Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Polao

Goswami,benowarilal · 2009/12/8

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

শ্রীবোেয়ারিলাল গােস্বামী
গাইবঁধা
১৩৩০
মূল্য পাঁচসিকা মাত্র

প্রকাশক
শ্রীবেলােয়ারীলাল গােস্বামী
গাইৰাধা, রংপুর।
গৌরাঙ্গ প্রেস,
প্রিন্টার—সুরেশচন্দ্র মজুমদার,
৭১১১ নং মির্জাপুর স্ট্রীট, কলিকাতা।

ভূমিকা অাচাৰ্য্যদেব শ্রীযুক্ত বেপােয়ারীলাল গােস্বামী মহাশয় তাহার “পােলা”র একটী ভূমিকা লিখিতে অনুরােধ করিয়া পাঠাইয়া- ছেন। সুদূর ব্রহ্মদেশে বসিয়া ইরাবতীকুল হইতে বাংলার কবির ভাগীরথীকূলের শান্তিপুরের কবির-সম্বর্ধনা করার সুযােগ—ইহা অবহেলা করিবার নয়। গােস্বামী মহাশয় বাংলার কবিকুল মধ্যে সুপরিচিত , আজ তঁাহার সমসাময়িক অক্ষয়কুমার, দেবেন্দ্রনাথ তিরােহিত ; নব্যভারতের দেবীপ্রসন্ন আজ দেবলােকে ; যে সুরের বাদক তিনি সে সুরের সমজদার আজ বাংলার আসরে কম। এখন দিন দিন যখন বেলােয়ারিলালের বেণুধ্বনি পুরাতন বৈষ্ণব কবিগণের মূচ্ছনার আবেশ আনিয়া দিয়াছে ; তাহার চতুর্দশপদী । কবিতার গমকে বাংলার কাব্যকুঞ্জ নবােল্লাসে, নলীয়ে হাসিয়াছে ; তাহার “খিচুড়ীর” ইঙ্গ-মিশ্র ব্যঙ্গে কবি, সমালােচক, দেশহিতৈষী, সমাজসংস্কারক সমস্ত শ্রেণীই ননকুর্দন করিয়াছেন। আজ জীবনের সায়াহ্নে কবি বাংলার নবজাগরণের, ভারতের নূতন উন্মাদনার"ভৈরবসঙ্গীত আবাহন করিয়াছেন; তাহার বৈষ্ণবভাব- সিক্ত দেশানুরাগ ঝলকে ঝলকে মন্দাকিনী ধারার ন্যায় পূতপ্রবাহে ছুটিয়াছে ; তাহার শ্রদ্ধার অর্ঘ্য, মহাত্মা গান্ধী ও তাহার অনুচারী- বর্গের উদ্দেশে প্রদত্ত হইয়াছে—ভণ্ডের ভণ্ডামি, চটুলের চটুলতা, দুর্বলের অক্ষমতা-কবির বােষাগ্নিতে দাউ দাউ করিয়া পুড়িয়া শুদ্ধ হইয়াছে। বাংলার সমাজের, বাংলার সাহিত্য কাব্যের, বাংলার দেশহিতৈষণার এই ব্যঙ্গচিত্র যাহা কোমল সহৃদয়তার মধুর এবং কঠোর স্পর্ধাযুক্ত তপস্যার আদর্শে সমুজ্জ্বল—আশাকরি, বাংলার পাঠকের সম্মুখে একটা নূতন রাজ্যের বার্তাবহন করিবে। কবি-সুরেন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ, ব্রজেন্দ্রনাথ, জগদীশ, প্রফুল্ল কাহাকেও বাদ দিয়া চিত্রাঙ্কণ করেন নাই—ত্যাগ ও তপস্যার আদর্শ সম্মুখে রাখিয়া তিনি প্রত্যেক লব্ধপ্রতিষ্ঠ বাঙ্গালীর একটা চরিত্রচিত্র, একটী মিঠেকড়া তারের আলেখ্য উপস্থাপিত করিয়াছেন । তিনি যাহা তুলিতে ফুটাইতে সাহস করিয়াছেন তাহ অন্য দ্বারা সম্ভবে না—কারণ, “নিরঙ্কুশাঃ হি কবয়ঃ”, কারণ, পরপারের অতি সন্নিকটে আসিয়া এ পারের দেনা-পাওনা, লাভ। লােকসান কবি এক রকম চুকাইয়া লইয়াছেন। অদ্বৈতের বংশধর শান্তিপুরের কবি অসহযােগের বৈষ্ণবভাবটীর পরম সুললিত ব্যাখ্যা করিয়াছেন—যাহা বৈষ্ণবের পক্ষেই সম্ভব। সাহিত্যের কেলিকুঞ্জ, কবিতাবধূর নূপুরনিক্কণ হইতে কবির এই অকৃতী শিষ্যকে অবসর নিতে হইয়াছে ; আজ দেশমাতৃকার চরণে অঞ্জলি নিবেদন করার প্রয়াসকে যে অধম ধৰ্ম্ম বলিয়া বরণ করিয়া লইয়াছে, কারাগারের লৌহবলয়ের শিক্ষুন তাহার জীবনে বেণু- বানের স্থান অধিকার করিয়াছে—স্বাধীনতার উন্মাদনায় কাব্য- সাহিত্যের রসাবেশ চাপা পড়িয়া গিয়াছে -তন্ত্রাচ ‘পােলাও পড়িতে পড়িতে তাহার অমথিত চক্ষুর সম্মুখে স্বাধীন ভারয়ে বাগেবী রক্তপদ্মের পাপড়ীর উপর চরণ স্থাপন করিয়া আবিভূত। হইয়াছেন—কাব্যৰীণা ও স্বাধীনতার ভেরী একসুরে একতাকে বৈঠকী আলাপ করিয়াছে—যে কৰি ইহা করিতে পারেন তাহাকে জুয়ােভু নমস্কার। এবং যে কবির লেখনীভঙ্গী অনাবিল সতেজ

বাংলা, তরুণবাংলার উৎকট বিদেশীঠাম এবং তরলতাকে দুরে
রাখিয়াছে, সে কবির প্রতিভাকে অভিবাদন করি। এ ‘পােলাও
একটু ঝঝাল বটে কিন্তু সুধীজনােপভােগ্য—গৌরজন এই নূতন
সুধা' নিরবধি আমােদে পান করুন এই প্রার্থনা। অলমিতি
বিরেণেতি
১৮ই ভাদ্র, ১৩৩।
শ্রীনৃপেন্দ্রচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

গ্রন্থকারের নিবেন
“পােলাও” এর অনেক অংশ “নব্যভারতে” প্রকাশিত
হইয়াছিল। অনেক অংশ, বিশেষতঃ শেষ “হড়ী, নুতন।
নানাকারণে প্রথম সংস্করণে অনেক ত্রুটি থাকিয়া গেল ; পাঠক
পাঠিকাগণ মার্জনা করিবেন।
যাহাদের সাহায্য ব্যতীত পুস্তক প্রকাশ অসম্ভব হইত,
তাহাদের নিকট আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞ রহিলাম।
গ্রন্থকার

পােলাও
প্রথম
( ক )
নদীর তীরে
(একলা বসে
মনের সুখে দিন কাটাই
কল্পনারি
সুতা ছাড়ি
এলিয়ে দিয়ে মন নাটাই।
ভাবের ঘুড়ি
উধাও হয়ে
ইথর ভেদি উর্দ্ধে ধায়,
আর তাে মনে
নাহিক ধরে
বসুন্ধরায় শ্যামতায় ।
তখন ছিল
পৃথী ঘেরা
সরল প্রাণের সরল হাস,
তখন ছিল
সথায় সথায়
গলাগলি মধুর ভাষ ;
নেপচুনবং
আশার আলােয়
উজল ছিল সবার মন,
১

পােলাও
পৃথ্বী ছিল
স্বর্গরাজ্য
স্বর্গ ছিল শুধু স্বপন।
আপন পরে
মিশামিশি
পরকে আপন করা,
তেমন যদি
থাতত এবে
গােলােক হত ধরা।
আপন এখন
পর হয়েছে
পরতাে আছেই পর,
হায় কি হ’ল
স্বার্থ-বিষে
তুলছে শির
জগত জ্বর জ্বর।
সবাই এখন
মনটা করি খাট,
উঠে গেছে
আবাদ করা
সরলতার পাট ।
রঙ্গিন পদে গড়িয়ে পড়া
তারাই ধরা দেখছে সরা
মৌলি পরে’ বহে যারা
ক্ষমতার ‘তাই,
ধৰ্ম্মনীতির বিমল রেখা
তাদের প্রাণে নাইক লেখা,
পরঠকান কেবল শেখা,
মানুষ ত তারাই।

প্রথম হড়ী
ওপাড়াতে Honourable
চাম-চিকেটার গৰ্ব্ব কেবল,
Pearls মাঝে ঝুট্টা pebble
উনিও একজন,
রাত্রি জেগে তেল পুড়িয়ে,
বাপের টাকা সব উড়িয়ে,
পাশ করিয়ে, সং সাজিয়ে
এলেন যখন
দেশটা তখন ভেবে ছিল
একটা আমি সাড়া দিল,
অমনি তারে বরে নিল
মাথায় দিয়ে ফুল ;
এখন বহে নয়ন-ধারা,
এখন সবাই হাহা করা,
এখন সবাই আশা-হারা
বুঝিয়ে আপন ভুল ।
ওই নিষ্ঠা নিয়ে যায়
ধৰ্মনাশা দরিয়ায়,
স্বার্থ-মাখা মদিরায়
বিভাের করে প্রাণ ;

পােলাও
নিজেরে স্বপনভরে
অবিরাম বড় করে,
নিজেই গভীর স্বরে
গাহে নিজ গান।
( খ )
উঠুক উঠুক শির ; হৃদয়ের মাঝে
পায়ে ধরা মন তব উন্মত্ত হইয়া,
বৈদেশিক আচ্ছাদন করিয়া সঞ্চয়,
আত্ম-সম্মানের বুক করুক আবৃত।
পিতৃপুরুষের তব উদঘাটি কুলজি
দেখ গিয়া, দেখাইবে কলঙ্কিনী-রেখা-
পীড়নে পিতারা তব তুলেছিল মাথা।
হইয়াছ রাজা, দেখাও বিক্রম তব,
পদ-পূজকের যারা পৃজিয়া চরণ
নিজেদের ধন্য ভাবে, দেখাও তাদের
পর-অনুগ্রহ-লব্ধ বিক্রম তােমার।
এ ধমনিমাঝে পবিত্র অদ্বৈতরক্ত
এখনও সরলভাবে হয় প্রবাহিত ;
হে ব্যসনি, তুমি কর কাপট্যের পূজা,
আমি করি অনাবিল সত্য আরাধনা।
৪

প্রথম হড়ী
মৃগচেতা, তুমি কর উন্নয়ন শির
গর্বের বিজলীবলে হয়ে বলীয়ান,
শির মম অবনত সত্যের সকাশ,
শির মম ঢলে পড়ে চরণে তাহার
নররূপে ধন্য যিনি করেছেন ধরা।
যে কলঙ্ক ঢেলে দেছ অবনীর বুকে
ও কলঙ্ক বিদূরণ করিবার তরে,
শতবর্ষ পরে কোন বংশের দুলাল
সৰ্ব্বত্যাগী হয়ে যদি দেশের কল্যাণে
আপনারে দেয় বলি, পিতার কলঙ্ক
তবু তার কোন দিন যাবে না মুছিয়া ।
বিদ্রোহিতা ওই দেখ সংযম-শৃঙ্খলে
আছে বাঁধা, দেশভক্ত ঈর্ষার তীব্রতা
রাখিয়াছে স্নিগ্ধ করি ভালবাসা দিয়া।
তা নাহলে হয়তাে কৃপাণ কারাে আজ
পাপের অস্থধারা পান করিবারে
সুযােগের পদতলে লইত আশ্রয়।
জগতেতে প্রেম নাই, Christ এর প্রেম
পশ্চিমের বিলাসিতা রেখেচে ঢাকিয়া ;
পশ্চিমের রাজনীতি সে অমূল্য প্রেমে
দম্ভ সহ রাখিয়াছে স্বার্থের গুহায়।
গুর্জরের বুক ফুড়ি’ উঠিয়াছে প্রেম,
এই প্রেম যদি আজ জন্মিত মার্কিণে,

পােলাও
উদ্ভাসিত হ’ত বিশ্ব, মানুষের মনে
জাগিত না রাক্ষসীর রক্তের পিপাসা।
এ নহে সুরম্য পারী নহে বেলফাষ্ট ;
লাঞ্ছিত ভারতভূমি, এর রত্নরাশি
এর গৰ্বরাজি যত, একে একে সব
লােভকুক্ষি মাঝে আজ করিছে বিরাজ।
এর রত্ন যারা, ক্ষমতার দ্বারে
ওই দেখ স্বর্ণডােরে রহিয়াছে বাঁধা।
ভাসে চক্ষু পরিতাপ সলিল-মাঝারে।
ভাবি মনে, তস্করে হরেছে ধনরাশি,
ক্ষতি বােধ করি না ইহাতে একরতি ;
হৃদয়ের মাঝে সুবর্ণজড়িত-শিক্ষা
লুকায়ে দাসত্ববীজ করিছে বপন।
( গ )
প্রাণভরা-প্রাণ
সমাজপতি
“এষার” বড়াল কবি
আঁধার-মাঝে
দেখতে সােনার ছবি।
ডুব দিয়েছে

প্রথম হড়ী
মুক্তপ্রাণে প্রাণ ভরিয়ে
গগনসুধা পান করিয়ে
তারায় তারায় দুই সখাতে
বেড়ায় গেয়ে গান,
দেবেন আছে, ঈশান আছে,
সখারা সব তাদের কাছে
গাইছে কত নবীন গাথা,
ধরছে নবীন তান।
কল্পনা আজ ভগ্ন পাখায়
কেঁদে সদাই বক্ষ ভাসায়,
মেঘের দ্বারে ঘা দিতে সে
পারে নাক ছুটতে ;
এককোণেতে স্বপ্ন নিয়ে
দেয় বসে সে ফুলের বিয়ে,
পারে নাক মনের মত
পদ্মমধু লুটতে।
এখন মনে বাজে না আর
রূপসীদের সিঞ্চন,
ধরে নাক শিলীমুখ
মনভােলান গুঞ্জন।
৭

পােলাও নুপুরপরা চরণের প্রণমাতান রণনে। শিউরে নাহি উঠে প্রাণ সুখজড়ান দোলনে। পাঠায় না আর তিলােত্তমা পরির হাতে প্রেমের লেখা, চিওমাঝে আশারাণী টানে না আর সােনার রেখা। মেঘমুখী সন্ধ্যা যেন ঝুলিয়ে দেহে আঁধার-পট, দীপ জ্বলে না, পড়ে আছে ভাঙ্গাচোরা হৃদয়-মঠ। হর্ষস্থরে পেচকবধূ বিকটস্বরে চিৎকারি, ঘুমিয়ে পড়া বিহগীদের দিচ্ছে কেমন টিটকারী। হিসাব নিতে আবে নায়েব তবিলভাঙ্গা মনটী তাই, চমকে উঠে কেমন যেন নীরবতা সৰ্ব্বাই। অন্ধকারে মসীমাখা নিবিড়তম ঘনিমায়

প্রথম হড়ী
নিশে যদি
পেতাম যেতে
যেতাম চলি অসীমায়।
কেন এলাম ?
যাচ্ছি কোথা ?
আগিয়ে নিতে আসবে কে ?
পােকায় কাটা
এই পরাণে
আবার ভালবাসবে কে ?
পরের জুতা
মাথায় দিয়ে
এ জনম বােলাম গাে,
কাটিয়ে দিলাম
দীর্ঘজীবন
মলাম, মলাম, মলাম গো ।
( ঘ )
এই বিশ্বের কেবা অধীশ্বর ? কাহার রচনা ?
কি উদ্দেশ্যে হেথা নর করে আগমন ?
কিসে নর শ্রেষ্ঠ হেথা? এ আখ্যা কাহার ?
কোন পশু পশুত্বে এত অধিকারী ?
ন্যায়ের সম্মান হেথা নাহি এক রতি,
বৈষম্যের ভীষণ গরল উগারিয়া
দম্ভ করে পীড়নের বাণিজ্য অবাধ।
আত্ম-প্রতারণা অনুক্ষণ করিয়া হুঙ্কার
রসনারে যােগাইছে বিষমাখা মধু ;

পােলাও
;
বলিছে,
মুক্তি চাও স্বর্গ চাও জীবে কর দয়া,
বৈষম্যের ভাঙ্গ বাঁধ, সবাই মানব ;
পদ্ম-পত্ৰ-নীর সম জীবন চপল।
ধৰ্ম্ম মিথ্যা, কৰ্ম্ম মিথ্যা ; এত ইতরতা
কোন পশু-মাঝে বল আছে বর্তমান ?
তুমি নাই, উচ্ছঙ্খল যৌবনের দল
ওই কথা কণকণ্ঠে করুক জ্ঞাপন,
বার্ধক্যের আশা তুমি উদাত্ত মহেশ।
আছ তুমি, আছ তুমি ব্রহ্মাণ্ড ব্যাপিয়া ;
অত্যাচারে পুড়াইয়া, সেই বাষ্প হতে
শান্তিজল নিরমান করিয়া পাবন
পৃথিবীর অত্যাচার করহ মােচন।
সমাজ কলঙ্কে ভরা, সমগ্র ভারত
অবিদ্যার তমস্তুতি মাঝারে মগন,
ভােগস্পৃহা বলবতী সবারি হৃদয়ে ;
নারী আজি পুরুষের বিলাসের ধন,
অধরের রাগ তার গােলাপ বরণ,
সেথায় ঊষার স্নিগ্ধ না দেখি’ সুষমা
দেখে অঙ্গের দিব্য মােহনীয়া মায়া।
সংযমের দৃঢ় শৈলভীষ্ম মতিমান,
তারে আজ দুচরণে করিয়া দলন,
দেখিতেছি পশ্চিমের প্রদোষের শােভা।
১০

প্রথম হড়ী
ওই দেখ, চেয়ে দেখ সন্ধ্যাদেবী নিজে
বুলাইছে চিকনিয়া তুলিকা তাহার
সপ্তরাগদীপ্ত ওই প্রদোষের গায়।
অন্ধকার হরিতেছে দৃষ্টির শকতি,
তঙ্করতা দেখাইছে হস্তের কৌশল।
শান্তির মর্যাদা রক্ষা করিবার তরে
এ দুর্দিনে ক্ষুদ্র হতে অতি বৃহত্তম
অত্যাচার ঘুরিতেছে মাভৈঃ মাভৈঃ রবে।
পশুর পিপাসা-রক্তপান অভিলাষ ;
একি শুধু রক্ত দিলে হবে নিবারিত ?
বার্ধক্যের সিংহাসনে বসায়ে যেদিন
শ্যামল যৌবন মম পবনে চাপিয়া
পলাইল নিজদেশে, সেই দিন হতে
অক্ষমতা বুকে নিয়ে আছি নীরবেতে,
মরণের আগমন করিতে গণনা।
( ৬ )
স্থাণুর মত
বন্ধু ক’জন ?
আছেন যারা জীবিত
করিয়ে তারা
আপন কাছেই পূজিত।
১১
স্বার্থ পূজা

পােলাও স্নেহের বাঁধন ছিড়ে ফেলে পান করেছে ‘লিথি’র জল, অচেনা ভাণ কেউ বা করে, দেখলে চোখে আসে জল। ঝ। ঝাঁ করে অঙ্গ জ্বলে বেরিয়ে আসে চোখে বিষ, মানুষ কি আর মানুষ আছে, আবার হচ্চে তুচ্ছ কীশ। দ্বিজুর নামের দোহাই দিয়ে হােথায় ওরা ফাদ পেতেছে, নামিক লেখক টাকার কুমীর লেখক যারা জাত দিয়াছে। কাব্য বনে বড়ই কাটা শক্তি নাহি বিচরণে, নামের তরে নামুক কবি ধিক্কার যে আসে মনে। দীপ্ত আজিকে নিখিল বিশ্ব রবির কম্র প্রতিভায়, বঙ্গের ভাষা উঠিছে হাসিয়া ভাবের শুভ্র চন্দ্রিকায়। By the bye প্রভাত কুমার এখন যিনি রাজার মিতে, ১২ প্রথম হড়ী বঙ্গনারীর মত্ত থাকেন কাব্য-চর্চায় মত্ত থাকেন নৃত্য-গীতে। বিলাতী প্রেম গােলাপ জলে যত্ন করি মিশিয়ে, কোমল হৃদয় দিচ্চেন ভায়া বিষিয়ে। “সিদুর কৌটার যুবানি প্রেমের মনমাতানি ছন্দে সুশী চুড়ী তান ধরেচে কতই মহানন্দে। ফুরাল যে দিন আর কাজ নাই, সন্ধ্যা আসে ধীরে, পেতেছি তাই অাপন আসন ঘাগট নদীর তীরে। বিশ্ব যন্ত্রের কোথায় যেন একটা Screw ঢিল পড়েছে, সুর গুলাে সব ভেঙ্গে চুরে খাপছাড়া এক রব তুলেছে ! ছোট লােকের palm-itching 93 বেৰ্ত্তেগুলি এবে, কে জান্তে জান্তো হাকিমগুলায় আদর করে নেবে।

পােলাও
নিচ্চেন বের্তো, খাচ্চেন ঘের্তো,
গিন্নির ফুলছে বুক,
Brooch affo
দেহের মাঝে
উথলে উঠছে সুখ ;
দূরে বাজে একতারাটা গুপ, গুবাগুপ, গুপ,
(চ)
দেখে শুনে
অবাক হয়ে
সব দিয়েছি ছেড়ে,
স্নেহের স্বরে ডাকি না আর
আমায় নি কেড়ে।
পোটলা পপাটলি বাঁধছি আমি
মাহাত্রা তরে,
ডাকিস নেরে
আমায় তােরা
স্নেহমাখা স্বরে।
বিরাগ এসে
আপন হাতে
আঁখির কাজল দিছে মুছে,
প্রেম বিরহের
বিকিকিনি
জন্মের মত রে গেছে ঘুচে।
১৪

প্রথম হড়ী আমার Dancing Day চলে গেছে, এখন কেন প্রেমের কথা ? আঁচল এখন ধৰ্ব্ব কাহার ? গিন্নির চির মাথার ব্যাথা। তখন ছিল নিত্য কেঁাদল নিত্য মধু সম্মিলন, কোদলান্তে স্নিগ্ধ ক’ততা প্রেমমাখা আলিঙ্গন। দ্রাক্ষারসে সিক্ত হত পিপাসু এই অধর জোড়া, হাতে ধরে দিত কে যে কমল ফুলের কোমল ভােড়া। অবাক হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখতাম প্রিয়ার মুখখানি, আদর ভরে নিতাম তারে বুকে টানি। তখন কলহ আন্তাে ধীরে এক পশলা বরিষণ, এখন কেঁাদল হলে পরে হয় অগ্নি উদিগরণ। মনে করি Xantippe আমার ঘরে এল ফিরে, ১৫ পােলাও তজ্জননতে গর্জনেতে করাঘাত করি শিরে। প্রেম ভেঙ্গেছে। প্রাণ গিয়েছে, কি আছেরে আর ? বেঁচে আছি ও কিছু নয়, ধুক ধুকুনি সার। গিন্নি এখন হবিষ্যান্নের করিয়ে মনে কল্পনা মিটিয়ে নিচ্ছেন, সেটা বড় অল্প না। মাছের সাধটা সকল বাধা ঠেলে ফেলে মরণ বঁধু আসবে যবে, সান্দ্র স্নেহ বুকে ধরে আলিঙ্গিয়া আমায় লবে, মাতিয়া পুলকে নুতন আলােকে নূতন জগত মাঝারে ঘুরিয়া বেড়াব শুনিব শ্রবণে নারদ মুনির ওঙ্কারে। হে পূত ধ্রুব স্তুত চিন্ময় । মােহনিয়া নিরঞ্জন, তােমারে বাঁধিতে ভক্তির ডােরে করিতেছি আয়ােজন।

প্রথম হড়ী চোখের উপর ভাবের বন্ধন তুর্ণ হইল ছিন্ন, সমষ্টি আছিল হইল ভগ্ন ভিন্ন। ব্যষ্টি হইল প্রেম, প্রেম, প্রেম, ও কিছু নয়, কামের মধুর তান, ভাল বাসাবাসি, হােয়রে কপাল, একটা মধুর ভান। । আমায় যদি কত্তে বলে রুসাের মত Confession, , স্বীকার করে দিচ্ছি জ্বেলে পাপের গায়ে হুতাশন। আমিই ছিলাম মনে পড়ে স্বাধীন প্রেমের প্রচারক, ফিরে এলাম ভগ্নচিত্তে যখন হলেম অপারগ । চক্ষু দুটী twin কৃষ্ণ রূপ রাধারে বাঁধতে চায়, সৃষ্টি করি বৃন্দাবন দুলবে বসি হিন্দোলায় । ভেঙ্গে দাও এই হৃদয় মাঝারে সুখ দুঃথের দ্বন্দ্ব, ১৭

পােলাও
শূন্য হৃদয়
আমারে করহ, গােলক-বিহারি,
তােমার গীতির ছন্দ।
নিরাকার ভাবে চাহিনা আমায়,
দিব্য মুরতি ধরি
পূর্ণ করিয়া
দাও হে ব্ৰজের হরি।
আমি-হীন আমি
হইব যখন
ঘুচে যাবে অহমিকা,
আমি-হীন আমি প্রকৃতি-মরতি
তুলে ধর যবনিকা।
১৮

দ্বিতীয় হড়ী
( ক )
মায়ের ডাকে কোথা হতে
বিরাগ গেল সরে,
নবীন বলে সিংহনাদে
প্রাণ উঠলাে ভরে।
এখনও তাে হয়নি সাঙ্গ
কাজ রয়েছে বাকি,
বুড়াে সেজে হাত গুটিয়ে
কারে দিচ্ছি ফঁাকি ?
কাজের তরে হেথায় আসা
ফিরে এসেও লাগবে কাজে,
অকাজগুলাে হাতের গােড়ায়
এসে দাঁড়ায় কাজের সাজে।
নববার্তা লইয়ে উযা
ওই দিয়েছে দেখা,
স্বাস্থ্য নিজে উষার মুখে
আঁকছে কনক রেখা।
নূতন প্রাণে নূতন আশা
বদবিয়ে জ্বলে,
১৯

পােলাও
তপ্ত পরাণ দড়বড়িয়ে
ছুটছে কুতূহলে।
সাপের বাধন উদার রাজা
আপনি দেবে খুলে,
পতিতেরে যতন করে
কোলে নেবে তুলে।
রাজার যদি ভুল না হত,
এমন দিনে তবে
ছুটতে নাকি লক্ষ বীর
প্রচণ্ড আহবে ?
আপন হতে আমরা তাে চাই,
আপন বল করে কে ?
ফুলের মালা গলায় দিয়ে
দারিদ জনে বরে কে ?
শাদা বলে গরব করে’
তােমরা জাল আলাে,
জান না কি রাত্রিকালে
সব বিড়ালই কালাে।
হৃদয়-পশু তােমাদের তো
বিক্রমেতে সেৱা,
আমরা যেমন দুৰ্বল ক্ষীণ,
পশুগুলাও মেড়া।
২০

