Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Chayanika

2009/11/6

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

চয়নিক

প্রকাশক
শিশির কুমার চট্টোপাধ্যায়
বিহার বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের
প্রথম অধিবেশন উপলক্ষে প্রকাশিত।
মজঃফরপুর, দোলপূর্ণিমা, ১৩৩৩।
৬১নং বহুবাজার ষ্ট্রীট, কলিকাতা
কুন্তলীন প্রেস
শ্ৰচন্দ্ৰমাধব বিশ্বাস কর্তৃক মুদ্রিত।

সূচীপত্র
•••
•••
•••
১৭
২
...
•••
•••
৪।
৮৪
৫ ০ ০
১। অদ্বৈতবাদে সৃষ্টি
২। নবীন ভারত পুরাণ
৩। সমাজতন্ত্র
বেহারে বাঙ্গালী আমি
৫। বিশ্ব বিজয়ে ব্যাপৃত আমরা
৬। পুরীধামে জনৈক ভদ্রলােকের আগ্রহে লিখিত
৭। না বুঝি সংসার খেলা,
৮। কলিকাতা ঠনঠনিয়ার কালীবাড়ীর কালীমূর্তির
কাপড় পরা দর্শনে
৯। নূতন একরকম
•••
১০। ঠনঠনে কালীতলা
৩০ ।
•••
•••
১২০

No text on this page.

নিকা।
অদ্বৈতবাদ সৃষ্টি
গগনের সেই সুদূৰ শ্ৰান্ত
আমার যেথা খড় ।
কীপ্তমহিমা, চিদানন্দময়
মা লোক
সেই দেবলোক মাৰে,
অপূর্ব পুৱী রিয়াজ
রিকে যেঞ্চ অবস্থিত।
গােলে হারাম,
সর্বঠে সেই মাম
যে নামেতে ভূবে পরিচিত ।
অর্গ, মর্ত, রাজল,
বলি, শ, তাল
সকলেই সেই রাজধানী।
ব্রহ্মাণ্ডের সোপিট্যাল, যেথা হতে বিরল
বাহিয়ায় বিচালন কী।

চয়নিকা
সৃষ্টি করণের পূর্বে,
একাত্ম একক যবে
ধ্যানে মগ্ন কাটাতেন কাল।
বিষয় অভাবে বিভু,
নিজেই নিজের প্রভু
নিজে নিজ-ধ্যানেতে বিহ্বল ।
একাগ্র নিজের ধ্যানে,
জ্ঞান উপজিল মনে
কি অপার শক্তি নিজে আছে।
নিরুদ্দেশ্য আত্মধ্যান, বৃথা, ত্যাজ্য, এই জ্ঞান
বিক্ষোপ আনিল চিত্ত মাঝে।
মিলি সে জ্ঞানের সহ,
নিষ্কর্ম দুর্বিষহ
সৃষ্টি ইচ্ছা জন্মাইল ঘাের।
কোন্ বস্তু কি কি ভাবে, কোন্ কাজে কোথা রবে
এ কল্পনায় হলেন বিভাের ॥
কল্পিত প্লানের (ধারার) মত, কুক্স স্কুল ভেদ গত
ত্রিলােক ব্রহ্মাণ্ড আদি সব।
সূৰ্য, চন্দ্র, গ্রহ, তারা, সর্ব জ্যোতিষ্কের ধারা
জল, বায়ু, মৃত্তিকা, ধাতব ।
অচিত, সচিত, জীব, স্ত্রীজাতি, পুরুষ, জীব
গতি, স্থিতি, নানা রূপ ভাব।
কত্ৰিত সৃষ্টির প্ল্যানে,
উপযােগী যে যে স্থানে
নিবেশিত হইল সে সব।
সৃষ্টিপ্ল্যান ( ধারা) স্থির করে, * সৃষ্টি উপাদান তরে
বিভুমন হল
উচাটন।

চয়নিকা স্রষ্টা ও সৃষ্টের ঐক্য, এ ভবিষ ঋষি বাক্য, স্কুল, সূক্ষ্ম যাহা বিদ্যমান। সকলই ব্রহ্মার কায়া, তারই অংশ, তারই মায়া, তা হতে উদ্ভব, তঁাতেই লয়। এই ভাবী জ্ঞান উদি, আশ্বস্ত হইলে হৃদি হল অন্য চিন্তার উদয় । প্রথম আয়ােজন বিপুল বিশ্ব সৃজন, বিশেষজ্ঞ একজন থাকিলে বিয়ের নাহি ভয়। তাই ভগবান্ হরি, নিজ দেহ অংশ করি ব্রহ্মা রূপে হলেন উদয় । ব্ৰহ্মারে করি উদ্ভব, সৃষ্টি বিধি কাৰ্য সব ব্রহ্মা হস্তে করিলেন অর্পণ। ভার (চার্জ) অর্পিবার কালে, কার্যে নিয়ােগের ছলে ব্ৰহ্মারে সম্বােধি বিষ্ণু ক’ন। এই যে অনন্ত শূন্য, আমি ভিন্ন নাহি অন্য চিন্তার ও বিষয় কিছু নাই। বিষয় অভাবে মন হয় অতি উচাটন নিফৰ্মতা হেতু ক্লেশ পাই। বিষয় অভাব তাই, মােচন করিতে ভাই সৃষ্টি ইচ্ছা হয়েছে আমার। ৩

কিরূপে কি সৃষ্টি হবে,
কোথায় কি ভাবে রবে
কর্মচেষ্টা কি হবে কার।
এ সমস্ত স্থির করে,
গানও করেছি পরে
সেই মত কাৰ্য হওয়া চাই।
করিতে সৃষ্টি সাধন,
সাহায্যের প্রয়ােজন
উদ্ভব করেছি তােমা তাই।
যা কিছু সৃজন হবে,
সকলই আমার হবে
সকলেরই প্রভু আমি রব।
আমারই ঘােষিবে নাম,
সৃষ্ট জীব অবিরাম।
হইলেও তব সৃষ্ট সবা
স্তব, স্তুতি, পূজা, পাঠ যাহা কিছু হবে।
সৃষ্টিকর্তা বলি সবে আমাকে করিবে।
এ সবের অধিকার কহ বর্জন।
না করিবে শ্রষ্টা বলি দাবী কদাচন।
ভাবী বিশ্বপতির এই নিয়া প্রস্তাব।
সাষ্টাঙ্গ প্রণত ব্রহ্মা দিলেন জবাব।
ব্রহ্মা উবাচ
একি তব বাক্য ব্ৰহ্ম? একি ব্যবহার ?
ভাবী বিশ্বপতি তুমি, তুমি সারাৎসার ॥
ভাই বলে সম্বােধন উচিত না হয়।
তবংশে জন্মিলে (ও) তব সমকক্ষ নয় ।
3

সমগ্র সৃষ্টিই হবে তৰ অধিকার। কার সাধ্য এ খাতের করে অস্বীকার । দাসভাবে আজ সব পালিব তােমার। করিলাম তােমাঃকাছে এই অঙ্গীকার। সৃষ্টি সমাপন পর, ব্রহ্মা নিজ অঙ্গীকার করেছেন সর্বদা পালন। লভিলে ও নাম বিভু, ব্রহ্মা বিষ্ণু সহ কভু দ্বন্দীভার: করেন নি ধারণ। বরঞ্চ এ অঙ্গীকার, রেখেছে সমর করেও নি কোন তার ক্ষতি। মানব স্বভাব হতে, আশাও ছিল না.পেতে কোনরূপ পুজা, পাঠ, স্মৃতি। যা হতে লাভের আশ,. যা হতে ধবংসের ত্রাস কিম্বা যার অধিকারে বাস, সন্তুষ্ট রাখিতে তারে, লােক স্তুতি গান করে মানুষ এতই স্বার্থবশ, দেউল, মন্দির করি, প্রতিমা স্থাপি তাদেরি সেবে নানা ধ্যান উপচারে। তাই এ ভারত ধরা, শৈব, বৈষ্ণবতে, ভরা শিব, বিষ্ণু প্রতিমা মন্দিরে। সে দেবেরও অবতার, শক্তিও তাঁদের আর বিবিধ বিধানে পূজা পান।

চয়নিক ব্ৰহ্মারে না পুছে কেহ, নাহিও মন্দির, গেহ নাহি পান পূজা, স্তুতি, গান । দ্বিতীয়-আয়ােজন সেই স্থান কেন্দ্র করি, যেথা পরব্রহ্ম হরি ধ্যানে মগ্ন কাটাতেন কাল । দূর ব্যাপি চারিধারে, স্থাপিলেন' গােলাকারে দেবলােক বিপুল বিশাল। দুর্ভেদ্য, দুল করি, পরিখা, প্রাচীরে ঘেরি দেবলােক সীমাবদ্ধ হল। এক অংশ হলাে তার, বাস জয় দেবতার নিম্মুক্ত আত্মার তরে অন্য । ব্রহ্মা অধিকারময়, বিশ্বসৃষ্টি কাৰ্যালয় (ও) ধারণ করিল অংশ ভিন্ন। যে অংশ সৃষ্টির খণ্ড, নানাগার, নানা কুণ্ড সেই অংশে হইল স্থাপিত। বিপুল সৃষ্টি কারণ, যে যে যন্ত্রের প্রয়ােজন সে যন্ত্রও হইল সৃজিত । আছিল ব্ৰহ্ম আদেশ, রাখিতে দৃষ্টি বিশেষ বাত, বহুল হয় সৃষ্টি। ভিন্ন চেষ্টা, ভিন্ন কর্মী, চাঞ্চল্য ও'ভেদ ধর্মী যাতে হয়, রাখিতে সে দৃষ্টি । t

চয়নিকা
এদের হলে অভাব,
হবে ঘাের সমভাব
সমভাব দৃষ্টিসুখ নাশে।
মনে রেখে এই কথা,
নবীনতা নাহি যেথা
সৌন্দৰ্য সেখানে নাহি আসে।
চেষ্টা ও পরিবর্তন,
নবীনতা আনয়ন
করিয়া নৈৰ্ম ক্লেশ নাশে ।
শুনিয়া ব্ৰহ্মবচন,
চিন্তায় হয়ে মগন
ব্ৰহ্মা ব্রহ্মে করে নিবেদন।
শ্রীব্রহ্মা উবাচ
হিংসা, যে, লােভ, দ্রোহ, দয়া, দাক্ষিণ্য, স্নেহ
কাম, ক্রোধ, গুণধর্থ যত।
জীবন চেতনা সহ থাকিলে নিহিত।
নানা চেষ্টাময় জীব হইবে সতত ॥
কর্ম প্ররােচক এদের হবে প্রয়ােজন।
উপাদান সহ এদের করুণ অর্পণ।
চতুর্থ উপাদান সংগ্রহ
শুনিয়া ব্রহ্মার বাক্য পরব্রহ্ম কন।
আমার শরীরে পাবে সৃষ্টি উপাদান।
সূম, স্কুল আদি করে যা কিছু চাহিবে।
সব উপাদান(ই) এই বপু হতে পাবে।
৭

একেবারে ব্রহ্ম ইচ্ছা প্রবল হইল।
সেই ইচ্ছা স্রোত সহ বেগে বাহিরিল।
সেই সব শক্তি যার সংস্পর্শে আসলে,
সুক্ষ্ম পরিণত হয় ভিন্ন ভিন্ন স্কুলে।
আরও ব্ৰহ্ম আত্মা হতে মধুর আভায়,
দয়া, দাক্ষিণ্য, স্নেহ, বেগে বাহিরায় ।
ব্ৰহ্ম আত্মা হতে সব হয়ে নির্গমন,
সৃষ্টিশালে কুণ্ডাগার করিল পূরণ
এরূপে প্রকাশি ব্ৰহ্ম সৃষ্টি উপাদান।
ব্ৰহ্মাকে দিলেন আদেশ করিতে সৃজন।
দক্ষ দাক্ষিণ্য, ভিন্ন
নাহি এল বৃত্তি অন্য
হিংসা, ক্রোধ, লােভ, নির্মমতা।
এ সকলে নাহি দেখি,
বিফলতা ভয়ে দুঃখী
অন্ধ বন্ধে কহেন বারতা:
হিংসা আদি বৃত্তি যত,
হলে জীব চিত্তগত
হবে জীব-চাঞ্চল্য দুষ্কর।
কৰ্ম প্ররােচক এরা,
ভেদ, চঞ্চলতা ভরা
জীবে কর্মে করিবে তৎপর।
বিনা হিংসা, দ্বেষ, দ্রোহ, দয়, দক্ষিণ্য, স্নেহ
ক্রিয়াবান কেমনে হইকে ?
তাই মম আবেদন,
একেকরুন অর্পণ
চঞ্চলতা যদি চান অনেক

ওনি এ ব্রহ্মা বচন, পরে অন্বেষণ করিতে লাগিলেন চিত্তমাঝে। অন্বেষণে নাহি পান, চিত্তে এদের নাহি স্থান দেখি শুধু দয়া, স্নেহ আছে ব্ৰহ্মাকে উদ্দেশ করি, ক’ন পরব্রহ্ম হরি এ সকল বৃত্তি নাহি পাই। ব্যর্থ অন্বেষণ করা, শুধু কৃপা, স্নেহ ভরা বৃত্তি যাহা চাহ হেথা নাই । তনি এ ব্ৰহ্মবচন, ব্রহ্মা কিছু করি ধ্যান কহিলেন, প্রভু দয়াময়, করিয়াছি স্থির মনে, সচেষ্ট হবে কেমনে জীবচিত্ত চাঞ্চল্য আলয় । রক্ষিতে জীবন প্রাণ, খাদ্য হবে প্রয়ােজন খাদ্য বিনা না রবে জীবন। সৃষ্টিলােপ নাহি হয়, নাহি হয় জাতিক্ষয় এ বিধিও করিব সাধন। খ. ও কেশর জ্ঞান, জীবচিতে আরোপণ করে দিব এরূপ বিধানে। অবিচ্ছিন্ন সুখ তরে, দুঃখ, জেশ লঘিবারে রবে সদা চেষ্টা, জীব মনে ॥ সৃষ্টিরও রক্ষার হেতু যত জীব, vত বস্তু সকলেতে থাকিবে নিহিত।

চয়নিকা সে সব শক্তি, উপায়, যাতে সদা বৃদ্ধি পায় বস্তু, জীব সম ধৰ্ম্মগত । অজস্ব বিধান, খাদ্য উপাদান থাকিলেও এই ভবে। ভক্ষ্য নির্বাচন, করার যে জ্ঞান আদিতে না রবে জীবে । বুভুক্ষা, উন্মাদভরে, ভক্ষ্য আহরণ ভরে এক জীব অন্য জীবে বধি। ভক্ষ্যরূপে ব্যবহার, করিবেক নিরন্তর জীবদেহ জীবভক্ষ্য বিধি। হিংসাবৃত্তি এই ভাবে জন্মিয়া প্রবল হবে দয়াবৃত্তি নিস্ক্রিয় থাকিবে। অদম্য সুখের আশ, নিবারিতে দুঃখত্রাস স্বার্থবৃত্তি জীবে প্রবেশিবে। স্বার্থ হবে মূল লক্ষ্য, দয়া, প্রেম, মেহ, সৌখ্য স্বার্থজ্ঞান সদাই ৰােধিবে। স্বার্থমুখ ইচ্ছা সহ, ক্রোধ ও জিঘাংসা মােহ আনিবে লােভ, দ্রোহ, নির্মমতা। দ্রোহ, নির্মমতা আসি, দয়া, দাক্ষিণ্য নাশি, ভুলাইবে অন্য কাতরতা। ক্রমে ক্রমে যবে হবে জ্ঞানের উদয়, জীবদেহ ভিন্ন অন্য খাদ্যের সঞ্চয় ;

