Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Sri Bishwakarma
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
ঐবিশ্বকৰ্ম্মা।
মিচীন মূল গ্রন্থ হইতে
অনুবাদিত।
শ্ৰীযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র
শীল কর্তৃক
প্রকাশিত।
এবং
শ্রীলক্ষণ চন্দ্র রক্ষিত কর্তৃক
সংগৃহীত ও সংশােধিত।
কলিকাতা ।
১৬ নং শিমুলিয়া স্ত্রী রামায়ণ যন্ত্রে
শ্ৰীক্ষীবােদনাথ ঘােষ দ্বারা
মুদ্রিত।
সন ১২৯১। ১৭ মাঘ ।
No text on this page.
পূর্বভাব।
বহুতর অন্বেষণের পর হস্তলিখিত একখানি
কীট-দষ্ট পুস্তক অবলম্বন করিয়া এই ক্ষুদ্র গ্রন্থ
খানি সংকলিত ও প্রকাশিত হইল। ঐবিশ্বকৰ্ম্ম।
এত দিন ভস্মাচ্ছাদিত অগ্নির ন্যায় অদৃশ্যমান
ছিল। কালক্রমে তাহা প্রবল হইয়া জ্বলিয়া
উঠিল। আজ কাল প্রাচীন-শাস্ত্র আলোচনায়
লােকের যত্ন দেখিয়া আমরা এই শ্রী বিশ্বকর্মা
পুস্তক খানি মুদ্রিত করিলাম। শ্রীবিশ্বকর্মার লেখা
প্রাচীন পদ্যমালায় লিখিত। নব্য পদ্যমালার
সহিত প্রাচীন পদ্যমালার ঐক্য হয় না; এজন্য
স্থানে স্থানে ভূল থাকিতে পারে। যতদূর সাধ্য
ততদূর সংশোধন করিয়া দিয়াছি। অনেক স্থলে
ভূল থাকিতে পারে ; অতএব সহৃদয় পাঠকবর্গের
নিকট অামার সানুনয় নিবেদন এই যে যিনি যে
ভূলটি ধরিয়া অমিয় দিবেন, তাহা আমি সানন্দে
গ্রহণ করিব, এবং পরমুদ্রিত কালে সংশোধন
করিয়া দিব। ইতি-
২ রা জানুয়ারি
১৮৮৫ সাল
খরসরাই
শ্রীবিশ্বকর্মা কি ? • যদি কেহ জিজ্ঞাসা করেন যে, বিশ্বকৰ্ম্ম। কি? তাহা হইলে আমরা এই পর্যন্ত বলিতে পারি যে আমরা যে বস্ত্র পরিধানে অসভ্য বর্বর জাতি হইতে মুক্ত হইয়া সুসভ্য মানব মণ্ডলীর মধ্যে পরিগণিত হইয়াছি ;-সেই বস্ত্র কি কা- রণে সৃজিত হয়, তাহার কারণ সহিত ইতিবৃত্ত এই শ্রীবিশ্বকৰ্ম্মাতে বর্ণিত আছে। এক্ষণে দেখিতে পাওয়া যায় যে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই বস্ত্র পরিধৃত হইতেছে। হে বস্ত্র পরিধৃত-মানব-মগুলি ; তােমারা বলিতে পার যে কি কারণে এবং কোন্ জাতি কর্তৃক সর্ব প্রথমে এই বস্ত্ৰ সৃজিত হয় ? বােধ হয় তাহা তােমরা জাননা। আহা কি পরিতাপের বিষয় ; যে বস্ত্র পরিধানে জগতের লজ্জারক্ষা হইতেছে সেই বস্ত্রের জন্মদি বিষয় তােমরা কিছুই জানি না যদি কেহ গৃহে বসিয়া এই সকল বিষয় জানিতে ইচ্ছা করেন, তবে তিনি এক এক খণ্ড ঐবিশ্ব কশ্ম। পুস্তক ক্রয় করুন। প্রতারিত হইবেন না। এক- বার পড়িতে আরম্ভ করিলে, শেষ না করিয়া থাকিতে পারা যায় না। ৩ রা জানুয়ারি ১৮৮৫ সাল খরসরাই। } শ্রীলক্ষ্মণ চন্দ্র রক্ষিত।
কৃতজ্ঞতা। পরিশেষে আমার বক্তব্য এই যে হুগলী জেলার অন্তর্গত বেগমপুর গ্রাম নিবাসী বদান্যবর শ্ৰীযুক্ত বাবু, নারায়ণ চন্দ্র শীল মহােদয় বহুতর বাধা অতিক্রম করিয়াও এই পুস্তক মুদ্রিত কর- Flার্থে ৪০, চল্লিশ টাকা প্রদান করিয়া আমাদের চিরস্মরণীয় হইয়াছেন। ইতি- ৪ ঠা জানুয়ারি।। শ্রীলক্ষণ চন্দ্র রক্ষিত। ১৮৮৫ সাল। খরসরাই ।
No text on this page.
ঐবিশকর্মা।
গণেশের স্তব
বিন্ন-বিনাশন,
গৌরীর নন্দন,
দেব গণেশায় নমঃ।
যাহার চরণ,
ভাবি নুক্ষণ,
সর্ব বিপ্ন বিনাশন।
খর্ব স্কুল অঙ্গ,
বদন মাতঙ্গ,
সুন্দর লম্বোদর।
চন্দনে চচ্চিত, সৌরভে উন্মত্ত,
ব্যাগ ন-গন্তে ভার ।
হৃদে বিভূষিত, শরীর শোণিত,
পরিধান দ্বিপচ্ছাল।
ভুল করীকর,
কররই স্বর,
পাশঙ্কুশ জপমাল।
বাহন ইন্দুর,
দেখিতে সুন্দর,
আজানুলম্বিত নাস।
•
বিশ্বকর্মা।
মুকুট বেষ্টন,
প্রচণ্ড খণ্ডন,
তিলকে তিমির নাশ।
নানা পরিচ্ছদ,
কঙ্কন অঙ্গদ,
নুপূর কিঙ্কিনী, বাজে।
অতি জিতেন্দ্রিয়, যােগীজন প্রিয়,
যােগেন্দ্র যােগীর মাঝে।
ঘঁহার চরণ,
সেবি অনুক্ষণ,
রচিল বিবিধ গ্রন্থ।
বাল্মীকি বশিষ্ঠ, ব্যাস কবি-শ্রেষ্ঠ,
ক্ষিতিতে হইল খ্যাত।
জয় বিঘ্নেশ্বর, মাের বিন্ন হর,
হরি রসামৃত পানে।
তব পদাথুজ,
জগদাসানুজ,
গ্রন্থকার ধ্যায় ধ্যানে।
নারায়ণাদি সৰ্ব দেবগণের স্তব।
নারায়ণ দেব বন্দ
ক্ষীরােদের কূলে।
সারােৎসার বস্তু তিহে সর্ব শাস্ত্রে ব ল ।
ব্রহ্মার চরণ বন্দ হয়ে সাবধান।
যাহার চরণ সেবি ব্রহ্মপদ পান।
শ্রীবিশ্বকৰ্ম্মা।
ব্রহ্মপুরে গিয়া হয় পারিষদগণ।
মপুরে আসিবার নাহি হয় মন।
আমার ভকতি কিবা তব স্তুতি জানি।
নিজগুণে কৃপা মােরে কর পদ্মযােনি।
শঙ্কর ভবানী বন্দ হয়ে হৃষ্ট মতি।
দেহে অনুগ্রহ কৈলে না থাকে দুর্গতি।
শিব-দুর্গার চরণে যাহার থাকে মন।
অন্তেতে যাইবে সেই কৈলাস ভবন।
কৈলাসেতে গিয়া সেই পারিষদ হয়।
বেদের বিধান ইহ অন্যমত নয়।
রাবণ সেবিল হর-গৌরির চরণ।
সেই ফলে মুক্তিপদ দিলা নারায়ণ।
জ্ঞান-হীন মূঢ় মতি আমি কিবা জানি।
নিজ গুণে কৃপা কর শঙ্কর ভবানী।
লক্ষনী সরস্বতী বন্দ করিয়া প্রণতি।
কোন চিন্তা নাহি দোহে যার ঘটে স্থিতি।
তােমা দোহার চরণে মাের এই নিবেদন।
অনুগ্ৰহ করি সদা থাকিবে সদন।
চন্দ্র-সূৰ্য্যদেব বন্দ হয়ে আনন্দিত।
আঁহার উদয়ে হয় ত্রৈলােক্য-দ্বীপিত ।
: বিশ্বকর্মা।
অষ্টবসু নবগ্রহ অশ্বিনী কুমার।
প্রণতি করিয়া বন্দ চরণ সবার।
ধৰ্ম্ম-দেব অগ্নি বায়ু বন্দ যােড় করে।
দশদিকৃপাল আদি দেব পুরন্দরে।
মাতা পিতার চরণ বন্দ হয়ে আনন্দিত।
হা হইতে দেখি আমি এই পৃথিবীত ।
অতঃপর বন্দিলাম শ্রীগুরু-চরণ।
যাহা হইতে বিঘ্ননাশ অরিষ্ট-পূরণ ।
গ্রন্থকার নিবেদয়ে কি জানি ভকতি।
অন্তকালে চরণ তলেতে দেহ স্থিতি
গ্রন্থারম্ভ।
শুন সবে এক ভাবে নিবেদন করি।
আনন্দ করিয়া সবে বল হরি হরি
ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর এই তিন জন।
ব্রহ্মা লইলেন ভার সৃষ্টির পত্তন ॥
বিষ্ণু যে লইল ভার পালন করিতে।
মহাদেব লইল ভার সব সংহারিতে
সর্ব সৃষ্টি করিলেন ব্রহ্মা মহাশয়।
ভক্ষ্য-ভােজ্য আদি করি নানা মত হয় ॥
ঐবিশ্বকর্মা।
উলঙ্গ দেখিয়া ব্রহ্মা ভাবিলেন মনে।
গাছের বাকল দিল করিতে পিন্ধনে
এক দিন স্বর্গপুরে ইন্দ্র দেবরাজ।
নিমন্ত্রণ করিলেন দেবের সমাজ।
সকল দেবতা আসি একত্র হইল ।
পাদ্য-অর্ঘ্য দিয়া সবে অর্চনা করিল ?
