Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Jatiyo Sangeet Ed. 2nd
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
জাতীয় সঙ্গীত
“মােগল অদৃষ্ট” ও “হুমায়ুন” প্রভৃতি ঐতিহাসিক নাটক প্রণেতা
শ্ৰীঅক্ষয় কুমার রায়
প্রণীত
২য় সংস্করণ
কলিকাতা
ষ্ট্যাণ্ডার্ড বুক সােসাইট
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ]
৬৯নং হারিসন রােড।
প্রকাশক
শ্ৰীঅক্ষয় কুমার রায়
ষ্ট্যাণ্ডার্ড
বুক সােসাইটী
৬৯নং হারিসন রােড, কলিকাতা
১৩৪৫ সাল
মূল্য এক টাকা
প্রিন্টার—ঐফণিভূষণ রায়
প্রবর্তক প্রিন্টিং ওয়ার্কস্
৫২-৩, বহুবাজার স্ত্রীট,
কলিকাতা।
উৎসর্গ
এই বইখানি
স্বর্গীয়া
মাতৃদেবীর
পাদপদ্মে
ভক্তি ভরে
উৎসর্গীকৃত
হইল
No text on this page.
নিবেদন। এই কয়টী জাতীয় সঙ্গীত পুস্তকাকারে মুদ্রিত করে সাহিত্য জগতে রচয়িতা বা গ্রন্থকার বলে পরিচিত হবার ইচ্ছা হৃদয়ে কখনও জাগেনি। নিভৃত চিন্তা নিভৃতের আঁধারেই বিলীন হত। এইরূপ আরও কত নিভৃত চিন্তা যে ভাবে সাহিত্য জগতের অন্তরালে আজও লুকিয়ে আছে ও প্রকাশিত হবার স্পর্ধা করে না এরাও তাই থাকতাে। এই সঙ্গীত কয়টী বন্ধুবর্গের মধ্যে যারা পূৰ্বে শুনেছেন তারা সকলেই পুস্তকাকারে উহা প্রকাশের জন্য বিশেষ অনুরােধ ও উৎসাহিত করেছেন। কিন্তু তাদের সে অনুরােধ তখন রক্ষিত হয়নি। তার কারণ, সাহিত্যিকের কর্তব্য বিরাট দায়িত্ব পূর্ণ। বাস্তবিক, সাহিত্যই জাতির প্রাণ, জাতীয় জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। যদি তার ধারা উচ্চ আদর্শের না হয়, তাহলে সে সাহিত্য জাতীর জীবন গঠনে মঙ্গল অপেক্ষা অধিক অমঙ্গলকর হয়। এই ধারণার বশবর্তী হয়ে ভাবও চিন্তা সাহিত্যজগতের অন্তরালে রেখেছি। কিন্তু মানুষ নিজ ইচ্ছানুযায়ী অতি অল্প কাযই এজগতে করতে পারে। অনন্ত শক্তিময়ী জগন্মাতার ইচ্ছাশক্তি আমাদের ক্ষুদ্র আমিত্বের গৰ্ব ভেঙ্গে দিয়ে এ সত্য সৰ্ব্বদাই আমাদিগকে উপলব্ধি করাচ্ছে। তাই বন্ধুবর্গের পূর্বের যে অনুরােধ এতদিন রক্ষিত হয়নি, আজ তা কাযে পরিণত হলাে। সম্প্রতি জনৈক দেশসেবক ও সাহিত্যিক বন্ধু এই গানগুলি পুস্তকাকারে প্রকাশ করার জন্য আমাকে বিশেষ অনুরােধ করেন এবং জাতীয় মহাসমিতির অধিবেশনের সময় এইরূপ জাতীয় সঙ্গীত মুদ্রিত হলে অর্ঘ্যরূপে মাতৃ-
y০
চরণে স্থান পাবে এই যুক্তি দেন। তাঁর এ অনুরােধ আমি উপেক্ষা
পারিনি। এ জন্য তার নিকট আমি কৃতজ্ঞ।
বাস্তবিকই যদি জননী জন্মভূমির এ মহাপূজায় এই গানগুলি
মাতৃচরণে অর্ঘ্যস্বরূপে স্থান পায়, তাহলে শ্রম সার্থক মনে করবাে।
৬নং সুবল চন্দ্র লেন,
কলিকাতা।
অক্ষয় কুমার রায়
২৪শে ডিসেম্বর, ১৯২৮
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা দশ বছর আগে কলিকাতায় যখন জাতীয় মহাসমিতির অধিবেশন হয় তখন এই বইয়ের প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়। তখন তাতে ছিল ১৬টী জাতীয় গান। ঐ গানগুলি তখন ইংরাজী ও বাংলা সংবাদপত্রে অতি উচ্চভাবে প্রশংশিত হয় এবং পাঠকের নিকটও অভাবনীয় আদর পায়। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই প্রথম সংস্করণ নিঃশেষিত হয়। গান- গুলি সংবাদপত্র ও পাঠকের নিকট যে এত অধিক প্রসংশা ও আদর পাবে তা পূৰ্বে কখনও ধারণা করতে পারিনি। দ্বিতীয় সংস্করণের আবশ্যকতা তখনই অনুভব করি। কিন্তু সময়ের অভাবে এতদিন তা হয়নি। সেই ১৬টিগান ও..পরে রচিত অপর ৪৪টী এই মােট ৬০ টী জাতীয় সঙ্গীত সন্নিবেশিত হয়ে দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হল । জন্মভূমি, স্বদেশ, জাতীয়তা, জাতীয় ভাবধারা ও কৃষ্টি, ভারতবর্ষ এবং বাংলাদেশ নিয়েই গানগুলি রচিত। প্রত্যেকটা গান ভিন্ন ভাবের। বিশ্ব সাহিত্যে একজনের রচিত ভিন্ন ভাবের ৬০ টী জাতীয় সঙ্গীত কোন পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়েছে কিনা তা জানা নেই। জনসমষ্টি জাতির প্রাণে জাতীয়তার স্পন্দনই কোন জাতিকে বিশ্বের জাতি সমাজে তার মর্যাদা লাঘব হতে দেয় না। আভ্যন্তরীন বা বাহিরের প্রবল প্রভাব এসে যখন সে স্পন্দন বা জাতীয় ভাবধারার উপলব্ধির পথে অন্তরায় হয়ে দাড়ায়, তখনই আসে সে জাতির দুর্দিন। সে জাতি হয় তখন আত্মবিস্মৃত। তার অতীতের প্রতিষ্ঠা ও গৌরব ০ জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে যায় সে ভুলে। অপরের কৃষ্টি ও জাতীয় ভাবধারার নিকট সহজেই হয় সে তখন নতশির। জাতির সে ঘাের দুর্দিনে জাতীয় সাহিত্যই হয়ে থাকে তার অগ্রগতির পথ প্রদর্শক। সেই জাতির মুক্তি তখন অনেক অংশেই নির্ভর করে তার সাহিত্যের জাতীয় ধারা ও অগ্রগতির উপর। শুধু অগ্রগামী জাতীয় সাহিত্যই যে জাতির প্রাণে জাতীয়তা সঞ্জীবিত করতে পারে এ অবিসম্বাদী সত্য। কিন্তু কোন জাতির সাহিত্য হয় যখন সেই মহান আদর্শ ভ্রষ্ট এবং জাতীয় ভাব ও ধারার দিকে মনােযােগ না দিয়ে মানবীয় মনোবৃত্তির শুধু অপর সমুদয় ভাবগুলি নিয়েই নিয়ত করে নাড়াচাড়া ও জাতিকে পরিবেশন তখন সেই জাতির লক্ষ্য, আশা ও ভরসা যায় অনেকটা দুরে পিছিয়ে। সঙ্গীতও কাব্য এবং সাহিত্যের একটা প্রধান অঙ্গ, যদি তা কাব্যের নিয়ম ও ধারা মেনে হয় রচনা। সেও শ্রেষ্ঠতম কাব্য হয়ে দাড়ায় যখন তার ভাব ও ভাষা হয় আদর্শ ও জাতির প্রগতিপন্থী। বিশ্ব সাহিত্যে তার প্রমাণের অভাব নেই। বিশ্বের জাতি মাঝে আজ যদি কোথায়ও জাতীয় সঙ্গীতের অধিকতর প্রয়ােজন হয়ে থাকে তবে তা যে এই ভারতভূমে তা নিশ্চয় করে বলা চলে। ব্যক্তিগত বা জাতীয় জীবনে আত্মবিস্মৃতিই জাতীয়তার পূর্ণ বিকাশের অন্তরায়। জাতীয় ইতিহাস পাঠে জাতির হৃদয়ে পূর্ব গৌরব ও প্রতিষ্ঠা জেগে উঠে তা অনেকটা দূর করে। মুক্তিকামী জাতি হয় তখন পূর্ব গৌরব ও প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাকুল। জাতীয় অগ্রগতির সাহিত্য ছাড়া শুধু প্রেম, সামাজিক ও ধর্মমূলক সাহিত্য তখন আর পারে না তাকে আনন্দ দিতে। সঙ্গীতে যতদূর সম্ভব সে আদর্শ অক্ষুন্ন রাখতে চেষ্টা করেছি।
1/০ বিশেষ অবস্থা ব্যতীত জাতীয় সঙ্গীতের আদর্শ ও ধারা বিশ্বের সব জাতিরই প্রায় এক। অধিকাংশ গানগুলি সেই জন্য সব জাতিরই উপযােগী করে রচনা করেছি। অবশিষ্ট গানগুলি প্রায় ভারতবর্ষ ও বাংলা দেশ নিয়েই রচিত। জন্মভূমির বাহ্য দৃশ্যমান প্রাকৃতিক জড় সৌন্দৰ্য্যই যে তার পূর্ণ স্বরূপ নয় এবং তার সেই জড় অবয়বের অভ্যন্তরে প্রাণময় একটা যে বৃহত্তর স্বরূপ আছে তাকে দেশমাতা আখ্যা দিয়ে কয়েকটী গান রচনা করেছি। তার সেই বৃহত্তর স্বরূপ জাতি, সম্প্রদায়, শ্রেণী ও ধৰ্ম্ম নিৰ্বিশেষে সমগ্র জাতির। তা যাতে কোন ধর্ম বিশেষ বা সাম্প্র- দায়িক ভাবে প্রভাবান্বিত না হয় সে দিকে দৃষ্টি রেখেছি। আমার প্রণীত “মােগল অদৃষ্ট” ও “হুমায়ুন” এই দুই ঐতিহাসিক নাটক হ’তে কয়েকটি জাতীয় সঙ্গীত এই পুস্তকে উদ্ধৃত করেছি। সুর সংযােজিত হয়েই গান গুলি রচিত হয়েছে। অধিকাংশ গান রচনা কালে আমার ভ্রাতুস্পুত্র তনয়া শ্ৰীমতী তৃপ্তি রায় সুর সংযােগ করেছে। গানগুলির ভাষা ও রচনা প্রণালী যে সুরের অন্তরায় হবে না তা সে জন্য বলা চলে। তবে বিশেষজ্ঞের কাছে তারা যে অধিক প্রাণবন্ত হবে তারও সন্দেহ নেই। জাতির কল্যাণে গানগুলি যদি কিছু মাত্রও সাহায্য করে তবেই শ্রম সার্থক মনে করবাে। ৬৫ বি, লিন্টন ষ্ট্রীট, কলিকাতা ২রা আশ্বিন, ১৩৪৫ শ্ৰীঅক্ষয় কুমার রায়
No text on this page.
“জাতীয় সঙ্গীত”,১ম সংস্করণের ইংরাজী ও বাংলা সংবাদ পত্রের অভিমত ঃ- verses. "Jatiya Sangit" or Book of National Songs", - written in Bengali by Babu Akshoy Kumar Roy, Standard Law Book Society, Calcutta," We have gone through this Booklet, which is a record of the past glories of India and Bengal in sixteen inspiring national songs written in a high grandeur of poetic style. The glorious past of the Bengalis, in which they figured as independent Emperors, matchless warriors, great colonisers, propagators of religious faith, social reformers and great patriots from far-off Epic age down to the days of Deshabandhu has beeen recorded in those nice "In memory of Deshabadhu," "Hail Motherland," "Namami Bangajanani", "Pranamami Bangajanani", are among its finest contributions.”_"Forward", 20-1-29. "Jatiya Sangit"_"Grievance has often been made that the present Nationalist movement in India has not received the attention of the poets as it deserves. "Jatiya Sangit” or a "Book of national songs" in Bengali by Babu Akshoy Kumar Roy certainly goes a great way to meet this complaint. Throughout the sixteen songs the brochure contains a fervour of patriotism which is bound to mak a profound impression upon the readers. **In memory of Deshabandhu" and other songs bearing ( ॥০ ) on an n the past glories of India are written with a sonorous puissance of style that cannot fail to awaken national consciousness into the minds of men. In short, it is an inspiring publication, which should be read by all. The get-up of the book is beautiful":"Bengalee", dated 28-12-2S. "Jatiya Sangit"-"We have received a copy of "Jatiya Sangit" or "Book of National Songs" in Bengali from the able pen of Babu Akshoy Kumar Roy, author of "Mogul Adrishta" and late of "The Indian Daily News." It is inspiring publication, containing sixteen national songs, all written in a masterly poetic touch and in which there prevails from start to finish the same fervour of patriotism without a single stop. The get-up of the book is nice". - “Basumati (Eng) 6-1-29. “জাতীয় সঙ্গীত”—শ্ৰীঅক্ষয়কুমার রায় প্রণীত। “ইহাতে স্বদেশ প্রেম মূলক ১৬টী সঙ্গীত আছে। গানগুলি পড়িয়া আমাদের ভালই লাগিল। বিশেষ ভাবে তরুণদের মনে দেশ-প্রেম জাগ্রত করিবার পক্ষে ইহাতে সহায়তা করিবে। লেখকের কবিত্বশক্তিও প্রশংসনীয়। কংগ্রেস সপ্তাহে এইরূপ বহির প্রচার বাঞ্ছনীয়।—“আনন্দবাজার পত্রিকা,” ১লা জানুয়ারী, ১৯২৯ সাল।
জাতীয় সঙ্গীত
CS
নমামি ভারত মাতরম্,
ত্বংহি জননী ভূতলে স্বর্গং,
নাস্তি ধরাতলে দেশ-মেবং দ্বিতীয়ং।
নমামি ভারত মাতরম্ ।
বালার্কোদ্ভাসিত-গগন চুম্বি ললাটং,
তুষারমণ্ডিত—সমুচ্চং গৌরীশৃঙ্গং
শােভিত শিরস্তব শুভ্র কিরীটং
ত্বং হি মাতঃ ভূতলে স্বর্গং।
বিধৌতং তব পার্শ্ব-পাদমূলম,
প্রবাহিত-যুগ-যুগ তরঙ্গায়িত সাগরং।
রবি-চন্দ্র-ষড় তুভিঃ সম সমাবেশং,
নাস্তি কুত্ৰ দেশমেবং।
নমামি ভারত মাতরম্ ।
ষট্ত্রিংশৎকোটী নরকলকণ্ঠোচ্ছাসিতং,
জাতি নির্বিশেষেন মধুর মাতৃ সম্বােধনং,
ষট্ত্রিংশৎকোটী হৃত্তন্ত্রভেদি উত্থানমন্ত্রং,
সঞ্চারিতােং ভবতি তব প্রতিহতং শৌর্যম্ ॥
নমামি ভারত মাতরম্ ।
K
২
জাতীয় সঙ্গীত
বিভাতি অঙ্গনেতব নবীনারুণ, নবজাগরণং,
প্রতিষ্ঠিতং গরিমাপূৰ্ব্ব, পূৰ্বাসনং,
শৌর্য্যে, জ্ঞানে, মুখরিত-চরাচরং,
লভতে পুনঃভবনে তব দীক্ষাং,
বিশ্ববাসি-জন-গণ-মুক্তি কারণং ।
নমামি ভারত মাতরম্ ।
১২-৪-৩৭
( ২ )
১
নমস্তে ভারত জননী ।
আদি ধরিত্রী রাণী,
ভূতলে বরেণ্য,
বিশ্বজনমন বিমােহিনী,
নমস্তে ভারত জননী।
২
ছত্রিংশকোটী নর এভবে,
মা বলে তােরে গরব করে,
ছত্রিংশকোটী নর নতশিরে,
সম্মিলিত আজ সবে,
তাের দুঃখ নাশিতে,
নমস্তে ভারত জননী ।
জাতীয় সঙ্গীত
ছত্রিংশকোটী সুত তাের ভবে,
দ্বিসপ্ততি কোটী করযােড়ে,
মা বলে যদি তারা ডাকে এক হয়ে,
কি আছে এ ভবে না করতে পারে ?
