Mbb College, Tripura
Rigvediya Oitoreyoponishod Vol.9,ed.3rd
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
নবম খণ্ড
ঋগ্বেদীয়
BRARY.
ঐতরেযােপনিষদ
ROLLEGE
rta.
।
শাঙ্করভাষ্য-সমেতা।
মহামহােপাধ্যায
পণ্ডিত শ্ৰীযুক্ত দুর্গাচরণ সাংখ্য-বেদান্ত-তীর্থ
কর্তৃক
অনূদিত ও সম্পাদিত।
তৃত * সুবর্ণ
প্রকাশক--
শ্ৰীক্ষীরােদচন্দ্র মজুমদার।
দেব-সাহিত্য কুটীর,
২২৫ বি, ঝামাপুকুৰ লেন, কলিকাতা।
সন ১৩৪৪ সাল
[ All rights reserved.
মূল্য ১১ এক টাকা মাত্র।
বর্ণানুক্রমে মন্ত্ৰসূচী বাক্য। অধ্যায়। খণ্ড। মন্ত্র। বাক্য। অধ্যায়। খণ্ড। মন্ত্র । ১া২৪ কা এতা দেবতাঃ ১২|১ । • • ১।১১ তাভ্যো গামানয়ৎ ১২৩ ১২/২ ২।১।১ ৩১২ ১১২ ১৩১১ ১১৩ অগ্নিবাগভূত্ব আত্মা বা ইমেক এষ ব্রহ্মষ ইন্দ কোহমাত্মেতি তচ্চক্ষুজিবৃক্ষ তচ্ছিশ্নেনা তচ্ছােত্রেণা তৎত্বচা তৎপ্রাণেন। তৎস্ত্রিয়া আত্মভূয় তদপানেনা। তৎক্তমৃষিণা তদনধিসৃষ্ট তন্মনসাজিঘক্ষৎ তমভ্যতপৎ তমশনায়া-পিপাসে তম্মাদিদলো . ০ ০ ১৩১ ৩১।৩। ভ্যঃ পুরুষমানয়ৎ ৩১১ পুরুষে হবা অয়ম্ ১৩৫ | যদেতদ্ধৃদয় ১৩৯ স ইমাল্লোকানসৃজত ১৩৬ স ঈক্ষত কথং ৰিদম্ ১৩৭ স ঈক্ষতেমে নু লােকাঃ ১৩৪ স ঈক্ষতেমে নু লােকাস্ট ২১।২ স এতমেব সীমানম্ ১৩|১০ স এতেন প্রজ্ঞেনাত্মনা ২১৫ স এবং বিদ্বানস্মা ১৩৩ স জাতে ভূতাভি ১৩৮ স ভাবয়িত্রী ১১৪ | সােহপােহভ্যতপৎ ১২|৫ সােহস্যায়মাত্মা ••• • • • ১৩১২ ••• ৩১৪ ২|১৬ ••• ১৩১৩ ••• ২/১৩ ১/৩২ ০ ০ ০ ২|১৪ ••• ১৩।১৪ মন্ত্ৰসূচী সমাপ্ত।
ঐতরেয়ােপনিষদের বিষয়-সূচী প্রথম অধ্যায় বিষয় খণ্ড। মন্ত্র ০ ০ ০ ০ ০ ০ + ০ ০ ১। সৃষ্টির পূর্বে এক অদ্বিতীয় আত্মার অস্তিত্ব, এবং সেই আত্মার (ব্রহ্মের ) লােকসৃষ্টি বিষয়ে আলােচনা লােকসিসৃক্ষু ব্ৰহ্মকর্তৃক অম্ভঃ ও মরীচি প্রভৃতি চতুৰ্ব্বিধ লােকের সৃষ্টি ১। ২ ৩। পুনৰ্ব্বার লােকপালসৃষ্টিবিষয়ে ঈক্ষণ ও জল হইতে পুরুষ- মুর্তি নির্মাণ ১। ৩ ৪। উক্ত পুরুষবিষয়ে ঈশ্বরের চিন্তা, এবং তদীয় চিন্তার ফলে ইন্দ্রিয় এবং তাহার অধিষ্ঠান (গােলক) ও দেবতাগণের উৎপত্তি ১। ৪ ৫। সৃষ্ট দেবতাগণের ক্ষুধা-পিপাসাযােগ ও ভােগায়তন প্রার্থনা ২।১ ৬। পরমেশ্বরকর্তৃক সেই দেবতাগণের নিকট ভােগায়তনরূপে গো-অশ্বাদি দেহ উপস্থাপন ও দেবতাগণ কর্তৃক তাহা প্রত্যাখ্যান অবশেষে মনুষমুর্তি দর্শনে আনন্দপ্রকাশ এবং পরমেশ্বরকর্তৃক তন্মধ্যে প্রবেশের আদেশ ৮। মুখাদি ইন্দ্রিয়স্থানে অগ্নি প্রভৃতি দেবতার প্রবেশ ২। ৪ ৯। পরমেশ্বরের নিকট ক্ষুধা ও পিপাসা কর্তৃক ভােগ্যপ্রার্থনা এবং তদ্বিষয়ে ঈশ্বরকৃত ব্যবস্থা ১০। লােক ও লােকপালদিগের অন্নসৃষ্টি-বিষয়ে পরমেশ্বরের আলােচনা এবং পঞ্চভূত হইতে অন্নসমুৎপাদন ও ভক্ষকদর্শনে অন্নের পলায়নােদ্যম ৩। ১৩ পলায়মান অন্নকে ধরিবার জন্য দেবতাগণের বাক্প্রাণ প্রভৃতি ইন্দ্রিয়ব্যাপার দ্বারা গ্রহণের চেষ্টা ও নিষ্ফল; এবং অবশেষে অপানবায়ুর সাহায্যে গ্রহণ ১২। পরমেশ্বরের উক্ত দেহমধ্যে আত্মপ্রবেশের আবশ্যকতা চিন্তা ও প্রবেশের পথনিরূপণ এবং মুধ সীমা-পথে দেহমধ্যে প্রবেশ ৩। ১১-১২ ১১। * * * ০ ১৩। জীবরূপে দেহপ্রবিষ্ট পরমেশ্বর সমস্ত ভূতবর্গ অবগত হইলেন এবং আপনাকেই ব্রহ্মরূপে দর্শন করিয়া ব্রহ্মের ‘ইদ’ ‘ইন্দ্রনাম নির্বাচন করিলেন। ৩। ১৩-১৪ সৃষ্টিস্থিতিয়কৰ্ত্তা সৰ্ব্বজ্ঞ সৰ্বশক্তি পরমেশ্বর অপর কোনও বস্তুর সাহায্য লইয়াই স্বীয় শক্তিবলে আকাশাদিক্রমে জগৎ সৃষ্টি করিলেন, সৃষ্টির পর স্বাহােপলব্ধির জন্য নিজেই প্রাণিশরীরে প্রবেশ করিলেন ; প্রবেশ করিয়া তিনি ‘ইদং ব্রহ্মাস্মি রূপে যথাযথভাবে আত্মার স্বরূপ প্রত্যক্ষ করিলেন । তিনিই সৰ্বশরীরে এক অদ্বিতীয় আত্মা, তদ্ভিন্ন আর কিছু নাই। এই সমুদয় বিষয় এই অধ্যায়ে বর্ণিত হইয়াছে। • ১। ১-৩ দ্বিতীয় অধ্যায় ১। ভােগশেষে চন্দ্রমণ্ডল হইতে প্রতিনিবৃত্ত কর্মী পুরুষের জন্মক্রম ও তাহার বিবরণ ২। মুমুষু কর্তৃক পুত্রকে আত্ম প্রতিনিধিরূপে স্থাপন এবং জন্মান্তর- গ্রহণের উদ্যম ২। ১ । ৪ ৩। গর্ভমধ্যে অবস্থিত বামনদেব ঋষির তত্ত্বজ্ঞানলাভ-কীৰ্ত্তন, এবং তত্ত্বদর্শীর দেহান্তে অমৃতত্বপ্রাপ্তি-কথন ১। ৫-৬ তৃতীয় অধ্যায় ১। ১ ১। ২ ব্ৰহ্মজিজ্ঞাসু ঋষিগণের উপাস্য আত্মার স্বরূপনিরূপণার্থ পরস্পর জিজ্ঞাসা ও বিচার প্রবৃত্তি ২। আত্মার জ্ঞানসাধন হৃদয় ও মনের একত্বপ্রতিপাদন এবং সংজ্ঞান, আজ্ঞান ও বিজ্ঞান প্রভৃতি মনােবৃত্তিগুলির প্রজ্ঞানাত্মকতা- প্রদর্শন ৩। প্রজ্ঞানরূপী ব্রহ্মের উপাধিযােগে ইন্দ্র ও প্রজাপতি প্রভৃতি বিবিধ রূপভেদ প্রদর্শন ৪। প্রজ্ঞাপ্রভাবে জীবের ইহলােক ত্যাগের পর পূর্ণকামত্ব ও অমৃতত্বলাভ-কথন বিষয়-সূচী সমাপ্ত। ০ ০ ০ ১। ৪ BIKRAM BIR LIBRARY. COL MAHARALA তৰেয়ােপনিষদ, Agartala. ->cc- শান্তিপাঠঃ ওঁ বামে মনসি প্রতিষ্ঠিত মনাে মে বাচি প্রতিষ্ঠিতমা- বিরাবীম এধি। বেদস্য ম আণী স্থঃ শ্রুতং মে মা প্রহাসীঃ। অনেনাধীতেনাহােরাত্ৰা সন্দধামৃতং বদ্যিামি। সত্যং বদিষামি। তন্মামবতু। তদ্বক্তারমবতু অবতু মামবতু বক্তারমতু বক্তার। ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ। অথ শান্তিমন্ত্ৰাৰ্থঃ । [ অস্মিন্ উপনিষৎপাঠে প্রবৃত্তস্থ ] মে (মম) বাক ( বাগিন্দ্ৰিয়ং) মনসি প্রতিষ্ঠিত ( মনােবৃত্ত গুণত্বে অবস্থিত) [ ভবতু ]। তথা মে (মম) মনঃ বাচি প্রতিষ্ঠিতং [ ভবতু ], ( উপনিষৎপাঠে, তদর্থাবধারণে চ মম বাঙ মনসে পরস্পরানুগ্ৰহতন্ত্র ভবতাম ইনি ভাবঃ)। আবিঃ (স্বপ্রকাশম্ আত্ম-চৈতন্যম্ ); হে আবিঃ (চৈতন্যরূপিন্ আত্মন্) [ ত্বং ] মে (মদৰ্থং) আবীঃ (আবিঃ—আবিভূতম্) এধি ( ভব)। [ হে বামনসে ] [ যুবাম্ ] মে (মদর্থং ) বেদস্য আণী (আনয়ন-সমর্থে) স্থঃ (ভবতম্)। [ হে মনঃ, ত্বং ], মে (মম) শ্রুতং (শ্রবণেন অবগতং গ্রন্থ তদর্থজাতঞ্চ) মা হাসীঃ (ন পরিত্যজতন্মে বিস্মৃতং মা ভূদিত্যৰ্থঃ)। অনেন অধীতেন (গ্রন্থেন তদর্থেন চ, অধ্যয়নেন বা) অহােরাত্ৰা (দিবারাত্ৰৎ ) সন্দধামি (সংযােজয়ামি, অধ্যয়নেনৈব দিবারাত্রম্ অতিবাহয়েয়)। ( বাচিকং সত্যং) বদিষামি ; সত্যং (মানসং সত্যং ) বদিষ্যামি (পাঠকালে মনসা সত্যমৰ্থং সঙ্কল্প বাচাপি তথৈব অভিলপামি ইতি ভাবঃ)। তৎ (ময়া বক্ষ্যমাণং ব্রহ্ম ) মাং ( শিষ্যং) অবতু (মমাধ্যয়নবিঘ্নং বিনিহন্তু); তথা তৎ (ব্রহ্ম) বক্তারং (ব্যাখ্যাতার আচাৰ্যং) অবতু (প্রবােধনসামর্থ্য-দানেন [ • ] ; পালয়তু)। [ পুনরপি ফলপ্রাপ্তয়ে প্রার্থয়তে—] মাম্ অবতু (মমাজ্ঞানবিলাসঃ নতু ইতি ভাবঃ); তথা বক্তার (আচাৰ্য্যমপি) অবতু (আচাৰ্য্যস্থাপি বিদ্যাসম্প্ৰদানতঃ পরিতােষ সম্ভবতু)। [ ‘অবতু বক্তার ইতি পুনরুক্তিঃ অধ্যায়সমাপ্ত্যর্থ ] ॥১৷ মূলানুবাদ। [ উপনিষৎপাঠকালে ] আমার বাগিন্দ্রিয় মনে অবস্থিত হউক, আমার মনও বাগিন্দ্রিয়ে সঙ্গত হউক, অর্থাৎ আমার বাক্য ও মন পরস্পর সহানুভূতিসম্পন্ন হউক। হে স্বপ্রকাশ আত্মচৈতন্য, তুমিও আমার নিকট প্রকটিত হও। হে বাক্য ও মনঃ, তােমরা আমার নিমিত্ত বেদ আনয়ন কর অর্থাৎ বেদগ্রহণ ও তাহার অর্থাবধারণে সমর্থ হও; আমার অধীত গ্রন্থ যেন বিস্মৃত না হয় ; আমি যেন এই অধীত গ্রন্থের সহিত দিবারাত্রকে সংযােজিত করিতে পারি, অর্থাৎ দিবারাত্র যেন আমার অধ্যয়নের বিরাম না হয়। আমি সত্য কথা বলিব ; আমি সত্য চিন্তা করিব ; আমি যে ব্ৰহ্মবিদ্যা অধ্যয়ন করিব, সেই ব্ৰহ্ম আমাকে (শিষ্যকে) রক্ষা করুন; তিনি বক্তাকে—আচাৰ্য্যকে রক্ষা করুন ; আমাকে রক্ষা করুন ; বক্তাকে রক্ষা করুন। [ এই শান্তি-মন্ত্রটি এই উপনিষদের সপ্তমাধ্যায়ের শেষে পঠিত আছে ; অধ্যায়শেষে পঠিত বাক্যের শেষাংশের দ্বিরুক্তি করিতে হয়; এইজন্য ‘অবতু বক্তার বাক্যটি দুইবার পঠিত হইয়াছে ] । ; ;
ঋগ্ব্রাহ্মণারণ্যকাণ্ডান্তৰ্গত-দ্বিতীয়ারণ্যকস্থা ঐতরেযােপনিষদ, শাঙ্করভাষ্য-সমেতা ->4- (প্রথমাধ্যায়ে-প্রথম খণ্ড) অভাষাভাষ্যম্।—ওঁ নমঃ পরমাত্মনে। পরিসমাপ্তং কৰ্ম্ম সহাপর- ব্রহ্মবিষয়বিজ্ঞানেন। সৈষা কৰ্ম্মণে। জ্ঞানসহিত পরা গতিরুক্থবিজ্ঞানদ্বারে- নােপসংহৃতা। এতৎ সত্যং ব্রহ্ম প্রাণাখ্যম্। এষ একো দেব। এতস্যৈব প্রাণ সৰ্ব্বে দেবা বিভূতয়ঃ। এত প্রাণস্যাত্মভাবং গচ্ছন্ দেবতা অপ্যেতীত্যুক্ত। সােহয়ং দেবতাপ্যয়লক্ষণঃ পর পুরুষার্থঃ ; এষ মােক্ষ। স চায়ং যথােক্তেন জ্ঞান-কৰ্ম্মসমুচ্চয়েন সাধনেন প্রাপ্তব্যঃ, নাতঃ পরমস্তীত্যেকে প্রতিপন্না। তা নিরাচিকীষুরুত্তরং কেবলাত্মজ্ঞানবিধানাথ “আত্মা বা ইদম্” ইত্যাদ্যাহ। ১ কথং পুনরকর্মসম্বন্ধি-কেবলাত্মবিজ্ঞানবিধানার্থ উত্তরে গ্রন্থ ইতি গম্যতে ? অন্যাথানবগমাৎ। তথাচ পূৰ্ব্বোক্তানাং দেবানমগ্ন্যাদীনাং সংসারিত্বং দর্শয়িষ্যতি অশনায়াদিদোষবনে “তমশনায়াপিপাসাভ্যামবাজ” ইত্যাদি। অশনায়া- দিমৎ সৰ্ব্বং সংসার এব, পরস্য তু ব্ৰহ্মণােহশনায়াদ্যত্যয়তেঃ। ভবত্বেবং কেবলাত্মজ্ঞানং মােক্ষবন, ন ত্বত্রাকম্বােধিক্রিয়তে ; বিশেষাশ্রবণাৎ। অকর্মিণ আশ্রম্যন্তরস্তেহাশ্রবণাৎ। কৰ্ম্ম চ বৃহতীসহস্ৰলক্ষণং প্রস্তুত্য অনন্তর- মেবাত্মজ্ঞানং প্রারভ্যতে। তস্মাৎ কম্বােধিক্রিয়তে ॥২ ন চ কৰ্ম্মাসম্বন্ধ্যাত্মবিজ্ঞানং, পূৰ্ব্ববদন্তে উপসংহারাং। যথা কৰ্মসম্বন্ধিন পুরুষস্ত সূৰ্য্যাত্মনঃ স্থাবরজঙ্গমাদি সৰ্ব্বপ্রাণ্যাত্মত্বমুক্তং ব্রাহ্মণেন মন্ত্রেণ চ “সূৰ্য্য আত্মা” ইত্যাদি, তথৈব “এষ ব্রহ্মা এষ ইন্দ্ৰঃ” ইত্যাপম্য সৰ্ব্ব- প্রাণ্যাত্মত্ব। “ষচ্চ স্থাবরং, সৰ্ব্বং তৎ প্রজ্ঞানেত্রম্” ইত্যুপসংহরিষ্যতি। তথাচ २ ঐতরেয়ােপনিষদ সংহিতােপনিষদি “এতং হেব বচো মহত্যুথে মীমাংসন্তে” ইত্যাদি কৰ্ম্মসম্বন্ধিত্বমুক্তা “সর্বেষু ভূতেদ্বেতমেব ব্রহ্মেত্যাচক্ষতে" ইত্যুপসংহরতি। তথা তস্যৈব “যােয়মশরীরঃ প্রজ্ঞাত্মা” ইত্যুক্ত “যাসাবাদিত্য একমেব তদিতি বিদ্যাৎ” ইত্যেকত্বমুক্ত; ইহাপি “কোহয়মাত্মা” ইত্যুপক্রম্য প্রজ্ঞাত্মত্বমেব “প্ৰজ্ঞানং ব্রহ্ম” ইতি দর্শয়িষ্যতি। তস্মান্নাকৰ্ম্মসম্বন্ধ্যাত্মজ্ঞানম্ ॥৩ পুনরুক্তানর্থক্যমিতি চেৎ—“প্রাণাে বা অহমঘৃষে” ইত্যাদি ব্রাহ্মণেন “সূৰ্য্য আত্মা” ইতি চ মন্ত্রেণ নিধারিতাত্মন “আত্মা বা ইদম্” ইত্যাদিব্রাহ্মণেন “কোয়মাত্মা” ইতি প্রশ্নপূৰ্ব্বকং পুনর্নির্ধারণং পুনরুক্তমনর্থকমিতি চেৎ; ন, তস্তৈব ধর্মান্তরবিশেষ নির্ধারণার্থত্বান্ন পুনরুক্তদোষঃ। কথম্ ? তস্যৈব কৰ্ম্মসম্বন্ধিননা জগৎসৃষ্টিস্থিতি-সংহারাদিধর্মবিশেষনিৰ্দ্ধাৰণার্থাৎ কেবলােপাস্ত্য- থাদ্বা ; অথবা, আত্মেত্যাদিঃ পবব গ্রন্থসন্দর্ভ আত্মনঃ কর্মিণঃ কৰ্ম্মণােহন্যত্রে- পাসনাপ্রাপ্তেী কৰ্ম্ম প্রস্তাবে বিহিতত্বাং কেবলােহপ্যাত্মােপাস্য ইত্যেমর্থঃ । ভেদাভেদোপাত্বাচ্চ “এক এবাত্মা” কৰ্ম্ম বিষয়ে ভেদদৃষ্টি ভা; স এবাকৰ্ম্মকালে অভেদেনাপুপাস্ত ইত্যেমপুনরুক্তত।।৪ “বিদ্যাঞ্চাবিদ্যাঞ্চ যস্তদ্বেদো ভয়ং সহ। অবিয়া মৃত্যুং তীত্ব। বিয়া- মৃতমতে” ইতি, “কুন্নেবেহ কৰ্ম্মাণি জিজীবিষেচ্ছতং সমা” ইতি চ বাজিনা। ন চ বর্ষশতাং পবম্ আযুৰ্ম্মৰ্তানাং যেন কৰ্ম্মপরিত্যাগেনাত্মান- মুপাসীত। দর্শিতঞ্চ “তাবন্তি পুকযুষােহাং সহস্রাণি ভবন্তি” ইতি। বর্ষ- শতঞ্চায়ুঃ কৰ্ম্মণব ব্যাপ্ত। দর্শিতশ্চ মন্ত্রঃ “কুৰ্বন্নেবেহ কৰ্ম্মাণি” ইত্যাদিঃ ; তথা “যাবজ্জীবমগ্নিহােত্রং জুহােতি” “যাবজ্জীবং দর্শপৌঃ মাসাভ্যাং যজেত” ইত্যাদ্যাশ্চ ; “তং যজ্ঞপাত্রৈদ হন্তি” ইতি চ। ঋণত্রয়তে। তত্র হি পারি- ব্রাজ্যাদিশাস্ত্ৰং “ঝখায়াথ ভিক্ষাচর্যং চরন্তি” ইত্যাত্মজ্ঞানস্তুতিপরাের্থবাদোহন- ধিকৃতার্থো বা ৫ ন, পরমার্থাত্মবিজ্ঞানে ফলাদর্শনে ক্রিয়ানুপপত্তেঃ—যক্তং কর্মিণ এব চাত্মজ্ঞানং কর্মসম্বন্ধি চেত্যাদি, তন্ন ; পরং হপ্তকামং সৰ্ব্বসংসারদোষবর্জিত ব্ৰহ্মাহমম্মী ত্যাত্মব্দেন বিজ্ঞানে, কৃতেন কর্তব্যেন বা প্রয়ােজন আত্মনােপশ্যতঃ ফলাদর্শনে ক্রিয়া নােপপঙ্গতে। ফলাদর্শনেহপি নিযুক্তত্বং করােতীতি চেৎ; । নিয়ােগাবিষয়াত্মদর্শনাৎ। ইষ্টযােগমনিষ্টবিয়ােগং বাত্মনঃ প্রয়ােজনং পশ্য তদুপায়া যাে ভবতি, স নিয়ােগস্ত বিষয়া দৃষ্টো লােকে, ন তু তদ্বিপরীত- নিয়ােগাবিষয়ব্ৰহ্মাত্মত্বদর্শী। ব্ৰক্ষাত্মত্বদশ্যপি সন্ চেন্নিযুজ্যেত, নিয়ােগাবিষয়াে- • ন;
প্রথমাধ্যায়ে প্রথম খণ্ডঃ ; হপি সন্ন কশ্চিৎ ন নিযুক্ত ইতি সৰ্ব্বং কৰ্ম্ম সর্বেণ সৰ্ব্বদা কৰ্তব্যং প্রাপ্লেতি, তষ্ঠানিষ্ট ॥৬ ন চ স নিযােক্তং শক্যতে কেনচিৎ; আন্নয়স্তাপি তৎভবত্বাৎ। ন হি স্ববিজ্ঞানােখেন বচসা স্বয়ং নিযুজ্যতে; নাপি বহুবিৎ স্বামবিবেকিনা ভৃত্যেন আন্নায় নিত্যত্বে সতি স্বাতন্ত্র্যাৎ সৰ্বান্ প্রতি নিয়ােক্তৃত্বসামর্থ্যমিতি চেৎ । ন, উক্তদোষা। তথাপি সৰ্বেণ সৰ্ব্বদ। সৰ্বমবিশিষ্টং কৰ্ম্ম কৰ্তব্যমিত্যুক্তো দোষােহপরিহার্য এব। তদপি শাস্ত্রেণৈব বিধীয়ত ইতি চেৎ—যথা কৰ্মকৰ্তব্যতা শাস্ত্রেণ কৃতা, তথা তদপ্যাত্মজ্ঞানং তস্বৈ কৰ্ম্মিণ শাস্ত্ৰেণ বিধীয়ত ইতি চেৎ; ন; বিরুদ্ধার্থবােধকত্বানুপপত্তেঃ ! ন হেকস্মিন্ কৃতাকৃতসম্বন্ধিত্বং তদ্বিপরীতত্বঞ্চ বােধয়িতুং শক্যম্, শীতােষ্ণত্বমিবাগ্নেঃ ৭ ন চেষ্টযােগচিকীর্ষা আত্মনােহনিষ্টবিয়ােগচিকীর্যা চ শাস্ত্ৰকৃতা, সৰ্ব্বপ্রাণিনাং তদ্দর্শনাৎ। শাস্ত্ৰকৃতঞ্চেৎ, তদুভয়ং গােপালাদীনাং ন দৃশ্যেত, অশাস্ত্রজ্ঞত্বাৎ তেষাম্। যদ্ধি স্বতােহপ্রাপ্তং, তচ্ছাস্ত্ৰেণ বােধয়িতব্য। তচ্চেৎ কৃত-কৰ্তব্যতা- বিরােধ্যাত্মজ্ঞানং শাস্ত্রেণ কৃতং, কথং তদ্বিরুদ্ধাং কৰ্তব্যং পুনরুৎপাদয়েৎ শীততামিবাগ্নৌ, তম ইব চ ভানৌ ?ন বােধয়ত্যেবেতি চেৎ ; ন ; “স ম আত্মতি বিদ্যাৎ প্রজ্ঞানং ব্রহ্ম” ইতি চোপসংহারা। “তদাত্মানমেবাবেৎ তত্ত্বমসি” ইত্যেবমাদিবাক্যানাং তৎপরত্বাৎ। উৎপন্ন ব্রহ্মাত্মবিজ্ঞানস্যাবাধ্যমানহান্নানুৎপন্নং ভ্রান্তং বেতি শক্যং বক্তম্ ॥৮ ত্যাগেহপি প্রয়ােজনাভাবশ্য তুল্যত্বমিতি চেৎ ; “নাকৃতেনেহ কশ্চন” ইতি স্মৃতেঃ--য আহুৰ্বিদিত্ব ব্ৰহ্ম বুখানমেব কুৰ্য্যাৎ ইতি; তেষামপেষ সমাননা দোষঃ প্রয়ােজনাভাব ইতি চেৎ; ন, অক্রিয়ামাত্রদুত্থান। অবিদ্যানিমিত্তো হি প্রযােজনস ভাবঃ, ন বস্তুধর্মঃ, সৰ্ব্বপ্রাণিনাং তদ্দর্শনাৎ ; প্রয়ােজন-তৃষ্ণয় চ প্ৰেৰ্যমাণস্থ বাত্মনঃকায়ৈঃ প্রবৃত্তিদর্শনাৎ ; “সােহকাময়ত জায়া মে স্যাৎ ইত্যাদিনা পুত্ৰবিত্যাদি পাক্তলক্ষণং কাম্যমেবেতি উভে হেতে সাধ্য-সাধনলক্ষণে এষণে এবেতি বাজসনেয়ি ব্রাহ্মণেহবধারণাৎ ॥৯ অবিদ্যাকামদোষনিমিত্তায় বাত্মনঃকায়প্রবৃত্তেঃ পাঙক্তলক্ষণায়া বিদ্যােহ- বিদ্যাদিদোষাভাবাদমুপপত্তেঃ ক্রিয়াভাবমাত্রং ব্যুত্থান, ন তু যাগাদিবা- ষ্ঠেয়রূপং ভাবাত্মক। তচ্চ বিদ্যাবৎপুরুষধৰ্ম্ম ইতি ন প্রয়ােজনমন্বেষ্টব্য। ন হি তমসি প্রবৃত্ত উদিত আলােকে যৰ্ত্তপঙ্ককণ্টকাদ্যপতন, তং কিং- প্রয়ােজনমিতি প্রশ্নাহুম্ ॥১০ ঐতরেয়ােপনিষদ বুখানং তহ্যর্থপ্রাপ্তন্ন চোদনাহ ইতি। গাস্থ্যে চেৎ পরং ব্রহ্মবিজ্ঞানং জাতম, তত্রৈবাস্তু অকুৰ্ব্বত আসনং ন ততােহন্যত্র গমনমিতি চেৎ; ন, কামপ্রযুক্তাদগার্হস্থ্যস্ত। “এবান্ বৈ কামঃ” ইতি, “উভে হেতে এষণে এব” ইত্যবধারণা কামনিমিত্ত-পুত্রবিত্তাদিসম্বন্ধনিয়মাভাবমাত্রম্ ; ন হি ততােহন্যত্র গমনং ব্যুত্থানমুচ্যতে। অতাে ন গার্হস্থ্য এবাকুব্বত আসনমুৎপন্নবিদ্যস্য। এতেন গুরু শুশ্রুষাতপসােরপ্যপ্রতিপত্তিৰ্ব্বিদুষঃ সিদ্ধা ॥ ১১ অত্র কেচিগৃহস্থা ভিক্ষাটনাদিভয়াৎ পরিভবাচ্চ মানাঃ সূক্ষ্মদৃষ্টিং দর্শয়ন্ত উত্তরমাহুঃ—ভিক্ষেরপি ভিক্ষাটনাদিনিয়মদর্শনাৎ দেহধারণমাত্রা- ৰ্থিনাে গৃহস্থস্যাপি সাধ্যসাধনৈষণােভয়বিনিম্মুক্ত দেহমাত্ৰধারণার্থমশনা- চ্ছাদনমাত্রমুপজীবতে গৃহ এবাক্বাসনমিতি; ন স্বগৃহবিশেষপরিগ্রহনিয়ম কামপ্রযুক্তাদিত্যুক্তোত্তরমেতৎ । স্বগৃহবিশেষাপরিগ্রহাভাবে ধারণমাত্ৰপ্রযুক্তাশনাচ্ছাদনার্থিনঃ স্বপরিগ্রহবিশেষভাবের্থাদ্ভিক্ষুত্বমেব । শরীরধারণাথায়াং ভিক্ষাটনাদিষু প্রবৃত্তেী যথা নিয়মে ভিক্ষোঃ শৌচাদৌ চ, তথা গৃহিণােহপি বিদুষােহকামিননাহস্তু নিত্যকৰ্ম্ম নিয়মেন প্রবৃত্তির্যাবজ্জীবাদি- তিনিযুক্তত্বাং প্রত্যবায়পরিহারায়েতি। এতন্নিয়ােগাবিষয়ত্বেন বিদুষঃ প্রত্যুত্তমশকনিবযাজ্যত্বচ্চেতি ॥ ১২ যাবজ্জীবাদিনিত্যচোদনানর্থক্যমিতি চেৎ; ন, অবিদ্বদ্বিষয়ত্বেনাথবত্ত্বাৎ। যন্তু ভিক্ষোঃ শরীরধারণমাত্র প্রবৃত্ত প্রবৃত্তেনিয়তত্ব, তৎ প্রবৃত্তেন প্রযােজকম্ । আচমনপ্রবৃত্ত পিপাসাপগমবন্নান্যপ্রয়ােজনার্থত্বমবগম্যতে । ন চাগ্নিহােত্রাদীনাং তদ্বদৰ্থপ্রাপ্তপ্রবৃত্তিনিয়তত্বোপপত্তিঃ। ১৩ অর্থপ্রাপ্তপ্রবৃত্তিনিয়মােহপি প্রয়ােজনাভাবেহনুপপন্ন এবেতি চেৎ; ন। তন্নিমস্ত পূৰ্ব্বপ্রবৃত্তিসিদ্ধাত্ততিক্রমে যত্নগৌরবার্থপ্রাপ্ত ব্যুত্থান পুন- চনাদ্বিষাে মুমুক্ষোঃ কৰ্ত্তব্যত্বোপপত্তিঃ। অবিদুষাপি মুমুক্ষুণা পারিব্রাজ্যং কৰ্ত্তব্যমেব ; তথা চ “শান্তো দান্তঃ” ইত্যাদিবচনং প্রমাণম্ ; প্রমাণম্ ; শম- দমাদীনাঞ্চাত্মদর্শনসাধনানামন্যাশ্রমেধনুপপত্তেঃ। “অত্যাশ্রমিভ্যঃ পরমং পবিত্রং প্রােবাচ সম্যগৃষিসভ্যজুঃ” ইতি চ শ্বেতাশ্বতরে বিজ্ঞায়তে। “ন কৰ্ম্মণা ন প্রজয়া ধনেন ত্যাগেনৈকে অমৃতত্বমানগুঃ” ইতি চ কৈবল্যশ্রুতিঃ। “জ্ঞাত্ব নৈস্কৰ্ম্মমাচরেৎ” ইতি স্মৃতেঃ। “ব্ৰহ্মাশ্রমপদে বসেৎ” ইতি চ ব্রহ্মচর্য্যাদি- বিদ্যাসাধনানঞ্চ সাকল্যেনাত্যাশ্রমিয়ূপপত্তেৰ্গাহস্থ্যেহসম্ভবাৎ। ১৫ ন চু অসম্পন্নং সাধনং কচিদশ্য সাধনায়ালম্। যদ্বিজ্ঞানােপ- প্রথমাধ্যায়ে প্রথম খণ্ডঃ •• যােগীনি চ গাহস্থ্যাশ্রমকৰ্ম্মাণি, তেষাং পরমফলমুপসংহৃতং দেবতাপ্যয়লক্ষণং সংসারবিষয়মেব। যদি কৰ্ম্মিণ এব পরমাত্মবিজ্ঞানমভবিষ্যৎ, সংসারবিষয়স্বৈ ফলপেসংহারো নােপপৎস্যত। অফলং তদিতি চেৎ; ন, তদ্বিরােধ্যাত্ম- বস্তুবিষয়ত্বাদাত্মবিদ্যায়াঃ । নিরাকৃতসৰ্ব্বনামরূপকৰ্ম্ম-পরমার্থাত্মবস্তু-বিষয়- মাত্মজ্ঞানমমৃতত্বসাধন। গুণফলসম্বন্ধে হি নিরাকৃতসবিশেষাত্মবস্তু- বিষয়ত্বং জ্ঞানস্য ন প্রাপ্লেতি ; তচ্চানিষ্ট, “যত্র ত্বস্ত সৰ্বমাত্মৈবাভূৎ” ইত্যধিকৃত্য ক্রিয়া-কারক-ফলাদিসৰ্বব্যবহারনিরাকরণাদ্বিদুষঃ ; তদ্বিপরীতস্যাবিদুষঃ “যত্র হি দ্বৈতমিব ভবতি” ইত্যুত্ত্বা ক্রিয়াকারকফলরূপস্য সংসারস্থ দর্শিতত্বাচ্চ বাজসনেয়িব্রাহ্মণে। তথেহাপি দেবতাপ্যয়ং সংসারবিষয়ং যৎ ফলমশনায়াদি- মদ্বস্বাত্মক, তদুপসংহৃত্য কেবলং সৰ্বাত্মকবস্তুবিষয়ং জ্ঞানমমৃতত্বায় বক্ষ্যামীতি প্রবর্ততে। ১৬ ঋণ প্রতিবন্ধশ্চাবিদুষ এব মনুষ্য-পিতৃ-দেবলােক প্রাপ্তি; প্রতি, ন বিদুষঃ “সােহয়ং মনুষ্যলােকঃ পুত্রেণৈব” ইত্যাদিলােকয়সাধননিয়মতে। বিদুষ ঋণ প্রতিবন্ধাভাবে দশিত আত্মােকার্থিন “কিং প্রজয়া করিষ্যামঃ' ইত্যা- দিনা। তথ। “এতদ্ধ স্ম বৈ তদ্বিদ্বাংস আহুঋষয়ঃ কাবষেয়া” ইত্যাদি, “এতদ্ধ স্ম বৈ তং পূৰ্বে বিদ্বাসােহগ্নিহােত্রং ন জুহবাঞ্চ” ইতি চ কৌধী- তকিনা। ১৭ অবিদুষস্তহি ঋণানপাকরণে পারিব্রাজ্যানুপপত্তিরিতি চেৎ; ন, প্রা- গার্হস্থ্যপ্রতিপত্তেঋণি স্বাসম্ভবা ; অধিকারানারূঢ়োহপি ঋণী চেৎ হৃৎ, সৰ্বস্ত ঋণিত্বমিত্যনিষ্ট প্রসজ্যেত। প্রতিপন্নগাৰ্হস্থ্যস্থাপি “গৃহাদ্বনী ভূত্ব। প্ৰব্ৰজেং যদি বেতবুথ ব্রহ্মচর্য্যাদেব প্রব্রজেহাদ্বা বনা।” ইতি আত্মদর্শনােপায়- সাধনত্বেনৈষ্যত এব পারিব্রাজ্য। যাবজ্জীবাদিতীনামবিদ্বমুমুক্ষুবিষয়ে কৃতার্থতা। ছান্দ্যোগ্যে চ কেঞ্চিদ দ্বাদশরাত্ৰমগ্নিহােত্রং হুত্বা তত উৰ্দ্ধং পরিত্যাগঃ শায়তে। ১৮ যনধিকৃতানাং পারিব্রাজ্যমিতি; তন্ন, তেষাং পৃথগেব “উৎসন্নাগ্নি রনগ্নিকো বা” ইত্যাদিশ্রবণাৎ সৰ্ব্বস্মৃতি চাবিশেষেণাশ্রমবিকল্পঃ প্রসিদ্ধ, সমুচ্চয়। যন্তু, বিদুষাের্থপ্রাপ্তং ব্যুত্থানমিত্যশাস্ত্ৰাৰ্থত্বে, গৃহে বনে বা তিত ন বিশেষ ইতি ; তদসৎ ; ব্যথানস্যৈবার্থপ্রাপ্তত্বান্নান্যত্রাবস্থানং স্যাৎ। অন্যত্রাবস্থান কামকৰ্ম্মযুক্তত্বং হবােচাম ; তদভাবমাত্র ব্যুত্থানমিতি চ। ১৯ ঐতরেয়ােপনিষদ ; যথাকামিত্বন্তু বিদুষােহত্যন্তমপ্রাপ্ত অত্যন্তমুঢ়বিষয়ত্বেনাবগমাৎ। তথা শাস্ত্রবিহিতমপি কৰ্ম্মাত্মবিদোহপ্রাপ্তং গুরুভারতয়াবগম্যতে ; কিমুতা- ত্যন্তাবিবেকনিমিত্ত যথাকামিত্বম্ ? ন হুন্মাদতিমিরদৃষ্টপলব্ধং বস্তু তদপগমেহপি তথৈব স্যৎ, উন্মাদতিমিরদৃষ্টিনিমিত্তত্বদেব তস্য। তস্য। তস্মা- দাত্মবিদো বুখানব্যতিবেকেণ ন যথাকামিত্ব, ন চান্যৎ কর্তব্যমিত্যেৎ সিদ্ধম। ২• যত্ত “বিদ্যাঞ্চাবিদ্যাঞ্চ বস্তুদেদোভয়ং সহ” ইতি ন বিদ্যাবত বিদ্যুয়া সহাবিদ্যাপি বৰ্তত ইত্যয়মঃ ; কহি? একস্মিন্ পুৰুষে এতে সম্বধ্যেয়ামিত্যর্থঃ ; যথা যথা শুক্তিকায়াং রজত-শুক্তিকাজ্ঞানে এক পুরুষ। “দুরমেতে বিপরীতে বিসূচী অবিদ্যা যা চ বিদ্যেতি জ্ঞাতা” ইতি হি কাঠকে। তন্ন বিদ্যায়াং সত্যামবিদ্যায়াঃ সম্ভবােহস্তি। “তপসা ব্ৰহ্ম বিজিজ্ঞাসস্ব” ইত্যাদি। শ'তে। তপআদি বিদ্যোৎপত্তিসাধনং গুরূপাসনাদি চ কৰ্ম্মবিদ্যাত্মকত্বাদ- বিদ্যোচ্যতে ; তেন বিদ্যামুৎপাদ্য মৃত্যুং কামমতিরতি। ততে নিদাম- স্ত্যক্তৈষণাে ব্রহ্মবিদ্যায়ামৃতত্বমত ইত্যেতমর্থং দর্শয়ন্নাহ-“অবিদয়া মৃত্যুন্তীত্ব। বিদ্যয়ামৃতমতে”। ২১ যত্ত পুরুষায়ুঃ সৰ্ব্বং কৰ্মণৈব ব্যাপ্ত “কুৰ্বন্নেবেহ কৰ্ম্মাণি জিজীবিষেচ্ছতং সমা” ইতি, তদবিদ্বদ্বিষয়ত্বেন পরিহৃত, ইতরথাহসম্ভবাৎ। যত্ত, বক্ষ্যমাণ- মপি পূর্বোক্ত-তুল্যত্বাৎ কৰ্ম্মণ অবিরুদ্ধমাত্মজ্ঞানমিতি, তৎ সবিশেষ-নিৰ্বিশেষাত্ম- বিষয়তয়া প্রত্যুক্ত ; উত্তবত্র ব্যাখ্যানে চ দর্শয়িষ্যাম। অতঃ কেবলনিস্ক্রিয়- ব্ৰহ্মাত্মৈকত্ববিদ্যাপ্রদর্শনার্থমুত্তরে গ্রন্থ আরভ্যতে আভাষ-ভাষ্যানুবাদ। অপর ব্রহ্মবিষয়ক উপাসনা-বিজ্ঞ- নের সহিত কৰ্ম্মানুষ্ঠানের কথা সম্পূর্ণরূপে পরিসমাপ্ত হইয়াছে। জ্ঞানসহযােগে অনুষ্ঠিত কর্মের যাহা পর গতি বা সর্বোৎকৃষ্ট ফল, তাহাও উকৃথ-বিজ্ঞানের নিরূপণপ্রসঙ্গে বর্ণিত হইয়াছে। ইহাই ‘সত্য’ ব্ৰহ্ম, যাহার নাম প্রাণ, ইনিই (প্রাণই) শ্রেষ্ঠ দেবতা, অপর দেবতাগণ এই দেবতারই বিভূতি বা মহিমাস্বরূপ, যে লােক এই প্রাণাত্মভাব লাভ করেন, তিনিই দেবতাকে প্রাপ্ত হন (প্রাণ- স্বরূপ হন ), এই সমুদয় কথা সেখানে উক্ত হইয়াছে। এই যে, প্রাণ দেবতাতে বিলয় বা একীভাবপ্রাপ্তি, ইহাই জীবনের পরম পুরুষাৰ্থ ; ইহাই মােক্ষ। উল্লিখিত এই মােক্ষ ফলটী, এক সঙ্গে অনুষ্ঠিত জ্ঞান ও কৰ্ম্মরূপ সাধন দ্বারা পাইতে হইবে; ইহার অধিক প্রাপ্তব্য আর কিছু নাই; যাহারা এই প্রকার বিকৃত প্রথমেহধ্যায়ে-প্রথম খণ্ড ৭. জ্ঞানসম্পন্ন, তাহাদিগের ভ্রান্তিনিরাসের অভিপ্রায়ে অতঃপর অতঃপর কৰ্ম্মরহিত কেবল আত্মজ্ঞান-বিধানের জন্য ‘আত্মা বা ইদ ইত্যাদি পরবর্তী গ্রন্থ আরব্ধ হইতেছে। ১ ভাল, পরবর্তী গ্রন্থ যে কৰ্ম্মসম্পৰ্কশূন্য কেবলই আত্মজ্ঞানের বিধানাথ আরব্ধ হইতেছে, তাহা জানা যায় কিরূপে ? | উত্তর— যেহেতু উহার অন্য প্রকার অর্থ বা উদ্দেশ্য প্রতীত হয় না; বিশেষতঃ “তম্ অশনায়াপিপাসাভ্যাম্ অন্ববাজং” ইত্যাদি বাক্যে অশনায়া (ভােজনেচ্ছা—ক্ষুধা) প্রভৃতি দোষ প্রদর্শন দ্বারা পূর্বোক্ত অগ্নিপ্রভৃতি দেবতাগণের সংসারিত্ব ফলও প্রদর্শন করিবেন। পর- ব্ৰহ্ম ক্ষুধা-পিপাসার অতীত এই শ্রুতিবাক্য হইতে বুঝিতে পারা যায় যে, ক্ষুধা ও পিপাসাদি ধৰ্ম্ম বা গুণসমূহ সংসারেরই অন্তর্গত। ভাল, কৰ্ম্মরহিত কেবল আত্মজ্ঞান মােক্ষ-সাধন হয় হউক, তথাপি একমাত্ৰ কৰ্ম্মত্যাগী লােকই যে ইহাতে অধিকারী হইবে, একথা ত বলা যাইতে পারে না; যেহেতু এ বিষয়ে কোনও বিশেষ উক্তি নাই; অর্থাৎ কৰ্ম্মহীন অপর আশ্রমীর সম্বন্ধে কোন বিশেষ কথা ত এখানে নাই। বিশেষতঃ এই ব্রাহ্মণেও ‘বৃহতীসহস্র’ নামক কর্মের অবতারণা করিয়া, তাহার অব্যবহিত পরেই আত্মজ্ঞানের কথা আরম্ভ করা হইয়াছে। ইহা হইতে বুঝা যায় যে, কৰ্মী পুরুষই এই আত্ম-বিদ্যায় অধিকারী ( কর্মত্যাগী নহে)। ২ আর কর্মের সহিত যে আত্মজ্ঞানের একেবারেই সম্বন্ধ নাই, তাহাও বলিতে পারা যায় না; কারণ, পূর্বের ন্যায় এখানেও কর্মকাণ্ডের শেষেই [ আত্মজ্ঞানের ] উপসংহার করা হইয়াছে ; [ আত্মজ্ঞানের সহিত কৰ্ম্মের সম্বন্ধ না থাকিলে, এরূপ উপসংহার করা সঙ্গত হইত না ]। পূৰ্বে যেমন, সূৰ্য্যাত্মভাবাপন্ন কৰ্মী পুরুষকে স্থাবরজঙ্গমাত্মক সমস্ত প্রাণীর আত্মস্বরূপ বলিয়া মন্ত্র ও ব্রাহ্মণভাগে “সূৰ্য্য আত্মা” ইত্যাদি বাক্যে অভিহিত করা হইয়াছে, এখানেও ঠিক সেই প্রকারই ‘ইনিই ব্রহ্ম, ইনিই ই’ ইত্যাদি বিবিধ বিষয়ের উপক্রমের পর [ উপাসককে ] সৰ্ব্বপ্রাণীর আত্মভাবাপন্ন বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে, এবং পরেও, যাহা স্থাবর পদার্থ, তাহা প্রজ্ঞানেত্র, অর্থাৎ প্রজ্ঞা- শব্দবাচ্য ব্ৰহ্মকর্তৃক পরিচালিত এই বলিয়া প্রকরণের উপসংহার করা হইবে। এইরূপ ঐতরেয় সংহিতার অন্তর্গত উপনিষদেও ঋগ্বেদী পণ্ডিতগণ ইহাকেই মহা-উথে সিদ্ধান্ত করিয়া থাকেন’ ইত্যাদি বাক্যে আত্মার কর্মসম্বন্ধিতা প্রতি- পাদন করিয়া, পরে আবার, ইহাকেই সমস্ত ভূতের অভ্যন্তরে অবস্থিত ঐতরেয়ােপনিষদ ব্ৰহ্ম বলিয়া থাকেন এইরূপে বাক্যের উপসংহার করিয়াছেন। এই প্রকার ‘এই যে শরীরসম্বন্ধহীন প্রজ্ঞাত্মা'—এই বাক্যে [ পূৰ্ব্বে যাহার কথা উক্ত হইয়াছে, তাহারই উপক্রম বা উলেখ করিয়া, পশ্চাৎ ‘এবং ঐ যে আদিত্য, উভয়কেই এক বলিয়া জানিবে’ এই বাক্যে উভয়ের একত্ব বা অভিন্নভাব উক্ত হইয়াছে। পূর্বের ন্যায় এখানেও এই আত্মা বস্তুটী কি ?—এইরূপে প্রশ্ন করিয়া ‘ব্রহ্ম প্ৰজ্ঞাস্বরূপ’ বলিয়া আত্মারই প্রজ্ঞাত্মভাব প্রদর্শন করিবেন। অতএব এই আত্মবিদ্যা কখনই কৰ্ম্ম সম্বন্ধশূন্য হইতে পারে না। ৩ যদি বল, আত্মবিদ্যা কৰ্ম্মসম্বদ্ধ হইলে, তাহা ত পূৰ্বেই কথিত হইয়াছে ; [ এখানে তাহার ] পুনরুক্তি করা নিরর্থক হইয়া পড়ে ? অভিপ্রায় এই যে, ‘প্রাণস্বরূপে আমি স্পর্শ করিয়াছি’ ইত্যাদি ব্রাহ্মণবাক্যে, এবং সূর্যই [ স্থাবর-জঙ্গমের ] আত্মা ইত্যাদি মন্ত্রে, যে আত্মা নির্ধারিত হইয়াছে, এখানে আবার “আত্মা বৈ ইদম্” ইত্যাদি ব্রাহ্মণ বাক্যে যদি “কোহয় আত্মা” ইত্যাদি প্রশ্নপূৰ্ব্বক পুনৰ্ব্বার সেই আত্মারই স্বরূপ নির্ধারণ করা হইয়া থাকে, তাহা হইলে নিশ্চয়ই পুনরুক্তি দোষ ঘটিত ; কিন্তু এখানে সেরূপ পুনরুক্তির কোনও প্রয়ােজনই নাই। উত্তর এই যে-না, তাহা নিরর্থক পুনরুক্তি নহে; কেন না, পূর্বে যে আত্মার সম্বন্ধে কথা বলা হইয়াছে, এখানে তাহারই বিশেষ ধর্ম গুলির নির্ধারণাৰ্থ পুনরুক্তি করা হইয়াছে ; সুতরাং এরূপ পুনরুক্তি দোষাবহ নহে। কি প্রকার ? পূর্বোক্ত কৰ্ম্ম সম্বন্ধী আত্মারই যে সৃষ্টি-স্থিতি-সংহারাদি আরও ধৰ্ম্ম আছে, সে সমুদায়ের নির্ধারণের নিমিত্ত, কিংবা কেবলই আত্মােপাসনার নিরূপণার্থ প্রকরণ আরব্ধ হওয়ায় এখানে পুনরুক্তি দোষাবহ হইতেছে না। অভিপ্রায় এই যে, আত্মা যখন কৰ্ম্মের সহিত সংসৃষ্ট, তখন কর্মসম্বন্ধ ব্যতিরেকে অর্থাৎ কৰ্ম্মাঙ্গরূপে বিহিত উপাসনা ব্যতিরেকে আত্মার উপাসনাই সম্ভবপর হইতে পারে না; এমত অবস্থায়, কৰ্ম্মপ্রস্তাবে বিহিত নয় বলিয়া কৰ্ম্মসম্বন্ধশূন্যরূপেও যে আত্মার উপাসনা হইতে পারে, এই অভিপ্রায় জ্ঞাপনের নিমিত্তই ‘আত্মা বৈ’ ইত্যাদি পরবর্তী গ্রন্থ প্রবৃত্ত হইয়াছে বলিতে পারা যায় (১)। বিশেষতঃ ভেদাভেদরূপে উপাস্য বলিয়াও উল্লিখিত দোষ ঘটিতে । (১) তাৎপৰ্য-এখানে উপাসনায় এই প্রকার দুইটী বিভাগ বুখিতে হইবে, এক শুদ্ধোপাসনা, অপর কৰ্ম্মাঙ্গ উপাসনা। যেখানে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে কেবল আত্মার উপাসনা, তাহা শুদ্ধোপাসনা, আর যাগাদি কর্মের অঙ্গরূপে যে উপাসনা, তাহা কৰ্মাজ উপাসনা। ; ।
