। অভয় কিছু অভিমানী, একটু ত্রুটি হলেই বাড়ী যায়। আমি প্রত্যেক মেয়েকে এক একটী জমিদারী লিখে দিইচি। ঘট। আপনি জঙ্গলবেড়ের কুচিল বাবুকে জানেন? পদ্ম। তিনি কুলীনচূড়ামণি। তৃ, পারি। তার ব্যবসা কি ? পদ্ম। ছেলে মেয়ে বিক্রি করা। তাঁর সন্তানগুলিন খুব দরে বিক্রি হয় ; তার পিলে-লােগা গন্না কাটা কালপ্যাচা মেয়েটা দেড় হাজার টাকায় হাইষ্ট বিডারে বিক্রয় হয়েছে। চ, পারি। তার ছেলেটা কেমন ? পদ্ম। ভগ্নীর ভাই। চ, পারি। লেখা পড়ায় কেমন ? পদ্ম। আমি তাকে এক দিন জিজ্ঞাসা করুলেম “তােমরা কয় ভাই ? সে বল্লে “তিন ভাই; আমি বল্লম “কে কে ?” সে বল্লে ‘আমি, কালা কাকা, আর ভগীপিসি।” লেখা পড়ায় কেটে জোড়া দেন। বিজ। তােমরা আবার ও কথা তুল্লে কেন ? পদ্মলােচন বাবু এক্ষেচেন, ওঁর সঙ্গে সদালাপ করা যাক। পদ্ম। আপনার এখানে সদালাপের শিবরাত্রি। ৯ ৪ জামাই-বারিক। [প্রথম বিজ। কেন মহাশয় ? পদ্ম। আপনি যুবরাজ অঙ্গদের ন্যায় লাল পাকিয়ে উচ্চ গদি প্রস্তুত করে উপরে বসে রইলেন, আর আমি নলডেঙ্গার নায়েবের মত নীচের বসে নিকেস দিচ্ছি প্র, পারি। আপনি ক্রোরপতি ভূস্বামীকে এমন কথা বলেন ? পদ্ম। আমি ত আপনার মত ভাঁড় হাতে করে আসি নি যে উচিত কথা বলতে সঙ্কুচিত হব। , পারি। জমিদারদিগের উচ্চ আসন পরমেশ্বর-দত্ত। পদ্ম। আজ্ঞা না আপনার ভুল হচ্ছে ; কার দত্ত আপনি জানেন না। প্র, পারি। কার দত্ত ? পদ্ম। হনুমানের হৃদয়বিহারী-দাশরথি-দত্ত। ঘট। মহাশয়, আপনার ভাব বুঝতে পাল্লেম না। পদ্ম। যুবরাজ অঙ্গদ রাবণের সভার লেজ পাকিয়ে উচ্চ আসন করে বসে সভাস্থ লােকদিগের অপমান করিয়াছেন রামচন্দ্ৰ সন্তুষ্ট হয়ে বল্লেন “যুবরাজ, বর নাও” ; যুবরাজ অঙ্গদ বল্লেন “প্রভু এই বর দেন, যেন আমার লাঙ্গুল-পাকান উচ্চ আসনখানি পৃথিবীতে প্রচলিত থাকে।” রামচন্দ্র বল্লেন, “হে বীরশ্রেষ্ঠ বালিরাজাত্মজ, তােমার প্রার্থনা অবশ্য ফলবতী হইবে; তােমার প্রকাণ্ড শরীর তিন খণ্ডে বিভক্ত হয়ে কলিযুগে তিনটী অবতার হবে, সেই তিন মহাত্মা তােমার লেজ বিনির্মিত আসন প্রচলিত রাখবেন।” ঘট r কোন্ খণ্ডে কোন্ অবতার হল ? পদ্ম। মুখে মুখ জমিদার ; পেটে সােয়ালচুরির সদরআলা; *লেজে 'সুকতলার ডেপুটি বাবু। দ্বি, পারি। সুকতলাটী কি ? পদ্ম। অনুরােধমিশ্রিত খােসামােদ। ঘট। মুর্গ জমিদারে বানরের মুখের চিহ্ন কি? পদ্ম। মুখ খিচোয়। ঘট। সােয়ালচুরির সদরআলায় বানরের পেট কই প। এজলাসে উৎকোচ আহার করেন। ঘট। সুকতলার ডেপুটি বাবুতে বানরের লেজের লক্ষণ কি ? পদ্ম। শতমুখীতেও সােজা করা যায় না। ; ? . ;

গর্ভাঙ্ক] প্রথম অঙ্ক। তৃ, পারি। ডেপুটি বাবু কোথায় কৰ্ম্ম করেন ? প। কিস্কিন্ধ্যাবাদে। ঘট। বিচারে কেমন ? পদ্ম। ছয় কেটে দুই। ঘট। সে কি মহাশয় ? পদ্ম। ডেপুটি বাবু এক দিন একজন আসামীকে ছয় মাস মেয়াদ দিলেন, বাসায় এসে সেরেস্তাদার মহাশয়ের কাছে জালেন এমন অপরাধে দুই মাসের অধিক মেয়াদ হয় না, পর দিন কাছারি এসে ছয় কেটে দুই কল্লেন। ঘট। ডেপুটি বাবু কি সেরেস্তাদারের বশীভূত ? পদ্ম। সেরেস্তাদার ডেপুটি বাবুর ব্ল্যাকষ্টোন। ঘট। কলমের জোর কেমন ? পদ্ম। প্রায় বকলমে কাজ চলে। তু, পারি। রিপাের্ট লিখিতে হলে কি করেন ? পদ্ম। কাগজ বগলে করে বন্ধুগণের শরণ লন। ঘট। ডেপুটি বাবু না কি বড় রসিক ? পদ্ম। রেপকেসগুলিন বাবুর একচেটে; মেয়ে সাক্ষীর জবানবন্দি বাসায়বসে। ঘট। ডেপুটি বাবু সভ্য কেমন? পদ্ম। সভ্যতার মধ্যে দেখতে পাই যুবরাজ অঙ্গদের মত বৈটকখানায় ঠ্যাং উচু করে লাঙ্গুল-পাকান উচ্চ গদিতে বসে থাকেন, ভদ্রলােক এসে বিরক্ত হয়ে উঠে যায়। ঘট। বােধ হয়, বাবুজি মানের গৌরবে যুবরাজ অঙ্গদের মত ব্যবহার করেন। পদ্ম। মান ত মানকচু, বন্য শূকরের দন্তে বিদারিত। বাবুর মান গুতােয় গুতােয় থেতত হয়ে গেছে। চ, পারি। কিসের গুতাে ? পদ্ম। একের নম্বর গুতাে মেজেষ্টরের ; দুয়ের নম্বর গুলাে সেসান জজের ; তিনের নম্বর গুতে হাইকোটের ; চারের নম্বর গুতো গবর্ণমেন্টের ; পাঁচের নম্বর গুতাে বেনামী দরখাস্তের। গুতাং পঞ্চ উপর্যুপরি। ঘট। বােধ করি, সেই জন্যে বাসায় এসে উচচ গদিতে আড় হয়ে পড়েন, ভদ্রলােক এলে গাত্রবেদনায় উঠতে পারেন না। ;

৬ জামাই-বারিক। {প্রথম গৰ্বাঙ্ক পদ্ম। সে জথে নষ্ট। ঘট। তবে কেন গদি ছেড়ে উঠেন না? পদ্ম। পাছে লাঙ্গুল বেরিয়ে পড়ে। ঘট। আপনার কলিকাতায় যাতায়াত আছে ? পদ্ম। বারেক দুবার গিয়েছিলেম। ঘট। সেখানকার বাবুরা কেমন ? পদ্ম। কলিকাতা রত্নাকর বিশেষ ; কোন কোন স্থল অমৃতে পরিপূর্ণ, কোন কোন স্থল বিষময়। ঘট। কোন্ অংশটী বিষময় ? পদ্ম। যে অংশে খোঁড়া বাবুদের বাস। ঘট। খোড়া বাবুয়া কারা ? পদ্ম। যারা লাঙ্গুল অবতারের মত উচ্চ আসনে উপবেশন করেন, ভদ্রলােক নিকটে গেলে সম্মান করিতে কৃপণতা করেন না, বিদায় দেওয়ার সময় আবার আসতে আহ্বান করেন, কিন্তু প্রতিদর্শনের সময়, অর্থাৎ ভিজিট রিটারণের কাল উপস্থিত হলে, খোঁড়া হন। ঘট। তারা কি বারমেসে খোড়া ? পদ্ম। আজ্ঞে না, কারণ তারা বিলাস কাননে যাবার সময় চতুষ্পদ হন। বিজ। (গদি হইতে অবতরণপূর্বক পদ্মলােচনের নিকটে বসিয়া) পদ্ম- লােচন বাবু আমাকে বড় অপ্রতিভ কল্লেন, তা আপনিও ত বৈটকখানায় গদিতে বসেন। পদ্ম। কিন্তু উপযুক্ত লােক এলে তাকে গদিতে নিয়ে বসি, যদি অধিক লােক হয় তাদের সঙ্গে নীচেয় বসি। বিজ। মহাশয় অসভ্যতা মার্জনা করূবেন। পদ্ম। ধনী লােকের নম্রতা বড়ই মনােহর। বিজ। যদি অনুমতি করেন আপনাকে বাগানে নিয়ে যাই। পদ্ম। আমি আপনার নিতান্ত অনুগত। [সকলের প্রস্থান।

দ্বিতীয় গাঙ্ক।
কেশবপুর-কামিনীর শয়নঘর।
একদিকে কামিনী, অপরদিকে ভবী ময়রাণীর প্রবেশ।
কামি। এ কি ভাগগি, ময়রা দিদির আগমন ; আজ সকালে কার মুখ
দেখেছিলেম, তার মুখ বােজ দেখব লাে ; কোন্ ঘাটে মুখ ধুয়েছিলেম, সেই
ঘাটে রােজ যাব লাে। তুমি বেঁচে ; আমি বলি ময়রা বুড়ো বড় হয়েছে।
ভৰী। কামিনি, নাতিনি, সতিনী আমার তুই, .
তাের ঠাকুরদাদায় রেখে মাঝে তিন জনাতে
এক বিছানায় শুই।
কামি। মরণ আর কি, কত সাদি যায়।
ভবী। একবার দেখি, বুড়াে তােকে ন্যায় কি আমায় ন্যায়।
কামি। মুড়কিমুখী ময়রা দিদি, নবীন বয়েস তাের,
ছােট্টা মাজা, নিরেট বাঁজা, বড় কপাল-ছোর।
তােকে ছেড়ে কি আমায় নেবে?
ভবী। নিলেও নিতে পারে ।
কামি। কেন লাে ?
ভবী। ভাতার যে তাের মনে ধরে নি।
কামি। তা বলে ত আর আমি বিয়ে করি নি।
ভবী। পথ থাকলে করুতি।
কামি। থাকলেও কব।
ভবী। কাকে লাে ?
কামি। যমকে।
ভবী! অমন কথা বলিস্ নে।
কামি। যাই, মেজদিদির পাশে যাই, হাড়টা জুড়ক।
• ডবী। মেজদিদি মল কেন? বল্ না ভাই।
কামি। বড় ঘরের বড় কথা, বল্পে কাটা যায় মাতা।
মেজো জামাই বড় মদ খেত, বাবা তারে বাড়ীতে আসতে বারণ করেছিলেন,
এক দিন দুবােয়ান দিয়ে বার করে দিছিলেন ; মেজদিদির চক্ দিয়ে টস্ ট ,
•

: ৮ জামাই-বারিক। [দ্বিতীয় করে জল পড়তে লাগল । নাওয়া খাওয়া ত্যাগ করে সমস্ত দিন কঁদলেন। —কেনই বা কঁদলেন ; একে ঘরজামায়ে, তাতে মাতাল, থালেই বা কি আর গেলেই বা কি ; আমরাও কি কঁদি নে, কাদি, যদি ভাতারের মত ভাতার হয়, ভবী। তার পর ? কামি। মেজদিদি বাবার কাছে গিয়ে কঁদতে কাঁদতে বল্লেন “বাবা, আমায় একখানি ছােট বাড়ী করে দেন, আমি ওকে নিয়ে সেখানে থাকি চাকরে তারে অপনান করে আমার প্রাণে সহ্য হয় না।” ভবী। বাবা কি বল্লেন ? কামি। বাবা বল্লেন “বিধবা হয়ে মেয়ে যেমন বাবের বাড়ী থাকে তুমি তেমনি থাক, ভাব সে মরে গিয়েছে।”-পােড়া কপাল আর কি, বাপের মুখে কথা দেখ। যখন মেজদিদি তার ভাতারকে ভালবাসে তখন সে মন্দ হক ছন্দ হক, মাতাল হক গুলিখাের হ, তার কাছে তাকে দেওয়াই ভাল। ভবী। আহা মেজদিদি মনে বড় ব্যথা গেলে, না ? কামি। ব্যথা পেলে, ব্যথা নিবারণও কলে,-রাত্তিরটা পােহল ; সকালে দোর খুলে দেখি মেজদিদি গলায় খুর দিয়ে মরে রয়েছে, রক্ত ঢেউ খেচে বেঁচেচে, ঘরজামায়ের হাত এড়িয়েছে। ভবী। বড় ডামাডােল হল ? কামি। হল না? বাবার হাতে দড়ি পড়ে পড়ে । কত লােক কত কথা বলতে লাগল ;-কেউ বলে, বেরিয়ে যাচ্ছিল, বাবা তাই কেটে ফেলেচেন, কেউ বলে চাকরের সঙ্গে, জামাই বাবু তাই খুন করেছেন। যে যা বলুক সে সব কথা মিছে, সতী লক্ষ্মীর দোষ দেব না ; আমি যা বচি তাই সত্যি, সে আপনার দুঃখে আপনি মল। ভবী। জামাই বাবু আর অসেন নি ? . কামি। ঘরজামায়ে আর থানার চাপরাসী সমান, চাপরাস যদ্দিন মান তদ্দিন, চাপরাস গেল মান ফুরাল।—চাপাস হারিয়ে জামাই বাবু দেশে দেশে ভেসে বেড়াচ্ছেন। ভী। তাের ভাতারকে যদি তাড়িয়ে দেয়, কামি। ওলাবিবির পূজ দিই। ভবী। • তা আর দিতে হয় না, - গর্ভাক] প্রথম অঙ্ক। ৯ কামি। যে দোষে তাড়িয়ে দেয় এর সে দোষ নাই, মদ খায় না।-গুলি • খাও গাঁজা খাও, বেড়াতে চেড়াতে যাও বাবা তাতে কথাটা কন না ; মদ খেলে, যমের বাড়ী গেলে। তবু মেজদিদি মরে কড়াকড় অনেক কমেছে ; এখন দাদারাও একটু একটু খান। ভবী। ভাব যেন নাতজামাইকে চাকররা তাড়িয়ে দিলে ; তুই হলে কি করি? কামি। কাদি, কিন্তু মরি নে। ভবী। কঁদিস্ কেন ? কামি। আমার জিনিস আমি মারি, কাটি, বকি ঝকি, তাতে এসে যায় না, কিন্তু পরে কিছু বল্লে আমার মনে বাজে, হয় ত তাইতে কাদি। ভবী। মরিস্ নে কেন ? কামি। শুধু শুধু মরুতে যাব কেন লাে ; এক দিন তাড়ালে বলে কি রােজ তাড়াবে। ঘরজামায়ের মান আর অপমান ; ঘরজামায়ের গা, না গণ্ডারের গা, মালে দাগ চড়ে না; তাদের মন লােহার গঠন, অপমানের হুল বেঁধে না, বরং ভোঁতা হয়ে যায়। ভবী। আমার বােধ হয়, একটু ভারিক্কি হলে তাের ভাতারকে তুই ভালবাবি। কামি। চুলাের দোরে না গেলে ত নয়। ভবী। নাতজামাই নাকি বড় রাগ করে গেছে, আর নাকি আসবে না? কামি। ঘরজামায়ে পােড়র মুখ, মরা বাঁচা সমান সুখ। আসে আসবে না আসে না আবে, আমার তায় কি ? হাবার মার প্রবেশ। ভবী। তাের না ত কি আমার, না এই হাবার মার ? • কামি। হাবার মার, মাইরি ময়রা.দিদি, তাের মাতা খাই; এক রাত এক বিছানায় বাস হয়ে গিয়েছে। হাবার মার ঐ ত রূপ ;-দাঁতগুলি’পড়ে উঠচে, চক্ষের কোণে ক্ষীনােদমন্থন, চুল শণের, মুড়ি, নারকেলের তেলে জব জব: নিকি মরে পচা গন্ধ ; উতিই আমার নটবর হাবুডুবু। ;

so জামাই-বারিক। [দ্বিতীয় হাব। জামাই বাবুকে আনতে গেল, কামি। আমায় নিয়ে চুলােয় চল। হাবা । আ মরি কথার শ্রী দেখ?-কামিনী তােরে কেমন কেমন দেখছি, কামি। কার সঙ্গে লাে? আমার আঁধার মাণিক তাের হয়েছে; হাবার বাবার সঙ্গে দেখলি না কি ? ভবী। তাের যে মুখ, হাবার বাবার বাবা হার মেনে যায়। হাবা। এ বার এলে গ্যাদা করে হতচ্ছেদ্দা করিস্ নে।ছােট নােক হক, গুলি খা, তাের ভারত বটে, ফুল ফেলে ত মেরেচে। স্বামী গুরুনােক, তারে কি বার করে দিয়ে দোর দিতে আছে, বলে স্বামী আমার গুরুজন, - এক রাজার নয় সাত রাজার ধন। কামি। হাবার মা, তুই আর জ্বালানে ভাই, ময়য়াদিদি এয়েচে, দুটো নর কথা কই; তােমার কথকতা কত্তে ইচ্ছে হয়, বেদিতে গিয়ে বসাে। হাবা। হালা কামিনি, ভুই আমারে বাদী বল্লি তােরে হতে দেখিচি, কােলে পিটে করে মানুষ করিচি, তুই বুড়াে ধাড়ী নেংটা হয়ে বেড়াতি, সাপের ভয় দেখিয়ে তােরে কাপড় পরতে শিখিয়েছি ; তুই আজ এত বড় হলি, আমারে বাদী বল্লি ; যাই দিকি গিন্নীর কাছে। কামি। হাবার মা, তুই বড্ড হাবা, আমি বল্লেম “বেদি”, বাদী নয়। ভবী। সত্যি রে হাবার মা, কামিনী তােকে বাদী বলে নি,- কামি। মাইরি হাবার মা, আমি তােরে মন্দ কথা বলি নি, রাগ করিসূনে আমার মাথা খাস, হাবা। বালাই, তাের মাথা কি আমি খেতে পারি। তাের ভাতার রাগ করে গেচে, আমি ধড়, ফড় করে মচি। কামি। তােমার সঙ্গে কি, না নূতন প্রেম!—আহা জামাইবাবু এখানে নাই, হাবার মার বিছানাটী ফাঁৎ ফাৎ কচ্চে। ভবী। ও হাবার মা, নাতজামাই তাের বিছানায় গিয়েছিল কেমন করে ? হাবা। দেখে যা পাড়ার লােক চোরের দাগাদারি, যে ঘরেতে রাঙ্গা বউ, সেই ঘরেতে চুরি। দেখে যা ছােরের দাগাদারি। ( নৃিত্য।