দ্বিতীয় হড়ী
।
বাজিয়ে বাঁশি, মাতিয়ে পরাণ,
খুলিয়ে horngate
মন্টেগু ওই এলেন ধীরে
লয়ে মিষ্ট bait, ,
ইচ্ছা করে প্রাণ ধরে যা
দেয়নি হাতে তুলে,
কেমন করে উদার প্রাণে
সাজিয়ে দেবে ফুলে ?
এ গলায় তাে ফুলের মালা
শােভা নাহি পায়,
ভূয়ের লতা বাড়লাে না হায়
শুধু পায় পায় ।
নায়েব তােমার নায়েবি করে,
কোটাল কাটে মাথা,
করুণ সুরে করুণা কাদে
কবির করুণ গাথা।
Cromwell এর কঠোরতার
ওই পড়ে যে ছায়া,
মাথায় মাথায় ঠোকাঠুকি
দূরে ফেলে হায়া।
ব্যষ্টিভাবে স্বাতন্ত্রটার
বুক উঠেছে ফুলে,

পােলাও
ফলে ফুলে তরুর শােভা,
Cariker টা মুলে।
প্ৰসাদ কবে পাবেন বলে,
হেথায় নেতার দল
মাথায় পগগ আঁটিয়ে সবে
করছেন কোলাহল।
}
কেউ করছেন হ্রেষাধ্বনি
কেউ করছেন বৃংহন,
কেউ করছেন রাসতনাদ
কেউ করছেন গর্জন।
ত্যাগী বড়, যােগী বড় ;
ভােগীর আবার বড়াই কিসে?
আপন সুখটী খোঁজে সে যে,
হৃদয় তাহার পূর্ণ বিষে।
দম্ভ তাহার হস্তীনিভ,
যশপিপাসা ভয়ঙ্করা
চাহেন তিনি আপন পূজা,
কৌশলেতে 'হৃদয়ভরা ।
চাচ্ছি যাহা পাই যদি তা
মাথায় করে ধৰ্ব্বে কারা ?
ধৰ্বে যারা, হৃদয় তাদের
অহঙ্কারের পূর্ণ হড়া।
২২

দ্বিতীয় হড়ী
দেশ ডুবেছে ব্যভিচারে,
ফালে নিয়ে গেছেন নীতি,
আছে কি রে ভারত মাঝে
পুরাকালের ধর্মনীতি।
ওই politics সর্বনেশে
Noxious ray face fatti
বিষে বিযে জর্জরিত
করে ফেলেছে সবার হিয়া।
ভারত-ভেতত সিডেনহামের
সাগর পারের গজ্জনে,
চমকে যেন উঠছে হেথা
সর্ববিধ সজ্জনে।
হিমদ্বীপের বুকে বিধি
শান্তি-বারি দাও ঢেলে,
উজল ভানুর সমুত্থান
দেখুক সবাই চোখমেলে।
সিন্ধুবালায় বলি দিতে
শুকিয়ে গেল ভাঁড়ের ঘি,
রুদ্ৰ বীৰ্য্য তীক্ষ দস্ত
থকে র’ল c. I. D.
কলম কাপে হৃদয় কাপে
ধড়ফড়িয়ে উঠছে প্রাণ,

পােলাও
আমার দ্বারা moot point টার
হবে না কো সমাধান।
Autonomy C91661 1631
রবে নাতো পরবশ,
বিচার কৰ্বো সবাই বইসে
কাৰ্য-বিধির একশ দশ।
Autonomyর তালটা যখন
আসবে হেথা গড়িয়ে,
গর্জনশীল পালজী আমার
ধৰ্ব্বেন তারে জড়িয়ে।
গুপ্ত বিপিন সুপ্ত হয়ে
মৰ্ম্মবাণী’র মৰ্ম্মে পশি,
রবিরে চান করতে এখন
অরবি বা ক্ষুশশী ।
উপনিষদগড়া ভানুর পরাণ
স্বীকার কৰ্তে নহেক রাজি,
আমরা স্বীকার কল্লে পরে
নিশ্চয় হব পাজির পাজি,
কবির আঁখি lynix পাখীর
নয়ন চুরি করা,
যে দিকে চাই বুঝতে পারি
কলঙ্কেতে ভরা।
২৪

দ্বিতীয় হড়ী
Dawn এর সতীশ ক’জন আছে,
সমাজ যাদের নিয়ে
নিতে পারে তুলে শিরে
চন্দনেরি রং দিয়ে ?
ভূপেন আছে, সুরেন আছে,
চিটী কাটা মতি,
ভজবাে কি ভাই, নাম শুনলেই
শিউরে উঠে রতি।
Roland মতি সত্যি বলছি,
সুরেন oliver, ,
বােসের চালে “Bengali”তে
উঠলাে হাহাকার।
রাবণের সেই চিতাবহ্নি
জ্বল্লো কত মাস,
Politicsএ সােজা বুদ্ধি
ঘটায় সর্বনাশ।
Hydra-headed inultitude
হয়ে গেছে ম্লান,
Dozen Dozen leader 11
মুখে অভিমান ।
ভিতের পত্তন বড়ই কাচা,
ইমারতটা জাকাল,
২৫

পােলাও
বালক ভাবে, ফলের রাজা
নয়নচোরা মাখাল।
পােড়াকপালি মায়ের আমার
শেষটা হবে কিযে,
দেশের পানে যেদিক তাকাই
নয়ন আসে ভিজে।
C. S. দলের চরণেতে
তঁারাই করুণ অর্ঘ্যদান,
যারা ভাবেন দেশের গৌরব
দেশের এরা সুসন্তান।
মাসীর এরা পুষ্যিপুত্র,
মায়ের ছেলে নন,
সদাই দৃষ্টি, কেমনে দেবেন
দীঘল ঝম্পন।
এরা, এদের নন ওদের নন,
Ms রাণীর বর,
Style দেখে মন ভুলে যায়,
মরি কি সুন্দর।
আমরা ভাবি স্বর্ণ-কুক্ষি
C. S. রাজের মায়,
মনের দুখে ভাগ্যহীনা
কাদেন উভরায় ।

দ্বিতীয় হড়ী
Vitality দাও গাে ফিরে,
antonomy নাহিক চাই,
লেখনীরে স্বাধীন কর,
অন্য বাঞ্ছা আর ত নাই।
অট্টহাসিনী বিলাস-বধুরে
ফিরে লয়ে যাও গেহে,
বােতলবাহিনী তােমার creature
বুকে রেখে দাও স্নেহে।
খেয়াল তােমার ছুছুন্দরীর
গলায় দিতে হার,
হে খেয়ালি, দূরে ফেল
Fadটী তােমার।
এখনাে এদেশে হয় সামধ্বনি
অনাহত বাঁশি বাজে,
এখনাে রমণী পেবলতাময়ী,
জড় সড় সদা লাজে।
মেঘের ছায়ায় রেবার বক্ষে
এখনও যে দেয় কাঁটা।
এখনও উদর শীতল করে
আহিরিনীদের মাটা।
এখনও রমণী কোমল হৃদয়,
সাবিত্রী ছাচে গড়া,
২৭

পােলাও
এখনও মায়ের উদার হৃদয়
কমল মরন্দে ভরা।
(খ)
শুক বলে, আমার কৃষ্ণ
রােজগারী ছেলে,
সারী বলে, আমার রাধায়
গহনা দেবে বলে ,
শুক বলে, আমার কৃষ্ণ
}
রাধায় করে মেম,
সারী বলে, হা ধিক ধিক
Shame, shame, shame,
সকল বাধন ওই ছিড়ে যায়,
আছে নূতন তূর্ণ
যাদুর সঙ্গে মেতেছে যাদী
বাসন না হতে পূর্ণ।
Nude Nude বড়ই মধুর
যেন বসন্তের ঘর,
রূপসাগরে ভাসিছে পদ্ম,
মরি কি সুন্দর !
মন-অলি আজ অধরে কপােল
কভু বা বুকেতে বসি,
২৮

দ্বিতীয় হড়ী
পদ্ম-পরাগ মাখিয়া অঙ্গে
দেখে শরতেরি শশী।
অৰ্দ্ধস্থলিত আদর-কবরী
Sweet neg ect প্রকাশে
চূর্ণ কুন্তল ভ্রমর হইয়ে
উড়ে ঢুলে পড়ে বাতাসে।
ধীবর মজুর কৃষক ও চাষা,
ভিক্ষুক যারা আছে,
সত্যের যশ অবাধে বিলাতে
দাও হে তাদের কাছে।
আমার ঘরের ডিপুটী বঁধুয়া
তােমার ঘরের ছেলে,
ক্ষুধার তরেতে মরীচ ভূখিলে
বেচারীকে দেন জেলে।
Morally guilty তবু সুখে থাকে
পড়ে না la W এর পাচে,
কোথায় হীরক কোথায় কাঞ্চন
লােক ভুলে থাকে কঁচে।
মুখে করে চুরি কাজে করে চুরি
মনে প্রাণে যা চোর,
সাজিয়া গুজিয়া ভদ্র হইয়া
তারাই করিছে সাের।

পােলাও
দুয়ারে দুয়ারে ভিখারীর বেশে
প্রচারিতে দাও সত্য,
আমার রাজা পাবেন তখন
নিরাবিল আনুগত্য।
"My elation" state?
ওটা ভিয়ান করা,
* রাজবত্ম
রক্তরজে ভরা।
রাজার হাতের ভ্রমণ আনার
বৃন্দে যখন দিতেন নিজে,
মধুররসে হৃদয় তখন
হর্ষ রসে উঠতে ভিজে।
ললিতচন্দ্র ছদ্মবেশের
করেছেন ভালই বিশ্লেষণ,
মুক্তকচ্ছ সাহিত্যিকীর
দিচ্ছেন না ত বিবরণ ?
( এরা) চাদ চুয়ান রূপমাধান
চুমন-প্রবণা বালায়,
নায়িকা করিয়ে কামেরই অনলে
বঙ্গভূমি জ্বালায়।
বসােরার সেই গােলাপ বক্তে
চুমার রেখাটা টেনে,

দ্বিতীয় হড়ী
উচ্চ হইতে সুপ্ত মন্ত্রে
পাতালেতে যান নেমে।
শৃঙ্খলার তার, সংযমের ভাের
ছিড়েছে প্রেমেরি উচ্ছ্বাসে,
অবাধেতে প্রেম লােফে রূপরাশি
তীব্র মনেরই উল্লাসে।
সত্য যাহা, নিত্য তাহা
শাশ্বত বনিতারে
সত্য কখন হয় না নমিত
তিক্ত প্রেমের ভারে।
হেথায় ফুল, হােথা বিনােদিনী,
“মৰ্ম্মে”—“প্রভাতী প্রেমপানা,
দয়িতা শিখিছে বিনােদার হাব,
করে না তাহারে কেউ মানা।
প্রেম কেন বলি ? শুধু ব্যভিচারে
জাতীয়তা গেল ধুয়ে,
সমাজের ছিল শাসাল কলজে,
ক্রমশঃ পড়ছে মুয়ে।
রােগটা রে ভাই পার যদি তবে
আতুর ঘরেই কর কাৎ,
একটু খানি বাড়লে পরেই
করে বসবে বাজি মাৎ।

পােলাও
চোখের জলেরে ফেলেছি পুছিয়া,
হৃদয়ে পেয়েছি শক্তি,
মায়ের পূজার তরেতে এনেছি
নিরাবিল নব ভক্তি।
যতন করিয়া গড়িব চরিত
দীপ্ত মধুর হরষে,
জগজ্জনে লভিবে শান্তি
তথ্য অমৃত পরশে।
পরবেদনার দাঙ্গামদির
প্রাণে প্রাণে দেব ঢেলে,
ধনীও চাহিবে দুখীর পানেতে
সজল নয়ন মেলে।
ধৰ্ম্ম দিয়ে মান কিনিয়ে
ওই রহেছেন মানী,
পেশা তাহার শক্তি-পূজা,
সে কথাটাও জানি।
দেবতাদলের জুতার ধূলা
ঝাড়েন রুমাল দিয়ে,
যৌতুক নেন বিধিমতে
ছেলের দিয়ে বিয়ে।
বিজ্ঞতাটা সকল কাজেই
বিষের গন্ধ বার করে,
৩২

দ্বিতীয় হড়ী
চলেন যাদু সেজে গুজে
কার্তিকেরই রূপ ধরে
হারিয়ে ফেলে চfত-নিধি
আজ কাঙ্গালী সবে,
কাঙ্গাল হ'তে ত ইত কাঙ্গাল
আমরা নিখিল ভবে।
হৃদয় মাঝে বিষ্ঠা ভরা,
নিষ্ঠা গেছে দূরে,
বাজে না গো হৃদয় বেণু
তেমন মধুর সুরে ।

তৃতীয় হড়ী
( ক )
আর দিওনা
মুড়ির মােয়া
রাঙ্গা চোষণ-কাটি,
দানের চোটে
ভারতবাসী
হয়ে পােলাে মাটি।
গ্রামে গ্রামে
জজ ম্যাজিষ্ট্রেট
পাড়ায় পাড়ায় পগ গ রাঙ্গা,
শান্তিরসে
সবাই সিক্ত
সবার কেবল কোমর ভাঙ্গা।
ওপােরেতে
নীতির রসে
সবই যেন গিটা,
পাপের সাতে
পুণ্য মাখা,
অপূৰ্ব্ব এ মিষ্টী।
শিখছি শুধু
আত্মহত্যা
শিখ ছি হতে ভণ্ড,
যাজ্ঞিকদের
যজ্ঞভেঙ্গে
কচ্চি সবই পণ্ড।
ভেট্টো Dyer
সিংহ Dyer এইখানে,
৩৪
চট্টো Dyer

তৃতীয় হড়ী
অত্যাচারে
কালাের কাছে।
সাদা আদমী হার মানে।
পরের গর্বে
গর্ব করি
পরের মুখের ঝাল খেয়ে,
ওদের দেশকে
মাথায় তুলি
আনন্দেরি গান গেয়ে।
মেনে নিচ্ছি
মাথায় করে
বােল্লে ওরা বব্বর,
সভ্যতাম
কত্তেছি পান
পূর্ণ করি’ খৰ্পর।
কিনা ছিল, সব ছিল,—সব গেছে দূরে,
নধরবিটপীসম হৃদয় পাদপ
পারে না তুলিতে তার গৌরবমস্তক,
সত্য ছিল—শিশির সমান নিরমল,
দয়া ছিল-কোমল দ্রাক্ষা রসে রসা,
ধৰ্ম্ম ছিল-ভূমানন্দমুকুটভূষিত,
লােকপ্রেম-তাও ছিল অতুল ধরায়,
জানপদগতপ্রাণ ছিলেন নৃপতি,
প্রজারঞ্জণের তরে, হৃদয়রঙ্গিণী
প্রভাবতী অঙ্গনায় দিতে বিসর্জন
করিত না ইতস্ততঃ! কৰ্ত্তব্য তাহার,

পােলাও
পিচ্ছিল সত্যের পথে, রক্ষিরূপে সদা
লয়ে যেত যথাস্থানে অমিতবিক্রমে।
সব ছিল, সব গেছে, কিছু নাহি আর ;
বিশ্বকৰ্ম্ম হতে দক্ষ ইলাের মন্দির
যারা গড়েছিল, তারা কোথায় এখন ?
চতুঃষষ্টিকলা, হায় আলােচন তার,
কোন শিক্ষাবলে আজ করিবে যুবক ?
গােলকুণ্ডে আছে হীরা, বদনে তাহার
“সাম্পট।”কলার লালা কে পারে ফলাতে ?
“প্ৰতিমাল”—অভিধান-সমাধি ভিতর
চিরদিন তরে তার রচেছে শয়ন।
আছে নবদ্বীপ, জন্মে না সেথায় শুধু
সেই রামনাথ সুধী “খ”—সাধক;
আছে শান্তিপুর, হয় না সেথায় আর
তানসানকণ্ঠচোরা গোসাই নিৰ্ম্মল ।
অদ্বৈতের ভক্তিভরা মােহনীয়া বাণী
নাহি রচে জাহ্নবীর হৃদয়ে উচ্ছ্বাস।
শিক্ষা গঠিতেছে আজ ঐ মসীজীবী,
শিক্ষা গঠিতেছে আজ ঐ মহারথ,
* সম তেজবন্ত নবীন Judas
মেষচৰ্ম্মে আচ্ছাদিত বৃহৎ শার্দল
ওই দেখ পাশ্চাত্য শিক্ষার ফলে হায়
কি পান্ন এ ভারতে লয়েছে জনম।

তৃতীয় হড়ী ( গ ) জটা বেয়ে ধূর্জটীর ছুটবে না কি বিষের নদ, সূৰ্যটী কি রাঙ্গিয়ে আঁখি কৰ্বে নাক দানব বধ? পদের উপর ভর দিয়ে ভাই দাড়াব কি, পা ভাঙ্গা; আশা করে নেঙড়ে চল, দেখবে ওদের চোখ রাঙ্গা। ময়ূখমালা ফেনের বুকে যেমন করে রং ফলায়, শুদ্ধমনে ধৰ্ম্মরাজ আত্মমূৰ্ত্তি প্রকাশ করে কেমন দিব্য প্রতিভায়। যেখানে থাকে না ধনের গৰ্ব্ব কামানদাগা কৌশল, মানস-চোকের সাম্নে ভাসে দিব্য পদ্ম উজ্জ্বল। অত্যাচার উৎপীড়ন, তাই যদি হয় বীরত্ব, হাসিয়ে ওদের উড়িয়ে দেবে আমাদেরি ধীরত্ব। ৩৭

পােলাও
( ঘ )
আমরা মার খেয়ে হব বড়
আমরা ধৰ্ম্মে হইব দড়,
অত্যাচারের বুক চিরে
দানব হইয়ে, রক্ত মাখিয়ে,
দুই করপুটে রক্ত ভগিয়ে,
খেলিতে চাহিনা লইয়া অরির
মুকুটশশাভিত শির,
নন্দনবনমারহাসি
ঢালে প্রাণমাঝে সুষমার রাশি,
তখন ধাতার শুভ্র নিমল
ফুটায় পরাণে প্রভাতী কমল,
পিশাচের ওই তাণ্ডবতান
পারে না ধরাতে রুদ্র কৃপাণ,
বহাতে রুধির নীর।
সয়ে যাও ভাই, সয়ে যাও,
রক্ষকুলের শত অনাচার,
ন্যায়ের রাজ্যে শত অবিচার,
বেদনা পাইলে, শত জ্বালা ভুলে
সুধুরে বারেক মনপ্রাণ খুলে,
দয়াল প্রভুর গান গাও।

তৃতীয় হড়ী ( ৬ ) প্রাচ্যভূমি ধৰ্ম্মভূমি, Deplomacy নাই হেথা, সরল প্রাণের আবেগভরে চলে হবে সবৃজেতা। সত্যমিথ্যার উঠেছিল Premier, , বুজরুকীত পতনেতে চূর্ণ হল, ভেঙ্গে গেল অহংকার। স্বাধীন বটে, নােন্তা স্বাধীন অমন স্বাধীন দাসের দাস, শক্তিতে ওর বিশ্বে আনে মারীভয় আর সর্বনাশ। পুণ্য বিধানে চরণে দলিয়া Tyranny সেথায় শির তলে, মিথ্যা সেথায় কাচলি ফেলিয়া আপন রূদ্ৰ বুক খােলে। দাঁত খিঁচুনি চোখ রাঙ্গানি এতে বল কিসের ভয় ? ভয়ভঞ্জন ভগায় পেলে কত্তে পারি বিশ্বজয়।

পােলাও (চ) লুব্ধ হৃদি শিক্ষা যদি নীতির রসে সিক্ত হত প্রাণে, মাতিত না শূন্য অভিমানে। ওরে ছােট, ও দারিদ, ওরে কাঙ্গাল জন, তােদের প্রাণে করূবে কেরে অমৃত সিঞ্চন ? সমাজবুকে কাল বিড়ালের হাড় রয়েছে গোজা, কাকের ca wina, পেঁচার hootin, পথে ঘােরে খােজা। ক্ষুদ্রে মহৎ, ক’তে যে নারে মহং সে বল কিসে, মানের পন্নগে জড়িত হৃদয়, নয়ন পূর্ণ বিষে। লেহন করা ধনীর পদ তক্কবাগীশ খুড়াে, তােষামমাদের ময়দা ছেনে হয়ে গেছেন বুড়াে। ৪০ তৃতীয় হড়ী পয়সা পেলে করেন সুখে পরাশরের কোরবানী, মাকড়-মারা দুৰ্ব্বলেরে ঝাড়েন সদা দুৰ্ব্বাণী । ভারত মাটীর কোন্ গহনে সত্য আছে পােতা, তাই তুলতে সাবল হাতে ঘোরেন কত হােত। কান্না আসে। কাদিনে আর, ব্যাথার ব্যাথী কোন্ খানে? কাঙ্গাল সম চেয়ে থাকি অনুগ্রহের মুখ পানে। Civilisation, Civilisation, ওই বিলাতী রাক্ষুসী, মুষ্টিমেয় চাইলে চাউল যুগ্ম করে দেয় ভুষী। যৌবনের প্রেম কলঙ্ক এবার যাবে কেটে, কয় ওস্তাদ মিলে ওরা শাস্ত্র নেবে বেটে । ফন্তু এখন, Thames antro হয়েছেন transformed, , ৪১ পােলাও তারই heat এর প্রকম্পনে ভারত-জোড়া storm। যাচ্চে আচার যাবে আচার Publica gingerate, বড়দিনের পার্বণেতে পিরুর বাড়ী আসে ভেট। শক্ত ভিতে প্রাচীন প্রাসাদ তুলেছিল শির, পছে কড়ি, ফাটছে মাথা, সৌধ আছে স্থির। ক বধূর লাগি প্রেমের তরে ছাগল কাঁদে চাট মেরেছে ছাগী, Elope-31 বঁধুটী বিরাগী । আত্মশক্তি হারিয়ে ফেলে সবাই আছি সং সেজে, লিখছি এখন philosophy শিখান যাহা ইংরেজে। যুগের পরে যুগ যেতেছে পর ছিলাম পর আছি, ফুরিয়ে গেলে পালিয়ে যায় মাছি চাকের মধু ৪২

তৃতীয় হড়ী
ধানের ক্ষেতটা
নাচিয়ে দিয়ে
ছুটছে শীতল বায়,
তরু’পরে
মিলনমধু খায়।
গােলাপফুলের
গাউন-আঁটা
প্রতি প্রাতে Miss উষা,
দুইটী ঘুঘু
সেজে গুজে
পূর্ব দিকে
দাড়ান পরি বেশভূষা।
( ছ )
সুরেন ভট্টো
লেখেন novel
আঙ্ক আঙ্কের অভাব নাই,
Occult 36731 Mysticism
উড়িয়ে দিচ্ছে সদাই ছাই।
কলা কৌশল
নাহিক কোথায়,
চিত্রে নাইক দীপ্তি,
ভাষায় ফোটে না
মেটে না কোথাও তৃপ্তি।
ফুল্ল মল্লি,
Mysticism!
ও হরি বােল, Mysticism !
নহেক ইহা বুজ রুকী,
৪৩

পােলাও
কচ্ছাে বােকা
পাঠক দলে
দম্ভভরে বুক ঠুকি।
Mysticism? রূপ রবে সেথা,
রবে না শরীর ;
অধরের রাগ
আকাশের 'পরে
ছড়াবে আবীর।
পবন বহিয়া
আনিবে হাসি,
রূপ নাহি ধরা দিবে ;
স্বর্ণ-মৃগের
পাছু ছুটি মন,
জল ভাবি, তৃষা পিবে।
তীক্ষ্ণ জ্বালায়
দহিবে চিত্ত,
প্রেম রবে নাহি প্রিয়া,
মানসীরে তার খুজিয়া না পাবে,
দহনে দহিবে হিয়া।
উষার যাবকে
রঞ্জিত পদ
অঞ্চলে তনু ঢাকি,
কোথা হতে এসে
তিখিন চাহনে
বধে যাবে প্রাণ পাখি।
৪8

চতুর্থ হড়ী
(ক)
“সাঝের বাতি জ্বালিয়ে হােথা
“শেফালি” ফুল তুলছে কে ?
Original sich lata
সোণার তাজটা পরিয়ে দে।
সরল ভাষায় চিত্রগুলি
সৌরি মুখাে আঁকেন বেশ,
“নিঝর” তার ঝর ঝরিয়ে
প্লাবন করে যাচ্ছে দেশ।
প্লাবন করে পাবন করে
হাসি-কান্না পাশাপাশি,
যাচ্ছে ব’য়ে ভঙ্গী করে
কভু কঁদি কভু হাসি।
ঠাকুরালির গন্ধ শুধু
ভাষায় যেন একটু পাই
তবু যেন মনে হয়
‘সুরু আমার আপন ভাই।
শব্দগুলির কেউ মরা নয়
সবাই যেন সুস্থকায়,
৪৫

পোেলাও
সবার মুখেই কুন্দহাসি
সবাই দীপ্ত প্রতিভায়
গাবের গাছের নূতন পাতার
শােভা নিয়ে কে এল,
‘সবুজ পত্রের আড়ালে বসি
অমন গান কে গাল।
কাণের ভিতরে পীযুষ ঢালিয়ে
প্রাণ মাতাইয়া ছুটিছে সুর,
আনন্দে শরীর উঠে রে কাপিয়া
নয়নে লেগেছে নবীন নূর।
প্রমথ এটুনা উগারিছে ওই
জগৎ-সাহিত্য-রস,
Bookful বটে blockhead. নন্
কিনিতে চান না যশ ।
শ্যামল বঙ্গে শ্যামল কবির
শ্যামল বীণার তান,
শ্যামলিত হয়ে ধরণী মায়ে
এখন ছুটায় তান।
‘কেঁদুলে দাড়ায়ে ঐ কবি দেখ
পুরাণে নূতন করে,
চণ্ডীদাসের বীণার ঝঙ্কারে
এখনও অমৃত ক্ষরে।
৪৬

চতুর্থ হাড়ী
শ্যামবঙ্গ সনে বিলাতি সবুজ
করিতেছে কোলাকুলি
শ্যামলে সবুজে, সবুজে শ্যামলে
রচিছে মধুর বুলি।
নূতনে পুরাণে মিলিয়া গুলিয়া
হবে অপরূপ নূতন,
বঙ্গভাষার বঙ্গমাতার
উজল হইবে বয়ন।
ধূর্জটীর প্রিয় বঙ্গ-নায়ক
নামটী তাহার দীনেশ,
দীন ছিলেন, ভক্ত বলিয়া
হয়েছেন আজি ধনেশ ।
যেদিন ইনিই রায় গুণাকরে
হেসে করিলেন নিৰ্বাসন,
সেদিন হইতে বিদ্যাসুন্দর
কাটছে বাজারে বড়ই কম।
বাঙ্গালী পাঠক স্রোতে গা ঢেলে
পারে ভাসিতে,
বিজ্ঞ জনের হাসিটি দেখিয়া
পারে হাসিতে।
উজাতে চাহে না উজাতে জানে না,
আগ্রহ করিয়া গ্রন্থ কেনে না,
৪৭