প্রথমেহধ্যায়ে-প্রথম খণ্ড ; পারে না,একই আত্মা কৰ্ম্মানুষ্ঠান বিষয়ে ভেদদৃষ্টির বিষয় হয়, অর্থাৎ ভিন্নভাবে আরাধনীয় হয়, আবার সেই আত্মাই অভিন্নভাবেও--‘অহং' রূপেও উপাস্য হইয়া থাকে ; এই কারণেও পুনরুক্তি দোষাবহ হইতেছে না। ৪ [ অতঃপর কর্মত্যাগপক্ষে শ্রুতিবিরােধ প্রদর্শন করিতেছেন-] বাজসনেয়ি উপনিষদে কথিত আছে—“যে ব্যক্তি বিদ্যা ও অবিদ্যা, এই উভয়কে একসঙ্গে অবগত হন, তিনি অবিদ্যা দ্বারা মৃত্যুভয় অতিক্রম করেন, এবং অবশেষে বিদ্যার সাহায্যে অমৃতত্ব লাভ করেন। ইহলােকে কৰ্ম্মানুষ্ঠান করিয়াই শত বৎসর বাঁচিতে চাহিবে। একশত বৎসরের অধিক ত আয়ু হইতে পারে না, যে, শত বৎসর কৰ্ম্মানুষ্ঠানের পরও কৰ্ম্মত্যাগ করিয়া অর্থাৎ সন্ন্যাসী হইয়া আত্মার উপাসনা করিবে। অন্যত্র প্রদর্শিতও হইয়াছে যে, পুরুষের আয়ুষ্কালের দিবস সংখ্যা তত সহস্র অর্থাৎ ছয়ত্রিশ হাজার (৩৬০ ০০ ) হইয়া থাকে’ (২)। সেই একশত বৎসর আয়ুর সময় ত কৰ্ম্ম দ্বারাই অধিকৃত রহিল। একশত বৎসর যে কৰ্ম্ম করিতেই হইবে, তদ্বিষয়ে ‘ কুন্নেবেহ কৰ্ম্মাণি ইত্যাদি মন্ত্রবাক্য, এবং যাবজ্জীবন অগ্নিহােত্র হােম করিবে’ যাবজ্জীবন দর্শপৌর্ণমাস যাগ করিবে ইত্যাদি ‘কাঙ্গ’ উপাসনা আবার দুই প্রকার ; এক কৰ্ম্মা বস্তুর অবয়বে উপাসনা, যেমন-অশ্বমেধ যজ্ঞের অখে ‘উষা’ প্রভৃতি কাল-চিন্তা। দ্বিতীয়—কর্মোপযােগী স্তবস্তোত্রাদিতে বিভিন্ন প্রকার চিন্তা ; যেমন—ছান্দোগ্যোপনিষদে বিহিত ‘উথ’ ও উদগীথাদি চিন্তা। এখানে আশঙ্কা হইয়াছিল যে, আত্মা যখন কর্মসংস্ষ্ট, তথন কোনরূপ বিহিত কর্মের সহযােণেই তাহার উপাসনা হইতে পারে, কর্মসম্পর্ক ছাড়া কেবল আত্মার উপাসনা কখনই হইতে পারে না। আত্মা বৈ’ ইত্যাদি বাক্য সেই আশঙ্কানিব’রণপূর্বক বলিয়া (তেছে যে, কর্মপ্রকরণ শেষ করিয়া স্বতন্ত্রভাবে যখন এখানে আত্মোপাসনা বিহিত হইয়াছে, তখন বুঝা যাইতেছে যে, কৰ্ম্ম নম্বন্ধ ব্যতীতও কেবল আত্মার উপাসনা করিতে পারঃ যায়, এবং এখানে তাহাই কৰ্ত্তব্য। (২) তাৎপৰ্য-এই ঐতরেয় ব্রাহ্মণের মধ্যেই ‘বৃহতীসহস্র' নামক একটী শস্ত্রের (স্তোত্রের) উল্লেখ আছে। তাহার অক্ষর-সংখ্যা ছয়ত্রিশ হাজার নির্দেশ করিয়া বলিয়াছেন যে, “তাবন্তি পুরুষ- যুষােহহং সহস্রাণি” অর্থাৎ উক্ত বৃহতীসহস্ৰস্তোত্রের অক্ষর-সংখ্যা যেমন ছয়ত্রিশ হাজার ; মনুষ্যের আয়ুর দিন-সংখ্যাও সেই পরিমাণ অর্থাৎ ছয়ত্রিশ হাজার। ত্রিশ দিনে মাস ধরিয়া তাহার তিনশত ষাটদিনে যে বৎসর গণনা হয়, তাহাকে ‘সাব বৎসর বলে। এই সাবন বৎসর ধরিয়াই অায়ুর্গণনা করা হইয়া থাকে। মনুষ্যের আয়ু একশত বৎসর হইলেই তাহার দিনসংখ্যা ছয়ত্রিশ হাজার হইতে পারে, কিন্তু নুনাধিক হইলে তাহা হইতে পারে না। মনুষ্যের যে একশত বৎসর অায়ু, ইহ! সাধারণ নিয়মমাত্র।
ঐতরেয়ােপনিষদ বাক্য প্রদর্শিত হইয়াছে। আরও আছে—সেই পুরুষকে যজ্ঞপাত্রের সহিত দগ্ধ করিবে ইত্যাদি ঋণত্রয়বােধক শ্রুতিও এপক্ষে অপর প্রমাণ (৩)। তবে যে সন্ন্যাসবিধায়ক ‘এষণাত্রয় হইতে নিবৃত্ত হইয়া, অনন্তর ভিক্ষাচর্য্য আচরণ করিবে, অর্থাৎ সন্ন্যাস গ্রহণ করিবে’, ইত্যাদি শাস্ত্র আছে, তাহা কেবল আত্মজ্ঞানের প্রশংসাপ্রকাশক স্তুতিমাত্র ; অথবা যাহারা কৰ্ম্মানুষ্ঠানে অনধিকৃত—অন্ধ, পঙ্গু প্রভৃতি, তাহাদের জন্যই সন্ন্যাসবিধায়ক শাস্ত্র, কিন্তু কর্মক্ষমুদিগের সন্ন্যাসবােধক নহে। ৫ [ অতঃপর ভাষ্যকার স্বসিদ্ধান্ত বলিতেছেন যে, ] না, এ কথা হইতে পারে না; কারণ, যথার্থ আত্মজ্ঞান উপস্থিত হইলে, কোন ফলই তাহার প্রার্থনীয় থাকিতে পারে না; সুতরাং তন্নিমিত্ত ক্রিয়াতেও প্রবৃত্তি হইতে পারে না। অভিপ্রায় এই যে, তুমি যে বলিয়াছ, আত্মজ্ঞান কর্মীর পক্ষেই বিহিত এবং কর্মের সহিত সংসৃষ্টও বটে ইত্যাদি, তাহা সঙ্গত নহে; কারণ, ‘আমি হইতেছি—অপ্তকাম সহসাবের সর্ববিধ দোষবজ্জিত ব্ৰহ্মস্বরূপ, এই প্রকার আত্মজ্ঞান সমুৎপন্ন হইলে পর, সে ব্যক্তি কৃত বা কৰ্তব্য কৰ্ম্ম দ্বারা আপনার লভ্য কোনও ফল দেখিতে পায় না। যে লােক ক্রিয়াতে কোনপ্রকার ফল দর্শন কবে না, তাহার পক্ষে ক্রিয়ানুষ্ঠান সম্ভবপরই হয় । যদি বল, ফল দর্শন না থাকিলেও শাস্ত্র যখন তাহাকে কর্মে নিযুক্ত করিতেছে, তখন তাহাকে অবশ্যই কৰ্ম্ম করিতে হইবে। না, সে কথাও বলিতে পার না; কেন না, সে যে আত্মার সাক্ষাৎকার লাভ করিয়াছে, সে আত্মা ত কখন ও নিয়ােগের বিষয়ীভূত নহে। যে লােক ইষ্টলাভ ও অনিষ্টের অভাব দর্শন করে, সেই লােকই তদুপযুক্ত উপায়ের প্রার্থী হইয়া থাকে, এবং সেই প্রকার লােককেই জগতে নিয়ােগের বিষয়ীভূত হইতে দেখা যায় । কিন্তু তদ্বিপরীত—নিয়ােগের অবিষয়ীভূত ব্ৰহ্মাত্মদর্শী পুরুষকে নিয়ােগের বিষয় হইতে কখনও দেখা যায় না। পক্ষান্তরে, নিয়ােগের অযােগ্যকেও যদি নিযুক্ত (৩) তাৎপৰ্য—শ্রুতি বলিয়াছেন—“জয়মানো বৈ ব্রাহ্মণ স্ত্রভিঋণবা জাংতে।” অর্থাৎ ব্রাহ্মণ জন্মের সময়ই তিনটী ঋণ (দেব-ঋণ, ঋষি-খ। ও পিতৃ-ঋণ) লইয়া জন্ম ধারণ করেন ইত্যাদি। স্মৃতিশাস্ত্র বলেন-'ঋণানি ত্ৰীণ্যপকৃত্য মনে। মােক্ষে নিবেশয়েৎ। অনপাকৃত্য মােক্ষ তু সেবনাে ব্ৰত্যধঃ॥” অর্থাৎ দেব-ঋণ, ঋষি ঋণ ও পিতৃ-ঋণ, এই ঋণ পরিশােধ করিয়া মুক্তিপণে মনােনিবেশ করিবে; কিন্তু ঋণ শােধ না করিয়া মোক্ষপথে মন দিলে সে অধোগামী প্রথমেইধ্যায়ে—প্রথম খণ্ড ১১ বলিয়া ধরা হয়, তাহা হইলে ত নিয়ােগের অবিষয় অর্থাৎ অনিযােজ্য হইলেও, কোন ব্যক্তিকেই অনিযুক্ত’ বলিয়া নির্দেশ করিতে পারা যায় না। সুতরাং সকলকেই নিযুক্ত মনে করিতে হয়। তাহার ফলে সকলের পক্ষেই সৰ্ব্বদা সকল কৰ্ম্ম অবশ্যকর্তব্য হইয়া পড়ে ; তাহা ত কাহারও অভিলষিত নহে। ৬ বিশেষতঃ তাদৃশ আত্মাকে কেহ কৰ্ম্মানুষ্ঠানে নিয়ােগ করিতেও পারে না; কেন না, নিয়ােগকৰ্ত্তা স্বয়ং বেদও তাহা হইতেই (চিপ আত্মা হইতেই ) সমুৎপন্ন; সুতরাং আত্মবিজ্ঞানের ফলস্বরূপ বেদবাক্য কখনই আত্মাকে নিয়োজিত করিতে পারে না। বিবেক-বিচারবিহীন ভৃত্য কখনই বহুবিষয়ে অভিজ্ঞ প্রভুকে আদেশ করিতে পারে না। যদি বল, বেদ যখন ( নিত্য, কাহারও দ্বারা রচিত নহে ), তখন সকলের উপরই তাহার স্বাতন্ত্র থাকিতে পারে? না, সে কথাও বলিতে পার না ; কারণ, এ পক্ষে, যে দোষ ঘটে, তাহা পূৰ্বেই উক্ত হইয়াছে, তাহা হইলেও, বিহিত কৰ্ম্মমাত্রই সে তুল্যরূপে সকলের পক্ষেই অবশ্যকর্তব্য হইয়া পড়ে, পূর্বে যে এই দোষ উক্ত হইয়াছে, সে দোষের ত নিশ্চয়ই পরিহার হইল না। যদি বল, ঐরূপ অসঙ্গত ব্যবস্থা ত শাস্ত্র দ্বারাই বিহিত, অর্থাৎ শাস্ত্র যেমন কৰ্ম্মানুষ্ঠানের বিধান করিয়াছেন, তেমনই কৰ্মী পুরুষের জন্য আত্মজ্ঞানেরও বিধান করিয়াছেন { সুতরাং শাস্ত্রোক্ত বিষয়ে দোষক্ষেপ করা সম্ভব হয় না। না, সে কথাও বলিতে পার না ; কারণ, শাস্ত্র কখনই বিরুদ্ধার্থবােধক হইতে পারে না; কেন না, একই পুরুষের পক্ষে কৃতাকৃত-সম্বন্ধ অর্থাৎ অনুষ্ঠান ও অনুষ্ঠানযােগ এবং তাহার বিপরীতভাব কখনই উপদেশ হইতে পারে না,—যেমন অগ্নির শীতােষ্ণভাবের উপদেশ।৭ বিশেষতঃ আত্মার যে অভীষ্টপ্রাপ্তির ও অনিষ্টপরিহারের ইচ্ছা হয়, তাহ শাস্ত্ৰদ্বারা সমুৎপাদিত নহে; [ উহা স্বাভাবিক ]; যেহেতু উহা সর্বপ্রাণীর সাধারণ ধৰ্ম্ম। ইষ্ট প্রাপ্তি ও অনিষ্ট পরিহারের ইচ্ছা যদি শাস্ত্রজনিতই হইত, তাহা হইলে [ শাস্ত্রজ্ঞানবিবর্জিত ] গােপালকদিগের সম্বন্ধে উহা কখনই হইত না ; কারণ, তাহারা ত শাস্ত্রজ্ঞ নহে। [ প্রকৃত কথা এই যে, যাহা স্বভাবপ্রাপ্ত নয়, (উপদেশ-সাপেক্ষ ), শাস্ত্র তাহাই বুঝাইয়া দিবে। অতএব শাস্ত্র যদি কৰ্তব্যতার বিরােধী আত্মজ্ঞানের উপদেশ করিয়া থাকে, তাহা হইলে সেই শাস্ত্ৰই আবার তদ্বিরােধী—অগ্নিতে শীতলতা ও সুৰ্যে অন্ধকারের সম্ভাব প্রতিপাদনের ন্যায় কর্তব্য (কৰ্ম্মানুষ্ঠানের আবশ্যক) প্রতিপাদন করিবে কি ১২ ঐতরেয়ােপনিষদ প্রকারে ? যদি বল, শাস্ত্র নিশ্চয়ই যে ঐরূপ বিরুদ্ধভাব প্রতিপাদন করিতেছে, , তাহা নহে; কারণ, উপসংহার স্থলে কথিত—ব্রহ্ম প্রজ্ঞানস্বরূপ’, ‘তাহাই আমার আত্মা, এইরূপে জানিবে’ ইত্যাদি। সেই আত্মাকেই জানিবে’, ‘তুমি সেই ব্ৰহ্মস্বরূপ, এই জাতীয় বেদান্তবাক্য সমুহের ঐরূপ অর্থেই তাৎপৰ্য্য। বিশেষতঃ একবার উৎপন্ন ব্ৰহ্মাত্মবিজ্ঞান যখন অপর কোনও জ্ঞান দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হয় না, অর্থাৎ অসত্য রূপে অবধারিত হয় না, তখন ঐরূপ জ্ঞান যে উৎপন্ন হয় না, অথবা ভ্রমাত্মক, তাহাও বলিতে পারা যায় না। ৮ যদি বল, [ আত্মজ্ঞের প্রয়ােজন নাই বলিয়া যেরূপ কৰ্ম্মপ্রবৃত্তির অসম্ভব, তদ্রুপ ] কৰ্ম্মত্যাগেও ত তাহার কোন প্রয়ােজন নাই ; সুতরাং অপ্রবৃত্তির কারণ উভয় পক্ষেই তুল্য। কারণ, স্মৃতিতে (ভগবদগীতায় উক্ত) আছে—‘কৰ্ম্ম- ত্যাগেও জ্ঞানীর কোন প্রয়ােজন নাই। অতএব যাহারা বলেন-ব্রহ্মজ্ঞানের পর ব্যুত্থানই করিতে হইবে, তাহাদের পক্ষে ও প্রয়ােজনাভাবরূপ দোষ তুল্যই রহিয়াছে ; না, সেকথা বলিতে পার না ; কারণ, ‘ব্যুথান’ কথার অর্থ- অক্রিয়া —ক্রিয়ানিবৃত্তিমাত্র ( কিন্তু কোন প্রকার অনুষ্ঠান নহে)। তাহার পর, প্রয়ােজমের যে সদ্ভাববোধ, তাহাও অবিদ্যারই ফল, উহা কখনই বস্তুধর্ম বা বস্তুস্বভাব নহে; কারণ, প্রত্যেক প্রাণীতেই প্রয়ােজনবুদ্ধি দৃষ্ট হইয়া থাকে । বিশেষতঃ প্রয়ােজনের প্রলােভনে প্রলুব্ধ লােকেরই কায়িক, বাচিক ও মানসিক কৰ্ম্ম-প্রবৃত্তি দৃষ্টিগোচর হইয়া থাকে। বাজসনেয়ি ব্রাহ্মণে—সেই আদি পুরুষ কামনা করিয়াছিলেন যে, আমার জয় হউক’ ইত্যাদি বাক্যে অবধারিত হইয়াছে যে, পুত্র, বিত্ত প্রভৃতি পাঙক্ত (১) কৰ্ম্মগুলি নিশ্চয়ই কাম্য কর্ম। এষণা বা কামনা কেবল দুইপ্রকার ; এক সাধ্য—ফলবিষয়ক, অপর সাধন-বিষয়ক ইত্যাদি। আত্মজ্ঞ পুরুষের অবিদ্যাদি দোষ বিনষ্ট হইয়া যায় ; সুতরাং অবিদ্যা ও কামাদিদোষপ্রসূত পাঙক্ত কৰ্ম্ম-বাক্ ও শরীরের প্রবৃত্তি, মনঃ (১) তাৎপৰ্য-বাজমনেয়ি’ শব্দে এখানে ‘বাজসনেয়িব্রাহ্মণ ও যজুৰ্বেদীয় শতপথ- ব্রাহ্মণের অন্তর্গত বৃহদারণ্যকোপনিষদ বুঝিতে হইবে। তাহাতে ‘পাঙক্ত’ কথার বিবরণ রহিয়াছে। পাঁচটি বিষয়ের যােগ থাকায় কাম্য ‘বিষয়কে পাঙক্ত নামে অভিহিত করা হইয়াছে। সেই পাচট বিষয় এই—(১) জায়া, (২) পুত্র, (৩) দৈববিত্ত, (৪) মানুষবিত্ত ও (৫) কৰ্ম্ম, এই পাঁচটীর সহিত যাহাদের সম্বন্ধ আছে, তাহাদেরই নাম পাঙক্ত। এইরূপে পুত্র, বিত্ত প্রভৃতি সকলই পাও মধ্যে পরিগণিত।
প্রথমেহধ্যায়ে—প্রথম খণ্ড কখনই তাহার পক্ষে সম্ভবপর হয় না; সেই কারণেই ‘ব্যুত্থান' কথার অর্থ— শুদ্ধ ক্রিয়ার অভাবমাত্র, কিন্তু যাগাদির ন্যায় অনুষ্ঠানযােগ্য কোনও ভাব পদার্থ (বস্তু) নহে। উক্ত ক্রিয়ার অভাবস্বরূপ ব্যুত্থান হইতেছে বিদ্বান পুরুষের স্বাভাবিক ধৰ্ম্ম ; অতএব তাহার জন্য অন্য কোনরূপ প্রয়ােজনের অন্বেষণ করা আবশ্যক হয় না। অন্ধকারে গমনকারী ব্যক্তির আলােক লাভ হইলে যে গর্ত, পঙ্ক ও কণ্টকাদিতে পতন হয় না, তাহাতেও কি 'কেন পতন হয় না এই প্রশ্ন উঠিতে পারে ?১০ ভাল কথা, বুখান যদি স্বাভাবিক ধৰ্ম্মই হয়, তাহা হইলে, তদ্বিষয়ে ত বিধিও আবশ্যক হয় না; অথচ ব্যুত্থানবিষয়ে যদি কোন বিধিই না থাকে, তাহা হইলে গার্হস্থ্যাশ্রমেই যাহার ব্রহ্মবিষয়ক তত্ত্বজ্ঞান জন্মিয়াছে, তাহার গৃহস্থাশ্রমেই নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করা উচিত, অন্যত্র ( সন্নাসে) যাইবার প্রয়ােজন কি ? একথা যদি বল, তদুত্তৰে বলিতেছি যে, না, তাহা বলিতে পার না; যেহেতু গার্হস্থ্যাশ্রম গ্রহণ করা হইতেছে কাম্য (কামনার অধীন ), অর্থাৎ যাহার হৃদয়ে কামনা আছে, তাহার পক্ষেই গার্হস্থ্যাশ্রম বিধেয়, নিষ্কামের পক্ষে নহে। এই পর্যন্ত কামনার বিষয় কেবল এই দুই প্রকারই এষণা এইরূপ অবধারণা থাকায় বুঝা যাইতেছে যে, কামনাপ্রযুক্ত যে পুত্র-বিত্তাদির সম্বন্ধ ( আমার পুত্র, আমার বিত্ত ইত্যাকার বােধ ), তাহার অভাবই ‘ব্যুথান’ ; কিন্তু তাহা পরিত্যাগ করিয়া অন্যত্র গমনকে ‘বুখান’ বলা হয় নাই। অতএব যাহার তত্ত্বজ্ঞান সমুৎপন্ন হইয়াছে, তাহার পক্ষে কৰ্ম্ম ত্যাগ করিয়া গার্হস্থ্যাশ্রমে অবস্থান করাই সম্ভব হয় । একথা দ্বারা বিদ্বান্ পুরুষের পক্ষে যে গুরুষ ও তপস্যার অনুপপত্তি, তাহাও বলা হইল।১১ এ বিষয়ে কোন কোন গৃহস্থ, সন্ন্যাসে ভিক্ষাচৰ্যাদি-ক্লেশের ভয়ে এবং পরকৃত অবজ্ঞাদির ভয়ে সন্ত্রস্ত হইয়া, আপনাদের সূক্ষ্মদর্শিত (বিচারনৈপুণ্য) প্রদর্শন করত উত্তরে বলিয়া থাকেন যে,-সন্ন্যাসীর যখন দেহধারণের নিমিত্ত ভিক্ষাচৰ্য্যাদির নিয়ম প্রতিপালন নিয়ম প্রতিপালন দৃষ্ট হয়, তখন কেবল দেহধারণমাত্র যাহার প্রয়ােজন, তাদৃশ গৃহস্থেরও সাধ্য-সাধনাত্মক ‘এষণা পরিত্যাগপূর্বক কেবল দেহরক্ষার নিমিত্ত ভােজন ও আচ্ছাদনমাত্র উপজীব্য করিয়া গৃহেই অবস্থান করা উচিত; গৃহত্যাগ করিয়া অন্যত্র গমনের কোন প্রয়ােজন নাই। , তাহা সঙ্গত হয় না; কেননা, এ কথার উত্তরে পূর্বেই বলা হইয়াছে যে, ১৪ ঐতরেয়ােপনিষদ নিজের গৃহবিশেষে যে বাস করা, তাহাও কামনারই ফল ; সুতরাং তাহার পক্ষে নিজের গৃহে বায় করা সম্ভবই হইতে পারে না। আর নিজের বলিয়া কোন গৃহবিশেষে বাস না করিয়া যদি কেবলই দেহধারণের উদ্দেশ্যে ভােজন ও আচ্ছাদনের অন্বেষণ করে, এবং আমার’ বলিয়া কোন বিষয় স্বীকার না করে, তাহা হইলে ত ফলতঃ তাহার ভিক্ষুকত্বই সিদ্ধ হইল। ভিক্ষুর যেরূপ শরীব- রক্ষাৰ্থ ভিক্ষাটনাদি কাৰ্য্যে ও শৌচাচার পরিপালনে নিয়ম ( আবশ্যকতা ) আছে, নিষ্কাম বিদ্বান গৃহীরও তদ্রুপ যাবজ্জীবন অগ্নিহােত্র যাগ করিবে’ ইত্যাদি শ্রৌত বিবান বলে, প্রত্যবার পরিহাবেব নিমিত্ত সন্ধ্যাবন্দনাদি নিত্যকর্মে নিয়মিত ভাবে প্রবৃত্তি হইতে পারে ; কিন্তু জ্ঞানী পুরুষ এই প্রকার নিয়ােগবিধির বিষয় নয় বলিয়াই ক্রিয়াতে নিযােজ্য হইতে পারেন না; সুতরাং তাহার পক্ষে উহা প্রত্যাখ্যাতই হইতেছে।১২ ভাল, এরূপ সিদ্ধান্ত হইলে ত জীবনব্যাপী নিত্যানুষ্ঠানবােধক বাক্যসমুহ নিরর্থক হইয়া পড়ে ? না—নিরর্থক হয় না; কারণ, বিবেকজ্ঞানবিহীন লােক- দিগের সম্বন্ধেই সেই সমস্ত বিধির সার্থকতা রহিয়াছে। ভিক্ষুর ( সন্ন্যাসীর ) যে কেবল শরীর রক্ষার জন্য প্রবৃত্তি। (ভিক্ষাচৰ্যাদির) নিয়ম, তাহাও তাহার প্রবৃত্তির (কৰ্ম্মানুষ্ঠানেব) প্রযােজক নহে। জল দ্বারা আচমন করিলে যেমন সঙ্গে সঙ্গে পিপাসারও নিবৃত্তি হইয়া থাকে, ভিক্ষুর নিয়ম-প্রতিপালনও ঠিক তদ্রুপ ; ইহার অন্য কোনও প্রয়ােজন বুঝা যায় না। যাবজ্জীবন অগ্নিহােত্রাদি কৰ্ম্মেও, আচমনে প্রবৃত্ত ব্যক্তি পিপাসা-শান্তির ন্যায় প্রবৃত্তির নিয়মকে অর্থপ্রাপ্ত অর্থাৎ ফলদ্বারা স্বীকৃত বলিলেও সঙ্গত হইতে পারে।১৩ আপত্তি হইতে পারে যে, প্রয়ােজন না থাকিলে কেবল অর্থপ্রাপ্ত (ফলবলে লব্ধ) প্রবৃত্তির নিয়মও নিশ্চয়ই উপপন্ন হয় না। না, সে আপত্তি হইতে পারে ; কারণ, প্রথমতঃ তাদৃশ নিয়ম পালনে যে তাহার প্রবৃত্তি, তাহা তাহার পুৰ্ব্বপ্রবৃত্তিসিদ্ধ, অর্থাৎ সাধকদশায় তাঁহাকে ঐ সমুদয় নিয়ম প্রতিপালনে এতই অভ্যাস করিতে হইয়াছিল যে, এখন প্রয়ােজন না থাকিলেও তাহা আপনা হইতেই আসিয়া পড়ে। দ্বিতীয়তঃ পূৰ্বাভ্যস্ত নিয়মগুলি পরিত্যাগ করিতে হইলে তাহাকে অতিশয় প্রয়াস পাইতে হয় ; তৃতীয়তঃ বিনা উপদেশেই ব্যুত্থানের ( সমাধিভঙ্গের) প্রাপ্তি সম্ভাবনা সত্ত্বেও ব্যুত্থানের জন্য পুনরুপদেশ করা হইয়াছে। এই সমুদয় কারণেই জ্ঞানী মুমুক্ষু ব্যক্তির পক্ষে নিয়ম প্রতিপালনের আবশ্যকতা উপপন্ন হইতেছে ।১৪ প্রথমেইধ্যায়ে-প্রথম খণ্ড বিশেষতঃ যাহার হৃদয়ে মুক্তিলাভের ইচ্ছা প্রবল থাকে, বিদ্বান্ না হইলেও যে তাহাকে অবশ্যই সন্ন্যাস গ্রহণ করিতে হইবে, এবিষয়ে শান্ত ( শমগুণান্বিত ) ও দান্ত (দমগুণান্বিত) হইয়া ইত্যাদি শ্রুতিবাক্যই প্রমাণ। আত্ম-দর্শনের উপায়ভূত শমাদি গুণ লাভ করা অন্য আশ্রমে সম্পূর্ণরূপে সম্ভবও হয় না। তাহার পর ‘পরম পবিত্র এবং ঋষিসমুহকর্তৃক সেবিত আত্মতত্ত্ব অত্যাশ্রমীদিগকে (যাঁহারা ব্রহ্মচৰ্য্যাদি আশ্রম ত্ৰয় অতিক্রম করিয়া সন্ন্যাসী হইয়াছেন, তাহাদিগকে ) বলিয়াছিলেন, উক্ত শ্বেতাশ্বতর উপনিষদেও এই তত্ত্বই জানা যাইতেছে । কৈবলল্যাপনিষও বলিতেছেন—কোন কোন ঋষি-কৰ্ম্ম দ্বারা নহে, প্রজা হারা নহে, ধন দ্বারা নহে, একমাত্র সন্ন্যাস দ্বারাই অমৃতত্ব (মােক্ষ) উপভােগ করিয়াছিলেন’ ইত্যাদি। স্মৃতিশাস্ত্রেও রহিয়াছে-‘জ্ঞানােদয়ের পর নৈষ্কর্মা (সন্ন্যাস অবলম্বন করিবে’ ইত্যাদি, এবং ব্রহ্মাশ্রমপদে (সন্ন্যাসাশ্রমে ) অবস্থান করিবে’ ইত্যাদি। ব্রহ্মচর্য প্রভৃতি যে সমুদয় বিদ্যা-সাধন বিদ্যমান আছে, একমাত্র অত্যাশ্রমী সন্নাসীতেই সে গুলির সম্পূর্ণরূপে সমাবেশ হইতে পারে ; পক্ষান্তরে গাৰ্হস্থ্যে সেগুলির সম্পূর্ণরূপে অনুষ্ঠানও হইতে পারে না।১৫ আর সাধনসম্পত্তি অপূর্ণ থাকিলে, তাহা কোন প্রয়ােজন সাধনেই সমর্থ হয় না। বিশেষতঃ গার্হস্থ্যাশ্রমে অনুষ্ঠেয় যে সমস্ত কৰ্ম্ম বিজ্ঞান-সাধনরূপে বিহিত, উপসংহারে কথিত হইয়াছে যে, সে সমুদয় কৰ্ম্মেরও শেষ ফল হইতেছে—দেবতাতে লয় প্রাপ্তি ; সুতরাং উহাও সংসারেরই অন্তঃপাতী। যদি কেবল কৰ্ম্মীর পক্ষেই পরমাত্মবিজ্ঞান বিহিত হইত, তাহা হইলে কখনই সংসারান্তর্গত ফলের উপসংহার করা সঙ্গত হইত না। যদি বল, উহা (দেবতা- লয়) অগফল মাত্র অর্থাৎ দেবতাতে যে লয়প্রাপ্তির কথা আছে, তাহা কৰ্ম্মের মুখ্য ফল নহে, গৌণ ফল মাত্র। না, তাহাও বলিতে পারা যায় না ; কারণ, আত্মজ্ঞানের ফল হইতেছে উহার বিরােধী আত্মবস্তু ; [ সুতরাং উহা- দের মধ্যে গৌণ-মুখ্যভাব হইতেই পারে না ]। যাহার সম্বন্ধে সৰ্ব্বপ্রকার নাম, রূপ ও কর্মসম্বন্ধ প্রত্যাখ্যাত হইয়াছে, সেই পরমার্থ সত্য আত্মবস্তু-বিষয়ক জ্ঞানই মুক্তিসাধন। বিশেষতঃ অঙ্গফলের সম্বন্ধ কল্পনা করিলে, নিৰ্বিশেষ আত্মবস্তু-বিষয়ক জ্ঞানের সম্ভবই হইতে পারে না; তাহাও ত তােমার অভীষ্ট নহে। কারণ, যে সময় এই মুমুক্ষুর সমস্তই আত্মস্বরূপ হইয়া যায় ইত্যাদি শ্রুতিবাক্যে জ্ঞানীর সম্বন্ধে ক্রিয়া, কারক ও ফল প্রভৃতি সমস্ত ব্যবহারই ১৬ ঐতরেয়ােপনিষদ্ প্রতিষিদ্ধ হইয়াছে; এবং তদ্বিপরীত অবিদ্বানের সম্বন্ধে আবার ‘যে অবস্থায় যেন দ্বৈতের ন্যায় হয় ইত্যাদি বাজসনেয়ি ব্রাহ্মণে, সাংসারিক ক্রিয়াকারকাদি সমস্ত অবস্থা প্রদর্শিত হইয়াছে। এখানেও ঠিক সেই প্রকারই বুঝিতে হইবে যে, প্রথমতঃ কামনা-সংযুক্ত সংসারবিষয়ক দেবতাপ্যয় (দেবতাতে লয়রূপ) ফলের উপসংহার করিয়া অবশেষে মুক্তিলাভের উপায়ভূত সৰ্বাত্মক ব্ৰহ্মবস্তু- বিষয়ক জ্ঞানের উপদেশ করিব-এই উদ্দেশ্যসিদ্ধির জন্যই আলােচ্য শ্রুতিবাক্য প্রবৃত্ত হইয়াছে ।১৬ তাহার পর, পূর্বে যে ঋণত্রয়ের কথা বলা হইয়াছে, তাহাও কেবল অজ্ঞ লােকদিগেরই দেবলােক, পিতৃলােক ও মনুষ্যলােক প্রাপ্তির প্রতিবন্ধক হইয়া থাকে ; কিন্তু তাহা বিদ্বানের সম্বন্ধে কোন প্রকার বাধাই ঘটাইতে পারে ; কারণ, পুত্র দ্বারাই এই মনুষ্যলােক জয় কবিতে হইবে’ ইত্যাদি শ্রুতিতে মনুষ্যাদি লােকপ্রাপ্তির পক্ষে পুত্রাদিকে সাধনৰূপে অভিহিত করা হইয়াছে। পক্ষান্তরে, যিনি জ্ঞানী আত্ম-লােক প্রার্থী, তাহার সম্বন্ধে আমরা সন্তান দ্বারা কি করিব ? ইত্যাদি শ্রুতিতে প্রদর্শিত হইয়াছে যে, ঋণত্রয় জ্ঞানীর পক্ষে কোন বাধা ঘটাইতে পারে না। কৌষীতকী শ্রুতিতে আছে—যাবতীয় বিদ্বান্ ঋষিগণ এই কথাই বলিয়াছিলেন, এবং এই কারণেই প্রাচীন জ্ঞানিগণ অগ্নিহােত্র হােম করিতেন না’ ইত্যাদি।১৭ ভাল কথা, এইরূপ সিদ্ধান্ত হইলেও, অবিদ্বান্ লােক যতকাল ঋণ- ত্রয় হইতে বিমুক্ত না হয়, তত কাল ত তাহার আর পারিব্রাজ্য বা সন্ন্যাসগ্রহণ হইতেই পারে না। , এরূপ আপত্তি সঙ্গত হয় না; কেন না, কোন লােকই গার্হস্থ্য ধর্ম অবলম্বন করিবার পূর্বে ঋণগ্রস্ত হইতে পারে না, অর্থাৎ গার্হস্থ্য অবলম্বনই ঋণ-সম্বন্ধের কারণ। আর যদি উপযুক্ত অধিকার লাভ করিয়াও ঋণগ্রস্ত হয়, তাহা হইলে ত নির্বিশেষে সকলকেই ঋণী হইতে হয় ; এরূপ হইলে ত অনিষ্টেরই সম্ভাবনা। তাহার পর ‘গৃহস্থাশ্রম হইতে বানপ্রস্থ অবলম্বনপূৰ্ব্বক শেষে প্রব্রজ্যা ( সন্ন্যাস) গ্রহণ করিবে, অথবা সম্ভব হইলে, ব্রহ্মচর্য হইতে, গার্হস্থ্য হইতে, কিংবা বানপ্রস্থ হইতেই প্রব্রজ্যা করিবে’ ইত্যাদি শ্রুতি হইতেও বেশ বুঝিতে পারা যায় যে, যে লােক গার্হস্থ্য, অবলম্বন করিয়াছে, তাহার পক্ষেও আত্মদর্শনের উপায়রূপে সন্ন্যাস গ্রহণ করা অভীষ্টই বটে। আর যে, যাবজ্জীবন অগ্নিহােত্র যাগানুষ্ঠানের বিধায়ক শ্রুতি দেখিতে পাওয়া যায়, বিদ্যাবিহীন অমুমুক্ষুর সম্বন্ধেই তাহা সার্থক হইতে পারে। t প্রথমেহধ্যায়ে—প্রথম খণ্ডঃ ছান্দোগ্য ব্রাহ্মণেও কোন কোন শাখাধ্যায়ীর সম্বন্ধে কেবল দ্বাদশরাত্র মাত্র হােমের পরই অগ্নি পরিত্যাগের বিধায়ক শ্রুতি দেখিতে পাওয়া যায়। অতএব যাবজ্জীবাদি শ্রুতি কখনই সন্ন্যাসের বিরােধিনী হইতে পারে না। ১৮ আর যে, কৰ্ম্মানুষ্ঠানে অনধিকারীদিগের পক্ষেই পারিব্রাজ্য কল্পনা করা হইয়াছে, তাহাও সঙ্গত হয় নাই ; কেন না, তাহাদের সম্বন্ধে ‘উৎসন্নাগ্নি কিংবা নিরগ্নি’ ইত্যাদি বিশেষ শ্রুতিরই উল্লেখ রহিয়াছে। তাহার পর, সমস্ত স্মৃতিশাস্ত্রেই সাধারণভাবে আশ্রমের বিকল্পবিধি ও সমুচ্চয়বিধি প্রসিদ্ধ রহিয়াছে। আরও যে, বলা হইয়াছে—জ্ঞানীর যে ব্যুথান বা সন্ন্যাস গ্রহণ, তাহা অর্থপ্রাপ্ত অর্থাৎ তাহা আপনা হইতেই হইয়া পড়ে, তন্নিমিত্ত আর বিধানের আবশ্যক হয় না ; সুতরাং উহা শাস্ত্ৰার্থ বা বৈধ নহে; অতএব সেরূপ লােক গৃহে বনে কিংবা যেখানে ইচ্ছা থাকুক না কেন, তাহাতে কিছু মাত্র বিশেষ নাই । সে কথাও সঙ্গত নহে; কারণ, ব্যুত্থান যদি অর্থপ্রাপ্তই হয়, তাহা হইলে ত জ্ঞানীর পক্ষে অন্য কোন আশ্রম-বিশেষে অবস্থান করাই সম্ভব হইতে পারে না; কেন না, আশ্রমবিশেষে অবস্থানের একমাত্র কারণ হইতেছে কামনা ও তদুচিত কৰ্ম্মানুষ্ঠান ; অথচ তদুভয়ের নিবৃত্তির নাম হইতেছে বুখান। ১৯ কামচার-প্রবৃত্তি যখন অত্যন্ত মূঢ়লােকদিগের পক্ষেই দৃষ্ট হয়, তখন জ্ঞানীর সম্বন্ধে ত সেই কামচার-প্রবৃত্তি কখনই সম্ভবপর নহে। শাস্ত্রবিহিত কৰ্ম্মই যখন আত্মজ্ঞের পক্ষে দুৰ্ব্বহ গুরু ভার বলিয়া বিবেচিত হইয়া থাকে, তখন অত্যন্ত অজ্ঞানের ফল কামচার-প্রবৃত্তি যে দুৰূহ হইবে, তাহা ত আর বক্তব্যই নহে। উন্মাদ বা তিমির রােগের দরুণ যে বস্তু যে প্রকার দৃষ্ট হইয়া থাকে, সেই উন্মাদ ও তিমির বােগ তিরােহিত হইলেও সেই বস্তু সেই প্রকারে কখনই দৃষ্ট হয় না; কেন না, উন্মাদ ও তিমির রােগই ঐ প্রকার বিকৃত দর্শনের কারণ ছিল, এখন তাহার নিবৃত্তি হইয়াছে। অতএব এই সিদ্ধান্ত স্থির হইল যে, আত্মজ্ঞ পুরুষের ব্যুত্থান ব্যতিরেকে যথেচ্ছভাবে অবস্থান করা হইতেই পারে না, এবং তাহার অন্য কিছু কৰ্তব্যও অবশিষ্ট থাকে না। ২০ তাহার পর, “বিদ্যাং চাবিদ্যাং চ যস্তদ্বেদোভয়ং সহ” এই শ্রুতি বচনেরও এরূপ অর্থ নয় যে, জ্ঞানীর সম্বন্ধে ও বিদ্যার সহিত অবিদ্যা বিদ্যমান থাকে ; পরন্তু উহার অর্থ এই যে, যেমন একই শুক্তিতে একই পুরুষের যুগপৎ রজত ও শুক্তি বিষয়ে জ্ঞান সমুৎপন্ন হয় না, তেমনি একই পুরুষে পরস্পর বিরুদ্ধস্বভাব ১৮ ঐতরেয়ােপনিষদ বিদ্যা ও অবিদ্যা একদা কখনও স্থান পাইতে পারে না। কঠোপনিষদে আছে —এই যে বিদ্যা ও অবিদ্যা, ইহারা উভয়ে অত্যন্ত বিরুদ্ধস্বভাব, ও বিপরীত পথগামী। অতএব বিদ্যা সত্ত্বে কখনও অবিদ্যার সম্ভব হয় না। তপস্যা দ্বারা ব্রহ্মকে জানিবে’ ইত্যাদি শ্রুতিতে ব্রহ্মজ্ঞানের নিমিত্ত তপস্যা ও গুরুশুশ্রুষাদি কর্ম সাধনরূপে উপদিষ্ট হইয়াছে ; এরূপ স্থলে শাস্ত্র-বিহিত ও বিদ্যোৎপত্তির উপায়ভূত এই তপঃপ্রভৃতি ও গুরু-শুশ্রুষাদি কৰ্ম্ম গুলিই অবিদ্যাত্মক বলিয়া অবিদ্যা নামে কথিত হইয়া থাকে। [ ইহা দ্বারা প্রমাণিত হইতেছে যে, ] লােকে এই তপঃপ্রভৃতি সাধন দ্বারা প্রথমে বিদ্যালাভ করিয়া কামনারূপী মৃত্যুকে অতিক্রম করে, তাহার পর নিষ্কাম হইয়া সৰ্ব্বপ্রকার এষণা পরিত্যাগ করিয়া বিদ্যাপ্রভাবে অমৃতত্ব ভােগ করিয়া থাকে। এইরূপ অভিপ্রায় জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যেই বলিয়াছেন যে,—‘অবিদ্যা দ্বারা মৃত্যু অতিক্রম করিয়া বিদ্যা দ্বারা অমৃত (মােক্ষ ) ভােগ করি। থাকে’ ইতি। ২১ আরও যে, বলা হইয়াছে—“কুৰ্বন্নেবেহ কৰ্ম্মাণি জিজীবিষেৎ শতং সমাঃ।” এই শ্রুতি হইতে জানা যায় যে, পুরুষের সম্পূর্ণ আয়ুষ্কাল কৰ্ম্মানুষ্ঠানেই পরিসমাপ্ত অর্থাৎ পুরুষ যতকাল জীবিত থাকিবে, ততকাল আর কৰ্ম্মাধিকার হইতে মুক্তি লাভ করিতে পারিবে না, ইত্যাদি। [ ইহার উত্তর—] এই শ্রুতি অবিদ্বান্ পুরুষের পক্ষেই প্রযােজ্য, এই বলিয়া সে আপত্তিরও পরিহার করা হইয়াছে। এরূপ না বলিলে, ঐ শ্রুতির অর্থসঙ্গতিই - সম্ভব হয় না। আর যে উক্ত শ্রুতির অনুরূপ বিষয়ে, বক্ষমাণ আত্মজ্ঞানকেও কর্মের সহিত অবিরুদ্ধ বলিয়া আপত্তি করা হইয়াছিল, তাহাও সবিশেষ ও নিৰ্বিশেষ আত্মভেদে বিষয়ব্যবস্থা দ্বারা প্রত্যাখ্যাত বা পরিহৃত হইয়াছে ; ইহা আমরা পরেও ব্যাখ্যাচ্ছলে প্রদর্শন করিব। অতএব বুঝিতে হইবে যে, কেবল নিষ্ক্রিয় শুদ্ধ ব্ৰহ্মাত্মৈকত্ব-বিদ্যা প্রকাশনের নিমিত্তই যে পরবর্তী গ্রন্থ আরব্ধ হইতেছে, তদ্বিষয়ে কোনও সন্দেহ নাই। আত্মা বা ইদমেক এবারী আসীৎ । নান্যৎ কিঞ্চন মিষৎ । স ঈক্ষত লােকান্ নু সৃজা ইতি। ১।
প্রথমেহধ্যায়ে-প্রথম খণ্ডঃ ১৯ প্রণম্য গুৰুপাদাজং স্মৃত্ব শঙ্কব-ভাষিতম্। ঐতব্যেশ্রুতি-ব্যাখ্যা সবলাখ্যা বিতন্যতে। • সৱলাৰ্থঃ। ইদং (নামৰূপাভামভিব্যক্তং জগৎ) অগ্রে (সৃষ্টেঃ প্রাক্ ) একঃ ( সৰ্ব্বথা ভেদশূন্যঃ ) আত্মা (ব্যাপকং ব্রহ্ম) বৈ (অবধাবণে আত্মৈব ) আসীৎ , অন্যৎ ( সজাতীযং বিজাতীয, বা) কিঞ্চন (কিমপি বস্তু) মিষৎ (ব্যাপাববৎ ) ন (নাসীদিত্যৰ্থঃ ) , সঃ (আত্মা) ঈক্ষত (ঐক্ষত- আলােচ্যমাস)-লােকান্ (অন্তঃপ্রভৃতীনি ভোগহানানি) ( বিতর্কে ) স্জৈ' (জে ) [ অহম ] ইতি শেষঃ ॥ ১। মূলানুবাদ। সৃষ্টির পূর্বে এই জগৎ এক মাত্র আত্মাই ছিল, অর্থাৎ বিবিধ বৈচিত্র্যবিশিষ্ট এই জগৎ সৃষ্টির পূর্বে এক অদ্বিতীয় ব্ৰহ্মস্বরূপেই ছিল ; তদ্ভিন্ন সক্রিয় অন্য কিছুই ছিল না। তিনি আলাে- চনা (চিন্তা) করিলেন—আমি অন্তঃপ্রভৃতি লােক সৃষ্টি করিব ॥১॥ শাঙ্কৱভাষ্যম্। আত্মেতি। আত্মা—আপ্লেতেবত্তেবততেৰ্বা, পবঃ সৰ্বজ্ঞঃ সৰ্বশক্তিবশনাযাদিসৰ্ব্বসসাবধৰ্ম্মবর্জিতে নিত্যশুদ্ধবুদ্ধমুক্তস্বভাবােবজো- হজবােহমবােহমৃতােহভযােহবঃ বৈ। ইদ, যদুক্তং নামৰূপকৰ্ম্মভেদভিন্নং জগৎ আত্মৈব এক, অগ্রে জগতঃ সৃষ্টেঃ প্রাক্ আসীৎ। কিং নেদানীং স এবৈকঃ ন। কথ, তহি আসীদিত্যুচ্যতে ? যদ্যপীদানীং স এবৈক, তথাপ্যস্তি বিশেষ প্রা শুৎপত্তেবব্যাকৃতনাম ৰূপভেদমষ্মভূতম আত্মেকশব্দ প্রত্যযােচবং জগৎ, ইদানীং ব্যাতনামৰূপভেদানেকশব্দ প্রত্যযগােচবম্ আত্মৈকশব্দপ্রত্যয়- গােচবঞ্চেতি বিশেষঃ। যথা সন্মিলাৎ পৃথক্ যেননামৰূপব্যাকৰণাৎ প্রাক সলিলৈক-শব্দ প্রত্যযগােচব এব ফেনঃ, যদা সলিলাং পৃথনামৰূপভেদেন ব্যাকৃত ভবতি, তদা সলিলং ফেনশ্চেতি অনেকশব্দপ্রত্যযভাক্ সলিলমেবেতি কৈশব্দ প্রত্যযভাক্ চ ফেনাে ভবতি, তদ্বৎ। ১ ন অন্যৎ কিঞ্চন ন কিঞ্চিদপি, মিষৎ নিমিষধাপাবদিতবদ্বা। যথা সাঙ্খানা- মনাত্মপক্ষপাতি স্বতন্ত্র প্রধানম, যথা চ কাণাদানামণবঃ, ন তদ্বদিহান্তদাত্মনঃ কিঞ্চিদপি বস্তু বিদ্যতে। কি, তৰ্হি ? আত্মবৈক আসীদিত্যভিপ্রাযঃ। ২ সঃ সব্বজ্ঞস্বাভাব্যদাত্মা এক এব সন্ ঈক্ষত। ননু প্রাগুৎপবেকাৰ্যকরণ- ত্বং কথমগিতবান্ ? নাযং দোষঃ, সৰ্ব্বজ্ঞস্বাভাব্যাৎ। তথা চ• মন্ত্র ?
