Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Jatiya-uddipana
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
জাতীয়-উদ্দীপনা।
চাহিনা স্বর্গের সুখ নন্দন কানন।
মুহুর্ত্তেক বৃদি পাই স্বাধীন জীবন।
ঢাকা-গিরিশযন্ত্রে।
মুন্সি মওলা প্রিন্টার কর্তৃক মুদ্রিত ও
প্রকাশিত।
১২৮৪।
মুল্য ৭ বারআন মাত্র।
No text on this page.
মুখবন্ধ। অধুনা, মৃতপ্রায় ভারতবাসী-হৃদয়ে সহস্রাধিক বৎসরের বিলুপ্ত স্বদেশানুরাগ পুনৰুদ্দীপিত হইয়াছে। ভারতের মৃতকল্প দেহে জীবনীশক্তির সঞ্চার চিহ্ন দেখা যাইতেছে। জন্মভূমি এবং জাতীর প্রতি সম্মান ও গৌরব বৃদ্ধি না জন্মিলে লোকে আদেশানুরাগী হইতে পারেনা। ভারত- বাসীর হৃদয়ে “ ভারত মহিমা ” দিন দিন উচ্চাসন লাভ করিতেছে। ভারতবাসী এখন আর পূর্বের মত বিলাসে বিভাের হইয়া স্বীয় কর্তব্যানুষ্ঠানে বিরত রহেন না। স্কুল কথা, ভারত সমাজে ধীরে ধীরে স্বদেশানুরাগ ও স্বজাতি পক্ষপাতিত্ব প্রবেশ করিতেছে। এই স্বদেশানুরাগে বাঙ্গালির ৰুচি ও বঙ্গ সাহিত্যের গতি পরিবর্তিত হই- তেছে। ইউরােপের হীনতা এবং প্রাচীন ভারতের ম- হত্ত্বের কথায় এখন আমরা যত সুখী হই, এত আর কিছু তেই নহে। জেতার প্রতি মর্মান্তিক বিদ্বেষ ইহার অন্য তম কারণ বটে, কিন্তু স্বদেশানুরাগই ইহার মূলীভূত সন্দেহ নাই।
বর্তমান সময়ে, বঙ্গবাসীর কচি যেরূপ বিকৃত হইয়া পড়িয়াছে, বাঙ্গালা সাহিত্য যেরূপ লঘু ও হীনদশা প্রাপ্ত হইয়াছে; স্বদেশানুরাগ ও স্বজাতির প্রতি অনুরাগ অভাবে ভারতের যে শোচনীয় অধােগতি সংঘটিত হইয়াছে; তা- হাতে এরূপ একখানা স্বদেশানুরাগগাদ্দীপক গ্রন্থ প্রণয়নের যে কতদূর প্রয়ােজনীয়তা, তাহা বণনা করা আমাদিগের সাধ্যম্নত্ত নহে। শুভক্ষণে, • জাতীয় সঙ্গীত প্ৰ- নেতা, জাতীয় সীত প্রণয়ণ করিয়া ভারতবাসীর কণ্ঠ দেশে একখানি বহুমূল্য আভরণ এথিত করিয়াছেন। তঁাহারই দৃষ্টান্তের অনুবর্তী হইয়া অদ্য বঙ্গদেশােদ্ভুত সুবি- খ্যাত কবিগণ-বিরচিত কতিপয় স্বদেশানুরাগগাদ্দীপক কবিতা, সঙ্কলন পূৰ্ব্বক এই ক্ষুদ্র জাতীয়-উদ্দীপনা ” গ্রন্থ প্রচারিত হইল। এতদ্বারা ভারতবাসী এক ব্যক্তি- রঙ জননী জন্মভূমির প্রতি স্নেহ ও মমতা সংবর্ধিত হইলে সমস্ত এম সফল মনে করিব। পরিশেষে সকৃতজ্ঞচিত্তে প্রকাশ করিতেছি, শ্রীযুক্ত বাবু রাজবিহারী দাস, এই গ্রন্থ সঙ্কলনে যথেষ্ট আয়াস এবং পরিশ্রম স্বীকার করিয়াছেন। ঢাকা-গিরিশযন্ত্র । প্রকাশক। ১২৮৪।
সূচীপত্র।
পৃষ্ঠা।
••
বিষয়।
১। সঙ্গীত। (কালীপ্রসন্ন ঘােষ )
২। সঙ্গীত। (হরিমােহন মুখােপাধ্যায়)
৩। আৰ্য্যদর্শন। (নবীনচন্দ্র সেন )
৪। ভারতভূমি। ( জ্ঞানাঙ্কুর )
৫। শব-সাধন, (নবীনচন্দ্র সেন )
৬। উদাসীনের বিদায়। ( দীনেশচরণ বন্ধু ) ২৭
৭। বাঙ্গালীর জ্ঞানালােক। (ভুবনমােহিনী দেবী) ৩২
৮। এই কি ভারত। (আনন্দচন্দ্র মিত্র )
১। ভারতী। ( দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর)
১০। আৰ্যসঙ্গীত। ( ভুবনমােহিনী দেবী)
১১। কুকবি। (হারাণচন্দ্র রাহা)
১২। কবির প্রতিজ্ঞা। (হরিমোহন মুখোপাধ্যায়) ৫
১৩। বীণা। (দীনেশচরণ বসু)
১৪। উদ্দীপন। (রামলাল চক্রবর্তী।
৭৫
১৫। কোকিল। (হরিমোহন মুখােপাধ্যায়)
৪১
০
( 0 )
বিষয়।
পৃষ্ঠা।
১৬। আর কি অাছে। যােগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়)
১৭। দেশ পর্যটন। ( শীতলাকান্ত চট্টোপাধ্যায়) ৮৯
১৮। গীতি কে যেন গাইল। (ভারত-সুহৃদ )
১৯। ভারতের সুখাবসান। (দীননাথ সেন।
২০। সঙ্গীত। ( রাজবিহারী দাস)
১১
রাগিণী নট-বেহাগ।
তাল পোস্ত।
নীরব ভারতে কেন ভারতীর বীণা,
সােনার প্রতিমা, আজি শোকে মলিন।
কুঞ্জে কুঞ্জে যার, কোকিল কণ্ঠে খেলিত সুধা তরঙ্গ ;
সে কৰি নিকুঞ্জ অজি, শ্মশান সমান।
বীর রাত। মদে, যেই তানে গর্জিত ভারত,
আজি সে দীপক রাগ, শ্রবণে শুনিনা।
কালীপ্রসন্ন ঘোষ।
No text on this page.
জাতীয়-উদ্দীপনা।
see
সঙ্গীত।
ভারতে বাথাণী আজ নীরব গম্ভীর
হায় কি অদৃষ্ট দোষে সকলি অস্থির।
আর সে গম্ভীর সুরে করি মুগ্ধ তিন পুরে
যায় না ভারতবাসী ভারত সংগীত।
বীণাযন্ত্রে পুরে তান সুখেতে ভাসায়ে প্রাণ
আর সে নারদ ঋষি খায় না ললিত।
অঘের নিদ্রায় আজ সকলি নিদ্রিত।
এই কি পূর্বের সেই ভারত ভবন ?
এই কি সে আর্যজাতি-আর্ষের নন্দন ।
হায় সে পুর্বের ভাব হলে হৃদে আবির্ভাব
বিষাদ-সাগরে মন, হয় রে মগন।
পরিতাপ তমােরাশি আবরে অম্বর আসি-
নিবিড় জলদ কোলে লুকায় তপন !
।
২
জাতীয়-উদ্দীপনা।
যেই আৰ্যপুর হাসি সঙ্গীত তরঙ্গে ভাসি
করিত গম্ভীর মুরে মােহিত ভুবন
এই কি আমরা সেই আর্ষের নন্দন ?
এই কি সে হিমাচল-অচল ভূষণ ?
যাহার শিখর দেশে অপরী কিন্নরী এসে
মধুর মধুর গীতে মােহিত ভুবন।
এই কি সে হিমগিরি ভীষণ দর্শন ?
হায় রে সকলি আছে ভাগ্য দোষে পড়ে পাছে
কিন্তু সে সংগীত-রব নীরব এখন।
আর রে বাজে না বীণা মৃদঙ্গ তেমন !
সেই বিন্ধ্যাগিরি বেগে ভেদিয়া নবীন মেঘে
উৰ্দ্ধমুখে চুম্বিতেছে অনন্ত গগন ;
আজিও তুষার মাখি কাননে শরীর ঢাকি
আছে সে হিমাদ্রি উদ্দে ফিরায়ে নয়ন ;
পাষাণে পাষাণে অঙ্গে আছাড়ি আছাড়ি রঙ্গে
আজিও ধাবিছে গঙ্গা কল কল রবে ।
কিন্তু সেই পরীদলে
নাহি আর কুতূহলে
মধুর সংগীতে করে বিমােহিত ভবে।
নিদ্রিত জাগিয়া আজ সকলে নীরবে।
আছে সেইআর্যপুত্র—অযােধ্যা ভুবন
আছে সেই হস্তিনাপুর—দণ্ডক কানন ;-
কন্তু সে গম্ভীর স্বরে কাপাইয়া চরাচরে
সঙ্গীত। দামামা দুন্দুভি ভেরী বাজে না ভীষণ। কোদণ্ড টার ঘন- হয় হস্তী চারজন করে না বিদায় আর অবনী গগন । নীরব সমর শংখ নিদ্রায় মগন । উৎসাহ সাহস জলে ভাসি আৰ্যপুত্রদলে সমরে অসুরে আর করে না দলন। কিরীট পণ বাণ বৰ্ম চর্ম শিরস্ত্রাণ কাৰ্ম্ম ক নারাচ আদি সমর ভূষণ। জানি পড়িয়া আছে কোথায় এখন! নীরব গম্ভীর ভেরী ঘুমে অচেতন। নীরব বীনার রব ; নীরব বাজনা সব নীরব অভাগ। এই ভারত নন্দন। ভীমনাদে ঘাের ঝে কাপাইয়া জীব সর্বে প্রলয় অনল রাশি করি উদগীরণ। ভীষণ আগ্নেয়গিরি নীরব যেমন- সেই মৃত্য সেই গীত সে বাজনা সুললিত তেমতি নীরব ভুলি ভারত নন্দন। হায় মাগাে কত আর শোক সিন্ধুজলে রাখিবে ডুবায়ে আর্য সন্তান সকলে ? তেজ ধীৰ্য্য বলহীন সকলে মা দিন দিন ডুবাতেছে কীর্ত্তি যশঃ কলঙ্ক সাগরে। কৃপাময়ি। কৃপা করে সাধি গাে কাতর স্বরে ৪ জাতীয়-উদ্দীপনা। ভারতে প্রকাশ হও সেই মূৰ্ত্তি ধরে ? নিজ তেজ করে দান আনন্দে ভাসাও প্রাণ নাচাও আনন্দে পুনঃ ভারত নন্দনে। পূরাও কামনা মাগাে মিনতি চরণে। আবার বাল্মীকি ঋষি একান্তে কান্তারে বসি বিজয়-সংগীত গান,ছুটাক গগনে। শরসনে জুড়ি শর ছড়ি রব ভয়ঙ্কর আর সাজুন রাম রাক্ষস নিধনে। মহোল্লাসে ছাড়ি হয় আবার পাবচয় ছুটুক নির্ভয়ে জয় করতে ভুবনে। আবার সঙ্গিনী সঙ্গে ঋণ রঙ্গে সাজি রঙ্গে আসুক সে বরাঙ্গিনী লােহিত আননে। আবার বাধুক রণ- আবার পাণ্ডবগণ- আবার সাজুক রণে কুৰুপুত্রগণে। আবার সে ভীম স্বরে, কাপাইয়া চরাচরে বাজুক দুন্দুভি ভেরী সমর অঙ্গনে। অাবার নিশ্বাস পুরে আবার গম্ভীর সুরে ভারত নন্দন গা (উ) ক ভারত কীৰ্ত্তনে। আবার কপায়ে ভবে নাচুক আনন্দে সবে হামুক গৌরব রবি-আবায় গগনে। পলক আলস্যরাশি ;- উৎসাহ সাহস আছি হোক আবিভূত হাসি হৃদয়-ভবনে।
সঙ্গীত।
জাগুক সকলে পুনঃ ত্যজি এ শমনে ।
আবার নৈমিষ বনে আবার অনিন্দ মনে
আনন্দ সংগীত গা তপশী সকলে।
স্বাসরােজিনী দলে সাজাইয়া উরস্থলে
আবার আনন্দ সিন্ধু উঠুক উথলে।
মধুর সংগীত-তে মৃদু কলনাদে
মলয় মাৰুত সনে
ভুলাইয়া ত্রিভূবনে
কৰুক ধীরে গতি সাধি মন সাধে।
মাতি মৃদু মন্দ স্বরে আবার আনন্দ ভরে
উছলিত হোক্ অহা সন্তোষ সাগর।
(
শােক দুঃখসমুদয়
বিষম অলস হায়
ভুলি। হরিষ নীরে ভাসুক আন্তর।
ভারত সন্তান গুন
কর অহেতু পুনঃ
জাগাইতে সে সংগীতে ভারতে আবার।
করে করি বীণাযন্ত্র যতনে পড়িয়া মন্ত্র
কর সে মধুর সুরে মােহিত সংসার।
দুচুক নিবিড় নীল নীরদ অাধার ।
কিন্তু যেন ব্রজবালা না গায় বসন্ত জ্বাল
আধ আধ মৃদু মৃদু হাসি বিধুমুখে
প্রেয়সী শরত শশী আসিয়া কৌতুকে--
যেন তব পাশে এসে বসে না চঞ্চল কেশে,
দোলাইয়া মুক্তামালা বিনোদ গলায় ।
-
-
জাতীয়-উদ্দীপনা।
কঙ্গলে নয়ন কাল ললাটে করিছে আলো
ঝলমলি মতিহার বিমল বিভায়।
চায় না বঙ্কিম যেন বাঁকায়ে গ্রীবায় ।
শশী শশী শশী বলে অমনি সোহাগে গলে
বসায়ে হৃদয়ে যেন ধরিয়া অঞ্চলে।
বিরহ বণিয়া যেন না বর্ষ গরলে।
শাহাতে ভারত নিত্য ডুবিছে অতলে
ললিত লবঙ্গ লুত নিকুঞ্জ কাননে
পিয়াকুল কলরব ভ্রমর গুঞ্জনে-
বসন্তে কায়েরে পেয়ে বঙ্গবালা বীণা লয়ে
যায় না শুনিতে যেন সহচরী সনে।
বিনােদিনী পাগলিনী উন্মাদিনী সরোজিনী
অার যেন নাহি গায় ভারতে এক্ষণে।
প্রমীলা পদ্মিনী আজ বসুক আসনে।
হরিমােহন মুখােপ!যায়।
আৰ্য্যদর্শন।
আৰ্য্য!আজি এ ভরতে,
নিষ্ঠুর! এনাম কেন খনিলে আবার,
মৰুভূমে
পিপাসায়,
যে জন জ্বলিছে হয়।
সুশীতল জল
কাণে কেন কই তার ?
কেন মৃগতৃষ্ণিকার কর আবিস্কার ?
অর্থ। -মােহান্ধ যুবক!
মিশীখ নিদ্রায় তুমি দেখিছ স্বপন ;
পুনৰ্ব্বার নিদ্রা যাও,
যদ্যপি শুনিতে পাও,
এই মধুময় নাম-মুদুর-স্মরণ।
নিশ্চয় যুবক তুমি দেখিছ স্বপন।
স্বপন না হবে যদি,
অনন্ত সময় গর্ভে যেই নাম হায় ।
* আৰ্য্যদর্শন নামক মাসিকপত্র প্রকাশিত হইবার
সময় এই কবিতাটি লিখিত হইয়াছিল।
জাতীয়-উদ্দীপনা।
অকালে হইয়া লয়,
আজি তদুপরে বয়,
দ্বিতীয় লহরী দর্পে কাপায়ে ধরায়,
সেই নাম আজি তুমি পাইলে কোথায় ?
ও
ইতিহাস ?-অবিশ্বাস !
ইতিহাসে নহে,অনুমানের সাগর !
তব ইতিহাসে কয়,
এই সেই কাৰ্যালয়,
আমরা সে বীৰ্য্যবান্ আর্ষের কুমার ;
চন্দ্র-সূর্যবংশে, এই জোনাকি সঞ্চার ।
৫
না, না,-এ যে অসম্ভব।
অসম্ভব,-এই সেই আর্যাবর্ত নহে;
কুৰুক্ষেত্ৰ-মহারণ,
হলো যথ। সংঘটন,
সেই আর্থ্যাবৰ্ত্ত—কেন করি প্রত্যয়,
একটি-ইংরাজ ভয়ে কম্পিত হৃদয় ?
ছিল যেই-পুণ্য ভূমি ;
অনন্ত ঐশ্বৰ্য্যখনি,প্ৰাচুৰ্য্য ভাণ্ডার ;
যাহার মলমানিলে,
আৰ্যদর্শন।
৯
যাহার জাহ্নবী-জলে,
বহিত, ভাসিত, চির-আনন্দ অপার,
আজি তথা দুর্ভিক্ষের ধ্বনি হাহাকার !
৭
এই নহে আৰ্য্যাবৰ্ত্ত ;
আমরাও নহি সেই আৰ্য্যের কুমার;
তাহাদের বীৰ্য্যবল,
ছিল যেন দাবানল ;
পৃষ্ঠে তূণ, করে ধনু, কক্ষে তরবার
অামাদের অশ্রুজল, হংসপুচ্ছ—সার !
কি দোষে না জানি হায় !
জ
বিধাতার কাছে দোষী আমরা সকল,
তেজোহীন, বীৰ্য্যহীন
ততােধিক পরাধীন;
;
আমাদের-হায়! কেন পাপের এফল ?
করে ভিক্ষা পাত্র, কণ্ঠে দাসত্ব শৃঙ্খল।
হয় ! ওই-দীন হীন,
অনন্ত-বিষাদ-ভাণ্ড-ভারত সন্তান,
বসি শ্বেত পুচ্ছ করে,
ষে সই অশ্রু ঝরে ;
জাতীয়-উদ্দীপনা।
কহিওনা তার কানে এই আর্যনাম,
বিষাদ-সাগরে তার উঠিৰে তুফান।
সৃষ্টিকর্তা-বল নাথ।
সর্ব শক্তিবান তুমি তবে কি কারণ,
প্রত্যেক পবন যায়,
উঠিতে পড়িতে হায় !