সকল দেবতা তবে ভােজনে বলিল।
স্বর্ণ-খালে পূরি শচী অনু আনি দিল।
নানামত করি তাহে পঞ্চাশ ব্যঞ্জন।
পরিশেন শচীদেবী আনন্দ বদন ॥
গতায়াতে শচীদেবীর বাকল সরিল।
দেবসভা মধ্যে শচী লজ্জিত হইল।
. তাহা দেখি দেবগণ ভাবে মনে মন।
কেমনে হইবে দৃঢ় কটির বন্ধন।
তােজনান্তে সৰ্ব দেব করি আচমন।
মুখ শুদ্ধি তাম্বুলাদি করিল ভক্ষণ । •
মনােমধ্যে দেবগণ মন্ত্রণা করিয়া।
কহিলেন ইন্দ্রদেবে বস্ত্রের লাগিয়া।
ইন্দ্র বলে আজ্ঞা সবে করিলে যে মােরে।
মার নিবেদন চল ব্ৰহ্মার গোচরে ।
@বিশ্বকৰ্ম্মা।
ইহা শুনি দেবগণ আনন্দিত হয়ে।
ব্রহ্মার নিকটে সবে উত্তরিল গিয়ে।
করপুটে ইন্দ্ৰ আদি করে নিবেদন।
এ চৌদ্দ-ভুবন প্রভু তােমার সৃজন
মােসবার মনস্কাম করহ পূরণ।
বাকল তেজিয়া পুনঃ করহ বসন।
দেববাক্য শুনি তবে কহে প্রজাপতি।
বস্ত্র করিবারে নহে আমার শকতি ।
চল সবে জানাইব বিষ্ণুর সদন।
তাহারে কহিব গিয়া বস্ত্রের কারণ।
এতেক শুনিয়া সবে আনন্দিত হয়ে ।
ক্ষীরােদের কূলে সবে উত্তরিল গিয়ে।
অনন্তশয্যায় আছেন দেব নারায়ণ।
করপুটে পদ্মযােনি করেন স্তবন৷
তুমি দেব মহাপ্রভু কমলার পতি।
মােসর নিবেদন কর অবগতি।
ইহা শুনি নিদ্রা ভঙ্গ হইল তাঁহার ।
জিজ্ঞাসিলা কি লাগিয়া গাঁন সবার।
ব্ৰহ্ম। বলিলেন সর্ব-সৃষ্টি সৃজিনু গােসাই
করিতে বস্ত্রের সৃষ্টি মাের সাধ্য নাই।
:বিশ্বকৰ্ম্মা।
তেকারণে আইলাম তােমার সদন।
আপনি করহ প্রভু বস্ত্রের সৃজন।
এত শুনি নারায়ণ হাসিতে লাগিল।
সরস বচনে প্রভু ব্রহ্মারে কহিল ।
দেব-দেব মহাদেব আছেন ত্রিলোচন।
তার কাছে গিয়া কহ বস্ত্রের কারণ।
সকল দেবতা তবে বিষ্ণু আজ্ঞা পেয়ে।
গমন করিল সবে যে আজ্ঞা বলিয়ে।
তথা হইতে দেবগণ শীঘ্রগতি হয়ে।
কৈলাস-শিখরে পুনঃ উত্তরিল গিয়ে।
দেবগণ,দেখি নন্দী অতি শীঘ্র হয়ে।
হরের সাক্ষাতে সব জানাইল গিয়ে।
ব্রহ্মাদি আইল দেব তব দরশনে।
আপনি করহ গিয়া সবার অচ্চনে।
এত শুনি মহাদেব আনন্দ হইল।
অভ্যর্থনা করি সবে বসিতে বলিল।
কহ কহ দেবগণ গমন কারণ।
কি হেতু আইলা সবে আমার সদন,
ইহা শুনি ব্রহ্মা দেব কহিতে লাগিল।
বিষ্ণুর আজ্ঞায় তব সাক্ষাতে আইল।
ঐবিশ্বকৰ্ম্মা।
বস্ত্রের কারণ মােরা কহিনু তাহারে।
তিহাে পাঠাইয়া দিলা তােমার গোচরে।
তােমার নিকট মাের এই নিবেদন।
আপনি করহ প্রভু বস্ত্রের সৃজন।
ইহা শুনি গঙ্গাধর আনন্দ হইল ।
করিব বলিয়া তিঁহো স্বীকার করিল।
শুনিয়া সবার বড় আনন্দিত মন।
বিদায় করহ মাের। যাই নিকেতন।
ইহা শুনি সৰ্ব্ব জনে বিদায় করিল।
কেমনে হইবে বস্ত্র ভাবিতে লাগিল ৷
স্বীকার করিয়া হর হইল ভাবিত।
হেন কালে মহামায়া আসি উপস্থিত ।
কি কারণে উচাটন দেখি তব মন।
ভাবিত হয়েছ প্রভু কিসের কারণ।
মহাদেব বলে প্রিয়া শুন দিয়া মন।
দেবগন আসি ছিল আমার সদন।
বস্ত্র করিবারে সবে মেরে দিল ভার।
সবার সাক্ষাতে আমি কৈ অঙ্গীকার।
কেমনে হইবে বস্ত্র কহ দেখি শুনি।
এত শুনি কহিতে লাগিল। কাত্যায়নী।
বিশ্বকৰ্মা।
শুন শুন প্রাণনাথ করি নিবেদন।
আমার বচনে কর যজ্ঞ-আরম্ভন।
ইহা শুনি মহাদেব আনন্দ হইল।
নারদে ডাকিয়া হর কহিতে লাগিল।
বস্ত্র হেতু যজ্ঞ আমি করিব এক্ষণে।
নিমন্ত্রিয়া আন তুমি অমরেরগণে।
ইহা শুনি তপােধন গমন করিল।
সকল অমরে তবে নিমন্ত্রণ দিল ।
নিমন্ত্রণ পেয়ে সবে আনন্দিত মনে।
আসি উত্তরিল হর-গৌরী সন্নিধানে।
হর গৌরী দেখে সব অমর আইল।
যজ্ঞে পুণ্যা দিব বলি অনুমতি লইল।
পুণ্যাহুতি দেহ বলি বলে সৰ্বজন।
ইহা শুনি পুণ্যা হর দিল তত ক্ষণ।
তাহাতে জন্মিল এক পুরুষ রতন।
দেখি দেবগণ হৈল আনন্দ বদন।
সেই পুরুষ সবাকারে প্রণাম করিয়ে।
দাণ্ডাইলা সভাগ্রে করপুট হয়ে ।
কি কৰ্ম্ম করিব আজ্ঞা দেহ সৰ্বজন।
বিশ্বনাথে জিজ্ঞাসহ কহে দেবগণ।
ঐবিশ্বকর্মা।
= =
মহাদেব বলে শুন আমার ভারতী।
বস্ত্রের নির্মাণ তুমি কর শীঘ্রগতি।
ইহা শুনি কহে তবে পুরুষ রতন।
যে আজ্ঞা করিলে তাহা করিব এখন।
দেবগণ কহে তবে ঈশানের স্থানে।
তব যজ্ঞে জন্ম ইহার শিব দাস নামে ॥
শিবদাস বলে শুন মাের নিবেদন।
সকলের স্থানে কহি বস্ত্রের কারণ।
যেই কৰ্ম্ম যাহা হইতে হয় উপযুক্ত।
করিবে সৰ্বথা মােরে ইয়ে অনুরক্ত ?
ইহা শুনি দেবগণ করিল স্বীকার ।
বিদায় হইয়া স্থানে গেল আপনার।
পুনঃ কহে শিবদাস ঈশানের স্থানে।
সূতা না হইলে বস্ত্র হইবে কেমনে।
সূতার কারণ তবে শুন ত্রিপুরারি ।
আপনি কাটিয়া সূতা দিবেন শঙ্করী ।
ইহা শুনি বিশ্বনাথ ভবানীরে কয়।
তুমি সূতা কাটি দিলে তৰে বস্ত্র হয়।
ত্রিপুরা কহেন তবে সূতা কাটিব আমি।
প্রথমের বস্ত্র খানি মােরে দিবে তুমি
বিশ্বকর্মা।
১।
---
শুমি বিশ্বনাথ করে সত্য অঙ্গীকার।
প্রথমের বস্ত্র খানি হইবে তােমার ?