নমস্তে ভারত জননী !
৪
অর্ধলক্ষ শতাব্দী, তারও আগে,
দিলি তুই জ্ঞান-জ্যোতি ভূতলে নরে,
সসাগরা ধরা আলােড়িত করে,
উড়িল বিজয় নিশান প্রাচ্যে, প্রতীচ্যে,
নমস্তে ভারত জননী।
বিকশিত করে আঁখি,
দেখ, তুই একবার চাহি,
তােরই সে পূৰ্ব্ব গরিমা স্মরি,
আজও আছে সেই হিমাদ্রি,
উচ্চ করে শির অভ্রভেদী,
নমস্তে ভারত জননী।
সিন্ধু হতে কুমারিকা,
কচ্ছ, মাদ্রাজ, পাঞ্জাব, উড়িষ্যা,
৪
জাতীয় সঙ্গীত
দিয়েছে আজ সবাই সাড়া,
তাের ঐ চরণে করতে পূজা,
নমস্তে ভারত জননী ।
১০-২-৩৫
(
১
নমস্তে জনমভূমি !
কোথাকার কে বা আমি।
(কভু) পরিচিত না ছিলে তুমি।
এসেছিলেম এমরতে আমি ।
যবে জননী জঠরে জনমি ।
আদরে প্রসারিলে তুমি।
স্নেহভরা তােমার ঐ ক্রোড় খানি।
হয়ে ভূমিষ্ঠ তােমার ঐ কোল লভি
পেলুম ধরায় আশ্রয় আমি।
নমস্তে জনমভূমি !
২
সেইদিন হ’তে আজ।
বিতরিছ যে স্নেহ অগাধ ।
নেই আজীবন কভু
শেষ তার ।
জাতীয় সঙ্গীত
সুখে, দুঃখে কে আর।
এমন ঢালে স্নেহ অনিবার।
তােমা সম দয়াময়ী আছে কেবা আর ?
মরণেও দাও তুমি চরণে আশ্রয় সবার।
কে পারে শােধিতে ভবে সে ঋণ তােমার ?
নমস্তে জনমভূমি।
পিতা, মাতা, পরিজন।
চায় প্রতিদান অনুক্ষণ।
নেয়া, দেয়া এ রীতির নেই কোথা ব্যতিক্রম।
তােমার ঐ ভালবাসা।
কভু রাখেনা স্বার্থ, আশা।
আশ্রিতে নিস্বার্থ এমন আছে কে মহীতে ?
ক্ষুধা, তৃষ্ণা নিবারিতে কার সাধ্য এ ভবে ?
ছােট, বড় পারে এমন পালিতে কে স্নেহে?
নমস্তে জনমভূমি।
৪
তােমার ঐ নীলাকাশে।
নিত্যি রবি আসে হেসে।
বিতরে কিরণ সবে ভেদাভেদ ভুলে ।
৬
জাতীয় সঙ্গীত
তােমার ঐ নদ, নদী, তৃণ, বারি, ফল, ফুলে।
আহারে, বিহারে, মােরে রেখেছে বাঁচায়ে ।
শৈশবের সে ক্ষীণ দেহ, আজ বর্ধিত তােমার স্নেহে।
ধমনীতে বয় শােণিত সে তােমারই শস্যে ।
তােমারই বায়ু সেবি আছি আমি বেঁচে ।
নমস্তে জনমভূমি !
৫
তােমার এই পুণ্যভূমে ।
আছে বিজড়িত প্রতি ধূলিকণে ॥
পূর্ব পুরুষের কীর্তি যত ঘুমে বিভাের হয়ে।
তব মাটী পরশিলে।
সে স্মৃতি উঠে উথলে।
প্রতি ধূলিকণা তােমার তীর্থ মাের কাছে।
নমস্তে জনমভূমি।
ভাবি তাই নিশিদিন।
কেমনে শশাধিব এ ঋণ ॥
ক্ষুদ্র আমি নেই শক্তি অসীম।
(তবু) সাধিতে তব কায
হয় যেন এ দেহ পাত।
ধন্য আমি হব ধরা মাঝে।
জাতীয় সঙ্গীত
৭
সেবায় তােমার যদি আসে।
এ দেহের মাের গতি হবে ।
মােক্ষ আমি লভিব সুরলােকে।
নমস্তে জনমভূমি।
৩-১২-২৮
( ৪ )
আমার এমন সাধের জন্মভূমি, পাবে কোথায় বল তুমি ?
সেথা ফোটে ফুল হাওয়ার কোলে, চাদের সনে হেসে খেলে,
মিশে যায় তারার দলে রেখে সুবাসখানি।
ধরা মাঝে খুজে সারা যতই হও না তুমি,
তার সমান পুণ্য তুমি পাবে নাকো তুমি,
পাবে নাকো তুমি।
২
এমন নিত্যি রবি রাঙ্গা ছবি কোথায় আঁকে গগন পটে,
মেঘের’পরে থরে থরে ধূম্র পাহাড় রাজে,
এমন হ্রদ, সরােবর, নদী, পাহাড় আছে কোন দেশে ?
ধরামাঝে খুজে সারা যতই হওনা তুমি,
ইত্যাদি
জাতীয় সঙ্গীত
কোথায় এমন গহন বনে মলয় খেলে ফুলের সনে,
মেঘের কোলে আড়াল হয়ে চাতক তন ঢালে,
ঢেউয়ের উপর নেচে নেচে তরি যায় চলে,
ধরা মাঝে খুজে সারা যতই হওনা তুমি,
ইত্যাদি
৪
সাঁজ গগনে চঁাদের পানে মৃদু মধুর হেসে,
এমন নীল আকাশে উজল তারা শােভে কোন দেশে,
এমন নিত্যি কোথা চঁাদের সুধা পিয়ে চকোরে,
ধরা মাঝে খুঁজে সারা যতই হওনা তুমি,
ইত্যাদি
গােলায় গােলায় শস্যভরা, পাকা ধানে ক্ষেতজোড়া,
কোথায় এমন কাস্তে হাতে মাঠে কৃষক গাহে,
রৌদ্র, জল সমান তাদের নাইকো বিরাম কাজে,
ধরা মাঝে খুঁজে সারা যতই হওনা তুমি,
ইত্যাদি
৬
পুঞ্জে পুঞ্জে কুঞ্জে বসি কোথায় এমন গায় পাখী,
গুঞ্জরিয়া ফেরে অলি ফুলের প্রেমে মাতি,
জাতীয় সঙ্গীত
থ
তারা ফুলের মধু লুটে নে’যায় ফুলের পরাগ মাখি,
ধরা মাঝে খুঁজে সারা যতই হওনা তুমি,
ইত্যাদি
৭
সেথা বিরােধ নেই জেতে জেতে, আছে সবে মিলে মিশে,
মায়ের পেটের ভায়ের মত পর নাহি ভেবে,
তারা এক হাওয়ায় এক জলে আছে সবে বেঁচে,
ধরা মাঝে খুজে সারা যতই হওনা তুমি,
ইত্যাদি।
“মােগল অদৃষ্ট”
( ৫ )
১
নমামি বঙ্গ জননী।
শিরে শােভিত বিশাল হিমাচল।
তুষার মণ্ডিত, অভ্র ভেদী উচল ।
ধন, ধান্য দায়িনী, ভূতলে স্বরগভূমি।
তুমি প্রকৃতি রাণী !
নমামি বঙ্গ জননী।
জাতীয় সঙ্গীত
২
অবতরি হিমাচল, কল, কল উজ্জ্বল।
বহিছে জাহুবী সলীল স্বচ্ছল ।
বিধৌত করি তব চরণ শ্যামল।
তুমি প্রকৃতি রাণী।
নমামি বঙ্গ জননী।
ধৌত করি তব পুণ্যতট।
বহিছে শত, শত নদী, নদ
সিঞ্চিত করি তব শস্য শ্যামল ॥
তুমি প্রকৃতি রাণী ।
নমামি বঙ্গ জননী।
৪
ফল, ফুল পত্রে তরুরাজি শােভিত।
শ্যাম দুৰ্ব্বাদলে পথ, ঘাট, মণ্ডিত।
ভূতলে নাহি কোথা এ শােভা বিচিত্র।
তুমি প্রকৃতি রাণী ।
নমামি বঙ্গ জননী।
৫
নানা রঙে বিভূষিত।
ফলভারে শস্য নত৷
জাতীয় সঙ্গীত
১১
মলয়ে খেলে কোথা এমন হরিৎক্ষেত্র ?
তুমি প্রকৃতি রাণী ।
নমামি বঙ্গজননী ।
ঘন, ঘন, সারি সারি ।
অগণিত তরু রাজি।
কোকিল কূজিত তমাল বিটপী।
গুঞ্জরে ভ্রমর কোথা এমন কুঞ্জ ভরি ?
তুমি প্রকৃতি রাণী ।
নমামি বঙ্গজননী।
৭
তােমার এই পুণ্যভূমে লভি জনম।
সার্থক হয়েছে আমার মানব জীবন।
তােমারই কাযে, যুগে, যুগে করি বরণ।
হয় যেন আমার এ দেহ পতন।
তুমি প্রকৃতি রাণী ।
নমামি বঙ্গজননী !
२-७ २८
১২
জাতীয় সঙ্গীত
( ৬ )
প্রণমি তােরে বঙ্গজননী! শস্য শ্যামল পুণ্য দেশ।
শ্যাম ধরণী সিক্ত করি এমন অগণ্য তটিনী বয় কোন্ দেশ ?
নিঝরিণী সনে নিরব ধ্যানে কোথা বিরাজে পাহাড় উচ্চশির।
কোকিলকূজিত, বিহগগাহিত, শােভে কোথা এমন কানন গভীর।
অঙ্গে অঙ্গে শােভে নানা রংয়ে এমন শস্যভরা কোথা হরিৎ ক্ষেত।
বিধৌত করি চরণতল বয় সাগর কোথা দেশ, বিদেশ।
কুল, কুল নাদে দুকুল মাতায়ে জাহুবী কোথা সাগরে ধায়।
অযুত সম্পদ বহন করি বানিজ্যে জাহাজ পাশ্চাত্যে যায় ।
বন, উপবন, ভাসিয়ে কানন পাপিয়া কোথা ঢালে তান।
শাখায় শাখায় হেলিয়ে দুলিয়ে মলয় গায় মধুর গান।
রবির পরশে সাজে মুক্তাহারে দুর্বদল এমন কোথায়।
মাঠে মাঠে ঢেউ খেলিয়ে পাকা ধান শােভা পায় ।
তুই আমার জন্মভূমি মরতে স্বর্গ সেই প্রাচীন দেশ।
ঐশ্বৰ্য তাের ভুবন বিদিত, বানিজ্যে করেছিলি জয় প্রাচ্য দেশ৷
সুখদা, শস্যদা, জ্ঞানদা, কর্মদা তুই সেই আৰ্য দেশ।
সন্তান তাের শৌর্যে একদা করিল জয় (কত) দেশ, বিদেশ।
অভ্রিশ্রেষ্ঠ হিমাদ্রি দিতেছে পাহারা তাের ঐ উদ্ধাদেশ।
জগৎ জুড়ে রয়েছে ছড়ায়ে তাের সন্তানের কীৰ্ত্তি অশেষ ।
আজও ঘুচিছে তােরই অন্নে অর্ধ জগতের দৈন্য, ক্লেশ।
শ্যামধরণী, প্রকৃতি রাণী ! রবেনা তাের এই দীনা বেশ।
১৮-১০: ২৫
জাতীয় সঙ্গীত
( ৭ )
ভারত গগনে আজ ঐ শােন উঠে বেজে মঙ্গল গীতি।
তরুণ অরুণ ভাতি নাশিছে সব তমসারাশি।
বিধাতার (এ) আশীৰ্বাদ কার সাধ্য রাখে খৰ্ব্বকরি।
দুঃখ অন্তে সুখােদয় এ জগতের যে চিররীতি।
ধন, ধান্য, বিভব ভরা একদা ভাতিল যেথা জ্ঞানরবি।
ছিল সেই ভারতবাসী এতদিন হিংসা, দ্বেষে মজি।
আজ কাটিল সে মােহপাশ, ভ্রাতৃভাব প্রাণে জাগি।
এসাে সবে একমনে দেশের হিতে পন করি।
যাও সবে ভুলে ভেদ, আমাদের এক দেশ, আমরা একজাতি।
এক আকাশ, এক বায়ু, একজল, একভূমে বাসকরি।
হিন্দু, মুসলমান এ ভেদজ্ঞান হৃদে কভু থাকে কি ?