এই ক্ষুদ্র বালি রাশি করিলে জন ।
আৰ্য্যবংশে কুলাঙ্গার-কলঙ্ক অর্পণ ?
১১
৪
শুনেছি মঙ্গল ময়
তুমি নাথ ! তুমি নাথ ! দয়ার নিদান ;
হতভাগ্য হিন্দুচয়,
সৃজি, ওহে দয়াময় ।
জগতের কি মঙ্গল করিলে বিধান ?
দুর্বল পতঙ্গে করি অনলে প্রদান?
বিদরে হৃদয় নাথ।
বল হায়! কি মঙ্গল করিল সাধন ?
তীব্ৰ অৰ্য-বংশ-রবি,
বাল্মীকি-কম্পনা-ছবি,
অনন্ত রাহুর এসে করিয়া অর্পণ ?
তাৰ্য্যদর্শন। এই এস-মুক্ত না হবে কি কখন? নাম, হায়! সেই আৰ্য্য আছিল জগত পূজ্য ;-আছিল অচল, অটল হিমাদ্রি সম, সিন্ধু জিনি পরাক্রম, আজি সে বাতাস ভরে করে টলমল, আজি সেই-নাম ঐপদ্ম-পত্রে জল! ১৪ বৃথা তবে প্রিয়বর। নাহি আৰ্য্য ; কেন “ আৰ্যদর্শন * এখন ? কি আছে আর্যের আর, বনে ওই হাহাকার, নাহি অঙ্গ, নাহি মন, নাহি সে জীবন, কি আর দেখিবে ও আর্ষদর্শন ” এখন ? ওই আৰ্য ভস্ম রাশি। ভাগীরথী দুই তীরে, ওই পাকার ! জানিয়াছি দৃঢ় মতে, পতিত-পাবনী হতে, এ পতিত বংশ নাহি হইবে উদ্ধার ; পারিবে ভাগীরথী ; তবে যদি আর-
১২
জাতীয়-উদ্দীপনা
আর কোন মহারথী,
বাজাইয়া পাঞ্চ জন্য, ধরি তরবার,
করি সিংহনাদ ধ্বনি,
আনে রক্ত তরঙ্গিনী,
আৰ্যরক্তে আৰ্যবৰ্ত্ত ভাসায় আবার,
তবে যদি আৰ্য্য বংশ জাগে পুনব্বর।
১৭
।
সেই দিন আৰ্যাৰ্ত্ত,
দেখিবে নৰীন শশী, নবীন গগণ ;
উদিবে নবীন রবি,
গাইবে নবীন কবি ;
দেখিবে নবীন “ আৰ্য্যদর্শন
কি দেখিবে ? কত দিনে ?-সকলি স্বপন ;
নবীনচন্দ্র সেন
••
'
ভারতভূমি।
এই কি সে দেশ হায় !
পূজা দিত যার পায়
ভূমণ্ডল সমুদয়? এই কি সে দেশ ?
এই কি ভারত আহা!
মর্ত্যলোক মাঝে যাহা
অমরাবতীর
তুল্য ধরিত সুবেশ।
কোথা সেই বুদ্ধি বল ?
কোথা সে প্রতাপানল ?
রাজ্ঞী ছিলে দাসী হলে কুপুত্র প্রসবি।
স্বর্ণ অলঙ্কার ভার,
সর্বাঙ্গে শোভিত যার,
ধূলায় এখন তাঁর লুটাইছে ছবি।
ধন মান, কুল গৰ্ব্ব,
সকলই হয়েছে খৰ্ব্ব ;
বিজাতীর পদানত হয়েছে এখন ;
অবনত মাথা আর,
শক্তি নাহি তুলিবার
কেবল নয়ননীরে ভাসিছে বদন।
অন্তর্গত তব কীর্তি,
মলিন নলিন মুর্তি,
১৪
জাতীয়-উদ্দীপনা।
বদনে বচন স্ফুর্তি না হয় এখন।
হেরে তব দশ হায় !
দুঃখে বুক ফেটে যায়,
আগ্নেয়াদ্রি মত হয় অন্তর দাহন।
কেন হায় পদ্মাসন,
ভুলতে ভুবন মন,
এহেন সুন্দর রূপ দিলেন তােমায়।
রুক্ষ গিরি মৰু মুখী,
হলে তুমি হতে সুখী,
এড়াইতে অধীনতা-শৃঙ্খলের দায় ।
অপূর্ব রূপের ডালি
তােমার হইল গালি,
ঘবনাদি রিপুচিত্ত করিলে চঞ্চল।
}
পশ্চিম প্রদেশ হতে,
আসি তারা, নানামতে
বলেতে তোমারে দলি করিল বিকল।
সত্য বটে সুপসি,
এখনও মুখশশী,
একেবারে হয় নাই শোভা বিরহিত।
বাহিরে বিকৃতি শূন্য,
কিন্তু ঘাের অচৈতন্য,
ভিতরে হয়েছে যেন আলো তিরােহিত
ভারতভূমি।
সদ্যোমৃত রামাসমা
মূৰ্ত্তি তব মনোরমা,
দেখিয়া দর্শক চিত্তে লাগে চমৎকার ;
কোমল কমল কান্তি,
দেখি মনে হয় ভ্রান্তি,
এখনাে দেহেতে আছে জীবের সঞ্চার
পুত্র তব পদাধিক
কিন্তু ইহাদিগে ধিক্
সবে দেখি অচল, অকৃতি অভাজন।
হেন শক্তি আছে কার,
হরে তব অন্ধকার ?
নির্জীব শরীর পুনঃ করে সচেতন ?
তাদ্যাপি সহস্র কর,
বিস্তারি সই কর,
সুপক্ক করেন তব রসাল রসাল ;
নিশাভাগে নিশাকর,
যুড়াইতে কলেবর,
প্রসারেণ সুকোমল দীধিতীর জাল।
অদ্যাপি সে সুরেশ্বরী
মুক্তামালা রূপ ধরি,
বিরাজেন তব বক্ষে পূর্বের মতন।
যার কুলে পুরাকালে,
জাতীয়-উদ্দীপনা।
মহাবল মহীপালে,
যজ্ঞ করি অশ্বমুণ্ড করিত ছেদন।
পূৰ্ব্বমত কল কলে,
জল তার বেগে চলে,
মরকতে মণ্ডিত করিয়া দুই তীর।
অদ্যাপি সে হিমগিরি,
মস্তক উন্নত করি,
স্বর্ণভেদী স্বীয় দর্প রাখিয়াছে স্থির।
প্রাকৃতিক শােভা যত,
সব আছে পূৰ্বমত,
একমাত্ৰ আৰ্য জাতি ঘৃণার আস্পিদ ;
নত শিরে, অন্ধকারে,
থাকে সদা কদাচারে,
ভিখারী বিদেশী দ্বারে হারায়ে সম্পদ
বল বীর্যে জ্ঞানহীন
পরতন্ত্র পরাধীন,
একতা সভ্যতা শূন্য বিষয় মানন।
নব কীৰ্ত্তি থাক দূরে,
পূর্ব কীৰ্ত্তি নাহি স্ময়ে,
মন্ত্র প্রায় সমাচারে, বিজাতীয় বেশ।
মুখতা নিগড় পায়,
তাদের কি শােভা পায় ?
ভারত ভূমি।
জ্ঞানমূৰ্য্য জনমিল যাহাদের কূলে।
দর্শন, জ্যোতিষ শাস্ত্রে,
চিকিৎসা, সাহিত্য, শাস্ত্রে,
ছিল যারা সর্বোপরি এমহীমণ্ডলে
কোথা সে কারিকা ” কার ?
সুবিখ্যাত মত যার,
নিগুন পুৰুষ আর সগুণা প্রকৃতি।
কোথা সেই অক্ষ পাদ ?
করি যিনি ন্যায় বাদ ?
জড়, জীব, ঈশ্বরের করিলা বিতি।
কোথা হায় দ্বৈপায়ন ?
এক ব্ৰহ্ম পরায়ণ,
দ্বৈতবোধ ভ্রম নাশে সঁহার প্রয়াস ।
কোথা বুদ্ধ নির্বিকার।
সৰ্ব্ব জীবে দয়া ঘর,
নির্বাণ-মুকতি প্রতি অটল-বিশ্বাস।
কোথা সেই আর্যভট্ট ?
বিস্তীর্ণ আকাশ পট,
হস্তামলকের প্রায় জ্ঞানে হত যঁার।
দিবা নিশি দিন করে,
ধরা প্রদক্ষিণ করে,
এই বার্তা যাহা হতে হইল প্রচার।
জাতীয়-উদ্দীপনা।
কোথায় ভাস্করাচাৰ্য্য ?
গণিত ধাঁহার কাৰ্য্য,
লীলাবতী
গ্রন্থ
যার বিখ্যাত ধরায়।
কোথার চরক মুনি ?
ভীষকের শিরোমণি ;
অস্ত্র চিকিৎসার গুৰু সুশ্রত কোখায় ?
কোথা সে অতুল বীর,
জিতেন্দ্রিয় রণে স্থির,
খাগুৰ দাহনকারী তৃতীয় পাণ্ডব ?
কোথা রাজা চন্দ্রগুপ্ত,
গ্রীক গর্ব করি লুপ্ত,
রক্ষা করিলেন যিনি দেশের গৌরব।
প্রতাপে জিনি আদিত্য,
কোথা সে বিক্রমাদিত্য ?
শক-বংশ ধংশকারী তেজস্বী ভূপতি
অপর সে নামধারী,
সৰ্বজন মনােহারী,
কোথা হয় ! নব রত্ন সভা অধিপতি।
কোথ। সে সভার রবি,
কালিদাস মহাকবি ?
বিকাশে হৃদয় পদ্ম ফঁহার প্রভাবে।
অভিজ্ঞান শকুন্তলে
ভারতভূমি।
১৯
কার নাহি চিত্তগলে ?
রঘুবংশে কে না হয় গদ গদ ভাবে ?
কোথা বা সে উজ্জয়িণী
অলকা নগরী জিনি
মেঘ দূতে শােভা যার রয়েছে চিত্রিত।
কোথা হতে বুধগণে
যামোত্তর রেখাগণে,
জ্যোতিষ ও সাহিত্যের ধাম মনোনীত ।
এবে সে মােক্ষদায়িকা
পুণ্যপুরী অবন্তিকা,
সামান্য। পুরীর মত আছে সিপ্র তটে
পূৰ্ব্বকার কি তার,
ইগ্নাছে ছার খার।
আর কি সে মনােরম। সুষমা প্ৰকটে ?
কোথা পুষ্পপুর * হয় !
চিনু নাহি পাওয়া যায় ;
প্রিয়দর্শী ” অশোকের লুপ্ত রাজাসন।
সুত ধর সুবিক্রম,
। মহেন্দ্র মহেন্দ্রোপম।
* পুষ্পপুর, কুসুমপুর, এবং পাটলীপুত্র প্রাচীন পা-
উনার নাম। এক্ষণে উহা পাটনা । আজিমাবাদ বলির।
প্রসিদ্ধ।
২০
জাতীয়-উদ্দীপনা।
দ্বীপান্তরে বৌদ্ধমত করিল রােপণ
বিখ্যাত পাটলীপুত্র
আছে শুধু নাম মাত্র,
যবন নির্মিত পুর “ আজিম আবাদ ”।
নাহিক পূর্বের ভাতি,
তথাপি পাটনা খ্যাতি
এখন পাটনা বলা শুধু মিথ্যাবাদ।
হিন্দুদের অহঙ্কার,
সমস্তই ধূলি সার,
নাহি আর পূর্বকার কোন রাজধানী
কান্যকুঞ্জ দেখি ভগ্ন,
হস্তিনা মৃত্তিকাময়,
কৌশাম্বী নগরী হায় কোথায় না জানি
ইন্দ্রপ্রস্থ গৃহহাপরি ;
সাহ জাহানের পুরী
অপূৰ্ব্ব মাধুরী ধরে যমুনার ধারে।
অযােধ্যা করিয়া নাশ,
ফৈজাবাদ সুপ্রকাশ ।
প্রয়াগ এলাহাবাদ যবনাধিকারে।
* নাঙ্কুর।
। নূতন দিল্লি।
শব সাধন।
নিবেছে অনল?-নিবে নি এখন,
কে নিবাবে বল, নিবিবে কেমনে?
সপ্তশত বর্ষ জ্বলিছে এমন,
কত শত বর্ষ জ্বলিবে কে জানে ?
যেই দিকে দেখি,–এই মহানল।
কোথায় ভারত ?-অনন্ত শশান।
শ্মশান-শ্মশান-শ্মশান কেবল ।
রবণের চিতা, লঙ্কার প্রমান ।
ঢাল যদি সপ্ত মহারাবার,
এ অনল নাহি হইবে নির্বাণ,
দেহ চাপাইয়া হিমাদ্রির ভার,
যাবে ভস্ম হয়ে তৃণের সমান ।
দুঃখিনী কম্পনে। কেন উদাসিনী
বৃথা নেত্রবারি কর বরিষণ,
নয়নের জলে জান না তাপিনী,
এ প্রচণ্ড শিখা হবে না বারণ।
২২
জাতীয়-উদ্দীপনা।
এই মহা অগ্নি, ভীষ্মের পিপাসা,
ভৃঙ্গারের বারি উপহাস তার ;
ধরিয়া গাণ্ডীব,-ভারতের আশা !
ভারত হৃদয় করহ বিদার ;
ভেগবতী গঙ্গা ভীম-প্ৰবাহিণী
অন্তস্তল হতে উঠিবে হুঙ্কারি,
নিবাবে শ্মশান, শক্তি-শ্রোতস্বিনী,
যুড়াবে ভারত অমৃত সঞ্চারি।
৪
না পার-বসিয়া এ মহাশ্মশানে,
বিংশতি কোটিক শবের উপর,
উও উদ্দীপনা মহাসুরা পানে,
সাধ মহামন্ত্র অভয় অন্তর ।
ঘোর অমাবস্যা প্রগাঢ় তিমিরে,
আচ্ছন্ন ভারত, নীরব এখন,
শ্মশান অনল গর্জিছে গম্ভীরে,
হাহাকার শব্দে স্বনিছে পবন ।
আর্য বীৰ্য-ভস্ম মাখি কলেবরে,
স্মৃতি মহামালা জপ অনিবার,
* ত্রাহি মে ভৈরবি —ডাক উচ্চৈঃস্বরে
শব-সাধন।
२७
সাধ মহামন্ত্র-ভারত উদ্ধার ।
কত বিভীষিকা করিবে দর্শন,
ব্ৰহ্মাস্ত্র-গর্জন, পাশ-ঝনৎকার,
মস্তক উপর সনন সনন
খেলিবে বিজলি শত তরবার।
কি ভয়? আবার হৃদয় ভরিয়া,
কর উদ্দীপনা মহাসুরা পান,
করতালি দিয়া, নয়ন মুদিয়া,
কর বীরচারে মহাশক্তি ধ্যান ;-
করালবদনা’ মুণ্ডমালিনী,
লেলিহান জীহ ৰুধিরে লোহিত,
উঃ মা শ্মশানে শ্মশানবাসিনী,
স্-দ্বন্দ্ব গলপির চর্চিত।
মহামেঘপ্রভা! কর বরিষণ
মহা বারি ধারা জ্বলন্ত শশানে;
ফলুক আবার সাধনার ধন
বীর রত্নরাশি এই আৰ্যস্থানে !
সদ্যচ্ছিন্ন আর নহে ওই শির,
কি লাজে ধর মা দেও ফেলাইয়া,
থরশান খঙ্গে মলিন ৰুধির,
২৪
জাতীয় উদ্দীপনা।
সদ্য রক্তে পুনঃ লও শানাইয়া।
ঘােরারাবে মাতা ছাড়িয়া হুঙ্কার,
মহারৌদ্রীরূপে হও অধিষ্ঠান,
নাচ রণরঙ্গে, নাচ আরবার,
দেখুক নয়নে ভারত সন্তান।
যেই বীরদর্পে ক্ষিতি টলমল,
দেখি মহাৰুদ্ৰ দিলেন পাতিয়া
হিমাদ্রি সদৃশ হৃদয় অটল,-
দেখিব সে মুর্তি নয়ন ভরিয়া।
অভয়, বরদ,অধ উদ্ধ কর,
শােভিছে দক্ষিণে ভারতের তরে,
দেহ মা অভয়, হায় । নিরন্তর
নিবসি শ্মশানে সভয় অন্তরে ;
প্রচণ্ড অনলে কত কাল হয়।
জ্বলে আর্যজাতি কাল-নির্বিশেষ,
একি অভিশাপ! তথাপি ধরায়
হতভাগ্য জাতি হলাে না নিঃশেষ ।
* অনন্ত জীবন, অনন্ত দাহন,-
কত কাল সবে ভারত দুঃখিনী ?
বসাধন।
মরে না, বাচে না, জীবনে মরণ,
অর্ধ মৃত, অন্ধ দগ্ধ অভাগিনী!
তুমি মা বরদা, দেহ এই বর,-
নিঃশেষি জীবন নিবুক শ্মশান ;
কিম্বা চিতানল নিবাও সত্বর,
মৃতকল্প দেহে কর প্রাণ দান ।
৫
১
অচল ধমনী—উকি উছলি,
নব বরষায় জাহ্নবী যেমন ;
স্থির রক্ত স্রোতে ছুটুক বিজলি,
জর
মা
ভৈরবী’—উঠুক গর্জন ।
ফলিয়াছে শব-সাধন তোমার,
নয়ন মেলিয়া দেখহ কম্পনা ;
ভারত শ্মশানে আজি আরবার ;
কি ভীষণ নৃত্য, কি ঘোর বাজনা ।
প্রতি ঘরে ঘরে-শ্মশানে শ্মশানে ।
মহা বিষু দিনে মহাশক্তি ওই
নাচিছে রঙ্গিণী সকর-কপাণে,
গর্জিছে সাধক ‘মা ভৈ মা ভৈ’
নিবিড় নিশীথে ঘাের অন্ধকারে ;
ধূমপুঞ্জ মাঝে নাচে ভয়ঙ্করী,
জাতীয়-উদ্দীপনা।
ত্রিনেত্ৰ হইতে অনল হুঙ্কারে,
মহাকালী মূৰ্ত্তি-ভীমা দিগম্বরী।
বাজে জয়ঢাক ঘন ঘাের রােলে,
শঙ্খ, ঘণ্টা, কাশা ভীষণ আরাবে,
কভু শূন্যে ভীমা,-কভু ধরা কোলে,
রক্তাক্ত অঙ্গ-নর-রক্ত স্রাবে
নর-কর-কাঞ্চি কটিদেশে বাজে,
নর-মুণ্ডমালা দুলিছে গলায় ;
ৰুধির-আধার এক করে সাজে,
অন্য করে তীব্র কৃপাণ খেলায়।
১৪
ভারত সস্তান! দেখ না মাতার
শোলজীয়া শুদ, শুষ্ক রক্তার,
দেখ বাম কর করিয়া প্রসার,
সদ্য উষ্ণ রক্ত মাগে বারম্বার।
নাহি কি ভারতে হেন বীরাচারী,
আপনার বক্ষ করি বিদারণ,
করে, জননীর পিপাসা নিবারি,
ভারত শ্মশানে শক্তি আরাধন।
নবীনচন্দ্র সেন।
উদাসীনের
বিদায়।
এই না আৰ্যের সমাধি-মন্দির
কুৰুক্ষেত্র, সেই মহা তীর্থস্থান,
কাল-রাহু আসি এসিল যায়
ভারত-সৌভাগ্য তেজস্বী তপন ?
