Bally Sadharan Granthagar
Gayrik Pataka Ed. 4th
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
গৈরিক পতাকা শ্রীশচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
প্রাপ্তিস্থান
কাত্যায়নী বুক স্টল
২০৩ নং কর্ণওয়ালিস স্ট্রীট,
কলিকাতা
প্রথম সংস্করণশে আষাঢ়, ১৩৩
দ্বিতীয় সংস্করণ-ই ভাদ্র, ১৩৩৭
তৃতীয় সংরণ—১৭ই মাঘ, ১৩৩৯
চতুর্থ সংস্করণ—৫ই পৌষ, ১৩৫০
প্রকাশক-ঐগিরীন্দ্রচন্দ্র সােম, ২০৩, কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা।
আলেকজান্দ্রা প্রিন্টিং ওয়ার্ক
৯/এ, হরি পাল লেন, কলিকাতা
প্রিন্টার-সত্যচরণ দাস কর্তৃক মুদ্রিত
নিবেদন শহারাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ছত্রপতি শিবাজীর স্মৃতি আজ তরুণ বাঙালীর প্রাণে যে প্রেরণা এনে দেয়, তাই অবলম্বন করে আমি গৈৰিক পতাকা এচনা তুললাম। ইতিহাস থেকে এর উপাদান নিয়েছি, ঐতিহাসিক ঘটনাও সংস্থাপন করেছি—কিন্তু বাধ্য হয়ে ঐতিহাসিক পাত্র-পাত্রীদের সকল নাম গ্রহণ করতে পারিনিকল্পিত চরিত্রের অবতারণা করেছি। এই নাটকখানি অভিনয়ের দিক দিয়ে সফল করে তোলবার জন্য মনােমাহনের কর্তৃপক্ষ আর অভিনেগণ যে শ্রম করেছেন, তা আমি নিয়ে চোখে দেখেছি। তার জন্য তাঁদের নিকট আমি কৃতজ্ঞ। আমার শ্রদ্ধাস্পদ বন্ধু, নাচঘর-সম্পাদক, সুবিখ্যাত সাহিত্যিক শ্ৰীযুক্ত হেমেন্দ্রকুমার রায় এই বইয়ের গানগুলি রচনা করে দিয়ে বন্ধুত্বের বন্ধনের উপরেও অামায় ঋণজালে জড়িয়ে রাখলেন। ইতি- বিনীত চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপন গৈরিকপতাকা ১৩৩৭ সালে প্রথম অভিনীত হয়। তখন সে নাটক অভিনয় করতে পাঁচ ঘণ্টার কম সময় লাগত,সে নাটক জনপ্রিয় হােতন। চজ তিন ঘণ্টার বেশী সময় দর্শকরা অভিনয় দেখবার জন্য ব্যয় করতে ন না। তাই নাটকখানি অনেক সংক্ষিপ্ত করে প্রকাশ করলাম। ক্ষিপ্ত করবার সময় সর্বদাইদৃষ্টি রেখেছি, যাতে শিবাজীর চরিত্রকে ক্ষু - না হয়। দৃশ্যেরু ওলট পালটও কোথাও কোথাও করিটি ঘটনা শ্রাতকে অব্যাহত রাখবার জন্য। একটা নামেও পরিবর্তন করিচি। বাড়ফোড়েকে ঘােড়পুরেতে রূপান্তরিত করিচি। তার কারণ আমি জেনেছি, শেষোক্তটিই প্রকৃত উচ্চারণ। আর যেসব পরিবর্তন করিচি গা আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ফলে প্রয়ােজনীয় বুঝে এবং আগেকার ভুল শাধরাবার জন্যও করিছি। ইতি
No text on this page.
মনােমােহন থিয়েটার
প্রথম অভিনয় শনিবার ১ই আষাঢ় ১৩৩
অধ্যক্ষ সুরেন্দ্রনাথ ঘােৰ
শিক্ষক-ঐনির্মলেন্দু লাহিড়ী
সঙ্গীত শিক্ষক-ধাচরণ ভট্টাচাৰ্য্য
নৃত্য শিক্ষয়িত্ৰীশ্ৰীমতী নীহারবাল
গর-পাঁচকডি সাঙ্গাল
পীঠাধ্যক্ষ-নারায়ণচন্দ্র তা
আলােক মিরীপতিপন দাস
হারমােশিয়াম বাদক–চারুচন্দ্র শীল
সঙ্গতি-শ্রীনবিহারী পান
সজ্জা-শ্রীনৃপেন্দ্রনাথ রায়
বিভূতিভূষণ দে
প্রথম রজনীর অভিনেতৃগণ
রামদাস স্বামী-শ্রীপপতি সামন্ত
শিবাজী-নির্মলেন্দু লাহিড়ী
তাজী সতীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘুনাথ-প্রধাচরণ ভট্টাচার্য
পেশােয়াবনবিহারী পান
নারাও-জয়নারায়ণ মুখােপাধ্যায়
'শহীমতি প্রমীলাৰালা
বিশ্বনাথ-অভয়পদ গঙ্গোপাধ্যায়
হীরালী-হরিদাস ঘােষ
জীবনৱাওকালীচরণ গােস্বামী
গঙ্গালী-অনিলচন্দ্র বিশ্বাস
শাহজী-সন্তোষকুমার দাস
আদিল শাহ ঐবিজয়কার্তিক দাস
ঘােডপুরে-মণীন্দ্রনাথ ঘােষ
রণদুল লক্ষ্মীনার মুখােপাধ্যায়
মুৱাৰ পৰুগ্রহীরালাল দাস
আলি শাহ-শ্রনির্মলকুমার বসু
আফজল খ—পশুপতি সামন্ত
মুলানা আহাম্মদ-হরিদাস ঘােষ
ঔরংজেব—শ্রীরাধিকানন্দ মুখােপাধ্যায়
জয়সিংহ-শ্রীসন্তোষকুমার দাস
যশােবন্ত সিংহ-শ্রীলক্ষ্মীনারায়ণ মুখােপাধ্যায়
শায়েস্তা খান ঐ
দিলীর খ-ঐবিজয়কান্তি দাস
জাফর খাঁ-এললিতকুমাব মিত্র
পোলাদ খানরেন্দ্র কুমার চক্রবর্ত্তী
কুমার বামসহ-ক্লনিৰ্ম্মলকুমার বসু
চন্দ্ররাও—শ্রীকালীপদ গােস্বামী
জিজাবাই-শ্ৰীমতী সুশীলাসুন্দরী
বীরাবাঈ-শ্ৰীমতী নীহারবালা
গলী-শ্ৰীমতী সরযুবালা।
মেহের-শ্ৰীমতী শেফালিকা
বেগম-শ্ৰীমতী নিভাননী
মরমিম-মতী বীণাপাণি
নর্তকীগণীমতী আশালতা, শ্রীমতী শেফা কা, শ্রীমতী মণিবাল,
শ্ৰমতী প্রফুল্লবালা, শ্ৰীমতী এমিলাবালা, শ্রীমতী মােদিনী,
শ্ৰীমতী অন্নদাময়ী, ক্ৰমতী রাজলক্ষ্মী, শ্রীমতী তারকবাল,
এমতী গিরিবালা, শ্রীমতী দে, এভী মলিন,
এমতী বিদ্যুৎলতা, শ্ৰীমতী জ্যোতিকণা, এমতী চাল,
শ্ৰীমতী নিরুপমা, শ্রীমতী বীণাপাণি
গৈরিক-পতাকা প্রথম অঙ্ক প্রথম দৃশ্য জাবলীর একটি উদ্যান বীৰা একলা গান গাহিতেছে। এই কাননের ফুল নিয়ে যাও আমার আঁচল থেকে, এস পথিক, কমল কুঁডিৰ পরাগ-লাহর মেপে। এস তফন হওয়ার মত, চাদের চোখের চাওয়াব মই, নিশধৰাশীৰ গাওয়ার মত, স্বপন ছবি একে। আমার অক্ষরাশি দিয়ে, আমরমুখের হাসি দিয়ে, আমার জীবন-মরণ দিয়ে, রাধৰ খোসায় ঢেকে। [ গান শেষ হইলে স্যামলী প্রবেশ করিল। শ্যামলী। অভিসার্বিকে, এবার ঘরে চল—কান্ত আব এলাে না। বীরা। কেন এল না সই ? আমলী। কেন, কে জানে? হয় ত-
গৈরিক-পতাকা
কোথাকায় কুষলে সখা তাের কোকিল হয়ে
করে পাশ কোন্ ৰূপসীয় নিশিদিন বার লো বয়ে।
বীরা। দেখ, শ্যামলি।
শ্যামলী। শ্যামলির অপবাধ কি। বল্লাম স্বয়বা হও। গরীবের
কথা বলেই ত উপেক্ষা করলে, এখন
সে দিন যখন বলতে গেলাম ফিরিয়ে নিলে কান,
মিথ্যে এখন ঠোট ফোলানাে, অক্ষয়লে কান।
বীরা। তুই যদি ফের আমাষ জ্বালাবি, তাহলে আমি চলে যাব।
শ্যামলী। সেইটিই ত আমি চাইছি সখি । বেলা অনেক হয়ে
গেল, আর ত এখানে থাকা চলে না।
না, আমি যাব না।
শ্যামলী। তা কি আমি জানিনে সই। কিন্তু ভেবােন। ভাই • ভেবে
মাথা খারাপ কোনাে না। ওই দিকটায় একবার দৃষ্টি হান ক ওই দূরে।
আরে বাবা খাজা বীর পুরুষটি আসছে ।
বীর। আমি চল্লাম।
শ্যামলী। তাও কি হয় সই ? আমিই সবে যাচ্ছি।
বী। আঃ, শ্যামলি, কি যে কবিস। চল ওই কুঞ্জের আড়ালে
লুকিয়ে থাকি।
শ্যামলী। এস প্রস্তাব। দেখব অথচ পুখ দেবাে না—অপবাধীকে
দেবাে সাঙ্গা, কিন্তু নিজে লুটে নােব মজা-প্রেমেব এই ত লক্ষণ।
অজানা কোন্ বুক-বাগানে সই লাে, আমার সই।
পীত তােমায় ভুলচে কুইম-পষ্ট কথা কই।
বীর। আবার।
শালী। আচ্ছা আর নয়। এই বেলা চল, শেষটায় এলে পড়বে,
১ম দৃশ্য ]
গৈরিক পতাকা
০
বী দুই চার পা অগ্রসর হইয়া থমকি পড়াইল।
বীব। না শ্যামলি, তুইই না। যদি দেখতে না পেয়ে চলে যায়।
যদি এ দিক পানে আসে।
শামলী। তাহলে ঘবে ফিবে—
বুমুদিনীয় মুখ না দেখে
চা যদি যায় অস্তাচলে ভাগ আখির দৃষ্টি থেকে
তাহ লে সই অভিমানে এগিয়ে গিয়ে ঘরের পানে
দক্ষ উর কি কৱাে পান্তাভাতে তেঁতুল মেখে।
বীবা। না, তুই চল।
শ্যামশী বীরাবাবের হাত ধরিয়া স্কুলের পিছনে চলিয়া
গেল মণরাও প্রবেশ করিল এ কোন কি
দৃষ্টিপাত না করিয়া সােজা চলিয়া যাইতে লাগিল।
শ্যামলী আসিয়া পিইন হইতে ডাকি
শ্যামলী। বলি, ও বীরপুরুষ।
বণবাও। [ ফিব্যি ] কে? শ্যামলি।
শ্যামলী। সন্দেহ হচ্ছে ?
বণবাও। তুমি।
শ্যামলী। একা নই, সখীও সঙ্গে বষেছে,ওই কুঞ্জের আড়ালে।
বাবাও। শ্যামলি। আমার একটি কথা শুনবে?
শ্যামলী। সখীর কত কথাই ত দিবারাত্র শুনি। তােব একটি মাত্র
কথা একবারও শুনব না ?
বরা। মলি তােমার সখীকে বুলিয়ে বােলাে, আমাদের ।
দেখা হবে না।
শ্যামলী। সখী এইখানেই রয়েছেন। তুমি নিজেই বলে যাও।
গৈকি পতাকা {ম অফ A রণও। মলি, এতদিন যে খেলা খেলেছিলাম, আজ তা শেষ করার সময় এসেছে। গামলী। রণবাও। ৰণৰাও। আমার একথা সত্য। আব সত্য বলে আমি তার সঙ্গে দেখাও করতে পাবছিনে। বীরাঙ্গ কুঞ্জের পিছন হতে ডাকিল বীরাবাঈ। শ্যামলি। শ্যামলী। ওই যে সখী এইদিকেই আসছেন। রণরাও। ধীরা, আমাষ ক্ষুমা কর বীরা, আমাষ ভুলে যাও ৰীবা। তােমার আর আমার পথ এক নষ ভিন্ন। জীবনে কোন নাবীকে আমি শলিনী করতে পাবি ন। বীরা ধীরে ধীরে বেদীর উপর গিয বসিল এবং ফুলগুলি ছড়াইয়া ফেলিতে লাগিল শ্যামলী। বেশ ত নুতন অভিনয। রণও। অভিনয নয় শ্যামলী। আমি নূতন জীবনের সন্ধান পেয়েছি। এ্যামলী। হেঁষালি বেখে স্পষ্ট কথা বল রণবাও। রণরাও। কাল আমি নবমন্সের দীক্ষা গ্রহণ কবেছি। প্রতিজ্ঞা করেছি, পতিত এই জাতির কল্যাণ কামনাষ জীবনের সকল সুখ-স্বার্থ বিসর্জন দেব। শ্যামলী। কার কাছে প্রতিজ্ঞা করেছ ৰীৰ ? রণরাও। পুণাম মহারাজ শিবাজী যে মহাযজ্ঞের আয়ােজন করেছেন, সেই যজ্ঞে আমায় জীবন আহুতি দিতে হবে। শ্যামলী। মহাবাজ শিবাজী ত বিবাহিত। তঁাব সেনাপতিরাও শুনেছি কেউ কুমার নন-
রণরাও। সত্যিকারের শক্তিমান যারা, তাদের কথা স্বতন্ত্র। আমি
ত শক্তি অর্জন কবতে পাবিনি, তাই আমাকে সাধনায় আত্মনিয়ােগ
করতে হবে।
শ্যামলী, আমবাই কি সাধনার বি ?
রণবাও। তা জানি না শ্যামলী। আমি শুধু জানি, আজ জাতির
পক্ষে প্রযােজন হয়েছে এমি সব যুবক, বারা সকল বকম কোন
ভাব বর্জন করে বজ্রের মত নির্মম হযে কর্ম স্রোতে ঝাপিয়ে পড়বে।
মহাবাষ্ট্র যদি তেমনি যুবকদের সাড়া ল পায়, তাহলে দুর্গের পর দুর্গ
জষ করে ও শিবাজী মহাবাক গড়ে তুলতে পারবেন না। এসব
কথা
তুমি ঠিক বুঝতে পারছ কি না, জানি না শ্যামলী।
শ্যামলী। বুঝতে পাবি না বলেই ত গােটাকত প্রশ্ন করতে চাই।
জবাব দেবে?
বীব্য। শ্যামলি ।
শ্যামলী। একটুখানি অপেক্ষা কর সই। তুমি কি ঠিক জান
বণবাও, যে, মহারাষ্ট্র বিশেষ করে চায় তার যুবকদেরইমরাষ্ট্রের
যুবতীদের কাছে তার দাবী কিছুই নেই ?
রণরাও। না না, শ্যামলি, মহারাষ্ট্রেব যুবতীদেব এ সাধনায় যােগ
দিতে হবে না। তারা থাক সন্ধ্যা প্রদীপের মত মহারাষ্ট্রের গৃহ মন্দির
আলােক বে। বাজনীর ঘূর্ণাবর্ত তাদের স্থান নয়।
শ্যামলী। কোমলতা যদি জীবনের পক্ষে অপ্রয়ােজনীয়ই হয় গণরাও,
তাহলে কোমলতা নিযে মাবহাঠা তরুণীরা জীবন ধাবণ করবে কিসের
।
বীরা। শ্যামলি, তক করিসনি। জীবনের সাধনা থেকে কাউকে
ভ্রষ্ট করতে আমি চাই না। তুই চল, ঘরে চল্।
রুণরাও। এমন কবে আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ােনা, বীৱ।
গৈরিক-পতাকা [ ১ম অঙ্ক শ্যামলী। রণরাও, সত্যই মারহাঠার নারী কি এমি অপদার্থ, এতই অপ্রয়ােজনীয় যে, ইচ্ছা করলেই তাকে জীবনের পথ থেকে যেকোন মুহূর্তে সরিয়ে ফেলা চলে? কে তােমায় বলেছিল রণরাও বীরাবাঈয়ের, হৃদয় জয় করতে ? কে তােমায় দেখেছিল রণরাও বীরাঙ্গার চরণে প্রেম-পুস্পাঞ্জলি নিবেদন করতে? দীন-ভিক্ষুক্ষের মতাে এক বিন্দু করুণা লাভের জন্য দিনের পর দিন যে আকুতি নিয়ে বীরাবাঈয়ের পিতৃগৃহে সুয়ি উপস্থিত হতে শ্যামলীর তা অজানা নেই। প্রথমে অনুকম্পা এলিয়ে, পরে হৃদয় জয় করে, আজ যে তুচ্ছ একটা কারণ দেখিয়ে তুমি একটি নারী-জীবন একেবারে ব্যর্থ করে দিয়ে চলে যাবে—তা ত হতে পারে না রণরাও! বীরাবাঈ। শ্যামলি! শ্যামলি ! দুই হাতে মুখ ঢাকিয়া ফুলিয়া যুলি বানিতে লাগিল শ্যামলী। বীরা, বােন, মারহাঠার নারী যে পুরুষের খেলার পুতুল নয়, নিজের ভাগ্য-নিয়ন্ত্রণের শক্তি আর অধিকার যে তার আছে, সে কথা ভুলাে না। দেখ কাপুরুষ তোমাৰ কীর্তি। ব্রণরাও। কাপুরুষ নই শ্যামলি। আমি আজ নিজ-হাতে যেন অমাব পণ্ড উপড়ে ফেলেছি। মহারাষ্ট্রের মঙ্গলের জন্য আমার জীবনের সব চেয়ে | প্রিয়, সব চেয়ে যা মূল্যবান, তাই আজ পরিত্যাগ কবছি। শ্যামলী। আমরা নারী বলেই এই কথা আজ তুমি আমাদের বােঝাতে চাও যে, জাতির মঙ্গল সাধনে নারী কল্যাণ-স্পর্শের প্রয়ােজন নেই, প্রয়ােজন তা প্রত্যাখান করা। তুমি আশা কর, তােমার একান্ত এই মিথ্যা কথাকে সত্য মনে করে মারহাঠা-নারী অস্পৃশ্যাব মতে জাতির মুক্তি পথ থেকে সরে দাঁড়াবে? বীয়াবাঈ। শ্যামলী, অপমানের বােঝা অব ভারি হয়ে উঠলে আমি তা বইতে পারব না ! .
গৈরিক পতাকা
৭
শ্যামলী। শােন রণরাও। মারহাঠাব নারী আমি, আজ এই ফাই
তােমায় বলে যাচ্ছি যে, শক্তির সন্ধানে প্রবৃত্ত হয়ে একদিন নারীর সাহা
তোমাদের ভিক্ষা করেই পেতে হবে। আর সেই দিন বুঝতে পারবে
জাতির বিজয়াভিযানে মারহাঠা নারীব স্থান পুরুষের পিছনে নয়—পুরুষের
পাশে।
খামলী বায়াঙ্গয়ের হাত ধরিয়া তাহাকে লইয়া গেল। ও
কিছুক্ষণ তার দিকে অপলক নেতে চাহিয়া রহিল। তার
দীর্ঘশ্বাস ফেলি নতমস্তকে অপর দিকে চলিয়া গেল।
দ্বিতীয় দৃশ্য
শিবাজীর কক্ষ শিবাজী ও তানাজী।
শিবাজী। শক্তি চাই, শক্তি চাই, সমগ্র জানিটাকে স্বেচ্ছামত গড়ে
তােলবার ক্ষমতা আয়ত্ত কবতে চাই।
কিছুকাল উভয়েহ নীরব রহিলেন
হা বন্ধু, আমি বজি চাই – নিজেব ভােগের জন্য নয়, বংশ
প্রতিষ্ঠার জন্যও নয়, হিন্দুজাতিকে, মানব সভ্যতাৰ বিশিষ্ট একটি ধারাকে
সঞ্জীবিত, অব্যাহত রাখার জন্য আমি চাই সম্পদ, আমি চাই শক্তি, আমি
চাই প্রভুত্ব। দাদাজী কেদেবের সঙ্গে বিজাপুর থেকে পুণায় আল
সময় আমি কি দেখেছি জান?
তানাজী। কি দেখেছ ?
শিবাজী। দেখেছি-অসহায় এই জাতির প্রতি শাসনের নামে কি
বিৰুপতাকা { ম স উপদ্ৰবই নিত্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আর কেমন করেই জাতির প্রতিটি মানুষ বিসর্জন দিয়ে নীরবে নি তাই সহ্য করছে। প্রজার সশ শােষণ করে নিয়ে রাজঐশ্বৰ্য্য জানিয়ে লেখার জন্য একদিকে দাক্ষিণাত্যের ত্রিধা-বিভক্ত শক্তি আর একদিকে মুঘলের সর্বগ্রাসী লালসা যে নিষ্ঠুর লীলা প্রকট কবেছে, দাদোজীর নির্দেশে আমি তা সবই দেখতে পেয়েছি। প্রজা খেতে পায় না, অথচ নিজামসাঙ্গী, কুতুবশাহী, আদীল-শাহী ঐশ্বৰ্য্য বংশানুক্রমে বৃদ্ধি পায়, মুঘলের বিলাস "বন্যার মতই দুর্ভিক্ষপীড়িত এই দেশের বুকের ওপর দিয়ে পঙ্কিল প্রবাহ বইয়ে দেয় ; ; দেখেছি শান্তি-প্রতিষ্ঠার নামে রাজপ্রতিনিধি গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়, খাদ্য অর্থ লুণ্ঠন করে, ক্ষেত্রের শস্য বিধবস্ত করে, মন্দিরের বিগ্রহের করে অবমাননা ! দুঃখ কেবল তাবই জন্য নয় তানার্জী, দুঃখ এই জন্য যে, সমগ্র জাতি এই অত্যাচার নীরবে সহ্ন করছে দু’দশ বছর নয়, শতাব্দীর পর শতাব্দীকাল-পীড়নের দণ্ড কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে দেবার জন্য একখানি সবল বাহুও কেউ বাড়িয়ে দেয় না। অথচ পারে-তারাই পারে—এই অমানুষিকতা অসম্ভব করে ফেলতে, এই অত্যাচারের অবসান করতে। শিবাঙ্গী কিছুকাল স্থির রহিলেন। আমি তাই শক্তির আরাধনা করছি, আমি তাই তৈরি করতে চাইছি এমি একটা জাতি, যার প্রতিটিমানুষ নিজ নিজ অধিকার আয়ত্ত করে ধরণীর বুকে বেড়ে উঠতে পারে। তারই জন্য আমার রাজ্যের প্রয়ােজন। জানাজী। সে রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হবে শিব্বা। ভবানীর শক্তি নিয়ে খয়ায় তুমি এসেছ বন্ধু। মায়ের আশীৰ্বাদ লৌহকবচের মতােই তােমায় সর্বদা রক্ষা করছে। তােমার জয় অনিবার্য। পেশেন্স ও বন্ধু প্রফেশ কলি। পেশোয়া। মহারাজ।
গৈরিক পতাকা
শিবাজী। আসুন পেয়ে।
পোেরা। রঘুনাথ এক দুঃসংবাদ বহন কবে এনেছে মহারাজ।
শিবাজী। কোন দুর্গ অধিকারঢ়াত হয়েছে ?
বঘুনাথ। ন, মহাবাজ।
শিবাজী। কোন মেননীৰ পতন ?
পেশােয়। না মহাবীজ, তার চেয়েও দুঃসংবাদ। প্রভু শাহজী
আজ বন্দী।
শিবাজী। বন্দী । পিতা বন্দী।
পােশায়া। হ মহাবাজ, বদ্বনাথ সেই দুসংবাদই নিয়ে এসেছে।
শিবাজী। কে তাকে বন্দী করলে?
বঘুনাথ। বিজাপুব দরবার। মহম্মদ আদিল শাহের প্রয়ােচনা,
বাজী ঘােডপুবে বিশ্বাসঘাতকতা করে প্রভুকে ধরিয়ে দিয়েছে।
শিবাজী। বাজী দোড়পুরে।
পিতা যাকে ভাইয়ের সঙ্গে
ভালবাসতেন।
বনা। হা মহাবাজ, বিশ্বাসঘাতক সেই ঘােডপুবে।
শিবাজী ইন্তে জলৰে চারিদিকে পরিমণ করিলেন
তারপর রঘুনাথপর সম্মুখে দাড়াইয়া বলিলেন
শিবাজী। বন | |
রঘুনাথ। আদেশ করুন মহাবাজ।
শিবাজী। বিশ্বাসঘাতক এই ঘােডপুৱেকে শান্তি দেবার ভার আমি
তােমার উপর অর্পণ কবলুম।
শিবাজী তাজীর কাছে গেলে
শিবাজী। বিজাপুর জ করা কি অসম্ভব তানাজী। কােন
মোস•••মাকে সংবাদ দাও তানাজা
পেশােয়া। মহারাজ।
১০
গৈরিকপতাকা
[ ১ম অঙ্ক
শিবাজী। একটু অপেক্ষা করুন পেশোয়া আমি প্রঞ্জত ছিলাম
•• একটু অবসর দিন।
শিবাজী চঞ্চল হইয়া ঘুরিয়া বেড়াইতে লাগিলেন
বিশ্বাসঘাতক বাজী ঘােডপুবে আর অকৃতজ্ঞ আদিল শাহ ও
জিজাবাই পুত্রের সম্মুখে আসি দাড়াইতেই শিবাজী
আগেকম্পিত কণ্ঠে কহিলেন
শিবাজী। মা, মা, আমি এখানে দুর্গের পর দুর্গ জয় কবে ধৰ্ম্মৰাজ্য
-প্রতিভার কল্পনা কবছি, আর বিজাপুরে একান্ত অসহায়েব মতো পিতা
আমার বন্দী।
জিরাঈ। বীবপুৱেব কাছে এ কি এত বড় দুঃসংবাদ, যে সে ভাব
কর্তব্য বি কবতেও অসমর্থ ?
শিবাজী। সন্তানের প্রতি অবিচার কবাে না মা। বিজাপুব আমি
খুলাের সাথে মিলিয়ে দেব।
জিজাবাঈ। শিব্বা।
শিবাজী। আশীৰ্বাদ কর মা, যেন পিতাকে মুক্ত কবে’ অপবাধীদের
শাস্তি দিয়ে অবাব তােমার কোলেই ফিরে আসতে পারি।
জিজাবাঈ। আশা করি তুম চিবজয়ী হও। কিন্তু বিজাপুব
আক্রমণের সঙ্কল্প পবিত্যাগ কর শিব্ব।।
শিবাজী। সে কি মা? পিতা বলী।
জিজাবাঈ। বন্দী কে নয় শিব্বা? দুর্ভাগা এই দেশে কাবা-
গারের ভিতৰে বা বাইরে যে যেখানে রয়েছে, সে ই ত বন্দী,
সে-ই ত লাঞ্ছনা সইছে, নির্যাতন ভােগ করছে। সন্তান তুমি, পিতার
মুক্তির জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠবই , কিন্তু ভুলো না, তুমি শুধু সন্তান
নও,তুমি বাজা। প্রজা- সাধাবণেব মুক্তি ব্যবস্থা তােমাকেই
২য় । গৈরিক-পাকা শিবাজী। তা তো করবই মা। কিন্তু তার আগে আমি পিতার মুক্তি চাই। আমার সমস্ত শক্তি নিয়ে আমি বিজাপুরকে আঘাত করতে চাই। জিজাবাঈ। মহারাষ্ট্রকে গড়ে তুলতে তােমার পিতা এতটুকুও সাহায্য করেন নি। তিনি তার সমস্ত শক্তি নিয়ােগ করেছেন বিজাপুরের উন্নতি কামনায়। তিনি বন্দী থাকলে মহারাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে না। কিন্তু তার মুক্তির চেষ্টায় মহারাষ্ট্র যদি শক্তি ক্ষয় করে, তাহলে জাতির মুক্তির দিন পিছিয়ে যাবে শিব্বা! শিবাজী। (ক্ষণেক চিন্তা করিয়া) মা। জিজাবাঈ। কি শিব্বা? শিবাজী, কেমন করে এমন পাষালৈ বুক বাঁধলে, মা? জিজাবাঈ। শুধু মহারাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার জন্য। ওরে শিব্বা! আমি পাষাণী নই; বেদনার আঘাত আমায় কর্তব্য ভােলাতে পারে না, তাই মনে হয় আমি পাষাণী পেশােয়া। বিজাপুর আক্রণ করলে তার ফল ভাল নাও হতে পারে মহারাজ! আক্রান্ত হলে আদিল শা প্রভু শাহজীকে আরাে পীড়ন করতে পারে। হয়ত শিবাঙ্গী। বুঝেছি পেশােয়া ! পাষণ্ড পিতাকে হত্যাও করতে 1 পেশােয়া। সে আশঙ্কাও রয়েছে মহারাজ। শিবাজী। অকৃতজ্ঞ আদিল শা’র পক্ষে অসম্ভব কিছুই নয়। পেশােয়, আমি মুঘলের সঙ্গেই বন্ধুত্ব করব। আপনি আজই আগ্রায় সম্রাট সাজাহানের কাছে লােক পাঠান। বন্ধুত্বের বিনিময়ে আমি চাই আমার পিতার মুক্তি।
তৃতীয় দৃশ্য বিপুরের কারাগার। বন্দী শাজী গরাদে ধরিখ ঈডাইল আছেন। যে কক্ষে তাহাকে আবদ্ধ রাখা হইয়াছে তাহার বাহিরে বহু এর এব * খিবার মশলা জমা রহিয়াছে। শাহজী। শিব্বা। ভবানীর কাছে প্রার্থনা, সাধনায় তুমি সিদ্ধিলাভ অকৃতজ্ঞতা, আর অমানুষিকতা “অভিশাপের মতাে দেশের রাজ শক্তিকে পেয়ে বসেছে, জাতিকে ভূমি এই অনাচাব থেকে মুক্ত কর। সারা জীবন সমস্ত শক্তি দিয়ে বিঙ্গাপুরের সেবা কবলাম, খাব তার প্রতিদানে পেলাম এই নির্যাতন এই লাঞ্ছনা। আমার মুক্তির বিনিময়ে এর চাষ আমাৰ পুত্রে বশ্যতা। আশা কবে অকৃতজ্ঞতায় এই পরিচয় পেয়েও আমি নিজের জন্য পুত্রের সাধনা, জাতির ভবিষ্যং—সবই ব্যর্থ করে দেব। জীবনেব গােধুলিলগ্নে উপনীত আমি, কিসের আশায় কোন দুর্লভ বস্তুর আকাঙ্ক্ষায় আমার শিব্বাব আমার বংশের, আমার জাতির গৌরবেব পালের সম্মুখে হীন গােলামীব আদশ স্থাপন করব? বাজী ছাড়পুরে প্রবেশ কৰি শাহজী সরিয়া গেলেন ঘােডপুরে। বন্ধু শাহজি, তােমার এই নির্যাতন আমি আর সইতে পারছি না। শিব্বা ছেলেমানুষ, অপরাধ হয়ত করে ফেলেছে। তুমি প্রতিশ্রুতি দাও যে ভবিষ্যতে সে শিষ্ট হয়ে থাকবে। তাহলেই তুমি মুক্তি পাবে। ( শাহজির কান জবাব না পাইয়া) আমার উপর রাগ কর কেন বন্ধু। আমি বিজাপুবের নিমক খাই। সুলতানের-আদেশ ও অমান্য করতে পারি না। শাহজী মুক্ত বাতায়নের সম্মুখে আসিলেন শাহজী। বিশ্বাসঘাতক।
১৩
=
এর দৃশ্য ]
গৈরিক।
ঘােড়পুবে। ঘােড়পুবে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি, বন্ধু? সে তাৰ
সুলতানে আদেশ পালন ককেছে। সম্মত হও শাহজী, প্রতিশ্রুতি দাও
.যে তােমার পুত্র বিজাপুবের বশ্যতা মেনে নেবে।
শাহজী। বাৰ বাৰ এই ঘৃণিত প্রস্তাব নিবে তুমি আমার কাছে
এসে উপস্থিত হও কিসেব জন্ত বিশ্বাসঘাতক?
ঘােড়পুরে। আমার এই প্রস্তাব তুমি অত হীন বলে কেন মনে
কয় বন্ধু ? সারা জীবন তুমি নিজে বিজাপুরের সেবা করেছ,হীন কাজ
ত কৰ নি। তোমার পুত্র যদি সেই কাজ কবে, তা হলে তাও বীণ
কাজ হবে না। সুলতান আমাকে পাঠিযেছেন তোমার মত জানতে। শুধু
তােমার মুখ থেকে ওই কথাটি শুনতে পেলেই তিনি তোমাকে মুক্ত কবে
দেবেন।
শাহর্জী। তােমার সুলতানকে গিযে বল বিশ্বাসঘতক, শাহজী পুত্রের
বশ্যতাৰ বিনিমযে মুক্তি ক্রয় করে না।
ঘােড়পুবে। তােমাব পুল বিদ্রোহ কবেছে, কিন্তু তােমার রাজভক্তি
যে আমাদের আদশ।
শাহী। যাও, যাও প্রবঞ্চক, আমায ক্ষিপ্ত করে তুলো না।
শাহজী আবাৰ সনি গেলেন
ঘােডপুবে। আমায় অব যেতে হলাে না বন্ধু, অমিতগণ সহ
সুলতান নিজেই এদিকে আসছেন।
মুরারপ, রণহুলা খাঁ প্রভৃতি অমাত্যগণসহ
বিজাপুরাখিপতি আদিল শহ প্রবেশ নিলেন।
সঙ্গে কত রাজমিস্ত্রী এব প্রহরী।
আদিল। শাহজী সম্মত হয়েছেন?
ঘােড়পুরে। ঘােডপুরে বিশ্বাসঘাতক , সুতরা তার কোন কথাই
শাহজী শুনতে চান না।
১৪
গৈরিক-পভাক
[ মক
আদিল। বেশ! আমরাই প্রশ্ন করব। রণদুল্লা খা।
রণদুল খা। জনাব!
আদিল।: শাহজীকে বলুন যে, আমি তাকে দেখা দিতে এসেছি।
শদুল খাঁ অগ্রসর হইলেন। কিন্তু তিনি কাছে
পৌছিবার পূর্বেই শহলী দেশ দিলেন ।
শাহজী। বন্দীব অভিবাদন গ্রহণ করুন,জাহাপনা।
আদিল। শাহজী ! আমাদের বাধ্য হয়ে আপনাকে বন্দী কবতে
হয়েছে। আপনার পুত্র আমাদের রাজা আক্রমণ কবে আমাদের
একাধিক দুর্গ অধিকার করেছে। আমাদের বিশ্বাস, আপনি আপনার
পুত্রকে রাজদ্রোহিতা থেকে নিরস্ত করবার কোন চেষ্টাই কবেন নি।
শাহজী। জঁহাপনা অবগত আছেন যে, বিজাপুরের কল্যাণ কামনা
ব্যতীত অন্য কোন চিন্তু আমার নেই।
আদিল। আমাদের এতদিন সেই বিশ্বাসই ছিল। কিন্তু আমাদের
সন্দেহ হয়েছে যে, আমরা হয় ত অপাত্রে বিশ্বাস স্থাপন করেছি।
শাহজী। আমি বিশ্বাসহ, এই কি আপনার অভিযােগ ?
আদিল। আপনার পুত্রের এই কাজের প্রতি আপনার সানুভূতি
আছে?
শাহজী। আছে জাহাপনা।
আদিল। আপনি অপরাধ স্বীকার করছেন ?
শাহজী। পুত্র পতিত একটা জাতিকে মুক্ত করবার চেষ্টা করছে।
সে চেষ্টা সফল হৌক, পিতার এই প্রার্থনা যদি অপরাধ হয়,তাহলে
আমি অপরাধী।
আদিল। আপনার পুত্রকে আপনি এই কাজে উৎসাহ দিয়েছেন?
শাহজ। না, আঁহাপনা।
আদিল। তাকে নিষেধও করেন নি ?
গৈরিক পতাকা
১৫
শাহজী। না জাহাপনা।
আদিল। কেন ?