আমরা এক মার দুই সন্তান, (সে) মার সেবায় সমভাগী ।
২৭-১১-২৫
( ৮ )
১
আজও আছে সেই ভারত ধরায়,
তার অতীতের সীমা রেখে বজায়,
সিন্ধু হতে কুমারিকা ময়,
বেষ্টন করি “ঘাট” গিরিদ্বয়।
১৪
জাতীয় সঙ্গীত
২
আছেরে সেই হিমালয়,
পদতলে যার জাহ্নবী বয়,
নেই সেই সম্রাট সমুদয়,
যারা রাখিল বিশাল কীৰ্ত্তি ধরায়।
আছেরে আজও সেই রাজপুত,
নেই তাদের শৌর্য্য, সে বীরত্ব অদ্ভুত,
হয়ে আত্মবিস্মৃত আছে এ ধরায়,
নত করে শির কালিমায়।
৪
আছেরে সেই ইন্দ্রপ্রস্থ,
নেই সে গরিমা, সব অস্তমিত,
হয়নারে সেথা আর রাজসূয় যজ্ঞ,
ভারত মহিমা বাড়াতে ধরায়।
আছেরে সেই পালীপুত্র,
ভাগীরথী কুলে হয়ে প্রসারিত,
নেই সেথা নাগ, গুপ্ত, মৌৰ্য্যবংশ,
স্থাপিল যারা সাম্রাজ্য ধরায় ।
জাতীয় সঙ্গীত
আজও আছে সেই উজ্জয়িনী, মালব,
নেই বিক্রমাদিত্য, সে মহামানব,
নেই কালিদাস, সে নবরত্ন, বিভব,
পাণ্ডিত্যে ধরা করিতে জয় ।
৭
আছেরে নালন্দা, সেই রাজগিরি,
সে সারনাথ আজ ধ্বংসস্তুপে পড়ি,
নেই আর সেথায় “আৰ্যবিদ্যালয়,
তুলনা যার ছিল না ধরায়।
৮
আছেরে আজও সেই বাংলা,
নেই নাগ, সুর, পাল, সেন রাজারা,
প’ড়ে ধ্বংসস্তুপে গৌড়, পাণ্ডুয়া,
বাঙ্গালী ভীরু দিয়ে পরিচয়।
১৬-২-৩৫
( ৯ )
তােমার ঐ মাটীতে এ দেহ গঠিত তুমি আমার আদি জননী যে।
তােমারই স্নেহে আছি জীবন ধরে তুমি ছাড়া কে রাখে বাঁচায়ে।
তােমার ঐ আকাশ, তােমার ঐ সুবাস।
নিয়ে তােমার বাতাস বয় আমার শ্বাস ।
১৬
জাতীয় সঙ্গীত
রুদ্ধ হ’ত এ নিশ্বাস আমার প্রতি নিয়তে।
যদি না বহিত তােমার সমীর আমায় বেড়ে ।
তােমার ঐ ফল তােমার ঐ ফুল।
দিয়েছ শশ্য আমায় হয়ে অনুকুল।
বিনে তােমার ঐ জল ছিলনা আমার সম্বল।
তৃষায় বাঁচাতে দেহ হতে যে তা বিকল।
তােমার ঐ রবি, তােমার ঐ শশী ।
ঢালে নির্বিশেষে কিরণ দিবানিশি ।
যদি না উদিত তারা তােমার ঐ আকাশে।
আঁধারের কীট আমি যেতুম আঁধারে মিশে।
তােমার ঐ মাটীতে আমার এ দেহ রচিত।
আবার যাবে মিশে তাতে না রেখে অস্তিত্ব।
জন্মভূমি! তুমিই আদি জননী সবার আগে পুজ্যা এ মহীতে।
প্রণমি তােমারে কর আশীষ যেন সেবি তােমায় জীবন ভরে।
১০৩-৩৫
( ১ )
১
দেশ ! তােমায় আমি কত যে ভালবাসি,
তােমার ঐ সাঁজ আকাশে উঠে ফুটি,
সে যে কত মধুর চাঁদের হাসি।
ভুলে যাই আপনারে তা নেহারি ।
জাতীয় সঙ্গীত
১৭
২
একে পুরবে রাঙ্গা ছবি,
উঠে যখন ভােরের রবি,
আমি অবাক হয়ে চেয়ে থাকি।
পুলকে যায় ঝরে আঁখি।
না জাগতে চোখের তারা,
দেয় ঘুম ভেঙ্গে পাখীর সাড়া,
ফুলে ফুলে কত যে ঢলা ঢলি।
বয় বাতাস সুবাস মাখি।
৪
তােমার ঐ পুণ্যভূমে,
পরপারেও পড়বে মনে,
আমার এজীবনের যত স্মৃতি,
সুখ, দুঃখ আঁখিবারি।
-১১-৩৫
( ১১ )
তােমায় কি ভুলতে পারি আমি জন্মভূমি ?
তােমার ঐ শ্যামল ক্রোড়ে জনম নিয়ে হয়েছি ধন্য ভবে আমি।
এ ধরায় এসে যখন নিলুম তােমার ঐ কোলে শরণ।
দিয়ে আহার, জল, বায়ু করলে তুমি আমায় পালন।
طS
জাতীয় সঙ্গীত
শৈশবের সে ছােট দেহ আজ হয়েছে তা এত বড়।
পেয়ে তােমার শশ্য, জল, বায়ু, স্নেহ অবিরত।
প্রবাসে, দেশ, বিদেশে যখন আমি যেথায় থাকি।
ব্যাকুল হয় প্রাণ আমার দেখতে তােমার ঐ শ্যামল হাসি।
তােমার ঐ মলয় বয় যখন জাগে প্রাণে কত সুখ স্বপন।
আমি আপনারে যাই ভুলে ভাবে বিভাের হয়ে তখন।
ঢেউয়ের সাথে নেচে নেচে খেলে যখন ঐ ভরা নদী।
ছুটে তরি তড়িৎবেগে, আমি আকুল প্রাণে চেয়ে থাকি।
যবে এ দেহ আমার হবে পতন যেন ঐ শ্যামল চরণ হেরি।
ফিরে লভি মানব জনম যেন তােমার সেবায় জীবন সপি।
-৩-৩৫
( ১২ )
আমরা নয়রে ভীরু, কাপুরুষ, বলুকনা কেন যে যাই বলুক।
যায় কিরে মান কভু তাদের সত্যিই যাদের ছিল পৌরুষ ।
ইতিহাস যুগ হ’তে ধরায় হীন প্রচার কায আছে চ'লে।
কত বীর জাতির উচ্চ শির নত হ’ল ইতিহাসে বিজেতার
ইঙ্গিতে।
প্রমাণ আছে হলদিঘাটে, তুলনা যার নেই এ ভবে।
জাতির মান রক্ষার তরে লক্ষ লক্ষ বীর প্রাণ দিল সমরে ॥
জাতীয় সঙ্গীত
১৯
সাড়ে চুয়াত্তর মণ তার হ’ল সব মৃতবীরের উপবীতে।
রেখেছে তাদেরই গৌরব মােদের শির আজও উচ্চ করে
পৃথ্বীরাজের কীর্তিগাথা আছে খােদা তার বিজয় স্তম্ভে।
হয়েছিল উদয় আরও কত রাজ চক্রবর্তী এ জাতির
মুখ উজল করে।
বিক্রমাদিত্য, হর্ষবর্ধন, এ ধরায় তাদের মত কার ছিল বিক্রম।
তাদেরই কাছে এই ভারতে হ’ল পরাজিত হুন, শক,
প্রাচ্য জাতিগণ |
সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের শৌৰ্যগাথা তার তুলনা কোথায় আছে ?
দিগবিজয়ী গ্রীকবীর দিল তারে তনয়ারে হয়ে পরাজি
সমরে।
অজাতশত্ৰু, শিশুনাগ ছিল তাদেরও অতুল শৌর্য্য, বিভব।
আনি বশ্যতায় নৃপতি সব কল পাটলীপুত্রে বিশাল
সাম্রাজ্য সম্ভব।
প্রতাপাদিত্য, সীতারাম, অশােক, বাজীরাও, শিবাজী।
তাদের সমান বীর এধরায় কোথায় জন্মেছে কি ?
ধন্য হ’ত এ ধরার হােনা যে কোনও জাতি।
যদি জন্ম নিত তাদের মাঝে তাদের মত বীর একটি।
২৫-৮-৩৩
२०
জাতীয় সঙ্গীত
( ১৩ )
হও ত্যাগে মহান, কর্মে বলীয়ান।
বিশাল ঐ কর্মক্ষেত্র, পাওনি কি সন্ধান ?
যায় দিন চলে, কায করবে পিছে বলে।
কতদিন আর থাকবে বৃথা অলসে বসে।
জাতিই রাখে জাতির মান।
জন সমষ্টি জাতির প্রাণ।
যে যার কায কর যদি সবে।
জাতির দুঃখ ক’দিন থাকে ?
মুষ্টিমেয় ভিক্ষার লােভে।
জাতির স্বার্থ যেওনা ভুলে।
চিরদিন তুমি রবেনা এ ভবে।
জাতি রবে যুগ যুগ শির উচু করে ।
জেগেছে বিশ্ব আজ জাতির গৌরবে।
সবাই চলেছে পথে অগ্রগামী হয়ে।
যারা শিখাল ধরায় জাতির তরে সব দিতে।
তারাই কি রবে পড়ে চিরদিন সবার পিছে ?
২৮-১২-৩৫
জাতীয় সঙ্গীত
২১
( ১৪ )
হও উচ্চ শির, ত্যাগে, কম্মে মহাবীর।
কর দেশসেবা ব্ৰত, হ’য়ােনা অধীর।
নিয়ে জনম যার মাটীতে খ্যাত হলে মানুষ বলে।
দেখাও মানুষ তুমি, জীবন ভরে তার কাযী করে।
উড়ে গৃধিনী উচ্চে
শূন্য
মাঝে ।
লক্ষ্য রয় তার নীচে ভূমির উপরে।
পদ, মৰ্যাদা, শিক্ষায় কি ফল আছে ?
যদি হয় নিয়ােজিত তা নিজ স্বার্থের তরে।
সহজ নয় দেশের কায, বাধা স্বার্থ তার প্রতি পদে।
যেদিন লুটাবে স্বার্থ তােমার পায়ে দেশের কায এনাে মুখে।
১৩-২-৩৬
( ১৫ )
আবে আবার সুদিন ভারতে, রটবে কীৰ্ত্তি তার বিশ্বময়।
হবে ত্রিবর্ণ পতাকা জাতির প্রতীক, শৌর্য্যে, জ্ঞানে ধরা জয়।
বাজবে আবার দুন্দুভি ভারতে, কুমারিকা হতে হিমালয়।
যশে, শৌর্যে দীপ্ত ভারত হবে আবার জেনে নিশ্চয় ॥
২২
জাতীয় সঙ্গীত
২
হবে নূতন সাম্রাজ্য গঠন, ভেদহীন তার নীতি।
রবেনা সেথা জাতি কলহ, অর্পিত ক্ষমতা গুণ বিচারি।
জাতির স্বার্থ প্রধান লক্ষ্য, দেবে অর্ঘ সবে নিজস্বার্থ দিয়ে বলি।
অরি এলে সবে দাড়াবে রােধে, জাতি, সম্প্রদায়, ধৰ্ম্ম ভুলি।
হিন্দু, মুসলমান এক ভারত সন্তান, এক জাতি, একদেশ সবার।
নিয়ে ধৰ্ম্মের খােলস জাতির শক্তি হবে না ক্ষুন্ন দ্বন্দ্বে আর ।
যুগ, যুগ ধরি অস্পৃশ্যতা করেছে এই জাতি সংহার।
হবে উৎপাটিত মূল তার, দৃঢ় হবে জাতির শক্তি প্রকার ।
৪
রাজ্যস্পৃহা, পরপীড়ন, স্বাধীন ভারতে হবে না নীতি কখন।
করবে না স্পর্শ সে কারও কায়া করি রণ অকারণ।
পুণ্য এই ভূমি হ’তে অতীতে যুগে যুগে ছাইল জ্ঞান বিশ্বময়
সে কায সাধিতে আবার ভারতে হবে নব নব ঋষির অ্যুদয়।
১৭-৭-৩৮
( ১৬ )
বাংলা! তুমি কি সেই বাংলা কি অতীতের ছায়া তুমি ?
তোমার ঐ ভাগীরথী তটে চিরকালিমা রেখে ডুবেছে ভারত রুবি।
ক’জন সৈনিকের ভয়ে তুমিই দিয়েছিলে নিজ করে তুলি।
তােমার অতীতের যুগ যুগের সাধনার সে গৌরবমণি।
জাতীয় সঙ্গীত
২৩
আজ নেই তােমার সে মােহনলাল, সীতারাম, রাজা প্রতাপ।
ঘরে ঘরে আজ তােমার মিজাফর, আর ভবানন্দের বাস।
তােমার জনহীন ঐযে গৌড়, যা ধ্বংসস্তুপে আজ আছে পড়ে।
দিয়েছিল পরিয়ে মুকুট কত যে বাঙ্গালী সম্রাটের শিরে।
তারা করেছিল জয় আৰ্যাবৰ্ত্ত, অভিযানে প্রতীচ্যে যেত।
ভয়ে তাদের কাপত তখন এই ধরার অধিবাসী যত।
নয় সে বেশী দিনের কথা, তােমারই “বিজয়” রাখ ল কীর্তি।
বাহুবলে করে জয় সাগর পারের সুদূর ঐ সিংহল ভূমি।
হারিয়ে সে শৌৰ্য্য, সাম্রাজ্য, আজ নিয়েছ ভিক্ষার ঝুলি।
ঘরে ঘরে ক’রছ প্রচার কর্মে নয়, বৈরাগ্যে হয় আত্মার গতি।
৩০-৯-৩৫
( ১৭ )
১
ভারতবর্ষ ! সকল দেশের শীর্ষ,
বিশ্বের সব জাতির পূজ্য,
ছিলে তুমিই সবার শ্রেষ্ঠ প্রথম ধরায়।
তােমার কীর্তি, খ্যাতি, শৌর্যের তুলনা কোথায় ?
২
পারেনা সঠিক বলতে কেউ কবে তােমার জন্ম,
ককূলে জ্ঞান-জ্যোতি ধরায় প্রথম বিকীর্ণ,
২
জাতীয় সঙ্গীত
উদিত ভবনে তব হ’ল শৌর্য-রবি মধ্যাহ্ন প্রভায়,
বন্দিত, কীৰ্ত্তিত, নমস্য হলে বিশ্বের সভায়।
যুগ যুগ করি অনুসরণ তােমায়,
উন্নত এধরার জাতি তােমার ছায়ায়,
নিয়ে তােমার কৃষ্টি, সৃষ্টি, দিয়ে নবরূপ তায়,
উচ্চ হ’ল এ বিশ্বের জাতি জাতীয় প্রতিভায়।
৪
বিশ্বের ভাণ্ডারে তােমার বিরাট সে দান,
নাহলে এ ধরায় প্রলয় হবে না কভু তা স্নান,
ছত্রিংশ কোটী সন্তান যার কেব’লে সে অসহায় ?
প্রতিষ্ঠিত হবে তুমি আবার সেই পূৰ্ব্ব গরিমায়।
১২-১০৩৭
( ১৮ )
১
মাথার উপরে সেজে নীলবসনে,
বিভাের হয়ে যেন কার ধ্যানে,
আছ আকাশ তুমি কত যুগ হতে,
পারেনা যে কেউ তা বলতে।
জাতীয় সঙ্গীত
২
সীমা তােমার কেউ জানেনা,
কে করেছে কবে তােমায় রচনা,
সুর তােমার আসে না কাণে,
প্রাণ মহান্ দেখে হয় মনে।
সেথায় আছ তুমি যুগ যুগ হতে,
আছে বিজড়িত তােমার স্মৃতি সাথে,
যত জাতির জাগরণ এ মরতে,
উঠা, পড়া, তাদের জাতি হিসাবে।
৪
যারা থাকে তােমার ঐ দেশে,
আসে সুখ, দুঃখ তাদের সমভাবে,
ডুবলে রবি চঁদ উঠে, চঁাদ গেলে রবি আসে,
আঁধার আসে হাসিটী চঁাদের ফুরালে।
৫
তুমি দেখেছ এই জাতির জাগরণ,
জাগেনি এ ধরায় তেমন কেউ কখন,
যদিও মনে হয় আজ তা স্বপন,
পারকি বলতে ফিরূবে সে দিন কখন ?
