Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Kaliyug
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
কলিযুঞ্জ
স্ত্রীচন্দ্রশেখরী সেন
অনেক মা
প্রণীত ,
Ve în ust put aside this method of censuring
i lump, and bring things to the test of true or
~~-Baon.
শ্রীক্ষেত্ৰনাথ সেন কর্তৃক প্রকাশিত
১৩১৮
মূল্য ১০ ছয় আনা মাত্র
POWER *HTETIM
No text on this page.
No text on this page.
উৎসর্গ পত্র।
পরম পূজনীয়
শ্ৰীযুত সাতকড়ি মুখোপাধ্যায় মহাশয়
||চরণেষু
মহাত্মন্ ।
অনেক রকমের হােরা-চোমরা বন্ধুবান্ধব থাকা সত্ত্বেও
এই ক্ষুদ্র পুস্তক আপনারই করকমলে অর্পণ করিলাম। আপনি
একজন দরিদ্র ৱাহ্মণ, ধন মান পদমর্যাদাদি আপনার কিছুই
নাই ; পরন্তু আপনাতে যে সকল প্রকৃত মনুষ্যোচিত গুণরাশি
বিদ্যমান, তাহা অমূল্য। বাচনিক থিয়সফিষ্ট, আমরা অনেকেই,
কিন্তু আপনি থিয়সফিষ্ট, হৃদয়ে ও কার্য্যে। আপনার জীবনগ্রন্থ
হইতে অনেক জ্ঞান লাভ করিয়াছি।
বিনয়াবনত সেবক
চন্দ্রশেখর সেন ।
No text on this page.
কলিযুগ
সত্যযুগে যাহা ছিল, বর্ণিত পুরাণে।
ত্রেতার রামচন্দ্র-কথা কবিতে বাখানে
লীলারসময়, কৃষ্ণ দ্বাপরান্ত-কালে,,
দেখালেম কত খেলা, মথুরা গােকুলে।
ধৰ্ম্মক্ষেত্ৰ-কুরুক্ষেত্রে সম্বােধি’ অৰ্জ্জুনে
• শিখালেন পরত গীতার ব্যাখ্যানে
—সমগ্র জগতবাসী যে বারতা, শুনে
অদ্যাপি কৃষ্ণ নাম ধন্য ধন্য গণে!
পাণ্ডবের সখা হয়ে কুরুকুল নাশি
রাখিলেন কীৰ্ত্তি ভবে মহিমা প্রকাশি
হইল ধৰ্ম্মের জয় অধৰ্ম্মের ক্ষয় ;
ত্রিলােকে ঘঘাষিত কৃষ্ণ-নাম-দয়াময়।
“সাধুদের পরিত্রাণ, দুষ্কৃত-নিধন,
“অবতার-কাৰ্য্য এই ন্যায়ের স্থাপন।
কেশব কংসারি হরি ! ত্রিতাপহরণ!
অধমে করুণা কর দিয়ে শ্রীচরণ।
কলিযুগ।
মহাভারতের যুদ্ধ অবসান পরে
দেশে না রহিল আর জ্ঞানী-মহাজন ;
ছারখার হ’ল রাজ্য সেই রণঘােরে
উপযােগী লােক সব পাইল নিধন।
সেই সংগ্রামের শেষে যে কেহ রহিল
দিতে সাক্ষ্য ভারতের গৌরব-কালের
তারা যেন সবে প্রাণহীন-হে হ'ল
উৎসাহ-উদ্যম সব ঘুচিল তাদের।
পিতা-পুত্র-ভ্রাতৃ-বন্ধু-শােকেতে অধীর,
সংসার-ক্ষেত্রেতে কেহ না রহিল আর
ব্যাকুল-হৃদয় সবে চঞ্চল-অস্থির,
নিজ্জা-নিবাস শেষ করিলেক সার।
জন-কোলাহল হ’তে লইল বিদায়
ঘুচায়ে দেশের আশা-ভরসা সকল
ভারতবাসীরা সবে হ’ল অসহায় ;
উন্নতির পথে এবে পড়িল অর্গল।
মানবদেহেতে যাহা হয় বা সম্ভবে
প্রকাশিয়ে বাসুদেব আপন সত্তাতে,
চরম দেখা’য়ে মহাভারত-অহবে
অবসর লইলেন কৰ্ম্মক্ষেত্র হতে।
কাটাইয়া দ্বারকাতে শেষ-কয় দিন
শােকে-তাপে-ক্লিষ্ট হয়ে ত্যজিলেন তনু
কলিযুগ।
ভারত হইল কৃষ্ণরবি-তেজোহীন
আর না উদিবে হেন প্রভাময় ভানু।
কৃষ্ণের লীলার শেষ প্রভাস তীর্থেতে,
যদুকুল ধ্বংস করি’ হিরণ্যার তীরে ।
সেই শোকে বলদেব দেব-স্বরগগতে
যোগাসনে ত্যজিলেন নশ্বর শরীরে।
হায় ! সে দারুণ কাণ্ড মনে হলে পরে,
সেই ভয়ানক স্থান নয়নে হেরিলে
পাষাণ-হৃদয় দ্বিধা হইয়ে বিদরে
শােকে কা’র বক্ষ নাহি ভাসে অশ্রুজলে ?
যদুকুল-শােণিতে হিরণ্যা প্রবাহিত,
একথা যখন ভাবে দর্শক ভাবুক,
---সেই প্রান্তরেতে কোটিবার সমাহিত
বৃত্তান্ত স্মরিয়ে তার ফেটে যায় বুক।
-
* প্রভাস বা সােমতীর্থ, সােমনাথ ও ভেরাওমুল-বন্দর খুব
কাছাকাছি। হিরণ্যা নাম্নী একটা ক্ষুদ্র নদী প্রভাস-যজ্ঞ-স্থলের
নিম্ন দিয়া প্রবাহিতা। সেই নদীতীরে কয়েকটা বৃক্ষের মাঝে
এক খানি বড় প্রস্তরাসন রক্ষিত। পাণ্ডারা বলেন, উহারই
উপরে বসিয়া বলরাম দেহত্যাগ করিয়াছিলেন। উক্ত স্থানকে
দেবস্বর্গ বলে।
যে নিম্ববৃক্ষতলে শ্রীকৃষ্ণের দেহান্ত হয়, তাহাও
অদ্যপি দণ্ডায়মান বলিয়া একটা গাছ প্রদর্শিত হইয়া থাকে।
এরূপ দোকানদারী ও জালসাজী প্রায় সকল প্রাচীন তীস্থানেই
দেখিতে পাওয়া যায়।
৪
কলিযুগ।
অদ্যাপি হিরণ্য। শরগুল্ম ধরি বুকে
বহিতেছে ধীরে-ধীরে কহিয়ে কাহিনী
তীর্থযাত্রীগণে মুগ্ধ করিতেছে শােকে
“হের আর কঁদ” বলি’ উচ্চারিছে বাণী।
কঁদিছ কঁাদাইতেছ দর্শক সকলে,
হবে না কঁদিতে আর, নিকটে সাগর ;
জুড়াও তাপিত-প্রাণ সিন্ধুর সলিলে,
সঙ্গমে ভাসাও শােক খুলিয়ে অন্তর।
অৰ্জ্জনাদি কৃষ্ণ-শােকে আকুল-পরাণ
সাম্রাজ্য-বিভব
তুচ্ছ
গণি’ মনে-মনে
মহাপ্রস্থানের তীর্থে করিল প্রয়াণ,
ভারত মস্তকহীন হ’ল এতদিনে।
জ্ঞান-ধৰ্ম্ম হ’ল লােপ, কলি উপস্থিত,
রাজ্যমধ্যে ঘটে চারিদিকে অমঙ্গল ;
মুনিকোপে শাপগ্রস্ত রাজা পরীক্ষিত ;
সর্বত্র সত্যের নাশ সদা বিশৃঙ্খল।
;
{
হিরণ। খুব ছােট নদী, বর্ষা ব্যতীত অন্য সময় অতি
মগতি; এজন্য উহার জলে বিস্তর নল-খাগড়ার জঙ্গল দেখা
পৌরাণিক কিম্বদন্তী অনুসারে যদুবংশের দুর্দান্ত
যুবকগণ কর্তৃক ধর্ষণ দ্বারা ক্ষয়িত কুলনাশন মুষল হইতে
উহাদের জন্ম।
* আরবসাগরসহ সহম।
কলিযুগ।
যদুবংশে-বর্জনাভ, কুরু-জন্মেজয়,
কলির আরম্ভে রাজা যুবা দুইজন,
যাও কিছু ইহাদের রাজ্যের সময়
আৰ্যজ্ঞান-প্রভাবের ছিল নিদর্শন।
গৌরব-রবির অস্ত ইহাদের সনে ;
-মুনি-ঋষি সকলে হলেন অন্তর্ধান !
আলাে’ আর না রহিল ভারত-গগনে,
অন্ধকারে ঢাকিল দেশের সর্বস্থান।
বহুদিন তিমিরেতে মুখ লুকাইয়ে,
ঘৃণিত, অপরিচিত, অজ্ঞাত জগতে,
কষ্টের সাগরে ভাসি’ অভাগিনী হয়ে
যাপিল ভারত কাল দুঃখেতে-শােকেতে।
পরে ধৰ্ম্মবীর শাক্য হয়ে আবির্ভূত
—সুসাম্যাবতার বুদ্ধ অবতার-শেষ,
মহাজ্ঞান প্রচারিল অতীব অদ্ভুত,
ভারতের খ্যাতি ব্যাপ্ত হ’ল বহুদেশ।
সভ্য-পৃথিবীর অর্ধলােক শিষ্য হল ।
ভারত উঠিল পুনঃ সাম্রাজ্য-গৌরবে
অশােকের জয়ডঙ্কা চৌদিকে বাজিল,
অদ্যাপি যাহার যশ ঘােষিত এ ভবে।
বৌদ্ধ-যুগে ভারতের যেরূপ উন্নতি
কলিতে তেমন আর হওয়া অসম্ভব,
কলিযুগ।
;
জ্ঞান-ধৰ্ম্ম-সাম্রাজ্যের একত্র সঙ্গতি,
সমস্তই সুশৃঙ্খল সামঞ্জস্য সব ।
সেকন্দর সহ তদা য়ুনানী সকল
জয় করিবারে দেশ ভারতে পেঁছিল ;
সিন্ধুপারে কিছু দূর আইল সবল,
আর অগ্রসর হতে সাহসী না হ’ল ।
আৰ্য-গৌরবের শেষ যা ছিল তখন
পূর্ব-তুলনায় তাহা সামান্য কিঞ্চিৎ,
তথাপি যা দেখেছিল বিদেশীয়গণ
-রাজ্যের সুসভ্য-ভাব, প্রজার চরিত,
দয়া, প্রেম, সত্য, নিষ্ঠা, সাম্যের বিধান ,
প্রচ্ছন্ন চৌদিকে বহু জ্ঞানরতু-খনি,-
ভেবেছিল তার সব পর্বত সমান--
দেশে গিয়া প্রশংসিল সহস্র বাখানি।
বহুপরে এসেছিল চীন দুই জন
বুদ্ধের আলয়ে বুদ্ধ পূজিবেক বলে ;
উভে প্রকাশিল মত করি’ পর্যটন,
অসত্য, চৌর্য্যের চিহু কোথাও না মিলে।*
৩
* ৪০০ খৃষ্টাব্দে ফা হিয়ান চীনদেশ হইতে ভারতবর্ষে
আসিয়া পঞ্জাব, কাশ্মীর, মথুরা, মধ্যখণ্ড প্রভৃতি বহু জনপদ
পরিদর্শন করেন। এই প্রকারে ছয় বৎসরকাল পৰ্যটনন্তর
সিংহল ও যবদ্বীপ হইয়া স্বদেশে প্রত্যাগমন করতঃ “ফো-কুয়ে-
কলিযুগ।
অবসাদ আসি’ পুনঃ ভারতে ঘিরিল,
ক্রমে লােক সমাচ্ছন্ন অজ্ঞান-মােহেতে,
বুদ্ধের পবিত্ৰ-শাস্ত্র বিকৃত করিল,
ঘাের-নাস্তিকতা-ভয় হইল দেশেতে
ধৰ্ম্মরাজ্যে উপস্থিত বড়ই বিপ্লব ;
ঈশ্বরের নাম বুঝি বিলুপ্ত হইল !
ভগবদ্ভক্ত ভয়াকুল-চিত্ত সব,
উচিত-বিধান-ভার শঙ্কর লইল।
শঙ্কর অদ্বৈতবাদ করিয়ে প্রচার
বৌদ্ধ-নাস্তিকতা নাশ করিতে লাগিল
;
কি” নামক ভ্রমণবৃত্তান্ত প্রচার দ্বারা ইতিহাসের বিশেষ সাহায্য
করিয়া গিয়াছেন। তাহার পরে সপ্তমশতাব্দীর মধ্যভাগে
হিউয়েন্থসাং আগমন করতঃ নূনাধিক দ্বাদশ বর্ষকাল ভারতের
নানাপ্রদেশ পরিভ্রমণ করিয়া যান। ইহার পর্যটন-কাহিনীও
অতি মূল্যবান। এই দুই মহাত্মার প্রচারিত সম্বাদ দ্বারা জানা
যায় যে, তাহাদের সহিত মিথ্যাবাদী ভারতবাসীর সাক্ষাৎ হয়
নাই, এবং তঁাহারা দেশের কোথাও এমন দেখেন নাই, যে
লােকে গৃহদ্বার রুদ্ধ করিয়া রাত্রিতে নিদ্রা যায়, অর্থাৎ চোরের
ভর আদৌ ছিল না। এই দুই জন ব্যতীত বৌদ্ধপ্রভাবকালে
আরও ছাপ্পান্ন জন চীন পরিব্রাজক ভারতের বৌদ্ধতীর্থসমূহ
গশন করিতে আইসেন।
পাঠক! তুলনা করিয়া দেখুন, অবনতির পথে আমরা
কোথায় আসিয়া পড়িয়াছি!!!
কলিযুগ।
তাহারে পরাস্ত করে হেন সাধ্য কার ?
অচিরে বিপক্ষগণ নিরস্ত হইল।
কুমারিকা-অন্তরীপ হ’তে হিমাচল
অবাধে অদ্বৈতবাদ হ’ল প্রচারিত,
আৰ্য্যধৰ্ম্ম-তত্ত্বমৰ্ম্ম সকলে বুঝিল—
গূঢ়বৈজ্ঞানিক-সত্যস্রোত প্রবাহিত।
অস্তগামী-সূৰ্য্য যথা গােধূলির-কালে
ছড়ায়ে কিরণজাল যান হাসি-হাসি
সমর্পিয়ে নিজরাজ্য তিমির-করালে
মহাবল-কালচক্ৰ-মহিমা প্রকাশি’
সেই ভাবে অস্তমিত আচাৰ্য্য-রতন
বৈজ্ঞানিক-ধৰ্ম্ম-জ্যোতি বিকীর্ণ করিয়া ;
যৌবনের শেষে মাত্র করি’ পদার্পণ,
দুঃখিনী ভারতে পুনঃ দুঃখে ভাসাইয়া।
ডুবিল শঙ্কর-রবি নিবিল আলােক,
—দ করি’ জ্বলা আর অমনি নির্বাণ।
ভারত মাতার হৃদে পশিল যে শােক
গভীরতা তার যেন সমুদ্র-সমান।
শঙ্কর-প্রতিভা-তেজে গেল যে সময়,
সামান্য সে কটা দিন দেখিতে দেখিতে
ফুরাইল যেন স্বপ্ন অতি সুখময়,
আকাশে-বিদ্যুৎ-সম, নাচিতে-নাচিতে ।
কলিযুগ।
নির্বাণ-উন্মুখ-দীপ জ্বলে কতক্ষণ?
মুমূষু ভেষজবলে বাঁচে কয় দিন?
আবার আধার আসি দিল দরশন,
ভারত-গৌরব-রবি পুনঃ তেজোহীন।
সােহ-জ্ঞানের সার বিস্মৃত হইয়া
নানাজনে নানামত করিল প্রচার,
শঙ্করের শাস্ত্র এবে বিকৃত করিয়া
আরম্ভিল কত লােক কত অত্যাচার।
দৌরাত্মের কথা আর কি বলিব হায় !
সােহম-বাক্যের অর্থ কিরূপ হইল,
অসৎ কৰ্ম্মেতে কিছু নাহি প্ৰত্যবায়,
ধৰ্ম্মাধৰ্ম্ম, পরকাল-ভয় না রহিল।
মূঢ়েরা ভাবিল, “যদি আমরা ঈশ্বর”
—“সােহমের দ্বারা বল আর কি বুঝাবে?
“প্রভেদ কিছুই নাই বিশ্ব-বিশ্বেশ্বর,”
“যাহা কিছু করি সব ঈশ্বরে বৰ্তিবে।
এই মহাভ্রমে পড়ি’ ভারতবাসীরা
জ্ঞানেতে হইল অবনত দিন দিন,
মােহ-অন্ধকার-ঘােরে হ’ল দিশাহারা,
বিহ্বল-বিমূঢ়মতি-বিবেকবিহীন ।
যে জন্যেতে মহাজ্ঞানী শঙ্কর-সুজন
বিকৃত বৌদ্ধের গর্ব খর্বিত করিল
১০
কলিযুগ।
তদপেক্ষা শতগুণ অনিষ্ট ভীষণ
বিকট-অদ্বৈতবাদ ভারতে আনিল।
জ্ঞানের প্রখরজ্যোতি বিলুপ্ত হইয়া
মােহাচ্ছন্ন হ’ল দেশ অজ্ঞান-তিমিরে,
সনাতন-ধৰ্ম্ম-ভাব নিস্তেজ করিয়া
অবিদ্যা গ্রাসিল আসি’ আৰ্যসন্তানেরে ।
ইতােপূর্বে একবার অল্পকাল-তরে
ধূমকেতুসম উদি’ ভারত-আকাশে
একদেশ আলাে করি’ অবন্তি-নগরে
দেখা দিয়াছিল জ্ঞান বিক্রম-আবাসে।
সান্দীপণি-সমীপেতে কৃষ্ণ-বলরাম
যেথা শিখিলেন জ্ঞান শিষ্য হয়ে তার,
মুনির আশ্রম সেই ধন্য পুণ্যধাম,
অধুনা দিয়াছে অঙ্কপাত নাম যা’র ।
সেইস্থানে একবার চমকি’ উঠিল
স্বল্পসময়ের জন্য বিস্তারিয়ে কর,
আৰ্য-প্রতিভার জ্যোতি দিক আলােকিল
বহুদিন বহুদিন বহু দিনান্তর ।
* উজ্জয়িনী, অবুরি ধ্বংসাবশেষ ও অঙ্কপাত একেবারে
লাগালাগি, ক্ষিপ্রানদীতীরে অবস্থিত।
কলিযুগ।
১১
অবন্তি গৌরব-সাক্ষী বৃদ্ধ মহাকাল
দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ * মধ্যে শােভমান,
মন্দির-প্রাঙ্গনে যা’র আদি রঙ্গশাল,
—কবি ভবভূতি-কীর্তি-অভিনয়-স্থান।
আর বিরাজেন সেথা ভীমা মহাকালী,
তাল আর বেতাল য’র প্রহরী দু’জন,
ক্ষিপ্রতটে যাহাদের মূরতি বিশালী ও
অদ্যাপি ত্রাসিত করে দর্শক-নয়ন।
সৌরাষ্ট্রে সােমনাথঞ্চ শ্রীশৈলে মল্লিকার্জুন উজ্জয়িন্যা
মহাকালমােঙ্কারমমরেশ্বরে কেদারং হিমবৎপৃষ্ঠে ডাকিন্যাং
ভীমশঙ্কর বারাণস্যাঞ্চ বিশ্বেশং এ্যম্বকং গৌতমীতটে বৈদ্যনাথ
চিতাভূমৌ নাগেশং দারুকাবনে সেতুবন্ধেতু রামেশং মুঘ্নেশষ্ণ
শিবালয়ে।
+ ভবভূতিপ্রণীত উত্তররামচরিত নাটক এই খানে অভিনীত
হয়, এইরূপ কথিত যে ভারতবর্ষের উহাই প্রথম থিয়েটার ।
# মহাকালীর প্রত্যর্থ পূৰ্বে নরবলি হইত, তাহার নিদর্শন
স্বরূপ কয়েকটী শ্বেত প্রস্তরনিৰ্ম্মিত নরমুণ্ড অদ্যাপি মন্দিরদ্বারে
প্রদর্শিত। কিম্বদন্তী কবি-কালিদাস এই খানে সিদ্ধিলাভ
করেন।
৪ কালীমন্দিরের সম্মুখস্থ ক্ষির বাঁধাঘাটের উভয় পার্শ্বে
তাল-বেতালের দুইটী ভীষণ মুরত দেখিতে পাওয়া যায়।
শূন্যস্থানে ঐরূপ দৃশ্য দর্শকের মনে ভয় সঞ্চার না করিবে কেন?
১২
কলিযুগ।
যে দেখেছে সে বুঝেছে বিক্রম-মহিমা,
কালিদাস-বররুচি সভাসদ য’র
যাদের পাণ্ডিত্য-কথা ভারত-গরিমা।
হায়! কি সেদিন ফিরে আসিবেক আর ?