পুনরপি হরে দুর্গা কহেন তখনে।
কেমনে হইবে সূতা কাপাস বিহনে ।
কাপাসের উপদেশ কহি যে তােমারে ।
যুধিষ্ঠির পর্বতে আছয়ে কল্পীসুরে।
দুরন্ত রাক্ষস তার অষ্টটা লােচন।
হনুমান হস্তে তার হইবে নিধন |
ইহা শুনি হনুমানে স্মরণ করিল।
আসি হনুমান বীর হরে প্রণমিল।
কি হেতু ডাকিলে মােরে দেব ত্রিলােচন।
আজ্ঞাকর কোন্ কৰ্ম্ম করিব সাধন।
মহাদেব বলে শুন বীর হনুমান।
যুধিষ্ঠির পৰ্বতে তুমি করহ পয়ান ।
কল্পীর নামে তথা আছে নিশাচরে ।
অষ্ট চক্ষু আনি তার দেহত আমারে ।
তােমা বিনে নাহি পারে অন্যের শকতি।
আমার বচনে তুমি যাহ শীঘ্রগতি।
ইহা শুনি হনুমান গমন করিল।
চক্ষুর নিমিষে বীর তথাকারে গেল ।
।
বিশ্বকৰ্ম্মা।
দেখিল রাক্ষস আছে পৰ্বতে বসিয়া।
হনুমান কহে তারে তৰ্জন করিয়া ।
মহাদেবের আজ্ঞা তোরে বধিব যে আমি।
শক্তি থাকে মাের সনে যুদ্ধকর তুমি ।
শুনিয়া রাক্ষস তবে অন্তরে কুপিল।
বাহু পশারিয়া তখন হনুরে ধরিল ॥
দুই জনে মহাযুদ্ধ অতি ভয়ঙ্কর।
ধরাধরি করি পড়ে ভূমির উপর ।
দুজনার, গর্জনেতে কর্ণে লাগে তালি।
চড় চাপড় মারে কত আথালি পাখালি।
ভূমিকম্প দোহার চরণ তড়বড়ি।
চরণে চরণচ্ছাদি যায় গড়াগড়ি।
চক্ষু পালটিতে কারাে নাহি অবসর।
এই রূপে যুদ্ধ তাহে তৃতীয় প্রহর।
দৈব বলে বলাধিক পবন কুমার।
উঠিয়া বসিল তার বুকের উপর।
এক চড়ে দত্তগুলি ভাঙ্গিয়া পাড়িল।
বজ্ৰযষ্টি মারি তারে নিস্তেজ করিল।
পা ধরিয়ে তাহারে ঘুয়ায় হনুমান।
অন্তরিক্ষে রাসার বাহিরায় প্রাণ ।
ঐবিশ্বকৰ্ম্মা।
তবে হনুমান তারে ভূমেতে ফেলিয়া।
অষ্ট চক্ষু লয় তার নখে খসাইয়া।
কৈলাস-শিখরে বীর করিলা পয়ান।
কত দূরে হৈল তবে দিবা অবসান ।
শ্ৰীফলের বৃক্ষ বীর দেখিল সম্মুখে।
তাতে গিয়া মহাবীর লম্ফ দিয়া উঠে।
রজনী বঞ্চিয় সুখে বীর হনুমান।
প্রভাতে উঠিয়া বীর করিল পয়ান ।
হাতেতে আছিল চক্ষু একটি পড়িল।
একলের বৃক্ষ তাহা অমনি হরিল ।
হনুমান বীর তবে অনেক খুজিল।
চাহিয়া তাহার বীজ তত্ত্ব না পাইল।
অবশেষে মহাবীর সক্রোধ হইয়া।
শাপ-বাণী কহে বীর বৃক্ষেরে চাহিয়া ।
যেমন তুমি এই চক্ষু করিলে হরণ ।
তােমার বীজেতে হবে কাপাস লক্ষণ।
তাের বীজ কেহ যেন না করে আহার।
কহিল এমত বীর পবন কুমার।
এই হেতু শ্রীফল বীজ কাপাস বরণ।
কাপাস লাগিয়া কেহ না করে ভক্ষণ ।
ঐবিশ্বকৰ্ম্মা।
তথা হইতে যায় বীর শােকাকুল হয়ে।
এক গেল সাত চক্ষু হাতেতে করিয়ে
পথি মধ্যে এক চক্ষু বনেতে পড়িল।
পুনরপি সেই খানে খুঁজিতে লাগিল।
না পেয়ে মনে বড় ক্রোধ উপজিল। •
স্থগিত হইয়া বীর ক্ষণেক রহিল।
পুনরপি ক্রোধকরি কহে কটুবাণী ।
মাের শাপে জন্ম তাের যা তুই অবনী ।
বৃক্ষ হইলে ফুল তাতে অবশ্য হইবে।
মোর বোলে ফল তাতে কভু না জন্মিবে
মহা জোধ করি তবে হনুমান কয়।
বােন-কাপাস বলি নাম অবনিতে হয়।
এত বলি যায় বীর দুঃখিত হইয়া।
কৈলাসশিখরে বীর উত্তরিল গিয়া।
রক্ত পুঁজ হেতু বীর বিচারিল মনে।
জলে পাখালিতে বীর করিল গমনে ॥
ধুয়িতে লাগিল চক্ষু সুন্দর করিয়া।
হাত হইতে এক চক্ষু পড়িল সরিয়া ।
হেনকালে এক মৎস্য তথায় আইল।
শীঘ্ৰকরি সেই চক্ষু অমনি গিলিল।
ঐবিশ্বকর্মা।
তাহা দেখি হনুমান বড় দুঃখ করি।
ডাকিয়া কহিল তবে, শুনহ শফরি ।
এই চক্ষু তুমি জিম্নি করিতে নারিবে।
মস্তক ফুটিয়া তাের, বাহির হইবে ।
এত যদি তাহারে কহিলা হনুমান।
সেই হৈতে তেচখে হইল তার নাম।
অশুচি হইল মৎস্য এতই লাগিয়া।
কোন কাৰ্য্যে না আইল জনম লভিয়া।
তিন গেল তিন ঠাই, পাঁচ যে রহিল।
তাহা লইয়া হনুমান হর কাছে গেল।
সন্তুষ্ট হইয়া হর, হনুরে জিজ্ঞাসে।
তােমার গৌণ কেন এতেক দিবসে ।
এ কথা শুনিয়া কয় পবন-নন্দন।
দুরন্ত রাক্ষস সেই বড়ই বিমস ।
তৃতীয় প্রহর যুদ্ধ তার সনে কৈনু।
এইহেতু শীঘ্রগতি আসিতে নারিনু ।
এই দোষে ক্ষমা মেরে করিবে গোই।
শিব বলে কোল দিব আইস মাের ঠাঁই।
হনু কয় আমি হই, বােনের বানর।
প্রণাম করিবে গোসাই তােমার নর।
ঐবিশ্বকৰ্ম্মা।
সন্তুষ্ট হইয়া হর আশীর্বাদ করিল।
বিদায় হইয়া হনু নিজ স্থানে গেল ।
পার্বতীরে হর তবে কহিতে লাগিল।
কল্পীর মারি হনু, চক্ষু আনি দিল।
ইহা শুনি মহামায়া আনন্দা হইল।
ভীম ভীম বলি মাতা ডাকিতে লাগিল।
শুনিয়াত ভীম তবে আইল নিকটে।
প্রণাম করিয়া দাণ্ডাইল করপুটে
ভীমেরে বলেন মাতা শুনহ বচন।
কাপাস রুপিব স্থান দেখহ এখন।
আজ্ঞামাত্র ভীম তবে, গমন করিয়া।
ভূমে বীজ দিতে গেল, লাঙ্গল আনিয়া ॥
ভূমি চসি মহামায়ায় সমাচার দিল।
সেই পাচ বীজ মাতা রােপিতে বলিল।
শীঘ্র গিয়া ভীম বীজ, রুপিল তখনি।
শুনিয়া আনন্দা বড় হইলা ভবানী।
মদিয়া শুন সবে অপূৰ্ব কথন।
ব্ৰহ্মাদেব করিলেন যজ্ঞ আরম্ভন।
নারদেরে ডাকিয়া কহেন পিতামহ।
সকল অমরে তুমি নিমন্ত্রণ দেহ।
বিশ্বকর্মা।
ইহা শুনি ততক্ষণে চলে তপোধন।
সকল আমরে তবে দিল নিমন্ত্রণ।
সকল অমর আসি একত্র হইল।
অনুমতি লয়ে ব্রহ্মা যজ্ঞে পূন্যা দিল।
ফুশেতে করিয়া জল দিলেক যজ্ঞেতে।
হেন কালে এক কন্যা জন্মিল তাহাতে ।
দেখি দেব গণ হৈল আনন্দিত মনী।
ডাকিয়া বলিলা সবে শুনা পদ্মযােনি ।
অবশেষে দিলে তুমি কুশেতে আহুতি।
তাহাতে জন্মিল কন্যা, নাম কুশাবতী।
ইহা শুনি ব্রহ্মাদেব, আনন্দ হইল।
কুশাবতী বলি নাম, তাহার রাখিল
বিদয় হইলা সবে, ব্রহ্মার সদন।
আপনার স্থানে সবে করিল গমন।
এখানেতে সেই বীজ অঙ্কুরিত হল।
দিনে দিনে বৃক্ষ তবে বাড়িতে লাগিল।
দুরপুরে ছিল যত নৃত্যকারীগণ।
পুষ্প তুলি লয়ে যায় পূজার কারণ।
প্রভাতে আসিয়া দেবী বৃক্ষপানে চান।
কোন বৃক্ষে পুষ্প মাতা দেখিতে না পান
বিশ্বকর্মা।
পুষ্প না দেখিয়া মাতা ভাবে মনে মন।
জানিলেন পুষ্প নিল নৃত্যকারীগণ।
পুনরপি কাত্যায়নী মনেতে চিন্তিয়া।
শােণিত দিলেন বৃক্ষে অঙ্গুলী ছেদিয়া।
অশুচি হইল পুষ্প আর না তুলিল।
অতপর সেই বৃক্ষে ফল জনমিল।
পাকল হইল ফল কত দিনান্তরে।
কাপাস হইল সেই ফলের ভিতরে।
দেখিয়াত ভবানীর আনন্দ বাড়িল।
চুপড় ধরিয়া মাতা, কাপাস তুলিল ॥
পুণরাপ মহামায়া ভাবেন আসিয়।।
ভামকে কহেন আন, বিশাই ডাকিয়া।
বিশ্বকা ডাকিবারে ভীম তবে গেল।
লইয়া তাহারে সঙ্গে ত্বরায় আইল ।
বিশ্বকৰ্ম্মা আসি মায়ে প্রণাম করিয়া ।
করযোড়ে দাড়াইল কি আজ্ঞা বলিয়া ।
নিড়িয়া কাপাস বলেন মহেশ্বরী।
চখী পাঠায়ে মােরে দেহ শীঘ্ৰকরি।
শীঘ্রকার বিশ্বকৰ্মা নির্মাণ করল।
ত্বরায় আনিয়া তাহা দেবী স্থানে দিল।
শ্রীবিশ্বকৰ্ম্মা।
৯
পাইয়াত মহামায়া সন্তুষ্ট হইয়া।
বিদায় করিল তারে আশীর্বাদ দিয়া ।
সেইক্ষণে মহামায়া চর খী লইয়া ।
বিদায় করিল তারে বীজ ঘুচাইয়া।
পদ্মাকে কহিলা মাতা সূতাকাট তুমি।
শীঘ্র সূতা
কাটি দেহ শিবে দিব আমি।
শীঘ্র সূতা কাটি পদ্মা, মহামায়ে দিল।
কাত্যায়নী সূতা ফের, কাটিতে লাগিল।
প্রস্তুত করিয়া সূতা দেবী আনন্দিত।
ঈশানের স্থানে গিয়া হৈল উপনীত ॥
দেবী কহে সূতা দেব কাটিলাম আমি।
বস্ত্র বুনাইয়া শীঘ্র মােরে দিবে তুমি।
শুনিয়াত গঙ্গাধর আনন্দ হইল।
শিবদাস বলি তবে ডাকিতে লাগিল ।
শুনি শিবদাস তবে তথায় আইল।
প্রণাম করিয়া করপুটে দাণ্ডাইল ।
কি কারণে আমারে ডাকিলে মহাশয়।
মহাদেব বলে সূতা হইল তনয় ।
সূতা লহ শীঘ্র তুমি করহ বসন।
শুনিয়াত শিবদাস কহেন তখন।
বিশ্বকর্মা।
যে অজ্ঞা আমারে তুমি করিলে গোসাঁই।
কেমনে করিব বস্ত্র, যন্ত্র কিছু নাই।
যন্ত্রের কারণ প্রভু, শুন কহি আমি ।
সকল অমরে হেথাকারে আন তুমি।
এই বাক্য শিবদাস কহিল যখন
হেনকালে উপস্থিত নারদ তপােধন।
ভাগিনা দেখিয়া হরের আনন্দ বাড়ি।
আইস ইস বলি তারে বসিতে বলিল।
বসাইয়া তাহারে কহে দেব ত্রিলোচন।
দেবগণ ডাকি তুমি আনহ এখন।
ইহা শুনি তপােধন গমন করিল।
শীঘ্রগতি দেবগণে কৈলাসে আনিল ।
সকল দেবতা আসি হৈল উপনীত।
বৃত্তান্ত কহেন হর সবার বিদিত।
বৃত্তান্ত শুনিয়া সবে বিশ্বকৰ্ম্মে ডাকিল।
আসি বিশ্বকৰ্ম্ম। সেই খানে উত্তরিল ।
বিশ্বকৰ্ম্ম আজ্ঞ। তবে কৈল দেবগণ।
যাহা কহে শিবদান করহ গঠন।
বিশ্বকর্মা বলে ভাই, জিজ্ঞাসি তােমারে।
কোন যন্ত্র গঠি দিব কহুত আমারে।
ঐবিশ্বকৰ্ম্মা।
২১
||
শিবদাস বলে ভাই, তুমি বিচক্ষণ।
গঠিয়া ভাতের যন্ত্র দেহত এখন ॥
ইহা শুনি বিশ্বকর্মা করিল নির্মাণ।
প্রস্তুত করিয়া দিল শিবদাসের স্থান।
দৈবগণ প্রতি তবে শিবদাস বলে।
তাতে মাের অধিষ্ঠান হইবে সকলে ॥
ই হা শুনি দেবগণ অঙ্গীকার কৈল।
স্থানে স্থানে আবির্ভূত হইয়া রহিল।
ইন্দ্ৰ বজ্রেতে গুটী করিল নিৰ্মাণ ।
পাটীতে আপনি ব্রহ্মা হৈল অধিষ্ঠান।
দক্তিতে আবিভূতা কালী তবে হইল।
অশ্বিনী কুমার ভারা হইয়া রহিল।
শানাতে রহিল তবে সহস্রলােচন।
মাকুতে রহিল তবে আপনি পবন ।
স্বর্গ-বিদ্যাধরী আসি নাচনি হইল।
তাঁতের যতেক দড়ি নাগেতে করিল।
কাটী-খুঁটি করি আদি যত আছে আর।
যাহা হইতে যাহা হৈল নয় অধিকার।
নানামতে সরঞ্জম সকল হইল ।
পুনরপি শিবদাস কহিতে লাগিল ।
ঐবিশ্বকৰ্ম্মা।
শুন শুন দেবগণ মাের নিবেদন।
একক নাহিক পারি করিতে বসন ॥
দেবগণ ভাবিতে লাগিল ইহা শুনি।
কোনমতে শিবদাস পাইবে গৃহিণী।
গ্রন্থকার বলে হরি বল সৰ্বজন।
মনে মনে কর সবে কন্যা অন্বেষণ ।
সকলের কন্যান্বেষণ।
নারদ মুনি কয়, শুন মহাশয়,
নিবেদিয়ে তব ঠাই।
যজ্ঞেতে তােমার, জনম ইহার,
শুন শুন হে গোসাই
ইহার কারণ,
কন্যা অন্বেষণ,
কোথায় করিবে তুমি।
শুন উপদেশ, কহি যে বিশেষ,
তােমার সাক্ষাতে আমি ।
কত দিনান্তর, দেৰ সৃষ্টিধর,
কৈল যজ্ঞ আরম্ভন।
আমারে ডাকিয়া, সহর্ষ হইয়া,
কহে সব বিবরণ।
.
