Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Puber Hawa

Islam,nazrul · 2010/01/2

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

পুবের হাওয়া
নজরুল ইসলাম
সােল এজেন্ট ভি, এম, লাইব্রেরী
৬১নং কর্ণওয়ালিশ খ্রীট, কলিকাতা:

প্রকাশক- মজিবুল হক বি, কম, ভােলা, বরিশাল প্রথম সংস্করণ, আশ্বিন ১৩৩২ দাম পাঁচ সিকা ণ্টিা- ওরিয়েন্টাল প্রিন্টাস এণ্ড পাবলিশার্স, লিমিটেড, ২৬১এ, হারিসন রােড, কলিকাতা

একটি কথা
এবার সাইত্রিশটি গেল,
‘পূবের হাওয়ায় পঞ্চাশটি কবিতা যাওয়ার কথা
পর বারে সব কটি দেওয়া যাবে।
প্রকাশক

মুল্য ১ কাজী নজরুল ইসলাম ১। চিত্তনামা (কবির আধুনিক ফটো সমেত) ২। অগ্নিবীণা (৩য় সংস্করণ) (কবির আধুনিক ফটো সমেত) ৩। দোলন চাপা ৪। রিক্তের বেদন ১) ১০ ৫০০ ০ ০ ০ ৫। ব্যাথার দান ০ ০ ০ ১৩ মৌলবী মােহাম্মদ মােজাম্মেল হক বি, এ, জাতীয়-মঙ্গল (চতুর্থ সংস্করণ) ( যন্ত্রস্থ ) ১। জা ০০ ০ মূল্য ॥ণ০ ২। সমাজ-মঙ্গল ১ . ০ ০ ০ ০ শ্রীপ্রসন্নকুমার রায়, বি, এ, (আদর্শ জীবনী-শতক গ্রন্থাবলী) মূল্য। বঙ্গরবি আশুতােষ (সচিত্র ) ২। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন (সচিত্র ) । ০ ০ ০ ০ ০ ০ ডি, এম, লাইব্রেরী ৬১নং কর্ণওয়ালিশ স্ট্রীট, কলিকাতা সুচী পত্র ১। মরমী ২। মরণে app • ৮০ . অবসর ৫। নিকটে ৫। মনিনী p ০ ০ ০ ••• . = = ৫ ৭। বেদনা-মাণিক ৮। বেদন-হারা ৯। নিরুদ্দেশের যাত্রী ১। পথিক শিশু ১১। স্নেহ-ঋণী ১১। হােলি • । ১; : । । । ১৭ • ১৮। • ০ ০ ৫ ও ৫ ••• ১৯ ২১ : ০ ০ ••• । ২৩ ১৪। সােহাগ ৫। শরাবন তহুরা ১০। দুপুর অভিসার ১৭। দহন-মালা ১৮। পথিক বধু ১৯। হেপরশ ২০। বাণী বালি ২১। গৃহহারা ২২। অনাদৃত। ২৩। স্নেহাতুর ২৪৭ বিরহ-বিধুরা ২৫। নিশীথ-প্রীতম ৪৬। রেশমী ভাের ২৭। দূরের পথিক প্ৰণ নিৰােন ০৫ ২৫ ৫। ০১। . ২৮ ৩১ ০ ৫০০ •••

৩৮
০ ০ ০
৪
•••
৪১
২৯। ফুলকুঁড়ি
৩০। পুলক
৩১। প্রণয়-ই।
৩২। বরষায়
৩৩। বিদায়-বাশী
৪। শেবের ডাক
৩৫। অঙ্কিমানিনী
৩৬। শেষের প্রীত
। বিজয়িনী
| ০ ০ ০
৫ ০ ০
০ ০ ০
•••
•••
৪৫
•••
৪৭
• **
•••
০৮
৪০০
৫ ।
•••

No text on this page.

*;
的基本
牛了,

মরমী
কোন্ মরমীর মরম-ব্যথা আমার বুকে বেদনা হানে
জানি গো, সেও জানেই জানে।
আমি কঁদি তাইতে যে তার ডাগর চোখে অশ্র আনে,
বুঝেছি তা প্রাণের টানে।
বাইরে বাঁধি মনকে যত
ততই বাড়ে মৰ্ম্ম-ক্ষত,
মাের সে ক্ষত ব্যথার মত
বাজে গিয়ে তার ও প্রাণে,
কে কয়ে যায় হিয়ার কাণে।
উদাস বায়ু ধানের ক্ষেতে ঘনায় যখন সাঁঝের মায়া,
দুই জনারই নয়ন-পাতায় অমনি নামে কাজল-ছায়া !
দুইটা হিয়াই কেমন কেমন
বদ্ধ ভ্রমর পদ্মে যেমন,
হায়, অসহায় মুকের বেদন
বাজলাে শুধু সাঁঝের গানে,
পূবের বায়ুর হুতাশ তানে।

পূবের হওয়া
স্মরণে
আজ নতুন করে পড়লাে মনে মনের মনে
শাঙন সাজের ভেজা হাওয়ায় বারির পতনে।
কার কথা আজ তড়িৎ-শিখায়
জাগিয়ে গেল আগুন লিখায়,
ভােলা যে মোর দায় হ’ল হায়
বুকের রতন।
এই শাঙন সাজের ভেজ। হাওয়ায়, বারির পতনে।
আজ উতল ঝড়ের কাৎরানিতে
বুক
নিবিড় ব্যথায় মূক হয়ে যায় মুখর আমার মুখ ।
জলাে হাওয়ার ঝাপটা লেগে
অনেক কথা উঠলো জেগে
পরাণ আমার বেড়ায় মেগে
একটু যতনে।
এই শাঙন সাজের ভেজা হাওয়ায়, বারির পতনে।
গুমরে ওঠে

এবার
লক্ষী আমার ! তােমার পথে আজকে অভিসার,
অনেক দিনের পর পেয়েছি মুক্তি-রবিবার।
দিনের পর দিন গিয়েছে হয়নি আমার ছুটি,
বুকের ভিতর ব্যর্থ কঁাদন পড়তাে বৃথাই লুটি
বসে ঢুলতে আঁখি দুটি !
আহা আজ পেয়েছি মুক্ত হাওয়া
লাগলাে চোখে তােমার চাওয়া
তাইতাে প্রাণে বাঁধ টুটেছে রুদ্ধ কবিতার।
তোমার তরে বুকের তলায় অনেক দিনের অনেক কথা জমা,
কানের কাছে মুখটি থুয়ে গােপন সে-সব কইবাে প্রিয়তমা !
এবার শুধু কথায় গানে রাত্রি হবে তাের
শুকতারাতে কাপবে তােমার নয়ন-পাতার লাের
অভি-
মানিনীরে মাের।
যখন তােমায় সেধে ডাকবে বাঁশী
মলিন মুখে ফুটবে হাসি,
হিম-খুকুরে
উঠবে ভাসি
অরুণ ছবি তার।