চয়নিকা
শিখিবে করিতে যারা, সেই প্রাণিগণ
খাদ্য তরে জীবহিংসা করিবে বর্জন ।
অহিংসার বেদ তবে হইবে প্রচার
দয়া, দাক্ষিণ্য পূর্ণ হইবে সংসার।
পরদুঃখ-কাতরতা আসিবেক যবে
হিংসা, নির্মমতা, দ্রোহ দুৰ্বল হইবে ।
।
:
বিশ্বকর্মার আবির্ভাব
অণু, পরমাণু হতে,
সূৰ্য, চন্দ্র, গ্রহাদিতে
সৃষ্টিবিধি হয়েছে নিয়ােগ ।
এ জটিল সৃষ্ঠিবিধি,
চাহে দৃষ্টি নিরবধি
অগণিত সংযােগ, বিয়ােগ ।
ব্ৰহ্মা ভাবিলেন তাই,
শিল্পী সহকারী চাই
সাহায্য করিতে সৃষ্টি কাযে ।
সৃষ্টিকাৰ্য্য
বিশ্বষ্টি উপাদান,
হলে স্থির সমাধান
ব্রহ্মা হলেন সৃজনেতে রত।
পরব্রহ্ম বপু হতে,
অংশ নিয়ে একে একে
বিশ্বসৃষ্টি হইল সাধিত
পরব্রহ্ম বন্ধু হতে অংশ কিছু লয়ে
সুলকারী কুণ্ডাগারের সংসর্গে আনিয়ে,
১১

চয়নিকা
দুর শূন্থমার্গে তাহা ঘূর্ণি বেগ দিয়া
ফেলিলেন বেগে ব্রহ্মা
দুরে
নিক্ষেপিয়া।
রবি, শশী, গ্রহ, তারা এরূপে সৃজন
হয়ে শূন্যমার্গে সবে করে বিচরণ।
যেই ঘুর্ণি বেগে সবে নিক্ষিপ্ত হইল
সেই বেগে সকলে ঘুরিতে লাগিল ।
ব্ৰহ্মপু অংশ হতে, যা কিছু আছে জগতে
স্কুল, সূক্ষ, সচিত, অচিত।
নানা জীব, নানা জন্তু,
সজীব, অজীব বস্তু
সচল, অচল ভেদগত ।
কুণ্ডাগার শক্তি যােগে, ভ্রাচ্য, তরল ভাগে,
উপযােগী গুণ ধৰ্ম দিয়া
উপযােগী যন্ত্র পরে,
বিশ্বকর্মা সহকারে
প্রাপ্ত হল নানারূপ কায়া।
শেষে, সৰ্বশেষে বিভু,
সৃজিলা মানব বপু
ব্ৰহ্ম অগ্রে স্থাপিত হইল।
ব্ৰহ্ম আত্মা অংশ হতে
চিদাত্মা বিবেক তাতে
বিজলী প্রভায় প্রবেশি।
এইরূপ সৃষ্টিকাৰ্য্য করি সমাপন
পরব্রুক্ষ হাতে ব্রহ্মা করিলেন অর্পণ।
১২

ব্রহ্মা ঘােড় হাত করি
বহু স্তুতি, নতি করি
পর করেন জ্ঞাপন।
a/
পালিয়া তব আদেশ
সৃষ্টি করিয়াছি শেষ
আরও এক করি নিবেদন
পরম্পরা যাতে রয়
সৃষ্টি লােপ নাহি হয়
করেছিও ইহার নিয়ম।
অঙত নিজগুণে
স্ব স্ব জাতি সংরক্ষণে
বাসরােধে হয়েছে সক্ষম
নিজ বিভার নিজে করুন গ্রহণ।
নিজ ইচ্ছামত ইহা করুন পান।
ধন্য ধন্য বলি ব্ৰহ্ম আশীৰ্বাদ দেন
অবসাদে ব্রহ্মা হলেন নিদ্রায় মগন ।
অদ্বৈতবাদের এই সৃষ্টি প্রকরণ
অতি গুঢ় তত্ত্ব ইহা, নহে প্রহসন
শঙ্করে এ গূঢ় তত্ত্ব নিহিত আছিল,
মানব উদ্ধার হেতু প্রকট হইল ।
ভক্তিভরে পড়ে কি শুনে যেই জন
১৩

চয়নিকা
সংসারের মায়া মােহ কেটে সেইজন
সশরীরে ব্রহ্মলােকে করিবে গমন।
ইতি-শ্ৰীঅদ্বৈতবাদ মহাপুরাণে বিশ্বসৃষ্টিনাম
অন্তপুরাণঃ সমাপ্ত
পরিশিষ্ট
জীব পরমাণ,
প্রভু বিশ্বপতি,
জগতের গতি
কি রূপ, কিবা কায়া ।
কিবা তব মতি, কিসে বা সম্প্রীতি
কিব তব মন মায়া।
জীবাণু ও স্থায়
কেহ বা সজীব, অজীব কেহ।
কেহ বা অচল,
কেহ সচঞ্চল
কতবিধ রূপ, দেহ।
কেহ বা সচিত
চেতনারও স্তর কত।
সহ সে চেতন,
জ্ঞানের মিলন
কত ভেদ ক্রমগত।
মন, জ্ঞান, চিন্তা,
স্মৃতি, বিবেক
জড়িত কত যে ভাবে।
কেহ বা অচিত
১৪

চয়নিকা . জীবনেরও ক্রম, জীবিকা নিয়ম ক্রিয়াভেদও কত সবে। ইন্দ্রিয় ও রিপু, উপযােগ:বপু কত স্তর, কত জাতি। জীবানু অধম, ক্রমে উদ্ধতম প্রাণী জীব করে স্থিতি। :এ সবার মাঝে, কি কৌশল রাজে কি অপূর্ব সৃষ্টিরীতি। কত বিধি ভাষ, করিতে প্রকাশ হলাদাভাব, বাখা, ভীতি। ! ঐ যে গগন, ধরে অগনন চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারা। ভ্রমে অবিরাম, আছে বিরাম কি কাজে ভূমিছে ওরা। আছে কি জীবন, এ ধরা মতন আছে কি মানুষ এ ধরা মত? জীবহীন কিবা, ঘােরে রাত্রি দিবা কি কাৰ্য্য সাধনে রত? জানিতে এ সব, সৃষ্টি তথ্য তৰ কত চেষ্টা না করে। ভক্তি, উল্লাসেতে, তােমায় জানিতে কি ক্লেশ না দেহে ধরে।

ছ, ধরেন,
না পায় সন
নিরাশ আবেশে শেষে।
এপথে পথে
ঘােরে দর্শনের আশে ।
কান চতুর,
নৈরা বিধুর
আজিতের স্থান দিয়া।
নানারূপ কায়,
নানা বর্ণ ছায়া
সম্মুখে ধরে রচিয়া ।
ভক্তিতে বিহবল,
অফ নর দল
প্রকৃত ভাবিয়া তায়।
পেয়েছে ভাবিয়া,
উল্লাসে মাতিয়া
চিত্তে চিত্ৰ কৰি লয়।
প্রভু জগদীশ
মানবের দৃষ্টি ক্ষুদ্র, চিন্তা ও জ্ঞানের
প্রসার, পরিধি, সীমা, ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্রতম।
অপার অজ্ঞেয় তুমি জ্ঞানের অতীত।
সৃষ্টিও বিপুল তব দুর্ভেদ্য দুর্গম
কেমনে জানিবে নর, কেমনে বুঝিবে ?
অসীমের ধারণা কি সম্ভবে সসীমে ?
ক্ষম প্রভু, ক্ষমদেব ধৃষ্টতা নরের।
বঞ্চিত করােনা নরে আয় ওপদেয়।
১৬

নবীন ভারত পুরাণ। প্রস্তাবনা। বিপুল, বিশেষ, জটিল সৃষ্টিকাৰ্য্যের অবিশ্রান্ত পরিশ্রমে, কায়িক ও মানসিক অবসাদগ্রস্ত হইয়া সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার ঘাের নিদ্রাবেশ হইল। নিদ্রা যাইবার পূর্বে ব্রহ্মা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের কাৰ্যকলাপ পৰ্যবেক্ষণ ও তৎসংক্রান্ত সমস্ত কার্য সম্যকরূপে চালাইবার ভার নিজ সহসম্ভব বিষ্ণু ও শিবের হস্তে অর্পণ করিলেন। এইরূপে বিষ্ণু ও শিব ভারপ্রাপ্ত ট্রষ্টিরূপে কাৰ্য, সম্পাদনের ভার লইতে স্বীকৃত হইলে তাহাদিগকে ভার দেওয়া হইল, তাহারাও ভার লইলেন। তবে রীতিমত কোন লেখাপড়া হয় নাই, আর কোনরূপ আদেশ নিদেশ দেওয়া হয় নাই। বােধ হয় ব্রহ্মার এ বিষয়ে ভুল হইয়াছিল, তাই ব্ৰহ্মা একরূপ অধিকারচ্যুত হইয়াছেন। তবে নিত্ৰা কালের সমস্ত সংবাদ যাহাতে যথাযথ পান, এ বিষয়ে দেবর্ষি নারদকে উপদেশমূলক আজ্ঞা প্রদান করিয়া নিদ্রায় অভিভূত হইলেন। ব্ৰহ্মা-একদিন মাত্র নিদ্রায় কাটান। তবে ব্রহ্মার—একদিন পৃথিবীর চতুর্দশ সহস্র বৎসরেরও বেশী। হিন্দুশাস্ত্র এইরূপ প্রমাণ দেয়। ২

চয়নিকা
ব্রহ্মার নিদ্রাভঙ্গ হইলে নিদ্রাবস্থাকালীন ঘটনা সমূহের
সংবাদ জানিবার জন্য তিনি নারদকে ডাকাইয়া কাৰ্যকটি প্রশ্ন
করিলেন।
নিম্নে তাহার কিয়দংশ, কেবল আধুনিক ঘটনা
সম্বন্ধীয় কয়েকটা প্রশ্নোত্তর দেওয়া যাইতেছে।
ব্ৰহ্মা-নারদ, আমার নিদ্রাকালে বিশেষ উল্লেখযােগ্য কি কি
ঘটনা হইয়াছে ?
নারদ-বিষ্ণুদেব ও শিবদেব নিজেদের আধিপত্য এত জারি
করেছেন যে আপনার নাম পর্যন্তও কেহ লয় না। সমস্ত পূজা-
পাঠ, স্তুতি, আবেদন নিবেদন, সবই লােকে এদের দুজনকেই
করে। এঁদেরই মন্দির অট্টালিকা, এদেরই ভােগ রাগের
ব্যবস্থা। আপনি যে এত পরিশ্রম করে সমস্ত বিশ্ব জগত প্রস্তুত
করিলেন আপনার কিছুই নয়। তাঁহারই সমস্ত জগতের মালিক,
লােকের মনে এই ধারণা করে দেছেন। আপনার নাম পৰ্য্যন্তও
কেউ নেয় না।
ব্ৰহ্মা—এ আর আশ্চৰ্য্য কি। ওদেরই হাতে দিয়েছি ওদের
মাবে না ত কারে যাবে।
নারদ-আপনি উদার স্বভাবগুণে সম্পত্তি ভ্রষ্ট হয়েও এরূপ
বলছেন। কিন্তু এই রীতি ধরাধামেও গিয়ে পৌঁছেচে ভাইভাইয়ে
এমন কি বাপ বেটায় ভিতরে অনেক ঠকপনা ও ঝগড়া কলহ
চলেছে। এই ব্যবহারটা উপর থেকে নীচে চলে গেছে।
ব্রম্মাসে যা হােক হয়ে গেছে। এখন মানব কুলের
অবস্থা কি?

চয়নিকা
নারদ-অনেক পরিবর্তন হয়েছে ও হচ্চে।
ব্ৰহ্মা-আমি তাে অনেক রকম মানুষ করেছি—সাদা ও
রঙ্গিন। তাদের কার কি অবস্থা?
নারদ-প্রথম প্রথম বিষ্ণুই কাজ বেশী দেখতেন। শিব
সন্ন্যাসী উদাসীন অবস্থায় শ্মশানে-মশানে ঘুরে বেড়াতেন।
আর তার স্ত্রীও আদ্যাশক্তির রূপ ধরে সেই খানেই বেশ
থাকতেন।
বিষ্ণুতা বিষ্ণুই বা কি করলেন আর শিবই বা কি
করলেন ?
নারদ-বিষ্ণুর নিজের রং সাদা নয়, তাই তিনি রঙ্গিন
চামড়ার লােককে খুব উচু করেছিলেন। তাদেরই পৃথিবীতে
জ্ঞানে ও বিদায় আধিপত্যে প্রধান করেছিলেন। রঙ্গিন
লােকেরা শিল্পকলায়ও পারদর্শী হল। এতে শিবদেবের অত্যন্ত
ঈর্ষা ও অসন্তোষ হ’ল। ঊর রং সাদা, আর সাদা রঙ্গের লােক
সব অসভ্য বর্বর অবস্থাপন্ন। এদের উন্নতিকল্পে বিষ্ণুদেবের
কোনও চেষ্টা নাই। শিবদেব নিজের রংওয়ালাদের প্রতি মন্দ
ব্যবহার দেখিয়া নিজেকে অসম্মানিত ভেবে নিজের ক্ষমতা জারি
করিলেন। সেই অবধি সাদা রঙের ললাকেদের উন্নতি হতে
লাগলাে ও তারাই জ্ঞানে, বিদ্যায়, বলে, ও আধিপত্যে প্রধান
হতে লাগলাে। এখন তাহারাই পৃথিবীতে প্রধান। এমন কি
এখন সাদা রঙের লােকেরা রংওয়ালাদের সঙ্গে মিশিতে চায়
--কাছেও আসতে দেয় না, যেখানে গিয়ে বসে পড়ে সেখানে
১৯

চয়নিকা * রংদারদের আসতে পৰ্যন্ত দেয় না। বলে, যাদের খাটবার কাজে দরকার তাদের এনে খাটুনির কাজগুলাে করে নিয়ে বার করে দাও। ভয়, পাছে রক্তের সংস্রবে এসে সাদা রঙ্গিন হয়ে যায়। ব্ৰহ্মা-আর কি হয়েছে? নারদ-আগে তো আপনারা তিন জনেই এক ব্ৰহ্ম রূপে ছিলেন ; তারপর ওরা দুজন যখন ক্ষমতা ও গুণের কিছু কিছু অংশ নিয়ে পৃথক হলেন, তখন বেশ ক্ষমতা ও গুণের ভাগ তত আপনারই রইল। নামের বিশেষ পরিবর্তন হলাে না। কেবল নামে একটা আকার যােগ। দেখুন একটা জিনিষ তৈয়ার করা বড় শক্ত; বেশী ক্ষমতার দরকার। সে সব রইল আপনার। তৈয়ারি জিনিষটা নিয়ে চালিয়ে ভােগ দখল করা - তাতে বেশী বিদ্যা বুদ্ধির দরকার নেই। আর তৈয়ারী জিনিষটাকে ভেঙ্গে ফ্যাল-সে কাজটা আরও সহজ ; এ কাজে বিদ্যাবুদ্ধির দরকার হয় না। দেখুন এই যে মানুষ তােয়ের করেছেন, এতে কত গুণপণা কত পরিশ্রম। মাংস, অস্থি, রক্ত, শিরা, ধমনী, স্নায়ু, যকৃত, প্লীহা, উদর, পাকস্থলী, শ্বাস প্রশ্বাসের বন্দোবস্ত। এর উপর ঐ যে মস্তিষ্ক বলে যে পদার্থ ও মন, বুদ্ধি, স্মৃতি, বিবেক, ইন্দ্রিয় কত যে কি বুদ্ধিবলে উদ্ভব ও তাদের সমাবেশ করে এই এক মানুষ তােয়ের করেছেন ওঁদের দুজনের মধ্যে একক বা দুজনে মিলে করুন দেখি। ও সব জটিল বন্দোবস্ত ছেড়ে দিয়ে শুধু মানুষের মত একটা ছয় ফুট সাড়ে ছয় ফুট লম্বা একটা তােয়ের করে খাড়া রাখুন তাে, পড়ে যাবে না ঠিক খাড়া, ২০

