Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Nijer Gaan

Bandhopadyay,sharachchandra · 2010/02/7

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

নিজের গান।
শ্রীশ্রচ্চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত।
7.
কলিকাতা ২৬নং ঘােষ লেন আশুতােষ প্রিন্টিং ওয়ার্কস্ হইতে
আশুতােষ দাস দ্বারা মুদ্রিত ও
ভদ্রক হইতে গ্রন্থকার কর্তৃক প্রকাশিত।
১৩৩৬, ১লা আশ্বিন।
মূল্য ১, এক টাকা

গ্রন্থকার প্রণীত অন্যান্য পুস্তক
।
lodo
lpo
৮. এ
১। কুমারসম্ভব
২। কৃষ্ণপ্রেমতরঙ্গিণী
৩। সারপঞ্চক
৪। প্রার্থনা
৫। স্তবাবলী
৫। শকুন্তলা (কাব্য)
গ্রন্থকারের নিকট প্রাপ্তব্য।
ঠিকানা পােষ্ট ভদ্ৰক জেলা বালেশ্বর।
•••
০
০

মুখবন্ধ।
আমার এই গীতগুলি নূতন ধরণের না হইলেও ইহাদের
অধিকাংশ পৌরাণিক বলিয়া হিন্দুসমাজের সম্মুখে বাহির
করিতে পারাযায় ইহাই আমার ধারণা। কিন্তু হিন্দুমাত্রেরই
যে গানগুলি ভাল লাগিবে তাহাই বা কেমন করিয়া বলিব,
সেহেতু আজকাল মার্জিত রুচির যুগ ও ব্যক্তিগত রুচিস্বাতন্ত্রের
মাত্রাও এখন পূৰ্ব্বাপেক্ষা অনেক বেশী। আমি একটু সে
কেলে ধরণের লােক সুতরাং আমার রুচিতে একটু আধটু
সেকেলে গন্ধ অবশ্যই আছে। ইহা বয়ােবৃদ্ধি সহ বদ্ধমূল
অভ্যাসের দোষ, একেবারে এড়ান অসম্ভব। কিন্তু তাই
বলিয়াই যে আমি আধুনিক রুচির মর্যাদা রক্ষাকল্পে উদাসীন
এরূপ কখনই নয় তবে দেশকালপাত্র অনুসারে গানগুলির
কোন কোনটা রুচিসােপানের উচ্চতম পদবীতে না উঠিয়া দু’
এক ধাপ নীচে রহিয়া গিয়াছে এই মাত্র বলা যাইতে পারে ।
জ্ঞানকৃত ত্রুটী নিজেই স্বীকার করিলাম, অজ্ঞান কৃত তারও
কত কি আছে জানি না, পাঠকের বিচারাধীন রহিল ।
ভালর আদর, মন্দের অনাদর সর্বদাই যে হইয়া থাকে
এরূপ নয়, ইহার বিপর্যয়ের দৃষ্টান্তও বৈচিত্র্যময় সংসারে বহুল।
বুখ্যাতি, অখ্যাতি অনেকটা দৈবায়ত্ত বলিয়াই বােধ হয়। তাই
ভন্ন ভিন্ন মনের অবস্থায় রচিত এই গীতগুলি আধুনিক রুচি

• - সঙ্গত না হইলেও কেবল আমার অদৃষ্টপরীক্ষাকল্পে জন সমাজে প্রচার করিতে সঙ্কুচিত হইলাম না। অধিকন্তু, কিং ন করােতি বিধিদিরুষ্ট? কিং ন কৰােতি বিধিৰ্ঘদিতুষ্ট। উষ্ট্রে লুম্পতি রম্বা বম্বা- তস্মৈ দত্তা নিবিড়নিতম্ব। কবির উক্তিরূপ এই শক্ত কীলকে আশার নৌকা ভাল করিয়া বাধিলাম। শাণিহাটীনিবাসী আমার ভাগিনেয় শ্রীরামচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অধিকাংশ গীতের সুর ও তাল নির্ণয় করিয়া ও আমার প্রিয় ছাত্র কলিকাতা হাইকোর্টের কপীং ডিপার্টমেন্টের সুপারিনটে- ডেন্ট শশারদা প্রসাদ মুখােপাধ্যায় এই পুস্তকের প্রুফ সংশােধনাদি কাৰ্য্যে সহায়তা করিয়া আমার বিশেষ আশীৰ্বাদাহ হইয়াছেন। গ্রন্থকারস্য-

Je
যে সকল রাগরাগিণী তালাদি নির্ধারণ করা হইল তাহাতে
যে গাহিতে হইবে এরূপ কিছু কথা নহে। ঐরূপ রাগতালাটি
অবলম্বন করিয়া গাহিতে পারা যায়। কিন্তু গাহকের ইচ্ছাম
রাগতালাদিতে গাহিতে পারেন। ইতি ৬ই বৈশাখ ১৩২২
রামচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
পাণিহাটী,
২৪ পরগণা

No text on this page.

সরস্বতী বন্দনা : জয় জয় ভারতি, দেবি সরস্বতি, শ্বেতশতদলবাসিনি। অজ্ঞাননাশিনি, জ্ঞানপ্রকাশিনি, সুধাসুমধুরহাসিনি। বাক্যবিধায়িনি, বিদ্যাবিনােদিনি, বিবুধ-হৃদয়-বােধ-মন্দাকিনি, অলকানন্দে, ত্রিভুবনবন্দ্যে, বিশ্বেশ-মানস-উল্লাসিনি। মণিময়-মঞ্জীর-রাজিত-চরণে, নখ-রুচি-নিন্দিত-শশধর-কিরণ, জয় জাড্যাবগুণ্ঠন-উদঘাটিনি, কবিকণ্ঠ-অকুণ্ঠিত-নিঝরিণি,- বেদ-রামায়ণ-আদি-পুরাণগণ- ভারত-ভারতী-সঞ্জননি, জয় জয় শাশ্বতি, দেবি সরস্বতি, অজ্ঞান-ঘােরতিমির-তরণি। ইমন কল্যাণ-ঢিমেতেতালা

শ্যামা-সঙ্গীত
জয় জগবন্দিনি, যুগান্তকারিণি, ভবভয়ভঞ্জিনি তারিণি গাে।
(তুমি) শক্তি শাকস্তুরী কৌমারী শঙ্করী
(তুমি) ব্ৰহ্মাণী ইন্দ্রাণী রুদ্রাণী গাে।
(তুমি) বারাহী বৈষ্ণবী ভ্রামরী রৌদ্রী,
(তব) শ্বাসপ্রকম্পিত অষ্ট কুলাদ্রি,
(তুমি) জয়ন্তী রটন্তী শােণিতদন্তী,
(তুমি) দুরন্ত-কৃতান্ত-কৃন্তিনী গাে ।
(তুমি) গিলিছ উগারিছ কতবার বিশ্ব,
কোটি বিভাবসু জিনি তব আস্ত,
ত) দন্তে বিচূর্ণিত কত চতুরানন,
(তুমি) রুদ্র-পুরন্দর-ঘাতিনী গাে,
ললাটফলকে তব ঝলকে শশাঙ্ক,
দলিত চরণতলে কাল নিরঙ্ক,
কত রাজ্য নিমজ্জিল কাল কবলে কত
জাগিল কত শত আর অসংখ্য
কালতরঙ্গে (তারা) সকলি ত ভঙ্গুর,
(তব) ভ্ৰভঙ্গে ভােলে কাল রঙ্গিণি গাে।
জীবসাগরে তারা আমি এক বিন্দু,
আমি কি নিৰ্ণিব তব গুণমহাসিন্ধু,
রাখ চরণে, শুভশরণে, যাচে বরষ মাস দিন যামিনী গাে।
ভূপালী—শ্লথ ত্রিতালী
-

'সদা কালী কালী বল, কালীনাম বিনা ভবে সকলি বিফল ।
ভজ তারা অনিবার, তারা এ সংসারে সার,
ক্ষীর ত্যজি নীর পানে কি আছে রে ফল।
জীবের জীবন মরু,
কালী তায় কল্পতরু,
ভক্তিআকর্ষণী দিয়ে টান্ মুক্তিফল।
শক্তিতে উদ্ভূত সব, শক্তি বিনা শিব শব,
শক্তি না সাধিলে মুক্তি কেবা দিবে বল ।
অর্ধেক জীবন গত শুইয়া শয্যায়,
অকাজে কতক গত, আর বাকি দিন কত,
তাই বলি অবিরত কালী কালী বল ।
খাম্বাজ-দ্রুত ত্রিতালী বা কা ওয়ালী
আর কবে মন ববি কালী।
বাসনা-অনলে, প্রতি পলে পলে, জ্বলে জ্বলে খা হয়ে গেলি ।
ভােগ-ঘৃতাহুতি করিয়া অর্পণ,
বাড়াসনে রে আর কাম-হুতাশন,
নিৰ্বাপিত তায় ক রে ত্বরায় বৈরাগ্য-শীতলসলিল ঢালি।
না বাড়িবে শ্যামা-নামামৃতে তৃষা,
বিষয়-বাসনা না হইলে কৃশা,
বিধু না বিকাশে, বরষা-আকাশে, অবিরল যবে ঘনাবলী।
খাম্বাজ-একতালা।

( 3 )
মন রে তুই বড়ই বােকা।
দাত পড়িল, চুল পাকিল, তবু আক্কেলে তুই কচি খােকা।
আপনাকে তুই অমর ভেবে, কোস্ কথাগুলাে নােকা রােকা ;
কিন্তু জানিস না যে পলে পলে কাটুচে তােরে কালের পােকা।
ভাবি কেবল কোথা পাবি, সােণার টাকা থােকা থােকা,
কিন্তু সােণার সুখ আর শ্যামার সুখে কভু ত দিলি না জোঁকা।
সােণা কেবল শুতে সােণা, তার চকানি চোখের দেখা
শ্যামা মনের পরশমণি, শ্যামার কিরণ মনে আঁকা।
নকলে তুই ভাবি আসল, পাগল মন তুই এমি ন্যাকা,
ভাল করে ডাক্‌রে মাকে ঘুচবে রে তাের ভবের ধোকা।
রামপ্রসাদী—একতালা।
জীবন গেল বিফলে।
কি হবে জানিনা মলে।
আমি দিলাম না মনকমল কভু তাের চরণকমলে।
আমায় দিয়েছিলি আত্মমণি, সে যে মণি-কুলােজ্জল,
তাতে তাের নামাঙ্ক ছিল ছুইত না চৌরদলে
আমি ডুবাই সেই মণি কলুষ-কালিতে,
মৃত্তিকার এ দেহের সৌষ্ঠব সাধিতে ;
বুদ্ধি মাের বড় ক্ষুদ্র, রােধিতে মৃঘটছিদ্র,
দক্ষিণ-আবর্ত-শঙ্খ চূর্ণিলাম অবহেলে।
তােড়ী—মধ্যত্রিতালী ।

কালী-নাম-পাষাণে ঘষণ দিয়ে শাণিয়ে নে মন বিবেক-ছুরী।
কক্ক’রে ধার হলে রে তার, কাটু না তাতে কৰ্ম্মডুরী।
কাটুলে পরে সে কৰ্ম্মফস, পাবি মুক্তকেশীর আকাশ,
তখন ওঠা নাবা ঘুচবে ভবে বিষয়-বাঁশটা আঁকড়ে ধরি।
উঠবি তুই এত উপরে, তাের ন্যাগাল আর কেবা ধরে,
হাবি সেথা সুখের ভরে, সংসারে সব সং নেহারি ।
ভৈরবী—যং
আজ কাল বলে কত কাটাবি রে দিন।
আজ আছিস্ নবীন, কাল হবি প্রবীণ,
হবে ক্রমে তনু ক্ষীণ, হবি বলবুদ্ধিহীন,
ক্রমেই ফুরায়ে যাবে তাের গণা দিন।
আজ যদি তুই বলিস্ কালী, কালের মুখে দিবি কালী,
কা বলে রাখিয়া দিলে পাবি না কালী,
যৌবনজুয়ার ভাটিয়ে জাগবে জরার বালী,
তখন বেড়াজাল নে আসবে রে কাল তাের ধর্তে জীবমীন।
যৌবন কাটাই হেসে খেলে, বল্
কালী বৃদ্ধকালে,
এ ভাবনা, ও ভােলা মন, নয় রে সমীচীন,
বরে কালী থাক্‌তে বুলি আপন অধীন,
ঘরে লাগলে অনল, চায় কূপ কেটে জল, পাগল বুদ্ধিহীন।
ঝিঝিট—মধ্যত্রিতালী।

( ৬ )
বাইচি দেহের
তাের ভবের সাগর কত বড়, বল্ তারা তাের পায়ে পড়ি।
তরী জন্ম জন্ম আজও ত জল না পাড়ি।
এ নৌকাতে ছিদ্র শত,
কচিঁ কালাপাতি অবিরত,
জল ছেচে প্রাণ ওষ্ঠাগত, তব মাঝখানে হয় ভরাবুড়ি।
ডুবলাে তরী কতই বার,
তবু তারা নাই নিস্তার,
তুই অকুলে ভাসা মা আবার, আবার নূতন তরী গড়ি।
আমার বল বুদ্ধি পেয়েছে নাশ, হয়েছি মা বড়ই হতাশ,
এবার তােল তারিণি জ্ঞানের বাতাস,
তাের পদরূপ ওই কূলে পড়ি।
ভৈরবী--যৎ।
দে রিণি অভয় পদ, আমি পদক করে গলায় পরি ।
এক ভূতেতে রক্ষা নাই মা আমার ঘরটা যে পাঁচ ভূতের পুরী।
ভূতের ঘরে খেতে শুতে,
আমারে পেয়েছে ভূতে,
রাখবি তাে রাখ, আপন পুতে, নইলে ভূতে দিলে দফা সারি।
ভূতগুলাের নাই ধারা পালা, তারা এই বলে বাপ, এই বলে শালা,
কত আর সহিব জ্বালা, ভূতের হাতে ভাবশ্বরি।
পাঁচ ভূতের এ দেহ লয়ে,
সদাই মরি ভয়ে ভয়ে,
আমার মা না তুই অভয়ে, ভূতনাথ যার আজ্ঞাকারী।
সিন্ধু-যৎ।

( ৭ )
হেন উৎকট পিপাসা প্রাণে কেন মা দিলে।
সর্বনাশা এ পিপাসা যায় না যে মলে।
পিপাসায় শুষ্ক মুখ,
পিপাসায় ফাটে বুক,
এ পিপাসা যায় না মা সিন্ধু শােষিলে।
তব কৃপামৃতধারা দেও কিছু ঢেলে।
পেলে তার এক বিন্দু,
অনায়াসে শরদিন্দু,
এ ঘাের ভ-পিপাসা যাবে মা ভুলে।
ভীমপলশ্রী—ঢিমেতেতালা।
শিবে সর্বনাশি মুক্তকেশি তুই না আমার মা।
কোন্ মা জলে ভাসায় ছেলে বাঁধিয়ে হাত পা ।
হলেম হাবুডুবু খেয়ে সারা এ জলের নাই কূল কিনারা
আকাশ যােড়া প্রসার তাহার কর্তেছে খাঁ খাঁ।
দিলি করেতে কৰ্ম্মের ডাের,
বুকেতে বিষয়-পাথর,
তারা প্রতিক্ষণে করে মা জোর, কেমনে ভাসাই গা।
মায়া-মােহ-কুহেলিকা আধারে মাের পথটি ঢাকা,
আশার দুর্জয় বায়ু বইতেছে সাঁ সাঁ ।
উদরে বিষম গর্ত,
ভ্রমিতেছে ভ্ৰমাবর্ত,
বিদ্বেষ-বাড়বানলের উঠছে নীলাভ।
রিপুতরঙ্গের নাচে,
ভয়েতে প্রাণ না বাঁচে,
আবার মৃত্যু-মকর মেয়ে আছে সাগরযােড়া হা।
এমন জলে ফেলার চেয়ে,
ওগাে ও পাষাণের মেয়ে,
ভাল ছিল আঁতুড়ঘরে আমার গলায় দেওয়া পা।

( ৮ )
মায়েতে যন্ত্রণা দিলে
বাপের কাছে বলে ছেলে,
কিন্তু মাের বাবা তাের পদতলে, ব্যাটা কাড়েনাকো রা ।
মুলতান—কাওয়ালী ।
আমি মরতে ভয় করি না।
কিন্তু তেমন মরণ দে মা তারা যেন তবে আর ফিরি না।
যাকে আমরা বলি মরণ, সেত দুধের ছেলের ঘুম জাগরণ,
এই অচেতন, এই সচেতন, আবার চুষী ধরে টানা।
মরে যে মা জীব সকলে, তাকে কি আর মরণ বলে,
সেত ভবের তঁাতে তঁাত বুনিতে, মন-মাকুটার আনাগােনা।
থাকে আশা-টানা লম্বা আকার,
পড়ে দুখের পড়েন তায় বারম্বার,
কর্মসূত্রের থাকলে গােড়া, টানা পড়েন ত ছাড়ে না।
খটং!
ভবের বনে অসাবধানে করিতে ভ্রমণ।
বিষয়-বিষধরে তােরে করেছে দংশন।
সৰ্ব্বাঙ্গে তাের বিষ ঘেরেছে, সংসার-ক্ষার মিষ্ট লাগছে
লােভর পঁাজা মুখে ভাঙছে, এইবার গেল গেল জীবন
বিষ তাের উঠেছে শিরে, পুণ্যের তাগা করবে কি রে,
চলছে না আর তাের শরীরে ধৰ্ম্ম-ওঝার কাড়ন ফেঁাকন।

এ বিষে তাের নাই নিস্তার, উপায় ত দেখি নে আর,
তবে তাসারে সার আছে জল সার,
কর কালীনাম-পীযূষে অবগাহন।
ভৈরবী—যৎ।
আমায় পথ দেখা শঙ্করি।
আমি দিনটা সারা, ও মা তারা, কুপথেতে ঘুরে মরি।
তাের ভবের বনে নাই মা আলো,
দিনেই পথ দেখায়নি ভাল,
বেলা গেল সন্ধ্যে হ’ল, এখন অাঁধারে উপায় কি করি।
যখন আমি ঘর ছাড়ি,
ছ’টা চোরের পাল্লায় পড়ি,
তারা ক… মােরে তাড়াতাড়ি, সকাল থেকে,
আমার পথ আগুলে আছে ঘেরি ।
তারা আগে দূরে দূরে ছিল,
ক্রমেই কাছে ঘেঁসে এল,
এবার দিয়ে গলায় ফাসি, মুক্তকেশি,
আমার পথের সম্বল লয় বা হরি ।
আমার মন-প্রহরী নেড়ে দাড়ী,
কৰ্তে চোরের সঙ্গে হুড়ােহুড়ী,
ভেঙে বল্ল বিবেক-বাড়ী সে আনাড়ী,
এখন কার সহায়ে সুপথ ধরি।
সিন্ধু ভৈরবী—ংরি

( ১০ )
যা পেলি তাই খেলি কালি তবু উদর নাহি ভরে।
সর্বনেশে ভােজনে কি দিবি ব্ৰহ্মাণ্ডটা উজাড় করে।
তব বদন ঈশানি,
পেষণী বিশ্বনাশিনী,
ঘুরে দিবা নিশীথিনী, চূর্ণ করি চরাচরে।
ব্ৰহ্মা রুদ্র পুরন্দর,
তারা সূৰ্য শশধর,
লভে সবে দশান্তর, পশি ও দশনান্তরে।
তুই খাবি মা তাের সংসার, বলতে কিছু নাই আমার,
বাকি থাকে মাের অহংকার, এই খেদে প্রাণ বিদরে।
বিভাস-আড়াঠেকা।
মন তুই রে বড় তালকাণা।
সংসার-জঞ্জালে, কত হলি রে নাকাল,
তবু কালী বলে একবার ডাকিলি না।
যত কিছু তুই বলিস্ মাের মাের,
তারা কেহ নয় রে তাের, শুধু কৰ্ম্মডাের,
ছেড়ে গণ্ডগােল, ধর রে তারা-বােল,
সে বােল্ বিনা ভবে পার পাবি না।
একঘেয়ে দুঃখের বেহাগ গাহিয়া,
জীবনের নিশা দিলি কাটাইয়া,
এখন হ’ল ভােরের বেলা, তাের ধরে গেল গলা,
একবার গম্ভীরে ভৈরবী সেধে নেনা।

