Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Dali

Ali, Saiyad Amdad · 2009/11/28

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

ডালি
সৈয়দ এমৃদাদ আলী
মূল্য এক টাকা

প্রকাশক শ্ৰীবৃন্দাবনচন্দ্র বসাক,
এলবাট লাইব্রেরী, নবাবপুর,
ঢাকা।
গা,
ইষ্ট বেঙ্গল প্রিন্টিং এণ্ড পাবলিশিং হাউসে
প্রিন্টার সেথ আনসার আলি দ্বারা মুদ্রিত

নিবেদন।
আমার কয়েকটি কবিতা পূর্বে মাসিক পত্রে প্রকাশিত
হইয়াছিল, তাহার সহিত আর কয়েকটি নূতন কবিতা যােগ
করিয়া দিয়া “ডালি” প্রকাশ করা গেল। প্রিয়জনের অনুরােধ
উপেক্ষা করিতে না পারিয়াই আমি এই অসীম সাহসের কাজে
হাত দিয়াছি। আমি যে মন্দ করিয়াছি, তাহাতে আর সন্দেহ
নাই, তবে মাতৃভাষার সেবকরূপে পরিচিত হওয়ার বাসনা
বলবতী হওয়াতেই আমি ডালির প্রকাশ বিষয়ে নিন্দা-প্রশংসার
দিক দিয়া দৃষ্টি করি নাই।
আমার আবাল্য সুহৃদ, ‘ছেলেদের চণ্ডী’, ‘শাক্যসিংহ
‘সৰ্বানন্দ’ প্রভৃতি সদগ্রন্থের রচয়িতা সুলেখক শ্ৰীযুক্ত অতুলচন্দ্র
মুখােপাধ্যায় মহাশয় “ডালির” প্রফ দেখিয়া দিয়াছেন এবং
আরও নানা প্রকারে সাহায্য করিয়াছেন, তজ্জন্য তাহার নিকট
চিরঋণী রহিলাম। ইতি।
কালীগঞ্জ, ঢাকা,
বৈশাখ, ১৩১৯।
সৈয়দ এমদাদ আলী

No text on this page.

সূচীপত্র। বিষয় পৃষ্ঠা ১ ২ ০ ০ ০ ১৬ | s = = ক ডালি ঈদ পূজনীয়া খােদেজা দেবী মুছে ফেল সেকেন্দ্রা (সচিত্র) বাসনা ভক্তি-উপহার (সচিত্র) বিদায় একটি বালিকার প্রতি নববর্ষ উপেক্ষিতা অমরতা অভ্যর্থনা কোন নব পরিণীত বন্ধুর প্রতি কবির মন (সচিত্র ) বিবি ফাতেমা জোহরা দেবাত্মার প্রয়াণ ০ ০ ০ ২৭ ২৮ = = = re ২৯ ৮০ ৩২ ৩৪ s ৩৬ = ৮০ ০ ০ ০ ••• ৪৪ ••• ৪৭ • res ০৪ rn ( • ) = ০ ৫২ EEE ১ ••• আশীৰ্বাদ বর্ষ-আবাহন ভুল সংশােধন শরতে কামনা নিবেদন ••• পরিবিবি (সচিত্র ) ••• স্রোতস্বতী ••• কাহিনী মাধুরী ••• মােসলেম নারীর প্রতি বিশ্বদেব আমীর খসরু মীর মশারফ হােসেন চৌধুরী মােহাম্মদ ইসমাইল প্রার্থনা ৭৪ . . ৩ • . ৪ । ৮৮. ১৯ ০ ০ ০ ••• প্রিয়তমাসু।

No text on this page.

ডালি।
ক্ষুদ্র জনা দেয় ক্ষুদ্র ডালি,
আপনার শকতি বুঝিয়া,
মহৎ যে তারি দান শুধু
মহানেরে রহে জড়াইয়া।
মহতের আঙ্গিনার পাশে,
ক্ষুদ্র জনা সেও পায় স্থান,
সেই আশা হৃদয়ে লইয়া
আজ দীন হয়ে আগুয়ান
বঙ্গভাষা হস্তে সপি দিল এই ডালি,
শরম সঙ্কোচভরা হৃদয়টি খালি।

জুলা
ঈদ।
কুহেলি তিমির সরায়ে দুরে
তরুণ অরুণ উঠিছে ধীরে
রাঙ্গিয়া প্রত্যেক তরু শিরে
আজি কি হর্ষ ভরে
আজি প্রভাতের মৃদুল বায়
রঙ্গে নাচিয়া যেন ক’য়ে যায়,
“মােফ্লেম-জগত আজি একতায়
দেখ কত বল ধরে।
হের আজি সবে শুভলগ্নে মিলি’
দ্বেষ-হিংসা সব দুরে ঠেলি ফেলি’
ভাই ভাই বলি করে কোলাকুলি,
সে দৃশ্য কি মধুময়।
আজিকে যেনরে আসিছে ভাসি
নন্দন-কুসুম-গন্ধ রাশি

ঈদ।
আমারি পরাণে জাগায়ে হাসি-
আশার লহরী চয়।
আমি প্রভাতের সুস্নিগ্ধ বায়,
নিশাশেষে লভি জনম হায়,
যুগযুগ ধৰি বিপুল ধরায়,
উত্থান-পতন হেরি।
কত সখ্য-ঐক্য-প্রীতির কথা,
কত সুকবির হৃদয়ের ব্যথা,
কত বীরেন্দ্রের তেজোময়ী গাথা,
শুনিনু শ্ৰবণ ভরি।
কিন্তু গাে সকলি মানে পরাজয়
সে দৃশ্যের কাছে, যে দৃশ্য নিচয়
হেরেছি মােমে-জগৎময়
আজি পুণ্যের পুলকে!
সব গেছে ; তবু সে ধৰ্ম্ম-বন্ধন
আজিও অটুট রয়েছে তেমন,

জ্ঞor
তেমনি করিয়া মােগ্লম-জীবন
ভাসে আশার আলােকে।”
ধর্ম ও কর্মেরে জীবনের মাঝে
প্রতিষ্ঠিত করি আজ,
জীবন-আহবে হও অগ্রসর,
তাতে নাহি কোন লাজ।
যে চেতনা থাকে এক দিন জাগি,
দীর্ঘ নিদ্রা তার পরে,
সে ত আনে শুধু ঘন অবসাদ,
জীবনে ঢালে সে অনন্ত বিষাদ,
দেও তারে দূর করে।
জ্ঞান ও কর্মের পূজারি হইয়া
সম্মুখে ধাইলে সবে,
দীর্ঘ জীবনের জড়তার রাশি
হবে, অবসান হবে।

২
বিশ্ব বুড়ি মােফ্লেমের গৃহে গৃহে আজি
শুধু হাসি শুধু কলরব,
শক্ত আজি শক্ত নহে, মিত্ররূপে সাজি’
সাধিতেছে এক মহােৎসব।
যে উৎসবে এতখানি সাম্যভাব জাগে,
হৃদে উঠে প্রীতির উচ্ছাস,
সে কি শুধু বৃথা হবে ?—নব অনুরাগে
পূরাবে না জীবনের আশ ?
এতদিন দূরে থাকি, একা থাকি ভাই,
কত টুকু লভেছ সম্বল ?
আপনারে ছিন্ন করি নিজ দল হতে
মনােবাখা হয়েছে সফল ?
তা’ত নহে, তুমি শুধু আপনার লাগি
মৃত্যুশয্যা করেছ রচনা,
দিনেকের এ মিলনে আর যাই হােক,
তার কিছু বিফল হবে না।

)
ঈদ, সে ত আমাদের ঐক্য সখ্য লাগি
বর্ষে বর্ষে দেয় দরশন,
প্রীতির মন্দিরে তার স্মৃতি জীয়াইয়া
এস চেষ্টা করি প্রাণপণ।
আপনারে অপরেরে এস টেনে লই
সমাজের কাজে দিতে প্রাণ,
সকলেরি এক স্বার্থ, এক লক্ষ্যহইলে ০ ০
সহায় হবেন ভগবান।

খােদজা দেবী।
পূজনীয়া খােদেজা দেবী।
ঘন ঘাের অন্ধকারে আরব গগন
যবে সমাচ্ছন্ন দেবি, আরব সন্তান
কুআচার, ব্যভিচারে ঘাের নিমগন,
সে সময়ে যে বীরেন্দ্র, মানব-প্রধান,
জ্ঞানের বিমল জ্যোতিঃ করি বিতরণ
নাশিল তিমির রাশি, সকলের আগে
চিনিলে তাহারে তুমি। করিয়া যতন
শত ভালবাসা দিয়া, শত অনুরাগে
বরিলে সে বর বপুঃ, একাগ্র অন্তরে
স্থাপিলে বিশ্বাস দেবি, ইস্লাম-উপরে।
কত যুগ মিলাইল কালের প্রবাহে,
তবু দেবি, তব কথা মােস্লেমের গেহে
ভক্তিভরে নবােৎসাহে হয় উচ্চারিত
প্রতি দিন, শত শত ভক্ত-রসনায়
তােমার কাহিনী গায়, করি বিমােহিত

শ
প্রতি মােঙ্গেমের প্রাণ। প্রত্যেক হিয়ায়
যাচে বর, কন্যা-জায়া হউক তাহার
তব মত পতিপ্রাণা, সতীত্ব আধার,
তব মত ধর্মে তারা হ’ক স্থির অতি,
তব মত প্রতি কৰ্ম্মে ধর্মে থাক মতি।
তােমারি মতন তারা পতি বুকে থাকি,
প্রকৃত কর্মের পথে নিক তারে ডাকি।
তুমি মাগাে স্বর্গে থাকি কর আশীৰ্বাদ,
নারী হতে ঘুচে যাক চির অবসাদ
তােমার সন্তানদের ; পুনঃ জাগি উঠি
এ বিশ্বের প্রতি কেন্দ্র হতে তারা লুটি
লউক জ্ঞানের জ্যোতিঃ। আর একবার
ইস্লামের জয় রবে কানন কান্তার
জল-স্থল-মহাশূন্য হউক ধ্বনিত,
তার নব অভ্যুত্থান হ’ক প্রচারিত।

মুছে ফেল।
মুছে ফেল।
মুছে ফেল হৃদয়ের শােণিতের দাগ,
ভুলে যাও শােক যাহা আছে,
অতীতের স্মৃতি টুকু থাক্‌ পিছে পড়ে
তারে আর ডাকিও না কাছে।
বিদায়ের শেষ বাণী প্রকাশিয়া ধীরে
অতীত বরষ অই যায়,
তারি সনে যা চলি বিষাদ-বেদনা
মুছে যা স্বপ্ন-ঘাের-ছায় !
পাপ-তাপ-শােক-দুঃখ সকলেরে আজি
পূর্ণ প্রাণে দেওগাে বিদায়,
ধর্মের পবিত্র আলাে থাক, হৃদি ভরি,
উঠুক মঙ্গল-গীতি তায়।

আশা
যাক দূরে ধনী-দীনে যে প্রভেদ আছে
সাম্য ভাব উঠুক জাগিয়া,
হৃদয়ের তন্ত্রী মাঝে সুমহান্ স্বরে
নব তান উঠুক বাজিয়া।
নব গানে নব তানে পূরিয়া অন্তর
কৰ্মভূমে হও অগ্রসর,
হৃদয়ের সঙ্কীর্ণতা করি পরিহার
বিশ্বপ্রেমে মাতাও অন্তর।
এ জগতে যাহা কিছু মহা উদার
তাহারেই লও সাথী করে,
যাহা কিছু পবিত্রতা মাখানাে হেথায়
লও তারে তুলি নিজ ক্রোড়ে।
ভাবিও না অতীতের সহ আঘাত
যাহে হৃদি হয়েছিল ক্ষত,

মুছে ফেল।
মুছে ফেল সেই স্মৃতি, ভুলে যাও ধীরে
কি বিষাদে হিয়া অবনত।
এ জীবন নহে শুধু বিষাদ লাগিয়া,
এ জীবনে কত কাজ আছে,
বিষাদ ত কাৰ্য-পথ রহে আগুলিয়া,
তাই তারে ফেলা চাই পিছে।
কৰ্ম্মের গভীর মন্দ্রে আকাশ-অবনী
উচ্ছসিত হতেছে যখন,
তারি মাঝে আপনারে ডুবায়ে রাখিতে
করা চাই সহস্ৰ যতন।
তাই বলি, মুছে ফেল হৃদয় হইতে
পাপ-তাপ অন্ধকার রাশি,
সহস্র সঙ্গীত রব মহান সাধনা
উঠিবেক হৃদয়ে প্রকাশি।
১১

जाल
তখন সে নববর্ষে হৃদয় মাঝারে
উঠিবে যে সঙ্গীতের রব,
তাহাতে প্লাবিয়া যাবে এ বিশ্ব সংসার
হেথায় নুতন হবে সব।
নয়নের হৃদয়ের সঙ্কীর্ণতা রাশি
নিমেষেতে যাইবে টুটিয়া,
কি আপন কিবা পর এক হয়ে যাবে
সম ভাব উঠিবে জাগিয়া।
১২

No text on this page.