"A" c0 ঐতরেয়ােপনিষদ “অপাণিপাদো জবননা গ্রহীতা” ইত্যাদি। কেনাভিপ্রায়েণেত্যাহ—লােকান অন্তঃপ্রভৃতী প্রাণিকৰ্ম্ম-ফলােপভােগস্থানভূতান্ নু সৃজৈ সৃজেহহমিতি ॥১॥ 'ভাষ্যানুবাদ। ‘আত্মা’ ইত্যাদি। প্রাপ্তি বা ব্যাপ্তিবােধক ‘আপ' ধাতু হইতে, কিংবা ভক্ষণার্থক ‘অদ’ ধাতু হইতে, অথবা সতত গমনবােধক অং' ধাতু হইতে নিষ্পন্ন ‘আত্মা’ শব্দের অর্থ,—সর্বজ্ঞ, সৰ্বশক্তি, ক্ষুধাতৃষ্ণা প্রভৃতি সর্বপ্রকার সংসার-ধৰ্ম্মবর্জিত, নিত্য শুদ্ধ, নিত্যবুদ্ধ, নিত্যমুক্ত, জরামরণশূন্য, অমৃত, অভয় ও অদ্বয় পরমেশ্বর। ‘বৈ’ অর্থ { অবধারণ ]। ইদং' অর্থ—নাম রূপ ও কর্মভেদবিশিষ্ট পূর্বোক্ত জগৎ। সৃষ্টির পূর্বে এই জগৎ একমাত্র আত্মাই ছিল । তবে এখন কি তিনি একমাত্র সৎ নহেন ? না, সে কথা নয় ; [ এখন ও তিনিই একমাত্র সৎ ]। ভাল, তাহা হইলে ‘ছিল’ (আসীৎ) বলা হইতেছে কি প্রকারে ? হাঁ, যদিও আত্মা এখন ও একই বটে, তথাপি কিঞ্চিৎ বিশেষ আছে। সৃষ্টির পূর্বে যখন জগতের নাম-রূপাকারে ভেদ ব্যক্ত হয় নাই, সেই সময় আত্মস্বরূপে বীজভাবে অবস্থিত এই জগৎ একমাত্র আত্মশব্দ ও আত্ম প্রত্য- য়েরই বিষয় ছিল অর্থাৎ জগৎ বলিয়া কোন শব্দ ছিল না, তদ্বিষয়ে কোন প্রতীতিও ছিল না ; আর এখন সেই জগৎই নাম-ৰূপাকারে অভিব্যক্ত হইয়া কখনও অনেক প্রকার শব্দ ও প্রতীতির বিষয় হইয়া থাকে, আবার কখনও বা কেবলই আত্মশব্দ ও অত্ম-প্রত্যয়ের ও বিষয়ী- ভূত হইয়া থাকে ; [ ইহাই উভয় অবস্থার মধ্যে বিশেষ ]; এবং সেই বিশেষ ভাবের প্রতি লক্ষ্য রাখিয়াই এখানে আসীৎ' শব্দের প্রয়ােগ করা হইয়াছে। যেমন জল হইতে পৃথগভাবে আকৃতি ও নামবিশিষ্ট ফেন অভিব্যক্ত হইবার পূৰ্বে একমাত্র ‘সলিল’ শব্দ ও ‘সলিল’ বুদ্ধির বিষয়ীভূত হয়, আবার সেই ফেনই যখন আকৃতি ও নাম লইয়? সলিল হইতে পৃথভাবে অভিব্যক্ত হয়, তখন যেমন ‘সলিল’ ও ‘ফেন ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার শব্দ ও প্রতীতির বিষয় হইয়া থাকে, কখনও বা কেবল ‘সলিল’ বলিয়াই ব্যবহৃত ও প্রতীত হইয়া থাকে, ইহাও ঠিক সেইরূপ। ১ সে সময়ে মিষৎ-ব্যাপারযুক্ত (ক্রিয়াশীল) কিংবা তদ্বিপরীত (নিস্ক্রিয়) অন্য কোনও পদার্থ ছিল না। [অভিপ্রায় এই যে, সাংখ্যমতে যেরূপ আত্মাতিরিক্ত স্বতন্ত্র প্রধান (প্রকৃতি), এবং কর্ণানুষKRশপ পরমাণুসমূহ [ সৃষ্টির অগ্রে ও a67 { //- • BIR LIBRARY. AHA; প - প্রথমেহধ্যায়ে-প্রথম খণ্ড } বিদ্যমান ছিল বলা হয় ], বেদান্তমতে সেরূপ আত্মাতিবিক্ত স্বতন্ত্র কোনও বস্তু বিদ্যমান ছিল না। তবে, কি ছিল ? না, একমাত্র আত্মাই ছিল।২ সেই আত্মা স্বভাবতঃই সৰ্ব্বজ্ঞ , এইজন্য এককই (অন্যের সাহায্য না লইযাই) ঈক্ষণ ( চিন্তা ) কবিযাছিলেন- ভাল কথা, সৃষ্টিৰ পূৰ্ব্বে যখন জ্ঞান সাধন দেহেন্দ্রিযাদি কিছুই ছিল না, তখন তিনি ঈক্ষণ কবিলেন কি প্রকাবে ? , ইহা দোষাবহ নহে , কাবণ, সৰ্ব্বজ্ঞতা তাহাব স্বভাবসিদ্ধ , { সুতরাং তাহাব জ্ঞানের জন্য দেহেন্দ্রিযাদিব আবশ্যক হয় না । দেখ, মন্ত্র ও একথা বলিতেছে, তিনি পদবহিত, অথচ দ্রুতগামী , হস্তবহিত, অথচ গ্রহীতা' ইত্যাদি। তিনি কি অভিপ্রাযে ঈক্ষণ কৰিছিলেন, তাহা বলিতেছেন—প্রাণিগণের কৰ্ম্মানুযায়ী ফলােপভােগেব আশ্রযভূত অন্তঃপ্রভৃতি লােক (স্থান) সমূহ আমি সৃষ্টি কৰিব, এই অভিপ্রাযে! ১৷৷ স ইমল্লোকানসৃজত। অম্ভো মরীচীৰ্ম্মরমাপােহদোহম্ভঃ পরেণ দিবং দ্যোঃ প্রতিষ্ঠান্তরিক্ষং মরীচয়ঃ । পৃথিবী মরাে যা অধস্তাত্তা আপঃ ॥ ২॥ সরলার্থ। সঃ ( অষ্মা) | এমীক্ষিা ] ইমা (বক্ষ্যমাণান্ অন্ত’, মীচষঃ, মব , আপ, ইত্যেতা) লােকান্ (ভােগভূমীঃ ) অমৃত (সৃষ্টবান্), [সৃষ্টিবিং ব্রহ্মা ওসৃষ্টনন্তবং বিজ্ঞো ]। ( অন্তপ্রভৃতীনা, স্বৰূপণ্যাহ] অদঃ (পূর্বোক্ত ) অম্ভ: (অম্ভোধবিণাৎ তদাখো লােকঃ) পবেণ দিবং (দ্যুলােকাৎ পবস্তাদ উদ্ধমিত্যর্থ, ), দো’ ( দ্যুলােক ) প্রতিষ্ঠ। ( অম্ভোলােক আশ্রযঃ, দ্যুলােকাশযােহন্তে। লােক ইত্যর্থঃ)। [ লােক দিধস্তাৎ ] অন্তবিহ্মং মবীচ (মবীচিসম্বন্ধাৎ মবীচিশব্দবাচ্য) পৃথিবী মবঃ (ব্রিযন্তে ভূতানি অস্মিন্ ইতি পৃথিবী মব উচ্যতে)। যাঃ অধস্তাং (পৃথিব্যা অপােদেশে বৰ্ত্তন্তে), তা আপঃ (অব বাহুল্যাৎ আপ উচ্যন্তে ) ॥২॥ মূলানুবাদ। সেই আত্মা [ঐরূপ চিন্তা করিয়া ব্ৰহ্মাণ্ড নিৰ্ম্ম- ণের পর] অম্ভঃ, মরীচি, মর ও অপ, এই চারিটি লোেক সৃষ্টি করিলেন। ঐ অন্তোলােকটী দ্যুলােকের উপরে এবং দ্যুলােকে অবস্থিত; এই ঐতরেয়ােপনিষদ অন্তরিক্ষ বা আকাশই মরীচি। এই পৃথিবী মরলােক,এবং পৃথিবীর নিম্নে (অধঃ) যে সমস্ত লােক, সে সমুদয় ‘অপ’ লােক নামে অভিহিত ॥২৷৷ শঙ্করভাষ্যম্।-এবমীক্ষিত্ব আলােচ্য সঃ আত্মা ইমান লােকান্ অসৃজত সৃষ্টবান্। যথেহ বুদ্ধিমান্ তক্ষাদিঃ এবম্প্রকারান্ প্রাসাদাদীন্ সৃজে— ইতীক্ষিত্ব, ঈক্ষানন্তরং প্রাসাদাদী সৃজতি, তং। ১ ননু সােপাদানস্তক্ষাদিঃ প্রাসাদাদী সৃজতীতি যুক্ত ; নিরুপাদানস্তু আত্মা কথং লােকান্ সৃজতি? ইতি। নৈষ দোষঃ। সলিলফেনস্থানীয়ে আত্মভূতে নাম-রূপে অব্যাকৃতে আকৈশব্দবাচ্যে ব্যাকৃতফেনস্থানীয় জগত উপাদানভূতে সম্ভবতঃ। তস্মাদাত্মভূত-নামৰূপােপাদানভৃতঃ সন সর্বজ্ঞাে জগন্নিৰ্ম্মিমীতে ইত্যবিরুদ্ধ। ২ অথবা, যথা বিজ্ঞানবান্ মায়াবী নিরুপাদান আত্মানমেব আত্মান্তরত্বেন আকাশেন গচ্ছন্তমিব নিৰ্ম্মিমীতে, তথা সৰ্বজ্ঞে। দেবঃ সৰ্বশক্তিৰ্ম্মহামায় আত্মানমেব আত্মান্তরনে জগদ্ধপেণ নিৰ্ম্মিমীত ইতি যুক্ততরম্। এবঞ্চ সতি কাৰ্যকারােভয়াসদ্বাদাদিপক্ষাশ্চ ন প্রসজ্যন্তে, সুনিরাকৃতাশ্চ ভবন্তি। ৩ কান্ লােকানজতে ত্যাহ—অম্ভো মরীচীৰ্ম্মরমাপ ইতি। আকাশাদিক্রমে- ওমুৎপাদ্য অন্তঃপ্রভৃতী লােকানসৃজত। তত্র অন্তঃপ্রভৃতীন স্বয়মেব ব্যাচষ্টে শ্রুতিঃ,—অদঃ তৎ অন্তঃশব্দবাচ্যো লােক, পরেণ দিবং দ্যুলােকাং পরেণ পরস্তাৎ, সঃ অম্ভঃশব্দবাচ্যঃ, অম্ভোভরণ। দ্যের প্রতিষ্ঠা আশ্রয়ঃ তস্যাম্ভসে লােক। দুলােকাদধস্তাৎ অন্তরিক্ষং যৎ, তৎ মরীচয়ঃ । একোহপ্যনেকস্থানভেদত্ববহু- বচনভাক্-মরীচয় ইতি, মরীচিভিব্বা রশ্মিভিঃ সম্বন্ধা। পৃথিবী মরঃ- খ্রিয়ন্তেহস্মিন্ ভূতানীতি। যা অধস্তাৎ পৃথিব্যাঃ, তা আপ উচ্যন্তে, আপ্নেতে, লােকা। যদ্যপি পঞ্চভূতাত্মকত্বং লােকানা, তথাপি অব্বাহুল্যাৎ অবনামভি- রেব অম্ভোমরীচীৰ্ম্মরমাপ ইত্যুচ্যন্তে ॥২॥ ভাষ্যানুবাদ। সেই পূর্বোক্ত আত্মা এই প্রকার আলােচনার পর এই সমুদয় লােক সৃষ্টি করিয়াছিলেন। ব্যাবহারিক জগতে বুদ্ধিমান সূত্রধর প্রভৃতি যেমন ‘আমি এইপ্রকার প্রাসাদ প্রভৃতি নিৰ্মাণ করিব’, এই প্রকার ঈক্ষণ (আলােচনা) করিয়া তাহার পর প্রাসাদ প্রভৃতি স্রষ্টব্য বিষয় নিৰ্মাণ করিয়া থাকে, ইহাও ঠিক তদ্রুপ। ১ এখন প্রশ্ন হইতেছে যে, সূত্রধর প্রভৃতি কৰ্ম্মকর্তৃগণ যে, কার্যোপযােগী প্রথমেহধ্যায়ে-প্রথম খণ্ডঃ উপকবণ-সহযােগে প্রাসাদ প্রভৃতি নিৰ্মাণ কবিষ থাকে, ইহা যুক্তিসঙ্গতই হয়, কিন্তু আত্মাব ত সেরূপ কোনও উপকৰণ সংগৃহীত নাই , সুতবাং নিকপকবণ আত্মা কিরূপে সৃষ্টিকাৰ্য্য সম্পাদন কবিবেন ? না, ইহা দোষাবহ হয না , কেন , জল হইতে অভিন্ন অব্যক্ত যেনেব ন্যায আত্মা হইতে অনতিবিক্ত—সুতবা অ'ত্মশব্দবাচ্য অব্যাকৃত (সূক্ষ্মৰূপে অবস্থিত) নাম ও রূপই, অভিব্যক্ত ফেনেব তুল্য জগতেব উপাদান হইতে পাবে। অতএব সৰ্ব্বজ্ঞ আ ত্ম যে, আপনাবই স্বৰূপভূত নাম ও রূপকে উপাদানৰূপে গ্রহণ কবি জগৎ নিৰ্মাণ কবি থাকেন, ইহা বিৰুদ্ধ হইতেছে না।২ অথবা, বিশিষ্ট জ্ঞানসম্পন্ন মায়াবী পুরুষ যেরূপ কোনপ্রকার বাহ্য উপাদান লইযাই, আপনাকে অপব ব্যক্তিৰূপে প্রদর্শন কবত, সেই আত্মা যেন আকাশ- মার্গেই গমন করিতেছে, এইরূপে প্রকটিত কবিযা থাকে, তদ্রুপ সৰ্ব্বজ্ঞ সৰ্বশক্তি মহামাযাসমন্বিত পরমেশ্ববও যে, আপনাকেই জগদ ন্তত অপৰ আত্মারূপে নির্মাণ ( প্রকাশিত) কবিযা থাকেন, একথা অধিকতব যুক্তিসঙ্গত হইতেছে। এই প্রকাৰ সিদ্ধান্তানুসাৰে অসৎকাশ্যবাদী, অসৎকাবণবাদী ও কাৰ্য্য বাবণ উভষেব অসত্ত্ববাদী প্রভৃতি সিদ্ধান্তেও আৰ সম্ভাবনা থাকে না , অধিকন্তু সে সমুদা ‘বাদ' গুলি ও খণ্ডিত হইয়া যায়। ৩ তিনি কোন্ কোন্ লােক সৃষ্টি কবিষাছিলেন, তাহা বলিতেছেন— অন্তঃ, মৰীচি, মব (ম) ও অপ। [ এখানে বুঝিতে হইবে যে, ] প্রথমে আকাশ বাবু প্রভৃতিব ক্রমশ সৃষ্টিব পব ব্রহ্মা ও নির্মাণ কৰিষা, এই অন্তঃ- প্রভৃতি লােকসমুহ সৃষ্টি কৰিছিলেন। এখন শ্রুতি নিজেই অন্তঃপ্রভৃতি লােক সমূহেব স্বরূপ বর্ণনা করিতেছেন—সেই যে এই অন্তঃশব্দবাচ্য লােক, তাহা ডলােকেবও পবে অর্থাৎ দ্যুলােকেও উপবে অবস্থিত , অন্তঃ (জল) ধাবণ কবে বলিযা উহাব নাম ‘অন্ত,'। দ্যুলােক হইতেছে ঐ অন্তেলােকেব প্রতিষ্ঠা বা অশ্ৰষ। ঐ দুলােকেব নিয়ে অবস্থিত যে অন্তবিক্ষ (ভুবলোক ), তাহাই মবীচিনামক লােক। মবীচি লােকটি এক হইলেও বিভিন্ন প্রকার বহু স্তনযুক্ত বলিয়া উহাতে বহুবচন প্রযুক্ত হইয়াছে—‘মবীচযঃ, অথবা মবীচিসমূহেব— বহু সৌব কিবণের সহিত সম্বন্ধ থাকায [ বহুবচন হইযাছে ]। ভূতসমুহ ইহাতে মৃত হয, এইরূপ ব্যুৎপত্তি অনুসারে এই পৃথিবীই ‘ম’ লােক। পৃথিবীব নিম্নে অবস্থিত যে সমস্ত লােক, সে সমস্ত লােক অপ, নামে অভিহিত হইয়া থাকে। যদিও সমস্ত লােকই পঞ্চভূতাত্মক সত্য, তথাপি জলেব বাহুল্য নিবন্ধন জলের ২৪ ঐতরেয়ােপনিষদ মামেই ‘অম্ভঃ' শব্দ অভিহিত হইয়াছে। মরীচি প্রভৃতি লােক সম্বন্ধেও সেই কথা ॥২}} • স ঈক্ষতেমে নু লােক লােকপালানু, সৃজা ইতি। সােহদ্ভ্য এব পুরুষং সমুদ্ধ ত্যামূর্ফয়ৎ ॥ ৩। সরলার্থঃ। সঃ (আত্মা ঈশ্বরঃ) [ পুনরপি ] ঈক্ষত-ইমে (ময় সৃষ্টাঃ) লােকাঃ, নু ( বিতর্কে ) [ পালকাভাবৎ বিনশ্যেযুঃ ; অতঃ] লােকপালা ( অন্তঃপ্রভৃতিলােকপালান্) স্জৈ ইতি। [ এমীক্ষিা ] সঃ অদ্ভঃ (জল- প্রধানেভ্যঃ ভূতেভ্যঃ ) এব পুরুষং সমুদ্ধত্য (সমুৎপাদ্য) অমুয়ৎ ( স্বাবয়ব- সংযােজনেন পিণ্ডিতমকবােৎ ) ইত্যর্থ: | ৩ | মুলানুবাদ। সেই পরমেশ্বর পুনশ্চ ঈক্ষণ ( আলােচনা ) করিতে লাগিলেন –[ পালকের অভাবে এই সমস্ত লােক ] বিনষ্ট হইয়া যাইবে ; অতএব লােকপালসমূহ সৃষ্টি করিব। তিনি [ এইরূপ আলােচনার পর] জলপ্রধান পঞ্চ ভূত হইতেই পুরুষ উৎপাদন করিয়া অবয়বাদি-সংযােজনপূর্বক তাহার বৃদ্ধি সাধন করিলেন ৷৩৷৷ শাক ভণযম্। সৰ্ব্ব প্রাণিকৰ্ম্মফলােপাদানাধিষ্ঠানভূতান্ চতুরে। লােকান্ সৃষ্ট। স ঈশ্বরঃ পুনরেব ঈক্ষত-ইমেনু অন্তঃপ্রভৃতয়ে ময়া সৃষ্টা লােকাঃ পরিপালরিতৃবজ্জিত “বিনশ্যেযুঃ ; তস্মাদেং রক্ষণার্থং লােকপালা লােকানাং পালয়িত নু সৃজে সৃজেহহমিতি। এবমীক্ষিত্বা সঃ অদ্ভ্যঃ এব অপ প্রধানেভ্য পঞ্চভূতেভ্যঃ, যেভ্যাহঃপ্রভৃতীন সৃষ্টবান, তেভ্য এবেত্যর্থ। পুরুষং পুরুষাকারং শিবঃপণ্যাদিমন্তং সমুদ্ধত্য অন্ত্যঃ সমুপাদায়, মৃৎপিণ্ডমিব কুলালঃ পৃথিব্যাঃ, অমূহুঁয়ং মূৰ্জিতবান্ সম্পিণ্ডিতবান্ স্বাবয়ব- সংযােজনেনেত্যর্থঃ ॥৩৷ ভাষ্যানুবাদ। সেই ঈশ্বর সর্বপ্রাণীর কৰ্ম্মফল ও তৎসাধন সমুদায়ের আশ্রয়ভূত অন্তঃপ্রভৃতি চারি প্রকার লােক সৃষ্টি করিয়া, পুনশ্চ ঈক্ষণ ( আলােচনা ) করিয়াছিলেন—আমি যে, এই অন্তঃপ্রভৃতি লােক-সমূহ সৃষ্টি করিয়াছি, এই সমুদায় লােক নিশ্চয়ই পরিপালকের অভাবে বিনষ্ট হইয়া যাইবে; অতএব এই সমুদায় লােকের রক্ষাৰ্থ আমি লােকপালসমুহ সৃষ্টি করিব। এব।
প্রথমেহধ্যায়ে-প্রথম খণ্ডঃ ২৫ যথা, এই প্রকার ঈক্ষণ করিয়া তিনি জলসমূহ হইতে অর্থাৎ জনপ্রধান পঞ্চভূত হইতে—তিনি যে সমুদয় ভূত হইতে অন্তঃপ্রভৃতি লােকসৃষ্টি করিয়াছিলেন, সেই সমুদায় লােক হইতেই পুরুষ—হস্তমস্তকাদি পুরুষাকৃতিবিশিষ্ট একটী পিণ্ড কুম্ভকার যেরূপ পৃথিবী হইতে মৃৎপিণ্ড নির্মাণ করে, তদ্রুপ জল হইতে সমুৎপাদন করিয়া মুচ্ছিত করিয়াছিলেন অর্থাৎ উপযুক্ত অবয়ব-সংযােজন করিয়া সংপিণ্ডিত ( স্থূলভাবাপন্ন ) করিয়াছিলেন। ৩। তমভ্যতপস্যাভিতপ্ত মুখং নিরভিদ্যত মুখাদ্ভাগবাচোহগিনাসিকে নিরভিগ্নেতাং নাসিকাভ্যাং প্রাণঃ প্রাণাঘায়ুরক্ষিণী নিরভিদ্যেতাং অক্ষিভ্যাঞ্চক্ষুশ্চক্ষুষ আদিত্যঃ কর্ণে নিরভিগ্নেতাং কর্ণাভ্যাং শ্রোত্রং শ্ৰোত্রাদ্দিশনিরভিত ত্বচো লােমনি লােমভ্য ওষধিবনস্পতয়াে হৃদয়ং নিরভিত হৃদয়ান্মননা মনসশ্চন্দ্রমা নাভির্নিরভিত নাভ্যা অপনােপানা- ন্মত্যুঃ শিশ্নং নিরভিদ্যত শিশ্নাদেতাে রেতস আপঃ ॥ ৪। ইতি প্রথম খণ্ডঃ ॥১॥ সরলার্থ। [স ঈশ্বরঃ] তং (পুরুষবিধং পিণ্ডং) [ লক্ষ্যীকৃত্য ] অভ্যতপৎ ( তদ্বিষয়ে ধ্যানং—সঙ্কল্পং কৃতবান্)। অভিপ্তগত (পুরুষাকারপিণ্ডশ্য) যথা অণ্ডং (পক্ষিণঃ অণ্ডমিব ) মুখং (মুখাকারং ছিদ্রং) নিরভিত (নির্ভিন্নম্ অভূৎ, মুখরন্ধম্ অজায়ত ইত্যর্থঃ )। এবং মুখাং বাক্ ( বাগিন্দ্ৰিয়ং ), বাচঃ অগ্নিঃ (বাগধিষ্ঠাতা) [ নিরভিত ] ; তথা, নাসিকে ( ঘ্রাণেন্দ্রিয়ং) [ নিরভিদ্যেতাম্ ; নাসিকাভ্যাং প্রাণঃ (পঞ্চবৃত্তাকঃ ); প্রাণাৎ বাযুঃ (তদধিষ্ঠাত্রী দেবতা); [ এবং চ অধিষ্ঠানং, করণং, তদধিদেবতা চেতি ত্ৰয়ং ক্রমেণ নির্ভিঃমিতি ভাবঃ ]। অক্ষিণী ( চক্ষুগোলকে) নিরভিষ্ঠেতাং; অক্ষিভ্যাং চক্ষুঃ (ইন্দ্রিয়ং), চক্ষুষঃ আদিত্যঃ (চক্ষুদেবতা); তথ। কর্ণে । নিরভিদ্যেতাম্ ; কর্ণাভ্যাং শ্রোত্রং (শ্রবণেন্দ্রিয়ং), শ্ৰোত্ৰাৎ দিশঃ (কর্ণয়ােদেবতাঃ) [ নিরভিদ্যন্ত ]; { অনন্তরং ] ত্ব নিরভিঙ্গত, স্বচঃ লােমানি, লােমভ্যঃ ওষধিবনস্পতয়ঃ [নিরভিদ্যন্ত], [ ততশ্চ ] হৃদয়ং (অন্তঃকরণাষ্ঠিানং) নিরভিত ; হৃদয়াৎ মনঃ (অন্তঃকরণং), মনসঃ চন্দ্রমা (তদধিদেবতা) [ নিরভিত ]; নাভিঃ নিরভিত ; নাভ্যাঃ • অপানঃ ৪ ঐতরেয়ােপনিষদ (পায়ুনামকমিয়িং ), অপানাৎ মৃত্যুঃ (পাধিদেবতা) [ নিরভিত ]; শিশ্নং নিরভিঙ্গত; শিশ্নাং রেতঃ ( শুক্রং ), রেতসঃ আপঃ (তদধিদেবতা বরুণঃ ) [ নিরভিদ্যন্ত । [ ইহ সর্বত্র অধিষ্ঠানং, তদধিষ্ঠেয়মিয়িং, তদধিদেবতাশ্চ ক্রমেণ সমজায়ন্ত ইতি বিজ্ঞেয়ম ] ৪। ইতি প্ৰথমখণ্ডব্যাখ্যা ১। মূলানুবাদ। পূর্বোক্ত ঈশ্বর সেই পূর্বসৃষ্ট পুরুষাকার পিণ্ডকে লক্ষ্য করিয়া সংকল্প (চিন্তা) করিয়াছিলেন। ঈশ্বরকৃত সংকল্পের ফলে, পক্ষীর ডিম্বের ন্যায় সেই পুরুষাকার পিণ্ডটীর প্রথমে মুখ নির্ভিন্ন হইল, অর্থাৎ তাহার মুখবিবর অভিব্যক্ত হইল। মুখের পর বাগিন্দ্রিয় এবং বাগিন্দ্রিয়ের পর তাহার দেবতা অগ্নি অভিব্যক্ত হইল। পরে নাসিকা-রন্ধ দ্বয় প্রকাশ পাইল ; নাসিকার পর প্রাণ অর্থাৎ ঘ্রাণেন্দ্রিয় এবং প্রাণের পর তাহার অধিদেবতা বায়ু অভিব্যক্ত হইল । অনন্তর দুইটী চক্ষুর গােলক অভিব্যক্ত হইল ; তাহার পর চক্ষুরিন্দ্রিয় ও তাহার অধিদেবতা আদিত্য প্রকাশ পাইল। অতঃপর দুইটী কর্ণবিবর ব্যক্ত হইল ; কর্ণের পর শ্রবণেন্দ্রিয় ও তাহার অধিদেবতা দিসমূহ প্রকাশিত হইল। অনন্তর ত্বক অভিব্যক্ত হইল, এবং ত্বকের পর ললাম- সমূহ (স্পর্শনেন্দ্রিয়) ও তাহা হইতে ওষধি ও বনস্পতিসকল উদ্ভিন্ন হইল। তাহার পর হৃদয় অভিব্যক্ত হইল, এবং তাহা হইতে অন্তঃকরণ বা মন ও মনের দেবতা চন্দ্র প্রকাশ পাইল। অনন্তর সমস্ত প্রাণের আশ্রয়ভূত নাভি নিষ্পন্ন হইল ; নাভির পর অপান (পায়ু-মলদ্বার) ও তদধিদেবতা মৃত্যু অভিব্যক্ত হইল। তাহার পর শিগ প্রকাশ পাইল ; শিশ্নের পর রেতঃ অর্থাৎ শুক্রসমন্বিত ইন্দ্রিয় ও তাহার অধিদেবতা অপ, (জল) আবিভূত হইল ॥৪॥ ইতি প্রথম খণ্ডানুবাদ। শঙ্করভাস্থ্যম্। তং পিণ্ডং পুরুষবিধমুদ্দিশ্য অভ্যতপৎ, তদভিধ্যানং সঙ্কল্পং কৃত নিত্যৰ্থঃ, “যস্থ জ্ঞানময়ং তপঃ” ইত্যাদিতে। তস্যাভিতধ্বস্ত ঈশ্বরসঙ্কল্লেন তপসাভিতপ্ত পিণ্ডস্থ মুখং নিরভিত মুখাকারং শুষিরমজায়ত ; ;
প্রথমেহধ্যায়ে—প্রথম খণ্ডঃ ২৭ ; যথা পক্ষিণােহণ্ডং নির্ভিতে, এবম্। তস্মাচ্চ নিভিন্নান্মুখাৎ বাক্ করণমিয়িং নিরবৰ্তত ; তদধিষ্ঠাতা অগ্নিঃ, ততাে বাচঃ, লােকপালঃ । তথা নাসিকে নিরভিদ্যে- তাম্। নাসিকাভ্যাং প্রাণঃ, প্রাণাঘায়ুঃ ; ইতি সৰ্বত্ৰাধিষ্ঠানং করণং দেবতা চ ত্রয়ং ক্রমেণ নিভিন্নমিতি। অক্ষিণী, কণৌ, ত্বক, হৃদয়ম্ অন্তঃকরণাধিষ্ঠানং মনঃ অন্তঃকরণং ; নাভিঃ সৰ্ব্বপ্রাণবন্ধনস্থানম, অপানসংযুক্তাদপান ইতি পাযিন্দ্রিয়- মুচ্যতে ; তস্মাৎ তত্যাধিষ্ঠাত্রী দেবতা মৃত্যু। যথাতত্র, তথ। শিশ্নং নিরভিদ্যত প্রজননেন্দ্রিয়স্থানম্ । ইন্দ্রিয়ং রেতঃ রেতােবিসৰ্গাৰ্থাৎ সহ রেতসােচ্যতে। রেস আপ ইতি ॥৪॥ ইতি প্রথমখওভায্যম্ ॥ ১। ভাষ্যানুবাদ। পরমেশ্বর সেই পুরুষকার পিণ্ডকে লক্ষ্য করিয়া তপস্যা করিয়াছিলেন, অর্থাৎ তদ্বিষয়ে ধ্যান ( সংকল্প) করিয়াছিলেন। এখানে তপস্যা’ অর্থ–সংকল্প (ধ্যান); কারণ, অন্য শ্রুতিতে আছে-‘জ্ঞানই যাহার তপস্যা’ ইত্যাদি। সেই পিণ্ডটী অভিপ্ত অর্থাৎ ঈশ্বরের সংকল্পাত্মক ধ্যানের বিষয়ীভূত হইলে পর, তাহার মুখ নির্ভিন্ন হইল, অর্থাৎ মুখাকার গর্ত উৎপন্ন হইল ; পক্ষীর অণ্ড যেরূপ নিভিন্ন হয়, ঠিক সেইরূপ । সেই অভিব্যক্ত মুখবিবর হইতে বাক্-করণ বাগিন্দ্রিয় এবং সেই ইন্দ্রিয়ের অধিষ্ঠাতা বা পরিচালক অগ্নি প্রকাশ পাইল ; সেই বাগিন্দ্রিয় হইতে অভিব্যক্ত অগ্নিই এখানে লােকপাল। সেইরূপ নাসিকারন্ধ, দ্বয় নির্ভিন্ন হইল ; নাসিকা হইতে প্রাণ ( ঘ্রাণেন্দ্রিয়) এবং লােকপাল বায়ু প্রকাশ পাইল। এখানে সৰ্ব্বত্রই প্রথমে , অধিস্থান (ইন্দ্রিয়গােলক ), পরে ইন্দ্রিয়, এবং তাহার পর অধিষ্ঠাত্রী দেবতা, এই তিনটীর ক্রমিক আবির্ভাব বুঝিতে হইবে। অক্ষিদ্বয়, কর্ণদ্বয়, ত্ব, [ ইহার। ইন্দ্রিয় স্থান—গােলক ] ; হৃদয় অন্তঃকরণের আশ্রয়স্থান মন হইতেছে অন্তঃকরণ। নাভি হইতেছে সমস্ত প্রাণের আশ্রয়স্থান । ‘অপান’ অর্থ পায়ু’ ইন্দ্রিয় ; কারণ, অপানবায়ুর সহিত উহার সম্বন্ধ রহিয়াছে অপান হইতেই উহার অধিদেবতা মৃত্যু ( প্রকটিত হইল ]। অন্যান্যস্থানের ন্যায় ক্রমে শিশ্ন ও হইল ; শিশ্ন অর্থ জননেন্দ্রিয়স্থান, রেতঃ অর্থ শিশ্নের ইন্দ্রিয়। এ { করাই উহার উদ্দেশ্য ; এইজন্য ‘রেতঃ শব্দে উহার উল্লেখ করা সেই রেত ইন্দ্রিয় হইতে অপ, অর্থাৎ অধিদেবতা জল হইল । ৪। ইতি প্ৰথমখণ্ডের ভাষ্যানুবাদ। ১। } ;
দ্বিতীয় খণ্ডঃ তা এতা দেবতাঃ সৃষ্ট। অস্মিন্ মহত্যর্ণবে প্ৰাপতংস্তমশ- নায়া-পিপাসাভ্যমন্ববাজ্জৎ তা এমব্রুবােয়তনং নঃ প্রজানীহি, যস্মিন্ প্রতিষ্ঠিত। অনুমদামেতি ॥৫॥১॥ সত্ন লাখ। তা তাঃ (পূর্বোক্তাঃ লােকপালৰূপেণ ) সৃষ্টাঃ এঃ ( অগ্নিপ্রভৃতয়ঃ) দেবতাঃ অস্মিন্ মহতি ( দুষ্পরে) অর্ণবে (সংসারসাগরে ) প্রাপত (পতিতবত্যঃ )। তং (প্রথমােৎপন্নং পিণ্ডং ) অশনায়াপিপাসাভ্যাম্ অন্ববাজ্জৎ ( ক্ষুধা-পিপাসাভ্যাং সংযােজিতবান্ ) [ পরমেশ্বরঃ ]। তাঃ (অগ্ন্যাদয়ে দেবতাঃ) এনং (পরমকারণং পরমেশ্বরম্ ) অব্রুবন্ (কথিতবতঃ )-ন” ( অস্মভ্যং) আয়তনং ( আশ্রয়স্থানং) প্রজানীহি ( বিধেহি); [ বয়; যস্মিন্ (আয়তনে) প্রতিষ্ঠিতাঃ (অবস্থিতাঃ সত্যঃ) অন্নং (ভক্ষয়াম) ইতি ॥৫|১|| মুলানুবাদ। সেই এই অগ্নি প্রভৃতি দেবতাগণ পরমেশ্বরকর্তৃক সৃষ্ট হইয়া মহার্ণবে অর্থাৎ অপার সংসার-সাগরে নিপতিত হইলেন। তখন পরমেশ্বর ভঁহাদিগকে ক্ষুধা ও পিপাসার সহিত সংযােজিত করিলেন, অর্থাৎ সৃষ্টির পর তাঁহাদের ক্ষুধা-তৃষ্ণা উপস্থিত হইল। ক্ষুধা-পিপাসাসমন্বিত সেই দেবতাগণ পরমেশ্বরকে বলিলেন—“আপনি আমাদের জন্য উপযুক্ত আশ্রয়স্থান নির্মাণ করুন, যে স্থানে অবস্থান করিয়া আমরা অন্ন ভক্ষণ করিতে সমর্থ হইতে পারি।” ইতি ॥৫॥১ শঙ্কর ভাষ্যম্। তা এত অগ্ন্যাদয়ে দেবতা লােকপালত্বেন সঙ্কল্প সৃষ্ট ঈশ্বরেণ, অস্মিন্ সংসারাবে সংসারসমুদ্রে মহতি অবিদ্যা- কামকৰ্ম প্ৰভব-দুঃখNদকে তীব্ৰবােগজরামৃত্যুমহাগ্ৰাহে অনাদাবনন্তে অপারে নিরালম্বে বিষয়েন্দ্রিয়জনিত-সুখলবলক্ষণবিশ্রামে পঞ্চেন্দ্রিয়ার্থতৃণমারত- বিক্ষোভােথিতানর্থশত-মহেৰ্ম্মে। মহারৌরবাদ্যনেকনিরয়গত-হাহেত্যাদি- কুজিতাক্রোশনােঙুতমহারবে সত্যাজ্জব-দানদয়াহিংসাশমদমঘৃত্যাঙ্গুণ- পাথেয়পূর্ণ জ্ঞানােডুপে সৎসঙ্গ-সৰ্ব্বত্যাগমার্গে মােক্ষতীরে এতস্মিন্মহত্যর্ণবে প্ৰাপত পতিতবত্যঃ। ১ প্রথমেহধ্যায়ে—দ্বিতীয় খণ্ডঃ ৬ তস্মাদগ্ন্যাদিদেবতাপ্যয়লক্ষণাপি যা গতির্ব্যাখ্যা জ্ঞান-কৰ্মসমুচ্চয়ানুষ্ঠান ফলভূত, সাপি নালং সংসারহুখােপশমায়েত্যয়ং বিবক্ষিতােহর্থোহত্র। যত এব, তম্মাদেবং বিদি ত্বা, পরং ব্রহ্ম, আত্মা আত্মনঃ সৰ্ব্বভূতানাঞ্চ, যাে বক্ষ্যমাণ- বিশেষণ প্রকৃতশ্চ জগৎপত্তিস্থিতিসংহারহেতুনে, স সৰ্ব্বসংসারদুঃখাে- পশমনায় বেদিতব্যঃ। তস্মাৎ “এষ পন্থা এতৎ কৰ্ম্মৈত হ্মৈতৎ সত্যম্” যদেতৎ পরব্রহ্মাত্মজ্ঞানম, “নান্য পন্থা বিদ্যতেহয়নায় ইতি মন্ত্রবর্ণাং। ২ তং স্থান-করণ-দেবতােৎপত্তিবীজভূতং পুরুষং প্রথমােৎপাদিত পিমাত্মান- মশনায়াপিপাসাভ্যাম্ অৰবাৰ্জং অনুগমিতবান্ সংযােজিতবানিত্যৰ্থঃ। স্য কারণভূতস্য অশনায়াদিদোষবত্ত্বাং তৎকাৰ্য্যভূতানামপি দেবতানামশনায়াদি- মম্। তাঃ ততঃ অশনায়াপিপাসাভ্যাং পীড্যমান এনং পিতামহং স্রষ্টার অব্রুবন্ উক্তবত্য। আয়তন অধিষ্ঠানং নঃ অভ্যং প্রজানীহি বিধংস্ব, যস্মিন্নায়তনে প্রতিষ্ঠিতাঃ সমর্থাঃ সত্যঃ অন্নম অদাম ভক্ষয়াম ইতি ॥৫১৷৷ ভাষ্য'নুবাদ। সেই এই অগ্নি প্রভৃতি দেবতা, পরমেশ্বর যাহাদিগকে লােকপাল করিবার অভিপ্রায়ে সৃষ্টি করিয়াছিলেন, তাঁহারা এই সংসার- রূপ মহাসাগরে-অবিদ্যা ও তমুলক কাম-কৰ্ম্ম-সমুখিত দুঃখরাশি যাহার জল প্রবাহ, ভীষণ ব্যাধি ও জরা-মবণ যাহার গ্রাহ (জুলচর হিংস্র জন্তু), যাহার আদি, অন্ত বা পার নাই, বিষয়েলিয়সম্বন্ধজনিত ক্ষুদ্র সুখই যেখানে বিশ্রাম- স্থান, শব্দপশাদি বিষয়ে শ্রোত্রাদি পঞ্চবিধ ইন্দ্রিয়ের তৃষ্ণারূপ প্রবল বায়ুর সন্তাড়মে সমুদ্ভূত শত শত অনর্থরাশি যাহার তরঙ্গমালা; মহারৌরব প্রভৃতি নরকগত প্রাণিগণের হাহাকার ও ক্রন্দনাদি ধ্বনিই যাহার মহা- নির্ঘোষ ; সত্য, সরলতা, দান, দয়া, অহিংসা, শম, দম ও ধৃতি প্রভৃতি আ ত্ম গুণ- রূপ পাথেয়পূর্ণ জ্ঞান যাহার ভেল। অর্থাৎ পারগমনের উপায়, সাধুসঙ্গ ও সৰ্বস্ব-ত্যাগই যাহা পার হইবার প্রকৃষ্ট পথ, এবং মুক্তি যাহার তীর বা শেষ, সেই নিরালম্ব মহাসমুদ্রে পতিত হইয়াছিলেন, অর্থাৎ সংসারে আসক্ত হইয়া- ছিলেন। ১ অতএব, এখানে এইরূপ অর্থ ই শ্রুতির অভিপ্রেত বলিয়া প্রতীত হইতেছে যে, পূর্বে যে, জ্ঞান ও কর্মের একযােগে অনুষ্ঠানের ফলে অগ্নিপ্রভৃতি দেবতাতে অপ্যয় বা লরের কথা বর্ণিত হইয়াছে, তাহাও প্রকৃতপক্ষে সংসার-দুঃখ-প্রশমনের উপায় নহে। যেহেতু জ্ঞান ও কর্মের একত্র অনুষ্ঠানের ফল এই প্রকার, ঐতরেয়ােপনিষদ সেই হেতুই যথােক্ত প্রকাবে ব্রহ্মস্বরূপ অবগত হইযা, নিজেব এবং সমস্ত ভূতেব যে আত্মা, ফাহাব পবিচ বা লক্ষণ পবে বলা হইবে, এবং এখানেও জগতের উৎপত্তি, স্থিতি ও সহাবেব কাবণৰূপে যাহাব বিষয বলিতে আৰম্ভ কৰা হইযাছে, সৰ্ব্বদুঃখ প্রশমনের নিমিত্ত তাহাকেই জানিতে হইবে। অতএব ইহাই প্রকৃত পথ, ইহাই কৰ্ম্ম, ইহাই ব্রহ্ম, এবং ইহাই সত্য যাহা এই শ্রুতিতে ব্রহ্মাত্ম জ্ঞান বলিযা উল্লিখিত হইযাছে, তাহাই দুঃখনিবৃত্তিব যথার্থ উপায় ]। মন্ধেও আছে—মােগধামে যাইবাব আব দ্বিতীয পথ নাই। ২ যথােক্ত স্থান ( ইন্দ্রিয গােলক), ইন্দ্রিয় ও দেবতাগণের উৎপত্তিনিদান সেই প্রথমোৎপাদিত পিণ্ডাকবি পুরুষকে তিনি অশনাযা (ক্ষুধা) ও পিপাসা দ্বারা অনুগত অর্থাৎ সাযযাজিত কৰিছিলেন। কাবণস্বরূপ সেই পিও অশনাযাদি দোষ বিদ্যমান থাকায় তৎকাৰ্য্য (সেই পিণ্ড হইতে উৎপন্ন ) দেবতা গণেবও অনাবাদি দোষ উপস্থিত হইযাছিল। সেই দেবতাগণ অশনাযা ও পিপাসা দ্বারা প্রপীড়িত হইযা নিজের স্রষ্টা পিতামহকে বলিযাছিলেন যে, আমাদেব নিমিত্ত সেইরূপ আষতন অর্থাৎ অবস্থানে যােগ্য স্থান বিধান করুন, যে স্থানে অধিষ্ঠান কবি। আমবা শক্তিলাভ কবত অন্ন ভক্ষণ কবিব ॥ ৫॥ ১ | তভ্যো গামাযৎ তা অব্রুবন্ ন বৈ নােহয়মলমিতি। তাভ্যোহশ্বমানয়ৎ তা অব্রুবন্ ন বৈ নেহয়মলমিতি ॥৬২৷৷ সৱলাখ। [ এবমুক্ত ঈশ্ববঃ ] ভ্যঃ (দেবতাভ্যঃ) গাম আনযৎ ( গবাকৃতিং পিণ্ডং দর্শিতবান্)। তা: (দেবতাঃ) অব্রুবন্ (উক্তবত্যঃ) অযং (ত্ব আনীতঃ গবাকৃতিঃ পিণ্ডঃ ) নঃ (অস্মভ্যং ন বৈ (নৈব ) অলং (ভােগাষ পৰ্য্যাপ্তঃ ) ইতি। [ অনন্তবং ] ভ্যঃ অশ্বং (অশ্বাকৃতিং পিণ্ডং ) আনষৎ , তাঃ (দেবতা) [ পুনঃ ] অব্রুবন্—অং নঃ ( অস্মভ্যং) ন বৈ অলম্ ইতি ॥ ৬ ॥ ২॥ মূলা নুবাদ। [ দেবতাগণের প্রার্থনা শ্রবণের পর, ঈশ্বর ] তাহাদের জন্য গাে’র আকৃতিবিশিষ্ট একটি পিণ্ড আনয়ন করিলেন; [ তাহা দেখিয়া ] দেবতারা বলিলেন, এটি আমাদের পক্ষে পৰ্যাপ্ত •• প্রথমেহধ্যায়ে—দ্বিতীয় খণ্ড [ভােগােপযুক্ত নহে। অনন্তর তাহাদের জন্য অশ্ব আনয়ন করিলেন; তদ্দর্শনে দেবতাগণ বলিলেন—ইহাও আমাদের পক্ষে যথেষ্ট নহে ৷ ৬ ॥ ২॥ শঙ্কৱভাষ্যম্। এবমুক্ত ঈশ্ববঃ তাভ্যো দেবতাভ্যো গাং গবাকৃতি- বিশিষ্টং পিণ্ডং ভ্য এবাদ্ভ্যঃ পূৰ্ববং পিণ্ডং সমুদ্ধত্য মূহুঁযিত্বা আনযৎ দর্শিতবান্। তা পুনর্গবাকৃতিং দৃষ্টা অব্রুবন্ন বৈ নঃ অম্মদৰ্থ অধিষ্ঠা অন্নমতু মযম্ পিণ্ডঃ অলম্ ন বৈ। অলং পর্যাপ্তঃ । অদ্ভুং ন যােগ্য ইত্যর্থ। গবি প্রত্যাখ্যাতে তথৈব তাভ্য অশ্বমানযৎ। তা অব্ৰুবন বৈ নােহমলমিতি, পূৰ্ববং | ৬ | ২। ভাষ্যানুবাদ। দেবতাগণ এইরূপ বলিলে পব, ঈশ্বব সেই দেবতাগণের নিমিত্ত একতী গো-গোবি মত আকৃতিসম্পন্ন দেহ পিণ্ড পূৰ্বেব ন্যায জল হইতেই উদ্ধত ববি। এব, সবৰ্ধিত কবি। আনয়ন কবিনে, অর্থাৎ তাহা দিগকে দেখাইলেন। তাহাব। সেই গবাকৃতি পিণ্ডটী দশন কবি বলিলেন— এই গবাতি পি গুটী আমাদেব উদ্দেশ্য সিদ্ধ ববিতে অর্থাৎ আমাদেব ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য অন্ন ভক্ষণ কবিতে সমর্থ নহে। এইরূপে গােপিণ্ডটী প্রত্যাখ্যান কবিলে পব, ঈশ্বব পুনশ্চ তাঁহাদেব জন্য পূৰ্ববং অশ্ব আনান কবিলেন । তদ্দর্শনে দেবগণ বলিলেন, না, ইহা ও আমাদের জন্য অন্ন ভক্ষণ কবিতে পর্যাপ্ত নহে ৷ ৬২৷৷ তভ্যঃ পুরুষমানয়ৎ তা অব্রুবন্ সু কৃতং বতেতি পুরুষাে বাব সুকৃতম্। তা অব্ৰবাদূথয়তনং প্রবিশতেতি ॥৭৩ সরলার্থ। [ এব প্রত্যাখ্যানানন্তবম ঈশ্ববঃ ] তাভ্যঃ (দেবতাভ্যঃ) [ পূৰ্ব্ববৎ ] পুরুষ আনং , ( তং দৃষ্টা] তাঃ (দেবতা) অবসু কৃত, ( শােভন ইদমধিষ্ঠানং কৃতম্), বত (হর্ষে ) ইতি। [ তস্মাৎ হেতােঃ ] পুৰুষঃ বাব (এব) সুকৃতং (পুণ্যকৰ্ম্মহেতুং পুণ্যাত্মকম্)। [ অনন্তবম্ ঈশ্ববঃ ] তা ( দেবতাঃ) অব্রবীৎ—যথাযতনং ( যস্য স্বকৰ্ম্মবােগ্যং যদাযতনং, তৎ ) প্রবিশত [ যুষ ] ইতি ॥৭৩ মূলানুবাদ। অনন্তর, ঈশ্বর সেই দেবতাগণের উদ্দেশ্যে একটী পুরুষাকৃতি পিণ্ড (দেহ) আনয়ন করিলেন; তাহা দেখিয়া দেবতাগণ আহলাদ-সহকারে বলিলেন, সু কৃত—সুন্দর অধিষ্ঠান করা ৩২ ঐতরেয়ােপনিষদ রমন্তে ; হইয়াছে ; সৎকৰ্ম্ম-সাধনের নিদান বলিয়া পুরুষই যথার্থ সুকৃত। অতঃপর ঈশ্বর তাহাদিগকে বলিলেন—তােমরা নিজ নিজ কর্মোপ- যােগী অধিষ্ঠানে (স্থানে) প্রবেশ কর। ৭। ৩। শাঙ্করভাষ্যম্।—সর্বপ্রত্যাখ্যানে তাভ্যঃ পুরুষমানয় স্বযােনি- ভূতম্। তাঃ স্বযােনিং পুরুষং দৃষ্টা অখিন্নাঃ সত্যঃ সু কৃতং শােভনং কৃতম্ ইদমধিষ্ঠানং বত ইত্যব্রুবন্। তস্মাৎ পুরুষাে বা পুরুষ এব সুকৃত, সৰ্ব্ব- পুণ্যকর্মহোৎ; স্বয়ং বা স্বেনৈবাত্মনা স্বমায়াভিঃ কৃতত্বাৎ সুকৃতমিত্যুচ্যতে। ঈশ্বরােহব্রবীৎ-ইষ্টমাসামিদমধিষ্ঠানমিতি মা-সৰ্ব্বে হি স্বযােনিযু অতঃ যথায়তনং যস্য বং বদনাদিক্রিয়াযােগ্যমায়তন, তৎ প্রবিশতেতি। ৭ | ৩ । ভাষ্যানুবাদ। গে অশ্ব প্রভৃতি সমস্ত প্রত্যাখ্যাত হইলে পর, পরমেশ্বর তাহাদের জন্য বিরাট পুরুষের সজাতীয় পুরুষমুত্তি আনয়ন কবিলেন । তখন দেবতাগণ আপনাদের উৎপত্তিনিদান (বিরাটপুরুষের সজাতীয়) পুরুষদেহ দর্শন করিয়া বিষাদ পরিত্যাগপূৰ্ব্বক আলাদ-সহকারে বলিলেন- ‘সু কৃত’ অর্থাৎ আমাদের জন্য এটী উত্তম অধিষ্ঠান (আশ্রয়স্থান) করিয়া- ছেন। দেবতাগণ পুরুষ-দেহকে লক্ষ্য করিয়া সুকৃত’ শব্দ প্রয়ােগ করায়, এখনও পুরুষই যথার্থ সুকৃত’ পদবাচ্য ; কারণ, পুরুষই সমস্ত পুণ্য কৰ্ম্ম সম্পাদনের নিদান ; অথবা, পরমেশ্বর স্বয়ংই অপরের সাহায্য না লইয়া নিজ মায়াশক্তিপ্রভাবে নিৰ্মাণ করিয়াছিলেন বলিয়া পুরুষকে সুকৃত বলা হইয়াছে (১)। সাধারণতঃ সকলেই স্বকারণে বা সজাতীয় বস্তুতে সন্তুষ্ট হইয়া থাকে ; অতএব উক্ত অধিষ্ঠানটী দেবতাগণের অভিমত হইয়াছে, বুঝিতে পারিয়া, পরমেশ্বর দেবতাগণকে বলিলেন—ইহা যেহেতু তােমাদের মনঃপূত হইয়াছে, সেই হেতু তােমরা যথয়তনে অর্থাৎ তােমাদের মধ্যে যাহার যেটী শব্দোচ্চারণ প্রভৃতি নিজ নিজ কর্মযােগ বলিয়া বিবেচিত হয়, সে তাহার মধ্যে প্রবেশ কর ৷৷ ৭ ॥ ৩॥ (১) তাৎপৰ্য্য-প্রথমে ‘সু’ ও ‘কৃত এই উভয়পদের যােগে কৃত’ শব্দ নিষ্পন্ন করিয়া, ‘সু-সুষ্ঠ, উত্তম, ‘কৃত'—নির্মিত = উত্তমরূপে নির্মিত, এইরূপ অর্থ করা হইয়াছে। এখন স্বয়ং’ ও ‘কৃত শব্দের যোগে ‘সুকৃতপদটী নিম্পন্ন করিয়া অর্থ বলিতেছেন যে, পরমেশ্বর ‘স্বয়ংই এই পুরুষদেহ নিৰ্মাণ করিয়াছেন; অপর কাহারও সাহায্য গ্রহণ করেন নাই; এই কারণে ইহা ‘সুকৃত’ শব্দবাচ্য। এখানে পৃবোদরাদির ন্যায় ‘স্বয়ং' শব্দ স্থানে ‘সু’ হইয়াছে।
