Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Pach Phul Ed.1

Mukhopadhyay,nityagopal · 2009/09/11

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

পাঁচ ফুল।
শ্রীনিত্যগােপাল মুখােপাধ্যায়
প্রণীত ও প্রকাশিত।
প্রথম সংস্করণ
ওরিয়েন্টেল প্রিন্টিং ওয়ার্ক।
১৮ নং রাধাবাজার স্ট্রীট;
কলিকাতা।
সন ১৩২ সাল।
মূল্য ly০ ছয় আনা।

No text on this page.

উৎসর্গ
সােদপ্রতিম
বন্ধুবর শ্রীযুক্ত কালিকিঙ্কর মুখোপাধ্যায় বি, এ,
কালি,
পাঁচ-ফুলে-ভরা সাজিটা আমার,
দিলাম তােমারে উপহার
হয়, মালা গেঁখে গলে নিও, নয়,
চরণেতে দিও দেবতার।
নিত্যগােপাল

No text on this page.

লেখকের 'নিবেদন। প্রকৃতি দেত্ত সুরের সাহায্যে কেবল শুনিয়া শুনিয়াই 'শিক্ষা হয় না । উত্তম গুরুর সাহায্যে সঙ্গীতে ব্যুৎপত্তি লাভ আজও পর্যন্ত করিতে পারি নাই । সুতরাং আমার রচিত গান গুলির বাগিণী ও তল নির্দিষ্ট করিয়া দিতে অসমর্থ। যদি কোন গায়ক পাঠক ইহা পাঠ করিয়া তান লয়ে “গাহিয়া আনন্দ লাভ করেন, তাহা হইলেই পরিশ্রম সফল জ্ঞান করিব। মনে যখন যেরূপ ভাবের উদয় হইয়াছে তখন সেই ভাবের এক একটা গান রচনা করিয়াছিলাম। কিন্তু আধুনিক সঙ্গীতানুরাগীগণের নিকট অনাদৃত হইবার ভয়ে ও অন্যান্য অনেক কারণে গানগুলিকে ছাপাইতে পারি নাই। অনেক বন্ধুর অনুরােধে তাহা করিতে হইল। তবে সাজাইয়া দিলাম না। যেমন বার বার চিত হইয়াছে তেমনি মুদ্রিত করিলাম। বন্ধুবর শ্রীযুক্ত কালি কিঙ্কর মুখােপাধ্যায় বি, এ, আমার এই পুস্তকের মুদ্রন-ব্যয় বহন করিয়াছেন। এজন্তু আমি তাহার নিকট চির-কৃতজ্ঞ রহিলাম। ভাবই গানের প্রাণ। তাহাতে কতদূর কৃতকাৰ্য্য হইয়াছি তাহা ভাবুকের বিবেচনাধীন। কতকগুলি গান আমার দেশস্থ শ্রীকৃষ্ণযাত্রার দলে গীত হইবার জন্য রচিত হইয়াছিল। সে গুলিতে নিত্যানন্দ” বলিয়া আমার নাম দেওয়া আছে। সেই দলাধিপতির অনুরােধে সেই গান গুলিতে ভক্ত প্রধান, সাধক, স্বনাম ধন্থ নীলকণ্ঠ মুখােপাধ্যায় মহাশয়ের শব্দ বিন্যাসের অনুকরণের চেষ্টা করিতে হইয়াছে। মুক্ত কণ্ঠে স্বীকার করিতেছি তাহার কিছুই পারি নাই। দুই, চারিটী গান “বীররাজা” ও “মােগল-পাঠান” টকদ্বয়ে ব্যবহৃত হইঘাছে। লাভপুর, ৫ই আষাঢ় ১৩২৬ বিনীত (জেলা বীরভূম) লেখক। }

No text on this page.

পাঁচ ফুল।
(১)
মিলনে হাসেনা বিয়ােগে কাদেনা সে কেন পিরিতি চায়।
আপন ভুলিয়ে যে ভালবাসে না সে কেন বাসিতে চায়।
আদর চাহিলে মধুর ভাসে না, সই, সই সে’ত প্রণয় বােঝে না,
বসিয়ে বিজনে অভিমানে মানে যে কভু ধরে না পায়।
রূপ দেখে যার জাগে ভালবাসা, সে নং প্রণয় নয়নের নেশা,
রূপের পিপাসা প্রণয়ে কেবল যাতনা বাড়ায় হায়।
(২)
ভালবাসি বলে আমায় এত কি কাদান ভাল
জানিনা কি অপরাধে কাদিয়ে জীবন গেল ।
কইতে যেমন মিঠে কথা, আজি তা লুকাল কোথা
দিয়ে শুধু প্রাণে ব্যথা শিখেছ বাসিতে তাল ।

পাফুল।
(৩)
রে’ এ মিনতি আর যেন বিধি রমণী জনম দিওনা দিওনা।
কাঁদিতে কাঁদিতে পরেরে সাধিতে ধরণীতে যেন আর পাঠায়ে না ।
জীবন কেটেছে কাঁদিতে কাদিতে, দিনেকের তরে পাইনি হাসিতে,
ধিকি ধিকি জালা সতত এ চিতে, বারি এ অধিতে থামেনা থার্মেনা ॥
জীবন যৌবন নিজ করে তুলি, যতনে চরণে দিয়েছি অঞ্জলি,
হেসে চলে গেছে চরণেতে ঠেলি, এ দুঃখ জীবনে যাবেনা যাবেনা।
সৰ তারে দিয়ে হয়ে কাঙ্গালিনী, স্মৃতি লয়ে কাদি দিবস রজনী,
রূপ বিহীন, আমি অভাগিনী কুরূপার প্রেম জগতে চাহে না
(৪)
রেখ রেখ মনে রেখ ভুলােনা এ অধিনীরে।
যতদিন রব ছাড়ি, ভাসিব হে আঁখিনীরে !
অকুল এ পারাবার,
তুমি মম কর্ণধার,
ডুবায়ে তরণী যেন ভাসায়ােনা, এ দাসীরে।

পাঁচ ফুল।
(৫)
এমন হবে সখি! হৃদয় উচাটন, জানিলে কে তারে সপিত পরাণ।
এমন প্রণয়ে বিয়োেগ-হুতাশন, কে দিল সইরে কঠিন এমন,
নহেত সে জন, প্রেমিক সুজন,
বিরহী চিরদিন চাহেনা মিলন।
কি জানি সই কেন হইয়ে পাগলিনী,
সতত কাঁদি কেন আকুলা বিরহিনী,
দিবস রজনী থাকি গাে একাকিনী,
কে দিল রমণী:জীবনে যৌবন
কি জানি আসে কিসে এমন প্রেমে আশা,
কে দিল সইরে, হৃদয়ে ভালবাসা,
যেন গােসজনি কি অপরাধিনী, হয়েছি কাঙ্গালিনী তারে দিয়ে প্রাণ।
(৬)
তােরই বিরহ সয়ে বাচি যদি দেখা হবে।
জানিনা পরাণ দেহে রবে কি না ছেড়ে যাবে।
দেখিতে দেখিতে তােমায়, ভাবি পাছে হারাই হারাই
দিবানিশি ভাবি গো তাই বিমােগ এলে কি সবে।

পাচ ফুল।
(1)
৩
এস এস বঁধুহে আমার।
আশা শুধু চোকে দেখা, কেন তবে দূরে থাকা,
ভাল কি লাগে না সপা মিলন তােমার ॥
এস চির-বাঞ্চিত আমায় এ মরমে,
সকল রতন সার, অবলার সরমে-
আমার হৃদয় নিয়ে, আমাতেই মিশাইয়ে,
আমার হইয়ে বসাে হৃদয়ে আমার ।
(এস) প্রণয়ের-সাধ-মাখা দুরাশার জীবনে,
বুক ভরা যাতনায় নিরাশায় মরণে
সকল সাধের তুমি, সকল সুখেতে তুমি, সকল দুঃখেও তুমি, সতত আমার
•
আমরা প্রেমের ভিখারিণী।
বিমােগে, মিলনে, কুটীরে, ভবনে তােমাদের অনুগামিনী।
(তােমরা) প্রখর রবির প্রখর কিরণ পারা,
(মােরা ) বরিষার মেঘ ঢালিগাে অমিয়ধারা,
(তােমরা) আঁধারে বেড়াও হয়ে দিশেহারা,
(মােরা) আলাে ধরে ডাকি এস পথহারা ;
কত সাধিয়ে, কত কাদিয়ে, শেষে ভুলায়ে সরে পথে আনি #
(আমরা) বিনামূলে করি যা কিসকলি দান,
(তােমরা:) প্রতিদানে শুধু শিখায়েছ অভিমান,
ভালবাসা বাশি, প্রাণে মেশামিশি, দুটো মিষ্টি কথার কাঙ্গালিনী।
*মােগল-পাঠান” নাটকে ব্যবহৃত।
-

