Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Surdhuni Ed. 1st

Kar,sudhorchandra · 2009/11/29

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

হনী শ্রীসুধীরচন্দ্র কর

প্রকাশক
ঐ অশােক চট্টোপাধ্যায়
প্রবাসী কাৰ্যালয়
১১ নং আপার সাকুলার রােড,
কলিকাতা।
প্রথম সংস্করণ
মূল্য বার আনা
•প্রবাসী প্রেস
৯১, আপার সাকুলার রােড, কলিকাতা
সজনীকান্ত দাস কর্তৃক মুদ্রিত

*সুরের আলাে ভুবন ফেলে ছেয়ে,
সুরের হাওয়া চলে গগন বেয়ে,
পাষাণ টুটে ব্যাকুল বেগে ধেয়ে
বহিয়া যায় সুরের সুরধুনী *
(রবীন্দ্রনাথ।

অভয় আশ্রমের পুরােধা
শ্রদ্ধাভাজন শ্ৰীযুক্ত সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
মহাশয়ের শ্রীচরণকমলেষু

তােমার করে দেওয়ার মতাে
কি আর আছে মাের,
যা এনেছি তাই নিয়ে আজ
ঘুচাও লাজের ঘাের ।
মনের ব্যথাই কথায় সুরে
অঞ্জলিতে দিলাম পুরে,
মুক্তামালা কোথায় পাব,
দিলাম আঁখির পাের ।
আমি তােমার ভােরের পাখী,
কাজ তাে কিছুই নয়,
বৈলিকে বরি প্রথম
আলাের অত্যুদয় ।
আমার মত তােমার কত
সেবক আছে সেবায় রত,
আমার প্রভু তাদের সমান
নাই ভকতির জোর
অভয় আশ্রম
কলিকাতা
২৬শে ফান
১৩৩৪ সন।

No text on this page.

পরিচায়িকা মদীয় অগ্রজ-প্রতিম সাহিত্য-সহায় অধ্যাপক শ্রীযুক্ত চারু বন্দ্যোপাধ্যায় মহােদয় এই সঙ্গীতগুলি পাঠে প্রীত হইয়া শ্ৰীমান সুধীরচন্দ্রকে আমার নিকট প্রেরণ করেন। সেগুলি পাঠ করিয়া আমারও বেশ ভাল লাগিল। যে সঙ্গীতগুলি আমার ও আমার সাহিত্যসুহৃদগণের ভালাে লাগিশ, সেগুলিকে গ্রন্থাকারে প্রকাশের জন্য সুধীরচন্দ্রকে উৎসাহিত করিলাম। গ্রন্থখানি যদি সুধীসমাজের মনঃপূত না হয় --তাহা হইলে সে অপরাধ সুধীরের নয়--তাহা আমারই। সুধীর এগুলির উপর তেমন ভরসা রাখে লাই, আমাদের মতামতের উপর নির্ভর করিয়াই গ্রন্থপ্রকাশে উদ্যত হইয়াছে। রচনাগুলির প্রধান গুণ—ইহার কোনটিই দীর্ঘ নয়—পাঠককে ক্লান্ত করিবে না। ভাষা সহজ, সরল, সাবলীল ও স্বচ্ছ—নিৰ্বাচিত ছন্দগুলিতে লালিত্য আছে-আন্তরিকভা সহৃদয়তাও যে যথেষ্ট আছে, তাহা সসাহসেই বলি। সঙ্গীতগুলি ভক্তের সহিত ভগবানের, চিরন্তনের সহিত অনিত্যের, চিরদয়িতের সহিত প্রেমার্থীর মিলনাগ্রহময় রসলীলা অবলম্বনে রচিত-আকৃতি, নিষ্ঠা, আত্তি, আকুলতা, উল্লাস ও সমাধুৰ্য্য রচনাগুলিতে ওত- প্রােতভাবে বিজড়িত। মিষ্টিক কবিদের দেশে রস-মাধুর্যের এইরূপ কলঝঙ্কত অভিব্যক্তি নুতন কিছু নয়। কিছু নয়। বিশেষতঃ রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি, গীতালী, গীতিমাল্যের পর এ পথে নূতন বৈচিত্র প্রত্যাশা করা যায় না। তবু “রবির কিরণে ঝলমল ঢলঢল মুক্তানিভ এই বর্ণাঢ্য শিশিরকণাগুলি (অশ্রুকণা?) লাবণ্যরসিকের চোখে যথাযােগ্য মর্যাদা লাভ করিবে বলিয়া আমার বিশ্বাস। সীতারাম কুটীর, কালীঘাট,---কলকাতা শ্রীকালিদাস রায় সম্পাদকের নিবেদন (শ্রীযুক্ত বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়) সঙ্গীতপ্রিয় হইলেও আমি সঙ্গীতজ্ঞ বা সুরজ্ঞ নহি; সুতরাং গানের সম্বন্ধে বেশী কিছু লিখিতে যাওয়া আমার পক্ষে অনধিকার চৰ্চ্চা হইবে। সম্পাদক হিসাবে যে গুটিকয়েক কথা বলা নিতান্ত প্রয়ােজনীয়, তাহা বলিয়াই আমি শেষ করিব। শ্ৰীমান সুধীরচন্দ্র তাহার মানস-উদ্যানের কুসুমগুলি চয়ন করিয়া আমার সম্মুখে যখন ধরিলেন, তখন সেগুলির অন্তর্নিহিত ভাবসম্পদে আমি সত্যই আকৃষ্ট হইলাম। ছােট ছােট গানগুলি যেন শুভ্ৰসুন্দর এক একটি যুঁই ফুলের মত, শিশিরস্নিগ্ধ মিষ্টগন্ধে ভরা। গানগুলি পড়িয়া বুঝিলাম, সুধীরচন্দ্র কেবল ছন্দের মালা গাঁথেন নাই, তিনি একজন কবি এবং ভাবুক কবি। মানুষের হৃদয়-বৃন্দাবনে সারানিশি সারাবেলা ধরিয়া বিশ্বদেবতার যে প্রেমের খেলা চলিতেছে—তাহার হৃদয় যমুনাকূলে যে বাঁশী বাজিতেছে, কবির গানগুলির মধ্যে তাহার সুর ও ছবি সুন্দরভাবে ফুটিয়া উঠিছে। বর্ষার বৃষ্টি-ধারার মধ্যে কবির বিরহবিধুর শূন্য হৃদয় কখনও দয়িতের জন্য কাদিয়াছে, কখনও দুদুরু কম্পিত বুকে প্রিয়তমের প্রতীক্ষায় অধীর হইয়া উঠিয়াছে- কখনও সারাজীবনের বাঞ্ছিত-জনকে হৃদয়ের কাছে পাইয়া আনন্দে উৎফুল্ল হইয়াছে।

= হৃদয়রাজ্যে বাঁধাধরা কোন নিয়মের রাজত্ব নাই। বিরহ- মিলন এগুলি আলােছায়ার স্পন্দনের মত,-তরঙ্গের মত উঠে পড়ে-দিবসমিনীর মতো চক্রাকারে আসে যায়। তাই গান- গুলির শ্রেণীবিন্যাস করিতে যাইয়া আমি সেগুলিকে বাঁধাধরা কোন নিয়মের জালে আবদ্ধ করি নাই—তাহাদের স্বচ্ছন্দ লীলা- বৈচিত্র্য অব্যাহত রাখিয়াছি। ভাবুকের চিত্তাকাশে সেগুলি উদিত হইয়া শরতের শুভ্র-স্বচ্ছ মেঘখণ্ডের মত স্বচ্ছন্দ গতিতে বিচিত্র পথে সেগুলি দিগন্তে উধাও হইয়া গিয়াছে—কোন প্রকার বিধিবন্ধনের অপেক্ষা রাখে নাই। এ সম্বন্ধে আর কিছু লেখা বাহুল্য মাত্র। কবি সুধীরচন্দ্রের গানগুলির সমাদর দেখিলে নিজের যৎকিঞ্চিৎ পরিশ্রম সফল জ্ঞান করিব। কৃষ্ণনগর ২৭১০২৭

