Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Satadal Ed. 1st

Majumder,bharatchandra · 2010/01/9

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

meer sollte
www.NO
R
M.
bebe

No text on this page.

No text on this page.

শতদল
শ্রীভারতচন্দ্র মজুমদার
All rights reserved by the author.:
[ মূল্য দেড় টাকা

প্রকাশক--শ্রীভারতচন্দ্র মজুমদার
নােয়াখালী।
প্রথম সংস্করণ ---১৩৪৩
মুদ্রাকর-শ্রীনরেন্দ্রকুমার নাথ রায়
মিল-প্রেস, নােয়াখালী।

“যে মােরে দিয়েছে কথা যে মােরে দিয়েছে সুর,
যে মােরে দিয়েছে আলো
যে মােরে বেসেছে ভাল
যাহার স্মরণে চিত্ত হইল মধুর ;
দেবতারে প্রিয় করি
প্রিয়েরে দেবতা বরি;
হারি উদ্দেশে সপি রি কথা সুর।”
শ্রীভারতচন্দ্র মজুমদার

No text on this page.

নিবেদন বইখানির সনেটু আদি শ'খানেক বিশিষ্ট কবিতাকে স্মরণ করেই এর নাম শতদল। এর বেশী ব্যাখ্যা আমি আর নাইবা করলেম। সহৃদয় পাঠক সমাজের অন্তরে এর পাপড়িগুলি বিকশিত হলেই এর ব্যাখ্যা স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে আমার ভরসা এবং তাতেই এই শতদল প্রকাশের দীনতম চেষ্টা সফল হবে বলে আমি আশা করতে পারি । ইহার প্রচ্ছদপট সম্বন্ধে আমার সামান্য কৈফিয়ৎ আছে। ছবিখানি আমার স্বহস্ত-অঙ্কিত। আমি কোন শিক্ষায়তনের শিক্ষাপ্রাপ্ত শিল্পী নহি। মাঝে মাঝে ঘরে বসে খাতার পাতায় তাঁচড় কাটা বা শাদা কাগজ নষ্ট করার সখ আমার আছে। শিল্পী-বিচারে এর দোষ-ত্রুটি কি আছে না আছে তাহা আমি জানি না। যাহাই থাকুক না কেন এ প্রচ্ছদ পটে শিল্পী হিসাবে আমার কোন ধৃষ্টতা প্রকাশের স্থান নাই; অথচ আমি ইহা একেছি বলে আমার যে একটা আত্মপ্রসাদ আছে তাহা এখানে নিবেদন না করেও পারলেন না। বইখানি মুদ্রণ ও প্রকাশের ব্যাপারে শ্রদ্ধাভাজন তালুক- দার শ্রীযুক্ত নগেন্দ্রবিহারী মজুমদার মহাশয় নিঃস্বার্থ সাহায্যে ও আন্তরিক উৎসাহ দানে আমাকে যে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন তাঁর

এই সৌজন্য ও অকৃত্তিম বদান্যতা স্মরণ করে তাকে আমি আমার
সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
এ ছাড়া যে সকল সহৃদয় বন্ধুবান্ধবের শুভ কামনা আমাকে
উৎসাহ দান করেছে তাদের প্রতি আমার নমস্কার রইল। ইতি—
১৬ই বৈশাখ, ১৩৪৩ সন
নােয়াখালী।
বিনীত
শ্রীভারতচন্দ্র মজুমদার

শতল
আমার যত আশা তুমি তােমার পানে নাও
ওগাে মাের পানে নাও।
পাওয়া ধন যা হােক রতন
তারি লাগি শূন্য যতন
পাওয়ার মানে কঠিন বাঁধন, নিঠুর বেদন তাও
চারি দিকে আশার মায়া
নিত্য দেখায় রঙিন ছায়া
লুব্ধ পথে বেড়ায় ঘুরে বেয়ে দুখের নাও।
সকল চাওয়ার অন্তরালে
তােমার প্রেমের মােহন মাল
নিবিড় করে জড়িয়ে মােরে আপনি দেখা দাও
যত আমার সুখের খোজা
ততই বাড়ে দুখের বােঝ
তােমার পানে দৃষ্টি সােজা আমার করে দাও।
১লা ফান ১৩২

শতদল
রূপের মাঝে অরূপ তুমি অসীম স্বরূপ তব,
তােনার হাসি-প্রকাশ মাঝে তুমিই অভিনব
দেহের মাঝে জড়িয়ে জাগ ব্যক্ত প্রাণময়
চন্দ্র সূৰ্য্য গ্রহ তারা গাইছে তব জয় ।
এই যে তব মূর্তি হেরি এই যে দেহখানি
একেই শুধু সত্য যেন অন্তরে না মানি,
বুদ্ধিহীনের দুই আঁখিতে বুলাও রসাঞ্জন
বুঝাও ওগাে তােমার লীলা জাগাও প্রাণমন।
সমুখ পানে দাড়াও প্রিয় এস প্রাণের কূলে
সীমার ঘেরে অসীম তােমা যাই না যেন ভুলে’
শিরখানি মাের রাখ তব চরণ তলে নত
চিত্তে রহ হে প্রিয় মাের দৃঢ় সমুন্নত।
তােমার আমার মিলন মধু এম্নি জনম ভরি
মুগ্ধ চিতে দিন রজনী যেন গাে পান করি।
১৩ই ফান ১৩৪২

অন্ধকারে প্রদীপ হাতে খুঁজছি জ্যোতির্ময়
বাদল বায়ে নিববে বলে তারও হাজার ভয়।
কখন চলি আড়াল করি কখন রাখি উচু
যতই চলি সমুখ পানে হাঁধার ঘিরে পিছু।
এম্নি করে জীবন ভরি দীপশিখাটি ধরি
ব্যর্থ খোজায় অহঙ্কারে ব্যর্থ ঘুরে মরি
আপনি যখন প্রকাশ হবে উঠবে ভােরের বেলা
দিগ্‌বিদিকে তােমার জ্যোতির মিলবে মহামেলা।
লুকাবে ভয় অন্ধকারের মিথ্যা মায়া সহ
তােমার জ্যোতির প্রকাশ মাঝে তুমি উজল রহ
দিব্য আললা দীপ্তিভরা বিশ্বচরাচরে
আঁধার করা সীমার রেখা মুহুর্তেকে হরে।
চাইনা আমার ক্ষুদ্র প্রদীপ আলাের অহঙ্কার
চিত্তে জাগাে আলাের রাজা ঘুচাও অন্ধকার।
৭ই ফান ১৩৪২

কেমন বেশে আসবে তুমি কোন পথে মাের দ্বারে
কি সুর তুমি বাঁধবে আমার চিত্তবীণার তারে।
কি দীপ জ্বালি
পুলক ঢালি হাসবে অবিরত
কোন্ আলােকে আসবে তুমি তিমির ভেদি যত।
সে কোন্ নব মােহন রসে রসিক রূপে তুমি
করবে আকুল চিত্ত ব্যাকুল নিত্য হিয়া চুমি।
আমি কি তার কিছুই জানি তােমার অভিনব
আমার মাঝে কি ভাব রসে করবে বিলাস তব ।
৪

শতদল
এইত জানি আমার মাঝে ইচ্ছা তােমার যত
ফুটবে নব ছন্দে ভাবে কর্মে অবিরত।
ভরসা শুধু আসবে ওগগা বসবে আমায় জুড়ে
তাই যে এত করছ শােধন মলিন মর্ম পুড়ে।
সাব করে মাের আপনি রচা রূপের সীমা পথে
হয়ত তুমি আসতে পার আমার গড়া রথে।
হয়ত তুমি তাহার মাঝে শান্ত করি মােরে
বাঁধতে পার তােমায় আমায় মধুর প্রেম ভােরে।
মন মানে না এতেই শুধু, পূর্ণ স্বরূপ তব--
চায় যে পেতে-তােনার গড়া তােমায় অভিনব।
কান্তিমােহন অচিন্ত্যরূপ বাক্যহারা ভাব
অজানা কোন্ জ্যোতির মাঝে তােমার সে প্রভাব।
তুমিই জান তােমার স্বরূপ তুমিই জান সব
আমরা শুধু মােদের সীমায় তুলি উচ্চরব।
তােমার পথে তুমি এসাে নিখুঁত রূপ সাজে
তৃপ্ত কর চিত্ত এ মাের দাড়িয়ে জীবন মাঝে।
২রা চৈত্র ১৩৪২

শতদল।
ওগাে আমার বাঁধনহারা কতই তুমি বাঁধ
নিত্য তােনার প্রাণের সুর বিশ্ববীণায় সাধ
কখন তোমায় বাঁধতে গেলে বাঁধতে নাহি পারি
সার শুধু হয় শিকড়ছেড়া ঢালা নয়নবারি।
কখন যদি আপনি তুমি বাড়াও আপন কর
মুহূর্তেকে যাই যে ভুলি আমার আপন পর
বলছ কেবল “ওরে পাগল শিকল ত্যজি আয়
মুক্ত হতে মুক্ত আশায় পঁাড়া মুক্তি ছায়।”
ছাড়ার মাঝে বাঁধন তব কতই সুমধুর
জানলে তােমা শেষ হয়ে যায় সকল দুরাদুর ।
সবার মাঝে সকল কাজে নানান সাজে সাজি
সকল সময় জড়িয়ে থাক সবার মাঝে রাজি।
জড়িয়ে থাকার মাঝে কিছুই জড়াতে নাহি পারে
বাঁধন মাঝে মুক্ত রাখ এম্নি আপনারে।
১০ই ফাল্গুন ১৩৪২
৬

শতদল
রইলে তুমি সবার মাঝে সবার মত নও
সবাই তােমা চিনতে নারে বক্ষে সবায় লও।
হাত বাড়িয়ে সুদূর পানে ডাকছি বারে বার
বুকের মাঝে লুকিয়ে থাকি হাসছ অনিবার।
বলছ মােরে “এইত ওরে এই প্রিয় তাের
আর কেনরে বাহির খুজে ঢালবি হাখি লাের।
য়না ঘরে এবার হেযা আমার কাছে ফিরে
ঘর ছাড়া তুই নম্রশিরে আয়রে ঘরে ধীরে।
ঘর মায়াতে আপন বলি অহঙ্কারে শত
আঘাত দিয়ে আঘাত পেলি এতদিন যে কত।
পাইনি কো তাের গুহের মাঝে এতটুকুন ঠাই
আমি রে তাের ত্যক্ত ঘরে নিত্য তােরে চাই।
তুই গিয়েছিস বাহির পানে আজকে খালি ঘরে
খুঁজছি তােরে পরাণ মাঝে রাখতে আপন করে।”
১৫ই ফান্ধুন ১৩৪২
৭

শতদল
পান্থশালে তোমার আমার মধুর আলাপন
শ্রান্তি কেটে চলব ছেড়ে নাইক সুদিন ক্ষণ।
এ ঘর সে ঘর ওঘর করি যাত্রা পথে পথে
তােমার আমার সঙ্গে দেখা হবে নানান মতে।
তােমায় আমায় প্রেমের বাঁধন তােমার সাথে মায়া
সরাইখানা রইবে পড়ে নিয়ে কঠিন কায়া।
তুমি আমার পথের সাথী বন্ধু ওগাে প্রিয়
অচিন পথে হাত ধরে মাের পথ দেখিয়ে দিও।
হাজার জনার মধ্যে যেন তােমার আমার মুখ
ভুল
করি না—চিত্তে জাগে নিত্য চলার সুখ।
১৬ই ফাল্গুন ১৩৪২
৮

শতদল
সঙ্গীতে তুমি সুরের লহর ভঙ্গীতে ভাবময়
স্তব্ধ যতির মৌন ভজনে তােমারি সাধনা হয়।
আঁধারে আলােকে জীবনে মরণে চরাচর ব্যাপী রূপ
কত সুধীজন বিস্ময়ে হেরে অনন্ত অপরূপ।
কেহ করি পূজা মাগে কৃপাকণা চরণ বরণ করি
মন্দিরে কেহ ধূপ দীপ জ্বালে অর্ঘ্য সমুখে ধরি।
কারাে কাছে তুমি পিতা প্রিয়জন কাহারও নিকটে মাতা
কখনাে বা তুমি পিতামহ সাজ পরম প্রভু বা ধাতা।
বহ।
কাহারাে মাঝারে আপনারে তুমি আপনি বিকাশি রহ
দুয়ের বিভেদ ঘুচাইয়া চির অমৃতের বাণী
তুমি অবিনাশী ধ্বংসের রাজা সৃষ্টির মহাবীজ
ধূর্জটি ভালে বহ্নি কখনাে কখনাে বা মনসিজ।
সকলের মাঝে দু’আঁখি ভরিয়া তােমারে দেখিব কবে,
নহে কল্পনা নহে মিছে ভাব-পরশনে অনুভবে।
১৭ই ফাল্গুন ১৩৪২

রূপে রূপে তুমি রূপময় ভাবময় তুমি ভুবনে
সকল জানারে বিকশিত করি রয়েছ বাহিরে মনে
চরাচরে বৃথা খুঁজিয়া বেড়াই
কি আছে কোথায় তুমি যথা নাই !
সকল ব্যাপিয়া অপরূপ তুমি জাগিতেছ ক্ষণে ক্ষণে।
নাই নাই বলি
শত যাহারে,
রয়েছ গােপনে তাহারও মাঝারে
কালাকালে তুমি শয়নে স্বপনে বলিতেছ জনে জনে,
“খােলরে নয়ন দেখরে আলােক
পরিহরি মিছে মায়াময় শােক
দূরাদুরে আর তবরূপে ঘরে রয়েছি সবার সনে।”
দিব্য নয়নে প্রিয় দরশন
হয় যেন মাের সদা অকারণ
জাগ্রত কর মুগ্ধ কর হে আপনি জাগিয়া মনে।
২১শে ফান ১৩৪২

শতদল
লােক বিচারে হাজার মলিন হােকনা ভারি বােঝা
তােমার দিকে হয় যেন মাের বুদ্ধি সহজ সােজা
ওদের বিচার ওদের কথা ওদের যত হাসি
ওদের যত বিরাগ মন ভাল যে বাসাবাসি।
সবার মাঝে তােমার পরশ রয় কি তত বেশী ?
স্বার্থে সেথা নিত্য বিচার মিথ্যা মেশামেশি
দূর আকাশে মেঘের ঘটা তুফান চারি দিকে
ভরসা শুধু তােমার মত শক্ত মাঝিটিকে।
আসুক ঢেউ টলুক তরী গাইতে সুখে গান
তােমার সাথে দুৰ্যোগেতে দাও সে অভয় প্রাণ।
সমুখ পানে হেরলে তব কান্তি মনােহর
ভয় কি থাকে যানা ডুবে বিশ্বচরাচর।
কোন ঘাটে মাের ভিড়বে তরী কোথায় আমার শেষ,
তােমার পানে না ভেসে সকল চিন্তা লেশ
কাণ্ডারী মাের ওগাে প্রিয় প্রেমিক বিশ্ব-নেয়ে
পার কর মাের সকল বােঝ তােনার তরী বেয়ে।
৬ই ফান ১৩৪২
১১

শতদল
সুদূর গাঁয়ের শ্যামল কোলে আলাের শতদল
উঠল ফুটি আজ প্রভাতে উজল নিরমল ।
বিশ্বজোড়া সােনার পাপড়ী ছড়িয়ে গেল কত
জাগরণীর কণ্ঠ বাজে বিশ্বে শত শত।
তিমির বাঁধন টুটল আজি তন্দ্রা গেল ছুটি
আলাের মত ফুলের কলি উঠল সকল ফুটি
শিশির ভেজা ঘাসের বনে আলাের মহারাণী
মুক্তামালা গাঁথেন পেতে শুভ্র আঁচলখানি।
অন্ধকারের অন্তরালে পরশ গেল তার
অরুণরাগে খুলল তােরণ সকল চেতনার
সকল হাসি সকল বিলাস সকল মধুরিমা
মুখ তুলে অই উপানে লুটল অরুণিমা।
নীল আকাশে শাদা মেঘের লাগছে কোলাকুলি
আদরিণী ফুলবালা মাের চাইছে নয়ন খুলি।
২৬শে ফান ১৩৪২
১২

শতদল
এত করে তবু তােমায় জানতে পেলাম কই
যতই জানি ততই শুধু বুদ্ধিহারা হই।
দেখার তারে পরাণ মাঝে জাগলে ব্যাকুলতা
বুদ্ধিবিচার হার মেনে যায় কণ্ঠ হারায় কথা।
জানার মাঝে অজানারে কেবল খুজে পাই,
এই যে পাওয়া ক্ষণিক পরে তাহাও দেখি নাই।
আমার সীমা তােমার মাঝে আপনহারা হয়ে
কখন যাবে আপনি মিশে বক্ষে তােমা লয়ে।
ক্ষুদ্র যত অহমিকার ক্ষুদ্র আবেষ্টনী
ভাঙবে জানি বাঁধতে তােমার অসীম পরশমণি।
সেদিন কবে আসবে ওগাে আলাের মহােৎসবে
চিত্তভরা নিত্য গীতি পুলক মধুর রবে।
ধর্মাধর্ম সত্য মিছে সকল ভাল মন্দ
আমার যত বিচার বােঝ আমার যত দ্বন্দ্ব
সংসারেরই আবর্তনে জন্ম জন্ম ধরি
দুঃখ মলিন জটিল জাল চিত্ত নিল হরি।
সকল বাঁধন সকল বেদন মিথ্যা আঁধার কবে
টুটবে তােমার পরশ প্রেমে চিত্ত উদার হবে।
১লা চৈত্র ১৩৪২

