Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Chinta-manjari Ed. 1st
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
চিন্তা-মুঞ্জরী।
শ্রীশশিভূষণ মজুমদার
প্রণীত।
প্রথম সংস্করণ
গ্রন্থকার কর্তৃক প্রকাশিত
কলিকাতা।
গুপ্তপ্রেশে
শ্রীপ্রদচন্দ্র দাস কর্তৃক মুদ্রিত।
২২১ নং কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রীট।
সন ১৩১২ সাল-ভাদ্র
মূল্য ॥ আট আনা মাত্র
No text on this page.
ভূমিকা।
অনেক দিন হইল, অবকাশকালে কতকগুলি কবিতা রচনার
চেষ্টা করিয়াছিলাম। সেই চেষ্টার ফলে একখানি খাতা পরি-
পূর্ণ হইয়াছিল। বর্তমান “চিন্ত:-মুঞ্জরী” সেই কীটদষ্ট খাতারই
মুদ্রিত-মূর্তি। “চিন্তা মুঞ্জরী” বস্তুতঃ প্রকাশ-যােগ্য কিনা,
তাহা বিচার করিবার শক্তি আমার নাই। তবে ইহা বলিতে
পারি যে, “চিন্তা-মুঞ্জরীতে আমার প্রাণের কথা আছে এবং
বালকদিগের হস্তে এখানিকে পাঠ্যরূপে অৰ্পণ করিলে, ইহা
হইতে তাহাদের অনিষ্টের আশঙ্কা কিছুমাত্র নাই।
এখন সুধীবৃন্দের অনুকম্পা ও উৎসাহই আমার প্রধান
ভরসা ও সাহস। গ্রন্থে প্রক্রুটী থাকিবার সম্ভাবনা পদে পদেই
তাহার উপর মুদ্রাকর-প্রমাদও বহুল পরিমাণেই বর্তমান। আশা
করি, সর্বংসহ বাঙ্গালী পাঠক এগুলি সহিয়া লইবেন।
নিবেদন মিতি-
কলিকাতা
প্রকাশক
ভাদ্র।
}
No text on this page.
সূচীপত্র। পৃষ্ঠা। ০ । ৫৫। ০ ০ ০ ••• বিষয়। ঈশ্বর ভক্তির প্রতি সূৰ্য্য অগ্নি সমুদ্র হিমালয় শি নীতিমালা অভিমান বিলাসীর আক্ষেপ ••• ৩৭ ৫০ . ৫ et ০ ০ ০ স্বপ্ন १२ ধ্যান ০ ০ ০ ••• ••• . • • ০ ০ ০ ৮ প্রকৃতির সান্ত্বনা ঈশ্বরে বিশ্বাস ভিক্টোরিয়ার স্বর্গারােহণ বিবেকানন্দের দেহত্যাগে ভারতে ভারতীর আগমন ১০২ ... ৪ . . ১১১ ০০s ও ও প্রার্থনা *
No text on this page.
চিন্তা-মঞ্জরী
ঈশ্বর।
প্রাচীন মানবগণে চারিদিক বিলােকনে
সুন্দর উজ্জ্বল যাহা করিত দর্শন,
তোমা ভাৰি তা সবায় করিত অর্জন।
চন্দ্র সূৰ্য্য গ্রহ তারা অনিল অনল,
পুজিত ভকতি ভরে বিস্ময় বিহুরুল।
ক্রমে কাল গত হ'লে তোমার বিধান কল
প্রশস্ত হৃদয় যবে হইতে লাগিল,
একে একে সব ভ্রম বুঝিতে পারিল।
এ ভাবে ভাবনা তােমা উচিত না হয়,
বিশ্বের বিধাতা কভু সীমাবদ্ধ নয়।
ই আদি দেব গণে, ব্রহ্মা বিষ্ণু ত্রিলােচনে,
মে কুমে করে তারা অর্চনা সবায়,
মনঃ পূত তবু যেন না হইল তায়।
জ্ঞানের উন্মেষ যত হইতে লাগিল,
সূক্ষ্ম হ'তে সুক্ষ্মতর তত্বে প্রবেশি।
৪
তাই আর্য ঋষিগণ, ভাবে হয়ে নিমগন,
গভীর জ্ঞানের তত্ত্বে প্রবেশ করিল, '
উপনিষদের কত গাথা বিরচিল ;
দরশনে তব রূপ দরশন আশে
ভিন্ন ভিন্ন মত লয়ে গ্রন্থ পরকাশে।
সাংখ্যের অনন্ত জ্ঞানে পূরুষ প্রধান মানে,
কৰ্তা ভাবে কেহ * করে ভাবনা তাের,
বেদান্তের ব্রহ্ম তুমি, কৰ্ম্ম মীমাংসার ;
পৌরাণিক গ্রন্থে দেখি তব অবতার,
দেব নর পশু মীন কচ্ছপ আকার।
অপর মানব কেহ । পূজে যারা স্থূল দেহ,
তােমার অস্তিত্ব চাহে করিবারে জয়,
বুঝে না যে কৰ্ত্তা ছাড়া কাৰ্য নাহি হয়।
সৃষ্টি আছে স্রষ্টা নাই এ কেমন কথা ।
অবাক হইয়া যাই, হৃদে লাগে ব্যথা।
তন্ত্র দেয় পরিচয় ঈশ শক্তি রূপ হয়,
কালী তারা আদি বলে প্রকাশে তােমায়,
বুঝিতে না পারি শুধু বিস্ময় জন্মায় ;
যে ভাবে ভাবুক তােমা যার যেবা লয়,
তব সত্ত্বা বিদ্যমান সর্ব স্থানে রয় ।
* নৈয়ায়িক। । চার্বাক মতাবলম্বী নাস্তিক।
ঈশ্বর।
৮
কিযে তুমি, রূপ তব কে জানে স্বরূপ ভব?
কে বুঝিবে কিবা খেলা তুমি যে খেলাও,
কে বুঝিবে কত নীলা জগতে দেখাও।
ষড় দরশন তব না পায় সন্ধান,
স্বাভিপ্রেত বিশেষণে করয়ে বাখান।
তাই তােম। নিরাকার, নিরাময় নির্বিকার,
অনন্ত অক্ষয় অজ অনাদি অব্যয়,
অবাকীমনোগোচর কত জনে কয় ;
আমি মৃঢ় নরাধম বুবিবি কেমনে,
আছ তুমি,-এই মাত্র বােধ হয় মনে।
আছ তুমি ; আছ বলে বহে বায়ু, কুতুহলে,
তাই বঁচে যত জীব জন্তু অগণন
তৃণ লতা বৃক্ষ গিরি নদী প্রবণ ;
ওই রবি, এই শশী, ওই ধরাতল,
অসংখ্য তারকা, ওই শােভে নতঃস্থল।
ফুটি ফুল ঝরে পড়ে, পুন তাতে ফল ধরে,
সে ফুলের বীজে গাছে পুনঃ ফুল ফোটে,
গিরি হতে ছােটে নদী পুনঃ তয় ওঠে ।
তুমি আছ তাই সব সুনিয়মে রয়,
তুমি নাই এ কথা ত সম্ভব না হয় !
চিন্তা মঞ্জরী। ১২ ভুমি আছ তাই বলে, দেখি এ ব্ৰহ্মাণ্ড তুলে জন্ম মৃত্যু সুখ দুঃখ সম্পদ বিপৎ- জীবের মঙ্গল ছেতু রয়েছে সতত। মানামান লাভালাভ জয় পরাজয় অশুভের তরে কিছু নহে সুনিশ্চয়। অদৃষ্ট বশতঃ হয় যদি ইহা কেহ কম, তুমি সেই অদৃষ্টের ফলাফল দাতা ; যে লজ্বিবে তব বিধি, বিধির বিধাতা! অশেষ যন্ত্রণা তার না হয় খণ্ডন, লভে সে পরম সুখ, পালে যেই জন। ১৪ ক্ষমা মেহ প্রীতি ভক্তি বিবেকাদিকত শক্তি, যে জীবের যত যােগ্য দে’ছ তাই তারে, আশ্চর্য তােমার দয়া বুঝিতে কে পারে ? হতে ভূমিষ্ঠ জীব যোগাও আহার, প্রসূতির স্তনে তাই শুন্যের সঞ্চার। ধৰ্ম্ম কৰ্ম্ম সংস্থাপনে, পাপ ভার সংহরণে, অলৌকিক শক্তি দিয়ে কোন জনে, কর সে অদ্ভুত কাৰ্য জনম ভুবনে । তাই রাম কৃষ্ণ খ্রীষ্ট বুদ্ধাদি সকলে, * তব অবতার বলি পূজ্য ধরাতলে । * অযােধ্যার রাজা রামচন্দ্র অত্যন্ত ধার্মিক প্রজারঞ্জক ও অলৌৰি ঈশ্বর ৫ না পাইয়া তব তত্ত্ব বেদব্যাস প্রেমে মত্ত, সাকার আকারে তব করিয়া বর্ণনা, বৈকল্য দোষের তরে মাগেন মার্জনা তােমার মহিমা প্রভু জানিবে কেমনে! জানিলে জানা’তে নারে এই লয় মনে। • ১৭ অনন্ত গগন-বন ; ভাবি তায় অগণন প্রকাণ্ড জগৎবৃক্ষ শােভে কত মত ; দেহ ধারী জীব তায় ফল শত শত ; তুমি কি সে বনমালী বিরাট আকার উদ্ধে থাকি মূল-শক্তি করিছ সঞ্চার ? । করেন; গুণসম্পন্ন আদর্শ পুরুষ ছিলেন। ইনি পিতৃসত্য পালনের জন্য বনগমন করেন, প্রজাবর্গের মনােরঞ্জনার্থ পতিব্রতা সহধশ্মিণীকে অরণ্যে নির্বাসিত হিন্দুগণ ইহাকে ঈশ্বরের অবতার বলিয়া পূজা করিয়া থাকেন । কৃষ্ণ,—“মথুরা” ইহার জন্মস্থান। দুর্বত্ত কংশরাজকে বিনাশ করিয়া ইনি মথুরার রাজা হন। পরে “দ্বারকায় রাজধানী নিস্মাণ করেন। ভারত যুদ্ধে ইনি সৈন্যবল দ্বারা দুর্যোধনকে সাহায্য করিয়া স্বয়ং পাণ্ডবদিগের হিতানুষ্ঠান করেন। ইনি একজন অশেষ বিদ্যা-বিশারদ অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন এবং সৰ্বগুণান্বিত আদর্শ পুরুষ ছিলেন। এই জন্যই ইনি ঈশ্বরের অবতার বলিয়া সম্পূজিত হইয়া থাকেন। খ্রীষ্ট-বেথলিহা নগর এই মহাত্মার জন্মস্থান। ইনি খৃষ্টধর্মের প্রতিষ্ঠাত দয়া ও আত্মত্যাগ এই ধম্মের প্রধান লক্ষণ। ইনি ধর্ম প্রচার কালে দয়া সহিষ্ণুতা, ও আত্মত্যাগের পরকাষ্ঠা প্রদর্শন করিয়া গিয়াছেন। প্রায় সমগ্র ইউরােপ ইহাকে ঈশ্বরের ন্যায় তাণক। বলিয়া পূজা ও ভক্তি করিয়া থাকেন বুদ্ধ,-কপিলাবস্তু রাজ্যের রাজপুত্র। ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রায় মধ্যভাগে
৬
চিন্তা মঞ্জরী।
১৮
আছে কি সাগরবর ব্যাপ্ত বাহা চরাচর,
অমল ধবল, শুভ স্ফটিকের মত,
বিম্ব সহ অঙ্গু যাহে দোলে অবিরত
মিশি সে সাগরে তুমি আছ লুক্কায়িত
সফল করণ-বীজ যাহাতে নিহিত ?
কিম্বা জ্যোতির্ময়াকুতি আছে বুঝি সুবিস্তৃতি ?
সূৰ্যসম স্তুপীকৃত তেজঃ সমুদায়
স্থানে স্থানে স্ফুলিঙ্গের মত বাহিরয়।
সে জ্যোতিমাঝারে রাখি রূপ মনােহর,
দেখাও কি ছায়া বাজি যথা যাদুকর ?
কিম্বা বায়ু লয়ে, খেলা, দেখাও অণুর মেলা-
ভাঙ্গা গড়া জোড়া কাজ বালকের মত !
ক্লেশ কৰ্ম্ম বিপাকেতে থাক মা বিব্রত ? *
যা কর তা কর তুমি যে হও সে হও,
জেনেছি কেবল তুমি সাধারণ নও!
ইনি জন্মগ্রহণ করেন। হার অপর নাম শাক্যসিংহ। সদ্যোজাত শিশু ও
“হধস্মিণীকে পরিত্যাগ করিয়া ইনি অরণ্যে কঠোর তপস্যা করতঃ জ্ঞানলাভ
করেন । ইনি বৌদ্ধধর্মের প্রতিষ্ঠাতা। আত্মসংযম ও পত্ৰি চরিত্র এই ধৰ্ম্মের
মূলভিত্তি। পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ লোক এই ধর্মে দীক্ষিত। ইহার
মুতে মনুষ্য বিশুদ্ধ চরিত্র দ্বারা জ্ঞান লাভ করিতে পারিলে ইহ জীবনেই
নিৰ্বণ (মুক্তি) লাভ করিতে সমর্থ হওয়া যায়।
* ক্লেশ কর্ম বিপাক প্রভৃতি দ্বারা কোন কালে যিনি সংস্পৃষ্ট নহেন,
ঈশ্বর (পাতঞ্জল দর্শন)। বিপাক কৰ্ম্মফল।
তিনি
ঈশ্বর।
২১
তেজো বারি মৃত্তিকায় যথ ভ্রম জমায়;
তথা এ বিশ্বের তব সৃষ্ট স্থিতি নাশ -
তব সত্যে দেয় সদা সত্যের সুভাস ;
তুমি নিত্য প্রকাশ স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞান ;
গতকাম যোগিগণ করে তােমা ধ্যান।
২২
যদিও হে পরমেশ! কেহ তােমা সবিশেষ
নাহি জানে, তবু তুমি বিশ্ব-রাজ্যেশ্বর
আব্ৰহ্ম ভুবনচয়
সর্বত্র তােমার জয় ; •
একা তুমি অদ্বিতীয় পর্ব গুণাকর।
অভ্রান্ত শাসন তব, অভ্রান্ত বিচার,
ইচ্ছা ক্রিয়া জ্ঞান শক্তি হ্রয়ের আধার।
» «
জ্যোতির্ময় সিংহাসনে রয়েছ প্রশান্ত মনে,
অখণ্ড ন্যায়ের দণ্ড করিয়া ধারণ ;
একই নিয়মে তব
চরাচর জীব সৰ
লভে কৰ্ম্ম অনুসারে উন্নত জীবন।
সর্বদা অপক্ষপাত মঙ্গল-দায়ক
তােমার নিয়ম সদা বিঘ্ন বিনাশক।
২৪
ছােট বড় প্রজা রাজা, দোষ বুঝে পায় সাজা,
জাতি ধর্ম বিশেষের অভিন্ন বিধান।
।
চিন্তা মঞ্জরী।
সৰ্ব্বল তােমার দৃষ্টি যেখানে দেখহ রিষ্টি
প্রতিকার অনি তথা করহ প্রদান;
নড়ে না বৃক্ষের পত্র, ঝড়েন। পাহাড়,
পড়ে না জলের কণা বিনা উপকার।
যখনি ভাবিতে চাই, আত্মহারা হয়ে যাই,
অচিন্ত্যরচনা তব বিশ্বের ব্যাপার
কত রবি শশী গ্রহ অগণ্য নক্ষত্র সহ
শ্রেষ্ঠ শ্রেষ্ঠ জীবলােক কত মত আর গ
মহা সূৰ্য্য কেন্দ্র করি মহা শূন্যে ধায়,
কার হেন সাধ্য যে, সে বুঝিবারে পায় ।
সেই মহা সূৰ্য কত অযুত অযুত শত,-
সঙ্গে প্রদক্ষিণকারী অসংখ্য জগৎ,
সমতলে সমসুরে সদাকাল ঘুরে ঘুরে
প্রচণ্ড বেগেতে কিবা ধায় যুগপৎ!
না জানি তাদের আলো কতই সুন্দর ।
ভিন্ন ভিন্ন বর্ণ হবে, নহে দগ্ধকর !
২৭
বুঝি বা সে সবস্থান নহে মরত সমান
শােক তাপ জরা ব্যাধি যন্ত্রণা অধীন ;
অধিবাসিগণ তায় তােমার মহিমা গায়,
কতই প্রকার তব প্রেমেতে বিলীন ।
করে তােমার তারা নিয়ম লঙ্ঘন,
মিথ্যার জল্পনা বুঝি না হয় কখন?
ঈশ্বর।
৯
২৮
এই রূপ কম ক্ৰম বৃহত্তর বৃহত্তম
কতই ব্রহ্মাণ্ড আছে অনন্ত মাঝারে ।
তােমারি ইচ্ছার বলে, অবিরাম দলে দলে
অধ উদ্ধে’সর্ব দিকে ভমে চক্রাকারে ;
কল্পনা ভাবিতে তাহা হারে আপনাকে,
বিজ্ঞান বিলীন হয় বিস্ময় বিপাকে।
সুপথে রাখিতে নরে ভুলায়েছ কত করে
ব্ৰহ্মার হৃদয়ে ব্রহ্ম * করিয়া প্রদান,
পুণ্য প্রলােভনে যত, পাপ নির্যাতনে তত--
দেখাইয়া জীবগণে সুখময় স্থান,
দেখাইয়া নরকের ভীষণ দুর্গতি,
ফিরাও কুপথ হতে জীবগণ-মতি।
তথাপি মানব হায়
দেখিবারে নাহি পায়
সুখময় স্বরগের সুবর্ণ সােপান,-
আসুখ আশার কতমত পাপকরে
এতই অজ্ঞান হায় ! মানব সন্তান!
বুঝে ও বুঝিতে নারে এবং কি বিধান।
তবে কেন শ্রেষ্ঠ বলে করে অভিমান?
* ব্রহ্মবেদ।
চিন্তা মঞ্জরী।
অনন্ত কৌশল তব, অল বিভব ভব ।
অসম শকতি তব অার মহিমা ;
গুণময় গুণাতীত
মােহ বিরহিত,
অনন্ত জ্ঞানের ব ন য় সীমা।
সুদূরে অৰে সি লাখিরে অন্তরে,
অনুপম দৰ্ত্তি ব ব ক্রু চরাচরে।
কিবা বায়ুর লিল্লল কিবা দলিল কল্লোল,
কুসুম সুমা ( রা. তার দোলন,
কিবা বিদ্যুৎ কুরণ কিবা জাতিষ্ক কিরণ,
সকলেই করে তব মমি! কীৰ্ত্তন।
সৌন্দর্য্যের সার তুমি প্রেম পারাবার,
দেবগণ গায় তব সুযশ অপার !
খুঁজিয়া সকল ঠাই, দেখি অন্য কেহ নাই
তােমা ছাড়া মনোমত প্রেমিক সুজন,
চির-শান্তিময়ী মুক্তি করি তবে সার যুক্তি
তব পদে চিরকাল লয়েছে শরণ।
শরণাগতের প্রতি বড়ই সদয় ।
* শত প্রলােভনে তার বিকার না হয়।
*
।
৩৪ ?
ক্লেশ ক্লিষ্ট নরগণ তােমাতে স্থাপিয়া মন
দুঃখ দারিদ্রের ঢেউ করে অবহেলা।
ঈশ্বর।
১১
নিরাশা আশার আশা অকৃত্রিম ভাল বাসা
এক মাত্র প্রভু তুমি ভব সিন্ধু ভেলা,
ত্রিবিধ দুঃখের তুমি পূর্ণ নির্বাপণ,
জন্ম জরা মরণের ভয় বিনাশন।
যেমতি কুসুমে ঘ্রাণ,
হপ্নেতে ঘৃতের স্থান,
কিম্বা ফল মধ্যে রস থাকয়ে যেমতি,
সর্ব জীব দেহ-কুপে
অবিনাশী আত্মারূপে
যদ্যপি হে পরমেশ রয়েছ তেমতি,
তবে কেন নর তােমা দেখিতে না পায় ?
দুঃখের আধারে সদা ঘুরিয়া বেড়ায় ।
বুঝেছি বুঝেছি নর
বাসনার অনুচর,
ধ্যানের মন্থন * ক্লেশ স’বে কি প্রকার ?
অভিমানী মন তার, লজ্জা ঘৃণা সদা যার,
বৈরাগ্যের নগ্নবাস ভস্ম অলঙ্কার
পরিতে না পারে সদা ভােগসুখে আশ ; •
কেমনে জানিবে তােমা, বৃথা সে প্রয়াস !
৩৭
তবু নাথ দয়া করে
জীবের উদ্ধার তরে,
মুক্তি সহচরী ভক্তি দেছ কৃপাধার !
* মনমথন, বিলােড়ন।
দুগ্ধাদি পদার্থ বিলােড়ন করিতে করিতে যে প্রকার নবনী প্রভৃতি গেহ
চিন্তা মঞ্জরী। বেদ যজ্ঞ তপােদান করি যার গুণ গান, অবহেলে নরগণ করে পরিহার ; ধৰ্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ চতুৰ্ব্বর্গ ফল ভক্তি সেবি লভে যত ভকত সকল। শ্রদ্ধা-পুষ্প পাত্রে রাখা প্রীতির চন্দন মাখা নিষ্কাম-সূত্রেতে গাঁথা ভাব ফুলচয়ে, না জানি সে ভক্তগণ পূজে তােমা অনুক্ষণ আনন্দে বিভাের কত পুলকিত হয়ে ! তৃপ্ত শান্ত চরিতার্থ তাহাদের মন, হেরিয়া তােমার রূপ বিশ্ব বিমােহন। তব প্রেমামৃত পানে যে সুখ তাদের প্রাণে, সে সুখের কাছ তুচ্ছ অন্য সুখ যত, অনুপম সেই সুখ – নিরমল, নাই দুঃখ- শান্তির মাধুরী তায় রহিয়াছে কত! মােরা পাপী তাপী জন বুঝিব কেমনে, কেমনে জানিব তােমা ভকতি বিহনে ? ৫ পদার্থ নিষ্কাশিত হইতে থাকে, সেইরূপ ধ্যানরূপ মন্থন অভ্যাস করিতে করিতে দেহ মধ্যে ঈশ্বরের উপলব্ধি হইতে থাকে। “ধ্যান নিধনাভ্যাসা দেবং পচের্নিগুঢ়বৎ”
ভক্তির প্রতি।
৪০
দেও ব্যগ অভিলাষ,
হইব তাদের দাস,
শিখিব পূজিতে তোমা অগতির গতি।
দেখিলে ভক্তের ভক্তি, হৃদয়ে জন্মিবে শক্তি,
তব প্রতি রতি মতি হবে বিশ্ব পতি।
দুর্বল নরের প্রভো! কিছু নাই আর
বুঝিতে তোমার, ভিন্ন করুণা তােমার।
ভক্তির প্রতি।
এত দিন ছিল আশা বুবে তব ভালবাসা,
দুখ মাঝে সুখ মুখ তাই দেখতাম।
দারুণ যন্ত্র। যত পাইতেছি অবিরত
তৃণ সম তবু সব সদা ভবিতাম ।
তব প্রেম পাব ব'লে,
মনে মনে কুতুহলে
সুধা সরােবরে গিয়া ভাসিতাম কত।
দেখিতাম তার তটে, সান্ত্বনা তটিণী ছােটে,
বিমল সলিল রাfি ঢলে অবিরত।
তােমায় বিশ্বাস করি অছিলাম দেহ ধরি,
নিরাশ হৃদয়ে আশা-তরঙ্গ ছুটিত।
মরু প্রায় এ জীবন
হইত নন্দন বন,
সুব্ধ কুসুমচয় উল্লাসে ফুটত।
তবে তরে সমুদয়
হেবিয়াম মধুময় -
মধুময় সমুদয় হত’ মম জ্ঞান,
১৪'
চিন্তা মঞ্জরী।
পৃথিবী স্বরগ সম
অভিরাম অনুপম
দেখিতাম যবে তােমা করিতাম ধ্যান।
যার হৃদে তব বাস করে কি সে ক্ষুদ্র আশ
মলিন পার্থিব চিন্তা থাকে কি তাহার ?