( ১১ )
তাের যৌবন-নিশীথ হয়েছে অতীত,
ঝিঝিটে গা না প্রণয়-সঙ্গীত,
এখন গলিত দশনে, স্থলিত রসনে,
ললিতে ঘােষনা লােলরসনা।
ভীমপলশ্রী-একতালা।
জলদ-বরণা কালি আমারে বলদের মত।
মেরে দুখের বেত্র এ কৰ্ম্ম-ক্ষেত্রে আর নাঙল টানাবি কত।
আমার মায়া-সূত্রে নাকটি ফোড়া,
স্বার্থ-জোয়ালে কাধটী যােড়া,
অজ্ঞান-কৃষাণ মার্চে তাড়া, আমি খেটে মরি অবিরত।
আমার মুখ ঘেরা কুরুচি-জালে,
নাই পুণ্য-দুৰ্ব্বা মাের কপালে,
ভবের গােবরভরা গইলে শুয়ে, পাপের জাবর কাটব কত।
কি কব সে অজ্ঞান-চাষায়,
বাঁধে আমায় বিষয়-খোটায়,
আবার মােহতূষের ধোঁয়া দিয়ে. করে আমার দৃষ্টি হত।
খেটে হাড় সার আমার দশা,
তবু লাগে হিংসা-মশা,
আমি মােটা বুদ্ধির ল্যাজটা নেড়ে আর মশা তাড়াব কত।

( ১২ )
কবে হবে সে তপস্যা,
মিবে জীবনের অমাবস্যা,
সে দিন পড়বে না আর কাঁধে জোয়াল,
আমি হব তাের ঐ পদে নত।
রামপ্রসাদী--একতালা।
(একি গাে ক্ষেমঙ্করি) তাের খেয়াঘাটে কি কারখানা।
তুফান গাঙে ভাঙে ভাঙে জল ঝরা এ নৌকখানা।
ভবের গাঙেতে দেখি, লেগেই আছে কাল বশিখি.
এ দুর্যোগে নাবিক নাকি বামুন গরু পার করে না ।
ভােরে বাতাস কমতি ছিল,
দুপুরে ক্রমে বাড়িল,
সন্ধ্যে বেলায় ঝেকে এল, তরী বুঝি আর টেকে না।
ভয়ে কাঁচি থর থর, ডাচি কতই বদর বদর,
চেঁচাই জোরে পাচটী পিরে, তারা শির বাহির ত কেউ করে না
মন আমার আনাড়ি নেয়ে, দেখে নাক বেয়ে চেয়ে,
ভয়ে জড় সড় হয়ে, উড়ো ঝিকে আর মারে না।
হই হব এ তরী হারা,
পদভেলা দিয়ে তারা,
আমায় কুল ধরা মা এম্নি ধারা, যেন পারের ধারটী আর ধারিনা
রামপ্রসাদী—একতালা।

( ১৩ )
তারিণি গাে ভবের হাটে কল্লি আমায় নগদা মুটে।
আমি দিগদার হয়েছি তারা দিবারাত্রি খেটে খেটে।
বাসনার লম্বা বাঁকে, ঝুলিয়েছি মা লােভের শিকে,
বুই পাপের বস্তা তার দুদিকে, তমােগুণে বেঁধে এটে।
ছুটি আশার অশেষ রাস্তা ধরে, গায়ে কর্মভােগের ঘর্ম ঝরে,
সঞ্চয় কিছু রয়না ঘরে, যা জানি তাই খাই মা পেটে।
সামান্য যা রােজগার করি,
পরিবার পুষে মরি,
তারা লাভের আমার অধিকারী পাপের বােক বয়না বেঁটে।
এ হাটের যে ছটা ফড়ে, প্রায় তাদের বােঝাই পড়ে ঘাড়ে,
তারা একটু থামলেই আসে তেড়ে,
আমার দম ফেটে যায় ছুটে ছুটে।
যা ছিল হ’ল কপালে,
এই যাচি তাের চরণতলে,
এবার বােঝা নামিয়ে দিলে, আমি থাক্ তাের চরণে লুটে।
সিন্ধু ভৈরবী-ইংরি।
মহাজনি মন জানি না।
গুরুদত্ত ধন, আছে রে মূলধন, সাধনে সে ধনে বাড়িয়ে নেনা
পেয়েছিস্ দুর্লভ মানবদেহ-তরী,
যদিও সছিদ্র তাতেই নে কাজ করি,
কালীনামমন্ত্রে কালাপাতি করি, ভবের তরঙ্গ কাটিয়ে যা না ।

( 14 )
দাদন দিয়ে প্রীতি প্রতিজীবে গণি,
পুণ্য-পণ্য-দ্ৰব্য ক রে আদানি,
রাখিস্ জ্ঞানপ্রহরী দিবসশর্বরী,
যেন হিংসাদিতস্করে তায় হবে না।
তাের তরী ক্ষুদ্র বটে, কিন্তু অতি দামী,
তারার নামে সেটা করে রাস্ বেনামি,
সে নাম দেখলে পরে, জরার বন্দরে,
শমন রাজা ডরে, আকাবে না।
এরূপে এড়ায়ে শমনসীমানা,
পবি শেষে মন্দাকিনীর মােহান,
সেথা মায়ের চরণ দুখানি, মুক্তিরত্নখনি,
ভক্তিধন দিয়ে কিনে নে না।
সে খনির প্রহরী, ভােলা ত্রিপুরারি,
তােরে দখল দিতে যদি করে জারিজুরি,
দেখাইবি তারে নির্ভয় অন্তরে, নিৰ্ব্বাণদায়িনীর পরওয়ানা।
খাম্বাজ-একতালা।
কেন মা সৈনিক করি করিলি প্রেরণ।
সংসারসমরে মােরে করিবারে রণ।
আমার মানসে সাহস নাই, শরীরে শকতি,
তিষ্ঠিতে না পারি রণে ভয়ে ভীতমতি,
প্রতিক্ষণে করি তাই পৃষ্ঠপ্রদর্শন।

( ১৫ )
ভীষ্ম দ্রোণ কর্ণ আদি কত মহাবীর,
যে কালসমরে কালি ঢেলেছে শরীর,
কেমনে সেখানে যুঝে দুৰ্বল এ জন।
হ’ল চৈতন্য অচৈতন্য, হতবুদ্ধি বুদ্ধ,
শঙ্কর ত্যজিল তনু সঙ্কল্প অসিদ্ধ,
আমা হতে হবে না সে অসাধ্য সাধন।
আমার ধৰ্ম্মরূপ বৰ্ম্ম ভিন্ন অধৰ্ম্মতাড়নে,
কৰ্ম্মরূপ চর্ম ছিন্ন অকৰ্ম্মপীড়নে,
অজ্ঞানপ্রহারে ক্ষুন্ন জ্ঞান-কৃপাণ।
পালালেও ও মা তারা নাহি অব্যাহতি,
তাড়ায়ে মারে গাে মােরে রিপুর সংহতি,
কি কুক্ষণে করেছিনু এ রণেতে আগমন।
কত আর দিবি দুঃখ ও মা দাক্ষায়ণি,
বাঁচা গাে দুর্গমে দুর্গে দুর্গতিনাশিনি,
দিয়া ও চরণ-দুর্গে আমারে শরণ।
আলাহিয়া—আড়াঠেকা
আমায় ফেল্লি তারা বিষম ফেরে।
তুই না সে ফের খুল্লে মা গাে, আমায় ফের দেবে জেরবার করে
আমি মান পেলে সন্তুষ্ট হই মা,
উঠি অপমানে চোখ রাঙা করে,
কবে হবে তেমন দশা গণব মান অপমান সমান দরে।

( ১৬ )
আমি কৃতার্থ হই দূরবর্তী ধনিলােকের সঙ্গে আলাপ করে,
আমার হৃদয়ের ধন তুই মা তারা, দিনেকত সুধাই না তােরে।
আমি ব্যর্থ অর্থলাভের তরে দেশবিদেশে বেড়াই ঘুরে,
কিন্তু অর্থটী যাই লাভ হয় তারা আমার অনর্থ দেয় দফা সেরে।
আমি দিবারাত্রি ভেবে মরি সম্পদ হবে কেমন করে,
কিন্তু যাই সম্পদ আসে ঘরে, অম্নি বিপদ বসে চেপে দোরে ।
আমি শশব্যস্ত সদাই তারা প্রভুশক্তি পাবার তরে,
কিন্তু একগুণে যাই হয় প্রভুত্ব, আমার দশগুণ যায় দাসত্ব বেড়ে।
আমি ব্রাহ্মণ বলে করি দম্ভ, সুতাে ক গাছ, গলায় পরে,
শুধু সুতােয় যদি হয় ব্ৰহ্মত্ব, কলুর বলদ কি দোষ করে।
মুচির মতন ব্যাভার আমার, বেড়াই শুচি বলে জাকটী করে,
শুচিত্ব কি সহজ কথা, সুচিত্ত না থাকলে পরে।
আমি পূজার আড়ম্বরে বসি, কত ছিটে ফোঁটা গায়ে করে,
কিন্তু নয়ন মুদে ভাবতে তােরে, সুদের সুদ কসি অন্তরে।
আমার পাল্কি চড়া যুটলে ভালে, পাছে লােকে হাল্কি বলে,
আমি নেচে কুঁদে দিই মা তারা, বেয়ারাদের কাঁধ দর করে।
মনটা আমার কুকুরের ল্যাজ, ব্যাটা বাগ মানে না একেবারে,
তারে টেনে টুনে করে সােজা যাই ছেড়ে দিই কেঁড়া মারে।
ঘর ছেড়ে অভাগীর ব্যাটা কেবল হেথা সেথা ঘুরে মরে,
তার ইন্দ্রিয়ের ল্যাজ দে মা টেনে,
ব্যাটা শারের গোয়ে পশুগ ঘরে।
আলাহিয়া--একতালা।

( ১৭ )
পূজাবাে তােরে শবাসনা।
আমার হৃদয়-মশানে দাড়া মা ঈশানি, বলি দিব স্ববাসনা।
এলায়ে প্রলয়-জলধর-কেশ,
দাড়া মা উজলি এ হৃদয়-দেশ,
শব হবে পদে মম জীব-ব্যোমকেশ,
শবে না মা শিবে বিবসনা।
আশা-শশিকলা ডুবেছে আমার,
হৃদয় ঘেরেছে নিরাশা-আঁধার,
আজ পূর্ণ অমানিশা, আমার এ দশা
তবে নিতে কি নিষেধ উপাসনা।
রণরঙ্গে তারা নাচতে চাস্ যদি,
যােগ্য স্থল তার যােগাবে এ হৃদি,
আমার রাগ-রক্তবীজে, বধি চতুভুজে,
রঞ্জিত কর মা লােল রসনা।
বিষাদ-ঘনে ঢাকা মানস-আকাশ,
ঝঞ্চানিল তায় শােকবেগগাচ্ছাস,
চল অসির ফলকে ঝলকি চপলা,
হুঙ্কারে কর মা অশনি ঘােষণা।
বেহাগ--একতালা।
-
কি দোষে তারিণি আমায় ভবের কারায় কল্লি প্রেরণ।
দুমাস ছমাস নয় মা তারা আমার এ কারা যে যাবজ্জীবন।
মায়ার শৃঙ্খল পায়ে দিয়ে,
থাকি কামনা-কম্বলে শুয়ে,
বিপ-বেত্রের প্রহার স’য়ে, হয়েছি মা জালাতন।

( ১৮ )
পাকাই আশার দড়ী লম্বা করে, ভ্রম-ঘানিতে মরি ঘুরে,
বিষয়-লােষ্ট্র ব’য়ে শিরে, হয় পদে পদে পদস্থলন।
লােভ নামে জমাদার হেথায়, কতই কাজে আমায় খাটায়,
কি কব গৰ্ব্ব-দারােগায়, ব্যাটা কাজের হিসাব লয় অনুক্ষণ।
করি পাপে মাপ অন্নভােজন, আমার দিনে দিনে বাড়ে ওজন,
কবে গাে তারিণি তবে হবে মা এ কারা মােচন।
সংসার-বিষমজর ঘেরেছে আমায়।
হয়ে আছি একজুরী আমার প্রাণ যায় তৃষ্ণায়।
কামিনী-কাঞ্চন ভােগ, পাইয়া কুপথ্য-যােগ,
প্রবল হয়েছে রােগ করি কি উপায়,
খেচকার বিষম হেঁচকি উপসর্গ তায়,
উঠছে অভিমানের শুনাে কাসি আমার দম্ ফেটে যায়।
পাপে পেট ফুলে দম্, পুণ্যের জোলাপ হচ্চে হজম,
আলাপ বিলাপ বক্‌চি প্রলাপ কতই রকম,
দারাপত্য কুপথ্যেতে তবু মন যায়।
রােষ আর আলস্য,
বেড়েছে মাের পিত্তশ্লেষ্য,
আশার দুর্জয় বায়ু মিলেছে তাহায়,
পড়েছি তারিণি আমি ত্রিদোষের দশায়,
অবসাদের স্বেদ বইছে গায়ে এইবার গলা ঘড়ঘড়ায়।

( ১৯ )
জপযজ্ঞতপত্রিফলা, সেবন কচ্চি দুটী বেলা,
অষ্টাদশ পুরাণ পাচন পানেও নাই হেলা,
কিন্তু বৈরাগ্য-বিষবড়ী বিনা এ জ্বর আমার কে তাড়ায়।
মূলতান--আড়াঠেকা।
নয়ন না চাই ঈশানি আমি অন্ধ থাকতে ভালবাসি ।
অন্ধের আঁধারহৃদে ভাল জ্বলে
তাের কালাে রূপের আলােকরাশি।
সনে জনের দৃষ্টি চারিদিকে ধায়,
সে তােমার প্রকৃত মূর্তি দেখিতে না পায়,
তুমিও দেও না দেখা স্বরূপ প্রকাশি।
দিছি জলাঞ্জলি আমি সাঙ্খ-পাতঞ্জলে,
গৌতমের কূট তর্কে মন নাহি ভােলে,
তার কেউ বলে সাকারা, কেউ বলে তুই নিরাকারা,
আমি ত জানি মা তারা, তুই আমার মা মুক্তকেশী ।
শমিলে তরঙ্গভঙ্গ সিন্ধুতে করিব স্নান,
ভজিব গাে তােরে তারা যুক্তিতে করে প্রমাণ,
আমি সে পথের পথিক নই, হলে জীবনে কুলায় বা কই,
স্বতঃই পূজিতে তােরে আমার প্রাণ প্রয়াসী।
ভৈরবী-ঢিমেতেতালা।

( ২০ )
সেই ব্যাটা ত তাসল পাগল যে মাকে আমার পাল্লী বলে।
পাগলীর কোল উজলে কি রে জ্ঞানব্রহ্ম গণেশছেলে।
মা আমার থাকেন ন্যাংটা,
তাই র’টেছে তার পালী নামটা,
তার ঘােটার ভিতর নাই রে খেষ্টা, শােন্ তত্ত্বকথা দিই রে বলে ।
মা আমার জগজ্জননী,
তাই থাকেন মা উলঙ্গিনী,
কখন বসন পরেন তিনি, যিনি জীব প্রসবেন পলে পলে।
মা আমার লােলরসনা,
তাই হ’ল তার পাগলীনাম ঘােষণা,
লােক কিন্তু তা বুঝে না, মা কি উপদেশ দেন সে ছলে।
জিহ্বারে কেটে দাতে, এই শিক্ষা দেন জগতে,
জিহ্বায় না যন্ত্রণা দিলে, মন্ত্রণা কভু না ফলে।
নাচেন না শিব-শবের বুকে,
তাই পাগলী তঁারে বলে লােকে,
কিন্তু জলদে না চলে তড়িৎ তার লীলা আর কোথায় চলে।
কালের বুকে নাচেন কালী,
স্বভাবের ভাব তাকেই বলি,
যেদিন কালীর বুকে নাচবে রে কাল, প্রলয় হবে সেই সেকালে।
সাগরবুকে নাচে নদী, তাই হেরি রে নিরবধি,
যেদিন নদীর বুকে নাচবে সাগর, ডুব্বে ভূতল অতল জলে।
সিন্ধু ভৈরবী—যৎ।

( ২১ )
বিদ্যাটা তাের গেছে জানা।
শিখলি যত বিদ্যা, সকলি অবিদ্যা,
বিদ্যা মহাবিদ্যার আরাধনা।
জল থাকে বটে খাল ও নালায়,
নদী বলি তবু, কহ নাহি যায়,
নদী বলি তায়, আশ্রয়লে যায়,
সিন্ধু সনে হয় দেখা শুনা ।
তুই সংস্কৃত পড়ে বাধিস্ চাল কলা,
হােস্ অধ্যাপক মাথায় আকফলা,
গলাবাজি করিস্ বিদায় পাবার বেলা,
ভবের চির বিদায় তায় মেলে না।
ন্যায় পড়ে তুই করিস্ রে অন্যায়,
ঘটত্বে পটতে তাের বিদ্যা ফুরায়,
যে মা দেহ-ঘটে জীবত্ব ঘটায়,
তারে ঘটে পটে কভু পূজিলি না।
স্মৃতি-শাস্ত্র পড়ে মাথা গেল ঘুরে,
হলি সকলি বিস্মৃত স্মাৰ্ত্ত নাম ধ'রে,
নিজে অব্যবস্থা ব্যবস্থা দিস্ পরে,
শ্যামা মাকে কভু ত মা বলিলি না।
পড়িয়া চরক হলি চিকিৎসক,
পরকে দিলি কত রেচক পাচক,
নিজের পাতক-রােগ-বিনাশক,
শ্যামাপাদোদক সেবিলি না ।

( ২২ )
নেত্র রােগে তােরে শ্রেষ্ঠবৈদ্য জানি,
সবাই যত্ন করে করে টানাটানি,
নিজের চোখে তাের আছে রে মায়ার ছানি,
জ্ঞান-ছুরিতে সেটা তুলিলি না
খাম্বাজ-একতালা।
আশা-কুহকিনীর বােলে ভুলি রে ও ভােলা মন।
আশার ভাষা বড় খাসা প্রাণতােষ আর নাই তেমন।
আশা দেখয়ে ভাবি সুখের আভাস,
বর্তমান সুখ করে রে নাশ,
সে বানের জল ঢুকিয়ে ঘরে, ঘরের জল করে শােষণ ।
আশা বলে তাের ভাগ্যে আছে রত্নজাল,
আজ না পেলি পাবি রে কাল,
কিন্তু কালের গর্ভ কেবলি খাল, রতন নিশার স্বপন।
যা হয় নাই তাের যৌবনকালে,
আর কি হয় তা বৃদ্ধকালে,
যদি মিষ্ট নাই রে ত্বকের তলে, হবে অষ্টিতে তাম্ন দর্শন।
মন তুই রে ভিক্ষুক ছোঁড়া,
শুনলি ঘরে ঘরে ‘হাত যােড়,
তবু গেলি না রে তুই যেখানে, ভাবিস্ অন্নে পূর্ণ সেই ত ভবন

যেথা ভ্রমের আলােক ঝাপসা জ্বলে,
সেই আশার বাসটা ভেঙে ফেলে,
বােস্ নিরাশা-আকাশের তলে, পাবি মুক্তকেশীর চরণ-তপন।
ঝিঝিট খাম্বাজ—যৎ
তত্ত্বজ্ঞান তোের কবে হবে।
সংসার অনিত্য, তাতেই রইলি মত্ত, নিত্য ধন শ্যামা চিবি কবে।
পাগল হলি তুই করে ভােগ ভােগ,
জানিস না যে ভােগে আছে মহারােগ,
মায়ের পদযুগে কর রে মনোেযােগ, বৃথা যাওয়া আসা ঘুচবে ভবে।
সম্পদ বিপদ মান অপমান,
প্রভুত্ব দাসত্ব পতন উত্থান,
নিন্দা ও গৌরব অভাব বৈভব দেহ ধরি ভবে কে এড়াবে।
উন্নতি হইলে আছে অবনতি,
কে রােধিবে এই স্বভাবের গতি,
দেখ দ্বিপ্রহর পরে. নভের উপরে, নিম্নে ঢলে রবি ম্লানভাবে।
বৃথা এ ভবের দুঃখ সুখ যত,
তাই নিয়ে মন রােস্ না বিব্রত,
ফেলিয়ে কাঞ্চন, ওরে অবােধ মন, শূন্যাঞ্চলে গ্রন্থি কেন দিবে।
খাম্বাজ-একতালা।

( ২৪ )
এমন-মানব-দেহ সােণার-রাজ্যে মন বেটা রাজা।
বেটা রাজার মত কাজ করে না,
কেবল পাঁচ ইয়ার নিয়ে করে মজা !
গায়ে নাইক বলের লেশ,
বসে আশার বালিস দিয়া ঠেস,
ছারেখারে দিলে দেশ ফুকে ফুকে বিষয়-গাঁজা।
ব্যাটা এসে বুড়াে হল,
স্বভাব তবু না ছাড়িল,
প্রবৃত্তি-নর্তকী আজো তার সভায় নাচে দুয়ে মাজা!
কামনা-কামিনী লয়ে,
থাকে হৃদয়-মন্দিরে শুয়ে,
অভিমান-মদিরা পিয়ে, কেবল টলে হয় না সােজা।
রাগটা ব্যাটার প্রধান সহায়,
সব কাজে তাহারে পাঠায়,
কিন্তু যে কাজেতে সেই ব্যাটা যায়,
উড়ে পরাজয়ের ধ্বজা।
বিবেক নামে মন্ত্রী প্রধান,
ব্যাটা তার কথাতে দেয় নাক কান,
বার বার হয়ে অপমান, ক্রমে মন্ত্রী হলেন টেপাগোজা।
রাজ্যে ব্যাটার ধর্মাধর্ম,
করে জমাদারী কৰ্ম্ম,
থাকে খিড় কি দোরে লুকিয়ে ধৰ্ম্ম,
রাখে আধৰ্ম্মসিং সিংদরজা।

