Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Chotoder-chayonika

Basu ,sunirmal Ed. · 2009/12/16

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

জ্জোউজের
চিয়ালা,
• •
সাদক
শ্ৰগরিকুমায়
সান ৫৭
ন্থাগার
1
স: ৬। M.
১লা আনি
\\\\; &
.
অ'শow

প্রকাশক-শ্ৰীসুবােধচন্দ্র মজুমদার
দেব সাহিত্য-কুটীর
২২৫ বি, ঝামাপুকুর লেন, কলিকাতা।
চিত্র-সম্পাদক—পূর্ণচন্দ্র চক্রবর্ত্ত
[ দাম দেড় টাকা ]
প্রিন্টার-ঐশশধর ভট্টাচার্য।
মাসপয়লা প্রেস
১৯১ ঝামাপুকুর লেন, কলিকাতা

ছেদের জন্যে বাঙলা ভাষায় যে সব কবিতা লেখা হয়েছে, খুব চমৎকার করে তার একটি সংগ্রহ বের করবার আবশ্যকতা বােধ হওয়ার ফলে ‘ছােটদের চয়নিকা’র প্রকাশ। এ বিষয়ের কল্পনা ও তৎপরতার সহিত মুদ্রণের জন্য আমরা দেব- সাহিত্য-কুটীরের শ্রীযুক্ত সুবােধচন্দ্র মজুমদার ও ‘মাসপয়লা’-সম্পাদক শিশু-সাহিত্যের কৃতী-লেখক শ্রীযুক্ত ক্ষিতীশচন্দ্র ভট্টাচার্যের কাছে ঋণী। তাদের আগ্রহে ও আন্তরিক চেষ্টাতেই এমন একটি বইয়ের প্রচার সম্ভব হয়েছে। যশস্বী শিল্পী শ্ৰীযুক্ত পূর্ণচন্দ্র চক্রবর্ত্তীর উপর বইয়ের চিত্র- সম্পাদনের ভার ছিল। সে কাজ তিনি তাঁর খ্যাতির অনুরূপ করেই করেছেন। ‘মৌচাক থেকে অনেকগুলি কবিতা তার সম্পাদক শ্রীযুক্ত সুধীরচন্দ্র সরকার আমাদের নিতে দিয়েছেন। অনেক দিক দিয়ে বহু সাহায্য এরা আমাদের করেছেন—এদের সকলের কাছেই আমরা হৃদয়ের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিশ্ববরেণ্য কবীন্দ্র রবীন্দ্রনাথ থেকে শ্রীমতী মৃণালিনী গুপ্তা পর্যন্ত শ্রেষ্ঠতম ও কনিষ্ঠতম যিনিই ছােটো ছেলেমেয়েদের জন্যে কবিতা লিখেছেন, তাদের লেখা থেকে ছােটোদের চয়নিকা সংগৃহীত হয়েছে। এদের কাছে আমাদের ঋণ অসীম। চয়নের দোষ-গুণের জন্যে নিন্দা প্রশংসা আমাদেরই প্রাপ্য। বইটির সঙ্কলন ও মুদ্রণ অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এবার শেষ করতে হয়েছে। সুতরাং এতে অনেক ত্রুটিই যে পাকা সম্ভব তা আমাদের অগোচর নেই। এটি আমাদের প্রথম উদ্যম ব’লে পাঠক পাঠিকারা দোষ-ক্রটিগুলিকে যেন সহানুভূতির চোখে দেখেন, এই আমাদের একান্ত প্রার্থনা। ‘ছােটদের চয়নিকা’র পরের সংস্করণ সুন্দরতর ও মনােজ্ঞতর হবে, আমরা কথা দিলুম। কলিকাতা এগিরিজাকুমার বসু সুনির্মল বসু। ১লা অশ্বিন, ১৩৩৮

No text on this page.

প্রকাশকের কথা শরতের পুণ্য-প্রভাতে বাঙলাদেশের খােকা-খুকুদের হাতে ‘ছােটদের চয়নিকা তুলে দেবার গৌরব যাদের অক্লান্ত চেষ্টায় লাভ করা সম্ভব হয়েছে তাদের বিষয়ে দু-চারটি কথা বলবাে। সে আজ মাত্র ক-দিনের কথা- শিশু-সাহিত্যের রূপকার ‘মাস-পয়লা’-সম্পাদক সুহৃদ্ধর সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত ক্ষিতীশচন্দ্র ভট্টাচাৰ্য আমাদের শিশু-সাহিত্যের মজলিশে বসে এই শ্রেণীর একখানি পুস্তক-প্রকাশের প্রসঙ্গ তোেলন। শিশু-সাহিত্যের যাদুকর-কবি সতীর্থ শ্রীযুক্ত সুনির্মল বসু সেই আসরেই উপস্থিত ছিলেন। তিনি তখনি তার নামকরণ করে তার সঙ্কলনের ভার গ্রহণ করেন। এই কল্পনার পরিপুষ্টি হয় খ্যাতনামা শিল্পী শ্ৰীযুক্ত প্রতুল বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্ৰীযুক্ত ফণীভূষণ গুপ্ত ও শ্রীযুক্ত পূর্ণচন্দ্র চক্রবর্তী বন্ধুগণের সহায়তায় । আমাদের অত্যাচারে শতকাজ ফেলিয়াও পূর্ণবাবু তার চিত্র-সম্পাদনের ভার নিতে বাধ্য হন। এদের তিনজনের অক্লান্ত চেষ্টায় মাত্র ক’দিনের মধ্যে পুস্তকের বর্তমান রূপ দেওয়া সম্ভবপর হয়েছে । পরম শ্রদ্ধাস্পদ কবি শ্রীযুক্ত গিরিজাকুমার বসু মহাশয় আমাদের আব্দার উপেক্ষা করতে না পেরে সুনির্মলবাবুর সহকারিতায় এর সম্পাদন ভার গ্রহণ করে আমাদের চিরকৃতজ্ঞতা পাশে বদ্ধ করেছেন। পূজার পূৰ্ব্বে পুস্তক প্রকাশ আমাদের অভিপ্রায় জেনে এর সম্পাদন কাৰ্য মাত্র ক'দিনের মধ্যে শেষ করতে গিয়ে তাঁকে দিন-রাত যে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে সে ঋণ অপরিশােধনীয় । ‘মৌচাক’-সম্পাদক অগ্রজ-প্রতিম শ্রীযুক্ত সুধীরচন্দ্র সরকার মহাশয়ের কাছে এ-ব্যাপারে আমরা অযাচিতভাবে যে সাহায্য পেয়েছি সে কথা চিরদিন মনে থাকবে।

ন্যাশন্যাল হাফটোন কোম্পানীর স্বত্বাধিকারী শ্ৰীযুক্ত বিরাজমােহন সেনগুপ্ত মাত্র ক’দিনের ভিতর এর সব ব্লক প্রস্তুত করে এবং ‘মাস-পয়লা’-প্রেসের স্বত্বাধিকারী ক্ষিতীশবাবু অসুস্থ শরীর নিয়েও মাত্র সাত দিনের মধ্যে এর মুদ্রণকার্য সম্পন্ন করে ও শ্রীযুক্ত নির্মলকুমার বসু পুস্তকখানির প্রফ-সংশােধনের ভার নিয়ে পূজার পূৰ্ব্বে পুস্তক প্রকাশের সহায়তা করে আমাদের ধন্যবাদাহঁ হয়েছেন। কলিকাতা শ্রীসুবােধচন্দ্র মজুমদার ১লা আশ্বিন, ১৩৩৮ শুদীপত্র শ্ৰীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১। প্রথম পাতায় ২। ছােট নদী ৫ ৩। তাল গাছ ৭ ত ৪। শরৎ ৯ ১১ ৫। বাবা বুঝি এল ৬। কত ভালবাসি ৭। প্রজাপতি ১৩ ১৪ ৮। খেলা ১৬ ৯। বর্ষার ধুম ১৮ ২৫ গিরীন্দ্রমােহিনী দাসী শ্ৰীযুক্তা কামিনী রায় শ্ৰীযুক্ত যােগীন্দ্রনাথ সরকার শ্ৰীযুক্ত প্রিয়ম্বদা দেবী চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় শ্ৰীযুক্ত যতীন্দ্রমােহন বাগচী শ্ৰীযুক্ত গিরিজাকুমার বসু যুক্ত কুমুদরঞ্জন মল্লিক সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত শ্ৰীযুক্ত হেমেন্দ্রকুমার রায় শ্ৰীযুক্ত নরেন্দ্র দেব শ্ৰীযুক্ত কিরণধন চট্টোপাধ্যায় শ্ৰীযুক্ত কালিদাস রায় যুক্ত মােহিতলাল মজুমদার শ্ৰীযুক্তা তমাললতা বসু শ্ৰীযুক্ত যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচাৰ্য্য কাজী নজরুল ইসলাম २१ ১০। কাজলা দিদি ১১। মিনতি ১২। ছুটি ১৩। ইশে গুড়ি ১৪। দুপুরে ১৫। পথের মাঝে ১৬। পূজোর ফরমাস ১৭। শরতে ১৮। শিউলীর বিয়ে ১৯। মহাত্মা ২০। ফুলপরীর গল্প ২১। প্রভাতী ১৩ ৩৫ ৩৭ ৪০ ৪৫ ৪৬ ৪৯ • ৫২ ৪ ২২। উপদেশ শ্ৰীযুক্ত হেমেন্দ্রলাল রায় ২৩। একটি মাণিক শ্ৰীযুক্ত প্যারীমােহন সেনগুপ্ত ২৪। ঘুম-পরীদের গান শ্ৰীযুক্ত রাধারাণী দেবী ২৫। তরুণের পণ গােলাম মােস্তাফা ২৬। কুটীর শ্ৰীযুক্ত অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত ২৭। পালের নাও জসীম উদ্দীন ২৮। খােকার চোখের জল শ্ৰীযুক্ত কৃষ্ণদয়াল বসু ২৯। আলাের মৌচাক শ্ৰীযুক্ত সুনির্মল বসু ৩০। এগিয়ে চলার গান বন্দে আলী মিয়া ৩১। দোপাটী শ্ৰীযুক্ত বিভাসচন্দ্র রায় চৌধুরী ৩২। রাখাল ছেলের বাশী যুক্ত ফটিক বন্দ্যোপাধ্যায় শ্ৰীযুক্ত মুরারিমােহন সেন ৩৪। ফুল ফোটা উমা দেবী যুক্তা মৃণালিনী গুপ্তা হাসি ૧૨ ৮০ ৮১ ন ৯৭ ১। ঠাণ্ডার গল্প ২। রামসুক তেওয়ারী ৩। জোড়া-হাস ৪। গােফ চুরি ৫। মগজের মৌচাকে শান্ত ছেলে ৭। পাঁচ মিনিটের কর্তা ৮। খাঁদু দাদু ৯। কানামাছি ১০। হিসার্বী ৯ শ্ৰীযুক্ত গিরিজাকুমার বসু ৮৭ শ্ৰীযুক্ত কুমুদরঞ্জন মল্লিক শ্ৰীযুক্ত সৌরীন্দ্রমােহন মুখােপাধ্যায় ৯২ সুকুমার রায় মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় শ্ৰীযুক্ত হেমেন্দ্রকুমার রায় শ্ৰীযুক্ত কালিদাস রায় ১০২ কাজী নজরুল ইসলাম শ্ৰীযুক্ত রামেন্দু দত্ত শ্ৰীযুক্ত সুবিনয় রায় ১১১ শ্রীযুক্ত সতীন্দ্রমােহন চট্টোপাধ্যায় ১১৪ যুক্ত হরিপ্রসন্ন দাশগুপ্ত শ্ৰীযুক্ত অখিল নিয়ােগ ১১৯ শ্ৰীযুক্ত সুনির্মল বসু ১২১ ১০৮ ১১। দেবের ভর ১২। ছাতু খাের C ১১৭ ১৩। খেলার খেসারৎ ১৪। সামিয়ানা

১। ছােট নদী
২। কত ভালবাসি
৩। কাজলা দিদি
৪। ইলশে গুঁড়ি
শ্ৰীযুক্ত পূর্ণচন্দ্র ঘােষ
শ্ৰীযুক্ত ফণীভূষণ গুপ্ত
শ্ৰীযুক্ত প্রতুলচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
শ্ৰীযুক্ত সুবলচন্দ্র পাল
৫। শরতে
শ্ৰীযুক্ত পূর্ণচন্দ্র চক্রবর্তী
৬। ফুল পরী
৭। কুটীর
৮। বর্ষার ধুম
৯। মিনতি
শ্ৰীযুক্ত বলাইবন্ধু রায়
শ্ৰীযুক্ত সুবলচন্দ্র পাল
শ্ৰীযুক্ত সমর দে
শ্ৰীযুক্ত বলাইবন্ধু রায়
শ্ৰীযুক্ত প্রতুলচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
শ্ৰীযুক্ত পূর্ণচন্দ্র চক্রবর্তী
১০। পালের নাও
১১। আলাের মৌচাক
১২। দোপাটী

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

न
JA
re
-
O
meipA
--
4-4
JNRBAR
MPBSE
CH
me
INER
-

No text on this page.

lific ছােটদের চয়নিকা

No text on this page.

No text on this page.

р арас

No text on this page.

