Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Sam-sandhya-gatha

Darbesh,kiran Chand · 2009/09/11

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

»r.
দরবেশ গ্রন্থাবলী
সাল-সন্ধ্যা-গাধা
কিরণ চঁদ দরবেশ অনূদিত
চারি, আনা

প্রকাশক
শীতারাচরণ চক্রবর্তী
২নং নাথু সাহু ব্ৰহ্মপুরী,
বারাণসী
১৩২৬
৬১নং বৌবাজার স্ট্রীট, কলিকাতা ;
কুন্তলীন প্রেসে
শ্রীপূর্ণচন্দ্র দাস কর্তৃক মুদ্রিত
১৯১৯

পরম স্নেহাস্পদ
শ্ৰীমান জ্যোতির্ময় চট্টোপাধ্যায়
দাদা-জীবন নিরাপদে দীর্ঘজীবেযু-
;
দাদু,
আজ তুমি ব্ৰহ্মণ্য-ধর্মে দীক্ষিত হইলে; আজ তুমি কশ্যপ-কুলে
যথার্থ জন্মগ্রহণ করিলে। হে ব্রাহ্মণ ! হে বাল-ব্রহ্মচারী! আজ তােমাকে
আমি ভূমি-বিলুষ্ঠিত হইয়া নমস্কার করি। যে সাবিত্রী-দীক্ষা লাভ
করিলে, এই মহান্ গায়ত্রী-মন্ত্র বৰ্ম্মের ন্যায় সমস্ত জীবন তােমাকে রক্ষা
করিবে। তুমি এ বৰ্ম্মের আশ্রয় কখনও পরিত্যাগ করিও না।
হে শাশ্বত ভিকারী। এই “সাম-সন্ধ্যা-গাথা ” তােমাকে ব্ৰত-ভিক্ষা
দিয়া আমি কৃতার্থ হইলাম।
রূক্মিণী দ্বাদশী,
তােমার স্নেহ-মুগ্ধ
২৮ বৈশাখ, ১৩২৬
ঠাকুরদাদা

No text on this page.

ভূমিকা সামবেদোক্ত ত্রিসন্ধ্যা-বিধি পদ্যে অনুবাদিত হইয়া প্রকাশিত হইল। অনুবাদ যাহাতে সম্পূর্ণরূপে মূলানুযায়ী হয়, তৎপক্ষে আমি চেষ্টার ক্রটি করি নাই ; কতদূর কৃতকার্য হইয়াছি, সুধীগণ তাহার বিচার করিবেন। সন্ধ্যা বেদোক্ত মন্ত্র ; ইহার অর্থ বােধ হউক কি না-হউক, তাহাতে বিশেষ কিছু আসে যায় না। রীতিমত উচ্চারিত হইলেই ইহাতে কল্যাণ হইয়া থাকে। কিন্তু তথাপি আমার মনে হয়, সন্ধ্যার যথার্থ অর্থ বােধগম্য হইলে কোনও ব্রাহ্মণ-বালকই উহা পরিত্যাগ করিতে পারিতেন না। পরমব্রহ্মের মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক এমন মহান্ পবিত্র স্তোত্র প্রত্যহ উচ্চারণ করিতে কোন্ মানবের অনিচ্ছা হইতে পারে ? বাঙ্গালা গীতিকাব্যের ছন্দে আমি এই মন্ত্র সমূহ সুললিত ভাষায় ব্যক্ত করিতে চেষ্টা করিয়াছি। এই অনুবাদ মূলের মতই সুর সংযােগে যাহাতে গীত হইতে পারে, আমি তদনুরূপ করিয়াই অনুবাদ করিয়াছি। বেদ-মন্ত্রের যথাযথ ছন্দ-জ্ঞান আমার নাই। থাকিলে মূলের ছন্দেই অনুবাদ করা বিশেষ কঠিন হইত না। ইহা পাঠ করিয়া একটি ব্রাহ্মণ-সন্তানেরও যদি ত্রিসন্ধ্যায় শ্রদ্ধা ও মতি জন্মে, তবেই আমার সমস্ত আয়ােজন সার্থক হইবে। + গায়ত্রীর অনুবাদ সম্বন্ধে একটি কথা বলা প্রয়ােজন। গায়ত্রীর যথার্থ বিস্তৃত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা আমার সাধ্য ও শক্তির অতীত। ত্রিসন্ধ্যার মধ্যে পাঁচটি স্থানে গায়ত্রী উল্লিখিত হইয়াছেন। সপ্তব্যাহৃতিতে, অপােমার্জনে, সুৰ্যোপস্থানে, ন্যাসে ও জপ-কালে। এই পঞ্চ স্থানে আমি পাঁচ প্রকার অনুবাদ করিয়াছি দেখিয়া, কেহ যেন অসমীচীন মনে না ( ৬ ) করেন। প্রথমে সপ্তব্যাহৃতিতে আমি গায়ত্রীর মােটামুটি বিস্তৃত ব্যাখ্যা দিতে চেষ্টা করিয়াছি; পরে আপােমার্জন, সূৰ্যোপস্থান ও ন্যাসে গায়ত্রী- ব্যাখ্যা ক্রমশ সংক্ষেপ করিয়া লইয়া আসিয়া, জপকালে গায়ত্রী সম্পূর্ণরূপে যথাযথ শব্দার্থ দিয়া প্রকাশ করিতে চেষ্টা করিয়াছি। গায়ত্রী বুঝিতে সহজ হইবে বলিয়াই এই প্রকার করিয়াছি। সাধারণত যে সমস্ত সন্ধ্যার পুথি বাজারে প্রচলিত আছে, উহার প্রায় সমস্ত গ্রন্থই অম্লাধিক ভুলে পরিপূর্ণ। আমি মূল বেদ হইতে খুঁজিয়া প্রত্যেকটি মন্ত্র যাহাতে বিশুদ্ধ-মত ছন্দানুযায়ী লিখিত হয়, তৎপক্ষে চেষ্টার ত্রুটি করি নাই। এ জন্য আমাকে যথেষ্ট পরিশ্রম করিতে হইয়াছে। তথাপি যে সম্পূর্ণ কৃতকার্য হইয়াছি, দৃঢ়ভাবে এমন কথা বলিবার সাহস আমার নাই। ব্রাহ্মণ-সন্তানগণ এই পুথি অনুযায়ী ত্রিসন্ধ্যার অনুষ্ঠান করিলে, অনেকটা ছন্দ ও লয় বজায় রাখিয়া বিশুদ্ধ মন্ত্র উচ্চারণ করিতে সক্ষম হইবেন, ভরসা করি। এস্থলে গায়ত্রীর পাঠ সম্বন্ধে একটি কথা বলা প্রয়ােজন। গায়ত্রীছন্দ ষড়াক্ষরী, সুতরাং তৎসবিতু’ হইতে ‘প্রচোদয়াৎ পৰ্যন্ত “ * বাদ দিয়া গায়ত্রী চব্বিশ অক্ষর হইবে; কিন্তু তেইশ অক্ষর হয়। তাহার কারণ এই যে বরেণ্যং’ শব্দটি বরেণয়ং’ এই প্রকার পাঠ হইবে ; উহা তিন অক্ষর নহে, চারি অক্ষর। যখন বরেণ্যং' বলিলে পাঠ অশুদ্ধ হইবে, তখন বরেণ্যং লিখিবার কি সার্থকতা আছে, তাহা বুঝি না। এইজন্য আমি সর্বত্রই বিশুদ্ধ পাঠ “ বরেণিয়ং * লিখিতে দ্বিধা করি নাই। এই প্রকার আরও ঘটিয়াছে। সন্ধ্যা-তত্ব সম্+ ধ্যা, অর্থাৎ সম্যক প্রকারে ধ্যান, সন্ধ্যা শব্দের অর্থ। রাত্রি ও দিবস, পূৰ্বাহ্ন ও মধ্যাহ্ন এবং অপরাহ্ন ও রাত্রি,-এই তিনি সন্ধি ;

( ৭ ) সময়ে অনুষ্ঠিত হয় বলিয়াও ইহাকে সন্ধ্যা বলে। এতদ্ব্যতীত উপাস্য দেবতা জ্যোতির্ময় সবিতারও এক নাম সন্ধ্যা। সন্ধ্যা ও গায়ত্ৰীতত্ব সম্বন্ধে বহুতর গ্রন্থ প্রকাশিত হইয়াছে ; আমি এ স্থলে সে তত্বের ব্যাখ্যা করিতে বসিব না। ব্রাহ্মণকুলে জন্মিলেও, আমার ন্যায় মূর্থের পক্ষে উহা অনধিকার চর্চা। সন্ধ্যার প্রত্যেকটি অঙ্গ কি প্রক্রিয়ায় সম্পাদন করিতে হয়, এ স্থলে আমি কেবল মাত্র তাহাই , বলিব। সন্ধ্যার্থগণ ভূমিকা পড়িয়া তত্তৎ ক্রিয়া সম্পাদন করিবেন। আচমন কোনও ক্রিয়া সম্পাদন করিতে হইলে, হাত পা ধুইয়া সুস্থ মনে উপবেশন করিতে হয় ; আচমন তাহাই। প্রথমে পা, পরে হাত ধুইয়া নিশ্চিন্ত অন্তঃকরণে পূর্ব বা উত্তরমুখী হইয়া আসনে স্থির হইয়া বসিবে। পরে, একটি মাষকলাই ডুবিতে পারে, এতৎপরিমাণ জল, গােকর্ণাকার দক্ষিণ হস্তের অষ্ঠমূলে লইয়া ১ মন্ত্র পাঠ করিয়া পান করিবে; এই প্রকার তিনবার করিতে হইবে। প্রতিবারই করতলধারা ওষ্ঠ মার্জনা করিবে। সৰ্বত্ৰই, আচমনে জলপান করিবার পরে, হস্ত ধৌত করিতে হইবে; নহিলে উচ্ছিষ্ট হস্তে সৰ্বাঙ্গ স্পর্শ করিয়া সন্ধ্যার প্রথমেই ক্রিয়াটিকে পণ্ড করিয়া ফেলিবে। অনেক প্রবীন ব্যাক্তি এই প্রকার আচমন-কালেই সমস্ত উচ্ছিষ্ট করিয়া লয়েন। এ বিষয়ে সাবধান। ২ মন্ত্র পাঠ করিবার সময়ে, তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকার অগ্ৰদেশ দ্বারা মুখ স্পর্শ করিবে; তর্জনী ও অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা দক্ষিণ ও বাম নাসাপুট স্পর্শ করিবে ; অঙ্গুষ্ঠ ও অনামিকা দ্বারা দক্ষিণ ও বাম চক্ষু স্পর্শ করিবে; উহা দ্বারাই দক্ষিণ ও বাম কর্ণ দুইবার করিয়া স্পর্শ করিবে; অঙ্গুষ্ঠ ও কনিষ্ঠা দ্বারা নাভি স্পর্শ করিবে। পরে হস্ত প্রক্ষালন করিয়া হতল দ্বারা হৃদয়, সকল অঙ্গুলি দ্বারা ;

