Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Sri Sri Ananger Rango

Chattopadhyay,narendranath · 2009/09/16

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

-

গোর
.
-সেবাময়
নরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়

No text on this page.

অনজের অঙ্গ।
( নাটিকা)
গৌরধামগত
শ্রীনরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বি, এ,
প্রণীত।
শ্ৰীশ্ৰীমধুর-গৌরাঙ্গ-ভবন অধীনস্থ শ্ৰীশ্রীহরিসভা, আগড়পাড়া
হইতে গ্রন্থকার কর্তৃক প্রকাশিত এবং কলিকাতা
১, রমানাথ মজুমদার স্ট্রীটস্থ শ্রীসরস্বতী প্রেস লিঃ, হইতে
শীরজনীকান্ত রাণা কর্তৃক মুদ্রিত।
সর্বসত্ব সংরক্ষিত ]
[ মূল্য— আট আনা মাত্র

শ্রীশ্রীগৌরবিধুর্জয়তি। ভূমিকা। গ্রন্থকার নরেন্দ্রনাথের যন্ত্রস্থ গ্রন্থগুলির মধ্যে “কাঙালের ঠাকুর শ্রীগৌরাঙ্গ” নাটক এই সে দিন প্রকাশিত হইয়াছে, এক্ষণে “শ্ৰীশ্ৰীঅনঙ্গের রঙ্গ” নাটকখানি প্রকাশিত হইল। ইহা লীলাবিষ্ট ভক্তের স্বাভিষ্ট লীলানুশীলনে আপনার অন্তরের নিগূঢ় রসানুভূতিতে “চিন্তামণিভূমি কল্পবৃক্ষময় বনে, প্রেম নেত্রে দেখে তার স্বরূপ প্রকাশ, গােপগোপীসঙ্গে যাহা কৃষ্ণের বিলাস।” যেখানে ধারণা দুর্বল ও অস্পষ্ট, মন, হৃদয় ও কল্পনা কৃশ ও বিকৃত, সেথায় অসঙ্গত অনুকরণে লাভ করিয়াছি বলিয়া কল্পনায় দম্ভ করিবার মত দামাে ঘােষের বেটা শিশুপালের অভাব নাই। বাস্তবিক প্রত্যক্ষ বস্তুর সহিত সংস্রব ব্যতীত জ্ঞানই ব’ল, আর ভাবই ব’ল নির্জীব ও নিষ্ফল। কিন্তু এখানে বাস্তব ভাব-প্রবাহকে অবলম্বন করিয়া উজ্জ্বল, সবল, স্পষ্ট ধারণা মাটিতে বদ্ধমূল গাছের মতই যে অমৃত সরস ফল দান করিয়াছে, তাহা উচ্চাঙ্গের ভক্ত-হৃদয়ের রস-পিপাসা স্নিগ্ধ করিতে যথার্থই সক্ষম। “একলে পুরুষ কৃষ্ণ আর সব নারী।” সেই সমগ্র-নারী- হৃদয়ের গভীরতা, সমষ্টি-রমণী চরিত্রের দুর্ভেদ্য বিচিত্র রহস্য নানাভাবে, বিচিত্রবর্ণে বিশদভাবে ফুটিয়া উঠিয়াছে কোথায় ? যেখানে “সচ্চিদানন্দময় শ্রীকৃষ্ণ নিত্য নিত্য নব নবায়মান আনন্দরাশি উপভােগ করেন।” বৈষ্ণব শাস্ত্রে যেখানে লীলাতত্ত্বরস গােচর হইয়া উঠিয়াছে সেথায় বৃষভানুপনন্দিনী রাধার ভগিনী অনঙ্গের তত্ত্ব ও পরম আনন্দ-কল নিত্যানন্দতত্ত্ব এক হইয়া রহিয়াছে। এই দুই তত্ত্বের ভেদ-চিহীন সুন্দর ঐক্য যথার্থভাবে, সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপিত করা কঠিন হইলেও একবার চেষ্টা করিয়া দেখা যা। যথা :- ( 90 ) “রসরাজ মহাভাব দুই একরূপ” হইলেও “রাধা কৃষ্ণ এক আত্মা দুই দেহ ধরি, অন্যোন্যে বিলসয় রস আস্বাদন করি।” সেই “মহাভাব স্বরূপিনী রাধাঠাকুরাণি, গােবিন্দানন্দিনী রাধা গােবিন্দ- মােহিনী,” স্বয়ং “বহুকান্তা বিনা নহে রসের উল্লাস,” দেখিয়া “লীলার সহায় লাগি বহুত প্রকাশ,” হইয়া পড়িলেন। শ্ৰীমতীর “আকার স্বরূপভেদে ব্ৰজদেবিগণ, কায়ব্যুহরূপে তার রসের কারণ।” “সৰ্ব্ব-গুণ-খনি কৃষ্ণকান্তা শিরােমণি” শ্রীরাধিকা যখন তাহার একদেহে শ্রীকৃষ্ণকে পরিতৃপ্তি দান করিয়া আপনি পরিতৃপ্ত হইতেছেন না, সেই কালেই “প্রতি অঙ্গ লাগি কঁাদে প্রতি অঙ্গ মাের” অবস্থাতেই তাহার প্রতি অঙ্গ এক একটা সখী বা মঞ্জরী মূৰ্ত্তি পরিগ্রহ করিল। শ্ৰীঅনঙ্গমঞ্জরী তাহার প্রধান অঙ্গ, কৃষ্ণকে পরমানন্দদানে একান্ত সমর্থ। শ্রীরাধার নিতান্ত অভিব্যক্তির রহস্য-আবরণ উন্মােচনে তরল-স্বর্ণ-পরিত তামরসের ঈশদুন্মেষে রসরাজের প্রাণে শতলুব্ধভ্রমরঝঙ্কার ; রূপের সুরে বিধুর করে তাইত বাঁশী বেজে উঠে, নগ্নবুকে বক্ষ দিয়া অন্তর রহস্য টুটে। এই তত হলেন অনঙ্গমঞ্জরী। এইবার বৈষ্ণব শাস্ত্রে অধ্যাত্ম বীজগণিতের সমীকরণ। যথা :—যদি “রসরাজ মহাভাব দুই একরূপ” হইলেন, তবে শ্রীজাহ্নবাদেবী তস্যা বল্লভ ঐনিত্যানন্দ কিরূপ? আবার শ্রীগৌরাঙ্গ লীলায় শ্রীজাহ্নবাদেবীই শ্ৰীঅনঙ্গমঞ্জরী; সুতরাং তত্ত্বে অনঙ্গ ও নিত্যানন্দ এক। যেন একটু বুঝা গেল। এইবার আমরা শ্ৰলশ্ৰীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর মহাশয়ের একটী পদ উদ্ধৃত করিয়া আমাদের বক্তব্য শেষ করিব “অন্তরে নিতাই, বাহিরে নিতাই, নিতাই জগতময়। নাগর নিতাই, নাগরী নিতাই, নিতাই কথা সে কয়। সাধন নিতাই, ভজন নিতাই, নিতাই নয়নতারা। দশদিকময় নিতাই সুন্দর, নিতাই ভুবন ভরা। ; ।

( ৩ )
শ্রীরাধার মাধুরী, অনঙ্গমঞ্জরী, নিতাই নিতু সে সেবে।
কোটী শশধর, বদন সুন্দর, সখা সখী বলদেবে ।
শ্রীরাধার ভগিনী, শ্যামসােহাগিনী সব সখীগণ প্রাণ।
যাহার লাবণি মণ্ডপ সাজনি, শ্ৰমণিমন্দির নাম ।
নিতাই সুন্দরে যােগপীঠধরে, রত্নসিংহাসন শেজে।
বসন নিতাই, ভূষণ নিতাই, বিলসে সখীর মাঝে।
কি কহিব আর, নিতাই সবার, আঁখি মুখ সৰ্ব্ব-অঙ্গ।
নিতাই নিতাই নিতাই নিতাই, নিতাই নৃতন রঙ্গ ।
নিতাই বলিয়া, দুবাহু তুলিয়া, চলিব বরজপুরে।
দাস বৃন্দাবন, করে নিবেদন, নিতাই না ছেড়াে মােরে ॥” ইতি,
পানিহাটি।
ফুলদোল-পূর্ণিমা,
১৩৩৯ সাল।
নিবেদক
শ্রীশ্রীরাধারমণ চরণদাসানুদাস
শ্রীরামচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
কুশীলবগণ ।
পুরুষগণ।
শ্ৰীশ্ৰীশ্যামাদ, শ্রীশ্রীবলরাম, সুবল, মধুমঙ্গল, শ্রীদাম, সুদাম,
বসুদাম, বৃষভ, বিশাল, সুভদ্র, অর্জুন, দেবপ্রস্থ,
মণ্ডলীভদ্র ইত্যাদি, ইত্যাদি।
স্ত্রীগণ।
শ্রীশ্রীরাধারাণী, শ্ৰীশ্ৰীঅনঙ্গমঞ্জরী, শ্ৰীললিতা, শ্রীবিশাখা,
রূপমঞ্জরী, গুণমঞ্জরী, রসমঞ্জরী, চম্পকলতা,
ইন্দুরেখা, দাসীগণ ইত্যাদি।

অনজে অঙ্গ।
স্থান—শ্রীধ্বন্দাবন।
প্রথম দৃশ্য।
কুসুম-কানন।
অনঙ্গমঞ্জরী। ( চয়নােতা ফুলদৃষ্টে)
বনের ফুল বনে ফোট কেন লাে বালা বিজন বনে।
হাসিস্ কাদিস্ আপন মনে ঝরে পড়ি কি অভিমানে।
স্বপনে গড়া মুখখানি তাের, স্বপনেই সদা থাকিস্ বিভাের।
স্বপনে শিশির-শীতল লেরি, বয় স্বপন ভরা নয়ন কোণে।
কেন লাে বিমনা, সদা আমােনা, থাকিস্ ললা তুই
কার ধ্যানে।
দেখলে তােরে যায় লাে জানা, প্রাণটী ভরা স্বপনে।
হেরি তাের ওই রূপরাশি, পবনের মন হয় উদাসী,
কত ছলে সােহাগ জানায় আসি, শিহরি নিরাশ কর ললনে।
কও ফুলবালা মনের কথা, কেবা সে সুজন তোর প্রাণসখা,
যার লাগি বুকে বহু মধু-ভার, সুবাসেরি শ্বাস ছাড় গােপনে।
বুঝেছি বুঝেছি বুঝেছি লাে সই, রমণীরতন মনচোরা যেই,
বিনা সে মাধব মধু কারে দেই, তারি তরে ঝুর রজনীদিনে।

শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
[ প্রথম দৃশ্য
আয় লাে সজনি আয় তবে আয়, বৃন্ত হতে টুটি আয় চলে আয়,
অভিসারে প্রীত নাগর-রায়, আদরে মিলাৰ সেই চরণে।
এ নবযৌবন এই ফুলকায়, বিকাইবি সুখে সেই দুটী পায়,
রূপসী জনম সফল যেথায়, ঢেলে দিবি প্রাণ রাধারমণে।
(পুষ্প-চয়ন ও মালা গাঁথন)
(নেপথ্যে বেণুবাদন।)
“রাধে—রাধা প্রেয়সী ভগিনি
সমরূপগুণযুতা মানসমােহিনি
দেহি সুরতং সপদি সুন্দরি
পাদমূলেহনঙ্গে তাপিত তে হরিঃ”
অনঙ্গ। ( চমকিত হইয়া ইতি উতি চাহিয়া )
একি! শুনি মুরলীর ধ্বনি,
বাঁশী গাহে বিসদৃশ বাণী,
কুসুমচয়নে আইনু গহনে,
যূথ হতে বহুদূরে ভ্রমি একাকিনী।
চতুরের বিষম চাতুরী, অন্তিকে শ্রীহরি,
কি উপায় করি,
কেমনে এড়াই আজি দুরন্ত মাধবে।
রাধে! রাধে! স্নেহময় ভগিনি আমার ।
দেহ বুদ্ধিবল, শিখাও কৌশল,
কেমনে নিবারি,
ধৃষ্ট তাের প্রাণপতি লম্পট ব্যভারে
করে মাের কর্ণবিড়ম্বন

