Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Kabir Swapna-sushama Chande O Gane
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
কবির স্বপ্ন-সুষমা
ছন্দে ও গানে
[ সবুজ পর্ব ]
শ্রীপাৰ্বতীচরণ রায়, বি-এ
৬।
ডি, এম, লাইব্রেরী
৪২, কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রীট, কলিকাতা
প্রকাশক :-শ্রীগােপালদাস মজুমদার
ডি, এম, লাইব্রেরী
৪২, কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রীট, কলিকাতা
প্রথম সহস্র
, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ।
পাঁচ সিক
মাসপয়লা প্রেস
১১৪১এ আমহাষ্ট ষ্ট্রীট, কলিকাতা হইতে
শ্ৰক্ষিতীশচন্দ্র ভট্টাচাৰ্য কর্তৃক মুদ্রিত
কথা
এই কাব্যখানি ছাপাতে গিয়ে আমার—ডাক্তার
ভজহরি দাস, শ্রীযুক্ত দেবেন্দ্রনাথ দাস ও শ্ৰীযুক্ত
বিষ্ণুপদ রায় এম, এ; বি, এল, ; বি, টি, ;
বাণীভূষণ মহাশয়গণের কথা মনে আছে।
আমি সাধারণতঃ কাব্য পাঠ করে শুনানাের
পক্ষপাতী নই, তবু আমি তা ওই তিন
জন দরদী বন্ধুর কাছে লুকিয়ে রাখিনি,
যেটুকু হয়েছে, পড়েছি ; কাব্য-রচনা কালে
ঐরূপ কাব্যিক-মনা বন্ধুবর্গের যে কতটা
প্রয়ােজন,-তা’ কাব্যশিল্পীগণ বােঝেন।
বিষ্ণুবাবুর আতিশয্যে আমার মনের নিয়মের
শৃঙ্খলার একবার ব্যতিক্রম ঘটেছে। এখানে
একজন কবির
এসেছিলেন তার সামনে
জনসমাজে আমাকে এই কাব্যের কিয়দংশ পাঠ
করতে হয়েছে। আমার কাব্য সম্বন্ধে কবিবর
কিছু বলেছিলেন—তা বিষ্ণুবাবু জানেন। আমি
কবিবরের নাম সম্বন্ধে নির্বাক থলেম।
প্রেস-কপি করবার সময়,–ভাই
অম্বিকাচরণকে যখন-তখন নানা
প্রশ্ন করে তার এম, এ পরীক্ষার
পড়ার ব্যাঘাত জন্মিয়েছি,
তাও এই সঙ্গে মনে
পল।
গানগুলির মধ্যে “কে আসে ওই” ও “শয়ন মন্দির
মাঝে” শীর্ষক গান দুটা আমি আমার “সুরের
আঙুর থােকা থেকে গ্রহণ করেছি।“কে মজিল রূপ
নিরখি” গানটা গ্রাম্যবালকদিগের জন্য মদ্রচিত
“পুতুলাভিনয়” নাটক থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
তমার শেষ কথা এই যে, এই
কাব্যখানি প্রকাশে, আমার অন্যতম
সঙ্গীতশিক্ষক, কণ্ঠ গায়ক প্রযুক্ত
প্রভন সন্ন্যাল অামাকে অন্ধকারে পথ
দেখাইয়াছেন এবং শ্রদ্ধেয় কৰিবন্ধু
উক্ত হেমচন্দ্ৰ বাঢ়ী এম, এ মহাশয়
সেই পথে আলাে জ্বেলেছেন। ইতি
রামচন্দ্র বাণামনি
মঘদূত দিবস, ১৩৪
শাপার্বতাচরণ রায়
উৎসর্গ- জাগরণে যারে হেরি’ ঘুমু-ঘুমু চোখ, স্বপনে অঘুম নিশিরাতে, তারি হাতে।
No text on this page.
উপহার
No text on this page.
।
६
9
१.
1
1A
A
रे
-
६
x
र
सपना
No text on this page.
“এ-তাে নহে শুধু কাব্য গান
প্রাণ-নিঙড়ানাে রস প্রণয়ের বান ;
দুজনে কি দিবে না সঁতার?
মিলন-কটাক্ষ মাঝে পড়ি’ একবার ?
উদ্ভ্রান্ত-প্রেমের এই নব আবিষ্কার!
গ্রন্থকারের নিম্নলিখিত বইগুলি
শীঘ্রই বেরুবে
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে ( রঙীন পর্ব )
সুরের আঙুর থােকা ( গানের বই )
নিদর্শনী ( গ্রন্থানুক্রমিক) ••• ৬ ••• ৮ ••• ১০ ।। ১৪ ৩ ০ ০ ১৭ * • २० ছবি এঁকে দাও (গান) আয় হরষ আয় নই সে কবি উছিয়া পড়ে হিয়া নাচ রূপ-শিখী হায়! শিখেনি শিখিনী তুমিও হাসিবে ধীর সবুরে মেওয়া ফলে অলক নন্দা দুয়ার খােলাে (গান) বরষ চলেছে কোন্খানে ? দিবি কি খুলি’ যবনিকা ? কোথায় কবিতা, কোথায় স্বপন কোন অরূপিনী রূপ চুপি চুপি দেখা এল সন্ধ্যাকাল কে তুমি অপরিচিত ? কে আসে ওই । (গান) ভূলােকের নয় দুলালী সরমি’ উঠিল বধূ নব আষাঢ়ে দেখা দিবে একদিন বিস্ময়ের চোখে সেন গাে তুহিন বালা ২৪ = ৩২ ••• ৩৪ ৩১ ••• ৪১ ৪২ ৪৫ ৪৮ ৫৮ ... ৬২ ৬৪ • • • জানি না সরম তুমি ঢাকিবে কি দিয়া হােলির চাদের রঙ জেগেছে তােমারে এ কবি যা শিখাবে নিমিষে খেলে’ গেল আষাঢ়ের বিজলী তা’র সান্ধ্য-বেশে চোখে চোখ পড়ে গেলে নারী ও নরকে বেশী সুন্দর ? নিখিলের সৌন্দৰ্য্য উজার, কভু কি হয়েছে একাধার ? কে মজিল রূপ নিরখি’ । (গান) কী মধুঙ্খলিত হয় নয়নে নয়নে ! রূপকণা তা’র দেখনু চারু শিল্পাগারে গীতাঞ্জলি দিতেছিল বালা (গান) ৭৪ ৭৯ ৮৫ ৮৫ ৮৯ অহহা কণ্ঠ। ••• ৯১ ৯২ ••• ৯ তার কি এম্নি করে মন ? বেশী ত কথা কিছু নয় ! কি প্রকারে আসিতে সে পারে ? তবুও তাকায়ে থাকি এস,এস বালা হাসি মাখিয়া । ••• ••• ১০২ ।। ১০৫
কবির স্বপ্ন-সুষম
ছন্দে ও গানে
ছবি এঁকে দাও
( গান )
আমার ছবি এঁকে দাও!
আমার তুলিকা তােমার হাতে নাও।
আমার ছবি এঁকে দাও।
সেই রঙ দাও যা’ যেখানে ভালাে,
রঙীন রঙ ঢালল,
পূর্ণ করিতে ছবিটা আমার, তুলিকায় মিশে যাও।
আমার ছবি এঁকে দাও!
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
যে শােভন ছড়ালে কাননে ফুলের রাশে রাশে,
যে রূপ ফুটালে আষাঢ়ের ঘাসে ঘাসে,
তাই দিয়ে মাের তুলিকা জাগাও :
যা দিয়ে ভরিলে ভাদরের নদী,
গােধূলি-গগন আঁক নিরবধি,
তাই দিয়ে ভর—উজ্জ্বল কর,
তুলিকায় রূপ ছাও।
আমার ছবি এঁকে দাও।
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
ভাদ্র ১৯, ১৩৩৮
শিব ৮-১৮ মিঃ
আয় হরষ আয়
আঁধারের বুকে
অরুণ ফুটে,
কিরণ—কনক
লয় তা লুটে
কিরণে কিরণে
রাঙায়ে চোখ,
ঢলিয়া পড়িল
দিনেরালােক।
জাগিল চাঁদ
রজত হাসে,
কপােল-টীপ,
সুনীলাকাশে ।
রচিল মালা
জোনাকী পরী,
তরু-পল্লবে
সে ফুলঝরি !
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
এমনি করিয়া
আলােক হাসে,
গহন-ঘন
কালাের পাশে
এমনি করিয়া
আঁধার এসে,
দাঁড়ায় উজল
আলোর শেষে
বুঝে না কেউ
দিনের দিন,
চলে রহস্য
কত অচিন ।
বীজটা ঢুকিল
ভূমিটী চিরে,
উদিল তরু
সুখদ-ধীরে।
আয় হরষ আয়
পাতায় পাতায়
ফুটিল কোরক,
ছড়ালাে প্রিয়া
প্রীতির শােল।
ফুলিল কোরক
ফলের তরে,
নমিল ফল
রসের ভরে।
এমনি করিয়া
বরষ যায়,
আয় চারু, প্রিয়
হরষ আয় !
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
ভাদ্র ১৬, ১৩৩৮
দিবা ৪-২৯ মিঃ
নই সে
কফি
তবে–“বরষ হরষ আনে”,
তার্কিক্ নাহি মানে।
কারণ—নিদাঘের তাপ দেখি,
বরৰার ছল-আঁখি।
আকাশে যে মেঘটালা,
কঁদে শরতের আলা
হেমন্তের বিন্দু-টল—
তন্বী-ঘরম-দল।
শীতের কৃশানু-সুখ,
বসন্তের বৃ-দুখ ।
লতিকা লুটিয়ে পড়ে,
ফুলটীও ফুটে’ মরে।
চাদটাও ডুবে যায়,
মলয়েও অনল ছায়।
নই সে কবি
দেখ- সুখ-দুখ লাগালাগি,
দুই ভাই আধাভাগি।
বটে ! বরষ বিরস আনে,
তবু মন নাহি মানে।
আমি নই সে কবি,
আঁকি শুধু ফুল ছবি।
রচি নিতি ফুলদোল,
তাই মন উতরােল।
চাহি, ভাদর-ভরা,
ওগাে টানা-আঁখি মনােহরা ।
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
ভাদ্র ১৭, ১৩৩৮
দিবা ২-৫৫ মিঃ
৭
উছিয়া পড়ে হিয়া
কুঞ্জে কুঞ্জে
গাহে পাখী,
খুলে দিল্ ;
মটে ফুল
চোখে চোখে
যায় ভেসে
“হীরাঝি”।
সোহাগের
কোণে কোণে
নটিনীর
ছুটে মরে
শর-ফুল ;
আশে পাশে
বিলসিছে
সুশােভ
কেশ-দুল।
ভেসে যায়
উপবন
হাসনার
খর-টানে ;
গানে গানে--
তানে তানে—
ছবি আনে।
স্বরগের
উছিয়া পড়ে হিয়া
মন ভােলা
আসমানে
চিক্ চিক্ ;
তারা করে
কোথা হতে
পশে যেন
ফি ফিক্।
গুল্ হাসি
বুকে বুকে
উপছিয়া
সুখে সুখে
পড়ে হিয়া ;
তােমরা কে
সাঝে আছ,
মাের প্রিয়া ?
কেবা হবে
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
ভাদ্র ১৭, ১৩৩৮
দিবা ৪-১৯ মিঃ
৯
নাচ রূপ-শিখী
প্রাণ
ফুট ফুট ।
তরী
ছুট ছুট।
খুল
শতদল,
-
লুট
পরিমল ।
কচি
কিশলয়,
ফুল্ল
মসীময় !
ঢল
ঢল ঢল,
নাচ রূপ-শিখী
শিখ
আঁখিছল ।
চাহ
ঠোট তুলি,
রাঙা
রং গুলি।
রূপ
ঝলমল,
দুরু
হিয়াতল।
নাচ
রূপ-শিখী ।
আমি
ছবি লিখি।
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
১৩৩৮
রাত্রি ৭-৪১ মিঃ
ভাদ্র ১৭,
১১
হায় ! শিখেনি শিখিন
কুঁড়ির ভিতর গন্ধ
অন্ধ হইয়া নাচে,
কাব্য পড়েছে চাপা
ছন্দের ছােট ছাঁচে।
ও গােলাপী-আতর
সজোর কর্ক আঁটা,
পরশ দিনে তােরা
ফুটবে শজারু কাটা
আলাের জোয়ার নামেনি
নলিনী তােলেনি হাই,
অতনু অনল জ্বলেনি
শত্রু তাহার ছাই।
१२
হায় ! শিখেনি শিখিনী
থাম, থাম্, চুপ কর
এখনও আছে শীত,
খুঁজিলে কোথায় পাবি
মলয় সমীর প্রীত?
মণিটা লয়ে
এখনাে বৃদ্ধ খাচিতে,
হায় ! শিখেনি শিখিনী
দাদরা-গজলে নাচিতে।
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
ভাদ্র ১৮, ১৩৩৮
দিবা : ০-৫১ মিঃ
১৩
তুমিও হাসিবে
বরষও যাইবে,
হরষ
ঢালিবে গাে।
মুকুলও
ঝরিবে,
দু’কূল
ভরিবে গাে।
অরুণও
টুটিবে,
কিরণ ছুটিবে গাে।
সবুজও লুকাবে,
ডাগরে ডুবাবে গাে।
পাষাণও
চুইবে,
ফোয়ারা ফুটিবে গাে।
জোয়ারও আসিবে,
কিনার
ভাসিবে গাে।
নিচোলও খুলিবে,
উচোল ফুলিবে গাে
তুমিও হাসিবে,
কবিও
আসিবে গো!