আর আসিবে না ফিরি’ ভারতে সে ভাব,
যাহা যায় তাহা পুনঃ কভু নাহি ফিরে,
কালের নিয়ম এই কঠোর-প্রভাব,
উন্নতি-কমলা স্থির নহে কারাে ঘরে।
শঙ্করের পরে উপস্থিত যে রজনী,
সে রজনী পােহাইতে যাবে বহুকাল ;
আঁধার-আঁধারময় সে ঘাের যামিনী
তিমির তাহার যেন কালান্তক-কাল।
ভারতের রাজা-প্রজা লােক-সমুদয়
—লক্ষ্যহীন তরী যথা কাণ্ডারী-বিহনে
অলস-অবশ-ভাবে ভেসে চলে যায়--
উদ্যম-উদ্দেশ্যহীন হ’ল এতদিনে।
পরস্পর-বৈরভাব, সত্যে-উদাসীন ;
একতা-অভাবে দেশে শতেক বিভাগ
সাম্রাজ্যের প্রতি সবে মমতাবিহীন,
জ্ঞান-ধৰ্ম্ম-প্রেমে কারাে নাহি অনুরাগ।
* চক্রবর্ত্তী-সম্রাটের অভাবে রাজসূয় যজ্ঞাদি নাই, প্রাদেশিক
কলিযুগ। বিচ্ছিন্ন-ভারতে বহু ক্ষুদ্র-সম্প্রদায়, লিঙ্গী, ধৰ্ম্মধ্বজী, শঠ, নিতান্ত-অসার। শম-দম-চর্চা কোথা গেল চলি’, হায় ! কৈতব-কপটভাব সর্বত্র প্রচার । রত বাহ-অনুষ্ঠানে, বহির্মুখী মন ; অন্তরের-নিষ্ঠা, ভক্তি, সরল-সাধনা, পরার্থপরতা, পুণ্য, সব বিসর্জন । —ক্ষুদ্র-স্বার্থ-চিন্তা, নীচ-জঘন্য-ভাবনা। এইভাবে চিরদিন চলিতে না পারি ; নিম্নতর দুরবস্থা ঈশ্বর-আদেশ, --বহুদু:খ পেতে হবে ভারতবাসীরে, স্বাধীনতা হারাইয়া নানাবিধ-ক্লেশ। নন্দ-হতে-মন্তর, উত্তমাদুত্তম, অনিবাৰ্য-গতি দৃষ্ট সংসার-মাঝারে ; এক-ভাবে-স্থির নাই কুত্রাপি নিয়ম, -পূৰ্বেতে, পশ্চিমে, কিম্বা দক্ষিণে, উত্তরে। আগাইতে না পারিলে পিছনে হটা’বে, দাঁড়াইয়া ভাবিবার নাহিক বিধান, প্রকৃতির হাতে প্রাণ বিসর্জিতে হবে শত-পদ-তলে পড়ি পিপীড়া-সমান। ; } ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃপতিগণ স্ব স্ব প্রধান, কাজেই ভারতের সাম্রাজ্য- গব তিরােহিত।
কলিযুগ।
}
সর্বত্র ছুটি’ছে সবে সম্মুখে পশ্চাতে
দ্রুতবেগে, উন্নতি বা বনতি পানে ;
ক্ষণেকের তরে কেহ না পায় বসিতে
জড় বা উদ্ভিদ, জীব, যে আছে যেখানে
বিধাতার সনাতন-বিধি-অনুসারে
ভারত-ভূপতিবর্গ বদ্ধ মােহপাশে ;
দ্বেষ-দস্তজ-দ্বন্দ্বে মত্ত পরস্পরে,
খাল কাটি কুম্ভীর আনিল দ্বার:দশে ।
গৃহবিচ্ছেদের ফল অতাব-ভাষণ,
কৰ্ম্মদোষে সেই জ্ঞান বিলুপ্ত হইল
সাহায্য-কারণে বিদেশীর নিমন্ত্রণ,
—গৃহমাঝে আসি' শত্রু সহজে পশিল
এইবারে চরম আসি’ছে অধােগতি
বিদেশীর পদাঘাত-চরণলেহন
উড়াইবে আস্য-ভাব-প্রকৃতি-মূরতি ;
চিনিবার থাকিবে না কোন নিদর্শন।
খৃষ্ট-ধৰ্ম্ম দোষযুক্ত হইল দেখিয়া,
বিধির বিধানে, সত্য-প্রচার-কারণ,
আবির্ভূত আরব-দেশেতে মহম্মদ
একেশ্বরবাদ পুনঃ ঘঘাষিতে জগতে
“ঈশ্বরের অংশী নাই, নাই অবতার,
কলিযুগ।
“সহকারী নাই কেহ শাসিতে সংসার ;
“একমাত্র তিনি বিশ্বে সকলের প্রভু ;
“ভঁহারই ভজনে জীব পায় পরিত্রাণ ।
€“লা-শরি-খােদা মাত্র আরাধ্য সবার ;
“তিনি ভিন্ন আর কেহ ভজনীয় নাই।
“কল্পনার বলে মূর্তি গড়াইয়া তাঁর
“পূজা করে যেইজন, অতি মুঢ়মতি,
“ঘাের-তাপরাধী সেই ইহপরলােকে,
“সর্বব্যাপী-অন্তহীন-অনাদি-বিভুর
“সীমাবদ্ধ প্রতিরূপ কেমনে সম্ভবে ?
“তিনি ভিন্ন সুর-নর কাহারাে সম্মুখে
“অবনতশিরে ‘সেজদা কভু না বিধেয় :
“পূর্বগত ঈশা, মুসা, ইব্রাহিম আদি
“সমান-শ্রদ্ধার-পাত্র ‘আলেহলাম।
“নির্বিশেষে কিন্তু সবে ‘বন্দা-খােদার,
“মহম্মদও তাই, মাত্র ‘শেষ-প্যাগম্বর।
“দণ্ডবৎ-প্রণামের মােগ্য কেহ নাই
“এ তিনভুবনে সেই বিশ্বপতি-বিনা।”—
ইলাম-ধৰ্ম্মের এই সার-উপদেশ
“আল্লার-রসুল” দ্বারা প্রচারিত হ’ল।
অটল-বিশ্বাস আর অদম্য- প্রভাব,
ততােধিক নির্ভীকতা, তেমনি উদ্যােগ ;
ধৰ্ম্মযুদ্ধে ক্লান্তি নাই, নাহিক বিশ্রাম ;
কলিযুগ।
অথচ সঙ্গের সঙ্গী মাত্র কয়জন
ভক্ত-অনুচর ; শুদু তাহাদের বলে
বিপক্ষেরে দণ্ড দিতে সতত প্রস্তুত।
এ হেন বিশেষ-জীবে কে পারে জিনিতে ?
অতিক্রম করি’ বি-বাধা-সমুদয়
জয়যুক্ত মহম্মদী-দল অবশেষে।
ঈশ্বরের মহিমায় আইল অচিরে,
সমগ্র আরব-রাজ্য ইসলাম-অধীনে।
?
নবীন-ধর্মের তেজে নব-সম্প্রদায়
ছুটিল চৌদিকে বহূি-স্ফুলিঙ্গের মত ;
ধৰ্ম্মের প্রচার সহ রাজ্যের বিস্তার,
---অসাধ্য-সাধনে সদা-সর্বদা উদ্যত।
নবধর্মে দীক্ষিত, নবীন বলে বলী,
উচচ আকাঙক্ষাতে মত্ত-মাতঙ্গের প্রায়,
জয়-জয়-রবে ডঙ্কা বাজা’তে লাগিল
যে দেশে বাড়ায় পদ যে দিকেতে যায়।
অর্ধেক-ইউরােপ আর উত্তর-আফ্রিকা
অবাধে করিল গ্রাস মােসূলে-প্রবল,
ব্ৰহ্মতেজে-তেজীয়ান, ইস্লানির্ভর,
বীরদর্পে উৎসাহিত, ঐশ্বৰ্য-বিহ্বল।
মহাবল-পরাক্রান্ত সেই মুসলমান
পুণ্যের প্রতাপ যা’র সহায়-সম্বল,
কলিযুগ।
“দীন”-“দীন”-রবে যার ধরা কম্পমান,
“বলং বলং ব্রহ্ম বলং যারে দেয় বল।
“ধৰ্ম্মযুদ্ধে’মৃতােবাপি তেন লােকত্রয়ম্ জিতম্।”
দিবানিশি এই মন্ত্র জপি’ছে ইসলামী ;
—“জেহাদে” মরিলে হবে অমর-“সহিদ,
অনায়াসে “রুহ” তা’র হৰে স্বৰ্গগামী।
য়ুরােপে বিস্তারি’ রাজ্য বিবিধ-বিজ্ঞান
পূর্ব দিকে এল ক্রমে বীর-মুসলমান,
খড়ের বলেতে দেশ আনিয়া কবলে
আৰ্যভূমি শাসিতে লাগিল অবহেলে।
সেই দিন হতে আৰ্য-তত্ত্ব-কথা-লোপ
বাড়িল ইলামী বল-বিক্রম-প্রকোপ ।
কত হিন্দুসন্তানেরে দীক্ষিত করিল
কৃপাণের মুখে যারা ধর্ম তেয়াগিল।
বেদ-পুরাণের কেহ না করে সম্মান,
পড়িতে লাগিল হিন্দু আরবী-কোরাণ।
ক্ষত্রিয়েতে মুন্সী হ’ল মৌলবী ব্রাহ্মণ,
যার-তার মুখে শুন ফারসী-বচন।
“লাইলাহা-ইল্লিল্লায় অনেকেই মজে,
“একমেবাদ্বিতীয় কেহ নাহি বুঝে।
ওলাইবিবি, সত্যপীর ঘরে-ঘরে পূজে
ওঙ্কার-মহাসত্য কেহ নাহি ভজে।
কলিযুগ। বােস্ত। গােলেস্তর কথা অনেকের মুখে কাদম্বরী-শকুন্তলা দেখেনকি চোখে। আখঞ্জী-মৌলবী-মােল্লার কতই সম্মান, অধ্যাপক-উপদেশে নাহি দেয় কাণ। পীর-প্যাগম্বর হ’ল জগন্মান্ত লােক, আৰ্য-অবতারগণ মুদিলেন চোক । উজীর- বাশার গল্প পিতামহ বলে রাজা, রাণী, মন্ত্রী, শব্দ গেল সবে ভু’!। শিবালয় কালীবাড়ি যখানেতে ছিল, দগা মসীদ সেথা নির্মিত হইল । যে দিকে তাকাও দেখ মৃতের কবর, শ্মশান বিরাজ করে গ্রামের ভিতর । ব্রাহ্মণ-পণ্ডিত প্রাতে গঙ্গাস্নানে যায় (দেখে) হােসেন-চাচা খুলে কাচা নমাজেতে ধায়। যাহাদের নাম ভয়ে আনিত না মুখে, তাদের সঙ্গেতে দেখা প্রত্যেক পলকে। “দিল্লীর-ঈশ্বর” হ'ল “জগত-ঈশ্বর, এতদূর বিদেশীর বাড়িল আদর। নবাব-রবাবে থরহরিকম্প সবে কা’র সাধ্য পাঠানেরে মােগলে নিন্দিবে ? ইসলামের পুথি হ’ল যতনের ধন, দর্শনাদি শাস্ত্রে আর নাহি কারাে মন ।
কলিযুগ।
ইহাতেও পাশার মন না উঠিল,
ঋষি-প্রচারিত-গ্রন্থ নাশিতে লাগিল।
দুর্দান্ত আরঞ্জীৰ আদেশিল সবে,
চতুর্বেদ এ জগতে আর না রহিবে ।
মা-কাট-রবে সব দুষ্ট-অনুচর,
পাতি-পাতি অন্বেষিল পণ্ডিতের ঘর ।
খুজিয়া আনিল বেদ যেখানে যা ছিল,
নিগমের বংশ বুঝি নির্বংশ হইল।
রাজাজ্ঞাতে কত গ্রন্থ অগ্নিতে পুড়িল,
চারিবেদ প্রায় সব লােপ পেয়ে গেল ।
এ ঘাের-দুঃখের কথা কে কারে জানাবে ?
মহাশােকে আকুল ভারতবাসী সবে।
বাশার হুকুম প্রতিবাদ কেবা করে ?
উপায় না পায় কেহ ভাবিয়া অন্তরে।
দিল্লীবাসী মহাবােদ্ধা জনৈক ব্রাহ্মণ
অভিনব প্রতিকার কৈল উদ্ভাবন।
“অল্লোপনিষদ্” নামে গ্রন্থ সযতনে
ত্বরায় রচিল দ্বিজ অদ্ভুত-কল্পনে,
কৌশলে লিখিল শাস্ত্র অতি-সাবধানে,
মহম্মদ-আল্লার নাম বেদমধ্যে ভণে।
শুনিয়া আল্লার গান আৰ্য্যের ভাষাতে,
“হজরৎ” “এলাহি” কথা বৈদিক-সুরেতে
কলিযুগ।
মুগ্ধ হ’ল সম্রাট বর্বর-দুষ্টমতি,
করিল সবার প্রতি এই অনুমতি,
যে বেদেতে মুসলমান “দীনের” বারতা,
এরূপ খােদার গীত, এত উদারতা,
সর্বত্র সে বেদ রক্ষা করিবেক সবে,
আর না ভারতে কেহ বেদ বিনাশিবে !
ধৰ্ম্মে-ধৰ্ম্মে রক্ষা হ’ল বেদের জীবন,
ধন্য বুদ্ধিজীবী সেই দরিদ্র ব্রাহ্মণ ।
বেদ রক্ষা হ’ল যা’র বুদ্ধির কৌশলে
সহস্র প্রণাম তারে কর সবে মিলে।
কিরূপ শােকের কথা বলা আজ হত
সমস্ত ভারত হতে বেদ যদি যেত ।
কালস্রোতে অঙ্গ ঢালি’ পাঠান-মােগল
কৰ্ম্মদোষে হারাইল মহম্মদী-বল।
ভারতের জলবায়ু আয়েশ-আরাম
ভুলাইল বিভিন্নতা “হালাল-হারাম
অহিফেন-মাদকাদি, নিষিদ্ধ কোরাণে,
নিত্যব্যবহার্য হ’ল মােস্লেম-জীবনে।
শৌর্য-বীৰ্য গেল চ'লে বিগত সাহস,
ব্যসনেতে মত্ত সদা কাজেতে আলস।
যত-কিছু ছিল গুণ—মহত্ত্ব-প্রতাপ
মুছিয়া ফেলিল আসি’ নানাবিধ পাপ
কলিযুগ।
বিজিত হইতে বিজেতার তাবনতি,
সর্বত্র নিয়ম এই প্রকৃতির গতি।
অবশেষে জিত, জেতা, কৃতমুসলমান
একত্রে মিশিল সবে খিচুড়ি-সমান।
একসঙ্গে বাস-হেতু বহুদিন-তরে
মিত্র হ’ল ভিন্ন দুই জাতি পরস্পরে ;
বিদেশীর চি-ভাব তিরােহিত হ’ল
এক লাঙ্গলেতে দুই বলদ জুটিল।
উভয়ের মাতৃভূমি হ’ল হিন্দুস্থান,
পৃথক্ না করা যায় হিন্দু-মুসলমান।
গলা-ধরাধরি করি প্রেমেতে মগন
অধােগতি-পথে পান্থ ভাই দুই জন
ভারতের ভােগগতে-বিলাসে মত্ত থাকি
কঠোর ধৰ্ম্মের ভাব হ’ল অন্তর্ধান
অবনতি কিছু আর না রহিল বাকী,
অধঃপাতে গেল “মজহবী” মুসলমান।
নিজেরা ডুবিল, হিন্দুস্থান ডুবাইল
বাস্তবিক মরুভূমিময় হ’ল দেশ,
জ্ঞানরাজ্যে ঘাের অত্যাচার আরম্ভিল
সমস্ত বিলুপ্তপ্রায় যাহা ছিল শেষ।
প্রেম,
ভক্তি, যােগ, ধৰ্ম্ম গেল সবে ভুলে ;
দুনিয়াদারিতে মগ্ন অবসন্ন লোেক,
কলিযুগ।
পবিত্র ভারত এবে গেল রসাতলে
গ্রাসিল সমগ্র দেশ পাপ-তাপ-শােক।
সরস প্রেমের রাজ্যে শুষ্কতা ঠোর ;
একটী জীবেরাে নাই ঈশ্বরে নির্ভর :
কোমল হৃদয় হ’ল কঠিন প্রস্তর
মােগল-পাঠান-হিন্দু সমান বর্বর।
•
কলিযুগ।
এই বিভীষণ-কালে
ভারত-আকাশ তলে
নবদ্বীপে আবির্ভূত জগন্নাথ গৃহে,
সচী দেবীর উদরে,
পতিত উদ্ধার তরে,
শ্রীচৈতন্য-মহাপ্রভু ধরিলেন দেহে।
ল’য়ে সব সাঙ্গোপাঙ্গ
হরিভক্ত শ্রীগৌরাঙ্গ
বঙ্গভূমে উদিলেন মহাপ্রভাশালী ;
মােহিত করি’ রূপেতে,
ভাসা’য়ে প্রেমের স্রোতে
দিলে ভুক্তির সুধা প্ৰীশ,ভরি’ ঢালি।
মাতিল রসেরব
সুদূর অঙ্গ:কলিঙ্গ,
চারিদিকে ভক্তগণ নাচিয়া উঠিল।
উছলি’ প্রেম-তরঙ্গ
কাপা’য়ে ভারত-অঙ্গ
হরিবােল ধ্বনি ভীমনাদে নিনাদিল ।
বৃন্দাবন আবিষ্কার,
কৃষ্ণলীলা চমৎকার
প্রচারের ভার হস্তে লয়ে ভক্তরাজ
ভক্তিবারি সিঞ্চনিয়ে
২৪
কলিযুগ।
মৃতদেহে প্রাণ দিয়ে
মহাবল-পরাক্রমে সাধিলেন কাজ।
আপনি প্রেমেতে মেতে
মাতাইলেন ভারতে
দয়াল-নামের শক্তি করিয়ে প্রচার ;
মহাপাপী উদ্ধারিয়ে,
ভক্তসঙ্গে ভক্ত হয়ে
দেখালেন আৰ্যগণে
অদ্ভুত
ব্যাপার।
পিপার # প্রতীতি-কথা
মীরার + ভক্তি-বারতা
সহযােগী হইল দেশােদ্ধার-সাধনে।
* পিপ-পশ্চিম-ভাতস্থ শ্রীগৌরাঙ্গের সমকালিক জনৈক
মহাবিশ্বাসী ভগবদ্ভুক্ত। কচ্ছদ্বীপের মাণ্ডবী-বন্দর হইতে
পােতারােহণে দক্ষিণ-মুখে আসিবার সময় সুদৃঢ়-বিশ্বাসের উপর
নির্ভর করতঃ কৃষ্ণচরণলাভােদ্দেশে দ্বারকার সম্মুখস্থ সমুদ্রজলে
স্পপ্রদান করেন। কথিত আছে যে, শ্রীকৃষ্ণের তিরােধানের
পর সােণাৱ-দ্বারকা ঐস্থানে সাগরগর্ভস্থ হয়, তথায় উপনীত
হইয়া পিপা নারায়ণের দর্শনলাভ দ্বারা চরিতার্থ হইলে শ্রীকৃষ্ণ
নিজহস্তে তাহার বাহুদ্বয়ে শঙ্খচক্রগদাপদ্মের চিহু অঙ্কিত
করিয়া তাহাকে পৃথিবীতে পুনঃপ্রেরণ করেন, পাছে সংসারের
লােক প্রচার করে যে পিপার ন্যায় পরমভক্ত পাগলের ন্যায়
জলে ডুবিয়া মরিয়াছে। তপ ছাপ অদ্যাপি দ্বারকা যাত্রীগণের
বাহুযুগলে দেওয়া হইয়া থাকে।
+ মীরাবাই-উদয়পুরের সুপ্রসিদ্ধ মহারাণী ;
কলিযুগ। ২৫ এক সময়ে ইহারা পিপা, শ্রীগৌরাঙ্গ, মীর, হরিনামে সপিলেন দুর্লভ জীবনে। হুলস্থুল পড়ে গেল, মরুতে তরু জন্মিল দয়াময়-প্রভুর নামের মন্ত্র বলে, কঠোর শাসনাধীনে কেবল নামের গুণে লক্ষ লক্ষ পাষাণহৃদয় গেল গ'লে । বস্ত্র কভু নাহি পারে অনলেরে চাপিবারে, বসনেতে কি প্রকারে তেজ ঢাকা রয় ? ' ঈশ্বরকে স্বামীরূপে গ্রহণ করাতে তাহার ভর্তা মহারাণ। ভীম- সিংহ কর্তৃক নানাপ্রকারে উৎপীড়িত হইয়া অবশেষে পরিত্যক্ত হন। উদাসিনীবেশে তীর্থাদি পৰ্যটন দ্বারা শেষজীবন অতি বাহিত করিয়াছিলেন। মীরার অটল হরিভক্তি ও ঐকান্তিক বৈরাগ্য শেষটা ভীমসিংহকেও মুগ্ধ করে। পত্নীর দেহান্ত হইলে তিনি নানাস্থানে উহার নামে মন্দিরাদি প্রতিষ্ঠা করতঃ ভক্তের গৌরব প্রচার করিতে টী করেন নাই। মীরার অচলাভক্তি প্রেম, বৈরাগ্য ও ধর্মপ্রাণতা রাজপুতানা প্রভৃতি পশ্চিমের বহু- প্রদেশে তাহাকে দেবীপদে অভিষিক্ত করিয়া রাখিয়াছে। দ্বারকা- প্রবেশের সময় যাত্রীগণ দ্বারকানাথকি জয়।” উচ্চারণ করিয়া সঙ্গে সঙ্গে “পিপা মহারাজকি জয়!” “মীরাবাইকি জয়!” ধনি করিতে বিধৃত হয় না।
কলিযুগ।
পাহকীর প্রতাপেতে
পারে কি কভু রাখিতে
প্রচ্ছন্ন ভাবেতে আৰ্য্যধৰ্ম্ম তেজোময় ?
