Udaynarayanpur Tarun Sangha, Howrah
Prahlad Ed.5
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
~
us !
હજાર
No text on this page.
৮
৯k
ও
বরদাকান্ত মজুমদার
প্রণীত
পঞ্চম সংস্করণ
১৩৩০
মূল্য • আনা।
ও
প্রকাশক
আশুতােষ ধর
আশুতােষ লাইব্রেরী
ঙ্গে ৫নং কলেজ স্কোয়ার
কলিকাতা
©ণ্ঠ ও
প্রকাশক কর্তৃক
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রিন্টার—ত্রৈলােক্যচন্দ্র সুর
আতােষ কে,
ঢাকা।
t
উপহার পৃষ্ঠা
প্রাদ
আমার
কে
D
উপহার
দিলাম।
তারিখ
}
=
S ති
No text on this page.
معه)
7
3
%
দিবারাত্রি একমনে কঠোর সাধনা করিতে
পারিলে এ পৃথিবীতে যে অসাধ্য সাধন
করিতে পারা যায়, তাহার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
হিরণ্যকশিপু।
হিরণ্যাক্ষ ও হিরণ্যকশিপু দুই ভাই।
হিরণ্যাক্ষ বড—হিরণ্যকশিপু ছােট। তাহারা
দৈত্য—ভয়ানক বলবান, অত্যন্ত খল, হিংসুক,
অহঙ্কারী ও রাগী। তাহাদের ভয়ে স্বর্গ মর্ত্য
পাতাল-তিনলােক সর্বদাই শঙ্কিত থাকিত।
তাহার, কখন যে কোথায় গিয়া কাহায়
সর্বনাশ করিবে, তাহার কিছুই ঠিক ছিল না,
=
২
প্রহলাদ
অসীম।
তাই তাহাদের নাম শুনিলেই লােকে ভযে
চক্ষু বুজিত—লুকাইয়া থাকিবার জন্য জায়গা
খুজিত।
বিশেষতঃ হিবণ্যাক্ষ আবার ভয়ানক
গোযার। সে যখন যাহা গোঁ ধবিত, তাহা
করিযা কিছুতেই ক্ষান্ত হইত না। তাহার
চেহাবা যেমন ভযঙ্কব-শৰীবে বলও তেমনি
সে নিজের বলে সৰ্ব্বদাই অহঙ্কারে
বুক ফুলাইযা চলিত, এবং অষ্টপ্রহর অস্ত্রশস্ত্রে
সজ্জিত হইযা, কেবল পথে ঘাটে দেশে বিদেশে
ঘুরি ঘুরিকাহাকে মারিবে, কাহাব
ঘরবাড়ী বিষযসম্পত্তি কাডিয়া লইবে—তাহার
চেষ্টা করিত।
এইরূপে দুই ভাইযে মিলিযা কেবল
মারামারি, কাটাকাটি, যুদ্ধ
বিগ্রহ করিযা,
বাহুবলে প্রকাণ্ড রাজ্য স্থাপন করার পর
হইতে, ছােট ভাই হিরণ্যকশিপু কতকটা শান্ত
হইয়া যুদ্ধ বিগ্রহ, মারামারি, কাটাকাটি
প্রহলাদ
A - - - -
হইতে ক্ষান্ত হইল, এবং বাজকার্যে মন দিল।
কিন্তু বড় ভাই হিরণ্যাক্ষের যুদ্ধের সাধ মিটিল
, সে ছােট ভাই হিৰণ্যকশিপুর ঘাড়ে
রাজ্যের সমস্ত ভাব চাপাইযা দিয়া, নিশ্চিন্ত
হইযা, স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতালে কেবল মারামারি,
কাটাকাটি ও যুদ্ধ কবিয়া ঘুরিয়া বেড়াইতে
লাগিল।
এইরূপে দৈত্যবাজেরা ক্রমে ক্রমে স্বর্গ,
মত্ত ও পাতাল তিনলােক জম করিয়া বিশাল
সাম্রাজ্য স্থাপন করিয়া ফেলিল। দেবতারা
পৰ্য্যন্ত তাহাদের ভাযে স্বর্গরাজ্য ছাড়িয়া
সুমেরু পর্বতে গিযা পলাইয়া রহিলেন।
ত্রিভুবন দৈত্যরাজদেব অধীন হইল।
কিন্তু বড় ভাই হিরণ্যাক্ষ মােটেই
রাজকাৰ্য দেখিল না, সে কেবল দিন দিন
নূতন নূতন রাজ্য জিতিযা লইয়াই নিশ্চিন্ত ;
আবার নূতন নূতন স্থানে গিয়া আরও নূতন
নূতন রাজ্য জিতিয়া লইবার ফিকিরে
যুদ্ধ করিয়া বেড়াইতে লাগিল। কাজেই
ছােট ভাই হিরণ্যকশিপুই হইল—ত্রিভুবনের
একচ্ছত্র সম্রাট।
হিরণ্যাক্ষ ও হিরণ্যকশিপু দুই ভাই-ই
পরম শিব-ভক্ত-মহাশৈব। একমাত্র মহাদেব
ভিন্ন তাহারা অন্য দেবতা মানিত না, এবং
তাহাদের অধীন কেহ মহাদেব ভিন্ন অন্য
কোন দেবদেবীর পূজা করিতেছে দেখিলে,
তাহারা ক্রোধে অধীর হইযা, সেই দণ্ডেই
তাহাকে কঠোর শাস্তি দিত।
সুতরাং
রাজভয়ে কেহই অন্য কোন দেবদেবীর নাম
পৰ্য্যন্ত মুখে আনিতে সাহস পাইত না।
এইরূপে দৈত্যরাজের অধীন রাজ্য সকল
হইতে মহাদেব ভিন্ন অন্য সকল দেবদেবীর
পূজা একেবারে লােপ হইল।
বিশেষ-বিষ্ণু-পূজা! রাজভ্রাতৃদ্বয় শুনিয়া-
ছিল যে, বিষ্ণু-ত্রি-সংসারের পালনকর্তা
তিনি অদ্বিতীয় ক্ষমতাবান মহাশক্তিশালী,
•
बश्नान
««
অ্য
তাহার সমকক্ষ মহাবীর আর জগৎ সংসারে
নাই।
মহাদাম্ভিক—অত্যন্ত
অহঙ্কারী বলদর্পী ভাই দু’জনের কাণে একথা
যেন বিষ ছড়াইয়া দিল। তাহারা ভাবিত যে,
তাহাদের মত বলবান ও শক্তিশালী বীর
বিশ্ব-সংসারে আর দ্বিতীয় নাই; সুতরাং বিষ্ণুর
শক্তি ও ক্ষমতার কথা শুনি, তাহারা মনে
মনে জ্বলিযা উঠিল, এবং কেমন করিয়া সেই
বিষ্ণুকে দমন করিতে পারিবে, তাহার চেষ্টায়
ফিরিতে লাগিল।
এই হইল বিবাদের সূত্রপাত। কিন্তু
সেই বিষ্ণুব দেখা কোথায় পাইবে যে, তাহার
সঙ্গে যুদ্ধ করিয়া তাহাকে দমন করিবে।
তখন বেশী গোযার, বেশী অহঙ্কারী বড় ভাই
হিরণ্যাক্ষ প্রতিজ্ঞা করিল যে, যেমন করিয়াই
হউক, সে ত্রিভুবন খুঁজিয়াও বিষ্ণুকে বাহির
করিয়া তাহার দর্প চূর্ণ করিবে। সেই
চেষ্টায় সে রাজ্য ছাড়িয়া দেশ-দেশান্তরে
==
ক
প্রদ
««« ««
বিষ্ণুর অন্বেষণে ঘুরিয়া বেড়াইতে লাগিল।
এদিকে, দৈত্যবাজ হিবণ্যকশিপু আপনার
সাম্রাজ্যের মধ্যে যেখানে যত বিষ্ণুর মন্দির
ছিল, সে সমস্তই ভাঙ্গিযা চুবিয়া মাঠ করিযা
ফেলিল, এবং যেখানে যত বিষ্ণু-উপাসক
বৈষ্ণব ছিল, তাহাদেব উপব ঘােতর নিষ্ঠুব
অত্যাচার কবিতে আবম্ভ করিল। সকলেই
রাজভয়ে প্রকাশ্যে বিষ্ণুব উপাসনা ছাডি
দিল।
কিন্তু তাহাতেও নিস্তাব বহিল না।
হিবণ্যকশিপু বিস্তর গুপ্তচর নিযুক্ত করিযা
গােপনে দেশ বিদেশে পাঠাইতে লাগিল। কেহ
গােপনে বিষ্ণুর পূজা কবিতেছে কি না, তাহার
গােপনে গােপনে সেই সন্ধান করিয়া বেড়াইতে
লাগিল, এবং যেখানে যাহাকে সেইরূপ
কবিতে দেখিল, তাহাকেই ধরিয়া আনিযা
রাজদরবারে হাজির করিতে লাগিল। দৈত্যরাজ
সেই সকল নিরীহ
বৈষ্ণবগণকে যেরূপ
উচ্চ
প্রহলাদ - - ^^e 566 পৈশাচিক শাস্তি দিতে লাগিল, তাহা দেখিয়া সকলেই ভয়ে কঁপি উঠিল। । কাজেই ক্রমে ক্রমে দৈত্যরাজ হিবণ্যকশিপুব বিশাল সাম্রাজ্য হইতে বিষ্ণুপূজা এবং বৈষ্ণব-ধৰ্ম্ম একেবারে লােপ হইল। কিন্তু তবুও বিষ্ণুব দর্শন মিলিল না ! এইরূপে বহুকাল কাটিয়া গেল। তখন হিরণ্য- কশিপু বাজ্যপালন এবং সুখভােগে মত্ত হইযা উঠিয়াছে; সুতবাং এসব কথাও আর বড় মনে নাই, বৈষ্ণবদের শাসনও অনেকটা আলগা হইয়া গিয়াছে—সেদিকে রাজারও আর বড় লক্ষ্য নাই। তিনি সুখভােগে মগ্ন। হিরণ্যাক্ষ সেই যে বিষ্ণুর অন্বেষণে কোন্ কালে গৃহত্যাগ কবিযা চলিযা গিযাছে, তাহাবও আর সন্ধান নাই। হিরণ্যকশিপু সে কথাও এক রকম ভুলিয়া গিয়াছে। মহাসুখে ভােগবিলাসে দৈত্যবাজ হিরণ্যকশিপুর দিনগুলি একভাবেই , কাটিয়া যাইতেছে। ০
এলাদ
সুযােগ পাইয়া গােপনে গােপনেবৈষ্ণবধর্ম
আবাব একটু একটু করিযা মাথা তুলিবার চেষ্টা
করিতেছে। রাজার আর সেদিকে ভ্রূক্ষেপও
নাই, বিষ্ণুর নাম পর্যন্ত তাহার মনে আছে
কি না, সন্দেহ।
এমন সময় এক ঘটনা ঘটিল।
@
২
কোন কিছুরই বাড়াবাডি ভাল নয়।
“অত্যন্ত” কথাটাই খারাপ। সংসারের এমনই
নিয়ম যে, যে ব্যক্তি সহ্যের সীমা ছাড়াইয়া যখন
কোন কিছুতেই অত্যন্ত অধিক ভাবে মগ্ন হইয়া
পড়ে,তখনই তাহার পতন ঘটিয়া থাকে।
অত্যন্ত উচুতে উঠিলে পডি গিযা হাত-পা
ভাঙ্গে, অত্যন্ত ক্রোধ কিম্বা অত্যন্ত আনন্দে মত্ত
হইলে মানুষের জ্ঞান লােপ হয়, তখন তাহার
বিনাশ ঘটিতে আর একটুও বিলম্ব হয় না।
হিরণ্যাক্ষেরও তাহাই হইয়াছিল।
E
नाम যেখান হইতে যেমন করিযাই হউক বিষ্ণুকে খুজিযা বাহির করিযা বাহুবলে বধ করিবে, এইরূপ প্রতিজ্ঞা করিয়া হিরণ্যাক্ষ সেই যে গৃহত্যাগ করিয়া আসিয়াছিল, সেই অবধি আর অন্য কোনও চিন্তা তাহার মনে স্থান পায় নাই। কেবল সেই এক চিন্তা, এক উদ্দেশ্য মনে রাখিয়া ক্রমাগত স্বর্গ-মর্ত্য-পাতালের চারিদিকে তন্ন তন্ন করিযা খুজিযা বেড়াই- তেছিল। হিংসা, বিদ্বেষ ও ক্রোধে তাহার কাণ্ডজ্ঞান একেবারে লােপ হইয়াছিল। সম্ভব অসম্ভব, সুবিধা অসুবিধা, স্থান কাল, কিছুই সে গ্রাহ্য করে নাই। যখন যেখানে যাইতেছিল সেইখানেই উন্মত্তের মত বিষ্ণুকে অন্বেষণ করিয়া ঘুরিতেছিল। এমন সমযে সে সংবাদ পাইল যে, বিষ্ণু পাতালপুরে বরাহরূপে অবস্থিতি করিতেছেন। আর তাহাকে পায় কে। অমনি উম্মত্তের মত মহা আক্রোশে দম্ভ করিতে করিতে পাতালপুরে চলিল। উ র
প্রদ
• : 56
কিন্তু সেখানে গিযা যাহা দেখিল, তাহাতে
তাহার চক্ষু স্থির হইল। চাবিদিকে কেবল
জল-অসীম, অগাধ জলরাশি ধূ ধূ কবিতেছে
বিষ্ণু কোথায় ?