在线
“主
LIMIT
IMANI
|l
আকবরের সমাধি { সেকেন্দ্রা )

সেকো।
সেকেন্দ্রা ।
এইখানে মােগলের মুকুট রতন
শায়িত শান্তির মাঝে ; পথিক সুজন
নেহারিয়া এ সমাধি ভক্তিপ্ত মনে
সম্ভমে নােয়ায় শির ; হৃদয় গগনে
ভাসে তার কত ছবি কত পুণ্য কথা,
কত বরষের হায়, কতশত ব্যথা!
মনে পড়ে অতীতের দিল্লী দরবার,
মােগলের শত হৰ্ম্ম সুষমা আগার!
মনে পড়ে এই পথে এমনি সময়ে
বীর যােদ্ধা অগণন উৎফুল্ল হৃদয়ে
চলি যেত অবিরাম ; আর আজি হায়!
ভাঙ্গিতে এ নীরব ঝিল্লী ভয় পায় ।
যে জন শায়িত হেথা অন্তিম শয্যায়,
কত রাজা মহারাজ তাহারি সভায়
অবিরত কভাষে কহিত কাহিনী,

ঠাল
কত বীর-অস্ফালনে কাঁপিত মেদিনী
কত কবি ঝঙ্কারিয়া সুমধুর তান,
নিয়ত তুষিত কত সভাজন প্রাণ!
সেই সমাঝে নিত্য ফায়েজী ফজল,
বীরবল, টোডরমল, অমাত্য সকল,
প্রকৃতি পুঞ্জের হিতে দিবসে নিশায়,
সমদর্শী সম্রাটের সঙ্গে থাকি হায় !
কত নীতি শুভকরী করিত রচনা,
প্রজাহিতে নৃপহিত করিয়া কামনা।
মােস্লেম হিন্দুরে বাঁধি প্রেমের বন্ধনে,
প্রতিষ্ঠিত একক্ষেত্রে অভিন্ন পরাণে
চেয়েছিল দেখিবারে যেই মহাজন,
সেকেন্দ্রা তাঁহার অস্থি করিছে ধারণ !
আজি যুগ যুগান্তরে সেই দুই জাতি,
কি দ্রোহ কি কলহেতে রহিয়াছে মাতি ।
যদি কোন শুভদিনে বিধির বিধানে,
এই দুই মহাজাতি মিশে প্রাণে প্রাণে,

সেকেন্দ্রা।
সেকেন্দ্রা, তােমার এই নীরব শ্মশান,
সে দিন ভারতে হবে নব তীর্থস্থান।
-

স্থূল
বাসনা।
সংসারের যাতনার মাঝে
কেন মােরে টানিবারে চাও,
দূরে দূরে আছি আমি বেশ,
দূরে দূরে থাকিবারে দাও।
আমি ত বুঝি না ভাল হয়,
কারে বলে সংসারের জ্ঞান,
কি যে সুখ লভিব তাহাতে
প্রাণ মাের পায় না সন্ধান !
পরের মুখের গ্রাস নিতি
কাড়ি নিয়া কি লাভ আমার?
পরের সুখের পথে সদা
বিছাইয়া কন্টক অপার ?
কাহারাে নয়নে অশ্রুরাশি
দ্বিগুণিত ত্রিগুণিত করি,

বাসনা
আমি কি লভিব শান্তি ?-হায়,
প্রাণ যেগগা উঠিবে শিহরি।
হারাইয়া সৰ্ব্বস্ব তাহার
কে কোথা কঁদিছে দিবানিশি,
আমি কি তাহার কাছে গিয়ে
হাসিব গাে উপেক্ষার হাসি ?
আজি আমি অপরের প্রাণে
ঢালি যদি বিষাদের ভার,
এক দিন হতে পারে কভু
যে দিন এ জীবন আমার
অশান্তি, বিদ্রোহ মাঝে পড়ি
শান্তি আশে বেড়াবে ঘুরিয়া
কক্ষচ্যুত নক্ষত্রের মত ;
হৃদয়ের দুকূল ছাপিয়া
উঠিবে বিষাদ-গান সদা।
সেই দিন সেই জনা যদি
যাতনার অঙ্কুশ প্রহারে
ব্যথা দেয় মােরে নিরবধি
১৭.

জুলা
সে কি আর হবে দোষ ?
সে নহে কি পূর্ণ প্রতিদান?
যেমন দিয়াছি আমি তারে,
এ নহে কি তাহারি সমান।
এই যদি সংসারের খেলা,
এ খেলা খেলিতে সাধ নাই,
আছে কিনা কোথা শাস্তিধাম
আমি তাহা খুঁজিয়া বেড়াই
কোন দুর তটিনীর কূলে,
লােকহীন কোন গিরি-বুকে,
যদি পাই সে কাম্য আশ্রম,
জীবন কাটাব তথা সুখে।
গিরিনদী উপলে চুম্বিয়া,
বহে যাবে আলিয়া প্রাণ,
আশে পাশে শ্যামল বিটপী
দাড়াইবে ভেদিয়া পাষাণ!
এরি মাঝে লুকাইয়া দেহ,
অনুদিন প্রদোষে উবায়,

বাসনা।
পাখীগুলি উঠিবে কৃজিয়া
উল্লাসে বহিবে মৃদু বায়।
প্রভাতে অরুণ আগে উঠি
শত শত হরিণের বালা,
নেহারিবে আমারে নির্ভয়ে
আনন্দে করিবে কত খেলা
সংসারে ঘাের কোলাহল
তথা নাহি পশিবে কখন,
আমি শুধু দেখিব এসব,
স্বপনে রহিব নিমগণ।
গান শুধু পশিবে এ কাণে,
ভাব তার সকলি সুন্দর,
প্রভাতের পবন পরশে
হবে তাহা আরাে মনােহর।
কলকণ্ঠ পাখীগুলি সাঝে
উল্লাসে ফিরিবে নীড়ে যবে,
তুবিবে এ অতৃপ্ত পরাণ,
আকাশ উছলি গানে সবে।
১৯

जाल
ধীরে ধীরে ভাসিবে গগনে,
শত শত তারকার রাশি,
মাঝে মাঝে তাহাদের সনে
ফুটিয়া উঠিবে শশী-হাসি।
কভু কাল বৈশাখী সন্ধ্যায়
মেঘে মেঘে আকাশ ছাইবে,
চঞ্চল। চপল বালা তাতে
মনাে সাধে ছুটিয়া বেড়াবে !
সৌন্দর্য্যের সে মহা সায়রে
আপনারে দিব ডুবাইয়া,
অন্তহারা সে অতল মাকে
চিরদিন রহিব ঘুমিয়া!

No text on this page.

দাড়াও,পথিকবর,জন্ম যদি তব
বলেতিষ্ঠ ক্ষণকাল। এসমাধি স্থলে
(জননীর কোলে শিশুলভয়ে যেমতি
বিম) মহীর পদে ময় নিদ্রাবত
দত্তকুলাৰ কৰি শ্ৰীমধুসূদন
যশােরে সাগর-আঁাড়ী কক্ষ তীরে
জন্মভূমি, জন্মদাতা দত্ত মহামতি :
রাজনারায়ণ নামে,জননী জাহবী
মাইকেল মধুসূদনদত্ত।
';
মাইকেল স্মৃতিস্তম্ভ।
Eagraved & Printed by K. V. Seyzo & Bros,

ভক্তি-উপহার
।
ভক্তি-উপহার
কবিবর মাইকেল মধুসূদন দত্তের ত্রিংশ বার্ষিক
মৃত্যুদিন স্মরণে তদীয় সমাধি-প্রাঙ্গনে পঠিত।
হে বঙ্গের মহাকবি,
আজি তব সমাধি-প্রাঙ্গনে,
কত কথা উঠে জাগি,
কি জানি কি মরম-দাহনে!
==
যা, যা অপ্রিয়রে
টানি আনি নাহি কোন ফল,
তার পরে দিই স্থাপি’
বিস্মৃতির মলিন অঞ্চল।
২১

জুল
সেই এক দিন হায়,
যেই দিন কত হৃষ্টমনে,
দীনা বঙ্গভাষা কঠে
নব মাল্য পরানে যতনে,
অতীতের সেই দৃশ্য
কি পবিত্র, মহান, উজ্জল,
আজিও স্মরিতে তাহা
দেহে যেন পাই নব বল ।
বছ-জলাশয় মত
ছিল যবে আমাদের ভাষা,
সঞ্চারিয়া স্রোত তায়,
তুমি তার বাড়াইলে আশা।
তুমি তারে নিলে টানি
এ বিশ্বের জনতার মাঝে,
তুমি তারে দিলে শিক্ষা
এ জগতে তার কাজ আছে;
তুমি তার কর্ণমাঝে
দিলে ঢালি, কি পবিত্র গান,
s

ভক্তি-উপহার।
তারি ফলে, মহাকবি,
জাগিতেছে মায়ের সন্তান।
দিকে দিকে আজি শুন
উঠিয়াছে কর্মের বন্দনা,
আশীষ হে প্রিয় কবি
দেশ জুড়ি, জাগুক চেতনা।
তােমারি কাব্যের মাঝে
হেরিলাম তােমার হৃদয়,
অন্তরে বাহিরে দেব,
সদা তুমি এক ভাবময়।
তাই আসিয়াছি আজি
কত আণে করিতে অর্পণ,
তব প্রিয় নাম স্মরি,
ভকতির সুতি চন্দন।
তুমি যদি লহ কবি,
এ দীনের ক্ষুদ্র উপহার,
জীবন স্বার্থক হবে,
নৰ শক্তি ভিৰ অপার।
ত

প
কবি কুঞ্জধাম হতে
হে বরেণ্য বঙ্গের ভূষণ,
স্বদেশের তরে সদা
সুমঙ্গল করহে সাধন।
৪১

বিদায়।
বিদায়।
(টেনিসনের “Farewell”.)
ওগাে স্নিগ্ধ শ্রোত-ধারা বয়ে যাও সাগরের নীরে,
শত বাহু প্রসারিয়া ডালি হও সে চরণ 'পরে।
এ জীবনে কভু আর তব চিরশ্যাম-স্নিগ্ধ তীরে
আসিব না, যাই তবে, বিদায়গা জনমের তরে!
মধুরে বহিয়া যাও আলিঙ্গিয়া শ্যামল প্রান্তর,
ক্ষুদ্র নদী হও ক্রমে সুবিশাল স্নেহ তরঙ্গিনী,
এমিবনা আর আমি তব অই তীরভূমি পর,
দেখিবে না আর মােরে, জন্মশােধ বিদায় সঙ্গিনি।
কিন্তু হেথা বেড়ি তােমা নিঃশ্বসিবে পিপুল বিশাল,
ঝাউ গাছ শিহরিবে পবনের মৃদুল কম্পনে,
মক্ষিকার গুণ, গুণ, প্রিয় ধ্বনি কি সাঁঝ সকাল
উঠিবে তােমারি কূলে, চিরদিন, কি চির জীবনে।