প্রথমেহধ্যায়ে—দ্বিতীয় খণ্ড অগ্নিৰ্বাগ ভূত্বা মুখং প্রাবিশদ্বায়ুঃ প্রাণাে ভূত্বা নাসিকে বিশদাদিত্যশ্চক্ষুভূ ত্বাক্ষিণী বিশদ্দিশঃ শ্রোত্রং ভূত্বা কর্ণে। প্রাবিশ্লোষধিবনস্পতয়াে লেমানি ভূত্বা স্বচং প্রাবিশংশ্চমা মনাে ভূত্বা হৃদয়ং প্রবিশন্ মৃত্যুরপানাে ভূত্বা নাভিং প্রাবিশ- দাপাে রেতাে ভূত্বা শিশ্নং প্রাবিশন্ ॥৮॥৪৷৷ সরলার্থ। [ এবমীশ্ববাজ্ঞালাভানন্তরম্ ] অগ্নিঃ ( বাগভিমানিনী দেবতা) বা ভূত্ব (বাগিন্দ্রিয়মাশ্ৰিত্য) মুখং (স্বগােলকং) প্রাবিশং ( প্রবিষ্টঃ ); তথা বাযুঃ প্রাণঃ ভূত্বা নাসিকে প্রাবিশৎ ; আদিত্য: চক্ষুঃ ভূত্বা অক্ষিণী (চক্ষুগোলকৃৎ ) প্রবিশং , দিশঃ ( দিগ-দেবতাঃ) শ্ৰোত্ৰং ভূত্বা কর্ণে প্রাবিশ; ওষধি-বনস্পতয় লােমানি ভূত্বা স্বচং প্রাবিশ; চন্দ্ৰমাঃ চল) মনঃ ভূত্বা হৃদযপ্রবিশং, মৃত্যু (যম) অপানঃ ভূত্বা নাভিং প্রাবিশৎ; আপঃ রেতঃ ভূত্বা শিশ্নং প্রাবিশ। [ অত্র ইন্দ্রিয়েবিনা দেবতানা মন বস্থিতেঃ, ইন্দ্রিয়াণাং চ দেবতাভিবিনা কার্যকব-নুপপতে দেবতেন্দ্রিয়য়াের সহােল্লেখো দ্রষ্টব্যঃ ] |৮||৪|| মূলানুবাদ। পরমেশ্বরের এই প্রকার আদেশ প্রাপ্ত হইয়া, বাগিন্দ্রিয়ের অধিদেবতা অগ্নি মুখে প্রবেশ করিলেন, ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের দেবতা বায়ু প্রাণরূপে অর্থাৎ ঘ্রাণেন্দ্রিয়সহযােগে নাসিকাদ্বয়ে প্রবেশ করিলেন ; চক্ষুর দেবতা আদিত্য অক্ষিরন্ধে প্রবিষ্ট হইলেন; শ্রবণেন্দ্রিয়ের দেবতা দিসমূহ কর্ণদ্বয়ে প্রবেশ করিলেন; ত্বগিন্দ্রিয়ের দেবতা ওষধি ও বনস্পতিসমূহ ত্বকের মধ্যে প্রবেশ করিলেন; মনের দেবতা চন্দ্র হৃদয়ে প্রবিষ্ট হইলেন; অপান-দেবতা মৃত্যু নাভিতে প্রবেশ করিলেন; উপস্থের দেব তা রেতঃসহযােগে শিশ্নমধ্যে প্রবিষ্ট হইলেন ॥৮৪৷৷ শাঙ্কৱভাষ্যম্। তথাস্থিত্যনুজ্ঞা প্ৰতিলভ্য ঈশ্বর নগৰ্য্যামিব বলাধিকৃতাদয়ঃ, অগ্নিঃ বাগভিমানী বাগেব ভূত্ব স্বং যােনিং মুখং প্রাবিশৎ। তথােক্তাৰ্থমন্যৎ। বাযুনাসিকে, অদিতত্যাহক্ষিণী, দিশঃ কর্ণে, ওষধিবনস্পতয়ঃ চম্, চন্দ্রমা হৃদয়, মৃত্যুঃ নাভি, আপঃ শিশ্নং প্রাবিশন্ ॥৮৪। ভাষ্যানুবাদ। এইরূপে পরমেশ্বরের অনুমতি প্রাপ্ত হইয়া, রাজ- ; ;
ঐতরেয়ােপনিষদ্ • পুরুষগণ যেরূপ রাজাজ্ঞায় নগরমধ্যে প্রবেশ করে, তদ্রুপ অগ্নি-বাগিন্দ্রিয়ের দেবতা বাস্বরূপ হইয়া, অর্থাৎ বাগিন্দ্রিয়ের সহিত মিলিত হইয়া স্বকারণ মুখবিবরে প্রবেশ করিলেন। অন্যান্য অংশের অর্থও এই প্রকারই। বায়ু নাসিকা-রন্ধ দ্বয়ে, আদিত্য অক্ষিরন্ধে ; দিসমূহ উভয় কর্ণে ; ওষধি ও বনস্পতিসমূহ ত্বকে ; চন্দ্র হৃদয়ে, মৃত্যু নাভিতে এবং অপদেবতা শিশ্নে প্রবেশ কবিলেন ||৮||৪|| তমশনায়া-পিপাসে অক্ৰতামাবাভ্যামভিপ্রজানীহীতি। স তে অব্রবীদেতাস্বেব বাং দেবতাস্বাভজাম্যেতা ভাগিন্যে করােমীতি। তস্মাদ্স্যৈ কস্যৈ চ দেবতায়ৈ হবিগৃহতে ভাগিন্যাবেবস্যাম- শনায়াপিপাসে ভবতঃ ॥৯||৫|| ইতি দ্বিতীয় খণ্ডঃ ॥২॥ সৱলাঃ। [ এবং দেবতা লাধিছানায় সতীষু অশনাযা- পিপাসে তং (ঈশ্বর) অন্ধ্রতা (উক্তৰত্যে—আবাভাং অভিপ্ৰজনীহি ( আবয়ােরধিষ্ঠানং চিন্ত) ইতি । [ এবমুক্ত ঈশ্ববঃ ] তে ( অশনা পিপাসে) অব্রবীৎ-এতাসু ( অগ্নি প্রভৃতি) দেবতাসু এব বাং (যুবা, ) আভজামি (বৃত্তিব্যবস্থা অনুগৃহূমি ); এতাসু এব ভাগিতে। (এতসু মধ্যে, যস্যা দেবতায়া যাে হবির্ভাগঃ স্যাৎ, তস্যা: তেনৈব ভাগেন যুবামপি ভাগবতে করােমি ; ন পুনযু বয়ােঃ পৃথগভাগং বিদধামি ইতি ভাবঃ) ইতি। তস্মাৎ (হেতােঃ) যস্যৈ কস্যৈ চ দেবতায়ৈ হবিঃ (চকপুবােডাশাদিকং) গৃহতে (অর্পতে), অস্যাং (তস্যাং দেবতাযাং) অশনাযা-পিপাসে ভাগিদ্যে (ভাগবত্যে) এব ভবতঃ, (ন পুনঃ পৃথগ ভাগমতঃ ) ইত্যর্থঃ ॥৯,৫|| মূলানুবাদ। অতঃপর অশনায় (ক্ষুধা ) ও পিপাসা পর- মেশ্বরকে বলিল—আমাদের জন্যও অধিষ্ঠান চিন্তা করন। [ তদুত্তরে পরমেশ্বর ] তাহাদিগকে বলিলেন—তােমাদিগকে এই অগ্নিপ্রভৃতি দেবতার মধ্যেই ভাগযুক্ত করিতেছি--ইহাদের মধ্যে যে দেবতার জন্য যে ভাগ নির্বাচিত হইবে, তােমরাও সেই দেবতার সেই ভাগের অধিকারী হইবে; [তােমাদের জন্য আর পৃথক্ ভাগ বিধানের অবিশ্যক নাই ]। এই কারণেই, যে কোন দেবতার উদ্দেশ্যে যে ভাগ অর্পিত প্রথমেহধ্যাযে-দ্বিতীয় খণ্ড হইয়া থাকে, অশনাযা-পিপাসাও সেই দেবতার সেই ভাগই গ্রহণ কবিযা থাকে ॥৯|||| ইতি দ্বিতীযখওব্যাখ্যা ॥২॥ শাৱভাষ্যম্। এবৰ লাধিষ্ঠ। নাসু দেবতাসু নিবধিষ্ঠানে সত্যে। কাশনায পিপাসে তমীশ্ববক্রম উক্তবতে) -আবাভামধিষ্ঠানম অভি প্রজানীহি চিন্তা বিবংস্বেত্যথ। স ঈশ্বব এবমুত্তঃ তে অশনা পিপাসে অব্রবীৎ, নহি যুবােভাবৰূপত্বাং চেতনাবনাশ্ৰিত্য অন্নাতৃত্বং সম্ভবতি। তস্মাৎ এস্বেৰ গ্ন্যিাদ্যসু বা, যুবা, দেবতা অধ্যাত্মাবিদেবতাসু আভজামি বৃত্তিস বিভাগেনানুগামি। এতাসু ভাগিন্যে যদেবত্যে যে ভাগঃ হবিবাদি লক্ষণ সুং, তহস্তেনৈব ভাগেন ভাগিন্তেী ভাগবতে বাংকবােমীতি। সষ্ট্যাদাৰীশ্বব এব, ব্যদবাং মং, তদিদানীমপি স্যৈ কস্যৈ চ দেবতাষৈ দেবতা অথাব হবি হতে চব পুবােডাশাদি লক্ষণম, ভাগিন্যে এব ভাগ ত্যাবেব অন্যা। দেবতাম অশনাযা পিপাসে ভবতঃ |৯||৫|| ইতি দ্বিতীযখণ্ড ভাষ্যম। ভাষ্যানুবাদ। এই প্রকাবে অগ্নি প্রভৃতি দেবতা অধিষ্ঠান লাভ কবিলে পব, অশনাযা ( ক্ষুধা ও পিপাসা নিববিধান থাকিযা অর্থাৎ স্বতন্থ কোন আশ্রয় স্থান লাভ কবিতে না পাবি। সেই পরমেশ্ববকে বলিল—আমাদেব জন্য অবিছান (ভােগস্থান | চিন্তা কবন—বিন কব সেই পরমেশ্বব এইপ্রকাবে অনুবদ্ধ হইযা, তাহাদিগকে বলিলেন—তােম। যখন গুণাদিব ন্যায় পশ্রিত সং পদার্থ, তখন অপব কোনও চেতন পদার্থকে আশ্রয় না কবি। অন্নভােগ তােমাদেব সম্ভবপর হইবে •!, অতএব অধ্যাত্ম ও অধিদৈবতভাবাপন্ন উক্ত অগ্নিপ্রভৃতি দেবতাতেই বৃত্তি-ব্যবস্থা কবি। তােমাদিগকে বৃত্তিভাগী কবিতেছি, অর্থাৎ অনুগৃহীত কবিতেছি , উক্ত দেবতাগণের মধ্যেই তােমাদিকে ভাগী ( অংশী) ববিতেছি, অর্থাৎ যে দেবতার উদ্দেশ্যে চর, পুবােডাশ প্রভৃতি যে হবিভাগ কল্পিত হইবে, সেই দেবতাব সেই ভাগ দ্বাৰাই তােমাদিগকে ভাগসম্পন্ন কবিতেছি। যেহেতু পৰমেশ্বৰ সৃষ্টিব প্রান্তে এইরূপ ব্যবস্থা করিয়াছিলেন, সেই হেতুই এখনও, যে কোন দেবতার উদ্দেশ্যে চক ও পুবােডাশ প্রভৃতি হবিঃ গৃহীত হষ, ক্ষু বা পিপাসাও এই দেবতাব সেই ভাগই গ্রহণ কৰি থাকে ॥৯৫। ইতি দ্বিতীয় খণ্ডেব ভাষ্যানুবাদ ॥২ || তৃতীয় খণ্ড স ঈক্ষতেমে নু লােকাশ্চ লােকপালাশ্চান্নমেভ্যঃ সৃজা ইতি ॥১০৷৷৷৷ সরলার্থঃ। সঃ (পরমেশ্বরঃ) পুনরপি] ঈক্ষত (চিন্তয়মাস )-ইমে লােকাঃ ( অন্তঃপ্রভৃতঃ ) চ লােকপালাঃ (অগ্নিপ্রভৃতয়ঃ ) চ ( ময়া সৃষ্টাঃ । মু। এভ্যঃ (লােকপালেভ্যঃ) অন্নং (ভােগ্যং) সৃজৈ (সৃজে ) [ অহম ] ইতি ॥১০ ||১|| মুলানুবাদ। সেই পরমেশ্বর পুনশ্চ চিন্তা করিলেন যে, আমি এই সমুদয় লােক ও লােকপাল সৃষ্টি করিয়াছি; এখন ইহাদের জন্য অন্ন ( ভােগ্য) সৃষ্টি করিব ॥১॥১॥ শাঙ্কৱভাষ্য। স এবমীশ্বর ঈক্ষত। কথম্ ? ইমে ও লোকাচ লােকপালাশ্চ ময়া সৃষ্টাঃ ; অশনায়া-পিপাসাভ্যাং চ সংযােজিতা। তাতে নৈষ। স্থিতিরমন্তরেণ ; তস্মাদন্নমেভ্যো লােকপালেভ্য, স্জৈ সৃজে ইতি। লােকে ঈশ্বরাণামনুগ্রহে নিগ্রহে চ স্বাতন্ত্র্য দৃষ্টং স্বেষু। তন্মহেশ্বরস্থাপি সৰ্বেশ্বরত্বৎ সৰ্বান্ প্রতি নিগ্রহে অনুগ্রহে চ স্বাতন্ত্র্যমেব ॥১০ ||১|| ভাষ্যানুবাদ। সেই পরমেশ্বৰ পুনশ্চ এইপ্রকার আলোচনা করিয়াছিলেন। কি প্রকার ? না, এই সমুদয় লোক ও লােকপালকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি, এবং তাহাদিগকে অশনায়া ও পিপাসাযুক্ত করিয়াছি। অন্ন ব্যতিরেকে ইহাদের অবস্থিতি সম্ভবপর নহে; অতএব এই সকল লেকপালের নিমিত্ত অন্ন সৃষ্টি করিব। জগতে এইরূপই দেখিতে পাওয়া যায় যে, ঈশ্বরগণ (প্রভুগণ) স্ববিষয়ে স্বেচ্ছামত নিগ্রহ বা অনুগ্রহ করিতে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকেন ; সেইরূপ পরমেশ্বরও যখন সকলের প্রভু, তখন তাঁহার ও যে, সকলের প্রতি নিগ্রহ বা অনুগ্রহ প্রকাশ করিতে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা আছে, [ ইহা স্বীকার করিতেই হইবে ] ॥১০ ||১|| এব, হি সােহপােহভ্যতপৎ তাভ্যোহভিতপ্তাভ্যো মূর্তিরজায়ত যা বৈ সা মূর্তিরজায়নুং বৈ তৎ ॥১১।২।। সৱলখঃ। সঃ (অঃং সিসৃক্ষু পরমেশ্বরঃ) অপঃ (স্বষ্টা অপঃ ) প্রথমেহধ্যায়ে-তৃতীয় খণ্ড অভি (লক্ষীকৃত্য) অতপং ( অচিন্তয়ৎ )। অভিপ্তাভ্যঃ তাভ্যঃ ( অদ্ভঃ) মূৰ্ত্তি ( ঘনসংস্থানং চরাচরং) অজায়ত (উৎপন্নং)। যা বৈ সা মূর্তিঃ অজয়ত, তৎ বৈ (এব) অন্নম্ | অভূৎ ] ॥১১২। মূলানুবাদ। সেই ঈশ্বর ( অন্নসৃষ্টির অভিলাষে ] পূর্বসৃষ্ট অপকে লক্ষ্য করিয়া তপস্যা (চিন্তা) করিয়াছিলেন। সেই অভিতপ্ত অপ হইতে মূর্তি (ঘনীভূত রূপ) উৎপন্ন হইল। সেই যে মূর্তি উৎপন্ন হইল, তাহাই অন্নরূপে পরিণত হইল ॥১২।২। শঙ্করভাষ্যম্। স ঈশ্বরে হিন্নং সিসৃক্ষু তা এব পূর্বোক্তা অপ উদ্দিশ্য অভ্যতপং। তাভ্য অভিতাভ্য উপাদানভূতভ্যঃ মূর্তিঃ ঘনৰূপং ধারণ- সমর্থং চরাচরলক্ষণ অজয়ত উৎপন্নম্ । অন্নং বৈ তন্ম ৰ্ত্তিৰূপং, যা বৈ স। মূর্তিরজায়ত ॥১১২। ভাষ্যানুবাদ। সেই পৰমেশ্বর অন্নসৃষ্টির ইচ্ছুক হইয়া সেই পূর্ব- কথিত অপুকে উদ্দেশ্য করিয়া তপস্যা করিয়াছিলেন। অভি তপ্ত সেই জলরূপ উপাদান হইতে মুক্তিবারণসমর্থ ঘনীভূত স্থাবর-জঙ্গম বস্তু উৎপন্ন হইল। সেই যে মুর্তি হইল, তাহাই অন্ন ॥১১২)। তদেনদভিষ্টং পরাত্যজিঘাংসৎ তদ্বাচাজিঘক্ষৎ, তন্না- শক্ষোদ্বাচা গ্রহীতুম্ স ঘদ্বৈনাচাগ্রহৈষ্যদভিব্যাহৃত্য হৈবান- মত্ৰপস্যৎ |১২||৩|| সৱলাখ। তং এনং (এতং) অন্ন, অভিসৃষ্ট (লােকপালানে সৃষ্ট সং) পরা (পুরা পশ্চান্মুখ যথা তথ।) অত্যজিঘাংসং (লােকপালান অতীত্য গন্তু ঐচ্ছ)। [ লােকপালসমষ্টিলক্ষণঃ পিওস্তু ] বাচা (বাগিন্দ্রিয়েণ বচনেনেত্যৰ্থঃ ) অজিম্বাক্ষৎ (তৎ গ্রহীতুম্ ঐচ্ছৎ); [ কিন্তু ] বাচা তৎ গ্রহীতুং ন অশক্লোৎ ( শক্ত ন বভূব)। সঃ (প্রথমজঃ পুরুষঃ ) যৎ (যদি) হ এনৎ (অন্নং) বাচা অগ্রহৈষ্যৎ ( গ্রহীতুং সমর্থঃ অভবিষ্যৎ ), [ তহি সৰ্বো লােকঃ ] অন্নং অভিব্যাহৃত্য (অন্নশব্দমাত্ৰ উচ্চাৰ্য) এব হ অত্রপৃষ্যৎ (তৃপ্তোহভবিষ্যৎ ), [ নতু তথা তৃপ্তে। ভবতি ইতি ভাবঃ ] ॥১২|| ৩ মূলানুবাদ। [ লােকপালদিগের ভক্ষণার্থ ] সৃষ্ট সেই এই অন্ন পশ্চান্মুখ হইয়া তাহাদিগকে অতিক্রম করিতে ইচ্ছা করিয়াছিল, اف ঐতরেয়ােপনিষদ অর্থাৎ সেখান হইতে পলায়ন করিতে চেষ্টা করিয়াছিল। [ এই দেখিয়া আদিপুরুষ ] বাক্যদ্বারা সেই অন্ন গ্রহণ করিতে ইচ্ছা করিয়া- ছিলেন; কিন্তু বাক্যদ্বারা তাহা গ্রহণ করিতে সমর্থ হইলেন না। আদিপুরুষ যদি কেবল বচনমাত্রেই অন্ন গ্রহণ করিতে পারিতেন, তাহা হইলে পরবর্তী লােকেরাও কেবল বচনপ্রয়ােগেই তৃপ্তিলাভ করিতে পারিত, ( অন্নভক্ষণের আবশ্যক হইত না) ॥১২৩ শঙ্করভাষম। তদেনং অন্ন, লােক-লোকপালান্নার্থভিমুখে সৃষ্ট সং, যথা মূষকাদিম্মার্জাবাদিগোচবে সন্, মম মৃত্যুবন্নাদ ইতি মত্ব, পবাগতীতি পবাঙ, পৰা সং অন অতীত্য অজিঘাংসং অতিগন্তুমৈচ্ছ, পাষিত প্রাবভতেত্যর্থ। তমন্নাভিপ্রায, ম স লােকলােকপলস ঘাতকাৰ্যকৰণলক্ষণ, পিণ্ড প্রথমজ স্বাদন্যাশ্চান্নাদানপন, তং অন্ন বচ। বদনব্যাপাবেণ অজিগৎ গ্রহীতুমৈচ্ছ। তং অন্ন, নাশকোং ন সমর্থেহভবৎ বাচা বদনক্রিয্যা গ্রহীতুম উপাদাতুম্ । স প্রথমজঃ শবীবী যং যদি হ এনং বাচ। অগ্রহৈস্যং গৃহীতবান্ স্যাৎ অন্নম, সৰ্বোহপি লােকস্তংকাৰ্যভূতত্বাদ অভিব্যাহৃত হৈবান্ন, অত্রপৃষ্যৎ তৃপ্তোহভবিষ্যং, ন চৈতদস্তি , অতাে নাশকোং বাচা গ্রহীতুমিত্যগচ্ছামঃ পুৰ্ব্বজোহপি। সমানমুত্তরম্ ॥১২৷৩৷৷ ভাষ্যানুবাদ। সেই এই অন্নার্থী লােক ও লােকপলদিগেৰ সম্মুখে অন্ন উপস্থাপিত হইলে পব, মার্জাব প্রভৃতির সম্মুখে পতিত মুষিক প্রভৃতি যেরূপ -“ইহা আমার ভক্ষক--মৃত্যুস্বৰূপ এইরূপ মনে কৰিষা, সেখান হইতে পলায়ন কবিতে প্রবৃত্ত হয়, তদ্রুপ সেই অন্ন ও পবাক্-পশ্চাঙ্গামী হইয়া ভক্ষকদিগকে অতিক্রম কবিষা যাইতে ইচ্ছা কবিযাছিল, অর্থাৎ পলায়ন কবিতে আবম্ভ কৰিছিল। সমস্ত লােক ও লােকপালগণের সমষ্টিভৃত সেই পিণ্ড ( আদিপুরুষ , তিনি প্রথমােৎপন্ন বলিষ', তৎকালে অপব কোনও অন্নভােক্তা না দেখি, নিজেই বাক্যদ্বাবা-বাগিন্দি-ব্যাপাব বচনেব সাহায্যে সেই পলায়মান অন্নকে ধবিতে চেষ্টা করিয়াছিলেন, কিন্তু তিনি কেবল বচন-ব্যাপাবে অর্থাৎ কথামাত্রে সেই অন্ন গ্রহণ কবিতে সমর্থ হইলেন না। সেই প্রথমজ শবীবী যদি শুধু বচন দ্বাবা অনুগ্ৰহণ কবিতে সমর্থ হইতেন, তাহা হইলে, তাহা হইতে উৎপন্ন সকল লােকই কেবল অন্ন-শব্দ উচ্চাৰণ কবিই তৃপ্তিলাভ কবিত, প্রকৃতপক্ষে কিন্তু সেরূপ হয় না। আমাদের মনে হয়, এই নিমিত্তই প্রথমেহধ্যায়ে—তৃতীয় খণ্ড প্রথমজ পুৰুষও কেবল বচন প্রয়ােগে অনুগ্রহণে সমর্থ হন নাই। পববর্তী শ্রুতিগুলির অর্থও এই প্রকার ॥১২||৩| তৎ প্রাণেনাজিবৃক্ষৎ তন্নাশকোৎ প্রাণেন গ্রহীতুম্ । म যনৈৎ ৎ প্রাণেনাগ্রহৈষ্যদভি প্ৰাণ্য হৈবানুমত্ৰপস্যৎ ॥১৩৪৷৷ সৱলথিঃ। তথা, প্রাণেন (ঘ্রাণেন) তৎ অন্নং অজিঘক্ষং [ প্রথমজঃ পুৰুষঃ ]; প্রাণেন তং গ্রহীতুং ন অশকোং। সঃ (প্রথমজ: পুৰুষঃ ) যং (যদি) প্রাণেন এনং অগ্রহৈষ্যৎ, তদ। সৰ্বো লােকঃ ] অন্নং অভিভাণ্য ( অন্নে প্রাণব্যাপাবং কৃত্বা ) এব অত্ৰত্যং ॥১৩৪ মূলানুবাদ। পূর্ববৎ প্রাণব্যাপার দ্বারাও সেই অনুগ্রহণ করিতে ইচ্ছা করিয়াছিলেন, কিন্তু প্রাণদ্বারা অন্ন গ্রহণ করিতে সমর্থ হইলেন না। তিনি যদি প্রাণব্যাপারমাত্রেই অন্ন গ্রহণ করিতে সমর্থ হইতেন, তাহা হইলে, অপর সকলেও কেবল প্রাণব্যাপার করিয়াই তৃপ্তিলাভ করিতে সমর্থ হইত ॥১৩৷৷ তচ্চক্ষুজিবৃক্ষং তন্নাশকে চ্চক্ষুষ গ্রহীতুম্ । চক্ষুষ গ্রহৈষ্য দৃষ্টা হৈবানুমত্ৰপস্থ্যৎ ॥১৪৷৫|| সরলার্থঃ। তং (অন্ন, ) চক্ষুষ। অজিঘক্ষং ( প্রথম পুৰুষঃ } চক্ষুষ তং (অন্ন) গ্রহীতু নাশকে। সঃ [ প্রথমজঃ ] যং (যদি) চক্ষুষ (চক্ষুব্বারমাপাত্রণ ) এনং ( অন্ন ) অগ্রহৈষ্যৎ, তদা সর্বো লােকঃ } অন্নং দষ্টা এব হ অত্রপৃষ্যৎ। মূলানুবাদ। প্রথমজ পুরুষ পুনশ্চ চক্ষুদ্বারা অর্থাৎ কেবল দর্শনমাত্রে সেই অন্ন গ্রহণ করিতে ইচ্ছা করিয়াছিলেন; কিন্তু চক্ষু দ্বারা অন্ন গ্রহণ করিতে সমর্থ হইলেন না। প্রথম জ পুরুষ যদি কেবল চক্ষু দ্বারা অন্ন গ্রহণে সমর্থ হইতেন, তাহা হইলে অপর সকলে ও কেবল অন্ন দর্শন করিয়াই তৃপি লাভ করিত ॥১৪৷৷৷৷ তচ্ছােত্রেণাজিঘক্ষৎ তন্নাশকোচ্ছােত্রেণ গ্রহীতুম্। যদ্ধৈনচ্ছোত্রেণাহেষ্যত্ব। হৈবানুমত্রস্যৎ ॥১৫৷৬৷ স যদ্বৈন- স ৪০ ঐতরেয়ােপনিষদ সরলার্থঃ। শ্রোত্রেণ (শ্রবণমাত্রেণ ) তৎ (অন্নং) অজিঘক্ষং শ্রোত্রেণ তং গ্রহাতুং ন অশকোৎ। ( সঃ প্রথমজঃ পুৰুষঃ ] যৎ (যদি) শ্রোত্রেণ এনং অগ্রহৈষ্যৎ, [ তা সৰ্বোহপি লােক] অন্নং ত্বা এব হ অত্রপৃষ্যং ॥১৪৷৬৷৷ মূলানুবাদ। প্রথমজ পুরুষ শ্রোত্র দ্বারা সেই অন্ন গ্রহণ করিতে ইচ্ছা করিয়াছিলেন ; কিন্তু শ্রবণ দ্বারা সে অন্ন গ্রহণে সমর্থ হইলেন না। প্রথমজ পুরুষ যদি কেবল শ্রবণমাত্রেই অন্ন গ্রহণে সমর্থ হইতেন, তাহা হইলে, অপর সকলেও কেবল শ্রবণ দ্বারাই তৃপ্তি লাভ করিত ॥১৫৷৬৷৷ তত্ত্বচাজিঘক্ষণ তন্নাশকোৎ ত্বচা গ্রহীতু। স যদ্ধৈন ত্বচা গ্রহৈষ্যৎ স্পৃষ্ট হৈবন্নমত্রপসৎ ॥১৬৭ সৱলাৰ্থঃ। তং (অন্নং ) স্বচা অজিবৃক্ষ; তুচা তং গ্রহীতু ন অশকোৎ। সঃ ( প্রথমজঃ পুরুষঃ ) যং (যদি) চা এনং অগ্রহৈষ্যং, [ তদা সৰ্বো লােকঃ ] অনুং স্পষ্ট। এব হ অত্রপৃষ্যৎ ॥১৬ ॥ মুলানুবাদ। • প্রথম পুরুষ ত্বকের দ্বারা অর্থাৎ কেবল স্পর্শ দ্বারা সেই অন্ন গ্রহণ করিতে ইচ্ছা করিয়াছিলেন । কিন্তু সংকর দ্বারা অন্ন গ্রহণ করিতে সমর্থ হইলেন না। প্রথম পুরুষ যদি ত্বক্ দ্বারাই অন্ন গ্রহণে সমর্থ হইতেন, তাহা হইলে অপর সকলেও অন্ন স্পর্শ করিয়াই তৃপ্তিলাভ করিত।১৬৭৷৷ তন্মনজিঘক্ষৎ তন্নাশক্লোন্মনসা গ্রহীতুম্ । স যদ্ধৈ- নন্মনসা গ্রহৈষ্যদ্ধ্যাত্বা হৈবানুমত্ৰপস্যৎ ॥১৭৮ ; সৱলাৰ্থঃ। মনসা তং অজিবৃক্ষ ; মনসা ( মনােব্যাপারমাণে ) তৎ গ্রহীতুং ন অশকোং। সঃ (প্রথমজঃ পুরুষঃ) যৎ (যদি) মনসা এনং (অন্নং) অগ্রহৈষ্যৎ, { তদা সৰ্ব্বো লোকঃ ] অন্নং ধ্যাত্ব এব হ অত্রপস্ ॥১৭||৮|| মূলানুবাদ। প্রথমজ পুরুষ মন দ্বারা অর্থাৎ মানসিক ৪১ ; প্রথমেহধ্যায়ে-তৃতীয়ঃ খণ্ডঃ সংকল্পের সাহায্যে সেই অন্ন গ্রহণ করিতে ইচ্ছা করিয়াছিলেন; কিন্তু মন দ্বারা তাহা গ্রহণ করিতে সমর্থ হন নাই। প্রথমজ পুরুষ যদি কেবল মন দ্বারা অন্ন গ্রহণে সমর্থ হইতেন, তাহা হইলে অপর সকল লােকও কেবল অন্ন চিন্তা করিয়াই তৃপ্তিলাভ করিতে পারিত, ( ভােজন করিবার আবশ্যক হইত না)। ১৭৮ তচ্ছিশ্নেনাজিঘক্ষৎ তন্নাশকোচ্ছিশ্নেন গ্রহীতুম । চ্চিশ্নেনাগ্রহৈষ্যস্জ্যি হৈবানুমত্রপস্যৎ ॥১৮৯৷৷ সরলার্থঃ । শিশ্নেন (পু,চিহ্নেন ) তং অজিঘক্ষৎ , শিশ্নেন তৎ গ্রহীতুং ন অশকোৎ। সঃ (প্রথমজঃ পুৰুষঃ) যৎ (যদি) শিশ্নেন এনং অগ্রহৈষ্যৎ, তদা সৰ্বো লােকঃ ] অন্নং বিস্জ্য ( বিসর্গং কৃত্বা ) এব হ স যদ্ধৈন- অত্রপৃষ্যৎ ॥১৮৯৷৷ মূলানুবাদ। প্রথমজ পুরুষ পুনর্বার শিশ্নের দ্বারা সেই অন্ন গ্রহণ করিতে ইচ্ছা করিয়াছিলেন ; কিন্তু শিশ্ন দ্বারা অন্ন গ্রহণ করিতে সমর্থ হইলেন না। প্রথম পুরুষ যদি শিশ্ন দ্বারা অন্ন গ্রহণ করিতে সমর্থ হইতো, তাহা হইলে অপর লােকও কেবল অন্ন বিসর্গ ( দান ) করিয়াই তৃপ্তিলাভ করিত ॥১৮|| তদপানেনাজিঘক্ষং তদাবয়ৎ। সৈযােহন্নস্য গ্রহে যুদ্বায়ু- রন্নায়ুৰ্ব্বা এষ যদ্বায়ুঃ ॥১৯১০ | সরলার্থ । তথা, অপানেন তং (অন্ন ) অজিঘক্ষং, তং (অন্ন ) আবয়ৎ (জগ্রাহ-অশিতবান্), [ তেন হেতুনা] স এষঃ ( বক্ষ্যমাণঃ) অন্নস্য গ্রহঃ (গ্রাহকঃ ), যং (সঃ) বাযুঃ (অপান বাযুঃ )। যং (যঃ) বাযু ( অপানঃ ), বৈ (প্রসিদ্ধৌ ) অন্নাযুঃ (অন্নজীবনঃ অমােপ- জীবীত্যর্থঃ ) ॥১৯১০|| মূলানুবাদ। [ প্রথমজ পুরুষ পুনশ্চ ] অপান দ্বারা (অপান বায়ুর কাৰ্য্য অধঃকরণ দ্বারা) সেই অন্ন গ্রহণ করিতে ইচ্ছা করিয়া- ছিলেন; এবং তাহা দ্বারাই অন্ন গ্রহণ করিতে অর্থাৎ ভােজন এষঃ ৪২ ঐতরেশোপনিষদ্। করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। এই যে অপান বাবু, ইহাই অন্নের গ্রহ অর্থাৎ অন্নের গ্রাহক ; কারণ, এই যে বায়ু, ইহাই অনুজীবন বলিয়া প্রসিদ্ধ ॥১৯১০ শাঙ্কৱভাষ্যম্। তৎ প্রাণেন উচ্চক্ষুষ। তঘ্ৰোত্রেণ তচা তন্মনসা তচ্ছিপ্লেন-তেন তেন করণব্যাপারেণানুং গ্রহীতুমশরু বন্ পশ্চাদপানেন বাযুন। মুখচ্ছিদ্রেণ তদন্নমজিঘক্ষ, তদাবয়ং তদন্নমেবং জগ্রাহাশিতবান্। তেন স এষঃ অপানবায়ুরন্নস্থ গ্রহঃ অন্নগ্রাহক ইত্যে তৎ। যদ্বাযু যে বায়ুঃ অন্নাযু অন্নবন্ধনােহন্নজীবনঃ বৈ প্রসিদ্ধ, স এষঃ, যাে বাযুঃ ॥১৩-১৯|| ৪-১০ || ভাষ্যানুবাদ। এইরূপ প্রাণ ( ঘ্রাণ ), চক্ষু, শ্রোত্র, ত্ব, মন ও শিশ্নদ্বারা—অধিক কি, কোন ইন্দ্ৰিব্যাপাবদ্বারাই সেই অন্ন গ্রহণ করিতে সমর্থ হইয়া, অবশেষে অপান বাযুদ্বারা মুখবন্ধ্রের সাহায্যে সেই অন্ন গ্রহণ করিয়া- ছিলেন ; এই প্রকাবে সেই অন্ন ভক্ষণ করিয়াছিলেন । সেই কারণে এই অপানবায়ু অন্নের গ্রহ’ অন্নের গ্রাহক ও অন্নাঃ-অন্নবন্ধন বা অন্নজীবী বলিয়া যে বায়ু প্রসিদ্ধ, ইহাই সেই বাযু ॥৪১০! স ঈক্ষত কথং দ্বিদং মদৃতে স্যাদিতি ; স ঈক্ষত করেণ প্রপদ্যা ইতি। স ঈক্ষত যদি বাচাভিব্যাহৃতং যদি প্রাণে- নাভিপ্রাণিতং যদি চক্ষুষা দৃষ্টং যদি শ্রোত্রেণ শ্রুতং যদি চা স্পষ্টং যদি মনসা ধ্যাতং যদ্যপানেনাভ্যপানিতং যদি শিশ্নেন বিসৃষ্টমথ কোহহমিতি ॥২০১১৷৷ সরলার্থ। সঃ (পরমেশ্বরঃ) [ এবং লােকস্থিতিহেতুভূতম্ অন্নং পৃষ্ঠা ঈক্ষত-ইদং (ময় সৃষ্টং দেহেন্দ্রিয়াদি-সংঘাতরূপং কাৰ্যং) মং ঋতে (মাং স্বামিনং বিনা) কথং (কেন প্রকারেণ) হ্যাং (সার্থকং ভবেৎ ? ন হি ভােকারমন্তরেণ ভােগ্যং বস্তু সার্থকং ভবতীতি ভাবঃ) ইতি; পুনঃ সঃ ঈক্ষত যদি বাচা অভিব্যাহৃতং (মামনুপাদায় কেবলং বাচৈব বাগব্যবহারাদিকং সম্পন্নং ভবেৎ ; এবমুত্তরাপি), যদি প্রাণেন অভিপ্রাণিতং, যদি চক্ষুষ। দৃষ্টং, যদি শ্রোত্রেণ তং, যদি স্বচা সৃষ্টং, যদি মনসা ধ্যাত, যদি অপানেন অভ্যপানিতং, যদি শিশ্নেন বিসৃষ্ট, অথ (তদা) অহং (পরমেশ্বরঃ) ক ? (দেহেন্দ্রিয়াদি- সংঘাতেন মম কিয়ান্ সম্বন্ধ )। [ অতঃ পুনরপি ] সঃ ঈক্ষত—কতরেণ (দ্বয়ােত ৬ ৪৩ প্রথমেহধ্যায়ে তৃতীয় খণ্ড। প্রবেশদ্বারয়াের মুদ্ধ-পাদাশ্রয়য়ােমধ্যে কেন দ্বারেণ) প্রপদ্যৈ (প্রবেশং কুৰ্য্যাম্)? ইতি ॥২০১১। মূলানুবাদ। সেই পরমেশ্বর চিন্তা করিতে লাগিলেন যে, আমার অভাবে অর্থাৎ আমি ইহার অভ্যন্তরে প্রবিষ্ট না থাকিলে, আমার সৃষ্ট এই দেহেন্দ্রিয়সমষ্টি কি প্রকারে থাকিবে ? অর্থাৎ সম্পূর্ণ নিরর্থক হইয়া যাইবে। বিশেষতঃ যদি বাগিন্দ্রিয়ই শ ব্দাচ্চারণ করিল, যদি প্রাণ প্রাণন ( জীবন কাৰ্য্য সম্পাদন) করিল, যদি চক্ষুই দর্শন করিল, যদি শ্রবণেন্দ্রিয় শ্রবণ কাৰ্য্য করিল, যদি ত্বগিন্দ্রিয় স্পর্শন কাৰ্য্য করিল, মনই যদি ধ্যান করিল, অপান যদি অপােনয়ন কবিল, এবং শিশ্নই যদি রেগােবিসৰ্জন কবিল, তাহা হইলে, [ এই দেহে ] আমি কে? অর্থাৎ দেহের সহিত আমার আর কি সম্বন্ধ রহিল ? [ অতএব এই দেহে আমার প্রবেশ করা উচিত। এইরূপ অবধারণের পর ] তিনি চিন্তা করিতে লাগিলেন যে, [ দেহমধ্যে প্রবেশের দুইটী পথ আছে একটি মূর্ধা (মস্তকের উপরিভাগ ), অপরটি পাদাগ্ৰ, এই দুই পথের কোন্ পথে আমি প্রবেশ করিব ? ॥২॥১১৷ শঙ্করভাষ্যম। স এবং লােকলােকপালসঙ্ঘাতস্থিতি অন্ন- নিমিত্তাং কৃত্বা পুবপােব-তংপালষিতৃস্থিতিসমা, মীব ঈক্ষত--কথং নু কেন প্রকারেণ, মু ইতি বিতর্করন, ইদ, মং ঋতে মামন্তবেণ পুরস্বামিনং; যদিদং কাৰ্যকৰণসঘাতকাৰ্য্যং বক্ষ্যমাণ, কথং নু থলু মামন্তরেণ স্যাং পরার্থং সৎ । যদি বাচাভিব্যাহৃতমিত্যাদি কেবলমেব বাগব্যবহরণাদি, তন্নিবর্থকং ন কথঞ্চন ভবেৎ বলিস্তুত্যাদিবং ; পৌরবদ্যাদিভিঃ প্রযুজ্যমানং স্বামর্থং সৎ স্বামিন- মন্তরেণ অসত্যেব স্বামিনি, তং। তস্মান্ময়। পরেণ স্বামিনাধিষ্ঠাত্রা কৃতাকৃত- ফলসাক্ষিভূতেন ভােক্তা ভবিতব্যং পুববে রাজ্ঞা। যদি নামৈতৎ সংহতকাৰ্য্যস্ত পরার্থত্ব, পরার্থিনং মাং চেতনং ত্রাতারমন্তরেণ ভবেৎ, পুরপপৗরকাৰ্যমিব তৎস্বামিন। অথ কোহহং কিংস্বরূপঃ কস্য বা স্বামী ? যদ্যহং কাৰ্যকরণসঘতমনুপ্রবি বাগাদ্যভিব্যাহৃদিলং নােপলভেয়, রাজেব পুরমাবিশ্যাধিকৃতপুরুষ-তাকৃদিলক্ষণং, ন কশ্চিন্মাম্ অয়ং সন্ এবংৰূপশ্চেতি অধিগচ্ছেদ্বিচারয়েৎ। বিপর্যয়ে তু, যােহয়। বাগাদ্যভিব্যাহৃদি ইদমিতি ৪৪ ঐতরেয়ােপনিষদ। বেদ, স স বেদনরূপণ্ডেত্যধিগন্তব্যোহহং স্যা, বদৰ্থ মিদং সংহতানাং বাগাদীনামভিব্যাহৃদি। যথা স্তম্ভকুড্যাদীনাং প্রাসাদাদিসংহতানাং স্বালয়বৈরসংহত-পরার্থত্বং, তদ্বদিতি। এবমীক্ষিকা, অতঃ কতরেণ প্রপদ্যা ইতি। প্রপদং চ মুৰ্দ্ধা চাস্য সংঘাতস্য প্রবেশমার্গে); অনয়ােঃ কতরেণ মার্গেণেদং কার্যকরণসংঘাতলক্ষণং পুরং প্রপদ্যৈ প্রপদ্যে ইতি ॥২০১১৷৷ ভাষ্যানুবাদ। নগরাধিপতি যেরূপ নগর, নগরবাসী ও নগর- রক্ষকদিগের সংস্থিতির উপায় বিধান করেন, পরমেশ্বরও তদ্রুপ বিভিন্ন লোেক (স্থান) ও লােকপালদিগের শরীর রক্ষার নিমিত্ত অন্ন সৃষ্টি করিয়া (নগরাধি- পতির ন্যায় বিচারপূর্বক এইরূপ চিন্তা করিতে লাগিলেন—(নু শব্দটী বিতর্ক- বােধক); পুরস্বামিসদৃশ আমার অভাবে ইহা ( আমার সৃষ্ট দেহ) কিপ্রকারে থাকিবে ? এই যে দেহেন্দ্রিয়সংঘাত, ইহ। যখন পার্থ (১) তখন আমার অভাবে ইহা কি প্রকার হইবে ? বা প্রাণ প্রভৃতি ইন্দ্রিয়গণ যে, শব্দোচ্চারণ প্রভৃতি কার্য সম্পাদন করে, তাহা ত লােক প্রসিদ্ধ পূজা ও স্তুতি প্রভৃতির ন্যায় নিরর্থকভাবে কোনমতেই স্থিতিলাভ করিতে পারে না। অভিপ্রায় এই যে, নগরবাসী ও বন্দি প্রভৃতিরা যে প্রভুর উদ্যেশ্যে স্তুতিপাঠ করে ও উপহাব প্রদান করে, তাহা যেরূপ প্রভুর অভাবে অনর্থক হয়, দেহব্যবহারও ঠিক তদ্রুপই নিরর্থক হইবে। অতএব নগরস্বামীর ন্যায় দেহস্বামী আমাকেও কত ও অকৃত কর্মের সাক্ষিরূপে অধিষ্ঠান করত ভােক্তভাবে অবস্থান করিতে হইবে। পক্ষান্তরে, অবয়ব-সংঘাতময় ( অবয়বসমষ্টি দ্বারা রচিত) এই দেহ যখন নিশ্চয়ই পরার্থ অর্থাৎ পরের প্রয়ােজন সিদ্ধির নিমিত্তই রচিত, (১) তাৎপৰ্য্য-সাধারণতঃ জগতে দুই প্রকার পদার্থ আছে—এক চেতন, অপর জড়। তন্মধ্যে চেতন বস্তু স্বার্থ, আর অচেতন জড়বর্গ পরার্থ (চেতনের উদ্দেশ্যে সৃষ্ট)। চেতন বস্তু আত্মা পিত্য নির্বিকার, সর্বদা একইরূপে বর্তমান, সুতরাং তাহার স্থিতি বা অস্তিত্ব পরাপেক্ষিত বা পরের জন্য নহে-উহা স্বার্থ, কিন্তু অচেতনের স্থিতি সেরূপ নহে; কেননা, অচেতনমাত্রই বিকারশীল—পরিণামী ; পরিণামের একটা উদ্দেশ্য থাকা আবশ্যক ; অথচ অচেতন বস্তুমাত্রই যখন জড়-বোধশক্তিবিহীন, তখন স্বীয় পরিণামের ফল সে কখনই ভােগ করিতে পারে না; যেমন গৃহ, শয্যা ও বৃক্ষ প্রভৃতি। গৃহ নির্মিত হয় গৃহস্থের জন্য, শয্যা প্রস্তুত হয় শয়নকৰ্ত্তার নিমিত্ত এবং বৃক্ষ ফল প্রসব করে পুরুষের ভােগাৰ্থ ; সুতরাং এ সমস্তই পরার্থপরের অর্থাৎ চেতন পুরুষের ভোগ সম্পাদনের জন্যই ইহাদেব জন্ম ও স্থিতি; কাজেই এ সমস্তকে পরার্থ বলা হইয়া থাকে। এ সকল জড় বস্তু না থাকিলেও চেতন অক্সার স্থিতির অসম্ভব হইত না।