প্রথম পাতায়
লিখতে যখন বলল আমায়
তােমার খাতার প্রথম পাতে
তখন জানি কঁাচা কলম
নাবে আজো আমার হাতে।
সেই কলমে আছে লেগে
ভাদ্র মাসের কাশের হাসি।
সেই কলমে বৈকালীতে
লুকিয়ে বাজে ভােরের বাঁশী ।
সেই কলমে দোয়েল শ্যামা
শিস দিয়ে তার বেড়ায় উড়ি’
পারুল দিদির বাসায় সেথা
কনক চাপার কচি কুঁড়ি।
ছােটদের চয়নিকা

প্রথম পাতায়
যুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খেলার পুতুল আজো আছে
সেই কলমের খেলা ঘরে ;
সেই কলমে পথ একে দেয়
পথহারা কোন্ তেপান্তরে।
নতুন চিকন অশথ, পাতা
সেই কলমে আপনি নাচে-
সেই কলমে বাঁধা পড়ে
তােমার বয়স আমার আছে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
।
ছােটদের চয়নিকা

ছােট নদী
আমাদের ছােটনদী চলে বাঁকে বাঁকে,
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।
পার হয়ে যায় গােরু, পার হয় গাড়ী,
দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।
চিক চিক করে বালি, কোথা নাই কাদা,
একধারে কাশ বন ফুলে ফুলে শাদা।
কিচিমিচি করে সেথা শালিখের ঝাঁক,
রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হক।
আর-পারে আমবন তালবন চলে,
গাঁয়ের বামুন পাড়া তারি ছায়া তলে।
তীরে তীরে ছেলেমেয়ে নাহিবার কালে
গামছায় জল ভরি’ গায়ে তারা ঢালে।
সকালে বিকালে কভু নাওয়া হলে পরে
আঁচলে ছাঁকিয়া তারা ছােট মাছ ধরে।
",
ছােটদের চয়নিকা

ছােট নদী
শ্ৰীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বালি দিয়ে মাজে থালা, ঘটিগুলি মাজে,
বধূরা কাপড় কেচে যায় গৃহকাজে।
আষাঢ়ে বাদল নামে, নদী ভর-ভর,
মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা খরতর।
মহাবেগে কলকল কোলাহল ওঠে,
ঘােলাজলে পাকগুলি ঘুরে ঘুরে’ ছােটে।
দুই কূলে বনে বনে পড়ে যায় সাড়া
বরষার উৎসবে জেগে ওঠে পাড়া।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
+
ছােটদের চয়নিকা

তাল গাছ
তাল গাছ
মনে সাধ,
এক পায় দাড়িয়ে
সব গাছ ছাড়িয়ে
উকি মারে আকাশে,
কালোমেঘ ফুঁড়ে যায়,
একেবারে উড়ে যায়,
কোথা পাবে পাখা সে,
ঠিক তার মাথাতে
গােল গোল পাতাতে
ইচ্ছাটি মেলে ৩
ভাবে বুঝি ডানা এই
উড়ে যেতে মানা নেই
বাসাখানি ফেলে’ তার।
তাইত সে
মনে মনে
সারাদিন
ঝর ঝর হার
কাঁপে পাতা-পত্তর,
ওড়ে যেন ভাবে ও,
আকাশেতে বেড়িয়ে
তারাদের এড়িয়ে
যেন কোথা যাবে ও।
মনে মনে
ছােটদের চয়নিকা

তাল গাছ
শ্ৰীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তারপরে হাওয়া যেই নেমে যায়,
পাতা-কাপা থেমে যায়,
ফেরে তার মনটী
যেই ভাবে, মা যে হয় মাটি তার
ভালাে লাগে আরবার
পৃথিবীর কোণটি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
র চয়নিকা

১
শরৎ
এসেছে শরৎ, হিমের পরশ
লেগেচে হাওয়ার পরে,
সকাল বেলায় ঘাসের আগায়
শিশিরের রেখা ধরে।
আমলকি-বন কাপে—যেন তার
করে দুরু
পেয়েচে খবর, পাতা-খসানাের
সময় হয়েচে শুরু।
শিউলির ডালে কুঁড়ি ভ’রে এলাে
টগর ফুটিল মেলা,
মালতীলতায় খোঁজ নিয়ে যায়
মৌমাছি দুইবেলা।
ছােটদের চয়নিকা

শরৎ
শ্ৰীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গগনে গগনে বরষণ-শেষে
মেঘেরা পেয়েচে ছাড়া,
বাতাসে বাতাসে ফেরে ভেসে ভেসে
নাই কোনাে কাজে তাড়া।
দীঘি ভরা জল করে চল-চল,
নানা ফুল ধারে ধারে,
কচি ধানগাছে ক্ষেত ভরে আছে-
হাওয়া দোলা দেয় তারে।
যেদিকে তাকাই—সােনার আলােয়
দেখি-যে ছুটির ছবি,
পূজার ফুলের বনে ওঠে ওই
পূজার দিনের রবি।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ছােটদের চয়নিকা

•
T
বাবা বুঝি এল
পূজার ছুটি
পাঠশালাটি
ঘুমিয়ে আছে পড়ে,
চড়াই কেবল
এধার ওধার ওড়ে।
গুটি কতক
চল্ সবে ভাই
বাগানে যাই
মধুর সকাল বেলা
পতিার নাকে
ঝুলছে শিশির
‘রাণীর” নােলক দোলা ;
দেখ, ভাই দেখ,
গেছে ছেয়ে
শিউলি গাছের মূল।
দয়া করে
গাছটি মােদের
ঢেলে দেছে ফুল।
ছােটদের চয়নিকা

বাবা বুঝি এল
গিরীন্দ্রমােহিনী দাসী
ফুল নে গেলে হাসবে ‘রাণী’
দেববা আঁচল ভরে’-
সারা দিন সে গাঁথবে মালা
বোঁটা গুলি ধরে।
কিসের আওয়াজ কিসের আওয়াজ
রেলের উপর চল—
পূজার ছুটি
এই গাড়ীতে
বাবা বুবি এলাে
-গিরীন্দ্রমােহিনী দাসী
ছােটদের চয়নিকা
ઝર

কত ভালবাসি
জড়ায়ে মায়ের গলা শিশু কহে আসি ;
“মা, তােমারে কত ভালবাসি!”
“কত ভালবাস ধন?” জননী সুধায়।
এ—ত।” বলি দুই হাত প্রসারি’ দেখায়।
“তুমি মা আমারে ভালবাস কতখানি?”
মা বলেন “মাপ তার আমি নাহি জানি।”
“তবু কতখানি, বল।”
“যত খানি ধরে
তােমার মায়ের বুকে।”
নহে তার পরে ?”
“তার বাড়া ভালবাসা পারিনা বাসিতে।”
“আমি পারি।” বলে শিশু হাসিতে হাসিতে।
কামিনী রায়
ছােটদের চয়নিকা
৩

প্রজাপতি
ফুলের দলে প্রজাপতি,
হাসির পরে হাসি !
এমন শোভা দেখতে আমি
বড়ই ভালোবাসি ।
উড়ে উড়ে কেমন তারা
বেড়ায় নেচে নেচে ;
ইন্দ্রধনু দিয়ে পাখা
জনি, কে এঁকেছে ?
যার দয়াতে গোলাপ ফোটে
লোহিত বরণ মাখা,
যার দয়াতে হাসির ছটায়
শিশুর আনন ঢাকা,
ছােটদের চয়নিকা
১৭

No text on this page.

Chorupta-

No text on this page.

প্রজাপতি
শ্ৰীযুক্ত যােগীন্দ্রনাথ সরকার
রবি-শশী ফুটিয়ে জগৎ
আলাে করেন যিনি,
প্রজাপতির পাখায় হেন
সাজ দিয়াছেন তিনি।
যােগীন্দ্রনাথ সরকার
ছােটদের চয়নিকা
১৫

/
খেলা
ছেলেদের ছুটোছুটি তট বালুকায়।
হেসে খায় লুটোপুটি; কি কথা রটায় ?
ছায়াছবি নেচে ফিরে আলাে সাথী সনে,
নীল-পায়রার বাঁক ভােরের গগনে।
তারাদল ঘরে ফেরা পাখী
একসাথে ওঠে সবে ডাকি
সাঁঝের বেলায়।
লুকোচুরি খেলে ফিরে ফিরে
চঁাদ যে রবিরে ঘিরে ঘিরে,
আকাশের গাছের তলায়
ছোটদের চয়নিকা

খেলা
শ্ৰীযুক্ত প্রিয়ম্বদা দেবী
এক খেলা চিরদিন ছেলেদের মত ;
নাচনের সুর ‘াদ তেমনি নিয়ত।
এ নিখিলে দেখি বারে বারে,
গগনে ভুবনে পারাবারে,
সকল মেলায়
সেই সে পাতার বাঁশী বাজে,
তেমনি খেলনা সারি রাজে
নীল নভে সাগর বেলায় ।
খােলা মাঠে বন ছায়ে তটিনীর তীরে
নাগরদোলায় কে যে দোলে ফিরে ফিরে ।
—প্রিয়ম্বদা দেবী।
ছােটদের চয়নিকা
১৭

w
বর্ষার ধুম
বর্ষা এসে
বাংলা দেশে
লাগিয়ে দিলে ধুম,
পূবে হাওয়া ছুটছে বেগে,
আকাশ ঢাকা কালাে মেঘে,
মেঘের কোলে চিকুর দোলে
শব্দ গুড়ুম গুম’।
বৃষ্টি ধারা
মেঘেরা সব হাওয়ায় চড়ে
একটু একটু যাচ্ছে সরে,
ছড়ায় তার
ভিজায় ধরার বুক ;
ছােটদের চ নিকা
১৮

বর্ষার ধুম
চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
জল বেধেছে পথে ঘাটে,
খালে, বিলে, ধানের মাঠে,
ব্যাঙেরা সব
করতেছে রব
ফুলিয়ে গলা মুখ!
লাঙ্গল কঁাধে টোকা মাথায়
তাড়িয়ে গরু চাষারা যায়,
ধানের ক্ষেতে
লাঙ্গল দিতে
ফুর্তি ভরা মন,
আউস ধান আর পাটের চারা
বায়ুর সঙ্গে নাচছে তার
ক্ষেতে ক্ষেতে
উঠছে মেতে
আখ, আইরী, শন।
নদ নদীতে নেমেছে ঢল,
খালে বিলে বেড়েছে জল,
উজান জলে
ছুটে চলে
কত মাছের দল ;
লাফায় কত ট্যাংরা পুঁটি,
কৈ মাগুরের লুটোপুটি,
কতই চেলা
করছে খেলা
নাড়ছে ঘাটের জল।
ছোটদের চয়নিকা

বর্ষার ধুম
চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
কৰ্ম্মী ঘত
সাজল ধরা নূতন সাজে
লিপ্ত সবাই আপন কাজে,
কৰ্ম্মে রত
দিচ্ছে অলস ঘুম ;
বাংলা দেশে
বর্ষা এসে
লাগিয়ে দিলে ধুম।
-চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
Dr.
১
top
***
:: * 3,
।• ,
»
ছােটদের চয়নিকা
২০

স
কাজলা দিদি
বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
মাগো আমার শােলক-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে লেবুর তলে,
থােকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা একলা জেগে রই
মাগাে আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?
সেদিন হতে কেন মা আর দিদিরে না ডাকো ;
দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো?
খাবার খেতে আমি যখন
দিদি বলে ডাকি তখন,
ও-ঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো ?
আমি ডাকি, তুমি কেন চুপটি করে থাকো?
ছােটদের চয়নিকা
২১
।

কাজলা দিদি
শ্ৰীযুক্ত যতীন্দ্রমােহন বাগচী
ব মা দিদি কোথায় গেছে,আবে আবার কবে?
কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল বিয়ে হবে !
দিদির মত ফাঁকী দিয়ে
আমিও যদি লুকাই গিয়ে
তুমি তখন একলা ঘরে কেমন করে’ রবে ?
আমিও নাই—দিদিও নাই-কেমন মজা হবে ।
ভূই চাপাতে ভরে গেছে শিউলী গাছের তল,
মাড়াস্ নে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল ।
ডালিম গাছের ফাঁকে ফাঁকে
বুলবুলিটা লুকিয়ে থাকে,
উড়িয়ে তুমি দিওনা মা, ছিড়তে গিয়ে ফল,
দিদি যখন শুনবে এসে বলবি কি মা বল্।
বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
এমন সময় মাগো আমার কাজলা দিদি কই?
লেবুর তলে পুকুর পাড়ে
ঝিঝি ডাকে ঝোপে ঝাড়ে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা, তাইতে জেগে রই,
রাত্রি হােল মাগো, আমার কাজলা দিদি কই ?
-যতীন্দ্রমােহন বাগচী
ছােটদের চয়নিকা
২২

=
মিনতি
সাড়ে তিন বছরের মেয়ে,
কোমল করিয়া গড়া,
কচি ঘাসে ঝরে পড়া
শিশিরের চেয়ে।
রজাত কলি, সুধাভরা,
যেন মানবের দেহে
এল বসুধার গেহে
ছাড়িয়া অমরা।
ঢেউ যেন নেচে ধেয়ে চলে,
চোখে মুখে বুকে তার
খুসী যেন বিধাতার
কিরণে উছলে ।
ছােটদের চয়নিকা
২৩

মিনতি
শ্ৰীযুক্ত গিরিজাকুমার বসু
আঁধারের যেন দীপ-শিখা,
নিশায় চাদের রেখা,
উষার গগনে লেখা
অরুণের টিকা।
দেবতার পূজার মালিকা,
সােহাগের ডােরে রাখা
শরতের আলাে মাখা
চারু শেফালিকা
—গিরিজাকুমার বসু
ই
=
হােটদের চয়নিকা
২৪

ছুটি
ছু
পূজার ছুটির বন্ধ রে ভাই
পেলাম ছুটি আমরা আজি।
দিই গে ‘বক ৰকম্ ছেড়ে
নীল আকাশে নােটনবাজী!
আজকে দুদিন উঘুনানি,
মৌমাছিদের গুণ-গুণানি,
এবার দূরের পাল্লারে ভাই
খেয়ার ঘাট আজ ছাড়বে মাঝি।
ঝাঁক বেঁধে আজ মরাল-শিশু
ছুটছে তাদের ঘরের টামে।
বন্ধন-হীন উড়বে উধাও,
দৃষ্টি মানসসরের পানে।
আয়রে হরিণ দল বেঁধে ভাই,
কেবল ছুটি, কেবল লাফাই,
বাঁধন যেদিন পড়বে গলায়
আনন্দেতে পরতে রাজি।
ছােটদের চয়নিকা
২৫

ছুটি
যুক্ত কুমুদরঞ্জন মল্লিক
রাণীর সােণার ভাঙ্গলাে শিবির
নেইক মােটেই নেই পিছু টান,
নবীন মী আজ নূতন ঢলে
উল্লাসেতে ছুটবে উজান।
বিশ্ব-বা ধায় আর কি ভােলে,
ছুটছে চকোর নভের কোলে,
সুধা না পাই তায় ক্ষতি নাই,
সােহাগ পেলেই আমরা বাঁচি।
কুমুদরঞ্জন মল্লিক
as
ti,
1
৫
ছােটদের চয়নিকা

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

-
***
---
{
--
la
=
২
ইলশে গুড়ি
ইলশে গুড়ি! ইলশে গুড়ি
ইলিশ মাছের ডিম।
ইলশে গুড়ি
ইলশে গুড়ি
দিনের বেলার হিম।
কেয়াফুলে ঘুণ লেগেছে,
পড়তে পরাগ মিলিয়ে গেছে,
মেঘের সীমায় রােদ হেসেছে
আস্তা-পাটি শিম্।
ইলশে গুড়ি
রােদ্দ রে রিঝিম্‌।
হাল্কা হাওয়ায় মেঘের ছাওয়ায়
ইলশে গুড়ির নাচ,
ইসে গুড়ির নাচ দেখে
নাচছে ইলিশমাছ।
হিমের কুঁড়ি,
ছােটদের চয়নিকা
२१

ইলশে গুঁড়ি
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
কেউ বা নাচে জলের তলায়
ল্যাজ তুলে কেউ ডিগবাজি খায়।
নদীতে ভাই ! জাল নিয়ে আয় ,
পুকুরে ছিপ গাছ।
উসে ওঠে মনটা, দেখে
ইলশে গুড়ির নাচ।
ইশে গুড়ি
পরীর ঘুড়ি
কোথায় চলেছে,
ঝুরাে চুলে
ইলশে গুড়ি ,
মুক্তো ফলেছে ।
ধানের বনে চিংড়িগুলোে
লাফিয়ে ওঠে বাড়িয়ে নুলাে ;
ব্যাঙ ডাকে ওই গলা ফুলাে ,
আকাশ গলেছে ;
বাঁশের পাতায় ঝিমােয় ঝিবি
বাদল চলেছে।
মেঘায় মেঘায়
সূর্যি ডােবে
জড়িয়ে মেঘের জাল,
ঢালাে মেঘের
খুঞ্চে-পােষে
তাল-পাটালীর থাল ।
ছােটদের চয়নিকা
২৮

ইলশে গুঁড়ি
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
লিখছে যারা তালপাতাতে
খাগের কলম বাগিয়ে হাতে
তালবড়া দাও তাদের পাতে
টাকা ভাজা চাল ;
পাতার বাঁশী
তৈরী করে
দিয়ে তাদের কাল।
সবুজ টিয়ে
খেজুর পাতায়
গড়তে পারে কে ?
তালের পাতার কানাই ভেঁপু
না হয় তাদের দে,
ইলশে গুড়ি-জলের ফাকি
ঝরছে কত বলব তা কী ?
ভিজুতে এলাে বাবুই পাখী
বাইরে ঘর থেকে ;
পড়তে পাখায়
লুকালাে জল
ভিজলাে নাকো সে
ইলশে গুড়ি! ইশে গুড়ি।
পরীর কানের দুল,
ইলশে গুড়ি! ইলশে গুড়ি !
ঝুরাে কদম ফুল।
ছােটদের চয়নিকা
২৯