সে ভাবিল যে, বিষ্ণু নিশ্চয়ই সেই অগাধ
সলিল-বাশিব ভিতবে কোথাও না কোথাও
লুকাইয়া আছেন, নচেৎ আব তাে কোথাও
থাকিবার স্থান নাই। এই ভাবি সে আনন্দে
অধীর হইয়া উঠিল, একবারও তার মনে হইল
যে, এই ধূ ধূঅগাধ জলরাশিব ভিতবে বিষ্ণুর
দেখা পাইলেই বা তাহার সহিত যুদ্ধ করিবে
কেমন কবিয়া? সে আর কিছুমাত্র চিন্তা বা
ইতস্ততঃ না করিয়া মহাক্রোধে গর্জন করিতে ,
করিতে হুড়মুড় কবিয়া গিযা জলে নামিল, এবং
অত্যন্ত আস্ফালন কবিতে কবিতে নানাপ্রকার
গালিবর্ষণ করিযা বিষ্ণকে দেখা দিবার জন্য
আহ্বান করিতে লাগিল।
তখন হঠাৎ সেই মহাজলরাশি ভয়ানক
হিবণ্যক্ষের সঙ্গে ববাহরূপী বিষ্ণুব দ্বন্দ্ব-যুদ্ধ
No text on this page.
প্রহ্লাদ চঞ্চল হইযা উঠিল, এবং সঙ্গে সঙ্গে এক ভীষণ- দর্শন মহাকায় ববাহ তাহাব ভিতর হইতে ®ি উঠিযা ভৈরব হুঙ্কাব ছাডিয, তাহাব দিকে অগ্রসর হইল । সে ভীষণ হুঙ্কাবে ত্রিভুবন কাপিয়া উঠিল । প্রলয” নিকট ভাবিয়া স্বর্গ, মৰ্ত্ত, পাতালেব সমুদয় প্রাণী তটস্থ হইয়া পড়িল। কিন্তু হিৰণ্যাক্ষ তাহাতে ভ্রুক্ষেপও করিল না। এত দিনে তাহাব আশ মিটিয়াছে -সে বিষ্ণর দর্শন পাইযাছে, এইবারে সে তাহাব প্রতিজ্ঞা পূর্ণ কবিবে, বাহুবলে বিষ্ণুকে বিনাশ কবি ত্রিলােকের কাছে বিষ্ণুহন্তা বলিযা পূজা পাইবে, আব তাহাকে পায় কে? সে মহানন্দে ঘােবতব আস্ফালন করিয়া বরাহের উপর গিয়া পড়িল। একে মহাচঞ্চল অগাধ জলরাশি, তাহাতে স্বয়ং ববাহরূপী বিষ্ণুব সঙ্গে দ্বন্দ্ব-যুদ্ধ। সহস্রগুণ বলশালী হইলেও হিরণ্যাক্ষেব কি শক্তি যে, সে যুদ্ধে জয়ী হইতে পারে ? জয়ী হওয়া তােত
১২
প্রদ
/এএ
দূরের কথা—হিরণ্যাক্ষ সেই জলরাশির মধ্যে
আপনাকে স্থিবভাবে রাখিয়া বেশীক্ষণ যুদ্ধ
করিতেই পারিল না। অতি অল্পকালের মধ্যেই
তাহাব বল হ্রাস হইল, হস্ত-পদ শিথিল হইয়া
আসিল, মাথা ঘুরিতে লাগিল, সৰ্বাঙ্গ থর থর
করিয়া কাপিতে লাগিল, এবং দেখিতে দেখিতে
সে একেবাবে
নিস্তেজ-মৃতপ্রায়
হইয়া
পড়িল।
তখন ভীষণ তীক্ষ দন্তে বরাহ
হিরণ্যাক্ষকে একেবাবে চিরিয়া বধ করিল।
এত দিনে অতি দম্ভের ফল ফলিল।
হিরণ্যকশিপু রাজসভায় বসিযা গল্প-গুজব
ও রঙ্গরহস্যে মগ্ন ছিলেন। হঠাৎ সেখানে
সংবাদ আসিয়া পেীছিল,
“মহারাজ। আপনার জ্যেষ্ঠ মহাবীর
হিরণ্যাক্ষকে পাতালপুরীতে বরাহরূপী বিষ্ণু ।
বিনাশ করিযাছেন।”
হঠাৎ সম্মুখে বজ্রপতন হইলে লােকে যত
আশ্চর্য্য হয়, এ সংবাদ শুনিয়া সভা
১),
৬
প্রহাদ
সকলেই তাহার অপেক্ষাও অধিক আশ্চৰ্য্য
হইল। কাহারও মুখ দিয়া একটি কথা পৰ্যন্ত
বাহির হইল না; যে যেখানে যেমন ভাবে
ছিল, ঠিক তেমনি ভাবে থাকিয়া কেবল ফ্যাল
ফ্যাল কবিয়া শূন্য দৃষ্টিতে চাহিতে লাগিল।
কি ঘটনা যে ঘটিয়াছে, তাহাও যেন কেহ
ভাল করিযা বুঝিতে পারিল না। তখন দূত
আবার সভযে কহিল,
“মহাবাজ। মহাবীর হিরণ্যাক্ষ আর
এসংসারে নাই।
বরাহরূপ ধরিয়া
বিষ্ণু
তাঁহাকে পাতালপুরীতে বধ করিয়াছেন।”
এইবারে রাজার জ্ঞান হইল, তিনি সমস্ত
ব্যাপার বুঝিতে পারিলেন।
সঙ্গে তাহার মুখের যে ভাব হইল, তাহা
দেখিবামাত্রই সভাস্থ সকলে থর থর করিয়া
কাপিয়া উঠিল।
নিবান আগুনে ফু দিয়া ঘি ঢালিলে
যেমন তাহা হঠাৎ মহাতেজে দপ, করিয়া
অমনি সঙ্গে
5
১০
প্রদ
উঠিলেন।
জ্বলিযা উঠে, হিৰণ্যকশিপুও তেমনি ক্ষণকাল
রক্তমুখে ঠোট কামড়াইয়া নীবব থাকি,
পরক্ষণেই মহারােষে ভীষণ গর্জন করিয়া
এত দিন এ সকল কথা ভুলিযা
ভােগ-বিলাসে মগ্ন হইয়াছিলেন বলিযা
আপনাকে সহস্রবাব ধিক্কাব দিলেন ; তাব
পর জ্যেষ্ঠেব মৃত্যুতে হৃদযভেদী হাহাকাব
তুলিযা শােক কবিতে
করিতে লাগিলেন, এবং
সর্বশেষে প্রতিজ্ঞা করিলেন যে, তঁাহাব
জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাব বিনাশকারী সেই বিষ্ণুব বক্তে
তিনি অপিন হস্ত ধৌত কবিবেন, তবে
তাহাব এ শােক দূর হইবে।
কিন্তু বিষ্ণুর দেখা পাইবেন কোথায়?
মন্ত্রীরা পরামর্শ দিল,-“মহারাজ, ধৰ্ম্মেব স্থাপন।
ও রক্ষাকর্তা বিষ্ণু , আপনি সর্বপ্রকার উপাযে
অহোরাত্র কেবল সেই ধর্মের হিংসা কবিতে
থাকুন, তাহা হইলে বিষ্ণুকে এক দিন না একদিন
আপনা হইতে আসিয়া দেখা দিতেই হইবে।”
উ
৫
बस्लाम
।
তাহাই হইল। সেই হইতে হিরণ্যকশিপু
আপনার সাম্রাজ্য মধ্যে চারিদিকে ঘােরতর
পৈশাচিক নিষ্ঠুরতা আরম্ভ করিলেন। আবার
হরিভক্ত বৈষ্ণবদের উপর ঘােরর অত্যাচার
চলিতে লাগিল। দেখিতে দেখিতে ত্রিভুবন
জুড়িয়া মহা হাহাকার উঠিল। তাঁহার রাজ্য
মধ্যে বিষ্ণুর নাম পর্যন্ত মুখে আনা নিষেধ
হইয়া গেল। কেহ যে গােপনেও আর একটি
বার হরিনাম স্মরণ করিবে, তাহার পর্যন্ত
উপায় রহিল না। দিবারাত্রি হাহাকার-বনিতে
হিরণ্যকশিপুর সাম্রাজ্য ভরিয়া উঠিল।
নিরীহ বৈষ্ণবের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত
হইতে লাগিল।
এইরূপ বিধান করিয়াও হিরণ্যকশিপু
স্থির হইতে পারিলেন না। বিষ্ণুর দেখা পাইলে
তিনি তাঁহাকে বধ করিয়া ভ্রাতৃ-হত্যার প্রতি
শােধ সইবেন বটে, কিন্তু বিষ্ণু তাে-অমর।
ওই
बनाम
তিনি নিজে অমর হইতে না পারিলে, তাহার
সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হইবেন কেমন করিয়া ? তখন
হিরণ্যকশিপু স্থির করিলেন যে, অগ্রে তপস্যা
করিয়া অমর হইবেন, তারপর বিষ্ণুর উপর
ভ্রাতৃ-হত্যার প্রতিশােধ লইবেন।
যেমন ভাবনা-তেমন কাজ। তিনি
তখনই উপযুক্ত মন্ত্রিগণের হস্তে রাজকার্যের
সমস্ত ভার অর্পণ করিয়া নিজে তপস্যা করিতে
গমন করিলেন।
হিরণ্যকশিপু যতই দুর্দান্ত হউক না কেন,
তাহার একটা
মহৎ গুণ ছিল, তাহা
ঐকান্তিক অধ্যবসাযের সহিত সাধনা। তিনি
যখন যে কাৰ্য্য কবিতে ইচ্ছা করিতেন, তাহা
শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিতান্ত একাগ্রভাবে
সমস্ত মন প্রাণ লাগাইয়া ঐকান্তিক চেষ্টায়
সাধনা করিতেন। এরূপ ভাবে সমস্ত কায়-
মন-প্রাণ ঢালিয়া ঐকান্তিক সাধনা করিতে
পারিলে, জগতে কোন কাৰ্য্যই অসাধ্য থাকে
উ)
=
na । হিরণ্যকশিপু “অমর” বর লাভের আশায় সেইরূপ মনপ্রাণ লাগাইয়া ঐকান্তিক $ ভাবে মহাতপস্যা করিতে লাগিলেন। তাহার আহার নাই, শয়ন নাই, বিশ্রাম নাই, বিরাম নাই—দিবারাত্র সমান ভাবে কেবলই তপ করিতেছেন। মাথার উপর দিয়া প্রকৃতির সমস্ত উপদ্রব বহিযা যাইতেছে—সে দিকে হৃক্ষেপ নাই, বাহজ্ঞান পৰ্যন্ত নাই- কেবল নিবিষ্টচিত্তে মহাতপস্যায় মগ্ন রহিয়া- এইরূপে কিছুকাল গত হইলে, সৃষ্টিকর্তা আর স্থির থাকিতে পারিলেন না; তিনি আসিয়া হিরণ্যকশিপুকে বর লইতে ছেন। কহিলেন। হিরণ্যকশিপু কহিলেন,-“যদি আমার তপস্যায় তুষ্ট হইয়া থাকেন, তবে আমাকে ‘অমর বর দান করুন।” ব্ৰহ্মা কহিল্লেন,-“অমর বর দিতে পারি -না, উহা ছাড়া অন্য ৰ লও।” &
১
প্রহলাদ
www.
