Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Shatadal
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
991 Seite autocad সন ১৩২০ সাল,
উৎসর্গ
পিতা স্নেহময়,
আমাদের মেহমায়া ত্যজি সমুদয়
গেছ সেই স্বর্গরাজ্যে, যে রাজ্যের কথা
সদাই জাগায় প্রাণে তােমার বারতা।
যে দিন হারাণু তােমা ভাসি অশ্রুজলে,
জগৎ পিতার কথা, স্মরিণ বিরলে
লভিনু হৃদয়ে শান্তি। বুঝিনু তখনি
তােমার অসীম স্নেহ আণীষের বাণী
সর্বদা সিরিয়া আছে, পিতা স্নেহময়
তােমার সে স্নেহ কভু ভুলিবার নয়।
তােমারে ডাকিয়া পাই জগৎ পিতারে
তব স্নেহে, তাঁর স্নেহ পাই বুঝিবারে।
আজি তাই আসিয়াছি, ভক্তি বিশ্বদল
লহ হৃদয়ের, লহ এই “শতদল”
No text on this page.
১
তােমার চরণে নমিয়া আজিকে
পুলকে ভরিল প্রাণ
প্রভু দয়াময়,
পিতা স্নেহময়,
গাহি তব জয় গান।
যেন মিটে যায় মনের পিপাসা
তােমারে হৃদয়ে রাখি।
যেন তৃপ্ত হয় বাসনা কামনা
যেন তৃপ্ত হয় আঁখি।
জগৎ সংসারে এসেছি যেমন,
তেমনি চলিয়া যাই,
তব স্নেহ স্পর্শ লভি অনুক্ষণ
যেন কৃপা কণা পাই।
আমার হৃদয় এ ক্ষুদ্র আলয়,
হােক শুভ্র নিরমল।
তােমার পূজার
পবিত্র মন্দির
পূজিবার শতদল।
শতদল
২
পিতা তুমি, প্রভু তুমি, আমি যে তােমার,
করজোড়ে প্রণিপাত করি বার বার।
তােমারে বুঝিতে চাই, এ ক্ষুদ্র জীবনে,
তােনারে হেরিতে চাই, এ দীন নয়নে।
তােমার মঙ্গল স্পর্শ পুলক মাঝার,
অভিষিক্ত হয়ে থাক পরাণ আমার।
আমার আমিত্ব সব দাও ভুলাইয়া,
তােমাতেই যুক্ত হােক্, মুক্ত হােক হিয়া।
ভূলে যাই স্বার্থ পাপ, দৈন্য মাঝে আর,
যেন না বাঁধিয়া রাখি কল্পনা আমার।
আমার হৃদয় মাঝে প্রেম ভক্তি দিয়া,
তােমার পূজার স্থান রাখিব রচিয়া।
পুষ্প সম যেন প্রাণ তােমার পরশে,
হাসিয়া ফুটিয়া উঠে মঙ্গল হরষে।
শতদল
৩
আমার বলিতে যেন কিছু নাই আর,
কিরূপে এ বিশ্ববীণা করিছে ঝঙ্কার।
যা কিছু পড়িছে চোখে সব তােমাময়,
তােমার মঙ্গলরূপে পূর্ণ সমুদয়।
যা কিছু অপূর্ণ ছিল আজ তাহা নাই,
সবি পরিপূর্ণ বিভু, কিছু নাহি চাই।
ভাবনা বেদনা কত অভাব মাঝার,
ব্যথিত হয়েছে এই হৃদয় আমার।
আজ যেন সব ত্যজি তােমারে লভিয়া,
অতুল আনন্দে পূর্ণ, এই ক্ষুদ্র হিয়া।
ব্যথা ভরা প্রাণে শুধু তোমার পরশ,
দিতেছে করিয়া হৃদি সজীব সরস।
যে বিশ্ব রাগিনী শুনি জগৎ মোহিত,
সে রাগিনী মাের প্রাণে হতেছে ধ্বনিত।
শতদল
৪
কে আমি? কিছুই নই শুধু ধূলি সার,
যা কিছু পেয়েছি, সবি তব করুণার।
পথ আমি চিনি নাক, তব লক্ষ্য ধরে,
হইতেছি অগ্রসর এ সংসার পরে।
কত ভয়, কত শঙ্কা এ ভীরু পরাণ
কেন না নিশ্চিন্ত হয়, করি সব দান
তােমার চরণ তলে ? আমার ভাবনা
ভবিষ্যের, কত মাের সহস্র বেদনা
তারে ভয় করি আমি, দুর্বোধ হৃদয়
কেন না তােমারে সঁপি নিশ্চিন্ত না হয়।
আমার অদৃষ্টে ওগাে ভাগ্যের দেবতা
আমার সকল সুখ, সব দুঃখ ব্যথা
তব দত্ত তব দান, কৃতজ্ঞতা ভরে,
রাখিব যা দিবে তুমি যতনে আদরে।
এক
শতদল
৫
তােমারে হৃদয়ে আমি বুঝিব কেমনে,
কি করে রাখিব তােম। নয়নে বচনে?
জীবনের মাঝে মাের সকল সময়ে,
কি করে থাকিবে তুমি বিরাজিত হয়ে ?
যেদিকে দেখিব চাহি জগৎ সংসারে
যেন সেই দিকে পাই দেখিতে তােমারে।
প্রকৃতির চারু দৃশ্যে নয়ন জুড়ায়,
অমনি হৃদয় যেন দেখিবারে পায়,
সব শােভা, সব দৃশ্য আছ পূর্ণ করি।
পূর্ণিমার শশী সম, অন্ধকার হরি
আলাে করি এ আমার হৃদয় গগন,
ছড়াইয়া কত সুধা, মুগ্ধ করি মন।
শান্ত স্নিগ্ধ প্রীতি পূর্ণ হয় এ হৃদয়
তােমার প্রকাশ যবে হেরি বিশ্বময়।
শতল
আমি পারি প্রাণভরে ডাকিতে তােমায়
এই শক্তি দাও দয়া করি।
কাৰ্যে বা বসিয়া থাকি আলসে হেলায়
তবু যেন ওই নাম স্মরি।
যেন দেখি তােমারেই সমস্ত সংসারে
বিশ্বরূপে ভরিবে হৃদয়,
এ জীবন মন প্রাণ রাখ পূর্ণ করে
ওহে পিতা প্রভু দয়াময়।
তোমার মঙ্গল নামে দূরে যায় চলে
অমঙ্গল বাধা ভয় রাশি,
দুঃখ মেঘ কেটে যায়, সুখের হিল্লোলে
দীপ্ত রবি উঠে পরকাশি।
একমাত্র হে দেবতা হৃদয়ে আমার
পাতিয়াছি তােমার আসন।
ও মঙ্গলরূপে পূর্ণ কর এ সংসার
তােমাতেই তৃপ্ত হােক মন।
শতদল
৭
৭
আমি কি ভুলিয়া আছি। না তা কভু নয়,
তােমাতেই পরিপূর্ণ সারা এ হৃদয়।
হৃদয় শোনিতে মাের নিঃশ্বাস প্রবাহে,
তােমার পরশ শান্তি দিবা নিশি বহে
জাগরণে অচেতনে কার্যে বা হেলায়,
তােমারে হৃদয় মাঝে রেখেছি জাগায়।
আমার দুর্বল মন কত শতবার
আলো না দেখিয়ে শুধু দেখে অন্ধকার।
কিন্তু তুমি হে দেবতা জাগ্ৰত মহান,
তখনি করিছ শান্ত এ অশান্ত প্রাণ।
অতৃপ্তি অভাব নাশি, নাশি মােহ ভয়
তােমারি করিয়া নেছ সারাটি হৃদয়।
তৃপ্তি সুখ, লভি প্রাণ, কৃতজ্ঞতা ভরে
আপনি লুটিয়া পড়ে ও চরণ পরে।
শতদল
৮
আজি দয়া কোরে, জাগালে আমারে
জাগিয়া উঠেছি তাই।
বিশ্বের আনন্দ
পরশ হিল্লোল
হৃদয় মাঝারে পাই।
কনক কিরণ ঢালিছে তপন,
ফুটেছে কুসুম বিচিত্র বরণ
সুমঙ্গল গীতি গাহে বিহঙ্গম
কাহার করুণা চাই।
তােমার করুণা জাগিছে অন্তরে
তােমারে চাহিছে মন।
তুমি আছ দেব কোথা কোন দূরে
তবু একি আকর্ষণ।
অসীম অনন্ত সুনীল আকাশে,
সলিলে, কুসুমে, সুরভি বাতাসে,
স্নেহ প্রতি প্রেমে, তুমি আছ জেগে
তুমি ছাড়া কিছু নাই।
আমার এ প্রাণ পাখী জনমের তরে
নাও পিতা করে নাও তুমি আপনার।
আনন্দ উচ্ছাসময় সুমধুর স্বরে
তােমার মহিমা গীতি গাব অনিবার।
তােমারে বাসিব ভালো জগতের পিতা
তােমারি চরণে সঁপি দিব দুঃখ ভার।
তােমারে আকাঙ্ক্ষা করি বিশ্বের বন্দিতা
মনেতে দিব না স্থান অন্য আকাঙ্ক্ষার।
সুন্দর বিমল এই প্রভাতের সম,
দাও পিতা করে দাও হৃদয় আমার।
হােক কুসুমের মত এ হৃদয় মম,
পেয়ে ও পবিত্র আলো অসীম দয়াব।
প্রাণ পাখী তব নাম সুমধুর স্বরে,
যেন পিতা দিবানিশি শুধু গান করে।
শতদন
কে বুঝে প্রকৃতি গতি কি খেলা তাহার,
আমাদের তমসায় আচ্ছন্ন নয়ন।
কেন বা এ বিশ্ব ঘােরে আজ্ঞায় কাহার,
কেন জ্যোতির্ময় ওই প্রভাত তপন।
ফুল ফুটে পাখী গায় সুমধুর স্বরে,
মানব জীবনী বহে স্নিগ্ধ সমীরণ।
সন্ধ্যায় গগন ডুবে কেন বা আঁধারে
কেন বা মধুরে ঝরে শশীর কিরণ।
এই অন্ধ আঁখি ইহা বুঝিতে না পারে,
যােগবল হত যদি সমুখে আমার
সমস্ত বিশ্বের ছবি নিজ রূপ ধরে
ফুটিয়া উঠিত চির জ্যোতির মাঝার।
যেন কোনাে চিত্রপট বিমল দর্পণে,
বিশ্বরূপ জাগিতেন মানস নয়নে।
====
শতদণ
১১
১১
কে শিখাবে তুমি বিনা সুনীতি সকল,
কে দুর্বল বুকে দিবে সহিবার বল ?
কেবা দিবে জ্ঞান আলো মানস নয়নে,
নব শক্তি সঞ্জীবনী কে দিবে পরাণে?
এ হেন শিক্ষক আমি কোথা পাব আর,
দয়াময় কেবা হেন জ্ঞান পাবার ?
তুমিই শিখাও মােরে হৃদয়ে থাকিয়া,
নব দীপ্তি আলো রাশি প্রাণে বরবিয়া।
শাস্ত্র বেদবাণী তুমি শিখাইবে মােরে,
তােমার আসন এই হৃদয় মন্দিরে।
তব পূজা যেন সদা করে দীন জন
তােমাতেই তৃপ্ত সদা রহে প্রাণ মন।
রাজ-অধিরাজ তুমি জগতের পতি,
ও চরণে ভক্তিভরে করিগাে প্রণতি।
১২
শতদল
১২
তুমি না শিখালে মােরে কে শিখাবে আর,
এত স্নেহ প্রেম রাশি জাগে হৃদে কার ?
কে স্নেহে জননী সম, জনক শাসনে,
জ্ঞানময় বুদ্ধিদাতা কে বল জীবনে ?
তােমার ও স্নেহ লভি স্নেহ করি সবে,
লভি ভক্তি প্রতি প্রেম এ বিশাল ভবে।
তটিনীর মত প্রাণ যেতেছে ছুটিয়া,
প্রেম উৎস তােমাতেই তৃপ্ত হােক হিয়া।
তােমারে করিয়া লক্ষ্য ছুটি তােমা পানে,
তােমারে জাগায়ে রাখি হৃদয় আসনে।
যেন করি তব পূজা অনন্ত মহান,
লভি আশীৰ্বাদ রাশি, লভি ও কল্যাণ।
ধন্য হই এজগতে, দয়াময় আর
তােমাতেই শান্তি লভে হৃদয় আমার।
শতদল
জ্ঞানময় যত জ্ঞান লভি তােমা হতে,
সে জ্ঞানের সীমা আর কোথা এ জগতে?