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
ভাদ্র ১৮, ১৩৩৮
দিবা ১-৪৮ মিঃ
১৪
ধীর-সবুরে মেওয়া ফলে
ধীর-সবুরে
মেওয়া ফলে,
সুখ-ভোমরে ।
সবুর কর
হওয়া-গাছে
চিনা পাতা,
সাজতে-আছে
কুঞ্জঘর।
খুলিস্ নেকো
আলোর মাঝে,
খাচায় রেখাে
সখের শামা
আধেক রাতে
শিখা তারে,
সুরের সাথে
সা-রে-গা-মা ।
১৫
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
পাপড়িটা
দিনে খুলে,
আপনি সেটা
খুলে যাবে।
শীতের ঋতু
ফুরিয়ে গেলে,
কুসুম নিতু
কানন ছাবে ।
আন্তা-দুধে
টেউ গুলে’ তুই,
রাখ, না রুধে’
পিকারী।
হােলির কিছু
বিলম্,—দিনে
কাফির উচু
গিট্কারী !!
!!
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
ভাদ্র ১৮, ১৩৩৮
রাত্রি ৭-১৯ মিঃ
অলকনন্দা
ফুটু ফুল,
রূপ মুকুল ;
নিটো বুক,
উছ সুখ ;
আঁখি পটোল,
পারদ তরল ;
বদন চঁাদ,
মানস ফাদ ;
ভুলাছে ভুল
রূপ মুকুল !
.
ক্ষীণ কোমর,
মনোজ ঘর ;
সুগােল জঘন,
মন-মগনি ;
গুরু নিত ,
নাতি বিলম্ব
রাতুলাতুল
রূপ মুকুল।
১৭
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
কচি কিসলয়,
উদয় ;
সুখদ
চারু পদতল,
অহহ ! শতদল ;
দীর্ঘ অতুল
কুঞ্চিত চুল ;
দুলু দুল,
দু দু দুল্ ।
লাল লালিমা
আমি ছালিমা ;
আধ-ডাগরা,
পরশ-কাতরা
রস-সুয়ারা,
ফুট ফোয়ারা ;
নহে আকুল
নিম্ মণ্ডল !
-
৮
অলকনন্দা
নীল নিচোল,
ব্লাউস বিলােল ;
শায়া শােভিত,
স্পন্দন চকিত !
চুড়ি বিজলী,
নেচে উজলি’
দুলিছে দুল,
কাণের ফুল !
ঘন উলসিছে,
পাশে বিলসিছে ;
তবুও মন্দা
অলকনন্দা !
আখির কোণ,
লােভুক্ ণ;
ফুটুক্ ফুল,
রূপ অতুল ;
দু দু দু,
রূপের ফুল !
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
ভাদ্র ২১, ২৩৩৮
দিবা ১-৫৭ মিঃ
১৯
দুয়ার খােলো
( গান )
ফুলের রাণী
খেলাে সবুজ
বিমিলি ;
তােমার ঘরে
আসছে আজি
চিমিলি
পাড়ি খােলাে
দা খােলো
খােলাে প্রাণের
দ্বার গুলি ;
মনের মাঝে
খেছে কত
রঙ বে-রঙের
কিলবিলি ।
দুয়ার খােলাে
জুই গােলাপের
আতর জলে
ফিরােজা শাড়ী
ভিজিয়ে দেবে,
উঁদের চোখের
চিচিলিতে
প্রাণের প্রথম
পরশ পাবে ;
তাই বুঝি ঐ
টুনটুনিটা
হাসছে ডালে
খিলখিলি ।
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
ভাদ্র ২১, ১৩৩৮
দিবা ৩৮ মিঃ
বরষ চলেছে কোন্খানে ?
ধীরে বরষ চলেছে কোনখানে ?
কেবা জানে ?
ত গােপনতা-রহস্য আনে,
সেই জানে।
জানি, শুধুই চলেছে আনমনে
ক্ষণে ক্ষণে,
হয় ত পারিজাতের কুঞ্জবনে,
-কি কারণে ?
সে জানে !—কচিশাখে দু দোলাতে
অর্ধ রাতে ?
অথই থরে থরে ফুল ফোটাতে
স্পর্শাঘাতে ?
হয় ত মন্দীরের মধুর তরে
ঘুরে মরে,
ভরতরে রূপােলি আলাের করে
বুক ভরে।
বরষ চলেছে কোন্খানে ?
, মলয়ের মৃদুল-দোদুলার
খােলে দ্বার ?
অমল-পরিমল লুটে’ আনার
কারবার !
নহে ?—নন্দন-অঙ্গনা আঙিনায়
আসে যায় ?
কত উর্বশী আসি’ কটাক্ষ-ঘায়
মূরছায় !
হয় ত বা ভাদরের ভরা দিয়া
ভরে হিয়া।
খুলে দেয় কত-শত-গুপ্ত-প্রিয়া
সুপ্ত হিয়া।
তাই আনে ; যেখানে যা কিছু ভালাে,
দীপ্ত আলাে ;
থালা পেতে দিযেছে সে-“ঢালাে ঢালাে
রূপ জ্বালা।
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
ভাদ্র ২৩, ১৩৩৮
দিবা ১২-১৫ মিঃ
দিবি কি খুলি যবনিক।
ফুল তুই খুলে দে না—
পাপড়ি হেনা
মলয় চুমে’ দিবে, কত সুরভি তা’র ;
যাণ তুই গেয়ে যা না—
গীত-সাহান।
সুর ধরে নিবে পাণির সুরবাহার
হাসি তুই ফুটে’ দিস,
“ভালবাসি”,
দরদী ধরে নিবে, আবেশে চোখে সুখে ;
পরশ ঢালিস্ আজ—
“খােস্ মেজাজ”,
পুলক-মদিরা পলকে নাচিবে বুকে
০
দিবি কি খুলি’ যবনিকা ?
আমান্ দিলে ছেয়ে
তরণী বেয়ে,
তারার মালা আর চারু চাঁদের হাসি,
এ পারে নদীর কূলে,
পালটী তুলে
জমে যাবে, রঙ-সুখের মাধুরী আসি।
রূপ ভরে দিস্ যদি
ভাদর নদী,
আপনি ভেসে যাবে, কত মন-পাথার,
ওরে রে তরুণ, তুলি
দিবি কি খুলি
যবনিকা ?—চোখ সেথা কাটিবে সাতার ।
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
ভাদ্র ২৩, ১৩৩৮
রাত্রি ৮-১১ মিঃ
কোথায় কবিতা, কোথায় স্বপন
চরে সাধের
তরণী আমার
নিয়ে আসি তারে যাই,
সে আছে কোথায় ?
-কি জানি কোথায় ?
চল যদি রে পাই ।
চল্ মাের তরী, চল সেথা ধীরে
হেলে দুলে নেচে চল্,
দাড়াস্ থাকি’
ক্ষণিক সেথায়
পলি যদি পরিমল ।
কত হসন্ত
নব বসন্ত
জুড়িয়া সেথায় আছে,
সৌরভ তা’র নাই ত গৌরব
কঁদিয়া কঁাদায়ে গেছে ।
কোথায় কবিতা, কোথায় স্বপন
ফুল শুধু সেথা, চেয়ে আছে কত
হেলয়ে রঙানাে আঁখি,
নিত্য সেথায় ঢলানাে জোছনা
নেইকো অমা’র ফাঁকি।
দাড়াস্ তরণী, দাড়া আমার
সেখানে বারেক দুলে,
দেখিব সেথায় স্বপন আমার
থাকে যদি কভু ভুলে’!
নেই নেই নেই,—সে যে নেই, ওরে
নেইরে কাহিনী মোর,
আধ-জাগা ঘুমে আধ-জাগা চোখে
মৃদুল বিরহে ভাের ।
ওই যে—বাজিছে ঘন এসরাজ
থামেনি গান এখনাে,
মনে হয় যেন মধু নিক্কণ
দিতেছে ইংরি লক্ষো!
২৭
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
কমল-কুঞ্জ লতায়ে লতায়ে
চরণে চুমালাে ফুল,
তারি মাঝে কে ও! নাচিতেছে যেন
দু দু দু দু !
পাপিয়া কোকিল মেনে গেছে হার
তাহারি গজল গানে,
মাের তরী বঁধু ! থেমে গেল সেথা
কমল আঁখির টানে।
হায়, হায়, হায় !– নেই ওরে নেই–
নেই রে কবিতা মাের,
জাগো-জাগাে চোখে জাগে-জাগাে ঘুমে
ডাগর বিরহে ভাের
-এর চেয়ে ভালাে এর চেয়ে মধু,
হে কবি কোথায় পাবি ?
-আমি যে তরুণ !– আমি যে অরুণ !
ঢের বেশী আছে দাবি।
কোথায় কবিতা, কোথায় স্বপন সে দিন চলিতে সােনালী উষায় প্রথম শুনিনু “কুহু”, নীরব ধরণী পবনের সনে আসিল ছােট্ট “উহু” ! ফিরিয়া চাহি, কেন হায় কেন- তরুণী সরিয়া গেল, সজল চোখের উজল চাহনি, বাসে বুঝি কারে ভালো। থামানু তরণী,—-দাড়াসু ক্ষণিক, অন্তর ছাইল জলে, সম বেদনায় গলিবে পাষাণ দেখে যদি কোন ছলে ভাসানু তরণী এ আঁখির জলে কাজ নাই নদী জলে, রূপ ঢল ঢল, আঁখি ছল ছল-- পাছে মন বুঝি চলে ! ২৯
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
পিপাসা লইয়া ফিরিয়া আসিনু,
শুধু মরীচিকা ছল,
কোথায় কবিতা, কোথায় স্বপন,
খুঁজিনু অন্তর তল !
-সে কি তব কোন অন্তরের স্মৃতি।
তারি লাগি’ কঁাদ কবি ?
-এখনাে বুঝিনি,—কি জানি কি সে-যে
তবুও সে যেন সবি।
এইরূপে কিছু, কাল গেল সরে
পিপাসা বাড়ায়ে দিয়ে,
ছন্দে জাগিল
ভরে গেল দুরু হিয়ে।
পাপড়ি ওজন
পানসি ছৈ-
গােলাপের রসে ভাসা,
লােটন-লােটানাে কেশ পাশ তার
বক্ষ নিটো খাসা !
কোথায় কবিতা, কোথায় স্বপন
বিজলী রঙ্গ কত,
মাঝে মাঝে শুধু
নিমেষে সলাজে নত!
লুকানাে চাহনি
বাতাবী-পুষ্প
চুয়ানাে জলে
হ’ত তার নিতি গান,
রূপটী দেখিনু,—ভিজিলে তাহার
ফিরােজা নিচোল খান !
বাসনার মাঝে বসে আছে সে-যে-
কামনার কোণে কোণে,
তারি সনে মাের
হ’ল কত কথা
নয়নের টেলিফোনে !
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
ফাল্গুন ১৫, ১৩৩৮
দিবা ১-৩০ মিঃ
কোন অরূপিনী-রূপ চুপি চুপি দেখা
॥
হায়, হায়, হায়, হায় !
মিথ্যা, মিথ্যা,বাস্তব এ ছবি নহে সখা ;
অন্তরের অন্তরালে
কোন অরূপিনী-রূপ চুপি চুপি দেখা!
চঞ্চল অঞ্চলে যেন
নয়নের কোন্ মাের উঠে কাদি’ ফঁাদি,
বলয়ের ংৈ স্বনে
পুলক পিয়াসে পুনঃ উঠে বুক বাঁধি’!
কার প্রতীক্ষায়,ওগে
দিবস রজনী মাের চেয়ে বসে আছ ?
অসীমে ছড়ানাে সুর
বিছানার কাছে গিয়া ধীরে নাচিয়াছ।
হে প্রিয়, করুণ দিঠি,
দাও মাের চোখে তুমি দাও আঁখিপাত,
অটল নিটোল বুকে
ধীরে আসি’—ধীরে তুমি কর বক্ষাঘাত!
কোন অরূপিনী-রূপ চুপি চুপি দেখা
হায় !—বসন্ত বেলায়,
কার বাণী শুনি’ বীণা বেঁধে নেবে রে !
কাহার চরণ-ধনি
উৎসুেিব প্রণয়ের নব-তঃপুর!
অতৃপ্তির মাঝে তুমি
তৃপ্তি নিয়ে বসে আছ,কেনাে,খােলাে দ্বার
অণে বাঁধিয়া প
হিয়া-পথে কেন ভবে বৃথ। অভিসার।
জাগে, জাত, তবে জাগো :-
এস এস পুণকের মৃত্যু শিহরণ,
কি না পাতে
কুসুমিত মাের মণ্ড কুঞ্জবন !
এ চুন তবে
কোন্ উঃ :ঝে হবে, তাই ভনে ভাের,
কে ছাদে নাচি’ সি’
কোন বিরহিনী হবে নিহনিী শেরি ?
রামচন্দ্র বাণীমনির
ফান ২০, ১৩৩৮
দিবা ৫-৩০ মিঃ
এল সন্ধ্যাকাল
তিমিরের যবনিকা আবরিল, দিকচক্রবালে দিনান্তের শেষরশ্মিজাল :
এল সন্ধ্যাকাল।
তাকাশে তারকাবালা
সাজালাে প্রদীপমালা,
আঁকিল তা’ চক্ষে মাের,ললনার নীলাভ-নিচোল মাঝে জরােয়ার বুটামত,
ঢাহি যত!
জীবনের বিদগ্ধ-বেলায়, মন্ত্রমুগ্ধ নিভৃত সন্ধ্যায়, ছিনু বাতায়ন পাশে,
তামনা আশে ;
কেন ইদু ভালবেসে
পড়িল শয়নে এসে,
এতােনহে ভালবাসা; নিরালা,নিসঙ্গ, ক্ষুধার্ত পরাণে এ-যে শুধু অভিশাপ,
শান্তির ছাপ।
সে ঝর্ণার আলাে,শুধুঝরে গেল,অঙ্গে অঙ্গে,বক্ষে বক্ষে,লিত ললাটে,কেশে
একা একাহেসে;
রেখে গেল মােরে, হায় !