মেঘঢাকা সুৰ্য যথা
কি অগ্নি জ্বেলেছ হেথা !
ধন্য প্রভু তুমি নাথ দীনদয়াময় ।
কে পারে নিবা’তে তায় ?
করুক যে যা’ উপায়,
সে অগ্নি যে কভু বিভাে! নিবিবার নয়।
পাপের সংসৰ্গদোষে
কিছুদিন পরে শেষে
শীতলতা আসি’ তেজ ভস্মে আবরিল ।
পতিত ইলামী সনে
আৰ্য্যের সন্তানগণে
পুনরায় জ্ঞান ধৰ্ম্ম বিস্মৃত হইল।
চৈতন্যের ভক্তি-পথে
দাড়ায়ে স্বার্থ সাধিতে
বহুলােক বহুদল স্ববলে বাঁধিল ;
যে ভাবে যে ভাল চায়,
ধরিয়ে নানা উপায়
নূতন নূতন মত নিজে প্রচারিল ।
গােরার বিশুদ্ধ ভাব
কলিযুগ ।
করিয়ে বিকৃত-ভাব
বহু সম্প্রদায় দেশে হইল উদয় ;
পবিত্র ধৰ্ম্মের স্থানে
অপকৃষ্ট ভণ্ডগণে
স্থাপন করিল আনি’ যাহা ইচ্ছা হয় ।
আউল, বাউল, নেড়া
দলভুক্ত কত গোঁড়া
সদর্পে দোহাই দিয়ে নিতাই-গােরার।
করিল শাস্ত্র প্রণীত
বেদ-বিধি-বিবর্জিত,
ভােগবিলাসানুষ্ঠান ধৰ্ম্ম কৰ্ম্ম-সার।
একদিকে তান্ত্রিকেরা
অপরেতে বৈষ্ণবেরা
মুরতি পূজাতে দিল বহুবিধ সাজ ;
সনাতন ধৰ্ম্ম-ধনে
নাশিলেক অযতনে
প্রাচ্য-জ্ঞান বিজ্ঞানের শিরে হানি’ সাজ।
কালক্রমে মুসলমান
হইল বিগত-প্রাণ
নবসূৰ্য্য উদিল আকাশে।
কলিযুগ।
দিতে ভারতে আলােক,
পাশ্চাত্য বিজ্ঞানালােক
শ্বেতাঙ্গ আইল আৰ্যদেশে।
সঞ্জীবনী-মন্ত্র-বলে
ভারত জীবন পেলে,
পুনরুদ্দীপিত তেজোভাব,
অন্ধকার বিনাশিতে,
তত্ত্বজ্ঞান বিতরিতে
গােরগু-সম্রাট আবির্ভাব।
ন্য প্রভু দয়াময় ।
দীনহীনের আশ্রয়,
নিরুপায়ের তুমিই উপায় ।
বল নাথ ! কি কৌশলে
পাষণ্ড-দলে দলিলে
বাঁচাইলে দুঃখী অনাথায়।
ভারতের কেহ নাই,
কেবল তব দোহাই
দিয়ে সর্বাপদ মােরা তরি।
অনন্ত ভব সাগরে
কালের তুফান ঘােরে
একমাত্র তুমিই কাণ্ডারী।
এ বিশ্বের সাক্ষী তুমি
কলিযুগ।
২৯ .
জান হে বিশ্বের স্বামী !
চলে বিশ্ব কোন্ মন্ত্র বলে ।
অদ্য যে রাজাধিকারী
কল্য সে পথ ভিখারী,
এ সকল ঘটে কি কৌশলে।
আর্যহস্ত হতে লয়ে
মুসল্মানে রাজ্য দিয়ে
দেখাইলে কি আশ্চর্য লালা :
বানরে গীত গাওয়ালে,
জলে শীলা ভাসাইলে,
বল তব এ সব কি খেলা ?
নিরীহ শান্ত আৰ্য্যেরে
সঁপিলে মােসলেম-করে
বল কোন্ পাপের ফলেতে ?
দেখালে আশ্চর্য্য কাণ্ড
অবাক্ হ’ল ব্ৰহ্মাণ্ড,
নিলে পুনঃ এক মুহূর্তেতে।
আৰ্য সাম্রাজ্যের তরে
কত রাজা কত করে
কিছুতেই পাইল না হাতে
(শেষে ) অনায়াসে পেলে তারা
কখন ভাবেনি যারা,
কলিযুগ।
মহীপতি হইবে ভারতে।
আশ্চর্য, ব্রজ-রাখাল
মথুরায় মহীপাল
অবহেলে কংসরাজে বধি”
হ’ল কৃষ্ণ বাসুদেব
কেমনে বল হে দেব ।
নাই তব মহিমার অবধি।
কা’র রাজ্য করে দাও
কোন বিশ্ব কোথা লও;
সুর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র নিমেষে
উড়াও উড়াও কোথা’
ল’য়ে যাও যেথা সেথা
এ অনন্ত অসীম আকাশে।
ধিক ! তাহার জীবন
ভাবে নাই যেই জন
তােমার এ বিচিত্র মহিমা ঃ---
বর্বর মানব যত
করিতেছে অবিরত
আপনার অস্তিত্ব গরিমা।
সম্মুখে অনন্ত কাল
পশ্চাতে অনাদি কাল,
“আমি’’ বল ক’দিন এখানে,
কলিযুগ।
৩১
এ কথা যে ভাবে নাই,
বুঝে নাই, চিন্তে নাই,
ধিক ! তা’র অজ্ঞান জীবনে।
দেশকালানন্ততায়
কে কোথা’ ভাসিয়া যায় ।
একবার ভ্রমে ভাবলি না।
হায়! রে মানবহীন
ঘাের-মূঢ় অর্বাচীন,
কে তােরে সৃজিল, চিন্তিলি না।
যদি বল, মিছে আর
কি হবে চিন্তনে তার,
তা’র তত্ত্ব কে পায় কখন ?
পণ্ডিতে পরাস্ত মানে ,
মূখে ভাবিবে কেমনে ?
অবসন্ন শ্রুতি দরশন।
**
হক অন্ধকারময়,
তাকাইতে হ’ক ভয়,
তথাপি চালাও মনােদৃষ্টি ;
হবে
সূক্ষম দরশন,
পাইবে নবজীবন,
ঘুচিবে অজ্ঞান-মহারিষ্টি ;
পার্থিব কুহক যত
৩২
কলিযুগ ।
হইবে আকাশ-গত
মনে কোন ভ্রম না রহিবে ;
মােহ-অন্ধকার হরি’
আলােক বিস্তার করি
জ্ঞান সূৰ্য্য হৃদয়ে উদিবে ;
বুঝিবে বিশ্ব-কৌশল,
পাইবে অন্তরে বল
দয়াময় বিধাতার বলে ;
কুজঝটিকা দূরে যাবে,
সবে স্বরূপ দেখাবে
আকাশে, বায়ুতে, জলে, স্থলে।
জ্ঞানালােক হৃদে জ্বালি’
দেখ দেখ চক্ষু মেলি’
কেমনে দুর্দান্ত মােগলেরে
ধরিলেন হায়! হায়!
ক্ষুদ্র পিপীলিকা প্রায়
পাঠালেন দক্ষিণ দুয়ারে।
সেদিন বণিক যারা
আজ একেবারে তারা
হ’ল ভারতের অধীশ্বর,
এসব যে কেন হয় ?
পলকে মহাপ্রলয় ,
কলিযুগ।
কি বুবিাবে পামর বর্বর ?
ভারতের শুভ হেতু
সাগরে ভাস’য়ে সেতু,
--অসম্ভব করিয়ে সম্ভব,
আনিলেন ইঙ্গসুতে
চাগু-সিন্ধুপার হতে
সমপিকে সাম্রাজ্য বিভ।
ধন্য হে পশ্চিমবাসী!
( কত) পুণ্য করি রাশি রাশি
হয়েছ জগতে গণ্য-মান।
তােমরাই কলিকালে
ঈশ্বরের প্রিয় হলো,
তব গুণ তাসখ; তাগণ।
ভারত উদ্ধার তরে
এসেছ লাগার পরে
য়ুরোপ মার্কিণ ভূমি হ'তে।
তোমাদের হাতে ভার
দিয়াছেন সারাৎসার
এদেশের উন্নতি করিতে
শতের-তাধিক-বর্ষ
পেয়েছ ভারতবর্ষ,
অল্পকালে কত কি দেখালে ।
৩৪
কলিযুগ।
বিজ্ঞানের জ্যোতি এনে
ঢালিলে হে সর্বস্থানে,
স্বাধীনতা-অদ্ভুত শিখালো-
ভারতবাসী সকলে
জানি না কোন কালে,
স্বাধীনতা কি অমূল্য ধন !
--রাজা প্রজা সমভাব
এ অপূর্ব সাম্যভাব
প্রচারিয়ে ফুটালে নয়ন।
যেকাল এসেছ হেথা
৫
শুনা’য়েছ যত কথা
সাদরেতে ক'রেছি গ্রহণ।
সর্বদা কৃতজ্ঞ-চিতে
ঘােষণ করি জগতে,
তােমরাই সুধী মহাজন।
মহাপাতকের ফলে
নিমজ্জিত রসাতলে
রহিয়াছে আৰ্য্যগণ মৃতপ্রায় হয়ে ;
এমন সময়ে দেশে
আবিভূত নব-বেশে
পাশ্চাত্য-পণ্ডিতবর্গ নবধৰ্ম্ম ল’য়ে ;
কলিযুগ।
অভিনব-আরাধনা
ঈশ-খৃষ্ট-উপাসনা
প্রচারিত হইল রাজ্যের সর্বস্থান।
“যে ধৰ্ম্মে পুতুল ভজে
মৃত্তিকা-প্রস্তর পূজে
তাহাতে জীবের কভু নাহি পরিত্রাণ।
“নর-নারায়ণ যিশু
কুমারী-মেরীর শিশু
একমাত্র-পরিত্রাতা অবনিমণ্ডলে ।
“তাহাতে বিশ্বাস যা’র
সেই ভব-পারাবার
নাচিতে-নাচিতে-পার হবে অবহেলে ।
‘হিদে*-তিমির হ'তে
খৃষ্ট্ৰীয় ‘লাইট’ণ পেতে
এ’স সবে ত্বরা করি’, বিলম্বে বিপদ।
s
মস্তকেতে লও জল,
স্বর্গ পাবে হস্ত-তল,
অমরত্ব লাভ হবে-অনন্ত-সম্পদ।
থাকি বহুদিন-তরে
।
অন্ধকার-মহাঘােরে
“জ্যোতি” হেরি’ ছুটিল “আলােক”
সম্ভোগিতে।
* Heathen + Light
কলিযুগ।
দলে-দলে আৰ্যসুতে
নূতন ধৰ্ম্ম ভজিতে
প্রস্তুত হইল সবে বিনা-আপত্তিতে।
“শ্বেতচৰ্ম্ম-রাঙ্গামুখে
বিড়ালের-মত-চোখে
কত ভেল্কা জানে এরা, কে করে গণনা ?
“সাহেব সাজাবে সবে,
চিরদুঃখী মােরা ভবে,
চল যাই ঘুচে যাবে সকল যন্ত্রণা।
“ইংরাজের খানা খাব,
বিলাতী পোষাক পাব,
কৃষ্ণকায়া ঢে’কে যাবে কোটু-পাণ্টলুনে।
“শােলা-টোপ মস্তকোত,
বুটজুতা চরণেতে,
সর্বদা সাহেবী-বুলি বলিব বদনে।”
এতবড় প্রলােভন
কি প্রকারে সম্বরণ
কালা-
তামী করে বল দরিদ্র-দুৰ্বল ?
কু-আশার কুয়াশায়
(কত ) বড়-লােকে মারা যায় ;
তামরা ত অপদা-অসার-তরল !
কলিযুগ।
কাল-মুখ কাল রবে,
কালামুখ কে ঢাকিবে ?
কালামুখ কিসে বল দ্বীপ্তিমান হয় ?
একথা না ভাবি মনে
দৌড়িল নির্বোধগণে
কাণ্ডাকাণ্ডজ্ঞানশূন্য-পাগলের-প্রায়।
বিষম সমস্যা এল,
আৰ্য-নাম বুঝি গেল ;
ভারতের বহুজন হইল মােহিত ;
ত্যজি’ কুল-কা-কৰ্ম্ম
আশ্ৰয় করি। ধৰ্ম্ম
নবীন ভাবেতে যাহা দেশেতে উদিত।
এ হেন বিপ্লব-কালে
তাভাগা-আৰ্য-কপালে
কিঞ্চিৎ আশার চিহু প্রকাশিত হ’ল
উপনিষদাদি হতে
প্রাচীন-বৈদিক-মতে
নূতন ধৰ্ম্মের ভাব বিকাশ পাইল।
শুভক্ষণে রাজা-রামমােহন-ধীমান
উদিলেন সূৰ্য্য-সম ভারত-আকাশে,
কলিযুগ।
তাঁহার প্রতিভা তেজে সঞ্চারিত প্রাণ
অজ্ঞান-তিমির গেল জ্ঞানের বিকাশে ।
করিয়া প্রাচীন ব্রহ্ম-জ্ঞানের প্রচার
আৰ্য-বেদ-আদি-শাস্ত্র মথি’ সযতনে
করিলেন মৃতদেহে জীবন-সঞ্চার
ভারত সতেজ পুনঃ হ’ল এত দিনে !
বহু-দিন-জন্য বহু-কারণের তরে
বৈদিক-ধৰ্ম্মের দেশে নাম ডুবেছিল ;
এবে তা’য় পুনঃ বহু-পরিশ্রম-পরে
সুমহাপণ্ডিত সেই রাজা উদ্ধারিল।
বহু দিন পর্যটন করি’ বহু-দেশে
বহু-শাস্ত্র অধ্যয়ন করি’ বহু-কালে
ভারতবাসী সকলে কহিলেন শেষ
“জ্ঞান-বিনা কর্মকাণ্ড যাইবে বিফলে
“অতএব আৰ্য মুনি-ঋষিদের কথা,
“যদ্যপি জীবনে চাও আত্মার কল্যাণ,
“উচিত না হয় কভু করিতে অন্যথা;
“বৃথা দেশে ‘পৌত্তলিক ধৰ্ম্ম-অনুষ্ঠান।
“অনন্ত-পরমব্রহ্মে দাও প্রাণ-মন,
“তিনি ভিন্ন মুক্তির উপায় আর নাই ।
“মােক্ষদ সনাতন-ধৰ্ম্মের কারণ
“যাইতে হবে না আর বিদেশীর ঠাই ;
•
কলিযুগ।
ft
“ঘরে বসি’ পাবে সবে অমুল্য-রতন,
“আছে সকলি অনন্ত আর্যের শাস্ত্রেতে।
“জড়ােপাসনায় বৃথা-সময়-হরণ,
“ইহ-পরকালে কোন ফল নাহি তা’তে ।
স্তব্ধ হ’ল শুনি’ লােক রাজার বচন,
দোষ না দেখিল তার যুক্তি বা তর্কেতে,
ধৰ্ম্ম অনুরাগী পাঁচ-সাত-দশ-জন
এক মত হ’ল আসি’ রাজার মতেতে ।
স্থাপিত হইল ব্ৰহ্ম-সমিতি নূতন, *
প্রচারিত হ’ল ধৰ্ম্ম সমগ্র দেশেতে।
ত্যজি' তনু ইঙ্গভূমে শ্রীরামমােহন
কঁাদায়ে সবায় চলি’ গেলেন স্বর্গেতে।
মহর্ষি-দেবেন্দ্রনাথ পথে চলি’ তার,
দ্বিগুণ-বলেতে তেজ করিয়া প্রকাশ,
দেশে শুনাইল ব্রাহ্মধৰ্ম্ম-সমাচার,
সংস্কার করি’ মত করিল বিকাশ।
* রামমােহন রায়ের স্থাপিত সমাজের নাম বৈদান্তিক
সমাজ ছিল, তাহার রচিত গীত-পুস্তকাদি দ্বারা স্পষ্ট প্রতীয়মান
হয় যে তিনি কর্ম ও জন্ম-জন্মান্তরবাদ মানিতেন।
। প্রকৃত পক্ষে আধুনিক ব্রাহ্মধৰ্ম্মের জন্মদাতা মহর্ষি দেবেন্দ্র
নাথ ঠাকুর। কৰ্ম্মফলে জীব বারম্বার পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া
থাকে, এই মত তিনিই উড়াইয়া যান।
৪০
কলিযুগ।
দেবেন্দ্র-সকাশে দীক্ষা, জন্ম বৈদ্যকুলে
কেশব আবির্ভূত কিছু দিন পরে,
মােহিত করিল শিষ্ট-বক্ততা-কৌশলে
সার্বভৌমিকতা-বেগে সাজায়ে ধৰ্ম্মেরে।
নূতন নূতন ভাব দেখা’য়ে ভারতে
কেশব দৌড়িল, পাছে পড়িল অনেকে ;
দুই দল হ’ল এবে ব্রাহ্মসমাজেতে ;
তাহার সমান চলে ভারতে ছিল কে ?
বর্ষে বর্ষে উন্নতির সােপানে উঠিল ;
আর কতক লােক ছাড়িল তাহারে,
আগা’তে না পারি পড়ি’ পশ্চাতে রহিল,-
তিন সম্প্রদায় হ’ল বিবাহের পরে।
কুচবিহার-বরে যবে কন্যা সমর্পিল
স্বকৃত-নিয়ম ভঙ্গ করিয়া স্ববলে,
“ভারতবর্ষীয়” ব্রাহ্ম ক্ষেপিয়া উঠিল ;
কতক ছাড়িল তারে পৌত্তলিক বলে।
কুচবিহার বিবাহের পর কেশবের সমাজের ক্ষতি হইল,
কিন্তু তাহার নিজের বিলক্ষণ উন্নতি দেখা গিয়াছিল। ঐ দারুণ
দুঃখ বিপদের অগ্নিতে পুড়িয়া যে কেশব বাহির হইয়াছিলেন
সেই নববিধান-প্রবর্তক কেশব ভারতবর্ষীয়-ব্রাহ্মসমাজের-নেতা
কেশবাপেক্ষা বিলক্ষণ সমুন্নত, একথা বর্তমানে অনেকে এবং
ভবিষ্যতে সকলেই স্বীকার করিবেন, সন্দেহ নাই।
৪১,
কলিযুগ।
প্রথম দেবেন্দ্র-দল, দ্বিতীয় কৈশব,
তৃতীয় কতকগুলি সভ্য ভব্য জন,
“আদি সমাজেতে” ঠাকুর মহাশয় সব,
“ভারতবর্ষীয়” শিষ্ট, নব্য “সাধারণ”।
এই তিন দল ব্রাহ্ম ভারতে এখন
প্রচার করি’ছে ধৰ্ম্ম নিজ-নিজ মতে।
সমান ভাবেতে এরা সবে সাধু জন,
সর্বথা সচেষ্ট সদা ভালাে বিস্তারিতে।
কিন্তু এই তিন মধ্যে কেশৰ মান,
যাহার সুযশ ব্যাপ্ত য়ুরােপ মার্কিণে,
প্রণীত যাহার নিত্য-নূতন বিধান,
অবাক হয়েছে লােকে যে বারতা শুনে।
কেশবের উচ্চভাব বুঝিতে না পারি’
“অবতারবাদ” কেহ তাহারে বলিল,
“পৌত্তলিক-ব্রাহ্ম,” “ভণ্ড,” “ধৰ্ম্মনাশকারী,
আরও কত দোষী বলে তাহারে নিন্দিল ;
কিন্তু বাস্তবিক কথা যে জন বুঝিল,
নিস্তব্ধ হইয়া তার বিধান ভাবিল ।
* শেষটা কেশবচন্দ্র সনাতন-ধম্মের মর্যাদা যেরূপ উপলব্ধি
করিয়াছিলেন, এবং তদনুরূপ ব্যাখ্যাধি আরম্ভ করিয়া অনেকের
চক্ষু ফুটাইতেছিলেন, তাহাতে বলা যায় না, আরও কিছু দিন
জীবিত থাকিলে তিনি কোথায় গিয়া লইতেন।
& কলিযুগ। ‘‘নবাবিধানের” ভাব ভাবিলে হৃদয়ে ভাব হয় যাহা, কে পারে বর্ণিতে ? এরূপ অদ্ভূত মত- সব-মত এক-মত, সামঞ্জস্য কে পারে করিতে ? বাস্তবিক কথা তাই, কোন্ লােক কোন্ ঠাই পারে সত্য করিতে নির্ণয় ? মহাজনে যা বলেছে, যত-বিধ মত আছে, সাধ্য কার করিবারে নয় ? ধৰ্ম্ম-প্রণেতা সকলে, যে দেশে কিম্বা যে কালে, হয়েছে উদয় পৃথিবীতে, সবাই সমান-ধন্য, পূজ্যপাদ-গণ্য-মান্য, ভকতি উচিত সকলেতে যে ভাবে যে ভেবে গেছে সেই তঁাহারে পেয়েছে, এই কথা সর্বশাস্ত্র-সার।
কলিযুগ।
৪৩
এ মতেতে ভর দিয়ে
সরল-শুদ্ধ-হৃদয়ে
পূজা কর মহৎ-জনার।
তাহাতেই মুক্তি হবে,
সহজে ঈশ্বরে পাবে,
—ঈশ্বর হাতের লাড় নয়,
মূল্য দিয়ে কিনে ল’বে,
আয়ত্তাধীনে আনিবে,
সম্ভব ইহা কি কভু হয় ?