কোনাে ঋষি, কোনাে যােগী সাধ্য নাহি কার,
কোনাে ধর্মগ্রন্থে তাহা নহে শিখিবার।
তােমার নিকটে আসি আকুল হৃদয়
করিলে প্রার্থনা পূর্ণ হয় সমুদয়।
ডাকিলে কাতর হয়ে অমনি তােমার,
মুক্ত কর ও অসীম দয়ার ভাণ্ডার।
ভিখারীর মনােবাঞ্ছা দাও পূর্ণ করে,
নিরাশা ব্যথিত হয়ে কেহ নাহি ফিরে
তব দ্বার হতে প্রভু, তাই এত আশা,
মিটাও প্রাণের মম ক্ষুধিত পিপাসা ।
সর্ব কাজে সৰ্ব্ব ভাবে সকল সময়ে,
জাগ্রত দেবতা সব থাক এ হৃদয়ে।
১৪
১৪
খেলিছে জোয়ার ভাটা তটিনী সাগরে,
কভু শুষ্ক কভু শ্রোত বহে শতধারে।
কিন্তু ভক্ত প্রাণে তুমি ভক্তির আধার,
ঢালিছ যে প্রেম সিন্ধু বহে অনিবার।
কভু তাহা শুষ্ক নহে, কখনাে উজানে
বহেনা তা ছুটিতেছে ; শুধু তােমা পানে।
একমাত্র লক্ষ্য তুমি কামনা তাহার,
ভক্তের যে তুমি বিনা গতি নাই আর।
যখন যেভাবে রাখ সম্পদে বিপদে,
সমভাবে পড়ে থাকে তােমারি শ্রীপদে।
যখনি হাসাও তারে তখনি সে হাসে,
যখনি কাদাও সে যে অশ্রুজলে ভাসে।
তােমারি চরণ সে যে লয়েছে শরণ,
হয়েছ প্রাণের প্রাণ জীবনে জীবন।
বিমল প্রভাতে সবে আনন্দিত মনে,
করিছে তােমার পূজা, পূরব গগনে
ওই উযা আলো দিল, তরুণ-তপন,
সুপ্ত ধরণীরে দিল নবীন জীবন।
সেই আলাে হেরি সবে চেতনা লভিয়া
নব কাজে মগ্ন হল, আনন্দিত হিয়া
স্মরিল বারেক তােমা। সুখ সমীরণ
সঞ্জীবনী সুধা যেন করিছে বহন।
তব প্রতি ধারা যেন শুভ্র ফুল দল,
তেমনি এ হিয়া মম করিয়া নির্মল
ঢালো তব প্রীতি ধারা, আশীষ কল্যাণ,
তব ভাবে তোমাতেই পূর্ণ কর প্রাণ।
ক্ষণতরে সংসারের মােহ পাশরিয়া,
তােমাতেই মগ্ন হােক এই দীন হিয়া।
১৬
শতদল
তােমারে বন্দিছে নিখিল ভুবন
পূজা করে হৃদয় মন্দিরে,
কত পুষ্প, মালা, অগুরুচন্দন
কত মত কত উপাচারে।
আর দীন আমি শুধু শূণ্ঠ হাতে,
দাড়ায়ে রয়েছি পূজার সভাতে,
কি দিয়ে পূজিব কি চরণে দিব
শূন্য হাতে রয়েছি দূয়ারে।
দাও প্রাণে আশা প্রবেশে শকতি,
দাও প্রাণে বল হৃদয়ে ভকতি,
তােমারে পূজিব পবিত্র হইব
লুটাব ওই চরণ পরে।
শতদল
১৭
১৭
যেন আজি প্ৰাণ মাের মেঘ খণ্ড প্রায়,
সুদূরে তােমারি পানে উড়ে যেতে চায়।
মেঘেতে পড়েছে ওই সােনার কিরণ,
পেয়ে আলো ঝলকিছে মেঘেরা কেমন।
তেমনি এ প্রাণে মাের জ্যোতির আধার,
ঢাললা ও বিশ্বাস আলো তুমি অনিবার
সাধ মনে কুসুমের সুরভির মত,
করিব বননা দেব নােম অবিরত।
নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে মাের দয়াময় হরি
জাগিবে তােব শত করুণা লহরী।
অতি ক্ষুদ্র তবু প্রাণে জাগে কত আশা,
কখন না তৃপ্তি হয় অতৃপ্ত পিপাসা।
তােমারে পাইতে সাধ পাইব কি করে,
কি করে রাখিব বাধি বিশ্বাসের ভরে ?
১৮
শতদল।
১৮
জাগরে অবশ প্রাণ তরুণ তপন,
ধরারে চেতনা দিল, তুমি অচেতন
থেকোনাক, দূর কর অলস বিলাস
আনন্দস্বরূপে প্রাণে করহ প্রকাশ।
যা গেছে তা যা চলে, এখনাে সময়
রয়েছে সম্মুখে পড়ি, ভুলি সমুদয়
নবীন উৎসাহ লয়ে হও অগ্রস,
তারে স্মর যার পূজা করে চরাচর।
সদা সত্য ব্ৰত তুমি করহ পালন,
বিবেকের হাত ধরি করিও গমন।
নিৰ্ম্মল গগন সম পবিত্র উদার
হউক সর্বদা এই জীবন আমার।
অনন্ত মহান সেই পরম ঈশ্বরে
সদা পূজিবারে যেন পারি ভক্তি ভরে।
১৯
এই যে জীবন পথ প্রলােভন ময়,
কতবার যেতে যেতে পথ ভুল হয়।
মনে করি এক কাজ করে ফেলি আর,
আশার দেখিয়া খেলা মােহিনী বিস্তার।
মনে করি গেছে দিন, আর নয়, নয়—
এইবার স্থির ভাবে করি সমুদয় ।
ধরিব শান্তির পথ পালি পুণ্যব্রত
সত্যের আলােক ধৰি চলিব নিয়ত।
জ্ঞান ধৰ্ম্ম জামাইব অনন্ত মহান,
তাহারি আনন্দ রূপে পূর্ণ করি প্রাণ।
হব শুদ্ধ নিরমল পুষ্পের মতন,
হৃদয়ে পাতিয়া তার পূজার অসন,
পূজিব ভকতি পুষ্পে, তবু বার বার
কেন ভুলে যাই তাহা সংসার মাঝাব ?
২৪
শতদল
জগদীশ কতসুখ লভি এ জীবনে,
যদি সব সুখ দুঃখ, সঁপি ও চরণে।
যদি মনে স্থির জানি,
উপরেতে অন্তর্যামী
তুমি আছ, চেয়ে আছি স্নেহের নয়নে।
ঢালিতেছ প্রতি ধরা স্নেহ প্রেম জ্ঞানে।
প্রতিদিন সংসারের ঘাত প্রতিঘাতে
কত অশ্রু ঝরে, লভি ব্যথা হৃদয়েতে।
জাগে কত শত ভয়,
কেন না মঙ্গলময়
সৰ্বস্ব সঁপিয়া করি নির্ভর তােমাতে,
দুঃখ ব্যথা সঁপি, থাকি স্নেহে ও শান্তিতে।
২১
কর জুড়ি অর্পি যদি বেদনার ভার,
পরিশ্রান্ত লভি শান্তি আনন্দ অপার ।
মাের দুঃখ ভার দিয়া
জুড়ায় তাপিত হিয়া
জানি মনে দয়াময় তুমি অছি বার,
কি ভয় বিপদ দুঃখ ঝঙ্কায় তাঁহার।
বিশ্বাসেতে পূর্ণ হয়ে কেন না তোমারে
ডাকি সদা! কেন সদা হৃদয় মাঝারে
জাগিছে চঞ্চল ভয় ?
এই সারা বিশ্বময়
তােমারি প্রাতিতে ভরা, কুসুমের থরে
জাগে প্রীতি, করে প্রতি বিহঙ্গের স্বরে।
এই অবিশ্বাস পূর্ণ আমার হৃদয়,
তােমাতে নির্ভর করি হােক তােমায়।
ওই কুসুমের মত
পালি জীবনের ব্রত
লভি বিহঙ্গের মত কণ্ঠ সুধাময়,
গাহি প্রভু তব নাম, গাহি তব জয়।
২২
এ জগতে মাের আর কিবা আছে বল,
শুধু ভালবাসা দীপ জীবনে সম্বল।
সেই ভালবাসা দীপ পথ দেখাইয়া,
তােমা পানে টানিতেছে এই ক্ষুদ্র হিয়া।
প্রথমেতে বিন্দু বিন্দু বারি ধারা সম,
জাগিয়া উঠিল তা এ হৃদয়ে মম।
ক্রমে স্রোত ধারা বয় তটিনী সমান
দুকূল ভাসায়ে টেনে লয়ে যায় প্রাণ ।
তার পরে হল প্রাণ ক্ষুব্ধ সিন্ধু প্রায়,
আকুল উচ্ছাসি যেন কোন মুখে ধায়।
শুধু বুক ভরা আশা, আকুল কামনা,
কাহারে সর্বস্ব সঁপি হারাতে আপন।
কোথা কামনার লক্ষ্য কোথা সে আমার,
দয়াময় সে যে তুমি কেহ নহে আর।
শতদল
২২
আমি চাই আমার এ আকুল প্রার্থনা
যেন শুধু কথা, যেন না হয় ছলনা।
এ যেন সহজ হয় পবিত্র সরল,
আপনি হৃদয় বীণা বাজিবে কেবল
তােমার পবিত্র নামে, হৃদয় গগন
তােমারি বিশ্বাসে পূর্ণ হবে সর্বক্ষণ।
নিঃশ্বাস শােনিত ধারে শিরার মাঝার,
যে দিকে ফিরিব যেন দেখি চারি ধার
তব প্রেম মূর্তি ভরা, নয়নের মাঝে
শুধু যেন একমাত্র বিশ্বরূপ রাজে।
জগতের কাৰ্যে ব্যস্ত রব নিরন্তর,
তব ভাবে পূর্ণ কিন্তু রহিবে অন্তর।
অন্তরে বাহিরে প্রভু লভিব তােমায়,
কাঙালিনী করজোড়ে এই ভিক্ষা চায়।
২৫
৪
শতদল
২৩
প্রভাতের ফুল
কি সুন্দর কি মাধুরী অমূল্য অতুল।
ক্ষুদ্র বৃক্ষ ভরিয়াছে শুভ্র ফুল দলে,
সুরভি নিঃশ্বাস বহে সমীর হিল্লোলে।
খুলিল পূরব দ্বার প্রভাত তপন,
ঢালিয়া আলােক ধার করে সচেতন
অচেতন ধরণীরে, বিহঙ্গের দল
আনন্দে ধিভুর নাম গাহিছে কেবল।
সাজায়ে ফুলের ডালা ক্ষুদ্র বৃক্ষ রাশি
কাহার পূজার তরে উঠিল বিকাশি।
ক্ষুদ্র পুষ্প তবু তার সৌরভ মধুর
শুভ্র পবিত্রতাময়, হৃদি অন্তঃপুর
অমনি পবিত্র আর অমনি নিৰ্ম্মল
করহ পূজার তব নিৰ্ম্মাল্য কেবল।
২৪
বসন্তের পাখী
ওই মধু
কি সুধা ঢালিছ তুমি ও অলক্ষে থাকি।
কণ্ঠ স্বরে বিমোহিত মন,
কোন সুধা স্রোতে প্রাণ হতেছে মগন।
কে দিল ও কণ্ঠে সুধা ডাক পাখী কারে,
অদৃশ্য আছেন যিনি অনন্ত মাঝারে।
ও নিৰ্ম্মল নীলাকাশে তরুণ তপন,
মায়া যন্ত্র পরশিয়া দিতেছে চেতন
সুপ্ত ধরণীরে, সেই স্পর্শে ফুলদল
হাসিয়া মেলিছে আঁখি পবিত্র সরল।
ও আকুল কণ্ঠে পাখী ডাক শুধু তারে
মথিয়া আকুল হৃদি মধুর ঝঙ্কারে।
আমি ও আকুল কণ্ঠে ওই সুধা স্বরে
যেন ডাকিবারে পারি অনন্ত ঈশ্বরে।
শতদল
কেটে গেল আর এক নিশি
শান্তি প্রতি লভিনু আরাম।
আনন্দ আলােক লয়ে পুনঃ
এলো দিন গাহি তব নাম।
নবীন প্রভাতে পুনঃ আজি,
আপনারে সঁপি তব পায়।
তােমার মঙ্গল ইচ্ছা লয়ে
যেন মাের দিন কেটে যায়।
হােক বড় অথবা সে ক্ষুদ্র
কাৰ্য্যে কিম্বা করি কল্পনায়।
সর্বকাজে সকল সময়ে,
জাগাই তােমার মহিমায় ।
জগদীশ দয়াময় পিতা,
আমি ক্ষুদ্র তােমার সন্তান।
সত্য ধৰ্ম্মে অগ্রসর করি
লহ এই মােহবদ্ধ প্রাণ।
শত
২০"
২৬
দিন পরে আসে দিন ধীরে চলে যায়,
কোন সীমান্তর পারে অসীম বোয়।
কোন মেঘাচ্ছন্ন কোন রহস্য মাঝারে,
হতেছে সঞ্চয় কোন মায়া পিরবারে।
চলে যায়, চেয়ে থাকি ভাবি অনুক্ষণ,
দিন যায়, নাহি হল কাজ সমাপন।
হিসাবের খাতা ফাকি ভাবি বার বার,
নূতন ধরণে জমা করিব এবার।
আজ নয়, কাল হবে দিন চলে যায়,
আমি চেয়ে মােহ মুগ্ধ আচ্ছন্ন মায়ায়।
হৃদয়ের দ্বার রুদ্ধ করিয়া সবলে,
বাঁধিতেছি আপনারে সংসার শিকলে।
হায় রে এ রাত্রি যবে হবে অবসান,
সে কোন সুন্দর প্রাতে খুলিব নয়ান?