যৌবনের তিক্ততায়,
আবেশে অস্থির ছল— বিপুল, বিরাট, উদাস, গম্ভীর হয়ে উঠে তাই বুকে,
আকাঙ্খর দুখে !
এল সন্ধ্যাকাল
হায়! বসন্তের বাসন্তী লীলায়,
কত কথা, তীব্র ব্যথা ল'য়ে এল মন-মাঝে,
।
.
নব নব সাজে ;
চিত চায় ক্লান্ত,
হৃয় হদয়ে চুমু,
-এ নহে অনুরাগ; একি তবে পূর্বরাগ!--এ শুধু যৌবনের বৃশ্চিক দংশন
মহা অনশন!
৭
স্তুপীকৃত, ঘনীভূত প্রেমণ। এ-যে,-তরল রূপ নিরা প্রতিমারে চায়,
ফুটন্ত বেলায় ;
ওগো, আড়ালের ছবি,
কত বা গোপনে রবি ?
আয় এই যৌবনের কালান্ত-অনলে,প্রদীপ্ত-সমরে,---আয়,নেমেনেচে আয়,
কটাক্ষের ঘায় !
মলয় প্রণয় চুনিয়! চুনিয়া, রুজু বাতায়ন দিয়া এল, গেল, ঘুরে ফিরে
সুস্থিরে অস্থিরে,
বাতাবী আশিল গন্ধ
মানসে মদনানন্দ,
এ-তাে শুধু পরিহাস ! তীব্রতার কালকূট! বুভুক্ষার জ্বলন্ত পাবক-শিখা!
বিহনে নায়িকা।
।
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
ফিরে যাও, ফিরে যাও, দিবস-রজনীময়ী ওগেগন্ধেশ্বরী,—নাই, নাই,নাই,
হায়! হায়! হায় !
নাইকো বাসরে খেলা
জীবনের এই বেলা,
নাইহাৰ,ভাব,ভাষা, স্পর্শ,প্রেম,প্রীতি-বিনিময়,প্রকৃতির অলঙ্ঘ্য শাসন,
নিদারুণ পণ !
গায়ক সােহাগে টানিয়া বেহাগ কণ্ঠে, রজণীর গভীরতা দিল প্রকাশিয়া
রহিনু বসিয়া
হায়রে, নাইরে ,
এ হৃদয় কুম
কার তরে রাখিয়াছি, হায়! কার কাছে উৎসবি! জাগিতেছে সদাএ স্বপন,
ও যৌবন।
কীএক অশান্ত-বেদনা,বুঝাবার নহে বুঝিবার,—উত্তপ্ত কটাহে তৈলবৎ,-
হানে হিয়া-পথ ;
হু হু করি অন্তর্জল
এল চক্ষে ছলছল
কে মুছাবে কেহ নাই;-শূন্যময়,—শূন্যময়,মরুময় হমাঝে বসি’ আমি,
জানে অন্তর্যামী।
৩৬
এল সন্ধ্যাকাল
কে তােমারে করিল উদাসী?কে তব মানসী,কবি?কার লাগি’এত মর্মবাণী ?
করুণ কাহিনী ?
কারে ভাল বাসিয়াছ ?
কার স্মৃতি রাখিয়াছ
হৃদয়ের গুপ্ত পেিটইদে ?—ার হাসি ফুটাইতে বর্ষে বর্মে হর্নে নিমন্তিয়া,
ডেকেছ সাধিয়া ?
সে আলেখ্য আঁকি নাই সখা, কারাে উপলক্ষে; ওগাে, কেহনহে প্রণয়ের ছ
পরাণের কবি ;
চিত্র তন্ত রূপ,
চাহিয়াহি চুপ চুপ,
অন্তরের অন্তরাণে; উচ্ছল পরাণ-পুটে তারি বার্তা ভরি’ সাজায়েছি লা-
হদি নাটশালা !
যৌবন তার জাগরিত হয়ে,মােরযৌবন সনে, ভ'রে গেল সে-বে রূপে রূপে,
প্রতি লােমকূপে;
বিরাট কল্পনা নাের
অতৃপ্ত যৌবনে ভাের,
অঙ্কিতে নারি সে চারিমা ; প্রজ্বল মানস-পটে রঞ্জিত সে যে অপূর্ব-অসীমা,
মানস-প্রতিমা !
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
এই চিত্ত, এই চিন্তা, এই ছবি,এই রূপ,—ভাব,ভাষা,স্বপ্ন বক্ষে লুকাইয়া
রহিনু জাগিয়া।
কত এল হাহাকার,
তীব্র ব্যথা ক্ষুরধার
বিদীর্ণ পরাণে মাের;কে জানিবে ভুক্তভােগী? জেনেছ ততুমি,তব অঙ্গে পাতা
মাের যত গাথা!
নিভাই মধু-বাতি! পূর্ব-দিগঙ্গনা বালার্ক-সির-বিন্দু নিল শিরে পরি—
পােহাল শর্বরী;
চলিনু অরুণ-তানে,
চাহি’ অহহ ! পথপানে—
এ কি স্নিগ্ধ রূপ! কল্পনা মূর্তিময়ী!—জাগ্রত যৌবনের প্রথম পিপাসা দিয়ে
গেল মােরে পিয়ে।
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
চৈত্র ২৯, ১৩৩৮
দিবা ৫-১২ মিঃ
কে তুমি পরিচিত ?
কে তুমি অপরিচিত ।
কল্প-বনের স্বর্ণ-লতিকা যৌবন-প্রস্ফুটিতা,
কে তুমি,তুমি কে অপরিচিতা।
লে, বিভ্রম, কূট-কটাক্ষ বিদ্যুৎ-বহ্নি-দীপ্তি,
তপরশ-পেলব-হস্ত-পরশ, অনুসন্ধিৎসু তৃপ্তি ;
মাল-মন্থর চলচ্চরণ অযুত পদ্মযুক্ত,
দীর্ব-লস্বিত, নিতম্-চুম্বিত সর্পিল-বেণী মুক্ত ;
কে দেবি মানস-কল্পিতা।
লক্ষা রসের দ্রাক্ষা-পযুষে চরণ সুরঞ্জিতা,
কে তুমি অপরিচিতা !
সদ্য ঊষার রক্তিম-রাগ নিমীওি চার অঙ্গ,
লক-ইন্দু-শােভনা-বদনা, ফুত-রশ্মি-রঙ্গ ;
নিটোল, অটল, সুডােল, সুদেহ, প্রবহ-কমল-গন্ধ,
লােলুপ-চরণ মন্থিয়া উঠে সুকবি-কবিতাছন্দ ;
কে দেবি দ্যুলােক-বন্দিতা !
নন্দন-বন-গন্ধ লতিকা মনােময় চারু-পুষ্পিতা,
কে তুমি অপরিচিতা !
১৯
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
দিক্ দিগন্তে টানিয়া দিয়াছ মেঘান্তে সান্ধ্য-সৌর-কর,
আবীর-রাঙা রক্ত কপােলে ঈষৎ হসিত বিন্ধধর ;
স্বাঞ্চল ভিজিয়া ভিজিয়া গাঙানের জল কল্লোলে,
কী মৃদুল-দ্যুতি সচকিত হ’ল যৌবন-তনিমা হিল্লোলে ।
কে দেবি পুলক-নন্দিতা !
কল্পলােকের পারিজাত মালা মনােরম চির-আদৃতা,
কে তুমি অপরিচিতা
গর তুমি ! মর্তের তুমি ! কোন গগনের উর্বশী
কারে বাতালে বান্ধিতে চাও সুন্দরী, রূপসী, ষােড়শী!
কোন্ সঙ্গীতের মূচ্ছনা তুমি ! কোন প্রেমিকের কল্পনা
কোন্ সমুদ্র মন্থনে ভুমি, জন্ম লতেছ না !
কে তুমি অনিয়া-সঞ্চিতা!
শ্রাবণ-গঙ্গার উচ্ছল-স্রোত তরঙ্গে তব লজ্জিতা,
কে তুমি,তুমি কে অপরিচিতা !
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
শ্রাবণ ২৬, ১৩৪ ০
দিবা ১২ ঘটিকা
৪
কে আসে ওই। ( গান ) ৪লক অলক ১মকে চমক বরণ চম্পক- কে আসে ওই। দেখিতে দেখিতে চকিতে চলকে-- বিজলী ঝলকে লুকালাে ওই। চিপল চাক অঞ্চল, বিত চিত tণ; করণ দিঠি কোমল শিঠি, হসিত সিত, যে বিং ওই । শণ-তখন নয়ন-সঘ, তে, গন্ধে, ছুশে সে ; রিনিকি রিনিকি, <িনিকি ঝিনিকি, ফিবিবি কিনিকি হাসে ;- দেয় না ধরা সুখ-ফোয়ারা, কুমার। কে বটে ওই । শয়ন মনির শ্রাবণ ১১, ১৩৩৮ দিবা ১২-৫৯ মিঃ ৪১
ভূলােকের নয় দুলালী
ভূলােকের নয় দুলালী !
দ্যুলােকের দু-দুলালী,
ছড়িয়ে গেল রূপ রূপালী
এই সকালের মুকুল বেলায় ;
এল কি সে স্বপ্ন বেয়ে !
পুলকের ঝর্ণা নেয়ে !
রঙীন-রঙে পরাণ ছেয়ে,
ফুরফুরে ঝুরঝুরে হাওয়ায় ?
বুক-বাগানে ফুল ফুটালো,
মন-কুসুমে রঙ পরালাে,
চরণ-পথে ফগ্ িলুটালাে,
তড়িৎ-সরিৎ ঢেউ বুলাে বুকে
ছন্দে ছন্দে নাচলাে হিয়া,
গােপনতার বার্ণ নিয়া ;
নয়ন-কোণে নয়ন পিয়া
রলাে চিত আবেগে টুকটুকে।
৪২
ভূলােকের নয় দুলা
—এ যেন হােলির রঙে,
ভিজ লাে শাড়ী নূতন ঢঙে।
নয় সে শুধু রূপের খনি,
শ্রাবণের সন্ধ্যামণি,
অমৃতেরও আতর দানি-
কার পাণি বা ভরবে এসে ভঙ্গে,
আনন্দের নাগর দোলা,
গােলাপজলে আতর গােলা,
অনাঘ্রাত কুসুমদোলা,
থমকে ওঠে ১ম ভঙ্গে ভঙ্গে!
-পলকে টুনু যেন,
অমিয়ার ভাণ্ডে হে !
কমল-ফোটা স্বচ্ছ-তড়াগ,
পদ্ম কুঁড়ির আতর-পরাগ,
মলয় দোলা ফুটন্ত-বাগ,
ছন্দে, গন্ধে হরষিল যেন হাসি
৪/
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
স্বরগের প্রথম সিড়ি,
বিজলীবালার লুকোচুরি,
“মরণ-জীবন-কাঠির” পরী,--
মনে হয় ভালবাসি,—ক্ষুধা নাশি ।
বলি, ও শরৎ নদি ?
বিলালে চম যদি,
তবুও কেন বে-দরদী,
মন যে আমার কি আনন্দে নন্দে।
আর একটু থাক্লে থেমে,
হয় ত লাজে উঠতে ঘেমে,
ভাই আড়ালে চলে যেমে,
দা-তুংরি-কয়ালী-কাফ ছন্দে ?
—সদ্য ফোটা গােলাপ তোড়া,
ভাসালে “পাগলা বেন্না।”
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
শ্রাবণ ১৫, ১৩৯
দিবা ৩-৩৫ মিঃ
১৪
সরমি’ উঠিল বধূ নব আষাঢ়ে
চকিতে চলকে ধীরে
বরষ ভাসি,
আসিল হাসির রথে
হরষে হাসি।
তরুণ চোখের তাই
নব ইসারে,
সরমি’ উঠিল বধূ
নব আছে ।
মুকুল-ছোওয়া বুক
দুকূলে মাতি,
নিরালায় চাহে, হায় !
সখের সাথী।
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
রঙের ছােয়াচ, লাগে
মন মহলে,
কেন না চাহিবে চোখ--
চোখে তাহলে ? •
বিকালে গাঁথিয়া মালা
বকুল ফুলে,
পরবি আঁচল ধরি’
রেশম চুলে।
সরমে সরিয়া গেলে
ডাকিয়া কাছে,
নরমে খুলিৰ কথা
যেটুকু আছে।
বরষ হরষ ঢালি’
যেয়ােনা ভুলি,
বুলাইয়া দিও সুখে
পরশ তুলি।
সরমি’ উঠিল বধূ নব আষাঢ়ে
স্বপন জাগালাে, প্রিয়া,
নয়ন খুলি,
বুকের ময়ুর নাচে
পেখম তুলি।
আমি যে তরুণ অতি
করুণ কবি,
আঁখিতে আঁকি নিতি
প্রীতির ছবি।
শয়ন মন্দির
অগ্রহায়ণ ৯, ১৩৩৯
দিবা ১.৪০ মিঃ
৪৭
দেখা দিবে একদিন বিস্ময়ের চোখে
ওগাে —
সে এক অস্ফুট স্বপন,
ছিল তা গােপন,
এই অঙ্গের তরঙ্গ প্রবাহে—অতি শান্ত, অতি ধীর,
অতি সূক্ষমরূণে ;
প্রতি শিরাঝে তার
জাগ্রত ম্পদশ ভার
ছিল চুপে চুপে !