জাত
সহ অরুণরশ্মি প্রবাহিত হবে তব নীরে,
নাচিবে তােমারি জলে শত শত চারু চন্দ্রলেখা :
আমি শুধু তুমিব না এ জীবনে আর তব তীরে,
যাই তবে চিরতরে, এই দেখ, জেনাে শেষ দেখা।

লিকার
একটী বালিকার প্রতি।
একবার যার স্নেহ নিছ তুমি কেড়ে,
সে তােমারে জিজ্ঞাসে কি যায় চলে দূরে
নেহারিতে তাই তুমি থাক দাড়াইয়া
স্নেহের প্রতিমা অয়ি ! মুগ্ধ প্রাণ নিয়া
করিবারে চাও পরে অতি আপনার
কি স্নেহ উছলে অই হৃদে অনিবার।
এ সংসারে সেই ভাল যাহার পরশে
পুণ্য লভে জয়, আর যাহার দরশে
টুটে জীবনের পাপ, ঘুচে অবসাদ,
জাগি উঠে ক্ষীণ প্রাণে পরম আদ!
হও তুমি সেই মত,-বড় মন লয়ে
যত পার রাখ ঢাকি, নিজ মেহ-ছায়ে ।
দুর হতে শুনি তব করুণ কাহিনী
লইব গাে আপনারে শত ধন্য মানি।

ভূল
নববর্ষ।
নূতন বরষ নাথ, দেখ আজি আসে ধীরে,
অতীতের শেষ রেখা মিশে যায় কি আঁধারে।
উহাসে মধুহাসি,
পাখী ঢালে সুধা রাশি
হরষে আপনারা পবন ব্যজন করে!
কলতানে গেয়ে গান
তটিনী আকুল প্রাণ
আজি ছুটে যায় সুথে মিশিতে মহাসাগরে
আমরা কেন গাে তবে,
বসিয়া রহিব সবে
আমরা ও যাব ছুটে নিজ নিজ পথ ধরে ;
জগদীশ দয়া সিন্ধু,
বিতরি মেহের বিন্দু
শুভ আশা জাগাইয়া দেও সব হৃদিপরে।
তুমি যদি সাথে থাক, মােরা কিছু ভাবি না কে।
সাধনা ও সিদ্ধি রবে মােদেরে আশ্রয় করে।
১৮

উপেক্ষিতা।
উপেক্ষিতা
হায় সখি, এইরূপ বিফলে তিয়াষে
এ জীবন যাবে কে জানিত ?
হৃদয়ের সাধ, আশা অনন্ত নিরাশে
লুপ্ত হবে হায় কে ভাবিত ?
সরল শৈশব সুখে ছিনু যবে ভাের,
সে আসিয়া দিল দরশন,
অনন্ত পুলকে হৃদি পূর্ণ হ’ল মাের,
পাইলাম
নূতন
জীবন।
ভাবিলাম এই সুখ, এই তৃপ্তি নিয়া,
পড়ে থাকি অনাদি সময়,
উভয়ের ব্যবধান এক করি দিয়া
সভি প্ৰেম অনন্ত, অক্ষয়!
২৯

অপ
কিন্তু মাের করমের কি যে কি লিখন
উঠিল হঠাৎ ঝন্ধাবাত,
এক হৃদি, দুই হ’ল, হায় অভিশাপ।
কেবা দেথে মাের অশ্রুপাত।
বর্ষ পরে বর্ষ গেল, মাস, মাস পরে,
ফিরিল না অদৃষ্ট আমার,
উপেক্ষিতা, অনাদৃতা রহিয়াছি পড়ে,
নরব লােদন মাের সার!
৩.

খরতা।
অমর।
জীবন কিছুই নহে, শুধু স্বপ্ন, খেলা,
দু’দিনে ফুরায়ে যায় আনন্দের মেলা।
সুকৃতি বেড়িয়া থাকে অনন্ত জীবন,
মানুষ মরিয়া হয় আর তখন।

)
অভ্যর্থনা।
কনক কিরণ মেখে গায়
কোথা হতে এলি তুই বালা,
আলােময়ী দেব বালাগণ
তাের সাথে করিত কি খেলা ?
স্বরগের প্রভাত পবনে
রাশি রাশি ফুটিত কি ফুল ?
সুরবালা উঠিয়া ত্বরিতে
কুড়াত তা হইয়া আকুল ?
শরতের ফুটন্ত শেফালি
তারি মাঝে তুই বুঝি ছিলি ?
হরষে আপনা হারা হয়ে
পড়িলি এ মরত উজলি !
দয়া করে, এলি যদি বাছা,
থাক তবে গৃহ আলাে করি,
সুবাসে সৌন্দর্য্যে তাের হেথা
উঠুক হাসিয়া এই পুরী।

অভ্যর্থনা।
বিধাতার মেহের আশীষ
তাের পরে হক বরষিত
দেবত্বের ও অলঙ্কারে
হক তাের সকল শােভিত।
পৃথিবীর পাপ-মলিনতা
তােরে যেন, নাহি ছোয় বালা,
তাের কণ্ঠে হউক ধ্বনিত
স্বরগের সঙ্গীতের মেলা।
৩৩
৩..

স্থূল
কোন নব পরিণীত বন্ধুর প্রতি।
ওগাে সখে, এত দিনে জীবন কাননে
ফুটিবে তােমার শত সুরভিত ফুল ;
তব হৃদয়ের শূন্য প্রেম-সিংহাসনে
লাজারুণ দীপ্ত মুখে, প্রণয়ে অতুল,
অধিষ্টাত্রী দেবী যবে ভেছে আসন
আপনার গর্ব লয়ে নিজ অধিকারে,
কিসের অভাব তব ? পূর্ণ কর মন
প্রেম-প্রণয়ের গানে। অন্তর বাহিরে
কর্তব্যের কশাঘাতে হয়ে ম্রিয়মান
এত নহে কাল কাটাবার। কর্তব্য সে
কৰ্ত্তব্যই আছে চির দিন; তার স্থান
তারে দিবে, রমণী সুমধুর হাসে,
প্রণয় দাঁড়ায় যদি আপনা বিকাশি’
ঠেলে ফেলে দিবে তারে? অন্তর-আগ্রহে
বারেক তাহারে কি গাে সুধাবেনা হাসি,
এত দীর্ঘ দিন পরে কিবা শুভ গ্রহে

বন্ধুর প্রতি।
সে আসি দাড়াল তব জীবনের পথ
আলােকিয়া, উচ্ছ সিয়া? কোন মনােথ
আজি তারে টানি নিল বাঞ্ছিতের দ্বারে,
কেন তার সর্ব দেহে পুলক সঞ্চারে ?
না, না, সখে, ঐ তব আখি সকরুণ,
বলিছে উদয় হৃদে প্রেমের অরুণ।
তাই হক, প্রিয়জনে বুকে সাপটিয়া,
তােমার জীবন যাক আনন্দে বহিয়া।
তব গৃহে থাক্ ভাই সুচির কল্যাণ
ধ্রুব তারকার মত শুধু এক স্থান
অধিকার করি। আর পতিব্রতা নারী
তােমার গৃহের হক অনন্ত প্রহরী।
থাক্ তথা শান্তি, তৃপ্তি, ঈশ আশীর্বাদ
তৰ গৃহ হক ভাই দেবতা-প্রসাদ।

জুল্ট
কবির মন।
থেমে গেছে বাদলের ধারা,
চারি দিক শীতল বিমল ;
স্নিগ্ধ বায়ু বহে মাতােয়ারা
লুটি বন-ফুল-পরিমল ।
গৃহ কোণে বসে ছিল কবি
হৃদে নিয়া শতেক কল্পনা,
আঁখি তার ছিল কোন দূরে
নেহারিতে শােভনা ললনা!
সে গাে বুঝি মানসী তাহার ;-
হৃদয়ের শত রন্ধ, দিয়া
পশিল সে যবে একবার
আলাে গানে দিল উছলিয়া!

কবির মন
খুলে গেল কবির নয়ন,
জগতের সৌন্দৰ্য-ভাণ্ডার
লুটি’পড়ে তাহার চরণ,
বাকি কিছু রহিল না আর!
গৃহ ছাড়ি চলিল তখন
অসরল বনপথ দিয়া,
প্রভাতের অরুণ কিরণ
উকি মারে রহিয়া রহিয়া
দুধারে দুলিছে বাঁশ-ঝাড়
ঘুঘু গুলি বসিয়া তথায়,
কাহিনী
কুহরিয়া সকলে জানায় !
প্রণয়ের মধুর
ঝােপে ঝাড়ে হেথায় হােথায়,
শত তালে নাচে বুল বুল,
কবি ভাবে তাহার হিয়ায়
উঠিছে কি আনন্দের বােল !
৩৭

ক্ষুদ্র এক শ্রোতস্বতী খায়
প্রান্তরের মাঝখান দিয়া,
কাচ স্বচ্ছ সলিলে তাহার
মাছগুলি বেড়ায় খেলিয়া!
আকি বাকি এ দিকে ওদিকে
শেষে অতি ক্ষীণ তনু তার,
মাঠ মাঝে পড়েছে লুকায়ে,
চিহ্ন তার মেলা অতি ভার।
কত দূরে আসি শেষে কবি
বসে এক তীর-তরু-ছায়,
কুলকুল গান গেয়ে ধীরে
আমনে নদী কোথা খায়।
এ-পারে ও-পারে কত তার
দৃথ রাজে শশাভন সুন্দর,
প্রভাতের মৃদুল পবন
ক্রীড়া করে তাহার ভিতর।

কবির মন।
নবীন ধানের শীষ গুলি
বায়ু ভরে পড়িছে লুটিয়া,
আকাশে নবীন মেঘথর
পথ ভুলে বেড়ায় ছুটিয়া !
নীড় ছাড়ি প্রভাতে চাতক
উড়িয়াছে উধাও গগনে,
নিরন্তর সঙ্গীতের ধারে
প্লাবিয়াছে মলয় পবনে।
এই সব পশি প্রাণে কাণে
কবির হৃদয় গেল খুলি,
তথা গ্রাম শম্প মাঝে ভয়ে
গান তার উঠিল উছলি।
গাইছে সে “এ জগত নিতি
হইতেছে ধীরে অগ্রসর,
অনন্ত উন্নতি-পথ দিয়া
অষ্টার চরণে নিরন্তর।
৩৯

v
“জগতের দুঃখ-দৈন্য যত
পথের কাঁকর মত হায়,
ক্ষণ তরে পায়ে ফোটে যদি
পথ চলা হয় অতি দায়।
“সে দুঃখের লাঘব করিতে
বনে ফুটে সুবাসিত ফুল,
পাখী গান গায় হৃষ্ট চিতে
নব সাজে বাজে বকুল !
“বলে সবে ‘দুঃখ শুধু হেথা।
সুখ কি গাে মিলেনা কখন ?-
বিধাতার বিশাল জগতে
সুখ শুধু কল্পনা, স্বপন?
“খুঁজে দেখ হৃদয় আপন,
সুখ তথা পাও কি না পাও,
মিছা কেন বিধাতার 'পরে
অবিচার ঢেলে নিতি দাও।
3.

