Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Kabya-nayonotsab Vol.1

Bandhopadhyay, Nabokrishna · 2009/09/12

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

কাব্য নয়নােৎসব।
প্রথম খণ্ড।
শ্রনব কে
প্রণও
কলিকাতা।
যােড়াসাঁকে। শিবকৃষ্ণ Mার লেন ৭ নং
জ্যোতিপ্রকাশ ষষ্ট্রে
অদ্বৈতচরণ থােষ আয়া
যক্তি।
সাপ।
মল্য পথিওমি স্মাণ মাত্র।

No text on this page.

সত্য চন্দ্রোদয় নাটক।
নান্দী।
সুত্রধার। হে মঙ্গলময় মহানন্দ প্রদায়ক মহেশ্বর ! তুমি অনাদি
অমধ্য অনন্ত। তুমি নিত্য সত্য সনাতন নিগুণ এবং নিরাকার কিন্তু
তােমার রূপ ও গুণের ইয়ত্ব নাই। তুমি নিরাকার রূপে সমস্ত জগৎ
কে নিরাকার করিয়া অতি গম্ভীর ভাবে অবস্থান কর; এবং
স্বাকার রূপে সমুদয় ব্রহ্মাণ্ডের উদ্ভাবন করিয়া স্বয়ং বায়ুরাকাশাদি
মহাভূত রূপে বিরাজিত হও। অতএব হে বিভাে!
বুঝিয়া মূঢ় জীব অহঙ্কার ভরে।
তােমায় লইয়া তর্ক বিতর্কাদি করে ।
কেহ বলে নিরাকার নিত্য নিরঞ্জন
কেহ বলে বিশ্বরূপ পতিত পা;
কেহ বলে শিব হন জগতের স
কেহ বলে মহাবিষ্ণু জগত আধা
কেহ বলে দুর্গা বিনে গতি আর নাই।
কেহ বলে বুদ্ধ দেব জগত গোঁসাই ।
কেহ বলে বিশ্বনাথ রাম রঘুবর ।
কেহ বলে সৰ্ব্ব কৰ্ত্তা গৌর বিশ্বম্ভর।

কাব্য নয়নােৎসব।
এই মত নানামত ল’য়ে যত নরে ।
বুদ্ধির বিপাক হেতু নানা তর্ক করে ।
তুমি ব্ৰহ্মা তুমি বিষ্ণু তুমি মহেশ্বর।
তুমি ইন্দ্র তুমি চন্দ্র তুমি দিবাকর ।
তুমি দেব তুমি দ্বিজ তুমি নরবর ।
তুমি ব্যোম বায়ু বহ্নি আদি চরাচর।
ব্ৰহ্ম রূপে করিতেছ জগত সৃজন।
বিষ্ণু রূপে করিতেছ জগত পালন।
শিব রূপে করিতেছ সংহারের কর্ম।
গুরুরূপে সৰ্ব্ব জীবে শিখাতেছ ধৰ্ম্ম ।
ভক্তগণে জ্ঞান যােগ শিখাবার তরে ।
নানা অবতার নাথ হও চরাচরে ।
অদ্ভুত তােমার শক্তি হেরিয়া নয়নে।
নমস্কার করি তব শক্তির চরণে।
হে নাথ ! এই জ্ঞান হীন কাতর কিঙ্করের প্রতি কৃপাকটাক্ষ
পাত করিয়া সেই রূপ জ্ঞান দান কর, যজ্ঞানে এই সংসারকে
অসার বােধ হইয়া তােমার ধ্যান ধারণায় মন নিযুক্ত হয়।
হে বিভাে! ত্রিতন্তু যুক্ত বীণার ন্যায় ত্রিতাপ যুক্ত আমার
এই দেহ
যন্ত্রে যেন সর্বদাই তােমার নাম ও গুণ সকল
শক্ষিত হয়।
হে প্রভাে! মেঘ নির্দোষই তােমার শব্দ, আকাশ তােমার
মস্তক, পতাল তমার পাদ, সমুদ্র তােমার উদর, চন্দ্র সূৰ্য্য
তােমার নেত্র, বহ্নি তােমার বয়ান, বেদ তােমার হন্ত, এবং আর
আর পদার্থ সকল তােমার বিরাট মূর্তির অঙ্গ প্রত্যঙ্গ স্বরূপ।
তন্মধ্যে বিজলী তােমার হাস, নীহার তােমাৱ ঘৰ্ম্ম, বৃষ্টি তােমার

কাব্য মনে।। ত অতি ঘৰ্ম্ম, বায়ু তােমার নিশ্বাস প্রশ্বাস, এবং বারি রাশি তােমার ৰুধির। হে বিরাট পুৰুষ ! তােমার এই অতুল্য বিরাট রূপ দর্শনে প্রাণী মাত্রেই বিমােহিত হইয়া রহিয়াছে। অতএব তোমার বিরাট মুৰ্ত্তিকে লক্ষ লক্ষ বার ভূমিষ্ঠ হইয়া প্রণাম করি। আলাপ। য়াছি ? অহেঃ কি আশ্চর্য কি চমৎকার !!! আমি কোথায় আসি- -এটা দেৰ সভা কি মনুষ্য সভা ? এই সকল সভ্যগণ দেবতা বা গন্ধৰ্ব্ব, ম ক কি কিন্নর অথবা নর ;-আমি তাহার কিছুই অবধারণ করিতে পারিতেছি না। নটীর প্রবেশ । নটী। হে নাথ ! ইহা দেব গন্ধৰ্ব্ব যক্ষ বা কিন্নর সভা নহে ইহা মহারাজা জনমেজয়ের মহাসভা। নরপতি সর্পমত্র সমাধানান্তে মহর্ষি বৈশম্পায়নের প্রমুখাৎ মহাভারন্তর্গত কলি উপাখ্যান শ্রবণ করিয়া আমাকে কহিলেন, নটী শ্রেষ্ঠে ! অদ্য তুমি সুন্দর রূপে দুরাত্মা কলিরাজের বিনাশভিনয় কর। ঐ দেখ প্রাণ নাথ রাজা জন্মেজয় । বসেছেন এই সভা করে আলময়। চারিদিকে পাত্র মিত্র সােভিছে তেমন। শশধরে ঘেরে যেন আছে তারা গুণ। কিবা রাজা কিবা প্রজা সভ্য সমুদয় । অভিনয় দেখিবারে সভায় উদয় ।। অতএব হৃদয়েশ কর কর সাজ। অবিলম্বে সাধি এস অভিনয় কাজ ।। প্রাণ বল্লভ! ঐ দ্যাখ সভ্যগণ তদ্রুপপ্রায় আমাদিগেব মুখাব-

কধরনােৎসব।
লােকন করিতেছেন, যেমন চাতক পক্ষি মেঘের মুখাবলােকন করিয়া
থাকে।
নট। প্রিয়ে। সভ্যগণ উদ্বিগ্ন হৃদয় হইয়াছেন বটে; কিন্তু
বিরক্ত হন নাই উহারা সকলেই নাটকাভিনয় দর্শনেচ্ছানুরক্ত
আছেন। যেমন চকোরগণ কৃষ্ণ পক্ষে বিরক্ত না হইয়া অবশ্যম্ভাবী
শুক্ল পক্ষ আগমনের প্রতীক্ষা করিয়া থাকে।
নটী। সত্য; কিন্তু আর বিলম্ব করা উচিত হয় না এদিকে
প্রায় মধ্য রাত্রি উপস্থিত এই দেখ দীপসকল সমধিক উজ্জ্বলতা
লাভ করিয়াছে ; যেমন হীরকখণ্ড রৌপ্য নির্মিত আধার যােগে
সমধিক উজ্জ্বলতা লাভ করিয়া থাকে।
নট। চল প্রিয়ে যাই তবে সাজিবার তরে।
নটী ।
যে আজ্ঞা চলুন তবে নেপথ্য ভিতরে।
উভয়ের প্রস্থান।
যবনিকা পতন।
প্রথম অঙ্ক।
পটোলনানন্তর সাধু হৃদয় পুর। তথা মনরূপ সিংহাসনােপরি
মহারাজাধিরাজ শ্রীল শ্রীযুক্ত বেদরাজ বাহাদুরের
উপবেশন। বাম ভাগে ধৰ্ম্ম অমাত্যা-
সনে উপবিষ্ট ।
উক্ত স্থানে কলিদূতের প্রবেশ।
দূত বেদ রাজার প্রতি।
মহারাজ! অসাধু হৃদর পুরাধিপতি মহাবীর কলি রাজের
আমি দুত। আমার নাম বিজাতি।