থাকবে, আবার ওই দুটো পায়ের ন দশ ইঞ্চির চাটুর মত
করে যেমন আপনার মানুষ চলে, চালান তাে। তবে তাে
জানব বিদ্যা, বুদ্ধি, ক্ষমতা। কি না একজন আপনার তােয়েরি
মানুষটাকে কোন রকমে কিছু দিনের জন্য, তাও বরাবরের
জন্য নয়, বাঁচিয়ে রেখে বাহাদুরী স্থান। তাও খাবার জিনিষ
গুলাে আপনারই তােয়েরি। এতেও দেখুন এই যে এত
খাবার তােয়ের করচেন সেগুলাে দেখিয়ে খাওয়ানাের অভাবে
একটা জীব আর একটা জীবকে মেরে খেয়ে ফ্যালে। তবে
কিছুদিন হলাে বিষ্ণু একবার পৃথিবীতে গিয়ে জীব মেরে
খাওয়াটা নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তা বিশেষ চলে নি ।
এতেও শিবের নিজের না হয়, তঁাহার এক প্রধান শক্তির
বিশেষ প্রতিরােধ ছিল। এই তাে হলাে বিষ্ণুদেব। আর
শিবমের এই যে মানুষটা, তাকে মারতে কিবা কষ্ট, আর
কিবা বুদ্ধির দরকার। একটা তলােয়ার নিদেন একটা মােটা
লাঠি থাকিলেই এক মিনিটের মধ্যে সমাধা।
এই তাে হলাে এদের কর্ম-কুশলতা। কিন্তু এরা মিলে
আপনার সমস্ত আধিপত্য লােপ করেছেন।
ব্ৰহ্মা-নার অনেক বলেছ, আর আমি শুনতে চাই না।
ওতামার কথা শুনলে রাগের উদ্রেক হয়। আমি রাগ করতে
চাই না। মারপিট কাটাকাটি আমি একেবারে চাই ।
দেখচনা, দেখনা আর দুজনার হাতে অস্ত্র আছে আমি কোনাে
অস্ত্র রাখি নাই। রাখিয়াছি হাতে কেবল এক কমণ্ডলু।
২১

চয়নিকা
নারদ-আপনার যেরূপ অভিরুচি। সমস্ত সংবাদ দেওয়া
প্রয়ােজন তাই বলিতেছিলাম ।
ব্ৰহ্মা-শিবের ও বিষ্ণুর আধিপত্য সম্বন্ধে আর কি বক্তব্য
আছে।
নারদদের অসাম্যতার জন্য
অসাম্যতার জন্য অনেক আখচাখচি
চলছে। তবে আজকাল শাদারই জোর। পৃথিবীতে শাদারই
চলতি।
যাদের রং ময়লা তারা রংটাকে শাদা করবার জন্যে মুখে
কত সাবান ঘষে। ও কত কি দেয়। আর ছেলের বে’তে
সকলেই ফরসা বউ চান। মেয়ের বে’তেও মেয়ে থেকে মেয়ের
বাপ মা পর্যন্ত ফরসা রঙ্গের পাত্র চান। সকলেই চায় শাদা হতে,
নিদেন শাদার কাছাকাছি পৌছুতে। তবে বিষ্ণুর অধিকারের
সময়কার মধ্যে একটু কেবল মানুষের চুলে আর মিসমিসে
কালরঙ্গের দুধ ওয়ালি গৰুতে। রংদারের ভেতর এখনও কালাে
চুলের কিছু খাতির আছে। কিন্তু শিবের ক্ষমতার আবেশে
চুলের কাল বেশি দিন থাকে না আগেকার চেয়ে অনেক আগেতেই
শাদা হয়ে যায়।
ব্ৰহ্মা-আধিপত্য আজকাল তবে কার আছে?
নারদ-শিবের অনেক বিষয়ে বেশি। বিষ্ণু দেবেরও
আছে। কিন্তু আপনার কিছুই নাই। সমস্তই আপনার এই
নিদ্রার কারণ।
ব্ৰহ্মা-ই! বুঝলাম। এখন তত জেগে উঠেছি। আমার
২২

চয়নিকা আধিপত্য স্থাপন হওয়া চাই। আমি লােকের মন অধিকার করবার চেষ্টায় আছি। লােকের মনই ত আধিপত্য স্থাপনের স্থান। কাজও কিছু কিছু সুরু করে দিয়েছি। তবে কি জান বিষ্ণু ও শিব এদের দুজনেরই হাতে অস্ত্রশস্ত্র আছে, আমার তাে ওরূপ কোনও অস্ত্র শস্ত্র নাই। আছে কেবল এই এক কমণ্ডলু। নারদ—(স্বগত) বুঝেছি আজকালের এই যে স্ট্রাইক, হরতাল, নন-কোঅপারেশন, অসহযােগ কেন এত ঘটে সমস্তই দেখচি এরই কাজ। (প্রকাশ্যে) প্রভু যেরূপ পৃথিবীর ভাব- গতিক দেখচি ও সব অস্ত্রধারী দেবের অধিকার যায় যায় হয়েছে। ব্ৰহ্মা-কি হয়েছে ? নারদ—এই যে ভারতবর্ষে অসহবােগ বলে একটা ব্যাপার চলেছেএতেই আপনার সব কাৰ্য্য সাধন হবে। বিষ্ণু ও চেষ্টায় আছেন যে শিব দেবের অনুগৃহীত শাদা রং ওয়ালাদের উচুতে তুলে দেন। ব্ৰহ্মা-এ সকল কি লেখা হয়েছে ? নারদ-আজ্ঞা হাঁ পুরাণাকারে লেখা হয়েছে। আমারই কথা মত বেদব্যাস এই নূতন পুরাণ লিখেছেন। ব্রহ্মা—আচ্ছা বেদব্যাসকে ডেকে এনে শােনাও তাে- (নারদের সহিত বেদব্যাসের আগমন ) বেদব্যাসদেব এই পুরাণ লিখতে অনেক আয়াস পেতে হয়েছে। বিশেষ এ পুরাণটা বাংলা ভাষায় লিখেছি—আর

চয়নিকা
জানেন তো চিরকাল সংস্কৃত ভাষায় লেখা অভ্যাস-বাংলা ভাষায়
এই প্রথম পুরাণ। আজকাল বাংলা ভাষাটাও দেব ভাষা হয়ে
দাড়িয়েছে। বিশেষ আজকালের নিয়ম হয়েছে যে শাস্ত্ৰ পুরাণ
চলিত ভাষাতেই লেখা হয়।
এখন আপনার অনুমােদিত হইলে জগতে প্রকাশ করা
যাইবে।
পাঠ করিতেছি শ্রবণ করুন।
বেদব্যাস কর্তৃক পাঠ।
নবীন ভারত-পুরাণ
প্রথম চিত্র
১
বীর আমাদের বালক বৃন্দ,
বীর আমাদের নারী,
স্বদেশ উদ্ধারে স্বরাজ্য স্থাপনে
লেগে গেছে প্রাণ ভরি।
২
প্ররােচনা বলে উদ্বেলিত প্রাণ,
যেমনে তেমনে করিয়াছে পণ
হাসিল করিবে রাজ্য শাসন
অধীনতা পরিহরি।
২৪

লেগেছে সংগ্রাম ভারত যুড়িয়া,
ভলস্টয়ার সৈন্য কোমর বাঁধিয়া
ভাল কিম্বা মন্দ কিছু না ভাবিয়া
যােগদানে দল করিছে ভারি।
৫
এ সংগ্রামে নাহি বলের প্রয়ােগ
নিশ্চেষ্ট ধর্মে আত্মার নিয়ােগ,
পথে পথে দলে অটল সম্ভোগ
জয় জয় নাদ করি।
পরাজয়ে জয় এ সংগ্রাম প্রথা
ভীষণ সংগ্রাম হইলেও হেথা
নাই ইথে কোনও পুরাতন কথা
নাহিক অস্ত্রের ঝনা।
সােল্ ফোরসে (soul force) শুধু
এ রণ চালনা,
অস্ত্র শস্ত্র যত, সমস্ত বর্জনা,
সমাবেশ ভাবে বাক্যের যােজনা,
রাজা রাখ: প্রতি যথা অযথা।
২৫

চয়নিকা
অস্ত্রধারী রথী মহারথীগণ
আসিবে তারা না করিবে রণ..
রাজমার্গে ইথে সমর প্রাঙ্গন,
নন ঘরে বসি চলায় রণ।
শিখিবে জগতে লােকপালগণ
ত্যজিবে দেবতা অস্ত্র আভরণ
শিখিবেক দিবে দিববাসীগণ
এ নব সমর রীতি।
এবে যবে ভবে হবে প্রয়ােজন
দুষ্কৃত দমন সাধুর বক্ষণ,
শিখিবেন হরি কি বিধি সাধন,
কিবা হবে রণ নীতি।
শতবর্ষ ব্যাপী যে রণের কথা
হিন্দু পুরাণের পুরাতন গাথা,
অঙ্গুর দৈত্য নাহি পাবে ব্যথা
দেবতা চালিত অস্ত্রের ঘাতে।
২৬

চয়নিকা
১১
বিষ্ণু হস্তে আর না রহিবে চক্র
মহাতেজ বজ্র না ধরিবে শত্রু
শূলী সে ত্রিশূল ছাড়িবে বক্ত,
কমণ্ডলু রবে সবার হাতে।
১২
সম সম রােধে, এ নীতি নিয়ােগ
নিবারিতে যত পিওন প্রয়ােগ,
এক অন্থে হইবেক যােগ
বিপরীত বিপরীতে।
১৩
সােল ফোরস (soul force) বলে
ভলন্টীয়ার ফোরস(volunteer)
নেতা কাছে পড়ি নিজ নিজ কোর (course)
রাজমার্গে আসি চীৎকারিছে হােরস (hoarse)
জয় জয় নাদ করি।
১৪
চিরন্তন প্রথা দেবতার জয়
ভুলেও ইহার মুখে নাহি লয়,
দেশের মালিক সম্রাটের ও নয়
নাহি জয় দুর্গা রাম বা হরি।
২৭

চয়নিকা
স্থানচ্যুত করি বিষ্ণু শিব রাম,
গাহিতেছে এরা মহাত্মার নাম
সত, বা অসত, সকাম বিকাম
হিঁদুর দেবতার বিপদ ভারি !
কিন্তু, যারা রাখে মেসল্লম ইমান
তাদের খােদার আছে সে সম্মান।
“আল্লা হাে আকবর” করে জয়গান
মজহব দীন নাহি বিস্মরি।
১৭
তাদের একতার ফৰজা, একতা বাখান
একতাই চিন্তা, একতাই ধ্যান,
এক সময়ে করবে প্রত্যাখ্যান
বৃটিশ রাজ্য বৃটশ নীতি।
১৮
সংগ্রামে হারিল রুম নরপতি
হারাইল দেশ-পরাজয় গতি
বিদ্বেষের বহি বৃটিশের প্রতি,
সহধৰ্মীর মনে জাগায় এ দেশে।

তুরস্ক হারিল ইংরেজের দোষে
খােলফত পক্ষ এই বাণী ঘােষে,
ইংরেজের প্রতি কোপ অগ্নি বর্ষে
আঁতাতের (entente) অন্য সকলে ছাড়ি।
আর যত আছে মসলেম সম্রাট
তারা ইথে কোনও না দেখে বিভ্রাট
মসলেমের দেশে নাহি হেন পাঠ,
স্বধর্মের নাশ হইল বলি।
২১
অক্ষুন্ন রাখিতে রুম অধিকার
খেলাফত সভা হইল বিস্তার
সংগ্রামের রীতি হইল প্রচার
বৃটীশ শাসিত ইণ্ডিয়া ভরি।
বিধৰ্ম্মী ইংরেজ, বিধর্মীর রাজ,
মজহবের হুকুম, নাহি কর ব্যাজ
ত্যজ ঘর দোর, এখনই সাজ
কাফের অধীন। মহান পাপ।

চয়নিকা
২৩
বগলেই আছে রাজ মুষলমান
কাবুল আমীর করিবে সম্মান,
মলেমের সেথা বাঁচিবে ইমান
নতুবা ইমানে লাগিবে দাগ ।
28
জরহিন হতে আসে দলে দলে
ঘর দোর মাল বেচিয়া সকলে
খােদাতালার নাম সকল কবলে
উদ্দাম উৎসাহে ছাড়িল দেশ।
ছাড়ি নিজ ঘর ছাড়ি নিজ দেশ
দারাপুত্রসহ পেয়ে বহু ক্লেশ
ভিখারী দশায় ফেরে অবশেষ
মলেম সম্রাট না কহে কথা।
মসলেম সম্রাট
মসুলেমের দেশ
দেখে, সে তো নহে তাহাদের দেশ,
সমধর্ম বলে নাহি সমাবেশ
নেশার কুহক ছুটিল সেথা।
d

চয়নিকা
খেলাফতের নামে চলে আন্দোলন
খেলাফত সভা হয়েছে স্থাপন
রাখিতে অক্ষুন্ন মুষলমান মান
রুম অসম্মানে ধর্মের হানি।
২৮
;
মুষলমান ধর্ম এখনও সজীব
নহে হিন্দুমত বৃদ্ধ ও নির্জীব ;
একতা বন্ধনে ধনী ও গরীব
বান্ধে, শুনাইয়া ধৰ্ম্ম হানি বানী।
সময় বুঝিয়া কনগ্রেসের দল
ক্ষীন দেহ মন করিতে সবল
দেখাতে বৃটিশে কত ধরে বল
হিন্দু মুষলমান হইলে এক।
আনিল সভা করিল প্রচার
নিশ্চয় করিবে স্বদেশ উদ্ধার
মিলিল সকলে, করিল বিচার
পুরাতন কৰ্ম্মী ছাড়ে অবাক।)

চয়নিকা
গঠিবে নেশন হিন্দুস্থান ভূমে
হিন্দুস্থানবাসী রহিবে সম্রমে
আর না বলিবে কোনও জাতি প্রমে
ভারত ভূভাগ বৃটীশ দাস।
৩২
জাতি বর্ণ ধর্ম সম্প্রদায় দ্বেষ
বিভিন্ন সংস্কার বিভেদ অশেষ
বিভিন্ন আচার ভিন্ন ভাষা বেশ
অনেক আছে, তাতে কি হয়।
বন্ধুত্ব যা আছে সে সব থাকিবে
কলহ কল্লোল সদাই ঘটিবে
কার সাধ্য বল সংস্কার করিবে ?
নেশনের বাধা এ সব তাে নয়।
৩৪
নেশন নেশন ইণ্ডিয়া-নেশন,
জয়নাদ পূর্ণ উচ্চ আস্ফালন
শুনিয়া প্রবীন কোন একজন,
জানিতে সন্দর্ভ করে জিজ্ঞাসা ।
৩২