আত্ম-কথা
প্রণতি।
যিনি আমাকে মনের ব্যথা কথার সুরে প্রকাশ করিবার এই
একটু শক্তি ও সুযােগ দিলেন, আজ তার পায়েই আমার প্রথম
যত ব্যথা পাই, তত গান গাই, ততই যেন এমনিতর
সুরের মালা গাঁথিয়া তার গলায় পরাইতে পারি।
ওগাে সুন্দর,
দাও, নয়নে আমার সেই নীলকাজলের জ্বালা দাও। এ জীবনে
তাই যে আমার সান্ত্বনা, তাই যে পথের একমাত্র সম্বল।
সুন্দরের সেই বেদনার অবদান যাদের হাত দিয়া আমার
বুকে মাণিক ফলাইয়াছে, তাদের স্মৃতি আজ নূতন করিয়া
হৃৎসরিতের মাঝখানে রক্তকমলের মত ভাসিয়া
ভাসিয়া উঠিয়াছে।
যতদিন আমার গান থাকিবে, ততদিন তারাও যে আমার মাঝে
নিতুই-নব চিরন্তন।
পরে মনে হইতেছে একজনের কথা, তিনি আমার অগ্রজ
প্রতিম আশ্রম-ভ্রাতা (অভয় আশ্রম ) শ্ৰীযুক্ত দেবেন্দ্রনাথ নে,
যার প্রথম উৎসাহ না পাইলে গান আর গুণীর সভায় রদীর
খোজে বা হর হইবার কল্পনাই করিতে পারি না। তারই
উপদেশে সাহস পাইয়া আমি শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক মুক্ত চারুচন্দ্র
বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়কে নিয়া আমার গানগুলি দেখাই। তখন
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকায় নিজে উহার
প্রসাধন ও সম্পাদনের ভার গ্রহণ করিতে অসমর্থ হন, কিন্তু
সহৃদয় চিত্তে আমার কাৰ্যের সফলতা কামনা করিয়া স্বীয় বন্ধু
কবিশেখর শ্ৰীযুক্ত কালিদাস রায় মহাশয়ের নিকট আমাকে প্রেরণ
করেন।
কবিশেখরের নিকট অামি যে সতেই ব্যবহার লাভ
করিয়াছি, তাহা তাহার মত মহৎপ্রাণ কবিজন-সুলভই বটে।
তিনি গানগুলি পড়িয়া, যাহাতে উহা সকলের শ্রবণমনের
•

আনন্দদায়ক হইয়া উঠে, সে বিষয়ে চেষ্টার কোন ত্রুটি করেন নাই। তিনি যে সুন্দর পরিচায়িকাটি লিখিয়াছেন, তাহাতেই সে আন্তরিক প্রযত্নের প্রকৃষ্ট পরিচয় রহিয়াছে। তাঁর আশ্বাস- বাণী ভিন্ন আমি সহসা এতদুর অগ্রসর হইতে পারিতাম কি না, সন্দেহ। কালিদাসবাবুর এই স্নেহের নিদর্শন আমি কখন ভুলিতে পারিব না। এই বই যিনি সম্পাদন করিয়াছেন, “বাঙ্গলার কথার” সেই সুযােগ্য সম্পাদক, সুকবি শ্ৰীযুক্ত বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়, তিনি তাে আমার বিজয়-দা, তাহাকে ভুলিবার যাে নাই। তার বিষয় আর কি বলিব ? ভাবধারার ক্রমবিকাশটি অব্যাহত রাখিয়া গানগুলিকে সাজানাের জন্য, তিনি যে পরিশ্রম করিয়াছেন, তাহা তঁার মত ভ্রাতৃবৎসল ও উদার-হৃদয় ব্যক্তির কাছেই মাত্র আশা করা যায়। এখানে কবিবর শ্রীযুক্ত নজরুল ইঞ্জাম সাহেবের আন্তরিক সহানুভূতির কথা কৃতজ্ঞতার সহিত স্মরণে আসিতেছে। তিনি আমার ন্যায় অপরিচিতের জন্যও অসময়ে সময় করিয়া অনুরাগের সহিত সমস্ত লেখাগুলি ভাল করিয়া দেখিয়া দিয়াছেন। তারপর স্বয়ং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সাথে যে এই সুযােগে পরিচয়ের সূত্রপাত হইয়াছে, সে সৌভাগ্যে আমি গৌরবান্বিত, আনন্দিত ও কৃত-কৃতার্থ হইয়াছি। বলিতে কি, অতি সঙ্কোচ ও ভয়ে ভয়েই আমি তার কাছে লেখাগুলি ধরিয়াছিলাম। কিন্তু তিনি পাণ্ডুলিপিটি আগাগােড়া পড়িয়া, তাতে একটি মনােজ্ঞ অভিমত লিখিয়া দিলেন এবং অধিকন্তু অকৃতিকে সাক্ষাতে ডাকাইয়া নিয়া স্নেহসিক্ত মধুময় আশীৰ্ব্বাণীতে প্রাণে এক নূতন প্রাণের সঞ্চার করিলেন। তাঁর সেই প্রশংস আশার বাণীতে পূর্বে যেটুকু ভয় ছিল, তাই। দুর হইল। তখন শতসহস্র বাণী-পূজারী গীতি-কবির কম্বুকণ্ঠের কলঝঙ্কৃত বন্দনাগীতির মাঝে, তান-মান-লয়-হীন শুধু মাত্র ক্ষীণ এই এক সুরকম্পন তুলিয়াও পূজামন্দিরের সােপানতলে অগ্রসর হইতে মনে আমার অসম সাহসের বল পাইলাম। কবিগুরু! তুমি যে ভাবে তােমার এই অকিঞ্চন সেবককে লজ্জার দায় হইতে মুক্ত করিয়া নূতন এক দায় বাড়াইয়া দিলে, জানি না, কবে কিরূপে, কোথায় তােমার সেই দায়ভার এড়াইতে পারিব । এই গ্রন্থ প্রকাশে কি অপ্রত্যাশিত আনুকুল্যই না আমার ঘটিয়াছে, ভাবিলে তা বিস্মিত হই। কবিশেখরের ভূমিকা, কবিগুরুর আশীৰ্বাদ, তার উপর সুরসজ্ঞ গীত-ভাণ্ডারী পূজনীয় শ্ৰীযুক্ত দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়ের গানের দিক দিয়া ইহার সদুপলব্ধি, ও ভারতের অন্যতম কলাকুশলী শ্ৰীযুক্ত নন্দলাল বসু, শ্ৰীযুক্ত সুরেন্দ্রনাথ কর প্রভৃতির পরিকল্পিত চিত্র-শােভা! ইহাদের মত গুণীশ্রেষ্ঠদের সহানুভূতি ও সাহায্য লাভ করিয়া, আমি ধন্য হইয়াছি; এখন এই গ্রন্থ প্রকাশে আমার আর কোন ক্ষোভ নাই। ইহারা প্রত্যেকেই আমার জন্য যথেষ্ট আয়াস স্বীকার করিয়াছেন, শুধু দুটি কথার কারসাজিতে ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা জানাইয়া আমার আন্তরিকতাকে যে যথার্থ রূপ দিতে পারিলাম না, এজন্য আমি তাহাদের নিকট বিশেষভাবে লজ্জিত রহিলাম। সর্বশেষে ‘প্রবাসী’-কাৰ্য্যালয়ের মাননীয় শ্ৰীযুক্ত অশােক চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কথা কিছু না বলিয়া পারিতেছি । সুরধুনী’কে যত্ন ও অনুরাগের সহিত সাধারণ্যে প্রকাশ করিয়া তিনি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা অর্জন