কবির মন।
“সুশ্যামল শস্য ক্ষেত্র গুলি
স্বাদুনীরা তটিনী বিমল,
পাখী গাহি স্বর-সুধা ঢালি-
মােহে প্রতি হৃদয় তরল!
।
বায়ু বহে উল্লাসে উচ্ছাসে
প্রকাশিয়া কত মধু কথা,
হৃদয়ের কূলে কূলে ছুটে
গান শত ঢাকি, ছাপি ব্যথা !
“কে বলেরে সুখ ভবে নাই ?-
আমি দেখি সুখের সংসার,
বিধাতারে হৃদয়ে বেয়াই,
সুখ পাই অনন্ত অপার।”
গাইতে গাইতে কণ্ঠ তার
একেবারে গেল রােধ হয়ে।
প্রকৃতির রূপের ভাণ্ডার
আঁখি কোণে পড়ে তার ছেয়ে!

ली
মুগ্ধ চিতে রহিল সে বসে,
কথা তার হৃদে না জুয়ায়,
অন্তর ভরিয়া গেছে গানে
ভাব-স্বপ্নে বসে নিরালায় ।
মালতী কবির প্রিয় মেয়ে
বহু স্থান ঘুরিয়া ফিরিয়া
শেষে তথা উপনীত হয়ে
দেখে পিতা রয়েছে বসিয়া
আঁখি দুটি গগনের পানে
অপলক কি যেন দেখিছে,
কোন্ দূর স্বপনের দেশে
কি জানি কি ছবিটি আঁকিছে !
পিতার সে পবিত্র মুরতি
নিরখিয়া বিমােহিত বালা,
না জুটিল হৃদয়ে শকতি
টুটিবারে পিতৃ-স্বপ্ন-খেলা!

‘মালতী কবির প্রিয় মেয়ে
বহুস্থান ঘুরিয়া ফিরিয়া
শেষ তথা উপনীত হয়ে
দেখে পিতা রয়েছে শুইয়া।
Epgrared & Prioted by K. V. Seyne & Bros.

No text on this page.

কবিরমন
কিছুকাল স্বপনের দেশে
হিয়া তার মিয়া ভ্রমিয়া
ক্লান্ত হয়ে পড়ি অবশেষে
নিজ বাসে আসিল ফিরিয়া।
ভাঙ্গিলে সে মধুর স্বপন,
তী রবিকর লাগে গায়
পিছনে ফিরে আঁখি দেখে
মালতী দাঁড়ায়ে অপেক্ষায়।
বুকে টানি লইয়া তাহারে,
সস্নেহে জিজ্ঞাসি কত কিছু,
কবি ধীরে চলিলা আগারে,
মালতী চলিল পিছু পিছু।
৪৩

জুট
বিবি ফাতেমা জোহরা।
ওগাে দেবি, যবে তুমি শুদ্ধ শান্ত স্বর্গলােক ছাড়ি,
এলে মৰ্তে মানবীর বেশে, রসুলের কোল আলাে করি
দিলে যবে প্রথম দর্শন পৃথিবীর আলােকে-আঁধারে,
সেই দিন কি নব তপন উদেছিল বিপুল সংসারে।
পবন বহিয়াছিল সে দিন না কত হর্ষ ভরে,
বিলাইয়া শত শুভবাণী বিশ্বাসীর প্রতি ঘরে ঘরে
“জনমিল রত্ন এক আজি সুপ্ত আরব সমাজে,
প্রচারিতে নারী-ধৰ্ম্ম, জ্ঞান-কৰ্ম্ম জগতের মাঝে।
আপনারে ছােট ভাবি, আপনার কর্তব্যের পথে
সে যাবে সাধিয়া কাজ চির শুভ পূর্ণ মনােরথে
কি সম্পদে কি বিপদে তার স্থির-পুণ্য-ধৰ্ম্মমতি,
আলােকিবে রন্ধে কেন্দ্রে বিলাইয়া কি পবিত্র জ্যোতিঃ”।
মুকুলিত মল্লিকার মত তাই তুমি ধীরে ধীরে
মিগুবাস ছড়াইয়া ফুটিলে যখন প্রতি ঘরে,
সেই দিন নারীর জগতে জাগিল কি নুতন কল্যাণ,
28

ফাতেমা জোহরা
শিথিলিত নারীধৰ্ম্ম পেল এক মহা সম্মান।
তােমারে অাদর্শ করি, কত নারী চিত্ত শুদ্ধ করি,
জীবনের কর্তব্যের মন্ত্রে নিল দীক্ষা সব পরিহরি।
উপবাসে হায় মাগাে কত তব জীবনের দিন
গেছে কাটি’, তবু হয় নাই চিত্ত বিষাদ মলিন
শুধু ক্ষণেকের তরে। অন্তরের মহান সাধনা
রেখেছে তােমারে শুধু সিদ্ধি পথে করি একমনা।
তাই যুগ যুগ বাহী পবিত্রিত কাল স্রোত আজ,
তােমার মহিমা গাথা বহিতেছে জগতের মাঝ।
শত শতাব্দির ঢেউ বয়ে গেছে শতাব্দির ধারে,
নারী আজ ভারাক্রান্ত শত জীণ ম্লান লােকাচারে।
পুরুষ চলেছে অগ্রে, নারী তার বহুপিছে পড়ে,
কে তারে ডাকিবে কাছে, নিয়ে যাবে পথে হাত ধরে ?
পুরুষের পার্শ্ব-অস্থি হতে লভিল যে রমণী জনম
হেয় ঘৃণ্য ভাবি সবে তায় যায় আজি পীড়িয়া মরম।
বুঝে না যে বিধিরই বিধান, নারী বিনা পুরুষ জীবন,
পূণ সবলতা লভি দাঁড়াতে নারিবে কদাচন।
৪৫

নারী শুধু নারী নহে, সে যে ভাবী বংশের জননী,
রমণীর রক্ত বহে পুরুষের প্রত্যেক ধমনী।
তাহারে উঠাই যদি হাতে ধরে ধূলি পঙ্ক হতে,
আপনি উঠিব মােরা, জয় ধ্বনি উঠিবে জগতে,
সেই ভাবী দিন হায় যদি কোন সুপবিত্র ক্ষণে
দেখা দেয় আমাদের নিদ্রাতুর অঙ্গনে অঙ্গনে,
তুমি আরাে গরীয়সী মহীয়সী রমণীর সাজে
ভাবিতে সে দিন মাগাে আমাদের গৃহে সৰ্ব্ব কাজে
আশীষ জননি, সেই শুভ দিন আসুক সত্বর,
দ্বিগুণ উৎসাহে তােমা বরি আনি গৃহের ভিতর।
৪৬

দেবাত্মার প্রয়ান।
দেবাত্মার প্রয়ান
জগতের দুঃখ-ক্লেশ পশ্চাতে ফেলিয়া
সে চলেছে অমর ভবনে
শান্তিহীন জীবনের ক্লান্তিলীন দিবা
রৈল তার পড়িয়া পিছনে।
অমল উজল মধুর রাত্রি,
অনন্ত পথের পবিত্র যাত্রি,
নেহারে চৌদিকে তার,
দিকে দিকে আজ হেরে শােভমান,
সুষমায় ভরা প্রকৃতির প্রাণ,
শত ফুল বধূ
বিতরিছে মধু
খুলিয়া হৃদয়-দ্বার!

ল
মৃত্যু হতে সে মুক্ত হয়েছে আজ,
বিফল বাসনা ব্যথিতে নারে তারে,
জীবন কুঞ্জের সহস্র উজল কাজ,
অমরার পথ উজলে কিরণ ধারে।
এ ধরার শুভ্র শেফালির মত
নিৰ্ম্মল ছিল সে অতি,
পূর্ণ করি দিক নিজের সুবাসে
অমৃত ছানিয়া নিজ কলভাষে
সকলের প্রাণে আনন্দ বিলায়ে
সাধিত পরম প্রীতি।
নিরন্ন আসিয়া দাঁড়াইলে দ্বারে
ব্যথিত জনের নয়ন-আসারে
উছলি করুণা বিগলিত ধারে,
প্লাবিত হৃদয় তার,
৪

দেবাত্মার প্রয়ান।
পৃথিবীর শত মলিনতা মাঝে,
যখনি দেখেছি তারে কোন কাজে,
ললাটে তাহার দেখেছি শশাভিত
পুণ্য আলাে দেবতার!
যাও দেব, যাও আজ, উজলি অমরা-পথ,
সাধনায় সিদ্ধি লভি’ হও পূর্ণ মনােরথ ।
আমরা ধরার প্রাণী, দীৰ্ণবক্ষঃ, ক্লিন্ন প্রাণ,
স্মরিব তােমারে নিতি, জয় হক, ভগবান।

স্থূল
স্বর্গ
আপনারে বলি দিয়া অপরের কাজে
যে দিন ত্যজিব আমি পরাণ আমার,
সেই দিন স্বর্গ মাের জাতিবে জীবনে,
তার আগে স্বর্গলাভ মিছা কথা সার।
:

আশীর্বাদ।
আশীর্বাদ।
জ্ঞানে তুমি হও বাছা সিদ্দিকের মত,
আজিও মরণ রে পারেনি চুইতে ;
ধৰ্ম্মে তুমি হও বাছা আলী সদাশয়,
শৈশবে যে সত্য পথ পারিল চিনিতে।
ওমরের মত হও অনন্য হৃদয়,
আপন কর্তব্যে স্থির অটল অচল,
ওসমানের মত হও বিনয়ী, সুধীর,
পবিত্র আদর্শময় চিত নিরমল ।
তােমার মনটি হক সরল, উদার,
বিশ্বের মঙ্গল হক সাধনা তােমার।
৫১

জু
বর্ষ-আবাহন।
মুছে ফেল আঁখিজল, সুপ্রসন্ন মুখে
আজি ওরে ডাকি লও; এক দিন সুখে
যাক, কাটি।
আজ এই নবীন প্রভাতে
নববর্ষ জাগি উঠি ধরা-প্রান্ত হতে
করিয়াছে যদি সব সরস, মধুর,
তবে কেন রবে ক্ষুন্ন ? কর কর দূর
চিত্তে আছে যত টুকু ম্লানতা-দীনতা।
মনে ভাব আনিয়াছে স্বর্গের বারতা
আজ আমাদের এই নবীন অতিথি
একটী বরষ পরে ; আজ ফুল-বিথি
তাই হের সপিয়াছে সৰ্বস্ব আপন,
কুজনিছে পাথী কুল, নবীন ভূষণ
৫২

বর্ষ-আবাহন
পরিয়াছে দিগবধূ, প্রতাত পবন
হের কত মিখভাবে করে পরশ।
এক দিন আগে দগ্ধ ধরণীর বুক
রাখেনি বিছায়ে হায় এত টুকু সুখ
আমাদের লাগি।
সহিয়াছ এত দিন
শুধু শােক, শুধু তাপ, যন্ত্রণা অসীম,
তাই কি বাঁকায়ে মুখ চলে যাবে ধীরে,
দাড়াবেনা একপল, চাহিবেনা ফিরে,
কত হাসি, কত গান, কত আশা নিয়া
ও আজি এসেছে ? না, না, বিষাদ-ছানিয়া
করােনা করুণতর নয়ন দুটিরে,
একবার প্রীতিভরে লও ডেকে ওরে।
ও আসি মিশিয়া যাক, আমাদের সনে,
ও নবীন পরিণত হ’ক পুরাতনে।

ল
তখন বুঝিবে খাঁটি, দিয়াছ বিদায়
কালি যারে, স্মৃতি-চিহ্ন মাখি তার গায়
লুবধ ভূষিত হয়ে আমাদের লাগি,
ভবিষ্য ভেদিয়া ওযে উঠিয়াছে জাগি।
৫৪