পেণ্টলুনে,
হ্যাট, কোট,
জামা, জোড়া, ইষ্টাকিনে
বাড়ী, গাড়ী, ঘােড়াতে, ঘড়িতে
পরিত্রাণ যদি হত,
ঈশ্বর ঘরে আসিত,
জ্ঞানধৰ্ম্ম পাইত লােকেতে,
তা হলে ঋষিরা এত
তপস্যা কেন করিত
সর্ব-বুখ পরিত্যাগ করি,
সংসার-আশ্রম ত্যজি’
ঈশ্বর প্রেমেতে মজি,
থাকিত না দিবসশর্বরী।
৪৪
কলিযুগ ।
যােগী-ভােগী একাধারে
কভু কি হইতে পারে ?
—অগ্নিতে জলেতে সমন্বয় ;
যােগী আর ভােগী ভাব
সম্পূর্ণ বিরুদ্ধ ভাব,
পূর্ব কি পশ্চিম কভু হয় ?
সংসারী হইয়া ষেবা
করিবে ঈশ্বর সেবা
তারা সর্ব সাধুরে পূজিবে ;
গৃহস্থের পক্ষে তাই
ব্যবস্থা সকল ঠাই ;
অন্য পথ আর কোথা পাবে ?
।
অতএব কলিকালে
কেশব যাহা দেখালে
সেই পথ সহজ সুবিধা
মহাজ্ঞানী সর্বজনে
ভক্তি কর শান্ত-মনে
বিভু-লাভে না রহিরে বাধা।
ঈশ্বর, জীবের আত্মা, আর পরকাল,
এই তিন কথা লয়ে বিষম জঞ্জাল।
এ প্রশ্ন জিজ্ঞাসে যবে মানব-হৃদয়-
কেমনে হই’ছে বিশ্ব সৃষ্টি-স্থিতি লয় ?
৪৫
কলিযুগ।
অমনি চমকি’ উঠে ভাবুকের ন
অশান্তি-অনলে আত্মা করয়ে দাহন।
মূঢ়, কোন গ্রন্থ বা জীবের কথা শুনে,
অশান্তির মধ্যে শান্তি পায় নিজ-মনে,
পণ্ডিত ভৰিা সারা উদিনে সংশয়,
কিছুতে না স্থির হয় তাহার হৃদয় ;
কতই কল্পনা করে মনেরে বুঝাতে
সিদ্ধান্ত না হয় কিছু যুক্তি বা তর্কেতে।
যে দিকে ধরিয়া রঙ্গু ভাবে মনে মনে,
এই বার মীমাংসা করিব এক টানে,
নিশ্চয় বুৰি৷বে বলে কোমর বাঁধিয়া
দাড়ায় চিন্তার রঞ্জু সবলে ধরিয়া,
সেই দিকে দেখে সব দারণ সংশয়
অন্ধকার ! - ‘গ কার !--- কারময় !
যেমন উৎসুক-মনে মারে তা’য় টান
পটু করে ছেড়ে দড়ি না পায় সান।
এরূপে জ্ঞানীর মন স্থির নাহি হয়,
জ্ঞানের সঙ্গেতে বাড়ে মনের সংশয়
প্রত্যক্ষ-বিজ্ঞান সব উজলে সম্মুখে,
অন্ধকার-মনস্তত্ত্ব নাহি সুজে চখে ।
বহু-চিন্তা-ফলে হয় মনের বিকার,
নাহি পারে বুঝিতে সাকার-নিরাকার।
কলিযুগ
ক্রমেতে কেহ প্রচারে নিরীশ্বরবাদ,
কেই বা নাস্তিক সনে লাগায় বিবাদ।
আস্তিক পণ্ডিত দেখাইতে সরলতা
হ-য-ব-র-ল করিয়ে জ্ঞাপয়ে বারতা,
ঈশ্বরের সত্তা তারা বুঝায় যেরূপে,
স্পষ্ট জানা যায়, নিজে মহা অন্ধকূপে ;
নানাবিধ কল্পনা সৃজিয়ে মনে মনে
বুদ্ধির কৌশলে যায় ভুলা’তে ভুবনে।
যখন ধৰ্ম্মের রাজ্যে এত গােলমাল,
এরূপ বিষম ভাব সংশয় বিশাল,
সে স্থলে উচিত সাধু-বাক্য-সমন্বয়,
ভক্তগণে পূজা করা হয়ে সহৃদয়।
জীবেরে পবিত্র করি ঈশ্বরে দেখায়
নববিধান তুলে নিশান প্রেমের পথে ধায়।
নববিধানের কথা অমৃত সমান,
ইহলোকে শান্তি দেয় পরে পরিত্রাণ ।
“বেদা বিভিন্নাঃ স্মৃতয় বিভিন্ন
নাসৌ মুনির্যস্য মতং ন ভিন্ন।
ধৰ্ম্মস্য তত্ত্বং নিভৃতং গুহায়াং
মহাজনাে যেন গতঃ স পন্থা ।”
কলিযুগ।
গীত। *
(বাউলের সুর)
ধন্য হে কেশব তুমি ! পুণ্যভূমি
ভারত মাঝে উদয় হলে।
তােমার ঐ নববিধান, ধর্মের প্রাণ,
কেমন করে কোথায় পেলে ?
এমন হে সুধামাখা, ফল-শাখা
-পূর্ণ তরু কে আনিলে ?
তুমি হে সার বুঝেছ, ভাল আছ,
সেই তরুর ছায়াতলে।
এ তরু কোথা ছিল, কে আনিল,
কা’র কাছে হে তুমি পেলে ?
কে তােমায় স্নেহবশে, ভালবেসে
হাতে হাতে এনে দিলে ?
তরু যে বাড়বে কত, জানি না ত
মােরা সব মুর্থের-দলে।
তবু ভাই ! বুঝেছি ভাব, তরুর প্রভাব
তেজে শীতলতা মিলে ।
এ গাছের তলে বসে, কত দেশে
কত ভক্ত জীবন পেলে।
.
* কেশবের জীবদ্দশাতেই এই গান রচিত ও প্রকাশিত
হইয়াছিল।
৪৮
কলিযুগ।
সংসারের মরু হতে, রক্ষা পেতে
বিটপীর আশ্রয় নিলে।
প্রেমপিপাসায় তারা, হয়ে সারা
ছুটে এল গাছের তলে।
তৃপ্তি পাইল হেরে বৃক্ষোপরে
নবীন-শা-পুষ্প-ফলে। .
দেখে তা’য় নর ৭ জুড়ায়, তাপ দূরে যায়,
পত্র, শাখা, কাও, মুলে ।
ঝরে তা’য় বিমলা সুধা, তৃষ্ণা-ক্ষুধা
দূরেতে যায় পাশ করিলে ।
ভক্ত তার ফফ খেয়ে, সুধা পিয়ে,
প্রাণে আমরত্ব পেলে।
হ’ল সব রণের-সাগর, প্রেমের-জাগর
থেমেতে জগৎ মালে ।
নাশিন বৈষম্য ভাব, জ্ঞানের-তাভাব
ডুব’য়ে প্রেম-নদ-জলে।
দাড়াল পাগল হয়ে, কোপীন লয়ে,
তুচ্ছ বিভব পায়ে ঠেলে ।
জ্ঞানে ভক্তিকে পেয়ে, ভক্তি লয়ে
জ্ঞানের সঙ্গে মিইলে ।
তারা সব বিজ্ঞানেতে প্রেম এনে
প্রেমেতে বিজ্ঞান দিলে ।
কলিযুগ।
৪৯
সাধুদের লীলা-খেলা, পারের-ভেলা,
ভব-সাগরেরি জলে।
হয় কত পুণ্যরশি, প্রাতে বসি,
সে সব জীবের নাম করিলে ।
নানক, চৈতন্য, কবীর, ধর্মের-বীর,
ছুটে এসে দলে দলে।
মিলিল মুসার সনে, হৃষ্ট-মনে,
প্রেমের কল্পবৃক্ষ-মুকে ।
য়ুনানী প্লেটো-ঋষি, দৌড়ে আসি,
ধ্রুবে হাসি’ নিল কোলে ।
সক্রেটিস্ প্রদেরে আদর করে,
হ:ি-প্রেমানন্দে গলে।
ত্য’জে সংসারের মায়া, প্রিয়া-জায়া,
এ’ল শাক্য রাজার ছেলে।
তরুর সৌরভে মে’তে, দূরে হ’তে,
ঈশা এল ল'য়ে পলে !!
এসে পাইল জীবন, অমুল্যধন,
ভক্ত-সাধুর সঙ্গে মিলে।
শিব, শুক, নারদ যেথা ব’সে কথা
মহম্মদের সঙ্গে বলে ।
প্রেমেতে মগন হয়ে, সব ত্যজিয়ে,
চির-শান্তি পাবে বলে।
= = = = = = = = = = =
* St. Paul.
৪
কলিযুগ।
বিবেকী রূপ-সনাতন সম্পদ-ধন,
পাছে ফেলে এল চলে ।
এ কল্প-তরুর তলে, সব পাগলে
বসে আছে কুতূহলে।
কভু গায়, কভু নাচে, কতু হাসে
কভু কাঁদে, সবাই মিলে ৷
সে প্রেমের অশ্রু দেখে, হাস্য-মুখে,
পাগল চন্দ্রশেখর বলে।
চল ভাই! আমরাও যাই, সবাই সেঠাই
যেথায় নবজীবন মিলে ।
কিন্তু, এক মনের কথা, শুন তবে,
বলি কেশব! তােমায় খুলে।
—সুবুদ্ধি বৃহস্পতি, দাব্বীনাদি,
ছাড়িব না কোম, ” মিলে ।
এ কথায় রাগ করনা, বিবেচনা,
করে দেখ নিরিবিলে।
কেমনে ছেড়ে যাব কোথা পাব
তাদের মত প্রেমিক দলে।
তবে ভাই মহাশােভা,মনােলােভা,
হবে তরুর ছায়াতলে ।
† Auguste Comte.
* Charles Darwin.
# John Stuart Mill.
কলিযুগ।
যদি এদের তুমি নিতে পার
নববিধানীদের দলে।
আমি ত হই হে সুখী, সদ। দেখি,
কপিলাদি ভক্তদলের,
হি-প্রত্যক্ষবাদের, ন্যায়-কনাদের,
নাচিছে ব্যাস ধরি’গলে ।
তবে ভাই! এ’স সবাই, দিয়ে দোহাই
গাছের মালী রাজা বলে,
আনন্দে হয়ে বিভাের, প্রেমেতে ঘাের,
ভাসি প্রেম-অশ্রু-জলে।
জুড়াই তাপিত-হিয়ে, তলায় গিয়ে,
ভাই-বন্ধু সবে মিলে ।
দেখিগে প্রেমের প্রভাব, অপূর্ব-ভাব,
হেরি নাই যা কোন কালে।
ছায়াতে শীতল হয়ে, দৌড়ে গিয়ে,
পশি প্রেম-সিন্ধু-জলে।
সাতারি প্রাণ ভরে প্ৰেমনীরে,
প্রেমে জীবন পাব বলে।
তাপিত-প্রাণ শীতল হবে শান্তি পাবে,
শান্তি-সিন্ধুর কোমল কোলে!
ঘুচিবে সকল জ্বালা, অবহেলে
স্বর্গ পাবে হাতের তলে ।
কলিযুগ।
অনন্ত প্রেম-জলধি, নাই অবধি,
ফুরাবে না কোনকালে।
নাহি দেশ-কালের অন্ত, সব অনন্ত,
ভাসিবে অনন্তকালে।
কর দেশ-কালের পূজা, দেখ মজা
ভাবিয়ে বসি বিরলে :
সংসারের আঁধার বাবে, আলাে’ পাবে,
জ্ঞানের বাতি হৃদে জ্বেলে।
জ্ঞানেতে প্রেম পাবে, গলে যাবে,
ভক্তি আ’সবে করতলে।
ভক্তিতে ভক্ত হবে, লুটাইবে
যত ভক্তের পদতলে।
তখন আর রাধাকৃষ্ণে নিন্দিবে না
অসতী-লম্পট বলে ।
দেখিবে, প্রেমামৃত, অবিরত,
কোম-ব্যাস উভয়ে ঢালে ।
ব্ৰজে কৃষ্ণের খেলা, প্রেম-লীলা,
প্রেম ভাসে যমুনার জলে।
গােপিগণ প্রেমিক-সুজন, দিবানিশি
কৃষ্ণপ্রেমে ছিল গ'লে ।
বৃন্দাবন নয় শুধুবন, প্রেমেরি বন,
প্রেম-গাছে প্রেম-পাখী বলে
কলিযুগ ।
“ভেবে দেখু.ব্রজলীলা হরির খেলা,
কৃষ্ণে হরি প্রকাশিলে।”
পুরুষ-প্রকৃতিবাদী, সাংখ্য-আদি,
জ্ঞানী দার্শনিক সকলে।
তাহাদের শাস্ত্র অলীক, অবৈজ্ঞানিক,
কে বলে এই ভূমণ্ডলে ?
গৌতমের প্রণীত ন্যায় নহে অন্যায়,
স্থাপিল যে তর্কবলে--
বিভু নিমিত্ত-কারণ, বিশ্ব-ভুবন,
আপন নিয়মে চলে ।
শঙ্করের অদ্বৈতবাদ নয় মিথ্যাবাদ,
কল্পনা নয় কোন কালে।
কোমতের একই কথা, প্রেম-বারতা,
বিভু বিশ্বময় হলে।
আপনার সত্তা হ’তে এ বিশ্বেতে
বিশ্বকৰ্ত্তা সব সৃজিলে।
এ সব ত একই সত্য, মহাতথ্য,
ঈশা, মুসা, কোরাণ বলে।
আর যত প্রবীণ-শাক্ত, পরমভক্ত,
হক্সলেটিণ্ডলের দলে।
Biologist Hụxley and Physicist Tyndall.
৫৪
কলিযুগ।
মহাশক্তির বলে, যারা বলে
সুবিশাল এই বিশ্ব চলে।
আদি সেই শক্তির পূজা, তুলে ধ্বজা,
করে যারা কুতূহলে।
সে সব ভক্তের সঙ্গে, প্রেমরঙ্গে
ভাসাও তরি প্রেম-অতলে।
এরা ভাই সবাই ভক্ত, প্রেমে মত্ত,
জগা-
মার সঙ্গে মিলে।
ছে’ড় না কোননে, ক্ষুন্ন মনে
বিজ্ঞানী নাস্তিক বলে ।
এদের মত বিশুদ্ধ-মত, নয় দুষ্ট-মত,
জ্ঞানের উদয় হয় শুনিলে।
প্রমেতে পবিত্র হয় জীবের হৃদয়,
ইহাদের পথে চলিলে ।
“প্রেম গুরু, প্রেম মন্ত্র, প্রেম তন্ত্র
মানুষ বাঁচে প্রেমের বলে।
“সংসারের সত্তা যেত, শশ্মশান হত,
প্রেমের বাঁধন না থাকিলে ।
“অতএব দুঃখী-ধনী,মূখ-জ্ঞানী,
পরস্পরে ধরি’ গলে।
“চল যাই প্রেমের পথে, প্রেম বিলাতে
প্রেমের ভ্রাতৃভাবে মিলে”।
কলিযুগ।
এতদূর মনুষ্যতা, উদারতা,
ভবে যারা প্রচারিলে।
তারা সব সুবৈজ্ঞানিক লােকায়তিক,
অমূল্য-জীব সর্বকালে ।
এ সকল প্রেমিক-প্রধান, নববিধান,
আদর করে নিলে দলে।
পূর্ণ হইবে অঙ্গ, প্রেম-তরঙ্গ,
উঠষে প্রেমের তুফান তুলে।
ঘুচে যাবে গণ্ডগােল, বল্ হারবােল,
এ বিশ্বের সকলে মিলে।
জড়-চৈতন্য যত, বাস্পাত,
যে যেখানে ক্ষিতি জলে।
পাগল-দাস-চলে বলে, এরূপ হলে,
কি মজা এই কলিকালে।
ভবতুফানে পড়ে কেঁদনারে,
শক্ত হয়ে ব’স হা’লে ।
মােক্ষ-ফল হাতে পাবে, পার হইবে,
ভবসিন্ধু অবহেলে !
পরিত্রাণ হবে নাকি, বল দেখি,
সিন্ধুতে বিন্দু মিশালে ।
করি’ ভাই কোলাকুলি, ভক্ত মিলি’
ধরি' সবায় গলে গলে।
কলিযুগ ।
এস যাই মিলে সবাই, আনন্দে ধাই,
স্বর্গ পানে হরি বলে
এই সময়েতে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ
উদিলেন বঙ্গভূমে মহা তপােধন।
পবিত্র জীবন তঁার সুগভীর প্রেম ;
কেশবের সঙ্গে যােগ যেন মণি-হেম।
জগত হৃদয়ে তার সমদর্শী-ভাব
জ্ঞান-ভক্তি একাধারে অপূর্ব-প্রভাব।
ইহসরবস্ববাদী মুগ্ধ বাবুগণ
বহু আসি’ ধরিলেন তাহার চরণ।
কেহ বা বৈরাগী হ’ল সংসার ত্যজিয়ে,
কেহ গৃহস্থালী করে সন্যাসী হইয়ে ;
কেহ তারে পূজে বলি’ পূর্ণ-ভগবান,
কেহ বলে, নিঃসংশয় ধৰ্ম্ম মূর্তিমান ;
বিলাতী পণ্ডিতে বলে, মহাত্মা-প্রকৃত ;
এইরূপে নানা-জনে হ’ নানা-মত।
যে যা’ বলে বলুক, তাহাতে কাজ নাই,
দীনচেতা মােরা বলি,অদ্ভুত গােসাই ;
ছিলেন মহৎ তিনি ঈশ্বর-আবেশে,
অবতীর্ণ ভারতততে বিধির আদেশে।
কলিযুগ।
মূঢ়মতি-জনে বল বুঝিব কি আর ?