প্রথম দৃশ্য ]
শ্ৰশ্ৰীঅনঙ্গের রঙ্গ
শ্যাম।
অনঙ্গ।
( ধীরপদে মৃদুস্মিতে শ্যামৰ্চাদের প্রবেশ।)
সম্বর সুন্দরি ;
কেন বৃথা কর রােষ ?
কিবা ব্যথা দেছে শ্যাম অন্তরে তােমার?
অকারণে কাহে লাে কোপিনী ?
পীড়ােনা পেলব ওই চারু বিস্বাধরে
বিষম দশন চাপে।
পীড়ােনা পীড়ােনা আর অনুগত জনে
প্রাণে ব্যথা দিনু বলি মরমপীড়নে।
বাড়া’য়ােনা জ্বালা সুহৃদয়ে ;
জর্জরিত মদনের বাণে।
ধন্য ধন্য শীল তব নৃপেরি নন্দন।
নিরজনে গভীর গহনে,
একাকিনী হেরি’ অসহায়,
অবলার প্রতি কর অপ্রিয়ভাষণ !
নন্দের নন্দন তুমি গােকুলের পতি,
অত্যাচারী জনে দণ্ড দিবে সমুচিত,
রাখিবে পালিবে প্রজা করিবে বিহিত।
তুমি যদি হও অত্যাচারী
পুরনারী প্রতি কর দুৰ্বত্ত ব্যভার,
যে রক্ষক সে যদি ভক্ষক,
তবে বল’ দুর্বলের বল কে মাধব ?
বাগ্মিতায় সরস্বতী রাধার ভগিনী।
শ্যাম।

৪
শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
[ প্রথম দৃশ্য
শিখিলাম ধৰ্ম্মনীতি রাজনীতি আজি
তােমার প্রসাদে।
শিষ্য হয়ে রব ও চরণে,
বড় সাধ চিতে,
কোরাে না বঞ্চনা দাসে করি লো মিনতি।
শুন লাে বিদুষী,
শুন বররুচি গুরু লাে বরবৰ্ণিনি,
শিখাইলে এতেক সুনীতি,
এবে কহ প্রেমনীতি,
ঘুচাও সংশয়,
যাহে সদ্য সমাকুল অধীন-অন্তর।
কহ সুনােচনে,
নরনারী প্রথমমিলনে,
নয়নে নয়ন দিতে
কেমনে লাে প্রাণ-বিনিময় ।
অনিচ্ছায়, অজ্ঞাতকারণে,
অজ্ঞাতকুলশীল হেরি’ বনিতায়,
হেরি মাত্র তায়,
কেমনে লাে লুটাইতে চায়,
কায়মননাপ্রাণ সহ তারি দুটী পায়,
সাধি’ চিরদাস হতে চায় লাে ললনে।
ইথে অপরাধ কা’র কহ চারুশীলে।
কেন বল কিশােরীর লাজমাখা হাসি,

প্রথম দৃশ্য ]
শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
inn
সহসা কিশাের গলে দেয় প্রেমাসি ?
কেন বল মৃদু মৃদু বিনয় বচন,
আনত আনন,
উপজয়ে যুব-হৃদে নবজাগরণ ?
বল সুবদনি, বল কোন্ ছলে,
আরক্তিম ও গণ্ডযুগলে,
পরাণে বহায় হেন অপূৰ্ব স্পন্দন ?
কহ লাে সুদতি,
কেন হেরি’ তাের ঐ সুরঙ্গ অধর,
অদম্য চুম্বন-তৃষা জাগে নিরন্তর।
কেন কেন কহ বামা,
চারুছবি তাের এবে ক্রোধবিচ্ছুরিত,
হেরি পুনঃ অধিক সুন্দর ?
ক্রোধে কি লাে বাড়িল সুষমা,
কহ কহ মনােরমা,
নহে কেন বক্ৰগ্রীবা, জ্বভঙ্গী কুটীল,
স্ফুরিত অধর,
খরশর বিবৃত্ত নয়ন
অভিনব অপরূপ হেরি’ মুখশােভা,
চিত চমৎকৃত,
উপচিত উপহৃষ্ট-লালস দহন।
জান না জান না বালা,
মােহিনীর রূপে মুগ্ধ সহে কত জালা।

ঐশী অঙ্গের রঙ্গ
[ প্রথৰ দৃ
সুহৃদয়ে, হও না নিদয়া,
দেহ আজ্ঞা, তুঙ্গতুম্বশুনি,
বারেক পরশি’ করে,
অঙ্গ অঙ্গের
নিদারুণ তাপ জ্বালা ক্ষনেক জুড়াই।
অনঙ্গ। ধিক্ ধিক্ চাটুপটু রসনা তোমার,
অকথ্যকথনে নাহি কর নিবারণ ।
জানিলাম আজি,
রূপমােহ ছল ধরি’ পুরুষের জাতি,
হীন লুকেরি প্রায় করে অচরণ ।
বাক্যছটাঘটা জাল করি’ বিস্তারণ,
নানামতে নারীরূপ করিয়ে স্তবন,
অনায়াসে প্রতারয়ে সরলার মন।
রূপমুগ্ধ রাধাকান্ত আজি ?
ছিঃ ছিঃ লাজে মরি,
কেমনে কহিলে শ্যাম হেন অসম্ভব নর্মবাণী ?
হেরি নাই ইন্দ্রের ইন্দ্রানী,
উৰ্বশী মেনকা রম্ভা তিলােত্তমা ধনী
শুনি দেবলােকে রূপগরবিনী
কিন্তু শুন রূপের ভিখারি ।
হেরিয়াছি মরতের যতেক রূপসী,
রূপে নহে উনা বৃষভানুসুতা
সুন্দরী রাধিকা ;

প্রথম দৃশ্য ]
শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
যা’র আগে কহিয়াছ এই মুখে শ্যাম,
সখিগণ সাক্ষী সবে,
নিরূপম রাধারূপে শ্রীহরি পাগল।
ধৃষ্টকুলধুরন্ধর, এবে কহ একি বিপরীত।
এই বুঝি তব রীত,
যারে চাহ মজাইতে,
বৃথা চাটুবাদে কর মানস-রঞ্জন ?
নারীর যৌবনে যদি তােমার লালস,
বর্ষীয়সী নহেত কিশােরী ;
নবীন যৌবনে বালা ফুল কমলিনী,
কি হেতু সহসা আজি বিরাগভাজন ?
শ্যাম। শুনলাে ভামিনী ! অধিকরূপসী এই রাধার ভগিনী,
ফুটোয়ূখী নব কমলিনী।
অনঙ্গ। বুঝিলাম আজি,
হীন মধুকর ব্রতে ব্ৰতী রাধানাথ,
নব নব পুষ্পে নিত্য
মধু-আহরণ
লম্পটের সাধের সাধন।
রূপ-আকিঞ্চন? যৌবনে তােমার লােভ?
কহ কহ রসিকশেখর,
এ রূপযৌবনে কিহে'প্রেমরসসীমা
রূপসী যুবতী নারী প্রেমিকার রাণী ?
জান নাকি হায়,
রূপ-অনুরাগ হয় স্বপনেরি প্রায় ?

.
শ্ৰীশ্ৰীঅনঙ্গের রঙ্গ
[ প্রথম দৃশ্য
শ্যাম।
ভাঙ্গে নিদ্রা, ছুটে যায় নেশা,
ক্ষণে কাটে ঘাের,
এই ছিল এই নাই মদির-আবেশ।
নারীর যৌবন ধন নহে নিরবধি,
রহ মাত্র দিন দুই চারি।
এ রূপ যৌবন সনে প্রেমসাধ শেষ ?
কহ কহ হে মাধব,
ক্ষণধ্বংসী যদি হে পিরীতি,
ক্ষণের হরিষে যদি শুধুই বিবাদ,
তবে কেন রমণীর চিতে ইথে সাধ,
সহিবারে চিরদিন মরমদাহন ?
নহে কিলো নারীর ভূষণ
এই মনােহর রূপ—এ নব যৌবন ?
কহ প্রেমময়ি, কিসে তবে পিরীতেরি সুখ,
কেমনে বা রহে চিরদিন।
গুহ প্রেমমৰ্ম্ম কথা কর উদঘাটন।
এ রূপ যৌবন সখা বটে সুশােভন,
কিন্তু প্রেমহীনা নারী বড় অশােভন।
কুরূপা যদ্যপি হয়, বিগত যৌবন,
প্রেম যদি রয়,
তভু সুধা বর্ষে যাহে আনন্দ অপার।
বিনা প্রেমে এ রূপযৌবন,
করে প্রতারণ, হয় সর্বনাশের কারণ।
অনঙ্গ।

প্রথম দৃশ্য ]
শ্ৰশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
ধনি ধনি সে রূপলাবণি,
ধন্য সেই নবীনযৌবন,
ঢেলে দেয় প্রেমময়ী বাঞ্ছিতের পায়,
প্রাণ দিয়া প্রাণনাথে তুষিবারে চায়,
কায়মনােবাক্যে সতী সেবে প্রিয়জনে,-
প্রতিদান নাহি চায়,
সার্থক সে রূপ সখা সফল যৌবন।
প্রাণহীনার সে সম্ভার মাত্র বিড়ম্বন।
নাহি কিহে প্রাণের আদর ?
তােমা লাগি’ যেই নারী দিল বিসর্জন
লাজ ভয় মান,
কুলবতী হয়ে, নাহি মানে বুলেরি ধরম,
হাস্যমুখে ত্যজ্য করে আত্মীয়স্বজন,
গুরুজনগঞ্জন অঙ্গে চন্দনলেপন,
তােমারি কলঙ্কডালি আদরে বহয়,
কৃষ্ণকলঙ্কিনী রাই গােকুলে ঘােষয়-
এত আত্মত্যাগ, এত অনুরাগ
প্রাণঢালা প্রেমে কিহে এই পরিণাম ।
মনে কি পড়ে না শ্যাম,
পাগলিনী কৃষ্ণকাঙালিনী,
প্রেম আতিশয্যে ধনী বিগতচেতনা,
কৃষ্ণকোরে কৃষ্ণহারা, মিলনে বিরহভীতা,
কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি বালা ফুকারে কাতরে !