(৪
করিয়াছেন। এখন, সহৃদয় সুধী সমাজ যদি অক্ষমের এই
প্রথম প্রচেষ্টার অর্ঘ্যকে সহানুভূতির দৃষ্টিতে গ্রহণ করেন, তবে
আগামীতে গানগুলির সুর ও স্বরলিপি দিয়া স্বতন্ত্র-আকারে
পুস্তক প্রকাশের বাসন রহিল
শান্তিনিকেতন
২৬শে কান
বিনীত
১৩৩৪ সন
গ্রন্থকার

সূচীপত্র পৃষ্ঠা ৪ ৮ ০ ০ ৬ ৭ .০০ ৮ ৫০০ গান। ১। আমার ঘরে তােমার প্রভু সহজ আরাধন ২। আমার কাছে নাইকো তােমার ভিন্ন পরিচয় ৩। আমি কি আর গাইতে পারি তােমার সভামাঝে ৪। কেমন করিয়া কব কি যে চাই কহিতে ৫। কি যেন কি হারিয়ে গেছে প্রাণ করে খালি ৬। আজি এ সন্ধ্যাগগনে কবে তুমি আসবে প্রিয় কোথা হতে অলখিতে ধরা দিলে প্রাণে ৯। পােহাল আঁধার ঘাের বিভাবরী ১০। ঊষার অরুণ আলাের সাথে ১১। তুমি মাের এতই ভালাে ১২ । গান এল মাের মনে মনে আজকে ফাগুনে সদয় হয়ে এলে যদি ফিয়ােনা রুষি’ ১৪। বাঁশীতে ভুলায়ে কালা কেন বা লুকালে ওই ১৫। কে দেখেছিস কোথায় তারে বলগো তােরা বল ১৬। নিশিদিন ডাকছি এত তবুতাে পাই নে দেখা ১৭ সখি, শ্যাম এলােনা আজো এ মাধবীকুঞ্জে ১৮ প্রভাতী রাতের পােহাতি তারা সখি, কি যেন কি হল প্রাণে আজি বিদায় বেলা ২১ এতদিনে বুঝি প্রিয় পড়িল মনে २२ ও আমার পরাণের পরাণ ভালবাসি তাই তােমারে যখন তখন ডাকি ২৪ শুধু কি দরশ দিবে, পাব না পরশ তব মানসী আমার বঁধু হে, এলেই যদি কেন বা যাওগো ফিরে ১৪ ৪০০ ১৭ ••• ১৮ ••• ২০ 신상 일 ০ ০ ০ পৃষ্ঠা ৩০ ৩১ ৩১ ৩৩ ৩৪ [ ২ ] গান ২৭। উতল এই শাঙন রাতের বাদলের বরিষণে ৮। বাদল মেঘের কাজল ছায়ায় ছাইল শালের বন ২৯। এসেছে আগুন জ্বেলে ফাগুন এই হৃদ-কাননে ৩০। ফিরাবে কি বারে বারে ৩১। তাই ভালো গাে তাই ভালো ৩২। সে যে কি ব্যথা কাহারে বলি ৩৩। পাইবে না বলে কেন কাদ নিরাশায় ৩৪। যতই গভীর গােপন গুহায় লুকাও না আপনাকে ৩৫। তুমি হবে আপন আমার প্রাণের ভালবাসায় আজকে আমার মনের বনে বাজায় কেরে করুণ বাঁশী গানের সুরে ঘুরে ঘুরে ঝুমুর ঝুমুর নুপুর বাজে ৩৮। বুঝেছি আজ বঁধুহে তুমিও মিলনকামী ৩৯। ফিরে ফিরে আসে ফিরে যায় ধীরে ঝর ঝ ঝর ঝ ঝ ঝরিছে বাদলধারা ৪১। রিনিকি ঝিনিকি রিনি বাজে সুন্দর তব মুখারবিন্দ স্নিগ্ধ শ্যামল অঙ্গ ৪৩। শ্যামসুন্দর গােপীমনােহারি ৪৪। বাজাও গুণী বাজাও শুনি অস্তরাগের উদাস বেণু ৪৫। যায় বেলা যায় ৪৬। ডাক এসেছে ডাক এসেছে আজ অবেলার বাদল বায়ে ৪৭। বিদায় মাগি ও চরণে . ৪৮। যেতে যখন হবেই তখন আর কেনরে করিস দেরী ৪৯। দিগন্তে ঐ সুন্দরদূত বাজায় করুণ বাঁশী ৫০। সুরের ঐ সুরধুনী চিরদিন বওয়াও প্রাণে ৫০০ ৪০। ৪০ ৪১ ৪২। ৪২ ৪৩ ০০ ০ ৪৪ ০০০ ৪৫ ৪৬ ৪৭ ৪৮ ৪৯

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

সুনী
আমার ঘরে তােমার প্রভু সহজ আরাধন।
চোখের জলে মনের ব্যথার নীরব নিবেদন।
নাইকো দেউল, নাইকো দ্বারী,
মন্ত্র, তন্ত্র নাই পূজারী,
গন্ধ-পুস্প, রত্নাভরণ
নাইকো প্রসাধন।
ভুবন ভরি’ ভবন তােমার,
আছি তােমার ঠাই,
কাজ কি বিচার,-আঁধার-আলল,
'কোথায় তুমি নাই।
যখন যেথায় যেমন থাকি,
তখন তোমায় তেমনি ডাকি,
মাের সাধনায় নাইকো পৃথক
বিধানের বাঁধন ॥
অভয় আশ্রম
কুমিল্লা
১৩৩৩

সুরধুনী
আমার কাছে নাইকো তােমার ভিন্ন পরিচয়।
কতই ভাবে চলছে মােদের প্রাণের বিনিময়।
তুমি আমার পিতামাতা,
পরম প্রিয় বন্ধু, ভ্রাতা,
তােমায় আবার পূজব গড়ি’
কোন্ সে দেবালয়।
আমার কাছে পুণ্য-পাপে
সমান তোমার জয়,
হিসাব করে তােমায় চেনা,
সাধন আমার নয়।
কেবল তুমি নও গােলকে,
তোমার গেহ সৰ্ব্বলােকে,
এই দুঃখসুখের বিশ্বে তােমার
রসের ধারা বয়।
অভয় আশ্রম
১৩৩৩

সুরধুনী
আমি কি আর গাইতে পারি তোমার সভা মাঝে ?
সেথা কতই গুণী, কত যে গান, কতই বীণা বাজে।
তােমার পানে নয়ন তুলি
গাইতে গেলে কথা ভুলি,
শুধু নীরব অন্তরে ঐ
রূপ-মাধুরী রাজে ।
সভায় আমার হয় না গাওয়া
সুর পড়ে রয় নীচে,
হয় না প্রভু, প্রসাদ পাওয়া
থাকি সবার পিছে।
ডাক দিয়েছ আজকে যবে,
জানি, সকল ত্রুটি চুকিয়ে লবে,
তােমার সাথেই গাইব এবার,
মরব না হয় লাজে।
অভয় আশ্রম
১৩৩০
ta