না জানি তাহার কিবা গীয় বিমল বিভা
আলোকিত করে সদা অন্তর মাঝার!
পবিত্র অন্তর তার,
পবিত্র বাসনা আর,
অবিশ্বাস মনে তার স্থান নাহি পায় ।
অবনীতে ধন্য সেই, তব প্রেম সুধা যেই
করি পান অমরতা লভিছে ধরায় ।
হউক জাতিতে হীন কিম্বা সে বুদ্ধিতে ক্ষীণ
বৃত্তিহীন কীর্তিহীন হউক সে জন,
তােমার প্রসাদে তার তভর থাকে না আর
লুটায় চরণে তার যশো মান ধন ।
সুকঠিন যোগাচার কিব। প্রয়ােজন তার ?
তব কৃপা করে তারে করম-কুশল
নহে বহু জন্মান্তরে,
যুগান্তের নহে পরে
ত্বরায় সে মায়াপাশ করয়ে বিফল।
পুণ্যময়ী পবিত্রতা, মূর্তিমতী সরলতা,
আর কি পাব না কভু দেখিতে তােমায় ;
অমৃত সতের কথা
শুনা’য়ে জুড়ায়ে ব্যথা,
শােকে তাপে মোরে বল কে রাখিবে হায় !
চাহি না নীরস জ্ঞান, চাহি না নীরস ধ্যান,
চহি নাক শূন্য ভাব-কি সুখ তাহাতে?
সূৰ্য্য।
এই মাত্র চাহি দেবি । দাস হয়ে তােমা সেবি
কিন্তু সে শকতি আমি লভিব কোথায়!
দীন ভাবি এ নিগুণ, যদি দেবী নিজ গুণে
কর কৃপা, তবে আর কারে ডরি ভবে?
নহে, তোমা হারা হয়ে
শূন্য এ হৃদয় লয়ে
কেমন করিয়া আর এ জীবন রবে ?
সূৰ্য্য।
বিশ্বরাজ্য মাঝে দেখি তুমি হে তপন।
অসীম অদ্ভুত বলে ঘুরাইছ গ্ৰহদলে
আপনার চারিদিকে করি আকর্ষণ।
জগচ্চক্ৰ-নেমি তুমি জগত-জীবন,
তােমা চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর আছে কোন জন?
২
পুঞ্জীকৃত তেজোরাশি তব কলেবর,
বিস্তারিয় সহস্রাংশু, তুমি দেব সহস্রাং
আলােকিত কর যবে সুনীলঅম্বর,
হাতে দি কানে ধর'-
উল কিরণে।
প্রফুল্লিত জীবকুল নবীন জীবনে।
পাইয়া তােম'র ক্রমে উল কিরণ,
নিজ কার্য জীবগণ
করিবারে সম্পাদন
প্রাণপণে ইতস্ততঃ করে বিচরণ
;
চিন্তা মঞ্জরী।
আশার উৎসাহে নর হয়ে প্রণোদিত
সুদূর প্রদেশে কত হয় প্রধাবিত।
৪
নিস্তেজ শরীরে, পরে করহ গমন
তুমি দেব প্রকর, সংকর্ণিয়া নিজ কর,
দেহ-শক্তি লয়ে যায় জীবাত্মা যেমন ;
অন্ধ ক র গ্রাস করে আসিয়া তখন,
ভয়ে নরগণ লয় নিদ্রার শরণ।
কৌমার যৌবন জরা জীবের যেমন,
তােমারাে যে ওই রূপ হয় দেখি সেই রূপ,
তা না হলে এক ভাবে থ!কিতে তপন ;
তোমায় দেখিয়া পুনঃ হইতে উদিত,
পুনর্জ প্রাণীদের ভাবি সুনিশ্চিত।
সৃষ্টি স্থিতি-বিনাশের প্রধান কারণ।
বাম্পাকারে তুলি জলে যেমন অদৃশ্য কলে
শূন্য দেশে তুমি তায় করহ স্থাপন।
পুনঃ প্রয়ােজন মত পাঠা৭ তাহারে,
শিলা-বৃষ্টি-কুটিকা শিশির আকারে।
৭
তাই নদী-প্রস্রবণ প্রবাহিত হয়, ,
তরু লতা ফুল ফুলে শোভা পায় হেলে দুলে,
সুরভি সহিত শীত সমীরণ বয়।
১৭ সূৰ্য।' পৃথিবীর প্রতি প্রীতি বড়ই তােমার, সাজাও তাহারে দিয়া নানা অলঙ্কার। মনােহর ইন্দ্র ধনু করিয়া সৃজন, দেখাও মানবে কত অপূৰ্ব্ব কৌশল শত- অদ্বিতীয় সুনিপুণ শিল্পীর সমান ; শারদ চন্ড মা আর সৌদামিনী-হাস তােমার গৌরব প্রভু করিছে প্রকাশ ! আবার দ্বাদশ গুণ অধিক প্রখর কিরণে দহিবে যবে চরাচর লােক সবে, প্রলয় গণিবে নর কিন্নর অমর ; ভীষণ সংহার মূর্তি ধ রবে তখন, বিশ্ব বিনাশিতে যেন মহা হুতাশন। সরস নীরস হবে রসের শােষণে, সুজলা-সফল ধরা, অগণিত জীব ভরা, ভস্মীভূত হবে তব প্রচণ্ড কিরণে ; বিশ্লেষিত অংশ যত জ্যোতিষ্ক নিচয় ছুটিবে তােমার পানে হইবে বিলয় ; গ্রহ উপগ্রহ আদি তারকা মণ্ডল, অসংখ্য গােল ক দল, হারায়ে সংহতি বল ঘুরিবে প্রচণ্ড বেগে, ঝরিবে সকল, ... ... ... - • - কক অ = = = = = চিন্তা মঞ্জরী। ছিন্ন-ভিন্ন - চূর্ণ চূর্ণ হয়ে ধুলি ময় ; ঘাের অন্ধকার হবে দিক সমুদয়। অণুতে মিশি, অবিশ্রান্ত ধারা সহ ভীম-প্রভঞ্জন ভাসাইবে দশ দিশি, না থাকিবে কিছুমাত্র কোন নিদর্শন ; প্রকৃতি বিকৃতি ভাব করিবে বর্জন, কাৰণ-সলিলে তুমি হইবে মগন। ঋতু-ভেদ, কাল-ভেদ তব নিয়মিত, শীত গ্রীষ্ম আদি সব ন্যূনাধিক তাপে তৰ ক্রমে ক্রমে ভূমণ্ডল করে প্রকাশিত ; যুগ বর্ষ দও পল কলি পরিমাণ, তব দরশনে লাে করে অনুমান। উজ্জল ক সুগােল গলিত-স্বর্ণ সদৃশ তোমার প্রচণ্ড দেহ- পানে যদি চায় কে? ঝলসিয়া যায় তার লােচন যুগল ; কিন্তু দিব্য চক্ষে সত্য জ্যোতির আধার দেখি পুণ্যবান্ লভে আনন্দ অপার ! সৌন্দর্য্যের মূর্তি তুমি নানা বর্ণধার । উষা ও প্রদোষ কালে, সুদুর গগন তলে প্রকাশ প্ৰদানি তায় কর আপনার,
সূৰ্য্য।
১৯
সুরাগ রঞ্জিত কত চিত্ৰ মনােহর।
কল্পনা-তুলিতে কবি আঁকয়ে সুন্দর!
কে বলে কুমুদ স্লান তব দরশনে ?
শশধর প্রেম তরে সে যে তােমা ধ্যান করে
বাহ প্রবৃত্তির দল রাখি সংযমনে,
তাই সে বিশীর্ণ। কিন্তু হর্ষ তার মনে,
দেখায় মেলে না প্রেম সাধনা বিহনে।
১৭
নরের নয়ন তুমি নরের বিজ্ঞান,
বিনাশিয়া তমোরাশি, পদার্থের পরকাশি,
বিজ্ঞানের পথ যত নরে কর দান ;
তাই সে অদ্ভুত কাৰ্য্য কর সম্পাদন,
কি আশ্চৰ্য্য। জড় তােমা ভাবে হেন জন ।
১৮
সবিতা দেবতা তুমি দেব দিবাকর !
বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণগণ, করি তত্ত্ব নিরূপণ,
স্থপেন অচলা ভক্তি তােমার, উপর,
তােমাতে অনন্ত শক্তি দেখি বিদ্যমান, .
গায়ত্রী সাবিত। মন্ত্রে করেন ধেয়ান।
পরব্রহ্ম ছবি রবি সদা দীপ্তিমান,
মহামনা, বারবর
জাতিস্মর আকবর *
তব তত্ত্ব কিছু মাত্র পাই ও সন্ধান,
# আকবর, মােগল সম্রাট; আশ্চর্য প্রতিভাসম্পন্ন, উদারচেতা মহানুভব
ব্যক্তি। ইনি পূর্বজন্মে ব্রাহ্মণ ছিলেন জানিতে পারেন বলিয়া ইহাকে জাতির
২২
৫
চিন্তা মঞ্জরী।
অবনীতে অদ্বিতীয়
বরেণ্যের বরণীয়
তুমি দেব, তব পূজা হয় সর্ব স্থানে,
সুবিখ্যাত পুরাতন গ্রীক বরা বাসিগণ
পূতি তোমার প্রভু বিবিধ বিধানে,
কোনাে জ্ঞানী, * শুনি, তােমা করিয়া আহ্বান,
মৃন্ময় পুতুল গড়ি দিত প্রাণ দান।
৪
বেদে দেখি দেব। তব অপার করুণা সব,
আরাধিত জাবেদ আর্য ঋষিগণ,
কিবা জন্ম মৃত্য হলে
কি বা ক্রিয়া কাণ্ড স্থলে,
মানবের সক্ষণ তব : জন ।
অগ্নিহোত্রী দ্বিজণ তোমায় জানিত,
জীবনে সাথের সাথী করিয়া রাখিত।
.
পুরাণে শ্রবণ করি, বিন্নি মুরতি ধরি
ভকত জনের পূজা করা গ্রহণ;
তােমার জনম তত্ত্ব
কেহ নাহি বলে সত্য,
নানা বর্ণে নানা রূপে কয়ে বর্ণন ,
সৃষ্টি প্রকরণ দেখি এক মত নয়
কেমনে উৎপত্তি তব জানিব নিশ্চয়।
প্রমিথিয়াশ।
অগ্নি
২৩
তেজস্বী নহুষ ভয়ে,
পুরন্দর ভীত হয়ে *
করেছিল সূক্ষ্ম-দেহে যবে পলায়ন,
অপূৰ্ব্ব রমণী বেশে । নানা দিক নানা দেশে
করেছিলে তুমি কিছে তারে অন্বেষণ ?
রাধা তে দূতী সাজে বৃন্দা বৃন্দাবনে,
সেজেছিলে দূতী কিহে শচীর কারণে ?
৭
পাইয়া কোন স্থলে প্রবেশ করিয়া জলে,
সু-গুরু প্রার্থনায় তুমি হুতাশন,
দেখিলে কি দেবরাজে মৃণাল তন্তুর মাঝে +
সাগর পল আদি করি অন্বেষণ ?
“মহাতেজা ত্রিশিরার বধজনিত ব্ৰহ্মহত্যা পাপে ও মহাবল বৃত্রাসুরের
সহিত সন্ধিভঙ্গ নিবন্ধন মিথ্যা ব্যবহারে অভিভূত হইয়া দেবরাজ ইন্দ্র প্রচ্ছন্ন
ভাবে অবস্থান করিলে, ভূমণ্ডলে নানাবিধ উপদ্রব উপস্থিত হয়। ঋষিগণ ও
দেবগণ সমবেত হইয়া মহা তেজস্বী নহুষরাজকে স্বর্গরাজ্যে অভিষিক্ত করেন ।
দেবরাজ নহুষ ভােগাশক্ত হইয়া ইন্দ্রাণী শচী দেবীকে মহিমী করিতে অভিলাষী
হন। সাধ্বী সুরগুরু বৃহস্পতি সমীপে নহুষের অভিসন্ধি ব্যক্ত করেন
বৃহস্পতি দেবগণ সহ বিষ্ণুর আদলে ইন্দ্রের নিকট গমন করতঃ অশ্বমেধ যজ্ঞের
অনুষ্ঠান দ্বারা ইলকে পাপবিমুক্ত করেন। ইন্দ্র স্বাধীনতা প্রাপ্ত হইয়াও নহুষকে
অৰিচলিত দুর্ধর্ষ এবং সৰ্ব্বতেজ-সংহারক জ্ঞানে পুনরায় সূক্ষ্মদেহে অনুর্দিষ্ট
হন।” মহাভারত, উদ্যোগপৰ্ব্ব, ১•১১।১২১৩ অঃ ।
। নহুষ-ভয়-ভীত। শচীর অনুনয় বাক্যে বৃহস্পতি ইন্দ্রপ্রাপ্তিকামনায় এক
যজ্ঞের অনুষ্ঠান করেন এবং আহুতি প্রদান পূৰ্ব্বক অগ্নিকে ইন্দ্রান্বেষণের নিমিত্ত
প্রার্থনা করিলেন। অগ্নি মুর্তিমান হইয়া তাহার নিকট অবিভূত হইলেন,
এবং অপূর্ব রমণী বেশ ধারণ করিয়া সেই স্থানেই অন্তর্হিত হইলেন। (মহা-,
ভারত-ই-~-১৫ অঃ )।
। অগ্নি প্রত্যাগমন পূর্বক বৃহস্পতিকে কহিলেন, “সলিল ব্যতীত
চিন্তা মঞ্জরী ।
উৎপত্তি স্থলেতে হয় সকলের লয়,
আশ্চৰ্য তােমার শক্তি ক্ষীণ নাহি নয় !
নীলধ্বজ নরপতি, স্বাহা নামে গুণবতী
তনয়া তাহার তুমি করিয়া গ্রহণ
জামাই আদরে মরি । স্বধাম পরিহরি
কৃতার্থ করিলে তুমি তাহার ভবন।
সেই পুণ্য ফলে লভি শ্রীহরি-দর্শন
আনন্দে নৃপতি করে বৈকুণ্ঠে গমন।
তােমারে আশ্রয় করে অন্য দেব প্রাণ ধরে,
সকল দেবের মুখ্য তুমি হুতাশন,-
লও যাহা নিজ মুখে অন্যে তাহা লয় সুখে-
সৰ্ব্ব যজ্ঞ হব্য তুমি হে হব-বাহন !
তােমা বিনা যাগ যজ্ঞ সকলি বিফল
সকল দেবের তুমি বিশ্রামের স্থল।
সমুদয় স্থান অন্বেষণ করিলাম, কিন্তু ইন্দ্রকে প্রাপ্ত হইলাম না।” বৃহস্পতি
কহিলেন, “আপনি পুনরায় সলিল মধ্যে অন্বেষণ করুন।” অগ্নি কহিলেন,
সলিল ব্যতীত আমার তেজ * সৰ্বত্ৰ সঞ্চারিত হয়, সলিলে আমার
তেজ বিনষ্ট হবে, কারণ সলিল উৎপত্তি স্থান। বৃহস্পতি অগিকে
অনেক প্রার্থনা করায় অগ্নি সম্মত হইয়া গির গবাদি অন্বেষণ করিয়া এক
অহি। সরোবরে স্থিত হইলেন। তত্রস্থ কমল সকল অম্বেষণ করিতে
করিতে বিসতমধ্যে সূক্ষদেহে অবস্থিত ইন্দ্রকে দেখিতে পাইলেন। মহাভারত
উঃ প=১৫। ১৬ অধ্যায়।
অগ্নি।
১০
দ্বাদশ বরষকাল, মহামতি মহীপাল
শ্বেতকির মহাযজ্ঞে * বহু হৰি পানে,
হয়েছিলে হীনবল ? ব্যাধিযুক্ত মানল?
জীর্ণ দেহে ভ্রমিতে কি ব্যাকুল পরাণে?
যার তেজে তেজস্কর হয় সর্বভূত,
সে হইল তেজহীন এ বড় অদ্ভূত !
১১
আজ্ঞা দেন পিতামহ, । বহু জীব জন্তু সহ,
খাণ্ডব কানন তােমা করিতে ভক্ষণ;
অজীর্ণে গুরু ভোজন, শুনি নাহি এ কখন,
পূৰ্ব্বাপর জানি এর ব্যবস্থা লঙ্ঘন ।
দেবের বিচিত্র লীলা বুঝিবার নয়,
আয়ুর্বেদ মীমাংসায় জন্মায় সংশয়
=
# পুরাকালে খেতকি নামে এক যশস্বী দাতা ও যাগশীল নরপতি ছিলেন।
‘তনি মহা সমারোহে এক যজ্ঞের অনুষ্ঠান করেন। দুৰ্ব্বাস। ঋষি সেই যজ্ঞ
পরিসমাপ্তি করেন। সেই যজ্ঞে বহু হব্য পান করিয়া অগ্নি নিস্তেজ ও
অনল হন। মঃ আঃ পঃ অঃ ২২।
1 পিতামহ-ব্ৰহ্মা।
অগ্নি স্বাস্থ্যলাভ করিবার নিমিত্ত ব্রহ্মার নিকট গমন করেন। ব্রহ্ম।
বিবিধ জীবজন্তুপরিপূর্ণ খাণ্ডব বন ভক্ষণ করিতে আদেশ করেন। অগ্নি
খাগুৰ দাহে উদ্যোগী হন এবং কৃষ্ণার্জনের সাহায্যে ইন্দ্রের বাধা সত্বেও
কৃতকার্য হন। মহাভারত, আদিপর্ব, ২২৪-
চিন্তা মঞ্জরী।
অনল অনিল সহ এত প্রেম কিসে কহ ?
বায়, সখা, বায়ু আত্মা, বায় গত প্রাণ।
প্রজ্বলিত হ'লে পরে,
তােমার সাহায্য তরে
ক্ষুব্ধ নহে করিতে সে জীবন প্রদান।
রাশি রাশি বংশকাষ্ঠ তৃণাদি সকলে
নিমেষে করহ ভস্ম সমীণ-বলে ।
পাপে পূর্ণ হলে কেহ, পােড়াও তাহার গেই,
চোর দস্যু চেয়ে তুমি কর নির্যাতন
ধূমাবৃত কলেবর, তে মায় দেখিলে পর,
ভয়ে করে লােক সব দূরেতে গমন।
মনে হয় তথা যেন মে ঘর উদয়,
চঞ্চলা চপলা তায় চমকিত হয়।
১৪
অন্তগত দিবাকরে, মাের্ভীত প্রাণী তরে,
তােমাতে কি রেখে যায় আপনার কর ?
দিৰা-ভীতপ্রাণি-গণ করি তােমা দরশন।
দিক ভাকি রাত্রে হয় পলায়ন পর ;
দিবাকর কর মত তব কর চয়,
অধ উদ্ধ সৰ্বদিক প্ৰসর্পিত হয়।
১৫
সুবৰ্ণ রজত যত,
অযাচিত অবিরত,
পাইতেছে সমাদর মানব সমাজে,
অগ্নি
২৭
তােমার পরশে তারা, গরবেতে আত্মহারা,
পূত হয়ে কি সুন্দর রূপেতে বিরাজে!
আদরে রমণীগণ করিয়া যতন,
আনন্দে লইয়া করে অঙ্গেতে ধারণ।
শীতবস্ত্র নাই যার, দীন দুঃখী অভাগার
নিকটে তােমর অগ্নি। বড়ই আদর,
রেখে তােমা জীর্ণ ঘরে,
শীত নিবারণ করে,
শীত বাত হতে রক্ষা করে কলেবর।
সন্ন্যাসী তাপসী কিম্বা গৃহী ধনবান,
সবার নিকট দেখি তােমার সম্মান।
১৭
বিজ্ঞান তােমার বলে করিতেছে সুকৌশলে
কত মত অলৌকিক কীৰ্ত্তি সম্পাদন
তৰ ৰলে পেয়ে বল, কত বল ধরে জল
বাস্পের বিচিত্র শক্তি বিস্ময়-জনন!
প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড বাষ্প শকট সকল,
নিমিষে যােজন পথ করে চলাচল।
১৮
নির্ভয় নিশ্চিন্ত মনে,
'বাষ্পপােত আরােহণে,
বিশাল বারিধি বারি বিদাৰিত করি,
চলিছে উৎসাহে কত,
বণিক নাৰিক শত,
স্বদেশের স্বজাতির উন্নতির তরে ;
কতই অদ্ভুত কাৰ্য্য হয় সম্পাদন।
হে অগ্নি! তােমার তো না যায় বর্ণন।
২৮
চিন্তা মঞ্জরী।
পাইয়া তােমার বল,
বার্থ করি যোগ-বল,
সমীরণ ভেদি উঠে বিশাল বিমানে,
রবি শশী গ্রহচয়,
করিবার সুনির্ণয়,
নরণ আরােহণ করে ব্যোমযানে ,
ওহে সভুক ! তুমি করহ কখন,
প্রলয়ের কাল সম শকতি ধারণ।
ভূগর্ভে করিয়া বাস, জনমাও জীব-ত্রাস,
কম্পিত প্রােথিত স্ফীত বিদারিত ক'রে,
রসাতলে দেও কত দেশ গ্রাম শত শত গ
সময় পায় না কেহ পলাবার তরে,
বিযুবিয়রে । সেই ভীষণ ব্যাপার
শুনিয়া আতঙ্কে প্রাণ না কম্পে কাহার ?
কি যে ভীম পরাক্রম, অদ্বিতীয়, অনুপম,
আহবেতে দৃষ্ট হয় তাের, অনল!