গর্ভাঙ্ক) প্রথম অঙ্ক। ভবী! আ মরণ, নাচেন যে ! হবা। নাচৰ না ত কি, আমি কি ভেসে এসেচি কাল সকালে কেলে সােণার কোলে বসিচি। নৃত্য। কামি। পােভারমুখ, যেমন ঝগড়া কত্তে, তেমনি আমােদ কত্তে। বুড়ি, তবু রসের ডােবা। ভবী। হাবার মা, নাত জামায়ের সঙ্গে কেমন নূতন পীরিত কল্লি বল না? হাবা। আমার সঙ্গে পীরিত করা, জামাই বাবুকে প্রাণে মারা। কামি। সে যে তােমার নয়নতারা। হাবা। তা ত তুমিই করে দিয়েচ। শুনিচি কুচবেহারে মাগ ভাড়া দেয় । বড় মাসের মেয়েরা ভাতার ভাড়া দেয়। কামি। তাের কাছে আমার এক রেতের ভাড়া পাওনা, জালি । হাবা। তাের রা কত করে ? কামি। কুলীন বাবুদের ফাটা পা। ভবী। আমি কথাটী পাড়ি, আর কামিনী উড়িয়ে দেয়।-হাবার মা, নতুন পীরিতের কথা বল। কামি। কেমন করে আমার সতীন হলি তাই বল। হাবা। ময়না ময়না ময়না, সতীন যেন হয় না। কামি। মাচি, মাচি, মাচি, সতীন হলে বাঁচি। হাবা। আমার মত সতীন হলে বটে ; ময়রাদিদির মত সতীন ষাঁড়ে যাঁড়ে যুদ্ধ, ভাতার শালা পাটা-ছেড়াছিড়ি হয়। কামি। ময়রাদিদি ন্যাজের দিকে। ভবী। তা হলে আমি গিচি। তুমি কামদেবের বয়ার-কাটা কামার ; মুড়ির সঙ্গে যা থাকে তা কামারের ; তুমি এমনি কোপ করূবে, মুড়ির সঙ্গে সব ভাতারটুকু কেটে নেবে। হাবা।.. তােমার হাতে থাকবে কি ? ভবী। ভাতারের কাজটী।

১২ জামাই-বারিক। [দ্বিতীয় কামি। ময়রাদিদি, তুই ভয় করিস্ কেন ; আবার মারে জিজ্ঞাসা কর, ওকে আস্ত দিয়েছিলেম। ভবী। ওকে দেবার আটক কি, ও ত কাটে না, কেবল পাতা খাওয়ায়। হাবা। মাইরি দিদি আমি কিছু খাওয়াই নি ; দুকুর রেতে কোথায় কি পাব বােন; বাছা চুপটি করে শুয়েছিল। ভবী। কামিনীর ঘরে কে ছিল ? কামি। ময়রা বুড়ো। ভবী। ময়রা বুড়াে তাের বড় মনে ধরেছে। কামি। অদন্তের হাসি, বড় ভালবাসি।-বুড়াের তুই বুক-পােরা ধন ; এক খােলা সন্দেশ, টাটকাগড়া, গরম, গরম। বুড়াের মাতায় টাক পড়েছে বটে; কিন্তু বয়সে নয়, কেবল তােমায় বয়ে বয়ে ; তুমি জল বল্লে সরূববৎ দেয়, ভাত বল্লে পায়েস, মাচ বল্লে মাকাল ঠাকুর। ‘দোজবরে ভাতারের মাগ চতুর্দশীর চন্দ শাগ। ভবী। তুইও ত দোজবরের মাগ। কামি। আদ্যিরসের দোজ বরে চিরকাটা জ্বালিয়ে মারে। তাইতে দিলি হাবার মারে। হাবা। আহা! রাত পর দুয়ের সময়, লােকজন সব শুয়েছে, মাজের দরজায় চাবি পড়েছে, বাছারে ঘর থেকে বার করে দিয়ে খিল দিলে ; ও কি সামান্যি ; ওর মত কল্লা মেয়ে বাপের কালে দেখি নি। দশটা পাঁচটা নয়, একটা ভাতার, তার এই খ, ছি লাে ছি ! কামি। ভ্যাদা ভেবে ভাতার ভেজেছি। ভবী। তারপর ? হা। বাছা কত বল্লে “কামিনি, দোর খােল, কামিনি, দোর খােল, আমার মাতা খাও, দোর খােল”।--চোরা না শুনে ধর্মের কাহিনী কামিনী ঘোঁৎ ঘোঁৎ করে ঘুম কামি। ঘুমব কেন, আমি দোরের কাছে দাড়িয়ে। হাব। বাছা ডাকাডাকি করে হাল্লাক, দোরে ঘা দিতে পারে না, পাছে বড়বাবু জেগে ওঠেন; কি করে কতক্ষণ দোর ধরে কঁদতে লাগল, ।

গভাস্ক] প্রথম অঙ্ক। কামি। দুর পােড়াকপালি মিথ্যাবাদি, সে কঁাদবের ধন, আমাকে কত গা দিতে লাগল ; যদি কত, আমি তখনি দোর খুলে দিতেম।‘বিষের সঙ্গে খোঁজ নাই কুলােপানা চকোর’; কথায় কথায় তেঁজ, ঘরজামায়ে তেঁজী হয় কে কোথায় দেখেছে। হাবা। বাছা জোয়ারের এর মত দোরে দোরে ভেসে বেড়াতে লাগল, ভবী। তার পর বুঝি তােমার কোষায় উঠলেন ? হাবা। আমায় কি বিছানা আছে না শেষ আছে ;-একখানি ভাঙ্গা তাপােষ, তার ওপর ছেড়া কঁাথাখান পাতা, বালিশটে ময়লা, ওয়াড় দিতে পারি নি,- কামি। তাতে আবার তােমার গােটানালে রাতদিন রসবতী। হাবা। সাজের বেলা পাঁচি ছােটবাবুর পেটবােগা ছেলেডারে সেই বিছা- নায় বসিয়েছিল ; শশাবার সময় গিয়ে দেখি আমার মুণ্ডপাত করে গিয়েচে ; কি করি, বুড়ো হাবড়া মানুষ, রেতে চকে দেখতে পাইনে ; পাঁচি আবাগী জামাই- বারিকে রামরাবণের যুদ্ধ কচ্চে ; ভয়ে ভয়ে বিছানার একপাশে শুয়ে পড়লেম। কামি। ভাবতে লাগলে কেলেসােণা কখন কুঞ্জে আগমন করবেন বা। চকের পাতা না বুজতে বুজতে কামিনীর ঘরে গােলমাল, কামি। ময়রা বুড়ো ধরা পড়েছে। হাবা। বাছা আমার ঘরে দাড়িয়ে ভাবতে নাগল, ঘুমে ঢুলে পড়ছে, আমার বিছানায় শশাবার উযুগ। আমি দেখলেম মুণ্ডুপাতে বাছার বুঝি মুণ্ডুপাত হয় ; বল্লেম “জামাই বাবু, মুণ্ডুপাত বাঁচিয়ে পাশঘেঁসে শুয়ে থাক”; জামাই বাবু তাই কল্লেন। কামি। এক পাশে হাবার মা, এক পাশে জামাই বাবু, মাজখানেতে কে ? হাবা। মাজখানেতে আমার মুণ্ডুপাত। ভবী। ঘুমের ঘরে তাের গায় নাকি হাত দিয়ে ছিল ? হাবা। মুতুপাত আড়াল ছিল। ভবী। তার পর সকাল বেলা? কামি! নিশি অবসানে দেখলেন কেলে সােণা কোল থেকে চুরি গিয়েছে। হাবা। সকাল বেলা উঠে শুনি, জামাই বাবু রাগ করে বাড়ী গিয়েছে। তখনি লােৰু গেল, ফিরুল না।—আবার আজ, লােক গিয়েছে। প্রস্থান। ৪ ১৪ জামাই-বারিক। [দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক) ভবী। - . ভবী। এবারে আসবে ? কামি। আগুণে টেনে আন্‌বে। ভৰী। কিসের আগুণ ? কামি। জঠরের । ঘর থেকে বার করে দিছিলি কেন? কামি। একটা তুচ্ছ কথা নিয়ে ঝড়া হয়েছিল, ভবী। পীরিতের ঝড়া ? কামি। প্রেতের ঝড়। ভবী। কথাটা কি ? কামি। আমি ভাই আঁধার ঘরে শুতে পারিনে; প্রদীপটে নেবে নেবে ; বল্লেম, প্রদীপটেয় তেল দাও, সে বল্লে তুমি দাও; আবার বল্লেম আমি আরাম করে শুইচি তুমি গিয়ে তেল দিয়ে এস ; সে বল্লে আমি বুঝি দৌড়ে বেড়াচ্চি, তুমি গিয়ে তেল দাও। আমার বড় রাগ হল, রাগ হবারি কথা,বল্লেম আমার বিছানা থেকে তাড়িয়ে দেব। সেও রাগল, গদিতে ধপ্ ধপ করে নাতি খালে , দোর খুলে বাইরে গিয়ে দাড়াল ; আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে খিল দিলেম। মাজের দরজায় চাবি, বাইরে যাবার পথ নাই ; নরম হয়ে কত ডালে, তা আমি শুনেও গুলেম না । ভবী। তার পর ? কামি। মুণ্ডুপাত। ভবী। এটী নাতজামায়ের অন্যায় ; কত হুময়াে চুমরাে ভাতার মেগের কথায় প্রদীপে তেল দেয়, মাগকে উঠতে দেয় না, বিশেষ শীতকালে। কামি। সেটী ভাই, সেজদিদির ভাতারের দেখিচি, সেজদিদি যত বার বাইরে যায়, সে তত বার সঙ্গের সাথী ; দোর খুলে দেয়, দোর দিয়ে আসে, জল খাব বল্লে গেলাসটী মুখে তুলে ধরে। ভবী। যাই হক্‌ কামিনি, যাবার সময় একটা কথা বলে যাই, না- জামাইকে আর অপমান করিসনে, হাড়াই ডােমাই ভাল দেখায় না, লােকে তােরি নিনে করে। কামি। ঘরজামায়ে ভাতার যার, কাণের সােণা নিলে তার। উভয়ের প্রস্থান। • দ্বিতীয় অঙ্ক প্রথম গর্ভাঙ্ক। বেলডেঙ্গা-পদ্মলােচনের দরদালান। পদ্মলােচন আসীন—অভয় কুমারের প্রবেশ । অভ। কি দাদা, হরগৌরী হয়ে বসে রয়েচ যে,অর্ধেক অঙ্গে তেল দিয়েচ, অর্ধেক অঙ্গ রূক্ষ রেখেচ। পদ্ম। আমার পক্ষাঘাত হয়েছে ;—দুই সতীনে শরীয়টে ভাগ করে নিয়েচে ডান দিক্‌টে বড় আবাগীর, বাঁ দিকটে ছােট আবাগীর। ছোট- আবাগী এতক্ষণ তেল মাকাচ্ছিল ; চুলচেরা ভাগ, বা অঙ্গে মাখিয়েচে, ডান অঙ্গ পড়ে রয়েচে,-দেখ না, ডান দিকে তেলের দাগটী লাগে নি ; বড় আবাগী আসে, ডান দিকে তেল পড়বে, নইলে এইরূপেই বসে থাকতে হবে। অভ। আপনি কেন ডান দিকে তেল দিয়ে নেয়ে ফেলুন না, বেলা ত অনেক হয়েছে। পদ্ম। তা হলে কি আর আস্ত থাক! বড় আবাগী দুদ্দাড় করে কীল মারবে, কেঁদে বাড়ী মাথায় কবে, ঝাঁটা ফিরিয়ে ঘাড় ভাঙবে, বলবে “আমাকে একটু ভালবাস না, আমার অঙ্গটা আমার জন্য রাখলে না, আপনি তেল দিলে।” অভ। তুমি তবে ত বড় সুখী; তুমি যে দেখি ঘরজামায়ের বাবা। পদ্ম, ঘরজামায়ের এক বাঘিনী আমার দুটী। অভ। কিন্তু দাদা, ঘরজামায়ের একটা এক সহস্র। পদ্ম। ভুগি নি, বলতে পারি না।এরা এখন মা ধরেছে- অভ। বল কি ? পদ্ম। কথায় কথায়। । তবে তােমার জিত।

জামাই-বারিক। [প্রথম পদ্ম। আমার জিত অনেক রকমে ; তুমি পেটে খেতে পাও, আমি হপ্তায় আট দিন উপবাস করি ; দুই আবাগী দুটো রসুইঘর করেছে; এ বলে । আমার এখানে খাও, ও বলে আমার এখানে খাও। অভ। তাতে ত আরো খাবার সুখ। পদ্ম। খাবার উদ্যোগ মাত্র, ভাত ব্যঞ্জন যেমন তেমনি থাকে। অভ। তুমি তবে খাও কি ? পদ্ম। বড় আবাগীর কীল, ছােট আবাগীর চড়। তেলের বাটী হস্তে বগলার প্রবেশ। বুগ। ঠাকুরপাে কবে এলে ? এ বারে না কি তাড়িয়ে দিয়েচে ? তুমি কি মাগই পেয়েচ! আমাদের ইনি একবার তাদের হাতে পড়েন, মাগের সুখটা টের পান। অভ। তুমি স্বামীর গায় হাত তোেল, তারা তা তােলে না। বগ। গুণের নিধি বলেচেন বুঝি ; আমার নিন্দে না করে জল খান না। —আমি তােমার করিচি কি, তােমার বুকে ভাত বেঁদিচি, না তােমার পিণ্ডি চট্‌কিচি, যে যার তার কাছে আমার নিন্দে কর, পদ্ম। তুমি মারতে পার, আর আমি বলতে পারি নে ? বর্গ। আমি তােমারে একা মারি? আঃ! ড্যা ভারত-ছাড়া! ছােট রাণীর নাম করতে পার না, সে তােমায় মারে না, সে তােমার মুখে বাসি আকার ছাই তুলে দেয় না ; ঘােট রাণীর নাতিগুলি চামরব্যজন, ছােট রাণী হাসলে মাণিক পড়ে, কঁালে মুক্ত পড়ে, চলে গেলে পদ্মফুল ফোটে, ‘ছােট মাগ পাটরাণী, বড় মাগ ধানভানান। কি বলব ঠাকুরপাে এখানে, তা নইলে এই তেল শুদ্ধ তেলের বাটী মাতায় ভাঙতেম। প। বড় মিণী মারেন কিনা বুঝতে পাচ্চ। বগ। সাদে মারি, তােমার রীতের দোষে মারি; মারি খুব করি, ছােট রাণীকে ভয় কত্তে হবে নাকি।এই মাল্লেম। } L সজোরে তেলের বাটী মস্তকে পান।