সুরধুনী
কেমন করিয়া কব কি যে চাই কহিতে ।
বুক-চাপা ব্যাকুলতা পারিনে গাে বহিতে।
কম্পিত এ অধরে
যে কথা গুমরি’ মরে,
শেল সম আছে মম
অন্তর দহিতে ॥
মনােমত ভাষা নাই,—পারে ভাব ধরিতে,
আছে শুধু আঁখিজল নিরজনে ঝরিতে।
তাই নিয়ে গাথি হার
দিবানিশি অনিবার,
মিটে কথা, যায় ব্যথা
যদি পাই দয়িতে ৷৷
অভয় আশ্রম
১৩৩২
| ৪

श्वानी
কি যেন কি হারিয়ে গেছে প্রাণ করে খালি।
আমার আশার উজল পূর্ণশশী বিষাদে কালি।
যায় চলে যায় দিন-রজনী,
অনিমেষে প্রহর গণি,
তারে পাবার লাগি একলা জাগি
ব্যথার দীপ জ্বালি।
এই জীবনের আসন জুড়ে তাই ছিল মাের সব,
সেই অভাবে আঁধার ভুবন, সাঙ্গ মহােৎসব।
মনের কথা কার কাছে কই,
মৰ্ম্মদুখে তাই মরে রই,
দগ্ধ হিয়ার জুড়াই জ্বালা
অশ্রুজল ঢালি’
অভয় আশ্রম
১৩৩৩

সুরধুনী
।
আজি এ সন্ধ্যালগনে,-
বিকশিত কলি পড়িল গাে ঢলি’
মলিম বিনত নয়নে।
এস হে হৃদয়-কান্ত,
এস সুদূরের পান্থ।
আজি
হের ফুলবনে অলি আনমনে
দিগভােলা উদ্ভ্রান্ত।
বিটপীর শাখে পাখী নাহি ডাকে
নাহি কঁপে লতা পবনে।
সােণালি আলােয় গােধূলি-ধূলায়
গােঠের প্রান্তপথ নাহি ছায়,
বাঁশরীর তানে, যমুনার গানে
বহে উজান বয়।
কুলবধূ কেহ নাহি আসে ঘাটে,
স্বপন-পরী নাহি আসে হাটে,
নীরব আজি সে মুখর কুম্ভ,
নাহি ডাকে মেঘ গগনে।
অভয় আশ্রম
১৩১

সুরধুনী
কবে তুমি আসবে প্রিয়,
এই নিশিদিন আশা।
তােমার আসা-যাওয়ার পথের ধারে
বাঁধব আমার বাসা।
দৈন্য লয়ে দূরে থাকি,
ধন্য হব ধূলি মাখি’,
আর কিছু নয়, চাই গাে শুধু
একটু ভালবাসা।
যাবে যখন এ পথ দিয়ে
নাই বা আমায় দেখাে,
মনের কোণে একটি কথা
শুধুই স্মরণ রেখাে৷
বন্ধু তােমায় পাবার লাগি
আমি হেথায় একলা জাগি,
চক্ষে লয়ে ক্ষণেক দেখার
বুক-ফাটা পিপাসা।
অভয় আশ্রম
১৩৩২
৭

সুরধুনী
কোথা হতে অলখিতে
ধরা দিলে প্রাণে,
খুজেছি তােমারে কতখানে,
সন্ধ্যাসকাল বেলা
গড়িয়া মানস-ভেলা
ভেসে গেছি কূলহারা
অকূলেরি পানে।
আজি কোথা হতে অলখিতে
ধরা দিলে প্রাণে
করমে কথায় মােরে করিয়া বড়,
ব্যবধান রচিয়াছি সুদূরভর।
বাঁশীতে বেহাগ সাধি’
আজিকে যখন কঁাদি’
নিজেরে উজাড় করি’
ঢেলে দিনু গানে,
কোথা হতে অলখিতে
ধরা দিলে প্রাণে।
অভয় আশ্রম
১৩৩৩

সুরধুনী
পােহাল আঁধার-ঘাের বিভাবরী,
একি রূপে দেখা দিলে, মরি গাে মরি।
বরষা-বাদল-ধারে
সাজিয়া কুসুম হারে
মধুর মাদল তালে
উতাল করি,
এ কি রূপে দেখা দিলে
মরি গাে মরি।
কালােরূপে না হলে ও গগন আলাে,
আজি কি ধরণী রসে লাগিত ভালো।
এমন ভাদর দিনে
শ্যাম জলধর বিনে
চাতকী রহিত কি গো
পরাণ ধরি’ ?
শান্তিনিকেতন
বােলপুর
১৩:

সুরধুনী
উষার অরুণ-আলাের সাথে
গােপন উজল চরণ পাতে
এলে তুমি কুটীরদ্বারে
দূর করি’ আঁধার,
পথিক, আমার লওগগা দিনের
প্রথম নমস্কার।
রঙিন তােমার পরশ লভি’
আজকে নূতন তরুণ সবি,
সবাই যে দেয় তােমায় আপন
প্রাণের উপহার,
পথিক, আমার লওগাে শুধুই
প্রথম নমস্কার ।
ঐ যে পূরব গগন-কোলে তোমার পথের রেখা,
আসা-যাওয়ায় ঐখানেতেই তােমায়-আমায় দেখা
নিতুই তুমি এমনি বেশে .
দুয়ার ঠেলে জাগাও এসে,
জীর্ণ বীণার তারখানিতে
যাও দিয়ে ঝঙ্কার ।
পথিক, আমার লও গাে দিনের
প্রথম নমস্কার ।
= ০
অভয় আশ্রম
১৩৩০

সুরধুনী
তুমি মাের এতই ভালাে।
যতই হেরি ততই বেড়ি,
ঐ কালােরূপ হৃদয়-আলাে।
প্রাণে প্রাণে মাখামাখি,
আমি নীড়, তুমি পাখী,
পিউ পিয়া পিউ,'—ডাকি
সুধার ধারা ঢালল।
কালাে মেঘে তড়িৎ রেখা
—সেই তাে তােমার হাসি,
নীল অতলের কমল-আঁখি
দেখতে ভালবাসি।
সুখে দুখে ধরে হাতে
দরদি গাে, থাক সাথে,
সুনিবিড় অমারাতে
প্রদীপখানি জ্বালাে॥
অভয় আশ্রম
১৩৩২
১১

সুরধুনী
গান এল মাের মনে মনে আজকে ফাগুনে ;
সুরের খেলায় নইকো গুণী, গাইব কী গুণে
শতেক যুগের জীর্ণ বাঁশী
বন্ধু, যে তায় রাশি রাশি,
গাইতে কি আর পারবে শুধু
কাদবে দ্বিগুণে।
যার এতদিন পাইনি দিশা স্বপন-মনহরা,
গানের মাঝে অন্তরে আজ দিল সেই ধরা।
প্রাণ হতে তায় বাহির পানে
রূপ দিতে চাই রাগের টানে,
আঁকতে গেলে রঙ জ্বলে যায়
ব্যথার আগুনে ।
অভয় আশ্রম
১৩৩৩