পাঁচ ফুল।
(৯)
ভাল যদি বাস সখ মুখে বলােনা।*
নীরবে জামায়াে প্রেম কথা কমােনা ॥
নীরব নয়ন-কোণে, নীরব চাহনিটা,
মধুর অধরে সখা নীরব সে হাসিটী,
অখিতে নীরক ভাষা, নীরব নবীন আশা;
হৃদয়-দুয়ারে শুধু যাবে গাে জানা।
নীরবে জানায়ে সখা নীরব প্রাণের ব্যথা,
নীরবে গাহিও সুখে মিলন বিরহ-গাথা,
নীরবে যেন গাে হয়, প্রাণে প্রাণে বিনিময়,
নীরবে রাখিও মনে যেন ভুলােনা,
( ১০)
-
আয় আয় ভেসে যাই প্রেম-তরঙ্গে।
প্রণয়-সাগর-তীরে ভাবি মিছে বসিয়া,
যা হবার হবে আয় যাই সবে ভাসিয়া ;
হাসিয়া, কঁাদিয়া, প্রাণে প্রাণে মিশিয়া,
প্রেমের তরণীখানি বাহি নানা রঙ্গে।
দূরে ফেলে অবহেলে লাজ ভয় অভিমান,
হৃদয়ে হৃদয়ে তুলি প্রণয়ের মধু-তান;
এণরধারা, পানে হয়ে মাতােয়া, আবেশে অবশ হয়েসিএস
“মােগপাঠান নাটকে ব্যবহৃত

পাঁচ ফুল।
(১১ )
অবলা ভুলালে কেন।
কেড়ে নিয়ে মন প্রাণ,
ফিরে নাহি দেখ চাহি কঠিন তুমি এমন।
ছলনা শিখেছ সখা, অক্তর গরল মাখা,
ভুলেও দিলেন। দেখা, সুখ চাও সদা আপন ।
দেবতা করিয়ে রাখি, যদি ভাল বেসে থাকি,
করিবে তােমার অাখি কাদালে আমায় যেমন :
(১২)
কত মরমের কথা রেখেছি যাপিয়া;
কহিব তােমারে বলিয়া গাে৷
কত বরষের পরে পেয়েছি আজিকে যেওনা যেওনা চলিয়ে গাে।
কত শারদ সন্ধ্যায়,
মধু জোছনায়;
কঁদিয়াছি সখা কাঙ্গালিনী প্রায়,
কত হা হুতাশ, দীরঘ শ্বাস রয়েছে হৃদয়ে মিশিয়া গাে॥
কত বসন্ত গিয়াছে করি উপহাস;
কত মলয় পৰন নব ফুলবাস,
কত কোকিলের গান, দহিয়া এ প্রাণ, হার্নিয়াছে শেল, হৃদয়ে গাে
কত সব আর সহিতে পারি না,
কত সহে প্রাণে এমন যাতনা;
কত জ্বলিয়াছি আয় জামায়ােনো যেওনা চরণে ঠেলিয়া গো।

পাচ ফুল।
(১৩)
এস হে পরাণ বঁধুয়া।
হৃদয় দেবতা তুমি হে আমার পূজিব পরাণ ভরিয়া।
নয়নাসারে চরণ ধুইয়ে, মুছাব যতনে কেশ-পাশ দিয়ে,
প্রেম-পুস্প ল’য়ে আছি হে দায়ে অন্তর উঠে কঁাদিয়া।
পূজা নাহি লও দাও দরশন, বারেক দেখিয়া ভরিয়া নয়ন,
হাসিতে হাসিতে ত্যজিব জীবন চরণে-মরণ মাগিয়া।
(১৪)
ফুল কলি ! আজি কেন মলিনা হেন, মলিনা হেন, মলিনা হেন।
মদি না ফুটিলে তবে জনম কেন, জনম কেন, জনম কেন?
কেহ না নিল যদি, কলি হয়ে শুকাইলে,
বিনা-গুপ-পরিচয়ে অাঁধারেই রয়ে গেলে,
জীবন নহে সে যে মরণ সমান
দশদিশি আলাে করি উঠ সখি ফুটিয়া,
মৃদু মৃদু সমীরণে সৌরভ ঢালিয়া,
বিনামূলে কর দান, গৌরব অভিমান,
প্রতিদান কভু কিছু চেনা যেন, চেওনা যেন, চেওনা যেন।

৮
পাঁচ. ফুল।
(১৫ )
প্রেম জাগে কি সখি কথায় কথায়,
পিরিতি মিশে কি সখি যথায় তথায়।
তুমি বল ভালবাসি, আমি বলি ভালবাসি,
সে ত শুধু কানাকানি চোকের নেশায়,
প্রেম বসিয়া আছে মরম যথায় ;
চাও যদি মিশে যাও, পরে নিজ করে নাও,
লকলি ঘুচায়ে দাও প্রণয়-সেবা।
(১)
মাঝে মাঝে দেখা ভাল হৃদয়-রতম,
মাঝে মাঝে বড়, ভাল ক্ষণিক মিলন।
মাঝে মাঝে উঠে চঁাদ সুন্দর গগনে,
তাইত সে এত ভাল প্রেমিকের নয়নে।
মাঝে মাঝে লাগে ভাল, হৃদয়ে বিরহানল,
মাঝে মাঝে দুনয়নে বারি বরিষণ।
মিলনে কেবল হৃদে মিলন পিপাসা বাড়ে,
হাতে পায়ে বেড়ি দেয়, আবেশে অবশ করে।
ক্ষণিকের সুখ মনে দুঃখের স্মৃতিটা আনৈ,
দুঃখের বাঁধনে শিখি কে কত আপন।

পাঁচ ফুল।
(১৭)
কভু যারে ভালবাসি নাই।
সে কেন আমার পিছু পিছু ফিরে কভু যারে আমি চাহি নাই।
যে যাহারে চায়, সে কভু না পায়,
বিধি বাম হয়ে নাহি দেয় ;
যে চাহেন যারে,
সে পায় তাহারে,
প্রেমের হাটে এই বিনিময় ;
অযাচিত দান,
পেয়েছ যাহারে,
অজানা অচেনা হলেও তাহারে
হইবে বসাতে হৃদয় মাঝারে,
প্রণয়ে প্রথম রীতি এই।
(১৮)
ডুবে গেল ওই।
সুন্দর রাজা রবি পশ্চিম আকাশে,
রক্তিম আভা ঢলি ঢলি আবেশে,
গগনে তারকা হাসে, কুমুদিনী জন্যে ভাসে,
কাঁদিয়ে কহিছে “সই প্রাণ বঁধু কই” ।
সন্ধ্যা আসিল পরি আঁধারের ওড়না,
মন্দির দ্বারে বাজে আরতির বাহন,
রাখাল ফিরিল ঘরে,
বিহগ ধাইল নীরে,
তটিনী-কিনারে চলে কুলবালা ওই।

পাচ ফুল।
(১৯)
ছি, ছি, ছুয়ােনা দুয়ােনা ছুয়ােনা,
একপাশে ফুটে আছে ফুল কলি,
কঠিন করেতে তুমি ধরােনা, তুমি ধরােনা, তুমি ধরােনা।
বুকে নিতে কর আশ,
(তার) যতদিন থাকে বাস,
সৌরভ গেলে তারে অবহেলে ফেলে দিতে প্রাণে বাজেনা,--
ছি, ছি, নিদয় এমন প্ৰণর চাহিনা, -
তুমি তুলােনা, তুমি তুলােনা, তুমি তুলােনা।
(২০ )
কবে গাহিব তেমন গান।
হৃদে ব্ৰহ্মনাম রবে অবিরাম মায়ার হবে অবসান।
দূরে ফেলে দিয়ে এ প্রপঞ্চ-পাশে, ঢেলে দিব প্রাণ বিমল হরষে।
অজানা চৈতন্য হৃদয়েতে এসে শিখাবে গানের জ্ঞান ॥
লুকাইয়ে কবে দুঃখ দৈন্য রাশি
কুটীল কুজনের বিপের হাসি,
আমিত্ব যাইবে আমাতেই মিশি, অশ্রু দিয়ে প্রতিদান
যাবে হেথাকার ভালবাসি,
স্বার্থের বিকারে সদা মেশামিশি,
নাশি আঁধারের ঘাের অমানিশি
আলােকে ভাসিবে প্রাণ।
লুপ্ত হবে কবে ষড়রিপু-গান, ইন্দ্রিয়াদি সবে হারাইবে ,
রাগিণীর রাণী কুলকুণ্ডলিনী ব্রহ্মতালে গাৰে গান।

পাঁচ ফুল।
(২১)
জানিনা সে গান কেমন সে তান,
পরের প্রাণ যা’তে ভুলান যায়।
নিজ গান শুনে, নিজে যাই ভুলে,
পিঞ্জরের বন্দী বিহগ প্রায়।
জন্ম দিনে কেদে গেয়েছিলাম গান,
ভুলেছিল তাহে জননীর প্রাণ,
বাহ প্রসারিয়ে নিয়েছিলেন কোলে,
এবে গাহি গান পড়ে ধুলায় ।
গাহি কত শত মরমের গান,
মরি অভিমানে, ভুলেও জীবনে,
পরের বেদনা পরে কি লয় ।
জলে স্থলে নভে, বিশ্ব চরাচরে,
সজীবে নির্জীবে যার গান করে,
আছি আশা করে, কবে প্রাণ ভরে,
শেষ গান গেয়ে লুটাব পায়।
(২২)
(মি) ভুলেছি তােমায় এত দিনে সখা আর তুমি মনে করােনা করােনা,
পাষাণে বেঁধেছি অন্তর মম বিরহে তাই সে ঈদেন।
চিত-সঞ্চিত প্রণয়-পিপাসা, গেছে ভাল বাসা নিভে গেছে আশা,
বিনেতে এক অাঁখি জলে ভাসা সেধেছি আমার সাধের সাধনা।