( ২৫ )
খাজনা কভু শােধ যাবে না,
তসিল, করে উসুল বিনা,
কড়া ক্রান্তি ছাড় দেবে না, মানে নাক’ শুকো হাজা।
হিংসাদি ছটা ভস্করে,
ব্যাটার রাজ্যে দিনে চুরি করে,
সে মােহ-আফিমের ঘােরে, দিনে তাদের দেয় না সাজা।
রাজ্যে নাইক’ ইনজারি,
সেথা যম-ডাকাতের জুলুম ভারি,
তারে ভাল লাগে কালের ভেরী, কেবল বলে বাজা বাজা'।
ব্যাটা রাজার মত রাজা হত,
দুর্গা-নামের প্রাচীর দিত,
তবে কি আর আস্ত ডাকাত
থাতো মুক্তিধনে ভাড়ার বােজ।
রাজবিজয়—ঢিমাতেতালা।
ছাড়বােনা ভারিণি যাব শান্তিময় তাের খাস্ তালুকে।
যম-রাজার বড় তাত্যাচার রব না আর তার মুলুকে।
চৌদ্দপাে ভূই দেছে ব্যাটা,
তার আবার মা ঠিকে পাটা,
মিয়াদ না যেতেই লাগায় ল্যাঠা, ছাড় ছাড়, বলে সদাই হাঁকে।
ব্যাটার খাজনা আদায়ের বড়ই কায়দা,
রােজ রােজ দোরে বসায় প্যায়দা,
তারা কথা কইতে দেয় না জ্যায়দা,আও আও ব’লে কেবল ডাকে

( ২৬ )
এই স্বল্প মাত্র জমি করি,
প্রাণপণে দি মালগুজারি,
তবু জরার লাটবন্দী এলে, অম্নি ব্যাটা নিলাম ঠোকে ।
এবার জমি কাড়লে শমন,
তাের কাছে মা কবাে গমন,
দেখবাে ব্ৰহ্মময়ী কেমন, তাের রাজ্যে লােক সুখে থাকে ।
আমার নাই কিছু মা দিতে কর,
ব্রাহ্মণ আমি চাই ব্রহ্মোত্তর,
আমার সভক্তি প্রণতি ধর্ মা এই সেলামি দিলাম তােকে।
আশাভৈরবী—যৎ।
জীবন-প্রদীপ শিবে কত বার আর জ্বলিবে ।
কত বার আর জ্বলিবে মা কত বার আর নিভিবে ।
কৌমার যৌবন জরা, ত্ৰিবৰ্ত্তি জ্বালায়ে তারা,
হইয়া আধারহারা, কতবার আর ফুরাবে ।
হয়ে রােগ-শােক-বাতাহত,
হেলিয়া দুলিয়া কত,
কাল-অনিল-স্রোতে, কত বার ডুবিবে ।
কামাদি পতঙ্গ প্রায়,
ঝাঁপ দিয়া সে শিখায়,
বাসনার তৈলে হায় কত কুবাস দিবে।
বৰ্ত্তি হলে শেষ প্রায়,
মিটিমিটি জ্বলি হায়,
আশার শলাকাঘাত কত বার আর সহিবে।
কি করিলে বল কালি,
ও চরণ-অংশুমালি-
কিরণে এ ক্ষীণালােক একেবারে মিলিবে।
বিভাস—আড়াঠেকা।

কুমার সম্ভব।
নারদ কৃত হিমাদ্রি সঙ্গীত।
বাজরাজেশ্বর গিরিবর তুমি হে ধরায়।
তব সম ভাগ্যবান্ না হেরি কোথায়।
বিশাল শাল তব বাহু প্রকাণ্ড,
উন্নত দেবদারু শাসনদণ্ড,
তােমার দুয়ারে কেশরী জাগে প্রহরীর প্রায়।
শুভ্র বসন তব বিশদ তুষার,
তরল সরিধারা বক্ষের হার,
সুবৰ্ণকিরীট রবি শিরে শােভা পায়।
নাচে তব সভাতলে ময়ূর ময়ুরী,
যােগায় কুরঙ্গ নিজে সুরভি কস্তরী,
চমরী কিঙ্করীভাবে চামর ঢুলায় ।
ঐশ্বর্যের সীমা তব কে করিতে পারে,
বিবিধ রতনরাজি তব কোষাগারে,
তব রাজ্যে নাই রজনী ওষধি প্রভায়।
পবিত্র হইয়া মাখি হরিপদধূলী,
তরঙ্গে দোলায়ে অঙ্গ মৃদু তান তুলি,
তােমার গৌরব গঙ্গা দেশে দেশে গায়।
ভৈরবী-ঝাপতাল।

( ২৮ )
তারকাসুরের বিজয়োৎসবে নাগরিকগণ।
আজু দৈত্যপুরী,
ফুলসাজ পরি,
হাসত ত্রিদশে উপহাস করি।
গজবাজগণ,
মিলিস্তরণ,
ছােড়ত গরজন গগন ভরি।
শ্বেত নীল রকত,
পীত পতাকা কত,
উড়ত পতপত নভ আবরি।
মৃদঙ্গ করতল,
তাল তরল কৃত,
খেলত সঙ্গত-স্বর-লহর।
উজল বরণ,
কত কাঞ্চন-তােরণ,
রাজিত আজু নগরী।
জনু দৈত্যকুলেশ্বরী, শােভত সুন্দরী,
হেমহার হিয়ামাঝ ধরি।
খাম্বাজ-ঠুংরি ।
তারকাসুরের বিজয়ােৎসবে নৰ্ত্তকাগণ
আমরা সবাই লো সই সাধের শতদল, স্বভাব কোমল।
ভুল করে কূল ছেড়ে দিয়ে, জলে খুজি থল।
জীবন-তরঙ্গে দুলে,
কাল কি হবে যাই লাে ভুলে,
সােহাগ পেলে অন্ন ঢেলে দিই পরিমল।
মােদের মধুলােভে অলি জুটে, অনিল সৌরভ লুটে,
রবির পরশে ফুটে, করি ঢল ঢল।

( ২৯ )
অধরে ধরে না হাসি,
যারে তারে ভালবাসি,
প্রেম-সরসীর জলে ভাসি, পিয়াসে পাগল।
আদর-রৌদ্রের আশে,
চেয়ে চেয়ে আকাশে,
অনাদর-শিশিরে শেষে শুখাই লাে কেবল।
পরজ বাহার-আড়খেমটা ।
নারদের ভবিষ্যদ্বাণী ।
গিরি তােমার এ নন্দিনী।
নন্ সামান্যা কন্যা, ত্রিভুবনধা, তারিণী ত্রিতাপ-হারিণী।
অমল-কমল যুগ পদতল,
নিখিল মঙ্গল মুনির সম্বল,
হ’ল হে সফল, (আমার) নয়ন যুগল, হেরে মায়ের পা দুখানি।
পাতিব্ৰত্য ধৰ্ম্ম করিতে প্রচার,
ভবে আবির্ভাব এ ভব-দারার,
হর-পতি সঙ্গে, মিলন প্রসঙ্গে, জনক বলেন তােমায় জননী।
সুপাত্র তঁাহার নিজে ত্রিলােচন,
করাে না হে মায়ে অপাত্রে তর্পণ,
মন্ত্রপূত ঘৃত অনল উচিত, ভবের উচিত ভবানী।
খাম্বাজ-একতালা।
বালিকা উনাব লীলা সঙ্গীত।
খেলবি যদি আমার সাথে আয় লাে সব সখী মেলি।
খেলায় আমার নাইক হেলা আমি একাই কত খেলা খেলি।

তােরা একটু খেলেই যাস্ ঘুমুতে,
আমি খেলি দিনে রেতে,
সময় পাইনা চুল বাঁধিতে, এলােচুলে সদাই খেলি।
দলে দলে করবি খেলা,
দেখবে আমি সবার খেলা,
শেষ না হতে আমার খেলা তাের যাবি চ'লে বেলাবেলি ।
খেলাঘর যা যাবি ছেড়ে,
নূতন করে রাখব গড়ে,
আবার এসে ধাঁধায় পড়ে, অবাক্ হয়ে চাইবি খালি।
খট্ ভৈরবী-যৎ।
উমা সম্বন্ধে হিমালয়ের মন্তব্য।
রাণি, কি বলিব তােম।
মােদের এ উমা, রূপে কনক প্রতিমা,
মায়ের গুণেরাে নাহিক সীমা।
নারদ আমারে বলেন সম্প্রতি,
দাক্ষায়ণী সতী মােদের পার্বতী,
ত্রিজগৎপতি হর তার পতি, কে কুমারী উমা সমা।
সাবিত্রী যেমন সবিতার করে,
তুলসী যেমন শালগ্রাম-শিরে,
তেমতি উমারে দিতে হবে হরে, উমা হরমনােরমা।
সিন্ধু-একতালা।

শিব সমীপে শক্তি প্রেরণ।
গৌরি ! পূজ কৃত্তিবাসে।
এদেশে মােদের, আসিয়া মহেশ, বসেছেন যােগাবেশে।
গঙ্গানীর সেথা বহিয়া তরঙ্গে,
সিঞ্চিত করিছে দেবদারু অঙ্গে,
কিন্নর সকলে, গায় কুতূহলে,
সমীরে বস্তৃরী-সুবাস ভাসে।
চৌদিকে দীপ্ত করি হুতাশন,
মধ্যে বামদেব তপে নিমগন,
জগতের পিতা তপ-ফল-দাতা,
জানি না মা তপেন কি ফল আশে।
খাম্বাজ-একতাল।
ক
পাৰ্বতীর শিবপূজার আয়ােজন।
চল গাে সজনি,দুজনে মিলিয়া, সেবিব প্রাণেশ মহেশে,
প্রাণের পিপাসা মিটিল গো আজি, প্রিয় সে পিতার আদেশে।
গঙ্গা-সলিলে ভরিয়ে কলস, ধুইব তপের বেদিকা-
কুসুম-সুবাসে তুষিব গিরিশে, গাঁথিয়া কুসুম-মালিকা,
হােম-কাষ্ঠ কুশ করি আয়ােজন, রাখিব দুজনে মিলিয়া,
রুদ্রাক্ষের মালা চাহিলে কপালী—দিব গাে সে করে তুলিয়া
যখন তাহার যেই প্রয়ােজন, যােগাব দুজনে যতনে,
শ্রম-বিনােদন হবে গাে মােদের, হর-শির-শশধর কিরণে।
কীর্তনের সুর।

( ৩২ )
ইন্দ্রের সভায় প্রবেশের সময় মদনের গান।
ফুল-ধনুতে গুণ দে’ আমি বেড়াই ঘুরে ঘরে ঘরে,
আমার বাণে লােক মরে না, কিন্তু) জ্ঞানহারা হয় প্রেমের জ্বরে
নর নারী আছে যত, সবাই হয় মাের শরাহত,
সংযােগীর নাই শঙ্কা তত, বিযােগী পড়ে ফাপরে।
মানি না আমি ধৰ্ম্মাধৰ্ম্ম, নাই আমার কাছে কৰ্ম্মাকৰ্ম্ম,
তপের বৰ্ম্ম জপের চৰ্ম্ম, ফুটাই বিষম কুসুম-শরে ।
দেখি না আমি কুল শীল মান, আমি উচ্চ নীচ করি সমান,
আমার বাণে রাজ-রাণীর প্রাণ, কাঁদে গাে রাখালের তরে।
অনুরাগ চরে প্রেরি, জীবের ধর্ম-অর্থ দলন করি,
যেমন জলের জোর লহরী, ধাক্কা মারে উভয় তীরে।
শুক্র-গুরুর কাছে পড়ে, যে বসেছে নীতির গড়ে,
তার সে গড় ও ফুল-বাণে ফুড়ে,
তারে দি গাে প্রীতির অধীন করে।
রাগিণী খাম্বাজ-তাল আড়খেমট।
-তপােবনে অকালে বসন্তোদয়ের পর মদনের প্রতি বসন্তের উক্তি।
বয়েছি আজ হরের বনে বড়ই মজার প্রেমের বাজার,
চল সখা দেখবে চল সেথা হয় কি না হয় তােমার পসার।
বিরহীর প্রাণ করে আকুল, গুণ, গুণ, কর্চে ভ্রমরের কুল,
মল্লিকা মালতী বকুল, ফুটেছে ফুল হাজার হাজার।

মেজে গলা আমমুকুলে, কচ্চে কুহু কোকিলকুলে,
মানিনী তায় মানটী ভুলে’, মিলায় সে কুহুতে উহুটী তার।
মৃগ মজে রঙ্গ রসে,
মৃগীর গায়ে শৃঙ্গ ঘসে,
মগীর নয়ন বুজে আসে, সে সুখপরশে তার।
কমলসুগন্ধি বারি, করিণীর গায় দিচ্চে করী,
সােহগে দেখায় কিন্নরী, কিন্নরে তার রূপের বাহার।
উত্তরা-রমণী-কোলে,
অকালে তপন ঢলে,
তাই দুখে দক্ষিণা জ্বলে, ছাড়তেছে শ্বাস মলয় হাওয়ার।
যােগীরাও মাের দমকভরে, চম্‌কেছিল ক্ষণেক তরে,
চম পরে মনের জোরে, জম্‌কে আসন কল্লে আবার।
কুসুমস্তবক-স্তনী,
বিনােদিনী লতা-ধনী,
কোমল শাখা-ভুজখানি, জড়ায় গলায় পাদপ-সখার।
আমমুকুলে রচি তব শর,
দিয়েছি তায় পল্লবের পর,
বসায়ে তায় ভ্রমর-আঁখর, নাম লিখে রেখেছি তােমার ।
রাগিণী খাম্বাজ-তাল আড়গেমটা।
বসন্তে হরতপােবন কিন্নর-সঙ্গীত।
সরস বসন্তে আজি কে বল ধৈর্য ধরে ।
গেল নীরস তাপসচিত প্রীতির পীযূষে ভরে।
ফুটিছে কুসুমকলি,
গুঞ্জরিছে কত অলি,
সােহাগ জাগাবে বলি, প্রেমিক প্রেমিকা তরে।

( ৩৪ )
তুলিয়া পঞ্চমে তান,
কোকিলকুল করে গান,
শুনি আকুল পরাণ, মানিনী মরমে মরে ।
মলয় বহিয়া ধীরে,
দহে বিরহিণী রমণীরে,
সে অধীর নয়ননীরে, মুছিয়া রােধিতে নারে :
তুষার-ঘােমটা খুলে,
চায় প্রকৃতি-সতী মুখ তুলে,
তা’ দেখি লতিকাকুল, ফুলহাস চাপিতে নারে ।
(চারু অাখি নত ক'রে কি ভাব তাপসবর) সুর
বসন্তোদয়ে চঞ্চল ভূতগণের গান।
মা আমাদের গেছে মারা, ভেক্‌ নিয়েছে বাবা ভেড়ে,
ব্লাড়া গাছের তলায় পড়ে, আমাদের কপাল যে পােড়ে।
মার হৃদয় ছিল দয়ায় ভরা,
বাবার নয়ত তেমন ধারা,
আপনার ভাবে আপনিহারা, (বাবা) মােদের ভাবনা দেছে ছেড়ে
মােদের যৌবনের ফুল উঠল ফুটে,
বাবার দৃষ্টি নাইক’ মােটে,
আকা কি যায় টাটকা মধু, ছিটকে পড়ে পাপড়ি ছিড়ে।
মা আমাদের থাকলে বেঁচে,
কত পেত্নী-পত্নী আস্ত যেচে,
প্রাণ-তরীর পাল নায়ে নীচে, প্রেমের ঘাটে যেতাম ভিড়ে।

( ৩৫ )
?
ছ্যাপ্লামিটা যেতাম ভুলে,
খুজতাম না আর সাঁজ সকালে,
কোন্ কুলের বৌ এলােচুলে, কাপড় কাচে পুকুরপাড়ে।
খটু-ভৈরবী-যুৎ
সমাধি-শান্তিরক্ষা।
চঞ্চল প্রমথকুল ছাড় কোলাহল রে ।
ধ্যানাচল মহাকালি কালানল-ভাল রে।
গুঞ্জে না যেন রে ভৃঙ্গ,
কূজে না যেন বিহঙ্গ,
নাহি ভুঞ্জে ধ্যানভঙ্গ গঙ্গা-জটাজাল রে ।
বার রে পত্ৰমৰ্ম্মর,
বার কুরঙ্গসঞ্চার,
ব্ৰহ্মালােক-পুলক-ধীর ব্রহ্মনিখিলপাল রে ।
ময়ুরনৰ্ত্তনরঙ্গ,
রােধ তটিনীতরঙ্গ,
বিটপঅঙ্গে না করে সঙ্গ অনিলতরলতাল রে।
ভৈরবী—কাওয়ালী।
সমাহিত শঙ্কর।
ও কি ভৈরব রূপ, রূপ হেরে ভয় হয় মনে।
কালের কাল ঐ মহাকাল, ব'সে বিকট বেশে বীরাসনে।
অজিনে আবৃত অঙ্গ,
দৃষ্টিতে নাহি ভঙ্গ,
নীল গলদেশরঙ্গ, কুটিল-কালকূটপানে।

( ৩৬ )
অর্ধইন্দু ভালে উদয়,
জটাজালে ভুজঙ্গচয়,
স্তিমিতােগ্র তারায়, বিরাজিত ত্রিনয়নে।
নিস্তরঙ্গ যেমন সাগর,
ঝটিকাগ্রে ঘনাড়ম্বর,
স্থিরতায় ভয়ঙ্কর, রােধি প্রাণায়ামে প্রাণে।
বাগেশ্রী— আড়াঠেকা।
শরসন্ধানে অকৃতকাৰ্য মদনের প্রতি রতি।
চল ফিরে মাথার কিরে পার্ধেনা প্রাণধন।
শিবের সমাধিভঙ্গ অসাধ্য সাধন।
তুমি সুরাসুরজয়ী বটে,
সবে হার মানে তােমার নিকটে,
কিন্তু না জানি আজ ললাটে, কি ঘটায় পঞ্চানন।
তরু গুল্ম লতা ধূলী,
পবনে উড়ে হে বলি,
টলে কি তায় মহাবলী হিমাদ্রি কখন।
লক্ষ্য করি শর তায়,
হয়েছিলে মৃতপ্রায়,
খসিয়া পড়িল ধরায়, কর হ’তে শরাসন।
ভৈরবী-আড়াঠেকা

( ৩৭ )
ঐ
উমাকে আসিতে দেখিয়া আশ্বস্ত মদন।
আর নই রে অবশ হয় যে সাহস, কঁপে না প্রাণ ঘাের তরাসে।
আচে উমা মনােরমা, সেজে ফুলের সাজে হেসে হেসে।
তপােবন করেছে আলা, গিরিবালা বিনােদ বেশে,
গলায় দোলে অশােকমালা, বকুলমালা চঁাচর কেশে।
আবার দ্বিগুণ জোরে কুসুমশরে, বিধবাে রে ঐ হর যােগেশে,
চটেম’টে উঠলে জ’টে, জড়িয়ে যাবে রূপের ফাসে।
সাপটা টানে ভাঙলে এ চাপ, উমার হৃচাপে কাজ চলবে শেষে,
ছিড়লে ছিলে অপর ছিলে, মিলবে উমার জঘনদেশে।
খাম্বাজ-কাশ্মিরীখেমটা।
মদন-দহনােত হরের প্রতি দেবগণ।
সম্বর স্মৃরহর-রােষ।
শিব আশুতােষ মহেশ্বর।
ভব ভক্তাধীন শূলপাণি ভূত-ভাবন ভবেশ।
ভুজগ-ভূষণ রজততনুধর ভীম বৃষভ-বাহন,
জীবে কৃপা কর কৃপাসিন্ধো,
সতীউমাপতি যতীশ।
ভাল-লােচন তব ত্রিলােচন কাল অনল ঢালিছে
ভূমি জলধিজল ব্যোম রসাতল তীব্র তাপন পিছে
কার সাধ্য চন্দ্রশেখর বহ্নি-বেদন বারিবে
অকাল-প্রলয় না কর শঙ্কর গরলগঙ্গাধর সুরেশ।
হাম্বির-তেওরা।