তখন হিরণ্যকশিপুর মাথায় এক বুদ্ধি
খেলিল। তিনি ভাবিলেন যে, সৃষ্টিকর্তা
কাহাকেই তো কখনও ‘অমর' বর দেন না,
তবে আমাকেই বা দিবেন কেন? আমি
কৌশল করিযা এমন বর চাহিযা লই যে, উনি
‘অময় বর না দিলেও, আমি পাকেপ্রকারে
যথার্থই ‘অমর হইয়া থাকিব, এবং তাহা
হইলেই আমার উদ্দেশ্য সিদ্ধ হইবে।
এইরূপভাবিয়া হিরণ্যকশিপু কহিলেন,
“বেশ, যদি নিতান্তই অমর বর না দেন, তবে
আমি যাহা যাহা চাহি, সেই সকল বর প্রদান
করুন।”
ব্ৰহ্মা বলিলেন—“বেশ, চাও। অমর
বর ভিন্ন অর যাহা যাহা চাহিবে, সে সমস্তই
দিব।”
তখন হিরণ্যকশিপু মনে মনে সন্তুষ্ট হইয়া
কহিল,-“তবে এই বর দিন যে, আমি ভুলে,
জলে, শুন্যে মরিব না; দেব, দৈত্য, নর, যক্ষ,
s
ওঃ
=
প্রহলাদ
বক্ষ, পিশাচ, ভূত, প্রেত, পশু, পক্ষী, কীট,
পতঙ্গ কাহারই বিনষ্ট হইব না; অন্ত্রে,
শস্ত্রে, অগ্নিতে, বায়ুতে, বজ্রাঘাতে, ভূমিকম্পে ৪ে
বা পতনে মরিব না; ঘরের ভিতরে বা বাহিরে
মরিব না; দন্তে, খড়গ, শৃঙ্গে, দংশনে আমার
মৃত্যু হইবে না।”
ব্ৰহ্মা বলিলেন,-“তথাস্তু, যাহা যাহা
বলিলে, তাহার কিছুতেই তােমার মৃত্যু হইবে
-না।” এই বলিযা ব্রহ্মা অন্তর্হিত হইয়া
গেলেন।
তখন হিরণ্যকশিপুর আমােদ দেখে কে।
তিনি ভাবিলেন যে, সৃষ্টিকর্তাকে খুব
ঠকাইযাছেন, ব্ৰহ্ম। যেমন তাহাকে ‘অমর বর
দিতে কিছুতেই স্বীকার করেন নাই—তেমনি
তাহাকে বুদ্ধিকৌশলে ভুলাইয়া তিনি
প্রকারান্তরে সেই ‘অমর’ বরই লাভ
করিয়াছেন। এ সংসারে, এমন কিছুই নাই,
যাহাতে তাহার মৃত্যু ঘটিতে পারে, তবে
E
ss
তিনি প্রকৃতপক্ষে ‘অমর হইয়াছেন' ভিন্ন আর
কি? এইবারে তিনি বিষ্ণুকে বুঝিয়া লইবেন।
এইবারে তিনি ভ্রাতৃ-হত্যার প্রতিশােধ লইবেন।
হিরণ্যকশিপু তপস্যায় অসাধ্যসাধন
করিয়া যখন আবার রাজধানীতে ফিরিয়া
আসিলেন, তখন তাহার মুখে সুসংবাদ শুনিয়া
রাজ্যময় আনন্দের তুফান দুটিল। রাজাও
নার ক্ষণকাল বিলম্ব না করিয়া সৈন্য-সামন্ত
লইয়া আবার ইন্ত্রের অমরাবতী জয় করিবার
উদ্দেশ্যে বাহির হইলেন।
এত দিনে দেবতারা আবার ধীরে ধীরে
একটু একটু করিয়া তাহাদের পূর্ব অধিকার
সকল পুনর্বার দখল করিয়া লইয়া বসিয়া,
ছিলেন। ব্রহ্মার বরে দ্বিগুণ বলীয়ান হইয়া
হিরণ্যকশিপু যখন আবার আসিয়া তাঁহাদের
রাজ্য আটক করিল, তখন তাহারা আবার
সে সকল ছাডিয়া সুমেরু পর্বতে পলাইয়া
গেলেন।
উ
gণ্ড
s প্রদ তার পর হিরণ্যকশিপু আবার নববলে বলীয়ান হইযা চারিদিকে ঘুরিয়া দিগ্বিজয় করিয়া আসিলেন এবং অবশেষে আপন রাজ্যে বসিয়া—কেমন করিয়া হরির দেখা পাইবেন, মন্ত্রিগণের সহিত অষ্টপ্রহর কেবল সেই পরামর্শ আঁটিতে লাগিলেন। এবার শত গুণ প্রবল ভাবে তিনি ধর্মের হিংসা করিতে আরম্ভ করিলেন। সামান্য সামান্য তুচ্ছ ব্যাপারেও তিনি এমন কঠোর পৈশাচিক দণ্ড দিতে আরম্ভ করিলেন যে, তাঁহার নাম শুনিয়াই ভয়ে লােকের আত্ম- পুরুষ উড়িয়া যাইতে লাগিল। বিষ্ণু তাহাদের চিরশত্রু, এই কথা তিনি সাম্রাজ্যময় প্রচার করিয়া আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলকেই বিষ্ণুদ্বেষী করিয়া তুলিতে লাগিলেন। যে তাহাতে ইতস্ততঃ করিল, সেই অত্যন্ত কঠোর যন্ত্রণা পাইয়া প্রাণ দিতে লাগিল। সুতরাং হিরণ্যকশিপুর সাম্রাজ্য প্রস্থ ==== । এ প্রহলাদ - - - - হইতে হরিনাম একেবারে লুপ্ত হইল, এবং সে সাম্রাজ্যের ছােট-বড়, ইতর-ভদ্র সকলেই বিষম কৃষ্ণদ্বেষী হইয়া উঠিল । &০ ৪ দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুব চারিটি পুত্র- হাদ, অনুদ, সংহাদ এবং প্রহলাদ। প্রহলাদ—সকলের ছােট। প্রহাদ যখন গর্ভে, তখন রাজরাণী কয়াধূ স্বপ্নে নানা দেবদেবীর আগমন দেখিতেন, সকলে আসিয়া তাঁহাকে ঘিবিযা দাড়াইয়া যেন আনন্দে নৃত্য করিত। জাগিয়া উঠিলে তঁাহাব মনে হইত-কাহারা যেন সর্বদাই তঁাহার চারি পাশে বেড়াইতেছে, কখনও বা অন্যমনস্ক অবস্থায় দূরে হরিনামের মধুর রব আসিয়া তাহার কাণে পঁহুছিত। মনে হইত—আশে পাশে যেন শত শত অশরীরী প্রাণী হরিনাম করিতে করিতে নাচিয়া বেড়াইতেছে। ৯২ প্রবাদ এই সকল লক্ষণ দেখিয়া রাণী কযাধু মনে মনে বড় ভয় পাইলেন। এ কথা টের পাইলে কৃষ্ণদ্বেষী দৈত্যরাজ পাছে তাঁহাকে হত্যা করিয়া ফেলেন, সেই ভয়ে স্বামীকে কিছুই জানাইতে সাহস করিলেন না, অথচ নিজেও স্থির থাকিতে পাবিলেন না। যেন কোন কিছু একটা নিতান্ত অস্বাভাবিক অসম্ভব ব্যাপার ঘটিবে, এমনি তঁাহার মনে হইতে লাগিল। তখন তিনি অতি সংগােপনে কুল- পুরােহিতের নিকটে গিয়া সেই সকল বৃত্তান্ত জানাইয়া, তাহার ফল জানিতে চাহিলেন। আলাের পাশেই অন্ধকার, দিনের পাশেই রাত্রি, ইহাই বিশ্ব-সংসারের নিয়ম। যেখানে যে বিষয়ে যত কড়াকডি, অনুসন্ধান করিয়া দেখিলে—সেখানে সেই ব্যাপারের ছড়াছড়ি দেখিতে পাওয়া যায। কৃষ্ণদ্বেষী দৈত্যরাজের সাম্রাজ্যে কৃষ্ণ নাম স্মরণ করা পর্যন্ত নিষেধ থাকিলেও, অনেক ধাৰ্মিক, সজ্জন, পণ্ডিত ব্যক্তি ট g@ ॥ প্রহ্লাদ va অতি সংগােপনে মনে মনে হরিভক্ত ছিলেন। এই পুরােহিতেব প্রকৃতিও সেইরূপ ছিল। তিনি একে একে কয়াধূব সকল কথা শুনিয়া এবং রাজরাণীর বাহ সৌন্দর্য্যে জ্যোৎস্না বিকাশের মত আশ্চৰ্য প্ৰভা উছলিয়া পড়িতেছে দেখিয়া মনে মনে অত্যন্ত আনন্দিত হইলেন। বুঝিলেন যে, ভাগ্যবতী রাজমহিষী কোন পরম বৈষ্ণবমহাগুণবান সন্তানকে গর্ভে ধারণ করিয়া- ছেন। তাহার জন্মে দৈত্যবংশ ধন্য হইবে, পৃথিবী পবিত্র হইবে এবং সংসার হইতে কৃষ্ণ- বিদ্বেষ দূর হইয়া যাইবে। কিন্তু রাণীকে সে সকল কথার কিছুমাত্র না জানাইযা কেবল বলিলেন,-“মাগাে, তুমি বড় । ভাগ্যবতী, তােমার গর্ভে এক মহাপুরুষ আসিয়া জন্ম লইয়াছেন , তাহার জন্মে দৈত্যকুল পবিত্র ও বন্য হইবে। কিন্তু খুব সাবধান, এ সকল কথা ঘূণাক্ষরে কাহারও কাছে প্রকাশ করিও না, সর্বদা খুব সাবধানে ও সতর্ক মত থাকিও'।” ও E
প্রহলাদ
२१
হইলও তাই। সূতিকাগার আলাে করিয়া
সে সন্তান যখন ভূমিষ্ঠ হইল, তখন রাণী কয়াধু
তাহাব অপূৰ্ব্ব রূপের প্রভা এবং দিব্য গঠন
দেখিয়া মুগ্ধ হইয়া গেলেন। তাহার কেবলই
মনে হইতে লাগিল-এ অপূৰ্ব্ব মূৰ্ত্তিধারী দিব্য
সন্তান তো সাধারণ নয়, ইনি নিশ্চয়ই কোন
মহাপুরুষ। তাঁহার ভাগ্যবলে—তাহার গর্তে
পুত্ররূপে আসিয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছেন। রাণী
অবাক হইযা নির্নিমেষ নযনে চাহিয়া বহিলেন।
একে তাে মাযের প্রাণ, তার উপর এমন
অপূৰ্ব সন্তান। সুতবাং সূতিকাগার হইতেই
রাণী কধুর হৃদযের সমস্ত স্নেহরস সেই শিশু
সন্তান একেবারে নিঃশেষে টানিয়া লইল। সে
সন্তানের মঙ্গলের জন্য রাণী আপনার প্রাণ
পৰ্যন্ত উৎসর্গ কবিতে প্রস্তুত হইযা রহিলেন।
ক্রমে দিনে দিনে শুক্লপক্ষের শশিকলার
মত প্রহলাদ রূপের ছটায় দৈত্যপুরী আলাে
কবিয়াবাডিতে লাগিল। রাজা পরমানন্দে
খ্রঃ
প্রদ
তাহার সমস্ত জাতকৰ্ম্ম একে একে মহাসমা-
রোহে সম্পন্ন করাইলেন।
পুত্রের অপরূপ
গঠন এবং সৌন্দর্য দেখিয়া তাহাব আর
আনন্দ রাখিবার স্থান বহিল না। তঁাহার
আরও তিনটি সন্তান আছে—কিন্তু প্রাদই
হইল একমাত্র নয়নের মণি-স্বরূপ।
আর শুধু রাজাই বা কেন, দাস-দাসী,
'চাকর-নফর, লােক-জন, আত্ম-পর—যে একবার
প্রহলাদকে দেখে, একবার তার কচি ঠোঁটে
ফুলের হাসির মত মধুর হাসি দেখে, একটিবার
তার আধ-আধ ভাষায মধুর কথা শুনে—সে-ই
একেবারে মুগ্ধ হইযা যায়। নডিযা চড়িয়া,
ঘুরিয়া ফিরিযা সকলেই নানা ছলে শত বার
আসিযা সে চাঁদমুখখানি দেখিয়া যায়। কেহ
আর তাহাকে না দেখিয়া স্থির থাকিতে পারে
না। এইরূপে সেই অপূৰ্ব শিশু রাজ্যশুদ্ধ
আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার মন হরণ করিয়া লইল
আবার কেবল রূপেই নয়—গুণেও সে
=
এহৃদ
২৭
শিশুর জোড়া নাই। কান্না যে কেমন—তা
প্রচ্ছদ জানে না। সেই রাঙ্গা রাঙ্গা কচি ঠোট
দু’খানিতে অষ্ট প্রহর মধুর হাসি লাগিযাই
আছে। সে জোরে কথা কহিতে পারে না,
আবদার লইতে জানে না, অভিমান করিতে
শিখে নাই। মুখখানি সর্বদাই প্রফুল্ল, সৰ্ব্বদাই
হাসিমাখা-ফোটা পদ্মফুলটির মত—সর্বদাই
ঢলঢল, সৰ্ব্বদাই একটা মধুর শান্তির ছটা সেই
সুন্দর মুখখানির উপর প্রভা ছড়াইয়া বিরাজ
করিতে থাকে। এমন শিশুকে ভাল না বাসিয়া
কে থাকিতে পারে ?