২৮-১০-৩৫
২৬
জাতীয় সঙ্গীত
( ১৯ )
তুমি দীপ্ত কর এ জাতির প্রাণে যত অপূর্ণ কামনা।
ক্ষুধিত সিংহের প্রয়াস করি হৃদে তাদের যােজনা ।
নাও হৃদয় হতে সরিয়ে তাদের নীচতা, প্রবঞ্চনা।
জাতির কাযে শঠতা, জাতির মান অবমাননা।
দাও উচ্চ ভাব এনে প্রাণে, আদর্শ উচ্চ জ্ঞানে, করমে।
বিপদ তুচ্ছ গণি মনে হ’তে অগ্রসর কর্তব্য সাধনে।
কর সঞ্জীবিত জাতীয়তা, প্রাণে তাদের জাতির ভাব, ধারা।
বিনে জাতীর ঐশ্বৰ্য্য, সম্পদ তুচ্ছ শিখুক সবে তারা।
মেঘের প্রাসাদ মত উঠে, পড়ে জাতি যত নিয়ে এ ধ্রুব ধারণা
শিখাও জাতির হিতে যে যেমন পারে করতে শক্তি যােজনা।
৮:৩-৩৭
( ২০ )
কবে এলে এ মহীতে, শিরে পড়লে রাজটীকা।
সবার প্রাচীন দেশ তুমি, পারেনা কেউ বলতে তা।
শৌর্য, ঐশ্বৰ্য্য, বিজ্ঞান যা নিয়ে প্রতীচ্য করে গরিমা।
তােমারও ছিল অতুলনীয় সে যে কত যুগের কথা।
ঐ পঞ্চনদ তটে ভাতিল যবে প্রথম তােমার জ্ঞানশিখা।
হ’ল দিকে দিকে প্রসারিত, হ'লে তুমি দিগবিজয়ী ধরা।
জাতীয় সঙ্গীত
২৭
বিজয় গৰ্বে ছুটল যবে সন্তান তােমার করতে জয় বসুন্ধরা।
ফিল নিয়ে কত সম্ভার, বিজিতে বিতরি জ্ঞান, শিক্ষা।
ছিল স্ত্রী, পুরুষে সম অধিকার, নারী হ’ত স্বয়ম্বরা।
ছিল না জাতি মাঝে (এমন) শ্রেণীভাগ, কোথাও অস্পৃশ্যতা।
যােগ্যের সম্মানে উঠতনা তখন কভু জাতি, শ্রেণীর কথা।
ছিল না মাতৃজাতি গৃহকোণে বন্দী, অজ্ঞ হয়ে জীবন ভরা ।
পুরুষেরই মত ছিল তাদেরও সমান মনে, কাযে স্বাধীনতা।
হতনা শঙ্কিত রণে দেশে শত্রু দিলে সাড়া।
যেদিন স্বার্থের খাতিরে তারা রচিল অস্পৃশ্যতার বেড়া।
খর্ব করি যােগ্যতা, পেয়ে হাতে যত ক্ষমতা।
সেইদিন হ'তে দুদ্দিন ঘিরেছে, যতই হােক্ চেষ্টা যাবেনা তা
যতদিন না যাবে জাতির মনের এঘাের নীচতা, সঙ্কীর্ণতা।
১-১১-৩৬
( ২১)
কবে তােরা মানুষ হবি এধরা মাঝে শির উচু করে।
দুঃখ, দৈন্য যাবে ঘুচে রবেনা মরণ অনাহারে।
ভুলে আপনা ধারা, কৃষ্টি গেলি যুগ যুগ তােরা যার তার দ্বারে।
চাইল না কেউ ফিরে, পেলি অপমান ভিখারী বলে ।
২৮
জাতীয় সঙ্গীত
ক্ষুদ্র গণ্ডী মাঝে শুধু পরিজন নিয়ে গেছে চিন্তা তােদের
ভুলে প্রসার হতে।
জাতির অভাব, কোথায় গলদ, দূর করূতে তা জাগে না
প্রেরণা হৃদে।
আছে অনেক কিছু তােদের করূতে মানুষ তোেরা হয়েছিস যে।
অস্পৃশ্যতা দূর করে বিরাট জাতি একটা তােদের গড়তে হবে।
হবে নারীকে ফিরিয়ে দিতে মানুষের অধিকার তাদের
ঘরে, ঘরে।
জাতির আধেক শক্তি করবি নষ্ট রেখে গৃহ কোণে অজ্ঞ করে
কোন্ বিচারে ?
জাগলে নারীশক্তি হবি মানুষ তােরা কেমন করে।
হয়েছে ধরায় যারাই বড়, ছিল মার প্রভাব তাদের সবারই যে।
৫-১১-৩৬
( ২২ )
ভেদী সুনীল জলধি ধরিল যবে হিমালয় কায়া।
ছিল না কোথায়ও জন, মানব, বসতিহীন ধরা।
সে সৃজন প্রভাতে তব শ্যামল তটে ধরিল মানব প্রথম কায়া।
সেই দিন হ’তে ধরণী মাঝে হলে তুমি সবার পূজা।
উর্ধে শুভ্র, নীলাম্বরা, নিম্নে ঘন শ্যামলা।
সুজলা, সুফলা তুমিই সেই ভারতমাতা।
জাতীয় সঙ্গীত
২৯
তােমারই সন্তান করল জয় প্রথম জ্ঞানে বসুন্ধরা।
ধ্বনিত করি গৃহ, তপােবন হ’ল উখিত অভিনব সাড়া ।
বীরদর্পে চল যবে সন্তান তব করূতে জয় ধরা।
দিগবিজয়ী হয়ে ফিল গৃহে পড়ল চরাচরে সাড়া ।
উর্দ্ধে শুভ্র, নীলাম্বরা, নিম্নে ঘন শ্যামলা, আজও আছ তুমি
ধরি সেই কায়া।
নেই শুধু তারা, গরিমায় যাদের পেয়েছিলে তুমি এধরায় পূজা।
১৭-১.৩৭
হ’ল ধরণীতে যে দিন প্রভাত প্রথম।
জনমিল ধরায় মানব লভি জীবন ।
উদিত ভবনে তব প্রথম জ্ঞানের তপন।
ছাইল কিরণ তার পরে সারাটী ভুবন।
তুমিই দেখালে শৌৰ্য্য ভূতলে প্রথম।
সবার আগে ককূলে সাম্রাজ্য স্থাপন।
নিয়ে অগণিত সৈন্য ককূলে প্রথম রণ।
হ’ল বিজিত ছিল যেথায় যত অনাৰ্যগণ।
ছিল অযযাধ্যার রাজা রাম, অমিত পরাক্রম।
সাগরে বাঁধি
সেতু
নাশিল দুর্জয় রাবণ।
জাতীয় সঙ্গীত
কুরুক্ষেত্রে কুরু, পাণ্ডবে হ’ল যে মহারণ।
চরাচরে নেই তুলনা, শৌর্য্যে বিস্মিত ধরাবসীগণ।
উচ্চ করে শির জাগল যবে উজ্জয়িনী তব।
ছাইল বিক্রমাদিত্যের যশে ধরা, ভারত করি ধন্য।
বিদূরিত করি হুন, শক, যত প্রতীচ্যের অরি।
রাখল শালিবাহন ধরায় অতুলনীয় কীর্তি।
অশােক তােমার কল জয় আৰ্যাবৰ্ত্ত সমুদয়।
প্রস্তরে ক্ষোদিত সে স্মৃতি, পারেনি কাল করতে ক্ষয়।
সৃষ্টির আদি হ’তে তুমিই ভারত ! ছিলে বীরের ভূমি।
ছেড়ে সে শৌর্যের চর্চা, তােমার সন্তান আজ ভিখারী।
২৮-১:৩৭
যুগ, যুগের উদাসীনতা,
( ২৪ )
কৰ্ম্ম পথ টী বেছে,
ধৰ্ম্মের সব কথা না মেনে,
হও উচ্চ শির, আছে জাতির মুক্তি পড়ে।
করেছে দুর্বল এ জাতির কায়া,
ধর্মের নামে যত অযুক্তি শুনে।
কৰ্ম্মে উদাসীনতা,
প্রচারি উচ্চাশা, জীবন বৃথা,
নিয়েছে কেড়ে জাতির শক্তি সবার পিছে ফেলে।
রাষ্ট্র যদি থাকে,
তবেই ধৰ্ম্ম বাঁচে,
এ সত্যি জেনে হও নিয়ােজিত রাষ্ট্রের কল্যাণে।
২৯-৮-৩৭
জাতীয় সঙ্গীত
( ২৫ )
১
হও আত্ম নির্ভর,
করনা অপরে ভর,
যদি সাধ প্রাণে জাগে,
হ’তে জয়ী জীবন সমরে।
স্বার্থের সভঘাতে,
আছে ক’জন এ জগতে,
পারে বিভব ত্যজিতে,
ন্যায়ের তুলাদণ্ডী ধরে।
পেতে ধরায় ন্যায্য যা তােমার,
ক’রনা দ্বিধা, হৃদে ত্রাসের সঞ্চার,
ক’র সংযােগ সব শক্তি তােমার,
যদি আসে বাধা প্রবল সমুখে।
১৭-১০-৩৭
৩২
জাতীয় সঙ্গীত
( ২৬ )
ধন্য তুমি,
কর মােরে,
দিয়ে বিবেক, বুদ্ধি এ হৃদে।
অন্যায় হেরে,
দাঁড়াতে শির উচু করে,
দাও সাহস হৃদয় ভরে।
প্রাণের ভয়ে,
যেন না যাই পলায়ে
অবিচারে নির্বাক দর্শক হয়ে ।
গেছে সবে বলে
যেন না যাই সে পথে,
দিয়ে বিবেক বলি ব্যক্তিত্বের ভয়ে ।
শির উচ্চ করে,
দাড়াতে এ বিশ্বে,
দাও শক্তি, যদি হয় একাকী দাড়াতে।
৬১-৩৭
( ২৭ )
তাের ঐ চির শ্যামলরূপে আছি মুগ্ধ হয়ে।
ভুবন মােহিনী তুই আমার আদি জননী যে ।
প্রাণহীন জল, মাটী তাের ঐ স্বরূপ কে বলে।
পাহাড়, নিঝরিণী, নদী যেভাবে তােরে, করে ভুল সে।
দিয়েছি আঁখি খুলে, তাের ঐ প্রাণময় স্বরূপ জাগে হৃদে।
হেরি সে শ্যামল দিব্যরূপ সদা তাের ঐ জড় দেহে।
জাতীয় সঙ্গীত
যাবেনা তাের ঐ দুঃখ কভু, কোন কালে।
সন্তানেরা যতদিন তােরে জড়, প্রাণহীন ভাববে।
অসাড়, প্রাণহীন যদি কেউ তার মাকে ভাবে।
সে মার দুঃখে কভু কি তার প্রাণ কাঁদে?
প্রাণময় তাের ঐ স্বরূপ যেদিন সন্তানেরা তাের জাবে।
ঘুচাতে তাের দুঃখ তারা হবে আত্মহারা সবে ।
স্বার্থ, ঘেষাঘেষি যাবে সব চলে।
হবে সংহত তারা মিলে তাের ঐ চরণ তলে ।
r
১৫-৩-৩৫
( ২৮ )
তুই কি জ্ঞানের আদি জননী সেই ভারতভূমি ?
তাের ঐ পুণ্যভূমে জনমিয়ে হ’ল ধন্য কত যে ঋষি, জ্ঞানী।
তাদের সেই চিন্তাধারা আজও আছে সারা বিশ্ব ভরি।
দেশ, বিদেশে সব জাতি মাঝে হয়ে তাদের বিবেক বাণী ।
যখন তমসাভরা ছিল ধরা, নগ্নকায়ে ঐ প্রতীচ্যজাতি।
তখন উড়ালি জ্ঞানের ধ্বজা, পেলি পূজা এই বিশ্ব ভরি।
মুখরিত হ’ল তখন তাের ঐ পােবন, নির্জন গুহা, গিরি।
শুনি তাের ঐ ঋষির মুখে বেদের সেই আপ্তবাণী ।
৩৪
জাতীয় সঙ্গীত
ভবে আৰ্য নামে খ্যাত যারা ছিল তােরই যে তারা সন্ততি।
জিনি সসাগরা ধরা আল এ বিশ্বে ধৰ্ম্মের সার বাণী।
অহিংসা এ মহৎবাণী এভবে প্রথম তুই শুনালি।
হ’ল চীন, জাপান, তিব্বত শিষ্য চরণে তাের প্রণমি।
১০ •৩-৩৫
( ২৯ )
একবার দেখরে চেয়ে তােরা সবে মিলে।
তােদের স্থান আজ কোথায় এ ভবে।
জাতি হিসাবে সবার চেয়ে।
হেয় তাদের চেয়ে কে আছে।
যায় সেই জাতির মান।
যারা পরের ভাবে করে অভিমান ।
বাড়ে সেই জাতির মর্যাদা।
যারা রাখে কৃষ্টি, তার ভাবধারা।
পরের ভাবে বড় হয়েছে কবে কে কোথা ?
ঘরে, বাহিরে তােদের তাই আজ এ দীনতা।
ঝাঁপ দিয়েছিস সাগরে বলে ।
রােগের জ্বলা যাবে না চলে।
রােগ যায় তার প্রতিকারে ।
য় নতশিরে আত্ম সমর্পিলে।
১৪-৩-৩৫
জাতীয় সঙ্গীত
৩৫
( ৩০ )
ফিরে চল ঘরে তাের করে জীবন এমন হেলা ফেলা।
পরের হাতে দিয়ে কায কতদিন আর থাক্বি তােরা।
তােদের ঘরে আছে অনেক কায জীবন ভরেও যায়না সারা।
আশেপাশে তােদের যারা, সেরে ঘরের কায
( আজ ) কত বড় তারা।
সবার বড় ঐ যে রবি সেও যায়না আপন কায ভুলি।
চাদ ডুবলে ভােরে আসি ঢালে কিরণ নিতিনিতি ।
ঘরের কাযে লাগলে মন, এ অলসতা যাবে তখন।
অনুতাপ আসবে যখন, ঘরের ছেলে হবি তখন।
১৪-৯-৩৫
(
১
ধরি শিরে শুভ্র তুষার, হিমানী,
পদতলে উত্তাল সাগর কল্লোলিণী,
দক্ষিণে, বামে দুর্গম শৈলশ্রেণী,
প্রকৃতি আশীষে দুর্ভেদ্য তুমি ভারত জননী।
৩৬
জাতীয় সঙ্গীত
২
উর্ধে আকাশ তােমার উদার, অনন্ত,
দিবায়
ধূসর,
নীলরংয়ে দিগন্ত বিস্তৃত,
নিশায় হাসিভরা অগণ্য তারকাখচিত,
খেলি নিত্য বিমল চন্দ্রমা সাথে হয়না কভু শ্রান্ত।
ভূতল তােমার অনন্ত ঐশ্বৰ্য প্রসবিনী,
শ্যামল হাসিভরা সারাঋতু, উৰ্ব্বরা মেদিনী,
বয় দেশে, দেশে অগণ্য স্রোতস্বিনী,
বাণিজ্যে হয়েছিলে একদা এ ধরার রাণী।
৪
ছুটল যেদিন দিকে, দিকে অসংখ্য তােমার বাহিনী
ত্রাসিত করি ধরা ক’ল জয় কত দেশ, শ্রেণী,
সুদূর মালয়, সুমাত্রায় উপনিবেশ স্থাপি,
যশৈশ্বৰ্যে করেছিল তােমায় ধরিত্রীর রাণী।
১২-৭-৩৮
জাতীয় সঙ্গীত
৩৭
( ৩২ )
শ্যামল, স্বচ্ছল, ঘন বিটপীতৃণাবৃত পুণ্য ঐ তব তট উজ্জ্বল করে।
যােগ-নিরত, ছিল যত ঋষি অন্তর হতে তাদের উখিত হয়ে।
যেদিন ভাতিল ধরায় জ্ঞানজ্যোতি তব
মহান্ সে গৌরব আজও আছে বিশ্ব ভরে।
উর্ধে হিমাচল, নিম্নে কুমারিকা
পূৰ্ব্ব, পশ্চিম ঘাট সব বেষ্টন করে।
যত ছিল দেশ, নদ, নদী অশেষ
হ’ল পাহাড়, কর উজ্জ্বল তার পরশে।
ভাতিল ধরায় সে উষায় নব জাগরণ,
সােণার স্বপন প্রসারি দিকে দিকে ।
ছিল সূক্ষ্মদর্শী, উদার সে যুগের তারা,
ছিল না অস্পৃশ্যতা, প্রেরণা উচ্চ হৃদে।
স্ত্রী, পুরুষ না করি বিচার তুলেছিল
বিরাট একটা জাতি গড়ে।
সহস্র সহস্র বর্ষ কেহ না করিল তারে স্পর্শ
জাতির বিরাট সে একতা হেরে ।
হলে সে যুগের অবসান স্বার্থান্ধ তাদেরই সন্তান,
হরিল জাতির শক্তি শত শ্রেণী ভাগ করে।
জাতির মেরুদণ্ড যারা সরিল অবজ্ঞায় তারা।
পদানত জাতি যুগ যুগ সেইদিন হ’তে।
৩৮
জাতীয় সঙ্গীত
কৃষ্টি, বৈশিষ্ট বিকায়ে সর্বস্ব আছে পরভাবে মাতি
ভাবি যাবে দিন এনি চলে।
করি ভীতির সঞ্চার প্রাণে তরঙ্গায়িত
সাগর যেত বয়ে একদিন যেখানে।
উচ্চ করে শির আজ উঠেছে সেখানে বিরাট
পাহাড় যুগের ব্যবধানে।
নিয়ে অতীতের ভাব, ধারা ছিল এ বিশ্বে যারা
পড়ে সবার পিছনে।
করি স্বীকার যুগের প্রভাব চলেছে আজ তারা
নব যুগের নবীন উদ্যমে ।
শুধু এই জাতি বিশ্বে আছে পড়ি সবার পিছে
অতীতের জঞ্জাল বহি শিরে।
স্বখাদ সলিলে সবে ডুবে মরূতে যুগের
প্রভাব পানে পশ্চাৎ ফিরে ॥
২৮-১০.৩৬
( ৩৩ )
১
সার্থক মােদের মানব জীবন, সােণার বাংলায় লভি জনম,
যশে, শৌর্য্যে, জ্ঞানে, ঐশ্বর্য্যে, সুজলা, সুফলা কোন দেশ এমন?