( ৩৮ )
মদনদহনের পর বসন্তের প্রতি রতির উক্তি।
সাজিয়ে দাও আমারে চিতা, আর আমি প্রাণ রাখবাে না।
বৈধব্য নারীর ঘাের ব্যথা, কোন ব্যথা আর তার তুলনা।
সবাই আপন সুখে সুখী,
কেহ নয় তার দুখে দুখী,
সে আপনার মুখ আপনি দেখে,
তার মলিন মুখ কেউ দেখে না।
বিধবার জীবন উষর,
নিরাশ-মরু ধূসর,
৬
সংসারে তার নাই দোসর, সুসার তার কেউ ভাবে না।
হারায়ে জীবনধনে,
পুড়বাে কত মৰ্মাগুনে,
তাই বলি চিতার আগুনে, এ তনু আহুতি দি না।
চাই বটে পুড়তে আগুনে,
সন্দেহ হতেছে মনে,
অসার বিধবার তনু আগুনে পুড়িবে কি না।
বেহাগ-আড়াঠেকা
এ
মরণােদ্যতা রতির প্রতি দৈববাণী ।
ম’রােনা ম’রােনা রতি তােমার কাম ম'রে অমর হয়েছে,
পরের জন্য দেয় যে জীবন তার কি আবার মরণ আছে।
গ্রহগণ যার আজ্ঞায়,
শূন্যেতে ঘুরিয়া বেড়ায়,
মদন তােমার তার ইচ্ছায়, তঁারি দেহে লুকায়েছে।

( ৩৯ )
তার ইচ্ছা হইবে যখন, আবার দেহ পাবে মদন,
করােনা করােনা রােদন, তােমার বেদনার যে সীমা আছে।
মিলন-বরষা-কালে,
তােমার প্রেম-নদী উঠবে উথলে,
বিরহ-তপনানলে, এখন যদি শুখায়েছে।
খ-ভৈরবী-মৎ।
রূপের অসারতা।
রূপে কিরূপে ভােলাব হরে।
বিশ্বরূপের কাছে লাে সই আমার সামান্য রূপ কি করে।
জলধি কি ভুলে কূপে,
অচল ধূলীর স্তপে,
তপন কি ভুলে দীপে, প্রভঞ্জন ফুৎকারে।
বাসনাকলুষান্তরে,
ধুয়ে ভক্তি-গঙ্গানীরে
প্রেম-স্বর্ণাসন পাতলে পরে, তবেই হর বতে পারে।
মন্ত্র যদি হয় নিবৃত্তি, বলি যদি হয় প্রবৃত্তি,
দক্ষিণা হয় অহংবৃত্তি, ভবেই পাই সে বিশ্বেশ্বরে।
আসাবরী-~-মধ্যমান
ব্রহ্মচারী হরের ব্রহ্মগীতি ।
জয় জ্যোতির্ময় সত্যসনাতন পূর্ণব্রহ্ম অবিনাশী ।
তােমারি আলােকে পাইছে আলােক ভূলােক-লােকবাসী
বিশাল বিশ্বের তুমি হে ভূপ,
তুমি হে প্রাণ তুমি হে রূপ,
তুমিই আপন তােমার স্বরূপ, চিন্ময় স্বপ্ৰকাশী।

{ ৪০ )
তাপস-মানসআকাশ মাঝারে,
তুমি হে তপন তামসনাশী,
বেদ-অবিদিত তােমার মহিমা, জ্ঞান-গরিমাগ্রাসী।
ভৈরব—পটতাল
তপস্বিনী উমার প্রতি ব্রহ্মচারী হরের উক্তি।
কমলকলিকা জিনিয়া বালিকা কেন গাে হইলে সন্ন্যাসিনী ।
কি জ্বালা তােমারে কে দিল গাে বালা,
বলনা বলনা বলনা শুনি।
নবীন যৌবনে ত্যজি অলঙ্কার,
সাজেনা বাকল পিন্ধন তােমার,
প্রদোষে সাজে কি ত্যজি তারাহার, অরুণ-কিরণে রজনী-রাণী ।
প্রবল পিতার যতনের ধন,
যাতনা তােমারে দিবে কোন জন,
কার সাধ্য করে কর-প্রসারণ, ফণীর মাথায় ধরিতে মণি।
স্বরগের তরে যদি আকিঞ্চন,
তা হলেও তপ হ’ল অকারণ,
স্বরগ তােমার পিতার ভবন, আবার স্বরগ কোথা না জানি।
মনােমত পতি পেতে যদি মন,
তা হলেও তপে নাহি প্রয়ােজন,
গ্রাহক যে জন খোঁজে সে রতন, রতন গ্রাহকে খোঁজে না ধনি

( ৪১ )
এ কি গাে এ কি গাে এ কথা শ্রবণে,
শ্বাস যে তােমার বহিল সঘনে,
তবে কি সত্যই প্রেম-হুতাশনে, দহে ও কোমল হৃদয়খানি।
খাম্বাজ-একতালা।
তপস্বিনী উমার প্রতি ব্রহ্মচারী হরের শিবনিন্দাসূচক উক্তি।
পাগলা ভােলা জটে।
তারে বিয়ে কল্লে পরে বিনােদিনি
তুমি পড়বে গাে বড় বিভ্রাটে ।
লক্ষ্মীছাড়া সে শূলপাণি, হলে পরে তার ঘরণী,
বুড়াে ষাড়ে চড়তে হবে চাদবদনি,
তােমার প্রাণ যাবে গাে সিদ্ধি ঘুটে।
হতভাগা ভূতের বাপ,
তার গলায় ঝােলে কতই সাপ,
আলিঙ্গনে পাইলে চাপ, এ কি রে পাপ,
তারা কামড়াবে
ঐ রাঙা ঠোটে ।
যেথা সেথাবাঘছাল পেতে,
থাকবে বসে হর হাবাতে,
খেটে মরবে দিনে রেতে, তুমি অভাগি,
ভূত নাচায়ে ভবের হাটে।
খাম্বাজ-আড়াঠেকা।

( ৪২ )
ব্রহ্মচারী কর্তৃক শিবনিন্দা।
ছি ছি ছি উমে ছি ছি ছি।
হাড়পেকেটার বস্বে বামে, হয়ে রাজার ঝি।
বুদ্ধি তােমার বড় কাচা,
দেবে খেজুর-চ্যাটায় জরি সাচা,
সােণার খাচায় পূবে পঁাচা, লােকে বল্‌বে কি।
কথাটা বড় শক্ত,
হবে চাষার ভাগ্যে রাজ-তক্ত,
কুঁজোর গলায় গজমুক্ত, ভস্মে গাওয়া ঘি ।
হয় হবে তােমার স্বস্তি,
আতুরে নিয়মাে নাস্তি,
কিন্তু পিতার হবে বড় শাস্তি, অখ্যাতি ঢি ঢি ।
পরজ বাহার—আড়াঠেকা।
পাৰ্বতী কর্তৃক শিবের গুণ বর্ণন।
শিব ব্ৰহ্ম সনাতন নিরঞ্জন নির্বিকার।
জ্ঞানাতীত তার তত্ত্বে উন্মত্তের কি অধিকার।
ধৰ্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ,
চতুৰ্ব্বর্গ-ফল-বৃক্ষ,
বিরূপাক্ষ যার লক্ষ্য, অক্ষয় যে সুখ তার।
শিব শিব শিব নাম,
অনন্ত শান্তির ধাম,
জীব হয় আত্মারাম, ভজি শিব সারাৎসার।

{ ৪৩ )
শিব, ভব, মৃড়, হর,
চন্দ্রচূড়, গঙ্গাধর,
বিশ্বেশ্বর, বিশ্বম্ভর, শম্ভ, ভবকর্ণধার ।
কভু ভূষণে ভাস্বর,
কভু হর দিগম্বর,
কভু বা ভুজঙ্গধর, কে নিৰ্ণিবে রূপ তার।
আলাহিয়া-ঝাঁপতাল
পুনৰ্বার ব্রম চারীর শিবনিন্দার উপক্রমে উমার উক্তি।
আবার যে ঐ ব্রহ্মচারী ঠোট দুটি কঁপায়।
এখনাে কি হয় নি সখি তার শিবনিন্দা সায়।
কোথাকার এ বিলে বামন,
আমার প্রাণেশ্বরে কয় কুবচন,
সে বাক্য বাণের মতন বিঁধে গাে আমায়।
যাই গাে অন্যত্রে আমি রব না হেথায়,
দক্ষযজ্ঞকাণ্ড বুঝি আবার এ ভণ্ড ঘটায়।
ঝিবিট খাম্বাজ-কাওয়ালী ।
মূর্তিমান হর কর্তৃক পাৰ্বতীর গতিরােধ।
কোথা যাবে শৈলসুতে।
তপে কেনা কিঙ্কর,
আমি গাে তােমার হর,
এসেছি ক'রে আদর, তােমায় বরিতে।

( ৪৪ )
বেগভরে চঞ্চল
খসিল বুকের বাকল,
কোথা যাবে বল বল, আমি দিব না যেতে।
তরঙ্গিনী বেগবতী,
রােষেতে হইলে সতি,
আমি অচল মূরতি, এই দাড়ানু পথে।
সাহানা-পঞ্চম সওয়ারী।
শিব বিবাহের ঘটক সপ্তর্ষিগণের হিমালয়ের প্রতি।
ভবের ভাবনা এবে ঘেরেছে শিবে।
যােগভঙ্গে পশুপতি, সমুদিত-পূৰ্ব্বস্মৃতি,
অতি বিষাদিত-মতি সতীঅভাবে ।
তাই তােমার পুরেতে মােরা এসেছি সবে,
তােমার এ উমাধন, শিবের সতীরতন,
কর তাই হে সমর্পণ, ভবানী ভবে।
নিশ্চেষ্ট ছিলেন হর,
হ’ল অমরে অনিষ্ট ঘাের,
পশিল স্বরগপুরে দুষ্ট দানবে ;
হলে প্রকৃতিস্থ পরমেষ্ঠী,
স্থাপিত হইবে সৃষ্টি, পুনঃ স্বভাবে।
ঝি ঝিটকাওয়ালী
দূরে যাবে দেবরিষ্টি,
শিব বিবাহে বরযাত্রী ভূতগণের গান।
বাবার বিয়ে দিয়ে আবার চল রে মায়ে নিয়ে আসি।
মােদের একাদশী যাবে ছেড়ে পাক্কা দিলে সে সােড়শী

( ৪৫ )
বাবা ব্যাটা দৃষ্টিকৃপণ,
উদর ভ’রে দেয় না ভােজন,
করে রােদন বল্লে বেদন, ব্যথা পাবেন সে ভবেশী ।
বাবা ব্যাটা সদা বিরক্ত,
মােদের ভােজন দিতে হয় ত্যক্ত,
ব্যাটার শক্ত মুটো হবে মুক্ত, মুখ ঘুরুলে মুক্তকেশী।
ঝি ঝিট খাম্বাজ-আড়খেমটা।
রূপে অলঙ্কারের মলিনত!
কি দিয়ে সাজাব উমায়।
আনিনু যতনে যত আভরণ, হয় যে নিষ্প্রভ উমার প্রভায়।
কণ্ঠে দিতে তাঁর সুবর্ণের হার,
সুবর্ণের হয় বিবর্ণতা সার,
অঙ্গারবিকার সাধ্য কি হীরার, উমার সুষমা তিলেক বাড়ায়।
শুক্তিকাপ্রসূত মৌক্তিক সকলে,
ডুবিয়া রহিল সে লাবণ্যজলে,
মণির কিরণ হ’ল না ফুরণ, তারাহার যেন উষার গলায়।
স্বভাবসুন্দরী উমা মনােহরা,
কাজ কি রে তার বেশভূষা করা,
বাঞ্ছি সুমঙ্গল, রঞ্জিব কেবল, অঞ্জনে খঞ্জন-নয়নতারায়।
রামকেলী—ঢিমেতেতালা

( ৪৬ )
১)
উমার বিবাহে নরসুন্দর-বধূর গান ।
সাধের আতা পরবে কে গাে এস চাদমুখি।
অবশ পতি হবে গাে বশ ঠিক যেন পােষা পাখী।
চাম্ তুলে ঝামা ঘসে,
পা রাঙালে অতা রসে,
পতি এসে হেসে হেসে, ববে পা দেখি কি মুখ দেখি।
রাঙা আল্তা দেখলে পায়ে,
বৃদ্ধপতি খুসী হয়ে,
বল্‌বে ও পদপল্লব প্রিয়ে, দেও তুলে মাথায় রাখি।
খাম্বাজ-আড়খেমটা ।
।
পরিণীত হরগৌরীর প্রতি ব্রহ্মার আশীৰ্বাদ।
সৰ্বমঙ্গল-মঙ্গল্যে শিবে সৰ্বার্থ-সাধিনি।
অশত্রু কর মা সুরে হয়ে সুপুত্র-জননী।
হর-হৃদয়বারিধি,
প্রেম-পবিত্ৰনদী,
হয়ে বহ নিরবধি, ও গিরীন্দ্ৰনন্দিনি।
নিরুপমা তব সুষমা,
ওগাে উমে মনােরমা,
সুষমার সুষমা তুমি ভুবনমােহিনি।
সে পুণ্য সুষমাগুণে,
বাঁধ মা দৃঢ় বন্ধনে,
প্রাণপতি পঞ্চাননে, পঞ্চভূতপ্রসবিনি।
আশুতােষ তব হিয়া,
তুষিতে আশীষ দিয়া,
বাচস্পতি হয়ে আমি, না পাই খুজিয়া বাণী।
শুক্লবেল লী—সুর ফাঁকতাল।

মানভঞ্জন।
বাঞ্ছা যদি আছে তরিতে দুস্তর ভবের সাগরে ।
ভজ গােবিন্দ পদারবিন্দ সতত হৃদয়কন্দরে।
তাঁহার করুণা-বরুণালয়ে, যে জন আছে মগন হয়ে,
মরণে সে জন ভরে না কখন, শমনে শাসন সে করে।
দিয়াছেন যিনি ইন্দ্ৰত্ব ইন্দ্রে, ঘােষে যার নাম জীমূতমন্দ্রে,
সেই কমলা-নয়নচকোর-চন্দ্রে, থেক’ না থেক না বিস্মরে।
পাশরি বিষয়বাসনা সব,
সতত বদনে কর রে রব,
রাম রাঘব কৃষ্ণ কেশব, কংসারে হরে মুরারে।
ললিত—দ্রুত ত্রিতালী।
অখিল-ভবভয়-ভঞ্জন, জনরঞ্জন, নিরঞ্জন,
হরি ভক্তাধীন বনমালী কালিয়-বিষধর-গঞ্জন।
স্নিগ্ধ-মধুর-জলদসুন্দর, নীলনলিন-লােচন
অজ্ঞান-অন্ধতা ঘুচাও আমার, দিয়া হে জ্ঞানের অঞ্জন।
ভুবনসৃজনে হও হে আপনি বিরিঞ্চি পদ্মযােনি,
সংসারপালনে তুমি নারায়ণ সংহারে শূলপাণি,
শ্রীপদ হইতে বঞ্চিত আমারে, করাে না হে হরি কখন,
মানসে আমার সদা কর বাস মুনিজনমনােরঞ্জন।
ভৈরব-তেওরা।

( ৪৮ )
প্রেম অতুলিতধন, নিগূঢ় রতন।
প্রেমের পরশে পূত এ তিন ভুবন।
রাধা বিনােদিনীর প্রেম, নিকষে কষিত হেম,
প্রেমভিখারি ধরেন হরি রাধার চরণ।
যার পদে উদ্ভত গঙ্গা,
কলির কলুযভঙ্গা,
প্রমদার পদানত সে হরি এখন।
নারীর পায়ে ধরা তার কেবলমাত্র ছল,
দেখান সে ছলে শুধু প্রেমের কত বল,
চলেছে যে বিশ্ব যন্ত্র,
প্রেম তাহে মূলমন্ত্র,
প্রেমতন্ত্র বিনা তাহা কে করে বন্ধন।
দেখ আকাশে বাতাসে কত প্রেমআলিঙ্গন,
মৃত্তিকায় করে জল জলের চুম্বন,
অনিলে সলিলকণা,
অনল অনিল বিনা
জ্বলে না, বহেনা বায়ু বিনা হুতাশন,
প্রেমে দ্রব হয় শিলা
প্রেমে প্রসন্নসলিলা
জাহ্নবী সাগর সঙ্গে মিশিছে কেমন।
যােগীর হৃদয়ে প্রেম প্রণব-ঝঙ্কার,
মাধব-মুরলী-ধ্বনি হৃদে গােপিকার,
জীবে জ্ঞান, আনুরক্তি, জড়ে সহযােগ-আসক্তি,
বিশ্বতত্ত্বে মূলশক্তি, প্রেমই সনাতন।
বাহার—আড়াঠেকা

( ৪৯ )
ছি ছি লাজে মরে যাই, আমর রাধে কি করিলি।
তাের নবযৌবন-রতনমালা
সেই কাল-পেঁচাটার গলায় দিলি।
গােধন চরায় বনে বনে,
প্রেমের কথা সে কি জানে,
কেমনে তাের সইল প্রাণে, কাণার হাতে মাণিক দিলি ।
কেমন তুই অল্পেয়ে মেয়ে,
বলি লাজের মাথা খেয়ে,
ময়না শালিক উড়িয়ে দিয়ে, সােণার দাড়ে কান্ বলি।
খাম্বাজ-আড়াঠেকা।
সখি, কালাচঁাদ কালাে কি আমার।
সে যদি হয় লাে কালাে, ভাল কি আছে লাে আর ।
সে কালাে কেমন কাল,
কেমনে তা বলি বল,
যে রূপে ভুবন আলল, তুলনা কি দিব তার।
হেরিলে সে কালশশী,
অমিয়া-সাগরে ভাসি,
সে রূপ নয়নে পশি হরে লাে মনের আঁধার।
সিন্ধু ভৈরবীযৎ
৪

( ৫০ )
রাধে, কল্লি লাে সব মাটী ।
চোরে কামারে নাইকো দেখা, সিধূ বনেতে কাটী।
তাের কেবলি কৃষ্ণকথা,
কিন্তু তুই বা কোথা কৃষ্ণ কোথা,
মাথা নাই তার মাথাব্যথা, কেবল কান্নাহাটি।
আকাশে পাতিয়ে ফঁাদ,
ধত্তে চেয়েছিলি উঁদ,
কিন্তু চঁাদ পালাল, লাভটী হ’ল, কলঙ্কট খাঁটি।
ভৈরবী-খেমটা।
সজনি প্রিয়বাদিনি, আমি কি তায় লাজ গণি।
জন্মে জন্মে হই যেন গাে, আমি কৃষ্ণ-কলঙ্কিণী ।
যদি মাের সে নাম রটে, সে তাে মাের সুখের বটে,
পরম সৌভাগ্যে ঘটে তৃষ্ণা কৃষ্ণানুসারিণী।
বিদারি বাসনা-শিলা, যেন প্রসন্নসলিলা,
হৃদে বহে সদা মাের, কৃষ্ণপ্রেম-মন্দাকিনী।
পরাজিকা-আড়াঠেকা।
দূতি, আর সহে না !
দুৰ্বল হৃদয়ে মাের কৃষ্ণবিচ্ছেদ-যাতনা ।
দয়া করি সহচরি, আন মাের প্রাণের হরি,
বিনা সেই বংশীধারী, কি আছে মাের বল না।

( ৫১ )
কুল শীল সব গেল, ধরম করম গেল,
পাঁচে পঞ্চ না মিশিল, কেবল অসার আশার বঞ্চনা।
সিন্ধু ভৈরবী-মধ্যমান
৩
বচ যদি আববা তােমার সে চিকণকালা।
কিন্তু মিলন হইতে ভাল কৃষ্ণবিচ্ছেদ-জ্বালা।
যত দিন না পাবে কৃষ্ণ, মুখে বল্‌বে কৃষ্ণ কৃষ্ণ,
অন্তরে বাহিরে কৃষ্ণ, হবে কৃষ্ণনাম জপমালা।
কৃষ্ণলাভ হলে সখি সব তাে ফুরাল,
(তাই বলি) কৃষ্ণলভ হ'তে কৃষ্ণের নাম জপা ভাল,
(জীব) কৃষ্ণলাভে হয় কৃষ্ণ, কৃষ্ণের যে সুখ জানেন কৃষ্ণ,
নামটি তাঁর বড় মিষ্ট, সুধা- সাগর ঢালা।
পিলু-আড়খেমটা
ভেবােনা ভেবােনা রাধে পাবে মাধবে,
কত আর বঁধু তােমা ভুলিয়া র’বে।
যদি সে শঠশেখর না এল এবে,
সময়ে আসিবে বল কি হবে ভেবে।
স্বভাব মােহনভাব ভুলে কি কবে,
চিরকাল এ ভাব স্বভাবে হবে।
মধুর মধুযামিনী কতবার হবে,
কতবার উদিবে বিধু নীল নভে।