কাব্য নয়নােসবা ৫ দূত। রাজা। তােমার আগমনের কারণ কি ? মহারাজ! আপনি অবিলম্বে ধরণিতল পরিহার পূৰ্ব্বক আত্মরক্ষা করুন। আপনি কি সাহসে এবং কাহার ভরসায় প্রবল পরাক্রান্ত কলিরাজের উপরে স্পর্ধা প্রকাশ করেন ? দেখুন পৃথিবীর যাবতীয় ভূপতিগণকে তিনি স্বীয় ছত্ৰতলে আনি- য়াছেন। ব্রাহ্মণেরা প্রায় ভাবতেই তঁাহার ব্যবস্থানুযায়ি কাৰ্য্য করিয়া থাকেন। অতএব আর আপনি কাহার ভরসায় তদীয় রাজ্য রক্ষা করিতে ইচ্ছা করেন ? দেখুন প্রায় আপনার সমস্ত প্রজাগণই আমাদের ভূপতির আজ্ঞানুবর্তী হইয়াছে। আপনার হিত ইচ্ছা যদিকর মনে । তেজ্য কর নিজ রাজ্য মন সিংহাসনে । সঙ্গেল’য়ে আপনার যত দল বল । একেবারে ধরা হ’তে হওহে বিরল। মহারাজ! মহাবীর কলি কহিয়াছেন যে যদ্যপি বেদরাজ অবনিমণ্ডল পরিত্যাগ না করে ; তাহা হইলে নিশ্চয়ই তাহার সহিতে আমার ঘােরর সমর হইবে। যখন ধরিবে তীর, সমরেতে কলি বীর, তখন জানিবে প্রাণ রাখা হ’ল দায়। না ধরিতে শরাসন, তেজে মন সিংহাসন, পলায়ন করি কর জীবন উপায় । রাজা। বিজাতি! কলি এখন কোথা আছে ? দুত। তিনি সমরাভিলাষী হইয়া সন্দিগ্ধ হৃদয়নামক রণ- ক্ষেত্রে অবস্থান করিতেছেন। রাজা। দূত ! তুমি পাপাত্মা কলিকে কহিবে যে, সে যেন

৬
কাব্য নয়নােৎসব।
বীরত্ব প্রকাশ করিতে ত্রুটি করেনা; আমি অবিলম্বেই তাহার দর্প
চুর্ণ করিব।
দূত। যে আজ্ঞা আমি চলিলাম।
প্রস্থান।
( বেদরাজ ধর্মের প্রতি)
মন্ত্রি! এখন কৰ্তব্য অবধারণ কর।
ধৰ্ম্ম। মহারাজ! দুরাত্মাকে বিনষ্ট করাই কর্তব্য। দেখুন
পৃথিবীতে প্রায় স্বধর্ম চর্চা তীরহিত হইয়াছে। প্রজারা
ইচ্ছানুরূপ কার্যে নিরত হইয়া দিন দিন মলিন, দুর্বল এবং
অল্পজীবী হইতেছে।
প্রায় যত দ্বিজগণ, করে মন্দ আচরণ,
ধৰ্ম্ম পানে ফিরে নাহি চায়।
নাহি করে যাগ তপ, নাহি করে পূজা জপ,
সন্ধ্যা মন্ত্র ভুলে নাহি গায় ।
যথায় তথায় যায়, যাহা পায় তাহা খায়,
চণ্ডাল হ’তে ও নীচ মৰ্ম্ম।
অনেক দ্বিজের ছেলে, উপবীত খুলে ফেলে,
পালিতেছে বিজাতিয় ধৰ্ম্ম ।
ক্ষত্রিয় রয়েছে যারা, সবে কুলাঙ্গার তারা,
নাহি ধরে খ শরাসন।
কেহ দরয়ানি করে, কেহ বৈশ্য বৃত্তি ধরে,
ক্ষাত্ৰ ধৰ্ম্ম করেন স্মরণ।
উঠে গেছে নরমেদ,
উঠে গেছে অশ্ব মেদ,
উঠে গেছে রাজসূয় যায়।
উঠে গেছে অন্ন মেরু,
উঠে গেছে স্বর্ণ মেরু,
রাজধৰ্ম্ম হয়েছে বিরাগ ।

কাব্য নয়নােৎসব। ৭ আর যত আছে জাতি, খুজে দেখ পাতি পাতি, কেহ নাহি মানে ধৰ্ম্ম ফল। আগুণ নেগেছে মুলে, তাতেই পড়েছে ঝুলে, শাখা পত্ৰ আদি ফুল ফল । মহারাজ! পাপমতি কলি নিতান্ত প্রবল ভাব ধারণ করি- য়াছে। দুরাত্মাকে সংহার না করিলে হােম এবং বষটকার ব্যতি- রেকে জগৎ কতক্ষণ রক্ষা হতে পারে ? অতএব ব্রাহ্মণেরা যাহাতে স্বধর্ম নিরত হইয়া পুনৰ্ব্বার সত্য চন্দ্রের উদয় করিয়া মিথ্যা তিমির বিনষ্ট করিতে পারেন, তাহা যত্ন সহকারে সংসাধন করা কর্তব্য। রাজা। বল দেখি কি উপায়ে পাপাত্মাকে বিনাশ করিতে পারা যায় ? খলমতি, তােমাকে এবং আমাকে সর্ব প্রকা- রেই বল হীন করিয়া স্বরাজ্য বিস্তীর্ণ করিয়া সগর্বে প্রজা পালন করিতেছে। কিছু নাহি বল, কিছু নাহি বল, দুর্বল হয়েছি অতি । প্রজাগণ যত, কলি অনুগত, আমাতে নাহিক রতি । হয়েছি অবশঃ কাযেই সাহস, সমরে করিতে নারি । কি জানি সে জনে, জয়ী হ’তে রণে, * পারি কিম্বা নাহি পারি । ঐ দেখ আমাদিগের সেনাপতি মহাবীর আস্তিক, কলি সেনা নায়ক নাস্তিকের ভয়ে যেন শুষ্ক কাষ্ঠের ন্যায় আকার বিশিষ্ট হইয়াছে। আহা, এক সময়ে উহার প্রতাপে কাব্য নয়নােৎসব। যত শত্ৰু দল, হয়ে হীন বল, হয়েছিল অদশন। পুনঃ কাল পেয়ে, সমরেতে ধেয়ে, হরিল আমার ধন । নাস্তিক দুর্দান্ত, অত্যন্ত অশান্ত, কিছু নাই বােধাবােধ। বাক্যে কায নাই, কাল যদি পাই, তখন তুলিব শােধ। আস্তিক। মহারাজ ! আপনি যখন আমার প্রভু তখন পাপ- মতি নাস্তিক আমার কি করিতে পারে? আমি নাস্তিকের ভয়ে কশ হইনাই; কেবল মহাশয়ের দিন দিন যুদ্ধোদ্যম ভয় দেখিয়া মনাে দুঃখে নিতান্ত ক্ষীণ এবং মলিন হইতেছি। হে ভুপ! আপনি শত্রু ভয় পরিত্যাগ করিয়া যুদ্ধের আয়ােজন করুন। একাকী সমরে যাইয়া ভূপ। • দেথাব সংগ্রাম করি কি রূপ। নাস্তিকাদি তার সেনানী যত। নিশ্চয় তাহারা হইবে হত ৷৷ বিপক্ষ পতাকা উপাড়ি বলে। উড়াব তােমার ধ্বজা ভূতলে।। মহারাজ! আমি সপথ করিয়া কহিতেছি আপনাকে শস্ত্র ধারণ করিতে হইবে না। আমি একাকীই শত্রুকুল সমুলে নিৰ্ম্মল করিয়া ত্বদীয় যশরাশিতে মেদিনীমণ্ডল পরিব্যাপ্ত করিয়া ফেলিব। আপনি যুদ্ধোদ্যােগ করুন। মন্ত্রী রাজার প্রতি। মহারাজ! মহাবীর আস্তিক যাহা কহিলেন ; তাহা উহার পক্ষে অসম্ভব নহে। দেখুন এই নিদারুণ কাব্য নয়নােৎসব। ৯ সময়েও কেবল একমাত্র আস্তিকের বাহুবলেই আমরা নির্বিঘ্নে এই সাধুহৃদয়পুরে কালাতিপাত করিতেছি। হে রাজন্ ! আস্তিকের বীরত্বের পরিসমাপ্তি নাই। আস্তিকের বাহুবলে, তব মান্য মহীতলে, ব্যাপেছিল আৰ্যানার্য্য দেশ। তােমার উদ্যম নাই, কলিরাজ দেখে তাই, তব মান করিতেছে শেষ। তুমি যদি গুপ্ত রও, কোন কথা নাহি কও, দাসগণ কি করিতে পারে ? প্রকাশিয়া বীর ধর্ম, অঙ্গেতে আঁটুন বৰ্ম্ম, দেখি শত্রু হারে কিনা হারে।। আস্তিক (ধর্মের প্রতি।) হে সচিব শ্রেষ্ঠ! রাজা দুৰ্য্যোধন মহাত্মা ভীষ্মকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিল ; পিতামহ ! যখন আপনি আমার পক্ষে সেনাপতি হইয়াছেন, এবং মহাবীর দ্রোণাচাৰ্য্য, কৃপাচার্য্য, অশ্বত্থামা, কর্ণ, ও শৈলাদি রণপণ্ডিতগণ আপনার পাফি এবং পৃষ্ঠ রক্ষা কার্যে নিযুক্ত হইয়াছেন, তখন কোন পক্ষে জয় হইবে তাহা আমাকে জ্ঞাত কৰুন। ভীষ্ম কহিলেন; “ষতে-ধৰ্ম্ম গুতে জয়ঃ অতএব ; হে মন্ত্রি! তুমি সে সাক্ষাৎ ধৰ্ম্ম, ল’য়েছ অমাত্য কৰ্ম্ম, মহারাজ বেদের নিকটে। তােমার মন্ত্রণা বলে, কার সাধ্য ধরাতলে, ত্রাণ পায় সমর শঙ্কটে। ধৰ্ম্ম যার হন পক্ষ, বিপক্ষ কি করে লক্ষ্য, সেই জন সমর সাগরে। মুক্ত কণ্ঠে তাই বলি, কি করিতে পারে কলি, মহাবীর বেদ মহীধরে ।