চয়নিকা
নেশন এটা যে ইংরিজির কথা
ইংরেজের দেশে থাকে এ বারতা,
খুঁজে খুঁজে মরি অভিধানের পাতা,
জানিতে এ দেশে কি নাম ভাষা।
সংস্কৃত আদি যত অভিধান
পুরাগত যত পদের ব্যাখ্যান
পারসী লােগত আরবী বচন
কোনও পদইএর কাছে না আসে।
বিপত্তির ওপাের বিপত্তি যে আসে
বুদ্ধি শক্তি হত মুস্কিলের ফঁাসে
প্রবন্ধ পত্রিকা যত হাতে আসে
নেশনের অর্থে “জাতীয়তা” ভাসে।
৩
জাতি জাতীয় জিনিষতে এক
জাতি হতেই হয় জাতীয় পাক
এ সিদ্ধান্তে কেহ না হয়ে অবাক
হিবুঝা যদি, দেখ ব্যাকরণ।

চয়নিকা
এত যে বচসা করিছ সকলে
জাতীয়তা হেথা প্রস্তুতের ছলে,
কত জাতীয় চাহ সেই স্থলে
যেথা যত লােক ততই জাত।
০৩
তবে যদি বল এক জাতই চাই
স্পষ্ট করে কেন নাহি বল তাই
বুঝুক সকলে, করতে একাই
সভা ভলন্টিয়ার হয়েছে স্থিত।
৪১
এ দেশেতে সব এক জাত হবে
জাতিভেদ যত উঠিয়া যাইবে,
হিন্দু মুসলমানও ভেদ না রহিবে
সব হবে একাকার।
৪২
কিন্তু এতেও তাে নহে মুক্কিলের আসান
ধৰ্ম্ম মজহবের এত ব্যবধান
বাইবেল বেদ কোরাণ পুরাণ
কে করিবে লােপ সাধ্য বা কাহার।
৩৪

চয়নিকা
০৩
-ধন্য ভুলন্টিয়ার স্বদেশ সেবক
সুবিজ্ঞ সুঅজ্ঞ রমণী যুবক
ধন্য তাহাদের চালিকা চালক
উৎসাহের বলিহারী।
৪৪
ধন্য তাহাদের লিখন কীৰ্ত্তন
জয়নাদ পূর্ণ অটল নর্তন
ধন্য তাহাদের অজ্ঞ উতেজন
সুফল কুফল নাহি বিচারি।
দ্বিতীয় চিত্র
১
মুষলমান ধর্ম মলেম নেশন,
এই ভা বাজে করিতে মিলন
ভিন্ন দেশবাসী মুষলমানগণ
প্রবল ধর্মের ভ্রাতৃত্ব ভাবে।
২
কোথা তুকী দেশ, মেসােপটেমিয়া
কোথা সেলােনিকা কোথা বা অ্যাঙ্গোরা
সমধর্মীগণে কেমন করিয়া
দেখাইছে আত্ম সমবেদনা।

চয়নিকা
সহস্র যােজন অন্তরে থাকিয়া
পরস্পরে কভু নাহিক দেখিয়া
সমধর্মী জ্ঞানে আপন জানিয়া
নিবারিতে ক্লেশ তাদের তৎপর।
৪
রণক্লিষ্ট
দূর মসলেম ভ্রাতার
চঁদা তুলিতেছ সাহায্যে তাহার ;
এ উদ্যোগে ভাই ভােমারই বাহার
চন্দ্রকলা চিত্ৰ পতাকা পর।
হেথা হিন্দুভূমি ঘরের প্রাঙ্গন,
কি ভীষণ নাট্য হতেছে নটন
এক ভাই অন্যে কিরূপে পেশন
করিছে ধর্মের নামে।
হিন্দু দেবদেবী হিন্দুধর্মস্থান
হিন্দু ঘরবাড়ী হয়েছে শশান
বীভৎস বিধানে বধ ও লুণ্ঠন
পুর্ণ মালাবার ভূমে।

চয়নিকা
৭
মালাবার বাসী ভাই হিন্দুগণ
পারি রক্ষিতে নিজ প্রাণ ধন
বিসর্জিয়া ধৰ্ম্ম আত্ম পরিজন
ভাই মাপিল্লার দ্রোহে।
না পারি রক্ষিতে মাতা মৃত মান
পারি রক্ষিতে নিজ ধর্ম প্রাণ
হারায়ে আশ্রয় করে পলায়ন
নিরন্ন ভিখারী বেশে।
নারী বৃদ্ধ যুবা শিশু অর্বাচীন
নিরন্ন বিবস্ত্র ভীতি সমাসীন
বিশ্রান্ত বিক্লান্ত চলে রাত্রি দিন
আশ্রয় লভিতে সুদূর দেশে।
* ধনী বা গৃহস্থ কৃষক বা দীন
সব এক দশা সকলেই দীন
সকলেই হয়ে সম ভাগ্যহীন
পরসাহায্যার্থ ভিখারী এবে।
৩৭

চয়নিকা
১১
খাওয়াতে তাদের রাখিতে জীবন
আশ্রয়স্থান করিল স্থাপন
রাজকর্মচারী অন্য মহাজন
করিল জ্ঞাপন সাহায্য করে।
কিন্তু কয়জন ব্যস্ত সাহায্য করিতে
আতুরের সেই দুর্দশা নাশিতে
ভুক্ষিতের সেই জীবন রক্ষিতে
মাপিল্লা পীড়িত জনে।
ছুটিতেছে হেথা বক্তৃতার চোট
কাটিব, কাটিব, ইংরেজের ঠোট
ঘুরিয়া ফিরিয়া হয়ে এক ঘােট
নেশন ভ্রাতৃত্ব নিশান তুলি।
১৪
দেশের আতুর স্বদেশীয় ভ্রাতা
তাদের দেশীয় না হইল ত্রাতা
কেবল সহায় তাদের বিধাতা
ধন্য তােমাদের ভাতৃত্ব বুলি ।

চয়নিক
লক্ষ লক্ষ টাকা যায় আজোরায়
আঙ্গোরার ফওে সবে দা দেয়
দেশীয় ভ্রাতার দিকে নাহি চায়
কিবা সে হিন্দু কিবা মুষলমান।
দেখিতাম যদি মসলেমগণ
সহধর্মী কৃত হিন্দু নির্যাতন
বিমােচন তরে করিতে যতন
দেখাত সহানুভূতি।
১৭
এক দিন ও যদি দেখিত নয়ন
মালাবারবাসীর দুঃখের মােন
সমবেদনার সেই উত্তেজন
নিজ দেশবাসী পীড়িত প্রতি।
১৮
যে সম বেদনা করিতে জ্ঞাপন
অ্যাঙ্গোরার ফও করেছে স্থাপন
হিন্দু সহযােগে মুষলমানগণ
মসলেম নেশন গঠন করে।

চয়নিকা
তা হলে হইত হৃদয়ে বিশ্বাস
ভারতবর্ষ বাসীর একতের আশ
নেশন গঠনে সফল প্রয়াস
ত হৃদয় ভরে।
পরস্পর মধ্যে না পাই হৃদ্যতা
যে হৃদ্যতা মূলে রহে জাতীয়তা
পাই শুনিবারে কেবল দ্রোহিতা
বিধ্বস্ত করিতে শাসন বিধি।
কি বলিব আর বলিতে না চাই
এ প্রথায় কভু নাহি হয় ভাই,
ব্যাস চাহে, হিন্দু ও মুসলমান ভাই
কি-এ নহে স্থাপন বিধি।
২২
ব্যাষ যাহা চাহেসে দিন কি হবে
জাতি-বর্ণ-ধৰ্ম্ম-দ্বেষ যবে সবে
জাতীয় প্রেমে সকলে ভুলিবে
একের ক্লেশে অন্যের কাদিবে প্রাণ।

চয়নিকা
সম্প্রদায় গত পৃথকতা ভুলি
সহানুভূতির ধ্বজা উচ্চে তুলি
জানিবে ডাকিতে মন প্রাণ খুলি
সমবেদনায় জলিবে প্রাণ।
সম্প্রদায় গত স্বার্থ নাহি রবে
ঘৃণা দ্বেষ স্পর্শ দোষ না রহিবে
এই নীতি শিক্ষা যবে হেথা হবে
জাতীয় ডঙ্কা বাজাইও তবে।
এ শিক্ষার মূলে জ্ঞান উদারতা
ধর্ম বিশ্বাসের ত্যাগ সঙ্কীর্ণতা
এক ভাষা আর ত্যাগ বিভিন্নতা
নিস্বার্থ কৰ্মতা কর্তব্য ভাবে।
ক"
অসাধ্য এসব না বলিও কেহ
শিক্ষা ও অভ্যাস তাড়ায় সন্দেহ
স্পর্শ দোষ ত্যাগ উদঘাটিবে গেহ
আত্মীয়তা ভাব করি সৃজন।
৪১

চয়নিকা
২৭
সত্য সেই শিক্ষা যাহার প্রভাবে
এক জন অন্যে অস্পৃশ্য না ভাবে
“ম্লেচ্ছ” বা “কাফের” ভাষাচ্যুত হবে
ন্যায় দয়া ধৰ্ম্ম হবে স্থাপন।
২৮
যথার্থ সেই শিক্ষা, সত্য সেই জ্ঞান
যাহার প্রভাবে ভ্রান্তি বিমােন
এক অন্য জনে ভাবায় আপন।
বিভিন্নতা পরিহরি।
সেই ই ধৰ্ম্ম জ্ঞান যে জ্ঞান শিখায়
মানুষে মানুষে ভেদ নাহি হয়
ধৰ্ম্মসম্প্রদায়, ভেদ সে পন্থায়
সকলেরই সেই খােদা বা হরি।
এক রাজতন্ত্র একই শাসন
সে রাজ্য তার প্রজারা নেশন
ভিন্ন নেশনের না হয় গনন
এই ভাে নেশন বিধি।
৪২

চয়নিকা
নিজ রাজ্য তন্ত্রের বশ্যতা স্বীকার
বাধ্যতা বিধানে উৎকর্ষ তাহার,
পর আক্রমনে রক্ষিবার ভার
সকল উপায় সাধি।
মুষলমান ধর্ম মলেম নেশন
এই ডঙ্কা বােলে করিছে মিলন
বিভিন্ন দেশের সমধৰ্ম্মীগণ
উদ্ধারিতে পূর্ন সাম্রাজ্য বল।
কগ্রেসের নীতি ইণ্ডিয়ান নেশন
মসূলেম লীগের
মসলেম রক্ষন
খেলাফত সভার উদ্দেশ্য, সাধন
মসলেম নেশন মলেম ভূতি।
৩৪
উদ্যোগ চলেছে করিতে গঠন
সমবায়ে এর ইণ্ডিয়ান নেশন
পাঞ্জাব বাসীরা হতেছে আহ্বান
এনায়ে হত্যার গীতি।

চয়নিকা
আর যারা করে এ দেশে বসতি
নাহি অংশী হয় তাতে কিবা ক্ষতি
অসহযােগের সহযােগ ভীতি
নিশ্চয় করাবে বশ্যতা গ্রহণ।
অসহযােগের সহযােগ বলে
বক্তৃত ইন্ধনে যে শক্তি উথলে
সে শক্তির বলে লগুড় যে চলে
পাইবে না তাহা হইতে ত্রাণ।
৩৭
যদিও এ যৌথের এক অংশীদার
রাখে এর বড় সম কারবার
মূলধন ও শাখা অনেক তাহার
একতা ও বল অনেক বেশী ।
যদ্যপিও অংশ-ব্যবসায় স্থলে,
স্বতন্ত্র ব্যবসা অংশীয় থাকিলে
সমব্যবসার সংঘর্ষ ঘটিলে
প্রবল ও হয় দুর্বল নাশী।
৪৪

চয়নিকা
যদিও না হয় এ যৌথ স্থাপন
সফল ভাে হবে উদ্দেশ্য আপন
পরপ্রতিষ্ঠিত আছে যে আপন
বসিব সেথায় চালাব তায়।
•
কগ্রেস তাে বলেছে আছে প্রয়ােজন
রাখিতে বৃটিশে করিতে রক্ষণ
দেশীয় হইতে দেশী প্রাণ ধন
বিদেশী হইতে দেশ ।
১১
চাহিনা এখন বৃটীশে তাড়াতে
বলিও না ছেড়ে চলিয়া যাইতে
রাখিব ওদের এ দেশ রক্ষিতে
যুদ্ধ কাৰ্য্যে ওরা পারগ বেশ।
8२
এ যৌথ স্থাপনে নাহি প্রাণ দান
বলদৃপ্ত যােদ্ধার নাহি ইথে স্থান
বণিকতায় করি উপায় প্রধান
বণিকতা বলে কাৰ্য্য সফল।
৪৫

চয়নিকা
৪৬
প্রসিদ্ধ বণিক ইংরাজের জাতি
বাণিজ্যের ভানে আসি করে স্থিতি
বাণিজ্য এদের সাধন প্রকৃতি
বাণিজ্য হারালে না রবে স্থির।
৪০
বণিককে তাড়াতে বাণিজ্যের নাশ
কগ্রেস তাই করিয়াছে পাস
না কেহ পরিবে বিদেশীর বাস
পালাইবে যত বণিক বীর।
৪৫
পুরাকালে রাজা শাসন করিত
পুত্র নির্বিশেষে প্রকারে পালিত
রাজা প্রজা মিলি নেশন গড়িত
আত্মীয়তা ভাব রাখিত রাজা।
রাজ-প্রজা শক্তি ছিল বিদ্যমান
পরস্পর দেহে কৱিত সম্মান
শক্ত হতে রাজ্য রাজ প্রাণ-মান
রক্ষিতে তৎপর থাকিত প্রজা।

চয়নিকা
৪৭
ভরতের বর্ষ পৌরাণিক নাম
করেছিল ইহা একচ্ছত্র রাম
রাজধানী ছিল অযযাধ্যার ধাম
ভারতে তখনও নেশন ছিল।
০৮
যখন শ্রীরাম করা শ্রাতা সহ
পিতৃসত্য পালনের ভার দুর্বিষহ
ত্যজিল বিভব ত্যাগ করি গেহ
সহায়-চরিত্র বাহুর বল।
১
দাক্ষিণাত্য ভূমে রাজা যত ছিল
বাহুবলে তারা সকলে হারিল
প্রজাবৰ্গ সবে চরিত্রে জিনিল
সকলেই হল রামের বশ।
প্রধানেরা বহু অযােধ্যা আইল
উত্তর দক্ষিন একত্রে মিলিল
এক খণ্ডবাসী অন্যেরে চিনিল
স্বেচ্ছায় সকলে রামের দাস।
৪৭

চয়নিকা
রাজভক্তি রঞ্জু প্ৰজারে বান্ধিল
রাজ-প্রজা শক্তি একত্বে মিলিল
প্রজাশক্তির রাজা পুজন করিল
মহাবীর * আখ্যা দিয়া।
হইলেও রাজ-দাস প্রজাশক্তি
দেখালাে তাহাকে কি বিপুল ভক্তি
জয় মহাবীর ছুটিল উক্তি
প্রণত সম্রমে মাথা নােয়াইয়া।
৫৩
বিনা রাজ-শক্তি না হয় শাসন
দণ্ডবিধি বিনা দুষ্টের দমন
সুদূর হয় শিষ্টের পালন
স্থাপিতে প্রজার শান্তি ও সুখ।
৫৪
রাম রাজ্য প্রেম ভক্তিতে স্থাপন
হইলেও ছিল অসি ধনুর্বান
ছিল দণ্ডবিধি শাস্তির বিধান
সকলই ছিল হরিতে দুঃখ।
3