শতদল
প্রকৃতির সনে বাঁধা হৃদয় আমার,
সুনীল গগন মেঘে ঢাকা অন্ধকার।
নাহি তারা, নাহি শশী তেমনি হৃদয়,
নিরাশার তীব্র ঘাতে পূর্ণ সমুদয়।
কিন্তু গগনের মেঘ মুহূর্তে মিলায়,
নিৰ্ম্মল আকাশে পুন শশী শোভা পায়।
জাগে তারকার জ্যোতি, হৃদয় আমার
তেমনি করিয়া আলাে নাশি অন্ধকার,
এসো তুমি পূর্ণ শশী জ্যোতি প্রকাশিয়া,
নাশি দৈন্য দুঃখ তাপ জুড়াইয়া হিয়া।
পৃথিবীর মােহজাল করি দাও দূর,
এসাে আলাে কর মম হৃদি অন্তঃপুর।
সরল শিশুর মত তােমার চরণে,
লভিয়া আশ্রয় শান্ত হোক দীন জনে।
শতদল
২৮
ক্ষুধিত হৃদয় মাের কঁদিছে সদাই,
কিছুতে মেটেনা আশা, যাহা হাতে পাই।
তবু আরো কি কামনা করিছে চঞ্চল,
কি যেন লভিতে আশা হয়েছে প্রবল।
সে কি সাধ, সে কি আশা তুমি অন্তর্যামী,
আলােকিত করে আছ কিবা দিবা যামী
হৃদি অন্তঃপূব মম, জান কোন আশা,
কি লাগি আকুল চিত্ত কিসেব পিপাসা
সে শুধু তােমারি তরে—তােমা লভিবার
জাগছে বাসনা চিত্তে সদা দুর্নিবার।
দয়াময় কাঙালিনী এসেছি দূয়ারে,
রাখ পায় ফেলিওনা কভু তারে দূরে।
তােমারি করিয়া লও, এ হৃদয় মন,
আমার সর্বস্ব লােমা করিনু অর্পণ।
শতদল
তুমি সত্য রূপে প্রাণে হও হে প্রকাশ,
নিৰ্ম্মল পবিত্র করি হৃদয় আকাশ।
সংসারেতে রহিয়াছি, কিন্তু দয়া কর
আত্মা মাের তােমাতেই করিয়া নির্ভর
যেন ছুটে তােমা পানে, তােমাবে সে চায়
এক মাত্র আশা তুমি হইও হিয়ায় ।
এই ক্ষণিকের মােহ, সুখের কল্পনা
এরি মাঝে যেন কভু হারায়ে আপন।
রহি মগন সুখে, সকল সময়ে
তােমা পানে তৃষাতুর আকুল হৃদয়ে
যেন ছুটি, পৃথিবীয় সকল বন্ধনে
তােমারি মধুর রূপ নেহারি নয়নে।
সব ত্যজি তােমাতেই লভিব চেতনা,
তােনারে সর্বস্ব সপি লভিব সান্তনা ।
শতদল
৩১
তােমারে হৃদয়ে রাখি হে রাজা আমার,
চাই শান্তি, পাই প্রীতি আনন্দ অপার।
সংসারের কোলাহলে রয়েছি মগন
তবু আলো করি মম হৃদয় গগন
জেগে আছ ধ্রুবতারা, কর আশীর্বাদ
যখন যে ভাবে থাকি তুমি সাথে সাথ
রহিও সদাই মাের, আমারে ঘেরিয়া
রয়েছে স্নেহের বাহু জুড়াইছে হিয়া।
লভি ও মঙ্গল স্পর্শ হে দেব মহান
তােনারে সর্বস্ব সঁপি, সঁপি মন প্রাণ
হইনু নিশ্চিন্ত যেন, চিন্তার মাঝার,
সদা বিকম্পিত হয় হৃদয় আমার।
ভয় বা ভাবনা কেন, তুমি রাখ যারে,
বিপদে বা দুঃখ ভয় কি করিতে পারে ?
৩২
শতদল।
যা কিছু দিবে গো বিভু তুমি এ জীবনে,
অমূল্য অতুল বলি লব সেই দানে।
হােক না সে অতি ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্রতর
যদি রহে তব কৃপা নিখিল নির্ভর
হবে তা অমূল্য মম,
জীবন শরণ
তব ভাবে পূর্ণ কর নয়ন বচন।
হৃদয়ের ভাব রাশি থােক তােমাময়,
জগতে যে দিকে চাহি যেন সমুদয়
দেখি তব রূপে পূর্ণ, জ্যোতি প্রকাশিয়া,
এ বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে তুমি রহেছ ব্যাপিয়া।
উপরে নীলিমাকাশে তব জ্যোতি ঝরে,
তটিনী তােমারি নাম গাহে কুলু স্বরে।
তব স্নেহ স্পর্শ লয়ে বহে সমীরণ,
তােমারে পাইয়া ধন্য হয়েছে জীবন।
শতদল
৩২
সদাই রয়েছ তুমি হৃদয় মাঝারে,
সেথায় না দেখে কেন দেখি চারিধারে।
খুঁজি তােমা রবি করে মধুর জ্যোৎস্নায়,
দেখি তােমা শিরে শিরে, পল্লবের ছায়।
দেখি চেয়ে কুসুমের কোমল আননে,
বিহঙ্গের কণ্ঠে দেখি, দেখি সমীরণে।
অন্ধ আমি, আছ প্রাণে দেখি না চাহিয়া,
সমস্ত জগতে শুধু দেখি অন্বেষিয়া ।
আমার পরাণ ক্ষুদ্র অতি দীন আমি,
তবুত আসন পাতি সেথা অন্তর্যামী
আছ দিবানিশি তুমি, আনন্দ অমৃত
শত ধারে পান তুমি কবাইছ নিত্য।
মঙ্গল, কল্যাণ, আর আশীষ ধারায়
সদা বরষিয়া সিক্ত করিছ হিয়ায়।
৩
৩৪
চঞ্চল হৃদয় মাের চারি দিকে যায়,
কত কি মােহিনী স্বপ্ন হেরি কল্পনায়
নহে মতি স্থির কভু, হে দেব মহান
স্থিরমতি কর মাের, অচঞ্চল প্রাণ
হােক মাের, সৰ্ব্বদাই ক্ষুব্ধ সিন্ধু প্রায়
বাসনা হিল্লোলে প্রাণ চারি দিকে ধায়।
তুমি এসাে পূর্ণশশী, হৃদয় গগন
হবে স্থির তব জ্যোতি করি নিরীক্ষণ।
মত্ত মধুপের মত ও চরণ ছায়,
পড়িবে বাসনা মাের আপনি লুটায়
শান্ত শুদ্ধ, স্থির মন পবিত্র সরল,
হইবে পূজার তব নিৰ্মাল্য কেবল।
তােমারে সর্বস্ব সঁপি দেবতা আমার,
মঙ্গলে হইবে পূর্ণ জগৎ সংসার।
শতদল
৩৪
সংসারের ক্ষুদ্র কাজে রয়েছি মগন,
কিন্তু অলক্ষিত হতে ও দুটি নয়ন,
সদাই স্নেহের সুধা ঢালিতেছে প্রাণে
জুড়ায় তাপিত চিত্ত কি সানা দানে।
যখন যে ভাবে থাকি ঘিরিয়া আমায়
কোন বাহু রহিয়াছে ? আশীষ ধারায়
কে বর্ষে মঙ্গল হেন! অনন্ত মহান
দয়াময় পূর্ণ ব্ৰহ্ম, তিনি ভগবান।
যার নাম স্মরি হয় পুলকিত হিয়া,
আনন্দে চোকের জল উঠে উথলিয়া ।
যাহার অনন্ত দয়া করিলে স্মরণ
পুলকিত হয়ে উঠে
ক্ষুদ্র প্রাণ মন।
অনন্ত অপার সেই মহিমা যাহার,
সে চরণে প্রণিপাত করি বার বার।
৩৬
৩৫
কি আনন্দ রূপ জ্যোতি ভাসিছে নয়নে,
মহিমা বিকাশ কার হেরি এ গগনে ?
কার রূপে এত শােভা লভেছে ধরণী,
কার লাগি লভি কণ্ঠে সুধা বিহঙ্গিনী
গাহিছে মধুর গান? শীতল পবন,
কোন সঞ্জীবনী-মন্ত্র করিছে বহন ?
নদ নদী গিরিরাজী, তরু লতা ফুল,
জাগায় সর্বদা কার মহিমা অতুল?
এ সংসার কার প্রেমে হেন মধুময়,
কে সৃজিল স্নেহ প্রেম বল সমুদয় ?
সেই অন্তর্যামী, সেই অনন্ত ঈশ্বর,
রি মহিমায় পূর্ণ বিশ্ব চরাচর।:
বিশ্বের রাগিনী সহ এ হৃদয় মন,
যেন তার জয় গাথা গাহে অনুক্ষণ
৩৭
বড় আশা করে আজি এসেছি নিকটে,
ভক্তি ভরে নত হয়ে জুড়ি কর পুটে
প্রণমি হে ভগবান দয়ার আধার
লও ভক্তি পুস্পাঞ্জলি হৃদয় আমার।
এই ক্ষুদ্র প্রাণ মাের তােমার চরণে
সপিলাম রেখ এই চিরাশ্রিত জনে।
হৃদয়ের শক্তি হও, নয়নের আলাে,
তৃষিত তাপিত জনে প্রেমবারি ঢালো।
করে লও এ হৃদয় তােমার আপন,
পেতেছি তােমারি তরে পূজার আসন।
ও মঙ্গল স্পর্শে শুধু লভিব কল্যাণ,
পুণ্য পবিত্রতা পূর্ণ হবে তব দান।
তুমি অন্তর্যামী দেব সকল জানিয়া,
তােমাতেই পরিপূর্ণ কর মাের হিয়া।
তদন
কি আনন্দ রূপ জ্যোতি ভাসিছে নয়নে,
মহিমা বিকাশ কার হেরি এ গগনে ?
কার রূপে এত শােভা লভেছে ধরণী,
কার লাগি লভি কণ্ঠে সুধা বিহঙ্গিনী
গাহিছে মধুর গান? শীতল পবন,
কোন সঞ্জীবনী-মন্ত্র করিছে বহন ?
নদ নদী গিরিরাজী, তরু লতা ফুল,
জাগায় সর্বদা কার মহিমা অতুল ?
এ সংসার কার প্রেমে হেন মধুময়,
কে সৃজিল স্নেহ প্রেম বল সমুদয় ?