সুরধুনী
সদয় হয়ে এলে যদি ফিরে না রুষি।
ক্ষমা কর অক্ষমে, হও স্বগুণে খুসি।
কোথায় আমার অর্ঘ-ভালা,
কোথায় প্রদীপ, বরণ-মালা,
পূজার কিছু নাই উপচার
কি দিয়ে তুষি ?
মাের জীবনের বনমালি,
চাও কী উপহার ?
আমাতে যে তােমার প্রভু
পূর্ণ অধিকার।
তােমার আপন ইচ্ছামত
চয়ন কর পূষ্প যত,
হৃদয় রসের উৎসটি লও
নিঃশেষে শুষি।
অভয় আশ্রম
১৩৩৩

সুরধুনী
বাঁশীতে ভুলায়ে কালা
কেন বা লুকালে ওই।
বিরহে যে ব্যথা বহি,
কে বুঝিবে কারে কই।
তােমা লাগি’ বনমালি,
লাজে, ভয়ে দিনু ডালি,
কূলেতে লাগায়ে কালি
কলঙ্ক-পসরা বই।
যদি হে না দাও দেখা,
সে মাের করম-লেখা,
মরমে ও স্মৃতিরেখা।
দেখে আজো বেঁচে রই।
বহুতে বিলাস কর,
অথবা আমারে বর,
তবু মাের প্রিয়তর
নাহি জানি তােমা বই।
অভয় আশ্রম
১৩৩৪
১৪

সুরধুনী
কে দেখেছিস কোথায় তারে
বল গাে তােরা বল।
তার সে গহন গােপন বাসে
আমায় নিয়ে চল।
আর সবারে রাখি’ দূরে,
সে রহে মাের মৰ্ম্ম জুড়ে
সকল কাজে স্মৃতির ব্যথায়
নয়ন ছল ছল ।
সে ধন ছাড়ি’ রইতে নারি, দহে হৃদয়তল,
বারেক মােরে সে রূপ দেখা, হই গাে সুশীতল ।
রইব শুধু সে আর আমি
মিলন-মধুর দিবস-যামি,
সে যে আমার জীবন-সুধা
সংসারে সম্বল।
অভয় আশ্রম
১৩৩ঃ

সুরধুনী
নিঠুর হে,
নিশিদিন ডাকছি এত
তবু তো পাইনে দেখা।
বল না অন্ধকারায়
কত কাল রাখবে একা?
সখা মাের, আসবে বলে
আসে দিন যায় বিফলে,
পড়ে না পরাণ-পাতে
বারেক ও চরণ-রেখা।
পারাপার বন্ধ করি
মাঝি নাও বাঁধল তীরে,
পূরবীর সুর মিলায়ে
বিহগ ঐ যায় গাে নীড়ে।
দুয়ারে সন্ধ্যা নামি’
এল যে আজও স্বামি,
এবারে আকাশ-পারে
পাব কি প্রণয়-লেখা ?
অভয় আশ্রম
১৩৩২

সুরধুনী
সখি, শ্যাম এলাে না আজো
এ মাধবী-কুঞ্জে।
শুভ্র জ্যোৎস্না ভরা
গন্ধ-মধুর ধরা,
ফুলে ফুলে অলিকুল
সুললিত গুঞ্জে।
পিয়া বিনে হিয়া জ্বলে প্রাণ-সজনি,
কে বুঝে কেমনে যাপি দিবা-রজনী ।
শুধু শুধু অধিনীরে
ভাসায়ে নয়ন নীরে
বল দেখি ইথে সে কি
চিতে সুখ ভুথে ?
এত যে যতন করি’ গাঁথি মালা,
কার গলে দোলাইব না এলে কালা।
দেখে বিদরে বুক
দেখে আরাে বাড়ে দুখ,
কি যে করি সহচরি,
বিধাতা বিগুণ যে।
অভয় আশ্রম
১৩৩৪
১৭

সুরধুনী
প্রভাতী রাতের পােহাতি তারা,
আলাে-আঁধারে দুকূল হারা ।
মলিন মুখে, গগন বুকে
রােধিয়া চোখে নিবিড় ধারা।
দিবস তারে বাসে না ভালাে,
চাহে না দ্বারে তাহারি আলাে,
রজনী পাশে যদি সে আসে
মরে নিরাশে, পায় না সাড়া ।
আছে তাপ, প্রদীপ জ্বলে,
আছে ঝাপ, প্রবাহ চলে ।
ভরিয়া মধু পরাণপুটে,
তবু তাে বঁধু গােপনে ফুটে,
শয়ন-পর আসে না বর,
বাসর-ঘর মরণ-কারা ॥
শান্তিনিকেতন
১৫১০৩৪
১৮

সুরধুনী
সখি, কি যেন কি হল প্রাণে।
ঘরে মন মাের ধরে না কো আর
কে যেন বাহিরেটানে।
দিশে দিশে হেরি এ কি শিহরণ,
পুলকে আকুল নিখিল ভুবন,
শুধু ফাগুনের এ গান, গন্ধ, বরণ
আমারে বেদনা হানে।
আমি যে সরলা, অবলা অখলা,
হাতে পায়ে লাজ-বেড়ী,
আঁখি-নীরে ভেসে শুধু অনিমেষে
আসা-পথ আছি হেরি।
এ জীবন বনে যৌবন কলি,
রূপ-রস-ভারে উঠিছে উজলি’
আজো কি রভসে আসিবে না অলি,
ঢলিবে কি অভিমানে ?
অভয় আশ্রম
১৩৩৪

সুরধুনী
আজি
বিদায় বেলা,
শেষ হল অসময়ে
সাধেরি খেলা!
বিরহ-ঝটিকা ঘাের
ছিড়িল মিলন-ডাের,
অশ্রু-সাগরে ভাসে
জীবন ভেলা।
কোথা সে মধুর বীণা, মােহন বাঁশী,
সুরভিত মালিকার কুসুমরাশি !
নিশীথ-স্বপন প্রায়,
সকলি মিলালাে হায়,
ফুরাইল হাসি, গান,
ভাঙিল মেলা।
অভয় আশ্রম

সুরধুনী
এত দিনে বুঝি প্রিয় পড়িল মনে।
জীবনের শেষ দিনে—বিদায়-খনে
তিলে তিলে মরি’ দুখে,
স্মৃতিটি লইয়া বুকে
মুছে যেতে চেয়েছিনু কাল মরণে,
ঘুচাতে মরম আল চিতা-শয়ণে।
শরত বসন্ত এল ফুলে ফলে,
বরষা বিষাদে কেঁদে গেল চলে।
কত না দিবস-রাতি
দুয়ারে আসন পাতি’
পথ পানে চেয়ে চেয়ে বিজন বনে,
অশ্রু ঝরেছে কত নয়ন-কোণে।
অভয় আশ্রম
১৩৩২
খ

সুরধুনী
ও আমার পরাণের পরাণ।
ক্ষণেক চোখের আড়াল হলে
মন করে আশ্চান্।
রূপ-সায়রের কমল-সুধা,
সুব্ধ চিতের বাড়ায় ক্ষুধা
সকল দেহ অধীর হয়ে
তােমায় করে পান ॥
তুমি উষার তরুণ রবি, রূপরসে ভরপুর,
আলােয় ছোঁয়ায় জীবন কর আনন্দে মধুর।
সুন্দর-শিব-সত্য সাজে,
সৃষ্টি হেরি তােমার মাঝে,
তােমার যত মান অভিমান,
সে যে আমার গান ॥
অভয় আশ্রম
২২