প্রথমেহধ্যায়ে তৃতীয় খণ্ড ৪৫ তখন পুরস্বামীর নিমিত্ত কৃত পুর ও পুরবাসীদিগের অনুষ্ঠিত কাৰ্য যেমন স্বামীর অভাবে বিফল হয়, তেমনি পরার্থে রচিত এই দেহও রক্ষণক্ষম চেতন কৰ্ত্তার অভাবে বিফল হইবে। তাহার পর এই দেহে আমিই বা কে ? আমি কাহার স্বামী ? রাজা যদি নিজ নগরে প্রবেশপূৰ্ব্বক কর্মচারিগণের কৃত ও অকৃত কৰ্ম্ম প্রত্যক্ষ না করেন, তাহা হইলে, তাহার যেরূপ অবস্থা হয়, তদ্রুপ আমিও যদি দেহেন্দ্রিয়সংঘাতের মধ্যে প্রবেশ পূৰ্ব্বক বাক্ প্রভৃতির কৃত শব্দাদি ব্যাপার উপলব্ধি না করি, তাহা হইলে, আমার স্বরূপ ও প্রভাব এই ভাবে জানিতে পারিবে না—আমার সম্বন্ধে বিচার করিতে পারিবে না। ইহার বিপরীত হইলেই লােকে বুঝিতে পারিবে যে, যিনি বাক্ প্রভৃতির শব্দোচ্চারণাদি কাৰ্য্য যথাযথভাবে অনুভব করেন, তিনি সৎ ও জ্ঞানস্বরূপ ; তাহার জ্ঞানস্বরূপ ; তাহার উদ্দেশ্যেই সংঘাতময় উদ্দেশ্যেই সংঘাতময় বাপ্রভৃতির শব্দোচ্চারণাদি কাৰ্য নির্দিষ্ট হইয়াছে। স্তম্ভ কুড্য প্রভৃতি অবয়ব-সমষ্টির সম্মেলনে বিনির্মিত প্রাসাদ প্রভৃতি সাবয়ব পদার্থসমূহ যেরূপ অসংহত অপর কোনও বস্তুব উপকারে প্রযােজ্য হয়, এই দেহসংঘাতও ঠিক তদ্রুপ। এই প্রকার আলােচনার পর, তিনি চিন্তা করিলেন যে, এই দেহ মধ্যে প্রবেশ করিবার দ্বার দুইটী—এক প্রপদ ( পাদাগ্রভাগ ), দ্বিতীয় মূর্ধা ( মস্তকের উপরিভাগ ); অতএব আমি এই দুইটীর মধ্যে কোন্ পথে ইন্দ্রিয়াদি সংঘাতময় এই দেহ-পুরে প্রবেশ করিব ? |২০||১১৷৷ স এতমেব সীমানং বিদাৰ্য্যৈতয়া দ্বারা প্রপদ্যত। সৈষা বিদৃতিনাম দ্বাস্তদেতন্নান্দনম। তস্য ত্রয় আবসথাস্ত্রয়ঃ স্বপ্ন অমাবসথোহয়মাবসখােহ্যমাবসথ ইতি ॥২॥১২৷৷ সরলার্থ। সঃ (পরমেশ্বরঃ), [ এবমীক্ষিকা এতং সীমানং ( মুর্ধানং) বিদাৰ্য্য ( দ্বিধা কৃত্বা ), এতয়া দ্বারা (মুর্ধলক্ষণেন দ্বারেণ) প্রাপণ্ঠত ( ইমং দেহং প্রবিবেশ)। সা এষা (মূদ্ধরূপা) বিদৃতিঃ নাম ( বিদারণাং বিদৃতিনামা প্রসিদ্ধা) দ্বাঃ ( দ্বার); তৎ এতং (মূর্ধাখ্যং দ্বারং) নানং ( নন্দতি অনেনেতি নন্দনং, নন্দনমে নান্দনম)। তস্য (মূধানং বিদাৰ্য জীবভাবেন দেহ প্রবিষ্টস্ট পরমেশ্বর) এয়ঃ আবসথাঃ ( বাসস্থাননি—জাগরণকালে দক্ষিণং চক্ষুঃ স্বপ্নসময়ে অন্তমন সুষুপ্তিসময়ে চ হৃদয়াকাশঃ ; অথবা পিতৃরং সার্ভাশয়ঃ, স্বল্পীরঞ্চেতি), ; BIKRAM Cc "A BIR ৪৬ ঐতরেয়ােপনিষদ •• ; তথা ত্রয়ঃ স্বপ্নাঃ (প্রসিদ্ধ জাগ্রৎ-স্বপ্ন-সুষুপ্ত্যাখ্যাঃ )। অয়ম্ আবসথঃ, অয়ম্ আবসথঃ, অয়ম্ আবসথঃ ইতি (পূর্বোক্তানামেবাবসথানাং অঙ্গুল্যা নির্দেশঃ) ॥২১|১২|| মূলানুবাদ। পরমেশ্বর এইরূপ চিন্তার পর এই মূর্ধদেশ বিদারণপূর্বক সেই পথে দেহে প্রবেশ করিলেন। সেই দ্বারটী বিদৃতি নামে প্রসিদ্ধ ; (কারণ, ইহা পরমেশ্বর কর্তৃক বিদারিত দ্বার)। সেই এই দ্বারটী নান্দন -আনন্দদায়ক। এইরূপ জীবভাবে দেহে প্রবিষ্ট পরমেশ্বরের বাসস্থান তিনটী-(১) জাগরণ-কালে দক্ষিণ চক্ষুঃ, (২) স্বপ্নকালে অন্তঃকরণ—মনঃ, (৩) সুষুপ্তিসময়ে হৃদয়াকাশ ; অথবা পিতৃশরীর, মাতৃগর্ভ ও স্বীয় দেহ, এই তিনটী। তাহার স্বপ্নও তিন প্রকার (১) জাগরণ, (২) স্বপ্ন, ও (৩) সুষুপ্তি। ইহা আৰসথ, ইহা আবসথ, ইহা আবসথ বলিয়া উক্ত বাসস্থান তিনটীকেই পুনর্বার নির্দেশ করা হইয়াছে ॥২১৷১২৷৷ শঙ্করভস্থ । এবমীক্ষিত্বা ন তাবদ মত্যস্য প্রাণস্য মম সৰ্বার্থাধিকৃতস্য , প্রবেশমার্গেণ এপদাভ্যামধঃ প্রপদ্যে। কিং তহি, পারিশেষ্যাদস্ত মূধানং বিদাৰ্য প্রপদ্যে ইতি লােক ইব ঈক্ষিতকাবী যঃ ষ্টেশ্বরঃ, স এতমেব মুধসীমান, কেশবিভাগাবসানং বিদাৰ্য্য ছিদ্রং কৃত্বা এতয়া দ্বারা মার্গেণ ইমং কাৰ্যকৰণসংঘাতং পদ্যত পবিবেশ। ১ সেয়ং হি প্ৰসিদ্ধা দ্বাঃ, মুপ্পি তৈলাদিধাবণকালে অন্তস্তদ্রসাদিসংবেদনা। সৈষা বিদৃতিঃ বিদাবিতত্বাদ বিদৃতিনাম প্রসিদ্ধ দ্বাঃ । শ্ৰোত্রাদিদ্বারাণি ভৃত্যাদিস্থানীয়সাধাবণমাৰ্গত্বাৎ ন সমৃদ্ধীনি নানন্দহেতুনি। ইদং তু দ্বারং পরমেশ্বরস্বৈ কেবলস্থেতি। তদেতৎ নানং নন্দনমেব নানমিতি, দৈর্ঘ্যং ছান্দসম্ । নন্দত্যনেন দ্বারেণ গত্বা পবস্মিন্ ব্ৰহ্মণীতি। ২ তস্যৈবং সৃষ্ট প্রবিষ্ট অনেন জীবেনাত্মনা রাজ্ঞ ইব পুব, ঐয় আবসথাঃ জাগরিতকালে ইন্দ্রিয়স্থানং দক্ষিণং চক্ষু, স্বপ্নকালে অন্তর্মনঃ, সুষুপ্তিকালে হৃদয়াকাশ ইত্যেতে ; বক্ষ্যমাণা বা ত্রয় আবসথাঃ-পিতৃশরীরং, মাতৃগর্ভাশয়, ষ্ণ শরীরমিতি। এয়ঃ স্বপ্নঃজাগ্রৎ-স্বপ্ন-সুষুপ্ত্যাখ্যাঃ। ননু জাগরিত ইতবাণি তু • প্রথমেহধ্যায়ে-তৃতীয় খণ্ড ৪৭ প্রবােধরূপং ন স্বপ্ন। নৈবং, স্বপ্ন এব । কথম্ ? পরমার্থস্বাগ্ম- প্রবােধাবাং স্বপ্নবদসদ্বস্তুদর্শনাচ্চ। অয়মেবাবসথশ্চফুর্দক্ষিণ প্রথমঃ। মনােহন্তরং দ্বিতীয়ঃ । হৃদয়াকাশস্তৃতীয়ঃ। অয়মাবসথ ইত্যুক্তামুকীৰ্ত্তনমেব । তেষু হয়মাবসথেষু পৰ্য্যায়েণাত্মভাবেন বর্তমানােহবিয়া দীর্ঘকালং গাঢ়ং প্রসুপ্তঃ স্বাভাবিক্যা, ন প্রবুধ্যতেহনেকশতসহস্রানর্থসন্নিপাতজদুঃখ-মুদগরা- ভিঘাতানুভবৈরপি ॥২১|১২|| ভাষ্যানুবাদ। এই প্রকার আলােচনার পর পরমেশ্বর স্থির করিলেন যে, আমার সর্বকর্মে অধিকারপ্রাপ্ত ভৃত্যস্থানীয় প্রাণ যে পথে প্রবেশ করিয়াছে, সেই নিমতন পাদাগ্রভাগ দ্বারা প্রবেশ কবিব না, তবে কি ? , পাদার্থ ত্যাগ করিযা, অবশিষ্ট মুধ ভাগ বিদাবণ কবিয়া প্রবেশ কবিব । জগতে বিবেচক পুরুষ যেরূপ করিয়া থাকেন, যিনি সৃষ্টিকর্তা পরমেশ্বর, তিনিও সেইরূপই চিন্তা কবিয়া, এই মুধ সীমা-বেখান হইতে কেশরাশি বিভক্ত হইয়াছে, সেই স্থানটী বিদীর্ণ করিয়া, সেই স্থানে ছিদ্র করিয়া, সেই দ্বাবপথে এই দেহেলিয়-সংঘাতে প্রবেশ করিলেন। ১ সেই এই রন্ধ্রতী একটী প্রসিদ্ধ দ্বার ; কেননা, মস্তকে তৈলাদি তরল দ্রব্য ধারণ করিলে, তাহা ঐ পথেই অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়া থাকে। ইহার আর এক নাম বিদৃতি ; ঈশ্বরকর্তৃক বিদারিত হইয়াছে বলিয়া এই দ্বারদেশ বিদৃতি নামে প্রসিদ্ধ। এতদ্ভিন্ন শ্রোত্রাদি দ্বারগুলি ভৃত্যাদিস্থানীয় সাধারণ দ্বার মাত্র ; এই কারণে সে সমুদর দ্বার আনন্দদায়ক নহে; এটা কিন্তু কেবল পরমেশ্বরেরই প্রবেশদ্বার ; সুতরাং অসাধারণ ; এই জন্যই নান্দন (নন্দন ) অর্থাৎ নিশ্চয়ই আনন্দদায়ক । বৈদিক নিয়মে ‘নন্দন’ শব্দের অকাব দীর্ঘ (নান্দন’) হইয়াছে। লােক যে পথে ব্ৰহ্ম লাভ কবিয়া আনন্দিত হয়, তাহার নাম নানন। ২ নগরাধিপতি রাজার ন্যায় এই প্রকারে জীবভাবে প্রবিষ্ট সেই পরমেশ্বরের আবসথ-বাসস্থান তিনটী। (১) জাগ্ৰদবস্থায় ইন্দ্রিয়স্থান চক্ষুঃ, (২) স্বপ্ন- সময়ে অভ্যন্তরস্থ মনঃ, (৩) সুষুপ্তি-সময়ে হৃদয়াকাশ, এই তিনটী ; অথবা বক্ষ্যমাণ (পরে যাহাদের কথা বলা হইবে, সেই ) তিনটী আবসথ— (.) পিতৃশরীর (২) মাতৃগর্ভাশয় (৩) নিজ শরীর। তিনটি স্বপ্ন অর্থে— (১) জাগ্রৎ, (২) স্বপ্ন, (৩) সুষুপ্তি গ্রহণ করিতে হইবে। এখন প্রশ্ন হইতেছে এই যে, জাগ্ৰদব যখন প্রবােধাত্মক, তখন উহা ত ;
৪ ঐতরেয়ােপনিষদ স্বপ্ন হইতেই পাবে না ? না, এরূপ প্রশ্ন হইতে পাবে না , উহা স্বপ্নই বটে। উহা স্বপ্ন কি প্রকাবে ? [উত্তব যেহেতু উহাতে পরমার্থ সত্য আত্মবিষয়ক বােব থাকে না, এবং স্বপ্নেব ন্যায অসত্য পদার্থ ই দৃষ্ট হইয়া থাকে। আবসথত্ৰযেব মধ্যে এই দক্ষিণ চক্ষুই প্রথম, অন্তঃবণ মনঃ দ্বিতীয়, এবং হৃদষাকাশ তৃতীয আবসথ। শ্রুতিতে যে, তিনবাব ‘আবসথ’ শব্দেব উলেখ বহিযাছে, তাহা কথিতেবই অনুবাদ মাত্র। সেই এই পবমেশ্বব জীবভাবে উক্ত স্থানত্ৰযে যথাক্রমে অবস্থান কবি। স্বাভাবিক বা অনাদি অবিদ্যা দ্বারা দীর্ঘকাল গাঢ় নিদ্রায অভিভূত থাকেন, বহু শত সহস্র অনিষ্ট সম্পাতজনিত দুঃখময মুগবেব আঘাত অনুভব কবিও জাগবিত (আত্মজ্ঞান সম্পন্ন ) হন না ॥২১|১২|| স জাতে। ভূতাভিব্যৈখ্যৎ কিমিহালং বাবদিষদিতি। স এতমেব পুরুষং ব্রহ্ম ততমমপশ্যদিদমদমিতি ৩২২১৩ সরলার্থঃ। সঃ (পবমেশ্ববঃ) জাতঃ (দেহপ্রবেশেন জীবভাবং গতঃ সন্) ভূতানি (আকাশাদীনি) অভিব্যৈখ্যৎ (জ্ঞাতবা, ‘মনুষ্যোহহম’ ইত্যাদি প্রকাবেণ জ্ঞাতবান্। ভূতানাম্ আকাশাদীনাং প্রাণিদেহানা চ সৃষ্টিস্থিতিপ্রলযান্ চিন্তিতবান্)। সঃ (জীবঃ) ইহ (শবীবে) অন্যং (স্বব্যতিবি) কিং বাবদিষৎ •( উক্তবান, নাৎ কিমপীতি ভাবঃ), ইতি (এতস্মাৎ হেতাের, ভূতানি অভিব্যৈখ্যৎ ইতি সম্বন্ধঃ)। সঃ (জীবঃ) কেদাচিৎ শাস্ত্রাচার্যোপদেশবশেন) এতং (প্রকৃতং সৃষ্ট্যাদিকৰ্ত্তাব) পুরুষ (পুবি হৃদপুণ্ডবীকে শনং) এব ততমং (তততমং অতিশযেন ব্যাপকং) ব্ৰহ্ম (ব্রহ্মস্বরূপং) অপৎ (প্রত্যবুধ্যত) ইদং ( ব্ৰহ্ম) অদম্ ( দৃষ্টবান্ অস্মি) ইত্যৰ্থঃ ॥২২৷১৩৷৷ মূলানুবাদ। সেই পরমেশ্বর জন্মগ্রহণ করিয়া অর্থাৎ জীব- রূপে দেহে প্রবিষ্ট হইয়া সমস্ত ভূতকে ও প্রাণিদেহকে স্বস্বৰূপে অবধারণ করিয়াছিলেন, এবং আমি মনুষ্য ব্রাহ্মণ ইত্যাদি রূপে উক্তিও করিয়াছিলে । এই শরীরে তিনি অন্য কাহারই বা কথা বলিবেন? তিনি [ জীবরূপে অবস্থান করত ] সৃষ্টি স্থিতি সংহারের কারণ উক্ত পুরুষকেই পরিপূর্ণ বা সর্বব্যাপী ব্রহ্মরূপে দর্শন করিয়া- ছিলেন—আমি আমার স্বরূপ (ব্রহ্মভাব) দর্শন করিয়াছি বলিয়া প্রতিবােধ লাভ করিয়াছিলেন ॥২॥১৩৷৷ প্রথমেহধ্যায়ে-তৃতীয়ঃ খণ্ডঃ ৪৯ শঙ্করভাষ্যম। স জাতঃ শরীরে প্রবিষ্টো জীবাত্মনা ভূতানি অভিব্যৈখ্যৎ ব্যাকররা। স কদাচিৎ পরমকারুণিকেনাচার্যেণ আত্মজ্ঞান- প্রবােধকৃচ্ছব্দিকায়াং বেদান্ত-মহাভেৰ্যাং তৎকৰ্ণমুলে তাডমানায়াম্, এতমেব সৃষ্ট্যাদিকর্তৃত্বেন প্রকৃতং পুরুষং পুরি শয়ানমাত্মানং ব্রহ্ম-বৃহৎ ততমং— তকারেণৈকেন লুপ্তেন তততমং ব্যাপ্ততমং পরিপূর্ণমাকাশবং প্রত্যবুধত অপশ্যৎ। কথম্ ? ইদং ব্রহ্ম মম আত্মনঃ স্বরূপমদর্শ দৃষ্টবানশ্মি। অহহ ইতি। বিচারণার্থ ধ্রুতিঃ পূৰ্বম্ ॥২২১৩ ভাষ্যানুবাদ।—সেই পরমেশ্বর জন্মগ্রহণ করিয়া অর্থাৎ জীবাত্মা-ৰূপে দেহমধ্যে প্রবিষ্ট হই। ভূত-সমূহকে ব্যাকৃত করিয়াছিলেন, অর্থাৎ সমস্ত ভূতকে নিজের সহিত একাত্মক বলিয়া জানিয়াছিলেন। সেই জীব কোন সময় পবম দয়ালু আচাৰ্য কর্তৃক—যাহার শব্দে আত্ম-জ্ঞান জাগরিত হয়, সেই বেদান্ত বাক্যৰূপ মহাভেবী কর্ণমুলে তা ড্যমান হইতে থাকিলে, সেই জীব সৃষ্টি প্রভৃতির কৰ্তাৰূপে বর্ণিত এই পুরুষকে অর্থাৎ হৃদয়-পুবে অবস্থিত আত্মাকে ততম ( তততম) সৰ্ব্বব্যাপী পরিপূর্ণ ব্ৰহ্মরূপে দর্শন কবিয়াছিলেন। ‘ততমম’ শব্দে একটী ‘ত' লােপ হইয়াছে ; বস্তুতঃ তততমম্ বুঝিতে হইবে। তিনি কি প্রকারে আত্মদর্শন কবিয়াছিলেন ? এই ব্রহ্মই আমার আত্মার যথার্থ স্বরূপ, এই ভাবে দর্শন করিয়াছিলেন, [ এইরূপ প্রতিবােধ লাভ করিয়া- ছিলেন। জ্ঞানবিষয়ে বিচার প্রকাশনার্থ ‘ইতী’ শব্দে ধ্রুতি (দীর্ঘস্বর) ব্যবহার হইয়াছে। [ অভি প্রায় এই যে, আমার ব্রহ্মজ্ঞান যথার্থ হইল কি না, এইরূপ বিচাবান্তে জ্ঞানের সত্যতা অবধারণ করত আপনার কৃতার্থতা বিজ্ঞাপিত করা হইয়াছে ] ॥২২|১৩| তম্মাদিদন্দ্রো নামেদন্দ্রো হ বৈ নাম তমিদং সন্তমিন্দ্র মিত্যা- চক্ষতে পরােক্ষেণ। পরােক্ষপ্রিয়া ইব হি দেবাঃ পরােক্ষপ্রিয়া ইব হি দেবাঃ ॥২৩৷১৪৷৷ ইতি তৃতীয় খণ্ডঃ ॥১॥৩৷৷ ইত্যৈতরেয়ােপনিষদি প্রথমােহধ্যায়ঃ ॥১৷৷ ইত্যৈতরেয়ব্রাহ্মণারণ্যকাণ্ডে দ্বিতীয়ারণ্যকে চতুর্থোহধ্যায়ঃ ॥৪৷৷ ঐতরেয়ােপনিষদ্ সরলার্থঃ। তস্মাৎ (যস্মাৎ ইদম্ ইত্যপবােক্ষতয়ৈব ব্রহ্ম দৃষ্টবৎ। জীবরূপি ব্ৰহ্ম, তস্মাৎ হেতােঃ), ইদঃ (ইদং পশ্যতীতি প্রত্যক্ষদর্শিকাৎ পৰমায়া ইদ-শব্দবাচ্যঃ)। ইদঃ ইদঃ হ বৈ নাম (ইত্যেতে নিপাতাঃ প্রসিদ্ধ্যথাঃ)। [এবঞ্চ] ইদং সন্তং (ইন্দ্ৰনাম্না প্রসিদ্ধমপি) তং (পরমাত্মানং) পবােক্ষেণ (পবাের্থাভিধায়কেন পদেন ) ইন্দ্র ইতি আচক্ষতে (ব্যবহরন্তি ) [ব্রহ্মবিদঃ ; পরমপূজনীয় প্রত্যক্ষমগ্রহণস্যান্যায্যত্বদিতি ভাবঃ ]। হি (যতঃ ) দেবাঃ (সুবাঃ) পরােক্ষপ্রিয়াঃ ইব (পবােক্ষমগ্রহণে এব প্রীতাঃ ) [ ভবন্তি ; তষ্মদেবং ব্যাচতে ইতি ভাবঃ। দ্বিরুক্তিরধ্যায়- সমাপ্ত্যর্থ ] ॥২৩১৪৷৷ ইতি প্রথমাধ্যায়ে তৃতীয় খণ্ডব্যাখ্যা ॥১॥৩৷ ; সমাপ্তা প্রথমাধ্যায়-ব্যাখ্যা। ; মূলানুবাদ। সেই হেতু যে হেতু পরমাত্মা জীবভাবে দেহে প্রবিষ্ট হইয়া আপনাকে এই’ ( ইদম্ ) বলিয়া প্রত্যক্ষতঃ দর্শন করিয়াছিলেন ; সেই হেতু) তিনি ইন্দ্র, ‘ইদ’ নামে জগতে প্রসিদ্ধ। তিনি ইদন্দ্র হইলেও, ব্ৰহ্মবিদগণ তাহাকে পরােক্ষভাবে ( ভঙ্গিক্রমে ) ইন্দ্র নামে ব্যবহার করিয়া থাকেন। কারণ, দেবগণ সাধারণতঃ পরােক্ষ নাম গ্রহণেই সন্তুষ্ট হইয়া থাকেন। অধ্যায়- সমাপ্তির জন্য শেষাংশের দ্বিরুক্তি করা হইয়াছে ॥২৩১৪ । শাঙ্করভাষ্যম্। যম্মাদিদমিত্যেব যৎ সাক্ষাদপরােক্ষাদ্ব হ্ম সৰ্বান্তর- মপং, ন পরােক্ষেণ ; তস্মাদিদং পশ্যতীতি ইন্দ্রো নাম পরমাত্মা। ইন্দ্রো হ বৈ নাম প্রসিদ্ধো লােকে ঈশ্বরঃ। তমেবং ইদম সন্তম্ ইন্দ্র ইতি পরােক্ষেণ পরােক্ষাভিধানেনাচতে ব্রহ্মবিদঃ সংব্যবহারার্থ, পূজ্যতমত্বাৎ প্রত্যক্ষনাম- গ্রহণভয়াৎ। তথাহি পূবােক্ষপ্রিয়াঃ পরােক্ষ-নামগ্ৰহণপ্রিয়া ইব এব হি যস্মাৎ দেবাঃ। কিমুত সৰ্ব্বদেবানামপি দেবব মহেশ্বরঃ। দ্বিচনং প্রকৃতাধ্যায়- পরিসমাপ্ত্যর্থম্ ॥২৩১৪৷৷ ইতি প্রথমাধ্যায় তৃতীয়খণ্ডভাষ্যম্ ॥১৩ ইতি শ্রীমৎপরমহংসপরিব্রাজকাচাৰ্য্যস্ত শ্রীগােবিন্দভগবৎ-পূজ্যপাদ-শিষ্যস্ত শ্ৰীমচ্ছঙ্করভগবতঃ কৃতো ঐতরেয়ােপনিষদ্ভাষ্যে প্রথমােহধ্যায়ঃ ॥১৷৷ ;
প্রথমেহধ্যায়ে—তৃতীয় খণ্ড ভাষ্যানুবাদ। যে হেতু ইদম্ (এই) ইত্যাকারে, অর্থাৎ সাক্ষাৎ প্রত্যক্ষ ভাবেই সৰ্বান্তরস্থ ব্রহ্মকে দর্শন করিয়াছিলেন, কিন্তু পরােক্ষভাবে নহে, সেই হেতু ইহাকে দর্শন করেন এইরূপ অর্থে এই পরমাত্মা ইন্দ্র নামে প্রসিদ্ধ । পরমেশ্বর জগতে ইদনামেই প্রসিদ্ধ। তিনি এই প্রকারে ইদ হইলেও, ব্ৰহ্ম- বিদগণ ব্যবহার সম্পাদনাবসবে তাহাকে পরােক্ষবাচক ইনামে অভিহিত করিয়া থাকেন ; কারণ, তিনি পরম পূজনীয়, এইজন্যই তাঁহার সাক্ষাৎ নাম গ্রহণে ভয় আছে। দেবগণ যখন সাধারণতঃ পবােক্ষপ্রিয় অর্থাৎ পরােক্ষ নাম গ্রহণই ভালবাসেন, তখন সৰ্ব্বদেবতাৰ অধিপতি পরমেশ্ববেব আর কথা কি ? আরব্ধ-অধ্যায়ের সমাপ্তি-সূচনাৰ্থ দ্বিরুক্তি কৰা হইয়াছে |২৩|১৪|| প্রথম অধ্যাযে তৃতী খণ্ডেব ভাষ্যানুবাদ ১৩|| দ্বিতীয়াহধ্যায়ঃ আভাষাভাষ্যম্। অস্মিন্নধ্যায়ে এষ বাক্যার্থঃ-জগদুৎপত্তি স্থিতি প্রলয় কৃদসংসারী সৰ্ব্বজ্ঞঃ সৰ্বশক্তিঃ সৰ্ববিৎ সৰ্ব্বমিদং জগৎ স্বতােহন্তদ্ব- স্বন্তর অনুপাদায়ৈব আকাশাদিক্রমেণ সৃষ্ট স্বাত্মপ্রবােধনার্থং সৰ্ব্বাণি চ প্রাণাদিমচ্ছরীরাণি স্বয়ং প্রবিবেশ । প্রবিত্য চ স্বমাত্মানং যথাভূমিদং এহ্মাস্ফীতি সাক্ষাৎ প্রত্যযুধ্যত; তস্মাৎ স এব সৰ্ব্বশরীরেধেক এবাত্মা, নান্য ইতি। অন্যাহপি স ম আত্ম—ব্রহ্মাস্মীত্যেবং বিদ্যাৎ” ইতি, “আত্মা বা ইদমেক এবাগ আসীৎ” “ব্রহ্ম ততম” ইতি চোক্ত। অন্যত্র চ সৰ্বগহস্য সৰ্বাত্মননা বালাগ্ৰমাত্রমপ্যপ্রবিষ্টং নাস্তি ইতি কথং সীমানং বিদাৰ্য্য প্রাপথত পিপীলিকেব সুষিরম্ ? ১ ননু অত্যল্পমিদং চোদ্যম্ ; বহু চাত্র চোদয়িতব্য-অকরণঃ সন্নীত । অনুপাদায় কিঞ্চিল্লোকানসৃজত। অদ্ভ্যঃ পুরুষং সমুদ্ধতামুচ্ছয়ৎ। তাভি- ধ্যানান্মুখাদি নিভিন্ন, মুখাদিভ্যশ্চাগ্ন্যাদয় লােকপালাঃ ; তেষাঞ্চ অশনায়াদি সংযােজন, তদায়তন-প্রার্থন, তদর্থং গবাদিপ্রদর্শন, তেষাঞ্চ যথায়তন- প্রবেশন, সৃষ্টত্যান্ত পলায়ন, বাগাদিভিজ্জিঘক্ষা, এতৎ সৰ্ব্বং সীমাবিদারণ- প্রবেশসমমেব ।২ অস্তু তহি সৰ্বমেবেদমনুপপন্নম্ । ন, অত্ৰাত্মাববােধমাত্রস্থ বিবক্ষিতত্বাৎ সৰ্বোহমর্থবাদ ইত্যদোষঃ। মায়াবিবদ্বা ;-মহামায়াবী দেবঃ সৰ্ব্বজ্ঞঃ সৰ্বশক্তি সৰ্বমেচ্চকার, সুখাববােধ প্রতিপত্ত্যর্থং লােকবদাখ্যায়িকাদিপ্রপঞ্চ ইতি যুক্তরঃ পক্ষঃ। নহি সৃষ্ট্যাখ্যায়িকাদিপরিজ্ঞনাৎ কিঞ্চিৎ ফলমিষ্যতে। পরিজ্ঞানা, অমৃতত্বং ফলং সর্বোপনিষৎপ্রসিদ্ধ। স্মৃতিষু চ গীতাদ্যাসু—“সমং সৰ্ব্বেষু ভূতেষু তিন্তং পরমেশ্বরম্” ইত্যাদি ॥৩ ননু এয় আত্মনঃ, ভােক্তা কৰ্ত্তা সংসারী জীব একঃ সৰ্ব্বলােকশাস্ত্র, প্রসিদ্ধ। অনেক প্রাণিকৰ্ম্মফলােপভােগযােগ্যানেকাধিষ্ঠানবল্লোকদেহনিৰ্মা- ণেন লিঙ্গেন যথাশাস্ত্র প্রদর্শিতেন—পুর প্রাসাদাদিনিৰ্ম্মাণলিঙ্গেন তদ্বিষয়- কৌশলজ্ঞানবান্ তৎকর্তা তক্ষাদিরিব ঈশ্বরঃ সৰ্ব্বজ্ঞো জগতঃ কৰ্ত্তা দ্বিতীয়- শ্চেন আত্মা অবামতে। “যততা বাচো নিবৰ্ত্তন্তে।” “নেতি নেতি” দ্বিতীয়ােহধ্যায়ঃ ইত্যাদিশাস্ত্র প্রসিদ্ধ ঔপনিষদঃ পুরুষস্তৃতীয়ঃ । এবমেতে এর আত্মানােহন্যোন্য- বিলক্ষণাঃ। তত্র কথমেক এবাত্মা অদ্বিতীয়ােহসংসারীতি জ্ঞাতুং শকাতে ? তত্র জীব এব তাবৎ কথং জ্ঞায়তে ? নন্বেবং জ্ঞায়তে শ্রোতা মন্তা দ্রষ্টা আদেষ্টাঘােষ্টা বিজ্ঞাতা প্রজ্ঞাতেতি ॥৪ নঃ বিপ্রতিষিদ্ধং জ্ঞায়তে—য শ্রবণাদিকর্তৃত্বেন অমতাে মন্তা অবিজ্ঞাতে। বিজ্ঞাতেতি চ। তথা “ন মতেৰ্ম্মন্তারং মন্বীথা ন বিজ্ঞাতের্বিজ্ঞাতরং বিজানীয়া” ইত্যাদি চ। সত্যং বিপ্রতিষিদ্ধ, যদি প্রত্যক্ষেণ জ্ঞায়েত সুখাদিবং। প্রত্যক্ষ- জ্ঞানঞ্চ নিবাৰ্যতে ‘ন মতেৰ্ম্মস্তার” ইত্যাদি। জ্ঞায়তে তু শ্ৰবণাদিলিঙ্গেন ; তত্র কুতো বিপ্রতিষেধঃ ? |৫ ননু শ্রবণাদিলিঙ্গেনাপি কথং জ্ঞায়তে, যাবত যদা শৃণােতি আত্ম। শ্রোতবং শব্দম, তদা তস্য শ্রবণাদিক্রিয়য়ৈব বর্তমান ত্বাং মনন-বিজ্ঞানক্রিয়ে ন সম্ভবত আত্মনি পরত্র ব্য। তথা অন্যত্রাপি মননাদিক্রিয়া। শ্রবণাদিক্রিয়াশ্চ স্ববিষয়েদেব। নহি মন্তব্যাদন্যত্র মন্তুৰ্ম্মননক্রিয়া সম্ভবতি। ননু মনসঃ সৰ্বমেব মন্তব্য। সত্যমেবম্ ; তথাপি সৰ্বমপি মন্তব্য মন্তরমন্তরেণ ন মন্তু শকম্ । যদ্যেৰং কিং স্যা? ইদমত্র স্যাং-সৰ্বস্ত যােহয়ং মন্তা, স মন্তবেতি ন মন্তব্য: স্যাং। ন চ দ্বিতীয়ে। মন্তুৰ্ম্মন্যাস্তি। যদ। স আত্মনৈব মন্তব্য, তা যেন চাত্মনা মন্তব্য, যশ্চ মন্তব্য আত্মা, তো দে। প্রসজ্যেতাম্ । এক এবাত্মা দ্বিধা মন্ত-মন্তব্যত্বেন দ্বিশকলীভবেৎ বংশাদিবং, উভয়থাপনুপপত্তিরেব । যথ। প্রদীপয়োঃ প্রকাশ্য-প্রকাশকত্বানুপপত্তি, সমত্বাৎ, তদ্বৎ ॥৭ ন চ মন্তুৰ্ম্মন্তব্যে মননব্যাপারশূন্যঃ কালােহস্ত্যাত্মমননায়। যদাপি লিঙ্গেনা- আনং মনুতে মন্তা, তদাপি পূৰ্ব্ববদেব লিঙ্গেন মন্তব্য আত্মা, যশ্চ তস্য মন্তা, তো দ্বেী প্রসজ্যেয়াতাম্ ; এক এব বা দ্বিধেতি পূর্বোক্ত দোষঃ। ন প্রত্যক্ষেণ, নাপ্যনুমানেন জ্ঞায়তে চেৎ, কথমুচ্যতে স ম আত্মেতি বিদ্যাৎ” ইতি? কথং বা শ্রোতা মন্তেত্যাদি ?। ৮ ননু শ্রোতৃত্বদিধৰ্ম্মবানাত্ম, অশ্রোতৃত্বাদি চ প্রসিদ্ধমাত্মনঃ ; কিমত্র বিষমং পশ্যসি? যদ্যপি তব ন বিষমম্, মম তু বিষমং প্রতিভাতি। কথম্ ? যদাসে শ্রোতা, তদান মন্তা ; যদা মন্তা, তদান শ্রোতা। তত্রৈবং সতি পক্ষে শ্রোতা মন্তা, পক্ষে ন শ্রোতা নাপি মন্তা। তথান্যত্রাপি চ। যদৈব, তদা শ্রোতৃত্বাদি- ধৰ্ম্ম বানাত্মা অশ্রোতৃত্বাদিধর্মবান্ বেতি সংশয়স্থানে কথং তব ন বৈষম্যম্ ? ;
৫৪ ঐতরেয়ােপনিষদ ; এবং যদাদেবদত্তা গচ্ছতি, তদান স্থাতা গন্তৈব। যদা তিষ্ঠতি, তদান গন্ত স্থাতৈব, তদাস্ত পক্ষ এব গত্ত্বং স্থাতৃত্বঞ্চ, ন নিত্যং গন্তত্বং স্থাতৃত্বং বা, তদ্বৎ। ৯ তথৈবা কাণাদাদয়ঃ পশ্যন্তি। পক্ষে প্রাপ্তেনৈব শ্রোতৃত্বাদিনা আঘােচ্যতে শ্রোতা মন্তেত্যাদিবচনাৎ। সংযােগজত্বমযৌগপদ্য জ্ঞানস্য হ্যাচক্ষতে। দর্শয়ন্তি চ ‘অন্যত্রমনা অভূবং নাদর্শ ইত্যাদি যুগপজ জ্ঞানানুৎপত্তিৰ্ম্মনসাে লিঙ্গমিতি চ ন্যায্যম্। ভবত্বেবং ; কিং তব নষ্ট যন্থেবং স্যাৎ? অস্বেবং তবেষ্টং চেৎ; শ্রুত্যর্থস্তু ন সম্ভবতি। কিং ন শ্রোতা মন্তেত্যাদিঃ শ্ৰত্যর্থঃ ? ন, ন শ্রোতা ন মন্তেত্যাদিবচনাৎ।১০ ননু পাক্ষিকত্বেন প্রত্যুক্তং ত্বয়া ; ন, নিত্যমেব শ্রোতৃত্বাভপগমাৎ ; “ন হি শ্রোতুঃ “তেৰ্বিপরিলােপাে বিদ্যতে” ইত্যাদিতে। তৰ্হি নিত্যমেব শ্রোতৃত্বাদ্যভূপগমে প্রত্যক্ষবিরুদ্ধা যুগপজ জ্ঞানােৎপত্তির- জ্ঞানাভাবশ্চাত্মনঃ কল্পিতঃ স্যাৎ ? তচ্চানিষ্টমিতি। নােভয়দোষােপপত্তি, আত্মনঃ শ্রুত্যাদিশ্রোতৃত্বাদিধৰ্ম্মবত্ত্বতেঃ । অনিত্যানাং মূৰ্তানাঞ্চ চক্ষুরা- দীনাং দৃষ্টান্থনিত্যত্বমেব সংযােগবিয়ােগধৰ্ম্মিণাম্। যথা অগ্নেজ্বলনং তৃণাদিসংযােগজত্বাৎ, ন তু নিত্যস্যামুত্তাসংযােগ-বিভাগধর্মিণঃ সংযােগজ-দৃষ্ট্যান্থনিত্যধৰ্ম্মত্বং সম্ভবতি। তথা চ শ্রুতিঃ “ন হি দ্রষ্টদৃষ্টে- পিরিলােপাে বিদ্যতে” ইত্যাদ্যা ।১১ এবং তহি দ্বে দৃষ্টী—চক্ষুবােহমিত্যা দৃষ্টি, নিত্যা চাত্মনঃ । তথা চ দে তী—শ্রোত্রস্যানিত্যা, নিত্যা চাত্মস্বরূপ। তথা দ্বে মতী বিজ্ঞাতী বাহাবাহে। এবং হেব চেয়ং শ্রুতিরুপপন্না ভবতি—“দৃষ্টেদ্রষ্টা তেঃ শ্রো” ইত্যাদ্যা। লােকেহপি প্রসিদ্ধং চক্ষুষস্তিমিরাগমাপায়য়াের নষ্টা দৃষ্টিজাত দৃষ্টিরিতি চক্ষু- দৃষ্টেরনিত্যত্ব। তথাচ শ্রুতিমত্যাদীনামাত্মদৃষ্ট্যাদীনাঞ্চ নিত্যত্বং প্রসিদ্ধমেব লােকে। বদতি হি উদ্ধতচক্ষুঃ স্বপ্নেহ ময়া ভ্রাতা দৃষ্ট ইতি। তথা অবগত বাধিৰ্য্যঃ স্বপ্নে তাে মন্ত্রোহদ্যেত্যাদি। যদি চক্ষুঃসংযােগজৈবাত্মননা নিত্যা দৃষ্টিস্তন্নাশে নশ্যেত, তদা উদ্ধৃতচক্ষুঃ স্বপ্নে নীলপীতাদীনি ন পশ্যেৎ। “ন হি দ্রষ্টদৃষ্টে”রিত্যাদ্যা চ শ্রুতিরনুপপন্না স্যাৎ। “তচক্ষুঃ পুরুষে যেন স্বপ্নং পশ্যতি” ইত্যাদ্যা চ শ্রুতিঃ ।১২ নিত্যা আত্মনাে দৃষ্টিৰ্বাহানিত্যদৃষ্টেগ্ৰাহিকা। বাহ্যদৃষ্টেশ্চ উপজনাপায়াদ্য- নিত্যধৰ্ম্মবত্ত্বাদ গ্ৰাহিকায় আত্মদৃষ্টেস্তদ্বদবভাসত্বম্ অনিত্যত্বাদি ভ্রান্তিনিমিত্ত দ্বিতীয়েহধ্যায়ে—প্রথম খণ্ড ; লােকস্মেতি যুক্ত। যথা ভ্রমণাদিধৰ্ম্মবদলাতাদিবস্তুবিষয়দৃষ্টিরপি ভ্ৰমতীব, তদ্বৎ। তথা চ শ্রুতিঃ “ধ্যায়তীব লেলায়তীবেতি। তস্মাদাত্মদৃষ্টে- নিত্যান্ন যৌগপদ্যমযৌগপদ্যং বাস্তি। বাহনিত্যদৃষ্টপাধিবশালু, লােক তার্কিকাণাঞ্চ আগমসম্প্রদায়বৰ্জিতত্বাৎ অনিত্যা আত্মনাে দৃষ্টিবিতি ভ্রান্তি- রুপপন্নৈব। জীবেশ্বব-পরমাত্মভেদকল্পনা চৈতন্নিমিত্তৈব।১৩ তথা অস্তি নাস্তীত্যাদ্যাশ্চ যাবন্তো বাখনসমাের্ভেদা যত্ৰেকং ভবন্তি, তদ্বিষয়ায় নিত্যায় দৃষ্টেনিৰ্বিশেষায়াঃ। অস্তি নাস্তি, একং নানা, গুণবদ গুণ, জানাতি ন জানাতি, ক্রিয়াবদক্ৰিযম, ফলবদলম, সবীজং নির্বীজম, সুখং দুঃখ, মধ্যমমধ্যম্, শূন্যমশূন্যম, পবােহহমন্যঃ, ইতি বা সৰ্ব্ববা- প্রত্যয়াগােচৰে স্বৰূপে যাে বিকল্পষিতুমিচ্ছতি, স নূনং খমপি চৰ্ম্মবদ্বেষ্টমিতুমিচ্ছতি সােপানমিব চ প্যামাবােঢ়ম্ ; জলে খে চ মীনানাং বসাং চ পদং দিদৃক্ষতে ; “নেতি নেতি” “যতাে বাচো নিবৰ্ত্তন্তে” ইত্যাদি শ্রুতিভ্যঃ, “কো অদ্ধা বেদ” ইত্যাদিমন্ত্রবাহ। ১৪ কথৰ তৰ্হি তস্য স ম আত্মেতি বেদনম্ ; ক্ৰহি কেন প্রকাবেণ তমহং স ম আয়েতি বিদ্যাম্। অাখ্যাযিকামাচতে-কশ্চিৎ কিল মনুষ্যো মুগ্ধঃ কৈশ্চিদুক্তঃ কস্মিংশ্চিদপবাধে সতি, ধিক্ স্বাম, নাসি মনুষ্যঃ ইতি। স মুগ্ধতয়া আত্মননা মনুষ্যত্বং প্রত্যায়য়িতুং কঞ্চিদুপেত্যাহ—ব্রবীতু ভবা কোহহমম্মীতি। মুগ্ধতাং জ্ঞাত্বাহ-ক্রমেণ বােধয়্যিামীতি। স্থাবরাদ্যাত্মভাবমপােহ ন মমনুষ্য ইত্যুত্ত্বা • উপবরাম। স তং মুগ্ধঃ প্রত্যাহ-ভবা মাং বােধরিতুং প্রবৃত্তস্তৃষ্ণীংবভূব, কিং ন বােধয়তীতি। তাদৃগেব তদ্ভবতে বচন। নাস্থমনুষ্যঃ ইব্যুহেপি মনুষ্যত্বমাত্মনো ন প্রতিপদ্যতে যঃ, স কথং মনুষ্যোহসীত্যুক্তোহপি মনুষ্যত্বমাত্মনঃ প্রতিপদ্যেত। তস্মাৎ যথাশাস্ত্রোপদেশ এবাঝাববােধবিধিঃ, নান্যঃ । নহি অগ্নেদাহ্যং তৃণাদি অন্তেন কেনচিদ্দগ্ধ শক্যম্ ॥১৫ অতএব শাস্ত্রম্ আত্মস্বরূপং বােধয়িতুং প্রবৃত্তং সৎ অমনুষ্যত্ব-প্রতিষেধেনেব “নেতি নেতি” ইত্যুক্বোপররাম। তথা “অনন্তরমবাহম্” “অয়মাত্মা ব্রহ্ম সৰ্বানুভূ” ইত্যনুশাসনম্ ; “তত্ত্বমসি” “যত্র ত্বস্ত সৰ্বমাত্মৈবাভূৎ তৎ কেন কং পশ্যেৎ” ইত্যেমাদ্যপি চ।১৬ যাবদয়মেবং যথােমিমমাত্মানং ন বেত্তি, তাবদয়ং বাহানিত্যদৃষ্টিলক্ষণ म ঐতরেয়ােপনিষদ মুপাধিমাত্মত্বেনােপপত্য অবিদ্যা উপাধিধৰ্ম্মানাত্মনাে মন্যমাননা ব্ৰহ্মাদি- স্তম্বপৰ্যন্তেষু স্থানে পুনঃ পুনরাবৰ্তমানঃ অবিদ্যাকামকৰ্ম্মবশাৎ সংসবতি ॥১৭ স এবং সংসর উপাত্তদেহেন্দ্রিয়সঘাতং ত্যজতি ; ত্যা অন্যমুপাদত্তে। পুনঃ পুনরেবমেব নদীস্রোতােবজ্জন্মমরণ-প্রবন্ধবিচ্ছেদেন বর্তমান কাভিরব- স্থাভিৰ্বৰ্ত্ততে—ইত্যেতমর্থং দৰ্শয়্যাহ শ্রুতিঃ বৈরাগ্যহেতােঃ- আভাষভাষ্যের অনুবাদ। আরভ্যমাণ এই দ্বিতীয় অধ্যায়-গত সমস্ত বাক্যের তাৎপৰ্য্যলভ্য অর্থ এইরূপ—জগতের সৃষ্টি-স্থিতি- সংহারকারী অসংসারী সৰ্ববিদ্ ও সর্বশক্তিসম্পন্ন পরমেশ্বর আপনার অতিরিক্ত কোন বস্তুব সাহায্য না লইয়াই আকাশাদিক্রমে এই জগৎ সৃষ্টি করিয়া, তিনি নিজেই আপনাকে জানিবার উদ্দেশ্যে প্রাণ ও ইন্দ্রিয়াদি বিশিষ্ট সমস্ত শরীরের মধ্যে প্রবেশ করিলেন ; এবং প্রবেশ করিয়া (জীবভাবাপন্ন হইয়া )—‘ইদং ব্রহ্ম অস্মি’ অর্থাৎ আমি হইতেছি এই ব্ৰহ্ম স্বরূপ, এইরূপে স্বীয় আত্মাকে যথাযথরূপে প্রত্যক্ষ করিয়াছিলেন। অতএব বুঝা যাইতেছে যে, সমস্ত প্রাণিশরীরে তিনিই একমাত্র আত্মা, তদ্ভিন্ন দ্বিতীয় কোন আত্মা নাই। অন্যত্রও উক্ত হইয়াছে যে, ‘আমি সৰ্ব্বভূতে সমান—ব্রহ্মাত্মস্বরূপ এইরূপ জানিবে’ এবং সৃষ্টির অগ্রে ইহা একমাত্র আত্ম-স্বরূপই ছিল’ ‘ব্ৰহ্ম সৰ্বব্যাপী ইতি।১ ভালকথা, ত্যন্তর-সংবাদে যখন জানিতে পারা যাইতেছে যে, সৰ্বব্যাপী ও সৰ্বাত্মক (সৰ্বময়) আত্মার ক্ষুদ্র কেশাগ্রপরিমাণ অংশ ও কুত্রাপি অপ্রবিষ্ট নাই ; তখন পিপীলিকা যেরূপ গর্তে প্রবেশ করে, আত্মাও সেইরূপ মূৰ্দ্ধসীমা বিদীর্ণ করিয়া প্রবেশ করিল কিরূপে (১)? হ, ইহা অতি সামান্য আপত্তি ; এ বিষয়ে আরও বহু আপত্তির বিষয় বিদ্যমান রহিয়াছে—তিনি নিরিন্দ্রিয় হইয়াও ঈক্ষণ করিলেন’, ‘কোন কিছু না লইয়াই লােকসমূহ সৃষ্টি করিলেন। ‘জল হইতে পুরুষদেহ সৃষ্টি করিয়া তাহাকে বর্ধিত করিয়াছিলেন। তাহার (১) তাৎপৰ্যপূর্বোক্ত প্রবেশবােধক শ্ৰতিদ্বারা জীব ও পরমাত্মার একত্ব সমর্থন করা হইয়াছে; কিন্তু তাহাত সঙ্গত হইতেছে না; কারণ, পরমাত্মা অশরীরী ; সুতরাং শরীর না থাকায় সীমাবিদারণ করা (ছিদ্র করা ) সম্ভব হয় না; তাহার পর, পরমাত্মা সৰ্বব্যাপী কোথাও তাহার অদ্ভাব নাই ; সুতরাং তাহার পক্ষে প্রবেশ করাও সম্ভব হইতেছে না। অতএব প্রবেশবাক্য হইতে জীব ও পরমাত্মার একত্ব সমর্থিত হইতে পারে না।