চয়নিকা
সে প্রথা এখন আর না রহিবে
প্রজারাই এবে প্রধান এ ভবে
রাজশক্তি নামে যে দ্রব্য থাকিবে
অনুগ্রহ দত্ত প্রজার তাহা।
স্বাধীনতা প্রেম হতেছে প্রবল
চাহিৰে কেহ থাকিতে অবল
সমতা নেশার কুহকে বিকল
উদ্ভান্ত আবেশে করিছে হাহা।
ত্যজি প্রজা ভাব শাসক শাসিত
প্রত্যেকেই রাজা এ ভাবে গঠিত
এ নব সমাজ হইবে সৃজিত
দণ্ডবিধি ভয় আর না রবে।
রাজার ভাণ্ডার আর নাহি রবে
স্বরাজের রাজ্য কর হীন হবে
দ্রব্য ও সামগ্রী যা কিছু থাকিবে
সম অধিকার সকলে পাবে।
৪৯

চয়নিকা
আমরা হইব নেশন ত্যজিয়া ব্যসন
চাহি না দুর্ধর্ব প্রাণ বিসর্জন
সে ভার করিয়া বৃটশে অর্পণ
স্থাপিব নূতন শাসন বিধি।
কিন্তু সদা মনে রেখে এই কথা
সম্প্রদায় গত স্বার্থ পৃথকতা
এদেশে যেমন নাহি অ কোথা
সমস্বার্থ বিনা নেশন না হয়।
ধন্য আমাদের বালকবৃন্দ
ধন্য আমাদের নারী
ধন্য তাহাদের উৎসাহ উদ্যোগ
আত্ম সুখ পরিহরি।
যে উৎসাহ বলে ত্যজি গৃহ সুখ
পিতা মাতা প্রতি হইয়া বিমুখ
স্বদেশী স্বরাজ্য স্থাপনে উন্মুখ
খদ্দরের বেশ পরি।

চয়নিকা
গাও সবে মিলি গাও উচ্চ রবে
খদ্দরের জয় গাও গাও সবে
পাটনার শিপে নেশন এ ভবে
দেখ-গাও জয় গান।

সমাজ-তঞ্জ
স্বাধীন স্বাতন্ত্র্য সমতার বাণী
প্রবল প্রবাহে প্লাবিছে অবণী
ছােট বড় আর না রহিবে প্রাণী
ভুলি স্বভাবের অসমতা।
নৈসর্গিক বিধি সমতা তত নয়
জীব জন্তু বৃষ্টি অসমতা ময়
জ্ঞান বুদ্ধি কিম্বা সামর্থ্য নিচয়
উচ্চ নীচ ভেদে পূর্ণ পৃথকতা।
বুদ্ধি ও সামর্থ্য জ্ঞানের উচ্চতা
এক হতে অন্যের স্বভাব দীনতা
জন্ম ও হয় লয়ে ভূরি পৃথক
দূর করে, কার সামর্থ্য বল।
৫২

চয়নিকা
৪
-না ভাবি এসব না করিয়া ধ্যান
উত্তেজিত করা অজ্ঞানের মন
জালাইয়া ঈর্ষা ও বিদ্বেষ আগুন
এক অঙ্গে ভস্ম করাতে চায়।
এ শিক্ষার মূলে নহে উদারতা
নহে ও প্রকৃত জ্ঞান ও সভ্যতা
এ শিক্ষার যারা বাড়ায় দ্রোহিতা
সমাজের বন্ধু তাহারা নয় ।
সম সম রােধে
অসম বিরােধে
প্রবল প্রাধান্য কভু নাহি রােধে
অবল সদাই প্রবল দাস।
ক্ষমতা সম্পদ ভােগ লিপ্সা যত
মানুষের মনে স্বতই নিহিত
শম দম শিক্ষা না করে নিহত
মানুষ এদের এতই বশ ।

চয়নিকা
বিজয়ের লিগা কিরূপ প্রবল ::
প্রাধান্ত স্থাপনে মানব মণ্ডল
আত্মজয় নাদে কত যে বিল,
খেলার আমােদে ও প্রাধান্ত জয়।
**
যতদিন নহে এ রিপু দমন
সম্পদ প্রাধান্য সন্তোষ বর্জন
ততদিন নহে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন
ভ্রাতৃত্ব মমত্ব সমত্ব চায়।
:
আরও সবা কাছে এ মাের জ্ঞাপন
সমাজ পদ্ধতি অথবা শাসন
বিষয় সংস্কার উৎকর্ষ সাধন
সকলই আকাঙ্ক্ষা চেষ্টার ফল।
নিশ্চেষ্ট সমাজে নিশ্চেষ্ট যে জাতি
সে জাতি সমাজ না পায় বিভূতি
বিবর্তের পথে চলেছে প্রকৃতি
মানব উন্নতি আকাঙ্ক্ষা মূল।

চয়নিকা
চন্দ্র সূৰ্য গ্ৰহ ক্ষুদ্র বা বৃহৎ
পৃথিবী তারকা সমস্ত জগৎ
নিজ নিজ স্থানে সবে রহে স্থিত,
অথচ বিবর্তে সদা চঞ্চল।
অণ্ডজ ক্লেদজ কিম্বা জরায়ুজ
কৃমি কীট পশু পক্ষী ও মনুজ
উদ্ভিদ ধাতব অথবা জলজ
অণু পরমাণু সূক্ষ্ম ও স্থূল।
১৪
পরিদৃশ্যমান ভূমণ্ডল মাঝে
যে সকল কিছু হেথায় বিরাতে
সকলই জগৎ, সকলেরই মাঝে
বিবর্তন শক্তি, সকলই চঞ্চল।
১৫
ক্রম বিকাশের বে রীতি বিধান
নিসর্গ প্রকৃতি করিছে নির্মাণ
ক্রম বিকাশের সে পন্থা গ্রহণ
সমাজ সংস্কারে কেন না কর।

চয়নিকা
চন্দ্র সূর্য গ্রহ উপগ্রহগণ
নিজ নিজ কেন্দ্রে করি অবস্থান
এ উহারে টানি করিছে ভ্রমণ
সংঘর্ষে তাদের বিশ্বের নাশ।
১৭
সমাজের মাঝে সম্প্রদায় যত
তেমতি থাকিয়া স্ব স্ব কেন্দ্রভূত
সংঘর্ষ ত্যজিয়া হউক ধাবিত
উন্নতির পথে—নিয়ম বশ।
১৮
স্বত্ব ও সম্পত্তি জ্ঞানের উদয়
সমাজের আদি যে ভিত্তি নিচয়
প্রভাবে যাহার স্থির বৃত্তি হয়
মানব পশুত্ব ত্যজি।
নিজ নিজ স্বত্ব সম্পত্তি সম্ভোগ
স্বত্ব সম্পত্তির রক্ষণ বিয়ােগ
সমাজের আদি এ বিধি নিয়োেগ
সমাজ থাকে না এসব বিনা।

চয়নিকা
প্রাণ ও সম্পত্তি বিষয়ে সংযম
সম্পত্তি সম্পদ হলেও অসম
পরস্পর প্রতি এ চির নিয়ম
হইতে খণ্ডন এ সবে দিওনা।
২১
প্রলয় বিপ্লব আসুরিক প্রথা
অনর্থ বহুল, আনে বহু ব্যথা
বধ ও পীড়ন হিংসা নিৰ্মমতা
প্রলয় বিপ্লবে অশেষ ক্লেশ।
२२
দানবের বল দজ্জালের ছল
জালাইয়া দ্রোহ বিদ্বেষ অনল
নাশ করে, ওরা এতই প্রবল
-দনুজ দজ্জালে দিও না দেশ।

বেহারে বাঙ্গালী আমি
কেউ এসেছিল চাকরী করিতে
কেহ বা উকীল হয়ে।
হাকিমের কাজে কেহ এসেছিল
কেহ বা ব্যবসা লয়ে।
মাষ্টারি করিতে আসিয়াও কেহ
ছাড়লাে না বেহার ভূমি।
তাদেরই বংশের আমি একজন
বেহারে বাঙ্গালী আমি ।
প্রথমে বৃটিশ রাজ্যের পত্তন
বাঙ্গালা বেহারে যবে।
রাজ্যের চালক রাজ কর্মচারী
কোলকেতায় থাকিত সবে ।

চয়নিকা
3
নবাবী আমলে ছিল যে জন
উর্দ, ফারশী দেশে।
ইংরিজির হিড়িকে উঠে গেল ক্রমে
ইরেজের আমলে এসে।
দেশ বিদেশের সাহেব এসে
কোলকেতায় খুললে কুঠা
ব্যবসার জায়গা কোলকেতা নগর
হয়ে উঠলাে পরিপাটী।
নিকটেও এর মা গঙ্গার সনে
সমূদ্রের সমাবেশ।
জাহাজেতে করে আমদানী রপ্তানী
সুবিধাও হেথা বেশ।
পাঁচশ মুণি হাজার মুণি
নৌকা কিস্তি ভড়।
বােঝাই নিয়ে গঙ্গা বয়ে
আসত নিরন্তর

চয়নিকা
সাহেব সদাগর আসলাে অনেক
খুললা আফিস হেথা ।
আমদানী রপ্তানী বাণিজ্য ব্যবসার
তারাই হলাে মাথা
কোলকেতাতে সাহেব সদাগরের
হউস আফিস যত
চিঠি পত্তর থেকে হিসেব কিতে
ইংরিজিতেই সব হতাে ।
কাজেই যত সওদাগরি
কুঠি হউস খুললল
ইংরিজি জানা ক্লার্ক কেরাণীর
দরকার সেখা হলাে।
পুঁজি পাটার কোন দরকার ছিলনা
কেরাণী হইতে গেলে
চাকরী হতে গােটাকত কেবল
ইংরিজির কথা শিখলে।
৬

চয়নিকা
ফাষ্টবুক সেরে সেকেন্দ বুক ধরে
স্পেলিং বুকখানা পড়া
লেনিজ গ্রামার এর ওপর হলে
বিদ্যা হইত কড়া ।
আজকালের মত ইস্কুল কলেজ
ছিল না তখন দেশে
বিদ্যাসাগরের বােখােদয়ও
পৌছেনি তখন এসে।
১৪
পাতাড়ি বগলে পােভড়াদের দল
গুরুমশায়ের কাছে যেত।
সকালে বিকেলে রােজ দুই বেলা
পাঠশালা সেথায় হত ।
জ্যামিতি ভূগােল কাব্য ব্যাকরণ
দর্শন বিজ্ঞান তথা।
নাম পৰ্যন্তও জান্তাে না কেউ
পড়া তো দূরের কথা।

চয়নিকা
ছিল না সেকালে টাইপ রাইপটার
ডুপ্লিকেটার কল।
সবই হত হাতের লেখায়
তাই-ই ছিল সম্বল।
হাতেরই হরফ দেখিয়ে তখন
কেরাণী বাছাই হত!
মুক্তোর মত হরফ হলে
চাকরী সদাই হত ।
১৮
Spelling বুকের অনুগ্রহ বলে
ইংরিজিতে কথা কইতে।
সেকেলে বাবুদের আটকাতাে না কিছু
কেবল মুস্কিল হত লিখতে।
বৃদ্ধ মা মরাতে কেরাণী একজন
পারবে না আফিসে আসতে।
খালি গায়ে পায়ে বড় সাহেবের
কাছে গেল ছুটি চাইতে ।
७२

চয়নিকা
Mother die father weep
My medicine is,
Empty body legs no shoes
Begging leave, sir, reason this.
Hindu we Shradh must make
Therefore sir, leave take,
Many money wanted I poor man
You father, you mother I poor damn.
২২
আনত মস্তকে কৃতাঞ্জলি পুটে
বলে মুখ করি স্নান,
You father, you mother
I poor damn.
কথাটা এক রকম বুঝে নিল সাহেব
কেরাণীর মা মরেছে।
খালি গায়ে পায়ে আসবে না আফিসে
এ কথাটাও নিল বুঝে।

চয়নিকা
২
কিন্তু কি মতলব ধরে Medicine is
বুঝতে না পেরে তাহা।
বড়বাবুকে, ডেকে জিজ্ঞাসিল
কি মতলব ধরে ইহা।
বড় বাবু যিনি সাবেক কালের
হিন্দু কলেজে পড়া তার।
বুঝালেন সাহেবে Mourning হয়েছে
মৃত্যুতে ইহার মার।
বড় বাবু এসে ননীকে জিজ্ঞাসে
কি কথা বলিয়াছিলে।
বৃদ্ধ মা মরাতে ওষদ হয়েছে
ছুটী চাহিয়াছি,বলে।
২৭
মারা গেছে মা বাবা কাদিতেছে
ওসুদ হয়েছে আমার।
খালি পায়ে আর ওসুদ গায়েতে
গায়েতে
আফিসেতে আসা ভার।
৬৪

.
২৮
সাহেবের কাছে যা কিছু বলেছি,
সকল কথারই মানা
Spelling বুক দেখে ঠিক করে কথা
আসিয়াছি এইখানে।
২১
ওসুদের মানে Spelling বুকেতে
Medicine আছে লেখা।
মুখস্ত করিয়া এসে সাহেবের
ঘরে গিয়া করি দেখা।
বড়বাবু বলেন দুর হতভাগা
এও কি শেখাতে হয়।
বাপ মা মরার যে ওসুদ বলে
খাবার ও তা নয়।
Medicine হয় খাবার ওহুদ
মরার ওসুদকে বলে Mourning.
ভূলােনাকো এতে “ময়েতে ওকার
নহে good morning এর morning

চয়নিকা
হিন্দু শান্তরের অশৌচ কথাটা
বাংলার দেশে এসে।
বাংলা দেশের জল হওয়ার গুণে
দাড়াল ও দে শেষে ॥
জনমে ওষদ মরণে ওষদ
বাংলার ঘরে ঘরে।
যে কদিন বাঁচে পিলে ম্যালেরিয়ায়
ও ছাড়ে না তারে।
আয়ের সংস্থান, সহজ সাধন
কেরাণী গিরিতে হয়।
কেরাণী হবার উল্লাস উদ্যোলে
ছাইলে বাংলাময় ।
কেরাণী তােয়েরীর ও কারখানা অনেক
খুললাে বাংলা দেশে।
চারদিক থেকে উমেদওয়ারের দল
নাম লেখায় তাতে এসে

কারখানা থেকে বার হলেই,
চাকরি লেগে যায়।
কেরাণীগিরির সাধ বাসনার
তুফান বাংলা ময় ।
বাংলা হতেই রাজ্য বিস্তার
কোলকেতায় রাজধানী।
কোলকেতা থেকেই, ছুটতত চারদিকে
রাজ্যচালন বাণী ।
‘খুলতে লাগলাে কোলকেতাতে
সরকারি দপ্তর।
ক্লার্ক কেরাণীর সেথায়ও হতে
দরকার নিরন্তর ।
ক্রমে ক্রমে বাড়তে লাগলাে
জেলা ডিভিজন।
কোম্পানীরও বাড়তে লাগলো
রাজ্যের আয়তন ।

চয়নিকা
৪০
কারখানার তােয়েরি মাল
বাংলা দেশের মত।
অন্য কোথাও সেকালেতে
পাওয়া নাহি যেত।
৪১
কাজে কাজেই আর যে দেশে
কেরাণীর দরকার হলাে।
বাংলা হতেই কেরাণীর
সরবরাহ হতে লাগলাে ।
১২
বাংলা হতে বেহার সেরে
উত্তর পশ্চিম হয়ে।
যে কজন রৈলো বাকী
পৌছিল পাঞ্জাবে গিয়ে।
৪৩
উর্দু, ফার্সি ছিল আগে
জবান কাছারির।
তাতেই হতাে উকীলের
বহ তকরীর।