কাব্য নয়নােৎসব। হে ধৰ্ম্ম। মহারাজ বেদের আজ্ঞা বলে, মহাশয়ের মন্ত্রণা বলে এবং আমার বাহুবলে বিপক্ষবল যে অবশ্য দুর্বল হইবে, তাহাতে সন্দেহ নাই। পুরন্দর যথা অসুর দলে। সেই মত কলি দলিব বলে। যুক্তি শাসন প্রমাণ বাণ । যুড়িলে কলির উড়িবে প্রাণ। নিজ গুণ বলা উচিত নয়। দেখাইব যদি সমর হয় । ধৰ্ম । ( আস্তিকের প্রতি সেনাপতে! আমাদের যুদ্ধ করাই উচিত। দুর্মতি কলির অতিশয় দর্প হইয়াছে। তাহার দর্পায়িতে মহারাজের দেহ মন ক্ষণকালের জন্যও সুশীতল হয় না। এই দেখ ভূপতির হেন চানন । মলিন হয়েছে সুধু কলির কারণ। অতএব কলি দর্প সহ নাহি যায় । নিশ্চয় বিনাশ রণে করিব তাহায় । ( বেদের প্রতি) মহারাজ! আপনি দুশ্চিন্তা পরিহার করিয়া রণসজ্জা কৰুন। আমরা নিশ্চয় জয়লাভ করিব। রাজা। মন্ত্রি ! যদি সমর করাই কৰ্তব্য হয় ; তাহা হইলে বিপক্ষ সমীপে এক জন সুচতুর দূত প্রেরণ করা আবশ্যক । এব কাহাকে উক্ত কর্মে নিয়ােগ করা কর্তব্য, তাহা তুমি নিশ্চয় মন্ত্রি। মহারাজ! উৎকৃষ্ট জাতি, বুদ্ধিমান্, বিদ্বান্, সদ- বক্তা, ধার্মিক এবং প্রাচীন , এবম্প্রকার ব্যক্তিকে দৌত্য কর্মে

কাব্য নয়নােৎসব
নিযুক্ত করা আবশ্যক । অতএব হিন্দুকে উক্ত কাৰ্যে প্রেরণ
করাই উচিত। কারণ হিন্দুর সদৃশ প্রাচীন, বুদ্ধিমান্, ধাৰ্মিক,
এবং বিদ্বান ও সদ্বক্তা আর দ্বিতীয় নাই।
যত লােক আছে এই অবনি ভিতরে।
হিন্দুর সমানজ্ঞান কেহ নাহি ধরে ।
তাই বলি হিন্দুকেই কর তব দূত।
ওই সেতা বােসে আছে হিন্দু গুণবুত ।
রাজা। হিন্দু ! তবে তুমিই দূত ভাবে কলিরাজার সভায়
গমন কর।
হিন্দু। মহারাজ! যে স্থানে গাে হত্যা, ব্রহ্মহত্যা সুরাপান,
মিথ্যালাপ, প্রবঞ্চনা, চুরি, কপট দূতক্রীড়া, অভােজ্যভােজন,
অগম্যগমন, অকথ্যকথন, দেবনিন্দা, পিতৃনিন্দা, গুৰু নিন্দা,
দ্বিজনিন্দা এবং মহাশয়ের নিন্দা হয়, সে স্থানে ত্বদীয় শরণাগত
এই হিন্দু ভ্ৰময়েও পদার্পণ করে না, কেবল মহাশয়ের আজ্ঞা
প্রতিপালনার্থে সেই পাপাত্মা কলিরাজার পাপময় সভায় গমন
করিতে বাধ্য হইলাম।
কি কথা কহিব তথা কহ গুণাকর।
এখনি যাইয়া কাৰ্য্য সাধিব তৎপর ।
তােমার কিঙ্কর আমি হিন্দু নাম ধরি।
ত্রিভুবনে কোন জনে ভয় নাহি করি ।
রাজা। হে দূত পতে! যখন আমাদিগের যুদ্ধ করাই নিশ্চয়
হইল, তখন পত্রাদি লিখিবার প্রয়ােজন নাই। তুমি বাচনিকে
কহিবে; রে কলি ! যদি তাের জীবিত থাকিবার অভিলাষ থাকে,
তাহা হইলে রণবাসনা পরিত্যাগ করিয়া অতি প্রচ্ছন্নভাবে মনুষ্য

১২
কাব্য নয়নােৎসব।
গণের অগম্য হিংস্র পশু সমাকুল ঘাের অরণ্যে অবস্থান কর। যদি
এই হিত বাক্য শুনিয়া দুরাত্মা স্বীয় বুদ্ধির বিপাকে দন্ত প্রকাশ
করে, তাহা হইলে পুনশ্চ কহিবে, রে পামর! তুই যে স্থলে বসিয়া
দম্ভ প্রকাশ করিতেছিস, সেই স্থলেই যে কতশতবার পরাজিত
হইয়াছিস, তাহা একবার মনে মনে স্মরণ কর।
তােমায় শিখাব কত তুমি গুণাকর।
যেরূপ শুনিবে কোর সেরূপ উত্তর ।
যত আছে পাপাশয়, ক’রনা তাদের ভয়,
বল হীন তাদের অন্তর।
তােমায় শিখাব কত তুমি গুণাকর।
যাও তুমি শীঘ্রগতি, যথা আছে খল মতি,
সঙ্গে ল’য়ে নিজ অনুচর ।
যেরূপ শুনিবে কোর সেরূপ উত্তর।
হিন্দু।
যে আজ্ঞা ; আমি চলিলাম।
[ প্রস্থান।
( পট ক্ষেপণ!)