পাঁচ ফুল।
(২৩)
পার যদি মম অন্তরে এসে দেখে যাও আমি তােমারি হে।
এ’স যদি মােরে জানাইয়ে যেও এসেছিলে তুমি হৃদয়ে হে।
পার যদি খুজে দেখাে হে সেথায়,
তােমা বিনা আর কারাে নাহি ঠাই,
হৃদয়-কুঞ্জে আছে শুধু এক আসন শূন্য পড়িয়া হে।
• ২৪ )
কাঙ্গাল বলিয়ে মােরে ঠেল যদি রাঙ্গা পায়,
কাঙ্গালের ঠাকুর তােমায় বলবাে না হে বাকারায়।
দীন বলিয়ে মােরে ভুলিয়ে রহ যদি,
দীনবন্ধু বলে তােমায় ডাকূববা না হে যদুপতি,
আমি ত পাপের সিন্ধু, (তুমি) অনন্ত করুণা-সিন্ধু,
তার বিন্দু পেলে হরি আমার সিন্ধু দুরে যায়।
অধম মারকী বলে ত্যহে যদি আমায়,
অধম-তারণ নরক-বারণ, নাম যে তব ডুবে যা।
অজ্ঞান সন্তান আমি, জগতের পিতা তুমি,
তাই চরণ পাব বলে আছি শুধু ভরসা।

পাঁচ ফুল।
(২৫)
বঁধু তব অঞ্জন যেন রহে সা মম নয়ন হে।
চরণ তোমার মানা করা পথে চলেনা যেন ভুলেও হে
জীবন তোমার সেকার কারণে,
জেলা থাকে যেন রজনী কি দিনে,
কণ্ঠ তােমাৰ নাম-গুণ-গানে বিরত না রহে কখন হে ॥
(২৮)
খামে যদি মনে করি শ্যামা ভুলে যাই গাে।
সে বিনা আর এ অন্তরে নাহি কাবােঠই গাে ॥
শ্যামে যে দেখেনা সদা, অন্ধ শুধু সেই গাে,
আম-পরশীন, কি আছে কোথায় গাে ,
কৃষ্ণ পদে লক্ষ হলে মােক্ষ প পায় গে,
জন্ম, জন্মায়েফেন চিত্র ধার সে পায় গাে॥
জীবে শ্যামা ভজি খামে নিক্ষে অকারণ গো-
শ্যামা সহ শ্যামাকান্ত সেই গােপীকাকে চাঙ্গগো ॥
শ্যাম শ্যামা, শ্যামা শ্যাম যে দেখিতে পায় গাে,
লে) মিরূপেৰুেখে হৃদে (কীন) নিত্যানন গায় গাে॥

১৪
পা ফুল।
( ২৭)
অঞ্জলি লয় কত কাল সখা রব আশা পথ চাহিয়া ।
বসি থাকি থাকি উঠি গাে চমকি অবশেষে মরি কঁাদিয়া।
অশ্রুসিক্ত প্ৰেম-কুসুম অঞ্জলি ভরি লইয়া,
হৃদয়-মন্দিরে আসন পাতিয়া রেখেছি দুয়ার খুলিয়া-
যা কিছু আমার আছে হে সকলি, তোমার চরণে ডালি দিব বলি,
দিবস রজনী রয়েছি হে সখা মন্দির-দ্বারে বসিয়া।
( ২৮ )
সখি প্রণয় আশায় প্রাণ যারে চার,
সে কেন আমায় চাহেনা চাহেনা।
আমার মরম কাঁদে যার তরে,
তার প্রাণকেন কঁাদেনা।
কেন নাহি পায় যে হারে চায়
যে যারে চাহেনা কেন তারে পায়,
বুক ভেঙ্গে যায়, দারুণ আলায়
আশা-দীপকেন,নিভেনা নিভেনা

পাঁচ ফুল।
(২৯)
তুমিত পাষাণী আশা মায়াবিনী কানে কানে শুধু কথা কয়ে যাও।
তােমার ছলনা যে জন বুঝেনা দিবানিশি তারে ডুবাও উঠাও।
ডুবিয়াছি আমি নিরাশ'-সাগরে,
পার না কি মােরে উঠাইতে তীরে,
বিষম তরঙ্গ করে মনােভঙ্গ পার যদি মােরে তুলিয়ে নাও
(৩০)
নহে যদুনন্দন গােপিনী-মন-মােহন,
কাতর জনে করুণ করি, বিতর কৃপা রাধারমণ ।
সদা করাল কাল ভয়ে অস্তর আকুল,
দীন, দুরিত পূর্ণ বলে পাব না কি হে কুল ;
কেন বা তবে ধরেছ নাম অধম-জন-তরণ,
ভজন-হীন দাসে কর চরণ-ছায়া বিতরণ
কোটা কোটী প্রণতি তব চরণে শ্রীনিবাস,
সিন্ধু তুমি তাইতে কৃপা-বিন্দু পেতে আশ,
পারি না পারি স্মরিতে সে দিন হে রাধিকারঞ্জন;
জীবনান্তে নিত্যাননে স্থান দিও হে মধুসূদন

পঁাচ ফুল।
(৩১)
হে রাধিকা-রঞ্জন, শমন-ভয়-ভঞ্জন,
করম ফাদ সাধিল বাদ, জীবন-সাধ সম্পূরণের
শান্ত ভাবে সাধিতে চিতে সাধ ছিল হে শ্যাম,
ভ্রান্ত পথে ধাইল মন ষড়রিপু যে বাম ;-
বিষয়-রসে-রত রসনা, রটেন তব নাম,
মােহ-মদিরা-মত্ত সদা বিরত নাম উচ্চারণে ॥
বাসনা হল সখ্য ভাবে জপিতে তব নাম,
ভাবিলাম যে নাম, নহি শ্ৰীম সুদাম,
সখ্য ভাবে পুজিতে আর সাধ্যকার এ ত্রিভুবনে,
মম মরমে বাজিল হরি গােঠে কাঁধে উঠা স্মরণে ॥
আদি-ভাব-বিহীন মন হীন প্রেমানন্দ,
ধু ভব) শূন্য আদি অস্ত, তবু কেন গােবিন্দ,
ধরেছিলে হে মানময়ী রাধা-পদারবিন্দ,
সে ভাব ধরে নরে কি পারে তােমার মনরঞ্জনে
মধুর ভাবে পূজিতে চিতে সাধ হল হে নারায়ণ,
মরুময় মম মন, শুষ্ক হৃদি-বৃন্দাবন,
মধুর 'ভাব নাই হে সেথা দীরঘ শ্বাস, ঘন, ঘন,
দীন, শক্তি-হীন আমি ব্ৰজের ভাব আনয়নে ॥
জগত-পতি সকলে বলে হে জগত-জীবন,
ত্রিজগতে মম সম, দাস ত আছে অগণন,
দাস হয়ে সদ। তব, সেৰিব পদ মাধব,
কোটী টী করিয়ে ক্ষমা নিত্যানন্দে রেখ চরণে

পাঁচ ফুল।
(৩২)
শিখি-পুচ্ছ-সুশােভন, হে নদ-নন্দন,
নীল-নলিনী জিনি নয়ন, বদন শশী-নিন্দন,
কণ্ঠ মুলে চারু চাচর চিকুরাবলী শােভন,
মরি কি কালাে ভুবন আলাে নবীন ঘন নিন,
বাঁশরী জিনি সুঠাম না তিল-ফুল-গঞ্জন,
সুন্দর-ললাটে শােভে তিলক অগুরু চন্দন।
বিম্ব ফল নিন্দি দুটী অধরে বংশ বাদন,
উঠিছে তাহে গােকুল-কুল-ললনা হৃদে কম্পন,
ছুটিছে কেহ, পড়িছে কেহ, কেহ করিছে ক্রন্দন,
কুল, অকুল দুই ভাসা’য়ে ধরেছে কেহ শ্ৰীচরণ ॥
কণ্ঠ বেড়ি কুসুম মালা শােভে আজানু-লম্বন,
মাগিছে যেন আকুলাবেগে চরণ-যুগ-চুম্বন,
করী-শাবক-অণ্ড, জিনি, যুগল করে করুন,
তাহে গােপিনী-মন-হরণ বাঁশরী করে ধারণ।
প্রসারিত সে বক্ষে ভৃগু-চরণ-যুগ শােভমান,
নীল সরসি বক্ষে যেন স্থল-কমল ভাসমান,
কটিতে পত ধনী শােভিত রবি কিরণ-গঞ্জন,
পীতবরণ ধারণ শুধু রাধা-বরণ কারণ।
মঞ্জীর শােভিত পদে ধীর তাহে নৰ্ত্তন,
স্কুল কমল ভ্রমেতে সেথা ভ্রমর করে গুঞ্জন,
উড়িছে পুনঃ বসিছে পদে করি চাপাবর্তন,
কবে সে পথে ভ্রমর হবে দীন নিত্যানন্দ-মন।