--
( ৫২ )
মাধবি-মুকুলে অলি মধু চুমিবে,
(কত) কাকলি কোকিলকুল ঢালিবে।
মলয়-অনিলে লতা কত দুলিবে,
মধুভরে ঢল ঢল ফুল হাসিবে।
বসন্ত-আঠকা।
এ কি ব্যাভার তােমার হরি, বিচার বােঝা যায় না।
যে তােমায় মন দিয়েছে প্রাণ দিয়েচে, তােমায় কেন পায় না।
শ্রীরাধার সর্বস্ব খেয়ে, অনায়াসে তায় ভুলিয়ে,
অপরের মন রা গিয়ে, পেয়ে মিষ্টিকথার বায়না।
লয়ে ছাঁদনদড়ী পাঁচনবাড়ী, বেড়াও ব্রজের বাড়ী বাড়ী,
দেও তারি দোরে গড়াগড়ী, যে তােমারে চায় না।
অন্তর্যামী এই ভবে, তােমারে বলে হে সবে,
শ্রীরাধার অন্তরে তবে, দৃষ্টি কেন যায় না।
ভৈরবীপপাস্তা।
আমি প্রেমের প্রেমিক, প্রেমের বণিক,
প্রেমি আমার ব্যবসায়।
প্রেম-পশরা মাথায় করে
বেড়াই গাে পাড়ায় পাড়ায়।
প্রেমপণে প্রেম কিনি বেচি,
প্রেমেই মরি প্রেমেই বাঁচি,
আমার প্রেমটী বড়ই সাঁচি,
তাইতে সে প্রেম সবাই চায়।

( ৫৩ )
কিন্তু সকলেই চায় সস্তা খেতে,
উচিত
মূল্য
চায় না দিতে,
রাধার কাছে প্রেম বেচিতে,
আমার, আসল উঠে লাভ দাড়ায়।
পিলু বারোয়া-তুংরি।
কমলিনি গাে ভাল করে রেখ মধু,
আসিবে কাল তােমার অলিবঁধু ।
অলি আসিবে ক্ষুধায়, সুধার আশায়,
দেখে ফিরে নাহি যায়, শুধু শুধু।
আদরে তুষিবে, মধুর ভাষিবে,
সহাস রাখিবে মুখবিধু।
সিন্ধুখাম্বাজ-একতালা।
গাঁথ সখি মনােরঞ্জন মালা।
কুঞ্জে আসিবে আজ সে চিকণকালা।
জাতি যুথী মল্লিকা মালতী চামেলী,
টগর অপরাজিতা বকুল কৃষ্ণকেলি,
আন সহচরি কদম্বমঞ্জরী,
কুমুদিনী যামিনীকুন্তলােলা।

( ৫৪ )
করবী কুরুবক কেতকী কুন্দ,
গন্ধরাজ তরুলতা পারুল অরবিন্দ,
কোমল পাটল তান লো সখিদল,
কমলিনী কামিনী সৌরভশীলা।
শেফালিকা সূর্যমুখী নব কর্ণিকার,
গােলাব রজনীগন্ধা শ্বেত-সিন্ধুবার,
আন নাগেশ্বর, কেশর সুন্দর,
অশােক কিংশুক চম্পক বেলা।
ঝিকিট খাম্বাজ-মধ্যমান।
আয় সজনি সজাগ থাকি।
পেয়েছি আভাস, চোর পীতবাস,
আজ মাের আবাসে আসবে না কি।
অন্য চোর শুধু ধন হরি লয়,
এ যে হরে মন প্রাণ সমুদয়.
দিবা দ্বিপ্রহরে গৃহীর গৃহ হরে,
পথে বসে গৃহী, ঝরে আঁখি।
কুহকের তার অন্ত কেবা পায়,
জাগ্রতে সে মায়ামন্ত্রে ঘুম পাড়ায়,
বিনা ভক্তি-ডােরি চৈতন্য-প্রহরী,
পালাবে সে চোর দিয়ে ফাঁকি।
বেহাগ-একতালা

ধরূববা সেই কালিয়ে চোরে।
অনুরাগের রাগে চোখ রাঙায়ে বাঁধবাে তায় প্রেমের ডােরে।
জ্ঞানের প্রদীপ রাখবাে জ্বেলে মনের মন্দিরে,
নইলে আঁধার কাল, চোরও কাল, মিবে আঁধার আঁধারে ।
সে চুরি করা ব্যবসা ধরেছে,
অনেক বার চুরি করে দাগী হয়েছে,
এইবার ধরা পড়লে পরে, শক্ত সাজা চাই তারে।
তার নাম অন্তর্যামী, দায়রার আসামী,
তার বিচার তল কত্তে হেথা পাব্বো না আমি,
বন্দী করে রেখে নজরে,
সশরীরে কৰ্বো হাজির তােমার হুজুরে,
তুমি বিনা ওজরে, সরাসরি বিচারে,
দেও পুরে তায় যাবজ্জীবন হৃদয়-কারাগারে।
মাঝে মাঝে ওজন কত্তে হবে গাে তারে,
শুয়ে না যায় ভােজন বিনা,
দিও ভজন-ভােজন ঠিক করে ।
সেটা গেঁটেগোঁটা চোর, গায়ে বড় জোর,
বসে খেলে বেগড়াতে পারে,
কৰ্ম্ম কিছু দেওয়া চাই তারে,
যেন মুক্তির সরকারী রাস্তা দুবেলা দুরমুস্ করে।
কলিঙ্গড়া-খেমটা ।

( ৫৬ )
কত আশা করে বাসরে আজ,
বসেছেন রাই বিনােদিনী।
সরসে তপনআশে যেন নিশাশেষে নলিনী।
আসিবেন প্রাণ-গগাবিন্দ, হেরিবেন মুখারবিন্দ,
দূরে যাবে নিরানন্দ, সেই আনন্দে উন্মাদিনী।
সখীরা বিবিধ ফুলে, গাঁথে মালা বৃন্ত খুলে,
কেহ বা চাঁচর চুলে, বিনায় বিনােদ বেণী।
মাখিয়া কুসুমগন্ধ, মলয় বহিছে মন্দ,
ঢালিছে সুধার ছন্দ, পিকবৃন্দ কূজনি।
কলিঙ্গড়াযৎ।
আয় মালা যমুনায় ভাসাই।
যার জন্য যতনে, গাঁথিনু এ মালা,
এখনও তত সখি তার দেখা নাই।
ঐ দেখ না সখি শশী অস্তে গেল,
রজনী পােহাল, তপন উদিল,
কমল ফুটিল, কুমুদ মুদিল,
আর কি আবে কুঞ্জে প্রাণের কানাই।
কে রাখিল ধরি আমার প্রাণের হরি,
উহু মরি মরি, কি করি কি করি,
হেন ইচ্ছা করি, ওগাে সহচরি,
ঝাঁপ দিয়া যমুনায় জীবন জুড়াই।
রামকেলী-কাওয়ালি

( ৫৭ )
লােচনকজ্জ্বল
অঞ্চলে চঞ্চল
মুছে ফেল সব সজনি।
বহুলে উজলভাতি জ্বালায়ে মােমের বাতী
নাশ লাে অাঁধাররজনী।
তমাল তরুর দলে
মমাড়িয়া মমলে
নীলিমা তাহার কর নাশ ।
সােণার সুতার জালে
তরল তড়িৎ ভুলে
ঘের তাহে নীল কেশপাশ।
লােহিত প্রচক্ষু পরি চাবে আকাশের পানে
লােহিত দেখাবে নীলাকাশ।
নীলবাস পরিহরি
উহু মরি হরি হরি
সখী সব পর পীতবাস।
নীল যমুনার জলে
প্রচুর চন্দন গুলে
গঙ্গার তরঙ্গ দেহ তায়।
ত্যজি নীল কুবলয়
পর সহচরীচয়
কোকনদ কোমল মালায়।
চির অভ্যাসের দোষে যে সব বিহগ ঘােষে
কৃষ্ণনাম, তাদের তাড়াও।
শাবকে তাদের ধরি সােণার পিঞ্জরে ভরি
রাধানাম যতনে শিখাও।

( ৫৮ )
পীত পতাকায় সখি সােণার আঁখরে লিখি’
গােকুলে উড়াও রাধানাম,
কৃষ্ণের আছে বড়াই
কৃষ্ণ ছাড়া কিছু নাই
তাজ কৃষ্ণচূড়া কর ব্রজধাম।
ললিত ভৈরব-ঢিমেতে।
রাই রাজা আজ ব্ৰজপুরে।
কৃষ্ণঅত্যাচারে হইয়া কাতরা
কৃষ্ণত্যাগআজ্ঞা প্রচার করে।
বলে, কেউ যেন না পিয়ে যমুনার জল,
কেউ যেন না পরে নয়নে কাজল,
ক্ষীণপরিমল নীল শতদল
আদরে কুন্তলে কেউ না পরে।
নীল বসনে কেউ না ঢাকে অঙ্গ,
কেউ যেন না করে নীলমণির সঙ্গ,
নীলকান্তমণি যেন কোন ধনী
ধরে হৃদয়ে সােহাগভরে।
দ্বিজ শরচ্চন্দ্র কর যােড়ি কয়,
এ আদেশ প্যারি উপযুক্ত নয়,
জীবন্তে বৰ্জন করি কৃষ্ণধন
প্রাণান্তে ত্যজিবে কেমন করে।
কীর্তনের সুর

( ৫৯ )
কেমনে তুই তেজবি ধনি কাল।
তুই যদি বা তেজিস কাল,
তবু তােরে তেজবে না সে কাল।
কাল তাের নয়নের তারা, কাল কেশপাশ,
কাল যমুনার জল, কাল নীলাকাশ,
কুঞ্জের তমাল কাল, কাল তাের চোখের কাজল,
নীলবসন কাল, তােরে আসেপাশে ঘেরেছে লাে কাল।
রজত কিরণে করে জগত আলো,
সে চাঁদও কোলেতে ধরে কলঙ্ক কাল,
কালাের ভয়ে কালামুখি, যদি লো তুই মুদি আঁখি,
তবু তাে না হবি সুখী, তুই নয়ন মুদে সবই দেখবি কাল।
দংশেছে তােরে লাে কৃষ্ণ-কালবিষধর,
সে বিষেতে হয়েছে তাের তনু জরজর,
অসারে করে জল সার, কে তােরে রাই রাখবে আর,
কাঁদাকাটা কেবলি সার, নিশ্চয় তােরে কৰ্বে কোলে কাল ।
সিন্ধু ভৈরবী-মধ্যমান।
তােরে কালিয়ে-কালসাপে।
একলা পেয়ে ঘা’ করেছে,
কৰ্ব্বে কি আর রােজার বাপে।
সে বড় বিষম ফণী, তাের মানসে দংশেছে ধনি.
বাঁধন কোথায় চাঁদবদনি, দিবি লল তুই,
মরবি জ্বলে বিষের তাপে।

( ৬০
এম্নি কোন রােজা থাকে,
মন্ত্রে সাপকে আনে ডেকে,
কাটা ঘায়ে লাগয়ে আবার,
বিষ তুলে দেয় চুপেচুপে।
কলিঙ্গড়া—আড়খেমটা
ব্ৰজে আজি ঘাের সঙ্কট ঘটেছে।
কাল বরণে বড় রাধারাণী চটেছে।
কাল যমুনাজল, কজ্জ্বল কাল,
কাল তমালদল, কাল নিচোল,
কোকিলদল কাল, কাল ময়ুরকুল,
এ সকলে কমলিনী একে একে তেজেচে।
কৃষ্ণ, তােমার কি আশা তবে তুমিও তাে কাল,
কিশােরীর ভালবাসা কিসে পাবে বল,
বৃথা আর হেথা থাকা, উচিত হে পথ দেখা,
নূতন আইনে রাধা কালর দফা সেরেচে।
কৃষ্ণুতনু তেজে যবে হবে হে গৌরাঙ্গ,
রাধার দরবারে তব উঠিবে প্রসঙ্গ,
বর্তমান ভগবান হবে না অন্য বিধান,
গােকুলে কালাের দাবী এককালে উঠেছে।
করেন এ বিধি নিজে বিননাদিনী রাই,
ইহার আপিল কৃষ্ণ কোথাও তােত নাই,
তােমার হইয়ে দুকথা কইয়ে,
কালাে সে কোকিল উকিল কিল খেয়ে মরেচে।

}
“আজো সে দারুণ ব্যথা ভােলেনি কোকিল,
আজো অরুণ আঁখি ঝরিয়া সলিল,
কেঁদে কেঁদে মরে উহু উহু করে,
বলে ভ্যালারে কালিয়ে মােরে ওকালতি দিয়েছে।
ঝিঝিট—মধ্যমান।
চাই যেতে ললিতে যেতে পারি কই,
আমায় বেঁধেছে প্রেমের গুণে প্রেমময়ী রাধা ওই।
রাধা নারীর শিরােমণি, রাধার প্রেম পরশমণি,
রাধা মাের নয়নের মণি, আমি জানি না শ্রীরাধা বই।
রাধা মাের তনুর আধা, রাধা-নামে বাঁশী সাধা,
বাঁশী বলে কেবল রাধা রাধা, বাজে না সে নাম বই।
ঝিঝিটকাওয়ালি।
রাধা সনে দূতি মােরে মিলাও সত্বর।
রাধার বিরহে আমি হয়েচি কাতর।
রাধা জগন্মাতা, আমি জগৎপিতা,
রাধা তড়িল্লতা, আমি জলধর।
রাধা বিনােদিনী আমার সঙ্গিনী,
রাধা তরঙ্গিনী, আমি গাে সাগর।
রাধা রমণীমণি, আমার প্রণয়িনী,
রাধা সরােজিনী, আমি দিবাকর।
সরফরদাঢিমাতোেলা

( ৬২ )
শ্রীরাধার আজ প্রেম-সাগরে।
ওহে ভগবান নাহি পরিত্রাণ, তুলেছে তুফান মান-সমীরে।
বিকট জভঙ্গ সে জলে তরঙ্গ, নয়নঘূর্ণন আবর্তের রঙ্গ,
মুক্ত কেশপাশ জলদ আভাস, অঙ্গুলিতাড়ন তড়িৎ ফুরে।
ভবের সাগরে তব জারিজুরি, সে জলে তুমি হে নিপুণ কাণ্ডারি,
আজ এ সাগরে হরি চালাও যদি তরী,
সাবাসি দি মােরা বসি তীরে।
ঝি ঝিট খাম্বাজ-একতালা।
শ্রীরাধার প্রেম-সিন্ধু যদি, উজান বহে মান-বাতাসে।
আমি ভাসাব তায় আশার তরী, রাইগুণগান-গুণের বশে।
ছিড়ে যদি যায় সে গুণ, সে তাে জরাজীর্ণ নয় নূতন,
আমি হাল ছেড়ে দে লাফয়ে পড়ে,
রাধার চরণ-ভেলা ধরুবাে ঠেসে ।
তাতেও যদি মরণ ঘটে, ' তাে মাের সুখের বটে,
রাধার চরণতলে মরণ হলে, আমি সেই চরণে যাব মিশে।
ঝিঝিট—খেমটা।
দিলে কর, হে শ্ৰীধর, করেতে আমার।
কি কৰ্বে আর রবিসুত, আমি তার কর হ’তে পেলেম পার
তুমি যে করে মন্দর ধর, সেই করে মাের ধল্লে কর,
তাই বলি হে বংশীধর, আমার ধরায় জনম হ’ল সার।

( ৬৩ )
রাধার হয়ে সহচরী, আমার এ সৌভাগ্য হ’ল হরি
যতই তাঁর সেবা করি, শোধ, যাবেনা রাধার ধার ।
গৌড়সারঙ্গ—আড়াঠেকা।
তোমার কি শমনের ভয় ওগাে বৃন্দে সহচরি।
শ্ৰীমতীর সঙ্গিনী তুমি, ভাল বাসেন তােমায় প্যারী।
তুমি শ্রীরাধার পক্ষ, তােমার তাে করেতে মােক্ষ,
আমি কেবল উপলক্ষ, মােক্ষদার আজ্ঞাকারী।
বাহার-আড়াঠেকা।
কই গাে প্রিয়তমে শ্রীরাধিকে কই,রসময়ি এস সই।
তােমার লাগিয়ে আমি সারা নিশি জেগে রই।
তােমার তরে হে প্রেয়সি, নিশীথে এ বনে আসি,
তুমি গাে পূর্ণিমানিশি, আমি পূর্ণ চাঁদ,
মৃগ আমি, অাঁখি তব মৃগধরা ফঁাদ,
সে ফঁদ এখনাে কেন পাতিলে না প্রেমময়ি।
বসন্ত বাহার—কাওয়ালি।
বর্জনাজ্ঞা প্রচারের পর বংশীনাদকারী কৃষ্ণের প্রতি শ্রীরাধার দ্বারবান।
তুই বাজা ভাই বাজা বাঁশী আমি কিছু ব’লবােনা।
তােরে কিছু বল্লে পরে আমার চাক্‌রী থাকবে না।

৬৪ )
রাণী হুকুম দিয়েছেন তােরে বাঁধতে বলেছেন,
আবার দেখি তাের(ই) গানে কান পেতে আছেন,
আমরা ভাই বােকা মানুষ শাদাসিদে বুঝি না এ কারখানা।
রাণীর সঙ্গিনীগুলো, তারা সবাই জাঁকালাে,
তুইও তত ভাই কালকোলাে নধর গােলালো,
অন্ধকারে ফুটলে রে ফুল, গন্ধটা তাে লুকোয় না।
আমার বাড়ী পাটনা, রাণীর দেউড়িতে থানা,
চিরকাটা এলা থেকে প্রাণটা বাঁচে না,
কিন্তু কি করি ভাই কপাল যেমন দোলা তাে আর জোটেনা।
খেতে শুতে প্রেমের ঘরে, প্রাণটা গেছে প্রেমে ভরে,
ভাগ নিতে তাই সখিগুলােয় ডাকি আদরে,
কিন্তু ইসারাতে বলে তারা পাটনেয়ে প্রেম নেবে না।
ও ভাই ও কেলেসােণ, তাের বাঁশীটে দে না,
একবার ফুকে দেখি সখিগুলাে মন মিলায় কি না,
শুধু তুলসীদাসী-ভজনে ভাই তাদের ওজন পেলেন না।
তুলসীদাসী-ভজনের চোটে,
কত কয়লার মত কালাে মনের ময়লা যায় ছুটে,
এ গয়লানীদের রূপের গরব সে ভজনে ও ভাঙ্গে না।
তাের ঐ বাঁশীটাই চাই, তুই যদি না দিতে পারি ভাই,
কোন্ বাঁশের বাঁশী ওটা বলে দে না তাই,
আমি সেই বাঁশের ভাই বাজয়ে বাঁশী, প্রেমের পাল্সী ভাসাই না।
কলিঙ্গড়া-খেমটা।

)
ঐ যে বাজায় বাঁশী আবার কুঞ্জে কে
' থেকে থেকে, আয় না দেখে সহচরি কালা বুঝি সে।
বাঁশী রাধা রাধা বলে, কাণে সুধারাশি ঢালে,
প্রেমের অনল সখি প্রাণে দেয় জ্বেলে;
তাড়া সে কেলে ছোঁড়ায়,-না না আন্ ডেকে ;
আর দেখবো না, এইবারটী লাে দেখি চাঁদমুখে।
বাঁশীর গানে হই উতলা, নিশ্চয়ই সে চিকণকালা,
ললিত খাম্বাজে বাঁশী আর বাজাবে কে।
আন্ লাে সহচরি আন্ তারে ডেকে,
না আর কাজ নাই সখি সে কাল মুখ দেখে ।
ভৈরবীবাহার-মধ্যমান।
কেন প্রিয়ে করেছ লো আজ এত অভিমান।
কে তােমারে বিধুমুখি করেছে লাে অপমান।
তােমার এলােথেলো কেশরাশি, মুখেতে পড়েছে খসি,
জলদের কোলে যেন লুকূয়েছে শশী,
হাসির কৌমুদীরাণি না হেরে বাঁচে না প্রাণ।
বসে আছ ধরাতলে, তােমার বুক ভাসে নয়নের জলে,
কাজলরেখা ছড়য়ে গেছে বদনকমলে,
যেন কমল ডুবেছে জলে, রেখে শৈবাল নিশান।
ভৈরবীবাহার.আভাঠে।

রাধার মানভঞ্জন।
ব্রজসি যদি মঞ্জুমুখি কুঞ্জশুচিকাননং
ভবতি মম বিপুলসুখজাতং।
বহতি হৃদয়ং প্রিয়ে তব সুভুজবল্লরী,
হেমময়হারমবদাতং ।
শুভে মঞ্জুভাযে সিঞ্চ ময়ি ভাবঘনধারং।
বিরহতপনাতপাে দহতি মম জীবনং,
বায়তু তাদৃশবিকারং।
সজলজলবাহ ইব তন্বি তব কুন্তলাে-
ধারয়তি তড়িদমলহার।
সুরসসলিলাশয়া মম হৃদয়চাতকো-
যাতি তব শরণমনুবারং?
নয়তি যমুনা সপদি সাব্বি ধবসিন্ধবে,
পশ্য সুখসলিলকুলসারং।
কমপি ময়ি বল্লভে বিতর করুণাপরে,
স্বীয়নবযৌবনমুদারং।
বিকিরতি বিধৌ বিমলকান্তসিতকৌমুদীং,
ভুবনমনুভবতি সুখবারং।
তব মুখবিধু বিনা সুমুখি মম জীবন
কেবলমিহাসুখমসারং।
বহতি মলয়ানিলে মৃদুলসুখশীতলে,
ললিতকলকোকিলসুগানং।