পােলাও
যদি কেহ কোনে পড়ে কদাচন,
চাহে না রুচিরে করিতে মার্জন,
যদি কেহ পড়ে বুঝিতে নারে
গ্রন্থকারে গালি পাড়ে।
বােকামি ভূতটা সবারি ঘাড়ে
বুঝেও তারা গালি ঝাড়ে।
( খ )
Tame tame tame
আছে না আর ফুর ফুরিয়ে
নবীন আললা মেখে গায়,
উথ লে দিয়ে মলয় বায়,
গোলাপগন্ধ ছড়িয়ে দিয়ে
মনমাতান কবিতা।
নিঝর আর গায় না গান,
নিদের বুকের রাঙ্গা স্বপন
দেখায় না আর তেমন নাচন,
প্রাণ ভােমরা
কচ্ছে না আর কমলমধু পান
মান করেছেন বনিতা।
বলি ওঠ ওঠ’ চাদের হাসি,
আর থেকনা মান করে,
৪৮

চতুর্থহড়ী
প্রাণের মাঝে ‘বউ কথা কও
ডাকছে শােন প্রাণ ভরে।
কবীরে অষ্ট সখা
গুণগুণিয়ে কচ্ছে গান,
তাল বােধ নেই ধুর বােধ গায়
জবাই করে শ্রোতার প্রাণ।
রমণী কবির বিলাসবতী
কবিতামধুর নিচোলে
বাহার দেওয়া জরির ফিতে
শুধুই কেবল ঝলমলে।
পুষ্প আছে নাইকো আলো
রং ফুটাবে কিসে?
শুষ্ক at { এ মন গলে না
প্রাণ থাকেনা মিশে।
হেমন্তের পাতার মত
রং মাখানো প্রতিভায়
বুড়াে রবি লিখছে Ballad
একটু একটু হাসি পায়।
‘ঝরাফুল’ যেন রূপসী উর্বশী
নিবিড়-যৌবন-ভরা,
পেলবতা তার অঙ্গের গুণ
ঠাকুর-চিত্ত-হরা।
৪৯

পােলাও
তালীর ছায়া বুকে ধরা
( ওই ) আদর-দীঘির ধারে
করুণা করি ঠাকুর কবি
বাঁধিল “করুণা”রে ।
‘ঝরাফুল’ ওতত মৰ্ম্মরফুল
Art আছে নাহি প্রাণ,
(তাই) এতই দৃপ্ত এতই নৃত্য
এতই অভিমান।
‘সােণার তরী’ রূপের তরী,
ভাছে প্রেমের দরিয়ায়,
প্রেমিক যে তার স্থান আছে তথি
প্রেমহীন কেঁদে ফিরে যায়।
‘চিত্রাঙ্গদা’ সুধার খনি,
‘চিত্রাঙ্গদা’ উজল মণি,
‘চিত্রাঙ্গদা’য় ব্যাফেল দিচ্ছে উঁকি,
‘চিত্রাঙ্গদা’য় প্রেমিক কবি সুখী।
কালিদাস থাকূলে পরে
কত ভালবাসি,
রবির গলে আপন মালা
দিতেন খুলে হাসি।

চতুর্থ হাড়ী
প্রতি পাতে লাগিয়ে দিব
যতন করে জলছবি,
আচ্ছা ধূমাে হস্তিকায়
বই লিখেছে ‘দেব কবি।
নিত্য কথার বস্তা বেঁধে
এত কেন গােলােযােগ,
রদি মাল টানাই সার
লােকে বলবে কৰ্ম্মভােগ।
কবির জীবন কাব্যে বিকাশ
ইয়ার দলে নয়,
অন্তদৃষ্টি থাকলে পরে
বুঝতে সমুদয় ।
রবির কাব্যে কামের গন্ধ
ঈর্ষা ‘fata' কল্পে বার,
অমনি গর্জি চেলাগুলাে
উঠলাে বলে মার মার।
বেশ লিখেছ খুব লিখেছ
সুধার গন্ধে ঢাছি নাক,
If it has no name to be known by
তবে সে কথাটা চাপা থাক।
খেতেন দ্বিজু মৎস্য যখন
অবাক চোখে চাইত পুষি,

পালাও
হরু, সুরু, নরু, জ্ঞানেন—
মনে মনে হতেন খুসী ;
হায়রে কপাল কবির জীবন
এই ভাবে কি লিখতে হয়,
দ্বিজুর জীবন সাজাহানের
প্রতি পৃষ্ঠে অভ্যুদয়।
আপন জীবন আপন হাতে
লিখে গেছে কাব্যে তার,
তুচ্ছ কথার আলােচনে
প্রকাশ করে ব্যভিচার ।
বড়ালভক্ত নবকৃষ্ণ
যা লিখেছেন সহ যায়,
ধৈৰ্য্য-ণী অধৈর্য্যের
গুহার মাঝে না পালায়।
সরলপ্রাণ বড়াল কবি
হারিয়ে ফেলে তার প্রিয়ায়
‘এষা বুকে বসে আছেন
উচ্চ যশের লালসায়।
সখ্যহীন প্রেমহীন
জীবনটা ত মরুময়,
লক্ষ্মীছাড়া হলে পরে
এ দুর্দশা সবার হয়।

চতুর্থ হড়ী
ওরে বুড়াে আছি বেঁচে,
তবু কেন দিনে সাড়া ?
সব ফেলেছিস্ হারিয়ে কিরে,
এমন দিনে বধূ-হারা।
কবির সম হৃদয় ছিল
কবির সম মমতা,
কোথায় গেল গলাগলি
এমন দিনে বল ?
‘কস্তুরী’ আর ‘চন্দনেরে’
মুক্ত হন্তে বিলাইয়ে,
“গােবিন” গেল পাঁজর ভেঙ্গে
কাল সাগরে মিশাইয়ে।
ভিজে চোখে আজকে তােরে
মনে করছি ‘অকুরে
“গােবিন” গেছে কাল হ’রেছে
বাঙ্গালা দেশের মধুরে।
আমার দেশটা আমার দেশটা
আমার চোখে কেমন ঠেকে,
বউকে রাখে বুকের মাঝে
পায়ে ঠেলে বুড়াে মাকে!
তৃষ্ণা কাতর “গবুর” মুখে
দিল না কেউ জলের কণা,
১

পােলাও
বেদনাটা এমন দিনে
দারিদ বলে জানাল না।
বই পড়ে? না মলাট পড়ে ?
পড়তে জানে কয় জনায়,
পাঠক তেমন থাকলে পরে
বুঝত “গবুর” সাধনায়।
আমি ভজব না আর কৃষ্ণ রাধা,
ওতে আছে অনেক বাধা
লক্ষ মন্ত্রে শুধুই সাধা ;
(এদের) চোখের দৃষ্টি বয়সদোষে
নাহিক বলে জগৎ ঘােষে।
আমি আপন হাতে গড়ব শিবে
ছেনে কাদা,
আমি ভজব না আর কৃষ্ণ রাধা।
৫৪

পঞ্চম হড়ী
(ক )
রাউলেটী সুই বুকে বেঁধে
নব বর্ষ আসিল,
C. I. D’র পােয়াবার,
দুঃখে দেশটা ভাসিল।
আশা যা তা শুকিয়ে গেল
রাজার শিকল কসে,
মঘারাণীর অটুট বাধন
এবার বুঝি খসে ।
তর্ষে দলি হর্ষে দলি
এস বর্ষ নূতন
ভাঙ্গা কুলা মাথায় দিয়ে
তােমায় করি বরণ।
আকাশ জুড়ে উড়তেছে চিল,
উড়ছে শতেক গৃধিনী,
শ্মশান জুড়ে অট্ট হেসে
বেড়ায় শতেক প্রতিনী।
Hydra-headed অভাবগুলা
প্রলয়কালী-নৰ্ত্তনে
৫৫

পােলাও
ব্যস্ত আছে দারিদ জনের
কোমল হৃদয় কর্তনে
আময় এসে লুটছে পরাণ,
অশান্তি দেয় খোচা,
নেকে যিনি হারিয়ে নাসা
হয়ে পড়েছেন বোচা।
কাপড় গুলি ছিন্ন জীর্ণ
জুতায় শত তালি,
অভাবমাখা অন্ন খেয়ে
পেটা থাকে খালি।
ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ,
তাতেও সাপের চর্বি,
বের্তো ভােজন করুন তারা
অর্থে যারা গব্বী।
এস এস নূতন বর্ষ,
মুখে তােমার নাইক হাসি,
চোখে তােমার জ্বলছে অনল,
গায়ে মাখান ভস্মরাশি।
প্রভুহে প্রভুহে তােমার চপলা
তােমার সাধের দামিনী

পঞ্চম হড়ী
খবর যােগায় cable টানিয়া
সারাটি দিবস যামিনী,
তােমার সাধের দামিনী।
যােরায় ব্যজন, আলাে দেয় ঢেলে
দূরেতে সরায়ে আঁধারে,
অবাক সবাই কীৰ্ত্তি দেখিয়া
দামিনী দুয়ারে বাধা রে।
আমাদের
সিদ্ধ যাহারা, সাধক যাহারা,
দামিনীরে প্রাণে ধরিয়া,
দীপ্ত করেন বিশ্বপরাণ,
আলােমাখা সুধা ঢালিয়া।
তােমরা ওড়াও রঙ্গীন কেতন,
দম্ভে বসাও rustruth এ,
আপন কীর্তি জাহির কর
গগনভেদি সপ্তমে।
গর্বে দড় তােমরা বড়,
আমরা চাহি আকাশে,
উচ্চতমের কীৰ্ত্তি দেখি
তারার মাঝে বিকাশে।
গু তাটা খাইয়া জীর্ণ দেহ,
জীর্ণবস্ত্র বর্জিয়া
৫৭

পােলাও পশুভয় হতে দূরে যেতে চাই শ্যামল বিশ্ব ত্যজিয়া। এ পারেতে Damocles- থগ তুলে সদাই আছে, ওপারেতে কখন যাব, কখন যাব মায়ের কাছে ? ক্ষীণ সন্ধ্যায় মলিন আভায় মিশিয়ে দিয়ে প্রাণ কেবল ডাকি, শ্রীমধুসূদন, কর পরিত্রাণ । যেথা পশুবল করে না প্রভুত্ব সেইখানে যেতে চাই, প্রণব অচ্যুত হে শ্যাম সুন্দর দাও দাও ওগো ঠাই। ক্ষত ব্যথা যত বীণা হয়ে যেন কাকলী করিয়া তোমারে ডাকে, প্রাণ যেন দেব আশামূৰ্ত্তি ধরি’ তােমারি আশায় বসিয়া থাকে। মেঘভরা নিশি না বহে পবন, নিদ্রায় জগৎ গিয়াছে ভরি, এস এস নাথ, এস হে সুন্দর, কর আলিঙ্গন ব্রজের হরি। ৫৮

পঞ্চম হড়ী
আমার সুমতি আশীৰ্বাদ ছানি
ধবল দ্বীপে দাও হে ঢালি,
মনুষ্যত্বের দিব্য আলােক
বিলাসগৃহে দাও হে জ্বালি।
( খ )
Astolpho fata utata
Bureaucratদের দেছে উপহার,
গভীর নির্ঘোষে বাজিছে বিষাণ
প্রকম্পিত করি সহস্র পরাণ,
কেন গাে জিন্না কাদিয়া আকুল
গাধি মহাশয় কেন বা ব্যাকুল,
ক্ষোভ পরিতাপ কি হবে করিয়া
দম্ভ আজিকে উঠেছে জাগিয়া
পেতে দাও বুক দর্পে বিদলিয়া,
জেতায় আজিকে যাউক দলিয়া।
অসভ্য ভারতে জ্ঞানের আলােক
ঢালিয়া দিতেছে জেতা,
অনুভূতিমাখা Chelms rd আজ
তাই আমাদের নেতা।
সিংহ-হাউই গগন ভেদি
শনৈশ্চরে যায় চলে,

পােলাও
আনন্দেতে ভারত-ভূমি
হাছে কেমন খখলে।
উনাগিরি পীরের কাছে
ছিন্নি মানেন গােপনে,
Et tu Brute K. G. Gupta
বগল বাজান সঘনে।
এওতত ভাবি তাওতো ভাবি
হ’ল এটা কি যে,
ভাবতে গিয়ে সুখের কথা
নয়ন আসে ভিজে।
মন্টেগু যতন করি রামধনু খানি
নিঙাড়িয়া মধুরিমা দিল সবে আনি ;
উদ্ভাসিল আৰ্য্যক্ষেত্র, তরুলতাশিরে
জলিল সহস্র মণি ; আনন্দ-মন্দিরে
ডুবিল প্রকৃতিবর্গ ধন্য ধন্য রবে,
গাইল বৃটন-কীৰ্ত্তি আৰ্যসুত সবে।
ফুৎকারে নেবে আশার দেউট,
সুখের স্বপন যায় ভেঙ্গে ;
দান ফুরাইলে দারিদ জনায়
দ্বারে দ্বারে ঘােরে ভিক মেঙ্গে।
৬০

পঞ্চম হড়ী
( গ )
মর্মবাণীর পাতে পাতে
পােকার কামড় দেখতে পাই,
ভাব-সাগরের “প্রমথ” রােহিত
এলােমেলাে দিচ্ছে ঘাই।
রূপনগরের মানসী তার
ভাঙ্গা পুর দিয়ে পায়,
রাজার কাছে নাকি সুরে
তালকাটা গান হেসে গায়।
খ্যাতিটা তার incubas
সারারাতি বেড়ায় ঘুরে,
বিভীষিকা দেখায় এসে
বুড়াে কবির মধুপুরে।
দেখাও রশ্মি হও যশস্বী,
‘জলধরে’ দিখ গে তুড়ী ;
কাঁঠাল যে সে কাঠাল রবে
বুকে ধরিভীম ভুতুড়ী।
ভেবেছিলাম ‘পদ্মা’ গাঙ্গে
আদৰে বুঝি উদার জোয়ার,
চরের উপর চর পড়িল
করে নদীর শতেক খােয়র।

পােলাও
“জয় পরাজয়” ও কিছু নয়
মলাট দেখে হাউড়ে পাঠক,
দশের সানে পড়তে থাকে
মিষ্ট বলে দুষ্ট নাটক।
পুষ্পহীন পত্রহীন
স্থাণুর মত আমরা,
ধল্লেও ফল সক্কা-বিহীন
শুধুই আঁটি চামড়া।
মৰ্ম্মবাণীর কুঞ্জে এখন
সত্য দোলে হিন্দোলায়,
ভাবের তামাক টানছে বসে
গিল্ট করা আলবােলায়।
যমুনাতে ভাসিয়ে গা
পদ্মমধু পান কোরে
“যতীন” এখন শান্তি-সুখে
বিশ্বপাতায় গান ধরে।
“অমরনাথের” কলঙ্কটা ( ওই )
গঙ্গাজলে যাকু ধুয়ে,
বিনয় এসে কবির অঙ্গ
স্নেহভরে যাক্ ছুয়ে।
দেমাক ছিল কণ্ঠভরা,
সালে শেষে রত্নাকর,

পঞ্চম হড়ী
Unequal combination
নহে কো কভু ক্ষেমঙ্কর।
হালকা লেখক ভারতবর্ষে
দলিয়া যাচ্ছে বাণীর বুক,
আশা ছুড়ী অভিমানে
কোণা বছে ঢেকে মুখ।
গল্পে থাকে নঙ্গ কথা
গণ্ডে চুমার রেখা,
কৌমারেতে কামের কামান
পাত্তে শুধুই শেখা।
নেকীর পােলা নায়ক হয়ে
চাপছে বুকে “আশােকায়”
চুম্বনের উৎপীড়নে
লজ্জা কেঁদে দুরে যায়।
কেবল কেবল ভােগ-লালসা,
বঙ্গা-খােল বাসনা
প্রসাধিতা প্রসাধনে
সুখের করেন কামনা।
নাগর করেন নাগরীরে
বুকে ধরে যতন,
স্বার্থভরা যুগল চিত
বিলাস-সুখে মগন।

পােলাও
এই না হ’ল মনের মতন
মাসিক ত আর চলে না,
দাদার কি দোষ দেব ভাই
দাদা ত আর দেবতা না
( ঘ )
বাণীর পূজক সাধনা না হতে
সিদ্ধি কামনা করে,
বশের লাগিয়া কত না বিনয়ে
ঢাকার চরণ ধরে।
আপনার গান আপনি গাহিয়া
ইতেছে সমাজে বড়,
দেখে এই সব পিশাচ-আচার
আঁখি ঝরে নিরন্তর।
অতিথিরে আর যতনে সেবিতে
চাহেনা কাহারাে মন,
বিধবার লাগি এ আৰ্য্য-সমাজ
নহে কেহ উচাটন।
ষােড়শী কন্যা বিধবা সাজিয়া
বলয় ভাঙ্গিয়া সিদূর মুছিয়া
পড় ক সাবিত্রী-কথা,
৬৪

পঞ্চগড়ী
পতির ধেয়ানে হইয়া মগন
দেখুক বিধবা সােণার স্বপন,
ঘুচাক মনের ব্যাথা ;-
বুড়াে শালিক তৃতীয়বারের
বালিকা বধূটী লয়ে
হেসে হেসে হেসে বসে হরষে
থাকুক মত্ত হয়ে।
চুলেতে কলপ মােচেতে কলপ
স্খলিত দন্তে ar' খেলে,
অতনু অবশ যুগল নয়ন
অলস ভাবেতে রয় মেশে।
বিধবা তনয়া খেতেছে তিক্ত,
গােপন রােদনে কপােল সিক্ত,
মাথার উপর ব্রহ্মচর্য
দু’মণ দশটী লের,
স্থবীর জনক তন্বী শ্যামার
ধেয়ানে মগন স্নিগ্ধ শােভার,
পান করেন রূপসী বালার
অধর-মদিরা ঢের।

পােলাও
শিক্ষা কোথায়, দীক্ষা কোথায় ?
আলােকে হৃদয় ফোটে কার ?
শিক্ষিত হইয়ে কেমন করিয়ে
দেখে তবে হেন ব্যভিচার ?
সমাজে শােভন সমাজে মােহন
যদি হে করিতে যাও,
আপন পরাণ আপন রক্ত
যতনে ঢালিয়া দাও।
তাকিয়ে থাকার কাজ নয় ভাই
তাকিয়ে থাকার কাজ,
পাপ দেখে যে নীরব থাকে
সেও ডুবে যায় পাপের পাকে,
তার মাথাতে হয় পতিত
অমঙ্গলের বাজ,
তাকিয়ে থাকার কাজ নয় ভাই
তাকিয়ে থাকার কাজ।
ভাঙ্গা দেওয়াল ভেঙ্গে ফেল
লাগাও লাথি বুকে,
সুবুদ্ধি যা করূতে বলে
প্রকাশ কর মুখে।

পঞ্চমড়ী
মনু ছিলেন ছিলেন মনু
হাতীর দলের হােত,
তার ব্যবস্থা চলবে না আর ;
তেমন শক্তি কোথা ?
সংস্কারের আবেষ্টনে
বদ্ধ আর ভাই থাকিনে,
আৰ্য্যসুত বলে’ আর ভাই
অভিমানটা করিসূনে।
সমাজ মাঝারে দেখি ব্যভিচার
(যার) রক্ত নাহিকো উথলে,
ভেড়ার ভেড়া গাধার গাধা
তিনিই ইহ ভূতলে।
সবাই মেলে কোমর বেঁধে
বিবেক বেটায় চেতিয়ে তােল,
শক্তি এসে মধুর হেসে
তখন তােদের দেবে কোল।
সারল্য যা দিন দিন দিন
জগৎ ছেড়ে যাচ্ছে সরে
ভণ্ডামিতে নিখিল বিশ্ব
লহু লহু উঠছে ভরে।

পোলাও
মিথ্যাটারে করেছে সত্য
কেমন একটা রং দিয়ে,
ভণ্ড চরণ করূছে পূজা
হর্ষে তারে বন্দিয়ে।
বাবার বাবা দাদামশাই
ছিলেন যখন জীয়ে,
পুলক দিয়ে সময় তখন
রাখতে ভরে’ হিয়ে।
অভাব তখন বালক ছিল,
ছিল না তার দাপ;
দিত না সে গরীব দেখে
রুদ্র অভিশাপ।
তখন হেসে হেসে
চাইত সবার দিকে,
ভুলিয়ে দিত সরলতা
আপন হৃদয়টীকে।
বহিত তখন তপোবন
পরশকরা হাওয়া,
ভালবাসার মাঝে ছিল
ভালবাসার নওয়া।

পঞ্চম হাঙ্গী
সথা ছিল বধূর সতীন
সতীন ছিল বঁধু,
রসােদগারে প্রতি নিশা
ঢেলে দিত মধু।
কোথায় তারা, কোথায় সেদিন,
কোথায় সে সব প্রাণ?
আজকে তাদের স্মরণ করে
শরীর বেপমান।
মনে হয় না কোথায় যেন
ফেলিয়াছি পুলকে-
পূৰ্ব্বকথা মনে হলে
চমকে উঠি পলকে।
বন্ধু এখন উন্নতগীম
Power-loving offer fora,
বন্ধু এখন অতি চতুর,
লম্বা কেঁচা রায় বাহাদুর,
বন্ধু এখন দুহাজারী
আপনগৰ্বে আপনি ভারী,
বন্ধু এখন Bar-at-law
কুটীল কথায় করেন থঃ,
বন্ধু-ঘেরা আছি বটে
বন্ধু কেহ নয়,

भाना
সাধক তারা স্বার্থ-মন্ত্রে,
দীক্ষিত সব ইতর তন্ত্রে
সখিত্বেরে হত্যা কৰ্ত্তে
নাহিকো কারও ভয়,
বন্ধু আমার আশে পাশে
বন্ধু কেহ নয়।
৭০

ষষ্ঠ হড়ী
( ক )
বিদ্যাগৃহ কারাগৃহ, ঔদাৰ্য-বিহীন ;
গুরু যিনি, নৈসর্গিক হৃদয়বন্ধন
সতত করিতে খৰ্ব্ব, আবৃত্তি করেন
সারল্যবর্জিত রুক্ষ পাশ্চাত্যের নীতি
যে নীতি কর্দমপূর্ণ, যাহার মাঝারে
জীবন স্পন্দন নাই প্রবুদ্ধ করায়
সঞ্জীবনী শক্তিসহ নব চেতনায়।
কোথা সে সংযমী গুরু নিৰ্ম্মল জাবালি ?
গােমুখী-নিঃসৃত পূত জলােচ্ছ্বাস সম
বিচ্ছুরিত বিথারিত আগমমন্থিত
সুধারাশি ? শিশুপ্রাণ হইত প্রবুদ্ধ,
হইত রসাল, ধৌত, নিৰ্ম্মল, পাবন।
লীলায়িত অনুভূতি উঠিত উদ্বেলি;
বুঝিত সে অরণ্যের মৰ্ম্মর আকুতি,
ঝরিত নয়ন তার শুনিয়া কাকলী
তরুপরে ভাবমুগ্ধ রসিকা শ্যামার।
ভাদরের বারিধারা উন্মুক্ত পুলক
করিত কণ্টকায়িত কদম্বপরাণ ;
৭১

পােলাও
অস্পর্শী নগেন্দ্রের পূর্ণ বিকশিত
নবন্ধনপরিবৃত দেখি অপঘন
বালকের নবপ্রাণ হইত আয়ত।
হার্দ অনুভূতিমালা চলচ্ছক্তিহীনা
শিক্ষা আজি জাগাইছে বিলাসবালায় ;
স্বার্থদষ্ট অর্ধভুক্ত শ্রমলব্ধ বিত্ত
গুরুর গুরুত্ব আজি করিছে দুৰ্বল ;
ছিল গুরু বংশীবট গৌরবমণ্ডিত,
মহিমার শত শাখা চুম্বিত আকাশ,
ছাত্র ছিল শাখা-শােহা নবীন পল্লব।
অতি শীর্ণ অতি শুস্ক খৃষ্টীয় যুগের
নীতিকথা, প্রাণ যার পশি প্রেতলােকে
নির্বাণ অনলমাঝে সুখে ঝম্প দিয়া
মহাচৈতন্যের বক্ষে হয়েছে বিলীন,
সেই নীতি-কথা নীতিহীন কণ্ঠ হতে
হইয়া নির্গত পশিছে শিশুর কর্ণে ;
মৰ্ম্মে কভু পশে না সে স্নেহশূন্য বাণী,
ক্ষীণ বারিধারা যথা পারে না কখন
অভিষিক্ত করিবারে তৃষ্ণার্ত মরুরে।
-
বিদ্যাগৃহে বালকের জড়ত্ব বাড়ায়,
জড়ত্বে জড়িত প্রাণ, প্রাণত্ব-বিহীন
প্রাণতার খাদ্য নিতি জোগায় মানস ;
৭২

ষষ্ঠ হড়ী
মানস অফুল্ল সদা পুলক-বঞ্চিত,
প্রাণের প্রাণত্ব কোথা, অচঞ্চল (জড়)
খাদ্য নাই ভগ্নগৃহে বসতি তাহার ।
সভ্য কে গাে? কারা সভ্য? সভ্যতাই বা কি ?
সভ্যতার মানদণ্ড কোথা বল পাব ?
পাশ্চাত্য সভ্যতা চায় দুর্বল দলন,
প্রবঞ্চনা প্রতারণা সভ্যতা দেবীরে
নিয়ত করিছে দান নব উপায়ন।
বিলাস-মদিরা পান করি’ অহর্নিশ
প্রবৃত্তির শতদ্বারে করিছে ভ্রমণ,
রমণীর প্রাণমাঝে করিছে সৃজন
মৃগতৃষ্ণিকার তৃষ্ণা মদন-অনল ।
তপােবন আলােকরা আর্যের সভ্যতা !
রসাপ্লত করিত সে স্বর্গীয় স্বগণে,
বৈচিত্র্যের দীপ্তছটা করিয়া বিস্তার
দেখাইত সৰ্বজনে বিধাতার লীলা,
জাগাইত, মাতাইত, নাচাইত প্রাণ,
জাগরণ সনে সে যে করিত বিলাস।
এও করাইত পান নহেক champagne
ভক্তির লাদিনী সুধা, যতেক মদ্যপা
ভূমানন্দে মাতােয়ারা থাকিত হইয়া ।
৭৩