জীবনে, মরণে, জনমে, জনমে সেবিব মােরা মার শ্যামল চরণ।
ত্যজিব সুখ, বরিব দুঃখ, করি তার সেবা আজীবন।
জাতীয় সঙ্গীত
৩৯
২
ধন্য করি ভারত গগন সােনার বাংলা জাগিল যখন।
ছিলনা ভারতে দেশ এমন যা করেনি জয় বাঙ্গালী তখন।
ব্ৰহ্ম, সিন্ধু, কাশ্মীর, কোশল, গান্ধার, মিথিলা, কুমারিকা,
সিংহল।
অঙ্গ, কলিঙ্গ, মগধ, উৎকল করিল জয় বাঙ্গালী এ সকল ।
বাজিল দুন্দুভি, সে বিজয় ভেরী সসাগরা ভারত করগত করি
ভরিল ঐশ্বৰ্যে গৌড় নগরী, ছাইল বাংলার যশ বিশ্বব্যাপী।
নাগ, সুর, পাল, সেন নরপতি শাসিল ভারত যুগ যুগ ধরি।
যশে, শৌর্যে বিস্মিত করি রাখল বাঙ্গালীর অতুল কীর্তি।
৪
সেই সােণার বাংলায় মােদের জনম, শোৰ্য যার বিদিত ভুবন।
তার শ্যামল ক্রোড়ে বর্ধিত দেহ, সেবায় তার করিব বরণ।
আবার সকলে আসিব
ভূতলে যদি না হয় মার দুঃখ মােচন।
করি জনমে, জনমে ক্লেশ বরণ, সেবায় তার সপিব জীবন।
“হুমায়ুন”
১৫-৬-৩০
৪০
জাতীয় সঙ্গীত
( ৩৪ )
শিরে তাের শােভিছে মুকুট।
অভ্রভেদী উচ্চ গিরি ঐ হিন্দুকুশ।
পূৰ্ব্ব, পশ্চিমঘাট শশাভে দুটী বাহু অপরূপ।
পরি লতা, গুল্মে বলয় স্বরূপ।
বিধৌত করি তাের চরণতল।
ধায় ভারত মহাসাগরের জল ।
সিক্ত করি তাের পূর্ব উপকূল চয়।
আব্রহ্ম প্রসারি বঙ্গোপসাগর বয়।
ছত্রিংশ কোটী এই ধরার মানব।
সন্তান যার বিদিত ভূলােক।
জননী তুই সােণার ভারত।
আবার পূজিবে তােরে সারা বিশ্ব, ভূলােক।
২
দুর্ভেদ্য তােরে করেছে প্রকৃতি
বেষ্টিত করি চারিধারে দুর্গম গিরি।
ছিদ্র কোথায়ও তাের নাহি দেহপরি।
আশ্রয় করি যারে প্রবেশিবে অরি।
৪১
জাতীয় সঙ্গীত
উন্মুক্ত যদিও তাের আছে দুই দ্বার।
দুর্ধষ্য পার্বত্য সন্তান সেথায় প্রহরী সজাগ।
ছত্রিংশকোটী এই ধরার মানব।
ইত্যাদি
সৃষ্টি হতে সদয়া প্রকৃতি তাের প্রতি।
অকাতরে দিয়েছে অতুল ঐশ্বৰ্য ঢালি।
যতন করেছে এমন ধরায় কোথায় প্রকৃতি।
স্নিগ্ধ করূতে দেশ দিয়ে অগণ্য নদ, নদী।
শস্য প্রসবিনী এমন কার মাটী ।
পথে, মাঠে শােভে শ্যাম শম্পরাজি।
ছত্রিংশ কোটী এই ধরার মানব।
ইত্যাদি
ভেদী প্রলয়-পয়ােধি যবে উঠিল ধরণী।
তুই শুনালি প্রথম সাম্য, মৈত্রী বাণী।
দীপ্ত করি জ্ঞানের অফুরন্ত পরশমণি।
নাশিলী ধরার তম, হলি ধরিত্রীর রাণী ।
৪২
জাতীয় সঙ্গীত
বিশ্বের যতেক জাতি জুটিল তাের দ্বারে আসি।
লভিল জ্ঞান জ্যোতি চরণে তাের প্রণমি ।
কত সহস্র যুগ গেছে চলি, উঠিল, পড়িল বিশ্বে কত জাতি।
সমকক্ষ না হ’ল কেহ লভি তাের সম সে দিব্য জ্যোতি।
ছত্রিংশকোটী এই ধরার মানব।
ইত্যাদি
মুক্তির বাসনা যবে জানাল বিশ্ববাসী।
সে সাধ পুরাতে কারও ছিলনা ধরায় শক্তি।
তােরই সন্তান তারা, ছিল যােগসিদ্ধ ঋষি যারা ।
প্রচারিল চারিবেদ, ধরার মানবে দিতে মুক্তি।
আবার মন্থিত করি সে বেদ চারি, প্রচারিল তােরই ঋষি
তন্ত্রমতে ক্রিয়া বিধি, দিতে মানবে ত্বরায় সিদ্ধি।
উদার এমন কোথা আছে বিশ্বে ধৰ্ম্মপ্রথা ।
পূজিতে বিশ্বমাতা, নাহি ভেদাভেদ জাতি, সূত, সূতা ।
ছত্রিংশকোটী এই ধরার মানব।
ইত্যাদি
গর্জিল ধরায় যেদিন তাের রণােন্মত্ত ভেরী।
ত্রাসিত হইল বিশ্ব তার পরাক্রম নেহারি ।
অগ্রসর না হ’ল কেহ এই বিশ্বের জাতি।
আহ্বান করিতে রণে, কিবা রােধিতে সে গতি।।
জাতীয় সঙ্গীত
৪৩
}
যাচিল বশ্যতা সবে আসি প্রাচ্য, প্রতীচ্যের জাতি।
হ’ল রচিত ভারত সাম্রাজ্য, ধরায় সুদিন, ভেদহীন নীতি।
ছত্রিংশকোটী এই ধরার মানব।
ইত্যাদি
৭
গেছে সে সুদিন যদিও তাের বহু যুগ হতে।
ঘাের তমসা সারা আকাশ ঘিরেছে।
সে সুদিনের রেখা, নেই আর মানচিত্রে আঁকা।
কালের কবলে গেছে সব ধুয়ে, মুছে ৷৷
তুই হ’নে অধীর, দুঃখে কাতর।
থাকেনা দুঃখ কারও সারাজীবন ভ’র।।
উত্থান, পতন এযে প্রকৃতির নিয়ম।
পতনে উত্থান তাের কে করে বারণ ?
ছত্রিংশ কোটী এই ধরার মানব।
ইত্যাদি
১১-১১-৩২
( ৩৫ )
(ব) কতকাল আর তােরা
এমন করি অবহেলা।
সবে কবি দেশ পূজা।
দেশকে ভাবি, মাটী, ঢেলা।
৪৪
জাতীয় সঙ্গীত
পাহাড়, নিঝর, ধারা।
বন, তরু, লতা।
নদী, সাগর, বেলা।
চেতনা হীন, প্রাণশূন্য কায়া।
দেখরে আঁখি মেলে তােরা।
দেশ নয় তােদের শূন্য কায় ।
জড় মাঝে বিরাজে তার মূর্তি দেশ মাতা।
ফল, ফুল, গন্ধ, বায়ু করে তার পূজা।
জড়জগৎ নয় প্রাণ ছাড়া।
ভাবিনে এ নূতন কথা।
সৰ্ব্বভূতে দেশমাতা থাকে বিরাজিত।
যুগ যুগ ধরি তােরা ক তার পূজা।
দেশমাতা সর্বভূতে না হলে এ জ্ঞান।
বাজে কিরে প্রাণে কভু তার অপমান ?
হবেনা পূর্ণ তােদের কভু মনস্কাম।
ধৰ্ম্ম, অর্থ, মােক্ষ, কাম না হলে দেশ জ্ঞান।
২২-১২-২৮
জাতীয় সঙ্গীত
৪৫
( ৩৬ )
তােদের যাবেনা কি ভ্রম।
ভাঙ্গবেনা কি এ ঘুম।
কতকাল কাটাবি এমন।
হয়ে অসাড়, অচেতন।
ঘৃণিত, পতিত যারা ছিল এই বিশ্বে।
চেয়ে দেখ, তাদের স্থান (আজ) কত উচ্চে
লাঞ্ছিত, গঞ্জিত, কেউ নেই এ ভবে।
এমন তােদের মত নিজস্ব হারায়ে ।
কতকাল আর এমন পরমুখী হয়ে।
পরভাবে, পরবেশে (তের) থাক্বি আবেশে ?
বল্ তােরা কোন জাতি জেগেছে এ বিশ্বে।
জাতির কৃষ্টি, বৈশিষ্ট পরপদে সপে?
জাতি মাঝে তােদের এমন থাক্তে কৰ্ম্মশক্তি।
হায়! তােরা কি করে হলি ঘাের অদৃষ্টবাদী।
কর্মে আস্থা যেদিন হ’তে হারিয়েছি তােরা।
দুঃখ, দৈন্য সেই দিন করেছে তােদের ঘেরা।
এখনও আয় তােরা ঘরে ফিরে, কৰ্ম্মে করি আস্থা।
যাবে এ দীনতা চলে, পাবি নূতন জীবন সাড়া।
২-১২-২৮
৪৬
জাতীয় সঙ্গীত
( ৩৭ )
বেলা গেলরে,
ডুবলাে তপন,
নিশার আঁধার,
এলাে ছেয়ে যে গগন ।
আয় তােরা আয়,
ঐ শােনা যায়,
দেশের বিলাপ।
করুণ রােদন।
উঠিছে ভেদী,
সুদূর গগন,
(তার) ক্ষোভ, অপমান।
সে দারুণ, ভীষণ।
শত অশ্রু ধার,
বয় দেহে তার,
জীর্ণা, শীর্ণ, কায় ।
বিবর্ণা বসন ।
শত, শত, যুগ,
হ’য়েরে বিরূপ,
ভুলেছিস তােরা।
দেশ সেবা।
তার রূপ ধ্যান,
তার মন্ত্র জ্ঞান,
তার মূর্তি গড়ি।
তার চরণ পূজা।
জাতীয় সঙ্গীত
৪৭
সে দুঃখে হায়, (তার) বিদরে হৃদয়,
তনয়ের কুমতি।
প্রাণে কি সয় ?
স্নেহবারি ঢালি,
ধন, ধান্যে পালি,
প্রাণের সে তনয় ।
(যদি) অনাদরে মায় ।
বৃথারে জনম,
বৃথারে করম,
ধন, পরিজন।
বৃথা আসা এ ধরায়।
মিছে গৃহ, ধর্ম,
ব্যর্থ দান, পুণ্য,
জনমি দেশের কোলে।
যদি না পূজিলি দেশমাতায়।
১•১২-২৮
( ৩ )
স’য়ে এ অপমান, এমন হয়ে হেয়জ্ঞান।
(ব) কতকাল থাক্বি তােরা ভারত সন্তান।
লাঞ্ছনা, গঞ্জনা এভাবে হারায়ে আত্মসম্মান।
বেঁচে থাকা, আর মরা তােদের নয়কি সমান ?
৪৮
জাতীয় সঙ্গীত
একবার ভেবে দেখ, তােরা কাদের সন্তান।
এ ধরায় হেয় কোন্ জাতি তােদের সমান ?
লভি আৰ্য্যবংশে জনম, হয়ে সবে আৰ্য সন্তান।
শােভে কিরে এ হীনতা তােদের শৃগাল সমান।
ততাদেরই প্রতিবেশী, নয় সুদূর সে আফগানিস্থান।
আজও অনুন্নত, নয় শিক্ষিত তারা তােদের সমান।
আত্মগরিমায় আজ তারাও হয়েছে গরীয়ান।
এ বিশ্বে জাতি মাঝে লভেছে তারাও স্থান।
তােদেরই মহাদেশবাসী যে চীন ছিল এতদিন নিদ্রিত
গৃহকলহে খৰ্ব্ব, জাতিমাঝে সবার হেয় ।
তারাও পেল সম্মান করি সব অরি পদানত।
সুপ্তচীন হেরি জাগ্রত, ভীত আজ এ বিশ্ব।
এই এশিয়াবাসী তারাও প্রাচ্যজাতি তুর্কী।
হয়েছিল লাঞ্ছিত ভােদেরই মত আত্মসম্মান বিস্মরি।
আজ বিজয়গর্বে গব্বী হেরি তাদের কীর্তি।
যাচিছে পাশ্চাত্যজাতি সবে তাদের প্রতি।
সাগর মাঝে ভাসে ঐ ক্ষুদ্র দ্বীপ সে জাপান।
তােদেরই মত অবয়ব, খর্বাকৃতি তােদরই সমান।
আহার, বিহার তােদেরই মত, তারাও আৰ্য সন্তান।
চেয়ে দেখ, শৌর্য বলে আজ লভেছে কোথায় স্থান?
ইরাণ, পারস্য, মিসর, তাতার, তিব্বত।
নয় কেউ দীন, এমন তােদের মত বৰ্ব্বর।
জাতীয় সঙ্গীত
৪৯
তারা সবাই উন্নত, আজ সবাই জাগ্রত।
কার সাধ্য করে তাদের যশ, মান খৰ্ব্ব ।
কতকাল আর তােরা এমন থাক্বি আত্মবিস্মৃত।
কতকাল এভাবে হবি ঘৃণিত, অনাদৃত।
দুর্ভিক্ষ, মড়ক তারাও করছে তােদের শােষিত।
ঘরে, বাহিরে এমন কার আছে শত্ৰু অসংখ্য ?