ইলশে গুড়ি
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ইলশে গুড়ির খুনসুড়িতে
ঝাড়ছে পাখাটুনটুনিতে
নেবুফুলের
কুঞ্জটিতে
দুলছে দোদুল দুল ;
ইলশে গুড়ি
মেঘের খেয়াল
ঘুম-বাগানের ফুল।
-সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ছােটদের চয়নিকা

দুপুরে
চোখ পড়ে ঢুলে গাে, মন পড়ে ঢুলে গাে,
তপনের মায়াতে,
চোত, গেছে পালিয়ে, তাপ-শিখা জ্বালিয়ে,
স্বপনের ছায়াতে।
ফটিকের ধারা কৈ, চাতকেরা সারা ঐ,
বুক হ’ল মরু যে !
সুর-ভােলা পাপিয়া ! মূৰ্ছিত কঁপিয়া,
বকুলের তরু যে !
কাছে আর সুদূরে, দুপুরের নূপুরে,
হু-হু তান আগুনের,
শােনা যায় ক্ষিতিতে, সুধু আজ স্মৃতিতে
‘কুহু’ গান ফাগুনের।
গােলাপের রেণু নাই, প্রলাপের বেণু তাই
বাতাসেতে গুঞ্জে,
একি কাল-বেলি এ, কুঁড়ি তাই এলিয়ে
হুতাশেতে কুঞ্জে।
ছােটদের চয়নিকা
৩১

দুপুরে
শ্ৰীযুক্ত হেমেন্দ্রকুমার রায়
রাখাল সে ঘুমিয়ে, বাঁশী-মুখ চুমিয়ে,
ধূপ-শুকো হাওয়া রে !
মহিষেরা কর্দম মাখে শুধু হর্দম !
আর খোঁজে ছাওয়া যে !
ঘুঘু-ঘু ঐ ডাকে নির্জনে বৈশাখে
কোথা দূর বনেতে,
রােদ-ভরা পথ দিয়ে, প্রাণ-ভরা ঘুম নিয়ে
আসে সুর মনেতে !
ঘু-ঘুঘু ডাকেরে, মরমের ফাঁকেরে
ছায়া-মাখা ছন্দে,
যেন সুর নাচেরে, করুণায় যাচেরে,
ঘুমেরি আনন্দে !
ঘু-ঘুঘু আসে গীত, আকাশে ভাসে প্রীত,
সাথে নিয়ে তন্দ্রা,
চোখ পড়ে ঢুলে গাে, মন পড়ে ঢুলে গাে,
তাপে অানে চন্দ্রা !
হেমেন্দ্রকুমার রায়
ছােটদের চয়নিকা
৩২

পথের মাঝে
বেরিয়ে যখন পড়েছি ভাই
থালে তাে আর চলবে না,
হিমালয়ের বরফ জেমাে
ঘালে তবু গবে না।
সামনে চেয়ে এগিয়ে চলাে
ভয় পেওনা বালাতে,
পয়সা যদি ফুরিয়ে থাকে
চালিয়ে নেব আধলাতে।
ছােটদের চয়নিকা

পথের মাঝে
শ্ৰীযুক্ত নরেন্দ্র দেব
উপােস করে’ চ তবু
কিছুর ভয়ে টলবাে না,
মনের কথা লুকিয়ে মুখে
শত্রুকে আর ছব না।
বিছে কাঁটা ? ফুটছে কঁকর ?
ফুটুক তবু ছুটুবাে হে,
ইন্দ্রদেবের স্বর্গ টাকে
সবাই মিলে লুব হে।
চাদের ঘরে কী ধন আছে
উকে চলাে দেখবাে রে,
ধাকা দিয়ে তারায় তারায়
সূৰ্য্যে গিয়ে ঠেকবাে রে।
নরেন্দ্র দেব
ছােটদের চয়নিকা
৩ঃ

.
পূজোর ফরমাস
চাই না পূজোর জরির পােষাক—চাই না এবার আলপাকা,
নক্সা-কাটা রেশমী রুমাল বিলাসিতার রং মাখা,
মােটা জামা মােটা কাপড়—তাই আমারে দিস্ কিনে,
তাঁতের বােনা হাতের সূতে—দাম যে মা তার লাখ টাকা।
কাজ কি বাজে বাবুয়ানি,খদ্দর তাে ভদ্রবেশ ;
মহাত্মাজির ঐ ত বাণী,—পি, সি, রায়ের ঐ আদেশ।
তাদের কথা কোন্ মুখে মা ফেলব ঠেলে ফেলব আজ?
বিদেশী চিজ কিনবাে নাকো, নেই কি আমার লজ্জা লেশ।
জননী আর জন্মভূমি স্বর্গ হতে শ্রেষ্ঠ ঢের ;
একটি ফেঁটা রক্ত আমার থাকবে য’দিন এই দেহের
ঐ কথাটি বুকে লেখা থাকবে সােনার অক্ষরে ;
তােমাদেরি কোলে আমার জন্ম যেন হয় মা ফের!
ছোটদের চয়নিকা

পূজোর ফরমাস
যুক্ত কিরণধন চট্টোপাধ্যায়
তােমার হাতের শাক-ভাতে-ভাত লাগে কি মা তার কাছে
পােলাও কোৰ্ম্ম। কোপ্তা কাবাব ? হােটেলে ত ঢের আছে।
স্বদেশ-জাত সকল জিনিষ তেমনি লাগে মিষ্টি গাে-
পাতলা, পুরু, সস্তা, দামী,—দোষ গুণ তার কে বাছে ?
আর এক কথা বলতে তােমায় ভুল করেছি—মস্ত ভুল,
ঐ খানেতে খেলতে আসে হাতে চাপা, টগর ফুল,
মতি চারু দুটি ভাই-এ, বড়ই গরীব মা-হারা,
দেখলে মায়া হয় মা তাদের মলিন মুখ আর রুক্ষ চুল।
আমারে যা দিবি কিনে তাদেরো তাই দিস্ কিনে,
মােটা জামা মােটা কাপড়—চাইনা মিহি ফিফিনে,
যত্ন আদর করবে তাদের মুখের পানে চাইবে কে ?
সংসারে কেউ নেই তাদের বিধবা এক বােন বিনে।
দেশ ছেয়ে মা এমনিতর অনাথ ছেলে মেয়ের দল
দুখের বােঝা বইছে বুকে ফেল্‌ছে কত চোখের জল
তাদের অশ্রু কে মুচাবে ? দুঃখ তাদের বুঝবে কে ?
পাইনা ভেবে কুল কিনারা হৃদয় শুধু হয় বিকল ।
আয় দুজনে আয় করি আয় মা দুর্গারে প্রার্থনা,
দাও ঢেলে দাও ওদের প্রাণে শান্তি এবং সান্ত্বনা ;
ফুটলে হাসি এদের মুখে টুটুবে আঁধার জগৎময়—
নইলে মােদের ব্যর্থ পূজা, কি বলিস না ? ব্যর্থ না ?
—কিরণধন চট্টোপাধ্যায়
ছােটদের চয়নিকা

was
.
massa
শরতে
ছুটীর খবর এসেছে অজি নীল আকাশের পথে !
ও ভাই—ছুটী—ছুটী- ছুটী
আয়না—চোখে দেখনা—ওকে অরুণ আলাের রথে
সােনা—ছড়ায় মুঠি মুঠি !
তরু লতায়, পাখীর নীড়ে, হর্ষে জড়
সারংবাজুছে বনে বনে,
নূতন নূতন পোষাক পরে’ মেঘ আকাশের পরী
কেমন—সাজছে খনে খনে।

শরতে
যুক্ত কালিদাস রায়
ছু
খবর আসার আগেই এলাে ।
ছুটী—আজ যে মনে মনে,
কে জানালে ফুলকলিদের, ফুল কানন ভরি’
যারা—করত ফুটি-ফুটি—
ও ভাই—ছুটী—ছুটী—ছুটী।
কোণ হতে আয় বেরিয়ে সেনা কুড়াই ভাই,
আয়—গাঁয়ের মাঠে মাঠে,
বাতাবি-বন মাতাবি—কে ? শিউলি বোট চাই ?
আয়-বনের বাটে বাটে।
ঢেউয়ের তালে দুলব আজি, কলার ভেলা বাই,
আয়-নদীর ঘাটে ঘাটে,
কাশের বনে হাঁসের সনে কণ্ঠ ছেড়ে গাই,
আয়করব লুটোপুটি
ও ভাই-ছুটী—ছুটী—ছুটা।
চাইনা মােরা পায়ে জুতো—চাইনা মাথায় ছাতা,
বনে ঘুরব ছায়ে ছায়ে,
সাঁতার কেটে দীঘির জলে মুছব না আজ মাথা,
রোদে শুকা বায়ে বায়ে।
ফেলব ছুঁড়ে আজকে শেলেট অঙ্ক কষার খাতা
তারা—লুটুক পায়ে পায়ে,
ছােটদের চয়নিকা

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

শ্ৰীযুক্ত কালিদাস রায়
সরল-ভূগোেল, নীতিকুসুম, ধারাপাতের পাতা
ছিড়ে—করব কুটি কুটি,
ও ভাই—ছুটী—ছুটী—ছুটী।
আয়না সবাই দেখনা ও ভাই কে ওই অরুণ রথে
সােনা—ছড়ায় মুঠি মুঠি।
চুটীর খবর পেয়েছি আজ নীল আকাশের পথে
ও ভাই-করব ছুটোছুটি
কালিদাস রায়
ছােটদের চয়নিকা

শিউলীর বিয়ে
য়র ফুলটি ফোটার আগেই গায়ে হলুদ বার,
সবাই তারে ফেলবে চিনে’—শিউলী যে নাম তার ।
ডালটি কিছু উঁচুই বটে, কুলীন বাপের মেয়ে
স্বভাবটি তার রুক্ষ যেমন, গরীব সবার চেয়ে !
বেলা-মালতী, জুই-চামেলি—এরা সমান ঘর,
কাজেই এদের যেমনটি চাও, জুটবে তেমন বর ।
শিউলী থাকে একটি টেরে গন্ধটুকুন ঢেকে,
শ্বেতকরবী দেখত তারে পাতার আড়াল থেকে
প্রজাপতি-ঘটক তিনি করেন যাওয়া-আসা,
বলেন, “বিয়ের বয়েস হ’লরূপে-গুণে খাসা,
পালটি ঘরের একটি যে বর—পাড়ায় থাকে সে,
বল’ যদি, দিন করি এই মাসের.একুশে।
ছােটদের চয়নিকা
৪০

শিউলীর বিয়ে
যুক্ত মােহিতলাল মজুমদার
বাপতাে তােমার রাজিই আছে—সেয়ানা তুমি তাই
গায়ে হলুদ দেওয়ার পরেও মতুটি নেওয়া চাই !”
শিউলী বলে, “তাই যদি হয়, ঘটক, তুমি যাও,
ম যে আজ স্বয়ম্বরা•••পাড়ায় বলে দাও।”
শুনে সবাই ছি-ছি করে---“এমন দেখিনি।
কুলীন বলে’ লজ্জা-শরম একটু রাখেনি!”
সন্ধ্যে বেলায় ফুলবাবুরা বল্লে মিটিং করে’
“শিউলীরা সব হলেন তবে আজ থেকে এক-ঘরে।
হয়েছে যার গায়ে-হলুদ--বর যদি না জোটে,
জব্দ হবেন বাপ-বেটিতে, থাকবে না জাত মােটে ?
শিউলী বলে, “ভয় কি বাবা! ভাবনা কিসের শুনি?
ভোর না হতেই বিদেয় হব,--না হয় ত’ এখুনি !”
দখি-হাওয়া বলে তারে, “উড়িয়ে নে যাই চ—
গােলাপী-রং পরীর দেশে ঢাবি পরিমল
মেঘের থামে মণির মালায় তারার বাতি জ্বেলে,
গাথুবে তােমায় চিক হারে, নীলার থালায় ঢেলে।
শুকতারাটি ঘুমায় যখন রাত্রি জাগার ও
শিয়রে তার ঝালর হয়ে ঝুবি মনােহর।
আগা তােমার বোঁটার বাধন খুলব নাকি, সই ?”
শিউলী বলে, “কেমন করে আকাশ-কুসুম হই।”
।
ছােটদের চয়নিকা
.৪১

শিউলীর বিয়ে
শ্ৰীযুক্ত মােহিতলাল মজুমদার
জ্যোৎস্না এল, জরীর চাদর ধূলােয় লুটিয়ে,
বকুল-পা-হাসুহানার গন্ধ ছুটিয়ে ;
সাদা মেঘের টোপর মাথায়, জর্দা চেলীর পাড়ে
চওড়া কালাে ফিতের বাহার বনের ছায়ায় বাড়ে !
এসেই মুখে একটি মুঠো মাখিয়ে দিয়ে আলাে,
বলে, “তােমার নেই পাউডার ?•••দেখায় সেকি ভালাে?
রূপের স্বপন দেখবে যদি বন্ধকর আঁখি,
তার চেয়ে এই চাদর দিয়ে মুখটি তােমার ঢাকি।
নিশুত রাতের নিরালাতে চাইবে যখন ফের,
রুক্ষ-কঠিন শাখার ব্যথা আর পাবে না টের ।
আকাশ থেকে আসবে নেমে পরী-কুটুম্বিনী,
বসে বসেই পাবে হ’তে স্বপন্-বিহঙ্গিনী।”—
একটি কথা কয় না দেখে জ্যোৎস্না গেল ফিরে,
শিউলী ভাবে-—‘চাইনে স্বপন্ ভুতে ধরণীরে।
আঁধার যখন আবছা হ’ল পূব-আকাশের পানে,
পাখীর ন’বং উঠল বেজে ঘুমেরি মাঝখানে,
শিউলী শুনে শিউরে ওঠে, বুকের তলায় তার
কিসের যেন সুখটি জাগে—গায় কি চমৎকার !
গাইছে “ওগো ফুলের মেয়ে, জানি তােমার পণ,
—কোন্ জনারে সকল শোভা করবে সমর্পণ।
ছােটদের চয়নিকা
৪২

শিউলীর বিয়ে
শ্রীযুক্ত মােহিতলাল মজুমদার
ধূলাের উপর কে পেতেছে বুকের আসন খানি?
আগুন-তাপেও কে করেছে সবুজের আমদানী ?
মাড়িয়ে চলে সবাই, তবু মাথায় করে শেষে
দেবতাকে দেয় শীষটী যে তার, পুণ্য আশিস্ যে সে!
মেঘের মতন শূন্য-পথের নয় সে উদাসী,
চপল হাওয়ার ইয়ার সে নয়, গন্ধ-বিলাসী।
রূপটি যে তার প্রাণের আরাম, দুৰ্বাদল শ্যাম—
জানি, তােমার বুকের মাঝে লেখা যে তার নাম?”
শিউলী বলে “থামনা তােরা, দুটি পায়ে পড়ি,
এখ খুনি সব উঠবে জেগে, বলবে—‘গলায় দড়ি !
সইতে আমি পারবাে না সে, তবু দোয়ে ভাই,
কুলিন হয়েও কেমন করে এমন ঘরে যাই।
বুঝ প্রাণে—মন টেনেছে ধুলােমাটির পানে,
দখিন্-হাওয়া, আকাশ পেলেও থাকবনা এইখানে।
ঝিঝির ডাকে শুনেছিলাম করুণ কাঁদন তার
সারাদিনের অনেক ব্যথার একটি সে ঝঙ্কার ।
তাইত আমি মনে-মনেই হলাম স্বয়ম্বর,
এক নিমিষেই আপন হ’লছিল যে জন পর।
তবু আমার এমনি কপাল !—দেখতে না পাই তাকে,
জোচ্ছনা আর অন্ধকারে লুকিয়ে সে যে থাকে !•••
ছােটদের চয়নিকা
৪৩