পাঁচ ফুল।
(৩৩)
পার করাে হে ভবসিন্ধু হে দীনবন্ধু দয়া করে,
যে দিন শ্রান্ত হয়ে বন্ধ হব দুরন্তু কৃতাস্ত করে।
ভবের মাঝে একা পান্থ, ক্লান্ত হ’ব দুদিন-পরে,
( সে দিন) শান্ত করে রাধা-কান্ত অভয় পদ দিয়ে শিরে?
মরিতে নিদান কালে নন্দলালে জ্ঞানে স্মরে,
নিন অানান্ধ ঘিজ নিত্যানন্দ আশা করে ॥
কবে আমি কলা ঘুচবে আমার হে মধুসূদন।
কবে আমি বল্‌তে তুমি ভিন্ন করবাে না হে দরশন।
আমার পুত্র আমার বাড়ী,
আমার বিষয় টাকা কড়ি আর জমিদারী
কবে পুস্পাঞ্জলিরূপে ধরি করবে পদে নিবেদন
সংসারে যা আমার বলি, সুখে সঙ্গে নে যাই চলি, হে বনমালী-
কবে কৃষ্ণায় নমঃ বলি করবাে তােমায় নিবেদন
আমার চিন্তা অনুভূতি, ষড়রিপু ভীমাকৃতি, মম প্রকৃতি
কবে করবাে যদুপতি, তােমার তরে বিসর্জন।
বা দেখি এ পৃথিবীময় দেখব কবে সব তুমি-ম ওহে রসময়
নিত্যানন্দের নাই হে সময় বৃথা গেল এ জীবন ॥

পাঁচ ফুল।
(৩৫)
মন কভু না বটে।
দেখলাম তারে নেড়ে ঘেটে (সে) বড়ই কঠিন বটে।
পরমার্থ ছাড়ি সদা স্বার্থ মানস-পটে,
অর্থ তরে কেঁদে মরে গােঠে, গৃহে, মাঠে।
আহার, বাহার, বিহার চিন্তায় দিবারাত্রি কাটে,
নিদ্রা যােগেও টাকা বলে স্বপন দেখে উঠে ।
নিত্যানন্দ হয়ে ভ্রান্ত কহে কর-পুটে,
(যেন) মরণ কালে হরি বোলে ব্ৰহ্ম-বন্ধু ফাটে।
(৩)
কেন সুখের দিনে তাকলি না মন রাধারমণে।
মহাদুখে সবাই ডাকে একথা কে না জানে।
মজে গর্ব অভিমানে, ভজ নাই সেই জনার্দনে, বসি গােপনে,
হেসে কাটাইলে সুদিনে কঁাদতে হয়রে কুদিনে।
কলে তারে সুখের দিনে, রক্ষা করে দুঃখের দিনে, বিনা আহ্বানে
(কিন্তু) ভক্তি প্রতি শ্রদ্ধা বিনে, (সে) কারও নয় ত্রিভুবনে।
দীন নিত্যানন্দ ভনে সুখে আছি সুখ বিনে, (তারে) চাইনা জীবনে-
(হরি), চাইনা সুখ যেন দুঃখ বাড়ে হে দিনে দিনে।

২
পঁচি ফুল
(৩৭)
বৃথা এলি ভবে বৃথা যেতে হবে কাদিলে কি হবে বলরে এখন।
সদা দুঃখ পাবে কেঁদে দিন যাবে প্রাণ মাধবে ভুলেছ যখন।
হরি-নামামৃত-রসে নিমগন, হলি’নে করিয়ে ভবে আগমন,
কারে এত দিন করিলে চিন্তন, বিনে চিন্তা-মণির রাতুল চরণ।
অর্থ, স্বার্থ তরে করিয়ে ভ্রমণ, সদা তুষিয়াছ দারা পুত্র ধন,
বল দেখি মন কোন প্রিয়জন, মরণ কালে সঙ্গে করিবে গমন।
কেবা কার পােষ্য কে কার অন্নদাতা,
কে কার সহােদর কেবা পিতা মাতা,
শুধু সার কথা, চতুৰ্বর্গ-দাত, কৃষ্ণ সত্য, সত্য জীবন, মরণ।
সংসারে করিয়ে যােগী-জন-বাসা,
সাধনা করিতে জন্ম লয়ে আসা,
তাহে বহুবিধ আছে মােহ-নেশা, কৰ্মনাশা যত আত্মীয় স্বজন।
নিরখিও মন সবে সম-চক্ষে,
কহিও কটু স্বপক্ষে বিপক্ষে, .
রেখ স্থির সদা হরি পদে লক্ষে, গােপিনী মন্তকে কলসী যেমন।
পায়ে ধরি মন চলিতে চলিতে, অন্তিম-সম্বল বাধা অঞ্চলেতে,
নিত্যানন্দ যে দিন লবে রবিতে দেখা’য়াে অঞ্চল খুলিয়ে তখন।

পাঁচ ফুল
( ৮ )
নব-ঘন-কিরণ-তিনি সুন্দর তনুখানি,
বুঝিতে নারি অনুমামি কে দাড়ায়ে তরুমূলে।
কাঞ্চন কিরীটো’পরে শিখন্তক শােভা করে,
কি জানি কেন কামনা করে বামেতে ঢলিয়ে পড়ে,
কভু মৃদু বায়ু ভরে হেলে দুলে শিরােপরে,
যেন নব জলদে হেরে নাচিছে শিখি তালে তালে।
বন কুসুমে রচিত মালা দুলিছে কিবা চারু গলে
যেন তারাপুঞ্জ গােলাকারে নীল নভ-মণ্ডলে,
শত চাদ আভা জিনি, বক্ষেতে কৌস্তুভ-মণি,
স্থির সৌদামিনী যেন নীল নীরদ-কোলে।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম ঠামে বেণু করে সদা বাজে,
দিবা শর্বরী সে বাঁশরী রাধা রাধা বলে বাজে ;-
পতাম্বর অঙ্গবাসে, তাহে মৃদু মৃদু হাসে,
মনে করি গৃহ বাসে ত্যজে যাই সে তরুতলে।
শিঞ্জিনী-শােভিত পদ লাল রঙ্গে কে রাঙ্গয়েছে
যেন নীল গিরির পাদমূলে যুক্ত-সন্ধ্যা কঁদিছে,
ও পদ হেরি মনে করি, বক্ষে ধরি সেবা করি,
এ সংসার পরিহরি, পড়ে বই তে পাতলে।
বারেক হেরি রূপ-মাধুরি হইলাম পাগল প্রায়,
ধর্ম কর্ম ভুলাইল গৃহে বাস হ’ল দায়,
কেঁদে নিত্যানন্দ কয়, সে যে বিশ্বরূপ বিশ্বময়,
আপনারে ভুলিতে হয়, সে সময়ে পেতে হলে

২
পাঁচ ফুল,
(৩৯)
কাজ কি রে মন গৃহবাসে, ছিন্ন করি মায়া-পাশে,
এক তরুতলে বসে, পীতবাসে ডাকি চল।
কাজ কি রত্ন অলঙ্কারে, কাজ কি রম্য বেশ ধরি,
ভূষণ হীন অঙ্গ তব শ্মশানে যাবে গাগড়ি ;
সাধের অবনী ছাড়ি, যেতে হবে ত্বরা করি,
তাইতে বলি করে ধরি হরি নাম মুখে বল।
কর্তা সেজে বিষয়-সুখ-রস-পানেতে সদা রত,
আমার আমার ভাবি সবে হয়েছ মােহে বিজড়িত ;-
অাখি মুদে শুয়ে যবে, অন্ধকার নিরখিবে,
সে দিনে কে দেখাইবে গভীর আঁধারে আলাে।
নশ্বর মুখের তরে বিশ্বময়ে আছ ভুলে,
কে তােমায় রাখিবে ধরে দিনমণি-সুত-এলে ;-
দারা পুত্র পরিবার এ সংসারে বল কে কার,
সুখের সময় হয় অংশীদার দুঃখের ভাগী কে কার বল।
একা এসেছ নিম লয়ে একা তােমারে যেতে হবে ?
মায়ায় বন্ধ হয়ে তবে কেন বা দিন কাটাও ভবে :-
পিতা মাতা পুত্র—ভাই, কেহ তব সঙ্গী নাই,
(এরা) আসা যাওয়ার পথে শুধু পান্থ করে চলাচল।