পূবের হাওম্না
নিকটে
বালা-কালাে স্নিগ্ধা আমার কান্ত এলাে রিঝিমিয়ে,
বৃষ্টিতে তার বাজলে নূপুর পায় জোরেরই শিঞ্জিনী যে।
ফুলে উষার মুখটী অরুণ, ছাইল বাদল তা ধরায় ;
জলাে আসর-বর্ষা-বাসর, লাও সাকী লাও ভ- পিয়ালায় !
ভিজলে কুঁড়ির বক্ষ-পরাগ হি-শিশিরের আমেজ পেয়ে,
হদ হরদম দাও মদ, মস্ত, করাে গজল গেয়ে !
ফেরদৌসের ঝরুকা বেয়ে গুল্-বাগিচায় চলচে হাওয়া,
এই ত রে ভাই ও খুশীর, দ্রাক্ষারসে দিকে নাওয়া।
কুঞ্জে জরীন ফারসী ফরাস্ বিছিয়েছে আজ ফুলারা,
আজ, চাই-ই চাই লালশিরাজী স্বচ্ছসরস খােৰ্ম্মা-পারা!
মুক্তকেশী ঘাের-নয়না আজ হবে গাে কান্তা সাকী,
চুম্বন এবং মিষ্টি হাতের মদ পেতে তাই ভরসা রাখি।
কান্তা সাথে বাঁচতে জনম্ চাও যদি কওসরু-অমিয়,
সুর বেঁধে বীণ, সারেঙ্গীতে খুবসে শিরীন শরাব পিয়াে !
খুঁজবে যেদিন সিকান্দারের বাঞ্ছিত আব-হায়াত কুঁয়ায়,
সন্ধান তার মিলবে আশেক দিল-পিয়ারার ওষ্ঠ চুমায় ।
খামখা তুমি মছ কাজী শুষ্ক তােমার শাস্ত্র ঘেঁটে,
মুক্তি পাবে মখােরের এই আল-কিমিয়ার পাত্র চেঁটে।

পূবৰ হাওয়া '
মানিনী
মুক্ত করে ঐ মুখ মুখে লুকিয়ে রেখােনা,
ওগাে কুড়ি, ফোটার আগেই শুকিয়ে থেকোনা !
নলিন্ নয়া ফুলের বয়ান মলিন্ এ-দিনে
রাখতে পারে কোন্ সে কাফের আশে বেদীনে?
রুচিরু-চারু পারুল বনে কঁাচ একা যুঁই,
বনের মনের এ বেদনা কোথায় বল থুই ?
হাসির-রাশির একটি ফেঁটা অশ্রু অকরুণ,
হাজার তার মাঝে যেন একটি কেঁদে খুন!
বেহেশতে কে আনলে এম আব ছা’ বেথার রেশ,
হিমের শিশির ছুয়ে গেছে হুরপরীদের দেশ।
বরষ পরের দরশনের কই সে হরষণ,
মিলবেনা কি শিথিল তােমার বাহুর পরশন?
শরম টুটে ফুটুক কলি শিশিরু-পরশে
ঘােটা ঠেলে’ কুণ্ঠা ফেলে’ সলাজ, হরষে।

পূৰেহাওয়া
আশা
মহান, তুমি প্রিয়
এই কথাটির গৌরবে মাের চিত্ত ভরে দিয়ে।
অনেক আশায় বসে আছি যাত্রা-শেষের পর
তােমায় নিয়েই পথের পারে বাঁধ বাে আমার ঘর
হে চির-সুন্দর!
পথ শেষে সেই তােমায় যেন করতে পারি ক্ষমা,
হে মাের কলঙ্কিনী প্রিয়তমা !
সে দিন যেন বলতে পারি, এসাে এসাে প্রিয়,
বক্ষে এসাে এসো আমার পূত কমনীয়।”
হায় হারানো লক্ষী আমার । পথ ভুলেছ বলে
চির-সাথী যাবে তােমার মুখ ফিরিয়ে চলে?
জান ওঠে হায় মােচড় খেয়ে চলতে পড়ি টলে
অনেক জ্বালায় জ্বলে’ প্রিয় অনেক ব্যথায় গলে।
বারে বারে নানান রূপে ছলতে আমায় শেষে,
কলঙ্কিনী! হাতছানি দাও সকল পথে এসে
কুটীল হাসি হেসে।

পূবা
ব্যথায় কান ব্যথা হানাই যে সে!
তুমি কি চাও তােমার মতই কলঙ্কী হই আমি?
তখন তুমি সুদূর হতে আসবে ঘরে নামি-
হে মাের প্রিয়, হে মাের বিপথগামী !
পথের আজো অনেক বাকী,
তাই যদি হয় প্রিয়
পথের শেষে তােমায় পাওয়ার যোগ্য করেই নিয়ে ।

t
পূৰৰ হান্না
বেদনা মাণিক
একটি শুধু বেদনা মাণিক আমার মনের মণিকোঠায়।
সেইত আমার বিজন ঘরে দুঃখ-রাতের আঁধার ফুটায় ।
সেই মাণিকের রক্ত আলাে
ভুলালাে মাের মন ভুলালাে গো ?
সেই মাণিকের করুণ কিরণ আবার বুকে মুখ লুটায় ।
আজ রিক্ত আমি কান্না হাসির দাবী দাওয়ার বাঁধন ছিড়ে,
বেনা মণির শিখার মায়াই রইল একা জীবন ঘিরে
এ কাল ফণী অনেক খুঁজি
পেয়েছে ঐ একটি পুজি গাে !
আমার চোখের জলে ঐ মণি দীপ আগুণ-হাসির
ফিনিক ফোটায়।।
৮

পুরো
বেদন-হারা
আমার ঘরের পাশ দিয়ে সে চলছে নিতুই সকাল সাঁজে,
আর এ পথে চলবেনা সে সেই ব্যথা হয় বক্ষে বাজে। •
আমার দ্বারের কাছটিতে তার ফুটত লালী গালের টোলে,
টলতো চরণ, চাউনি বিবশ, কঁপতে নয়ন-পাতার কোণে
কুঁড়ি যেমন প্রথম খােলে গাে !
কেউ কখনাে কইনি কথা
কেবল নিবিড় নীরবতা
সুর বাজাতো অনাহতা
গােপন মরম-বীণার মাঝে।
মূক পপের আজ বুক ফেটে যায় স্মরি তারি পায়ের পরশ
বুক-খসা তার আচর-চুমু,
রঙীন ধুলাে পাংশু হ’লঘাস শুকোলাে, যেচে বাচাল
যােড়-পায়ের রুমুঝুমু, !
।