শতদল
কালের হিয়া জুড়িয়া তুমি সকল ক্ষণে ক্ষণে
আকাশ আলাে পরশমাখা বিশ্বে নিরজনে
ফুলের পরাগ অঙ্গ ভেদি ছড়িয়ে পড় কত
অন্তহীন এই আলাের প্রদীপ লক্ষ শত শত।
কতই প্রেমে কতই গানে তুলির টানে টানে
দিগবিদিকে রাখলে ভরি সকল খানে খানে।
যেদিক পানে ফিরাই আঁখি যেদিক পানে চাহি
য় দেখি গভীর প্রেমে উঠছ অবগাহি।
১৪

শতদল
তােমার লীলা তােমার কেলী তােমার কাঁদা হাসা
প্রাণের মাঝে বিলায় নিতি তােমার ভালবাসা।
পাগল কর মাতাল কর ব্যাকুল কর মােরে
বাঁধন দাও প্রেমের গুরু মােহন প্রেম ডােরে।
সমুখ পানে বিজন ক্ষণে কিরূপ মনােহারী
চলার পথে দিয়েছ দেখা রয়েছে মনে তারি
ভঙ্গীখানি, ভাবের সাথে বিলিয়ে দেয়া প্রাণ
অনঙ্গেরি রঙ্গালয়ে শুনেছি কত গান।
মধুর থেকে মধুরতর প্রেমের মধু মন
তাহার চেয়ে অপার মধু প্রেমের নিবেদন।
রূপের মাঝে অরূপের যে বাজছে বাঁশীখানি
সে সুর মােরে শুনাও গুণী সে গান দাও আনি।
২৫শে ভাদ্র ১৩৪২

শতদল
তােমার আমার সাথে বঁধু নহে বারেক দেখা
শত জনম সঙ্গী ছিলে চলতে পথে একা
জন্ম জন্ম রইবে তুমি এম্নি শ্যামল পথে
আমার মাঝে তোমার পরশ লাগবে নানা মতে।
হিমের রাতে শীতল বায়ে অঙ্গ শিহরণ
বৈশাখীবিষরৌদ্রতাপে প্রখর জ্বালাতন।
দখিণ বায়ে ফাগুন রাতে চাঁদের কিরণসুধা
তৃষ্ণাকাতর রুক্ষ শীতের হরে ব্যাকুল ক্ষুধা ।
বর্ষাব্যাকুল বাদল ধারা শ্যামল করি বন
দিগবিদিকে হর্ষে আনে ফুলের আয়ােজন
এম্নি করে সুখের দুখের নিত্য দোলায় দুলি
হাসির মাঝে অবেদন উঠছে ফুলি ফুলি।
এত হাসি এত কান্না চলছে জগৎ সাথে,
আমার দিনও ভুললে তােমা তেম্নি দিনে রাতে
চলার সাথে চলেই শুধু : হারায় পথের দিশা,
আসা যাওয়ার পথে তাহে আসা যাওয়ার তৃষা।
সকল পথে সকল মতে মিথ্যা ওঠা পড়া
সত্য হয়ে রইলে তুমি নিত্য নিখুঁত গড়া।
৩রা চৈত্র ১৩৪২

শতদল
যে আমারে বাসল ভাল
সে যে তােমার দান।
জ্বালল প্রেমে প্রাণের আলাে
গাইল তােমার গান।
তাহার মাঝে তােমার পরশ
নিত্য বিলায় চিত্তে হরষ,
মধুর করে জীবনমরু
আকুল করে প্রাণ।
তােমার সাথে অহর্নিশি,
এম্নি প্রভু মেশামেশি
তােমার বাণী শুনি আমি
পাতি বধির কান।
তােমার এ দান জীবন ভরি
হৃদয়ে মাের নিলাম বরি,
কিছুই আমার হয়নি দেওয়া
দিয়েছ যশ মান।
যে আমারে বাসল ভাল
সে যে তােমার দান।
২রা মাঘ ১৩২
১৭

শতদল
এই আশা মাের মনে।
তােমার সনে হবে দেখা নিত্য নিরজনে।
সকল কোলাহলের মাঝে তােমার বাঁশীখানি
বাজবে আমার মনের বনে শুনব তােমার বাণী
রইবে ঘিরে সকল কাজে আমার এ জীবনে,
এই আশ মাের মনে।
••
আঁধার যদি ঘনিয়ে আসে হারাই পথের দিশা,
তােমার যেন পরশ প্রিয় মিটায় সকল তৃষা,
আমার জীবনধারার সাথে তােমার প্রাণের ঢেউ,
দোল দিবে মাের সকল ভাবে জানবে না আর কেউ ;
আমায় তােমায় মিলন হবে মধুর পরশনে
এই আশা মাের মনে।
১৬ই আষাঢ় ১৩৪২
১৮

শতদল
এখনাে বুঝি মাের হয়নি পূজা সারা
নীরবে ঝরে শুধু অশ্রু শতধারা
চমকি ক্ষণে ক্ষণে থমকি আনমনে
কিরণ কণা পেয়ে আবার হই হার।।
কাটার ফুলবনে যেন গাে বসি বসি
সুবাসে কুঁড়ি বুকে নাচিছ উল্লসি
একদা দেখেছি সে মাধুরী নহে মিছে
চকিতে মনে মাের সে দিন গেছ পশি।
সে হতে অর্চনা চলিছে নিরজনে
বেদনা সয়ে সয়ে কঁাটার ঘন বনে
হতাশে কভু সরি যাইতে ছল করি
পলকে দাও আনি কি যেন আশা মনে
কখন তােমা ওগাে নয়ন আগে আগে
দেখিব এ জীবনে প্রেমের রসরাগে।
মধুর পরশনে আবেগে সযতনে
রাখিবে মােরে প্রিয় হৃদয়ে অনুরাগে।
৭ই পৌষ ১৩৪২
১৯

শতদল
১
হাজার জনায় ভিড় করিল
তােমার কাছে অর্ঘ লয়ে,
ভিড় ঠেলে আজ যাই কেমনে
সবার হেলা রই যে সয়ে।
মন্দিরের এ একটি কোণে
সঙ্কোচে আর সঙ্গোপনে
অর্ঘ্য তােমার মাথায় করি
চাই তােমারে নীরব হয়ে।

শতদল
বুক ভেসে যায় চোখের জলে
হয় না তবু পথ যে খালি,
কখন কাহার আঘাত লাগি
হয়ত ধূলে পড়বে ডালি।
আজকে যারা পূজার কাজে
আনল অর্ঘ্য নানান সাজে
চাই না তাদের ফেলতে টানি
ঢালতে প্রাণে ব্যথার কালী।
কোলাহল তার কলরবে
নয়তাে শুধু হৃদয়খানি
মত্ত সদা, নীরব মনে
কতই জাগে তােমার বাণী।
কাজ কি আমার আড়ম্বরে
নাই কোন সাজ আমার ঘরে
মন্দিরের এ কোণ খানিতে
রইনু লয়ে নিন্দাগ্লানি।
২১

শতদল
ব্যস্ত দিনের কাজের শেষে
ফিরবে ঘরে সবাই যবে
ডাক দিয়ে মাের অর্ঘ্য প্রিয়
না হয় তুমি তখন লবে।
নিবিড় ভােমার পরশ পেলে
পরাণ যাবে আপনি মেলে
পুরবে তাতে প্রাণের তৃষা
তাতেও পূজা সফল হবে।
আজ আরতির ঘণ্টা শাক
বাজল তব মন্দিরেতে
সঙ্গীতে আর নৃত্য রসে
সবাই মাতে উৎসবেতে।
করব সফল সকল দেখা
নীরব কোণে দাড়িয়ে একা
আকুল হিয়ার আসন রচি
পথের ধারে রইনু পেতে।
১লা বৈশাখ ১৩৪২
২২

শতল
তােমারে চেয়ে চেয়ে সাধনা মাের যত
হতেছে বারে বারে যাতনা বাতাহত।
সকলি ফুল হয়ে সময়ে হবে মালা
এইত আশা মাের—যাবে গাে যাবে জ্বালা
ডুবরী হব আমি বারিধি বুকে যাব
কুড়াব হেম-কণা ব্যথায় গান গাব।
হবে গাে হবে দেখা বেদনা পরপারে,
এইত আশা তােমা পাইব—হৃদি দ্বারে।
৪ঠা বৈশাখ ১৩৩৬

শতদল
লও লও মাের অর্ঘ্যখানি
তত জান তুমি তােমারে যত না জানি।
তুমি যে আমার কত আপনার
বুঝিয়াছি তাহা শত শত বার
অজানা বিপথে ছুটে যেতে চলি চির চেনা পথে দিয়েছ আনি।
লও লও প্রীতিঅর্ঘ্যখানি।
কত মায়াবীর ছলনা আমায় আশার কুহকে ভুলাতে আসি
ধূলায় মলিন মনের কিনারে হেসে গেছে কত মধুর হাসি।
আমি বুঝি নাই কিছু জানি নাই
জীবনবন্ধু সাথী হইয়াই
আপনার জানি আরামে আঘাতে হৃদয়ে আদরে নিয়েছ টানি।
লও লও প্রীতিঅর্ঘ্যখানি।
২০শে ফান ১৩৪২
২৪

পাবার তরে ভাবনা মিছে,
সব দিয়ে তাের সাধ মিটা রে।
বুকের কাছে অরূপ রতন
বিলিয়ে দে তাের আপনারে।
বাঁধনবেড়ী পথের পরে
দিক্‌ না বা হাজার ধরে
সকল ভুলি হৃদয় খুলি
প্রাণের পূজা দিস্ রে তারে।
যে দীপখানি গভীর প্রাণে
উঠছে জ্বলে ক্ষণে ক্ষণে।
তার পূজাতে অর্ঘ্য দিবি
যা আছে তাের এই জীবনে।
মনের মাঝে উঠলে সে যে
সর্বহারা বংশী বেজে
রইতে কভু পারবি নারে
সব তেয়াগি তারেই পাবি।
২রা চৈত্র ১৩৪২
২৫

শতদল
ক্ষ্যাপা তুই নে রে হাতে আমার এ পূজার ডালি
যত তাের হােমের আগুন প্রাণে মাের দিলাম জ্বালি
জীবনে সকল বেলা
সবাকার অবহেলা
ছিল তাের ভস্মভূষণ যত সব নিন্দা গালি।
মােহিনী মায়ার ছলে দিতে তোর হৃদয় দোলা,
কি চোখে চাইলি ফিরি ওরে তুই আপনভােলা।
আজি মাের সকল ভুলি
দিতে তাের পূজায় তুলি
এনেছি জীবনকুঁড়ি মুছিয়া প্রাণের কালী।
৭ই বৈশাখ ১৩৩৬
২৬

আপনা হইতে আপনারে তুমি দিয়াছ বিলায়ে আমার কাছে
বিশ্ব ভরিয়া রহিয়াছ ওগাে আমারে ঘেরিয়া সকল কাজে।
তব এ প্রেমের যত করুণায়, নবীন জীবনে মিলেছি ধরায়
তােমার এ দানে দেবার নিদেশ পাইয়াছি আমি তােমারি মাঝে।
তাইত একদা জীবনপ্রভাতে গােপন হিয়ার আসনখানি
তােমারি প্রেমের নিভৃত পূজায় বিছায়েছি শুধু তােমারে জানি,
কি যেন আবেশে সঁপিয়াছি মােরে তােমার মধুর প্রণয়ের ডােরে
বাঁধিতে আমারে, নিবেদিনু তােমা তােমারি সকল ব্যাকুল বাণী।
তুমি নিবেদিত আমি নিবেদিত তব সাথে প্রিয় রয়েছি আমি
আপনা বিলায়ে শিখালে বিলাতে তাই আকুলতা দিবস যামি।
তুমি আমি কেহ নহিত ভিখারী দানব্যাকুলতা নয়নের বারি
প্রেমের আবেশে ঝরে অবিরাম অন্তরে জপি অন্তরস্বামী।
যার পানে হেরি যারে কাছে পাই দেখি যেন তাহে তােমারি ছবি
ভােমার বিপুল করুণা ধারায় রূপরসে প্রাণে জাগ হে কবি।
১০ই ফাল্গুন ১৩৪২
২৭

শতদল
বাহির দেখি বাহির লােকে বিচার করে যত
কপট প্রাণের চতুর চালে হার মানে যে তত।
মনের গােপন মণিকোঠায় যাদের আনা গােনা
তাদের কাছে হার মানে সব কপট প্রবঞ্চনা।
সহজ সরল শিশুর মত কোমল মধুর মনে
সৰ্বজয়ী হৃদয়স্বামী থাকেন সঙ্গোপনে।
মানুষ যাহা দেখে নাকো দেখেন ভগবান
তার কাছেতে রইলে খাঁটি তিনিই রাখেন মান
১৫ই বৈশাখ ১৩৩৬

শতদল
চোখে আর দেখব কত ভুবন ঘুরে ঘুরে
আঁধার যে অই পলকপারে দেখায় মায়া দূরে।
আলাের সাথে কালাের খেলা জীবন পারাবারে
তাহার মাঝে জড়িয়ে ফেলি নিত্য আপনারে।
চরম দেখা দেখব বলে আলাের মােহানায়
চোখ মেলে যে রইনু বসে আসার চেতনায়।
দূর অনন্ত আঁধার পথের গভীর গােপনতা
জাগবে কবে নয়নপথে আনবে ঘনিষ্ঠতা।
সৃষ্টি ছাড়া দৃষ্টি দাও দীপ্ত আঁখি খুলি
তােমার গােপন রূপ দেখাও সকল বিভেদ ভুলি।
তােমার আলােয় নয়ন মেলি দেখব তােমায় প্রিয়
বিশ্বমনের আড়াল ভেদী চিন্তা চিতে দিও।
তিমির ঘেরা বিশ্ব জোড়া গুপ্ত অজানারে
দাও প্রকাশি মৰ্ম্মে এ মাের জানাও আপনারে।
২রা চৈত্র ১৩৪২

শতদল
কখন যেন যাই না ভুলে তােমায় হৃদয়-স্বামী
নিত্য কাজে প্রাণের মাঝে হেরব তােমা আমি।
আসবে কত মােহন মায়া
তােমার পথে করবে ছায়া
হয়ত কভু কঠিন ঘায়ে লুটব ধরায় আমি
তবুও যেন ডাকতে পারি হে হৃদয়স্বামী।
তোমার আসন পরে যেন অন্য কারে আনি
বসাই নাক পরাণ মাঝে তােমার মত মানি,
বঞ্চনা আর অপমানে
.মিথ্যা বেদন দেইনা প্রাণে
লক্ষ্যহারা হই না যেন কখন দিবস যামি।
বাহির ভিতর জুড়ে তুমি মধুর পরশনে
আছ তুমি সত্য হয়ে নিত্য রহ মনে
মিথ্যা কঠিন কুটিল কালাে
যাক মুছে সব জ্বলুক আলাে
হৃদয় মাঝে সকল কাজে দাড়াও হৃদয়স্বামী
তােমায় যেন যাই না ভুলে এই জীবনে আমি।
২রা চৈত্র ১৩৪২

শতদল
২৭
তােমার মাঝে নাইক বিচার প্রেমের খােলা পথ
তােমার কথা সহজ বুঝি তােমার যত মত।
ওদের যত শাস্ত্রশাসন দেয় না প্রাণে সাড়া,
তুমি আমার প্রাণের প্রিয় যায় না তােমা ছাড়া।
নানা লােকের নানা কথা গণ্ডীবাঁধা মন
স্বার্থ-কাজে নিত্য ব্যাকুল সত্যে অযতন
তুমি আমার বেদ বেদাঙ্গ প্রাণের প্রিয়তম
তােমার মাঝে সব রয়েছে নয় কো কিছু কম।
মানব তােমা জানব তােমা পরাণ সঁপি পায়
আমার যত গর্ব-বােঝ ডুবিয়া যেন যায়
কপট যত বঞ্চনা আর ভুল চালাকী পিছে
তােমায় যেন চাইনা প্রিয় এন্নি করে মিছে।
আমার মলিন মর্ম
মুছে
চাই হে তােমা আজি
এসাে এসাে হৃদয়স্বামী জীবন-তরীর মাঝি।
২রা চৈত্র ১৩৪২

শতদল
২৪
কত দিকের প্রলােভনে কত জনার সাথে
ঘুরেছিলাম মনের সুখে কত দিনে রাতে
আর কেহ না হলে আপন তােমার মত মাের
তােমার পরশ বাণীর মাঝে খুলেছে মাের দোর।
আজকে হেরি সকল খানে তােমার মধুরিমা
অন্ত কভু পাইনে প্রেমের পাইনে তব সীমা।
ঘরের মায়া নাইক তব প্রাণের মাঝে ঠাই
প্রেমের সাথে বাঁধন মাঝে তােমায় প্রিয় পাই।
কপট মায়া মিথ্যা বেড়ী মিথ্যা চতুরতা
ক্ষণিক জ্বলা আলাের ধাঁধায় কহে আলাের কথা
এই ধরণীর পরশমণি নিত্য কালের আলাে
তােমায় যেন জানতে পারি বাসতে পারি ভাল।
তােমার প্রেমে হইনা যেন বিফল কভু আমি
রাখব তােমায় হিয়ার মাঝে এসস হৃদয়স্বামী।
৩রা চৈত্র ১৩৪২
৩২