সেই অন্তর্যামী, সেই অনন্ত ঈশ্বর,
তারি মহিমায় পূর্ণ বিশ্ব চরাচর।:
বিশ্বের রাগিনী সহ এ হৃদয় মন,
যেন তার জয় গাথা গাহে অনুক্ষণ।
শতদল
৩৭
বড় আশা করে আজি এসেছি নিকটে,
ভক্তি ভরে নত হয়ে জুড়ি কর পুটে
প্রণমি হে ভগবান দয়ার আধার
লও ভক্তি পুস্পাঞ্জলি হৃদয় আমার।
এই ক্ষুদ্র প্রাণ মাের তােমার চরণে
সঁপিলাম রেখ এই চিরাশ্রিত জনে।
হৃদয়ের শক্তি হও, নয়নের আলো,
তৃষিত তাপিত জনে প্রেমবারি ঢালো।
করে লও এ হৃদয় তােমার আপন,
পেতেছি তোমারি তরে পূজার আসন।
ও মঙ্গল স্পর্শে শুধু লভিব কল্যাণ,
পুণ্য পবিত্রতা পূর্ণ হবে তব দান।
তুমি অন্তর্যামী দেব সকল জানিয়া,
তােমাতেই পরিপূর্ণ কর মাের হিয়া।
৩৮
৩৭
প্রভু গাে শিখাও মােরে শান্ত নম্র হতে,
আমি যেন কারাে পানে চাহিনা গরবে।
ক্ষুদ্র ধূলিকণা যেন মিশাব ধুলিতে
দীন হতে দীনতর হয়ে থাকি ভবে !
দীন হলে দীন নাথ পাইব তোমায়,
কাতরে করুণা কার, বিনা দীন বন্ধু,
পাপী তাপী জনে কেবা যাচে এ ধরায়,
কে ঢালিছে সমভাবে করুণার সিন্ধু।
সে শুধু তুমিই বিভু আর কেহ নয়,
তােমাতেই পরিপূর্ণ কর এ হৃদয়।
৩৮
আমার এ গৃহ হােক মন্দির তােমার,
অনুরক্ত ভক্ত হব আমরা সকলে।
জাগায়ে ও জ্যোতি রাশি হৃদয় মাঝার,
পূজিব তােমারে সদা ভক্তি পূষ্পদলে।
মমাদের হৃদয় প্রাণ হউক বিমল,
আমরা সদাই যেন তব স্পর্শ পাই।
তােমারি মহিমা পূর্ণ হউক সকল
জগদীশ এই ভিক্ষা আর কিছু নাই।
তােমার অসীম এই সৃষ্টির মাঝারে
নিরজনে ধৰ্ম্ম শিক্ষা শিখাও আমায়।
সত্যের মধুর আলাে জ্বালিয়া অন্তরে,
বিশ্বাসের ভরে যেন নেহারি তােমায়।
একমাত্র ধ্রুব তারা অকূল সংসারে,
আনন্দ অমৃত লভি স্মরিয়া তােমারে।
শতদল
৩৯
তুমিত ডাকিছ সবে করুণ আহ্বানে
কেন সবে তাহা শুনিছেনা ?
সে আহ্বান ধ্বনি পশি পরাণে পরাণে
জাগালনা তােমার করুণা?
তারা
তুমিত বসিয়া আছ দিবসে নিশীথে
অসহায় পথহারা তরে,
অলেয়ার আলো হেরি যায় ভ্রান্ত পথে
মৃগ তৃষ্ণিকায় সদা মরে।
জগদীশ দয়া করে এই দয়া কর,
আমি যেন শিশু সম হই,
বিশাল সহায় শূন্য সংসার ভিতর
জানিবনা শুধু তােমা বই।
শতদল
৪১
৪০
তুমি দেব দয়াময় করুণা নিলয়,
সূর্যমুখী রবি পানে যথা চেয়ে রয়।
যেমতি সতীর প্রাণ রহে পতি পানে
তেমনি রহিও জাগি ভক্তের পরাণে।
তােমারে কাতরে নাথ ডাকি অনিবার,
সুখ দুঃখ শান্তি শ্রান্তি বাসনা আমার
সকলি মিলিয়া যেন তব পানে ধায়,
তুমি হও সরবস্ব এ দীন হিয়ায় ।
যেন ধৰ্ম্ম ভক্তি মােরে নাগিনীর পাশে
বাঁধেনাক, মাের এই শােনিতে, নিঃশ্বাসে
যেন প্রবাহিত হয়, সরল সুন্দর
হয় যেন জগদীশ বিশ্ব চরাচর।
শুদ্ধ নিরমল হােক হৃদয় আকাশ
তুমি তাহে দীপ্ত রবি রহ সুপ্রকাশ।
৪২
৪১
পৃথিবীর ধন রত্ন অসার বাসনা,
মানবে কি দেয় কভু হরষ বিপুল ?
মেহ সিক্ত সুধামাখা দুটি অঞ কণা,
পরিপূর্ণ করে দেয় শূন্য হৃদিকুল।
কাতরে দুইটি বাণী শুধু সান্ত্বনার
কি অসীম শান্তি দেয় বেদনা সকল
দূরে যায় হেরি যবে সম বেদনার,
কোনাে স্নেহ পূর্ণ আঁখে দুটি অশ্রুজল।
সেই মত মােরা যবে কাতর হৃদয়ে
ডাকি জগদীশ তােমা সানার তরে,
তুমি কি রহিবে স্থির চাবে না ফিরিয়ে
তবাশ্রিত জন পানে চির স্নেহ ভরে ?
দুঃখ তাপে জগদীশ তুমি বিনা আর,
কে দেয় সান্ত্বনা কেবা মুছে অশ্রুধার ?
৪২
তােমার মঙ্গল স্পর্শে হে মঙ্গলময়,
কর পবিত্রতা পূর্ণ এ মাের হৃদয়।
তােমার পরশ পেয়ে সদাই বিরাজে,
অনন্ত সত্যের আলাে এ হৃদয় মাঝে।
ক্ষুদ্র প্রাণ লভি ওই অনন্ত আলােক,
ভুলে যায়, পাপ তাপ, তুচ্ছ দুঃখ শােক।
শিরায় শিরায় জাগে তোমার পরশ,
একি পুণ্য ভরা ওগাে বিমল হরষ ।
এই ক্ষুদ্র গৃহ মাের তােমারি আলয়,
তােমারি মঙ্গল নামে পূর্ণ সমুদয় ।
নিশি দিন তব ওই আশীৰ্বাদ ধারা,
করে পুণ্যস্নাত সদা এ আলয় সারা।
দয়াময় জগদীশ যা ছিল আমার
সৰ্বস্ব সঁপেছি ওই চরণে তােমার।
৪;
শতদল।
৪৩
জগদীশ একি দয়া দেছ বরষিয়া,
একি পুণ্যস্রোতে আজি পরিপূর্ণ হিয়া ?
তােমারে সর্বস্ব সঁপি, সর্বস্ব আমার,
অভাব আকাঙ্খ কিছু নাহি হৃদে আর।
তােমারে স্মরণে রাখি হে দীন শরণ,
বিমল আনন্দময় নিখিল ভুবন।
তব আশীৰ্বাদ আর তব করুণায়,
নবীন জীবন দেছ এ দীন জনায়।
দয়াময় জগদীশ নিখিল নির্ভর,
বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের তুমি রাজ রাজেশ্বর।
অনন্ত অচিন্ত তব মহিমা বিস্তার,
ক্ষুদ্র নর কি বুঝিব কোথা সীমা তার।
আমি শুধু তােমারেই জানি দয়াময়,
তােমাতেই পূর্ণ থাক সারা এ হৃদয়।
শতদল
০৫
৪৪
হৃদয়ের ভাষা মাের কথার মাঝারে,
কেন দেব ফুটাতে না পারি,
হৃদয় শােনিতে আর শিরায় শিরায়
কি বহিছে অন্তর্যামী হরি।
জান তুমি, তবু মাের ভাষার মাঝারে
পূজিবারে দাও হে শকতি,
অতি দীন জানি আমি, দীন দয়াময়
ব্যর্থ নহে আমার ভকতি।
তাই অতি সংগােপনে হৃদয়ের রাজা
পাতিয়াছি হৃদয় আসন।
তােমার করুণা লভি, তােমারে পাইয়া
স্বর্গ হবে নিখিল ভুবন।
শতদল
৪৫
শত্রু যদি ঘৃণা করে না চাহে আমায়,
আমি যেন কভু না তা করি,
ঘৃণা করে সয়ে রব, এ হৃদয় ছায়
ক্ষমা এসে ঘৃণা লবে হরি।
আমি যেন ভালবাসি তারা না বাসিলে
হিংসা জালে না হই কাতর,
তুমি প্রেম ভালবাসা যদি গো সৃজিলে ,
কেন মােরা হিংসি পরস্পর ?
তুমি মােরে ভালবাস, তুমি প্রেমময়
আমি যেন সবে ভালবাসি।
শত্রু আমি, জেনে তবু করুণা নিলয়
বরষিছ ও করুণা রাশি
শতদল
১৭
M
৪৬
অবিশ্রান্ত ডাক মন জগৎ ঈশ্বরে,
পাপ তাপ হীন হয়ে আকুল অন্তরে।
আত্মায় বিরাজ প্রভু, এ আত্মা আমার,
তব গুন গান যেন করে অনিবার।
সত্যের আলােক ভরা বিমল অধরে,
তব নাম দিবা নিশি যেন বাস করে
শুভ্র প্রভাতের মত বিমল হৃদয়ে,
থাক তুমি দয়াময় বিরাজিত হয়ে।
তুমি নয়নের আলো হৃদয় রঞ্জন,
তােমাতেই মুগ্ধ হয়ে থাক প্রাণ মন।
অজ্ঞান তিমিরে ডুবে আছি অন্ধ ভুলে,
জ্ঞানলােক নেমে এসো হৃদয়ের কূলে।
তােমাতেই ডুবে যাব, তুমি মাত্র সার,
একমাত্র ধ্রুবতারা জীবনে আমার।
৪৮
শতদল
৪৭
জীবন স্বরূপ হও জীবন আমার,
তুমি মাের হও প্রাণ মন।
শুধু ধৰ্ম্ম ভক্তি বলে মানে নাক আর
এ অশান্ত হৃদয় এখন।
তব অনুরক্ত ভক্ত, হব এ সাধনা
মেটে নাক তাহে শুধু আর,
তাই মাের এই সাধ এই আরাধনা
তুমি হও জীবন আমার।
জীবনের বায়ু যেন নিঃশ্বাসের সম
মিলাইয়া যেও এই বুকে।
গােপন হৃদয় তলে আত্মা যেন মম
তাহলে রহিব সদা সুখে।
*
শতদল
৪৮
প্রতি পদে কেন কাঁপে চরণ যুগল,
এ চঞ্চল হিয়া নাথ হােক অচঞ্চল।
প্রত্যেক প্রহরে যেন বহুরূপী সম,
হৃদয়ের ভাব রাশী নাহি হয় মম।
হােক স্থির দৃঢ় মন সক্ষম সবল,
হৃদয়ে বিশ্বাস আলাে রহিবে উজ্জ্বল।
শেষ মুহুর্তেও যেন জীবনের তীরে,
প্রতি কাজে দৃষ্টি রাখি চলে যাই ধীরে।
তােমাতে মিলিয়া যাক জীবনের সুর,
তােমাতেই পূর্ণ হােক হৃদি অন্তঃপুর।
শতদণ
৪৯
শতেক সুখের মাঝে সহস্র বন্ধনে,
নিশি দিন রাখি তােম জাগায়ে স্মরণে।
শত সুখ হও তুমি সুখ শ্রেষ্ঠতর,
জীবনে মরণে করি তােমাতে নির্ভর।
একমাত্র শিক্ষাদাতা ভরসা আমার,
তুমিই দেবতা মম ধ্যান ধারনার।
কর:শুভ্র পুণ্যময় এ মাের হৃদয়,
সমস্ত জীবন মাের হােক তােমাময়।
আমার আপন শক্তি, জ্ঞান আলো দিয়া,
কভু কি রাখিতে পারি এই ক্ষুদ্র হিয়া?