১০
শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
[ প্রথম দৃশ্য
শ্যাম।
ছি ছি শ্যাম, গুণধাম, সেই প্রেম, এই প্রতিদান ।
পুরুষ কি পাষাণে গঠিত?
নতুবা কেমনে রাধার প্রণয়ভাগী
আন্ নারী করে আকিঞ্চন!
হয় প্রত্যয়, এই দুঃখ সহনে না যায়,
স্মরিতে শিহরি, শতধা বিদরে বুক,
এই দুঃখে নিমিত্ত সে রাধার ভগিনী।
কেন না মরিল রাধার ভগিনী অনঙ্গ,
প্রাণের অধিক যারে স্নেহ করে সতী,
কেমনে শুনিল হায় এ নবকাহিনী
রাধাহৃদিবিদারিণী প্রাণবিঘাতিনী
( সানয়নে গদগদভাযে )
ধৈৰ্য্য ধর বালা।
রাধার পিরীতি
কভু নহে
বিস্মরণ
চির অনুগত এই রাধাদাসজন।
সে অপূৰ্ব্ব প্রণয়েরি গাথা,
মরমে মরমে গাঁথা,
যার লাগি’ সুখে মাথে বহি নন্দবাধা,
রাজার নন্দন হয়ে করি গােচারণ
সেই মুখশশী ক্ষণদর্শনকারণ।
শুন লাে সুভগে,
রাধা মাের প্রাণপ্রিয়তমা,
প্রাণের অধিকা তুই রাধার ভগিনী।

প্রথম দৃশ্য ]
ঐশ্রীঅঙ্গের রঙ্গ
কেন জান সুলােচনে ?
রূপে গুণে শ্রীরাধার সমান অনঙ্গ,
অনুঙ্গেরে হেরি’ হয় রাধা-উদ্দীপন।
শ্রীরাধিকা প্রস্ফুটিত পূর্ণ শতদল,
এ অনঙ্গ ফুটোয়ূখী সােণার কমল,
সেই রূপ, সেই গুণ, সেই ভরা প্রাণ,
রসের আরতি সেই পিরীতি মূরতি,
মাত্র ভেদ কুসুম -কোরক,
কমল কমলকলি বিশেষ সুন্দর,
রাধিকারমণ তেঁই অনঙ্গমােহন।
অনঙ্গ। (স্বগত) ত ভু নাহি ছাড়ে নিজপণ, দুৰ্ম্মদ বরণ !
( প্রকাশ্যে ) ছাড় সখা ছাড় পরিহাস,
বিলম্বে সখিসমাজে পাইব হে লাজ।
বনে হেরি ফুলবালা বড়ই দুর্মনা,
বাসছলে ফেলে দীর্ঘশ্বাস,
নামসনে জন্ম তার কর হে সফল,
সুমনাঃ করাে হে সুমনা,
ধরো মালা বনমালী,
যতনে পরায় মালা রাধার ভগিনী
রাধামে পুরস্কার রাধাকান্ত গলে। (মাল্য প্রদান।
শ্যাম। ( মালা ধারণ করিয়া )
আদরে ধরিনু গলে অনঙ্গেরি দান।
কিন্তু সুভাষিনি,
==

শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
[ প্রথম দৃশ্য
অনণ।
যার সঙ্গ দিয়ে বালা যাও লাে চলিয়ে,
লজ্জাবতী মুগ্ধা সেই নীরব ভাবিনী।
মিষ্টভাষে কতক্ষণে পুনঃ জুড়াইবে
লাে প্রাণততষিণি ধনি মানসমােহিনি ?
ভূর্ণ পূর্ণ হবে অভিলাষ।
রাইরাজা-দরবারে চলে ব্রজবালা
তস্করের অত্যাচার করিতে জ্ঞাপন।
সাধ হয় শুনিতে বিচার,
অনতিবিলম্বে সেথা দিয়াে দরশন,
মনােরথ হইবে পূরণ।
বেশ কথা। মালা গলে দিয়েছ ত সতী,
এস করি সে মালাবদল,
তবে ন্যায্য অধিকারে কে বা মানা করে,
বিচারে ডরাই কারে।
জান না জান না প্রিয়ে রাজার বিচার,
বিচার না হতে রায় মাের সুবিদিত;
জান না রাধার প্রাণ,
সত্য কৃষ্ণ-সুখ লাগি’ রাধা পাগলিনী,
পাগলিনী করিল পাগল,-
দেখিবে দেখিবে প্রিয়ে রাধার বিচার,
সত্য মনােরথ মাের হইবে পূরণ ।
( অনজের গলে মাল্য প্রদানের চেষ্টা-অনজের ছুটিয়া
পলায়ন, ও অদুরে নিজ দাসীগণকে দেখিয়া তাহাদের

দ্বিতীয় দৃশ্য ]
ঐশ্ৰীঅনঙ্গের রঙ্গ
সহিত মিলিত হওন।)
দাসীগণ! আরে আরে কানাইয়া রসিয়া নাগর।
জবরদস্তি রাজঝিয়ারী লেগে তু চোর ।
ডাকু ধরম ডাকু করম ডাকু তেরা নাম।
ননীচোরি বসনচোরি মনােচোরি কাম ।
প্যারী বহিনী হামারি রাণী নেহি তেরা পছন্।
রূপযৌবনরতন চোরি—আকি হয় কৈসান্ ।
আব, চলাে উহা রাইরাজা খােলে যাহা দরবার ।
গােস্তাকি মাফিক্‌ হােগ সাজা লেতে চলল ইয়ার।
( গাহিতে গাহিতে প্রস্থান)
শ্যাম।
(স্বগত) যাও সখি ! যাও প্রাণপ্রিয়ে।
নির্বিকার চিত্তে তাের হেরেছি বিকার,
আশা মাের অচিরে পূরিবে ।
( হাসিতে হাসিতে প্রস্থান।)
দ্বিতীয়
দৃশ্য।
গোবর্ধন সন্নিহিত মাঠ।
(শিলাখণ্ডোপরি বলরাম সমাসীন।)
বৃষভ। এই ছুলাম বুড়ি আমি চোর ত দেব না
বিশাল। আমিও ছুয়েছি আর চোর ত হ’ব না

১৪
শ্রীশ্রীঅঙ্গের রঙ্গ
[ দ্বিতীয় দৃশ্য
শ্রীদাম। বলাই দাদা বুড়ি,
ছুয়ে দিলেই তরি।
সুদাম। আমিও নাকি থাকব পড়ে, এলুম, ত্বরাতরি।
সুভদ্র। আয় ঝটপট 'লে চপ চোর কলি কাকে।
মধুমঙ্গল। কানাইয়া পিছে পড়ে ছুয়ে দি আগে ভাগে।
বলরাম। কাকা-কানাইয়া আয়রে ছুটে আয় ।
বলভদ্র। ঝপ করে আয়রে খেলার বেলা বয়ে যায়।
সুবল। আছে কানাই পড়েছে ধরা চোর দেবে সে।
বসুদাম। ননীচোরা সবাই জানে চোর আবার কে।
( কৃষ্ণার্জুনের প্রবেশ।)
অর্জুন। কানাই চোর কানাই চোর ধরে ফেলেছি।
দেবপ্রস্থ। বলাই দাদা বড় মজা নাচতে লেগেছি।
বসুদাম। বড় যে দেরি কেমন হরি চোর দাও এখন।
কানাই। তাই দেব ভাই তােদের ত হবে মনের মতন ?
মণ্ডলীভদ্র। থাক কানাইয়া তাের হয়ে আমি দেব চোর।
সুদাম। তা হবে না, যেমন্ কে তেমন্ ওই দেবে চোর।
বলরাম। আমি ভাই অনেকক্ষণ বসে আছি। আয় ভাই
অন্য খেলা খেলি।
সুদাম। বলাই দাদা বল্‌ছে, যা কানাই বডড বেঁচে গেলি।
বলভদ্র। বলাই 'দাদা এবার তবে কি খেলা হবে ?
বলরাম। কানাই বা ভাই তাের কোন্ খেলা
ভাল লাগে ?
কানাই। তুমি দাদা শিঙেয় ফু দাও, আমি বাঁশী বাজাই,

দ্বিতীয় দৃশ্য ]
শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
আর তােরা ভাই নেচে নেচে গান কর। কেমন বেশ মজা
হবে না?
বসুদাম। হাঁ তাের কেমন ঐ মেয়েলি ভাব। খালি খালি
বসে বসে খেলা করা। ' ছুটোছুটি লাফালাফি দাপাদাপি না হলে
কি ফত্তি হয় ?
কানাই।
বেশ ত বলি? বাঁশী বাজিয়ে গান করলেই
বুঝি মেয়েমানুষ হয় ?
শ্রীদাম। যা বলিস ভাই কিন্তু ও নাচ না গাওনা বাজনায়
কেমন মেয়ে মেয়ে গন্ধ কয়।
কানাই। আচ্ছা বলাই দাদা ত নাচতে নাচতে শিঙেয়
ফু দেয়, বলাই দাদা কি মেয়েমানুষ ?
সুদাম। দূর তা কেন ? বলাই দাদার শিঙে শুনলেই
মনটা কেমন লাফাই লাফাই করে, আর তাের ও মিমিনে
বাঁশী শুলেই ঘুমে চোক মুদে আসে ।
সুবল। যা বলিছিস্ ভাই কানায়ের বাঁশী ঘুম পাড়ানি
মস্ত জানে।
বলরাম। অচ্ছাি তবে খেলা সারা হয়ে গেলে তুই তখন
বাঁশী বাজিয়ে ঘুম পাড়া। এখন কি খেলা হবে তাই ঠিক
কর।
সুভদ্র। আমি বলি দাদা এস একটু হাডুডুডু খেলি।
বলরাম। অনেকক্ষণ বসে আছি আমারও তাহলে একটু
হাত পাগুলাে ছাড়ে। কি বলিস্ কানাই ?
কানাই। বেশ তবে তাই হােক।

১৬
শ্ৰীশ্ৰীঅনঙ্গের রঙ্গ [ দ্বিতীয় দৃশ্য
বলরাম। এবার তবে ভাই কোট, চড়াই ঠিক করে কা’র
দলে কে হবে তাই বল।
বলভদ্র। নূনকোট—নূনকোট—এই দুই কোট।
ফেলুম পাঁচনবাড়ি এই হ’ল চড়াই।
আমার দলে আয় কানাই।
সুদাম। আচ্ছা আচ্ছা তাই নাও। এস ত বলাইদাদ।
তােমায় আমায় এক দলে।
শ্ৰদাম ও
আমরাও ভাই তােদের দলে।
বসুদাম
সুভদ্র। বটে? জোটু পাট্‌ করে কানাইকে হারাবার চেষ্টা ?
কানাই আমি ভাই তাের দলে।
মণ্ডলীভদ্র। আমিও তাই।
বিশাল ও বৃষভ। আমরাও কানাই দাদার দলে হবে।
বলরাম। আয় অর্জুনাে আয় মধ্যে আমাদের দলে আয়।
সুবল যা তুই ভেইয়ার দলে।
বসুদাম। আর দেবা তুইত ফাউ। তুই আমাদের দলে .
আয়, সমান সমান হবে এখন।
শ্রীদাম। এইবার তবে খেলা শুরু হােক। আয় কানাই
তােকে অনেকক্ষণ কঁাধে করিনি একবার কঁাধে করে কাটা
বাগিয়ে নিই (কঁাধে করণ )
কানাই। আমিও ভাই একবার কঁাধে করি, কঁধটা সুড়, সুড়,
করছে।

দ্বিতীয় দৃশ্য ]
শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
শ্রীদাম। নে ভাই শিগগির শিগগির নে এখুনি খেলতে
হবে।
( কানায়ের শ্রীদামকে কঁাধে করিয়া নৃত্য।)
বলরাম। নে ভাই খে। যা সুদাম কানায়ের কোটে।
সুদাম। কানাইয়া কানাইয়া সামাল সামা।
মােড়টী করে ফিরবাে ঘরে কোরবাে নাজে হা ॥
(বৃষভ মােড়।)
সুভদ্র। বাচ্ছা ছেলে মেরে ভারি দেখালি ত জোর ।
আয় দিকিনি শক্ত ঘানি কর আমাকে মােড়।
বলরাম। চুরে কানাইয়া আরে মেরে ভেইয়া।
পাকড়লে দেখে তু কেইসেন্ কানাইয়া ।
(সুভদ্র ও বিশাল ধরিয়া মােড় হওন।)
কানাই। মা মারতে হাে তু বলাই দাদা আগে।
বহুত, হুসিয়ার নেইত দু এক মােড়, কবুকে
( সুদাম ও বসুদাম ধরিয়া পতন।)
শ্রীদাম। আরে কানাই হিম্মতকো না করে বড়াই।
ধরতে দেখে তেরে সাথ মেরে লাগে লড়াই।
( কানাই ও মণ্ডলীভদ্র মােড়।)
(বলরামের দলে হােঃ হােঃ হাততালী ও নৃত্য।)
বলভদ্র। আরে প্রীতসে তেরে পাশ হার মানে কানাই।
আও আবিত বাঁচে উসকো বলভদ্র ভাই !
(দেবপ্রস্থ মােড়।)