আমায় প্রভু কর তুমি তােমার মনােমত
তােমার চরণতলে আমার দম্ভ কর নাত।
চপল মনের ব্যাকুল তৃষা দুয়ার দুয়ার ঘুরে
তােমায় ভুলে নাইক যেন কঁাদে মলিন সুরে।
আমার যত পুলক ধারা অামার যত হাসি
সকল প্রিয় মধুর কথা ভাল যে বাসাবাসি
আসুক সবি তােমায় ঢুমি তােমার প্রেমে বহি
তােমার লাগি বেদন যেন নীরব হয়ে সহি।
ঘুমের ঘােরে স্বপন মাঝে সকল চেতনায়
চিত্ত যেন তােমার পানে অধীর হয়ে ধায়।
জীবন ভরি তােমার বিলাস তােমার কেলী সাথে
প্রাণ যেন মাের বিভাের হয়ে মধুর রসে মাতে।
যা আছে মাের আপন বলে’ সকল তুমি লও
মধুর তব প্রেমের বাণী মৰ্ম্মে বসি কও।
৩রা চৈত্র ১৩৪২
গ

শতদল
তোমায় যদি জানতে না দাও জানব কেমন করে
সহজ দেখা না দাও যদি রাখব কিসে ধরে।
মনের চপল তরল জলে ঢেউ দিও না মিছে
শান্ত কর সহজ প্রেমে হৃদয় মাঝে মিশে।
যদিও তুমি বিশ্বে পরম চতুর চূড়ামণি
সবাই জানে সকল কাজে অসীম গুণমণি ।
আমি কখন তােমার সাথে গভরা মনে
চতুর চালে মন ভুলতে চাইনে প্রবঞ্চনে।
আমার যত গােপন কথা কলঙ্কভার যত
পরাণ মাঝে নিঠুর চাপে রাখছে আমায় নত
সকল বােঝা নামাইব তােমার কাছে প্রিয়
মুক্ত আমার বক্ষে তোমার প্রেমের পরশ দিও।
তােমার ছোঁয়া করবে শুচি আমার যত পাপ
এই ভরসা তােমার প্রেমে ঘুচবে মনস্তাপ।
৩রা চৈত্র ১৩৪২
৩৪

শতল
তােমার মত তার কে প্রিয় আমার বল আছে
মধুর চেয়ে সুমধুর কে এমন হিয়া মাঝে
মনােহরণ আবেশ মােহন নিত্য জেগে উঠে
নিত্য আমার চিত্তকমল নবীন হয়ে ফুটে।
প্রেমের তব অসীম লীলা জীবনমরু মাঝে
থরবিথরে ফোটায় ফুল কি বিচিত্র সাজে
তােমার যত ভঙ্গিমাতে ছন্দে মধুর সুরে
রসের জোয়ার ঢেউ খেলে যায় ব্যাকুল পরাণপুরে
আপনি তুমি হৃদয় মাঝে আপন মহিমায়
আপনি এসে দিয়েছ ধরা সকল চেতনায়
তােমায় যেন এম্বি আমি অভেদ করে পাই
এই জীবনে মিলন হেন নাইক ভুলে যাই।
সুদূর অদূর হােকনা মধুর প্রাণের প্রিয় টানে
হিয়ায় জেগে থাকবে তুমি বিশ্বে সকল খানে।
৩রা চৈত্র ১৩৪২
৩৫

শতদল
৩২
শান্ত করহে প্রভু শান্ত কর
প্রাণে মনে পরশনে বেদনাহর।
চারি দিকে কাল মেঘ এসেছে ঘিরে
একা আমি ভাসি শুধু নয়ন নীরে।
ঠাই নাই সাথী নাই শ্মশান ভুমি
এসাে এসাে তুলে লও পরাণে চুমি।
গগনের ঘন ঘটা শঙ্কা আনে
ঘন ঘন দিকে দিকে বজ হানে।
প্রলয় ঝড়ের মহা ঘুর্ণিহাওয়া
ভুল করে দিতে চায় যত গান গাওয়া।
আমার তােমার মাঝে পথ রেখা বুঝি
চঞ্চল প্রাণ বেগে যায় আজি মুছি।
শান্ত করহে মােরে শান্ত কর
দুর্যোগে প্রাণসাথী দুঃখ হর।
৪ঠা চৈত্র ১৩৪২

শতদল
আমার এ রাজসিংহাসনে তােমায় প্রভু ডাকি
দশের কাছে মান বাঁচে না কেমন করে থাকি।
শক্তি দেছ ওদের প্রভু প্রবল বেগবান
দম্ভে তারি করছে ওরা মিথ্যা অপমান।
বিদ্রোহে আর বিপ্লবেতে বিজয়নিশান কত
উচ্চে তুলে করছে মােরে নিত্য অবনত
সিংহাসনের অধিকার যে হাসির হল হেথা
আমার শাসন কেউ মানে না আমি নামের নেতা
রাজ্য গেল ছারেখারে কাৰ্য্য হলােনাক
শক্তি হলাে মত্ত শুধু কর্মে ওদের ডাক
শাসন নীতির কঠিন ঘেরে তােমার নিদেশ মত
এই যে যত শক্ত সেনায় কৰ্ম্মে কর বৃত।
তােমার চরণ তলে ওদের দম্ভ কর নাশ,
বাধ্য কর, বাঁচাও মােরে ঘুচাও সকল ত্রাস।
৫ই চৈত্র ১৩৪২
৩৭

৩৪
চাই না আমি ওদের মরণ শরণ মাগি তব
হােক না ওরা রিপুর সেরা বরণ করি লব।
ওদের দিয়ে ওদের জ্ঞানে করাতে তব কাজ
শক্তি মাগি তােমার কাছে ভাঙতে হীন লাজ।
ওরাই যদি রইল নাক রইল আমার কি ?
ধরার জীবন নয় কি ওরা মরণ তাদের কি ?
জানি জানি ওদের পথে ওরা ভীষণতর
তােমায় যখন হারাই তখন হয় যে ওরা বড়।
নইলে শুধু সকল কাজে সকল প্রয়ােজনে
নম্র হয়ে প্রবল হয়ে ওদের জনে জনে
আতে পারে এই ধরণীর সকল পথে চলি
বিজয় মালা তােমার নামে তােমার প্রেমে গলি।
তুমি শুধু পরাণ মাঝে রইলে বেঁচে মাের
ভয় কিছু নাই বাঁচুক সবাই মুক্ত রহুক দোর।
এই চৈত্র ১৩৪২
৩৮

ওদের দৃষ্টি দিয়ে মােরে ওদের মত করে
যতই দেখে ততই হানে কেবল এদের তরে,
চির জীবন এম্নি করে স্বার্থভােগী যারা
ওদের সাথে গড়ল যে মাের ভীষণ দুঃখের কারা।
মন মানে না মনকে তবু করছি কারাবাসী
হয়ত বা তাই রােগে শােকে নয়ন জলে ভাসি।
যেই পথে মাের দেখিয়ে যাও তুমি তােমার আলাে
ওদের কাছে ওপথ প্রভু নয়কো তেমন ভাল।
ওরা বােঝে ওদের মতে দন্তকরা মনে
স্বার্থ নিয়ে করতে লড়াই জড়িয়ে জনে জনে
নিত্য ওদের হানাহানি, চলছে কানাকানি
তাহার মাঝে তােনার নামে করছে কত গ্লানি।
এম্নি করে তােমায় প্রভু মিথ্যা প্রয়ােজনে
আঁধার করা বঞ্চনাতে চাই না যেন মনে।
১২ই চৈত্র ১৩৪২

শতদল
যাহার যেমন প্রয়ােজনে যেমন কামনায়
যাকনা ওরা তােমায় ডেকে আমার নাহি দায়,
ওরা চাহে গড়তে তোমা হয়ত কলুষেতে
ওদের মতে তােমায় প্রভু সহায় করি পেতে।
ওদের সঙ্গে সঙ্গী করি ওদের চালনায়
চায় তোমারে অন্ধকারে কর্ম সাধনায়।
তােমার সঙ্গে চলতে ওরা তােমার পিছু পিছু
তােমার আলােয় চায় না তত করতে মাথা নীচু।
হাজার যত কাজের ছলে ছড়িয়ে আঁধার রাশি
মন ভুলাননা তােমার নামে বাজিয়ে মিছে বাঁশী
যাহার যেমন খুসী তেমন ডাকুক তােমা প্রভু
স্বার্থঘেরা ছল চাতুরী চাইনা যেন কভু।
যা আছে মাের সকল দিয়ে চাইব তব আলাে
তােমার কাজে তােমার প্রেমে তােমায় বাসি ভাল।
১২ই চৈত্র ১৩৪২
৪

শতদল
৩৭
সব তেয়াগে সকল পাওয়া তােমার কৃপা সে
চাওয়ার চেয়ে অধিক পাওয়া তাহার মাঝে যে
ত্যাগের দিনে বিপদ হেরি করলে হাহাকার
নিত্য ভােগের মায়ায় পড়ি করলে অবিচার।
পাওয়ার লাগি জীবন ভরি জ্বলবে তৃষানলে
সুখের লাগি দুঃখের ভরা ভরবে নানা ছলে
ভােগের ভাগী সৰ্বত্যাগী,তােমায় পেল যে
আসঙ্গে আর সঙ্গে বল তাহার মত কে ?
সকল কাজে সবার মাঝে সে বৈরাগী মন
তােমার পূজার নৃত্য করে সত্য আয়ােজন,
সেই পূজাতে বাহির ভিতর সকল ভরে যায়
তােমার বিমল জ্যোতির দ্যুতি নিত্য চেতনায়।
তােমার আর যে সবার মাঝে দীর্ঘ খালি পথ
তােমার দিকে সব তেয়াগীর চলছে দুখের রথ।
১২ই চৈত্র ১৩৪২
৪১

শতদল
তােমায় আমি চেনার আগে জানার আগে মিছে
তোমার নামে আমার পথেই হারিয়েছিলাম দিশে,
লক্ষ্য বিহীন বহুমুখী আঁধার গভীর বনে
চলেছিলাম ক্ষণিক সখে কত জনার সনে।
দেখাইল সবাই আপন ভােগের মায়াজাল
তােমার প্রেমের নামে কত চালিয়ে গেল চাল।
ছিলাম আমি সঙ্গকাতর সহজ সরল প্রাণ
অজানা কোন আবেগ ভারে গেয়েছি কত গান।
সেই আবেগের সঙ্গে প্রভু তােমার কৃপাকণা
হয়ত তুমি চেয়েছ দিতে ছিলাম অন্যমনা।
চপলতার মাঝে আমার আঁধার ছিল ঘিরে
এতদিনের পরে ভােমার প্রদীপশিখাটিরে
উচ্চে তুলি আনলে কাছে, আলােয় জাগল প্রাণ
তােমার মাঝে আজকে আমার সফল হল গান।
১২ই চৈত্র ১৩৪২
৪২

শতদল
তােমায় আমি জাব ওগাে মা তােমা প্রাণে
করব বরণ হৃদয়হরণ প্রাণের প্রিয় ধনে ;
বিশ্বে তােমার মােহন আলাে
আমার মনে লাগল ভাল
চিত্ত আজি আকুল হল বারণ নাহি মানে।
এই জীবনে হাজার জনে হাজার পথে ডাকি
মিথ্যা লােভের আশায় দিল ব্যথার কালী মাখি,
তাদের ক্ষণিক রুচির মত
করল আমায় অবনত
তােমার আলাে কেলীর মাঝে উচ্চশিরে থাকি।
তােমার আঘাত সইব সে যে তােমার দেওয়া দান
তােমার দেওয়া ব্যাথার মাঝে আলাের অভিযান,
আর সকলে অহঙ্কারে
করছে আঘাত অন্ধকারে
ওদের খেলায় মাতাল হলেম জাগল না ত প্রাণ।
এসাে আমার নিঠুর প্রিয় প্রেমিক প্রাণবান্
আলােক ঢাল কলুষ-চিতে করাও সুধা পান।
৬ই চৈত্র ১৪২
৪৩

৪
অন্য কারাে মতন করে তােমায় আমি যেন
পেতে আমার প্রাণের কুলে মিথ্যা আশা হেন
নাইক করি প্রেমের ছলে মিথ্যা ফাকি দিয়ে
তােমার নামে চাইনে যেন থাকতে অপর নিয়ে।
হৃদয় মনে তুমিই শুধু থাকবে উজল খাঁটি
তােমার যত ভাবের প্রকাশ নিখুঁত পরিপাটি
তােমার কাজে জগত মাঝে অতুল তুমি হও
ভজব তােমা তােমার মত - অপর তুমি নও।
=
তােমার জ্ঞানে তােমার ধ্যানে তােমার নামে প্রিয়
মুগ্ধ চিতে তােমার প্রেমে ডাকতে তােমা দিও
শাস্ত্ৰবিচার আচারবিধি দেবদেবী সব যত
তােমার মাঝে সবই আছে তুমিই তােমার মত।
দেখব তােমা নিখুত করি নিত্য অভিনব
তােমায় দিয়ে তােমায় চিনি, বরণ করি লব।
৬ই চৈত্র ১৩৪২
৪৪

শতদল
তােমার প্রেমে আকুল হয়ে যাহার পানে ধাই
সবখানি তার আপন করে তােনার প্রেমে পাই,
অপর কোন মায়ার মােহে করলে তব নাম
মিথ্যা প্রেমের বেশে আসে ছদ্ম বেশী কাম
তােমার আগুন তােমার আলােয় ভরলে আমার হিয়া
তােমার প্রেমের সূৰ্য্য শশী রইলে আবরিয়া
তুমিই তখন আমার মাঝে তােমার চেতনায়
তােমার কাজ করাও তুমি নানান ঘটনায়।
আমার যত অহমিকার মায়াসক্ত মন
আমার যত চঞ্চলতা অধীর উচাটন
তােমার প্রেমের আগুন লেগে প্রদীপ হয়ে জ্বলে
কামের মাঝে প্রেমের তালাে তুমি আপন হলে।
বাহির শুধু দহন করে ভিতর জ্বালে আলাে
ভিতর পেলে বাহির মিলে বাসলে তােমায় ভাল।
৬ই চৈত্র ১৩৪২
৪৫

৪২
তােমার পানে লুব্ধ আশা উধাও হয়ে ছুটি
যায় যেন গাে তােমার পায়ে পড়তে সদা লুটি
আমার যত অহমিকা আমার অহঙ্কার
এ সব ছাড়া আর কি আছে পূজার উপচার।
সকল নিয়ে হরণ করে বরণ কর মােরে
হৃদয় খানি দাও হে বেঁধে মােহন প্রেমভােরে
তােমায় আমায় বাঁধন হলে রইবে না কো বাধা
বিশ্ব গা’বে মধুর গীতি তােমার সুরে সাধা।
এসাে তুমি হৃদয় মাঝে অভেদ কর প্রাণ
সকল দিকে চলুক সুখে আলাের অভিযান
তােমার পথে লক্ষ প্রাণী উৎসবেতে মাতি
আসুক ছুটি মিলুক সবে নিত্য দিবা রাতি
তােমায় পেলে আসবে সবি তােমার পানে ছুটি
চিত্তে রহ চিন্তাকমল সত্যে তুমি ফুটি।
৬ই চৈত্র ১৩৪২
৪৬

s
দিনে দিনে আমায় তুমি তােমার করি লও
তােমার বাণী মৰ্ম্মে বসি কওহে প্রিয় কও।
চারিদিকের কোলাহলে বধির হল কান
কেমন করি শুনি প্রভু তােমার প্রেম গান।
সবাই টানে সবার পানে দ্বিগুণ বাসনায়
প্রাণের তব প্রেমের কণা তাদের চেতনায়
পেলাম না কো বাইরে শুধু দম্ভভরা মনে
স্বার্থপেশার ব্যর্থ লোভে ডাকল জনে জনে।
তাদের যত খেলার মাঝে ক্লান্তি অবসাদ
সকল দিকে ঘনায় মিছে দুঃখ পরমাদ।
ওদের দীপে দেয় না আলাে শিখার কালিমায়
আঁধার করি দেউল তব পথ ভুলাতে চায়।
তুমি আমার স্মরণ পথে নয়ন পথে জাগি
যােগ্য কর আপন কর ভিক্ষা ইহা মাগি।
৭ই চৈত্র ১৩৪২
৪৭