শাহজী। আমি জানতাম না। যখন শুনতে পেলাম, তখনই
আপনারা আমাকে বন্দী করলেন।
আদিল। আজ যদি আপনাকে মুক্তি দান করি, তাহলে আপনি
শিবাজীকে সংযত বাখবার চেষ্টা করবেন ?
শাহজী। জাহাপনা। পিতার কোন কর্তব্য কখনাে আমি পালন
কৰিনি। বিগত দ্বাদশ বর্ষকাল পরিবাৱেব সঙ্গে কোন সম্বন্ধই আৰি
বাখিনি। নিজের চেষ্টায় পুজ আমার কৃতিত্ব অর্জন কবেছে, সমগ্র
মাবহাঠাব গৌরবের পাত্র হয়ে উঠেচ্ছে, আর এখন কোন্ অধিকারে
আমি তাকে বলব তার আদর্শ ত্যাগ করতে?
আদিল। আমরা যুক্তি চাই না শাহজী—আমরা চাই যে, আমাদের
আদেশ আপনি পালন করুন।
শাহজী। এ আদেশ, আমি পালন করতে পারব না।
আদিল। অমাত্যগণ। শাহজীব মুক্তির জন্য আপনারা অধীর হয়ে
উঠেছিলেন—এবাব বুঝলেন যে, শাহজী কাজদ্রোহী।
বদুল্লা। জাহাপনা, শাহজী সত্য কথাই বলেছেন। শক্তিমান
শিবাঙ্গীকে ইকুম কববার কোন অধিকার এখন তার নেই।
মুরাবন্ত। ছেলে পিতাদের কথা আব শােনে না জাহাপন।
আদিল। বাজ্য-শাসনভাব যে দিন আপনাদের উপর অর্পিত হবে,
সেদিন আপনাদেব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা মত কাজ আপনা করবেন।
আপাতত বিতর্কে আমাদের আদেশ পালনে সহায়তা কবলেই আমরা
প্রীত হব।
ঘােড়পুরে। জাহাপনার প্রত্যর্থে আমবা জীবন বিসর্জন দিতে
গৈরিক পতাকা
[ ম স
দিল। শাহজী। আমি শেষবার জিজ্ঞাসা কবছি, আপনি রাজদ্রোহী
শিবাজীকে সষত করবেন কি না?
শাহজী। বাব বা ভুল বলবেন না, সোহাপনা। শিবাজী কেন
দিনই আপনার প্রভা ছিল না, সুতরা” সে বাজদ্রোহী হতে পারে না।
শিবাজী বিজাপুবেব দুগ জয় করেছে-বিজাপুরের শক্তি থাকে, বিজাপুর
তা কেড়ে নিক।
আপনি আমাদের কোনরূপ সহায়তা
আদিল।
শাহজী। শিবাজীব বিরুদ্ধে যদি বিজাপুব বুদ্ধ ঘােষণা কবে, আব
জাহাপনা যদি আমাকেই আদেশ কবেন সেই যুদ্ধের সৈনাপত্য গ্রহণ
করতে, কর্তব্যে অনুবােধে আমি তাও কবতে সম্মত জাহাপনা—কিন্তু
আমি নিজে বিজাপুবে ভৃত্য বলে পুলকেও তাব দাসত্ব বরণ কবে নিতে
বলতে পাব না।
আদিল। আমব আদেশ করলেও না?
শাহজী। ঈশ্বরের আদেশও নয়।
আপিল। বেশ, তাহলে আমাদের দণ্ডাদেশ গ্রহণ কব কাফেব।
শাহজী। দাস প্রস্তুত আঁহাপনা।
আদিল। বাজদ্রোহের অপরাধে তােমাকে আমিবা মৃত্যু দণ্ডে দণ্ডিত
শাহঙ্গী।
এবাব বুঝতে পারলাম, জাহাপনা সত্যই আমাকে সেই
আদিল। ব্যঙ্গের প্রয়ােজন নেই কাফের।
পাহজী। বঙ্গ নয় জাহাপনা। মৃত্যুই আমাৰ মুক্তি। আমি
ভেবেছিলাম প্রতিহিংসাপরষণ বিজাপুরাধিপতি বুঝি আমরণ আমাকে
এই কারাগৃহেই আবদ্ধ রাখবেন।
গৈরিকপতাকা
১৮
আদিল। তাই রাখব, শাহজী।
শাহজী। মৃত্যু দণ্ড কি প্রত্যাহার করলেন জাহাপনা ?
আদিল। না না, কারো প্রাচীরগাত্রে গৰাক্ষের মতো এই যে
মুক্ত স্থান বষেছে, তাও পাথর দিয়ে আজ গেঁথে দেবে। কুদ্ধ ওই
শল্প-পবিসব কাবাগৃহেব আর কোথাও এতটুকু ছিদ্র বাখিনি, শাহজী।
খাদ্যের অভাবে, আলােব অভাবে, বাযুব অভাবে, ৰুদ্ধ ওই কক্ষতলে
পলে পলে তুমি মৃত্যুব কোলে ঢলে পড়বে। অনাহারক্লিষ্ট ক্ষীণ তােমার
কণ্ঠস্বর পৃথিবীর কোনও পশীব কানেও পৌছুবে না, মৃত্যুর ছাষা পতিতু
তােমার সেই বীভৎস মটি কারাে দৃষ্টিপথে পতিত হবে না-সকলের
অজ্ঞাতে তোমাব কঙ্কালসার দেহ জীবনের শেষ শক্তিটুকু হারিযে ওইখানে
পীও হযে পড়ে থাকবে।
শাহজী। অকৃতজ্ঞ।
আদিল। আমবা শাহজাব প্রতি মেহবান, না? বাজীসাহেব ?
ঘােডপুরে। জাহাপনা।
আদিল। আমাদের আদেশ কিরূপ ছিল ?
ঘােডপুবে। জাহাপনার আদেশ অমান্য করবে কে ?
ঘােডপুরে ইঙ্গিতে রাজমিস্ত্রীর অগ্রস
হইলে এবং প্রাচীরের মুক্ত স্থানে পাথর
পাখিতে লাগিল।
রণদুল্লা খ। আহাপনা, এই দৃশ্য আমাদের দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখতে
আদিল। সেইরূপই আমাদের অভিপ্রায়।
রায়পন্ত। কিন্তু আমাদেব অপরাধ?
আদিল । অপরাধ কিছুই নয়। আপনারা শাহজীর বন্ধু শেষ সময়ে
তাকে পরিত্যাগ করবেন না।
২
.
গৈরিক পতাকা
।
রণদুল্লা খাঁ। যদি আমবা কোন অপরাধ করে থাকি, আমাদের
শান্তি দিন, জাহাপনা। কিন্তু এই নিষ্ঠুব হত্যাকাণ্ড দেখবাৰ দণ্ড থেকে
আমাদের অব্যাহতি দিন।
আদিল। আপনাবা দীর্ঘকাল বিজাপুর দুববাবে কাজ করছেন, আদিল
শাহকে চেনেন নি। আদিল শাহ তাব জুত্যদেব বশ্যতা চায়, তাদেব
rউপদেশ চায় না। শাহজীকে জিজ্ঞাসা করুন, সে মত পবির্তন কবেছে
কি না।
শাহজী। শাহজী প্রাণের মাথায় পুত্রের তপকাব ক ব না।
রণদুল্লা খাঁ। জাহাপনা, নতজানু হযে আমব প্রার্থনা কবছি
শাহজীকে অন্য শাস্তি দিন-বিজাপুকের উপব খােদাব অভিশাপ টেনে
পানখেন না।
আদিল। আমাদেব কি এৰি আবে দুইটি কাবাকক্ষ তৈরি করতে
হবে, রণদুল্লা খাঁ ? বাজীসাহেব।
ঘােড়পুবে। জাহাপনা।
আদিল। কাৰ্য্য সমাপ্ত-প্রায়। শাহজীকে শেষবাব জিজ্ঞাসা করুন।
ঘােড়পুবে। বন্ধু শাহজী। সম্মত হও। জাহাপনার আদেশ পালনে
সম্মত হও, শাহজী। আমাদের সকলের অনুৰােধ
শাহজী। তােমার সুলতানকে বল বিশ্বাসঘাতক, শহুজী ক্ষত্রিয়,
রাজপুত যুক্ত তার ধমনীতে প্রবাহিত পুত্র তাৰ লিজী-মৃত্যুকে সে
করে না।
আদিল। রুদ্ধ কারাকক্ষে বীরত্ব দেখবার অলন্ত অবসর তুমি পাবে,
শাহজী। আমরা তােমায় সেই সুযােগই দিলাম।
প্রহরী বেশ করিল
প্রতিহারী। জাহাপনা, মুঘল দূত অপেক্ষা কৰছেন।
দিল। মুঘল দূত। এখানে কেন ?
৪র্থ দৃশ্য
গৈৰিক-পতাকা
প্রতিহারী। তিনি বল্লেন, এখুনি তাঁকে আঘাষ ফিরে যেতে হবে।
তে প্রবেশ
দত। জঁহাপনা, সম্রাটের আদেশপত্র। আপনি এই আদেশ পালন
• করতে সম্মত আছেন কি না, তাই জেনে এখুনি আমাকে আগ্রায় ফিরে
যেতে হবে।
দত্ত আদেশ পল দিল। আলি
শাহ পত্র গ্রহণ করিয়া পড়িলেন।
আদিল । শিবাজী বীজ কিনা জানি না—কিন্তু সে চতুব। চলুন
মুঘল-দূত, আমবা পত্র লিখে দিচ্ছি যে, সম্রাটের আদেশ সদাই
শিবােধায্য।
আদিৰ শাহ ও মঘল দূত রাহির হইয়া গেলেন
চতুর্থ দৃশ্য
কয়েকজন সাধারণ লােক পথ চলিতে চলিতে
আমি দাড়াইল
১ম। যাই ই ল বাবা, বাহাদুবী আছে। বড় বড় কিলাদারদের
সােল খাইয়ে কিল্লাব পুর কিল্লা দখল করে নিচ্ছে।
২। লােকটা শুনেছি বহুরূপী।
৩। বহুরূপী কি বকম ?
২। একটিবার দেখে স্বরূপ বোঝা যায় না। কখনাে কালাে, কখনাে
ফর্সা, আবার কখনাে বা একেবাবে নবজলধব শ্যাম।
২০
গৈরিক পতাকা
[ ১ম অফ
১ম। আব দুর্গের পর দুর্গ যে জষ করছে, তা ওই বহুরূপী
সেজেই।
২য়। কখনো ঘেসে হয়ে দিনের বেলায় দুর্গে ঢুকে পড়ে, রেতে
করে রাহাজানি—কখনাে একেবারে সন্ন্যাসী ঠাকুব, এই জটা, এই দাড়ি,
খটাং মটা বচন—দুর্গে যাওয়া আর দুর্গাথিপতিকে একেবাবে মন্ত্রশি
৩য়। তাই বল। নইলে যুদ্ধ করে ঢাল তরেবাল দিয়ে ডে ?
উচ্ছ হতাে না-কিছুতেই হতাে না।
১ম। কেন হতাে না, শুনি?
২। হ হে, কেন হতাে না বল ।
৩য়। কি করে হবে? একটা তাবু পড়ল না, কুচ কামােজ কিছুই
কোন দিন দেখলাম না-অথচ শুনছি দুর্গ ই জয কবছে দুগই জ্য কবছে।
২য়। আমি যখন যুদ্ধ করতাম
১ম। তােম। আবার যুদ্ধ কবতে নাকি ?
৪। কবতাম না। ঘোরতর যুদ্ধ করতাম।
কবে ?
-২। ষবন যখন সিন্ধুপাবে এসেছিল তখন আমার পূর্বপুরুষবা
মানুষের মাথা দিয়ে গেণ্ডুয়া খেলেছিলেন।
৩। ই ঠিক কথা। তখন তাদের পায়েব পে পৃখিবী কেঁপে
১ম। অার তাবে আগে-
১। তারও আগে আাদেব পূৰ্বপুৰুষরা পবন নন্দন হুহু বাবা,
শাস্তর টাস্তব ত পড়নি।
৩। শাস্ত্র আর পড়তে হবে না, ওদিকে শাস্ত্রপাণি সৈনিক আসছে,
দেখতে পাচ্ছ?
৪র্থ দৃশ্য ]
গৈৰিক পতাকা
২১
২২। ওরে বাবা, সত্যিই ত রে ।
১ম। কেন, তােমার পূর্বপুরুষরা না মানুষের মাথা দিয়ে
গেণ্ডুয়া খেলতেন? তুমিও একবাৰ সেই খেলা দেখিয়ে দাও না
ওস্তাদ।
১। না ভাই, তামাসা নয। দেখতে পাচ্ছ, ওরা কাক যেন বন্দী
কবে নিযে আসছে—পেছনে আবার একখানি শিবিকা।
য। এখানে দাড়িয়ে থাকলে বেগাব খাটাবে। চ, কাছে কোখও
গা ঢাকা দিয়ে কাণ্ডটা কি তাই দেখি।
১ম। বুদ্ধিমানেব মতােই কথা কযেছ দাদা চল তাই ই যাই।
নাগরিকরা ডান দিক দিযা প্রস্থান করিল।
বা দিক দিযা শৃঙ্খলাবদ্ধ মুলা আহম্মদকে
টাশিতে টালিতে একল মাৱহাঠা সৈনিক
প্রবেশ করিল। পিছনে শিবিকা
বিশ্বনাথ। এইখানে একটু বিশ্রাম কব।
মূলানা মহম্মদ। কাফেবের কাছে করুণ প্রত্যাশা করি না। যুদ্ধে
পরাজিত হযেছি আত্ম বলি দিতে পারিনি। তাই পীডন আমার প্রাপ্য।
কিন্তু আমার পুত্রবধূ স্বামীহীনা ওই বালিকা এব মৰ্যাদা রক্ষা করবার
শক্তি থেকে আষ বঞ্চিত করো না খােদা।
মেহেব। [ বিভ্যন্তর হইতে ] আমার জন্য চিন্তিত হবে না
বাবা । আমাৰ মৰ্যাদা বক্ষা কববব উপায আমার কাছেই আছে।
মুলানা আহাম্মদ। 'কি সে উপায় মা ? আত্মহত্যা ?
মেহেব। সে ব্যবস্থাও কবে রেখেছি।
মুলানা আহম্মদ। মা। মা ।
শিবকার দিকে অগ্রসর হইতে ষ্ট
করলেন। সৈনিকরা বাধা দিল
গৈরিক-পতাকা
[ ১ম অঙ্ক
বিশ্বনাথ। খবৰদাব। তুমি ভুলে যাচ্ছ, তুমি আমাদের বন্দী। আমাদেব
অনুমতি ব্যতীত কারু সঙ্গে কথা কইবার অধিকার তোমার নেই।
মুলানা আহাম্মদ। মা, হস্তপদ অামার বদ্ধ, কও ওরা শাসনে
রােধ করতে চায়। অসহাষ অক্ষম আমি। তবুও বলে রাখছি মা,
আমায় অজ্ঞাতে অন্তিম উপায় অবলম্বন করে না। শিবাজী যদি
সত্যই শয়তান হষ
বিশ্বনাথ। খাবদার।
মুলানা আহাম্মদ। তাহলে আমি তােমার অনুমতি দোষ•• হুঁ মা,
স্থির ভাবে অনুমতি দোব। সে অনুমতি দিতে কণ্ঠ আমার একটুও
কেঁপে উঠবে না, চোখে আমার এক ফোটাও জল দেখা দেবে না,
বুক থেকে একটি দীর্ঘশ্বাসও বাইরে বেরুবে না।
বিশ্বনাথ। বন্দীকে আগে নিয়ে যাও শিবিকার সঙ্গে আমি পরে
যাচ্ছি।
সৈনিকগণ। চল, সাহেব, চল।
সৈনিকেরা মুশানা আহম্মদকে
টালিতে লাগিল
মুলানা আহাম্মদ। মা, আমাকে একা তোমার কাছে থাকতেও
দেবে না। ভেবেছিলাম তােমাৰ মৰ্য্যাদা রক্ষায় শেষ চেষ্টা করে আত্মবলি
দেব- কিন্তু তা আর হলো না। তােমাকে এফেরে অসহায় রেখেই
আমায় যেতে হলাে।
মেহেব। বাবা, আমি অসহায় নই। মুসলমান কুলবধূ জাৰে তাৰ
শক্তি কোথায়। আপনি নিশ্চিন্ত মনে যান বাবা
মুলানা মহম্মদ। আর যদি দেখা না হয়—
মেহের। ইহলোকে না হয়, পরলােকে হবে। আপনার পুত্র ত
নেইখানেই অপেক্ষা করছেন।
৫ম দৃশ্য ]
গৈরিক-পাকা
২৩
মুলানা আহাম্মদ। যা! মা!
বিশ্বনাথ। নিয়ে যাও।
সৈনিকরা জোর করিয়া মুলালা
আহম্মদকে লইয়া গেল
বিশ্বনাথ।
কল্যাণ য় করিছি, কিন্তু তার শাসনকর্তা হতে
পারিনি। সারাটা জীবন শুধু আদেশ পালন করবার জ, পাহাড়ে
অরণ্যে ছুটোছুটি করে বেড়িয়েছি। এবার চাই শান্তিতে দিন কাটাতে,
একটুখানি আরামে থাকতে। যে সম্পদ আমি এই শিবিকায় নিয়ে যাচ্ছি,
তা উপঢৌকন পেলে মহারাজ, প্রীত হয়ে আমার প্রার্থনা অবশ্যই পূর্ণ
করবেন। এই শিবিকা তােল।
বিশ্বনাথেৰ পিছনে পিছনে বাহকেরা শিবিকা লইয়া চলি
পঞ্চম দৃশ্য
শিবাজীর বার। শিবাজী সিংহাসনে বসিয়া আছে, পাত্রমিত্র সকলেই চিন্তামগ্ন।
শিবাজী।বিজাপুরে দুরভিসন্ধির সকল কথা আপনারা অবগত
আমি সাপেয়েছি আদিল শাহ আমাকে কৌশলে বন্দী
করবার অভিপ্রায়ে গালীর চন্দ্ররাওয়ের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমি
যদি বুঝতাম যে আমার আত্মসমর্পণের ফলে মহারাষ্ট্রে মঙ্গল হবে,
তাহলে তাই-ই আমি করতাম। কিন্তু মহারাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থায়
মহারাষ্ট্র আমাকে বলি দিতে পারে বলে আমার মনে হয় না।
পেশােয়া। মার্জনা করবে, মহারাজ। বিজাপুরের অভিসন্ধি অবগত
ছিলাম না বলেই বিজাপুব আক্রমণে মত দিতে আমি দ্বিধাবােধ করেছিলাম।
২৪
গৈঃপতাকা
[ ১ম
শিবাজী। বিজাপুরের বাজী শ্যামরাও দশ শহর সৈন্য নিয়ে
চরাওয়ের সাহায্যর্থে প্রস্তুত হচ্ছে, সে সংবাদ আমি পেয়েছি।
চরাওয়ের সঙ্গে শ্যামরাওকে পরাস্ত করতে পারলে বিজাপুর বিশেষ গবেই
ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারপরও যদি না বিজাপুর তার দুরভিসন্ধি ত্যাগ কবে,
তাহলে কর্তব্য সম্বন্ধে আমাদের দ্বিমত বা বহুমত হবার কোন কারণই
থাকবে না।
রঘুথ প্রবেশ করিলেন
রঘুনাথ। মহারাজ।
শিবাজী। কি বঘুনধ ?
রঘুনাথ। বিজাপুরের একদল মুসলমান সৈনিক আপনার নিকট
প্রতিনিধি প্রেরণ করেছে—তাদের প্রার্থনা নিবেদন করতে।
শিবাজী। বেশ, তাদের এখানেই নিয়ে এস।
রঘুনাথ ইঙ্গিত বলেন। তিন মুসলমান
অ সিয়। শিবাজ কে অভিবাদন করিল
শিবাজী। তােমবা বিজাপুবেব প্রজা?
ম। মহারাজ, আমবা অশষ প্রার্থ
শিবাজী। কেন, বিজাপুর কি তোমাদের আশ্রয়দানে অসমর্থ ?
১ম। বিজাপুরে আমাদের উপর বড় জুলুম চপেছে মহারাজ।
তাই আমরা সাতশত মুসলমান, স্থির করেছি, ঔত্র পরিবার নিয়ে
আপনার আশ্রয়ে বাল কবব।
শিবাজী। কিন্তু আমার আশ্রয়ে কেন ? সমগ্র ভারতবর্ষ মুঘল
তা ছাড়া, মুসলমান নরপতিও দেশে বই আছেন।
আশ্রয়প্রার্থী হয়ে তাদের কাছে যাওনি কেন সৈনিক।
২। মগাবাজ। অধীদের আশ্রয়ে থাকলে ধৰ্ম্মাচরণে আমাদের
কোন অসুবিধা হবে না, তা আমরা জানি। কিন্তু মহারাজ, আমরা
অধিকৃত।
৫ম দৃশ্য ]
গৈরিক পতাকা
দরিদ্র। দবিদ্র হিন্দুই হােক আর মুসলমানই হােক, সর্বত্রই
সমান নির্যাতন ভােগ কবে। সামবা আপনার চরণেই আশ্রয়
• প্রার্থনা কবি।
শিবাজী। কিন্তু তোমবা কি শােননি ধে, শিবাজী গাে ব্রাহ্মণ
বক্ষাৰ্থ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছে। আর সেই কাৰণে মুসলমান মাত্রেই
তাকে শক্ত বলে মনে কবে ?
১ম। তাও শুনেছি মহাবাজ। কিন্তু তবুও পত্র পবিজনদেব বাঁচাবাব
জন্য আমরা আপনাব আশ্রয়ে আসব বই স্থিব করেছি।
শিবাজী। উত্তম, তােমরা এখন বিশ্রাম কব গে, যথাসময়ে আমাদের
অভিমত জানতে পাবে।
সৈনিকগণ প্রস্থান কলি
.
পেশােবা। আমাৰ মনে হষ এ সবই আদিল শা’ব চক্রান্ত।
শিবাঙ্গী। অসম্ভব কিছুই নয় পেশােষা। কিন্তু শঠেব চক্রান্তকাল
ছিন্ন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আপনারাই বলুন, কোন উদ্দেশ্যে আদিল
শাহ (দব এখানে পাঠাতে পাবে?
(শশা। চন্দ্ররাও যখন আমাদের রাজ্য আক্রমণ কববে, তখন
এই সাশত মুসলমান আমাদেব এখানে বিপ্লব সৃষ্টি করবে।
শিবা। আদিশ শাহ কি মহারাষ্ট্র শক্তিকে জানে না, পেশোয়া ?
আর যদি সেই !্যই থাকে, তাহলেই বা সাতত সৈনিক স্ত্রী-পুত্র
নিয়ে আমাদের আশ্রয় চাইবে কেন?
পেশােয়া। তাহলে আপনি কি অনুমান কবেন মহাবাজ ?
শিবাজী। আমি এদেব যথাই *ত্য বলে মনে কবি। আমি জানি,
দবিদ্ৰ প্ৰজা, হিন্দুই হােক অব মুসলমানই হােক, বাজ অত্যাচার সমানেই
তাদেব সইতে হয়। সেই অত্যাচাবে অতিষ্ঠ হযেই এ আমাদের কাছে
আশ্রয় প্রার্থী হয়ে এসেছে।
২৬
গৈয়িক পতাকা
[ অ অঙ্ক
পেশােয়া। কিন্তু মুসলমানকে আশ্রয় দেওয়া কি আমাদের উচিত
মহারাজ?
শিবাজী। কেন নয় পেশে ধ?
ঘুনাথ। আমবা তাহলে বুজ করছি কার সঙ্গে মহারাজ ? কার
উপদ্রব থেকে মহারাষ্ট্রকে রক্ষা করতে চাইছি ?
শিবাজী। মুসলমান রাজশক্তির। দরিদ্র মুসলমান প্রজারা ত
উৎপীড়ন কবে না তাবা ত মহারাষ্ট্রকে গ্রাস কবতে চায় না। তারা
মাতৃভূমিকে শস্যশালিনী করে, দেশের সকলের জন্য তারা কবে স্বার্থ
বিসর্জন। সাতত মুসলমান আমাদেব কোন ক্ষতি করতে পারবে না
পেশোয়া
মহাব • তব শক্তি সম্বন্ধে একেবারে অচেতন নয় বধুনাথ,
তুমি ওদেব বণ যে ওরা আশ পাবে।
একজন প্রতিমারী পবেশ কবল
প্রতিহারী। কল্যাণে অধ্যক্ষ বন্দীসহ বাইবে অপেক্ষা করছেন।
রঘুনাথ প্রস্থান করিলেন
বিশ্বনাথ বলীসহ প্রবেশ করিলেশ
বিশ্বনাথ। মহারাজের জয় হােক।
শিবাজী। ইনি কে বিশ্বনাথ ?
বিশ্বনাথ। কল্যাণের ভূতপূব্ব শাসনকর্তা মুলানা আহা ।
মূলানা আহাম্মদ। শিবাজী। শুনেছিলাম তুমি থাক উদাব চবিত,
বীরপুরুষ। কিন্তু এখন দেখছি তুমি মূর্তিমান শয়তান *
অমাত্যগণ। মহারাজ।
শিবাজী হন্তদ্বারা ইঙ্গিত করিয়া তাহাদিগকে নিরন্তু
হইতে বলিলেন
মুলানা আহাম্মদ শয়তান। এই তােমার কীর্তি।
শিবাজী। কল্যাণ অধিকার কবেছি বলেই কি আপন আমার প্রতি
এত ক্ষুদ্ধ হয়েছেন
২৮
?
ম দৃশ্য ]
গৈরিক-পতাকা
মুলানা আহাম্মদ। জাহান্নামে যা কল্যাণ। তাতে আমার কোন
ক্ষতি নেই। কিন্তু পরাজিত শত্রুর প্রতি তােমার এ কি আচরণ,
কাপুরুষ?
শিবাজী। পরাজিত শত্রুকে বন্দী কর্ম কি রাজনীতূি-বিরােধী কাজ
মুলানা সাহেব।
মুলানা আহাম্মদ। আর নারীর লাঞ্ছনা, তার প্রতি অত্যাচার, তার
মৰ্য্যাদাহানি? তাও কি রাজনীতির একটা অঙ্গ?
শিবাজী। আপনি কি বলছেন মুলানা সাহেব।
লানা আহম্মদ। শঠ! তােমার এই সহচর, লম্পট এই বিশ্বনাথ,
আমার পুত্রবধূকে, অসুস্প মুসলমান কুলবধুকে নিয়ে এসেছে তােমার
পাশবিকতারনলে আহুতি দিতে।
ঙ্গিী দুই হাতে কাল ঢাকলেন।
তাহার পর লাফাইয়া উঠিলেন
শিবাজী। সত্য ! সত্য বিশ্বনাথ।
বিশ্বনাথ মাপ নীচু করিল
শিবাজী। নীরব রইলে কেন ? তানাজী, বিশ্বনাথ নীরব কেন?
নারীর লাঞ্ছনা, নারীর প্রতি অত্যাচার, মাতৃতির অবমাননা। অমাত্যগণ,
মহারাষ্ট্রের কতিষ্ঠা সম্ভবপর নয়। সেনানায়ক যেখানে এমি অপদার্থ,
রাজা যেখানে লটু বলে বিবেচিত—সেখানে ধৰ্ম্মাজ্য প্রতিষ্ঠার কথা।
দারুণ পরিহাস। আপনারা আমায় অব্যাহতি দিন-এ রাজ্যে আমার
প্রয়ােজন নেই।
জিকা প্রবেশ করিলেন
জিজাবাঈ। শিব্বা!
শিবাজী। মা, মা! আমাবই এক সেনানায়ক আমাকে লম্পট মনে
করে কুলমহিলাকে বন্দিনী কবে এনেছে আমায় উপঢৌকন দিয়ে খুণী,
করতে। এতবড় অপমানও অামাকে সইতে হবে?
গৈরিক-পতাকা
[স অৰু
জিজাবাঈ। কেন সইতে হবে শিব ? অপরাধীকে শান্তি দাও।
চরমদণ্ডে তাকে দণ্ডিত করতে না ভবিষ্যতে কেউ আর এই হীন
কাজে প্রবৃত্ত হয়।
পৰিচাৱিকা মেহেরকে লইয়া প্রবেশ করিল
মেহের। শক্তি দাও, প্রভু, শক্তি দাও।
মুলানা আহম্মদ। মা, মা, তােমার এই লাঞ্ছনা!
'শিবাজী। এখানে কেন! অসূৰ্য্যস্পশ্যা এই মুসলমান কুল-মহিলাকে
এই একা দরবারে আনবার অনুমতি তােমায় কে দিয়েছে বিশ্বনাথ ?
জিজাবাঈ । (মেহেরের কাছে গিয়া) যদি এসেছ মা, তা হলে
অন্তঃপুরে চল। তােমার মর্যাদা রক্ষা আমাদের ধর্ম।
শিবাজী। মা। সন্তানের অপরাধ ক্ষমা কৰ মা! অযােগ্য লােকের
উপর কাৰ্যভার ন্যস্ত করেছিলাম বলেই মায়ের এই লানা। মুলানা
সাহেব, আপনাবা শিবাজীর বন্দী নন-আপনারা শিবাজীর অতিথি।
বিশ্রামান্তে মাকে নিয়ে যথেচ্ছ আপনি যেতে পারেন। আব তুমি মা,
যদি পার ত যাবার আগে একটিবার বলে যেয়ে যে, মারাঠাদের তুমি ক্ষমা
দ্বিতীয় অফ
প্রথম দৃশ্য
ভাবলী দুর্গের একটি কক্ষ। শ্যামলী একা বসিযা গান গাহিতেছিল। 'বীরাবাঈ
প্রবেশ করিল। গামলীতাহাকে দেখিয়া গান বন্ধ করিয়া ঈষৎ হাসিল,
তারপর আবার গাহিতে লাগিল। বীরাবাঈ অত্যন্ত
অসহিষ্ণু হইয়া উঠিল।
গান
হায় সজনী, হার সজনী।
যৌবনের মৌ মেখে তাের যায় যে প্রভাত
ফুরিয়ে দিনের বেলার ভাল
চাদর আলো গাঁথলে মালা
কোন মণিকার খুজবে বল গােপন তােমার রূপের খনি।
ফুলের কত ফুলঝুরি ঐ
ফুলের হাওয়ায় ফুল বাড়ীতে,
এমন সমষ বিধবে কেন
ফুলের ঝাঁটা তাের শাড়ীতে
ফুলের বাণে নেই কে ব্যথা
জনেই তােমার মনের কথা
বুকে বীণায় তাই তাে বাজে কোন্ পথিকের পাগলী।
বীরা। শ্যামলী, তুই আমায় পাগল করবি।
শ্যামলী। পাগল কবর যে, সে পাগল করেই চলে গেছে!
বীরা। শামলী!
এ
গৈরিক পা
[২া ক
শ্যামলী। সই ।
বীরা। সত্যি বলছি, যখন-তখন গান গেয়ে তুই আমায় বিরক্ত
করিনে। জীবনে তাের কি কোন উদ্দেশ্য নেই ?
শ্যামলী। আছে বৈ কি জীবনের উদ্দেশ্য নেই।
বীৰা। কি উদ্দেশ্য শুনি?
শ্যামলী। বলব?
বীয়া।
বল না।
আমলী খীরার কানের কাছে মুখ লইয়া
শ্যামলী। একটি পতি অন্বেষণ । এখন একটিও জুটছে না বলেই
জীবন যাঁকা ফাঁকা মনে হচ্ছে। কঁাধেব উপব অপদেবতার আবির্ভাব
যে-দিন হবে, সেইদিন থেকে এ সব বদ অভ্যেস বদলে যাবে।
বীরা। পরিহাস নয় শ্যামলী। জীবনের একটা উদ্দেশ্য স্থির কবে
নেওয়া দরকার।
শ্যামলী। তা আর দরকার নয়।
বীরা। আমার জীবনে কি উদ্দেশ্য জানিস ?
শ্যামলী। জানি।
বীরা। জানিসনে। আমার জীবনের উদ্দেশ্য শিবাজীকে শান্তি
দেখা।
হামলী একটু চমকিয়া উঠিলা পিছনে সরিয়া গেল।
তারপর ধীরে ধীরে তার কাছ আল হল
শ্যামলী। তার অপরাধ?