ঐবিশ্বকৰ্ম্মা।
২
যত দেবগণ, করি নিমন্ত্রণ
মােরে কহে প্রজাপতি।
তার আজ্ঞা পেয়ে, অতি শীঘ্র হয়ে,
দেব পুরে উপনীতি।
যতেক দেবতা, শুনি যজ্ঞ কথা
বিলম্ব আর না কৈল।
সুসজ্জিত হয়ে, বাহনে চড়িয়ে,
ব্ৰহ্মপুরে উত্তরিল ।
দেখি পদ্মসন, যত দেবগণ,
অতি হৃষ্টমতি হয়ে।
পাদ্য-অর্ঘ্য চিতে, অমর পূজিতে,
জল দিল শীঘ্র লয়ে ।
পাদ্য-অর্ঘ্য পেয়ে, চরণ ধুয়িয়ে,
বসিল আসনােপরি ।
পুন্যার কারণ, দেবগণ স্থান,
কহে সেই সৃষ্টিধর ॥
শুনি দেবগণে, বলে এইক্ষণে,
যজ্ঞ পূন্যা তুমি কর ।
*এ বােল শুনিয়ে, কুশে জল লয়ে,
দিলেন যজ্ঞােপর ।
২৪
ঐবিশ্বকৰ্ম্মা।
পুন জল দিল,
কন্যা জনমিল,
তাহা দেখি দেবগণ।
কহে এই বাণী, শুন পদ্মযােনি,
মােরা করি নিবেদন।
কুশে জল পেয়ে, কন্যা জনমিয়ে,
দাণ্ডাইল বিদ্যমান।
ইহার কারণ, কহি তব স্থান,
কুশাবতী হৈল নাম ।
শুনি কৃত্তিবাস, এই শিবদাস,
মম যজ্ঞে উৎপত্তি।
দূত পাঠাইয়া, ব্রহ্মারে কহিয়া,
বিভা দেহ কুশাবতী।
এ বােল শুনিয়া, সহর্ষ হইয়া,
মহেশ তখনি কন।
নারদের বাণী, শুন সুর-মনি,
আর যত দেবগণ
র বাক্য শুনি, কহে সুর-মনি,
নারদ যাউন তথ।।
শিবদাসের তরে, কন্যা বরিবারে,
কৃহেন ব্রহ্মারে কথা।
শ্রীবিশ্বকৰ্ম্ম
নারদ শুনিয়া, হাতে বীণা নিয়া,
ত্বরিত করিয়া গেল।
ব্রহ্মার সাক্ষাতে, হৈল উপনীতে,
প্রণমিয়া দাওাইল ।
কহে পদ্মাসন, কেন আগমন,
কহ মেরে সেই কথা।
কহে তপোধন, শুন নিবেদন,
ধূর্জটি পাঠাইল হেথা !
কুশাবতী কন্যা, রূপে-গুণে ধন্য,
আছয়ে তোমার ঘরে।
তাহার কারণ, আসি তব স্থান,
শিবদাসে বরিবারে।
এ কথা শুনিয়া, মনেতে ভাবিয়া,
তারে কহে প্রজাপতি।
শিবদাস বরে,
আনিহ সত্বরে,
বিভা দিব কুশাবতী।
এতেক শুনিয়ে, কুভূহল হয়ে,
চলিলেন তপােধন।
অতি শীঘ্রগতি, হৈল উপনীতি,
যথা আছে ত্রিলােচন।
ঐবিশ্বকৰ্ম্মা।
নিবেদন শুন, তুমি পঞ্চানন,
মােরে পাঠাইলা তথা।
অঙ্গীকার কৈল, বিভা দিতে হৈল,
তাহার এই বারতা।
শুনি সৰ্ব জন,
বড় হৃষ্ট মন,
নারদে প্রশংসা করে।
লগ্নের কারণ, শুন তপোধন,
পুন যাহ তথাকারে ।
এই কথা শুনি, চলে মহামুনি,
হরিষ হয়ে অন্তরে।
কৃষ্ণ-গুণ গেয়ে,
উত্তরিল ধেয়ে,
যথা আছে সৃষ্টিধরে ॥
করযােড় হয়ে, প্রণাম করিয়ে,
তারে কহে মহামুনি।
লগ্নের কারণ, পুনঃ তব স্থান,
পাঠাইলা শূলপাণি।
শুনি বারিধর, হরিষ অন্তর,
লগ্ন নিরূপণ করে।
কালিতে। রাত্রিতে, প্রহর মধ্যেতে,
সুরায় আনিবে বরে ।
বিশ্বকৰ্ম্মা।
এ কথা শুনিয়ে, শীঘ্রগতি হয়ে,
পুনঃ চলে মুনিবর।
কালিতে রাত্রিতে, প্রহর মধ্যেতে,
তথা লয়ে যাব বর।
এইকথা শুনি, কহে শূলপাণি,
আনন্দ বড় হইল।
ভাল ভাল বলি, হয়ে কুতুহলী,
তাহাতে শাম্বায় দিল ।
শুনি শূলপাণি, ডাকিয়া ভবানী,
তারে কহে কৃত্তিবাস।
শিবদাস বিভা, কালি রাত্রে দিবা,
আজ তার অধিবাস।
যে কিছু বিহিত, আছে কূলনীত,
ত্বরায় করই তুমি।
তােমারে বলি, নিশ্চিন্ত হইনু,
অবসর পাই আমি।
কহেন শঙ্করী,
শুন ত্রিপুরারি,
নিবেদি তােমার পায়।
নারী-কৰ্ম্ম যত,
করিব ত্বরিত,
তােমার নাহিক দায়।
২৮,
ঐবিশ্বকর্মা।
তবে মহামায়া, পদ্মারে ডাকিয়া ,
কহিছে তাহার কথা।
করহ গমন,
যত নারীগণ,
ডাকিয়া আনহ হেথা।
শীঘ্রগতি করি, অনেক কুমারী,
পদ্ম-সঙ্গেতে আইল।
যতেক সুন্দরী, দেখিয়া শঙ্করী,
জল-সহিতে বলিল।
শুনিয়া বচন,
কহে নারীগণ,
শুন গে শিখর-সূতা ।
জল-সহিবারে, কহিলে সবারে,
বাদ্য-ভণ্ড পাব কোথা ।
শুনিয়া শঙ্করী, যথা ত্রিপুরারি,
ত্বরায় চলিল তথা।
তার আগে গিয়ে, করঘােড় হয়ে,
কহেন সুরস কথা
বাদ্যের কারণ, যত নারীগণ,
জল-সহিতে না যায়।
বাদ্যকরগণ, আনহ এখন,
এই কহিনু তােমায় ।
শ্রীবিশ্বকর্মা।
শুনি ত্রিলােচন, ডাকি ভীমসেন,
বাদ্য আনিবারে কন ।
শুনি ভীমসেন, করিয়া গমন,
আনে বাদ্যকরগণ।
এল বাদ্যধাম, কত লব নাম,
বিবিধ প্রকারে বাজে।
বাদ্যের শবদে, কঁপে জনপদে,
আনন্দ কৈলাস মাঝে ॥
কক্ষে হেমবারি, যতেক সুন্দরী,
জল-সহে ঘরে ঘরে।
আৰ্য্যা সূৰ্য্যমনি, হুলহুলি ধ্বনি
তণ্ডুল মুকুর করে ।
দিব্য-আভরণ, সহস্রােচন,
দিলেন বরের গায়।
দিব্য-যান লয়ে তাতে বসাইয়ে,
বিভা দিতে সবে যায় ।
যত দেবগণ সহ নিজজন
চলিল বর-সংহতি।
ভূত প্রেত গণে, ডাকে ভীমসেনে,
চলিল ঊষার-পতি।
বিশ্বকর্মা।
তবে ভীমসেন, ডাকে দানাগণ,
ত্বরায় আইল ধেয়ে।
হয়ে আনন্দিত, চলিল ত্বরিত,
হর অনুমতি পেয়ে।
বাজয়ে বাজনা, নেচে যায় দানা,
নন্দী ভৃঙ্গী ধরে তাল।
শিঙ্গা ডমরু করে, বৃষের উপরে,
হর কন ভাল ভাল ।
অতি কুতূহলে, চতুরঙ্গ দোলে,
উত্তরিল ব্রহ্মপুরে।
দেখি পদ্মাসন
করি অভ্যর্থন,
বসিতে বলিল সবারে ।
যে জন যেমন, আসন তেমন,
সবারে দিল আনিয়ে।
পাইয়া আসন, বসে সৰ্বজন,
অতি পুলকিত হয়ে ।
পুনঃ পদ্মাসন, বিবাহ কারণ,
দেবগণ প্রতি বলে।
দেবগণ কয়,
বিলম্ব না সয়,
লগ্ন উপস্থিত হলে।
।
ঐবিশ্বকৰ্ম্মা।
তবে প্রজাপতি, অনি কুশাবতী,
শিবদাসে বিভা দিল।
নানা আয়ােজনে, দিব্য-আভরণে,
দোহারে ভূষিত কৈল।
ব্রহ্মা করে কন্যাদান, দেবগণে বেদগান,
নাচে গায় যত বিদ্যাধরী।
বাজায়ে মঙ্গল কাড়া, নারদ বান্ধে গাটচুড়া,
আনন্দিত সৃষ্টি অধিকারী ।
বন্দিয়া রোহিণী সােম, ল’য়াহুতি কৈলা হােম,
দেহে করে অনলে প্রণতি।
প্রণমিয়া দেবতারে, দেহে গেল বাসঘরে,
সৰ্ব্বদেবে কহে প্রজাপতি।
মোর নিবেদন শুন, সভাতে যতেক জন,
মনােরথ পূর্ণ কর মাের।
করিলে সবে ভােজন, কৰ্ম্ম হয় সমাপন,
আনন্দের নাহি থাকে ওর।
ইহা শুনি দেবগণ,
লয়ে সবে পত্ৰাসন,
ভোজনে বসিলা ভিতাভিতে।
সামগ্রী যতেক আনি, যােগইল পদ্মযোনি,