শতদল
3s
সকল রসের রসিক তুমি সকল গুণে গুণী
তােমার বাণী নিত্য যেন দু’কান পাতি শুনি
সকল জ্ঞানের আলোেক জ্বেলে আঁধার করি নাশ
নিত্য তুমি সত্যে হও আপনি সপ্রকাশ।
অপর লােকে অপর যত নানান বড়াই করে
তাদের গড়া ক্ষুদ্র সীমায় রাখতে চাহে ধরে
তাদের বুদ্ধি রসের ধারা প্রেমের পরকাশ
ওদের দীপের মলিন ধূমে আনছে টেনে ত্রাস।
বুও তারা দম্ভে ফিরে করতে তােমা জয়,
নাইক জেনে দন্তে প্রভু তাদের শুধু হয়
অজ্ঞতার এ প্রাচীর ঘেরা প্রেমের কারাবাস ;
মিথ্যা দিয়ে সত্যের যে করছে পরিহাস।
তােমার প্রেমে তােমার জ্ঞানে ডুবুক মন প্রাণ
অটল রহুক এ চিত্তে মাের তােমার যত দান।
৮ই চৈত্র ১৩৪২
৪৮

শতল
৪
একি চিন্তা প্রাণে একি চিন্তা প্রাণে
ভুলাও সকলি তব আলােক দানে,
সংসারে বঞ্চনা মিথ্যা মায়া
কুটিল ছলনা জালে আঁধার ছায়া।
ঘিরে অই চারিদিকে দৈন্য বহি
ঠাই নাই কোথা এই বেদনা কহি।
তােমারে ভুলিয়া প্রভু বিশ্বে বিষাদ
দিকে দিকে ঘন ঘটা মিথ্যা প্রমাদ,
অবিরাম ঘুরিতেছে ঘুর্ণি মত
আঘাতে আঘাতে করে বেদনাহত,
নােগশােক মরণের ভ্রুকুটি কুটিল
ক্রন্দনে ভরি তােলে বিশ্বনিখিল।
শান্তি দাও হে প্রভু শান্তি দাও
অমৃতের মধু গীতি মৰ্ম্মে গাও।
৮ই চৈত্র ১৩৪২
৪৯
ঘ।

কার ব্যথা কে সইছে প্রাণে কাহার দেহে রােগ
কাহার লাগি দিন রজনী কাহার জুরা শােক
কাহার প্রেমে কে আজ পাগল চিত্তভােলা হয়
কাহার পথে কে যায় আজি কাহার ক্ষতি ক্ষয়।
কাহার আলাে কাহার প্রাণে লাগছে এত ভাল
কাহার প্রাণে কে আসি আজ সুধার ধারা ঢাল।
কাহার ঘুমে স্বপনরূপে কে যায় দেখা দিয়ে
কাহার মনে ধীরচরণে কে যায় পরশ দিয়ে।
কাহার আলাে কাহার বাতাস কাহার লাগি চলে
কাহার হাসি কাহার কঁাদা কাহার প্রেমে গলে।
কাহার বাঁশী রইল মনে কাহার পরশনে
বকুল বনে কোয়েল বঁধু এল কাহার সনে।
যমুনা হয় উছল পাগল কাহার তরে আজি
তুমিই ওগগা তুমিই সে যে রইলে এত সাজি।
৮ই চৈত্র ১৩৪২

শতল
૩૧
মােহন বাঁশরী তব আমারে ভুলায়
কত সুরে ছাঁদে মােরে ডেকে ডেকে যায়
ফুল দল ছিড়ি ছিড়ি পূজা দিয়ে আমি
বরণ করেছি কত প্রাণময় স্বামী।
যমুনার কুলে কুলে বনভূমি পারে
শয়নে স্বপনে দেখা পেনু কত বারে।
গিরিশিরে হেরিয়াছি মধুরিমা তব
কতদিন কতরূপে কতভাবে নব।
তােনারে যতই প্রিয় প্রতিদিন বুঝি
ততই ঘুরিয়া মরি তােমারেই খুজি
পরাণের কাছে এসো অতি কাছে আরও
তােমাতে আমাতে প্রভু ভেদ নাহি কার ও
মরমে বরিয়া মােরে মরমে লুকাও
নব সুর নব ভাবে নব আলো দাও।
৮ই চৈত্র ১৩৪২
৫১

শতদল
৪
তব চরণতলে শুভ শরণ মাগি
কত নিশি কাটিয়াছি শয়নে জাগি,
কত সাঁঝে আমি তব গগন তলে
একা একা ভেসেছিনু নয়ন জলে ।
রুধিয়া গৃহের দ্বার
রেখেছিনু কত বার
সরম জড়িত মনে পরাণ খুলি
তােমা লাগি কেঁদেছিনু নয়ন তুলি।
জানি জানি কিছু আমি হব না হারা
বিফলে যাবে না মাের নয়ন ধারা,
অমৃতের ধারা ঢালি গেয়ে প্রেম-গান
ভরি দিবে একদিন শূন্য পরাণ।
তােমার বাঁশীর সুরে যমুনার জল
প্লাবিয়া ভাসাবে কত ঘন বন-তল।
৯ই চৈত্র ১৩৪২

সবখানি প্রাণ তােমার পানে ছুটুক প্রিয়তম,
তুমি আমার হৃদয় পতি
গুরুর গুরু তােমায় নতি,
পিতা আমার পুত্র আমার তুমি সর্বোত্তম।
তুমি আমার সখা সখী স্নেহের সহােদর,
ঘাটে ঘাটে ভিড়ব না আর
তোমার ঘাটে মিলবে সবার
মধুর প্রতি ভালবাসায় বিশ্বচরাচর।
ঘট ভেঙে অই আকাশ মাঝে আলাের গানে গানে
রইলে জেগে জ্যোতির শিখা
তােমার অপার রূপের লিখা
ছড়িয়ে আছে দিগবিদিকে সকল খানে খানে।
সকল ভাবে সকল রসে ভজব তােমা প্রিয়
তােমার মাঝে হেরব সবি, পরশ তব দিও।
৯ই চৈত্র ১৩৪২

আমারে তােমার যত আদর করা,
দিকে দিকে ভঙ্গীতে
মনােহর সঙ্গীতে
মাধুরী বিলায়ে তাহে দিয়েছ ধরা।
আমারে তােমার যত আদর করা।
পলকে পলকে তব পুলক আনে
আকাশে বাতাসে চুমি বিজন খানে,
রবির হাসিতে মিশি
হাস কত দিশি দিশি
হৃদয় পরশি সুর ঢাল দুই কানে-
পলকে পলকে তব পুলক আনে।
শয়নে স্বপনে কবে মাের পথে পথে
নয়নে পরাণে জাগি রবে নানা মতে,
দিনে রাতে প্রাণমনে আদরি আদরি
তব প্রেমসুধা যেন হৃদয়ে আবরি
তব আদরের সাথে নাহি কারাে তুল
তােমার প্রেমের মাঝে নাহি কোন ভুল
ই চৈত্র ১৩৪২
৫৪

শদশ
বাহির পানে ডাক দিয়েছে বাহির কত মােরে
ভিতর দ্বারে আগল দিয়ে রাখলে তুমি ধরে,
তবুও কত খেলার দিনে
হয়েছি বাহির তােমায় বিনে
ধূলায় মলিন দেহে যখন ফিরেছি আমি ঘরে
ভিতর দ্বারে আগল দিয়ে রাখলে পুনঃ ধরে।
মৰ্ম্ম মুছে ঝাড়লে ধূলা শান্ত করি প্রাণ
মধুর সুরে কতই তুমি
শুনিয়েছিলে গান
তােমার সাথে দিন রজনী
এম্নি করে কতই গণি
পেয়েছি কত প্রেমের প্রভা পেয়েছি কত প্রাণ,
মধুর সুরে কতই তুমি শুনিয়েছিলে গান।
বাতায়নে বাহির-আলাে হাসল ঘরে যবে
বুকের কাছে ডাকলে তুমি মধুর মােহন রবে,
তুমিও তখন হাসলে সুখে
তােমার আলাে পড়ল মুখে
ভাঙল প্রাচীর ভাঙল দুয়ার, বাহির ভিতর সবে
তােমার বুকে পেলাম আমি আলাের মহােৎসবে
১ই চৈত্র ১৩৪২

শতল
ওগাে আমার প্রদীপ-শিখা তােমায় সাথে করি
ঝড়ের রাতে যাত্রা আমার বেয়ে দুঃখের তরী
শঙ্কা জাগে, হয়ত কখন নিববে বলে মনে
প্রাণের কাছে আড়াল করি রাখছি সযতনে।
গগনে অই ঘন ঘটা মেঘের গরজন
তােমার লাগি হৃদয় আমার কাপছে ক্ষণেক্ষণ,
ঢেউয়ের পরে ঢেউ লেগেছে আকাশ ভাঙি পড়ে
তােমার সাথে যাত্রা আমার আজকে ভীষণ ঝড়ে।
নাইক আজি তারার আলাে শশী গগন তলে
ডুব
দিয়েছে মেঘের কোলে অসীম কাল জলে
বিশ্ব দুলুক ঝড়ের দোলে ডুবুক ধ্রুবতারা
তােমার আলােয় চলছি বেয়ে হইনে দিশেহারা।
আড়াল করি ঝড়ের বায়ু রাখব তােমা ধরি
খানিক পরে কাটবে এ মেঘ চলবে সােজা তরী।
১১ই চৈত্র ১৩৪২

তোমার পথে আজকে প্রভু আমার অভিসার
হে প্রিয় মাের খােল হে খােল-খােল হে গৃহের দ্বার
বকুল বেলী গন্ধ ছড়ায় অলির মাতামাতি
মল্লিকার অই
মধুর বুকে মিলছে প্রিয় সাথী।
করবী আজ অরুণ রাগে লাজ নয়নে চায়
গন্ধরাজের অঙ্গ ঘেরি ভ্রমর বঁধু গায়,
হাসনাহেনা হাসছে বনে জ্যোৎস্না পেয়ে সাথী
মন ভুলানাে গন্ধমধু বিলায় দিবারাতি।
মালতিকার কুঞ্জপাশে মাধবিকার ছায়
ক্ষণে ক্ষণে ব্যাকুল বায়ু গন্ধ নিয়ে যায়,
আজকে আমার প্রাণের কূলে জাগছে উচাটন
কাটে না মাের এম্নি এক। আমার বিজন ক্ষণ।
আপন গন্ধে আপনি ভুলি আজকে তব তরে
চলছি বঁধু একলা পথে নিও বরণ করে ।
১১ই চৈত্র ১৩৪২

রুদ্ধ দুয়ার দেখে কত ফিরলে বারে বারে
তােমার চরণধ্বনি কত বাজল আমার দ্বারে
আলসভরে দেইনি সাড়া তােমার পানে চেয়ে
তুমি শুধু ফিরলে বঁধু মধুর গীতি গেয়ে।
ভাঙবে ওগাে ভাঙবে জানি দুয়ারখানি মাের
তােমার আমার মধ্যে শুধু রইবে প্রেমভাের
তােমার টানে আমার টানে আমরা যাব চলি
তােমার পানে আমার পানে পড়বে হিয়া গলি।
আমার প্রাণের ব্যাকুল তৃষা জাগলে আমায় কভু
রইতে কি আর পারব তখন এমন করি প্রভু,
জাগাও আমার সকল চেতন আঁধার লও হরি
এসসা আমার প্রেমিক রাজা আলাের কেতন ধরি
আমার যত অনাদর আর আমার যত হেলা
ঘুচাব সব তােমার তরেই এই যে বরণ মালা।
১১ই চৈত্র ১৩৪২
৫৮

শতদল
কঠিন বাঁধনে কত বেঁধেছ মােরে
তােমারি
মধুর
প্রিয় প্রেমের ডােরে।
ক্ষণে ক্ষণে মনে হয় বুঝিবা হারাই
আবার মরমকোণে খুঁজে দেখা পাই,
ভােলা নাহি যায় কত রেখেছ ধরে
কঠিন বাঁধনে কত বেঁধেছ মােরে।
তােমার মহিমা প্রভু তােমারি কাজে,
দেছ কৃত সুধাধারা পরাণ মাঝে।
যতদিন এই দেহে রহিবে পরাণ
কে আছে আমার আর তোমার সমান,
জীবনে প্রথম দিনে ভুলি ভয়লাজে
পেয়েছিনু সুধাধারা পরাণের মাঝে।
এ নহে কথার কথা বাহিরের খেলা
তােমাকে আমার যত মিছে অবহেলা,
যে পথে বিপথে আমি যাইনাক কভু
তুমি যে লুকিয়ে হাস অন্তরে প্রভু।
ভুলে যেন নাহি যাই মিছে ভুল পথে
তুমি যে আমার যেন বুঝি নানা মতে।
১১ই চৈত্র ১৩৪২

একি অঘটন প্রভু ঘটালে জানি,
ভাবিলে কেবলি আমি অবাক মানি,
সকলের সাথে যবে ছিলাম খেলায়
কৌতুকচঞ্চল সকাল বেলায়,
যত ছিল প্রাণে মাের আবেগ তিয়াসা
গতিস্থিরপথে তার ছিলনাকো ভাষা,
দীপ্তিহীন পথে শুধু আলেয়ার আলাে
মাের কাছে লেগেছিল কত যেন ভাল।
এরি মাঝে পরাণের পূজা হল যাহা
অন্তরযামী বুঝি বুঝেছিলে তাহা,
অকস্মাৎ একদিন নবীনের বেশে
দীপ্ত আলােহাতে হেসে দেখা দিলে এসে
বিস্ময়ে তােমার প্রেমে ভুলি সকলি
দিকে দিকে এ যে তুমি উঠিলে উজলি।
১৫ই চৈত্র ১৩৪২

শতদল
তােমার মহিমা শুধু তােমারই জানা
দিন ক্ষণ পাত্রপাত্র নাহি কোন মান,
তব প্রেম করুণায় সকল ভুলায়।
দশের লাগিয়া দশে মিথ্যা মায়ায়
কত করে অহঙ্কারে বৈধ বিধান
ধনজন দম্ভের কত গাহে গান,
তারি মাঝে অহর্নিশি ভাঙিতেছ কত
কারার প্রাচীর, করি দম্ভেরে নত।
তুমি যে প্রাণের মাঝে সত্যস্বরূপ
বুঝিয়া বুঝে না কেই সেই তব রূপ,
কারাগার কারাগার দিকে দিকে বাধা
প্রাণে শুনি উঠে নিতি মর্মভেদী কাল
ভেঙে যাক্ ভেঙে যাক মিথ্যা প্রাচীর
প্রেমময় সত্যরূপ হউক বাহির।
১৫ই চৈত্র ১৩৪২
৬১

শতদল
তােমার প্রেমে অসীম সাহস তােমার প্রেমে বল
সত্যে তাহার দীপ্ত আলাে, নাইক তাহে ছল ;
মিথ্যা যত ভয়ের কথা মিথ্যা প্রবঞ্চনা
মিথ্যা যত পথের বাধা মিথ্যা যে গঞ্জনা ;
আসবে আসুক কি ভয় তাহে তোমায় পেলে সাথী
ঝড় বাদলের অবসানে কাটবে দুঃখের রাতি।
বসবে তুমি হাল ধরে মাের লক্ষ্য করি ঠিক
পালের রসি ধরব কষি ভুলবনাক দি।
কখন ঘন আঁধার মেঘে ডুবলে ধ্রুবতারা
কুজ্জটিকায় চায় যদিকে করতে
দিশে হারা
দিব্য তােমার আলাের জ্যোতিঃ দীপ্ত করি মন
সকল মিথ্যা মায়ার ঘের কাটবে অনুক্ষণ।
অন্তরে আর বাহির পথে সকল বােঝা পড়া
তােমার সাথে আমার হউক প্রেমের পথে গড়া।
১৫ই চৈত্র ১৩৪২
৬২

অসম্ভবের সম্ভাবনায় হয় যে সহজ জ্ঞান
তোমার সাথে বাঁধলে আমার সকল মনপ্রাণ,
সংশয়েতে দিন রজনী সন্দেহেতে দুলি
ভুল করে যে নিত্য কত যাই তোমারে ভুলি।
আমি করি তর্কবিচার বুদ্ধি আমার দিয়ে
কত রকম সরমঘেরা শঙ্কা সাথে নিয়ে
অবহেলার যুক্তি নিয়ে যুক্ত
রহি মিছে
তােমার আলােয় না ডুবে মন ভাবে এসব কি যে।
সকল দিকে ক্ষুদ্র আমি আমার মাঝে তাই
ক্ষুদ্রতার এ আবেষ্টনে ক্ষুদ্র করি চাই।
মুক্ত মধুর মহান্ তব প্রাণের দেয়ালিতে
যাক ভেসে মাের বুদ্ধিবিচার রহগাে তুমি চিতে।
তােমার পথে চালাও মােরে শােনাও তব বাণী
জাগুক মনে শক্তিসাহস ভাঙুক যত গ্লানি।
১৫ই চৈত্র ১৩৪২

আঁধার শেষে সকাল বেলা গৃহের আড়াল কোণে
তােমার রূপের মােহন আলাে পেলাম সঙ্গোপনে
চিত্ত আমার ব্যাকুল হল উতল হল মন
প্রাণের ঘাটে মিলনছলে হাসলে ক্ষণে ক্ষণ।
কোকিলবঁধু কণ্ঠ তুলি সঞ্চারিল সুধা
বকুল বনে অরুণ আলােয় জাগল আলোর ক্ষুধা,
কি অপরূপ মােহন বেশে প্রাণের দিকে দিকে
ডাক দিলে মাের প্রেমের গুরু প্রেমের কাঙালীকে
আলােয় আলােয় দিগবিদিকে র রসের এ খেলা
আসল জেগে আড়াল কোণে নগ্ন ভােরের বেলা,
নগ্ন মােহন আলাের মাঝে নগ্ন মধুরিমা
অসীম ছেয়ে ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে সকল সীমা।
আলাের বাঁশী আমার মাঝে বাজাও ক্ষণে ক্ষণে
লাগুক তােমার পরশ তাহে গভীর সঙ্গোপনে।
২১শে ফান ১৩৪২
৬৪