ওগাে-
তখনও কোমল মন,
অতি শান্ত পণ,
জাগে নাই কঙ্গনায়—কোন ক্ষণে, কোন রূপে,
কোন শিল্প-লেখা ;
তখনও সুপ্রভাত
করে নাই ছায়াপাত
রঙ আঁকা-জেঁকা!
দেখা দিবে একদিন বিস্ময়ের চোখে
*
তুমি—
তবু যদি বল ছিল না,
হবে যে ছলনা,
সব ছিলশােণিতে শােণিতে—ওগাে, শােণিতের স্রোতে
বহু যুগ ধরি’ ;
ঘুমায়ে ছিল সব
জীবনের কলরব
শিশু শয্যা’পরি !
তাই
চোখে লেগেছিল ভালাে,
প্রদীপের আলাে;
মা যবে চুমিয়া মুখ শােয়ালেন শিশুটীরে
স্নিগ্ধ শয্যা’পরি,
আর কি লাগে নি ভালো
রূপালী ইন্দুর আলাে
মাতৃ ক্রোড়ে চড়ি’ ?
০৯
৪
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
ওগাে
জান না ! কিসের বন্ধন ?
শিশুর ক্রন্দন
থামে নাই,—থামাইতে পারে নাই, নিখিলের নগ্ন-গাত্র
শাদা দ্রব্যচয়,
লাল-নীলে শিশুমতি
ভিজে হয়েছিল অতি
কেন স্বপ্নময় ?
ওগাে-
তাই ঐ উদ্যানের পাশে,
শিশু মৃদু হাসে,
তুলে দিলে শাদা ফুল লাগে নাই ভালাে, তাই
দূরে দিল ছুড়ি,
কখন্ যে চুপি গিয়া
শিশু নিল উপড়িয়া
লাল লাল কুঁড়ি।
দেখা দিবে একদিন বিস্ময়ের চোখে
এই–
ভালােলাগা-ও-না-লাগা
হে “চিত্ত-জাগা,”
পেয়েছে যে অভিনব রূপ ও রসের-গন্ধ স্পর্শের
অতি ক্ষুদ্র বীজ,
ইন্দ্রিয়ের সুপ্ত খেলা
করিতেছে গুপ্ত মেলা
লুপ্ত মনসিজ।
তব ধমনীর মাঝে যে স্বপন
হয়েছে রােপণ,
সে যে করি’ উচ্চ শির,-
দেখা দিবে একদিন বিস্ময়ের চোখে
জান না তা’ তুমি ধীর !
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
.
ওগাে-
সেই স্বপন-গােপন
ফুটালাে তপন :
আঁধারের বুকে অরুণে ফুটিয়া,—কিরণে রাঙিয়া,
ঢলে পড়ে কত দিন,
তারি পিছে চলে মাস
মুকুলিয়া পুষ্প-হাস্
রহস্য অচিন।
অহাে !
কিছু দূর গিয়া বর্ষ,
টানি’ আনে হর্ষ,
মানে না মানা, শােনে না কথা,-শ্রাবণ গঙ্গার মত গড়ে
তােলে—পরিপূর্ণতায়,
ওই যে ক্ষুদ্রবীজ
লুপ্তাকারে মনসিজ
মাতে মত্ততায় !
দেখা দিবে একদিন বিস্ময়ের চোখে
F
তবু, অতি ধীরে ধীরে
দেছে ক্রীড়া করে,
পঞ্চদশৰ্মলয়ের দোদুল হিল্লোল বালিকার সর্ব অঙ্গ
দিল পূর্ণ করি’,
বিংশ বয়সে হায় !
বালক চাহিয়া তায়
নিল চক্ষু ভরি’!
4
ওগো-
হেসাে না ;হেসাে না, হেসাে না,
এ নহে জল্পনা !
কবির কল্পনা, শিল্পীর ভাবনা এরে চেয়ে গেছে
কত সতৃষ্ণায়,
যৌবন চাহিল ছবি
সে যে গাে স্বভাব কবি
মহা মহিমায় !
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
ওগাে-
জীবনের এই সীমাতটে
কত স্বপ্ন রটে,
নাচ, হাসি, গান, কাব্য, রূপ, ফুল নয়নের
নাচে আগে আগে,
লালসা জিহ্বা মেলি’
চাহে লীলায়িত কেলি
গাল-রক্ত রাগে ।
ওরে-
জীবনের এই দোলে দোল
দে দে দে দো!
পরাণের এ নব হিল্লোল দোদুলিয়া উঠে
দে দে দে দো!
এরে রে জোয়ার নেমে
রঙীনা উঠেছে ঘেমে
খুলে দে আঁচোল।
দেখা দিবে একদিন বিস্ময়ের চোখে
ধীরে—
রঙে, রঙে গেল প্রাণ,
জীবন উজান,
আঁকি মানস স্বপ্ন,-ফুটানু ,কত রূপে কত রসে
আধ নগ্নতায় ;
হৃদয়ে হৃদয়ে রাখী
এখনাে রয়েছে বাকী
ফুলের মালায়,
ওগাে সে চারুবালা
নিখিলেশ !
এই দুনিয়ার যা কিছু আনন্দ,
যা কিছু উৎসব,
নর বা নারীর কেহ পায় নি একেলা ;
দুই অংশে ভাগ করি’ দিয়া,
বাহুর বাঁধনে করি’ এক,
খেলাইছ অনঙ্গের চতুরঙ্গ খেলা!
শয়ন মন্দির
পৌষ ২২, ১৩৩৯
দিবা ৩৩ মিঃ
সে যে গাে তুহিন বালা
সে যে গাে তুহিন বালা।
পটোল-চোখের অরুণ কিরণে পলকে শুকায়ে যাবে
আমি—চাহিব না,—দিব না জ্বালা,
সে তুহিন বালা।
কত মৃদু তা’র গন্ধ-আধার,-
কেবা জানে-
কত রস আছে আঙুর-ঠোঁটে ;
চির অপরখ র’য়ে যা প্রিয়া,
ছােব না-
সরমে যদি গাে ঘরমি’ ওঠে।
সে যে গাে তুহিন বালা
সিরাজের “ফৈজী” মেনেছে হা’র
হীরাঝিলের সেই তন্বীরাণী,
তবু,
ভরা-রূপসীর সকল ছন্দ
ছেয়ে আছে চারু অঙ্গখানি।
গােলাপের দলে সাজালে বিছানা,--
বলে-না, না ;
গোলাপে দিদি লাে কাটা আছে
ফুটে’ যাবে কচি গায় ;
রেশম শয়নে যুথিকা ঢালিয়া
শিথিলে শােয়াও ভাই ।
-এত যদি তুই মৃদুল ও বালা
ফাগুন ময়ে ঘুমা;
গরণে তুই সহিতে নারিবি
মালে হানিব চুম !
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
ফাল্গুন ১৯, ১৩৩৯
দিবা ১-৪৮ মিঃ
জানি না সরম তুমি ঢাকিবে কি দিয়া
।
কচি দুব-দলে,
নিশার শিশির জলে
যে শাড়ী হারা’ত কায়া,
তারি অনুরূপে-রচা সিল্ক শাড়ী, শায়া-
তাহারি ব্লাউ-পিস্,
শিহরে বালার সুচারু অঙ্গ মৃদুলে অহর্নিশ !
সে ব্লাউস্—সে শাড়ী,
তাও লাগে ভারী ;
প্রিয়া
জানি না সরম তুমি ঢাকিবে কি দিয়া !
জানি না সরম তুমি ঢাকিবে কি দিয়া
কভু ঈষৎ বিস্ফারি’
সবুজাভ শাড়ী,
ফুটে উঠে ও-লাবণ্যে বসন্ত উঁাদের রঙ,
চল-চঞ্চল ঢঙ,
আধ-খােলা—আধ-ঢাকা-কভু-দেখা—কভু-হারা
যৌবনের যুগল-আধার,
মলয়ের উতােল সঞ্চার
সুচারু বসন
করিল নিলাজ কেলি
বিকশিয়া পীন-পয়ােধর,
সুকোমল অঙ্গে তাহা কত দৃঢ়তর !!•••
শয়ন মন্দির
ফাল্গুন ২৯, ১৩৩৯
দিবা ৪-২৪ মিঃ
হােলির চঁাদের রঙ জেগেছে
হােলির চাদের রঙ জেগেছে
প্রিয়ার রঙের পাশে পাশে,
কোজাগরী উপছে উঠে
ওই বদনের পদ্ম-হাসে ;
বুলিন চাদে
বুলন বুলায়,
আঁখি-তারার ক্ষুৎপিপাসায়,
নিবিড়-কালাে চুলের গােছা
পাছায় পড়ে রাশে রাশে,
ঢেউয়ে ঢেউয়ে গন্ধ ভাসে !
ঢিলা-গলার “অঙ্গ-রাখা”
আধেক পথে “কমল” জাগে,
নে-চেন্ সুখ পেতে চায়
নিটো হিয়ার মধ্যভাগে ;
ডুবডুবে
ওই ওষ্ঠ-পুটে,
আঙুরের রস উঠছে ফুটে,
নরম গালে সরম লেগে
রঙ লাে প্রিয়া অরুণ-রাগে,
চুম্বন কে লুকিয়ে দাগে !
হােলির চঁাদের রঙ জেগেছে
প্রতি চরণ ছন্দ-ছদে
স্বপ্ন যেন উঠলাে ঝরে,
ফিরােজা আঁচল পড়লাে খসে
দোলন-ঘায়ে ঈষৎ নড়ে ;
এই ফাগুনে তারে পাওয়া
কি সুখ তারে চোখে চাওয়া!
তারি তরে গজল গাওয়া
—দাও না কবির মনটী ভ'রে,
রইবে রঙীন আঁচল ধরে !•••
শয়ন মন্দির
ফাল্গুন ৩০, ১৩৩৯
দিবা ৩-১৮ মিঃ
তােমারে এ কবি যা শিখাবে
তারে
বঙ্কিম’ দিল রূপ-ভঙ্গিমা
শরৎ গড়িল মন,
সে রূপে ও মনে আনিল পরাণে
নিতি নব জালাতন।
ঢং শিখাইল ‘রবি কবি’ মাের
আঙুর-চোয়া ও রূপে,
কাপন লাগিল স্বপনে তাহার
পিপাসিত লােমকূপে।
‘গজল কবির’ নব সুরে গানে
চুইলাে প্রণয় ক্ষুধা,
বলে মনে মনে, কানাে দু’নয়নে
পরশ দিদিলাে সুধা।
বীণা ও গান শিখালাে ‘আঙুর
‘অমলা শিখালাে নাচ,
চরণে চরণে জড়ানাে রয়েছে
ঠমকে সে নব ধাঁচ।
তােমারে এ কবি যা শিখাবে
“ওমর’, ‘হাফেজ’ বাঁচিয়া থাকিলে
রসিক হইত বেশী,
মেঘদূত আনি’ ‘কবি কালিদাস’
দাঁড়াত চরণ ঘেঁসি।
—তােমারে এ কবি যা শিখাবে সবি
আবছায়া ঢাকা থাক,
কেন লাে ও-বালা সরমে লুকোস্
এখনাে খুলিনি বাক!•••
শয়ন মন্দির
চৈত্র ৯, ১৩৩৯
দিবা ৩-৩১ মিঃ
নিমিষে খেলে’ গেল আষাঢ়ের বিজলী
বামে হেলানাে সিঁথি, কপালে সি দুরদীপ,
গােলাপ খােপায় আঁটা,--নয়নে শিখা-দীপ ;
ঢেউ-তােলা কেশপাশ, ইয়ারিং দেয় চুমি,
অধরে ঈষৎ হাসি জাগিয়া পড়ে ঘুমি' ;
সে-চারুবালা-
ফাগুন-শিশিরে-সেচা ফুলের মালা !
নিতমে পীতম্ শাড়ী,—জমিনে কালাে বুটী,
চপল “কমল” ঘায়ে লকেট লুটোপুটি ;
ও কচি পদতল
জল-চোয়া শতদল,
শিহরণ আনে শুধু যৌবনে ঢলট !
কি জানি কেন বালা খড়খড়ি দিল খুলি,
দেখিনু কোমল করে ফুলকলি আঙুলি ;
এক গােছা সরু চুড়ি গেল সেথা উজলি’,
নিমেষে খেলে’ গেল আষাঢ়ের বিজলী ;
-ও-ফুলবালা ?
হবে না কি বাহুলতা গলার মালা !! •••
শয়ন মন্দির
চৈত্র ১৪, ১৩৩৯
দিবা ৩-১৯ মিঃ
তা’র সান্ধ্যবেশে আতা পরিল ও-চরণ- উজার হইল শিশি ও-চারু কেশে; সাবানে শােভিল ও-বরণ, গলিল হিমানী তা’র সান্ধ্যবেশে ! আতর মাখানাে ওড়নায় রােজ পার্ল পাউডার অঙ্গে চলে ফ্যাসানে সিপার পরে পায়, নিদাঘে আঁচল ভিজে গােলাপ জলে ! । সে-ক্ষীণ কটিতে কেঁাচা শাড়ী প্রতি প্রহরের বদলে যৌবন রাঙায় ; গয়না—প্যাটার্ণ রকমারি নিতি রোমাঞ্চ আনে তা’র ও-দেহ লতায়। সরু যত বিবশ এ হিয়া হয় রাণী, পাঠাইতে ইচ্ছা করে গন্ধ লিপিখানি ! শয়ন মন্দির চৈত্র ২২, ১৩৩৯ দিবা ৫-১০ মিঃ
চোখে চোখ পড়ে গেলে
চষ্টলে রূপ
ঢঢলে কাঁচা
দেই-লতা অনুপম ;
পরশের স্বাদ
শিখে নেবে বলে,
তনু করে ছমছম্ ।
নীলাভ নিচোলে
জরির আঁচলে,
বাঁধিয়া ও-লু-তরী,
জীবন উজানে
উতরােল স্রোতে
ঢলে পড়ে রূপ-পরী।
ও-গোলাপ গালে
সুগােলাপী হাসি
চোখে চোখ পড়ে গেলে,
মাধুরী মিশায়ে
ফুল ধনু হানে
মনােরসে রস ঢেলে।
চোখে চোখ পড়ে গেলে
চকিতে ফিরাতে
সে-চারু-চাহনি
চমকে চাবির গােছা,
মন-গাঙীনের
কূলে লাগে ঢেউ
এমনি নিখুঁত পাছা !