পাঁচ ফুল।
२७
(৪)
কে বাখিবে তারে ধরে, চরণে যে জন ধরা পরে,
বাম করে যে গিরি ধরে কার সাধ্য তারে ধরে ।
দারা পুত্র পরিবারে রাখিয়ে যে অতি দূরে,
ব্ৰহ্মম রূপে যেবা হৃদয়ে ধরে ধরাধরে ;-
সে বিনা এ চরাচরে, আর কে বাঁধিতে পারে,
যে পারে সে চিরতরে বেঁধেছে সে বংশীধরে ॥
বদনে হরি, এবণে হরি, হরি বিনা যে নাহি হেরে,
হরি নাম অবিরাম বিরাজে যার অন্তরে ;-
চৈতন্য যার হয়ে ডাকিতে রাধাকাতেৰে,
সে বিনা সে অনন্তেরে আর কে বাধিতে পারে।
ঐহিক সুখের তরে সদা যেবা কেঁদে মরে,
প্রাণান্তেও লক্ষ্মীকান্তে কভু সে না পেতে পারে ,
দীন নিত্যানন্দ মন কবে করিবে ভ্রমণ,
সৰ্ব্বত্যাগী সাধুজন সঙ্গে হরষ অন্তরে।
(৪১)
শ্রীরাধা-গােবিন্দ চরণারবিন্দ প্রেমানলে কর বন্দনা।
কাজ কি মােক্ষ পদে, অতুল সম্পদে সার কর এই সাধনা।
বাসনার ফলে নরজন্ম লও, বাসনার ফলে সুখ দুঃখ পাও,
সাধনার বলে হরি পদতলে ফেলে দাও যত কামনা।
কাজ কি তন্ত্রে মন্ত্রে কাজ কি ক্রিয়া কাণ্ডে,
মুখে হরি হরি বল দণ্ডে দণ্ডে;
মবে শকতি কৃতান্তের দণ্ডে তব অঙ্গে দিতে বেদনা।
আনন্দে মাতিয়ে কর অনুক্ষণ, আনময়ের চরণ চিন্তন,
কাতরে কহিছে নিত্যানন্দ দীন, নিরানন্দ তাহে রবে না।

পাঁচ ফুল।
(৪২)
তুমি সর্ব ঘটে সদা আছ ওহে সৰ্বময়,
তুমি সৃষ্টি, তুমি স্থিতি, তুমি পুন কর লয় ।
তুমি শুদ্ধি, তুমি ভক্তি, তুমি শক্তি, তুমি মুক্তি, হে যদুপতি
মতি, রতি, বিশ্ব-প্রীতি, তুমি ওহে বিশ্বময়।
তুমি হে জীবনীশক্তি, দয়া মায়া মনােবৃত্তি, হে গােলকপতি ;
জ্ঞান-জ্যোতি-রূপে হৃদে সময়েতে হও উদয় ।
দিনকরে তুমি আভা ধরা পেয়ে তব শােভা, হয় মনলােভ ;
আলাে অন্ধকার কিবা তব ইচ্ছা, ইচ্ছাময়।
তুমি পি, তুমি মাতা, তুমি পুত্র, তুমি ভ্রা, হে জগতপাত,
তুমি গুরুরূপে মন্ত্রদাতা, শিষ্যরূপে কৰ্ম্মময়।
(৪৩)
জয় গােকুল-অন-মন-মােহন গােবন-ধারী,
জয় গােপিনী-মন-হরণ-কারণ, গােলক-ভুলােক-ধারী,
অয় নীল-নীরদ-নিন্দি-বরণ, নৰ নটবর শ্যাম নবীন,
জয় নারায়ণ নন্দ-নন্দন, নরক-বারণকারী ।
জয় যজ্ঞেশ্বর, জনার্দন, যদুকুলধন জগমােহন,
জয় যশােদা-জীবন, মধুসূদন, জনম-মরণ-বারী।
জয় জল স্থল আদি পঞ্চ ভূতাত্মার, সৃষ্টি স্থিতি লয়ে আধেয় আধার,
জয় যদুপতি কেনা শ্রীরাধার রাধা-পদ-ভিখারী।
জয় জগ-পলক ভুবনালােক, ধেনুপালক গোপবালক,
জয় সাধা রাধা নামে বেনুবাদক যমুনাতট-বিহারী।
জয় বনমালী বনমালা গলে, ধৃত-গঙ্গা-চা-চরণ-কমলে,
জয় আদিদেব প্রলয় সলিলে ওকার-রূপী মুরারি।

পাঁচ ফুল।
{ ৪৪ )
=
আব না যমুনা হলে যা গাে তােরা সখি মিলে
চরণ মম নাহি চলে প্রাণ কাঁদে সহচরি।
চঞ্চল নয়ন মম, অঞ্চলে যতনে ঢাকি,
নির্জনেতে মুছি সইরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে ডাকি-
প্রতি কেলি অবসানে মুহুর্মুহু পড়ে মনে,
নীলকান্ত মণি আর সেই নীল যমুনা বারি ।
হষ-ভয়ে কলস লয়ে নিত্য নিত্য যাই জলে,
বিরস মনে ফিরি সইরে প্রাণ রাখি সেই নীপমূলে ;
ছায়া লয়ে ফিরে আসি, কায়া ত যমুনাবাসী,
জলে যাওয়া নয়গাে সখি আলা কেনা মরমেরই।
নব-নীরদ-নিনি তনু, নবীন নটবর বেশী,
নব ভঙ্গে দাড়ায়ে থাকে বিধরে মৃদু হাসি ;-
হেরিয়ে সে রূপরাশি অপরূপ কাল-শশী,
মনে হয় না ফিরে আসি উদাসিনী হয়ে ফিরি।
লক্ষ করি মুরলী-খারী-চারু-বন-মণ্ডলে,
অলক্ষে মম কক্ষ খসি কলসী পড়ে ভূমিতলে ;-
কুল, শীল, গঞ্জনা, জ্বালা, তুলায় সে চিকন কালা,
আবেশে অবশ হয়ে নয়ন জলে কুম্ভ ভরি।
দমন বড় কঠিন সখি শ্যাম-রূপ-দশ-আশা,
ততােধিক কঠিন সইরে, শূয় মনে ফিরে আসা;
ফিরিতে যখন হল, সে যাওয়া না যাওয়া ভাল,
নিত্যানন্দ আকুল অধু যাওয়া আশা করি।

পাঁচ ফুল।
(৪৫)
ললিত অধরে মধুর মুরলী আর যেন হে শ্যাম বাজেনা বাজেনা,
যদি হে মুরলী বাজে তবে যেন রাধা রাধা বলে ডাকেনা।
ধশরী শুনিয়ে গঞ্জে গুরুজনা,
(আমি) নয়নের বারি রাখিতে পারি না,
(বাশী) শুনে কাঁদি তবু পিপাসা মিটেনা, অন্তরের জালা নিভেনা নিভেনা
বঁধুয়া আমার সতত ভাবনা,
মরিলে তােমারে দেখিতে পাব না,
(তাই) গঞ্জনার মাঝে তুমিই সান্ত্বনা জীবন্তে সহি হে মরণ-যাতনা।
(৪৬)
মানময়ী রাধে মিনতি চরণে, অপরাধ মম নিওনা নিওনা,
(আমার) জীবনে মরণে বাঞ্চিত তুমি, জপ, তপ, ধ্যান, সাধনা।
রাধে তুমি মম সব-চিত-চোর,
তব নামে আমি সতত বিভাের,
এই মােহন-বাঁশ, দিবানিশি মাের রাধা রাধা বিনা বলেনা।
শত অপরাধে অপরাধী আমি,
ক্ষমা কর রাধে প্রেমময়ী তুমি,
যে দণ্ড দিবে হেসে লব আমি, চরণ-ছাড়া যেন করােনা কমােনা।

পাচ ফুল।
(৪৭)
যতই ডাকি ততই তুমি পালিয়ে যাওগাে অন্তরে,
তবুও আমি লুকিয়ে রাখি আমার হিয়ার অন্তরে,
সকল প্রাণে আঁধার ঢেলে, যখন তুমি যাওগাে চলে,
ততই প্রাণে দ্বিগুণ টানে দেখার আবেগ সঞ্চারে ;-
-হৃদয় ভরে উঠে তােমার গানের ঝঙ্কারে।
এ
(৪৮)
তােমাতে পরাণ কেন যে মজেনা তাকি তুমি কিছু জাননা,
জন যদি মম সকল কামনা তব পাশে কেন চান না।
তুমি সকল বেত্তা সদা নির্বিকার,
সকল কান, গুণের আধার,
আমার পাগল আকুল প্রাণের বেদনা কি তুমি বােঝনা -
সকলি জান হে অন্তরযামী, চরণে শরণ মাগিতেছি আমি
পড়েছি বিপথে আনহে সুপথে সকবি আমার জানা।

পাঁছ ফুল।
(৪৯)
ধুলার কেন এত আদর ও ধুলা-কি যাবার সময় মিলবে।
তুমিই শুধু যাবে চলে ধুলায় ধুলা মিশবে।
দেহ ধুলা, বসন ধুলা (যারা) আপন বলে তারাও ধুলা,
তাদের দেখে হলি ভোলা,
কোন দিন ধুলা খেলা ভাঙ্গবে ;
সে দিন সকল ছেড়ে অনাদৰে ধুলায় পড়ে থাকবে ।
যতই কর আনাগােনা সময় কি তাের ৩নবে মানা,
টাকা টাকা ভেবে ভাবনা বৃথায় যে দিন কাটবে,
শেষে মরে রূপাে হবি,
টাকশালেতে পড়ে রবি,
মিস্ত্রি এসে পুড়িয়ে শেষে পিটায়ে সােজা কৰে ৷
(৩)
এই চির ব্যাকুলিত-মরমে আসনপাতি বসেছিল সে।
দশ-গঞ্জনা-লাঞ্ছিত সরমে মম অঞ্জলি ধরেছিল সে।
অনন্ত বাসনা ভকতি সাধনা, আপনারুগুণে কেড়ে নিয়েছিল সে;-
কলঙ্ক-বিজড়িত-বাজনার মাঝারে সানা চেয়েছিল সে।
দেবতায় মত এসে দেবতার মত হেসে দেবতার মত কৃপা করেছিল সে,
পলক-বিহীন নমনে বসে আছি আমার সে দেবতা কোথা সখি সে।
বীর-রা” নাটকে ব্যবহৃত।