শুধু একতা হারায়ে তােদর গিয়েছে সর্বস্ব।
ব্যাধিগ্রস্থ, অন্নক্লিষ্ট, তােদের মত এমন কে দীন, হেয় ?
একদিন ছিল যা তােদের এ বিশ্বে নিজ বৈশিষ্ঠ।
হারিয়েছি তাও তাের করি অনুকরণ পরস্ব।
তােরা জাগরে আজ সবে মিলি, থাকিনে আর ঘুমন্ত।
পূৰ্বাকাশ পরিচ্ছন্ন, আবার যদি ফেরে অদৃষ্ট।
ভাবিসনে এমিছে স্বপন, নয় বিধির বিধান।
আয় সবে তবে কানপেতে শুবি সে মুক্তির গান।
২-১২-২৮
( ৩৯ )
আজ এ সান্ধ্য সমীরণে, ঐ কুসুম কুঞ্জ ভবনে,
লতায়, পাতায় তৃণে যার ছবিটী ফুটে।
আমার দেশ, আমার জন্ম ভূমি সে যে।
৫০
জাতীয় সঙ্গীত
পথ, মাঠ, তরু, লতা, যার কাছে নেয় শােভা,
ছড়ায় তারকা হাসি যার আকাশে।
আমার দেশ, আমার জন্মভূমি সে যে।
নীরব প্রকৃতি কোলে,
সব কার্য নিভে গেলে,
মধুর ছবিটী যার ধরায় উঠে ফুটে।
আমার দেশ, আমার জন্মভূমি সে যে।
ব্যাকুল এ আঁখি দ্বয়,
যারে হেরে আকুল হয়,
আকাশ, পাহাড়, ভূধর, সাগর যার রূপটী ধরে।
আমার দেশ, আমার জন্মভূমি সে যে ।
মরমের সবতান,
পারেনা ফুরাতে যার গান,
করুণায় যার আছি বেঁচে।
আমার দেশ, আমার জন্মভূমি সে যে।
২৬-১০-৩৭
( ৪০ )
আমার এ হৃদয়,
হে দয়াময় ।
কর সঞ্জীবিত দিয়ে উচ্চ প্রেরণা।
দেশ, জাতির মহিমা, প্রচারিতে বিশ্বে,
জাগে যেন আমার রসনা।
আমার এ অন্তর,
যেন নিরন্তর,
দেশমাতার করে সাধনা ।
জাতীয় সঙ্গীত
es
মুখে, দুঃখে,
বিপদে, আপদে,
লুপ্ত না হয় যেন সে কামনা।
নয়ন আমার,
যেন অনিবার,
দেশের মূরতি করে ধারণা।
হিয়ার মাঝে,
উৎসব করে,
উঠে বেজে যেন তার আরাধনা ।
ভেঙ্গে দাও মোের, মােহ, মায়া ঘাের,
জাতির কাযে কতে শক্তি যােজনা ॥
জীবনে, মরণে,
সকল রকমে,
দেশ, জাতিই যেন হয় সাধনা।
আমার এ হৃদয়,
হে দয়াময়।
কর সঞ্জীবিত দিয়ে উচ্চ প্রেরণা।
( ৪১ )
তুমি অন্তর মম,
কর মার্জিত,
ওহে বিশ্বপতি!
জাতির কাযে,
সব স্বার্থ ভুলে,
দাও প্রেরণা, কৰ্ম্মশক্তি।
৫২
জাতীয় সঙ্গীত
বর্ধিত কর,
হৃদয় মাঝে,
সুষমা ছড়ায়ে,
দাও হীনতা, দীনতা নাশি।
তব মধুর পরশে, যা মােহ কেটে,
ত্যাগ, সেবায়, উঠুক হৃদয় ভরি।
তুমি লুপ্ত কর,
মােহ, মায়া, যত,
দীপ্ত করি প্রাণে উচ্চ আশা।
জাগ্রত কর,
দেশের কাযে গরিমা বজ্জিত ভাষা।
তুমি অঙ্কিত কর,
এ হৃদয় মাঝে,
দেশের মধুর, উজল কান্তি ।
অন্তর মম,
হাে উদার,
দেশের কাযে ঘুচে যাক্ ভ্রান্তি ।
জনমে, জনমে,
জাতির কল্যাণে,
সঞ্চার বাহুতে শক্তি ।
দেশের কাযে,
স্বার্থত্যাগে,
কভু দ্বিধা যেন না করি।
তুমি অন্তর মম,
কর মাজ্জিত,
ওহে বিশ্বপতি!
২২-১১-১৭
জাতীয় সঙ্গীত
৫৩
( ৪২ )
তােরা দেখ রে চেয়ে আজ সবাই জেগে।
নেইরে কেউ আর এমন অলসে বসে ।
শুধু স্বার্থ, দ্বেষাদ্বেষি, ধৰ্ম্মের খােলস্ নিয়ে।
তােরাই রয়েছিস্ ভবে সবার পিছে।
এসেছিলি এভবে তােরা সবার আগে।
বিধিও দিয়েছিল রাজটীকা প্রথম তােদেরই ললাটে।
তােরা হারিয়েছিস্ সে সব নিজ করম দোষে।
কতদিন আর এভবে থাক্বি অলসে ৷
বেজেছিল গৌরবে এভবে সবার আগে।
তােদেরই বিজয়ডঙ্কা সে ভীষণ নিনাদে ।
সসাগরা ধরা কাপত তােদের ত্রাসে।
তােদেরই শঙ্কা সবে কত এ মরতে।
মিশর, ইটালী, রুষ, গ্রীস, ব্রিটন।
জার্মানী, ফরাসী, হল্যাণ্ড, ঘুমন্ত তখন।
চীন, জাপান, পারস্য জাগেনি এমন।
লভিল জ্ঞান, সবে নিয়ে তােদেরই শরণ ॥
আৰ্যনামে খ্যাত তােরা সেই প্রাচীন জাতি।
লঙ্কা করিল জয় রাম যেকুলে জনমি ।
সাগর সলীলে বাঁধি সেতু প্রস্তরে কৌশলে।
বধিল রাবণে রাখি অমর কীর্তি ভূতলে।
৫৪
জাতীয় সঙ্গীত
রণশ্রেষ্ঠ কুরুক্ষেত্র নেই তার তুলনা ভুবনে।
ভীষ্ম, দ্রোণ, ভীম, অর্জুন যুঝিল অক্ষৌনি সনে।
সেথা সপ্তরথী সনে বালক যুঝি পরাক্রমে।
রাখিল যে কীৰ্ত্তি নেই তার তুলনা ভুবনে।
এমনই অসীম ছিল একদিন বাহুতে তােদের শক্তি।
আজ তােরাই নির্জীব, আছিস্ বেঁচে নিয়ে ভেদবুদ্ধি।
জনমি আৰ্যকুলে তােদের মত কে আছে অকুলে ভাসি
ধিরে তােদের জীবন, শিক্ষা, বুদ্ধি, বিচার শক্তি।
২-৮-২৫
( ৪৩ )
সে সৃজন প্রভাতে এ ধরণী মাঝে ।
ধরিল মানব কায়া প্রথম যবে ।
ছিলনা তখন জ্ঞান, গরিমা।
অজ্ঞান তিমিরে আচ্ছন্ন ধরা।
রেখেছিল ঢাকি অজ্ঞান আঁধার।
বিদ্যা, বুদ্ধি, মানব গুণসব ।
জ্ঞান, গরিমা, ত্যাগ, শিক্ষা।
নীতি, শাস্ত্রহীন ছিল তারা।
জাতীয় সঙ্গীত
৫৫
সবার আগে জাগিল এ ভারত।
বিতরি ধরায় জ্ঞানের আলােক।
চরণে তার হ’ল প্রণত।
লভি জ্ঞানালােক বিশ্ববাসী যত।
হিমাদ্রি হতে ভেদী পঞ্চনদ।
ধ্বনিত হ’ল বেদ, তন্ত্র সব ।
সে আৰ্য্য চরণে নিয়ে শরণ।
লভিল বিশ্ব নীতি, শাস্ত্র, করম।
পুণ্য সেইদেশ ! ধন্য সেই নর।
বিতরিল, ধরায় যারা এমন বিভব
তাদেরই সন্ততি তাদের এ দুর্গতি।
ঘুচবে না কভু না গেলে ভেদবুদ্ধি ।
৩-৮-২৫
( ৪৪ )
স্বার্থত্যাগ, সর্বস্বপন, বিনে এ মন্ত্র আরাধন।
লভেছে কোজাতি বিশ্বে তার বাঞ্ছিত ধন?
ক্ষুদ্র কামনা নয় সে একটা জাতির উত্থান।
লভেছে সবাই বিশ্বে করি তার তরে বিরাট দান ।
৫৬
জাতীয় সঙ্গীত
যুগ, যুগ করি সবে পরকীয় ভাবে ভাবনা।
লাভ হয়নি কি তোদের শুধু আত্মপ্রবঞ্চনা ?
হবেনা, হবেনা পূর্ণ কভু তােদের এ কামনা।
জাতীয়ভাব ছাড়ি যদি পর ভাবে করিস ভাবনা।
পূর্ণাহুতি বিনে হয় কি
কভু যজ্ঞ সমাপন ?
মহা যজ্ঞের নয় কি তােদের এ আয়ােজন ?
মাতৃযজ্ঞের আহুতি সে যে সৰ্বস্ব পন।
পারিস যদি তখন করিস, নয় এখন।
দেখরে তােরা খুঁজে সবে অন্তর আপন।
দিনান্তে দেশের তরে হয়কি ফোটা অশ্রুপতন ।
অন্তর মাঝে জাগলে অদম্য বাসনা, উদ্যম।
নেই বিশ্বে এমন শক্তি করে তা বারণ।
জাগেনি, জাগেনি হৃদে তােদের সে অদম্য বাসনা।
জাগলে এমন অলস হয়ে তােরা থাকতি না ।
বাক্যচ্ছটা, বক্তৃতার চলে গেছে আজ সে দিন।
এতকাল সে সব করি যে তাের সেই হীন ।
এখন আছে তােদের কায, শুধু কায, নয় মুখের বুলি।
সাচ্চা কাষ করে যারা তারা খেলে কি মুখের ঠুলি ?
বরষ পরে আজ তােরা সবে হয়েছিস মিলিত।
এ মিলন হবে সার্থক, যদি সবে কৰ্ম্ম করিস্ ব্ৰত ।
৯-১২-২৮
জাতীয় সঙ্গীত
( ৪৫ )
একদিন তােরাও এ ভবে জেগেছিলি গৌরবে।
বীরের জাতি তােরাও বাঙ্গালী যে ।
ছিল অসীম শকতি উদার প্রকৃতি।
ধরায় না ছিল কেহ রােধিতে তােদের গতি।
ছিল না এ বাংলায় বিদেশী ভখন।
বাঙ্গালীর যশ, কীৰ্ত্তি ছাইল ভুবন।
হিমবিমণ্ডিত ঐ ঊর্ধ্বে হিমাচল।
সাগর চুম্বিত নিম্নের দেশ সকল ।
পরাক্রমে সব করি করগত।
স্থাপিল পাটলী পুত্রে “নাগবংশ” বাঙ্গালী সাম্রাজ্য।
কাশ্মীর, অযযাধ্যা, সুদূর নাগপুর, কোশল।
মায়াপুর, মথুরা, তাদের ছিল শাসিত সকল
শত, শত যুগ করি গৌরব মণ্ডিত।
পরাক্রমে শাসিল ভারত সেই “নাগ বংশ”।
* “কর্কটনাগের’ ধারা, তারা “বারেন্দ্র কায়স্থ”।
আর্যাবর্ত সমগ্র তাদের ছিল করগত ।
সুর, পাল, সেন ধারার যত নরপতিগণ ।
লভিল ভারাও যবে এই বাংলার সিংহাসন।
“কর্কোটকস্য নাগস্থ দময়ন্ত্যা নলস্য চ।
ঋতুপর্ণস্য রাজর্ষেঃ কীৰ্ত্তনং কলিনাশনম্ ।
জাতীয় সঙ্গীত
তারাও করিল বাংলায় সাম্রাজ্য স্থাপন।
পরাজিত করি যত অরি অগণন ।
ছিল রাজধানী তাদের ঐ গৌড় নগরী।
আজও রেখেছে ধ্বংসস্তুপে যত পূর্বস্মৃতি ধরি।
বহিত সে সেথা জাহ্নবী, স্বচ্ছ স্বরস্বতী।
কালের কবলে আজ হয়েছে সমাধি ।।
দুর্ভেদ্য প্রাচীর আর পরিখা বেষ্টিত।
ছিল সে নগরী সদা শত্রুর অজেয়।
প্রাসাদ নিম্নে তার সুড়ঙ্গ গভীর।
ছিল সংযােজিত জাহ্নবী সহিত ।
ষষ্ঠভাগ শস্যের তখন কর নিত রাজা।
বিরাজিত শান্তি প্ৰজার গৃহে সদা।
ধন, ধান্য পূর্ণ তখন ছিল এ বাংলা।
দুর্ভিক্ষ, মড়ক, কভু ছিল না সেথা ।
বাংলার বাসী ছিল শুধু বাঙ্গালী তখন।
ঘরে ঘরে ধনী কেহ ছিলনা নিধন।
ছিল বাণিজ্য জাতির প্রধান করম।
“সোেণার বাংলা” নাম হ’ল তখন।
হায়! স্বপনের মত মনে জাগেরে সেদিন।
সে “সােণার বাংলা” আজ শ্মশানে লীন।
নাহি জোটে অন্ন, যত ব্যাধিতে মলিন।
গৃহকলহে বাঙ্গালী সব জাতির হীন ।
১৩-৪-২৫
জাতীয় সঙ্গীত
৫৯
( ৪৬ )
ধন, ধান্যে বরেন্য ভুবনে, সুরম্য এমন আর কোন দেশ?
আটকোটী সন্তান মা বলি যার জুড়ায় সবে প্রাণের খেদ।
মুখরিত করি পােবন তার হ’ল উথিত যুগ যুগ কত নিদেশ।
দেশ, বিদেশে পূজিত সবার আমার জন্মভূমি সে “বাংলাদেশ।
শস্যশ্যামলা ধরণী তার বিতরে অন্ন দেশ, বিদেশ।
বহন করি অগণ্য পণ্য আজও অর্ণব ধায় পাশ্চাত্য দেশ ।
যুগ যুগ ধরি বেষ্টনকরি আছে হিমাদ্রি তার ললাট দেশ।
বিধৌত করি পদতল তার বয় সাগর নিম্ন প্রদেশ।
পবিত্র করি ধরিত্রী তার বয় জাহ্বী শত ধারায়।
শীত, গ্রীষ্মে রবির কিরণ নাশে সব ক্লেশ সেথায়।
মধুর বসন্তে, মলয় হিল্লোলে সুন্দর এমন প্রকৃতি কোথা ?
নবীন পত্রে, ধরণী বক্ষে ফল, ফুলে শােভে তরু, লতা।
শীতলকরি তাপিত প্রকৃতি ঢালে কোথা মেঘ নিদাঘে বারি ?