( ৮ ) শীর্ষদেশ, এবং সকল অঙ্গুলির অগ্রভাগ দ্বারা দক্ষিণ ও বাম বাহুমূল স্পর্শ করিবে। মার্জনের অপর নাম মন্ত্র-স্নান। যেমন বাহিক অবগাহন মানে মানুষ শুচি হয়, সেই প্রকার এই মন্ত্র-স্নানে অন্তর শুদ্ধ হইয়া ব্রহ্মোপাসনার উপযােগী হয়। মস্তকে একটু একটু জলের ছিটা দিতে দিতে হইতে ১০ মন্ত্র পাঠ করিতে হইবে। ঋষ্যাদি স্মরণ প্রাণায়াম করিবার পূর্বে ঋষ্যাদি স্মরণ করিতে হয়। সর্বপ্রথমে যাহার নিকটে মন্ত্রটি প্রকাশিত হইয়াছিলেন, তিনিই সেই মন্ত্রের দ্রষ্টা ঋষি; 'যে সুরে ঐ মন্ত্রটি গান করা যায়, তাহার নাম ছন্দ ; যাহার উদ্দেশ্যে মন্ত্র প্রকাশিত হইয়াছেন, তিনিই ঐ মন্ত্রের দেবতা; আর যে কৰ্ম্মে ঐ মন্ত্র আমরা প্রয়ােগ করিয়া থাকি, তাহাই বিনিয়ােগ। কাহারও নিকট হইতে অযাচিত কোনও বহুমূল্য দ্রব্য পাইলে আমরা কৃতজ্ঞ অন্তরে দাতাকে ধন্যবাদ দিয়া থাকি ; ঐ দ্রব্য ব্যবহার করিবার সময়ে স্বতই প্রতিবারে দাতাকে স্মরণ হয়। এ স্থলেও সেই প্রকার যে মন্ত্র উচ্চারণ করিব, প্রথমে ঐ মন্ত্রের ঋষি, ছন্দ, দেবতা ও কি কর্মের জন্য মন্ত্র উচ্চারণ করিতেছি সেই বিনিয়ােগ স্মরণ করা কর্তব্য। এই স্থানে ছন্দ সম্বন্ধে দুই-চারিটি কথা বলা প্রয়ােজন। সমস্ত সামবেদীয় সন্ধ্যা-পদ্ধতির মধ্যে নিম্নলিখিত আটটি ছন্দ ব্যবহৃত হইয়াছে, যথা :—গায়ত্রী, উষ্ণিক, অনুষ্টপ, বৃহতী, পঙক্তি, ত্রিষ্টপ, জগতী ও প্রকৃতি। গায়ত্রী ছন্দ ষড়াক্ষরী, সুতরাং একটি গায়ত্রী মন্ত্রে চব্বিশটি অক্ষর আছে। উষ্ণিক ছন্দ সপ্তাজরী, সুতরাং একটি উষ্ণি মন্ত্রে আঠাইশটি অক্ষর আছে। অনুষ্টুপ ছন্দ অষ্টাক্ষরী, সুতরাং একটি ( ৯ ) ' অনুষ্ট মন্ত্রে বত্রিশটি অক্ষর আছে। বৃহতী ছন্দ নবাক্ষরী, সুতরাং একটি বৃহতী মন্ত্রে ছত্রিশটি অক্ষর আছে। পঙক্তি ছন্দ দশারী, সুতরাং একটি পঙক্তি মন্ত্রে চল্লিশটি অক্ষর আছে। ত্রিষ্টপ্ ছন্দ একাদশারী, সুতরাং একটি ত্রিষ্টপ মন্ত্রে চুয়াল্লিশটি অক্ষর আছে। গতী ছন দ্বাদশারী, সুতরাং একটি জগতী মন্ত্রে আটচল্লিশটি অক্ষর আছে। প্রকৃতি ছন্দ একবিংশত্যক্ষরী, সুতরাং একটি প্রকৃতি মন্ত্রে চুরাশিটি অক্ষর আছে। পাঠাথীগণ ইহা দ্বারা ছন্দ সমূহ মিলাইয়া নইতে পারিবেন। কৃতাঞ্জলিপুটে ১১ হইতে ১৪ মন্ত্র পাঠ করিতে হইবে। প্রাণায়াম যে কর্মের দ্বারা পঞ্চ প্ৰাণবায়ুর আয়াম অর্থাৎ সুদীর্ঘ স্থায়িত্ব জন্মে, তাহাই প্রাণায়াম। ইহা দেহাভ্যন্তরে নির্মল বায়ুর প্রবেশ অর্থাৎ পূরক, নিরােধ অর্থাৎ কুম্ভক, এবং নিঃসরণ অর্থাৎ রেচক নামক ক্রিয়া বিশেষ। ‘অ’ ‘উ ' ‘ম’-এই তিনটি বর্ণ একত্রিত হইয়া ওঁ বা প্রণব হইয়াছে। এই প্রণবই আমাদের উপাস্য। ‘অ’ রাজসিক মূর্তি ষ্টিকৰ্ত্তা ব্রহ্মা ; ‘উ' সাত্বিক মূর্তি পানকর্তা বিষ্ণু; এবং ‘ম’ তামসিক মূর্তি প্রলয়কর্তা শিব। প্রাণায়ামে পূরক দ্বারা সৃষ্টি, কুম্ভক দারা স্থিতি ও রেচক দ্বারা প্রলয় হয়। মস্তকে একটি সহস্রদল পদ্ম *ধােমুখে বিরাজ করিতেছেন। উহার মধ্যভাগ হইতে তিনটি নাড়ী হ্যদ্বার পর্যন্ত বিলম্বিত রহিয়াছেন। মধ্যের নাড়ীকে শুষুম্না, দক্ষিণের ড়ীকে পিঙ্গলা, এবং বামের নাড়ীকে ইড়া বলে। প্রাণায়াম কালে দক্ষিণ নাসিকা বন্ধ করিয়া বাম নাসিকা অর্থাৎ ইড়া দ্বারা বায়ু টানিতে হয়; ইহাকে পূরক বলে। মধ্যস্থলে অর্থাৎ শুষুম্নায় বায়ু স্থির করিয়া রাখিতে হয়, ইহাকে কুম্ভক বলে। পরে দক্ষিণ নাসিকা অর্থাৎ পিঙ্গলা ( ১০ ) দ্বারা ধীরে ধীরে বায়ু নিঃসরণ করিতে হয় ; ইহাকে রেচক বলে। বহিস্থ বিশুদ্ধ বায়ু এই ক্রিয়ায় ভিতরে প্রবিষ্ট হইয়া সংঘর্ষ দ্বারা তাপ ওঁ জলের সৃষ্টি করিয়া সমস্ত দেহকে বিশুদ্ধ করে। পূর্বেই উক্ত হইয়াছে, পূরক ‘অ’ স্বরূপ সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা ; সুতরাং পূরক কালে ব্ৰহ্মগ্রন্থিস্থিত অপাণ বায়ুতে অর্থাৎ নাভিদেশে রজোগুণশালী ব্ৰহ্মার ধ্যান করিবে। কুম্ভক ‘উ' স্বরূপ পালনকর্তা 'বিষ্ণু; সুতরাং কুম্ভক কালে বিষ্ণুগ্রন্থিস্থিত প্রাণবায়ুতে অর্থাৎ হৃদয়দেশে সত্বগুণশালী বিষ্ণুর ধ্যান করিবে। রেচক ‘ম’ স্বরূপ সংহার কৰ্ত্তা শিব ; সুতরাং রেচক কালে রুদ্রগ্রন্থিতে অর্থাৎ ললাটদেশে তমােণশালী শিবের ধ্যান করিবে। প্রথমে আপনার চারিদিকে জল বেষ্টন পূৰ্ব্বক, দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা দক্ষিণ নাসিকা বা পিঙ্গলা বন্ধ করিয়া বাম নাসিকা বা ইড়া দ্বারা বায়ু আকর্ষণ পূর্বক নাভিতে ব্রহ্মার ধ্যান সমন্বিত ১৫ হইতে ১৮ মন্ত্র পাঠ করিবে। পরে দক্ষিণ নাসিকা পূৰ্ববং বন্ধ অবস্থায় রাখিয়াই অনামিকা ও কনিষ্ঠা দ্বারা বাম নাসিকা রুদ্ধ করত কুম্ভক করিয়া হৃদয়ে বিষ্ণুর ধ্যান সমন্বিত ১৯ হইতে ২২ মন্ত্র পাঠ করিবে। অতঃপর দক্ষিণ নাসিকা হইতে অঙ্গুষ্ঠ সরাইয়া লইয়া ধীরে ধীরে বায়ু ত্যাগ অর্থাৎ রেচক করিবার সময়ে ললাটদেশে শিবের ধ্যান সমন্বিত ২৩ হইতে ২৬ মন্ত্র পাঠ করিবে। ইহাই প্রাণায়াম। । ইহা দেহাভ্যন্তরস্থ জীবাত্মার আচমন বা পাপবিমুক্তি। প্রভাত, মধ্যাহ্ন ও সায়াহ, তিন কালে তিনটি পৃথক মন্ত্র দ্বারা আচমন করিতে হয়। প্রাতঃসন্ধ্যার আচমনে, রাত্রে অনুষ্ঠিত পাপের হস্তস্থ জলে ( ১১ ) অবস্থিতির কল্পনা করিয়া, ঐ জল পরমাত্মার চরণে আহুতি-স্বরূপ পান করিতে হয়। মধ্যাহ্ন সন্ধ্যার আচমনে, উচ্ছিষ্ট ভােজন, অসৎ প্রতিগ্রহ, অসৎ আচরণ প্রভৃতি পাপের হস্তস্থ জলে অবস্থিতির কল্পনা করিয়া ঐ জলও পরমাত্মার চরণে আহুতি-স্বরূপ পান করিতে হয়। সায়ংসন্ধ্যার আচমনে, সমস্ত দিবসে কৃত পাপের হস্তস্থ জলে ঐ প্রকার অবস্থিতির কল্পনা করিয়া ঐ জল পরমাত্মায় আহুতিস্বরূপ পান করিতে হয়। হন্তে জল লইয়া মন্ত্র পাঠ করিবে, এবং পরে ঐ জল পান করিবে। প্রাতঃসন্ধ্যায় ২৭ ও ২৮ মন্ত্রে, মধ্যাহ্নসন্ধ্যায় ২৯ হইতে ৩১ মপ্লে, এবং সায়ংসন্ধ্যায় ৩২ ও ৩৩মন্দ্রে আচমন করিবে। আপােমার্জন পূর্বে যে মাৰ্জন কথিত হইয়াছে, সেই মন্ত্রেই এখন বিশেষ ভাবে মার্জন করিতে হইবে। পূর্বে মার্জনের মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষি ইত্যাদি স্মরণ করা হয় নাই ; এবার তাহা করিতে হইবে। প্রথমে মস্তকে তিনবার জলের ছিটা দিতে দিতে ৪ হইতে ৩৬ মন্ত্র পাঠ করিবে। পরে ৩৭ হইতে ৪o মন্ত্র পাঠ করিতে করিতে নিম্ন প্রণালীতে নয়বার জলের ছিটা দিবে ; যথা—প্রথমে মস্তকে, পরে মাটিতে, তৎপরে শূন্যে ; পুনরায় প্রথমে শূন্তে, পরে মাটিতে, তৎপরে মস্তকে ; পুনরায় প্রথমে মস্তকে, পরে শূন্যে, তৎপরে মাটিতে। অধমর্ষণ অঘ-পিশাচ; মর্ষণ-মর্দন। অন্তরস্থ পাপ-পুরুষকে যে প্রক্রিয়া দ্বারা বিদূরিত করা যায়, তাহাকে অঘর্ষণ বলে। আবার এই মন্ত্র সর্বপ্রথমে যে ঋষির নিকট প্রকাশিত হইয়া ছিলেন, তাহার নামও অঘমর্ষণ ঋষি। এক গণ্ডুষ জল নাসিকাগ্রে ধারণ পূর্বক ৪১ হইতে ৪৪ মন্ত্র পাঠ করিবে। মন্ত্র পাঠের সময় যখন নিখান্স গ্রহণ করিবে, চখন ; ৩ (১২ ) মনে করিবে যে, মন্ত্র দ্বারা বিশুদ্ধ হইয়া বায়ু তােমার ভিতরে প্রবেশ করিতেছেন। যখন নিশ্বাস ত্যাগ করিবে, তখন চিন্তা করিবে যে, তােমার অভ্যন্তরস্থ কৃষ্ণবর্ণ পাপ-পুরুষ পুণ্য মন্ত্রের প্রভাবে আর তােমার ভিতরে ঠাই না পাইয়া, নিশ্বাসের সঙ্গে দ্রুত বহির্গত হইয়া আসিয়া ঐ জল গণ্ডষে মিশিয়া যাইতেছে। মন্ত্র পাঠ শেষ হইলে, ঐ পাপময় জল-গঙুষ নিজের বাম পার্শ্বে মাটিতে ছুড়িয়া নিক্ষেপ করিবে। সূৰ্যোপস্থান ব্ৰহ্মা-বিষ্ণু-শিব-বন্দিত প্রণব-স্বরূপ। আদ্যাশক্তি গায়ত্রী দেবীর প্রিয় লীলাক্ষেত্র, ব্ৰহ্ম-জ্যোতির আধারভূত ভগবান সূৰ্য্যদেবের স্তুতিই সুৰ্যোপস্থান। প্রথমে সূৰ্য্যাভিমুখে দণ্ডায়মান হইবে। পরে হস্তে এক অঞ্জলি জল লইয়া ৪৫ মন্ত্র পাঠ করিয়া প্রদান করিবে। প্রাতঃসন্ধ্যা ও সায়াহ্ন সন্ধ্যায় এই প্রকার তিনবার জল দিবে; মধ্যাহ্ন সন্ধ্যায় একবার দিলেই হইবে। ইহার পরে, উভয়পদার্থে ভর দিয়া দাঁড়াইয়া, অথবা এক পায়ে দাঁড়াইয়া, ৪৬ হইতে ৪৯ মন্ত্র পাঠ করিবে। প্রাতে ও সায়াহ্নে করযােড়ে এবং মধ্যাহ্নে উৰ্দ্ধবাহু হইয়া ভগবান সুৰ্যদেবের মহিমা ব্যঞ্জক এই মন্ত্র পাঠ করিতে হইবে। স্মরণ-প্রণতি পরে উপবেশন করিয়া ৫০ হইতে ৫৯ মন্ত্র প্রাতঃ ও মধ্যাহ্ন সন্ধ্যায় পাঠ করিবে। সায়ং সন্ধ্যায় ইহা পড়িতে হয় না। অনেকে এই সময়ে এক এক অঞ্জলি জল দিয়া তৰ্পণ করিয়া থাকেন ; কিন্তু ইহা ভুল। জলদানের কোনও ব্যবস্থা নাই ; মাত্র পাঠ করিতে হইবে। পবিত্র কাৰ্যকালে পবিত্রতম দেবতাদিগকে স্মরণ করাই এই মন্ত্রের উদ্দেশ্য। ;