শতদল
তুমি সুন্দর তুমি পরকাশ তুমি হে উদারজ্যোতিঃ
তুমি হে বিলাসী তুমি হে উদাসী তুমি হে মধুমতি
তুমি নিৰ্ম্মল তুমি মনােহর মধুর মরমে মাের
এসাে এসাে ওগাে নয়নে পরাণে নাশিয়া তিমির ঘাের।
কি মধু তােমার মধুর চাহনি মধুর অধরে হাসি
মধুর চলনে দেখা দাও ওগো মধুর চরণে আসি
দিবস রজনী মধুর কর গাে মধুর
বিলাসে তব
প্রেমের মধুর সাগর জোয়ারে ঢেউ তােল নব নব।
আমি যাই ডুবে মধুর আবেশে তােমার মাধুরী মাঝে
তােমার সুরের মধুর লহরে প্রাণ যেন মাের নিয়ত বাজে,
আকাশে বাতাসে চরাচরে তুমি নয়নে নয়নে মাের
দাড়াও হে প্রিয় সত্যস্বরূপ দিবস রজনী ভাের।
তুমি আছ বলে আমি রহিয়াছি না হলে কি আছে মাের
তােমাতে আমাতে সুমধুর কর সত্য মিলন ডাের।
৪ঠা ফান ১৩৪২

শতদল
নিত্য তােমায় নিয়ে আমি তৃপ্ত হব কবে
তােমার বাণী অন্তরে মাের উঠবে গভীর রবে ?
চাইনা মিছে কৰ্ম্মপাকে
রইতে পড়ি ঘাের বিপাকে
পূণ্য পাপের বিচার করি শূন্য বেগার খাটতে ভবে।
শ্রম করা যা’ তােমার কাজে
যন্ত্র বাজা তােমার মাঝে
যন্ত্ৰী তুমি আপন মনে আপনি বাজাও আমায় যবে।
তােমার শাস্ত্র তােমার বিধি
বুঝাও তুমি নিরবধি
চাইনে অপর শাসন-নীতি বেদ পুরাণে কি আর হবে।
কি চাব আর কাহার কাছে
সব রয়েছে তােমার মাঝে
তােমায় পেলে আর কিবাকী ভয় কাহারে তােমার ভবে।
২রা ফাল্গুন ১৩৪২
৬৬
।

শতদল
আপন আপন বলি ওরা দত্ত ভরা মনে
যত আলাে মহােৎসবে জ্বাললাে জনে জনে,
কত যে গেল আঁধার হয়ে পলক ফেলে শেষ
দাবানলের বহ্নিরূপে কেউ পুড়িল দেশ।
অজ্ঞতার এ সঙ্গে সঙ্গে কৰ্ম্ম রঙ্গালয়ে
সুখের সাধ উঠছে ভরে মিথ্যা বেদন ভয়ে,
বিজ্ঞ তুমি মহান তুমি এসাে নায়ক সাজে
সব তেয়াগীর কেতন ধরি এসাে সবার মাঝে।
অহঙ্কারে উচ্চ শির কোথাও তােমার নয়
তােমার আলাে আগুন হয়ে হয় না জ্বালাময়,
ওদের কাজ তােমার হাতে হয় যে সুশােভন
আপন ভােলা চিত্তখােলা হে বৈরাগী মন।
জাগগা জাগাে আপনি জাগাে স্বার্থ কারা টুটি
লক্ষ জনার মিথ্যা ভেদি আপনি ওঠ ফুটি।
৩রা ফানি ১৩৪২
৬৭

শতদল
৬৪
এই জীবনের সকল কাজে সকল সাধনায়
মনের গােপন মণিকোঠায় যে সুর শােনা যায়,
হেথায় প্রথম যাত্রাদিনের আগের সাধা তাহা
নিত্য কাজের সঙ্গে আজি চলছে যাহা যাহা।
বেদবেদাঙ্গ শাস্ত্র-বিধান বাহির বাঁধে যত
চোখ ঠেরে কয় স্বভাব শুধু “হয়নি মনের মত”
মন চলে যায় মনের পথে বাঁধন শুধু বাধে
চতুর চালে চরণ ফেলি লক্ষ মায়ার দে।
এই ফান ১৩৪২

তােমায় কবে দেখব আমি বিশ্ব চরাচরে
সবার মাঝে সকল কাজে এ দুনয়ন ভরে,
আকাশ জলে বাতাস কোলে মােহন ভঙ্গিমায়
রইবে কবে চিত্তহরণ সকল চেতনায় ।
যেদিক পানে হেরব আমি ভরবে কবে হিয়া
তােমার ভাবে ছন্দে সুরে থাকব তােমা নিয়া,
হৃদয় মাঝে বসূবে কবে সবখানি মাের জুড়ি
জীর্ণ আমির ক্ষুদ্র পাখী কখন যাবে উড়ি।
বাহির ভিতর তােমায় তােমায় ভরলে ভুবন ভরি
ভাবনা আমার যায় চুকে সব তােমায় বরণ করি,
জগৎ পারাবারের পথে বরণ মালা লয়ে
সমুখ পানে রইনু চেয়ে দুঃখ বেদন সয়ে।
জাগগা প্রভু আঁখির আগে জাগাে প্রাণের কুলে
কণ্ঠে লও হে প্রিয় মাের মালাখানি তুলে।
==
৮ই ফান ১৩৪২

কি বিচিত্র মণির মালে সাজলে ওগাে তুমি
রবি শশী গ্রহ তারা দুলছে মালা চুমি,
মণির বুকে তােমার জ্যোতিঃ রূপের মধুরিমা
রসের সাগর ঢেউ খেলে যায় ছাপিয়ে প্রাণের সীমা
আকাশ ভরি সুর জাগালে প্রাণের জাগরণী
বিলাইলে গন্ধে মধুর মলয় সমীরণী,
দিগবিদিগে প্রাণ জাগিছে অগ্নিময়ী শিখা
সকলরূপে সকল কাজে—কারণরূপে লিখা।
আঙ্কুরিত রইলে তুমি সকল ভঙ্গী ভাবে
তােমায় ছাড়ি অহঙ্কারী কোথায় বল যাবে,
অহঙ্কারীর দম্ভ মাঝে দুঃখের চেতনায়
সেও যে তােমার বেদনরূপে ভঙ্গী দেখা যায়।
সকল কামে সকল নামে সকল রূপে মিলে
কি অপরূপ রূপ রচনায় আপনি দেখা দিলে ।
ই ফান ১৩৪২
৭০
t

রােগে শশাকে বিপদ দিনে তােমার করুণারে
নাইক যেন ভিক্ষা বলে চাহি তােমার দ্বারে,
সুখের দুঃখের সকল ক্ষণে দৃষ্টি মাঝে তব
তােমার মধুর পরশনে আমায় খুজে লব।
চিত্ত যেন তােমার পায়ে অর্পিবারে পারি
নিত্যকালের সত্য মােরে জানতে মনােহারী,
ওগাে প্রিয় ওগাে বন্ধু ভজব বলে প্রাণ
দাও আলাে মাের আঁধার মুছি শক্তি কর দান।
বাসলে ভাল জ্বাললে আলাে আমায় নিলে তুলে
মিথ্যা যত কান্নাকাটি সকল যাব ভুলে।
১১ই ফান ১৩৪২
৭১

শতদল
ক্ষুদ্র আমার কাজের দিনে ক্ষুদ্র লাভের তরে
ক্ষুদ্র আশার লােভে খুজি ক্ষুদ্র দেবতারে,
তাহার মাঝে পরশ তব হয়ত ভুলে যাই
হয়ত আমি হারিয়ে তােমা অন্য কারে চাই।
এম্নি করে আমার পূজা গৰ্ব বােঝা লয়ে
ক্ষুদ্র আশার সফলতায় নিত্য ছােট হয়ে,
স্বার্থকারায় সার্থকতায় যতই ভরে উঠে
যে পথ দিয়ে মরুর বুকে যখন যে ফুল ফুটে ;
সবার পিছে তােমার প্রিয়
মধুর পরশখানি
সবার মাঝে নিত্য কাজে সত্য যেন জানি,
তােমায় যদি হারিয়ে ফেলি হার মানি সব কাজে
ক্ষণিক জ্বলা আলাের ঝলক লুকায় বিষম লাজে।
তােমায় পেলে আর কিছু মাের রয়না পাওয়া বাকী
সকল চাওয়া সফল কর চিত্তে তুমি থাকি।
১২ই ফান ১৩৪২
৭২

চিন্তানদীর স্রোতের ধারা চলছে যে পথ বেয়ে
আপন সুরে আপনি মাতি নিত্য যে গান গেয়ে,
তােমার তরে ব্যাকুল হল দিন রজনী ভাের
তােমার সাথে দেখা যেন হয়গাে পথে ওর।
তরঙ্গে তার কুলুধ্বনি হয় না যেন শেষ
শুকিয়ে যেন রসের জোয়ার হয় না মরুদেশ,
নিত্য
মধুর সুর সাধনে
দীপ্ত আলাে ক্ষণে ক্ষণে,
বক্ষে যেন পুলক জাগায় সফল করি এই জীবনে।
দিনে দিনে বাড়বে যাতে প্রবল স্রোত বেগ
গভীর হবে সুর সাধনা কাটবে হতাশ মেঘ,
যে পথ দিয়ে বইতে দেছ উদার কর তাহা
গভীর কর মধুর কর সকল গীতি গাহা।
মরুর বালু ঝিকিমিকি করছে দূরে দূরে
বিরাম বিহীন
চলুক
নদী নিত্য চলার সুরে।
১৪ই ফাত্তন ১৩৪২
৭৩

পুতল
ও
নাইক যদি তােমায় ডাকি না চাই বারেক ফিরে
অবহেলার কঠিন দিনে রও যে আমায় ঘিরে
বিশ্ব জোড়া সবার মাঝে এম্নি করে তুমি
আপন প্রেমে আপনি মজি রইলে হিয়া চুমি।
এই জীবনের প্রথম দিনে প্রেমের পরশমণি
যা’ দিয়েছ গােপন মনের ছুয়ে আঁধার খনি,
তারই ব্যাকুল রসে আকুল করছে হৃদয় মাের
ছুটে বেড়াই পরশ মাগি খুলি প্রাণের দোর ।
যতই ঘুরি বাহির খুজি ততই লােদন বােল
সকল দুয়ার ভরছে ব্যথায় করছি গণ্ডগােল,
হাত বাড়িয়ে ডাকছ কত বক্ষে আসন পাতি
চোখ ফিরিয়ে চাই না শুধু বাহির নিয়ে মাতি।
ফিরাও ওগাে ফিরাও মােরে মিলাও প্রাণের মাঝে
জুড়াও জ্বালা ডুবাও প্রেমে সাজাও তােমার সাজে।
১৮ই ফান ১৩৪২
৭৪

শতদল
প্রেম বিলালে সবার প্রাণে সমান করি যত
সবাই কি আর জানল তাহা কাহার কাছে কত,
তােমার কাছে নাইক বিভেদ নাইক বড় ছােট
নিত্য তুমি সমান তালে ফুলের মত ফোট।
ওদের বিচার করছে সদা তােমায় আপন পর
কখন রাজা কখন ফকির হীনের হীনতর,
অভেদে এই প্রভেদ তব যে জন তােমা চায়
আপন বলে আপন মাঝে তােমার দেখা পায়।
তাহার তােমার মধুর কেলী নিত্য প্রেম রসে
বাহির পানে যা ছুটে সে থাক না ঘরে বসে,
আঁধার কারার প্রাচীর ভাঙ্গি তােমার আলােকণা
চোখে মুখে পড়ক যেন না হই অন্যমনা।
তােমার পরশ তােমার প্রেমে মুগ্ধ দিবা রাতি
হই যেন হে জীবন স্বামী রই তােমাতে মাহি।
১৯শে ফাগুন ১৩৪২
৭৫

শহুল
৭২
তােমার কভু পেলে দেখা শুনলে গভীর বাণী
দাড় ধরে মাের বসলে পাশে চললে কষে টানি,
ভাবনা কি আর রয় হে কিছু আপনি তবে উঠে
চিত্ত কমল সকল দিকে পাপড়ি মেলি ফুটে।
কণ্ঠে বাজে সুরের লহর ঢেউয়ের তালে নেচে
ভয় কারে কয় রয় না জানা বিজয় গীতি সে যে,
কোন অমরার পরম প্রিয় মধুর তিয়াসায়
পরাণ খানি যায় ভেসে মাের প্রেমের মলয়ায়।
নিরুপায়ের মত আজি অবহেলার ভরে
একলা বসি তরীর বুকে তােমায় প্রিয় স্মরে’
বিপুল নদীর বিশাল ঢেউ তরীর গায়ে লেগে
আঘাত দিয়ে চলছে কত নিষ্ঠুর কঠিন বেগে।
মাঝির তরে রইনু বসে দৈন্য বেদন বহি
কোথায় ওগগা পরশমণি, উঠছে পরাণ দহি।
২•শে ফাগুন ১৩৪২

চলেছি পিছল পথে তব সাথে সাথে
পড়ে যেন নাহি যাই রেখো ধরি হাতে,
তব প্রেম করুণার বাদলের ধারে
ভাসাইয়া ডুবাইয়া মােরে বারে বারে ;
আমার জীবন ভরি এসাে মাের মাঝে
নব নব রসে ভাবে নব নব সাজে।
চোখে মুখে বক্ষে হাসি তনু পুলকিত
বিশ্বময় প্রাণে মাের তােক অনুমিত।
নিত্য তব সুধাভাণ্ড অন্তরে ঢালি
দূর কর তৃষ্ণা ক্ষুধা মৰ্ম্মে দাও জ্বালি
একান্তে মঙ্গল দীপ, আলাে মধুরিমা
কেবল বিলাক সুখে তােমার মহিমা।
তােমার আমার মাঝে রাখিও না বাধা
তব প্রেম সত্য হােক প্রাণে মাের সাধা
২২শে ফান ১৩৪২
৭৭

আমার গােপন অঙ্গনেতে ক্ষণে ক্ষণে হাসি
চপল মধুর দৃষ্টি হানি বাজাও এ কোন বাঁশী,
হৃদ্যমুনার উছল জলে নিত্য কেলী তব
ধরার শ্যামল কোলে তােমার নৃত্য অভিনব।
রসের সাগর অতল তলে ডুবাও ব্যাকুল হিয়া
ওগাে আমার জীবনবন্ধু প্রাণবিনােদিয়া,
সত্য কর সফল কর মধুর কর প্রাণ
দূর কর সব ভােমার আমার মধ্যে ব্যবধান।
তােমার রূপের মােহন আভা প্রাণের মধু সুর
আমার প্রাণে প্রেমের গানে করল ভরপুর,
বিনােদ বাঁকা শ্যাম জলদে তড়িৎরূপলেখা
গােপন গহন কুঞ্জে যেন তােমার আমার দেখা।
হৃদয় মাঝে বৃন্দাবনে প্রেমের বিহার কেলী
আমার মাঝে তােমায় নিয়ে দেখি নয়ন মেলি
২৩শে ফাগুন ১৩৪২
৭৮

নিবিড় প্রাণের গহন কোণে বৃন্দাবনের কুঞ্জবনে
মুঞ্জরিত প্রেমের ফুলে কৃষ্ণ অলির গুঞ্জরণ,
ফাগুন মায়া মধুর ক্ষণে চিত্ত দোলায় আকুল মনে
প্রাণের পথে প্রেমের বিহার নিত্য নব সঞ্চরণ।
কোকিল ডাকে বকুল ডালে মালতিকার ফুল্লমালে
তমাল বঁধুর শীতল ছায়া উতল হল ব্যাকুল বায়,
ময়ুর নাচে মধুর তালে আলাে ছায়ার স্বপন জ্বালে
রঙ্গে চলে রঙ্গমতী অনঙ্গেরি মােহন ঘায়।
নীল গগনের জলদবুকে তড়িৎরাণী রইল লুকে
আপনাকে সে মিলিয়ে দিল সবখানি তার বিলিয়ে দিয়ে,
কল্লোলিনী গাইছে সুখে তরঙ্গের অই হর্ষ মুখে
শ্যাম প্রেয়সীর মৰ্ম্মগাঁথা নবীন রসের ভঙ্গী নিয়ে।
প্রেম প্রকাশের মােহন ছবি আবেশ মাখা চতুর ছাদে
বিশ্বকবির অরূপরতন পড়ল ধরা রূপের ফঁদে।
২৪শে ফাগুন ১৩৪২
৭১