! গর্ভাঙ্ক] দ্বিতীয় অঙ্ক। ১৭ অভ। সত্যি সত্যি মারলে বউ। বগ। আমি বাটী ফেলে মেরেচি, ছােট রাণী হলে ঘটা ফেলে মাতা- দেখলে ত ভাই, ওঁর বিচার ত দেখলে ; আমি কথা কইলে ওঁর গায় পােড় কাঠ পড়ে, ছােট রাণী কীল মারুলে ওঁর গায় পুষ্পবৃষ্টি হয়। পদ্ম। (দীর্ঘ নিশ্বাস ) তােমার বাটীর ঘায় সচন্দন পুষ্পবৃষ্টি হচ্ছে। অভ। আহা! রক্ত পড়চে যে।—বউ, একটু তেল দাও। বগ। মরুচি, ও দিক্‌টে বিলি পােড়াকপালীর ; তার দিকে আমি তেল দিলে কথা জন্মাবে। পদ্ম। তার দিটে ভেঙ্গে দিলে কথা জন্মায় না। বগ। পােড় কপাল পুড়েচে, তারি দিকে টাচেন, আমার দিকে ভুলেও টানেন না।—(পদ্মলােচনের দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুলিতে অঙ্গুরীয় দর্শন করিয়া) দেখ ঠাকুরপাে, তুমিই ভাই এর বিচার কর ; এই আংটিটে বিন্দী পােড়াকপালীর বাপ দিয়েছে, ওটা আমার হাতে দেওয়া, ছল করে আমারে অপমান করা, আমার বাপকে গরিব বলা, আমার বাপকে ছােট লোক বন্যা, বিয়ের সময় একটা আংটি দিতে পারে নি, পদ্ম। কি আপদেই পড়িচি। সাদে কি তার আংটি তােমার হাতে দিইচি, বাঁ হাতটায় তেল দিতেছিল, তেল লাগে বলে বাঁ হাতের আংটি ডান হাতে দিইচি। বগ। গুলি ঠাকুরপাে, বিচার শুলি। যেমন হক একটা ভাগ বাটা হয়ে গেছে, ডান দিক্‌টে আমার দিকে পড়েছে ; ভাগ বঁটার পর আমার হাতে তার জিনিষ দেওয়া ওঁর কি উচিত।—ভালাই চাও ত আংটি খুলে ফেল, নইলে নােড়া দিয়ে আঙ্গুল শুদ্ধ ঘেঁতত করে ফেলব। পদ্ম। এই নাও খুলে ফেল্লেম। [ অঙ্গুরীয় দূরে নিক্ষেপ। বগ। তুমি এখন একরকম হয়েচ, আমার প্রতি তােমার আর ভালবাসা নাই, আমায় তুমি আর দেখতে পায় না। বিন্দী পােড়াকপালী তােমায় কি খাওয়ালে, খাইয়ে আমারে পর করে দিলে আমার ঘরে আর বসূতে চান না; ঘরে না ঢুকতে বলেন, আমার হাতে অনেক কাজ ; বিন্দীর ঘরে ঢুকলে বেরুতে চান না।—আমার বিছানায় ছুঁচ ফোটে, না ? বিন্দীর গদি বড় নরম, রাত দিন তাতে পড়ে থাকতে ইচ্ছে করে। [ প্রস্থান । = জামাই-বারিক। [প্রথম অভ। ছােট বয়ের দিকে দাদার একটু পক্ষপাত আছে। পদ্ম। খুটোর জোরে মেড়া নড়ে'।—আমার কাছে ইতর-বিশেষ নাই গহনা দুজনকেই সমান দিইচি, বরং বড় রাণীকে অধিক। তবে কি জান ভাই, ছােটরাণীর বয়েস কম, কাজেই এক ঘণ্টার জায়গায় দু ঘণ্টা বসতে হয়। অভ। তিনিও কি মারেন ? পদ্ম। জুতাের বাড়ী। তিনি বড় রাণীর বাবা। অভ। ছােট বউ ত এমন ছিলেন না। পদ্ম। বড় আবাগীর দেখে শিখেচে। এখন বড় হয়েছে, আপন গণ্ডা বুঝে নিয়েছে। সে দিন বড় রাণী পিটে করে খাওয়ালে ; পিটে ত নয় পেটের পীড়ে ; কতকগুলা কঁচাতেলমাখা চেলের গুড়ি সুমুখে দিয়ে বললেন “পিটে খাও,” কি করি, ভয়েতে ভয়েতে খেলেম ; জানি, না খেলে পিট থাকবে না। কিন্তু ভাই, এক দিন পিটে খেয়ে তিন দিন পেট ছেড়ে দিয়ে বসেছিলেম। ছোট রাণী ভারের কলসী, ও ছাড়বে কেন, কাল সমস্ত দিন ধরে পিটে ককূলে, রেতে আমায় খেতে বল্লে।—ছােট রাণী সকল বিষয়েই বড় রাণীর বাবা, পিটে করেচেন যেন কুকুরে উজড়ে রেখেচেন।তাই কম করে খেলেম বলে কত আব্দার ; কি করি, আবার খেলেম।-বল্লেম বড় রাণীর পিটের চাইতে অধিক খেইচি, তবে ছাড়লে। ঝড়া দোকর খরচ, মিথ্যা কথা, প্রবঞ্চনা- আমার হয়েছে অঙ্গের ভূষণ। ; t বিন্দুবাসিনীর প্রবেশ। বিন্দু। পােড়া কপাল পুড়েচে, সত্যি সত্যি ফেলেচে, পদ্ম। কি ছােট রাণী ? বিন্দু। আমার বিয়ের আংটি নাকি আঁস্তাকুড়ে ফেলে দিয়েচ ? পদ্ম। (স্বগত) সর্বনাশ করিচি। (প্রকাশ্যে) না ছােট রাণী, আমি কি তােমার আংটি ফেলতে পারি, হঠাৎ হাত থেকে এই উঠানে পড়ে গিয়েছে। বিন্দু। আংটির পা হয়েছে, না আংটি বগী আবাগীর মত নাফাতে শিখেচে, তাই উঠানে নাফিয়ে গেল?—তােমার মরণদশা ধরেছে, তাই এই অলক্ষণ গুলো করতে আরম্ভ করেচা-বগী আবাগ ঠিক বলেছে, আংটি আঁস্তাকুড়ে দিলে, এইবার ছােট রাীর মাথায় ঘােল ঢেলে ঢাক বাজাতে বাজাতে বনবাস দেবে গর্ভাঙ্ক] দ্বিতীয় অঙ্ক। ১৯ । পদ্ম। বালাই, অমন কথা বলতে নাই। বিন্দু। তুমি আর বাকি রেখেচ কি? তুমি মর, যমের বাড়ী যাও, আমি বাপের বাড়ী বসে একাদশী করি। রাত, দিন ঝাঁটা খাচ্চেন, তবু নজ্জা হয় । কি বলব ঠাকুরপাে রয়েছে, নইলে নােড়া দিয়ে একটা একটা করে দাত ভাঙতেম। ছােট বউ, তুমি রাগ করাে না, বড় বউ তােমাকে ক্ষেপিয়েছে। বিন্দু। পােড়ারমুখাের আস্কারা; সে কিনা বলে আমাকে বনবাস দেবে। আমার বনবাস হলে উনিও বাঁচেন, তিনিও বাঁচেন। আমি আর এখানে থাকতে চাই না, আমি কালই চলে যাব, তুমি বগীকে নিয়ে নঙ্গনস কর। পদ্ম। ছােট রাণী, একটু চেপে যাও, অভয় রয়েছে এখানে, মনে ভাববে কি। বিন্দু। ওরে আমার নজ্জা নিবারণ করূবের কঁা রে ! বগী আবাগী যখন পাড়ার লােকের সঙ্গে মল্লযুদ্ধ করে, তখন ভাতারগিরি ফলাও না, সে যে শক্ত মাটী, দাত বসে না। পদ্ম। তার তিন কাল গেচে, এক কাল আছে, তাই তারে কিছু বলি না, তুমি বউ মানুষ তাই বলি। বিন্দু। তােমার আর খােসামুদে কথা বলতে হবে না, তুমি যত ভাল- বাস তা আমি কাল টের পেইচি। পদ্ম। কিসে ? বিন্দু। বড় রাণীর পিটে খেয়ে তুমি তিন দিন পেট ছেড়ে দিয়েছিলে, আর আমার পিটে খেয়ে একটাবার ঘটী চুলে না। আমাকে ভালবাস না, তাই আমার পিটে খেলে না। পদ্ম। মাইরি ছােট রাণী, তােমার পিটে আমি এক-পেট খেইচি, বড়- রাণীর পিটের ডবােল খেইচি। বিন্দু। তা হলে আজ তোমার গঙ্গাযাত্রা হত। তার পালায় পিটে খেলেন, আমার পালায় পেট ছেড়ে দিলেন ; আমার পালায় পিটে খেলেন, তার পালার দিন খুঁটী হয়ে বসে রইলেন। • পদ্ম। তুমি কেন একটু পটলের গেঁড় খাওয়ালে না, তা হলে যে ওর পালার দিন মরে থাকতেন। বিন্দু। • তুমি এমনি নেমকহারামই বটে ;-আমি ওর জন্যে এত করে মরি, উনি ভাবেন আমি ওঁর মরণের চেষ্টা করি।

জামাই-বারিক।
(প্রথম
অভ। দাদা দান কর, বেলা অনেক হয়েছে।
পদ্ম। শশুরবাড়ী কবে যাবে? লােক এয়েছে নাকি?
অভ। দেরি আছে, যাবার আগে দেখা হবে।
পদ্ম। তােমার শশুরের অন্তঃকরণটা স্বভাবতঃ মন্দ নয়, তবে খােসামুদের
খারাপ করে তুলেছে।
অভ। তিনি যে সকল মেয়ে প্রসব করেছেন, তার গুণে বলিহারি যাই।
[ প্রস্থান।
পদ্ম। রাগটা পড়ে কি ?
বিন্দু। আমি কার উপর রাগ করব, আমার আছে কে ?
পদ্ম। আমি।
বিন্দু। তুমি কি আমার ?
পদ্ম। তবে কার।
-হিন্দু বগী আবগীর।
পদ্ম। তুমি যদি বুঝে দেখ, আমি তােমা বই আর কারাে নই।
বিন্দু। বােঝাবুঝি পিটেতেই জানতে পেরেচি; মত্তে গিছিলেম পিটে
কত্তে গিছিলেম।
বগলার প্রবেশ।
বগ। হায়, ও হাড়হাবাতে প্যাতনা, তুই নাকি আমাকে বুড়াে হাবড়া
বলেছিস্? একেবারে অধঃপাতে গিয়ে। বিন্দী পােড়াকপালীর আচ্ছা ওষুধ,
বেশ ধরেচে।
পদ্ম। কে বলে ?
বগ। অভয় ঠাকুরপাে বলে গেল।তােমার নাকি মৃত্যু ঘনিয়ে এয়েচে,
তাই এমনি করে অপমানের কথাগুলাে মুখ দিয়ে বার কচ্চ ; তুমি এখন আর
মানুষ নও, তুমি এখন বিন্দীর বাঁদর।
‘বিন্দু। বগী, তুই বিন্দী বিন্দী করিসনে, বলচি; ভাল ভাের ভাতার
তােরে "বুড়াে বলে থাকে, তার সঙ্গে বােঝা পড়া কগে ; আমার নাম কবি
বেড়ী-পেটা' হবি।
;

দ্বিতীয় অঙ্ক। বগ। গর্ভাঙ্ক] বগ। হারা কালামুখ, তুই আপনি বলি, না বিন্দী তােকে বললে? কথা কনে যে—বিন্দীর দিকে দেখচিস্ কি ?—তুই যেমন তারি মতন- [ মস্তকে প্রকাণ্ড মুষ্ট্যাঘাত। পদ্ম। বাবারে! গিচি, মেরে ফেলেছে আবাগী। বগ। বুড়াে বলবি আরাে গাল দিবি? হারা হাতকুড়ে, হতচ্ছাড়া, একচকো, পথেপড়া, আঁটকুড়ির ছেলে, ভাইখাগীর ভাই, মড়িপােড়ানীর জামাই। বিন্দু। ওরে আমার কুলীনকুমারী, গ্যাদায় মরি, তবু বেটীর বাপ ভিকারী।—খুব করেচে বুড়ো বলেচে, আরাে বল্‌বে, আর দশ বার বলবে ; বুড়ােরে বুড়াে বলবে না ত কি খুকী বলবে না কি ? তিন কাল গেচে এক কাল আছে, এখন এয়েচেন সতীনের ঝড়া কত্তে। বৃন্দাবনে যাও, কালা বৃন্দাবনে যাও, দোরে দোরে ভিক্ষা করে বেড়াও- ভিক্ষা দাও গাে ব্রজবাসী, রাধাকৃষ্ণ বল মন, আমি বৃদ্ধ বেশ্যা তপস্বিনী, এইচি বৃন্দাবন। ও সৰ্ব্বনাশি, বিন্দি রাঁড়ি, হতচ্ছাড়ি, শতেকথােয়ারি, নয়দুয়ারি, মড়িপােড়ানীর মেয়ে, তাের বড় বৃদ্ধি হয়েছে, এত বৃদ্ধি ভাল নয়, তাের মরণ- বাড় বেড়েছে, আর দেরি নাই, পড়লি, পড়লি, পড়লি ; ছােট মুখে বড় কথা জেয়দা দিন থাকে না। আমি বুড়াে হলে তাের ভাতার বুড়াে হত না? না তাের ভাতার দিদি বিয়ে করেছিল ? বিন্দু। তােকে আর জন্মে বিয়ে করেছিল। বগ। দূর আবাগি ভালখাগি, মড়িপােড়র ঝি ; মড়িঘাটায় তাের বাপ কাঠ যােগায় ; পােড়াকপালে অনামুখ টাকার লােভে মড়িপােড়ার মেয়ে বিয়ে কল্লে, মলে কাঠের দাম নেবে না।—বিলি রাঁড়ি, তাের মড়িপােড় বাবাকে বলে দিস, আমি মলে কাঠগুণে যেন শুনাে দেয়। বিন্দু। তুমি মলে গাের দেবে, কাঠ লাগবে না। বগ। গাের দেবে তাের বাপকে আর তাের বাপবয়সি ভাতারকে। ভালখাগি, তুই যে ভাতার ভাতার করিস্ তাের ভাতারে আর আছে কি, ওতে কিছু বস্তু রেখেচি ? তাের পাঁচ বৎসর আগে আমার বিয়ে হয়েছে, আমি পাঁচ বৎসর একা ভােগ করিচি, তার পর রগড়ে মগড়ে নিংড়ে চিংড়ে সাদা ফ্যা ফ্যা ফেঁসােওঠা আঁবের আঁটিটে আঁস্তাকুড়ে ফেলে দিইচি, তুই কাঠকুড়ানীর মেয়ে সেইটে কুড়িয়ে নিয়ে খাচ্চি।

জামাই-বারিক। (প্রথম বিন্দু। তবে ভাগ ভাগ করে মরিস কেন, ওলো পাড়াকু দুলি, পাটিবেচার মেয়ে ? তাের বাপ পুটি মাচের মত টাকা গুণে নিয়ে তবে তােকে বেচেছিল, .. যখন দেখলে তুই হিজড়ে আমাকে বিয়ে কল্লে। গব। ওলাে পােড়াকপালি, তােকে বিয়ে করে নি, তােকে নিকেও করে নি, তােকে রেখেচে ;-বাবুরা মেগের বয়স হলে যেমন রাখে, তেমনি তােকে রেখেচে। তুই বারেণ্ডায় চিক ঝুলিয়ে দে, মেজেয় সাল বিছানা কর, তাকিয়ে বসা, বাধাহুকোগুলাে মেজে ঘসে রাখ, খাটে দুই হাত পুরু গদি পাত, পায় বার গাছ মল দে, পাছাপেড়ে শাড়ী পর, ফিরিঙ্গি করে খোঁপা বাঁধ, বেঁধে বাবুকে নিয়ে সন্ধ্যার পর একটু পাের্ট খেয়ে মত্ত হ, আর লুকিয়ে বাবুর মুখে চুণ কালী দে। বিন্দু। ভিক্ষা দাও গাে এজবাসী, রাধাকৃষ্ণ বল মন, আমি বৃদ্ধ বেশ্যা তপস্বিনী, এইচি বৃন্দাবন। বগ। ওরে আমার শ্যালকাটা ফুলের কলি রে, ওরে আমার ডাব, নারকেলের শ্যাওয়াপাতি, ওরে আমার মড়িপােড়ানীর কমলে বাছুর; বাছার বুঝি দাত ওঠে নি, বাছা বুঝি মাড়ি দিয়ে কামড়াচ্চে।ও আবাগি, সরে যা, ও পােড়াকপালি, বুড়ো ভাতারের কাছ থেকে সরে দাড়া, কেমন কেমন দেখায়, বাপ ঝি বলে ভুল হয় আমি ফচকে ছুড়ী, ফুলের কুঁড়ি, মড়িপােড়ানীর ঝি, বিয়ের পরে বুড়ো ভাতারকে বাবা বলিচি। [পদ্মলােচনের দাড়ী ধরিয়া নৃত্য। আমি ফচকে ছুড়ী, ফুলের কুঁড়ি, মড়িপােড়ানীর ঝি, বিয়েয় পরে বুড়াে ভাতারকে বাবা বলিচি। বিন্দু। (পদ্মলােচনের নাসিকায় কীল মারিয়া) তুই কেন আমাকে বিয়ে করেছিলি, তাের জন্যেই ত আমার এ ব্যাখ্যান সইতে হয়। থাক তাের বুড়ীকে নিয়ে, আমি বাপের বাড়ী যাই। [প্রস্থান। বড় রাণী তােমার জিত। তুমি হাজার হক আমার সময়ের মাগ,- বগ। তোমার আর গােড়া কেটে আগায় জল দিতে হবে না।

গর্ভা
দ্বিতীয় অঙ্ক।
পদ্ম। আমি তােমাকে এক দিনও অমান্য করি না, তুমি যখন যা চাও
তাই দিচ্ছি, তােমার শ্রীচরণের চুটকি হয়ে পড়ে আছি।
বগ। তােমার আর ভাতারগিরি ফলাতে হবে না, তুমি ভাতারও না,
ভাতারের ‘ভাও না; ভাতার বলি ও বাড়ীর বঠাকুরকে, বড় দিদির আঁচল
ধরে বেড়ায়
পদ্ম। (গীত) আয় আমার অঞ্চলের নিধি,
আঁচল ধরে পিছে পিছে
বগ। পােড়ারমুখ মরে যাও,
পদ্ম।
যশােদার নীলমণি যেমন,
ননী খেত নেচে নেচে।
বগ। আমি পাগলও নই ছন্নও নই যে কথায় কথায় আমাকে ঠাট্টা
করবে।
পদ্ম। সন্ধ্যা হল, এখনও স্নান হল না।
[উভয়ের প্রস্থান।
দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক।
বেলডাঙ্গা-অভয়কুমারের ঘর।
;
পদ্মলােচন এবং অভয়কুমারের প্রবেশ।
অভ। লােকের উপর লোেক, লােকের উপর লােক, আর না যাওয়া ভাল
দেখায় না, বিশেষ তােমার অনুবােধ, কাল যাব।—যাওয়া মাত্র, অধিক দিন
সেখানে থাকতে হবে না; মাগ গ্যাদায় গদ গদ, স্বামী চাকর বাকরের সামিল,
বাইরে থাকবের স্থান নাই; কাজেই চলে আসতে হবে।
পদ্ম। জামাই-বারিক।
অভ। জামাই-বারিকে রাতদিন প্রেতকীৰ্ত্তন হচ্ছে, কেউ সখীসম্বাদ
গাচ্চেন, কেউ পাঁচালীর ছড়া বলছেন, কেউ গাঁজা টিপচেন, কেউ গুলি
খাচ্চেন।
পদ্ম। তুমিও ত গুলি খাও।