বসিব এখানে,-শৃগাল অধম
সিংহাসনে যদি পারে রে বসিতে ;
হৃদয়ে উঠায়ে স্মৃতির তরঙ্গ
বর্তমান দুঃখ ডুবাব তাহায়।
শত শত ফুল যে বনে শুকাল,
যে নভে মিশাল শত শত তারা,
সেই বন সেই আকাশ মানসে
কুসুম নক্ষত্র সহিতে আকিব।
৪
গোধুলির শেষে সাগর সীমায়
যে হৈম কিরণ আকাশ উজলি
২৮
জাতীয়-উদ্দীপনা।
ডুবিল ত্রেতায়, দেখি যদি হায়
সে কিরণরেখা পারি রে চিত্তিতে।
কি ফল ফলিবে সে সব চিন্তায়।
ভারত এখন কুজঝটিকাবৃত ;
মহামন্ত্রে ফণী নত-শিরা যখ।
সােণর ভারত তেমতি এখন!
শত শত বীর-শোণিতে আরক্ত
এই পূত রেণু সর্বাঙ্গে মাখিয়া,
চলি যাব, মুখে দিয়া জলাঞ্জলি,
স্বদেশের পানে চাহিব না ফিরে।
৭
স্নেহ-রসে গলি, সজল-নয়নে,
ফিরতে যদ্যপি আসেন জননী,
কহিব ভাহারে- কে তুমি আমায়
তাভাগিনি, ডাক পুত্র পুত্র বলে ?”
• উদাসীন আমি; গৃহে ফিরে যাও;
মাতৃহীন আমি বহুদিন হতে ;
কুৰুক্ষেত্ৰ-রণে, পুল-শোকানলে
দেহ বিসৰ্জন দিয়াছে দুঃখিনী ,
উদাসীনের বিদায়
২৯
সহােদর যদি আসেন সাধিতে
কহিব উহারে, ভ্রাতৃহীন আমি ;
যে যুদ্ধের শেষে জননী মরিল,
সেই যুদ্ধে মােরে ভিখারী করিল।
একমাত্র বীণা যতনে লইয়া
আঁধার নিশীথে অরণ্যে পশিব,
ধীরে ধীরে বীণা-তন্তু পরশিয়া
সংগীত-গভীর-সমুদ্রে ডুবিব।
ভারতের দশা এই কি হইল।
শােক-ভগ্ন-স্বরে গাইব যখন ;
গাবে প্রতিধ্বনি-আকাশ-নন্দিনী
ভারতের দশা এই কি হইল।
১২
ধীরে ধীরে কভু সুতান ধরিব,
অৰ্দ্ধস্ফুট স্বরে গাইব কখন;
ঝি ঝি তালে কভু কণ্ঠ মিশাইয়া
গাইব, বাহ্যিক জগত ভুলিয়া।
স্বক্ষে বৃক্ষে পত্ৰ মরিবে খেদে,
জাতীয়-উদ্দীপনা।
বিসজ্জিবে তৰু শোক-অশ্রুধারা;
বিষাদে খদ্যোত আসিবে নিকটে,
সহসা বিহঙ্গ উঠিবে জাগিয়া ।
১৪
ক্ষুদ্র তটিনীরে তীরে গিয়া কভু
তারকার মেলা সলিলে হেরিব ;
ভূত-রূপ-পটে ভারতের তারা
এই তারা দেখি, হইবে স্মরণ।
১৫
প্রভাতে যখন উদিবে তপন
পূৰ্বসার দ্বারে কিরণ ছুটিবে,
আনন্দে তখন বিহবল হইয়া
গাইব গম্ভীরে বীণা বাজাইয়া ;
৫
স্বগত দিনেশ,
আধার বিনাশি ?
স্বতি ভারতে জগত জীবন।
এই কুজঝটিকা দুর করি দেব ।
মৃতপ্রায় মায়ে বাচাও স্বগুণে।
থাক্ অন্য কথা; কুক্ষেত্রে যদি
নাহি ত্যজে থাক কঠিন পরাণ,
এবার তবে বীঃ-কুল-চূড়া
উদাসীনের বিদায়।
দেখাও, জননি! মৃত পুত্রগণে।
১
;
দেখাও এদাসে বিক্ষ লিঙ্গ সম
সপ্তরথী মাঝে অভিমন্যু এখী ;
মত্ত ঐরাবত ভীম ভীমসেন ;
বীরেন্দ্রকেশরী অর্জুন বীরেরে ;
ভীষ্ম মহাবীর ক্ষত্ৰ-কুলরবি
যুধিষ্ঠির সত্য ধর্ম মূর্তিমান
দ্রোণ গুৰু ; শত কৌরব দুর্জয় ;
রাধেয় সমরে অটল পৰ্ব্বত।
হয় বুখ। খেদ! বৃথা এ সাধনা !
বৃন্তহীন ফুল ফুটে কি কখন ?
যে অনল কালে গিয়াছে নিভিয়া,
ফুৎকারে কি পুনঃ উঠিবে জ্বলিয়া ?
তবে কেন বৃথা করি কালকয় ?
আশার ছলনে প্রতারিত হই ?
এ মনােবেদনা কে আর বুঝিবে।
এসংসারে হায় কে আছে আমার?
জাতীয়-উদ্দীপন!।
বীরপ্রসবিনী ভারত-জননী
বিদায় দেহ মা জনমের তরে
তুমিও ভীষণ জ্বালি হুতাশন
এ দুঃখের দেহ দেহবিসর্জন।
দীনেশচরণ বসু।
বাঙ্গালীর জ্ঞানালােক।
S
পতঙ্গ উড়িতেছিল আপনার মনে,
ঈষৎ বাতাস যায়,
ভূমে পড়ে মুচ্ছাযায়,
উঠে ক্ষণে, পুনরায় উধাও গগনে।
নবীন পাখার জোরে, যেখানে সেখানে ফিরে,
বাধা নাই, কেহ তারে দেখেন নয়নে।
নাহি জ্ঞান, নাহি ভয়, নাহি দুঃখ সুখােদয়,
নাহি হিতাহিত বােধ প্রাণের কারণে।
হঠাৎ দীপের শিখা,দেখি,
পুন দিল দেখা,
(সুন্দর সুখাদ্য আলো) ভাবি মনে মনে,
পড়িল পতঙ্গ ওই দীপের আগুনে!
বাঙ্গালীর জ্ঞানালােক। ২ দরিদ্র অবােধ ওই বাঙ্গালি সন্তান! দুৰ্বল পতঙ্গ প্রায়, উড়ে অতি ধীর বায় -ভূমে পড়ি মুচ্ছা যায় আবার অজ্ঞান- উঠি ক্ষণকাল পরে, চাদ ধরিবার তরে উঠিল আকাশ পরে, পতঙ্গ সমান ভূলােকে আলােক দেখি নির্বোধ অন্তরে সুখী। জানেনা সুখের আলো অগ্নি দহে প্রাণ। পড়িলে উহায় মাঝে, আর কিরে রক্ষা আছে ? তথাপি না মানে বাধা, হারাতে পরাণ ! দুৰ্বল পতঙ্গ প্রায় বাঙ্গালি সন্তান। দিল ঝাপ অনলেতে কে ধরে উহাকে ? বিষম ঝটিকা ভরে শাখার পল্লব ছিড়ে উড়ে যায়, কেবা তারে চক্ষু মেলি দেখে ? বনের পল্লব হয় ! দেখিতে কে চাহে ভয় ? উড়ে যায় কোথা যায়, কে সুধায় কাকে ? কে আর যতন করে, যায় তায় ধরিবারে যবে পত্র বারিধির মধ্যে উগ্ধ থেকে সমীয়ের মৃদুতায়, তরঙ্গে ডুবিতে যায়, শূন্য থেকে থেকে থেকে পড়ে অধােমুখে নীল জলরাশি মধ্যে আবত্তের পাকে?
৩৪ জাতীয়-উদ্দীপনা। ৪ বিধিরে! তিমিরে বঙ্গ ডুবাও আবার! নির্বাও জ্ঞানের বাতি, জ্বলন্ত বিজ্ঞান ভাতি হোক ম্লান। ধর্মনীতি হৌক ছারখার। হৌক অন্ধ! কেন আর তৃণ রাশি দহিবার তরে অগ্নি আবিষ্কার কর পুনর্বার ? অতল সাগর জলে, স্মৃতি ডুবাইয়া ফেলে? যা শিখেছে, ভুলও রে! কেন বা আবার গণিত, বিজ্ঞান দেখে, কবি কাব্য ছাই লেখে, কেন মানসিক চিন্তা ? কি ফল তাহার? ইতিহাস তর্ক শাস্ত্র, কেবল দুঃখের অস্ত্র কেবল বিষাদ পূর্ণ কেবল অসার । দেখিলে ওসব হায়! দুখে বুক ফেটে যায়। মনে পড়ে আৰ্যবৰ্ত্ত আৰ্য্যের সন্তান। উথলে অমনি হায়! দুঃখ পারাবার। ; ভাইরে ! পড়ে কি মনে পুর্বের গৌরব বল, বীৰ্য, জ্ঞান, নীতি, বিচার বিতর্ক শক্তি, তেজোপূর্ণ সৌমারুতি দেবতা-দুল্লভ! শক্রদ্যুম্ন-অস্থি চৰ্ম্ম, ভীমধনু লৌহ-বর্ম- বিজয় পতাকা, ধর্ম, বীরত্ব, বৈভব। সিংহ নাদ হুহুঙ্কার, দৃঢ় প্রতিজ্ঞত, আর-
এই কি ভারত।
সত্যনিষ্ঠা। সহিষ্ণু কোথায় সে সব !
যত দেখ যত শিখ,
সেরূপত হবেনাক,
তবে কেন কথা পুন? হওরে নীরব।
পরের উচ্ছিষ্ট খেয়ে, তাই পুন উগারিয়ে,
আপনি আপনা ভুলে করিছে গৌরব।
আগুনে পুড়েনা আর তপস্যা করহ সার,
তপােবলে বহি ক্রীড়া হইবে উৎসব;
তা হলে পেতেও পার পূর্বের বৈভব;
ভুবনমােহিনী দেবী।
এই কি ভারত।
এই কি সে দেশ আহা এই কি সে দেশ !
সুন্দর নন্দনবন, সাহিত্যের খনি
কল্পনার রঙ্গভূমি বিনোদ ভাণ্ডার ?
কবিতা নিকুঞ্জুবনে দেবর্ষি যেখানে,
মাতিয়া গায়িত গীত অনন্ত সুস্বরে
ত্রিতন্ত্রী নিম্বনসহ, মুর্তিমতী হয়ে
ছত্রিশ রাগিণী যথা রাগ তানে মিলি
আনন্দে করি কেলী অাপনা পাসরি,
পাসরি অলকধাম অমর বাসনা,
কোথা সে অযােধ্যা আৰ্য গৌরবের ভূমি?
জাতীয়-উদ্দীপনা।
কবিগুৰু সি যার কুসুম কাননে,
কাব্য পারিজাত তৰু রােপিলা কৌশলে।
যার পুষ্প অবচয়ি গাথি ক্ষুদ্ৰমালা,
মানব যশস্বী কত ভব রঙ্গভূমে !
হায় রে সে পঞ্চবটী সীতা পতিব্রতা,
হেন রাম গুননিধি অপূৰ্ব্ব রচনা।
এহেন কৰুণাচ্ছবি কে পারে চিত্রিতে ?
কোথা সেই ইন্দ্রপ্রস্থ হিমাদ্রি তনয়া
কালিন্দীর কণ্ঠভূযা ইন্দ্রালয়াধিক ?
গায়িত জীমূতমন্দ্রে কবীন্দ্র যেখানে,
বীরেন্দ্রের কীৰ্ত্তিরাশি অতুল জগতে !
কোথা ভীষ্ম, কোথা দ্রোণ, কোথা যুধিষ্ঠির
কোথা সেই দ্রৌপদী সতী, বিক্রমকেশরী
অভিমন্য? কোথ। সেই ভব মনােলােভা
সুন্দর বিরাটসভা?—যার চাৰু শােভা
কে পারে বর্ণিতে-কেহ পারে কি চিন্তিতে?
কল্পনা নহেরে যার সদা আজ্ঞাকারী।
নাই সেই উজ্জয়িনী ; বিলুপ্ত আধারে
নবরত্ন, ভারতের কুন্তলভূষণ,
ভবের গৌরব ; প্রাণ কাদেরে স্মরিতে ।
নাই সে বসন্ত, নাই সেই পিকরাজ ;
অভাবের ফুলবনে মনােরঙ্গে ভ্রমি
এই কি ভারত।
কে সিঞ্চিবে নবরস, অমৃত সিঞ্চনে?
কে তুলিবে অতুলনা মধুর কাকলি
গভীর পাতালপুরে, সুদূর জলদে?
মন্ত্রমুগ্ধ প্রায় কেরে কঁাদাবে জগতে !
আর কি বাজেরে আহা, শ্যামের বাঁশরী
নিভৃতে কদমূলে, নিকুঞ্জ নিবাসে ?
নব কাদম্বের রবে যথা কুরঙ্গিণী,
নাচে কি সে সুর শুনি কুলাঙ্গনা ?
নাই সে শরৎ, নাই সে সুখের নিশি!
শশধর সহবাসে আর কি হাসিবে
কুমুদিনী, কালিন্দীর কম কলেবরে ?
নীরব মথুরা, দারা! গোকুল লহরী
আর কি উঠিবে কভু ভারত ভবনে ?
আর কে গায়িবে, কত শত বর্ষ পরে
সে মধুর প্রেমগীত? আর কি শুনিবে
সুষুপ্ত ভারতী তাহা স্মৃতির স্বপনে ?
*
অানন্দচন্দ্র মিত্র।
৪
ভারতী।
শুধাই অয়ি খে। ভারতী তােমায়
তোমার ও বীণা নীরব কেন ?
কবির বিজন মরমে লুকায়ে
নীরবে কেন গো কাদিছ হেন ?
অযতনে আহা সাধের বীণাটি
ঘুমায়ে রয়েছে কোলের কাছে,
অযতনে আহা এলো খেলাে চুল
এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে আছে।
কেনগো আজিকে এভাব তােমার
কলবাসিনী ভারতী রাণী
মলিন মলিন বসনভূষণ
লিনবদনে নাহিক বাণী।
তবে কি জননি অমৃতভাষিণি
তােমার ও বীণা নীরব হবে?
ভারতের এই গগণ ভরিয়া
ও বীণা আর না বাজিবে তবে?
দেখ তবে মাতা দেখগো চাহিয়া
তােমার ভাৱত শ্মশান পারা।
ঘুমায়ে দেখিছে মুখে স্বপন
ভারতী।
নরনারী সব চেতন হারা ।
যাহা কিছু ছিল সকলি গিয়াছে
সে দিনের আর কিছুই নাই,
বিশাল ভাত গভীর নীরব
গভীর আধার যে দিকে চাই।
তোমারে কি বীণা ভারতী জনমি
তোমারও কি বীণা নীরব হবে ?
ভারতের এই গগণ ভরিয়া
ও বীণা আর না বাজিবে তবে?
না গাে ভারতী নিবেদি চরণে
কোলে তুলে লও মােহিনী বীণা।
বিলাপের ধ্বনি উঠাও জননি,
দেখিব ভারত জাগিবে কি না?
অযুত অযুত ভারত নিবাসী
কঁদিয়া উঠিবে দারুণ শোকে
সে রােদনধনি পৃথিবী ভরিয়া
উঠিবে জননি দেবতা লেকে।
তা যদি না হয় তা হলে ভারতী
তুলিয়া লওগো বিজয় ভেরী ।
বাজাও জলদ গভীর গরজে
অসীম আকাশ নিত করি!
গাওগাে হুতাশপূরিত গান
জাতীয়-উদ্দীপনা।
জ্বলিয়া উইক অযুত প্রাণ
উথলি উঠুক ভারত-জলধি
কাপিয়া উঠুক অচলা ধরা।
দেখিব তখন প্রতিভা হীনা
এ ভারতভূমি জাগিবে কি না?
ঢাকিয়া বয়ান আছে যে শয়ান
শরমে হইয়া মরমে মরা!
এই ভারতের আসনে বসিয়া
তুমিও ভারতী গেয়েছ গান
ছেয়েছে ধরার আঁধার গগন
তােমারি বীণার মােহন তান।
তজো তুমি মাতা বীণাটি লইয়া
মরম বিঁধিয়া গাওগো গান
হীনবল সেও হইবে সৰল
মৃতদেহ সেও পাইবে প্রাণ।
দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
আৰ্যসঙ্গীত
কিব! গভীর রজনী হ’ল, জগত ধুমায়ে গেল
নীরবে মৃদুল নৈশ সমীরণ বহিল ;
কিবা! কুঞ্জে কুঞ্জে নানা জাতি ফুটিল ফুসুম পাতি,
কোমল সুরভি গন্ধে চতুর্দিক মােহিল !
কিবা। কাপিল সরসী নীর, নব দুৰ্ব্বাদল-শির,
নব দল তৰুশিরে ধীরে ধীরে নড়িল ;
কিব! কোমল মালতিরাজি, ঘন কিশলয়ে সাজি
নব সহকার-শাখে
মৃদু মৃদু দুলিল!
কিবা ! নীলানন্ত নভতলে, বেষ্টিত কৌমুদী দলে,
অমল সুধাংশু ওই সুধা হাসি হাসিল ;
কিবা ! নীরব ধরণী কোলে, চল নীল সিন্ধুজলে,
পর্বতে, প্রান্তরে, সৰ্ব্বে স্বর্ণধার ভাসিল !