১৮ শ্ৰীশ্ৰীঅনরে রঙ্গ [ দ্বিতীয় দৃশ্য . অর্জুন। বকা ফল বা ফুল ঔর ওমদা গাই।। বহুৎ আচ্ছা খো খেল্ আচ্ছা কানাই বলাই । ( বলভদ্র কর্তৃক ধৃত হইয়া মােড়।) সুবল। যমুনা তীরমে কর্পেড়তলে রয় খাড়া কানাই। মধুর মধুর ফুকারে মুরুলী দেত খােসী হই। বলরাম। আও একসাথ ধরে। যব, তব, খেত সাঙ্গ হােই। ম্যায় বলাই কাহে ঝুট মুটু দের লাগাতত ভাই। (সুবল ও বলভদ্রের ধরিয়া পতন।) বলরামের, বহুত, আচ্ছা বলাই দাদা বহুত তারিফ, তােয়। কানাইয়া তেরি হার জিত, হামারা হােয়। সাবাস বলরাম ভেইয়া সাবাস বলরাম। দলের সকলে। ( সকলের হাতে তালি দিয়া নৃত্য।) বলরাম। আয় ভাই কানাই, খিদে পেয়েছে ? কিছু খাবি ? বসুদাম। নে ভাই খা। এই ফলটী ভারি মিষ্টি। খেতে গিয়ে এমন মিষ্টি লাগল যে আর খেতে পান্নুম না। তাের জন্যে এই ধাের খুঁটে বেঁধে রেখিছি। সুবল। আমারও খুটে বাঁধা রয়েছে ভাই, এই নে খা ভাই। (মুখে দেওন।) বসুদাম। না আমার ফুল আগে খেতে হবে তারপর তাের ফল খাবে। না ভাই কানাই ? (মুখে দেন।) কানাই। দে ভাই দে বড্ড খিদে পেয়েছে। বলাই দাদা তুমিও খাও ভাই। (মুখে দেওন।)

দ্বিতীয় দৃশ্য !
শ্ৰীশ্ৰীঅনজের রঙ্গ
বলাই। তাইত রে! অনেক ফল রয়েছে রে, আয় ভাই
সবাই খা।
( সকলের মুখে দেওন।)
বিশাল। তােমরা ভাই খাও, আমি যমুনা থেকে ছুট্টে
জল নিয়ে আসি, কানাই দাদার তেষ্টা লেগেছে।
বলাই। আচ্ছা যা তবে শিগগির আসবি এক দৌড়ে।
এই ভাের ভাগ রইলাে।
( বিশালের প্রস্থান।)
জল টল্ খেয়ে চ ওই বড় গাছটার তলায় শুয়ে জিরুই গে।
( বিশালের প্রবেশ ও সকলের জলপান।)
বলাই। (গাছ তলায় যাইয়া) আঃ! বেশ ঝির ঝি করে
বাতাস দিচ্ছে। নে কানাই এইবার তাের বাঁশী বাজা, সবাই
মজা করে ঘুমু।
কানাই। তুমিও শােনা দাদা। আমার দিনে ঘুম হয় না
আমি বসে বসে বাঁশী বাজাই।
বলাই। (অর্জুনের কোলে মাথা রাখিয়া) আচ্ছা তুই
বছিস্ ত শুই। তুই ত ঘুমােবিনি, দেখিস্ রােদে যেন কোথাও
যানি। আর যদিই যা, ছাওয়ায় ছাওয়ায় কাছে কাছে থাকবি,
দেরি করি নি।
কানাই। তাই হবে দাদা তুমি ঘুমােও। (ধড়া দোলাইয়া
বাতাস দেন।
বলাই। তােকে বাতাস দিতে হবে না ভাই বেশ বাতাস
আছে, যদি নেহাৎ ছাড়বিনি ত সুবল বাতাস দিচ্ছে তুই ভাই
বাঁশী বাজা। ( সুবলের বাতাস দেন, কানায়ের বংশীবাদন
ও সুবল মধুমঙ্গল ব্যতীত সকলের নিদ্ৰাকৰ্ষণ।)

শ্ৰীশ্ৰীঅনজের রঙ্গ
[ তৃতীয় দৃশ্য
সুবল। আর কেন ? এই বেলা পায়ে পায়ে এগােও,
সকলে বেশ ঘুমিয়েছে।
কানাই। ঠিক বলিছি, আর ত সবুর সয় না। তােরাও
চ একটু এদিক ওদিক কবি, আসবার বেলা একসঙ্গে এসে
হাজির হবাে।
মধুমঙ্গল। চল চল শুভস্য শীঘ্রং। তবে নাকি কানায়ের
বুদ্ধি নেই—বােকা হলে কি হয় বুদ্ধি রয়েছে কি না।
কানাই। দায়ে ঠেলে ভাই বােকারও বুদ্ধি খুলে যায়।
সুবল। আর দেরী নয় চল।
উভয়ে। চল।
( তিন জনের প্রস্থান।)
তৃতীয় দৃশ্য।
রাধাকুণ্ড।
( সহচরী পরিবৃতা শ্রীরাধা।)
সখিগণ।
রাধে কৃষ্ণ গােবিন্দ রাধে গােবিন্দ রাধে গােবিন্দ রাধে।
জয় রাধে রাধে রাধে রাধে গােবিন্দ রাধে গােবিন্দ রাধে।
শ্যামকুণ্ড রাধাকুণ্ড গিরি গােবর্ধনে
শ্যাম সনে রাধা প্যারী যুগল মিলনে
বৈঠত, দোলত, বিহত বনে
সফল যৌবন ভেল কুসুম শয়নে।
;

তৃতীয় দৃশ্য ]
শ্ৰীশ্ৰীঅনজের রঙ্গ
২১
-
সহচরী মেলি, দেই করতালি,
নাচত গাহত নানা রসকেলি,
চন্দ্র বয়ান হেরি রজনীদিনে।
সুখময় বৃন্দাবন সুখের সদনে।
রাধা। কই সখি গােবিন্দ কই ?
ললিতা। আয়ে প্রাণবঁধু সখি অধীর না হােই।
শ্রীরাধা। জান নাকি সখি? না হেরি সে চন্দ্রমুখ রাধা
প্রাণে বাঁচে কই ?
ললিতা। ক্ষণেক ধৈর্য ধর, এখুনি আসবে রাই।
শ্রীরাধা। আর কতক্ষণ? ক্ষণে ক্ষণে গেল কতক্ষণ,
ক্ষণ নহে যুগ—পরিমাণ,
এখনও এলনা শ্যাম কি করি উপায়।
আকুল হইল মন, অথির পরাণী,
চঞ্চল পােড়া চিত না মানে বারণ।
ললিতা। হােয়াে না উতলা, ধৈৰ্য্য ধর বালা, কেন লাে কাতরা
প্রাণসজনি।
প্রাণে প্রাণে যে জন বাঁধা-সে কেমনে দূরে রয় লাে :
ধনি ৷৷
তীরে নীরে সখি ফুটেছে কমল,
দশদিশি তার ছুটে পরিমল,
মধু লােভে ধায় মাতল ভ্রমর, এল এল তাের নীলমণি।
সারি সনে শুক মিলে হরিষে,
কুরঙ্গ রঙ্গিণী অঙ্গ পরশে,

শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ [ তৃতীয় দৃশ্য
ময়ূরী ময়ুর নাচে লাে সুখে নবঘন বামে হেরিবে
দামিনী।
এখনি আসিবে তাের বাঁকা রায়,
সােহাগে বকুল মালা দোলাবি গলায়,
হাসি’ হাতে ধরে’ বসাবে কোরে, মিলন গাহিব
মােরা কুতুহলী।
শ্রীরাধা। ধনি ধনি ময়ুর ময়ুরী,
নাচে নবঘন হেরি’ সুখী শিখী সখি।
সে সুখে বঞ্চিত হয় মুঞি অভাগিনী,
ফাটে ছাতি বিহু সেই সুধাবরিষণ,
নীরদেরি আশা পথ চেয়ে চাতকিনী।
ললিতা। মেঘ দরশন আশে মত্ত শিখিজাতি,
নাচে সখি আশা মাত্ৰ ধরি।
নহে দরশন এবে,
আশে নাচে অবিলম্বে দিবে দরশন
তুহারি আকুলচিত বারিদ মাধব।
নাচি শিখী দেয় লাে ভরসা,
আশে আশান্বিতা সখি বাঁধলাে হৃদয়।
শ্রীরাধা।
মরমবেদন ক’ব লাে কা’য়, প্রাণে বাঁচা হােলাে দায়।
পলকে প্রলয় হেরি, না হেরে কালায়।
বিহনে মাধব, বিষসম সব, পাঁজর ঝাঁঝর বিষের
আলায়।

: তৃতীয় দৃশ্য ]
শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
বিষম সন্তাপ, দহে তনুমন, ধস ধস ধাধস বুক ভেঙ্গে
যায়।
কঁদে প্রতি অঙ্গ, মাগে অঙ্গসঙ্গ, কোথা সে ত্রিভঙ্গ
রসিক রায়।
না দেখে যে মরি, এনে দে লাে হরি, মিনতি করি
সখি চালাে আমায়।
গুণমঞ্জরী। (জনান্তিকে) সখীরাণি! পদ্ম এনেছি।
ললিতা। (মৃদুস্বরে) দেখ ছ ত বহিনি, মাগরের বিলম্বে
শ্ৰীমতীর নবম দশা।
দে বােন, হাতাহাতি করে’ ত্বরারি
পদ্মগুলি বিছিয়ে একটু নরম নরম ঠাণ্ডী বিছানা করে দে,
আহা কমলিনী একেবারে শুকিয়ে টাস্ টাস্ করছে। (তপ
করণ।) (শ্রীরাধার প্রতি ) রাই, রাই একটু শােও না ভাই।
রূপি! একটু বাতাস দে ত বােন্, আমি বুকে মাথায় হাত
বুলিয়ে দিই। আয় প্যারি, আমার কোলে মাথা দিয়ে একটু
শশা দেখি, আমরা সবাই মিলে ফাদ পেতে এখুনি তাের চাদটী
ধরে’এনে দেবাে। ভাবনা কি ভাই? (কমলশয্যায় কমলিনীর
শয়ন।)
(অদূরে অনঙ্গমঞ্জরীর প্রবেশ।)
(স্বগত) ঐ যে অনঙ্গ আসছে। এত ছুটছে কেম? আহা
ঘেমে উঠেছে, রাঙা মুখখানি আরও রাঙা হয়ে উঠেছে,—ফুল
তুলতেও গিছল ত অনেকক্ষণ, মুখ চোখে যেন কেমন কেমন
কি খেলছে, অনজের হােলল কি?