শুষ্ক জলাশয় জলপূর্ণ হয়, কৃষকে রােপে ধান্য রাজি ।
জনমিতে শস্য চয়, সেথা নাহি প্রয়ােজন জলাশয়।
মধুর প্রকৃতি উদার অতি, গ্রীষ্ম, বর্ষায় বারি যােগায়।
শরত আকাশে তারকা ছড়ায় হাসে কোথা এমন বিমল চাদ ।
চাতক উড়ে শূন্যে মিশে যায়, চাদের সুধায় মিটাতে সাধ ।
যুগে যুগে এই বঙ্গ প্রসবিল কত যে রত্ন।
বিশ্বব্যাপী খ্যাতি তাদের করিল দেশ ধন্য।
জাতীয় সঙ্গীত
কোথায় এমন স্বদেশ প্রীতি দেশের লােক সবে মিলি।
পরাত সম্রাটের মুকুট যােগ্য যে তারে, জাতি, ধর্মের কথা ভুলি।
শত শত বিপ্লব কোথায় পারেনি স্পর্শিতে জাতির কেশ।
দেশ, বিদেশে পূজিত সবার আমার জন্মভূমি সে বাংলাদেশ।
৮-২-২৬
( ৪৭ )
তাের দেখরে চেয়ে আটকোটী সন্তান।
সােণর বাংলা আজ হয়েছে শ্মশান।
পেটে নাহি অন্ন, ব্যাধি, জরাজীর্ণ।
ঘিরেছে এ জাতি যত দুঃখ, দৈন্য ।
এই বাংলায় এসে ধরার সব দেশবাসী।
নিতেছে সবে তার ধন, ধান্য গ্রাসী।
তাদেরই দ্বারে করে গােলামী।
যত অপমান আজ সয় বাঙ্গালী ।
নগরে কি গ্রামে ব্যবসার নামে।
তারা লুটে নেয় সর্বস্ব, বাধা না শুনে।
জনমিয়ে শস্য অনাহারে মরে।
বাংলার কৃষক প্রতি ঘরে, ঘরে।
জাতীয় সঙ্গীত
৬১
কে আছে বাংলায় তাদের মুখ চায় ?
মরমের জ্বালায় তাদের বুক ফেটে যায় !
বাঙ্গালী তােরা সবে হ'লে এক প্রাণ।
এদুঃখ তােদের তবে হবে অবসান ।
বিদ্যা, বুদ্ধি, জ্ঞান, সাহস, কৌশল।
তােদের মত ধরায় কার আছে বল ?
তবু কেন আছিস্ হয়ে মেষ শাবক দল ।
ধিরে! তােদের বিচার, বুদ্ধি, বল ।
একবার দেখ ভেবে তাের যে তাদেরই সন্তান।
বিতরিল ধরায় যারা বিদ্যা, বুদ্ধি, জ্ঞান।
বেদ, পুরাণ কি ইতিহাস যুগে।
বিজয় নিশান তাদের উড়িত এই বঙ্গে।
নয় সামান্য, সে চারি সহস্র বর্ষ আগে।
প্রতীচ্যের অভ্যুদয় যবে হয়নি এভবে।
তখনও এই সারা বাংলা জুড়ে।
রাজত্ব করিত বাঙ্গালী সুখে ।
মগধ, মিথিলা, রাঢ়, গৌড়, পৌণ্ড।
অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ ছিল তাদের শাসিত।
ছিল এই বঙ্গে বীর নাম তার “দাভাকর্ণ”।
অদ্বিতীয় পরাক্রম, রাজ্যের নাম ছিল তাঙ্গ ॥
দানের তুলনা তার নেই এ ভুবনে।
অতিথি সৎকারে কে বধে সন্তানে ?
৬২
জাতীয় সঙ্গীত
ঐ মগধের রাজা ছিল জরাসন্ধ ।
বিক্রমেতে যার “যাদবেরা” ত্যজিল বঙ্গ।
পরাক্রমে করি রণ পাণ্ডব সনে।
রাখিল বাঙ্গালী কীর্তি অমর এ ভুবনে ।
এই বাংলায় অভদিত হয়েছিল “নাগবংশ”।
পুরাণ বিদিত তারা “বারেন্দ্র কায়স্থ” ।
ছিল আৰ্যাবর্তের তারা সম্রাট একচ্ছত্র।
অযযাধ্যা, মথুরা, কাশ্মীর ছিল রাজ্যভুক্ত।
রাজধানী তাদের ছিল পাটলীপুত্র।
শত শত বরষ তারা এই ভারত শাসিল ।
পরাজিত করি সেই “নাগ” পরাক্রান্ত।
হ’ল উদিত বাংলায় “মৌৰ্য,” “গুপ্তবংশ”।
ভাতিল সে “গুপ্ত” রবি যবে মধ্যাহ্ন গগনে।
সমকক্ষ কেহ তাদের ছিল না ভুবনে।
স্থাপিত করি বাংলায় বিশাল সাম্রাজ্য।
রাজত্ব করিল সেথা সেই “মৌৰ্য্যবংশ”।
ছিল সম্রাট শ্রেষ্ঠ তার নাম “চন্দ্রগুপ্ত।
ভুবন বিদিত যার মন্ত্রী চাণক্য।
পদাতিক সেনা তার ছিল অষ্টলক্ষ।
সমর জিনিতে তারা সবে দক্ষ।
অশ্বারােহী, পদাতিক, অগণ্য নৌবাহিনী সহ ।
গ্রীকসনে সম্মুখরণে হেলায় সমর জিতিল ।
জাতীয় সঙ্গীত
ছিল বাংলারই সম্রাট তারা সুর, পাল, সেন রাজাগণ।
অমিত বিক্রমে তাদের তখন কঁাপিত ভুবন।
যাদ্ধ দুই সহস্র বরষ আগে।
নয় বহুদূর সে ঐ সিংহারণ তীরে।
ছিল বাঙ্গালী রাজা সেথা নাম তার “বিজয়”।
রাখিল অমর কীৰ্ত্তি বিক্রমে ধরায় ।।
সাতশত মাত্র নিয়ে অনুচর।
দুর্জয় সাহসে হ’ল সাগর পার ।
উত্তরিল সবে তারা সুদূর লঙ্কায়।
হেলায় করিল সে দেশ বিজয় ॥
“প্রতাপাদিত্য” আর “সীতারাম” রায়।
তারাও জন্মেছিল এই বাংলায়।
মােগল সম্রাটে করি পরাজয়।
গঠিল স্বাধীন রাজ্য তারাও বাংলায়।
ভারতসাগরে গিয়ে বাণিজ্য তরে।
গঠিল বাঙ্গালী উপনিবেশ যব, মালয়ে।
ঐ নবদ্বীপ ধামে জনমি শ্রীচৈতন্য।
প্রচার করিল বাংলায় বৈষ্ণব ধর্ম ।
আৰ্যাবৰ্ত্তব্যাপী উঠিল তার রােল।
হ’ল শিষ্য কলিঙ্গ, উৎকল, সিংহল ।
পরাজিত করি দ্রাবিড়গণ।
করিল বাঙ্গালী কলিঙ্গ গঠন।
৬৪
জাতীয় সঙ্গীত
এই বাংলারই বণিক করিল একদিন।
বাণিজ্যে জয় রুষ, আরব, পারস্য, চীন ।
জন্মেছিল বাংলায় মহাযােগী বুদ্ধ ।
চীন, জাপান, যার আজও শিষ্য ।
বাঙ্গালী ব্রাহ্মণ, পরে সাধক “রামকৃষ্ণ”।
সাধনার বলে হল অবতারে গণ্য।
প্রিয় শিষ্য তার স্বামী বিবেকানন্দ”।
প্রচারিল ধরায় কৰ্ম্মের শ্রেষ্ঠত্ব ।
প্রাচ্য, প্রতীচ্য, সুদূর “যুক্তরাজ্য”।
লভিল চরণে তার সবে শিষ্যত্ব ।
“রামমােহন” আর “কেশবচন্দ্র।
প্রচারিল তারা ধরায় “ব্রাহ্মধর্ম” ।
ছিল দুজনেই তারা বাগ্মীশ্রেষ্ঠ।
বাগ্মীতায় তাদের হ’ল বিস্মিত বিশ্ব ।
জনমি এই বাংলায় “দেশবন্ধুদাস”।
শিখাল মানবে দেশ সেবা, ত্যাগ।
পুণ্য হয়েছে ভূমি এই বাংলার ।
জাগিবে আবার, সে জাগিবে আবার।
১-১১.২৬
জাতীয় সঙ্গী
( ৪৮ )
তােমরা ভাব যা প্রগতি বলে।
নয় যে তা কভু কোনকালে।
জাতির কৃষ্টি, বৈশিষ্ট হারিয়ে।
হয়েছে বড় কোন জাতি, কোন দেশে ?
চাও যদি হ’তে বড় এ বিশ্বে।
হবে না তা অনুকরণে প্রতীচ্যে ॥
মানুষ প্রয়াসে যাবে না ভেদ প্রাচ্যে, প্রতীচ্যে।
যুগ যুগ প্রকৃতি যা তাদের স্বভাবে গড়েছে।
ছেড়ে পােষাক, সমাজ, তার বাহ্যিক কায়া।
কর অনুকরণ প্রতীচ্যের সাহস, শৌর্য, কর্মধারা।
মৃত এ জাতি পাবে নূতন সাড়া প্রতি কাযে।
হবে উচ্চ আবার শির তার এ বিশ্ব মাঝে।
২৯-১২-৩৫
( ৪৯ )
১
নামে যার ধন্য মানব, কীর্তিগাথা বিদিত ভূলােক।
বিস্মিত যার করিল শোৰ্য্য সসাগরা ধরা, সমগ্র লােক ।
পুণ্য মােদের মাতৃভূমি ধরায় স্বর্গ সেই চিতাের।
চলো সবে আজ আহবে হয়েছে চিতাের অবরােধ ।
৬৬
জাতীয় সঙ্গীত
উচ্চ তার গরিমা শির, শিখাল বিশ্বে চালনা অসির।
বীরত্ব তার তুলনা অতীত, অসহায়ে রণে করেন অধীর।
নামে যার ধন্য মানব, কীর্তিগাথা বিদিত ভূলােক।
বিস্মিত যার করিল শৌর্য সসাগরা ধরা, সমগ্র লােক।
ইত্যাদি
ব্যর্থ করতে অরির রােধ, ভাঙ্গতে তার গরিমা, রােষ।
সপিতে প্রাণ সমরে লােক, শিখাল বিশ্বে সেই চিতাের ।
নামে যার ধন্য মানব, কীর্তিগাথা বিদিত ভূলােক।
বিস্মিত যার করিল শৌর্য সসাগরা ধরা, সমগ্র লােক।
ইত্যাদি
৪
নর, নারী ধরি কৃপাণ, শত্রু রক্তে সবে করি স্নান।
রাখল চিতাের জাতির মান, করি জাতির তরে সর্বস্ব দান ।
নামে যার ধন্য মানব, কীর্তিগাথা বিদিত ভূলােক।
বিস্মিত যার করিল শােৰ্য্য সসাগরা ধরা, সমগ্র লােক।
ইত্যাদি
৫
স্বামী, পুত্র গেছে সব, নেই তাতে কিছু ক্ষোভ।
(আজ) আর্যনারী! রাখ কীর্তি স্মরি তােমার সে গৌরব।
নামে যার ধন্য মানব, কীর্তিগাথা বিদিত ভূলােক।
বিস্মিত যার করিল শোৰ্য্য সসাগরা ধরা, সমগ্র লােক।
ইত্যাদি
“হুমায়ুন”
জাতীয় সঙ্গীত
৬৭
( ৫০ )
জাগ্রত করি ধরা তমসাবৃত,
বিতরিল জ্ঞানালােক যবে ভবে “আৰ্য”,
ধরাবাসী নর হ’ল তাদের চরণে প্রণত,
বন্দিত, কীৰ্ত্তিত করি (সে) আৰ্য গরিমা উচ্চ ।
গভীর তমসা, নিবিড় সে রাত্রি,
একাকী তারা, নাছিল দোসর যাত্রী,
হৃদে দিব্য জ্ঞান, হাতে তীক্ষ অসি,
হেলায় করিল জয় তারা বিশ্ববাসী।
তাদেরই সন্তান এই রাজপুত জাতি,
জীবনে কামনা যাদের নাহি বিনে অসি,
স্থাপিল “রাজস্থান” তারা বিতাড়ি অরি,
শৌর্য্য গরিমায় শির আছে উচ্চ করি ।
৪
সমভাবে নর, নারী ধরি সবে অসি,
রেখেছে জাতির মান এমন বিশ্বে কোন জাতি ?
এমন দেশ, কুল, ধন্য করি, যুগে যুগে নাশি অরি,
কোথা প্রমাণ করেছে নারী, শক্তি অংশ সব নারী ?
৬৮
জাতীয় সঙ্গীত
৫
কেশ, বেশ, বিলাসিতা, তুচ্ছ এ সব নারীর শােভা,
পায়ে ঠেলি কেবা কোথা, (এমন ) করেছে দেশ সেবা,
হাসিমুখে সারি সারি, চিতানলে দেহ সঁপি,
(এমন) ধন্য করেছে জাতি কোন্ দেশে আর নারী ?
(আজ) জয় আশা গেছে চলি, (তবে) বৃথা কেন এদেহ ধরি ?