রামকৃষ্ণ-চরণে প্রণমি বার বার ।
“কামিনী-কাঞ্চন আর আমিত্ব বর্জন,
উপদেশ যাঁ’র এই অমূল্য-বচন।
দেবেন্দ্র-গুরুরে ছাড়ি’ কেশবের সঙ্গে
যে ক’জন শিষ্য এসেছিল,
তার মধ্যে বিজয়-গােস্বামী-মহাজন
কেশবরে ত্যাগ করি’ গেল
কিছুদিন “সাধারণ”-দলে কাটাইয়া
রামকৃষ্ণের লইল আশ্রয় ।
দৈববলে যােগ-পথে করি’ আরােহণ
সিদ্ধ হ’ল গােসই-বিজয়।
অদ্বৈত বংশাবতংস মহাতেজশালী
বিশ্বাসেতে অচল-অটল,
“স্বধৰ্ম্মে নিধন শ্রেয়” এই মন্ত্র সার,
ভয়ানক হৃদয়ের বল।
ব্রাহ্মসমাজের এই পরিপক্ক-ফল
সনাতন-ধম্মেতে ফিরিল।
দলে-লে হিন্দু ব্রাহ্ম-বহুতর লােক
অচিরে গােসই শিষ্য হল ।
৫৮
কলিযুগ।
;
ব্রাহ্মেরা নিন্দিল কত পথভ্রষ্ট” বলে,
“মতিচ্ছন্ন”কেহ বা বলিল
কিন্তু নিরপেক্ষ যারা উন্নতি হেরিয়া
ধন্য ! ধন্য ! ঘােষিতে লাগিল।
যােগেতে-ভক্তিতে-প্রেম আশ্চৰ্য প্রভাব
প্রকটিত যাহা বিজয়েতে,
( এই) কুশিক্ষার-যুগে তাহা অতীব বিরল
অবনত ভারতবর্ষেতে।
রামকৃষ্ণ সনে সর্ব বিষয়েতে ঐক্য ;
তাহার চরণ রেণু শিরে
সতত লইতেন সিদ্ধ বিজয় গােসই
ভক্তিপূর্ণ পবিত্র অন্তরে।
“জাতি-জীব-বিশেষে সব ভিন্ন-ভিন্ন পথ
-“হলােয়ে-পিল” কোথাও নাই
“ধৰ্ম্মের জগতে, দিতে মুক্তি সকল জীবেরে।”
উভয়ের উপদেশ তাই।
“নিরাকার, সাকার-মূরতি, অবতার,
যারে যেবা ভজি’ছে যে ভাবে,
“সকলেই ঠিক আপনাপন পথেতে।
কাহাকেও কভুনা নিন্দিবে।”
কলিযুগ।
৯
“কৃষ্ণ, খৃষ্ট, মহম্মদ, মুসা, জোয়ােস্তর
আদি-অবতার পৃথিবীতে ;
অবনতশিরে সবে প্রণাম করিবে
ভক্তিভরে সরল মনেতে।”
এই ভাবে সনাতন-ধৰ্ম্মের বারতা
প্রচারি’ পতিত বঙ্গভূমে
কত পাপী-তাপী-জনে উদ্ধার করিয়ে
গেলেন দু’জনে স্বর্গধামে।
কেশবের যে সময়ে বড় প্রাদুর্ভাব,
দয়ানন্দ উদিলেন বারাণসী-ধামে;
দ্বিতীয়-শঙ্কর জ্ঞানে, অমিত-প্রভাব
নামে-কাজে-সরস্বতী, বিশিষ্ট সংযমে।
যেমন সুদীর্ঘ বপু, প্রশস্ত ললাট,
তেমনি অকুতােভয় ভীমের সমান,
অদম্য উৎসাহ, মুক্ত হৃদয়-কবাট,
সাক্ষাৎ যেন সরলতা মুর্তিমান।
বৈদিক-ধৰ্ম্মের পুনরুদ্ধার-কারণ
অবতীর্ণ গুৰ্জ্জরেতে পণ্ডিত-ধীমান;
আৰ্য্যধৰ্ম্ম-সারকথা করিতে জ্ঞাপন
উপনীত হইলেন বিশ্বেশ্বর-স্থান।
কলিযুগ।
ব্যবসায়ী যত সব কাশীস্থ ব্রাহ্মণ
চৌদিকে ঘেরিল বীরে সপ্তরথী-প্রায় ;-
কাশীরাজ সেনাপতি সৈন্য-অগণন,--
অবশেষে সকলের হ’ল পরাজয়।
h
সে শাস্ত্র-সংগ্রামে কাশী কঁপিয়া উঠিল,
সঙ্গে সঙ্গে দেশময় বহিল তুফান ;
পাষাণাদি মূর্তিপূজা বেদে না মিলিল,
ঘােষিত হইঃ ভারতের সর্বস্থান।
গােরক্ষার জন্য সদা উৎকণ্ঠিত-প্রাণ,
আৰ্য-শিল্প-উন্নতির কতই যতন ।
আজীবন করিলেন সুধী-গুণবান
ভারত-কল্যাণ-হেতু আত্মসমর্পণ।
নানা-জনপদ শেষে করি’ পৰ্যটন,
সর্বত্র বেদের সত্য করিয়া প্রচার
প্রতিষ্ঠা করিলেন আৰ্য-সমাজ নূতন,
খণ্ডন করিয়া মত মূরতি-পূজার।
—“বেদ-প্রতিপন্ন-ব্রহ্ম, যজ্ঞ, শুদ্ধাচার,
চতুর্বর্ণ-বিভাগাদি শুভ-ব্যবস্থান
“পুনরায় না আনিলে ভারত-উদ্ধার
হবে না, হবে না কভু -বিধির বিধান।”
কলিযুগ।
কেশব যখন করে বিধান” প্রচার,
রামকৃষ্ণ আবির্ভূত প্রেম-অবতার
উভয়ের এক কথা—ধৰ্ম্ম-সমন্বয়,--
পশ্চিম হইতে “থিয়সফির” উদয় ।
পুণ্যশ্লোক অল্কট এ এলেন সর্বত্যাগী,
বাভাস্কির * পূত-প্রেমে সদা অনুরাগী ।
মহাতপা-মহাতেজা অদ্ভুত রমণী,
দয়ার-সাগর জ্যেষ্ঠা দিব্যজ্ঞানে জ্ঞানী
বিশ্বের রহস্য সদা প্রচারে প্রবীণ,
লােকাতীত-শক্তি, গূঢ় তত্ত্বের ঘােষণা।
পরাবিদ্যা, ব্রহ্মবিদ্যা লােকে যা'রে কয়
তারি নাম থিয়সফি, ভিন্ন কিছু নয়।
ব্লাভাস্কির প্রচারিত গ্রন্থ কয়খানি
অতীব আশ্চৰ্য্য পুঁথি জ্ঞানরত্ন-খনি।
পৃথিবীর যত শাস্ত্র যেথ! যা পাইবে
ভাস্কির পুস্তকে তার নির্যাস দেখিবে।
ব্ৰহ্মতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব, বিশ্বতত্ত্ব আদি,
আত্মা, জীব, জড়, কৰ্ম্ম সাদি বা অনাদি,
সমস্ত রহস্য ভঙ্গ বিজ্ঞান-ভিত্তিতে,
দু’য়ে দু’য়ে চারি যথঃ অঙ্কের-শাস্ত্রেতে;
* Colonel Olcott.
+ Madame Blavatsky.
কলিযুগ ইহ-পর-লােক-দৃশ্য উভয় সমান, প্রত্যক্ষ-উজ্জ্বল-ভাবে নিত্য বিদ্যমান, তৎসৎ হতে ও', ব্ৰহ্ম বা ঈশ্বর, যক্ষ, রক্ষ, সুরাসুর, গন্ধর্ব, কিন্নর, সুবিশাল-গ্রহাবধি বালুকার রেণু, চৌরাশীল যােনি, অণু পরমাণু -যেখানে যা আছে যাহা ভাবে আনা যায় ভাস্কির গ্রন্থেতে ব্যক্ত সরল ভাষায় ! বেদেতে বর্ণিত যাহা, বদান্তেতে পাবে, পুরাণ-তন্ত্রেতে জীবে যাকিছু শিখবে, “তাও”-ধৰ্ম্মে প্রচারিত চীন-হুন-দেশে “কাবালা”-“তালম” যিহুদার-উপদেশে, বাহা কিছু বলে গেছে বুদ্ধ, জোয়াের, যিশু,কৃষ্ণ, বেদব্যাস, কপিল, শঙ্কর ; গ্রীসে, মিসরেতে কিম্বা অন্য কোন খানে যে ঋষি যা শিখাইল প্রকাশ্যে-গগাপনে ;-- সব কথা সমন্বিত “সিক্রেট-ডক্টীণে।” * * Secret Doctrine-মাদাম-ক্বাভস্কি-প্রচারিত এই মহা- গ্রন্থে ব্ৰহ্মবিদ্যাসম্বন্ধীয় প্রকাশ্য ও গুহ শিক্ষা বিশদরূপে বর্ণিত ব্যাখ্যাত ও আধুনিক পাশ্চাত্য-বিজ্ঞান সহ সমম্বিত। মাদা বলিয়া গিয়াছেন যে তাহাদ্বারা প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ তাহার প্রণীত নহে, “মহাত্মাগণ কর্তৃক যেরূপ যেরূপ উপদিষ্ট হইয়াছেন, সেই- কলিযুগ । রূপ লিপিবদ্ধ করিয়াছেন মাত্র—এমন কি, সময়ে সময়ে আদত্ লেখাগুলিও তাহাদের নিকট হইতে আসিয়াছে, তিনি হুবহু নকল করিয়া লইয়াছেন। পুস্তক গুলি যে তাহার মস্তিষ্কপ্রসূত নহে এ কথা উড়াইয়া দিবার যাে নাই, যেহেতুক পৃথিবীর নানা- দেশের নানাজাতির ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় রচিত বহুবিধ শাস্ত্র সম্যক রূপে অধ্যয়নান্তে আয়ত্ত করা মনুষ্যের অসাধ্য। হাজার দীর্ঘায়ু হইলেও কাহারও ঐ সমস্ত প্রাচীনভাষায় লিখিত গ্রন্থরাশি সংগ্রহ করতঃ শুদু েগুলি পাঠ করতে পারাও অসম্ভব, হৃদয়- গম কর ত দূরের কথা। এস্থলে উভয়সঙ্কট- যদি তাহার কথা অবিশ্বাস করা হয় তাহা হইলে অস্বীকার করিবার উপায় নাই যে, তিনি স্বল্পকালমধ্যে ঐ সকল ভাষা সুচারুরূপ শিক্ষা করিয়া পুস্তকরাশি সংগ্রহ করতঃ এবম্প্রকার গভীরভাবে অধ্যয়ন ও জীর্ণ করিয়াছিলেন, যাহার ফল উক্ত গ্রন্থগুলি ; তাহা হইলে ঘাড়- পাভিয়া মানিতে হইবে যে তাঁহার মত অলৌকিক শক্তিসম্পন্না, পণ্ডিতা, জ্ঞানী, বুদ্ধিমতী মেধাবিনী, অধ্যবসায়শীল পৃথিবীতে এর জন্মায় নাই সুতরাং তাহার কথা সকল অবশ্যমান্য ; অন্যথা তাহার বাক্য গ্রহণ করতঃ বুঝিতে হইবে যে পুস্তকগুলি ত্রিকালজ্ঞ মহর্ষিগণ কর্তৃক প্রণীত, অতএব যথােচিত শ্রদ্ধাসহকারে ওগুলিকে পূজা করিতে আমরা বাধ্য। এখানে বলিয়া রাখা উচিত, যে থিয়সফিকাল সােসাইটির পৃষ্ঠপােষক “মহাত্মারা” জীবন্মুক্ত মহর্ষি ভিন্ন আর কিছুই নহেন। অধিক কি বলিব ? ইহাদের একজন স্বয়ং সামবেদের কৌথুমীশাখার প্রণেতা ; জীবের প্রতি বিশেষ করুণাপরবশ হইয়া এরূপ জ্ঞানবিতরণে ব্ৰতী হইয়াছেন!!! পাঠক যাই বলুন, ইহা কঠোর সত্য!
কলিযুগ। বৃদ্ধের বক্তৃতা* আর বৃদ্ধার শকতিণ করিলেক মুগ্ধ বহু ভাতবাসীরে, * অল্ট সাহেব প্রধান প্রধান নগরে প্রকাশ্য বক্তৃতা করিয়া বিশেষ ফল দৰ্শাইছিলেন। অনেক স্থানে মেমেরিজম (mesmerism) 7541234 55906 (will-power) acatst দ্বারা বহু প্রাচীন দুঃসাধ্য স্নায়বিক ব্যাধি আরােগ্য করিয়াও থিসফি প্রচারের সহায়তা করেন। । ব্লাভাস্কির অসাধারণ শক্তি দ্বারা এরূপ অলৌকিক ব্যাপার সমূহ সম্পাদিত হয় যাহা সে সময়ে বিস্তর কঠোরহৃদয় অবিশ্বাসী শিক্ষিত ব্যক্তিকে ও অধা করিয়া বিশ্বাসের পথে-আস্তিকতার পথে-আনয়ন করে । এলাহাবাদের পাইওনিয়র (Pioneer) সংবাদপত্রের তৎকালিক সম্পাদক সিনেট সাহেব (A. . Sinnet } তার বিশেষ দৃষ্টান্ত। ওরূপ তীব্র ভারতবিদ্বেষী কাগজের সম্পাদক কি রূপ দুর্ধর্ষ লােক ছিলেন তাহা সহজেই বুঝা যায়। তিনি মাদামের নিকট দীক্ষিত হইয়া পরে পূজ্যপাদ মহর্ষি কৌথুমীর প্রিয় শিষ্য হইয়াছেন। শ্রীগুরুদেবের স্বহস্ত লিখিত বহু পত্রাদি তাহার নিকট মজুত আছে, কতক তৎপ্রণীত (0ccult world) নামক গ্রন্থে প্রকাশিতও হইয়াছে। এই জড়বিজ্ঞানবিং পণ্ডিত আজকাল তাহার বিলাতীয় ভবনে বসিয়া স্বকীয় প্রকাণ্ড লেবরেটরির (laboratory) সাহায্যে নানাবিধ প্রক্রিয়া ও গ্রন্থ প্রণয়ন দ্বারা থিয়সফি-প্রচার-কার্যে নিযুক্ত আছেন। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সঙ্গে সামঞ্জস্য সহকারে গুপ্ত বিদ্যার অনুশীলন তাহার প্রধান উদ্দেশ্য।
কলিযুগ।
কিন্তু সাধারণ মধ্যে না হ’ল সুখ্যাতি,
বিস্তর দুর্মুখ নিন্দা ঘােষিল অচিরে
কেহ বলে :-
দেখ:দহ এ ভারতে,
পাশ্চাত্য-জগত হতে,
আবিভূত নারী একজন ;
পুরুষ জনেক তার
সঙ্গে আছে কর্ণধার,
অবােধ্য-অদ্ভুত দুইজন।
ভুলাই’ছে নরনারী
করিয়ে নানা চাতুরী,
খড়গ হানি বিজ্ঞানের শিরে;
ভােজের বাজীর বলে,
বিবিধ ছল-কৌশলে,
বহু শিষ্য করিল অচিরে।
# কতকগুলি শিক্ষিত-লােক কোনপ্রকার অনুসন্ধান না
করিয়াই থিয়সফিকাল সােসাইটির বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হন,
এবং বর্তমান লেখকের দ্বারা বহুবিধ কথা প্রচারিত করেন।
সে আজ পঁচিশ বৎসরের কথা। উক্ত অপকর্মবৃদ্ধির জন্য
লেখক এখন অনুতপ্ত।
.
কলিযুগ :
অনেকের মনে আছে,
অল্পনি হয়ে গেছে,
হােসেন-খা নামে বাজীকর *
দেখাইল কত লীলা,
জীনাদি ভূতের খেলা,
মুগ্ধ হল পণ্ডিত বর্বর।
সে বাজতে এ বাজিতে
নাহি ভেদ কোন মতে,
একই ভেল্কিতে দুই হয় ।
কেবল হােসেন-ভাই
বলে নাই কোন ঠাঁই,
বাজীতে হইবে সমন্বয়
সর্বজাতি এক হবে,
বার্জী-বলে মিটে যাবে
ভিন্ন-ভিন্ন ধর্মের বৈষম্য ;
জ্ঞানের আকে পাবে,
সহজে সবে বুঝিবে
যাহা কিছু অচিন্ত্য-অগম্য।
হােসেন বুজরুক হয়ে
ধর্মের দোহাই দিয়ে
করে নাই শিষ্য অন্বেষণ ;
;
হোসেন খার বিষয় পরিশিষ্টে বর্ণিত
কলিযুগ।
সেও বাজী এও বাজী,
সেই এক কারসাজী,
কিছু আর না দেখি নূতন।
তবে ইহাদের ভােলে
কেন লােকে মরে ভু’লে ?
বুঝিতে না পারি কিছু মােরা।
হােসেনকেও কোন ঠাঁই
ধরিবারে পারে নাই,
তা’র বাজী দেখেছিল যারা
যদি এই বাজীকরে
এত লােকে পূজা করে,
হোসেন কি দোষ করেছিল ।
-শিক্ষিত ব'লে বুঝি,
তা’র বাজী শুদু বাজী,
ইহাদের বাজী ধৰ্ম্ম হল।
বড় দুঃখ হয় মনে,
শিক্ষিত শ্বেতাঙ্গগণে
এইরূপে ভুল বুঝাইবে।
কোথায় ভাল শিখাবে,
সত্যপথ দেখাইবে,
তা না করে মােহেতে ফেেিব ।
কলিযুগ ।
উদ্ধারের হেতু হয়ে,
নিজ-কৰ্তব্য ভুলিয়ে
ভুলাই’ছ ভারতের মন ;
শিখাই’ছ ধৰ্ম্ম-কথা,
যাহা শুনি নাই কোথা,
সব নর হবে নারায়ণ।
* এ কথা হঠাৎ সাধারণ লােকের নিকট নিতান্ত অসঙ্গত
বােধ হয়; কিন্তু সকল শাস্ত্রেই মােক্ষের অর্থ ঈশ্বরত্ব লাভ।
দ্বৈতবাদী বৈষ্ণবেরাও সালােক্য, সাষ্টি, সামীপ্য, সারূপ্য চাৰি
প্রকার মুক্তির দ্বারা ভগবানের সহিত একত্ব বা একৃভাবাপয়ের
অবস্থাই প্রকাশ করিয়াছেন, এবং ভগবদুক্তি দ্বারাও অনেক
স্থলে প্রমাণিত হইয়াছে যে পরম ভক্তের সহিত তাঁহার
কোনরূপ পৃথগভাব নাই।
“ভক্তি, ভক্ত, ভগবন্ত, গুরু,
চতুর নাম, বপূ এক।”
তুলসীদাস বলিয়াছেন।
“সেই জানে যেহ দেব! জানাই।
“জানত তুমহে তুমহি হেই যাই।”
অর্থাৎ, সেই তােমাকে জানিতে পারে যাহাকে তুমি
জানাও, তােমাকে জানিলে তুমিই হইয়া যায়।
নানকেও ঐরূপ কথা :-
“অনহদ শূন্য রতি সে কৈসে?
যিন্তে উপজে তিসহি যৈসে।”
।
কলিযুগ। এস, এস, তবে ভাই! চল যাই সেই ঠাই যেথা এই দুই বাজীকর অবােধ-শিশুর প্রায় ভারতবাসীরে হায় ! নাচাই’ছে ধরি’ দুই কর। কেহ বলে? “মােগল-পাঠান হদ্দ হ’ল ফার্সি পড়ে তাতি ; (সব) মুনি-ঋষি অন্ধকারে ভাস্কির হাতে বাতি। - ' অর্থাৎ, সে কেমন যে অনহ শব্দে রত যাহা হইতে জন্ম লইয়াছে সে যেমন । “আমি ও আমার পিতা এক,” যিশুর এই উক্তিতে অহৈত- বাদই প্রচারিত । মুসলমানেরা হাের দ্বৈতবাদী হইলেও এ কথা ঘােষণা করিতে ছাড়েন নাই :- “আদকে খােদ মৎ কহো, আদম খোদা নহি। লেন আদম খােদাকে মুর, খােদাসে জুদ। অর্থাৎ মানুষকে ঈশ্বর বলি ও না, মানুষ ঈশ্বর নয় ; মানুষ ঈশ্বরের জ্যোতি, সুতরাং ঈশ্বর হইতে পৃথক নহে। মতএব ঈশ্বরের সঙ্গে যে আমাদের স্বজাতীয়তা আছে, তাহা সৰ্ববাদীসম্মত। নহি।”
কলিযুগ।
শিব, শুক, নারদাদির হ’ল কি দুৰ্ম্মতি ?
ত্যজিয়ে সব আৰ্য্যসুতে স্নেচ্ছের সঙ্গে প্রীতি।
যােগী যাজ্ঞবল্ক্য, জনক কি হবে হে গতি ?
তােমরা থাকতে অল্ট এসে পড়ায় মােদের শ্রুতি।
"ফিরিঙ্গির মুখে বেদের বচন শুনে হাসি পায় !
ধিক! ধিক! শতধিক ! মরি গাে লজ্জায় !
অদ্ভুত বৃহস্য যেমন বানরে গায় গান,
বােৰা কথা শুনে ব্যথা পায় কালা দিয়ে কাণ।
বৈষ্ণবকে ভাই বলিবে দুর্দান্ত খ্রীষ্টান,
রহিল না ভেদাভেদ হিন্দু-মুসলমান।
আস্তিক নাস্তিক সব এক লাঙ্গলে বয়
ইহা হতে আশ্চর্য্য বল কিবা হয় ?