পরিসেন নারদ ত্বরিতে।
E
৩২
বিশ্বকর্মা।
নানা দ্রব্য উপচার, কতেক কহিব আর,
ভােজন করিল সৰ্বজন।
ভােজনান্তে আঁচমন, তাম্বুল-আদি ভক্ষণ,
রাত্রি শেষে করিল শয়ন ।
রজনী প্রভাত কালে, সর্বদেব কুতূহলে,
সভাতে বসিল গা-তুলিয়া।
কহে তবে শূলপাণি, শুন দেব পদ্মযােনি,
কন্যা-বর দেহ পাঠাইয়া।
ইহা শুনি প্রজাপতি, কন্যাবরে শীঘ্রগতি,
আনিলেন বাহির করিয়া ।
প্রণমিয়া পদ্মাসনে, চলিলেন সর্বজনে,
কৈলাসেতে উত্তরিল গিয়া ।
হরপ্রিয়া হৈমবতী, কন্যাবরে শীঘ্রগতি,
আনিলেক পুরির ভিতরে।
সঙ্গে যত সহচরী, দোহারে বরণ করি,
প্রবেশ করিল লয়ে ঘরে ।
সকল দেবতা কয়, শুন দেব মৃত্যুঞ্জয়,
নিবেদন করি তব স্থান।
তােমার নিকটে এই, পুনঃপুনঃ মােরা কই
শীঘ্রকর বসন নির্মাণ।
বিশ্বকর্মা।
ইহা বলি দেবগণ, গেল সবে নিকেতন
মহেশেরে হইয়া বিদায়।
হইয়া আনন্দ মন, হরি বল সৰ্বজন,
গ্রন্থকার ইছামাত্র গায়।
বস্ত্র নির্মাণ।
০৯
শিবদাসে কহে তবে ভােলা মহেশ্বর।
বসন সৃজিয়া তুমি দেহত সত্বর।
শিবদাস বলে প্রভু, কহিলে আমায়।
কুঠির নাহিক আমি থাকিব কোথায়।
ইহা শুনি মহাদেব বিশাই ডাকিয়া ।
শিবদাসে ঘর তুমি দেহত বাঁধিয়া ॥
ইহা শুনি বিশ্বকর্মা নিৰ্মাণ করিল।
ত্বরায় বান্ধিয়া ঘর শিবে জানাইল।
ত্বরা বলি সেই ঘরে দেওয়াল না হল।
তাল পত্রের টান বান্ধি বিশ্বকৰ্ম্মা দিল
সেই ঘরে শিবদাস বসতি করিল।
সুতা ভিজাইয়া পাটী, করিতে লাগিল।
বিশ্বকৰ্ম্মা।
পাটী করিয়া সূতা, ক্ষীরে ভাতাইল।
তাহার সকল ক্ষীর, মাছিতে খাইল।
সেই সূতা তানা করি সানাতে গাঁথিতে।
এলাইয়া যায় সূতা, লাগিল ভাবিতে।
পুনরপি শিবদাস সানা উবলিয়া।
আলুর মণ্ডেতে সূতা দিল ভাতাইয়া।
আলুর মণ্ডেতে সূতা, শক্ত নাহি হয়।
পুনরপি শিবদাস ভাবিত হৃদয়।
তাহা দেখি কুশাবতী কহেন তখন।
বুঝি তুমি না পারিবে করিতে বসন।
মহাদেবের কাছে গিয়া কহ সবিনয় ।
শক্ত না হইলে সূতা কেমনেতে হয়।
শিবদাস গমন করিল ইহা শুনি।
ভােজন করিতে বসেছেন শূলপাণি।
হেনকালে শিবদাস উত্তরিল গিয়া।
করপুটে কহে কথা কুণ্ঠিত হইয়া ।
আমার শকতি নাই করিতে বসন।
এই হেতু আইলাম তােমার সদম।
প্রথমেতে ক্ষীর দিয়া সূতা ভাতাইনু।
তানাকরি সামা তাহে গাথিতে নারিনু।
ঐবিশ্বকর্মা।
পুনঃসূতা ভাতাইনু আলুমণ্ড দিয়া।
তবু না হইল শক্ত, যায় এলাইয়া ।
শক্ত না হইলে সূতা, বসন না হবে।
মোর সাধ্য বস্ত্র প্রভু করিতে নারিবে ।
ইহা শুনি ভাবিতে লাগিল বিশ্বনাথ।
ভােজন করিয়া রহে মুঠাকরি হাত।
শঙ্করী কহেন শুন, শুন প্রাণনাথ।
ভােজন করিয়া কেন, কোলে রাখ হাত।
ভােজন করহ তুমি শুন মহাশয়।
করিব মন্ত্রণা আমি, যাতে ভাল হয়।
ইহা শুনি মহাদেব নারিল রহিতে।
হাত পশারিয়া যান ভােজন করিতে ॥
পূৰ্বেতে আঙুলে যত অন্ন লেগে ছিল।
গউণে সে সব অন্ন, শুকাইয়া গেল।
অঙ্গুলী হইল শক্ত, দেখেন গােসাঁই।
মহাদেব বলে পুত্র, চিন্তা কিছু নাই ।
অনুমণ্ড দেহ গিয়া সূতা শক্ত হবে।
ইহাতে করিলে সূতা অবশ্য বহিবে ।
শিবদাস কহিতে লাগিল ইহা শুনি।
নারিব করিতে ইহা, শুন শূলপাণি।
।
;
ঐবিশ্বকৰ্ম্মা।
অনুমণ্ড দিলে হয় যবন আচার।
কোন দেব মাের পুরে না যাইবে আর ॥
ইহা শুনি শূলপাণি শিবদাসে কয়।
সৰ্ব দেবে লয়ে যাব তােমার আলয়।
ইহা শুনি শিবদাস আনন্দ হইল।
পুনৰ্ব্বার গিয়া সূতায় অনুমণ্ড দিল ।
তানা”সানা নরাজ তুলিয়া তাতে লয়।
খাটাইতে গেল ভঁত, টান নাহি হয়।
পশ্চাৎ কহিব আমি ইহার কারণ।
আনন্দ করিয়া হরি, বল সৰ্ব্বজন ।
মনদিয়া শুন সবে অপূৰ্ব্ব কথন।
কুশাবতী গৰ্ভবতী হইল এখন।
এক, দুই, তিন, চারি, পাঁচ মাস গেল।
ভবানী জানিয়া তাহা পঞ্চামৃত দিল।
ভাজা দিয়া আশীৰ্বাদ করিলা ভবানী।
প্রসাদ খাইল তবে শিবদাস রাণী ।
দশ মাসে পুত্র প্রসবিল কুশাবতী।
শিবদাস দেখি বড় হৈল হৃষ্টমতি ।
এক, দুই, তিন, চারি, পাঁচ মাস গেল।
ভােজন কারণ মহাদেবে জানাইল ।
ঐবিশ্বকৰ্ম্ম।
শুনি মহাদেব বড় আনন্দ হইল।
হেনকালে নারদ মুনি, তথায় আইল।
নারদে দেখিয়া হৱ, কুতূহল মন।
তাহারে কহিলা দেব, সব বিবরণ
শুনি মহামুনি তবে আনন্দ হইল।
মহাদেবে চাহি পুন কহিতে লাগিল।
ভােজনের দিন কর, কহেন তখন।
ছয় মাসের মধ্যে হয় পুত্রের ভােজন।
ছয়, জানি হর পুন কহে তপােধনে।
নিমন্ত্রণ দেহ তুমি অমরের গণে
শুনি মহামুনিবর, চলিল তখন।
ব্ৰহ্মাদি দেবতাগণে করে নিমন্ত্রণ।
আইলেন দেবগণ, যথার শঙ্কর।
শিব সবে লয়ে গেলা, শিবদাসের ঘর ।
দেখি শিবদাস মনে আনন্দ হইল।
পাদ্যঅর্ঘ্য দিয়া সবে অর্চনা করিল।
দূৰ্বাসনে বসিলেন যত দেবগণ।
তব পুত্ৰে আন তুমি, বলে ত্রিলােচন ॥ -
ততক্ষণে শিবদাস পুত্রেরে আনিল।
অনেক যৌতুক তবে দেবগণ দিল ।
1 ঐবিশ্বকৰ্ম্মা।
নানা দ্রব্য উপচার ভােজন করিয়া ।
আশীৰ্বাদ করি গেল বিদায় হইয়া
ক্রমে ক্রমে শিবদাসের অষ্ট-পুত্র হইল।
মনের আনন্দ বড় হইতে লাগিল।
শিবদাস গেল পুন যেখানে গোসাঁই ।
কহিল। তেতে প্রভু, টান হয় নাই।
কেমনে হইবে বস্ত্র না হইলে টান।
ইহা শুনি স্মরে শিব, বীর হনুমান।
স্মরণ করিবা. মাত্র মারুতি আইল ।
প্রণাম করিয়া করপুটে দণ্ডিাইল।
কি কারণে মহাপ্রভু ডাকিলে আমারে।
প্রভু কম যাহ তুমি তঁত ধারবারে ।
এ কথা শুনিয়া হনু, তখনি চলিল।।
দক্ষিণতে শিৰদামের তঁত ধরিল।
টানিয়া ধরহ তুমি, কহিলা তাহায় ।
বলবান হনু টানে সূতা ছিড়িযায় ।
সহজে টানহ তুমি হনুরে কহিল।
একথা শুনিয়া হনু বড়:নােল ছিল।
তাহা, দেখি শিবদাস বজার হইয়।।
হরের ক্ষেতে পুনঃ,উত্তরল গিয়া ।
বিশ্বকৰ্মা,
করযােড় করি পুনঃ মহাদেবে কয়। ..