ভুল সংশােধন
ভুল সংশােধন
পথিকেরে আকুল করে
কে তুমি দাঁড়ায়ে ললনা
পলকহীন অাখির 'পরে
অলক কাপে থরে থরে,
মলয় আসি ধীরে ধীরে
করিছে শত ছলনা!
গ্রামের পথে চলিয়াছি
বিদেশী পথিক আমি,
অদূরে মন্দিরে উঠিছে বাজি,
শখ ঘন্টা কাসর রাজি,
দিগ দিগন্ত অাধার করি
আসিছে সন্ধ্যা নামি।

ডুবেছে রবি পশ্চিম পাটে
ক্ষণেকে ক্ষণে আলােক টুটে
মৌনচ্ছায়া আসিছে জুটে
শান্ত ধরণী পরে,
এমন সময়ে কে তুমি নারী,
দীন পথিকের পথ আলাে করি,
ঝলকি অঞ্চল গেলে ধীরে সরি
বিধি মােরে প্রেম-শরে!
শ্রান্ত আমি, ক্লান্ত আমি
ভুলি আপন কাজ,
যে দিন তােমারে অয়ি কুহকিনী
হেরিনু হৃদয় মাঝ।
ভাবি সে দিন তােমার পরশে
দুঃখের গ্রন্থি খসিবে,
জীবন-কুঞ্জে তােমার দরশে
অযুত ফুল ফুটিবে।

ভুল সংশােধন,
চাই,
রয়েছি বসি তব প্রতীক্ষায়,
দিনের পরে দিন চলে যায়,
উদাস নয়নে আকুল হিয়ায়
একেছি কত ছবি,
শেষে এক দিন পুনঃ দরশনে
তােমার সি থির সিন্দুর ললনে
দিক উজলিয়া কহিল অধমে
আমার স্বপন সবি।
দীর্ঘ পােষিত আশাতরু মাের
সে দিন ছিন্ন হইল,
জীবনের শত বাসনা পিয়াস
চির সমাধি লভিল।
তাই হক, তুমি সমাজের দ্বার
থাক গাে সবলে নােধিয়া,
সুদূর হইতে আমি নিশি দিন
শান্তি পাব তােমা পূজিয়া !

জুল
আকাশ-অবনী কম্পিত করি,
আমার শ্রবণে মরণের ভেরী,
বাজিবে যখন তুলিয়া লহরী,
সেই দিন দিয়াে দেখা,
দাড়াইয়া মাের হৃদয়ের দ্বারে,
চেয়াে একবার স্ফুরিত অধরে,
নলিন নয়ন স্থাপি মাের 'পরে
ধীরে সরে যেয়াে একা
তার পরে
আর কিছু নাহি চাই,
আর কোন আশা নাই,
আমি মরণের কোলে সপিব নিজেরে
লভিয়া পরম শান্তি,
ঘুচিবে আমার দীর্ঘ জীবনের
যত কিছু আছে ক্লান্তি,
জীবনের যত ভ্রান্তি।

শরতে কামনা।
শরতে কামনা।
( বাল্য-রচনা।)
আজি,
শরত-আকাশে
শারদ চন্দ্রমা
মধুর মধুর রাজে,
মনের মাঝারে কি মােহন বাঁশী
আজি
হেরি
মধুর মধুর বাজে।
সােনালি বরণ
তরল সলিলে
শতেক চাদের খেলা,
হৃদয় সাগরে উথলি উঠিছে
আজি
আজি
কত আনন্দের মেলা।
মৃদুল মৃদুল
বহিছে পবন
দুলিছে গাছের পাতা,
ঈষৎ দুলিয়ে
ঈষৎ হেলিয়ে
কহিছে প্রেমের কথা,
এ উহার গায়ে ঢলিয়া পড়িছে
অবশ শিথিল অঙ্গ,
কিবা

ভূল
যেন
আজি
আমি
ধীরে
কোমলতা বিনে
কিছু নাহি জানে
কোমল তাদের সঙ্গ।
প্রকৃতি ধরেছে
মােহন মুরতি
মােহন রূপের ছায়,
তরঙ্গে তরঙ্গে চন্দ্রলেখা গুলি
নেচে নেচে ভেসে যায়।
এরূপ করিয়ে শারদ নিশীথে
শারদ-চাদি তলে,
গাব সুখগান
উন্মত্ত পরাণ
ভাসিব প্রেম-সলিলে।
জাহ্নবীর জলে
জ্যোছনা মাখিয়ে
তুলিব তরঙ্গ রাশি,
চারি দিক হতে দিগঙ্গনাগণ
বাজাবে মধুর বাঁশী।
সে বশীর তানে আপনা ভুলিব
ভুলিব জগতে সবে
‘মায়ার বাধন টুটিয়া যাইবে
বুহিব প্রেমেতে ডুবে।
আমি
আর
আমি

নিবেদন।
নিবেদন।
মৌন সন্ধ্যা, কৰ্ম্মক্লান্ত দেহটী এলায়ে
পড়ে আছি শ্যাম-শম্প মাঝে। জীবনের
গ্রন্থি হতে আজিকার দিন খসি পড়ি
যদিও টানিছে মােরে মরণের তীরে,
তবু একবার, শুধু একবার, সাধ যায়
দেখি চাহি সুবিপুল পিছনে আমার!
মানব জীবনে যাহা পুতঃ স্বর্ণযুগ,
সেই শৈশবের পানে আজো চিত্ত ধায়
তৃষাতুর মৃগ সম। মনে লয় যদি
কোন মতে শত উপচারে পারি তারে
ফিরায়ে আনিতে হৃদয়ের রক্তবিন্দু
দিয়া! সেই সরল শৈশব, দ্বেষহীন,
হিংসাহীন, শুধুপ্রীতি, শুধু পুণ্যভরা
বান্ধবের কলহাস্যে সদা মুখরিত।
আজ এই সংসারের ঘর্ষণে পেষণে
চিক্ষুব্ধ স্নান চিত্ত লয়ে লজ্জা হয়

জ
কেমনে চাহিব ফিরি সে অতীত পানে,
যার পবিত্রতা আমি জীবন হইতে
ছিন্ন করি আপনারে করিয়াছি নত
ধূলি মাঝে।
শৈশবের পরেতে যৌবন
নূতন আকাঙ্ক্ষা নিয়া জাগিল হৃদয়ে।
এই বসুন্ধরা আপনার দেহ হতে
কোন্ মন্ত্রবলে যেন ফেলিল খুলিয়া
মায়া-আবরণ; রূপে, গন্ধে, শােভায়
সম্পদে, সে শত দিক দিয়া শত ভাবে
করিল প্রকাশ আপনারে। আমি সেই
সৌন্দর্যের অতুল সাগরে রহিনু ডুবিয়া ;
ভাবিলাম, সৃষ্টির অবধি হতে যেন
আমার আত্মাটি এই মহা সৌন্দর্যের
সুধাপানে ছিল ভাের ! ইহাতেই আমি
লভিব উদার মুক্তি। কিন্তু একদিন
কর্তব্যের গম্ভীর আহ্বানে, সুপ্ত আত্মা
৩২

নিবেদন
যবে জাগিল প্রথম, বুঝি সে দিন,
শুধু হাসি, শুধু গান নিয়া নহে এই
মানব জীবন! এর চেয়ে মহত্তর কাজে
ডাকিছে সবারে বিশ্ব! আকুল হৃদয়ে
সমাজের লাগি সপিলাম ক্ষুদ্রতম
আপনারে, কি আদে পূর্ণ হ’ল মন :
তার পরে দিন যায়, মাস মাস পরে,
বর্ষ
ডুবে, বর্ষ উঠে। ডুবিয়া ভাসিয়া,
হাসিয়া, কঁদিয়া, চলিলাম কিছুদিন।
কিন্তু ক্ষুদ্র আত্মা, হীন, ক্ষীণ, দুরবল,
বহুদূর নারিল চলিতে। আপনারে
গুটাইয়া, দেবতার শুভদৃষ্টি লাগি
যাহা কিছু করিল সঞ্চিত বহু যত্নে,
দিল বিসর্জন। আঁধারে ডুবিল বিশ্ব,
কি নিজে ডুবিলাম বিশ্বের আঁধারে !
সেই হতে পড়ে আছি পথ নিরখিয়া
বি দেবতার স্নেহ-আলাে-কণা মাগি ।

ল
কিন্তু কবে কোন্ মহালগ্নে আলােকের
শুভ রেখা পাত হবে, মাের অন্ধ অাখি
করিবারে জ্যোতিষ্ম, নাহি জানি,
জানিবার নাহি অবসর। তবু দেব
হে চির বাঞ্ছিত, বাঞ্ছাকল্পতরুরূপে
ফুটাইয়া দেও জ্ঞান-আঁখি অধমের,
নিরখিতে তব দত্ত আলাে দিয়া
তুমি কি অনন্ত, কি মহা, কি উদার,
কত শক্তিশালী তুমি, কত ক্ষমাময়!
ধনীর নহত শুধু দরিদ্রের হৃদে
সমভাবে রাজ তুমি ওহে বিশ্বরাজ,
তাই এই দীনজন মাগে তব পদে
দয়া, ক্ষমা, মুক্তি। তার পূরাও বাসনা
এ বিশ্বের প্রতি অণু পরমাণু যার
কৃপাবলে সচল, জীবনময় সদা,
আমিই কি তথা রহিব জীবন হীন?
আজ তব শুভ মেহালােকে ধন্য কর,
শান্তি দানে, প্রভু, এই শান্তিহীন জনে।
৬

No text on this page.

-5^e
পরিবিবির সমাধি ( ঢাকা }
Engraved & Printed by K. V. Seyne Bros.

পরিবিবি।
পরিবিবি।
পরিবিবি নবাব শায়েস্তা খাঁর দুহিতা। ঢাকা লালবাগের
পুরাতন কেল্লার ভিতরে তাহার সমাধি-মন্দির আজিও
বৰ্ত্তমান রহিয়াছে।)
আজ এই সমাধির নিভৃত নিজনে
যে শুইয়া, সে যে ছিল শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার
এই শ্যামা ধরণীর। রমণী-জীবনে
যাহা কিছু বরণীয়, কমনীয় আর,
বাঞ্ছিত, ঈপ্সিত, তাহা অন্তরে বাহিরে
তারি মাঝে পেয়েছিল প্রতিষ্ঠা আপন।
আজ তাই বেড়ি এই মৌন সমাধিরে
পবিত্র স্থাপিয়াছে নিজ সিংহাসন।
অনন্ত কালের স্রোতে কত আসে যায়,
কিন্তু যারা আপনার মহত্ত্ব-বিভায়
আলােকিত করে নিজ জীবনের পথ,
তারাই বরেণ্য, তারা পূর্ণ-মনােরথ ।
:
-

পী
পরিবিবি, আজ নহ নবাবের মেয়ে,
বিশ্ব জগতেরে তুমি আছ আজ ছেয়ে!