অভ ২৪ জামাই-বারিক। (দ্বিতীয় অভ। জামাই-বারিকে বাস কত্তে গেলে গুলি খেতে হয় আর দাড়ী রাখতে হয়। পদ্ম। জামাই-বারিকটে আমার দেখা হয় নি। অভ। একটা বড় ঘর। জামাইবাবুরা শালা বাবুদের বৈটকখানায় বলে শালা বাবুদের লজ্জা বােধ হয়, তাই কর্তাবাবু বাড়ীর পাশে একটা বড় ঘর তৈয়ের করে দিয়েছেন, সব জামাইরা সেই খানে থাকে ; জামাই, ভাইঝি- জামাই, ভাগ্নী-জামাই, নাতজামাই, জামায়ের জামাই, সব সেই ঘরে থাকে। পদ্ম। এখন কতগুলি আছে ? সাড়ে বায়ান্ন জন। পদ্ম। আবার আধ পেলে কোথায় ? অভ। চাপরাস-হারাণে জামাইগুলকে আধ বলে গুণতি করে। পদ্ম। রাত্রিতে শােবার সরঞ্জাম আছে ? অভ। আছে বই কি, তিন কুড়ি খাট আছে—দড়ী দিয়ে ছাওয়া ; তিন কুড়ি বালিশ আছে, তিন কুড়ি পাশ-বালিশ আছে ; সব জামাইদের এক একটা ভাবা হুকো আছে, কলিকেও একটা করে ; তামাক, টিকে, আগুন এক কোণে থাকে, একজন চাকরের জিম্মা, তার হুকুম আছে তামাক দেবে ; গাঁজা, গুলি, চরস নিজে নিজে সেজে খাও। পদ্ম। ক দিন অন্তর বাড়ীর ভিতর যেতে পায় ? অভ। তিন দিন, চার দিন, কেউ কেউ হপ্তা, কেউ কেউ মাস, কেউ কেউ বৎসর। প। কষ্ট বড়। অভ। কষ্টের চূড়ান্ত। যদি খাবার, সংস্থান থাকে, তা হলে কি আর সেখানে যাই। বিশেষ, গুলিটে অভ্যাস করে পরাধীন হয়ে পড়িচি; জামাই- বারিকে অক্লেশে গুলির উপযুক্ত আহার মেলে। পদ্ম। তবে দাঙ্গাফেসাত আর করাে না, মানিয়ে জুনিয়ে গিয়ে সেখানে থাক। অভ। আমার ত তাই ইচ্ছে, তা আমারে যে রাখে না। পর। কে ? অভ। মাগ মনিৰ। এ বারে যদি কিছু অহঙ্কারের চিন্তু দেখি, তা হলে তার মুখে নাতি-মেরে বৃন্দাবনে চলে যাব। • ২৫ দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক। দ্বিতীয় অঙ্ক। পন্ন। ভায়া, আমাকে সঙ্গে নিও, আমি ডুবােল মার আর খেতে পারি • নে। আবাগীরে পালা উঠিয়ে দিয়েছে; এখন জোর যার মুল্লুক তার, টানাটানি করে যে নিতে পারে। আমি সন্ধ্যার পর এ বাড়ী ও বাড়ী বসে গল্প করি, তার পর রাত দুই প্রহর হলে বাড়ী যাই, দুই আবাগী ঘুমিয়ে থাকে, যার ঘরে ইচ্ছে তার ঘরে ঢুকি। জেগে থাকলে শম্ভু নিশম্ভর যুদ্ধ হয়। অভ। দাদা, এখন রাত হয় নি, এখন বাড়ী গেলে তােমাকে কুকুরমারা করবে ; এস দুই ভাইতে গিয়ে আহার করি, তার পর রাত অধিক হলে বাড়ী যেও। পদ্ম। আচ্ছা ভাই। [ উভয়ের প্রস্থান। তৃতীয় গর্ভাঙ্ক। বেলডাঙ্গা-পদ্মলােচনের দরদালান। বিন্দুবাসিনীর প্রবেশ। বিন্দু। (স্বগত) আজ ভাের পর্যন্ত জেগে থাকব। অনেক রেতে বাড়ী আসেন, আর মুঠ করে বগীর ঘরে যান। আজ, যেমন আসবে, অমনি গলায় গামছা দিয়ে ঘরে নিয়ে যাব।—বগী আবাগী ঘুমিয়েচে, শাশুড়ি আর পাচ্চি নে। আমি দোর ভেজিয়ে দোরের আড়ালে দাড়িয়ে থাকি। [ প্রস্থান। বগলার প্রবেশ। বগ। বিন্দী পােড়াকপালী ঘুমিয়েছে। আজ, যেমন আসবে, অমনি ঘরে নিয়ে যাব।' একটু ফাঁক পায় আর বিন্দী আবাগীর ঘরে ঢােকে। আবাগী কি চাপড়া খাওয়ালে, আমার বুক থেকে নিষেরে যেন ছিড়ে নিলে। এখন ইচ্ছেয় ত আমার ঘরে যায় না, ধরে বেঁধে যত নে যেতে পারি। আমি ধরে গিয়ে বসি; যাই আসবে আর গলায় আঁচল দিয়ে টেনে নিয়ে যাব। ( প্রস্থান, জামাই-বারিক। [তৃতীয় চোরের প্রবেশ। চোর। এরা সব ঘুমিয়েছে, এই বেলা মাল সরাবার সময় বড় ঘরে ঢুকি। বিন্দুবাসীর প্রবেশ। বিন্দু। (চোরের গলায় গামছা দিয়া ঝাটা মারতে মারতে। তবে রে পােড়ারমুখখা ডাকরা, এই তােমার ভালবাসা, ভুলেও কি এক দিন আমার ঘরে যেতে নাই; আমি ঘুমিয়ে পড়ি, আর উনি টিপি টিপি বড় রাণীর ঘরে যান ; বড় রাণীর দুদ বড় মিষ্টি, ছােট রাণীর দুদে গােবরের গন্ধ।মুখ ঢাকিস কেন ?- নাসিকার উপরে কীল)—তাের আজ হয়েচে কি, তােকে আমার বিছানায় শুইয়ে ঘটীর বাড়ী মাতা ভেঙ্গে দেব। বগলার প্রবেশ। বগ। (চোরের গলায় অঞ্চল দিয়া ঝাটা মারিতে মারিতে) বলি ও পােড়ারবাদর, বেদে চোর, যাচ্ছ কোথায়, এ দিকে এস, আমিও তাের মাগ, আমাকেও বিয়ে করিচি; ওকেও যেমন দেখি, আমাকেও তেমনি দেখতে হয়। আমি ত তাের মার পেটের বােন না যে আমার বিছানায় শুলে তােমার সমন্বয় করতে হবে ? আয় ড্যাকরা ঘরে আয়,-পৃষ্ঠে কীল)—আয় ড্যাকরা ঘরে আয়। [ কীল। বিন্দু। আরে পােড়ারমুখ, কোথায় যাও; আজ তােমারে যমে ধরেছে, যমের হাত ছাড়াতে পাবে না—তবু যে যাস, হঁা রা বেহায়া, বেইমান ( ঝাঁটা প্রহার)। পােড়ারমুখে বাক্যি হরে গিয়েছে মৌনবতী হয়েছেন। [ নাসিকার উপর কীল। বগ। ছােট রাণীর কীলগুলাে বড় মিষ্টি, আর আমার কীলগুলাে তেত, তাই ছােট রাণীর দিকে চকে পড়চং-পড়াচ্চি তােমাকে, বটী এনে তােমার নাক কেটে নিই।

গর্ভাব্দ] দ্বিতীয় অঙ্ক। পদ্মলােচনের প্রবেশ। প। বাড়ীর ভিতর এত গােলমাল কেন রে ; দু আবাগী কাটাকাটি, করে ময়ূচি নাকি? ম আপ যাক্। আমি বলি ঘুমিয়েচে, ঘুম কোথা, বুনন মহিষের যুদ্ধ বাদিয়েছে। বগ, বিন্দু। (চোরকে ছাড়িয়া) তবে এ কে ? প। তােরা ভাতার গড়িয়ে ঝড়া কচি না কি ? বগ। এতক্ষণ কোথায় ছিলে, এমন ঝাঁটাগুণে বৃথা গেল, এমন জোরের কীলগুলাে বাজেখরচ হয়ে গেল। পদ্ম। তুই ব্যাটা কে রে? বিন্দু। চোর চুরি করূতে এয়েচে, টিপি টিপি বগীর ঘরে যাচ্ছিল, আমি বলি তুমি যাচ্ছ, গলায় গামছা দিয়ে তাই মারতে লাগলেম, তার পর বগী এসে যােগ দিলে। পদ্ম। ওরে ব্যাটা সিঁদেল চোর, আমার ঘরে এয়েচ চুরি কত্তে; বাঘের ঘরে ঘােগের বাসা রা হারামজাদা।চল ব্যাটা চল, তােকে পুলিসে"দেব চোর। মশাই গাে পুলিসে দেবেন না, এক দিনের মার বাঁচিয়ে দিলেম। পদ্ম। তুই ব্যাটা চোর ত ? চোর। আমি চোর না তুমি চোর। পদ্ম। আমি চোর হলেম কিসে? চোর। তা নইলে রােজ রােজ সাত চোরের মা হজম কর কেমন করে ? পক্ষ। এ কথা তুমি বলতে পার। চোর। আমি বিশ বছর চুরি কচ্চি, এমন বিপদে কখন পড়িনি; বাপ ! যেন চরকি ঘুরিয়ে দিলে। জাতেম, ভাল মানুষের মেয়েদের হাত নাকি ফুলের মত নরম ; ওমা! কোথায় যাব, এনাদের হাত যেন ফালপেটা হাতুড়ি। পদ্ম। আচ্ছা বাপু, আমি নেমকহারামি কত্তে চাই নে, তােমাকে ছেড়ে দিলেম, তুমি বাড়ী যাও। চোর। এর। আর এক চোট লেবেন। [ প্রস্থান। পদ্ম। তােদর জ্বালায় আমি কি দেশত্যাগী হব, তােরা চোরের সঙ্গে লড়াই দিস, তোদের সাহস কি ; এই রাত ঝাঁ ঝাঁ কচ্চে, প্রমেয় লােৰু নিয়তি, ২৮ জামাইবারিক। (তৃতীয় শাড় শব্দটী মাই, তােরা কিনা এই রাত্রে চোর নিয়ে রণ দিয়েচিস।আমি আজ, কারাে ঘরে যাব না, এই দরদালানে পড়ে থাকব। বিন্দু। বুঝিচি, তােমার ফিকির আমি বুঝিচি; আমি ঘরে যাব, আর তুমি বগী আবাগীর ঘরে ঢুকবে। পদ্ম। তুমি কেন আমার কাছে বসে থাক না। বগ। বগী আবাগী ভেসে যা। পদ্ম। তুমি না হয় চৌকী দাও। [ উপবেশন। বগ। আমার বেঁৱা চৌকী দাও, বিন্দীর বেলা কাছে বঁস।-আ পােড়া- কপালে একচকে, তােমার মুণ্ডুটো আজ, ঝাঁটার গােড়া দিয়ে গুড়াে কত্তেম, তা চার ব্যাটা এসে সতীন হল।—ছোট রাণি, আমার কাছে বস, ছোট রাণি, আমার গায় হাত বুলাও, ছোট রাণি, আমার অন্তর্জল কর।—পােড়রমুখ, মরে যাও, ছােট রাণীর, কোল খালি হক। বলে ‘সুয়াে মেগের যােল আনা, দুয়াের নামে নাই, একচকো ভাতারের মুখে বাসি আকার ছাই। বিন্দু। ভিক্ষা দাও গাে ব্রজবাসী, রাধাকৃষ্ণ বল মন, আমি বৃদ্ধ বেশ্যা অপস্বিনী, এইচি বৃন্দাবন। বগ। বিন্দি পােড়াকপালি, তুই আর কথা কস্ নে, পােড়ারমুখাে যদি বুঝতে পেরে থাকে, তােকে ত্যাগ করবে ; -ও ত চোর না, তাের নাগর, তুই পােড়াকপালি বড় খেলয়াড়, নাগর বলে আলি, চোর বলে ছাপালি, বিন্দু। ভিক্ষা দাও গাে ব্রজবাসী, রাধাকৃষ্ণ বল মন, আমি বৃদ্ধ বেশ্যা তপস্বিনী, এইচি বৃন্দাবন। বগ। কালামুখী কচিখুকী দুদ তুলচেন; এতক্ষণ মন-চোরার গায় দুদ তুললেন, এখন ভাতারের গায় দুদ তুলচেন, বিন্দু। ভিক্ষা দাও গাে ব্রজবাসী, রাধাকৃষ্ণ বল মন, আমি বৃদ্ধ ৰেশ্যা তপস্বিনী, এইচি বৃন্দাবন। বগ। আজ থেকে তুই আর ভাতার পাবি নে, আমি এই ভাতারের কাছে বসলেম পদ্মলােচনের দক্ষিণ হস্ত ধরিয়া উপবেশন)। ওকে বিষ খাইয়ে মারব, তবু তােকে দেব না।—ভাতার যমকে দিতে পারি, তবু সতীনকে দিতে পারি নে। = গর্ভাঙ্ক) দ্বিতীয় অঙ্ক। বিন্দু। তাের ভাগের দিকে তুই বলি, তাতে কি আমি কথা কই; আমার ভাগ ছুবি ত ঝাঁটার বাড়ী খাবি, বগ। ছোঁব না ত কি তােকে ভয় কবি ; এই চুলেম- | পদ্মলােচনের বাঁ পায় এক কীল। বিন্দু। আমার পায় তুই এক কীল মালি, আমি তাের পায় দুই কীল মারি- [ পদ্মলােচনের ডান পায় দুই কীল। বগ। তবে তাের পায় তিনু কীল- [ বা পায় তিন কমল। বিন্দু। তাের পায় এই চা কীল- [ ডান পায় চা কীল। বগ। বটে রা সৰ্ব্বনাশি, তবে দেখবি নাকি কেমন করে তােকে রাঁড় করি- { বটী লইয়া পদ্মলােচনের বাঁ পায় এক কোপ—প্রস্থান। পদ্ম। পাটা একেবারে গিয়েছে, দু আঙ্গুল কোপ বসেছে, উত্থানশক্তি- রহিত। বিন্দু। আহা! পােড়াকপালী মাছ-কোটা করে ফেলেচে।—এস, তােমায় আমি টেনে ঘরের ভিতর নিয়ে যাই। [ উভয়ের প্রস্থান। =

তৃতীয়
অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
কেশবপুর-জামাই-বারিক।
চারিজন জামাই আসীন।
.
প্রথম জা। (গাঁজা টিপিতে টিপিতে) আমি ভাই, আজ, এক মাস
বাড়ীর ভিতর যাই নি, প্রেয়সী আমাকে ডাইভোর্স কল্লেন নাকি।
দ্বিতীয় জা। (গাঁজা টিপিতে টিপিতে) হয়েছিল কি?
প্রথম জা। বাসেছিলেন, তা আড়াই দিনে সেরে গিয়েছে; আজ, এক
মাস কুড়োেত লুস চেন, বরমা-পনির মত ছুটে বেড়াচ্চেন ; আমি বাড়ীর
ভিতর যেতে চাইলেই গিল্পী বলেন কাহিল।
তৃতীয় জা। তােমার তবু একটা অছিলা আছে, আমি আজ, দশ দিন
জামাই-বারিকের বরেগা গুণচি, আর তিনি সুস্থশরীরে খােসমেজাজে একা
খাটে পড়ে আছেন। আমি পাচিকে বােজ বলি “পাঁচি, আমার নামের
পাশখানা নিয়ে আয়, আমি আজ বাড়ীর ভিতর যাব”; তা বলে “তােমার
নামের পাশ দিতে চান না।”
দ্বিতীয় জা। (গাঁজা টিপিতে টিপিতে) ক দিন এখানে ছিলাম না, এর
মধ্যে অনেক কাণ্ড হয়ে গিয়েছে দেখচি যে ;-পিশগুলিন থাকে কোথা?
চতুর্থ জা। গিল্পীর ঘরে। যারে যারে তিনি বােঝেন বাড়ীর ভিতর
যাবার যােগ্য, তার তার নামের পাশ পাচির কাছে দেন, পাঁচি জল খাওয়ার
সময় দিয়ে যায়।
দ্বিতীয় জা। (গাঁজা টিপিতে টিপিতে) বিনা পাশে যাবার যাে নাই?
তৃতীয় জা। না।
দ্বিতীম্ জা। কোন দিন চেষ্টা করেছিলে
,

গর্ভাঙ্ক] তৃতীয় অঙ্ক । ৩১ তৃতীয় জা। আমি এক দিন বিনা পাশে যাবার চেষ্টা করেছিলেম ; মাজের দরজার দরওয়ান ব্যাটা পাশ দেখতে চাইলে, দেখাতে পাল্লেম না, অর্ধচন্দ্ৰ আহার করে ফিরে এলেম। প্রথম জা। (গাঁজা টিপিতে টিপিতে সময় না হলে আর আমাদের দরকার হয় না; আমরা যেন ভাই, কুক্ সাহেবের আড়গড়ার মেলগ্যাণ্ডার, ফিমেল গুস্ দ্বিতীয় জা। সাবাস দাদা বেশ বলেচ ; কি বলব গাঁজা টিচি, তা নইলে সেহণ্ডি কত্তেম ;-নেভার মাইন, কেনি দাও। (কনুইতে কনুইতে ঘর্ষণ)। শালাবাবুদের পাশ নাই ? চতুর্থ জা। তাদের হল বাড়ী, তারা যখন মনে করে তখন বাড়ীর ভিতর যায়।বউমাদের পাশ আছে বটে, তাঁদের কতকটা আমাদের দশা। তৃতীয় জা। সে ক দিন ? যে ক দিন খাঁড়া ধরূতে না শেখে, তার পর জোর করে কেল্লা দখল করে। দ্বিতীয় জা। (গাঁজা টানিয়া গীত—বাউলে সুর, তাল একতালা ) মার দম্ কসে দম্ গাঁজার কলকে তুলে, খেয়ে রয়েছে আমার পেটটা ফুলে ; গাঁজা সেজে খাই, কত মজা পাই, কেহ নাই মাের বাপের কুলে। অভাগা কপাল, কান্তা যেন কাল, প্রহারে পয়জার ধরিয়ে চুলে। প্রথম জা। ( গাঁজা টানিয়া গীত—রাগ সিন্ধু জঙ্গলা, তাল খেমটা ) বল কি হবে মিছে ভাবিলে এখন, ভাবিতে উচিত ছিল বিবাহ যখন। অষ্টরম্ভা বাপের বাড়ী, দুবেলা চড়ে না হঁাড়ী, তাইতে আসি শ্বশুর-বাড়ী, কাল যাপন। দ্বিতীয় জা। নিবারণকে ডাক্ না ভাই, সাতকাণ্ড রামায়ণ শােনা যাক। তৃতীয় জা। তারা ভােলা ছাতে গুলি খাচ্চে ;-ঐ এয়েচে। পাঁচজন জামায়ের প্রবেশ। দ্বিতীয় জা। নিবারণ, একবার সাতকাণ্ড রামায়ণটা শুনিয়ে দাও।