দ্বিতীয় অঙ্ক
পটোত্তোলনন্তর সন্দিগ্ধ হৃদয় নামক রণক্ষেত্র। তথা ধর্ম বিপ্লব
নামক কদৰ্য্য রাজাসনে কলিরাজ উপবিষ্ট। বামে অধৰ্ম্ম
মন্ত্রী সম্মুখে নাস্তিক সেনাপতি এবং অন্যান্য
বীরগণ।
[ বিজাতি দূতের প্রবেশ।]
বিজাতি। মহারাজের জয় হউক।
কলি।
কেহে বিজাতি, তথাকার সমাচার কি ?
দূত।
অবধান মহারাজ, হ’লনা কিছুই কাজ,
যাতায়াত হ’ল মাত্র সার।
বিনাযুদ্ধে এ ধরায়,
তেজিবেনা বেদ রায়,
যাজান তা কর এই বার ।
অধৰ্ম্ম। মহারাজ! আমি প্রথমেই কহিয়াছিলাম যে বেদরাজা
বিনা যুদ্ধে স্বরাজ্য পরিত্যাগ করিবেনা। দেখুন আমার অনুমান
সিদ্ধ হইল কি না।
কলি। অমাত্য! বেদরাজা যে ভীস্বভাব নহে তাহা আমি
জানি, কিন্তু আমি তাহাকে বীর মধ্যে গণনা করিনা।
মন্ত্রি। মহারাজ! বােধ হয় বেদরাজ তাহার একজন, দুতকে
আপনার নিকটে পাঠাইয়াছে। ঐ দেখুন একজন দূত বেশধারী
ত্বদীয় পটগৃহাভিমুখে আগমন করিতেছে।
হিন্দু (কলি সন্নিধানে যাইয়া)। কলিরাজ! আমি মহারাজা
।

১৪
কাব্য নয়নােৎসব
বেদের দৌত্য কর্মে নিযুক্ত হইয়া ত্বদীয় সকাশে আগমন করিলাম
আমার নাম হিন্দু।
কলি। কি আশ্চর্য !! হিন্দু! তুই আমার আমলে এখন
পৰ্য্যন্ত জীবিত আছিস !!? কি কহিব যে তুই দূত; তাহা না হইলে
এই দণ্ডেই তােকে বিনষ্ট করিতাম।
হিন্দু (কলির প্রতি)। মহারাজ ?
ব্ৰথা কেন কর খেদ, যত কাল রবে বেদ,
তত কাল রবে মম কায় ।
কার সাধ্য করে নষ্ট, কে আমায় দেয় কষ্ট,
হেন জন না হেরি ধরায়।
আসিয়াছি দূত কাজে,
বেঁচে গেলে কাজে কাজে,
কটু বাক্য কহিয়া আমায় ।
তা নহিলে এইস্থলে,
প্রকাশিয়া বাহু বলে,
ভাল শিক্ষা দিতাম তােমায়।
এক্ষণে সম্রাট প্রবর মহামান্যবর বেদ যাহা কহিয়াছেন তাহা
শ্রবণ কর। তিনি কহিয়াছেন; “ রে কলি! যদি তাের জীবিত
থাকিবার অভিলাষ থাকে, তাহা হইলে রণ বাসনা পরিত্যাগ
করিয়া অতি প্রচ্ছন্ন ভাবে মনুষ্য গণের অগম্য হিংস্র পশু সমাকুল
ঘাের অরণ্যে অবস্থান কর। হে কলি ! মহারাজ বেদ তােমাকে
এই কহিয়াছেন কিন্তু আমি তােমাকে কহিতেছি-
সাধ থাকে বাঁচিবার, ছেড়ে বেদ অধিকার,
শ্লেচ্ছ দেশে করহে প্রস্থান।
তথায় যাইলে পাবে যথেষ্ট সম্মান।
কলিরাজ! তুমি এই পবিত্র ভারত ভূমে কোন ক্রমেই সুখ
লাভ করিতে পারিবেনা। এ স্থানে সকলেই তােমার শত্রু।
অতএব শক্র মণ্ডলে সুখের সম্ভাবনা কি ?

কাব্য নয়নােৎসব। ১৫ শত্রুর মণ্ডলে বাস, মূখে করে অভিলাষ, পণ্ডিতে না ইচ্ছা করে মনে। মূখেই বরণ করে আপন মরণে। কলিরাজ! তুমি এই সকল মুখ পরিষদ গণের কুপরামর্ষানু- সারে আপনার মৃত্যুকে আপনি আহ্বান করিতেছ। তােমার পক্ষে এমন বীর কে আছে ? যে তাহার বাহু বল আশ্রয় করিয়া মহাবীর বেদের সহিত সংগ্রাম করিতে চাহ ? অথৰ্ম্ম। দূত! মহারাজা নিজের এবং নাস্তিকের বাহুবলেও আমার মন্ত্রণা বলে অবশ্যই বিজয় লাভ করিতে পারিবেন। হাজার হাজার বীর, সমরে ধরিয়া তীর, যেই কাৰ্য্য করিবারে নারে। আমার মন্ত্রণা বলে, কিবা জলে কিবা স্থলে, সেই কাৰ্য্য হইতে হে পারে। হিন্দু। হাঃ কি আশ্চর্য্য! যে ব্যক্তি তােমাকে জানেনা, তুমি তার কাছে স্পর্ধা প্রকাশ কর। তব মন্ত্র বল যত, আছি আমি অবগত, আমি হিন্দু আজিকার নয়। তুমি যত মসুর, ভাঙ্গিব তাহার ভুর, এই স্থানে দিয়ে পরিচয়। হে কলিরাজ! তােমার এই অধর্ম মন্ত্রি অপেক্ষা, আমি প্রাচীন। আমার উদ্ভবের বহুকাল পরে এই পাপাত্মার জন্ম হইয়াছিল। দুর্মতি জন্ম লাভ করিয়া প্রথমে হিরণ্যাক্ষ ও হিরণ্য- কোশিপুর প্রধান মন্ত্রিত্ব পদে নিযুক্ত হইয়া স্বীয় দুর্মন্ত্রণা বলে -উভয় ভ্রাতাকে বিনষ্ট করিয়াছিল। ধার্মিক প্রবর প্রচ্ছদ পিতৃ সিংহাসন প্রাপ্ত হইয়া আপনার অধিকার হইতে উহাকে

কাব্য নয়নোৎসব।
দূরীভূত করিয়া দেন। দুরাত্মা
পদচ্যুত হইয়া
বহুকাল প্রচ্ছন্ন
ভাবে অবস্থান পূর্বক পরে লঙ্কানগরীতে রাজা দশাননের প্রধান
অমাত্যপদে নিযুক্ত হয়।
ইহারি মন্ত্রণা শুনে,
ভাবিয়া রাম গুণে,
জানকী হরিয়া লঙ্কেশ্বর।
হারাইল নিজ বংশ, আপনি হইল ধ্বংস,
রাম সঙ্গে করিয়া সমর ।
অতঃপরে বিভীষণ, পেয়ে ভ্রাতৃ সিংহাসন,
কালি দিয়ে বদনে ইহার ।
খর পৃষ্ঠে চাপাইয়া, কুলাের বাতাস দিয়া,
করে দিল রত্নাকর পার ।
বিভীষণের শাসন ভয়ে খলমতি যে কোথায় পলায়ন করিয়া-
ছিল তাহা কেহই জানি না। অনন্তর বহু দিনান্তর হস্তিনা-
পুরে রাজা দুৰ্য্যোধনের প্রধান অমাত্য পদে অধিরূঢ় হইয়া নিজ
মন্ত্রণা গুণে তাহাকে সদল সহিতে রণশায়ি করিয়া রাজা যুধিষ্ঠিরের
শাসন ভয়ে ম্লেচ্ছ দেশে পলায়ন করিয়াছিল।
আপাততঃ-
নবীন ভূপতি তােমায় পেয়ে ।
পুনশ্চ পাপাত্মা এসেছে ধেয়ে ।
নিয়েছে প্রধান অমাত্য পদ।
বেড়েছে তাহাতে অত্যন্ত মদ।
মহাপাপি ওটা অধৰ্ম্ম নাম ।
দণ্ড ভেদ বিনে না জানে সাম।
কলিরাজ ! তুমি নিতান্ত অজ্ঞান বলিয়াই দুরাত্মা তােমাকে
স্ববশে আনিছে। তুমি কদাচিৎ উহার মন্ত্রণানুসারে কাৰ্য্য
৩