রণে পৃষ্ঠ প্রদর্শন জানে না যে বীরগণ,
তারাও পশ্চাৎপদ দেখি তব বল।
অছেদ্য অভে দুর্গ প্রস্তর গঠিত
ক্ষণ মাত্র তেজে তব হয় বিচুতি।
কালাব্রিয়া, বাল প্রাসিও, লিসবন প্রভৃতি স্থানে ভয়ানক ভয়ানক
ভূমিকম্প হয়। আমাদিগের দেশে কয়েক বৎসর পূর্বে এবং গত ১৩০৪
সালে ভয়ানক ভূমিকম্প হওয়ায় বিস্তর ক্ষতি হইয়া গিয়াছে।
। বিবিয়স-আগ্নেয়গিরি।
অগ্নি।
২২
তপন-কিরণ যথা, অগ্নি! তুমি কর তথা,
বাম্প দিয়া অন্তরীক্ষে মেঘ নিরমিত ।
যাহাতে বরষে বারি, ভুবন আনন্দ-কারী,
তরুলতা ফুলে ফলে হয় সুশােভিত ;
পালনে ও তব কাৰ্য্য দেখি হে তেমন,
বিনাশ সাধনে তুমি তৎপর যেমন।
আবার শ্মশানে যবে, ভালবাসা ধন ভৰে,
তােমার করেতে নর করে সমর্পণ,
তখন অজ্ঞাতসারে মানবের হৃদাগানে
প্রবেশিয়া বলে যাও সান্ত্বনা বচন,
“অতিথির বেশে আছ অতিথি ভুবনে,
লয়ে খাই আমি সৰে নিজ নিকেতনে।”
২৪
তাতেই নিৰ্বেদ হয় সংসার অসার ময়
মুহূর্তৃেক ভুলে নর চিন্তার দহন,
তা না হলে কভু কিরে, যেতে পারে গৃহে ফিরে
সহজে ছিড়িয়া সেই মমতা-বন্ধন ;
ক্ষণেক হইলে পর যার অদর্শন
যুগান্ত বলিয়া যেন করয়ে চিন্তন।
*
২৫
যদিও বিভিন্ন জনে,
ভিন্ন ভিন্ন ভাবে মনে,
অগ্নি তােমা, তবু আমি জানিয়াছি সার;
চিন্তা মঞ্জরী।
হরিতে হে ভূমি ভর, যথা ঈশ অবতার,
তথা তুমি ধর দেব বিভিন্ন আকার।
বিশ্ব রূপ মহা অগ্নি পুরুষ প্রধান
তা হতে হয়েছে তব উৎপত্তি বিধান।
সমুদ।
গম্ভীর ভীষণ মূৰ্ত্তি গভীর গর্জন
ভাবিলে হৃদয়ে তব বিপুল বিস্তৃতি,
ভীতি বিস্ময়ের নীরে হই নিমগন,
আপন অস্তিত্বে ভ্রম জন্মায় বিস্মৃতি।
সৃষ্টির প্রারম্ভে যবে তমসা প্রকৃতি
অনন্ত আঁধার রূপে আছিল ব্যাপিয়া,
তখন অদৃষ্ট-বলে আপন আকৃতি
লতেছে সাগর, বহু শকতি লইয়া।
নাথারে জনম বলি আঁধারের ছায়া —
নীল নভলে নীল বারিদের মত
অপূর্ব সুন্দর রূপ ধরে অব কায়া,
প্রেমের বিজলি তায় লুকায়িত কত?
ছিল না মৃত্তিকা বায়, জ্যোতিষ্ক নিচয়,
ছিল না ভূলােক দা লােক চরাচুর,
কোথায় মনুষ্য বল তবে সে সময়
ভূচর খেচর প্রাণী অমৰ কিয় ?
সমুদ্র
ছিল না, ছিল কিন্তু বিভিন্ন আকারে-
উপাদান হেতু রূপে মিশি ৩ জলে ;
নতুবা কি সমুদয় সৃষ্টির মাঝারে
থাকিত লবণ সংশপদার্থ সকলে।
ক্রমে সেই সৰ সূক্ষ্ম উপাদান ভূত
দ্বিরেণুক সরেণু রূপেতে মিশিয়া
সুবৃহৎ ডিম্বাকারে হইল প্রসূত,
জনমে স্বয়ম্ভ, সেই ডিম্ব বিদাফিয়া।
* পরে অন্তরীক্ষ বায়ু স্বরা ভুবন
সৎসর অহােরাত্র ঋতু পক্ষ মাস,
একে একে সেই খাতা করি সৃজন ;
কে বলে আকাশ তব পুৰ্বেতে প্রকাশ।
অনুকারি ধাতা তৰ নীলিম মাধুরী,
সূজেন হে রত্নাকর। অসীম আকাশ;
তোমা হতে কত রত্ন করিয়া সে চুরি,
তারা শশীরূপে তায় করেছে প্রকাশ।
অগণিত জীব জন্তু গরতে তোমার,
ক্ষুদ্র ক্ষুই মীন কীট এল সকল
শম্বুক কর্কট কস্তু অসংখ্য প্রকার
রয়েছে কতই যে তা কে গণিবে বল ।
* বৈদিক স্যার অমর্ষণ ম ষ্টব্য।
চিন্তা মঞ্জরী।
মকর হাঙ্গর নক্র জলচর কত
প্রকাণ্ড-শরীর তিমি নির্ভয় অন্তরে,
বাষ্পীয় পােতের গতি করি প্রতিহত
তােমার গরভে সদা আনন্দ বিচরে।
হয়ত সে সব জব বহু জন্মান্তরে,
ভ্রমিতে ভ্রমিতে পাছে নিয়তির বলে,
ত্যজিয়ে অপূর্ণ তনু উন্নতির তরে,
মানবের পূর্ণাকৃতি লভে পৃথতলে ।
করিয়াছ করিতেছ জীবের সৃজন,
সুন্দর প্রাসাদ হৰ্ম্মে সাজায়ে তাহায় ;
নিমিষে করিতে পার বিনাশ সাধন ;
কালের সদৃশ ধৰ্ম্ম দেখি যে তােমায়।
তবু তুমি ক্ষুব্দ নও,নও বিগলিত,
হ্রাস-বৃদ্ধি-হীন সদা কর্তব্যেতে রত,
কিন্তু মানবের বুদ্ধি সদা বিচলিত,
দুর্জয় বাবা তার না হয় সংযত ।
ইটালী ইংলণ্ড গ্রীস ফরাসী জাপান,
যাদের সৌভাগ্য রবি সমগ্র ভুবনে
সভ্যতার স্নিগ্ধ জ্যোতি করিতেছে দান,
তারাও তােমার গর্ভে আছিল গােপনে।
সমুদ্র।
জি-ভেদী হিমালয় অতুল্পিত শিরে
গর্ব করে অতির সর্ব শ্রেষ্ঠ বলে,
আছিল মিশিয়া সেও ও নীল নীরে,
জানিয়াছি বৈজ্ঞানিক যুক্তির কৌশলে।
পর্বত-দুহিতা নদী পর উপকারে
কাটায় জনম তার ফিরি দেশে দেশে,
তৰ কৃত মে ঋণ বুঝি ধিবারে
উপনীত তৰ স্থানে হয় অবশেষে।
কিম্বা, নাই সমুচিত আদর সম্মান,
গুণের গৌরব ভবে নাই যথা মত,
সাধুতার পুরস্কার পীড়ন এদান,
উপকার অপকারে হয় মর্মাহত,-
তাই দেখি দুঃখে ক্ষোভে হইয়া ব্যথিত
ক্রন্দনের ধ্বনি করি কল্লোলে কল্লোলে,
ধায় দ্রুত বুঝি সতী হতে উপস্থিত
জুড়াইতে জ্বালা তব শান্তিময় কৈালে ।
৩
সিকতামণ্ডিত তব তট সুশােভন
ভানুর কিরণে ধরে অপরূপ সাজ,
যেন সুবিস্তৃত শুভ্র নির্মল বসন,
রজত হীরা, তায় কত শিল্প কাজ :
৩৪
চিন্তা মঞ্জরী।
পুঞ্জ পুঞ্জ ফেনদাম বিমতি বারি
উত্তাল-তরঙ্গে শে:ভে ব য়ুর হিল্লোলে
তুষার মস্তক গিরিশৃঙ্গ সারি সারি
সচল হইয়া যেন অপরূপ দোলে।
কিম্বা ছায়াপথ যদি অসংখ্য থাকিত
একে একে শ্রেণীবদ্ধ গগনের মাঝে,
তা হইলে কথপিৎ সাদৃশ্য পাইত,
নতুবা তােমার সনে করে বল সালে?
উষার বিমল বিভা পূরব গগনে
কুটি কা ভে” করি প্রকাশে যখন
থেকে থেকে উকি মারি সহশ্র কিরণে
তপন উ। চলে দেয় দরশন।
কি আশ্চর্য শোভা তুমি ধর হে তখন
সূৰ্য্য কান্ত মণি কত তব নীলাম্বরে
শোভে থরে থরে যেন, যাবত তপন
দৃষ্টি ব্যাপিকার স্থানে ওঠা নামা করে,
পৌৰ্ণমাসী প্রতিপদ সায় সময়
স্বর্গের সুষমা করে তােমাতে প্রকাশ,
নন্দন কানন কত পারিতি-ময়
শচীর সস্নেহ হাসি রতির বিলাস।
সমুদ্র।
..
কত ঐরাবত হস্তী, উচ্চ শ্রবা হয়,
নদ নদী উপবন গিরি সারি সারি,
সুন্দর বিহঙ্গ কত সুখে বিচরয়,
বিহরে দেবতাগণ দিব্য মূর্তি-ধারী।
কত শত আঁকা বাঁকা সুবর্ণ সােপন
চলে গিয়া মিশিয়েছে বহু দূর দেশে,
দেখাইছে নরগণে আনন্দের স্থান,
মূর্তিমতী সন্ধ্যা যথা, মনােহর বেশে।
নিরজন ভাবি সেথা অরাধনা তরে,
অবগাহি তব নারে বে সে সুন্দরী
রক্ত বস্ত্রে অবররা + ম কলেবরে,
এলাইয়া দিছে ৩ { সুচারু কবরী।
সুজনের মত তুমি স ন তনে
জগতের হিত ..: ছে উপদেশ
তাই সঞ্জীবনী শাও ল : মৃতনে
বিতরে জগ, ম ন ন হ তার কেশ।
D
সমধিক স্নেহ ল ে ন : মানে,
চন্দ্রমতে দে ২ ৩ ; এত্যক্ষ প্রমাণ,
রেখেছিলে সুধা ; i<1 ।বধানে
ভাল বেসে তুমি তারে করেছ প্রদান।
চিন্তা মঞ্জরী।
দূর প্রবাসের পথে বহু বিপ্ন ব'লে
দেও নাই যেতে তারে জ্যেষ্ঠের সহিত ;
অাপন আয়ত্ত স্থানে রখেছ কৌশলে
সুধা বিতরিয়ে জবে করিতে মােহিত।
তাই বুঝি সূৰ্য্য হতে চার প্রতি
উথলে অধিক তৰ ঐতির উচ্ছাস?
লুক বিজ্ঞান ভবনের গতি,
আমি
কিতব দেহের বিকাশ!
রমণীর শিরােমণি লক্ষ্মী রূপবতী
যৌতুক কৌস্তুভ এক তনের সার,
তােমা হতে লাভ করি তাই সে শ্রীপতি
দেবগণ মাঝে এত করে অহঙ্কার।
ইন্দ্ৰবল, শিব বল, সে দেব প্রধান, .
সবাই লয়েছে রত্ন নিকটে তােমার,
হেন রত্ন র? কর! নরে কর দান,
অভাব প্রভাবে যার থাকে না আর।
ঐশ্বৰ্য্য গাম্ভীৰ্য শৌৰ্য্য মাধুৰ্য সৌন্দৰ্য্য
বিরাজিত এক ধারে তােমাতে সাগর,
স্থ্যৈ ধৈর্য্য প্রীতি ভীতি আনন্দ আশ্চর্য
রয়েছে তােমাতে কি মনোমুগ্ধকর।
হিমালয়।
bণ
৭
অনন্ত কালের বক্ষ বিশাল আকার
অনন্ত শরি তুমি সুনীল দর্পণ
অনন্ত ভাবের চিত্র হৃদয়ে তোমার
অনন্তের পানে চিত্ত কর আকর্ষণ।
হিমালয়।
১
গহন কানন কিম্বা বিস্তৃত প্রান্তর,
স্তম্ভিত মানব বাহা করি নিরীক্ষণ,
ধূধূ করে চারি দিক প্রকাও উবর,
মরীচিকা ভ্রম যাহা করে সংঘটন,-
স্বভাবজ যাহা কিছু বিস্ময় জন্মায়,
সমতুল তব কাছে নহে তুলনায়।
অথবা মানব কত শিল্প সমুদয়-
সুরম্য প্রাসাদ দিব্য কুসুমোপবন,
উচ্চ চুড় সৌমলা চাৰু চিত্রময়,
মানুষের চিত্ত যাহা করেআকর্ষণ,
স্থলভাগ মাঝে যাহা দেখিতে সু দর,
তােমার সান কিছু নহে মনোহর।
কভু যদি গিরি আমি ভাবি হে তোমার।
প্রকাণ্ড সুন্দর স্থির মুরতি মােহন,
৪
চিন্তা মঞ্জরী কত ভাব আসি মনে করে অধিকার, কল্পনা ভাবিতে তাহা পারে কি কখন? পৌরাণিক প্রসঙ্গেতে নাহি লাগে মন- পাখা চিল পর্বতের অদ্ভুত কথন! ৪ তরুলতা গুল্মচয় ওষধি বিস্তর, মানবের শরীরের কেশ নােম মত তৰ দেহে মরি । কিবা শােভেছে সুন্দর। অতুল রতন তব আছেই বা কত ? হও নাই বৎস তুমি ধরিত্রী-দোহনে, দিয়েছে প্রকৃতি তােমা এ সকল ধনে। দূর হতে যবে গিরি হেরি হে তােমায় মনে ভাবি ভূতলেতে উদিত গগন স্তরে স্তরে সুসজ্জিত মেঘ মল তায় শিখর শ্রেণীর স্থল করিছে পূরণ ; নাই বুঝি কোন স্থান তােমার পশ্চাৎ, ভাবি যথা নভাে সনে পৃধীর সাক্ষাৎ! উচ্চ হতে উচ্চ তব শৃঙ্গ সারি সারি, লােপানের শ্রেণী যেন স্বর্গের দুয়ারে, জেছেন ভগবান জীৰ-কষ্টহারী শােক তাপ পূর্ণ এই মেদিনী মাঝারে;
হিমালয়।
গৃহ ত্যজি সাধুগণ সংসার ভালায়
তব কোলে লয় স্থান শান্তির আশায়।
কি ভাবি লীলাময়ী প্রকৃতি সুন্দরী,
বিহারের তরে এক মনােরম স্থান,
ৰাছা বাছা সার লয়ে মনোমত করি,
অপূর্ব কৌশল বুঝি করেছে নিন্মাণ।
সাধারণ পুরুষের নাহি কোলাহল,
সৌন্দৰ্য মাধুৰ্য্যপূর্ণ সদা সেই স্থল।
যে অঙ্গের প্রতি তব করি নিরীক্ষণ,
তাতেই যেন রে হই আনন্দে বিল,-
মণীয় পােন শোভার সদন
নিৰ্ম্মল নিঝর যাহে করে কল কল,
ফল-পুষ্প-সুশােভিত তটিনী সেবিত
আছে কত স্থান যাহে মুগ্ধ হয় চিত।
তুষার-মণ্ডিত শৃঙ্গ রয়েছে কোথায় -
নীরব নিশ্চল শূন্যে উন্নত ৰদন,
রবির কিরণ মালা পশিয়া তাহায়
লিত করিয়া দেয় গলিত কাঞ্চন,
যেন ও কান্তি যেগ মগ্ন যােগিন,
লতি কনক জট। অঙ্গের উপর।
৪
চিন্তা মঞ্জরী।
দুর্গম কান্তার কোথা রয়েছে ব্যাপিয়া,
প্রসারি প্রকাণ্ড শাখা মহীরুহ চয়
নিবিড় আঁধার করি রেখেছে ঢাকিয়া
রবি করে সে প্রদেশ নহে দীপ্তি ময়,
মানবের সমাগম না হয় কখন,
গভীরতা নির্জনতা পূর্ণ সে. কানন।
জাগে সদা প্রতিধ্বনি সে ঘোর কাননে,
ভীষণ জন্তুর কভু নিভয় গর্জন,
কভু সর সর শব্দ পত্রের পতনে,
মাঝে মাঝে কোন খানে ঝরণা কখন
পথ ভ্রষ্ট। একাকিনী বালিকার মত,
ক্ষণে ধীর ক্ষণে দ্রুত ধায় অবিরত।
.
হউক নাস্তিক কেহ সদা পাপাচার,
ভমেও যে করে নাই ধৰ্ম্ম আলাপন,
এ হেন প্রদেশে যদি আসে এক বার,
ভিন্ন ভাবে পরিণত হবে তার মন ;-
ভয়ে হ'ক বিপদেতে অ। বা বিস্ময়ে
ডাকিবে ঈশ্বর বলে আকুল হৃদয়ে।
তােমাতে মস্তক রাখি বারিমণ্ডলে
খেলায় চপলা সহ বিস্তারি শরীর,
হিমালয়।
৪১
নানা বলে তার সঙ্গে থাকে কুতুহলে,
কিন্তু না দেখিলে ক্ষণ হইয়া অধীর
মত্ত গজ সম করে ভীষণ গর্জন,
নিয়া আতঙ্কে কাপে যত জীবগণ।
১৪
.
গরে ঘরে তব কত উৎস ঝরে,
ফতি পাদপগণ হতেছে দোলিত
সতত সঞ্চরমাণ সমীরণ তরে,
পুষ্পিত ব্ৰততচয়ে হ'য়ে আচ্ছাদিত
শাভে শ্যাম গুলগণ ক্ষুদ্র গৃহমত,
উপহাস করি যেন কারুকাৰ্য্য যত।
পথ শ্রান্ত অভ্যাগত জীবগণ তরে,
প্রতি করুণাময়ী, যেন আপনার,
রাখিয়াছে স্থানে স্থানে চির মুক্ত ক'রে,
অক্ষয় ভাঙার সব অনন্ত দয়াৰ,
মিল্ক গুল, মিষ্ট ফল, আসন শ্যামল;
শান্তি, নিদ্রা, যে যা চায়,এয়েছেসকল ।
আছে রম্য স্থান তব, নহে তুলনীয়,
ফুল ফুলে ফুল মন সতত যথায়
নানা পদ্ম ফুটিত নানা পক্ষি প্রিয়
সুবিমল সরােবর যথা শােভা পায়,
২
চিন্তা মঞ্জলী।
বাহার বিচিত্র ভাই করি দয়ন,
বাস করে ঋতুরাজ হাফিa নন্দন।
অসংখ্য পবিত্র তীর্থ আছে কত স্থানে,
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বর্গ গম শােভিত সুন্দর,
দেবােপম সাধুগণ সতত যেখানে
আনন্দে করেন বাস মির্জয় ,
কেহ যােগে, কেহ অপে, শাস্ত্র জপৰে,
কে বাহিৰে কাণ দত্মসংযমকে।
পাহাড়ের পাদদেশে ভূমি সমতল
টিপ বেষ্টিত নহে সুদূর বিস্তৃত
আমল গালিচ যেন খোচ্ছে তৃণদশ
মালী কাটি লয়ে জল রণা নিহত
কূৰ্ত্তিমান দৃঢকায় গিয়াসগণে
উকষ্ট থারে চায়ে কাছে মন,
উত খুত দুই গম্ভীর আকৃতি
চলে গেছে বরাবর সমান্তর ভাবে,
মাঝে স্বচ্ছ শ্রোতী সুপ বিড়ি'
বহিতেছে কল কল প্ৰখৰ প্ৰকাৰে ;
লতায় জড়িত ব্যক্তি ওই খারে
ফুল ফোটে নানা জাতি মধুপ ঝঙ্কারে।
.
হিমালয়।
ছোট বড় গােল গাল, চেটাল আকার,
অসংখ: এরখও মসৃণ এ পর,
জল হতে সাজায়েছে তটদ্বয় তার,
গিরি কুঞ্জ লতাকুঞ্জ-দৃশ্য মনােহর !
কি সৌন্দৰ্য্য মরি। যেন রাখিয়াছে খুলি
আপনি প্রতি তার বেশ ভূ গুলি।
সে সৌন্দর্ষ্য-সুধা পান কর একবার,
চাবে না যাইতে ছাড়ি অন্যত্র কখন ;
এমনি বিভাের হবে মানস তােমার,
শােক তাপ দুঃখ যত হবে বিস্মরণ,
থাকিবে না অর্থ চিন্তা অসার বাসনা
ভুলিবে সংসার তুমি ভুলিৰে আপনা।
না হও বিষয় তুমি সন্তপ্ত চিন্তায়,
শান্তি নাই —নি। নাই—সতত অস্থির,
বসিয়া উপল খণ্ডে আসিয়া হেথায়
কর শােভা নিরীক্ষণ, জুড়াৰে শরীর
সুস্থ হবে মন প্রাণ, পুলকে পূরিবে,
শান্তির সাগরে তুমি নিশ্চয় ডুবিবে।
২২
তুমি নাকি চিত্রকর গর্বিত নিপুণ?
সুন্দর সুন্দর চিত্র পারহ আঁকিতে,
চিন্তা মঞ্জরী।
হেন চিত্র চিত্রিতে কি আছে তব গুণ?
পার কি সেরূপ করি র লাইনে ?
এমনি সুন্দর দৃশ্য। চাও এর পানে,
খুচিবে সংশয় ৰ সেই অভিমানে।
কবি তুমি, এম কত কল্পনা কানন,
শ্লাঘ। কর অভিনব
সৌজনে,
এস নাই এ অমে, আসিলে কখন,
এতই আশ্চৰ্য শােখ হেয়িবে নয়নে,
কল্পনা কল্পনা ব'লে জনমিবে আম,
তাষায় পাবে না ভাষা ৰণিতে ।
২৪
গিয়েছিনু যবে গিরি বদরিকানে,
হেরি বিচিত্র শােভা কতই নয়নে,
“ব্যাসের মধুর বন সুধার বিভ্রমে
পান করি সক্ষতা লতে সাধুগণে,
পবিত্র মলকান দা, পূত মন্দাকিনী,
পুণ্যবতী ভাগীর্থী যথা প্রাহিণী।
২৫
সে ধামের পথ কোথা এতই দুর্গম,
নিম্নেতে তটিনী তার, গিরিগার দিয়া
:: কত নীচ তরঙ্গের সম,
অপ্রশস্ত, মিশিয়াছে শিরোভাগে গিয়া,
হিমালয়।
যাও যদি দক্ষিণেতে বাজিবে প্রস্তরে,
বামেতে সরিতে চাও পড়িবে গহ্বরে।
রজ্জ, বাঁধা কষ্ঠি গুলি রঞ্জুতে বুলান
সেতুরূপে, কষ্টে পার হয় যাত্রী সব
দুই এক করে, দোলে তার মধ্যস্থান,
ভেঙ্গে প'ল নদী গর্ভে হয় অনুভব।
এত যে পথের ক্লেশ থাকে না সকল,
*
দেখিতে অদ্ভুত শােভা বাড়ে কুতূহল।
২৪
পবিত্র প্রয়াগ-পঞ্চ ত্রিযুগী কেশব,
গুপ্ত কাশী মদ্বয় তুঙ্গ ভদ্র করি,
হেরিনু বদরী নাথ, বিষ্ণু অবয়ব,
চতুভুজ, যােগাসনে স্থিত ধ্যান ধরি।
দেখিলাম জলধারা, উষ্ণ প্রস্রবণ
যাত্রি লােক যাহে করে শৈতা নিবারণ ।
২৮
কেদার শৈলেতে মরি! যে সৌন্দৰ্য্য ােভা
হেরিনু নয়নে অমি ভুলিব না আর,
অপূৰ্ব সে শােভা রাশি, যােগি মনোলোভা
অনস্থ তুষার রাশি, পর্বত আকার,
রহিয়াছে কে বলিতে পারে কত দূর,
নীরব নির্জন সদা অতীব মধুর।
চিন্তা মঞ্জরী।
নাহি তথা উপত্যকা দূর প্রসারিত,
নাহি তথা সুমধুৰ কাকলী পাখীর,
শামল পাদপ দলে নহে সুশোভি,-
কিন্তু যেন নগ্ন শােভা নগ্ন প্রকৃতির,
সরল লাবণ্যরশি নিৰ্ম্মল ধবল ,
ভয়ঙ্কর শীত করে রক্ষা সেই স্থল।
তিন দিক বন্ধ যেন তুষার প্রাচীরে,
রহিয়াছে মধ্যে এক দু ঐ সমতল,
নিম্ন হ’তে মন্দাকিনী উঠি ধীরে ধীরে,
চলিছে উংসামনে করি কল কল
ভগিনী অলকা কাছে যাইতে দুজনে
ভাগীরথী সহ পাপ তাপ নিবারণে।
তার কাছে প্রস্তরের মান্দর শোভন
পুরাতন কারুকার্য কিবা মনােহর।
মধ্যস্থানে মুণ্ডহীন মযি মন
বিজ কদর নামে :দব মহেশ্বর।
শীভ’য় তুষারেতে হয়ে পরিণত ।
বৃষ্টি জল পড়ে ও তুলা খণ্ড মত।
অন্তরীক্ষে গf• যেন খে। পু লয়ে,
দেব দেব মহাদেবে করিতে অক্ষম,
হিমালয়।
৪৭
আনন্দেতে দেবগণ তকতি হৃদয়ে
অলক্ষে চরণে তার করিছে অর্পণ।
কি অপূর্ব দৃশ্য, মরি! কি সুন্দর স্থান ।
ক্ষণেকে, ভক্তির গন্ধে পূর্ণ হয় প্রাণ।
মহা প্রস্থানের পথ পবিত্রতা নয়,
মহাত্মা শঙ্কর হেথা হ'য়ে যােগ
পঞ্চভূতে পঞ্চভূত করেন বিলয়,
শান্তিময় মধুরতা বিরাজে সতত।
কি গভীর ভাৰ হেথা করে উদ্দীপন।
কৰিত্বে যোগিকে যেন মধুর মিলন।
৩৪
হর্গম গােমুখী মুখে কৰিলে প্রবেশ,
বিবিধ সৌন্দর্য্যে হয় মােহিত নয়ন ;
নব নব তরুণ শােভিত প্রদেশ
নব নব পুষ্প গন্ধে পূরিত কানন,
সুপ্রকাণ্ড ভুর্জবৃক্ষ মস্তক তুলিয়া
প্রহরীর বেশে কোথা আছে দাড়াইয়া ।
কোন স্থানে নিঝরিণী নামিতে নামিতে,
খসাইয়া হৃদয়ের মুক্তামালা তার,
কুল কুল ছলে কিবা বলিতে বলিতে
আদরেতে সমীরণে দেয় উপহার ;
২৮ চিন্তা মঞ্জরী। লইয়। সমীর পুন সূর্যের কিরণে রঞ্জিত করিয়া দেয় বিবিধ বরণে। জ্বলিছে ওষধি লতা তমসী নিশায় দেব দেহ দুতি সম হয় বিকীরণ পশুপাল পদাঘাতে হতেছে কোথায় প্রস্তর পতন ধ্বনি ঠন ঠন, ঝিল্লিরব মিশি আয় করে উৎপাদন কিন্নর বধূর যেন নুপুর নিক্বণ। কি অপূর্ব পােভা গিরি হয়েছে তােমার যম্বোত্রী প্রদেশে মরি! দিতেছি যথায় নীলাভ বরফ রাশি নীরদ আকার- : নীলাভ লাবণ্য ঢালি যমুনার গায়। প্রকৃতির লীলা স্থান, সৌন্দৰ্য্য সদন, হেরে প্রেম ভক্তিভাবে মগ্ন হয় মন। t সৌন্দর্য্য ভাণ্ডার তুমি হিমগিরিবর লুকান মাধুৰ্য কত নিভৃত করে রহিয়াছে তব যাহা নাহি জামে নর ; কণামাত্র শােভা এই দরশন করে, অপার আনন্দ নীরে হই নিমগন, বিষয়ের সুখ, যত তুচ্ছ ভাবে মন। .