স্রোতস্বতী
স্রোতস্বতী।
(টেনিসনের “The Brook”)
আসিতেছি আমি হংস ও বলাকা
যেথায় বিহরে সুখে,
নাচিয়া ছুটিয়া তরঙ্গ তুলিয়া,
আপনার বেগে পথটি বাহিয়া,
লতার পাতার বাঁধন টুটিয়া
আলােকি উচ্ছ সি, গরজি, হৰি
পড়িতে ধরার বুকে।
२
আর
অতি দ্রুতবেগে আমি বয়ে যাই
পাহাড়ের পদ চুমি’,
প্রস্তরের বাধা যদি পথে পড়ে,
তাহারে ডুবায়ে যাই বেগভরে,
পল্লী-প্রান্তর, সেতু ও নগর
বহু, বহু অতিক্রম।

ভাল।
শেষে আসি পড়ে ফিলিপের বাড়ী
আমার পথের পাশে,
তারে পিছে রাখি যাই ছুটে যাই,
মিশিতে উছল নদীটির ঠাঁই,
পূরাতে জীবন-আশে।
কারণ আমি ত মানুষের মত
আসিতে যাইতে নারি ;
আমি যদি যাই একেবারে যাই,
থমকি গমকি পথে না দাঁড়াই,
আমার সাধনা আমার বাসনা
লক্ষ্যেতে পৌছিতে পারি।
যদি,
উপল বন্ধুর পথের উপরে
কল কল ধ্বনি তুলি,
আবর্তে আবর্তে বুদ বুদ রচিয়া,
প্রস্তর কণায় কাহিনী কহিয়া,
সদা আমি ছুটে চলি।

স্রোতস্বতী
আঁকিয়া বাঁকিয়া আমি যাই চলে
তীর ভূমি ক্ষয় করি,
শস্য পূর্ণ মাঠ, অফসলা ভূমি,
পড়ি রহে মাের দুই তীর চুমি,
আমি ছুটে যাই, আপনা বিকাই
ক্ষীরস্রাত বিতরি ;-
উইলাে-মেলাের নবীন পাতায়,
জীবন-স্রোতের লহরী-লীলায়
আমিই শশাভিত করি।
.
আমি
কূলে কূলে ভরা নদীটির সাথে
যখনি মিশিতে যাই,
আপনা পাশরি’, আপনা বিসরি’
আনমনে গান গাই।
কারণ আমি ত মানুষের মত
আসিতে যাইতে নারি,

স্থূল
আমি যদি যাই একেবারে যাই,
থমকি গমকি পথে না দাঁড়াই,
আমার সাধনা, আমার বাসনা
লক্ষ্যেতে পৌছিতে পারি।
যদি,
৭
আমি যাই চলি বক্র-গমনে
বসুধা-বক্ষ ভেদিয়া,
ভাসে মাের জলে ফুল রাশি রাশি,
বাটা ও শফরি খেলা করে আসি,
আপন মনে ছুটিয়া।
৮
পাথরের রাশি সােনার বরণ
পথে পড়ে যদি ; ফেনিল, শােভন
তুষারের কণা যদি ভাসে বুকে,
সবারে টানিয়া নিয়ে যাই সুখে,
রূপার বরণ জল রাশি লয়ে
উছলি উছলি পড়িবারে ধেয়ে
নদীর অসীম বুকে।

স্রোতস্বতী
আমি বহি’ ধীরে, তৃণ পূর্ণ মাঠ
থাকে মাের তীরে জাগি’,-
কোথাও বা কোন বাদাম-বীথিকা
পথমাঝে যাই রাখি।
‘ভুলােনা আমায়’ নামে প্রিয় ফুল,
তারে ধীরে ধীরে দেই আমি দুল,
জনম যাহার সুখের ভুবনে
প্রেমিক প্রেমিকা লাগি”।
•
কখন আমি বা বেগে ছুটে চলি
কভু বা মধুরে বহি,
কখন আঁধারে ডুবে আমি যাই,
আলােকের মাঝে কভু দৃষ্টি পাই,
চির চঞ্চল সােয়ালাে পাখীর
কাণে কাণে কথা কহি।
যখন তরুর পত্র-পথ দিয়া
৭১

জুল
সূর্যের কিরণ পড়েগাে লুটিয়া
ধরার বুকেতে আসি,
মাের বালুতীরে আলােও ছায়ার
হয় শুভ মিশামিশি!
নিশীথে যখন গগনের কোলে
হাসে চাঁদ সুধা হাসি,
তারকা-বালিকা দূরে দূরে থাকি
বিলায় রূপের রাশি ;
কণ্টকের ঝােপ অতিক্রমি আমি
তখন মধুরে বহি,
উপল-শৈবাল পথেতে পড়িলে,
শুধু চলি রহি রহি।
১২
মুক্ত-বন্ধন হইয়া আবার
আঁকিয়া বাঁকিয়া যাই,
পূর্ণ উছল পারাবার বুকে
পাইবারে চির ঠাই।
৭২

স্রোতস্বতী
কারণ আমিত মানুষের মত
আসিতে যাইতে নারি,
আমি যদি যাই, একেবারে যাই,
থমকি গমকি পথে না দাড়াই
আমার সাধনা, আমার বাসনা,
লক্ষ্যেতে পৌছিতে পারি।
যদি,
৩৩

ল
কাহিনী
তেজঃপুঞ্জ কলেবর আরব যুবক
সুবিচার প্রার্থী রূপে দামাস্ক-অধিপ
মােয়াবিয়ার সিংহাসন-পার্শ্বে আসি
দাড়াইল যবে, সভাসদগণ তারে
নেহারিয়া ভাবিল হৃদয়ে, সবিদ্যুত
মেঘ যেন আসি দাড়াইল, কারাে শিরে
হানিতে অমােঘ বজ্র। সে বীর মুরতি
প্রণমিল খলিফারে সম্ভ্রমে, বিনয়ে।
তার পরে যুড়ি দুই পাণি নিবেদিল,-
“ইসলামের জয় খােদা করুক বর্ধিত
হে খলিফা তােমা হতে; তুমি মহাজন
ধৰ্ম্মের পবিত্র ভাব করিয়া প্রচার
ইসলামের জ্যোতিঃ কর সদা সমুজ্জ্বল !
আজ যদি তব এই অধিকার মাঝে
দুবৃত্ত পাশব বলে করে অত্যাচার
রমণীরে, সে কি পরিম্নান করিবে না
৭৪

কাহিনী
তােমার রাজত্ব-গৰ্ব ? রাজ-ধৰ্ম্ম হতে
হবেনা পতিত তুমি ?—শুধু জয়কার
এবিশ্বে তােমারি নামে হইবে ধ্বনিত ?
শুন মহাভাগ, দীন আমি, দুঃখী আমি
তবু মাের কুটীর উজলি’ ছিল এক
শুচিস্মিতা, সৌন্দৰ্য-প্রতিমা। দুবৃত্ত সে
নােমান, যে খ্যাত তব প্রতিনিধি নামে,
বলে তারে নিয়াছে কাড়িয়া আমা হতে ;
কিন্তু সতী-ধৰ্ম্ম দেব পত্নীরে আমার
রাখিয়াছে আজও উজ্জীবিয়া। কর
প্রতিকার তার, নহে নােমানের রক্তে
প্রক্ষালিয়া দুটি হস্ত আজি একবার
রক্ষিব নারীর মান।"-ক্ষোভে আর রােষে
কণ্ঠ তার হ’ল রুদ্ধ, নয়ন হইতে
বর্ষিতে লাগিল যেন অগ্নি জ্বালাময়!
মহাত্মা মােয়াবিয়া ধীরে কহিলা তখন,
“স্থির হও বৎস। জয় হ’ক ইসলামের।
নারীর মর্যাদা কভু হইবে না ক্ষুন্ন
৭৫

থাল
আমা হতে। শুন, কালি প্রাতে পাবে তুমি
পত্নীরে তােমার। আর দুরত্ত নােমান
পাবে তার কর্ম অনুরূপ শাস্তি। যাও,
বৎস, ফিরে যাও গৃহে আজি।”
প্রণমিয়া
সকলেরে, বক্ষ মাঝে লয়ে রাশিকৃত
গুরু বিষাদের ভার, সে গেল চলিয়া!
এ.প্রাচীন পৃথী যেমনি চলিতেছিল
তেমনি চলিল। কারাে সুখ-দুঃখ পানে
চাহিলনা শুধু মুহূর্তের তরে। তাই
দিবা শেষে রবি অস্ত গেল, রাত্রি এল
তিমির বরণ। চরাচর সুপ্তি মগ্ন হ’ল,
ধ্যান মগ্ন হ’ল বুধ, এ বিশ্বের যত
রহস্যের মাঝে করিয়া সে আপনারে
গােপন, লুষ্টিয়া নিতে নিজের বাঞ্ছিত
ধন!
বিধাতার চক্র-আবর্তনে, উষা
৭৬

কাহিনী
বিনােদিনী, ভালে লয়ে বালার্কের ফোটা
আবার দর্শন দিয়ে নিদ্রাতুর বিশ্বে
আনিল চেতনা।
এ জীব-জগৎ হতে
উঠিল বন্দনা গান বিশ্বপতি পদে।
যথাকালে দেশ পতি সুজন মােয়াবিয়া
আসি বসিলেন সভামাঝে। মুখে তার
রয়েছে অঙ্কিত করুণ-কঠোর ভাব, -
যেন দোষী তার কাছে পাইবেনা ত্রাণ,
আৰ্তজন সে মুখের সুধাবাণী শুনি
হইবে কৃতার্থ। ক্রমে অর্থী প্রত্যর্থীর দল
গেল চলি নিবেদিয়া যাহা কিছু ছিল
বলিবার। সভা হ’ল স্থির, অচঞ্চল।
আজ্ঞা-অনুবর্তী হয়ে প্রহরী অনেক
সভামাঝে উপস্থিত করিল তখন
নােমানে ও রমণীরে। খলিফা মােয়াবিয়।
জিজ্ঞাসিলা নােমানেরে, কোন্ বিধি মতে
৭৭

ল
পরের নারীর প্রতি পড়িল তাহার
লুব্ধদৃষ্টি ? খলিফার প্রতিনিধিরূপে
সে কি কলঙ্কিত করে নাই রাজধৰ্ম্ম ?
সত্য, পবিত্রতা দুই পায়েতে দলিয়া
অসত্যের নরকের মাঝে প্রতিষ্ঠিত করে
নাই সিংহাসন? সুবিচার, সে কি
কামুকের কামনার কাছে পরাজিত
হবে ?—রােষে, ক্ষোভে তার দুইটী নয়ন
রক্তবর্ণ হয়ে যেন লাগিল জলিতে।
বলিলা তখন, “বল, পাপী বল, তুই,
যত কিছু আজ তাের আছে বলিবার।”
“খলিফা, দেশের রাজা, ধৰ্ম্মের পালক।
আমি পাপী, নরাধম, ঘৃণিত কুকুর,
কিন্তু যেই দিন আমি হেরেছি নয়নে
মাধুৰ্য-পূরিত, প্রেমে ঝলকিত, দীপ্ত,
ওই আরব-বালার মুখখানি, তার
লীলাঞ্চিত গতি, আমি সে দিন নিজেরে
৭৮

কাহিনী।
বিকাইয়া দিছি অই পায়। আমি তারে
নিজ আয়ত্তের মাঝে, বড় আশা করে
নিয়াছি, কিন্তু সে ত কুলিশ-কঠিন।
সেধেছি, কেঁদেছি কত, হায় সে পাষাণী
টলিলনা, নারিলাম তারে একবার
বক্ষঃ মাঝে নিয়ে দিতে একটি চুম্বন,
শুধুই একটি, তার বেশী নহে কভু!
চাহিলাম বল প্রকাশিতে, কিন্তু হায়,
তাও তো হ’লনা! সে নারী যে পলকেতে
চূর্ণিত কুন্তল হতে করিয়া বাহির
তীক্ষ্ণধার ছুরিকায়, চাহিল বিধিতে
বক্ষেঃ মাের। তার পরে নিজ হৃদি-রক্তে
সে করিবে রঞ্জিত তাহারে। ভয়ে আমি
কত হস্ত সরে গেনু, বলিতে না পারি ।
নারীর ও মূর্তি নহে, মূর্তি বাঘিনীর !
তবু চিত্ত ধায় মাের তাহারি পিছনে,
রােধিতে পারিনা নিজ বাসনার গতি।
৭