২৪
শ্ৰীশ্ৰীঅনজের রঙ্গ
[ তৃতীয় দৃশ্য
(প্রকাশ্যে) রাধে, ঐ অনঙ্গ ছুটতে ছুটতে আসছে, বােধ হয়
কিছু সংবাদ আছে, একটু সুস্থ হও।
শ্রীরাধা। অনঙ্গ? কোথায় অনঙ্গ ?
কতক্ষণ দেখিনি তার চাদমুখখানি।
(উঠিয়া বসিয়া) দেখিয়া) তাইত।
(অনজের সমীপে আগমন।)
ললিতা।
এত ব্যস্ত কেন লাে বহিনি? কেন ধাওয়া ধাও।
পাইলি কি ত্ৰাস? অথবা পাইলি কিছু নাগর উদ্দেশ ?
শ্রীরাধা আয় বােন্ কাছে আয়। জানিস্ বিলম্ব কেন করে
কালশশী ?
অনঙ্গ। স্নেহময়ি ! ক্ষমাময়ি! প্রেমময়ি ভগিনি আমার।
কাতরে করিলাে দিদি মিনতি চরণে
ও নাম লয়াে না দিদি মুখে আরবার,
কো’য়াে না তাহার কথা,
পুছিও না বার্তা তার দোহাই তােমার।
জানি দিদি তােমার মরম,
জানি কত ব্যথা বাজে কোমল হৃদয়ে,
মাের মুখ হ’তে শুনি’ নিদারুণ বাণী।
কিন্তু হায়, না কহিলে নয়, বুক ফেটে যায়,
ধৃষ্ট–অতিষ্ট তাের লম্পট নাগর,
তুই সে বহিনী, স্নেহগুণে অনঙ্গ তাের স্বেচ্ছা-ক্রীতদাসী,
তাের আগে লাজ পরিহরি,
সত্য কহি ধনি,

তৃতীয় দৃশ্য ] শ্ৰীশ্ৰঅনজের রঙ্গ আজি তাের প্রাণপতি অপ্রিয়সম্ভাষে কর্ণপীড়া দেছে লাে বিস্তর। পুরুষ কঠিন জাতি, সুখ লাগি’ মধুলিহব্রতে ব্ৰতী, ফুলে ফুলে শুধু মধু করে অন্বেষণ। না জানে পিরীতি, মুখে করে স্তুতি, অবলার সর্বনাশ তাহার সাধন। নতুবা কেমনে, বল্ বােন্ বল্ প্রেমময়ী রাধিকার কৃপাপাত্ৰজন, ভুলি’ সেই প্রেম, নিঠুর নির্মম, বালিকার পাণি হায় করে আকিঞ্চন। বহিনি, বহিনি, স্নেহময়ি রাণি, কাজ নাই কপটের প্রণয়ভিক্ষায়, কৃপণ হৃদয়হীন নাহি প্রেমলেশ, নাহি প্রাণ, নাহি বুঝে প্রাণেরি বেদন- আয় আয় প্রাণের ভগিনি দে লাে আলিঙ্গন, ভগিনী ভগিনী মােরা জড়াজড়ি করি, প্রাণে প্রাণে মিশি, প্রেম আলিঙ্গনে সাধি সাধের মরণ, জুড়াই যতেক জ্বালা স্নেহের সঙ্গমে। ( ছুটিয়া শ্রীরাধার কোলে ঝাপাইয়া পড়িয়া ভুজদ্বয়ে কণ্ঠ- বেষ্টন করিয়া হৃদয় মধ্যে বদন স্থাপন।)

শ্ৰীশ্ৰীঅনজের রঙ্গ
[ তৃতীয় দৃশ্য
}
রাধা। অনঙ্গ—অনঙ্গপ্রাণের ভগিনি।
( দৃঢ় আলিঙ্গন ও মুখচুম্বন।)
( সাশ্রুনেত্রে) বড় সুখ দিলি বােন্ শুমায়ে বারতা
কান্ত মাের চাহে আজি অনঙ্গ-সঙ্গম।
রুষ্ট কেন বালা? কিকা দোষ তার ?
কে না জানে এ গােকুলে,
( চিবুক ধরিয়া) পরমা রূপসী মাের অঙ্গ ভগিনী,
গুণে নিরূপমা, প্রেমে মনােরমা ;
কেবা সে কিশোের, কোন্ যতীবর,
হেরি নবকিশােরীর যৌবনের লেখা,
লুব্ধ মুগ্ধ পিপাসিত রস-আস্বাদনে,
অনিন্দ্যসুন্দরী পদে নাহি যাচে প্রেম
করিবারে সফল যৌবন ?
পরম রসিক সেই রসিকশেখর,
যােগ্য পাত্র হেরি’ করে প্রেম আকিঞ্চন,
আমার শপথি যদি কর অবহেলা
নাহি কর মনােরথ পূরণ তাহার। ( আলিঙ্গন।)
( চিবুক ধরিয়া) জানি লাে বহিনি তাের মনােগত কথা,
জানি লো কাতরা ভাবি’ রাধা পাবে ব্যথা,
তেঁই তােয় কহি লাে মরম।
জান না ভগিনি
পাগলিনী বহিনী তুহার?
কষ্টসুখ মাত্র হৃদে আশ,

।
তৃতীয় দৃশ্য }
ঐশ্রীঅনজের রঙ্গ
२१
তার সুখ মাত্র গণি, তারি সুখ মাত্র জানি,
প্রেমামৃতধারা বরিষণে, ভাসি’ গেল নিজসুখ
কোথায় কে জানে।
প্রণয় মােহিনীমন্ত্রে সিদ্ধ সেই জন,
যাদুকর কি যাদু করিল, ভুলি আপনা,
আমাতে নহি লাে আমি কহিনু স্বরূপ।
নিতান্ত তাহারি দাসী তুহার ভগিনী,
তার সুখে সত্য কহি পাই বড় সুখ।
তােরে ধনি জানি বিধিমতে,
খাই শুই বােন্ খেলি দুজনে,
এবে নবরসখেলা’সাথে তুই সাথী,সত্য মাের বাণী,
অনঙ্গ বহিনী মাের নহে চন্দ্রাবলী,
তার সনে আন্ নারী না হয় তুলনা,
রূপে গুণে প্রেমে সেহযােগ্য—যােগ্যতমা।
তেঁই কহি প্রাণের ভগিনি,
করে ধরি’ করি লাে মিনতি,
নাগরের কর ধনি আনন্দবর্ধন,
তুষ এবে তা’য় সৰ্বথায়,
তবে ত মােদের চিতে হয় পরিতােষ ।
অনঙ্গ। রাধে! রাধে! প্রাণময়ি।
বলিহারি যাই তাের প্রাণের, ভগিনি।
নিতান্তই স্নেহাধিনী এ তাের বহিনী,
তুহারি গরবে মানি অতি গরবিনী, ।

২৮
শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
[ তৃতীয় দৃশ্য
ধন্য ধন্য অনঙ্গ লাে তােরি মহিমায় ।
ভাল মন্দ নাহি জানি, হিতাহিত নাহি গণি,
সুখামুখ তােরি পায় চিরদিন ডারি।
আদেশ পালন তাের সাধে সাধি সদা,
এই ব্রত, এই পূজা, জপ তপ মাের।
ক্ষেমঙ্করি, যে আদেশ করাে লাে সম্প্রতি,
কিঙ্করীর সাধ্য কি লাে করে অবহেলা ?
কিন্তু দেবী, মনে পাই ভয়,
অলপবয়সী অলপগেয়ানী,
সহজে মুগধা নাহি জানি প্রেমকলা,
পাছে হয় কুটী, তাের অভিলাষ নাহি পূরে পরিপাটী।
প্রেমময়ি, দাও লাে অভয়,
(চরণ ধূলি লইয়া) তুহারি চরণরেণু করি’ সমাশয়,
নির্দেশ পালনে তাের করি প্রাণপণ ।
( শ্রীরাধার আলিঙ্গন ও মস্তকাঘ্রাণ।)
রাধা। কায়মনােবাক্যে এবে কহিলাে বহিনি,
কৃষ্ণসুখময়ী হও কৃষ্ণবিমােহিনী। .
ললিতে, বিশাখে, আর সব সখিগণ !
মনােপ্রাণ খুলি’ সবে করাে লাে প্রসাদ,
সাধের অনঙ্গ আজি চলে লাে সাধিতে
তাের মাের সবাকার সাধের সাধন।
( অনজের সকলের পদধূলি গ্রহণ।)

তৃতীয় দৃশ্য ]
শ্ৰীশ্ৰীঅনজের রঙ্গ
ললিতা। (হস্ত ধরিয়া) নাগর সন্তোষ বােন্ মােদের ধরম ;
ধর্মরক্ষা হাে’ তাের দেবীর কৃপায়,
কায়মনে করি মােরা এই আশীর্বাদ।
আজিকে সফল হবে এ রূপযৌবন,
রূপসীর শিরােমণি কৃষ্ণের প্রেয়সী
হবে আজি ভাবি’ মােরা আনন্দে বিহ্বল।
( আলিঙ্গন ও মস্তক আঘ্রাণ।)
বিশাখা। অনঙ্গে অনঙ্গরণে ভুবনবিজয়ী
পরাজয় করি জয়ী হও লাে সুভগে। ( আলিঙ্গন।)
ইন্দুরেখা। অনঙ্গে, গেলি যে তুই কুসুমচয়নে,
শূন্য সাজি ল’য়ে ধনি আইলি ফিরিয়ে,
ফুল না তুলিতে কি লাে ঘটে পরমাদ ?
ললিতা। সত্যিই ত, ফুল কোথা বােন্?
অনঙ্গ। (নতমুখে) ফুল তুলি’ মালা গাঁথি’ রাখিনু ডালায়।
সঙ্কটের কালে, মালা দিয়ে মান প্রাণ বাঁচায়ে পলাই।
ললিতা। (হাসিয়া) তাের গলে মালা নাকি দিল লাে ফিরায়ে
লম্পটের শিরােমণি চতুর নাগর ?
অনঙ্গ। করিল প্রয়াস,“তুহারি সদনে তবে
ছুটি’ পলাইয়ে কোনােমতে রাখি. এ পরাণ ।
ললিতা। ধনি ধনি বহিনি আমার।
দে দে প্যারি পদধূলি দে অনঙ্গশিরে
( পদধূলি দিয়া মুখচুম্বন।)

শ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
[ তৃতীয় দৃশ্য
মালাটী বদল হ'লে হােতত পরমাদ,
নিবারি’ রাখিলি বালা নারীর সম্মান।
চম্পকলতা। ঐ দেখ হাসি হাসি পশে মাল্যবান্।
(শ্যামাদের প্রবেশ।)
শ্যাম। শ্রীমুখপঙ্কজ হেরিব বলে আমি এসেছি কত আশা করে।
কেন লাে মানিনি, আজি বিরাগিনি, মুখানি ঢাকিলি অম্বরে।
পঙ্কজেরি বনে করেছ শয়ন, পঙ্কজ পঞ্চকে মাের প্রয়ােজন,
খােলাে পজিনি খােললা আবরণ, অনুগত জন ডাকে কাতরে ।
হৃদয়ে ধরিব রাজীব চরণ, সজীব রাজীব রুচির নয়ন
নেহারি’ নেহারি’ বদন কমল সুধাপানে ধনি পাইব জীবন ;
শুন রসবতি, ঘােড়শি সরসি, কর অনুমতি হই’ নিমগণ,
রসদ পরশি’ বসনিষিঞ্চনে জুড়াই যে জালা সহিলাে অন্তরে।
(মুখাবরণােনােচনােম।)
ললিতা। ক্ষান্ত হও ধৃষ্টরাজ।
নহে তড়াগিনী ধনী, নাগরীকুলের রাণী রাধা ঠাকুরাণী ;
প্রেম প্রবাহিনী,
পড়িলে প্রবাহে, ভাসিয়ে যাইবে ধৃষ্ট দুরন্ত বারণ।
শ্যাম। (ন্তব্যস্তে সরিয়া আসিয়া) আজি কোন্ অপরাধে,
-~-
-
কহ সখীরাণি,
নিঠুর নিদেশে হেন কর লাে তাড়ন?
ললিতা। কেবা কোথা শুনেছে এমন
তস্করের সনে রাণী করে আলাপন ?
অপরাধী অভিযুক্ত তুমি,

১
তৃতীয় দৃশ্য ]
শ্ৰীশ্ৰীঅনজের রক্ত
রহ হেথা দাড়াইয়ে বন্ধনদশায় ;
(পুষ্পমাল্য সন্নিকটস্থ বৃক্ষের সহিত হস্তু বন্ধন।)
উপযুক্ত কালে তব হইবে বিচার,
দণ্ড পাবে সমুচিত দুষ্কৃতি যেমন।
শ্যাম। শুনিতে কি নাহি পাই কিবা অপরাধ ?
ললিতা। শুনিবে হইবে যবে রাণীর গােচর,
অবসরমত যবে তঁাহার মনন
বিচারি’তে অপরাধী জনে।
শ্যাম। আধিক্লিষ্টতাপদগ্ধ-পৃথশ্রান্ত এবে
বড় তৃষাতুর এই অনুগত জন।
ঝটিতি বিচারফল করিলে জ্ঞাপন,
বাধ্য র’ব চিরদিন ওই শ্রীচরণে।
ললিতা। স্বতন্ত্র রাণীর ইচ্ছা মােরা আজ্ঞাধীন,
তাঁহার করুণা হলে হইবে বিচার।
শ্রীরাধা। (উঠিয়া বসিয়া) কহ লাে ললিতে কহ কিবা সমাচার
কেনে বা কাহার প্রতি তর্জন গর্জন ?
ললিতা। কালিয়াবরণ এই তস্করপ্রধান,
অনঙ্গে পাইয়া আজি বনে একাকিনী,
মাল্য আভরণ তার করিল হরণ,
আর আর কহে যত অকথ্য কথন।
জাতিধৰ্ম্মে বাধা দেয় না পারি কহিতে ।
শ্যাম। মিথ্যা এই অভিযােগ রাণি।
ললিতা। আরে আরে ধৃষ্ট নাগরক

শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
[ তৃতীয় দৃশ্য
ঠাকুরাণী আগে কহ অনৃতভাষণ।
ছােড় চতুরালি,
সত্য কহ লঘুদণ্ডে যদি কর আশ,
মাধবীর মালা দোলে তােমার গলায়,
কহ মালা পাইলে কোথায় ?
শ্রীরাধা। ললিতে, লহ পরিচয়,
কহ কহিবারে এবে সত্য সমুদায় ।
নহে গুরুদণ্ডে কহি হইবে দণ্ডিত,
অনঙ্গ মাের স্নেহের ভগিনী।
শ্যাম। ব্রজের গােপাল মােরে কহে সৰ্বজন।
বনে ভ্রমি গােধনচারণে,
হেনকালে দিব্যাঙ্গনা আজি
মালা দিল মাের গলে সত্য কহি রাণি।
অশরীরী দিব্যাঙ্গনা শুনি,
নাই অঙ্গ তেঁই নাম হইল অঙ্গনা ;
শুনিলাম বাণী,
বীণাবিনিন্দিত স্বরে চমৎকার মানি’
কহি কথা পাই
প্রত্যুত্তর ;
শব্দ লক্ষ্য করি’ ইতি উতি ধাই,
নাগাল না পাই,
শেষে মালা পরায় গলায়,
পরশ করিতে ধাই, কেহ কোথা নাই,
শূন্য বায়ে মিলাইল সাধের স্বপন।

তৃতীয় দৃশ্য ]
শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
ললিতা। ভাল উপকথা শুনাও তস্কর।
স্বরগে কি দেবতার হইল অভাব ?
দিব্যাঙ্গনার কি হেতু সহসা
হেন ভাগ্যোদয়,
বরমাল্য দেয় আজি গােপালনন্দনে ?
অদর্শন নাকি পুণ্য নন্দনকানন,
পারিজাত হলাে কি দুল্লভ,
তেঁই দেবী মর্তে নামি’ মাধবীর মালা,
যত্নে গাঁথি আরাধয়ে বনের রাখালে ?
এখনও মিথ্যা নাহি ছাড়রে দুর্মতি,
হের নাই কুসুমকাননে
অমরনিন্দিত কান্তি মােহিনী মূরতি ?
বিশাখা। ধিক্ ধিক্ স্পর্ধা তব হইয়ে রাখাল,
গগনের চন্দ্রলােভে উদ্বাহু বামন,
কাম্য কর কি সাহসে রাজার নন্দিনী
ললিতা। উপযুক্ত দণ্ড ত্বরা করিয়ে বিহিত,
রাখালিয়। দর্প এবে কর রাণি চুর।
খাম। শুন রাণি সত্য কহি অদ্ভুত কাহিনী।
মিথ্যা নহে, এবে মাের হতেছে স্মরণ,
হেরিনু কাননে কিছু অপূৰ্ব দর্শন।
রাজার নন্দিনী ! কেবা জানে রাজার নন্দিনী ?
ক্ষণে হেরি ক্ষণপ্রভা চমকে বিপিনে,
ঝলসিত আঁখি চারু দামিনীদলকে,
?

৩৪
শ্ৰীশ্রীঅনজের রঙ্গ
[ তৃতীয় দৃশ্য
ক্ষুব্ধ মুগ্ধ চেয়ে রই,—ওই ওই, কই কই,
এই ছিল কোথা গেল, বিদ্যুতা কই ?
আঁধারে আবরে দিশি হৃদয় আঁধার।
পুনঃ হেরি নবীনা তরুণী,
কিবা তরু জানিবারে চাই,
সন্নিকটে ধাই,
হেরি অঙ্গে দাড়িম্বযুগল,
দাড়িমী নিশ্চয় করি’ হনু হরষিত।
গােপালনন্দন প্রীত বনফলফুলে,
বনেচর রাখালের তাহে অধিকার,
আশে পূর্ণ হৃদি ততক্ষণে,
তরুস্তম্বে করি’ আরােহণ,
দাড়িমপ্রিয় দাড়িমপ্রিয় প্রায়,
ভুঞ্জিব পরম সুখে দাড়িম রসালে ।
কিন্তু হায় বিধি বিড়ম্বন,
ভাগ্যদোষে অচলও কি হইল সচল,
নগ হ’লাে গতিশীল,
দেখিতে দেখিতে তরু হলাে অদর্শন।
ভাবি কিবা মায়া প্রহেলিকা,
ইন্দ্রজাল কিবা ইহা বুদ্ধির বিভ্রম।
এবে শুনি রাজার নন্দিনী,
সত্য যদি রাজার নন্দিনী,
সকল ধনের ধনী,

তৃতীয় দৃশ্য ]
শ্ৰীশ্ৰীঅনজের রঙ্গ
;
তবে দান হয় ত উচিত,
ধনের রক্ষণ হয় অকাতর দানে;
দাতা নাহি পাত্রপাত্র করয়ে বিচার,
দানমাত্র ধর্ম তার ;
তবে কেন হেরি বিপরীত ? কেন লাে কৃপণ ?
কি হেতু নিদয়া বালা দীনহীনজনে ?
অযােগ্য অধম যদি গোপালনন্দন,
দাতা কেন দানকুণ্ঠ ধনি ?
নিজগুণে দরিদ্র নিরখি’ কয়রা ধনি ধন বিতরণ।
শ্রীরাধা। বুঝিনু ললিতে ; বুঝিলে শঠের এবে শঠতার সীমা ?
অপরাধ গুরুতর মানি,
আমা হতে সুবিচার না হবে ইহার।
অনজের কাছে অপরাধী,
করাে সখি এরে তারি করে সমর্পণ,
যথেচ্ছ করুক্‌ ইহার দণ্ডের বিধান,
অপমানের হাে’ প্রতিশােধ।
ললিতা। এস দুষ্ট আজি তব নাহি পরিত্রাণ।
( অঙ্গের প্রতি)
অনলে, সমুচিত করাে এবে দণ্ডের বিধান,
যাহে মনে রহে চিরদিন
নিদারুণ ফলভােগ নাগরী পীড়নে।
(শ্যামাদের বন্ধনমুক্ত করিয়া অনজের হন্তে হত্যার্পণ
ও অনঙ্গ ও শ্যামাদের হাত ধরাধরি করিয়া বহির্গমন।

শ্রীশ্রীঅনজের রঙ্গ
[ চতুর্থ দৃশ্য
শ্রীরাধা। চলাে সখি, কুঞ্জদ্বারে বার্তা লই বসি প্রতীক্ষায়।
( সকলের প্রস্থান।)
চতুর্থ দৃশ্য।
অন-কুঞ্জ।
শ্যাম। (হৃদয়ে ধরিয়া) এই ত পাই মাের দরিদ্রের ধন।
অনঙ্গ পরাণ মাের পরাণরতন ।
অনঙ্গ। (কণ্ঠবেষ্টন করিয়া মুখে চাহিয়া )
ঐছন কহিতে শ্যাম তােহে না যুয়ায়।
চিরপ্ৰমাধিনী দাসী ওই দুটী পায় ।
শ্যাম। (চিবুক ধরিয়া) পূরবে হেরিনু বালা অথিরা বিজুরী,
ক্ষণেকে সে ক্ষণপ্রভা চপল চমকে
চমকিয়ে প্রাণ ডারে নিবিড় আঁধারে।
এবে ভেল কোরে মাের ’িথরা সৌদামিনী,
নীরদবরণ মােরে কহে সবে ধনি,
শুন শুভে শুন লাে শ্ৰীলতে,
বিদ্যুৎবরণী তুহি বরেণ্যবর্ণিনী,
জলদাঙ্গে দেলাে অঙ্গ ঢালি’,
যাহে সদ্য সবরিষণে,
জুড়াইয়ে যা’ যত হৃদয়ের জ্বালা,

চতুর্থ দৃশ্য ]
শ্ৰীশ্ৰীঅনজের রঙ্গ
••
দুর হাে’ মানস সন্তাপ,
প্রেমামৃত শান্তিধারাপাতে।
অনঙ্গ। কোথা সৌদামিনী নাথ এ যে চাতকিনী,
জল জল করি’ মরে পিয়াসে ফুকারি’,
জলধর সুধা বিনু তৃষায় আকুল।
শ্যাম। সকাতরে যাচে জলধর
তৃশান্তি সমুচিত করলাে বিধান।
অনঙ্গ। (বক্ষোপরি মস্তক রাখিয়া )
পদনখে যদি স্থান দিলে অবলায়,
নিজগুণে সুখী হও অযােগ্য সেবায় ।
খাম।
তুহারি বচন নহে অমিয়া-সিঞ্চন
যত কহাে সুধামুখি সুধাকরসুধা
ঝরে তত করে মােরে তুহাতে পাগল।
( পুনরালিঙ্গন ও চুম্বনচেষ্টা।)
অনঙ্গ। (মুখ সরাইয়া লইয়া হস্ত ধরিয়া মুখে চাহিয়া )
ওহি কৃষ্ণ মুখচন্দ্র সত্য সুধাকর ;
ও চাদবদনে মেনে বৈঠে কত চাঁদ,
নহে কেন শ্যামশােভা এত মনােলােভা
সুবিমল বিভা হেরি’ জুড়ায় পরাণ,
অতৃপ্ত দর্শন করে অগেয়ান,
মুখচন্দ্র সুধা আশে যতেক রমণী,
হেরি হেরি’ পুনঃ হেরি হেরে চকোরিণী।
তাম।
(হন্তে হত রাখিয়া )

শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
[ চতুর্থ দৃশ্য
মিনতি করি লাে তােয় না কহ এমতি।
অভাগ। সে কালাে শশী তাের,
যাহার উদয়ে হায় ম্লান কমলিনী।
হেরি সুখে স্মিতমুখে বিকচ নলিনী,
অনুমতি করাে বালা পদনখভৃঙ্গে,
ও কমলমধু পি’য়ে হাে’ক মাতােয়াল।
অনঙ্গ। (হাসিয়া) মাতােয়ালে দণ্ড পায় বদ্ধ কারাগারে।
শ্যাম।
ভূঙ্গের একান্ত সাধ সাধের মরণে,
পিবি’ পিবি’ পদ্মমধু কমল-কারায়।
( বাধা না মানিয়া অধরৌষ্ঠে ও গণ্ডদেশে পুনঃ পুনঃ চুম্বন।)
অনঙ্গ। (মুখ ঘুরাইয়া মৃদু ঠেলিয়া)
কি কর কি কর শ্যাম ছাড় সখা যাই
নারীর পুরুষসনে একা রইতে নাই।
তাম। ( হস্ত ধরিয়া) ভয় কি প্রেয়সী ? নহাে একাকিনী,
নানা অস্ত্র সহায় তােমার,
অবলা ঘােষয়ে লােকে তুহারে সুন্দরি ;
মিথ্যা সেই অপবাদ,বহুবল ধরে বালা রূপবতী নারী।
জানে মধুদীপ ভালাে জানে লাে মাধব ;-
এত যদি ভয় তবে কর লাে প্রয়ােগ
অস্ত্রশস্ত্র পুস্পধনু যত দিল তাে’রে,
খরশর দিঠি হানি’ করাে লাে জর্জর,
নহে ভুজবন্ধনে কিবা রদখণ্ডনে-
পুরুষ অরিরে এবে করাে নির্যাতন,