৩২ জামাইবারিক। :[প্রথম পঞ্চম জা। ক্ষেতি কি বাবা, বেদি করে দাও। প্রথম জা। এই তােমার বদি একখানি খাটে গুটিকত লেপ পাতন। দ্বিতীয় জা। তবে বেদিতে আরােহণ কর। পঞ্চম জা। কিছু ভাল লাগছে না বাবা, মাগ মহাশয় রাগ করেচেন, পাঁচ দিন পাশ পাই নি। দ্বিতীয় জা। নেভার মাইন, রামায়ণ আরম্ভ করে দাও, আজ, পাশ পাবে। পঞ্চম জা। (বেদিতে উপবেশনানন্তর) এক নিশ্বাসে সাতকাণ্ড রামায়ণ বলা সাধারণ বিদ্যার কৰ্ম্ম নয়, বাবা। তবে শােন। ঐ যে বােজ সকাল বেলা, অর্থাৎ যামিনী বিগতা হলে, পূৰ্ব্বদিকে, পরমণয়া পশ্যতি দৃশাং, ভারি লাল, রক্তবর্ণ হিঙ্গুলের মত, কাচাঁ সােণার ন্যায়, একখান চমকে থাল উদয় হয়, ওটা সূৰ্য। তােমরা ভাব, ও ব্যাটা কেবল সকালে উদয় হয়ে সমস্ত দিন আপিসের কাজ চালিয়ে সন্ধার সময় বাড়ী যায়, এমন নয় ; ওর একটা বংশ আছে, তার নাম সূৰ্য-বংশ। বংশটা ভারি বংশ, এখন নিৰ্ব্বংশ। এই সূৰ্য্য- বংশে দশরথ নামে এক রাজা ছিল,-মহাবলপরাক্রম ভূধর মহীধর ধরাধর সাগর নাগর ডাগর রাজা। অন্দরমহলে রাণীর পাল ; পালঝাড়া রাণী, অর্থাৎ সকলেই বন্ধ্যা, একটীরও গর্ভ হয় না; বাড়ীতে ছেলের ভাঁজ নাই। রাজা যাগ যজ্ঞ হােম নৈবিদ্য স্বাস্থ্যরক্ষা কুশাসন সাগরমন্থন গন্ধমাদন কত কল্লেন, কিছুতেই রাণীদের গর্ভের সঞ্চার হল না। রাজা ভেবে ভেবে ‘চিন্তাররা মনুষ্যাণাং';-তখন কুক সাহেবের আড়গড়া হয় নি, কি উপায়ে বংশ রক্ষা ৫ করেন। তৃতীয় জ। জামাই-বারিক ছিল না ? পঞ্চম জা। রাণীদের সঙ্গে জামাই-বারিকের শ্বশুড়ী সম্পর্ক, থাকলেই বা কি হত?—রাজা কিংকর্তব্য অনুঢ়া হয়ে খুব গ্যাটাগোটা অকালকুষ্মাণ্ড গােচ একজন ঋষিকে আনালেন, তার নাম রসশৃঙ্গ। ঋষিবর যােগ আরম্ভ করুলেন। বাবা, কার দ্বারা কি হয়, কে বলতে পারে ;-রসঙ্গ তপােবনে ফিরে না যেতে যেতে মহারাজের চার কুমার উত্তমাশা অন্তরীপের ন্যায় বিহার কত্তে লাগল। রাম, লক্ষ্মণ, ভরত, শত্রু। ছেলে চারটেকে গুরুমহাশয়ের পাঠশালে লিখতে দিলে। অল্প কালের মধ্যে ছেলেগুলাে আমাদের শালাবাবুদের মত পদ্মপলাশলােচনষৎ ফুলে উঠল। পরীক্ষার দিন উপস্থিত ; রাজা কংকেতে • গর্ভা তৃতীয় অঙ্ক। আপামর সাধারণ পরিদর্শী, তাই নিজে জিজ্ঞাসা করবেন। রাম উপস্থিত রাজা জিজ্ঞাসা কল্লেন “পঞ্চাশ কড়া”? রাম বলে “বার গণ্ডা দু কড়া”। রাজা রামের গালে একটা প্রচণ্ড চড় মারিয়া বল্লেন ‘তাের কিছু বিদ্যা হয় নি, তুই বনে যা”। লক্ষ্মণ উপস্থিত ;-“পঞ্চাশ কড়া ?” “সাড়ে বার গণ্ডা”। প্রচণ্ড চড় মারিয়া রাজা বল্লেন, “যা ব্যাটা, তুইও বনে যা”। ভরত শক্ত উপস্থিত ;-“পঞ্চাশ কড়া”; দুইজনে একবারে বলে “পাঁচ গণ্ডা সাত কড়া” রাজা একটু মুচকে হেসে বল্লেন “যা তােরা রাজা হগে”। রামলক্ষ্মণ পিতৃ-আজ্ঞা-প্রতিপালনে পরান্মুখ হওয়া নিতান্ত মূঢ়ংমতি বিবেচনায় পঞ্চবটীর বনে উপসংহার করিয়া ডেরাডাণ্ডা ফেল্লেন। সাঁওতাল- ননদিগের সহিত হেঁড়েডুডু, নবীন তুড়কি, কপাটি কপাটি, ডাণ্ডাগুলি খেলতে লাগলেন ; অল্প দিনের মধ্যে সুমেরু-শিখর-নিকর-পরাজিত দিগ্বিজয়ী বীর হয়ে উঠলেন। ইতিমধ্যে কিছকিনা-অধিপতি বালী রাজার জ্যেষ্ঠ পুত্রের পরিণয় উপলক্ষে পঁহার বৈটকখানায় নৃত্য করিবার জন্য এক জোড়া খ্যামটাওয়ালী উপস্থিত হয়। নাচ আরম্ভ হয়েছে; বালী রাজা সিংহাসনে বক্রভাবে দীর্ঘ. লাঙ্গল উচ্চ করিয়া উপবিষ্ট ; দুই পার্শ্বে হনুমান্, জাম্বুবান্, নল, নীল, গয়, গবাক্ষ প্রভৃতি লােমাচ্ছাদিত-উচ্চ-পুচ্ছধারী মহােদয়গণ চেয়ারে বেঞ্চে কোচে বিরাজ কচ্চেন ; জরির টুপি, মরেসা, শ্যামলা, কিংখাপের চাপকান, সাটিনের চায়না-কোটে বানরকুল ঝলমল। রাম লক্ষ্মণ টিকিট পেয়েছিল ; তারাও সভায় উপস্থিত।—বুনােদের সঙ্গে থেকে ছোঁড়া দুটোর স্বভাব বিকৃড়ে গিয়েছিল। বালী রাজাকে বল্লে “খ্যামটাওয়ালী দুটোকে আমাদের দাও”; বালী বল্লে “দেব না”;«ঘাের যুদ্ধ ;-বালী রাজা বধ। খ্যামটাওয়ালী দুটোকে দু ভাইতে ভাগ করে নিলে ; যেটার নাম সীতা, সেটা নিলে রাম ; যেটার নাম সূর্পণখা, সেটা নিলে লক্ষ্মণ। লক্ষ্মণ সভাৰ্য্যাভ্রান্তরে শুচি হইয়া পঞ্চবটীর বনে আগমন করে দেখেন সূর্পণখা মায়াবিনী রাক্ষসী, রাবণের ভগিনী। তৎক্ষণাৎ গজরাজবিনিন্দিত বারিদবৃন্দপরাজিত রজকরঞ্জন গর্দভবৎ চিৎকার শব্দ করলেন ; নয়ন দিয়া ক্রোধানল, হােমানল, দাবানল, বাড়বানল, বিরহানল, কামানল, বাহির হইতে লাগল ; বল্লেন পাপীয়সি, কালামুখি, কলঙ্কিনি, কুরঙ্গনয়নি, কাঙ্গালিনি, তুমি দূর হও; এই বলে তার নাক কাণ কেটে নিয়ে তাকে বিদায় করে দিলেন। লঙ্কার রাবণ রাজা শুনে তেলে-বেগুণে জ্বলে উঠলে, ছল করে রামের সীতা • ;

৩৪ জামাই-বারিক। [প্রথম হরণ করে নিয়ে গেল ; রাম বাতাহতকদলীবৎ মাতায় হাত দিয়ে কাঁদতে লাগলেন। রামটা ভ্যাবা গঙ্গারাম; লকার বুদ্ধিটে খর্জুর-কণ্টকবৎ তীক্ষ্ণ ; ছল বল দুৰ্বল কল কৌশল তার সকলি হস্তগত; বল্লে দাদা, তুই কাদিস কেন? পাঁচ পয়সার টিকে কিনে আন্ আর পাঁচ বুড়ি পাকা কলা সংগ্রহ কর, আমি তাের সীতা উদ্ধার করে দিচ্চি। রাম তাই কল্লেন। লক্ষ্মণ হনুমাদিগকে এক একটী কলা দিয়ে বশীভূত করে তাদের লেজে এক-এক-খানটিকে ধরিয়ে বেঁধে দিলে। তার পর বল্লে যাও সব লঙ্কার চালে গিয়ে বস। হনুমানেরা কলা খেয়েছেন, কলার কাজ না কল্লে কৃতঘ্নতা হয়,-হুপ হুপ করে লঙ্কার চালে বল, আর লঙ্কা দগ্ধ হয়ে গেল। রাবণ সবংশে নিপাত; বেড়া আগুণ, পালাবার যাে নাই; লঙ্কা ছার খার; সীতা উদ্ধার। ইতি সাতকান্ট রামায়ণ সমাপ্তমিদং।এই হচ্চে রামায়ণ, ল বেদিতে বসেই বল আর চামর হাতে ; করেই বল। তৃতীয় জা। বাল্মীকির সঙ্গে মেলে না। পঞ্চম জা। বেল্লিকের রামায়ণ বাল্মীকির সঙ্গে মিলবে কেন ? কিন্তু মূল এই। পাঁচজন জামায়ের প্রবেশ। চতুর্থ জা। বনমালী এয়েছে, এবারে পীরের গান হক। যষ্ঠ জা। চারজন দোয়ার চাই। চতুর্থ জা। জামাই-বারিকে দোয়ারের ভাবনা নাই। ষষ্ঠ জা। ( চামর মন্দিরা লইয়া চারজন জামায়ের সহিত গীত) মাণিকপীর, ভবপারে যাবার লা, জয়নাল ফকিরি নেলে ফেনি খালে না, চারজন জা। মাণিকপীর- ষষ্ঠ জা। আল্লা আল্লা বলরে ভাই, নবি কর সার, মাজা দুলিয়ে চলে যাবা ভবনদী পার। চারজন জা। মানিকপীর- ইত্যাদি। ষষ্ঠ জা। শুন রে ভাই বিবরণ,লব দ্বারে আছে জীবন, কখন যে পালাবে বলতে মাহি পারি ; ' গর্ভাঙ্ক তৃতীয় অঙ্ক। কোরাণেতে বয়েদ আছে, দুনিয়েটা ক্যাবল মিছে, থােদার নাম বিনে জাবা সকলি ঝকমারি। ব্যানে বিকেলে দুপহরে, জরু ছাবাল সাতে করে, নামাজ পড়বা মা করে স্থির ; মানিলােকের রাখবা মান, গরিব লােককে করবা দান, দরগায় গিয়ে ফয়তা দেবা ক্ষীর। আপন গােণ্ড বুঝে লেবা, পরের গােণ্ডা পরকে দেবা, বড়গােনা, কেজিয়ে করা কাজিকে হয়রাণি। পীর প্যাগম্বর মাতায় ধরা, অন্ধকারে দেখে তারা, হুসিয়াছে কান্ করুন ছােড়কে সয়তানি। ঝটবামে না দেবা দেল, সত্যছে বানাবা এক্কেল, ভক্তিভাবে করূবা পূজো বা মার চরণ। গােনা বরাবর নাইকো বিষ, ভনে দ্বিজ গােলামনবিস্, এই তাে ধরম শাস্ত্রের লেখন। চারজন জা। মানিকপীর—(ইত্যাদি।) ষষ্ঠ জা। সুবুদ্ধি গােয়ালার মেয়ের কুবুদ্ধি ঘটিল, বেসালির ভিতর দুগ্ধ রেখে পীরকে ফাকি দিল। চারজন জা। মাণিকপীর (ইত্যাদি। ষষ্ঠ জা। কত কীৰ্ত্তি আছে রে ভাই, কওয়া নাইকো যায়। দেখ সাদির সমে দোলার বিবি ডুলি চেপ যায়। চারজন জা। মাণিকপীর- ইত্যাদি) ষষ্ঠ জা। ওরে, কছুকুমড়াে রাকলে ফেলে, তুশ্চ নেরেলব্যাল, আজগবি দুনিয়ার খেলা, সর্ষের মধ্যি ত্যাল। চারজন জা। মাণিকপীর—ইত্যাদি।) ষষ্ট জা। মুসলমানের মােল্লা রে ভাই, হাঁটুর মধ্যি সাধু, কহুকুমড়ো ছেড়ে দিয়ে আকির মধ্যি মধু। •চারজন জা। মাণিকপীর—(ইত্যাদি। ষষ্ঠ জা। আসমানেতে ম্যাগের খেলা করে সিংহলাদ, 'আর দিনের বেলায় সূর্য ওঠে রাতির বেলায় চাদ। চারজন । মাণিকপীর- ইত্যাদি।

[প্রথম জামাই-বারিক। ষষ্ঠ জা। পাহাড়ের প্রকাণ্ড হাতী, শিকলি বাধা পায়, আর ঘরজামায়ে শ্বশুরবাড়ী মেগের নাতি খায়। চারজন জা। মাণিকপীর- ইত্যাদি। ষষ্ঠ জা। কত কেরামৎ জান রে বন্দা, কত কেরামৎ জান, মাজদরিয়ায় ফেলে জাল ডেঙ্গায় বসে টান। চারজন জা। মাণিকপীর- ইত্যাদি।) ষষ্ঠ জা। দুর্গির ছাওয়াল কার্তিক রে ভাই, মােরগ চেপে যায়, আর পূজো পালি বাজাবিবির ছাওয়াল করে দেয়। .চারজন জা। মাণিকপীর— ইত্যাদি।) ষষ্ঠ জা। রাতির বেলায় ভুতির ডরে ডরিয়ে ওঠে ছেলে, আর হুড়কো মেয়ে ঝকে ওঠে খসম কাছে এলে। চারজন জা। মাণিকপীর-( ইত্যাদি। তৃতীয় জা। বিরহ হবে না? দ্বিতীয় জা। হবে না তােমায় কে বল্পে ? ষষ্ঠ জা। এই বার হবে—গেয়ে লাও তত ভাই। চারজন জা। মাণিকপীর—ইত্যাদি।) ষষ্ঠ জা। বিরহিণী বিবি আমার গাে, বাঁদে নাকো চুল। কলজেতে ফুটেচে কাটা পঞ্চবাণের হল। চারজন জা। মাণিকপীর ইত্যাদি।) ষষ্ঠ জা। সায়েরে গিয়েছে স্বমী, হালি আঁধার করে, পরাণ জ্বলে গেল বিবির কুকিলের ঠোকরে। চারজন জা। মাণিকপীর- ইত্যাদি। ষষ্ঠ জা। মুখ ঘামেচে বুক ঘামেচে বিবির ভাসেযাচ্চে হিয়ে, খসম যদি থাকত কাছে রে পুঁচত নুমাল দিয়ে। চারজন জা। মাণিকপীর-(ইত্যাদি। শষ্ঠ জা। পিঁড়েয় বসে কঁাচে বিবি, ডুবি আঁখির জলে, মােল্লায়ে ধরেচে ঠাসে, খসম খসম বলে। চারজন জা। মাণিকপীয় ইত্যাদি।) যষ্ঠ জ্বা। ষাঁড়ের মাতায় শিং দিয়েচে, মাষির মাতায় কেশ, আল্লা আল্লা বল রে ভাই, পালা কল্লাম শেষ।

গর্ভাঙ্ক তৃতীয় অঙ্ক। চারজন জা। মাণিকপীর-(ইত্যাদি। তৃতীয় জা। এ বারে পাঁচালী হক। পাঁচি এবং চারিজন দাসীর প্রবেশ। দ্বিতীয় জা। পাঁচালীতে আর কাজ নাই, এখন পাচির পাঁচালী শােনা যা। পাঁচি। আর সব কোথায় ? প্রথম জা। খােল। ছাতে গুলি খাচ্চে। পাঁচি। তােমাদের জল খাওয়াতে পাল্লে আমি আপনার কাজে হাত দিতে পারি। (দাসীদের প্রতি) ওগুনে ঐ খানে রাস্তাের হাতে কি ? প্রথম দা। সন্দেশের হড়া। পাঁচি। তাের হাতে ? দ্বিতীw দা। চিনির পানার গামলা। পচি। তাের হাতে ? তৃতীয় দা। দুদের গামলা। পাঁচি। তুই কি এনিচি ? চতুর্থ দা। সসা, কলা, পেয়ারা। পাঁচি। দুদের উড়কি এনিচি ? তৃতীয় দা। এই যে। পাঁচি। তুই এনিচি ? দ্বিতীয় দা। এই যে। দ্বিতীয় জা। পাঁচি, তাের নাম পাচি হল কেন রে ? তৃতীয় জা। পাচির পাঁচ জন ছিল বলে। পাচি। এখন আর আমার পাঁচ জন নয়। তৃতীয় জা। ক জন ? পঁচি। এখন জামায়ের পাল। পঞ্চম জা। পাঁচি, তুমি দ্রোপদী। পাঁচি। না, আমি কুন্তী, বিয়ে না হতে বাবুদের বাড়ী তরুণ-তপন-রূপে বিমােহিত-মন, বিবাহ না হতে, কুন্তী অর্পিল যৌবন। ।