কিছু নিয়ে গেল,
কিছু দিয়ে গেল,
নয়নের আলাপনে,
—মনে হয় চুমি,
ও-রাঙা কপোল
বাতাবী ফুলের বনে!
শরন মন্দির
বৈশাখ ১০, ১৩৪০
দিবা ৯-৩৫ মিঃ
নারী ও নর—কে বেশী সুন্দর ?
নর বিনে নারী, নারী বিনে নর
জগতের চোখে অসুন্দর';
একের মিলনে অন্যের উৎসব
ভরে উঠে সব।
কিন্তু, নারী ও নর
কী চক্ষে চায় পরস্পর ?
কে বেশী সুন্দর ? নারী কিম্বা নর ?
নর পূজিয়াছে রূপ ও-রাঙা চরণ ধরি,
নারী চাহিয়াছে তা'রে উপভােগ্য করি',
উভয়ে উভয়ের মনােমুগ্ধকর,
—তবুকে বেশী সুন্দর ?
এ মহা সৃষ্টির সৌন্দৰ্য ভাণ্ডার হ’তে নর আর নারী,
আসিল কি দ্বিধা হয়ে এ জগতে অৰ্দ্ধাৰ্দ্ধ রূপের অধিকারী?
নহে, নহে, নহে
কখনও নহে;
মৰ্ম্মে শুধু এই ধারা বহে
নারী ও নর—কে বেশী সুন্দর ?
তবে কেন বলে নারী—প্রাণ প্রিয়তম !
নয়নে সুন্দর তুমি মম ?
কেন নর বলে—প্রিয়তমা,
রূপের প্রতীক তুমি সর্বপ্রথমা ?
কী বাঁধনে বাঁধিয়াছ নর ও নারীরে ভগব।
রূপের কী মহা-আকর্ষণ !
এইরূপ পরস্পরে পূজা
যায় যদি খুজা,
প্রতীতি জন্মিবে ঠিক রূপের পূজারী তা’রা নহে;
যৌবন জোয়ার-গাঙে যে ধারাটী বহে,
তারি লাগি’ ’রা ইহা কহে।
লসার অগ্নিশিখা বাদ রাখি’ বল বন্ধুবর,-
কে বেশী সুন্দর ?
?
কহিতে কি পারি,
ওগাে, নারী ?
সৌন্দর্যের সেরা-ভাগে তুমি অধিকারী।
লয়ে তব সৌন্দর্য্যের কণা
ও-ললনা ?
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
পুরুষ খেলে নি শুধু যৌবনের খেলা ;
কত বেলা,
ব’য়ে গেছে শিল্পীর ফুটাতে চারু আঁখি,
ও রাঙা কপােল তব
পীন-পয়ােধর নব,
চিত্রকর ফুটাইছে আলজ্জা ঢাকি
আধা রাখি’ বাকী।
৫
তােমার প্রতীক যেথা পারে নি পৌছিতে,
সেথা তুমি ফুটে আছ—কাব্য ও গীতে ;
স্বভাব-সৌখীন কবি—
তব রূপ লােভী
চয়ন করিয়া কত আঁকিয়াছে ছবি ;
মিলন মন্দিরে বসি’ প্রণয়ী যুগল,
তােমার অনঙ্গ-রূপে আনন্দ-পাগল।
1
পুরুষে কি রূপ নাই ?
কেমনে বলিব আছে নারী তুলনায় !
সৌন্দৰ্য্য সৃজিতে শিল্পী তারে আঁকে নাই ;
চিত্রকর ধরে নাই তুলি,
কবিও লেখেনি কিছু খুলি।
.
৭০
নারী ও নরকে বেশী সুন্দর ?
পুরুষের রূপ কিন্তু আছে,
সেটা শুধু রমণীর কাছে ;
রমণীর শিল্পে নহে,—রমণীর চিত্রে নহে,
রমণীর কাব্যে নহে, প্রিয় !
জানিবে কী—ও ?
নারীর চকিত চক্ষে
যৌবনের পথে তার লক্ষ্যে ;
হেথায় পুরুষ-নারী রূপে নহে কম,
কেহ দেখে অনুপমা, কেহ অনুপম !
মধু কণ্ঠে জাগে কার স্বর ?
নারী সৌন্দর্য্যের মােরা, নর—অর্ধেশ্বর ;
রমণী যত না রূপবতী,
আমরাই গড়িয়াছি রূপ তা’র অতি ;
আস্তা আঁকিয়া ও-চরণে,
শাড়ী রঙাইয়া ও-পরণে,-
মণি-মুক্তা হয়েছে 'উজার,
ফুটাতে চামিমা তা’র পরাইয়া গলে চারু হার !
—এ কথাও নহে,
মনে মনে মন মােরে কহে ;
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
“সুন্দরী নারীর আখ্যা নরের “সুন্দর” আখ্যা নহে।
নগ্ন করে দাও নারী-রূপ, খুলে ফেলল
মণি, মুক্তা, মালা,
তবুও পুরুষ চেয়ে ফুটিবে রূপের
তা’র আলা!
ও-লাল কপোল !
কচি কচি চরণ যুগল !!
কে পেলাে সুন্দরতর,
নারী কিম্বা নুর ?
কান্তি কার কমনীয় ?
কণ্ঠ কার রমণীয় ?
কে পেয়েছে রােম-শূন্য ঊরু, বক্ষঃস্থল ?
সুএ কার,বল্ বন্ধু বল্ ?
কে কোমলা,কে সরলা—ব খুলে বল্।
ঢেকে রাখি’ ছল।
*
রমণী রম্য হ’ল সাজে ?
মনে নাহি রাজে!
স্বভাব-সুন্দর যেই সজ্জা লাগে তার,
পরাইতে নাহি পার, -সে লজ্জা তােমার।
*
৭২
নারী ও নরকে বেশী সুন্দর ?
কি বাঁধনে নরনারী বাঁধা আছে ভাই,
নর পাইয়াছে যাহা নারী পায় নাই !
তারি লাগি পরস্পরের টান,
তারি লাগি’ জগতের কবিতা ও গান ;-
তরুণ-কটাক্ষ বিনা উৎসব সভার কভু জাগে নাকো প্রাণ!
নর হ’তে নারী
দূরে
রাখো,
নারী রাখি’,—মরে যদি ঢাকো,
এ জগৎ হবে হায় ! ক্রন্দনের লীলা,
নিখিল আনন্দ যত নরনারী মিলনের অনন্ত অছিলা?
মহান সৌন্দৰ্যসৃষ্টি দ্বি-প্রকারে ভাগ !
চোখে চোখে জাগে তাই মহা অনুরাগ ।
শয়ন মন্দির
জ্যৈষ্ঠ ২, ১৩৪ ০
দিবা ৩-৪২ মিঃ
'৭৩
নিখিলের সৌন্দৰ্য্য উজার,
কভু কি হয়েছে একাধার ?
নিখিলে,—সৌন্দর্য্যের অভাব কী আছে ?
নয়নে সুন্দর,শ্রবণে সুন্দর,-গন্ধে সুন্দর,
আস্বাদে ও পরশে সুন্দর,
কত দ্রব্য আছে,
মন যার ছুটে পাছে পাছে ;
সৌন্দর্য্যের অভাব কী আছে ?
নিখিলের সৌন্দৰ্য্য উজার, কভু কি হয়েছে একাধার ?
রূপ শুধু ফুটে’ ফুটে’ ডাকে,
ফুল্লপত্রময় ওই গােলাপের শাখে ;
সুন্দর কত নয়নে,
মধুর গন্ধ চয়নে,
নয়ন ও নাসা মাের চায় তারে কাছে ;-
সৌন্দর্য্যের অভাব কী আছে ?
জানালার কাছে বসি’ বসি
এক মনে চাই যবে ইন্দু-রূপসী,
জোছনায় ভরে বুক,
ঝরণায় গলে সুখ,
নয়ন ও দেহ মাের চায় তারে কাছে ;--
সৌন্দর্য্যের অভাব কী আছে ?
তটিনীর শ্যামল-অঞ্চল,--
আষাঢ়ের কচি কচি নব দুবাদল,
নয়নের নয় তৃপ্তিকর ?
পরশে নয় কি সুন্দর ?
বৈকালিক ভ্রমণে মন সেথা নাচে,
পেতে চাই কাছে ;-
সৌন্দর্যের অভাব কী আছে ?
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
কার কণ্ঠ,বাজে বীণাখানি ?
সে কি নয় ফুলে-ঢাকা স্বরগের রাণী !
কি জানি কে রাণী—শুধু মানি,
স্বপ্নালস প্রাণ ;-
অমৃত মন্থন করি’ সে বীণার তান :
ঐ গান, ঐ তান,—এই প্রাণ
আরাে চায় কাছে ;-
সৌন্দর্য্যের অভাব কী আছে?
ফিরে ঘুরে’ জিজ্ঞাসে এ মন,
কি আনন্দ আনিয়াছ চন্দনের বন?
-গন্ধ ও পরশ এক সাথে,
নিদাঘের রাতে
ডাকিয়া—মাখিয়া লও কাছে ;-
সৌন্দর্য্যের অভাব কী আছে ?
আষাঢ়ের “ফজলী” রসাল
কী সঞ্চিত রসে রসে ভরে উঠে গাল !
আস্বাদন রূপ ধরি’
জিহ্বায় পড়িল ঝরি’,
বুক নাচে, মুখ নাচে,
ক্ষুধা ভাবে-সুধা রহিয়াছে ;
সৌন্দর্য্যের অভাব কী আছে ?
প
নিখিলের সৌন্দৰ্য্য উজার, কভু কি হয়েছে একাধার ?
তবু,
নিখিলের সৌন্দর্য্য উজার,
কভু কি হয়েছে একাধার ?
কোন ফুলেরূপ আছে,-গন্ধ নাই,
গন্ধ আছে,—রূপ নাই,
কেহ শুধু রূপে গন্ধে ভরা ;
ইন্দুর রূপ আছে,---স্পর্শ আছে,
শব্দ গন্ধ নাই,
এমনি গড়নে সেটা গড়া।
সঙ্গীতে আছে রঞ্জন ধ্বনি,
“জল-তরঙ্গের” কী মুগ্ধ কাহিনী !
শব্দ আছে কাণে,—স্পর্শ আছে প্রাণে,
বুকে বুকে কই ?
চন্দন কহে স্পন্দন তুলি’-
গন্ধ ও পরশ ছাড়া আমি কারাে নই।
রসালে রস আছে,---গন্ধ আছে, আছে আস্বাদন ;
ইন্দ্রিয়ের অন্য তৃপ্তি সব অচেতন !
তাই বসি’ ভাবি বারে বার,
নিখিলের সৌন্দর্য্য উজার,
কভু কি হয়েছে একাধার ?
সে কোন্ বিচিত্র সৃষ্টি নিখিল সংসার ।
৭৭
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
বন্ধু,লজ্জা আসে মনে,
কহি শুধু কাব্য কথা সনে,
সে কি নারী-নয় !
নিখিল সৌন্দর্য্য সেথা হ’ল সমন্বয় !
নয়নে কুমোপম,
শ্রবণে সঙ্গীত সম,
তঙ্গ ও তুলকায় গন্ধ খসি’ ধায় ;
চুনে অত সৃষ্টি, পরশে আনন্দ বৃষ্টি,
বেড়শীর সম কে ধরায় ?
তাই নারী পুষ্পময়ী, গীতিময়ী,গন্ধময়ী,
স্বাহ-স্নিগ্ধময়ী ;-
পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের ভোগ্যা সঙ্গ দিয়া,
যৌবনের তীরে বসি’, রঙীন এ চিত নিয়া রহিনু বসিয়া!
রামচন্দ্র বাণামনির
জ্যৈষ্ঠ ২৮, ১৩৪ ০
দিবা ৪-৫ মিঃ
৭৮
কে মজিল রূপ নিরখি’ ।
(গান)
বুকের ব্যথা
বুকে রেখে,
সরম যদি
লাগে সখি,
তবে কেন হয় !
দিবা নিশি
চোখে চোখে
মাখামাখি ।
তাঁখির কোণে
পরাণ হানে,
মরম ব্যথা
মরমী জানে ;-
কে চাহিল
মুখের পানে,
কে মজিল
রূপ নিরখি!
বামন্দ্র বণীমন্দির
মাঘ ৯, ১৩৩৮
দি। ৩-৩০ মিঃ
কী মধু স্খলিত হয় নয়নে নয়নে।
একা মাের নহে ভালবাসা,
বালিকার অঙ্কুরিত প্রণয়-পিপাসা।
সখা, জীবনের এই সন্ধিক্ষণে,
কা মধু ঋলিত হয় নয়নে নয়নে ?
কত আশা,প্রেম-ভালবাসা,
মুকুলিয়া উঠে ক্ষণে ক্ষণে ;
অপূর্ব সে পূর্ববরাগে
পরস্পর মুখ-ছায়া পড়ে মনে মনে।
লুটিতে—শুটাতে চায়,
ফুটিতে—ফুটাতে চায়,
ভাসিতে-ভাসাতে তায়,
প্রণয়ের ভাব-দরিয়ায়
অনন্ত স্বপন জাগে জীবনের এই প্রতীক্ষায়
ta
কী মধু স্খলিত হয় নয়নে নয়নে
যদি, ঈষৎ ঘুচাতে পারি দুখ,
দোষ কি চুমিতে হাসি টু ?