অনন্ত শকতিময় তব জ্যোতি দানে,
কেবল রক্ষিতে পার দুর্বল সন্তানে।
জগদীশ তব শক্তি তব বল দিয়া
কর পরিপূর্ণ এই, ক্ষুদ্র দীন হিয়া।
শতদল
আমার ছিলনা অবসর,
দুটি হস্ত কাৰ্য, ভারে ব্যস্ত নিরন্তর।
সারাদিন কৰ্ত্তব্যেতে ছিলাম মগন,
তবু আলোকিত করি হৃদয় গগন
জেগে ছিলে ধ্রুবতারা, কত মেঘ ভরা,
ছিল মগ্ন স্বার্থে ভাের এ হৃদয় সারা,
তবু তুমি চির জ্যোতি উজ্জ্বল বিমল,
জাগায়ে রেখেছ মাের এ হৃদয় তল।
আমার সুখের তরে সদা দুটি আঁখি,
বরষিছে কি করুণা ও অলক্ষ্যে থাকি।
কি মধুর শান্তি ধার করাইছ পান,
কি বিশ্বাসে পরিপূর্ণ করিয়াছ প্রাণ।
জগদীশ দয়াময় কৃতজ্ঞতা ভরে,
প্রণমি, আশ্রিত জনে চাহ কৃপা করে।
শতদল
প্রতি দিন ভয়ে ভয়ে শুধু চেয়ে থাকি,
আকুল কাতর হৃদে তােমারেই ডাকি।
বিষম পরীক্ষা স্মরি, দুর্বল হৃদয়
হতেছে কাতর বিহু, করুণা নিলয় ;
তােমার করুণা বিনা জানি মনে আমি
কে রাখিবে, ওগাে দেব ওগাে অন্তর্যামী
সবি জানিতেছ তুমি তবু কেন আর
পরীক্ষা করিতে সাধ তব বাসনার ?
দীন আমি, অতি দীন ক্ষুদ্র ধূলিকণা
আমার দেখিবে শক্তি, এ তব বাসনা
কেন মনে হয় দেব ? মহান উদার,
যে হবে কৃতার্থ লভি তব করুণার
বিন্দুকণা, তারে কেন চাও দেখিবারে,
জুড়াও তৃষিত হৃদি করুণার ধারে।
শতদল
৫৩
কেন জড়াইয়া নিজে আপনার ভারে,
নিশি দিন ফিরিতেছি ? দেবতা মহান
তােমারে সর্বস্ব সঁপি এই ক্ষুদ্র প্রাণ
আনন্দ, আরাম, শান্তি পারে লভিবারে।
তবে'কেন মায়া জালে জড়ায়ে হৃদয়,
ভ্রমিতেছি বৃথা আমি মরিচীকা আশে,
নিশি দিন শত চিন্তা জাগে শত ভয়
বেদনা ব্যথিত চিত্ত কঁদিছে নিরাশে।
দূর করি জগতের অসার কামনা,
এসো মাের এ হৃদয়ে ক্ষণেকের তরে।
ভুলে যাই সুখ দুঃখ অভাব বেদনা
তােমার পরশ লভি এ হৃদয় পরে।
তব জ্যোতি লভি যাবে দারুণ আঁধার,
হইবে বিমল শুভ্র হৃদয় আমার।
৫৪
মনেতে জাগিতে কত বাসনা আমার,
সে বাসনা পূর্ণ করে সাধ্য আছে কার
তুমি বিনা ? এ চঞ্চল হৃদয় সাগরে,
কত যে তরঙ্গ সদা রঙ্গে লীলা করে,
কার সাধ্য রােধে সেই দুরন্ত তুফান!
পৃথিবীর কোন রত্ন জুড়াবে এ প্রাণ
তুমি বিনা ? মিটে সাধ জাগে নব আশা,
পিপাসার তৃপ্তি কই ? দারুণ পিপাসা
সর্বগ্রাসী হয়ে যেন সদা জেগে আছে,
বহ্নি সম জ্বলিতেছে হৃদয়ের মাঝে।
এই চিত্ত ক্ষুব্ধ ওই সাগর সমান,
কি করিলে হবে শান্ত জুড়াইবে প্রাণ ?
যদি তুমি এসাে প্রাণে পূর্ণশশী সম,
অতৃপ্তি পিপাসা নাশি, নাশি অন্ধতম।
৫৪
কি করে সময় কাটে শুধু স্বার্থ ভাের,
এখনাে হল না মন চেতনা কি তাের ?
শুধু সুখ, শুধু আশা, আছ স্বার্থ নিয়া,
দূর কর মায়া ঘাের, মুক্ত কর হিয়া।
চাহ উর্ধে দেখ ওই সুনীল গগন,
শােভিছে তারকা পুষ্প বিচিত্র বরণ।
কি মহান দৃশ্য হেরি অন্তর মাঝার
সহস, জাগিয়া উঠে মহিমা কাহার ?
কার স্পর্শ পাই প্রাণে ? আমি ভুলে থাকি
কিন্তু স্নেহময় পিতা, তার স্নেহ আঁখি
সতত সমান মেহে চাহেন আমারে
আমি ভুলি, কিন্তু তিনি সদা আপনারে
দিয়াছেন ধরা, তাঁর অসীম দয়ায়
আবার ছুটিয়া লুটে পড়ি সেই পায়।
;
৫৬
শতদন
হৃদয় আবেগ আর বাসনার স্রোতে,
প্রতি দিন কত বাধা, পাই পথে যেতে।
সংসারের মােহ, মায়া আচ্ছন্ন করিয়া,
সদা রাখিয়াছে এই দৈন্যভরা হিয়া।
দূর করে দাও দৈন্য ও পুণ্য পরশে,
ফুটাও আশার ফুল হৃদয় সরসে।
তােমারে করিতে পারি একমাত্র আশা,
তােমাতেই তৃপ্ত হয় সমস্ত পিপাসা।
জগৎ সংসার হয় সুন্দর মধুর,
পুণ্যভরা, পাপ তাপ করে দিই দূর।
শুদ্ধ শান্ত নিরমল পবিত্র হইয়া,
তােমারে পূজিতে হয় উপযুক্ত হিয়া।
দীন আমি, দীননাথ তােমার শরণ।
লয়েছি, কাতরে দাও অভয় চরণ।
খ
শতদল।
নিখিল নির্ভর পিতা তুমি সুমহান,
বিশ্ব রাগিনীর এই সুমধুর স্রোতে,
তােমাতেই মগ্ন যেন হয়ে যায় প্রাণ,
অন্য ভাব রাশি নাহি জাগে হৃদয়েতে।
পৃথিবীর ধূলি জাল, সীমা ক্ষুদ্রতার,
যেন দেব নাহি স্পর্শে চিত্ত দুরবল
ক্ষুদ্রতার ছায়া ভুলি, মহিমা তােমার
নিৰ্ম্মল হৃদয়ে মম জাগিবে কেবল ।
অনন্ত অসীম তব করুণা বিস্তার,
যেন সেই পথে ধায় চির লুব্ধ হিয়,
মধুর সঙ্গীত ধ্বনি আহ্বান তােমার,
চিরদিন থাকে যেন মরমে জাগিয়া।
শুনি ও আহ্বান তব, পুণ্য গীত ধারা,
প্রণত চরণে তব এ হৃদয় সারা।
৫৭
এ
হৃদয় আনন্দ মাের করুণা আলম,
দীন হীন এই মাের ক্ষুদ্র হৃদি পরে,
বিশ্বাসের নব বল যেন দয়াময়
জেগে থাকে চিরদিন চির হর্ষ ভরে।
যেন অবিশ্বাস ছায়া পড়েনা কখনো
সচ্ছ, সলিলের বুকে মেঘছায়া প্রায়।
কুয়াসার অন্ধকারে বিমল গগন
তার জ্যোতি রবি আলো যেন না হারায়।
সুখে হােক, দুঃখে হােক ত্রিভুবন পতি,
তোমারি চরণে রহে অটল বিশ্বাস।
এ চঞ্চল চিত্তে প্রভু জাগা ও সুমতি
দুঃখ ঝটিকায় কভু না হই নিরাশ।
যেন প্রভু কখন না টলে এ চরণ
বিশ্বাসে থাকুক মগ্ন মাের প্রাণ মন।
শতদল
৯
এ আকাঙ্ক্ষা দয়াময় মিটাও আমার,
ধর্মের লালসা যেন, কর্মের সমান,
হৃদয়েতে হয় নাক মহা গুরু ভার,
অবসন্ন হয় নাক কভু মাের প্রাণ।
আপন মনের ইচ্ছা সরল উদার,
আপনার পথ চিনে চলে যাক ধীরে।
প্রত্যহই এক শিক্ষা শিখিতে আমার,
যেন দিন কাটে নাক জীবনের তীরে।
এ যেন মিশায়ে যায়, শিরায় শিরায়,
নিঃশ্বাস প্রবাহ সম বহুক সদাই,
জীবনীর শক্তি যেন মানব হিয়ায়,
হােয়ে থাক দয়াময় এই শুধু চাই ।
পুষ্পদল সম হােক শুভ্র এ অন্তর,
প্রতি দিন ধৰ্ম্ম পথে হয়ে অগ্রসর।
৫৯
দয়া কর জগদীশ দয়া কর মােরে,
তুমি মাের একমাত্র সার,
হৃদয়ের মাঝে মাের মনের মন্দিরে
আর কারো, স্থান নাই আর।
তােমারে পিয়া চিত্তে নিখিল দেবতা
দিবানিশি পূজিব চরণ,
কণ্ঠের মালিকা দলে তুমি যে মুকুতা
তােমারে করিব আভরণ।
সেই কণ্ঠহার শুধু জ্যোতি রাশি ভরা
হৃদয়ে করিবে ঝলমল,
ওই জ্যোতি সুধা পিয়ে আমি আত্মহারা
তােমাতেই রহিব বিহবল ।
শতদল
.৬০
পূর্ণব্রহ্ম সনাতন তব পূর্ণরূপ
ছাইয়াছে আকাশ ধরণী,
তাহার মহিমা প্রভু জানাব কিরূপ ;
আমি শুধু অজ্ঞান রমণী ।
ওই পূর্ণ ব্ৰহ্মরূপে মানবের হিয়া
বেঁধে দাও চির ভক্তি ডােরে,
তােমার আহ্বান ধ্বনি উঠুক বাজিয়া,
বিশ্বরূপ সঙ্গীত মাঝারে।
দূর হতে ওই বাজে বিষাণ মধুব,
ডাকিছেন ব্ৰহ্ম সনাতন,
পৃথিবীর পাপ তাপ করে দিয়া দূর
সে আহ্বানে হৃদয় মগন।
---
তন
অতুল সৌন্দৰ্যময় তােমার আনন,
কি মহত্ত্ব তাহাতে প্রকাশ,
চিরমুগ্ধ দেখে যেন, লুব্ধ প্রাণ মন
হর্ষে ভরা হৃদয় আকাশ।
যেন দিবানিশি নাথ প্রত্যেক প্রহরে
ওই রূপ দেখিবারে পাই,
আমি যেন আত্মহারা চির প্রেম ভরে
তােমাতেই মিলাইয়া যাই।
তােমারি প্রেমের মূর্তি হৃদয় আসনে,
তােমারেই সদা বাসি ভালো,
তুমি সুখ শান্তিরূপ যেন এ পরাণে
এ নয়নে তুমি মাের আলো।
শতদল যত ধৰ্ম্মবীর তব সুসন্তান সবে, রাখিয়া গেছেন নাম, অক্ষয় লেখন- কত যুগ যুগান্তর তার পর হবে, তবু সে পবিত্র নাম অমর যেমন। জীবনের ঘাের রণে আত্ম ত্যাগ করে ধৰ্ম্মজয়ী বীর পায় স্বর্গ সিংহাসন, আপন পিতার কোলে যায় চিরতরে, তুচ্ছ করে ধরণীর মায়ার বন্ধন। সেই ধৰ্ম্মজয়ী বীর সন্তান তােমার, এই কর সেই পদ অনুসৰি যাব- অন্ধ তমসায় ঘেরা হৃদয় আমার, জ্ঞান দীপ্ত রবি আলো তবে পিতা পাব। যদিও এ দীন হীন অধম সন্তান, সকলেই কাছে তব নহে কি সমান ?
৬৪
শতদল
তােমারে অন্তরে হেরি অন্তরের নাথ,
আমার এ দৃষ্টি কভু হবে কি বিমল?
আমি কি পবিত্র ভাবে করি দৃষ্টিপাত,
হেরিব তাহার গুণে পবিত্র সকল ?
তােমারে অন্তরে হেরি, অন্তর আমার,
হবে কি সরল শুদ্ধ শিশুর মতন ?
মানসেতে সদা হেরি ও রূপ তােমার,
হবে কি বিমল পুণ্যভরা এ নয়ন ?