জামাই-বারিক। {প্রথম। ; • পঞ্চম জা। পাঁচি, তাের পতন হয়েছে। পাচি। কোথায় ? প্রথম জা। কুয়াের ভিতর। পঞ্চম জা। ঠাট্টা করাে না বাবা, আমার দাদা রিফিউ লেখেন। প্রথম জা। তার নাম কি ? পঞ্চম জা। ভোতারাম ভাট। প্রথম জা। যিনি বৈষ্টব ছিলেন, তার পর কলমা কেটে কাজি হয়েছেন? পঞ্চম জা। ভোতারাম ভাটকে বড় সাধারণ লােক জ্ঞান করাে না; তার রিফিউয়ের ভারি ধার, প্রথম জা। খানা কাটা যায় ? পঞ্চম জা। তুমি মূখ, রিফিউয়ের “ধায়” বুঝবে কি, পাচি বুঝেচে। পাঁচি। আঁশ বঁটী । পঞ্চম জা। পাঁচি তাের পতন হয় নি পাঁচি। ভোতারাম ভাটের চক্ষু থাকে ত হয় নি। তৃতীয় জা। আমার চকে ত নয়। পঞ্চম জা। ভোতারাম ভাট বলেন, কবিতা লেখার প্রণালী হচ্ছে “তিন তিন দুই তিন তিন, তােমার তিন তিন দুই চার হয়ে গিয়েছে। প্রথম জা। ওর যে বয়েস তিন তিন দুই সাত হতে পারে। পাঁচি। ভােতারাম ভাট বুঝি জামাই-বারিকে লেখা পড়া শিখেছিলেন ? পঞ্চম জা। তােকে লেখা পড়া শেথালে কে ? পাচি। কেন, আমার স্বামী। পঞ্চম জা। তাের স্বামী লেখা পড়া জানে ? পাঁচি। তােমাদের চাইতে ভাল। পঞ্চম জা। পাঁচি, তুমি যােড়শী, রূপসী, সরসী, বায়সী, পাঁচি। পােড়া কপাল আর কি, বায়সী যে কাক। পঞ্চম জা। কাকী ; “সী”র মিল কত্তে তোকে কাকী বলে ফেলিচি। দ্বিতীয় জা। পাঁচি, তুই এত গহনা পেলি কোথা? পাচি। জামাই-বারিকে। পঞ্চম জা। পাঁচি, তুমি আমাদের কমিসারি জেনারেল ; তুমি যে প্রমদা- পরিমল-পিঙ্গল প্রণালীতে রসদ সব কচ্চ, তুমি একটু গা-ঢাকা হয়ে থেকো। ;

গর্ভাঙ্ক] তৃতীয় অঙ্ক। ৩৯ পাচি। কেন গাে? পঞ্চম জা। লুশাই এক্সপিডিসানে ধরে নিয়ে যাবে। পাঁচি। তাতে তােমাদের অধিক ভয়। পঞ্চম জা। কেন লাে ? পাচি। তারা বাঁধা-খেগাে বয়েল ধচ্চে। পঞ্চম জা। ভাল বলেচ পাঁচি, ঠাকুরঝি ; আমি মরে যাই, তুমি আমার সঙ্গে সহমরণে চল। পাঁচি। সহমরণে যে যাবার সেই যাবে।--এখন তােমর এক জায়গায় থাবে, না আমায় টানাপড়েন কত্তে হবে ? ষষ্ঠ জা। আমরা সব খােলা ছাতে খাব। [ দশজন জামায়ের প্রবেশ। প্রথম জা। পাঁচি, আমার পেট জ্বলে উঠেচে, আমাকে এই খানে দে। [ একখানি রেকাব আর দুটী বাটী লইয়া উপবেশন। পাঁচি। (দাসীদের প্রতি) তােরা এ দিকে আয়। (দুটী গােল্লা, চার- খানি সসা কাটা, একটী খােসাফেলা পেয়ারা, এক উড়কি চিনির পানা, এক উড়কি দুদ প্রদান।) প্রথম জা। আর একটু দুদ দে, আজ বড় গুলি টেনিচি। [ আহার। তৃতীয় জা। পাঁচি, আমার নামে পাশ বেরিয়েছে ? পাঁচি। বলতে পারি নে, পাশগুলিন আমার আঁচলে বাধা আছে। দ্বিতীয় জা। আজ, যে দেখি আঁচল-ভরা পাশ ; বাবুদের বাড়ী শ্রাদ্ধ না কি, নইলে এত নাগা সন্ন্যাসীর আহ্বান কেন ? তৃতীয় জা। পাঁচি, পাশগুলাে পড়ে পড়ে আমার হাতে দে না ভাই। পাচি। (অঞ্চল হইতে পাশগুলিন খুলিয়া পঠনন্তির প্রদান) যতীন্দ্র- মােহন, দিগম্বর, রাজেন্দ্রলাল, কিশােরীচাদ, কৃষ্ণদাস, দ্বারিকানাথ, সত্যেন্দ্রনাথ, অন্নদাপ্রসাদ, মনােমমাহন, উমেশচন্দ্র, মুরলীধর, আশুতােষ, কালীমােহন, মােহিনীমােহন, হেমচন্দ্র জুনিয়ার, জগদ্বন্ধু, মহেন্দ্রলাল, প্যারিচরণ, ভূদেব, জগদীশ, গুরুচরণ, গৌরদাস, হেমচন্দ্র সীনিয়ার, রঙ্গলাল, বঙ্কিম, তৃতীয় জা। আমার নাম এখনও বেরুল না, কি সর্বনাশ আর কখান আছে?

৪০ জামাই-বারিক [প্রথম পাঁচি। একখান। তৃতীয় জা। পড় দেখি। পাঁচি। মৌলভি আব্দুল লতিফ। দ্বিতীয় জা। ও কার ? তৃতীয় জা। ও ত ছােট জামায়ের, সে রাতদিন চা চকে দেয় বলে তাকে আমরা আব্দুল লতিফ বলি।—পাঁচি, আমি আজ গলায় দড়ী দিয়ে মরুব। অভয়কুমারের প্রবেশ। অভ। পাঁচি, আমার পাশ বেরিয়েছে ? পাঁচি। তােমার পাশ হারিয়ে গিয়েছে। অভ। আমি তবে বাড়ীর ভিতর যেতে পাবনা ? পাচি। বিবেচনার স্থল। অভ। তবে আমাকে পায়ে ধরে বাড়ী থেকে আলি কেন? দ্বিতীয় জা। সেখানে গর্ভযন্ত্রণা হয় বলে।—আজ, পাশ পেয়েছি বাবা, আজ এক লাফে লঙ্কা ডিঙ্গাতে পারি, হাবার মার প্রবেশ। হা। অভয় কোথায় ? তার জন্যে এই লেখন এনিচি। [অভয়ের গ্রহণ। পাচি। হাতে লেখা পাশ। দ্বিতীয় জা। কাঠের বেরাল হলে কি হয়, ইদুর ধত্তে পালিই হল। হাবা। বলে ‘নৌকা ডিজে চাই নে আমি, আজ্ঞে যদি পাই, গঙ্গাজলে সাঁতার দিয়ে শ্বশুর বাড়ী যাই। দ্বিতীয় জা। হাবার মা, একটা গান কর। হাব। (গীত, রাগ সিন্ধু কাপি, তাল খেমটা।) মনের মত নাগর যদি পাই, প্রেমভােয়েতে তারে আমার যৌবনে জড়াই, মেতি আমলা দিয়ে চুলে, সাজিয়ে খোপা বকুলফুলে, মুচকে হেসে, কাছে বসে, দুবেলা তার মন যােগাই। (নৃত্য।

গর্ভাঙ্ক] তৃতীয় অঙ্ক। ৪১ D পাচি। তােমরা জলটল খাবে, না কেবল নাচ দেখবে? দ্বিতীয় জা। তুমি অগ্রসর হও, আমরা তােমার পশ্চাৎ পশ্চাৎ বৎসব বমান হই। সকলের প্রস্থান। দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক। “কেশবপুর-কামিনীর শয়নঘর। কামিনী এবং হাবার মাব প্রবেশ। 4 -কামি। হাবার মা তার গায় ত গন্ধ কচ্চে না ? ও যখন বাড়ী থেকে আসে, তখন ওর গায় বােকা বােটকা গন্ধ হয়।—বাড়ীতে খেতে পায় না, তেল মাখে না, নায় না, কামায় না । হাবা। তাের আর কথা শুনে বঁচি নে ; আমি দেখিচি, কেমন তেল মেখেচে, চুলগুলাে যেন তেলে সাঁতার দিচ্ছে। কামি। তবেই আমার মাতা খেয়েচে ; বালিশের ওয়াড়গুলিন মল্লিকে ফুলের মত ধপ ধপ কচ্চে, এক দিন শুলেই ক্ষিতি মেথরাণীকে ডাকতে হবে। হাবা। তুই যে ঠ্যাকারের কথা কস, তাইতে তাের ভাতার রাগ করে যায়। কামি। রাগ করে গেল, ধাকৃতে ত পাল্লে না, তু করে ডাকৃতেই ত আবার এয়েছে। হাবা। রাত অনেক হয়েছে, তুই শশা, আমি তারে ডেকে আনি। [প্রস্থান। কামি। (মুকুরের নিকট দাড়াইয়া আপন অঙ্গ দর্শন করিতে করিতে) এ কি বাবার বিবেচনা, দেশে কি বর মেলেনা ; স্যাওড়া গাছের কেলে সােণা, গাঁজার খবর যােল আনা, তারি হাতে এই ললনা।

82 জামাই-বারিক [দ্বিতীয় (মুকুরের সমীপন্থ চেয়ারে উপবেশনানন্তর দীর্ঘ নিশ্বাস) , ৫ যেন দুটী ইন্দীবর, কেন বা বাঁদিমু চুল কেন মল্লিকার ফুল ঘিরে দিনু কবরীর গায় । মুক্তপুঞ্জ অলকায়, কেন দোলাই, হায়! কেন আলতা দিনু রাঙ্গা পায় । কটিতটে চন্দ্রহার, মরি, মরি, কি বাহার। কিবা হার পয়ােধােপরে ; ছচি পানে দিয়ে খর, রঞ্জিয়াছি ওষ্ঠাধর ; মেদিপাতা দিচি পদ্ম করে ; নীল নেত্র মনােহর, যােগ-ভঙ্গ অপাঙ্গের নাম ; নবীন-যৌবন-ধন কারে করি বিতরণ, পরিণেতা পােড়া বাঞ্ছারাম ; ঘরজামায়ে অন্নদাস, পড়ে গুলি খাচ্চে ঘাস, বার মাস করে জ্বালাতন ; এখনি নিকটে বসে, মাতা খাবে দাদ ঘসে, ফাটা পায় ছিড়িবে বসন ; থাকে যবে নিজ ঘরে, স্বহস্তে লাঙ্গল ধরে, মাতায় বিচালি বাঁধি আনে ; এমন চাসার কাছে, আমার কি সুক আছে, কি আছে কপালে কেবা জানে। অভয় কুমারের প্রবেশ। . অভ। কামিনি, এখন যে জেগে রয়েচ ? কামি। টেবেলের উপর এক বােতল গােলাপজল আছে, ওটা সব তােমার গায় ঢেলে দাও; আতর ল্যাভেণ্ডার মুখে রগড়ে রগড়ে মাখ, ভার পর আমার কাছে এস। অভ। আমি তা ফব না। কামি। অন্য অঞ্চ জামাইরা ত করে।

গর্ভাঙ্ক| তৃতীয় অঙ্ক। ৪৩ অভ। তারা জামাই-বারিকের জাম্বুবান্, তাই করে।-ও কথাগুলিন আমি গল বাসি না, ওতে আমার অপমান বােধহয়। কামিনি, তুমি এমন নির্দয় কেন? [কামিনীর চেয়ার ধারণ । কামি। (নাক টিপিয়া) ওঁরে মা গন্ধে মলুম, গন্ধে মলুম, গন্ধে মলুম, গন্ধে মলুম ; কোথায় যাব, কি কঁব, কেমন করে রাত কাটাব।—গন্ধে মলুম, গন্ধে মলুম, ওঁরে মা গন্ধে মলুম, অভয়। (চিৎ হইয়া পড়িয়া চীৎকার শব্দে) বাবা রে, মা রে, মলেম রে, মেরে ফেলে রে, কোথায় যাব রে ! ; - পাঁচি, হাবার মা, এবং পুরমহিলা-চতুষ্টয়ের প্রবেশ। হাব। ওমা! আমি কোথায় যাব, কি হল, অভয় আমার অমন করে পড়ে কেন? গোঁ গোঁ কচ্চে যে। পাচি। ফুলদিদি, কি হয়েছে ? কামি। হবে আবার কি ? বউ। অভয়কুমার, তুমি চেঁচাচ্ছিলে কেন ? অত। কামিনী আমায় দেখে নাক টিপে নাকি সুরে “ওঁরে মা, গন্ধে মলুম, কোথায় যাব” বলতে লাগল, আমি ভাবলেম পেতনী। বউ। (কামিনীর প্রতি) পােড়ারমুখি, সব বােন গুলিন এক, গন্ধ গন্ধ করে মরেন ; ওঁদের গায় পদ্মের গন্ধ, আর ওঁদের ভাতারদের গায় পচা নর্দমার গন্ধ। পােড়ারমুখীরে গন্ধ গন্ধ করে রােজ মিছেমিছি আদ মন গােলাপজল । নষ্ট করে।—পাচি, দৌড়ে যা, ঠাকুণকে বগে, কোন ভয় নাই, অভয়কুমার ঘুমের ঘােরে ডরিয়ে উঠেছিল। [পাঁচির প্রস্থান। হাবা। শুল বা কখন, ঘুমুল বা কথন, এই ত এলা-ভুতের ওজা ডেকে বাছারে একবার ঝাড়িয়ে নাও, বােধ হয় পেতনীর দৃষ্টি হয়েছে, অভ। শুভদৃষ্টির সময় থেকে। হাবা। ইষ্টদেবতার নাম কর। বউ। তুমি শীগগির মর। [কামিনী এবং অভয়কুমার ব্যতীত সকলের প্রস্থান। অভ হবার মার কথা শুনি, ইষ্টিদেবতার নাম করি।

৪৪ জামাই-বারিক। দ্বিতীয়] • কামি। পােড়ারমুখ, ছােট লােকের রীতির দোষ, অকারণ বউমার কাছে অামাকে লাঞ্ছনা খাওয়ালেন ; বউমাকে আমরা মায়ের মত মান্য করি, তারু কাছে আমার এই ঢলাঢলি ; কাল সকালে কত ব্যাখখানা সইতে হবে, কাবরা কাছে মুখ দেখাতে পাব না ; দাদা শুনে কি ৰবেন, মাই বা কি ভাববেন। অভ। তুমিইত এর কারণ। কামি। আজ তােমারি এক দিন আর আমার এক দিন, খাটে উঠবে আর ন-দিদির মত কব-নাতি মেরে নাবিয়ে দেব। অভ। (দীর্ঘ নিশ্বাস) বটে এত দূর। কামি। চক রাঙ্গাচ্চ, মারবে নাকি ? অত। গোঁয়ার হলে মাত্তেম ;-(দীর্ঘ নিশ্বাস )-কামিনী, আমি তােমার স্বামী; কামিনী, আমি জন্মের মত যাই, তােমাকে একটা কথা বলে যাই তােমার কথায় আমার চক্ষু দিয়ে কখন জল পড়ে নি আজ পড়ল, কামি। আমার মাতা খাও, রাগ করাে না, খাটে এস। অভ। এ শরীরে তার না। [ প্রস্থান। কামি। কত বার অমন রাগ দেখিচি। (খট্টাঙ্গ উপরে চক্ষু মুদ্রিত করিয়া শয়ন এবং ক্ষণকাল পরে খট্টাঙ্গে উপবেশন—দীর্ঘ নিশ্বাস ) ঘুম ত হয় না। (দীর্ঘ নিশ্বাস) আমি ত বিষম জ্বালায় পড়লেম,‘‘আজ পড়ল’--আমিও ত আর রাখতে পারি নে, আমারও ‘‘আজ পড়ল”—রোদন)। “তারা জামাই- বারিকের জাম্বুবান”–“গোঁয়ার হলে মাত্তেম’—“আজ পড়ল।—ওমা কি করি বুক যে ফেটে যায়। পাঁচির প্রবেশ। পাঁচি। ফুলদিদি, তুমি এমন সৰ্ব্বনাশ করেচ, জামাই বাবুকে নাতি মেরেচ; কর্তার কাছে জামাই বাবু কাদতে কাদতে বল্লেন। কামি। নাতি মেরেচি বলেছে ? পাঁচি। নাতি মাত্তে চেয়েছ। কামি। বাবা কি বল্লেন ? পাঁচি। কৰ্ত্তামহাশয় গালে মুখে চড়াতে লাগলেন, আর বল্লেন অমন মেয়ের আর মুখ দর্শন কব না, কামি। অভয় কোথায় ? ৫৭ গর্ভাঙ্ক) তৃতীয় অঙ্ক। ৪৫ । পাচি। কৰ্ত্তামহাশয় কত বল্লেন, তা তিনি শুনলেন না, রাগ করে চলে গিয়েছেন। কামি। তবে আমাকে একখান খুৱ এনে দাও, আমি মেজদিদির মত করি, পাঁচি। তুমি যাও কোথা ? কামি। মেজদিদির কাছে। [ উভয়ের প্রস্থান । চতুর্থ অঙ্ক। প্রথম গর্ভাঙ্ক। বৃন্দাবন-পদ্মলােচনের মঠ। অভয়কুমার এবং পদ্মলােচনের প্রবেশ। অভ। দাদা, আর ত হাতাপুড়িয়ে খেতে পারি নে। তুমি যদি অনুমতি দাও, আমি কষ্ঠীবদল করি ; আর কিছু করুক না করুক দু বেলা দুটো বেঁধে ত দেবে। পদ্ম। হাত পােড়ান ছলনা, স্ত্রীলােক নইলে থাক্‌তে পার না তাই বল। তুমি এমনি মাগ মুকো, আবার পদাঘাত ভােজন কত্তে দেশে যেতে চাও। পদাঘাত করে নি, কত্তে চেয়ে ছিল। পদ্ম। এইবার গেলে হবে অভ। আমি ভাবছিলেম আর একটা পরীক্ষা করে দেখি ; শশুর বাড়ী যাই, যদি স্নেহ মমতা করে, তবে সংসারধৰ্ম্ম করি ; কখন কখন তার স্বভাবটা বড় মিষ্টি হয়; কিন্তু দাদা, গ্যাদা মনে হলে সেখানে আর যেতে ইচ্ছা করে না, চিরকাল এইরূপ বাবাজী হয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। পদ্ম। আমি ত ভাই, বেশ আছি, এক বৎসর বৈষ্ণব হইচি, হাড় গােড়- গুলাে যােড় লেগেছে। অভ। না দাদা, যেতে আর মন সরে না; আবার যদি পদাঘাতের পালা পড়ে তা হলে হাতেরও যাবে পাতেরও যাবে, আবার কষ্ট করে বৃন্দাবনে ;