পােলাও
শিখাইত পরিচর্যা, বেদনার বোধ,
শিখাইত চিদানন্দ পরম সুন্দর,
শিখাইত অচ্যুতের আনন্দ বিভব,
শিখাইত আত্মজয় পরম পুলক।
কি শিখিছে শিশুগণ ? ভবিষ্য জগৎ
বিলাস সুখের খনি, শ্রেষ্ঠ আত্মসুখ ;
পরহিত কামনার দ্রুত তীব্র গতি
রােধ করি দাঁড়ায়েছে দৰ্পের বিধান।
ত্যাগে সুখ ভােগে পাপ কে বল শিখায় ?
উপনিষদের সুধা কে করাবে পান ?
কে শিখাবে চিন্ময়ের ঐশ্বৰ্যনিচয় ?
( খ )
বুক চাপড়ে কাদ্বাে কি ভাই
কান্তে লাগে ভয়
ধরা-পাকড়
চারিদিকেতে,
কখন কি যে হয়।
রত্ন দিয়ে
যত্ন করে
কিতেছি সব কাচ,
যাচ্ছি ভেঙ্গে,
উঠছে মনে
ভাঙ্গা ছবির ছাচ।
৭৪

যষ্ঠ হড়ী ও সভ্যতা, ও রাক্ষুসী, আর বাজাসনে বীণা তাের, বিষমাখান আন্ত ভারত নেশায় তাের। মধুর সুরে সরিয়ে দেরে M. P. হ’তে চাইলে কেউ, Political সাগরঘােড়া শৈলনিভ ভীষণ ঢেউ। দুধ ও ঘিয়ের নাই প্রয়ােজন ক্ষুধ-চিড়েতে তৃপ্ত রব, অল্প করে দিও গুতাে, ভেড়ার মত সবি সব। অন্নপূর্ণার সত্রে মুখ দিয়েছে কুকুরে, অশুদ্ধতার অভিনয় দেখ চি হৃদয়-মুকুরে। কান্ত দেখে দয়াময়ী পালিয়ে গেছেন দক্ষালয়, বাপের দম্ভে ভুবে আছেন- বধির তাহার শ্রুতিদ্বয়। অনাচারে Mammoth সম আমারা যাব ধ্বংসপুর, ৭৫

থাকবে যারা
অনাচারী,
জিহbu! আৰ্য্যচুর।
Hegel 1891
Comte gert
ব্যাসের বাক্যে logic নাই,
দ্বৈতবাদ ত Commondrum,
হেয়ালী তার সর্বঠাই।
মুখতাতে
চতেছে দেশ
শিখছি সবাই ইংরাজী,
আপন ভাষা
শিখতে কেমন
সবাই যেন নিাজী।
সাত বছরের
যাচ্ছে বালক
শিখ তে পরের ভাষ,
ডেপুটী হ’বার
বহুৎ বহুৎ আশ ।
পড় পড়
পড় যাদু
মিটাও মনের সখ
মনে রেখাে
booby will
Never make a hawk.
“Eager” মানেতে “দম্বল শিশু
শিখল যখন পাঠশালে,
ভরে
আঘাত করে
আনন্দেরি করতালে।

वाडी লুপ্ত প্রায় ধ্রুবচরিত ভীষ্ম ভন্মে ঢাকা, willy এখন নৈতিক নব রাকা। Cherry কাটা যাদু তিনটে তিনটে পাশ করেছে না জানি কি গুণ ধরে, লেখার মাঝে সহজ ভাবে “Man in the moon” সরে। (এরা) বুঝলাে নারে আপন ভাষার চন্দনের সৌরভ, শব্দগুলি রসে ভরা কাকলীর উৎসব। এক একটী পদ যেন এক একটী চিত্র গাে, পরের ভাষা রম্য হল অঙ্গে দেখি মিত্র গাে প্রভাত-রবির কিরণ যখন কমলবধূর নিদ হরে, তখন যেন মায়ের ভাষায় আপনা হতে ক্ষীর সরে । ৭৭

পােলাও
(গ )
পশ্চিম করুক গিয়া বীরত্ব-গৌরব,
এশিয়ার গৰ্ব উহা কিরীটি-মণ্ডিত,
জ্যোতিষ্মন্ দ্যুতিমান সুধায় খচিত
এশিয়ার গৰ্ব Chirst—সারল্যের খনি,
এশিয়ার গর্ব Mecon-অটুট বিশ্বাসী।
এশিয়ার গৰ্ব বুদ্ধ-জগতের আলাে।
সেদিন অদ্বৈতসখা নিমাই নিতাই
শুবক্ষে ঢেলে দেছে হরিনাম বস।
সাধুমুখে হরিধ্বনি করিয়া শ্রবণ
এখনও লতিকা সহ কাপে সহকার
কণ্টকিত হয় দেহ, তেয়াগি সংসার
ইচ্ছা হয় ব্রজধামে কাটাই জীবন।
সভ্যতাসৈরিণী তব দেশে লয়ে যাও,
গৃহে গৃহে শান্তি এসে করুক বিরাজ ;
ঐ দেখ কি হয়েছে ! কি মহাপ্রলয় ।
রমণীর কোমলতা রমণীতে নাই,
নাহি সে মাতার স্নেহ, সীতার বিকাশ,
নির্দোষ আদর নাই প্রাণনাথ বলে,
চুম্বন-ইন্ধনে জ্বালে কামের অনল,
দ্বাদশ বর্ষের বধূ পুত্রের জননী,
দৈয়িতভুলান শাড়ী করি পরিধান
ভাবিনী রসের গল্প করেন লেহন।
৭৮

ৰষ্ঠ হড়ী
প্রেম! প্রেম! কনকের যত্নে বিগলিয়া
সুধাসহ দ্রাক্ষাসহ করিয়া মিশ্রিত
অপূৰ্ব্বতা অপূৰ্ব্বতা করে বিরচিত ;
চুম্বনে স্বপনে যেন করে দেহ দান
অলকার বিচিত্ৰতা করিয়া নির্মাণ।
(ঘ।
স্নেহভরা মনচোরা দিদিমারা কোথা?
পুৰ্বকথা মনে হলে স্মৃতি-মন্দাকিনী
উজানে বহিয়া গিয়া বুড়ীদের সনে
এখনও মিলিত হয়ে, ভক্তির ধারায়
শ্ৰমদীর্ণ শ্রীচরণ দেয় ধৌত করি ;
মনে যেন রস নাই, নাহি প্রসারতা,
একদিকে উগ্র স্বার্থ কোমল হৃদয়
করিতেছে রসশূন্য ; অন্যদিকে পুনঃ
ঘাের দৈন্য বিলাস-প্লাবিত প্রাণমাঝে
পশি ধীরে, উদারতা করিছে চর্বণ,
প্রতি গৃহে অশান্তির রুদ্র অভিনয়
নিরখিয়া অশ্রুজলে ভাসে গণ্ডস্থল।
শাশুড়ী প্রেতিনীমূৰ্ত্তি অতি ভয়ঙ্করী,
পুত্র তার মাতৃভক্ত—যখন গৃহিনী
আজ্ঞা করে শ্বশুরেরে করিতে পীড়ন।
৭৯

পােলাও
গেল দেশ, গেল দেশ, গেলরে সমাজ
রক্ষা কে করিবে বল কোথা কর্ণধার ?
ভারতের অলঙ্কার রমণীহৃদয়
বিশ্বের আদর্শ ছিল ভারত-রমণী।
মার চেয়ে দিদিমারা ছিলেন উদার
গৃহিণী হইতে মাতা ছিলেন মহতী,
মমতার মধুচক্র-ধৰ্ম্মময় প্রাণ ;
গৃহিণী স্বার্থের ফণি করেন পােষণ,
ভবিষ্যৎ চিন্তা তার উদ্বিগ্ন নয়নে
কখনাে কখনাে যেন করি অধ্যয়ন।
রাজকন্যা পুত্রবধু সেমিজ ধারিণী
পতিগত প্রাণ বাছা দময়ন্তী ছবি।
গৃহ ছাড়ি পতিসহ গেছেন অরণ্যে ;
ঠার গুণে ভেড়া কান্ত ত্যজিয়া সংসার,
ত্যজিয়া স্বজনবর্গ স্থবির জনক,
নির্বাসনে স্বর্গলােক করিয়া গণনা
গলিত পশুত্বমাঝে আছেন মগন ।
কালধৰ্ম্মস্রোতে বাধা কে দিতে সক্ষম ?
হয়ত আমার ন্যায় কতশত পিতা
পুত্রের এ ঔদাসীন্যে মৰ্ম্মে জর্জরিত ;
কোন শিক্ষা সমাজেরে করিল এমন ?
রাজ হস্তে coercion সমাজের কাছে
সত্যাশ্রয়ী পেয়ে থাকে ঘাের নির্যাতন।

যষ্ঠ হড়ী
রমণী করুণামূৰ্ত্তি মমতানিঝর,-
মাতৃস্নেহ বুকে ধরে লভি দেবকায়া
জগতে দিতেন ঢালি অপূৰ্ব্ব করুণ।
চপলার মত ক্ষণস্থায়ী রঙ্গ তার
সরমের আচ্ছাদনে নিমেষে উদঘাটি
গােপনে সে প্রাণনাথে দিত উপহার।
এখনাে স্মরণে অঙ্গ উঠে শিহরিয়া
ব্রীড়াময়ী বিনােদার বিনােদ কৌতুক,
জ্যোৎস্নালােকে চুপি চুপি চোরের মত
ছাদে বসি দেখিতাম সৌন্দৰ্যপ্লাবন,
দেখিতাম অৰ্ধাবৃত গুণ্ঠন-মণ্ডিত
চন্দ্রস্নাত আদরের আদৃত বদন ;
লুব্ধ ওষ্ঠ গণ্ড তার করিলে পরশ
ছি ছি বলি সুধামাখা করিত ভৎসনা,
চম্পক অঙ্গুলি দিয়া প্রবৃত্তি উদ্যমে
দেখাইত ভয় ; পুনঃ হাসিয়া আবার
চাদের সিরে দিত বিষাদিত করি।
নারী অন্নপূর্ণামূৰ্ত্তি সতত প্রফুল্ল,
প্রসাদগুণের খনি সৌন্দৰ্য্য আকর ;
তুমি না থাকিলে ধরা হইত নিরয়,
মানুষেরা পশু হ’তে হইত ভীষণ ;
কে লুটিল রমণীর সৌন্দৰ্য্য ভাণ্ডার ?
কে করিল রমণীরে সুখ বিলাসিনী ?
৮১

পোলাও
Destructive, Damnable, Deceitful
woman
কাদিয়া পাশ্চাত্য কবি তুলিয়া মূচ্ছনা
শ্বেতাঙ্গীর দুর্দশার গেয়েছেন গান।
ক্লান্তিহরা ছন্দটালা সেবাপরায়ণ।
রমণীরে স্বার্থসর্পে করেছে বেষ্টন,
সাপের বন্ধন হতে মুক্তি দিতে ত্বরা
এস Cecilia দেবী স্বর্ণ পরিহরি।
( ৬ )
সমাজের অঙ্গে যদি বৰ্ম্ম দিতে চাও
বরণ্যা রমণীবর্গে শিক্ষা দিতে হবে,
ভেঙ্গে দিতে হবে ঐ অন্তঃপুরকারা।
সাবিত্রী গড়িতে হলে চাই সত্যবান,
সীতা চাও রামচন্দ্র কর বিনির্মাণ।
ভয় হয় অন্তঃপুরপানে নিরখিলে
দেবী আর দেবী নাই বিলাসবাসিনী,
ওই নীলাকাশ ওই সপ্তর্ষিমণ্ডলে
সদাত্ম যদি বা কেহ বিরাজিত থাক,
রমণীর হিতকল্পে এস হে নামিয়া ;
রাবেয়ার হৃদয়ের অনন্ত বিভব
রমণীর হৃদয়ের হােক অলঙ্কার।
৮২

ষষ্ঠ হড়ী
ভাষা ত ছিল না কারাে ; ব্যথার পেষণে
চুপি চুপি তাকাতাকি চুপি চুপি কাদা,
নির্নিমেষে আকাশের পানে শুধু চাওয়া,
নীরব কাতরে সদা দয়াময়ে ঢাকা-
দৈত্য নয়, রক্ষঃ নয়, সুসভ্য মানব
দর্পমদে মত্ত হয়ে চরণের তলে
বিদলিয়া, বিক্ষোভিয়া অপমানানলে,
মনুষ্যত্বধনে দগ্ধ করিল উল্লাসে।
রসনা লভেছে কবি, বীণার ধৈবতে
জগতের শিরে শিরে ছুটায় দামিনী
ধূর্জটী গরল পান করেছিল কবে,
তাই তিনি নীলকণ্ঠ নামে অভিহিত ।
চেয়ে দেখ ভক্তিভরে চেয়ে দেখ ভাই
কি অপূর্ব সুষমায় লভেছেন “রবি,”
অনন্ত আকাশ তার প্রাণে উদ্ভাসিত ;
ক্রুশদ্ধ ক্রাইষ্টের হৃদয় উচ্ছাস
রবীন্দ্রের প্রাণে আজি উঠেছে উদ্বেলি,
রবি আজ নীলকণ্ঠ, রবি বিশ্ববি,
পৃথিবীর গৰ্ব রবি বঙ্গের কৌস্তুভ।

সপ্তম হড়ী
( ক )
[ ডায়ারের ]
যে দেশে স্বাধীন বায়ু শিথিল গমনে
দোলাইয়া সুকোমল আইভি লতায়
বহে ধীরে, গােঠে গােঠে সৌন্দৰ্য্য আলয়
ফোটে ডেজি, মুগ্ধকরি ফোটে ম্যাগনােলিয়া,
যেথা মধুমাসে পিক মধু কুহরণে
জীবনের জড়তায় দেয় সরাইয়া,
সেই দেশ হতে কিগাে এসেছিলে তুমি ?
যেই দেশে সেক্ষপীর হৃদয়ের কবি,
মানবেরে শিখায়েছে অমরার গাথা,
যেথা কবি-শিরোমণি সুকোবিদ শেলি,
কল্পনার ইন্দ্রধনুবর্ণে সুশােভিত
তুরগ উপরে চাপি’ ছুটি মেঘপথে,
চাতকের মধুকণ্ঠে শিখাইল গান ;
যেথা প্রকৃতির কবি উদার পরাণ
ওডসওয়ার্থ, গিরিশৃঙ্গে বিজন কাননে
প্রকৃতির কলকণ্ঠ করিয়া শ্রবণ
৮৪

সপ্তম হড়ী
ভাবের সমাধি মাঝে থাকিতেন ডুবি
সেই দেশ হতে কি গাে এসেছিলে তুমি ?
যে দেশের শিক্ষা গড়ে মানুষে দেবতা,
মনুষ্যত্ব যে দেশের সুগন্ধি-মণ্ডন,
স্বাধীন চিন্তার স্রোত প্রসারি’ হৃদয়
যেই দেশে ছুটিতেছে বিচুর্ণ করিয়া
ক্ষুদ্র স্বার্থ ক্ষুদ্ৰমত পুরাতন ভাবে,
সেই দেশ হ’তে কি গাে এসেছিলে তুমি ?
একদিন I sis Osiris তরে
কেঁদেছিল, সেই অঞ পরশ করিয়া
উদ্বেলিত হয়েছিল Nile এর নীর।
পঞ্চসখী সহ সিন্ধু আছ তুমি জাগি,
সহস্র Isis ওই দারুণ ব্যথায়
অগ্নিমুখী যাতনার নির্দয় পেষণে
অভিভূত হয়ে করে অশ্রু বরিষণ ;
সেই তপ্ত অশ্রুম্পর্শি’ তুমিত উদ্বেলি’
উঠিলেনা একবারও করিয়া গর্জন ?
অনাবিল সিন্ধুস্নাত কেশরী পাঞ্জাব !
গুরু গােবিন্দের শুভ্র বিভূতি পাবন,
সৎসাহসের খনি সদ্গুণনিলয় !
বান্দা যার লভি কৃপা অভয়ে অক্ষোভে
বসাইল তীক্ষ ছুরী আত্মজের বুকে,
সেই তুমি পূতভূমি ভারতের রােম।

পােলাও
সেই তুমি সর্পবেণু আলাপনকারী
Poppea Sabia প্রেমে মুগ্ধ প্রণয়ীর
বীণার প্রলয়ঙ্কর বিকট ঝঙ্কারে
হয়ে আছি মুহ্যমান ; এটনা তাহার
অগ্নস্ফুস সংযমের দারুণ উদ্যমে
করিয়া রাখিল রােধ, নিখিল বিশ্বের
প্রতি লােমকূপ দিয়া উঠিছে যন্ত্রণা।
( খ )
মাথা কেটে
জিতলে বটে,
জিতলে বটে,
কালি দিয়ে ফুলে,
Humanity
চড়িয়ে দিলে শূলে !
এমনি করে
জিতলে পরে,
জিতেই হবে কাত,
হাতে হাতে
আসবে দিন,
করূবে বাজিমাত।
Sydenhamএর
বংশ যেন
গজিয়ে গজিয়ে উঠে,
লােপ কৰ্ত্তে
এরাই যেন ছােটে।
পূর্ব কীর্তি

সপ্তম হড়ী নিক্তি করা বিচার বিধান তােমার জাতির ছিল গো, ভারত-ভরা মলয় পবন তারে হরে নিল গাে। যেমনি ছুলে ভারত মাটি, অমনি হলে নবাব, অমনি পেলে তড়ি ঘড়ী নাদির শাহের স্বভাব ! দুৰ্বল বলে পেষণ করে’ থে খুলে দিয়ে মন, স্বাধীনতার মটরকারে ছুটছে জয়ী জন। আগুন-খাগী নির্দয়তা পরের রক্ত পিয়ে, বীরত্বেরি পােক পরে’ ফুল্ল করে হিয়ে। আমরা সরল আমরা সরল Duplicityর ধার না ধারি, বাঁকা পথে আপন পদে কুঠার মারি। চলতে গিয়ে Dodoর মত আমরা হব, রইব না আর ভবে, ৮৭

পােলাও
কঙ্কালগুলি
দাঁত কিড়মিড়ি
সইতে হয় সবে ।
সমাজ গেছে
ভগ্ন হয়ে,
মন হয়েছে খাট
মেটে ভাড়টী
তাও ভেঙ্গেছে,
সার করেছি ঘাট।
তর্কবাগীশ অনড়ন,
করি’ শাস্ত্র আবর্তন,
অনুষ্ট ভের শ্রাদ্ধ করেন
বােকার কাণের কাছে।
হৃদয়ভরা নিষ্ঠীবন,
প্রাণের মাঝে দুঃস্বপন,
বিদ্যাডঙ্ক বেড়ান সদা
স্বার্থ করি’ পাছে।
Innovation
Innovation
Renovation 548,
সবাই মিলে
নুতন কর ভাই।
ভেঙ্গে চুরে
নূতন কর
নূতন গড়,
পুরাতনের দিন গিয়েছে,
শক্তি এসে
দুৰ্ব্বলেরে কোল দিয়েছে।
ঐ দেখনা

সপ্তম হড়ী
বৈশ্য এস,
বৈদ্য এস,
এস সবাই কোলে,
মায়ের পেটের
ভাই তােমরা
এস দাদা বােলে ।
( গ )
•
যজ্ঞােপবীতের শক্তি ব্রাহ্মণের নাই
চালের প্রকৃতি সে করিয়ে হরণ
এখনও গৌরব করে ব্রাহ্মণ বলিয়া ।
কল্পনার পক্ষ তার মৈনাকের মত
ছিন্ন করিয়াছে ওই স্বার্থপরতায় ।
চলদলমুলে বসি’ সুন্নিগ্ধ ছায়ায়
কোথা সে বরেণ্যত্রয়ী শঙ্কর গৌতম,
নিৰ্ম্মল জাহ্নবী-পূত ধবল হৃদয় ?
যার প্রাণপদ্ম মাঝে বৈকুণ্ঠবিলাসী,
ত্যজি’ কমলার পার্শ্ব, রাজিতেন সদ।
ত্যাগ ছিল ভােগস্পৃহা ভােগের মাঝারে ;
অচ্যুতের ভূমানন্দ, তুলিয়া উচ্ছাস
করিত সতত কেলি হৃদয়ের সাথে।
সমগ্র সরল স্বচ্ছ সত্যকাম’ সবে,
ব্ৰহ্মবিদ্যা শিখিবারে শান্তি-বিমণ্ডিত

পুলকের বাসভূমি তপােবন মাঝে
প্রার্থী হয়ে দাড়াইল, মুখপানে চাহি’
বালকের সুরভিত সিক্ত কঞ্জ সম
হৃদয়টী নিরখিয়া, আচাৰ্য অগ্রণী
সত্যকামে কোল দিয়া করিল ব্রাহ্মণ।
কোথা সে বশিষ্ঠ দেব মধ্যাহ্ন তপন,
প্রতিভার বিদ্যালােকে বিশ্বপূজনীয়,
তপােগৰ্বে মহাগী বিশ্বামিত্র শূরে,
আত্মত্যাগে গৰ্বতার করিয়া বিলয়,
ব্রাহ্মণ-সম্মানে, তারে করিল ভূষিত ?
মাধ্যাকরষণ সম সেই জ্যোতিষ্মন
কোথা আছে এই বিশ্বে আদর্শ পুমান ?
সেইদিন আর
এইদিন ভাই
সেইদিন আর এইদিন,
বামুন কি আর বামুন আছে ?
সে যে ছিন্নভিন্ন ভগ্ন হীন ।
ব্রহ্মতেজ,
কোথায় তাহার
সত্যগত প্রাণ ?
অন সে যে
কেনে বেচে,
করেন। অন্নদান।

সপ্তম হড়ী মােগ জানে না। যাগ জানে না, নহে সে উগাতা, * উদাত্ত স্বর উচ্চারিতে স্বরিৎ স্বরের খায় মাথা। বেদের গরব করেন তিনি জানেন নাক বেদটা কি, মৎস মাংস বাসেন ভাল, বাসেন ভাল গব্য ঘি। পাণ্ডা সেজে যণ্ডাদেরি মনের সুখে দেন গালি, গণ্ডমূখ স্তাবক গুলাে উল্লাসে দেয় হাত তালি । নামটা জানা, উল্লুক ভট্টের পড়া নাই, চাণক্যের বচন গুল, আওড়ান কেবল ঠাই অঠাই। Soda খাচ্ছেন খাচ্ছেন কখন সাহেব বাড়ীর আ Roll, সন্ধ্যাকালে মাল খট্ খট মুখে বল্‌ছেন হরিবােল । চরিত্রবল নাইক কারাে, প্রাণের মাঝে শক্তি নাই, * সামবেদ পাঠক। কুল্লুক ভট্টের

পােলাও
মনের মাঝে
মলিনতা
Hypocrisy সৰ্ব্ব ঠাই।
গঙ্গাজলে
দাড়িয়ে এরা
মিথ্যা বলতে ভয় না পান,
সকল কাজই
( এরা) কর্তে রাজি
ঠাইমত যদি লভেন দান।
এরাই আবার
পরকালের
দেখান বােকায় রাস্তা,
রূপার সাজে
সবাই থাকেন,
ম6েধরা দস্তা।
( ঘ )
ঢের সয়েছি
আর সহেনা
ভেঙ্গে ফেল পুরাণ,
জাগিয়ে ওঠ
মাতিয়ে তােল পরাণ।
নূতন ভাবে
জাগিয়ে তােল, মাতিয়ে তােল
নাচিয়ে তােল অপরে,
ছুটিয়ে চল
গিরির’পর,
কেন জ্বালা সহ রে।
৯২

সপ্তম হড়ী জাপান তুলিছে গগন ভেদিয়া আপন শির, অৰ্জ্জুন সম সমরাই গণ, মহান্ বীর। বর্ণভেদের খনিটী খুঁড়িয়া স্বর্ণ চূর্ণ বাহির কর, জীর্ণ আচার ছিন্ন করিয়া অভিনব এক মূর্তি গড়। (তখন) শিরায় শিরায় ছুটিবে বিজলী ধরণী ধরিবে নূতন বেশ, মলয় অনিলে আনিবে বহিযা আৰ্যগণের গানের রেশ । বাল-বিধবার রােদনে যাদের হৃদয়ে লাগেনা ব্যথা কাপুরুষ সেই নিলাজ গণের এখনও শুনিছ কথা ? হৃদয় হৃদয় নাহিকি হৃদয় সৎসাহসের নাহি অভিনয় ? ঢাল ঢাল ঢাল, প্রাণ দাও ঢালি, শিরার মাঝারে, দাও অগ্নি জ্বালি, পুলকে মানুষ উচু নাচিয়া মেরু হ’তে মেরু বেড়াক ছুটিয়া।

পােলাও কোথা সে মানুষ ইঙ্গিতে যাহার মাতিয়া উঠিবে ভারত আবার ? আসিবার কথা বুঝি সে মানুষ এখনও হেথায় আসেনি, সে যদি আসিত, সবাই জাগিত ছুৎ-কারাগারে বােসে না থাকিত, তাইতে মানুষ জাগেনি। (ওরে পুরাতন কবে যাবে ছারখারে, নূতন উঠিবে জাগি’ পরাণের মাঝে উঠিবে বাসনা বিশ্বপূজার লাগি। গাহিল সাধক, গাহিল আবার তেমনি গভীর আকুল রবে সমাজের হেন হীন ব্যভিচার এখনও তােমরা নীরবে সবে ? সমাজের পতি আজি কে কাহারা ? অর্থ যাদের নিকটে রয়, শত অনাচার অবিচার তারা করুক, কথাটা কেহ না কয়। ব্ৰহ্মণ্যহীন ব্রাহ্মণ যারা ধনীর চরণ লেহন করে, কণ্ঠ-সূতার গরবে মাতিয়া স্বথা সলিলে ডুবিয়া মরে। ১৪ সপ্তম হড়ী তার পূতমধু পূজার মন্ত্র ভুলিয়াছে দ্বিজ যজন যাজন ব্যবসা আজ, শত ছানা বাক্যের ফাঁদে দক্ষিণা চুরি কেবলই কাজ। শিষ্যগৃহের বিধবা রমণী ভণ্ড গুরুর লক্ষ্য স্থান, করিছে হরণ দীক্ষা দানের করিয়া ভান। এক চক্ষু এ হিন্দু সমাজ অন্ধ সদা সে পুরুষ লাগি, অবলার প্রতি শৌয্য দেখাতে কুটিল দৃষ্টি রয়েছে জাগি। পতিতার তরে কাদেনা পরাণ কে তারে ফেলেছে পাপের কূপে ? কে তার যােবন লুটিবার তরে ধরেছিল তারে বিষাক্ত বুকে। কোথায় সংযম কোথা উদারতা কোথা নয়নের জণ, কোথা সে সাধক দেবােপম ছবি, জগতের সুমঙ্গল ? সাধারণী প্রেমে মজিছে যুবক, পিতেছে তীব্র মদিরা রাশি, পােলাও ভ্রষ্ট পুরুষ তবু তার সনে করি মিশামিশি, তবুও তাহারে ভালও বাসি । পতিবুক হতে দুরাচার যদি সতীরে কখন ছিনায়ে লয়, পতিগৃহে তার নাহি ঠাই আর, এমন বিধান এদেশে রয়। গড়িছে সমাজ, বিধান তাহার সুবিধামত ; পাপের বােঝাটী নারী শিরে দিয়ে আপনি কুকাজে নিয়ত রত। কেহ বিষ পিয়ে মিটায় যাতনা, কেহ ইল্লামের স্মরণ লয়, সমাজ পণ্যে কেহ পরিণতা, সমাজ পাতকী এতে কি নয় ? পুরুষের হীন হেয় ব্যভিচারে সমাজ সহিবে হইয়ে মূক, পুরুষ যেথায় স্বেচ্ছা আচারী বােঝে সে কেবল আত্মসুখ !! সমাজ ভিতরে মানব কোথায় নাচিছে পিশাচ দানবভূত, পলে পলে পলে গভীর পতনে বরণ করেছে মরণ দূত সপ্তম হড়ী আজি কি সাগরে নাহিক সলিল, আকাশে বুঝি বা অশনি নাই ? রুদ্র রােষের এখনও সমাজ জীবিত তাই। কুর কটাক্ষে আয়রে চঁাড়াল, আয়রে কামার, আয়রে কুমার বাঁধিয়া দল, গঠিতে সমাজ নূতন করিয়া প্রয়ােগ করে আপন বল । তােরা যে সরল অপাপ নিমল, পরাণে নাহিক কলঙ্ক দাগ ; } পুণ্যের নামেতে কলুষ কিনিয়া লইতে চাসনা তাহারি ভাগ । পাপের পঙ্কিল সরসীর মাঝে (ওরা) সঁতার দিতেছে বাঁধিয়া দল, রূপ রূপ করি’ তৃষিত হইয়া বাসনা-মরুতে খুজিছে জল। দ্বাদশ বর্ষের বালিকা বধূটী, কোলেতে তাহার শোভিছে সুত। পিতার কামের জাল বিথারিয়া করিছে আপন গােত্র পূত। হৃদয় বেদীতে বসিয়াছে কাম, প্রেম গেছে কোন দূরদেশে,

পােলাও
ব্যভিচারের
ঢল নেমেছে
প্রেমিক প্রবর যায় ভেসে।
ওই জমিদার,
আচারে চণ্ডাল,
পশু ব্যবহার করে রে।
(তার) নথিতে নথিতে
জুলুম তাড়না
আঁখি দুটী শুধু ঝরে রে ;
মুখে বাক্য নাহি সরে রে।
ঘরেতে কৃষাণী আময় কাতর,
জ্বর-কম্পনে কাপে থর থর,
জল্লাদ সম নিঠুর আকার
ধরে পাক এসে খাটিতে ব্যাগার,
করুণ ক্রন্দন না শোনে কাণে।
স্নেহ-মমতার দুর্ভিক্ষ ভীষণ,
কোমলতা প্রাণ করিছে হরণ,
হৃদয় কাটিয়া নয়ন জীবন
দুর্দিনে নাহি দেয় দরশন,
শুষ্কতা জাগে সবার প্রাণে।
( ৬ )
Brutus বলেন
আমরা হয়নি এখনও মােগ্য
আত্ম-শাসনে,
তবে ঐ নিধি তবে ও রতন
মিলিবে কেমনে?