হিমালয়।।
যে স্থান হইতে সপ্ত নদী প্রবাহিত,
সুপবিত্র সেই তৰ অঙ্গেতে প্রথম
বাসস্থান আৰ্য্যগণ করে মনোনীত,
বৈদিক ভাষার তথা হয়েছে জনম ।
এহৌকস * বলে তারে করে অনুমান,
পুজা ল’তে ইন্দ্র! তথা ত্যজিত স্বস্থান।
৪০
পুণ্যবতী নদীগণে তুমি হিমালয়,
করিয়াছ করিতেছ যতনে পালন ;
মুনি ঋষি যােগী তােমা করিয়া আশ্রয়
লাভ কৰি সিদ্ধ পদ জিনেছে মরণ ;
স্থাবর গণের মধ্যে তুমি সমুন্নত,
উদার অন্তর তব সদা সাধু ব্ৰত।
৪১
কি হে সাধু ভাৰ দেখি ভূধর তােমাতে,
পাপী ও যদ্যপি কভু যায় তর স্থানে,
অমনি সে ভাব আসি অলক্ষ্যে অজ্ঞাত
সত্তিক ভাবেতে গড়ে পসি তার প্রাণ
দেবাধিক গুন দেখি বলে ঋষিগণ,
ধর্গ লাভে ৪ +কিবা প্রয়ােজন।
৪২
দেবতাত্মা তুমি ম*। দেবতা নিশ্চয়,
বিমন 1. নত ব সুন্দর শরীর
প্রত্নৌকসপুর' :ন। নবাস। এই স্থানের মান নাম কাশ্মীর
অপর নাম আর দেশ।
চিন্তা মঞ্জরী।
বরণী ধরিয়া আছে তোমার আশ্রয়,
অটল প্রশান্ত মূৰ্ত্তি কিবা সুগভীর।
অতুল মাহাত্ম্য তব দরশন করি,
তােমাতে অভিন্নরূপে আছেন শ্রীহরি।
শিশু।
কি সাথে তুলনা দেয় কবিদের মন
কুসুম সুষম সহ শিশুর আনন?
কুসুমে কণ্টক কীট কহে সৰ্বজন,
শিশুতে সে সব কিছু আছে কি কখন ?
চাদের সহিত তারে দিবে কি তুলন,
কলঙ্কের ছায়া তায় রয়েছে যখন।
আছে কি ত্রিদিব ধামে এ হেন সুষমা,
হে শিশশা। তোমার সনে যাহার উপমা ?
ললিত ললাম কায় সুন্দর গঠন,
কুটীল কটাক্ষ হীন তােমার নয়ন।
কোকিল পাল জিনি ক্ষুদ্র কেশ পাশ,
প্রশান্ত ললাটে নাই চিন্তা-রেখা ভাস ।
সুনীল তারকা তব লোচন যুগ্নলে,
ভ্রমর শােভিছে যেন শতদল দলে।
সরল লাবণ্য মাখা সুন্দর বদন
হেরিলে না হয় কার পুলকিত মন ?
শিশু ।
অর্ধস্ফুট বাক্য তব পীযূষ পূরিত,
শ্রবণে না হয় কার মন বিমােহিত।
সুধার অধরে তব মধুময় হাসি
ছড়ায় কি অপরূপ অানন্দের রাশি।
কোমল অঙ্গুলি গুলি কি সুন্দর দোলে।
ম্পিকের দাম যেন বায়ুর হিল্লোলে।
জননীর কোলে তুমি বিরাজ যখন,
পূরব গগণে শােভে নবীন তপন।
অপরূপ ভাব তব হেরিলে নয়নে,
মেহের সঞ্চার কার নাহি হয় মনে ?
সহস্র চিন্তায় যার ব্যাকুলিত মন
তােমারে লইলে শান্তি লভে সেই জন।
বারেক উঠিতে হেলে পড় কত বার,
তবু ও না থাম চেষ্টা কর বার বার।
আয়াস উদ্যম গুণ দেখিলে তােমার,
লভয়ে মানব জ্ঞান অশেষ প্রকার।
কাৰ্য্যক্ষেত্রে অবতীর্ণ হইবে যখন,
থামিওনা বাধা বিপ্ন দেখিয়া কখন।
কীৰ্ত্তিমা বলে যারা খ্যাত ধরাতলে,
তারা ও তােমার মত আছিল সকলে।
তাদের জীবন স্রোত হয়ে প্রবাহিত
কলসিন্ধু নীরে যথা হইয়াছে নীত।
দেখিও ভাবিয়া তুমি সেই সমুদয়
ভাবিলে মহৎ তুমি হইবে নিশ্চয়।
চিন্তা মঞ্জরী।
তােমার জীবনাকাশ হবে কি প্রকার,
দেবতা জানিতে নারে অন্যে কোন ছায়
হত বা কৃষ্ণ মেঘে রবে আচ্ছাদিত,
অথবা সুবর্ণ করে হবে, সুরঞ্জিত ।
হয় হবে যে সে ভাবে-ললাট লিখন,
সত্য পথ লক্ষ্য যেন থাকে সর্বক্ষণ।
ঐশ্বৰ্য্য অনেকে বলে প্রারন্ধের ফল
সুচরিত্র নিজায়ত্ত কৰিও সম্বল।
ধৰ্ম্মে মতি পাপে ঘৃণা ভক্তি গুরুজনে,
ঈশ্বরে বিশ্বাস যেন থাকে সদা মনে ।
আর এক কথা শি জিজ্ঞাসি তােমায়,
পারিবে কি তাহা তুমি বলিতে আমায় ?
জননী জঠরে তুমি ছিলে হে যখন,
কি ভাবে ছিল বা তব মানস তখন।
কেন বা ভূমিষ্ঠ হয়ে করেছ কুন্দন,
দেখিয়া কি মায়া মােহ লেভের ছলন?
হারায়েছ জ্ঞান রত্ন ভুলেছ ঈশ্বরে,
তাই বুঝি জানাইলে ক্রন্দনের স্বরে ?
হারান রতন মিলে খুজিলে যতনে
পাবেনা কি জ্ঞান তুমি জ্ঞান অন্বেষণে ?
স্মরিলে বিস্মৃত কথা পড়ে যায় মনে
হইবে ঈশ্বর মনে সতত চিন্তনে।
নীতিমালা।
নীতিমালা ।
পরমেশ পদে সদা থাকে যার চিত,
লৌকিক যশের তরে সে কি লালায়িত ?
জ্ঞান-রত্ন লাভে যদি থাকে তব মন,
সামান্য ধনের লােভ করহ বর্জন ।
শান্তির সাগরে যদি ডুবিবারে চাও,
বিষয় মুখের পানে তৰে কেন দাও ?
দেশহিত সাধিবারে যদি অভিলাষ,
নীচ স্বার্থ হতে সদা থাকহ উদাস ।
জুই দ্রব্য এককালে মেলে না কখন,
চাহিলে, উভয়ে করে দূরে পলায়ন ।
বিদ্যার বিমল জ্যোতি হইলে প্রকাশ,
সংকীর্ণ সংস্কার যত হইবে বিনাশ ।
অলসতা মহাশত্রু যদি পায় স্থান,
কি করিবে বুদি মেধা কিংবা শাস্ত্র জ্ঞান।
মধুকর করে যথা মধু আহরণ,
পুস্তক হইতে কর জ্ঞান নিষ্কাশন।
বন্ধুত্ব জগতে হয় সুখের আকর,
সদগুণ উপর তাহা করিতে নির্ভর।
মিত্ৰত শহর সহ করিবে স্থাপন,
শীলে গুণ নীচ যেন না হয় সে জন।
কুসঙ্গে যদি ও পাপ না পশে তােমায়,
কলঙ্কের হস্তে কেহ নিষ্কৃতি কি পায়?
চিন্তা মঞ্জরী।
সত্যের সমান ধৰ্ম্ম নাই ত্রিভুবনে,
কায়মনে সত্য সেবা করিবে যতনে।
আপনি আপন শত্রু মিত্ৰ আপনার,
বৃথা কেন দোষে নর অপর জনার।
পরহিংসা যদি তব নাহি থাকে মনে,
করিবে হিংসা তব কভু কোন জনে।
নগরে সংযমতমন শান্তিলাভ করে,
কি করিবে তপোবন অসংষত নরে ?
কদাচ উদ্ধত ভাব কর না প্রকাশ,
ঔদ্ধত্যে সর্বদা করে কার্যের বিনাশ।
কিবা ফল অন্থ গুণ বিন ব্যতীত ?
বিনয়ে দুর্জ 1 চোধ হয় পরাজিত ।
বহুভাষিজনবাক্য নিল কে বল,
স্বল্প কথা হয় কিন্তু কদাচ দিল ।
নানবিধ চিন্তা হয় মনেতে উদয়,
সকলি প্রকাশ করা উচিত কি হয় ?
অনেকের কথা পার করিতে শ্রবণ,
বারে তারে মনােভাব এল । কখন।
কর্তব্য বলিয়া যাহা কর নিরূপণ,
যত শীঘ্র পার তাহা কর সমাপন।
অপিন সাহস শক্তি নিপুণতা আর,
কাৰ্যারম্ভ পূৰ্ব্বে প্রাজ্ঞ করিবে বিচার।
( প্রাণপণে বিদ্যা অর্থ কর উপার্জন,
ধৰ্ম্ম কৰ্ম্ম আচরণে ভুলনা কখন।
নীতিমালা।
আপনার মুখে ভম নিখিল ভুবন,
পাবেনা প্রকৃত সুখ কোথায় কখন।
পর-হিতে থাক, পর দুঃখের মােচনে,
আপনি তােমায় সুখ তুষিবে যতনে।
উন্নতি নিদান স্বাস্থ্য সর্বসুখমূল,
পর উপকার ব্রতে সদা অনুকুল।
স্বাস্থ্যের নিয়ম সদা করিবে পালন,
ভগ্ন স্বাস্থ্যে সস্তাপেতে কাটায় জীবন।
বন মান ধৰ্ম্ম রক্ষা করে নরপতি,
হইও না অকৃতজ্ঞ কভু তার প্রতি।
পিতৃসম ভক্তি যেন তার প্রতি রয়,
সাক্ষাৎ ঈশ্বর জ্ঞানে কর তঁারে ভয়।
উদ্যোগ উৎসাহ আর যত্ন পরিশ্রম
থাকে যার, অদৃষ্টেরে সেই ভাবে ভ্রম।
কৰ্ম্ম জন্য শুভাশুভ ফল যাহা হয়,
তারেই অদৃষ্ট বলে বিজ্ঞজনে কয়।
সচ্চিদা সৎকার্যে রত থাক অনুক্ষণ
আপনি সৌভাগ্য আসি দিবে দরশন
গর্বশূন্য মনে তব লক্ষ্য উচ্চ স্কুল,
ব্যবহার আর করি সুন্দর সরল,
মহাজন গত পথে হও অগ্রসর,
দেখিলে মহত্ত্ব তুমি লভিবে সত্বর।
সচ্চরিত্র ধরাতলে অমূল্য রতন,
অতুল সম্পদ তার না হয় নি।
৪৬
চিন্তা মঞ্জরী।
২১
নাহি তথা উপত্যকা দূর প্রসারিত,
নাহি তথা সুমধুৰ কাকলী পাখীর,
শ্যামল পাদপ দলে নহে সুশোভি -
কিন্তু যেন নগ্ন শােভা নগ্ন প্রকৃতির,
সরণ লাবণ্যরাশি নিৰ্ম্মল ধবল ,
ভয়ঙ্কর শীত করে রক্ষা সেই স্থল।
তিন দিক বন্ধ যেন তুষার প্রাচীরে,
রহিয়াছে মধ্যে এক ঐ সমতল,
নিম্ন হ’তে মন্দাকিনী উঠি ধীরে ধীরে,
চলিছে উংসামনে করি কল কল
ভগিনী অলকা কাছে যাইতে দুজনে
ভাগীরথী সহ পাপ তাপ নিবারণে।
৩১
তার কাছে প্রস্তরের মান্দর শোভন
পুরাতন কারুকার্য কিবা মনোহর।
মধ্যস্থান মুণ্ডহীন মযি মতন
বিজ কদর নামে দেব মহেশ্বর।
শীভয় তুলারেতে হয়ে পরিত ।
বৃষ্টি জল পড়ে ও তুলা খণ্ড মত।
অন্ত:ক্ষে পাকি যেন খ প লয়ে,
দেব দেব মহাদেবে করিতে অন,
হিমালয়।
৪৭
আনন্দেতে দেবগণ তকতি হৃদয়ে
অলক্ষে চরণে তার করিছে অর্পণ।
কি অপূর্ব দৃশ্য, মরি! কি সুন্দর স্থান ।
ক্ষণেকে, ভক্তির গন্ধে পূর্ণ হয় প্রাণ।
মহা প্রস্থানের পথ পবিত্রতা নয়,
মহাত্মা শঙ্কর হেথা হ'য়ে যােগর
পঞ্চভূতে পঞ্চভূত করেন বিলয়,
শান্তিময় মধুরতা বিরাজে সতত।
কি গভীর ভাব হেথা করে উদ্দীপন।
কৰিত্বে যোগিকে যেন মধুর মিলন।
৩৪
হর্গম গােমুখী মুখে করিলে প্রবেশ,
বিবিধ সৌন্দর্য্যে হয় মােহিত নয়ন ;
নব নব তরুলতা শােভিত প্রদেশ
নব নব পুষ্প গন্ধে পূরিত কানন,
একাণ্ড ভুর্জবৃক্ষ মস্তক তুলিয়া
প্রহরীর বেশে কোথা আছে দাড়াইয়া ।
কোন স্থানে নিঝরিণী নামিতে নামিতে,
খসাইয়া হৃদয়ের মুক্তামালা গল্প,
কুল কুল ছলে কিবা বলিতে বলিতে
আদরেতে সমীরণে দেয় উপহার ;
કન চিন্তা মঞ্জরা। লইয়া সমীর পূন সূর্যের কিরণে রঞ্জিত করিয়া দেয় বিবিধ বরণে। অলিছে ওষধি লতা তমসী নিশায় দেব দেহ দুতি সম হয় বিকীরণ পশুপাল পদাঘাতে হতেছে কোথায় প্রস্তর পতন ধ্বনি ঠন ঠন, ঝিল্লিরব মিশি আয় করে উংপাদন কিন্নর বধূর যেন নুপুর নিক্বণ। কি অপূর্ব পােভ গিরি হয়েছে তােমার যদ্ধােত্রী প্রদেশে মরি! দিতেছি যথায় নীলাভ বরফ রাশি নীরদ আকার- : নীলাভ লাবণ্য ঢালি যমুনার গায়। প্রকৃতির লীলা স্থান, সৌন্দৰ্য্য সদন, হেরে প্রেম ভক্তিভাবে মগ্ন হয় মন । সৌন্দৰ্য ভাণ্ডার তুমি হিমগিরিবর লুকান মাধুৰ্য কত নিভৃত করে রহিয়াছে তব যাহা নাহি জামে নর. ; কণামাত্র শােভা এই দরশন করে, অপার আনন্দ নীরে হই নিমগন, বিষয়ের সুখ, যত তুচ্ছ ভাবে মন।
হিমালয় ।।
কে স্থান হইতে সপ্ত নদী প্রবাহিত,
সুপবিত্র সেই তব অঙ্গেতে প্রথম
বাসস্থান আৰ্য্যগণ করে মনোনীত,
বৈদিক ভাষার তথা হয়েছে জনম।
এদৌকস বলে তারে করে অনুমান,
পুজা ল’তে ইন্দ্র! তথা ত্যজিত স্বস্থান।
৪০
পুণ্যবতী নদীগণে তুমি হিমালয়,
করিয়াছ করিতেছ যতনে পালন ;
মুনি ঋষি যােগী তােমা করিয়া আশ্রয়
লাভ কৰি সিদ্ধ পদ জিনেছে মরণ ;
স্থাবর গণের মধ্যে তুমি সমুন্নত,
উদার অন্তর তব সদা সাধু ব্ৰত।
৪১
কি হে সাধু ভাৰ দেখি ভূধর তােমাতে,
পাপী ও যদ্যপি কভু যায় তব স্থানে,
অমনি সে ভাব আসি অলক্ষ্যে অজ্ঞাতে
সত্ত্বিক ভাবেতে গড়ে পসি তার প্রাণে
দেবাধিক গুণ দেখি বলে ঋষিগণ,
স্বর্গ লাভে 1' করা কিবা প্রয়ােজন।
৪২
দেবতাত্মা তুমি মা দেবতা নিশ্চয়,
বিমন 1. শতবে সুন্দর শরীর
একেস-পুর: ননবাস। এই স্থানের মান নাম কাশ্মীর
অপর নাম আৰ দেশ।
৪
চিন্তা মঞ্জরী।
ধরণী ধরিয়া আছে তােমার আশ্রয়,
অটল প্রশান্ত মূৰ্ত্তি কিবা সুগভীর ।
অতুল মাহাত্ম্য তব দরশন করি,
তােমাতে অভিন্নরূপে আছেন হরি।
কন্টক
কি সাথে তুলনা দেয় কবিদের মন
কুসুম সুষম সহ শিশুর আনন?
কুসুমে
কীট কহে সৰ্বজন,
শিশুতে সে সব কিছু আছে কি কখন ?
চাদের সহিত তারে দিবে কি তুলন,
কলঙ্কের ছায়া তায় রয়েছে যখন।
আছে কি ত্রিদিব ধামে এ হেন সুষমা,
হে শিশো ! তােমার সনে যাহার উপমা ?
ললিত ললাম কায় সুন্দর গঠন,
কুটীল কটাক্ষ হীন তােমার নয়ন।
কোকিল পাল জিনি ক্ষুত্র কেশ পাশ,
প্রশান্ত ললাটে নাই চিন্তা-রেখা দাস।
সুনীল তারকা তব লােচন যুগলে,
ভ্রমর শােভিছে যেন শতদল দলে।
সরল লাবণ্য মাখা সুন্দর বদন
হেরিলে না হয় কার পুলকিত মন ?
শিশু।
অর্ধস্ফুট বাক্য তব পীযুষ পূরিত,
শ্রবণে না হয় কার মন বিমােহিত।
সুধার অধরে তব মধুময় হাসি
ছড়ায় কি অপরূপ আনন্দের রাশি।
কোমল অঙ্গুলি গুলি কি সুন্দর দোলে ?
চম্পকের দাম যেন বায়ুর হিল্লোলে।
জননীর কোলে তুমি বিরাজ যখন,
পূরব গগণে শােভে নবীন তপন।
অপরূপ ভাব তব হেরিলে নয়নে,
মেহের সঞ্চার কার নাহি হয় মনে ?
সহস্র চিন্তায় যার ব্যাকুলিত মন
তােমারে লইলে শান্তি লভে সেই জন।
বারেক উঠিতে হেলে পড় কত বার,
তবু ও না থাম চেষ্টা কর বার বার।
আয়াস উদম গুণ দেখিলে তােমার,
লভয়ে মানব জ্ঞান অশেষ প্রকার।
কাৰ্য্যক্ষেত্রে অবতীর্ণ হইবে যখন,
থামিওনা বাধা বিল্প দেখিয়া কখন।
কীর্তিমান বলে যারা খ্যাত ধরাতলে,
তারা ও তােমার মত আছিল সকলে।
তাদের জীবন স্রোত হয়ে প্রবাহিত
কলসিন্ধু নীরে যখা হইয়াছে নীত।
দেখিও ভাবিয়া তুমি সেই সমুদয়
ভাবিলে মহৎ তুমি হইকে নিশ্চয়
চিন্তা মঞ্জরী।
তােমার জীৰনাকাশ হবে কি প্রকার,
দেবতা জানিতে নারে অন্যে কোন ছাই,
হয়ত বা কৃষ্ণ মেঘে রবে আচ্ছাদিত,
অথবা সুবর্ণ করে হবে সুরঞ্জিত।
হয় হবে যে সে ভাৰে-ললাট লিখন,
সত্য পথ লক্ষ্য যেন থাকে সর্বক্ষণ।
ঐশ্বৰ্য্য অনেকে বলে প্রারন্ধের ফল
সুচরিত্র নিজায় করিও সম্বল।
ধৰ্ম্মে মতি পাপে ঘৃণা ভক্তি গুরুজনে,
ঈশ্বরে বিশ্বাস যেন থাকে সদা মনে।
আর এক কথা শি জিজ্ঞাসি তােমায়,
পারিবে কি তাহা তুমি বলিতে আমায় ?