৪৮ জামাই-বারিক। [প্রথম আতে হবে। আমার যদি প্রথম স্ত্রী থাকত, তা হলে আমি জামাই-বারিকে জন্মের মত জলাঞ্জলি দিয়ে নিজ বাটীতে সংসারধর্ম কত্তেম। পদ্ম। মােদ্দা কথাটা, একটা মেয়ে মানুষ চাই। অভ। ব্রজবাসিনীদের সন্ধান নিছিলে। পদ্ম। যাদের কেলিকদম্বের তলায় দেখেছিলে । অভ। এমন মনােহর মাধুরী কখন দেখি নাই, সেমন রূপ তেমনি পরিচ্ছদ ; স্বভাব যতদূর নরম হতে হয় ;-নরম স্বভাব স্ত্রীলােকের প্রধান ভূষণ। ২ পদ্ম। মাধব বৈরাগী বহুকাল বৃন্দাবনে আশ্রয় করে আছেন ; তিনি নিতান্ত দৈন্য নন, তার আশ্রমের চারিদিকে ফুলের বাগান, বাগানের প্রান্ত ‘ভাগে অতিথিশালা, সেখানে নিত্য সদাব্রত। তার পূৰ্ব্ববাস কলিকাতার দক্ষিণ বারিপুর গ্রাম। তারা তারি মেয়ে। অভ। চারিটীই ? পদ্ম। বড়টী তার বৈষ্ণবী, ছােট তিনটী তার কন্যা। অভ। বড় মেয়েটাকে যদি আমায় দেয়, আমি কষ্ঠীবদল করি। পদ্ম। আমার ইচ্ছা ছােট দুটিকে ঘােড়া বিয়ে করি, বিয়ে করে বৃন্দাবনে একবার শম্ভনিশম্ভর যুদ্ধ দেখি। অভ। ওদের যে নরম প্রকৃতি, ওয়া বােধ করি সতীনের সঙ্গেও ঝকড়া কত্তে পারে না।—এমন নিটোল গােল গঠন কখন দেখি নাই ; ওদের গায় গহনা দিলে কি শােভাই হয়। পদ্ম। মৃণালে সােণার তাগা পরালে যা হয় । অভ। দাদা, তুমি ওদের বাড়ী গিছিলে পদ্ম। গিছিলেম। মাধব বৈরাগী পরম ধার্মিক, অতি মিষ্টস্বভাব ; আমায় অতিশয় আদর কল্লেন, আর বল্লেন “বাবাজী, তুমি নুতন বৈষ্ণব, তােমার যখন যে সাহায্য আবশ্যক হয় আমাকে বললা”। অভ। অমন বাপ না হলে অমন মেয়ে জন্মায় ?—মেয়েরা তােমার কাছে এল ? পদ্ম। আমি ত আর এখানে পত্নীদ্বয়ের পদাঘাতাহারী পদ্মলােচন বাবু নই যে তারা ভয় করবে ; আমি এখানে বৈষ্ণচুড়ামণি পদ্ম বাবাজী; তারা নির্ভয়ে আমার কাছে বসে কথা কইতে লাগল। { ? * •

গর্ভাঙ্ক]
চতুর্থ অঙ্ক।
৪৭
অভ। দাদা, আমি এক দিন যাব?
পদ্ম। যে দিন ইচ্ছা।
অভ। বড় মেয়েটী কথা কইলে ?
পদ্ম। দুটী একটী। বড় মেয়েটী বড় লজ্জাশীলা, ছােট দুটী তত নয়,
মাধবের বৈষ্ণবী ত রস-সরোবর, নাক দে মুক দে চক দে কথা কয়।
অভ। তিনি কি এদের মা ?
পদ্ম। এদের মা নাই, বৈষ্ণবীর সঙ্গে মাধব সম্প্রতি কন্ঠীবদল করেছেন।
অভ। দাদা, তুমি বৃন্দাবনে আছ তা কেউ জানে ?
পদ্ম। জনপ্রাণী না। আমি দেখলেম, দু সতীনে আমাকে ছেড়ে পরস্পর
কাটাকাটি আরম্ভ করলে, তাই কারাে কিছু না বলে চলে এলেম। তবে
বৃন্দাবনে এসে আমার ভাইপােকে একখানি চিটি লিখিচি, কিন্তু তাকে বারণ
করে দিইচি আমার বৈষ্ণবাশ্রম কেহ না জানতে পারি। তোমার কথা কেউ
জানে ?
অভ। আমার আছে কে তা জানবে ?—দাদা, বৈষ্ণবীদের সঙ্গে
কন্ঠীবদলের কথা হল ?
পদ্ম। তাঁরা স্বয়ম্বরা হবে।
তবে ত আমার আশা নাই।
পদ্ম। তুমি এখন সাধু পুরুষ, এক দোষ ছিল গুলি, তা তুমি বৈষ্ণব হয়ে
ছেড়ে দিয়েচ ; তােমায় পেলে আর কারো নেবে না।
অভ। তবে দেশের আশা ছেড়ে দিই ?
পদ্ম। ভাল করে বিবেচনা করা যাক।
অভ। আর একবার দেখলে হত, কিন্তু অনেক কাঠ খ।- না দাদা,
তােমায় পাচিকা এনে দিচ্ছি, এই খানেই ভরাভর।
পদ্ম। আমি আহারের যােগাড় দেখি।
অভ। আমি মাধবের আশ্রমে যাই।
অভ।
উভয়ের প্রস্থান।

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক।
বৃন্দাবন—মাধি বৈরাগীর আশ্রম।
এক দিকে মাধব অপর দিকে পদ্মলােচনের প্রবেশ ।
‘পদ্ম। দণ্ডবৎ বাবাজি।
মাধ। দণ্ডবৎ বাবাজি।
পদ্ম। বাবাজীর মঙ্গল ?
মাধ। রাধাকৃষ্ণের প্রসাদাৎসকলি মঙ্গল।-বাবাজী বসুন।
পদ্ম। যে আজ্ঞা বাবাজী।
মাধ। ছােট বাবাজীর স্বভাব অতিমিষ্ট, আমার বৈষ্ণবী এবং কন্যা
তিনটী তাকে অতিশয় ভালবাসে। কঠিবদলে সকলেরি মত হয়েছে, এখন
আপনারা অনুগ্রহ কলেই হয়।
বৈষ্ণবী-চতুষ্টয়ের প্রবেশ।
পদ্ম। বাবাজি, আপনি বৈষ্ণব-কুলতিলক, বৃন্দাবন-ভূষণ ; আপনার
সরলস্বভাবা সুশীলা তনয়ার পাণিগ্রহণ করা সাধারণ শ্লাঘা নয়; তবে একটা
প্রতিবন্ধকতা ছিল।
প্রথম বৈষ্ণ। কি বাবাজি।
‘পদ্ম। অভয়কুমারের একটি স্ত্রী ছিল।
প্রথম বৈষ্ণ। তা ত ছােট বাবাজী বলেচেন ; তার পায়ের এমনি জোর,
ছােট বাবাজীকে এক পদাঘাতে বৃন্দাবনে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে-
“দেহি পদ-পল্লবমুদার”।
পদ্ম। আপনাদের ছােট বাবাজী অতিশয় স্ত্রৈণ, সেই পদাঘাত-প্ৰহারিণী
প্রমদার কাছে পুনরায় গমন করবার মনস্থ করেছিলেন ; বলেন প্রমদার,
উগ্ৰস্বভাব হক কিন্তু তার হৃদয় মেহশূন্য ছিল না।
প্রথম বৈষ্ণ। বাবাজি, তার স্নেহটা পায়ের দিকে অধিক নেবে পা দুটো
এসেছিল।
মাধ। তবে তিনি আমার কন্যার সঙ্গে কণ্ঠীবদলে মত দিলেন কেমন করে?

[দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক চতুর্থ অঙ্ক। ৪৯ পদ্ম। সম্পূর্ণ মত দেন নাই; তার মনটা পাণি নৌকার মত একবার কেশবপুর একবার বৃন্দাবন যাতায়াত কচ্ছিল। প্রথম বৈষ্ণ। কুঞ্জবনে বালে বাঁশী, ঘরে রয় না মন, শ্যাম রাখি কি কুল রাখি, রাধা ভেবে উচাটন। দ্বিতীয় বৈষ্ণ। সে স্ত্রীর কাছে যাওয়াই স্থির কয়েচেন, বাবাজি ? পদ্ম। থাকলে যেতেন। দ্বিতীয় বৈষ্ণ। সে স্ত্রীর কি হয়েছে? পদ্ম। এই লিপি পাঠ কর ; আমার ভ্রাতৃপুত্রের লিপি। প্রথম বৈষ্ণ। বাবাজি, অনুমতি করেন ত সমুদায় লিপিখানি পাঠ করি। ‘পদ্ম। স্বচ্ছন্দে। প্রথম বৈষ্ণ। ( লিপি পাঠ) “শ্রীচরণাম্বুজে আপনার লিপি প্রাপ্ত হইলাম। জীবন থাকিতে আর গৃহে প্রত্যাগমন করিবেন না, মনস্থ করিয়াছেন। আপনি ভবনমধ্যে যে ভীষণ দর্শন দর্শন করিয়া গৃহ পরিত্যাগ করিয়া গিয়াছেন, তাহাতে প্রত্যাগমন কখনই মনােমধ্যে উদয় হইবার সম্ভাবনা নাই। কিন্তু খুল্লতাত মহাশয়, অবস্থার পরিবর্তনে স্বভাবের পরিবর্তন হয় । আপনি যদি খুড়ীমাদিগের দুরবস্থা এক্ষণে একবার দর্শন করেন, আপনি দয়াঢ়িত্তে আবাসে আসিয়া বাস করিবেন সন্দেহ নাই। যে ভবনে অহরহ কলহ-কোলাহলে বায়স বসিতে পাইত না, সেই ভবন এক্ষণে শূন্যময়, নীরব, সূচিকাপতন শব্দ শ্রবণগােচর হয়। সৰ্ব্বাচ্ছাদক-স্বামি-শােকে স্বপত্নীযুগল বিগ্রহের চিরসন্ধি করিয়া অবিরল-বিগলিত-জলধারাকুললােচনে গলাগলি হইয়া রােদন করিতেছেন ;-শীর্ণ কলেবর, মলিন বসন, দীন নেত্র, আলুলায়িত কেশ। ছােট খুড়ী রন্ধন করিয়া বড় খুড়ীকে খাওয়াইতেছেন, বড় খুড়ী “বন্ধন করিয়া ঘােট খুড়ীকে খাওয়াইতেছেন ;-একত্রে উপবেশন, একত্রে শয়ন, একত্রে রােদন ; দেখিলে বােধ হয় যেন দুটী স্নেহভরা বিধবা সহেদিরা ; কেবল ‘হা নাথ ! তুমি কোথায় গেলে !” বলিয়া বিষাদ-নিশ্বাস পরিত্যাগ করিতেছেন, আর বলিতেছেন “পাপীয়সীর সম্পূর্ণ শাস্তি হইয়াছে, এক্ষণে তুমি বাড়ী এল, আর কলহ শুনিতে পাইবে না। আমি ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে ;

জামাই-বারিক। [দ্বিতীয়
যতদূর বুঝিতে পারি, বােধ হয় আপনি যদি ভবনে পুনরাগমন করেন, এক্ষণে
আপনি সুখী হইবেন।
অভয় কাকার স্ত্রী অত্মহত্যা করিয়াছেন। ইতি সেবক
শ্রীনলিনিনাথ রায়।”
বাবাজি ছােট বাবাজী স্ত্রৈণ, না আপনি স্ত্রৈণ, লিপি শুনে আপনার চক্ষে জল
পদ্ম। লিপি শুনে তােমার ছােট বাবাজী গড়াগড়ি দিয়ে কেঁদেছেন,
দু দিন বিছানা থেকে উঠেন নি। বলেন “আমি তার সেই রাগ রাগ মুখখানি
আর দেখতে পাব না।”-এমনি স্ত্রৈণ, দু দিন খেলে না।
প্রথম বৈষ্ণ। ভাবলেন, পদাঘাতের উপসংহার হল।
দ্বিতীয় বৈষ্ণ। আপনি দেশে যাবেন ?
পদ্ম। চিটি পড়ে মনটা কেমন হয়েছে, আর না গিয়ে থাকতে পারি নে।
অভয়কুমারকে তােমাদের এখানে রেখে, আমি দেশে যাই।
প্রথম বৈষ্ণ। ছােট বাবাজী ঘরজামায়ে হবেন না কি ?
পদ্ম। টেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।
মাধ। এক্ষণে আর প্রতিবন্ধকতা নাই ?
পদ্ম। কিছুমাত্র না।
মাধ। তবে দিন স্থির করুন।
পদ্ম। কথাবার্তা স্থির হ।
মাধ। বৈষ্ণব ভিখারীর বিয়েতে কথা আর বার্তা।
প্রথম বৈষ্ণ। দেওয়া থােওয়ার বিষয় বলচেন ?
পদ্ম। সেও ত একটা কথা বটে।
প্রথম বৈষ্ণ। প্রভু।
মাধ। কি বল বৈষ্ণবি?
প্রথম বৈষ্ণ। একটী হীরার আংটী দেব।
মাধ। অবশ্য।
প্রথম বৈষ্ণ। আর মেয়েকে আটগাছি সােণার দমদম।
পদ্ম। তােমার মেয়ে, তুমি যা ইচ্ছে তাই দিতে পার।
প্রথম বৈষ্ণ। আপনি কেবল বরাভরণের বিষয়টী শুনতে চান। কলি-
কাতার মত ফরবেন না; ছেলে যদি একটু ভাল হয়, রত্নগর্ভা জননী আজোট

গর্ভা]
চতুর্থ অঙ্ক।
পাত পেতে বলেন, ঘড়ী দাও, ছড়ী দাও, সাল দাও,”ছেলেকে একটা সােণার
লেজ গড়িয়ে দাও। এটা অতি নীচ প্রবৃত্তি; মেয়ে যদি চকে লাগল, মেয়ের
বাপের যেমন সঙ্গতি তেমনি নিয়ে বিয়ে কর।
মাধ। আমি দীন দুঃখী, বরাভরণ কোথায় পাব।
প্রথম বৈষ্ণ। প্রভু।
মাধ। কি বল বৈষ্ণৰি ?
প্রথম বৈষ্ণ। আপনি ত তামাক খান না, আপনি যদি অনুমতি করেন,
মল্লিক বাবুরা আপনাকে যে ফসিটে দিয়ে গেছেন, সেটা বরাভরণ বলে দিই।
মাধ। বৈষ্ণবীর ইচ্ছে আর কৃষ্ণের ইচ্ছে, আমার তাতে সম্পূর্ণ ইচ্ছে।
প্রথম বৈষ্ণ। বাবাজি, আপনারা কিছু দেবেন না?
পদ্ম। ছােট বাবাজী অনেক বরাভরণ পেয়েছিলেন, কিন্তু সঙ্গে কিছুই
}
নাই।
প্রথম বৈষ্ণ। থাকবের মধ্যে ভৃগুপদ-চিহ্ন।
পদ্ম। একছড়া সােণার গােট আছে তাই দেবেন।
মাধ। অদ্য রাত্রিতে শুভ কৰ্ম্ম সম্পন্ন করা যাক।
পদ্ম। আচ্ছা বাবাজি।
সকলের প্রস্থান।
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
বৃন্দাবন-পদ্মলােচনের মঠ-অভয়কুমারের শয়নঘর।
পদ্মলােচন এবং অভয়কুমারের প্রবেশ।
পদ্ম। ভায়া, তােমার বৈষ্ণবী রান্নাঘর আলােময় করে ফেলেচেন, বাছার
কি মধুর স্বভাব! যখন আমাদের পরিবেশন কত্তে লাগলেন, হাতখানি অন্নপূর্ণার
হাতের মত দেখাতে লাগল।বক্তার মাগ মরে, কমবক্তার ঘােড়া মরে, তা
তােমাতেই ফল্প।
অভ। আহারটা হল কেমন ?
পদ্ম। • পরিপাটী।
অভ। বৈষ্ণবীর সেট হাও।

জামাই-বারিক [তৃতীয় পদ্ম। মাধব বৈরাগীর অত বড় আশ্রমের সমুদায় রান্না তােমার বৈষ্ণবীর জিম্ম ছিল। অভ। দাদা, বৈষ্ণবীকে দিয়ে একদিন পাটা রাঁধা যাক্। পদ্ম। তুমি কোন দিন মজাবে। বৈষ্ণবশ্রেষ্ঠ মাধব বাবাজীর কন্যা ; ওঁয়াকে অমন কথা কখন বলল না ; কষ্ঠীবদলের ডাইভাের্স আছে। অভ। মন জেনে তবে বব ; আমি এখনাে বৈষ্ণবীর সঙ্গে কথা কই নি, তার মুখ দেখি নি। পদ্ম। তােমার বিছানার যে বড় বাহার, গদির উপর সুচুনি পাতা, বালি- আড়ং -দানে পেলে নাকি ? ভ। তা নইলে আর কোথায় পাব, দাদা। পদ্ম। আমি প্রস্থান করি, বৈষ্ণবী এখনি তামাক দিতে আসবেন। [প্রস্থান। অভ। (স্বগত) লালাবাবুদের মন্দিরের মুহুরিগিরিটে গ্রহণ কত্তে হল, তা নইলে বৈষ্ণবীকে সুখে রাখতে পাব না।বৈষ্ণবী আমার নম্রতার নব- নলিনী; ইচ্ছা প্রকাশ না কত্তে সম্পাদন করেন ; সার্থক বৃন্দাবনে এসেছিলাম। [শয়ন। সটকায় ফু দিতে দিতে বৈষ্ণবীর প্রবেশ এবং সার নল ধীরে ধীরে অভয়কুমারের মুখে দিয়া বিছানায় বসিয়া অভয়কুমারের পদসেবন। বৈষ্ণবি, তুমি আহার কর গে, আমি নিদ্রা যাই। [ধূমপান। বৈষ্ণ। যতক্ষণ আপনার নিদ্রা না আসে, আমি ততক্ষণ আপনার পদসেবা কবুব, আপনার নিদ্রা এলে আমি রান্নাঘরে যাব, হাড়ী তুলে এসিচি, হেশেল পেড়ে এসিচি । অভ। বৈষ্ণবি, তুমি আহার কর গে, পদসেবার কিছুমাত্র প্রয়ােজন হয় নি। বৈষ্ণ। আমাদের আশ্রমের পুস্তকে পড়িচি, নারায়ণ ভােজন করে শয়ন। করূলে লক্ষ্মী পদসেবা কত্তেন।