সপ্তম হড়ী
গ তোল গা তেল
উঠ শিশু ধােও মুখ গাে,
এবার roderate গণে
ভুঞ্জিবে রাজ-সুখ গাে ।
ক্রওয়েলের লীলায়
খোচা লেগেছিল পীলায়,
কেদে যেচেছিল ষণ্ডনিকর,
এস কোথা আছ রাজরাজেশ্বর,
এ যে উত্তাপ নহে—দুঃখ গাে ।
কোথা জনমত, কোথা জনগণ ?
জানি না বুঝি না জনেন্দ্র কেমন ?
হাহাকারে ঘেরা কুটীরেতে বাস,
অনাহারে নাহি বদনেতে ভাষ।
লাজের সম্মান করিতে রক্ষণ
মরণে রমণী করে আলিঙ্গন।
রােগে জীর্ণ দেহ নাহিক জীবন,
নাহিক কেহই আপনার মন।
এ জগতীতলে ব্যথায় তাহার,
দিতে প্রলেপন নাহি মিত্র আর ।
সকল ব্যথার সেরা ঐ ব্যথা
ঘরে নাহি কারও ভাত ;
দেশের আইন ন্যায়েতে সিক্ত
প্রতি আখেরেতে তাপ।

রাজার ঘরের দুলালী ছাওয়াল
Penal Codeটী ঘাঁটি,
বেগুন চোরের নীল-দাড়া জেঁতে
ঘােড়ায় মারেন লাঠি।
আছে দেশে মন্টেগু দান,
এবার হইব ধন্য ;
ক্ষমতা এবার করিয়া জাহির
ধরণীতে হ’ব গণ্য।
লুটিয়া ভােট, হইয়া সভা,
ধরিব গগন চাদা ;
সিংহচৰ্ম্মে সাজি’ বাহিরিব
কেহ ভাবিবে না গাধা।
Sinha সাহেব Baron হলেন, ,
Eai হবেন বােস্,
গৰ্ব্বে জাতি উঠবে কেঁপে
হস্ব মতি ঘোষ।
বধ করিয়া শত পাঠা
কাল কাল মােষ,
এই সমাজের নেতা এখন
Attorney দের বােস্।
দারিদ ঘরের পাখাল টাকা
উড়ে চলে যায়,

সপ্তম হড়ী
বােসের ঘরের পঙ্গু টাকা
করে হায় হায় !!
হাড়ী কাদে অন্ন বিনা,
উদর কঁাদে ক্ষুধায়,
পেটের জ্বালায় মকূলে পরে
কে বল আর শুধায় ?
?
}
Pitt ছিলেন, Burke ছিলেন,
ছিলেন Sheridan,
,
মােদের নেতা খোঁজেন শুধু
নির্জলা সম্মান !
(এরা) নাম কিনতে বাসেন ভাল,
দেশের পূজা জানে কে,
গরীব থাকে কুঁড়ের মাঝে,
তাদের বল মানে কে ?
ঘরে কারও অন্ন নাই
নাহিক দেহে বল ;
অনাহারে মরূছে কত,
কোথা অশ্রুজল !
মিঞা সাহেব ঠিক বলেছেন,
নেতার আবার অভাব কি ?
(ও ভােলা মন) নেতার আবার অভাব কি ?
১০১

পােলাও
একতারাটী নিয়ে এস
তাড়াতাড়ি ঠাকুর ঝি,
নেতার কথা বলে দি।
গ্রামের মধ্যে Tout নেতা,
আউর নেতা কে ?
মুখুয্যেদের বিধবাবালার
যৌবন হরে যে ।
Subdivisiong Deputy Gyul,
আউর নেতা কে ?
তােষামােদের তেল কিনিয়ে
শিংটী মলেন সে।
সহরে হচ্ছেন তিনি নেতা
যিনি পহেলা নম্বর Gascado,
প্রতিযােগীর মানের তরী
To stata Torpedo.
হা বড় আর দুনিয়া ছােট,
বার যার আছে tact,
তিনিই হচ্ছেন সহুরে নেতা
যাই বল এই আদত fact.
শিবু চাটছেন সুরুর অঙ্গ,
সুরু কেষ্ট ভজেন,
আবার ইচ্ছা হলে অম্বিকাতে
শুদ্ধভাবে মজেন।
১০২

সপ্তম হড়ী
কেশব, নগেন, সাধু শিবনাথ
পেলেন নাক কলুকে,
ভড়ের মধ্যে সজল দুগ্ধ
উঠ ছে কেমন চলকে।
দেশটারে যদি উদ্ধারিবে
নীতির বাঁধন ক’স,
স্বভাবটারে ধােপ দে নিয়ে
ঐ রসেতে রস।
য়্যাডাম্‌ স্মিথ চুলােয় গেল,
উঠলােরে জেগে ম্যাসিনি,
রবির রাধার নূপুর বাজে,
টিমিকি টিমিকি রিণিকি ঝিনি।
কাঙ্গাল আমরা দারি আমরা,
দেহেতে নাহিক রক্ত,
রুধির ব্যতীত কাউন ভখিয়া
(এ জাতি) কেমনে হইবে শক্ত।
বিলাস-জেকে পিতেছে রুধির,
রুধির যেটুকু আছে,
কত শত লােক অনাহারে মরে,
আধা-ভােজী তবু নাচে।
মাথার উপর ঢেউ তুলেছে
চিকণ চুল।

পােলাও
জমার চেয়ে খরচ দ্বিগুণ
গােড়ায় ভুল।
সুতােবাচ—
শুন বৎস একবার কর অবধান,
কি কি গুণে নেতা হয় করিছি বাখান।
স্বার্থপর হবে বটে, স্বার্থপরতায়
লুকায়ে রাখিবে যত্নে মনের গুহায়।
পরদুঃখে অশ্রুজল কহিবে বর্ষণ,
করিবে না কভু অর্থ পরে বিতরণ।
প্রথম শ্রেণীর ভণ্ড যদি হতে পার,
উতরিবে Politics ভীম পারাবার।
ভাষামধ্যে সারবত্তা থাক বা না থাক,
Choice wordগুলির বসাইবে থাক্।
ম্যাটসিনির ইতিবৃত্ত আগ্নেয় ভাষায়,
হাত নেড়ে, মুখ নেড়ে বলিবে সভায়।
বক্তৃতায় সভা যেন উঠে বিকম্পিয়ে,
পরের ছেলেরে দিবে বিপদে ঠেলিয়ে।
Agitation, cogitation and
oppression বুলি, ,
জিহ্বারূপ rifleর মারাত্মক গুলি,
Affectation কিছু নহে কেবল অভ্যাস,
রাজনীতি মােযােগ প্রজ্জ্বলিত ন্যাস।
১০৪

সপ্তম হড়ী
শুভকর্মের তরে চাদা করিবে চয়ন,
আত্মতরে “সিংহ অংশ” করিবে রক্ষণ,
দৈনিকে আপন কীৰ্ত্তি করিবে বাহির,
স্তাবক রাখিবে গুণ করিতে জাহির।
Sot

অষ্টম হড়ী
( ক )
কুন্দ শুভ্র সিংহ কেশর,
তাও করিলে লালে লাল ।
সাবাস তোমায় ষণ্ড কুমার
সাবাস তোমায় নন্দলাল। *
জগতের
এমনি নিয়ম এমনি নিয়ম
কেউ বা ভেঙ্গে দিচ্ছে মরম,
কেউ বা পুনঃ ভাঙ্গা মনে
লাগায় প্রকােপ সযতনে,
কেউ বা আবার খোচার উপর
লাগিয়ে দেয় খোচা,
কেউ বা বলে দরদ ছলে
রক্ত ওর মােছা ।
নির্দয়তা সুয়ো রাণী
সতীন ওর করুণা,
বুড়ির মত ধিকিয়ে চলে
যদিও স্বভাব তরুণা।
* ডাযার
১০৬

অষ্টম হড়ী
ধিঙ্গী এবার চূড়ায় বসে
জাক কচ্ছে আপনার,
কীৰ্ত্তি কত হচ্ছে হত,
কাল অঙ্গ বসুধার ।
আগামুখী আশাছুড়ী
কাণের কাছে বকবকায়,
সােণার আলাের স্বপ্ন দিয়ে
নিরাশ মনে খুব চেতায়।
ধীরে চল মলয় বা,
বাঘে ছুলে আঠার ঘা,
হিঃ হিঃ হিঃ হা হা হা
বাঘে ছুলে আঠার ঘা।
কেতন বর্ণ হ’ল কেমন
মাছরাঙ্গা,
দণ্ডখানায় ঘুণ ধরেছে
বুকভাঙ্গা।
ম্যারাথন থার্মোপলি
হয়ে গেছে ছাই,
যদুপতি যদুপতি
যদুপতি নাই।
১০৭

পােলাও
( খ )
সত্য নাই, সত্য নাই,
দুনিয়া যেন মিথ্যে ;
মিষ্টি যা, তা চলে গেছে,
সবই যেন তিত্তে।
ঈশার ভাষা, গীতার গাথা,
চৈতন্যেরি শিখরিণী,
বুদ্ধের সেই গহিন গাহন
মেকনের ভক্তি চিনি,
এ সব যেন যাচ্চে ডুবে
পাপের কুয়াসায়,
হৃদয় যেন পাষাণ হেন
ভােগের পিপাসায়।
স্বাধীন ভাবে বল্ব কিগাে
ভাষার মাঝে gag,
Neck-tie টা পরুব কবে
গলার উপর ঘ্যাগ।
সােণার দাড়ে বসে আছি
সােণার শিকল পায়,
বনের পাখী অবাক চোখে
খাঁচার পানে চায়।
Sob

অষ্টম হড়ী
শ্রাবণ মেঘের বরণ কাল,
রূপ লেগেছে তমালে,
মনের মাঝে গুমােট বাঁধা,
মেঘটা কে গো সাজালে ?
ও মেঘেতে বিজলী খেলে,
শত কামান গাজে,
এ মেঘেতে শব্দহীন
নীরবতা বাজে।
শিরায় শিরায় কাপন ওঠে
রক্ত করে জল,
নয়নকোণে অশ্রু এসে
করে টলমল।
ফ ফ ফ হৃদয়-যন্ত্র
হচ্ছে আলােড়িত,
কাল কাল ধোয়া শুধু
হ’তেছে নির্গত।
ঘুমের মাঝে ছায়ার মত
ছায়ার দেশের প্রাণী যত
অতি তীব্র ইঙ্গিতেতে
কি যেন সব বলছে মেতে ?
রক্ত তারা খেতে চায়,
পাগলপারা চিত্তে ধায়,

পােলাও
লুটুতে বলে ছুটতে বলে
মাখতে বলে রুধির,
খেতে বলে পিতে বলে
তীব্র রুদ্র মদির।
ভেঙ্গে ফেলে গড়তে বলে
নূতন গড়া,
দর্পে আর পৈশাচ্যে
ডুবছে ধরা।
ধানগাছে ধান ফলে,
নারকেল গাছে মুচি,
খুব উড়াই ভাই ছােকা দিয়ে
টাকা টাকা লুচি।
(গ)
Ladyর জুতা কিনে এনে
পরাও ললনায় ;
(আর) গলায় দিয়ে tieটা যাদু
পূরাও বাসনায়।
যুঁই শেফালি টগর বেলা
উঠিয়ে ফেলে দিয়ে,
বাগান কর মনের মত
ম্যাগনােলিয়া নিয়ে।
১১০

অষ্টম হড়ী
ঘােমটা ঘােচাও, সি দূর মােছাও,
স্বাধীনভাবে প্রেম কর';
Nation যদি হতে চাও
ফিরিঙ্গি এ নাম ধর।
চাপে পড়ে সমাজটা যে
হয়ে পড়ছে চ্যাপটা,
(এখন) মাথার মাঝে গু জতে হবে
হ্যাটটা কিংবা ক্যাপটা।
রােগটা যে কি হচ্ছে না ঠিক,
বােকা Dr. Merrynian
দর্শনি যা লয়ে যান,
গুন্ গুনিয়ে গেয়ে গান।
গিলে দেওয়া লম্বা কেঁাচার
রেওয়াজটা কি হবে রদ,
সবাই আমরা আওড়াব কি
Nasty Nasty ড্যামের গদ ?
কুমার তার ঘুরিয়েছে ভাই
চার্ক খানা,
সরা হবে কি কলসী হবে
নাইক জানা।
আমরা হতে চাচ্ছি কি ?
আমরা হতে চাচ্ছি কি ?
১১১

পােলাও
আমরা কেমন হলে কেমন হব,
বুঝতে পাছি কি ?
অামরা স্রোতের জলে ভাসতে জানি,
জানি নাক উজাতে ;
ঠাণ্ডা হয়ে কর্তেছি বাস
চুণে পুটীর কুঁজোতে।
মনের চিতায় লক্লক করি
আগুন জ্বলে,
মনে হয় যেন স্বস্তি নাইক
জগতীতলে।
শিক্ষিত দেশ, শিক্ষিত দেশ,
শিক্ষিত মোরা কোনখানে ?
Monumental liar 0911
সমাজবেদীর মাঝখানে।
[ সন্তি !
আমরা
Democrat নই Theocrat নই
পুরােদমে Epicurean, ,
জোক জামাইএর মাকে বলি
মাঝে মাঝে “Dear বেয়ান”।
ওগো মহালক্ষ্মি, ওগাে ইংরাজের ভাষা,
এত ভজনায় তবু মিটিল না আশা !
১১২

অষ্টম হড়ী
লইলে না উপচার, rafty হয়ে বলে,
ভক্ত বলে দয়া করে না তুলিলে কোলে।
অর্থগৃঃ, Brutasএর ঘাের প্রলােভন,
Nickledy সুন্দরীর কৌতুক মােহন,
Quad Quad আর Kick the বকেটে
পূর্ণ করি’ রাখিলাম মনের পকেটে।
Cockles of the heart আরও কত কিযে,
শিখালাম শিষ্যদলে, শিখিলাম নিজে।
এবে ভাসিতেছি সদা নিরাশার নীরে,
মিটিলনা বিন্দু আশা র’লাম তিমিরে।
ওরে
ম্যানচেষ্টার কি গুণ করেছে !
তাতী মাকু ভাঙ্গে ।
মাঝির জালে মাছ পড়ে না,
চড় পড়েছে গাঙ্গে।
গোঁজ খোঁজ নিবে ঢাবা
নারদ তক্তি শানা,
এপং দেপং গন্ধ পুষ্পং
লাক ফণাফণ ফণা--
তাতীর মাকু আর চলে না
পেট ভরে না ফ্যানে,
এমন দুর্দিন দেখিনিত
সত্যি বলছি জ্ঞানে।
১১৩
৮

পােলাও
তাঁতী গেছে কুমার গেছে
কামার করূছে ধুকধুক,
Councilএর Member হতে
নেতার ফুলে উঠছে বুক
শক্তি চাই, চিন্তা চাই,
চাই আপনার জোর,
দেহি দেহি ব’লে আর
ফেলিস নারে লাের।
(ঘ )
আমাদের Energy ত বেতাে ঘােড়
আমরা এক্কা গাড়ী,
ওদের সঙ্গে পাল্লা দিতে
আমরা কি গাে পারি ?
Ruskin-পড়া, Platc-পড়া
লম্বা টাইটেল ধারী,
Artএর কথায় রাধা কমল
দেখালে এলেম ভারী।
ইনি,
Van Lear fo Angelo ute
সজান দুষ্কর,
(এর) ভাষার যেন প্রতি অঙ্গে
বেড়াচ্ছে পুষ্কর।
১১৪

অষ্টম খুঁড়ী
ইচ্ছা করে আসাম হতে
কমল মধু আনি,
কমল সখায় করাই পান
ক্ষীরের সঙ্গে ছানি।
মুস্কিল আসান নবী, মুস্কিল আসান,
পড়েশুনে যাদুবৃন্দে হতেছে পাষাণ।
শরতের কিরুরাণী, রবির বিনােদা,
জগতের কাব্যবনে যুগল মন্দার।
অশরীরী নৈরাশ্য্যেরে করিল শরীরী,
সে যে শিল্পী, মহামতি Rembrandt হতে
তাদের কৌশল (কোনমতে) নহে নিন্দনীয়।
উভয়ের তুলি যেন কোন মন্ত্র বলে
বিধাতার বর্ণপাত্র করিয়া পরশ
আঁকিয়াছে দুইজনে যুগল রতন।
গ্রাম যদি ভেঙ্গে যায়, ভেঙ্গে যাক গ্রাম,
নায়েগরা জলােৎসব তথাপি সুন্দর।
শ্রবণের লীলাময়ী কিরণ তটিনী,
উপেন্দ্র হৃদয়ে সিন্ধু ভাবিয়া যখন
ছুটে গেল আলিঙ্গিতে, হল অবজ্ঞাত,
প্রেম সে পেলে না কোথা,-দয়িত তাহার
গ্রন্থকীট, Metaphysic-মদ্যপানে ভাের।
১১৫

পােলাও -- যুবতীর অতি তীব্র ভােগলালসায়, তার সেই নিদারুণ তপ্ত পিপাসায়, একবিন্দু প্রেমবারি দিত যদি ঢেলে,- হে সংযমী, কিরণ কি সংযমের ডােরে আপনারে বন্ধনিতে পারিত না তবে ? পদপৃষ্ট ভুজঙ্গীর ফণা প্রসারন- স্বভাবের দত্ত বৃত্তি, নিসর্গ সরল। শান্ত এ জগতী-তল, প্রেমের মানুষ ; হৃদয় ছুটাতে তার অনন্তে সে চায় । উল্কা যদি হত কিরু গগন-বিহারী, চন্দ্র সূৰ্য্য বুধ আদি গ্রহগণে তবে ভয়ে অভিভূত করি’ উদ্ভান্ত নৈরাশ্যে ছুটিত সে চিরদিন গগনের বুকে। সাহিত্যের স্বাস্থ্যরক্ষা করিবার তরে ঐ প্রবাসীর নেতা ধীয়ােদাত্ত রাম করিছেন ধীরভাবে গম্ভীর ক্রোকান ; ওর শিষ্য হতে চাও, করিনা নিষেধ, So-called morals নিয়ে করুক বসতি সাহিত্য যা ইহাদের কোলে টেনে লবে । (ঙ) হৃদয় যেন গাইতে চায় বেণুর মত গলাতে,

অষ্টম হড়ী
মজে যেন বইতে চায়
উদক বাদ্য কলাতে।
সাহিত্যটা যা খাঁটি জিনিষ
সরল প্রাণের কথা,
কান্তিময়ী পেলব ইহা
নব বাসন্তী-লতা।
ওই গণিকা গণিকা সাপিনী,
ওই গণিকা গণিকা নাগিনী,
নীতির নন্দন ওদের ক্রন্দন
শুনিতে করুন মানা,
প্রকৃত মানুষ মলিমসতায়
রবে না হইয়া কাণা।
পাপ করেছে ডুবুক পাপে
কাছে যেতে ভয় কর,
এমনি তেজাল moral লইয়ে
ধৰ্ম্মবীর নাম ধর !
নবীন নবায়মান
কত্তে যদি চাও প্রাণ,
শরতের সাবিত্রীরে কর বিলােকন ।
কোথায় রসের খণি
শচীন্দ্র কমলমণি,
১১৭

পােলাও
এ-যে পােকরাজ আর গলিত কাঞ্চন।
এমন পরের তরে
যে নারীর অশ্রু ঝরে
কুন্তী হ’তে এ সাবিত্রী নহে কি সুন্দর ?
সেই ত সুন্দরতম
চিত্ত যার নিরূপম,
জীবন্ত করুণা যথা ছােটে নিরন্তর।
ভােগেতে নাহিক তৃষা,
জানেনা বােঝেনা মৃষা,
সংযমে আবদ্ধ প্রেম উজ্জ্বল কাঞ্চন ;
ইচ্ছা করে কণ্ঠে তার
দোলাইয়া পুষ্পহার
চেয়ে থাকি ভক্তিভরে সারাটি জীবন।
( ঢ )
Penal Code (sty Penal Code
তাের ভাষা কেমন আঁটা,
দোষের মধ্যে প্রতি অঙ্গে
শিয়ালের কাটা।
শুক বলে, আমার ডিপটী
(ঐ) Penal Code এর রাজা
ডকের উপর খাড়া হলেই
পারেন দিতে সাজা।
১১৮

অষ্টম হড়ী
শারী বলে আমার Munsiff
অতি শান্ত ধীর,
নথির সঙ্গে নড়েন যখন
হারকিউলিস বীর।
শুক বলে আমার ডিপ টী
T. A. আনেন যখন,
গৃহের রাণী স্মিত-মুখে
করেন আলাপন
কিছু করিতে চয়ন ;
আরাে শােন আমার ডিপটী
Sub-division এর চাই,
পূজ্য তিনি মান্য তিনি
গণ্য সৰ্ব্ব ঠাই।
শারী বলে আমার Munsiff
রামের জিনিষ শ্যামকে দেন,
Uphold, Uphold, Subjudice 172
বীরত্বে করেন গান।
সুলতাবাচ
শুন শুক, শুন শারী, কর
অবধান,
দোহাকার বিবাদের হ’ক অবসান।
১১৯

পােলাও
পূৰ্বজৰ্ম্মার্জিত পুণ্যে ডিপুঢ়ী প্রধান,
Hobby Horse' পরে এর সদা
অবস্থান।
এ র চোখে নাহি ভায়া আলাের জলুষ,
বিশ্বে যেন কিছু নাই ব্যতীত কলুষ,
পদমর্যাদার গীতি শুনায় স্বপন,
বিনয়ের মলমলে গৰ্ব আচ্ছাদন।
Code খানি মহা অস্ত্র বিধাতার দান,
পাপের বিশাল বুক হয় খানখান ;
পুলিশ ডেপুটী নয়, ডেপুটী পুলিশ,
Logic মরিয়া যায় বিষাদে হরিষ
কলিকালে তােমােদ জন্মেছে বিস্তর,
সাক্ষাতে ডিপুটী গান গাহে নিরন্তর।
Theology, Geology যত লজি আছে,
নূতন কিছুই নহে এ প্রাণীর কাছে ;
নীল, সাদা, পীত, রাঙা, আছে বর্ণ নানা,
জেঁকো, ডেপপা, চোকা, রােখা, তােম
না নানা।
ন
আর নহে, ক্রমে মাল হইতেছে কড়া,
ভয় হয় পাছে হাতে কেহ দেয় দড়া।
নির্ভয়ে মুনসেফ চিত্র করি বিচিত্রিত,
এ চিত্র আঁকিতে চিত্ত নাহি হয় ভীত।

অষ্টম হড়ী
নথি বাটা Maine পড়া বিতস্তি হৃদয়,
তবু তারে বলা যায় সাধু মহাশয়।
কপূর উবিয়া যায় পরশি’ পবনে
বিবেক কপূর উপে কাৰ্য্যের পেষণে ;
Robbing Peter এই বাক্য জ্ঞানময় ;
যেই জপে, তার হয় মঙ্গল নিশ্চয়।
নাজিরের মনচোরা উচুদর কামলা,
Often connives at the Violalion
by his আমলা
( ছ )
Blotting paper কালি চোষে,
Office চেযে কাকের তাই ;
[ হেথা ] মশা, মাছি, টিকটিকিরও
ইহার হাতে রক্ষা নাই।
[ ওরে ] দেশটা হ’লকি হ’লকি হ’লকি,
Integrity কোন খানে,
ভরা কিস্তি ডুবছে যে ভাই
কৰ্ম্মনাশার মাঝখানে।
রামের পােলা কুশ হয়েছিল
খেকীর বাচ্চা খেকী,
দস্তা দিয়ে গড়াও টাকা
নাম হবে তার মেকী।
১২১

পােলাও
ছুঁচোর গায়ে সুবাস ঢেলে
দোষ লুকাব কত,
দেশের দশা ভাবতে ভাতে
শির হয় যে নত।
অনুরাগের তপ্তানলে
বার করিয়ে প্রেমের কাথ
বাপের বিয়ে দিচ্ছে ভীষ্ম
ভাই ভগ্ন করে সাথ।
শুকনাে প্রেমে ভেজা হাসি
বুড়াের মুখে শােভেরে
মন ভােমর ঘুরে বেড়ায়।
খুদে বধুর লােভেরে।
প্রেমের যেন কষ্টিপাথর
কাচা বাগানের দীনেশে,
বাল্য বিয়ের গুণ গাহিল
বুড়ো প্রেমের আবেশে।
মুখের হাসি সবাই হাসে,
হাতে চোখে কজন পারে ?
বাল্য বিয়ের কালী কীৰ্ত্তন
বেশ গেয়েছিস আবার গারে।
গৌরীজানি ছিলে ভায়া-
তখন কেমন করে বল,
১২২