চয়নিকা
০৪
আইন কানুন হুকুম নজীর
সরকারী ঘােষণা।
ইংরিজিতে সবই হয়
ইংরিজি চাই জানা।
৪৫
ইংরিজি জানা উকীলের
কদর হলাে ভারি।
কোমর বেঁধে উকীল হয়ে
বেরুল বাংলা ছাড়ি।
৪৬
বেহার বাংলার একই শাসন
হাইকোর্টও এক।
বেহারে বাঙ্গালী হাকিম
আসিল অনেক।
,
৪৬
সাবেক কালের উৰ্দ জানা
হাকিম উকীলের দল।
ইংরাজি না জানার জন্যে
হলেন বেদখল।

চনিকা
খালি মাঠ দেখে উকীল
এলাে দলে দলে।
পরিপূর্ণ হলাে বেহার
বাঙ্গালী উকীলে ।
৪৮
ওকালতী কাজটাও এরা
করতে লাগল ভাল।
শ্যামৰ্চাদে হক জায়দাদ
রামর্চাদে দেওয়াল ।
৪৯
বেহারে ইংরিজি পড়া
বাড়তে লাগল যত।
বাংলা থেকে মাষ্টারমশার
আমদানী হলাে তত।
জেলায় জেলায় এসে বসলাে
ডাক্তারের দল।
কেউ বা চালায় ডিসপেনসারি
কেউ বা হাসপাতাল।

চানিক
চাকর সস্তা দাই সস্তা
সস্তা গণ্ডর দেশ।
খাবার জিনিষ ও সব পাওয়া যায়
দামও সস্তা বেশ।
গরুর দুধ টাকায় যােল
মহিষের বিশ সের।
আড়াই তিন সের ঘি এক টাকায়
তরকারিও ঢের।
মাছ মাংসের একই দর
দে আনা সের।
আধ আনা সের চুন পুট
অন্য মাছও ঢের ॥
৫৪
সাতাস গণ্ডা পয়সা টাকায়
আটাশ গণ্ডা ও হয়।
খরচ করে শেষ করা আর
হয়ে উঠতাে দায়।
:
৭১

চয়নিকা
জল হাওাও মন্দ নয়
দেশে ম্যালেরিয়া।
এসব দেখে বাঙ্গালীরা
ছাড়ে দেশের মায়া ॥
সস্তা গণ্ডার প্রলােভন
ম্যালেরিয়ার গ্রাস।
বেহার ভূমে বাঙ্গালীর
করাল আবাস।
ভেবে ছিল এইরূপে
কেটে যাবে কাল।
ভাবেনি যে ভবিষ্যতে
ঘটিবে জঞ্জাল ।
বাঙ্গালীর সে সুখের দিন
নাইকো হেথা আর।
না আছে সে খাতির জমা
আছে রােগার ।
৭২.

চয়নিকা
বাঙ্গালীর যে রােজগারের পথ
চাকরি ওকালতী।
প্রবেশ দ্বার বন্ধ একের
অন্তে ঘাের দুর্গতি।
ইংরিজি পাশ করা সেথা
হয়েছে অনেক লোেক।
এদেরও সেই বাঙ্গালীর মত
চাকরির দিকে ঝোঁক।
বেহারীরই দেশ
বেহারেরই ধন
বেহারেরও যত চাকরি।
ন্যায্যমত হয়
তাহাদেরই হক
তাহারাই অকিকারী।
অযােধ্যা কোশল অত্র
পাঞ্চাল সূরশেন।
এসব থেকে এলেও হয়
বেহারী গনন ।

চয়নিকা
কিন্তু একশাে দুলাে বছরের
বাসেও বাঙ্গালীর।
বাঙ্গালীরা কেমন একরকম
সদাই ফরেনার।
৬৪
ব্যবসার গদি বাঙ্গালীর যা
মােকামে মােকামে ছিল।
রেল খােলার পর মাড়ওয়ারির আসায়
সে সব উঠে গেল ।
রেল খােলবার আগের কালে
বাঙ্গালী যে সব।
থেকে যেতে পশ্চিম দেশে
মিশুক স্বভাব।
উদার ভাবে মিশতে। তারা
সে দেশীদের সনে।
আপনা আপনি ভাব একটা
জাগতাে দুইয়ের মনে।
৭৪

চয়নিকা
সে রকম ভাব উঠে গেছে
রেল খােলবার পরে।
সকল জায়গায়ই দুজন দশ জন
বাঙ্গালী বাস করে।
সুয়েজ কেনাল খােলবার পর
বদলাল যেমন ।
এদেশ বাসী সাহেবদের
চাল ও চলন ।
আলবােলাতে তামাক খাওয়া
হুক্কা বরদার।
খুস্ করতে দিল, খাম্বিরা
আর তাম্বাকু মজেদার
হােলির মজলিসে বসে
নাচ তামাসা দেখা।
দেশীদের সঙ্গে রঙ্গে
আবীর মুখে মাখা ।
৭৫

চয়নিকা
৭১
চাদির ফরসি গুড়গুসি মায়
আবােলা বিশ হাত।
দরা ভ্রমণ কালে ও
থাতাে সাহেবদের সাথ
१२
সুয়েজ রাস্তা খুললে সাহেব
আসে দলে দলে।
ইংরেজ ইংরেজ পেয়ে
তাদের সঙ্গেই মেলে।
উঠে গেল আগের কালে
যে সব ছিল বাত।
উঠে গেল ইংরেজের
দেশীয় সহুবত।
3
বাঙ্গালার বাইরে আছে
যতেক প্রদেশ।
বাঙ্গালীর সঙ্গে কারও।
নাইকো সমাবেশ ।
৭৬.

দশ বছর বাস কলেও সে
সে দেশের লােক নয়।
শুনে সােলার টুকরাের মত
'সদাই ভেসে রয় ।
৭৬
বাঙ্গালীকে থাকতে দিতে
কেহই রাজী নয়।
মনে মনে ইচ্ছা সবার
ও ছেড়ে চলে যায়।
৭৭
কলনিতে ইণ্ডিয়ানদের
হক অধিকার রােখ।
এইটে দেখে যে বাবুরা
দেখান বিষম ক্রোধ ।
৭৮
রাজার প্রজা, সব জায়গায়
সমান অধিকার।
কোথা থেকে আসে তার
নাইকো বিচার ।
११

চয়নি
এই তত হলাে বাক্য বিচার
অন্যদের বেলা।
বাঙ্গালী দেশের বেলা কিন্তু,
উলটে যায় সে খেলা ।
পঁচিশ টাকার চাকরি নিয়ে
ঘাের আন্দোলন।
সংবাদ পত্রে বেরােয় লীডার
গভর্ণমেন্ট ভয়ে খুন ।
তারাই আবার মহারবে
চীৎকার করেন আর ।
এ দেশের আমরা সবাই
নেশন ইণ্ডিয়ার ।
চার দিক থেকে লক্ষ লােক
বাঙ্গালীর দেশে এসে,
লক্ষ টাকা জোর টাকা
রােজগার করে বসে।
৭৮

এত পড়া বাঙ্গালীর, কিন্তু
আসল শিক্ষার দোষে,
বিশ টাকাও তিরিশ দিনে
ঘরে নাহি আসে।
৮ঃ
এণ্টে থেকে এ এ পাশের
সনদ ডিগ্রি কত ।
পকেট ভরা ডিগ্রি নিয়ে
ঘােরে অবিরত।
মাথা ভরা বিদ্যা আর
মনটা ভরা জ্ঞান।
এ সব ভরা থাকলেও তাে
খাবার প্রয়ােজন ।
জ্ঞান বিদ্যা যা হাসিল কষ্ট
চাই তাে রাখবার স্থান।
স্থান না দিতে পারলে ওদের
( মিছে) কেন ওর সাধন

চন্মনিকা
প্রাণটাও চাই রক্ষা করা :
সবার বড় প্রাণ।
শরীর না থাকলে প্রাণ থাকে না
করে সে প্রয়াণ
৮৮
সব চেয়ে তাই শরীর বড়
রক্ষা করা চাই।
শরীর থাকূলে সবই থাকে
নইলে কিছুই নাই।
এরে রাখতে অর্থের দরকার,
অর্থ রােজগার চাই।
রােজগারের যে হাজার উপায়
বাঙ্গালীর অভাব তাই
তাই বলি হে বঙ্গবাসী
শােননা এই কথা।
না করলে পাশ বি-এ, এম্-এ
নহে জীবন বৃথা।
৪০

চয়নিকা
বংশ গর্ব জাত অভিমান
এ সব খেয়াল ভােলাে।
রােজগারের পথ হাজার আছে
সেই পথ ধরে চলল।
।
ছেলেকাল থেকে না শিখলে
কাজ শেখা ত যায় না।
শরীরটাকে না খাটালে
খাবার অভ্যাস হয় না
আরও তে আছে অনেক দেশ
আছেও অনেক জাত।
ধন সম্পদেও বড় কত
দানে ও মুক্ত হাত ।
৯৪
"
" তাদের কি নাই জ্ঞান বিদ্যা
ইজ্জত অভিমান?
কুলির মতো খাটতে তারা
ভাবে না অপমান ।

চয়নিকা
মসিজীবি ও বাক্যজীবি
বাঙ্গালী বাবুদের,
বাঙ্গালার বাইরে ছিল যা
উপায় রােজগারের।
চলে যাচ্ছে দেখে, পড়ে
বিষম ভাবনায় !
সভৃষ্ণ নয়নে শেষে
বাংলার দিকে চায় ।
দেশের সহিত সম্পর্ক, তা
অনেক আগে গেছে .
ঘর বাড়ী যা ছিল আগে
ভূমিসাৎ হয়েছে।
১৮
প্রবাসেতে ধাক্কা খেয়ে
দেশে আস্ত চায়।
স্থান না পেয়ে নিরাশ মনে
ফিতে বাধ্য হয়।
৮২

চয়নিকা
* *
অন্নের সংস্থান নাহি বাঙ্গালায়
নাহি বাস, নাহি ভূমি,
তাদেরই বংশের আমি একজন
বেহারে বাঙ্গালী আমি।

বিশ্ব বিজয়ে ব্যাপৃত আমরা
প্রথম শাখা
বিশ্ব বিজয়ে ব্যাপৃত আমরা,
না যদি আমরা ? তবে বল কারা ?
নিসর্গ প্রকৃতি জল বায়ু ধরা
পরিচৰ্য্যা কার্যে নিযুক্ত কার ?
{
প্রাণী জগতের প্রাণিগণ মাঝে
উপযােগ যারা মানুষের কাজে,
মানুষের কাছে স্বাধীনতা ত্যজে
মানব কর্শের বহিছে ভার ?
বিদ্যুৎ, বিজলী, আগুন, বাতাস
শক্তিপু, তেজ, পৃথিবী, আকাশ
আমাদের এতে প্রভূত্ব প্রকাশ,
নর জয় বার্তা এরাও ঘােষে ।
৮৪

চয়নিকা
এদের ধরিয়া নিজ বশে আনা
কাৰ্য সাধনে এদের যােজনা
নিত্য নবরূপে করিছে ঘােষণা
নব অধিকার নবীন বেশে।
প্রচণ্ড প্রবল বিজলীকে ধরি..
ক্ষুদ্রতার মাঝে অবরােধ করি
অরুদ্ধ দশায় ও গগন উপরি
কবিধ কাজ করি সাধন।
কল কারখানা, নানা যান পােত
বিজলী ধরিয়া চালাতেছি রথ
আলােকিত করি ঘর বাড়ী পথ
দাসভাবে বার্তাও করাই বহন।
।
৭
গজ বাজী উষ্ট্র গর্দভ মহিষ
গাভী বলীবর্দ কুকুর ও মেষ
সকলেই সেবে বিধানে অশেষ
সকলেই সাথে মানব কাজ ।

চয়নিকা
ইঙ্গিতেতে চলে, ইঙ্গিতেতে রয়
প্রাণপণে খাদ্য মানুষে মােগায়
দুগ্ধবতী যারা মানুষে খাওয়ায়
নাহি পায় তার শাবক যারা ।
ভূমির কর্ষণ, শস্যের বপন
দ্রব্য সম্ভারের বহন নয়ন
রথ শকটের বাহন বহন
কি কাৰ্য সাধন না করে তারা?
উগ্র তপনের প্রচণ্ড কিরণ
প্রাবৃটের সেই অজস্র বর্ষণ
প্রচণ্ড শিশিরের হিম বরিষণ
সহে সকলেই মানব তরে।
১১
সাহারার চণ্ড তপ্ত মরুদেশ
পৃষ্ঠে লয়ে পণ্য পেয়ে বহু ক্লেশ,
ক্ষুধা ও তৃষ্ণার না দেখায়ে লেশ
ভেদ করে উষ্ট্র কাহার তরে ?

চয়নিকা
তরু লতা গুল্ম ওষধি নিচয়
খাদ্য ও ঔষধ মানুষে যােগায় .
নানা উপাদান এসবেও দেয়
ঘর, বাড়ী, যান, ইন্ধন তরে।
ভূগর্ত প্রােথিত ধাতু যত আছে
শিলা শুক্তি শম্বু সমুদ্রের মাঝে
প্রয়ােজন যার মানুষের কাছে
মানুষের কাজ এরাও করে।
১৪
নর আধিপত্য বিজয়ের বাণী
স্থল, বায়ু, জল, বাষ্প, তেজ, প্রাণী
বিজলী, বিদ্যুৎ, আকাশ, অবণী
সকলেই ভাষে, করে প্রকাশ।
কিন্তু যে প্রভুতা নিজের উপর
সাধন করেছে, করিছে ও নর
বাহ জগতের জয় অধিকার
ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্রতম তার সকাশ।

চয়নিকা
দ্বিতীয় শাখ।
সৃষ্টিকর্তা বিভু ব্রহ্মাণ্ডের পতি
নাহি বুঝি প্রভু কিবা তব মতি
সৃষ্টি মাঝে তব কিবা কার গতি
কেন বা সৃষ্টি কেন বা লয় ?
১৭
অনাদি হয়ে যে আদি প্ৰকাশিলে
যবে এ সগুণ প্রকৃতি সৃজিলে
গুণ প্রক্রিয়ার ও নিয়ম করিলে
নিসর্গ প্রকৃতি চলিয়ে যায়।
১৮
যে নিয়ম বলে যােগ বিশ্লেষণ
যাহা হতে হয় উদ্ভব পালন,
সৃষ্টিপুঞ্জ যাতে হয় বিবর্তন
প্রকাশিয়া ভূত মায়া বিকার
ধ্বংস বিলােপ সৃষ্টি বিধি নয়
প্রকৃতির গুণ প্রকৃতিতেই রয়
বস্তুমাত্র যােগ-বিশ্লেষণ-ময়
প্রকৃতি ও ভুত সদা অমর।

চয়নিকা
সত্য যদি ভূত নিত্য ও অমর
জীব জীবাকার কেন তবে মর
দুখ ও বেদনা কেন সহে নর
মৃত্যু ও জীবন কেন বা ভবে ?
জ্ঞান মন আত্মা বিবেক বিচার
এ সকল তবে কার অধিকার ?
জড় প্রকৃতির এরা কি বিকার,
ন ও চিন্তা কি সম্ভবে জড়ে।
२२
সুখ-দুঃখ-ভােগ যাতনার জ্ঞান
কোথা হতে আসে, আসে কি কারণ
প্রাণ ও আত্মার একি বিশেষণ
অথবা সবে জড়ে?
তৃতীয় শাখা
নর বপু প্রভু করিয়া সৃজন
আরােপিয়া তাতে প্রাণ ও জীবন
সন্দীপিলে তাহা অর্পিয়া চেতন
অন্য জন্তু সহ রাখিলে তারে ।

চয়নিকা
২৪
শত্রু শ্বাপদের মাঝে সংস্থাপিলে
শ্বাপদের শক্তি কিন্তু নাহি দিলে
নখ দন্ত শৃঙ্গ খঙ্গেও বঞ্চিলে
সদা ভীত প্রাণ ও জীবিকা তরে ।।
পশু ভাবে থাকি পশু বৃত্তি ধরি
হিংস্র পশু মত আহাৰ্য্য আহরি
ভূগর্ভ বিবরে, গুহা বৃক্ষোপরি
কাটাত জীবন আদিম নর।
অরণ্যেতে বাস, বনে বিচরণ
পশুদের মত শয়ণ ভোজন
স্বার্থ ও জিঘাংসা শ্বাপদ মতন
পদেরও হেয় মানুষ ছিল ।
পরিত না বাস ছিল না আবাস
পশুবৃত্তি সদা পশুমত অশ
শ্বাপদেরও ত্যজ্য স্বজাতির মাস
(কিন্তু) নরমাংস নরে লাগি ভাল।

চয়নিকা
২৮
আর যত জীব আছে ভূমণ্ডলে
প্রাকৃতিক একই নিয়মেতে চলে
প্রাকৃতিক চেষ্টা ও স্বভাব সকলে
আদি জাতি ভাব এখনও ধরে।
সে নিয়ম কিন্তু লঘিয়া মানব
উন্নতির স্রোতে ত্যজি পূৰ্বভাব
সচেষ্ট দমিতে পশু বৃত্তি সব
নহে কি মানব উন্নতি পথে ?
চতুর্থ শাখা
প্রভু জগদীশ কর নিরীক্ষণ
এবে ভূমিতলে করে বিচরণ,
একি সেই নর? যাহারে সৃজন
করে রেখেছিলে এ ধরা মাঝে।
যে নিজ উন্নতি দেখান মানব
নহে কি তার নিজ সাধন এসব,
চেষ্টা, বুদ্ধিবল হতে কি উদ্ভব
করে নি কি নর আপন তেজে ?