গর্ভাঙ্ক] চতুর্থ অঙ্ক। অভ। বৈষ্ণবি, আমি তােমার মধুর বচনে মােহিত হলেম, তুমি মুখ তুলে আমার সঙ্গে কথা কও। বৈষ্ণ। (দীর্ঘ নিশ্বাস) মা! (অভয়কুমারের চরণযুগল বক্ষে ধারণপূর্বক চুম্বন-বৈষ্ণবীর চক্ষের জল চরণে পতন।) অভ। বৈষ্ণবি, তুমি কঁচ ? বৈষ্ণ। (মুখ তুলিয়া) আমার দুটী বাসনা ছিল। অভ। বল, আমি প্রাণ দিয়ে সম্পাদন করব। বৈষ্ণ। এক বাসনা-তােমার পা দুখানি বুকে করে চুম্বন করব, আর এক বাসনা-স্বহস্তে তামাক সেজে এই ফসিতে তােমাকে খাওয়াব। অভ। (এক দৃষ্টে বৈষ্ণবীর মুখ নিরীক্ষণ করিয়া) কেন ? বৈষ্ণ। নাথ, আমি তােমার পাতকিনী কামিনী। [মূচ্ছিত হইয়া পতন। অভ। আমার কামিনী,কামিনীর এই দুরবস্থা কামিনীর মস্তক উরুতে ধারণ করিয়া জলপ্রদান ) কামিনী, কামিনী।-আমার সেই কামিনী, এমন হয়েচে, চেনা যায় না।—কামিনী, কামিনী কথা কও। বৈষ্ণ। নাথ, আমাকে পাপীয়সী বলে যদি গ্রহণ না কর, আমার আর আক্ষেপ নাই ; আমার যা বাসনা ছিল, তা আজ সফল করিচি। আমি আজ দু মাস তােমার অন্বেষণে বেড়াচ্চি ;-বাপ মুখ দেখেন না, মা মুখ দেখেন না, দাদা কথা কন না, ভেজেরা গঞ্জনা দেন।—আমি কোথায় যাই, আমার কে আছে। দেখলেম, সকল আবদার স্বামীর কাছে।—আমি তােমার অন্বেষণে বেরুলেম।. অভ। কামিনী, তুমি আর কেঁদ না ; আমি তােমারি ; আমি অতি নিষ্ঠুরের ন্যায় ব্যবহার করিচি। বৈষ্ণ। নাথ, আমিই তার মূল অভ। কামিনী, তুমি আমার জন্যে এত কষ্ট করে জানলে আমি কখন বৃন্দাবনে আস্ততম না। বৈষ্ণ। তোমার জন্যে কষ্ট কব ত কার জন্যে কষ্ট করব।—সেই পাপ মাত্রিতে তােমার চক্ষে জল দেখলেম ; তুমি বল্লে ‘অজি, পড়ল,” আমার হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে গেল। সেই রেতে আত্মঘাতিনী হচ্ছিলেন, তা পাচি হতে দিলে না।• যদি সে রেতে তােমাকে পেতো, আমি তােমার পা দুখানি জড়িয়ে ধরে রাগ নিবারণ কত্তেম। • ; } ৫৪ জামাই-বারিক। [তৃতীয় ৫ অত। কামিনী, সে যেতের কথা তুমি আজও মনে করে রেখেচ? বৈষ্ণ। সে রাত্রি আমার কালরাত্রি ; স্বামী-হায়া হলেম।—সে রাত্রি আমার শুভরাত্রি ; স্বামীর মর্ম জানলে। (উপবেশনানন্তর অভয়কুমারের হস্ত ধরিয়া) নাথ, আমি কাঙ্গালিনীর বেশে ভিখারিণী বৈষ্ণবী সন্ন্যাসিনীর সঙ্গে সঙ্গে তােমার মুখখানি দেখব বলে কত দেশে গেলেম। আজ আমার পরিশ্রম সফল হল ; এখন তুমি পাতকিনীকে ক্ষমা কর, আমি তােমাকে একবার “অভয়” বলে ডাকি। অভ। কামিনী, তুমি পাপের অধিক প্রায়শ্চিত্ত করে। তােমার ক্লেশ দেখে আমি যারপরনাই, প্রাণে ব্যথা পাচ্ছি। তুমি শান্ত হও, আমি আর তােমার কাছ ছাড়া হব না। [মুখচুম্বন। বৈষ্ণ। অভয়, তুমি এই ফসিটীতে তামাক খেতে ভালবাসতে, আমি তাই উটী বড় যত্ন করে রেখিচি। অভ। কামিনী, তােমার স্নেহের সীমা নাই। বৈষ্ণ। অভয়, তুমি ঘরে এসে আপনি তামাক সেজে খেতে, আর আমি খাসগ্যাদারি কোচে বসে থাকতেন। এখন ভাবি, কেন আমি দৌড়ে গিয়ে তােমার হাত থেকে কলকে কেড়ে নিয়ে তামাক সেজে দিতাম না, আর আঁচল দিয়ে তােমার হাতটী মুছিয়ে দিতাম না।এখন আমি য়ােজ তােমাকে তামাক সেজে দেব। অভ। আমি কলকে কেড়ে নেব। কামিনী, তুমি আমার আদরমাখা কামিনী, তােমাকে কি আমি আর কিছু কষ্ট কত্তে দেব। বৈষ্ণ। অভয়, তােমাকে আমি দেশে নিয়ে যাব, আর এখানে থাকতে দেব না। অভ। দেশে যাব, কিন্তু জামাই-বারিকে আর যাব না। বৈষ্ণ। সেখানে যাবে কেন, আমি যে বিষয় পেয়েছি তাই নিয়ে তােমার বাড়ীতে বাস করব ; আর যদি তােমার ইচ্ছা হয়, এখানেই তােমার পদসেবা করব, বৈষ্ণবীর বেশ আর ত্যাগ করব না। অভ। বড় বৈষ্ণবীটী কে ? বৈষ্ণ। ময়রা দিদি। মাইরি ? অভ।

গর্ভা চতুর্থ অঙ্ক। বৈষ্ণ। ময়রা দিদিই ত আমায় নিয়ে এল, ওর কল্যাণেই ত তােমাকে পেলেম। অভ। তােমরা বুঝি মাধব বৈরাগীর আশ্রমে এসে উঠেছিলে ? বৈষ্ণ। মাধব বৈরাগী কে বুঝতে পাচ্ছ না? অভ। না। বৈষ্ণ। ও যে আমাদের ময়রা বুড়াে। অভ। বল কি? শালা এমন বৈরাগী সেজেচে কিছুমাত্র চেনা যাচ্চে না। ছােট বৈষ্ণবী দুটী ? বৈষ্ণ। ব্রজবালা। ভবী ময়রাণীর প্রবেশ। অভ। ভবী। ছােট বাবাজি, দণ্ডবৎ। বৈষ্ণ। পােড়ারমুখী রঙ্গ নিয়েই আছেন। ভবী। ছােট বাবাজি, দণ্ডবৎ। রসে যে খসে পড়চ; শালীকে বৈষ্ণবীর বেশে এমন সুন্দর দেখাচ্চিল। ভবী। তবু ত আমার কন্ঠী কণ্ঠে দিলে না। অভ। তুমি যে শ্বাশুড়ী। ভবী। বৃন্দাবনের নাড়ী ভুড়ি, দিদি শ্বাশুড়ী শ্বাশুড়ী, দেড় কুড়িতে এক কুড়ি, বড়াই বুড়ী নবীন ছুড়ী, চেনা যায় না বামন শুড়ি, বৈষ্ণব ঠাকুণ সাগগ্রী খুড়ী, খেয়ে বেড়াচ্চেন তপ্ত মুড়ী, মাগগি বেলােয়ারির চুড়ী, কষ্ঠীবদল ঝুড়ি ঝুড়ি। অভ। ময়রা দিদি, মাধব বৈরাগী তােমার কে ভুবী। ভেকের ভাতার। D জামাই-বারিক। তৃতীয় t অভ। ভেকের ভাতার কেমন ? ভবী। হৃদয়-কঠোর কৃষ্ণধন। অভ। কামিনীর আমি কি ? ভবী। দাদার মতন ভাতারটী। হাস্য। বৈষ্ণ। পোড়ার মুখ, হেসে গেলেন একেবারে। অভ। ময়রা দিদি, তােমরা এলে কেমন করে ? ভবী। নাতজামাই,থুড়ি,ছোট বাবাজি দণ্ডবৎ। বৈষ্ণ। আবার রঙ্গ । ভবী। নাতজামাই, তুমি ত ভাই, সেই রেতে চলে এলে।—সকালে বাবুদের বাড়ী লােক ধরে না; আমি তাড়াতাড়ি কামিনীর ঘরে গেলেম, দেখি কামিনীর এক চক্ষে শত ধারা, কামিনীর সেই, অহঙ্কার-প্রফুল্ল মুখখানি এতটুকু হয়ে গেছে। কামিনীর স্নেহের স্রোত অহঙ্কার-পাহাড়ে আটকে ছিল, ক্রমে স্রোত প্রবল হয়ে পাহাড় ভেদ করে বহিতে লাগল । কামিনী কারাে সঙ্গে কথা কয় না, কেবল আমার গলা ধরে বল্লে “ময়রা দিদি, আমি কলঙ্কিনী হইচি, সতীর সর্বস্বধন স্বামীর অবমাননা করিচি।”—ঐ দেখ, কামিনীর ডাগর চক সাগর হয়ে উঠল।—কেন দিদি, আর কঁদ কেন, যার জন্যে কান্না, তাকে ত পেয়েচ। বৈষ্ণ। ময়রা দিদি, তুমিও যে কঁচ ভাই। অভ। . তার পর ? ভবী। কামিনী নায় না, খায় না, পরে না, চুল বাঁধে না, কেবল কাদে আর বলে অপনার সর্বনাশ আপনি করলেম। পূজার সময় পাঁচ মেয়েতে নতুন কাপড় পরে আমােদ কত্তে লাল, কামিনী একাকিনী একখানি ময়লা কাপড় পরে ঘরের মেজেয় বসে কঁচেন ; আমি কাছে গেলেম, বল্লে “ময়রা দিদি, আমার খাওয়া পরা ঘুচে গেছে, আমার স্বামীর উদ্দেশ নাই।”—ঐ দেখ, কামিনী আবার কাল, আমি ভাই, ইতি করি। বৈষ্ণ। লুনা, অভয় শুতে চাচ্ছে। অভ। তোমরা বেরুলে কবে ? * ভবী। তােমার অনুসন্ধানে দেশ দেশান্তরে লােক গেল, সকলেই নিরাশ হয়ে ফিরে এল ; দাওয়ানজী তােমাকে জামালপুরের ষ্টেশনে ধরে ছিলেন তা ৬ গর্ভাঙ্ক] চতুর্থ অঙ্ক। তুমি বল্লে “যে বাড়ীতে স্ত্রী স্বামীকে নাতি মারে, সে বাড়ীতে আমি আর যাব না।” ক্রমশঃ তােমার আশা সকলেই ছেড়ে দিলে, কেবল একজন ছাড়লে না; তােমার নাম আর কিছুতেই রইল না, কেবল কামিনীর হৃদয়ে। কামিনী এক দিন আমাকে বল্লে ‘অন্য কেউ তাকে আনতে পারবে না, আমি গেলে আন্‌তে পারি, আমি পতির অন্বেষণে বাব স্থির করিচি, তােমাকে আমার সঙ্গে যেতে হবে।” আমি ময়রা বুড়াের কাছে উপস্থিত হলেম, বল্লেম “ময়না বুড়াে, তুমি কার ?” সে বল্লে “আগে ছিলেম কামিনীর, এখন তােমার।” বৈষ্ণ। পােড়র মুখ, মরে যাও। ভবী। আমি বল্লেম তবে পাত দত, তােল, আমার সঙ্গে তীর্থে যেতে হবে। সে অমনি কাপড় চোপড় পরে মাতায় পাগড়ি ‘’টী হয়ে আমাদের সেত হয়ে চল্ল। দেশে সােরৎ হল, কামিনী ময়রা বুড়াের সঙ্গে বেরিয়ে গিয়েছে। অভ। শালার মাতার টা দেখলে আমাদেরি বেরুতে ইচ্ছে করে। ভবী। তােমার বাড়ীতে গেলেম, ভোঁ ভা, কেউ কোথাও নাই। সেখানে এক নূতন বিপদ উপস্থিত ;-তােমার সেই ভাঙ্গা ঘরের মেজেয় পড়ে কামিনীর আচূড়াপিড়ি করে কান্না ; বলে “এতদিন সােণার খাঁচায় ছিলেম আজ আমি নিজ বাড়ীতে এলেম, এই ভাঙ্গা ঘর আমার সােণার অট্টালিকা ; ময়রা দিদি, তুই যা, আমি এই ভিটেয় পড়ে থাকি, অভয় শুলে আমাকে গ্রহণ করবে।” অভ। ময়রা দিদি, এ বারে আমি কঁালেম ; কামিনী আমার জন্যে এত কষ্ট করেছেন। ভবী। তার পর ভাই আমি কল কৌশলে পদ্ম বাবাজীর ভাইপাের কাছে জালেম তুমি বৃন্দাবনে পদ্মবাবাজীর মঠে আছ। ‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর-পাতন’ মনচোরার অনুসন্ধানে বিনােদিনীকে সঙ্গে লয়ে বাহু দোলাতে দোলাতে বৃন্দাবনে এলেম। তার পরে কেলিকদম্বলতায় বনমালীর প্রথম দর্শন; পূর্বরাগ অর্থাৎ পদাঘাত-স্মরণ ; বিনােদিনীর বৈষ্ণবীর বেশ ; মাধব বৈরাগীর আশ্রম ; স্বস্তি সকলমঙ্গলালয় ; লগ্নপত্র ; কষ্ঠী বদল মিলন। ইতি পতি উদ্ধার পালা শেষ। অভ। রাম কল্লেন সীতা উদ্ধার, কামিনী কল্লেন পতি উদ্ধার, বৈষ্ণ। ময়রা দিদি আমার প্রধান সহায়, ওরে এক ছড়া মুক্তার মালালেব। ;

৫৮ জামাই-বারিক [তৃতীয় ভবী। তাের ভাতারের গলায় দে, সাজবে ভাল।কামিনী, তাের মুখে আজ, হাসি দেখে আমার প্রাণ জুড়াল। [বৈষ্ণবীর প্রস্থান। অভ। পদ্মবাবু আচেন। ০ পদ্মলােচনের প্রবেশ। পদ্ম। তােমার শ্বশুর এসেছেন। অভ। মাধব বৈরাগী ? পদ্ম বিজয়বল্লভ। অভ। কোথায় আছেন ? পদ্ম। মাধব বৈরাগীর সঙ্গে এখানে আছেন।—মিষে “কামিনী কামিনী” বলে মাধবের গলা ধরে কঁাচে ; কামিনী পতি উদ্ধার করেছে শুনে আনন্দের সীমা নাই, মাধবকে যােল ভরির সােণার হার পারিতােষিক দিয়েছেন। ভবী। রক্তের টান, রাগ করে কি থাকতে পারেন, ছুটে বেরিয়েছেন। পদ্ম। উনি কে, আমাদের বৈষ্ণব ঠাকুৰুণ না ? ভবী। দণ্ডবৎ বাবাজি। অত। উনি আমার দাদা হন। ভবী। নাতজামায়ের ভাই, শালা বল্লে ক্ষতি নাই। প। ময়য়া দিদি, সব কল্পে ঘটক বিদায় কল্পে না। ভবী। ঘটক বিদায় দেব। পদ্ম। কি ? ভবী। ছােট মেগের হাতে রূপ-বধান শতমুখী। পদ্ম। তাদের আর সে ভাব নাই।এরা আসছেন। ভবী। মামি যাই। [ প্রস্থান। পদ্ধ। ভায়া, আমি তােমাদের সঙ্গে দেশে যাব। অভ। তােমাকে কি আমি রেখে যাই।

গর্ভাঙ্ক]
চতুর্থ অঙ্ক।
বিজয় বল্লভ, মাধব বৈরাগী এবং কামিনীর প্রবেশ ।
বিজ। (কামিনীর হস্ত ধরিয়া) বাবা অভয়, তুমি আমার কামিনীকে
ক্ষমা কল্পে ত ?
অভ। মহাশয়, কামিনী সাবিত্রী অপেক্ষাও সাধ্বী, কামিনীকে আমি
সম্পূর্ণরূপে ক্ষমা করিচি।
বিজ। তবে আর বিলম্বের প্রয়ােজন নাই, দেশে চল।
মাধ। এখন আমার আশ্রমে চলুন।
বিজ। তােমার আশ্রমে আজ, মােচ্ছ।
সকলের প্রস্থান।
।
( যবনিকা পতন )

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Jamai-barik Ed.7

Author
Mitra Bahadur,dinobandhu
Title
Prahasan
File name
Jamai-barik Ed.7
Text
OCR done
Citation
1897
Published
2009/10/11
Publisher
N.a.
Language
Sanskrit
Pages
69
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Drama
Keywords
Bhabi
DLI number
512711
Barcode
4990010019760.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
lut1o98kPN5
Download PDF

Jamai-barik Ed.7