সুরধুনী
ভাল বাসি তাই তােমারে যখন তখন ডাকি,
মুখের সাড়া শুনবাে বলে শ্রবণ পেতে রাখি।
সামনে এসেও দাওনা ধরা,
মুচকি হেসেই পালাও ত্বরা,
ক্ষণেক দেখায় বেদন বাড়ে
তৃপ্ত না হয় আঁখি।
চটুল তােমার মধুর দিঠি
নিঠুর তুমি শঠ,
খেলার ছলে রক্তরাগে
রাঙাও চিত্তপট ॥
সরস করপরশ তব
দেয় বিষাদে হরষ নব,
দাড়াও বারেক, রূপের ধারা
সকল দেহে মাখি।
}
-
অভয় আশ্রম
১৩৩২

श्वभूमी
শুধু কি দশ দিবে,,
পাব না পরশ তব ?
বিরহের দিন কাটে না,
আসে যায় বরষ নব ।
মরুতে রসের নদী
সৃজিলে বারেক যদি,
কেন মাের তৃষায় বারি
রাখ আর সুদুলভ ?
বঁধুহে, সুদূর নভে
রবে কি বিধুর মত ?
নিরাশে বামন সম
হবে মাের দিবস গত ?
তুষিবে মুখের ভাষে
নিবে না বুকের পাশে,
চাতকী মেঘের পানে
আজো কি চেয়েই র’ব ?
শান্তিনিকেতন
১৩৩৪
২৪

সুরধুনী
মানসী আমার,
আজিও ঘুচাবে না কি নয়ন-আসার।
গন্ধ-প্রদীপ-জ্বালা
এমন দীপালি-আলা—
সাধেরি বাসর মাের
হবে কি আঁধার।
ব্যথার গােলাপ গাঁথা
গীত-মালিকা,
গলে পরি’ আঁক ভালে
প্রণয়-টীকা।
কতদিন ছায়া সম
ভাসিবে নয়নে মম।
এস নামি’ কায়া ধরি’
জীবন মাঝার।
শান্তিনিকেতন
১৩৩৪

সুরধুনী
বঁধু হে এলেই যদি
কেন বা যাও গাে ফিরে,
পরায়ে কণ্ঠে মালা
কেন বাজ হবে শিরে।
দিলে যা উজাড় করি’,
নিলে তার দ্বিগুণ হরি’
হৃদে কি রাখবে নিদয়
দুদিনের বান্ধবীরে ?
বিরহের বেদন ভারে
অাঁধারেই ছিলেম ভালাে,
কি লাগি মিলন রাতে
আলেয়ায় করলে আললা ?
যদি হে যাবেই চলে
বাঁধিব কিসের বলে।
নিয়ে যাও বিদায় বেলা
নয়নের বিন্দু নীরে।
কখনাে মনের ভুলে
যদি আর না দাও দেখা,

সুরধুনী
মরমের চিত্র পটে
একে যাও চরণ-রেখা।
তােমার ঐ চিহ্ন বরি’
সারাটি জনম ভরি’
একেলা ফিরব কেঁদে
বিষাদের সিন্ধুতীরে।
শান্তিনিকেতন
১৩৩৪
२१

সুরধুনী
উতল এই শাঙন রাতে
বাদলের বরিষণে,
এস হে বন্ধু আমার
বিজন এই মন-ভবনে।
ডাকে মেঘ ‘গুরু গুরু,
ঝরে জল ‘পুরু বুরু,
কঁপে বুক দুরু দুরু
বরজের গরজনন ।
একা এক শূন্য ঘরে,
কেমন রই গাে পড়ে?
বিরহে বুক বিদরে
নিদ যে নেই নয়নে।
বাহিরে কালােয় কালাে,
ঘরেও নাই কো আলো,
বঁধু গাে, প্রদীপ জ্বালাে
বারেকের পরশনে ।
অভয় আশ্রম
১৩৩৪
২৮

সুরধুনী
বাদল মেঘের কাজল ছায়ায় ছাইল শালের বন,
আজ এই শ্রাবণ-সন্ধ্যাবেলায় দাও গাে দরশন।
ঐ দূরে মন্দিরের মাঝে
সন্ধি-পূজার
ঘণ্টা বাজে,
আমার ভজন ঘরে শুধুই
নীরব আয়ােজন।
ঈশান কোণে বিষাণ বাজে
বাদল এল মাতি ;
সামনে আমার ঘনায় ধীরে
গভীর ঘন রাতি।
নাই কুটীরে আলাের রেখা,
তায় যদি আজ না পাই দেখা,
•কেমন করে কাটবে নিশি
নিঝুম নিরজন ?
অভয় আশ্রম

बनौ
এসেছে আগুন জ্বেলে
ফাগুন এই হৃদকাননে।
ঘরেতে রইতে নারি
মরি গাে মন-বেদনে ॥
হারিয়ে পথের দিশে
গােলাপের গন্ধে মিশে
আজিকে আসবে কি সে
দখিনের ধীর পবনে!
চঁদিমা নীলাম্বরে
দোলে কার কোলের পরে।
অলি ঐ ঘুমের ঘােরে
মালতীর আলিঙ্গনে।
পাপিয়া বাজায় বাঁশী
কে যেন বলছে-“আসি,”
বিরহের দুঃখরাশি
বুঝি বা যায় মিলনে
অভয় আশ্রম
১৩৩ঃ
{

সুরধুনী
ফিরাবে কি বারে বারে ?
পরাণ-পিয়াসা মিটাতে হে নাথ,
আজি ও এসেছি দ্বারে ।
তােমারে বরিতে কি আছে আমার,
গলে কি পরিবে শুধু ফুলহার?
কত না রতন দিল কতজন,
আমি দিব আপনারে ॥
বিশাল ভুবন ভরিয়া তােমার
বহিছে করুণাসিন্ধু,
বহুদূর হতে আগত পান্থ
পাব না কি এক বিন্দু ?
কত শােক তাপে তাপিত এ চিত,
তাহে আরাে দুখ দিয়াে না দয়িত,
চরণযুগল ধুয়ে যাব শুধু
বারেক নয়ন-ধারে।
শান্তিনিকেতন
১৩৩৪
৩১

সুরধুনী
তাই ভালাে গাে তাই ভালাে।
মাের মানসের অরূপ-রাসে
রূপের প্রদীপ নাই জ্বলল।
বিরহের এই অগ্নিশিখা
নিত্য সাজায় দীপালিকা;
হােক না ধূমে বাহির কালাে
হৃদয় তােমাের রয় আলো
তাই ভালো গগ। তাই ভালাে।
বেদন আমার বুকের মাণিক,
কঁাদন আমার কণ্ঠহার,
অশ্রু যে মাের উপলতলে
ফলায় রসের ফধার ॥
মরণ-হরণ স্মরণ-সুধা
মিটায় মনের মিলন-ক্ষুধা,
সুদূর হতেই এমনি যদি
শুধুই বীণায় সুর ঢালে,
তাই ভাললা গাে তাই ভালাে।
শান্তিনিকেতন
১৩৩৪

श्वानी
সে যে কি ব্যাথা,
কাহারে বলি।
বঁধু আমার, আসে না আর
অরঘ-হার গিয়াছে দলি’ |
কাটার দায়ে কেতকী সম
মাধুরী ভায়ে হৃদয়ে মম,
সে মধু পানে মরণ আনে
তবু না মানে বিরাম অলি
তটিনী-তীরে বিটপী-শিরে
বিহগ ধীরে গাহিছে নীড়ে,
করুণ-সুরে নয়ন ঝুরে,
পরাণ জুড়ে ছায়াটি ঘুরে।
বিজুরী-লতা হেরিলে মেঘে
বিরহ-ব্যথা উথলে বেগে,
নিরাশা-দুখ, দহে গাে বুক
তবু কি সুখ এ দাহে জলি।
শান্তিনিকেতন
১৩৩
৩৩