শাক্য, ঈশা, চৈতন্যাদি যাহা না পারিল।
তাহা সম্পাদিতে আজ বাভাস্কি আইল। *
এ সকল কথা এখনও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধি
ধারীর মুখেও শুনিতে পাওয়া যায়। অবশ্য এ শ্রেণীর লােক
আসল কথার কোন খােজ-খবর রাখেন না, রাখিতেও চাহেন
, আত্মার-কল্যাণ-চিন্তা কখন করেন না, করিবার শক্তিও
নাই; কেবণমাত্র অতিপ্রিয় ছিদ্রানুসন্ধান-প্রবৃত্তি চরিতার্থ
করাই তাহাদের উদ্দেশ্য । ইহাতে সস্তায় যেটুকু আমােদ
সম্ভোগ করেন তাহাই লাভ এরূপ প্রলাপ গােটা কতক
অসার অবান্তর ভাসা-ভাসা কথার উপরেই বেশ চলে। বর্তমান
লেথক ও একদিন ঐ দলে মিশিয়াছিলেন।
কলিযুগ
৭১
(কহ বলে :-
একাৰ্ণবে ডুবাইতে
অবতীর্ণ এ মহীতে
আশ্চৰ্য্য দুই শত-অবতার ।
ওকারের জ্যোতি আঁকা
কৃষ্ণোপরে শুক্ল-লেখা,
মহাসত্য করি’ছে প্রচার :-
সবাই ঈশ্বর হবে
মহানন্দে নিবাসিবে
হিমালয়-পর্বত-প্রদেশে ;
হিমেতে শীতল হবে,
শােক-তাপ দূরে যাবে,
ব্রহ্মাণ্ড রহিরে আত্মবশে।
ঈশ্বর বিশ্বের পাতা,
হর্তা, কৰ্ত্তা, পালয়িতা,
একথা কি পণ্ডিতেরা মানে ণ
* মাদ্রাজ হইতে প্রকাশিত “থিয়সফিষ্ট” নামক ইংরাজী
মাসিক-পত্রের মলাটের উপর সে সময়ে এই ভাবে ওক্কার ছাপা
থাকিত।
বাস্তবিক থিয়সফি এরূপ কথা কখন বলে নাই। প্রথম
প্রথম বৌভাবের অনেক ম প্রচারিত হওয়ায় থিয়সফিষ্টকে
লােকে নিরীশ্বরবাদী মনে করিত।
१२
কলিযুগ।
বলিলেন যােগী-সবে,
নিশ্চয় এবার ভবে,
মনুষ্য বসিবে বিভু-স্থানে।
“মহাত্মা” হিমালয়ে
বলেছেন নিঃসংশয়ে,
যােগে অমরত্ব সবে পাবে।
আস্তিক-নাস্তিক-বাদ--
ঘুচে যাবে বিসম্বাদ,
যােগেশ্বর-বিনা যােগ হবে ।
অনায়াসে হবে পার
এ অনন্ত-পারাবার,
চতুর্বর্গ-ফল হাতে-হাতে ।
* সে সময়ে আমাদেরও এ জ্ঞান ছিল না যে, নিগুণ
নিরাকার ব্রহ্মের সাধনা গুণবাচক উপাসনা দ্বারা হয় না ।
নির্বিকার নিরঞ্জনের সাধনাকে অসম্পূর্ণ মানৰী ভাষায় “যােগ”
বলা হয়।
যে কোন একটা উপায়ে চিত্তের স্বাভাবিক চঞ্চল
বৃত্তিগুলি নিরোধ করতঃ একাগ্রতা লাভ করিতে পারিলে যােগ
মার্গে অগ্রসর হওয়া যায়, এবং ক্রমে “তত্ত্বমসি”-জ্ঞানের অধি
কার দ্বারা জীব কৃতার্থ হইয়া থাকে। পূর্ণব্রহ্ম-সনাতন আমার
ভিতরেই বিদ্যমান রহিয়াছেন-- প্রকৃত “আমি”র সঙ্গে অভেদ,
মােহের আবরণ উন্মােচন করিতে সক্ষম হইলেই বুঝা যায় ।
কথা সাধারণের পক্ষে দুর্বোধ্য হওয়া আশ্চর্যের বিষয় নহে।
কলিযুগ।
৭৩,
কেহ যাহা পারে নাই
মুহূর্তেকে হবে তাই
এ বিচিত্র ভেজের-বাজীতে ।
কেহ বলোঃ-
দশটাকা আগে আ
তবে ফু কে দিব কাণ;
গুরুর এ আজ্ঞা না ছাড়িব ;
রূপচাদ মহামন্ত্র,
বেদ, পুরাণ, যােগ, তন্ত্র ;
দিবানিশি এ মন্ত্র জপিব ।
মােরা গােরাচঁাদ সবে
নিশ্চয় জানি এ ভবে
স্বর্ণ-চাকী একমাত্র-সার ;
তাই এসেছি ভারতে
মন্ত্র সাধন করিতে
যাই বল কোথা মােরা আর।
''
* একটা নিয়ম আছে, সভ্য হইতে গেলে প্রবেশিকা মুল্য
১০ টাকা দিতে হয়। অনেকে হয়ত জানেন না যে, অসম
পক্ষে স্বল্পমূল্যে বা বিনা মূল্যে ভর্তি করা হইয়া থাকে।
কালে ছিল, এখনও বিস্তর লােকের ধারণা যে এ টাকাটা কর্তৃ-
পক্ষের রােজগার। বাস্তবিক কথা এই যে, কর্ণেল অলকট
নিজের যথাসর্বস্ব থিয়সফিকাল সােসাইটীর জন্য ব্যয় করিয়া-
৭৪
কলিযুগ।
শুনেছি জেনেছি কথা,
আর নাহি আছে কোথা',
সরল ধার্মিক লােক সব ;--
একজন আগাইলে,
পশ্চাতে অনেকে চলে,
ঐক্য জম্মুকের যথা রব।
তােমরাই এই ভবে
অক্ষয় কীৰ্ত্তি রাখিবে,
স্বার্থহীন সদাশয় ব’লে ;--
চিনির-বলদ সােজা,
বহি’ছ পরের বােঝা ;
আপত্তি করনা কোন কালে।
পর-চরণ সেবিতে ;
রত সদা হৃষ্ট-চিতে;
তােমাদের এ বিচিত্র-ভাব
আর কোথা’ দেখিনাই,
শুনিনাই কোন ঠাই ;
এ কেবল ধৰ্ম্মের প্রভাব।
ছেন। সােসাইটার যেরূপ খরচ তাহাতে প্রবেশিকা-মূল্যের
সমষ্টি সমুদ্রে পাদ্য বিশেষ। সােসাইটীর কর্তৃপক্ষ ও স্বেচ্ছা-
সেবক-সেবিকাদের ত্যাগ স্বীকার দেখিলে অবাক হইতে হয় !!
কলিযুগ।
আৰ্য্যসুত সাধুজন
হয়ে সৰে এক-মন
শুন এই অভিনব-ধৰ্ম্ম
তােমরাই এ জগতে
পারিবে হৃদে ধরিতে
থিসফির গৃঢ়-কথা-মৰ্ম্ম।
অৰ্যগুরু পরিহবি
এ’স সবে ত্বরা’ করি,
লুটাও মােদের চরণে ;
অনায়াসে হবে পার
এ সংসার-পারাবার,
সংশয় ক’র না কভু মনে।
সর্বসুখ বিসজ্জিয়ে,
সংসারে ফকির হয়ে,
আমাদের হাতে সব দিয়ে,
থাক সবে শান্ত-মনে
একতানে একধ্যানে
আমাদের চিরভৃত্য হয়ে।
গৌরাঙ্গের পদসেবা
বিনা ল কোথকেবা
পাইয়াছে ভবে পরিত্রাণ ?
কলিযুগ।
অতএব কথা মান,
টাকা-কড়ি সব আন,
গুরু-গুব্বী-পদে কর দান।
নাচিতে নাচিতে সবে
সশরীরে স্বর্গে যাবে,
ঘুচে যাবে এ ভব-যন্ত্রণা।
কি ভয়, কি ভয়, তবে ?
কায়মনােবাক্যে সবে
কর ভাস্কি-পদ আরাধনা।
কেহ বলে ::
পূরাকালে বৃহস্পতি মাথা ঘুরাইয়া,
বলেছিল চার্বাক বিশ্ব ধাধাইয়া।
সেই কথা খণ্ডাহাত বিজ্ঞ ছয় জন,
প্রচারিল মহাযত্নে ষড়দরশন
যে ভারতে আছে সব এ হেন বিজ্ঞান,
সেথা তােমাদের কথায় কেবা দিবে কাণ?
আৰ্য্যসুতে ভুলান তােমাদের কাজ নয়,
প্রকৃত যদ্যপি আৰ্যসন্তান সে হয় ।
যাও যথা বাস করে অসভ্য বর্বর,
----সান্তাল, বুশমান, জুলু, হাচান নর ;-
কলিযুগ।
৭
সে সব লোকের কাছে সম্মান পাইবে
দেবতা ভাবিয়া তারা চরণ পুজিবে :
সচন্দনপুষ্প ল’য়ে যেরূপ সাদরে
হিন্দু নরনারী পূজে স্বর্গীয় অমরে,
সেইরূপ ভক্তি পাবে মুঢ়জন মাঝে ;
হেথায় চলে না মেকি আর্যের সমাজে।
আৰ্য্যশস্ত্র মহাকষ্টি সােধরা-কল
অবহেলে ধরে ফেলে কৃত্রিম-নকল ।
যে কজন ভক্ত গেছে তােমাদের দলে
উপযুক্ত আৰ্য্যসুত নয় কোন কালে ,
সুমহাপণ্ডিত জ্ঞানী আৰ্য ঋষিগণ,
তাহাদের বংশে জন্মিয়াছে যেই জন,
সে কি কভু যায় ছুটে পরের দুয়ারে,
গৃহে রত্নরাজি ফেলে, ভিক্ষা করিবারে ?
কেহ বলে
যে দেশেতে শ্রীচৈতন্য-শাক্য-অবতার,
অলৌকিক ভ্রাতৃভাৰ করিয়া প্রচার,
অদ্ভুত প্রেমের পথ করি’ আবিষ্কার,
একজাতি একধৰ্ম্ম ভারতে সবার
করিবারে বহু-যত্ন-প্রয়াস পাইল ;
তথাপি তাদের চেষ্টা বিফল হইল ;
কলিযুগ ।
সেথা কি সহজে হয় এরূপ ব্যাপার,
-----একাকার করে হেথা হেন সাধ্য কার ?
যে মানুষ এতদূর কঠিন-হৃদয়,
সুকোমল প্রেম-ভােরে বদ্ধ নাহি হয়
ভেল্কিবাজীতে তারে সহজে বাঁধিবে,
নিশ্চয় বাতুল সেই এ কথা যে ভাবে ।
হিমাচলবাসী যােগী-ঋষির নামেতে
কে বল ভুলিবে শুদু কথার কথাতে ?
কেহ বলে :-
এদিকেতে শুনি তব ক্ষমতা অসীম,
যােগবলে বধ করিয়াছ কত ভীম।
ক্ষুদ্র-ডিম্ব মধ্যে বিশ্ব যেই জন আনে
কেন বিদ্যুতের তারে সংবাদ সে জানে ?
যাতায়াত করে কেন রেলের-গাড়িতে?
অনায়াসে উড়ে যা’ক যােগের বলেতে।
যাহারা ভ্রময়ে পৃথ্বী চক্ষের পলকে
দেখাতে পারে ব্রহ্মাণ্ড হস্ত-অমলকে
তারা কেন পত্র লেখে কোম্পানির ডাকে ?
* মহাত্মা দিগকে স্বীকার করা বড় সহজ বিশ্বাসের কা
নহে, উহা নিশ্চয় পূৰ্ব্বজন্ম সাধন-সাপেক্ষ, সুতরাং সাধারণের
ভাগ্যে উহা কি প্রকারে আসিবে ।
কলিযুগ। দশ টাকা-লােভে শিষ্য করে যাকে তাকে ? বুঝেছি, বুঝেছি তােমাদিগের মনন, এসেছ ভারতবর্ষ করিতে দোহন। আর কি এ পােড়া দেশে আছে রত্ন-মণি? যা ছিল সব ল’য়ে গেছে আলা’দ্দিন-খুনী। বাকী যাহা কিছু ছিল দশজনে নিল, সােণার-ভারত এবে শ্মশান হইল । তােমাদের আর কিছু বলিবার নাই, করযােড়ে শুদুমাত্র এই ভিক্ষা চাই, যা’কিছু লয়েছ ফিরে দাও বা না দাও, দুঃখিনী ভারতে ছাড়ি' দেশে চ’তে যাও। কেহ বলে -- (দেখে) কেঁদে ভারতমাতা কয়, আর নাহি সহ্য হয় মূখ সন্তানের অত্যাচার। সহিয়াছি অগণন নানাবিধ উৎপীড়ন ; (ক) কুপুত্র পীড়ন সব আর ? প্রভাস সােমনথে আবাল-বৃদ্ধ-বণিত। দুর্দান্ত লুণ্ঠন- কারী মামুদ গজনবীকে আলাউদ্দিন-খুনা বলিয়া থাকে।
কলিযুগ।
আৰ্যকুলে দিয়ে কালি,
নামেতে কলঙ্ক ঢালি’
স্লেচ্ছ-শিষ্য হইলিরে আজ।
ডুবালি বাপের নাম,
ডুবাবি মায়ের নাম,
হাসাইলি শত্রুর-সমাজ।
••
এ হেন দুর্জন সূতে
পারি
বুকে ধরিতে,
সহে না, সহে না আর ব্যাজ ;
যাক দেশ রসাতল,
যাক অতলের তল,
পড়, ক তোদের মাথে বাজ।
=
সর্বক সুখ তেয়াগিয়ে,
ততাদের মুখ চাহিয়ে
ধরি তবু এ পােড়া জীবন
(কত) রত্ন-মণি অগণন
দিয়াছি রে বিসর্জন
(শুদু) বুকে করি’ আছি ধৰ্ম্মধন ।
উদরাম-বঞ্জ-তরে
ভিক্ষা করি’ পরদ্বারে
কাটি দিন সদা হেঁটমুখে
কলিযুগ।
আমার আর কিছু নাই
সব বিদেশীর ঠাই
তবু ধৰ্ম্ম ল’য়ে আছি সুখে।
কেমনে পাষণ্ড হয়ে,
শরমের মাথা খেয়ে
দিতে চাস তাও ম্লেচ্ছ-হাতে ?
ধিক্ ! ধিক! শত ধিক।
আমার কপালে ধিক্ !
আর বৃথা বাঁচা এ জগতে।
গাণপতা, সৌর, শাক্ত,
শৈব, রাম-কৃষ্ণ-ভক্ত,---
নামে সব মন উঠিল না ;
(শেষে) ভাস্কি-ভক্ত নাম ধরে
অতি-প্রফুল্ল-অন্তরে
স্নেচ্ছের করিলি উপাসনা।
এত আৰ্য-আচার্য্যেতে
পারিল না কি বুঝাতে ?
বিধর্মী নারীর শিষ্য হলি ;
অনাৰ্য্য-পদ পূজিতে
লজ্জা কি হ’ল না চিত ?
ডুবিলি, আর আমারে ডুবালি
কলিযুগ।
স্যায়, সাংখ্য, পাতল
ভাবিয়ে না পায় স্থল
অভ্রান্ত-বেদান্ত অন্ত না পায় যাহার,
তাহারে ভাস্কি বুঝাবে,
এও কি কভু সবে ?
ততাদের আমি কি বলিব আর ?
পূর্বকথা-আলােচনা,
প্রত্নতত্ত্ব গবেষণা
করিতে শকতি যদি নাই,
(তােদের) বহুবিজ্ঞ সহােদর
আছে মম বংশধর,
কেন না যা’স তাহাদের ঠাই ?
• •
;
যদ্যপি থাকে সংশয়,
তারাও সব মহাশয়,
বুঝাইয়া দিবে অবহেলে
লভিতে জ্ঞান-ভাণ্ডার
যাইতে হবে না আর
স্লেচ্ছ-নরনারী-পদতলে।
জানি আমি সবিশেষ,
মুখের দোষ অশেষ,
কুপুত্রকে কভু না পারিব :-
কলিযুগ
মূখ-পুত্র দুৰ্য্যোধন
মাের করেছিল পণ ;--
বিনাযুদ্ধে কিছু নাহি দিব ।
সেই বর্বরের দোষে
কিছু না রহিল শেষে ;
হ’তে হ’ল মােরে ভিখারিণী
কুপুত্রের বার-বার
সহি’ কত অত্যাচার
হয়েছি পথের কাঙ্গালিনী।
কুপুত্র যদ্যপি হয়,
কুমাত কখন নয় ;
তাই বাছা বলি শতবার’
বিশ্বতত্ত্ব-দরশন
কর সবে অধ্যয়ন,
ঘুচে যাবে সব অন্ধকার।
ভাস্কির গ্রন্থ কয় খান
পড়ে যদি হয় জ্ঞান
তা হলে আর ভাবনা কি ছিল ?
আমার কোলেতে বসি’
গ্রন্থ কত রাশি রাশি
কি জন্যে সুপুতেরা রচিল ?
৮৫
কলিযুগ।
কি বলিব অধিক আর ?
চেয়ে দেখ্ একবার,
ক’জন বিদ্বান্ ভাস্ক আছে।
যে সকল পুত্র মাের
ধামান, পণ্ডিত ঘাের
মুখ পায়না ভাস্কি তাদের কাছে।
অজ্ঞান মাদ্রাজাঞ্চলে
ভাস্কির বুজরুকী চলে
বাঙ্গালায় কম্পুি নাহি পায় ।
ভেল্কিবাজীর বল
পণ্ডিতে বুঝে সকল,
সুধীগণ ধরা নাহি দেয়।
।
ছেলে-ধরা ছেলে ধরে,
বােকা ছেলে ধরা পড়ে
বুদ্ধিমান পলায় হাসিয়া।
বুদ্ধিবল বড় বল
সিংহ হন হত বল
শশকের কলেতে পড়িয়া।
কলিযুগ ।
এই ভাবে বহু লোক বহু কথা
করিল প্রচার,
যা’র যা আইল মনে নাহি বােধ
নাহিক বিচার ।
কেবল কথায় নহে শেষ, উপদ্রব
কত না করিল,
গুরুতর অপরাধ কত মহাত্মার
স্কন্ধে আরােপিল।
আশ্রিত-পালিত এক দম্পতী
অতীব দুর্জন
শুধু ঈমাবশে মাত্র ষড়যন্ত্র
গড়িল ভাষণ ।
কৃতঘ্নতার পরাকাষ্ঠা দেখাইল,
বিবিধ কৌশলে
সাজাইল, রটাইল কুৎসা কত
নানা-ছলে-বলে।
মিথ্যাকথা কভু জয়ী নাহি হয়
চিরকাল-তরে,
কুলােম্ব ( Coulomb) নামক দম্পতী বহুদিনের
পরিচিত ; দুরন্ত জানিয়াও ব্লাভাক্তি তাহাদিগকে আশ্রয় দেন।
ইহারাই খ্ৰীষ্টান্ পাদরীদের যােগে এক ষড়যন্ত্র করে।
;
কলিযুগ।
দিনেক দু'দিন চলে ভাল, বায়ুতে
মিশায় তার পরে।
কুচক্রীর দল হল পরাস্ত
চূণ-কালি গালে ;
“যতােধৰ্ম্ম স্তােেজর” --ব্যর্থ নাহি
হয় কোন কালে ।
নিষ্কাম-পরসেবা জীবনের
;
ব্ৰত যে জনার
তাহে অপদস্থ করে, এ বিশ্বে
হেন সাধ্য কার ?
বিধাতা সহায় যা’র তারে কেবা
মারিবারে পারে ?
সত্য-প্রেম-বলে বলী যেই তার ভয়
নাহি ত্রিসংসারে।
পরীক্ষার স্থান এই সংসার বিশাল,
মানুষের পক্ষে যেন সদা তুষানল ;
বিশেষ যাহার! সাধু, তাদের জীবনে
তিলমাত্র নাহি সুখ, নিয়ত তুফান ;-
ঘাের অত্যাচার মধ্যে সতত বসতি।
—বিভু-প্রেম-লীলা এই ভক্তজন-উদ্ধার কারণ
কলিযুগ।
মহামনা দয়াময়ী ব্লাভাস্কি-রমণী,
সহিলেন কত উপদ্রব, কত বা যন্ত্রণা,
শত্রু-মিত্র উভয়ের হাতে, নাহিক গণনা।
অবশেষে ইঙ্গভূমে ত্যজিলেন তনু।
বিপক্ষ ভাবিল, বুঝি গেল থিয়সফি ;
কিন্তু বিধির বিধানে হ’ল বিপরীত,
বাড়িল বিক্রম, তেজ, প্রভাব, প্রচার।
উপযুক্ত-শিষ্যা-হস্তে ভার সমর্পিয়ে
গেলেন অমরধামে আশা দিয়ে সবে,---
শীয় ফিরিবেন কাৰ্য্যক্ষেত্রে দশগুণ
শকতি সঙ্গেতে, ধরাধামে জয়যুক্ত
হবে থিয়সফি পরমেশ্বর-আদেশে।
তাঁ’র পথ-পানে চেয়ে আছি মােরা সবে,
কবে আসিবেন ল'য়ে শত-মাতঙ্গের বল।
এ এক নূতন যুগ ভারতে উদয়
বৈষ্ণবী-বেসান্ত-দেবী-সনে
অদ্ভুত জীবন তার বিচিত্রময়
সুখ-দুঃখ-ভােগ-অগণনে ।
যত দুঃখ তত সুখ, বিধির বিধান
সদা সর্বথা প্রচারিত,
কলিযুগ।
কিন্তু লীলাময়ের এই প্রেমলীলা-স্থান
বিশেষ ভাবেতে সুশােভিত ।
আধ্যাত্মিক-মানসিক-সাংসারিক-জ্বালা,
কল্পনাতে ভাবিলে শিহরি,
কত বা না সহিলেন সুধীরা অবলা,
ধৈরষের যাই বলিহারি !
বিটপী-পর্বত হারে সহিষ্ণুতা হেরি,
ধরিত্রীও বলে ধন্য ধন্য !
কি যে অত্যাচার, উৎপীড়ন, আহামরি !
শােক-তাপ অসংখ্য-অগণ্য।
এই তােলপাড় মাঝে অচলা-অটলা
ছিলেন নিয়ত সাধ্বী-নারী,
তিলেকের জন্য কভু নহেন চঞ্চলা
ভ্রমেতেও সত্য পরিহরি’ ।
স্বার্থবশে স্বপনে ও অন্যায়-ভাবনা
করে নাই চিত্ত কলুষিত ;
মানুষের-সয়তানের সহস্র তাড়না
পারে নাই করা’তে অহিত।
অবসন্ন দেখে নাই কেউ দারুণ বিপদে,
সম্পদেও নহে উল্লসিত ।
যােগিনী-লক্ষণ প্রদর্শিত পদে-পদে
লক্ষ্য সদা সত্য-পানে স্থিত।
3
কলিযুগ।
সরলতা নিষ্ঠা-প্রেম-দয়। মুর্তিমতী,
পবিত্রতা হৃদয়-ভূষণ
পরদুঃখকাতরা সর্বদা পুণ্যবতী,
ব্যস্ত নিবারণে উৎপীড়ন।
এ হেন মহােচ্চ-জীব ভারতে উদয়,
আমাদের বড় ভাগ্য বল ;
পুনরায় সনাতন-ধৰ্ম্ম-অভ্যুদয়
বেসান্তের চেষ্টাতে কেবল ।
প্রতীচ্য-বিজ্ঞান আর প্রাচ্য দরশন,
বুৎপন্ন সম্যক্ উভয়েতে।
তা না হলে ভারতবাসীর প্রাণ মন
কেন বল মজিবে ইহাতে ?