শত আজি কি মধুর প্রভাত কিরণে এসেছ আমার দ্বারে, শ্যামল গগনে আলাে ঝলমলি জলদ অঙ্গে উঠেছ উথলি কুয়াশা বিছানাে তৃণপথে তুমি আসিলে তিমির পারে। হিরণ কিরণে দোলায়ে মালিক। স্নিগ্ধরূপের যেনরে বালিকা, শিশির সিক্ত নয়নে হেরিছ উষার আবেশে কারে! নিশির জড়তা কাটায়ে এসেছ আলােকঅধরে চুম্বন দেছ- আমার মাঝারে তুমি যে জাগিয়া উঠিতেছ বারে বারে বিজন ভবনে নয়নে নয়নে দাড়ায়ে কুটির দ্বারে কি মধুর সুর জাগালে পরশি মৰ্ম্মবীণার তারে। ২৫শে ফাগুন ১৪২

শতদল
আঘাত তােমার যতই কঠিন হােক
জীবন ঘেরি রহুক আমার যতই দুঃখ শােক,
সবার মাঝে পরশ তব
সত্য হয়ে জাগুক নব
আমার প্রাণে তোমার প্রেমে ভাসুক নরলােক
সকল ব্যথা ধন্য করি
সকল কাদায় তােমায় স্মরি,
আনন্দেরি ঝর্ণা আনি মরুর বুকে ফুল ফোটানি
দূর করানাে তােমার হাতে সকল বেদন শােক,
ওগাে আমার পরশমণি সকল ভাবে তােমার পরশ
সত্য আমার হােক

শতদল
আমার মাঝে আমায় তুমি হরণ করি লও
স্মরণ পথে নয়ন পথে সজাগ তুমি রও,
অহমিকার দারুণ বােঝ চরণ তলে দলি
এসাে আমার চিত্তহরণ চিন্তারথে চলি।
তােমার রূপে তােমার রসে তােমার চেতনায়
বাহির ভিতর ডুবুক ওগাে তােমার ভঙ্গিমায় ।
তােমার প্রেম তােমার ভাষা ধরায় ধন্য হােক
সত্য কর নয়ন পথে মৰ্ত নরলােক
ওগাে আমার হৃদয় হরণ ভুলাও বেদন শােক।
২৭শে ফান ১৩৪২
২

শতদল
৭
সন্ধ্যা বেলা তােমার কাছে যখন বসেছিলাম
নাইক ছিল প্রদীপশিখা নাইক গন্ধফুল
দেউল ছিল নীরব নিথর আঁধার ঘন শ্যাম
উঠল দুলে তাহার মাঝে আমার প্রাণের কূল।
রূপের ফঁাদে অরূপ তব স্বরূপ ধরার লাগি
চিত্ত দোলায় আসন রচি তােমার তরেই জাগি,
তোমার নামের মধুর রসে কণ্ঠ ভরেছিলাম
চক্ষু মুদি অন্তরেতে দৃষ্টি খুলেছিলাম।
দেখেছিলাম বৃন্দাবনে শ্যামল তমাল বন,
সেই যমুনা তরঙ্গিনীর নৃত্য সঞ্চরণ,
সেই চঁাদিনী ঝর্ণাধারা সেই যে কুঞ্জকেলী
তনুর মাঝে অতনুর সে নিত্য রসের কেলী।
আলাে ছায়ার মিলনে সেই
মধুর পরশখানি
আমার মাঝে তােমায় এমন নিত্য দিও আনি।
২৮শে ফান ১৩৪৪

শতদল
তুমিত আসনি একা
তােমার সঙ্গে প্রেম তরঙ্গে
বিশ্বপ্রেমের মাধুরী লেখা,
শীতের কুহেলী আড়ালে তােমার নবীন অরুণ কান্তি
দিয়াছে পরাণে কত সুরে গানে মুক্ত বিহানে শান্তি।
গগনে গগনে নীল নীলিমায়
হিরণ কিরণে মাধুরী ছড়ায়
সিক্ত ধরার মিল বুকেতে
মুক্তা মালার পড়েছে রেখা
তুমিত আসনি একা।
৮৪

শতদল
সহস্র কর ব্যাকুলি বাড়ালে
কি মধু হাসিতে হৃদয় জড়ালে
আকাশে বাতাসে তৃণলতা পাশে
আঁধার কুঞ্জকুটির সকাশে
প্রেমের পরশে পুলক বরষে
ভূলােক দুলােকে মােহন বিলাসে সব সাধে দিলে দেখাও
তুমিত আসনি একা।
ফুল বনে বনে ফুটায়েছ ফুল
মৌমাছি প্রেমে হয়েছে আকুল
বিহগ বিহগী তমাল শাখায়
তব প্রেম গাথা তােমারে জানায়
বেণু বনে বায়ু বাঁশরী বাজায়
পােঠের ধেনুরা তব পানে চেয়ে
গােচারণে তাই দিয়াছে দেখা।
তুমিত আসনি একা।
২৯শে ফান ১৩৪২
৮৫

শতদল
(তুমি) আপন মহিমা বিলায়ে পরাণে কোথায় রহিলে গােপনে
ওগাে সুন্দর হৃদিমনােহর এসস এ বিজন ভবনে।
তুমি জাগাে মাের নয়নে নয়নে
জীবনে মরণে শয়নে স্বপনে
তােমারি সৌম্য মােহনকান্তি যেন গাে নেহারি সঘনে।
তব প্রেমালােকে খুলিয়াছি প্রাণ
মধুর আবেশে পাতিয়াছি কান
শােনাও শােনাও শােনাও সে গান যে গানে ভুলিব ভুবনে।
তুমি গাে আমার পরশ রতন
করিয়াছি তােমা কত অযতন
তবু আশা মনে ওচরণে স্থান আপনার বলি দিবে গাে যতনে।
৩•শে ফান ১৩৪২
৮৬

শতদল
বিশ্ব ব্যাপিয়া রহিয়াছ তুমি জনম মরণ-পারে
জীবন উষার অরুণ প্রভাতে দাড়ালে আমার দ্বারে।
দিনে দিনে হয় ক্ষয় ক্ষতি যত
সুখ-বেদনার বােঝা অবিরত,
জীর্ণ জীবনে বহিয়া বহিয়া নিয়ে চলি আপনারে
মরণের মাঝে তুমি যে জীবন দেখা পাই বারে বারে।
চির সুন্দর তুমি মনােহর
নাহি শেষ তব তুমি হে অমর,
নতুনের মাঝে কত পুরাতন পুরাতনে নবরূপ,
অনলে অনিলে সলিলে নিখিলে স্থির তব অপরূপ।
মরণঅস্ত্র মানে পরাভব
তুমি থাক শুধু যবে ছাড়ে সব
তােমা হতে বাজে অমৃতের সুর চিত্তবীণার তারে ,
জীবনে মরণে জনমে জনমে দেখি তোমা বারে বারে ।
৪ঠা চৈত্র ১৩৪২
৮৭

তােমার আভাস আমি যে পেয়েছি
তাহা কি আমার ভুল ?
জাগিতেছে মনে কত ক্ষণে ক্ষণে
জীবন মরুতে ফুটাতে ফুল।
তুমি মেঘরথে সুরলােক হতে
নিরালা আমার বাতায়ন পথে
এসেছিলে করি নুপূরের ধ্বনি
মুখর করিয়া বাদল রজনী
সজল নয়নে চুম্বিলে ধীরে
সে সুখের আর নাহিক তুল।
বিষাদে বিধুর হৃদয়, আঁধারে
শূন্য কখনাে হলে চারি ধারে ;
তারি মাঝে মধু পরশনে আলাে
অন্তরে যবে নিরজনে ঢাল
তাহাতে গলে যে হাসির ঝরণা
নহ কি তুমি সে প্রীতির মূল ?
brbr

শতল
রূপসীর নব যৌবন মায়া
অন্তরে তাকে যেই রূপছায়া,
বিশ্ব প্রকৃতি ছন্দের নাচে
ঋতুচক্রে যে অমৃত যাচে
তাহাতে কি তুমি প্রেমের ভাষায়
বলনা কেবলি মরণ ভুল ?
রূপে রসে বাসে প্রিয় মাের প্রাণে
যত দেয় ধরা জ্ঞানে বিজ্ঞানে ;
যত শুনি গান যত দেখি ছবি
আনন্দ তাহে যত পাই সবই
তােনারই মােহন ভঙ্গিমা সুর
হৃদয় যমুনা করা আকুল।
তােমার আভাস আমি যে পেয়েছি
তাহা কি আমার ভুল ?
১লা মাঘ ১৩৪২

শতদল
আজিকে তােমার একি এ কান্তি
রূপসী অঙ্গে উছলি পড়ে।
তনু ভরা লয়ে ভাবের মাধুরী
একি বেশে তুমি কর মনচুরি
গােপন মরমে এসাে ঘুরি ঘুরি
কত যে মধুর স্বপন গড়ে।
তব হাসি কত অধরে মিলায়
নয়নে তিয়াসা ব্যাকুলি উঠে
গণ্ডের রাঙ্গা অরুণিমা সাথে
উঠ জেগে প্রতি বিমল প্রাতে
তােমার অরূপ রতন পিয়াসে
হৃদি মন কাঁদে পড়িয়া লুটে।

রূপসীর প্রিয় গােপন মরমে
নীরবে যতই লুকাও তুমি,
সকল আড়াল মােচন করিয়া
তব রূপশিখা ভঙ্গি ধরিয়া
ও দেহ দেউলে দেখা দেয় মােরে
আবেশে তা যায় আমারে চুমি।
এমনি তােমার রসের সাগরে
ডুবাও আমারে ডুবাও প্রিয়,
নন্দিত যত বন্দিত যত
সকলেরে লয়ে প্রেমে অবিরত
অজানার মাঝে তােমারে জানায়ে
জীবনে মরণে পরশ দিও।
৩রা মাঘ ১৩৪২

শতদল।
৪৪
সকলেরে যদি
ভুলে
যাই প্রভু খেদ নাই তােমা পাইলে সাথী
আমার আঁধার কুটির দুয়ারে উঠিলে জ্বলিয়া তােমার বাতি।
কত রজনীর সুপ্তি, স্বপনে কেটে গেছে তােমা হৃদয়ে পেতে,
নয়নে পরাণে খেলেছে বিজলী তব আশে প্রাণ পুলকে মেতে।
দুৰ্যোগ রাতে বন্ধুর পথে নয়নে যখন গড়ায় জল
জানি না তুমি যে কি মায়া পরশে অবশ পরাণে জাগাও বল।
কত না অসীম করুণার আশে বক্ষ আমার উঠেগাে দুলি
তােমার মাঝারে অজানারে জেনে তব পথে হৃদি যাইলে খুলি।
এসাে এসাে মাের সমুখে দাড়াও মােহন পরশ দাও হে আনি
জীবন মরণ করিব সফল দাওহে অমৃত মধুর বাণী।
আমি আর তুমি ভেদ মিটে যাক অহমিকা যাক সকলি টুটি
ওগাে চিরসাথী জীবন বন্ধু আপনি উঠগাে আমাতে ফুটি।
তােমার চরণে নিবেদি আমার যা আছে সকল কামনা জাল
লও লও তুমি লওহে আদরে আমার এ দীন বরণ মাল।
২২শে ফান ১৩৪২
৯২

শতদল
৮
দারুণ রােগে ভােগের দিনে অধীর ছিনু যবে
বহুজনের মধ্যে ছিলেম নিরুপায় এ ভবে
কেউ বা গেল পাশ কেটে মাের কেউ বা বারেক চাহি
হৃদয় বিহীন দুটি কথায় এল ব্যঙ্গ বাহি।
এরি মাঝে অহর্নিশি নিঠুর যাতনায়
একলা ঘরের আঁধার কোণে অশ্রু ঢেলে হায়
কতই তােমা ডেকেছিনু কাতর প্রাণে প্রভু
তােমার কানে সে ডাক ওগগা পশেছে কি
কভু ?
জানিনা কোন ইচ্ছা দিয়া হঠাং টেনে মােরে
নিয়ে গেলে অপর গৃহে এম্নি উদাস করে,
তথায় যারা হৃদয় দিয়ে স্নেহে মমতায়
যে বিচিত্র সেবার মাঝে ঘুচিয়ে যাতনায় ;
;
তুলল আমায় সজাগ করে তােমার দিকে প্রাণ,
ভুলব না সে তাহার মাঝে প্রেমের তব দান।
৬ই চৈত্র ১৩৪২

শহুল
কেমন করে জানাই বল পরাণখানি মাের
দহন জ্বালা সহি যে কত দিন রজনী তাের,
গৃহছাড়া পথের মাঝে জন্মেছিনু যবে
সে দিন থেকে দীন ভিখারী বেড়াই ঘুরে ভবে
সর্বহারা ছন্নছাড়া ছিন্ন হৃদি বহি
দিন রজনী দ্বারে দ্বারে কতই বেদন সহি
ভিক্ষা মেগে পথে পথে পথের পরিচয়ে
বিফলে মাের দিন কেটে যায় শূন্য ঝুলি বয়ে।
কখন ফিরি শ্মশান বুকে কখন ফুলবনে
ভােলানাথের আসন রচি কখন মনে মনে
সবায় তুমি ঘর দিয়েছ পর করেছ মােরে
পথ দিয়েছ যা আছে মাের সকল হরণ করে।
আসবে কি গাে জীবন মাঝে পূর্ণ থালা হাতে
কাঙাল পান্থ বৈরাগীর এ মুক্ত আঙিনাতে।
৬ই চৈত্র ১৩৪২
৯৪

ঘর ছাড়া এ পথিকটিরে পথের পানে লও
তােমার পথের পানে লও,
নিত্য আমার নয়ন মনে পূর্ণ হয়ে রও।
আমায় যেন আমার বলে
তােমার নামে নানান ছলে
তােমার কাজে ভুল করি না, যাহা না তুমি কও,
কুৰ্ম্মে আমার মন্ত্রী সেজে চিত্তে আমার রও।

শতদল
তােমার কাজে যােগ্য তুমি,
আমার মাঝে কৰ্ম্ম ভূমি
আপনি কর মনের মত
আমায় নিয়ে কৰ্ম্মে রত, আপনি তুমি হও।
তােমার লীলা তােমায় সাজে,
তােমার গুণে চিত্ত মাঝে
আলাের পুলক জাগলে কভু
বিশ্বে তাহা বও,
যাহার চোখে লাগুক যেমন
সবি তখন পরশ রতন
তােমার লীলা সৃষ্টি ছাড়া সবি তুমি হও।
ঘর ছাড়া এই পথিকটিরে পথের পানে লও
তােমার পথের পানে লও।
৮ই চৈত্র ১৩৪২

শতদল
ভালবাসা যেন কৃপাকণা মত
মিছে মনে নাহি দেখাতে যাই,
আকুল পরাণে প্রেমের সাধনে
জীবনে মরণে তােমারে চাই।
যত কপটতা যত সংশয়
দূরে রাখে মন প্রেম নাহি হয়,
মলিন গােপন মৰ্ম্ম খুলিয়া
দেখাব যা আছে সকলি তাই।
ছ

শাহস
তব করুণার প্রেম পরশনে
‘পাপ মুছে তােমা বরিব যতনে,
কলুষ পুষিয়া ভুলাব কেমনে
একান্ত যদি তােমারে চাই।
অজানা তােমার কিছু নাহি জানি
তবু না জানালে নাহি কাটে গ্লানি,
সহজ সাধনে অকপটে প্রভু
যেন গাে তােমারে নিয়ত পাই।
ভালবাসা যেন কৃপাকণা মত
মিছে মনে নাহি দেখাতে যাই।
৮ই চৈত্র ১৩৪২

৮৯
কত গান শুনাইলে কতবার গেয়ে
সকলি রয়েছে মাের পরাণে ছেয়ে,
সুরে সুরে সুরময় ভুবন ভরি
কত ভাব কথা দিয়ে নিয়েছ বরি।
তােমার সুরের মধু অকিাশে ছড়ায়
দিকে দিকে সকলের কণ্ঠ জড়ায়,
কত আশা কত ভাষা কত কথা আজি
বাহিরে ভিতরে তাই উঠিয়াছে বাজি।
শেষ নাই ক্ষয় নাই অনন্তে মনে
কত যায় কত আসে কত নিরজনে,
তােমার সুরের ঢেউ লহরী তুলি
মালা হয়ে আসে মনে আপনি দুলি।
কণ্ঠে তুলিয়া তাহা আনন্দে মাতি
তােমারে স্মরণ করি গাহি দিবারাতি।
৮ই চৈত্র ১৩৪২
ఎవ

শতদল
ব্যথা লাগে ব্যথা লাগে ব্যথা লাগে করি
তােমায় প্রিয় নিবিড় করি প্রাণেই যেন বরি।
সকল ব্যথা হয় যেন সুখ তােমার সাধনায়
দুঃখ বেদন ফুলের মালা তােমার ভাবনায়।
দুঃখ পাই দুঃখ পাই দুঃখ পাই যত
তােমার দেওয়া বলেই চাহি তাই যে অবিরত,
তােমার দেওয়া দুঃখের মাঝে তােমার প্রেমে প্রভু
ধরব তােমায় বরব তােমায় হােক না মরণ তবু।
সকল ব্যথা ধীরে ধীরে সুখের হবে জানি
সইব সবই তােমার প্রেমে ডুবলে হিয়া খানি,
আজ বলি যা’ দুঃখ দুঃখ কাল হবে তা সুখ
আজকে ঝরা অশ্রু মাঝে ভরবে যে কাল বুক।
উঠবে অধর রঙিন হয়ে পরশ রাগে তব
যতই তুমি প্রাণের মাঝে আসবে অভিনব।
৯ই বৈশাখ ১৩৪৩
১০ ০