যা কিছু হেরিব চোকে সবি পুণ্যময়
কোন দ্রব্য পাপ ম্লান হেরিবনা আর,
শুভ্র পুণ্যময় হােক সারা এ হৃদয়
পাপ ধূলি জালে স্নান না হয় আবার।
বিরাজ হৃদয়ে প্রভূ হেরিয়া তােমায়,
পাপ তাপ পলাইয়া দূরে চলে যায়।
শতদল
৬৪
ওগাে পিতা করুণ। নিদান,
এ মর জগৎ পথে তুমি যা দিয়াছ হাতে
তাহাতেই পূর্ণ এই প্রাণ।
তােমার করুণা বিন্দু,
যেন অমৃতের সিন্ধু
দরিদ্রের সােনার স্বপন।
তােমার করুণা বলে, যেন এই হাতে মেলে
বাঞ্ছিতের মণি বা রতন।
তােমার ও প্রেম দিয়া, পরিপূর্ণ মাের হিয়া
তব দয়া অসীম বিস্তার।
তােমার চরণ তলে,
রেখে দীন হীন বলে
এ অধম সন্তানে তোমার।
শতদল
ভালবাসা কে বলে দুৰ্বল ?
এই পৃথিবীর মাঝে
যেথায় যা কিছু আছে,
তার কাছে অসার সকল।
স্বরগের পুণ্য ধামে,
সেথা শুধু প্রেম নামে,
প্রেমময়ে পাইব কেবল।
প্রেমের হইবে জয়,
প্রেম যেগাে মৃত্যুঞ্জয়,
কোথা সীমা কোথ। এর তল ?
আমার প্রাণের পরে,
জাগাইয়া চির তরে,
প্রেম দীপ রাখিব উজল,
এসাে তুমি প্রেমময়,
প্রতি পূর্ণ এ হৃদয়,
পূজিব ও চরণ কমল।
শতদল
৬৭
প্রভু পিতা শিখাও আমায়,
তােমার মতন করে,
যেন আমি ক্ষমাভরে
প্রেম পূর্ণ করি এ হিয়ায়।
অমনি করিব দান,
চাহিবনা প্রতিদান,
যদি মােরে কেহ দলে যায়,
আমি ভূলে রােষ ভরে,
যেন প্রতি হিংসা তরে,
প্রতিশােধ না দিই তাহায়।
এ ক্ষুদ্র হৃদয় পরে,
ক্ষমা ধৰ্ম্ম চির তরে,
জেগে থাক চির শান্তি চায়।
তুমি ধ্রুবতারা সম
জেগাে এ হৃদয়ে মম,
সুখে দুঃখে সহস্র ব্যথায়।
শতদল
৬৭
দিন কবে হবে,
কেন বা চরণ টলে ভুলে যায় মন,
সংসারের প্রলােভনে কে মােরে এমন টানে,
কোন মায়া জালে ঘুরে মরিগো এমন?
বিমুক্ত বিমল বুকে,
চলিতে পারিনা সুখে
সংসবের সুখালসে অন্ধ এ নয়ন।
তুমিই ভরসা হরি, তুমি যা করাও করি,
যে পথে চালাও করি সে পথে গমন
হেন
আমিত্ব ঘুচিয়া যাবে
তুমি শুধু বিবাজিবে বিশ্ব বিমােহন।
কবে পেয়ে জ্ঞান অলো, যাবে এ মনের কালো
কবে সত্য পথ পানে চলিবে চরণ ?
আমার সর্বস্ব দান, করিয়ে জুড়াব প্রাণ
আমার যা কিছু করি চরণে অর্পণ।
বিমুক্ত বিমল প্রাণে, ছুটিব তােমার পানে,
জগতের মোহ জাল হয়ে বিস্মরণ,
তােমারি চরণে প্রভু লইব শরণ।
শতদল
মধুর কুসুম গন্ধে
বিমল প্রভাত শুভ্র পূর্বব গগনে
রাঙা রবি আলো দেয় কনক কিরণে,
বিহগের মধু ছন্দে
কি অমৃত ঢালিতেছ এ বিবশ প্রাণে।
শীতল বাতাস বয়,
শান্ত স্থির সমুদয়
ধরণী করিছে পূজা যেন এক মনে।
জগদীশ দয়াময়
এ চিত্ত চঞ্চল হয়
দয়া করে স্থির করি লও তব পানে।
বিশ্ব রাগিণীর সুরে,
এই মাের মৰ্ম্ম পুরে
জাগাইয়া দাও তব মহিমার গানে।
মাের এই প্রাণমন দিব করি সমর্পণ
তােমার অতুল ওই কমল চরণে
দীননাথ দয়া করে রেখে দীন জনে।
:
শতদল
সন্ধ্যা হল ওই দেখ ডুবে যায় ধীরে,
সােনার তপন রশ্মি পশ্চিমের তীরে।
বিহঙ্গ কুলায় যায়, সন্ধ্যার গগনে
ক্ষুদ্র তারা গুলি ওই উজ্জ্বল নয়নে
নীরবে চাহিয়া রয়? ঘন অন্ধকার
ধরণীবে ঢাকিতেছে, স্তব্ধ চারি ধার।
ক্ষুদ্র শিশু খেলাশ্রান্ত, জননীর কোলে
লুকাইছে সুধা রবে ডাকি মা মা বােলে।
কেন প্রাণ কেন তুমি হতেছ চঞ্চল,
কোথায় জননী কোথা স্নেহের অঞ্চল ?
আসিয়াছি ছুটে কাছে কোথ। মা আমার,
এসো দয়াময়ি
দূর
করি অন্ধকার।
শিশু সম যেন তব স্নেহ ছায়,
এ ক্ষুদ্র হৃদয় মাের জুড়াইতে পায়।
শতদল
৭০
কি বলে প্রার্থনা আজি করিব তাের,
অন্তরের নথি আছ অওরে আমার
জানিছ সকল কথা, দুঃখ ভরা মন
এনেছি চরণে তব কবি নিবেদন।
সুখের পশরা মাের, আর দুঃখ ভার
আনি তব পদতলে, সকলি তােমার।
দয়াময় গগনেতে জাগে মেঘ রাশি,
আবার জাগিবে রবি অন্ধতম নাশি।
তেমনি দুঃখের মেদ ও কল্যাণ করে
যদি দয়া কর দেব, চলে যাবে দুরে
তােমার মঙ্গল নামে হে মঙ্গলময়,
কল্যাণ শান্তিতে পূর্ণ হবে এ হৃদয়।
তব দয়া যে পেয়েছে জগৎ সংসারে
দুঃখ, ব্যথা, ভয় তার কি করিতে পারে
૧૨
শতদল।
৭১
গেছে দুঃখ মেঘ বিভু তােমার পরশে,
দীপ্ত রবি সম তুমি হৃদয় আকাশে
ঢালো ও জ্যোতির আলো, দয়ার আধার
যে সদা আশ্রিত তব ওই করুণার
কি অভাব আছে তার ? তুমি যার তরে
এত সুখ, স্নেহ, প্রীতি, বেখেছ সংসারে
কার ভাগ্য তার সম? হৃদয় আমার
একেবারে করে নাও শুধু আপনার।
সংসারের স্নেহ, প্রেম যেন সব দিয়া,
তােমাতেই তৃপ্ত হয় এই ক্ষুদ্র হিয়া।
সংসারের এ ক্ষণিক মােহের মাঝারে,
যেন তােমারেই বিভু পাই চিরতরে।
যেন লভি আশীৰ্বাদ তােমার কল্যাণ,
যেন শুধু তােমাতেই পূর্ণ হয় প্রাণ।
শতদল
৩
৭২
সংসারের ধন রত্ন কামনা অসার,
সদা পরিপূর্ণ করে হৃদয় আমার।
সদাই অভাব ঘাের, দাও তুলে যত,
সমুদ্রে শিশির বত নিলাইছে তত।
কিছুতে অভাব আর অতৃপ্তি মেটেনা,
সংসারের মােহ পাকে হাবায়ে আপনা
সদা রহিয়াছি ভেব, কিন্তু দয়াময়
তবুও ত স্নেহ দৃষ্টি সদা স্থির রয়
এই দীন হীন প্রতি, তুমি চাও মােরে,
আমি শুধু ডুবিতেছি অতল সংসারে।
দয়াময় এত দীন তবু কাছে আনি,
তাহারে শুনাও তৰ সুধাময় বাণী।
মঙ্গল পরশ দাও তাহাব পৰাণে,
ডাকিবার শক্তি দাও দয়া বরিষণে।
৭৪
তদল।
৭৩
"
আমি যে ভুলিয়া প্রভু রয়েছি তােমায়,
সদা বদ্ধ ঘুরিতেছি সংসার মায়ায়।
কেন এ মায়ার সৃষ্টি ওগগা মায়াধর,
এত মায়া কে সৃজিল ধরার ভিতর?
কত সাধে সাজাতেছি করিয়া যতন,
এই ক্ষুদ্র গৃহ মাের মনের মতন।
কত স্নেহ ঢালিতেছি অপার্থিবে হায়,
কেন না খুলিয়া আঁখি ভুলিয়া মায়ায়
চাহি উর্ধে তােমাপানে ? একান্ত অন্তরে
কেন না সৰ্বস্ব ভুলি, না পূজি তােমারে ?
লভি তব দয়া রাশি লভি আলো তব,
এ বিশ্ব সংসার হয় স্বর্গ অভিনব।
সংসারেতে থাকি কিন্তু মুক্ত রহে হিয়া,
সব সাধ, আশা, মিটে তােমারে লভিয়া ।
শতদল
৭৫
৭8
দুঃখ সে তােমারি দান-তারে বুকে ধরে
দয়াময় নমি পায় কৃতজ্ঞতা ভরে।
চোকে আসে জল, তাহে না হই বিকল,
কখনাে না মােহে ভুলে হৃদয় চঞ্চল
আনে মনে অন্য ভাব। যা দিবে যখন,
সেই ভাবে পূর্ণ যেন রয় প্রাণ মন।
কত সাধ, কত অশা, সেই সাধ আশা
কে মিটাবে তুমি বিনা, অতৃপ্ত পিপাসা
কোথা পাবে শান্তি বারি, তুমি বিন আর ?
জীবনে জাগ্ৰত তুমি দেবতা আমার।
ধ্রুবতারা সম তুমি পথ দেখাইয়া,
লয়ে চল হাতে ধরি, মােহ মুগ্ধ হিয়া
সুখে দুঃখে সমভাবে তােমাতে জুড়ায়,
শান্তি সুধা লভি প্রাণে ডাকিয়া তােমায়।
শতদল
৭৫
যখনি তােমারে ভুলি চাই নিজ পানে,
অমনি হৃদয় ভরি উঠে অভিমানে।
জগতের ক্ষুদ্র দুঃখ, ক্ষুদ্র ব্যথা রাশি,
একেবারে রাহু গ্রস্থ করে ফেলে আসি
হৃদয় আকাশ মম, দেবতা মহান
কোথা তুমি রক্ষা কর বাঁচাও এ প্রাণ
ক্ষুদ্রতার ধূলি হতে দাও বাঁচাইয়া,
পবিত্ৰ নিৰ্ম্মল কর এই দীন হিয়া।
সংসবের কোন কথা কোনই যাতনা,
এ হৃদয় মন মাের ব্যথিত কবে না।
যা দিবে তােমার দান যতনে আদরে,
সম ভাবে যেন তুলে লই আমি তারে।
আমার যা কিছু সব তোমারে সঁপিয়া,
শান্তি প্রীতি লভে মাের অশান্ত এ হিয়া।
শতদল
৭৭
৭৬
বিমল প্রভাতে আজি পুলকিত মনে,
এসেছি করিতে পূজা। প্রকৃতির সনে
এ হৃদয় বীণা মাের উঠিছে বাজিয়া,
বন বিহঙ্গিনী সম এই ক্ষুদ্র হিয়া
গাহিছে তােমারি নাম, শুভ্র পুষ্প সম,
তব স্পর্শে প্রস্ফুটিত হােক প্রাণ মম।
হে দেবতা, হে মহান, হে মঙ্গলময়
তােমারি অরতি হেরি ত্রিভুবনময়।
চারিদিকে জেগে তুমি যে দিকেতে চাই,
শুধু তুমি, তােমারেই দেখিবারে পাই।
এত ক্ষুদ্র, এত দীন তার কাছে এসে
কি করে দিয়াছ ধরা এত ভালবেসে।
তুমি যে দীনের বন্ধু কাঙাল শরণ,
কাঙালিনী লভি ধন্য অভয় চরণ।
৭
শতদল
৭৭
আকুল পিপাসা
তােমারে লভিব হৃদে এ দারুণ আশা।
সদা পূর্ণ করে প্রাণ, শুধু সাধ যায়,
বন্দী করে রাখি তােমা হৃদয় কারায়।
কি আকুল তৃষা মাের, কি আশা আমার,
অন্তর্যামী জান সবি জানাব কি আর ?