বাল্যস্বভাবেও প্রহলাদের চরিত্রে আর
এক অপরূপ লক্ষণ আপনা-আপনি প্রকাশ
পাইল। বালকেরা সকলেই স্বাভাবিক চঞ্চল
হইয়া থাকে, কেহ বা বেশী-কেহ বা কম।
কিন্তু প্রচ্ছদ সৰ্ব্বদাই স্থির, ধীর, শান্তপ্রকৃতি,
সর্বদাই যেন কি এক মহাভাবে বিভাের।
সঙ্গী বালকেরা যখন বাগানে দৌড়াদৌড়ি
বে
&
প্রহলাদ
কবি বেড়ায়, প্রহলাদ তখন এক জায়গায় স্থির
ভাবে চুপটি করিযা বসিয়া বসিযা একমনে যেন
কি দেখিতে থাকে। সঙ্গীরা যখন মারামারি,
চেঁচাচেচি করিয়া কোলাহলে আকাশ-বাতাস
কাপাইযা তুলে, প্রহ্লাদ তখন আপন মনে যেন
কি এক মহ'-রহস্যের ভিতরে মগ্ন হইয়া
বসিয়া থাকে , কাহারও সঙ্গে কথা কহে না
কাহারও সঙ্গে খেলিতেও যায় না, কিন্তু সে
সময়েও তাহার মুখে সেই অপূৰ্ব্ব মধুর হাসিটুকু
লাগিযাই থাকে।
কেহ তাহাকে খেলিবার জন্য টানাটানি বা
পীড়াপীড়ি করিলে, সে কেবলমাত্র মুখ ফিরাইয়া
এমন একটু মধুর হাসে যে, বালকেরাও তাহাকে
আর বিরক্ত করিতে ইচ্ছা করে না। এই সব
দেখিয়া শুনিয়া রাণীর মনে পুরােহিতের সেই
ভবিষ্যৎ বাণী জাগিতে লাগিল। পুত্রের সেই
সব লক্ষণে তিনি মনে মনে যেমন অপার
আনন্দ লাভ করিলেন, ভয়ও তেমনি কম হইল
৪),
প্রহ্লাদ २० AAA AA AAAA NNNNNNN « ««« । তিনি বুঝিলেন যে, এ সন্তান দৈত্যবংশের উপযুক্ত নহে। প্রাদের এক একটা অদ্ভুত রকম প্রশ্নে তাহার মনে সে ভয় আরও বেশী চাপিয়া বসিল। তিনি এতদিনে বেশ টের পাইলেন- এ শিশু পরম ধাৰ্মিক—হরিভক্ত, সুতরাং তাহার ভবিষ্যৎ অমঙ্গল আশঙ্কায় মনে মনে বড়ই শঙ্কিত হইয়া উঠিলেন। তখনকার কালে সকল রাজসংসারেই নিয়ম ছিল যে, পাঁচ বৎসর বয়সে বালকদের হাতে খডি দিযা গুরুগৃহে বিদ্যাভ্যাস এবং অস্ত্র- শিক্ষা করিবার জন্য পাঠানাে হইত। বালকেরা সেই সময় হইতে গুরুগৃহে থাকিয়া বিদ্যাশিক্ষা এবং অস্ত্র-শস্ত্র শিক্ষা করিয়া উপযুক্ত হইলে গুরু তাহাদিগকে আনিয়া আবার পিতামাতার নিকটে ফিরাইয়া দিয়া যাইতেন। গুরুগৃহে বালকদেব বাসকালে পিতামাতা ক প্রদ র সর্বদাই তাহাদেব খোঁজখবর বাখিতেন, এবং মাঝে মাঝে গৃহে আনাইযা দেখাশুনা করিয়া আবার উহাদিগকে সেখানে পাঠাইয়া দিতেন। ইহাতে বালবেবা গৃহে বাস কবাব মত-বাপ- মা বা আত্মীয়-স্বজনের অতিবিক্ত আদর পাইয়া নষ্ট হইতে পারিত না, এবং যথাকালে উপযুক্ত রূপ পাণ্ডিত্য লাভ কবিয়া, ঘবে ফিরিযা আসিযা বাপ-মাযের কাছে সংসাবধৰ্ম্ম শিখিত। বাজকুমাব ভিন্ন অন্যান্য বিদ্যার্থী বালকেরাও এইরূপে গুরুগৃহে বাস কবিয়া বিদ্যা শিক্ষা সে জন্য গুরুকে সর্বদাই শিষ্যদের জন্য সকল প্রকার উদ্যোগ আযােজন করিয়া রাখিতে হইত। এই জন্য রাজারা তখন অধ্যাপক পণ্ডিতমণ্ডলীকে যথেষ্ট বৃত্তি, ভূ- সম্পত্তি এবং নানাপ্রকার পুরস্কারে সর্বদাই পুরস্কৃত কবিতেন। সুতরাং অধ্যাপক পণ্ডিত মণ্ডলীর অবস্থাও মন্দ ছিল না। এইরূপে বিদ্যাশিক্ষার জন্য গুরুগৃহে বাস করিত। ও @ে == @ ২৪ প্রসাদ করিবাব কালে, রাজকুমারদেব সকলকেই অন্যান্য পড়ােদের সঙ্গে একত্র বাস করিয়া, একসঙ্গে মিলি মিশিয়া থাকিযা বিদ্যাভ্যাস কবিতে হইত। তাহার ফলে বাজকুমাবদের চরিত্রে বৃথা দম্ভ, আত্মাভিমান ও সাধারণ লােকদেব উপব ঘৃণা, বিদ্বেষ প্রভৃতি দোষবাশি স্পর্শ কবিতে পাইত না। সুতরাং যখন রাজ- কুমারেরা কৃতবিদ্য হইয়া যথাকালে পৈত্রিক সিংহাসনে বাজা হইযা বসিতেন, তখন তাহার। রাজ্যের প্রজাবৃন্দের সকল সুখ-দুঃখের কথা অবগত হই, সেইরূপে রাজ্য শাসন করিতেন। সুতরাং সেকালে অধিকাংশ রাজাই যে প্রজা- দের ভক্তিভাজন হইবেন তাহার আশ্চৰ্য্যকি? প্রহাদেব তিনটি বড় দাদা এইরূপে গুরু- গৃহে থাকি বিদ্যাভ্যাস করিত। মাঝে মাঝে বাপ-মা যখন তাহাদিগকে গৃহে আনাইতেন, তখন 'প্রাদেব প্রাণে আর সুখের সীমা
প্রহলাদ
থাকিত না। সে সকল ভুলিযা দাদাদের সঙ্গে
সঙ্গে ছায়ার মত ফিবিত। তাহাদেব মুখে গুরু-
গৃহের কত গল্প শুনিত, কত বকম লেখাপড়া ও
অস্ত্র শস্ত্র শিক্ষার কথা শুনিত। এই সব শুনিয়া
শুনিয়া তাহারও বড় সাধ হইত যে, সেও দাদা-
দের মত গুরুগৃহে থাকিযা লেখাপড়া শিখিবে।
বাপ-মা বালকেব কথা শুনিয়া আহলাদে গদগদ
হইয়া মুখ চুম্বন
করিয়া বলিতেন,—“যাবে বৈ
কি বাবা! আগে বড় হও, পাঁচ বছবে পড,
তখন তুমিও দাদাদের সঙ্গে সেখান থেকে
লেখাপড়া শিখিবে।”
ক্রমে সেই সময় উপস্থিত হইল। প্রহলাদ
রাজা ও রাণীব বড়ই আদরের সন্তান, তাহাকে
এক দণ্ড চক্ষের অডি কবি তাঁহারা থাকিতে
পারেননা।সর্বদাই রাজারাণীতে বলাবলি করেন
যে, প্রহলাদ দৈত্যকুল উজ্জ্বল করিবে, ভূমণ্ডলে
অক্ষয় কীর্তি ও অমব নাম রাখিয়া যাইবে।
সুতরাং তাহার শিক্ষা দীক্ষাও এখন হইতেই
is n প্রহাদ ৩৩ সেইরূপ হওয়া উচিত। তাই বাজা মনে মনে স্থির করিয়াছিলেন যে, স্বয়ং কুলগুরু শুক্রা- চার্যের নিকটে বাখিযা প্রদকে সৰ্ব্বশাস্ত্রে সুপণ্ডিত করিবেন। কিন্তু তাহার বয়স পাঁচ বছর হইলে, বিদ্যাশিক্ষার সময় যখন উপস্থিত হইল, তখন দৈত্যগুরু শুক্রাচার্যকে পাওয়া গেল না। সময়ে তিনি তপস্যা করিবার জন্য হিমালয় পৰ্বতে গমন কবিয়াছিলেন। তাঁহার দুই পুত্র ষণ্ড এবং অমর্ক গৃহে থাকিয়া বিদ্যার্থী শিষ্য- গণকে বিদ্যাদান করিতেন। ঘণ্ড এবং অমর্ক শুক্রাচার্য্যেব উপযুক্ত সন্তান। তাহারা বিদ্যায়, জ্ঞানে, বুদ্ধিতে, বিবে- চনায়, সকল বিষয়েই পিতার উপযুক্ত সন্তান হইয়া উঠিয়াছেন। সুতরাং তাহাদেব কাছেই শিষেরা বিদ্যাভ্যাস করিত। প্রজাদের বড় দাদারাও এই পরম পণ্ডিত ষণ্ড ও অমর্কের গৃহে থাকিয়া বিদ্যাশিক্ষা করিতেছিল।
৩৪
প্রদ
যখন শুক্রাচার্যকে পাওয়া গেল না, এবং
তিনি যে কবে তপস্যা শেষ কবিযা গৃহে ফিবিযা
আসিবেন, তাহাও নিশ্চয় জানা গেল না, তখন
দৈত্যরাজ হিবণ্যকশিপু প্রহলাদকে বিদ্যাশিক্ষাব
জন্য তাঁহাদের হস্তে অৰ্পণ কবিতে মনস্থ করি-
লেন। নহিলে প্রহলাদেব বিদ্যাশিক্ষাব ব্যস
চলিযা যায়, শুক্রাচার্য্যের আশপথ চাহিযা,তিনি
কতকাল অপেক্ষা কবি বসিয়া থাকিবেন ?
এদিকে দাদাদের সঙ্গে গুরুগৃহে বিদ্যাভ্যাস
করিতে যাইকে বলিয়া প্রদেব আমােদ
দেখে কে? নড়ে চড়ে আর বাপ-মার কাছে
গিযা গুরুগৃহ-বাসের সম্বন্ধে নানারূপ প্রশ্ন
করিয়া নানা সংবাদ জানিযা লয। লেখাপড়া
শিক্ষায় প্রহলাদের এরূপ আগ্রহ ও আনন্দ,
বিশেষতঃ প্রাণের টান দেখিয়া রাজারাণীও
আনন্দে অধীর হইয়া
উঠিলেন। তঁাহারা শত
বার পুত্রকে কোলে লইয়া
মুখ চুম্বন
করিয়া
নানাপ্রকার সদুপদেশ দিতে লাগিলেন। তঁাহা-
তে
No text on this page.
।
MOMILA -
প্রাদ গুরুগৃহে বিদ্যাভ্যাস করিতেছে।
s
.
প্রদ
দেব মনে বড় আশা হইল যে, প্রহলাদ
দৈত্যকুলে অদ্বিতীয় হইয়া বংশ উজ্জ্বল
করিবে।
অবশেষে শুভদিন দেখিযা প্রহলাদের
গুরুগৃহে গমনের দিন ধার্য হইল। এদিকে
সে দিন যতই নিকটবর্তী হইতে লাগিল, পুত্রের
অদর্শন আশঙ্কা রাণী কযাধুর মন ততই চঞ্চল,
ততই উতলা হইয়া উঠিতে লাগিল। তাঁহার
কিছুতেই ইচ্ছা হয় না যে, পাঁচ বছরের দুধের
বালককে আপনার কোল ছাড়া করিযা, গুরু-
গৃহে পাঠাইয়া দেন। কিন্তু না দিলেও নয়,
কর্তব্য সকলের আগে ; স্নেহ, মায়া, ভালবাসা
পরে। স্নেহের বশবর্তী হইয়া তিনি কি
প্রাণাধিক পুত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট করিতে
পারেন?
রাণী কয়াধূ নিজের মনের ভাব মনে চাপিয়া
রাখিয়া, গােপনে চক্ষের জল মুছিযা, প্রলাদের
গুরুগৃহে গমনের সমস্ত আযােজন নিজ হস্তে
জ
@
প্রবাদ
করিয়া দিতে লাগিলেন। এদিকে প্রহ্লাদও
মাকে ছাডিয়া যাইবে বলিয়া মনে মনে একটু
চঞ্চল হইযা উঠিল , কিন্তু বুদ্ধিমান বালক সে
ভাব মনে গােপন বাখিযাই জননীকে নানা
রকমে প্রবােধ দিযা অনবরত হাসাইবার চেষ্টা
করিতে লাগিল।
ক্রমে সেই শুভদিন উপস্থিত হইল। বাজা
শুক্রাচার্যের পুত্রদ্বষ ষণ্ড ও অমর্ককে ডাকাইয়া
বিশেষ সাবধান করিযা দিলেন যে, সেই বয়স
হইতেই প্রহলাদের মনে যাহাতে কৃষ্ণ-বিদ্বেষ
জম্মায, তাঁহারা যেন সেদিকে বিশেষ সতর্কতা
অবলম্বন করেন। যে শিক্ষায় হরিনামের প্রতি
অনুরাগ জন্মে, যে শিক্ষায় বিষ্ণুর প্রতি ভক্তি
ও শ্রদ্ধার উদয় হয়, সেরূপ শিক্ষা যেন
ঘূণাক্ষরেও বালককে দেওযা না হয়। বালক
যদি কখন ভুলিয়াও বিষ্ণুনাম মুখে উচ্চারণ
করে, তাহা হইলে তিনি আর শিক্ষকদের রক্ষা
‘রাখিবেন না। আর সে যদি-সেই বয়স হইতেই
இன்
6.3ঞ্জ@ে C##
.