পূবের হাওয়া
আজো আমার কাটে গাে দিন রােজই যেমন কাটতে বেলা,
একলা বসে শূন্য ঘরে—তেমনি ঘাটে ভাসবে ভেলা,-
অবহেলা হেলাফেলায় গােয়
‘শুধু সে আর তেমন করে’
মন রবেনা নেশায় ভরে’
আসার আশায় সে কার তরে
সজাগ হয়ে সকল কাজে।
ডুকরে কাদে মন কপােতী—-
“কোথায় সাথীর
কূজন
বাজে ?
সে পা’র ভাষা কোথায় রাজে?”
=
১০

পূবের হওয়া নিরুদ্দেশের যাত্রী ৫ নিরুদ্দেশের পথে যেদিন প্রথম আমার যাত্রা হল শুরু, নিবিড় সে কোন্ বেদনাতে ভয়-আতুর এ বুক কাঁপলাে দুরু দুরু মিটলােনা ভাই চেনার দেন, অমনি মুহুর্মুহু ঘয়-ছাড়া ডাক কলে শুরু অথির বিদায়-কুহু “উহু উহু উহু !” হাত ছানি দেয় রাতের শাঙন, অমনি বাঁধে ধরুলল ভাঙন, ফেলিয়ে বিয়ের হাতের কাঙন- আমি খুঁজি কোন আঙনে কাঁকন বাজে গো। বেরিয়ে দেখি, ছুটছে কেঁদে খালী হাওয়া হু হু, মাথার ওপর দৌড়ে টাঙন, ঝড়ের মাতন, দেয়ার গুরু গুরু।

পূবের হাওয়া
পথ হারিয়ে কেঁদে ফিরি, “আর বাঁচিনে।
কোথায় প্রিয় কোথায় নিরুদ্দেশ ?”
কেউ আসেনা, মুখে শুধু ঝাপটা মারে
নিশীথ-মেঘের আকুল চাচর কেশ !
তালবনা’তে ঝঞা তাথৈ হাততালি দেয়, বজে বাজে তুরী,
মেখলা ছিড়ি পাগলী মেয়ে বিজলী-বালা নাচায় হীরের চুড়ি
ঘুরি ঘুরি’ ঘুরি’
(ওসে) সকল আকাশ জুড়ি !
থামূলাে বাদল-রাতের কাদা,
ভােরে তারা কনক-গাঁদা,
ফুটলাে, ও মাের টুটলাে ধাঁধা
হঠাৎ 'কার
নুপুর
শুনি গো?
* থামূলে পুর, ভােরেতারাও বিদায় নিল ঝুরি’!
এখন চলি সাজের বধূ সন্ধ্যা তারার চলার পথে গাে !
আজ অস্তপারের শীতের বায়ু কানের কাছে বইছে ঝুরু বুরু।
১২

পূবের হাওয়া
পথিক শিশু
নাম-হারা তুই পথিক শিশু এলি অচিন দেশ পারায়ে ।
কোন নামের আজ পরলি কঁকন ? বাঁধন-হারার কোন্ কারা এ ?
আবার মনের মতন করে
কোন্ নামে বল, ডাকবাে তােরে ?
পথ-ভােলা তুই এই সে ঘরে
ছিলি ওরে, এলি ওরে বারেবারে নাম হারায়ে ।
ওরে যাদু, ওরে মাণিক, আঁধার ঘরের রতন-মণি !
ক্ষুধিত ঘর ভলি এনে ছােট্ট হাতের একটু ননী।
আজ কেন রে নিবিড় মুখে
কান্না-সায়র উথলে বুকে ?
নতুন নামে ডাকতে তােকে
ওরে ওকে কণ্ঠ রুখে ? পাঁচ-ফাগুনের যুই-চারা এ!
আজ মন-পাখী ধায় মধুরতম নাম আশীষের শেষ ছাড়ায়ে।

পূবের হওয়া
স্নেহ-কণী
এ কোন্ স্নেহ-মুরধুনী নালাে আমার সাহারায় ?
বক্ষে কঁাদার বান ডেকেছে, আজ হিয়া কূল না হারায় !
কণ্ঠে চেপে শুষ্ক তৃষা
মরুর সে পথ তপ্ত সিসা
চলতে একা পাইনি দিশা ভাই,
বন্ধ নিশাস, একটু বাতাস! এক ফোটা জল জহর-মিশা !
মিথ্যা আশা নাই সে নিশা-নাই!
হঠাৎ ও কা’র ছায়ার মায়ারে ?
ডাক-নামে আজ গালভরা ডাক ডাকলে কে ঐ মা-হারায় !
লক্ষ যুগের বক্ষ-ছাপা তুহিন হয়ে যে ব্যথা আর কথা ছিল ঘুমা,
কে সে ব্যথায় বুলায় পরশ রে ?
গলায় তুহিন কাহার কিরণ——তপ্ত সােহাগ চুমা ?
ওরে ও ভূত লমী-ছাড়া, হতভাগা বাঁধন-হারা
কোথায় ছুটিস। একটু দাড়া হায় !
ঐ তাে তােরে ডাকচে মেহ,
হাতছানি দেয় ঐ তাে গেই,
কাঁদিস কেন পাগলপারা যায় ?
এত ডুকুরে’ কিসের তিক্ত কঁাদন তাের ?
অভিমানী। মুখ ফেরা, দেখ যা পেয়েছিস তাও হারায়।
বুঝবে কে যে কােহের ছোঁয়ায় আমার বাণী রা হারায়।
১৪

পূবের হাওয়া
হােলি
আয় ওলাে সই খেলবাে খেলা
ফাগেব ফাজিল পিচকিরীতে।
আজ শ্যামে জোর করবাে ঘায়েল ,
হােরির সুরের গিট কিরিতে ।
বসন ভূষণ ফেললাে খুলে,
দে দোল দে দোল দোদুল দুলে,
কর লালে লাল কালার কালাে
আবির হাসির টিটকিরিতে।