বীরা। অপরাধ নেই শ্যামলী ? আমার শান্তিকাননে যে আগুন
ধরিয়ে দিল, রুদ্রের ডমরু বাজিয়ে যে আমার ভােলানাথকে উন্মুক্ত করে
তু, যে আমার বুকের মাঝে মরুর হাহাকার জাগিয়ে দিল—ল আমার
কাছে অপরাধী নয়। ফায় আধানে শ্যামলি, কার আবাৰে সে আমায়
উপেক্ষা কবে চলে গেল ? কবি আকষণে সাবেব সকল বন্ধন তুচ্ছ
করে সে বন্ধুর পথে যাত্রা শুরু করল? তুই ত সবই জানিস শ্যামলি।
তুই ত জানিস শিবাজী আমার কী সর্বনাশ করেছে।
শ্যামলী। তাের ব্যথা আমি বুঝি। কিন্তু সই, বিশ্বাস কৰি
শিবাজী মহামানব, মহারাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার জন্যই তার আবির্ভাব। তাব
সেবায় যারা জন্ম নিয়ােগ করতে পারে, তঁাব। ধন্ত , জীবন তাদের
সার্থক।
বীরা। তাই যদি মনে করিস তাহলে এখানে আর বসে আছি
কেন? সেই মহামানযেৰ চৰণতলে আশ্রয় নে না।
শ্যামলী। তাই ই যাব বাবা। একটু আগে তুই জিজ্ঞাসা করেছিলি,
জীবনের কি কোন উদ্দেশ্যই অমাব নেই ?--আছে বীব। সে উদ্দেশ্য
হচ্ছে শিবাজীর মন্ত্রে দীক্ষা নেওয়া তার সেবায় আত্মনিষােগ ।
বীব। তুইও এই কথা বলছিস।
শ্যামলী। আমার অন্তব-দেবতা অন্তবে থেকে এই আদেশেই অসন্তু
কবেছেন।
বীরা। না, না, শ্যামলী, তােব ও কথা সত্যই নয়,-বল তুই পরিহাস
করছিস, বল তুই মিথ্যে বলছি।
শ্যামলী। না সই এ পৰিহাস ও নৰ মিথ্যে নয়। সত্যিই আজ
আমি বিদাষ নেবার জন্য প্রস্তুত।
शामनोजनकालान
বী। শ্যামলি ।শ্যামলি ।
ত হার অসুসৱণ বলি।
চও ও পৰ্যও প্রবেশ করল।
চরাও। কি স্পন্ধা এই শিবাজীর, সূৰ্যরাও, যে সমান্ত এক
জায়গদার হয়ে সে চায় সমগ্র মহারাষ্ট্রকে গ্রাস করতে। নির্ষেণ জানে
গৈরিক পতাকা [ ২ অঙ্ক না ৰে, বিঙ্গাপুর তার সঙ্গে খেলা করছে। সমষ যখন উপস্থিত হবে, তখন এক ফুৎকারে সে শিবাজীর এই খেলনা রাজপাট উড়িয়ে দেবে। সূৰ্য্যবাও। সমগ্ৰ মহাৰ খন তার সহায়তা কবছে, তখন আমরাই ৰ৷ তার বিরুদ্ধাচরণ করি কেন? চন্দ্ৰবাও। সকলের মতো অমৰাও মুখ নই বলে। সূৰ্য্যবাও। কিন্তু শিবাজী ত জাতির হিতসাধন করতেই চায়। চন্দ্রাও। শিবাজী যেমন স্বার্থপর তেমনই চতুর। সে নিজে চাষ রাজ্য, কিন্তু তার নাম দেবে ধম্মবাজ, যাতে দেশে লােক তার প্রতি কাজে সায় দেয়। নইলে ধবাজ প্রতিষ্ঠাই যদি তার কাম্য হবে, তাহলে পদে পদে ছল-চাতুরী করবে কেন? সূৰ্যরাও। তবু মুসলমানের অত্যাচার থেকে ৩ দেশ মুক্তি পাবে। চন্দ্ররাও। অত্যাচাব কেবল মুসলমানই করে না সুষ্যবাও। এই শিবাজীই কি কম অত্যাচার করছে ? আমারই কতবড় সর্বনাশ ল করল বল ত। বান্দও কথা আমার-রূপে গুণে অতুলনীষা , লােকে যাকে লক্ষ্মীর সাথে তুলন, কবে সেই বীব আজকার জন্য এতবড় আঘাত বুক পেতে নিযে জীবন্ম ত হয়ে রয়েছে? রণকে কে মাহমন্ত্রে জয় করে সংসার থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে - সতনি ওই শিবাজী। কেবল এই জন্যই ৩ শিবাঙ্গীকে জীবনে কখনাে ক্ষমা কবতে পারি না। সূৰ্যৱও। কিন্তু বিজাপুর কি সত্যই আমাদেব সাহায্য করবে ? চরও। দশসহস্র সৈন্য নিয়ে বাজী শ্যামর ও আমার সঙ্গে যােগ দেবার জন্য বিজাপুর ত্যাগ কবেছে। শিবাজী দুগ লুণ্ঠনেই ব্যস্ত, সন্দেহও করবে না যে, আমবা তাৰ ধ্বংসের এই বিরাট আয়োজনে উদ্যত। যখন সে জানবে, তখন প্রতিরােধ কৰবাৰ শক্তিও তার অ{ থাকবে না। সূর্যরাও। কিন্তু
স]
গৈৰিকপ
চন্দ্ররাও। আর তর্ক নয় ভাই। শিবানী আমাদের পরিবাবের শান্তি
লােপ করেছে-আমাদেব জাতিকে ধসের পথে ঠেলে নিয়ে চলেছে,
সুতরাং শিবাঙ্গীকে শাস্তি দেওয়াই আমাদের।
ষােড়পুরে প্রবেশ করিল
ঘােডপুবে। সত্য চাও। শিবাজীকে শাস্তি দেওয়া আমাদের
চাও। কে, ঘােডপুরে? তুমি তুমি বন্ধু।
সূৰ্যও যহিরে চলিয়া গেলে
ঘােডপুবে। হাঁ, আমি বন্ধু, ঘােডপুবের প্রেত নয়, জীবন্ত ঘােডপুরে।
শুনলাম তুমি শিবাজীব সর্বনাশেব আয়ােজন করছ, তাই খুশী হয়ে
ভােমাকে সাহায্য করতে এলেছি, বন্ধু। পর্বতের ওই মূষিকুকে জাতিলে
ফেলে মাবতে না পারলে আমাদেরই কাৰুবই জীবন নিরাপদ নয়।
সুপ্ত প্রবেশ করিল
সূৰ্যবাও। শিবাজীব দূত দশন প্রার্থী।
চন্দ্ররাও। শিবাজী পাঠিয়েছে।
ঘােডপুরে। বিশ্বাস করাে না বন্ধু, বিশ্বাস কোবাে না। শিবাজী বড
ধূর্ত। যারা এসেছে তাদেব বন্দী করে ফেল, কাবাগাবে পাথর-চাপা দিয়ে
রেখে দাও।
চক্ররাও। সিংহেব গবে যারা এসেছে, তাবা আব ফিবে না
ঘােডপুরে। কিন্তু ধূর্ত শিবাজী কি উদ্দেশ্যে দূত পাঠিয়েছে, তাও আমাদের
জানা প্রমােন। সূৰ্যরাও, তাদেব এখানেই নিয়ে এস ভাই।
সুর্ধরাও প্রস্থান কৰিলে
ঘােডপুরে। শিবাজী কি বলতে চায় শােন, কিন্তু তার একটি কথাও
বিশ্বাস করাে না। আমি একটু আড়ালে গিয়ে থাকি। যদি চিনে
ফেলে।
৩
ত; গৈরিক-পতাকা [২য় অঙ্ক চন্দ্ররাও। এত ভয় কিসের বন্ধু । ঘােড়পুরে। প্রতিহিংসাপরায়ণ শিবাজীকে তুমি চেন না চক্ররাও। তার অনুচরেরা আরও হিংস্র। তারা না করতে পারে, হেন কাজ নেই। তা ছাড়া, আমার উপস্থিতিতে তারা তাদের বক্তব্যও বলবে না। আমি এই কাছেই কোথাও থাকব। কিন্তু সাবধান, বন্ধু, সাবধান! শিবাজীর বক্তব্য শােন, কিন্তু তাকে বিশ্বাস করাে না। 'চন্দ্ররাও। সমগ্র দেশের ভিতর কি একটা আতঙ্ক জাগিয়ে তুলেছে! সূযাৱাওয়ের সঙ্গে তানাজা ও রঘুনাথ প্রবেশ করিলেন। রঘুনাথ। জাবলী-অধিপতির জয় হােঙ্গ! চরাও। সহসা শিবাজীর আমাদের প্রতি এ অনুগ্রহ কেন ? রঘুনাথ। মহারাজ শিবাজী জানতে চেয়েছেন, কি কারণে বীরবর চও হিন্দুর আত্ম-প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যােগ না দিয়ে মুন্সিম-শক্তির সহায়তা করেছেন? চরাও। যেহেতু আমার পিতা এবং পিতামহ তাই করে গেছেন। রঘুনাথ। চরাও নিশ্চিতই জানেন যে, এ একটা জবাবই হলো না। চন্দ্ররাও। চন্দ্ররাও অনেক কথাই জানে মহারাষ্ট্র-সেনানী। কিন্তু জিজ্ঞাসা করি, শিবাজী রাজা-প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হলে, সাধারণ হিন্দুর কি লাভ হবে। রঘুনাথ। জাতি হিসাবে সমগ্র হিন্দু উন্নতির পথে অগ্রসর হবে। চন্দ্ৰয়াও। শিবাজী কি মনে করেন হিন্দু কখনাে আবার উন্নত রঘুনাথ। আমরা সবাই তাই মনে করি। চরাও। আপনাদের ধারণা সত্য নয়। দুর্বল যে জাতি, বয়সের বার্ধক ন গতির সাজে জড়তা এনে দিয়েছে, সে জাতিৰ পুৰখাৰ- ৩ ১ম দৃশ্য ] গৈৰিক-পতাকা তানাজী। আপনার মত অভিজ্ঞ লােকের সঙ্গে তর্ক নিষ্প্রয়ােজন। হিন্দুর শশাচনীয় অধঃপতনের জন্য আপনার যে বেদনা বােধ আছে, বিদ্ধবাদ প্রচার করলেও আপনার কথালির ভিতর দিযে তাই ই প্রকাশ পাচ্ছে। আমব। তাই অনুবােধ করছি বীর, হিন্দু আপনি, হিন্দুবাজ্য প্রতিষ্ঠাব জন্য মহাবাজ শিবাজীর সহাযত করুন। আপনাকে পুবেভাগে বেখে, ছিন্ন বিক্ষিপ্ত সমস্ত হিন্দুনরপতিদের ঐক্যসূত্রে গ্রথিত কবে, আমবা এক মহাশক্তি সৃষ্টি কবি। সেই সম্মিলিত শক্তির কাছে বিঙ্গাপুৰ তাৰ উদ্ধত শিব নত করুক, মুঘল স্তব্ধ হযে থাকুক, সমগ্র বিশ্ব জানুক যে, হিন্দু আজও জাগ্রত চন্দ্ৰবাও। উত্তেজনাকে এত উগ্র কবেও আমাকে এতটুকু উত্তেজিত কবতে পাবলেন না, সেনানী। শুনেছি আপনাদেব শিবাজীর দেহে রাজপুত বক্ত তার উষ্ণ নিযেই প্রবাহিত হচ্ছে। আশা করি বাজপুর ইতিহাস আপনাদের অবিদিত নেই। রাণা প্রতাপ ঘাসের কটি দিয়েও তার পুত্রের ক্ষুন্নিবাবণ কবতে পারেন নি-আর তঁাব পাদুকাবহনেরও যােগ্য নয যাব, বা মুঘলেব আশ্রয়ে থেকে দিব্য বাজভােগে পুষ্ট হয়েছে। আপনাদেব শিবাজীকে গিয়ে বলুন যে, তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হবাৰ বষেস ৩ামার অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। আব শুদ্ধ কোন একটা অনিশ্চিত সম্ভাবনার আশায় কোন অনাত্মীষের বিপদ আমি কাঁধে তুলে নিতে পারি না। বঘুনাথ। মহাবাজ শিবাজী আপনার সঙ্গে আত্মীয়তা স্থাপন করতেও কম আগ্রহান্বিত নন, জাবলী অধিপতি। চাও। হীন কজােয়ার পদ্ধ। আকাশস্পর্শী হয়ে উঠেছে দেখছি। তােমাদের শিবাদীকে বললা সেনানি, তার এই ঔদ্ধত্যের শান্তি দিতে চরাও বিশ্বত হবে না। বঘুনাথ। আপনি অকাবণ উত্তেজিত হয়ে উঠেছেন।
.
গৈৰিকপতাকা
চরও। একে কচ্ছােয়াৰ বংশধর, তায় জন্মবৃত্তান্ত তব রহস্তে
আচ্ছ। কুকুরের মত অস্পৃশ্য যে!
পরপদলেহা স্বধৰ্ম্মদ্রোহী কাপুরুষ! নিজের দেশের,
নিজের জাতির সর্বনাশ সাধন করবার জন্য তােমাকে আমি বেঁচে থাকতে
তানজী।
যাব না।
‘লাভী ক্ষিপ্রগতিতে অস্ত্র বাহির কয় চন্দ্র রাওকে আঘাত করিলেন।
চন্দ্ররাও। অস্ত্র! অন্ত্র দাও! সূৰ্যরাও আক্রমণ কর।
সুধরাও তানজীকে আক্রমণ করিল, কিন্তু রঘুনাথ তাহাকে আঘাত
করিতেই সে টলিতে টলিতে বাহিরে গিয়া পডিল। তানজী পুনরায়
চরাওকে আঘাত কবিলেন।
গুপ্তঘাতক! ওঃ!
চন্দ্ররাও পড়িয়া গেলেন
জানাজী। মরবাব আগে শুনে যাও কাপুরুষ! বাজী শ্যামরাও
পরাজিত হয়ে বিজাপুর গিয়ে প্রাণরক্ষা করেছে, আর এতক্ষণ হয় ত
তােমার জাবলীর এই দুর্গশিরে মহারাজ শিবাজীর বিজয়-পতাকা উড্ডীন
হয়েছে।
আমাজ ও ধূনারে স্থান, নেপথ্যে দুর্গ আক্রমণের কোলাহল।
ঘােডপুরে ৰেগে প্রবেশ করিয়া চন্দ্ররাওরের দেহের উপর খুঁকিয়া পড়িল
ঘােড়পুরে। বন্ধু চরাও।
চরাও। গুপ্তঘাতকদের বন্দী কর, বন্দী কর বন্ধু!
ঘােড়পুরে। আর বন্দী! শিবাজী দুর্গ অধিকার করেছে।
চন্দ্ৰৱাও। বাজী শ্যামরাও পরাজিত, পলায়িত দুর্গ অধিকৃত•••
আমি মুমু, ঘােডপরে•••বন্ধু আমার•••কন্যা••মাতৃহারা আমার বীরকে
বিজাপুরে আশ্রয় দিয়ে•••
গৈরিক পতাকা
ঘােডপুরে। যাক্। চরাও ত জীবনের বোঝা ফেলে দিয়ে চলে
গেল। কিন্তু শিবাজী অধিকৃত এই দুই থেকে আমি কি করে মুক্তি
পাহ? আমাকে যে বাঁচতে হবে।
বীব বেগে প্রবেশ করিল। শ্যামলী ভুতের মতো আসিয়া বসিয়া পডিল
বীবা। বাবা। বাবা! শিবাঙ্গী যে এখনও জীবিত। তুমি ওঠ বাবা,
উঠে তাকে শাস্তি দাও। সে যে আমার সর্বস্ব কেড়ে নিল বাবা ।
ঘােডপুরে। প্রতিশােধ নিতে চাও মা?
বীব। হাঁ, *, প্রতিশােধ চাই।
ঘোডপুবে। দুর্গ থেকে বাহিবে ষাবাব গুপ্তপথ তােমার জানা আছে?
বাবা। আছে।
ঘােডপুবে। তবে আব বিলম্ব কবে না। শিবাজী দুর্গ অধিকার
কবেছে। এখুনি হয ত এখানে এসে পড়বে। চল, আমৰা বিজাপুর
চলে যাই।
বীব। বীজাপুৰ ।
ঘােডপুবে। হ], তোমার পিতাব শেষ ইচ্ছা তাই। শিবাজীকে
শাস্তি দিতে পাবে, হয় বিজাপুব-ন্য দিল্লী। প্রতিশোধ নিত হলে
এব যে-কোন এক জায়গায় যেতে হবে।
ব রা কিছুকাল চুপ কৰিষ। রহিল পরে বলিল
বীবা। বেশ, আমি বিজাপুবই যাব।
ঘােডপুরে। । তা হলে মুহর্তকাল বিলম্ব কবে না।
বীবা। বাবা। বাবা।
বীরাবাঈ পিতার মৃতদেহের উপর ঝাপাইয়া পড়ি, ঘােড়পুরে
তাহাকে ধরিয়া উঠাইল।
শ্যামলী। বীরা।
'
গৈরিক-পতাকা
[ ২ আয়
বীরা। শ্যামলী, দেখ দেখ, তোর শিবাজীর কীর্তি দেখ!
গামলী মাথা নীচু করিল।
ঘােড়পুরে। চল মা! লিখে বিপদের সম্ভাবনা।
বীরা। কিন্তু পিতার সৎকার ?
ঘােড়পুরে। পিতার মৃতদেহের ওপর মায়া কৰে পিতৃহন্তার উপর
প্রতিশােধ নেবার সুযােগ হারিয়ে না মা! ভুল না, ভুল না মা, তােমাকে
প্রতিশােধ নিতে হবে।
শ্যামলী। কে তুমি বৃদ্ধ, নারীকে পিশাচী করে তুলতে চাও?
ঘােড়পুরে তার দিকে একবার মাত্র চাহিল। কোন কথা
বলিল না। একরকম জোর করিয়াই বীরাঙ্গকে টানিয়া লইয়া
যাইতে লাগিল।
বীরা। শ্যামলী, আর নয়—তোর কথা আর নয় ।
শ্যামলী দৌড়াইয়া গিয়া বীরাবাঈয়ের হাত ধরিল।
শ্যামলী। তোমাকে আমি বীজাপুর যেতে দেব না। সেখানে তুমি
আশ্রয় পেতে পার, কিন্তু সেখানে গিয়ে যা হারাবে, তা আর কখনো ফিরে
পাবে না। বিজাপুর তুমি যেয়াে না, বীরা।
ঘােড়পুরে। কি আপদ! প্রাণরক্ষার কোন উপায় ত আর দেখতে
পাচ্ছি না।
বীর। ছেড়ে দাও শ্যামলী ! আমার জীবনদেবতাকে তাড়িয়েছ,
আমার পিতাকে হত্যা করিয়েছ, এইবার তােমার শিবাজীর কাছে
আমার চরম , লাঞ্ছনা দেখার জন্যই বুঝি আমাকে এখানে থরে
রাখতে চাও
আমলী হাত ছাড়িয়া দিয়া সেখামেই বসিয়া পড়িল।
তাহার দুই চক্ষু দিয়া অশ্রুধারা গড়াইয়া পড়িতে লাগিল।
ঘােড়পুরে বীরাবাঈকে লইয়া চলিয়া গেল। ধীরে ধীঞ্জে
১ম দৃশ্য ]
গৈরিক পতাকা
শিবাঙ্গী প্রবেশ করিলেন। কিছুকাল হে কোন
কছিলেন না স্যামলী চক্ষু মুছিয়া অনেকক্ষণ অবধি
চাহিয়া চাহিয়া ক্ষিীকে দেখিল। তারপর ধীরে ধীরে
শিবাজীর কাছে প্রিয় ভূমিষ্ঠ হইয়া তাকে প্রণাম করিল।
শিবাজী। কে তুমি মা?
শ্যামলী। কোন পরিচয় নেই, মহারাজ। জাবলী-অধিপতি আশ্রয়
দিয়ে কন্যার মত পালন করেছেন। আজ সেই দেহের নীড়ও রূপনি
ভেঙ্গে দিলেন। কিন্তু তবুও আমার অভিযােগ নেই, কোন
অভিযােগই নেই মহারাজ।
শিবাজী। তুমি আমায় তিরস্কার করবে না ?
শ্যামলী। না মহাবাজ।
শিবাজী। তিরস্কার কর মা, তিরস্কার করা আমার অপরাধের
বােঝা হাল্কা করে দাও।
শ্যামলী। আপনি মহাৰাজ শিবাঙ্গী।
শিবাজী। হা, মা, আমিই শিবাঙ্গী, রক্তে-মাংসে গড়া শিবাল
পাষাণও নই—াক্ষসও নই—মানুষ শিবাজী।
শ্যামলী। কিন্তু এই হত্যার কি প্রয়ােজন ছিল না?
শিবাজী। ছিল মা, খুবই প্রযােজন ছিল। কিন্তু সে প্রয়ােজন ছিল
কাব ?—বাজা-শিবাজীব মানুষ শিবাজীব নষ। রাজা-শিবাঙ্গী তাৰ
কর্তব্য পালন করে, তার ঈপ্সিত লাভ কবে যত খুশী হয়েছে, মানুষ
শিবাজীর বুকে ঠিক তত বেদনাই জমে উঠেছে। রাজা-শিবাজী কাৰু
মুখেব কোন রূঢ় কথা কখনাে সইতে পারে না, কিন্তু মানুষ শিবাজী
আজ চায় যে, তার অপরাধেৰ বােঝা হাল্কা করবার জন্য—কেউ তাকে
তিবস্ক্রাব করুক।
নাজী প্রবেশ করিলেন।
|
গৈরিক পতাকা
[ ২ কে
তানাজী। মহারাজ।
শিবাজী। দেখ মা, মানব সান্নিধ্যে রাজাব খােলসের ভিতর
থেকে যে মানুষ শিবাজী বৌয়ে এসেছিল তা কেমন কবে সঙ্কুচিত হষে
আবাৰ আত্মগােপন কবে। কি তানাজী।
তানাজী। যারা বাধা দিয়েছিল, তাদেব বন্দী করা হয়েছে।
শিবাজী। দুগারক্ষার ব্যবস্থা কবে বাড় যাবার জন্য প্রস্তুত হও।
আজই আমাদের যাত্রা কবতে হবে। হ, বীববব চন্দ্ৰবাওষের সৎকাবের
আয়ােজন কব। শুনেছিলাম চন্দ্রবা ওয়েব একটি কঙ্গ আছেন। তিনি
কোথায় মা ?
শুলী নীৰ হিল
তিনি কি জীবিত নেই ?
শ্যামলী। সে ৰিজাপুর চলে গেছে।
শিৰাজী। বিজ পুব ।
স্যামলী। বাজী ঘােডপুবে
শিবাজী। কার নাম করলে মা?
শ্যামলী । বাজী ঘােডপুরে—একটু আগে—দুর্গের গুপ্তপথ দিবে
তাকে বিজাপুব নিয়ে গেছে।
শিবাজী। বিশ্বাসঘাতক এই বাজী ঘােষপুরে মহারাঞ্জের ভাগ্যাকাশে
বাহুর মত উদিত হয়ে প্রতি মুহূর্তেই আমাদেব অনিষ্ট সাধন করছে।
তানাজী। বিলম্বের আব অবসব নেই, পলাষিত ডেপুরের অনুসরণ কর।
তাকে বন্দী করা চাই ই।
তাজী প্রস্থান করিলেশ
দ্বিতীয় দৃষ্ট
বিজাপুর দরবার। সিংহাসন্ধেবেগম উপবিষ্ট।
শ্রান্ত ক্লান্ত ঘােড়পুরে কোনমতে বীরাবাঈকে বহন করিয়া সভায়
প্রবেশ করিল
ঘােড়পুরে। বেগমসাহের !
বেগম। কে ? বাজী সাহেব ! এ কি মুর্তি আপনার, বাজীসাহে !
ঘােড়পুরে। চন্দ্ররাওয়ের • শেষ
রেফা করেছি
বেগমসাহেব। মৃত্যুকালে সেই মহাপাপ বলে গেলেন, তার এই মাতৃহীনা
কন্যাকে আপনার আশ্রয়ে রাখতে। আপনি একে আশ্রয় দিন
বেগমসাহেব।
বেগম। চন্দ্ররাও বিজাপুরের জন্যই আত্মদান করেছেন, তার কন্যাকে
আশ্রয়দান আমাদের অবশ্য কর্তব্য। প্রতিহারিণী !
এতিহাৰিণ পিছন হইতে আসিয়া অভিবাদন করিল
খাসমহাল। (বীরার প্রতি) যাও মা! তুমি অত্যন্ত ক্লান্ত।
বিশ্রাম অন্তে আবার আমার দেখা পাবে।
ঘােড়পুরে। শিবাজী-উপদ্রুত এই বালিকার কিছু নিবেদন আছে
বেগমসাহেব।
বেগম। আমরা তা শুনতে প্রস্তুত।
ঘােড়পুরে। (বীরাবাঈকে) বল মা, বেশ করে সাজিয়ে-গুছিয়ে
বল মা। মনে রেখ, তােমার উদ্দেশ্য সফল হবে, যদি শিবাজীর শয়তানী
বুঝিয়ে দিতে পার।
বীরাবাঈ। বেগমসাহেব! সম্মুখযুদ্ধে নয়, গুপ্তঘাতককে দিয়ে
শিবাজী আমার পিতাকে হত্যা করিয়েছে।
R
গৈরিকপতাকা
[ ২ লক্ষ
বেগম। তা শুনে আমরা অত্যন্ত বেদনা অনুভব করছি না।
ঘােড়পুরে। বেগমসাহেব' শিবাজীর নৃশংসতার ফলে
সরলা বাল আজ সর্বহারা। একে আশ্রয় দেবার কেউ নেই।
বীরবারের কাছে অগ্রসর হই।
ৰল, ভালো করে গুছিয়ে বল, চোখের জল ফেলতে ফেলতে বল।
বীরাবাঈ। সংসারে আপন বলতে আমার আজ কেউ নেই
বেগমসাহেব—শিবাজী সব কেড়ে নিয়েছে। '
কালিয়া উঠিল।
ঘােড়পুরে। বেগমসাহেব, ও শুধু আশ্রয় চাইতেই আসেনিও
চায় ওর পিতৃহত্যার প্রতিশােধ নিতে।
বীরাবাঈ। অসহায় বলে এ অত্যাচারও আমায় সইতে হবে?
সাহায্যের কোন আশা কোথাও নেই বলেই বিজাপুর এসেছি অনেক
শ. নিয়ে। আমি চাই—পিতৃহত্যার প্রতিশােধ। আপনি আমায়
আশ্রয় দিলেন, কিন্তু শিবাজীকে শাস্তি দেবার প্রতিশ্রুতি যে এখনও
পেলাম না।
বেগম। মা, বিজাপুরের বড় দুর্দিনে তুমি এসেচ মা। সুলতান
আদিল শাহ অকস্মাৎ দেহরক্ষা করেছেন। তিনি জীবিত থাকলে শিবাজীকে
শাস্তি দেবার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই দিতেন।
আফজল খাঁ। সে প্রতিশ্রুতি আমি দিচ্ছি
বেগম। অমাত্যগণ ! পিতৃহারা, অভাগী এই হিন্দুকন্যার দিকে
একটিবার চেয়ে দেখুন। নিরপরাধিনী এই কুমারী শিবাজীর কোন
অপকারই কখনাে করেনি। কিন্তু শিবাজী একে পথের ভিখারিণী
করে ছেড়ে দিয়েছে। স্বধর্মী বলে আশ্রয়টুকুও দেয় নি। একে দেখুন
আর মনে মনে ভাবুন, শিবাজীর শক্তি ক্ষয় করতে না পারলে বিজাপুরের
পুরীদেরও সে হয় ত একদিন এমি ভিখারিণী করে ছেড়ে দেবে,
২ ] গৈরিক পতাকা আশ্রয়প্রার্থনা কৰে তাদেরও হয় ই একদিন এন্নি ফ’বে দেশদেশান্তরে ঘুরে বেড়াতে হবে। আফজল খা। বেগমসাহেব। গােলমের ঔদ্ধত্য মার্জনা করবেন। বিজাপুৱেব বষস্ক বিচক্ষণ অমাত্য ও সৈন্যাধ্যক্ষগণ যুক্তিজাল থেকে কখনাে মুক্তি পাবেন না। প্রবীন তাবা–পাকা বুদ্ধির দম্ভ নিয়েই থাকুন। আমাষ আদেশ করুন বেগমসাহেব, আমি বিদ্রোহী শিবাজীকে বেধে এনে বিজাপুরে উপস্থিত কবি। বেগম। অমাত্যগণ। আপনাদের অভিমত জানতে পারলে আমরা কর্তব্য স্থির করতে পারি। রণদুল্লা। বেগমসাহেব। আমরা শিবাজীর বিরুদ্ধে অভিযান করতে ইতস্ততঃ কবছিলাম, তা শিবাজীর প্রতি আমাদের পক্ষ- পাতিত্বেব জ নয়। আমরা ভাবছিলাম মুঘলের কথা। মুঘল যদি বিজাপুর আক্রমণ তাহলে শিবাজীব সঙ্গে সংগ্রাম প্রবৃত্ত হওয়া আমাদের পক্ষে সমীচীন হবে কি না, তাই ই ছিল আমাদের বিচাৰ্য্য। বেগম। কিন্তু শিবাজী যে দ্রুতগতিতে বিজাপুরের দুর্গশ্রেণী ও করছে, তাতে হয়ত মুঘল আক্রমণ প্রতিহত করবাব জন্যে একটি দুর্গও আমাদের আয়ত্বে থাকবে না। আফজল খাঁ। মুঘল যদি বিজাপুব আক্রমণ করে, বিজাপুব তারও বিরুদ্ধে যাতে বীবের মতাে দাড়াতে পারে, তারই ব্যবস্থা করুন খসাহেব। বিজাপুরে প্রভাব, প্রতিপত্তি, যশ—সবই অক্ষুন্ন রাখতে হবে—এই কথাটি স্থির জেনে আপনারা সকল কুটতর্কে অবসান করুন, এই আমার বিনীত অনুরােধ। রণদুল্লা খা। তবে তাই হােক বেগমসাহেব। বিজ্ঞাপন প্রমাণ করে দিক যে সে বীবশূন্য নয়।
#B
গৈরিক-পতাকা
বেগম। তাহলে প্রস্তুত হও ফিঙ্গল খাঁ ! প্রয়ােজন মত পদাতিক,
অশ্বারােহী, ধনুকধাবী, গােলন্দাজু:সন্ত আর উপমুক্ত অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তুমি
শিবাজীর বিরুদ্ধে অভিযান করণ
আফজল খাঁ। আশীৰ্বাদ ফরুন বেগমসাহেব, যেন ধূর্ত শিবাজীকে
বন্দী করে দরবারে নিয়ে আসতে পারি।
বেগম। সর্বান্তকরণে আশীৰ্বাদ করি, তুমি জয়যুক্ত হও বীর।
[ বীর প্রতি শিবাজীকে শাস্তি দেবার ব্যবস্থা হলাে, এবার তুমি
বিশ্রাম করতে পার।
তৃতীয দৃশ্য
রায়গড় প্রাসাদের একটি কক্ষ।
শিবাজী বেগে প্রবেশ করিলেন
শিবাজী। মা ! মা ।
জিবাদ প্রবেশ করিলেন।
জিজাবাঈ। আফজল খাঁকে শাস্তি দিয়ে ফিবে এসেছি শিব্বা?
শিবাজী অবােধৰে হিলেন
ভবানী প্রতিমা চূর্ণ করে এখনাে সে জীবিত ?
শিবাজী। মা, আমরা এখনাে যুদ্ধ করি নি।
জিজাবাঈ। যুদ্ধ কবনি। অথচ তুলজাপুরে আফজল খাঁ মা ভবানীর
বিগ্রহ চূর্ণ করেছে—নিরীহ নর-নারীদের হত্যা করেছে •
৪
.
এ দৃৎ।
গৈৰিকপাকা
শিবাজী। শুধু তুলজাপুরই নয় মধুপুরন্দপুরও পাষণ্ডদের অত্যাচার
থেকে অব্যাহতি পায়নি।
জিজাবাঈ । আর মহারাজ শিবাজী ? তিনি কি করছেন? হিন্দুধর্ম
রক্ষা করার জন্য যিনি সর্বস্ব পণ করেছেন, তিনি। নিজেকে নিরাপদ
রাখার জন্যে সৈন্যদেব এগিয়ে তিনি মায়ের অঞ্চলে এসে আশ্রয়
নিয়েছেন।
শিবাজী। মা, এত কঠোরও তুমি হতে পার।
জিজা । শত্রু যখন সর্বস্ব ধবংস করে এগিয়ে আসছে•••
শিবাজী। বিশ্বাস কর মা, তােমার শিবকা তখন নিশ্চিন্ত-আলতে
দাড়িয়ে তাই দেখছে না। সারারাত দুর্গম পথ বয়ে ছুটে এসেছি, আবার
এখনই প্রতাপগডে যেতে হবে। মা, তােমার পায়ে ধূলাে না নিয়ে
কোন কাজেই আমি অগ্রসর হতে পারি না, তা তু তুমি জান।
জিজাবাঈ। কিন্তু আফজল খাঁ ••
শিবাজী। আফজল খাঁর সঙ্গে এখন যুদ্ধ করে আমরা শক্তি ক্ষয়
করতে পারি না মা।
জিজাবাঈ। সে কি শিব্বা। হিন্দুকে এত বড় আঘাত সে করল,
আর মারাঠাব হিন্দু-নপতি মহাবাজ শিবাঙ্গী,
শিবাজী। আফজল খাঁ সন্ধির প্রস্তাব করে পাঠিয়েছে। প্রতাপগডে
সে আমার সঙ্গে দেখা কববে।
জিজাবাঈ। বিজয়ী আফজল খাঁ সন্ধির প্রস্তাব করেছে, আর বিজিত
শিবাজী তাই সত্য বলে মেনে নিয়েছে।
শিবাজী। আফজল খাঁ জানে যে, দুর্গ সে দু' একটা জয় করেছে
বটে, কিন্তু চিরদিন তাৰ অধিকারে রাখতে পারবে না।
তানজী প্রমণ করিলেন।
নাজী। মহারাজ!
গৈরিক-পতাকা
শিবাজী। প্রতাপগড়ের সংবাদ পেয়েছ?
তানাজী। প্রতাপগড়ের সবই প্রস্তুত মহারাজ।
শিবাজী। তাহলে চল, আর বিলম্ব করা উচিত নয়।
তানাজী। কৃষ্ণাজী ভাস্কর একবার মা ভবানীকে প্রণাম করে
যেতে চান মহারাজ। আর মায়ের কাছেও তাঁর কি যেন বলর
আছে।
শিবাজী। বেশ! তুমি তাকে এখানে নিয়ে এস।
তাৰাজী প্রস্থান করিলেন।
মা! এই কৃষ্ণাজী ভাস্কর একজন নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ। আফজল খাঁর দূত হয়ে
সন্ধির প্রস্তাব নিয়ে আমার কাছে এসেছেন। তােমাকে বড় ভক্তি করেন।
হিজাবাঈ বাহির হইয়া গেলেন। শ্যামলী প্রবেশ করিল
শ্যামলী। বাবা।
শিবাজী। বল মা, কি বলতে চাও। চরাওয়ের কন্যার কথা
আমি ভুলিনি মা। আমি তাকে উদ্ধার করবই।
শ্যামলী। কিন্তু বাবা, আফজল খাঁর সঙ্গে সন্ধি করবেন ?
শিবাজী। কেন মা, তাতে ক্ষতি কি?
শ্যামলী। হিন্দুর এত বড় সর্বনাশ সে করলে।
শিবাজী। হিন্দু নিজেই হিন্দুর সর্বনাশ করছে, এ কথাটা আমরা
যত ভুলে যাচ্ছি, ততই বিধৰ্মীর প্রতি আমাদের আক্রোশ বেড়ে উঠছে।
আফজল খ হিন্দুর মিত্র নয়-শত্রু; কিন্তু বন্ধুর বেশে যারা শত্রুতা
করছে, তাদেরও যে আমরা ভাই বলে বুকে টেনে নিতে চাইছি! আর
সন্ধি ত শত্রুর সঙ্গেই করতে হয় শ্যামশী।
লিজাৰাই তাম্রপাত্রে নির্মাল্য ইয়া আলিম শিবাঙ্গীর
মাথায় দিলেন। এবং পাত্রটা শ্যামলীর হাতে দিলে
अपनी निकालना
গৈরিক পতাকা
৪।
শিৰাজী। মা! তােমার এই আশীৰ্বাদ আমাকে চিরজয়ী করে
বেখেছে বলেই ত যেখাকে থা িএক এবার ছুটে আসি।
তাজী বেশ করিলেন
নাজী। কৃষ্ণাজী এসেছেন মহারাজ!
কৃষ্ণজী প্রবেশ করিকেন
শিবাজী। আসুন কৃষ্ণালী।
কৃষ্ণালী একটু দাড়াইয়া ভবাণী-মন্দিরে গিয়া প্রণাম
নামিবা আসিলেন। জিজাবাঈ তাকে প্রণাম করিলেন।
কৃষ্ণাজী। সন্তানকে অপরাধী করলে মা ।
জিজাবাঈ। ব্রাহ্মণের আশীর্বাদ আমার শিক্কাকে সকল বিপদ
থেকে রক্ষা করবে।
কৃষ্ণাজী। কিন্তু মা, ব্রাহ্মণ,বলে নিজেব পরিচয় দেবার অধিকার
আমার নেই। বিধর্মীর কাজে আমি দেহ-মন সকলই অর্পণ করেছি।
আমার পবিচয় যদি তুমি পাও মা, তাহলে ঘৃণায় তুমি মুখ ফিরিয়ে
নেবে, তােমার শিব্বা আমাষ কুকুবের মতাে হত্যা করবে।
শিবাজী। বল ব্রাহ্মণ, কি ষড়যন্ধে লিপ্ত তুমি।
কৃষ্ণাজী। না বলে যেতে পারলাম না•••গ্লানি আর চেপে রাখতে
পারলাম না। আফজল খ শিবাজীর সঙ্গে দেখা করতে চায় সন্ধির
কামনা নিয়ে নয়, তাকে হত্যা করবার অভিপ্রায়ে ।
শিবাজী। ব্রাহ্মণ, আপনি নিশ্চিন্তে প্রতাপগড়ে যেতে পারেন।
শিবাজী আত্মৰক্ষা করতে অসমর্থ নয়। কিন্তু আমার সকল সৰ্ত্ত যেন
রক্ষিত হয়। আফজল খা মাত্র দুইজন বক্ষী রাখতে পারবেন, আমিও
ততােধিক রক্ষী সঙ্গে নােব না।
জিজাবাই। ব্রাহ্মণ !
ব্রাহ্মণ নয়, বিশ্বাসঘাতক। মারহাঠার এই
.