প্রহলাদ
৮-
ঘােরর বিষ্ণুদ্বেষী হইয়া উঠে, তাহা হইলে
তিনি শিক্ষকদের এমন পুরস্কৃত করিবেন যে,
® তাহারা ভূতলে রাজার সুখ ভােগ করিতে
পাবিবেন।
ঘণ্ড ও অমর্ক কহিলেন,—“মহারাজ,
পুরস্কারেব আশা করি না। রাজাদেশ অক্ষরে
অক্ষরে প্রতিপালন করিব, ইহাই আমরা
শ্রেষ্ঠ কর্তব্য ও ধৰ্ম্ম বলিযা জানি।”
রাজা শুনিযা অত্যন্ত খুসী হইলেন, এবং
প্রদকে আনিযা তাঁহাদের হস্তে অর্পণ
করিলেন। প্রহলাদ পিতা-মাতাকে এবং অন্যান্য
গুরুজনকে প্রণাম করিযা দাদাদের সঙ্গে গুরু-
গৃহে বিদ্যাভ্যাস করিতে গমন করিল।
গুরুগৃহে গিযা শুভদিনে প্রলাদের
‘হাতেখড়ি হইল। তার পর যে দিন প্রথম
অক্ষর পরিচয় আরম্ভ হইল, সেদিন এক আশ্চর্য
ঘটনা ঘটিল
উ
=
COM
৫৫
৩৮
नाम
-
vv????v :v
প্রহলাদ স্বরবর্ণগুলি একবার মাত্র
দেখিয়াই উত্তমরূপে শিখিয়া ফেলিল। তাহা
দেখিয়া গুরু দুইজনেব আর আনন্দের সীমা
বহিল না। তঁাহার অন্যান্য বালককে প্রহলাদের
দৃষ্টান্ত দেখাইযা ব্যঞ্জনবর্ণ চিনাইতে আরম্ভ
করিলেন। প্রথমেই একটি মস্ত বড় ‘ক’ লিখি
বলিলেন—“এই দেখ বাবা, ‘ক’ , পড বাবা,
‘ক’।”
কিন্তু প্রদি কথা কহিল না, সে সেই
‘ক’ অক্ষর দেখ্যিা বিভােবপ্রাণে তাহাব দিকে
চাহিযা বহিল। তাহাব সৰ্বাঙ্গ পুনঃ পুনঃ
আনন্দে বােমাঞ্চিত হইতে লাগিল। চক্ষুদ্বয
আনন্দাশ্রুতে ভবিযা উঠিল, মুখ চোখ দিয়া
অপূৰ্ব আনন্দেব ছটা যেন ঠিইয়া পডিতে
লাগিল। ইহা দেখিযা সকল বালকই তাহার
দিকে অবাক হইযা চাহিযা রহিল। গুরু
দুইজনও কম আশ্চর্য্য হইলেন না। দু'একটা
জ্যেঠা ছেলে পরস্পর বলিযা উঠিল,-
ও
৪ প্রলাপ ® “তবেই হযেছে, ‘ক’ দেখেই কেঁদে সারা, উনি আবাব লেখাপড়া শিখবেন।” এই কথা শুনিয়া সকলেই হাে হাে করিযা হাসিয়া উঠিল। গুক দুইজন বার কতক বেত নাচাইযা মুখে খুব ধমক দিযা, তাহাদিগকে থামাইলেন। তার পরে প্রহলাদের দিকে ফিবিয়া কহিলেন—“ওকি ? এ প্রথম অক্ষরটা দেখেই তুমি অমন হতভম্ব হয়ে গেলে কেন ? ছিঃ ! পড় বাবা পড, বল –‘ক’।” প্রসাদ এবাব আর চুপ কবিয়া থাকিতে পারিল না। অত্যন্ত আনন্দে দুই হাতে তালি দিয়া উঠিল। ‘ক’য়ে কৃষ্ণ, বিষ্ণু হরি ব্ৰহ্ম সনাতন । ‘ক, অক্ষর সর্বসাব ভক্তি-প্রস্রবণ।” শুনিয়া গুৰু দুইজন একেবারে নির্বা। মহাভয়ে ও বিস্মযে তাঁহাদের মুখ দিয়া হঠাৎ কথা বাহির হইল না। ভঁহারা মনে মনে প্রমাদ গণিলেন। কি সর্বনাশ! ঘােরতর দেব- দ্বেষী—বিষ্ণুদ্বেষী • দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুর উ ১% ৪০ প্রদ প্রাণাধিক প্রিয় কনিষ্ঠ পুত্রের মুখে তাহাব সেই মহাশত্রুর নাম । প্রহলাদকে তাঁহাদের হস্তে অৰ্পণ কবিবার কালে বাজা বারম্বর বিশেষরূপে তাহাদিগকে সতর্ক কবিয়া দিয়াছেন,—প্রহলাদ যেন ভুলি- যাও কখন কৃষ্ণনাম না করে। সেই কৃষ্ণনামই সর্বপ্রথম সেই প্রদেবই মুখে ! কি সৰ্ব্ব- নাশের কথা! রাজা যদি ঘূণাক্ষবেও জানিতে পাবেন যে, প্রহলাদ কৃষ্ণনাম করিয়াছে, তাহা হইলে কি আর রক্ষা রাখিবেন? প্রহলাদের সঙ্গে সঙ্গে যে তাহাদেরও সর্বনাশ করিবেন। সে কথাও তাে তিনি স্পষ্ট করিয়া বলিয়া দিয়াছেন। প্রহলাদ রাজারাণীর প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র,হয তাে স্নেহের বশে তাহাকে তাঁহারা ক্ষমা করিবেন, কিন্তু শিক্ষার দোষ বলিয়া রাজা শিক্ষকদের তো কিছুতেই ক্ষমা করিবেন না। এণ্ড ও অমর্ক দুই ভ্রাতাই প্রহলাদের মুখে উ
খ
i
-
স
)
হিরণ্যকশিপু প্রলাদকে কোলে তুলিয়া জিজ্ঞাসা কবিতেছে
No text on this page.
গ্রহাদ
৪১
কৃষ্ণনাম শুনিয়া অত্যন্ত চিন্তিত হইয়া পড়িলেন,
এবং তাহাকে কৃষ্ণনাম ছাডিয। শিব’ নাম
লইবার জন্য বারম্বার অনুবােধ করিতে লাগি-
লেন। কিন্তু প্রহাদ কিছুতেই সে নাম ভুলিতে
পারিল না। সে নাম উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে
তাহার মনে নামের উপর এমন একটা আকর্ষণ
জন্মিযা গেল যে, সে বারম্বার হাততালি দিয়া
গান করিতে লাগিল।
‘ক’যে কৃষ্ণ, বিষ্ণু হবি ব্ৰহ্ম-সনাতন।
‘ক’ অক্ষব সৰ্বসার ভক্তি-শ্রবণ।”
গুক দুইজনের আর সহ্য হইল না ,
মারি প্রহলাদকে থামাইবার চেষ্টা করিলেন,
কিন্তু সে চেষ্টাও বৃথা হইল।
প্রহলাদের ননীর শবীর। বেত্রাঘাতে
কাটিয়া শরীর হইতে রক্ত পডিতে লাগিল, কিন্তু
হরিনামের এমনি মহিমা যে, নামে বিভাের
হইয়া শিশু সে যন্ত্রণা টেরও পাইল না,
সুতরাং আরও মাতিয়া নাম করিতে লাগিল।
ক
৪২
প্রহ্লাদ
( Aa
-
আবও বিপদ এই যে-প্রহলাদের দেখা-
দেখি পােেব দলের সকলেই তাহার সঙ্গে
মিশিয়া কৃষ্ণনাম গাহিতে আবম্ভ করিল।
যখনই গুরু দুইজন বাহিবে যান, তখনি
প্রহ্লাদ অন্য পডোদের বলে,
“শুন ভাই, এই পাঠে কোন্ প্রযােজন।
জানই বড় শত্রু আছযে শমন।
তরিয়া যাইতে আব নাহিক উপায়।
কৃষ্ণ পদে রাখ চিত্ত কারাে নাহি দায়।”
আর পােবা সকলে প্রহলাদকে ঘিরিয়া
কৃষ্ণনাম কবিতে থাকে। নামে যে কি সুধা
মাখনাে আছে, জ্ঞানহীন শিশুর দলও একবার
উচ্চারণ কবিয়ানীবব হইতে পারে না। কাজেই
সময় ও সুযােগ পাইলেই তাহাবা প্রহলাদের
সঙ্গে মত্ত হইয়া হরিনাম করিতে থাকে।
গুরু দুইজন দেখিলেন যে, এতদিনে
যথার্থই মহাবিপদ উপস্থিত। প্রাদ যে রকম
বাড়াবাডি আবম্ভ করিয়াছে তাহাতে রাজার
র প্রহলাদ ৪৩ ne/ কাণে উঠিতে আর দেরী হইবে না—তখন তাঁহাদিগকে একেবাবে ধনে প্রাণে মরিতে হইবে। তাঁহারা নিৰুপায। কঠোব শাসন করিয়া দেখিয়াছেন, কিছুই হইল না, ভৎসনা ও তিবাবেও কোন ফল ফলিল না। নানাবিধ মিষ্টবাক্যে আদর করিযা বুঝাইয়া বলিলেন, প্রহ্লাদকে কৃষ্ণ নাম ছাড়াইতে পাবিলেন না। তখন তাহারা আব কি করিবেন ? নিরুপায় হইয়া রাজার কাছে গিয়া আগাগােড়া সকল কথা জানাইয়া দিলেন। ৭ ষণ্ড ও অমর্কের মুখে প্রহলাদের কাণ্ড- কাবখানা শুনিয়া, রাজা জ্বলন্ত আগুনের মত মহা ক্রোধে জ্বলিযা উঠিলেন, এবং তৎক্ষণাৎ প্রহলাদকে আনাইবার জন্য লােক পাঠাইলেন। দূত গিযা যত শীঘ্র সম্ভব প্রহ্লাদকে লইয়া আসিল।
০; প্রহ্লাদ রাজা তখন নিজের মনের ভাব গােপন রাখিয়া, প্রদকে কোলে লইযা স্নেহের স্ববে কহিলেন—“বাবা, এত দিন গুরুগৃহে কি শিখেছ, আমাকে বল।” প্রাদ অমনি অম্লান বদনে উত্তব দিল- “বাবা, এই শিখিয়াছি যে, ভগবান হরিই সৰ্ব্বভূতের একমাত্র ঈশ্বর , তিনিই শ্রেষ্ঠ, সুন্দর ও মঙ্গলময। যাহার নামে পৃথিবীর বিপদরাশি দূরে যায়, পাপ-তাপ হইতে উদ্ধার পাওয়া যায়—সেই হরিনামই আমার একমাত্র মহাবিদ্যা। যে ব্যক্তি এমন হরিনাম ছাডিয। বৃথা অন্য পাঠে নিযুক্ত হয়, সে অমৃতের বদলে বিষ খাইয়া থাকে। বাবা, আমি অমূল্য রত্ন চিনেছি—হরিনাম শিখেছি।” আর কি রক্ষা আছেরাজা নিজের পুত্রের মুখে এমন অবাধে তাঁহার পরম শত্রুব নাম করিতে শুনিয়া মহাক্রোধে পাগলের মত হইয়া উঠিলেন, চক্ষুদ্বয় মক্তবর্ণ ও প্রহ্লাদ ৪৫ হইযা ঘূবিতে লাগিল, প্রহলাদকে কোল হইতে সজোরে দূরে ছুডি ফেলিয়া দিয়া, মহা তর্জন গর্জন করিযা ষণ্ড ও অমর্ককে কহিলেন, “মূখ ব্রাহ্মণগণ! তােমরাই এ কাণ্ডের মূল। তােমরা আমার অর্থে পুষ্ট হইযা নিষেধ সত্ত্বেও শিশু প্রহলাদকে আমার চির- শত্রুর নাম কবিতে শিখাইযাছ। নচেৎ এই দুধের ছেলে এ সব কথা কাহাব কাছে শিখিবে? আর কারই বা এমন সাধ্য যে, আমার নিষেধ অগ্রাহ্য করিযা উহাকে এই ঘৃণ্য নাম শিখাইবে? এ তােমাদেরই কুশিক্ষা দেওয়াব ফল। আমি এই দণ্ডেই তােমাদিগকে উপযুক্ত পুরস্কার দিব, গুরুপুত্র বলিয়া তােমরা নিস্তার পাইবে না।” ঘণ্ড ও অমর্ক ভাবগতিক দেখিয়া এতক্ষণ ধরিয়া একপাশে দাড়াইয়া, মহাভয়ে কঁপিতে ছিলেন, এক্ষণে রাজার কথা শুনিয়া দুইজনেই, ত ণ্ঠে
৪৬
প্রহ্লাদ
একসঙ্গে চীৎকার করিয়া কাঁদিয়া উঠিলেন।
কঁদিতে কঁদিতে কবযােডে কহিলেন,
“দোহাই মহারাজ! আমাদের কোন দোষ,
কোন ত্রুটি নাই , আম প্রহলাদকে এক
মুহূর্তের জন্যও ওরূপ কুশিক্ষা দেই নাই। ববঞ্চ
প্রাদেব মুখে ঐ ছার নাম শুনিযা অবধি
উহাকে নিবন্ত কবিতে বিবিধ প্রকাবে চেষ্টা
করিছি। মিষ্ট কথায় বুঝাইযা বলিযাছি,
কঠোর তিরস্কাৰ কবিযাছি, শেষে বেত্রাঘাতে
পিঠের চামড়া পর্যন্ত তুলিয়া ফেলিতেও বুষ্ঠিত
হই নাই—আপনি উহার পিঠ দেখুন সত্য কি
মিথ্যা, সপ্রমাণ হইবে। আমাদের নিতান্ত
দুর্ভাগ্য! তাই কিছুতেই কিছু কবি উঠিতে
পারি নাই। শেষে হার মানিয়া, আপনব কাছে -
আসিযা নিবেদন করিয়াছি। ইহাতে আমাদের
অপরাধ কি? আমাদের কথা সত্য কি মিথ্যা
প্রহলাদকে জিজ্ঞাসা করুন”। গুরু দুইজন
আবার আকুল হইযা কঁদিতে লাগিলেন।
উ
ত
প্রহলাদ
৭
গেল।
প্রাদ আর চুপ করিয়া থাকিতে
পারিল না ; তাহাব চক্ষের সম্মুখে বিনা
অপরাধে গুরুদ্বযেব এরূপ অন্যায লাঞ্ছনা
হইতেছে দেখি, তাহার কোমল প্রাণ গলি
সে তাড়াতাড়ি গুরুদ্বযকে আড়াল
করিয়া বাজার সম্মুখে দাড়াইযা কবযােডে
উচ্চৈঃস্বরে বারম্বার কহিতে লাগিল,-
“না বাবা, ভুল বুঝবেন না, গুরুদেব
কোন দোষ নেই , তাঁরা আমাকে হরিনাম
শিখান নাই, দল হরি দযা করিয়া আপনিই
শিখিয়েছেন। তঁাব যায় এই বিশ্বপ্রকৃতির
কাছ থেকেই আমি সেই মধুর হবিনাম
শিখেছি। গুরু দু’জনের কোন দোষ নেই।
বাবা, একবার ভেবে দেখুন-এ সংসার
অনিত্য, কিছুই স্থায়ী নয—দু’দিনে সব
ফুরাবে। ফুলটি ফুটে দেখতে দেখতে শুকিয়ে
ঝড়ে পডে , সুন্দর যৌবনপূর্ণ দেহে জরা
এসে আক্রমণ করে , আজ যাকে দেখছি,
প্রিয়
3
Bb
প্রদ
• •
far as
বােল ?”
কাল সে আর থাকে না—শেষে কেবল শমনেরই
একাধিপত্য। ভয়ানক শমনের হাতে কারুই
নিস্তার নাই। বাবা, দল হরি ভিন্ন সেই
শমনকে দমন করবার আর দ্বিতীয় ব্যক্তি
নেই। হরিব শবণ নিন—সেই দল হরির
নাম করুন-শমনের ভয থাকবে না, হেসে
হেসে ভবার্ণব পার হয়ে যাবেন। আসুন
আজ সকলে একসঙ্গে মন-খুলে বলি-হরি
বােল, হরি বােল, হরি
জ্বলন্ত আগুনে ঘৃতাহুতি পডিল। একে
দৈত্যরাজ এতক্ষণ ধবিযা মহাক্রোধে অন্তবে
অন্তবে জ্বলিতেছিলেন, তাহাতে আবার এক্ষণে
তাহাবই মুখের উপর নিজের প্রিয় পুত্র
অবলীলাক্রমে চিরশত্রুর নাম ঘন ঘন উচ্চারণ
করি, তাঁহাকেও সেই নাম করিবার জন্য
জেদের সহিত বলিতেছে। আর কি রক্ষা
থাকে ?