কাব্য নয়নােৎসব। করিওনা। তাহা হইলে তােমাকেও অচিরাৎ হিরণ্যাক্ষাদি ভুপতি গণের ন্যায় ভাগ্য ভােগ করিতে হইবে। নাস্তিক সক্রোধে। রে হিন্দু! তুই বক্ষে বসির শত্রু উৎ- পাটন করিতেছিস? তাের এত বড় স্পর্ধা কড়া মাত্র বল নাই কথা কোষ চেড়ে। দূত বলে কিন্তু আমি দিবনাক ছেড়ে। ফের যদি কোষ, কথা হাত মুখ নেড়ে । তা হলে নিশ্চয় আমি জাবাে তােকে তেড়ে । রে বাচাল ! আমার নাম নাস্তিক। আমি দূত ফুত কিছুই মানিনা। যদি তাের প্রাণ রক্ষা করিতে চাস, তাহা হইলে অবি- লম্বে নিস্তব্ধ ভাবে প্রস্থান কর; নতুবা তাের, নিস্তার নাই। আরে মর মর,ভড়ে, কথা কোষ চেড়ে চেড়ে, ইচ্ছে হয় দিই নেড়ে, মুখের মতন। মুখেতে লাগা পর মুখের বচন হর তা না হলে যম ঘর, করাব দর্শন ॥ হিন্দু হাস্য করিতে করিতে। রে নাস্তিক! তুই আমাকে যম বর দর্শন করাবি? কি ভ্রান্তি, কি ভ্রান্তি !! এ রােগের শান্তি এখনি করিতে পারি। কি বলিব দুত বেশে, আসিয়াছি এই দেশে, তানহিলে ধরে কেশে, করে মুষ্টাঘাত। এখনি করিতে পারি তােমাকে নিপাত রে মুখ!—শঙ্কর আচাৰ্য্য ছিল দয়ার নিদান। তাই তার কাছে তাের বেঁচেছিল প্রাণ। এবার বাঁচিতে আর হবেনা ধরার। মরণ বরণ শীঘ্র করিবে তােমায় ।

১৮
কাব্য নয়নােৎসব
কলি। হিন্দু ! তুমি স্বস্থানে প্রস্থান কর। আমরা বিনা যুদ্ধে
রাজত্ব পরিত্যাগ করিবনা।
হিন্দু। হা; আসন্ন কালের কথাই এই। আমি চলিলান।
[ প্রস্থান।
কলি অধৰ্ম্ম মন্ত্রির প্রতি, অমাত্য! বেদরাজের অভিপ্রায়
বুঝিলে তাে? এখন সতর্ক হইয়া সকলে রণস্থলে অবস্থান কর ।
যেন শগণ সহসা আক্রমণ করিতে না পারে।
চারি দিকে কর থানা, যেন কোনমতে হানা,
দিতে নাহি পারে শত্রুগণ।
বেদের অমাত্য যেটা, বুদ্ধিমান বড় সেটা,
তাই ভয় হয় অনুক্ষণ।
শুনহে নাস্তিক বীর, বেছে বেছে রাখ তীর,
আস্তিক সামান্য সূর নয়।
আস্তিকের বাহু বলে, বেদের রাজত্ব চলে,
মহারথি সেই দুরাশয় ।
নাস্তিক যােড় করে, মহারাজ ! আপনি নিভয় হউন। সে
যত বড়ই বীর হউক; আমার শতাংশের এক ভাগেরও তুল্য নহে।
যতক্ষণ বেঁচে রব অখিল সংসারে ।
ততক্ষণ কার সাধ্য স্পর্ষে হে তােমারে ।।
একা যদি করি রণ ধরি শরাসন।
মূহুর্তে জিনিতে পারি সমস্ত ভুবন।
তখন পাইবে রায় মম পরিচয়।
আস্তিক সঙ্গেতে যদি যুদ্ধ কভূ হয় ।
রেখেছি যে সব বাণ করিয়া যতন।
আস্তিকের সাধ্য নাই করিতে খণ্ডন।

কাব্য নয়নােৎসব। } অতএব মহারাজ ক’রনা হে ভয়। নিশ্চয় তােমার জয় নিশ্চয় নিশ্চয় ।। মহারাজ! কুকামাদি আপনার যে ছয় জন মহারথী আছে । তাহারা প্রত্যেকে শত শত রথির কাৰ্য্য করিতে পারে। আর আমি স্বয়ং সহস্র মহারথীর বল ধরিয়া থাকি; অতএব আপনার ভয়ের তাৎপর্য কি? একাকি রাজন করিয়ে সংগ্রাম। নিশ্চয় জগতে রাখিব স্বনাম।। বিপক্ষ নিচয় আসিলে সমরে। দেখিব আস্তিক কত বল ধরে । শুনহ সকলে প্রতিজ্ঞা আমার। আস্তিকের নাম রাখিবনা আর। কলি। হে বীর! আস্তিকের বিনাশ জন্যই তুমি জন্ম গ্রহণ করিয়াছ। অতএব সে ব্যক্তি যে তােমার বধ্য, তাহাতে কিছুমাত্র সন্দেহ নাই। অধৰ্ম্ম কলির প্রতি। রাজন! এক্ষণে কোন গুপ্ত অনুচর দ্বারা বেদরাজার যুদ্ধ মন্ত্রণা সকল জ্ঞাত হওয়া যাউক। কলি। তবে একজন সুচতুর চরকে তথায় প্রেরণ কর। মন্ত্রি। মহারাজ! আধুনিক ব্রাহ্মকে চর কর্মে নিযুক্ত করাই কর্তব্য। বিজাতি। মন্ত্রিণ ! আধুনিক ব্রাহ্ম সুচতুর বটে; কিন্তু সম্পূর্ণ রূপে তাহাকে বিশ্বাস হয় না। ব্রহ্ম । বিজাতে! যদিও আমি সেই বিপক্ষ বংশে উদ্ভব হই- য়াছি বটে; কিন্তু মহারাজা কলির আমি নিতান্ত বাধ্য এবং শরণা- গত জানিবে ।

কাধ্য নয়নােৎসব।
কলি। ব্রাহ্ম! তুমি যে আমার একান্ত বাধ্য এবং তােমার দ্বারা
যে আমার অনিষ্ট ঘটিবার সম্ভাবনা নাই তাহা আমি বিলক্ষণরূপে
অবগত আছি যাও তুমি নিঃশঙ্ক মনে আমার কাৰ্য্য সংসাধন কর।
ব্রাহ্ম। যে আজ্ঞা ; আমি চলিলাম।
[ প্রস্থান।
( যবনিকা পতন )
তৃতীয়
অঙ্ক।
পটোত্তোলনান্তর সাধু হৃদয় পুর। তথা বেদরাজ
সভায় হিন্দুর প্রবেশ।
হিন্দু। মহারাজের রাজশ্রীর জয় হউক, জয় হউক।
বেদ। ক্যামন হে! সংবাদ কি?
হিন্দু। মহারাজ! দুরাত্মাদিগের দন্তের সীমা পরিসীমা নাই।
তাহারা বিনা যুদ্ধে ক্ষান্ত হইবেনা।
বেদ। উত্তম, উত্তম, আমারও বাসনা তাই।
হে সভ্যগণ ! আমি সৰ্ব্বজন সমক্ষে সপথ করিয়া কহিতেছি ।
দুরাত্মা কলিকে আর কোন মতেই অবস্থান করিতে দিব না। আমি
নিশ্চয় তাহাকে পরাভব করিয়া পুনরায় সত্যচন্দ্রের উদয় করিব।
হে বীরগণ! তােমরা অবিলম্বে সমর সজ্জা কবিয়া সন্দিগ্ধ হৃদয়
নামক রণক্ষেত্রে শুভ গমন কর।

কাব্য নয়নােৎসব। হে ৰীরগণ! তােমরা অতি যােদ্ধা এবং অতি বােদ্ধা ; সামান্য কলির পরাক্রমে তােমাদিগের কি হইতে পারে? তােমরা অদ্বিতীয় এবং অমর ; অতএব সমরক্ষেত্র যে তােমাদিগের ক্রীড়াভূমি ও অতিআনন্দের স্থান তাহা ব্যক্ত করা বাহুল্য। এক্ষণে আলাদ সহকারে রণস্থলে গমন পূর্বক শক্ত কূলকে নির্মূল কর। সজ্জা কর সেনাগণ, সাহে সেনানী জন, অঙ্গেতে আটিয়া যুক্তি বর্ম। পরিয়া বিজ্ঞান বস্তু, ধরিয়া সিদ্ধান্ত অস্ত্র, সাধাে সবে বীরােচিত কৰ্ম্ম । জয় করে ধরাধাম, তুলে দ্যাও কলি নাম, দুষ্ট জনে করিয়া সংহার। তুলিয়া বিজয় ধ্বজা, মন সুখে কর মজা, আত্ম বশে আনিয়া সংসার ।। সেনাপতে! আর বিলম্ব কোরনা, অবিলম্বে গজারােহী, অশ্ব- বােহী, রথী এবং পদাতিগণ সমভিব্যাহারে সমরক্ষেত্রে প্রস্থান আস্তিক। যে আজ্ঞা ; আমরা চলিলাম। [ সকলের প্রস্থান। (পটঃ প্রক্ষেপন) [ পটোত্তোলনানন্তর সন্দিগ্ধ হৃদয়ক্ষেত্র তথা কলি সন্নিধানে আধুনিক ব্রাহ্ম নামক গুপ্ত [ অনুচরের প্রবেশ।] অনুচর। মহারাজ! বােধ হয় এইবার বা আমাদের শ্রাদ্ধ গড়ায়।