==
পাচ ফুল ।
(৫১)
কই সে মাধব কই সই।
কুঞ্জে একাকিনী আলা কেমনে সই ।
কই সে বংশীধর, কই সে গিরিধর,
কাঁদিছে বিরহ-ব্যাকুল অস্তর ;
জীবন রাখা ভার, কই জীবনধার,
অভাগী শ্রীরাধার সে বিনা কেহ নাই ॥
কই সে পীতাম্বর, গতরঞ্জন,
সচ্চিদানন্দময়, শ্রীনল নন্দন,
হ’ল না সইরে চরণ-বন্দন,
তুলসী চন্দন ওকাল সখি ওই !
(২)
আমার শূন্য হৃদয় ভরি দাও হরি পূর্ণানন্দ দানে,
মর-জগতের সকলি ডুবাও তােমারই নামের গানে।
আশিয়ে কামনা, সকল পিপাসা, স্নেহ, দয়া, মায়া, সব ভালবাসা
তােমার তল চরণের আশা জাগাও আমার প্রাণে।
আমিত্ব আমার তােমাতে মিলায়ে, যেতে তৃণসম চল মােরে লয়ে
ধর্ম, কর্ম, পুণ্য ডুবায়ে ভাসাও প্রেমের তুফানে ॥

পঁচ ফুল।
(৫৩)
কে তুমি লুকালে গাে দেখা দিয়ে।
মরমের কথ’ হৃদয়ের ব্যথা, দয়া করে না শুনিয়ে
চিনিলাম না নারী কিম্বা পুরুষ বেশ,
দেখিলাম না করে অসি কিম্বা বাঁশী,
মুণ্ড-মালা কিম্বা বনমালা গলে,
দৃষ্টিকালে গেল পলক পড়িয়ে।
শ্যাম, গৌর বা শ্বেতবর্ণ তুমি,
কিম্বা রূপ-হীনা শুধু জ্যোতির্ময়ী
আর একবার এসে গাে হৃদয়ে,
সুকায়ে থেকোনা পাগল করিয়ে ॥
মন তুই ভুতের বােঝা তাের বােঝ কে বইবে ?
( যদি) আমার বশে না চলিস তাে তাের জালা কে সইবে ।
আমি বলি ভাবতে যেটা,
তুইত করি ঠিক তার উষ্টা,
শেষে ) ঝড় ঝাপটায় ধাক্কা খেয়ে তাের দায়ে কে মরবে।
হৃদয়-বারে খিলটা দিয়ে,
পরের কথায় কাব না দিয়ে,
গান গেয়ে দেখ, তাপিত শাপে সুখের বাতাস ছুটবে ।

পাঁচ ফুল।
৩১
কবে
কবে
(৫)
কামনা-সাগর শুকায়ে সেথায় উঠিবে প্রেম অমৃত।
বাঁধন খুলিয়া আপনি যাইবে হইব জীবন-মুক্ত।
জীবন তরুর স্তৰকে, স্তবকে,
জ্ঞান-কুসুম শােভিবে আলােকে
উঠিবে হৃদয়ে প্রেমের তুফান,
ভেসে যাবে দম্ভ মান অভিমান,
জাতি ধরম, মদ-গন্ধ সহ অজ্ঞান তিমির লুপ্ত।
র।
( হবে)
(৫)
কুলিশ সম কঠিন তব হৃদয় যদুনন্দন,
( নইলে) রাধা কেন মরণ মাগে করি চরণ-বন্দন।
জীবন মন তুচ্ছ করি, দিয়ে তুলসী চন্দন,
পূজিয়ে কবে কার বা ভবে হয়েছে দুঃখ মােন।
যত কাতরে কহিছে সবে রাখ রাখ জনার্দন,
তত হতেছে দিবা নিশি দুঃখ সাগরে নিমগন।
বিষম দুঃখে ডুবায়ে, করি ভক্তি-পরিশােধন,
অন্তে আসি করে কর মুক্ত ভব বন্ধন।

৩২:
পাঁচ ফুল।
(৫)
সেদিন কবে আসবে।
( যেদিন) বিশ্ব-পিতার বিরাট প্রেমে পরাণ আমার ভাসবে ।
আমার চোখে জড়, চেতনে প্রেমের মূর্তি হাসবে,
ছয় রিপুরে পরাণ আমার চোক রাঙ্গিয়ে শাসবে।
আমি সেজে কৰ্ত্তার ভাব অবহেলে ঘুচবে,
সকল সময় সবার কাছে মাথা নুইয়ে পড়বে।
বিশ্ব প্রেমের বিমল জ্যোতি প্রাণের মাঝে ফুটবে,
আপনার পর, পরকে আপন, ভাবতে হৃদয় শিখবে ;
সেইদিন আমার সকল সফল সেদিন কবে আসবে।
(৫৮)
আমি কি তােমার পর হয়ে রব চিরদিন।
পথেরি কাঙ্গাল করিয়ে আমারে রাখিবে গো আর কতদিন ।
ধরিবারে যাই আপনার বলে,
পর ভেবে তুমি দূরে যাও চলে,
আশা পথ পানে চেয়ে থাকি আর নিরজনে কঁহি নিশিদিন ।
তবু মনে করি তুমি আপনার,
জীবন মরণ সকলি তােমার,
আখিলেই থাকি মারিলেই মরি, তােমাতে আমার পরাণ লীন।

পাঁচ ফুল।
৩৩
(৫৯)
নন-জাত পারিজাতে যদি বলি তােমার চরণ,
তবু মনে হয় মনের মতন হ’ল না গাে বুঝি পূজন।
বক্ষ চিরিয়া শােণিত টানিয়া তাহারে করিয়া চন্দন,
মুক্ত হৃদয়ে প্রেম-কুসুমে যতনে করিয়া লেপন ;-
মিশায়ে হাতে নয়নের বারি,
মনে মনে বলি আমিহে তােমারি,
সেই অঞ্জলি চরণে তােমার করি যদি আমি অর্পণ,
তবু মনে হয় মনের মতন হ'ল না গাে বুঝি পূজন।
ইহ পরকালে যা কিছু আমার,
সব দিয়ে ডালি চরণে তােমার,
তোমার সঙ্গে মিশিব যে দিন না নিয়ে নূতন বন্ধন,
সেই দিনে হবে সব পূজা শেষ আমার মনের মতন।
( ৬০ )
তরী বুঝি ডুবে যায়,
ধরহে সখা ধরহে আমায়।
প্রবল তুফান ভয়ে কাঁপে প্রাণ,
ডুবি আমি মাঝ দরিয়ায়।
কোপা কর্ণধার চারিদিকে চাই,
কত ডাকি তবু দেখা নাহি পাই,
তুমি যদি প্রাণে না রাখছে,
আমি ডুবিলাম তবে নিরুপায় ।

পাট ফুল
(১)
নিশি যেওনা যেওনা চলিয়ে।
তুমি গেলে সারা জীবনের সাধ নিমেষে যাইবে ডুবিয়ে
পায়ে ধরি আজি ক্ষণেক দাড়াও,
আমার দেবতার পূজা দেখে যাও,
দয়া করে শুধু দেখিবারে দাও মূরতি নয়ন ভরিয়ে।
পূজা করি শেষ যাব তব সনে,
অঞ্জলি দিয়ে তাহারই চরণে,
আমার সকল মরমের কথা পুরাণ খুলিয়ে গাহিরে।
(৬২)
সকল রূপের নেশা কাটায়ে তােমার রূপে কবে মজিব।
সব ভালবাসা দিয়ে জলাঞ্জলি তােমায় শুধু ভালবাসি।
যত আর্থ-চিন্তা উদিবে এ মনে,
বলি দিব কবে তােমার চরণে,
তােমারই নাম স্মরণে, শ্রবণে, আকুল হয়ে কবে ক'দিব।
সকল আপনার পর করে দিয়ে,
সুখে থাকবে কবে তােমারে লইয়ে,
তুমি ধ্যান, জ্ঞান, তুমি আমাধন, তােমার সনে কবে মিশিব ।

পাঁচ ফুল।
(৬৩)
কাঁদ কাঁদ রে পরাণ।
কাঁদিলে পাইবে যাহারে চাহিবে,
আর কাদা হবে অরসান।
কাঁদিলে বুকের বােঝা নেমে যারে,
পরম-পিতার নামে রুচি হবে,
সকল কান্না শুকায়ে হৃদয়ে,
প্রেমের নদীতে ব’বে উজান ॥
(৪)
মরমে ব্যথা শুনায়ে তাহারে ক্লান্ত হয়েছি শুনাবে না।
প্রণয়ের কথা কহিয়ে তাহারে দগ্ধ হয়েছি কহিব না।
চরণের রেণু হ’তে ছিল সাধ;
সে সাধে সেইত সেধেছে গাে বাদ;
মান অভিমান করেছে দলিত, আর তারে কিছু জানানাে না ;
ও ত আমি অহাই গাে তারে ভুলিলে পরাণে বাঁচিব না।