হনুর ধরাতে প্রভু বস্ত্র নাহি হয়।
টানিতে বলিলে টানে বড় জোর দিয়া।
সেই টানে যায় কত, সূতাত ছিড়িয়া।
সহজ টানিতে বলি বড় নেলি দেয়।
হনুর ধরাতে বস্ত্র কভু নাহি হয়।
যন্ত্রী বিনে যন্ত্র প্রভু ধরিতে না পারে।
কে আছে এমন ঘন্ত্রী, কহত আমারে :
ইহা শুনি মহাদেব বিশাই ডাকিল।
সেইক্ষণে আসি সেহ, প্রণাম করিল।
হর কন বিশ্বকৰ্ম্মা শুন মাের বাণী।
শিবদাসের উঁত গিয়া ধরহ আপনি।
যে আজ। করিলে তুমি দেব পঞ্চানন ।
মন দিয়া শুন কিছু মাের নিবেদন
দেব সব অধিষ্ঠান আছেন তাতেতে।
তে কারণে প্রভু বড় ভয়লাগে চিতে
ধরিতে নারিব তঁত বসিয়া থাকিলে ।
তবে তু ধরিব উঁত অর্ধেক পুতিলে।
গলে দড়ী দিয়ে মাের বান্ধিয়া রাখিবে।
মনমত টান, নােল, করিতে পারিবে ।
ঐবিশ্বকর্মা।
আর এক নিবেদন তােমার গোচরে।
শিবদাস তাহা যদি আঙ্গীকার করে।
ফালানলী, জোল-পাটী, নাত, মুখে দাগ।
ইহাতে রাখিয়া তাঁতি না করিবে ত্যাগ ॥
ফান্দানলী, দাগ বুনি ফিরাইয়া পাটা।
খিল মােল দিয়া তঁাতি যাইবেক উঠি ।
পৌষ মাসের শুক্লপক্ষ তিথি যে নবমী।
সেই দিন বিশ্বনাথ জন্মিয়াছি আমি।
জন্মতিথি দিনে যদি মাের পূজা করে।
অবশ্য লইব ভার তোমার গােচরে ।
শুনি গঙ্গাধর পুম শিৰদাসে কয়।
পাচকর্ম করবারে তােমারে যে হয়।
অবশ্য কৰি বলি কহে শিবদাস।
শুনিয়া আনন্দ বড় হৈল কৃত্তিবাস ॥
বিশ্বকর্মা লয়ে তবে শিবদাস গেল।
আপন দক্ষিণ-ভাগে অর্ধেক পুঁতিল।
গলেতে বান্ধিয়। দড়ী খিলনােল, দিল।
সুযন্ত্র হইল তাঁত বুনিতে লাগিল ।
স্নান করিবারে দুর্গা করিল গমন।
মনে করেন দেখে যাই কেমন বসন ।
শ্রীবিশ্বকৰ্ম্মা।
টাটীতে করিয়া ছিদ্র পুরিল অঙ্গুলী।
বসন দেখিয়া মাতা স্নানে গেল চলি ।
স্নানকার মহামায়া ঘরেতে আইল।
পুনরপি গঙ্গাধর মানেতে চলিল।
তাতেতে সুন্দর তার আলাে নাহি হয়।
বিস্তর ছিড়ল সূতা ভাবিত হৃদয়।
তাতে বসি শিবদাস ভাবিতে লাগিল।
কৃত্তিবাস হেনকালে দেখিতে আইল ।
শিবদাস মাহাদেবে দেখিতে পাইয়া।
টাটী-দ্বার খাইয়া যায় পলাইয়া ।
কহে শিব শিবদাসে, যাহ কোথাকারে ।
কি হেতু পলাও তুমি কহত আমারে ॥
শুনি শিবদাস আর যাইতে নারিল।
সেইখানে থাকি কথা কহিতে লাগিল ৷
অন্ধকারে তাতে কিছু দেখতে না পাই।
তেকারণে প্রভু আমি পলাইয়া যাই।
শিব বলেন দিব্যালাে তােমার তেতে।
তবে কেন পারনাই বসন বুনিতে।
শিবদাস পুনরপি ফিরিয়া আইল ।
সুন্দর হয়েছে আলো দেখি হৃষ্ট হৈল ।
৪২
বিশ্বকর্মা।
কহিতে লাগিল প্রভু এমত না ছিল।
পলাইয়া গেলাম তেই সুন্দর হইল ।
শিবদাসের কথা শুনি প্রভু কন তবে।
তঁাতের দক্ষিণে এক গবাক্ষ রাখিবে।
শুনি শিবদাস তবে স্বীকার করিল।
আলাে পেয়ে ভাত ভাল বুনিতে লাগিল।
আনকরি গঙ্গাধর পুরে প্রবেশি।
তিন দিনে বস্ত্রখানি বুনিতে লাগিল।
তিনদিনে বস্ত্রখানি বুনন হইল।
বস্ত্র লয়ে শিবদাস গমন করিল।
যেখানে বসিয়া হর গৌরী দুই জন।
দেখিয়া দোহার বড় আনন্দ বদন।
বসিতে বলিয়া কাষ্ঠ আসন উপরে।
দুইজনে উঠি গেল। পুরির ভিতরে ।
বস্ত্র পরি ভবানীর আনন্দিত মন ।
কিবা দিব শিবদাসে ভাবেন দুজন।
পার্বতী কহেন প্রভু যুক্তি কহি আমি।
কনক-পই তা দেহ শিবদাসে তুমি ।
শুনি তবে দিগম্বর হল আনন্দিত।
গণেশ বলিয়া তিনি ডাকেন ত্বরিত।
ঐবিশ্বকর্মা।
হেথা সব দেবগণে করে অনুমান।
কতদিনে হইবেক বস্ত্রের নির্মাণ।
ভাবিয়া দেখিল মনে বসন হইল।
মহাদেব-গৌরী স্থানে দিতে লয়ে গেল ।
বড় হৃষ্ট হৈল দেহে বসন পাইয়া।
ব্রাহ্মণ করিবে তারে স্বর্ণ-পৈতা দিয়া।
ইহা জানি দেবগণ ভাবিতে লাগিল।
ব্রাহ্মণ হইলে তবে বস্ত্র না হইল।
কোনমতে শিবদাস পৈতা নাহি পায়।
ইহার কারণ এক করহ উপায়।
ইহার ভাবনা সবে করিতে লাগিল।
হেনকালে নারদ মুনি তথায় আইল ।
নারদে দেখিয়া বড় আনন্দ হইল।
তাহারে সকল কথা কহিতে লাগিল ।
শুনিয়া নারদ কন আমি তথা যাব।
কনক-পইতা তথা প্রকারে লইব।
তার পর বিশ্বনাথ বর তারে দিবে।
একখানি বস্ত্র বুমি বার বৎসর খাবে ?