২২ কাব্য নয়নােৎসব। কলি। ক্যান হে? ব্যাপারটা কি ? দূত। আজ্ঞা ও ব্যাপার বড় সহজ নয়। মন্ত্রি। ক্যানহে! কি রকম দেখে এলে? অনু। মহাশয় ! রকমের কথা আর বােল কি ? এবার অতি ভয়ানক রকম। বেদরাজা সভ্যগণ সমক্ষে অঙ্গীকার করিয়া কহিল, যে, আমি নিশ্চয় সেই পাপাত্মা কলিকে উপস্থিত সংগ্রামে রণ- শায়ী করিব। মন্ত্রি। ওহে! মুখে বড়াই অনেকেই করে; কিন্তু কার্যে পরি- ণত করা অতি সুকঠিন। আর কিছু শুনলে ? অনু। আজ্ঞা হাঁঃ বেদরাজা পূর্বোক্ত অঙ্গীকার পূর্বক স্বীয় সৈন্য গণকে যথেষ্ট রণােৎসাহ দিয়া প্রধান সেনাপতি আস্তিককে কহিল ; সেনাপতে! তুমি অবিলম্বে চত্তরঙ্গিণী সেনা লইয়া সমর ক্ষেত্রে গমন কর। বােধ হয়, তাহারাও আগত প্রায়। কলি। অমাত্য! বেদরাজা অতি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রতিজ্ঞ। যদি পশ্চিমের চন্দ্ৰ পূৰ্বদিকে উদয় হয় ; তথাপি তাহার প্রতিজ্ঞা বিফল হইবার নহে। অতএব অতি সাবধান পূর্বক শিবির রক্ষা কর। নাস্তিক। মহারাজ! আপনি এই দুরবীক্ষণ দ্বারা অবেক্ষণ কৰুণ ; বেদরাজা বিপুল সৈন্য লইয়া রণ ভুমে আগমন করি- তেছে। কলি, আহলাদের বিষয় ; আহলাদের বিষয়। আমাদের শস্ত্র সমুহ বহু দিবসাবধি উপবাসী আছে। (নেপথ্যে ভেরী নিস্বন ভক্ত ব্রাহ্ম কলিরাজার প্রতি।) মহারাজ! ঐ শুনুন, বিপক্ষ গণের ভেরীনাদ শুনা যাইতেছে।

কাব্য নয়নােৎসব।
কলি দুরবীক্ষণ লইয়া ঈক্ষণ করিতে করিতে) উঃ !
বিস্তর সৈন্য লইয়া আসিতেছে।
অধৰ্ম্ম, মহারাজ! উহারা পতঙ্গ সমূহের ন্যায় সমরানলে প্রাণ
পরিত্যাগ করিতে আসিতেছে। আপনি উদ্বিগ্ন হইবেন না।
এত ধরি বুদ্ধি বল,
শরা দেখি ধরাতল,
কাহারেও গণ্য নাহি করি ।
যত বড় হােক সূর,
ভাঙ্গিব তাহার ভুর,
সুশাণিত তর্ক তীর ধরি।
অধৰ্ম আমার নাম,
আমার এ দেহ ধাম,
বিষ তুল্য কুযুক্তিতে ভরা।
তাই বলি পদতলে,
কেবল অযুক্তি বলে,
এত বড় ধরা দেখি শরা।
মহারাজ! আমি যে কি প্রকার মন্ত্রণাকুশল, তাহার পরিক্ষার
সময়ও অতি সন্নিকট হইয়াছে।
কলি, হে মন্ত্রি ! তােমার বিদ্যা বৃদ্ধির পরিচয় তোমার
নামেতেই প্রকাশিত আছে। আমি কেবল তােমারই মন্ত্রণা বলে
প্রবল পরাক্রান্ত বেদবাজার উপরে স্বীয় আধিপত্য সংস্থাপন
করিয়াছি।
অধৰ্ম্ম যাহার মন্ত্রি এই মহীতলে ।
কার সাধ্য এটে ওঠে সে রাজার বলে।
ছােট বড় রাজা আছে যত এ সংসারে ।
তােমার গুণেতে আমি জিনেছি সবারে।
ওহে বাদ্যকর গণ! তােমরা, এই সময়ে একবার তুমুল শব্দে
=ণ বাদ্য কর ; য্যান বাদ্যরবে বিপক্ষগণের হৃৎকম্প উপস্থিত হয়।
বাদ্যকর, যে অজ্ঞা মহারজ।

২৪
কাব্য নয়নােৎসব।
বাদন
ভোঁপাে ভোঁপাে ভেপাে ভেপাে, ভাক ভ্যাক ভ্যাক।
এই বার ধর্ম দুর্গে এটে দ্যাও ম্যাক।
কোসেটে দ্যাও ম্যাক।
ভাও ভাও ভাও ভাও ভাও ভ্যাও ভাও।
বেদ নাম হােতে দুর করে দাও।
সবে দুর কোরে দ্যাও।
( 1 (ซับ, (1 (ซ, เชา เช้า, ((ซ, ((ซว (1
ধর যত বীরগণ সুয়ারের গোঁ ।
ধর সূয়ারের গোঁ ।
গুন্ গুন্ গুন্ গুম, গুন্ গুন্ গুন্।
মরিলে বিপক্ষ গণ আমাদের ধুম।
হবে আমাদের ধূম ।
ঝম ঝম ঝম্ ঝম ঝম ঝম্ ঝম্ ।
যত আছ সেনাগণ কোসে খাও রম্।
সবে কোসে খাও রম্ ॥
নিস্তব্ধ।
বেদরাজা ধর্মের প্রতি। মন্ত্রিবর! ঐ দ্যাখ বিপক্ষে রণ ভুমির
পশ্চিমাদকে অবস্থান করিতেছে। চল আমরা পূর্বদিকে শিবির
নিৰ্মাণ করি।
ধৰ্ম্ম, যে আজ্ঞা মহারাজ।
[ অনন্তর পূর্বদিকে শিবির নির্মাণ পূর্বক
তদভ্যান্তরে সকলের প্রবেশ) ]
(সন্ধ্যাকাল। কলি স্বীয় দূতের প্রতি।)
বিজাতি! তুমি বেদরাজার নিকটে যাইয়া বিজ্ঞাপিত কর ;

কাব্য নয়নােৎসব।
যান আগত
প্রাতঃকালে তাহার সহিতে আমার যুদ্ধার
বিজাতি। যে আজ্ঞা, আমি চলিলাম।
বেদ সন্নিধানে যাইয়া। মহারাজ! আমি কলিরাজার দুত সেই
বিজাতি। মহারাজ কলি আপনাকে কহিয়াছেন; য্যান আগত
প্রাতঃকালে তাহার সহিত আপনার যুদ্ধারম্ভ হয়।
বেদ। বিজাতি! তুমি কলিরাজাকে কহিবে যে তদীয় প্রার্থনা
শ্রবণে বেদরাজ কহিলেন ; বিজাতি! কেন সে আপনার মৃত্যুকে
আপনি আহ্বান করিতেছে? সে কি আমার পরাক্রম একেবারে
বিস্মরণ হইয়া গিয়াছে ? কি আশ্চর্য !
এসেছি যনখ রণে, তখন তাহার সনে,
কি হেতু না দেখা হবে বল ।
যতক্ষণ তার সঙ্গে, সাক্ষাৎ না হয় রঙ্গে,
ততক্ষণ তাহার মঙ্গল ॥
হে দূত! যদি কলিরাজার প্রাণ রক্ষার বাসনা থাকে। তবে
তাহাকে পলায়ন করিতে বল; কিন্তু রণ স্থলে আমার সম্মুখে
আসিলে আর আমি তাহাকে ক্ষমা করিবনা।
বিজাতি। বেদরাজ ! আপনি কলিরাজকে তাচ্ছিল্য করিবেন
না, তিনি মহাশয়ের অপেক্ষা সৰ্বাংশে শ্রেষ্ঠ
; দেখুন তাঁহার
জন্ম হওনাবধি আপনার আর পূর্ব শ্রী নাই।
যার নাম শুনে কাণে,
ভয়েই বঁাচনা প্রাণে,
হয়ে আছ শুফ কাষ্ঠ প্রায়।
জানি তাহার সঙ্গে, কেমনে মাতিবে রঙ্গে,
এ কথা যে শুনে হাসি পায় ।
বেদরাজ ! আপনি কলিয়াজের পক্রম জানিয়াও জানি
f