ক্রোধে হিরণ্যকশিপু জ্ঞানহারা হইলেন,
22 প্রহলাদ ৮ 3 তখন বজ্ৰনাদে চীৎকার কবিয়া কহিলেন, “কে আছিস ওখানে?” অমনি যমদূতের মত ভীষণদর্শন জনকতক দৈত্য আসিযা হাত জোড় কবিয়া দাড়াইল। দেখিয়াই রাজা হুকুম দিলেন,—“এই দুরাচার সন্তানকে এই মুহূর্তে বেঁধে নিয়ে মশানে বধ এ পুত্র নয—মহাশত্রু। এ গৃহশত্রুকে জীবিত রাখলে দৈত্যকুলের মান-মৰ্যাদা, যশ- প্রতিপত্তি, সমস্তই নষ্ট হবে। এখনি নিয়ে যা, এই পাপিষ্ঠ মহাশত্রুব সদ্যরসিক্ত ছিন্নমুখ এনে আমাকে দেখাবি—তবে আমি জল গ্রহণ করবাে।” যেমন হুকুম—তেমনি কাজ। দৈত্যগণ প্রহলাদকে সজোরে বাঁধিয়া বধ করিবার জন্য মশানে লইয়া গেল। বাজা নিজ পুত্রের ছিন্ন মুণ্ড দেখিবার আশায় অপেক্ষা করিতে লাগিলেন। প্রদ কিন্তু নির্ভীক, অচল, অটল। সে ও প্রদ AA \\ সেই যে মনে প্রাণে মগ্ন হইয়া হবিনাম কবিতে আরম্ভ করিযাছে, তাহার আর বিরাম নাই। তাহার বাহ্যজ্ঞান পৰ্যন্ত লােপ পাইয়াছে। বাহিরে কোথায় যে কি ঘটিতেছে, তাহার বিন্দুবিসর্গও জানিতে পারিতেছে না—কেবল অন্তরে অন্তরে হরিনামে মগ্ন হইয়া রহিয়াছে। যে এমন ভক্ত, ভগবান্ কি কখনও তাহাকে এক মুহূর্তের জন্যও ছাড়িয়া থাকিতে পারেন ? ঘাতকেবা বাহ্যজ্ঞানশূন্য প্রাদকে মশানে আনিযা স্কন্ধে খাঘাত করিল। কিন্তু হরি হরি! প্রলাদ ত টেরই পাইল —অধিকন্তু সে খঙ্গ চূর্ণ বিচূর্ণ হইয়া গেল। যাহারা দেখিতে গিযাছিল, সকলেই নবাক। আবার নূতন খঙ্গ আনিযা আঘাত করা সে খঙ্গও প্রাদের দেহ-স্পর্শ- মাত্রই টুকরা টুকরা হইয়া ভাঙ্গিয়া গেল এইরূপ বারম্বার ঘটিল। তখন বিস্মিত হইল।
প্রসাদ
==
51. 5
(9
ঘাতকগণ বাজার কাছে গিযা সেই সংবাদ
জানাইল।
“বিস্ময় মানিয়া পুত্রে ডাকে দৈত্যপতি।
জিজ্ঞাসিল কি প্রকারে পেলে অব্যাহতি।
প্রহ্লাদ কহিল, মােবে রাখিলেন হরি।
আমার শকতি কিবা, কি করিতে পারি।
একান্ত আছযে যার নারায়ণে মতি
তাহাব করিতে মন্দ কাহার শকতি।”
বাজা ক্রোধে উন্মত্তের মত হইযা-
ছিলেন , বিচারের ক্ষমতা ছিল না , তখনি
হুকুম দিলেন,—“দুরাচার পুত্রকে কারাগারে
নিক্ষেপ কর।”
তখনই প্রহলাদকে মশান হইতে আনিয়া
অন্ধকার, কাৰাগারে নিক্ষেপ করা হইল।
প্রহলাদকে কারাগারে দিয়াও দৈত্যরাজ
নিশ্চিন্ত হইতে পারিলেন না, তাহার বধের
ঞ্জণ্ঠে
= = = =
=
প্রহাদ
.
উপায় চিন্তা করিতে লাগিলেন। দুষ্ট মন্ত্রীর
পরামর্শ দিল,
“মহারাজ, খুব তীব্র টাকা বিষ
সাপুড়েদের কাছ হইতে সংগ্রহ করিয়া,
তাহদ্বিারা লাড়, তৈয়াৰ কবি প্রদকে
খাইতে দেওয়া হউক। মন্ত্রবলে খজে যদি
বা বাচিয়াছে—এ বিষ খেলে বাঁচাননা জগতে
কাহারও সাধ্য নয়।”
তাহাই হইল। তখনি চারিদিকে লােক
দুটিল এবং সাপুড়েদেব নিকট হইতে গােখুব।
সাপের টাকা বিষ আনিয়া হাজির করিল।
রাজার আদেশে সেই বিষে সুন্দর লাড,
প্রস্তুত হইল, এবং সেই দণ্ডেই সমস্ত লাড়ু
প্রাদকে খাইবার জন্য দিয়া আসা হইল।
এদিকে কারাগারে বসিয়া প্রহলাদ
একমনে একপ্রাণে মগ্ন হইযা কেবলই হরিনাম
করিতেছে। তাহার বেশ মনে হইতেছে যে,
দয়াল হরি যেন হাসিতে হাসিতে তাহাকে
a Saya
PC
প্রহলাদ
A
বেড়িয়া নাচিয়া বেড়াইতেছেন। সে তাহা
দেখিয়া মগ্ন হইযা ভাব-সাগরে ডুবিছে।
তাহাব সর্বাঙ্গ হইতে এক অপরূপ দিব্য এ
জ্যোতিদের আলােব মত—ঠিরাইয়া
পড়িতেছে। সে আলােতে অন্ধকাব কারাগার
উজ্জ্বল হইয়া উঠিযাছে!
যথাকালে ধাত্রী আসিয়া সেই তীব্র
বিষের লাড়গুলি প্রহলাদের সম্মুখে রাখিয়া
গেল, এবং নানাপ্রকারের বাহ স্নেহ জানাইয়া,
সেগুলি খাইবার জন্য বারুধার অনুরােধ
করিয়া গেল।
প্রহ্লাদ লাড়গুলি লইয়া ঐকান্তিক চিত্তে
প্রথমেই শ্রীহবিকে নিবেদন করিয়া দিল।
দয়াল ঠাকুর কি আব থাকিতে পারেন। তিনি
অমনি প্রহাদেব সমবয়স্ক নাড়গােপাল রূপে
সেই কারাগারে আবির্ভূত হইযা, সেই লাড়,
আপনি আগে একটু একটু খাইয়া শেষে নিজ
হস্তে 'প্রহলাদকে খাওয়াইয়া দিলেন। এমনু
আr
৫০
প্রদ
সুস্বাদ লাড়, প্রহলাদ জীবনে আর কখনো
খায় নাই। লাড খাইয়া তাহার দেহেব বল
যেমন বাড়িল, রূপও তেমনি শতগুণে উছলিয়া
পডিতে লাগিল।
এমন সময় রাণী কযাধু পাগলিনীর মত
ছুটিয়া সেই কাবাগাব-দ্বারে আসিয়া উপস্থিত
হইলেন। স্বয়ং রাজরাণীকে সেখানে দেখিয়া
রক্ষকেরা সসম্রমে মাথা নােযাইয়া দূবে সরিষা
গেল। রাণী কারাগারে প্রবেশ করিলেন।
তাহাব মনে হইল—কে যেন আর একটি
প্রহলাদের সমবয়সী শিশু ধাঁ করিযা সেখান
হইতে সরিয়া গেল।
বাণী তাড়াতাডি প্রহ্লাদকে কোনে
তুলিয়া লইয়া কহিলেন,-“ও লাড় খাসনি
বাপ '-ও লাড়, খানি।
ও লাড় ভয়ানক
বিষ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে।”
শুনিয়া প্রহলাদ হাসিল, শূন্য পাত্র
জননীকে দেখাইয়া কহিল, “মাগাে, বিষে
-
{
প্রােদ
আমার কি ক্ষতি কবে ? সেই দয়াল হরি
যে দিবারাত্রি আমাকে তােমার মত কোলে
কবে বেখেছেন। এই দেখ, সে বিষ অমৃত ঠে
হয়েছে, আমি সব খেযেছি, তাতে আমার
গাযে আরাে জোব বেড়েছে।” শুনিয়া রাণী
অবাক্ হইয়া গেলেন।
শেষে তিনি কঁদিতে কাদিতে পুত্রকে
হরিনাম ছাডিবাব জন্য বিস্তর বুঝাইলেন,
নচেৎ রাজা যে তাহাকে বিনাশ না করিয়া
ক্ষান্ত হইবেন না, তাহাও কহিলেন।
-শুনিয়া প্রহলাদ একটু হাসিল, হাসিতে
হাসিতে কহিল, “মা হযে তুমি ছেলেকে এমন
অন্যায় কাজ কবতে ব’ল না , এ সংসারে
হবিনাম ভিন্ন জীবেব আর অন্য সম্বল নেই;
আমি তােমার আশীর্বাদে সেই অমৃতময়
হরিনাম পেযে অমর হযেছি, আমাকে বিনাশ
করে, কার সাধ্য ? দুইবার প্রত্যক্ষ তত
দেখলে মাকে, আমাকে ঘাতকের খড়গ
গুঞ্জণ্ঠে g
প্রদ
থেকে বাঁচালে? কে বিষাক্ত লাড়, অমৃতমাখা
করে দিয়ে আমার শরীরে শত গুণ বল
বাড়িয়ে দিলে? সেই দল হরি ভিন্ন এত
দয়া আর কার ? ভক্তের জন্য আর কার প্রাণ
এত কাদে? আমার হরিঠাকুর যে দিনরাত্রি
আমার সঙ্গে সঙ্গে থেকে সকল বিপদ আপদে
আমাকে কোলে কবে রক্ষা কছেন? চক্ষে
দেখেও বিশ্বাস ক’ছ না কেন? বল মা,
তুমিও আমার সঙ্গে একবার প্রাণভরে ‘হবি’
বল,-তােমার ছেলে অজব-অমর হবে। এ
সংসারে তার কোন ভয় থাকবে না।
কথায় ভক্তিভবে মনে মনে
নারায়ণ স্মরণ করিয়া কারাগৃহ ত্যাগ করিলেন ?