শিউলীয় বিয়ে
শ্ৰীযুক্ত মােহিতলাল মজুমদার
বনা তােরা—ভোর হ’ল কি ? মিহিন কুয়াশায়
ছাদূনা-তলা দেয় কি ঢেকে ওড়নাখানির প্রায় ?
সেই লগনে তােরা সবাই তুলি কলস্বর,
ততক্ষণ এই চোখের শিশির ঝরুক তাহার পর।”
৪%
e
সকাল বেলায় ঘুমটি ভেঙ্গে সবাই দেখে আসি’-
সবুজ ঘাসের বুকের 'পরে শিউলী ফুলের হাসি।
-মােহিতলাল মজুমদার
ছােটদের চয়নিকা
৪৪

মহাত্মা
হােক মূক, থাক্‌ ভাষা করেনাকো ভাললাবাসা
কোনাে ভেদ দু’য়ে,
নিঃশ্ব করি আপনায়
বিশ্বমাঝে স্নেহে যায়
সকলেরে ছুঁয়ে,
কেবা উচ্চ, কেবা হীন এ ভাবনা কোনােদিন
করে না যে ভবে,
তাহার উদার মন
মানে আপনার জন
নিখিলের সবে ;
কথা তার মধুময়,
সে করেছে পরাজয়
হিংসা-দানবেরে
সীমাহীন প্রীতি-ডােরে সে যে বাঁধে এক করে
পশু, মানবেরে ।
-তমাললতা বসু
ছােটদের চয়নিকা

ফুলপরীর গল্প
সুন্দরী এক ফুলপরী তার চঁাদের দেশে ঘর,
তাদের কাছে সবাই সমান, নাইকো আপন পর।
জ্যোৎস্নাতে সে আসে মােদের সবুজ-পরীর দেশে
হাল্কা পাখায় উড়ে বেড়ায় হাওয়ায় ভেসে ভেসে।
মনের সুখে ফুলবাগানে ফুলের মধু খেয়ে,
গুনগুনিয়ে সারাটা রাত বেড়ায় গেয়ে গেয়ে
শিশুর ঠোটে খায় সে চুমা, তােলে হাসির ঢেউ।
এমৃনি করে’ যায় আসে সে, দেখতে নারে কেউ।
বাপ-মরা এক ছেলের দুখে এসে আরেক রাতে
মায়ের বুকে ঘুমায় দেখে বল্ল বিছানাতে।
হােটদের চয়নিকা
৪৬

No text on this page.

PARA SA

No text on this page.

ফুলপরীর গল্প
শ্ৰীযুক্ত যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচাৰ্য্য
চুপটি করে চুমা দিয়ে নিজের বুকে নিয়ে
বেরিয়ে এলাে আস্তে মায়ের নয়নে ঘুম দিয়ে !
উধাও হােল চাঁদের দেশে, ছাড়লল নাক তাকে,
ভাের-বেলা মা কেঁদে কেঁদে খােকারে খুব ডাকে।
সব রূপসী বুঝায় এসে—“কাদছ কেন তুমি ?
ফুলপরীদের দেশে থােকা সুখেই আছে ঘুমি’।”
পরীর দেশে সব পাওয়া যায়, অভাব কিছু নাই;
যারা যতই পাচ্ছে তাদের ততই আরাে চাই।
খােকার যখন বাড়লাে বয়েস, বাড়লাে আকুলতা ;
বল্ল “আমি চাইনা এ সুখ, শুনব না আর কথা;
দেখব নিজের মাকে আমার, তাকেই এনে দাও
তােমার আদর কঁাদায় আমায়, ফুলপরী মা, যাও!”
এমনি করে থােকা কেবল জ্বালায় দিনে রাতে;
ফুলপরী তাই আনতে ছেটে খােকার মা’কে সাথে ।
সেই দিনই সেই রাতের পরী এলােখােকার বাড়ী।
এসেই দেখে মায়ের অসুখ, পায় না কেহ নাড়ী।
আটটি বছর ছেলের শােকে শরীর তাহার মাটি,
সেই রাতে সে মরবে দেখে’—সবার কান্নাকাটি।
পরী সবার অদর্শনে বল্ল তাকেই ধীরে,
“মরবে কেন বােটি আমার, আবার এসাে ফিরে।
ছােটদের চয়নিকা
৪৭

ফুলপরীর গল্প
শ্ৰীযুক্ত যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচার্য্য
থােকা আছে চাদের দেশে, পাচ্ছে নিতুই সুখ ;
আমরা তাকে খাওয়াই পরাই,—সেই দেশে নাই দুখ।”
এসব শুনে থােকার মায়ের আর ধরেনা হাসি ;
বল্ল-“দিদি, বাঁচব কিসে! এ যে বিষম কাশি।
আচ্ছা আমি ঘুমাই তবে মনের মহাসুখে
ঘুমৃটি যখন আসবে জমে’ আমায় নিয়ে বুকে।”
মহাঘুমের মাঝে যখন থামৃলল মায়ের শ্বাস।
পরী ছায়া-শরীর নিয়ে পূরায় খােকার আশ ।
খােকার মাকে পেয়েই খোকা আহলাদে আটখান্ !
তারারা তাই নিত্য রাতে করছে হাসির গান।
যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচাৰ্য্য
ছােটদের চয়নিকা
৪৮

ALORTUTE
EN AND
প্রভাতী
তাের হােলাে
দোর খােলাে,
খুকুমণি ওঠরে !
ঐ ডাকে
যুঁই শাখে
ফুল-খুকি ছােট রে ।
খুকুমণি ওঠরে ।
রবি-মামা
দেয় হামা,-
গায়ে রাঙ্গা জামা ঐ,
দারােয়ান
গায় গান
শােনাে ঐ—“রামা হৈ।”
ছােটদের চয়নিকা
৪৯

উপদেশ
পানের লাগি পেলে জলের কণা,
নিও তুমি অন্নদানের ব্রত,
মিষ্টি কথা ভাগ্যে যদি জুটে
মাথাটারে ধূলােয় কোরাে নত।
কড়ির ঋণ পরিশোধের বেলা
সােনার মােহর-তারেই কোরাে দান
জীবন যদি বাঁচিয়ে থাকে কেহ
পরের লাগি সপিয়া দিও প্রাণ।
জ্ঞানী যারা—এই রকমেই তার।
কথা কহে-কাজের ধারা জানে,
ছোট্ট সেবাও দেয় ফিরিয়ে তারা,
হাজার গুণে বাড়িয়ে তারে আনে।
কিন্তু যারা জ্ঞানীর বাড়া-মহান
তাদের আবার নাইক আপন পরও,
অপকারের ঋণ তাহারা শােধে,
উপকারের অর্ঘ্য করি জড় !
-হেমেন্দ্রলাল রায়
=
ছােটদের চয়নিকা

একটি মাণিক
শীতের শেষে বটের মাথে একটি পাতা রয়,
ছুটে এসে প্রবল হাওয়া তার উপরে বয়
বট সে বলে—“সকল ছেলে হারিয়ে রয়েছি ;
একটি মাণিক দুলছে বুকে, সেটিও নেবে কি ?
কোনই কথা কয়না হাওয়া, কেবল হানাহানি,
বটের পরে পাতার শিরে পড়লাে টানাটানি।
বট সে বলে, ‘মাটির থেকে যা কিছু রস পাই—
একটি আমার ঐ মাণিকে দিচ্ছি যে সবটাই।
হাওয়ার কেবল বিপুল তাড়া, হানার পরে হানা;
কাতর পাতা শিউরে নুয়ে করছে কত মানা।
এমনি আসে দিনে রাতে পাগল হাওয়া মাতি’,-
সইল না আর, খপ্ল পাতা ধূলায় করে’ সাথী।
আজকে আমি বটের পানে কেবল চেয়ে দেখি—
শেষ মাণিকে হারিয়ে সে যে উদাস, আহা একি!
প্যারীমােহন সেনগুপ্ত
ছােটদের চয়নিকা

ঘুম-পরীদের গান
ঘুম-পরীগো! ঘুম-পরীরা ! মোর কুটীরে এসাে,
ঘুমের কাঠি ছুঁইয়ে আমার খােকায় ভালােবেসে।
স্বপন্ বিভােল্ অলস-চোখে খোকার পানে চেয়ে,
ঘুমের সুরে মিষ্টি মধুর নিদালী গান গেয়ে।
ন্দ্রা তাহার মধুর করাে মােহন-আবেশ ঢাকি
স্বপ্ন তাহার উজল করে স্বরগ, ছবি আঁকি।
সুপ্তি তাহার গভীর করে সাগর-উৰ্ম্মি রােলে,
ঘুম পাড়ানী দোল দুলাও আপন স্নেহের কোলে।
ঘুম-পরীগাে! ঘুম-পরীরা ! নাম্‌বে কখন সবে ?
তােমরা এলেই তবে আমার খােকার যে ঘুম হবে !
ঘুম-পরীগাে! ঘুম-পরীরা! অস্ত-গিরির চূড়ে
গোধূ আলোর ফাগ খেল কি লাল কুঙ্কুম ছুঁড়ে ?
ছােটদের চয়নিকা

No text on this page.

Ye

No text on this page.

ঘুম-পরীদের গান
শ্ৰীযুক্ত রাধারাণী দেবী
শুক্লাকাশে চাঁদের পাশে চকোর পাখী রূপে
জ্যোৎস্না সুধা পান কর কি তােমরা চুপে চুপে?
আঁধার রাতে তােমরা কি গাে এলাও নিবিড় চুল ?
সন্ধ্যারাণীর সঙ্গে পরে খোঁপায় তারার ফুল ?
পূবের বধু ঊষার সিথায় অরুণ সিদুর দিয়ে
প্রভাত হলেই লুকাও কি গো কুহক লােকে গিয়ে ?
ঘুম-পরীগাে, ঘুম-পরীরা! আজকে এসসা ত্বরা !
আমার খােকার আছে না ঘুম, গাওনা ঘুমের ছড়া।
—রাধারাণী দেবী
ছােটদের চয়নিকা

তরুণের পণ
অমর। নূতন, আমরা কুঁড়ি মানব-জীবন নন্দনে
ওষ্ঠে রাঙ্গা হাসির রেখা, জীবন জাগে স্পন্দনে।
লক্ষ আশা তান্তরে
ঘুমিয়ে আছে মন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে বুকের ভাষা পাপড়ি পাতার বন্ধনে
সকল কঁাটা ধন্য করে’ ফুটব মোরাও ফুটব গাে
প্রভাত-রবির সােনার আলো পরাণ ভরে’ লুটব গাে।
নিত্য নবীন গৌরবে
সৌরভে
আকাশ পানে তুলব মাথা, সকল দিকেই ছুটব গো।
৩ায়
সাগর জলে পাল উড়িয়ে কেউ বা হব নিরুদ্দেশ।
কলম্বসের মতন বা কেউ পোঁছে যাব নূতন দেশ।
জাগবে সাড়া বিশ্বময় এই বাঙ্গালী নিঃস্ব নয়,
জ্ঞান-গরিম-শক্তি-সাহস অাজও এদের হয়নি শেষ।
ছােটদের চয়নিকা

তরুণের পণ
গােলাম মােস্তাফা
কেউ বা হব সেনা-নায়ক, গড়ব নূতন সৈন্যদল,
সত্য-ন্যায়ের অস্ত্র ধরি, নাই বা থাকুক অন্যবল।
দেশ মাতারে পূজবাে গো ব্যথীর ব্যথা বুঝব গাে,
ধন্য হবে দেশের মাটি,ধন্য হবে অন্নজল।
জ্ঞানের মূল্য শিখব বলে’ কেউ বা যাব জার্মানি,
সবার আগেই চলব মােরা, সহজে কি আর হার মানি।
শিল্প-কলা শিখব কেউ, গ্রন্থমাল লিখব কেউ,
কেউ বা হব ব্যবসাজীবী কেউ বাটাটা কার্ণানি।
ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুদের অন্তরে।
জীবন রণে পেছ-পা নই, নূতন যুগের বার্তা বই,
কতই কি যে করব মােরা নাইক তাহার অন্ত রে ।
-গােলাম মােস্তাফ
ছােটদের চয়নিকা

।
.
.
=
"
ন
1butt,
faijitar
al
কুটীর
ঝিকিমিকি দেখা যায় সােনালি নদীর,
ওইখানে আমাদের পাতার কুটীর।
এলােমেলাে হাওয়া বয়,
সারাবেলা কথা কয় ;
কাশ-ফুলে দুলে ওঠে নদীর দু’পার,
রূপসীর সাড়ী যেন তৈরি রূপার ।
কুটীরের কোল ঘেষে একটু উঠোন,
নেচে নেচে খেলা করি ছােট দু’টি বােন।
পরণে খড়কে-ডুরে,
বেণী নাচে ঘুরে ঘুরে,
পায়ে পায়ে ‘রুনু ঝুনু হাল্কা খাড়র,
কেন নাচি নেই তার খেয়াল কারুর।
ছােটদের চয়নিকা
৫

কুটী
শ্ৰীযুক্ত অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
আকাশে গড়িয়া ওঠে মেঘের মিনার,
তারি ফাঁকে দেখা যায় চাদের কিনার
গাছের পাতার ফাঁকে
আকাশ যে চেয়ে থাকে,
গুন্ গুনগান গাই চোখে নাই ঘুম।
চঁদ যেন আমাদের নিকট কুটুম।
দুই পা এগিয়ে এসে উঠোনটুকুর
তালবনে ঘেরা দেখ মােদের পুকুর।
ভরে আছে চারি-ভিতে
শাপলা ও কমিতে ;
জলটুকু ট ট চাউনি খুকুর,--
যেন গো মেঘের এক-টুকরাে মুকুর।
নৌকারা আসে যায় পাটেতে বােঝাই।
দেখে কী যে খুসি লাগে কী করে’ বােঝা-ই।
কত দূর দেশ থেকে
আসিয়াছে একে-বেঁকে,
বাদলে ‘বদর’ বলে’ তুলিয়া বাদাম।
হাল দিয়ে ধরে রাখে মেঘের লাগাম !
ছােটদের চয়নিকা

কুটীর
শ্ৰীযুক্ত অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
ওই শােন ঝম্ ঝম্ নামিলাে বাদল,
হুকো ছেড়ে মাল্লারা ধরেছে মাদল ;
নাল-ফুল টোকা-পানা
আহ্লাদে আটখানা;
ধলি গাই ডাক ছাড়ে—বাছুর ফেরার,
থকে দাড়িয়ে কাছে ঝুকো-বেড়ার
আবার ঝলক দিয়ে ঝরিছে আলােক,
বা দুধের মত বকের পালক।
পিড়িং শাকের ক্ষেতে
ফড়িং উঠেছে মেতে,
লাউয়ের মাচার পরে ঘুমােয় কুমড়,
শিশিরের স্বাদ যেন মায়ের চুমাের।
দু’কদম হেঁটে এস মোদের কুটীর,-
পিস্তুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
চাল আছে ঢেকি ছাঁটা,
রয়েছে পানের বাটা,
কলাপাতা ভরে’ দেব ঘরে-পাতা দই।
এই দেখ আছে মাের আয়না কঁকই।
ছােটদের চয়নিকা