( ১৩, ) গালীশাপােদ্ধর এইবারে মহান্ গায়ত্রী মন্ত্র জপ করিবার জন্য প্রস্তুত হইতে হইবে। কিন্তু গায়ত্রী জপের পূর্বে তৎঘটিত কয়েকটি ক্রিয়া অনুষ্ঠিত হওয়া প্রয়ােজন। প্রথম ক্রিয়া গায়ত্রীর শপপাদ্ধার। ব্ৰহ্মা, বশিষ্ঠ ও বিশ্বামিত্র, এই তিন জনে গায়ত্রীদেবীকে অভিসম্পাত করিয়াছিলেন। গায়ত্রীদেবীকে আহ্বান করিবার পূর্বে এই শাপ- বিমােচন মন্ত্র পাঠ করিতে হয়। মাত্র প্রাতঃসন্ধ্যায় এই মন্ত্র কয়টি পাঠ করিলেই চলিবে ; মধ্যাহ্ন বা স্বায়ংসন্ধ্যায় আবশ্যক নাই। প্রথমে ব্ৰহ্মশাপের মােচন জন্য ৬০ ৬১ মন্ত্র পাঠ করিবে। পরে বশিষ্ঠশাপের মােচন জন্য ৬২ ও ৬৩মন্ত্র পাঠ করিবে। পরে বিশ্বামিত্ৰশাপ মােচন জন্য ৩৪ ও ৩৫ মন্ত্র পাঠ করিবে। গায়ত্রী আবাহন এইবার শাপ-বিমূক্ত গায়ত্রীদেবীকে আহ্বান করিতে পার। কৃতাঞ্জলিপুটে ৬৬ মন্ত্র পাঠ করিয়া দেবীকে আবাহন করিবে। পরে ৬৭মন্ত্রে গায়ত্রী মন্ত্রের ঋষ্যাদিকে পুনরায় স্মরণ করিবে। छाम গায়ত্রী জপের পূর্বে অঙ্গন্যাস করিতে হয়। নিম্নে তৎপ্রণালী লিথিত হইল। ৬৮ মন্ত্র পাঠ করিতে করিতে দক্ষিণ হস্তের তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকার অগ্ৰদেশ দ্বারা হৃদয় স্পর্শ করিবে; ৬৯ মন্ত্র পাঠ করিতে করিতে মধ্যমা ও তর্জনীয় অগ্ৰদেশ দ্বারা শির স্পর্শ করিবে; ৭০ মন্ত্র পাঠ করিতে করিতে অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা শিখা স্পর্শ করিবে; ৭১ মন্ত্র পাঠ করিতে করিতে দশাঙ্গুলি দ্বারা সর্বাঙ্গ স্পর্শ করিবে; ৭২ মন্ত্র পাঠ করিতে করিতে দক্ষিণ করতল দ্বারা বাম করতল স্পর্শ করিয়া করতলদ্বয়ে আঘাত করিবে। ;

( ১৪ ) शान এইবার গায়ত্রীদেবীর ধ্যান করিবে। ধ্যান তিন বেলায় তিন প্রকার। প্রভাতের নম্র সূৰ্য্যমণ্ডল মধ্যে কুমারী মূর্তিতে দেবীর ধ্যান করিবে। প্রভাতের সূৰ্য্য দিবসের স্রষ্টা, তাই দেবী সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা-- স্বরূপিণী। ঋগ্বেদ সকলের আদিতে প্রকাশিত হইয়াছিলেন, তাই দেবী ঋগ্বেদযুক্তা। ৭৩ মন্ত্রে প্রাতঃ সন্ধ্যায় গায়ত্রী ধ্যান করিবে। মধ্যাহ্নের দীপ্ত সূৰ্যমণ্ডল যৌবন প্রাপ্ত হয় ; তাই মধ্যাহ্ন ধ্যানে দেবী যুবতী ; গৃহিণীর মত পালনকর্তী বলিয়া পালনকর্তা বিষ্ণু-স্বরূপিণী। ঋগ্বেদের পরে যজুৰ্বেদ প্রকাশিত হইয়াছেন, তাই দেবী যজুৰ্বেদধারিণী। ৭৪ মন্ত্রে মধ্যাহ্ন সন্ধ্যায় গায়ত্রী ধ্যান করিবে। সায়াহ্নের স্নিগ্ধ সূৰ্য্যমণ্ডলে, জরা মূর্তি, ক্ষয়ের আধার, বৃদ্ধা, সংহার- কৰ্ত্তা রুদ্র-স্বরূপিণী গায়ত্রী দেবীর ধ্যান করিবে। সামবেদ তৃতীয়, তাই দেবী সামবেদযুক্ত। ৭৫ মন্ত্রে সায়ং সন্ধ্যায় গায়ত্রী ধ্যান করিবে। গায়ত্রী এইবার পবিত্র মনে গায়ত্রী জপ করিতে হইবে। জপ-কালে বস্ত্রাভ্যন্তরে হাত লইয়া বক্ষস্থলে রাখিয়া গায়ত্রী জপিতে হয়। প্রাতঃ সন্ধ্যায় হস্ত চিৎ করিয়া, মধ্যাহ্ন সন্ধ্যায় হৃদয়াভিমুখে তিৰ্য্যগ ভাবে রাখিয়া, এবং সায়ং সন্ধ্যায় হস্ত উপুড় করিয়া রাখিয়া জপিতে হয়। প্রাতে দাঁড়াইয়া, মধ্যাহ্নে যথেচ্ছ ভাবে থাকিয়া ও সায়াহ্নে উপবেশন করিয়া গায়ত্রী জপ করিবে। জপকালে বাম হস্তের অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা অনামিকার মধ্য-পৰ্ব্ব ধরিয়া থাকিবে ইহাকে ‘কর-ধরা’ কহে। দক্ষিণ হস্ত দ্বারা নিম্ন প্রণালীতে অন্তত দশবার গায়ত্রী জপ করিবে। বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠে উপবীত জড়াইয়া লইয়া উহার অগ্ৰ-পৰ্ব দ্বারা যথাক্রমে নিম্ন দশটি পৰ্ব স্পর্শ ;

( ১৫ ) করিয়া দশবার জপ করিবে; যথা-(১) অনামিকার মধ্য পৰ্ব্ব,. (২) অনামিকার মূল পৰ্ব্ব, (৩) কুনিষ্ঠার মূল পৰ্ব্ব, (৪) কনিষ্ঠার মধ্য পৰ্ব্ব, (৫) কনিষ্ঠার অগ্ৰ পৰ্ব্ব, (৬) অনামিকার অগ্ৰ পৰ্ব্ব, (৭) মধ্যমার। অগ্ৰ পৰ্ব্ব, (৮) তর্জনীর অগ্ৰ পৰ্ব্ব, (৯) তর্জনীর মধ্য পৰ্ব্ব, (১০) তর্জনীর মূল পর্ব। গায়ত্রী যত বেশী জপ করা যায়, ততই কল্যাণ। অন্ততপক্ষে দশবার জপিতে হয়।. ৭৬ মন্ত্রই গায়ত্রী। ܙ ܝܳ । গায়ত্রী বিসর্জন কথাটা শুনিয়া অনেকের মনেই খটুক। লাগিবে। এমন যে উপাস্যা, দেবী গায়ত্রী, তাঁহাকে আবাহন করিয়া আনিয়া পুনরায় বিসর্জন করিবার কি আবশ্যকতা আছে ? এ প্রশ্ন স্বাভাবিক। কিন্তু বিসর্জন করাই বিধি। তুমি কোনও পূজনীয়জনকে তােমার গৃহে আহ্বান করিয়া আনিয়া, তাঁহাকে বিদায় না-দেওয়া পর্যন্ত কখনও উঠিয়া গিয়া অন্যকর্মে ব্যাপৃত হইতে পার না ; উহা করিলে পূজনীয়জনের অবমাননা করা হয়। যদি চিরকাল গায়ত্রী জপ করিয়া কাটাইতে পারা যাইত, তাহা হইলে আর বিদায় দিবার আবশ্যকতা ছিল না। কিন্তু তাহা যখন সম্ভব নয়, তােমাকে যখন অন্যান্য কাৰ্যে ব্যাপৃত হইতে হইবেই, তখন তৎপূৰ্বে দেবীকে বিদায় দেওয়াই সঙ্গত। ৭৭ মন্ত্রে এক অঞ্জলি জল লইয়া দেবীকে বিসর্জন করিবে। পরে ভগবান আদিত্য ও শুক্ৰদেবকে ৭৮ মন্ত্রে এক অঞ্জলি জল প্রদান করিবে। ; , আত্মরক্ষা ইতিপূৰ্ব্বে মহা গায়ত্রী মন্ত্রজপে যে চৈতন্যের উদয় হইয়াছে, উহা যাহাতে আর নষ্ট না হয়, তাহার উদ্দেশ্যেই এই আত্মরক্ষা মন্ত্র দ্বারা অগ্নির নিকটে রিপুর বিনাশ কামনা করিতে হয়। দক্ষিণ করের অঙ্কুষ্ঠ ( ১৬, ) দ্বারা দক্ষিণ কর্ণের পৃষ্ঠদেশ স্পর্শ করিয়া ৭৯ ও ৮০ মন্ত্র পাঠ করিবে। পরে মস্তকে জল ছিটাইয়া দিবে। রুত্ৰোপস্থান প্রকৃতি-যুক্ত স্বগুণ পরম ব্রহ্মই রুদ্র। কৃতাঞ্জলিপুটে ৮১ ও ৮২ মন্ত্রে এই রুদ্রদেবের স্মৃতি পাঠ করিবে। তর্পণ পরে ৮৩হইতে ৮৬ মন্ত্রে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, সংহার- কর্তা এবং যে পবিত্র জল দ্বারা তৰ্পণ করিতে সক্ষম হইতেছ, সেই জলাধীপ বরুণদেবকে এক এক অঞ্জলি জল দান করিবে। ব্রহ্ম ব্রাহ্মণের প্রতিদিন বেদ পাঠ করিতে হয় ; এই স্বাধ্যায় না হইলে ব্রাহ্মণত্ব পূর্ণ হয় না। কিন্তু প্রত্যহ বেদ পাঠ করা সকলের পক্ষে সম্ভব নহে। এই ব্রহ্মযজ্ঞ করিলেই সেই বেদ পাঠ সম্পূর্ণ হয়। ব্ৰহ্মযজ্ঞ আর কিছুই নহে, যথাক্রমে ঋগ্বেদ, যজুৰ্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদের .সর্ব প্রথম মন্ত্রটি ঋ্যাদির সহিত পাঠ করা। ত্রিসন্ধ্যাম্বিত ব্রাহ্মণ কখনও এই ব্ৰহ্মযজ্ঞ পরিত্যাগ করিবেন না। কেবল মাত্র মধ্যাহ্ন সন্ধ্যার সময় এই ব্ৰহ্মযজ্ঞ করিলেই চলিবে। বমি পদাঙ্গুষ্ঠ দক্ষিণ পদাঙ্গুষ্ঠ দ্বারা চাপিয়া ধরিয়া পূৰ্বমুখে উপবেশন করিবে। বাম হস্তে কুশ রাখিয়া দক্ষিণ করতলদ্বারা উহা ঢাকিয়া প্রথমে একবার গায়ত্রী ৮৭ মন্ত্র পাঠ করিবে। পরে ঋগ্বেদের আদি সূক্ত ৮৮ ও ৮৯ মন্ত্র পাঠ করিবে। পরে ঐ প্রকার যজুর্বেদের আদি সূক্ত ৯০ ও ৯১ম পাঠ করিবে। পরে ঐ ভাবে সামবেদের আদি মুক্ত ৯২ ৯৩ মন্ত্র পাঠ করিবে। সৰ্বশেষে ৯৪ ও ৯৫ মন্ত্র দ্বারা অথৰ্ব্ববেদ পাঠ করিবে। অন্যান্য তিন বেদের মন্ত্রই তত্তৎ বেদের, প্রথম সূক্তের e ( ১৭ ) আদি মন্ত্র ; কেবল অথর্ব বেদের মন্ত্রটি উক্ত বেদের আদি মন্ত্র নহে, ১ম কাণ্ডের ১ম অনুবাকের ৬ষ্ঠ সূক্তের আদি মন্ত্র। অথৰ্ব বেদের সৰ্ব-আদি মন্ত্র পাঠের ব্যবস্থা না হইয়া এই মন্ত্রটি কেন নির্দিষ্ট হইয়াছে, তাহার কারণ অজ্ঞাত। সূৰ্য্যাৰ্য্য অবশেষে পুষ্প-চন্দনাদি দ্বারা অর্ঘ্য সাজাইয়া ৯৬ মন্ত্রে জ্যোতির্ময় ভগবান সুৰ্যদেবের উদ্দেশে প্রদান করিবে; অভাবে এক অঞ্জলি জল দ্বারাও অর্ঘ্য দেওয়া যায়। ৯৭ মন্ত্রে সূৰ্য্যদেবকে প্রণাম করিবে। ক্ষমাপণ ৯৮ মন্ত্রে দেবী গায়ত্রীর উদ্দেশে এক গণ্ডব জল দিয়া, সন্ধ্যা- কালীন ক্রটির জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করিবে। প্রণাম ৯৯ মল্পে অষ্টাঙ্গ দ্বারা ব্ৰহ্মণ্যদেবকে দণ্ডবৎ করিবে। ১oo মন্ত্র মহাভারতস্থ শান্তিপর্বের ভীষ্মন্তোত্রের একটি শ্লোক। এই মন্ত্রে অনুবাদক তাহার ভগবান অাচাৰ্য্যদেবকে দণ্ডবৎ করিয়াছে। উহা পাঠ করা না-করা ত্রিসন্ধ্যাপূত ব্রাহ্মণের ইচ্ছাধীন। উপসংহার » যদি এই পদ্যানুবাদ সাধারণের মনােজ্ঞ হয়, তবে ভবিষ্যতে এই প্রকার ঋক্ ও যজুৰ্ব্বেদোক্ত ত্রিসন্ধ্যা-বিধি ছন্দে গাঁথিতে ইচ্ছা রহিল। ব্ৰহ্মণ্যদেব জয়যুক্ত হউন। ২