আর্য্য-ধৰ্ম্ম-ভাবের উদ্ধার অতীৰ যতনে
করি’ছেন দেবী-মহামতি ;
এরূপ জীবেরে বল আমরা কেমনে
করি অশেষ ভকতি ?
সৰলে করিয়া ছিন্ন নাস্তিকতা-পাশ
যে বিশ্বংস হৃদয়ে উদিত,
তাহার প্রতাপ-প্রভা তাতুল-বিকাশ,
কত পাপী করে উদ্ধারিত।
কি উদ্যম ! কি উৎসাহ! কত বা প্রভাব ।
সাধ্য, কার পরিমাণ করে ?
কলিযুগ।
অবাক হয়েছে দেখে পুণ্যময়-ভাব
বাল-বৃদ্ধ-যুব-নারী-নরে।
কিবা শােভা, কিবা আভা প্রকাশ মুখেতে
এ বৃদ্ধ-বয়সে কান্তি কত !
সাত্বিক-আহার, শুদ্ধাচারের বলেতে
পুষ্ট দেহ, প্রফুল্লতা যত ।
দর্শনাদি-শাস্ত্রে মান, পুরাণে ভকতি,
গভীরতা সর্বত্র সমান ;
বেদোপনিষদে শ্রদ্ধা অদ্ভুত শকতি
সমন্বয়ে কৰ্ম্ম-ভক্তি-জ্ঞান।
কাশীর কালেজ তাঁর কীৰ্ত্তি সুমহান
উদ্ধারিতে ধৰ্ম্ম-সনাতন।
প্রিয় তার ভারতের হিন্দু, মুসলমান,
পাশী, শিখ, জৈন, বৌদ্ধগণ।
ধর্মগ্রন্থ করিলেন কত প্রণয়ন,
কেবা তা’র করিবে গণনা ?
শাস্ত্রের ব্যাখ্যানে সদা আছেন মগন,
ভাষণের নাহিক তুলনা।
কদাচারী-কদাহারী-ইংরাজ-গৃহেতে
জন্ম যা’র সে বল কেমনে
পৃবিচার পরিহরি’ আসিয়ে ভারতে
কাটে দিন বিশুদ্ধ-ভােজনে ?
t
কলিযুগ।
৯১
বিলাসবজ্জিত, তৃপ্ত যােগীর আহারে,
সহজ কথাটী বড় নয়
ইউরােপীয়-নারী-পক্ষে কলিযুগ-ঘােরে ;
--অগ্নি কি শীতল কভু হয় !
এতকাল যে ভাবেতে কাটিল জীবন,
একেবারে ত্যক্ত সে সকল
শেষ-বয়সেতে, বল কে পারে এমন
বিনা ঈশ্বরের কৃপাবল ?
পট্টশাড়ী-পরিধান, নগ্নপদ, গলে
রুদ্রাক্ষ-মালা শােভমান,
পক্ককেশ, সাহাস্যবদন, যেন ভালে
তৃতীয়-নয়ন বিদ্যমান।
এ হেন জীবেরে যেই না করে প্রণাম
অবনত হয়ে ভক্তিভরে,
কি বলিব তারে আর ? কিবা তার নাম
নাহি জানে দেবতা বা নরে।
এ’স তবে চল যাই বেসান্ত নিকটে
উপদেশে পাইব জীবন ;
এখন যে বেঁচে আছি বিপদে সঙ্কটে,
একরূপ জীয়ন্তে-মরণ।
জুড়াবে তাপিত-প্রাণ সে বাণী শুনিয়ে,
দেহ-মন পবিত্র হইবে;
A
কলিগ।
ভক-ব্যাধির ঔষধি দিবেন বলিয়ে;
আর কোন ভয় না রহিবে
সহকারী কয়জন বেসান্তের যারা,
য়ুরােপে, মার্কিণে, কিম্বা ভারতবর্ষেত,
শ্রদ্ধা-ভক্তি-কৃতজ্ঞতা তাহাদেরও দাবী
আছে মােদের নিকটে ! পূজনীয় তারা
সদা রত মানবসেবায়, জ্ঞান-বিতরণে,
সংসার-হিত-অনুষ্ঠান জীবনের ব্রত।
কৌধুমী শ্রীচরণে করিয়া প্রণাম,
ইহাদেরও সকলেরে করি নমস্কার ।
শান্তি! শান্তি !!
শান্তি !!!
“কেন আর কর দ্বেষ বিদেশী-জন-ভজনে ।
ভজনের লিঙ্গ নানা, নানাদেশে নানাজনে।
কেহ মুক্তকচ্ছ ভজে, কেহ হাঁটু গাড়ি পূজে,
কেহ বা নয়ন মুদি' থাকে ব্ৰহ্ম-আরাধনে
কেহ যােগাসনে পূজে, কেহ সংকীর্তনে মজে,
সকলে ভজিছে সেই একমাত্র কৃষ্ণধনে।
অতএব ভ্রাতৃভাবে, থাক সবে সুসভাবে,
হরিভক্তি সাধ সদা, এ জীবনে বা মরণে।”
কে, না, দত্ত
শান্তি ! শান্তি !! শান্তি !!! হরি! ও।
পরিশিষ্ট। অতীন্দ্রিয় শক্তি। ৫ "Modern Science is only rediscovering the discoveries made by the ancients and which have since been forgotten." যাহা কিছু আমরা বুঝিতে না পারি বা আমাদের দ্বারা সম্যক্-পরিজ্ঞাত প্রাকৃতিক নিয়মাবলীর বহির্ভূত বলিয়া বিবেচনা করি, তাহা হয় অলীক অস্বাভাবিক বলিয়া উড়াইয়া দিই, অথবা লােকচক্ষুর অগােচর কোনপ্রকার দৈবশক্তি সম্ভুত বােধে তৎসম্বন্ধে আলােচনা-অনুসন্ধানে পরাজুখ থাকি। পরন্তু আজ- কাল বিজ্ঞ প্রবীণ বৈজ্ঞানিক পুরুষগণ এবম্প্রকার ঘটনাসমূহকে বিশ্লেষণ করতঃ উহাদিগকে অধুনা-আবিষ্কৃত নৈসর্গিক নিয়মাদির অধীনে আনিতে চেষ্টা করিতেছেন, এবং তাহাদের সেই চেষ্টা ফলবতীও হইতেছে। অবশ্য এই শ্রেণীর বুধগণ সমস্তই ইউরােপীয় ; আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থায় ওরূপ ধীমান্ নিতান্ত বিরল। কারণ, প্রকৃত বৈজ্ঞানিক পুরুষ হইবার জন্য যে প্রণালীতে শিক্ষা আবশ্যক, তাহার ব্যবস্থা ভারতে এ পর্যন্ত * আমাদের এই হীনাবস্থাতেও যখন ডাক্তার প্রসন্নকুমার রায় ও ডাক্তার প্রফুল্লচন্দ্র রায় অধ্যাপক দ্বয়ের মত বৈজ্ঞানিক গবেষক অতুল প্রতিভা দ্বারা দিগন্তব্যাপী প্রতিপত্তি লাভ করিতেছেন, তখন বিলক্ষণ আশা করা যায়, এ দুর্দিন শী ফুরাইবে।
• হয় নাই। তারপর নিরপেক্ষভাবে গবেষণা করিবার উদার প্রবৃত্তি আজও আমাদের মধ্যে পঁহুছে নাই। পতঞ্জলির দেশে এরূপ সংকীর্ণভাবের জড়তা আশ্চর্যের বিষয় সন্দেহ নাই; কিন্তু প্রত্যক্ষ যখন দেখা যাইতেছে, তখন অস্বীকার করিবার উপায় কোথায় ? পাশ্চাত্য-শিক্ষার বিকৃত ফলস্বরূপ আমাদের এই অবনতি। “বিশ্বকোষ সমূহের অন্তর্গত সমস্ত সংবাদ মস্তকে বহন করিবার শক্তি থাকিতে পারে, অথচ একটা বৈজ্ঞানিক চিন্তার ক্ষমতা নাই, ইহা অসম্ভব নহে।** মার্কিন পণ্ডিত উইলিয়ম সাহেবের এই উক্তি সমীচীন। আমাদের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষিত ব্যক্তির এই দশা!--চিনির বলদ। কিছুদিন হইল, “চিত্রা ও গৌরী” নামক একখানি ক্ষুদ্র উপ- মাস-পুস্তিকাতে গ্রন্থকার হারাণ চন্দ্র রক্ষিত দুই একটা অলৌকিক ঘটনার সন্নিবেশ করায় অনেকের নিকট উপহাস্পদ হইয়া ছিলেন ; পরন্তু আধুনিক ইউরােপীয় নভেল সমূহে ওরূপ ব্যাপা- রের বিস্তর উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়। যাহা হউক, নিয়ে কয়েকটা প্রকৃত বৃত্তান্ত পাঠকগণের সম্মুখে উপস্থিত করা যাইতেছে। নিবেদন এই যে, তাহারা * A man may pack his head with all that lies between the covers of all the encyclopædias and yet be incapable of a single intellectual thought. The graduate, fresh froin the University of California has an immensely greater store of knowledge than had Leonardo Da Vinci ; but how vast is the difference between them in the quality of mind :-Introduction to the study of Yoga Aphorisms of Patanjali by Geo. C. Williams. :
নিরপেক্ষভাবে এতদ্বিষয়ে অনুসন্ধান করতঃ একটা সুমীমাংসায় উপনীত হন। বিগত শতাব্দীর অর্ধেক তখনও শেষ হয় নাই, কোন মুসলমান-গ্রামে জনৈক ক্ষীণতনু কদাকার জটাধারী হিন্দুসন্যাসী উপস্থিত হয়েন। ওরূপ ক্ষেত্রে গ্রামের বালকগণ প্রায়ই এবম্বিধ কিম্ভুতকিমাকার লােকের পশ্চাতে ছুটিয়া থাকে। বিশেষ তাহা- দের মধ্যে হিন্দুযােগীর আগমনে মুসলমানবালকদিগের কুতূহল উত্তেজিত হইবারই কথা। দুষ্ট বালকেরা কেহ সন্ন্যাসীকে বিদ্রুপ করিতেছে, কেহ তাহার প্রতি ঢিল ছুড়িতেছে, কেহব চীৎকার সহ হাততালি দিয়া নাচিতে নাচিতে পশ্চাদগামী। এমন সময় ধীর প্রকৃতি একটী বালক তথায় আসিয়া তাহাদের চপলতার নিন্দা সহকারে বলিল, “ফকির হিন্দু হইলেও তাহাকে অবজ্ঞা করা অন্যায়, সকল জাতীয় সাধুই সন্মানাহ্।” অতগুলি দুষ্ট প্রকৃতির মধ্যে একজনকে ওরূপ শিষ্ট দেখিয়া সন্ন্যাসী তাহার প্রতি আকৃষ্ট হইলেন। অতঃপর যােগী কিছুদিনের জন্য সেই গ্রামের প্রান্তে অবস্থিতি করেন ; বালকটি প্রত্যহ তাহার নিকট গিয়া বসিত ও নানাবিষয়ে আলাপ করিত। ক্রমে তাহার চরিত্র ও কথােপকথনে প্রীত হইয়া একদিন সাধু তাহাকে বলি- লেন, “যদি তুমি ঠিকঠাক আমার উপদেশানুরূপ কাৰ্য্য করিতে পার, আমি তােমাকে অলৌকিক শক্তি প্রদান করিতে প্রস্তুত। বালক প্রতিশ্রুত হইয়া দীক্ষা গ্ৰহণান্তর চল্লিশ দিবস উপবাস-সহ- কারে কতকগুলি ক্রিয়াতে ও কয়েকটী মন্ত্র জপে নিযুক্ত থাকে। অবশেষে একদিন নিরস্তু-উপবাসী থাকিয়া নিকটস্থ পর্বতগুহায় প্রবেশ করিতে এবং তথায় যাহা নয়নগােচর হয়, তাহা জানাইতে 1 গুরুকর্তৃক আদিষ্ট হইলে, কম্পান্বিত কলেবরে নিবিড়তমসাচ্ছন্ন গুহাভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়া বালক দেখিল,—সেই গভীর অন্ধকার ভেদ করতঃ এক প্রকাও দীপ্তিমান্ চক্ষু দপ দপ্ করিয়া জ্বলি- তেছে ;-ভয়ঙ্কর দৃশ্য ! কোন প্রকারে বাহিরে আসিয়া গুরুকে সংবাদ দিলে তিনি বলিলেন,-“যাও, তােমার সিদ্ধি হইয়াছে।” তদনন্তর কতক গুলি উপলখ দেখাইয়া তদুপরি এক একটা যন্ত্র * আঁকিতে অনুমতি করিলেন ; আঁকা শেষ হইলে আজ্ঞা দিলেন,—“বাড়ী যাও, তথায় আপন প্রকোষ্ঠের দ্বার রুদ্ধ করতঃ নবপরিচিত ব্যক্তিকে প্রস্তরগুলি তোমার সম্মুখে উপস্থিত করতে হুকুম দাও। এবম্প্রকারে উপদিষ্ট হইয়া বালক গৃহে প্রত! গমন করতঃ যথাবিধানে কাৰ্য্য করিলে পাথরগুলি তাহার পদ প্রান্তে আনীত হইল। প্রক্রিয়া সফল দেখিয়া সন্ন্যাসীসকাশে তদ্বাৰ্তা জানাইলে, তিনি বলিলেন,—“প্রদর্শিত : যে দ্রব্যের উপর আঁকিবে, তাহা ঐ প্রকারে আয়ত্তাধীনে আসিবে; কিন্তু জানিও, উক্ত শক্তি দ্বারা যাহা কিছু তুমি পাইবে, তাহা তােমার নিকট স্থির না থাকিয়া সত্বর হস্তান্তরে যাইবে।” সাধুর এই কথাগুলি বরাবর ফলিয়া আসিয়াছিল। উল্লিখিত বালকের নাম হােসেন। ইনি সিপাহীবিদ্রোহের ঠিক পরবর্তী সময়ে কলিকাতায় আসিয়া বহুদিন তথায় হােসেনখা জিন্নী নামে প্রখ্যাত ছিলেন। আমাদের সমবয়স্ক - দিগের মধ্যে অনেকেই তাহার বুজুকী প্রত্যক্ষ করিয়াছেন। কলুটোলার প্রসিদ্ধ ধনকুবের হীরালাল শীলের কাশীপুরস্থ •• * Mystic Sigu.
1/% রমণােদ্যানে হােসেনখ। প্রায়ই শীলমহাশয়ের বন্ধুবান্ধবগণের আমেদার্থ তামাসা দেখাইতেন :----কাহারও পকেট হইতে ঘড়ি উড়াইয়া দিলেন, কিছুক্ষণ পরে দেখা গেল উহা বাগানের কোন বৃক্ষশাখায় দোদুল্যমান; কাহারও হাতে ফল-মূল-খাদ্য- দ্রব্যাদি শূন্য হইতে আসিয়া উপস্থিত হইল ;--এবম্বিধ অনেক আজগুবী কাণ্ড তাহার দ্বারা সম্পন্ন হইত। ইংরাজ-মহলে ৪ হােসেনার বিলক্ষণ প্রতিপত্তি ছিল । লাহোর গবর্ণমেন্ট-কলেজের ভূতপূৰ্ব্ব প্রাকৃতিক বিজ্ঞানাব্যাপক ওমান সাহেব তাহার পুস্তকে লিখিয়াছেন : - "Several European friends of mine had been personally acquainted with Hossain Khan, and witnessed his performances in their own homes. It is directly from these gentlemen, and not from Indian sources that I derived the details which I now reproduce.' অর্থাৎ ওমানের ইউরােপীয় বন্ধুগণ মধ্যে অনেকের সহিত হোসেন। বিশেষ পরিচিত ছিলেন। তাঁহাদের গৃহে গিয়া হােসেন তামাসা দেখাইতেন। উক্ত বন্ধুবর্গের মুখে যেরূপ শুনিয়াছেন, তদ্রুপ প্রকাশিত ;-কোন ভারতীয় ব্যক্তির অতিরঞ্জিত কাহিনী নহে। ওমান সাহেবের ইংরাজ বন্ধুগণ তাহাকে বলেন যে, হােসেনখ। তামাস। দেখাইয়া তজ্জন্য কখন কোনপ্রকার পারিশ্রমিক বা * The Mystics, Ascetics and Saints of India.--By John (pbell Oman. প্রবন্ধের সংবাদগুলি প্রায়শঃ এই গ্রন্থ হইতে সঙ্কলিত ।
I• পারিতােষিক লইতেন না। দর্শকদের মধ্যে যে কেহ যে কোন রকম জিনিষের ফরমাশ করিতেন, টেবিলের নীচে বা দরজার পাশে হাত বাড়াইলেই তাহা উপস্থিত হইত। এই প্রকারে তাঁহারা কতবার অপৰ্যাপ্ত পরিমাণে কত দ্রব্য পাইয়াছেন ও ব্যবহার করিয়াছেন ;-বিস্কুট, কেক, চুরট, কলিকাতার বড় বড় দোকানের ছাপ-মারা নানাবিধ-মদ্যপূর্ণ বােতল, ইত্যাদি। একদা কোন সাহেবী মজলিসে পানীয় ফুরাইয়া যাওয়ায় সভাস্থ জনৈক ইংরাজ বিপচ্ছলে টিটকারি দিয়া বলিলেন, “কেন? হােসেন- খ এখনই আমাদিগকে অনায়াসে এক বােতল শাস্পেন আনাইয়া দিতে পারেন।” এতচ্ছ বণে হােসেন একটু ব্যস্ত হইয়া বারাণ্ডায় গিয়া কিঞ্চিৎ উষ্ণভাবে কোন অদৃশ্য-শক্তিকে এক বােতল শাম্পেন আনিতে হুকুম দিলেন। দুই তিনবার চীৎকারের পর আকাশ হইতে এক বােতল শাস্পেন আসিয়া তাহার বুকে আঘাত করতঃ মাটিতে পড়িয়া চুমা হইয়া গেল। তখন হােসেন বলিয়া উঠিলেন, “আমি আমার ক্ষমতা দেখাই- কিন্তু আমার আদেশ অসঙ্গত বিবেচনা করিয়া জিন অত্যন্ত লাম; কুদ্ধ হইয়াছে। ওমানের কোন ইংরাজবন্ধু একদা হােসেনখার সহিত রেলে এক গাড়িতে যাইতেছিলেন। পথিমধ্যে কোন রকম পানীয় চাওয়ায় হােসেন তাহাকে গাড়ীর জানালা দিয়া হাত বাড়াইতে বলেন ; তদ্রুপ করিবামাত্র সাহেবের হন্তে এক বােতল উৎকৃষ্ট সুরা আসিয়া পহছে। ওমান সাহেবের আর একটি ইউরোপীয় বন্ধু হােসেনের প্রক্রিয়া সম্বন্ধে বিশেষ জ্ঞানলাভেদ্দেশে তাহার সহিত খুব • ঘনিষ্টতা করিয়াছিলেন। এক দিন দুই জনে গাড়ী হাঁকাইয়া বড়বাজার দিয়া যাইতেছেন, হােসেন গাড়ী থামাইতে বলিলেন। পরে উভয়ে নামিয়া কোন রােকড়ের দোকানে গেলেন এবং হােসেন গিনি কিনিবার প্রস্তাব করিলেন। দোকানদার লােহার সিন্দুক হইতে কয়েকটী গিনি বাহির করিয়া দেখাইল। হােসেন সেগুলি একটু বিশেষ ভাবে অঙ্গুলি দ্বারা স্পর্শ করিলেন এবং দামে না বনায় লওয়া হইল না, এইরূপ প্রকাশ করিয়া ফেরত দিলেন। তৎপর দিবস আবার দুই জনে সেই দোকানে গিয়া জানিলেন, ঠিক সেই কয়টা স্বর্ণমুদ্রা তালা-চাৰীৰ ভিতর হইতে অন্তর্হিত হইয়াছে। তদবধি সাহেব ভীত হইয়া হােসেনের সঙ্গ ত্যাগ করেন। ( ২ ) লাহাের হইতে প্রচারিত ১৮৯৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে এপ্রিল তারিখের সিবিল-মিলিটারি গেজেটে প্রকাশ :- ত্রিবাঙ্কুরের রাজধানী ত্রিবান্দ্রম্ নগরে কয়েক বৎসর হইল, এক জন যােগী আসিয়া তত্ৰত্য পতীম্ নামক সরােবরতীর বটবৃক্ষমূলে আসন স্থাপিত করেন। কোথা হইতে আগমন, কোন্ জাতীয় বা কোন্ সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী, কেহ বলিতে পারে না। প্রথম অষ্টাহকাল মধ্যে তিনি দুইতিনবারমাত্র কিঞ্চিৎ দুগ্ধ ও দুই একটা রম্ভা পানাহার করেন ; ক্রমে উপবাসকাল বর্জিত হইয়া তিন চারি মাস পরে একেবারে অনশনব্ৰতাবলী হন। এই ভাবে একটা অগ্নিকুণ্ডের সম্মুখে হাত-পা গুটাইয়া তিন বৎসরকাল পড়িয়া ছিলেন। এই সুদীর্ঘ সময়ের মধ্যে একবারও উঠেন নাই, বসেন নাই, কোন কথা কহেন নাই, কাহারও দিকে তাকান নাই, এমন কি স্বয়ং রাজ্যেশ্বর সম্মুখে উপস্থিত হইয়া প্রশ্নাদি করাতেও কোন উত্তর প্রদান করেন নাই। শীত, হিম, রৌদ্র, বৃষ্টি, ধূলি, কর্দমের মধ্যে একাবস্থায় ধীর-স্থির ভাবে অবস্থান করতঃ বিলক্ষণ দ্বন্দ্ৰসহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়া