কুটীর
শ্ৰীযুক্ত অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
যদি আস একবার, বলি–মিছা না,
মমাদের উঠানটুকু ঠিক বিছানা!
পিয়াল, পেয়ারা গাছে-
ছায়া করে’ রহিয়াছে ;
ধু ধুলের ঝাঁকা বেয়ে উঠিতেছে পুঁই,
খড়কুটো খুঁজে ফেরে দুষ্ট চড়ই।
মুদীর দোকান আছে অতি নিকটেই,
তামাক লাগিলে সেথা যাব ত’ বটেই।
এখােগুড়, সাবুদানা,
পাথরে মিছরি-পানা,
যদি চাও এনে দেব পাকা পাকা বেল।
টসটসে জামরুল আনিব অঢেল।
কুঁকড়ে রয়েছে ঘুমকাতুরে কুকুর।
থেকে থেকে শােনা যায় কঁাদন ঘুঘুর ।
বসে বসে কাটি টাকু,
সূতত ওঠে আর্ট পাঁকু।
বেনে বউ পাঁজ দেয়, মা বােনেন তাঁত
নিঝুম দুপুর বেলা খাসা মৌতাত।
ছােটদের চয়নিকা

কুটীর
শ্ৰীযুক্ত অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
এস এস আমাদের সােনার কুটীর,-
ঝিকি মিকি করে জল নিটোল নদীর ।
ঝিঙের শাখার পরে
ফিঙে বসে খেলা করে,
বেলা যে পড়িয়া এল, গায়ে লাগে হিম,
আকাশে সাঁঝের তারা, উঠানে পিদিম
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত।
ক
}|
ছােটদের চয়নিকা
৬২

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

পালের নাও
পালের নাও, পালের নাও পান খেয়ে যাও
ঘরে আছে ছােট বােটি তারে নিয়ে যাও।
কপিল-সারি গাইয়ের দুধ যেয়াে পান করে’
কৌটা ভরি সিদুর দেব কপালটি ভরে’!
গুয়ার গায়ে ফুল চন্দন দেব ঘসে ঘসে’
মামা-বাড়ীর বলব কথা—শুনাে বসে বসে।
কে যাওরে পাল ভরে’ কোন দেশে ঘর
পাছা নায়ে বসে আছে কোন সওদাগর ?
কোন্ দেশে কোন গায়ে হিরে ফুল ঝরে
কোন্ দেশে হিরামন্ পাখী বাস করে।
ছােটদের চয়নিকা

পালের নাও
জসীম উদ্‌দী
কোন্ দেশে রাজ-কনে খালি ঘুম যায়,
ঘুম যায় আর হাসে হিম্-সিম্ বায়।
সেই দেশে যাব আমি কিছু নাহি চাই ।
ছােট মাের বােটিরে যদি সাথে পাই।
পালের নাও, পালের নাও, পান খেয়ে যাও;
তােমার যে পালে নাচে ফুলঝুরি বাও।
তােমার যে না’র ছই আবের ঢাকনী
ঝম জ্বলিতেছে সােনার বঁাধনী।
সোনার না বাঁধন্ রে তার গোড়ে গোড়ে।
হিরামন পঙ্খীর লাল পাখা ওড়ে।
৩ারপর ওডেরে ঝালরের ছাতি,
বম জলে জ্বলে রতনের বাতি।
এই নাও বেয়ে যায় কোন্ সদাগর,
কয়ে যাওকয়ে যাও কোন দেশে ঘর ?
পালের নাও, পালের নাও, পান খেয়ে যাও,
ঘরে আছে ছােট বোন্ তারে নিয়ে যাও,
চেনা গাঙে সাত ধার করে গলাগলি,
সেথা বাস কোহেলার-লােকে গেছে বলি।
ছোটদের চয়নিকা

পালের নাও
জসীম উদ্‌দান
পারাপার দুই নদী,—মাঝে বালুচর
সেইখানে বাস করে চাঁদ সওদাগর।
এ পরে ধুতুমের বাসা ওপারেতে টিয়া
সেখানেতে যেয়ােনা রে নাও খানি নিয়া।
ভাইটাল গাঙ, দোলে ভাটী পেঁয়াে সােতে,
হবে নারে নাও বাওয়া সেথা কোন মতে।
জসীম উদ্দীন
4
ছােটদের চয়নিকা

খােকার চোখে জল
খােকার চোখে জল,-
অপরাজিতার পাপড়ি যেন
শিশির ছলােছ !
চপল কালাে দুটি আঁখি
নীল গগনের ও নীল পাখী
ডুব দিয়ে আজ এলাে নাকি
নীল সায়রের স্ত?
যুগল ভ্রমর এলাে ভিজে
কোন্ সরসীর সরসিজে ?
পারিনে হায় বুঝতে নিজে
বুঝাই কী যে বল ?
খােকার চোখে জল,
শরৎ আকাশ মলিন কোরে
নামলাে রে বাদল।
ছােটদের চয়নিকা

খােকার চোখে জল
শ্ৰীযুক্ত কৃষ্ণদয়াল বসু
জভরা ঐ কালাে মেঘে
উঠবে খুশীর আলাে জেগে,
হাল্কা-হাসির হাওয়া লেগে
করবে বলােম !
কান্না হাসির সেই মাধুরী
আলাে ছায়ার লুকোচুরি
মায়ের মনের মায়াপুরী
করেচে উজ্জ্বল ।
-কৃষ্ণদয়াল বসু
ছােটদের চয়নিকা

আলাের মােচাক চাঁদটা যেন সত্যিকারের আলাের-ই মৌচাক- দুষ্ট-ছেলের ঢিটি লেগে হঠাৎ হােলাে ফাঁক। আজকে রে তাই সাঁঝের-বেলায় আলাের মধু সব ঝরে যায়, হাজার তারা-মৌমাছিরা উড়লাে ঝাঁকে ঝাঁক, নীল-আকাশের নিতল নীলে উড় লাে ঝাঁকে ঝাঁক চঁদটা যেন সত্যিকারের আলাের-ই মৌচাক। ছােটদের চয়নিকা

আলাের মৌচাক
শ্রীযুক্ত সুনির্মল বসু
গন্ধে আমি এলাম ছুটে
খােলা-মাঠের পর,
নেশায় নেশায় মাতলাে বাতাস
ভলাে দিগন্তর ।
ভােমরা-গুলাে চাখতে এসে
আলাের মধু মাখলাে শেষে,
জ্ব জ্বলিয়ে জোনাক হয়ে
উঠলাে লাখে লাখ
কালাে-লােমর আলাের ছোঁয়ায় জ্বলাে লাখে লাখ।
চাটা যেন সত্যিকারের
আলাের-ই মৌচাক।
জরির চাদর গায় জড়ালাে
হলুদ-দীঘির বাঁধ,
মধুর ঝাঁঝে সাঁঝ-প্রহরেই
ঘুমের গেছে সাধ।
চপল-হাওয়া ঘুম ভাঙ্গে তার,
আস্তে সে তার বাজায় সেতার,
চুটল-চালে নাচছে তালে
খাচ্ছে সে ঘুরপাক
বন বন্ বন্ বন্-কিনারে খাচ্ছে সে ঘুরপাক।
চঁাদটা যেন সত্যিকারের
আলাের-ই মৌচাক।
ছােটদের চয়নিকা

আলাের মৌচাক
শ্ৰীযুক্ত সুনির্মল বসু
আলাের মধু পড়লাে ঝরে
পারুল দিদির গায়,
সাতটি চাপা ভাইরে ডাকে
‘চাখবি যদি আয়’,-
হেলে দুলে সাতটি চাপায়
সবুজ পাতার আড়ালে চায় ;
শুনতে পেল করুণ সুরে
পারুল দিদির ডাক,
আবছায়াতে আবছা যেন পারুল দিদির ডাক।
চঁদটা যেন সত্যিকারের
আলাের-ই মৌচাক ।
মল্লিকা, বেল, অপরাজিতা,
হান্না-হানা, যুঁই,
মধুর ভাঁড়ার নে ভরে নে
আজকে সাঁবে তুই,
জ্যৈষ্ঠিমধু জ্যৈষ্ঠ রাতে
পান করে আজ পরাণ মাতে,
গন্ধরাজের গন্ধে সবার
তন্দ্রা টুটে যা—
ফুলের বনে অালাের মধু, তন্দ্রা টুটে যা।
চঁদটা যেন সত্যিকারের
আলাের-ই মৌচাক ।
ছোটদের চয়নিক

No text on this page.

=-

No text on this page.

আলাের মৌচাক
শ্ৰীযুক্ত সুনির্মল বসু
}
ঘুমায় খােকা ঘরের ভিতর
জালা খােলা ভাই,
আলাের মধুর একটি ছিটা
পড়লাে মুখে তাই।
অঘাের ঘুমে খােকা ঘুমায়,
আড়মােড়া দ্যায় মায়ের চুমায়,
আলাের মধুর মধুর চুমায়
স্বপন-লােকে থাক্‌-
আলাের চুমায় মায়ের চুমায় স্বপন-লােকে থাক্।
চঁটা যেন সত্যিকারের
আলাের-ই মৌচাক
-
সবুজ মাঠের বুকে এলাে
দুধ-সাগরের বাণ,
মৌচাকী-চঁদ উজাড় করে
মধুর থালাখান।
দেখতে পেলাম বাঁশের ঝাড়ে
পড়ছে চুয়ে বারে বারে,
উজল হােলাে কাজল-দীঘি,
গেঁয়াে নদীর বাঁক।
চাটা যেন সত্যিকারের
আলাের-ই মৌচক ।
—সুনিৰ্ম্মল বসু
ছোটদের চয়নিকা
৭১

এগিয়ে চলার গান
এগিয়ে চলি সমুখ পানে,
পথ কথা কয় কাণে কাণে,
তেপান্তরের বাঁশীর ধ্বনি
ডাকে ইসারায় ;
মেঘের বুকে আঘাত হানি’
বিজলী তার আম্ব টানি,-
পাতাল খুড়ি কুবের মণি
ছিটাব সব ঠায়।
ডিঙ্গিয়ে যেতে পারি পাহাড়,
বরফ-দেশে নয়া বাহার,
পেরিয়ে মরু ছুটব মােরা
গ্রহ তারকায় !
ডুবুরি হয়ে পশবাে জলে,
প্রবাল মােতি চরণে দলে’
বরুণ রাজার সিংহ-আসন
জিব যে হেলায় ।
-বন্দে আলী মিয়া
ছােটদের চয়নিকা
৭২

দোপাটী
ফুটফুটে খুকুমণি—নাম তার দোপাটী,
চক্চকে বেশ তার—আর বেশ খোপাটি।
সারাদিন মেতে থাকে হুঁড়িকুঁড়ি খেলাতে
বালি দিয়ে ভাত রাঁধে ঝােল রাধে ঢেলাতে।
তারপরে বসে বসে’ কত কি যে বঁধলাে-
লেখা-জোখা নাই তার ;-ধোঁয়া খেয়ে কালাে
রাধাবাড়া শেষ হলে টেনে দিয়ে ঘােটা,
জানালার ধারে বসে’ ছেড়ে নিল দোটা।
তারপরে পিঁড়ি পেতে ঠাই করে একলা,
গিনু মিনু বসে গেল, বসে গেল ন্যাপলা।
ভাত দিল, ডাল দিল, শেষে দিল অম্বল,
চিনিপাতা দই দিয়ে রেখে দিল দম্বল।
ছােটদের চয়নিকা

দোপাটী
শ্রীযুক্ত বিভাসচন্দ্র রায় চৌধুরী
গিনু বলে আরও দাও দিচ্ছ কি সিন্নী ?
খুকু হেসে বলে দিই—যেন পাকা গিন্নী
ও পাড়ার হরিখুড়াে রাস্তায় ঐ
মিটি মিটি হেসে কন, লাঠিখা নাড়িয়ে-
‘ফুট ফুটে বউ পানা কে রে ওই গোপা কি ?
বিশু কয়—‘গোপা নয়--আমাদের দোপাটী।
এই কথা যেই শোনা খুকুমণি লাজেতে,
‘ধ্যেৎ' বলে লুকাইল দরজার মাঝেতে।
তারপর দৌড় দিল বঁ-পাশের গলিতে,
বার দুই পড়ে গেল ঘােটায় চলিতে।
খুড়াে বলে, ‘ছােটো কেন—লেগে গেল হাতে কি ?
খুকু লাজে কয়,-“না—না, তাতে কি-তাতে কি!
—বিভাসচন্দ্র রায় চৌধুরী
ছােটদের চয়নিকা
৭৪

রাখাল-ছেলের বা
মাঠের পারে বাঁকা-নদী বইছে কতদূর
কূলে কূলে জাগছে তাহার কুলুকুলু সুর।
সেই সুরেতে বাতাস এসে দোলায় গাছের পাতা,
সবুজ-ক্ষেতের মৰ্ম্মগানে সেই সুরেরই গাথা।
অনেক দূরের পাহাড় থেকে আছে নদী বয়ে
সবুজ মাঠের কাণে কাণে কোন কথাটি কয়ে।
চুপটি করে সেই কথাটি শুনছে চাপার গাছ,
চপল-হাওয়ায় সবুজ পাতায় চলছে তাহার নাচ।
নদীর পারে চাপার গাছে টুনটুনিটি থাকে,
তারি গানের সুর কঁপছে নদীর বাঁকে বাঁকে।
ছােটদের চয়নিকা
৭৫

রাখাল-ছেলের বাশ
শ্ৰীযুক্ত ফটিকচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ভােরের বেলা নীল-আকাশে আলাের জোয়ার আসে,
অগাধ মাঠে মাঠের-রাণী সবুজ হাসি হাসে।
একটি দুটি নৌকা চলে উড়িয়ে সাদা পাল,
ভাটিয়ালীর তালে তালে মাঝি ধরে হাল।
বাঁকা-নদীর বাঁকে বাঁকে তখন ওঠে ঢেউ,
চাপার শাখে টুনটুনি গায়—শােনে না তা’ কেউ।
কোন গাঁ থেকে মাঠের পথে রাখাল ছেলে আসে,
ভােরের আলাে ঝলমলিয়ে নদীর জলে ভাসে।
মধুর সুরে রাখল-ছেলে বাজায় বাঁশের বাঁশী,
সে সুর শুনে শিউরে ওঠে ঘাসের ফুলের রাশি।
প্রজাপতির পাখায় পাখায় পুলক ওঠে জেগে,
মৌ-মাতালী মৌমাছিরা উলসে ওঠে বেগে।
নীল আকাশে পুলক লাগে বাঁশীর সুরের ডাকে,
সোণার বরণ কুসুম কোটে চঁাপার শাখে শাখে।
কেউ না জানে কোন্ সুরেতে রাখাল বাজায় বাঁশী,
সেই সুরেতে জেগে ওঠে শরৎ-মেঘের হাসি।
আমের বনে যে সুর শুনি বােশেখ মাসের বেলা
বাদল-মেঘে আষাঢ় মাসে সেই সুরেরই খেলা।
ঢেউ খেলানাে রূপাের মেঘে চাদনী-নিঝুম রাতে
সেই সুরটি খেলা করে চপল চাদের সাথে।
ছােটদের চয়নিকা