গৈরিক পতাকা
[২য় অঞ্চ
নবােদিত সূর্যকে রাহুর কবলে ছেড়ে দিতে ইচ্ছে হলাে না। তাই
নিশ্বাসঘাতকতা করলাম। ঘৃণা এখদি কর মা, তার সঙ্গে যেন এতটুকু
অনুকম্পা মেশানাে থাকে।
यो वशान जिनक
শিবাজী। বিশ্বাসঘাতক এই আফজল, খকে আর অতিথি বলে
মনে করবার কোন কারণই নেই, তানাজী। প্রতাপগড়ে গিয়ে গােপনে
তুমি প্রতি পৰ্ব্বত-শিখরে সৈন্য সমাবেশ করবে, প্রতি গিরিপথে কৃতান্তের
মত অপেক্ষা করবে মারহাঠ। সৈন্থ আফজল-বাহিনীকে গ্রাস করতে।
আমি যখন সাঙ্কেতিক ধ্বনি করব, তখনি তােমরা আফজল খার সৈন্যদের
আক্রমণ করবে। পালাবার পথও তারা খুজে পাবে না। তুমি অগ্রসর
হও নাজা।
তাজা জিন্দাবাদ ও শিৰাজী, প্রণাম করিলেন
হ্যা, তানাজী। আমার বর্ম, বাঘনখ, আর বিচ্ছুয়া সঙ্গে নিয়ে।
তাজা প্রান কলি
মা! আফজল খার অভিসন্ধি জানতে পেরে ভালােই হ’ল মা।
তােমার ঈপ্সিত সাধনে আর দ্বিধা করব না—জবানী-প্রতিমা চুর্ণ করবার
প্রতিফল সে পাবে, বিজাপুরে আর সে ফিরে যাবে না।
বাহির হইয়া গেলেন।
চতুর্থ দৃশ্য
প্রতাপগডের দুপাদমূলে শিবির। আকাশে কালাে কালো মেঘ জমিয়া
উঠিয়াছে। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎফুরণ হইতেছে। আফজল খাঁ,
ঘােডপুরে, কৃষ্ণজী, সৈয়দ ৰান্দা এবং আর দুইজন।
রক্ষী দণ্ডায়মান।
আফজল। কৃষ্ণাজী। দেখতে পাচ্ছেন, দস্যুবৃত্তি করে শিবাজী
কি সম্পদ সঞ্চয় কবেছে। মণিমুক্তাখচিত এই শিবির, বিলাসের এই
বহুমূল্য উপকরণ। এমন সম্পদ বিজাপুবেরও নেই।
কৃষ্ণাজী। এমন সম্পদ যদি কাকর না থাকে সাহেব, তালে
আপনাকে মানতেই হবে, শিবাজী দস্যু নন। কেননা অন্যের এ সম্পদ
না থাকলে, দস্যুবৃত্তি দ্বারা শিবাজী তা সংগ্রহ কবতে পারতেন না।
আফজল। কিন্তু একটা দব এ সম্পদে কোন অধিকার নেই।
ঘােডপুবে। সে দস্তব জীবন প্রদীপ ত আজই নিৰ্বাপিত হবে।
খাঁ সাহেব। তাবপব এ সবই আপনার সম্পত্তি হয়ে দাঁড়াবে।
আফজল। বাজীসাহেব।
ঘােডপুরে। আদেশ করুন।
আফজল। সেই হিন্দুকুমাবী। তাৰ মিনতিভরা ছল ছল আঁখি
দুটি আজও মনে পড়ে।
ঘােডপুবে। বড় ভালাে মেয়ে সে।
আফজল। কিন্তু অনাথা। দস্যু শিবাজীই তাকে ভিখারিণী করেছে।
বে। ডপুরে। হ, খা সাহেব। তার পিতাকে হত্যা করেছে, তার
প্রণয়ীকে কেড়ে নিয়েছে।
আফজল। প্রণয়ী।
s
গৈরিক পতাকা
[ ২য় জয়
ঘােড়পুর। ইখ সাহে- শিবাজী তাকে ডাকাতের দলে ভর্তি করে
নিয়েছে। রাজপুত্রের মত চেরা।
আফজল। অসামান্তা সুন্দরী সেই কুমারীর প্রণষ লাভ করবার
সৌভাগ্য নীচ হিন্দু-কুলােব কখােনই অর্জন করতে পাবে না, বাজীসাহেব।
ঘোড়পুবে। তাই ত ও-বশের অনেক মেয়েই মুসলমানকে
পতিরূপে বরণ করে নিয়েছে।
কৃষ্ণাজী। দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে খা সাহেব।
আফজল। কিন্তু শিবাজীব আবার কোন লক্ষণই ত দেখা যাচ্ছে
, কৃষ্ণজী।
কৃষ্ণাজী। শিবাজী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ কবেন না খা সাহেব।
আফজ মেঘগুলাের কি দ্রুত গতি।
ঘােডপুরে। বস্ত্রের কি বিকট শব্দ।
কৃষ্ণাজী। সমস্ত প্রকৃতি যেন ক্ষেপে উঠেছে।
আফজল। কেন এমন হলো, কৃষ্ণজী ?
কাজী। দেবতার বােষানল আকাশ চিরে বেরিয়ে আসছে।
কৃষ্ণালী। শিবাজীব দুর্গে গিয়ে বলে আসুন,
সে আসতে অধিক বিলম্ব করলে আমি
ত্যাগ করে
চলে যাব।
কৃষ্ণালী প্রস্থান কৰিলে
ঘােডপুরে। আঁধার যেমন নেমে আসছে, দুর্যোগ যেমন ঘনিয়ে
উঠছে, তাতে এখানে বেশীক্ষণ থাকা নিরাপদ নয়, খা সাহেব।
আফজল। বিপদেব ভয় আফজল খা কবে না। বাজীসাহেব ।
ঘােড়পুরে। অনুমতি করুন।
আফজল। সেই হিন্দু কুমারী
ঘােডপুরে। হাঁ, বীরাবাঈ তার নাম।
গৈরিকশা
১
আফজল। শিবাজীকে যখন যুদী করে নিয়ে যাব, তখন খুবই
খুশী হবে সে।
ঘােডপুবে। শিবাজীর উপর প্রতিশােধ নেবার জুই
বেঁচে আছে।
কমী প্রবেশ করিলেন
আফজল। এরই মাঝে ফিরে এলেন কৃষ্ণাজী ?
কৃষ্ণাজী। দূরে শিবাজীর শিবিকা দেখেই আমি ফিরে এসেছি
খাঁ সাহেব।
আফজল। শিবিকা।
কৃষ্ণাজী। মণিমুক্তাখচিত শিৰিকা, বিশজন বাহকতা কাধে নিয়ে
দুর্গ থেকে নে, আসছে।
আফজল। দব এই ঔদ্ধত্য অসহ কৃষ্ণাজী।
ঘােডপুরে। বন্দী করে বিজাপুব নিয়ে যাবার সময় উঠের পিঠে
চিৎ করে ফেলে রাখব।
কৃষ্ণাজী। কিন্তু আজ কী দুৰ্যোগ।
ঘােড়পুরে। দুর্যোগ মারহাঠাদেব। আজ তাদের সৌভাগ্য
অস্তমিত হবে।
আফজল। কৃষ্ণাজী।
কৃষ্ণাজী। বলুন খা সাহেব।
আফজল। ওই যে দূরে তিনজন লােক আসছে, ওরা কি
শিবাজীর লােৰু ?
কৃষ্ণাজী। খ সাহেব ঠিকই অনুমান করেছেন।
আফগল। কিন্তু দেখতে ত ওরা একেবারে সাধারণ লােকের মত।
ও মাঝে শিবাজীও আছে নাকি ?
গৈরিক-পতাকা
কৃষ্ণাজী। আছেন বৈ কি সাহেব। ওই যে আজানুলম্বিত বাহু,
আয়তােজ্জল চক্ষু, দৃঢ়তাব্যঞ্জক অর—উনিই মহাবাজ শিবাজী।
আফজল। বলুন দস্য-শিবাজী।
ঘােডপুরে। যদি জানতে পায়, যদি চিনতে পারে আমি
ঘােডপুরে। না, কখনো দেখেণি, চিনবে কি করে?
ঘােডপুৰে। সিংহের গহবরে মাথা ঢুকিযেছ, এখন প্রাণ নিয়ে ফিরতে
পারলে হয়।
আফজল। কৃষ্ণাজী, ও এসে পড়েছে, ওদেব অভ্যর্থনা কবে
নিয়ে আসুন। প্রস্তুত থেকে তােমরা। যদি প্রয়ােজন হয় দ্বিধা
বােধ কৰাে না।
আফজল খামঞ্চেপরি বসিলেন। ঘােডপুরে আরে পিছনে
ভাইয়া রহিলেন। কৃষাজী অভ্যর্থনা কলি কৱিতে অগ্রসর
হইলেন। শিবাজী প্রবেশ কবিলেন। সঙ্গে রঘুনাথ আর
রণও। শিবাজী কিছুদূর আগাইয়া দাঁড়হষ বহিলেন।
কৃষ্ণাজী। আমুন, মহাৰাজ।
শিবাজী। কৃষ্ণাজী।
কৃষ্ণাজী। আজ্ঞা করুন মহাবাজ।
শিবাজী। আমাদেব সঙ্গে যে সৰ্ত্ত ছিল, আপনারা তা রক্ষা করা
প্রয়োজন মনে কবেননি সুতং আমবা আপনাদের সঙ্গে কোনরূপ
আলােচনায় প্রবৃত্ত হতে পাবি না।
কৃষ্ণাজী। আপনি যেরূপ অনুমতি করেছিলেন
শিবাজী। আপনি তা কবেন নি। কথা ছিল আফজল খা মাত্র
দুই জন দেহরক্ষী নিয়ে আসবেন, আমিও তাই করব। সপ্তম ব্যক্তি
থাকবেন কেবল আপনি। আপনাদের কথা বিশ্বাস করে আমি মাত্র
দুই জন সঙ্গী নিয়ে এসেছি। খসাহেব দেখছি আমাদেব ওপর সম্পূর্ণ
।
৪র্থ দৃশ্য }
৫৩
বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেন নি। অতিৰিক্ত ওই দুটি লোক এখানে
থাকতে পারবে না, কৃষ্ণাজী।
ঘােডপুবে। যাক বাঁচা গেল বাবা। যে তীক্ষ দৃষ্টি। ছুরির
কৃষ্ণাজী আফজল ধার নিকট গেলেন।
মতই যেন দেহে বিধছে।
কৃষ্ণাজী। সৰ্ত্ত সেইরূপই ছিল খসাহেব।
আফজল খায় হস্তের ইজতে যােডপুরে ও সৈয়দ বাশাকে
সরিষা যাইতে বলিলেন। শিবাজী অগ্রসর হইযা আফজল
খ যে মঞ্চের উপর বসিযাছিলেন, তাহার সব নিয়ন্তরে
পা দিযা কহিলেন।
শিবাজী। খাসাহেব ! তুলজাপুব ও পুবপুব এষ কবেও রে
আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপনের অভিপ্রায়ে আপনি প্রতাপগড অবধি
এসেছেন, তার জন্য আমবা আপনার নিকট কৃতজ্ঞ।
শিবাজী অার এক ধাপ উচ্চে উঠিলেন।
দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামে উভয় পক্ষেরই লােকক্ষ অনিবাৰ্য , সুতরাং
আমও আপনাদের বন্ধুত্ব কামনা করি।
শিবাজী আর এক ধাপ উচ্চে উঠিলেন।
আসুন খাঁ সাহেব, মৈত্রীব নিদর্শনস্বরূপ আমাদেব প্রথম সাক্ষাতের
এই শুভ মুহুত্তে আমবা পৰম্পৰ পৰস্পৰেব আলিঙ্গনে আবদ্ধ হই।
শিবাজী আর একধাপ অগ্রসর হইয়া মঞ্চোপৰি উঠিলেন
এব আলিঙ্গন করিবার জঙ্গ বাহ প্রসারণ করিয়া দিলেন।
আফজল খাঁ খামছাতে শিবাজীর কণ্ঠ চাপিয়া ধরিলেশ।
এ কি। খা সাহেব।
আফজল খাঁ। কাফের তােমা ধৃষ্টতার শাস্তি গ্রহণ কর।
আফজল খা ডান হাত দিয়া তরবারি কোষমুকরিজ
শিবাজীর বক্ষে অাঘাত করিলেন। আবাত বন্মে লাগি
গৈরিক পতাকা
[ ২অঙ্ক
ঋনা কৰি উঠিল। শিবাজী আঘাত সামলাইয়া
লইয়া অলর উপর ঝাপাইয়া পড়িলেন।
শিবাজী। বিশ্বাসঘাতক।
শিবাজী বাঘনখ ও বিছু অস্ত্র আফজল খার গেটে ও
কাধে বলাইয়া দিলেন।
আফজল খা। হত্যা, হত্যা ।
চেচাইতে চেচাইতে পডি গেলেন।
শিবাজী। রণরাও।
শিবাজী হন্ত প্রসারিত করিলেন। ব্রণও তাহার হাতে
তরবারি গান করিলেন। সৈয়দ বালা শিবাজীকে আঘাত
করিবার জন্য উন্মুক্ত তরবারি লইয়া লাফাইয়া আসিল।
সৈয়দবালা। কাফের।
রঘুনাথ বল্লম ছুড়িয়া মারিলেন সৈয়দবান্দা পড়ির।
গেল।
সৈয়দবালা। খুন করলে।
আফজলের রক্ষীরা পলায়ন করিল। শিবাজী আফজলের
বুকে তরবারি বসাইয়া দিলেন
শিবাজী। এমি করেই শিবাজী বিশ্বাসঘাতকদেব শাস্তি দেয়,
শিবাজা নীচে লাফাইয়া পড়িলেন।
রণরাও, সাঙ্কেতিক তুৰ্য্যনাদে তানাজীকে জানিয়ে দাও আফজল খা নিহত।
রণরাও তৃয্যধ্বনি করিল। সঙ্গে সঙ্গে দূরে
রণবাদ্য বাজি উঠিল।
শিবাজী। ওই তানাজী তার অজ্যে সৈন্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। চল
রণবাও, মুহূর্তকাল বিলম্ব না কবে অমবা শত্ৰৰ ওপর ঝাপিয়ে পডি।
একটি বিজাপুবী সৈন্যও যেন প্রাণ নিয়ে না ফিরতে পাবে।
সফলে। জয় মা ভবানী। জব মা ভবানী।
তৃতীয় অঙ্ক প্রথম দৃশ্য শায়েস্তা খাঁ অধিকৃত পুণার মারহাঠা প্রাসাদের একটি কক্ষে ৰাইজরা নাচ-গান করিতেছে, সেই কক্ষের উত্তরে আর একটি কক্ষের টিকার । সেই ৰুদ্ধ যার খুলিলে গৰাক্ষ দ্বিয়া দুরৈব পর্বতমালা পৰ্য্যন্ত বিস্তৃত অন্তর ও পর্বতশ্রেণ দেখা যায়। নৃত্যশীত করিতে করিতে একে একে বাঈজীরা প্রস্থান করিতে লাগিল। পাৰিব৷ চঞ্চল হইয়া উঠিল বাইজীদেব গান রঙীন নেশার গান শােনাব, আজকে তােমার কানে কানে। প্রাণের কাছে আনৰ টেনে, বেরদী চোখের টানে। নীল আকাশে চাদনী গেলে, গােলাপ কুঁডি অধর খােল- হৃদয় বীণাষ যে তান বাজে, মন জানে আর পীত জানে। সুখের বাসা বুকের ডালা, সাজব তোমায় বাহর মালা - চপল আঁখি ললিত লীলা, বইবে চেয়ে মুখের পানে। ( গান শেষ করিয়া বাঈজীরা চলিয়া যাইতে উদ্যত হইল। প্রথম পারিষদ। এমন কথা তাে ছিল না সুন্দবীবা । দ্বিতীয়। রােশনাই আসমান আঁধাব করে এক একটি তারা যে এসেই পড়ছে।
গৈরিক-পতাকা
তৃতীয়। মাইরি ভাই, ওয়া না থাকলে অন্ধকারে পথ হাতড়ে
গবে না।
ম। ওদের আটক কর।
২য় ও ৩য়। পথ তত ছেড়ে দোবনা সুন্দবী।
পথরােধ করিয়া দাড়াইল।
শাযেন্ত । প্রবেশ করিলেন সকলে তাহাকে
অভিবাদন কবিল। বাঈজীর এক পাশে
সরিষদ ডাইল
শায়েস্তা খাঁ। এই কি আমাদেব সময ? সম্রাট হুকুমেব পৰ
হকুম পাঠাচ্ছেন শিবাজীকে ধরে নিয়ে দিল্লী যেতে, সেনাপতিব পর
সেনাপতি পাঠাচ্ছেন পার্বত্য এই দাক্ষিণাত্যে। সমাটের আদেশ
আমাদেব পালন কবতে হবে। আমাদের অবসবনেই।
প্রথম। হুজুব যে ভাবে দুর্গেব পব দুগ জষ কবছেন তাতে
শিবাজীকে মাথাশুদ্ধ ধবা দিতেই হবে।
ফিতীয়। আব কটা দুগ ই বা বাকী আছে?
শাষেস্তা খা। কিন্তু কি চতুর এই শিবাজী । আজ অবধি আমাদের
একটাও যুদ্ধ দিল না।
প্রথম। দেবে কি কবে বলুন। শাযেস্তা খা সেনাপতি, সৈন্যবা,
মুঘল—ভয় পাবে না?
দ্বিতীয। আমি শুনেছি সে আব পুণাব কাছেও যেসবে না।
মুঘল সমগ্র মহারাষ্ট্র জয কবলেও সে বাধা দিতে আসবে ন–পর্বতে
প্রান্তবে বা অবণ্যে মাওলা অসভ্যদের সঙ্গে তার ৩ তাবতে বাজগিরি
তৃতীয়। আর আসলে লােকটা সেই বকমই। সম্রাটেব খেয়াল,
তাই এই বর্ষার দিনে সেনাপতিকে দিল্লী থেকে দাক্ষিণাতে) পাঠিয়েছেন।
৪
১ম ধূ।
গৈরিক পতাকা
প্রথম। কিন্তু হুজুর এই শিবাজী ত আমাদের যুদ্ধে মারবে না,
মাববে আমােদ কবতে না দিয়ে। দিৰাবাত্র যদি হাতিয়াড় হতে
নিয়ে বসে থাকতে হয় প্ৰভুৰ শুভাগমনের অপেক্ষায়, তাহলে প্রাণপাখী
খাচাছাড়া হয়ে যাবেই।
শায়েস্তা খাঁ। শিবাজীকে তেমবা জান না। যে কোন মুহূর্তেই
সে আমাদেব আক্রমণ কবতে পাবে। তাই আমাদেব সৰ্ব্বদা প্রস্তুত
থাকাই দরকার।
দ্বিতীয়। সৈন্যবা ত প্রস্তুতই বষেছে হুজুব। মহাবাজ যশােবন্ত
সিহু দশ হাজার সৈন্য নিষে সিংহগডেৰ পথ আগলে বয়েছেন।
পুণার সকল পথই সুবক্ষিত। শিবাজী যদি পুণা আক্রমণ করতে চায়,
তাহলে আগে যশােবন্ত সিংহকে পরাজিত করতে হবে। আর তাও
যদি হয়, মহাবাজ যদি পরাজিত হন, তাহলেও শিবাজী পুণায় পৌছবার
আগে একটা খবব অন্তত আম পাবো।
তৃতীষ। তাই আমবা বলছিলাম হুজুর
প্রথম। আর একটু নাচ গান করলে হয় না?
তৃতীষ। হুজুব অনুমতি করুন।
শাযেস্তা খাঁ। ধম্মবিগঠিত কাজ। তা যুদ্ধের জন্য যখন তােমাদের
প্রস্তুত থাকতে হ ব ৩খন দেহ ও মন পটু বাখা চাই বই কি।
প্রথম পারিষদ লাফাইল গুলি
প্রথম। সাধে কি হুজুবেব কাজে আমরা জান কবুল কবি।
শাযেন্ত খা। কিন্তু সবাব টবাব এনাে না যেন।
দ্বিতীয়। না, না সব টবাব নয --নেশায় মশগুল
পড়লে সময় থাকতে শিবাজীব আগমন সংবাদ পাওয়া যাবে না।
অব সবাদ পেলেও যুদ্ধ বা পলায়ন কোনটাই তেমন যুৎসই হয়ে
উঠবে না।
.
গৈল্লিক-পতাকা
৩। ওহে মিছে ভয়। শিবাজী যদি চতুরই হয়, তাহলে কি আৰু
সিংহের গহবরে মাথা গলাতে আসে ?
১২। হুজুর যদি অনুমতি কবেন ত বলি-
২। বড় কালাে জলাে বােধ হচ্ছে।
৩। হুজুর অনুমতি করুন।
শায়েস্তা খা। তােমরা যা হয় কর-আমি চল্লাম। আমার বড়
ঘুম পাচ্ছে।
শায়েস্তা খা উঠিয়া গেলেন। সবাহক সুরা আবির দিল।
নাচ-গান চলিতে লাগিল। পারিষদরা সুরা পান
করিতে লাগিল। ৰাজীৱ গাহিতে লাগিল
কাকন ফেলে এসেছি হায়
নদীর ঘাটে মনের ভুলে
বাঁশের বাঁশী বাজ লাে যখন,
অমনি যে প্রাণ উঠলে দুলে।
যে জন কাকন কুডিবে এনে
পরিয়ে দেবে হাতটি টেনে--
যৌবন মাের লুটিযে দেৰ, তার চরণে পরাণ খুলে।
১ম। বাবা শিবাজী, তুমি পাহাড়-পঝতে ঝোপে জঙ্গলেই থাক
বাবা। আমবা দেহ আব মন পটু বাবার জন্য নিত্য এই বকম
ফুত্তি করি।
২। আব যদি নেহাৎই একবার তােমায পুণায় আসতে হয়,
তাহলে আগে খবর পাঠিযে এসো বাবা।
৩য়। কিন্তু বাবা, এখন যদি এসে পড়ে ?
১ম। এখন এলে কে যাবে। আবহাঠাব মদ্দা মেয়ে তাবা
দেখেছে, দিল্লীর এই সুন্দরীদেব নয়ন বাণে একেবাবে ঘায়েল হয়ে
ম দৃশ্য ]
গৈৱিক-পতাকা
২। কিন্তু লােকটা শুষেছি বড় কঙা-রকমের-এসেই চুপিয়ে
কাটে, দুটো মিঠে কথাও বলে না।
১ম। এসে কি আমাদেরই আর দেখা পাবে। আমরা এই
পরীদের ডানায় চেপে উধাও হয়ে যাবে। কি ভাই, তােমরা যে
সৰ চুপ মেরে গেলে। হুজুর অনুমতি দিয়ে গেছেন, সারারাত
চালাও।
বাজীরা আবার গাহিল।
কুফুমে আজ ঘুম ভেঙেছে, শ্যামের সাথে খেলৰ হােৱী।
শিউলিফুলি কাপড় ছেডে,
ডালিমফুলি বসন পরি।
মন-কুসুমে ব গুলেছি, সরম ভরম সব ভুলেছি
তােমার রাঙা হাসির রংয়ে--
পিচকারী আজ দাও না ভৰি ।
পুনরায় নৃত্য সুব হহল। দ্বিতীয় পরিষদ উঠিয়া বাহিরে
যাইতে উদ্যত হহল। তৃতীয তাহাকে ধরিয়া ফেলিল।
৩ষ। এই বদবসিক, বেতমিজ•• রস ভঙ্গ কবে কোথা যাও চাদ ?
১ম। কোথায় যাও?
২। হুজুরের হুকুমটা সকলকে শুনিযে আসি—আজ সারারাত
ফুর্তি চলবে।
১ম। ই, বাবা, সাবাবা কাফেরেব এই বাড়ীৰ ঘৰে ঘরে আজ
হরী-পরীদের জলসা জমে উঠুক।
দ্বিতীয় প্রস্থান করিল। নৃত্য শেষ হইয়া গেল।
৩৪। এস সুবীবা গলা ভিজিযে নাও।
লজ্জা কিসেব ? কুলবধু তােমবা যে নও, তা আমরা
জানি, তােমরাও জান।
গৈরিক পতাকা
৩ষ। তােমৰা সঙ্গে এসেছু বলেইত প্রাণটা হাতে নিয়েও আমােদ
করতে পারছি।
৪। আর প্রাণ আমাদের যাবেই যখন, তখন শিবাজীর
বাঘনখের আঘাতে না গিযে তোমাদের বাহুর চাপে আর দশনাঘাতেই
তা যাক। এস, এস সুন্দরীরা।
পারিষাবাঈজীদের টানিয়া কাছে কলাইল এবং
সকলে মিলিয়া সুরা পান করিতে লাগিল।
দ্বিতীয় পারিষদ প্রবেশ করিল।
২। কি বাবা, এই মাঝে নেতিষে পড়লে। ঘরে ঘরে হুজুরের
হয় শুনিয়ে এলাম।
১ম। শুনে সব কি কবলে ?
২য। দাড়াও বাবা, গলাটা একটু ভিজিষে নি।
৩। হা, হা এই নাও এখন বল ।
২য়। আমার মুখের কথা শেষ হতে না হতে বাঈজীদের ডাক
পড়ল, তাবা এল, তাদের ওড়না আকাশে উড়ল, তাদেব কাচুলি দুলে
উঠল, বাঘডা উঠল ফুলে। ঘবে ধবে দেখে এলাম হুবীপবীদের জলসা।
১ম। এই মিছে কথা ।
৩। আমাদেব যােক পেয়েছিস? আমাদেব বুদ্ধি নেই।
হ্য। শুধু বুদ্ধিই যে নেই তা নয়—মাথায় দুটো কবে চোখও
নেই ওই দেখ না
হটিকের দ্বারে নৃত্যরতা নর্তকীদের ছায়া
পরিষ্কার হইয়া উঠিল
ওয। আবে বাঃ বাঃ, আমবাই কি চুপ করে থাকব। সুন্দরী
গা ঝাড়া দিয়ে উঠে পড।
চুপ। ওবা নেচে নেচে হ্যবাণ হোক, তারপর আমাদের
তালে ১ম দৃশ্য ] গৈরিক পতাৰ আসর জমবে। আমরা ততক্ষণ সিবাজী ওই সুব। আর এই সুন্দরীদের অধর সুধা উপভােগ করি। কাটিকের বারে প্রতিফলিত নৃত্য দেখা যাইতে লাগিল। নুপুরের আসিতেছিল—এঘরে প্রমত্ত নারীরা जरन বসিয়া দেলাইতেছিল। সহসা একটা আর্তনাদ শােনা গেল। নর্তকীদের নাচের ছল ভাঙ্গিয়া গেল। পলায়নপর মু িছায়া জারে প্রতিফলিত হইতে লাগিল। এ ধরের নরনারীরা ভীত হইয়া উঠিব পাড়াহল ১ম। কি। এমন কবে তাল কেটে গেল কেন ? নেপথ্যে। দম্য, দস্য। সামাল ! মামাল। ২। ও কিরে বাবা। নরনারী এক জায়গায় জড়াে হইল রণবাও। (নেপথ্যে) পবিএ এই প্রাসাদকে তােরা নরকে পাৰণত কবেছিস, তােদেব আব পবিত্রণ নেই। প্রাণ দিযে তােদের এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত কবতে হবে। ফটিকের দ্বারে প্রতিবিম্ব দেখা গেল, সৈনিকেরা তরবারির আঘাত করিতেছে। ৩২। কেটে ফেল্লে, টুকবে টুকবে কবে কেটে ফেল্পে। সকলে মুখ ঢাকিল, নকীর আর্তনাদ করিয়া উঠল শায়েস্তা খা। (নেপথ্যে) দস্য শিবাজী । এই নিশীথ আক্রমণের প্রতিফল পাৰে। ২য়। ওই হুজুবেব কণ্ঠস্বব । আর ভয় নেই। নেপথ্যে। হুজুব, হুজুর । শায়েস্তা খা। (নেপথ্যে) যারা প্রাণ বাঁচাতে চাও, তারা আমার অনুসরণ কর।
মৈরিক পতাকা [ এ অ নেপথ্যে। পালাও, পালাও। ২। পালাও পালাও। নরনারী দ্রুত মানের দিকে গেল তানাজী। পলায়িত শায়েস্তাখার অনুসরণ কর। নরনারীরা ফিরিয়া আলি মাহাঠাৰ পথ অবরোধ কবেছে। ২য। ঐদিকে, ঐদিকে চল। অন্য বারের কাছ গিয়া ফিরিয়া আসিল ১ম। এ দিকেও আবহাঠা দস্য। বেগে একদল মারাঠ। সৈনিক প্রবেশ করিল। উভয় পার্থ হইতে তাজী রঘুনাথ ও মারহাঠা সৈনিকগণের প্রবেশ তানাজী। স্তব্ধ হও কুকুবের দল। বাইজীরা চীৎকার করিয়া দৌড়াইয় গেল প্রথম পারি। আমরা কি বন্দী ? তানাজী। হা, মহারাজ শিবাজীব বন্দী তােবা। দ্বিতীয় পাৰি। কি এত বড় স্পর্ধা। জান আমাদের সেনাপতি • শায়েস্তা খা। অন্য ঘরের গোলমাল খামিরা গিযাছে রঘুনাথ। তােমাদের সেনাপতি হাতেব একটা আঙ্গুল রেখে অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে পালিয়েছেন। এতক্ষণ তিনি হয়ত আমেদ- নগরের পথে। পারিবদরা নতজানু হইয়া কহিল পারিষদগণ। রক্ষা কর, আমাদের বক্ষা কব। ফটিকের দ্বার খুলিয়া শিবাজী প্রবেশ কৰিলেন পিছনে রূণরাও এ সৈনিকগণ
১ম দৃশ্য )
গৈরিক পতাকা
শিবাজী। যাও কাপুরুঞ্জের জল, তােমাদের শিবিরে গিয়ে বল ৰে
শায়েস্তা খাঁ পলারিত, শিবাজী পুণা অধিকার করতে এসেছে।
পারিজা মুক্তি পাইরা পলায়ন কলি
রুণরাও। দেখত দূবে পাহাড়ে পাহাড়ে মশালের আলাে দেখা
যায় কি না?
লালও পরে জানালার কাছে গেল
বণবা। মহাবাজ পার্বত্য পথ দিয়ে প্রজ্জ্বলিত মশাল নিয়ে
অসখ্য সৈন্ত চলা ফেরা করছে। বাপুজী আর নেতাজী হয়ত
মহারাজের অপেক্ষা করছেন।
শিবাজী। দেখত রণরাও, মুঘল সৈন্য পাহাড়ের দিকে অগ্রসর
হচ্ছে কি না ?
রণরাও। মহাবাজ যথার্থই অনুমান করেছেন। মুঘল বাপুজী
আব নেতাজীকে আক্রমণ করবার জন্য তীরবেগে অগ্রসর হচ্ছে। তাদের
মশালের আলােকে সমস্ত শহব আলােকিত হয়ে উঠেছে।
শিবাজী। দেখত আর কিছু দেখতে পাও কি না?
বণরাও। সৰ্ব্বনাশ হলাে মহাবাজ । বাপুজী আর নেতাজী
পৃষ্ঠ প্রদশন কবছেন। তাবা পৰ্বত শিখবে, অবণের ভিতরে সৈন্যশ্রেণী
সরিখে নিয়ে যাচ্ছেন।
শিবাজী। বেশ। রণবাও, আমরা এখন নিশ্চিন্ত।
বাবাও। কিন্তু বাপুজী আর নেতাজী যে এখুনই মুঘল কর্তৃক
আক্রান্ত হবেন। আদেশ ককন মহারাজ, আমি তাদের সাহায্যার্থ
গমন করি।
শিবাজী। তাব কোন প্রয়ােজন নেই রণরাও। মুঘল যখন
পাহাড়ে গিয়ে উঠবে তখন দেখতে পাবে যে, প্রজ্জ্বলিত ওই মশাল নিয়ে
একটি মারহাঠাও সেখানে নেই।
৪
গৈfাক-পতাকা
[ ৩ অঙ্ক
রণরাও। সেনাপতিবিহীন মুঘলকে বাধা দিতে কি, আবহাঠারা অক্ষম
মহারাজ, যে, এবারও তারা পলায়ন করবে।
শিৰাজী। সময় উপস্থিত হলে পিছন দিক থেকে আমরা মুঘল
সৈন্য আক্রমণ করব। কিন্তু এখন নয় রণবাও! পাহাড়ে ঐ যে মশাল
দেখছ, ও মারহাঠার মশাল নয়। গাে-মহিষের শৃঙ্গে শৃঙ্গে মশাল বেঁধে
দিয়ে পাহাডেব পথে পথে তাদের তাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে' তােমারই
মুষল ভাবছে
মারহাঠা সৈন্যেরা পুণা আক্রমণ করছে।
তাই তারাও ছুঠে চলেছে। কিন্তু পাহাড়ে যখন তাহারা পৌছুবে
তখন জ্বলে জ্বলে সব মশাল নিভে যাবে—মুঘল একটি মারাঠারও
সন্ধান সেখানে পাবে না। যেমনটি হবে বলে আশা করেছিল,
তেমনটি না দেখে মুঘল কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়বে। সেই অবসরে
বাপুজী আর নেতাজী মুঘল-সৈন্য আক্রমণ করবে। আর তখনই
রণরাও, তখনই আমরা পিছন দিক থেকে মুঘলের উপর ঝাপিয়ে পড়ব।
রণবাও। মহারাজ মুঘল প্রায় পাহাড়ের পাদদেশে পৌঁছেছে।
শিবাজী। ভবানীৰ নাম নিয়ে এবার চল রণরাও।
মারহাঠা সৈন্যগণ। জয় মা ভবানী! জয় মা ভবানী।
দ্বিতীয় দৃশ্য
একটি কুটীরের বহি:প্রাঙ্গণ। ভজন গান চলিতেছে। শিবাজী ও তানাজী প্রবেশ করিলেন।
শিবাজী। পুনায় এসে ওই মহাপুরুষের চরণ দর্শন না করে আমি
ফিরব না, তানাজী। তুমি তার ব্যবস্থা কর।
রামদাস। (কুটিরভ্যন্তর হইতে) জয় রঘুপতি।
৫
গৈরিকপতাকা
শিবাজী। ই শােন না।
তানাজী। শুনেছি মহারাজ এ ঊরই কর। মারহাঠার এক
প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত অবধি সর্বত্র মানুষের আবেদন নিয়েই তিনি
শিবাজী। আর তারই ফলে হাজার হাজার বীর এসে আমার
পতাকাতলে সমবেত হচ্ছে। ওই দেবতার চৰণ দৰ্শন না করে আমি
ফিরব নানাজী তুমি তাবব্যবস্থা কব।
রামদাস কুটীর হইতে বাহির হইয়া আসিলেন।
রামদাস। জয বঘুপতি।
শিবাজী অগ্রসর হইয়া তাহাকে প্রণাম করিলেন। রামদাস
তাহার মুখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে কিছুকাল চাহিয়া রহিলেন।
পেযেছি পেয়েছি বা মােবহাঠা সন্ধান কবে মানুষের মত মানুষ
আজ পেয়েছি।
শিবাজী। যদি কৃপাচক্ষে দেখেছেন তাহলে চলুন, রাজধানীতে
গিযে হিন্দুব আত্ম-প্রতিষ্ঠাব এই যজ্ঞে ঋত্বিকের আসন পবিগ্রহ করে
আমাষ ধন্য করন।
রামদাস। বাজধানী? বামদাস বাজধানীর ঐশ্বৰ্য্য সইতে পারে
না বাজা! বাজধানী মানুষের মনুষ্যত্বকে নিঃশেষে গ্রাস কবে ফেলে, তাকে
বিলাসের ঔদ্ধত্যেক, স্বার্থপবতর জীবন্ত প্রতীক কবে তােলে।
শিবাজী। প্রভু, এ অধমকেও কি আপনি ওই কারণে অযােগ্য বলে
মনে কবছেন ?
বামদাস। না বাজা, তুমি তার ব্যতিক্রম। তুমি বাজধানীতেই
থাক কি পৰ্বত গহবেই বাস কর, তােমাৰ তেজঃপুঞ্জ সকল মলিনতা
গ্রাস কববে। কিন্তু তােমাকেও আমি বলে বাখি রাজা, বাজত্বের মােহ
বড় ভয়ানক, সাধনার মহা বিপ্ন। সর্বদা সতর্ক থেকো।
গৈরিক পতাকা
শিবাজী। প্রভু, আমি নিজে বে তা কখনাে অনুভব করিনি,
তা নয়। তা করেছি বলেই ত আপনার শরণাপন্ন হয়েছি। দৈন্ত
আসে, দৌল্য আসে, মােহ আসে বলেই ত আমি আশ্রয়প্রার্থী।
একান্তই যদি রাজধানীতে যেতে আপনি অসম্মত, তা আমাকে
চরণে টেনে নিন—রাজা শিবাজী যদি মরেও যায়, মানুষ শিবাজী
আপনার আশীর্বাদে অমৃতের অধিকারী হবে।
রামদাস। রাজা তুমি কি সত্য বলছ ?
শিবাজী। প্রভুর সঙ্গে পরিহাস করবার দুঃসাহস দাসেব নেই।
রামদাস। রাজ্য, সম্পদ, প্রতিষ্ঠা সমস্ত পবিত্যাগ করে দ্বারে দ্বারে
ভিক্ষা করে ফিরতে পারবে ?