অষ্টম হড়ী
পূর্বরাগের দোলানিতে
উঠত কেঁপে প্রাণ কমল ?
কত জুলিয়ার প্রেম চণ্ডীদাস গান
শুনাইতে বালিকায় হয়ে প্রেমবান,
অবাক নয়নে বালা চাহিয়া চাহিয়া
আলিসে বালিসে শেষে পড়িত ঢুলিয়া।
স্বপনে সে পুতুলের দিত যত্নে বিয়ে,
ভাবিত সে দয়িতার অকরুণ হিয়ে।
পূৰ্ব্বরাগ আর রসােদগার ভাই
ওগুলাে সব জল্পনা,
প্রেমটা ছিল ওষুধ খাওয়া,
ঠিক বলছি ভাই গল্প না।
কলাবে কলাবৌ কলাবৌ আছিল,
ঘােমটা ছিল অর্ধ হাত ;
অনেক সাধিলে গল্প কোত্ত
“দিদিমায়ের পােরের ভাত।”
“কঙ্কাবতী লতা আমার”---
শুতে কত কাণ পেতে,
সরল প্রাণের হিল্লোল গীতি
শুনিয়া উঠতে প্রাণ মেতে।
১২৩

পােলাও
Old fool, Old fool,
আর কেন কর ভুল
পুরাতন কথাগুলি তুলিয়ে ;
চুপ কর, পথ ছাড়,
ভয়ে পুরাতনে ঢাললাে,
বিবেকেরে তােল সখা জাগিয়ে।
বৈরাগ্য ছেয়েছে দেশ;
স্বভাবে সবাই মেষ,
আত্ম-শক্তি নাহি খেলে পরাণে ;
মৰ্যাদা হতেছে চূর্ণ,
পশুত্বে ঘিরিছে তূর্ণ,
মানুযের বর্ণ-নাহি বয়ানে।
(জ)
শঙ্করের মত গুলাে সব
দূরে ফেলে দিয়ে,
কৰ্ম্ম নিয়ে খেলা কর
(যদি) থাকতে চাও জীয়ে।
জীবন নিয়ে বেঁচে যদি
থাকতে চাও ভবে,
মরণটারে আপন করে
লইতে হবে তবে।
১২৪

অষ্টম হড়ী মরণ ভয়ে জীবন যাদের লুকায় গুহার মাঝে, হায়রে তাদের কাঙ্গাল জীবন বিজড়িত লাজে। ভিক্ষার ঝুলি, দাও দাও বুলি, লুটীয়ে পড়ে ন্যাজ নাড়া, তবু কুম্ভকর্ণ নিদ্রামগ্ন, ক্রন্দনে নাহি দেয় সাড়া। লাঠি ধরে যতদিন ভবের হাটে চবি, খিদের জ্বালায় জ্বলে পুড়ে এমনি ভাবে মরবি। জীবনটারে জীইয়ে নিয়ে খেলার মাঠে চ, পদভরে কাঁপবে ধরা, করূবে টলম। Deplomacy, Deplomacy- তার মাঝেতে ন্যায়পরতা, শুকিয়ে গেছে মুখের হাসি তাইতে এমন সঙ্কুচিতা। - আমরা যাদের “My Lords” বলি দেখলে তাদের সজ,

পােলাও
হাত নেড়ে নেড়ে, মুখ নেড়ে নেড়ে,
দেখা’লে কতই রঙ্গ।
কর্জনেরই ভ্ৰাতৃভাবের
কুর্দনেতে ন্যায় ঝরা,
বিশ্ব হ’তে লুপ্ত সুধা,
মনগুলো সব বিষভরা।
সুখের জন্যে যে দেশেতে
মানুষ মানুষ খায়,
যে দেশেতে আবাল বৃদ্ধ
ম্যামন পূজা চায়,
সেই দেশেরি Ideali-m
বহুৎ বহুৎ আচ্চী
আর কাজ নেই, ভেবেই রে বাপ
ভয়েই খাবি খাচ্চি।
Dyer, Dyer: রং মেখেছে,
নহেকো উহা কালীর রেখা ;
দেড়শাে বছর পরে ওহাে
শিখলাম মােরা চরম শেখা।
চলহ সখা সবাই মিলি’
বিধির কাছে যাই,
গোসাই বলেন, সাদার বিচার
বিধিবিধানে নাই।
১২৬

অষ্টম হড়ী
সুখের ঘরে রহগগা শুয়ে
ঠাকুরজী,
কাণ কেটেছ ? বেশ করেছ ;
ভাবনা কি ?
মানুষ ছিলাম, হাঁটায়ে বুকে
করে তুলে Doddiman, ,
কর্জনেরই শক্তি থাকলে
পেতে প্রভাে শিরস্ত্রাণ ।
১২৭

নবম হড়ী
( ক )
এই বুঝি শেষ হড়ী, এই বুঝি শেষ,
বার্ধক্য আময় জরা, দেহ শক্তিহীন ;
গৃহে অগ্নি জ্বলিয়াছে, রুগ্না গৃহিনীর
মরণের আবাহন হা হুতাশ ধ্বনি
ছিনায়ে লয়েছে মাের কবিতার স্পৃহা।
অনুজেরা নহে কেহ লক্ষণ অনুজ,
পিতৃ তিরােধান সহ গুরুভক্তি টুকু
জাহ্নবীরে এসেছেন করে উহা দান।
কি কাঠিন্য হেরি এবে মুখে তাহাদের।
দূরে থাকি, তবু শুনি ভীম আস্ফালন ;
বৃদ্ধ আমি, গৃহত্যাগী, সৈকতনিবাসী,
পিতৃবন ক্রান্তি মাত্র করিনি গ্রহণ,
তবু রােষকষায়িত অব্যক্ত রাগেতে
শুনি সদা ঘূর্ণমান নয়ন তাদের।
অাজি বিশ্ব চাহিতেছে সম বেদনায়
সুমার্জিত টলষ্টয়-উদাত্ত গান্ধিী ;
আত্মজয়ী বলিছেন, দেবধ্বনি করি”
১২৮

;
নবম হড়ী
দেষ হিংসা পুড়াইয়ে, ফেলিয়ে অনলে,
মানুষ মানুষ আজি হওরে ভারত।
কি লিখিব ? লিখিতেছি আপনার কথা।
পুরােভাগে লিখিবার শত উপাদান,
এ সকল পরিহরি স্বার্থ নিয়ে বসে ?
আজ ভারতের মাঝে উঠেছে উচ্ছাস,
এনেছেন নররাজ মহাজাগরণ।
বৈদেশিক হস্তে ন্যস্ত অপূপের ভার,
ক্ষুধা ত মেটেনা তাহে; ক্ষুধার জ্বালায়
বুভুক্ষু তস্কর নামে আজি নির্যাতিত।
দুনিয়ার চোর করে সাধুরে তস্কর ;
সাধু যদি সাধু থাকে, রাজার বিধান
অসাধু করিয়ে তারে দাগা দিয়ে দেয়।
পদে ভর দিয়া দাঁড়াইতে চাও যদি,
দেখিবে রাজ্যের চক্ষু হইয়াছে রাঙ্গা;
Gypsyকি ভাল নয় তােমাদের চেয়ে ?
আরবের মরুচারী দ্য বেদুইন,
তারও মুখে বার হয় পুলকের হাসি।
আমরা কে ? বনীয়াদী গােলাম দুর্জন ;
ভগীরথ এনেছিল নিৰ্ম্মল জাহ্নবী,
পরশিয়া যার নীর নর নারী যত
মনের কলুষরাশি করিতেন দূর।
.

পােলাও
এনেছে শিক্ষিত রাজ বিশ্বের আদর্শ,
ক্ষমতায় অদ্বিতীয়, কৌটিল্যে দুজ্ঞেয়
শত শত মদ্য-লিথি ভারত মাঝারে ;
পান করি’ পাশ্চাত্যের এই সোমরস
সহস্র সহস্র নর বিনা সাধনায়
পশুত্বের নিম্নস্তরে করিছে গমন।
ভারতের রাজা কেবা ? এ রাজ্য কাহার ?
এ রাজ্য, এদেব রাজ্য, কাহার জানিনা ;
এই মাত্র বুঝি ইহা ইংরাজের করে
প্রবঞ্চক একদিন বিশ্বাস-গরিমা
নষ্ট করি, দিয়াছিল প্রলুব্ধ হইয়া ।
ওই সেই মীরজাফর কলঙ্কী দুষমন,
বদবধৎ দুরাচার নরকের কীট ;
আবার এসেছে বুঝি সেই মীরজাফর,
Magic জানেনা এ যে Logic এতে দড় ;
স্বগতঃ “সুন্দরী” কহে দাঁড়ায়ে কাননে,
Ingratitude, thou marble-hearted fiend ;
বাঙ্গালার চিত্ত,চিত্ত ফেলিয়া নিশ্বাস
বলে শুনি আকাশের মুখ পানে চেয়ে,
Blow, blow, thou winter wind,
Thou art not so
As man's ingratitude.
১৩০

নবম হড়ী
( খ )
•৭
;
বৈপিনীক বীণা ওহো স্বদেশীর দিনে
শুনে ভেবেছিনু মনে, ব্যাধের এ বীণা
ও কাকলী চালে নাই প্রেমের লহরী,
ও কাকলী টানে নাই চিত্ত রাধিকায়
সে দিনের Euripides, দামিনী-উল্লাস,
নিখিল-ভারত-গৰ্ব্ব-রবি-উদ্দীপনে
জেগেছিল বঙ্গভূমি ; তােমরা দোয়ার,
চৰ্চিত চর্বণ করি’ লুটিতে সুখ্যাতি,
কি আছে তােমাতে বল সারাল শাসাল ?
কত লেখা লিখেছিলে, এখনাে লিখিছ ;
কেঁচো ধরা জ্বণ যথা আতুর-কুটিরে
জনমিয়া মরে যায় জননীর বুকে,
তােমার Logic-সিক্ত হিজি বিজি গাথা
বাহির হইবামাত্র মরণেরে ভজে।
ভাষার মূচ্ছনা শুধু কানের ভিতর
ক্ষণিক অমিয়ধারা করে বরিষণ
ভাবহীন বলে’, ভাষা প্রাণের ভিতর
আবেগবিমর্পজাত প্রবল উচ্ছাস
কখনােতো পারিল না তুলিতে পুলক ;
তুহিন-ধবল ভাব পশ্চিম দেশের
বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে পরশে তােমার।

পােলাও
ছান্দোগ্য সজ্জাতভাব কোন্ দেবতার
হৃদয়-গােমুখী হতে হয়ে নিষ্কাষিত
নিখিল ভারতবর্ষ করিছে নবীন ?
কি বৈশদ্যে পরিপূর্ণ ভাবের লহরী !
নাহি কোন রূপসীর রূপের বিস্তার,
নাহি কোন সুন্দরীর চোখের ঠমক,
নাহি পদ্মিনীর কোন গন্ধ প্রলােভন ;
আছে করুণার হােথা লাবণ্য মাধুরী,
সহানুভূতির আছে ছন্দ-ঝরা গতি,
আছে চিন্ময়ের তরে প্রাণের আবেগ ;
আর আছে স্বাস্থ্যক্ষুন্না অবসন্না ক্ষীণা
দেশমাতৃকার তরে আগ্রহ প্রকাশ।
কি কঠোর জড়ময় পশ্চিমের নীতি ।
শাসনের blister রসনা উপর
ঢেলে দিয়ে, মুক করি’ রাখিবে তােমায় ?
বাসের অযােগ্য ভূমি হতেছে জগত ;
দুসমনে ন্যায়ের বক্ষে করুক আঘাত,
পিশুন ন্যায়ের চক্ষে দিক ধূলা ঢালি’,-
ন্যায়ের আসন ইথে টলিবে না কভু।
Christ এর মন্ত্রশিষ্য সমগ্র পশ্চিম
ন্যায়েরে কি বিকলাঙ্গ করিছে না শুনি ?
হােক তবু তােমা যদি পাইতাম সখা,-
১৩২
=

-
*
নবম হড়ী
ছাত্রভাবে নাহি হােক, মিত্রভাবে ধর,
Violence-fagfeo ferule to
শিখাতেম, নিৰ্বাচিত পন্থা তব সখা
মহাজন-পরিত্যক্ত বিনাশ-আশ্রয়।
দাসত্বের চাপে আজি কথাগত প্রাণ,
প্রতি পদে অপমান; প্রতি অপমানে
আত্মমর্যাদার বুক উঠিতেছে ফাটি
মানুষের মানবােধ ছিল না কি সখা
Logic খচিত তব হৃদয়ের মাঝে ?
জান না কি, হে কোবিদ, সম্মান-লােলুপ,
সে মৰ্যাদা চিত্ত হতে পলায়েছে দূরে ?
বন্ধুবর,
কি হয়েছে বল দেখি? হয়েছি মিথুক,
হয়েছি বিলাসপ্রিয়, কাপুরুষ, ভীরু,
শিখিয়াছি আত্ম-গান করিতে কীৰ্ত্তন,
শিখিয়াছি পরমুখে করিতে শ্রবণ
আপনার যশােগাথা, পুরস্কার দিয়া।
ক্ষমতার মঞ্চে যদি অপকৰ্মী বসে,
শিখিয়াছি তারও পদ করিতে পূজন ;
দুৰ্বল যে, প্রাণে তার জাগে অহর্নিশ
মরণের ঘূর্ণমান লােহিত লােচন ;
জীবনের মধ্যস্থলে বসায়ে মরণে
প্রাণের ব্যর্থতা দিয়ে করে তারে প্রীত।

পােলাও
}
যেদিন জীবন লয়ে আসে আগন্তুক
হর্ষে দীপ্ত চারুকান্তি বিশ্বের মাঝারে,
মরণ প্রহরীরূপে দাড়ায় শিয়রে ।
মরণ আছিল পূৰ্ব্বে জীবনসােদর,
জীবন আছিল পূৰ্ব্বে মরণের সখা,
মরণের তপস্যায় জীবন,-জীবন।
( এখন ) জীবনে জীবন নাই আছে মৃত্যুভয়,
আছে মাত্র অত্যাচার সহন ক্ষমতা ;
প্রতিবিধানের বল কে লয়েছে হরে ?
কে শিখাল ভিক্ষাবৃত্তি করিতে গ্রহণ ?
যে শিক্ষায় চরিত্রের হয় অধিষ্ঠান,
সে শিক্ষা কি আর আছে ভারত মাঝারে ?
দুৰ্বল যে, চিত্তে তার ক্ষমার উদ্ভব
কখনও কি হইয়াছে ব্ৰহ্মাণ্ড মাঝারে ?
পাশ্চাত্য শিক্ষায় সবে হতেছি দুৰ্বল,
ধৰ্ম্ম হ’তে কৰ্ম্ম হ’তে আসিতেছি সরে,
চিত্ত হ’তে ফেলিয়াছি উৎপাটন করি’
সুপবিত্র প্রাচ্যভাব আৰ্য্য ধৰ্ম্ম-নীতি।
ভুলিয়াছি বেদস্তুতি বেদের সঙ্গীত,
শিখিয়াছি রাজা হ’তে ক্ষীণ ভেদনীতি
অব্যয়ে করিতে ব্যয় অবিশ্বাস দিয়া
নবরূপে নারীমূর্তি ক্ল্যৈব্যের বিকাশ,
কোন্ বিশেষণে তােমা করিব ভূষিত?
;

নবম হড়ী
( গ )
গরজন কর সখা, কপায়ে ভারত,
তব গরিমায় আজি গর্বিত আমরা।
ধৰ্ম্মপুষ্ঠ ন্যায় এই নিখিল সংসারে
আপনার দিব্যপ্রভা করিবে বিস্তার।
ওই দেখ, চেয়ে দেখ বেথেলহাম আজ
পাইয়াছে কুশবদ্ধ মেষ পালকেরে-
আজ মক্কা কার ধ্বনি করিয়া শ্রবণ
পুলকেতে ধরিয়াছে বিনয়ের হার
শুচিমেধ্য প্রাণ হ’তে গােমুখী তরঙ্গ
তীব্রতা বুকেতে করি’ ছুটিছে ভারতে;
পবিত্রতা নিঝরিণী পুলকে মাতিয়া
বিগলিত বৃন্দাবন-হর্ষ বুকে ধরি’
চিত্তে চিত্তে ছুটিতেজে উল্লাস বহিয়া।
সদাকুণ্ঠ ছিল প্রাণ জড়তা-প্রভায় ;
আজ তারে বিকাশের পথে লয়ে যেতে
কে যেন বেনুয়ারবে করিছে সঙ্কেত।
মাথা লয়ে মাথা খেলা নহেক স্বরাজ,
দম্ভভরে প্রভুত্বের দাবানল জ্বালি’
প্রাণের বৈচিত্র হরা, নহেক স্বরাজ ;
মানুষের অধিকার মানুষকে দিয়া,
১৩৫

পােলাও
ন্যায়ের পবিত্র হর্য উপভােগ করি,
যে পুলক পায় নর,-তাহাই স্বরাজ ;
ক্ষমতার তাজ পরা কুকুট হৃদয়
আইনের প্রহরণ করিয়া ধারণ,
দুৰ্ব্বলেরে নির্যাতন পেষণ যন্ত্রণা
দিয়ে যারা বড় হয়, তারা বড় নয়,
তারা বড় নয়—এই কথা বলিবার
অবাধ শকতি, এই শকতির নাম
নৈসর্গিক, আধ্যাত্মিক, নিৰ্ম্মল স্বরাজ।
বুরােক্রেসি হৃদয়েতে নাহিক স্বরালে;
পশ্চিমের রাজনীতি অভিষিক্ত নহে
স্বরাজের প্রাণভরা শান্তির সলিলে।
ভীষ্মের ত্যাগের মাঝে আছিল স্বরাজ,
ধম্মপুত্ৰ ধৈৰ্যমাঝে আছিল স্বরাজ,
মর-কপােল Plato হৃদয় ভরিয়া
স্বরাজের চলস্রোত হত প্রবাহিত।
জড়বাদী পশ্চিমেরে স্বরাজের সুধা
পান করাবার তরে রবীন্দ্র বাউর
চিদানন্দ প্রেমস্রোতে ভাসাতে পশ্চিম
বিশ্বভারতীর গৃহ হতেছে নিৰ্ম্মিত।
;
আমার জনম-ভূমি প্রিয় শান্তিপুর
যারে বঙ্গনরনারী মানে তীর্থ বলি’,
১৩৬

;
নবম হড়ী
যেথায় অদ্বৈত-মম উদ্ধতন পিতা
জনমিয়া ভক্তিরসে চিরদিন তরে
দিব্যস্থানে পরিণত গিয়াছেন করি,
সেই শান্তিপুর মম গৌরবের খনি।
শ্রীঅদ্বৈত বক্ষ ভেদি ভক্তি তরঙ্গিনী
এনেছিল স্বর্ণপদ্ম উজানে বহিয়া,
সেই পদ্ম বাংলার শ্রীচৈতন্য প্রভু।
যার প্রেমে ভেসেছিল নহে শুধু সাধু,
অসাধুও সাধু হয়ে অকৈতব সুখ
উপভােগি’, বৈকুণ্ঠেতে গিয়াছেন চলি’
কোটি কোটি প্রাণমাঝে অদ্বৈত প্রভাব
প্রবেশিয়া, ব্যথা করিয়া সঞ্চিত,
আনিয়াছে অভিশপ্ত ভারত মাঝারে
শুদ্ধপ্রাণ মহামতি দেবতা গান্ধীরে।
প্রকাম্যের প্রতিমূর্তি গান্ধী মহারাজ
ভালবাসা দিয়া বিশ্ব করিবেন স্নাত।
চেয়ে দেখ, চেয়ে দেখ আকাশের পানে,
অধ্যাত্ম শকতি আজ পশুবিক্রমেরে
করিতেছে পরিম্লান মুহূর্তে মুহূর্তে।
প্রতিহিংসা, দানবের অব্যর্থ আয়ুধ,
ভালবাসা, দেবতার অমৃতনিছনি ;
জেতার হৃদয় হতে তীব্র দাবানলে
ভালবাসা ঢেলে দিয়ে, গুর্জরনির্জর
১৩৭

পােলাও
করিবেন শান্তিরাজ্য জগতে স্থাপিত।
জড়বাদী জড়তার ভাঙ্গি’ কারাগার,
চিন্ময়ের প্রেমে প্রাণ করিবে শীতল।
হে বন্ধু!
অঞ্জন তােমার চোখে জ্ঞানাঞ্জন আজ
প্রদান করেছে ভাই, চা’হ আঁখি মেলি’ ;
ইচ্ছা করে, একবার বিপিন তােমার
প্রহ্লাদ জ্ঞানেরে ভাই বুকে টেনে লই,
তুমি যে জ্ঞানের পিতা প্রদ-জনক।
মানুষ পাশবতা দুইটী সুন্দরী
বিজন হৃদয়মধ্যে দেহে করে বাস ;
পাশব শক্তিময়ী কৌশলে সখীরে
কুরস করায়ে পান করে সংজ্ঞাহীন
পশুত্বের সে কৌশল আজ ম্রিয়মান,
বিধাতার দান ওই মধুর প্রেরণ
পশুতায় নির্বাসিত করেছেন ধীরে।
•
ওই দেখ মতিলাল নিৰ্ম্মল শশাঙ্ক
জ্ঞানের ধবল জ্যোতি-বিকশিত প্রাণ ;
ওই দেখ মােজাহেদ তেজস্বী আজাদ
আত্মােৎসর্গ করেছেন ধর্মের লাগিয়া ;
ওই লিলিরাণী, 'ওই বান্ধব Stokes,
১৩৮

•
নবম হাড়ী
বরিশাল ধন্য করা শরৎকুমার,
আমার গৌরব-বৃদ্ধি সরল নৃপেন,
ওই ভগ্নী সরােজিনী কল্যাণী সরলা,
মনস্বিনী তেজস্বিনী-সাবিত্রী সাবিত্রী
জ্ঞানরসাপ্লত ওই প্রতিষ্ঠ জিতেন,
ন্যায়ের চরণে যিনি সঁপেছেন প্রাণ,
যার চক্ষুদ্বীপ্তিস্পর্শে অযুক্তি পালায়,
তার ছবি আজি সখা কর বিলােকন
শিশিরের প্রতিচ্ছবি বঙ্গ মতিলাল,
লিত মৌক্তিকধারা যার লেখা হতে
পশুশক্তি বুকে অগ্নি করে উৎপাদন,
শান্তশীল সে লেখায় আস্বাদে অমৃত।
গােলাপ-সুবাস ওই মধুর সুভাস,
স্মরণে যাহার কথা নেচে উঠে প্রাণ,
শতদল শাসমল, যার পরিমলে
সমগ্র ভারতভূমি আজ বিমােহিত ;
ওই দেখ, চেয়ে দেখ, বাসন্তী হােথার
বিলাসের ভন্মরাশি মাখিয়া শরীরে
জগদ্ধাত্রী মুর্তি-ধরি’, দ্বারে দ্বারে দেবী
নবীন আশ্বাস বাণী করিছেন দান।
দম্ভ আজি দূরে ফেলে, প্রমাতা সুন্দর
চারিদিকে দেখ চেয়ে দেবতার ছবি
রাষ্ট্রশক্তি যত কেন হউক বিকট,-
•
-

পােলাও
অদম্য, অপরাজেয়, দুর্ধর্ষ, ভয়াল,
সে শক্তি ও হয় লীন তাহারি ঈক্ষণে
যাহার বৈদগ্ধ্যে বিশ্ব এত মনােরম।
১৪০

দশম হড়ী
{ ক )
ছায়া হইতেছে দীর্ঘ, শরীর দুর্বল,
স্থবিরতা বেড়িয়াছে জীবনের মুল,
শ্লথ গ্রন্থী, শিথিল ধমনী অবসাদে,
কোথা শক্তি এসাে নেমে, কিছুদিন তরে
উদ্যমে প্রবুদ্ধ করি’ রাখ রাখ দেবী,
ফুকারি’ উঠুক আজ হৃদয় বাঁশরী ।
Kartophilos ওই দেখ নিৰ্ম্মম হইয়া
যিশুরে আমার করে দারুণ প্রহার।
জগতে শান্তির রাজ্য করিতে স্থাপন
যে তেজস্বী নরসিংহ মহাসাধনায়
সিদ্ধকাম হয়েছেন, তারি বুকে আজ
নিষ্ঠুরতা করিতেছে বাণ প্রক্ষেপণ ।
মনুষ্যের শক্তি, অভিজাত্যের গরিমা
চূর্ণীকৃত একদিন হইব নিশ্চয় ।
ভগবান করেছেন সত্যেরে সুন্দ,
ভগবান করেছেন ন্যায়েরে অটুট,
মঙ্গলময়ের রাজ্য হইবে মধুর,
১৪১

পালাও
}
অত্যাচার উৎপীড়ন পলাইবে দূর।
বিদেশের হাতে লাঞ্ছিত হ’তেছে দেশ,
জন্মজাত অধিকার ভারতের নাই ;
কোটি কোটি নরনারী হয়েছে ভিক্ষুক,
শ্ৰীমন্তেরা তােষামােদ কণ্ঠে বাধিয়াছে,
পদসেবা হইয়াছে জীবনের সার ;
সত্য সহ সাহচৰ্য্য করেছি বর্জন,
সত্য আসে, বুকে তারে করি’ পদাঘাত,
পদাঘাত করে যথা নিৰ্ম্মম সার্জেন্ট
শান্তি-সেনানীর বক্ষে প্রভুত্বে মাতিয়া।
ভারতের সিংহাসনে সমাসীন বীর
ঘােষিছেন চণ্ডনীতি রণরঙ্গে মাতি;
England এর prestige করিতে রক্ষণ, ,
একশত চুয়াল্লিশ বৈদ্যুতিক পট
গ্রামে গ্রামে জনপদে হয়েছে দোদুল ;
একশত চব্বিশেতে এই পটখানি
কে বলিবে পরিবর্ত না হবে অচিরে ?
শিরায় শিরায়, দাসত্বের নিম্মম গরল
কার নাহি প্রবাহিত হইতেছে আজ ?
স্বাধীনতা সাধনার পূত পীঠস্থান
ইংলণ্ডের কবপ্ন জনশক্তি যেথা
John এর মুকুট হ’তে লয়েছিল কাড়ি
প্রজাস, প্রজার অবাধ অধিকার।
১৪২