যমুনাতে নাইতে ছিনু দিনের অবসানে
কাল জলের ঢেউয়ের সাথে তােমায় পেনু প্রাণে,
কত ভঙ্গীবাঁকা রূপে খেললে রস খেলা
নীল যমুনার সজল রূপে সেদিন সন্ধ্যা বেলা।
যেদিক পানে ফিরাই আঁখি তােমায় দেখি যেন
কি যে মধুর পরশ রাগে,-পাইনিকো আর হেন ;
সকল অঙ্গ পুলকে মাের উঠল দুলি দুলি
রূপ মাধুরী নিলাম সুখে হিয়ার মাঝে তুলি।
নীল গগনের খানে খানে জ্বল তারার বাতি
আমি তুমি যমুনাতে ছিলাম প্রেমে মাতি,
তােমার মাঝে বারে বারে ডুব দিয়েছি কত
গান গেয়েছি তােমার সুরে ঢেউয়ের তালে শত।
তােমার সাথে মিলন প্রভু আমার যমুনায়
নবীন রসে নবীন রাগে নবীন ভঙ্গিমায়।
১৬ই বৈশাখ ১৩৪৩
১০১

শতদল
আধেক নহে আধেক নহে সবখানি চাই তব
ক্ষণেক নহে বারেক নহে নিত্য চাহি নব,
দিন রজনী মনের মাঝে উঠছে জাগি জাগি
ব্যাকুল তৃষা তােমার প্রভু মধুর পরশ লাগি।
তােমার লাগি রইল খােলা দুয়ারখানি মাের
আসবে বলে অঙ্গনেতে দিন রজনী তাের,
তোমার দেওয়া প্রাণের দানে ভরবে হিয়াখানি
সবখানি দাও সবখানি দাও নহে আধেক খানি।
তােমার আলাের মহিমাতে প্রাণের সকল দিক
নবীন পুলক রসে দিল লক্ষ্য করি ঠিক,
আঁধার কোণও উজল হল, দেখছি সবি আজ
অলাের মাঝে ঘুচল ভীতি কাটল মােহ লাজ।
সবখানি প্রাণ চায়গাে তােমা পূর্ণ করি নিতে,
সবখানি দাও সবখানি দাও বেদন ভরা চিতে।
১৮ই বৈশাখ ১৩৪৩
১০২

শতদল
ভিড় করি দাও ওগাে প্রভু মিলন মহােংসবে
কে জানে আর এমন সুদিন মিলবে আবার কবে?
আনন্দে মাের সকল দুয়ার আপনি যাবে খুলে
বিশ্ব মােহন আলােয় তােমার বিশ্ব যাব ভুলে।
ব্যাকুল বাহু বাড়াইব লুটব মধুরিমা
মেলার ভিড়ে লইব চিনি আনন্দেরি সীমা,
দিকবিদিকে হেরব তব আনন্দময় হাসি
ঠেলাঠেলির মাঝে সুখের ভালবাসাবাসি।
কত হাসি কত কথা কত কোলাহল
নবীন প্রাণের আবেগ ভরা জাগবে নব বল,
ভিড় কমিলে ভাঙবে মেলা ভাঙবে দোকান পাট
তুমি যখন পড়বে সরে শূন্য রবে মাঠ।
তবু এত ভিড়ের মাঝে মুগ্ধ চিতে চাহি
তােমায় প্রভু দিন রজনী তােমার সুরে গাহি।
১৯শে বৈশাখ ১৩৪৩

শতদল
ছড়িয়ে চরণ বসলে কাছে উজল করি বাতি
বিজন ক্ষণে যখন এল স্বপ্নময়ী রাতি
সকল অঙ্গ ছাপি তোমার ঝরণাধারা মত
পুলক ঢালা রসের ঢেউ ছুটল অবিরত।
চোখে মুখে বুকের মাঝে সেকি ভঙ্গিমায়া
আবেগ ভরে দেখাইলে স্বপন ঘেরা কায়া,
মােহন তব রূপসাগরে পরশমণি খানি
তুমি যেন আদর করি মৰ্ম্মে দিলে আনি।
আগ্রহে আর আকুলতায় ব্যাকুল করি মন
মিলন মধু সােহাগ রসে ভরল বিজন ক্ষণ,
বিদায় দিনে হৃদয় দেওয়া নিবিড় নিবেদন
মনের মাঝে মায়াপুরীর করল আয়ােজন।
ভুলবনা গাে ভুলবনা সে সুখের স্বপন রাতি
ছড়িয়ে চরণ বসলে যখন উজল করি বাতি।
১লা জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৩
১০৪

শতল
তােমার চাওয়ার মত ওগাে তােমার মনােমত
কবে হব নিত্য প্রেমে তােমার কাজে রত,
এখনো যা করতে নারি এখনাে যা’ বাধে
এখনাে যে ব্যর্থ আশা বুকের মাঝে কাদে ;
ও
মিথ্যা নাহি হবে এসব মিথ্যা নাহি হবে
আসবে সুদিন মিলব আমি প্রাণের মহােৎসবে।
তালাের প্রদীপ আঁধার প্রাণে নিত্য রেখাে জেলে
সকল বাধা ভয়কে যেন ফেলতে পারি ঠেলে।
তােমার সাধন পথে যেন মন টলে না মাের
জাগুক মনে অভয় বাণী দিনরজনী ভাের ;
তােমার আশিস্ মাথায় বহি সংসারেতে আজ
বাহির হলেম চলতে দলি মিথ্যা ভীতি লাজ।
সুযােগ সুদিন হবেই হবে তােমার সাথে প্রভু
নিত্য মধুর মিলন তৃষা যায় না যেন কভু।
১লা জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৩
১০৫

জন্ম মৃত্যু পলে পলে দেহযন্ত্রে আসে যায়
কত ভাঙ্গা কত গড়া
কত ওঠা কত পড়া
কালের কঠিন পথে কত শান্তি বেদনায়।
সংসার পথিক অই সংগ্রামের সহচর
শতছিন্ন মায়া কস্থা অঙ্গেতে জড়ায়ে
করে গণি জীবনের হিসাব নিকাশ
চলিয়াছে জরা বহি কঁপি থর থর,
উর্ধপানে কৃপা মাগি দু’কর বাড়ায়ে
ঘন ঘন হতাশার ফেলি দীর্ঘশ্বাস।
১০৬

শতদল
সাগর মরুর পথ অতিক্রম করি
কতদিন কতরাত হাসি কান্না সাথে
গলাগলি সখাসখী সােহগের ভরে
শত্রুর বিষের ব্যথা নিয়াছে আবরি ;
প্রিয়ার বরণমালা কণ্ঠে দোলাতে
দিশাহীন শঙ্কাহীন নিরজন ঘরে।
আজি যদি স্তাচলে সন্ধ্যা ছায়ায়
বন্ধুর পথের শুষ্ক কঠিন পাথরে
চরণের চলা তার বন্ধ হয়ে আসে
পাণ্ডুর কিরণজাল অঙ্গে ছড়ায়,
হিসাবের অঙ্ক পাত রহে যদি করে
ধীরে ক্লান্ত আঁখি পাতা রুদ্ধ হয়ে আসে,
স্বপ্নময় ইন্দ্রজালে স্তিমিত এ রাতে
আজন্মের গ্রন্থ যদি খােলে পাতে পাতে
দেখিবে না জীবনের শুভ্র চিহ্নগুলি
ক্ষয় ক্ষতি মরণের মসীদাগ পাশে,
পলে পলে প্রতিযােগী হয়ে চলি চলি
উভয়েতে মিলিয়াছে শূন্যময়াকাশে !
১০৭

শভল
মরণেরে ব্যঙ্গ করি জীবনের যাত্রাপথে
নিত্য যেই শকতির ইচ্ছা সহচরী
অমৃতের লালসায় সাধনার প্রাণ রথে
বেঁচে বেঁচে উঠিয়াছে শতবার মরি।
নিদ্ৰা নাই চক্ষে তার লক্ষ্যে ছুটিয়াছে
মুক্ত পথবাহী সে যে দেহে দেহান্তরে
খুজিতেছে আপনারে দিবে কার মাঝে
কোথা সে নবীন হবে কৰ্ম্মে রূপ ধরে ?
দেহেরে মরণ কোলে সমাহিত করি
চিন্তা নেয় অমৃতেরে কণ্ঠে আবরি।
১৭ই ভাদ্র ১৩৪২
Sob

বিপুল প্রেমের উৎস দিয়াছিলে যত
অন্তর আবেগে তাহা ফুলি ফুলি উঠি
ব্যাকুল করিল মােরে জীবনে নিয়ত
কস্তুরী মৃগের প্রায় করি ছুটাছুটি।
এ পথে ওপথে কত বিপথে ঘুরিয়া
সায়াহ্নে চলেছি কোন পান্থশালায়
ক্লান্তি ভরা জীবনের গুরুভার নিয়া
জানি না বিরাম কোথা কার অঙিনায় ?

পরাণের ভালবাসা লীলায়িত করি
উৎসারিত করিয়াছ পথে পথে যত
বিনিময়ে বেদনারে বােঝ বােঝা ভরি
স্কন্ধে মাের চাপিয়াছ তারি ভাবে নত।
রক্ষ মরু পথে আমি উষ্ট্র কঁাটাভুখ
অনল সাগরে যেন ক্লান্ত হয়ে চলি
আঘাতে আঘাতে যত সয়ে সয়ে দুখ
চক্ষে লয়ে অশ্রু বহি বক্ষে রস থলি।
আবেগের উৎস
মুখে হৃদয় সম্পদ
পথে পথে তব নামে এসেছি যা ফেলে,
তারি পূণ্যস্মৃতি লয়ে পূজার উৎসব
করি শুধু তােমা সাথে সন্ধ্যাদীপ জ্বেলে।
স্বপ্ন জাগে চোখে কত অগ্নি দহে প্রাণ
দুরন্ত বৈশাখী ঝড়ে বাহিরে প্রলয়,
দিনান্তে একান্তে শুনি তারকার গান
আবেশে বিলােল প্রাণে নব ভাবােদয়।
১১০

শভল
ওগাে মাের জীবনের মধু ভালবাসা
পরশনে প্রাণ যবে মুগ্ধ করি দাও
মর্শে তােল অন্তহীন আনন্দের ভাষা
সুন্দরের অপরূপ যখনি জাগাও।
হৃদয় দোলায়ে তুমি রূপ-সুষমায়
অন্তরের রন্ধ্রে রন্ধে আলােকে পুলকে
উতল আবেগে তুমি এ বিশ্ব সভায়
বাহিরিয়া এসে নেচে পলকে পলকে।
নরলােকে দূরলোকে আকাশে বাতাসে
গহনে গহ্বরে আর কান্তারে কাননে
তােমার অন্তররূপে সকলি বিকাশে
বিচিত্র মধুর হয় ভাঙে ক্ষণে ক্ষণে।
নয়নে স্বপন মাখি ভাঙি হৃদি ঘট
অনন্তের মাঝখানে হে প্রেমসুন্দর
দশ বাহু বিস্তারিয়া মনমােহ-পট
খুলিয়া ডাক যে লয়ে সকল অন্তর।
১১১

শতল
জীবনের ক্ষুদ্র কথা অনর্থের ব্যথা
তখন সার্থক হয় ফুল সাজে সাজে
যখন চৌদিকে হেরি বিশ্ব অভিনেতা
ভিতরে সাজিয়া আসে বাহিরের মাঝে
অন্তরে বাহিরে এই যত আনাগােনা
হৃদয়ের রঙে রসে প্রেমে জানা শােনা
বাহিরে বিচিত্র বেশে যত জাল বােনা
অন্তর আড়ালে উহা নগ্ন খাঁটি সােনা।
উলঙ্গেরে ঘেরি যবে শােভে আভরণ
অন্তরের আলিঙ্গনে বাহির জড়ায়,
উৰ্ম্মি উঠে মৰ্ম্ম মাঝে শিরায় স্পন্দন
ব্যাকুল হৃদয় প্রেমে দুবাহু বাড়ায়।
তারি মাঝে সত্য হয়ে ওগাে ভালবাসা
অবিরাম ফির তুমি ভুবনে ভুবনে,
উদ্বেলিত প্রাণে তুমি মধুর তিয়াসা
বিরহের অন্তরালে অশ্রু দু’নয়নে।
১১২

শতদল
ভালবাসা, তব সাথে আশামধুরিমা
যেদিন বাধিয়া দিলে প্রেমিকের প্রাণে,
ব্যর্থতার বেদনার রাখ নাই সীমা
তাহারই বরাদনধ্বনি ভেসে আসে কানে।
তোমারি উতল স্রোতে সকলি ভাসিল,
ভেসে আসা প্রাণে প্রাণ মিলে নিরালায়
বার আকুল বেগে হয়ত চলিল,-
কত আশা কতদিকে কত ভেসে যায়।
তােমারি স্রোতের ধারা জানি আমি জানি-
অশেষ হাসাম তাই; তার মাঝে আশা,
ক্ষুদ্র হয়ে ভেসে াক ; পরশখানি
বেঁচে থাক; হার মাের মধু ভালবাসা।
১৬ই পৌর ১৩৪ ১

শতদল
আমার একলা বিজন ঘরে তুমি কে এলে এমনি,
তােমায় আর ত দেখিনি।
তােমার আঁখির আলাে উঠলাে হেসে
হৃদয় আমার উঠলাে নেচে গাে,
রূপসী, দেখিনি-যেন তবু চিনি চিনি ;
তােমায় আর ত দেখিনি।
আঁধার ঘরে প্রদীপশিখা,
তুমিই প্রাণের দীপালিকা,
নিত্য কত প্রেমের পূজায় মনের বেচাকিনি,
কখন উছল কখন উজল কখন মায়াবিনী ;
তােমায় আর ত দেখিনি।
১লা অগ্রহায়ণ ১৩৪২
১১৪

শতদল
খুলিয়া এসে তিমির দুয়ার এসাে জ্বালিয়া বাতি,
এসো এসাে মাের রূপ মনােহর মধুর পুলকে মাতি।
ঘন ঘন মাের হৃদি শিহরণ
পথে পথে চলা চঞ্চল মন
তােমারি মধুর মাগিছে মিলন তােমারি আসন পাতি।
পুলকিত তনু আলােকে বিভাের
কর কর ওগাে সুন্দর মাের,
আজি এ আমার আকুল পরাণে এসস গাে নরম সাথী
১৫ই মা ১৩৪২
১৫

শতদল
ডাকিলে হৃদয় খুলি,
কি নিয়ে থাকব ঘরে কিসে আর রইব ভুলি।
এ পথের আনাগোনা
তােমারি জানাশােনা
সকলের আড়াল হতে আমারে লওহে তুলি।
•
আমার এ জীবন মাঝে যত সব খেলার দিনে
হাসি আর আঁখির জলে নিয়েছি তােমায় চিনে।
নীরবে গভীর বাণী
দিয়েছ কতই আনি,
ঘরে আর রইতে নারি হৃদি মাের উঠছে দুলি।
২রা বৈশাখ ১৩৪২
১১৬

এলে মােহন বেশে আজি মধুর প্রাতে,
সুরে সুরে
আমার হৃদয় পুরে
আসিলে সুধারি ভাণ্ড হাতে-মধুর প্রাতে।
হৃদি উচ্ছাসে উদগত আবেগ ভরে,
প্রিয় অৰ্চনা সঙ্কেত ললিত স্বরে,
প্রােনে গানে
মরন পানে
আসিলে নব কি ভঙ্গী সাথে-মধুর প্রাতে।
একি চঞ্চল গুঞ্জ মর্মে ভাসে
প্রতি মুচ্ছনা ঝঙ্কারে পুলক আসে
গরম তলে
পড়ে আবেশে গলে
আকুল দয়িত বন্দনাতে-মধুর প্রাতে।
১০ই আষাঢ় ১৩৪২
১১৭

শত
তােমায় যেন এই জীবনে হারায় না মাের মন,
এম্নি করে পরশ দিও পরশ রতন।
সবার চলা পথের মাঝে
তােমায় দেখি নবীন সাঝে
পথ জুড়ে মাের প্রাণের সাথে গােপন আলাপন।
নাইবা হেথায় কদমকেশর নাইবা কেয়াবন
তমাল তলে নাইবা কেলী নাইবা নিধুবন,
নিত্যকালের বংশীধ্বনি
তােমার আমার মধ্যে শুনি,
হৃদ্‌-যমুনায় উতল তালে আকুল আবাহন।
১১ই আষাঢ় ১৩৪২
১১৮

আমায় তুলিয়ে নিয়ে যাও,
তুলিয়ে নিয়ে যাও রে বন্ধু
আমায় ভুলিয়ে নিয়ে যাও।
এই যে তােমার নদীর ধারে
একলা বিজন কুটির দ্বারে
আকুল প্রাণে রইনু চেয়ে
কি গান তুমি যাও রে গেয়ে
কি গান গেয়ে যাও।
১১১