No text on this page.

সাম-সন্ধ্যা-গাথা
আচমন
ওঁ বিষ্ণু। ওঁ বিষ্ণু। ওঁ বিষ্ণু। ১।
ওঁ তদবিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ ।
দিবীব চক্ষুরাততম্। ২।
প্রণব-পূটিত বিষ্ণু!
কৰ্ত্তা বিধাতা হৰ্তা জয় হে,
জয় জয় জয় বিষ্ণু!
বিশাল নয়ন দিয়া
নভেতল বিথারিয়া
যার দিঠি জাগিয়া বেড়ায়,
সেই বেদ-বিখ্যাত
বিষ্ণু-পরম-পদ
সুর-নর সতত ধ্যেয়ায়।

( ২০ )
মার্জন
ওঁ শন্ন আপাে ধন্বন্যাঃ, শমু নঃ সপ্যাঃ ।
শন্ন সমুদ্রি আপঃ, শমু নঃ সন্তুকূপ্যাঃ। ৩।
মরুদেশ-জাত অমৃত হে বারি।
কর কর কল্যাণ;
জলময়-দেশ হে প্লাবনকারী।
কর কর কল্যাণ।
অম্বুধি-জাত অম্বু-অতল !
কর কর কল্যাণ;
কুপ-জাত পূত পাবিত হে জল !
কর কর কল্যাণ।
ওঁ দ্রুপদাদিব মুচনিঃ, স্বিন্ন মাতাে মলাদিব।
পূতং পবিত্রেণেবাজ্য,মাপঃ শুষ্কন্তু মৈনসঃ ॥ ৪।
ঘৰ্ম্মলিপ্ত, বসি তরু-ছায়ে
হয় যথা সুশীতল,
স্নান-অবশেষে অশুচি অঙ্গে
রহে না যেমন মল ;
মন্ত্র পূরিত পাবিত বচনে
ঘৃত যথা হয় শুচি,
হে জল! তেমনি পাপ-মলা যাক
তব পরশনে ঘুচি।

( ২১ ) ওঁ আপো হি ষ্ঠা ময়রীভুব,স্তা ন উজ্জে দধাতন। মহে রণায় চক্ষসে । ৫। ; হে জল! তােমরা সকল সুখের নিদান—তােমরা নিদান বিতর অন্ন ; সেই রমণীয়ে দেখাবার কর বিধান। ওঁ যে বঃ শিবতমাে রস,-স্তস্য ভাজয়তেহ নঃ। উশতীরিব মাতরঃ। ৬। সন্তানবতী জননী যেমন শুন্য কররে দান, হে জল। তােমার মঙ্গল-রস তেমনি করাও পান। ওঁ তল্ম অরং গমাম বো, যস্য ক্ষয়ায় জিম্বথ। আপা জনয়থা চ নঃ ॥ ৭ ॥ হে জল! যে রসে করেছ তৃপ্ত যাবতীয় ভূত-প্রাণী ; ধন্য কর হে, অনন্ত মােরে, সেই শুভ রস দানি। ; : ওঁ ঋতঞ্চ সত্যঞ্চাভীদ্ধা,-ওপসােহধ্যজায়ত। তততা রাত্রিয়াজায়ত, ততঃ সমুদ্রোঅর্ণবঃ ॥ ৮। ওঁ সমুদ্ৰাদৰ্ণবাদধি, সংবৎসরাে অজায়ত। অহােরাত্রাণি বিদধ, বিশ্বস্য মিষতে বুশী । ৯।

( ২২ ) ওঁ সূৰ্য্যাচমসৌ ধাতা, যথাপূর্বমল্লয়ৎ। দিবঞ্চ পৃথিবীঞ্চা, -ন্তরীক্ষমথাে স্বঃ ॥ ১০ ॥ মহা-প্রলয়ের নিকষ তিমিরে ছিল না তাে কেহ আন ; ঋত ও সত্য পরমব্রহ্ম কেবল বিরাজমান। প্রলয়ের শেষে প্রাক্তন-বশে, জনমিল অর্ণব ; বারিধি-বক্ষ বিদারি হইল বিধাতার উদ্ভব। বিশাল বিশ্ব নিৰ্ম্মাণ-পটু বিধির নয়ন লাগি, ধীরে ধীরে ধীরে সূর্য-চন্দ্র উঠিল গগনে জাগি। দিবস-রজনী আনা-গােনা করি জাগালো বরষ-মাস ; চির নন্দিত নন্দন জাগি হইল রে পরকাশ। রমণীয় ধরা হাসিল পুলকে উদার আকাশ তলে ; একি রে দৃষ্টি ! সৃষ্টি ফুটিল বেষ্টিত জলে জলে। t ( ২৩ ) ঋষ্যাদি স্মরণ . কারস্য ব্ৰহ্মঋষিগায়ত্রীচ্ছন্দোগ্নিদেবতা সৰ্ব্বকৰ্ম্মারম্ভে বিনিয়ােগঃ ॥১১ ॥ ব্রহ্মা দ্রষ্টা প্রণব-মন্ত্র, গায়ত্রী তার ছন্দ, দেবতা অগ্নি, সকল কর্ম আরম্ভে সেই বন্দ্য। ওঁ সপ্তব্যাহৃতীনাং প্রজাপতিঋষির্গায়ত্রষ্ণিগনুষ্টববৃহতী- পর্ভূক্তিত্রিষ্টজগত্যচ্ছদাংসি অগ্নিবায়ুসূৰ্য্যবরুণবৃহ- স্পতীন্দ্ৰবিশ্বদেবদেবতাঃ প্রাণায়ামে বিনিয়ােগঃ ॥ ১২। সপ্তব্যাহতি মন্ত্র-দ্রষ্টা জয় ঋষি প্রজাপতি, গায়ত্রী, উষ্ণিক, ত্রিষ্টপ, অনুষ্টপ, বৃহতী, পঙক্তি, জগতী,সপ্ত ছন্দ; দেবতা সপ্ত জন, অগ্নি, সূৰ্য, ইন্দ্র, বরুণ, বৃহস্পতি, পবন, বিশ্বদেব,এ সপ্ত মন্ত্রে সপ্তব্যাহতি যােগ; পূত প্রাণায়াম পরায়ণ হয়ে করিতেছি বিনিয়ােগ।

( ২৪ )
৪ গায়া বিশ্বামিত্ৰঋষির্গায়ত্রীচ্ছন্দঃ সবিতা দেবতা
প্রাণায়ামে বিনিয়ােগঃ ॥ ১৩।
জয় গায়ত্রী মহান্ মন্ত্র,
জমরে জয়রে জয়,
দ্রষ্টা যাহার বিশ্বামিত্র,
পবিত্র অতিশয় ;
ছন্দ মধুর গায়ত্রী তার,
দেবতা সবিতা যােগ ;
পূত প্রাণায়াম পরায়ণ হয়ে
করিতেছি বিনিয়ােগ।
ওঁ গায়ত্রীশিরসঃ প্রজাপতিঋষিব্রহ্মবাযুগ্নিসূৰ্য্যাশ্চত্রে দেবতাঃ
প্রাণায়ামে বিনিয়ােগঃ ॥১৪।
জয় গায়ত্রী-শিরসি মন্ত্র,
ঋষি প্রজাপতি যার ;
দেবতা ব্রহ্মা, বায়ু ও অগ্নি,
সূৰ্য—এই সে চা’র।
পঞ্চ বায়ুরে পঞ্চ-পরাণে
পঞ্চে করিয়া মােগ,
পূত প্রাণায়াম পরায়ণ হয়ে
করিতেছি বিনিয়ােগ।

( ২৫ )
'প্রাণায়াম
ওঁ নভৌ রক্তবর্ণং চতুর্মুখং দ্বিভুজ।
তাক্ষসূত্ৰকমণ্ডলুকরং হংসবাহনস্থং ব্ৰহ্মাণং ধ্যায় ॥ ১৫।
ওঁ ভূঃ ওঁ ভুঃ ওঁ স্বঃ ওঁ মহঃ ওঁ জনঃ ওঁ তপঃ ওঁ সত্যং। ১৬
ওঁ তৎসবিতুর্বরেণিয়ং, ভর্গো দেবস্য ধীমহি।
ধিয়ো যো নঃ প্রচোদয়াৎ । ১৭।
ওঁ আপাে জ্যোতী রসােহমৃতং, ব্ৰহ্ম ভূভুবঃ স্বরে॥ ১৮।
নাভি-দেশে ধ্যান করি এক মনে
পূরকে অনুক্ষণ;
লােহিতবর্ণ সৃষ্টিকৰ্ত্তা
দ্বিভুজ চতুরানন ;
বাম হাতে তার কমণ্ডলুটি,
দক্ষিণে জপমালা,
হংসবাহনে ব্রহ্মা-স্বরূপ
অপাণ করিয়া আলা।
ধূ, ভুব, স্ব, মহ, জন, তপ আর
সত্য,সপ্ত-লােক,
আলােকিত করি যে জ্যোতি বিরাজে
বরণীয় সেই হােক।
ত্রিগুণ-তাপিত নিখিল জীবের
চির আরাধ্য-ধন ;
সৃষ্টি-স্থিতি-লয়কারী,হােক
ধ্যানে সদা বিলােকন।