( ৬৭ )
রটতি ধরণীতলে মদনপশাসনং,
কুঞ্জসখি মুঞ্চ ময়ি মানং।
হুমসি মম ভাবিনী ভবভবনসঙ্গিনী,
বিলস হৃদয়ে মম সহাসং।
বিতর পরিরম্ভণং বিতর মুখচুম্বনং,
শময় মম মন্মথহুতাশং।
দেশবাড়ী-অষ্টতাল
আজি গাে বসন্তরাতি, ঢালিছে মধুর
ভাতি,
ধরণীতে পূর্ণ শশধর।
বিবিধ কুসুমকুল,
আনন্দে আকুল,
করে ধনি সবার অন্তর।
গগনে হেরিয়া চাঁদ, তােমার মুখের ছাদ,
তােমা লাগি আইনু হেথায় ;
সম্বর কুন্তল,
চাঁদবদন তােল,
মান এবে সাজে না তােমায়।
কে করেছে অপমান, কেন এত অভিমান,
কহ কহ কহ লাে ত্বরায় ;
আনত মুখ তাের,
হৃদয় দহই মাের,
ধৈর্য ধারণ দায়।
নাহি করি কোন দোষ, কেন অকারণে রােষ,
পীড়ে মােরে এ সুখত্রিযামা ;
তাের রােষানল লয়ে,
চন্দ্র এল সূৰ্য্য হয়ে,
হের দেখ পােড়াইতে আমা।

( ৬৮ )
জানিয়া যদি রাধে, কোন কিছু অপরাধে,
অপরাধী হয়েছি তােমায় ;
রাজরাজেশ্বরি,
গােকুলঈশ্বর,
পায়ে ধরি ক্ষম লাে আমায়।
ছায়ানট—একতলা
ধ ধর ধর তুলে ধক্ আম রাধে করিস্ কি লাে।
তাের পদতলে লুটায় পড়ে জগজ্জীবন চিকণকাল।
যার মানে মানিনী হলি, তারে চরণে ধরালি,
মানে দিয়ে জলাঞ্জলি, ঐ কেলেসােণায় কোলে নে লো ।
সামান্য ধন নম্ তাে হরি, চিনতে তায় পাল্লিনি প্যারি,
ব্ৰহ্মাদি ঐ পদভিখারী, ঐ পদে জাহ্নবী হ’ল।
সিন্ধুভৈরবী -মধ্যমান।
।
রাধে একি অলক্ষণ।
কেমন করে পভির শিরে দিলি লাে চরণ।
যেমন তেমন নন পতি, নিজে গােলকের পতি,
সাজে কি লল। তাঁর প্রতি এত অযতন।
বর পেতে চাঁদবদনি, পূজেছিলি কাত্যায়নী,
সেই মাগী শিখালে কি লাে হেন আচরণ।
খাম্বাজ-কাওয়ালী

২৯ }
দূতি, এ কি বালাই কপট কানাই চরণ ছাড়ে না।
কি পােড়ান্ পুড় য়েচে মােরে তা কি মনে পড়ে না।
আব বলে দিয়ে আশা, অবলার প্রাণনাশা,
এমন যার ভালবাসা, যেন হেথা আসে না।
এখন দেখে আঁটাআঁটি, কঁদিয়া ভিজায় মাটি,
ছল ছল অাঁখি দুটী, যেন কিছু জানে না।
বেহাগ খাম্বাজ-কাওয়ালী
কমলে কমল শোভা পায়।
রাইপদ কোকনদ, কৃষ্ণ নীলােৎপল তায়।
ধরায় পড়িয়া কৃষ্ণ নীলশতদল,
পাশে তার শােভে রাধার রাঙা পদতল,
কমলে কমল দোলে, কমল কমলের কোলে,
কিম্বা যমুনার জলে রক্তোৎপল ভেসে যায়।
কামােদ—কাওয়ালী ।
ক্ষমা দেও রাই দিও না ছাই, আর তােমার ঐ মানের গােড়ায় ।
বিধম বুননা তােমার এ মান ভগবানণায় জ্ঞান হারায়।
তােমার ঐ মানের চোটে, ছটফটয়ে ভূমে ললাটে,
আপনি হরি, এ বিদ কুটে মান কি মানুষে বাড়ায়।
তবে থাকলে মান এক কাজ হবে, হরির জন্যে ভেবে ভেবে,
উদরীতে ভুগবে যবে, মানমণ্ড খাওয়াব তােমায়।
কদার।---একত'।

( ৭ )
নিশা জাগরণে ঢুলু ঢুলু দুটী
অরুণ নয়ন হয় হে মনে।
যেন রাঙিয়াছে অনুরাগে তার,
যাপিলে যামিনী যাহার সনে।
যাও যাও হরি, যাও যাও
মন রাখা কথা আর কয়াে না,
যাও হৃষীকেশ যাও তার পাশে,
তােমার বিষাদ নাশিবে সেই ললনা।
কাজলমাখান চোখেতে চুমিয়া,
তােমার অরুণ তাধর হয়েছে কাল,
শ্যামল শরীরে শ্যামল অধর,
ওহে শ্যামরায় সেজেছে ভাল।
নীলাকাশে যেন নবরবি-ছবি,
সিন্দুরের বিন্দু ধরেছ ভালে,
আমার কপাল ভেঙেচ হে সখা,
মিলায়ে কপাল কার কপালে।
এসাে না এসাে না নিকটে আমার,
থাক হে নাগর দাড়ায়ে দূরে।
কোন্ কুলটার কলুষপরশে,
কলুষিত এলে আমার পুরে।
মালকোষ-একতালা ।

( ৭১ )
কাঁটাভরা কেয়াফুলে ছিলে হে ব্যাকুল।
কোমল কমল ফেলে এত বড় ভুল ।
কেতকীতে নাইক মধু, বলে সেথা শুধু শুধু,
তাই বলিহে অলিবঁধু তুমি বড়ই বাতুল।
তােমার পালক ছিড়েচে, গাটাও ত অাঁচড়েচে,
আর একটু হলে হ'তে সমূলে নিৰ্ম্মল।
সােহিনী বাহার—আড়াঠেকা।
হই তবে গাে বিধুমুখি জন্মের মত হই বিদায়।
এ অধমে প্রিয়তমে যদি গো ঠেলিলে পায়।
যাচ্চি বটে এখান থেকে, উপায় আর নাই দেখে,
প্রাণাধিকে হে রাধিকে, যেতে ত প্রাণ নাহি চায়।
পায়ে ধরে কতই তুষি, তবু নাই ও মুখে হাসি,
আসি তবে ও প্রেয়সি, মিছে ভাসি নিরাশায়।
বারোয়া—আড়াঠেক।।
ঐ যায় গাে তাের কালশশী, নিরাশ হয়ে ওই ।
এখনও যায়নি দূরে, ফিরতে পারে, ডাক্ না তারে সই।
নিয়ে বাঁশী চূড়ো ধড়া, হ’চ্চে কালা কুঞ্জছাড়া,
ধড়ফড়ায় তাের খেয়ে তাড়া যেন ভাজনা খোলায় খই।
পায়ে ধরে সাধলে কত, তবু হ’লাে না তাের মনের মত,
এত কি লাগ’ল তিত, চিনিপাতা দই।

( ৭২ )
মত্ত হয়ে মিছে মানে কষ্ট দিলি কৃষ্ণধনে,
সে কি তাের পাকা ধানে দিয়েছিল মই।
ভৈরবী-আড়াঠেকা।
দাত থাকতে দাতের মর্যাদা জালি নে রাই কপালগুণে ।
হাতে পেয়ে নীলরতনে হারাইলি অযতনে।
এম্নি তাের দুরদৃষ্ট, ঘুচেও ঘােচে না কষ্ট,
তার কি কভু হয় লাে ইষ্ট, কষ্ট দেয় যে কৃষ্ণধনে।
পথে প'ড়ে ধনের ঘড়া, দেতে পায় না লক্ষ্মীছাড়া,
এম্নি তার কপাল পােড়, সে চোস্থ বুজে চলে সেখানে।
ভৈরবী-যৎ।
আর আমি কৰ্বো না গো মান।
এই মিনতি করি, ওগাে সহচরি
এনে দে শ্রীহরি বাঁচা গাে প্রাণ।
প্রেমসিন্ধুনীর করিতে মন্থন, হ’ল অমৃত বদলে বিষ উদ্ভাবন,
সে বিষপ্রভাবে হারায়ে কেশবে, হয়েছি লাে এবে শবের সমান।
হরি যে প্রাণের প্রদীপ আমার, হরি বিনা হেরি সবি অন্ধকার,
ৰচিনে বাঁচিনে সে ধন বিহনে, হৃদয়তনে আডেকে আন্ ।
বৃথা মনে করি আমারই-শ্রীহরি, অদর্শনে তার রােষে জ্বলে মরি,
এখন বুঝেছি বুঝেছি ওগাে সহচরি,
সে যে সকলের হরি নিখিলপ্রাণ।
খাম্বাজ-একতালা।

( ৭৩ )
কেটে দিলি প্রেম-শিকলি, শ্যাম-টিয়ে তাের উড়ে গেল।
প্রাণের দাড়ে হৃৎ-কাটোরায়
ভরিস্ সােহাগ-ডালিম আর কেন লাে।
টিয়ের মন থাকে না দাড়ে, মন থাকে তার বনে পড়ে,
ছাড় পেয়ে সে গেল উড়ে, আর কে তারে ধরে বল।
ময়না সালি পায়ে গেলে, আবার আসে দাড় দেখালে,
বুননা টিয়ে উড়তে পেলে, জন্মের মত বেহাত হ'ল।
কলিঙ্গড়া-য।
রাই বড়ই ত তুই হাবি।
স্বহস্তে ইস্তফা লিখে আবার প্রেমের দাবী।
নাইক’ ঘি তাের কপালে, কি হবে লাে ঠক্ঠকালে,
হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলে, কঁদলে কি আর পাবি।
চাপ্ল সরস্বতী দুষ্ট, কৃষ্ণধনে হলি রুষ্ট,
এখন করে কৃষ্ণ কৃষ্ণ, কেবল খাবি খাবি।
পাহাড়ী-কাওয়ালী ।
রাই মলি আপন দোষে।
রােষের বশে তাড়য়ে নাগর, ভাসিস্ এখন রসে।
তখন রইলি বদন ঢেকে, এখন রােদন থেকে থেকে,
আষাঢ়ে ক্ষেত পতিত রেখে, ভাদরে কে চষে।
করিয়ে বিষম মান, করেছি তার অপমান,
পালয়ে গেছে নিয়ে প্রাণ, সাধলে কি আর আসে।
রামকেলী-ঢিমেতেতালা।

৭৪
কীৰ্ত্তন।
বরষ বহিয়া গেল, বঁধু ত নাহি এল,
বিফল জীবনে কিবা কাজ।
সব সহচরী মেলি, দেহ লাে বিষের ডালি,
ভখিয়া পরাণ ত্যজি আজ।
আমি মরি বঁধু তরে, বঁধুয়া না চায় মােরে,
অনাসে হইল পরবাসী।
তাহার আসার আশে, কত বা বসিয়া বাসে,
দিবানিশি অাঁখিনীরে ভাসি।
শীতে সুদীঘল রাতি, যাপি ললা বিষাদে অতি,
বঁধুহীন সুশীতল শেষে।
একে শয্যা সুশীতল, তাহে পড়ি আঁখিজল,
দ্বিগুণ শীতল হয় ভিজে।
বসন্তে পিকের কুহু শুনি করি উহু উহু,
বঁধু স্মরি কঁদি ঝরঝরে ।
গুঞ্জরণ-সুনিপুণ অলি করি গুণ গুণ,
আমার বরাদন অনুকরে।
নিদাঘে বিরহজ্বালা দেয় মােরে বড় জ্বালা,
জীবনে না জীবন জুড়ায়।
মরমে আগুন জ্বলে,
সে জ্বালা কি যায় জলে,
দ্বিগুণ আগুন বাড়ে তায়।
বরষায় প্রাণসখি, নবীন নীরদে দেখি,
বুঝি মাের বঁধু এল পাশে।

( ৭৫ )
এস এস প্রাণনাথ, বলিয়া বাড়াই হাত,
তড়িৎ-ছলায় মেঘ হাসে।
শরৎ-চঁদিনী-রাতি, সবার সুখের অতি,
সুখ শুধু নাই লাে আমার।
গগনে হেরিয়া চঁাদ, বঁধুর মুখের ছাঁদ,
বঁধু মনে পড়ে অনিবার।
অনন্ত চৌদশী হ’তে, জন্মি হিম বিধিমতে,
জগজনে পীড়য়ে নিতান্ত ।
সবার যদি দুরন্ত, যথা কালে হয় অন্ত,
বঁধু বিনা আমারি অনন্ত।
তাই বলি প্রাণসই, কত আর দুঃখ সই,
বিষ ভখি মরিব ত্বরায়।
দ্বিজ শরচ্চন্দ্র কয়, বিষে হবে বিষক্ষয়,
কৃষ্ণসর্প দংশেছে তােমায়।
ঝিঝিট খাম্বাজ-আড়খেমটা।
৫
রাই তােমার বিরহে মরে, চন্দন না তাপ হরে
সুধাংশুবদনা রাধা, অধীরা সুধাংশুকরে।
কঁদে ধনী অবিরত ধরার উপরে বসি,
চাদের কৌমুদী যেন ভূতলে পড়েছে খসি—
বহি সে মুখকমল, পড়ে অশ্রু অবিরল;
রাহুর দংশনে যেন চাঁদের অমৃত ঝরে।

( ৭৬ )
কপােল পড়েছে ঢলি করতলােপর,
প্রদোষে নিশ্চল যেন শিশু শশধর,
মলয় সমীর বহে, রাধিকার প্রাণ দহে,
যেন অহি-সহবাসে বহে সে বিষের ভারে।
ভুজঙ্গভরমে নাহি পরে ফুলহার,
মুকুরে মলিন মুখ না নিরখে আর,
ভুলে না বিরহ-ব্যথা, মুখে নাই আর অন্য কথা,
কেবল বলে কৃষ্ণ কোথা. হে কৃষ্ণ রাখ আমারে।
ভৈরবী-বাহার - কাওয়ালী।
গুণরত্নচয়ার নাগর হে,
তব সা রমণী বিবশা বিরহে।
অতিসীদতি সা বিপিনে বিকলা,
দিবসে নসীব শশাঙ্ককলা।
বিতনােতি ন সা কুসুমং চিকুরে,
নহি পশ্যতি পাংশুমুখং মুকুরে।
মলয়ানিলমাকলিত প্ৰসরং,
মনুতে মলিনা তনুদাহকরং।
ভুজগভ্রমতে বত হেমময়ং,
তনুতে হৃদয়ে নহি হারচয়ং।

( ৭৭ )
সুখশীতবিলেপরসং মনুতে,
বপুষীব বিষং দয়িতা ননু তে ।
তব নামনি তু শ্রবণং বিততং,
কুরুতে প্রমুদা প্রমদা সততং ।
খাম্বাজ-ঠুংরি ।
p
নিন্দিতচামরকুঞ্চিতকুন্তলচুম্বিতপীননিতম্বং।
ব্রজতি সুচঞ্চলবঞ্জলজালসুমঙ্গলকুঞ্জকদম্বং।
সা বিপিনে বররাম।।
বিষমমনােভবাসনসম্ভবখেদনিবারণকামা।
কিরতি হিরন্ময়কণ্ঠবিমণ্ডনমমলতরলরুচিজালং,
নূপুরশিঞ্জিতম বিমুঞ্চতি মন্দগতৌ মৃদুতালং ।
বররশনাঞ্চিতমণিগণশিঞ্জিতমগতকঙ্কণনাদং,
হরতি সুদূরত এব হরেরতিবিরহজনিতমবসাদং।
রাগরসােঙ্খলদধরবিরাজিতবিশদদশনমণিজালং,
নিন্দতি সুন্দরকুকলাপকমনুগতমরুণপ্রবালং।
সকুসুমকুন্তলসৌরভমােহিতমত্তমধুব্রতপাত,
জনয়তি চঞ্চলমমলদলান্বিতকরগতবরজলজাতং।
চুম্বিতুমিনুমুখী মধুসূদন বদনকমলমতিনীলং।
কুঞ্জগৃহং প্রতি কুঞ্জরবরগতিরিয়মনুযাতিসলীলং।
ঐশবশম্বদশারদশপদভণিতপরমরমণীয়ং,
চরিতমনারতমাচ্যুতমদ্ভুতমিহ হি শৃনুত মহনীয়ং।
রামকেলী -য!

( ৭৮ )
বসেছেন আজ কুঞ্জবনে শ্যামের বামে রাই কিশােরী।
এ শােভা ভবে দুর্লভ দেখ না রে ভাই নয়ন ভরি।
শ্যাম নীলমরকত, কিশােরী কনকপীত,
জলদ শােভিছে যেন চপলারে কোলে করি ।
শ্যাম-ত্রিভঙ্গের সঙ্গে, মেতেছে রাই প্রেম-প্রসঙ্গে,
সাগর-তরঙ্গে যেন মিশে গঙ্গার লহরী ।
দেখে রাধা শ্যামের বামে,
ঘুচয়ে নে ভাই ভবের ভ্রমে,
বদন ভ'রে বল্ না প্রেমে জয় রাধা জয় হরি হরি।
গুজ্জরী-খেমট।।

বিবিধ সঙ্গীত।
পার্থিব বন্ধুতার অসারতা।
সুখের সময় লাভের আশায়, সবাই ভালবাসে রে ভাই।
আশার সে ভালবাসা, অসার তার মুখে ছাই।
কেহ নয় ভাই ব্যথার ব্যথী, সম্পদের সবাই সাথী,
সুখে যায় পূর্ণিমা রাতি, অমায় কারাে দেখা নাই।
বালক চায় বালকের খেলা, যুবক চায় যুবতীর মেলা,
বুদ্ধকালে ভজনমালা, অন্তে দীনবন্ধু চাই।
ভৈরবীযৎ
(মনরে)
(মনরে)
লক্ষ্যভ্রষ্ট।
যা কিনতে এলি ভবের হাটে,
কেমনে তা গেলি ভুলে।
কাঞ্চন-মূলে কাচ কিনিলি,
চল্লি চিন্তামণি ফেলে।
তুই বড় বােকা,
হলি দিনে দিনে কচি খােকা,
তাের দাত পড়িল, চুল পাকিল,
আক্কেল হবে আর কোন কালে।
মহাজন নাই তাের কপালে,
পড়লি রে তুই ফড়ের পাশে,
তারা আসল জিনিস্ পাবে কোথা,
নকল দিয়ে তােয় ঠকালে।

( ৮০ )
কচু কুমড়াে কলা মূলে,
কিনে নিলি কতকগুলাে,
যে ফল ভবে অতুল,
লক্ষ্য নাই সে মােফলে।
সিন্ধু ভৈরবী-যৎ :
কোন নির্লিপ্ত সংসারী বন্ধুর প্রতি।
আমি কেমনে গাহিব গুণ তােমার, হে বন্ধু আমার
যা ভাবতে গেলে ভাব উথলে,
আমি কথা খুজে পাইনে আর।
পার যদি দেও হে বলে, কি পুণ্যকরমফলে,
মলিন মরতে পেলে, নিরমল মন তােমার।
তােমার পর আপন নাইক জ্ঞান,
সবারে আদর সমান,
তুমি গাঁথতে পার পরের তরে,
প্রীতি-পরশমণির হার।
তুমি লাভালাভ না হিসাব করে,
বিলাও ভালবাসা যারে তারে,
যেমন সুবাস ঢালা বিনামূলে,
ফুলের সহজ ব্যবহার।

( ৮১ )
মােদের আঁখি-চকোরের বন্ধু,
মুখটী তােমার পূর্ণইন্দু,
সদাই হাসির জোছনা ঢালে,
নাই রােষ-রাহুগ্রাস-দোষ তার।
তুমি রসিক হয়েও বিষয়সে,
প্রাণ সঁপেছ পরমেশে,
যেমন নীলকণ্ঠের কণ্ঠে গরল,
শিরে সুরধুনীর ধার ।
ভৈরবী- একতাল
উক্ত বন্ধুর পদ-গৌরব উপলক্ষে ।
মৃদঙ্গ মন্দিরা মন্দ নিনাদিত মন্দ প্রবাহিত মলয়-হিল্লোর।
নাচত সাগর গায়ত ভূধর কলিতবিহগকুল-ললিতকল্লোর।
প্রেমানন্দে গিরিকর-মন্দির ছােড়ত নদীগণ গদবাের,
মহােৎসবমত্ত-প্রকৃতি অব, ঝটিতি টুটাঅল সরকাডাের।
নিখিলনিনবহ বহতহি অম্বর গম্ভীর সুন্দর সবহু সুবাের,
বসন্ত-ব্যঞ্জিত গ্রামগমকযুত মূচ্ছনা-মিশ্রিত-ললিত-হিন্দোর।
জয় জনরঞ্জন রাজকিশাের।
তুয়া নব গৌরব-ফুল ফুটল অব ছুটল সৌরভ রভস সজোর।
লভি তুহু নন্দন দিনমণি যৈছন নিশীথিনীনীলচিকুররুচিচোর,
পুলকিত উচ্ছল জাগল উৎকল ভেল বিষাদ-বিভাবরী ভাের।