জননী জঠরে তুমি ছিলে হে যখন,
কি ভাবে ছিল বা তব মানস তখন।
কেন বা ভূমিষ্ঠ হয়ে করেছ কুন্দন,
দেখিয়া কি মায়া মােহ লেভের ছন?
হারায়েছ জ্ঞান রত্ন ভুলেছ ঈশ্বরে,
তাই বুঝি জানাইলে ক্রন্দনের স্বরে ?
হারান রতন মিলে খুজিলে যতনে
পাবেনা কি জান তুমি জ্ঞান অন্বেষুণে?
স্মরিলে বিস্মৃত কথা পড়ে যায় মনে
হইবে ঈশ্বর মনে সতত চিন্তনে।
নীতিমালা ।
নীতিমালা ।
পরমেশ পদে সদা থাকে যার চিত,
লৌকিক যশের তরে সে কি লালায়িত ?
জ্ঞান-বুতু লাভে যদি থাকে তব মন,
সামান্য ধনের লােভ করহ বর্জন ।
শান্তির সাগরে যদি ডুবিবারে চাও,
বিষয় সুখের পানে তবে কেন ধাও ?
দেশহিত সাধিবারে যদি অভিলাষ,
নীচ স্বার্থ হতে সদ। থাকহ উদাস ।
এই ঐব্য এককালে মেলে না কখন,
চাহিলে, উভয়ে করে দূরে পলায়ন ।
বিদ্যার বিমল জোতি হইলে প্রকাশ
সংকীর্ণ সংস্কার যত হইবে বিনাশ।
অলত| মহাশত্রু যদি পায় স্থান,
কি করিবে বুজি মেধা কিংবা শাস্ত্র জ্ঞান।
মধুকর করে যথা মধু আহরণ,
পুস্তক হইতে কর জ্ঞান নিষ্কাশন।
বন্ধুত্ব জগতে হয় সুখের আকর,
সদ্গুণ উপর তা করিতে, নির্ভর।
মিতা যাহার সহ করিবে স্থাপন,
শীলে গুণে নীচ যেন না হয় সে জন।
কুসঙ্গে যদি ও পাপ না পশে তােমায়,
কলঙ্কের হস্তে কেহ নিষ্কৃতি কি পায়..?
৪
চিন্তা মঞ্জরী।
সত্যের সমান ধৰ্ম্ম নাই ভিতুবনে,
কায়মনে সত্য সেবা করিবে যতনে।
আপনি আপন শত্রু মিত্ৰ আপনার,
বৃথা কেন দোষে নর অপর জনার!
পরহিংসা যদি তব নাহি থাকে মনে,
করিবে হিংসা তব কভু কোন জনে।
নগরে সংযমতমনা শান্তিলাভ করে,
কি করিবে তপোবন অসংষত নরে?
কদাচ উদ্ধত ভাব কর না প্রকাশ,
ঔদ্ধত্যে সর্বদা করে কার্যের বিনাশ।
কিবা ফল অন্য গুণ বিন বতত ?
বিনয়ে দুর্জ : ক্রোধ হয় পরাজিত।
বহুভাষিজবাক্য নির্ধ ল কেবল,
স্বল্প কথা হয় কিন্তু কদাচ দিল।
নানাবিধ চিন্তা হয় মনে উদয়,
সকলি প্রকাশ করা উচিত কি হয় ?
অনেকের কথা পার করিতে শ্রবণ,
যারে তারে মনােভাব বল না কখন।
কর্তব্য বলিয়া যাহা কর নিরূপণ,
যত শীঘ্র পার তাহা কর সমাপন।
অপিন সাহস শক্তি নিপুণতা আর,
কাৰ্যারম্ভ পূর্বে প্রাজ্ঞ করিবে বিচার ।
প্রাণপণে বিদ্যা অর্থ কর উপার্জন,
মৰ্ম্ম কৰ্ম্ম আচরণে ভুলনা কখন।
*
নীতিমালা।
আপনার মুখে ভ্রম নিখিল ভুবন,
পাবেনা প্রকৃত সুখ কোথায় কখন।
পর-হিতে থাক, পর দুঃখের মােচনে,
আপনি তােমায় সুখ তুষিৰে যতনে।
উন্নতি-নিদান স্বাস্থ্য সৰ্ব্বসুখমূল,
পর উপকার ব্রতে সদা অনুকুল।
স্বাস্থ্যের নিয়ম সদা করিবে পালন,
ভগ্ন স্বাস্থ্যে সন্তাপেতে কাটার জীবন।
ধন মান ধৰ্ম্ম রক্ষা করে নরপতি,
হইও না অকৃতজ্ঞ কভু তার প্রতি।
পিতৃসম ভক্তি যেন তার প্রতি রয়,
সাক্ষাৎ ঈশ্বর জ্ঞানে কর তঁারে ভয়।
উদ্যোগ উৎসাহ আর যত্ন পরিশ্রম
থাকে যার, অদৃষ্টেরে সেই ভাবে ভ্রম।
কৰ্ম্ম জন্য শুভ। শুভ ফল যাহা হয়,
তারেই অদৃষ্ট বলে বিজ্ঞজনে কয়।
সাচ্চা সৎকার্যে রত থাক অনুক্ষণ
আপনি সৌভাগ্য আসি দিবে দরশন
গর্বশূন্য মনে তব লক্ষ্য উচ্চ স্কুল,
ব্যবহার আর করি সুন্দর সরল,
মহাজন গত পথে হও অগ্রসর,
দেখিবে মহ জ তুমি লভিবে সত্বর।
সচ্চরিত্র ধরাতলে অমূল্য রতন,
অতুল সম্পদ তার নায়লন।
চিন্তা মঞ্জরী।
অধিকারী সে রত্নের যেই মহাজন,
মভুমি তার কাছে অমর সদন।
সন্তোষ প্রসাদ যত সুদুলভ মণি,
আলােকিত করে সদা তার হৃদি খনি।
যশােমান বহু কষ্টে লাভ করে নর,
সে সকল হয় তার নিত্য সহচর।
অযত্নে অসাবধানে সে রত্নে কখন
বঞ্চিত না হও তাহে রাখি ও স্মরণ ;
অভিমান।
১
ত্রিভুবন মাঝে দেখি তুমি অভিমান,
বল বীৰ্য গৌরবেতে সবার প্রধান ;
কভু দেব কভু নর
পিশাচের কলেবর,
দম্ভ দর্প গর্ব নাম করিছ ধারণ,
মনের নিগুঢ় দেশে তব সিংহাসন।
মহত্তত্বে জন্ম তব কাৰ্যও মহৎ,
তৃণের মতন দেখ অসীম জগৎ ;
প্রবল প্রভাবে যবে
শাসন করহ ভবে,
কার সাধ্য গতি তব রোধে সে সময়
<ল বিবেক ও মানে পরাজয় !
অভিমান।
সর্বজন হৃদে তুমি কর বিচরণ,
সকলেই তােষে তােমা করিয়া যতন ;
মুনি ঋষি কিম্বা যােগী,
ঐশ্বৰ্য্য বিলাস-ভােগী,
দরিদ্র ভিক্ষুক পর্ণ-কুটীর-নিবাস,
সবার হৃদয়ে তব প্রচুর বিলাস।
৪
নর-নারী যুব-বৃদ্ধ তােম ভাল বাসে,
অবােধ বালক, সেও ব্য গ্ৰ ভৰ আশে,
শিশু অভিমান করে
জননী সােহাগ ভরে
প্রলোভনে ৫ বা কত কাৰু আনয়ন,
কনে যতনে তার পরিতুষ্ট মন।
:
বিমাতার শাক্য শুনি শুনাতি-নন্দন
অভিমানে চলি গেল বিজন কানন ।
হেন বস্তু যদি পায়,
দেখে নাই পিতা যায়,
ফিরিবে নতুবা বনে ত্যজিবে জীবন ।
অচিরে লভে সে পদ্মপলাশ-লােচন।
মায়া হ'তে তুমি কভু ফিরাইয়া মন
পরমেশে ভক্তি-যােগ কর সংঘটন।
চিন্তা মঞ্জরী
সন্ন্যাসি-গণের আর
নাহি কিরে অহঙ্কার ?
বিশ্বজীবসহ ভাৰ করিবারে আশ,
সম্পূর্ণ মাত্রায় দেখি তােমার প্রকাশ।
৭
লজ্জা ঘৃণ; নামে দুই তনয়া তোমার
কত রূপে সাধে তারা কুশল তোমার
পঙ যদি প্রলােভনে,
রাখে তারা সযতনে,
শুনিয়ে যদি কর পাপ আচরণ,
অমনি শুকিয়ে হয় মড়ার মতন।
ভীষণ মূরতি যবে করহ ধারণ
পলায় মানব তােমা করি দরশন,
লালসা বিলোল জিভ
নয়নে ক্রোধের বিতা,
উৎপীড়ন ভীম দণ্ড করি প্রদর্শন।
কালরূপে জীবগণে করহ চর্বণ
হেরিয়া রাক্ষস পতি বীর ঈশাননে
দেবগণ সদা ছিল শান্বিত মনে
চন্দ্র সূৰ্য্য বায়ু যম
আজ্ঞাবহ ভূত সম
অভিমান।
অার কার্যে সদাকাল ছিল নিয়ােজিত,
তুমিই করাও তারে পাপে প্রবর্তিত।
সেরাজউদ্দৌলা নামে বঙ্গের নবাব
করেছে যে পাপ সেও তােমার প্রভাব,
হরে ছিল কুলমান
অনেকের ধন প্রাণ
আপন গরবে সদা উন্মত্ত হইয়া
দেখিলনা পরিণাম বারেক ভাবিয়া।
দেব রূপে যথা তব হয় আগমন,
ক্ষমা দয়া প্রত্যাহার দেয় দরশন।
আত্মায় বিশ্বাস করি,
সঙ্কীর্ণতা পরিহরি,
উন্নত আধ্যাত্ম-ভাবে হও দীপ্তিমান,
ৰীরের অধিক তােমা দেখি বীর্যবান্ ।
১২
অনুগত আৰ্ত্ত দুঃখী ভয়-ভীত জন
কাতরে তােমার কাছে লইলে শরণ
পুরাও কামনা বাহা,
অসাধ্য হলেও তাহ,
তখনি তাহারে তুমি করহ প্রদান,
ক্ষুব্ধ নও যদি হয় ত্যজিতে পরাণ ।
চিন্তা মঞ্জরী ।
অপু-পীড়িত ইন্দ্র দধিচি আশ্রমে
নিবেদিলে সকাতরে দুঃখ যথাক্রমে,
মােক্ষ-অভিমানী মুনি,
দেবের দুর্গতি শুনি,
জঙিলেন দেহ দেৰ-মঙ্গল সাধনে
যখা জীর্ণবাস নর ত্যজে হৃষ্টমনে।
১৪.
বিফল অপত্য স্নেহ, ভুমি অভিমান।
মানবের হৃদে যদি হও অধিষ্ঠান,
দাতার আদর্শবীর
ধরি বৃষকেতু-শির
সস্ত্রীক ছেদন করে নিব লোচনে,
দেব রূপে ভুমি তার ছিলে বলে মনে
১৫
হীন বল পাণ্ডু-পুত্র বিয়ে নিরাশ,
নিয়ে বলিলে ব্যথ। ভীষ্মেয় সকাশ,-
“পিতামহ আজ্ঞা চাই .
পুনঃ বনবাসে যাই,
জানিলাম আমাদের শিখি প্রতিকূল,
সমরে মঙ্গেয় তুমি বীরত্বে অতুল।”
পাশুৰ মানস ভাব বুঝি ভী বীর
আপন বতুত ? কবি শন স্থির,
অভিমান।
৬১
জামদগ্ন্য সনে রণে
যে জন নগণ্য গণে,
সে জন সমরে শর নির্বিবাদে সয়,
উচ্চ ভাব বিনা অন্য সম্ভব কি হয় ?
দিল্লীশ্বর পৃথী কান্যকুজ অধিরাজ,
দু’এর হৃদয়ে ছিলে ধরি ভিন্ন সাজ,
উভয়ে নৃপতি সুত,
সমান শােণিত ধুত,
স্বাধীনতা তরে প্রাণ সঁপে এক জন
প্রতিহিংসা জালি অন্যে ডাকিল মরণ ।
১৮
স্বাধীনতা সহ তব অভদ প্রণয়,
তােমার বলেতে গেত রবিত হয়।
রাখিতে তাহার মান,
তুচ্ছ ভাব নিজ প্রাণ,
নিন্দুকের কলরব ঘাতক কৃ ণ,
পারেনা দেখাতে ভ। তােমা অভিমান
অদৃষ্টের দুর্বিপাকে তার পরে যখন
অধীনতা শক্ত আসি করে আক্রমণ
তখনি মরিতে যাও,
কার প্রতি নাহি চাও,
চিন্তা মঞ্জরী ।
সহিষ্ণতা যদি মৃদু কর-সঞ্চালনে,
ধরে চরণ তব বিহিত যতনে।
আছিল বিদুলা বাম বীরাভিমানিনী
ক্ষত্রেচিতা রাজসুতা মহা যশস্বিনী ;
পরাজিত মনঃক্ষুণ
বিষ উদ্যম-শূন্য
কয়েরে দেখিয়া সে কহিলা তখন -
“রণক্ষেত্রে কেন ব ন হল মরণ ?"
“সিংহের শাবক তুমি শৃগাল হইৰে
কুলের কটক বলে পরিচয় দিবে?
ধিক্ ধিক্ কুলাঙ্গার
নাই কি পুৰুষকার
নির্জীব জড়ের মত রহিবে কি পড়ে
ক্ষত্রিয় সমাজে মুখ দেখাবে কি করে?
দেখাও ক্ষত্রিয় তেজ বিক্ৰম তোমার
হউক অতিকুল বিধ্বস্ত এবার
বীর সৈন্য সাজাইয়া,
বীরমদে মাইয়া,
যাও শীঘ্র পুত্র তুমি হবে রণ-জয়,
-অজর অমর কছু সিন্ধুপতি নয় ।
অভিমান।
জ্বলন্ত (তজেতে শক্র কর আক্রমণ
হয় হবে রণজয় না হয় মরণ।
যায় যদি যশো-মান,
কি কাজ রাখিয়া প্রাণ
কি ফল মমতা বল ঘৃণিত শরীরে,
রঞ্জিত না হয় যদি শত্রুর রুধিরে?”
২১
জননীর উত্তেজিত বাক্যেতে তখন
উৎসাহে উন্মত্ত হল সঞ্জয়ের মন
ভীষণ সাহস ভরে
শত্রু আক্রমণ করে ;
পলাইল সিন্ধুরাজ লইয়া পরাণ,
3ণে জয়ী হইয়া সে রাখিল সম্মান।
অশ্বমেধ-যজ্ঞ-অশ্ব করিলে বন্ধন
কহিলা পাণ্ডবগণ প্রৰীরে তখন
“হয় হয় প্রত্যর্পণ,
নতুবা করহ রণ,
জান না পাণ্ডর পুত্র জয়ী সৰ্বস্থানে ?”
কষিল প্রবীর বীর,বীর অভিমানে
“ভীষ্ম দ্রোণ কর্ণে মারি অন্যায় সমরে,
জয়ী হবে বণে বুঝি ভাবিছ অন্তরে ?”
চিন্তা মঞ্জরী
এত বলি করে রণ,
অস্থির পাণ্ডবগণ
বিফল গাণ্ডীব গদা বিমুখ সকল
দেখিয়া পাণ্ডবগণ, আরস্তিল ছল।
হায় রে ।
সে ছলে বীর বল হারাইল..
একাকী নির্ভীক চিত্তে, তবুও যুঝিল ;
বীর কীৰ্ত্তি রাখি তবে
ভাঙ্গে দেহ সে আহবে,
অভিমানে জনা রাণী ত্যজিল সংসার,
পুত্রহস্তা সহ মৈত্ত দেখিয়া বাজার।
কুরুপতি দুৰ্য্যোধন অভিমানী বীর,
ক্ষত্ৰধৰ্ম্ম রত, সদা প্রতিজ্ঞায় স্থির,
ভীষণ সমরানলে
নিজ দেহ কুতুহলে,
আহুতি প্রদান করি বৈকুণ্ঠেতে যায়,
সুরেন্দ্র সকাশে কত সমাদর পায় ।
বীরের লাবণ্য শ্রীতে হয়ে দীপ্তিম
সূৰ্য্য সম সিংহাসনে করে অবশান
দিব্য দ্যুতি দেবগণ,
পুণ্য শীল সাধুজন,
অভিমান।
সতত সম্ভাযে তারে করিয়া বেষ্টন,
দেখি রােষ-পর হ’ল ধৰ্মপুত্র মন।
“যার তরে দ্রৌপদীর এত অপমান,
মহারণ্যে কষ্টে মােরা করি অবস্থান,
সে দুরাত্মা দুৰ্যেধনে
পূজে সাধু নৃপগণে,
দেখিতে না পারি আমি দেবগণ অার
লয়ে চল ভ্রাতৃগণ যথায় আমার।”
.
হাসিয়া নারদ তবে যুধিষ্ঠিরে কয়,
স্বর্গেতে বিরুদ্ধ ভাব উচিত না হয়।
এ দৃশ্য আশ্চৰ্য্য নয়,
রাজেন্দ্র এ সুনিশ্চয়,
বিধিমত ক্ষত্ৰ ধৰ্ম্ম পালে যে নৃপতি,
রলােকে হয় তার শ্রেষ্ঠতর গছি।
যশোবন্ত পরাজয় শুনিয়া শ্রবণে,
অভিমানে রাণী তার কহে ক্ষুব্ধ মনে;
• জীবন থাকিতে মোের
হেরিবনা মুখ ওর
মিবারের বীর বংশে জন্মিয়াছি আমি
রণে ভঙ্গ দিৰে কিরে মাের যােগ্য স্বামী ?
চিন্তা মঞ্জরী।
আল্পের তুষার রাশি রােধে নাই যারে
সমবেত নৃপগণ বার কাছে হারে ,
যাহার পৌরুষ স্থানে
মূৰ্থ কৃত অভিধানে,
“অসম্ভব” পলাইত দারুণ লজ্জায়,
আত্মবলে উন্নীত যে চরম সীমায় ;
৪
সুসজ্জিত যােদ্ধগণ আজা পেলে যার
নাশিত বিপক্ষগণে করি ছার খার,
ফাশী-শােণিত নাশ
না করিয়া অভিলাষ
সেই বীর সিংহাসন করিল বর্জন
'বিল হইবে বুবি সঙ্গুল সাধন।
হয় রে তদৃষ্ট দেবী বিমুখ যখন
শুভ ফল তর আর হয় কি কখন ?
সুদূর আফিকা পরে
হেলেনার কারাগারে
নােনাপার্ট করিলেন দেহ অবসান,
সহিষ্ণুতা মাত্র তার রাখিল সন্তান।
.
পতিব্রতা রমণীর ধরম রক্ষণে
অসীম সাহস তুমি দে ও তার মনে,
অভিমান।
রাখিতে সতীত্ব ধন
করে প্রাণ বিসর্জন
অনলে অস্ত্রেতে কিম্বা তীব্র হলাহলে,
তুচ্ছ ভাবে মৃত্যু ভয় সে তোমার বলে ।
জাতীয় গৌরব, তার (ও) তুমিই কারণ,
ধন লিপ যশঃ স্পৃহা ভান উপার্জন
উন্নতি সাধন ভরে
মানব যতই করে,
অনাহারে অনিদ্রায় আপনা ভুলিয়া,
তুমি না থাকিলে সৰ হ’ত কি করি না।
তোমার বলতে আজ উন্নত জাপান,
তুলিয়াছে আমেরিকা বিজয় নিশান ;
ইতালী করের ভার
বহে ন এখন আর,
তােমার বলেতে তার নবীন জীবন,
সর্ব শ্রেষ্ঠ হইয়াছে ব্রীটন-ননন।
ভানিত বিশেষ রূপে পুৰ্ব্বেতে যেমন
ভুলেছে ‘রি তব গৌরব এখন।
ছি। তার অভিমান।
যশ জ্ঞান ধন মান,
চিন্তা মঞ্জরী।
শ্রেষ্ঠ বলে সুবিখ্যাত ছিল ধরাতলে,
হারা’য়েছে তােমা ভূলে এবে সে সকলে,
বিলাসীর অক্ষেপ।
এত দিন শুধু করিলাম ক্ষয়
ভােগ বিলাসের সুখের আশায়,
বিন্দু বিন্দু করি শোণিত নিচয়
হ’ল কত ব্যয় বিষয় সেবা।
না হইল সুখ না পূরিল আশা,
খুঁজিয়া দেখিনু যত সব ঠাঁই,
এটা ওটা সেটা, বাড়িল পিপাসা,
কোনটাতে কিছু সুখ নাহি পাই।
ছি ছি। আমি মুঢ় এত যে যাতনা
পেয়েছি পেতেছি বিষয় লাগিৰা,
তবু করিতেছি তাহারি কামনা
ফিরিতেছি সদা ব্যাকুল হইয়া।
কি যে সুখ আছে বিষয়ে জানি না,
শােক তাপ মুখে মাখান কেবল,
তথাপি রে কেন ছাড়িতে পারি না,
বিষয় ভােগের বাসনা সকল।
বিলাসীর অেেক্ষপ।
ধিক্, ধিক, ধিক! শত ধিক্ মােরে,
ঘুরি ফিরি সদা কি কুহক ছলে,
ইন্দ্রিয়ের তৃপ্তি সাধনের তরে,
অর্থকেই ভাবি পরমার্থ বলে ?
ইন্দ্রিয়ের সুখ সে সুখ নয়,
সে সুখ ত দেখি পশুরাও পায়;
মানবের কুলে যে জনম লয়,
সে কি সেই সুখে রত হবে হয় ?
অনন্ত জ্ঞানের বিমল কিরণ,
নিধুম উজ্জ্বল সুস্নিগ্ধ সুন্দর,
দেখিতে না পেয়ে অন্ধ নরগণ
পাপ তাপানলে পোড়ায় অন্তর !
অনন্ত প্রেমের সুধাময়-রস
চা'বে নাকি নব করিবারে পান,
বিষয়ের বিষে হইয়ে বিশ
কেবল কি হায় হারাবে পরাণ?
যশের লাগিয়া সদাই বাসনা,
সদাই ফিরিছি ভােগ-লালসায়,
অস্থায়ী দেহের স্থারিত্ব কানা
ভুলিয়া রয়েছি মােহিনী মায়ায়।
চিন্তা মঞ্জরী।
না পূরিতে সব অতৃপ্ত বাসনা,
জরা মৃত্যু আসি গ্রাস করে তায়,
কোথা পড়ে থাকে ভােগের কামনা
ক্ষণেকের ভোগ ক্ষণেকে মিলায়।
সঙ্কীর্ণ হইতে সঙ্কীর্ণ সীমায়,
ক্রমেই হতেছি বদ্ধ দৃঢ়তর,
অহংকারে তবু আছি অন্ধ প্রায়,
আপনাকে ভাবি কত বৃহত্তর ।
ক্ষণিক বিরাগ ক্ষণেকে উদয়,
জলে তনু যবে রােগের জ্বালায়,
নাহি আছে দৃঢ় ঈশ্বরে প্রত্যয়,
সন্দেহ তরঙ্গে চিত দোলে হায় !