( ২৬ )
ধৰ্ম্ম, অর্থ, কাম ও মােক
এই চারি-রূপ কর্মে,
তাঁর প্রেরণায় বুদ্ধিবৃত্তি
নিয়ােজিত রহে মৰ্ম্মে।
সে জ্যোতি ধরার চির-হেতুভুত
নিৰ্ম্মল জলরাশি;
সে জ্যোতি নিয়ত মণি-মরকতে
তেজ-রূপে রহে হাসি।
তরু-তৃণ দলে, ওষধি-মরমে,
রস-রূপে বহি যায় ;
নিখিল প্রাণীর অমৃত চেতনা
সে বিলায়—সে বিলায়।
স্বর্গ-মর্ত্য-আকাশে প্রকাশ
যার দ্যুতি অনুরাগে,
জয় জয় জয় পরম ব্রহ্ম!
একা সে জগতে জাগে।
ওঁ হৃদি নীলোৎপলদলপ্ৰভং চতুভুজং শঙ্খচক্রগদাপদ্মহস্তং।
গরুড়ারূঢ়ং কেশবং ধ্যায় ॥ ১৯।
ও
ভুবঃ
ওঁ স্বঃ ওঁ মহঃ ওঁ জনঃ ওঁ তপঃ ওঁ সত্যং। ২০ ||
ওঁ তৎসবিতুর্বরেণয়ং, ভর্গো দেবস্য ধীমহি।
ধিয়াে য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ। ২১ ॥
ওঁ আপাে জ্যোতী রসােহমৃতং, ব্ৰহ্ম ভূর্ভুবঃ স্বরে। ২২

( ২৭ )
নীল-উৎপল-দলিত কান্তি,
ললিত চারিটি কর,
শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম
ধারণ পুরুষবর;
জয়রে জয়রে গরুড়-আরূঢ়
বিষ্ণু ঐভগবান,
কুম্ভক-ছলে হৃদয়-কমলে
পরাণে তঁাহার ধ্যান।
ভু, ভুব, স্ব, মহ, জন, তপ আর
সত্য,সপ্ত-লােক,
আলােকিত করি যে জ্যোতি বিরাজে,
বরনীয় সেই হােক্।
ত্রিগুণ-তাপিত নিখিল জীবের
চির আরাধ্য-ধন ;
সৃষ্টি-স্থিতি-লয়কারী,—হােক
ধ্যানে সদা বিলােকন।
ধৰ্ম্ম, অর্থ, কাম ও মােক্ষ,
এই চারি-রূপ কৰ্ম্মে,
তঁার প্রেরণায় বুদ্ধিবৃত্তি
নিয়ােজিত রহে মৰ্ম্মে।
সে জ্যোতি ধরার চির-হেতুভূত
নির্মল জলরাশি
সে জ্যোতি নিয়ত মণি-মরকতে,
তেজ-রূপে রহে হাসি।

( ২৮. )
তরু-তৃণ দলে, ওষধি-মরমে,
রস-রূপে বহি’ যায় ;
নিখিল প্রাণীর অমৃত চেতনা
সে বিলায়—সে বিলায়।
স্বর্গ-মর্ত্য-আকাশে প্রকাশ
যার দ্যুতি অনুরাগে,
জয় জয় জয় পরম ব্রহ্ম !
একা সে জগতে জাগে।
ওঁ ললাটে শ্বেতং দ্বিভুজং ত্রিশূলডমরুকরম্।
তাৰ্দ্ধচন্দ্ৰভালং ত্রিনেত্রং বৃষভারূঢ়ং শম্ভুং ধ্যায় ॥ ২৩।
ভূঃ ও ভুবঃ
ওঁ স্বঃ ওঁ মহঃ ওঁ জনঃ ওঁ তপঃ ওঁ সত্যং | ২৪।
ওঁ তৎসবিতুর্বরেণিয়ং, ভর্গো দেবস্য ধীমহি।
ধিয়ে য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ। ২৫।
ওঁ আপাে জ্যোতী রসেহমৃতং, ব্ৰহ্ম ভূর্ভুবঃ স্বরে॥ ২৬,
ত্রিশূল-ডমরু-ধারণ দ্বিভুজ,
তুষার-বরণ জয়,
অর্ধচন্দ্র-বিভূষিত ভাল,
ত্রিনয়ন তেজোময় ;
বৃষভ-বাহন শম্ভু স্বয়ং
তাপহারী তমােনশ ;
ললাট-গগনে করিয়া ধেয়ান
রেচকে ছাড়িনু শ্বাস।

( ২৯
ভূ, ভুব, স্ব, মহ, জন, তপ আর
সত্য,সপ্ত-লােক,
আলােকিত করি যে জ্যোতি বিরাজে,
বরণীয় সেই হােক।
ত্রিগুণ-তাপিত নিখিল জীবের
চির আরাধ্য-ধন ;
সৃষ্টি-স্থিতি-কায়কারী,—হােক
ধ্যানে সদা বিলােকন।
ধৰ্ম্ম, অর্থ, কাম ও মােক্ষ,
এই চারি-রূপ কৰ্ম্মে,
তার প্রেরণায় বুদ্ধিবৃত্তি
নিয়ােজিত রহে মর্মে ।
সে জ্যোতি ধরার চির-হেতুভূত
নিৰ্ম্মল জলরাশি ;
সে জ্যোতি নিয়ত মণি-মরকতে
তেজ-রূপে রহে হাসি
তরু-তৃণদলে, ওষধি-মরমে,
রস-রূপে বহি যায় ;
নিখিল প্রাণীর অমৃত চেতনা।
সে বিলায়-সে বিলায়
স্বর্গ-মর্ত্য-আকাশে প্রকাশ
যার দ্যুতি তানুরাগে,
জয় জয় জয় পরমব্রহ্ম ।
একা সে জগতে জাগে ।

( ৩০ )
অন্তরাচমন
[ প্রভাতে?
ওঁ সূৰ্য্যশ্চমেতি মন্ত্রস্ত ব্ৰহ্মঋষিঃ প্রকৃতিচ্ছন্দ আপাে দেবতা
আচমুনে বিনিয়ােগঃ ॥ ২৭।
ওঁ সূৰ্য্যশ্চ মা মশ্চ মােপতয়শ্চ, মকৃতেভ্যঃ.পাপেভ্যো রক্ষাং
যদ্রা পাপমকাষং মনসা বাচা, হস্তাভ্যাং প্যামুদরেণ শিশ্না।
অইস্তদবলুস্পতু, যৎ কিঞ্চ দুরিতং ময়ি
ইদমহং মামমৃতযােনৌ, সূৰ্যে জ্যোতিষি জুহােমি স্বাহা ॥ ২৮।
সূৰ্য-মন্ত্র দ্রষ্টা সে ঋষি
ব্রহ্মা চতুরানন,
প্রকৃতি ছন্দ,
সলিল দেবতা,
বিনিয়ােগ আচমন।
*
সূৰ্য্য! যজ্ঞ। যজ্ঞপতি হে
ইন্দ্রাদি মহীয়া!
যজ্ঞজনিত ত্রুটি-পাপ হতে
কর কর মােরে ত্রাণ।
পদে, উপন্থে, উদরে, ইন্তে,
বাক্যে কি মনে মনে,
গভীর নিশীথে যে পাপ করেছি
একান্ত নিরজনে

( ৩১ )
হে দিবস! ওগাে পুণ্য আলােক।
সে পাতক কর নাশ,
বাকী পাপ আসি’ গ য মাঝে
এ সলিলে কর বাস ;
হৃদয়ে রাজিত পরমাত্মা যে
জ্যোতিময় ভগবান,
তাহারি চরণে হােম-ছলে এই
সলিল করিনু পান।
[ মধ্যাহ্নে ]
ওঁ আপঃ-পুনষ্কৃিতি মন্ত্রস্ত বিষ্ণুঋষিরনুষ্ট ছন্দ আপাে দেবতা
আচমনে বিনিয়ােগঃ ॥ ২৯।
ওঁ আপঃ পুনস্তু পৃথিবীং, পৃথী পূতা পুনাতু মাং।
পুনস্তু ব্ৰহ্মণষ্পতি, -ব্রহ্ম পূতা পুনতু মাং। ৩০।
যদুচ্ছিষ্টমভােজ্যঞ্চ, যা দুশ্চরিতং মম।
সৰ্ব্বং পুনস্তু মামাপাে, হসতাঞ্চ প্রতিগ্রইং স্বাহা ॥ ৩১ ৷
আপ-মন্ত্রের ঋষি শ্রীবিষ্ণু,
ছন্দ অনুষ্টপ,
দেবতা সলিল, বিনিয়ােগ তার
আচমনে অনুরূপ।
পৃথিবী-জাত এ পার্থিব দেহ
পাবিত কর হে জল!
হে পূত শরীর! মম এ আত্মা
কর কর নিরমল।

( ৩২ )
জ্ঞানের আলয় পরম-আত্মা
হউন পরম তৃপ্ত ;
আবার—আবার জীবাত্মা মম
হউক তাহাতে দীপ্ত।
যে উচ্ছিষ্ট হয়েছে ভুক্ত,
অভক্ষ্য ভক্ষণ,
অসৎদান যে নিয়েছি, করেছি
যে অসৎ আচরণ;
নিৰ্ম্মল পূত সলিল সমান
হে অমল নারায়ণ।
সে সকল পাপ-দুষ্কৃতি মম
কর কর বিমােচন।
এ মম মন্ত্রে নিখিল পাতক
করিনু আহুতি দান ;
আচমন-কালে আহুতির ছলে
করিতেছি জল পান।
[ সায়াহ্নে ]
ওঁ অগ্নিশ্চমেতি মন্ত্রস্য রুদ্র ঋষিঃ প্রকৃতিচ্ছল আপাে দেবতা
আচমনে বিনিয়োগঃ ॥ ৩২।
ওঁ অগ্নিশ্চমা মশ্চ মদ্যপতয়শ্চ, মকৃতেভ্যঃ পাপেভ্যো রক্ষা
যদা পাপমকাষ্ণ মনসা বাচা, হস্তাভ্যাং প্যামুদরেণ শিশ্না।
রাত্রিস্তদবলুস্পতু, যৎ কিঞ্চ দুরিতং ময়ি
ইদহং মামমৃতযােনৌ, সত্যে জ্যোতিষি জুহােমি স্বাহা ॥

(
অগ্নি-মন্ত্রে ঋষি শ্ৰীরুদ্র,
প্রকৃতি ছন্দ-লয়,
সলিল দেবতা, আচমন-কালে
চির বিনিয়ােগ হয়।
অগ্নি! যজ্ঞ। যজ্ঞপতি হে
ইন্দ্রাদি মহীয়ান্ !
যজ্ঞ-জনিত ত্রুটি-পাপ হতে
কর কর মােরে ত্রাণ
পদে, উপস্থে, উদরে, হস্তে,
বাক্যে কি মনে মনে,
সারা এ দিবসে যে পাপ করেছি
স্বজনে কি নিরজনে ;
হে রজনী ! ওগাে শান্ত শীতল ।
সে পাতক কর নাশ,
বাকী পাপ আসি’ গণ্ড, মাঝে
এ সলিলে কর বাস ;
অমৃত সত্য পরমাত্মা যে
জ্যোতির্ময় গবান,
তঁাহারি চরণে হােম-ছলে এই
সলিল করিনু পান।
৩

( ৩৪ )
আপােমার্জন
ওঁ। ৩৪।
ভূর্ভুবঃ স্বঃ ॥ ৩৫।
তৎসবিতুৰ্বরেণিয়ং, ভর্গো দেবস্য ধীমহি।
ধিয়াে যাে নঃ প্রচোদয়াৎ। ৩৬।
পৃথিবী-আকাশ-স্বর্গ ব্যাপিয়া
সবিতা বিরাজমান ;
বরেণ্য সেই চৈতন্যের
জ্যোতি সদা করি ধ্যান।
সে জ্যোতির দানে নিখিল জগৎ
তৃপ্ত অপরিমিত ;
তার প্রেরণায় বুদ্ধিবৃত্তি
রহে সদা নিয়ােজিত।
ধ্যান কর তারে, ধ্যান কর সদ,
ধ্যান কর ওরে মন!
সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়-কৰ্ত্তা
জ্যোতির্ময় সে জন।
ওঁ আপােহিষ্ঠেতি ঋত্রয়স্য সিন্ধুদ্বীপঋষিগায়ত্রীচ্ছন্দ আপে। দেবতা
আপােমানে বিনিয়ােগঃ ॥ ৩৭।
ওঁ অপাে হি ষ্ঠা ময়ােভুব, “স্তা ন উজ্জে দধাতন।
মহে রণায় চক্ষুসে ॥ ৩৮।
ওঁ যাে বঃ শিবতমাে রস, স্তস্য ভাজয়তেই নঃ।
উশতীরিব মাতরঃ। ৩৯।