পূবের হওয়া
বে-শরম
আরে আরে সখি বার বার ছি ছি
ঠারত চঞ্চল আঁখিয়া সবিলিয়া।
দুরু দুরু গুরু গুরু কাপতে হিয়া উরু
হাথসে গির যায় কুঙ্কুম-পালিয়া।
আর না হােরি
খেলবাে গােরি
আবীর ফাগ দে পানি মে ডারি
হা প্যারী-
শ্যাম কি ফাগুয়া
লাল কি লুগুয়া
ছি ছি মােরি শরম ধরম সব হারি
মারে ছাতিয়া মে কুঙ্কুম বে-শরম বানিয়া।

পৃক্টবর হাওয়া
সােহাগ
গুন্ কো চুম চুম কইতে বুলবুল,
রুখসানা সে বে-দরূদী বােরকা খুল !
হস্তি হেয় বােস্ত,
মস্ত, হাে যা দোস্ত,
শির। শিরাজী সে যা বেহেশ জ।।
সব, কুছ, আজ রঙ্গী হেয়, সব কুছ, মশগুল,
হস্তি হেয় গুল হো কর দোজখ বিলকুল,
হারে আশেক
মাশুক কি চনেও মেফুল নেই দোবারা ফুল
ফুল ফুল ফুল।
১৭

বের হওয়া
শরাবন্ তহুরা
নার্গিস্-বাগমে বাহার কি আগমে ভরা দিল, দাগমে—
কঁহা মেরি পিয়ারা, আও আও পিয়ারা।
দুরু দুরু ছাতিয়া ক্যায়সে এ রাতিয়া কাটু বিনু সাথিয়।
ঘাবরায়ে জিয়ারা, তড়পত জিয়া।
দরূদে দিল, জোর, রঙ্গীলা কওসর
শরা, ওহুর। লাওসাকী লাওভর,
পিয়াল তুরদে মস্তানা কর দে সব, দিল ভরূদে
দরদূ মে ইয়ার-সঙ্গ, দিল, ইয়ারা ।
জিগর কা খুন নেহি, ডরে মত, সাকিয়া,
আঙ্গুরী লােহুয়ােকঁাও, ঙ্গি। অখিয়া ?
গিয়া পিয়া আতা নেহি মত, কহহা সহেলি,
ছােড়ো হাত,-পিয়ালা মাে ভরুদেতু পহেলি ।
মত, মাচা গওগা, বসন্তমে বাহবা ম্যায়, সে কা তো?
আহা গােলনিয়ারা সখি গােলনিয়ারা-
শরাব কা নূর সে রৌশন করুদে দুনিয়া অধিয়ারা
দুনিয়া
রা দুনিয়া
১৮

পুৰৰ হাতাক্ষ
দুপুর অভিসার
যা কোথা সই এল ও তুই অলস বৈশাখে ?
জল নিতে যে যাবি ওলে। কলস কই কঁাখে ?
সজ ভেবে তুই ভরদুপুরেই দুকূল নাচায়ে,
পুকুর পানে ঝুমুর ঝুমুর নূপুর বাজায়ে
যাসনে একা হাবা ছুড়ি
অফুট জবা চাপা কুঁড়ি তুই।
ওলো রঙ, দেখে তাের লাল গালে যায়
দিগ-বধূ ফাগ থাবা থাবা ছুড়ি
পিকৰধূ সব টিটকিরি দেয় বুলবুলি চুমকুড়ি
আহা বউ-ব্যাকুল মহুল তরুর সরস ঐ শাখে ।
দুপুর বেলা পুকুর গিয়ে একুল ওকুল গেল দুকুল তাের,
ঐ চেয়ে দ্যাখ, পিয়াল-বনের দিয়াল ডিঙে এলাে মুকুল-চোর।
সারঙ, রাগে বাজায় বাঁশী নাম ধরে তাের ঐ
রােদের হিয়ায় লাগলো কঁাপন সুর শুনে, ওর সই।

পূবের হাওয়া
পলাশ অশােক শিমূল ডালে
বুলাস কি তোর হিঙুল গালে লো?
অ আ ম'লাে যা ! তাইতে হা দ্যাখ
শ্যাম চুমু খায় সকল কুসুম লালে।
পাগলী মেয়ে ! রাগলি নাকি? ছি ছি দুপুর-কালে
কেমনে দিবি সরস অধর-পরশ সই তাকে ?

পৃষেবান্না
দহন মালা
হায় অভাগী।
আমায় দেবে তােমার মােহন মালা ?
বদল করে' মালা নেবে আমার দহন-জ্বালা?
কোন, ঘরে আজ প্রদীপ জ্বেলে
ঘর-ছাড়াকে সাধতে এলে
গগন-ঘন শান্তি মেলে’ হায় ?
দু’হাত ভরে আনলে ওকি সােহাগ ক্ষীরের গালা ?
দুখের বরণ ডালা ?
পথ-হারা এই লক্ষমাছাড়ার পথের ব্যথা পারবে নিতে?
করবে বহন বাল" ?
লক্ষী মণি ! তােমার দিকে চাইতে আমি নারি
দুচোখ আমার নয়ন জলে পুরে,
বুক ফেটে যায় তবু এ হার পরতে নাহি পারি,
ব্যথাও দিতে নারি, নারী! তাই যেতে চাই দূরে।
ডাকতে তােমায় ‘প্রিয়তমা,
দুহাত জুড়ে’ চাইছি ক্ষমা
চাইছি ক্ষমা চাইছি ক্ষমা গাে।
নয়ন-বাঁশীর চাওয়ার সুরে বনের হরিণ বাঁধবে বৃথা
লক্ষী গহন-বালা।
কল্যাণী! হায় কেমনে তােমায় দেবে যে বিষ পান করেছি
নীলের নয়ন-গালা !
।

পূবের হওয়া
পথিক বধু
জ নলিন-নয়ান মলিন কেন বল সখি বল বল !
পড়লো মনে কোন পথিকের বিদায়-চাওয়া ছল ছল ?
বঙ্গ সখি বল বল ।
মেঘের পানে চেয়ে চেয়ে বুক ভিজালে চোখের জলে,
ঐ
সুদূরের পথ বেয়ে কি চেনা-পথিক গেছে চলে
ফিরে আবার আসবে বলে' গাে?
স্বর শুনে’ কার চমকে ওঠ (আহা),
ওগাে ওযে বিহগ-বেহাগ, নিঝরিণীর কলকল।
ও নয় গাে তার পায়ের ভাষা (অ-হ)
শীতের শেষের শুকনো পাতার ঝরে পড়ার বিদায়-ধ্বনি ও ;
কোন, কালােরে কোন ভালােরে
বাসলে ভালাে (মা-হা)
পরদেশী কোন, শ্যামল বঁধুর শুনচো বাঁশী সারাক্ষণই গো?
চুমুচে কারে ? ও নয় তােমার পথিক-বঁধুর
চপল হাসি হা-হা,
তরুণ ঝাউ এর কচি পাতায় করুণ অরুণ কিরণ
ওযে আহা!
দৃরের
পথিক ফিরে নাক আর ( আহা আহা)
ও সে
সবুজ দৈশের অবুঝ পাখী
কখন এসে যাচবে বাঁধন, চল সখি ঘরকে চল!
ওকি? চোখে নামলে কেন মেঘের ছায়া ঢল ঢল।