যদি, চলিয়া সে পায় কিছু সুখ,
কেন পাতিয়া দিব না ভরা বুক ?
তা’র পাদ-পদ্ম দিয়া,
এহৃদি-পদ্ম মাের যাক্ না সে দলিয়া দুলিয়া ;
মাের বক্ষ ঘৰ্ম্মে তা’র অলক্তক রেখা,
ভৃগুপদ চিহ্ন সম থাক্ চির লেখা!
সখা, জীবনের এ শুভ লগনে,
কখন কাহারে কি বাসিয়াছ ভাললা ?
কখন কি ভাবিয়াছ—
তরুণীর চোখ দুটী কেমন রঙাললা ?
করুণ নয়ন প্রান্তে
প্রতিমার রূপ-দীপ্ত ছবি,
কখন কি করেছে তােমায়
চির ভাব-মুগ্ধ কবি ?
প্রাণের স্পন্দন তব
তা’র আঁখি সনে গেছে মিশি’,
সেই রূপ-জয়ােল্লাসে, কেটেছে কি
জীবনের কিছু অর্ধনিশি ?
?
৮১
৩
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
সখা, বল, কেহ নাই বল ?
কভু কি লেগেছে ভালাে রূপ ঢলঢল ?
তবু, পাওনি পরশ ত’র—ওগাে, পরশ না পেয়ে,
দাঁড়ায়ে দেখেছ দু’য়ে, শুধু চেয়ে চেয়ে !
সখা, তার চেয়ে মিষ্ট নয় কবি,
তােমার মরম তলে আঁকা আছে সবি,
বালিকার আঁখি-মুগ্ধ ছবি !
হে মাের তরুণ সখা, অরুণের রাগ সম লাল ।
যদি—প্রস্ফুটিত নহে তব কাল,
যৌবন মধ্যাহ্ন নহে-প্রশান্ত সকাল,
তবে, ইচ্ছা করে মনে
আজি এই কাব্য-কুঞ্জবনে,
প্রতীক্ষার সুখাস্বাদ কহি আলাপনে।
হয় ত একদা ইহা বুঝিবে গােপনে।
আজি মাের জীবনের পল ও বিপল,
ফুলগন্ধ মুখরিত উৎসব-চঞ্চল ।
প্রত্যেক প্রহর,
ভাদর গাম্ভীনের অনন্ত লহর !
আর হস্তাগুলি,
রামধনু-রঙে-ভেজা সপ্ত তুলি ।
৮২
কী মধু স্খলিত হয় নয়নে নয়নে
প যৌবন তব,
মাের যৌবন সম,
ওগাে প্রাণ-প্রিয়তম সমধর্মী মম ?
যদিচ যৌবনে তব হয়ে থাকে
প্রণয়ের নব সুপ্রভাত,
মুকুলিতা বালিকার ঘন ঘন নম্র আঁখিপাত,
তবে ত অঙ্গে তব বসন্ত উদয়,
বুঝিতেছ সুখাঙ্কুর কি আনন্দময় !
সেথা কি ফুটে না ফুলবন ?
বহে না কি মলয় পবন ?
উঠে না কি কোকিল-কাকলী ?
বালিকার রূপ দলি-বলি’
চলিতে চাহেনা সেথা নিঃশব্দ চরণ,
ইন্দুর কিরণ সিক্ত বাসর শয়ন!
তারপর—যদি মিলে দুইটী যৌবনে
জীবনের মাহেন্দ্র লগনে,
দিও না সে প্রেমিকারে প্রণয়-চুম্বন,
যতক্ষণ না করেছ এই কাব্য দিয়া’র চরণ বন্দন!
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
এতাে নহে শুধু কাব্য গান
প্রাণ-নিঙড়ানাে রস প্রণয়ের বান
দু’জনে কি দিবে না সঁাতার ?
মিলন-কটাক্ষ মাঝে পড়ি’ একবার?
উদ্ভ্রান্ত-প্রেমের এই নব আবিষ্কার ।
তােমার-কটাক্ষে ওগাে ছবি ।
কেড়ে নাও সবি,
অকবিরে করে দাও কবি ।
শয়নমন্দির
আষাঢ় ১৯, ১৩৪ ০
দিবা ১-৫৪ মিঃ
৮৪"
তুলবে
রূপকণা তার দেখনু চারু শিল্পাগারে
আজিকার আলাপনে টাবাে কি আপনা?
প্রণয়ের শতেক-রঙা কল্পনা।
ধীরে ধীরে,
পরাণ চিরে,
ললিত সুরে,
অন্তঃপুরে
কি সুর মূচ্ছনা?
ভাঙবো কি আজ আপন মনের আনমনা ?
রূপ-কণা তার দেখনু চারু-শিল্পাগারে,
সরমে সরে যেতে আধেক দ্বারে ;
নিটোল কায়া,
ঈষচ্ছায়া,
জরির আঁচল
রূপ ছছল,
সােহাগ লুটে বুক-ভারে;
দীপ শলাকা রঙ খেলে যায় আঁখির পারে ?
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
তরুণী কি থি থাকে পটোল-নয়ন ঘায়ে ?
তা’রে যে রূপ-সায়রে মূরছায়ে ।
স্তব্ধ আঁখি
ক্ষণেক থাকি,
আপন মনে,
সঙ্গোপনে
বিলায় দিঠি চুপ-ঠায়ে
এই বসন্তের ব্যাকুল-চুমা ফুল-বায়ে !
ধীরে ধীরে বাতায়নে কখন বা চুল খুলে,
তার অঙ্গ সকল চুলে ;
পড়ে—“চয়নিকা”,
রূপ নায়িকা,
হঠাৎ রাখি’
সােহাগ মাখি’,
দৃষ্টি করে—“বুলবুলে”,
বল কবি কাব্যে শুধু এ সময়ে মন ভুলে ?
রূপ-কণা তা’র দেখনু চারু শিল্পাগারে
বঙ্কিমের “বিষবৃক্ষ” বক্ষমূলে মূল গাড়ে,
শরৎ, মন গড়ে ও চুরমারে ;
সে-রাঙা মন,
করতে চয়ন
মন যে আমার
খুলছে দুয়ার
ঈষৎ ঈষৎ চোখ-ঠারে,
আর কত দিন রইবাে ভাবের তােলপাড়ে ?
আজ কিরে তার কুঞ্জবনে নামবে সাঁঝ ?-
বাজবে বালার বীণ-এস্রাজ ?
সরম টুটে
মরম ফুটে,
উঠবে গান—
কণ্ঠ তান,
ঢেউ দুলাবে মনের মাঝ !
হৃদয়ের দলগুলি সব খুলবে ভাজ !
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
হয় ত কবে এক মালঞ্চে উঠবাে ফুটি’,
রূপ হেরে’ গােলাপ পড়বে লুটি
উঠবে হিয়া,
রােমাঞ্চিয়,
চুমু চুমােয়,
রুমুঝুমােয়,
বাহুর পাখায় মিলবে দু’টী,
ভরা-বুকের পাল তুলে’ তরী চলবে ছুটি’, !
—সেই প্রভাতের অল্প বাকী,
যে দিন কমল মেলবে আঁখি।
শয়ন মন্দির
শ্রাবণ ১২,১৩৪ ০
দিবা ১-৩০ মিঃ
গীতাঞ্জলি দিতেছিল বালা কে জানে কাহার পানে, অর্ধ- ইজ্জ্বল-শুভ্র অর্জ নিশীথে সুধাকণ্ঠে তার মন প্রাণ, নিজমনে গীতাঞ্জলি দিতেছিল বালা; চয়ন করিয়া একখানি, আনি’ তার মাঝে সাজাইনু এই কাব্য ডালা।
কবির স্বপ্ন-সুষমা
ছন্দে ও গানে
(গান)
শয়ন মন্দির মাঝে,
তােমার মােহন মূরতি খানি
হৃদয়ে সতত রাজে!
এস ভাঙি মাের দুখের কারা,
মরমে ঢালি’ গে সুধার ধারা,
কুসুমিত কর এ নবজীবন
নয়ন-শােভন সাজে।
গগনে উদিত শশী,
দীরঘ যামিনী কেমনে যাপিব
নিরালা নিঝুম বসি' ;
সমীর সুবাস দিতেছে আনি
মূরছি’ পরাণ খানি,
এস ফিরে এস দেবতা আমার
আজিকে এমন সাঝে
শয়ন মন্দির
জ্যৈষ্ঠ ২৬, ১৩৩৭
রাত্রি ১১-৪৮ মিঃ
৯০
অহাে কণ্ঠ ।
অহাে কণ্ঠ -কেমন ও কণ্ঠ তার বঁধু
লিপিকায় ফুটানাে কি যায় তাহা শুধু ?
অনুভূতি মূলে তাহা ক্ষরে ধারা মধু!
ওই কণ্ঠে নব নব মৃদু সম্বােধন !
ফুকারি’ উঠিয়া তা’র বিকচ যৌবন।
করিবে কি এ হৃদয় শান্তিনিকেতন ?
‘প্রিয়তম’ ওই কণ্ঠে বাণী ‘প্রিয়তম
কী অপূর্ব রাস-রসে ভরি’ অনুপম,
নিষিক্ত হবে কি হিয়া অমৃতের সম ?
আর ‘প্রিয়তমা’ বাণী—মাের কণ্ঠখানি,
বেসুরা ও কণ্ঠ পার্শ্বে হবে তাহা জানি ;-
কিম্বা কড়ি কোমলেতে দিবে গীত টানি ?
.
রামচন্দ্র বাণীমনি
শ্রাবণ ১৫, ১ ৪ ০
দিবা ৪-৩০ মিঃ
৯১
তার কি এমনি করে মন ?
সে কি
যার লাগি আমার এ মন—এমন,
তার কি এমনি করে মন ?
একটী নিশার তরে
কভু স্বপ্ন ভরে,
মাের মুখ পানে চেয়ে চায় আলিঙ্গন ?
অথবা প্রহর গতে,
ফুলশয্যার পথে
মনের মুকুরে তার জাগে এ বদন ?
অতৃপ্তি মিটাইতে
একটী চুম্বন !
মাের আঁখি-কথা কিছু করে না চয়ন
একাকী সে করিয়া শয়ন ?
যখন পালঙ্ক পরে
যুথিকার গন্ধ ঝরে
ইন্দুর কিরণ নামে ঝিমাতে নয়ন!
তখন ও দেহ-লতা
চাহে না সরম-কথা ?
আনাে আনাে বুকে মাের নিবিড় বন্ধন,
এক আলিঙ্গন আর
শতেক চুম্বন !
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
শ্রাবণ ২৩, ১৩৪ •
দিবা ৫-৩০ মিঃ
বেশী ত কথা কিছু নয় !
বেশী ত কথা কিছু নয়,
সে যদি আসিত এ সময় !
একবার দেখিতাম চোখে ;
কহিতাম নাহি “দুটী কথা!”
তারপর চলিয়া সে যেত যথা-তথা।
একটা গাইত নাহি গান !
পাতিয়া দিতাম এই কাণ;
হরিণ শিশুর মত চাহি,
বতাম—“একটী আর বালা”,
তারপর হ’ত নাহি বিদায়ের পালা।
হয় ত দিতাম “দু'টো খিলি,”-
নিজেই তা করিতাম বিলি ;
কহিতাম,—“দিব সরবৎ ?”
কথা শুনি’ দিত মৃদু হাসি,
তারপর সে নাহি বলিত “তবে আসি”।
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
একটু, নাচিতে বল্লে হতাে,
—না থাক্,যদি সে লজ্জা পেতে।
তাও না,—শ্রান্তি আসিতে পারে।
—না হয় দিতাম শয্যা পাতি’ ?
“যেতে হবে” হয় ত বলিত এই রাতি
যখন যাইত সে চলি',
প্রাণ মাের করিত বিকলি ;
শাড়ীতে দিতাম মৃদু টান,
হয় ত হানিত নয়ন বাণ
“কিছু না কিছু না” বলিতাম
“শুধু হাওয়ায় গেছে ভাসি”,
যদি বুঝিত সে,—বলিতাম “ভালবাসি।”
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
শ্রাবণ ২৪, ১৩৪০
দিবা ৮-৩০ মিঃ
৯৪
কি প্রকারে আসিতে সে পারে ?
হায়, কল্পনা শুধু, মনের কলসে ঢালে মধু !
মাের পুরদ্বারে,
কি প্রকারে আসিতে সে পারে ?
সে নারী, আমি নর,
দেখা হলে পরস্পর,
লাজে লাজে হই মর মর ;
তাই, বিরহী যক্ষের বক্ষ নিয়া
রহিনু বসিয়া ;
যার ছবি
ভারতের কবি,
মহাকল্পনায় হেরি’ রঙাইল কাব্য-সুধারসে,
কোন আষাঢ়ের এক অগস্ত্য-দিবসে।
যৌবনের যত প্রেম কলি-সম উঠে,
তাই কি পূজায় লাগে
পুষ্প হয়ে ফুটে ।
কত ঝরে মুকুল বেলায়,
তবে কি এ তাই
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
সাধের শৃঙ্খল বল কে পরিত পায়,
এ কথা জানিলে আগে ভাই।
তাই বা কেমনে বলি
সাধ করি’ এ মরম তারে দিনু বলি
ধনীর নগর, পথিকের পথ, মানুষের প্রেম
একদিনে উঠে না ত গড়ে ;
জন্মের দিবসে তারা কারুর ত
পড়ে না নজরে ;
সময়ের অন্তে দেখি উঠেছে নগর, পড়ে গেছে পথ,
ভরে গেছে মন চিত্তের অগােচরে
জব চার্ণ যবে প্রথমে করিল বাস
ফেরুপাল মাঝে,
সে দিবস কেউ কি ভাবিল, বিজলী জ্বলিবে সেথা
একদিন সাঁঝে ?