শিবাজী একান্তে ৩ানাজীকে
শিবাজী। তানাজী লেখনী সংগ্রহ করে দাম পত্র লিখে আন।
পৃথিবীতে আমার যা কিছু আছে, সবই আমি ওই দেবতার শ্রবণে
অর্পণ করলাম।
কুটীরের ভিতর হইতে একটি লােৰু আসিয়া একখানি কোকি
রাখিল। রামদাস তাহাতে উপবেশন করিলেন। লােকটি
পতাকা আর ভিক্ষাপাত্র হাতে করিয়া দাড়াইয়া রহিল।
যাও তানাজী কালবিলম্ব করে না।
তানাজী। কিন্তু মহাবাজ,
শিবাজী। যাও, যাও বন্ধু।
তাজী প্রস্থান করিলেন। শিবাজী এক দবের পদতলে
বাসলেন। মামলার শিবাজীর মতকে হাত রাখিলেন।
রামদাস। বৎস, সন্ন্যাস বড় কঠোর ব্রত।
শিবাজী। কঠোর জীবন যাপনে দাস অভ্যস্ত।
নাজী প্রবেশ করিয়া শিবাজীর হাতে মানপত্ৰ অৰ্পণ করিলেন।
শিবাজী অহা পড়িয়া দেখিলেন। তারপর উঠিল দাড়াইলেন।
২য় দৃশ্য ]
গৈরিক-পতাকা
৪
এছু। আদেশ করুন, দাম চরণে অঞ্জলি দান করবে।
রামদাস। বেশ, তােমার যেরূপ পৰি। ভিক্ষাপাত্র।
রামাস হাত বাড়াইলেন। সেবক তার হাতে ভিক্ষাগল গান কলি।
শিবাজী দানপত্রখানি তাহাতে অর্পণ করিলেন। তানাজী মাথা নত কলি।
শিবাজী। স্থাবর অস্থাবর যা কিছু আমার আছে, সৰ্বৰ আমি
নিবেদন ক ছি—গ্রহণ করেআমায় ধন্য করুন।
রামদাস। রাজা।
শিবাজী। রাজা নই প্রভু, শ্রীচরণের দাস।
বামদাস। উত্তম। আমার অনুসরণ কর। ।
রামদাস আবাৰ কুটারের দিকে অগ্রসর হইলেন।
শিবাজী ও সে তাহার অনুগমন করিলেন।
তানাজী। মহারাজ, প্রভু বন্ধু
শিবাজী ফিজিযা চাহিলেন না। রামসেসঙ্গে সঙ্গে অদৃশ্য হইল
(গলেন। নাজী ক্ষিপ্তের মত প্রাঙ্গণে ছুটা করিতে লাগিলে।
তানাজী। কেন এ সন্ন্যাসীর কথা মহাবাজকে বলেছিলাম-কেন
সঙ্গে কবে নিয়ে এলাম ? এক মুহূর্তে মহারাষ্ট্র কল্পনার সামগ্রী হয়ে গেল।
কুণরাও প্রবেশ কলি।
বণরাও। আপনি এখানে ? মহাবাজ কোথায়? একি। আপনি
অমন কবছেন কেন? কি হষেছে আপনার? মহারাজ কুশলে আছেন ত?
তানাজী। বণবাও। আবহাঠার আজ বড় দুর্দিন। মহারাষ্ট্রকে
যিনি মুক্তি দেবেন, মহারাষ্ট্রকে যিনি সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন বলে প্রতিজ্ঞা
কবেছিলেন, তিনি আজ বাজ্য সম্পদ সকলই এক সন্ন্যাশীৰ পায়ে
নিবেদন কবে তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন।
রুণরাও। সন্ন্যাসী! এমন শক্তিমান সন্ন্যাসী কে সেনাপতি,
মহাবাজ শিবাজীকেও যিনি মমুগ্ধ করে ফেল্লেন।
গৈৰিক পতাক
[ ৩ অৰু
তানাজী। প্রভু রামদাস স্বামী।
ৰণরাও। আমায় দেখিয়ে দিন সেনাপতি, কোথায় সেই সন্ন্যাসী।
আমি তাকে মহারাষ্ট্রের বাহিবে রেখে আসব। তাঁকে বলব স্যাণে
এ জাতির প্রয়ােজন নেই।
শিবাজী (নেপথ্যে)। ভিক্ষা দেহি।
তানাজী। ওই মহারাজেব কণ্ঠস্বর। এই দিকেই আসছেন।
গৈরিক বাস পৰি হত শিবাজী ভিক্ষাভণ্ড ২৩ লইয়া
কুটির হইতে বাহির হইলেন।
বণবাও। অসহ।
ভানাজী। চুপ, চুপ রণবাও।
শিবাজী ধীরে ধীরে তাবাজীর কাছে
আসিয়া চাইলেন।
শিবাজী। তানাজী, বন্ধু সৰ্ব্বপ্রথমে তুমি আমাকে ভিক্ষা দাও।
তানাজী। বাজবাজেবকে ভিক্ষা দেব আমি।
শিবাজী। বাজা আর নই তানাজীরাজা ওই কুটিরে, আমি
পৰিব্ৰাজক, ভিক্ষা দাও।
তানাজী। শিব্বা, বন্ধু
শিবাজীর গলা জড়াইয়া ধরিয়া তানালী
কাদিতে লাগিলেন।
বণরাও। মহাবাজ ।
শিবাজী জবাব দিলেন না।
রণরাও। সেনাপতি।
তানাজী। কি বণবাও?
বণরাও। মহারাজকে জিজ্ঞাসা করুন তিনি আমার গােটাকয়েক
প্রশ্নের জবাব দেবেন কিনা।
২ দৃ
গৈরিকপতৃকা
তাজী। তুমিই জিজ্ঞাসা কর রণরাও।
তাশাজী দূরে সবিয়া দাঁড়াইলেন।
শিবাজী। কি রণরাও?
রণরাও আমি জানতে চাই, এ অভিনয়ের অর্থ কি?
শিবাজী। অভিনয় !
রুণরাও। অভিনয় নয়,? দেশ জাতি সব পড়ে রইল আর
আপনি জীবনের ব্রত ভুলে গিয়ে সন্ন্যাস গ্রহণ করলেন, তাই
আমাদের বিশ্বাস করতে হবে?
শিবাজী। এই-ই প্রথম রাজা, সন্ন্যাসী হলােনা, রূণরাও।
ভাবতবর্ষের বহু রাজা সন্ন্যাস গ্রহণ করে ধন্য হয়েছেন। দেশ ইত,
জাতি রইল, তাদেব মর্যাদা রক্ষার জন্য রইলে তুমি, রইল তানালী, রইল
মারহাঠার অযুত বীরসন্তী-আর রইলেন সর্বশক্তিমান ওই দেব
যিনি দয়া করে আমায় আশ্রয় দিয়েছেন।
রণবাও। মহারাষ্ট্র যঙ্গি ওই সন্ন্যাসীকে রাজা বলে না মানতে
চায় ?
শিবাজী। বিদ্রোহ করুক! প্রভুর ইচ্ছায় রাজ-ভৃত্য শিবাজী
পারবে সে বিদ্রোহ দমন করতে। তানাজী, ভিক্ষা দাও।
নাজী
কি ভিক্ষা দোৰ বন্ধু?
শিবাজী। তাহলে আমি চল্লাম পুববাসীর দ্বারে দ্বারে। ভিক্ষা দাও,
ভিক্ষা দাও!
বিৰাজী ধীরে ধীরে চলিল গেলেন
রণরাও। সেনাপতি আদেশ দিন, উন্মত্ত রাজাকে আমি বন্দী করি।
প্রজারা এই অবস্থায় যখন কে দেখবে, এই সংবাদ যখন মুঘল পাৰে
তখন মহারাষ্ট্রকে যে আর রক্ষা করা যাবে না। আদেশ দিন
সেনাপতি।
৭.
গৈরিক পতাৰ।
।
তানাজী। আদেশ দেবার অধিকার আমার নেই বণরাও-সে
অধিকার যার আছে, তিনি ওই কুটীরে।
শিবাজী।' (নেপথ্যে) ভিক্ষা দাও। ভিক্ষা দাও।
রণরাও আর তানজী মুক্তির মত ডাইয়া রহিল।
}
তৃতীয় দৃশ্য
ঔরংজেব ও মহারাজ জয়সিংহ
ঔরংজেব। ভাইদের বিদ্রোহ আমায এত না চিন্তিত কবেছে
মহাবাজ, শিবাজীব সাফল্য তাই করেছে তার সংঘাতে মুঘল সাম্রাজ্য
ভেঙে পড়াও অসম্ভব নয়। শিবাজী শুধু শক্তিমানই নষ, বুদ্ধিমানও
বটে। শায়েস্তা খাঁ তার প্রকাণ্ড নির্বুদ্ধিতা নিযে পণণ কিযে বসে
ছিল—আব শিবাজী শুধু চাতুবী করেই পুণা কেড়ে নিল।
জয়সিংহ। কিন্তু যুদ্ধ কবলে বীব শায়েস্তা খাঁ শিবাড়ীকে সমুচিত
শিক্ষা দিতে পারতেন—শিবাজী যুদ্ধই কবল না।
বংজেব। তাৰ কাৰণ শিবাজী মুখ নষ। *যেস্তা খাঁকে আমি
বাঙলাষ পাঠাচ্ছি মহাবাজ। আব আপনাকে পাঠাতে চাই ‘দাক্ষিণাত্যে।
কি বলেন মহারাজ ?
জসিংহ। সম্রাটেব আদেশ অমান্য কবি এমন অক্তি আমার নাই,
ঔরংজেব। ঔবংজেব স্পষ্ট কথা শুনতে ভালবাসে মহাবাজ। মনে
কথা স্পষ্ট কবে প্রকাশ করুন।
৭১
।
অ দৃশ্য ]
গৈরিক পতাক।
জয়সািহ। হিন্দুর বিরুদ্ধে হিন্দু হয়ে আমি
ঔরংজেব। মহারাজ জয়সিংহ। মুঘল যাদের বন্ধু বলে গ্রহণ
করেহে, তারাও কি হিন্দু প্রতি প্রকাশ করবার অবসব পাবে ? আমার
বিশ্বাস ছিল মহাবাজ জয়সিংহ মুঘলের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য বিদ্রোহী
হিন্দুদেব দমন করতে দ্বিধাবোধ করবেন না। কিন্তু এখন দেখছি
মহারাজ সম্বন্ধে আমাদের ধারণা নিতুল নয়।
জাসংহ। জাহাপনা, মুঘল সাম্রাজ্যেব কণ্টক দূর করবার জন্য
আমি সৰ্ব্বদাই প্রস্তুত। আমি শুধু ভাবছিলাম লােকে কি বলবে ? তার
বলবে হিন্দই হিন্দুর সর্বনাশ করছে।
ঔবংজেব। আপনি দুর্ণামেব ভয় করছেন, মহারাজ।
জসিংহ। অন্য ভয জয়সিংহ জানেনা জাহাপনা।
ঔরংজেব।( অনিখুন পিতাকে কাবারুদ্ধ কবেছিলাম, তখন কিন্তু
দুর্ণামেব ভয কবিনি। ভাইব যখন শাস্তি দিযেছি তখনাে নয়—কেননা
কত্তব্য আমায পথ দেখিষেছিল, যশলিঙ্গা নষ কৰ্তব্যকে যদি পায়ে
দলতে পাবতাম, ধম্মের গান যদি উপেক্ষা কবতে পারতাম—তাহলে
দ্বিতীয় জগদীশ্বব আমিও হতে পাবতাম মহাবাজ। আপনার কি মনে হয়?
জসিহ। জাহাপনাব দুর্ণাম আমবা কখনাে শুনিনি।
ঔবজেব। কিন্তু আমি শুনেছি। থাক্ সে সব কথা। শিবাজীর
বিরুদ্ধে অভিযান কবতে আপনি কি তাহলে সম্মত নন ?
জসিহ। জাহাপনাব আদেশ কখনাে অমান্য করিনি—এখনও
করবনা।
ঔবজেব। আপনি আমাকে একটা কঠোর কর্তব্যে দায়িত্ব থেকে
রক্ষা কবলেন মহাবাজ। যশােবন্ত সিংহ দাক্ষিণাত্যে আছেন, কিন্তু তাঁব
ওপব আমার তেমন আস্থা নেই। দাক্ষিণাত্যে আপনার সঙ্গে যাবেন,
সেনাপতি দিলীব খাঁ।
।
গৈরিক পতাকা
জয়সিংহ। তারও কি এই কারণ যে জাহাপনা আমাকে সম্পূর্ণ
বিশাল করতে পারেন না।
ঔরংজেব। হিন্দু-প্রীতি আপনাকে মাঝে মাঝে দুর্বল করে ফেলে
-দিলীর খাঁকে সেইজন্য পাঠাতে চাই।
জয়সিংহ। কিন্তু হিন্দুর পক্ষে হিন্দুর প্রতি একটা আকর্ষণ থাকা
কি অপরাধ?
ঔরংজেব। অবশ্যই নয়। শিবাজীকে শাস্তি দেবার জন্যই যে
আমি ব্য, এমন কথা মনে করবেন না, মহারাজ। আপনি যদি পারেন
শিবাজীকে মুর্বলের আধিপত্য স্বীকার করিয়ে নিতে, তাহলে আমি তাকে
পাহাজারী মনসবদারী দিতে পারি। আর এ কাজে আপনি ছাড়া আর
কেউ সাফল্য লাভ করবেন বলে আমার বিশ্বাস নেই।
জয়সিংহ। জাপনার অনুগ্রহ !
ঔরংজেব। 'মহারাজ তাহলে দাক্ষিতি অভিযানের আয়ােজন
করুন। আমরা এখানে সাগ্রহে সেইদিনের জন্য অপেক্ষা করব যেদিন
শিবাজীকে আপনি এখানে নিয়ে আসবেন।
জয়সিংহ প্রস্থানের উদ্যোগ কৰিলে।
মহারাজ জয়সিংহ।
জসিংহ ফিরিয়া পাড়াইলেন।
আপনি যতদিন দাক্ষিণাত্যে থাকবেন, ততদিন কুমার রামসিংহ দরবারে
উপস্থিত থেকে আমাদের আনন্দ বৃদ্ধি করবেন।
জয়সিংহ। সম্রাট।
ঔরংজেব। বলুন মহারাজ!
জয়সিংহ। সম্রাট কি স্পষ্ট কথা বলবেন ?
ঔরংজেব। আমিত পূর্বেই বলেছি মহারাজ, ঔরংজেব স্পষ্ট
কথাই বলে।
গৈরিক পতাকা
।
জয়সিংহ। সম্রাট কি আমায় অবিশ্বাস করেন?
ঔরংজেব। বার্ধক্য বশতঃ মহারাজ জয়সিংহও তাঁর ক্ষুরধার বুদ্ধির
তীক্ষ্ণতা ছুরিয়েছেন ? আপনাকে অবিশ্বাস করলে, আপনাকে দাক্ষিণাত্যে
পাঠাতাম না, পাঠাতাম কাবু বা কান্দাহারে-জীবন নিয়ে যেখান থেকে
আপনি ফিয়ে আসতে পারতেন না।
জয়সিংহ কুর্ণিশ করিয়া চলিয়া গেলেন। জয়সিংহ যেদিকে
চলিয়া গেলেন ঔরংজেব কিছুক্ষণ সেই দিকে চাহিবা
রহিলেন। তারপর একটু হাসিয়া বলিলেন।
রাজপুত চতুব কিন্তু মুঘলও মুখ নয়।
দিলীয় খা প্রবেশ করিয়া কুর্ণিশ কৰিলে।
এই যে দিলীব। দিলীর।
দিলীর। জাহাপন।
ঔবংজেব। হিন্দুব বুদ্ধি খুব তীক্ষ্ণ, না দিলীয় ?
এতবড এটা জাতি, এতবড় একটা সভ্যতা গড়ে
তুলেছিল।
ঔবংজেব। আর মুসলমান, দিলীব ? জাতি হিসেবে খুবই হােট।
সভ্যতা তাদেব কখনাে ছিলনা, এখনও নেই—কেমন?
দিলীব। দাস সে কথা বলেনি জাহাপনা।
ঔরংজেব। দিলীব খাঁ তা অবশ্যই বলবেন।—কিন্তু জয়সিংহ বলতে
পারে। মুখে না বল্লেও ভাবে ইঙ্গিতে তাই প্রকাশ কবে। সামা
একটা মাবহাঠা জায়গীরদাব শিবাজী, শুধু নাকি বুদ্ধিব বলেই মুঘলকে
বাব বা পরাজিত কবেছে। আমি এবাব তাই দেখতে চাই মুঘল সত্যই
নির্বোধ কিনা।
দিলীর। কিন্তু মুঘল যে নির্বোধ সে কথা কে বলেছে
জাহাপনা।
দিলীব।
গৈৰিক পতাকা । ঔরংজেব । এক এক সময় আমারই অই বলতে ইচ্ছে হয়, দিশীর। তোমাকে আমি দাক্ষিণাত্যে পাঠাতে ছাই মহারাজ জয়সিংহের সহকৰ্মীৰূপে। দিলীর। মহারাজ যশােবন্ত সিংহ ? ঔরংজেব। তিনিও সেইখানেই থাকবেন। হিন্দুর মনে একটা ক্ষোভ রয়েছে দিলীর। তাদের বিশ্বাস যে সব থাকতেও শুধু মুসলমানের চক্রান্তেই তাৰ' সব হারিয়েছে। তাই যখনই কোথাও কোনমতে হিন্দুশক্তি এতটুকু প্রবল হয়ে ওঠে, তখনই তারা আশা কবে সমগ্র ভারতবর্ষ নিয়ে আবার তারা ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠিত করবে। যশােবন্ত সিংহ, জয়সিংহ, সকল বৰুমেই মনুষ্যত্ব হাবিয়েছে-কিন্তু হিন্দুত্বেব গন্ধটুকু আজও ছাড়তে পাবেনি শিবাঙ্গীর অভ্যুত্থান দেখে এরা ভাব ছ হিন্দুরাজ্য বুঝিবা আবার প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু আমিও বলে বখছি দিলীব, এদের দিয়েই আমি শিবাজীকে দমন করব। এই জন্য তোমাকে দাক্ষিণাত্যে যেতে হবে। দিলীব। দিলীব চিরদিনই সমাটেব আদেশ বিনা প্রশ্নে পালন করেছে। ঔবজেব। তাই ত জানতাম দিলীব। শাফেস্তা পা এনায়েৎ খা যাক দিলীব, মহাবাজ জসিংহের সঙ্গে মি অবিলম্বে দাক্ষিণাত্যে যাও। শিবাজীব স্পদ্ধা আব বেড়ে উঠতে দিলে মুঘল সামাজ্য বিপন্ন হবে। বিলীর প্রশ্নান করিলেন হিন্দুর প্রতিষ্ঠা, মহাবাষ্ট্রেব স্ববাষ্ট্র-ঔবজেব জীবিত থাকতে নয়। ঔজব প্রস্থান করিলেন চতুর্থ দৃশ্য রামদাস স্বামীয় কুটীর-প্রাঙ্গন। রামদাস উপবিষ্ট। একজন শিয় পতাকা ও ভিক্ষাভাও ইয়া দাঁড়াইয়া আছেন নী৮ে জিজাবাঈ ও শ্যামলী বসিয়া আছেন। তানাজী এবং রণরাও দণ্ডবিমান রামদাস। বিশ্বাস, কব মা, মহারাষ্ট্রকে শক্তিহাবা কবুবার জন্য আমি তােমার পুত্রকে সন্ন্যাসে দীক্ষা দিই নি। তােমার পুত্রে তপস্যায় মহারাষ্ট্রের শক্তিই বৃদ্ধি পাবে। জিজাবাঈ। প্রভ। নারী আমি, সন্ন্যাসেব মন্ম অবগত নই। মহাবাবে বীর সন্তান রণসাজ ত্যাগ কবে বৈবাগীব উত্তীয় কঁাধে ফেলে ভিক্ষাভাণ্ড হাতে নিয়ে সংসারেব অনিত্য প্রচার কবলে মহাবাষ্ট্রেব কতখানি হিত সাধিত হবে, তা অনুমান বে নেবাব শক্তি আমার নেই। ভারতের অতীত ইতিহাস মনে মনে আলােচনা কবে আমি দেখতে পেয়েছি প্রভু যে, সংসাবেব প্রতি, সম্পদেব প্রতি আসক্তি নয়—অনাসক্তিই—হিব এই শশাচনীয় অধঃপতনেব জন্য দায়ী। রামাস একটু হাসিলেন তারপর বলিলেন বামদাস। ভাবতেব ইতিহাসে তুমি কি শুধু দেখেছ মা বৈবাগ্যের প্রভাবে শক্তিধ অপচয • ঐশ্বশয্যব অনাচার দেখনি? তামসিকতাব জড়তা দেখনি ? মদ মাংসৰ্য্যেব উচ্ছলতা উদ্দমতা দেখনি? বৈরাগ্য বিরতি নষ মা, বৈরাগ্য মানুষকে খব্ব কবে না মা, বৈরাগ্য মানুষকে অতিমানব কবে তােলে। আবহাটায়, শুধু মাবহাটা নয়, সমগ্র ভারতে একটি অতিমানব যেদিন আত্মপ্রকাশ করবে, সেদিন তার সকল দৈন্তের অবসান হবে। বিশ্বাস কর মা, তােমার পুত্র, আমাৰ শিষ্য, মহাবাষ্ট্রের রাজা ভবানীর গৈরিক পাকা [ অঙ্ক অংশাবতশ মহারাজ শিবাজীই সেই অতিমানবঙ্গের অধিকাৰী-সন্ন্যাস তার পক্ষে পুরুষােম হবার সাধনা। নাজী। সে সাধনায় যতদিন তাকে সমাহিত থাকতে হবে, ততদিনে মহারাষ্ট্র সমাধি প্রাপ্তি হবে। জিজাবাঈ। প্রভু রাজা সন্ন্যাস গ্রহণ করেছেন শুনে এলারা হতাশ হয়ে পড়েছে , শত্রুরা হযেছে উল্লসিত। এতদিন যারা মহারাষ্ট্রের মঙ্গলের জন্য জীবন পণ করে মহারাষ্ট্রের সেবা করে এসেছে, শিকার সন্ন্যাস তাদেব মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। শিব্বা যদি আর রাজধানীতে ফিবে না যায়, বাজদণ্ড আব যদি গ্রহণ না কবে, তাহলে অবাজকতা এসে পড়বে। আপনার বাজভব আপনিই গ্রহণ করুন। রামদাস। মা, আমি সন্ন্যাসী, বাজধর্ম অবগত নই। আমি কাৰ্য ভার গ্রহণ করলে সব দিকেই বিশৃঙ্খলা দেখাবে। বণবাও। বাজ্য পরিচালনেব শক্তি যদি না ই থাকবে, তাহলে মহারাজ শিবাজীর দান গ্রহণ করলেন কেন? রামদাস সংঘদিলেন রামদাস। তোমাদের কাউকে দিযে দেব বলে। নেবে? তুমি নেবে? মা, তুমি ? জিজাবাঈ। সন্তান যাৰ সন্ন্যাস নিযেছে, বাজ্যের বিলাসে তার প্রয়ােজন। রামদাস। তাহলে বাজ্যে কার কোন প্রয়োজন নেই। মহারাষ্ট্রকে রক্ষা করবার জন্য কোন মারহাঠাই এগিয়ে আসবে না? সারা মহারাষ্ট্রে শিবাজী ব্যতীত দ্বিতীয় বাক্তি নেই ? উত্তম। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তাহলে আমাকেই করতে হবে। শিবাজী প্রবেশ করিলেন হাতে তার ভিক্ষাও। সকলে চিত্রার্লিতে মতো দাড়াইয়া রহিলেন। শিবাজী ধীরে ধীরে গিয়া রামস শীয় চক্ষণ
গৈরিক পতাকা
প্রণত হইলে। তারপর উঠিয়া পাডাইলেন অন্য কাহারও দিকে
ফিলিও চাহিলেন না।
দাস। শিবাজী, তােমার সাধনায় আমি তুষ্ট হষেছি। তুমি যে সত্যই
রাষি সেই পরিচয় পেয়ে আমি বুঝেছি মহারাষ্ট্রকে তুমি প্রতিষ্ঠিত কববে।
রাজ্যে ফিবে গিয়ে আগেকার মত বাজকার্য পরিচালনা কর।
শিবাজী। প্রভু, আপনার আদেশ শিরােধার্য। কিন্তু ইষ্টদেবতার পায়ে
একবাথ যা নিবেদন করেছি, আবার তা কেমন কবে গ্রহণ করব? রাজ্য,
সম্পদ, কিছুই তাে আমার নয়।
রামদাস। রাজ্য তােমাব নয় তা আমি জানি। মহারাষ্ট্র তার বাজার
নয়, মহারাষ্ট্র সমগ্র জাতিব। বাজাব নষ বলেই তুমি রাজ্য কাউকে দান
কবতে পার না। মহারাষ্ট্র যে দিন বলবে যে সে তার বাজাকে চায় না, সেই
দিন বাজভাব ফেলে খি তুমি আমাব কাছে চলে এসাে। মনে বেখাে
রাজগিবি তােমাব বিলাস নযতােমাৰ ধৰ্ম্ম।
শিবাজী। ত্বয়া হৃষিকেশ দিস্থিতেন, যথ নিযুক্তোহম্মি তথা করাের্মি।
শিক্ষাজী রামপালের পদপ্রান্তে প্রণত হইলেন। রামস
গহ কে উঠাইয়া বুকে টানিয়া লইলেন।
রামদাস। কুটিবে গিয়ে বাজবেশ পবিধান কবে এস।
শিবাজী। প্রভুর এই স্নেহের দানও সঙ্গে নেবার অধিকার আমার
নেই ?
রামদাস। অধিকার কেন থাকবে না বৎস। প্রয়ােজন যখনই হবে,
তখনই সন্ন্যাসীব এই বেশ আমি তোমায পবিয়ে দেব।
শিবাজী কুটীরে চলিয়া গেলেন।
জিজাবাঈ। প্রভু, আমাষ মার্জনা করুন। আমি আপনার অভিসন্ধি
বুঝতে না পেরেই আপনাকে কর্তব্য সম্বন্ধে উপদেশ দেবাব স্পর্ধা প্রকাশ
করেছিলাম।
৭৮
গৈরিক পতাকা
[ ৩য় অঙ্ক
রামদাস। শিবাজীব জননী শক্তিরূপিণী। সে তারই মােগ্য কাজ
করেছিল। এমন মা না হলে কি অমন সন্তান হয় ?
শিকী বুটী হইতে বাহির হইয়া আলিকে।
এস বস।
রামাস শিয়ের হত হইতে গৈরিক পতাকাটি লইলেন।
তােমার গৈরিক বেশ আমি গ্রহণ কবেছি বলে দুঃখিত
হয়ে না বৎস। তার পরিবর্তেব ত্যাগের নিদর্শন এই গৈরিক পতাকা
তুমি ধারণ কর। এই গৈরিক পতাকা সৰ্ব্বদাই তােমায় কর্তব্যের
পথ দেখিয়ে দেবে।
শিবাজী হাটু গডিয়া বসিয়া পতাকা গ্রহণ করিলেন।
শিবাজী। প্রভু, পবিত্র এই পতাকা বহন কববার শক্তি আমার
দিন।
রামদাস তাঁহার মস্তকেহাত রাখিলেন। শিবাজী পতাকা
লইয়া উঠিয়া দাহালন।
শিবাজী। আজ থেকে ত্যাগ ও শক্তির প্রতীক এই গৈবিক
পতাকাই হােক মহারাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা।
তাশাজী এব রণরাও অসি উন্মুক্ত করিয়া জাতীয় পতাকাকে অভিশ
করিল। জিজাবাঈ পতাকার উদ্দেশে প্রণত হইলেন।
চতুর্থ অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য।
বিজাপুর দুর্গের অংশ। সখীরা নাচিতেছিল, গাহিতেছিল।
বীরা যুসিয়াছিল। সখীদের গান
আয় রূপসী, আয় বােড়শী , নাচৰি যদি আয ললিতা।
জোছনাতে বা নতুন হাওয়া, চকোর কোষ গাছে গীতা।
চাদের কিরণ বুড়িয়ে নিয়ে, ফুলের পরাগ উড়িয়ে দিয়ে,
ঘােমটা খুলে দুলিযে বেণ, খুজব সবাই মনের মিতা।
ঘুম সায়রে স্বপন সাচা, মধুর দুটি নয়ন পাখী
গান জাগানাে নুরতালে, নীরব তানে উঠবে ডাকি
ভােমরা বধু যে-এর সাথে নাচৰে সখি তারই ছাদে
ঘুম পরীদের রঙীন হাসি, ভুলিয়ে দেবে দুখের চিত।
বীব। তােমর এখন যাও। আমি একটু একা থাকতে চাই।
মবিয়ম। বাত দিন কি এত ভাব তুমি ?
বীব। স তােমবা বুঝবে না, মবিয়ম। আপন বলতে কেউ নেই,
শিবাজী কাউকে বাখেনি।
মরিযম। তােম যাও।
সখীগণের প্রণ।
যা হয়ে গেছে, তা ভুলে যাও। বেগমসাহেব তােমায় ভালবাসেন,
স্বয়ং সুলতান তােমার জন্য পাগল, তােমার ভাবনা কি বিবিসাহেব।
১ম দৃশ্য ]
গৈরিক পতাকা
বীব। তুই শুতে যা মবিয়ম। সুলতানেব কথা কখনাে আর
আমার কাছে বলিসনে।
গৈরিক-পতাকা
[ ৪র্থ অঙ্ক
মরিয়ম। তা কি পারি বিবিসাহেব। তিনি আমাদের প্রভু।
তাঁর গুণগান করলে আমাদের যে সাতজন্মের পাপ ঘুচে যায়।
বীরা। নিজের ঘরে গিয়ে সেই গুণগান কগে। আমায় আর
বিরক্ত করিসনে।
মরিষম। কিন্তু বিবিসাহেব, সুলতানকে দেখলে আর চোখ
ফেরাতে ইচ্ছে কবে না। শুনেছি মােগল-বাদশাহের মাঝেও অমন
পুরুষ কেউ নেই।
বী। তােদেব সুলতানকে আমি দেখেছি মরিয়ম। সে সুব,
খুবই সুন্দর। আব জেনেছি সে শয়তান-শিবাজীব চেযেও
শয়তান।
মরিষম। ও-কথা মুখ দিয়ে আর বাব কাবানা বিবিসাহেব। কেউ।
গুনে ফেলে রক্ষে থাকবে না।
বীরা। বিষম ?
মবিরম। কি বিবিসাহেব ?
বীরা। আমাষ তুই একটুখানি বিষ এনে দিতে পাবিস ?
মবিষম। তুমি সত্যি সত্যিই রাগ কবেছ। নাঃ। আমি শুতেই
চলুম। চাদ ডুবু ডুবু। অনেক রাত হযেছে।
মরিয়ম উঠিয়া চলিয়া গেল।
আলি শাহ আসিয়া দরজার
কাছে চুপ করিযা দাড়াইলেন
বীরা। কেন বিজাপুবে এসেছিলাম। শ্যামলি। তােৰ কথা কেন
শুনলাম না।
বীরাবাঈ কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকি গান শুরু করিল।
বিদায় বেলার চোখের মতে,
ভবৰ আমি ডালা।
১ম দৃশ্য ]
গৈরিক পতাকা
.
সুদ হয়ে গেল এবার
ফুল কুড়ানাের পালা।
কুর ক'রে কামভূমি
আবার যেদিন আসবে তুমি
তাের গলায় দুলিয়ে দেবাে
আমার হাসির মালা।
নীল আকাশের কুসুম ফুটছে অনন্ত,
তারই মাঝে মােঙ্গ আমার প্রাণের বসন্ত,
আজকে নীরব চাঁদনী রাতে,
জোছনা ঈদে আমার সাথে-
কাঁদছে শ নেইতো আমার
পাওর বংশােল।
দেওয়ালের উপরে একটি মাথা দেখা গেল। বীরাই
ভয়ে পিছাইবা গেল।
বাবা। একি! দেয়াল বেয়ে উপরে উঠে আসছে কে?
আলি শাহ আর একটু আড়ালে গিয়া দাড়াইলেন।
রণরাও (নেপথ্যে)। বীবা !
বীরা কাপিয়া উঠিয়া বুক চাপিয়া ধরিল।
বীর। কে ডাকলে। সেই কণ্ঠ দিয়ে কে আমায় ডাকলে?
রণরাও। বীর ! আমি এসেছি। তােমায় নিয়ে যেতে এসেছি, বীরা।
সমম্ভটি শরীর দেখা গেল।
বীরা। রণাও।
রণরাও। ই বীরা, আমি, আমি রণরাও! এস বীর, আমার
সঙ্গে চল।
বীরা। কোথায় যাব?
বণরাও। তােমার পিতাব দুর্গে।
বীরা। সে দুর্গ ত শক্ত অধিকার করে নিয়েছে।
২
[ অঙ্ক
রণরাও। শক্ত নয় বীরা l, দেবতার চেয়েও বড়, দেবতার চেয়েও
উদায়।
বীরা।
সৃষ্টি করে-
যে তােমার আর আমার মাঝে একটা পাহাড়ের ব্যবধান
বীরা।
রণও। তা সত্য নয়, বীরা।
যে গুপ্তঘাতক দিয়ে আমার পিতাকে হত্যা করিয়েছে।
রণও। বীরা, অভাগী বীর।
বীরা। যার জন্য এই পাপপুরীতে আশ্রয় নিয়ে আমায় নিত্য শত
ঘৃণ্য প্রস্তাব শুনতে হচ্ছে, লম্পটের লালসা থেকে আত্মৰক্ষা করবার জন্য
অষ্টপ্রহর সজাগ থাকতে হচ্ছে।
রূণরাও। আমার সঙ্গে এই পাপপুরী ত্যাগ করে চল বীরা।
তােমার পিতার দুর্গ মহারাজ শিবাজী তােমার জন্যই বেখে দিয়েছেন।
বীরা। শিবাজীর কৃপা-কণা কুড়িয়ে আমি বেঁচে থাকতে চাই না
অণরাও।
রণরাও। তাহলে চল তােমাকে অন্য কোথাও নিয়ে যাই।
বীরা। রূণরাও।
রুণরাও। দেরী করেন বীরা। শত্ৰুপুরী, প্রহরীরা সজাগ, দেখে
ফেলে আর ফিরে যাওয়া হবেনা।
আলি শা বাহির হইয়া গেল এবং একটা
বল্পৰ লইল ফিরিয়া কামিল
বীরা। কিন্তু তােব সঙ্গে ত আমি যেতে পারি না, বণরাও।
রণাও। আমার সঙ্গে যেতে পার না।
বীরা। নারীকে তুমি কি মনে কর ফারাও? সে কি হৃদয়হীন,
সখেরই পুতুল কেবল, যে, ইচ্ছামত তাকে প্রত্যাখ্যান কবে, ইচ্ছামত
তাকে আদর জানাবে।
1
'গৈৰিক পতাকা = | রণবাও। নারীকে আমি দেবী বলেই জানি, বীয়া। বীরা। মিথ্যা কথা, মিথ্যা কথা বণরাও। যদি তাই মনে করবে, তাহল আজ আমার কাছে আসতে পারতে না। তুমি চলে যাও বণরাও। আমি এইখানে শত অসম্মানের জীবন যাপন কবব, তবুও তােমার সঙ্গে যাব না। বণও। অভিমান ভাগ কর বীরা বী। একে অভিমান বলে আমার আরাে অপমান করেন। এ অভিমান নয়, এ আমার নারীত্বের মর্যাদা। ররাও। ফিরে চলে যাব বীরা? বীরা। যে দাবী তুমি স্বেচ্ছায় ত্যাগ করেছ, ইচ্ছা করলেই কি আবার তা প্রতিষ্ঠা করতে পাব? বীর সন্নিয়া দাড়াইয়া দুই হাতে মুখ ঢাকিল বণতাও। হয়ত এ শান্তি আমার প্রাপ্যই ছিল। কিন্তু তবুও বলে যাই বীরা, যদি কখনাে প্রয়ােজন হয়, যদি কখনাে মার্জনা করতে পার- তাহলে বণরাওকে স্মরণ কোরো। প্রথম মিলনের সেই মধুর স্মৃতিটুকু বকে নিয়ে সে তােমার জন্য অপেক্ষা করবে। রুণরাও নামিয়া গেল। আলিশাহ, জানালার কাছে পিয়া বল্লম ছুড়িতে উদ্যত হইল। বীবা। এ কি সুলতান। আলিশাহ। বল্লমের ডগায় একটা শিকার পড়েছে, হিন্দুবাঈ। একটু সবুর কর, তােমার পদতলেই উপহার দেব। আলিশাহ লক্ষ্য স্থির করিল। বী আলিশকে জড়াইয়া ধন্সিল বীরা। রক্ষা কর, রক্ষা কর। আলিশাহ বদম ফেলিয়া দিল
গৈরিক পতাকা
[ ৪র্থ অঙ্ক
আলি শাহ। কি কোমল তােমার স্পর্শ।
বীরাবাঈ সুলতানকে ছাডিয়া দিয়া সরিরা দাড়াই
বীরা। সুলতান।
আলি শাহ। বাইরের শীকাটা মাটি করে দিলে, আবার নিজেও
তুমি ধবা দেবে না। তাও কি হয়? আমি তােমাকে চাই, তোমাকেই
আমি চাই বীরা। মরিয়ম কি বলেনি তামাৰ ওই রূপ কি আগুন জেলে
দিয়েছে আমার হৃদয়ে ?