পাঁচ ফুল।
(৬৫)
দুঃখ দিলে যদি সুখে থাক তবে দুঃখের পাখারে ভাসায়।
সুখে যদি মম সুখী হও তবে সুখের সাগরে ডুবায়াে৷
তুমি সুখ তব বিরহই দুঃখ,
জানিনা গাে আমি আর সুখ দুঃখ,
যে ভাবে যেখানে থাকি আমি, যেন চরণের পাশে টানিও।
সফল সুখের আধার যে তুমি,
সকল দুঃখের অবসান তুমি,
সব দিয়ে আমি কাঙ্গাল হয়েছি দয়া করে মনে রাখিও।
(৬)
তুমি সকলের চেয়ে সুন্দর মম মুগ্ধ, পাগল নয়নে গো।
রুলের চেয়ে পাই আনন্দ তব মধু-নাম শ্রবণে গো।
তােমারে ভাবিলে যত সুখ পাই,
জগতে তাহার তুলনা যে নাই,
ক্ষুদ্র হৃদয়ে ধরেনা সে সুখ আঁখি বেয়ে পড়ে উছলি গাে॥
এত ভালবাসি তৰুত পাইনা,
বুঝি আমি ভালবাসিতে পারিনা,
জীবনে না পাই মরণের পরে বারেকের তরে দেখিব গাে।

পাঁচ ফুল।
(৬৭)
নয়ন লইয়ে
এমন সাধের
পরাণ বঁধুয়া
ষে জনা বলিবে কাল।
দিব অভিশাপ, কাল দেখে তার
দিন যাবে চিরকাল।
আমার যুগল,
যে দেখিবে সেই কালাে।
বুঝিবে তখনি,
সেই কালাে তার
হৃদয় করেছে আলো ।
কালরূপ যার,
নয়নে না লাগে
সে জন হউক অন্ধ।
কালরূপে কবে, বিভাের হইবে
দীন হীন নিত্যানন্দ।
(৩৮)
তোমার করুণা পেরে কভু কারও মন সুখে দিন যায় না।
দারিদ্র-বেদনা, অন্নাভাৰ যাতনা, জীবনেও তারে ছাড়ে না।
এক পুত্রে দেখি মৃত্যু শয্যা’পরে,
তােমায় যায় ভুলে পুত্ৰ-শােক-তারে,
এমনি পাষাণ তুমি সেই দোষে তারে, সাজা দিতে যাণ কাঁদে না।
এত অভিমানী হয় যদি পি,
অপরাধী পুত্র যায় তবে কোথা,
জনমের তরে রইল প্রাণে ব্যথা, ধুলা ঝেড়ে ফেলে নিলে না

পাঁচ ফুল।
(৬৯)
বেলা বয়ে যায়, বাঁশরী বাজার
পরাণ হইল পাগল।
বধুয়া বদন,
মরমে উদিল,
ভাসিল নন যুগল ॥
মনে হ’ল নীল,
যমুনা সলিল;
মাধবীলতার কুঞ্জ।
নীপ তরুমূল,
অলি সমাকুল;
বিকচ কুসুম পুঞ্জ।
ঘৈরজ লাজ,
পলাইল আজ,
হৃদয় ছাড়িয়া দূরে।
নিত্যানন্দ কয়,
এমনি ত হয়,
টানে যারে বাঁশীর সুরে।
(৭০)
তুমি যা দিয়েছ তাই কেড়ে নাও আমি কেন মরি কেদেহে।
আপন ইচ্ছায় নিজ হাতে পায়ে দুঃখের বাঁধন বেঁধে হে।
সকলি তােমার, তুমি সবাকার,
সবই একাকার তুমি মুলাধার,
এ ভাব আমার কেন একবার ভুলেও জাগে না প্রাণে হে।'
কি চাহে পরাণ সতত আমারি,
অবিদিত নহ অকুল-কাণ্ডারী,
জান যদি তবে চরণে পখিত, অধীনে বঞ্চনা, কেন হে

পাঁচ ফুল।
৭ৈ১)
আঁধারেই রেখ'চিরদিন আমি চাইনা আসিতে আলােকে হে।
আধারের সাথী মনটা আমার আলােকে আসিলে হারাব হে ।
বাহিরে হইয়ে চকচকে আমি চাই না আলােকে ভাসিতে হে,
( তাতে.) যেমন আঁধার তেমনি আমার ভিতর জুড়িয়া, রহিবে হে।
মিঠে সাধু ভাষা, শুভ্র পােবাকে,
অবহেলে আসা হয় না আলােকে,
তার চেয়ে ভাল চিরদিন থাকা বিজনে গভীর আঁধারে হে ;-
মনের আঁধার দূরে গেলে আলাে, ভিতরে বাহিরে ফুটাৰে হে।
(২)
আমি কি তাের ছেলে নই মা, ডাকলে কেন দিনে সারা
(বুঝি) ডাকার মত হয় না ডাকা তাইতে আমি চরণ ছাড়া।
মার-পদে যে ভক্তি করে, সেত তরে নিজের জোরে,
(কিন্তু) ভক্তি-হীনে নেয়না কোলে এমন মা যে জগত ছাড়া।
বুক ভরা মুখ ভরা কথা,
মা নামে যায় সকল ব্যথা,
সেই জেনেছে যে হয়েছে মা, মা, বলে কেঁদে সারা

পাঁচ ফুল।
দেখিবার আশা মেটেনি এখন (ওগো) চঞ্চল চলে যেও না।
মরমের কথা বলিনি এখন তাও কি বলিতে পাব না
তুমি কি বুঝিবে বিরহে কি দুঃখ,
কি বুঝিবে তুমি মিলনে কি সুখ,
দিনেকের তরে ভুলেও আমার সুখ-দুঃখ-ভাগী হলে না।
তবুও না ভেবে রহিতে পারি না,
তবুও না দেখে পরাণ বাঁচে না,
(আমার) এত ব্যাকুলতা, এত ভালবাসা বুক পেতে তুমি নিলে না।
(৭৪)
তুমি চিরবাঞ্ছিত চিতে সঞ্চিত তােমাৰে দশ-কামনা।
জানিনা তােমায় দরশনে যাবে কত জনমের সাধনা
কত ভক্তি কত অনুরাগ মাখা,
হইলে পরাণ পাবে তার দেখা,
পায়ে ধরি মােরে বলে দাও ওগাে সারাজীবনের-কামনার
গভীর অাধার পথ নাহি পাই,
তােমায়ে ধরিতে দুবাহু বাড়াই,
যাহা কিছু পাই সকলি আঁধার আশা কেন তবু ছাড়ে না।

পাঁচ ফুল।
৪১
(৭৫)
হৃদি মন্দির দুয়ার খুলিলে, কে তুমি হে আমি চিনি না।
শতধা-জীর্ণ মন্দিরে মাের অতিথি কখন আসে না ।
সাধ হয় যদি বসাে এ আসনে,
অশ্রুর অঞ্জলি দিব হে যতনে,
'কিছু নাহি আর দিতে উপহার হে অতিথি তব চরণে :-
যদি নেবে নাও, নয় চলে যাও, (মম) নিরালার ব্রত ভেঙ্গো না।
(১৬)
তুমি নয়নের আলাে।
তবু কেন আমি রয়েছি পড়িয়া আঁধারেই চিরকাল।
তুমি আছ তাই গভীর আধারে,
কোনরূপে পারি শুধু চলিবারে,
ধরিবার নাই শকতি আমার হুতাশে পরাণ গেল।
যে দিকে তাকাই হেরি অন্ধকার,
খুঁজে পাই না কোথা কে আছে আমায়,
কোথা আছ এসে সম্মুখে আমার উজ্জ্বল দীপ জ্বালাে ।

২
পাচ ফুল।
(1)
যত দান তুমি করেছ আমারে দুঃখই তার সার হে।
নাহি দিতে যদি দুঃখ এতদিন সুখে থাকা হত ভার হে।
সুখে যেই যাব ভুলিয়ে,
অমনি দুঃখে দিও ডুবায়ে,
(তখন) সুখ, দুঃখ সব দূরে ফেলে দিয়ে করিব চরণ সার হে,
সুখে বিস্মৃতি দুঃখে হয় ,
দুঃখে যদি করি চরণ ধারণ,
সুখেতে হইব পার হে।
(৭৮)
শিব শৰাকারে চরণে পতিত দেখে কি লা লাগে না।
চরণের ভরে পিছে মেদিনী তা দেখে কি দয়া হয় না।
দিগম্বর ভােলা শশধর,
শয়ন করেছ ধরণী-উপর,
'রক বলে, পায়ে পড়েছে যে তার বুকে পদাঘাত করে না।
কটাক্ষে প্রলয় গণে জগতবাসী,
কেন গাে জননী হয়ে এলােকেশী,
নিজ করে নিলে সংহারিনী অসিজননীর এ যে সাজেন।