( ৩৫ )
ওঁ তস্ম অরং গমাম বাে, যস্য ক্ষয়ায় জিম্বথ।
অপাে জনয়থা চ নঃ। ৪০।
পূত সলিলের যে তিনটি ঋক্‌
মার্জনে অনুবন্ধ,
সিন্ধুদ্বীপ ঋষিই দ্রষ্টা,
গায়ত্রী তার ছন্দ ;
মরু-জলাশয়ে সিন্ধু ও কূপে
যে জল উছলি বয়,
সেই তাে দেবতা ; জল-মার্জনে
চির বিনিয়ােগ হয়।
হে জল ! তোমরা সকল সুখের
নিদান-তােমরা নিদান
বিতর অন্ন ; রমণীয় জনে
দেখাবার কর বিধান।
সন্তানবতী জননী যেমন
স্তন্য করয়ে দান,
হে জল! তােমার মঙ্গল-রস
তেমনি করাও পান।
হে জল ! যে রসে করেছ তৃপ্ত
যাবতীয় ভূত-প্রাণী,
ধন্য কর হে, অনন্য মােরে,
সেই শুভ রস দানি।

( ৩৬ )
অঘমর্ষণ
ওঁ ঋতমিত্যস্য অঘমর্ষণঋষিরনুষ্টুপ ছন্দো ভাববৃত্তো দেবতা
অশ্বমেধাবভৃথে বিনিয়ােগঃ ॥ ৪১।
ওঁ ঋতঞ্চ সত্যঞ্চাভীদ্ধা, ওপসােহধ্যজায়ত।
ততো রাত্রিয়াজায়ত, ততঃ সমুদ্রোঅর্ণবঃ ॥ ৪২ ।
ওঁ সমুদ্ৰাদৰ্ণবাদধি, সংবৎসররা অজায়ত।
অহােরাত্রাণি বিদধদ, বিশ্বস্ত মিষতে বশী। ৪৩
ওঁ সূৰ্য্যাচমসৌ ধাতা, যথাপূর্বকল্পয়ৎ ।
দিবঞ্চ পৃথিবীঞ্চা, স্তরীক্ষমথাে স্বঃ ॥ ss ।
ঋত-সত্যাদি মন্ত্রের ঋষি
অঘমর্ষণ নাম,
ছন মধুর অনুষ্টটি
—গম্ভীর প্রাণারাম ;
ভাববৃত্তই দেবতা তাহার
পাপ-পিশাচের অরি
পাপরূপী অঘ-অশ্বমেধেতে
বিনিয়ােগ রে করি ।
।
মহা-প্রলয়ের নিকষ তিমিরে
ছিল না তাে কেহ আন ;
ঋত ও সত্য পরমব্রহ্ম
কেবল বিরাজমান।

( ৩৭ )
প্রলয়ের শেষে প্রাক্তন-বশে
জনমিল অর্ণব ;
বারিধি-বক্ষ বিদারি হইল
বিধাতার উদ্ভব ।
বিশাল বিশ্ব নিৰ্মাণ-পটু
বিধির নয়ন লাগি,
ধীরে ধীরে ধীরে সূর্য-চন্দ্র
উঠিল গগনে জাগি।
দিবস-রজনী আনাগােনা করি
জাগালো বরষ-মাস;
চির নন্দিত নন্দন জাগি
হইল রে পরকাশ।
রমণীয় ধরা হাসিল পুলকে
উদার আকাশ তলে ;
একি রে দৃষ্টি ! সৃষ্টি ফুটিল,
বেষ্টিত জলে জলে।
ও
সূৰ্যোপস্থান
ভূভুবঃ স্বঃ।
তৎসবিতুর্বরেণিয়ং, ভর্গো দেবস্য ধীমহি।
ধিয়াে যাে নঃ প্রচোদয়াৎ । ৪৫।

( ৩৮ )
পৃথিবী-আকাশ-স্বর্গ ব্যাপিয়া
সবিতা বিরাজমান ;
বরেণ্য সেই চৈতন্যের
জ্যোতি সদা করি ধ্যান।
সে জ্যোতির দানে নিখিল ভুবন
তৃপ্ত অপরিমিত
তার প্রেরণায় বুদ্ধিবৃত্তি
রহে সদা নিয়ােজিত।
তাঁহার সৃষ্টি, সে করে পুষ্টি,
পুন প্রবিষ্ট তাতে ;
পরমব্রহ্ম সে জ্যোতির দ্যুতি
ধ্যানের আলোকে ভাতে।
;
ওঁ উত্যমিত্যস্য প্রঋণঋষিগায়ত্রীচ্ছন্দঃ সূৰ্য্যো দেবতা
সূৰ্যোপস্থানে বিনিয়ােগঃ ॥ ৪৬।
ওঁ উছু ত্যং জাতবেদসং, দেবং বহন্তি কেতবঃ ।
দৃশে বিশ্বায় সূর্যম্ ॥ ৪৭।
উৰ্দ্ধগামী এ শুদ্ধ মন্ত্র,
ঋষি যার প্রঋণ,
ছন্দ দিব্য পূত গায়ত্রী,
সূৰ্য্য দেবতা ধন্য ;
জ্যোতি-ভগবান সূর্যদেবের
উপাসনা-কালে যােগ,

( ৩৯ )
একান্ত মনে অন্তরাকাশে
করি তার বিনিয়ােগ।
শাশ্বত সেই রশ্মি সকল
বিশ্ব করিতে আলাে,
ভাস্কর-দেবে উর্ধে তুলিয়া
ধরেছে ধরেছে ভালো।
ওঁ চিত্রমিত্যস্য কুৎসঋষিস্ক্রিষ্ট প ছন্দঃ সূৰ্য্যো দেবতা
সূৰ্যোপস্থানে বিনিয়ােগঃ ৪৮।
ও চিত্রং দেবানামুদগাদনীকং, চক্ষুর্মিত্ৰ বরুণস্যাগ্নেঃ ।
অপ্রা দ্যাবাপৃথিবীঞ্চান্তরীক্ষং, সূৰ্য্য আত্মা জগতস্তষশ্চ ॥৪৯
বিচিত্র পূত চিত্র-মন্ত্র
কুৎস ঋষির গান,
ছন্দ মধুর ত্রিষ্টপ, দেব
শ্ৰীসূৰ্য-ভগবান ;
ভর্গদেবের অ…না-কালে
হয় তার বিনিয়োেগ ;
তেজময় রূপে, তেজের স্বরূপে,
তেজ করি উপভােগ ।
মিত্র-বরুণ-অগ্নির যিনি
নেত্ৰ-মধ্যমণি,
সকল-দেবতা-বেষ্টিত এক
সমষ্টি দ্যুতি-খনি;

( ৪০
)
স্থার কিম্বা জঙ্গম-ভূতে
আত্মা-রুপে নিবাসে,
উদিত উজল সে সূর্যদেব
অপরূপ-রূপে হাসে।
দিকে-দিকে জ্বালি কিরণ-মালিক।
ঠিকরে গগনময় ;
স্বর্গ-মর্ত্য-ব্যোম আলােকিত,
জয়রে জয়রে জয়।
স্মরণ-প্রণতি
[ প্রভাতে ও মধ্যাহ্নে
ওঁ নমাে ব্ৰহ্মণে ॥ ৫০ ।
ওঁ নমাে ব্রাহ্মণেভ্যো ॥ ৫১ ।
আচার্য্যেভ্যো ৫২।
ঋষিভ্যো ॥ ৫৩
'ওঁ নমাে দেবেভা ॥ ৫৪ ।
ওঁ নম
ওঁ নম
নমাে বেদেভ্যো ॥ ৫৫।
নমাে বয়বেচ ॥ ৫৬।
ওঁ নমাে মৃত্যবেচ। ৫৭।
ওঁ নমাে বিষ্ণবেচ। ৫৮।
ওঁ নমাে বৈশ্রবণায়চোপজায়ত। ৫৯

) ( ৪১ সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা-চরণে করি গো দণ্ডবৎ। জগা-রক্ষক ব্রাহ্মণগণে করি গাে দণ্ডবৎ জ্ঞান-দানকারী আচাৰ্যগণে করি গাে দণ্ডবৎ। মন্ত্র-সৃজনকারী ঋষিগণ চরণে দণ্ডবৎ। নিখিল ভূতের অধিকারী দেব- গণেরে দণ্ডবৎ। বিধানকৰ্ত্তা বেদের চরণে অশেষ দণ্ডবৎ। নিখিল প্রাণীর প্রাণরক্ষক বায়ুরে দণ্ডবৎ । মৃত্যুবিধায়ী ধৰ্ম্মরাজের। চরণে দণ্ডবৎ। জগৎ-পালক বিষ্ণু-চরণে করি গাে দণ্ডবৎ। জীবিকা-যাপনে প্রধান ঘােটক কুবেরে দণ্ডবৎ।

( ৪২ )
গায়ত্রী-শাপােদ্ধার
[ প্রভাতে ]
6%
গায়ত্ৰা ব্ৰহ্মশাপবিমােচন মন্ত্রস্ত ব্ৰহ্মঋষিগায়ত্রীচ্ছন্দে।
ব্ৰহ্মদেবতা ব্রহ্মশাপবিমােচনে বিনিয়োেগঃ ॥ ৬০ ||
ওঁ গায়ত্রি ত্বং যব্রহ্মেতি ব্ৰহ্মবিদো বিদুত্ত্বা।
পশ্যন্তি ধীরাঃ সুমনসসা বা ৷
গায়ত্রি ত্বং ব্রহ্মশাপাবিমুক্তা ভব॥ ৬১।
ব্রহ্মশপের মােচন মন্ত্রে
দ্রষ্টা ব্ৰহ্ম। জয়,
ছন্দ মধুর গায়ত্রী তার,
দেবতা ব্ৰহ্ম হয় ;
ব্রহ্মশাপের বিমােচন-আশে
করিতেছি বিনিয়ােগ ;
শাপ-বিমুক্তা দেবী গায়ত্রী
হও আসি হেথা যােগ।
হে দেবী গায়ত্রী!
ব্ৰহ্মবিদেরা জানে তুমি সেই
ব্ৰহ্ম-স্বরূপ-ধাত্রী।
প্রশান্ত-চিত ধীর বুধগণ
তব মহিমায় যুক্ত ;
ব্ৰহ্ম-শাপের নিগড় হইতে
হও হও দেবী, মুক্ত।

( ৪৩ )
ওঁ গায়ত্র্য। বশিষ্ঠশাপবিমােচন মন্ত্রস্ত বশিষ্ঠঋষিরনুষ্টপ,
ব্ৰহ্মবিষ্ণুরুদ্রাদেবতাঃ বশিষ্ঠশাপবিমােচনে বিনিয়ােগঃ ॥ ৬২।
ওঁ অর্কজ্যোতিরহং ব্রহ্মা, ব্ৰহ্মজ্যোতিরহং শিবঃ।
শিবজ্যোতিরহং বিষ্ণু, বিষ্ণুজ্যোতিরহং শিবঃ ।
গায়ত্রি ত্বং বশিষ্ঠশাপাদবিমুক্ত ভব৷ ৬৩।
a
বশিষ্ঠ-শাপমােচন মন্ত্রে
ঋষি বশিষ্ট নাম,
ছন্দ মধুর অনুষ্ট পটি
সুন্দর অভিরাম ;
দেবতা ব্রহ্মা, বিষ্ণু, রুদ্র,
এ তিন স্বরূপ যােগ,
বশিষ্ঠ-শাপ বিমােচন-আশে
করিতেছি বিনিয়ােগ।
সূৰ্য্য-জ্যোতি-স্বরূপ আমিই
ব্ৰহ্মা,--নহি তাে জীব,
ব্ৰহ্মা-জ্যোতি-স্বরূপ আমিই
শিবশিব—আমি শিব
শম্ভ-জ্যোতি-স্বরূপ আমিই
বিষ্ণু-নহি তো জীব,
বিষ্ণু-জ্যোতিস্বরূপ আমিই
শিবশিব—আমি শিব।
.