পূব হয়।
মেহ-পরশ
আমি এদেশ হতে বিদায় যেদিন নেবে প্রিয়তম,
কাদবে এ বুক সঙ্গীহারা কপােতিনী সম
তখন মুকুরপাশে এলা গেহে
আমারি এই সকল দেহে
.
চুমব আমি চুমবাে নিজেই অসীম স্নেহে গাে !
আহা পরশ তােমার জাগছে যে গাে এই সে দেহে মম,
কম সরস-হরষ সম।
তখন তুমি নাই—প্রিয়—নাইবা র’লে কাছে,
জানবে আমার এই সে দেহে এই সে দেহে গাে
তােমার বাহুর বুকের শরম-ছোওয়ার আকুল কঁাপন আছে~~
মদির অধীর পুলক নাচে !
তখন নাইবা আমার রইলো মনে
কোন খানে মাের দেহের বনে
জড়িয়েছিলে তার মতন আলিঙ্গনে গগ।
আমি চুমােয় চুমােয় ডুবাবে। এই সকল দেহ মম
ওগাে শ্রাবণ-প্লাবন সম॥

পূলের হাও
বাঁশী বাজিল
,
কার বাঁশী বাজিল
নদী-পারে আজি লো?
নীপে নীপে শিহরণ কম্পন রাজিল
কার বাঁশী বাজিল।
বনে বনে দূরে দূরে
ছল করে’ সুরে সুরে
এত করে ঝুরে কুরে
কে আমায় যাচিল ?
পুলকে এ তনু মন ঘন ঘন নাচিল।
ক্ষণে ক্ষণে আজিলল কার বাঁশী বাজিল ।
কার হেন বুক ফাটে মুখ ফোটে লো,
-কওয়া কি কথা যেন সুরে বেজে ওঠে লাে?
মম নারী-হিয়া মাঝে
কেন এত ব্যথা বাজে ?
কেন ফিরে এমু লাজে
নাহি দিয়ে যা ছিল ?
যাচা-প্রাণ নিয়ে আমি কেমনে সে বাঁচিলাে?
কেঁদে কেঁদে আজিলল কার বাঁশী বাজিল ?

পূবের হাও।
গৃহ-হারা
( ২৮ )
ওরে আমার বুকের বেদনা !
ঝা-কাতর নিশীথ রাতের কপােত সমরে
আকুল এমন কাদন কেঁদোনা!
কখন্‌ সে কার ভুবন-ভরা ভালােবাসা হেলায় হারালি,
তাইতে রে অাজ এড়িয়ে চলে সকল স্নেহে পথে দাড়ালি!
ভিজে ওঠে চোখের পাতা তাের
একটি কথায়-অভিমানী মাের!
ডুকরে কাঁদিস, “বাঁধন-হারা ওগো আমায় বাঁধন বেঁধে না।
গৃহের বাঁধন সইলনা তাের
তাই বলে কি ঘরের মায়াও ডাক দেবে না তােকে?
অভিমানী গৃহহারা রে।
চললে একা মরুর পথেও
সাজের আকাশ মায়ের মতন ডাকবে নত চোখে,
ডাকবে বধূ সন্ধ্যা-তারা যে।
জানি ওরে এড়িয়ে যারে চলিস তারেই পেতে চলিস পথে,
জোর করে কেউ বাঁধে না তাই বুক ফুলিয়ে চলিস, বিজয়-রথে
ওরে কঠিন ! শিরীষ-কোমল তুই।
মৰ্ম্মর তাের মৰ্ম্মে ছাপা বেল, কামিনী, যুঁই।
বুকভরা তাের ভালােবাসা মুখে তবু বলিস, “সেখােন।”
ওরে আমার চাপা বেদনা।

৭.হা.
অনাদৃতা
( ২৯ )
বৃথাই ওগাে কেঁদে আমার কালাে যামিনী,
অবেলাতেই পড়লাে ঝরে কোলের কামিনী-
ও সে শিথিল কামিনী
খেলার জীবন কাটিয়ে হেলায়
স্কোর না হতে সন্ধ্যে বেলায়
মলিন হেসে চড়লাে জেলায়
ময়ণ-গামিনী ।
ওরে আমার অনাদৃতা অভিমানিনী!
গাহ একটু আগে তােমার দ্বারে কেন নামিনি ?
ঝরার আগে যে কুসুমে দেখেও দেখি নাই
বৃথাই হাওয়ায় ছড়িয়ে গেল ছােটবুকের একটু সুরভি,
আজ তারি সেই শুকনো কাঁটা বিঁধচে বুকে ভাই
সেই সুরভি আকাশ কঁাদায় ব্যথায়—যেন সাজের পূরবী।

পূজে
জানলে না সে ব্যপাহা
পাষাণ-হিয়ার গােপন কথা,
বাজের বুকে ও কত ব্যথা-
কত দামিনী !
বুকের তলায় রইল চাপ। গাে
-কওয়া সে অনেক দিনের অনেক কাহিনী।
ডাক দিলি তুই যখন, তখন কেন যামিনী?
ওরে অভিমানিনী!
আমার
আহা

পূবের হয়।
স্নেহাতুর
-
( ৩০ )
এমন করে' অঙ্গনে মাের ডাক দিলি কে স্নেহের কাঙালী ?
কেরে তুই কেটে, আহা ব্যথার সুরে রে, এমন চেনা স্বরে রে,
আমার ভাঙা ঘরের শূন্যতার বুকের পরে রে—
কোন পাগল স্নেহ-সুংধুনীর আগল ভাঙালি !
কোন্ জননীর দুলালরে তুই কোন্ অভাগীর হারা-মণি,
চোখ-ভরা তাের কাজল চোখে রে
সাহা ছলছল কঁাদন চাওয়ার সজল ছায়া কালো মায়া সারাখনই
উছলে যেন পিছল ননীরে !
মুখ-ভরা তাের ঝর্ণা-হাসি
শিউলি সম রাশি রাশি
মলিন ঘরের বুকে মুখে লুটায় আসি রে।
বুকজোড়া তাের ক্ষুব্ধ মেহ দ্বারে দ্বারে কর হেনেযে যায়--
কেউকি তােরে ডাক দিল না ? ডাকলাে যারা তাদের কেন
দলে এলি' পায় ?
আমার ঘরের দ্বারে এসেই আমার পানে চেয়ে
এমন থমকে দাড়ালি?
এমন চমকে’ আমায় চমক লাগালি !