৪
কিবা ! নীলাভ গননাপরে শুভ মেঘ থরে থরে
ধীরে ধীরে চলে, বুঝি শশধরে ঢাকিল ;
৪২
জাতীয়-উদ্দীপনা
বুঝি-চাদের কিরণ মাখি। এ সংসার গেল ঢাকা,
সােণার ভারত গাঢ় মসীরাশি মাখিল ।
ক্রমে, শ্বেতাম্বুদ কাল হল, আলোক নিয়ে গেল,
গগন সাগর মাঝে হৈম আল ডুবিল ;
ওই,ডুবে হৈম পুষ্পমালা, ফুরাল ব্রজের খেলা,
আশামধুথের বাতি একেবারে নিবিল ।
আহা! নিবিড় তিমিররাশি, উজ্জ্বল সংসার গ্রাসি,
চকিতে সুবর্ণপুর আধারিয়া ফেলিল।
দেখ,-চপল চমকে ধন, ঘন ঘোর রজন,
ঘন ভীম বজ্র মন্ত্র অগ্নিফুস্ক খেলিল !
একি ?
ভূমিকম্প ভয়ঙ্কর, কাপে ক্ষিতি থর থর,
উথলে গভীর সিন্ধু, হিমালয় টলিল ।
পুনঃ,-ীমদর্পে প্রভঞ্জন, অরম্ভিল ভীমরণ,
নীল ধারধরে,-ধারা ঝর ঝর ঝরিল ।
সঙ্গে, অজস্র করা ঝরে, মেঘে আস্ফালন করে,
ক্রমেই নিবিড় হয়ে আৰ্যবৰ্ত্ত ছাইল ;
হায়! ক্রমেই দুৰ্যোগ বাড়ে জানি না কেমন করে,
রবে সৃষ্টি ? বুঝি সৃষ্টি ছারখার হইল ।
আৰ্যসঙ্গীত।
বিধি! এ ঘোর দুর্যোগ হতে আর অব্যাহতি পেতে
কত দিন? এবিপদ কত দিন রহিবে ?
তুমি, জান-কত দিন পরে,
জান-কত দিন পরে, ঘন জাল মুক্ত করে,
আর্যাবর্তে চন্দ্র সূৰ্য্য পূৰ্ব্ব মত উঠিবে ?
?
জান? এ ভীম দুৰ্যোগী ঘোর কাল রাত্রি হতে পাের
কতক্ষণ? আমাদের দশায় কি হবে ?
দেখ, মুহুর্মুহু বজ্রপাত অসহ্য হয়েছে, নাথ।
দরিদ্র দুর্বল দেহে আর কত হবে ?
হয় ! সে কালে প্রভাত হলে পূরব গান মূলে,
হেমামু কিরটিনী উষা মৃঃ হাসিত ;
আহা! বিধৌত ভারতকাশে স্বাধীনতা হাসি হেসে,
রাখারটা ভানু অরেতে ভাসিত।
১২
আহা ;
কুঞ্জে কুঞ্জে ফুলে ফুলে, মকরন্দ অলিকুলে
সোহাগে স্বাধীন ভাবে পিত, নিত, হরিত,
সেই-পুষ্পবন কাপাইয়া,
স্বাধীন স্বভাব নিয়া,
সুগন্ধি মলয়ানিল মৃদুমন্দ বহিত !
আহা! আর্যের উদ্যানে সুখে, উচ্চ সহকার শাখে
৪৪
জাতীয়-উদ্দীপনা
স্বাধীন দম্পতি পিক কুহু রব করিত!
সঙ্গে,-স্বাধীন পাপিয়াবধু শ্রবণে ঢালিয়া মধু,
পিউ পিউ প্রিয়রবে মন প্রাণ হরিত।
আহা! স্বাধীন আরাে সুখে, বিভু-নাম লয়ে মুখে,
ভাগীরথী দুই তীর আলো করি বসিত !
কিবা, স্বাধীন গঙ্গার জল, অস্ফালি তরদল,
কলকল শব্দে সিন্ধু সনে গিয়া মিলিত ।
আহা! স্বাধীন শিশুরা যত, সিংহের সন্তান মত
মত-করি-শুণ্ড ধরি বীর-খেলা খেলিভ ।
ভীম,-ধনুর্বাণ তরবার করাল বল্লম আর
কুস্তিমাত্ৰ খেলা ধুলা তেজোবীর্ষে ভাসিত।
বহু-শতাব্দীর ব্যবধানে যুগের তরঙ্গ রণে
ডুবিয়াছে আৰ্য মাত্র আর্যাবর্ত রয়েছে।
সেই আর্যাবর্ত এই কিরূপে প্রমাণ দেই?
নাহি আৰ্য, নাহি বীৰ্য্য সমস্তই গিয়েছে।
১৭
আহ! সমস্ত হয়েছে নাশ, ভারতের ইতিহাস
কি আছে ? গিয়াছে সৰ আৰ্যদের সনেতে,
এবে,সে যুগের কথা সব,
সমস্তই অনুভব
আৰ্যসঙ্গীত।
৪৫
অনুমান ভিন্ন আর কার আছে মনেতে ?
১৮
সেই-যুগান্তের ইতিহাস কালের কবলে গ্রাস
হইয়াছে ; কারে কথা সুধাই ? কে বলিবে ?
আহা! স্বাধীন ভারতে যবে বিজয়-পতাকা শােভে
কে তখন দেখেছিল এবে সাক্ষী হইবে ।
দেখ, এই পুণ্য ভূমি পরে অদ্যাপিও ধীরে ধীরে
বহিছে জাহ্নবীস্রোত বহু কাল হইতে ;
বুঝি,দেখিয়াছে ভাগীরথী আৰ্য্যবংশে মহারথী,
স্বাধীন আর্য্যের গৃহে জয়জ উড়িতে!
আমি,-াই জাহ্নবীর তীরে কাদিয়া জিজ্ঞাসি তঁারে
• এই কি সে আৰ্যবৰ্ত্ত সােনার সংসার ?
হায়! আমরা কি বীর্যবান সেই বংশে কুসন্তান?
বল মা, সংশয় দূর কর মা আমার।
২১
বলিতে বলিতে কথা
যথা বহে ধীরে ধীরে
যুবক চলিল তথা,
বিস্তৃত সৈকত পরে,
নিস্তেজ তরঙ্গ মাথে
জাহ্নবীর স্রোত!
যথায় বিমল জলে
উড়ে ক্ষুদ্র শত শত
মুখে শ্বেত পক্ষ তুলে
ভারতীয় পোত।
জাতীয়-উদ্দীপনা দেখি যুবা জাহ্নবীরে হল নিমগন । গিয়া জাহ্নবীর তীরে অমনি বিষাদ হ্রদে দুঃখ উৎস উথলিল পড়িল চক্ষেতে জল কাদিল নীরবে, পরে, হৃদয় ভাসায়ে দিল, তিতিল কপােল তল, বলিল বচন- = * একি মা? কিসের তরে কাঙ্গালিনী মত পড়ে রয়েছ সৈকত ভূমে মির্জীবে, অথবা ঘুমে, জানি না; কি লাগি এবে এ দশা। তােমার ? অন্তিম লক্ষণ মত দেখিতেছি সকলিত, তবে কি ত্যজিবে তুমি এদুস্থ সংসার? ২৪ কেন মা! কি দোষ পেয়ে অমাদিয়ে তেয়াগিয়ে, তেয়াগিয়ে যাবে দগ্ধ ভারত হৃদয় ? মেহের বাঁধন ছিড়ে পুণ্য ভূমি শূন্য করে তুমি যদি যাও চলে, অন্তিমে কে লয়ে কোলে অভাগা সন্তানদিগে দেবে মা অভয় ? দুর্দশা সাগরে ভেবে, বুঝেছি, ভারত এবে তাই বুঝি ধীরে ধীরে ভ্যাজ্য করি আর্যাবর্ত আপন মঙ্গল ভরে করিছ প্রস্থান !
আৰ্যসঙ্গীত। ৪৭ মেহেয় এ রীতি নয়, হলে পরে দুঃসময় সে বিধান। অনুকূল হতে হয় এই নিতান্ত যদ্যপি যাবে ক্ষণ তিষ্ঠ ;শুন তবে উজ্জ্বলিয়া আৰ্যভূমি দেখেছ সকল ; বহুকাল হতে তুমি প্রবাহিত হইতেছ, প্রাচীন আৰ্যেরা যত তব তীরে প্রতিদিন তব নীরে হয়ে পূত জ্বলিয়া অনল- २१ সন্ধ্যাহ্নিক দেবাৰ্চ্চনা, যাগ-যজ্ঞ উপাসনা, করি নিত্য বিধি মতে তােমার বিমল স্রোতে ভাসাত চন্দনে চর্চি অর্ঘ্য বিদল পবিত্র অন্তরে ধীরে বেদপাঠ করিতেন কোমল মধুর সুরে, অর্ষের সকল। পরিণামে এই তীরে ব্রহ্মাণ্ডের সুখ-স্থান ত্রিদিব সুবণধামে এই তীরে চিতাগ্নিতে পতিত পাবনী ! তুমি ত্যজি বীর কলেবরে নন্দন সৌরভ মান গেছে আর্যগণ অৰ্য্য দেহ ভস্ম হতে দেখেছ তখন। সে কালের কথা যত আছ তুমি অবগত ৪৮ জাতীয়-উদ্দীপনা তাই আমি মা তোমারে সুধাই বিনয় করে, বল অৰ্য-বিবরণ শুনি সবিশেষ। দেবতুল্য তেজোবান আৰ্য্য বংশে কুসন্তান কেন মােরা? কোন পাপে পাই এত ক্লেশ ? হায়! মাের কোন্ পাপে কিম্বা কোন অভিশাপে তেজোবীৰ্য্য হারাইয়ে পরাধীন হীন হয়ে দাসত্ব-শৃঙ্খল কণ্ঠে পরেছি না জানি। কোন্ কৰ্ম্মফলে হায় ! দাসত্বও মিল। দায় ? পথের কাঙ্গালি হয়ে ফিরি গাে জননি! রঙ্গিনী উথলিল যুবক নীরব হল কাপিল সৈকত তীর টলিল মেদিনী মর্মরিল তৰু-শির ঘন টল টল করি ! মলয় সুসমীরণ বহিল শ্বসনে ঘন সুগন্ধি কুসুম স্নিগ্ধ সৌরভ আহরি! নন্দন সৌরভ রাশি, মােহিল ভুবন স্বগীয় সমীরে ভাসি চৌদিক বিধৌত করি তালে তালে সুসিঞ্জিনী, বীণার নিক্কণ-বেণু, দুন্দুভি শঙ্খের ধ্বনি মধুর মৃঙ্গধনি, বাজে বাজে ৰুনু ঝুন ! হইল তখন।
আৰ্যসঙ্গীত।
৪৯
বিমল প্রবাহ পরে মেঘ ঢল ঢল করে।
অচল চপলা মালা
ভাসিল তাহায় !
চল তরঙ্গের শিরে কাঞ্চন নলিনী পরে
কাঞ্চন প্রতিমা খানি, বিশ্ব কুশলিনী ধনী
-ভীষ্মের জননী সুরধুনী শোভা পায় !
৩৪
কোমল বাশরী তানে গীয় অপূৰ্ব গানে
ভাসিল আকাশ মার্গ ভাসিল জগত।
ভাগীরথী ধীরে ধীরে
বলিলেন যুবকেরে
বৎস! জিজ্ঞাসিলে যত আছি আমি অবাত,
দেখিয়াছি তব আৰ্য্য
অৰ্য্যের সম্পদ।
ও এই অৰ্য্যাবর্ভ পরে, আছি বহুকাল ধরে
কিন্তু-বাছা! এবে আর বাঁচি না জীবনে।
হয়েছি নির্জীব প্রায় শুদ্ধ মমতার দায়,
পড়ে আছি আর্যাবর্তে
শক্তিমাত্র নাহি গাত্রে,
হয়েছি অচল, অন্ধ হয়েছি নয়নে !
* শৈল সম্রাটের মেয়ে,
শিব মন্মােহিনী হয়ে,
ভীম শান্তার্ণব ধীর
ত্রিলোক বিজয়ী বীর
জাতীয়-উদ্দীপনা কুমার যাহার, তারে ( বৃটিশ বাসীরা আসি হৃদে দিয়ে লৌহ স্তম্ভ দেখ বাছা ধন সজোরে সন্মান নাশি করেছে বন্ধন!) “ বিষম বন্ধনে হায় ! প্রাণ ছাড় ছাড় প্রায়, কণ্ঠরােধ হইয়াছে হৃদয় শুকায়ে গেছে। তবে যে কহিছি কথা না কহিলে নয়। আৰ্যদের সবিশেষ কহিডে হইবে ক্লেশ অতএব যাও বাছা যথা! হিমালয় * বিনয়ে জিজ্ঞাস রে বলিবেন সবিস্তারে, অনন্ত কালের কথা আছে তার মনে গাথা অক্ষয় গিরীন্দ্র, বাছা দেখেছে সকল ! কাল সিন্ধু কতকাল ? আছেন অনন্তকাল, অনন্ত যুগান্ত হ’ল তবুও অটল । অক্ষয় অক্ষুন্ন তনু গেল হােল কত মনু রয়েছে যেমন তাই প্রকাণ্ড ভূধর ! নৈসর্গিক কোটী শত বিপ্লব ঘটিল, কত- মৰু নদী হয়ে গেল, সাগর সে মৰু হােল নগর অরণ্যারণ্য হইল নর।
আৰ্যসঙ্গীত। ৪ ০ * অতল বারিধি মাঝে রাজার ভবন স্থানে মাের মত কত শত বসি উচ্চ সিংহাসনে চন্দ্র সূৰ্য্য দিবা রাত্রি, রাজ অট্টালিকা সাজে, হয়েছে সাগর। তরঙ্গিণী হােল গত দেখিছে হৃষ্টমনে গিরি অনশ্বর।” ৪১ নিবিল বিদ্যুৎ জ্যোতি প্রবাহে ডুবিল সতী, ভারত সন্তান-দ্রুত চলিল তখন! গগন কিরীট, শিরে তুষার কুসুম থরে শোভে, যথা মহাকায় গিরি শ্বেতাম্বর প্রায় পাদপ-কুন্তলা ধরা করি আলিঙ্গন। ৪২ হিমালয় সন্নিধানে উত্তরিয়া কত দিনে অনন্ত দুর্দশাগ্রস্ত ভারত সন্তান! অমল নিঝর তীরে শ্রম ক্লান্ত কলেবরে বিষাদ তাপিত মনে দীন হীন ক্ষীণ প্রাণে বসিল কাতরে, হয়ে অতি ভিন্নমাণ। ৪৩ . তিষ্ঠি ক্ষণকাল, পরে অপূর্ব প্রকৃতি হেরে ডুবিল হৃদয় তার শ্রম হেতু দুঃখভার লঘু হ’ল যুড়াইল সে দগ্ধ জীবন।
৫২ জাতীয়-উদ্দীপনা। অপূর্ব আহ্লাদ ভরে কহে গদ গদ স্বরে “ কি দেখিনু, হেন শােভা দেখিনি কখন।” ১৪ * নিশ্চয় জেনেছি আমি সােনার ভারত ভূমি বিধাতার প্রিয় স্থান অপূর্ব সদন। নিখিল ব্ৰহ্মাণ্ড মাঝে যেখানে যেশােভা আছে বিধি বুঝি নিজ করে, বহু শ্রম যত্ন কোরে- জানি এই স্থানে সব করেছে রক্ষণ! ৪৫ অক্ষয় অনন্ত ধারে ঐশ্বর্যের সীমা কিরে? লুণ্ঠক অনন্ত কাল লুঠিলে এ ধন- তবুও না শেষ হবে দ্য যে সে দ রবে হবে অপবাদে ক্লেশ তৃপ্তির না হবে শেষ নিশার বৈভব,উ ষা, হইবে যখন ৪৬ “ তখন যে তুমি আমি তােমাপেক্ষা ভাল আমি, দ্য সাধু স্বভাবের বিভিন্ন কল্পনা, অবশ্য যে বিজ্ঞ হবে যাহার প্রতিভা রবে কি স্বদেশী, ভিন্নদেশী, সকলে স্বস্থানে বসি করিবে নিশ্চয় তবে (তুমি করিবে না!) ৪৭ দর স্বভাব যার জন্ম জন্ম বক্ষ তা,
আৰ্যসঙ্গীত।
সাধু যে সে তাই রক স’ক চিরদিন।
চির স্থির কিছু নয় এলো হল কত ক্ষয়
পুরবা সে মান্ধাতা তাহারাই গেল কোথা ।
ইহাত সামান্য কথা হীনাপেক্ষা হীন ,
৪৮
এতেক বলিয়া, পরে কহিল গম্ভীর স্বরে
হে পিতঃ ! অনন্তনীল গগণ কিরীটি।
তুষার কুসুম সাজে
রৌপ্য বর্মে তনু রাজে
আচ্ছাদি আদরে ধীর
সুদীর্ঘ বিশাল শির
অম্বর ভেদিয়া দর্পে করিছে কুটী।
৪১
রয়েছ ভারত বক্ষে ভারত কুশল
অক্ষয় অশান্ত কয়, দিন কাল যুগ যায়,
সৃষ্টির প্রথম থেকে দেখিছ সকল।
অনন্ত সময় সিন্ধু কঁপি কতবার
তুমুল তরঙ্গ ঘায়
ভারত বিপ্লব তায়!
অটল অক্ষুন্ন কিন্তু শরীর তােমার!
প্রত্যেক দিনের কথা আছে তব মনে।
ভারতের প্রাক্ত
সব অনুমন তত্ত্ব •
সাহিত্যবিদের কথা মানিব কেমনে?