( ৪৪ )
ও গায়ত্ৰা বিশ্বামিত্র-পবিমােচন মন্ত্র বিশ্বামিত্র ঋষির স
ছন্দো গায়ত্রী দেবতা বিশ্বামিত্রশাপবিমােচনে বিনিয়োগঃ ৬১||
ওঁ অহো দেবি মহাদেবি, দিব্যে সন্ধ্যে সরস্বতি।
অজরে অমরে চৈব, ব্ৰহ্মযােনি নমােহস্তুতে।
গায়ত্রি ত্বং বিশ্বামিত্ৰশাপাবিমুক্তা ভব। ৬৫।
•
বিশ্বামিত্র-শাপ বিমােচনে
ঋষি বিশ্বামিত্র,
ছন্দ মধুর অনুষ্টপটি
সুন্দর সুপবিত্র
এই মন্ত্রের দেবতা-স্বরূপে ,
গায়ত্রী শুভ যোগ,
বিশ্বামিত্র-শাপ বিমােচনে
করিতেছি বিনিয়ােগ।
এস এস দেবী, এস গায়ত্রী,
এস মহাদেবী অজরা।
এস হে সন্ধ্যা, সরস্বতী হে,
এস হে দিব্যা অমরা।
শাপ বিমুক্তা দেবী গায়ত্রী,
এস এস এস নিত্য ;
নিৰ্ম্মল রূপে উজলিয়া এস,
এ মম ক্ষুধিত চিত্ত।

( ৪৫ )
গায়ত্ৰী-আবাহন
আয়াহি বরদে দেবি এ্যক্ষরে ব্রহ্মবাদিনি।
গায়ত্রিচ্ছন্দসাং মাতব্রহ্মযােনি নমােহস্তুতে। ৬৮ ।।
এস এস বরদাত্রী।
অক্ষর-ত্রয়-সমন্বিত হে,
ব্ৰহ্মবাদিনী ধাত্রী।
ছন্দের মাতা দেবী গায়ত্রী,
পরমব্রহ্ম-জাত।
বেদ-প্রকাশিনী জননী! তােমার
চরণে নােয়াই মাথা।
ও গায়ত্র। বিশ্বামিত্রঋষির্গায়ত্ৰীচ্ছন্দঃ সবিতা দেবতা।
জপােপনয়নে বিনিয়ােগঃ ॥ ৬৭।
জয় গায়ত্রী মহান্ মন্ত্র,
জয়রে জরে জয়,
দ্রষ্টা যাহার বিশ্বামিত্র
পবিত্র অতিশয়
ছন্দ মধুর গায়ত্রী তার,
দেবতা সবিতা বােগ,
জপ-বলে সেথা হব উপনীত,
সেই আশে বিনিয়োেগ !

( ৪৬ )
ন্যাস
হৃদি ওঁ ॥ ৬৮
শিরসি ওঁ ভূঃ ॥ ৬৯
শিখীয়াং ওঁ ভুবঃ ॥ ৭০।
সর্বগাত্ৰেষু, ওঁ স্বঃ ॥৭১।
করতলদ্বয়ে ওঁ তৎসবিতুর্বরেণিয়ং, ভর্গো দেবস্য ধীমহি
ধিয়াে য়াে নঃ প্রচোদয়াৎ ৭২।
হৃদয়ে,-জন-পালনলয়ের
কৰ্ত্তা, জয়রে জয় ;
শিরসিতে,—দ্যাব দীপ্ত পৃথিবী,
জয়রে জয়রে জয়।
শিখায়,—উদার অমল গগন,
জয়রে জয়রে জয় ;
সৰ্ব্ব শরীরে,—চির নন্দিত
নন্দন, জয় জয়।
করতল দ্বয়ে,—সেই সে সবিতা
বরেণ্য দাতা ভর্গ,
বুদ্ধিবৃত্তি প্রেরণা যাহার,
দাও তঁারে ধ্যান-অর্ঘ্য।

( ৪৭ )
ধ্যান
[ প্রভাতে ]
ওঁ কুমারীং ঋগ্বেদযুতাং ব্রহ্মরূপাং বিচিস্তয়েৎ।
হংসস্থিতাং কুশহস্তাং সূৰ্যমণ্ডলসংস্থিতাম্ ॥ ৭৩।
ধ্যেওরে গায়ত্রী।
নম্র সূর্যমণ্ডল মাঝে
ঋগ্বেদ-বিধি-ধাত্রী।
প্রভাতে কুমারী কন্যামূরতি,
শ্রীহস্তে কুশ রাজে;
সৃজনকারিণী ব্ৰহ্মা-রূপিণী
হংসবাহিনী সাজে।
[ মধ্যাহ্নে ]
ওঁ সাবিত্রীং বিষ্ণুরূপাঞ্চ তাক্ষস্থাং পীতবাসসীম্।
যুবতীপ যজুৰ্বেদাং সূৰ্য্যমণ্ডলসংস্থিতা। ৭৪।
ধ্যেওরে সাবিত্রী ।
এ মধ্যাহ্নে জননী যুবতী,
যজুৰ্ব্বেদের ধাত্রী।
জগৎ-পালিনী বিষ্ণুরূপিণী
পীত-অম্বর সাঙ্গে ;
দীপ্ত সূৰ্যমণ্ডল মাঝে
গরুড়বহনে রাজে।
[ সায়াহ্নে ]
ওঁ সরস্বতীং, শিবরূপাং বৃদ্ধাং বৃষভবাহিনী।
সূর্যমণ্ডলমধ্যস্থাং সামবেদসমাযুতাম্ ॥ ৭৫।

( ৪৮ )
ধ্যেওরে গায়ত্রী।
শান্ত শীতল শ্যাম সায়াহ্নে
সামবেদ-বিধি-ধাত্রী ।
স্নিগ্ধ সূর্যমণ্ডল মাঝে
প্রলয়ঙ্করী বৃদ্ধা ;
শিব-স্বরূপিণী বৃষভবাহিনী
শ্রীসরস্বতী বিদ্যা ।
গায়ত্রী
ওঁ ভূভুবঃ স্বঃ।
তৎসবিতুর্বরেণয়ং, ভর্গো দেবস্য ধীমহি ।
ধিয়ে যাে নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ। ৭৬।
;
সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়-কৰ্ত্তা
ব্ৰহ্ম-প্রণব জয় ।
ভুবন-গগন-নন্দনব্যাপী
সবিতা জ্যোতিৰ্ম্ময়
বরণীয় সেই জ্যোতি করি ধ্যান,
সে দানে নিখিল তৃপ্ত
তার প্রেরণায় বুদ্ধিবৃত্তি
সকল কর্মে দীপ্ত।
সৃজন-পালন-লয়
ব্রহ্ম-প্রণব জয়!

( ৪৯ ).
গায়ত্রী-বিসর্জন
ওঁ মহেশবদনােৎপন্না বিষ্ণোহৃদয় সম্ভব।
ব্ৰহ্মণা সমনুজ্ঞাতা গচ্ছ দেবি যথেচ্ছয়। ৭৭৫
মহেশ্বরের শ্রীবদনে তব
উদ্ভব,—জয় দেবী হে!
বিষ্ণু-হৃদয়ে বাস সম্ভব,
জয় জয় জয় দেবী হে!
ব্ৰহ্মাই জানে মহিমাব কথা,
জয় জয় জয় দেবী হে।
যাও এবে তথা, মন চলে যথা,
চরণে প্রণতি দেবী হে!
ওঁ অনেন জপেন ভগবন্তাবাদিত্যশুক্রো প্রয়েতাম্।
ওঁ আদিত্যশুক্রাভ্যাং নমঃ। ৭৮।
নমাে আদিত্য-ভগবান জয়
শুক্র-দেবতা ওহে!
আমার এ পূত গায়ত্রী জপে
তৃপ্ত হউন দেহে।
আত্মরক্ষা
ওঁ জাবেদসইত্যস্য কাশ্যপঋষিষ্টিপ ছন্দোগ্নিদেবতা
আত্মরক্ষায়াং জপে বিনিয়োেগঃ ৪৭৯।
ওঁ জাতবেদসে সুনবাম সােম,-মরাতীয়তাে নি দহাতি বেদঃ।
স নঃ পর্ষদতি দুর্গাণি বিশ্বা, নাবেব সিন্ধুং দুরিতাত্যগ্নিঃ ৮০

(৫০ )
জাতববস এ মন্ত্রের ঋষি
কশ্যপ জয় জয়,
ছন্দ মধুর ত্রিষ্ট তার,
দেবতা অগ্নি হয় ;
আত্ম-চেতনা রক্ষা কল্পে '
জপ-যজ্ঞের যােগ,
আত্মরক্ষা মহান্ মন্ত্রে
করিতেছি বিনিয়োেগ ।
হে জাতবেদস দীপ্তি।
সােম-যজ্ঞের এ অনুষ্ঠানে
হােক হে তােমার তৃপ্তি।
হে সৰ্ব্বভূক লােহিত পাবক।
ঘুচাও মােদের ত্রাস ;
রিপুর যা কিছু বিত্ত-বিভব
সকল কর হে নাশ।
নাবিক যেমন তরণী বাহিয়া
সিন্ধু করায় পার,
তমনি তরাও পাপের পাথারে,
হর এ দুখের ভার।

( ৫১ ) রুদ্রোপস্থান ওঁ ঋতমিত্যস্য কালাগ্নিরুদ্রঋষিরনুষ্টুপ ছন্দো রুদ্রোদেবতা রুদ্রোপস্থানে বিনিয়ােগঃ ॥ ৮১। ওঁ ঋতং সত্যং পরং ব্রহ্ম, পুরুষং কৃষ্ণপিঙ্গল। ঊৰ্ধলিঙ্গং বিরূপাক্ষং, বিশ্বরূপং নমাে নমঃ। ৮২। ঋতসত্যাদি মন্ত্র-মহান্ জয়রে জয়রে জয়, ঋষি কালাগ্নিরুদ্র যাহার, দেবতা রুদ্র হয় ছন্দ মধুর অনুষ্টপটি, উপাসনা-কালে যােগ, এ মম রুদ্ৰোপস্থানে আমি করি তার বিনিয়ােগ। একাক্ষর সে নিত্য-সত্য পরমব্রহ্ম যিনি, লিঙ্গ-ত্রয়-অতীত পুরুষ, অনাদি-কারণ তিনি। প্রকৃতি-পুরুষ জড়িত—কৃষ্ণ- পিঙ্গল অভিরাম প্রলয়াত্মক-জ্ঞান-অগোচর-- উর্জলিঙ্গ নাম।

( ৫২ ) চন্দ্র-সূর্য-বহ্নি যাহার ত্রিনয়ন--বিরূপাক্ষ বিশ্বের বিনি নিশ্বাস বায়ু, বিশ্ব বাহার সাক্ষ্য জয়রে জয়রে বিরাট পুরুষ, চরণে রক মতি অসংখ্য বার নিত্য তােমারে করি অসংখ্য নতি : - তর্পণ ও ব্ৰহ্মণে নমঃ। ৮৩ ॥ ওঁ বিষ্ণবে নমঃ ॥ ৮৪। ও রুদ্রায় নমঃ ॥ ৮৫ ॥ ওঁ বরুণায় নমঃ। ৮৬ । সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা-চরণে করিনু এ জলদান। পালনকর্তা বিষ্ণু-জীবনে করি এ জলদান। সংহারকারী রুদ্র-ভীষণে করিনু এ জলদান। বারি-অধিকারী বরুণ-চরণে করিনু এ জলদান।

( ৫৩ )
ব্রহ্মযজ্ঞ
[ মধ্যাহ্নে ]
ভূভুরঃ স্বঃ।
তৎসবিতুর্বরেণিয়ং, ভর্গো দেবস্য ধীমহি।
ধিয়াে যাে নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ# ৮৭ ॥
সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়-কা
ব্ৰহ্ম-প্রণব জয়!
ভুবন-গগন-নন্দন-ব্যাপী
সবিতা জ্যোতির্ময় ;
বরণীয় সেই জ্যোতি করি ধ্যান,
সে দানে নিখিল তৃপ্ত ;
তার প্রেরণায় বুদ্ধিবৃত্তি
সকল কর্মে দীপ্ত।
সৃজন-পালন-শয়
ব্ৰহ্ম-প্রণব জয়!
অগ্নিমীড়ইত্যস্য মধুছন্দাঋষিগায়ত্রীচ্ছন্দোগ্নিদেবতা
ব্ৰহ্মযজ্ঞজপে বিনিয়ােগঃ ॥ ৮৮।
ওঁ অগ্নিমীড়ে পুরােহিতং, যজ্ঞস্য দেবজিং।
হােতারং রত্নতমং। ৮৯।
অগ্নিমীড় এ মন্ত্রের ঋষি
শ্রীমধুছন্দ নাম,
অগ্নিদেবতা, ছন্দটি তার
গায়ত্রী অনুপাম ;