পূবে ও
এই কিরে তাের চেনা গৃহ, এই কিরে তাের চাওয়' স্নেহ্ন হয় ?
তাই কি আমার দুখের কুটীর হাসির গানের রঙে রাঙালি ?
হে মাের স্নেহের কাঙালী ।
এ সুর যেন বড়ই চেনা এ স্বর যেন আমার বাছার,
কখন, সেযে ঘুমের ঘােরে হারিয়েছিনু হয়না মনেরে,-
না চিনেই আজ তােক চিনি আমার সেই বুকের মাণিক
পথ ভুলে তুই পালিয়েছিলি সে কোন ক্ষণে সে কোন বনে রে ।
দুষ্ট ওরে, চপল ওরে, অভিমানী শিশু !
মনে কি তাের পড়ে না তার কিছু?
সেই অবধি যাদু কত শত জনম ধরে
দেশ বিদেশে ঘুরে ঘুরে'রে
মা-হারা সে কতই ছেলের কতই মেয়ের মা হয়ে বাপ
খুজছি তােরে দেখা দিলি আজকে ভােরে রে ।
উঠচে বুকে হাহাধ্বনি
আয় বুকে মাের হারামণি
আমি কত জনম দেখিনি যে ঐ মুখানি রে!
আমি

পর তাও
পেটে-ধরা নাইবা হলি, চোখে-ধরার মায়াও নহে এ,
তােকে পেতেই জন্ম এমন করে বিশ্ব-মায়ের ফাঁদ পেতেছি যে !
আজ ধরা দিয়ে মরা-মায়ের ভরা-স্নেহে হঠাৎ জাগালি ।
আহা গৃহ-হারা বাছা আমার রে !
চিনলি কি তুই-হারা-মায়ে চিলি কি তুই আজ ?
ওরে আমার অঙ্গনে তাের পরাজয়ের বিজয় নিশান তাইকি টাঙালি ?
হে মাের স্নেহের কাঙালী !!

পূৰহাওয়া
বিরহ-বিধুরা
কার তরে? ছাই এ পােড়ামুখ আয়নাতে আর দেখবে না;
সুম-রেখার কাজল-ইরফ নয়নাতে আর লেখবাে না!
লাল-রঙীলা করবে না কর মেহদী হেনার ছাপ, ঘ’সে;
গুফ চুমি কঁদবে গাে কেশ চিরুণ-চুমার আফসােসে !
কপােল-শয়া অলক-শিশুর উদাস ঘুম আর ভাঙবে না;
চু-হারা ঠোট পানের পিকের হিঙুল রঙে রাঙবে না !
কার তরে ফুল-শয্যা বাসর, সজ্জা নিজেই, লজ্জা পায় ;
পীতম্ আমার দূর প্রবাসে, দেখবে কে সাজ-সজ্জা হয়।
চঁচির চুলে ধূম্র ওড়ে, অঙ্গ বাঙায় আগুন-রাগ,
যেমনি ফোটে নন-নিকষে পিয়ার ফাগুন-স্মৃতির দাগ।
সবাই বলে, চিনির চেয়েও শিরীন জীবন,-হায় কপাল !
পীতম-হারা নিম-তেত প্রাণ কেঁদেই কাটায় সাঁঝ সকাল।
যেথায় থাকো খােশ,হালে রও,, বন্ধু আমার-শােকের বল ।
তুমি তােমার সুখ নিয়ে রও-থাকুক আমার চোখের জল।

পূবে হাও
আমি
ঐ
চাইলে বিদায় বলিস, “উহু ছাড়বেনাকো মােৱা !”
একটু মুখের ছােট্ট মানাই এড়িয়ে যেতে নারি
দেশ বিদেশের কান্না-হাসির বাঁধন ঘেঁড়ার দাগ
যে-বুকে পােরা
বলি রে সেই বুক জুড়ে' আজ, চির-জয়ীর
রথটি নিলি কাড়ি!
ওরে দরদীরা ! তােদের দরদ
শীতের বুকে আনলে শরৎ,
সহজ হেঁায়ায় পাথরকে আজ কাতর করে
অ ভরা ব্যথায় ভরালি ।
cot

পূর্বের কায়া
দূরের পথিক
আজ
ঐ
অমন ক'রে গো বারে বারে জল-ছল ছল চোখে চেয়ােনা,
শুধু বিদায়ের গান গেয়ােনা।
কাতর কণ্ঠে শেকে থেকে শুধু বিদায়ের গান গেয়োেনা
শুধু বিদায়ের গান গেয়ােনা।
হাসি দিয়ে যদি লুকালে তােমার সারা জীবনের বেদনা,
আজো তবে শুধু হেসে যাও, আজ বিদায়ের দিনে কেঁদোনা।
ব্যথা-তুর আঁখি, কঁদো কাঁদো মুখ
দেখি আর শুধু হু হু করে বুক।
চলার তােমার বাকী পথ টুক—
পথিক! ওগাে সুদূর পথের পথিক!
অমন ক'রেও অকরুণ গীতে, আঁখির সলিলে হেয়ােনা,
ওগাে আঁখির সলিমে ছেয়ােনা।
হায়

পুবের হাওন্না
-
এযে
দূরের পথিক! তুমি ভাব, বুঝি তব ব্যথা কেউ বঝেনা,
তােমার ব্যথার তুমিই দরদী একাকী
পথে ফেরে যারা দিশেহারা, কোন গৃহবাসী তারে খোজে না,
ক্ষত হয়ে জাগে আজো সেই ব্যথা-লেখা কি ?
বাউলের গানে ব্যথা হানে বুঝি শুধু ধূ ধূ মাঠে পথিকে,
মিছে অভিমান, পরবাসী, দেখে ঘর-বাসীদের ক্ষতিকে।
তবে জান কি তােমার বিদায়-কথায়
কত বুক-ভাঙা গােপন ব্যথায়
আজ কতগুলি প্রাণ কাঁদিছে কোথায়
পথিক! ওগাে অভিমানী দূব-পথিক !
ভালােবাসিল না ভেবে যেন আজো মিই ব্যথা পেয়ে যেখােন,
ওগাে যাবে যাও তুমি বুকে ব্য সা নিয়ে যেয়ােনা !