২৬ কাব্য নয়নােৎসব। তেছেন না; দেখুন, আপনকার তিন কালের উপার্জিত মান সন্ত্রম তিনি একালেই বিনষ্ট করিয়া ফেলিয়াছেন। অতএব হার ক্ষম- তার প্রতি বিশেষ রূপে লক্ষ্য করিয়া, যাহা কর্তব্য হয়, তাহা বেদদূত। বিজাতি! তােমাদিগের রাজার তাদৃশ দীর্ঘ বাহু নহে যে আমাদিগের ভুপতির অতি উচ্চতম মানসন্ত্রমকে স্পর্শ করিতে পারে। কলি তৃণ তুল্য বেদরাজা পৰ্বত সদৃশ । অতএব সে যে মহারাজের নিকটে অভিবক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র তাহা বর্ণনা করা বাহুল্য মাত্র। ধর্ম। ভােঃ হিন্দু! রাজা দুৰ্য্যোধন যেমন স্বকাৰ্য্য সাধন জন্য অতি অমান্য অবােগ্য রাধেয় পুত্র কর্ণকে অঙ্গ রাজ্যে রাজা করি- যাছিল ; সেই রূপ পাপাত্মা কলি কাৰ্য্য সাধনােদ্দেশে এই অতি অযােগ্য বিজাতিকে প্রায় সমস্ত ভারতবর্ষের আধিপত্য প্রদান করিয়াছে। অতএব বিজাতি যে শত মুখে কলি প্রশংসা করিবে, তাহার বিচিত্র কি ? হিন্দু। মন্ত্রিবর! কি বলিব যে দুরাচার দূত হইয়া আসিয়াছে- বেদ। বিজাতি! তােমাদিগের রাজার প্রার্থনা পরিপুরণে আমি অঙ্গীকৃত হইলাম । তুমি প্রস্থান কর। বিজাতি। যে আজ্ঞা ; আমি চলিলাম । [ প্রস্থান। অনন্তর কলি সন্নিধানে যাই। মহারাজ! আপনকার প্রার্থ- নানুসারে কল্য প্রভাতে যুদ্ধার হইবে । এক্ষণে কর্তব্য অবধারণ কলি অধর্মের প্রতি। হে অমাত্য ! বেদজা যে অদ্বিতীয় ।

কাব্য নয়নােৎসব।
পরাক্রমশালী এবং তাহার সৈন্যগণ যে নিতান্ত রণ দুর্মদ তাহা
জগদ্বিখ্যাত। অতএব এরূপ ব্যুহ রচনা করিতে হইবে, যাহা
শত্রুগণ কোন মতেই ভেদ করিতে না পারে। অধৰ্ম্ম। মহারাজ।
আমরা প্রলােভন নামক অভেদ্য ন্যূহ রচনা করিয়া শত্রুগণকে
আক্রমণ করিব । তাহারা কোন ক্রমেই উহা ভেদ করিতে
পারিবে না। সেনাপতে! তােমার মত কি?
নাস্তিক। মন্ত্রিবর! তদুক্ত ব্যুহ তুল্য সুদৃঢ় ব্যুহ আর দ্বিতীয়
নাই, কোল্য উহাই রচনা করা যাইবে।
কলি। ব্যহটি সর্বোৎকৃষ্ট ব্যুহ বটে। কিন্তু আর ও কথার
আন্দোলনে আবশ্যক করেনা।
মন্ত্রি। যে আজ্ঞা; তবে শয়ন করুন। আমরা স্ব স্ব স্থানে
গমন করি।
( সকলের প্রস্থান।
যবনিকা পতন )।
।
চতুর্থ অঙ্ক।
প্রাতঃকাল।
রণ স্কুলের পশ্চিমাংশে কলি সৈন্য এবং পূৰ্বাংশে বেদসৈন্তরণ
সজ্জায় দণ্ডায়মান। কলি—সেনাপতি নাস্তিক
কলির প্রতি।
মহারাজ! তবে আমি প্রলােভন ব্যুহ রচনা করি?
কলি। হাঃ তাহাই রচনা কর।

২৮ কাব্য নয়নােৎসব শেণ্ডিকগণ! তােমরা নাস্তিক। যে আজ্ঞা ; তবে আমার রচনা প্রণালি দৃষ্টি কৰুন। লম্পট সেনাগণ! তােমরা অদ্বিতীয় যােদ্ধা ; অতএব এই অত্যাশ্চর্য প্রলােভন ব্যুহের মুখ স্বরূপ হইয়া অগ্রভাগে দণ্ডায়মান হও। বার বিলাসিনী গণ ? তােমরা শস্ত্র ধারিণী হইয়া বহের কণ্ঠ স্থানের কাৰ্যসাধন কর। অদ্ভুত ত বীর এবং অদ্বিতীয় সাহসি অত- এব ব্যুহের বক্ষঃস্থল হইয়া বিপক্ষগণকে অবেক্ষণ কর। গুপ্ত বিল- গণ! তােমরা সুমেৰু অচলকে পাতিত করিতে পার। তােমা- দিগের অসাধ্য কোন কর্মই নাই; অতএব বুহের গর্ভ স্থান হইয়া শ কুল সংহার কর। স্বধর্মচ্যুত সেনাগণ! তােমরা ব্যুহের কটিদেশ হইয়া সতর্ক পূৰ্ব্বক দণ্ডায়মান হও। স্বেচ্ছাচারিগণ! তােমরা ব্যুহের উৰু দ্বয় হইয়া অবস্থান কর। তােমাদিগের ন্যায় মায়া যােদ্ধা এই অবনিমণ্ডলে বিরল। হে একা- কারগণ! তােমরা ব্যুহের পাদদ্বয় হইয়া বৈরি নির্যাতনের চেষ্টা কর । সৈন্যগণ আজ্ঞা মতে দাড়াইলে নাস্তিক কলির প্রতি। ভােঃ রাজন্ ! একবার এই অছেদ্য অভেদ্য প্রলােভন নামক সুদৃঢ় ব্যুহের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন । হে মহারাজ! পৃথিবীতে এমন কোন বীর নাই যে এই ব্যহ- ভেদ করিতে পারে। আপনি এবং মন্ত্রির ব্যুহ অন্তরালে অব- স্থিতি কৰুন। কুকাম, কুক্রোধ, কুলােভ, কুমােহ, কুমদ এবং কুমাৎ সৰ্য্য এই ছয় মহারথি আপনাদিগকে বেষ্টন করিয়া থাকুন।

কাব্য নয়নােৎসব।
হে ভুপ! অদ্য কুমাৎসৰ্য, সেনাপতি পদে অধিরূঢ় হইয়া শত্রু
গণের সহিত যুদ্ধ করুন আমি তঁাহার, পৃষ্ঠরক্ষা কার্যে নিযুক্ত
থাকিব।
বাদ্যকরের প্রতি। বাদ্যকরগণ! একবার বাদ্য কর।
বাদন।
পুপু পুপু পুপু পুপু পু পু পু।
তাহারেই নষ্ট কর যে করিবে টু।
টু টুন টুন টুন টুন টুন্ টন্ ।
একেবারে শক্ত গণে কোরে ফ্যাল খুন ॥
গুন্ গুন্ গুন্ গুন্ গুন্ গুন্ গুন্ ।
বিপক্ষের ভয়ে কেহ খেওনাক গুম ।
নিযুদ্ধ।
বেদরাজা স্বীয় সেনাপতির প্রতি।
সেনাপতে ! ঐ দ্যাখ পাপাত্মারা প্রলােভন ব্যুহরচনা করি-
য়াছে। তুমি কোন ব্যুহ করিতে ইচ্ছা কর ?
আস্তিক। মহারাজ! আমি অটল নামক ব্যহ করিতে ইচ্ছা
করি।
তবে তাহাই রচনা কর।
সেনাপতি। যে অাত্তা মহারাজ।
অনন্তর বুহ মুখে ভদ্র, কণ্ঠে সতী, হৃদয়ে গােপ, উদরে
লজ্জিতা, কটীতে স্বধর্মী, উৰুদ্বয়ে শুদ্ধাচারী, পাদ যুগলে
বর্ণ নামক সেনা রক্ষা করিয়া ব্যুহ নিৰ্মাণ পূর্বক বেদের প্রতি।
মহারাজ! একবার ব্যুহের প্রতি দৃষ্টিপাত কৰুন। এমন
সুকঠিন বৃহ, আর নাই। আপনি নির্ভয় মনে প্রধানমাত্যের
সহিত বহের শেষ সীমায় অবস্থান করুন। সুকাম, সুক্রোধ,
বে।