৫৪ জাতীয়-উদ্দীপনা। কেমনে মনিব আমি ভাষার প্রমাণ? ভাগীরথী তীরবর্তী কৃষ্ণবর্ণ খর্বাকৃতি, শর্মোপাধি ধারী হিন্দু ব্রাহ্মণ সন্তান- আর, দেশান্তরবর্তী রাই নদী তীরে, শ্মশ্রুধারী শ্বেত কায়, দুয়ে এক সম্প্রদায়, এক অৰ্য্যবংশ কবে ছিল যুগান্তরে ? ৫৪ জান কিছু ? মহাকায় ! সুধাই তােমারে আরাে কত কথা আছে সুধাতে তােমার কাছে আসিয়াছি পিতঃ ! তবে শুন ধীরে ধীরে। কে আমি ? আমি কি সেই আৰ্য্য বংশধর? প্রবল প্রতাপে যারা শেসেছিল সসাগরা ধরার ভিতরে যারা মহা ধনুর্ধর। যাহাদের পরাক্রমে ইন্দ্র, চন্দ্র, বায়ু, যমে অাটিত না সম্মুখেতে হইলে সমর! ঘর ঘোর সিংহনাদে যার বিহরিত পদে মেদিনী কম্পিত হত টলিত ভূধর যার ভীম তরবারে যার বল্লমের ধারে কোথা র’ত রা’ইফল! চুর্ণিত পাথর আৰ্যসঙ্গীত। যাদের প্রচণ্ড বাণে যাহাদের ধনুগুণে বজ্রমন্ত্র মুহুর্মুহুঃ হতে ভয়ঙ্কর। কামান সে ভস্মকারে কোথায় যাইতে উড়ে ! আরক্ত আগ্নেয় গোল যে বৃকোদর খাদ্য ভাবে চিবাইত বদন ব্যাদনে শত গিলিত উখারে দিত সমরে অমর কে আমি ? আমি কি সেই অর্য্যের সন্তান? কে আমি ? আমি কি সেই আৰ্য্য বংশধর? বাসব দানব সনে আতুল তুমুল রণে হারি বৈজয়ন্ত ছাড়ি মর্ত্তে অধিষ্ঠান হইয়া যাদের স্থানে শশঙ্কে কম্পিত প্রাণে, অাশ্রয় লইয়া। তবে রেখেছে সম্মান। অতুল বৈভবে যার যার গ্রীক রোম কোন ছার ? কুবেরে আনিলে সুখে হত অপমান! কঁহাদের জ্ঞান নীতি বিচার মীমাংসা রীতি ক্ষিতি তলে একদিন আছিল প্রধান ! অাছিল জগত পূজ্য আহা! সেই চন্দ্র সুৰ্য্য- -বংশ অবতংশ আৰ্য্য। অৰ্য্যাবৰ্ত্ত স্থান- বাণিজ্য শিল্পের তরে, প্রসিদ্ধ পৃথিবী’পরে, কীৰ্ত্তিতে ত্রিদিবাপেক্ষা যাহার সম্মান ! ধর্মভীরু বদান্যতা সত্যনিষ্ঠ নিস্বাৰ্থতা,
জাতীয়-উদ্দীপনা।
জগতে ছিলনা যেই আৰ্য্যের সমান
কে আমি? আমি কি সেই আৰ্য্যের সন্তান?
৫৭
পিতঃ হিমালয় ।
তাই যদি হব মােরা তবে কি কারণ
হীন বলে, হীন আশে জীর্ণবাসে ক্ষকেশে
ছাড়িয়া বীরের বুলি স্কন্ধে লয়ে ভিক্ষাবুলি
জঠর অনলে পুড়ি
দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা কার
রাখি কোনরূপে এই দুৰ্ব্বহ জীবন?
ভিক্ষাও মিলে না, ভাগ্যে ঘটে না মরণ ?
৫৮
--
ভিকারীর দ্বারে
মুষ্টি ভিক্ষা করপেক্ষ মরণ মল !
মানবহৃদয় যবে দুর্দশা সাগরে ডুবে
হিতাহিত-বােধ-শক্তি নির্মল প্রতিভা জ্যোতি
সকলই তখন তার হয়ে যায় ছারখার
সুন্দর হৃদয় যন্ত্র মলিন বিকল
হয় তার ভাল মন্দ সমান সকল!
আমাদের তাই ।
কি করিব কি হইবে কিসে এ দুর্দশা
যাবে, তাকে চিন্তা করে ? উদর পোষণ করে
আৰ্যসঙ্গীত।
বিব্রত হইয়া সবে,
দেহি দেহি দেহি রবে
দাসত্ব-শৃঙ্খল পাম, ইচ্ছায় পরিতে যায়
অনেকে তাতেই করে পৌৰুষের আশা
ভাবে না মুহূর্ত জন্য আপনার দশা !
#
যাহা হত্ পিতঃ ।
সৃষ্টি হতে আছ তুমি ভারত-হৃদয়ে!
উন্নত ধবল শিরে
অনন্ত গম্ভীর ধীরে
বিশাল, তেজস্বী নেত্রে দেখেছ এ পুণ্যক্ষেত্রে
দেখিছ ভারতিগণে বল দেখি মম স্থানে
চন্দ্র সূর্য্য বংশ কোখা গিয়েছে নিবিয়ে ?
কোথা আৰ্য্য ভস্মরাশি গেছে ধৌত হয়ে ?
দেখেছ কি তুমি ?
স্বচ্ছ সরযূর তীরে তপােবন মাঝে
সুরভি মধ্য! কালে ঘনদল তৰু মুলে ;
স্নিগ্ধগন্ধী সমীরণ ঝুৰুখুৰু অনুক্ষণ
বহিলে, কোকিলা সুখে ঘন পত্র মধ্য থেকে
ছাড়িলে পীযুষ কণ্ঠে বনস্থলী মাঝে
উথলিলে সুধা উৎস! মহীৰুহ রাজে
৫৮ জাতীয়-উদ্দীপনা। কানন-বল্লরি। কোমল কুসুম সাজে মৃদু সমীরণে দুলিলে মৃদুল ধীরে, দিব্য কুশাসন’পরে বসিয়া অগাধ সুখে কম্পনার চিত্র লিখে গভীর নিবিষ্ট মনে বিজন কানন স্থানে সে বৃদ্ধ বাল্মীকি যবে পবিত্র জীবনে ? সে যুগের কথা পিতঃ আছে তব মনে ? দেখেছ কি তুমি ? পর্ণ কুটীরের মাঝে জ্বলন্ত অনল প্রচণ্ড তেজস্বী ব্যাসে জীর্ণ তৃণাসনে বসে ডুবি উদ্বোধনী ভাবে সুৰুচি কল্পনার্ণবে অনন্ত গম্ভীর সুরে গগন বিদীর্ণ করে অনন্ত রতন গর্ভ সাগর কল্লোল- (ভারত) সঙ্গীত-স্রোত পবিত্র নির্মল !- ৬৪ - ছুটাইতে? পিতঃ । দেখেছ কি তুমি সেই প্রতিভা জলধি,- অশ্রম-অরণ্যচারী ফল কন্দ মূলাহারী গম্ভীর গৌতম মূৰ্ত্তি ? যার অনশ্বর কীর্তি দর্শন মীমাংসা কাণ্ড অসীম অমিয় ভাণ্ড
আৰ্যসঙ্গীত।
যাহার উচ্ছিষ্ট মিষ্ট বলি অদ্যাবধি
ইউরােপ আসিয়ার ভক্ষিছে প্রসাদি!
দেখেছ কি তুমি ?
প্রচণ্ড তেজস্বী সেই
মনু মুনিরাজে ?
অগাধ ধীশক্তি বলে ব্ৰহ্মাণ্ডকে করতলে
করেছিল যেই জন
ব্যবস্থায় বিচক্ষণ
যার সম হয়নাই হবে যে সে আশা নাই
তবু জীণ পত্ৰাহারে বন ক্ষেত্র মাঝে
স্বগীয় সুখেতে ছিল বলের সাজে!
দেখেছ কি তুমি
বিশ্বামিত্র বশিষ্ঠাদি অৰ্য্য গুণনিধি ?
ভীষণ তেজেতে যারা উজ্জ্বল করিয়া ধরা
স্বর্গ সুখ পরিহরি হইয়া অরণ্যচারী
কারুময় চরাচরে
কাটি কীৰ্ত্তি পিরবারে
ব্রহ্মেতে হয়েছে লয় তুচ্ছ দেবােপাধি
দেখেছ কি সে সবারে শৈলেশ গুণধি ?
দেখেছ কি তুমি
ভারতীয় কালিদাসে ভাব মুগ্ধ চিতে
বসি নৰ মেঘাসনে অাশ্রম কুটীরে, ৰনে
জাতীয়-উদ্দীপন!।
পর্বতে, নিঝর কুলে পল্লবিত তৰু মূলে
স্বচ্ছ সরোবর ধারে প্রান্তরে তটিনী তীরে
মানব হৃদয় যন্ত্রে সঙ্গীত শুনিতে?
কোমল প্রকৃতি কান্তি যতনে চিত্রিতে ?
কণের আশ্রমে
দুষ্মন্তের প্রেম মুগ্ধ। সরলা কামিনী
নিদাঘ প্রদোষ কালে কুঞ্জ ক্ষেত্রে আলবালে
সিঞ্চিতে সলিল রাশি নীলােৎপল চক্ষে আসি
মৃদু গন্ধবহু ভরে
কুসুম পরাগ উরে,
প্রবেশে অধীরা শকুন্তলা তপস্বিনী।
কোমল ফুৎকার দিয়া দুষ্মন্ত তখনি
সে যন্ত্রণা হতে
অব্যাহতি দিয়াছিল সাক্ষী কালিদল!
দেখেছ কি কালিদাসে ? যাহার প্রভূত যশে
অনন্ত সাগর নীরে
দীর্ঘ প্রতিধনি করে
ইউরােপ পূর্ণ করি মােহিল ইংলণ্ড পুরি
মােহিল ভাবুকচিত্ত পবিত্র আবাস।
সংস্কৃত রত্নগর্ভ-তাতেই প্রকাশ ।
ভুবনমােহিনী দেবী।
কুকবি ।
ত্বরা কাড়ি লহ বীণা, হে দেবি ভারতী।
কুকবির কর হতে, এ মম মিনতি।
মম নিবেদন শুনে,
অয়ি দেবি। মন্ত্র গুণে
কুবংশীর রন্ধ, ভার দেও বন্ধ করে ;
সহে না কুণীত আর শ্রবণ কুহরে ।
মানসসরসে মাতঃ! ফুটে না কি তার,
সরস কমল চলি, সৌরভ-অধিরি ?-
সে সৌরভ শিরে ক'রে,
সমীরণ ঘরে ঘরে
ভমে না কি অার এবে, পূর্বের মতন ?
ভাসে না মরল সরে আর কি তেমন ?
অনন্ত আকাশপটে, দেব কন্যাগণ
ক্রীড়াকালে করে যেই পুষ্প বিকীরণ,
যে দেবকুসুম দলে,
মানবে নক্ষত্র বলে ;
জাতীয়-উদ্দীপনা।
সে তারকাদল নিশানাথে সাথে করে,
ফুটে না কি আর এ বিমান সরোবরে ?
৪
সৌদামিনী ঘনকোলে নাহি কিগাে হাসে?
চাদের চাদনি যুখা নীল জলে ভাসে।
শুনি জলধর ধ্বনি,
আনন্দে শিখী আপনি
নাচে না কি তৰুশাখে পুচ্ছ বিস্তারিয়া ?
মুৰছে এ রঙ্গ কি যে, গেল ফুরাইয়া?
দিনান্তে অৰুণ যবে যান অস্তাচলে,
ছড়াইয়া স্বর্ণরজি সাগরের জলে
তা লয়ে তরঙ্গ দলে
খেলিত যে কত ছলে ;
সাগরের তরঙ্গ রঙ্গ সাঙ্গ কি এবার ?
নীল জলে ভানুরশ্মী ভাসে না কি আর?
আর্যজাতি বীৰ্য্যহীন হইল যখন,
রজত-কীরিট ত্যজি হিমাদ্রি তখন,
যৰনের অগ্নিবাণে,
পাছে শিরােদেশে হানে ;
অনন্ত তুষারে শির আবরিল তাই ?
কুকবি হিমাদ্রির শির-শোভা আর কিগাে নাই ? ৭ অক্ষয় ভাণ্ডার তব, হে প্রকৃতি সতি; অনন্ত যৌবনা তুমি, চিররূপবতী ; যে বলে এ সব ধন ভারতে নাহি এখন থাকিতে নয়ন অন্ধ, হায়! সে দুর্মতি। ভারতে লাবণ্যপূণ অনন্ত প্রকৃতি! থাকিতে এ সব ধন ভারতভাণ্ডারে, কুকৰি কুগীতে কেন জ্বালায় আমারে ? বঙ্গ-কবি ধরি তান, আদি রসে খাবি খান, আপনার সর্বনাশ করিয়া সাধন, বঙ্গ সমাজের করে মরম পীড়ন। ভারতে বীরত্ব নাই,কিন্তু আগে ছিল- আবীর বীর্যে ধরা একদা কাপিল ;- গাও তাই, গাও সবে, গাও সুমধুর রবে; নিৰীৰ্য্য ভারতে বীৰ্য কররে সঞ্চার, বীররসে হিন্দুহিয়া জাগুক আবার।
জাতীয়-উদ্দীপনা।
১০
যদি সে গুণ থাকে, তবে বঙ্গ-কবি
যতনে আঁক গো, বোসে প্রকৃতির ছবি ;
ভূধরে, সাগর জলে,
মৰুভূমে, বন স্থলে
ফিরি ফিরি, ঘুরি ঘুরি, যে কিছু দেখিবে,
অবিকল সেইরূপ ছবিটি আঁকিবে।
কিছু। সেবি কায়মনে কল্পনা দেবীরে,
খুলি দেহ নিরয়ের দ্বার ধীরে ধীরে ;-
।
কেমনে পাহকি দলে,
নরক জানলে জ্বলে,
দেখাও মানবে, যাহা দেখেনি নয়ন,
দেখাইলা কবি গুৰু মিল্টন যেমন।
বঙ্গের মঙ্গল যদি করহ কামিন,
এ দীনের নিবেদনে তা করো না।
জয়দেব বিদ্যাপতি,
আদি ব কবিপতি
আদি রসে মজাইল বাঙ্গালির মন,
মজায়ােনা আর পুন নব কবিগণ।
হারণচন্দ্র রাহা।
কবির প্রতিজ্ঞা
র
করিনু প্রতিজ্ঞা মনে অজি সত্য আরাধনে
ডরি না কাহারে চিত্তে ; অভয়া ভাবিয়া
এ ঘাের মনের দ্বার দিব রে খুলিয়া!
কি যাতনা দিবি মােরে? যতিনা, কে ভরে তােরে।
আশীবিষ বিষে যার দেহের নির্মাণ,
কি জ্বালা দংশিলে অহি তাহারে জ্ঞান ?
তীক্ষ্ণ লৌহ শলাকার অথবা বিঁধিবে কাঃ-
বিধুক বিধিতে দাও—হানিরে হায় ।
পোড়াইবে তুষানলে, অথবা ডুবাবে জলে,
অসির প্রহারে কিংবা কাটিবে আমায়।
কাটুক, কাটিতে দাও ? রাখিৰ বজায়
করেছি প্রতিজ্ঞা যবে এ প্রতিজ্ঞা মম।
লেখনী করবে ধ্বংস
অলস্য বিক্রম
সাধিব ভবের সাধ
সাধুক যে সাপে ব
দংশুক হৃদয়ে বসে ফণী অনিবার।
আনল অচল বক্ষ ফাটিবে না আর।
শিরায় শিরায় আসি
ছুটুক গরল রাশি
জাতীয়-উদ্দীপনা।
সে ত আমি ভালবাসি। আশ্বাসি আশ্বাসে
ভারত সংগীত কিন্তু ইৰ উল্লাসে।
গাইব নিভয় মনে-
চেতাইব ত্রিভুবনে
জাগরে উৎসাহে-যত ভারত সন্তান।
অার কেন নিদ্রা যাও হইয়া অজ্ঞান।
হতাশা, নিরাশা, আর দেখাবি কি বল ?
অভাগা ভারত পুতে হতাশা সম্বল।
তােরে রে সেবিয়া আজ সাধিব আপন কাজ
তাের (২) আরাধনা আজ প্রতিজ্ঞা আমার।
করিব গরল যোগে গরল সংহার।
মরণ আশ্চৰ্য্য নয় মরিবে সকলে !
মরিব দেখিয়া কিন্তু ফলে কি না ফলে ;
আজ আরাধনা বলে
এই ঘোর মস্থলে
জীবন বাসনা বক্ষে বাঞ্ছিত রতন।
মাতি মৃদু কল নাদে
সাধিয়া মনের সাধে
ধায় কি না ধায় নদী বিমােহি ভুবন !
মরিব মরণ বটে মঙ্গল তখন।
ভুমিব আঁধারে আজ আঁধার গগনে
দেখিব যতনে বিশ্ব বিস্তারি নয়নে।
কোথায় জ্বলিছে আলাে! সৰ্ব্বদেশে সৰ্ব্ব কাল
কিংবা এই নীতি, নিত্য নহে পৌণমাগী
দিবা শেষে সন্ধ্যা এলে দিবাকর পড়ে হেলে
কবির প্রতিজ্ঞা।
কর্ম নষ্ট
বুধ বলে-
পূরবে গরবে ধন্ত বিক্রম প্রকাশি।
করে ঘোর তমােময় ; পশ্চিমে প্রকাশ হয়
হীরণ্য কিরণ মালা মণ্ডিত তপন।
আদি অন্ত অর্থ কিবা কোথা নিশা কোথা দিব।
কেন নিশী কেন দিবা ; করি আলােচন
দেখাব হতাশ হলে
প্রচারিব সার কথা উল্লাসিত মনে।
মরিব, মরিতে হবে চির কেবা রবে ভবে ?
ভবিতব্য দ্বার অগ্রে উদঘাটি যতনে,
দেখাব কতেক শোভা চির সে সদনে।
রাজা প্রজা ভূত প্রেত অতি পীড়ন
পাষাণ পরাণে আর কি দিবে বেদন ?
একাকী বিজন বনে বসি কিংবা এক মনে
স্বাধীন মনের ভাব করিব প্রকাশ।
বিরাগে জীবন কেন করিব বিনাশ।
গিরি গুহা মাঝে থাকি হুঙ্কারে উঠিলে হাকি
প্রলয় পাবক রাশ স্থির কোন জন?
ছুটিলে চিত্তের বেগ জানিবে ভুবন।
দামিনী ছুটিয়া যায় কে রাখে নিবারি তায় ?