বীব। বীজাপুব সুলতানের এই কি উচিত ব্যবহার ?
আলি শাহ। নয় কেন? শুনেছি তােমাদেবই শাস্ত্রে লেখে ভূমি
আর নাবী বীরভােগ্যা।
বীব। লজ্জা কবে না কাপুরুষ বীবত্বেৰ কথা কইতে? অসহায়
এক নারীকে আশ্রয় দিয়ে তাকে যে অপমান কবতে পাবে, সে আবাব
বীর।
আলি শাহ। অপমান কবতে চাইনে ৰীবা, তােমাকে আমি সিংহাসনে
বসাতে চাই, বিজাপুবেব মুবাহান কবে বাখতে চাই।
বীব। এখুনি এই স্থান পবিত্যাগ করুন সুলতান।
আলি শাহ। কিন্তু তার আগে-
আলিশাহ, বীরাবাঈয়ের দিকে অগ্রসর হইল।
বগম তুলিয়া ধরিয়া বীর কহিল
বীরা। সাবধান সুলতান, মারাঠাব মেযে সত্যিই অবলা নয়।
বেগম। (নেপথ্যে) আলিশাহ।
বেগম প্রবেশ করিলেন
আলি শাহ। মা ।
আলিশাহ চলিয়া গেল বীরাবাঈ বল্লম ফেলিয়া
দিয়া বেগমের পদতলে লুটাইয়া পড়িল
গৈরিকপতাকা।
-
বীরা। আপনি আমাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন।
বেগম। এই পাপেই বিজাপুর গেল ।
বেগুন সেইখানে বসিয়া ধীরাজয়ের
মাথা কোলে তুলিয়া লইলেন
দ্বিতীয় দৃশ্য
শিবাজীর গরবার—মাতাগণ সহ শিৰাজী
শিবাজী। মুঘলের সঙ্গে আমাদের সর্ত ছিল যে, সম্রাট ঔরজেবের
প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবার জন্য আমাষ দিল্লী যেতে হবে না। বন্ধুগণ,
আমি তাবপব বিবেচনা কবে দেখলাম যে আমি একবার দিল্লী ঘুরে এলে
ফল ভালই হবে।
পেশােয়া। কিন্তু ঔবজেবকে আমবা কি বিশ্বাস করিতে পারি
মহারাজ।
শিবাজী। পারি কি না, একবার পরখ করে দেখতে চাই পেশােয়া।
পেশােয়া। মহাবাজ। মহাবায়ে কেবল নয়, সমগ্র হিন্দুর শিবরাত্রির
সলতে আপনি। দিল্লী গেলে যদি আপনার কোন অমঙ্গল হয় তাহলে
ব্যক্তিগতভাবে কেবল আমাদেবই ক্ষতি হবে না, সমগ্র হিন্দু জাতিই
ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
যােচূবেশে শালী প্রবেশ কফিল
শম্ভাজী। বাবা। দিল্লী যাবার জন্য আমি প্রস্তুত। এই দেখুন।
শিবাজী পুত্রের চিবুক স্পর্শ করিয়া বহুল তাহার মুখের
দিকে চাহিয়া খছিলেন। তারপর বলিল
শিবাজী। কর্তব্যের আহ্বান জীবনে যখনই আসবে, তখুনি তার এ এমি এত থেকো, পুত্র। বন্ধুগণ! গুরুলৰ এখন কোথায় তা আমার জানা নেই। সময়ে তিনি দাসকে দেখা দেবেন, এ বিশ্বাস যদিও আমার কাছে, তবুও এখানকার সকল ব্যবস্থা আমি স্থির করে যেতে চাই। আমার অনুপস্থিতিকালে মায়ের আদেশ নিয়ে তােমরা রাজকার্য পরিচালনা করবে। আশা করি তােমাদের কারু এতে অমত থাকবে না। পেশোয়া। জননীজিজাবাঈ অপত্যনির্বিশেষেই প্রজা পালন করবেন। শিবাজী। বিচার-বিভাগ সম্বন্ধে নুতন ব্যবস্থার কোন প্রয়ােজন নেই। মুঘলের সঙ্গে যখন সন্ধি স্থাপিত, তখন আশা করা যায়, যুদ্ধ আপাতত আমাদের করতে হবে না। কিন্তু তা না হলেও তানাজী, সমস্ত কিল্লাদারদের সর্বদা সজাগ থাকতে বােলাে! বিজাপুব, গােলকেও অথবা মুঘলই যদি কখনো কোন দুর্গ আক্রমণ করে, তাহলে যেন সম্যক অভ্যর্থনার কোন ত্রুটি না হয়। নৌ-বহর সম্বন্ধে আমার বিশেষ বক্তব্য এই যে ফিরিঙ্গিরা ক্রমেই প্রবল হয়ে উঠছে, সিদ্ধিরাও বিরাট শক্তি সংগ্রহ করছে-মহারাষ্ট্র যেন দুয়ের প্রতিই সমান দৃষ্টি রাখে । পেশােয়া। দিল্লীতে মহারাজকে কতদিন থাকতে হবে ? শিবাজী। তা তাে জানি না পেশােয়।। মুঘল সাম্রাজ্যের ব্যাপার কি তাই-ই আমি ধারণায় আনতে পারি না। তারপর মুঘল বাদশাহার রাজধানী-মায়ার ফাদে যদি জড়িয়েই ফেলে, তাহলে ফিরে হয়ত নাও আসতে পারি। কি বল শম্ভ ? শম্ভাজী। হাঁ বাবা, শুনেছি দিল্লীর মানুষগুলাে এত বড় লােক যে তারা হাসু আর কাঁদুক ঝুর ঝুর করে মুক্তোই ঝরে! সকলে শিক্ষা উঠল
২ দৃশ্য ]
গৈরিক-পতাকা
আপনারা হাসছেন? শ্যামলী বলেছে, সে সব জানে।
শ্যামলী, শ্যামলী।
महायोसाहिहरेबालन
শিবাজী। দিলীতে আমি সাতজন সেনানী আর সহস্র সৈনিক
সঙ্গে নােব। আশা করি তাদের অভাবে আপনাদের কোন অসুবিধা
হবে না।
পেশােয়া। আমার মনে হয় সঙ্গে আরাে কিছু বেশী সৈন্ত থাকা
ভালাে।
অনেকে। আমাদেরও তাই মহেয়।
শিবাজী। আপনারা আমার জন্য
উৎকণ্ঠিত
-
অত্যন্ত
উঠেছেন।
পেশায়। কিছুতেই যেন মন চাইছে না মহারাজ, আপনাকে
দিল্লী পাঠাতে। যে সাম্রাজ্যের জন্তু বাপকে বন্দী করেছে, ভাইদের
হত্যা করেছে-সে কি না করতে পারে মহাৱাদ ?
শিবাজী। বাপ ভাব বৃদ্ধ, পক্ষাঘাতে পঙ্গু, তাৰ ওপর অত্যন্ত
মেহশীল—ভাইদের মাঝে কেউ উদার, কেউ দুর্বল। তাই ঔরঙ্গজেব
তাদের সম্বন্ধে ও ব্যবস্থা সহজেই করতে পেবেছে। শিবাজী স্নেহশীলও
নয়, দুর্বলও নয়।
মাস প্রবেশ করিলেন
রামদাস, মহারাষ্ট্রেব জয় হোক।
শিবাজী। গুরুদেব!
রামদাস। এই দিল্লী যাত্ৰাই মহারাষ্ট্রের পূর্ণ প্রতিষ্ঠার সূচনা।
শিবাজী। তাহলে এবাৰ আপনার বাজত্ব আপনিই গ্রহণ করুন
গুরুদেব! ভূত আমি, আপনার আদেশ বহন করে নিশ্চিন্ত মনে দিল্লী
ৰা করি।
গৈরিক পতাকা
[ ৪র্থ অৰু
রশিদাস। বার বার একই ভুল কেন কর, বৎস। ও সিংহাসন
আমারও নয়, তােমারও নয়,-সকল মারহাঠায়। তােমর অবর্তমানে
মারহাঠারাই করবে ওর মর্যাদা রক্ষা। স্বেচ্ছায় আমি যে ব্ৰত গ্রহণ
করেছি, তা আজও উদযাপিত স্তু নি। আজও মহারাষ্ট্রের পল্লীতে
পল্লীতে আমাকে মানুষের সন্ধানে ফিরতে হবে, তাদের শোনাতে হবে
মহারাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার কথা, মহারাজ শিবাজীর আদর্শে তাদের অনুপ্রাণিত
করে জাতির গৈরিক পতাকাতলে তাদের সমবেত করতে হবে।
শিবাজী মামাসের চরণে পুনরায় প্রণত হইলে
শিবাজী। মহারাষ্ট্র আপনার কাছে চিরঋণী রইল গুরুদেব ।
আমদাস। নিশ্চিন্ত মনে তুমি দিল্লী যাও বৎস। যাত্রার সময়
উপস্থিত।
শিবাজী। আমরা প্রস্তুত গুরুদেব।
জিৰঙ্গ একদল নর-নারী সহ প্রবেশ করি লন। শিবাজী মাসের পর
গ্রহণ করিলেন। গামলী শিবাজীকে প্রণাম করিল। মেয়েরা শিৰালীকে
বশ করিল। জাতীয় সঙ্গীত হইল। সকলে দাড়াইয়া হিলেন।
জাতীয় সঙ্গীত
কোস) জনতার মাৰে জনগণপতি বক্ষের মাঝে দৃপ্ত মন
আত ও স্বাধীন ভারত জাগাে মারাঠার পুত্রগণ।
ভীৰ্জ্জুিনের দেশ হয়েছে পৃথীজের কর্মভূমি,
জন্ম মােয়র সেই মাটিতেই শত ৰীয় পদচিহ্ন চুমি
জীবন মােদের ঝার মত মৃত্যুকে করে আক্রমণ।
আমি প্রভাত চলগাে বাত্রী পূর্বে ঝরিছে -
অতীত বিশায় শিশির অশ্রু মুছে গেল ওই এ পর
সমুখে হাসে মুক্ত অসীম পশ্চাতে ঋখেয়ে কোণ।
কোরাল
২য় মৃত ]
গৈরিক-পতাকা
T
উথলি উঠিছে চিপ্তসাগর জীবনতরণ নৃত্য
জয়তু শিবাজী। জয়তু শিবগ। ভারত ভলি তােদরই জয়।
খলে খড়গ চুম্বনে আজ হিংসায় প্রেমে আলিঙ্গন।
কোরাম
রাণা প্রতাপের গৈরিক বাস উড়াও আকাশেপতাকা কৰি
মহাযােগী জালে যজ্ঞ আগুন মারতে তীর্থ ভরি।
কে হৰি সমিখা আসিয়াছে শুভ জন্মদানের আমন্ত্রণ।
গান থামিয়া গেলে শিবাজী কহিলেন
বন্ধুগণ ! মহারাষ্ট্রের সকল ভার তােমরা গ্রহণ কবেছ। এইবার
আমাদের বিদায় দাও।
জিজাবাঈ। শিব্বা।
শিবাজী। মা ।
জিজাবাঈ। আমাৰ শম্ভ, যদিও তােরই পুত্র, তবু বংশের প্রদীপ
এ। মহারাষ্ট্রের প্রয়ােজনে আমাদের সকলেব হৃদয়-রাজ্য আঁধার করে
শম্ভাকে আমি তােব হাতে সপে দিচ্ছি—আবার তাের কাছেই আমি
একে ফিরে চাই।
জিবাই শাকে শিবাজীর হাতে দিলেন। শিবাজী
কোন কথা কহিলেন না। বাহিরে আবার বিজয়
বাজিয়া উঠিল। আবার গান সুরু হইল, পতাকা উড়ি,
মহারাজ শিবাজীর ময়নারে দিগন্তু প্রকম্পিত হইল।
পুরনারীরা দাড়াইয়া ধড়াইয়া দেখিতে লাগিলেন
তৃতীয় দৃশ্য
মাহরের পথ। বলা অত্যন্ত ক্লাবে অগ্রসর হইতেছে। আমি
ফিয়া আসিতেছে বাণী ঘােড়পুরে। বীৱা ডেপুয়েকে চিলিতে
না পারিয়া অগ্রসর হইল। ঘােডর চলিতে চলিতে
ফিরিয়া ফিরিয়া তাহাকে দেখতে লাগিল।
বীরা ফিরিয়া ডাইল
ঘােডপুরে। চিনি চিনি বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু বা এত
তামাটে ছিল না ত। চাউনিতে ছিল আগুন। এখন মনে হচ্ছে
ছাইচাপা পড়ে আছে। দেখিই না একবার পরখ করে। বীরাবাঈ
ও? ওগাে চক্ররাওষের কন্যা।
ৰীয়া। কে ডাকলে? পিতৃ পৰিচয়ে আমার নাম ধরে সম্পূর্ণ এই
অপরিচিত দেশে কে আমায় ডাকে।
ঘােড়পুবে। বীরা। আমায় চিন্তে পাবছ না?
বীরা। আপনি। জীবনের পথে বার বার আপনার সঙ্গে আমার
দেখা হচ্ছে কেন বলুন ।
ঘােড়পুরে। ভগবান আমাদেব দু’জনকে দিয়ে একটি উদ্দেশ্যই
সাধন করিয়ে নেবেন বলে।
বীরা। সে উদ্দেশ্য কি বাজী সাহেব?
ঘােড়পুরে। শিবাজীর হত্যা।
বীরা। না, না, আমার জীবনের সে উদ্দেশ্য আৰ নেই আমি
শিবাজীকে ক্ষমা করেছি, বাজী সাহেব।
ঘােডপুরে। পিতৃহন্তাকে ক্ষমা করেছ।
বীরা। ব্যক্তিগত কোন সুবিধার জন্য সে যদি ও কাজ করত,
গৈরিক-পাকা অহলে জীবনে আমি তাকে ক্ষমা করতে পারতাম না—কিন্তু তাকে ও কাজ করতে হয়েছিল দেশের জন্য, জাতির জয়। পৃথিবীর অনেক মহৎ লােককে বাধ্য হয়ে অস্থি বৃণিত কাজ করতে হয়েছে। তবু এমি উদাৰ শিবাজী, যে, কৃত অপরাধের জন্ত সে মার্জনা চেয়েছে, এমন কি পশু নিতেও সে প্রস্তুত ছিল। ঘােড়পুরে। শিবাজীর সঙ্গে তােমার দেখা হয়েছিল বুঝি। তাই ত বলি, সৰল অবলা পেয়ে দুটো কথা দিয়েই ভুলিয়ে দিষেছে। বাপ কারু চিরদিন বেঁচে থাকে না। তাই পিতার মৃত্যুর আঘাত না হয় ভুঙ্গে। কিন্তু জীবন তােমার যে একেবারেই ব্যর্থ কবে দিল, তাকেও কি তুমি ক্ষমা করবে? বীরা। আপনি কি চান বলুন ত ৰাজী সাহেব? আমাকে দিয়ে কি আপনি করাতে চান ? ঘােডপুবে। আমি আর তুমি একই আগুন বুকে নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছি মা। তুমি আমায় বিশ্বাস করতে পার? 'বীরা। না। ঘােড়পুবে। বিশ্বাস করতে পাব না? আমি তােমার পিতৃ বন্ধ। বীরা। আমি শুনেছি আপনি বিশ্বাসঘাতক। ঘােড়পুরে। শােনা কথা। নিজে কিছু জান না ত। দেখ ম', কথা। অনেক শােনা যায়। ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছ শিবাজী দেবতা কিন্তু নিজে ত জন্তে পৰিছ সে আস্ত একটি দানব। শাস্ত্রে বলেছে মানুষকে বিশ্বাস করাে কিন্তু মানুষ সম্বন্ধে যা শােন, তা বিশ্বাস করাে না। শীরা। আপনি এখানে এলেন কেমন করে? ঘােড়পুবে। বিজাপুর থেকে পালিযে এলাম। শিবাজীর সঙ্গে বিজাপুর যখন মিতালী করেছিল, তখনই বুঝেছিলাম বিজাপুব অল্প মিল্পেও প্রাণটি হারাতে হবে। তাই কালবিলম্ব না করে মাছৰ অধিপতি
৯২
গৈরিক পতাকা
উদারামের আশ্রয় নিলাম। উদারাম পরম শ্রদ্ধাভরে আমার গ্রহণ
করলেন। কিন্তু শিবাজী তাতেও বাদ সাধল। তার সঙ্গে সম্মুখ
যুদ্ধে উদারাম দেহরক্ষা করলেন। সঙ্গে সঙ্গে এই রাজ্যরক্ষার জন্য
একরকম আমারই কঁাধে পড়ল। উদারামের বিধবা সাক্ষাৎ মা ভবানী।
স্বামী হত্যার প্রতিশোধ নেবার যে আয়ােজন তিনি করেছেন, তা যখন
পূর্ণ হবে—তখন দেখতে পাবে শিবাজীর রাজ্যের চুল ঝর ঝর করে
ঝরে পড়বে।
বীরা। এজি শক্তিমতী নারী!
ঘেডপুরে। দেখলেই বুঝতে পারবে, সাক্ষাৎ মা ভবানী।
বীৱা। কিন্তু অপরিচিত। আমি কেমন করে তার দেখা পাব?
ঘােড়পুরে। সে মােটেই শক্ত নয় মা, মােটেই শক্ত নয়। চন্দ্ররাওয়ের
কন্যা তুমি। চল, চল, আমার সঙ্গে এখুনি চল মা।
বীরা। না, না, আপনি যান বাজী সাহেব, আমি দেশেই ফিরে
বাই।
ঘােডপুরে। দেশেই যদি ফিরে যাবে, শিবাজীর অনুগ্রহ ভিক্ষা
করেই যদি জীবন-যাপন করতে পারবে, তাহলে সারা দাক্ষিণাত্যে এমন
করে ছুটোছুটি করে ঘুরে বেড়াতে কেন হবে না ?
বীরা। এতদিনের মাঝে এ প্রশ্ন এক বারও মনে জাগেনি। সত্যিই
এমন করে উল্কার মতাে কেন ছুটে বেড়াচ্ছি।
ঘােডপুরে। প্রতিশোধ নিতে।
বীরা। প্রতিশোেধ? কিসের প্রতিশােধ ?
ঘােড়পুরে। পিতৃহত্যার।
বীরা। মনে মনে শিবাজীকে কখন যে মার্জনা করে ফেলেছি, তা
নিজেই বুঝতে পারিনি। আজ দেখছি শিবাজীর বিরুদ্ধে আমার অভিযােগ
নেই।
গৈরিক পতাকা
ঘােডপুবে। ক্ষমাই নারী ধর্ম। তাই পুরুষ না চাইতেও তােমাদের
মা পায়। কিন্তু মৰ্যাদা? মৰ্যাদা বক্ষায় জন্ম নাবী করতে না পারে
এমন কাজ নেই। মৰ্যাদা বক্ষাৰ জন্য শিৰাজী তোমার শত্রু।
বীরা। শত্রু নয়, শত্রু নষ বাজী সাহেব। কিন্তু তবুওচলুন
বাজী সাহেব, কোথায় নিয়ে যেতে চান।
ঘােডপুৰে। এস মা, এস।
এহন
চতুথ দৃশ্য
জিল্পীর দেওযান ই আম। সম্রাট ঔরংজেব এখনো আসিবউপস্থিত
হন নাই। পাত্র-মিত্ররা সমবেত হইয়া মৃদু গুঞ্জন
করিতেছেন। দববারে খুব কড়া
পাহারার জানান
হইয়া ।
প্রথম অমাত্য। দববারকে যে দস্তবমত দুর্গ করে ফেল্লে ।
দ্বিতীয় অমাত্য। জলী বাজা শিবাজী যে আসছে।
যশােবন্ত সিংহ। শিবাজী দেখছি মুঘলের কাছে অজন্তু সম্মানের
পাত্র হয়ে উঠছেন। 'অভ্যর্থনাব কি বিবাট আযােজন।
প্রথম অমাত্য। শিবাজীব মূল্য নিৰূপণ কবতে মহারাজ যশােবন্ত
সিংহকেই না দাক্ষিণাত্যে পাঠানো হযেছিল?
যশােবন্ত। যতদিন দাক্ষিণাত্যে ছিলাম, ততদিন পার্বত্য ওই মুষিক
একটিবারও তার গর্ত থেকে বেরােয়নি।
১৪
গৈরিকপতাকা
দ্বিতীয় অমাত্য। কিন্তু শুনতে পাই মহারাজ যখন পুণর
পথ আগলে বসে ছিলেন, তখনই শিবাঙ্গী বিশ হাজার মুঘল সৈঙ্গে
চোখে ধুলাে দিয়ে সেনাপতি সায়েস্তা খাঁর হারেমে গিয়ে তাকে আহত
করেছিলেন।
প্রথম অমাত্য। বুনাে হলেও শিবাজী লােকটা বাহাদুর বটে।
দ্বিতীয়। বাহাদুর কি বলছেন মশাই, যাদুকর। বিজাপুরের অফিল
খ দশহাজার ফৌজ নিয়ে এল শিবাজীকে বন্দী করতে। ফৌজ রইল
দাড়িয়ে কাঠের পুতুলের মতাে, কিন্তু আফজল খাঁকে আর জীবিত
পাওয়া গেল না।
প্রথম অমাত্য। বাবা। ভালাে করে সৈন্য সমাবেশ করাে।
অধ্যক্ষ। শিবাজী রাজা।
শিবাজী ও কুমায় রামসিংহ প্রবেশ করিলেন।
রামসিংহ। এই বিশ্ববিখ্যাত দেওয়ান-ই-আম ।
শিবাজী চারিদিকে চাহিয়া দেখিতে লাগিলেন
প্রথম অমাত্য। দেখে একেবারে মাথা ঘুরে গেছে। জ’লী মানুষ।
শিবাজী। কুমার রামসিংহ। এই দরবাব তৈরী করতে কত দেশের
সম্পদ লুঠ করতে হয়েছে, তা বলতে পারেন?
কুমার বামসিহ। আঃ মহারাজ। ও সব প্রশ্নের স্থান এ নয়।
শিৰাজী। আফজল খা আমার শিবিরের সম্পদ দেখেই নিশ্চিত করে
বলেছিল—সগিবি না কবে সে সম্পদ অর্জন করা যায় না। এ ঐশ্বৰ্য্য
দেখলে সে কি বলত ?
দূরে নাকাড়া বাজি উঠিল
অধ্যক্ষ। সম্রাটের আগমন ঘােষিত হয়েছে।
রামসিংহ সম্রাট এখনি দেখা দেবেন।
গৈরিকপতাকা
t
।
ঔরংয়ের বেশ লেন। তাঁহার পা গগৎ
আর । ঔরজে বাইবার সম কুমার
রামসিংহের সামনে দাড়াইলেন
ঔরংজেব। ইনিই শিৰাজী রাজা।
রামসিংহ। জাহাপনা যথার্থ অনুমান করেছেন।
ঔরংজেব রামসিংহের কথা শেষ হইবার পূবেই সে স্থান
ভয় করিয়া সিংহাসন অভিমুখে অগ্রসর হইলেন
শিবাজী। এই কি মুষলেব ভদ্রতা ?
ৰামসিংহ। নিৱন্ত হোন মহারাজ।
ঔরংজৰ সিংহাসনে বলিলেন
ঔরংজেব। দাক্ষিণাত্য সম্বন্ধে যে প্রস্তাব আমাদের আলােছ ছিল,
শিবাজী বাজার আগমনে তার পরিবর্তন প্রয়ােজনীয়। সুতরাং আমরা
আজ অন্য কাজে মন দেব।
জাফব খাঁ। সম্রাট বাঙালা থেকে
ঔরংজেব। শিবাজী বাজার উপস্থিতিতে আজকার সভায়
রাষ্ট্রের আভ্যন্তরিক ব্যবস্থা সম্বন্ধে কোন আলােচনাই হতে পারে না।
জাফর খ। জাহাপনা, বাঙলাব ব্যাপার অত্যন্ত গুরুতর। যদি
অনুমতি করেন, তাহলে বাজা শিবাঙ্গীর সঙ্গে আমাদের যে কাজ
আছে, তা শেষ করে পরে বাঙলাব সমস্যা সন্ধে আলােচনা হতে
পাবে।
ঔরংজেব। উত্তম, তাই-ই হৌক।
জাফর । কুমার রামসিংহ।
রামলিং উহার কাছে গেলেন। জাফর খাতাহার
কানে কানে কথা কহিলেন
রামসিংহ। যান মহাবাজ, সম্রাটকে বশ্যতা জ্ঞাপন করুন।
ম
গৈরিক-পতাকা
[ ৪র্থ
শিবাজী। বশ্যতা নে কুমাৰ! বন্ধু প্রতিষ্ঠার জন্যই এখানে
এসেছি।
রামসিহ। তারও একটা রীতি আছে মহাবাজ ।
শিবাজী। সে বীতি কি ভদ্রতার নিয়ম মানে না।
ঔরংজেব।
জাফর খা।
তার বা সম্রাটকে অভিবাদন করিলেন
জাফর খা। কুমার বামসিহ।
রামসিহ। আৰ বিলৰ কববেন না মহাবাজ। আমি যেমন করে
শিখিয়ে দিযেছি, তেমন ককেই অভিবাদন কববেন।
শিবাজী। মা ভবানী, জননী জিজাবাঈ আব গুরুদেব বামদাস স্বামী
ব্যতীত কখনাে কারুর কাছে আমি মাথা নত কবিনি।
ঔরজেব। কুমাব বামসিংহ, শিবাজী বাজা কি আমাদের বশ্যতা
স্বীকার কবতে সম্মত নন ?
রামসিংহ। ( অভিবাদন কৰি) মহারাজ ত সেই অভিপ্রায়েই।
এসেছেন জাহাপনা। (শিবাজীকে) আপনার এই বিলম্ব মহারাষ্ট্রের অনন্ত
করবে মহাবাজ।
শিবাজী। মুঘল যে মহাবাঠুেব অনিষ্ট সাধনেই বদ্ধপবিকব, তা আমি
জানি কুমাব। তবু যখন এসেছি, মুঘলেব নীচতার সবখানি পবিচ
নিয়ে যাওয়াই ভাল।
শিৰাজী সিংহাসন অভিমখে অগ্রসর হইলেন। এবং
সিহাসনের সামনে নজর রাখিলেন। ঔরজেব
একটু হাসিলেন। শিবাজী তিনবার কুর্ণিশ
कविपणन
ঔবংজেব। রাজা শিবাজী। আপনার জন্য আমাদেব যে লোকক্ষয়
ও অর্থব্যয় হয়েছে, যে উদ্বেগ ভােগ কতে হয়েছে, তা আমরা ভুলতে
৯৭
৪র্থ দৃশ্য ]
গৈবিক পতাকা
পারতাম না—যদি না আপনি বিজাপুর আর গলকোণ্ডা জযে আমাদের
সহায়তা করতেন।
শিবাজী নীৰব বহিলেন
আপনাব বীরত্বের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। ভবিষ্যতে আপনার
সঙ্গে আমাদের সম্বন্ধ কিরূপ হবে তা যথাসময়ে আপনি অবগত হবেন।
জাফর খাঁ অগ্রসর হইয়া সম্রাটের হাতে একখান কাগজ দিলেন।
সম্রাট তাহা পদিতে লাগিলেন। শিবাজী দাড়াইয়াই রহিলেন।
ঔবজেব। জাফব খাঁ।
হলিতে শিবাজীকে দেখাইয়া দিলেন
জাফ খ । রাজা শিবাজী। সম্রাট আপনার অভিবাদন গ্রহণ
করেছেন।
শিবাজী
সম্রাট
T
ঔরংজেব শতের কাগজ নীচু করি একটিবার মাত্র শিবাজী
দিকে চাহিলেন তারপর জাফর থাকে বলিলেম
ঔবজেব। শিবাজী বাজাকে বলুন জাফব খাঁ আমরা এখন অন্য
কাজে ব্যস্ত।
শিবাজী র জেবের দিকে একবার ক্রুদ্ধ দৃষ্টিপাত করিয়া
ফিরিয়া আসিযা নিজের স্থানে দাঁড়াইলেন।
শিবাজী। আমি জানতাম কুমাব যে, আয়ত্তে পেষে মুঘল আমার
সঙ্গে অসদ্ব্যবহাব কববে। কিন্তু তার আচরণ যে এত জঘন্য হতে পাবে,
তা আমি কল্পনাও কবতে পাখি নি।
কুমার মসিহ শিবাজীর হাত ধরিলেন
রামসিহ। আত্মবিবৃত হবেন না মহাবাজ।
৭
১৮
গৈরিক পতাকা
[ ৪র্থ অঙ্ক
শিবাজী। আমার আত্ম বিস্মৃতিই ঘটেছে কুমার। মানুষের লজ্জা,
মানুষের কলঙ্ক ঘৃণ্য এই দাস যুথ মাঝে এসে আমি বিস্মৃত হয়েছি যে
মুখলের মহাত্রাস আমি, আমি তার ডিজাগ্রত বিভীষিকা, স্বাধীন
মহারাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা আমি, আমি দাস নই—দাসের রীতি নয়
আমার পালনীয়, দাসের নীতি নয় আমার অনুবর্তনীয়, দাসের ধর্ম নয়
আমার আচরণীয়।
ঔরংজেব। শিবাজী অনভিজ্ঞ হতে পাবেন, কিন্তু কুমাব রামাসহ
দরবারেব বীতি সম্যক অবগত আছেন বলেই আমাদেব ধাৰণ
ছিল।
রামসিংহ। আমার অনুরোধ, মহারাজ, অন্তত আজকার জন্য আপনি
নীরব থাকুন।
শিবাজী। নীরবে অপমান সইতে শিবাজী কখনো অভ্যস্ত নয়
কুমার। আমাদের পাশে যারা দাড়িয়ে, তাদের পরিচয় পেতে পারি
কুমার ?
রামসিংহ। এরা সকলেই পাঁচহাজারী মাবদার।
শিবাজী। পাঁচহাজারী মনসবদার।
বামসিংহ। হা মহারাজ।
শিবাজী। মুঘলের চক্ষে আমি তাহলে আমার পুত্র শাজী আব
সহচর নেতাজীরই সমকক্ষ। অপমানে আপনারা অভ্যস্ত কুমার। কিন্তু
আমি ত দাস নই, দুর্বল নই। এ অপমান আমার অসহ।
ঔরংজেব। কুমাব বামসিংহ।
রামসিংহ। জাহাপনা।
ঔরংজেব। রাজা শিবাজীকে অত্যন্ত অসুস্থ বলে মনে হচ্ছে।
রামসিংহ। অবণ্যচারী সিংহ দববাবের আবহাওয়ায় অস্বস্তি বােধ
৪র্থ দৃশ্য ]
গৈবিক পতাকা
ঔরংজেব। তাকে যখন সুস্থ মনে কববৈন
তখন দরবারে
নিয়ে আপবেন তার আগে নয়।
রামসিহ। মহারাজ। সম্রাট আমাদেব দববার ত্যাগ করবার
অনুমতি দিয়াছেন।
শিবাজী। এ নবকে ক্ষাকালও অপেক্ষা কবৰ ইচ্ছে আমার
নেই। মুখলেব এই দরবাবে দাভিষেই আমি বলে যাচ্ছি কুমার
মহারাষ্ট্রে ফিবে গিয়ে যে আগুন আমি জেলে তুলব তার লেলিহান
শিখা দাক্ষিণাত্য থেকে দিল্লী অবধি এক মহাপ্রলয়ের কালানল নিয়ে
ছুটে এসে শাঠের উপর প্রতিষ্ঠিত মুঘলের এই বিশাল সাম্রাজ্য মুঘলের
আকাশস্পর্শী ঔদ্ধত্য মুঘলেব ঔদার্যবিহীন প্রভুত্ব মুঘলের ক্ষমতাদৃপ্ত
কর্তৃত্ব—সব্বস্ব পুডিযে ভস্মীভূত করে দেবে। আপনাদের সম্রাটকে বলুন,
তাবই জন্য প্রস্তুত হতে।
ধামসি হ। চলুন, চলুন মহাবাজ।
রামসি হ শিবাজীকে ধরিয়া লইয় দরবার হইতে চলিয়া
গেলেন দর নিস্তব্ধ ঔর জেৰ শিবাজী যে দিকে গেলেন
সেই দিকে কিছুক্ষণ চাহিয়া রহিলেন ত রপর বলিলেন
ঔবজে। মহাবাজ যশােবন্ত সিংহ।
যােব সিহ। জাহাপনা।
ঔবজেব। অতীতের একটা দিনের কথা আমার আজ মনে পড়ে।
সে দিনটি ছিল আমার পক্ষে অতি ভয়ানক। আর সেই দিনেই আমার
বৈৰ্যেৰ পৰীক্ষা আপনিই সব চেয়ে বেশী কবেছিলেন। পবে বুঝলেও
সেদিন কিন্তু আপনি বুঝতে পাবেন নি কি গর্হিত আচৰণই আপনি
কবেছিলেন। খােদব অভিপ্রায়ে আমাদের সে দুর্দিন কেটে গেছে। কিন্তু
তেমি ঔদ্ধত্য আমাদেব আজও সইতে হচ্ছে—রাজনীতির এমনই দাবী।
পােব সি মাথা হেঁট করিলেন
গৈরিক পতাকা
( ৪র্থ অৰু
সভাদগণ । এই অসভ্য বণ্ঠ রাজা আজ আমাদেব অত্যন্ত উত্যক্ত
করেছে। আমাদের সকল আলোচনাই আজ স্থগিত রইল।
ঔর জৈব সিংহাসন হইতে নামিয়া দরবারের মধ্যস্থলে
আসিয়া কিছুকাল চিন্তাকুল ভাবে দাড়াইলে
ঔবজেব। জাফর খা।
জাফ খ। জাহাপনা।
জাফর খা অগ্রসর হ| আসিলেন
ঔবজেব। শিবাজীকে যে গৃহে থাকতে দেওয়া হযেছে দিবারাত্র
শক্তিমান সশস্ত্র সৈনিক সেই গৃহ অববােধ কবে থাকবে। আমাদের
অনুমতি ব্যতীত কাব সে গৃহে যাতাযাত কববার অধিকার থাকবে না।
মাহাঠা শৃগালকে পােষ মানাবার জন্য আমাদেব একটু অসাধাবণ ব্যবস্থাই
করতে হচ্ছে জাকৰ পা।
জাফ খা। তিথিব মৰ্য্যাদা বক্ষাব ব্যবস্থা
ঔরজেব। শিবাজী আমাদের অতিথি নয়, জাফর —শিবাজী
আমাদেব বন্দী।
পঞ্চম অঙ্ক প্রথম দৃশ্য । দিল্লীতে যে গৃহে শিবাজী ব সেই গৃহেরই একটি কক্ষ শিবাজী ঘুমিল্লা বেড়াইতেছেন। হীরাজী জীবন ও প্রভৃ ত বসিয়া আছেন। শাজী নিদ্রিত। মধ্যরাত্ৰ উত্তীর্ণ হইয়া গিযাছে। শিবাজী। ঔরঙ্গজেব ভেবেছে এই গৃহে, সে আমাকে আমবণ বন্দী বেখে মারহাঠাব উত্থান অসম্ভব করে দেবে, দীর্ঘ অববােধে মহাবা কেরীর মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলে সে তাকে বুকে হাঁটাবে, জসিংহ, যশােবন্ত সিংহের মতাে শিবাজীকে কবে বাখবে ক্রীতদাস। মানুষেবন্ত মানুষকে অপরের শক্তি সম্বন্ধে এমি অন্ধই কবে ফেলে। ঔৰজেব বিশ্বাস করে নিল, বন্দী থেকে শিবাজী সত্যই অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তার জীবন সংশয। শিবাজী এত সহজেসুস্থ হবে। অবাল্য সে বােদে জলে হিমে ছুটোছুটি কবে বেড়িয়েছে, মাওলাদেব মুষ্টিমে চানা করেছে তা ক্ষুন্নিবাবণ, তার শয়নেব উপান হযেচে পাহাডেব কঠিন প্রস্তাব। সে আজ এই গৃহে বন্দী থেকে অসুস্থ হবে। ঔৰঙ্গজেবের এই নির্বুদ্ধিতাই আমার মুক্তিব পথ সুগম করে দিয়েছে। সে যখন সংবাদ পাবে তখন আমি দিল্লীকে যােজনের পথে পিছনে ফেলে চলে যাব, একটি মাবঠকেও সে দিল্লাতে খুজে পাবে না। হীরালী। হীবাজী। প্রভু। শিবাজী। ভালাে কবে দেখ, প্রহবীব কাছে কোথাও আছে কি না। হীবাজী। মহাবাজ, বাইবে পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। জীবনরাও দৌড়াইয়া দেশের কাছে গেল। ফিরিয়া আসিয়া ছিল
১২
গৈরিক-পতাকা
জীবনরাও। কোতোয়াল পােলদ খাঁ।
শিবাজী। এত রাত্রে পােলদ খা।
শিবাজী আর শয়ন করিলেন। দরজায় শব্দ ইল। জীবনরাও
দোর খুলিয়া দিলেন। পোলদখা প্রবেশ করিলেন
পােলা খা। রাজা এখন কেমন আছেন?