চতুর্থ দৃশ্য ]
ঐশ্ৰীঅনজের রঙ্গ
••
পরাজয় মানি’ কেন পলাইবে ধনি ?
অনঙ্গ। (দশনে ওষ্ঠ চাপিয়া নতমুখে)
অলপবয়সী মুঞি অলপগেয়ানী
নাহি জানি কলাকেলি রণের কৌশল।
তেঁই কহি ছাড় সখা আজি,
শিখি গিয়া পুনঃ যবে হবে বঁধু দেখা
সমরপিপাসা বীর মিটায়াে তখন।
শ্যাম।
(মুখ তুলিয়া ধরিয়া)
কেন ছলাে’ বরাননে ?
জন্মাবধি সুনিপুণা নারী,
রসরণ কৌশল নারীর
শিক্ষার অপেক্ষা না করে।
সদয় হইয়ে বামা ধরাে নিজ রূপ,
করাে লীলাবতি এবে স্বরূপ প্রকাশ,
কৃতার্থ করাে লাে ধনি তাপিত কিঙ্করে।
অনঙ্গ। (হঠাৎ উঠিয়া হাত ছাড়াইয়া দূরে সরিয়া করজোড়ে)
আসি সখা, ধরি পায় ;
কিঙ্করীরে করে ক্ষমা মিনতি শ্রীপদে।
( প্রস্থানােম।)
খাম। ( ছুটিয়া বসনাঞ্চল ধরিয়া )
প্রাণেশ্বরি ! কেমনে তা পারি
কেমনে ধরি লাে প্রাণ ছাড়ি’ প্রাণধন ?
জীবন-তােষিনি! এস এস লাে হৃদয়ে-
?
ক

শ্ৰীশ্ৰীঅনজের রঙ্গ,
[ পঞ্চম দৃশ্য
হৃদে’ ধরি’ হৃদিধন জুড়াই জীবন।
( দৃঢ় পরিরভন ও পরে উভয়ের কুঞ্জমধ্যে প্রবেশ।)
(কুঞ্জদারে দাসীগণ।)
দুহু জন নিতি নিতি নব অনুরাগ।
দুহু রূপ নিতি নিতি ঘঁহু হিয়ে জাগ।
দুহু মুখ চুম্বই দুহু করু কোর।
দুহু পরিরঙণে উঁহু ভেল ভাের ॥
দুহু দেহ যৈছন দারিদ-হেম।
নিতি নব আরতি নিতি নব প্রেম।
ঘন ঘন কঙ্কন কিঙ্কিনী বােল ।
মুখর মঞ্জীর গাজে কল কল রােল।
নিতি নিতি ঐছন করত বিলাস।
নিতি নিতি হেরই পূরে মনাে আশ ।
পঞ্চমদৃশ্য।
কুমধ্য।
অনঙ্গ। (উঠিয়া বাস সামলাইয়া অঙ্গ ঢাকিয়া নাগরের হস্ত
ধরিয়া)
পাগলী করিয়ে হরি হরিলে সকলি,
সফল জনম আজি হনু সেবাদাসী।

পঞ্চম দৃশ্য ]
শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
১১
এক নিবেদন শুন বহুনারীপতি,
মনে রেখাে অধিনীরে করি হে মিনতি।
তােমার অনেক আছে আমার কেবল তুমি
ভুলাে না ভুলাে না বঁধু—আসি তবে স্বামি।
(কর দুইহাতে ধরিয়া বক্ষে স্থাপন।)
শ্যাম।
কেমনে কহাে নাে বালা নিদারুণ বাণী
হৃদিকুঞ্জবনে তুহি একেশ্বরী রাণী ।
রাধামুজা প্রেমভােরে নিবদ্ধ এ অনুগত জন
সেই ধ্যানে সেই জ্ঞানে সদা নিমগণ।
বিসরণ শঙ্কা যদি সত্য জাগে মনে,
বেঁধে রাখাে ছাড়ি’ কেন যাবে সুলােচনে ?
( মৃদু হাসিয়া ) এসাে তবে বান্ধি দুটী করে এই
বসন-অঞ্চলে। ( বধিতে গিয়া না পারিয়া দুই হস্তে সাবেগে দুই
কর চাপিয়া ধরিয়া চুম্বন করিয়া অশ্রুপূরিত নয়নে হৃদয়ে স্থাপন।
( দাসীগণের প্রবেশ ও উভয়ের মুখে চোখে জল সেবা
করিয়া পানীয় ও তাম্বুল প্রদান।)
অনঙ্গ। অনুমতি করাে নাথ আসি তবে আজি
বিলম্বে বড়ই লাজ পাবাে সখিমাঝে,
বড় আশা প্রাণপত্বি দিলে মাের প্রাণে
আশে র’বাে পুনঃ কবে ল’বে চরণে।
Tাম। বিদায় কেমনে তােরে দিব লাে প্রেয়সি ?
মন নাহি সরে তােরে যেতে দিতে দূরে।

৪২
শ্ৰীশ্ৰীঅনজের রঙ্গ
একান্তই যদি যাবে, এস তবে বারেক হৃদয়ে,
জুড়াই হৃদয় প্রিয়ে তুহারে লইয়ে।
( দৃঢ় আলিঙ্গন ও শতসহস্র মুখচুম্বন।)
( চিবুক ধরিয়া মু'খানি নাড়িয়া)
এসাে তবে, মিলিব এখনি তােরে সখির সমাজে।
( ফিরিয়া ২ দেখিতে ২ দাসীগণসহ অনজের প্রস্থান।)
( একদৃষ্টে হেরিতে হেরিতে) ওই ওই মিলাইল সাধের স্বপন।
যাই এবে প্রিয়নৰ্মসখাগণ পাশে
বার্তা পুছি’ হেরি গিয়া রাধামুজা রাধা।
( প্রস্থান।)
=
ষষ্ঠ দৃশ্য।
রাধাকুণ্ড সন্নিহিত মাঠ।
শ্যাম। ভাই সুবল, বলল সখাদের সংবাদ বলল।
সুবল। তার জন্যে ভাবনা নেই। এখন তােমার সংবাদ
মধু। কিছু ভেবাে না, কানু, কিছু ভেবাে না। একে বল
তায় স্বয়ং মধুমঙ্গল তােমার প্রহরী, এ বড় কড়া পাহারা। ভায়ারা
এখনাে যথা পূৰ্ব্বং তথা পরং, রূপােকাৎ হয়ে ঘাের সুষুপ্তি
সমাধিতে একেবারে অচেতন হয়ে আছেন। নাও এখন বলল,
লালা ব্ৰজবিহারীর বনবিহারের কথা বললা শুনে আমােদ করা

যষ্ঠ দৃশ্য ]
শ্রীঅঙ্গের রঙ্গ
৪৩
«««
সুবল। কেমন আছিলে কানু প্রেয়সীর সনে ?
শ্যাম। বড় সুখে কাটে সেই বেলা
কিন্তু হায় বিধাতা বিমুখ,
জানি কেমনে,
ক্ষণমাত্রে কাটে সেই প্রেমের মিলন,
এই ছিল এই গেল সুখের স্বপন।
মধু। আচ্ছা কানু এ তাের কোন্ দেশী পিরীত বল দেখি?
পিরীত কবি, মজা ওড়াবি, নিজেও সুখী হবি আর আমাদের
ববি আমরাও শুনে সুখের সাগরে হাবুডুবু খাবাে। তা নয়, এ
আলাে ছাওয়ায় মেশামিশি, না দিন না রাত্তির সাজের
বেলায় যমুনাভ্রমণের মত, এতটুকু সুখের ফুরফুরে হাওয়ায়
এতখানি দুঃখের ঝাঁজ পােরা নিদাঘসঞ্চারী সমীরণের মত,
নেহাৎ কিম্ভুতকিমাকার ধরণের তাের পিরীতটার কথা শুনবাে
কি সূত্রপাতেই যেন প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে। আমরা কোথায় তাের
পিরীতের মজাদারীটে শুনে একটু মজগুন্ হবে বলে’ উদগ্রীব,
উৎকর্ণ, উদ্ধপুচ্ছ ( ধেনুর লাঙ্গল পশ্চাতে উচু করিয়া ধরিয়া)
হয়ে রয়েছি, আর তুই কিনা এখন নেই নেই করে বেসুরাে
গাইতে শুরু কল্লি ?
শ্যাম। আচ্ছা ভাই, এইবার সুর বালুম। অনেকক্ষণ
খাড়া হয়ে দাড়িয়ে দাড়িয়ে লাল মশায়ের পা ব্যথা করছে,
এসে তােমার ল্যাজটা একবার মলে দিই। (তপকরণ।)
তা যেন হ’লাে কানু, তারপর বলল ভাই।
শ্যাম। তারপর আর কি ? যে রত্নটা লাভ হবে বলে
সুবল।

০৫
শ্ৰীশ্ৰীঅনজের রঙ্গ
[ যষ্ঠ দৃশ্য
দক্ষিণ বাহুটী তখন লাফালাফি করছিলাে সেই রত্নটী লাভ
হ’লল।
মধু। বাঃ-এ যে সেই ফুলাে আর মােলাে পালা গাইলি
কা। বলি, লাভ ত হ’লল, তার বিস্তারিত বিবরণটী বিবৃত
কৰ্ত্তে আজ্ঞা হােক্।
সুবল। আজ তাহলে নবীনা প্রেয়সী, কেমন ত ?
শ্যাম। প্রবীণা ভগিনী আজি নবীনা রমণী ।
মধু। বেশ, বেশ, তাই বলল। তা হলে ত আজ
হাজারাে মজা। তারপর? তারপর ?
সুবল। সুখে ত আছিলে কানু নব আলাপনে ?
মধু। বলি, এটী কেমন ? তাের মন ভােলাতে পেরেছিলাে
ত ?
াম। শুন সখে, কহি বিবরণ,
সুকর কদাপি নহে রসবিশ্লেষণ।
আকারে বয়সে নারী অল্প করি মানি,
বড়ই দুর্বোধ তার অগাধ চরিত।
রীতি নীতি, স্থিতি গতি, রতি মতি তার,
রঙ্গ ভঙ্গ তরঙ্গ সঙ্কুল,
বুঝনে না যায়, চিত্ত আকর্ষয়,
দুর্নিবার ঘূর্ণাবর্তে জীবন সংশয়।
কি মােহিনী মন্ত্র জানে প্রেমিকা রমণী,
মপূত রজত কাঞ্চন
যষ্টির নির্ঘাতে ক্ষণে মারিয়া জীয়ায়।

যষ্ঠ দৃশ্য ] শ্ৰীশ্ৰীঅনজের রঙ্গ ৪৫ ভুজলতাপাশে বাঁধি’—আঁখি-শর হানে, জর জর তনু নর মরে মােহঘােরে ; পুনঃ নারী-মুখসুধাসঞ্জীবনী পানে মৃতে হয় অমৃতসঞ্চার ;- সুখের মরণে লভে অমর জীবন। রাধা অনুরূপী এই রাধামুজা বালা, রূপে গুণে মনােরমা, প্রেমে প্রাণপ্রিয়তমা, তেমতি রসিকা বামা, যাহে হৃদে অধিক উল্লাস। কে বুঝয়ে নারীর পিরীতি। ক্ষণে সকরুণ ভাষে যাচে প্রেম চিরপ্ৰেমাধীনী, ক্ষণে রুষি’ তজ্জে গর্জে করয়ে ভৎসন, দূরে যায় পলাইয়ে ছাড়ায়ে বন্ধন ;- মধুর সে কাকুতির স্তুতি সােহাগপিরীতি, মধুর—মধুরতর পরিহার রীতি, সকলি মধুর তার প্রেমিকা মধুরা মধুর তাহার প্রেম প্রকৃতি মধুর, মধুর ধরম তার মধুর করম মধুর মধুর সেহ কেবলি মধুর। মধু। ওঁ মধুঃ—ওঁ মধুঃ—ওঁ মধুঃ ইতি মধুরেণ বধূগাথা সমাপ্তা। শ্যাম। গাও মধুমঙ্গল গান হে মধুমঙ্গল। সকলে। জয় মধুজ্যেষ্ঠ মধুবর্ষী মধুমাধবী মধুর রসের জয় । জয় মধুরযুগল নাগর নাগরীর জয়! জয় মধুসারথি মধুদীপ মধুর-