যখন যে ভাবে থাকি যেন সর্বক্ষণ,
শুধু ওই রূপ জ্যোতি হেরে এ নয়ন।
যখন যেভাবে থাকি হৃদয়ে আমার,
লভি ও পরশ তব সুধা সান্ত্বনার।
আমারে ঘিরিয়া থাক, থাক মাের সাথে,
এ হৃদয়ে বন্দী থাক দিবসে নিশীথে ।
সত্য জ্ঞান বিশ্বাসেতে পূর্ণ থাক হিয়া,
অন্ধকারে দিব্য জ্যোতি থাক উজলিয়া।
শতদল
৭৮
দয়াময় আশীৰ্ব্বাদ কর দয়া করে,
যেন পুণ্য জ্যোতি তব এই পরিবারে
হয় প্রতিভাত প্রভু, স্বর্গের কিরণ
করে বিশ্বাসেতে পূর্ণ মােহান্ধ নয়ন।
লভি প্রাণে পুণ্যল হে মঙ্গলময়,
পবিত্রতা পরিপূর্ণ হয় এ আলয়।
স্বচ্ছ তটিনীর সম হউক নিৰ্ম্মল,
আমাদের হৃদি মন পবিত্র সরল।
তুমি তাহে জেগে থাক পূর্ণ শশী সম,
দূর করি পাপ তাপ নাশি অন্ধতম।
ভিব অতুল শান্তি আনন্দ অপার,
তােমারে জাগায়ে রাখি হৃদয় মাঝার।
দূরে যা পাপ রাশি দুঃখ ব্যথা ভয়,
তােমার মঙ্গল নামে লভিব অভয়।
৮০
৭৯
এ হৃদি বীণার তারে করিছে ঝঙ্কার,
প্রভু পিতা দয়াময় ও নাম তােমার।
শয়নে স্বপনে কিম্বা থাকি জাগরণে,
কি সুধা কি শান্তিধারা ঢালিতেছ প্রাণে।
সংসারের মায়াজালে বদ্ধ হিয়া মাের
আলো না দেখিয়া দেখে অন্ধকার ঘাের।
সেই মােহ বদ্ধ প্রাণে তােমারি আসন
পেতেছি, আসিয়া প্রভু করহ গ্রহণ।
দেখাও সত্যের আলো জ্ঞানময় পথ,
লভিলে অনন্তে পূর্ণ হয় মনােরথ ।
তুমি এক পূর্ণ ব্ৰহ্ম অনন্ত মহান,
সুমঙ্গণময় সদা সাধিছ কল্যাণ।
শুদ্ধ শান্ত কর চিত্ত পবিত্র সরল,
হইব নিৰ্ম্মাল্য তব পূজার কেবল।
শতদল
৮১
৮০
এতদিন পরে যেন পেয়েছি তােমারে,
অন্তরের প্রভু আজি জগৎ সংসারে
পেয়েছি তােমারে আমি, সুনীল আকাশে
ওই দীপ্ত রবি তব জ্যোতি যে প্রকাশে।
এই স্নিগ্ধ সমীরণ আনিছে বহিয়া,
স্বর্গের বারতা রাশি জুড়াইতে হিয়া।
এই প্রস্ফুটিত ফুল পবিত্রতাময়,
তােমারি মহিমা পূর্ণ বিশ্ব সমুদয়।
ওই কলকণ্ঠে পাখী কার নাম গায়।
সমস্ত ধরণী পূজা করিছে কাহার ?
তােমারে, তােমারে শুধু, তাই মাের প্রাণ
উঠিছে পুলকি, শুনি তােমার আহ্বান।
সংসারের মােহে ভুলে যে থাকে তােমারে,
আপনি সাধিয়া ধরা দিতেছ তাহারে।
२
শতদল।
দয়াময় প্রভু পিতা এসেছি নিকটে,
কৃতজ্ঞতা ভরে নত জুড়ি করপুটে।
যা দিবে আমারে দাও, তব দত্ত দান
তুলে লব, জুড়াই বা জ্বলে যায় প্রাণ
সমভাবে। যাহা আজ্ঞা তব সুবিচারে
হবে প্রভু, স্থির আমি জানি এ অন্তরে
ও মঙ্গল স্পর্শে শুধু লভিব কল্যাণ,
পুণ্য পবিত্রতা পূর্ণ হবে তব দান।
লভি ধন্য হব আমি, অধম সন্তানে
দয়া সমধিক তব, স্নেহ বরিষণে
জুড়াও তৃষিত প্রাণ, দেবতা আমার
কি বলে প্রাণের কথা জানাইব আর ?
তুমি অন্তর্যামী দেব সকল জানিয়া
তােমাতেই পরিপূর্ণ কর মাের হিয়া।
শতদল
৮২
গােধূলীর অন্ধকার নেমেছে ধরায়,
কি শান্ত কি স্নিগ্ধ ভাব চারিদিকে ভায়।
মেঘ শূন্য সুনির্মল সুনীল আকাশ,
পূর্ণিমার পূর্ণ শশী হও হে প্রকাশ।
এমনি শান্তিতে পূর্ণ করি সমুদয়,
পূর্ণ শশী সম তুমি হও হে উদয়।
সংসারের চিন্তা ব্যথা যা চলে দূরে,
তুমি শুধু জেগে থাক মোৰ মৰ্ম্মপুরে।
সে জ্যোতি লভিয়া ধন্য হব এ ধরায়,
দয়াময় তৃপ্ত কর অতৃপ্ত হিয়ায়।
অজ্ঞান অবােধ আমি কি মাের দুরাশা,
তােমারে লভিব প্রাণে এই চির আশা।
দয়াময় তব দ্বারে এসেছি ভিখারী,
ফিরাওনা, রাখ তারে এই ভিক্ষা করি ।
৮৪
শতদল
এই যে জীবন পথ প্রলোভনময়,
কতবার যেতে যেতে, পথ ভুল হয়।
মনে করি এক কাজ করে ফেলি আর,
আশার দেখিয়া খেলা, মােহিনী বিস্তার।
মনে করি গেছে দিন, আর নয়, নয়-
এইবার স্থির ভাবে করি সমুদয় ।
ধরিব শান্তির পথ, পালি
পুণ্যব্রত
সত্যের আলােক ধরি চলিব নিয়ত।
জ্ঞান ধৰ্ম্ম জাগাইব অনন্ত মহান,
তাহারি আনন্দরূপে পূর্ণ করি প্রাণ।
শুদ্ধ নিরমল হব, পুষ্পের মতন,
হৃদয়ে পাতিব তার পূজার আসন
পূজিব ভকতি পুষ্পে, তবু বার বার
কেন ভুলে যাই তাহা সংসার মাঝার ?
ক
---
r
শতদল
৮৪
অনন্ত আকাশ,
কার পূর্ণরূপ আজি হয়েছে প্রকাশ,
তােমার সুনীল ওই গগন প্রাঙ্গণে।
কার জ্যোতি হেন সুধা ঢালিতেছে প্রাণে!
ওই যে তরল মেঘ যেতেছে ছুটিয়া,
কোথাকার কোন কথা আনিছে বহিয়া ?
ওই যে বরষা সিক্ত পল্লব শ্যামল,
জ্যোছনা হিল্লোল ধারা করে ঝলমল।
যেন কোটি রত্ন রাশি পড়ে উছলিয়া,
কুবের ভাণ্ডার কোন ধরায় পড়িয়া
সাজাইল ধরণীরে এ হেন রতনে ?
কে সে মায়াধর যার এ হেন সৃজনে
উঠে প্রাণ পুলকিয়া, মােহিনী সঞ্চার
কি যেন হতেছে এই হৃদয়ে আমার।
শতদল
৮৫
রজনী গভীর হল, নিদ্রাহীন আঁখি
সুনীল নিৰ্ম্মল ওই গগনেতে রাখি
চেয়ে আছি, কত শত বিচিত্র বরণে
শােভিছে তারকা পুষ্প গগন প্রাঙ্গণে।
দীর্ঘ অশ্বথের তরু উচ্চ করি শির
স্থির হয়ে আছে যেন নিশ্চল গম্ভীর
শ্যামল পল্লব যেন বসনের মত,
শােভিছে জোনাকী দল, আভরণ শত।
কি উজ্জ্বল জ্যোতি তার শশীর কিরণ
শত রত্নধারা সম হয় বরিষণ
সুপ্ত ধরণীর বুকে, হৃদয় বীণায়
সহসা কাহার কথা কে দিল জাগায়।
অনন্তের কোন কথা রহস্য অপার,
দেখিনু লিখিত এই সৃষ্টির মাঝার।
শতদল
এখনি হাসিতে ভরা আছিল রজনী,
সহসা আঁধার করি আকাশ ধরণী,
নামিল মেঘের ছায়া, ঘন অন্ধকার
ঢেকে দিল গগনের সুষমা অপার।
বহিল প্রবল বেগে দুরন্ত পবন,
স্থির অশ্বথের তরু করে ঘাের রণ।
দুলিছে বৃক্ষের শাখা পল্লব শ্যামল,
ছড়াইয়া পড়িতেছে জোনাকীর দল।
নামিল বৃষ্টির ধাবা, ধরণীর হিয়া
তাপিত তৃষিত ছিল গেল জুড়াইয়া !
অমনি নামিয়া এসে এ হৃদয়ে মম,
দূর করি পাপ তাপ নাশি অন্ধতম।
জগদীশ তুমি মােয়র দাও জুড়াইয়া,
তােমাতেই তৃপ্ত হােক তৃষিত এ হিয়া।
শতদল
৮৭
আমারে করিয়া নাও শুধু আপনার,
যেন এ হৃদয় বীণ করিবে ঝঙ্কার
তব সুধাময় নাম। হৃদয় আসনে
সতত জাগায়ে তােমা রাখি, সযতনে
করি পূজা প্রীতি পুষ্পে, ভক্তি বিশ্বদলে,
কৃতজ্ঞতা পূর্ণ প্রাণে, নয়নের জলে।
দয়াময় এ সংসাবে মােহ বদ্ধ হিয়া
যেন তােমারে গাে বিভূ না রহে ভুলিয়া।
যখন যে ভাবে থাকি অনন্ত মহান,
তব ভাবে তােমাতেই পূর্ণ রহে প্রাণ,
যখন দুঃখেতে ভাসি ডাকিব তােমায়,
দুঃখহারী তুমি পিতা দীনের সহায়।
যখন লভিব সুখ, ওই সুধা নাম,
দিবে প্রাণে শান্তি, প্রীতি, আনন্দ আরাম ।
শতদল
৮৮
আমারে ভুষিত কর ধৰ্ম্মের বসনে,
দাও প্রেম, পালি পুণ্য ব্রত,
তােমারে জাগায়ে রাখি হৃদয় আসনে
তব নাম গাহি অবিরত।
আমার হৃদয় দ্বারে প্রহরীর সম
ধর্ম বল যেন জেগে রয়,
পৃথিবীর পাপ তাপ যত অন্ধতম
ভয়ে দূরে যায় সমুদয়।
তােমার হাতের দান এই পরিবার
তােনারে বাসিতে পারে ভালো,
সর্ব কাজে তুমি জেগাে দেবতা আমার,
তুমি হও জীবনের আলো।
সুখে ভাসি, দুঃখে থাকি, আনন্দ আমার
তুমি হও আনন্দ জীবনে,
তুমি দাও নব শক্তি হৃদয় মাঝার
লভি তােমা নয়নে বচনে।
৯০
শতদল
দয়াময় এই নামে ভরে মাের প্রাণ,
কি সুধা আনন্দ ধারা লভি অবিরাম।
বিশ্বের রাগিণী সনে এই নাম গান
ঢালে শান্তি প্রতি প্রাণে আনন্দ আরাম।
দয়াময় এই নাম নিখিল ভুবনে,
দয়াময় এই নাম জাগে রবিকরে,
দয়াময় এই নাম সলিলে, পবনে,
দয়াময় নাম জাগে তটিনী, সাগরে।
পিতা, মাতা, প্রভু রূপে জাগিছ সবার,
ঢালিছ স্নেহের ধারা সমভাবে সবে,
অনাথের নাথ তুমি কেহ নাহি যার,
তাহার সর্বস্ব হয়ে আছ এই ভবে।
তেমনি সৰ্বস্ব হও হৃদয়ে আমার,
তােমাতেই মিলে যা জগৎ সংসার।
শতদল
১১
কি বলে আকুল ভাবে করিব প্রার্থনা ?