পল পল করি যাইতেছে বেলা,
জীবন পরায়ু ক্রমে সমাগত,
ভুলিনু তবু ইন্দ্রিয়ের খেলা
অলপ সলিলে মীনেরই মত।
}
বুঝেছি বুঝেছি ফুটেছে নয়ন,
মৃত্যুর আঁধার দেশে যেতে হবে,
হইতে সন্ধ্যা করিব অর্জন
সম্বল যা কিছু সাথে সাথে রবে।
বিবেক কহিছে ওই কানে কানে--
“বিলাস-শয্যার ক’রন শয়ন
বিলাসীর আক্ষেপ।
৭১
তাকাওনা কভু প্রলােভন পানে
সত্য পথে সদা কর বিচরণ।”
পরমেশ পদে সঁপি মন প্রাণ
লাজ ভয় সহ বীরের মত,
শ্রদ্ধা ভক্তি দয়া হৃদে দাও স্থান,
প্রাণি-হিতে সদা হওরে রত।”
ওই যে ওই যে কহিতেছে মােরে,
যেতে হবে সেথা হওরে সত্বর,
থাকিওনা আর মােহ নিদ্রা ভােরে
কাজ সেরে ত্বর হও অগ্রসর।”
.
আর না আর না অমূল্য জীবন,
আমােদে প্রমােদে হইয়ে বিহ্বল,
করিব না কভু বৃথায় ক্ষেপন,
ধরম করমে কাটাব কেবল।
ঈশ্বর চিন্তনে ভ্রান্তি সমুদয়,
কুয়াসার সম যাৰে পলাইয়া,
হাকাশে মাের হবে জ্ঞানােদয়,
শান্তিসুধা লভি জুড়াইৰে হিয়া।
জীবনের দিন বাকি যাহা আছে,
তুচ্ছ আশ তৃৰা করি বিসর্জন,
চিন্তা মঞ্জরী।
লােক লজ্জা ঘৃণা রাখি লােক কাছে,
নির্ভয়ে করিব কর্তব্য সাধন।
স্বপ্ন।
ভাবনা হইতে জন্ম তােমার স্বপন।
নিদ্রার কোমল অঙ্ক তব রঙ্গ স্থল,
কি যে তুমি, লীলা তব করিতে বর্ণন
বিমূঢ় রসনা, ভাষা বিহীন-সম্বল।
আজন্ম অজ্ঞাত বস্তু, অদৃষ্ট অশ্রুত,
তাহাও নিদ্রিত্ মনে সমুদিত হয়,
বুঝিতে না পারে না, এমতি
অদ্ভুত ।
হ'ত কি সে ভাব পূৰ্ব্ব জন্মেতে উদয় ।
কে
বিবিধ আকার তুমি করিয়া ধারণ
নিদ্রিত মানসে কুীড় কর শত শত,
• ইন্দ্রজাল সম তব কুহক দর্শন
করিয়া বিস্ময়ে নর মুগ্ধ হয় কত !
কখন প্রদান কর দুখীজনে সুখ
স্থাপন করিয়া তারে নরেন্দ্র আসনে,
৭৬
সুখীন কভু পায় নিদারুণ দুখ
ত্যহিয়া আলয় পড়ি ৰিন কাননে।
স্বর্গের সৌন্দৰ্য্য কারে করাও দর্শন,
নরক যন্ত্রণা দেখি ভীত কোন নয়,
হিংস্র জন্তু কোন জনে করে আক্রমণ,
পলা’তে পতিত হয় ধরার উপর।
কোন নর শূন্য-পথে গমন সময়,
দেহ ভার ধারণেতে অক্ষম হইয়া
নিম্ন দিকে বার বার সমাকৃষ্ট হয়,
ব্যাকুল সে ভূমি-স্পর্শ হইল লিমা।
অাবার ঘটনা ক্রমে কেহ বা কখন
অগাধ সলিলে মগ্ন, অত্যন্ত অস্থির,
চেষ্টা করে ভাল রূপ দিতে সক্ষণ,
স্বাসরোধ হয় যেন না চলে শরীর।
জ্ঞানেন্দ্রিয় শভিসহ কখন কখন
কর্মেন্দ্রিয় কার্য • রে করেছি শ্রবণ ;
শয্যা ত্যজি কেহ কর দ্বার উঘাটন
দূরেতে দুন্সর কর্ম -ৰে সম্পাদন।
ত্রিগুণের ন্যনাশিকো পার্থক্য তােমার
দৃষ্ট হয় যৰে নৰ নিদ্রায় মগন,
৭৪
চিন্তা মঞ্জরী।
ভক্ত দেখে দেব দেবী মূরতি তাহার,
হেরে প্রতিবন্দ্বী রণে মত্ত বীরগণ।
খুলি ভবিষ্যৎ বার দৈবৰাণী মত
কভু তুমি মানবেরে দাও উপদেশ,
সুধা সম ঔষধ লভিয়া নর কত
করে দুরারােগ্য তার ব্যাধির নিঃশেষ।
জছিল সৰাটিনি সামান্য সৈনিক,
কে জানিত কে চিনিত লগ্রেতে তাহায় ?
দেখাইলে সিংহাসন, নহে কাল্পনিক,
অচিরে শাসিল গজনী ভূপতি-ভূষায়।
বিবিধ বিষয়-চিন্তা বিরত মানৰ,
শান্ত স্থির কেন্দ্রীভূত-শক্তি যার মন,
সেও কি মােহিত দেখি মিথ্যা স্বপ্ন সৰ
আশয় নিরাশ হয় মোদের মতন।
তা নয়, তাহ'রে বুঝি দেখে পাও ভয়,
নিকটে তাহার তুমি কদাচিৎ যাও,
অথবা কি যে সকল প্রকৃত বিষয়
সুষুপ্তি সময়ে সৰ তাদের দেখাও।
৫ নিদ্রাকালে দেখি মােরা যে সব স্বপন
নিদ্রাভঙ্গে সে সকল হয় মিথ্যাময়,
জাগ্রতে স্বপন তার হয় কি তেমন -
ভ্রম মাত্র এ সংসার—সত্য কিছু নয়।
এজগৎ দেখে কি সে চিপের মেলা,
নিশার স্বপন সম নশ্বর জীবন,
কর্মহেতু বৃদ্ধি মাত্র করমের খেলা,
মিথ্যা সমুদায় নহে যথার্থ কখন ?
মিথ্যা কিহে এ জীবন, মিথ্যা এ সকল ?
এই ধন এই জন গৃহ অট্টালিকা
সত্য কিছু নয়। সৰ মিথ্যা কি কেবল ?
চিরস্থায়ী নহে কিছু, সব কুহেলিকা ?
এত স্নেহ এত প্রীতি এত ভালবাসা
মিথ্যা কি সকল ? বৃথা কি পুরুষকার ?
বৃথা জ্ঞান মানবের উন্নতির আশা?
সকলি কি ছায়াবাজী, শুন্য এ সংসার?
শূন্য যদি, তবে এত যত্ন পরিশ্রম
কেন করে মর বলে আপন আপন ?
বুঝিতে না পারি মাের জনমিছে ভম,
হে স্বপ্ন যথার্থ মােরে দেখা স্বপন। •
চিন্তা মঞ্জরী।
ধ্যান।
যে ভাবেতে শকুন্তলা বসি তরুতলে
অনন্য-মানসে চিন্তে দুষ্মন্তের লাগি,
বাহ জ্ঞন শূন্য হায় ! এমনি বিভোর,
পশিল না কর্ণে তার সে ভীষণ সুর,
দুর্বাসার শাপ, বজ্র গম্ভীর নিঃস্বনে ;
সেই রূপ ভাৰ যদি মনেতে ধারণ
করিবারে পারে কেহ, তবে সে বুঝিৰে,
ধ্যানের কি অলৌকিক ক্ষমতা অসীম।
অথবা যে ভাবে সেই সরযু বানাতে
অনিমেষ নয়নে নেহারে রঘুনাথ,
নিস্পন্দ শরীর, বাম হস্ত বৃক্ষে তার,
রয়েছে স্থাপিত ঠিক যে ভাবে সে ভাবে-
নাই জ্ঞান কি যে কাৰ্য্য কি যে ৰেশ তার।
“লীন হল বৈকালিক আকাশের শােভা,
শীন হ’ল শােভা গােধূলীর ; সান্ধ্য ছায়া
ক্রমে ক্রমে গাতর হয়ে আবরিল
দি সৰ, আবরিল ছাদ , তবু চেয়ে .
আলােক সামান্য রূপা বালার দিকেতে,
এক ভাবে দাঁড়াইয়া চিত্ৰাপিত প্রায়।
এইরূপ ভাব যদি হয়ে থাকে কার,
ধ্যানের আশ্চর্য্য শক্তি বুঝিতে পারিবে।
সরলা-ক্ষত্রিয় কন্যা, দেবীমন্দীরের একজন ব্রাহ্মণ পুরােহিত ক?
প্রতিপালিতা। রঘুনাথের সহিত ইহার বিবাহ হয়। জীবনপ্রভাত।
হে ছাত্র ! একান্ত মনে তুমি কি কখন
জ্যামিতির সুকঠিন অনুশীলনেতে
হওনি চিন্তায় রত ? হ'য়ে থাক যদি,
শুননিত ডাক তব স্বজন গণের
অশন শয়ন তরে -“দ্বিতীয় প্রহর
নিশি এবে, এর পর জাগ্রত থাকিলে
হইৰে অসুখ তব ?” এই একাগ্র
ভাব তব,এতে ধ্যান-শিক্ষার সােপান।
করেছ কি শিক্ষাদান তুমি হে শিক্ষক।
অনাবিষ্ট ক্ষীণমেধা ছাত্রেরে কখন ?
খাক যদি, বার বার :ংশােধিত তারে
নিষ্ফল যতন করি, বনি নিপুণ
ভাবে কতু-কি উপায় অনুকূল হবে ?
না ভাবিয়া ফেলে ও দৈবের দুয়ারে
যদি তারে, সুশিক্ষ: বলিব না তােমা!
আর, যদি সে উপাঁ' ভেবে থাক তুমি,
দেখি তার ভাব গসি মিলাইয়া সব,
ধ্যানের আভাস তণে বুঝিয়াছ”কিছু।
সমর্পিত, বিচার ! তোমার করেতে
কঠিন বিচার ভার ! সুকৌশলে, যাহে,
মিথ্যা হয়ে সুসজ্জিত জন্মাইছে সদা
সন্দেহ সবার। মনে হব এ সময়
হবে নাকি সমুদিত চিন্তা সুগীর ?
কিরূপে সত্যের জয় – কিরূপেতে হায়
৭৮.
চিন্তা মঞ্জরী।
*
নির্দোষ নিষ্কৃতি পাৰে? নাহি হয় যদি,
জানিলাম আইনের দাস তুমি শুধু,
ধ্যানের মাহাত্ম বােধে নাহি শক্তি তব :
আর তুমি চিকিৎসক, প্রতিকার করু
যােগ কত ; কঠিন রােগীর সেবা কভু
করেছ কি তুমি ? ভুলি নিজ দেহ, পশি
রুগ্নদেহে, যেন তুমি নিজে রোগী হয়ে,
ভেবেছ কি একমনে রোগ-নিরূপণে?
ভাৰিয়া থাকিলে, ধ্যম শিখিবার তবে
ৰিাষনাহিক আর বৈদ্যরাজ তব।
সুন্দর আশ্চৰ্য ৰস্ব হেরেছ কি তুমি
কখন পাঠক ?নাহি হেরে থাক বদি
মনে কর সেই বস্তু সম্মুখে তােমার।
নিরখিছ নির্নিমেষ নেত্রে এক ভাবে
সৌন্দৰ্য্য তাহার তুমি ; দেখিতে দেখিতে
দেখিছনা যেন তুমি আর সে সৌন্দর্য্য
অঙ্কিত অন্তরে তব গভীর রূপেতে ;
ইন্দ্রিয় কতিহীন মন লিপ্ত ভায়;
চলে না চর , বলে না বদন
কিছু আর ফিরে নাক অচঞ্চল আঁখি,
এমনি বিমূ-চিত্র পুত্তলিকা মর্ত,
রয়েছ পঁড়িয়ে, কেৰা তুমি-কোথা তুমি-
নাই কিছু জ্ঞান -এই অনির্বচনীয়
ধ্যান।
ভব যে তােমার; এইরূপ জেন ধ্যান,
যদিও ক্ষণিক কিন্তু বড়ই কঠিন।
লভিতে উৎকৃষ্ট জ্ঞান বস্তু বিশেষের
শান্ত স্থির দৃঢ় ভাবে শুধু সে বিষয়ে
এক তান ভাবনা যে -সেই হয় ধ্যান ।
কি দর্শন কি বিজ্ঞান গণিত জ্যোতিষ :
ধ্যান-হ’তে জনম সবার; অলৌকিক
ধ্যান-ফল বেদ, ধ্যান কবির কল্পনা।
রাজনীতি, ধৰ্ম্মনীতি, ধ্যানমূল সৰ।
জপ তপ যজ্ঞ হোম পূজা উপাসনা,
সকলেতে ধ্যান, ধ্যান লক্ষ্য সকলের।
আনন্দ দায়ক ধান ভক্ত প্রেমিকের,
সাধকের সাধনার সিন্ধি সানুকূল,
যােগীত জনের যােগ-সমাধি সহায়।
ধ্যানের অদ্ভুত কাৰ্য অদ্ভুত শকতি,
প্রকৃতির গতিরোধ হয় ধান বলে,
হাদ পিণ্ড ক্রিয়া শূন্য, শােণিতের গতি
রুদ্ধ হয় নর দেহে ; ধ্যানের নিকট :
পরাভূত দুর্জয় বাসনা, চিত যেন
অচিত্তেতে পরিণত, বৃত্তিহীন হয়ে ।
ধ্যানের প্রভাবে প্রক্ত একাশিত হয়,
বিবেকের অ্যুদয়, বস্তুতত্ত্ব জ্ঞান,
অচিন্ত্য ঈশ্বর হয় চিতার বিষয়।
চিন্তা মঞ্জরী।
সাংখ্য জ্ঞান বৌদ্ধ জ্ঞান ধ্যানে সমুদিত
আলােকিত করিলেক সমগ্র ভুবন
দেখাইল সূক্ষ শক্তি স্কুলের জননী,
শূন্যে লয়, শূন্য হ'তে সবার বিকাশ।
দেখাই জ্ঞান বলে কিরূপে মানব
লভিতে সমর্থ হয় সে নিৰ্ব্বাণ পদ।
স্মৃতি বৃতি মেধা আদি বৃত্তি যে সকল
মানৰ মনের, মন সহ সমুদয়
কেন্দ্রীভূত হয় ধ্যান বলে হৃদয়ের
নিভৃত সূক্ষ্মেতে ; সেই সূক্ষে থাকি তা
ধ্যানের প্রভাবে করে শকতি সঞ্চয় ;
সময় মেতে পরে বিক্ষরিত হয়,
অতিক্ৰম করি বাধা বিঘ্ন রাশি শত,
অতুল দুর্ধর্ষ তেজে হয় প্রধাবিত,
জ্ঞানের আকাশে কিম্বা যশের সাগরে ।
অশ্বথ-পাদপ বীজ কত ক্ষুদ্র দেখ,
কত ক্ষুদ্র স্থানে থাকি মৃত্তিকার নীচে
প্রচ্ছন্ন ভপেতে রস তাপশক্তি নয় ;
অন্ধরিত প্রবর্ধিত হয়ে অবশেষে,
তুচ্ছভাবি শীত বাত অরিষ্ট সকলে,
নন্দোভেদ করি, করে শরীর বিস্তার
কত ক্ষুদ্র নিঝরিণী,--অন্ধকার ময়
ক্ষুদ্র স্থানে থাকি শক্তি করে রে গ্রহণ,
রাশি রাশি শিলাখণ্ড উপেক্ষা করিয়া,
।
ধ্যান।
ভাসাইয়া দেশ গ্রাম প্রবল প্রবাহে,
বিপুল কায়েতে মিশে সাগরেতে গিয়া :
মানবের মন-মধুকর-রাজ, সদা
বিষয়-ফুলের মধু পানেতে লােলুপ,
ইয়ি-মধুপ সৰ প্রভুভক্ত প্রজা,
আজ্ঞমাত্র পূর্ণ করে বাসনা রাজার।
কি জাতে কি স্বপনে সঙ্গে সঙ্গে তারা
অনুগামী সদাকাল ; কিন্তু ধ্যান কালে,
ধ্যেয় বস্তু আখাদনে রত থাকে সদা
মানবের মন, ভক্ত ইন্দ্রিয় সকল
প্রহরীর মত থাকি সহায়তা করে।
ধ্যান পর মানবের অবনীমণ্ডলে
কি আছে দুষ্কর কার্য্য ? অসম্ভব কিবা ?
• মন তার এক দিকে --অসাধ্য হলেও
সুসাধ্য হইবে তাহা পরমাণু হ'তে
বৃহত্তর বস্তু যত করায়ত্ত তার,
করতলগত যত পদার্থের মত।
বল বীৰ্য যশ মান সুদুলভ যাহা
নর ভাগ্যে, অযাচিত ভৰে সে করে
তারে সদা ; সমুদয় ঐশ্বর্যের তিনি
অধিকারী, কীর্তি দেবী গুণ-ক্রীত তঁার ।
ধেয় বস্তু একরূপ নহেত পাঠক।
ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যেতে ভিন্ন ভিন্ন রূপ।
ভগবদ্ভকত কোন সাধু মহাজন,
৮২ চিন্তা মঞ্জরী। - নানাবিধ উপচারে ইষ্ট দেবতার করিতেছে পূজা, ধনি নেত্রে নিরখিয়া সে আনন্দময়ী মূর্তি আপন হৃদয়ে, অতুল অনন্দ নীরে হতেছে মগন। রােমাঞ্চিত কলের কণ্ঠ রুদ্ধ তার, প্লাবিত হতেছে বক্ষ প্রেম ধারায় ; চাহে না সে ইত্ব শিব মুক্তিপদ, চাহে শুধু সেই ভাবে থাকিতে সতত, সে চরণ সরোজের মধুকর হয়ে করিবারে পান সদা সে রূপ মাধুরী। রাখিতে অতুল কীর্তি ভুবন ভিতরে কেহ করে কীৰ্ত্তিদেৰী ধ্যান, কোন নর- পূজা করে সরস্বতী বিদ্যর দেবীরে, লভিবারে শ্রেষ্ঠপদ বি দ্বজ্জন মঝে। স্বদেশ বৎসল কেহ স্বদেশ উদ্ধারে, নাশিতে অসুর তুল্য শত্রু সমুদায়, শিবজি, ওয়াশিংটন গ্যারিবল্ডি মত, ধ্যান করে অসুর-নাশিনী চামুণ্ডারে। মায়াধনা করে কেহ বিশ্বকৰ্ম্মা দেৰে অত্যুৎকৃষ্ট অভিনব যন্ত্রের নিশ্মাণে, দেখাইতে আপনার বুদ্ধি প্রখরতা। ধ্যানে মগ্ন নিউটন আতার পতনে, সুপ্রশস্ত, পরিষ্কৃত বিজ্ঞান জগতে, করিলেন ভাস্করের লুপ্তপ্রায় পথ। . ভস্বরাচাৰ্য-সুবিখ্যাত হিন্দু জ্যোতির্বিৎ।
সমে সমে' মহামন্ত্র জপিতে জপিতে,
মহামনা হানিম্যান ধ্যানে মগ্ন থাকি
# চিকিৎসা-মত করে প্রকাশ।
ওই দেখ জ্যোতির্বিদ নিশীথ নিশায়
চেয়ে আছে এক মনে আকাশের পানে,
গণিতেছে গ্রহ পতি অনন্ত সিন্ধুর
দু একটি ফেণাবৃত লহরীর মত ;
দেখিতেছে হ্রাস বৃদ্ধি হতেছে কাহার,
কাহার বা স্থান চ্যুতি, লক্ষ্য ভ্রষ্ট কেহ,
এক ভাবে—নাই দৃষ্টি অন্য দিকে তার
শূন্য দেহ রাখিয়া ধরায়, যেনরে সে
মিশে গেছে আকাশেতে,~-এও এক ধ্যান।
অরি দেখত বিসমার্ক গ্লাডপ্লোন কত,
নির্জন গৃহেতে বসি সুস্থির মানসে,
পরাশর অত্রি আৰ্য নেতৃগণ নত।
বিশাল সাম্রাজ্য নীতি চিন্তায় মগন ।
আবার অখ্যাত নামা কত মাইকেল
কাব্যের উদ্যানে বসি লয়ে,ফুলচ,
গাথিতেছে সুষতনে মালা এক মনে ;
নাইজ্ঞান আসিতেছে ধেয়ে তার দিকে
দরিদ্রতা তুফানের দুঃখের তরঙ্গ।
রণক্ষেত্রে শিবিরেতে কত বীরগণ,
বিরামদায়িনী নিদ্রা দেবীরে ভুলিয়া,
ভেবে ভেবে করিতেছে ব্যুহের রচনা--
চিন্তা মঞ্জরী।
কিরূপে বিপক্ষ-পক্ষ হবে পরাজিত,
সমবেত শক্তি জয়ে বোনাপার্ট যথা,
অথবা রক্ষিতে যথা জয়দ্রথে দ্রোণ
পুত্র শােকাতুর পার্থ-প্রতিজ্ঞ হইতে ।
শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত কত কূটাৰ্থ লইয়া,
মনে মনে চিন্তা তার করিতে করিতে,
চলিয়াছে দুই চার ছ ক্রোশের পথ,
দৃষ্টি নাই—জল পত্র হাতে মাত্র তার,
দৃষ্টি নাই—আসিতেছে শোচ-ক্রিয়া হেতু,
এ সকলি ধ্যান,ধ্যেয় পৃথক পৃথক।
করে থাকে বিচরণ কবিগণ সদা
ধ্যানের জগতে—কে কি ভাবে করে ধ্যান
বুঝিতে বিস্তর পরে কল্পনার বলে।
প্রবেশ করিয়া তার পরের অন্তরে,
পরের চরিত্র নয়ে খেলা করে সদা ;
আপন চরিত্র ভাব মিলায়ে কতক,
মার্জিত সজ্জিত করি বিবিধ প্রকারে ।
বুঝে বটে ধ্যান তারা, বুঝাইতে পারে
অপর জনের ধ্যান অপর জনেরে ;
কিন্তু তারা নিজ-ধ্যান নিজে নাহি, পায়ে,
পারে যদি, যােগিগণ শ্রেষ্ঠ তৰে কিসে?
প্রতিভার কাছে পূজা পাইবার আশা
ভয়েতে বলবতী রয়েছে তাদের,
ধ্যান ।
সে আশা থাকিতে কভু পারে কি তাহারা
আত্ম-তত্ত্ব বিষয়েতে হ’তে নিমগন ?
ৰুৰেছ কি ধ্যান তুমি বলহে পাঠক ?
দেখিলেত এ সকল, অতৃপ্ত যদ্যপি,
ওই দেখ হিমাদ্রির নির্জন করে
শক্তির মাধুরী যথা চির-বিরাজিত
-
যােগাসনে যােগীবর, বসিয়া একাকী,
নিমগ্ন গভীর ধ্যানে ; নিস্পন্দ নয়ন,
নিশ্চিত কলেবর-নিষ্কম্প কমল
নিবাত সলিলে যথা, ৰহেনাক আর
নিশ্বাস প্রশ্বাস বায়, গর, মৃত দেহ
যেন কেহ রেখেছে বসায়ে, কিন্তু না
মৃত তিনি-মৃত্যু জয় করিতে উদ্যত।
যে ঈশ্বর প্রেম সদা অমৃত স্বরূপ,
অনন্ত অক্ষয় চির-শান্তি প্রদায়ক,
দেবগণ যার লাগি লালায়িত সদা,
সে প্রেম-পীযুষ পানে সঞ্জীবিত তিনি।
হস্ত পদ মৃভবৎ যদিও শীতল,
ললাট মস্তক তার দেখ ঊষ্ণ কত ?