BIKRAM BIR L'BRARY. COLLEGEE সংকল্প হইতে পুরুষের মুখাদি অভিব্যক্ত হইয়াছিল, এবং মুখাদি হইলেইa দ্বিতীয়েহধ্যায়ে-প্রথম খণ্ডঃ প্রভৃতি লােকপালগণ প্রাদুর্ভূত হইয়াছিলেন ; সেই লােকপলদিগের আবার অশনায়া (ভােজনেচ্ছা) প্রভৃতির সহিত যােগ এবং তাহাদের আয়তনের ( বাসস্থানের) প্রার্থনা ; তদনুসারে গবাদি দেহ প্রদর্শন ; তাহার পর লােকপালগণের যথাযােগ্য আয়তনে প্রবেশ ; সৃষ্ট অন্নের আবার ভয়ে পলায়ন ও বাগাদিকর্তৃক সেই পলায়মান অন্নকে ধরিবার চেষ্টা—এ সমস্তই ত সীমাবিদারণ ও প্রবেশের তুল্য ; [ সুতরাং আপত্তির যােগ্য ]।২ আচ্ছা, ভাল কথা, উপরে যে সমস্ত বিষয় বলা হইল, সে সমস্ত বিষয় অনুপপন্ন বা অসঙ্গতই হউক ; ক্ষতি কি? না, তাহা হইতে পারে না ; কারণ, এখানে আত্মবােধই শ্রুতির একমাত্র অভিপ্রেত ; সুতরাং তদতিরিক্ত সমস্ত কথাই অর্থবাদ-আত্মবােধের স্তাবক মাত্র ; কাজেই স্বার্থে প্রামাণ্যহীন ঐ সকল বাক্যে যে সমস্ত দোষ আরােপিত হইয়াছে, তাহা ঠিক নহে। অথবা মায়াবীর দৃষ্টান্তেও ইহার পরিহার হইতে পারে ; অর্থাৎ মহামায়াসম্পন্ন সৰ্ব্বজ্ঞ সৰ্বশক্তি পরমেশ্বর এই সমস্ত কাৰ্য্য করিয়াছেন; ইহা জানিলে তাহাকে বুঝিতে সুবিধা হইবে বলিয়া লৌকিক রীতি অনুসারে ঐ সমস্ত আখ্যায়িকা বিস্তার করা হইয়াছে মাত্র, (প্রকৃত পক্ষে ঐ সমস্ত ঘটনা সত্য নহে ); এই পক্ষটী অধিকতর যুক্তিসম্মত হয়। কেন না, সৃষ্টিবিষয়ক আখ্যায়িকাদি জানিলে যে অন্য কোনও ফল হয়, ইহা ত শ্রুতির অভিমত নহে; পরন্তু আত্মার একত্ব ও যথার্থ স্বরূপ জানিলে যে, মােক্ষ ফল সিদ্ধ হয়, ইহা সমস্ত উপনিষদে প্রসিদ্ধ রহিয়াছে এবং ভগবদগীতা প্রভৃতি স্মৃতিশাস্ত্রও ‘সৰ্ব্বভূতে সমভাবে বিদ্যমান পরমেশ্বরকে’ ইত্যাদি বাক্যে ঐ কথাই উক্ত হইয়াছে ।৩ [ আত্মার একত্বের বিরুদ্ধে আশঙ্কা প্রদর্শিত হইতেছে।] ভাল ; তিন- প্রকার আত্মার অস্তিত্ব জানা যাইতেছে—[ এক জীব, দ্বিতীয় ঈশ্বর ও তৃতীয় পরব্রহ্ম ।] তন্মধ্যে, প্রথমােক্ত জীব কৰ্ত্তা ভােক্তা ও সংসারী বলিয়া সমস্ত লােকে ও শাস্ত্রে প্রসিদ্ধ রহিয়াছে। নগর ও প্রাসাদাদি- নিৰ্মাণরূপ কাৰ্য-দর্শনে তদ্বিষয়ে উত্তম জ্ঞানসম্পন্ন সূত্রধর প্রভৃতি যেমন সেই নগরাদির নির্মাতা বলিয়া অনুমিত হয়, তেমনি শাস্ত্রোক্ত নানাবিধ প্রাণীর কৰ্ম্মফলভােগের উপযুক্ত বিভিন্ন প্রকার স্বর্গাদি লােক ও দেহাদিনিৰ্মাণরূপ হেতুদ্বারা, তৎকৰ্তাৰূপে সৰ্ব্বজ্ঞ চেতন পরমেশ্বরও অনুমিত হইয়া থাকেন ; •০ ৮ ৫৮ ঐতরেয়ােপনিষদ তিনিই দ্বিতীয় আত্মা। তাহার পর, বাক্যসমূহ যাহার নিকট হইতে ফিরিয়া আইসে’ ও ‘নেতি নেতি’ ইত্যাদি শাস্ত্রসিদ্ধ যে, উপনিষদ্বেগ্ন পুরুষ (পরব্রহ্ম) ; তিনি হইতেছেন তৃতীয়। এই প্রকার পরস্পর বিভিন্নস্বভাব তিনটী আত্মা [ প্রমাণিত হইতেছে ]। তবে কি প্রকারে বুঝিতে পারা যায় যে, অদ্বিতীয় অসংসারী আত্মা একই বটে ? এবং তাহাতে জীবেরই বা অস্তিত্ব প্রমাণিত হয় কি প্রকারে ? [ কেন ? ] জীবের অস্তিত্ব ত—জীব শ্রোতা মন্তা (চিন্তাকারী) দ্রষ্টা, আদেশকারী, বিজ্ঞাতা ও প্রজ্ঞাতা এই প্রকারেই পরিজ্ঞাত হইতেছে। ৪ হাঁ, জীববিষয়ক উক্ত প্রকার যে জ্ঞান, তাহা বিরুদ্ধ জ্ঞানই; কারণ, শ্রবণাদির কর্তারূপে, যে জীব পরিজ্ঞাত হইয়া থাকে, সেই জীবই আবার শ্রুতিতে ‘অমত অথচ মন্তা, অবিজ্ঞাত অথচ বিজ্ঞাতা’ বলিয়া অভিহিত হইয়াছে ; [ সুতরাং তদ্বিষয়ক জ্ঞান শ্রুতিবিরুদ্ধই হইতেছে ]। [ জীবের অজ্ঞেয়তা সম্বন্ধে । আরও আছে-‘মতির (মনের ) সাক্ষীকে মনন করিও না, এবং বিজ্ঞানের জ্ঞাতাকে জানিও না ইত্যাদি। হাঁ, তাহা হইইেল উক্ত জ্ঞান বিরুদ্ধ হইত, যদি সুখদুঃখাদির ন্যায় আত্মাও প্রত্যক্ষজ্ঞানের বিষয়ীভূত হইত; তাহা ত হয় ; কেননা ; “ন মতেমন্তার” ইত্যাদি শ্রুতি কেবল জীববিষয়ে প্রত্যক্ষ- জ্ঞানেরই নিবারণ করিয়াছেন। আত্মা যখন শ্রবণাদি জ্ঞানের বিষয়ীভূত বিজ্ঞাত বা অনুমিত ; তখন আর বিরােধ কিসের ?।৫ ভাল কথা ; শ্রবণাদি উপায় দ্বারাই বা আত্ম-বিজ্ঞান সম্ভব হয় কিরূপে ? কেননা, আত্মা যে সময় শ্রোতব্য শব্দ শ্রবণ করে, সে সময়ে, আত্মা কেবল শ্রবণ-ক্রিয়া লইয়াই বর্তমান থাকে ; সুতরাং সে সময়ে আপনাতে বা অন্যত্র কোথাও তাহার মনন ও বিজ্ঞানক্রিয়া সম্ভবপর হয় না; মননাদি ক্রিয়াস্থলেও এইরূপই ব্যবস্থা। শ্রবণাদি ক্রিয়া গুলি স্ববিষয়েই ( শব্দাদি বিষয়েই ) নিবদ্ধ সুতরাং মননকর্তার যে মননক্রিয়া, তাহ', কখনই মন্তব্য বিষয় ভিন্ন অন্যত্র— আত্মাতে হয় না বা হইতে পারে না। কেন? মনের ত সমস্তই বিষয়—মন্তব্য ? হাঁ, এ কথা যদিও সত্য ; তথাপি মননের কর্তা থাকা আবশ্যক ; কৰ্ত্তা ব্যতীত কোন মন্তব্য বিষয়ই মনন করিতে পারা যায় না। এরূপ হইলেই বা কি হইবে ? ইহাতে এই হইবে যে, এই যিনি সকলের মন্তা-মননের কর্তা, তিনি মন্তাই থাকিবেন, কখনও মন্তব্য হইতে পারিবেন না; অথচ মন্তার মননকার • দ্বিতীয়েহধ্যায়ে—প্রথম খণ্ড • দ্বিতীয় আর কেহ নাই। সেই মন্তা যদি নিজেই নিজের মন্তব্য হইত, তাহা হইলেই, যে আত্মা দ্বারা মনন করা হইত, এবং যে আত্মা মননের বিষয়ীভূত হইত, তাহাদের দ্বিত্ব বা ভেদ সম্ভবপর হইত ; অথবা দুইভাগে বিভক্ত একই বংশখণ্ড প্রভৃতির ন্যায়, এক আত্মাই মননের কর্তা ও মননের বিষয়ৰূপে দ্বিধা বিভক্ত হইয়া পড়িত; কিন্তু এই উভয় প্রকার কল্পনাই ত অসঙ্গত বা অনুপপন্ন হইতেছে ; যেমন দুইটী প্রদীপের মধ্যে একটী অপরটীর প্রকাশক হয় না; কারণ, উভয়ই সমান ; ইহাও ঠিক তদ্রুপ।৭ বিশেষতঃ আত্মা, যে সময় মন্তব্য বিষয় মনন করে, সে সময় উক্ত মনন- ক্রিয়ার সহিত সম্পর্কশূন্য এমন একটুকু ক্ষুদ্র কালও নাই যে, যে কালে স্বতন্ত্রভাবে আত্মার স্ববিষয়েও মনন হইতে পারে ; [ অথচ একই সময়ে দুইটী পৃথক্ জ্ঞান হওয়া যুক্তিবিরুদ্ধ ]। আর যদি ক্রিয়া প্রভৃতি কোনপ্রকার লিঙ্গ (জ্ঞাপক হেতু) দ্বারা আত্মা আত্মার মনন করে বলিয়া অনুমান কর, তাহা হইলেও পূর্বের ন্যায় মন্তা ও মন্তব্যভেদে আত্মার দুইটী ভাগ হইয়া পড়ে, অথবা দ্বিধাকৃত বংশখাদির ন্যায় এক আত্মারই দ্বিত্ব প্রাপ্তিরূপ পূর্বোক্ত দোষ সম্ভাবিত হয়। ভাল, প্রত্যক্ষ বা অনুমান দ্বারাও যদি আয়াকে জানিতে পারা না যায়, তাহা হইলে কিরূপে বলা হয় যে, ‘তিনিই আমার আত্মা এইরূপে জানিবে এবং কিরূপেই বা শ্রোতা মন্তা’ ইত্যাদি প্রকারে আত্মাকে বিশেষিত করা হয় ? ৮ ভাল কথা, আত্মার শ্রোতৃহৃদি ধৰ্ম্ম শ্রুতিতে কথিত আছে, এবং তাহার অশ্রোতৃত্বাদি স্বভাবও ঐতিপ্রসিদ্ধ রহিয়াছে ; সুতরাং ইহাতে তুমি, কি বৈষম্য বা অসঙ্গতি দর্শন কবিতেছ ? হাঁ, যদিও তােমার নিকট বিষম বলিয়া মনে না হউক, তথাপি আমার নিকট কিন্তু ইহা বিষম বা অসঙ্গত বলিয়াই প্রতিভাত হইতেছে। যদি বল কেন ? [ বলিতেছি— এই আত্মা যে সময়ে শ্রোতা হয়, ঠিক সেই সময়েই মন্তা হয় না। আবার যে সময়ে মন্তা হয়, ঠিক সেই সময়েই শ্রোতা হয় না; [ কারণ, একই সময়ে জ্ঞানদ্বয় হয় না ]। এইরূপ হইলে এই দাড়াইল যে, আত্মা একপক্ষে শ্রোতাও বটে, মন্তাও বটে, আবার পক্ষান্তরে শ্রোতাও নহে, মন্তাও নহে। অপরাপর জ্ঞান- সম্বন্ধেও এই ব্যবস্থা। যখন এইরূপই অবস্থা, তখন, আত্মা কি শ্রোতৃত্বাদি ধৰ্ম্ম- যুক্ত, অথবা শ্রোতৃত্বাদি ধর্মবিযুক্ত ? এই প্রকার সংশয়ের সম্ভাবনা থাকায় তোমার নিকটই বা বৈষম্য বােধ হইতেছে না কেন? কেননা, দেবদত্ত ;
; ঐতরেয়ােপনিষদ্ (কোন ব্যক্তি ) যে সময় গমন করিতে থাকে, সে সময় সে স্থাত অবস্থানকারী (দাঁড়ান ) হয় না, পরন্তু গন্তাই হয় ; আবার যখন অবস্থান করে, তখনও গন্তা হয় না, পরন্তু তাই ( স্থিতিশীলই ) হইয়া থাকে । সে সময় যেমন ইহার গত্ত্ব (গতি) ও স্থাতৃত্ব (স্থিতি ), উভয়ই পাক্ষিক, কোনটাই নিত্য নহে; ইহাও তদ্রুপ ।৯ কণাদমতাবলম্বী অন্যান্য দার্শনিক সম্প্রদায়ভুক্ত পণ্ডিতগণও এ বিষয়ে এইরূপই বিবেচনা করিয়া থাকেন। আত্মা পাক্ষিক শ্রোতৃত্বাদি ধৰ্ম্মেই বিশেষিত হইয়া থাকে, অর্থাৎ আত্মাব যে শ্রোতৃত্ব দি ধৰ্ম্ম, তাহা তাহার স্বাভাবিক বা নিত্যসিদ্ধ নহে, পরন্তু পাক্ষিক অর্থাৎ সাময়িক অনিত্য। সেই পাক্ষিক শ্রোতৃত্বাদি ধৰ্ম্মদ্বারাই আত্মাকে শ্রোতা’ প্রভৃতি বলা হইয়া থাকে। কেননা, শ্রুতিতে শ্রোতা ও মন্তা ইত্যাদি উক্তি রহিয়াছে। তাহার পর, তাঁহারা জ্ঞানকে ও সংযােগজ ও অযুগপদ্ভাবী বলিয়া ব্যাখ্যা করিয়া থাকেন, অর্থাৎ তাহাদের মতে ত্বগিন্দ্রিয়ের সহিত মনের সংযোেগই জ্ঞানােৎপত্তির সাধারণ কারণ, এবং একই সময়ে দুইটী জ্ঞান হয় না। বা হইতে পারে না। তাহারা যুগপৎ জ্ঞানােপত্তির বিপক্ষে‘আমার মন অন্য বিষয়ে ছিল, তাই দেখিতে পাই নাই' ইত্যাদি ব্যবহারকে হেতুরূপে প্রদর্শন করিয়া থাকেন । এবং এই সিদ্ধান্তকেই ন্যায্য বলিয়া বিবেচনা করেন (১)। [ অতঃপর পূৰ্বপক্ষবাদী বলিতেছেন—যখন কণাদ প্রভৃতির সিদ্ধান্তও এইরূপ, তখন ] এইরূপই সিদ্ধান্ত হউক, তাহাতে তােমার ( সিদ্ধান্তবাদীর ) ক্ষতি বা আপত্তি কি ? [ সিদ্ধান্তবাদী বলিতেছেন !; ভাল (১) তাৎপৰ্য-কণাদসম্প্রদায় বলেন যে, জ্ঞানমাত্রের প্রতিই ত্বকের সহিত মনঃসংযোগ সাধারণ কারণ ; অর্থাৎ গিন্দ্রিয়ের সহিত মনের সম্বন্ধ না হইলে কোন প্রকার জ্ঞানই উৎপন্ন হয় না। মন অতি সূক্ষ্ম পরমাণুসদৃশ; সুতরাং একই সময়ে দুইটী ইন্দ্রিয়ের সহিত মনের যােগ হইতে পারে না; সেই জন্যই এক সময়ে দুইটী ঐন্দ্ৰিয়িক জ্ঞান উৎপন্ন হয় না। ইহাই মনের অণুত্ব-সাধক যুক্তি ; এবং এই কারণেই জ্ঞানকে ‘নিত্য বলিতে পারা যায় না ; উহা অনিত্য-পাক্ষিক ; কারণ, তৃঙ মনঃসংযােগের সদ্ভাবে জ্ঞানের উৎপত্তি, আব তাহার অভাবে জ্ঞানের অনুৎপত্তি। শ্রবণাদিজাত এই অনিত্য জ্ঞান লইয়াই আত্মাকে ‘শ্রোতা মস্তা, ইত্যাদি নামে উল্লেখ করা হয়। অতএব আত্মা নিত্যজ্ঞানস্বভাব নহে, মনঃসংযােগের সাহায্যে জ্ঞানাদয় হয় বলিয়াই এক বিষয়ে মন নিবিষ্ট থাকিলে, তৎকালে অন্য বিষয়ে জ্ঞান হয় না— ত্ব মনঃসংযােগ যে, জ্ঞানােৎপতির প্রতি কারণ, ইহাই তদ্বিষয়ে বিশেষ প্রমাণ ইত্যাদি।
দ্বিতীয়েহধ্যায়ে—প্রথম খণ্ড কথা, যদি তােমার অভিমত হয়, তবে তােমার পক্ষে এইরূপই হউক ; শ্রুতির অর্থ কিন্তু এরূপ হইতে পারে না। কেন ? শ্রোতা মন্তা ইত্যাদি কি শ্রুতির অর্থ নহে ? না, যে হেতু ‘শ্রোতা নহে, মন্তা নহে’ ইত্যাদি বিরুদ্ধ শ্রুতিবাক্য রহিয়াছে ।১০ ভাল কথা, তুমি ( সিদ্ধান্তবাদী) নিজেই ত শ্রোতৃত্বাদি ধর্মের পাক্ষিকত্ব স্বীকার করিয়াছ ? না, যে হেতু শ্রোতার (আত্মার) যে শ্রুতি (শ্রবণ- জ্ঞান ), তাহার কখনও বিলােপ হয় না ইত্যাদি শ্রুতিবাক্যানুসারে— শ্রোতৃত্বাদি ধৰ্ম্মের নিত্যতা স্বীকার করিলে, আত্মার সম্বন্ধে প্রত্যক্ষ-বিরুদ্ধ দুইটা দোষ উপস্থিত হইতে পারে। প্রথমতঃ একই সময়ে জ্ঞানদ্বয়ের উৎপত্তি, দ্বিতীয়তঃ আত্মাতে জ্ঞানের অভাব ; অথচ ইহা ত কাহারে অভীষ্ট নহে। —উক্ত দোষদ্বয় উপস্থিত হইতে পারে না; কারণ, শ্ৰতিবাক্যানুসারে ত্যা- দির শ্রোতৃত্বাদি ধৰ্ম্ম অর্থাৎ শ্রুতির শ্রোতা, মতির মন্তা, ইত্যাদি ধৰ্ম্ম-সম্বন্ধ ও তাহাতে উপপন্ন হইতে পারে। কারণ, অনিত্য ও মূৰ্ত্ত (পরিচ্ছিন্ন ) চক্ষু প্রভৃতি ইন্দ্রিয়ের যে দর্শনাদি ব্যাপার, সে সময় অনিত্যই বটে; কারণ, ঐ সমস্ত জ্ঞান সংযােগ ও বিয়ােগবিশেষের ফুল মাত্র । যেমন, তৃণাদি-সযােগে অগ্নির জ্বলন হইয়া থাকে, ইহাও তদ্রুপ ; কিন্তু সমযােগ-বিয়ােগ-বিবর্জিত নিত্য অমূর্ত আত্মার পক্ষে সংযােগজ অনিত্য দৃষ্ট্যাদি ধৰ্ম্মের সম্বন্ধ কখনই সম্ভবপর হইতে পাবে না। তদনুরূপ শ্রুতিও আছে,-“দুষ্টার (আত্মার) দৃষ্টির (জ্ঞানের ) কখনও বিলােপ নাই’ ইত্যাদি।১১ ভাল, এরূপ হইলে ত নিত্য ও অনিত্য দুইটী দৃষ্টি হইয়া পড়ে ; চক্ষুব দষ্টি অনিত্য, আর আত্মার দৃষ্টি নিত্য , এইরূপ এতিও এইরূপ এতিও দুইপ্রকার হয়—শ্রবণের শ্রুতি অনিত্য, আর আত্মার শ্রুতি নিত্য ; এই প্রকার বাহ্য ও আভ্যন্তরিক মতি ও বিজ্ঞাতির সম্বন্ধে ও দ্বিবিধভাব সম্ভব হয়। হাঁ, এরূপ হইলেই ‘দৃষ্টির ‘দৃষ্টির দ্রষ্টা ও শ্রুতির শ্রোতা ইত্যাদি শ্রুতির অর্থ সঙ্গত হইতে পারে ; অভিপ্রায় এই যে, স্বয়ং শ্রুতিই যখন দ্বিবিধ দৃষ্টিশ্রুতির কথা বলিতেছেন, তখন ঐরূপ দ্বিত্ব-স্বীকারে অপ্রামাণ্য দোষ হইতে পারে না। লােকব্যবহারেও ইহা প্রসিদ্ধ আছে যে, চক্ষুতে তিমির’ রােগ উৎপন্ন হইয়া দৃষ্টি নষ্ট হইল, আবার সেই রােগের অপগমে দৃষ্টি জন্মিল ; এইরূপ ব্যবহার দৃষ্টে চাক্ষুষ দৃষ্টির অনিত্যতাই প্রমাণিত হয় । এইরূপে আত্মদৃষ্টি প্রভৃতিব ও শ্ৰতি-মতি-প্রভৃতির ও নিত্যত্ব ও অনিত্যত্ব ঐতরেয়ােপনিষদ লােক প্রসিদ্ধই রহিয়াছে। তাহার পর, যাহার চক্ষু উৎপাটিত হইয়াছে, সেরূপ লােকও বলিয়া থাকে যে, ‘অদ্য স্বপ্নে আমি ভ্রাতাকে দর্শন করিয়াছি। এইরূপ, যে লােকের বধিরতা অবধারিত হইয়াছে, সেরূপ লােকও বলিয়া থাকে যে, ‘অঙ্গ স্বপ্নে আমি অমুক মন্ত্র শ্রবণ করিয়াছি’ ইত্যাদি। আত্মার দৃষ্টি যদি চক্ষুঃসংযােগজনিতই হইত, এবং চক্ষুর বিনাশেই যদি বিনষ্ট হইত, তাহা হইলে উৎপাটিতচক্ষু লােক কখনই স্বপ্ন সময়ে নীল-পীতাদি রূপ দর্শন করিতে পারিত , এবং দ্রষ্টার দৃষ্টি বিলুপ্ত হয় না ইত্যাদি শ্রুতিও সঙ্গতার্থ হইত না ; ‘আর পুরুষের তাহাই চক্ষু, যাহা দ্বারা স্বপ্ন দর্শন করিয়া থাকে’ ইত্যাদি শ্ৰতিও উপপন্ন হইত না। ১২ অতএব অবশ্যই স্বীকার করিতে হইবে যে, আত্মার দৃষ্টি নিত্য সেই নিত্য দৃষ্টিই ইন্দ্রিয়জনিত বাহ্যদৃষ্টির গ্রাহক ও প্রকাশক। জন্ম-মরণশীল বাহ্য দৃষ্টির অনিত্যত্ব-বশতঃ তগ্রাহক নিত্য আত্ম-দৃষ্টিতেও লােকে ভ্রান্তিনিবন্ধন অনিত্যতা কল্পনা করিয়া থাকে, ইহাই যুক্তিযুক্ত কথা। ভ্রাম্যমাণ অলাত প্রভৃতি (জ্বল কাষ্ঠখণ্ড প্রভৃতি) দর্শন করিলে, তদ্বিষয়ক চক্ষুর দৃষ্টিও যেন ভ্রমণই করিতেছে বলিয়া যেরূপ প্রতীতি হয়, ইহাও ঠিক তদ্রুপ। এই প্রকার শ্রুতিও আছে—যেন ধ্যানই করে, যেন স্পন্দনই করে’ ইত্যাদি। অতএব আত্মদৃষ্টির নিত্যতা নিবন্ধন জ্ঞানের যৌগপদ্য বা অযৌগপদ্য ভেদ নাই। বৈদিক-সম্প্রদায়ের সহিত সম্পর্কশূন্যত্ব নিবন্ধন তার্কিকগণের ও সাধারণ লােকের যে, বাহ্য অনিত্য দৃষ্টিরূপ উধিবশতঃ আত্মদৃষ্টিতেও অনিত্যতা প্রম, তাহা হইতেই পারে। জীব, ঈশ্বর ও পরমাত্মার বিভাগ-কল্পনাও উক্ত প্রকার ভ্রান্তি হইতেই সমুৎপন্ন হইয়া থাকে। ১৩ উক্ত প্রকার ভ্রান্তিবশতই—সমস্ত নাম-রূপবিভাগ যেখানে যাইয়া এক হইয়া যায়, সেই ব্ৰহ্মস্বরূপ নিত্য নিৰ্বিশেষ দৃষ্টিসম্বন্ধেই সৎ (অস্তি), অসৎ ( নাস্তি) ইত্যাদি বিকল্প কল্পিত হইয়া থাকে । তাহার পর, যে লােক, সৰ্ব্বপ্রকার বাক্য ও চিন্তার অগােচর স্বরূপভূত ব্রহ্মেতে–সং, অসৎ, এক, অনেক, সগুণ, নিগুণ, জ্ঞাতা, অজ্ঞাতা, ক্রিয়াযুক্ত, নিস্ক্রিয়, ফলবান্ (ভভাক্তা ), অফল (অভােক্ত), সবীজ, নির্বীজ, সুখ, দুঃখ, মধ্য ( অভ্যন্তর), অমধ্য (বাহ ), শূন্য, অশুন্য, আমি, অন্য—ইত্যাদি বিকল্প কল্পনা করিতে ইচ্ছা করে, সে লােক নিশ্চিতই আকাশকেও চৰ্ম্মের ন্যায় বেষ্টন করিতে ইচ্ছা করে, এবং পদদ্বয়ের সাহায্যে আকাশে ও সােপানের ন্যায় আরােহণ করিতে অভিলাষ ।
দ্বিতীয়েহধ্যায়ে—প্রথম খণ্ডঃ কবে, এবং জলে মৎস্যেব ও আকাশে পক্ষিগণেব পদ (পদচিহ) দর্শন কবিতে ইচ্ছা কবে (১)। কেন না, ইহা নহে—ইহা নহে, বাক্যসমূহ যাহাব নিকট হইতে ফিব্যি আইসে’ ইত্যাদি শ্রুতি বহিছে, এবং মন্ধেও ‘কে তাহাকে সম্যরূপে জানে’ ইত্যাদি উল্লেখ বহিছে। ১৪ { ভাল কথা, আত্মা যদি বাক্য ও মনেব অগােচবই হয, ] তাহা হইলে ‘তাহাই আমার আত্মা’ এই প্রকাবে আত্ম বেদনা (আত্মজ্ঞান ) সম্ভব হয় কি প্রকাবে ? অতএব বলিযা দাও—কি প্রকাবে আমি সেই আত্মাকে ইহাই আমার আত্মা এইরূপে জানিব ? এতদুত্তবে আচাৰ্য্যগণ একটি আখ্যাযিকা বর্ণনা কবিষ থাকেন। [ তাহা এই—] কোন এক মূঢ় মনুষ্য কোন একটা অপবাধ কৰিছিল , তজ্জন্য কোন ব্যক্তি তাহাকে বলিযাছিল যে, তােমায ধিক, তুমি মনুষ্যই নহ। তিবস্কৃত ব্যক্তি স্বীয মূঢ়তাবশতঃ আপনাব মনুষ্যত্ব প্রতিপাদন কৰিবাব অভিপ্রাযে অপব কোন ব্যক্তিকে বলিল—মহাশয, আপনি বলুন যে, আমি কে হই, অর্থাৎ আমি মনুষ্য কি না? জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি উহাব মূঢ়তা বুঝিতে পাৰিষা বলিলেন যে, আমি তােমাকে ক্রমশ বুবাইতেছি-স্থাববাদিভাব পবিত্যাগ কৰিলে [ বলিতে হয যে ] তুমি অমানুষ নহ অর্থাৎ তুমি স্থাববাদি স্বৰূপ নহ, এবং মনুষ্য ভিন্ন ও নহ। তিনি এই কথা বলিযাই চুপ কবিলেন। সেই মূঢ় মনুষ্য পুনব্বাব তাহাকে জিজ্ঞাসা কবিল—আপনি আমাকে বুঝাইতে প্রবৃত্ত হইযাও চুপ কবিষ। বহিলেন কেন, আমাকে বুকাইতেছেন না কেন ? | এই মূঢ়েব কথা যে প্রকাব, আপনাব কথাও ঠিক সেই প্রকাব, কাবণ ‘তুমি অমনুষ্যই (১) তাৎপয্য—বৈশেষিক প্রভৃতি আস্তিক দার্শনিকের মতে অাত্মা ‘অস্তি' (সৎ), নানা (অনেক) সগুণ , জানাতি, ন ডানাতি ( সুষুপ্তি-সমযে জ্ঞান থাকে না, অন্যত্র থাক ) ক্ৰিযবান্, ফলবান ( ইহ লোকে বা পবলােকে স্বকৃত কৰ্ম্ম-ফল-ভােক্তা), সবীজ (বীজ অর্থ- জ্ঞান ও কর্মেব সংস্কাব, আত্মা তক্ত ), সুখ’ ‘ঃখ ‘অশূন্য অমধ্য’ অর্থ ৎ দেহেব বাহিরেও বর্তমান এব” আমি ও অপব পৰস্পব ভিন্ন। আব লোক যতিক চার্বাকের মতে-না স্ত ( অসৎ ), অক্ৰিয ( পবলােকে গমনরূপ ক্রিয়া নাই এখানেই দেহান্তব গ্রহণ কবে)। নাস্তিক ও গণিক বিজ্ঞানবাদী বৌদ্ধমতে, অফল , কাৰণ, সে মতে পরলােকগামী স্থায়ী আত্মা নাই। ইহাদেরই মতে আত্ম নিবীজ , কারণ, কৰ্ম্ম সাবেব আশ্রযভূত নিত্য অাত্মাব অভাব। বিজ্ঞানব দে আত্মা দুঃখস্বরূপ। দিগম্বব বৌদ্ধমতে ‘মধ্যম , কাবণ, আত্মা দেহপবিমিত , সুত্বাং বাহিবে তাহার অস্তিত্ব নাই। এতদতিবিক্ত অগুণ অক্রিয়াদি কথাগুলি অদ্বৈতবাদেও সঙ্গত হয়।
৬৪ ঐতরেয়ােপনিষদ • নহ, এই কথা বলিলেও যে লেকি আপনার মনুষ্যত্ব বুঝিতে পারে না, তুমি মনুষ্য এ কথা বলিলেও ৫ লােক কি প্রকারে আপনার মনুষ্যত্ব উপলব্ধি করিতে পারিবে ? ১৫। অতএব আত্মােপলব্ধির সুবিধার নিমিত্ত শাস্ত্রে যেরূপ বিধান করিয়াছেন, তাহাই যথার্থ বিধান, তদ্ভিন্ন বিধি হইতে পারে না। কারণ, অগ্নি ভিন্ন অপর কেহই অগ্নির দাহ (দহনযােগ্য) তৃণ প্রভৃতিকে দাহ করিতে পারে না। (১) এই কারণেই উপনিষদ শাস্ত্র আত্মার স্বরূপ নির্দেশে প্রবৃত্ত হইয়াও উক্ত অমনুষ্যত্ব-প্রতিষেধের ন্যায় কেবল “নেতি নেতি” বলিয়াই নিবৃত্ত হইয়াছে। এইরূপ ‘অন্তৰ্ব্বহির্ভাবশূন্য’ ‘এই আত্মা সৰ্বানুস্ত ব্রহ্মস্বরূপ এবং তুমি তৎস্বরূপ’ ‘যে সময় এই মুমুক্ষুর সমস্তই আত্মস্বরূপ হইয়া যায়, সে সময় কে কাহার দ্বারা কাহাকে দর্শন করিবে’ ? ইত্যাদি রূপেই উপদেশ করা হইয়াছে ; [ কিন্তু বিধিমুখে কিছুই বলা হয় নাই, হইতেও পারে না।] ১৬। এই পুরুষ এবম্বিধ আত্মাকে যে পর্যন্ত জানিতে না পারে, সেই পৰ্যন্ত অনিত্য বাহ দৃষ্টিৰূপ উপাধিকে আ ত্মস্বরূপে অবলম্বন করত অবিদ্যার বশে উপাধির ধর্মসমূহকে আত্মার ধর্ম মনে করিয়া অবিদ্যা ও কাম কৰ্ম্মের বশবর্তী হইয়া ব্রহ্মাদি স্তম্বপৰ্যন্ত বিবিধ স্থানে নিরন্তর পরিভ্রমণ করিতে থাকে ।১৭ অবিদ্যা-বশবর্তী উক্ত জীব এই প্রকার পরিভ্রমণ করত পূৰ্ব্ব-গৃহীত দেহে- (১) তাৎপৰ্য্য—অভি প্রায় এই যে, যে বস্তু কেবলই সাক্ষাৎ প্রত্যক্ষ প্রতীতির বিষয়, সে বস্তুকে কোন প্রমাণ দ্বারা বিধিমুখে প্রতিপাদন কব। সম্ভব হয় না। যে লােক স্বয়ং মনুষ্য, তাহাব মনুষ্যত্বপ্রতীতি প্রত্যক্ষগম্য ; তাহার মনুষ্যত্ব বুঝাইতে হইলে, উপদেশক কেবল তাহার অমনুষ্যত্ব ভ্ৰমনিবৃত্তির জন্য যাহা যাহা বলিতে হয়, তাহাই বলিবেন। এইরূপ আত্মা যখন স্বভাবতই প্রত্যক্ষগম্য, বাক্য ও মনের অগোচর ; তখন বাক্য ও মন তাহার স্বরূপ প্রতিপাদন করিবে কি প্রকারে ? তৃণদাহ করিতে একমাত্র অগ্নিবই ক্ষমতা আছে ; অন্যের নাই ; সুতরাং তৃণদাহের জন্য সুতীক্ষ্ণ অস্ত্রাদি প্রয়োগ যেমন নিস্ফল ; তেমনি আত্মা যখন একমাত্র প্রত্যক্ষের বস্তু, তখন তদ্বিষয়ে বাক্য ও মন প্রভৃতি প্রযুক্ত হইলেও নিশ্চয়ই বিফল হইয়া পড়ে। এইজন্য শাস্ত্রসমূহও বিধিমুখে আত্মার স্বরূপ প্রতিপাদনে যত্নপর না হইয়া, ‘নেতি নেতি' ইত্যাদি রূপে নিষেধমুখে প্রতিপাদন দ্বারাই কেবল অনাত্ম-ভ্রান্তি নিরাশ করিতেছেন মাত্র। এরূপ স্থলে অসম্ভাবনা বুদ্ধি ও বিপরীত-বুদ্ধি দুর করাই শাস্ত্রের একমাত্ৰ কৰ্তব্য ; তত্ত্বদর্শন কেবল সাক্ষাৎকারেরই বিষয়। •• দ্বিতীয়েহধ্যায়ে—প্রথম খণ্ড ন্দ্রিয়াদি-সংঘাতকে একবাব পবিত্যাগ কবে এবং ত্যাগ কবি আবাব নূতন অন্য দেহ গ্রহণ কবি। থাকে। নদীস্রোতেব শ্যাষ জন্ম মণপ্রবাহ অবিচ্ছিন্ন থাকা বাববাব এইভাবেই বৃত্তি (জন্ম) লাভ কবত নানা রকম অবস্থায অবস্থান কবিয়া থাকে, লােকেব মনে বৈবাগ্য সমুৎপাদনের উদ্দেশ্যে, শ্রুতি সেই বিষষটী প্রদর্শন কৰিবাব জন্য বলিতেছেন- পুরুষে হ বা অয়মাদিতাে গর্ভো ভবতি যদেতদ্রেঃ। তদেতৎ সৰ্বেভ্যোহভ্যেস্তেজঃ সস্তৃতমাত্মবােত্মানং বিভৰ্ত্তি ত্যদা স্ক্রিয়াং সিঞ্চত্যথৈনজ্জনয়তি, তদস্য প্রথমং জন্ম ॥২৪|||| সরলার্থঃ। অণ, ( অবিদ্যাদিদোষবা চন্দ্রমণ্ডল প্রত্যাবৃত্ত পুৰুষ, ) আদিতঃ ( প্রথম অন্নবস ৰূপেণ) পুৰুমে (পিতৃশবীবে) গর্ভঃ ভবতি। { কোহসে গর্ভঃ ? ইত্যাহ— যৎ এতং বেতঃ (শুক্রং, তস্মিন্ বেতসি জুনিয্যমাণত্যা জীব প্রবিষ্টত্বাৎ )। এতং (বেতঃ ) সৰ্বেভ্যঃ অঙ্গে ভ্য° (দেহাববেভ্য° ) সস্তৃতং ( নিষ্পন্ন ) তেজঃ ( সাবভূতম্)। [ তৎ বেতেরূপম । আত্মান, (আত্মসাব, ) আত্মনি (স্বশৰীবে) এব বিভৰ্ত্তি (ধাবতি) । পিতা]। যদা স্ত্রিযাং (ঋতুমত্যাং ভাৰ্যাং) সিঞ্চতি ( উপগচ্ছন্ তেজঃ আধত্তে পিতা), অথ (তদ) এনং ( এতং বেতঃ ) জনষতি ( শবীবৰূপেণ পবিণমতি), অস্য (সসাবিণঃ পুক) তৎ (প্রিযাং নিষেকৰূপং) প্রথম জন্ম (প্রথমাবস্থাভিব্যক্তিবিদ্যুচ্যতে ) |২৪|১। মূলানুবাদ। [ উক্ত অবিদ্যা ও কামকৰ্ম্মাভিমানযুক্ত সংসারী পুরুষ কৰ্ম্মক্ষয়ে চন্দ্র মণ্ডল হইতে প্রতিনিবৃত্ত হইয়া ] প্রথমতঃ পুরুষ- শরীরে গর্ভরূপী হয়। গের্ভ কি, তাহা বলিতেছেন যাহা এই প্রসিদ্ধ রেতঃ ( শুক্র ), [ তাহাই এনে গর্ভ নামে উক্ত হইয়াছে ]। সেই এই রেতঃ পিতার সমস্ত দেহাবয়ব হইতে সস্তৃত তেজঃ অর্থাৎ সারভূত। পুরুষ (পিতা) এই আত্মভূত রতকে প্রথমে আপনাতেই ধারণ করে (পােষণ করে)। স্ত্রী যখন ঋতুমতী হয়, তখন সেই স্ত্রীশরীরে ইহা নিষিক্ত করে ; অনন্তর এই রেতকে গৰ্ভরূপে উৎপাদন করে। ইহাই সংসারগামী পুরুষের প্রথম জন্ম বলিয়া কথিত হয় ॥২৪৷১৷৷ ঐতরেয়ােপনিষদ শাঙ্করভাস্থম্। অয়মেবাদ্যিাকামকৰ্ম্মাভিমানবা যজ্ঞাদি কৰ্ম্ম কৃত্বা অল্লোকাৎ {মাদিক্রমেণ চন্দ্রমসং প্রাপ্য ক্ষীণকৰ্ম্মা বৃষ্টাদিক্রমেণ ইমং লােকং প্রাপ্য অনুভূতঃ পুরুষাগ্নৌ হুতঃ। তস্মিন্ পুরুষে হ বৈ অয়ং সংসারী রসাদিক্রমেণ আদিতঃ প্রথমতঃ রেতেরূপেণ গর্ভো ভবতীতি এতদাহ যদেতৎ পুরুষে রেতঃ, তেন রূপেণেতি।১ তচ্চৈতৎ রেতঃ অন্নময় পিণ্ডস্য সৰ্বেভ্যঃ অভ্যেঃ অবয়বেভ্যো রসাদি- লক্ষণেভ্যঃ তেজঃ সাররূপং শরীরস্য, সম্ভুতং পরিনিষ্পন্নং, তৎ পুরুষস্ত আত্মভূত- ত্বদাত্মা। তমাত্মানং রেলতারূপেণ গর্ভীভূতম্ আত্মন্ধেব স্বশরীরে এব আত্মানং বিভৰ্ত্তি ধারয়তি। তৎ রেতঃ স্ত্রিয়াং সিঞ্চতি যদা যদা যস্মিন্ কালে ভাৰ্য্যা ঋতুমতী, তস্যাং যােষাগ্নৌ স্ত্রিয়াং সিঞ্চতি উপগচ্ছন, অথ তদা এনং এতদ্রেত আত্মননা গৰ্ভভূতং জনয়তি পিতা। তৎ অন্য পুরুষস্ত স্থানান্নির্গমনং রেতঃসেককালে রেতেরূপেণাস্ত সংসারিণঃ প্রথমং জন্ম প্রথমাবস্থাভিব্যক্তি। তদেতদুক্তং পুরস্তাৎ “অসাবাত্মা অমুমাত্মান” ইত্যাদিনা ॥২৪|১৷৷ ভাষ্যানুবাদ। অবিদ্যা ও কামকৰ্ম্মজনিত অভিমানসম্পন্ন এই। জীবই যজ্ঞাদি কৰ্ম্ম সম্পাদন করিয়া, ইহলােক হইতে প্রয়াণের পর ধূমাদি- ক্রমে চন্দ্রমণ্ডলে গমন করে ; সেখানে স্বীয় কৰ্ম্মফল শেষ হইলে পর, বৃষ্টি প্রভৃতিক্রমে পৃর্থিবীতে পতিত হইয়া প্রথমতঃ অন্নরূপে পুরুষরূপ অগ্নিতে আহুত হয় (১)। এই সংসারী জীব সেই পুরুষেই (পিতৃদেহেই) রসরুধিরাদি- ক্রমে রেতেরূপে (শুক্ররূপে ) পরিণত হইয়া প্রথমতঃ গৰ্ভরূপ ধারণ করে ; (১) তাৎপৰ্য-এখানে সাধারণ ভাবে জীবের সংসারগতি বা জন্ম প্রণালী নির্দেশ করিতেছেন।-কৰ্ম্ম পুরুষগণ যাগাদি সৎকৰ্ম্মানুষ্ঠানের ফলে, দেহত্যাগের পর ধুমানিপথে ( দক্ষিণায়নে) চন্দ্রলােকে গমন কবে এবং জলময় দেহ প্রাপ্ত হয়। সেখানে কর্মফলের ভোগ শেষ করিয়া যখন বুঝিতে পারে যে, এখন আমার পতনে আর বিলম্ব নাই, তখন তাহাদের হৃদয়ে অত্যন্ত দুঃখ বা সন্তাপ উপস্থিত হয় সেই সন্তাপের ফলে তাহাদের জলময় দেহটী গলিয়া যায়, এবং প্রথমে দ্যুলোকে, পরে সেখান হইতে মেঘমণ্ডলে পড়িয়া মেঘের সঙ্গে মিশ্রিত হইয়া বৃষ্টিরূপে পৃথিবীতে পড়ে ; শেষে রসরূপে বৃক্ষাদি দেহে প্রবিষ্ট হইয়া অন্ন বা ভক্ষ্য দ্রব্য 'রূপে পুরুষের দেহে প্রবেশ করে ; সেই ভুক্ত তন্নই রসরুধিরাদিক্রমে শুক্রাকারে পরিণত হয়। জীব সেই শুক্ৰমধ্যে নিহিত থাকে ; সেই শুক্র অ বার ঋতুকালে স্ত্রীদেহে নিষিক্ত হয়, এবং সেখানে স্কুল দেহাকার ধারণ করিয়া থাকে। ছন্দোগ্যোপনিষদে পঞ্চাগ্নিবিদ্ধ কবণে ইহা বিস্তৃতভাবে বিবৃত আছে।