কাব্য নয়নােৎসব।
সুলােভ, সুমােহ, সুমদাদি মহারথীগণ আপনার দেহ রক্ষা কার্যে
নিযুক্ত হউন। মহাবীর সুমাৎসর্য সেনা মুখে অবস্থান করুন।
আমি উহার পৃষ্ঠ রক্ষা করিব।
অনঙর
ওহে বাদ্যকরগণ! তােমরা একবার আনন্দ সহকারে রণ বাদ্য কর ।
বাদন।
গাডা গাড্ড মাস গুম,
গাভা গাড় মাসা গুম
উদয় হইবে সত্য কলি যাবে ঘূম্ ।
ড্যাং ড্যাং ড্যাং ড্যাং ড্যাংয়া ড্যাং ভ্যাংয়া ড্যাং ড্যাং।
ভাং ভাং ভেঙে ফ্যাল, বিপক্ষের ঠ্যাং।
তা তা তা তা তা তা সী তাক।
কাকা কেটে ফ্যাল শত্রুদের নাক।
কই কই কই কই কই কই কই।
বৈরিদের মাথা কেটে করে ফ্যাল ভাই।
নিরব।
(কলিরাজার সেনাপতি কুমাৎসৰ্য্যলােভন ব্যুহের দ্বারে থাকিয়া
স্বীয় সেনাগণ প্রতি।
হে বীরগণ! অদ্য তােমরা আমার অধীনে থাকিয়া শত্ৰু সংহারে
নিযুক্ত হইলে। আমার নাম কুমাৎসর্য। আমার নিশ্বাসে লক্ষনীরও
লক্ষী শ্রী থাকে না। লােকের ভাল দেখিলে আমার মাথায় যেন
পৰ্বত ভাঙ্গিয়া পড়ে। ইহ সংসারে যে সমস্ত শ্ৰীমন্তু লােক আছে,
তাহারা সকলেই আমার চক্ষু শূল। আমি ভুলেও তাদের মুখ
দেখিনা। ভাগ্যবানের কথা দুরে থাক । যদি সামান্য দুঃখি জলে
একখানি ফর সা কাপড় পরে, তাহাও আমার অসহ।

কাব্য নয়নােব।
ত
হইল চতুরানন,
সমুদয় অবনীর, মধ্যে আমি একাবীর,
মম তুল্য বীর আর নাই।
আমার হিংসার বলে, স্বর্ণ লঙ্কা মগ্ন জলে,
রামে আমি কাননে পাঠাই।
দেখ মম হিংসাবল, ধরাশায়ী বিন্ধ্যাচল,
কলঙ্কিত হল সুধাকর।
পারিজাত হীনবাস, বলির পাতালে বাস,
ভগাঙ্গ হইল পুরন্দর।
ব্ৰহ্মছিল পঞ্চানন,
বিষ্ণুর হইল দারি কর্ম।
শিব হােল হনুমান, কায়া হীন পঞ্চবান,
তৃণ তুল্য হইয়াছে ধৰ্ম্ম ।
বেদের যে তত জাঁক, সব হয়ে গেছে ফাৰু,
কেহ আর বেদ নাহি মানে।
মর্ত্যে যারা করে বাস, প্রায় সবে কলি দাম,
সত্য কথা মুখে নাহি আনে।
সেনাগণ! আমার পরাক্রম শুনিলে? এক্ষণে নির্ভয়ে শত্রুগণ
কে আক্রমণ কর, আমি তােমাদের অগ্রভাগে আছি।
(সুমাৎমৰ্য্য নামক বেদরাজার সেনাপতি অটল নামক ব্যুহ দ্বারে
থাকিয়া স্বীয় সৈন্যগণ প্রতি।)
হে সেনাগণ! অদ্য আমিই তােমাদিগের অধিপতি হইয়া এই
সময় লাগােেপকূলে আগমন করিয়াছি, আমার নাম সুমাৎসর্য্য।
আমি অকারণে পর এ দেখিয়া কাতর হই না তবে যে কিরূপ
লােকের @, মান, যশ দেখিয়া দ্বেষ করি তাহা শ্রবণ কর।
মুদ উপল বীর মম হেষানলে।
উভয়ে নিধন হল উভয়ের বলে।

৩২
কাব্য নয়নােৎসব।
আমারি দ্বেষেতে দুষ্ট দানব বাতাপি।
অগস্ত্য উদরে ভষ্ম হ’ল মহাপাপি।
হীরণ্য কশিপু রাজা ছিল মহীপরে ।
মম দ্বেষে মল দুষ্ট নরসিংহ করে।
ক্ষত্রী হন্তা মহা ক্ৰোধী ভৃগু বংশ রাম ।
আমার কারণে তারে রাম হ’ল বাম ।
হে বীরগণ! যাহারা ধন, মান, যশ, সৎপ্রণালিতে উপার্জন
করেন, আমি ভ্রান্তি ক্রমেও তাহাদিগের প্রতি দ্বেষ করিনা।
দুরাত্মা দশানন এবং দুর্যোধন প্রভৃতি পাপমতি ভূপতিগণ অন্যায়
আচরণ দ্বারা স্বীয় স্বীয় মান, যশ, ধন উপার্জন করিয়াছিল
বলিয়াই আমার দ্বেষাগ্নিতে দগ্ধ হইয়াছিল।
ন্যায় পথে থাকি যারা হয় ধনবান।
তাহাদের লক্ষ্মী দেখে নাহি ফাটে প্রাণ।
যাহাদের ধনে নাই ধৰ্ম্ম উপার্জন।
তাহাদেরি ধনে হিংসা করে মম মন ।
মানি হয়ে যে সকলে মানিরে না মানে।
ভষ্ম করে মম দ্বেষ তাহাদেরি নে।
যশস্বী হইয়া যারা পর যশ হরে।
মম দেব তাহাদের যশ নষ্ট করে ।
যােধগণ ! তােমরা অকুতােভয়ে বিপক্ষগণের প্রাণ সংহার কর।
দুর্বল কুমাৎসর্য্য হইতে তােমাদিগের কিছু মাত্র ভয়ের সম্ভাবনা
নাই।
( কলি স্যৈ নায়ক কুমাৎসৰ্য্য সক্রোধে )
সুমাৎসর্যের প্রতি।
আরে মরমর, কেরে, কুলা না হােস্ ফেরে,
তত বড় কথা কোস যত বড় মুখ।

No text on this page.

বিজ্ঞাপন ।
...
এই কাৰ্য নয়নােৎসব এ, প্রতি মাসের ১ তারিখে খণ্ড
রূপে প্রকাশিত হয়। ইহাতে তিনব নাটক, চম্পূ এবং পদ্যময়
পুস্তক সকল ক্রমশঃ মুদ্রাঙ্কিত হইয়া জন সমাজে দর্শিত হইবে।
প্রতি খণ্ডের মূল্য ৩৬ আনা মাত্র। নিয়োজিখিত ব্যক্তিগণের
নিকট এই গ্ৰন্থত করিলে প্রাপ্ত হইতে পারিবেন।
শ্রযুক্ত বা প্যারিমােহন বন্দ্যোপাধ্যায়।
উকীল বিবি এণ্ড 'টাস আঁকি।
মুক্ত বাবু সারদা প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়।
সিমলা সাগর ঘর লেন নং ৩
মুক্তবাবু রাধা কৃষ্ণ শেট।
ক্যানিং ইট ১২৭ নং
নং।
মুক্ত বাবু নিত্যানন্দ শেট।
যােডাসকো চাষাখােঙ্গাপাড়া ৫. নং।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Kabya-nayonotsab Vol.1

Author
Bandhopadhyay, Nabokrishna
Title
Kabya-nayonotsab Vol.1
File name
Kabya-nayonotsab Vol.1
Text
OCR done
Citation
1878
Published
2009/09/12
Publisher
N.a.
Language
Sanskrit
Pages
46
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Drama
Keywords
Veda
DLI number
512776
Barcode
4990010019818.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
obFQ2UHyCDa
Download PDF

Kabya-nayonotsab Vol.1