এতক্ষণে যেন হাব প্রাণে কতকটা শান্তি
আসিল , মনে বিশ্বাস জন্মিল যে, প্রহলাদের
কথাই সত্য, ত্রিভুবনে হরিভক্তের বিনাশ নাই।
তিনি মনে মনে নারায়ণের চরণে নিবেদন
জানাইলেন,-“হে দয়াল প্রভু, আমার স্বামীর
রাণী পুত্রের
s
ge প্রহাদ & মতি গতি ফিরিয়ে দেও, আমার দুধের বাছাকে রক্ষা কর,তােমাব চবণে তাকে অর্পণ করে নিশ্চিন্ত রইলেম। দেখাে ঠাকুর, মাযের প্রাণে ব্যথা দিও না।” এদিকে সকাল হইবামাত্রই বাজ-সভায় সভাসদগণ মহা আস্ফালন করিযা রাজাকে কহিল,—“মহারাজ, এইবারে নিশ্চিন্ত হউন , যে বিষ দেওযা গেছে, তাতে আর প্রহলাদ কিছুতেই বেঁচে থাকতে পাবে না। এতদিনে শত্রু নিপাত হল।” কিন্তু সে আনন্দে বাধা পড়িল। পর- ক্ষণেই কাবারক্ষী আসিযা সংবাদ দিল, “মহারাজ, অদ্ভুত ব্যাপার। দুধের ছেলে সে তীব্র বিষ সমস্ত খেয়ে হজম কবে বসে আছে , বরং তার রূপ আরাে শতগুণ বেড়েছে , কারাগাব যেন আলােতে ঝলমল কছে।” শুনিয়া সকলেই অবাক! কথাটা সহসা কেই বিশ্বাস কবিতে পারিল না, তখন রাজা =
৫৮
প্রলাপ
Lan
A
স্বয়ং
স্বচক্ষে দেখিবার জন্য সভাসদগণকে লইযা
কারাগারে গেলেন। গিয়া যাহা
দেখিলেন, তাহাতে অত্যন্ত বিস্মিত হইয়া
ক্ষণকাল চাহিয়া রহিলেন। প্রদেব দেহ
হইতে অপূৰ্ব্ব স্নিগ্ধ আলােকচ্ছটা বাহির হইয়া
অন্ধকার কারাগার উজ্জ্বল কবিয়া দিয়াছে।
বাজা কহিলেন,—“বৎস, যা হইবার
হইযাছে; এখনও তুমি সেই পাপ শত্রুর নাম
ত্যাগ কব, আমি আবার আদব কবি
তােমাকে কোলে তুলিয়া লই।”
কিন্তু প্রহলাদ উত্তর করিল,-“পিতা,
আপনি এ কি ভ্রান্তিতে পড়িয়াছেন ? যিনি
দীনবন্ধু বিশ্ব-পিতা, সেই পরম দয়াল হরিকে
আপনি শত্রু ভাবিতেছেন কেন? আপনি
শত্রু ভাবিতেছেন, তবু আপনার প্রতি তার
কত দয়া । দেখুন, তিনি আপনাকে দিগ্বিজয়ী
রাজা করিযা অনবরত বিপদে আপদে রক্ষা
করিতেছেন। নচেৎ ক্ষুদ্র জীবের কি সাধ্য যে,
ঞ্জিক্ট
৮
প্রবাদ
এজগতে আপনার ইচ্ছামত কাৰ্য্য করিতে
পারে ? তিনিই দযা করিযা আপনার সকল
সাধ পূর্ণ করিতেছেন। বাবা, এখনাে বুঝুন,
একবার মন প্রাণ খুলিযা হবি হরি' বলুন।”
রাজা আবাব রাগিযা আগুন হইয়া
উঠিলেন। সরােষে গর্জন করিয়া কহিলেন—
“কি ? এত দূব স্পর্ধা। এখনি হতভাগাকে
লইযা গিযা হস্তী-পদতলে নিক্ষেপ পূৰ্ব্বক
প্রাণ বধ কব।”
রক্ষীরা তৎক্ষণাৎ প্রদকে বাঁধিয়া
লইয়া গেল।
[৪
S
বাজার একটা পাগলা হাতী ছি, সেটার
ভযে মাহুতেরা পৰ্যন্ত যখন-তখন হাতীশালার
কাছ দিযা চলা-ফেরা করিতে সাহস করিত
না। সেটা ক্ষেপিলে মুহূর্তে পৃথিবী রসাতলে
দিতে পারিত। রাজার হুকুমে প্রাদে
=
৪
প্রহ্লাদ
হাত পা বাঁধিয়া সেই ভয়ঙ্কর পাগলা হাতীটার
পাযের তলায় ফেলিয়া দেওয়া হইবে।
আগে হইতেই উদ্যোগ আয়ােজন
হইতেছে! হাতীটাকে ডাঙ্গশ মারিয়া মারিয়া
এমন ভযানক রকম চটাইয়া রাখা হইয়াছে
যে, তখন সেই রাগের মাথায় সামনে যা কিছু
পড়িবে, তাহাকেই গুডা কবিযা দিবে।
তামাসা দেখিবার জন্য অনেকখানি দূরে দূরে
ঘিরিয়া অনেক লােক আসিয়া দাড়াইযাছে।
এমন সময় ঘাতকেরা দৃঢ়বন্ধনে আবদ্ধ
প্রহলাদকে আনিয়া দুব হইতে ছুডিযা তাহার
পায়ের তলায় ফেলিয়া দিল। হাতীটা প্রথমে
মহারােষে শুভ আস্ফালন করিযা, ভয়ানক
গর্জন করিয়া উঠিল। সকলেই ভাবিল যে,
প্রহাদের আর পরিত্রাণ নাই। স্বয়ং রাজা
দূর হইতে দাড়াইয়া এ দৃশ্য দেখিতেছিলেন।
সভাসদেরা কহিল—“মহারাজ, নিশ্চিন্ত হউন,
এবাব আর বালকের নিস্তার নাই।”
।
প্রহাদ কিন্তু হরি হরি—এ কি হল ? হাতীটা গর্জন করিয়াই নীচের দিকে চাহিল, অমনি যেন সমস্ত গাগলামী ঘুচিয়া গেল—সমস্ত রাগ জল হইয়া গেল। এক অপূৰ্ব আনন্দে তাহার সর্বাঙ্গ থাকিয়া, থাকিয়া কাপিয়া উঠিতে লাগিল, চক্ষুদিয়া আনন্দাশ্রু ঝরিয়া পড়িতে লাগিল। সে তাড়াতাড়ি সামনের পা সরাইয়া লইল। তার পরে শুভ দিয়া প্রহলাদকে অতি সন্তর্পণে তুলিয়া আনন্দে নাচিতে লাগিল। দর্শকগণ সকলেই একেবারে হতভম্ব হইয়া গেল। রাজা অত্যন্ত বিস্মযের সহিত জিজ্ঞাসা করিলেন,—“প্রহলাদ, কি মন্ত্র-বলে তুই পাগলা, হাতী বশ করিলি ?” নির্ভীক প্রহ্লাদ তৎক্ষণাৎ জবাব দিল- “বাবা, আমার মন্ত্র-তন্ত্র বল-বুদ্ধি সমস্তই সেই দয়াল হরি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে অষ্ট প্রহর থাকিয়া তাহার ভক্তকে সকল বিপদ হইতে , ৫৫ ২ প্রদ = :: A fa রক্ষা করিয়া থাকেন। তিনবাব চাক্ষুষ প্রমাণ পাইলেন, তবে এখনও ভ্রান্তি কেন ? ভেবে দেখ বাবা, এ সংসবে সব মিথ্যা—সব অনিত্য, একমাত্র সত্য--সেই হবিনাম। দিন গেল —হৰি বল, এমন জন্ম আব হবে না—হরি বল, জীবন সার্থক কর।” বাজা ভয়ানক চটিয়া আগুন হইয়া উঠিলেন, সবােষে গর্জন কবিয়া কহিলেন- বার বার যাদু-মন্ত্রবলে বক্ষা পেযেছি বলে তাের স্পর্ধাও অত্যন্ত বেড়েছে। কিন্তু এবার ােেব আর নিস্তার নাই। ঘাতকগণ ! এখনি নরাধমকে উত্তমরূপে বন্ধন পূৰ্ব্বক খুব উচ্চ গিরিশৃঙ্গ হতে নিম্নে শিলাতলে নিক্ষেপ কর। ওর সর্বাঙ্গ শত চূর্ণ হযে পরমাণুতে মিলিত হােক্। দেখবে, এবার কি মন্ত্র-বলে এই যাদুকর বালক আত্মরক্ষা করে ? শুনিয়া প্রহলাদ কেবলমাত্র একটু হাসিল, কোন উত্তর করিল না। অন্যমনে প্রাণ ভরিয়া । 3)
প্রহলাদ
হরি-স্মরণ করিতে লাগিল। তখন দৈত্যগণ
তাহাকে হস্তীপৃষ্ঠ হইতে নামাইয়া, উত্তমরূপে
বন্ধন পূর্বক শূন্যে তুলিয়া লইযা, খুব উচ্চ এক
পর্বতশৃঙ্গে উপর উঠিতে লাগিল।
সেই পৰ্বতশৃঙ্গ এত উচ্চ যে, সেখান
হইতে দেখিলে নীচের সমস্তই ধোঁয়ার মত
বােধ হয়, কোথায় যে কি আছে, কিছুই ঠিক
করিবার উপায় নাই। দৈত্যগণ সেই উচ্চ
পর্বতশৃঙ্গের উপর হইতে হাত-পা বাঁধা
প্রহ্লাদকে ছডিয়া নীচে ফেলিয়া দিল।
উপরি উপরি কয়বার আশ্চর্য রকমে
রক্ষা পাওয়ায় সকলেরই মনে আপনা আপনি
ধারণা হইয়াছিল যে, এবারও হয় তাে শিত
কোন অদ্ভুত উপায়ে রক্ষা পাইবে। তাই
প্রহাদকে পর্বত শৃঙ্গের উপর হইতে ছুড়িয়া
ফেলিয়া দিবার পরে, জনকতক লোক
কৌতুহলের বশবর্তী হইয়া, সেই পর্বতের
তলদেশ দেখিতে আসিল।
।
Dণ্ঠ
এবার তাহারা যে দৃশ্য দেখিল, তাহাতে
আপন আপন চক্ষুকে বিশ্বাস করিতে পারিল
১) না। তাহাদের বেশ সুস্পষ্ট নজরে পডিল
যে-প্রহাদ যেন কে একজন জগদ্ধাত্রীরূপিণী
রমণীর কোলে বসিয়া আনন্দে হরিনাম
কবিতেছে। তৎক্ষণাৎ তাহারা ছুটিয়া গিয়া
রাজাকে সে সংবাদ জানাই।
সভাসদ্গণের সহিত রাজা স্বয়ং আসিয়া
দেখিলেন প্রাদের গায়ে আঁচডটি পৰ্যন্ত
লাগে নাই। তিনি আশ্বৰ্যান্বিত হইয়া জিজ্ঞাসা
করিলেন, এবার তাহাকে কে রক্ষা করিল ?
নির্ভীক প্ৰদ পূৰ্ব্ববৎ
সেই উত্তর দিল।
বারম্বার অনুরােধ করিতে লাগিল,-“বাবা
‘গাে, একবার হরি বল, চক্ষের উপর বারম্বার
প্রমাণ দেখে তবুও ভুল বুঝছো কেন? যিনি
দীনবন্ধু--পরম মিত্র, তাঁহাকে শত্রু ভেবে নিজের
সর্বনাশ নিজে সখ করে ডেকে এনে না।
বল একবার প্রাণভরে হরি বল।”
উঠে
প্রবাদ Wee Adda রাজা আবার রাগিয়া উঠিলেন, হুকুম দিলেন, “জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে পােডাইয়া, হত- ভাগাকে বধ কর।” বাজার হুকুমে তখনি বিস্তৃত প্রান্তর মধ্যে এক বিশাল অগ্নিকুণ্ড প্রজ্জ্বলিত করা হইল। সেই ভীষণ চিতাগ্নির শত জিহ্বা লক লক, করিতে করিতে আকাশ স্পর্শ করিতে লাগিল। তখন রক্ষীরা প্রহলাদকে ধরিয়া সেই ভীষণ অগ্নিকুণ্ডের মধ্যে নিক্ষেপ করিল। চারিদিকে দর্শকদের ভিড় জমিয়া গিয়াছিল। সকলেই ভাবিল যে, এইবার বালক পুডিয়া ভস্ম হইয়া যাইবে। কিন্তু পরক্ষণেই সকলে আপন ভুল বুঝিল। সকলেই স্তম্ভিত হইয়া দেখিল যে, সেই ভীষণ, অগ্নি- রাশির মধ্যে প্রহলাদ নিশ্চিন্ত মনে বসিয়া হাততালি দিয়া মনের আনন্দে হরিনাম করিতেছে। সকলে মহাবিস্ময়ে মগ্ন হইয়া গেল। T ওরে
প্রদ
রাজারও আর বিস্মযের সীমা পরিসীমা রহিল
। সভাসগণের মুখ চূণ হইয়া গেল।
ক্ষুদ্র বালককে মাবিবার জন্য তাহারা যতই
কঠোর উপায় বাহির করিতেছে, বালক সে
সকল অনায়াসে পদদলিত করিয়া তাহাদেব
চক্ষের উপরে মহানন্দে হরিনাম করিতেছে।
৫
এতগুলি কঠোব উপাযেও প্রহ্লাদ যখন
মরিল না, তখন দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুর
মনেও মহাচিন্তার উদয হইল। তিনি মন্ত্রী ও
সভাসদগণকে অকর্মণ্য বলিযা গালি দিলেন,
এবং নিষ্ফল আক্রোশে আপনার হাত
কামড়াইতে লাগিলেন।
তখন বৃদ্ধ মন্ত্রীরা বিস্তর পরামর্শ করিয়া
শেষে কহিল,-“মহারাজ, আর একবার এই
শেষ উপায় অবলম্বন করিয়া দেখুন। বালকের
হাত পা বাঁধিয়া, বুকে ভারি পাথর বাঁধিয়া
দিয়া, উচ্চ পর্বত শৃঙ্গের উপর হইতে সুগভীর
।
উ% প্রহ্লাদ সাগর বক্ষে নিক্ষেপ করুন, তাহা হইলে শিশু অবশ্যই প্রাণে মবিবে। নচেৎ অন্য আর কোন উপায় তাে দেখিতেছি না।” অগত্যা দৈত্যবাজ তাহাতেই সম্মত হইলেন। তঁাহাবহুকুমে দুৰন্ত রক্ষীরা প্রাদের হাত পা দৃঢ়রূপে বাঁধিল , তার পরে বালকের বুকের উপর একখণ্ড গুরুভার শিলা বাঁধিয়া দিযা, তাহাকে পৰ্বত-শৃঙ্গে উপরে লইয়া গেল। নীচে সমুদ্রতীরে স্বয়ং বাজা সভাসদ- গণের সহিত এ দৃশ্য স্বচক্ষে দেখিবার জন্য আসিযা অপেক্ষা করিতে লাগিলেন। তার পর পৰ্বত-শৃঙ্গের উপর হইতে বহু লােক মিলিয়া পাথরবাঁধা প্রহলাদকে ধরাধরি করিযা খুব জোরে সমুদ্রেব বুকে উপর ছুডিয়া ফেলিয়া দিল। একটা ভীষণ জলােচ্ছাসের সঙ্গে সঙ্গে প্রহলাদ সাগর জলে ডুবিয়া গেল। সকলেই হাঁফ ছাডিযা ভাবিল,—এইবার শত্রু বিনষ্ট হইয়াছে। কিন্তু,-না। পরক্ষণেই @ণ্ঠে =