3
শ্ৰীশ্ৰীঅনজের রঙ্গ
[ সপ্তম দৃশ্য
মােহন মদনমােহনের জয়! জয় মধুমাসি মধুমতীসদে মমধু-
ব্ৰত গােপবন্ধু গােপেন্দ্রনন্দনের জয় !
( গােপালবৃন্দের প্রবেশ।)
আয়রে মােদের রাখালরাজা গােচারণে যাই।
নিতুই নূতন রাণী দেবব ভাবনা কিসের ভাই।
রাঙা রাঙা রাণী, নারীশিরােমণি,
রূপে গুণে মাধুরী-ব্রজে অভাব নাই।
তুই আমাদের প্রিয়সখা তুই আমাদের রাজা।
তাের সঙ্গে খেলা খেলে হয় দুশাে’ মজা।
বনের ফল মিষ্টি পেলে, খেয়ে সুখ নেই দিই তাের গালে,
বনফুলের মালা আদরে তাের গলে পরাই।
ক্ষুধায় অন্ন বনে পাই, মােরা কারে না ডরাই,
বাঁশী শুনি, লহর গুণি, সুখে নাচি গাই।
(কানাইয়ের হাত ধরিয়া গাহিতে গাহিতে প্রস্থান।)
সপ্তম দৃশ্য।
বকুলতলা।
শ্রীরাধা সখীমঞ্জরীপরিবৃতা সমাসীন।
(গাহিতে গাহিতে অনঙ্গমঞ্জরীকে লইয়া দাসীগণের প্রবেশ।)
বঁধু তােমার কোবাে রাজা তরুতলে।
গাঁথব বনফুলের মালা, দুবে গলে বনমালা,

সপ্তম দৃশ্য 3
শ্ৰীশ্ৰীঅনজের রঙ্গ
৪৭
অভিষেক কোরুবাে তােমায় আঁখিজলে ।
আধ আঁচর পাতি, বসাইব প্রাণপতি,
ছত্র পাদুকা হবাে, চামর দিব শ্রমজলে ।
আমি হ’বাে তােমারি, তুমি কি হবে না আমারি,
তনুমনােপ্রাণ ঢেলে দিব পায় আরতিকালে ।
রাখিব নয়নে নয়নে, বাহু উপাধান শয়নে,
ঘনসুধাপানে, মত্ত পরাণে, আধ আধ ঘুমঘােরে ৷৷
ললিতা। (আগু বাড়িয়া অনঙ্গের হাত ধরিয়া)
এস এস আজিকার বসন্তের রাণি,
এস এস অনঙ্গমােহিনি,
কহ লাে বহিনি, কেমনে বা দণ্ডদানে তুষিলে নাগর,
চৌরকুল শিরােমণি লম্পটবর।
শ্রীরাধা। নতমুখী কেন লাে বহিনি?
রাজার নন্দিনী তুই রাধার ভগিনী,
সে মানে মানিনী ধনী অতি গরবিনী,
উচ্চশিরে ফীতবক্ষে ডগমগি’ চলি’
চিরদিন কর শুভে আনন্দবর্ধন
আজি কেন আনত আনন,
বাক্য নাহি হয় নিঃসরণ,
মন্ত্রৌষধিরুদ্ধবীৰ্য ফণিনীর প্রায়
নম্রশিরে ভাঙ্গি ভাঙ্গি পড়াে লাে কল্যাণি
আয় বােন কাছে আয়, আয় কোরে আয়,
এক গুরুপদে মােরা, এক দীক্ষা পেয়ে
;

৪৮
শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
[ সপ্তম দৃশ্য
একই মধুরাবেশে হই একপ্রাণ।
বুঝিছ বহিনি আজি কত সুখ দিলে প্রাণে প্রাণের
ভগিনি।
(আলিঙ্গন ও অনজের কোরে বসিয়া দুই হাতে গলা
জড়াইয়া হৃদয়ে মুখ লুকাওন।)
ললিতা। মরেছ? তবে আর বার্তা কেবা কবে ?
নাগর না এলে সখি না শুনি বিশেষ।
শ্রীরাধা। অঙ্গবাসে সুবাসিত ধনি,
রাধানাসা মনােসাধ পুরালে সুভগে।
বলল বলল আদরিণি, লক্ষ্মী দিদিমণি,
বলল কতক্ষণে আসিবে সে দিতে দরশন।
অনঙ্গ। (বুকে মুখ রাখিয়া) সুবলাদি সনে এবে দেখা মাত্র করি’
এখনি আইল শ্যাম তাের গুণমণি।
( পুনরায় মুখ লুকাওন।)
রসমঞ্জরী। (হঠাৎ মুখখানি তুলিয়া দেখিয়া )
দেখ দেখ লাে ললিতে,
সহজেই রাগরক্ত অনজের সুরঙ্গ অধর,
সহসা কি হেতু আজি রক্তহীন নিরখি পার ?
ললিতা। (হাসিয়া) মিথ্যা নহে বাণী,
কি ঘটিল অকুশল কহাে লাে বহিনি।
রােগে হয় অঙ্গ রক্তহীন,
সহসা বিষম ব্যাধি কি হইল তাের ?
বিশাখা। জলৌকসে রক্ত চুষি খায়।

সপ্তম দৃশ্য ]
শ্ৰীশ্ৰীঅঙ্গের রঙ্গ
৪৯
বনে বনে ভ্ৰমিলি যখন
জলৌকা কি অধরৌষ্ঠে বসিল তুহার ?
আহা মরে যাই, কেন না বারিলি’ বােন্,
নিঃশেষে শুষিল দুষ্ট তুহারি সুসার ।
শ্রীরাধা। বরজে বাড়িল বড় আততায়ী জ্বালা।
একে দণ্ড দিতে আজি নিয়ােজি বহিনী,
আনে আসি দ্বিপ্রহরে করে অত্যাচার।
ললিতা। চোরে বা লইতে দণ্ড ভ্রমে দণ্ড করে অবলায় ।
নহে অসম্ভব, সেই চোরে সকলি সম্ভব।
কহাে লাে বহিনি তবে তার করি প্রতীকার।
রসমঞ্জরী। (সহসা কলিকাবরণ সরাইয়া )
দেখ সখীরাণি, এও কি চোরের কাজ ?
চোরের এতেক স্পর্ধা তাহা নাহি জানি,
দারুণ আঘাত আজি পাইল বহিনী।
ললিতা। সুন্দর মন্দিরখানি, নিজহাতে সৃজিয়ে বিধাতা,
নিজে মুগ্ধ চারু শােভা হেরি’,
জোড়াশিব তদুপরি করিলা স্থাপন।
বড় সাধে যােগ্য উপাদানে নিজে পূজা করে,
তাহে তুষ্ট আশুতোেষ আজি হইলা জাগ্রত,
চন্দ্রচূড় মূর্তি ধরি’ হইলা প্রকাশ।
বিশাখা। কিন্তু হের অপরূপ,
এক চন্দ্র নহে হের শত শত চাদ-চিহ্ন এবে
এককালে শিশুশভালে।

ঐশ্রীঅনজের অঙ্গ
[ সপ্তম দৃশ্য
শ্রীরাধা। ধনি ধনি চন্দ্রচূড়লীলা।
অনজে করি অনঙ্গ, অনজের অঙ্গে আজি অনঙ্গ উদয় ।
ঐ আসে অনঙ্গমােহন।
( অনঙ্গের—কোল হইতে নামিয়া ছুটিয়া গিয়া রসমঞ্জরীর
পৃষ্ঠদেশে নীরবে মৃদু শ্ৰীকরপ্রসাদ দান করিয়া তাহার হাত
ধরিয়া সখীমঞ্জরীবৃন্দের মধ্যে লুকাইয়া অবস্থান।)
(শ্যামাদের প্রবেশ।)
ললিতা। কালাদ ! কি মনে করে ?
এবে ভেল বেলা দ্বিপ্রহর,
রাকাশশী কেমনে হে আসি’
তরণী কিরণ মাঝে হইলে উদয় ?
খাম।
চাদ কি লাে অস্তমিত দিবস বেলায় ?
বিশাখা। নহে
অন্তমিত
তভু চন্দ্র হয় অদর্শন ভানুর কিরণমালা জ্বালার প্রভাবে।
ললিতা। সে ভানুনন্দিনী হের বিরাজে গগনে
তেঁই সে বিস্মিত মােরা হেরি’ কালােশশীর উদয় ।
বিশাখা। নহে শশী, হের সখি এ নব কদম্ব,
ঘনশ্যামদ্যুতিমাখা হের অঙ্গশােভা।
ললিতা। কিন্তু সখি দেখা যায় ভানুর অজা;
এ যদি লাে নবীন নীরদ, তবে মেঘে রৌদ্রে মিশি,
রমণীয় ইন্দ্রধনু কেন না নিরখি ?
শ্যাম।
কার সাধ্য ঈশ্বরীর আজ্ঞা করে হেলা?
দেবী আজ্ঞা করিতে পালন,

সপ্তম দৃশ্য ]
শ্ৰীশ্ৰীঅনজের রঙ্গ
অভিনব ইন্দ্রধনু হইল প্রকাশ।
( শ্রীরাধাকে বামে লইয়া সিংহাসনােপরি উপবেশন।)
সকলে। (করতালি দিয়া)
রাধে গােবিন্দ রাধে গােবিন্দ রাধে গােবিন্দ রাধে।
শ্রীরাধা। ললিতে, করাে লাে পূর্ণ মিলনবাসর।
ললিতা। শুনিলে ত রাণীর নিদেশ ।
কহাে কহাে রসিক সুজন,
মনােমত দণ্ডদান করিলাে ত বালা?
যােগ্যতম অধিকারে তুষি’ যেই হরি
বামেতর অর্ধাঙ্গিনী শ্যামসােহাগিনী ?
( অনঙ্গের অন্বেষণ করিয়া হাতে ধরিয়া সিংহাসনে বসাইয়া
এস এস এস লাে বহিনি,
বােসাে শ্যাম দক্ষভাগে লাে চারুহাসিনি,
সুখে সাজাইয়া দিয়া রত্নসিংহাসন,
হিন্দোলে দোলাই আজি—ত্রিতয়মিলন।
( কিবা )
( কিবা )
রাধা কৃষ্ণ অনঙ্গ, রাম রাধা গােবিন্দ,
পিরীতি মূরতি হের পরাণ পুতলি রে ।
নন্দনন্দন বেঢ়ি ভানুর দুলালী রে।
মাধব ঘেরি’ ঘেরি’ মাধবী রসালী রে ।
সজল জলদ অঙ্গ, ভাবিনী-ভাব ত্রিভঙ্গ,
বহমৌলী বনমালী অধরে মুরলী রে ।
বামে 'থির সৌদামিনী, রমণীমুকুটমণি,

:: শ্রীশ্রীঅঙ্গের রঙ্গ
[ সপ্তম দৃশ্য
ভাবপ্রেমরসৰিলাসে নাগরভুলানী রে ।
দক্ষ নব রসবালা, অনঙ্গ মণ্ডপ আলা,
ঢল ঢল রূপতরঙ্গ রঙ্গের রঙ্গিনী রে ।
আজু অপরূপ শােভা, হেরইতে মনােললাভা,
মাতলী পাগলী মন গাহত মিলনী রে ।
(গাহিতে ২ মণ্ডলী করিয়া করতালি দিয়া বেড়িয়া ২ নৃত্য।
যবনিকা-পতন।

--

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Sri Sri Ananger Rango

Author
Chattopadhyay,narendranath
Title
Natika
File name
Sri Sri Ananger Rango
Text
OCR done
Citation
1932
Published
2009/09/16
Publisher
Narendranath Chattopadhyay,calcutta
Language
Sanskrit
Pages
68
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Drama
Keywords
Sri Sri Radharani
DLI number
513336
Barcode
4990010020323.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
n56YaMJH3De
Download PDF

Sri Sri Ananger Rango