এই হেতু সরস্বতী তথাকারে যাও।
কার তুণ্ডে বসি এই বাক্যত বলাও।
৫ ৪
বিশ্বকৰ্ম্মা।
‘কুশাবতী সনে আমি মন্ত্রণা করিব।
তব কাছে আসি পুনঃ বর মাগি লব'।
ইহা শুনি দেবগণ, দেহে পাঠাইল ।
ত্বরত্বরি দোহে তবে কৈলাসেতে গেল
নারদ চলিয়া গেল পুরির ভিতর।
শিবদাস বসি যথা পিড়ির উপর।
শিবদাস সম্মুখেতে নারদে দেখিয়া।
বসিবারে দিল পিড়ি আপনি উঠিয়া ॥
পিঁড়ির উপরে গিয়া নারদ বসিল।
শিবদাস ভ্রমে তখন বসিয়া রহিল।
হেনকালে লম্বােদর হরের নিকটে ।
কি আজ্ঞা বলিয়া তখন রহে করপুটে।
কনক-পইতা হর লম্বোদরে দিয়া।
পিঁড়িতে যে বলিয়াছে তারে দেহ গিয়া
ইহা শুনি লম্বােদর বাহির হইল।
নারদ পইতা দিয়া গণেশ চলিল ।
পইতা পাইল যদি মুনি তপােধন।
মনস্কাম পূর্ণ হইয়া চলিল তখন ॥
পুনরপি সেই মুনি আচাৰ্য্য হইয়া ।
কুশাবতী নিকটেতে উতরিল গিয়া।
ঐবিশ্বকর্মা।
e
পঞ্জিকা পাড়িয়া রাশি গণিতে লাগিল।
কতকগুলা আঁক, জেঁক ভূমেতে কাটিল।
ধড়ী হাতে দিয়া বলে এক ঘরে রাখ।
নির্ণয় করিয়া গণি বসে তুমি দেখ।
ইহা শুনি এক ঘরে খড়ীত রাখিল।
তাহা দেখি গ্ৰহৰি মাথে হাত দিল ।
দেখি কুশাবতী পুনঃ জিজ্ঞাসে তঁাহারে।
বড় অমঙ্গল দেখি কহে মৃদুস্বরে ।
শিবদাস গিয়াছেন বস্ত্র হয়ে দিতে।
বড়ই বিপাক দেখি তাহার করতে
এক খানি বস্ত্র তুমি বার বৎসর খাবে।
তবে তব পুত্রগণ বুনিতে নারিবে ।
এ বর ছাড়িয়া যদি মাগ অন্য বর।
কাধ্যেতে পিরক হবে তোমার কোঙর ॥
কই কই গ্রহৰি জিজ্ঞাসি যে আমি ।
কোন বর মাগি লব আজ্ঞা কর তুমি ।
ইহা শুনি গ্রহবিপ্র কহিতে লাগিল।
নিত্য বুনি নিত্য খাই এই বর ভাল ।
আর এক কথা তুমি শুন কুশাবতী।
চাল, ডাল কিছু তুমি আন শীঘ্রগতি
৫
ঐবিশ্বকৰ্ম্মা।
গ্রহ-দৃষ্টি অাছে তাহা করিব খণ্ড ন।
পরামর্শে শিবদাস আসিবে এখন।
শুনি কুশাবতী শীঘ্র চাল, ডাল দিল।
হড়বড় করি কত বকিতে লাগিল।
কতক্ষণে কহে বিপ্র কুশাবতী ঠাই।
গ্রহ খণ্ডাই আমি চিন্তা কিছু নাই।
ইহা শুনি গেল। বিপ্র বিদায় হইয়া।
দেখিলেন শিবদাস আছেন বসিয়া
কহ শিবদাস বসিয়াছ কি কারণ।
এতক্ষণ গৃহে তুমি না করে গাম।
বসিতে বলিয়া প্রভু কাৰ্যে গেলে তুমি ।
প্রভু
উঠে যাব আমি।
হর কন তােমায় আমি বিদায় করি।
গণেশের হাতে দিয়া পৈতা পাঠাই।
শিবদাস' বলে পুন শুনহ গােসাঁই ।
নারদে পইতা দিল মোরে দিলা নাই।
ইহা শুনি মহাদেব মনেতে ভাবিল ।
দেব-চক্রে শিবদাস পৈতা না পাইল ।
শিবদাসে বলে হরবর মা তুমি।
বার বৎসর বসে খাবে বুনি এক খানি,
কেমন করিয়া
ঐবিশ্বকৰ্ম্ম ।
তবে সরস্বতী তার জিহ্বাগ্ৰেতে বসি।
কহিলেন ঘর হইতে যুক্তি করি আসি ॥
ইহা বলি শিবদাস গৃহেতে চলিল।
কুশাবতী স্থানে সব কহিতে লাগিল।
শুনি কুশাবতী পুনঃ লাগল কহিতে।
পুত্রকর্মণ্য হেতু চাহ এই বর নিতে "
শিবদাস কহে প্রিয়ে জিজ্ঞাসি তােমারে
কোন্ পর লৰ কহ প্রভুর গোচরে।
তদন্তরে কুশাবতী কহিতে লাগিল।
নিত্য বুনি নিত্য খাই এই রর ভাল
এই বর লহ তুমি প্রভুর গােচর।
তবে ত, পারক হবে সকল কোর ॥
ইহা শুনি শিবদাস পুনৰ্বার গেল।
প্রণাম করিয়া হরে কহিতে লাগিল ।
মাের বাক্য অৰধান, করহ গোসাই।
যে বর কহিলে তুমি তাতে কাজ নাই ।
তােমার সমীপে প্রভু এই বর চাই।
প্রত্যাবধি বুনি, বস্ত্র প্রত্যাবধি খাই ।
তথাস্তু বলিয়া হর ভাবে মনে মনে।
শিবদাসে বিড়ম্বনা কৈল দেবগণে।
৪৮
ঐবিশ্বকৰ্ম্মা।
*,
বর লয়ে পুন গৃহে করিল গমন।
কুশাবতী বলে ভাল হইল এখন।
তদন্তরে কুশাবতী কহিতে লাগিল।
বিশ্বকৰ্ম্মার জন্মতিথি নবমী আইল।
ইহার কারণ মােরে কহ দেখি তুমি।
সম্বল কিছুই তব নাহি দেখি আমি ।
ইহা শুনি শিবদাস মনেতে ভাবিল।
বাকলে হড়ম পাটা বান্ধিয়া লইল।
সদাকর কাছে গিয়া হৈল উপনীত।
সম্ভাষ করিলা তারে যেমন বিহিত ।
আইস আইস বলি তারে বসিতে বলিল।
কি হেতু আইলা তুমি সাধু জিজ্ঞাসিল।
বস্ত্র বান্ধা রাখি শত তঙ্ক। দেহ মােরে।
এই হেতু আইলাম তােমার গােচরে।
সাধু কয় প্রত্যয় নাহি করি আমি।
যত চাহ তত তঙ্কা লয়ে যাহ তুমি।
শিবদাস কয় আমি অমনি না ।
বন্ধ ক রাখহ বস্তু কালি উদ্ধাৰিব !
ইহা শুনি শত তঙ্ক। বস্তু রাখি দিল ।
তঙ্ক। লয়ে শিবদাস কহিতে লাগিল ।
বিশ্বকর্মা।
শুন সদাকর মাের এক নিবেদন।
খুলিয়া না দেখে। ইহা বিষ্ণুর বসন ॥
তার কাছে শিবদাস বিদায় হইয়া।
নানা দ্রব্য উপহার লইল কিনিয়া।
দিবা অবসানে আসি ধরে উত্তরিল।
দেখি কুশাবতী তবে কহিতে লাগিল।
যজ্ঞতিথি পূজ। ইহা পূর্বাহ্লােতে হয়।
দিন গেল হল আসি সন্ধ্যার সময়।
শিবদাস বলে প্রিয়া যে কহিলে তুমি।
ভালমতে সব তত্ত্ব জানি তাহা আমি ।
দিবসের পূজা ইহা কভু মিথ্যা নয়।
অনুসর ক্রমে অাজি রজনীতে হয়।
ইহা শুনি কুশাবতী কহেন তখন।
কোনমতে আনিলে এতেক আয়োজন ।
পুনরপি শিবদাস কহে আর বার।
পূজা-অন্তে কব প্রিয় সব সমাচার।
পূজার যতেক কথা কি কহিব আর।
কত আয়ােজন তাহে নানা উপচার ।
পূজা-অন্তে ঘরেতে বসিলা দুইজন।
তঙ্কার বৃত্তান্ত তবে কহেন তখন।
@ৰিখৰ্মা।
শুনি কুশাবতীর মনে বড়ই ভাবনা।
কেনব। করিলে কাজ মিথ্যা প্রবঞ্চনা ॥
যদি সেই বস্ত্র খুলি দেখে সদাকরে।
ভণ্ড বলি প্রচারিবে সকল নগরে ॥
কোথা হতে সদাকরে আনি দিবে তঙ্কা
ইহার কারণ মাের বড় হয় শঙ্কা।
শুনি শিবদাস মনে বড় ভয় পেয়ে।
কহিলেন হেথা হতে যাই পালাইয়ে।
ইহাশুনি কুশাবতী সায় তয় দিল।
ঘরের সামগ্রী যত বাহির করিল।
যতেক পারিল তাহা সঙ্গেতে করিয়া ।
চলিলেন সর্বজন শ্রীহরিবলিয়া।
শ্রী হরি বলিয়া যাত্রা করিল যখন।
মনে মনে বিচার করেন নারায়ণ ॥
বিপত্তে পড়িয়া যদি ওরে আমারে।
অবশ্য যাইব তারে ত্রাণ করি বারে।
যদি আমি এ সময়ে: দয়া না করিব।
তবে কেন মধুসূদন লোকে মামলব।
ইহা ভাবি হৃদিমধ্যে দয়া উপজিল।
পূজার যতেক দ্রব্য ব্ৰত্নময় কৈ,
•
সদাকর পাশে যেই হড়ম পাটী ছিল।
কাষ্ঠ ছাড়িয়া সেও বসন হইল ।
শিবদাস ইহা মাত্র কিছুই না জানে।
চলিলা ত্বরিত বড় ভয় পেয়ে মনে।
কত দূর এইরূপে গেলত চলিয়া।
মন ফিরাইল। হরি নিজ মায়া দিয়া ।
স্থগিত হইয়া পুন ভাবিতে লাগিল।
চালের বাতায় সূতা সুশাের হইল।
কুশাবতী বলে এই খানে থাক তুমি।
ত্বরাকরি সূতা দুশাের লয়ে আমি আমি ।
শিবদাস বলে প্রিয়ে তুমি বসে থাক।
সামগ্রী যতেক আর পুত্রগণে রাখ ॥
সকলে রাখিয়া তবে শিবদাস গেল।
দূরে থাকি দেখিলেন ঘরে বড় আলাে।
উপনীত হৈল গিয়া দুয়ারের কাছে।
পূজার যতেক দ্ৰব্য রত্নময় হয়েছে।
দেখি শিবদাস বড় আনন হইল।
শীঘ্রগতি গিয়া কুশাবতীরে কহিল ৷
শুনি কুশাবতী বড় মনে আনন্দিত।
না পলায়ে গৃহে পুন চলিল ৱিত ।
বিশ্বকর্মা।
আসিয়া দেখিল দিব্য সামগ্রী 'সকলে।
কিসের ভাবনা আর দুইজনে বলে ।
মানের হরিষে দোহে রজনী বঞ্চিল।
পরদিন শিবদাস রত্ন লয়ে গেল।
সদাকর স্থানে গিয়া হৈল উপনীত।
দেখি সদাকর বড় মনে আনন্দিত।
বসিতে বলিল তারে আসন উপরে।
শিবদাস বসি তবে কহে সদাকরে ।
শত তঙ্কা লইলাম বস্ত্র বান্ধা দিয়া।
গাইলাম আজি আমি তাহার লাগিয়া এ
রত্ন অনিয়াছি আমি মূল্য করি লহ।
শত তঙ্কা লয়ে মোরে আর সব নেই।
শুনি সদাকর সেই রত্ন যে লইল।
রত্ন দেখি সদাকর বলিতে লাগিল।
লক্ষ তঙ্কা এই রত্নে মূল্য দিব আমি।
কেমন করিয়া তঙ্কা লয়ে যাবে তুমি ।
শুনি শিবদাস মনে আনন্দ হইল।
বলদ, শকটে তবে ভাকিয়া আনিল ।
শিবদাস সদাকরে কহেন তখন।
শত তা লয়ে মােরে দেহত বন এ
.