পরশে সকলি হয় অয়িরাশি ময়।
পবন নিষম সনে
আতঙ্কি জগত জনে
এ অগ্নি ছুটিলে পরে কি আছে সংশয়।
জাতীয়-উদ্দীপনা।
অবশ্য জ্বলিবে আৰ্য্য সন্তান হৃদয় ।
জোর যবে বাধি বলে রাখিলা হিম-অচলে
সে প্রমিথিয়সে, যখ। সেই মহাবীর
শত যুগ ধরি বলে
দেবেন্দ্র যন্ত্রণা দলে
হাসিলা সগর্বে ; ধীর চিত্তে হয়ে ধীর।
হীর যাতনা সব শব রূপে আজি সব
ভুলিব না এ প্রতিজ্ঞা তথাপি কখন,
কালে উয়ারিবে গিরি কাল হুতাশন ।
গ্রহ উপগ্রহ যত
কত কাল এই মত
পরিবেষ্টি প্রভাকরে করে পর্যটন
বার তিথি মাম হায়
ঋতু ছয় অাসে যা
কত কাল এই মত করিব দর্শন।
তরঙ্গে অঙ্গেতে মাখি, গভীর গর্জনে হকি
কত কাল চক্রাকারে ভ্রমে রত্নাকর।
কত কাল ধরণীরে রাখেন বাসুকী শিরে
কত কাল এই মত চলে চরাচর।
করিব দর্শন আর
কত কাল এ প্রকার
ভমে ভ্রমে অৰ্য পুত্র ভুলি সমুদয় ।
এ সব দেখিব যবে ত্যজিব জীবন তবে
মন মুখে মহোল্লাসে সাধি বাসনায় ।
মরণ সুখের বটে-মরিতে যে পায় ।
তেজ বীৰ্য বলহীন
ক্ষুদ্র চিত্তে অনুদিন
বীণা।
করে সেবা অাসি ভবে জড়তা জ ঞ্জালে
ঘুরিয়া অন্নের অংশে ত্যজিনু অবনী বাসে
গৌরব গরিমা লোপ করি এক কালে ।
জগদীশ ! যেন আর এইরূপে বারে বার
হয় না সংসার বনে করিতে ভ্রমণ!
মুকীৰ্ত্তি শশাঙ্কে অকি শারদ গগনে রাখি
বারেক পাই হে যেন ত্যজিতে জীবন ।
এই বাঞ্ছা অহর্নিশ হৃদয়ে হে জগদীশ
উৎসাহ সাহস দেহ ভারত নন্দনে।
ভারত আকাশে রবি মণ্ডিত বিমল ছবি
মরি যেন হেরি নখ মিনতি চরণে।
হরিমোহন মুখোপাধ্যায়।
বীণ।
বারে বারে বীণা একবার,
ভারতের জয় করোরে ঘোষণা,
জলদ নির্থে যে উঠাও ঝঙ্কার,-
ঘোর হবে বীণা বাজরে আমার!
ওরে, তন্ত্রি, রাখি প্রেম গুঞ্জরণ,
বিরহের গান বেও না। এখন ;
মৃত সঞ্জীবনী সংগীতি উঠাও,
জাতীয়-উদ্দীপনা।
জাগাও, নিদ্রিতা ভারতে জাগাও,
সে গম্ভীর নাদে ডুবাও অম্বর,
কাপাও জলধি, পর্বত, কন্দর,
কর মৃত দেহে শোণিত সঞ্চার,-
ঘাের রবে বীণা বাজরে আমার ।
মার এ দুর্দশা দেখা নাহি যায় ।
সকল (ই) জাগিল, উঠিয়া বসিল,
মহিমার তাজ মাথায় পরিল,
ভারত কি তবে-প্রাণ ফেটে যায়-
ভারত কি তবে রহিবে নিদ্রায় ?
ভারত কি তবে লুটাবে ধুলায় ?
ধনিত করিয়া কানন কান্তার
ঘোর রবে বীণা বাজরে আমার ।
বাজ ঘাের রবে ঘন ঘন, বীণ,
গাও, চিরদিন রবেনা কুদিন,
হে ভারতবাসি! হে আৰ্য্যতনয় ।
চেয়ে দেখ প্রাচী আজ প্রভাময় ;
নিদ্রা পরিহরি উঠ ত্বর করি,
পোহাইল তব কাল বিভাবরী
এই কি সময় নীরব থাকার ?
ঘাের রবে বীণা বাজরে আমার!
ঘরে ঘরে যাও, আৰ্য্য গুণ গাও,
বীণা।
ভারত-সংগীতে দিগন্ত ডুবাও;
আর্য্য-হৃদি রূপ শুষ্ক সরােবরে
আশার তরঙ্গ আবার উঠাও ;
গর্জে সিংহ ৰখা বীর-অবতার,
ঘাের রবে বীণা বাজরে আমার !
প্রবেশি কাশ্মীরে কহ মহারাজে ,
মহারাজ! তব এ বেশ কি সাজে!
তােমার কাশ্মীর ভারত নন্দন,
কোন মহাকুলে তােমার জনম
দেখ, মহারাজ, দেখ ভেবে তাই,
কি ভাবিছ বসে ? কি করিছ ছাই ?
ভারত গৌরব করিতে উদ্ধার
উঠ একবার ! উঠ একবার।
ঘের রবে বীণা বাজরে আমার!
গিয়া জয় পুরে, উদয় নগরে,
গাও তন্ত্রি মাের উচ্চতম স্বরে
সূৰ্য্যবংশয়শঃমহিমার গাঁথা,
উচার গভীরে ‘ইন্ড্রাকু, ‘মান্ধাতা,
‘সগর, দিলীপ,' 'রঘু, ‘অজ’-ধীর
দশরথ, ‘ম’-অদ্বিতীয় বীর ;
গাও গত শোভা রাজপুতনার,
ঘাের রবে বীণা বাজরে আমার ।
१२
জাতীয়-উদ্দীপনা।
কেৰুলু, কর্ণাট, মগপ, কৌশল,
সৌরাষ্ট্র, পাঞ্চাল, উজীন, উৎকল,
যমুনা, জাহ্নবী, নর্মদার তটে,
বিন্ধ্য, হিমাচল, দক্ষিণের ঘাটে;
সিন্ধু-উপকূলে তরঙ্গ গর্জনে
মিশাইয়া তব সুগম্ভীর স্বর,
হেমন্তে, বসন্তে, গ্রীষ্ম বরষায়,
দিবা দু’প্রহরে, গভীর নিশায়,
ভারত সংগীত,সুধার আধার,
ঢাল, তন্ত্রি মের, টলি অনিবার ;
মৃত ভারতের দেহু প্রাণদান,
জাগাও নিদ্রিত ভারত সন্তান ;-
ইত সময়, বাজ এবার
ঘাররবে, বীণা, বাজরে আমার ।
নীরব কি নব ? নিরাশ কি হব ?
এ অসহ্য জ্বালা চির দিন সব ?
চির দিন মাবে কাদিতে শুনিব ?
চির দিন মারে মলিন হেরিব ?
চির দিন মার মুখে হাহাকার ?
চির দিন মার চক্ষে শত ধার ?
একি দেখা যায় ? একি শোনা যায় ?
ভারতের কেহু নাহি কিরে, হায় ?
বীণ।।
রাজেন্দ্রানী কিরে ভিখারিণী আজ ?
গাৰ্য্য-মাতা যিনি তাঁর এই সাজ ?
এমন নির্দয় বিধির হৃদয়,
ওরে, তন্ত্রী, তাের এইত সময়,
প্রাণপণে আজ বাজ একবার,
ঘােররবে বীণা বাজরে আমার ।
সুধার সুধারা ঢেলে না রে অার,
তাতে জাগিবে না জননী আমার ;
* মেঘ মল্লারের নহেরে সময়,
বসন্ত হিন্দোলে ” তোষে না হৃদয় ;
জ্বলন্ত দীপক ধরিয়া এখনি
জ্বাল চারি ভিতে উৎসাহ অনল,
মৃত ভারতের হে মূৰ্ত্তি খানি
সে অনলে পুড় কর রে উজ্জ্বল,
সে অনলে পুড়ি কর ছার খার
আলস্য, জড়ত-দৈত্য দুৱাচার,
সে অনলে পূড়ি কর ছার খার
বিলাসি বাঙ্গালি-আর্য লাঙ্গার ;
সে অনলে পুড়ি কম ছার খার
স্মৃতি বিরচিত সহস্র বর্ষের
ভারতেতিহাস যন্ত্রণার সার।
৭৪
জাতীয়-উদ্দীপনা।
ছাড়ি অন্যালাপ বাজ একবার,
ঘাের রৰে বীণা বাজরে আমার!
ভারত-পাণ্ডবে সবে মিলে আজ
উৎসাহ-অনল প্রজ্জ্বলিত কর,
সে অগ্নিকুণ্ডেতে করিয়া বিরাজ
গিগ্ধ কর সবে দগ্ধ কলেবর।
সে অনল-শিখা করিয়া গর্জন
হিমাদ্রির চূড়া পরশিৰুে যবে,
সে অনল-শিখ তরত সাগরে
বাড়বাগ্নি যবে বর্ধিত করিবে,
সে অনল যবে তর্জন করিয়া
আনন্দে করিবে ব্যোম আলিঙ্গন,
দেখিও রৈ তাহা নীরবে বসিয়া
রোম দগ্ধ নীরাে দেখিল যেমন ;
কিন্তু যত দিন মায়ের এ দশা
এ মহীমণ্ডলে কি সুখ তােমার?
ত্যজ নিদ্রা, ত্যজি তুচ্ছসুখ-আশা
ঘােররবে বীণা বাজরে আমার ।
দীনেশচরণ বন্তু।
।
উদ্দীপন।
ঘোর মােহ-নিদ্রামগ্ন ভারত-নন্দন!
জলদ গম্ভীর স্বরে,
ডাক ভারতের নরে,
সচেতন আর যত জীব অগণন ।
কোকিল মধুর রবে,
জাগাও নিদ্রিত সবে,
হইবে ভারতে হে নব অ্যুদয়
বীরতা, শশাণিত সনে, হস্ত পদ সঞ্চালনে,
বহিবে শরীরে বেগে ; ভারত তনয়-
ছুটিবে কৃপাণ করে,
ভারতের বক্ষ’পরে,
অরাতির শিরচ্ছেদ করিতে সকলে,
যে শত্রু কৌশল বলে, দিমিয়া শৃঙ্খল গলে,
শাসিতেছে ভারতেরে এই ধরাতলে।
বিদারি ভারত হিয়া, পবিত্র শােণিত নিয়া,
যে শাৰ্দল স্বীয় ক্ষুধা করিতেছে দূর,
শাসিবারে হেন অরি, সবে আজ প্রাণ ভরি,
জাগাতে ভারতে ডাক গম্ভীর মধুর।
২
ইন্দ্রজাল-জাত এই নিদ্রা একবার,
যদি ভাঙ্গে সবাকার,
অবশ্যই তবে আর,
করিবে না কভু সহ্য শত্রু-অত্যাচার।
জাতীয়-উদ্দীপনা।
কি মন্ত্রেতে শক্রাণে, জানি না ভারত-জনে,
ভুলাইয়া রাখিয়াছে জানি না সন্ধান।
আহা! কি দুঃখের কথা, বলিতে মরমে ব্যথা,
স্লেপদতলে আজ আৰ্য্যের সন্তান।
যাহাদের কীৰ্ত্তি কথা, শুনি আজো যথা তথা,
অনন্ত-বিস্তার এই অবনী মণ্ডলে।
তাদের সন্তান চয়ে,
সিংহের সন্তান হয়ে,
কি কুহকে। অই পড়ে ফেৰু-পদ-তলে ।
বহরে উজান আজি যমুনা লহরী।
কুলু কুলু কুলু স্বরে,
পূৰ্ব্ব মত গীত ধরে,
যখন খেলিত ব্ৰজে রাধার শ্রীহরি ।
পশু পক্ষী মিলি সবে, ডারে গম্ভীর রবে,
জাগাইতে ভারতের নিদ্রিত সন্তান।
আমি ক্ষুদ্র কবি হয়ে, ক্ষুদ্র এই কণ্ঠ লয়ে,
প্রাণপণে ডাকিবরে হয়ে এক তান!
কাপিবে ভীষণ রবে, সমুদ্র পর্বত সবে,
বহিবে সে রব, বায়ু সুদুর গগনে।
জম্বুক স্বভাব যত,
নরপতি শত শত
কাপিবে কিরীট খসে পড়িবে চরণে।
রামলাল চক্রবর্তী।
কোকিল।
ধিক্ সে কবিরের কবিত্বে তাহার ।
কোকিলের রবে প্রাণ পাগল যাহার ।
এক মনে এক প্রাণে, শুনেছি কোকিল তানে ;-
হেরেছি ময়ূর মৃত্য কদম্ব কাননে,
নব নীল নীরধর নিরখি গগনে।
আরোহী কল্পনা রথে,
ভমিয়া বিমান পথে,
অস্পরী কিন্নরীকূলে করেছি দর্শন
মােহন সংগীত কত করেছি শ্রবণ।
মঙুল নিকুঞ্জ বনে,
বসন্তে কান্তের সনে,
দেখেছি মণীগণে করিতে বিহার--
শুনেছি তাদের গীত-মুতান বীণার ।
দেখেছি সকলি তাহা, দেখিবারে বিশ্বে বাহ;-
হয় নি কখন তায়, আনন্দ উদয় ।
এ ছার কোকিল গানে, কি সুখে আনন্দে প্রণে?
কি সুখে, জানি না, আজ নাচিবে হৃদয় ?
তালে তালে মিলাইয়া
যে সুর নরমে গিয়া,
হৃদত দলে বলে বিতাড়িত করে,
তাতেই, জানিত, প্রাণ নাচে প্রেম ভরে।
৭৮
জাতীয়-উদ্দীপনা।
২
কোকিল-কাকলি কই মরমে ত যায় না!
মরমে-মরমে পশি পরাণে নাচায় না ।
মলয়-হিল্লোল প্রায় ভাসি ভাসি যায় হায়,
কখন অন্তরে মিশে অন্তরে নাচায় না।
গভীর ভাবেতে আসি,
গভীর পবনে ভাসি,
গভীর হৃদয়ে কই তরঙ্গ উঠায় না,
কোকিল-কাকলি কই মরমে ত যায় না!
পুৰুষে পারে না পিক মেয়েরে ভুলায় !
নারীর হৃদয় হয়,
দর্পণ বা নীর প্রায়,
মলয় মৃদুলে দুলি লহরী উঠায়।
নীরে নীরে মিশে যায়। পাষাণ কি টলে যায় ?
উঠে প্রতিধ্বনি হলে পাষাণে পাষাণে
তাড়িত ঘর্ষণ বেগে !
উঠে অগ্নিরাশি রেগে !
কেন এ পিকের গীত বাজিবে পরাণে ?
তাড়িত করিয়া অঙ্গ, মােহ-নিদ্রা করি ভঙ্গ,
হুঙ্কার ঝঙ্কার ভীম উঠাবে বিমানে।
3
কি দোষ তোমার কবি, বৃথা এ গঞ্জন!
রমণী অধিক বীর বাঙ্গালি এখন !
প্রেমরস গলাইয়া,
প্রেম-রস মিলাইয়া,
মধুর প্রেমেতে যবে তোমার গঠন,
কোকিল। ৭৯ ভুলিবে কিরূপে তুমি সে প্রেমরতন ? কাজেই তােমারে হবে, ভুলিতে কোকিল রবে, কাজেই নাচিবে তুমি প্রেমের হিল্লোলে- প্রফুল্ল পদ্মিনী যথা তরঙ্গের কোলে। কাজেই গাইতে হবে, কোকিল কঁদনি রবে, প্রিয় প্রিয় প্রিয়-রস প্রমদা প্রমােদ- কাজেই প্রেমেতে তব বাড়িবে আমেদ। কাজেই দাৰুণ শীতে, প্রেমে বিশ্ব মাতাইতে, প্রেমের উদ্যান হবে রচিতে তোমায় ; প্রম-সরােবর নীরে, সাজাইতে নলিনীরে, হেলাইতে দুলাইতে নাচাতে তাহার। কাজেই প্রেমের ফুলে, প্রেমের প্রসাদে ভুলে, প্রেমের উদ্যানে তুলে প্রেমের মালায়, পরাতে হবে গাঁথি প্রমদা গলায়। রাস রসময়ী রাধা রসের ভাণ্ডার কাজেই বসিবে ভাল বদন তাহার । জেই তাহার সনে, ভমিবে নিকুঞ্জ বনে, কোকিলে লইয়া গাই ললিত বাহার। কাজেই কোকিল, কবি, প্রিয় হে তোমার। কই ত কোকিল ডাকে মানস ভুলায় না!
জাতীয়-উদ্দীপনা।
কই ত কোকিল ডাকে ভুবনে হাসায় না!
এই ত দুমাস ধরে,
চিৰি কণ্ঠ তার স্বরে,
ডাকিল কোকিল কচিল ক জন?
সেই ত অলসে সব নিদ্রায় মান।
৭
কোকিলের ডাক শুনে প্রেমেতে ভাসিয়া,
নেচেছে অনেক বঙ্গ
নেচেছে করিয়া রঙ্গ,
নেচেছে প্রেমের মালা গলায় পরিয়া ।
কিন্তু ও কোকিল ডাকে নার্চে নাকো অরি।
প্রেমেতে না প্রেম আছে, নাম মাত্র রহিয়াছে,
সে প্রেমে, প্রেমিক কবি, এ রঙ্গ অপার,
নাচে না হাসে না ওরে, কঁাদে না প্রেমের ঘােরে,
ডেক না কোকিল ডাকে মিনতি আমার।
অনেক প্রেমের খেলা হয়েছে হেথায় ;
জর জর প্রেমবিষে হায় সমুদায়।
কেবল প্রেমের দায়, ভারত ডুবেছে হায় ;
তবু কি, প্রেমিক কবি, পুরে নি বাসনা ?