श्वनी
পাইবে না বলে কেন কঁাদ নিরাশায় ।
সে যে সহজে সবারি মাঝে বিরাজে ধরায়।
লতা-পাতা, ফুলে, ফলে,
আকাশে, বাতাসে, জলে,
রবি-শশি-তারা তলে
গােপনে বেড়ায়।
লুকোচুরি করি ফিরে ভুবন ভরি',
ফিকিরে খেলার ফাঁকে ফেল না ধরি।
জপ, তপ, আরাধন
নাহি কোন প্রয়ােজন,
শুধু আলাে কালাে সবি মন,
ঢাললা তারি পায় ।
অভয় আশ্রম
৩০

সুরধুনী
যতই গভীর গােপন গুহায় লুকাও না আপনাকে,
আমি তােমায় করব বাহির শুধুই সহজ ডাকে।
তােমার রবি, তােমার তারা,
সবাই যে দেয় তােমার সাড়া,
সবার মাঝে প্রকাশ তােমার
আড়াল কোথায় থাকে ?
বীণার তানে ও মায়াবি, নিত্য সকাল-সাঁঝে,
লও হরে মাের চিত্ত সুরের স্বপ্নপুরীর মাঝে।
মায়ায় তব আর কি ভুলি,
মােহাবরণ দেখব তুলি,
হাতে হাতেই ধরব এবার
লুকোচুরির ফঁাকে।
অভয় আশ্রম
১৩৩৩

সুরধুনী
তুমি হবে আপন আমার প্রাণের ভালবাসায়।
থাকবে তুমি সঙ্গী আমার সকল কাদা-হাসায়।
আমার গভীর মরম-দাহে
তােমার কি প্রাণ কঁদবে না হে ?
জীবন কি মাের কাটবে শুধু
মিথ্যা পাওয়ার আশায়।
এতই নিঠুর প্রাণ কি তােমার এতই অভিমান,
টলবে না কি লাগবে যখন আকুল প্রেমের টান ?
অর্ঘ্য আমার ঘৃণায় দলি
যতই
দূরে যাও না চলি,
দুদিন পরে আসবে দ্বারে
প্রেম-সুধা-পিপাসায় ॥
অভয় আশ্রম

সুরধুনী
আজকে আমার মনের বনে বাজায় কে রে করুণ বাঁশী,
উতল ধারায় বাঁধন ছাড়ায় বেদন-বিধুর সুদূর-বাসী।
আমার প্রাণের লতায় পাতায়,
সবুজ বুকের তৃণের মাথায়,
গহন-কোণে, ঝিলিক মারে
বুক-ফাটা কার নিঠুর হাসি।
সকল দেহ জড়িয়ে ধরে
কার অনুরাগ রসের ঝরা,
যৌবনেরি দিলদরদী
কে এলাে রে মরণহরা।
পঙ্কিল মাের অন্ধকূপে
ভরল কে বা অতুল রূপে,
কার প্রীতির ঐ
মুক্ত-ধারায়
চিত্ত-কমল উঠল ভাসি।
অভয় আশ্রম
৭

সুরধুনী
গানের সুরে ঘুরে ঘুরে ঝুমুর ঝুমুর নুপুর বাজে।
সুদূর পারের বঁধুর বীণা হৃদয় মাঝে, হৃদয় মাঝে
নিঝরঝরা উজার করে
বাণ ডেকেছে মরুর পরে,
শুভ-তুষার, উষার হাসি,
উষর
বুকে
আজ ঐ রাজে।
বকুল, চাপা, শিউলি-ডালে,
বিহগ কঁাদে গানের তালে,
সুবাস বায়ু বেহাগ-রাগে
উধাও হ’ল উদাস সাঁঝে।
বিয়ােগ-বিধুর বঁধুর কঁাদন
ওরে ছিড়েছে মাের মর্ম-বাঁধন,
আর আমারে খাঁচায় পুরে
রাখতে কোথাও পারি না যে।
.
অভয় আশ্রম
১৩৩১

সুরধুনী
বুঝেছি আজ বঁধু হে
তুমিও মিলন-কামী।
মিছে এ মন-বেদনা
তােমারে দিলাম আমি।
তুমি যে বিশ্ব-মাঝে
রাজ বিচিত্র সাজে,
মরুতে ফন্তু সম
তব প্রেম অস্তগামী ॥
আমারি সঙ্গছাড়া
বহে কি রঙ্গ-ধারা ?
ধরাতে রসের সীলায়
কে তব দোসর স্বামি ।
অনাদি কাল অবধি
বিরহের অশ্রু-নদী
তবু তাে দোহার বুকে
বহিছে দিবস-যামি।
শান্তিনিকেতন
১৩৩৪

সুরধুনী
ফিরে ফিরে আসে ফিরে যায় ধীরে,
বরষে বরষে শত আশায়।
হরিষে বিষাদে আঁধার-আলােকে
বুক-ভরা কত ভালবাসায়।
ফাগুনে নবীনা সবুজ বরণে,
সুবাস ছড়ায়ে উদাস পবনে
রূপসী মানসী প্রেমিক-স্বপনে
আসে কত গানে কত ভাষায়।
সে আসে মধুর শারদ প্রভাতে
শেফালিকা মালা হাতে,
সােজ হাসিতে স্নিগ্ধ শােভাতে
মৃদুল চরণ-পাতে।
নিদাঘ-দিবসে নিরাশা-উতলা,
চোখে নাই বারি, হৃদে বাড়ে জ্বালা,
বারে বারে দলি বরণের ডালা,
এসেছে আজো সে প্রেমতৃষায়।
অভয় আশ্রম
১৩৩

সুরধুনী
ঝর ঝর
ঝ ঝর ঝর্
ঝরিছে বাদল ধারা।
সুমধুর
গন্ধে, গানে,
ধরণী পাগল-পারা।
শিখিনী মনের সুখে
নাচে ঐ তমাল বুকে
তটিনী লহর তুলে
দুকূলের আগল-হারা ।
উদাসী বাঁশের বনে
আজ এ কি বাজল বাঁশী ।
কেতকীর কোমল ঠোটে
উথলি উঠল হাসি।
বুঝিবা সদয় বিধি,
মিলালে হৃদয়নিধি,
যেদিকে চাই সেদিকে
যেন তার পাইগাে সাড়া।
অভয় আশ্রম
১৩৩২
৪১

সুরধুনী
রিনিকি ঝিনিকি রিনি বাজে।
বহু কাল পরে মাের ঘুচিল বিরহ ঘাের,
সুন্দরী এল পুর মাঝে ।
মলয় বিতরে তার উত্তরী-গন্ধ,
পল্লবে তৃণে তার নৃত্যেরি ছন্দ,
কুসুমে সুষমা রাশি,
জ্যোৎস্না বিকাশে হাসি,
সুধা-করে মুখছবি রাজে
জালিল রূপের আলাে দোরে দীপালি,
মুছে গেল ছিল যত মনের কালি ।
অভেদ বাহির-ঘর,
নাহিক আপন-পর,
আজিকে হল কি বুঝি না যে
শান্তিনিকেতন
১৩৩৪
৪২