রাখাল-ছেলের বাঁশী
শ্ৰীযুক্ত ফটিকচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সে সুর শুনে মা চুমাে খায় খােকার সােনার ঠোটে,
ঠোট দুখানির ওপর তাহার হাসির লহর ওঠে।
চাপা বলে—রাখাল ছেলে বাঁশী বাজাও ভাই,
তােমার বাঁশী শুনে শুনে ফুটতে আমি চাই।
মাটীর মাঝে নিঝুম ঘুমে ছিলাম আঁধার ঘরে
আলাের বুকে পেলাম ছাড়া তােমার বাঁশীর স্বরে,
ভােরের বেলা সবুজ মাঠে হাওয়ার দোলা লাগে,
নীল আকাশের সাগর মাঝে আলাের জোয়ার জাগে,
অনেক দূরে গায়ের দিকে নৌকা চলে ভাসি’
টুনটুনি গায়—রাখাল ছেলে একলা বাজায় বাঁশী।
ফটিকচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ছােটদের চয়নিকা
৭৭

শাসন
মা রেগে কন, “মিনুরে আজ শাসন করা চাই,
দুষ্ট, অমন কোথাও অরি নাই।
লেখাপড়া কাজের বালাই কিছু তাে নেই তার,
ওকে নিয়ে থাকাই হেলাে ভার।
সইবাে না আর আমি,
তােমার আদর পেয়েই যে ওর বেড়েছে নষ্টামি
আদুরে অই লক্ষীছড়িটির
গুণের চোটে পাড়ার লােকে হয়েছে অস্থির !
দিনে দিনেই হচ্ছে কেমন তরে,
আজকে তুমি শাসন তারে করো।”
বাপ শুনে কন্ হেসে-
“জানি আমি জানি দুষ্ট, যে সে !
আচ্ছা তুমি চুপটী কোরে থাকে।
ভাবনা কোরাে নাকো!”
ছােটদের চয়নিকা
৭৮

শাসন শ্ৰীযুক্ত মুরারিমােহন সেন এই বোলে বাপ ডাকেন জোরে,“কোথায় মিনু মাগাে একটু আমার সামনে এসো নাগাে, তখন মিনুরাণী, খেচে বসে সবার সাথে রান্নাঘরে পুতুল-টুতুল আনি। বাবার গলা শুনলাে যখন, দৌড়ে ছুটে এসে দাড়ালো তঁার কোলের কাছে ঘেসে । বাপের কাছে মেয়ে দাড়িয়ে থাকে সকৌতুকে মুখের পানে চেয়ে ; বাপ মেয়েকে অদির কোরে জড়িয়ে ধরে বুকে চুমাে খেলেন মুখে, তার পরেতে হেসে বলেন “শোনাে মিনু মাগাে, দুষ্টমি আর কোরোনা কক্ষণাে !” মিষ্টি হেসে ঘাড় নুইয়ে তার বল্লে মেয়ে—“আচ্ছা আমি কোবাে নাকো আর !” এই কথাটি বোলে মিনু আবার লাফিয়ে গেল চলে— যেখানে তার খেলার সাথী সব ক’রূছে কলরব ! অবাক হোয়ে দেখেন মাতা শাসন করার ধাত- তাশ হােয়ে কপালে দেন হাত। -মুরারিমােহন সেন ছােটদের চয়নিকা

.
ফুল ফোটা
মাটি খুঁড়িতেছে মালি,—এই কাজ তার,
রৌদ্র পড়ে, জল এনে ঢালে ভারে ভার,
ফুল ফুটে উঠে ভাবে,—ছি, ছি একি লাজ !
আমারে জাগাতে কত আয়োজন আজ,
এই যে বৃহৎকায় মালি গোল-গাল
ঘুরিতেছে আশে পাশে, হায়রে কপাল,
আমার ফোটার লাগি সমস্ত গৌরব
একা এই অরসিক করে অনুভব ?
হেন কালে ছুটে এল দুটি ভাই বােন--
সুন্দর সুরভিময় ফুলেরি মতন।
ভাই বলে, “দেখ দিদি ফুল আছে ফুটে।
হরষে আকুল হয়ে দিদি আসে ছুটে
ফুল ভাবে বঁচিলাম, সফল জীবন
ফুটিতে অসীম সুখ, ঝরিতে বেদন।
-উমা দেবী
D
ছােটদের চয়নিকা
৮০

স্বপ্ন-সাধ
মা গো মা বা মােরে
ওই যে আকাশ মাবো
রাতের বেলায় তারার দলে
সেজে রঙি সাজে
খেছে খেলা মনের সুখে
সঙ্গী সাথী নিয়ে,
ওদের সাথে প্রাণটি ভরে
খেলব আমি গিয়ে ?
ছােটদের চয়নিকা
৮১

স্বপ্ন-সাধ
ও যুক্তা মৃণালিনী গুপ্তা
ইচ্ছে করে ওদের মতাে
মুক্ত-আকাশ তলে
দুবাে আমি নীল-গগনে,
মিবাে ওদের দলে,
সাঁঝের বেলায় নিবিড় আঁধার
ঘনিয়ে যখন আসে
তখন আমি উঠবাে ফুটে
মােদের গেহের পাশে,
দেখবে তুমি জালা পানে
সজল আঁখি মেলে-
আকাশ মাঝে বেড়ায় খেলে
স্ট তােমার ছেলে ;
ডাবে তুমি হাত বাড়িয়ে
‘আয়না খােকন্ ফিরে,
ব’বো আমি,—নাই যদি যাই,
ভুলিই ধরণীরে,
কবে কি মা আমার তরে
যদি আর আসি ?
আবে। তবে, ভাবিনি মা
তোরেই ভালােবাসি।
ছােটদের চয়নিকা
৮২

No text on this page.

CEZA

No text on this page.

স্বপ্ন-সাধ
শ্ৰীযুক্তা মৃণালিনী গুপ্তা
৮
চঁাদের দেশে তারার রূপে
তােমার খােকা যদি
খেতে গিয়ে, আর না ফেরে
পেরিয়ে সাগর নদী,
কিছু তুমি ভেবােনা মা,
তারার পানে চেয়ে
তারি মাঝেই মুখটি আমার
নিত্যি দেখে যেয়াে,
আমার মনের একটি আশা
ব’ছি মা আজ তােরে
চুপটি কোরে শােনা মা তুই
বকিস্ নিকো মােরে,
ইচ্ছে করে, ওই যেখানে
তেপান্তরের মাঠে,
রাখাল ছেলে বাজায় বাঁশী,
দ্মি-দীঘির ঘাটে,
চাদের-আলাে পড়বে যখন
তাহার শ্যামল বুকে
আমি তখন লহর হয়ে
খেলবাে অসীম সুখে,
ছােটদের চয়নিকা

স্বপ্ন-সাধ
যুক্তা মৃণালিনী গুপ্তা
সারা-রাতের খেলার শেষে
ফিরূব ভােরের বেলা,
ববে নাকি মাগাে আমায়
‘শেষ হােলাে কি খেলা ?
-মৃণালিনী গুপ্তা
স
-
ছােটদের চয়নিকা
৮৪

হাসি

No text on this page.

.
ঠাঙার গল্প
বিধু বলে—“আজকাল পাটনায় সে কী শীত
শুনে তুই একেবারে হােয়ে যাবি স্তম্ভিত।
১
-
}}}}}
৭, **
ভাের বেলা উঠে দেখি, বুক, কাঁধ, ঘাড়, পিট
বরফেতে জমে গিয়ে হােয়ে গেছে ঠিক ইট।
ছােটদের চয়নিকা

ঠাণ্ডার গল্প
শ্ৰীযুক্ত গিরিজাকুমার বসু
সিধু বলে ‘ওতত ভারী,—আমাদের গ্রামটায়
ঠাণ্ডা যে কি রকম শুনে হবি চুপ ঠায়,
ঘুম ভেঙে ঘটি নিয়ে গিয়ে কাছে গাইটার
দুধ দুই যত দেখি এ আবার কী ব্যাপার,
বিস্ময়ে সােজা হয়ে ওঠে গোঁফ, জুল্পী।
বাট থেকে ক্রমাগত বের হােলাে কুল্পী।
গিরিজাকুমার বসু
ছােটদের চয়নিকা

রাসুক তেওয়া
এসেছিল এইদেশে রামসুক তেওয়ারী
অধিবাসী হবে বুঝি ‘বুন্দী’ কি ‘রেওয়ারি ।
}
Bonceptam
বুক ছিল কি দরাজ, কি গভীর পেটুটি ।
ভুট্টার ছাতু খেত, সের দুই লেট্রী।
হােটদের চয়নিকা

( রামসুক তেওয়ার
শ্ৰীযুক্ত কুমুদরঞ্জন মল্লিক
আধূসের চানা খেত চিবাইয়া দন্তে,
মিছরির সরবৎ কুস্তির অন্তে
বাঙলায় কাটাইয়া গােটা দুই বর্ষা
রামসুক তেওয়ারীর পরকাল ফস।
প্রাতে আর সন্ধ্যায় চা ধরেছে নিত্য,
আজ বাড়ে অম্বল, কাল বাড়ে পিত্ত ।
কবিরাজ লেগে আছে, লেগে আছে ডাক্তার,
ভুড়ি তার কমে গেছে, বেড়ে গেছে না তার।
খায় দাদখানি চাল, ডুমুরের হেঁচকী,
তবু উঠে উদগার, কভু ওঠে হেঁচকি।
বড়া, বড়ি, ট্যাবলেট, পৰ্পটী-চুর্ণ;
অনুপান, অবলেহে ঘর তার পূর্ণ
ভজিবার মুগর—শৌর্যের উৎস
দূরে পড়ে; খোঁজে আজ মদৃগুর মৎস্য ।
ভাবেনি সে হবে তার এতবড় ‘চেঞ্জ’ই,
পাঞ্জাবী হ’ল তার পুরাতন গেঞ্জি।
অবশেষে অসুখের সংবাদ পাইয়া,
দেশ থেকে ধেয়ে এলাে দেশােয়ালী ভাইয়া।
করে দিলে প্রথমেই চা খাওয়াটা বন্ধ
বে-ভাষায় বলে সে কত কি যে মন্দ।
r
ছােটদের চয়নিকা

রামসুক তেওয়ারী
শ্ৰীযুক্ত কুমুদরঞ্জন মল্লিক
ভােরে ঘােরে খােলামাঠে রামশুক সাথে সে,
তুলসীর রামায়ণ পাঠ করে রাতে সে।
চা ছাড়িয়া রামসুক উঠলাে যে মুটিয়ে,
অৰ্হরের ডাল খায়, জোয়ারের রুটী হে।
চা খেলেই তাড়া করে,-করে নাক কেয়ার-ই,
খাসা আছে, সুখে আছে, রামসুক তেওয়ারী।
কুমুদরঞ্জন মল্লিক
iyoyaptent
ছােটদের চয়নিকা
৯১

জোড়া-হাঁস কেনারাম মাইতির বাস পাড়াগাঁয়, হাঁস আর ডিম বেচে সুখে দিন যায় । দুটো ছিল খোঁড়া-হাঁস, রােগ জিজিরে— খদ্দেরে কেনে না কে, দেখে যায় ফিরে। কেনারাম মন-ভার, বুক-পেট ভারী জোড়া হাসে এ কি কঁাশ! লাগে দিদারী সহুরে বাবুর দল চড়ে’ হাওয়া-গাড়ী পিনিকে গায়ে আসে; কেনা তাড়াতাড়ি বেচারামে ডেকে বলে,—“স দুটো আন্- মুখ তুলে চেয়েছে রে বুঝি ভগবান । ‘াস এনে রাখি পথে মাঝখানে ঠিক- উড়ে আসে গাড়ী ওই,—লেগে যাবে টিক্ ! ভোঁ-পাে ভোঁ-ভোঁ—এলাে ওই চট্‌পট্ নে রে, মাঝা-পথে রাখি হাঁস ! কসে ছুট দে রে ! লুকো, লুকো ঝােপটার পিছনেতে গিয়ে। মজা সে যা হবে-ওঃ, বুঝচি তা ইয়ে !” ছােটদের চয়নিকা ৯২

জোড়া-হাঁস
শ্ৰীযুক্ত সৌরীন্দ্রমােহন মুখখাপাধ্যায়
হুররু-ঘ্যাকচ-ঘ্যাচ, !•••পড়েছে তলায়।
বেচারামে কেনারাম ডাকে ইশারায়।
গাড়ী থামে দূরে, লাগে বাবুদের তা—
থানা-পুলিশের হাতে পিক্‌নি ফাক !
কঁচুমাচু মুখে কেনা এসে কয়,—“এ কি !
আমারি সে জোড়া-হঁাস চাপা গেছে, দেখি ।
{
li
-
খদ্দেরে রেখে গেছে, দাম দেছে ফেলে-
কোথা থেকে দেবাে হাঁস ? যেতে হবে জেলে।
ওহাে, হাে-হাে, প্রাণ যায়, দুনিয়া আঁধার ।
খালি ট্যাক্ ওরে বাবা, চাবে গুণােগার !”
ভোঁ-ভোঁ কঁদে কেনা, বেচা নাক ঝাড়ে ;
শীতের কাপন লাগে বাবুদের হাড়ে।
ছোটদের চয়নিকা
৯৩

জোড়া-হাঁস
শ্ৰীযুক্ত সৌরীন্দ্রমােহন মুখােপাধ্যায়
তারা বলে,-“থামাে বাপু, মােরা দেবাে দাম।”
মাথা নেড়ে কেনা বলে,-“বাবারে, মলাম!”
বাবু যত বলে, থামাে’-কেনা তত কাঁদে।
হাঁস-চাপা দিয়ে বাবু পড়ে গেছে ফাঁদে!
বাবু দুটো নােট দেয়,হাত পাতে কেনা ;
বাবু ভাবে, বাঁচা গেল, শোধ হলাে দেন!
क
}
}}
in
hoxepta
গাড়ী চড়ে’ বাবু যায়,—কেনা হেসে কয়,
“ওরে ব্যাচা, বুদ্ধিতে দ্যাখ কি না হয় ।
দুটো নােটে কুড়ি টাকা; আরাে তার পরে-
হংস-মাংস খাবাে হাঃহাঃ কেয়া মজা করে !”
সৌরীন্দ্রমােহন মুখােপাধ্যায়।
ছােটদের চয়নিকা
৯৪

গোঁফ চুরি
হেড, আফিসের বড় বাবু লােকটি বড় শান্ত
তার যে এমন মাথার ব্যামাে কেউ কখনো জান্ত?
দিব্যি ছিলেন খােস্ মেজাজে চেয়ার খানি চেপে।
একলা বসে ঝিম্‌-ঝিমিয়ে হঠাৎ গেলেন ক্ষেপে।
আঁৎকে উঠে হাত পা ছুঁড়ে চোখটি করে গােল—
হঠাৎ বলেন—“গেলুম গেলুম, আমায় ধরে তােল।”
তাই শুনে কেউ বদ্যি ডাকে, কেউ বা হাঁকে—পুলিশ,
কেউ বা বলে “কামৃড়ে দেবে সাবধানেতে তুলি।”
ব্যস্ত সবাই এদিক ওদিক করছে ঘােরা-ঘুস্ত্রি
বাৰু হাঁকেন—“ওরে আমার গোঁফ গিয়েছে চুরি।”
গোঁফ হারানাে ! আজব কথা ! তাও কি হয় সত্যি?
গোঁফ-জোড়াত তেমনি আছে-কমেনি এক রত্তি ;-
চু Borgatte
' সবাই তারে বুঝিয়ে বলে সামনে ধরে আয়না
মােটেও গোঁফ হয়নি চুরি, কক্ষণাে তা হয়না
ছােটদের চয়নিকা