পুবের হাওয়া
প্রণয় নিবেদন
ইখন
লাে কিশােরী কুমারি !
পিয়াসী মন তােমার ঠোটের একটি গােপন চুমারি।
অফুট তােমার অধর ফুলে
কাপন যখন নাচন তুলে
একটু চাওয়ায় একটু ছুলে গাে!
এমন যেমন কেমন-কেমন কোন, তিয়াষে কোঙারি ?
ঐ শরম-নরম গরম ঠোঁটের ধীর মদির ছোয়ারি।
বুকের কচল
মুখের আঁচল বসন-শাসন টুটে’ ঐ
শঙ্কা-কুল কি কি আশা ভালােবাসা ফুটে সই ?
নয়ন-পাতার শয়ন-ঘেঁসা
ফুটচে যে ঐ রঙীন নেশা
ভাসা-ভাসা বেদনমেশা গাে।
বেদন-বুকে যে সুখ চোয়ায় ভাগ দিয়ে তার কোঙারি !
কুমার হিয়া মুক্তি মাগে অধর ছোঁয়ায় তােমারি।
আমার

পূবের হয়।
ফল-কুঁড়ি
আর পারিনে সাধতে লাে সই এক ফোটা এই চুড়িকে।
ফুটবে না যে ফোটাবে কে বললাে সে ফুলকুঁড়িকে।
ঘােমটা-চাপা পারুল-কলি,
বৃথাই তারে সাধলো অলি
পাশ দিয়ে হায় শ্বাস ফেলে যায় হুতাশ বাতাস ঢলি ।
আ 'ম'লাে ছি! ওর হ’ল কি ?
সুতাের গুতাে শ্রান্ত-শিথিল টানতে ও ম-ঘুড়িকে।
আর শুনেছিস সই ?
ওলাে হিমের চুমু হার মেনেছে এইটুকু আইবুড়ীকে !
সন্ধ্যে সকাল ছুয়ে কপাল রবির যাওয়া আসাই সার,
ব্যর্থ হ’ল পথিক-কবির গভীর ভালবাসার হার।
জল ঢেলে যায় জংলা বধু,
মৌমাছি দেয় কমলা মধু,
শরম-চাদর খুলবেনা সে আদর শুধু শুধু।
কে জানে বােন, পথ তােলা কোন,
তরুণ-চোখের করুণ-চাওয়ায় চোখঠেরেছে ছুড়িকে-
বসে আছে লাে
লজ্জাবতীর বধির বুকের
সিংহ-আসন জুড়ি কে ।।
এই

পূষের হাওয়া
পুলক
সরষে’-ফুলে লুটালে কা হলুদ-রাঙা উত্তরী।
উত্তরী বায় গাে আকাশ গাঙে পাল তুলে যায় নীল সে
পরীর দূর ভরি।
অবুঝ বীণের সবুজ-সুরে
মাঠের নাটে পুলক পুরে,
গহন-বনের পথটি ঘুরে বাজিয়ে বাঁশী আচে দুরে
কচিপাত দূত
ওরি।
মাঠ ঘাট তার উদাসচাওয়ায় হুতাশ কঁাদে, গগন মগন,
বেনুর বনে কঁপছে গো তার দীঘল শ্বাসের রেশটি সঘন ।
বেতস লতায় লুটায় তনু,
দিয়ে ভুরূর ধনু,
পাকা ধানের হীরক-রেণু নীল-নলিনীর নীলিম অণু
মেখেছে মুখ বুক ভরি।

পূবের হাওয়া
প্রণয়-ছল
ছল করে সে বারে বারে দেখতে আসে আমায়।
বিনা-কাজের কাজের ছলে চরণ দুটি আমার দোরেই থামায় ॥
জাল। আড়ে চিকের পাশে
দাড়ায় এসে কিসের আশে,
আমায় দেখেই সলাজ ত্রাসে,
গাল দুটিকে ঘামায়।
অনামিকায় জড়িয়ে আঁচল
সবাই যখন ঘুমে মগন তখন আমায় চুপে চুপে
দেখতে এসেই মল বাজিয়ে দৌড়ে পলায় রঙ খেলিয়ে
চিবুক গালের কূপে।
দোর দিয়ে মাের জলকে চলে
কাঁকন মারে কলস-গলে,
অনি চোখােচাখি হলে
চমকে ভুয়ে নখটি ফোটায় চোখ দুটিকে নামায় ।
ত

সই হাসে দেখে ছুড়ির দোর দিয়ে মাের নিতুই নিতুই কাজ অকাজে হাঁটা,
করবে কি ও? রােজ যে হারায় আমার পথেই শিখিল বেণীর দুষ্ট
মাথার কাঁটা!
একে ওকে ডাকার ভাণে
আনমনা মাের মনটি টানে,
চলতে চাদর পরশ হানে
আমারাে কি নিতুই পথে তারি বুকের জামায়।
পিঠ ফিরিয়ে আমার পানে দাঁড়ায় দূরে উদাসনয়ন যখন এলােকেশে,
জানি, তখন মনে মনে আমার কথাই ভাবতেছে সে, মরেছে সে
আমায় ভালােবেসে।
বই হাতে সে ঘরের কোণে
জানি আমার বাশীই শশানে,
ডাকলে রােষে আমার পানে
নয়না হেনেই রক্ত-কমল কুড়ির সম চিবুকটির নামায়।

পূবের হাওয়া
বরষায়
আদর গরগর
বাদর দরদর
০
এত ডর ডর
কপিছে থর থর।
নয়ন ঢল ঢল
কাজোল-কালাে জল
ঝরে লাে ঝর ঝর ।
ব্যাকুল বনরাজি
শসিছে ক্ষণে ক্ষণে,
সজনী । মন আজি মরে মনে মনে।
বিদরে হিয়া মম
দেশে প্রিয়তম
এজনু পাখীসম
বরিষা-জর জয়।

পূবের হাওয়া
সুরভি কেয়া ফুলে
এ হৃদি বেয়াকুলে,
কাদিছে দুলে দুলে
বনানী মর মর ।
নদীর কল কল ঝাউ এর ঝলমল
দামিনী জল জল
কামিনী টল মল ।
আজিলাে বনে বনে
শুধানু জনে জনে,
কাদিল বায়ুসনে
তটিনী তরতর।
আদুরী দাদুরী লল কহলাে কহ দেখি
এমন বাদরি লল। ডুবিয়া মরিব কি ?
একাকী এলােকেশে
কাদিব ভালােবেসে?
মরিব লেখা-শেষে
সজনী সর সর ।
.