সুরধুনী
সুন্দর তব মুখারবিন্দ স্নিগ্ধ শ্যামল অঙ্গ,
হেরি’ ও মাধুরী মুগ্ধ মদন দেয় যে সলাজে ভঙ্গ ।
ও’ দু’টি নয়ন বাণে
হান যারে সেই জানে,
কি যে খরশান, বিদারি’ পাষাণ
পরাণ উপাড়ি আনে।
বাসনাক্ষুব্ধ বিষয়লুব্ধ ভুলিয়া বিলাস-রঙ্গ,
মধুর গন্ধে পরমানন্দে মাগে ও সুখদ সঙ্গ।
ও’ যুগল ভুজ-মাঝে
বন্ধন দিতে মত্ত বসুধা,
মৃণাল মরে যে লাজে।
সুধাকর-সুধা ছানি’
গড়া সে অধরখানি,
আহা কি দশন চারু দরশন,
মণি যায় হার মানি’!
নটন-ছন্দে তটিনী বলে, নীরব গানে বিহঙ্গ,
যুগ-যুগান্ত হে হৃদিকান্ত তুমিই মাের ত্রিভঙ্গ
অভয় আশ্রম
১৩৩৪
৪৩

সুরধুনী
শ্যাম সুন্দর গােপীমনােহারি।
যমুনারি কূলে নীপতরু মূলে
বঙ্কিমঠামে শােভে ত্রিভঙ্গ মুরারি।
বাঁশরীতে সাধে তান,‘আয় আয় আয়,
গৃহ, কুল, মান, ত্যজি’ গােপীকুল ধায়।
যমুনা উজান বয়,
মলয় থমকি’ রয়,
তরু-শাখে বিস্মরে
গীত শুকশারী।
রুণু ঝুণু রুনু বাজে চরণে নুপুর,
গলে বনফুল মালা, শিরে শিখিচূড়,
নীল-নলিন-আঁখি,
প্রেমের অমিয় মাখি’
ঢুলু ঢুলু দিঠি বাণে
হানে ব্রজনারী।
কাধে কাল কুঞ্চিত দোলে কেশদাম,
চন্দন-চর্চিত দেহ অভিরাম,
পরিধানে পীতবাস,
মুখে মৃদু মৃদু হাস,
নাহি মিটে অভিলাষ
সে রূপ নেহারি’
অভয় আশ্রম
,

সুরধুনী
বাজাও গুণী বাজাও শুনি
অস্তরাগের উদাস বেণু,
তােমার ঐ বিদায় গানে ঘরের পানে
ধায় গােঠেরি অধীর ধেনু।
মােহন সুরে সরম ভুলি
আড়-নয়নে ঘােমটা খুলি
রূপের খনি সন্ধ্যামণি
গায় ছুড়ে দেয় গন্ধরেণু।
কাহার শাপে ব্যথার তাপে
জ্বলেই তব জন্ম সারা,
হায় কি লেখা। আজও দেখা
দেয় না বঁধু সন্ধ্যাতারা।
মরণকালে করুণ-আঁখি
শেষ মিনতি জানায় ডাকি,
হৃদয়-ভাঙা রক্ত-রাঙা
সে ডাক তােমার শুনতে এনু।
শান্তিনিকেতন
১৭১•
৪৫

সুরধুনী
যায় বেলা যায়।
কে ভাকে ওপার হতে
---“আয় ঘরে আয়।”
সন্ধ্যা ধূসর-কায়া
চোখে দিল তারি ছায়া,
হৃদয় উদাস করি’
সে রূপ কাদায়।
অভয় আশ্রম
১৩৩১

সুরধুনী
ডাক এসেছে, ডাক এসেছে
আজ অবেলার বাদল বায়ে।
দিনের দেনা চুকিয়ে আমার ·
যেতে হবে ঐ পারের নায়ে ।
হাটে এসে কোন সকালে
বেচাকেনার ভুল খেয়ালে
বেলা গেল মাল গুছাতে,
এখন কঁাদি বােঝার দায়ে।
গগন হতে ভীম গরজি
কে দেয় পিছে হানা,
দিক্‌বিদিকে আঁধার-ভরা
নাই কোন পথ জানা।
“দুর্যোগের এই ঘাের বিপাকে
চলছি আমি ঘরের ডাকে,
ফিরব না আর বাজুক ব্যথা
যতই কেন বাজের ঘায়ে ॥
অভয় আশ্রম
১৭

সুরধুনী
বিদায় মাগি ও চরণে,
সারা হল খেলা
নাহি আর বেলা,
আসি তবে রেখাে স্বরণে
দিবানিশি আমি উদাস পরাণে
গান গেয়ে চলি পথ যেথা টানে,
দুদিনের তরে
এসে তব ঘরে
মজিনু জীবন-মরণে ॥
তােমা ছাড়ি যেতে চরণ অবশ
নয়নে বাদল ঝরে,
পরাণ কেঁদেছে তবু যে আবার
নূতন পথের ভরে।
ঐ ঐ বাজে পথের মুরলী,
বলে,-“আজো কিরে মােরে ভুলে বলি?”
মায়াবেড়ী খুলি
দাও পদধূলি,
ধাই সুর-অনুসরণে ॥
অভয় আশ্রম
১২১১২৭
৪৮

चवूनौ
যেতে যখন হবেই তখন
আর কেনরে করিস্ দেরী?
বের হয়ে পড়, দিনের বেলা
ঐ বেজেছে'বিদায়-ভেরী।
ফিরে ফিরে ঘরের পানে
চা কেন আর আকুল প্রাণে ?
কেউ যদি রে পিছন টানে
আয় ছিড়ে আয় মায়ার বেড়ী।
হয়ে কি আজ সঙ্গীহারা,
ব্যথায় ঝরে নয়নধারা ?
এদিক-ওদিক ভাবনা ছাড়া
একদিকে পথ চল না হেরি।
দে ছেড়ে সব লাভের দাবী,
সময় হলে সবই পাবি,
ভাবলে শুধু কাল হারাবি
রাতের আঁধার আসবে ঘেরি।
'অভয় আশ্রম
৪

সুরধুনী
দিগন্তে ঐ সুন্দর-দূত বাজায় করুণ বশী,
বন্ধু সবে দাও গাে বিদায় এবার তবে আসি ।
রক্ত-রাগের আলাের তরী
এল আমায় নিতে হরি’,
শিরে ধরি সবার আশীষ
অসীমে আজ ভাসি।
নিত্য-চলার পথের মাঝে কয়েক দিনের তরে
এসেছিলাম সাথীর সাজে তােমাদেরই ঘরে।
দিলাম যাহা, নিলাম যাহা
থাক চিরদিন সত্য তাহা,
সার্থক হােক আনন্দে সুখ
-দুখের কাঁদন-হাসি ॥
সভা পশ্রিম

সুরধুনী
সুরের ঐ সুরধুনী
চিরদিন বওয়াও প্রাণে,
মুছে দাও মনের কালি
রসেরি উতল বানে।
তােমার ঐ গানের মধু
যদি না পাই হে বঁধু,
জীবনের যাত্রাপথে।
চলিব কিসের টানে ?
জগতের যতই কাজে
যখনই বাঁধা পড়ি,
সুমধুর বেণুর সুরে
ডেকো হে আমায় স্মরি।
সারাদিন দেখব মেলা,
কত যে খেলব খেলা,
সাঁঝেতে আসবাে ছুটে
পূরবীর করুণ তানে।
কৃষ্ণ নগর
১৩৩৪
जमीड

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Surdhuni Ed. 1st

Author
Kar,sudhorchandra
Title
Surdhuni Ed. 1st
File name
Surdhuni Ed. 1st
Text
OCR done
Citation
1927
Published
2009/11/29
Publisher
Prabasi Karjyalaya,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
76
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Kar,Sudhorchandra
DLI number
513367
Barcode
4990010020352.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
p24ymDuV8sd
Download PDF

Surdhuni Ed. 1st