সমস্ত দেহের তাপ শক্তি এক হয়ে
হিয়াছে যেন শীর্ষ প্রদেশেতে ভঁর,
আসিছে অপূর্ব জ্যোতি সে স্থান হইতে ।
৮
চিন্তা মঞ্জরী।
এত মাত্র দেখিলাম বাহ ভাব তাঁর
অন্তরের ভাব আর জানিতে কি পাব।
আছে কি ক্ষমতা এত? আছে কি মােদের
বিশুদ্ধ নিৰ্ম্মল ভাব নিৰ্ম্মল মানস,
পবিত্র চরিত্র যাহা ধ্যানের সহায় ?
অথবা সে ঐকান্তিক ভক্তি পরমেশে,
সমুদ্র গােস্পদ তুল্য হয় আর বলে ?
কামনা-কষে মােরা কলুষিত সদা
আপনি বুঝিতে নাহি পারি আপনার
চঞ্চল মনের ভাব, কেমনে দানিতে
পাব কি যে ধ্যান ভার, কেমনে বুঝি
কি যে ভাব প্রত্যাহৃত মনের তাহার।
হয়ত সে ভাব ক্রমে ধীর সাবধানে
যাইতেছে সূক্ষ্মতম সূক্ষ্ম অম্বেষণে,
যেতে যেতে, ফিরিবারে চাহিছে আবার
বিদ্যুৎ
গতিতে স্থল বিষয়ের পানে,
'রূপ রস গন্ধ স্পর্শ শব্দ আস্বাদনে ;
বুবি তারে অহঙ্কার কহিছে কাতরে,
কোথা যাও মরিবারে মারিয়া মােদের,
তােমা ছাড়া হলে মােরা কভু না বাঁচিব,
জাল না কি সেথা গেলে কেহ নাহি ফিরে ?
বুঝি সে ভাৰ তঁার হতেছে বিস্তৃত
অষ্টীম বিশ্বের সীমা দেখির তরে,
ছিন্ন করি হৃদয় কেন্দ্রের গ্রন্থি সব ;
ধ্যান।
৮৭
ত্যজি জড় দেহ তার, ত্যজি ধরাতল,
দশদিক প্রসারিত হতেছে সমান ;
ছাড়ি কত ভূলােক খরগ লােক কত,
অভিনৰ জীব জন্তু গিরি নদী বন,
দেখিতে দেখিতে কত সূৰ্য্য চন্দ্র তারা,
কত কত বৃহত্তর মহত্তর থােক,
কোটি কোটি ব্রহ্মাণ্ড বিপুল,সমুদয়
অলৌকিক অভিনব আকার প্রকার,
অদ্ভুত রণ-মায়া সূত্রে স্তরে স্তরে
গ্রথিত সুন্দর বিশ্ব-দেহে বিশ্বেশের,
মূহুর্তে বিলুপ্ত কত, মুহুর্তে উদিত
পুন কত-হীরা মতি মণি মালা যথা
নর দেহে উজ্জ্বল আভায় চমকায়
ক্ষুণে ক্ষণে।
এ সকলে রাখি কেন্দ্র দিকে,
চলিছে সে ভাৰ ক্ৰমে প্রসারিত হয়ে,
দেখিতেছে সেইমত কিম্বা ততােধিক
অসংখ্য অসংখ্য আর কত কি রয়েছে-
অন্ত নাই তার। ক্ষণকাল বিস্ময়েতে--
স্তব্ধীভূত থাকি, আর নাহি চলিৰারে
চাহে সেই ভাৰ, পাছে হারাইয়া যায়,
কি জানি কি বুঝি পাৰিৰে না ৰ'লে,
এ অনন্ত বিশ্ব-বৃত্ত পরিধি বিহীন,
মানবের সাধ্য কিসে জানিয়ে পারে ।
০
চিন্তা মঞ্জরী। == না জানি বা সেই ভাৰ লিপ্ত আস্বাদনে অন্তরের অন্তস্তম প্রদেশের র আনন্দ হ্রদের সেই আনন্দ সলিল, ভেদ করি বহিস্থিত আবরণ সব অন্নময় প্রাণময় আদি কোষ যত- নারিকোেেদক পানে যেমতি মান, ছাড়াইয়া খােসা খােল আদি একে একে, মধ্যস্থিত জল তার লম অবশেষে। অথবা কোনই ভাব থাকেনা কো বুঝি ? ভাৰ কি থাকিতে পারে পমাত্ম ধ্যানে থাকে যদি সেই ভাব পরমাত্ম-নয়। কেমনে কি যে কি তার হতেছে অন্তরে, কি রূপে পারিব বল বুঝিবারে আর, বিষয়ের দাস মােরা, বিষয়ের ধ্যানে যাই চল পাঠক ত্বরায় ; কিবা ফল ভাবিয়া এসব এবে? বিলম্ব হইলে, বিমুখ হইবে প্রভু বিষয় আবার, কাজ নাই থেকে হেথা ধ্যান ভঙ্গ হবে। যম। লােহিত বসন, লােহিত নয়ন, নিবদ্ধ মুকুটে শির সুশােভন,
যম।
কৃষ্ণবর্ণ কয়, ভীষণ দর্শন
অসীম ক্ষমতা দেব তোমার।
নাই পক্ষপাত তােমার শাসনে,
নাই অব্যাহতি ধন ৰিতরণে,
তুমি ধৰ্ম্মরাজ না ভুল ক্রন্দনে,
অনুরােধ তুমি শুন না কার।
নহ নিদয় নহ দুরাচার,
যে ৰলে সে কভু ভাবে না তােমার
ন্যায়ের বিচার মহিমা অপার,
ধৰ্ম্ম দণ্ডে তুমি কর শাসন।
সদা সদাচার সদা সুবিচার
তুমি দেব তব করুণা অপার,
দেশকাল পাত্র রূপ বর্ণ আর,
কিছুতেই নাই ভেদ কল্পন।
০
জলধির জল কিম্বা সমীরণ,
উষর প্রদেশ, কানন ভীষণ,
কি তীর্থস্থান রাজ নিকেতন,
সকল স্থানেতে তবাধিকার।
শৈশৰ, ৰাৰ্ধক্য, অথবা যৌৰন,
সর্বকালে দীৰ কহ গ্রহণ,
চিন্তা মঞ্জরী।
হ’ল না কৰ্ত্তৰ কৰ্ম্ম সম্পাদন
বলিয়া কেহ না পায় নিস্তার ৫
হল না বলিয়া দুরাশা পূরণ,
করে নাই কেহ চরিত্র গঠন,
করে নাই কীৰ্ত্তি শুন্তের স্থাপন ;
ৰলিয়া..প্রতীক্ষা কভু না কর।
কি রাজা কি প্রজা কি ধনী নিধন,
মুখের অঙ্কেতে যাদের শয়ন ;
কিম্বা অশ্রনীরে ভাসে দুনয়ন,
সকলের পর ক্ষমতা ধর !
ফল ছায়াযুত মহাবৃক্ষ মত
করিছে যে দয়া দুঃখীরে সতত,
কিম্বা বিদ্যালােকে যারা অবিরত
নাশিছে মূখের অজ্ঞান-তম।
অথবা যাদের বীর দর্প ভরে
কম্পিত বসুধা থর থর থৰে,
আরােহিতে যারা যশের শিখরে,
তােমার নিকট কৃলি সম।
তপন কাঞ্চন জিনিয়া বরণ,
সুন্দর আকার সুন্দর গঠন,
যম।
মনােহর রূপ জগতে যে জন,
তারে তুমি দেব দেশ যেমন ;
সেইরূপ তুমি দেখ হে আবার
যে জন কুরূপ কুৎসিত আকার,
অপ্রিয় দর্শন অঙ্গীন-যার,
নাহিক পার্থক্য তব সদন।
অৰ্মাণ জাপানী ইংরেজ ফরাসী,
কিম্বা এ প্রাচীন ভারত নিবাসী,
কাশ্মিরী পাঞ্জাবী ক্ষীণ বঙ্গবাসী,
তুল্য মূল্য সৰে করে বহন।
শাক্তৰৌদ্ধ কিম্বা বৈষ্ণব ব্রাহ্মণ,
খৃষ্টধর্মাবলম্বী অথৰা যুবন,
সমভাবে সবে করিছ পালন,
অক্ষয় অতু তৰ শাসন।
ক্ষুদ্র মীর কীট পণ্ড পক্ষিগণ
সংসারে যতেক প্রাণী অপণন,
কেহই পারে না করিতে লঙ্ঘন
তােমার শাসন প্রতিহত।
চিন্তা মঞ্জরী।
দুর্দান্ত দুৰ্ব্ব ও দুর্ধর্ষ দুর্জয়
হিংস্র জন্তু সম যত দসু্যচয়,
রাজার শাসনে করেন। (কা ভর,
সংযত তােমার হতে সত।
না থাকিত যদি শাসন তােমার,
ৰাড়িত পাপের প্রবাহ ধরার,
হিংসা ক্রোধ লােভ কিম্বা অহঙ্কার
ভাবিত না ভ্রমে দাপন সীমা।
কোথায় সে বীর লঙ্কার রাণ,
কোথা সেকন্দর মহত্ত্ব-রঞ্জন,
অথৰা সিরাজ বীরত্ব-ভূষণ,
কোথায় তাদের গর্ব গরিমা।
কোথায় মামুদ কোথা তইমুর
কোথা আরঙ্গজেৰ অত্যাচারী ক্রুর
কিম্বা মােয়েল শিবজি চতুর,
ইতিহাসে খ্যাত রয়েছে যারা।
শতজনে যারা রেখেছে দমনে,
দমিত তারাও তোমার সদনে,
তােমার শাসন মানত পানলে
করেছে পালন সকলে তারা ।
০
যম।
নিকৰ পাষাণে অথবা অনলে,
সুবৰ্ণ রজত মানৰ সকলে
যেমতি পরীক্ষা করে ধরাতলে,
তেমতি পরীক্ষা জীৰে কৰু
লইয়া তাহার প্রকৃতি শােধনে
রাখহ তাহারে অসিপত্র বনে,
অনল হ্রদেতে, মুর তাড়নে,
ভয় প্রদর্শনে মালিন্য হয়।
হায়রে মায়াতে অন্ধ জনগণ
স্বজন-বিয়ােগে শূন্য-প্ৰাণমন,
মম পীড়ায় রয়ে রােদন,
বুঝিয়া তােমা কত কি বলে
কৰ্ত্তৰে উদাস জীবনে হতাশ,
ইচ্ছা করে তারা ছাড়িতে আবাস,
ভাঙ্গিয়া গিয়াছে সব সুখ-আশ
যেন প্রিয়জন সহিত চলে।
শোক দুখে হতে করিতে মােচন,
কে আছে ধরায় তোমার মতন।
অসহ্য যাতনা জীরে যখন
এমনি করহ কোলেতে তারে।
চিন্তা মঞ্জরী।
কিন্তু তাপ হরণ কারণ,
যার বলে তব অক্ষুন্ন শাসন,
তাহার কোলেতে লইতে শরণ
মানৰ কখন নাহি কি পারে?
প্রকৃতির সান্ত্বনা।
নিশীখে নিন গৃহে কে তুমি মানব ?
কোমল শয়নপরে
ৰারেক শয়ন ক'রে
উঠিছ বসিছ, একি! নিদ্ৰা নাই তব ?
কুটি বিকাশে তব ললাট কুঞ্চিত,
হৃদয়ের ভাব যেন
প্রকটিত হয় হেন,
চিন্তাৰিযে হতেছ কি এত জর্জরিত ?
কে দিবে সান্ত্বনা ? চাও সান্ত্বনা কি কর ?
খুলি বাতায়ন দ্বার,
চাহ দেখি একর
নিৰিড় আঁর পানে নীৰ নিশার।
বহিতেছে মৃদু মিঞ্চ নৈশ সমীরণ,
প্রকৃতির সান্ত্বনা ।
উপরে তারকারাজি,
অপূৰ্ব্ব শােভায় সাজি,
করিতেছে তব প্রতি কর বরিষণ।
স্বর্গধাম হতে যেন দেবতা সকল,
বুঝিয়া তােমার মন,
হাসিতেছে ক্ষণে ক্ষণ;
লজ্জিত শঙ্কিত তুমি হতেছ কেৰল !
ইঙ্গিতে কহিছে তারা অজ্ঞাত ভাষায়,
“কেন নর চিন্তা রত?
অশান্তিতে অবিরত,
শক্তির অতীত কাৰ্য্য করিবারে চায় ?*
“সরল সত্যের পথ করি,পরিহার
কেন হিংসা কেন দেব,
পরে কপটতা বেশ,
আত্মগ্লানি অনুতাপে দগ্ধ অনিৰার ?
সেই ভাষা হাসি সহ নিস্তব্ধে শাসিয়া,
মিশিয়া সমীর সনে,
চুপে চুপে পশি মনে,
জুড়াইছে জ্বালা তৰ যন্ত্রণা নাশিয়া।
চিন্তা মঞ্জরী।
নূতন ভাবেতে তােমা করিছে গঠন,
সেই তুমি যেন নও,
অপর কেহ ৰা হও--
চিন্তা বিবর্জিত এৰে শাভিপুর্ণ মন।
হাস্যময়ী বিভাবরী কৌমুদী মালায়,
শশধর নীলাম্বরে
রূপে দিশি আলাে করে,
বিতরিছে সুধারাশি তৃষিত ধরায়।
যতই সন্তপ্ত তব হউক পরাণ,
হের ঐ শশী পানে,
সান্ত্বনা পাইবে প্রাণে,
ভুলে যাবে দুখে তাপ যত অপমান ;
ভুলে যাবে সংসারের যত পাপাচার,
বার বার চাবে যত
বিমুগ্ধ হইৰে তত,
উখলিবে হৃদে তব আনন্দ অপার।
‘বিস্ময়ে বলিৰে তারে কতই সুন্দর।
নি শশী যেন হাসি
কবে তােম, “ধরা বাসি।
আমা চেয়ে আরো কত আছে মনােহর।”
প্রকৃতির সান্ত্বনা ।
১৭
পর কাৰ্য্যে যত মেরা যাহার আদেশে,
তঁাহারি সৌন্দৰ্য্য বিন্দু
কণামাত্র আমি ইন্দু
কর্তব্য পালনে ভ্রমি আপন প্রদেশে।
দারা পুত্র ত্যজি তােমা গিয়াছে চলিয়া
নগরে নগরে কত
ছুটিতেছ অবিরত,
নিদারুণ শশাকে তুমি ব্যাকুল হইয়া ;
মরীচিকা পাশে কর জলের কামনা ?
নরে কি বুঝিবে তত
মনের বেদনা যত,
লােকালয়ে শান্তি-আশা শুধু বিড়ম্বনা।
এসএই নদীতটে কর দরশন,
কল কল করি জল
বহিতেছে অবিরল,
বহিতেছে স্নাত হয়ে মৃদু সমীরণ :
বস হেথা ক্ষণকাল সেই সমীরণ
তব দেহ পরশিয়া,
যেন হাত বুলাইয়া,
করিবে তোমার যত সন্তাপ হরণ।
চিন্তা মঞ্জুরী।
কে আছে নদীর মত জুড়াতে জীবন?
কেন হায়! নরগণ
আবিলতা আবর্জন
তবু করে তার পূত গাত্রে নিক্ষেপণ
কিন্তু নদী তাহে কিছু নাহি দেয় মন
সরাইয়া সে সকল
করে দান স্বচ্ছ জল ;
দয়া সহিষ্ণুতা-পূর্ণ নদীর জীবন।
ওই দেখ তরুবর সজ্জিত শােভায়,
বুঝি যেন তব ব্যথা
শির নাড়ি কয় কথা,
দিতেছে সান্ত্বনা যেন নীরবে তােমায়।
পুঞ্জীকৃত ধন রাখি তুমিহে কৃপণ,
ভার-বাহী পঞ্চমত,
আস্বাদ না পাও তত,
ভয়ে ভয়ে চিন্তাদুঃখে কাটাও জীবন।
তুমিও এসনা, তরু দিবেহে আশ্রয়,
দিবে তার ধন যত
অযাচিত অবিরত,
দেখিবে কি শান্তিপূর্ণ তরুর হৃদয়।
প্রকৃতির সান্ত্বনা।
* তৰফলে কে জিত,
তুমি অভিমানী নর,
সহে না কথার ভর,
স্বল্পেতে ত্যজিতে চাও অমূল্য পরাণ ।
পর্বতের পাদদেশে চল একবার,
দেখ সে প্রকাণ্ড কায়
ভেদিয়া গগণ গায়,
রহিয়াছে অবনত করি শির তার,
গুৰ্ব্ব নাই-বজ্রাঘাতে সতত সুস্থির,
কত ক্ষুদ্র তুমি তার,
পিলিকা হস্তী আর,
তবে কেন হও ক্ষুব্ধ সহজে অধীর ।
কিছুকাল যদি হেথা কর তুমি বাস।
থাকিবে না অধরতা,
পাবে শান্তি সরলতা,
হইবে হৃদয় উচ্চ প্রীতির নিবাস।
সতত ব্যথিত তুমি মরম পীড়ায়,
যথা যার কাছে যাও,
সান্ত্বনা নাহিক পাও,
কে আছে-বুঝায়ে তর যন্ত্রণা জুড়ায় ;
চিন্তা মঞ্জুরী।
কে আছে এ ধরাতলে ? পাবে কি কাহান্তে,
রােগেতে যে নহে শৰ্ণ,
শােকে নয় কভু জীর্ণ,
কামনা কলঙ্ক ছায়া স্পর্শেনি যাহারে ?
হায় রে ! যে জন সদা আপনি কাতর,
সে কেমনে পারে বল,
অপরের অশ্রু জল
মুছাইতে ভাল রূপ ; ছার সে অন্তর।
সরল সুন্দর এই শােভা প্রকৃতির
নিরখিলে একবার
মুগ্ধ মন নহে কার ?
কার না তাপিত প্রাণ হয় রে শীতল ?
কুসুমিত তরুলতা গহন কানন,
বিমল সরসী-জল
শােভিত কমল দল,
অথবা রঞ্জিত মেঘে আবৃত গগন,
রয়েছে সান্ত্বনা ধারা সকলে সমান,
পবিত্র, মাধুৰ্যময়,
কামনা-মিশ্রিত নয়,
স্বার্থের নালিন্য তাহে নাহি পায় স্থান ;
ঈশ্বরে বিশ্বাস।
১০১
আপনি প্রকৃতি তাহা করিছে প্রদান
যত চায় তত পায়
ফিরে কেহ নাহি যায়
আকাঙ্ক্ষা পূরিয়া পানে, স্নিগ্ধ কর প্রাণ।
ঈশ্বরে বিশ্বাস।
দুস্তর সংসার-সিন্ধু বিষম সঙ্কট স্থান
মানবের দেহ তায় ক্ষুদ্র তরী ভাসমান ।
দুইটী প্রধান শ্রোত—সুখ দুঃখ সদা তায়
তরঙ্গে তরঙ্গে রঙ্গে খরতর বেগে ধায়।
ভীষণ বাড়বানল অনুতাপ রূপে কত
প্রজ্বলিত স্থানে স্থানে, দহে তরী অবিরত।
পাপ পুণ্য গন্ধ বয় ; প্রলােভন সমীরণে
কিবা পাপ কিবা পুণ্য সুকঠিন নিরূপণে ।
ভান্তি কুটিকা, যেন মরীচিকা মরুদেশে
আবিভূতা প্রতিক্ষণ মনােহর নানা বেশে;
কখন বালুকাময় চররূপে উপনীত,
আশ্রয়ের স্থল বলে করে নরে প্রতারিত।
রমণীয় উপকূলরূপে কভু সমাগত,
চুম্বক পৰ্বতে শেষে হয় কিন্তু পরিণত।
বিঘূর্ণিত জলগতি সে সাগরে অজ্ঞানতা,
মােহের আবর্ভে করে তমরূপে গভীর।
চিন্তা মঞ্জুরী।
মাৎসর্য্যরূপ যত হিংস্র জলচরগণ,
লুক্কায়িত থাকি তারা করে তরী আক্রমণ।
যদি এ দুস্তর সিন্ধু প্রয়াণে থাকে প্রয়াস,
অচল-অটলভাবে কর ঈশ্বরে বিশ্বাস।
সে বিশ্বাসে দ্বিধা জ্ঞান করে যদি কোনজন,
অমনি অতল জলে হয় সেই নিমগন।
ভাসুক তােমার দেহ মৃদু স্রোতের হিল্লোলে,
পড়ুক পড়ক কিম্বা দুঃখ ভীষণ কল্লোলে,
ডুবিবে না কভু তুমি, হইবে না দিশাহারা,
ঈশ্বর-বিশ্বাস রূপ যদি থাকে ধ্রুবতারা।
সেই ধ্রুবতারা তুমি একমাত্র লক্ষ্য করি,
কুলহীন পারাপারে বহিয়াও দেহ তরি,
বিবেকের কর্ণ তব হইবে না বিচলিত,
কর্তব্যের দাড় আর কভু হবে না স্খলিত।
দুলুক প্রবৃত্তি-পাল গন্ধ প্রলােভবায়
মানস-মাস্তুল তব টলিবে না কভু তায়।
সরে যাবে কুম্ভীরাদি, কুয়াসা না রবে আর,
পড়িবেনা আধৰ্ত্তনে ধীরে ধীরে দিবে পার।
৫
ভিক্টোরিয়ার স্বর্গারােহণ ।
সহসা টলিল হিমাদ্রি অচল
উছলি উঠিল জলধি-জল
ভিক্টোরিয়ার স্বর্গারােহণ। হইল অদৃশ্য মিহির মণ্ডল আঁধারে আচ্ছন্ন গগনতল পুণ্যবতী নারী রাজরাজেশ্বরী ভিক্টোরিয়ার আজ লীলা সাঙ্গ হ’ল, ত্যজিল নশ্বর শরীর হার। ২ মুহূর্ত নিস্তব্ধ, নীরব মেদিনী, স্তব্ধ সমীরণ মুহূৰ্ত্ত তরে ; মুহূর্ত নিশ্চল যত স্রোতস্বিনী, নীরব বিহঙ্গ পাদপ’পর ; চকিত, স্তম্ভিত, স্থাবর-জঙ্গম চেতনাবিহীম অচেতনসম, অক্ষম বহনে শােকের ভার। মুহূর্তের পর প্রলয় পবন বহিতে লাগিল আপন হারা, মুহূর্তের পর নিনাদি ভীষণ বর্ষিল বারিদ সলিল ধারা। শত শত, শুষ্ক উত্তপ্ত উচ্ছসিক, এবারেবুহখিস সহস্র হৃদয় ভরিল দুখে। ৪ শত অশ্রু ধারা বহিতে লাগিল, উঠিল চৌদিকে ক্রন্দনরােল-
চিন্তা মঞ্জুরী ।
“হায়! দয়াময়ী মােদের ত্যজিল,
মা হারা হইনু,—শুধু এ বােল
কে দিবে অভয় করিবে যতন,
পুত্ৰনির্বিশেষে পালিবে এখন,
কে আর মােদের রাখিবে সুখে?
কে রাখিবে এবে ভারত-বাসীরে
সদয় ঘােষণা করিয়া দান,
বিজিত ঘৃণিত দলিত জাতিরে
কে তুষিবে আর করিয়া মান
প্রায়—স্বাধীনতা স্বায়ত্ত শাসন, .
কার কাছে আর চা’বে প্রজাগণ,
কার কাছে হায় এখন যাবে?”