চয়নিকা
পরস্পর মধ্যে প্রেম ভালবাসা
সামাজিক বিধি বাণিজ্য ব্যবসা
সৌধ, অট্টালিকা, বেশভূষা, ভাষা
রাখে নি কি সব যে যেথা সাজে?
দয়া ও কারুণ্য নৃশংসতা স্থলে
অহিংসা মমতা জিঘাংসা বদলে
সুখ ও সমৃদ্ধি বর্বরতা স্থলে
নহে কি চেষ্টিত লভিতে নর?
৩ঃ
লােক শিক্ষা হেতু এসেছিলে যবে
নররূপে ধারা অবতরি ভবে
স্থল জলগামী যানের অভাবে
যে দুরত্ব পথ রােধিল তোমার।
সে দুরত্ব এবে না রোধে গমন
ভূমি, জল, বায়ু করে পথ দান
বক্ষ গর্ভ ভেদি চলে পােত যান
নররথও এবে ভ্ৰমিছে দিবে।

চয়নিকা
ন্যায়, দয়া, সত্য শিক্ষার বিস্তার
যদি করিবারে এবে হও অবতার
স্বচ্ছন্দে ভ্রমিবে সাগর কান্তার
যে যান চাহিবে সকলই পাবে।
৩৭
তাই বলি প্রভু দেখ মনে ভেবে
কি দশায় নরে পাঠাইয়াছিলে ভবে
কি দশায় তারে দেখিতেছ এবে
পূৰ্ব হতে দীন অদীন কিবা ?
মানুষের হাতে যেই মূলধন
দিয়া এ ভুবনে করিলে স্থাপন
তা হতে কি কিছু করেছ অর্জন
সুখ কি দুঃখ এনেছে ভবে ?
৩০
বিশ্ব বিজয়ের যে সগর্ব বাণী
বর্ণিতেছে নর সামর্থ্য কাহিণী
কক্ষে বক্ষে চিহ্ন বহিছে অবনী
নহে কি নরের স্বকীয় অর্জন ?
৯

চয়নিকা
পশ্চম শাখা
৪০'
অকৃতজ্ঞ নর, মিথ্যা গৰ্ব তব
সুখ ও সমৃদ্ধি প্রাধান্য বিভব
যে বলে সাধন করিলে এ সব
পাওনি কি তাহা সৃজন কালে?
৪১
সত্য বটে নর সৃজন-কালে
শ্বাপদের বল বপুতে না পেলে,
কিন্তু বিনিময়ে তার যে শক্তি পাইলে
তুচ্ছ কি তা হতে নহে পণ্ড বল ?
82
যে অবাধ বুদ্ধি বিবেক পাইলে
নহে কি সে বুদ্ধি বিবেকের ফলে
নর বিশ্বজয়ী সামর্থ্য ও বলে
অভাবে শ্বাপদ পও ?
৪৩
আত্ম বিজয়ের শ্লাঘার বচন
নাহি মুখে নর এনাে কদাচন
পশুবৃত্তি নহে এখনও দমন
বহুকার্যে তুমি এখনও পশু।
৯৪

চয়নিকা
৪৪
কাম ক্রোধ দ্রোহ স্বার্থ নির্মমতা
পশুদের মত কলহ প্রিয়তা,
পূৰ্ব্বকার মত এদের বশ্যতা
এখনও তােমার রয়েছে নর।
৪৫
অর্থ সম্পদের ভােগলিপ্সা কাছে
মিথ্যা প্রবঞ্চনা জল্পনা শিখেছে
স্বার্থবৃত্তি আরও প্রবল হয়েছে
পূৰ্ব সরলতা আছে কি আর ?
৪৬
সত্য করিয়াছ সমাজ গঠন
কিন্তু সে সমাজে থাকে কয়জন?
স্বার্থপরতা কি, না তার বন্ধন
কলহ কােল বিহীন কি তাহা ?
৪৭
সমাজে সমাজে সম্প্রদায় ভেদে
স্বার্থ অহঙ্কারে প্রদীপ্ত বিবাদে
সবলের কৃত পড়িয়া বিপদে
অবল যে সে কি করে না হাহা ?

চয়নিকা
৪৮
বিশ্ব সমবায়ে সমাজ সৃজন
করেছ কি বিশ্বে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন
ঈর্ষা, দ্বেষ, লােভ অন্য নির্যাতন
ছেড়েছ কি সব বিজয় স্পৃহা ?
৪৯
এখনও তো সেই মানুষে মানুষে
অবরুদ্ধ আছে কলহের ফাসে
মানুষ ও কাতর মানুষের এসে
রক্ষিতে জীবন ধন?
সত্য বটে নর করেছ গঠন
সৌধ অট্টালিকা বাসের কারণ
বেশ ভূষা, নানা আয়ােজনে
ভােগ বিলাসের তরে।
সত্য করিয়াছ বাণিজ্য স্থাপন
সভ্য জগতের নিত্য প্রয়োজন,
লক্ষ্য কি তার শুধু ধনার্জন
পরদুঃখ ক্লেশ রাখে কি মনে?
৯৬

চয়নিকা
অর্জনের রীতি ছিল আগে বলে
উপার্জন এবে কলে কৌশলে
নহে কি অর্জন বৈষম্যের ফলে
কোটীপতি এক, কোটী ভিখারী ?
ব্যবসা বাণিজ্য সম্পদের পথ
পােত শকটাদি বহুন রথ
দুরত্ব যাহাতে নাহি রােধে পথ
এ সবও করেছ উল্লাসভরে।
৫৪
কিন্তু সাধন এসব যে বুদ্ধির বলে
সে অবাধ বুদ্ধি কার কাছে পেলে
উপাদান ও সব কে তােমায় দিলে
একবার মনে ভাব।
মুখ বিলাসের সামগ্রী সম্ভার
প্রস্তুতে যাহারা খেটে খেটে সার
কয় জন পায় সম্পূর্ণ আহার,
যা হতে প্রস্তুত তার।

চয়নিকা
ভােগ বিলাসের উন্মত্ততাভরে
ধনী ও বিলাসী দম্ভ অহঙ্কারে
দরিদ্রতা ক্লিষ্ট দুর্ভাগা অন্তরে
ঢালে না কি ঘৃণা তাচ্ছিল্য বিষ ?
সভ্যতা উন্নতির মূল শিক্ষা তব
নহে কি অর্জন সম্পদ বিভব
অর্থহীন হলে নহে কি মান
সমাজে তােমার হেয়।
৫৮
যে দয়া করুণা অহিংসা মমতা
স্থাপনের তব সগৰ্ব বারতা
সত্য কি এ সব দয়া অহিংসতা,
ক’জনের মনে প্রিয়।
লক্ষ লক্ষ জীব বধ অনুক্ষণ
করিবারে নিজ উদর পূরণ
দেবতা ও ঈশের নামেও হনন
করিছ নিত্য কত।

চয়নিকা
ক্রীড়া সুখ হেতু শিকারেতে ধাও
জীব বধি তাহে বহু সুখ পাও
বধ ব্ৰতে প্ৰণ নিৰ্যাতনে ধাও
আদিম নরের মত।
অকৃতজ্ঞ নর প্রগল্ভ চীৎকার
বিশ্ববিজয়ের নাহি সাজে তার
বিশ্ব রহস্যের কণামাত্র যার
এখনও তাে নহে জ্ঞাত।

পুরী ধামে জনৈক ভদ্রলােকের
আগ্রহে লিখিত।
মন্দির তব নীল অচল
প্রক্ষালিছে নীর নীল সচল
অচল সচল সমাবেশ স্থল
কি শিক্ষা ইহাতে হবে ?
চলের সনে অচল মিলিয়ে
কি শিক্ষা দিতেছে নরে ?
২
অনন্ত বিশ্ব মন্দির যার
অগণ্য জ্যোতিষ্ক তারকা হার
চন্দ্র ও সূৰ্য্য খচিত যার
ছড় উঠেছে অনন্ত পথে
অসীম আকাশ পরে।
হস্ত পরিমিত গড়ি আবাস
রাখিবে তােমারে এই মনে আশ
অবােধ মানুষ করে আয়াস
অসীমে রাখিতে সসীমে ঘেরি।

চয়নিকা
৪
বিপুল বিলে সহাস আস্তে
প্রত্যেকেরই কাছে স্থিতি
তথাপি হে বিভু, বিদেহ
স্পর্শ না নয়ন ঐতি।
কঁদিয়া ভক্ত ডাকিল
ভক্তিসিক্ত অ ফেলিল
কি উপায়ে তঁারে পাবে দেখিবারে
আকাঙ্ক্ষাতে মন পূরিল।
ভক্ত আবাহন করুণ রােদন
বিভু আত্মা মাঝে পশিল
ভক্তে দেখা দিতে আকাঙ্ক্ষা পূরাতে
করুণায় মন বিল।
হরিতে ভক্তের ক্লেশ
হইল বিহু আদেশ
গঠি রূপ কর অভিষেক।

চয়নিকা
* *
আমাকে পাইবে নিত্য
করিলাম এই সত্য
ভক্তি বলে ছাড়িয়া বিবেক
যে ভাবে চাহিবে সেই ভাবে পাবে
অরূপীর রূপ দেখিবে।
অরূপীর রূপ হইল গঠন
নির্মিত হইল মন্দির ভবন
অসীম সসীমে হইল স্থাপন
ভক্ত নিজ ইষ্ট দেখিল ।
অচল ভক্তিকে সচল মন
কিরূপে নিয়ত করে তাড়ন
পুরীধামে তার নিত্য নিদর্শন
যেথা উৰ্ম্মিরাশির আঘাতে বেলা
১০
পুর বহু আছে এধরার মাঝে
পরিপূর্ণ তাহা মানব সমাজে
পূরী কিন্তু এক, যেথায় বিরাজে
ভক্তে দেখা দিতে পুরুষ প্রধান।
পুরী। ১৯২৫
১২

বুঝি সংসার খেলা।
সেই ত ব্রহ্মাণ্ড রবি শশী তারা
অভ্রভেদী মেরু, জল বায়ু ধরা
তরুলতাগুল্ম নদী স্রোত ধারা
আলাে অন্ধকার ছায়া।
কৃমী কীট পশু খেচর ভুচর
করী হরি ব্যাঘ্র মৃগ শাখার
স্থলজলবাসী দেব দৈত্য নর
নানা জাতি, নানা কায়া।
৩
সেই রবি শশী নিতি আসে যায়
হেসে হেসে এসে ভুবন ভুলায়
বলে হাসি প্রভা জগত জুড়ায়
প্রফুল্ল উৎসাহ ভরা।
ক্রিয়া শেষে যবে ফিরে চলে যায়
ফুল্ল হাসি মুখ বিষাদে লুকায়
বিদায় বিমর্যে জগত জুড়ায়
দুঃখ অন্ধকার ভরা।

চয়নিকা
তরু লতা গুল্মও আসিবারে কালে
সুচিকণ বপু ধরে সে সকলে
জীবনের বস শেষেতে শুকালে
জীর্ণ শীর্ণ হয়ে চলে যায়।
জীব জন্তু সবাই হাসি হেসে আসে
মধুর আহ্লাদে জীবনে প্রবেশে
বিমর্ষ বিশীর্ণ চলে অবশেষে
হাসির ভার নবীনে দেয়
যত জীব জন্তু এ ধরায় আসে
কেহ না প্রবেশে ক্রন্দনের ভাষে
কেবলই মানুষ এ ধরা প্রবেশে
ক্রনের রব করে।
ক্রন্দনে জনম, কন্দনে পালন
ক্রন্দনেই শিশু সাধে প্রয়ােজন
বাল যুবা প্রৌড় বার্ধক্য যখন
ক্রন্দন ছাড়ে না তারে।
১০৪

চয়নিকা
জীবন ব্যাপারে ব্যাপৃত যখন
তখন ত সেই অজস্র ক্রন্দন
হাসির জীবন বল কয় জন
এ ধরা মাঝারে ধরে।
ঈর্ষা বেষ দ্রোহ লােভ অভিমান
দম্ভ অহঙ্কার তাচ্ছিল্যের ভান
ব্যাধি নির্মমতা, অন্য নির্যাতন
নিত্য এ অনিত্য তরে।
এ সবার নরে কিবা প্রয়ােজন
কেন পূর্ণ এতে মানুষের মন
কেন বা মানুষ এদের সাধন
কেন করে এত নিত্য ?
১২
জীব জগতের কেন এ বিধান
এক কেন অন্যের ভক্ষ্য উপাদান
জীবিকার তরে জীবন হনন
ফলে এ বিষম সত্য?

চয়নিকা
১৩
ধর্ম সম্প্রদায় যত হেথা আছে
সকলেই বলে তােমারে জেনেছে
সত্ত্বা উপদেশও তােমার পেয়েছে
তােমারই আজ্ঞা প্রচারে।
১৪
যথার্থই যদি জানিয়াছে সবে
এ বিষম ধৰ্ম্ম দ্বেষ কেন তবে
তােমারে লইয়া অত্যাচার ভবে
কেন বা নিত্য করে ?
কেন এ বিষম কাণ্ড
কেন শূদ্র মুনি হারাইল তুণ্ড
ধার্মিকের দেহে কেন অগ্নিকাণ্ড
ধর্ম প্রচার বা অসি
এ সব কি খেলা বা হাসি?
তথাপিও কেন এ ওরে কাঁদায়
একের আনন্দে অন্য ক্লেশ পায়
অপরের দুঃখে সুখে মগ্ন হয়
কেন এ সংসার খেলা ?