দ্বিতীয়েহধ্যায়ে—দ্বিতীয় খণ্ডঃ ইহাই বিবৃত করিয়া বলিতেছেন-এই যে প্রসিদ্ধ রেতঃ, তদ্রূপে (গর্ভ হয় )।১ সেই এই রেত পদার্থ টী অন্নময় দেহপিণ্ডের সমস্ত অবয়ব হইতে অর্থাৎ রসাদিরূপ সমস্ত অংশ হইতে শরীরের সারভূত তেজোরূপে সস্তৃত—পরিনিষ্পন্ন হয়। ইহা পুরুষের আত্মভূত ; এই কারণে আত্মা নামে অভিহিত হইয়াছে। রেতেরূপে গর্ভভাবাপন্ন সেই আত্মাকে পুরুষ আপনায় শরীরেই প্রথমে ধারণ করিয়া থাকে। ভাৰ্য্যা ঋতুমতী হইলে পর, পুরুষ সেই ঋতুমতী ভাৰ্যারূপ অগ্নিতে উপগত হইয়া, যখন রেতঃসেক করিয়া থাকে, তখন পিতা আপনার উক্ত শুক্ৰকেই গৰ্ভৰূপে উৎসর্গ করিয়া থাকেন। পিতার দেহ-গত বাসস্থান হইতে যে রেতঃসেক-কালে সংসারী পুরুষের রেতেরূপে নির্গমন অর্থাৎ স্ত্রীদেহে প্রবেশ, ইহাই তাহার প্রথম জন্ম – প্রাথমিক অবস্থার অভিব্যক্তি। ইতঃপূৰ্বে “অসে। আত্মা অমুম্ আত্মানম্” ইত্যাদি বাক্যেও এই কথাই উক্ত হইয়াছে ॥২৪৷৷৷৷ তৎ স্ত্রিয়া অত্মভূয়ং গচ্ছতি যথা স্বমঙ্গং তথা। তস্মাদনাং ন হিনস্তি, সাতৈমাত্মানমত্র গতং ভাবতি ॥২৫৷৷২৷৷ সরলার্থ। স্বং (স্বকীয়ং অঙ্গং শুনাদি) যথা [ আত্মভূয়ং গচ্ছতি ] তথ। (তদ্বদেব ) তং (রেতঃ ) স্ক্রিয়াঃ (যস্যাং স্ত্রিয়াং নিষিক্তং তস্যাঃ) আত্মভূয়ং (আত্মভাবং আত্মব্যতিরেক তাং) গচ্ছতি। তস্মাৎ ( স্ত্রিয়া আত্মভাবােপগমনা হেতােঃ) এনাং (আধারভূতাং স্ত্রিয়ং) ন হিনস্তি ( অন্তঃ প্রবিষ্টং শল্যমিব ন পীড়য়তি)। সা ( গর্ভিণী ) অত্র (আত্মন উদরে ) গতং (প্রবিষ্টং) অঙ্গ (ভঃ) এতং আত্মানং ভাবয়তি (অনুকুলাশনাদিভিঃ বদ্ধয়তি) ॥২৫||২৷৷ মূলানুবাদ। নিজের অঙ্গ যেমন নিজের স্বারূপ্য প্রাপ্ত হয়, তেমনি সেই নিষিক্ত রেতও সেই স্ত্রীর অাত্মভূত হইয়া যায়, অর্থাৎ গর্ভিণীর দেহাবয়বরূপে পরিণত হয় ; সেই কারণেই ঐ রেতঃ ইহাকে (গভিণীকে) পীড়া দেয় না। সেই গর্ভিণী আপনার উদরে প্রবিষ্ট স্বামীর এই রেততরূপী আত্মাকে অনুকুল আহারাদি দ্বারা পরিবর্ধিত করিয়া থাকে ॥২৫২।
৬৮ ঐতরেয়ােপনিষদ শাঙ্করভাষ। তৎ রেতঃ যস্যাং স্ত্রিয়াং সিক্তং সং তস্যাঃ স্ত্রিয়াঃ আত্মভূয়ম্ আত্মব্যতিরেকতাং—যথা পিতুঃ এবং গচ্ছতি প্রাপ্নোতি যথা স্বমঙ্গং স্তনাদি, তথ। তদ্বদেব। তম্মদেততঃ এনাং মাতরং স গর্ভে ন হিনস্তি পিটকাদিবং। বস্মং শুনাদি স্বাঙ্গদাত্মভূয়ং গতম্ তন্ন হিনস্তি ন বাধতে ইত্যর্থঃ। সা অন্তর্বত্নী এতং অন্য ভর্তুরাত্মানম্ অত্র আত্মন উদরে গতং প্রবিষ্টং বুদ্ধা ভাবয়তি বদ্ধয়তি পরিপালয়তি গর্তবিরুদ্ধাশনাদি-পরিহার অনুকূলাশনা- পযােগং চ কুৰ্ব্বতী ॥২৫২। ভাষ্যানুবাদ। সেই রেতঃ যে স্ত্রীতে নিষিক্ত হয়, সেই স্ত্রীর আত্মভাব অর্থাৎ পিতার দেহের ন্যায় তাহার দেহের সহিতও অব্যতিরিক্তভাব প্রাপ্ত হইয়া থাকে। যেমন স্তন প্রভৃতি স্বীয় অঙ্গসমূহ [ দেহের সহিত একীভূত হইয়া থাকে ], ইহাও ঠিক তেমনি। এই কারণেই সেই গর্ভ অন্তরস্থ পিটক ( গ্রন্থির মত এক প্রকার ব্রণ ) প্রভৃতির ন্যায় এই মাতাকে পীড়া দেয় না। যে হেতু সেই গৰ্ভটী স্বাঙ্গ স্তনাদির ন্যায় আত্মভাব প্রাপ্ত, সেই হেতুই বাধা বা পীড়া দেয় না । সেই গভিণী যখন বুঝিতে পারে যে, স্বামীর আত্মা আমার উদরে প্রবিষ্ট হইয়াছে, তখন সে গর্ভের অনিষ্টকর আহারাদির পরিবর্জন ও অনুকূল আহারাদির ব্যবহার করিয়া ভর্তার আত্মভূত সেই গর্ভকে ভাবিত—পরিবর্ধিত করে, অর্থাৎ গর্ভ পােষণ করে ॥২৫২ স। ভাবয়িত্রী ভাবয়িতব্যা ভবতি তং স্ত্রী গর্ভং বিভৰ্ত্তি, সােহগ্র এব কুমারং জন্মনােহগ্ৰেহধি ভাবয়তি। স যৎ কুমারং জন্মনােহগ্ৰেহধি ভাবত্যাত্মানমেব তদ্ভাবয়ত্যেষাং লােকানাং সন্তত্যা এবং সন্তত হীমে লােকাস্তদস্য দ্বিতীয়ং জন্ম ॥ ২৬ ॥ ৩ | সরলার্থঃ। [ যস্মাৎ ] সা ( গর্ভবতী স্ত্রী) ভাবয়িত্রী ( গর্ভভূত ভর্তুরাত্মনঃ ], [ তস্মাৎ সাপি } ভাবয়িতবা (ভা বস্ত্রানুপানাদিভিঃ পালয়িতব্যা) ভবতি। স্ত্রী (গর্ভবতী ) তং (ভর্তুরাত্মভূতং) গর্ভং বিভৰ্ত্তি ( দশ মাসান্ স্বােদরে ধারয়তি)। সঃ (পিতা) অগ্রে (প্রসবাৎ পূৰ্ব্ব) এব [ পরিনিষ্পন্নং ] কুমার দ্বিতীয়েহধ্যায়ে—তৃতীয় খণ্ড ৬৯ (বালং) জন্মনঃ অগ্রে (প্রসবাং পরং ) অধিভাবতি (জাতকৰ্ম্মাদিনা সংস্কৃতং করােতি)। সঃ ( পিতা) জন্মনঃ অগ্রে কুমারং যৎ অধিভাবয়তি, তৎ আত্মানম্ এব (পুত্ররূপং) ভাবয়তি। [ কিমর্থমিত্যাহ— এষাং (ভবিষ্যৎ পুত্রপৌত্রাদি- রূপাণাং) লােকানাং সন্তত্যৈ ( অবিচ্ছেদায় ); হি (যতঃ ) ইমে (পুত্রাদয়ঃ ) লােকা; এবং (পুত্রোৎপাদনাদিকৰ্ম্মণ সন্তঃ ( অবিচ্ছিন্নাঃ) { ভবন্তি, অন্যথা বিচ্ছিদ্যেরন্নিতি ভাবঃ ]। তৎ (প্রসূতত্বং) অস্য (গর্ভস্থ ) দ্বিতীয় জন্ম ইত্যর্থঃ ॥২৬৩৷৷ মূলানুবাদ। [ সেই গর্ভবতী স্ত্রী যেহেতু, গভভূত স্বামীর আত্মার পােষণ করেন, সেই হেতু ] তিনি [ স্বাণীরও অন্ন বস্ত্রাদি দ্বারা ] প্রতিপালনীয়া হন। গর্ভবতী স্ত্রী গর্ভভূত স্বামীকে পােষণ করিয়া থাকেন। প্রথমেই পত্নীর উদরে সুনিপন্ন কুমার ভূমিষ্ঠ হইলে পর স্বামী জাত-কৰ্ম্মাদি দ্বারা পুত্রের ভাবনা বা সংস্কার সম্পাদন করেন। তিনি যে, পুত্রের সংস্কার করেন, প্রকৃতপক্ষে তাহা তিনি পুত্রপৌত্রাদিরূপে বংশবৃদ্ধির জন্য নিজেরই সংস্কার করেন। কারণ, এইরূপ ক্রিয়ার ফলেই বংশবিচ্ছেদ নিবৃত্ত হইয়া থাকে। এইরূপে ভূমিষ্ঠ হওয়াই তাহার দ্বিতীয় জন্ম ॥২৫৷৩৷৷ শঙ্করভাষ্যম। স। ভাবরিত্রী বর্ধরিত্রী ভর্তুরাত্মনাে গর্ভভূত ভাবয়িতব্যা বর্ধরিতব্যা চ ভত্র। ভবতি। ন হপকার প্রত্যুপকারমন্তরেণ লােকে কস্যচিৎ কেনচিৎ সম্বন্ধ উপপদ্যতে। তং গর্বং স্ত্রী যথােনে গর্ভধারণবিধানেন বিভৰ্তি ধারয়তি অগ্রে প্রাগ জন্মনঃ। স পিত। অগ্রে এব পূৰ্বমেব কুমারং জাতমাত্রং জন্মনঃ অধি উদ্ধং জন্মনঃ জাতং কুমারং জাত- কৰ্ম্মাদিনা পিতা ভাবয়তি। স পিতা যং যৎ কুমারং জন্মনঃ অধি উৰ্দ্ধং অগ্রে জাতমাত্ৰমেব জাতকৰ্ম্মাদিনা যৎ ভাবতি, তদানমেব ভাবতি ; পিতুরাত্মৈব হি পুত্ৰ ৰূপেণ জায়তে। তথা যুক্ত—“পতিৰ্জায়াং প্রবিশতি” ইতাদি। তৎ কিমর্থমাত্মানং পুত্ররূপেণ জনয়িত্ব। ভাবয়তি ? উচ্যতে—এষা লােকানাং সন্থত্যৈ অবিচ্ছেদায়েত্যর্থ। বিচ্ছিন্তের হীমে• লােকা ৭০ ঐতরেয়ােপনিষদ পুত্রোৎপাদনাদি যদি ন কুর্য। এবং পুত্রোৎপাদনাদিকৰ্ম্মাবিচ্ছেদেনৈব সন্ত প্রবন্ধরূপে বৰ্তন্তে হি যস্মাৎ ইমেলােকা, তস্মাৎ তদবিচ্ছেদায় তৎ কর্তব্যং, ন মােক্ষায়েত্যর্থ। তদস্য সংসারিণঃ পুংসঃ কুমাররূপেণ মাতুরুদরাং যনির্গমন, তদ্রেতরূপাপেক্ষ দ্বিতীয়ং জন্ম দ্বিতীয়াবস্থাভি- ব্যক্তি |২৬|| ভাষ্যানুবাদ। সেই যে ভাবয়িত্ৰী অর্থাৎ স্বামীর আত্মভূত দেহের পােষণকারিণী স্ত্রী তিনিও আবার ভাবরিতব্যা অর্থাৎ উপযুক্ত অন্নবস্ত্রাদি দ্বারা স্বামীর পােষণীয়। কেননা, জগতে উপকার ও প্রত্যুপকার ব্যতীত কাহারো সহিত কাহারও সম্বন্ধ সংঘটিত হইতে পারে । স্ত্রী প্রথমতঃ প্রসবের পূর্বে শাস্ত্রোক্ত গর্ভধারণ-বিধানক্রমে সেই গর্ভ ধারণ করিয়া থাকেন। পূৰ্বে উৎপন্ন (গর্ভরূপে অবস্থিত) কুমার জন্মগ্রহণ করিলেই অর্থাৎ ভূমিষ্ঠ হইবার পরই, পিতা সেই কুমারকে জাতকৰ্ম্ম প্রভৃতি দ্বারা ভাবিত (সংস্কারসম্পন্ন করেন। পিতা বে জাতকৰ্ম্মাদি দ্বারা জামাত্র (ভূমিষ্ঠ হইবার পরই ) কুমারের সংস্কাব সম্পাদন করিয়া থাকেন ; [ বুঝিতে হইবে, ] তাহা তিনি নিজেরই সংস্কার করিয়া থাকেন । কারণ, যেহেতু পিতার আত্মাই পুত্ররূপে জন্ম লাভ করিয়া থাকে। অন্যত্রও এই কথা উক্ত অাছে—পতিই [ পুত্ররূপে পত্নীতে প্রবেশ করেন’ ইত্যাদি। ভাল, তিনি কিসের জন্য পুত্ররূপে জন্ম লাভ করিয়া আপনার সংস্কার সম্পাদন করেন? হাঁ, বলিতেছি—এই সমুদয় লােকের (বংশের) সন্ততির জন্য অর্থাৎ অবিচ্ছেদের জন্য। লােকে যদি পুত্রোৎপাদন না করিত, তাহা হইলে এই সমস্ত লােক অর্থাৎ পুত্রপৌত্রাদি প্রবাহ বিচ্ছিন্ন হইয়া যাইত। যেহেতু পুত্রোৎপাদন প্রভৃতি কর্মের অবিচ্ছেদেই সমস্ত লােক অবিচ্ছিন্ন প্রবাহরূপে প্রবৃত্ত হইতেছে, সেই হেতুই বংশবিচ্ছেদ নিবৃত্তির জন্য ঐরূপ কৰ্ম্ম করিতে হয়, কিন্তু মুক্তির জন্য নহে। এই সংসারী পুরুষের যে, পুত্ররূপে মাতৃজঠর হইতে নির্গমন, তাহা পূৰ্ব্বকথিত শুক্রাবস্থা অপেক্ষা দ্বিতীয় জন্ম, অর্থাৎ দ্বিতীয় অভিব্যক্তি ॥২৬৷৩৷৷ সোহস্যায়মাত্মা পুণ্যেভ্যঃ কৰ্ম্মভ্যঃ প্রতিধায়তে।
৭১ প্রথমেহধ্যায়ে—চতুর্থ খণ্ডঃ অথাস্যায়মিতর অাত্মা কৃতকৃত্যো বয়ােগতঃ প্রৈতি, স ইতঃ প্রয়বে পুনর্জায়তে, তদস্য তৃতীয়ং জন্ম ॥ ২৭ ॥ ৪ শ অস্ত এত সরলার্থঃ । [ জনক প্রতি পুত্ৰকৃতমুপযােগং দর্শয়তি-সােহস্যায় ইত্যাদি। অস্ত (পিতু) সঃ অয়ং (পুত্ররূপঃ) আত্মা (দেহঃ) পুণ্যেভ্য: কৰ্ম্মভ্যঃ (শাস্ত্রোক্ত-পুণ্যকৰ্ম্মনিষ্পদনার্থং ) প্রতিবীয়তে (পিত্রা স্বপ্রতিনিধিরূপেণ গৃহে স্থাপতে)। অথ (অনন্তবং) অস্থা (পিতুঃ ) বয়ােগতঃ (বার্ধক্যমাপন্নঃ) ইতবঃ আত্মা (দেহঃ) কৃতকৃত্যঃ (এতজ্জন্ম প্রযুক্তানি কৰ্ম্মাণি কৃতানি যেন, তাদৃশঃ সন্) প্রৈতি ( মিয়তে)। সঃ ( পিতা) ইতঃ ( অস্মাৎ দেহাং) প্রবন্ (নির্গচ্ছন্) এব পুনঃ জায়তে (স্বকৰ্ম্মানুসাবেণ স্বর্গে, নবকে, পৃথিব্যাং বা সমুংপন্থতে। অস্মিন্ দেহে স্থিত এব স্বকৰ্ম্মানুরূপং দেহান্তবং মনসা স্বীকৃত্য পশ্চাং স্বদেহং ত্যজীতি ভাবঃ)। ( গর্ভীভূত পুৰুষস্থ ) তৃতীয় জন্ম (তৃতীয়াবস্থাভিব্যক্তি- বিতর্থঃ ) ॥২৭৪৷৷ মূলানুবাদ। [ পিতার প্রতি পুত্রের উপকারিতা প্রদর্শন করিতেছেন ]-[পিতার দুইটী আত্ম—এক স্বকীয়, দ্বিতীয় পুত্রদেহ ; তন্মধ্যে উক্ত পিতার এই পুত্ররূপী দেহটী পুণ্য কৰ্ম্ম সম্পাদনের জন্য নিজের প্রতিনিধিরূপে গৃহে স্থাপিত হয়। অনন্তর বার্ধক্য দশা উপস্থিত হইলে, ইহার অপর আহ্বাটী অর্থাৎ তিনি নিজে কৃতকৃত্য হইয়া এস্থান হইতে প্রস্থান করেন। তিনি প্রস্থানের সময়েই [ কৰ্ম্মানুসারে ] পুনৰ্ব্বার [ স্বর্গাদি স্থানে ] জন্ম লাভ করেন। ইহা তাহার তৃতীয় জন্ম ॥২৭৪৷৷ শাঙ্করভাষ্যম। অস্ত পিতুঃ সােহয়ং পুত্ৰাত্মা পুণ্যেভ্যঃ শাস্ত্রোক্তেভ্যঃ কৰ্ম্মভ্য কৰ্ম্মনিষ্পদনাথং প্রতিধীয়তে পিতু স্থানে, পিত্রা যৎ কর্তব্য, তৎকরণায় প্রতিনিধীয়ত ইত্যর্থঃ । তথাচ সম্প্রত্তিবিদ্যায়াং বাজসনেয়কে “পিত্রানুশিষ্টোহহং ব্রহ্মাহং যজ্ঞঃ” ইত্যাদি প্রতিপদ্যতে ইতি। ১ অথ অনন্তবং পুলে নিবেশ্যাত্মনো ভারম্ অস্য পুত্র ইতরােহয়ং যঃ পিত্ৰাত্মা কৃতকৃত্য, কর্তব্যাদৃণত্রয়াদ্বিমুক্ত কৃতকৰ্তব্য ইত্যৰ্থঃ, বয়ােগতঃ গতবয়া জীর্ণ সন্ প্রৈতি মিয়তে। স ইতঃ অস্মাৎ প্রয়ন্নেব শরীরং পরিত্যজন্নেব তৃণজলৌকাবৎ १२ ঐতরেয়ােপনিষদ দেহান্তরমুপাদদানঃ কৰ্ম্মচিতং পুনর্জায়তে। তদস্য মৃত্ব প্রতিপত্তব্যং যৎ, তং তৃতীয়ং জন্ম।২ ননু সংসরতঃ পিতুঃ সকাশদ্রেততরূপেণ প্রথমং জন্ম ; তস্যৈব কুমাররূপেণ মাতুর্ধ্বিতীয়ং জয়ােক্ত; তস্বৈ তৃতীয়ে জন্মনি বক্তব্যে, প্ৰষতস্তস্য পিতুর্যজ্জন্ম, ততৃতীয়মিতি কথমুচ্যতে ? নৈষ দোষঃ, পিতাপুত্ৰয়ােরেকাত্মত্ব বিবক্ষিতত্বাৎ। সােহপি পুত্র সুপুত্রে ভারং নিধায় ইতঃ প্রয়ন্নেব পুনর্জায়তে, যথা পিতা। তদন্যত্রোমিতরত্ৰাপক্তমেব ভবতীতি মতে শ্রুতিঃ। পিতা- পুত্রয়ােরেকাত্মত্বাৎ ॥২৭। ৪|| ভাস্থানুবাদ। এই পিতার সেই পুত্ররূপী আত্মাটী শাস্ত্রোক্ত পুণ্য কর্মের জন্য অর্থাৎ পুণ্যকর কাৰ্য্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, পিতার স্থানে প্রতিবিহিত হইয়া থাকে, অর্থাৎ পিতার কর্তব্য কৰ্ম্ম করণের জন্য প্রতিনিধি হইয়া থাকে । বৃহদারণ্যকোপনিষদে সম্প্রত্তিনামক বিদ্যার প্রকরণে (১) এইরূই কথিত আছে -পিতার অনুশাসনপ্রাপ্ত পুত্র আমি (পুত্র) ব্ৰহ্ম এবং আমি যজ্ঞ’ ইত্যাদিরূপে চিন্তা করিয়া থাকে। অতঃপর পুত্রে আপনার কর্তব্য-ভার সমৰ্পণ করিয়া, এই পুত্রের যে, পিতৃস্বরূপ অপর আত্মাটি, তাহা কৃতকৃত্য অর্থাৎ পরিশােধনীয় ঋণর (২) হইতে বিমুক্ত ও বয়ােগত অর্থাৎ যাহার বয়স চলিয়া গিয়াছে এরূপ জরাজীর্ণ হইয়া প্রমাণ করে অর্থাৎ মৃত্যুগ্রস্ত হয়। সেই পিতৃ আত্মা এখান হইতে নির্গমন-সময়েই—দেহত্যাগের সমকালেই তৃণ-জলোকা (জোঁক ) (১) তাৎপৰ্য্য—বৃহদারণ্যকোপনিষদের প্রথম অধ্যায়ে ১৭শ শ্রুতিতে সম্পত্তি-বিদ্যার কথা বিবৃত অছে।–সম্পত্তি অর্থ মুমুধুর দেহাবসানকালীন কর্তব্য-চিন্তা। মুমু ব্যক্তি যখন বুঝিতে পারেন যে, আমার দেহত্যাগের অরি বিলম্ব নাই, তখন তিনি স্বীয় পুত্রকে সম্মুখে আনয়ন করিয়া নিজের জীবনে যে সমস্ত কৰ্ম্ম কৰণীয় ছিল, অথচ করা হয় নাই, সেই সমস্ত কৰ্ম্মের উল্লেখ কবিয়া বলিবেন—“অমুক অমুক কৰ্ম্ম আমার করণীয় ছিল, কিন্তু করা হয় নাই, ইহা শ্রবণ করিয়া শিক্ষিত পুত্র বলিবে—আমি সেই সমুহ কৰ্ম্ম সম্পন্ন করিব, ইত্যাদি। এই প্রসঙ্গেই কথিত হইয়াছে যে, ‘ত্বং ব্রহ্ম, ত্বং যজ্ঞঃ অর্থাৎ তুমিই ব্রহ্মস্বরূপ তুমিই যজ্ঞস্বরূপ। তদুত্তরে পুত্র বলিবে, 'হাঁ, আমিই ব্ৰহ্ম, আমিই যজ্ঞ, ইত্যাদি। (২) তাৎপৰ্য-শ্রুতিতে কথিত আছে সে, “জায়মানো বৈ ব্রাহ্মণথ্রিভিঋণবান্ জায়তে।” অর্থাৎ ব্রাহ্মণ জন্মের সময়েই দেবঋণ ঋষিঋণ ও পিতৃঋণ, এই তিন প্রকার ঋণ লইয়া জন্মগ্রহণ করে। অনন্তর যজ্ঞাদি কৰ্ম্মানুষ্ঠান দ্বারা দেবঋণ, দান দাবা ঋষিঋণ, এবং সন্তানােৎপাদন দ্বারা পিতৃঋণ পরিশােধ করি কৃতকৃত্য হয়।
দ্বিতীয়েহধ্যায়ে--প্রথম খণ্ড প্রভৃতি ন্যায় কৰ্ম্মোপাত্ত অপব দেহ গ্রহণ কবত পুনবার্য জন্মলাভ কবে। মৃত্যুব পব, এই যে তাহাৰ দেহান্তব গহণ, তাহাই তাহাব তৃতীয জন্ম। ২। ভাল কথা, পূর্বে কথিত হইযাছে যে, সমসবী জীবেব পিতাব নিকট হইতে শুক্ৰৰূপে প্রথম জন্ম , সেই জীবেবই আবাব কুমাবৰূপে মাতাব নিকট হইতে দ্বিতীয়বাৰ জন্ম হন , এখন তৃতীৰ জন্ম নিদ্দেশেব সমষ তাহাব প্রকাবী পিতাব যে ভবিষ্যৎ জন্ম, তাহাই তৃতীয জন্ম বলিযা নির্দেশ কবা হইতেছে কিরূপে ? না, ইহা দোষাবহ নহে , যেহেতু এখানে পিতা ও পুবে একাত্ম ভাব বা অভিন্নতা প্রতিপাদনই শতিব তাৎপয্য। এতিব অভিপ্রায এই যে, পিতাব স্থায় সেই পুল ও বার্ধক্যে নিজ পুলে আপনার বক্তব্যভাব সমর্পণপূর্বক এখান হতে প্রস্থান সমকানেই পুনবাব জন্ম লাভ কৰিবে। ইহা যখন একেব প্রতি উক্ত হইল, তখন অপবেল পুলের) প্রতিও উক্তই হই । বুঝিতে হইবে , কাবণ, পিতা ও পুবে আত্মা স্বৰূপতঃ এক অভিন্ন ॥ ২৭ ॥ ৪ | তদুষিণ – গর্ভে নু সন্নন্বেষামবেদহং দেবানা জনিমানি বিশ্বা। শতং মা পুর অফিসীররক্ষন্নধঃ শ্যেনো জবসা নিরদীযমিতি গর্ভ এবৈতচ্ছনে। বামদেব এবমুবাচ । ২৮ ॥ ৫॥ সৱলাখ। খবণ। (মদ্রই ) তং (এব, সসাবিগণ জন্মমবণ প্রবাহপাতজ, দু খ), তানত চত?» তম ) উক্তম- ৫ অহ। বামদেবনা'মা ঋণি) গভে সন ( নিবসন্) মু (এব ) এষা দেবান (অগ্নিবাণু প্রভৃনা ) বিশ্ব (বিশ্বানি সব্বাণি) জনিমানি (জন্মানি) অন্ববে। বিজ্ঞাতবান্ অগ্নি)। শত (অনেকাঃ) আযসী, (লৌহময্য ইব দুর্ভেদ্যাঃ) পুবঃ (পুন্য ইব শবীবাণি) মা (মা) অধঃ ( সংসাব পাশবিমুক্তে প্রাক্ ) অবসন্ (বগতবত,—মুক্তি প্রতিবেৰং কৃতব ত্যঃ)। [ অনন্তবঞ্চ ] খেনঃ (পক্ষিবিশেৰ হব ) জবস। (বা) নিবদবি) (আত্মজ্ঞান প্রসাদেন পাশ নিভি নির্ণতােহস্মি ) ইতি। বামদেবঃ (তদাখ্য ঋষিঃ) গর্ভে শবান এব ( গর্ভস্থ এব ) এতং (পূর্বোক্ত মন্ত্ৰার্থ) এবম্ উবাচ ( উক্তবান্ ॥১৮৷৷৫। ১০ ৭৪ ঐতরেয়ােপনিষদ মূলানুবাদ। ঋষিও সংসারী সংসারী জীবের উক্তপ্রকার জন্ম- মরণপ্রবাহনিমিত্তক ক্লেশ ও তাহার উচ্ছেদসাধক তত্ত্বজ্ঞানের বিষয় বলিয়াছেন—আমি (বামদেব ) গর্ভে অবস্থানকালেই এই সমস্ত দেবতার (অগ্নি বায়ু প্রভৃতির) বহুসংখ্যক জন্ম সম্যকরূপে অবগত হইয়াছি। তত্ত্বজ্ঞানােদয়ের পূর্বে, বহুসংখ্যক আয়সী (লৌহময়ী) পুরী (শরীর) আমাকে অবরুদ্ধ করিয়া রাখিয়াছিল। পরে তত্ত্বজ্ঞানের প্রভাবে আমি শেন পক্ষীর ন্যায় ঐ পাশ ছেদন করিয়া নির্গত হইয়াছি। বামদেব ঋষি গর্ভে অবস্থানকালেই এই কথা বলিয়া- ছিলেন ॥২৮৫। শাঙ্কৱভাষ্য। এবং সসরন অবস্থাভিব্যক্তিত্রয়েণ জন্মমণ- প্রবন্ধারূঢ় সৰ্বো লােকঃ সংসার-সমুদ্রে নিপতিতঃ কথঞ্চিৎ যথা শ্রুত্যুক্তমাত্মানং বিজানাতি-যস্থাং কস্যাঞ্চিদবস্থায়াম, তদৈব মুক্তসৰ্ব্বসংসারবন্ধন; কৃতকৃত্যা ভবতীত্যেত বস্তু, তদুক্তমৃষিণা মন্ত্রেণাপুক্তমিত্যাহ গর্ভে দু মাতুৰ্গৰ্ভাশয়ে এব সন, দ্বিতি বিতর্কে। অনেকজন্মান্তরভাবনা- পবিপাকবশাৎ এষাং দেবানাং বাগগ্ন্যাদীনাং জনিমানি জন্মনি বিশ্বা বিশ্বানি সৰ্বাণি অন্ববেদম্ অহম্—অহম্ অনুবুদ্ধবানস্মীত্যর্থঃ। শতম্ অনেকাঃ বঃ মা মাং পুরঃ আয়সীঃ আয়হঃ লােহময্য ইবাভেদ্যানি শরীরাণীত্যভিপ্রায়। অরক্ষন রক্ষিতবত্যঃ সংসার-পাশনির্গমনাং অধঃ। অথ শ্যেন ইব জালং ভিত্বা জবস আত্মজ্ঞানকৃতসামর্থেন নিরদীয়ং নির্ণতােহস্মি । অহাে গর্ভ এব শয়ানে বামদেব ঋষিবেবমুবাচৈতং | ২৮ | ৫ | ভাষ্যানুবাদ। সংসার-সাগবে নিমগ্ন সমস্ত জীবনােক পূর্বোক্ত জন্মত্ৰয়ৰূপ তিনপ্রকার অবস্থার অভিব্যক্তিক্রমে জন্ম-মরণপ্রবাহ ভােগ করত, যে কোন অবস্থায় হউক, যখন কোন প্রকাবে শ্রুতিকথিত আত্মাকে বিশেষভাবে অবগত হইতে পাবে, তখনই সর্বপ্রকার সংসার-বন্ধন হইতে বিমুক্ত হইয়া কৃতার্থ লাভ কবিয়া থাকে। এই বিষয়টী মন্ত্রে ও উক্ত হইয়াছে ; এই অভিপ্রায়ে বলিতেছেন—শ্রুতির ‘নু’ শব্দটী বিতর্কবােধক। আমি গর্ভে —মাতৃজঠরে থাকিয়াই বহু জন্মে সঞ্চিত সুচিন্তার ফলে, এই বাক্ অগ্নি প্রভৃতি দেবতাগণের সমস্ত জন্ম (জন্মবৃত্তান্ত) জানিয়াছিলাম, অর্থাৎ বড় আনন্দের কথা যে, তখনই অনুভব করিতে সমর্থ হইয়াছিলাম। আমি দ্বিতীয়েহধ্যায়ে-প্রথম খণ্ড এই সংসার-বন্ধন হইতে বিমুক্ত হইবার পূর্বে লৌহময়ী পুরীর ন্যায় দুর্ভেদ্য বহুসংখ্যক শরীর আমাকে রক্ষা করিয়াছিল, অর্থাৎ আবদ্ধ রাখিয়াছিল। অনন্তর শ্যেন পক্ষী যেরূপ বন্ধন-জাল ছেদন করিয়া বাহির হয়, তদ্রুপ আমি ও আত্ম-জ্ঞান-জনিত সামর্থ্য দ্বারা [ সেই সংসার- বন্ধন হইতে নির্গত হইয়াছি। বড় আশ্চর্যের বিষয় এই যে বামদেব ঋষি গর্ভে শয়ান (গর্ভগত) থাকিয়াই এই বিষয়টী উক্ত প্রকারে বর্ণনা করিয়া- ছিলেন ২৮|| ৫|| বিদ্বান স্মাচ্ছরীরভেদাদুৰ্দ্ধ উৎক্ৰমামুস্মিন্ সৰ্বান্ কামানাপ্ত,মৃতঃ সমভবং সম- স্বর্গে লোকে ইতি দ্বিতীয়াধ্যায়স্য প্রথম খণ্ডঃ । ২। ১। ইত্যতরেয়ােপনিষদি দ্বিতীয়ােহধ্যায়ঃ সমাপ্তঃ ॥ ২॥ অরণ্যকক্ৰমেণ তু পঞ্চমােহধ্যায়ঃ ॥ ৫॥ সরলার্থঃ-এবং (বপােক্তপ্রকার আত্মানং) বিদ্বান্ (জান) সঃ (বামদেব ঋষি) অস্মাৎ শরীরভেদাৎ (শরীর-বিনাশাং, শরীরবিশেষাদ্বা) উদ্ধঃ ( উন্নতঃপরমার্থভূত সন্) উংক্রম। (সংসাররূপাদধোভাবান্নতিমাপদ্য) অমুস্মিন্ (ইন্দ্রিয়াগোচরে স্বর্গে (স্বপ্রকাশে) লোকে (পরমাত্মভাবে) { অবস্থিত সন। সৰ্বান কমান্ আপ্ত। (পূর্ণকামঃ সন্) অমৃতঃ ( মরণরহিতঃ বিমুক্ত ) সমভব। অধ্যায়সমাপ্ত্যর্থ। দ্বিরুক্তিরিত্যঃ ২৯৷ মূলানুবাদ। সেই বামদেব ঋষি এই প্রকারে আত্মতত্ত্ব অবগত হইয়া বৰ্তমান দেহ নাশের পর উর্ধ্বলােকে উৎক্ৰমণপূর্বক ইন্দ্রিয়াতীত স্বপ্ৰকাশ পরমাত্মভাবে অবস্থান করত সৰ্বকাম লাভ করিয়া অর্থাৎ ঈশ্বরের ন্যায় পূর্ণকাম হইয়া অমৃত ( মরণরহিত বিমুক্ত ) হইয়াছিলেন। অধ্যায় সমাপ্তি সূচনাৰ্থ ‘সমভবৎ’ পদটীর দ্বিরুক্তি করা হইয়াছে ॥২৯৬৷৷ ইতি ঐতরেয়ােপনিষদি দ্বিতীয়াধ্যায়ে প্রথম-খণ্ড-ব্যাখ্যা ॥২১।
৭৬
ঐতরেয়ােপনিষদ
শঙ্কৱভাষ্যম।
সঃ বামদেব ঋষিঃ যথাক্তমাত্মানম্ এবং
বিদ্বান অস্মাচ্ছরীরভেদাৎ শবীরবিদ্যাপরিকল্পিত আয়সবদনির্ভ্যেস্ত
জননমরণাদ্যনেকানর্থশতাবিষ্টশবীর প্রবন্ধস্য পরমাত্মজ্ঞানামৃতােপযােগজনিত-
বীৰ্য্যকৃতভেদাং শরীবােৎপত্তিবীজাবিদ্যাদিনিমিত্তে পমর্দহেততঃ শরীর-
বিনাশাদিত্যর্থঃ। উৰ্দ্ধঃ পরমাত্মভূত সন্ অধােভাবাং সসারাং উংক্রম।
জ্ঞানবদ্যোতিতালসৰ্বাত্মভাবমাপন্নঃ সন অমুস্মিন্ যথােক্তে অজবেহমৃহেভযে
সৰ্ব্বজ্ঞেহপূৰ্বেহনপবেহনন্তেহবাহে প্রজ্ঞানামৃতকরসে স্বর্গে লােকে স্বস্মিন্না ত্মনি
স্বে স্বৰূপে অমৃতঃ সমভবং আত্মজ্ঞানেন পূৰ্ব্বমাপ্তকামতয়া জীবন্নেব সৰ্বান্
কামানাপ্ত, ইত্যর্থঃ। দ্বিৰ্ব্বচনং সফলত সােদাহরণস্যাত্মজ্ঞানহ পৰিসমাপ্তি-
প্রদর্শনার্থম। ২৯ / ৬।
ইতি শ্রীমৎবমহসপরিব্রাজকাচাৰ্য্যস্ত এগােবিন্দভগবৎ-পূজ্যপাদশিষ্যস্থ
শ্ৰীমচ্ছঙ্কর ভগবতঃ কতো ঐতরেয় পিনিষদ্ভাষ্যে
দ্বিতীয়ােহধ্যায়ঃ ৷ ৬ ৷৷
ভাষ্যানুবাদ। সেই বামদেব নামক ঋষি উক্ত আত্মাকে যথােক্ত-
প্রকারে অবগত হইয়া এই শরীর-ভেদেব পর অর্থাৎ লৌহময়ের ন্যায় দুর্ভেদ্য
এবং জন্ম মরণাদি বহুবিধ অনর্থরা শিসমন্বিত এই অবিকল্পিত শরীব-প্রবন্ধেব
যে, পরমাত্মজ্ঞানরূপ অমৃতরসাস্বাদজনিত শক্তি দ্বারা ভেদ শরীবােৎপত্তির
কারণীভূত অবিদ্যাদি দোষ-নিবৃত্তির ফলে যে শরীরের বিনাশ বা পতন, তাহার
ফলে উর্দ অর্থাৎ পরমাত্মস্বরূপ হইয়া, সসাররূপ অধােভাব ( অপকৃষ্ট অবস্থা )
হইতে উৎক্ৰমণ করিয়া তত্ত্বজ্ঞানােঙাসিত বিমল সৰ্বাত্মভাব লাভ করত,
ইন্দ্রিয়ের অগোচর অজর অমর অমৃত অভয় সৰ্ব্বজ্ঞ এবং পূর্ব ও পর, অন্তর ও
বাহির বিবর্জিত একমাত্র প্রজ্ঞানস্বরূপ স্বর্গলােকে স্বীয় আত্মাতে অর্থাৎ স্ব-
স্বরূপে [ অবস্থানপূৰ্ব্বক ] অমৃত হইয়াছিলেন । এখানে বুঝিতে হইবে যে,
সেই আত্মজ্ঞ পুরুষ সৰ্বাত্মভাব লাভ করায় জীবদবস্থায়ই সমস্ত কাম্যবিষয়
অধিগত হইয়াছিলেন ; এই জগই বলা হইল যে, সমস্ত কাম্য বিষয় প্রাপ্ত
হইয়া অর্থাৎ পূর্ণকাম হইয়া । এখানে যে ফল ও উদাহরণের সঙ্গে আত্মজ্ঞানের
কথা পরিসমাপ্ত করা হইল, তাহা জ্ঞাপনের নিমিত্ত ‘সমভবং' কথাটীর দ্বিরুক্তি
করা হইয়াছে ॥২৯৬
ঐতরেয় উপনিষদের দ্বিতীয়'ধ্যায়ে প্রথম খণ্ডের ভাষ্যানুবাদ ॥২|১৷৷
দ্বিতীয়াধ্যায়ের অনুবাদ সমাপ্ত ॥২॥