তােমার প্রথম পদ যে দিন পড়িল ওই
শ্যাম-শপ দলে,
কে জানিত সেথায় পড়িবে রেখা
সবাই চলিবে পথ বলে ।
প্রথম দেখিয়া তা'রে চোখে লেগেছিল ভালো।
এ বই ত আর কিছু নয়,
কি প্রকারে আসিতে সে পারে ?
তারপর অলখিতে চোখে চোখ পড়ে গিয়ে
মন প্রাণ হ’ল মধুময় !
তারপর এতটুকু হাসি,—একটুকু দান,
ঈষৎ আড়াল থেকে,
গােপনের সেই গবেষণা ল’য়ে, ধীরে ধীরে
মন গেল বেঁকে।
তারপর চোখের খুঁজিতে ভাষা
মন করে নিতি আনা গােনা,
এই নিয়ে কবি,—এই নিয়ে কাব্য,
প্রণয়ের সুরু আলােচনা ;
সাধের শৃঙ্খল নয়—এ বড় বিস্ময়,
কখন জড়ায়ে গেছে নাই পরিচয়।
তরুণ-অরুণ সম কৈশােরের পহেলা ফাগুন দিনে
ভেবেছিনু ভাই,
রূপ-সীমন্তিনী আসি’-যৌবন-দহন দেহে ফুলমালা
পরাবে গলায় ;
সে শুভদৃষ্টির মাঝে সাহানারে রূপ দিয়া
বাজিবে সানাই,
ভাদৰবন্যার স্রোত হৃদয়ে বহিয়া, পূর্ণ হবে শূন্য বক্ষ
কানায় কানায় ;
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
রত্নসম যত্ন করি’ তারি লাগি’ রেখেছি
অনিন্দ যৌবন,
ছিড়িনি শৃঙ্খলা কিছু,—তা’র হাতেই প্রথম লইব পান
এই ছিল পণ। :
শুধু,একটা কোরকে ঢাকা রূপ, ছিল মাের
চিত্ত-কল্পনায়,
সে পুণ্য দৃষ্টির আগে, মূর্তিমতী হ’ল, হায় !
এ ফুল বালায় !
শত উৎসব মাঝে, তারি কথা মনে পড়ে,
শত কাজে তারি মুখ রাজে;
শত সঙ্গীতে তাহারি চরণ ধ্বনিছে
h
বুকের মাঝে ।
তবু পাইব না ?—পুড়াবে এ মন মাের !
কিবা ক্ষতি তায় ;
নারীর দহন কীৰ্ত্তি জগতের ইতিহাসে
অঘােষিত নাই !
হেলেনা পুড়াল ট্রয় রূপের আগুন দিয়া,
লঙ্কাদগ্ধ রূপেরই লাগিয়া,
কৌরব বিন্ধিলে লক্ষ্য, ভারতের যুদ্ধ গেলে
যেতও থামিয়া !
কি প্রকারে আসিতে সে পারে ?
পদ্মিনী পুড়িল নিজে, পুড়াল চিতাের ;
রূপানলে ধ্বংস সুন্দ উপসুন্দ জোড় !
বুঝি সব, জানি সব ;-পতঙ্গ-প্রমত্ত মন তবু দাবাগ্নির
পানে ধায়,
ভাদর পদ্মার স্রোত উতরােল কলক ছুটে যেতে
চায়,
সৌন্দর্য্যের সেই ঠিকানায়।
আসিতে কি দিবে তারে—
মাের পুরষ্কারে ?
দাওনা আসিতে তারে
মাের কাব্যাপারে ;
সে যে কাব্যময়ী
-আমি তা’র কবি,
তার সাথে আলােচনা করিতাম সবি ।
উর্বশীবিদায় ক্ষণে রাজা পুরূরবা যে-পিপাসু আঁখি দিয়ে
চেয়েছিল তারে,
জনমের মত বারে বারে,
সে আঁখির অন্তদৃষ্টি বুঝাতাম তারে ;
বল্পিতাম—তার চেয়ে ক্ষুধিত, তৃষিত আঁখি
আরাে কারো আছে,
কাব্যময়ী চিনিত তা’ মাের আঁখি-নাচে।
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
বনশাখা মাঝে হেরি’ নিতম্ব-কুন্তলা,
আশ্রম-বালিকা শকুন্তলা,
দুষ্মন্ত যে মন নিয়ে
ফিরেছিল দ্বারে,
তেমনও মন আছে
বুঝতাম তারে ;
কাব্য আছে,—কবি নাই, ফুটাইবে তা’য় ।
বালা কি চিনিত হিয়া অনুভূতি ঘায় ?
আষাঢ়ের মেঘদূত—যক্ষবক্ষধন
সেই সৌন্দর্য্যের রাণী,
তা’র রূপকথা কাব্যে আনিতাম টানি,
বলিতাম—এর চেয়ে যে রূপসী এ জগতে আছে
সেই চারুবালা মাের আজ এত কাছে!
রূপে রূপ মিলাইতে গিয়া
লজ্জায় রঙিত তা’র আরক্ত কপােল,
অচুম্বনে আনিতাম চুম্বনের দোল !
শিশুর ভূগােল পড়া মত
মানচিত্র
সম্মুখে
রাখিয়া,
করিতাম কাব্যপাঠ মানস-প্রতিমা-রূপ
নয়নে ধরিয়া ।
কি প্রকারে আসিতে সে পারে ?
হায়! শুধু এক ব্যথা বাজে
আজিকার সঁঝে,
আসিতে কি দিবে তারে মাের মন্দিরে ?
কেহ জানিবে না, কেহ শুনিবে না,
বাজিবে না ধ্বনি তার চরণ মঞ্জীরে !
,না,নরনারী মিলনের শত অন্তরায়,
একমাত্র ছায়াপথ বিবাহে জন্মায়।
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
ভাদ্র ১৫, ১৩৪০
দিবা ২ ঘটিকা
তবুও তাকায়ে থাকি { সে ত আশ্বিনে নহে;- যখন -শেফালি বালা বিছায় আঁচোল, অপরাজিতার চাহনি পাগােল, শ্যাম-লতা ফুলে গন্ধ-উতােল, আকাশে, বাতাসে, সুহাসে, সুভাষে নিখিল জনের চিত্ত মাতােল সে ত আশ্বিন :—সে ত আশ্বিনে নহে। । যখন- তটিনী করে তটের খেলা, গােধূলে সখী ভাসায় ভেলা, নাগর দোলা ঢেউয়ে দু’বেলা, ভয়, ভরায়- ডুবায়, হারায় তরুণী-বিহীন মন একেলা সে ত ভাদ্র :সে ত ভাদ্রে নহে। ১০২ তবুও তাকায়ে থাকি এত ক্ষীণ মৃদু কিসের জল ? নব নায়িকার ঘরম দল ! কোন্ মিলনের মতির ফল, বলনা, কহনা, ছলনা, ললনা ! চাহিছে ভিক্ষা, পরাণ কমল ;- সে ত হেমন্ত সে ত হেমন্তে নহে। আকাশে যখন ঝরণা গলে, বিরহ মাতায় বুকের তলে, রজনীগন্ধা প্রাণ পাগলে, উঠিতে, বসিতে, শুইতে,—নিশীথে চারু-হিয়া তা’র মন উথলে সে ত আষাঢ় :—সে ত আষাঢ়ে নহে। লেপের তলে বুক নিঝুমে, কাহারে খুঁজিয়া আধেক ঘুমে, থাকিত যদি রে এ-মরশুমে, এ হিয়া সে নিয়া, ফিরিয়া, ধরিয়া মাতিয়া উঠিত মিলন-চুমে— সে ত শীত :—তখনও নহে। যখন- }
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
তারপর বুকের আগুন,
জাগলাে আবীর দোলের খুন,
তরুণী-তরুণ ফুটাছে তৃণ,
এ-ফুলে, ও-ফুলে,
মুকুলে, কোকিলে
মাতিছে কবি, ফুলের ফাগুন ;
তখন :—তখনও নহে!
তারপর আধা রহিল বাকি,
ফটি জলের শুষক ফাঁকি,
কোন্ ভরসায় প্রিয়ারে ডাকি।
সরমে, মরমে—
চরমে, গরমে
রূপের বাতি গলিবে নাকি ?
এ যে নিদাঘ :—এখনও নহে।
তবুও যা কিছু রয়েছে বাকি,
তারি পানে তাকায়ে থাকি ;
হায়রে আশার এনি ফাকি।
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
ভাদ্র ২৩, ১৩৪ ০
দিবা ৯:৩০ মিঃ
এস,এস বালা হাসি মাখিয়া ।
আমি,
শেফালির বনে মন বিছাইয়া
আশিনে রহিনু চাহিয়া,
থল-কমলের সজল বরণে
তাহার বরণ স্মরিয়া ;
ভুলিয়া রহিনু শারদোৎসব,
জেগেছে বাসনা, বেদনা প্রনব,
বধূ মিলনের মধু কলরব
নামিছে থাকিয়া থাকিয়া,
এস বালা হাসি মাখিয়া ।
এস,
ভাদর-গঙ্গায় ভাসিলে ঢেউ
নাচায়ে পাত্সী তরণী,
তােমার আশায় গাইনু ইমন
উষার-আলােক বরণী ;
চল-নদী জল কল কল কল,
এস ভাসাইবে অঙ্গ-তরল,
আঁখিতে তাঁখিতে হানিয়া অনল
জ্বালায়েছ মন ধমনী,
কমল গন্ধ-ভরণী ।
প্রিয়
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
হেমন্তের বনে কত যে ফিরিনু
ঊষার আলােকে আলােকে,
কত গাথা গান নিয়ত রচিনু
নব ছন্দের শােলকে ;
শিশির সিক্ত দূৰ্বা-শ্যামল
যদি তাহে পড়ে ও-পদ কমল,
সেই পদচিন্ ছায়া সুকোমল
ধরিতে শিহরি’ দু’চোখে,
পুলকের দেবি ভূলােকে !
প্রিয়া,
আষাঢ় ধারার বিরহের মাঝে
আসিত কখন সে-যদি,
প্রেম সরােবর ভরিয়া ভরিয়া
পাথার বহিত ও-নদী ;
হয় ত ফুটিত অর্ধ-কেতকী,
সলিলে ডুবিত দগ্ধ চাতকী,
রজনীগন্ধা উঠিত চমকি’
নিশীথ হিয়ার দরদী,
অমিয়া প্রেমের অবধি।
৮
নাই—
এস,এস বালা হাসি মাখিয়া
শীতল নিশীথে ককনে শীতে
এস নাই মনােরঞ্জন,
হিয়ায় হিয়ায় ঘর্ষণ দিয়া
তুলিতে অনল স্পন্দন ;
দীরঘ নিশীথ-নিথর নিঝুম,
কোথায় রঙীনা—কেন হবে ঘুম ?
আঙুর-রসাল অধরের চুম্
হানিয়া নয়ন-খঞ্জন,
জড়ায়ে বাহুর বন্ধন !
কত,
ফাগুনের পথে ফাগ, ছড়াইয়া
রক্ত করিয়া আঙিনা,
পিচকারী-রঙে শাড়ী ভিজিত যে
মাসিত যদি সে রঙীনা ;
সে—হেঁটে গিয়ে ঐ ফাগে ফাগে,
তুলিত গােলাপ, গােলাপের বাগে,
পরাইত মাল সন্ধ্যার রাগে
হইত জীবন-সঙীনা,
বাসরে বাজায়ে ও-বীণা !
১৭
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
ফুল শুধু খসে খসে পড়ে গেল
মলয়ের মধু পবনে,
বাতাবী শুধুই গন্ধ হানিল
চাদনী-চকিত গগনে ;
বাসরে জ্বলিল অকারণ বাতি
এই ত সময় ! পরাণের সাথী।
ফাগুনে আগুন উঠিয়াছে মাতি’
এস মাের চারু কাননে,
প্রিয়া,
প্রণয়-কুসুম চয়নে।
তবুও তুমি ত এলে না,
প্রাণের নির ‘হেলেনা!
ওরে, কবি তােরা ফাগুন লইয়া থাক
আমি, ফিরে যাই নিদাঘে,
তােরা, মধু-মধু শীতে অঙ্গ ঢােলা-
আমি, সন্ধ্যা উষার সােহগে ;
তােরা, কোকিলের গানে কাণ পেতে দিস,
আমি, প্রভাতে শুনিব দোয়েলের শিস,
তােরা, বসন্তের মাঝে-বসন্তে ডাকিস্
প্রিয়ারে আকুল আবেগে,
আমি-
চাহিয়া, গাহিয়া জাগিব রাতি
অধীর উদাস বেহাগে ।
এস—এস বাল হাসি মাখিয়া
তােরা, মলয় হাওয়ায় জুড়াইবি দেহ।
আমি, খখসে দিব ছাইয়া এ গেহ।
আমি, গােলাপের জল বসনে ভরিয়া
মাখিব চন্দন-স্নেহ !
ওরে, কবি তাের ফাগুন-মলয়ে
কয়টী কুসুম ফুটেছে,
চেয়ে দেখ মাের নিদাঘ-অঙ্গন
কেমন মূৰ্ত্তি পরেছে।
বেল-কুঁড়ি সবে খুলিয়াছে আঁখি,
বিকালে বকুল ফুটিয়াছে ঝাকি,
টগরে রগড়, রাখে নাই বাকি,
তরুণ গরবী
রক্ত করবী
মহুয়া গন্ধ ভরেছে,
স্বর্ণ চাপায় মালতী পাতায়
হৰ্ম্ম-কানন ছেয়েছে !