আর ঘোর প্রেমধুমে,
তাও আৰ্যভূমে,
গেথ না প্রেমের মালা এ মম কামনা
কোকিল মরিবে কবে,
বসন্ত সে ভস্ম হবে,
কোকিল। শুকাবে কমল বঁই মল্লিকা মালতী চাৰু তৰু, মঞ্জু কুঞ্জ, কাঞ্চন ব্রততী । কবে রে ভারত তুমি, হইবে শ্মশান ভূমি, কবে রে সৌন্দৰ্য তব হবে ভস্ম প্রায়। ভস্ম কর চণ্ডীদাসে, পাঠাও তাহার পাশে, বিদ্যাপতি জ্ঞানদাস গােবিন্দ গাখায় । পোড়াও রমনীগণে, সহিত যৌবন ধনে, ভুল রে ভুল রে সবে চাতুরী তাহার । ঘূরের ঘুনু ঘুনু, নুপুরের ৰুণু ৰুণু, করুণের কণ কণভ্রমর ঝঙ্কার- ভুল রে বাঙ্গালি কৰি মিনতি আমার। কে আছ গভীর সুরে, গাও গীত তান পূরে, বাজায়ে দুন্দুভী ভেরী গভীর নিম্বনে। ভীম বজ্র করতলে, কিরূপে সংগ্রাম স্থলে, দানবে দেবেন্দ্র ইন্দ্র দলিলা চরণে। কেমনে পাণ্ডব চয়, অশ্বমেধে ছাড়ি হয় ত্রিপুর করিলা জয় বিক্ৰম প্রচারি? আৰ্য্যলক্ষী বৈদেহীরে, লম্বিয়া অগাধ নীরে, উদ্ধারিলা রামচন্দ্র রাবণে সংহারি ? ধনিতে ধমনী ফুটে, সে গীতে পাষাণ ছুটে, দেখিব কোথায় নাহি ধাঃ হারজিয়া।
৮২
জাতীয়-উদ্দীপনা।
দেখিব সংসারে কেবা না উঠে নাচিয়া ?
অচল এ অদ্রি রাজি, দেখি কেমনে আজি,
দেখিব অচল ভাবে থাকে এ প্রকারে ?
মতে কি না মাতে ধরা দেখাব সবারে।
শুন হে নবীন কবি, তােল প্রেমের ছবি,
কবি হতে যদি আপন হৃদয়ে প্রবল ;
প্ৰমত মেশের পাশে, কিরূপে দামিনী হাসে,
তােল হে তােল হে কবি সে ছবি বিমল
দেখিবে হাসিবে সুখে গগন ভূতল!
অলস অবশ জন,
তাড়িত হৃদয় মন
নাচিবে নাচিবে রঙ্গে নাচায়ে ভূতল।
ভ্ৰমিও না ভ্রম বশে, কোকিলে না মন রসে ।
নয়ন কণ্টক কাল কোকিল সকল।
বীর রসে পূরে তান,
গাও হে বীরের গান,
নাচিবে জড়ের প্রাণহারে যে প্রকার,
বিদ্যুতের গতি,কবি,-মিনতি অমির।
হরিমােহন মুখােপাধ্যায়।
আর কি আছে?
কিবা আছে আর
এ ভারতে দিন দিন, হতেছে সকল ক্ষীণ,
বাড়িছে কেবল মাত্র দিন দীনতায় ;
স্বর্ণ ভূমি ভারতের কিবা আছে আর ?
হিমাদ্রি শিখর হতে,
ভারত জলধি স্রোতে,
দুঃখের প্রবাহ বেগ ছুটে অনিবার;
ভাসে হিন্দুজাতি তায়, (না জানে সাতার।
২
কি আছে আর ?
তৈল হীন দীপ প্রায়, নির্বাণ উন্মুখ হয় !
জ্ঞানের উজ্জ্বল আলো কেবল আঁধার
ভারতীর মুখ ঢাকি পশিল আবার,
ভারতের অন্তস্তলে ;
ভারত সাগর জলে,
ডুবাইয়ানিবাইয়া জ্যোতিঃ সভ্যতার
উঠিল তুমুল ঝড় ভারতে আবার!
কিবা আছে আর ?
ভারতের শোভা যত,
সকলি হইল হত,
৪
জাতীয়-উদ্দীপনা ।
মৰুভূমি প্রায় এবে ভারত-সোণার !
ছায়া, জল, তৃণদল কিছু নাহি আর।
কিছু নাহি গেছে সব,
বিপুল গৌরব রব;
ভারত সন্তান সব শবের আকার!
কিবা আছে আৰ্যভূমে শোভার আধার ?
৪
কিবা আছে আর ?
নাহি সৌধ সুশোভন, সারি সারি অগণন
হিন্দু-প-নিকেতনে শোভার ভাণ্ডার।
একেবারে হইয়াছে সব ছার খার।
বিনােদ বিহার ক্ষেত্র, দৃষ্টি মাত্রে সুখী নেত্র,
নাহি সে প্রমােদবন-রচনা-মায়ার ।
কীর্তি-লােপী কাল সব করেছে সংহার ।
কিবা আছে আর ?
দেবালয় কত শত ;
কত মুক্তি প্রতিষ্ঠিত
কত ঘটা কত জাক হইত পুজার।
( ছিল ভক্তি পূর্ণ আর্য-হৃদয় ভাণ্ডার )
সজ্জিত তােরণ পর, নানা বণ মনােহর,
উঠিত পতাকা কত সংখ্যা করা ভার,
শ্বেত পীত লাল নীল বিবিধ প্রকার ?
অার কি আছে? কোথায় সে সব ? হায় চিহ্ন মাত্র নাই কিছু না দেখিতে পাই স্বপ্নের কম্পন প্রায় হৃদয়ে উদ্ভব। এই কি “ ধর্মের জয় ” লোকে বলে সব ? কোথা দেব প্রতিকৃতি? কোখা হিন্দু নবপতি? কোথা সে সম্পদ সুখ, বিবিধ উৎসব ? বাজে না দুন্দুভি ভেরি,সকলি নীরব। কিবা আছে আর ? শোৰ্য্য বীৰ্য্য বুদ্ধি বল, সব গেছে রসাতল, রতি মতি রীতি নীতি আচার ব্যাভার, যাহা ছিল, গেছে সব, চিহ্ন নাই তার। খোর নেশাচরিমলে ভারত ভবন জ্বলে জনেক সহায় নাই করিতে উদ্ধার । রত্ন প্রম্ অৰ্য্য ভূমি পুড়ে ছারখার ! গিয়াছে সকল! বীরত্ব ধীরত্বধাম- ভারতের পরিণাম, এই শেষ ? হায় শোক বাড়িছে কেবল। কে জ্বালিল হিন্দু কুলে বিগ্রহ অনল?
৮৬ জাতীয়-উদ্দীপনা। একতায় ছিল যবে, হিন্দু নরপতি সবে, ছিল ভারতের মুখ কতই উজ্জ্বল। এখন মলিন, যথা সন্ধ্যায় কমল। । কোথায় সে দিন? যখন যৰম আসি, সমর তরঙ্গে ভাসি, ভারতের সুন্দরতা করিতে বিহীন সিন্ধু তীরে ডেরা ফেলি হলে সম্মুখীন ? হয় কত শত বার, হিন্দু স্থানে মানি হয় আৰ্য-ভুজ বলে নারি করিবারে ক্ষীণ, পলাইল কতবার যবন প্রাচীন। একতা বন্ধন সুদৃঢ় যখন ছিল, কতবার এসেছিল ক্ষত্ৰকুলে কালি দিতে দুরাত্মা যবন। এই রঙ স্থানে, সঙ্গে সেনা অগণন । রাজপুত্র বাহু বলে বিধর্ম বিপক্ষ দলে, কতবার করাইয়া সময়ে শয়ন, বংশের গৌরব সবে করেছে রক্ষণ। কতই বিক্রম- ভারতের ছিল হায়! { স্মরিলে কাটিয়া যায়
আর কি আছে ?
৮৭
এহৃদয়সে সন্তাপ নহে উপশম।
মনে হলে মনেত্তি না হয় সংযম।
ভারত মহিলা যত, তাদের বীৱ কত
দেশ হিতৈষিণী তারা, নারীর উত্তম।
আৰ্য তুলে ধন্য ধন্য তাদের জনম।
১২
আশ্চর্য কথন
কে কোথা শুনেছে হায়, স্বদেশ রক্ষণ দায়,
সুকেশিনী কেশ রাশি করিয়া ছেদন,
দিয়াছে ধনুর গুণ করিতে বন্ধন?
মামুদের আক্রমণে,
ভারত রমণীগণে
সহিয়াছে কত ক্লেশ করি প্রাণপণ।
কেশ, বেশ, ভুষা দিয়ে জিনিয়াছে রণ।
কত বীৰ্য্যবর্তী
করে ধরি শরাসন, করিয়াহে বোর রণ,
নারী কুলে কত তারা রেখেছে সুখ্যাতি
সমুদ্ধে সংগ্রামে পশি বিপক্ষ সংহতি ;
কত ক্ষত্ৰ কুলবতী, সংসার উপেক্ষী সতী,
ধর্ম রক্ষা হেতু কোলে কার মৃতপতি,
চিতার অনলে প্রাণ দিয়াছে অতি!
ماسو
জাতীয় উদ্দীপনা।
১৪
কেন বিসর্জিলি-
অরেরে নিদয় বিধি, এ হেন প্রতিমা নিধি ?
অকালে ভারতে কেন বিজয়া আনিলি ।
আর্যকুল দেকী মুত্তি কেন ভাসাইলি ?
শূন্য দেবালয় মাত্র,
খােটা কত বিল্বপত্র
শুকান স্কুলের পাশে ছড়ায়ে রাখিলি।
ভারত রমণী মণি তক্করে অর্পিলি ?
কিছু নাই আর!
দুৰ্বল হৃদয় মাঝে,
দরিদ্রতা শেল কাজে,
শৃঙ্খলের গুৰু ভারে পা বারান ভার।
ভিক্ষার তলে হয় দিন:স্তে আহার!
অতুল
ঐশ্বৰ্য্য রাশি, লুটেছে দর আসি,
উঠিয়াছে রােদনের ধ্বনি হাহাকার।
সােনার ভারত ভূমে কিবা আছে আর!
যােগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
দেশ-পষটন।
ত্যজিয়া জনম ভূমি—শৈশবে যথায়
শুইয়া জননী-অঙ্কে সুখের স্বপন
হেরিতাম অগণন, সৌদামিনী প্রায়
খেলিত হাসির ছটা বদনে যখন!
ত্যজি সেই পুণ্যভূমি-জনমের স্থান,
ত্যজি পরাণের জন; সংসার-বন্ধনী
ভ্রাতৃবন্ধু পরিজন, দুদয়ের ধন,
ভ্রমিতেছি দেশে, দেশে, দিবস রজনী।
২
যমুনা, জাহ্নবী-দেহে প্রবল। সতিনী।
আরম্ভি গর্জন ঘোর হিমাদ্রি-শিখরে,
ক্রোধে স্ফীতবক্ষ হয়ে, যেন উন্মাদিনী,
মিশিছে তুমুল যুদ্ধে যে পুণ্য প্রান্তরে !
হেরিয়াছি সেই তীর্থ কীর্তিত পুরাণে,
হেরিয়াছি যমুনার সেতু মনােহর,
হেরিয়াছি দুর্গশ্রেষ্ঠ গঠিত পাষাণে ;
তবে কেন হিয়া মাের দুঃখে জরজর!
জাতীয়-উদ্দীপনা।
ছাড়ি সেই পুণ্যস্থান যাই তথায়,
যধা সুবিত তাজু-শিষ্পের সোহাগ।
অহঙ্কারে, উচ্চশিরে দাড়াইয়া হায়!
স্বণ কুম্ভ শিরে; পদে (রজতের রাগ)
যমুনা দুঃখিনী বালা তিতি অনীরে,
গাইছে দুঃখের গান-ভারত-রোদন !
শুষিছে আপনি ক্ষিতি সে স্রোত অন্তরে।
অভাগা ভারতবাসী না করে শ্রবণ।
৪
শুনিবে কেনবা ? হায়! শুনিলে কেমনে
আনন্দে দাসত্ব-সুধা করিবেক পান ?
নিয়ত চরণে-রেণু শিরসি গ্রহণে
কেমনে ভাবিবে চিতে পরম সন্মান ?
শুনিলে যে যমুনার কৰুণ রােদন,
ভারতের পূর্বদিন হৃদয় আকাশে
আপনি আসিয়া হায় দেয় দরশন !
এ দাস-জীবনে ঘৃণা আপনি প্রকাশে ।
যমুনার কলনদ, গর্জনের সনে,
ভারতের কত কীর্তি রয়েছে প্রার্থিত,
কেমনে জানিবে সেই, জেতার চরণে
দেশ-পর্যটন । যেই জন স্তুতিমালা অর্পিছে নিয়ত ? কেমনে জানিবে সেই, করিছে যে জন মনুষ্যত্ব বলিদান পর পদতলে ? এহেন বনা-পুঞ্জে হইয়া মন ফিরিলাম ; কোখা সুখ শিল্পীর কৌশলে । ছাড়ি তা উপনীত প্রাচীন দিল্লীতে, পঞ্চক্রোশাধিক স্থান ব্যাপিছে যথায় ভয়-ইন্ম-অবশেষ, অতুল মহীতে। যমুনা চরণ-তলে কঁাদিয়া লুটায় ! তাবহেলি কালদণ্ডে শুষ্ক ভয়ঙ্কর অই যে গগন-স্পশী আছে দাড়াইয়া, হেরিছে কোপেতে স্তব্ধ, দুঃখে জরজর, আৰ্যের দাসত্ব-বেশ অবাক হইয়া । ৭ চিনিলে কি, কুলাঙ্গার ! একীৰ্ত্তি কাহার? পড়িয়াছ বিজেতার ভারতেতিহাসে এ শিল্প-সােহাগ হায় ! কুতব-মিনার। এ গৌরব যবনের প্রতিভা প্রকাশে । মিথ্যাকথা! দেখ চেয়ে মেলিয়া নয়ন- নহে ও যবন-কীৰ্ত্তি, আৰ্য অহঙ্কার,
জাতীয়-উদ্দীপনা।
প্রভাতের রক্ত সূৰ্য্যে করিতে পুজন,
পৃথুরাজ-কণ্যা-তরে নির্মাণ ইহার ।
ছাড়িয়া কান্তার এবে হিমাদ্রি-শিখরে
উপনীত অবশেষে বিধির বিধানে ;
আমি ক্ষুদ্র কবি, কবি-কেশল্পী না পারে
চিত্তিতে সে ভীম শোভা অতুল ভুবনে !
তুষার-মণ্ডিত-শিরে প্রভাত-তপন,
বরষে জ্বলন্ত স্বণ’ যবে অকাতরে,
কি বিচিত্র শোভা নেত্র করে দরশন,
দেখে নাই যেই জন, বুঝিবে কি করে?
শিখরে ধবল শােভ; নিতম্ব প্রদেশে
শ্বেত, নীল, পীত, আর সুবর্ণে রঞ্জিত
জলদ-মেখলা মরি ! কি শােভা প্রকাশে ;
দেখে যেই, হয় সেই বিস্ময়ে স্তম্ভিত।
অই শুন কটিদেশে জীমূত-গর্জন।
হাসিয়া বিকট হাসি খেলিছে চপল।
অই হের, শিরােদেশে অপূর্ব-দর্শন
অক্ষয় তুষার-পুঞ্জ, নাহি যার তুলা
জিনি শত-মেঘ-মন্দ্রে গরজি গম্ভীরে,
দেশ-পর্যটন ।
হের কোন স্থানে অই গিরি-প্রস্রবণ,
উড়জি সমুচ্চ শৃঙ্গে, পড়িছে কয়ে,
রাশি, রাশি, ফেনপুঞ্জ করি উৎক্ষেপণ
কোথাওবা মৃদু, মধু, বাম-কণ্ঠস্বরে
গাইছে মধুর গান শ্রবণ-রঞ্জন ।
শোকে, দুঃখে, কঁাদি কোথা গাছে ঝঝরে,
জাগাইয়া সুপ্ত স্মৃতি, শোকের সদন!
তমােময় গিরি-গুহা, সমুচ্চ শিখর,
ভীষণ অরণ্য, আর তৃণ-শূন্য হুল,
প্রকৃতির পুষ্পেদ্যান-মন-প্রাণ-হর
দেখিয়াছি কত শোভা হয়। বিল।
তবে কেন নাহি সুখ অন্তরে আমার ।
তবে কেন জ্বলিতেছে থাকিয়া থাকিয়া,
সে পোড়া পাক হায়! বিষাদ ভাণ্ডার।
নাহিকিরে শান্তিজল জুড়াইতে হিয়া ?
দাস যে, তাহার তরে তুঙ্গ হিমালয়,
সমভূমি বঙ্গদেশ, সাহারা ভীষণ,
সকলি সমান হয় ! সকল সময়
পদাঘাত মাত্র তার অঙ্গ-অাভরণ !
অই শুন হিমবান গর্জিয়া ঝঞ্জয়,
৯৪
জাতীয়-উদ্দীপনা।
কুলাঙ্গার আর্যামুতে বলিছে সঘন ;
শুন এই মহগীত, ৰহিবে শিরায়
প্রলুপ্ত আৰ্য্যের রক্ত কলুষ-নাশন।
হিমাদ্রি বলিছে, ভারত-সন্তান!
ত্যজিয়া বাসনা, ত্যজিয়া সম্মান,
জ্ঞানের অর্ণব, আৰ্য্যের গৌরব,
ভূলিয়া সকল, ঘণ্য স্তুতি-নি
গাইছ নিয়ত, করিছ প্রদান
অঞ্জলি যতনে পরে চরণে,
লভি বিনিময়ে হেলা, অপমান ।
কলঙ্কে ডুবায়ে অৰ্য্যের পরাণ?
১৪
* করিয়া পরের পাদুকা লেহন .
হয় নাকি ঘৃণা ধরিতে জীবন ?
প্রণয়িনী পাশে হেল নীচ বেশে
কেমন নির্লজ্জ ! করিস্ গমন
পৃষ্ঠে পদাঘাত করিয়া বহন ?
থাকিতে পরাণে, কেমনে সন্তানে
দিরে বাধিয়া দাসত্বে চরণ?
আশা-রু হয়। করি উন্মলন !
দেশ-পর্যটন ।
ভুলেছ কি মূঢ়! ভীষ্ম, কর্ণবী,
দ্রোণ, দুর্যোধন, ভীম যুধিষ্ঠির,
কৌশল্যা-নন্দন, সৌমত্র লক্ষণ,
ভারত-গগনে নক্ষত্র সুস্থির,
বীর-অহঙ্কার সমগ্র মহীর?
ভবভূতি, ব্যাস, মাঘ, কালিদাস,
আদরে পালিত পুত্র ভারতীর ;
ভুলেছ তঁাদের সংগীত গভীর ?
* ভুলিয়াছ যদি এসব রতন,
কেননা ত্যজিছ এঘৃণ্য জীবন!
কেননা সকলে জলধির জলে
এ নীচ পরণে কর বিসর্জন।
ছইবে আৰ্য্যের কলঙ্ক মোচন।
জ্বলিবেনা হিয়া, রহিয়, রহিয়া,
ভীৰু আৰ্য্যমুখ করি দরশন।
শুনি ভারতের দুঃখের রোদন।
১৭
* অভ্রভেদি শির দেখিয়া আমার,
ওরে ভারতের পুত্র দুরাচার !