( ৮২ )
নন্দকিশাের-সূনু নন্দকিশাের জনু কোই নাহি পাওত
তুয়া গুণ ওর,
তুয়া মুখ পেখত হােত ন তিরপিত আঁখহি অনিমিখ
লাখ লাখ ক্রোব।
রাজমুকুট-মণি তুহিন কুসুমপর কবহু ন হােতহি তৈছন উজোর,
শ্রুতপরবেদন ঝরতহি যৈছন মােতিপ্ৰতিম তুয়া লােচনলাের।
কোকিলকূজন মধু বীণাবাদন সঙ্গীতরঙ্গতরঙ্গিতকোর,
তৈছে মধুর তুয়া বাণী জিনি অমিয়া ইহ তাতল সৈকত
মরুমাহ ঘাের।
কমলাবল্লভ-হরিপদপল্লব-সেবন-সম্পদ-মােদবিভাের,
গায়ত তুয়া যশ, অবিরত দশদিশ, ভুবনচতুর্দশ ভরলহি সাের।
ভৈরবী রাগ-কীৰ্ত্তন ছন্দ।
পূৰ্ব গীতের বঙ্গানুবাদ।
মৃদঙ্গ বাজিল রঙ্গে মৃদুল মন্দির সঙ্গে,
মৃদুল বহিল ধীর মলয় পবন।
নাচিল সাগর গাহিল ভূধর বিহগের কলরবে পূরিয়া কানন
ছাড়ি গিরিগুহায় ধাইল তটিনীচয়,
আনন্দে গগদ-শব্দ করি উদগীরণ,
বয়ন্তউৎসবে মাতি প্রকৃতি চিরযুবতী,
সহসা টুটিল নিজ সরমবন্ধন।

( ৮৩ )
আকাশে বাতাসে ভাসে বসন্তের বােল,
গ্রামগমকযুত মূচ্ছনামিশ্রিত ললিত হিন্দোল।
হে রাজকিশাের সখে, পেয়ে সুসময়,
গৌরব-কুসুম নব বিকশিয়া আজি তব,
হাসিয়া সুবাস ঢালি দেয় দেশময়।
নন্দকিশােরের সুত, অনুরূপ-গুণযুত,
সতৃষ্ণনয়নে সবে তােমা পানে চায়,
লভি তােমা সুসন্তান, জ্ঞানালােকে দীপ্তিমান,
উৎকলজননীদুখরজনী পােহায়।
মুকুটে যে মুক্তা ঝলে, হিমবিন্দু ফুলদলে,
যদি ও সুন্দর তারা শােভার আধার,
চারুতায় হারিয়াছে সেই অশ্রুবিন্দু কাছে,
পরদুঃখে দুই চক্ষে ঝরে যা তােমার।
কোকিলের কুহুস্বর, বীণানাদ মনােহর,
উভয়েই বটে অতি শ্রবণরঞ্জন,
(কিন্তু) ঘুচাতে ব্যথিত ব্যথা, তুমি যে বলহে কথা,
সংসার-মরুতে তাহা অমৃতবর্ষণ।
শ্রীহরির শ্রীচরণ সেবা করি অনুক্ষণ,
অতি ধনী হইয়াছ তুমি পুণ্যধনে,
তােমার গৌরব-গীতি গাহি সবে লভে প্রীতি,
ধ্বনিত ধরণী তব কীর্তির কীৰ্ত্তনে।
ভৈরবী—কীৰ্ত্তন।

( ৮৪ )
শক্তিই মুক্তির মূল।
সিদ্ধি হয় মন সাধনগুণে।
সিন্নি খেতে সাধ যদি মন, কোকা দেখে অাকাবি নে।
যেষি কৰ্বি তেমি পাবি, তার বাড়া পাবি কোন্‌খানে,
কৰ্ম্ম অনুযায়ী ফল, এইত বলে বেদ পুরাণে।
অন্ধকূপে বাস করে মন কে হেরে রবির কিরণে,
শ্যালকাটার বীজ ছড়য়ে রে মন মরাই কেটা ভরে ধানে।
এককড়া তুই খরচ করে মােতির ঘড়া চা কেমনে,
এক কড়ায় যে হয় না কচু লিচুতে হাত বাড়াস্ কেনে।
তুই) মুক্তি মুক্তি করে বেড়াস্ মুক্তি কি বিকায় দোকানে,
রাঙ, দিয়ে বা দস্তা দিয়ে সস্তা দরে আবি কিনে।
সকল ধনের সেরা যে ধন মিলে কি তা তুচ্ছ ধনে,
লেঙড়ার মিষ্ট আশা করে আমড়াতে দাত বসা কেনে।
সন্ন্যাসে শায়ে জ্ঞানঅসি প্রবৃত্তি দে বলিদানে,
পাবি মুক্তি সাধলে শক্তি ব’সে বৈরাগ্য-শ্মশানে।
রামপ্রসাদী স্বর
নারদকৃত দুর্গানাম ।
ত্রিতাপহারিণি দুর্গেদে মা আমায় চরণতরী।
ভবের জলে ফেলে দিয়ে কোথায় পালালি শঙ্করি।
এ জলের নাই কূল কিনারা, সাঁতার দিয়ে হ’লাম সারা,
আর পারি না ওমা তারা, আমায় তরা গাে ত্রিলােকেশ্বরি।

( ৮০ )
রিপুর তরঙ্গ হেথায়, দুৰ্ব্বলে চোবানি খাওয়ায়,
তাদের পথ ঢাকা মােহ-কুয়াশায়,
তারা মরে জড়াজড়ি করি।
সাঁতার আমার বিশেষ জানা, কাটয়েছি আশার একটানা,
কিন্তু ভ্ৰম-পাখনায় আর জোর খাটে না,
তাই ডাকি তােরে শুভঙ্করি।
পােত যদি পাই ঐ রাঙা পায়, জ্ঞান দিগদর্শনের উপায়,
ধরতারা তারা তােমায়, তবেই এ জলধি তরি।
বিভাস—আড়াঠেকা
ইহ মধুমাসে
বসতি সকুঞ্জে
অভিসারে যাইবার নিমিত্ত রাধার প্রতি দূতীর প্ররােচনা
বিপিননিবাসে
রচিতসুবেশবিশেষং।
বিশতি বিনােদিনি
রমণশিরােমণি-
রনুগতমদননিদেশং।
অলিকুলগুঞ্জে
সমুদিতনয়নসুরঙ্গং।
মঞ্জুব্ৰজপুরনারী রঞ্জনকারী
তরলিতরাগতরঙ্গং।
কাঞ্চনকিরণে
মন্থরচরণে
বিলসবিসর্জিতমানং।
শাসনগায়ক
কোকিলকুলকলগানং।
শৃণু রতিনায়ক

( ৮৬ )
গগনে তারা বলিতবিকার
পূরয়তি প্রিয়কামং।
ত্বমপি বিশঙ্কং শ্যামশশাঙ্কং
সঞ্চর নাচর বামং।
শশধরবদনে কুন্দবদনে
কুঞ্জবনং ব্রজ তূর্ণং।
পাতয় দয়িতে
দৃশরময়ি তে
কজ্জ্বলগরলবিপূর্ণং।
ঘনচয়রুচিরে
বিরচয় চিকুরে
পীবরকবরীভারং।
কুচঘটযুগলে
মনসিজমঙ্গলহারং।
সুন্দরি সম্প্রতি মদনমহীপতি
মন্দিরভােরণকল্পে।
ধারয় জঘনে সুন্দরসুঘনে
কেশরহারমনল্পে।
সুঘটয় পৃথুলে
তন্বি তব সুতনু-
মুঞ্চ তদনু
রংশুবিনিজ্জিতসূৰ্যং।
কঙ্কণঝননং নূপুররণনং
মদনমহােসবকূৰ্যং।
জয়দেবকৃত রতিসুখসারে’
গীতের মত সুর ও তাল

( ৮৭ )
বৃন্দাবন বসন্ত বর্ণন।
}
অভিনবনীরনীলকলেবরশীতলসুলতমালে।
যুবজনমানসমােহনবিকশিতমঞ্জুলবঙ্গুলজালে।
নিবসতি হরিরিহ সুরভিনিকুঞ্জে।
কামবিশিখসমমুখরশিলীমুখসঙ্কুলপাটলপুঞ্জে।
মলয়সমীরণমন্দবিধুনিতললিতলতানিকুরম্বে,
মুকুলিতমাধবিকাপরিরম্ভণপুলকিতচূতকদম্বে।
শিশুশশধররুচিকামনখাকৃতিমন্দবিকাশপলাশে,
মনসিজনৃপকনকাসনসন্নিভচম্পকচারুবিলাসে।
কুসুমশরাসনশাসনঘােষণকোকিলকলিতসুগানে,
মদনরদনরুচিকুন্দকরম্বিতকোমলমল্লিবিতানে।
পরিমললম্ভিতলােভমধুপকুলসঙ্কুলবকুলবিকাশে,
কণ্টকপটলবিমণ্ডিতকেতকিদলদলিতালিকুলাশে।
প্রতিপবনঞ্চরহরিণনিকরদরতরলপিয়ালপরাগে,
ব্ৰজনবযৌবতমৰ্ম্মবিনিঃসৃতকৰ্ম্মবিশদনুরাগে ।
মারুতমুখরমরুৎপথপথিকশকুন্তকসমদনিনাদে,
যামুনজলপুলিনে কলিযুবতিদলমদনালসবাদে।
বসন্ত-যৎ

( ৮৮ )
অভিসারে প্ররােচনা।
এই মধুমাসে মদনআবেশে
বিননাদিয়া বঁধু নাগরবেশে,
প্রেম বিতরিতে আসিয়া বিপিনে
বসেছেন কিবা হের লাে এসে।
ভ্রমরগুঞ্জিত নিকুঞ্জকাননে
বিরাজেন হরি হের লাে সই,
ভাবের তরঙ্গ কত রঙ্গে ভাসে
রমণীরঞ্জন নয়নে ওই।
ঐ দেখ সখি আকাশের মাঝে
তুষিছে শশীরে তারার মালা,
তুমিও সজনি প্রেম-সুধাদানে
তােষ লাে তােমার চিকণকালা।
ভূষিতে শ্রীঅঙ্গ বিলাসভূষণে
বিলম্ব সজনি করো না আর,
বক্ষ পরে পর ওলাে বরাননে
বিলাসচঞ্চল অমল হার।
জলদের সম ও নীল কুন্তলে
বিনােদ কবরী বাঁধ লাে বালা,
রচ লাে বকুলে জঘনের মূলে
মদনমােহন মঞ্জু মেখলা।
চাদবদনে কুন্দবদনে
কুঞ্জ কাননে চললাে ত্বরা,

( ৮৯ )
হান লাে নাগরে নয়নের বাণ
উজলকাজলগরলভরা।
বৃথা মানে আর র’বে কত কাল
মানিনীর প্রাণে হানিছে শূল,
ঐ শুন শুন প্রাণের সজনি
মধুর কূজনি কোকিলকুল।
কীৰ্ত্তনের সুর।
শ্রীরাধার অভিসার।
চামরনিন্দিত কুঞ্চিতকুন্তল এলায়ে চুমিছে জঘন ঘন,
প্রেমের আবেশে বিভােরা কিশােরী অভিসার-রসে রসিত মন।
বঙুলবেষ্টিত কদম্বের কুঞ্জে চলেছেন কিবা মন্থরগতি,
চরণে নূপুর বাজি রুণু রুণু দেয় মৃদুতাল সে গতি প্রতি।
কটির কিঙ্কিনী করি কিণিকিণি, করের কঙ্কণ ঝনঝনিয়া,
দূর হতে প্রেরি মিলন-আভাস আশ্বাসে পূরিছে হরির হিয়া।
মিলনের আশে হাসে বিনােদিনী, অরুণ অধরে দশনপাতি,
গঞ্জে গরিনায় নিকুঞ্জনিলয়ে কিশলয়কোলে কুসুমভাতি।
কবরীকুসুম-সৌরভে মাতিয়া শ্রমুখ উপর ঝাপই যাই,
কমল জিনিয়া কর হেলাইয়া বারই ভ্রমরনিকর রাই।
ইবরনিন্দিহরিরবদনচুম্বন-আনন্দ ভুঞ্জিতে ধনী,
নিকুঞ্জ কাননে কুঞ্জরগমনে সঞ্চরেন রাই রমণীমণি।
কীৰ্ত্তন সুর

কৃষ্ণের স্তব।
নীলনৌ তনুষে তব বিশ্বমশেষং,
বিপুলযুগান্তজলে তিশেষং,
কেশব ধৃতভবধররূপ জয় জগদীশ হরে।
বিতরসি দেবদলে ছলিতাসুরমেলং,
মথিতপয়ােধিসুধামতিখেলং,
কেশব ধৃতমােহনরূপ জয় জগদীশ হরে।
সরসিজযােনিমুখােথমনুষ্ঠিতভেদং,
রটসি ভবে ভবভাবনবেদং,
কেশব ধৃততাপসরূপ জয় জগদীশ হরে।
বাহয়সি রবিসুতাপয়সি বহিং,
যুবতিপটাহিতজলদচরিত্রং,
কেশব ধৃতনাবিকরূপ জয় জগদীশ হরে।
নিন্দসি মিত্রবরং ধৃতবিশ্বশরীরং,
স্বজনবিঘাতনভীতমধীরং,
কেশব ধৃতবিশ্বশরীর জয় জগদীশ হরে।
হয়নিকরে সমরে কৃতবানসিঘাতং,
বিহিতধনঞ্জয়জয়মতিশাতং,
কেশব ধৃতসূতশরীর জয় জগদীশ হরে।
কলয়সি ললিতকরে খরতরশরজালং,
কুরুকুলদলনবিলােলবিশালং,
কেশব ধৃতপার্থশরীর জয় জগদীশ হরে।

( ৯১ )
নবদনে বদনে জগদেকসুপাত্রে,
প্রকটিতবানসি মৃদশনমাত্রে,
কেশব ধৃতবালকরূপ জয় জগদীশ হরে।
নিবসসি সিন্ধুতটে কলিকল্মষনাশন,
ভবজনতাপহরণকৃতবাসন,
কেশব ধৃতদারুশরীর জয় জগদীশ হরে।
বিতরসি নরনিবহে সকরুণমনুবারং,
মরভুবনে হরিনামসুরং,
কেশব ধৃতগৌরশরীর জয় জগদীশ হরে।
শরদিন্দুকবেরিদমুদিতভাবং,
কলয়দুরিতবনবিদহনদাবং,
কেশব ধৃতবহুবিধরূপ জয় জগদীশ হরে।
কল্যান রাগেন -পট তালেন
যমুনাপঞ্চকৎ।
দিনকরনন্দিনি বৈভবশালিনি, সৈকতমালিনি পুণ্যজলে
বিকশিতসকমলে বিমলে নবনীপবনীপবনপ্ৰচলে।
কলরুতকোকিলকাকলিপূরিতকোমলবল্লিলসৎপুলিনে
জয় যমুনে যদুনন্দনকেলিতরঙ্গিণ নীলজলাভরণে ॥১॥
অয়ি ললিতে জলকেলিকুতূহলােলমরালদলাকুলিতে
বিকচকদম্বককেতকচম্পককেশররাজিততীরযুতে।
সুরতটিনীসুখসাধিতসাগরসঙ্গমরঙ্গরসােল্ললনে
জয় যমুনে যদুনন্দনকেলিতরঙ্গিণি নীলজলাভরণে ॥ ২॥

অয়ি মধুরেহবিধুরে মুরলীধরসেবিতধীরসমীরধরে সুখকরশীকরসঞ্চরিতাঞ্চিতপঞ্চশরপ্রচুরপ্রসরে। কলকপটেন হরিস্বননে হরিপদপবিত্রিততীরবনে জয় যমুনে যদুনন্দনকেলিতরঙ্গিণ নীলজলাভরণে ॥ ৩॥ ললিতরঙ্গভুজে রবিজে কলিঙ্গবিভূষণসজ্জলজে মৃদুরয়মবিমুঞ্চিততালতটান্তদনুরলীমুরজে। শুভনটনে শরীনয়নে হৃতনেত্রবিচিত্ৰবনীবসনে জয় যমুনে যদুনন্দকেলিতরঙ্গিণি নীলজলাভরণে। ৪। কলকলিতােম্মিদলে ব্রজমােহনমােহনবেণুরবােত্তরলে বিষধরকালিয়কৃন্তনকৌতুকিকৃষ্ণপদদ্যুতিদীপ্তজলে। যমভয়ভঞ্জিনি কৃষ্ণবিনােদিনি কৃষ্ণতমুদ্যুতিসঙ্কলনে জয় যমুনে যদুনন্দনকেলিতরঙ্গিণি নীলজলাভরণে ॥ ৫ খাম্বাজ-—ংরি গঙ্গাপঞ্চক। ত্রিপথবিহারিণি সাগরগামিনি ভৈরবভামিনি শৈলসুতে অবিরলবঙুলতালতমালপিয়ালবিরাজিততীরযুতে। সুরপুরবাসিনি ভূতলভূষিণি সপ্তরসাতলসঞ্চরিতে জয় জয় জাহ্নবি জীবনরূপিণি বিষ্ণুপদাজসম্ভবিতে। ১। অয়ি ললিতে জলকেলিকুতুহললােলমরালদলাকুলিতে ত্রিভুবনতারিণি সঙ্কটহারিণি শঙ্করমৌলিতলােচ্ছলিতে। সুরপুরতাপসসপ্তসুখাপ্তলসৎসরসীরুহসম্বলিতে জয় জয় জাহ্নবি জীবনরূপিণি বিষ্ণুপদাজসম্ভবিতে। ২।

( ৯৩
)
গিরিবরকন্দরদারিণি তারিণি ঝংকৃতিকারিণি জহ্নসুতে
সুররমণীতরুণস্তনতাড়নভঙ্গুরতুঙ্গতরঙ্গযুতে।
অবমতদিজংহিতনাদকৃষ্টকুলাচলচঞ্চলিতে
জয় জয় জাহ্নবি জীবনরূপিণি বিষ্ণুপদাজসম্ভবিতে। ৩।
অয়ি মধুরে রসকেলিহসদসুধােরসিহারবিলাসভরে
শুভপুলিনেইমলিনে নলিনাক্ষপবিত্ৰপদাজরজোবিণে।
নরকবিঘাতিনি সত্যসনাতনি ধাতৃকমণ্ডলুকুণ্ডলিতে
জয় জয় জাহ্নবি জীবনরূপিণি বিষ্ণুপদান্থজসম্ভবিতে। ৪।
তটগতভাস্বরবিপ্রসমম্বরবেদসমুচ্চরণােচ্ছ সিতে
হিমবিধুমৌক্তিকশঙ্খসুখােজ্জলফেনবিলােলনসদ্ধসিতে।
জগদঘমােচনি পাবনপাবনি শঙ্করকীর্তিতসচ্চরিতে
জয় জয় জাহ্নবি জীবনরূপিণি বিষ্ণুপদাজসম্ভবিতে। ৫
গারাভৈরবী-পটুতাল।
দুর্গাপঞ্চকং
হিমগিরিনন্দিনি দৈত্যনিকৃন্তিনি শঙ্করসঙ্গিনি শূলধরে
চরণসবােরুহসৎকৃতিতৎপরভক্তজনাতিভর্তিহরে।
মহিষবিমর্দিনি শুম্ভবিনাশিনি শঙ্খিনি পাশিনি চাপধরে
জয় জয় পাৰ্বতি দক্ষসুতে সতি পাতকসংহতিভীতিহরে।