দশম হড়ী
ভারতের জনশক্তি চাহে নাক Magna Carta ;
বিধাতার রাজ্যমধ্যে চায় তারা শুধু
বাধাশূন্য, নৈসর্গিক, বসন্ত-বর্ধন ;
মানুষের কাছে চায় মানুষের দাওয়া ;
আত্মসম্মানের দেহ অক্ষুন্ন রাখিতে
ভারতের নবশক্তি করিছে হুঙ্কার।
চায় ইহা,–জড়বাদী জগতের বুকে
তপােবন-সমুখিত ভূমা হৰ্ষরাশি
ঢেলে দিয়ে—সুশীতল করিতে ধরণী।
পতঙ্গের পক্ষ ছেদি’, নিষ্ঠুর যেমন,
উড্ডীন প্রয়াস তার ব্যর্থতায় ভরা
নিরখিয়া মনে মনে হেসে সুখী হয়,
সেইরূপ অললালুপ শান্তিসেনাদলে
বদ্ধ করি’ কারাগারে, শাসকের দল
মহান উগভােগ করিতেছে মনে।
গরিষ্ঠ বিধান, মান, শৃঙ্খলার তার,
রক্ষণ করিতে আজ ন্যায়রস-পায়ী
মহামতি রেডিঙএর হৃদয় চঞ্চল।
ভারতের শান্তিসেনা চায় না রুধির,
প্রেম দিয়ে চায় এরা কিনিতে উৎকট
করাল দানবশক্তি পাশব পিপাসা।
হায় ইংলণ্ড দেব ভূমি, তােমার উদার
১৪৩

পােলাও
ন্যায়বাদী ভারতের বুয়ােক্রেশীদলে
কেন ঠাই দিয়াছিলে কলঙ্ক কিনিতে ?
এ যে বিধাতার রাজ্য, যিনি পরাৎপর,
যার চোখে ধূলি দিতে নন্দনেরা তাের
কত যত্ন করিতেছে। পৃথিবীর কাছে
ন্যায়ের কনকতুলা ধারণ করিয়া
ঘােযিছে মা উচ্চকণ্ঠে কাপায়ে ভুবন,
“বিধির বিধান হতে ইংলণ্ড বিধান
উচ্চ যদি নাহি হয়,—সমান সমান।”
পশ্চিমের প্রাণ নাই নাহিক শ্রবণ,
বুভক্ষিত স্বার্থ তার চায় উপভােগ ;
পীড়ন যে করে তার হৃদয় ছাড়িয়া
মনুষ্যত্ব কোন দূরে যায় পলাইয়া !
একে একে নিভি’ছে অম্বরে নভঃশােভা,
শালিপিষ্ট সম দীপ্ত নক্ষত্র নিকর ;
সেবকের ‘শ্যাম’ আজ কারার গুহায়,
প্রভাত কি হবে নাকো স্বপনের মাঝে ?
—শুনি সদা সিংহনাদ শাল গর্জন।
করি নাক রাজ্যলােভ, হে ক্ষাত্র ইংরাজ ;
বােয়ােদ্বেল চিত্তে তব প্রাচ্য শান্তিরাশি
ঢেলে দিয়ে, ঋষিকল্প করিতে তােমায়
ভারতের বীরগণ উঠেছেন জাগি।
তব কষ্ট নেত্র মাঝে দেখিবারে পাই
;
১৪8

দশম হড়ী
সেই মুর্তি, যে সময় কাননে কাননে
রং মেখে নগ্নভাবে করিতে অটতি।
বাহ্য সভ্যতার ধার ধারি না আমরা,
আধ্যাত্মিক অমরতা উপলব্ধি করি’
সারাৎসারে পেতে প্রাণ সতত আকুল ;
আত্মশুদ্ধি আত্মজয় মুক্তির কারণ।
পশ্চিম কি সে শুচিতা করিবে গ্রহণ ?
(খ)
স্নেহে ধন্য আছিলাম সুরেন্দ্র তােমার,
সিসিবাের কণ্ঠ-চোরা বাগীশিরশােভা।
আত্মহত্যা মহাপাপ, এ কথা জানিয়া
কেন ভদ্র হেন কাৰ্য্য করিলে সাধন ?
আজ তুমি নােটারীর ভূষিত ভবনে
তাহাদেরই সঙ্গে রঙ্গে ভুঞ্জিছ হরষ ;
উদ্দাম যৌবনে তারা তােম সর্প ভাবি
ভগ্ন করেছিল ওই পীন কটিখানি,
সে আঘাতে তুমি বড় বিক্ষুব্ধ হইয়া
সিন্ধু গরজন করি’ উঠেছিলে বলি,
"Lo, in liberty's uncloudud blaze
We lift our heads, be what it may."
আশার সহস্রদীপ একটী ফুৎকারে
১৪৫

পােলাও
নিৰ্বাপিত করেছিল বল দেখি কারা ?
দিবসের ছাদ ভরা সুখের আলােক
ক্ষমতার ব্যগ্রগতি, উদগ্র প্রভুত্বে
দল বেঁধে লয়েছিল কারা বল কাড়ি’ ?
মনে হয় সেই দিন, গােরাগত প্রাণ
পরম বৈষ্ণব সাধু শিশির কুমার,
তােমা তরে জান নাকি কাপায়ে কানন,
কাপায়ে নিখিল বঙ্গ তুলেছিল বােল।
গঙ্গাগােবিন্দের তেজ ফুটুক তােমাতে ।
Repression tank od starice Jehu,--
বুক দিয়া আরও তুমি ঠেলে দাও সখা।
চণ্ডনীতি সদাপ্রসূ ; নিমেষে নিমেষে
বিদ্রোহ প্রসব করে, কেন জানে উহা ?
হে সচিব,
ম্যালেরিয়া পুতনার বালকৃষ্ণ তুমি,
দেখিতেছ জনসিন্ধু সদা অচঞ্চল,
প্রতিহিংসা পােড়ায়েছে ভালবাসা দিয়া;
প্রাচ্য নহে রুধিরের উদ্দাম পিপাসু,
এ যে তপস্বীর গেহ ওই দেখ দূরে,
মহাসাধনায় ত্রাতা সিদ্ধি লাভ করি,
করিছেন অন্নহীনে পীযুষ প্রদান।
১৪৬

দশম হড়ী
কোথা হতে এল বল নিৰ্মম অভাব, .
তোমার এ নিদারুণ সুবর্ণ পিপাসা ?
ছিলনা সংযম, তাই সহস্র যুবক
ভেবেছিল গুপ্তহত্যা ত্রাণের উপায়
তাই তারা বিপ্লবের আলিয়া আগুন
ক্ষমতার তীব্ৰানলে মরেছিল পুড়ি।
এজগতে বীর ব’লে কারে আখ্যা দাও ?
নিষ্ঠুরতা দিয়ে গড়া ওই যে জেঙ্কিন্স,
দোর্দান্ত প্রতাপশালী পতিত কাইজার,
বীর যদি হ’ল ভবে, অবীর কে তবে ?
• হে সুরেন্দ্র, সেই দিন মনে কিহে হয়,
শালগ্রামশিলা-মান অক্ষুন্ন রাখতে
“জষ্টিস নরিস” মুখে দেখেছিলে তুমি
নির্দয়তাভরা সেই জেফিরির ছবি।
সুহৃদ অম্বিকা-কুঞ্জ ওই ফরিদপুর,-
গ্রাজুয়েট তুমি ভদ্র, দেখহ নিতম্ব
বেত্রের আঘাতে উহা জর্জরিত কি না
ভারত আপন ধৈৰ্য কাঙ্গাল সন্তানে
করেছেন দান, তাই শত অপমানে
ধৈৰ্য্যচ্যুত কোন দিন হইবে না এরা।
তুমি মাতৃহীন দাদা, আমিও গাে তাই ;
১৪৭
'

পােলাও
চেয়ে দেখ ওই মূর্তি নারীর গৌরব,
যার চক্ষে জ্বল জ্বল জ্বলিছে অনল,
যার বপু হ’তে ঝরে মর্যাদার ধারা,
যার প্রাণ বিমণ্ডিত অটুট বিশ্বাসে;
ধৰ্ম্মের রাখিতে মান যে মহিলা আজ
যুগল তনয়ে দেয় সিংহের কবলে ।
ওই ওই ওই দেবী ওই দেবতায়,
বারেক ‘মা’ বলে ডাক প্রাণের সুরেন,
দূরে যাবে দুখ, হবে উজ্জ্বল সুন্দর।
নির্জনে বসিয়া আমি উদ্দেশে দেবীরে
মা, মা, মা, মা, মা, মা, বলে ডাকি কতবার ;
যতবার ডাকি, প্রাণে নব বল আসি’
আমার প্রাণেরে করে তারুণ্য প্রদান।
( গ )
নূতন আদেশ বহি’ নব বুদ্ধদেব
মুক্তির বারতা আজ এনেছেন হেথা;
নবীভূত হয়ে বিশ্ব উঠিছে হাসিয়া,
প্রদোষে উষার রাগ আকাশের গায় ।
নিষ্ঠুরতা-কেশরীর ক্ষুধা হলে দূর
শান্তির হৃদয়ে সে গাে পড়িবে চলিয়া।
বিশ্ব হতে মনুষ্যত্ব গিয়াছে যে দূরে
১৪৮

দশম হড়ী
opatrog opfifo Molach Mamon
অধিকার করিয়াছে নিখিল জগত।
অদিতির সনে আজি দিতির আহব,
এ আহবে রক্ত নাই, প্রাণীর নিধন,
নাহি দ্বেষ, প্রতিহিংসা। আছে প্রেমদান ;
দৈত্যকে অমৃতদানে করিছেন দেব
ভারতের নবীভূত দ্রোণচাৰ্যবীর ;
সর্বাঙ্গে মাখিয়া দৈন্য বিনয় বৈষ্ণব
ধরেছেন স্বর্গচিত্তে জ্যোতির্ময় জ্যোতি ।
ওই জ্যোতি কাঙ্গালের ক্ষুধা কেড়ে লয়,
পিশুনের বুকে ঢালে সরলতারাশি,
জাগাইয়া তােলে প্রাণ মাতৃমমতায়,
সত্যের হােমাগ্নি শিখা চিত্তমাঝে জ্বলে ।
আজ বঙ্গ কবিকুঞ্জে উদ্দীপনা নাই,
সেফালি কর্ণিকারসে সিক্ত সিচয়ায়
প্রসাধিতা প্রমােদার পিরীতে বসিয়া
“কিরণ” উজ্জল রসে দিতেছে তার।
মরালের কলধ্বনি করিয়া শ্রবণ
মনে ভাবে, প্রেয়সীর যাবক-রঞ্জিত
কঞ্জ-চরণের হবে নূপুর নিক্কণ ।
মঞ্জুল “মােহিতলাল” শিল্পিকুলরবি
ভাষার কোমল মঞ্চে ঢালিছে লাবণ্য ;
প্রণয় মদির পায়ী যুবনী “হেম,”
১৪৯

পোলাও
নিশীতে প্রিয়ারে তার জাগাইয়া সুধু
চাদের আলােয় বসি’ দেখে মুখখানি।
সূক্ষ্মদর্শী প্রিয়ভাষী ঠাকুর সুধীন,
তালীবন অন্তরালে শেলি ও কীটসের
অপরূপ সমবায় নিরীক্ষণ করি’,
লুফে নিয়ে “করুণা”রে, আবিষ্কার কথা
জানাইল গৌরজনে,—সেই দিন হতে
হর্ষে মকরন্দধারা এই গৌড়বাসী
পান করি চরিতার্থ হয়েছিল সব।
এই আদরের কবি আমার “করুণা”,
প্রকৃতির রসপায়ী, সােহগের নিধি,
আজ কি না শুভ্র পদ্ম,তড়াগে নামিয়া,
পরাগে মাখিয়া হাত,আহরণ করি,
যুনিভাসিটির যিনি বিধাতা পুরুষ,
বিধাতার বলে যিনি Equityর রাজা,
অমিত বিক্রমশালী তেজস্বী মহান,
সেই আশুতােষে অর্ঘ্য করিছেন দান।
(ঘ)
জ্বলজ্জ্যোতি কলাযুতা ও সেমুণী কার,
ছুরিত বিভায় যার বঙ্গ আলােকিত ?
বিদ্যাতপে সিদ্ধকাম, জ্বলন্ত পাবক ;
গরিমার আসনেতে সদা সমাসীন,
তেজবন্ত মহাতপা দুর্বাসা সমান।
১৫০

দশম হড়ী
এই প্রতিভায় যদি আকাশ উপর
স্থাপিতেন মহাপাতা, জ্যোতিতে ইহার
চিত্রাতি ম্রিয়মান হইত আপনি।
স্বাধীন রাজ্যেতে যদি লভিতে জনম,
বিসমার্ক বা ডিরেলীর প্রতিভা-আলােক
বিবর্ণ হইয়া যেত ওপ্রভা হরিয়া।
যুক্তি তব তর্ক সহ কেশরীর ন্যায়
চলে যবে, মহিমার তুলিয়া হিল্লোল,
সত্যের সন্ধানে,-গতিভঙ্গী তার
কত যে মাধুর্যে ভরা বুঝে সেইজন,
চিত্ত যার যুক্তিরসে সদা পরিপ্লত।
বীরত্বে উঠে না জাতি, যে বীরত্ব মাঝে
জাতির আলােক ভাষা না থাকে জড়িত ;
জাতীয় চিন্তায় সিক্ত নহে যে বীরতা
সে বীরত্বে সিংহবীৰ্য্য না হয় প্রকাশ,
সে বীরত্বে ভীষ্মশৌৰ্য্য উঠে না ফুটিয়া ;
মনােরমা বাংলার মনােরমা ভাষা,
তােমার উৎসাহে আজ সে যে জ্যোতির্ময়ী ;
মন্দাকিনী বহে যায় কলুষ নাশিয়া,
বঙ্গভাষা ধূনী চলে মাতায়ে হৃদয়।
ঋষিবর ওনদীর সৈকতে বসিয়া
রম্য গীতাঞ্জলি-গাথা উদাত্ত আরাবে
উচ্চারিয়া, মন্ত্রমুগ্ধ করিছে জগৎ।
;

পোলাও শ্যামল বঙ্গের শােভা অতুল জগতে ; বাঙ্গালীর গীতিগাথাতুলনা ইহার নাহি ‘হায়েনে’র কুঞ্জে, ‘দান্তে’র বিপিনে তুমি সে ভাষার প্রাণ করেছ প্রতিষ্ঠা, গর্বিত বাঙ্গালী আজি তােমার প্রভায় । লবণাক্ত সিন্ধুবারি, শশাঙ্কে লাঞ্ছন, দীপমূলে অন্ধকার,তথাপি ইহারা প্রত্যেকেই রমনীয়, প্রত্যেকে মহান ; দোষ যদি থাকে থাক্‌, দীর্ঘ বিশালতা স্ফটিক-নিৰ্ম্মলচিত্ত উদাত্ত চরিত- গর্বের জিনিষ উহা, সাধনার ধন । তবু যেন মনে হয়, ধীরােদাত্ত বীর স্বার্থ তার দূরে ফেলে, দূরে ফেলে নিজ ক্ষুদ্র প্রভুত্বের স্পৃহা, অমিত বিক্রম, ছিন্ন করি’ সুখ্যাতির বীণার ঝঙ্কার, মৃদঙ্গে মল্লার-রাগ আলাপন করি, মাতৃপূজকের দলে যােগদান দিয়া ডুবাতেন নিজ প্রাণ অমিয়-পাথারে,- এ বঙ্গ, ভারত-অঙ্গে স্যমন্তক সম উচিত ঝলকি’, দদ্দ রী-ভক্ষকগণ পুচ্ছগুটাইয়া সব চুকিত গুহায় ; তাই যদি হত, তবে গৃহী আশুতােষে শূলপাণি রূপে বঙ্গ করিত দর্শন। ১৫২

দশম হঁাড়ী
( ৬ )
হােথায় রাজেন্দ্রদেব, লালাটে যাহার
ভাগ্যদেবী দিয়াছেন প্রাচুর্যের টীপ,
ওই বসে কালিদাস কাব্যকামধেনু,
ওই বসে রসময় রসিক প্রবর,
আরাে কত পাত্র মিত্র রহিয়াছে বসি,-
হায় সখি, কেমনে বর্ণিব এ সভা-গৌরব ।
ইচ্ছা করে তােষামোেদ হাঁড়ী বেঁধে গলে,
অমন মরীচি-মাখা ভাগ্য-সরােবরে
ঝাঁপ দিয়ে, দৈন্য হ’তে লভি পরিত্রাণ ।
শুভক্ষণ উপস্থিত, মুক্তি সন্নিকট ;
বাংলার কবিবৃন্দ, হায়রে কপাল,
প্রােষিতার মনােভাব মনের আকুতি
চাদের শীতল বুকে আছে যেন লেখা,
নিথর নয়নে তাই শশী পানে চেয়ে
সুধার আখরে লেখা প্রিয়ার মানসে
বিরহ বেদনা রেখা করি’ অধ্যয়ন,
মন্দীভূত করিছেন সন্তাপ অনল ।
বাংলার কবিকুঞ্জে নাহি কি Russel,
উদ্দীপনা অগ্নি দিয়া জ্বেলে দিতে আলাে ?
পল্লবিতবা ওই চটুল কুমুদ,
উচ্ছরিতরশ্মি সুধী সুধীর কুমার,
}

পােলাও
লাবণ্যস্ফরিতভায মধুর সুরেশ
এত কবি, কাব্যে কেন উদ্দীপনা নাই ?
নব্য ভারতের কবি প্রাণের গােবিন্দ,
তারে স্মরি’ আজ আঁখি আসিছে ভিজিয়ে,
“স্বদেশ স্বদেশ করিস তাের, এ দেশ
তােদের নয়”-
নিশীথে মানস-পাখী ওই গীতখানি
ভারতের আকাশেতে কেঁদে কেঁদে গায় ।
-
১৫৪

একাদশ হড়ী
[ রবীন্দ্রের ]
তিতাল্লিশ বর্ষ আজি কোথা গেছে চলি,
চলে গেছে বুকে লয়ে কত মধু মধু।
আষাঢ়ের কষ্টিকালনীর লীলায়
উদ্বেল করিয়া ব্যোম, বাড়ায়ে গরিমা
নবীন তৃণের দলে, বাদলের রাণী
গেছে চলে,--কত শত কবির হৃদয়ে
কজ্জল সুষমাধার বরিষণ করি।
একদিন মনে হয়, যেদিন জগৎ
চোকের সম্মুখে তার সৌন্দৰ্য্য সম্ভার
খুলে দিয়ে করেছিল উন্মত্ত আমায় ;
সেই একদিন কোন এক Romance'র স্রোতে,
কবিতা-সুরভি-মাখা সান্নিধ্যে তােমার
উপনীত হয়েছিনু নবীন বৈশাখে ।
তখন
উদ্ভিন্ন যৌবন তুমি পঞ্চমীর শশী,
মিগ্ধোজ্জ্বল রাকা-শশী আছিলে প্রভায়।
প্রহরেক কাল, দেহে বসিয়া নির্জনে,
বৈষ্ণব কবিতা চর্চা করিতে করিতে
১৫৫

পােলাও
অতিভূগামিনী তব শক্তি নিরখিয়া,
মৰ্ম্মজ গরিমারাশি ধিক্কার অনলে
পুড়াইয়া, ভক্ত হয়ে আসিলাম ফিরে
ধীরে ধীরে ক্রমে তুমি উঠিলে ফুটিয়া ;
‘নিঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ যে প্রভাতে সখা
আঁধাভরা গহ্বরের উল্লঘি’ প্রাচীর
বাহিরিল, আলােকের পুলক মাখিয়া
সার্থক করিতে প্রাণে মহিমার পায়,
প্রেমমাখা নীরধারা করিতে প্রদান,
সেইদিন
নিঝরের মধুমাখা গজল শুনিয়া
শেলির চাতক গেল মেঘেতে মিশায়ে
উর্বশীর যৌবনের নিঙাড়ি লাবণ্য
যেদিন ছড়ায়ে দিলে বাঙ্গালীর গেহে,
“A thing of beauty is joy forever"
হারাইল সেইদিন মধু ব্যঞ্জনায় ।
বরষার শিখীসম চন্দ্রক কলাপ
বিথারিয়া যেই দিন দাড়াইলে তুমি,
বক্ষে ধরি’ বিমোহিনী চিত্রাঙ্গদা ছবি,
সেইদিন দেখিলাম, সে চন্দ্রক মাঝে
মহা কালিদাস মূৰ্তি করি’ছে বিরাজ।
সেই দিন, সে মুহূর্তে প্রতিভার কাছে
জুলিয়া পড়িল শির, হলাম স্তম্ভিত।

একাদশ হড়ী
বাহিরিল চিত্রাঙ্গদা সাঙ্গোপাঙ্গ সহ
নীতিরাজ, দূরে ফেলি’ whisky bottle
মত্ত Deddington সহ উঠিল ফুকারি’ ;
কেহ রাসভিল, কেহ হেবিল সরােষে
এই বলি’, “তাহাদের নীতি রাজ্য মাঝে
দুর্নীতিপ্রবণ রবি দেছে অগ্নি জ্বালি।”
তারা আর কেহ নাই সব গেছে দূরে,
তুমি আছ দাঁড়াইয়া; রবে দাঁড়াইয়া
যতদিন হিমাদ্রির না হবে পতন।
স্বদেশীর দিনে তােমা কবীন্দ্র কেশরী
দেখেছিনু যে বিগ্রহে, সে বিগ্রহে আজ
দেখিতেছি মহাপ্রাণ গান্ধীরে আমার।
‘পদভর দিয়া যারা দাঁড়াতে না পারে
জগতে তাদের বল আছে কোথা স্থান,
এ মন্ত্র কি ঢাল নাই বাঙ্গালীর কানে ?
দ্বাদশ বরষ এবে হয় নাই গত,
সে দলিলে ধরে নাই তামাদি মালিন্য
কে আনিল অপবৰ্ত্ত হৃদয়ে তােমায়,
এ পরিবর্তের মূল কোথা বল কবি ?
বাঙ্গালী হৃদয়ে, ইথে কভু উদ্দীপনা
উত্তেজনা উৎসাহের জলন্ত অনল
জ্বলিবার আশা তুমি না দেখিয়া বুঝি,
আজ প্রকৃতির রূপে দিয়াছ সঁতার!
১৫৭

পােলাও
সুন্দর, মন্দারবনে তােমা, হে কবীন্দ্র,
লয়ে গিয়া শুনাইছে বাঁশরী তাহার ;
আকাশ-সমান প্রাণ ভরিতেছ সখা
গন্ধমাখা অনাহত মুরণীর গানে।
জগতের কেন্দ্র স্থলে দাঁড়াইয়া তুমি
যেই মন্ত্র উচ্চারিছ,-শুনিয়া সে ধ্বনি
পৃথিবীর শ্যাম অঙ্গ নিবিড় শ্যামলে
হইতেছে লীলায়িত, অনন্ত পুলকে
উচ্ছসিত হইতেছে প্রকৃতির বুক।
দরিদ্র বাঙ্গালী আজ, তার অনুভূতি
পঙ্গুত্বের জড়িমায় হয়েছে নিশ্চল।
সাড়া তারা দেয় নাই, কলকণ্ঠ, তব
সাহানা-গলিত বাক্যে,—তাই অভিমানে
যেথায় অক্ষুন্ন প্রাণ করিছে বিরাজ
সেইস্থানে করিতেছ মুরলী বাদন !
অথবা
পশ্চিমের মধুময়ী অপূৰ্ব্ব মায়ায়
বাঁধিয়াছে তােমা, তাই এঘাের দুর্দিনে
বৈরাগ্যের মালা তুমি করিতেছ জপ।
রবিরে অরবি বুঝি করিয়াছে ওই
পশ্চিমের ovation; শাৰ্দলি সভ্যতা
মার্কিণে করেছে ক্ষীণ। wilson তার
কত কালী মেখে গেছে ফিরে নিজ দেশে ।
;

একাদশ হাঁড়ী
?
আত্মহত্যা করিতেছ, মরিছনা শুধু,
বাণী যে করেছে তােমা অজর অমর।
পশ্চিমের সব যশ আনিয়াছ লুটি,
এখনাে কি যশােলিষ্প ভাঙ্গিলনা সখা,-
কি শুনিছ বল দেখি ভারত গৌরব
ওই বুঝি কাৰ্বাফিল্ড, মধু স্মেরাননে
ডাকিছেন তােমা সখা করিতে রসাল,
রক্তপ্ৰাণ পশ্চিমের শুষ্ক আকাঙ্ক্ষায়।
সাহিত্যের কারাগারে যৌবনের রবি
আছে বাঁধা ; মধুর নিষ্ঠুর প্রিয়তম,
যাও তুমি ফিরে যাও, চাহিনা তােমায়।
দুরাকাঙ্ক্ষা বুকে বেঁধে, রমণীর প্রেমে
জীবনের সর্ব সুখ করিয়া গণনা,
এন্টনি পাইয়াছিল পরাণে বেদন।
কালী হয়ে উঠেছিল সিজরের বুক ;
আপন সমাধি সে ত গড়েছিল নিজে।
উচ্চে তুমি উঠিয়াছ, পতনের তরে
হ’তেছ প্রস্তুত কেন হে যশঃমদ্যপ ?
বিশ্বভারতীয় ওই অট্টাল বিশাল
একদিন ভারতের ছিল অধিকারে ;
নালান্দার রম্য হৰ্ম্ম করি’ছ নির্মাণ,
হে ইথারপায়ী কবি, কাহাদের লাগি’ ?
‘পঞ্চলি’ ‘নবজলি’ শতজ্বলি কথা

পােলাও
আন্দোলন কর যদি, ডাকহ ব্ৰজেন্দ্রে,
ডাক আশুতােষে, ডাক ঐনিবাস ধনে-
নিজস্বার্থে যে মহাত্মা কোব্বানি করিয়া
রম্য সিডনির মাঝে, ভীষণ ক্ষুধায়
করিছেন মন্দীভূত Esculent ফুডে।
অ-Sir এখনােওই নৃপেন্দ্র সুন্দর,
উপাধিসাগর কূলে বসিয়া যে জন
গণিছেন উর্মিমালা, আহ হারে
অভিনব নালান্দায় অধ্যয়ন আশে।
ধনী তুমি, অভাবের সহিত কথন
হয় নাই দেখাশুনা জীবনে তােমার ;
(তাই) মর্ত্যের সৌন্দৰ্য্যস্পৃহা গেছে সাঙ্গ হয়ে,
কামিনী আকৃষ্ট যানে করি’ আরােহণ
কল্পনার সহ তুমি নন্দনকাননে
মারের মধুপানে হয়ে থাক ভাের।
তুমি আজ জগতের, ভারতের নও;
ভারত জগত ছাড়া ; বিচার বিধান নীতি
ইথাকার দৈন্তপূর্ণ সকলি অদ্ভুত।
হে কবি, হে মহাপক্ষি, শান্তি নিকেতনে
Utopiaয় পরিণত করিয়াছে বুঝি
cotta 799to promethean heat.
ভারতের ঘরে ঘরে ক্ষুধানল সদা
জ্বলিতেছে, মর্মন্তুদ হাহাকার ধ্বনি
১৬০