চয়নিকা
১৭
প্রভু জগদীশ ! অজানা তােমায়
কত দুঃখ নর সর্বদা জানায়
প্রসন্ন রাখিতে কত স্তুতি গায়
দ্বিপ্রহর সন্ধ্যা বেলা।
১৮
কেন কান্দে লােক, কেন বা কাদায়
অপরে কান্দায়ে কেন সুখ পায়
অপরের সুখে কেন ঈর্ষা হয়
এ বিষম রীতি কেন ?
স্বার্থপর নর, স্বার্থপর ধরা
মানুষের মন নিজ স্বার্থ ভরা
সুখ অন্বেষণে দুঃখের পশার
নিয়ত করে বহন।
নর চিত্ত মাঝে
প্রতিষ্ঠিত আছে
সুখ দুঃখ কর্মশালা
সুখ দুঃখ দুইই
হয় নিয়তই
যাহার যখন পালা।

চয়নিকা
যেথা সিংহাসন সুখের আসন
দুঃখেরও আবাস সেথা
সুখ উদযাপন
দুঃখ হুতাশন
সিংহাসন ও চিতা সেথা।
কর্মশালা এক
চালক বিবেক
উপাদান ভেদে চলা
প্রভু! এই কি সংসার খেলা ?
১০৮

কলিকাতা ঠনঠনের কালীবাড়ীর
কালীমূর্তির কাপড়পরা দর্শনে।
(কবির সুর)
ওগাে শ্যামা, মা তুমি সভ্য হয়েছ
ল্যাংটা ছিলে এখন দেখি
কাপড় পরেছ।
ঠনেতে যখন এলে
তখন তুমি কালী ছিলে
আদ্যাশক্তি বলে তােমায় পূজতে সকলে।
সেই রূপেরই ধ্যান ধারণা
মনেতে সেইরূপ ভাবনা
যে রূপেতে দ্য নাশি
শাস্তি দিয়েছিলে।
মাগো, তােমার যে রূপকে লােক কালী বলে,
সে ত নয় রূপ আমলে
বিশ্ব শক্তি একই রূপ কি
ধরে সব কালে।

চয়নিকা
মহিষাসুরের বলদৰ্পে দেবতারা ক্লিষ্ট যবে
দুর্গারূপে শান্তি দিলে তবে
আবার জীবের প্রাণ রক্ষা কর্তে
ভুক্ষিতেরে অন্ন দিতে
অন্নপূর্ণা রূপ ধরেছিলে
নগ্নটাতে উঠে গেছে
ল্যাংটা থাকা নাই
ল্যাংটা থাকা বখদ দেখায়
কাপড় পরা চাই।
ইংরেজের আইনেতে ও
ল্যাংটা থাকা মানা
ল্যাংটা দেখলে ধরে নে যায়
করে জরিমানা।
তাই বুঝি মা, কাপড় দিয়ে
দিয়েছ গা ঢাকা
সকল দিকই রক্ষা হ’ল
বিবেচনা পাকা।
কিম্বা প্রকৃতির সেই আদ্যাশক্তি
নগ্ন যার ভাব
নগ্ন থাকা যখন ছিল
মানুষের স্বভাব।
১১০

চয়নিকা
বদলে গেছে সে সব এখন
সভ্যতা প্রভাবে
সহরেও নাইকো সে ভাব
আদি শক্তির এবে।
সে কারণে কিম্বা ছেলে
বড় হয়েছে বলে
কাপড় একখানা পরে নিয়ে
লজ্জা হচ্ছে বলে।

নূতন একরকম
সূচনা
সম্পাদক-পাঠক সংবাদ।
হ্যারিসন রােডের ট্রামে
উঠলে দুজন লােক।
কাছাকাছি বয়েস দুইয়ের
দেখতেও যুবক।
কথায় কথায় প্রকাশ হলাে
দুজনের একজন।
মাসিক পত্রের সম্পাদক
পাঠক অন্যজন
কথার ছলে সম্পাদককে
পাঠক মহাশয়
বলে, তােমার কাগজখানায়
বৃথা আমার ব্যয়।
লেখা পড়া যাহা কিছু
সবই এক ঘেয়ে।
তবে নিদ্রাটাকে ডেকে দেয়
চুলে বিছানায় শুয়ে ।
রাজনীতি আর ধর্মনীতি
এই দুটো নীতি নিয়ে
১১২

চয়নিকা
বাদবাক্য লেখা পড়ায়
দেশটা গেছে ছেয়ে
রাজনীতির কথাগুলো
একঘেয়েও ইলে।
আজ কালের ফ্যাশনের মত
হলে সেটা চলে ।
ধর্থনীতির
नग्न
একটাও
হয় না কিন্তু গড়া।
ধরেন সামনে সাবেকের সেই
মরা পচা সড়া ।
সম্পাদক বলেন ওগাে
পাঠক মহাশয়।
এক ঘেয়ে যে কারে বলে
বুঝে ওঠা দায়।
পাঠক বলেন ও মহাশয়
ঘ থেকে এক ঘেয়ে।
এক সুর গেয়ে যে পয়সাটা ন্যান
সেইটা এক ঘেয়ে ॥
এই বলে পাঠক মশাই
সম্পাদকের ঘাড়ে।
মুষ্টি দৃঢ় করে ঘা
দিলেন সজোরে ।

মনিকা
পয়সা নেওয়ার প্রতিঘাত
এই রকম হলে।
একঘেয়েটা বদলে যায়
ও যায় বদলে ।
লেখক বলেন শিক্ষা পেলুম
আপনার প্রসাদে।
ধৰ্ম্মনীতির নূতন খাতা
লিখব মনের সাধে।
পরের সংখ্যা পত্রিকাটায়,
বেরুল নীচের লেখা।
ধন্য ধন্য করে লােক
নূতন ধর্ম শেখা ।
১১৪

নবধৰ্ম্ম বিজ্ঞান
দুনিয়াটার মালিক যিনি
যার তঁাবে বাস করে,
..নানান ভাবে লােক গুলােকে
ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মারে।
কারােকে দেন অনেক মজা
কায়ােকে তখলিফ।
খাবার না দিয়ে কামােয়
বানিয়ে দেন চোর থিফ ।
কারােকে মােটর চড়িয়ে
বাতাস খাওয়ান।
(আর) কারােকে নীচে ফেলে
প্রাণটা কেড়ে ন্যান্‌ ।
সেই মহাজন যার
কারচুপি এ সব।
লুকিয়ে লুকিয়ে করেন কাজ
পাকড়ান দুর্লভ।
ধরা পড়লে কৈফিয়ত চাইবে
মুস্কিলও তা দেওয়া।
এক্সপ্ল্যানেশন মূঙ্কিল, তাই
স্থির লুকিয়ে রওয়া ॥
১১৫

চয়নিকা
কতকগুলাে খােসামুদে
দোষ না দেখে তার,
কেবল বলে মানুষ গুলাে
পাপী দুরাচার।
মানুষ যে সব দুঃখ তখলিফ,
ভােগে দুনিয়ায়,
সবই নিজের কর্মদোষে
বলে মানুষ পায় ।
খােদা যিনি গড়, যিনি
ব্ৰহ্ম ভগবান।
দয়া অনুকম্পাপূর্ণ
রহীম রহমান।
আরও বলে তঁার কাছে
সবই সমান।
বড় ছােট ধনী দীন
নাহি ভেদ জ্ঞান ।
বুঝলুম দয়াল হলেও তিনি
কর্মফল দেন।
ভাল কাজের বুদ্ধিটা দিয়ে
দয়া না দেখান।
এই যে এত ভজন পূজন
স্তব ও বন্দনা,
১১৬

চয়নিকা
প্রেয়ার নেমাজ আদি
কত আরাধনা।
সকলই ত ভরা শুধু
তােষামদের কথা,
ভুল বুঝিয়ে নেওয়া সেট।
একি ভাল প্রথা।
থােষামোেদ করবারও
ফাদ ফন্দি অশেষ।
কারাের ফঁাদ লোভ লালসা
কারাের দুঃখ ক্লেশ ।
ভগবানের কাছেও যদি
খেসায়ােদ চলে।
নিন্দা কেন করে লােকের
খােসামুদে বলে।
তাই হে দুনিয়ার মালিক
বার কর পরােয়ানা,
এখন থেকে খােসামদের
স্তব স্তুতি মানা।
স্বার্থসিদ্ধি মামলা জেতার
পুজো সিন্নি মানা।
এ সকল যায় না শােনা
একেবারে মানা

চয়নিকা
A
ক্ষমা করবেন আর একটা
বিশেষ নিবেদন।
গণ্ডগােল দুনিয়ায় অনেক
তােমারই কারণ ।
নানান রকম রূপ বানিয়ে
দুনিয়ার মাঝে এসে,
পূজো নেবার আশায় থাকেন
মন্দিরেতে বসে ।
কারাের বা মনে ভাব লাগিয়ে
রূপটা তােমার নাই
রূপটা না থাকলেও কিন্তু
খােসামােটা চাই ।
তাদেরও ত ছাড়ান দেন না
নাছােড় বান্দা হয়ে।
ভজনটা করিয়ে নেও
(একটা) আলয় বানিয়ে নিয়ে ।
গণ্ডগােলের এই পৰ্য্যন্ত
রাখতেন যদি সীমা
দুনিয়াটাতে শান্তি থাকতে
থাকতে ও মহিমা
খুন খারাপি রক্তারক্তি
এই যে তােমায় নিয়ে,
“১৯৮

চয়নিকা
দেখতে কি এ সব কাণ্ড
পাওনা চক্ষু দিয়ে ?
কি বলব আর বলতে চাই না
তুমি ভগবান।
তোমার কাছে সকলেরই
হওয়া চাই সমান ।
তাই হে হরি পাঠিয়ে দাও একটা
আর্জেন্ট পরােয়ানা
তােমায় নিয়ে ঝগড়া বিবাদ
করা একদম মানা
যদি কেউ মানে তােনার
এই হুকুম নামা।
কারণ কৈফিয়ত শােনা যাবে না
নাইকো মাফ ক্ষমা ।
এখন বলুন নূতন রকম
এনেছি কি কথা?
উঠিয়ে দিয়ে এখন থেকে
আগের চলন প্রথা।
জয় পুরুষোত্তম, জয় ভগবান!
পুরীধামের হাওয়ার গুণে হয়েছে দিব্যজ্ঞান।
পুরী, সেপ্টেম্বর, ১৯২৫।
১১৯

No text on this page.

ঠনঠনে— কালীতলক
।
প্রথম-স্তুতি
আদ্য শক্তি, মা গাে, প্রকৃতিরূপিনি
শঙ্কর হৃদয় বাসিনি।
দুবৃত্ত দানবে নাশি শান্তি দাত্রী
শ্যামা মা শান্তিদায়িনি।
সর্বক্লেশহরা, অনুকম্পা ভরা
মাগো, মা, দুঃখহারিনি।
বলং দেহি পরিত্রাহি
দুঃখদনুজ নাশিনি।
শােক ক্লেশে কেন, সদা জর্জরিত
তব অধিকারে এত,
বিরাগী ভােলার সংসর্গ ফলে কি
মাতৃস্নেহে বিস্মরিত ?
ওগো ভােলানাথ ঘরনি ।

চয়নিকা
তীয়—চোরবাগান—শান্তি
চোরের বাগান
দুষ্কৃতের স্থান
ছিল আগে এইস্থানে।
আবির্ভাবি শ্যামা, শান্তি দিয়েছেন
দুবৃর্ত প্রশমনে।
চোরের বাগান,
তফর উদ্যান
এই নামে খ্যাত স্থান।
দুষ্টবৃত্তি চোর, অত্যাচারী ঘাের
করে হেথা অবস্থান।
লুণ্ঠন পীড়ন,
হনন, হরন
দুবৃত্ততা—সখা-সাথী।
করে অভিনয়
বিবিধ বিধানে
নাহি ধরে শঙ্কা ভীতি ।
আক্লিষ্ট পথিক,
অধিবাসী সব
প্রপীড়িত অত্যাচারে।
শ্যামা মাকে ডাকে
আকুল উদ্বেগ ভরে।
দনুজ-দমনী

চয়নিকা
আতুর ক্রন্দন
আর্ত আবেদন
পৌছিল দেবীসদন।
দুবৃত্ত দমিতে
ক্লেশ নিবারিতে
হইল দেবীর মন।
আসিলেন দেবী অলক্ষিত ভাবে
সহ বহু নিজগন।
কেহ না দেখিল,
কেহ না জানিল
সেই শুভ আগমন।
দ্যদের মাঝে
পশি দেবীগন
নানারূপ শাস্তি দেয়।
চুরির উদ্দেশে
যখনি বেয়ােয়
দেবীগণ দেখা পায় ।
কারও ভাঙ্গে মাথা কারও ভাঙ্গে ঘাড়
কারও ভাঙ্গে কোমর।
হাত পাও ভাজে গদার প্রহারে
সর্ব অঙ্গে ব্যথা ঘাের ॥
কেহ দেখে মুখ
বিকট ব্যাদান
বিকট দশন ভরা।
দন্ত কড়মড়ি
সম্মুখেতে আসে
গ্রাস করিবার চারা।

চয়নিকা
সে অবধি এ স্থানের নাম ঠনঠনে।
দেবপূজ্য স্থান ইহা পবিত্র ভুবনে।
এ স্থানের অধিবাসী প্রিয় শ্যামা মার।
যদিও শিকার কৰ্ত্তে আসতেন মার ।
ঠনঠনে কালীতলায় কালীবাড়ী
সন্ন্যাসী ভকত
দেবী পদাশ্রিত
ধ্যানেতে জানিল কথা।
বিশ্বমাতা খামার
প্রিয় এই স্থান
আসেনও সর্বদা হেথা ।
আসি একদিন
স্থাপিয়া আসন
হল ধ্যানে যােগাশ্রিত।
আবেদনে তার
বিশ্বশক্তি মার
মুৰ্ত্তি হল প্রকটিত।
শঙ্কর নামধৃত
ঘােষবংশ সস্তৃত
শ্যামামূৰ্ত্তি আরাধনা যার।
সন্ন্যাসী সদনে
আসে দরশনে
ঈষ্ট নিজ দেবতার।

চয়নিকা
ঈষ দরশনে
আনন্দে বিভাের
হইল শঙ্কর ঘােষ।
দেউল গড়িয়া
সে মুর্তি স্থাপিয়া
লভে ভক্তি-পরিভােষ ॥
ভক্তিতে বিভাের ঘােষজ শর
হৃদয়ের দিকে চায় ।
সেখানেও সেই
কালীমূর্তি এহ
বিরাজে দেখিতে পায়।
দেউল উপর
ঘােষজ শঙ্কর
নিখিল উল্লাসে মজে।
“শঙ্করের হৃদয় মাঝে শ্ৰীশ্ৰীকালী বিরাজে”
মিথ্য। নয় এই বাক্য শঙ্করেরই সাজে ॥
ঘােষ শঙ্করের ও হৃদে কালী বিরাজে ।
ধন্য ঠনঠনবাসী ধন্য তােমরা সবে।
জগন্মাতার প্রিয় হও তােমরাই ভবে ।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Chayanika

Author
Not Available
Title
Chayanika
File name
Chayanika
Text
OCR done
Citation
1926
Published
2009/11/6
Publisher
Sisir Kumar Chattopadhyay,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
138
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Chayanika
DLI number
512545
Barcode
4990010019610.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
nWcfuh51sKM
Download PDF

Chayanika