( ৯৪ )
অয়ি বগলে প্রবলে সুররাজশিয়ােমণিরাজিতপাদতলে
জিতদনুজে সুভুজে জলরাজসমাদৃতশৈলসুতাবরজে।
সুবিমলবিন্ধ্যবিলাসপরে হরসিন্ধুবিভাসিমুখেন্দুধরে
জয় জয় পাৰ্বতি দক্ষতে সতি পাতকসংহতিভীতিহরে। ২।
অয়ি মুখরে হৃতদেবদরে শুভকালি করালি কৃপাণকরে
গুরুনদকম্পিশৈলনভস্তলভূমিরসাতলসিন্ধুজলে।
বহুকুসুমাসবসেবনমরণাঙ্গনভৈরবনৃত্যপরে
জয় জয় পাৰ্বতি দক্ষসুতে সতি পাতকসংহতিভীতিহরে । ৩ ।
জনকসুতােরণে সমরােদ্যতরামসমশ্চিতসচ্চরণে
শুভশরণে ত্রিগুণে বৃষভানুসুর্পিত্যচিতকৃষ্ণধনে।
গুরুতপসাগুমহেশবরে ললিতেহপি নৌ মুনিবেশধরে
জয় জয় পাৰ্বতি দক্ষসুতে সতি পাতকসংহতিভীতিহরে । ৪।
ত্রিভুবনকারণভূজ্জঠরে জনিতাত্মবপুর্বিধিবিষ্ণুহরে
হপরিবাদকৃতাত্যসুখে নিহিতাপঘনে ননু দক্ষমখে।
যনভয়বারিণি দুর্গতিহারিণি ঘন্টিনি দণ্ডিনি মুণ্ডধরে
জয় জয় পাৰ্বতি দক্ষসুতে সতি পাতকসংহহিভীতিহরে । ৫।
গারাভৈরবী-পটুতাল
-

ন শ্রীশ্রীদেবদশকং। জলনিধিসন্নিধিসৌধনিবাসী জীবনিচয়কলিকল্মষনাশী। ভবতু সদা মম মানসচারী দারুশরীরী ব্ৰহ্মমুরারিঃ ॥ ১ ॥ নীলনপােপরিনিৰ্মিতগেহঃ কোটিবিধূজ্জ্বল সুন্দরদেহঃ। ভবতু সদা মম মানসচারী দারুশরীরী ব্ৰহ্মমুরারিঃ। ২ মিলিতহলায়ুধসহিতসুভদ্রঃ পদযুগপাবিতকমলজরুদ্রঃ। ভবতু সদা মম মানসচারী দারুশরীরী ব্রহ্মমুরারিঃ। ৩ সৰ্বসুরাসুরকীৰ্ত্তিতকীৰ্ত্তিঃ পাদরজঃকণহৃতজগদাৰ্ত্তিঃ। ভবতু সদা মম মানসচারী দারুশরীরী ব্ৰহ্মমুরারিঃ। ৪। নীরদমৃগমদকজ্জ্বলকৃষ্ণঃ সিন্ধুসুতাধরােনসতৃষ্ণঃ। ভবতু সদা মম মানসচারী দারুশরীরী ব্ৰহ্মমুরারিঃ ॥ ৫।

(
)
নয়নানন্দস্যন্দনযায়ী
সুরনরতীৰ্য্যদর্শনদায়ী।
ভবতু সদা মম মানসচারী
দারুশরীরী ব্ৰহ্মমুরারিঃ । ৬।
মন্দিরমৌলিবিলম্বিতনেত্রঃ
প্রহরিকরাৰ্পিতশাসনবেত্রঃ।
ভবতু সদা মম মানসচারী
দারুশরীরী ব্ৰহ্মমুরারিঃ । ৭।
ভুজযুগভৎসিতফণিপতিশেষ
সারপরাজিতসৰ্ব্ববিশেষ।
ভবতু সদা মম মানসচারী
দারুশরীরী ব্ৰহ্মমুরারিঃ। ৮।
প্রাপ্তসুরাসুরভক্তপহার
স্তজ্জিতজনগণবর্ণবিচারঃ।
ভবতু সদা মম মানসচারী
দারুশরীরী ব্ৰহ্মমুরারিঃ। ৯।
দূরাদ্দর্শিতমেচকচক্রঃ
করিবররক্ষণনাশিতনক্রঃ।
ভবতু সদা মম মানসচারী
দারুশরীরী ব্ৰহ্মমুরারি। ১০।

নত ইতি যাচে বিরহিততন্দ্র স্তদ্দাসােহহং শারদচন্দ্রঃ। ভবতু সদা মম মানসচারী দারুশরীরী ব্ৰহ্মমুরারিঃ। শ্রীশ্রীশ্যামাষ্টকং। শিবানি শঙ্করপ্রিয়ে জয়ন্তি সৰ্বমঙ্গলে নগেন্দ্রকন্যকে শিবে ভবানি ভদ্রকালিকে। মহেশহৃৎসরােবরােল্লসজ্জলপদাজে কৃপাং কুরু ত্রিশূলিনি স্বসেবকে শরদ্বিজে। ১৮ নৃমুণ্ডজালমণ্ডিতে শশাঙ্কখণ্ডভালিকে কপালমালিকে ভবে শ্মশানসদ্মচারিকে। ভয়ার্তভীতিহারিকে হিমাদ্রিরাজবালিকে কপাং কুরু ত্রিশূলিনি স্বসেবকে শরদ্বিজে । ২। প্রচণ্ডদৈত্যদণ্ডিকে দলট্রিপূখ্রচণ্ডিকে গদাসিপাশধারিকে মদোকটাট্টহাসিকে। নিশুম্ভশুম্ভনাশিকে সুরারিরক্তশােষিকে কৃপাং কুরু ত্রিশূলিনি স্বসেবকে শরদ্বিজে॥ ৩॥ পুরন্দরাৰ্চিতেহজিতে দিগম্বরান্তরাত্মিকে নিরন্তরাসুরান্তিকে রণাঙ্গনাচারিকে ( ৯৮ ) মৃড়ানি চণ্ডঘন্টিকে রটন্তি রক্তদন্তিকে কৃপাং কুরু ত্রিশূলিনি স্বসেবকে শরদ্বিজে ॥ ৪। জয়ে জয়ােল্লসদ্ধসদ্ৰণাজিরপ্রধাবিকে কিরীটকঙ্কণােজ্জলতিzলােকদীপিকে। বরাভয়প্রদে শুভে জয়াশিরামপূজিতে কৃপাং কুরু ত্রিশূলিনি স্বসেবকে শরদ্বিজে ॥ ৫॥ যুগান্তনীরদপ্ৰভপ্রলম্বনীলকুন্তলে জ্বলজ্জটোচ্ছলচ্ছটাললাটচন্দ্রমণ্ডলে। নিরস্তলােচনপ্ৰভাপ্রভাতসূর্যমণ্ডলে কৃপাং কুরু ত্রিশূলিনি স্বসেবকে শরদ্বিজে। ৬। ভবেশি ভৈরক্ষিতে বিশালভাললােচনে ফুরদ্বিলােলজিয়া তড়িল্লতাবগহণে। প্রকম্পিৰূিপৰ্বতত্রিলােকভীষণস্বনে কৃপাং কুরু ত্রিশূলিনি স্বসেবকে শরদ্বিজে । ৭। মহেশি শঙ্করি স্বধে ধবে ত্রিলােকপালিকে পিনাকভূপ্রমােদিনি প্রভূতভূতভাবিকে। সুকুণ্ডলার্কমণ্ডলপ্রভাসিস্যপঙ্কজে কৃপাং কুরু ত্রিশূলিনি ত্বদাত্মজে শরদ্বিজে ।৮।

( ৯৯ )
ভারতসঙ্গীত।
জয় জয় ভারতবর্ষ ।
গ্রামনগরঝরকাননকরগিরিমমন্দিরসুন্দরদর্শ।
ভুবনাদর্শ দর্শকহর্ষ ক্রমবিকশিতশিশিরাতপবর্ষ।
গঙ্গালহরীহারতুহিনগিরিভাল জলধিজলমৃদুলস্পর্শ।
মঞ্জুলসিংহলশােভিতপদতল শ্যামমলয়বমণ্ডিতপাশ্ব।
সভ্যসুবর্বরগৃহিযাযাবরনিখিলনরস্তরভেদপ্রদর্শ।
কোকিলকূজিতকুঞ্জলতাবনচলমলয়ানিলললিতস্পর্শ।
ভীমপ্রভঞ্জনতাণ্ডবনৰ্ত্তনশালসরলচয়নির্দয়ঘর্ষ।
সঞ্চরদুপলতলগিরিতটিনীদলকোমলকলকলবণাকর্ষ।
বজোদরঘনঘর্ঘরনিঃস্বনকম্পিতগিরিগণভীষণশীর্ষ ।
ধনগাের্ধন্যজ্ঞানবরেণ্য প্রতিপদমান্য পুণ্যনিদর্শ।
অরিদুর্ধর্ষসমরামভীষ্মৰ্জ্জুনকৃতকাৰ্ম্মকঘর্ষ।
কাব্যবনপ্রিয়বিশ্বজনপ্রিয়কালিদাসকৃতগানােৎকর্ষ।
ভূপতিবৎসল দৈবপরমবল কলিতহরিস্মৃতিকলিমলকাশ্য
দশতধারণব্রহ্মসনাতনজননজনিতজগদুন্নতশীর্ষ ।
হরতালবিমলশশিকরশীতলভদ্রকালীপল্লীপ্রকর্ষ ।
স্তদ্ভুপ্রজনন শারদশৰ্ম্মণ এতদগঙ্গাসলিলস্পর্শঃ ।

No text on this page.

মতাবলী।
মাননীয় স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, কে, টি, মহাশয়ের
এই পুস্তক সম্বন্ধে অভিমত।
নাড়িকেলডাঙ্গা,
কলিকাতা,
৮ই মাঘ ১৩২৪।
ভদ্ৰক হাইস্কুলের ভূতপূৰ্ব্ব হেডমাষ্টার শ্রীযুক্ত বাবু শরচ্চন্দ্র
বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের স্বরচিত কয়েকটি শ্যামাবিষয়ের ও
পরমার্থতত্ত্ব বিষয়ের গীত তাহার সুকণ্ঠে সুরতানলয়ের সহিত
গীত হওয়া শ্রবণ করিয়া পরম পবিত্র আনন্দ লাভ করিলাম।
গীতগুলি সুমিষ্ট ও সুগভীর ভাবপূর্ণ এবং প্রচুর রচনানৈপুণ্যের
পরিচয় দেয়। তাহা শুনিলে মহাত্মা রামপ্রসাদ ও দাশরথি
রায়ের রচনা মনে পড়ে, এবং সেই রচনার সহিতই এই রচনা
তুলনীয়।
শ্রীগুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
উত্তরপাড়ার জমীদার বহুশাস্ত্রবিশারদ শ্রীল রাসবিহারী
মুখােপাধ্যায় মহাশয়ের এই পুস্তক সম্বন্ধে অভিমত।
উত্তরপাড়া,
২৭শে মার্চ ১৯১৭।
ভদ্ৰক ইংরাজী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্ৰীযুত শরচ্চন্দ্র
বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্কৃত কবিতা ও স্তুতি শুনিয়া বিশিষ্টরূপে

( খ )
প্রীত হইলাম। কালিদাসের এবং জয়দেবের অনুসরণ ইনি যে
ভাবে করিয়াছেন তাহা আর অন্যত্র দেখিতে পাওয়া যায় না।
ইহার কবিতাগুলি প্রাঞ্জল, সুললিত, মধুর এবং হৃদয়গ্রাহী।
ইহার বাঙ্গালা গানগুলিও তদনুরূপ, সুশ্রাব্য, সরল এবং
প্রীতিপ্রদ। সাধারণ পণ্ডিত মহাশয়দিগের সংস্কৃত কবিতাপেক্ষ।
ইহার কবিতা সহস্রগুণে উৎকৃষ্ট।
শ্রীরাসবিহারী মুখােপাধ্যায়।
কলিকাতা হাইকোর্টের সুবিখ্যাত ব্যারিষ্টার শ্রীযুক্ত
চিত্তরঞ্জন দাশ মহাশয়ের এই পুস্তক সম্বন্ধে অভিমত।
এই গানগুলি আমার খুব ভাল লাগিল।
শ্ৰীচিত্তরঞ্জন দাশ।
মাননীয় স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কে, টি, মহাশয়ের
‘প্রার্থনা সম্বন্ধে অভিমত।
মহাশয়,
আপনার প্রদত্ত প্রার্থনা' নামক গ্রন্থখানি সাদরে গ্রহণ
করিয়াছি ও যত্নের সহিত পাঠ করিয়া অতিশয় প্রীত হইয়াছি।
আপনার কবিতাগুলির ভাষা অতি সরল ওসুমিষ্ট ও ভাব অতি

( গ ) গভীর ও হৃদয়গ্রাহী। এক কথায় বলিতে হইলে কবিতাগুলি অতি সুন্দর হইয়াছে। ইতি- আপনারই শ্রীগুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। নারিকেলডাঙ্গা, কলিকাতা, ৯ই মাঘ ১৩১০। উড়িষ্যা ও বর্ধমান ডিভিসনের স্কুলসমূহের ভূতপূর্ব ইস্পেক্টর রায় রাধানাথ রায় বাহাদুরের শকুন্তলা’ সম্বন্ধে অভিমত। প্রণতিপূৰ্ব্বক নিবেদনমিদং মহাশয়, আপনার শকুন্তলা’ আগ্রহের সহিত পাঠ করিয়া আশানুরূপ প্রীতিলাভ করিয়াছি। ক্ষুদ্র হইলেও কাখানির প্রত্যেক পৃষ্ঠায় এমনকি প্রত্যেক শ্লোকে শক্তিমত্তা ও ভাবুকতার চিহ্ন অতি পরিস্ফুটরূপে দেদীপ্যমান। অনেক শ্লোক এরূপ আছে যাহা কি ভারতবিখ্যাত প্রাচীন কবিগণের পক্ষেও গৌরবাবহ হইত। বিনয়াবনত- শ্রীরাধানাথ রায়। কটক, ১৫-৩০৪।

( ঘ ) উড়িষ্যার প্রধান নৈয়ায়িক পণ্ডিত দামােদর বিদ্যাবাগীশ মহাশয়ের সারপঞ্চক’ সম্বন্ধে অভিমত। শ্ৰীযুক্ত বাবু শরচ্চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়রচিত ‘সারপঞ্চক’ পাঠ করিয়া পরম প্রীতি লাভ করিলাম—পদলালিত্য ও ভাবগাম্ভীর্যে কবিতাগুলি অতিশয় মনােহর হইয়াছে। বড় বড় পণ্ডিতদিগের প্রমুখাৎ আমি অনেক কবিতা শুনিয়াছি, কিন্তু এমন ভাবগর্ভক, পদলালিত্য-বিশিষ্ট কবিতা কখন শ্রবণ করি নাই, ইদানিং এ প্রকার কবি প্রায় দুলভ—এ গ্রন্থরচয়িতা স্কুলের ইংরাজী শিক্ষক হইয়াও সৰ্বপণ্ডিতজনমনােহারী সংস্কৃতকবিতারচনায় যে এতদূর কৃতিত্ব দেখাইয়াছেন, তাহা অতীব বিস্ময়কর । কবিতাগুলি পাঠ করিলে প্রাচীন কবিতার মতন বােধ হয়, ইহা সংস্কৃত ভাষার একটি রত্নস্বরূপ হইবে সাহস করিয়া বলিতে পারি। গ্রন্থরচয়িতা মহাশয় দীর্ঘজীবী হউন, ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা। শ্রীদামােদর দেবশর্মণঃ । ( বিদ্যাবাগীশস্য) ভদ্রকের ভূতপূৰ্ব ডেপুটী ম্যাজিষ্ট্রেট শ্ৰীযুক্ত বাবু নগেন্দ্র নাথ ঘােষ, এম, এ, মহাশয়ের ‘বুমারসম্ভবের অনুবাদ সম্বন্ধে অভিমত। আমার মতে অনুবাদ এইরূপই হওয়া উচিত। অনুবাদ যেভাষায় হইবে আগে তাহার প্রাণ রক্ষার প্রতি অনুবাদকের

( ৬ )
দৃষ্টি রাখা চাই। অনুবাদ্য গ্রন্থের ভাব মাধুৰ্য্য পূর্ণরূপে রক্ষা
করিতে গিয়া অনুবাদ যে ভাষায় হইবে তাহার প্রাণনাশ করা
কোনরূপে বিধেয় নহে। শরৎবাবুর এ দোষ ঘটে নাই।
তিনি যেখানে মূলের ভাব মাধুৰ্য্য রক্ষা বিষয়ে আপনাকে
একান্ত অসমর্থ বােধ করিয়াছেন সেখানে তাহার আভাস মাত্র
দিয়াই অনুবাদের ভাষার প্রাণ রক্ষা করিয়াছেন। সুতরাং
ভঁহার অনুবাদ সুবােধ ও সুখপাঠ্য হইয়াছে।
শ্রীনগেন্দ্রনাথ ঘােষ।
Opinion of Nilkantha Mazumdar Esqr., M.A.,
Roychand Premchand Scholar.
I have glanced over your
• Nitishatastakam." You
have happily caught the ring of the old masters, both in
respect of your sentiments and expressions. You have
remarkable powers of adaptation and your imaginatiou is
full of resources.
Your style is simple, chaste and
elegant. I wish you every success.
Sd. Nilkantha Mazumdar
Principal, Ravenshaw College.
CUTTACK,
13-1-99.

(5)
Opinion of Babu Mati Lal Ghose.
Amrita Bazar Office,
2, Ananda Chatterjee Lane.
Calcutta the 19th January 1918.
I have heard with inteuse pleasure some of the Sanskril
and Bengali songs relating to "Krishna Lila" and cognati
subjects by Babu Sarat Chandra Banerjee. I understani
that he is publishing a book containing these songs. The
book should command a large sale specially amongst those
who are Bhaktas and Premiks.
Sd. Mati Lal Ghose.
Opinion of Rai Radhanath Rai Bahadur,
!
Late Inspector of Schools.
I hope that Babu Sarat Chandra Banerjee's Sans
krit writings will be as widely known and appreciated
as they deserve to be. His Krishnapremtarangini it
one of those rare productions which can challenge com.
parison with the inimitable classic models of India,
The excellence of that work is well maintained in hiç
Panchasar, which seems destined to take rank with the
master-pieces of Bhartrihari and Chanakya. The terse,
graceful and idiomatic sanskrit of Panchasar will com -
mend it to any lover of sanskrit literature.
9-1-99.
Sd. Radha Nath Rai.
JAJPUR

(5) Opinions of B. C. Mitra Esq., I. C. S. I. had the pleasure of making the acquaintance of abu Sarat Chandra Banerjee, the Head Master of the hadrak High School* about:10 years back, when I was isted to Bhadrak on settlement work, and was very ichøstruck with his admirable rendering into Bengali rse of Kali Dasa's Kumarsambhav. Since then, I ve watched his literary career with interest, and his bsequent productions have fully justified the expections I was led to entertain. His mastery over nskrit versification is of a superior order. But mere ersification, sonorous and melodious as it is, does not haust a description of his talents. His original pronctions in Sanskrit contain really 'good poetry and Bathe the true spirit of devotion. Fine and occainal lofty sentiments, clothed in dignified language ; artistic literary perception ; turns of thought which once and without effort strike the imagination ; and aplicity and terseness of expression, are merits which ght to make his works more widely known and preciated. Many an hour during my official visits to jadrak has been enlivened by hearing from his own outh the recitations of his own excellent compositions, d I may say, without exaggeration, that the enjoy. ent of his poems is one of the chief attractions of my isits to Bhadrak. As translations his Kumarsambhav id Joydev's Gitagobinda are equally successful, and hen the difficulty of such translation is considered, the nhievement will be the better appreciated. It is fortuate that the talented author's first original Sanskrit 'ork Krishnapremtaran gini has been brought out under ugh patronage. His second work, Sarapanchakann, is a 1 ( ) little book of moral apophthegms in verse, adapted to every understanding and enlivened by fine poetic sentiments, His up to now last production, Prarthana, a collection of verses in the stately mandakranta metre addressed to the Deity, shows high class poetry and power of poetical expression coupled with true-hearted devotion. Tho last two works are accompanied by netrical translations into Bengali, which are as melodious as they are espressive. If Sauskrit scholarship and poetical powers are deserving of encouragement, I am confident that th works of Babu Sarat Chandra Banerjee will receive thi recognition which they undoubtedly deserve. Sd. B. C. MITRA. BHIDRAK. District and Sessions Julge, The 15th August, 1902. Orissa I have had Babu Sarat Chandra Bauerjee's “Sakurtala" read out to me in the melodious voice of the talented writer, and have much pleasure in stating that it contains passages of strikiug beauty and originality. I must say that the production as a whole evidences the facility of the writer's pen, the simplicity of his language and poetio touches of a delightful order. Sd. B. C. MITRA. District and Sessious Judge, CUTTACK. Balasore Circuit-House, The 24th October, 1903. Lr

No text on this page.

No text on this page.

Nijer Gaan

Author
Bandhopadyay,sharachchandra
Title
Nijer Gaan
File name
Nijer Gaan
Text
OCR done
Citation
1929
Published
2010/02/7
Publisher
Ashutosh Das
Language
Sanskrit
Pages
119
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Lyrics
Keywords
Shakuntala
DLI number
512993
Barcode
4990010020013.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
nxM2ZdqRpVk
Download PDF

Nijer Gaan