একাদশ ঘড়ী
আকাশের মহাবক্ষে করিছে আঘাত,
অকরুণ বিধাতার পাইতে আশীষ।
বিশ্বচক্ৰ-ঘূর্ণনের বিকট ঘর্ঘর
শুনিবার শক্তি তুমি করেছ অর্জন।
কিন্তু ক্ষীণ দারিদ্র্যের করুণ বিলাপ
অবিদ্যা-আনায় বদ্ধ, দুর্ভাগ্যপ্রেরিত,
ক্ষুধাক্লিষ্ট, অর্ধভুক্ত, মানবের
মৌন বেদনার তীব্র মৌন গরজন,
যশােপায়ি, কর্ণে তব পশিল না কেন?
বাহিরের দৈন্ত কবি, সে যে সহনীয় ;
আর্যঋষিকুল যত, আগ্রহ করিয়া
দারিদ্রে লইয়াছিল উত্তমাঙ্গোপরি ।
অন্তরে হয়েছি দীন, তাই আজ কাদি।
যেদিকে ফিরাই আঁখি সেই দিকে দেখি
স্বার্থপরতার প্রেমে পাগল যুবক।
যুবতী ও রাক্ষসীর
মধুর সঙ্গীত
দিবারাতি শুনিতেছে পতিপ্রেম ভুলি।
চরিত্র, সে ঘূণধরা মনুষ্যত্বহীন,
প্রেমের মন্দিরে আজ কামের মুরতি ;
দেহে নাই ফুট স্বাস্থ্য, প্রাণে নাই প্রেম,
সরল,-মায়াবিনী রাক্ষসী Siren।
তাজ পরা আভিজাত্য অনৃতের দাস,
সামলায় মিথ্যাচাকা, কামিজে সেমিজে,
১৬১

পােলাও
হাস্যে, হর্ষে, স্পর্শে, দোলনে, বলনে,
বিকট মিথ্যার গন্ধ হয় অনুভূত।
আচারে চামার ওই সুভদ্র জনক
পুত্র হত্যা করিতেছে, হৃদয়ে তাহার
মিথ্যার গরল মাখা বীজ আরােপিয়া।
সরলতা-সুন্দরীরে অষ্টাবক্র মুনি
কে করেছে বল দেখি, ভারত-গৌরব ?
শিক্ষা কি ভারতে আছে ? কোথায় শিক্ষিত?
কচ্ছযুক্ত কিম্বা মুক্ত পুরুষ-স্বৈরিনী,
হবে, ভাবে, ভদ্রতার মাখিয়া আতর,
লঘুহস্তে চৌর্যের করে অভিনয়।
অন্তরের মানুষ কি আছে হে অন্তরে ?
পরিণত হয়েছে সে দারুণ পশুত্বে।
কম্বুরবে মহাপ্রাণ করিছে ঘােষণা
আপনারে কর জয়, হবে বিশ্বজয়ী ।
সত্যে প্রীতি, জীবে প্রেম, পৌরুষ মহত্ব,
উৰ্দ্ধতন ঋষিদের অকৈতব দান।
যে চরিত্রে সত্য জ্যোতি প্রদীপ্ত না হয়,
সে চরিত্র পরম সুন্দর নারায়ণে
ভক্তি ভােরে নাহি পারে করিতে বন্ধন।
সেই চরিত্রের স্পর্শে সমাজ-মাঝারে
জন্মে কত অমঙ্গল, আসে মারীভয়,
১৬২

একাদশ হড়ী
লােলজিহর দুর্ভিক্ষের হয় প্রাদুর্ভাব।
প্রাণ দিয়ে প্রাণেশ্বরে কেহ নাহি ডাকে ;
জগতের ফুলে ফলে ঝরে যার রূপ,
সে রূপে পাগল কারাে নাহি হয় মন।
গন্ধে তার ভােরে আছে নিখিল ভুবন,
সে গন্ধ ত অনুভব কারাে নাহি হয় ?
বিশ্বরূপে রাজশক্তি সতত বিকাশ,
এমন জ্বলন্ত রূপ দেখিবার তরে
কেন না প্রস্তুত আঁখি ? এ কাহার দোষ ?
এরা তাে চা’তনা সােণা, চা’তনা বিলাস,
হেমাভ শস্যের মাঝে উজ্জ্বল তরঙ্গ
গলিত-কনক-হর্ষ করিয়া রচনা,
স্বর্ণ স্রোতে লয়ে যেতো টানিয়া পরাণ ।
উচ্চে উঠিবার ছিল শত আরােহিনী,
লক্ষ্মণের ভ্ৰাতৃভক্তি, কুন্তীর মমতা,
আরুণীর গুরুভক্তি, ভীষ্মের গৌরব,
প্রতাপের জাতিপ্রেম, চৈতন্যের ত্যাগ,
এই সব অরােহিনী, বিকলাঙ্গ হয়ে
অবজ্ঞার প্রাঙ্গনেতে রয়েছে পড়িয়া।
পশুবলে বলী ওরা ; অধ্যাত্ম শকতি
পরিবর্ধনের আশ করে না জীবনে।
বীর ওরা-পরাক্রমে জিতিয়া ভারত।
আমরা বিদ্রোহী, যদি ব্যাটণ-আঘাতে

পোলাও
জর্জরিত হয়ে বলি “মােলাম রে বাপ!”
Disaffection Disaffection patately aft,
প্রতিষ্ঠাতিলকাঞ্চিত মাহ্বাটা গৌরবে
হাসিতে হাসিতে যবে ফেলিলে গুহায়,
রাজার ঝিয়ারী মান সেই দিন হ'তে
ভারতের প্রতি গ্রামে উঠিছে ফুটিয়া।
বৈষম্যের বংশধর! গুরুত্বের মুখে
শুনাইছে সাম্যনীতি সরল আচার।
কূট বুদ্ধি আলােচন করুক পশ্চিম,
আমাদের সরলতা আমাদের দাও।
Smith সাম্যের অঙ্গে বৈষম্যের রেখা
সুনিপুণ তুলিকায় করেছে অঙ্কন।
তস্করে সুবর্ণকোষ করুক হরণ,
শ্রমজলে স্বর্ণপদ্ম করিবে বিকাশ ।
জাতীয় বৈশিষ্ট্য যদি হয় অবহৃত,
ভগ্নমেরুদণ্ডসম বীৰ্য্যহীন হয়ে
অপায়ের প্রতীক্ষায় রবে সে দাড়ায়ে।
ওই আষাঢ়ের বুকে, শ্রবণবদনে,
শ্যামরূপ এখনাে কি আঁকেনা বরষা ?
এখনাে কি রাধিকার হৃদয়-আকুতি
বিজলি চাঞ্চল্যে নাহি আসে ছুটে নভে?
দুরুদুন্ গুগু মেঘের গর্জন,
১৬৪

একাদশ হড়ী
বিরহের মৃদু মৃদু হাহাকার গুলি,
মুরলীর মুখে যাহা হইত বাহির,
সেইগুলি সমবেত হয়ে এ শাঙনে
মৌন বেদনার মুখে সংযযাজিছে ভাষা।
মেঘ-হিন্দোলায় ওরে কে দুলিছে ওই,
জলে কাল, স্থলে কাল, তমালের মাথে
জ্যোতির্ময় কালােরূপ ভেসে ভেসে যায়।
কেতকী প্রাণের প্রেম ছড়াইয়া দেয় ;
পবনে পুলক চলে সৌরভ মাখিয়া ।
ওই কালরূপ নিয়ে সবাই পাগল,
চক্ষু আজ দৃষ্টিহীন, শ্রবণ বধির,
লক্ষ মুরলীর রবে করে না শ্রবণ ।
ওই রামধেনু, ওই প্রদোষ সােহাগ,
নয়নে অমৃত-ঢালা জ্বলন্ত পুলক,
বাঁশীয়া পবন মধু সুর আলাপিয়া,
রূপমাখা গান আর নাহি ঢালে কানে।
জাতি নাই, জাতি নাই, হয়েছি অজাত,
বৈশিষ্ট্যেরে দিয়েছি গাে বণিকের হাতে ;
বিনিময়ে লইয়াছি পাশ্চাত্য সভ্যতা।
যে সভ্যতা যুবকের যৌবনেরে ডেকে
চুপি চুপি বলে দেয় বিলাসের কথা ;
পরােঢ়ার মধুলুটে, দয়িতের ভালে

পােলাও
লিখে দিয়ে cuckold নৰ্মখামনে,
হরষের প্রেমােচ্ছাস করে বিরচন
যে সভ্যতা প্রাণমাঝে ভােগস্পৃহা সৃজি’
পরবেদনার শক্তি লয়েছে কাড়িয়া ;
যে সভ্যতা আতিথ্যের সরস হৃদয়ে,
অযত্ন-উপল-রাশি করি নিক্ষেপণ,
ইহার পবিত্র গতি করিয়াছে রােধ ;
যে সভ্যতা প্রমােদর প্রফুল্ল কপােল
শিখায়েছে নিশিদিন, হায়রে কপাল !
আঁকিতে মদনচিত্র রসনাতুলিতে।
চাই চাই, ফিরে চাই সেই প্রমােদায়,
লক্ষ্মীরূপে প্রতি গৃহে রাজিতেন যিনি ;
সন্ধ্যাকালে সন্ধ্যাদীপ গলবস্ত্র হয়ে
তুলসীর মঞ্চে স্থাপি’, ভক্তির প্রণতি
করি’, যিনি তার নিকট মাঙিতেন
দেশের কল্যাণ আর জীবের কল্যাণ।
সরমমধুরা বালা ভক্তিপরায়ণা,
হৃদয়ের স্বর্ণ আভা, সৰ্ব্বাঙ্গ ব্যাপিয়া
সুন্দরী করিত যারে, সে সৌন্দৰ্য্য আর
ভারতের ঘরে ঘরে নাহি বিরাজিত।
রমনীর সংযমের নিবিড় বন্ধন
বৈদেশিক সভ্যতার তীক্ষ্ণ ছুরিকায়
১৬৬

একাদশ হড়ী
ছিন্ন করি’, করিয়াছে রমণী রতনে,
করিয়াছে দেবতার ক্ষুদ্র প্রতিমায়,
করিয়াছে সাবিত্রীর অনুবৰ্ত্তিনীরে,
ভিখারিণী, কাঙ্গালিনী, নরক-পিশাচী।
মন্দোদরী, প্রতিবেশী রাবণব্রাহ্মণী,
স্বর্ণগুচ্ছে কিনিতেন বরবৰ্ণিনীরে,
ব্যঞ্জনে কাঞ্চন বৰ্ণ করিতে বিকাশ।
আমাদের বাঙ্গালার মন্দোদরী দল,
মণিমালা বিনিময়ে আনিছেন গৃহে
দানবের ভীমাচার ব্যভিচারী ভাব।
গৃহছিল শান্তিকুঞ্জ, ভাই ফোটাব্ৰত
উদ্যাপন করি’ ভগ্নী, অনাবিল স্নেহে
আদরের ভাইটীরে রাখিত ভিজায়ে ।
মা ছিলেন স্নেহময়ী বিলাস-বর্জিনী,
ব্রততী, সংযমিনী, শালিনতাময়ী।
তেমনটী আর নাই ;—ধর তাই আছে,
তাই আছে, তাই আছে—সে তাই কেমন ?
বিদায়ের রামধেনু নিষ্প্রভ যেমতি।
রামমােহনের ভূল দেবতার ভুল,
একভুলে ওতপ্রােত ভারত সমাজ।
গুণাকর গুণধর সাধু ভগীরথ,
অন্তরীক্ষপথ হতে চেয়ে দেখ দেব,
১৬৭

পােলাও
প্রতীচ্য সভ্যতাস্রোত কেমন দুর্বার।
এ সভ্যতা মাখে অঙ্গে রম্য ভেনলিয়া,
এ সভ্যতা পান করে পরের রুধির,
এ সভ্যতা মনুষ্যের মৰ্যাদা হরিয়া
দর্প সহ নিজশির করে উত্তোলন ।
ভারতে মানুষ ফুল ফুটে কিগাে আর ?
Dianthus মূৰ্ত্তি ওই বিনােদ ‘বিনােদ’
যার গন্ধে দিগন্তের বুকে দেয় কাটা,
যার পরিমল লােটে পশ্চিম পবন,
ওই সেই ফোটা ফুল দেখরে নয়ন।
সােণার স্বপনে ভাের ওই ‘ব্যোমকেশ’,
তন্ত্রসিদ্ধ প্রাণে যার বৈরাগ্য উচ্ছাস
উদ্বেলি’ কখন উঠে, কখন আবার
বিলাস সুবাস-রশ ভাসিয়া বেড়ায়।
(ওই) “মহারথ” এখন বারের মরকত,
বার্ধক্যে প্রতিভা শুধু হয়েছে স্তিমিত,
তবু যিনি চেষ্টা করি’ ('ouncil মাঝে
বকশােভা ব্যক্ত সদা করেন গম্ভীরে,
বাতাসে কপূর ওড়ে ;-- শ্যাম বঙ্গ দেশে
বােদ্ধার বুদ্ধিরস্তুপ ক্রমে হয় লীন।
গাম্ভীর্যে উদরাময়, রক্ষা করিবারে
সময়ে সময়ে দেয় কঠোর কামড় ;
সে সময় শুধু মুখে উঠে বিকশিয়া
১৬৮

একাদশী
হাস্যত্যাগী পেচকের ভঙ্গি সুমধুর।
Tulip রূপী ওই যুগল ধনেশ,
প্রজাপতি লয়ে আজ করিছেন খেলা।
Sedum বিটপী ওই “সতীশ রঞ্জন,”
শক্তি চক্ষু দেখে ওর শ্যাম পত্রাবলী
সদা যেন দক্ষিণেতে রয়েছে হেলিয়া।
ফুল ফোটে ফুল ফোটে, ওফুলে কেবল
দেবপদে অর্ঘ্যদান করা নাহি যায়।
পীড়ন সাজিছে দূরে ; যত পশুবল
চুপি চুপি করিতেছে শতেক মন্ত্রণা ;
শক্তি আজি দূতীরূপে দরিদ্রের দ্বারে
মৃদুভাবে দিয়ে যায় মুক্তির আশ্বাস ।
মায় বলে “কোলে আয়, স্বার্থ হেসে বলে,
“কোথা যাবি হেন শান্তি হেন সুখ ছেড়ে ?”
মা যে তাের ফানখাগী চরপরিহিতা।
প্রাণে এরা ভালবাসে, মানে করে ঘৃণা,
শক্তিপদ শিখিয়াছে করিতে বন্দন।
ওই শােন, ওই শােন, আকাশ ভেদিয়া
মঙ্গলের দিব্যধ্বনি হ’তেছে উদ্ভূত।
নিদ্ৰাতন্দ্রা গেছে দূরে, জাগরণ আজ,
গৃহে গৃহে দ্বারে দ্বারে বেড়াইছে ঘুরি।
আজ তুমি মৌন ব্রত করেছ ধারণ।
১৬৯

পােলাও
}
লও কবি অলকার বীণাটী তােমার,
চাই আজি উদ্দীপনা সংযমের বাণী,
চাই আজ চরিত্রের সৌছবসাধন,
ভয়ে ভয়ে বেঁধে দেও একতার ডােরে,
প্রাণে প্রাণে ঢেলে দাও ধৰ্ম্ম পুষ্পরস,
নিত্য যার প্রতিভার দীপ্তিময়ী শিখা
প্রসবিত অগ্নিকণা , উত্তেজিত প্রাণ,
যার তাপে নিরাশার শয্যা পরিহরি’
বসিবার নব শক্তি করিতে সঞ্চার ;
ছন্দের ঝঙ্কারে যার বেদের ‘জগতী’
ওঙ্কারে গলিত হয়ে হইত বাহির ;
সেই সত্য বাঙ্গালার প্রাণের ভিতর
পুটপাক-তাপ রচি’ গিয়াছে চলিয়া।
নজরুল বুল বুল নিশ্বাসে, বিভাসে,
করুণ কাহিনী মাখা গীতি আলাপিয়া,
নৈরাশ্যের আকাশেতে বেড়াইছে কেঁদে
শ্যামা যথা উঠে ফুকারিয়া—প্রাণেশ তাহার
অনন্তের তীর্থে যায় ত্যজি’ বিধুরায়।
বন্ধন ছিড়িতে চাও কবি নজরুল ?
কাব্য সেতারের মীড় সত্য ছিন্ন করি’
চলে গেল ; ছেড়াতারে বল, সােমরস
কে দিবে নূতন তার তুমি বিনা আর?
পাছাপেড়ে বসনেতে আবৃতবসন
••

একাদশ হড়ী
আছে কবি, তারা করে ছুনু নুনু খেলা
যুবতীর যৌবনের লাবণ্যের সনে ।
কবি তার মুখ দিয়া করে সদা বার
রসােগার—অধর দ্রাক্ষার মধুরিমা।
রবীন্দ্র,
এ দুর্দিনে তুমি কিহে রহিবে নীরব ?
চারিদিকে বার্ধক্যের উড়ায়ে কেতন,
তুলসীর মুলে বসি’ কাহার ধেয়ান
করিতেছ একমনে? চিন্ময় তােমার
কল্পনার কাককৃষ্ণ নিৰ্ম্মল সলিলে
সন্তরণ দিয়া ওরে করিছেন নিতু
অমৃয়মান—সুধার সাগরে উহা
হ'য়ে পরিণত সাধে জীবের কল্যাণ।
অশ্রপ পশ্চিম ; তারে আসিয়াছ দিয়া
বিশ্বমােহিনীর দান অমৃত-সম্ভার।
অসুর কি হবে সুর বলহ সুভগ ?
সুধাস্পৃহা সাময়িক উত্তেজনা তার।
এসিয়ার গৱঁতুমি, গর্বেরও গরব
একদিন ধৰ্ম্মপ্রাণ মেরীর দুলাল,
ওই সুধা দিতে গিয়া মরেছিল প্রাণে।
খ্রষ্টভক্ত ভারতের জনবুলগণ,
মনুষ্য পীড়ন করে সাধকের ব্রত
১৭১

পোলাও
করিছেন উদযাপন দুন্দুভিনিনাদে ।
পায় ধরে চিরদিন পরাজিত রবে,
পােষা কুকুরের ন্যায় প্রভুর আদর
ক্ষণমাত্ৰ লাভ করি’ নাড়িবে লাঙ্গুল
জেতা বড় দাতা, ওগগা জেতা বড় দাতা !
ক্রীতদাস বানাইয়া, করিয়া মন্ত্রণা
ক্রীতদাস হ'তে বাছি কোন ভাগ্যধরে,
মারণ আয়ুধ তার আইনের গােছ
করতলে সমর্পিয়া, কানে মন্ত্রদিয়া
ছেড়ে দেয় কৃতদাস করিতে দমন।
ইংরাজ স্বাধীন জাত, বহুগুণে গুণী,
তার কর্ণে ঢালে বিষ ভারত-কুকুরে।
তিটীরে তাল করি’ অতি চুপে চুপে
প্রভুমনে এঁকে দেয় বিভীষিকা ছবি।
সন্তান মরেছে গেহে সর্পের দংশনে,
পণ্ডিশূর ছুটে এসে, করিয়া গর্জন
বলে, “দেহি দেহি, নতু পাঠাব গার।”
পড়ে আছি মরে আছি, উত্থানের আশা
ভারতের ভাগ্যে উহা স্বপ্ন পরিহাস।
বুদ্ধিখাদ্য কিপলিং ইংলণ্ডে যােগান,
Idea যাহার, গুরুত্বের আতিশয্য হেতু
মুক্তাকাশে উর্ধপথে উঠিতে অক্ষম।
ভারতের সাধারণী রূপের উচ্ছাস,
১৭২

একাদশ গড়ী
ললিত বিলাসছটা, মদি-ঈক্ষণ,
অধরের বিরাগ, চুচুক লাবণ্য,
যার কল্পনায় করে বিভূতি প্রদান,
সেই কিপলিং আজ ইংলণ্ড-সম্পদ,
সেই কিপলিং, যিনি পুণ্য প্রয়াগের
পবিত্র তরঙ্গে ভাসাইয়া প্রেমতরী
গেয়েছিল একদিন প্রণয়ের গাথা,
সরমের হেম গও করিয়া রঙিন,
সেই কিপলিং আজি ভাবের নিঝর।
এই Kipling
আকাশের তারা দেখে করেছেন স্থির
প্রাচ্য সহ প্রতীচ্যের, মিলনের কথা
অসম্ভাব্য পরিপূর্ণ বাউর প্রলাপ।
তুমি চাও প্রতীচ্যেরে প্রাচ্য সুধা দিয়া
করিতে ঋষির ন্যায় সুকুমার হিয়া।
পুলকে তােমার অঙ্গ উঠে শিহরিয়া ;
রঙিন রাখীর ডােরে, বিকল্প রবি,
বাঁধ তুমি সে সম্পদে, যাহার প্রভায়
ফুলে ফলে মধুরিমা ভাসিয়া বেড়ায়।
সৌন্দর্য্যের ক্ষিপ্তোচ্ছাস করি দরশন,
প্রাণের পুলক তব অরূপ ধরি’
বক্ষে তব মন্দাকিনী করে নিরমাণ।
১৭৩

পােলাও
কুম্ফটিকা ইংলণ্ডেরে করে আচ্ছাদিত
নিশাকালে, অহমিক। ইংরাজের চিত
অধিকার কোরে থাকে দিবস রজনী।
বিনয় সে স্থানে নাই, সদা মনে হয়,
এমন উদরম্ভরী কোন জাতি নয় ।
British justice,
Edmund Burkeর মুখ দিয়া সে যে
উঠেছিল গরজিয়া, এখনাে সে ধ্বনি
শ্রবণ-পটহু দ্বারে আসি’ মাঝে মাঝে,
আঘাত করিয়া যায় আলােড়ি’ হৃদয়।
ওই দেখ; অযােধ্যার বেগম সাহেবা
রােহিণীর রজতবাহিনী উপকূলে
বসিয়া, এখনাে করে অশ্রু বরিষণ।
ভিক্ষুক চৈৎসিং আজও দ্বারে দ্বারে
ভিক্ মাঙি বেড়াইছে তারায় তারায় ।
কৃতজ্ঞতা বক্ষ চিরি’ পাতকী Macbeth
হয়েছিল দগ্ধীভূত অনুতাপানলে।
আজ কোথা অনুতাপ পশ্চিমের বল ?
Diplomacy justiceরে করেছে কলঙ্কী
British justice, যার নাম করিলে স্মরণ
যার স্পষ্টবাদিতায় পরাণের মাঝে
আনন্দ বীণার সুরে সাড়া দিয়া যেতো,
কোথা সে justice বল, কোথা সে justice?
১৭৪

একাদশ হড়ী
সিংহ আত্ম-ঔদার্য্যেরে চরণে ঠেলিয়া
শৃগালের ক্ষুদ্রতায় লয়েছে বরিয়া।
নিষ্ঠাবান্ ধর্মপ্রাণ হে কবি সুন্দর,
কাদের বরিতে তুমি হইয়াছ ব্ৰতী ?
মনে কিহে পড়ে আজ সে দিনের কথা ?
সহকৰ্মী অরবিন্দে বলনি কি তুমি,
“অরবিন্দ,-রবীন্দ্রের লহ আশীৰ্বাদ।”
ব্রাহ্মণের আশীগাথা করিয়া শ্রবণ
কৃতাত্ম হয়েছে দেব তেজবন্ত অরু।
সিদ্ধকাম অরবিন্দ বলিছেন শুন,
যােগবলে গান্ধীজীর যােগময় প্রাণ
শাশ্বত সত্যের রসে সদা পরিপুত ;
প্রজ্ঞতার অােরা প্রভা হইয়া নির্গত
অবিরাম ঢালিতেছে জ্ঞানের আলােক।
রবীন্দ্র,
কেন ভাই আজ তুমি মেঘমাঝে বসি’
লুকাইয়া ভাবিতেছ যশের মুরতি ?
কবি তুমি, নরকুলে সুনিৰ্ম্মল হেম,
কবিতার নবরসে ভিজায়ে দর্শন,
সুতােষিণী শিখরিণী করিছ প্রস্তুত।
সুধা তার হারায়েছে ক্ষুধা-হরা বল,
করেছে তােমার কাব্যসুধায় অসুধা ।
৭৫

A
সত্যলিঙ্গা পাশ্চাত্যের নহে অভিপ্রেত,
উপভােগ জীবনের অনন্য উদ্দেশ।
তপস্যা তাহার নিয়ােগ করিছে তারে
আপনার প্রাধান্যেরে করিতে অটুট।
কোথা বল মনুষ্যত্ব, আত্মার গরিমা,
কোথা বল সত্যনিষ্ঠা, প্রাণের বিভূতি,
কোথা প্রাচ্য দেবভক্তি, জীবের কল্যাণ ।
চেয়ে দেখ উকি দিয়ে, শিক্ষিত হৃদয়ে
কি আছে হােথায়? অবিশ্বাস, নাস্তিকতা,
পণ্ডিকৃত পাপচিন্তা, উদ্দাম অমৃত।
ব্যবহার জীবি উনি, কি আছে হােথায় ?
প্রবঞ্চনা, প্রতারণ, ঘৃণ্য তস্কর।
উনিই সমাজ-নেতা বুদ্ধির গাগরী :
মধুঝরা জিহ্বা খানি উগারি’ মরন্দ
প্রতিহিংসাপরায়ণ, লুব্ধ কৃষকের
রুধির চোষণ করি’ স্বর্গানন্দ পান।
বিশ্রুত তুমি হে রবি, গান্ধীজী বিশ্রুতি,
তুমি হে সুন্দর, গান্ধী সৌন্দৰ্য-আকর,
ভক্ত তুমি, ভক্তিমন প্রীতি-নিকেতন,
তুমি কবি, বঁধু মাের জ্বলন্ত কবিতা,
যে কবিতা দেবতার প্রাণের মাঝারে
সুরভি হিল্লোল তুলি’ আনন্দ ছড়ায়।
১৭৬

।।
একাক্ষণ
আর ওই আত্মজয়ী, মাহফুল্ল
কৰ্ম্মাহবে সংসপ্তক, পুণ্যাত্মা ধীমান,
( দলিত ধর্মের মুখে ফুটাতে আনন্দ )
দিন রাত মুক্তিমন্ত্র করে উচ্চারণ।
গীতাঞ্জলি মাঝে আজ পড়িয়াছে সাড়া,
প্রতিছত্র গ্রন্থকারা হইয়া বাহির
ওই শােন করিতেছে মধুর গুঞ্জন
দুইজন সমকণ্ঠে গেয়ে উঠে গান,
ওই গানে পশ্চিমের গর্বিত মস্তক
নত হয়ে একদিন আসিবে নিশ্চয়।
১৭৭
২

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Polao

Author
Goswami,benowarilal
Title
Polao
File name
Polao
Text
OCR done
Citation
1927
Published
2009/12/8
Publisher
Benowarilal Goswami,rangpur
Language
Sanskrit
Pages
199
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Goswami,Benowarilal
DLI number
513062
Barcode
4990010020075.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
pA1kfWgIXSE
Download PDF

Polao