এসাে সবে চিতানলে দেহ ত্যজি, রাখি আৰ্যনারীর কীর্তি,
আবার আসিব মােরা, ধন্য করিব ধরা,
আবার সপিব প্রাণ জাতির মঙ্গল লাগি
“হুমায়ুন”
( ৫১ )
মুছে যা আজ এ ধরণী হতে,
ঘুমন্ত ভারতের সে ছবি খান,
বিলুপ্ত হােক চিরতরে,
অবসাদময় তার বিমর্ষ বয়ান ।
জাতীয় সঙ্গীত
আঁধার হৃদয় উজল করে,
জাগুক নূতন আশা, নবীন প্রাণ,
জাতির কাযে, স্বার্থত্যাগে,
উঠুক ভরে এ জাতির প্রাণ।
ভারত জননী! পড়ে কি মনে একদা লভেছিলে বিশ্বে শীর্ষস্থান।
ছিল শোৰ্য তােমার ভুবন বিদিত, যশের মালা পরুত হিন্দুস্থান ।
২
সে জাগ্রত দেহে আসুক ভেসে,
অতীতের সব গৌরব গান,
লুপ্ত গরিমা যা ধুয়ে,
জাগুক নূতন সাড়া, নবীন প্রাণ।
উজল হয়ে ভারত আকাশে,
হােক দীপ্ত বালার্ক উষার রক্তিম রাগ,
বিস্মৃতির জলে যাক্ ধুয়ে ,
অতীতের যতেক হতাশ।
ভারত জননী! ইত্যাদি
দীপ্ত হাে জাতির কাযে,
অবসাদ মুক্ত সবার প্রাণ,
স্বার্থ, মােহ, যাক্ দূরে সরে,
হাে তামসী এ নিশা অবসান ।
৭০
জাতীয় সঙ্গীত
উঠুক জেগে, বিভাের হয়ে,
আজও স্বার্থ, মােহে, যাদের প্রাণ,
ভারত আকাশ আবার ছাইবে,
যশের রবি, পূর্ব সম্মান।
ভারত জননী! ইত্যাদি
“মােগল অদৃষ্ট”
( ৫২ )
এখনও হয়নি বেলা অবসান।
একতায় কর সবে পথের সন্ধান।
আঁখি মেলি দেখ চেয়ে, সুদূর ঐ অতীতে।
উড়েছিল কার আগে বিজয় নিশান ॥
ভাসে তরি খরস্রোতে, লহরমালা ভেঙ্গে চুড়ে।
বাঁধ তারে কুলে এনে, রাখ জাতির মান।
ঐ নিশার আঁধার ঘনিয়ে আসে, ঝঞ্জাবায়ু শুরু হবে।
যাবে তরি কোথায় ভেসে, পাবেনা সন্ধান।
“হুমায়ু
জাতীয় সঙ্গীত
৭১
( ৫৩ )
যেয়ােনা চলে, যেয়ােনা জননী! এসে বাংলায় তিন দিন থেকে।
হয় নি যে পূজা তােমার, ছিল সবে শুধু আমােদে মেতে ॥
ধূপ, ধূনাে, ভােগ, নৈবিদ্যে তাদের ভাবে তােমায় তুষ্ট করতে।
নও যে তুমি ভােগের প্রিয়, একবারও তা মনে না ভেবে।
ভাবেনা তারা নিয়েছ কি কারও পূজা তুমি কভু স্বার্থবলি বিনে।
হ’ল সার্থক রামের পূজা যখন দিল সে পদ্ম আঁখি অর্ঘ্য রূপে ।
এই বাংলা তােমার বােধন ভূমি, বরষে বরষে আস তুমি।
দুঃখ, দৈন্য, স্বার্থে ঘেরা এমন ধরায় আছে আর কোন্ ভূমি
পূজায় তুমি তুষ্ট হলে থাকে কি সেথা দৈন্য কোন কালে।
দরিদ্রতা এ বাংলা জুড়ে, কেমনে বলি তােমার পূজা হয়েছে।
৭-১০-৩৫
( ৫৪ )
যুগ যুগ হতে মা! তুমি করছ বাংলায় আসা, যাওয়া।
তবু ঘুচল না বাঙ্গালীর মিছে অভিমান, দরিদ্রতা ।
হ’লনা বিকশিত প্রাণে তাদের কভু উদারতা।
জাতির তরে স্বার্থত্যাগ, ভাবে, কর্মে জাতীয়তা।
মহাশক্তি তুমি, পূজলে তােমায় দেবী কি প্রকৃতিরূপে।
জাগে শক্তি হৃদয় ভরে, দুর্বলতা যায় সরে।
৭২
জাতীয় সঙ্গীত
হয়নি ব্যর্থ এ ধ্রুব সত্য আর কোনও দেশ, কোনও কালে।
ধ্বংসােম্মুখ এই বাংলা আর বাঙ্গালী বিনে ।
সরিয়ে নাও মিছে আত্মাভিমান এ জাতির হৃদয় হতে।
ফুটুক চোখ তাদের, দেখুক চেয়ে এ বিশ্বে তারা কত নীচে।
২২-১০-৩৬.
( ৫৫
যদি এসেছিস ধরায় আজ তুই মহাশক্তি।
দয়া করে কর রক্ষা মরণােম্মুখ এই বাঙ্গালী জাতি।
শোৰ্যে, জ্ঞানে জয় করেছিল একদিন যারা বিশ্ববাসী।
তাদেরই সন্তানের দেখ, আজ হয়েছে কি ঘাের দুর্গতি।
সর্ব শক্তির আধার যুগে যুগে যাদের তুই মা ভগবতী
সেই বাংলার সর্ব ক্ষেত্রে বাঙ্গালী আজ পরমুখাপেক্ষী ॥
অবাঙ্গালী হয়েছে আজ বাংলার সর্বত্র অধিবাসী।
হারিয়ে বৈশিষ্ট্য আছে তারা (শুধু ) অনুকরণে মাতি ।
গৃহে নাহি অন্ন, বিলাসিতায় মগ্ন, ধর্মের খােলস নিয়ে
কে করে এমন বাড়াবাড়ি।
ক্ষুদ্র স্বার্থে মগ্ন, অন্তঃসার শূন্য, কেমনে হবে বল্ এ জাতির মুক্তি ॥
বরষ পরে তুই আসিস ভূতলে তাের ঐ সােণার স্বরগ ছাড়ি।
ভক্তের পুরাতে বাসনা, ব্রাসিতে দিতে অভয় দশভূজ তুলি।
জাতীয় সঙ্গীত
৭৩
ভােগ, বলি, তামসিকতায় সবে থাকে তারা তােরে পাশরি।
জাতির মুক্তির তরে কেউ দেয় না অর্ঘ্য নিজ বুক চিরি।
দীপ্ত কর মা! করে ক্ষমা, হৃদয়ে তাদের শত যুগের বিলুপ্ত ভক্তি।
আশীষে তাের হাে সঞ্চার বাঙ্গালীর বাহুতে অসীম শক্তি।
জাগুক আবার মুমুর্ষ এই জাতি নবজীবন লভি।
বিশ্ব,
ঘুচুক্
নিজ্জীব অখ্যাতি।
গৌরবে তার ভরুক্
১৮-১০-৩১
( ৫৬ )
বরষ পরে আজ যদি এসেছিস্ দশভূজে।
দয়া করে দে শক্তি বাংলার ঘরে ঘরে ।
যুগে যুগে করি শক্তি পূজা, বল কেমনে লভিল বাঙ্গালী এ দীনতা।
অন্তরে, বাহিরে অসারতা, ধ্বংসম্মুখ এ জাতি বল দাঁড়ায় কোথা ।
যুগ, যুগান্তরে যে করেছে তাের পূজা, কখনও হয় নি তা বৃথা।
নাশিতে অধৰ্ম্ম, অনাচার ধরায়, হয়েছিস তুই আবিভূত।
করি পূজায় তােরে তুষ্ট, দেবরাজ লভিল হৃত স্বর্গ।
নাশিলি তুই মহিষাসুর, করি সুরলােক নিঃশঙ্কিত।
অর্ঘ্য দিয়ে তােরে নীল পদ্ম, অসাধ্য রাম করিল সাধ্য।
হল অমরত্ব তিরােহিত, সবংশে রাবণ নিহত।
৭৪
জাতীয় সঙ্গীত
কংসনারায়ণ যবে পূজে, এনেছিল বঙ্গে তােরে দুর্গে।
সেই অবধি বাংলার ঘরে, ঘরে আশ্বিনে সবে তােরে পূজে।
আজও আছে সেই বাংলা, ঘরে, ঘরে শরতে তাের পূজা।
তবু গেল না বাঙ্গালীর জড়তা, আত্মবিস্মৃতি, দরিদ্রতা ।
ভেবে ভেবে হ'লেম সারা, একবার মুখ তুলে তুই চা দশভূজা।
কেটে যাক এ ঘাের অমানিশা, জাগুক আবার সােণার বাংলা।
২৩.১০-২৮
( ৫৭ )
(দেশবন্ধুর উদ্দেশে)
আসবেন তিনি,
গেছেন যে ব’লে,
বিজয়ী হবেন স্বরাজ সমরে।
যুগ, যুগ ধরে,
দেশ হিত তরে,
আসবেন
তিনি গেছেন বলে ।
গেছেন তিনি,
অমর ধামে,
সেথা দেব আশীর্বাদ লভিতে।
হয়ে পূর্ণসাধ,
আবেন ফিরে,
নিশ্চয় স্বরাজ লাভ হবে।
জাতীয় সঙ্গীত
৭৫
ভেবনা এ মিছে স্বপন, তার কথা মিছে হয় কি কখন ?
আর থেকনা তােমরা ক্ষোভে।
হ’য়ােনা কাতর,
শােকেতে বিভাের,
এ দুখ নিশি ভাের হবে।
উদিবে আবার,
ভারত গগনে,
বিজয় রবি দীপ্ত গৌরবে ।
শুভাশীষ শিরে,
সুর লােক হতে,
আসূবেন
তিনি
গৃহে
ফিরে
ত্যজ দ্বেষাঘেষি, সবে ভারতবাসী,
হও দৃঢ় পণ স্বরাজ লাভে ॥
॥
৪-৮-২৫
( 58 )
স্বাস্থ্যলাভ আশে,
সুদূর
শৈল প্রবাসে,
গেলেন দেশপূজ্য নেতা যবে।
হলে ভগ্ন স্বাস্থ্য কারাবাসে ।
ভেবেছিল মনে,
বাঙ্গালী জনে, জনে,
ফিরবেন গৃহে তিনি সুস্থ দেহে।
জয়ী হবেন স্বরাজ সমরে।
৭৬
জাতীয় সঙ্গীত
নিশার স্বপন সম,
সে আশা হ’ল বিভ্রম,
বরিষার ঘন গগনে না গরজিতে।
পড়িল আচম্বিতে বাজ বাংলার শিরে।
আষাঢ়ের দ্বিতীয় দিন, রবে স্মরণীয় চিরদিন,
বাংলার ইন্দ্রপাত হ’ল এ ধরায় যবে।
সুদূর হিমাদ্রির হিমানী প্রদেশে ।
জন্মিলে মরিতে হয়, মরণ কভু জেয় নয়,
নিস্তার নাহিক কারও মৃত্যু হাতে।
নেই ব্যতিক্রম কভু, কোনকালে।
কিন্তু মৃত্যু পরে ঘরে, ঘরে, এ মরতে সবে যারে পূজে,
সেই নর হয় শুধু মৃত্যুজয়ী ভবে।
থাকি স্মৃতিমাঝে সবার অমর হয়ে।
বাংলার যিনি “চিত্ত”, তার দেহ নয় অনিত্য,
আছে প্রয়ােজন তার ঐ সুরলোকে।
জাগাতে দেশপ্রীতি অলক্ষ্যে ঘরে, ঘরে।
৫-৮-২৫
( ৫৯ )
সম্বর, সম্বর শােক,
শােকার্ত বাংলার লােক,
ক’রনাক শক্তি ক্ষয় মিছে শােকে।
ত্যাগে দধীচি সম, ত্যজেছেন “চিত্ত” নরদেহ,
করি জাতি গঠন, অমর কীর্তি রেখে।
জাতীয় সঙ্গীত
৭৭
দেবগণ হয়ে তুষ্ট,
দিলেন তঁারে অমরত্ব,
জরা, মৃত্যু পারে কি তারে পরশিতে ?
অলক্ষ্যে কর্তব্য সাধনে, গেছেন তিনি মহাপ্রয়াণে,
হয় কি কভু সে দেহ ভস্ম চিতানলে ?
লভিতে পূর্ণ স্বরাজ,
ত্যাজেছেন তিনি জীর্ণবাস,
শিখায়ে ত্যাগ জাতি মাঝে।
যুগ যুগের সুপ্ত জাতি, জাগে কি আসস্য ত্যাজি,
হেন মহৎ আদর্শ বিনে।
৫-৮-২৫
( ৬০ )
( দেশপ্রিয়ের উদ্দেশে )
এসাে, এসো বীর,
এসাে ত্বরা করি,
ঐ শােন বাজে স্বরগে দুন্দুভি ।
উন্মুক্ত আজ,
স্বরগের দ্বার,
পুষ্পমালায় অপরূপ ধরি।
ঐ সজ্জিত তােরণ দ্বারে,
সমবেত আজ সবে,
হয়েছে যত দেবগণ।
প’রাতে তব শিরে,
বিজয় মালাটী হাতে,
করতে তােমায় দেবত্বে বরণ ||
৭৮
জাতীয় সঙ্গীত
এম্নি নয় বর্ষ আগে,
জাতিরে সর্বস্ব দিয়ে,
স্বরগে এল যবে ভারত গৌরব “চিত্তরঞ্জন”।
বরষি পুষ্পধারা,
স্বরগের দেবতার,
প’রাল মুকুট শিরে করি সম্ভাষণ।
প্রিয়শিষ্য তুমি তার, করলে উজ্জ্বল মুখ বাংলার,
জাতির মঙ্গল তরে করি অক্লান্ত রণ।
মৃত্যুর কালিমা ছায়া,
পারে কি স্পর্শিতে তব কায়া ?
পুণ্য জীবন তব ত্যাগে জাতির লাগি ।
৭-৮-৩৫
সুপ্রসিদ্ধ নাট্যকার ও লব্ধপ্রতিষ্ঠ কবি শ্রীযুক্ত অক্ষয়কুমার রায়ের প্রণীত পুস্তকাবলী (১) মােগল অদৃ ঐতিহাসিক পঞ্চাঙ্ক নাটক ( রঙ্গমঞ্চে অভিনীত ) ( দ্বিতীয় সংস্করণ শীঘ্রই বের হবে ) নাদিরশার ভারত আক্রমণ ও তৎকালীন মােগল দরবারের নিখুত চিত্র ঐতিহাসিক ঘটনা অবলম্বনে সুপ্রসিদ্ধ নাট্যকার এই নাটকে অতি দক্ষতার সহিত অঙ্কণ করেছেন। প্রারম্ভ হ'তে শেষ পর্যন্ত রােমাঞ্চকর ঘটনার ঘাত ও প্রতিঘাতে, নাটকীয় চরিত্র অঙ্কণের সৌন্দর্য্যে, অতি উচ্চ ধরণের ভাষা ও ভাবের সমন্বয়ে এবং শ্রেষ্ঠতম সঙ্গীতের প্রাচুর্যে ইহা একখানি শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক নাটক। এই নাটকের গান- গুলি রচনা মাধুর্যে অতুলনীয়। সুন্দর এন্টিক কাগজ ও মলাট। মূল্য ১০ টাকা । ১ম সংস্করণ সম্বন্ধে সংবাদপত্রের অভিমতঃ- "Bengalee" : "......has produced a drama, both vigorous and stirring...... has shown good deal of originality. We congratulate the author on his successful literary venture in the region of Bengali drama." "Herald" :-"......As a piece of dramatic literature, the play is pre-eminently an artistic one. Has shown considerable skill in the treatment of characters....... We can assure that the success of the play is beyond dispute and surely a successful career awaits it.”
|
(২) হুমায়ুন ( শীঘ্রই বের হবে )
( ঐতিহাসিক পঞ্চাঙ্ক নাটক)
এই নাটকখানি সুপ্রসিদ্ধ নাট্যকারের শ্রেষ্ঠ অবদান এবং নাট্য
জগতে যুগান্তর আবে ইহা নিঃসংশয়ে বলা চলে। ইহার রচনা মাধুৰ্য্য,
চরিত্র অঙ্কণ ও সঙ্গীত সংযােজনে নাট্যকার অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয়
দিয়েছেন। সুন্দর এন্টিক কাগজ ও মলাট। মূল্য ১০ টাকা।
প্রেম, সামাজিক ও ব্যঙ্গরসাত্মক ৩২৫টী গান সমন্বিত
(৩) গীতিকা ( শীঘ্রই বের হবে)
নূতন ভাব, উচ্চাঙ্গের ভাষা ও শ্রেষ্ঠ কবিত্যের সমাবেশে এই বইখানি
অতুলনীয় এবং বাংলা সাহিত্যে শীর্ষস্থান অধিকার করবে তা নিঃসঙ্কোচে
বলা যেতে পারে। অনেকগুলি গানে প্রেমের সম্পূর্ণ নূতন ভাব ও স্বরূপ
উদঘাটিত করে কবি অসাধারণ প্রতিভা ও মৌলিকতার পরিচয়
দিয়েছেন। উৎকৃষ্ঠ এন্টীক কাগজ ও মলাট। মূল্য ১০ টাকা।
প্রকাশক ও প্রাপ্তিস্থান :-
1্যাণ্ডার্ড বুক সােসাইটী
৬৯ নং হারিসন রােড, কলিকাতা।
No text on this page.
No text on this page.