যামিনীর মাঝে কামিনী-খুলিয়া
গন্ধ দিতেছে চুমায়ে,
কুন্দ কহিছে—“সবাই জেগেছে,
র’ব না ত আর ঘুমায়ে ;”
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
গন্ধরাজের গন্ধ কহিছে,
শত শতদল ঘােমটা খুলিছে,
হাস্নার বন পবনে ঢুলিছে
সুবাস ছড়ায়ে ছড়ায়ে ;
নিদাঘের শেষে যুথিকার পালা
কানন-আনন জড়ায়ে।
তা’র মাঝে সে-তুহিন বালা !
আসিবে কি হাতে লয়ে সরুই মালা ?
শুধু, কোকিলের কুহু আর পরাণের উহু নিয়া
থাক্ কৰি তুই বসিয়া,
আমার সাধের লোলুপ কুঞ্জ
গিয়াছে তুরসে ভরিয়া ;
সবুজ পাতায় লিচুর থােকা,
পরেছে সিদুর নাই লেখাজোকা
দু দু করে রসের দোলা
ভােগীর জিহ্বা চাহিয়া,
কবি-
কি হবে ফাগুনে গাহিয়া ?
এস,এস বালা হাসি মাখিয়া
শাখে শাখে আম,-ফলের রাজা,
পবরণে প্রচুর তাজা ;
গন্ধ কঁঠাল গলা, খাজা
রঙ-রঙা রঙ ধরেছে ;
পেঁপেগুলি সব গিয়াছে পাকি’,
জাম কালাে রঙে উঠেছে ঝাঁকি,
ফজলী-রাণীর একটু বাকী
ঈষৎ আড়ালে চেয়েছে।
খরমুজ, তরমুজ দুই বােন—
শান্তি, শীতলা এই গেল চলি’!
সরবৎ তরে দুলিতেছে বেল,
“আমিও এসেছি”—কহিছে কদলী
বাঙলার যত ফুল ফল
নিদাঘেই ফলেছে সকল,
অমৃত বন্টন করি’ করি’
ফিরিতেছে প্রতি গৃহতল !
১১
-
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
1
নিদাঘের ফুল-ফলময় বনে
যদি সে প্রিয়া আসিত,
আপনি সেথায় ফাগুন ফুটিত
শােভন সকলি শােভিত ;
')
মলয় আসিত অঞ্চল বায়ে,
মধু-শীতলতা অঙ্গ জড়ায়ে,
শত কুহুসম গীতটী গড়ায়ে
হয় ত সেথায় নামিত,
ফাগুন বল কে চাহিত ?
কবি,
নিদাঘে তা হলে ফাগুন আসে
ফাগুনে নিদাঘ আসে না ;
নিদাঘের বন মাতিয়া মাতিয়া
ফাগুনে ত কই হাসে না ?
এর উত্তরে যা বলিবে কবি
বুঝেছি তােমার হইয়া,
নিদাঘ কামন ফাগুনেও ফোটে
প্রিয়া দিলে তখি হানিয়া!
১১২
এস,এস বালা হাসি মাখিয়া
প্রথম প্রিয়ার চরণ ধ্বনি
শুনি’, ফুল খােলে আঁখি যে অমনি,
গন্ধে উতলে এ মন তখনি
চরণে তাহার পড়িয়া,
প্রতি ঋতুতেই প্রতি ঋতু নামে
প্রিয়ার পথটী ভরিয়া !
সত্য, প্রিয়-প্রিয়া পৃথিবীর নয়
স্বরগের সে-যে কাহিনী,
অভাবের মাঝে ভাবের মিলন
বন্যার নব বাহিনী ;
প্রথম মিলন পরশে তার,
নিদাঘেও নামে ভাদর-জোয়ার,
পৌষের শীতে কমল-বাহার
এমনি শক্তি দাহিনী,
জগৎ দিয়াছে সাক্ষ্য ইহার
তুমি-আমি শুধু গাহি নি!
যদি, মতিয়া কুঁড়ির মালা
প্রভাতে পরাতে চাই,
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
ফাগুনে কি পাব তা ?
বিকালে বকুল তলে
মুকুলে মজাতে চাই
ফাগুনে কি পাব গা ?
কামিনীর তলে যামিনী যাপিয়া,
টগরের তলে রগড় করিয়া,
করবীর বনে গরবী ধরিয়া
মালতীর মালা পরাতে চাই ;
স্বর্ণ চাপায় প্রিয়ার খােপায়
গন্ধে গন্ধ ভরাতে চাই।
ফাগুনে এ ফুটে না কিছুই,
ফাগুনে ত ফুটে নাকো যুঁই,
চুমিয়া চুমিয়া ঝিমিয়া ঝিমিয়া
মিলিতাম প্রিয়-প্রিয়া দুই ;
শয়ন রচিয়া
বলিতাম—“ও-চরণ ছুঁই।”
কতফুল দিয়া
তার চেয়ে—তার চেয়ে বেশী
করিবারে কিছু মেশামেশি,
১১৪
এস,এস বালা হাসি মাখিয়া
নিদাঘের যত কিছু ফল,
ধরিতাম ও-কর কমল ;
আমের অমিয়টুকু দিয়া
একটী রেকাব শুধু
ধীরে ধীরে বলিতাম—“পিও পিয়া
মন ভােলা মধু!”—
}
পিও, বােম্বের মধু টস,
ন্যাংড়ার স্বাদু-স্বাদু রস,
ফজলীর দেশজোড়া যশ ;-
বেদানার-রস-জমা কচি-কিসলয় ঠোটে তার,
নিদাঘ কী আনিয়াছে ভােগের ভাণ্ডার!
L
r
তােমার ফাগুনে কবি, কয়টী
ফুটেছে বল ফুল ?
সাজাবে প্রিয়ার খােপ চুল ?
কয়টী ফলিয়াছে ফল ?
বিন্ধিবে অন্তর-অন্ততল ?
হরষে বিষাদে বরষ গিয়াছে
আশায় থাকিয়া থাকিয়া,
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
নিদাঘ ক্রমশঃ অস্তোমুখ
সপ্তাহ বাকী রাখিয়া
প্রাণে প্রাণে আজ বহিতেছে ঢেউ
মনে মনে কত ফুটিতেছে হাসি,
চরণে চরণে নাচিতেছে তাল
কাণে কাণে যেন সানায়ের বাঁশি।
কি কথা আজি শুনালে বন্ধু,
গাইলে কিসের গান !
নিরাকার প্রেমে সাকার হইবে
প্রেমের প্রতিমাখান ?
চোখে তাই রূপ জাগে স্তপ স্তুপ,
অঙ্কুরি’ উঠে প্রতি লােম কূপ,
পরাণের সনে আজি চুপচু
পরাণ-প্রিয়ারে আসিতে দাও,
যে ভাষা কহিব,
যে গান গাহিব,
যে পরশ নিব,
যে পীযূষ দিব,
সেই শিহরণ
পুলক-চন্দন,
ভাবিতে, বারেক ভাবিতে দাও;
+ -
১১
এস,এস বালা হাসি মাখিয়া
চুমু ডুবাইয়া
প্রাণের সহিত প্রাণ মিশাইয়া,
আঁখিটীর কোণে আঁখি নােয়াইয়া
অমৃতের রসে
হইব হারা;
খুলে দিব ফুল
তরী দুল দুল
হইব আকুল
শতেক ধারা !
যৌবন আজি ছুটিতে চায়,
বিধাতার দান, রুখিবে তায়।
যৌবন আজি যৌবন সনে
অটুট প্রেমটী বাঁধিতে চায়।
এ নহে কাহিনী,
এ নহে স্বপন,
বাস্তব প্রেমের
রঙীন তপন,
মত্ত মাতন,
প্লাবন বহিয়া
নব-ধন-রসে
হৃদয় ছুটিয়
আসিছে ;
প্রণয়-পাথরে
জোয়ারে জোয়ারে
ফোয়ারে কোয়ারে
রস-ভাণ্ডার
নামিছে।
}
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
কত দূর আর দেরিতে কত,
মুকুলিতা হবে চুম্বন মত ;
এত দূরে নদ-কত দূরে নদী ?
এসেছে দরদ, আয়রে দরদী ।
খুলিয়া খুলিয়া, সাঁতার তুলিয়া
রূপের জোয়ারে সিনান করি ;
।
ওরে, জেগেছে বাসনা, জেগেছে প্রণয়,
রঙমহলের সুরু অভিনয়,
গােপন সব করি’ মধুময়
হৃদয়ে হৃদয় চাপিয়া ধরি ।
h
মাতিয়া মাতিয়া উঠে প্রাণ,
ব্যাপিয়া ব্যাপিয়া কত গান ;
ওরে, জীবন নদীতে উপছিয়া উঠে
যৌবন-ঘন-বান্ !
কি কথা শুনালে বন্ধু !-
গাইলে কাহার গান !
৮
আরে আমি বাসিয়াছি ভালল,-
জীবন-পূর্ণিমার কোজাগরী আলাে !
১১৮
সেই ছবি,
এস,এস বালা হাসি মাখিয়া
দিনে এই পথ দিয়া
আমার নিশীথ-ঘুম দিবে ভাঙাইয়া !
-
হয়ত তখনি ছুটিব,
দু’হাতে কুসুম লুটিব,
বাঁধনে বাঁধিয়া এ দেহ
আর ত রাখিতে নারিব।
y
আমি, হইব হারা,
আমি হয়েছি হারা,
আমি খুলিব স্বপন
যা কিছু গােপন ;
ওরে, যৌবন-ঘন-নন্দন-বনে
আমি হইব হারা,
আমি, মেতেছি,-মাতিব
মাতিয়া মাতিয়া হব রণ-মাতােয়ার!
-
।
1
*
=
জেগে উঠে প্রণ ফেটে উঠে প্রাণ
আবেগে আবেগ জড়ায়ে ধরে,
অনল-সমান
যত আনচান্
প্রিয়ার অঙ্গের কাহিনী গড়ে।
।
কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে
{
কি কথা আজি শাের্নলে, বন্ধু!
জাগালে কেন হে কবি,
নিরাকার প্রেমে সাকার-প্রতিমা
আমার মানস ছবি ।
নিদাঘের সপ্তাহ শুধু বাকী,
ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে—শাখী ;
গােলাপ তাহারে ডাকিছে যেন,
বেলকলি কী কহিছে—হেন!
কামিনী কহিছে—যামিনীর সই,
“তাের লাগি’ বালা রাতি জেগে রই”;
টগর লইয়া ভাগর আঁখি,
বলে-“তাের পানে তাকায়ে থাকি”;
কহিছে করবী
“তুই লাে গরবী,
তােরে মরমের মােড়কে ঢাকি”;
হাস্না আজি হাসিছে কত,
“আয় সখি পাবি ‘মনের মত;
সন্ধ্যায় কহে ছােট সরু যুই,
“আসিয়াছি আমি, আয় বালা তুই”;
.
;
১২০
এস,এস বালা হাসি মাখিয়া মালতী কহিছে—“আয় নিবি মালা কেন পরিবি না,তুই ফুলবালা । কহিছে রসাল ভিজাইয়া গাল- “কার মুখে বেশী মধু, সব যাবে জানা যত আনাগােনা প্রথম চুম্বনে শুধু !” } . তারপর,—আশা নিরাশার বেড়া ভাঙি’- উদয়-গগন রঙে উঠেছিল রাঙি ; উষা জেগেছিল সুখে,-বড় সুখে সুখে, কী-আনন্দ ছুয়েছিল—সে দিবস বুকে ; ফুটে ফুটে’ গিয়াছিল কুসুম-কমল পাপড়ির মাঝে রাখি’ ও-পদ কমল, বলিতে কি হবে ? শেষ নিদাঘের পঞ্চবিংশতি দিবসে, রক্ত-মুখ উষার পরশে, ? *; A জীবনের প্রিয়তমা বালা যৌবন-উৎসবে মাের একগাছি মালা কবির স্বপ্ন-সুষমা ছন্দে ও গানে আমার হাসি, আমার গান, আমার প্রতিমা, আমার প্রাণ, আমার বীণা, আমার বাঁশী, কানন আমার, ফুল রাশি রাশি জীবন-পথের মাের কোজাগরী আলাে, যারে আমি বাসিয়াছি ভালাে, সেই চির-প্রিয়তমা পঞ্চদশী বালা, আমার অঙ্গনতল করেছিল আলা ! গােলাপের দল সব খসে পড়েছিল, কেঁদেছিল—কেঁদে বলেছিল- “কোথায় সৌন্দৰ্য মাের”-বলে ঝরে ছিল। পারিজাত পরাজিত হয়ে সেই হ’তে স্বরগের ফুল, মন্দার আন্ধার করি কান্তারে লুকালো তার রূপটী অতুল । 4 সুধা বলে-“এ জগতে কি রহিব আর, চুম্বন খুলিবে শত সুধার ভাণ্ডার।”
৫
**
-
এস, এস বালা হাসি মাখিয়া
গােলাপ আলাপে রৈল,
অপর সৌন্দর্য্য তা’রে নােয়াইল শির,
আমার নয়নে কেন পড়েছিল—দুটী শুভ-নীর।
+
}
সে প্রভাতে
দূরে-দূরে
বেজেছিল
সানায়ের বাঁশী,
সে দিকে ছিল না কাণ
পেয়েছিনু যারে ভালবাসি।
রামচন্দ্র বাণীমন্দির
আশ্বিন ১৭, ১৩৪০
দিবা ১০-১৫ মিঃ
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.