সহসা আবার বিমল সুন্দর
আলােকে ছাইল বিমানপথ ;
বিস্ময়ে চাহিয়া দেখে যত নর
জ্যোতির্ময় এক অপূর্ব রথ,
স্বর্গীয় সৌরভে পূরিল ভুবন,
জ্যোতিষ্কমণ্ডল দিল দরশন
বহিল সমীর প্রশান্ত ভাবে।
র
ভিক্টোরিয়ার স্বর্গারােহণ।
৭
সে রথের আগে সুরবালাগণ,
মন্দারের মালা, চামর করে,
দেবদূতসহ করিছে কীৰ্ত্তন
ভিক্টোরিয়াশ পুলক ভরে,
“এস রাজেশ্বরি, কি কাজ ধরায়
উন্মুক্ত ত্রিদিব এসহ ত্বরায়
সিংহাসন তব অমর ধামে।
তুমি ভিক্টোরিয়া সগুণের খনি,
রবে তব কীর্তি-গৌরব ভবে,
প্রাতঃস্মরণীয় নারীকুলমণি
বলিয়া তােমায় পূজিবে সবে,
ভকত প্রজার করুণ রােদনে
বাড়িবে মমতা ; এনােনা শ্রবণে,
এস সতি। চল পতির বামে।
;
সুযশপূরিত সাম্রাজ্যশাসনে
প্রকৃতিপুঞ্জের মঙ্গল তরে
সাধিয়াছ তুমি কত প্রাণপণে
শিক্ষা, শিল্প, জ্ঞান, বিস্তার করে,
চিন্তা মধুরী।
সহিয়াছ কত অম্লান বদনে
সহিতে হবে না আর ত জীবনে ;
ধরায় তােমার লীলার শেষ।
সারদার সনে ওভদা কমলা
রয়েছে মিলিত তােমার গুণে
ক্রীত দাসী যত চঞ্চলা চপলা
কাৰ্য্য করে তব আদেশ শুনে।
সব যা' তব হয়েছে সাধিত।
•. যথা চির শান্তি আছে-বিরাজিত
রবেনাক শােক চিন্তার লেশ।
গায় দূতগণ করি যােড়পাণি,-
“আসিয়াছি মাত তােমায় ল’তে”
অলক্ষ্যে অমনি বরদেহ প্রাণী,
দিব্য দেহ ধরি উঠিল রথে ;
অপূৰ্ব কিরণে ধরা আলােকিল,
দ্বিগুণ সৌরভে দিশি আমােদিল,
বর্ষিল ত্রিদিব কুসুম রাশি।
১২
দ্যুতিময় রথ দ্যুতিতে মিশায়
দেখিলা কৃতান্ত বিস্ময় মানি,
বিবেকানন্দের দেহত্যাগে।
ছাহাকার পুনঃ উঠিল ধরায়
অমনি হইল আকাশবাণী ।
“ব’স এডােয়ার্ড মাতৃ সিংহাসনে,
বাড়াও গৌরব ন্যায়ের শাসনে,
কিননা না কলঙ্ক, সুষশ নাশি।
অয়ি রাজেন্দ্রাণি। আলেকজাণ্ডারে
সাধ প্রজাহিত স্বামীর সাতে,
ক্ষমা, দয়া, শান্তি, ভুলনাক কারে,
হােক তব যশঃ অক্ষয় যাতে,
কেঁদনা ভেবনা হে কুমারগণ
যাও কর্তব্যেতে, কহ প্রজাগণ
“জয় এডােয়ার্ড সমান ধরে।
১৪
আকার নীরব, নীরব সকল
বিস্মিত মানস বিমাজগতি,
আনন্দে বিষাদে চিন্তায় বিঘল
ফিরিল আবার ভূতল প্রতি।
“জয় ভিক্টোরিয়া, এভােয়ার্ড জয়”
সঘনে বদনে উচ্চারিত হয়,
মিলিত গভীর উচ্ছাস ভরে।
চিন্তা মঞ্জরী।
বিবেকানন্দের দেহত্যাগে।
বিলীন বিবেকানন্দ ব্রহ্মানন্দ পারাবারে,
কে বাজাবে বেদবীণা সুমধুর ঝঙ্কারে !
উচ্চ ভাৰ, উচ্চ কৰ্ম্ম, সনাতন আৰ্য্যধৰ্ম্ম,
জানি আশ্রয় আর করিবে বা কাহারে ?
বিলীন বিবেকানন্দ ব্রহ্মানন্দ পারাবারে।
বিষয় বিপুল বনে কেৱা পারে থাকিবারে ?
আপনি আপন কাছে যড় রিপু হুঙ্কারে ?
ভােগ সুখ পদ্ম-বনে ধায় মন বিচরণে,
কে রােধিবে গতি তার জ্ঞানাঙ্কুশ প্রহারে ?
বিলীন বিবেকানন্দ ব্রহ্মানন্দ পারাবারে।
বিমথি বেদান্ত সিন্ধু ল’য়ে জ্ঞানামৃতধারে
কেবা বিলাইবে আর তৃষ্ণাতুর ও ধরারে ?
কি নর, কি নারীগণে, শিক্ষিত সুবিজ্ঞজনে,
বিমােহনী বক্তৃতায় মােহিতে বল কে পারে?
বিলীন বিবেকানন্দ ব্রহ্মানন্দ পারাবারে।
দার্শনিক প্রশ্নজাল তীক্ষ্ণ বুদ্ধি অসিধারে ?
বিখণ্ডিবে কে আর অতর্কিত বিচারে !
সিকাগাের-জগতের মহাসভা ধরমের,
কে করিবে সুসৌষ্ঠব সমুজ্জ্বল প্রকারে।
বিলীন বিবেকানন্দ ব্রহ্মানন্দ পারাবারে।
বিবেকানন্দের দেহত্যাগে।
ফৰ্ম্মে কৰ্ম্ম, জ্ঞানে জ্ঞান, কেবা চাবে মিশাবারে,
বৰ্দ্ধিতে সহানুভূতি পতিতের উদ্ধারে ?
ধৰ্ম্মেতে অধৰ্ম্মাচার, প্রলােভন অত্যাচার,
স্বাধীন সুদৃঢ় মনে বিঘােষিতে কে পারে ?
বিলীন বিবেকানন্দ ব্রহ্মানন্দ পারাবারে।
হিংসক সংস্কারহীন একটী দেশ মাঝারে,
শঙ্কর চৈতন্য শুধু তত্ত্ব-সুধা প্রচারে ;
সমুন্নত নানাস্থানে, কে তুষিবে জ্ঞান দানে,
কেশব অধিক শক্তি দিবে আর কাহারে ?
বিলীন বিবেকানন্দ ব্রহ্মানন্দ পারাবারে।
সত্যনিষ্ঠা, ব্রহ্মচর্য্য, তপােবল, একাধারে,
অনন্তে অসীম প্রেম পাইবে না কোথাও রে ।
সুগভীর শাস্ত্রজ্ঞান গুরুবাক্যে সদা ধ্যান
অটল বিশ্বাস ধৰ্ম্মে কোথা আছে তুলারে ?
বিলীন বিবেকানন্দ ব্রহ্মানন্দ পারাবারে ।
পাইয়া উজ্জ্বল রত্ন থাকিয়া এ অন্ধকারে,
অভাগ্য ভারত আজি হারাইল তাহারে ;-
নবীন নধর মূর্তি, প্রদীপ্ত প্রতিভা ফুর্তি,
সারল্যের সাচে গড়া সৌকুমাৰ্য্যে মাখারে ।
বিলীন বিবেকানন্দ ব্রহ্মানন্দ পারাবারে !
চিন্তা মঞ্জুরী ।
স্বভাব সুন্দরাকৃতি মহিমায় মণ্ডিতারে,
তারুণ্যে প্রবীণ্যে তায় কারুণ্যের আভারে ?
দৃষ্টিতে কি সরলতা, ভাষায় কি মধুরতা,
ব্যবহারে কি বিনর সৌজন্যেতে ভরারে !
বিলীন বিবেকানন্দ ব্রহ্মানন্দ পারাবারে ।
হলেও এ রত্ন জড় খনির তিমিরাগারে
হয়না সম্যক্ প্রভা বিকীরণ যথারে
তবু নিজ শক্তি বলে, ছড়া’য়েছে ভূমণ্ডলে,
সুশীতল, সুকোমল, সুবিমল বিভারে ?
বিলীন বিবেকানন্দ ব্রহ্মানন্দ পারাবারে।
গাইবে সহস্র দেশ সে বিভার মহিমারে
অজস্র ঝরিবে যায় শান্তিসুধা-ধারারে ।
গাইয়া সহস্র ভাষা, সফল করিবে আশা,
গাবে নাকি বঙ্গবাসী সে মহিমা গাথারে ?
বিলীন বিবেকানন্দ ব্রহ্মানন্দ পারাবারে!
এ রত্ন আপনা হ'তে আসে যায় এ সংসারে
সত্য শক্তি সঞ্চারিতে জীর্ণ দেহকারে।
এ রত্নের নাহি মূল, স্বরগেতে নাই তুল,
অপার্থিব অনুপম অপরূপ শােভারে !
লীন বিবেকানন্দ ব্রহ্মানন্দু পারে ।
ভারতে ভারতীর আগমন।
ধরষের পর বরষে আবার
ভাতিল অম্বরে কিরণ রেখা,
অতুল মুরতি দয়া মহিমার
রাতুল চরণ যেতেছে দেখা।
বরষের পর ঘুচিল আঁধার
পূরং’তে জুড়া’তে ভকত আশ,
আইল ভারতে ভারতী আবার
ত্যজিয়া সুখের ত্রিদিববাস।
অমল ধবল উজল বরণ
শােভিল সুন্দর আলােকি দিশি,
নবীন ভূষণে হাসিল ভুবন
নবীন ঊষার কিরণে মিশি ।
নবীন মুকুল তরু শাখা’পর
বসিয়া কোকিল মধুর গায়,
নবীন-প্ৰন্থনে বসিয়া ভ্রমর
দুলিছে মৃদুল মধুর বায়।
নবীন বসনা লতিকা হেলিয়া
পড়িছে নবীন মঞ্জরী-ভারে,
নবীন পাদপ আদরে তুলিয়া
রিছে অমনি সােহগে তাৰে ।
চিন্তা মঞ্জুরী।
কাননে কাননে বিহঙ্গম গায়,
নিকুঞ্জে নিকুঞ্জে ফুটিছে ফুল,
গুঞ্জরি গুঞ্জরি মধুর আশায়
পুঞ্জে পুঞ্জে ঘায় মধুপকুল।
সবাই আজিরে আনন্দে মগন
গাইছে দেবীর মহিমা সবে
মূখ যাঁর পদ করিয়া স্মরণ
অমর হইয়ে রয়েছে ভবে।
বালক বালিকা পুলকিত মন
তুলিছে কুসুম ভরিয়া ডাল,
পূজিবারে ওই রাতুল চরণ
উল্লাসে অানন্দে গাঁথিছে মালা
কেনরে মানা অলস-বিহ্বল
কেনরে নীরব, জাগরে ত্বরা
পুজিতে মায়ের চরণ-কমল
দেখরে জগৎ উৎসাহ ভরা।
আন শৈশবের বিমল বিশ্বাস,
সরল প্রাণের ব্যাকুল টান ।
চলরে চলরে পূরাইতে আশ
করিয়ে তাহার মহিমা গান
ফুটাও হৃদয়ে ভক্তিশতদলে,
বসাও মায়ের মুরতি তায়—
দোলাও প্রেমের মধুর হিল্লোলে
তুলিয়ে সরস উৎসাহ বায়।
কমলে রাতুল কমল যুগল
পার যদি মন করিতে ধ্যান,
তবেত হবে রে জীবন সফল,
পূর্ণ পূজা তবে হবে রে জ্ঞান
স্তোত্র।
জয় বিশ্ব-আত্মা
জয় বিশ্বধর
তুমি হর্তা কর্তা
বিশ্বের বিধাতা
বিশ্ব পিতা মাতা
তুমি বিশ্বভ্রাতা
জয় জয় বিভু নিত্য নিরঞ্জন।
B
জয় বিশ্বদেহ
জয় বিশ্বব্যাপী
সৰ্ব্ব-গত সৰ্ব্ব
বিশ্ব নিকেতন,
বিশ্ব বিমােহন,
কারণ-কারণ,
জয় জয় প্রভু সত্য সনাতন
১১৪,
চিন্তা মঞ্জুরী
সৃজন, পালন, বিনাশ সাধন,
কটাক্ষে তােমার হয় সংঘটন,
অনাদি নিধন ত্ৰিতাপ হরণ
হতেছে হউক ইচ্ছাপূর্ণ তব ?
গুণত্রয়াতীত গুণ-বিমণ্ডিত,
কৰ্ম্ম লিপ্ত তুমি কৰ্ম্ম বিবর্জিত,
জ্ঞান বুদ্ধি যত হয় পরাজিত
এ রহস্য তব বুঝিতে হে ভব?
অনন্ত অসীম তুমি নিরাকার,
অনন্ত মহিম তুমি নির্বিকার,
স্বল্প বুদ্ধির সসীম সাকার
জয় জয় সৰ্ব্ব ঐশ্বৰ্য ভূষণ।
এ অনন্ত বিশ্ব পরিধি বিহীন ।
কে জানে তাহার কোথা কেন্দ্র লীন,
আদি শক্তিরূপে সে কেন্দ্রে আসীন
কর তুমি তায় শক্তি সঞ্চালন।
৫
অনন্ত উৎস সে কেন্দ্র তােমার,
অনন্ত শকতি সৌন্দৰ্য্য দয়ার
প্রেম, শান্তি, ক্ষমা কতই যে তার
রূপ রস আদি হতেছে ক্ষরণ
স্তোত্র।
বিন্দু বিন্দু ক্ৰমে সে উৎস হইতে
আব্ৰহ্ম কীটাণু সমগ্র প্রাণীতে
জল স্থল ব্যোম বালুকারাশিতে
বিন্দু বিন্দু হয়ে হতেছে পতন।
ঘাের অন্ধকার অমা নিশিথিনী,
কল্পান্ত কালের আভাস-দায়িনী,
নীরবে জীবের শব্দ বিঘাতিনী,
নীরবে সে উৎস বিন্দুগুণ গায়।
উষার বিমল শীতল বরণ
মধ্যাহ্ন মার্তণ্ড উজ্জ্বল কিরণ
প্রদোষ প্রমােদ প্রভা সুশােভন
প্রতিভাত সেই বিন্দুর প্রভায় ।
ভাতিছে জ্যোতিষ্ক নিচয় আকাশে
সুনীল সাগরে দীপাবলি ভাসে
সে উৎস বিন্দুর মহিমা প্রকাশে
জ্বলন্ত অক্ষরে মহিমা-নিলয় -
E
পাইয়া তােমার সে বিন্দুর বিন্দু
অনির্বচনীয় সুধা ক্ষরে ইন্দু,
উচ্ছাসে আবেগে উথলয় সিন্ধু
কি গভীর ভাবে ওহে ভাবময়।
চিন্তা মঞ্জুরী ।
সে বিন্দুর কণা সংযােগ উল্লাসে
জলধর কোলে সৌদামিনী হাসে
জল ধনু তনু সুন্দর প্রকাশে
প্রকাশে অনন্ত সৌন্দৰ্য্য তােমার।
বেদ উপনিষৎ শ্রুতি স্মৃতি যত
পুরাণ কোরাণ আগমাদি কত
সে বিন্দুর বলে গায় অবিরত
প্রভাব তােমার অসীম অপার ।
নিবিড় বারিদ গগনে ঢাকিছে,
প্রবল পবন সঘনে বহিছে,
অশনি নিনাদে জীবেরে জাসিছে,
যেন রে প্রলয়ে পৃথিবী গরাসে।
কভু ভূকম্পিত প্রাণিগণ ভীত
ভূতলে প্রােথিত কছু বিদারিত
সলিল প্লাবিত ধূনাগ্নি উখিত
তব উগ্র শক্তি-কণা পরকাশে।
অমল ধবল তুষার শােভন
অথবা বালার্ক বরণ মতন
ভাবিয়া কেহ বা তােমার বরণ
শ্বেত রক্ত রঙ্গে তব মূর্তি গড়ে।
স্তোত্র।
গলিত কষিত কাঞ্চন ছাকিয়া
অতসী সুষমা হরণ করিয়া
মনােমত করি আকৃতি আঁকিয়া
যত ভক্তজন তােমা পূজা করে৷
নীল নীরদের লাবণ্য-চাতুরী
অপরাজিতার নীলিম-মাধুরী
নবদুৰ্ব্বাদল শােভা করি চুরি
নেহারে কেহবা কিরূপ তােমারি।
অনুপম তব মােহন মূরতি
আঁকিতে নরের আছে কি শকতি
প্রকৃতির অঙ্গ হেরি মুগ্ধ অতি
ভাবে সে তােমায় তাই অনুকারি
অনন্ত অচিন্ত্য ও রূপ বরণ,
অদৃশ্য অস্পর্শ তোমার গঠন,
অনন্ত অবােধ্য তােমার বচন
অবস্থান তুমি কর সৰ্ব্বস্থানে।
চৈতন্য-স্বরূপ তব কলেবর,
স্থাবর জঙ্গম ভূচর খেচর
জল স্থল আদি যত চরাচর
সজীব চেতন তব বিদ্যমান।
০১৮
চিন্তা মঞ্জরী।
গগনে গগনে ভুবনে ভুবনে,
ভূধরে সাগরে নদী প্রবনে,
কুসুমিত তরু লতার দোলনে
বিয়াজে তােমার করুণ অপার ।
কোকিল কূজনে, শিখীর নৰ্ত্তনে,
কেশরী বিক্রমে, গজের গমনে,
মানব মস্তিষ্কে, হরিণ নয়নে
শকতি-কৌশল কতই তােমার।
তব হাসি কণা কুসুম-সুষমা,
সূৰ্য্য তব জ্যোতি কণার উপম',
আনন্দ কণিকা পূরণ চন্দ্রমা,
পূৰ্ণানন্দ তুমি চিদানন্দ রূপ।
ঘুমন্ত শিশুর প্রশান্ত আনন
সারল্যের তব ক্ষুদ্র নিদর্শন,
ক্ষমা দয়া গুণ তব অতুলন,
প্রেম তব সদা অমৃত স্বরূপ।
।
.
সতীর পতির প্রতি প্রীতি আশ
হবে না সমান তব প্রেম পাশ,
জননীর দয়া সন্তান সকাশ
হবে না তােমার দয়ার সমান
স্তোত্র।
অকৃত্রিম প্রেম অমৃত তােমার
সতত পবিত্র অসীম অপার
অকৃত্ৰিম ক্ষমা দয়া অনিবার
কোন কালে ভাব নাই প্রতিদান।
বিগত কামনা যােগীর ভাবনা
বিশুদ্ধ জ্ঞানীর সত্যের ধারণা
ভকত জনার হৃদয়-বাসনা
কল্পতরু তুমি ভক্ত কামনার।
জ্ঞানের তোমার না হয় ধারণা,
প্যানের তোমার নাহিক তুলনা,
আপন ধ্যানেতে মগন আপন,
আপনিই তুমি গুৰু আপনার।
তুমি জ্ঞেয় জ্ঞাতা তুমি ধ্যেয় ধ্যাত,
তুমি স্রষ্টা পাতবিধির বিধা,
তুমি সৰ্ব্ব শুভাশুভ ফুলদাতা,
জয় জয় দেব সৰ্ব্ব মূলাধার।
বরেণ্যের প্রভু তুমি বরণীয়,
শরণ্যের প্রভু তুমি শরণীয়,
ভবার্ণব তরি তুমি অদ্বিতীয়
একমাত্র তুমি ভব-কর্ণধার।
১২০
চিন্তা মঞ্জুরী।
তুমিই ঈশ্বর অক্ষর প্রণব,
তােমা হতে দেবগণ সমুদ্ভব
নাহিক তােমাতে কিছু অসম্ভব,
জয় জয় সর্বকালেতে তােমার।
কাল শুধু তব মহিমা প্রকাশে,
ফলে শুধু তব গুণাবলী ভাসে,
ফলে শুধু তব সৌন্দর্য বিকাশে,
কাল জয়ী তুমি সৰ্বসারাৎসার।
প্রার্থনা।
দয়ার সাগর তুমি হে প্রভু
ডাকি না তােমায় আমি ত কভু
বাসনা তােমারে দেখিতে চাই
কেমনে বলনা কোথায় পাই
বিশ্ব-বৃন্দাবন বিপুল কুঞ্জে
ভক্ত জন মন মধুপ গুঞ্জে
রয়েছে তথায় বুঝি হে ভব?
প্রেমের সুন্দর আসন তুর
আনন্দ রূপে কি কর বিরাজ ?
প্রার্থনা।
এ ক্ষুদ্র হৃদয়-কণ্টকবনে।
আসিতে আশঙ্কা হয় কি মনে ?
সত্য-সূৰ্য করে সে কুঞ্জ ভাত।
হেথা ঘাের তমে আঁধার জাত।
পুণ্য সমীরণ সঞ্চরমান।
জ্ঞান করে সেথা সুগন্ধ দান।
হেথা পাপ-ঝঞ্চাবাতে বে ক্ষত।
মােহ-মদে আছে দুর্গন্ধ কত।
তথা মুক্তি শক্তি সতত তােষে।
হেথা কাম লোভ দংশিতে রােষে।
বিনা মূল্যে সেথা সকলি পাবে।
বেশী মূল্য হেথা সকলে চাবে।
চির সুখ সদ। বিরাজে সেথা।
রোগ তাপ দুখ কেবল হেথা।
প্রিয় বস্তু তব হেথা কি নাই,
আসতে চাহে না তুমি কি তাই?
ফুটিবে কণ্টক এ হৃদি বনে।
হইবে বেদনা ভক্তের মনে।
ভরিবে কর্দম চরণ-পদ্মে । •
লাগিবে তােমার ভক্তের সদ্মে।
তাইতে এস’না বুঝিহে হেথা
থাকহ সুখেতে সতত সেথা।
১১
১২২
চিন্তামুঞ্জরী।
কেমনে তবে হে দর্শন পাব
বাসনা আমার কোথায় যাব,
সে কুঞ্জে গেলে কি দেখিতে পারি।
এ বন-মমতা ছাড়িতে নারি।
যদি বা ছাড়িয়া কখন যাই।
কুঞ্জের দ্বারা বাধা যে পাই ।
আছে কঠর কৃপাণধারী।
সম দম দুটী ভীষণ দ্বারী ।
সঙ্গে অলসতা ভীরুতা মাের।
ম্ভিত দেখিয়া সেরূপ ঘাের।
ক্ষণমাত্র তারা আর না বয়।
কাজেই আমারে ফিরিতে হয়।
যাইলে তােমার ভক্তের কাছে।
বুঝবা তাহারা না আসে কাছে।
দেওহে শকতি ভকতিনাথ।
ধরিতে তােমায় ভক্তের সাথ।
জগত জনের দুঃখের তরে।
প্রাণ যেন মম ক্রন্দন করে ।
জগতের হিত যাহাতে হয়।
মন যেন তাতে নিয়ত রয়।
সম্পদ গৌরব দেখিলে কার।
মাৎসর্যে যেন না দংশয়ে আর ।
প্রার্থনা।
মিত্র ভাব যেন হৃদে জনমে।
পরানিষ্ট চিন্তা না করি ভ্রমে।
প্রশংসা নিন্দায় যেন হৃদয়।
আহলাদে বিষাদে পূর্ণ না হয়।
দিয়েছ মােদের যেটুক বল।
সৎকাজে যেন তা যায় কেবল।
একমাত্র লক্ষ্য, ভাবি তােমায়।
তত্বজ্ঞানে যেন জীবন ধায়।
সমাপ্ত।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.