গোঁফ চুরি সুকুমার রায় রেগে আগুণ তেলে-বেগুণ,তেড়ে বলেন তিনি “কারাে কথার ধার ধারিনে, সব বেটাকেই চিনি, নােংরা ছটা খ্যাংরা ঝাঁটা বিচ্ছিরি আর ময়লা। এমন গোঁফত রাখতাে জানি শ্যামবাবুদের গয়লা। এ গোঁফ যদি আমার বলিস করব তােদের জবাই- এই না বলে জরিমানা কল্লেন তিনি সবায় ! ভীষণ রেগে বিষম খেয়ে দিলেন লিখে খাতায় “কাউকে বেশী লাই দিতে নাই, সবাই চড়ে মাথায়। আফিসের এই বঁাঁদর গুলোর মাথায় খালি গােবর গোঁফ-জোড়া যে কোথায় গেল কেউ রাখে না খবর। ইচ্ছে করে এই ব্যাটাদের গোঁফ ধরে খুব নাচি। মুখ গুলাের মুণ্ডু ধরে’ কোদাল দিয়ে চাচি। গোঁফকে বলে তােমার আমার-গোঁফ কি কারাে কেনা, গোঁফের আমি, গোঁফের তুমি, তাই দিয়ে যায় চেনা। সুকুমার রায় ছােটদের চয়নিকা

মগজের মৌচাকে
মগজের মৌচাকে খোঁচা খেয়ে বােস্তা
ভন্ ভন্ বকে কি যে আবােল-তাবােল তা
চাল নেই, চুলাে নেই,—কুলােপানা চক্কর,
দিনরাত ঘােরাঘুরি ছিনিমিনি ছক্কর ।
৯}
mo
E
Bhageplan
পথ নেই ঘাট নেই, নেই ভােলা জানা
সিড়ি বেয়ে ছাদ নেই, আছে শুধু আন্না।
ধোঁয়া খায় ফস্ ফস্, জল খেলে অক্কা
ঢ্যাপ-ঢ্যাপ বাজে যেন পেটফাঁসা ঢক্কা।
ছােটদের চয়নিকা
৯৭.

মগজের মৌচাকে
মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
শন্ শন্ ছােটে তীর ঘনঘাের যুদ্ধ,
তাড়া খাওয়া জাত সাপ কি ভীষণ ক্রুদ্ধ।
জল নেই, ডাঙ্গা নেই, আকাশেতে থৈ থৈ,
দিনরাত স—সঁ, হু, হুস্হৈ হৈ !
চাকা ভাঙ্গা গাড়ীখান কঁাচ, কঁাচ, ঘড় ঘড়-
পিঁপড়ের ডানা উঠে ওড়ে শুধু ফড়ফড় ।
তার মাঝে ঘুম দেয় নিধিরাম সর্দার
শিরে তার শিরােপাটা বাঁধা ছিটে-পর্দার ।
-মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
ঞ্জ
ঠত
ছােটদের চয়নিকা
৯৮

-

No text on this page.

শান্ত ছেলে
দুড় দাড়াম,ঝন্‌ ঝন ঝন! বাপরে, একি ধুম ধাড়াক্কা
কাঁপছে বাড়ী, ঝরূছে বালী,বুকের ভিতর ঢেকির ধাক্কা।
ঐ যাঃ! বুঝি ভাঙলাে সার্সি,
গুড়িয়ে গেল দেয়াল-আর্সি,
কে আছিস্ রে, দেখরে গিয়ে ফাল বুঝি মাথার খুলি ।
শুনলুম শেষে হাবু বাবু খেছেন ঘরে ডাণ্ডাগুলি।
।
হাবু বাবু ঠাণ্ডা ছেলে, বাপের ক্ষুরে পেন্সিল কাটেন,
পুরুত ঠাকুর বলে পূজোয় কাচ, করে তাঁর টিকি ছাটেন।
লম্বা সুতােয় বঁড়শী গেঁথে
ছাতের ধারে ওৎটি পেতে
হাবু আছেন ঘুপটি মেরে,পথ দিয়ে যায় ফিরিওলা,
ঝাকা থেকে অনি তাহার ফল কি খাবার টেনে তোলা।
হবু বাবু লক্ষী ছেলে ঘরের মেঝেয় গাব্ব, খোঁড়েন,
খােকার মাথায় লাট্ট, ঘােরান,খুকীর পিঠে ধনুক ছোঁড়েন।
‘এয়ার গান’টা কাঁধে নিয়ে
শীকার করতে সেদিন গিয়ে
জলের কুমীর পেলেন নাকো—দ্যালের গায়ে টিটিকিটে
মারুতে তাকে, লাল আমার চশমাটাতেই গুলির ছিটে ।
ছােটদের চয়নিকা
৯৯

শান্ত ছেলে শ্ৰীযুক্ত হেমেন্দ্রকুমার রায় হাবুর ফুটবল সেদিন গিয়ে পড়লাে পাশের বাড়ীর ভেতর, কৰ্ত্তা তাদের চটে বলেন—“বল দেব না আজকে রে তাের। ছেলে-পুলের ভাঙবে মাথা ওরে গোয়ার, জানি না তা ?” . ।। »»le- হাবু বলে কাঁদো মুখে—“ভয় কি তােমার ছেলে গেলে ; একটা মোটে বল যে আমার,তােমার আছে সাতটা ছেলে। ছােটদের চয়নিকা ১০০

শান্ত ছেলে
শ্ৰীযুক্ত হেমেন্দ্রকুমার রায়
হাবু বাবুর ভরসা কত ! চ্যাটালাে তার বুকের পাটা !
দিনের বেলায় মাতে পারেন ভূতের টাকে দশটা চাটা।
বােনের পায়ে ল্যাং লাগিয়ে
হারিয়ে তারে দ্যান ভাগিয়ে,
&
.
>
সন্ধ্যে হলেই চক্ষু বুজে,একেবারে খুলে জামা-
মায়ের বুকে লুকিয়ে বলেন –“ভূতের গল্প শুনুবাে না মা।”
হেমেন্দ্রকুমার রায়
| JU
ছোটদের চয়নিকা

= এ এ এ নন- {: <+6ি -- গাঁচমিনিটের কা আজকে বসি’ ঠাকুরদাদার কেদারায় খােকা আমি গিয়েছি তা ভুলিয়া ছোঁয় না মাটি দুলাচ্ছি তাই দুটি পায়— খবরের এই কাগজখানি খুলিয়া । ছােটদের চয়নিকা

পাঁচমিনিটের কর্তা
কালিদাস রায়
চশমাটা তার, কানে দিছি লাগিয়ে,
চোখ ছাড়িয়ে নাকের পরে ঝােলে যে।
গুড়গুড়িটির নলটা নিছি বাগিয়ে
লাগছে নাকি ঠাকুরদাদা বােলে হে ?
কে আছ হে এস দেখি এদিকে,
তামাক দিতে বল না রামনিধিকে।
সাদা কাগজ সামৃনে এত, কি লিখি ?
পটুলা কেন জলা করিস্ ওখানে!
রােকা নে যা’ পান্তুয়া আর বি
গালা ভরে’ আনতে গিয়ে দোকানে।
হাছ মাখন ? মেজাজ আমার বােঝ না,
চামড়া পিঠের তুস্থ সবার চাবুকে,
দাড়িয়ে আছ ? চাবি কোথায় খোঁজ না
গ্রাহ্য তােমার হচ্ছে না যে বাবুকে!
চালাও আজি ঢালাও পােলাও খিচুড়ি
হবে নাক’ অভাব কোন কিছুরি ।
ডাকের চিঠি রাখবে আমার দেরাজে,
জবাব টবাব লিখব আমি দুপরে
গ্রাহ মােটেই কচ্ছে নাক’ এরা যে
কড়া-শাসন চাই ইহাদের উপরে ।
ছােটদের চয়নিকা

পাঁচমিনিটের কর্তা
শ্ৰীযুক্ত কালিদাস রায়
অবাক হয়ে দাড়িয়ে কেন হাঁ করে,
ডাবে মােরে মােটর গাড়ী থামায়ে,
চাদর লাঠি আন্ দেখি রাম ধাঁ করে’,
নাপিতও ডাক গোপ-দাড়ী নিই কামায়ে ।
যাচ্ছ কোথায় ? হয় না বুঝি কেয়ার এ
দেখছ না যে বাবু তােমার চেয়ারে।
ঠাকুরদাদা যদিই পড়ে আসিয়া
ভাবছো বুঝি, হব বেকুব বােকাটি ?
হাত বুলিয়ে বলবে আমি হাসিয়া
“এ-ঘরেতে গোল করাে না থােকাটি
=
porta,
একশত বার মক্যাে কর লেখাটা
মাধব-খুড়াে আসবে তােমা পড়াতে
আকে যে চাই নামৃতা-ঘােষা-শেখাটা
নইলে প্রহার আছে তােমার বরাতে।
ছােটদের চয়নিকা

পাঁচমিনিটের কর্তা
শ্ৰীযুক্ত কালিদাস রায়
৬
পাকা চুল মাের তুলতে, বাবার মামাকে
ডাকৃতে না হয় পাঠিয়ে দিও রামাকে।
রােদে রােদে আজ হবে না বেড়ানাে
ঘরে বসে আঁকবে ছবি শেলেটে
হবে না আম কুড়াননা, নাই এড়ানাে
দুধ খাবে আজ ঢেলে চায়ের পেলেটে
পাড়ার যত দুষ্ট ছেলে বকাটে
সঙ্গে মিশে বয়েসী শিখালে
দুপুর বেলা বদ্ধ রবে কপাটে;
ছুটি পেলে পড়লে বেলা বিকালে,
ছাদের পরে উড়িয়ে দিবে ঘুড়িটি,
সঙ্গে শুধু থাকবে দিদি-বুড়ীটি।”
কালিদাস রায়
ছােটদের চয়নিকা

Asy
5ে..
খাঁদু দাদু
অমা! তােমার বাবার নাকে কে মেরেছে ল্যাং ?
খাদা নাকে নাচছে ন্যাদা নাক ডেঙাডেং ড্যাং।
ওঁর নাটাকে কে কর ফঁাদা ব্লাদা বুলিয়ে
চাচিকে-ছা বসে যেন ন্যাজুড় ঝুলিয়ে,
বুড়াে গরুর টিকে যেন শুয়ে কোলা ব্যাং
অমা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙাডেং ড্যাং।
ওঁর খাদা নাকের ভেঁদা দিয়ে টুকি কে দেয় ‘টু
ছােড়দি বলে সর্দি ওটা, এ রাম! ওয়াক্‌-! থুঃ।
কাছিম যেন উপুড় হয়ে ছড়িয়ে আছে ঠ্যাং !
অমা! আমি হেসে মরি,নাক ডেঙা ডেং ড্যাং।
ছোটদের চয়নিকা

খাদু দাদু কাজী নজুল ইসলাম দাদু বুঝি চীনেম্যান মা, নাম বুঝি চাংচু তাই বুঝি ওর মুখটা অমন চ্যাপটা সুধাংশু ! জাপান দেশের নােটীশ উনি নাকে এঁটেছেন। অমা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙাডেং ডেং। দাদুর নাকি ছিল না মা অমন বাদুড়-নাক, ঘুম দিলে ঐ চ্যাপটা নাকেই বাজুতাে সাল্টা শাঁখ। দিদিমা তাই থাবড়া মেরে থ্যাড়া করেছেন। অমা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙা ডেং ডেং। লক্ষানন্দে লাফ দিয়ে মা চলতে বেজীর ছা দাড়ীর জালে পড়ে যাদুর আটকে গেছে গা। বিল্লী-বাচ্চা দিল্লী যেতে নাসিক এসেছেন। অমা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙা ডেং ডেং। দিদিমা কি দাদুর নাকে টাঙতে ‘ আনা’ গজাল ঠুকে দেছেন ভেঙ্গে বাঁকা নাকের কঁখ ? মুচি এসে দাদুর আমার নাক করেছে ‘ট্যান, অমা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙাডেং ড্যাং ! বাঁশীর মতন নাসিকা মা মেলে নাসিকে, সেথায় নিয়ে চল দাদু দেখন-হাসিকে। সেথায় গিয়ে করুন দাদু গরুড় দেবের ধ্যান- খাঁদু-দাদু নাকু হবেন, নাক ডেঙা ডেং ড্যাং। কাজী নজরুল ইলাম। ছােটদের চয়নিকা

কানামাছি
চৌরঙ্গীর এক মােড়ের মাথায় মস্ত একটা হােটেল বা
ফিটফিটে তিন ফটিকবাবু এলেন চড়ে ফিট গাড়ী।
চেয়ার টেবিল শূন্য সবই,দুপুর-দুটো তখন মােটে।
খানসামারা অবাক্ হােল—এ-সময়ও খদ্দের জোটে।
saw
ভাবলে,-“হ্যা, তা হতেও পারে,—এরা তাে আর সাহেব ন
ভাবনা তাদের বন্ধ করে’ হাঁকৃ পড়িল-“কাম্ অন্ বয়!
‘বয়’-এর কিন্তু বয়েস কত—কেই-বা তাহার হিসাব রাখে ?
তিরিশ কিম্বা তেষটি হাে‘বয়’ চিরকাল ‘বয়’-ই থাকে।
ছােটদের চয়নিকা
১০৮

কানামাছি
শ্ৰীযুক্ত রামেন্দু দত্ত
বাবুদের সব হুকুম হােল-কোৰ্ম্মা-পােলাও-কোপ্তা চাই।
এক একজনে ওড়ান্ ন’ ডিস্-এই দিতে এই পাতেই নাই।
তাড়ার-দাপে হােটেল কঁপে, ‘বয়’ তটস্থ, ভাড়ার ফাঁক,
এক বাবু কন—এবার ভায়া, চায়ের অর্ডার দেওয়া যাক।
চা এলাে আর সঙ্গে এলাে একুশ টাকার একটি ‘বি’-
এদের তখন পেট ভরেছে, মেজাজ খুশ, আর দরাজ দিল্।
এক বাৰু তার বুক পকেটে হাতটি দিতেই, ঝপাৎ করে’
পার্শ্ববর্তী বন্ধু তাহার অমনি সেটা নিলেন ধরে।
‘কচ কি এ? আরে সে কি ? তুমিই দেবে ! তাও কি হয় ?
এ খাওয়ানটা আমার পালা, আমিই দেব, ইধার, ‘বয়।
‘এই ওয়েটার শােন্ কথা শােন্, নিনে টাকা ওঁর কাছেতে-
এ ধারে আয় দিচ্ছি আমি।
-“আমি দিচ্ছি—এই ধারেতে।
বয় বেচারা এধার থেকে কেবল চলে অপর ধারে ;
সেখান থেকে আচকান ধরে’ আরেক বাবু টানেন তারে।
মীমাংসা এর ক্রমেই যখন কঠিন হতেও কঠিন হয়-
একজনা কয়—“আচ্ছা, রােসাে, ফল কি করে’ কালক্ষয় ?
এই ওয়েটার, চোখটা তােমার রুমাল বেঁধে দিচ্ছি কসে’,
আর এই আমরা চেয়ার টেনে উল্টো-পাল্টা থাক্‌ব বসে।
যাকেই তুমি প্রথম ছোঁবে সেই দেবে এই ‘বি’-এর টাকা
কেউ আর কিছু কইবে নাকো, এই কথা ঠিক রইল পাকা !
ছােটদের চয়নিকা

কানামাছি,
শ্রীযুক্ত রামেন্দু দত্ত
যেনি বলা অমৃনি করা কানামাছি ভোঁ ভাঁ !
‘বয়’-এর চোখটি বেঁধে দিয়ে বাবুর দিলেন ঠো চা!
শূন্য ঘরে চকী ঘােরে,-শূন্য চেয়ার টেবিল ঠ্যাকে—
চোখের রুমাল খুলে ‘ওয়েটার’ সর্ষে-ফুলের ফসল দ্যাখে
.
po +
কোথায় বাবু ; কোথায় বাবু; বাবুর দলটি কোথায় অার ?
হােটেল ঘরে ‘ওয়েটার’ কঁদে,—বাবুরা সব পগার পার
রামেন্দু দত্ত
ছােটদের চয়নিকা
১১০

No text on this page.