পূর্বের হওয়া
বিদায় বাঁশী
মামার
পিয়াল বনের শ্যামল পিয়ার ঐ বাজে গো বিদায়-বাঁশী।
পথ-ঘুরানাে সুর হেনে সে আবার হাসে নিদয় হাসি।
পথিক ব’লে পথের-গেই
বিলিয়েছিল একটু স্নেহ,
তাই দেখে তার ঈর্ষাভরা কান্নাতে চোখ গেল ভাসি'।
তখন মােদের কিশাের বয়েস যে দিন হঠাৎ টুটলাে বাঁধন,
সেই হ’তে কা’র বিদায়-বেণুর জগৎ-জোড়া শুছি কাঁদন !
সেই কিশােরীর হারা-মায়া
ভুবন ভরে নিল কায়া,
দুলে আজো তারি ছায়া আমার সকল পথে আসি।

পূর্বাহ্ন
শেষের ডাক
মরণ-রথের চাকার ধ্বনি ঐ রে আমার কানে আসে।
পুবের হাওয়া তাই নেমেছে পারুল বনে দীঘল শ্বাসে।
ব্যথার কুসুম গুলঞ্চ ফুল
মালঞ্চে আজ তাই শােকাকুল,
গােরস্থানের মাটির বাসে তাই আমার আজ প্রাণ উদাসে
অঙ্গ আসে অবশ হয়ে নেতিয়ে-পড়া অলস ঘুমে
সাগরু-পারের বিদেশিনীর হিম-ছোঁওয়া যার নয়ন চুমে
হৃদয়-কাঁদা নিদয় কথা
আকাশ-ভেজা বিদায় ব্যথা
লুটায় গাে মােন ভুবন ভূরি বাঁধন ছেড়ার কদিন ত্রাসে।

পূবের হাওয়া
মাের কাফনের কপূর বাস ভরপূর আজ দিগবলয়ে,
বনের শাখা লুটিয়ে কাঁদে হরিণটী তার হারার ভয়ে।
ফিরে-পাওয়া লক্ষী বৃথাই
নয়ন-জলে বক্ষ তিতায়
ওগাে এ কোন্ যাদুর মায়ায় আমার দুচোখ শুধু জলে ভাসে।
আকাশসীমায় শব্দ শুনি অচিন্ কাদের আসা যাওয়ার,
তাই মনে হয় এই যেন শেষ আমার সকল দাবী দাওয়ার।
আজ কেহ নাই পথের সাথী,
সামনে শুধু নিবিড় রাতি
আমায় দূরের মানুষ ডাক দিয়েছে রাখবে কে আর বাধন পাশে

পূবের হওয়া
অভিমানিনী
ওরে
অভিমানিনী !
এমন করে বিদায় নিবি
ভুলেও
জানিনি।
পথ ভুলে তুই আমার ঘরে দুদিন এসেছিলি,
সকল-সহা ! সকল স’য়ে কেবল হেসেছিলি?
হেলায় বিদায় দিনু যারে
ভেবেছিনু ভুলবাে রে হায় !
আহা ভােলা কি তা যায় ?
ওরে হারা-মণি। এখন কঁাদি দিবস-যামিনী ।
অভাগী রে ! হাসতে এসে কঁদিয়ে গেলি,
নিজেও শেষে বিদায় নিলি কেঁদে,
ব্যথা দেওয়ার ছলে নিজেই সইলি ব্যথা,
সেই কথাটাই কাঁটার মত বেঁধে।
যাবার দিনে গােপন ব্যথা বিদায়-বাঁশীর সুরে
কইতে গিয়ে উঠলাে দু-চোখ নয়ন-জলে পুরে’
না-কওয়া তাের সেই সে বাণী,
সেই হাসিগান, সেই মুখানি হায়
আজো খুঁজি সকল ঠাঁই।
তােরে
যাবার দিনে কেদে কেন ফিরিয়ে আনিনি ?
অভিমানিনী !
৩৭

শেষের প্রীতম
ফিরনু যে দিন দ্বারে দ্বারে কেউ কি এসেছিল ?
মুখের পানে চেয়ে এমন কেউ কি হেসেছিল?
অনেক তাে সে ছিল বাঁশী,
অনেক হাসি, অনেক ফঁাসি,
কই কেউকি ডেকেছিল? আমায় কেউ কি যেচেছিল ?
ওগাে এমন করে নয়ন-জলে কেউ কি ভেসেছিল ?
তোমরা যখন সবাই গেলে হেলায় ঠেলে পায়ে
আমার সকল সুধা-টুকুন পিয়ে,
সেই তাে এসে বুকে করে তুললাে আপন নায়ে
আচমকা কোন না-চাওয়া পথ দিয়ে।
আমার যত কলঙ্ক সে
হেসে বরণ করলে এসে,
আহা বুকজুড়ানাে এমন ভালাে কেউ কি বেসেছিল।
ওগাে জানতে কে যে মনের মানুষ সবার শেষে ছিল।

পূলের হা।
•বিজয়িনী
হে মাের রাণী। তােমার কাছে হার মানি আজ শেষে
আমার বিজয়-কেতন লুটায় তােমার চরণ-তলে এসে।
আমার সমর-জয়ী অমর তরবারী
ক্লান্তি আনে, দিনে দিনে হয়ে ওঠে ভারী,
এখন এ ভার আমার তােমায় দিয়ে হারি
হার-মানা-হার পরাই তােমার কেশে।
ওগাে দেবি।
আমায় দেখে কখন, তুমি ফেললে চোখের জল,
আজ বিশ্বজয়ীর বিপুল দেউল তাইতে টলমল !
আজ বিদ্রোহীর এই রক্ত-রথের চূড়ে
বিজয়িনী! নীলাম্বরীর অচল তােমার উড়ে,
যত তুণ আমার আজ তােমার মালায় পূরে,
আমি বিজয়ী আজ নয়ন-জলে ভেসে।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Puber Hawa

Author
Islam,nazrul
Title
Puber Hawa
File name
Puber Hawa
Text
OCR done
Citation
1925
Published
2010/01/2
Publisher
Majibal Haque,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
64
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Islam,Nazrul
DLI number
511292
Barcode
4990010018453.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
oY0AXDxEueK
Download PDF

Puber Hawa