শতদল
উদাস তােমার আঁখির পাতে সন্ধ্যা তারা কাঁদে,
ব্যাকুল কেশের পরশ পেতে লােটায় দোলন চাদে,
আমার পরাণ তারি সাথে
চায় মিলাতে বিজন রাতে
তােমার চরণ তলায় সুখে।
আমার পানে চাও রে বন্ধু
তুমি—আমার পানে চাও।
জীর্ণ আমার এই কুটিরে ছিন্ন আসন পাতি
তােমার তরে কেঁদে কেঁদে কাটাই দিবা রাতি।
এই নদীতে পারের তরী
কতই জনম এমন করি,
আমার পানে চেয়ে চেয়ে
কতই বেয়ে যাও রে বন্ধু
তুমি-কতই বেয়ে যাও।
১২ই আষাঢ় ১৩৪২

আজি বরষা বাদল ধারে
প্রিয় এসাে হৃদয় দ্বারে, প্রিয় এসাে হৃদয় দ্বারে
নিঝুম রজনী তব পথ গণি
একা একা যাপি ওহে গুণমনি,
নয়নে বাদলধারা
ঝরিছে নিশীথে সারা,
বিরহী পরাণে একি হাহাকার বিফলে বেদনা ভারে।
প্রিয় এসাে হৃদয় দ্বারে।
১২১

গুরু গুরু অই মেঘ গরজন
• চপলা চমকে হানিছে নয়ন,
একি এ ভীষণ রাতি
নিবে যায় বুঝি বাতি,
আমার মাঝারে একি ঝড় দোল
একাকী পরাণ পারে।
প্রিয় এসাে হৃদয় দ্বারে।
চোখে নাহি ঘুম নাহি কাটে রাতি,
কোথা প্রিয়তম কোথা প্রাণ সাথী ;
হিয়ার মাঝারে আস
মিলন মধুরে হাস
মরমে মরমে দাওহে পরশ ডাকি তােমা বারে বারে।
আজি বরষা বাদলধারে।
৭ই চৈত্র ১৩৪২
১২২

তরী বেয়ে যায় বুঝিরে পরের মাঝি অই,
ওদিক পানে আকুল হয়ে আমি নয়ন মেলি রই।
ব্যাকুল তাহার মনের বাণী
গানের সুরে দেয় রে আনি
আমার—বাদল দিনের ব্যথার কথা আমি কাহার কাছে কই।
ভরা নদীর কুলে কুলে
যায়রে তরী
দুলে দুলে,
আমার ঘাটে লাগছে রে ঢেউ পরশ লরি লই,
এই নদীতে এমন দিনে
আসবে প্রিয় নিব চিনে
তারপথের পানে চেয়ে চেয়ে আমি কত বেদন সই।
ধানের ক্ষেতে বকুল বনে
ব্যাকুল মধুর
শিহরণে
গগনে আজ ভরেছে মেঘ ধরায় ধারা লই,
জল ভরেছে মাঠের বুকে
সবাই আজি ভরল সুখে
আজ বিরহী মনের কথা আমি কাহার কাছে কই।
৭ই চৈত্র ১৩৪২
১২৩

শতদল
আজি-বাদল রাতে উতল পরাণ
হে প্রিয় তুমি এসহে কাছে।
বিরহী আমার মরম আকুল
তােমারি মধুর মিলন যাচে।
পাতিয়া রেখেছি হৃদয় আসন
এস এস সখা করি হে যতন,
কুঞ্জ আলাে করি রাখ হে আবরি
আমার দেহ মন তােমারি মাঝে।
ঐ যে কেতকী মারে ফুলবান
অশােক বকুলে ঝর ঝর তান
হৃদয় জর জর এস হে কৃপা কর,
হিয়ার মাঝে শােন বেদনা কত বাজে।
আজি এ রজনী করিতে সুখে ভাের
জুড়াতে যত জ্বালা প্রাণের আশা মাের,
তােমাতে আমাতে বরষাঘন রাতে
প্রেমের পূজা হােক মিলন মধু সাজে।
৮ই চৈত্র ১৩৪২
১২৪

শতদল
১০ণ
ওগাে সুন্দর, ওগাে মনােহর, সন্ধ্যায় তুমি এলে,
আমার নয়নে পরাণে পরশি বয়ানে পুলক ঢেলে।
আকাশে বাতাসে বিজনে বিপিনে দেখালে মাধুরী লেখা,
যত হেরি তত মিটে না তিয়াসা হয়নাক শেষ দেখা।
মােহন রূপের বিপুল সােগে প্রেমের আবেশে গলি
সুপার ধারায় প্রাণ যেন যায় নাচিয়া ভাসিয়া চলি,
একি এ পুলক সুখপরশন কেমনে কহিব তাহা,
ভাষাহারা আমি প্রকাশিতে প্রাণ, হৃদয়ে পেয়েছি সাহা।
কোটি কোটি আঁখি হত যদি মাের কোটি কোটি বাহু মুখ,
অসীম অনন্ত দিগন্ত জোড়া বিশাল বিপুল বুক,
জনম জনম হিয়াতে জড়ায়ে নয়নে কান্তি হেরি
রাখিতান সুখে অপার প্রেমেরে অপরে আদরে ঘেরি ।
ক্ষুদ্র সীমার বেষ্টনী ভাঙি অসীমের মাঝখানে
কখন আমার মিলিবে পরাণ তােমারি প্রেমের টানে।
১৮ই ভাদ্র ১৩৪৩
১২৫

শতদল
=
“দাওহে প্রভু দাওহে” বলি ধূলায় আসন পাতি
হাত বাড়িয়ে তােমার কাছে পেলাম আশীৰ্ব্বাদী,
মাথায় তুলি নিলাম সুখে বক্ষে পরশ করি,
অধর দিয়ে বরণ করি মৰ্মে নিলাম বরি।
তােমার সুরের বাঁশীখানি, তােমার প্রীতিগান
আমার মাঝে উঠবে বেজে ব্যাকুল করি প্রাণ,
তারি মধুর সুরলহরে
চিত্ত আমার উঠবে ভরে,
এই ভেবে যে বরণ করে নিলাম তব দান।
তােমর বাঁশীর মােহন মায়া ভুলায় প্রাণমন
দিগন্ত সে প্রেমের সুরে জাগছে ক্ষণেক্ষণ,
তােমার বাঁশীর সুরের মাঝে আলাের দীপালিকা,
সকল অঙ্গ উজল হল লেগে পুলকশিখা।
তােমার বাণী, তােমার সুর, তােমার যত কথা,
বাঁশীর মত বাজছে ভেঙে প্রাণের নীরবতা।
২৩শে ভাদ্র ১৩৪৩
»
১২৬

কিছুতেই মন বসে না যখন, কিছুই লাগে না ভাল,
সুন্দর বলে এই ধরাতলে কিছুতে না পেলে আলাে,
ফিরি আমনা সহি গঞ্জনা যখন পরাণ চায়
কেবলি বিজনে আপনার মনে লুকাইতে আপনায় ;
সহায় যখন থাকে না তখন সম্পদহারা চিতে
দম্ভ আসিয়া কভু হাসিয়া জুড়ে বসে চারিভিতে,
মিছে কাজ আর কপটতা সার সম্বল হয় যবে,
ব্যর্থ বিপথে শতশত মতে বঞ্চনা-কলরবে ;
ভীরু মনে জাগে মিছে অনুরাগে কুটিল কুহেলীপথ,
এই কিছু করে, ছাড়ে গণপরে, নাকি কোন স্থির মত ;
কি বলিতে কি যে বলা হয় নিজে নাহি বুঝে কণা তার,
কি যে করা কিসে—কি যে হবে পিছে কোন্ কাজ কবেকার
যখন এমন হইবে জীবন সহায় হারাবে মন,
অন্তরে এসে দাড়াইও হেসে করাে প্রেমে আলাপন।
১লা আশ্বিন ১৩৪৩
১২৭

শতদল
কি নাম ধরে ডাকব তােমা কি নাম ছাড়া তুমি
আখরঘেরে বাক্যরূপে শব্দে আছ চুমি।
অন্তরেতে আপনি এসে পরশখানি দিলে,
চিত্তে যখন চেতনাতে নবীন কিছু মিলে ;
সেই নবীনের নবােচ্ছানে যে ভাব জাগে প্রাণে
সে রসধারা বইতে থাকে মৰ্ম্মে সকল খানে,
তারই আলােক জ্যোতির সাথে মােহন ভঙ্গীবাঁকা
চিত্ত পটে রূপরসেতে, আপনি হয় যা আঁকা ;
ডাকতে তারে আদর করি কণ্ঠভরি নিতি
সােহাগ ঢালা আবেগ ভরে গাইতে প্রেমে গীতি,
তুমি, বন্ধু, প্রিয়, প্রভু, জীবনস্বামী বলি
আরও কত নাম রচনায় মধুর প্রেমে গলি।
নামের পিছে স্বরূপ তব প্রেমের মােহানায়
রূপের মাঝে ঘটাও মিলন ব্যাকুল কামনায়।
২৪শে জ্যৈষ্ঠ ১৩৪
২৮

সূচী পৃষ্ঠা অন্ধকারে প্রদীপ হাতে খুঁজছি জ্যোতিন্ময় অন্য কারাে মনে করে অসম্ভবের সম্ভাবনায় ৪৪ ০ ০ ০ ৬৩ ১ ৫৪ • • • ৬৪ ৪। আমার যত আশা তুমি তােমার পানে নাও ••• আপনা হইতে আপনারে তুমি দিয়াছ বিলায়ে আমায় প্রভু কর তুমি তােমার মনােমত ৭। আমার এ রাজ সিংহাসনে ৮। আমারে তােমার মত আদর করা ৯। আঁধার শেষে সকাল বেল। ১০। আপন আপন বলি ওরা দন্তভরা মনে ১১। আমার গােপন অঙ্গনেতে ১২। আজি কি মধুর প্রভাত কিরণ ১৩। আঘাত তােমার যতই কঠিন হােক ১৪। আপন মহিমা বিলায়ে পরাণে ১৫। আজিকে তোমার এ কি এ কান্তি ১৬। আধেক নহে আধেক নহে ৬৭ . . . ৭৮ ৮০ ৮১ ৮৬ ঝ পৃষ্ঠা ১১৪ ১৭। আমার এ বিজন ঘরে ১৮। আমায় তুলিয়ে নিয়ে যাও ১৯। আজি বরষা বাদলধারে ১১৯ ১২১ ১৮ ১৯ ২০। এত করে তবু তােমায় জানতে পেলাম কই ২১। এই আশা মাের মনে ২২। এখনাে বুঝি মাের হয়নি পূজা সারা ২৩। এ কি চিন্তা প্রাণে ২৪। এ কি অঘটন প্রভু ঘটালে জানি ২৫। এই জীবনের সকল কাজে ২৬। এলে মােহন বেশে ০ ০ ০ ০ ০ ৩ ৪৯ :: ১১৭ ০ ০ ৬ . . . ০ ০ ০ ০ ১২৫ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ২৭। ওগো আমার বাঁধনহারা ২৮। ওদের দৃষ্টি দিয়ে মেরে ২৯। ওগাে আমার প্রদীপ শিখা ৩০। ওগাে সুন্দর ওগগা মনােহর ৩১। কখন যেন যাই না ভুলে ৩২। কত দিকের প্রলােভনে কত জনার সাথে ৩৩। কঠিন বাঁধনে কত বেঁধেছ মােরে ৩৪। কত গান শুনাইলে ৩৫। কালের হিয়া জুড়িয়া তুমি ৩৬। কার ব্যথা কে সইছে প্রাণে ০ ০ ০ • • • ৯৯ ০ ০ ০ ১৪ = ৫ ১৩০ পৃষ্ঠা ৭০ ১২৭ ১২৮ ৪ ৯৪ ৩৭। কি বিচিত্র মণির মালে সাজলে তুমি ৩৮। কিছুতেই মন বসে না যখন ৩৯। কি নাম ধরে ডাকব তােনা ৪০। কেমন বেশে আসবে তুমি ৪১। কেমন করে জানাই বল পরাণখানি মাের ৪২। ক্ষ্যাপা তুই নে রে হাতে ৪৩। ক্ষুদ্র আমার কাজের দিনে ৪৪। খুলিয়া এসাে হৃদয় দুয়ার ৪৫। ঘর ছাড়া এ পথিকটিরে ৪৬। চলেছি পিছল পথে ৪৭। চাই না আমি ওদের মরণ ৪৮। চিন্তা-নদীর স্রোতের ধারা ৭২ ১১৫ ৭৭ ৪৯। ছড়িয়ে চরণ বসলে কাছে ১০৪ ৫। জন্ম মৃত্যু পলে পলে ১০৬ ৫১। ডাকিলে হৃদয় খুলি . . . ১১৬ ••• ১২৩ ৫২। তব চরণ তালে ৫৩। তরী বেয়ে যায় বুঝি রে ৫৪। তুমি সুন্দর তুমি পরকাশ ৫৫। তুমি ত আসনি একা ৮ । * * * ৮৪ পৃষ্ঠা ৩১ ppe ৩৪ ০ ০ ০ ৩৫ ৪২ 8७ । ৪৫ ৫৬। তােমার আমার সাথে বঁধু নহে বারেক দেখা ৫৭। তােমারে চেয়ে চেয়ে সাধনা মাের যত ৫৮। তােমার মাঝে নাইক বিচার ৫৯। তােমায় যদি জাতে না দাও ৬০। তােমার মত আর কে প্রিয় ৬১। তােমায় আমি চেনার আগে ৬২। তােমায় আমি জাব ওগাে ৬৩। তােমার প্রেমে আকুল হয়ে ৬৪। তােমার পানে লুব্ধ আশা ৬৫। তােমার পথে আজকে প্রভু তােমার মহিমা শুধু তােমারি জানা ৬৭। তােমার প্রেমে অসীম সাহস ৬৮। তােমায় কবে দেখব আমি ৬৯। তােমার কভু পেলে দেখা ৭০। তােমার আভাস আমি যে পেয়েছি ৭১। তােমার চাওয়ার মত ৭২। তােমায় যেন এই জীবনে :: ৪৬ ৫৭ ০ ০ ০ ৬৯ ৭৬ bot ১১৮ | ০ ০ ৭৩। দারুণ রােগে ভােগের দিনে ৭৪। দাও হে প্রভু দাও হে ৭৫। দিনে দিনে আমায় তুমি ১২৬ ০ ০ ০ n an ৪৭ ১৩২ পৃষ্ঠ। ৭৪ ••• ৭৯ ৮ ৭৬। দুই চোখে আর দেখব কত ৭৭। নাইক যদি তােমায় ডাকি ৭৮। নিত্য তােমায় নিয়ে আমি ৭৯। নিবিড় প্রাণের গহন কোণে ৮০ | পান্থশালে তােমার আমার ৮১। পাবার তরে ভাবনা মিছে ৮২। প্রেম বিলালে সবার প্রাণে ৮৩। বাহির দেখি বাহির লােকে ৮৪। বাহির পানে ডাক দিয়েছে ৮৫। বাদল রাতে উতল প্রাণে ৮৬। বিশ্বব্যাপিয়া রহিয়াছি তুমি ৮৭। বিপুল প্রেমের উৎস ৮৮। ব্যথা লাগে ব্যথা লাগে ২৮ ১২৪ ৮৭ । । । ৮৯। ভালবাসা যেন কৃপাকণা মত ৯০। ভিড় করি দাও ৯১। মােহন বাঁশরী তব আমারে ভুলায় ৯২। যমুনাতে নাইতেছিন্ন ৯৩। যাহার যেমন প্রয়ােজনে ৯৪। যে আমারে বাসল ভাল ৯৫। রইলে তুমি সবার মাঝে ১০১ ০ ০ ০ ৪০ ১৭ ১৩৩ পৃষ্ঠা ০ ০ ০ ৯৬। রুদ্ধ দুয়ার দেখে কত ৯৭। রূপের মাঝে অরূপ তুমি ৯৮। রূপে রূপে তুমি রূপময় ৯৯। রােগে শােকে বিপদদিনে : w ৭১ + ০ ০ * ০ ০ ২৪ ১০০। লও লও মাের অর্ঘ্যখানি ১০১। লােক বিচারে হাজার মলিন ৩৬ ৪ । ৯ ৪১ ৪৮ ১২। শান্ত করহে প্রভু শান্ত কর ১০৩। সঙ্গীতে তুমি সুরের লহর ১০৪। সব তেয়াগে সকল পাওয়া ১০৫। সকল রসের রসিক তুমি ১০৬। সবখানি প্রাণ তােমার পানে ছুটুক ১০৭। সন্ধ্যাবেলা তােমার কাছে ১০৮। সকলেরে যদি ভুলে যাই ১০৯। সুদূর গাঁয়ের শ্যামল কোলে ১১০। হাজার জনায় ভিড় করিল , ০ ০ ০ ৮৩ ৯২ ০ ০ ০ ১২ ০ ০ ০ ২০ ১৩৪

No text on this page.

No text on this page.

Satadal Ed. 1st

Author
Majumder,bharatchandra
Title
Satadal Ed. 1st
File name
Satadal Ed. 1st
Text
OCR done
Citation
1936
Published
2010/01/9
Publisher
Bharatchandra Majumder,noyakhali
Language
Sanskrit
Pages
149
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Majumder,Bharatchandra
DLI number
511366
Barcode
4990010018521.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
ouD47AZqkwF
Download PDF

Satadal Ed. 1st