জীবনবাও। অবস্থা আবও শঙ্কটাপন্ন। বৈদ্য এই মাত্র বলে গেলেন,
আজকাব বাত নিৰাপদে কাটলে জীবন রক্ষা হতেও পারে।
পােলদ খাঁ। খােদা রাজাকে আজ নিবাপদেই বাখবেন। নইলে
মুখলের নামে কলঙ্ক রটবে। সম্রাট বড় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
হীরাজী। সম্রাটেব অনুগ্রহ আমরা বিস্তৃত হব না। এমন সুচিকিৎসা
মহারাষ্ট্রে হতো না।
পােলদ খা। • তা কি কবে হবে মশাই। এটা বাজধানী আৰ
আপনাদের সে দেশ জংলা। রাজা সেবে উঠুন। , কালও কি
আপনাদেব মিষ্টান্ন বিতণ করতে হবে ?
হীরাজী। তা হবে বৈকি খাসাহেব। মহাবাজ যতদিন সুস্থ
হবে উঠছেন, ততদিন ও কাজ আমাদেব করতেই হবে। ও আমাদের
এর্শের একটা অঙ্গ কি না।
পেলাদখা। বেশ। আপনাদেব ধম্মের ওপর মুঘল হস্তক্ষেপ করতে
চায় না। তা হলে আমি এখন আসি ।
পােলা থ বাহির হইয়া গেলেন। জবারও দের বন্ধ
করিয়া ফিরিয়া আসিল। শিবাজী জাফাইয়া উঠিয়া বসিলেন
শিবাজী। রাত্রি প্রভাত হতে কত বাকী হীরাজী?
হীয়াজী। আব বেশী বিলম্ব নেই।
শিবাজী। হীবাজী।
হীরাজী। মহারাজ।
ম দৃশ্য ]
গৈরিক পতাকা
শিবজেী। মাওলা সৈন্যেরা মহারাষ্ট্রে পৌছেচে ।
হীরালী। মুঘল তাদের পশ্চাদ্ধাবন করলেও খবতে পারবে না।
শিবাজী। অমাত্যগণও নিৰাপদ?
হীবাজী। হ মহাবাজ।
শিবাজী। তাহলে বিলম্বের আর প্রয়ােজন নেই
হীরাজী। ন মহাবাজ । বিললে বিপদের আশঙ্কা আছে।
শিবাজী। ঔবজেব তুমি না বড় চতুব। কাল সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে
বুঝতে পারবে চাতুরীতে শিবাজীর কাছে তুমি শিশু।
বাহিরে ভজন গান হল
রাত্রি প্রভাত হযেছে ?
হীরাজী। হা মহারাজ। ওই যে ভজন শুরু হলাে।
শিবাজী। হীৰাজী আমাদেব সবই প্রস্তুত-সন্ন্যাসীব পােবাক
পরিচ্ছদ ?
হীরাজী। সবই প্রস্তুত মহাবাজ মিষ্টান্ন পেটিকা বহন কবে যারা
নি৯ে যাবে, তাবাও তৈী হযে পাশের ঘবে অপেক্ষা কবছে।
গুঞ্জন শেষ হইয়া গেল
भिवाखौ ভবানী। তােমার কৃপায শিবাজী আজ মুক্তি পাবে
তারপর—তারপর, ঔরঙ্গজেব। শাজী শন্তা।
শা। মহাবাজ।
শিবাজী মহারাজ নয় শতা, বাবা–বাবা! বড় মিষ্টি ডাক। না
হীৰাজী? কিন্তু হীবাজী প্রাঙবে কখনও ডাকতে পাইনি। শঙ্কা।
শম্ভা। বাবা।
হীরাঙ্গী পার্শ্বের ঘরে চলিয়া গেল
শিবাজী। ঠ বাবা
শাজী চোখ মেলিয়া চারিদিক চাহিয়া দেখিল
গৈবিক পতাকা
[ ৫ম আৰু
শা। এত ভোরে কেন বাবা? দববারে যেতে হবে ? সম্রাট কি
সেই আদেশই দিয়েছেন?
শিবাজী। দববারে যেতে হবে না—মারহাঠা আমরা—সম্রাটেব আদেশ
আর মাথা পেতে নেবে না। আমাদের দেশে যেতে হবে।
দেশে? বাষগড়ে ?
হাজী আর জীবনও প্রবেশ করিল
হীবাজী। মহাবাজ, আব কাল-বিলম্ব করা সঙ্গত নয়।
জীবনবাও। বেশপরিবর্তন করে মিষ্টান্ন পেটিকার ভিতরে গিযে বসুন
মহারাজ।
হীবাজী। মহাবা, আপনার করুন।
শিবাজী করুন খুলিয়া দিয়া শাজীকে লইয়া অন্য ঘরে প্রবেশ
করিলেন। দরজায় করাঘাত হইল। হীরাজী ক্ষিপ্রগতিতে
শিবাজীর করুণ হাতে পৰিয়া আপাদমস্তক বন্ত্রে ঢাকিয়া
পুনরায় শুইয়া পড়িলেন। জনরাও প্রবেশ করিয়া দের
খুলিয়া দিল। পােলাদ খাঁ প্রবেশ করিলেন। সঙ্গে দুইলক্ষী।
পােলাহ। বাজা এখন কেমন আছেন ?
জীবনরাও। কিছুই বুঝিতে পারছি না খসাহেব। একেবাবে অসাড
হষে পড়ে আছেন। দেখুন না, প্রাণ আছে কি নাই বোঝা যায় না।
একটিবার দেখুন খাঁসাহেব।
পেলাদ খা। না, না কাছে গিয়ে আব ব্যাঘাত করব না। যদি মরে
গিয়েই থাকে। কাজ কি আর সকাল বেলায় কাফের শব চুয়ে।
খােদাকে ডাকুন, আবহাঠা। আপনাদের ব্রত ত সুরু হয়েছে দেখলাম।
ঝুড়ি ঝুডি মিষ্টান্ন নিয়ে বাহকে মন্দিবে মন্দিরে চলেছে। কিন্তু আমাদের
একটা অভিযােগ আছে।
জীবনরাও। আবহাঠা-বাহকবা কোন নিয়ম লঘন কবেছে ?
১ম মৃত ]
গৈবিক পতাকা
পােলদ খা। না মাশয়, মারহাঠারা বড় বিনয়ী। তাদের বিরুদ্ধে
কোনরূপ অভিযােগের কোনই কারণ ঘটেনি। অভিযােগ আপনাদের
বিরুদ্ধে। আপনারা যেরূপ মিষ্টান্ন বিতরণ কবছেন, তাতে রাজা সেরে
উঠবেন , কিন্তু দিল্লীর পেটুক বামুনবা পেট ফুলে মারা যাবে।
একজন রশী অগ্রসর হইল
বক্ষী। জনাব। বাজবৈদ্য এসেছেন।
পােলাদ। এসেছেন আসুন বৈদ্যবাজ। দেখুন ত রাজাব জীবন
নিবাপদ কিনা। সম্রাট বড় ব্যস্ত হবে পড়েছেন।
গঙ্গাজী। কোতােযলি সাহেব, শাস্ত্রে বলে বিধৰ্মী,নবী, উন্মাদ এদের
সামনে বােগী দেখতে নেই।
পােলদ। বেশ। আমবা বাইবে অপেক্ষা করছি। কিন্তু কি
বিদঘুটে আপনাদেব শাস্ত্র।
পােলা । ও রক্ষীয় বাহিরে গেলেন। বৈদ্যরা
গঙ্গাজী হাজীর দেহের উপর ঝুকিয়া পড়িলেন
গঙ্গাজী। মহাবাজ নিরাপদে হবে বাইবে উপনীত হয়ে মথুরার
পথে অগ্রসর হয়েছেন। বক্ষী হিসেবে তার সঙ্গে সাতজন সেনানীও
গেছেন। তােমবা আব বি স্ব করো না।
গঙ্গালী রােগী দেখিবার কাণ করিয়া কিছুকাল
কাটাহলেন। তারপর উঠিয়া বাড়াইলে
গঙ্গাজী। আপনি এখন আসতে পাবেন কোতোযাল সাহেব।
পােলা খা ও রক্ষীরা পুনরায় প্রবেশ করিলেন
পােলাদ। বাজাকে কেমন দেখলেন বৈদ্যবাজ ?
গঙ্গাজী। জীবনেব আব ভ নেই। খুবই সাবধানে রাখতে হবে।
কিন্তু আপনাব রক্ষীবা পাথবের ওপব নাগবাই জুতােৰ যে শব্দ করে।
পােলদ। প্ৰহৰী। অমাব অনুমতি ব্যতীত তােমরা বাড়ীর ভিতর
প্রবেশ করে না
১০
গৈরিক-পতাকা
প্রহরী। জো হুকুম।
গাজী। তাহলে চলুন কোতয়াল সাহেব। এক প্রহর পরে
এবার এসে দেখে যাব। জীবনবাও।
জীবনরাও। আদেশ করুন।
গঙ্গাজী। আপনি আর হীবাজী একটু পরে আমার গৃহে যাবেন।
একটা ঔষধ প্রযােগ পদ্ধতি আপনাদের শিখিয়ে দোব। মহাবাজের
কাছে হয় আপনাকে, ন্য হীরাজীকেই ত থাকতে হবে।
পােলা। এমন সেবা, এমন ভক্তি আমি আর দেখিনি।
জীবনবাও। এ আবু বেশ কি খাসাহেব। আমাদের প্রাণ দিলেও
যদি মহারাজ রোগ মুক্ত হন, তাহলে হাসিমুখেই তা দিতে পাবি।
গঙ্গাজী। বাজা নিবাপদ, চলুন কোতােয়ালসাহেব।
গঙ্গাজী ও পােলদ খা চলি গেলেন। জীবণরাও
দুয়ার বন্ধ করিয়া দিলেন। হীরাজী লাফাইয়া উঠিলেন
হীরাজী। জীবনবাও। আর বিলম্ব নষ। মিষ্টান্নেব দুইটি মাত্র
পেটিকা রয়েছে। চল তারই ভিতব বসে আমবা বেবিধে পড়ি। নহি।
ঔরঙ্গজেব জানতে চেযেছিল বুদ্ধি কাব বেশী-মুঘলেব, না মাযহঠর?
জবাব আমবাই দিয়ে গেলাম
কতকগুলাে কাপড়চোপড় অনিয়া বিছান য রাখিয়া তাহার উপর
মােটা চাদর গপা দিয়া হাজী আর জীবন ও বাহির হইয়া গেল
দ্বিতীয় দৃশ্য রায়গড় দুর্গ কক্ষ। জিৰাঙ্গ রামদাস মােয়পন্তু তানাজ ইত্যাদি। জিজাবাঈ। প্রভু। রামদাস শু প্রেক্ষণে চাহিয়া রহিলেন। কোন জবাব দিলেন । এই উৎকণ্ঠার মাঝে আব ত থাকতে পাবি না প্রভু। আমার শিবা আমার শম্ভা ফিরে না এলে মহারাষ্ট্রকে সর্বপ্রকৃবে সৰ্ব্বস্বান্ত হতে তানাজী। মহাবাজ যখন একবাব মুক্তি পেয়েছেন, তখন মুঘল তাকে আবার বন্দী কবতে পাববে, এমন বিশ্বাস আমার নেই। জিজাবাঈ। আমাকে ভােলবাব চেষ্টা করে না তানাজী। মুঘলের শক্তি কোথায়, কেমন, তা তুমিও জান—আমিও জানি। একি গুরুদেব। আপনার মুখে বিষাদের ছায়া, আপনাব ললাটে দুশ্চিন্তাব ঘন বেখা। তাহলে তাহলে কি ? বামদাস। মুঘলের এই প্রবণা, এই শাঠ্য, এই ঘৃণ্য জঘন্য ব্যবহারের কথা ভাবি আর আমার মনে হয় মা, মারহাঠাদেব নিয়ে সমগ্র ভাবতে প্রলয়ের আগুন জ্বালিয়ে তুলে মুঘলের দর্প দন্ত ঠ্যি সবই ভস্মীভূত করে ফেলি। শঙ্কবের মতো শক্তিমান, শঙ্কবের মতো সৰ্ব্বত্যাগী আমার শিব্বাকে আজ একান্ত অসহায়ের মতাে, তস্কবের মতাে আত্ম গোপন করে ফিরতে হচ্ছে—এ গ্লানি সহ্ করা আমার পক্ষেও অসম্ভব হয়ে উঠেছে মা। পেশােয়া। মহারাষ্ট্রেব হৃত দুগ সকল পুনরুদ্ধাব করবাব উপযুক্ত সময় উপস্থিত প্রভু। বিজাপুব আর গােলকোণ্ডা একত্র মিলিত হয়ে মুঘলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। আমরা যদি এখন মুঘলকে আক্রমণ • গৈরিক পতাকা [ম এক করি, তাহলে কোন দিক সে বক্ষা কববে তা ভেবেও স্থির করতে পাববে না। জিজাবাই। যদি তাই ই সত্য হয় তাহলে বৃথা কেন কালক্ষেপ কর বীর? দিকে দিকে মহারাষ্ট্রের বিজয় বাহিনী প্রেরণ কব। সমগ্র দাক্ষিণাত্যে সমরানল জ্বলিযে তােল। মুঘল জানুক মাবহাঠা দুর্বল নয়। আদেশ দিন্ গুরুদেব । বামদাস। আবহাঠা। শক্তির পরিচয় দাও। উল্কাব জ্বালা নিয়ে, উকাব গতি নিযে দিক থেকে দিগন্তে তােমবা অগ্নি বর্ষণ কর। জিজাবাই। গুরুদেব আদেশ দিয়েছেন তানজী। পেশােয়, গুরুদেব আদেশ দিয়েছেন। কালবিলম্বে আর প্রযােজন নেই। সমস্ত দুণ এক সঙ্গে অক্রিমণ কর। পেশাে। সেনানীদেব তাহলে সবাদ দাও তানাজী। তানজী। মার্জনা কববেন পেশােয়া। আপনাদেব এ সিদ্ধান্ত আমি চমীচীন বলে মনে করতে পারছিনা। জিজাবাঈ। গুকদেব আদেশ দিয়েছেন তানাজা। তানাজী। মহাবাষ্ট্রেব দক্ষ সেনাপতিব অভাব নেই মা। পেশােয়া জননী আদেশ দিয়েছেন তানজী । তানাজী। সন্তান অযোগ্য হলেও সে জননীব স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয় না। আমায অক্ষম বিবেচনা করে মা আমায় মার্জনা করবেন, এ বিশ্বাস অমাব আছে। জিজাবাই। গুৰদেব । বামদাস। মহারাবে অধিপতি মহাবাজ শিবাজী অঙ্গ আত্মরক্ষার জন্য বন থেকে বনান্তবে আশ্রয় গ্রহণ কবছেন-অনিদ্রা, অনাহারে, উদ্বেগে, উৎকণ্ঠায় দেহ তঁাব শৰ্ণ, মন তব ক্লিষ্ট। আমি যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি তানজী, হা পেশােয, তামি স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছি-
২য় দৃশ্য ]
গৈরিক পতাকা
ঘুমন্ত পুত্রকে বুকে নিয়ে কজনীব গাঢ় অন্ধকার ভেদ কবে মহাবাজ শিবাজী
রুদ্ধশ্বাসে, ত্রস্ত পদে এগিয়ে আসছেন 'অব পেছনে পেছনে তব পদচিহ্ন
অনুসৰণ কবে ছুটে আসছে মুঘলেব হিংস্র সৈনিক দল।
জিজাবাঈ। গুরুদেব। গুরুদেব ।
জিজাৰা দুই হাতে মুখ ঢাকিলেন।
রামদাস। কণ্টকাঘাতেদেহ ক্ষতবিক্ষত, পিপাসায শুকণ্ঠ, সৰ্বাঙ্গ
প্ৰেদাপ্লুত, শ্রান্ত দেহ কম্পিত
জিজাবটি। শােন ৩ানাজা শেমি তােমার বাজার তোমার বাল্য
সহচবেব দুদ্দশাব কথা।
বামদাস। কিন্তু শঙ্কা নেই, মহাবাজ শিবাঙ্গীব হৃদযে শঙ্কা নেই , মনে
নেই হতাশা। বুকে অদম্য উৎসাহ নিয়ে চোখে আত্মপ্রত্যযেব আলাে
নিয়ে, মহাবাষ্ট্রেব মহাবাজ সিংহেব মতে এগিয়ে আসছে।
জিজাবাঈ। এখন যদি অমিবা মুঘলকে আক্রমণ কবি তা হলে
শিব্বাব অনুসবণে তাবা নিবৃ০ হবে। শিব্বা আমার নিরাপদে স্বরাজ্যে
ফিবে বাসতে পারবে।
বামদাস। যাও ৩ানাজী আকমণব আযােজন কর ।
একজন বাহ্মণ পবেশ করিলেন।
ব্রাহ্মণ। মহারাজেব জয হােক।
জিজাবাঈ। শিব্বা।
ব্রাহ্মাবেশ শিবাজী মাকে প্রণাম করিলে
তানাজী। বন্ধু ।
শ্যামলী। বাবা ।
মােপ। মহাবাজ ।
জিজাবাঈ। আমাৰ শস্তা কোথাষ শিব্বা? শম্ভা।
১১
গৈবিক-পতাকা
শিবাজী। মা শম্ভ নিয় পদ। শীঘ্রই তােমার কোলে কিবে
আসবে।
পচুল ও মাড কেলিয়া দিলেন
বিশ্রাম্ভালাপের আর অবসর নেই তানাজী। এখুনি দিকে
দিকে বিজয়-অভিযান শুরু করতে হবে। আমি সপ্তাহকাল এই ছদ্মবেশে
মহারাষ্ট্রের সর্বত্র ঘুরে বেড়িয়েছি। তাতে ঠিক্ করে বুঝেছি আমাৰ
অনুপস্থিতিতে মহারাষ্ট্র এতটুকুও শক্তি হারানি। নবীন মহারাষ্ট্রে বুকের
স্পন্দন আমি শুনতে পেয়েছি তানজী-বুঝতে পেরেছি মহারাষ্ট্র
এবাৰ জৰিমণ্ডিত হবে। তাই আর কাল বিলম্ব করতে চাই না,
একযােগে মুঘল-অধিকৃত সমস্ত দুর্গ আক্রমণ কবব তানাজী। মহারাষ্ট্র
বাহিনী দলে দলে বিভক্ত কব। উপযুক্ত অধ্যক্ষের অধীনে দিকে
দিকে তাবা জযাত্রায় বেরিয়ে পড়ুক। যে দিকে চাইবে সেই
দিকেই মুঘল মাবহাঠাব কবাল মুর্তি দেখে ভীত হয়ে পলায়ন
হবে।
তানজী প্রস্থান করিলেন
শিবাজী। মহাবাষ্ট্রেব নৌ বাহিনীও আমি আর অলস বাখতে চাই না
পেশােয়া। সমুদ্রতীরবর্তী সহরসমুহ এখনই আক্রমণ করতে
ফিরিঙ্গিবা যদি মুঘলের পক্ষ অবলম্বন কবে বাধা দেয়, তাহলে তাদেরও
আমরা ক্ষমা কবৰ না। আপনি এই আযােজনের ভার নিন, পেশােয়া।
গোেয় প্রস্থান করিলেন
জিজাবাঈ। মাহুবের উদারামের বিধবা
শিবাজী। আমি জানি না। ব্যবস্থাও আমি কবিছি। রণরাওয়ের
অধিনায়কত্বের আমি মাহরে একটি বাহিনী পাঠিয়েছি।
শ্যামলী। বাবা।
শিবাজী। কি মা, তুই অমন কৰে আৰ্তনাদ করে উঠলি কেন মা?
২া দৃশ্য )
গৈরিক পতাকা
১৯
শ্যামলী। মার বাহিনী পবিচাশ করছে উদারামের বিধবা স্ত্রী
নবীর আমার বাল্য সখী বীরা।
শিবাজী চন্দ্রবাবও সুর কন্যা
শ্যামলী। হা বাবা।
শিবাজী। অভাগী।
জিজাবাঈ। কে এই উন্মাদিনী ?
শিবাজী। উন্মাদিনী না মা অসাধারণ শক্তিশালিনী। তার
ভিতরে যে, শক্তি বয়েছে সেই শক্তিই উপাসক আম। একবাত্ম ভাৰ
ত মা নিজেদের প্রতি অবিচার হয়েছে অত্যাচার হয়েছে মনে কবে,
জীবনে সব কিছু বিসর্জন দিযে এই শ্যামলীর সমবয়স্কা এক বালিকা
সমগ্র দাক্ষিণাত্যে একাকিনী ছুটে বেড়িয়েছে। তারপর আজ সে মাছরের
বাহিনীর অধিনেত্রী হয়ে আসছে আমাদেব আক্রমণ করতে। বীবাবাঈয়ের
শক্তি বিপথে চালিত হচ্ছে বলে আপাতত তা আমাদের অনিষ্টয়াধন কবছে।
কিন্তু ওই শক্তিকে অমি নূতন পথে ফিরিয়ে দেব আর তা যদি পাবি,
তাহলে মহারাবে যে হিত সাধিত হবে-তা বিজাপুর জয়ে হবে না,
গােলকোণ্ডা জযে হবে না এমন কি মুঘলজয়েও তা হওয়া অসম্ভব। শ্যামলি।
জিজামাইয়ের প্রস্থান
শ্যামলী। বাবা।
শিবাজী। তােমাৰ সখীব বণ নৈপুণ্য দেখতে চাও?
শ্যামলী। কেমন কবে বাবা?
শিবাজী। দেখতে চাও ৩ আমার অনুসরণ কর।
শিৰাজী বেগে প্রস্থান করিলেন গামলীও তাঁহার
অনুগমন করিল। সকলে চলিয়া গেলেন
जोय HD
মাহরে দুর্গ। দুর্গশিরে বীরাঙ্গ দাড়াইয়া রহিয়াছে। আপাদমস্তক
তার অস্ত্র মন্ত্রে সুসজ্জিত। সে দূৰবীণ হাতে লহহা মাঝে মাঝে
অতি ব্যস্তভাবে কি যেন দেখিতেছে। ঘােডপুরে
পাশে দাম ন। বীরাবাঈ (রবীণ নামাইল
বীব। বাজু সাহেব।
ঘােডপুবে। 'কি মা।
বীব। তিনবাব মাহাতাব। পবাজিও হযে পৃষ্ঠ প্রদর্শন কবেছে।
এই বার নিয়ে চতুর্থ আক্রমণ।
ঘোডপুবে। কতবড় বীবের বক্ত তােমার ধমনীতে প্রবাহিত, তা
কি আমি জানি না মা।
বাবা। বালাসাহেব।
ঘােডপুবে। বল মা ।
বীবা। যৌবনে আমাব বাবা খুব বীব ছিলেন ?
ঘােডপুবে। সে কথা আবাব জিজ্ঞাসা করতে হয়? শিবাজী বীর
বলে খ্যাতিলাভ কবেছে কিন্তু চন্দ্ররাওযেব কাছে সে খছােত•• তাইত
গুপ্তঘাতকদেব দিযে সে তােমার বাবাকে হত্যা কবালে।
বী। আমার যদি একটি ভাই থাকত বাজীসাহেব ?
ঘােডপুবে। সেও পিতার মত ধীব হতো। পিতৃহত্যার প্রতিশােধ
নিত।
বীবা। চন্দ্ররাওযেব পুত্র নেই, কিন্তু কন্যা ত আছে।
ঘােডপুবে। পিতাব বীবম্বেব উত্তবাধিকারিণী সে। পিতৃহত্যাব
প্রতিশোধ সেই-ই নেবে।
গৈরিক পতাক ১১৩ বীরা। না না প্রতিশােধ নেবার কথা নয বীত্বে কং। ঘােডপুরে। মাবহাঠাদেব পৰাজযই ত তােমাৰ সে বীরত্বেব ঘােষণা করছে। বীব। করছে বাজীসাহেব। ঘাডপুবে করছে না। বীরা। অথচ বীরত্বেৰ স্পদ্ধষি স্ফীত হযে ব বাও আমাকে জীবনের বে ঝ ভেবে হেল য পাযে দলেশ্চলে গিযেছিল বাসাহেব ঘে৬পুরে। বল মা। বীব। এবাব মহাবা- সৈন্যের অধিনায়ক কে বলতে পাবেন ? ৩াদেব মণ প্রতিহত করতে না পেরে আমরা এই দুগে এসে অ শ্ৰষ নিতে বাধ্য হযে ছ অধিন যক যেই কি স কুশলী যােদ্ধ বিচক্ষণ সেনাপতি। ঘােডপুবে। সৈনাপত্য কে নিযেছেন ত ? জানি না মা। এক আমি বলে বাখছি যে ৮মি এখানে যে আ ন থেতে তুলেছ ভাতে আহুতি দিতে মাহাতাব ছােটবড় সব সেনাপতিকেই আসতে হবে, সুষ শিবাজীকে ৭। বা। ছোট বা সবাইকে আসতে বে বণবাও যদি শাসে *মাবি এগ থেকে নি ক্ষপ্ত ক গােল যদি তাকে আঘাত যদি সে আত্মব কবতে অসমর্থ হয় আগে ৩ একথা ভাবিনি। রণব আসতে পাবে আগে তে সে ক1 মনে হয়নি। না না, জেনে শুনে অামাৰ বিৰুদ্ধে বাবাকে ৩াব কখনাে পাঠাবে না-শ্যামলী আছে সেহ বাধা দেবে। ঘাে ৬পুবে। কি ভাবছ মা বাবা। শিবাজী নিজে যদি আসেন, বাজীসাহেব। ঘােডপুবে। এতিশােধ নেবার একটা সুযােগ আমবা পাব।
১১৪
গৈৰিক পতাকা
[ ৫ম অঙ্ক
বীরা। আপনি কি বলেন বঙ্গীসাহেব। শিবাজী এলে এক মুহুর্ত ও
আমি এ দুর্গ বক্ষা করতে পারব না। তিনি এলে আমি ই সবার আগে
অন্ত্র ত্যাগ করব।
ঘােডফডে । সে কি মা ।
বীরা। করব না বাজীসাহেব ? আমাৰ বিৰুদ্ধে শিবাজীকেও অস্ত্র
ধরতে হয়েছে, এব চেয়ে বড় কথা আর কি হতে পারে? সেই ই আমাৰ
জয়। তিনি এলে তার পদতলে অস্ত্র বেখে আমি বলব—আপনার
প্রিয়শিষ্য আমায পরিত্যাগ কবে চলে গিয়েছিল, আমাকে মুক্তি-পথের
বিঘ্ন মনে করে।
ঘােডপুবে। যতই তাতিয়ে ভুলিনা কেন, জল হতে একটুও দেবী
লাগে না। তুমি বীরত্বের অধিকারিণী এ পৰিচয শিবাজীকে দিয়ে
আত্মশ্লাঘা অনুভব করতে পাব , কিন্তু জিজ্ঞাসা কবি তাতে কি তােমাৰ
পিতৃহত্যার প্রতিশােধ নেওযা হবে?
বীব। বাজীসাহেব।
ঘােডপুরে। আমার ওপর ক্রুদ্ধ হও কেন মা। তােমাৰ পিতার অতৃপ্ত
আত্মার কথা ভেবেই আমি তােমাকে কৰ্তব্য দেখিয়ে দিচ্ছি—নইলে
শিবাজীৰ পতনে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনই লাভ নেই।
বীব। আমাৰ পিতার আত্মা যদি অতৃপ্ত থাকে, তাহলে ৰক্তপান
কৰে তা তৃপ্ত হবে না। আপনাকে আমি অনুবােধ করছি বালীসাহেব,
আর কখন আপনি আমার পিতৃহত্যার কথা তুলে
আমাকে উত্তেজিত
কববার চেষ্টা করবেন না-কখনাে না।
কীয়া ফিরিয়া পাডাইঘা দূরবীণ লইয়া দেখিতে লাগিল।
ঘােডপুরে। একবার যে আগুন জেলে দিয়েছি, তা কি সহজেই
নিভতে দেব? মনের ওই উত্তেজনাই তাে প্রকাশ করছে যে আগুন
একেবারে নেভেনি।
গৈরিক-পতাকা বীর। বাজীসাহেব, দেখুন ত—র, বহুদুবে, মাটি থেকে আকাশ অবধি আচ্ছন্ন করে ধূলোব প্রচণ্ড একটা ঘূর্ণাবর্ত এই দিকেই ছুটে ‘আসছে না ? ও মাবহাঠাবাই আসছে। দুবৰীণ নিষে আপনি এখানে দাড়ান বাজীসাহেব, আমি সৈন্যদেব প্রস্তুত কবি । ঘােডপুবে। এইবাৰ আত্মৰক্ষার চেষ্টা দেখতে হয়। দবীণ নিয়ে আমি কি কবব মা। বুড়াে মানুষ, দৃষ্টি ত অত দূবে যাবে না। বীব। আপনি তাহলে নীচে যান বাজীসাহেব। সৈনিকদেব প্রস্তুত হতে বলুন গ্নে। দূরবীণ লইয়া দেখিতে লাগিল ঘােভপুবে। দুগ থেকে এখন বার হওষা ত সম্ভবপব নষ। কোন নিবাপদ স্থানে গিয়ে আত্মৰক্ষা কবি। তাবপব যুদ্ধ থেমে গেলে আবার দেখা দেবে। ঘােডপুরে অস্ত্র অসি নয়, বশ নষ, বন্দুক নয়, কামান নষ—ঘােডপুবেব অস্ত্র ওই বীবাবাঈ। ওকে সামনে বেখে লড়তে পারলে জীবন যুদ্ধে ঘােডপুবেকে পৰাজিত হতে হবে না। তা হলে যাই মা, সৈন্যদেব প্রস্তুত করি গে। ঘােড়পুরে নীচে নামিয়া গেল। বীর বিবাণ বাজল। কয়েকজন নারী সৈনিক উপরে উঠঙ্গা আসিল। নাবী সৈনিক। কি অদশ দেবি ? বীরা। আবহাঠাব। আমাদের আক্রমণ করতে পেষে আসছে। তিনবার তােমরা তাদের পরাজিত করেছ, তিনবাব তারা তাদের পৌরুষের পবিচয় দিয়েছে বীববিক্রমে পৃষ্ঠ প্রদশন কবে। এই চতুর্থবাবে সে সুযােগ তারা যেন না পাষ—এই প্রান্তবেই যেন তারা তাদের সমাধি রচনা সৈনিকগণ অভিবাদন করিয়া চলিয়া গেল। নাৰী অবলা, মুক্তিব বিন্ন, অথচ প্রাভিয়ে পলাবিত পুরুষও পৌরুষের দম্ভ কৰে।
১১
গৈরিক পতাকা
[ম অঙ্ক
কানের ওয়াজ হই
একি! এই মাঝে ৩াব আক্রমণ কবল। এত ক্ষিপ্রগতি তবে
তবে কি এসেছেন মহাবাজ শিবাজী নিজে এসেছেন?
সম্মুখে পিছনে চারিদিকে কামানের ধ্বনি হইল
দুগ একেবাবে ঘিবে ফেলেছে। ভবানী শক্তি দাও শক্তি দাও
এক ন সৈ। ক উঠা আসি
সৈনিক। দবী এখানে অ
নিরাপদ নয় কাপনি নীচে
চলুন দেবী।
বীব । নিজকে নিরাপদ বাখ বি ইচ্ছে থাকলে তাে অ পূবেই
থাকতাম এ৩বড় বিপদকে ববণ কবে নিতাম না
অপর একজন সৈনক উঠিব আসিল
২ষ সৈ নক বী মাবাঠাবা দুগেৰ পিছন দিক আক্রমণ কবেছে।
আপনি চলুন দেবী
বীব। মৰ ব জ প্রস্তুত হ । আঃ যুদ্ধ নয আজ আমাদেৰ
মরণােৎসব। নাবীব বক্ত চাও যুবিঠা সে তোমায় বক্ত দিয়ে স্নান কবিযে
দেবে। মৃতুকে ভয় কব মারহাঠ
সে শিখিবে দেবে মৃত্যুকে কেমন
কবে জয় কবতে হ্য। মাংবেব নাবী বাহিনী আজ নি শেষ হয়ে মুছে
যাবে, কিন্তু তার আগে সে পুষেব বকে বুকে ববে হবধে দেগে বেখে
যাবে যে, নাবী অবলা নয় অযােগ্যা নয়, পুরুষেব পক্ষে নয় কেবলই একটা
দুৰ্ব্বহ বােঝ।
একজন সৈনিক উঠিয়া আসিল
সৈনিক। দেবি। আমাদেব বাৰুদ ফুবিয়ে গেছে।
বীরা। বারুদ ফুরিয়ে গেছে, কিন্তু অসি আছে বল্লম আছে আছে
ভগ্ন দুর্গ-প্রকারের প্রস্তুবখণ্ড। তাই দিযেই যুদ্ধ কবতে হবে।
গৈবিক পতাকা
সৈনিক। যারা যুদ্ধ কবছিল তাবে সকলই প্রায় হত। সামান্য
যে কজনা অবশিষ্ট আছে তাবাও আহত।
বীরা। বাহুতে যতক্ষণ এতটুকু শক্তি থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত শত্রুকে
আঘাত করতে হবে। এস আবহাঠা, এই নাবী বাহিনী নির্মল করে
তােমাদের পেরুষের বিজয় কেতন উডিযে দাও। সসারে সমাজে
তাদেব পাযে দলে যে অনিন্দ পাও স’ গামেই বা সে আনন্দ থেকে
বঞ্চিত থাকবে কেন? চল সৈনিক
বীরা নামিয় গেল। ঠিক সেই সময়েই মাঠানের
গােলার আঘাতে দুর্গের সম্মুখদিকের খানিকটা ভাসি
গেল অসন্তে রণরাও চুটিয়া আসিল
২াথাও। ভন্ন পথে দুগ প্রবেশ কব-পবাজযের গ্লানি নিয়ে আবারও
যেন বায়গডে ফিরতে না হয়।
দৈনি করা দু পৰেশ করিতে লাগিল। অপর পার্কে
পাক রে খানিকট অংশ ভাঙ্গিয়া গেল। সেইস্থান যিয়
দেখা ল নর নারীতে মুল যুদ্ধ ইতেছে
তেপ চালাও তােপ চালা ও দুগ ধূলোর সাথে মিলিয়ে দাও।
রণরাও চলি গেল মারাঠ নের গােল দাসিয়া দুর্গ
ক রঙ্গিয়া ফেশিতে লাগল সন্ধা নামিয়া আলি
রণকোলাহল নিবৃত্ত হইল—আকাশে চাঁদ উঠিল—
আলােতে দ ল দুগের ভগ্ন ভূপের মাঝে অসংখ্য
মৃতদেহ প ডধা রহিয়াছে। বহুক্ষণ অবধি জীবিত কাহারও
কোন সাড়া পাওয়া গেল না। একটা দেহ একটু ভিন্ন
উঠিল বাহুতে ভর দিয়া ধীর ধীরে সে সম্মুখে লাগাইয়া
আসিল। যে আসিল সে রণরাও
শেষে নারী পবিচালিত বাহিনীর কাছে পরাজয় মেনে নিতে হলাে।
তবুও মৃত্যু হলো না। বীর মবহাঠাবা সকলেই মৃত-কলঙ্কেৰ বােঝ
১১৮ গৈরিক পতাকা [ ৫ম অঙ্ক ইবার জন্য কেবল রণও রইল জীবিত। কিন্তু বাচা হবে না। দত্ত, দূরে ওই অস্পষ্ট এক মুর্তি—শ না মিত্র ? মরণের ভয়ে কে পালাও ভী। মুক্তি ফিরিষা দাড়াইল। টলিয়া ঢলিয়া কাছে আসিতে লাগিল। যে কথা কাহল সে ধীরা। বী। মৃত্যুকে ভয় কবি না সৈনিক। শক্তি নেই,-তাই তােমার অভ্যর্থনা করতে পারছি না। কিন্তু তবুও-বুও দাড়াও বীব মুঃ আরো কাছে আসিতে লাগিল। হস্ত তার রক্তমাখা মুক্তকেশ, চক্ষে তখনাে আগুন রহিয়াছে। দেহ বহি রক্ত ঝরিতেছে বণবাও। এ কে বীরা। বীবা । বীরা। রণবাও। বীরা রণরাওষের কাছে আসিয়া পড়িযা গেল। বণরাও তাহাই কাছে অবশ হ্যা পড়িল। বণও। বী। বড় আহত হযেছ তুমি ! বীরা। হা আহত হযেছি। কিন্তু দেহেব দিকে কি দেখছ বণবাও- দেহেব এ আঘাত কিছুই নয় বুকের ভিতব রণবাও বাবাও। চল, চল বীবা—এখনও শক্তি আছে—তােমায় লােকালয়ে নিয়ে যাই। বীরা। নবাব শক্তি আর নেই বণরাও। যশরাও তাকে ধবিয়া উঠাইবার চেষ্টা কবিল। কিন্তু পারিল না নিজেও পড়িয়া গেল এ বােঝা বইবাব চেষ্টা করে আব শ্রান্ত হয না, রণবও। বাবাও। বোঝা নও, বােঝা নও বাবা—আমার জীবনের স্পন্দন তুমি । বীব। কিন্তু বােঝা মনে কবে একদিন ত ফেলেই দিয়েছিলে আজ আব তা তুলে নেবার চেষ্টা কেন রণরাও। বীবা।
গৈরিক-পতাকা
১১৯
বণরাও স্কুল করেছিলাম। কি সেই ভুলের জন্য যে এত কঠোর
প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে, তা একবারও মনে হয়নি।
আবার বীরাকে তুলির চেষ্টা করিল
বীরা, তোমাকে আমি বাঁচাবু-তােমাকে আমি আর কোথাও যেতে
দেব না।
বীবা। সেদিন তােমায়, বলিনি , কিন্তু শ্যামলী বলেছিল—আজ
বলি, যদি প্রত্যাখ্যান না করতে, যদি অযােগ্য মনে করে পথের পাশে
ফেলে না যেতে, তাহলে বীবাঈযেব জীবন এমি ব্যর্থ হতাে না।
দেশ শুধু তােমারই ৰণরাও, আমার নয় ? শিবাজীব মহত্ব শুধু তুমিই
বুঝেছ, আমি বুঝিনি ?