( ৫৪ )
ব্ৰহ্মযজ্ঞ অনুষ্ঠানের
জপকালে তার যােগ,
ঋগ্বেদ-পূত স্বাধ্যায়ে আমি
করিতেছি বিনিয়ােগ ।
••.
পবিত্রতম যজ্ঞভূমির
পুরােভাগে যার স্থান,
পুরােহিত যিনি, ঋত্বিক যিনি,
সতত দীপ্যমান ;
যিনি হােতা, যিনি চির-হবনীয়,
যিনি শুভফলদাতা,
অশেষ রত্ন বিতরে যে জন,
গাই তার গুণ-গাথা।
ওঁ ইষেত্বেত্যস্ত যাজ্ঞবল্ক্য ঋষিরুফি ছন্দো বায়ুদেবতা
ব্ৰহ্মষজ্ঞজপে বিনিয়ােগঃ ৯০
ওঁ ইষে দােষ্ট্রে ত্বা বায়বঃ স্থ, দেবব বঃ সবিতা প্রাপয়তু।
শ্রেষ্ঠতমায় কৰ্ম্মণে। ৯১।
ইষে-মন্ত্রের দ্রষ্টা সে ঋষি
যাজ্ঞবল্ক্য জয়,
ছন্দ তাহার উষ্ণিক, আর
দেবতা পবন হয় ;
ব্ৰহ্মষজ্ঞ অনুষ্ঠানের
জপ-কালে তার ষােগ,

( ৫৫ )
যজুর্বেদের স্বাধ্যায়ে আমি
করিতেছি বিনিয়ােগ।
ওগাে শাখি! ওগাে বিটপী। তোমারে
এই যে হনন করি,
বিনিময়ে মেঘ বরষি, অন্ন
দাও তুমি থালি ভরি।
তােমারি দয়ায় যজ্ঞ-জনিত
গগনে ধূমের রাশি,
মেঘের আকারে সেই ধূমে যাবে
শস্যক্ষেত্র ভাসি ;
ফলিবে ধায়, আমরা অন্ন
উদর পুরিয়া খাব
ওগাে দাতা পাখি । তােমার দানের
তুলনা কোথায় পাব ?
;
বৎসর রে গােপাল-বৃন্দ ।
মাকে ছেড়ে যাও এবে,
নহিলে দুগ্ধ পাবনা মুগ্ধ !
অন্ন বা কেবা দেবে ?
দুগ্ধজাত যে-ঘৃতের হব
যাগ-কালে প্রয়ােজন,
সে মধু হব্য বহিয়া বহ্নি
দিবে শুভ বরিষণ

( ৫৬ )
ক্ষেত্র ভরিয়া ফলিবে শস্য,
বিশ্ব যাহাতে বাঁচে,
স্তন ছাড়ি যাও বাছারা আমার ।
থেকো না। মায়ের কাছে।
ওগো গাভী! দেব সবিতা তােদের
করুণ এমন মতি,
প্রচুর রসাল তৃণময় বনে
হােক্ রে তােদর গতি।
অগ্ন-আয়াহীত্যস্য ভরদ্বাজ ঋষিগায়ত্রী ছন্দেহগ্নিদেবতা
ব্রহ্মযজ্ঞজপে বিনিয়ােগঃ ॥ ৯২।
ও অগ্ন আয়াহি বীতয়ে, গৃণাননা হব্যদায়ে ।
নি হােত সৎসি বর্হিষি। ৯৩
অগ্ন-আয়াহি মন্ত্রের ঋষি
ওঁ
ভরদ্বাজ মহান্ ।
অগ্নি দেবতা, শুভ গায়ত্রী
মধুর ছন্দ-গান.;
ব্ৰহ্মযজ্ঞ অনুষ্ঠানের
জাপকালে তার যােগ,
সামবেদ-পূত স্বাধ্যায়ে আমি
করিতেছি বিনিয়ােগ।
এস হে অগ্নি এস।
বিছায়ে রেখেছি দর্ভ-আসন,
হােতা হয়ে হেথা বল।

***
( ৫৭ )
-
সাদর আহুতি করিনু প্রদান,
কর ফর ভক্ষণ
নন্দন-বাসী দেবগণে ইহা
করিয়ো হে বিতরণ।
শমন্নাদেবীরিত্যস্য পিপ্পলাদ ঋষিগায়ত্রীচ্ছন্দ আপাে দেবতা
শান্তিকরণে বিনিয়ােগঃ h৯৪।
ওঁ শন্নো দেবীরভিষ্টয়, আপাে ভবন্তু পীতয়ে।
শং যােরভি বস্তু নঃ ॥ ৯৫।
শয়াে-মন্ত্র দ্রষ্টা সে ঋষি
জয়রে পিপ্পলাদ,
ছন্দ মধুর গায়ত্রী, জল
দেবতা পূরাও সাধ;
ব্ৰহ্মযজ্ঞ অনুষ্ঠানের
শান্তিকরণে যোগ,
অথৰ্ব্ববেদ স্বাধ্যায়ে আমি
করিতেছি বিনিয়োেগ ।
সলিল-দেবতা জয়!
সুখকর তব শীতল পরশে
করহে পাতক ক্ষয়।
যজ্ঞ-জীবন তুমি জল! পানে
পিপাসা মিটে হে সদ্য ;
সর্ব বেয়াধি করিতে খর্ব
তব সম নাই বৈদ্য ।

( ৫৮ )
জনমের আগে কত ব্যাধি তুমি
করে দাও দেহ-ছাড়া ;
নিখিল জগতে বহিয়া তৃপ্তি
বর্ষণ কর ধারা।
সূৰ্য্যার্ঘ্য
ওঁ নমাে বিবস্বতে ব্ৰহ্মণ, ভাস্বতে বিষ্ণুতেজসে ।
জগৎ-সবিত্রে শুচয়ে সবিত্রে কর্মুদায়িনে।
ইদমর্ঘ্যং ও ভগবতে শ্রীসূৰ্য্যভট্টারকায় নমঃ ॥ ৯৬।
পরমব্রহ্ম বিবস্বত হে,
সবিতা দীপ্তমান্ !
হে বিষ্ণু মহাতেজের আধার,
বিশুদ্ধ ভগবান !
ব্রহ্মাণ্ডের কর্তা গাে তুমি,
কৰ্ম্ম-প্ৰবৰ্ত্তক।
দ্যুতিতে জগৎ করেছ প্রসব,
হে দেব ভট্টারক!
ভাস্কর তুমি, তােমার চরণে
দিনু এ অর্ঘ্য-হার;
তােমারে নমস্কার হে সূৰ্য্য !
তােমারে নমস্কার।
ওঁ জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্।
ধ্বান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতােহস্মি দিবাকরম্। ৯৭ ॥

( ৫৯ )
রক্তজবার দীপ্ত বর্ণ
পাতক-ঘাতক হরি !
কশ্যপ-ঋষি-আত্মজ তুমি,
অন্ধকারের অরি ;
মহাদ্যুতিশালী দিবাকর! তব
চরণে লুটাই মাথা,
লহ এ প্রণাম লােহিত-লােচন!
ত্রিলােক-আশােক-দাতা!
ক্ষমাপণ .
be
যদক্ষরং পরিভ্রষ্টং মাত্রাহীনঞ্চ যবেৎ।
পূর্ণং ভবতু তৎসৰ্ব্বং ত্বৎপ্রসাদাৎ সুরেশ্বরি। ৯৮
হে সুরেশ্বরী গায়ত্রী দেবী।
কর কর অবধান ;
এ মম সন্ধ্যা-উপাসনা-গানে
কর সফলতা দান।
অক্ষর যদি হয়ে থাকে ভুল,
মাত্রাবিহীন যদি,
তােমার প্রসাদে সব ত্রুটি গিয়া
হােক হে পূর্ণপদী।

( ৬০ )
প্রণাম
ওঁ নমাে ব্ৰহ্মণ্যদেবায় গােব্রাহ্মণহিতায়।
জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গােবিন্দায় নমাে নমঃ ॥ ৯৯
হে ব্ৰহ্মণ্য-দেব হে!
নমামি রাতুল চরণ-রাজীবে,
নম নম নম নম হে!
গাে-কুলের হিতকৰ্ত্তা হে,
ব্রাহ্মণ-গণ-ভর্তা হে,
জগতের দুখ-হৰ্ত্তা হে,
তুমি মঙ্গলতম নম হে!
নিখিল চিত্তাকর্ষণে,
গো-বৃন্দ মনহর্ষণে,
তুমি হে কৃষ্ণ গােবিন্দ,
তুমি আনন্দতম নম হে!
অনুবাদকের প্রণতি
ওঁ জটীনে দণ্ডিণে নিত্যং লম্বােদরশরীরিণে।
কমণ্ডলুনিসঙ্গায় তস্মৈ ব্ৰহ্মাত্মনে নমঃ ॥ ১০০।
জয় জয় জয় নিত্য-পুরুষ,
ব্ৰহ্মাত্মনে জয় হে !
সঙ্গে ভাণ্ড-কমণ্ডলুটি
দণ্ড-ধারণে জয় হে।
=

( ৬১
)
জটাজুটধারী লম্বােদর হে,
নমামি রাতুল চরণে;
সঙ্গের সাথী তুমি হে নিত্য,
ইহলােকে-পরজীবনে ?
বন্দনা
বলনা তব ছন্দেতে, ওগাে
সন্ধ্যার অধিপতি ।
ব্রাহ্মণ আমি, হে ব্ৰহ্মণ্য।
সহ লহ মাের নতি।
হে পরমাত্মা ! হে জ্যোতির্ময় ।
হে সূর্য-ভগবান।
হে পূত সলিল! পাবক ! পবন!
তােমরা নিখিল প্রাণ।
দেবী গায়ত্রী। জগৎকত্রী ।
বিধাত্রী সুখে-দুখে ;
জনমে জনমে তোমার ছন্দ
ধ্বনিত হোক এ বুকে।
হে আৰ্য ঋষি মন্ত্র-দ্রষ্টা।
আচাৰ্য মহীয়া!
বেদ-সন্ধ্যার মন্ত্র হে আমি
ছন্দে করিনু গান।

৬২ )
এতে যদি কিছু হয়ে থাকে ত্রুটি,
ক্ষম সেই অপরাধ ;
শুধু তােমাদের মহিমার গান
গাহিবারে এই সাধ
-ধন্য জীবন, ধন্য জনম,
জন্মেছি তব কুলে ;
তােমারি গােত্র-জাত এ পুত্র
লুষ্ঠিত.পদ-মূলে।
আচাৰ্য-দেব সৎগুরু পদে
লগ্ন রহুক মন ;
সন্ধ্যা-ছন্দ-বন্দনা-গাথা
করিলাম সমাপন।
সমাপ্ত।

দরবেশ গ্রন্থাবলী
০ ০ +
॥ ০ ০
le
বিজলী-সঙ্গীত ( ৪র্থ সংস্করণ)
গানের খাতা
শ্ৰীবৃন্দাবন-শতক (শ্রীমৎ প্রবােধানন্দ সরস্বতী বিরচিত
২য় সংস্করণ)
কাবেরী (কবিতা)
জপজী (গুরু নানক বিরচিত )
সঙ্গীত-সুধা (ভগবান বিজয়কৃষ্ণ বিরচিত)
মন্দির (গীতিকাব্য )
* * *
lo
yo
১০
কলিকাতা গুরুদাস-লাইব্রেরী
এবং
• শিী যােগাশ্রমে গ্রন্থকারের
নিকট পাওয়া যায়।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Sam-sandhya-gatha

Author
Darbesh,kiran Chand
Title
Sam-sandhya-gatha
File name
Sam-sandhya-gatha
Text
OCR done
Citation
1919
Published
2009/09/11
Publisher
Tara Charan Chakrabarty,baranasi
Language
Sanskrit
Pages
74
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Lyrics
Keywords
Surjya-Mantra
DLI number
513207
Barcode
4990010020206.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
pBagmdbqkwN
Download PDF

Sam-sandhya-gatha