লা
যেই শাস্তি ইচ্ছা মােরে দেও মহারাজ,
শির পাতি লব তাহা, শুধু একবার
অধরের সুধা তার করিতে লুণ্ঠন
দেও অধিকার, তার বেশী নাহি চাহি!”
সরিয়া নিজ ক্রোধ, আরব-বালারে,
সতীধৰ্ম্ম তার নিজে পরীক্ষার লাগি,
খলিফা কহিলা শেষে ধীরে, ‘অয়ি নারী,
আমি ও নােমান আর আরব যুবক
এ তিনের মাঝে, শুভে, কে তব বাঞ্ছিত
নােয়াইয়া শির, চক্ষু আনত করিয়া,
বীণা-বিনিন্দিত স্বরে করিলা উত্তর,
“জাহাঁপানা, আমি ক্ষুদ্রা নারী আপনার
নহি যােগ্যা, সুরূপা, সুযশাঃ, যেই জন
আমা হতে, রাজ-স্বামী শুধু যােগ্য তার।
আমি চাই দীনের কুটীরে থাকি সুখে
লয়ে মাের দেবতায়, পূজি পা দু'খানি
অনন্ত প্রসাদ লভি চিত্তে আপনার।
?
২০

কাহিনী
খঞ্জ হক, অন্ধ হ’ক, হউক কুরূপ,
তবু সে আমারি স্বামী, আমি তার নারী।
এই আঁখি কভু হেরিবেনা এজগতে
নিজ স্বামী হতে আর কারে শ্রেষ্ঠতর।
মােস্লেম-রমণী
নহে শুধু বিলাসের,
শুধু কামনার কমনীয় ধন। নহে
সতী-ধৰ্ম্ম তার মিথ্যার নির্মোকে ঢাকা,
চিরসত্যে পূর্ণ তাহা, চির সমুজ্জ্বল !
সে জানে তাহার স্বর্গ রয়েছে নিহিত
স্বামীর পায়ের নীচে। ইহা ছাড়া আর
জানেনা সে শ্রেষ্ঠধর্ম কিবা রমণীর
আমি সেই নারী, আজ পাপীর কি সাধ্য
স্পর্শে মাের দেহ ? এই নােমান কুকুর,
ঘৃণিত অধম নাহি যার চেয়ে আর
এবিশ্ব-জগতে, পরস্ত্রী-লােলুপ যেবা,
আমি হব তার? এর চেয়ে মৃত্যু ভাল !
দেব, লজ্জা আসি রােধিছে বচন মাের,

U
নহে বলিতাম খুলি হৃদয়ের দ্বার ;-
ক্ষম দেব প্রগলভতা এই অবলার।
স্বামী মাের চাহিয়াছে শুধু সুবিচার
তাই দাও, অন্য কিছু নাহি চাহি আর।
স্বপ্ন হতে যেন জাগি উঠি, চারিদিক
চাহি, কহিলা তখন ধর্মাধিপ, “আজ
পুণ্যেরই হইবে জয়, পবিত্রতা আসি
চিরসত্য মাঝে তার স্থাপিবে আসন।
মন্ত্রি, আজি এই পরস্ত্রীহরণকারী
কামুক কুকুরে, জীবন্ত প্রােথিত করি,
প্রস্তর আঘাতে কর প্রাণ নাশ তার।
হউক প্রচার বিশ্বে, ইসুম কখনাে
অধৰ্ম্মেরে নাহি দেয় বিন্দু অবসর
করিবারে সত্য ও ধৰ্ম্মেরে পরাজিত।”

মাধুরী
মাধুরী
(বন্ধু কন্যার অকাল মৃত্যু উপলক্ষে।)
কি ভুল! স্বর্গের ছায়ে
ছিলি ভাল নীরবে নির্জনে,
কেন মিছে ছুটে এলি
পাপ-দগ্ধ কঠোর ভুবনে।
পারিলিনা সহিবারে
দুদণ্ডের মিছা অভিনয়,
হাসি অশ্রু এক করি
প্রবােধিতে নারিলি হৃদয়।
কেবলি আনন্দ ভরে
কে হেথায় গেয়েছিল গান ?
হেথাকার বাঁশী-বীণা
বিষাদে আনন্দে তুলে তান!
সেই যে দেখি তােরে বালা
হেমন্তের শেষ সন্ধ্যা বেলা

বই ছবি কত কিছু নিয়ে
একমনে করিবারে খেলা,
সেদিন ভাবি মনে, তুই
প্রভাতের পদ্মটীর মত,
পিতৃ স্নেহে মাতার আদরে
হবি সুখে পূর্ণ বিকশিত।
কই তা’ত হ’লনা হ’লনা
মিটিলনা মনের বাসনা,
আরম্ভেই গলা বেঁধে গেল
সাধা সুরে গাওয়াত হলনা ।
টুটিতে বসন্তের শেষ রেখাটুকু
তুই মিনি চলিলি কোথায়?
এ শিশু জীবনে তাের কি ছিল অভাব
কি ব্যথা গাে ছিল ও হিয়ায় ?
এই জগতের মাঝে সবি তাের মেয়ে,
ছিল কি গাে অচেনা অজানা।
একটিও প্রাণী হেথা ছিলনা এমন
দিতে পারে সরল-সান্ত্বনা ?
৮

তাই তুই চলে গেলি অভিমান ভরে
থেমে গেল তাের কল-গান ?
মিশিতে দুটী বর্ষ কালের সাগরে
হ’ল সব স্মৃতির শ্মশান ?
আজি ভাবি বসে আমি নিরালা নিজনে
কি করেছি সারাটী জীবন,
কারাে অশ্রু পেরেছি কি মুছাতে গােপনে
পাপীরে কি করেছি সুজন?
বিপথে যে চলেছিল পথহারা হয়ে
তারে পথে এনেছি টানিয়া ?
যে জন ঘুরিতেছিল অজ্ঞান-আঁধারে
জ্ঞান-আলাে দিয়েছি আলিয়া
তাহার অন্তর মাঝে ? -ব্যথিত যে জন
অবিরল ঢালে অশ্রুজল,
তারে কিগাে সান্ত্বনার স্নিগ্ধবারি দিয়া
তিরপিত করেছি কেবল ?
অনাথ আতুর জনে স্নেহের আহ্বানে
ডেকেছি কি কোন একদিন ?

তাদের নিরঙ্গ মুখে দুটি অন্ন দিয়ে
তাহাদের বিষাদ মলিন
চিরশ্রান্ত নয়নেরে হাসির আভায়
করেছি কি কখনাে রঞ্জিত ?
তাহাদেরে বুকে টানি লইয়া আদরে
করেছি কি কভু শান্ত চিত?
বৃথা, বৃথা, এ জীবনে কিছুই করিনি,
এ জীবন দগ্ধ মরুময়,
শসিয়া উঠিছে ঘন পাপ তাপ রাশি
যাহে চির সঞ্চিত হৃদয়!
আজি তুই মরণের তীরে গিয়ে চলি,
জাগাইলি ঘুম ঘাের হ’তে,
টুটে গেল সুষুপ্তির মায়ার পরশ,
কৰ্ত্তব্য জাগিল যেন চিতে।
এক তুই মর কন্যা শতেক হইয়া
আজ হৃদে দিলি দরশন,
এক তুই গেলি আর শত হয়ে এলি,
৮৬

মাধুরী
এর চেয়ে কি আছে শােভন।
আমি কি ভাবিব তুই গিয়াছিস, চলে
অতিদূর দূরতর দেশে?
যথাকার আলো, গান, পারিজাত হাসি
ভাসেনা এ মরত আসে ?
তা’নয় ; এ হৃদয়ের নিভৃত নিলয়ে
জাগি রবি তুই চিরদিন,
অন্তর-নয়ন দিয়া নেহারিয়া তােরে
হইব সংসারে সম্মুখীন।
যখনি এ হৃদে হবে বলের অভাব,
দীপ্ত তেজে দাড়াবি আসিয়া,
দুৰ্বলতা দেখি তােরে দূরে সরে যাবে
আপনাতে আসিব ফিরিয়া ।
৮৭

লী মােস্লেম নারীর প্রতি হে মােস্লেম নারী, হায় মনে পড়ে আজ সেই এরমুকের কথা! সুদূর অতীতে যে দিন তােমারি জাতি, বিক্রম বিভাতে উজলিয়া ছিল হায় মােফ্লেম সমাজ! বিপক্ষের আক্রমণ সহিতে না পারি ছুটিলা মােসেম সৈন্য যবে রণ ছাড়ি, তুমি ত সিংহীর মত উঠিলে গর্জিয়া আপনার তেজোগৰ্ব্বে, দাড়ালে রুধিয়া তাহাদের পথ আসি। জানালে গম্ভীরে হয় তারা রণক্ষেত্রে যাইবেক ফিরে, নতুবা তােমারি হাতে লভিবে নিধন। তার পরে, নারী হয়ে করিবে গমন যুদ্ধক্ষেত্রে, রক্ষিবারে স্বজাতির মান- যদি আবশ্যক হয় ডালি দিবে প্রাণ। ফিরিল মােস্লেম-সৈন্য, বিপুল বিক্রমে বুঝিল অতি সনে, সেই রণ-ভূমে ১৬

মােলেম নারীর প্রতি।
পলায়িত জনে শেষে করিল আশ্রয়
চির বীর-ভােগ্য শুভ বিপুল বিজয়!
আজ এই নবযুগে পৃথিবী ব্যাপিয়া
প্রতিকেন্দ্র হতে দেখ উঠে উছলিয়া
জ্ঞান-জয়-রাণী। শুধু তােমারি সন্তান
জ্ঞানরাজ্য হতে হায় করিছে প্রস্থান
ভীত, শঙ্কাৰিত পদে।
বিশ্বে আরবার
দেখাও এরমুক দৃশ্য। সন্তানে তােমার
ফিরাইয়া নেও পুনঃ জীবন-আহবে,
জ্ঞান-কেন্দ্র মাঝে। শুধু তখনি দেখিবে
ফিরেছে ভাটার টান।
তােমরা রমণী
নহ শুধু শােভা লাগি। তােমাদের বাণী
আবার সঞ্চারি বল প্রতি হৃদি মাঝে,
প্রত্যেক সন্তানে তব নব নব কাজে
করুক উন্মুখ সদা। যায় যাবে প্রাণ,
তথাপি বাড়াবে তারা জাতির সম্মান।
৮

জাল
আজ মােরা নাহি চাহি অস্ত্রের ঝনা,
আজ লক্ষ্য আমাদের জ্ঞানের সাধনা !
দুরূহ, কঠোর ব্ৰত সম্মুখে দেখিয়া
যে অভাগা ভয়াতুর আসিবে ফিরিয়া,
তার লাগি রচি’ রেখ অনন্ত ধিক্কার,
ফিরাইয়া দিও তারে যুদ্ধে আরবার।
যেই জনা জয় লভি আসিবে যখন,
পরাইয়া দিও কণ্ঠে বিজয়-ভূষণ !
হে মােসলেম নারী, আজ তব সেবা লভি,
ধন্য হ’ক আমাদের ধর্ম-কৰ্ম্ম সবি।
,
৯০

বিশ্বদেব
বিশ্বদেব।
(কোনও আরবী কবিতার অনুসরণে )।
মা যেমন প্রীতিময় পবিত্র আননে,
বসে থাকি আপনার গৌরব আসনে,
নেহারে সন্তানে নিজ সুধা-দৃষ্টি দিয়া;
কারে চুমি’, কারেও বা স্নেহে আলিঙ্গিয়া,
একেরে বসায়ে নিজ জানুর আসনে,
অপরের দোলাইয়া রাতুল চরণে,
কাৰ্য, দৃষ্টি, অভিযােগ, ছলনা-বচনে,
বুঝে লন মনােভাব একান্ত গােপনে,
তার পরে একে স্নেহ, অন্যে তিরস্কার,
যার যাহা প্রাপ্য তাহা দেন অনিবার;
তবু তার চিত্ত যুড়ি’ রহে মেহসুধা-
সেই রূপ বিশ্বদেব এ বিশ্বের ক্ষুধা
স্নেহ-হস্তে অবিরত করে নিবারণ।
তার এই মহারাজ্যে কভু অপূরণ
থাকে না অভাব কারাে। প্রার্থনার ছলে
৩