বণও। এবা। আমাকে ক্ষমা কর বীব।
বীবা। অতীতের কথা আর নয় বাও। আজ তােমাকে পেয়েছি।
আজ শুধু শেষে এই সময়টিতে একবার তুমি বল, তুমি আমাকে উপেক্ষা
করনি।
রণরাও। উপেক্ষা করিনি, উপেক্ষা করিনি, বীবা। দেশ প্রেমের
অনাস্বাদিত এক মাধুৰ্য্য আমায আত্মহাব কবে ফেলেছিল। তাই
ভােব প্রেমের মর্যাদা আমি তখন দিতে পাবিনি। কিন্তু তারপর--
তারপর বুঝেছি বী, প্রেম যদি তুচ্ছ হয়, তা হলে দেশপ্রেমও খুব উচ্চ
নয়—যার জন্য মানুষ নিজেকে শুকিযে বাখবে, হৃদয়কে করে ফেলবে
মরুভূমি।
বীরা। আজ এই কথাটিই শুধু বিশ্বাস কব যে, বীর তােমার ব্রত
ছদ করত না।
যা মাটিতে লুটাইয়া পড়িল। রণরাও তাহাকে কাছে
টানিয়া লইবার চেষ্টা করিতে লাগিল
রুণরাও। বীরা। অভাগী বী।
গৈরিক পতাকা
[ ৫ম অঙ্ক
[রে ফেলে।
প্রবেশ করিল
ঘােডপুরে। কিছুই ত ঠাহর হচ্ছে না। চু ডাটা মবে গেল নাকি।
দেখি, একটুখানি খুজে দেখি। ওকে হাতে রাখতে পারলে আখেরে
কাজ হবে।
বীবা। বল বল বণবাও বল যে, তুমি বুঝেছ আমি তােমার
ব্ৰতভঙ্গ করতাম না।
বণরাও। আজ বুঝতে পারছি বীর যে তােমাকে পাশে পেলে
ব্ৰত আমাৰ অতি সহজেই উদযাপিত হতাে
খােড়পুরে কথার শব্দ শুনিতে পাইয়া কান পাতিল দাড়াইল
ঘােডপুবে। ওই দিক থেকে কথার শব্দ ভেসে আসছে না?
এগিয়ে দেখব কি ? যাবা কথা কইছে তাবা যদি আবহাঠা হব না
বাবা কাজ নেই। আব ও যদি ধীবাবাঈয়ের কণ্ঠস্বর হ্য
বীব। এ জীবন ত গেল বণও পরজন্মে যেন আবাব তােমাবই
ভালবাসা পাবার যােগ্য হই
ঘােডপুবে। এ ত পুরুষের কণ্ঠ নয়। নিশ্চিতই মাহুবের নারী
সৈনিক। বীরাবাঈ। বীবাবাঈ।
বণরাও। নাম ধবে তােমায় কে ডাকে বীরা?
ঘােডপুবে। ( আগাইযা আসিয) বাবাবাঈ। বীরাবাঈ।
বীব। চিনি! ও কণ্ঠ আমি চিনি, বণবাও।
উঠিবার চেষ্টা করিল
বণরাও। ওকি, বীব। তুমি অমন করছ কেন ? কোথায় তুমি
যেতে চাও?
বীরাবাঈ। শত্রু নিপাত করতে হবে ঘােবতর শত্রু। তুমি
একটু অপেক্ষা কর রণবাও।
ঘােড়পুরে। বীরাবাঈ, তুমি কি জীবিত?
।
গৈবিক পতাকা
T
বীবাঈ
বাজীসাহেব আমি এই দিকে মুমূর্ষ।
ঘােডপুবে। সন্ধান পেয়েছি। এখনও জীবিত রযেছে।
বাঁচাতে হবে। ঘােডপুরে জীবনে সৌভাগ্য সূৰ্য্য ও। ওকে দিয়ে
অনেক কাজ হবে। ভষ নেই মা, আমি আসছি। আমি তােমায় বহন
করে মাহুবে নিয়ে যাব।
বীরাবাগ উঠিযা পড়াইবার চেষ্টা করিয়া পড়িয়া গেল
বাবা। বাজীসাহেব। আমি এইখানে
আডপুরে কাছে আলি
ঘােডপুরে। এই যে আ ম এসেছি মা। বড় অহত হয়েছ ?
বীবাবাঈ হ তত বেছি। কিন্তু তােমাকে হত্যা কববার শক্তি
এখনো হাবাইনি।
ঘােডপুরে একটু দূরে স'র পিয়া
ঘােডগবে। এ বি বখা—এ বি মৃওি। আমাষ চিনতে পারছ না।
আমি তোমাৰ পিতাব বন্ধু ৩াম ব অকৃ এম হিতৈষী।
বাবাবা । 1 তামার পিতার বন্ধু, আম'ব অকৃবিমতৈষী।
মহলে, নহলে কে আব পাত এমন করে আমার জীবনটা ব্যর্থ করে
দিতে ?কে 'আব পাই ন কবে আমাকে দানৰী কবে তুলতে? কে
আব পাৰত আমার অন্তবে ক্ত পিপাসা জাগিয়ে তুলতে ?
ঘােডপুবে। তুমি এখনও ভুল কবছ মা। আমি শিবাঙ্গী নই,
আমি ঘােডপুবে।
বণ বাও। ঘােডপুবে' জীঘােডপুবে। সেই বিশ্বাসঘাতক।
রুণরাও উঠিয়া দাড়াই
ঘােডপুবে। কে তুমি তোমাকে তাে আমি চনিনা। তোমার চোখ
দিয়ে আগুন বেকক্ষে কেন? অপবিচিতে পতি তোমার এ আক্রোশ
কেন যুবক ?
২
গৈরিক পতাকা
[ ৫ম অঞ্চ
রণবাও আমি রণবাও, শিঙ্গীর সেবক।
ঘােড়পুরে। রণরাও। তুমি বণবাও। বীরা, মা, এই তােমার বশবাও?
আজ তােমাদের মিলন ঘটেছে। রণবীও, বহু চরাওযের মৃত্যুর পর
থেকে বীরাবাঈকে আমি কন্যার মতােই পালন করে এসেছি। তােমার
সঙ্গে ওর এই মিলন দেখে আজ স্বর্গ থেকে বন্ধু আমার আশীর্বাদ
রণরাও বােডপুরের গলা টিপিয়া ধরিল
বাও। স্তব্ধ হও প্রতাবক।
বীরাবাঈ। রণবাও। ও আমার, আমাব,-তােমাব নয়।
ৰীৰাই ঘােডপুরেকে আঘাত করিল। ঘােডপুয়ে পড়ি গেল
বী। রণাও। জয়ধ্বনি কব, বিশ্বাসঘাতকের পতন হয়েছে,
মহারাষ্ট্রের শত্রু নিপাত হয়েছে, জযধনি কব রণবাও, জয়ধ্বনি কর।
কিছুকাল দুই দুইজনের দিকে চাহিয়া র হল। উভয়েরই
শরীর কাপিতে লাগিল
বীরা। রণবাও। বাবাও।
টলিয়া পড়িতে পড়িতে বীরাঙ্গ হাত বাড়াইব ল
বাবাও। বী। বীব।
টলিতে টলিতে সেই প্রসারিত হাত ধরিতে গেল। পরস্পরের হাত
ধরিয়া দুজনে পডি গেল। শ্যামলী ও শিবাঙ্গ প্রবেশ করিল
শ্যামলী। একটি প্রাণীও ত জীবিত দেখছি না বাবা।
শিবাজী। যারা পজিত হয়েও বেঁচে আছে, তারা পালিয়েছে।
যারা জয়ী হয়েছে তারা গিয়ে উৎসব কবছে।
শ্যামলী। রণরাওকে কোথাষ পাব বাবা?
শিবাজী। রণরাও পরাজিত হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালাব না শ্যামলী
বীরের শষা গ্রহণ করে।
রুণরাও। বীব। বীব। '
গৈরিক পতাকা
১২৩
শ্যামলী। রাও।
বুরাও। কে ডাকে
বী। শ্যামলী
শ্যামলী ছুটিয়া আসি
স্যামী। বীবা কোথায় তুমি
বীরা। শ্যামলী এসেছিস ?
শ্যামলী। বীব বােন এ কী দেখলাম ? কি দেখতে নিষে এলেন
বাবা।
শিবাজী কাছে গিয়া ধীরাকে তুলিয়া লইলেন
শিবাজী। বীর বায়ুবে শ্যামলী—ণরাও বাঁচবে—মহাবাষ্ট্রের
তরুণ তরুণী অকালে অব অকাৰণে পণ দেবে না।
বণবাও। মহারাজ যুদ্ধে আমবা পরাজিত হয়েছি।
শিবাজী। না ন বণবাও মহাবাবে যৌবন আজ অভিমান জয়
কবে ব্যর্থতা জব কবে মৃত্যুকেও পরাজিত কবে ফিবিয়ে দিয়েছে।
চতুর্থ দৃশ্য সিংহগড দুর্গের নিকটবর্ত্তী পথ। আহত অনার্জীকে লইয়া মারহাঠা সৈন্তের অগ্রসর হইতেছে। তানাজীর চলিবার শক্তি নাই-তৰু সৈনিকদের দেহের উপর নিজের দেহঙ্গার রক্ষা করিয়া কোনমতে অগ্রসর হইতেছে সঙ্গে দুঘুনাথ। রঘুনাথ। তানাজী এ উন্মত্ততা তুমি পবিহার কর। প্রতি মুহূর্তে শক্তিব যে অপচ ঘটছে, তাতে কবে জীবন তােমার প্রতি মুহূর্তেই বিপন্ন হয়ে উঠছে। এমন কবে বাষগড়ে তুমি তাে পৌছতে পারবে না। তুমি আদেশ কব-পাল্কী অশ্ব বা উষ্ট্র যে কোন বাহনের সাহায্যে তোমায় আমবা বাবগড়ে নিষে যাই। তানাজী। ওই ত ব য়গড় দেখা যায় রঘুনাথ, কতটুকু—কতটুকু পথ আর বাকি। সিহগড় দুর্গ বিজয়ী তানাজ এইটুকু পথ হেঁটে যেতে পারবে না ?—পাববে বঘুনাথ ৩ানাজা তা পারবে। তাকে একটুখানি বিশ্রাম কবতে দাও, একটুখানি। তবপব আব তাব পা কাপবে না- তার চোখের সামনে অন্ধকার আব গাট হয়ে নেমে আসবে না। সৈনিকেরা তানাঙ্গীকে বসাইয়া দিলেন বঘুনাথ। সৈনিক। দ্রুতগামী এক অখ বেছে নিয়ে বাগডে গিয়ে সবাদ দাও যে মহাবীব তানাজী সিহগড় দুর্গ জয় কবেছেন, কিন্তু অত্যন্ত আহত তিনি, মুমু। সেই অবস্থায় মহাবাজ আর জননী জিজাবাঈকে দেখা দেবার জন্য রাষগডে তিনি পায়ে হেটে চলেছেন। চলবাব শক্তি তার নেই। তারা এসে যদি দেখা না দেন, তাহলে তানজীর শেষ ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে যাবে। সৈনিক প্রস্থান করি \
৪র্থ দৃশ্য।
গৈরিক পতাকা
তানা। প্রবাদ এতক্ষণ পৌছে গেছে বঘুনাথ ! দুর্গজষ করেই
আমি তােপধ্বনি কবেছি। মহাবাজ ত অবশ্যই শুনতে পেয়েছেন। কিন্তু
তিনি ত জানেন না যে তাঁব ৩ানাজীজ আহত। যদি তা জানতেন,
তাহলে এতক্ষণ তিনি ছুটে আসতেন। এসে আমায বুকে টেনে নিতেন
রঘুনাথ । তুমি কি জান না মহারাজ শিবাজী কত স্নেহপ্রবণ । তিনি হয়
ত আমাবই পথ চেযে বাষগড় দুর্গশিবে দাডিযে বয়েছেন।
বঘুনাথ। মহাবাজ শিবাজীকে তােমার চেয়ে ভাল কবে চেনবাব
সৌভাগ্য কাব হযেছে ৩ানা
নাজী। তার ইচ্ছে ছিল না বন ?
এ সমযে মিহড দুর্গে
আমাকে পাঠাতে তাব এতটুকু ইঙ্গে ছিল না। জননী জিভাবাঈ আদেশ
করলেন-দুগ অবিলম্বে অধিকাৰ কৰা চাই। মহাবাজ নিজে কত
হচ্ছিলেন। আমি সে খবব পেলাম। আমি ৩ জানি কি বিপদসঙ্কুল
এই কাজ। তাই আমি দিব কবলা মহাবাজকে রুখা ন আসতে
দোব না। ছেলেব বিবেও তা ড. কবছিলাম বইল ৩ পড়ে।
নিমন্ত্রণ প্রত্যাহাব কবলাম-নখানাব জিষে উৎসবেব বাশ থামিয়ে
দিলাম নিজহাতে কলাম নাৰ অ ঘা৩-এক মুহূর্তে বঘুনাথ এক
মুহূর্তে উৎসব ভবন অমাব সা বিক শিবিবে
পৰিণত হলাে,
ববও এল সৈনিকে বেশ পবে এক জল দাও বনাথ-একটু
রঘুনাথ হািকে ভুল পাকব ইল
বাবগড় পৌছে দেখি মা পত্র পাবেব মতিব মতো দাঁড়িয়ে।
কারু মুখে কথা নেই—জননীব দষ্টি সিহগড দুগে নিবদ্ধ মহাবাজকে
আলিঙ্গন কবে মাকে কবলাম প্রণাম। মা গজ্জে উঠলেন—সিহগড
আমি চাই, তানাী। পায়েব ধুলো নিযে আমি বললাম-সুর্যাস্তের
পূর্বে সিংহগড তুমি পাবে মা। বঘুনাথ, সূৰ্য্য এখনাে অস্তমিত হয়
১২৬
গৈরিক পতাকা
T
নিতানাজী তার প্রতিজ্ঞ বা কবেছে—আর এক জ, রঘুনাথ
আৰ একটু।
রঘুনাথ তাহাকে পুনবার জল মিলে
প্রতিশ্রুতি যখন দিলাম, তখনই মাষে পাষাণী রূপে পৰিবৰ্তন
হলাে, দৃষ্টি দিয়ে স্নেহ উপচে পড়লাে, তব বুকে আমার মাথা
টেনে নিয়ে মা বল্লেন, আমার পুত্রোপম, শিবাঙ্গীর সােদবপম তুই রে
নাজী। শিবা নীরবে আলিঙ্গন কবল। বধুনাথ, আমি ধন্য, ধন্য
আমি ! জল, জল বঘুনাথ।
বঘুথ আবার জল দিলেন তানাজী উঠিবার
চেষ্টা করিলেন। রঘুনাথ তাহাকে ধরিলেন
ঘুনাথ। আর একটু বিশ্রাম কব তানাজী।
ভানাজী। বিমেব আব অবসর নেই রঘুনাথ—আমার সারা মন
চাইছে আমার সেই মায়ের কোল, সেই ভাইয়ের বুক। ৰঘুনাথ। বঘুনাথ।
তালালী উঠিবার চেষ্টা করিতে গিয়া সকল শক্তি হারাইয়া
লুটাইয়া পড়িলেন। রঘুনাথ ঝুকিয়া পড়িয়া তাহাকে
তার পর উষ্ণীষ খুলিয়া ফেলিল
রঘুনাথ। উষ্ণীষ ত্যাগ কর আবহাঠা। মহাবীর তানাজী গত ।
তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কর।
সৈনিকেরা উষ্ণীষ ত্যাগ করিল-তরবারি বাহির করিয়া
সমে অভিবাদন করিল। রঘুনাথ গৈরিক পতাকা মিম
তামায় দেহ আবৃত করিল
শিবাজী। (নেপথ্যে) তানাজী। তানাজী।
শিবাজী প্রবেশ করিলেন। সকলে মাথা নত করিয়া মহিল
এ কি রঘুনাথ। তানাজী নেই। তানাজী, ভাই।
মহারাজ শিবাজী টু গডিয়া সেইখানে বসিলেন। রঘুনাথ
গৈৰিক পতাকা ঈষৎ সাহা জানাজীর মুখ বাহির করি
৪র্থ দৃশ্য ]
গৈরিক পতাকা
দিলেন। শিবাজী কিছুকাল কাঠের মতাে শক্ত হইয়া
তানজীর মুখের দিকে চাহিয়া রহিলেন তারপর ধীরে ধীরে
উষ্ণীষ খুলিয়া কেলিলেন। পরে ধীরে ধীরে উঠিয়া
দাডাইলেন। শৈশয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অত্যাগ
প্রবেশ করিলেন।
পেশােয়া, সি হগড দুর্গ অধিকৃত হ’লল—কিন্তু মাঠার সেরা
সিহ ওই ধুলােৰ লুটোয়।
পেশােষা। জীবন দিয়ে ৩ানজী যে কীর্তি রেখে গেল, তা চিরস্থায়ী
হয়ে মহাবাষ্টকে মহাশক্তিব পেবণা দেবে
শিবাজী। শক্তি। শক্তি। পেশােয। মানুষের মাঝে এই শক্তিই
কি সব চেয়ে বড় যে মানুষ চিবদিনই তার গৌরব করবে? মহাৰাষ্ট্র
তীন।জর মতাে শক্তিমান যােদ্ধা কম ত আবে পাবে—কিন্তু তার মতাে
মহাপ্রাণ অব পাবে না।
পেশােষ। ৩ানাজীব মৃত্যু মণবাদ্ধের যে ক্ষতি কর, তা কখনাে
পূর্ণ হবে না মহাবাজ। কিন্তু মহাবাবে বিপদের আর শেষ নেই—
আবে। একটা দুসংবাদ বয়ে আনবাব দুভাগ্য আমার হয়েছে।
শিবাজী। তানাজীর মৃত্যুর চেয়েও দু সবাদ মহারাষ্ট্রের আব
কি হতে পারে পেশােবা?
পেশােবা। যুববাফ শম্ভাজী বিপন্ন।
শিবাজী। শাজী আমার কেউ নষ মারহাঠাব কেউ নয়। অব
সম্বন্ধে কোন কথা আমবা শুনতে চাই না পেশােয়া। শিবাজীর পুত্র
হবে সে মুঘলের আশ্রয় ভিক্ষা করেছে, এ কথা কোনাে মাবহাঠা কোনাে
দিন ভুলতে পারবে?
পেশোয়া। অপরিণতবুদ্ধি যুবক আপনার উপর অভিমান করে
এই কাজ করে ফেলেছে। আজ তিনি অনুতপ্ত ঔরবে তাকে
বন্দী করবার আদেশ দিয়েছিলেন মহাপ্রাণ দিলীর খা তার পলায়নের
#
১২৮
গৈরিক পতাকা
[[৫ম অঙ্ক
সুযােগ কবে দিযেছেন। কিন্তু আপনার অনুমতি না পণে মহারাষ্ট্রে
তিনি প্রবেশ কবতে পারছেন না।
শিবাজী। বাজেব লােভ ল তার এই প্রবল হয়ে উঠেছিল,
তাহলে বিদ্রোহ না কবে সে বিশ্বাঘাতক তা কব কেন। তা ত যদি
অশক্ত ছিল, তা লে গােপনে আমার বিচ্যা নিষে সে ত আমাই বুকে
বসিষে দিতে পারত।
পেশোয়া। কিন্তু মুঘল যদি যুবাকে আষাত্ত প য, তাহলে
মহারাষ্ট্রের বিপুল ক্ষতি সে ববে।
শিবাজী। বিশ্বাসঘাতক হলেও তাকে আমবা মুঘলেব হাতে সঁপে
দিতে পারব না। বনাথ একদল সৈন্য নিযে হতভ গাকে পানশালা দুর্গে
বন্দী কবে বেখে এস। কাক সঙ্গে কথা কইবা সুযােগ তাকে দিও না।
সে একবার বিশ্বাসঘাতকতা কবেছে, অ বাবও তাই কবে মহাবাবে
ক্ষতিসাধন করতে পাবে। আর কিছু বলবাব আছে পেশােবা ?
পেশােষা। অভিষেকের আযােজন কবতে অনুমতি দিন মহারাজ।
শিবাজী। অভিষেক। অভিষেক হবে বৈকি। তানজী সবে গত
পেশােষ! তা হলই বা। পুত্র বিশ্বাসঘাতকতা ববল, তা কবলই বা।
বাজ যখন মানুষ নয—ফ', ৩খন এসব ব্যাপারে তাকে বিচলিত হলে
চলবে কেন ? ৩াকে সব ভুলে সব উপেক্ষা কবে অবিচলিত ক্রুবতা নিয়ে
রাজত্ব চালাতে হবে। যান—যান পেশােষা, আপনাদের যেরূপ অভিকচি
তাই করুন গে—আমাকে কিছুকাল তানজীব বক্ষবক্তসিক্ত এই পবিত্র
তীর্থে একা থাকতে দিন। আপনি ত জানেন, তানাজী আমাৰ কি ছিল।
সকলে অভিবাদন করিয়া চলিয়া গেলেন
তানজী, ভাই।
শিবাজী তানজীর বুকে মুখ ও জিয়া
ফুলিয়া ফুলিঙ্গ দিতে লাগিলেশ
পঞ্চম দৃশ্য
ভবানী মন্দির। ধীরাবাঈ বসিয়া মালা গাঁখিতেছে। রণরাও খসিয়া বসিয়া
তাহাই দেখিতেছে। এমী প্রবেশ করিল।
বীব। এই যে শ্যামলী !
শ্যামলী। মায়ের মন্দিরে বসে মালা গাঁথচ কার জন্যে ভাই? মায়ের
জন্ঠে না মায়ের এই পরাজিত বীরের জন্যে ?
বীরা আমাদের কথা ঢের ভেবেছিস। এবার নিজের কথা
একটু ভাব, জীবনটা কি এমন করেই কাটিয়ে দিবি?
শ্যামলী গানে জবাব দিল
জীবন আমার বইচে নিতি হালকা হওয়ার মত,
ফুলের কালে গান গেয়ে যায়, গান শােনানােই তাহার ব্রত।
ৰীয়াবাদ খলিল
বীরাই ফুলকুমারী, খুললে আঁখি তখনি চাই দখিন হাওয়া।
নতের বেলায় এলে তখন বকুল-কলি যায় না পাওয়া।
দুজনাই হাসিতে হাসিতে
এক সঙ্গে গাহিল
ৰীয়া ও গামলী। গালে আকাশ তারার মালা, রাখলে ঢেকে নয়ন ডালা ,
রূপ কখিকা পালিয়ে বাৰে বানিয়ে হাসি-বাশীয় গাও।
যৌবনেরি কুঞ্জবনে জীবন খোলে প্রেমের মধু,
কোন ভােমরের গুঞ্জরণে পম দেখে মানস-বধু।
এই ক্ষণিকের লীলাখেলায়, কাটিও না জিন হেলাফেলায়,
বাদলা নাতে কালে সখি, চাণীকে আর বৃথাই চাওয়া।
দুজনেই বলিল।
বীরাবাঈ। এইবার জীবনের একটি সঙ্গী জুটিয়ে নে।
৯
গৈরিকশা
[ম আৰু
শ্যামলী। সঙ্গী একটি কেন, বহুতই জুটেছে। সকলের সমাৰ
দাবী রয়েছে বলেই ত কাউকে বঞ্চিত করে বিশে। এক ব্যক্তিকে
ৰাধিত করতে চাইনা। কি হে বী, দূরে দূরে ঘুরে বেড়াচ্ছ কেন?
পরও কাছে আলিয়া কহিল।
রূণরাও। গামলী তুমি কি বলত। তুমি কি মানবী?
শ্যামলী। কেন দানী বলে মনে হয় কি?
রুণরাও। তুমি দেবী। মানুষের সমাজে থাক, কিন্তু মানুষের চেয়ে
শ্যামলী। তাই নাকি।
রণরাও। তা খামলী।
হামলী। বীরা, ভাই, হসিয়ার। নােকটার প্রেমে পড়া রােগ আছে।
রণরাও। তোমার কৃতজ্ঞতা জানাবারও অবসর পাই নি শ্যামলী।
মলী। আরে লােজা কথাটাই বলে ফেল না যে, আমার এখানে
উপস্থিতি তােমাদের ভালো লাগছে না। বীরাব হাতের ওই মালা গলায়
ভােমার সুড়সুড়ি দিচ্ছে।
বীর। শ্যামলী।
শ্যামলী। চঞ্জাম ভাই।
সে চলিয়া যাইবার আগেই শিৰার্থী প্রবেশ
করিলেন
শিবাজী। শ্যামলি। এই যে বীৰাই, রণরাও
ধীরে ধীরে সােপানে ছিলেন। গুলী ও ব্যায়াবাঈ
পতলে বসিল। মায়াও একপাশে ভাইয়া
মহিল।
ভামণী। বাবা।
শিবাজী। কি না।
শামলী। জ্য সুপ্রতিষ্ঠিত। কি আর ভাবছেন ?
গৈরিক পতাকা লিবাজী। রাজ্য আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। বহু আগে তানাজী একদিন এইখানে বসেই আমাকে বলেছিল মহারাষ্ট্রকে আমিই প্রতিষ্ঠিত করব। ভবানীর কৃপায় মহারাষ্ট্র সত্যই আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। কিন্তু শ্যামলি কোথায় আমার বাল্য সখা মহারাষ্ট্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীব তানাজী। দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করিয়া শিবাজী কিছুকাল চুপ করিয়া ছিলেন তারপর আবার বলিতে লাগিলেন একসঙ্গে কর্মক্ষেত্রে যারাই অবতীর্ণ হয়েছিলাম এক একে তাদের কতজনই। চলে গেল। সিহগড়ে তানাজী, পানহালায় বাজী প্রভু শ্যামলী। বাজীপ্ৰভু কে ছিলেন বাবা? শিবাজী। বাজীপ্রভু। বাজীপ্রভু মানুষ ছিল না শ্যামলী, বাজীপ্রভু ছিল শাপভ্রষ্ট এক দেবতা। বীরাবাঈ। বিজাপুরে থাকতে বাজীপ্রভুর নাম শুনিচি মহারাজ। শিবাঙ্গী। শােনবারই কথা মা। শত্রুরূপে প্রথমে সে আমাদের দেখা দিয়েছিল। কিন্তু পরে মাঝাপুরে গিবিশঙ্কট রক্ষা করবার জঙ্গ বীরত্বের পবাকাঠা দেখিয়ে মারহাঠার যে উপকার সে করে গেছে মহারাষ্ট্র কখনাে তা বিস্তৃত হবে না। সম্মুখে অপবিস গিবিশঙ্কট। পানহালার দুর্গ থেকে স্বল্প সখ্যক সৈন্য নিয়ে সবে মাল বেবিয়েছি এমন সময় বিরাট এক বাহিনী নিয়ে ক্রিমণ করল সিদ্ধি আজিজ আর ফাজিল । আক্রমণের সেই ভীম বেগ আমি প্রতিরােধ করতে পারলাম না। প্রাণপণ চেষ্টা , গিরিবক্সে প্রবেশ করতে। শবেব পর শব তূপীকৃত হতে লাগল। মৃত্যু যেন সহস্র জিহব বিস্তার করে ধেযে এল মায়হাঠাদের গ্রাস কৱতে। এমনই সময় বাজীপ্রভু এসে বল্ল শ্যামলী—প্রভু, মারাঠা এ যুদ্ধে তার শক্তিক্ষয় করতে পারে না অধিকাংশ সৈন্য নিয়ে আপনি বিশালগড় দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করুন, আমি ততক্ষণ এই গিরিশ রক্ষা করি। আমি সম্মত হলাম। অধিকাশ সৈন্ত নিয়ে আমি বিশাল প্রত্যাশায়। কিন্তু গৈরিকপতাকা গড়ের দিকে অগ্রসর হলাম। তার জন্য রেখে এলাম মাত্র সাত শত মাওলা। রণও। মাত্র । শিবাজী। সেই সাতশত মাওলা নিয়ে সপ্তদশ শত বিজাপুরীকে বাধা দিতে দাড়াল বাজীপ্রভু। শ্যামলী। তারপর, বাবা? শিবাজী। তারপর, দিবা যখন অবসানায়, তখন বিশালগড় দুর্গে এ৭ করলাম। দুর্গশিরে দাঁড়িয়ে দেখলাম বিঙ্গাপুরী সৈন্ত পলায়িত। অপেক্ষা করলাম। বহুক্ষণ অপেক্ষা করলাম বাজীপ্রভুর প্রত্যাগমন কন্তু সে আর ফিরে এলাে না। তখন আবার ছুটে গেলাম সেই বণক্ষেত্রে। সূৰ্য্য তখন বক্তাত, দিগন্ত বক্তে রাঙা, ধরণীর বুকেও বক্তের স্রোত দেখলাম, আমার সাতশত মাওলা, মারহাঠার শ্রেষ্ঠ সাতশত বীর, সেই বক্তসাগরে আত্মবলি দিয়েছে। সন্ধান করে বাজীপ্রভুকে যখন পেলাম, তখন শেষ নিশ্বাসটি হত তাৰ বুক থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলাম। কিন্তু বাখতে পাবলাম না। বীর জীবনের দেনা পাওনা শেষ করে বাজীপ্ৰভু অমৃতালাকে চলে গেল। শিী নীরব রহিল। শ্যামলী। মহাপ্রাণ মারাঠাদেব আত্মত্যাগের ফলে মহারাষ্ট্র আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। এইবাৰ কিছুদিনের জন্য বিশ্রাম নিন বাবা। শিবাজী। জীবনটা কাটিয়ে দিলাম কেবল অশ্বপৃষ্ঠে আসহাতে ছুটোছুটি করে, তাই জীবন সায়াহ্নে না পারি বিশ্রামের কথা ভাবতে, না পাৰি । স্বপ্ন দেখতে। দেশের জন্য মরে মরে আমরা দেশকে শ্মশান করে রেখে যাব, আর তােয়, ওরে নবীন মারাঠা, তােবাই সেই শ্মশানে নন কানন রচনা করবি সঙ্গে সঙ্গে গাছিতে গাহিতে তরুণ তরুণ প্রবেশ করিল, গৈরিক-পতাকা ১ প্রত্যেকের হাতে গৈরিক পতাকা শিবাজী একটু অপেক্ষা করিয়া চলিয়া গেলেন। গান । সােল ভারত, তরুণ ভারত। জয়তী আঁচলে যে নাঁচাকা। গৌরবে হে, গৈরিক ওড়ে যৌবনেরই জয় পতাকা। মহামানবের এ মহাসাগরে মহাভারতের আরতি চাই- জাতি চলে আজি নব মনােৰৰে বৌৰনে ক'রে সারথী ভাই, (কোরাস) জয় জয় জয় যুবক-ভারত। যুবরাজ তব নবীন প্রাণ, যুগে যুগে পাহা নব নব সুরে, ভুবন ভােলান অমর গান। চিৰ-যৌৱনী পাবতী ভীমা হন্তে অনুর মুও যার শক্তিসাধিকা ভক্তি মােছর উচ্ছসি চাহ খড়ল তার। ভৰালী মােলর ভারত জননী, মানব-মূলনী কালী মাতা, হিমাচলে যায় তুষার মুকুট, সিন্ধুতে ধার চরণ পাল। (কোরাস) জয় জয় জয় যুবক ভারত। ঘুজ তব নবীন প্রাণ, যুগে যুগে গাহাে নব নব সুরে, ভুবন ভােলান অমর গান। শিবাজী প্রবেশ করিলেন। তার সঙ্গে একটি শোকের হাতের থালায় পুষ্পমাল্য, তরবারী, অপর লােকের হাতে বই গৈরিক পতাকা শিৰাজী। বণবাও। বাবা। বীরা ও রণরাও তাহার সাড়োইল শিবাজী নবীন মহাবাষ্ট্রের প্রতিনিধিস্বরূপ তােমরাই সর্বাগ্রে আমার আশীর্বাদ গ্রহণ কর। থাণ হইতে ফুলের মালা লইলে হৃদয়কে তােমরা এই কুসুমের মতােই রাখ কোমল। মিলী ও বৗকে মাল্য দিলেন। তাহা হা মাথায় রাখিল
১)
গৈরিক-শতাকা
এই মুক্ত তৰারির মতােই বাৰু প্ৰদীপ্ত।
बना बारशाशन कति
গুরুত্ত এই গৈৰিক পতাকা জাগিয়ে রাখুক তােমাদের ভিতি।।
সকলকেই পতাকা দিতে লাগিলেন। জিয়া
প্রবেশ করিলেন।
ডিজাই। শিব্বা।
শিবাজী। মা ।
ডিজাই। তােমার রাজ্যে নাকি কেউ অস্পৃশ্য নাই ?
শিবাজী। মহারাষ্ট্রে অস্পৃশ্য কেউ নেই, তা ত তুমি জান মা।
ডিজাই। তবে আমার শঙ্কা আজ এই উৎসবে যােগ দেবার
অধিকার থেকে কেন বঞ্চিত হবে?
শ্যামলী। বাবা। ভাই শালীকে মার্জনা করুন—তার মুখের দিকে
একবার চেয়ে দেখুন, দেখুন তার ছল ছল চোখ দুটি।
শলী পিতার পায়ে প্রণত হইলেন। শিবাল
তাহার মাথায় হাত রাখিলেন
সমবেত গান
ভাতের চাহি নূতন শেণিত সবল প্রেমের অমৃত সুখ
ভারতের বুকে এক জীবনের বিগ্রামিণী বিপুল ক্ষু।
মৃত্যুতে তার জন্য মরেনা কারাগারে তার স্বাধীন ম
যেন তার সত্য কৰিী পাথারে সঙ্করণ।
(কোরাস) জয় জয় জয় যুবক ভারত। যুবরাজ তব নবীন প্রাণ
বু যুগে গাহো বৰ দুলে, ভুল ভােলানােমর গান।
জমিতে খুব চাহে ভা, দেখে না অলস পন হৰি
তার জাগরণ নিয়ে ভিন্ন গুপ্ত কৰি
গৈরিক পতাকা
খিক ভাত গুৰিয়তো * গানে
তরুণ লয় সূষ্টি করিয়া বলে।
বুক ভায়ভ। যুৱাৰ তৰণৰীন প্রাণ
বৰ বৰ সুৰে ভুবন ভোলানােমর গান।
শাল শেষ করিয়া সৰুলে শিৰার্থীকে প্রণাম নিলে।
সর্বপ্রকারে মহান করে তােল, এই আমায়
যখনিকা
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.