তৃতীয়ােহধ্যায়ঃ । প্রথমঃ খওঃ অভাষ-ভায্য। ব্রহ্মবিদ্যাসাধনকৃত সাত্মভাবফুণাবাপ্তি, বমিদেষ্টাচাৰ্যপবয়। এতাবগােতামান। ব্রহ্মবিংপৰিষদ্যত্যন্তপ্রসিদ্ধাম উপলভমান মুমুক্ষবো ব্রাহ্মণ। অধুনাতন ব্রহ্মজিজ্ঞাসৰঃ অনিত্যা সাব- সাধনলক্ষণাং স সাবা অ' জীবভা বাদ্বাবিবৃৎসবে। বিচারয়ন্তঃ অন্যান্য পৃচ্ছন্তি। কথন ?- । আভায-ভাষ্যানুবাদ। মদের প্রতি আচার্য পৰম্পৰা ক্রমে পাৰম্পৰ্যবোবক ঐতিতে প্রকাশিত এ এহ্মবিৎসমাজেও অত্যন্ত প্রস যে, ব্রহ্মবিদ-সবন দ্বাৰ। সৰ্ব্বাত্ম ভাবপ্রাপ্তিরূপ ফল, তাহা অবগত হইয়া, ইদানীন্তন মুমুক্ষু ব্ৰ ক্ষণগণ ও ব্রহ্মজিজ্ঞাসু হইয, সাধনাত্মক বা হেতুল- ভাবাপন্ন অনিত্য স সাব ও জাবভাব হই: বিমুক্তি লাভের উদ্দেশ্যে বিচাৰ কৰত পৰস্পৰেৰ প্রতি প্রঃ কবির। থাকেন। কি প্ৰকাৰ ? প্রশ্ন কবিয়া থাকেন, তাহা বলিতেছেন। কোহমায়েতি বয়নুপাহে কতরঃ স অত্য। যেন বা রূপং পশ্যতি যেন বা শব্দ শৃণোতি যেন বা গন্ধনিজি- ব্ৰতি যেন বাচং ব্যাকরোতি যেন বা স্বাদু চাস্বাদু চ বিজনাতি ॥ ৩০ | ১। সরলার্থ। আত্মোপাসক। ব্রাহ্ম। বিচাৰান্ত পৰম্পৰ, পৃচ্ছন্তি। তং প্রশ্ন প্রকারমাহ ‘কোহমায়েতি' ইতি। বর, ন ‘অন্ আত্মা’ ইতি উপাস্নহে, সঃ ক ? ইিতি স্বৰূপত প্রশ্ন । এতে ? সোপাপিকে। নিকপাধিক দে। আ ত্মানে এয়েতে, তয়ােমণ্যে ! সঃ (অস্ম হপস্থি: ) আত্ম কতবঃ (সােপ- ধিকে। নিরুপাবিকে বা)? | ইদানী স শয় প্রকাবো বিবিচ্যতে যেন (চক্ষু ভূতেন) বা রূপং পশ্যতি, যেন বা (শ্ৰোত্ৰভূতেন) শব্দ শৃণোতি, যেন বা ৮০ ঐতরেয়ােপনিষদ উক্ত দুইটীর মধ্যে, যাহাদ্বারা উপলব্ধি হইয়া থাকে, তাহা কখনও আত্মা হইতে পারে না। ভাল, সেই উপলব্ধিই বা কাহার দ্বারা হইয়া থাকে ? হা, বলিতেছি—চক্ষুর সহিত একীভাবাপন্ন যাহার দ্বারা রূপ নিরীক্ষণ করিয়া থাকে, শ্রোভাবাপন্ন যাহা দ্বারা শব্দ শ্রবণ করিয়া থাকে, ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের সহিত একীভূত যাহা দ্বারা গন্ধ আঘ্রাণ করিয়া থাকে, বাগিন্দ্রিয়স্বৰূপে যাহা দ্বারা ‘গাে, অশ্ব’ ইত্যাদি নামাত্মক, এবং উত্তম অধম বাক্য উচ্চারণ করিয়া থাকে, এবং জিহ্বাৰূপে যাহা দ্বারা স্বাদু ও অস্বাদু বস্তু অনুভব করিয়া থাকে ।৩০ ||১|| যদেরূদয়ং মনশ্চৈতৎ। সংজ্ঞানমিজ্ঞনিং বিজ্ঞানং প্রজ্ঞানং মেধা দৃষ্টিধৃতিৰ্ম্মতির্ম নষ। জতিঃ সঙ্কল্পঃ তুরঃ কামে বশ সর্বাণ্যেবৈতনি প্রজ্ঞান নামধেয়ানি ভবন্তি। ৩১ ॥ ২॥ স্মৃতি ইতি। সরলার্থ। [ তদেবং বাহেন্দ্রিয়াভিব্যক্তচৈতন্যেধাত্মভাবস শয়ং প্রদর্শ, ইদানীমন্তঃকরণ-তদ্বত্তিবিশেষাভিব্যক্তচৈতন্যেধাত্মতত্ত্বসংশয়মভি- প্রেত্যাহ—“বদেতদ হৃদয়” ইত্যাদি। যদেং হৃদয়ং ( বুদ্ধিঃ ), মনঃ চ ( মনে। বা, একমেব হি অন্তংকরণ, নিশ্চয়বৃত্যা বুদ্ধি, সংশয়বৃত্ত্যা চ মন উচ্যতে ইত্যর্থ: )। এতৎ (উক্ত অন্তঃকরণমেব বৃত্তিভেদেন) সজ্ঞানং (চেতনভাবঃ), আজ্ঞানং (আজ্ঞা—প্রভুত্ব), বিজ্ঞান বিজ্ঞপ্তিঃ-কলাবিজ্ঞান) প্রজ্ঞানং ( গ্রন্থার্থাদো বুদ্ধেকন্মেষঃ ), মেধা ( গ্রন্থাৰ্থধারণসামর্থম্ ), দৃষ্টি ( ইন্দ্রিয়জং জ্ঞানং ), ধৃতিঃ ( ধৈৰ্য্যম্-ব্যবসায়াদচলন), মতিঃ ( মননং কাৰ্যালােচন), মনীষা (তত্র স্বাতন্ত্রম্ ), জুতিঃ (রােগাদিজনিত- দুঃখিত্বম্ ), স্মৃতিঃ ( স্মরণ ), সংকল্পঃ ( নীলপীতাদিবিষয়বিকল্পন), ক্রতু ( অধ্যবসায়ঃ ), অসুঃ (প্রাণনাদি-জীবনব্যাপাবঃ), কামঃ ( অসন্নিহিতবিষয়ে- হভিলাষঃ ), বশঃ ( ভােগ্যবস্তু-বিষয়কোহভিলাষঃ ), এতানি (যথােক্তাঃ সংজ্ঞানাঙ্গা বৃত্তয়ঃ ) সৰ্বাণি এব প্রজ্ঞানস্য ( প্রজ্ঞানমাত্র শুদ্ধস্য ব্ৰহ্মণঃ ) নামখেয়ানি ( নামানিতত্তপাধিগত-বৃত্তিভেদজনিতানি, নতু সাক্ষাৎ ) ভবন্তি ৷৷ ৩১। ২ । মুলানুবাদ। [প্রথমতঃ বহিরিন্দ্রিয়ে অভিব্যক্ত চৈতন্যে ; তৃতীয়েহধ্যায়ে—প্রথমঃ খণ্ডঃ আত্মভাবসম্বন্ধে সংশয় প্রদর্শন করিয়া, এখন অন্তরিন্দ্রিয়ে অভিব্যক্ত চৈতন্যেও আত্মভাবসম্বন্ধে সন্দেহ প্রদর্শন করিতেছেন—]। এই যে, হৃদয়, মনও ইহারই নাম—অর্থাৎ একই অন্তঃকরণের দুইটী নামভেদ মাত্র। সংজ্ঞান-চেতনভাব অর্থাৎ যে বৃত্তির প্রভাবে প্রাণিগণ চেতন বলিয়া পরিচিত হয়, সেই বৃত্তি; আজ্ঞান—আজ্ঞা-প্রভুভাব, বিজ্ঞান-নৃত্যগীতাদি চতুঃষষ্টি- কলাবিষয়ক জ্ঞান, প্রজ্ঞান-প্রতিভা, মেধা-গ্রন্থার্থধারণক্ষমতা, দৃষ্টি —ইন্দ্রিয়জ বিষয়ােপলব্ধি, ধৃতি অর্থ—ধারণ—শরীদির অবসাদ- নিবারক উত্তম্ভন, মতি-মনন কর্তব্যচিন্তা, মনীষা-কৰ্তব্যচিন্তায় নিজের স্বাধীনতা, জুতি-নােগাদিজনিত দুঃখ, স্মৃতিস্মরণ, সংকল্প—শ্বেতপীতাদি বিষয়ক বিতর্ক, ক্রতু-অধ্যবসায় ( নিশ্চয়ত্মক জ্ঞান ), অসু—শ্বাস প্রশ্বাসাদি নিৰ্বাহক প্রাণবৃত্তি, কাম-তৃষ্ণা, বশ- মনােজ্ঞ বস্তুর স্পর্শাদি কামনা, এই সমস্তই অন্তঃকরণের বৃত্তি এবং এ সমস্তই ব্রহ্মের ঔপাধিক নামবিশেষ মাত্র ॥ ৩১ ॥ ২॥ শাভায্যম্। কিৎ পুনস্তদেকমনেক ভিন্নং করণমিতি ; উচ্যতে, যক্তং পুৰস্তাৎ প্রজানাং রেতাে হৃদয়, হৃদয় রেতে মনঃ, মনসা সৃষ্টা আপশ্চ বরুণশ্চ, হৃদয়ান্মননা মনসশ্চন্দ্ৰমাঃ, তদেবৈত হৃদয়ং মনশ্চ, একমেব তদনেকধা। এতেনান্তঃকরণেনৈকেন চক্ষুতেন রূপং পশ্যতি, শ্ৰোত্ৰভূতেন শৃণােতি ; ঘ্রাণভূতেন জিতি, বাগভূতেন বদতি, জিহ্বভূতেন রসয়তি, স্বেনৈব বিকল্পনারূপেণ মনসা বিকল্পয়তি, হৃদয়রূপেণাধ্যবস্থতি। তস্মাৎ সৰ্ব্বকরণবিষয়ব্যাপারকমেকমিদং করণং সৰ্ব্বেপলব্ধর্থমুপলব্ধ। তথা চ কৌষীতকীনাং “প্রজ্ঞয়। বাচং সমারুহ বাচা সৰ্বাণি নামান্যাপস্নাতি, প্রজ্ঞরা চক্ষুঃ সমারুহ চক্ষুষ। সৰ্বাণি রূপাণ্যাপ্নোতি” ইত্যাদি। বাজসনেয়কে চ “মনসা হেব পণ্ঠতি মনসা শৃণােতি, হৃদয়েন হি রূপাণি বিজানাতি” ইত্যাদি। তস্মাদ্ধৃদয়মনােবাচ্যস্ত সর্বোপলব্ধিকরণত্বং প্রসিদ্ধ। ত্মকশ্চ প্রাণঃ “যে বৈ প্রাণঃ, সা প্রজ্ঞা, যা বৈ প্রজ্ঞা, স প্রাণঃ” ইতি হি ব্রাহ্মণ। করণসহতিরূপশ্চ প্রাণ ইত্যবােচাম প্রাণসংবাদাদো। ১ তস্মাৎ যংপ্যাং প্রপদ্যত, তৎ ব্রহ্ম তদুপলব্ধরুপলব্ধিকরণত্বেন গুণভূতান্নৈব ৮২ ঐতরেয়ােপনিষদ • { তদ্বস্তু ব্ৰহ্মোপাস্য আত্মা ভবিতুমর্হতি। পারিশেষ্যা স্যোপলব্ধরুপলব্ধ্যৰ্থা এত হৃদয়মনােরূপস্য করণস্য বৃত্তয়াে বক্ষ্যমাণাঃ, স উপলব্ধা উপাস্য আত্মা নােস্মাকং ভবিতুমহতীতি নিশ্চয়ং কৃতবন্তঃ! তদন্তঃকরণােপাধিস্থদ্যোপলব্ধ প্রজ্ঞানরূপস্য ব্ৰহ্মণ উপলব্ধ্যর্থ যা অন্তঃকরণবৃত্তয়াে বাহান্তৰ্ব্বর্তিবিষয়বিষয়াঃ, তা ইমা উচ্যন্তে ২ সংজ্ঞানং সংজ্ঞপ্তিঃ চেতনভাবঃ ; আজ্ঞানম্ আজ্ঞপ্তিঃ ঈশ্বরভাবঃ ; বিজ্ঞানং কলাদিপরিজ্ঞানম্ ; প্রজ্ঞানং প্রজ্ঞপ্তিঃ প্রজ্ঞানং প্রজ্ঞপ্তি প্রজ্ঞতা ; মেধা গ্রন্থধারণসামর্থ্যম্ ; দৃষ্টি ইন্দ্রিয়দ্বারা সৰ্ব্ববিষয়ােপলব্ধিঃ ; ধৃতিঃ ধারণম্, অবসন্নানাং শরীরেন্দ্রিয়াণ যয়ােত্তম্ভনং ভবতি ; “ধৃত্যা শরীরমুহন্তি” ইতি হি বদন্তি। মতিঃ মন- নম্ ; মনীষা তত্র স্বাতন্ত্র্যম্ ; জুতিঃ চেতসো রুজাদিদুঃখিত্বভাবঃ ; স্মৃতি স্মরণম ; সঙ্কল্পঃ শুক্লকৃষ্ণাদিভাবেন সঙ্কল্পনং রূপদীনাম্ ; ক্রতুঃ অধ্যবসায় ; অসুঃ প্রাণনাদিজীবনক্রিয়ানিমিত্ত বৃত্তিঃ ; কামঃ অসন্নিহিতবিষয়াকা। বশঃ স্ত্রীব্যতিকরাদ্যভিলাষঃ ; ইত্যেমাদ্য অন্তঃকরণবৃত্তয়ঃ উপলব্ধ রুপ- লব্ধ্যর্থত্বাৎ শুদ্ধপ্রজ্ঞানরূপস্য ব্ৰহ্মণ উপাধিভূতাঃ, তদুপাধিজনিত-গুণনাম- ধেয়ানি সংজ্ঞাদীনি সৰ্ব্বাণ্যেবৈতানি প্ৰজ্ঞপ্তিমাত্রস্ত প্রজ্ঞানস্থ নামধেয়ানি ভবন্তি, ন স্বতঃ সাক্ষাৎ। তথাচোম “প্রাণন্নেব প্রাণাে নাম ভবতি” ইত্যাদি। ৩১ | ২ | ভাষ্যানুবাদ। পূৰ্ব্বে যে, একই করণ বা জ্ঞানসাধনকে অনেক- প্রকারে বিভিন্ন বলা হইয়াছে, সেই করণটী কে ? হাঁ, বলা হইতেছে। পূৰ্ব্ব শ্রুতিতে কথিত হইয়াছে যে, হৃদয়ই প্রণিগণের সার—হৃদয়ের সার মন ; অপ, ও তদধিদেবতা বরুণ মনের দ্বারা সৃষ্ট হইয়াছে ; এবং হৃদয় হইতে মন, মন হইতে চন্দ্রমা সৃষ্ট হইয়াছে। সেই এই হৃদয়ই মনও বটে অর্থাৎ একই অন্তঃকরণ উভয়রূপে প্রকটিত হইয়াছে। এই একই অন্তঃকরণ দ্বারা চক্ষুস্বরূপে রূপ দর্শন করে, শ্রোত্ররূপে শব্দ শ্রবণ করে, ঘ্রাণেন্দ্রিয়রূপে গন্ধ গ্রহণ করে, বাগিন্দ্রিয়রূপে শব্দ উচ্চারণ করে, জিহ্বারূপে রসাস্বাদন করে, এবং নিজের বিকল্পাত্মক মনােরূপে বিকল্পনা করে, ও বুদ্ধিরূপে অধ্যবসায় বা নিশ্চয় করে। অতএব এই এক অন্তঃকরণই সমস্ত ইন্দ্রিয়ের গ্রহণীয় বিষয়ে ব্যাপার নির্বাহ করত উপলব্ধা আত্মার সর্বপ্রকার উপলব্ধির সাধন ইইয়া থাকে। দেখ, কৌষীতকী ব্রাহ্মণে কথিত আছে প্রজ্ঞা দ্বারা বাগিন্দ্রিয়ে আরূঢ় হইয়া বাক্য দ্বারা সমস্ত নাম (শব্দ) প্রাপ্ত হয় অর্থাৎ শব্দোচ্চারণ তৃতীয়েহধ্যায়ে-প্রথম খণ্ডঃ কবি থাকে, প্রজ্ঞাদ্বা চক্ষুতে আরূঢ় হইযা চক্ষুদ্বাৰা সমস্ত রূপ দর্শন কবিযা থাকে’ ইত্যাদি। বাজসনেযক ব্রাহ্মণেও উক্ত আছে—মনঃ দ্বাবাই শ্রবণ কবে, এবং হৃদয় (মন) দ্বাবাই সমস্ত বিষষ অনুভব কবে’ ইত্যাদি। এই কাবণেই হৃদয় (বুদ্ধি ) ও মন: শব্দবাচ্য অন্তঃকবণেব সর্বপ্রকার জ্ঞান সাধনতা লােক প্রসিদ্ধ। প্রসিদ্ধ প্রাণও তদাত্মক অর্থাৎ অন্তঃকৰণ হইতে স্বতন্ত্র নহে , কাবণ, ব্রাহ্মণে ( উপনিষদে ) কথিত আছে যে, যাহা প্রাণ, তাহাই প্রজ্ঞা, আবাব যাহা প্রজ্ঞা, তাহাই প্রাণ। প্রাণ যে, অন্তঃকৰণসমষ্টি স্বরূপ, একথা আমবা ‘প্রাণ সংবাদ প্রভৃতি প্রকবণে বলিযাছি (১)। ১ অতএব, যাহা পদদ্বযেব সাহায্যে প্রবেশ কবিযাছিল, তাহাও ব্ৰহ্মই বটে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাহা উপলব্ধিকত্তা আত্মাব উপলব্ধিকৰণ অর্থাৎ অনুভবে উপায মাত্র , সুতবা, প্রধান বা মুখ্য নহে , অপ্রধানত্বনিবন্ধনই সেই গৌণ ব্রহ্ম কখনই উপাস্য আত্মা হইতে পাবে না। অতএব পাৰিশেষ্য নিয়মানুসাবে (২) ৩ (১) তাপয্য—এই প্রাণ ন্নি ভিন্ন ক্রিযানুনবে প্রাণ, অপান ব্যান, উদান ও সম—িএই পাচপ্ৰকাৰ নামভেদ প্রাপ্ত হইযাছে। উক্ত প্রাণ স্বৰূপতঃ বাযুব পরিণতি বিশেষ। ভাষ্যকার এখানে নিলেন 7ে উক্ত প্রাণ পদার্থ টী প্রকৃতপক্ষে অন্তঃকরণের সমষ্টি ব ন 7তিস্বরূপ। সা খ্যদর্শনকাব কপিল বলেন- স ম ন্যক বণবৃত্তিঃ প্রাণীদ্যা ব যবঃ প। অাৎ প্রণাদি যে পাঁচটী ব'ব ৩ হাব। বাযুব পবিণতি • হে, পবন্তু অন্তঃকবণত্রযেব ধাবণ বৃত্তি বা ব্যাপার মাত্র। যেমন একটী পঞ্জবমধ্যে কতক গুলি পক্ষী থাকিলে, তাহাদেব নিজ নিজ ক্রিযাব ফলে পঞ্জবটী স্পন্দিত হইয়া থাকে, অথচ সেই পঞ্জবটা নাডিবাব জন্য কেহহ পৃথক কোনরূপ ক্রিয। কবে না, তেমনি বুদ্ধি, অহঙ্কাব ও মন, এই তিনটী অন্তঃ- কবণ যথাক্রমে নিশ্চয়, অভিমান ও স কল্প কবিযা থাকে, ত হাতেই যে স্পন্দন উখিত হয়, সেই স্পন্দনের ফল-প্রাণ (২) তাৎপৰ্য-- পবিশেষ্য নিষ• এই প্রকা—যেখানে আপাততঃ অনেকের সম্বন্ধে কোন এক টী ধৰ্ম্ম বা গুণদিব ।স্তাবনা থাকা সত্ত্বেও অপর দলের প্রতিষেধের দ্বারা একটীতে সেই ধম্মটীব ব্যবস্থা কব। অবশ্য ক হয , অথচ তাহার জন্য আব কোন শব্দ প্রয়ােগেব আবশ্যকতা হয় না, ফলে ফলেই তাহা সিদ্ধ হয, তাহাকে ‘পারিশেষ্য নিয়ম বলা হয়। যেমন—পঞ্চ ভূতের মধে একটী ভূতে গন্ধ আছে, এই কথা বলিলে—আপাতত পঞ্চভূতেই গন্ধ থাকার আশঙ্কা হয়। কিন্তু যুক্তিদ্ব'র পৃথিবী ভিন্ন অপর চাবিভূতেই গন্ধ থাকা অসম্ভব বলিয়া সাব্যস্ত কবিতে পাবিলে, ফলতঃ পৃথিবীতেই যে, গন্ধ আছে, তাহা না বলিলেও সিদ্ধ হইয়া যায়।
৮৪ ঐতরেয়ােপনিষদ বুঝা যায় যে, যে উপলব্ধিকৰ্ত্তার ( আত্মার) উপলব্ধি-সাধনরূপে এই হৃদয় ও মনঃশব্দবাচ্য অন্তঃকরণের পশ্চাৎকথিত বৃত্তিসমূহ উৎপন্ন হইয়া থাকে, সেই উপলব্ধিকৰ্ত্তা আত্মাই আমাদের উপাস্য হইবার যােগ্য ; পূৰ্ব্বকথিত জিজ্ঞাসুগণ এইপ্রকার নির্ধারণ করিয়াছিলেন। সেই অন্তঃকরণে অবস্থানপূৰ্ব্বক উপলব্ধিকারী জ্ঞানস্বরূপ ব্রহ্মের উপলব্ধির জন্য বাহ্য ও আভ্যন্তরীণ বিষয়ে, যে সমুদয় অন্তঃকরণবৃত্তি উৎপন্ন হইয়া থাকে, এখন সেই বৃত্তিসমূহ ক্রমশঃ কথিত হইতেছে—২ • সংজ্ঞান অর্থ—সংজ্ঞপ্তি—যাহা দ্বারা চেতনতা নিরূপিত হয় ; আজ্ঞান অর্থ—আজ্ঞা—প্রভুভাব ; বিজ্ঞান অর্থনৃত্যগীতাদি কলাবিষয়ে জ্ঞান ; প্রজ্ঞান অর্থ—প্রজ্ঞতা অর্থাৎ সময়ােচিত বুদ্ধিস্ফুরণ—প্রতিভা ; মেধা অর্থ - গ্রন্থাৰ্থধারণের ক্ষমতা ; দৃষ্টি অর্থ-ইন্দ্রিয় দ্বারা সর্ববিষয়ের উপলব্ধি ; ধৃতি অর্থ—ধারণা অর্থাৎ অবসাদগ্রস্ত শরীর ও ইন্দ্রিয়সমুহের যাহা দ্বারা উত্তম্ভন বা উত্তেজনা হয় ; কারণ, ‘পণ্ডিতগণ বলিয়া থাকেন যে, ধৃতি দ্বারাই শরীর উদ্ধত করিয়া বহন করা হয়; মতি অর্থ-মনন ; মনীষা অর্থ-সেই মননকার্য্যে স্বাধীনতা জুতি অর্থ-রােগাদিজনিত মানস দুঃখ ; স্মৃতি অর্থ—স্মরণ ; সংকল্প অর্থ—রূপাদিবিষয়ে শুক্লকৃষ্ণাদিভাবে বিতর্ক ; ক্রতু অর্থ—অধ্যবসায় ; অসু অর্থ—জীবনের হেতুভূত প্রাণনাদি ব্যাপার ; কাম অর্থ— দূরবর্তী বিষয়ে অভিলাষ বা তৃষ্ণা ; বশ অর্থ-কামিনী-সমালিঙ্গনাদির অভিলাষ, এই জাতীয় অন্তঃকরণের বৃত্তিসমূহ সাধারণতঃ উপলব্ধিকর্তা আত্মার উপলব্ধির জন্যই উৎপন্ন হইয়া থাকে। সুতরাং উক্ত বৃত্তিসমূহ শুদ্ধ বিজ্ঞানাত্মক ব্রহ্মের উপাধিভূত গুণানুযায়ী নামধেয়, অর্থাৎ যথোক্ত সংজ্ঞান-প্রভৃতি সমস্ত বৃত্তিই শুদ্ধ জ্ঞানস্বরূপ ব্রহ্মের ঔপাধিক নাম মাত্র, কিন্তু সাক্ষাৎ নাম নহে। অন্যত্রও এই কথাই উক্ত হইয়াছে যে, ব্ৰহ্ম প্রাণন করেন বলিয়াই প্রাণ নামে পরিচিত হন’ ইতি ॥৩১২৷৷ এষ ব্ৰহ্মৈষ ইন্দ্র এষ প্রজাপতিরেতে সৰ্বে দেবা ইমানি চ পঞ্চ মহাভূতানি পৃথিবী বায়ুরাকাশ আপাে জ্যোতীষীত্যেতানী- মানি চ ক্ষুদ্ৰমিশ্রাণীব। বীজানীতরাণি চেতরাণি চাণ্ডজানি চ জারুজানি চ স্বেদজানি চোদ্ভিজ্জানি চাশ্বা গাবঃ পুরুষ হস্তিনাে তৃতীয়েহধ্যায়ে-প্রথম খণ্ড যৎ কিঞ্চেদং প্রাণি জঙ্গমং চ পতত্রি চ যচ্চ স্থাবর। সৰ্ব্বং তৎ প্রজ্ঞানেত্রং প্রজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিতং প্রজ্ঞানেত্রো লােকঃ প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠা প্রজ্ঞানং ব্ৰহ্ম ॥৩২৷৩৷৷ সৱােথ। এষঃ (যথাক্ত প্রজ্ঞানরূপ আত্মা ) [ এব) ব্রহ্ম (অপরং ব্রহ্ম) এষঃ ইন্দ্রঃ (স্বতঃ প্রকাশশীলঃ হিরণ্যগর্ভঃ, দেবরাজো বা), এষঃ প্রজাপতিঃ (প্রথমশরীরী), এষঃ এতে সৰ্ব্বে দেবাঃ (অগ্ন্যাদয়ঃ ), [ এষঃ ] ইমানি পঞ্চ মহাভূতানি—পৃথিবী, বায়ু, আকাশ, আপ, জ্যোতীংষি (তেজঃ ), ইমানি ক্ষুদ্ৰমিশ্রাণি ( ক্ষুদ্রৈঃ প্রাণিভিঃ মিশ্রাণি সমেতানি—সর্পাদীনি), কিঞ্চ, [ এষ এব ইমানি ইতরাণি বীজানি (কারণ- ভূতানি ) চ; ইতরাণি চ ( কাৰ্যরূপাণি অপি), অণ্ডঙ্গানি (পক্ষিসর্পাদীনি) চ, জারুজানি জরায়ুভ্যো জাতানি মনুষ্যাদীনি) চ, স্বেদজানি (যুকমশকাদীনি) চ, উদ্ভিজ্জ্বানি (ভূমিমুদ্ভিদ্য জাতানি তরু গুল্মদীনি) চ, অশ্বা, গাবঃ, পুরুষ, হস্তিন, [ প্রাগুক্তানামে উদাহরণরূপেণ অশ্বাদীনামুলেখাে মন্তব্যঃ ]। [ কিং বহুন। ] যং কিঞ্চ (যৎ কিমপি) ইদং জঙ্গমং চ পতত্রি চ প্রাণি, যৎ চ ( যদপি) স্থাবরং ( স্থিতিশীল ), তৎ সৰ্ব্বং প্রজ্ঞানেত্রং—প্রজ্ঞানে নিরুপাধিকে চৈতন্যে) প্রতিষ্ঠিতং ( রজ্জে সইব অধ্যস্তম্), লােকঃ ( প্রাণিসংঘঃ) প্রজ্ঞা- নেত্রঃ ( প্রজ্ঞা—জ্ঞানং নেত্রং ব্যবহারহেতুভূতং যস্য, সঃ), তথা প্রজ্ঞা (চৈতন্য) প্রতিষ্ঠালয়স্থানং) [ সৰ্ব্বস্ত লােকস্থ্য ইতি শেষ । [ এভিঃ পদৈঃ চৈতন্যস্য সৃষ্টিস্থিতিহেতুত্বমুক্তম্ । তমাং] প্রজ্ঞানম্ [ এব ] ব্ৰহ্ম ( ব্ৰহ্মণ এব সৃষ্টিস্থিতিহেত্বাবধারণাৎ ) ইত্যর্থঃ ॥৩২৷৩৷৷ মূলানুবাদ। উক্ত প্রজ্ঞানস্বরূপ আত্মাই ব্ৰহ্ম, ইনিই ইন্দ্র, ইনিই প্রজাপতি, ইনিই এই সমস্ত দেবতা, এই সমস্ত পঞ্চভূত, পৃথিবী, বায়ু, আকাশ, জল ও তেজঃ এবং এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণি- দেহ সহকারে সমস্ত বীজ (কারণভূত) ও তদ্ভিন্ন (অকারণ ভূত নিখিল দেহ ), সমস্ত অণ্ডজ, জরায়ুজ, স্বেদজ (মশকাদি), উদ্ভিজ্জ (বৃক্ষলতা প্রভৃতি), অশ্ব, গে, পুরুষ, হস্তী, অধিক কি, এই মনুষ্য পক্ষী প্রভৃতি যাহা কিছু জঙ্গম ও স্থাবর, সেই সমস্তই প্রজ্ঞানেত্র অর্থাৎ নিরুপাধিক ব্ৰহ্ম চৈতন্যে প্রতিষ্ঠিত, তাহা হইতে সমুৎপন্ন, সমস্ত লােকই প্রজ্ঞানে = ঐতরেয়ােপনিষদ অবস্থিত, এবং প্রজ্ঞানই তাহাদের লয়স্থান ; অতএব প্রজ্ঞানই ব্রহ্ম ॥৩২৷তা|| শাঙ্করভাষ্যম। স এষ প্রজ্ঞানরূপ আত্মা ব্ৰহ্ম অপরং, সৰ্ব্বশরীরস্থঃ প্রাণঃ প্রজ্ঞাত্মা অন্তঃকরণােপাধিধনুপ্রবিষ্টো জলভেদগতসূৰ্যপ্রতিবিম্ববং হিরণ্যগর্ভঃ প্রাণঃ প্রজ্ঞাত্মা। এষ এব ইন্দ্ৰঃ গুণাৎ, দেবরাজো বা । এষঃ প্রজাপতিঃ, যঃ প্রথমজঃ শরীরী, যতাে মুখাদিনির্ভেদদ্বারেণগ্ন্যাদয়ে লােকপালা জাতাঃ, স প্রজাপতিরেষ এব । যেহপ্যেতে অগ্ন্যাদয়ঃ সৰ্বে দেবা এষ এব । ইমানি চ সৰ্ব্বশরীরােপাদানভূতানি পঞ্চ পৃথিব্যাদীনি মহাভূতানি অন্নান্নাত্ব- লক্ষণানি এতনি। কিঞ্চ, ইমানি চ ক্ষুদ্ৰমিশ্রাণি ক্ষুদ্রৈরল্পকৈম্মি শ্রাণি, ইব- শব্দোহনর্থক, সর্পাদীনি ।১ বীজানি কারণানি, ইতরাণি চেতরাণি চ দ্বৈবাশ্যত্বেন নিৰ্দিশমানানি । কানি তানি? উচ্যন্তে—অণ্ডজানি পক্ষ্যাদীনি, জাকজানি জবাফুজানি মনুষ্যাদীনি, স্বেদজানি যুকাদীনি, উদ্ভিজ্জানি চ বৃক্ষাদীনি । অশ্বাঃ গাবঃ পুরুষাঃ হস্তিনঃ অন্যচ্চ যৎ কিঞ্চেদং প্রাণি। কিং তৎ? জঙ্গমং যচ্চলতি পদ্ভ্যাং গচ্ছতি, যচ্চ পতত্রি আকাশেন পতনশীলম্ ; যচ্চ স্থাবরম্ অচলম্ ; সৰ্ব্বং তদশেষতঃ প্রজ্ঞানেত্রম্ ; প্রজ্ঞপ্তি প্রজ্ঞা, তচ্চ ব্ৰহ্মৈব, নীয়তে (সত্তা প্রাপ্যতে) অনেনেতি নেত্র, প্রজ্ঞা নেত্রং যস্ত, তদিদং প্রজ্ঞানেত্রম্ ; প্রজ্ঞানে ব্রহ্মন্যুৎপত্তি- স্থিতিলয়কালেষু প্রতিষ্ঠিত, প্রজ্ঞাশ্রয়মিত্যর্থঃ । প্রজ্ঞানেত্রো লােকঃ, পূৰ্ব্ববৎ ; প্রজ্ঞাচক্ষুব্বা সৰ্ব্ব এব লােকঃ। প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠা সৰ্বস্ত জগত। তস্মাৎ প্রজ্ঞানং ব্রহ্ম।২ তদেতৎ প্রত্যস্তমিতসৰ্বোধিবিশেষং সং নিরঞ্জনং নিৰ্ম্মলং নিস্ক্রিয়ং শান্তমেকমন্বয়ং “নেতি নেতি” ইতি সবিশেষাপােহসংবেদ্যং সৰ্ব্বশব্দপ্রত্যয়- গােচরং তদত্যন্তবিশুদ্ধপ্রঙ্কেপাধিসম্বন্ধেন সৰ্ব্বজ্ঞমীশ্বরং সৰ্বসাধারণব্যাকৃত- জগদ্বীজ প্রবর্তকং নিয়ন্ত্বদন্তর্যামিসংজ্ঞং ভবতি, তদেব ব্যাকৃত-জগদ্বীজভূত- বুদ্ধ্যাত্মাভিমানলক্ষণং হিরণ্যগর্ভসংজ্ঞং ভবতি। তদেবান্তরণ্ডোদ্ভূত-প্রথম- শরীয়ােপাধিমদ্বিরা-প্রজাপতিসংজ্ঞং ভবতি । তদুছ্তাগ্ন্যাদুপাধিমদ্দেবতা- সজ্ঞং ভবতি। তথা বিশেষশরীবােপাধিপি ব্ৰহ্মাদিস্তম্বপৰ্যন্তে তত্তন্নামরূপ- লাভে ব্ৰহ্মণঃ। তদেবৈকং সর্বোপাধিভেদভিন্নং সর্বৈঃ প্রাণিভিস্তার্কিকৈশ্চ সৰ্ব্বপ্রকারেণ জ্ঞায়তে বিকল্পতে চানেকধা। “এতমেকে বদন্ত্যগ্নিং মনুমন্যে তৃতীয়েহধ্যায়ে—প্রথম খণ্ড ৮৭ প্রজাপতিম্। ইন্দ্রমেকেহপরে প্রাণমপরে ব্রহ্ম শাশ্বত ইত্যাদ্যা স্মৃতিঃ ॥৩২৷৩৷৷ ভাস্থানুবাদ। সেই এই প্রজ্ঞানস্বরূপ আত্মারই অপর ব্রহ্ম (সােপাধিক ব্রহ্ম); ইহাই সৰ্বশরীরবর্তী প্রাণ ও প্রজ্ঞা এবং বিভিন্ন জলভাজনগত সূৰ্য্যপ্রতিবিম্বের ন্যায় ইহাও অন্তঃকরণরূপ উপাধিমধ্যে প্রবিষ্ট হইয়া হিরণ্যগর্ভ প্রাণ ও প্রজ্ঞায়া। ইন্দ্ৰশব্দের যােগার্থানুসারে হিরণ্যগর্ভ কিংবা সাক্ষাৎ দেবরাজ অর্থ ও গ্রহণ করা যাইতে পাবে । ইনিই প্রজাপতি, যিনি প্রথমেৎপন্ন শরীরধারী পুরুষ ; যাহার মুখরঞ্জাদি প্রকটনেব ফলে লােকপাল ইন্দ্র, অগ্নি প্রভৃতি সমুৎপন্ন হইয়াছেন, সেই প্রজাপতিও ইনিই এব, এই যে, অগ্নি প্রভৃতি দেবতাবৃন্দ, তাহাবাও ইনিই অর্থাৎ এতৎস্বরূপই বটে। আর এই যে, সমস্ত শবীরের উপাদানৰূপে এবং অন্ন ও অন্নভােৰূপে পরিণত ক্ষিত্যাদি পঞ্চ মহাভূত, ইহাবা, এবং মশকাদি ক্ষুদ্র প্রাণি-সহকৃত সর্প প্রভৃতি। বীজ ও অবীজ ; বীজ অর্থ কারণ—কাৰ্যোৎপাদক, অবীজ অর্থ-কার্যের অনুৎপাদক, এই দুই ভাগে বিভক্ত যে সমুদয় প্রাণী। সেই সমুদয় প্রাণী কাহারা ? বলা হইতেছে—অণ্ডজ—পক্ষি প্রভৃতি, জাকজ—জরাযুজ মনুষ্য প্রভৃতি, স্বেদজ—মূক প্রভৃতি, উদ্ভিজ্জ—বৃক্ষলতা প্রভৃতি। অশ্ব, গে, পুরুষ ও হস্তিপ্রভৃতি, আরও যে কিছু প্রাণী। ত হ কি কি ? না, জঙ্গম—যাহারা পাদ দ্বারা গমন করিয়া থাকে ; আর পতত্রি, যাহারা আকাশপথে বিচরণ করিয়া থাকে ; যাহা স্থাবর অর্থাৎ চলনশক্তিহীন ; সে সমুদয়ই জ্ঞানেত্র। প্রজ্ঞা অর্থ- প্রকৃষ্ট জ্ঞান, তাহা নিশ্চিতই ব্রহ্মস্বরূপ ; নেত্র অর্থ—যাহা দ্বার। নীত হয় ( সত্তালাভ হয়)। সেই প্রজ্ঞা যাহাব নেত্র, তাহার নাম প্রজ্ঞানেত্র ; স্থিতি ও লয়, এই কালত্ৰয়েই যাহা প্রজ্ঞাস্বরূপ ব্রহ্মে অবস্থিত অর্থাৎ প্রজ্ঞাতে আশ্রিত ; [ এই জন্যই উহাবা প্রজ্ঞানেত্র ]। লােক অর্থাৎ ভূরাদি লােকও প্রজ্ঞানেত্র; অথবা প্রজ্ঞাই সমস্ত জগতের প্রতিষ্ঠা বা স্থিতিব নিদান; সেই কারণে উহারা প্রজ্ঞান ব্ৰহ্মস্বরূপ। সেই যে, এই সৰ্বোপাধিবিনিম্মুক্ত নিত্য নিরঞ্জন নিৰ্ম্মল ও নিস্ক্রিয় [ অতএব ] শান্ত এক অদ্বিতীয় ; “নেতি নেতি” প্রণালী ক্ৰমে সমস্ত বিশেষণ-পরিত্যক্তরূপে বিজ্ঞেয় এবং শব্দজন্য সর্বপ্রকার জ্ঞানের অগােচর ব্রহ্ম, তাহাই আবার অত্যন্ত বিশুদ্ধ বুদ্ধিসত্ত্বৰূপ উপাধিসম্পর্ক বশতঃ সৰ্বজ্ঞ উৎপত্তি, ;
৮৮ ঐতরেয়ােপনিষদ ঈশ্বরভাবে সৰ্ব্বজীবভােগ্য সমস্ত অব্যক্ত জগতেব প্রবর্তক বা আবির্ভাবেব কাবণ এবং সৰ্ব্ববস্তুব নিয়ামকৰূপে অন্তর্যামী সংজ্ঞায় অভিহিত হইয়া থাকেন। তিনিই আবার যখন ব্যক্ত জগতেব বীজভূত (অঙ্কুবাবস্থা) বুদ্ধাদি উপাধিতে অভিমনি স্থাপন কবেন, তখন হিবণ্যগর্ভ সংজ্ঞালাভ কবেন। তিনিই আবাব ব্রজ্ঞামধ্যে প্রথম সমুদ্ভূত শবীবাভিমানী হইযা বিবা ও প্রজাপতি সংজ্ঞা লাভ কবি থাকেন। তিনিই আবাব অভিব্যক্ত অগ্নিপ্রভৃতি উপাধিবিশেষযােগে দেবতানামে অভিহিত হইযা থাকেন । এইরূপ ব্রহ্ম হইতে আবম্ভ কবি তৃণপৰ্যন্ত বিশেষ বিশেষ শবীবসম্বন্ধ বশতঃ সেই ব্রহ্মেবই বিশেষ বিশেষ নাম লাভ হইয়া থাকে। নানা প্রকাব উপাধিভেদে ভিন্ন প্রকাব সেই ব্রহ্মকেই সমস্ত প্রাণী ও তার্কিকগণ বিভিন্ন প্রকাবে অবগত হন এবং নানাকাবে তাহাব বিকল্পনা কবি থাকেন। মনুস্মৃতি বলিযাছেন—একশ্রেণীব লােকেবা ইহাকে অগ্নি বলিযা নির্দেশ কবেন , অপবে প্রজাপতি মনু বলিযা বর্ণনা কবেন , কেহ কেহ ইন্দ্র বলেন , কেহ বা প্রাণ বলেন , কেহ আবাব শাশ্বত (নিত্য) ব্ৰহ্ম বলিষও জানেন’ ইত্যাদি ॥৩২৷৩৷ স এতেন প্রজ্ঞেনাত্মনাস্মাল্লোকদুৎক্ৰমামুস্মিন্ স্বর্গে লােকে সৰ্বান্ কামানাপ্তামৃতঃ সমভবৎ সমভবৎ ॥৩৩৪৷ ইতি তৃতীয়াধ্যায়ে প্রথম খণ্ডঃ ॥৩৷৷৷৷৷ ইত্যৈতরেয়োপনিষদি তৃতীয়ােহধ্যায়ঃ সমাপ্তঃ ॥৩৷৷ ইত্যৈতরেয়দ্বিতীয়ারণ্যকে ষষ্ঠোহধ্যায়ঃ ॥৬৷৷ সরলার্থঃ। [ অথ তত্ত্বজ্ঞানফলমুপসংহবতি ‘স এতেন ইত্যাদি।] [ যঃ প্রজ্ঞানং ব্রহ্মেতি বিবেদ ] সঃ (বামদেবঃ) এতেন (যথােক্তেন) প্রজ্ঞেন (চৈতন্যস্বৰূপেণ) আত্মনা (স্বমবিভূতিচৈতন্যস্বভাবঃ সন্ ইত্যর্থঃ ), অস্মাৎ লােকাং উৎক্রম্য (বর্তমানং দেহং পবিত্যজ্য) অমুস্মিন্ স্বর্গে লােকে সৰ্বান্ কামান্ আপ্তা (পূর্ণকামাে ভূত্ব) অমৃতঃ (কৈবল্যং প্রাপ্তঃ ) সমভবৎ। দ্বিরুক্তিবধ্যাযসমাপ্ত্যৰ্থা ॥৩৩৪। মূলানুবাদ। [ এখন তত্ত্বজ্ঞানের ফলােপসংহার করিতেছেন], যিনি [ ‘প্রজ্ঞানং ব্রহ্ম’ বলিয়া জানিয়াছিলেন, ] সেই বামদেব উক্ত চৈতন্যাত্মস্বরূপে ইহলােক হইতে উৎক্রমণের অর্থাৎ দেহত্যাগের পর ৮৯ তৃতীয়েহধ্যায়ে—প্রথম খণ্ড স্বর্গলােকে সমস্ত কামফল প্রাপ্ত হইয়া চরম মুক্তি লাভ করিয়াছিলেন। অধ্যায়সমাপ্তিসূচনাৰ্থ সমভবৎ’ কথার দ্বিরুক্তি করা হইয়াছে ॥৩॥৪৷৷ সেয়মল্পপদোপেতা শ্ৰীশঙ্করমতে স্থিতা। শ্রীদুর্গাচরণস্তা সরলা স্যাৎ সতাং মুদে। ইতি তৃতীয়াধ্যায়ে প্রথমখণ্ডব্যাখ্যা সমাপ্তা ॥৩॥১॥ ইত্যৈতরেয়ােপনিষদি তৃতীয়ােহধ্যায়ঃ সমাপ্তঃ ॥৩৷৷ শঙ্করভাষ্যম।–স বামদেবােহন্যো বা এবং যথােক্তং ব্রহ্ম বেদ, প্রজ্ঞেনাত্মনা, যেনৈব প্রজ্ঞেনাত্মনা পূৰ্বে বিদ্বাংসসহমৃতা অভূবন, তথা অয়মপি বিদ্বানেতেনৈব প্রজ্ঞেনাত্মনা অস্মাল্লোকাং উৎক্ৰম্যেত্যাদি ব্যাখ্যাত। অল্লোকাংক্ৰমামুস্মিন্ স্বর্গে লােকে সৰ্বান্ কামান্ আপ্ত। অমৃতঃ সভবং সমভবদিত্যোমিতি ॥৩৩৪। ইতি শ্রীমৎপরমহংসপরিব্রাজকাচাৰ্য্যস্ত শ্রীগােবিন্দভগবৎপূজ্যপাদশিষ্যস্থ শ্রীমঙ্করভগবতঃ কৃতো ঐতরেয়ােপনিষদ্ভাষ্যে তৃতীয়ােহধ্যায়ঃ সম্পূর্ণঃ ॥৩ ঐতরেয়ােপনিষদভাষ্যং সমাপ্তম্ । { ওঁ তৎ সৎ। ভাষ্যানুবাদ। সেই বামদেব কিংবা অন্য যে কেহ উক্তপ্রকার ব্ৰহ্মকে প্রজ্ঞাত্মারূপে-চৈতন্থায়ুস্বরূপে জানিয়াছিলেন, অর্থাৎ পূর্ধ্বতন জ্ঞানিগণ, যে প্রজ্ঞাত্মজ্ঞানবলে যেৰূপে অমৃত হইয়াছিলেন, এই বিদ্বান পুরুষ ও ঠিক সেইরূপেই এই প্রজ্ঞ আত্মস্বৰূপে, এই বর্তমান লােক হইতে উৎক্রান্ত হইয়া—ইত্যাদি বাক্য পূর্বেই ব্যাখ্যাত হইয়াছে। এই লােক হইতে উৎক্রান্ত হইয়া ঐ স্বর্গলােকে সমস্ত কামােপভােগ প্রাপ্ত হইয়া অমৃত হইয়াছিলেন অর্থাৎ মুক্তি লাভ করিয়াছিলেন ॥৩৩৪। ইতি তৃতীয়াধ্যায়ে প্রথমখণ্ডের ভাষ্যানুবাদ ॥৩১ ইতি শ্রীমৎপরমহংসপরিব্রাজকাচাৰ্য পূজনীয় শ্রীগােবিন্দের শ্রেষ্ঠশিষ্য শ্রীমৎশঙ্করভগবৎকৃত ঐতরেয়ােপনিষদের ভাষ্যানুবাদ সমাপ্ত || ওঁ বামে মনসি প্রতিষ্ঠিত মনাে মে বাচি প্রতিষ্ঠিত মাবিরাবাম এধি। বেদস্য ম আণী স্থঃ শ্রুতং মে মা হাসীঃ। অনেনাধীতেনাহোরাত্ৰান্ সন্দধামৃতং বদিষ্যামি। সত্যং ঐতরেয়ােপনিষদ বদ্যিামি। তম্মামবধু। তদ্বক্তারমতু। অবতু মানবতু বক্তার- মবতু বক্তারা ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ ॥ ওঁ । [ অথােত্তরাশান্তিঃ] ও উদিতঃ শুক্রিয়ং দধে। তমহমাত্মনি দুধে। অনু মামৈ- ত্বিন্দ্ৰিয়ম্ ময়ি শ্রীময়ি যশঃ সৰ্বঃ সপ্রাণঃ সবলঃ। উত্তিষ্ঠাম্য মা শ্ৰীঃ। উত্তিষ্ঠত্বনু মায়ন্ত দেবতঃ। অদক্কং চক্ষুরিযিতম্ মনঃ। সূৰ্য্যো জ্যোতিষাং শ্রেষ্ঠো দীক্ষে মা মা হিংসীঃ। তচক্ষুদে বহিতং শুক্ৰমুচ্চরৎ। পশেম শরদঃ শত জীবেম শরদঃ শতম্। ত্বমগ্নে ব্রতপা অসি। দেব আ মর্ত্যেধা। ত্বং যজ্ঞেীড্যঃ ॥ ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ। ইত্যৈতরেয়ােপনিষদ্ সমাপ্তা || BIKRAM BIR HARAMA L' RARV COLLEGE *#rta1.. Printed by K, P. Nath at the Nath Brothers' Printing Works, 6, Chaldabagan Lane, Calcutta.
No text on this page.
'- BIKA BIR আমাদের ধর্মগ্রন্থ বিভাগ }, {}. মহামহােপাধ্যায় পণ্ডিত Agartala. দুর্গাচরণ সাংখ্য-বেদান্ততীর্থ সম্পাদিত উপনিষদ হ ঈশ, কেন, কঠ (একত্রে) ২৮০ তৈত্তিরীয় ২য় খণ্ড দ মুণ্ডক- বৃহদারণ্যক ১৪, মাণ্ডুক্য- ( ৪ খণ্ডে সম্পূর্ণ ) প্রশ্ন- ছান্দোগ্য- ৮ ঐতরেয়- (২ খণ্ডে সম্পূর্ণ ) তৈত্তিরীয় ১ম খণ্ড ১০। শ্বেতাশ্বতরােপনিষদ— ১০ মহামহােপাধ্যায় প্রমথনাথ তর্কভূষণ নৃত্যগােপাল রুদ্র এম-এ, বেদান্তরত্ন সম্পাদিত সম্পাদিত শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৪৷” । বেদান্ত ভাষ্য ১ সৰ্ব্ববেদান্ত সিদ্ধান্ত সার সুদর্শন দাস বি, এল প্রণীত সংগ্রহ- য়্যানীবেসাণ্ট জীবনী দ পণ্ডিত অক্ষয়কুমার শাস্ত্রী প্রণীত উপদেশ সহস্রী- ল, কলেজ অধ্যাপক মােহিনীমােহন পণ্ডিত কালীবর বেদান্তবাগীশ চক্রবর্তী প্রণীত সম্পাদিত ব্ৰজে চৌরাশী ক্রোশ বন বেদান্তদর্শন- পরিক্রমা ॥ (৪ খণ্ডে সম্পূর্ণ ) শ্রীরামদেব স্মৃতিতীর্থ প্রণীত নগেন্দ্রনাথ বাচস্পতি প্রণীত যজুৰ্বেদীয় দশকৰ্ম্মবিধি ॥ বিশুদ্ধ আহ্নিককৃত্য ত্রিবেদীয় সন্ধ্যাবিধি- | বিশুদ্ধ নিত্যকর্ম পদ্ধতি দ ১০১
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.