ত
১
৬৮
প্রহাদ
সকলে মহা আশ্চর্যান্বিত হইয়া দেখিল যে,
প্রহাদ সমুদ্রবক্ষের উপর ভাসিয়া উঠিয়াছে,
কোথায় বা তাহার বক্ষের গুরুভার পাষাণ,
আর কোথায় বা তাহার বদ্ধ হস্ত-পদদ্বয়।
প্রহাদ সেই নীল সাগর-জলে একটি সােণার
পদ্মফুলের উপরে বসিয়া হাসিতেছে। পদ্মটি
ঢেউয়ে ঢেউয়ে নাচিতে নাচিতে তাহাকে
লইয়া তীরের দিকে আসিতেছে।
প্রাদের মুখে কেবল হরি হরি ধ্বনি।
দৈত্যগণ আর থাকিতে পারিল না। এ দৃশ্য
দেখিয়া আত্মহারা হইল। একে তাে প্রসাদ
দৈত্যকুলের সকলেরই নয়নের মণি-স্বরূপ ;
তার পর সে যখন বারম্বর এই সকল মহা
ভয়ানক মৃত্যুর
উপায়েও মরিল না, বরঞ্চ প্রতি
বারেই অধিক গৌরবান্বিত হইয়া, অধিকতর
দৃঢ়তার সহিত হরি হরি বলিতে লাগিল, এবং
অন্য সকলকেও সেই হরিনাম করিবার জন্য
বারম্বার অনুরােধ করিতে আরম্ভ করিল, তখন
উ
9ে) yি:
e
এলা
০
কঠোব দৈত্যদের হৃদয়ও গলিয়া গেল।
তাহারা সকলেই ভাবিল যে, নিশ্চয়ই
হরিনামের এমন কোন আশ্চৰ্য্য শক্তি আছে,
যাহার বলে প্রহলাদ বারম্বার মৃত্যুর গ্রাসের
মধ্যে পভিযাও বাঁচিয়া আসিল। নতুবা
এরূপ ভাবে রক্ষা পাওয়া শুধু যাদুবিদ্যা বা
মন্ত্রতন্ত্রের কর্ম নয়।
তখন তাহারা আর স্থির থাকিতে পারিল
। পদ্ম ফুলটি তরঙ্গের তালে তালে তীরে
আসিযা লাগিবামাত্রই তাহারা ছুটিয়া গিয়া
প্রদকে কোলে তুলিয়া লইল, এবং রাজ-ভয়
অগ্রাহ্য করিয়া তাহার সঙ্গে কণ্ঠ মিলাইয়া ‘হরি
হরি’ বলিতে আরম্ভ করিল। দৈত্যগণের
কঠোর হৃদয়ে ভাবের এইরূপ অকস্মাৎ পরিবর্তন
দেখিয়া প্রহলাদেরও আর আনন্দের সীমা রহিল
না। সে দ্বিগুণ উৎসাহের সহিত বারম্বার
উচ্চকণ্ঠ চীৎকার করিয়া কহিতে লাগিল,
“বল ভাই, হরি বল, মরণ ভয় থাকবে
১
উ
@@ ©=
৭০ লাদ vvv : । এ সংসাবে হরিনাম অমূল্য বতু, হাতে পেয়ে হেলায় এ বত্ন ছাডিও না। পাপী তাপী হবি হল, পাপ তাপ মােচন হবে। রােগী শােকী হরি বল-রােগ শােক দূবে যাবে। ভীরু দুর্বল হরি বল—ভয ঘুচবে, শক্তি হবে। যে যেখানে আছ, সবাই মিলে হবি বল—ভব- বন্ধন মােচন হবে। হবি দীনবন্ধু-ভক্তবৎসল, হবিনামে বিপদ যায——যম পলায। বল ভাই, হরি বল, হবি বলে নেচে চল।” সহসা প্রবল বন্যায় যেমন চাবিদিক ভাসাইয়া লইয়া যায়, তেমনি সেই সাগর-তীরে সহসা হরিনামের বন্যা ছুটিযা দেশ ভাসাইতে চলিল। দৈত্যগণের আব ভয ভাবনা নাই, রাজা দরে দাড়াইয়া দেখিতেছেন—সেদিকে হৃক্ষেপ মাত্র নাই , সকলে মধুর হরিনামে মাতিযা পাগলের মত হইযা উঠিযাছে। দৈত্যরাজ হিবণ্যকশিপু মনে মনে প্রমাদ গণিলেন। সহসা সেইখানে তখনই কোন
थश्नान
৭১
- - --~--
•প্রকাব কঠোব আদেশ দিলে, দেশে রাষ্ট্রবিপ্লব
ঘটিবাব সম্ভাবনা দেখিয়া, তিনি সে বিষয়ে
নিবস্ত হইলেন। তখন মন্ত্রীবা পরামর্শ দিল,
“মহারাজ, ওরূপ উপায়ে কিছু হইবে না।
প্রদ মুহূর্তের মধ্যে দেশের লােককে যেরূপ
ক্ষেপাইয়া তুলিযাছে, তাহাতে এক্ষণে অন্য
কোনরূপ কঠোর আদেশ দিলে হিতে বিপরীত
হইবে। জনসাধাৰণ সকলেই বিদ্রোহী হইযা
বালকের পক্ষ গ্ৰহণ কবিবে। এক্ষণে এক
কাজ করিতে হইবে,-বুদ্ধিকৌশলে প্রহলাদকে
পরাজিত কবি উহার মুখ বন্ধ করিতে
হইবে, ইহাই শ্রেষ্ঠ উপায়। এক্ষণে উহাকে
আদর করিযা গৃহে লইযা চলুন। এ প্রকাশ্য
স্থানে উহাকে যতই এ ভাবে রাখিবেন, ততই
দেশের লােক বেশী রকম মাতিযা উঠিবে
দেখিতেছি।”
বাজাও তাহাই ভাবিতেছিলেন। তখন
তিনি আদর করিযা প্রহলাদকে লইয়া গৃহে
பின்
==
গুণ্ঠ
০ ©G ঠ) 5 প্রত্যাগমন করিলেন। পশ্চাৎ পশ্চাৎ সমস্ত • লােক হরিনাম করিতে করিতে রাজবাটা পৰ্যন্ত আসিল। গৃহে আসিয়া দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু জ্ঞান-বৃদ্ধ মন্ত্রিগণকে লইয়া অত্যন্ত গােপনে পরামর্শ অটিতে বসিলেন। বিস্তর বাদানুবাদ ও যুক্তিতর্কের পরে উপায় স্থির হইল। এবার এ উপায়ে যে আপনা হইতেই প্রহাদের মুখ বদ্ধ হইবে, সে বিষযে আর কাহারও কোন প্রকার সন্দেহ রহিল না। ১১ S পরদিন বিকাল বেলা রাজবাটীর এক খােলা দালানের ভিতরে বিস্তৃত সভা বসিল। কাতারে কাতারে ছােট বড় ইতর, ভদ্র, বালক- যুবা-বৃদ্ধ আসি সভাতল ঘিরিয়া ফেলিল। দালানটি পরম রমণীয়। সারি সারি স্ফটিকস্তম্ভের উপরে খিলান করা দিব্য কারু- কাৰ্যবিশিষ্ট ছাদ। জানালা নাই-দরজা ক
প্রাদ
ণ
নাই—চারিদিক খােলা। বাহিরে চারিদিকেও
মহাজন জমিয়া সভার কার্য দেখিবার
জন্য প্রতীক্ষা করিয়া রহিল। এই উদ্দেশ্যেই
সেরূপ খােলা দালানে রাজসভা বসান
হইয়াছিল।
দালানের মধ্যস্থলে অপূৰ্ব্ব প্রভাবিশিষ্ট
মণিময় বিচিত্র সিংহাসনে দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু
উপবিষ্ট। তাহার চারিদিকে পদ ও মর্যাদা
উপমােগী নানা রকমের সারি সারি সজ্জিত
আসনে সভাসদ্গণ এবং দেশের বড় লােকেরা
উপবিষ্ট।
মধ্যস্থলে রাজার সম্মুখে চারিটি
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রত্ন-বিনির্মিত সিংহাসনে চারি জন
বাজপুত্র উপবিষ্ট। দূরে সূক্ষ্ম যবনিকার
অন্তরালে কুলনারীগণ সকলে সমবেত হইয়া
সভার কাৰ্য দেখিবার জন্য বসিযাছেন।
প্রথমে যথারীতি বন্দিগণ স্তুতিগান শেষ
করিলে পরে, দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু প্রহাদকে
সম্বোধন করিয়া কহিলেন,
3g@
%
৭০
প্রহলাদ
J
“প্রহলাদ, একটি কথা জিজ্ঞাসা করিতেছি।
এই সমবেত জনসাধারণ সমক্ষে সত্য করিযা বল,
তুমি বাবস্থার মহা কঠোব ভীষণ মৃত্যুর কবল
হইতে কি উপায়ে, কি মন্ত্রবলে রক্ষা পাইলে?”
প্রহলাদ মৃদু হাসিযা কহিল, “বাবা,
আমি ত
সে কথা আপনাকে অনেকবার
বলিয়াছি। পুনবায সৰ্ব্বসমক্ষে বলিতেছি-
সকলে শুনুন,আমি মন্ত্র-তন্ত্র জানি না, উপায
অনুপায় বুঝি না, আমি জানি একমাত্র মূলমন্ত্র
হরিনাম। সেই হরিনামই আমার একমাত্র
উপায—একমাত্র রক্ষাকবচ। সেই নামের
গুণেই আমি বারম্বাব মৃত্যুর গ্রাসের ভিতরে
পডিযাও রক্ষা পাইয়াছি।”
হিবণ্যকশিপু পুনরায কহিলেন,—“ভাল,
কিন্তু তুমি বলিতেছ হরিনামে বক্ষ। পাইয়াছ।
কিন্তু তােমার মৃত্যু তাে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ঘটিতে
ছিল ; হরি কি সকল স্থানে উপস্থিত হইযা,
সকল সমযেই তােমাকে বক্ষা করিয়াছেন?”
;
৩
@
=
@
बस्लाम এমন শিশু বলে,-“প্রভু আছে সবাব অস্তব। অনন্ত যাহাব গুণ বেদে অগােচর ॥ আব্ৰহ্ম পৰ্য্যন্ত কীট সকল সংসারে। আত্মৰূপে প্ৰভু আছে সবার ভিতবে। হাঁ বাবা, নিশ্চয। হরি সর্বভূতে সৰ্ব্ব- কালে সর্বব্যাপীৰূপে বিবাজ কবেন। একটি ক্ষুদ্র পরমাণু পর্যন্ত নাই—যাহার ভিতরে হরি নাই।” রাজা একটু হাসিলেন। ভাবিলেন, এই বার বালক নিজের কথায় নিজে ঠকিবে। বলিলেন, “তুমি বলিতেছ, তােমার হরি সর্বত্র সকল সমযে সকল অবস্থাতেই বিরাজ করেন। আচ্ছা, এক্ষণে তিনি কি এই সভামধ্যে আছেন ?” “নিশ্চয় আছেন বাবা, তিনি ছাড়া জগতে স্থান নাই।” “আচ্ছা, এই স্ফটিকস্তম্ভের ভিতরে কি তােমার হরি আছেন ?” L جمع
बनान
s
স্থা-নিশ্চয় আছেন।”
প্রজ্জাদ কহিল—“শুন মাের নিবেদন।
যত জীব তত শিবরূপ নারায়ণ।
স্তম্ভ-মধ্যে অবশ্যই আছে মাের প্রভু!
অন্যথা আমাব বাক্য না জানি কভু।”
রাজা আর স্থির থাকিতে পারিলেন না,
তাড়াতাড়ি সিংহাসন হইতে তরবারি হস্তে
উঠিয়া স্তম্ভের নিকটে গিযা সজোরে স্তম্ভটি
দুই খণ্ড করিয়া ফেলিলেন।
সেবকের বাক্য আর রাখিতে সংসার।
স্তম্ভ মধ্যে আসি হরি হন অবতার ।
সুন্দব সিংহের মুখ মনুষ্য শরীব।
মুহূর্তেকে স্তম্ভ হ'তে হইল বাহির ॥
তখন গােধূলি—দিনের আলাে শেষ
বিদায সইতেছিল, সন্ধ্যাও ধীরপদে অগ্রসর
হইতেছিল। স্তম্ভটি দ্বিখণ্ডিত হইবামাত্রই,
তাহার ভিতর হইতে এক মহা ভৈরব গর্জন
উঠিল। সে ভীষণ শব্দে পৃথিবীতে শতবার
L
৪e
खस्लाम
U
ভূমিকম্প ইইল। সঙ্গে সঙ্গে এক ভীষণাকৃতি
নরসিংহরূপী অপূৰ্ব বিরাটকায় মহাপুরুষ
, বাহির হইয়া হিরণ্যকশিপুকে দুই হস্তে সবলে
ধবিয়া শূন্যে তুলিলেন। তার পরে নিজে
সিংহাসনের উপরে বসিয়া, বাজাকে আপনার
জানুব উপর রাখিলেন, এবং পরক্ষণেই তীক্ষ্ণ
নখে তাঁহাকে চিরিযা প্রাণবধ করিলেন।
সভাশুদ্ধ লােক ভযে মূচ্ছিত হইয়া গেল।
মহামূর্তি দেখি ভয় পায় দেবগণ।
নির্ভয়ে প্রহলাদ মাত্র করিল স্তন।
তখন প্রহ্লাদ তাড়াতাড়ি সেই বিরাট
পুরুষের পাদমূলে বসিযা অশেষ প্রকারে স্তুতি
করিল,—“প্রভু, আপনার ভীষণ মূর্তি দর্শনে
সকলেই মূচ্ছিত হইয়াছে। দযা করিয়া
স্বরূপ মূর্তি প্রকাশ পূৰ্ব্বক সকলের প্রাণ
দান করুন।”
ভক্তের কথা কি ভগবান ঠেলিতে
পারেন ? পর মুহূর্তেই সে বিরাট নরসিংহ
3g@
-~-
S)
মূৰ্ত্তি শান্ত চতুর্ভুজ, শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধারী,
বিষ্ণু মূর্তিতে পবিবর্তিত হইযা দাঁড়াইলেন।
প্রহাদ করযােডে অশেষ প্রকারে
স্তুতি করিল।
অবশেষে নারাযণ প্রহলাদকে সিংহাসনে
বসাইয়া অন্তহিত হইলেন। প্রাদ রাজা
হইল, রাজ্য জুডিষা আনন্দের তুফান ছুটিল।
হবিধ্বনিতে ঘন ঘন মেদিনী কম্পিত হইতে
লাগিল, দিবারাত্রি হবিনাম সংকীর্তনের ধূম
পড়িয়া গেল।
হিবণ্যকশিপুব রাজত্ব কালে যে বৈষ্ণব
ধৰ্ম্ম লােপ হইতে বসিযাছিল, প্রহলাদের
রাজত্ব সময়ে তাহা আবার পূর্ণমাত্রায় প্রচলিত
“হইল। প্রহলাদের রাজত্বে দৈত্যগণ পরম সুখ
শান্তিতে দশ হাজার বৎসর কাল যাপন
করি, সকলেই দেব-দ্বিজ-ভক্ত ধার্মিক হইয়া
উঠিল।
@ে
==
®®
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.