জুলা
যেই যাহা নিবেদিবে সে চরণ-তলে
ব্যর্থ তা হবেনা কভু। তার নিতি খেলা,
দিব না বলিয়া শেষে সব দিয়ে ফেলা।
৯২

আমীর খঞ্জ
আমীর খসরু।
মৰ্ম্মানুবাদ।
প্রথম স্তবক।
আজি মেঘ-মেদুর অম্বর হইতে বাদলের ধারা ঝরে,
বঁধু হ’তে আমি যেতেছি যেন গাে সরিয়া কনা দূরে!
কেমন করিয়া বলনা আমারে আজি এই দিনে হায়,
চিত্ত-হরণে স্মরণ হইতে বিদায় দেওয়া গাে যায় ।
२
মেঘ বরষিছে অবিরলধারে নিরমল বারিধারা,
বিদায়ের বাণী বলিবার আশে আমি আর বঁধু খাড়া ;
হৃদয়-পাষাণ গলিয়া আমার ঝরিবে নয়ন জল,
মেঘ-পুঞ্জ দুর আকাশেতে ভাসে, নীচে বঁধু অচঞ্চল।
প্রকৃতি আজিকে হরিৎ ভূষণে সেজেছে নবীনতর,
লুব্ধবায়ু আজ মুগ্ধ করিছে বিশ্ব চরাচর।
১৩

জ্বী
কাননে কাননে বসন্ত আহ্বানে ফোট’ ফোট’ ফুল রাশি,
বুলবুল আসিয়া ফুটাবে কখন গােলাপ কুঞ্জের হাসি ?
৪
কুঞ্চিত তােমার কুন্তলে ওগাে প্রত্যেক গ্রন্থির মাঝে,
আমার দেওয়া গােপন গ্রন্থি দেখনা কেমন রাজে!
কি আমার দোষ? কি করেছি আমি, বলনা গাে বঁধু মােরে?
আমার সকল গ্রন্থি কেন গাে খুলিছ এমন করে ?
তােমারি লাগিয়া শােণিত-লাল আমার এ দুটি আঁখি,
ওগাে সখা, মাের আঁখির পুতলি, দয়া তব হবে নাকি ?
মিনতি আমার, ওগাে প্রাণ বঁধু শুধু ক্ষণেকের তরে,
আমার আঁখির শােণিমা হইতে যেওনা ক দূরে সরে !
ওগাে বাঞ্ছিত, উজ্জ্বল তব শুভ দৃষ্টি দিয়া,
যদি না উজলে নয়ন আমার আমার গােপন হিয়া,
কি কাজ নয়নে? চাহিনা আমি এ বাহিরের শােতারাশি,
তােমার প্রাণের ছবিটি যদি গাে না উঠে আঁখিতে ভাসি ?
৪

আমীর খসরু।
জীবন আমার সাঁপিতেছি আজি তােমার রাঙ্গা পায়,
ওগাে বঁধু মােরে ধূলায় লুটায়ে যেওনা অধম প্রায় !
কথায় আমার যদি নাহি হের বিশ্বাসের ক্ষুদ্র কণা,
আগে প্রাণ নিয়া তােক মেরে পরে, তাতেও কি আছে মানা?
রবেনা তােমার রূপের মাধুরী, শুন বঁধু, ক্ষণতরে,
খসরু হইতে সরে যদি তুমি যাহ গাে চলিয়া দূরে।
কণ্টক হইতে ফুল্ল কোমল গােলাপ ছিন্ন হলে,
সুষমা হীন, শুষ্ক-মলিন লুটায় ধূলির তলে।

জুলা
দ্বিতীয় স্তবক।
মালঞ্চে মালঞ্চে বিলায় গােলাপ অতুল সুষমা-ভার ;
কোথা গেল আজ সে সুখ পাখিটি প্রাণপ্রিয় যে আমার ?
আসিয়াছে আজ সুখদ সময় বঁধুর ভােগের লাগি,
কুঞ্জের শােভা কোথায় এখন ? কবে সে উঠিবে জাগি ।
তার সুধা-হাসি সহস্ৰ জনারে বেঁধে রাখে প্রেম-ডোরে,
তার অধরের অমৃত-পরশ মৃতেরে জীবিত করে।
আমার চিত্ত জুড়িয়া যে ব্যথা দিবস রজনী রয়,
কখন তাহার হবে অবসান? কে জানে কখন হয় ?
সবে বলে মােরে দুঃখ ভুলে যাও, দেখাও চিক্তের শােভা ;
আমি নিরাশ্রয় কোথায় পাইব রূপরাশি মনােলােতা ?
পাগল জনারে কে বিলাবে তার গােপন মাধুরী রাশি?
তারে দেখি কার চিত্ত-সাগরে উঠিবে করুণা ভাসি ?

দ্বিতীয় স্তবক
৪
কখন সুখের হিল্লোলে ভাসিয়া, কভু ডুবি দুঃখ-নীরে,
খেজের যখন পঁহুছিল গিয়া জীবন-স্রোতের তীরে,
আপনার মনে অঞ্জলি পূরিয়া পান করে সেই বারি,
অনন্ত জীবন লভিল তখন মৃত্যুরে বিজয় করি !
ওদিকে আবার শাহ, সেকেন্দার দেশ হতে দেশান্তরে,
জীবন-স্রোতের সন্ধান লাগিয়া ফিরিল, মরিল ঘুরে।
সে অতুল নিধি, সে পবিত্র স্রোত, দিলনা তাহারে দেখা,
মরমে তাঁহার রহিল অঙ্কিত নিরাশার ক্ষত-রেখা।
'?
৬
৩
বঁধু যে আমারে বলিত সদাই, “এ জীবন কর দান,
শান্তির, সুবের সুমিগ্ধ ধারায় ভরিবে তােমার প্রাণ।”
আমিত আজিকে আত্মারে আমার করিয়াছি বলিদান,
কিন্তু কোথা গেল সে জন আমার, নিঠুর কঠোর প্রাণ ?
৭
আমি বলিলাম, “আমার দেহের তুমিই আত্মা, প্রাণ,
যদিন আমার উজ্জ্বল আত্মাটি না করিবে আত্মদান।”
১৭
৭-

ঠাপ।
তুমি ত বলিলে, “ঠিক তাই, আজ তুমি প্রাণ, আমি কায়া,”
আমার আত্মাটি তুমি যদি হও, কোথায় জীবন-মায়া ?
৮
তুমি বল মােরে, “ধৈর্য ধরিয়া হও শান্ত, সমাহিত,
আমারি করুণা হউক তােমার ঐশ্বৰ্য্য আশাতীত।”
শির পাতি আমি করেছি পান তােমার আদেশ বাণী,
কোথা গেল আজ প্রতিজ্ঞা তােমার, হে মাের জীবনস্বামি ?
।
মাসেকের পরে আমার এ পথে তােমার চরণ লেখা
তেমনি করিয়া উজল হইয়া যদি নাহি যেত দেখা,
তােমারি আঁখির দৃষ্টি আমারে করিত জীবন দান;
সে দুটি আঁখির নীরব ভাষার হইল কি অবসান ?
তােমার সকল সধাদের মাঝে আমিই কেবল হায়,
তােমারি প্রণয় স্মরণ করিয়া রয়েছি তােমারি পায়।
সেই খসরু আমি নহি কিগো আজ, বল, বল, দেব মােরে ?
তাহলে তােমার আশীষ, করুণা, গেল আজ কোথা উড়ে ?
১৮

মীর মশাররফ হােসেন
মীর মশাররফ হােসেন।
যাও, যাও, দুঃখ-কষ্ট পিছনে ফেলিয়া,
সাহিত্যের কীৰ্ত্তি তােমা করিবে অমর ;
সেই এক সান্ত্বনার অমৃত লভিয়া
স্বর্গ-পথে দ্রুতগতি হও অগ্রসর!
কারবালার শােক-দৃশ্য দেখাতে জগতে
যে বিষাদ-সিন্ধু তুমি করিলে রচনা,
পড়েনি কি তার রেখা জীবনের স্রোতে ?
লভ নাই শান্তি স্থানে অশান্তি, বেদনা ?
যখন ফুটিলে তুমি জাতীয় জীবনে,
একা শতরূপে হ'লে বঙ্গে প্রতিভাত,
তােমারি পদাঙ্ক ধরি সাহিত্য-কাননে,
চলেছে স্বজাতি তব আজ শত শত।
কীর্তি-সৌধ হতে পারে পলকে বিলয়,
তােমার যে কীর্তি, তাহা অক্ষয়, অব্যয়।
১৯

ভূল
চৌধুরী মােহাম্মদ ইসমাইল।
জ্ঞানের লাগিয়া যে দান আজি
করেছ তুমি মহাপ্রাণ,
সে কথা স্মরি’ মােস্লেম-চিত্ত
উঠেছে আজি ভরিয়া,
যৌবন যার জীবনে জাগি
হার এই আত্মদান,
কীর্তি-প্রভায় উজ্জ্বল হয়ে
উঠিবে বিশ্বে ভাতিয়া !
জীবন আছে, জলের মত
তাহাও যাইবে বহিয়া,
যৌবন আছে, পলকে সেত
কোথায় লুকাবে তরাসে,
অনন্তকাল কীৰ্ত্তি তােমার
রহিবে অমর হইয়া,
মােস্লেম-যুবা যুগে যুগে তােমা
আঁকিবে হৃদয়-আকাশে।

মােহাম্মদ ইসমাইল
কৰ্ম্মেরে তুমি ধরম মাঝে
বরিলে যতন করিয়া,
স্বর্গের চাবি তুমিই লভিলে
আজি এ নবীন বঙ্গে,
মােগ্লেম-যুবা তােমারি গাথা
গাহিছে অমৃত ছানিয়া,
কি স্বজাতি প্রেম, কি মহান ভাব
জড়িত জীবন সঙ্গে।
পূৰ্ব্ব বাঙ্গালার হাজি মােহসেন
ধন্য করিলে দেশ,
দেখালে জগতে হাতেমের দান
নহে কবির কল্পনা,
তােমারি এ দান শিরেতে ধরিয়া
সহিয়া অশেষ ক্লেশ,
আনিবে তাহারা নুতন স্রোতের
নব ভাবের প্রেরণা।

প্যান্ট
প্রার্থনা।
স্বপনে, ঘুমের ঘােরে ছিনু পড়ি এতদিন,
যদি জাগাইলে নাথ, রেখ না অলস, দীন
অভাগা জাতিরে আর ; জ্ঞানে ধৰ্ম্মে সর্ব কর্মে
অতীত কাহিনী শত জাগাইয়া দেও মৰ্ম্মে।
যে পথে চলিলে মােরা লভিব বাঞ্ছিত ফল,
সে পথে চলিতে প্রভু দেও প্রাণে নব বল।
তােমারি আশীষ-কণা লভিলে এ মৃত জাতি
রহিবেনা মৃত আর ; জ্ঞানের বিমল ভাতি
উষার আলােক মত উঠিবে মধুরে ফুটি’
আমাদের গৃহে গৃহে। আবার লইব লুটি
সেই জ্ঞান, যাহা মােরা দিয়াছিনু বিসর্জন
একদিন হেলা ভরে। চলিব অনন্যমন
আবার সে শুভ পথে, নবাদর্শ বুকে ধরি,
তােমারি মধুর নাম অনিবার হৃদে স্মরি।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Dali

Author
Ali, Saiyad Amdad
Title
Dali
File name
Dali
Text
OCR done
Citation
1912
Published
2009/11/28
Publisher
Brindabanchandra Basak,dhaka
Language
Sanskrit
Pages
128
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Ali, Saiyad Amdad
DLI number
512575
Barcode
4990010019637.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
qJfuLxNPDTo
Download PDF

Dali