অল্পদিন হইল সন্ন্যাসী তনুত্যাগ করিয়াছেন। জীবিত কালে প্রত্যহ প্রাতে ও সন্ধ্যায় সহস্র সহস্র লােক ইহাকে দণ্ডবৎ করিতে আসিত। ( ৩ ) পঞ্জাবের অন্তর্গত অমৃতসর নগর শিখদিগের প্রধানতীর্থ গুরুদ্বারার জন্য বিখ্যাত। তথায় সৰ্ব্বদ। বহুবিধ সাধু-সন্ন্যাসীর সমাগম হইয়া থাকে। ওমান সাহেব বলেন :----১৮৯৮ খৃষ্টাব্দে যখন জলন্ধর-প্রদেশে ভয়ঙ্কর প্লেগের প্রাদুর্ভাব, তখন পঞ্জাবময় একটা ঘাের বিভীষিকা উপস্থিত হয়। রােগের প্রভাবে যত না হউক সরকারী বন্দোবস্তের অত্যাচারের ভয়ে প্রজাকুল আকুল হইয়াছিল। সেই সময় অমৃতসরে একজন সাধু আসিয়া নগরের বাহিরে কোন সরােবরতীরে আসন স্থাপন করত; সৰ্বসাধারণের মধ্যে প্রকাশ করেন যে, অমৃতসরে যাহাতে প্লেগ আসিতে পারে তজ্জন্য তিনি তথায় উপস্থিত; অতএব প্রত্যহ দীন দুঃখীদিগকে পরিতােষপূৰ্ব্বক ভােজন করান হউক। যেহেতু উহাই তাহার মতে প্লেগারের হস্ত হইতে রক্ষা পাইবার প্রকৃষ্ট উপায়। তাহার উপদেশানুসারে কাৰ্য্য হইয়াছিল এবং অমৃতসরে প্লেগ প্রবেশ করিতে পারে নাই। - ( ৪ ) ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দের জুন মাসের কোন রজনীতে অমৃতসর নগরের বাজারে একজন সন্ন্যাসী দোকানে দোকানে ভিক্ষা করিয়া বেড়াইতেছিলেন। জনৈক ধনমদম ক্ষেত্ৰী * বণি- য়ার দোকানের সম্মুখে উপস্থিত হইলে তিনি অতি রুক্ষ্ম বচনে বলিলেন, “গায়ে এমন ভাল কাপড়, আবার ভিক্ষা কেন ?” অপরাধের মধ্যে কোন স্ত্রীলােক সেই দিবস সন্ন্যাসীকে একখানি নূতন বস্ত্র দান করেন; তদ্বারা তাহার অঙ্গ আবৃত ছিল। বেনি- যার কটুবাক্যে সাধু ক্ষুন্ন হইয়া নিকটস্থ ময়রার দোকান হইতে একটু আগুন আনিয়া তাহার সম্মুখে সেই গাত্ৰাৰরণখানি দগ্ধ করােন্তর প্রস্থান করিবামাত্র বেনিয়ার দোকানে হঠাৎ আগুন লাগিয়া তাহা ভস্মসাৎ হইয়া গেল এবং তৎসহ আরও কয়েক খানি দোকান-ঘর, বিস্তর সম্পত্তি ও কয়জন মানুষ নষ্ট হইল । আগুন লাগিবামাত্ৰ ক্ষেত্ৰী ভাষার চৈতন্যোদয় হয়। তখন সন্ন্যাসী- বাবাকে খুঁজিবার জন্য চারিদিকে লােক ছুটাইয়া দেন তাহাকে আর কোথাও পাওয়া গেল না। • * আমাদের মধ্যে অনেকের ধারণা, ক্ষেত্র ও ক্ষত্রিয় একই কথা। অধুনা বঙ্গদেশবাসী কোন কোন ক্ষেত্ৰী নামের পশ্চাতে বর্মণ শব্দযােগ করিতে আরম্ভও করিয়াছেন। ক্ষত্রিয় এবং রাজপুত একজাতিরই দুইটী নাম, এবং তাঁহারাই প্রকৃত প্রস্তাবে উক্ত উপাধির অধিকারী। উত্তর-পশ্চিম, অযােধ্য ও পঞ্জাব প্রদেশে ক্ষেত্রীরা ছোট বড় সকল প্রকার বৃত্তি-ব্যবসায়ে নিযুক্ত । এই হেতু ইহাদের মধ্যে উচ্চনীচ বিস্তর বিভাগ ; এক অপরের সহিত আদান প্রদান করেন না। ক্ষেত্রগণ বণিকসম্প্রদায়ভুক্ত এক সঙ্করজাতি।
দেহ আলিয়া ( ৫ ) আর এক সময় অমৃতসরের কোন পসারী বা গন্ধবণিকের দোকানে আসিয়া জনৈক সন্ন্যাসী-বাবা ! যাইতেছে, এক ছিলিম চরস ভিক্ষা দিয়া শীতল কর, বলিয়া নিবেদন জানাইলে পসারী উত্তর দেয়, “যাও, আলিয়া মর।” প্রত্যুত্তরে সন্ন্যাসী কহেন,—“আমাকে কেন ? তােমাকে অগ্নি আক্রমণ করুক।” ক্রোধভরে উক্ত কয়টী কথা উচ্চারণ করিয়াই সাধু তথা হইতে প্রস্থান করেন ; এবং তাহার অব্যবহিত পরেই পসারীর দোকানে অকস্মাৎ আগুন লাগে। পসারীর বিশ্বাস যে সন্ন্যাসীর অসন্তোষই তাহার বিপদের কারণ। সুতরাং সে অগ্নি- নির্বাপনের চেষ্টা না করিয়া তাহার অন্বেষণে দুটিল; এবং চকবাজারের জনতার মধ্যে তাঁহাকে পাইয়া পদতলে লুটাইয়া পড়িল। পসারীর নানাবিধ কাতরােক্তিতে সন্তুষ্ট হইয়া সন্ন্যাসী বলিলেন, “তােমার গৃহদাহ এখন অনিবার্য ; পরন্তু যখন তুমি স্বীয় অপরাধ বুঝিতে পারিয়া তজ্জন্য অনুতপ্ত, তখন উহা দ্বারা তােমার লাভ বৈ লােকসান হইবে না।* আশ্বস্ত চন্তে পসারী ফিরিয়া আসিয়া দেখিল, সমস্ত দগ্ধ হইয়া গিয়াছে ; অবশেষে অনুসন্ধান দ্বারা ভস্ম পাচ্ছাদিত একরাশি রৌপ্য ‘আবিষ্কৃত হওয়ায় সন্ন্যাসীর বাক্যের সার্থকতা বুঝিতে পারিল। দোকানের ৰক্কাল শিকড়-বাকড়ের সহিত দগ্ধ হইয়া এক চাই দস্তা রজতে •• পরিণত হয়। কয়েক বৎসর হইল হিমালয়প্রদেশ হইতে একজন প্রকৃত সাধুচরিত্রের সন্ত্রাসী অমৃতসরে উপস্থিত হইয়া নগরের প্রান্তে কুটীর নির্মাণ করতঃ অবস্থিতি করেন। ওমান সাহেবের পরি- চিত কোন পঞ্জাবী যুবক তাহার প্রতি আকৃষ্ট হইয়া সর্বদা তাহার সেবাতে নিযুক্ত থাকে। নিতান্ত অনুরক্ত দেখিয়া সন্ন্যাসী মধ্যে মধ্যে তাহাকে কিমিয়া প্রস্তুত রৌপ্য বিক্রয় করিতে দেন। তাহার মূল্যদ্বারা অন্যান্য দ্রব্যাদি সহ প্রত্যেকবার কিছু কিছু তাম্রমুদ্রা আনাইয়া লইতেন। একদা উক্ত যুবাভক্ত সাধুর নিকট কিমিয়া-প্রক্রিয়া ও শিক্ষা করিবার অভিলাষ প্রকাশ করায় তিনি বলেন, “ভারতে কেবল মাত্র এক ব্যক্তি আমা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ আছেন, তিনি মারাজা, আমি রাজা; তিনি রূপাকে সােণা করেন, আমি মাকে রূপা করি। পবিত্র চিত্ত পরার্থপর মানুষ ভিন্ন অপরের পক্ষে এ বিদ্যা শুভকরী নহে। তুমি উহা শিখিতে এখনও উপযুক্ত হও নাই । এ বিদ্যা লােপ পায় তাহাও বাঞ্ছনীয় ; তবু যেন অপাত্রে প্রদত্ত না হয়, ইহা আমাদের বিশেষ লক্ষ্য জানিবে।” রজনীযােগে প্রক্রিয়া হইত বলিয়া যুবাকে রাত্রিতে কুটীরের নিকট থাকিতে দেওয়া হইত ; সুতরাং সে ব্যক্তি প্রত্যহ সন্ধ্যার পর নগরে গিয়া নিশি- যাপন করিত ও প্রাতঃকালে ফিরিত। একরাত্রি সে সহরের কোন বেশ্যার কুহকে পড়ে; পরদিন যথাসময়ে কুটীরে পুনরা- গমন করিলে সন্ন্যাসী তাহাকে অপবিত্র জানিয়া নিকটে আসিতে নিষেধ করেন। অলৌকিক শক্তিদ্বয়। তিনি তার অপরাধ টের পাইয়াছেন, বুঝিতে পারিয়া যুবা স্বীয় দোষ স্বীকার করতঃ • Transmutation of metals by Alchemy.
বিশেষ কাকুতিমিনতি সহকারে বারম্বার ক্ষমা প্রার্থনা করাতে সন্ন্যাসী উত্যক্ত হইয়া কুটীরে অগ্নিপ্রদান করতঃ হিমালয়ের দিকে অগ্রসর হয়েন। যুবাও তাহার পশ্চাতে ছুটিতে থাকে ; কিছুদূর গেলে তিনি তাহাকে পশ্চাদ্ধাবমান দেখিয়া রােষকষা য়িতলােচনে সুদীর্ঘ লৌহচিটা উত্তােলন করতঃ তাড়া করেন। কাজেই যুবা বেচারী প্রতিনিবৃত্ত হইতে বাধ্য হয়। সন্ন্যাসীবে আর কখন অমৃতসরে দেখা যায় নাই। ( ৭ ) ন্যূনাধিক পঁয়ত্রিশ বৎসর হইল, ভারতের কোন স্থানে একটা নুতন ছাউনী ! বসিতেছিল। পল্টনের স্মচারিগণ অর্থাৎ কাপ্তেন, কর্ণেল প্রভৃতি আপনাপন বাংলা নিৰ্মাণ জন্য সরকার হইতে অর্থ সাহায্য প্রাপ্ত হন। তিনি জন অফিসর * তাদের বাসােপযােগী গৃহের জন্য একটি স্থান নির্দেশ করেন। গৃহারম্ভের পূৰ্বে জনৈক চীনাচ্ছাদিত মলিনকায় ফকির তাহ- দের নিকট আসিয়া বারম্বার সবিনয় প্রার্থনা করে যে, উক্ত পবিত্র ভূমিখও পরিত্যাগ করিয়া তাহাদের অন্যত্র গেল ভাল হয়। ইংরাজ সৈনিক পুরুষেরা তাহার কথা “অসঙ্গত-কুসংস্কার বলিয়া হাসিয়া উড়াইয়া দেন। তখন ফকির-বেচারী অত্যন্ত উত্তেজিত ও রুষ্ট হইয়া সাহেবকে শাপ দেয় যে, তাহারা প্রত্যেকে অপমৃত্যুতে নিধনপ্রাপ্ত হইবেন এবং তাহাদের বাংলা বিনষ্ট হইবে। * “Natures im: steries''-by 4, P. Sinnet হইতে গৃহীত + Military Cantonment. * Officer wo উনবিংশ শতাব্দীর উলালােক প্রাপ্ত শ্বেতাঙ্গপুরুষেরা এরূপ বাতুলের অভিসম্পাত একদম্-হুট করিতে বাধা, সুতরাং নিরুদ্বেগে বাংলা নির্মিত হইল। পরন্তু অত্যল্পকলমধ্যে আফিসরদের এক জন পােলা-খেলায় * ঘােড়া হইতে পড়ি। পঞ্চত্ব প্রাপ্ত হইলেন। দ্বিতীয় ব্যক্তিও তাহার কিছুদিন পরে ঐ প্রকারে ঘোড়া হইতে পড়িয়া মারা যান এবম্বি দুর্ঘটনা iরা চত্ত ণিচলিত হওয়ায় তৃতীয় ব্যক্তি ছুটি লইয়া বিলাত যাত্রা করেন। বিদায়কাল ফুরাইলে তিনি ভারতে প্রত্যা- গমনার নৌকাডুবিতে গঙ্গাগর্ভে সমাহিত হন। বজাতে দুই ‘ন সাহেব ছিলেন, তন্মধ্যে ইনি বিলক্ষণ সঞ্চরণপটু থাকা সত্ত্বেও প্রা 'রাইলেন; অপর ব্যক্তি সাঁতার মোটেই জানিতেন না বলিলেও চলে, অথচ তিনি রক্ষা পাইলেন। অবশেষে পরবর্তী বর্ষাকালে ভয়ানক বা আসিয়া ভাগীরথীতীরস্থ বাংলাটা জাহ্নবীজলে ভাসিয়া গেল। ফকিরের কথ সম্পূর্ণ হইল ।। * * Polo + এসব ত গেল গ্রন্থগত সম্বাদ :---বৰ্তমান সময়ে কলিকাতা মহানগরীতে : এমন এক শ্রেণীর লােক আছেন, যাঁহারা অতীন্দ্রিয় শক্তিসহকারে বহুতর অদ্ভুত সেবাসাহায্যের কাৰ্য্য দ্বারা দূরস্থ নিকটস্থ দুস্থ বিপন্ন ব্যক্তিগণের মহোপকার সাধন করিতেছেন ; অথচ কেহ তাহাদিগকে জানে না, চিনে না, তাহাদের কোন প্রকার খোঁজ খবরও রাখে না। একজন বাঙ্গালী যুবাকে আমরা জানি, যিনি সস্ত্রীক মাসে চারি টাকা মাত্র ব্যয়ে দৈনিক-আহারের কাব্য সমাধা করেন ; পরন্তু তাহাকে সময়ে সময়ে এক থােকে পাঁচ সাত হাজার টাকা দিয়া সঙ্কটাপন্ন লােককে উদ্ধার করতে দেখা গিয়াছে। ইহার পরার্থপরত। ও পরদুঃখ কাতরতার নিকট স্বর্গীয় বিদ্যাসাগর মহাশয়ও পরাস্ত বলিয়া মনে :
পy• উপসংহারে এইমাত্র বক্তব্য যে, আধুনিক ইউরােপীয় বৈজ্ঞানিকগণ যাহা স্বীকার করিতে এপর্যন্ত প্রস্তুত হয়েন নাই, তাহা আমরা অসম্ভব অস্বাভাবিক বলিয়া উড়াইয়া দিয়া থাকি । আমাদের পরবংশীয়েরা যখন ঐ সকল ব্যাপার প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধ নয় বলিয়া গ্রাহ করিবেন, তখন তাঁহার আমাদের বুদ্ধির তারিফ না করিয়া থাকিতে পারিবেন না; যেমন আমরা এখন আমাদের পূর্বগতদিগের সম্বন্ধে প্রকাশ করিয়া থাকি। অসাধারণধীশক্তিসম্পন্ন নিউটন যখন বাষ্পীয়- শক্তি দ্বারা শকটাদি পরিচালনের আভাস দিয়াছিলেন, তখন ফরাসী পণ্ডিত সুপ্রসিদ্ধ বল্টের উহা অনৈসর্গিক, সুতরাং বিজ্ঞানবিরুদ্ধ বলিয়া নিউটনের কথার অযৌক্তিকতা ব্যক করিতে সমূহ প্রয়াস পাইয়াছিলেন । তজ্জন্য আমরা আজ বটেয়ারকে যেরূপ বাহবা দিয়া থাকি, কালে আমরাও সেইরূপ বাহবা পাইব সন্দেহ নাই। যাহা হউক, মানুষের বিদ্যাবুদ্ধি ক্ষমতা এখনও কতদূর বাড়িতে পারে, সে সম্বন্ধে বিংশ শতাব্দীর প্রধান বৈজ্ঞানিক টেস্ কি বলিতেছেন,-পাঠক বর্গের গােচরার্থ তাহ নিয়ে উদ্ধত হইল :- । : •• হয়। এই শিক্সিযুবক যাহা কিছু উপার্জন করেন, স্ত্রীপুরুষ দু'জনের সামান্য খরচ বাদে সমস্তই পরদুঃখদুরীকরণ জন্য ব্যয়িত হইয়া থাকে। জাপানী- বুজের সময় তাহার গুরু স্কুলদেহ এখানে রাখিয়া জাপানীদের সাহায্য দেহে প্রায়ই জাপান গমন করিতেন। এই সকল মহাত্মা অতি গােপনে কাজ করিয়া চলিয়া যান ; নিজেদের নাম বা কার্যাবলী কিছুতেই সাধারণের সমক্ষে প্রকাশিত হইতে দেন না। ধন্য ইহাদের মহিমা ॥
helo
According to the adopted theory, first
formulated by Lord Kelvin, all matter is composed
of a primary substance of inconceivable tenuity,
vaguely designated by the word “Ether." The atom
of an elementary body is differentiated from the
rest of this substance, which fills all space, merely
by movement, as a small whirl of water in a calm
lake.
All matter, then, is merely whirling ether, By
being set in movement, ether becomes matter
perceptible to our senses, the movement arrested,
the primary substance reverts to its normal state
and becomes imperceptible. This theory of the
constitution of matter is not merely a beautiful
conception, which in its essence is contained in
the old philosoply of the Vedas, but a physical
truth ; then if ether-whirl or atom be shattered by
impact or slowed down or arrested by cold any
material, whatever it be, would vanish into seeming
nothingness and conversely, if the ether be set in
movement by some force, matter would again
form. Thus, by the help of a refrigerating machine
or other means for arresting ether movement, and
an electrical or other force of great intensity for
forming ether whirls, it appears possible for man to
annihilate or to create at his will all we are able to
perceive by our tactile sense.”-Nicola Tesla.
তাৎপৰ্য্য এই যে, লর্ড কেলবিনপ্রমুখ বৈজ্ঞানিক পণ্ডিতগণের
মতে সমুদয় জড় বস্তু ইথার নামক পদার্থের (আকাশের)
রূপান্তরমাত্র। ঐ ইথারকে জড়ে পরিণত করিতে গেলে
তাহাকে অনবরত পাক খাওয়াইয়া রাখিতে হয়। সেই পাক
আবার বন্ধ করিতে পারিলে, যখন সম্পূর্ণ এলাইয়া পড়ে, জড়ের
আকৃতি বিলুপ্ত হইয়া যায়। টেসল স্বীকার করেন যে, জড়-
পদার্থ সম্বন্ধে এই মত আমাদের প্রাচীন বৈদিক শাস্ত্রে ও প্রছ।
রিত। উপরােক্ত সত্য অবলম্বন করিয়া উত্ত:প এ - - * 3.
ইথারকে পাক খাওয়াইবার এবং সেই পাক ব: রবা ' •",
করিতে পারিলে জড় বস্তুর সৃষ্টি ও নাশ সম্পানি : " .
এবম্বিধ প্রক্রিয়ার জন্য টো যন্ত্রাদির প্রায় ২ .
পরন্তু মানবের প্রবল ইচ্ছাশক্তির দ্বারা তা ন * *
চেষ্টায় সম্ভব।
পূৰ্বোল্লিখিত ঘটনা ও অদৃশ্য শক্ত্যাদি। এ
ব্যাপার সমূহের বর্ণনাকালে মহাত্মা সিনেট সাক * :
খানি গ্রন্থে বলিয়াছেন যে, স্থূলবুদ্ধি সাধার : ক. ..
কথা শুনিলে “কি আশ্চর্য্য!*--“কি কাকতালী ৮২ :
বলিয়া বিস্ময় প্রকাশ করতঃ ক্ষান্ত হইয়া থাকে ; 'এ'
ভাবেন না যে, বিনা কারণে অকস্মাৎ এরূপ সgs : - :
হওয়া অসম্ভব। বিশেষ যখন দেখা যায়, সংসার ও
ঘটনাবলী সৰ্ব্বদাই ঘটিয়াছে ও ঘটিতেছে।
* The thick-headed common place persons
curions!" "What an odd coincidance !" Nevestigista
to calculate the millions to one that stand semist.
bility that any such coincidences can be mine
the gross absurdity of supposing them duet baner
they are multiplied in number.-Nature's Myeteries.
A. P. Sinnet.
No text on this page.
No text on this page.