অন্তর্যামী জান সবি, হৃদয় বাসনা
কি ভাবে তােমারে চায়, সংসারে থাকিয়া
তােমাতে মিলিতে চায় তৃষিত এ হিয়া।
নশ্বর জীবন ত্যজি অনন্ত জীবনে,
তােমারেই লভি যেন এই সাধ মনে।
তুমি জীবনের সুখ, আলো এ নয়নে,
ক্ষুদ্র নদী ছুটিতেছে সদা সিন্ধু পানে
তেমনি এ প্রাণ মোর মিশিবারে চায়
তােমাতেই, তুমি দয়া করিলেই তায়
পূর্ণ হবে মনােরথ, তােমারে লভিয়া
শান্তি প্রতি পূর্ণ হবে এই দীন হিয়া।
যার প্রাণ তােমা লাগি কাঁদিছে এমন,
তাহারে ত্যজিতে তুমি পার কি কখন?
৯২
শতদল
তােমারে ভুলিয়া আছি ? বিশ্ব সমুদয়
জানায় তােমার কথা, কি করে হৃদয়
রহিবে বিমুখ হয়ে ? নয়নের মাঝে
শুধু যে অনন্ত তব করুণা বিরাজে।
ভুলিবার পথ নাই, অতি শ্রান্ত মন,
আপনি কাতরে যাচে তােমার শরণ।
তৃষ্ণায় কাতর যবে, সুশীতল জল
নাশে শ্রান্তি, হয় শান্ত পরাণ বিকল।
তেমনি সংসারে শ্রান্ত অধীর হৃদয়,
তব নামে লভে সদা শান্তি সুধাময়।
পাই প্রাণে নব শক্তি, লভি নব আশা,
তােমারে লভিব প্রাণে, এ নহে দুরাশা,
মনে হয়, আছ তুমি মিলিয়া জীবনে
সর্ব কাজে সৰ্বভাবে বচনে নয়নে।
শতদল
১৩
৯২
দয়াময় সৃজিলেন আকাশ ধরণী
তারি দয়া লয়ে আসে, দিবস রজনী
ছড়ায়ে আলােক ধারা, দিবস আসিয়া
সজীব চেতন করি দেয় ক্ষুদ্র হিয়া।
সন্ধ্যালােকে আসে নিশি লয়ে সন্ধ্যাতারা,
শ্রান্ত ধরণীবে ঢালি সুধা শান্তিধারা।
নিশীথে প্রহরী সম কে সদা জাগিয়া,
দয়াময় পিতা তিনি, জুড়াইতে হিয়া।
থাক সাথে দয়াময় নিশীথে দিবসে,
যেন শক্তি লভি দেব তােমার পরশে।
ভয় বা ভাবনা রাশি ব্যথিত করিয়া,
যেন না বিকল করে এই ক্ষুদ্র হিয়া।
কখনো ছেড়ে না মােরে জগৎ জীবন,
সৰ্ব্বকাজে লইয়াছি তােমারি শরণ।
১৪
শতদল।
করহ পবিত্র মম যুগল নয়ন,
তব ভাবে পরিপূর্ণ হৃদয় গগন।
যে দিকে দেখিব চাহি দেখিব তােমারে,
সৰ্বে বিরাজিত তুমি জগৎ সংসারে।
নিঃশ্বাসে শােনিত ধারে জগদীশ হরি,
বহিবে কল্যাণ তব আশীষ লহরী।
আমার হৃদয় মন যাহা আপনার,
সকলি সপিয়া দিয়া চবণে তােমার
হই মুক্ত। সংসারের মায়ায় পড়িয়া
কারাগারে বন্দী সম আছে এই হিয়া।
শুধু হারাবার ভয় শুধু ত্ৰাস মনে,
এই ভয় দূর কর দয়া বরিষণে।
যেন প্রাণে লভি বল সদা তােমা স্মরি,
দীন বন্ধু দীন জনে চেও দয়া করি।
শতদল
৯৫
১৪
কি যেন মােহেতে ভুলে কাটিছে জীবন
কি যেন মায়াতে বদ্ধ রয়েছে নয়ন।
এই মােহ মায়া রাশি করে দাও দূর,
এসো আলো করি মম হৃদি অন্তঃপুর।
হে অনন্ত, হে মহান, হে দেব সুন্দর
তব রূপে তব ভাবে পূর্ণ চরাচব।
লভি তব জ্যোতি কণা দূরে চলে চায়,
অজ্ঞান আঁধার যত, জ্ঞানেতে মিলায়।
সত্য ধ্রুব জ্যোতি আলাে নেহারি নয়নে,
আনন্দ অমৃত স্রোত বহে যায় প্রাণে।
শুদ্ধ শান্ত নিরমল পবিত্র হৃদয়,
হেরে সদা সত্য শিবে মঙ্গল আলয় ।
অগতির গতি তুমি হে দীন শরণ
যাচিছে শরণ তব এই দীন জন।
শতদল
সংসারের কাৰ্যে ব্যস্ত থাকি নিরন্তর,
করিতে তােমার পূজা নাহি অবসর।
হায়রে অবােধ মন বৃথা আশা লয়ে,
অমূল্য সময় তব যেতেছে বহিয়ে।
প্রতি দিন কর আশা আজ নয় কাল
বেলা কেটে যায় বৃথা বাড়িছে জঞ্জাল।
আপনার ভারে নত পড়িছ ধূলায়
কাদিছে এ ক্ষুদ্র প্রাণ সংসার মায়ায়।
এখনাে সময় আছে দেখরে চাহিয়া,
ভুলে যাও মায়া মােহ মুক্ত কর হিয়া।
ডাকরে একান্ত মনে দয়াল ঈশ্বরে
পুণ্য প্রেম প্রীতি ধাবা জাগিবে অন্তরে।
হৃদয় কমল দলে ভক্তির আসনে,
বসায়ে হৃদয় নাথে পূজ এক মনে।
শতদন
৯৭
সাধনা না করিলেও পাইব তােমারে,
অন্তরের প্রভু তুমি জাগিও অন্তরে।
নিশি দিন, সর্বকাজে সকল সময়ে
জেগে থেক দয়াময়, তোমারে স্মরিয়ে
যেন সদা পুলকিত হয় প্রাণ মন,
মঙ্গল আলােকে পূর্ণ হয় এ জীবন ।
জীবনের এক মাত্র দেবতা আমার,
হৃদয় আসন সদা করি অধিকার
জেগে থাক, সত্য পথে লও হাত ধরে,
জ্ঞান ধৰ্ম্ম জাগাইয়া দাও এ অন্তরে।
তােমার মঙ্গল ওই আশীষ ধারায়
যেন এ হৃদয় মন জুড়াইয়া যায়।
শুদ্ধ শান্ত পুলকিত পবিত্র সরল,
হােক প্রাণ পূজিবার শুভ্র ফুল দল।
৭
৯৮
শদ
৯৭
তুমি সত্য, তুমি ধ্রুব, পূর্ণ রূপে তব,
পরিপূর্ণ হইয়াছে এ বিশাল ভব।
আনন্দ পুলক ধারা জাগিতেছে প্রাণে
পরশ হিল্লোল তব বায়ু বহে আনে।
দীপ্ত রবি প্রচারিছে মহিমা তােমার
ধরার চেতনা দিয়ে নাশি অন্ধকার।
জাগে পবিত্রতা তব কুসুম আননে,
বিহঙ্গ আহ্বান গীতি
গাহিছে ললিত কণ্ঠে ; সারা বিশ্বময়
উঠিছে মঙ্গল ধ্বনি জয় প্রভু জয়।
তৰ নামে তরে পাপী অন্ধে আঁখি পায়,
বধির শ্রবণ করে, মুক গীত গায়।
অলস আমার প্রাণ লভিয়া চেতনা,
তােমারে ডাকিতে শক্তি কভু কি পাবেন?
সুমধুর তানে
শতদল
৯৯
৯৮
প্রতি দিন শুষ্ক কণ্ঠে করি নাম গান,
কই দেব এখনোত জুড়ায় না প্রাণ?
এখন ত মেটে নাক প্রাণের পিপাসা,
কবে দয়াময় তুমি পুরাইবে আশা ?
কবে বর্ষাধারা সম হৃদয়ে আমার,
ঝরিবে মঙ্গল ধারা বল অনিবার?
কবে প্রাণ ভরে আমি ডাকিয়া তােমারে,
পাৰ তৃপ্তি, পাব সুখ বল এ অন্তরে।
ডাকি ক্ষণতরে তাতে অশি। যে মিটে না,
সৰ্ব্বদা প্রাণের সাধে ডাকিতে বাসনা।
মিটাও বাসনা মম প্রভু দয়াময়,
তুমি ইচ্ছা করিলেই সব পূর্ণ হয়।
পাব কষ্টে শক্তি নব করি নাম গান,
অতুল আনন্দে পূর্ণ হবে মন প্রাণ।
শতদল
দয়াময় চিরদিন তৃষিত অধরে,
যেন করি তব নাম গান,
হৃদয়ের রাজা মাের, অন্তরে বাহিরে
তােমাতেই পূর্ণ রয় প্রাণ।
তােমারি রচিত এই বিচিত্র সংসারে
যেন হেরি তােমারি মুরতি,
মানবের মাঝে আর প্রকৃতি মাঝারে
যেন হেরি তব দীপ্ত ভাতি।
তােমাময় হয় মাের সমস্ত ভুবন,
তুমি জেগ হৃদয় কমলে,
তােমার মঙ্গল ইচ্ছা হউক পূরণ
স্নেহ ছায়ে রেখ দীন বলে।
শতদল
সাথে সাথে থাক তুমি নিখিল নির্ভর
দিবসের আলো নিভে যায়,
চারি দিকে অন্ধকার হয় গাঢ়তর,
থাক তুমি ঘিরিয়া আমায় ।
দীনবন্ধু তুমি বিনা কে দেখিবে আর,
কে দিবে তাপিতে শান্তি সুধা সান্ত্বনার ।
মানব জীবন ক্ষুদ্র দুদিনে ফুরায়,
ক্ষুদ্র ঢেউ নদীতে যেমন,
পৃথিবীর খেলা ধুলা ধূলাতে মিশায়,
হর্ষ জ্যোতি বিষাদে মগন।
আজ যাহা আছে, কাল শুষ্ক ধূলি সার
হে অনন্ত থাক নিত্য হৃদয়ে আমার।
চাহিনা! বারেক দৃষ্টি, সান্ত্বনার বাণী,
থাক সদা হৃদয় আসনে,
ভক্তের হৃদয়ে যথা দিবস যামিনী
থাকিতে, তেমনি সর্বক্ষণে।
চির পরিচিত প্রিয়, অসীম মহান
নহে ক্ষণতরে, এসসা পূর্ণ কর প্রাণ।
এসােনা দেখাতে ভয় হে রাজা আমার
এস মাের জুড়াও হৃদয়,
তােমার শান্তির স্পর্শ সুধা সান্ত্বনার,
জুড়াইবে ক্ষত সমুদয় ।
হও মাের দুঃখে দুঃখী, দোষ ক্ষমা করি,
পতিত পাবন এসােপতিতে উদ্ধারি।
আমি চাই সর্ব কাজে সকল সময়ে
তুমি জেগ হৃদয় কমলে,
পাপ প্রলােভন আসে ছবিতে হৃদয়ে
তাহে যেন হৃদয় না টলে।
তুমি হও ধ্রুবতারা পথ দেখাইয়া,
আলো ও আঁধারে থাক, জুড়াও এ হিয়া।
নাহি শত্রু হেন কেহ যারে করি ভয়,
তুমি যদি কর আশীৰ্বাদ,
দুঃখে আর নাহি ব্যথা, অশ্রু ব্যথায়
নহে, যদি থাক সাথে সাথ ।
মরণে নাহিক ভয়, আর কারে ভয় ?
হইব বিজয়ী লয়ে ও নাম অভয়।
নিশি দিন জেগে থাক নয়নে আমার
স্বপনে বা ঘুমে জাগরণে,
ঢালো জ্যোতি আলাে করি ঘন অন্ধকার
লও টানি উর্জে ও গগনে।
ধরণীর কালাে ছায়া, স্বর্গ সুপ্রভাতে
যাবে দূরে, যদি তুমি থাক সাথে সাথে ।
সমাপ্ত
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.