WAX
BARRO
lauw
WWW
ASTA
www
AWAM
LE
WERNE
SMS

No text on this page.

হিসাবী
শ্রীযুক্ত সুবিনয় রায়
দেশ জুড়ে পড়ে গেছে ধ ধ শব্দ,
এই বারে পাঁচকড়ি নির্ঘাত জব্দ।
হাতে ফটো, নােট বই, পেন্সিল, ফর্দ,
খুজে খুজে রামধন হয়ে গেল হদ্দ।
দুনিয়ার পাঁচকড়ি, গঙ্গো ও চট্টো,
সেন, রায়, ঘােষ, বােস, মিত্তির, ভট্ট ;
চৌধুরী, সরকার, নাগ, সুর, বন্দ্যো,
শাসমল, বিশ্বাস, ধর, কর, চন্দ,
ফটোখানা ধরে পাশে সকলের চেহারার,-
যতই মেলাতে চায় তত হয় মেলা ভার।
কারাে আছে চাপ দাড়ি, আসামীর দাড়ি নাই,
চোখ কারাে মেলে নাক, এক চোখ টেরা চাই।
কারাে রং ধবধবে, আসামীর রং কালাে,
কারাে মুখ গােল গাল, চিম্‌সেটে হলে ভালাে।
মাথা ভরা চুল কারাে, টেকো মাথা আসামীর
টিয়ানাকী পাঁচকড়ি, কারাে নাক জাপানীর।
কারো কান ছােট খাট, আসামীর গাধা কান,
হেঁড়ে গলা আসামীর, কারাে বা মধুর তান।
হয়রান হয়ে শেষে ‘দুত্তোর’ বলে
রামধন ভাবে যাবে দেশ ছেড়ে চলে।
সহসা মাথায় তার খেলে গেল বুদ্ধি,
চট করে ঘরে গিয়ে পরে নিল উদি।
ছােটদের চয়নিকা
১১২ (

হিসাবী
যুক্ত সুবিনয় রায়
টক্ টক্ যােগ করে দেখে নিল ত্রস্ত,
এইবার পেয়েছে সে মােক্ষম অস্ত্র।
চট করে ছুটে গিয়ে আসামীর বাড়ীতে,
তার দুটি ভায়ে ধরে, নিয়ে এল ফাঁড়িতে।
গ্রেপ্তারী পরােয়ানা ঝট করে লেখায়ে,
হাত কড়া দেয় হাতে দুই ভায়ে দেখায়ে।
এইবার যাবে কোথা ? নাই আর রক্ষা ;
সাধ্য কি আছে কারাে তার হাত ফস্কা ?
রামধন হেসে বলে, “হিসেবটি সূক্ষ,
তাই নাহি বােঝে যত হাঁদা আর মূখ।
তিনকড়ি ছােট ভাই, দু’কড়ি সে মেঝে,
তিনে দুয়ে পাঁচকড়ি কে না এটা বােঝাে ?”
--সুবিনয় রায়
ছােটদের চয়নিকা

ম
দেবের তর
সাত বছরের ছােট্ট ছেলে, ছ্যাবলা ছোঁড়া নন্দলাল,
কীৰ্ত্তনেতে গীত গেয়ে ভাই, চিৎ হ’ল তিন সন্ধ্যেকাল।
কয় না কথা, গা’ নাড়ে না, চক্ষু মুদি চিৎপটাং-
কেউ বলে—ভাই, ধন্যি ছেলে, দেবভজনায় এম্নি টা।
হাত পাখাটা চালায় কেহ, কেউবা জোরে বাজায় খােল—
চিৎ হয়ে কেউ কাণের কাছে করছে কেবল গণ্ডগােল।
কিন্তু বুঝি শ্বাস বহে না, কাঁপলাে ত্রাসে সবার প্রাণ
সবাই বলে—“বদ্যি কোথা? আরে তারে ডাক্ দে আন্!”
ঠান্‌দি-বুড়ীর নাতজামায়ের সহর ভরি’ ডাক ভারী,
তিন তালা এক অট্টালিকায়, পড়ছে নূতন ডাক্তারী।
ছোটদের চয়নিকা
১১৪ (

দেবের ভর
শ্ৰীযুক্ত সতীমােহন চট্টোপাধ্যায়
খবর পেয়েই, নধর দেহে, আল জবর ব্যস্ততায়
থার্মোমিটার’ চাপিয়ে দিয়ে, কজি ধরি’ বিজ্ঞতায়-
বল্ল সবায়—“ভিড়টা ছাড়ুন, একটা তােপেই সব কাবার,
ধেই করে এই উঠছে যাদু, ভয় ভাবনা নেই আর।
আসলাে তখন তিনকড়িদার ভগ্নিপতি গঙ্গারাম
‘বাবা ঢের দেখেছি, এর মাঝেতেই এম্নি কাম !
‘
টসেলেস’ নেয়নি কো কাল, হয়নি পড়া মুখস্ত
ভিকুটি এই বুজরুকি সব, ফাঁক না-পড়ার সমস্ত।
এই না বলে, ইঞ্চি বানাে কঞ্চি এনে হায় রে হায়,
সপাং সপাং চালায় পিঠে—“টু’ নাহি কয়, রইল,ঠায়।
এমন সময় দৌড়ে এসে বিদ্যাবাগীশ শুদ্ধাচার—
বল্লে থামাে, করছ কি এ, কাৰ্য্য সবই অজ্ঞতার ।
—দেখছো নাকি ভর হয়েছে দেবদেবীদের হায় রে হায়-
মারছাে কি আর নন্দলালে? লাগছে বেদম ভঁদের গায়।
এই না বলে, যােড় করে হাত, বল্লে ক্ষমাে সন্তানে
হে দেব দেবি ! যেই বা আছে—অজ্ঞ এসব কি জানে?
এমন সময় ছুটকি মেয়ে, নন্দলালের ভাগ নেয়ী-
দৌড়ে এসে বল্লে, ‘ওগাে নন্দমামা করলে কি ?
নাকতত ডাকাও,ফাঁক পেয়ে আজ,ক্যালা ছোঁড়া ছোঁ'মেরে-
ছিনিয়ে নিল লাল ঘুড়িটা লাটাই সূতাে সব কেড়ে।
ছােটদের চয়নিকা

দেবের তর
শ্ৰীযুক্ত সতীমােহন চট্টোপাধ্যায়
যেন্নি বলা, অম্নি সেথায়, এম্নি হল কাণ্ড সব
ভালে পেটে খিল্ লেগে যায়, আজব মজার মহােৎসব !
তড়াক করে লাফিয়ে উঠে, নন্দা বলে ‘কলি কি ?
ক্যাবলা এসে কেমনে নিল ?—আগেই কেন বলিস্ নি ?
এই না বলে কাণ-ধরি’ তার, গাল ভরি’ এক ভীষণ চড়-
টুকি মেয়ে চেঁচায় বেজায়,—সবাই বলে ‘ধর রে ধরু।
বিদ্যাবাগীশ নস্য নিয়ে বল্লে—এটা কলির দোষ’
‘গঙ্গা বলে—‘
ভালাে না বেত, রইল আমার এ আফশােষ।
সতীন্দ্রমােহন চট্টোপাধ্যায়
ছােটদের চয়নিকা
১১

ছাপাের
বাজী রাখলে বীর পালােয়ান রামদীন দোবে-
চৌদ্দ পােয়া ছাতু খাবে পাঁচটা টাকার লােভে।
-
জল মিশিয়ে খেলে পরে অনেক যাবে বেড়ে
কাজে কাজেই নুন্ লঙ্কায় শুনাে দিলে মেরে।
ছােটদের চয়নিকা
১১৭

ছাতুখাের
শ্ৰীযুক্ত হরিপ্রসন্ন দাশগুপ্ত
বাজী জিতে’ রামদীন টাকে গুজ্বলে টাকা,
এদিক দিয়ে পিপাসাতে যায় না জীবন রাখা।
ঢক ঢক ঢক্‌ খাচ্ছে জল লােটার পরে লােটা,
পেটা পেয়ে জলের নাগাল হচ্ছে ক্রমেই মােটা।
পাঁচ মিনিটে হয়ে গেল মস্ত বড় জালা
এবার কিন্তু হয়ে এলাে ফেটে যাবার পালা।
পট পটাং পট পটাং—পট পটাং পটু—
পেটুটি ফেটে বেরিয়ে পলাে মস্ত ছাতুর মঠ।
-হরিপ্রসন্ন দাশগুপ্ত
ছােটদের চয়নিকা
১১৮

-খেলার-খেসারৎ- খেলিবার নামে মাতে ছেলে বুড়ো চ্যাংড়া- তাহাদের দেখাদেখি পােলাে খেলে ব্যাঙরা ! কি কি খেলা মাঝে কেনারাম কুণ্ডু খচ্‌ করে খসাইল ক্যাবলার মুণ্ডু। হেড করে’ হকি খেলে ছেলে বড় ষণ্ডা— পেট ফঁাপে ফুটবলে গােল খেলে গণ্ডা ! গড় করি গড়পারে, গুপীদের গুলাে ‘রাগবীর’ ম্যাচ দিতে ময়দানে ডুবল ! ‘ব্রেকফাষ্ট খেয়ে ব্রিজ খেলে বিশু বৰ্মা স্রেফ সাত মাস রয় হয়ে নিষ্কর্মা ; নকড়ির কনে বউ কানুদের শুক্ল, লুকাইয়া কড়ি খেলি কফে কাশে ভুগল ! খেলি ‘ছাও ছি’ খেলাটা দিন দুই মাত্র মারা গেল প্যালারাম পহেলিয়া ভাদ্র। ছােটদের চয়নিকা ১১৯

খেলার-খেসারৎ
শ্ৰীযুক্ত অখিল নিয়োেগ
বারগুটি বাঘছাল খুঁটি যেই বাটল—
সেনেদের গিন্নির ছেলে সাপে কাটল।
তাই বলি খেলিওনা কভু গুলি-ডাণ্ডা,
চোট লেগে হ’বে মাথা একেবারে ঠাণ্ডা
.
গােকুলের কেরাণীটা টেণে খেলি’ বিন্তি
হারাইল ঘড়িটারে তাই তারে নিন্দি
দখিন হাতের খেলা খেলাে একনিষ্ঠ,
পেটে খেলে জেনাে ভাই সয় সদা পৃষ্ঠ!
-অখিল নিয়ােগী
ছােটদের চয়নিকা

সামিয়ানা চৌধুরীদের সামিয়ানা বাইরে সেদিন হলাে আনা ; সবাই বলে এ উহারে—“ব্যাপারটা কি, ব্যাপারটা কি ? চৌধুরীদের ছােট মেয়ের বিয়ে নাকি!” কেউ বা বলে—“হয়তাে নাতির অন্নপ্রাশন- হচ্ছে বিপুল তাই আয়ােজন।” বল্লে কেহ ফিসফিসিয়ে মিহি সুরে, “চৌধুরীদের মেজ ছেলে হয়তাে আজি আছে ফিরে বিদেশ ঘুরে। কৌতূহলে স্কুলের ছেলে জুটলাে সবাই দলে দলে, এ উহারে ডেকে বলে— ছােটদের চয়নিকা

সামিয়ানা
যুক্ত সুনির্মল বসু
“যাত্রা হবে রাত্রে আজি, আতে হবে সন্ধ্যাবেলা !”
আশে পাশে জমলাে বহুলােকের মেলা।
হাটের লােকে, ঘাটের মাঝি, ইষ্টিশানের যতেক লী
কাজ কর্ম সকল ভুলি’
সবাই হলাে সেথায় জড়াে
যতেক জোয়ান, ছােট বড় ।
সবার মুখে একই কথা, হদ্দ ভেবে সবাই তারা,
সবাই হােলাে ভেবে সারা।
-
Samen
ভীড়ের মাঝে দাঁড়িয়েছিল পাড়ার প্রাচীন দীনু বুড়াে
নিতাই এসে বল্লে তারে, “ব্যাপার কিহে বুঝছাে খুড়াে”
ছােটদের চয়নিকা
১২২

সামিয়ানা
শ্ৰীযুক্ত সুনির্মল বসু
বল্লে আরাে হেসে নিতাই
-অনেক দিনের পরে এবার পড়বে পেটে মণ্ডা মিঠাই,
সুটকে ভায়া আছি মরে,
ছা-পােষা লােক, জুটবে বেশী কেমন করে!”
ওদিকেতে লাগায় বাজি গদাই এবং পাড়ার হেবাে-
বল্লে—“যে ঠিক্ বলবে তারে পাঁচটি টাকা ইনাম দেব।”
গদাই বলে—“চৌধুরী-বৌ ভাঙ্গবে ব্ৰত রাত্রে আজি।”
বল্লে হেবাে-“মানুতে আমি একটুও তা নইক রাজী।”
“আবে আজি জমিদারের জামাই”
ভীড়ের থেকে চেঁচিয়ে বলে রামাই।
এমন সময় তরিয়ে সিড়ি বেয়ে একেবারে
চৌধুরীদের নায়েব মশাই নেমে এলেন বাইরে দ্বারে।
সবাই বলে নিশেস ফেলে—“এবার সকল যাবে জানা
আজকে কেন বার হলাে এই বিরাট বিপুল সামিয়ানা।”
সাহস করে এগিয়ে তখন বল্লে গাঁয়ের নন্দ-গোঁসাই—
*—সামিয়ানা বাইরে কেন, ব্যাপারটা কি নায়েব মশাই।
ছােটদের চয়নিকা

সামিয়ানা যুক্ত সুনির্মল বসু 14, { it.} . কাষ্ঠ হেসে গোপ পাকিয়ে বল্লে তখন নায়েব মশাই— উই ধরেছে সামিয়ানায়, বাইরে রােদে দিয়েছি তাই।” —সুনিৰ্ম্মল বসু শেষ-

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Chotoder-chayonika

Author
Basu ,sunirmal Ed.
Title
Chotoder-chayonika
File name
Chotoder-chayonika
Text
OCR done
Citation
1931
Published
2009/12/16
Publisher
Subodhchandra Majumder, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
177
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Basu ,Sunirmal
DLI number
512566
Barcode
4990010019629.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
pnOi4askuI2
Download PDF

Chotoder-chayonika