পাঁচফুল।
(৯)
কে বলে খামা গেমায় করুণাময়ী জননী গো।
ঋকরে অলি ধরে কোন মাতা পারে নি সুতে বধিতে গাে।
জবা বিল মাখায়ে চন্দনে,
নিতি নিতি দেয় যে তব চরণে,
ডুবাও উঠাও তারেশােকের তুফানে
দুঃখের অবধি রাখ না গো।
(৮০ )
মনের মতন খাওয়া পরা, অমনি যদি মিলে ;
গয়নার জয়ে ঘরের গিন্নি বায়না, না ধরতে।
বলে কারেও কাজের কথা,
অমনি নীচু করে মাথা,
সবার আগে আমার বরাত হাসি মুখে কত।
পারিশ্রমিক জীবনে সে কখন(ও) না চাইত।
তবেই ধরা সুখের হতাে,
যা আছে ঘাের দুঃখের এতাে ;
ইচ্ছামত যদি সবার বয়স বাড়ত, কমত ;
যিধির ঘাড়ে ধাক্কা দিয়ে (স) বুক ফুলিয়ে চলতে

পাঁচ ফুল।
(৮১)
তুমি যদি চাও বাঁচি নইলে মলাম প্রাণে গাে।
জনমের শােধ দেখার আশা রয়ে গেল মনে গাে ॥
ভালবাস কত পরে,
দয়া কর কত ভিখারীরে,
আমায় কেন নিয় হেন দরশন দানে গাে ॥
পরে দেখে পরের মত,
আমি দেখবাে দেবতার মত,
পরের আশা কত শত, আমার আশা দেখা গাে !
(৮২)
হৃদি-মন্দির-বাসিনী।
নয়ন-মানস-রঞ্জিনী মম সকল হৃদয় অধিকারিণী ॥
সকল তীর্থ-ফল-দায়িনী,
সব সাধনার কেন্দ্র রূপিণী,
সকল-কামনা-বিজয়িনী মম পূৰ্ণানন্দ-দায়িনী
ঋড়িত মরমে শান্তি-দায়িনী,
বিষম বিপদে আশাময়ী বাণী,
শক্তি স্বরূপিনী মম চরম বিরম-য়িনী।

সঁচ ফুল।
(৮৩)
ওহে বিরহ-বিধুর বিরহেই থাক মিলনের আশা করে না।
অনুরাগ ছাড়া ভালবাসা হলে বাঞ্ছিত কভু মিলে না।
নয়নের জলে
দীরঘ শ্বাসে,
কবে কে পেয়েছে যারে ভালবাসে,
যে প্রেমে না হয় প্রাণ বিনিময় সেখানে মিলন যায় না ॥
(৮৪)
বপনে দেখা দিয়ে মরমে দিয়ে দাগ,
বিষাদ ঢেলে প্রাণে চলিয়ে গেছে গাে ।
স্বপনে করে কথা,
আমার কানে কানে,
নিমেষে মিলাইল কে জানে কিসে গাে॥
পুরাণ কত স্মৃতি জাগায়ে মৃত প্রাণে,
কঁদিল কঁদাইল ধরিয়ে চরণে,
এপ্তি ভেঙ্গে গেল, মম ছিড়ে গেল,
কেমনে পাৰ সেই পন ফিরে গাে ॥

পাঁচ ফুল।
।
কাঙ্গাল করিয়ে গিয়েছে সে,
আমার সকলি করিয়ে চুরি।
রেখে গেছে শুধু আকুল নয়নে
কেবল তপ্ত বারি।
যা দিয়েছি কভু যদি পাই ফিরে,
রাখিব যতনে আমারই অন্তরে,
সাবিনিময়ে দুঃখ কিনে আর
হাক না পথের ভিখারী ॥
(৮৬)
তুমি স্বর্গ আমার পুণ্য আমার, ধৰ্ম আমার জীবনে গাে।
শান্তি আমার, তৃপ্তি আমার, দীপ্তি আমার নয়নে গাে।
ভজন আমার, পূজন অামার, সিকি আমার সাধনে গাে,
চিত্ত-শুদ্ধি হৃদয়ে আমার, মুক্তি আমার বাঁধনে গাে,
জাগিলে আমার, ঘুমালে আমায়, তরুণী আমার তুফানে গো
জীবনে আমার মরণে-মার, হৃদয় ভােমার চরণে গাে।

পাচ ফুল
৪
(৮)
টাকা রে, আর ভালবাসি কত তােমারে,
আমার ইষ্টমন্ত্র, পুরাণ, ত, পড়ে থাকে কোথা রে
ভাই, বন্ধু, সমাজ ঘর,
পিতা, মাতা, সকলি পর
করতে পারি একদওে, ভুলতে নারি তোমারে
খুন, ডাকাতি, কিম্বা চুরি,
তােমার তরে সবই পারি,
জাহামেও যেতে পারি এত ভালবাসি রে ॥
মূর্তি ভাল, ভাষা ভাল,
পেলেও শুধু দেখা ভাল,
দেবতার বর চেয়েও ভাল তােমার পাবার আশ্রয়ে
তােমায় পেলে সবই থাকে,
সব দোষ যায় ডুবে জাকে,
আমার ধর্ম, কর্ম, জীবন, মরণ, সবার বড় তুমি রে ।
।

৮
'পাচ ফুল।
(৮৮)
• দেখে। ধেম হয় না কভু তােমায় আমায় ঝগড়া,
ভুলােনা’ক নিতে আমার সুখের, দুঃখের বখরা।
সাদা প্রাণে সাদা কথা,
কয়ে বলে। প্রাণের ব্যথা,
মিহে যেন মান করােনা, ধরে কথার ফ্যাকরা ।
একটা কথা দোষ নিও না,
দেখ যেন রাগ করাে না,
অদি না ভাতে পারি মাসে মাসে স্যকরা।
(৮৯)
ওর দর উঠবে অনেক ও যে পাশ করেছে বি, এ,
পাকা বাড়ী, কিছু জমিদারী, এই পণ নিয়ে দিব বিয়ে।
তার উপর কিছু গয়না,
নইলে ত বিয়ে হয় না,
কনেকাল’ হলে ছাড়বে আরও পাঁচ হাজার নিয়ে ;
যায় যদি তার ভিটে মাটা,
আমি অতে আর করবাে কি,
যায় যে তাহার, ছেলে যে আমার পাশ করেছে বি, এ।

পাচ ফুল।
৪১
(৯)
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপায় করে অর্থ।
গয়না, গাউন, সেমিজ, কিনে,
দিয়ে তার চরণে, কিনি পরমার্থ ।
হাত ঘড়ি আর চশমা কামিজ নইলে জীবন ব্যর্থ,
খাওয়ার ভাগ্যে যা হক, বাহার থাকলে তবে কিসের তরে অধ।
কড়ায় গণ্ডায় বজায় করে ষােল আনা স্বার্থ,
পরের জন্যে হ’ব শুধু মুখে একটু ব্যম্ভ,
তাতেই হবে নামটা জাহির লােকে বলবে ,
রূঢ় কথা বললেও হবে ভাল রকম অর্থ।
(৯১)
(হরি হে) তােমার দেওয়া দিন চলে যায়,
কিছু হ’ল না, হবে না তােমার সাধনা, বসে বসে গণি, দিন যায় ।
এক নিশ্বাসের তর সয়না যাতে,
নিমেষে পারে যে মৃত্তিকায় শুইতে,
এমন দেহ ধরে, গর্ব অহঙ্কারে মাটীতে টীতে বাজিছে পায়।
শুচি বিদ্ধ হলেও যেতে পারে প্রাণ,
বুঝি না সে দেহের কিসের অভিমান,
সুধা পাত্র ফেলে মন অবহেলে বিষের তুফানে ভাসিতে ধায়।

পাচ ফুল।
(৯২)
আর পাড়া গোল করে কাজ নাই আমি না বুঝে দুটো ব’কেছি।
দোষ নিওনা ক্ষমা কর আমি নিজে নিজে কান মলেছি।
সারা জীবনের উপার্জন,
রাঙ্গা পদে করি সমর্পণ,
{ ওই ) কোমল করের কিল চড় কত নীরবে হজম করেছি।
এতেও কি মান যায় না তােমার,
মনের দুঃখ বুঝেও আমার,
মানুষ হয়ে পোষা বিড়ালের মত পদ-তলে পড়ে রয়েছি।
(৯৩)
তুমি এলে কেন এত অবেলায়।
জীবন-তরণী দিয়েছি ভাসায়ে ধীরে ধীরে ঐ বয়ে যায় |
ওকুলে উঠিব করিয়াছি আশ,
কেন দিতে চাও বাঁধনের ফাঁস,
তুমি কঁদিয়ে ব্যাকুল চাহনি চেওনা, দেখে মম বুক ফেটে যায়।
এত শেষে কেন দেখা দিতে এলে,
কে চাহে মরণ, তােমারে দেখিলে,
( অজি) নিমেষের ক্ষীণ, পরমায়ু দান কে করিবে অবলায় ।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Pach Phul Ed.1

Author
Mukhopadhyay,nityagopal
Title
Pach Phul Ed.1
File name
Pach Phul Ed.1
Text
OCR done
Citation
1919
Published
2009/09/11
Publisher
Oriental Priting Works, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
66
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poem
Keywords
Shyama
DLI number
513009
Barcode
4990010020028.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
pyGKLcAVOsf
Download PDF

Pach Phul Ed.1