কোন্ নীচ মনে পরের চরণে
জাতীয়-উদ্দীপন
লুটাই তাের মস্তক আবার?
নাহি কিরে হয় ঘৃণার সঞ্চার !
উচচ শৃঙ্গ দেখি উচ্চভাব শিখি,
কাঠিন্য নেহারি হয়ে বলাধার,
দুর্ভাগ্য ভারতে করে উদ্ধার
দক্ষিণে জলধি, অনন্ত, অপার
ভারতের দুঃখে গর্জে অনিবার।
হেরি বিস্তীর্ণ শিখ উদারতা,
নীচ, ক্ষুদ্রভাব কর পরিহার ;
আর্যের গৌরব হইবে বিস্তার।
জাহ্নবীর স্রোত সদা প্রবাহিত
দেখি কৰ্মঠতা করি অলঙ্কার,
দুর্ভাগ্য ভারতে কররে উদ্ধার ।
শীতলাকান্ত চট্টোপাধ্যায় ।
গীতি কে যেন
গাইল।
গীতি কে যেন গাইল ।
বসে ছিনু নদী তীরে, সমীরণ ধীরে ধীরে,
বহি বারি কণা অঙ্গ শীতল করিল।
গীতি কে যেন গাইল।
এমন সময়ে গীতি কে যেন গাইল।
গীতি শ্রবণে পশিল ।
२
গীতি শ্রবণে পশিল ।
সমীর লহরী সনে,
প্রবেশিল এ শ্রবণে,
শ্রবণের দ্বার দিয়া মরমে পশিল ।
সুমধুর স্বরে গীতি কে যেন গাইল।
গীতি মরমে পশিল ।
গীতি মরমে পশিল ।
কাদাইয়ে বিটপী দলে, *দাইয়া নদী জলে,
ঢালিয়া শশাকের ধারা কে যেন গাইল
শুনিয়া অন্তর মম কাদিয়া উঠিল ।
ধৈর্য দূরে পলাইল।
৪
ধৈৰ্য্য দূরে পলাইল ।
অন্তু প্রায় দিবাকর,
লোহিত কলেবর,
সে গীতি শ্রবণে যেন কাঁদিতে লাগিল
তাই বুঝি তার চক্ষু আৱক্ত হইল।
শোকে আকাশে মিশিল ।
৯৮
জাতীয়-উদ্দীপনা।
শােকে আকাশে মিশিল ।
সাজাইয়া 'ছায়া পথ, নদ্ৰ কুম যত,
বিকশিত, তারা যেন দেখিতে অইল,
ছিল ঘুমে, ঘর খুনি হঠাৎ জাগিল।
কি হলাে বসিয়া যেন দেখিতে আইল ।
শেষে শোকেতে ভাসিল।
শেষে শোকেতে ভাসিল।
পূর্বাকাশ সুশােভিয়া, কুমুদিনী হাসাইয়া,
উদিত চন্দ্রমা, রশ্মি জলেতে পড়িল
তাহা নহে, শােকে বিধু জলে ঝাঁপ দিল
দুঃখ সহিতে নারিল।
৭
দুঃখ সহিতে নারিল
নিস্তব্ধ প্রকৃতি সতী সারা শব্দ একরতি,
নাহি কোধা, চারিদিকে নিঃশব্দ হইল।
শাধীপরে পাখীগণ নীরবে বসিল।
শােকে নীরবে কাদিল ।
শােকে নীরবে কাজিল।
পবন না বনে গায়, ব্ধি তার অধিকার,
গীতিকে যেন গাইল।
ক্রমশঃ আলিয়া এবে চোদিক ব্যাপিল।
সে স্থিরতা ভেদ করি ক্রমশঃ জাগিল ।
গীতি গগণে উঠিল।
গীতি গগণে উঠিল।
বাসু শিরে করি ভর, সেই খেদ পূর্ণ স্বর
ধ্যানমগ্ন দুর গিরি-কণে প্রবেশি
ধ্যান ত্যজি গিরি যেন কাঁদিয়া উঠিল ;
মুহুমুহু প্ৰতিনি ছলেতে কাদিল ।
হায় পাষাণ (ও) গলিল
v
==
কে যেন গাইল।
ও বীর বয় !
একি দশা হেরি তৰ? একি বিড়ম্বন ?
শরশয্যা পরে হায় করিল শয়ন ?
কুৰুসৈন্য অগণন, নির্ভয়ে করতে রণ,
তোমারও বিহনে আজি সকলি সভয়।
যে দিকে নিরখি দেখি নিরাশা উদয় ।
ভগ্নোৎসাহ সেনগণ সভায় অন্তর
ভয়াল দুৰ্য্যোধন কাপে থর থর,
হইল রণে জয়, সেনাকুল হলো কয়।
জাতীয় উপন্য ।
ভাবিয়া যে কুকৃতি ব্যথিত হয়।
হে বীরেশ ! তোম। বিলে সব শূন্যঃ }
১২
দেখিতেছি দিব্য নেত্রে এ সময়ে আর
তুমি যবে মৃত,নাহি কাহারে নিস্তার
বড় বড় রথি যত,
সকলি হইল হত ।
শেষ শ্বাস ছিলে তুমি, তােমারে পতন
বুঝলাম ভারতের অদৃষ্ট লিখন ।
“ দেখিতেছি দিব্য চক্ষে, অতঃপর আর
ভারতের স্বাধীনতা রক্ষা হওয়া ভার।
হচ্ছেদে যে দেশের স্রোত বহে শােণিতের
সে দেশের আশা রবি রবে কত দিন ?
অধীনতা মেঘে শীঘ্র হইবে বিলীন ।
১৪
মহামন্ত্র একতার যথা লেশ নাই,
যে দেশে শোণিতপাত করে ভাই ভাই,
সে দেশের গৌরব,
সে দেশের সুবিভব,
কত দিন রবে ? নহে বহু দিন আর
সোনার ভারত হবে দীনতা-আধার
বটে বীরপ্রসবিনী মােদের জননী
গীতি কে যেন গাইল।
১.১
বটে আমাদের সম নাহি আর ধনী,
বটে জ্ঞানে, গুণে মানে, আছি সর্ব উক্ত স্থানে,
কিন্তু নাই আমাদের এক বন্ধন।
যার ইচ্ছা সেই পারে করিতে ফলন।
উড়িছে যে হিন্দু ধ্বজা সিন্ধুনদী তীরে,
ব্যঙ্গ করি পশ্চিমের ম্লেচ্ছ পতিরে,
সিন্ধুর অগাধ জলে, ডুবি যাবে রসা তলে,
দেখিতেছি দিব্য নেত্ৰে একতা বিহীনে
দাসত্বে পুরিবে দেশ ক্রমে দিনে দিনে।
১৭
৫ কৌরব পাণ্ডব গৃহবিচ্ছেদ কারণে
তুমি যথা বীর বর পড়িয়াছ রণে
ভারতের ভাবী বংশ, এই রূপে হবে ধ্বংস ;
কে যেন কহিছে মােরে জাত স্বপনে
মজিবে ভারতভূমি একতা বিহনে।
এক বিহনে আজি কুৰুক্ষেত্র স্থলে।
হইয়াছে একমাত্র শ্মশান কেবল।
ভারতের এই দোষে পরিয়া বিধির রোষে
ভারতে হইবে কালে প্রকাণ্ড শশান
পুড়ি ভস্ম রাশি হবে ভারত সন্তান
১০২
জাতীয়-উদ্দীপনা।
১৯
কাদাইয়া চরা চরে
গীতি কে যেন গাইল
পশু পলি আদি নরে
গীত ত্যজি শেষে সে যে আপনি কাদিল
কমে যেন সেই স্বর বিলীন হইল
আর কর্ণে না পশিল !
ভারত সন্তান গণ ! দেখ,
সৈনিকের প্রতি বাক্য হয়েছে সফল।
ভারত একতা বিনে গেল রসাতল।
তবে কি হবেনা ভাগ্যে আর স্বাধীনতা ?
হবে,--যদি যপ মন্ত্র একতা একতা।” ভারত-সুহৃদ
ভারতের সুখাবসান।
ভারতের সুখনাশ হায়রে যেদিন,
সিন্ধুনদ অবতরি,
বহুসৈন্য সঙ্গে করি
আসিল ভারতে ঘাের, পৃথু পরাজয় ;
ভারতে হিন্দুর মুখ সেই দিন লয় ।
২
কেবল কি স্বাধীনতা ? ধন, মান, জ্ঞান।
ভারতের সুখাবসান।
বিদ্যা বুদ্ধি আদি যত,
সে দিন সকল হত
সে দিনই মরিল, ভীষ্ম, অর্জুনাদি করি ;
স্ববাসী হিন্দু আত্মা কঁদিল করি।
সে দিনই ঘাের কলি পশিল ভারতে,
পিতা পুতে বিসংবাদ,
দুর্জয় কলহ নদ
ঘরে ঘরে ; কাদে মাতা পুত্র আচরনে ;
ধর্ম ছাড়ি ব্রাহ্মণ পড়িল প্রলােভনে ;-
৪
সুদৃঢ় দাম্পত্য প্রেম হইল শিখিল,
সুন্দরীর মুখেন্দু’পরে,
সে দিন কলঙ্ক পড়ে ;
সহসা ৰীরের হৃদি, হ’ল কম্পন
ভীত, নীচতা, পশি লইলেক স্থান।
ভুলিতে কি পারি, হইলেও বহুদিন;
আজিও সে বংশবলে,
অহঙ্কারে উঠি ফুলে
কি তাপ সিংহের ঘরে জম্মেছি শৃগাল,
ভাবি না “ এদেহ হবে মাটিতে মিশাল ।
১০৪
জাতীয়-উদ্দীপনা।
ভুলিব কেমনে? কোথা আছে কি তেমন।
প্রতিজ্ঞা রক্ষার তরে,
কোথা বল কোন্ বীরে,
নিরঞ্জে পয়েরে করে প্রাণ সমর্পণ
কোন্ দেশে আছে হেন ভীষ্মের মতন ?
পিতৃ সত্য পালিবারে কে গিয়াছে বন ।
কার বল সহােদর,
রাজ্য ছড়ি বনান্তর
ভ্রাতৃপ্রেমে বৈমাত্রেয় লক্ষণ যেমন,
কোথা হেন পতিসহ পত্নী গেছে বন ?
রণস্থলে ছল যুদ্ধ জঘুক আকার ;
সেই নাকি সুকৌশলী,
তারে মহাবীর বলি
পরমুখে ব্যাখ্যা শুনি প্রশংসি বিস্তর
ভাবিনা যে, দস্য, বীরে, কি আছে অন্তর।
;
ভারত-মাণিক হেন বসুধা ললাটে;
তদুর্ধেতে হিমালয়,
আহ! কিবা শােভাময়
ভারতের সুখাবসান।
উন্নত গগন ভেদী মুকুটের প্রায় ;
মহাসিন্ধু
নীলাম্বর নয়ন জুড়ায়।
সুর্ণভূমি এভারতে, কিসের অভাব ?
কোথায় জলদ জলে,
হেনরূপ শস্যফলে
স্বর্ণরেণু কোথ। হেন ভাসে নদীজলে ?
পরে দুগ্ধ খায়, মােরা কঁাদি মা মা বলে।
১১
অমল সলিলা নদী, বহি সদা দ্বারে,
অণ্যি বাণিজ্য তরি
আনিতেছে বক্ষে ধরি ;
কোথা মন্দাকিনী নামী, কল কল স্বরে,
হিমালয় হতে যায় সাগর বাসরে।
বার মাসে তের পর্ব কোথা হেন আছে?
কোথ। হেন ছয় ঋতু,
সবার মুখের হেতু
লয়ে রাজভােগ্য ভেট উপনীত হয় ?
গােপনে অমৃত কোথা আক্ষে রয় ?
আনন্দের দিন কোথা আছেরে এমন,
১৬,
জাতীয়-উদ্দীপনা।
সব দুঃখ দুর করে,
মিলি নিজ নিজ ঘরে,
দেশ দেশান্তর হতে আশ্বিনে যেমন,
পূজিয়া শারদা আর লক্ষীর চরণ।
১৪
শশাঙ্ক-কর-পরশে হাসে কুমুদিনী ;
পেয়ে অংশুমালিকর
আলো করে সরোবর।
বিকসিয়া কমলিনী দোলে বায়ুভরে,
পতি প্রণা সতী যেন বাঙ্গালির ঘরে।
ভারতের অতুল সুখ ; কিন্তু কার তরে
এযে রে! ভারতবাসী,
গভীর কলঙ্ক রাশি,
লেগেছে ললাটে তার বজের মতন,
নাহি যায় হেন দাগ দিয়াছে যবন।
ধিরে ভারতবাসী ধিক্ শতবার,
যেই দেশে অগণন,
ভাণ্ডারে অমূল্যধন
লক্ষনীবাণী সমভাবে বসিত যথায় ;
সেই ভারতের দশা একি হেরি হায় !
ভারতের সুখাবধান।
৭
কোন্ বিদা তব দেশে না ছিল এমন।
যার লাগি জন্মভূমি,
ত্যজিয়া চলেছ তুমি
ফিরিলিরে গুৰু বলি কর সম্বোধন,
ইহা হতে শেয় তন্মরণ শরণ,
শুনিয়া পরের মুখে নিজ ইতিহাস
গালি দেও মনাকুলে
স্বর্গবাসী আৰ্যকুলে
পবিত্র আরাধ্য সেই আষাতি নাম
ভারতে হয় রে আজি সে নাম বিরাম।
ধনে, মানে আমাদের কি আছে গৌরব।
মহারাণী খ্যাতি পেয়ে,
ভারতে নক্ষত্র হয়ে
বল কে স্বাধীন, কেবা করে আলো দান।
এযে গলে অধীনতা হার পরিধান ।
ভারতে আমার মাতা, কারে আমি ডরি?
শোকে অল জয় জয়,
নাহিক গরিতে ভর
sobi
জাতীয়-উদ্দীপনা।
কোন্ আৰ্য ডরিয়াছে। আমি কেন ডরি?
মাতামাের অন্নপূণ আমি ভিক্ষা করি !
সহে ভারতবাসি আর কত কাল
সহিবে যন্ত্রণাল,
জননীর মুখেজ্জ্বল,
হইল যদি, জিয়ে এত পুত্র যার,
তবে এজীবনে বল কি হল মুসার ?
২২
জাগরে ভারতবাসী যায় কিন্তু কাল ।
এহেন কোমল বুকে,
দহিছে অনন্ত শোকে;
ধরেছ মানব জন্য এই কি কারণ?
এ ভাবে কি চিরদিন করিবে ক্রন্দন ?
নশ্বর-মানবদেহ, কীৰ্তি চিরস্থায়ী ;
ভঙ্গুর শরীর তরে,
রতন মিলিবে করে
এস সবে মিলি মোর এ বাণিজ্য করি ।
ঘাটেতে বাধিয়া কেন দুবাইৰে তরি!
২৪
যদি না করিলে কাৰ্য জন্মিয়ে ভারতে
ভারতের সুখাবসান।
তবে অগ্নিকুণ্ড করি,
এস সবে পুড়ে মরি
ভারতের পতিব্র মরেছে যেমন।
দাসত্বের তরে কেন রাখি এ জীবন
.
যে সমাজাকাশে শােভে বাবু শশধর।
সাধকের রূপ ধরি,
বাবু বসে সারি সারি,
তার না হইবে রক্ষা বুঝেছি নিশ্চয়।
কেনরে কলঙ্কী চাদ ভারতে উদয় ?
২৬
ভারতবাহিনী কায়ি দেবী মন্দাকিনী।
শুনিয়াছি রামায়ণে
ভগীরথ আরাধনে,
এলে মর্তে, ঐরাবত দর্প চূণ করি,
পশিল পাতালে জল পৃথিবী বিদারি,
২৭
সেই খরতর তেজ কোথায় জননি ।
পতিত পাবনী তুমি,
পতিত ভারত ভূমি,
উদ্ধার তাহারে আজি কৃপাদৃস্টি করে,
নতুবা অতল জলে ডুবাও তাহারে।
দীননাথ সেন
রাগিণী বসন্ত বাহার।
তাল আড়া।
(বিধি) দারুণ দুঃখের নিশি পােহাবে কবে ?
ভারত গৌরব রবি, উদিত হবে ।
অধীনতা অন্ধকার,
এদেশে রবে না আর,
অধীন ভারতে হবে স্বাধীন সবে।
সকলে স্বাধীন ভাবে, স্বাধীনতা গুন গাবে,
বিহঙ্গে গাইবে শূন্যে স্বাধীন রবে।
নিশি পেয়ে নিশাচরে যত এ ভারতে চরে,
আলােকে সাগর পায়ে, পলাবে সবে।
নিত্য নিশি দূরে যায়, নিত্য লোকে আলাে পায়,
ভারত দুঃখের নিশি (কি) অনন্ত রবে ?
ইক্ষ্মায় বিধির লীলা, কণ্ঠেতে বাধিয়া শিলা,
তাহার ইচ্ছায় তরে, নরে অণবে।
রাজবিহারী দাস।
অশুদ্ধ সংশােধন। পৃষ্ঠা। পংক্তি। করি বিন্ধ্যা বিন্ধ সেই • ৫ ০ ০ * • সেই সে ০ ০ •• আননে : ১ ৪ • । অননে গা(উ)ক ইতিহাস গাকু ইতিহাসে •• •• प কর্মবিৰ্ত্ত শক্তিবান ০ ০ *। এ ৫ আর্যবিত্ত শক্তিমান করিলে যেই ১৬ করিল •• ও এ ১১•• বশ •• নির্বও নিবাও সন্তান •• •• সংসার করিছ ৫ করিছে। সেই ১৩•• म ভারত . ৪২ ভারতে যাইত •• . যাইতে ত :;
পৃষ্ঠা। পংক্তি। অশুদ্ধ। ১৭ সুৰ্য •• ১৯৩ তাকে সূর্য তা, কে দেহি দেহি । দেহ দোহ ১৩.. সাগরের সাগরে মাবে মারে তাহায় তাহার কাদাইয়ে ১ ০ কঁাদায়ে • ' '৯১ তোমার তোমার ল স্থলে সুন্দরীর সুর্ণভূমি সুন্দরী স্বর্ণভূমি ভারতে ০ ভারতে ভারত অন্নপুর্ণ অন্নপূর্ণা
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.