বিশ্বকৰ্ম্মা।
ইহ শুনি সদাকর কহিলেন তায়।
মুল্য কার বস্ত্র খানি দেহত আমায়।
এই বস্ত্র কেমন বটে' খুলি দেখি আমি।
শিবদাস বলে বস্ত্র না খুলিহ তুমি ।
তবু সদাকর বস্ত্র লাগিল খুলিতে।
শিবদাস তাহা ধরি লাগিল টানিতে।
দোহার টানেতে তবে বাকল খসি গেল ।
পেঁহেতে দেখিয়া বড় আনন্দ হইল।
সদাকর পুন কয় শুন শিবদাস'।
বস্ত্র খানি দিয়া মাের পূর মনােআশ ।
শিবদাস বলে ইহা যেচিতে নাৰিব ।
এই বস্ত্র দিয়া আমি শ্রী হরি তুষিব ।
অন্তর্বাসী নারায়ণ জানেন সকল ।
মনে করে ইহা দিয়া তুষিব অনল ।
হেথা সদাকর পুন কহিলেন তারে।
পুনরপি বুনি বস্ত্র নারায়ণে দিবে।
ইহা শুনি শিবদাস কহেন তখন।
লক্ষ তঙ্ক। মূল্য দিলে পাইবে বসন।
সঙ্গারু কহিতে লাগিল ইহা শুনি।
সত্তর হাজার লয়ে দেহ বস্ত্র খানি;
অবিশ্বক।
ইহা শুনি শিবদাস না করি স্বীকার।
পুনরপি কহে দিব আশি যে হাজার।
তার পর কহিতে লাগিল শিবদাস।
মিছা কেন বস্ত্র নিতে কর তুমি আশ ।
ইহা শুনি সাধু কহে দিব নৈহাজার ।
সেইকালে কৃষ্ণ তারে করিলা ব্যজার ।
ক্রোধকরি বলে, বস্তু তােমারে না দিব।
কচালে না ব্যবসা করি অনলে পােড়াব।
কৃষ্ণ সত্য সত্য সত্য আর সব মিছা।
অবশ্য হইবে যাহা ঈশ্বরের ইচ্ছা।
সাধু বলে ওই বস্ত্র পােড়াইবে তুমি।
লক্ষ তঙ্ক। ছড়াইয়ে ফেলে দিব আমি।
কৃষ্ণ বলি শিবদাস বস্ত্রে আগুন দিল ।
সাকর লক্ষ তঙ্ক ছড়ায়ে ফেলিল।
এই কথা প্রচার হইল সৰ্ব্ব ঠাই ।
ধন্য ধন্য শিবদাস বলেন সবাই।
সদাকর লক্ষ তঙ্ক ছড়ায়ে ফেলিল।
তবু শিবদাস সহ তুলনা না হল ।
শ ই-কম লক্ষ তঙ্কা দিল সাকর।
বাদে শকটে পূরি চলিলেন ঘর ।
* •
ঐবিক।
at
কুশাবতী শুনি তবে আনন্দিত মন ।
ঘরের ভিতর লয়ে রাখিলেন ধন ॥
এইরূপে দুইজনে মনে বড় সুখী।
কুশাবতীর দুঃখ হৈল পুত্র-মুখ দেখি।
বিবাহের কথা শিবদাস নাহি কয়।
মনে মনে কুশাবতী ভাবিত হৃদয়।
রহিতে নাৱিল সদ। দুঃখ উঠে মনে।
স্বামীরে কহিতে গেল। গ্রন্থ কার ভনে।
করিয়া প্রণতি, কহে কুশাবতী,
শিবদাস বিদ্যমান।
পুত্রগণ যত, হল উপযুক্ত,
তাহে কর অবধান।
অষ্টত কোঙর,
দেখিতে সুন্দর,
বিভা যােগ্য সবে হৈল।
ভাবি এই দুঃখ, চিতে নাহি সুখ,
মরমে মরিতে হৈল ।
বিবাহ কারণ,
কন্যা অন্বেষণ,
নাহি কেন কর তুমি।
চেস্টা না করিলে, নিশ্চিন্ত রহিলে,
তেঁই তােমায় কহি আমি ।
আমি বামজাতি, ঘরে মাের স্থিতি,
গৃহ-কৰ্ম্ম মাত্র সার।
তুমি বর্তমানে, যাব কার স্থানে,
কেবা সহে এই ভার ।
শিব পিতামহ, ব্ৰহ্ম। মাতামহ,
জনক সাক্ষাত তুমি।
এ সব থাকিতে, নাহি কর চিন্তে,
কি আর কহিব অামি ।
এ কথা শুনিয়া, সলজ্জ হইয়া,
তারে কহে শিবদাস।
ইহার কারণ, যাব শম্ভু স্থান,
কহিব তাহার পাশ
তবে শিবদাস, যথা কৃত্তিবাস,
উপনীত তথা হৈল।
প্রণাম করিয়ে, করহােড় হয়ে
সম্মুখেতে দাণ্ডাইল।
ওরে নয়,
কি হেতু আগম হেথা।
অগম কারণ,
করিব শ্রবণ,
মােরে কই সেই কথা
সদাশিব কয়,
ঐবিশ্বকর্মা।
স্নান-মুখ দেখি, কোন হেতু দুঃখী
শীঘ্র মােরে কহ তুমি।
তব দুঃখ দেখি, নহি কিছু সুখী,
হৃদে ব্যথা পাই আমি।
কান্দিতে কান্দিতে, প্রভুর সাক্ষাতে
শিবদাস নিবেদয়।
আমার ভারতী, কর অবগতি,
দেব দেব মৃত্যুঞ্জয়।
তব মুত দৃষ্ট, পুত্র হৈল অষ্ট,
আনন্দের নাহিক ওর।
বিবাহ কারণ,
নাহি কর মন,
নিজ কর্ম ফল মাের ?
তোমা বিনে মাের, কেবা আছে আর
বল যাব কার স্থানে।
অন্যের সাক্ষাতে, এ কথা কহিতে,
লজ্জা পাই বড় মনে।
বুঝি কাৰ্য্যা রীতি, যা হয় উচিতি,
শীঘ্রগতি কর তুমি।
তোমার চরণে, এই নিবেদনে,
সকল বলি আমি।
বিশ্বকর্মা।
শুনি ত্রিলোচন, কহেন তখন,
এ কৰ্ম্ম আমার হয়।
শিবদাস প্রতি, কহে পশুপতি,
নাহি কিছু তব ভয় ॥
যজ্ঞেতে আমার জনম তােমার,
ব্রহ্মা যজ্ঞে কুশাবতী।
দিগম্বর কয়, তোমার নয়,
উভয় কলের নাতি ।
তোমার দোসর, নাহি দেখি আর,
কুটুম্বের যজ্ঞ হয়।
কার কন্যা আনি, করাব গৃহিণী,
হতেছে ভাবিত হৃদয়
এতেক ভাবিতে, সুখ নাই চিতে,
মন উচাটন হৈল ।
হেনকালে তথা, শিখর দুহিতা,
আসি উপনীত হৈল ।
{ দেখি পঞ্চানন,
শঙ্করী তখন কয়।
কিসের কারণ,
মােরে কই মহাশয়।
বীরস বদন,
f
উচাটন মন,
বিশ্বকর্মা।
তবে পঞ্চানন,
সব বিবরণ,
কহেন তার সাক্ষাতে।
শুনিয়া কারণ,
অভয়া তখন,
পুনঃ কহে ঘােড় হাতে।
তুমি মৃত্যুঞ্জয়,
কারে তব ভয়,
নাহি এ চৌদ্দ ভুবনে।
অনুপকারণে, ভাৰ এতক্ষণে,
এই সে.বিস্ময় মনে।
পুত্রগণ লয়ে, করাতে চিরিয়ে,
একে কর দুইখান।
মনে ভাবকরি, কর পুরুষ নারী,
পুনঃ দেহ প্রাণ-দান।
দক্ষিণ অঙ্গে তার, পুরুষ অবতার,
বামে হব নারীগণ।
এক অঙ্গ হতে, হব দুই, মর্তে,
তাতে কর সংঘটন।
কহিলা ভবানী, শুনি শূলপাণি,
আনন্দবড়ই হৈল ।
তাই তাই বলি, ত্রিদিৰ-ত্রিশূলী,
ভবানীরে সায় দিল।
.
ঐবিশ্বকর্মা।
কহে কৃত্তিবাস, শুন শিবদাস,
তােমারে কহি যে আমি ।
মোর বোল ধর, এক ঘর কর,
চারি দ্বার রাখ তুমি ।
দুয়ার মধ্যেতে, রাখিবে করাতে,
তাতে চিরি হবে বার।
দুইখানে তবে, নারী পুরুষ হবে,
মাের বাক্য সারােদ্ধার।
এতেক শুনিয়ে, হরষিত হয়ে,
শিবদাস তবে যায়।
শঙ্করী শঙ্কর, দেহে একত্তর,
বন্দিল দোহার পায় ।
আপন ভবনে,
করি আগমনে,
উপনীত তবে হৈল।
সকল ভারতী,
শুনি কুশাবতী,
তাহাতে শাখায় দিল ।
মনােহর ঘর এক নির্মাণ করিয়া।
কহিলা বৃত্তান্ত সব পুত্রেরে ডাকিয়া ।
এই ঘর মধ্যে তােরা প্রবেশিয়া সবে।
করাতে চিরিয়া মাত্র বাহির হইবে।
বিশ্বকৰ্ম্মা।
দুইখান হৈলে তবে নারী পুরুষ হবে।
হর বাক্য সারোদ্ধার খণ্ডন না হবে।
ইহা শুনি চারি ভাই মনে ভয় পেয়ে।
নারিল করিতে তারা, গেল পলাইয়ে।
চারিজন পলাইল চারি যে রহিল।
যোড়হাত করি তারা কহিতে লাগিল।
মাের। সব প্রবেশিব ঘরের মধ্যেতে।
মরি বা জীইবা পাছে যা থাকে ভালেতে ।
ইহা শুনি চারি ভাই গৃহে প্রবেশি।
করাতে মস্তক দিয়া বাহির হইল ।
মধ্যে মধ্যে চিরিয়া হইল দুইখান।
মৃত্যুঞ্জয় আজ্ঞাতেই সঞ্চারিল প্রাণ |
দক্ষিণে পুরুষ তার বামে নারী হৈল ।
এক অঙ্গে এই রূপে নারী পুরুষ কৈল।
দেখি শিবদাস বড় আনন্দিত মন।
কুশাবতীর প্রতি চাহি কহেন তখন
পলাইয়া গেল যারা মাের পুত্র চারি।
পুত্র বলি তারে আমি গণনা না করি ।
এই চারি পুত্র মাের নৈক বংশধর।
পাঠাইয়া দিবস সংয়ের ভিতর ।
বিশ্বকৰ্ম্মা।
মর্ত্যলোকে গিৱা সবে বসন বুনিবে।
নর লােকগণ তবে বসন পাইবে ।
ইহা শুনি কুশাবর্তী আনন্দ হইল।
যাহা তব মনে লয় করহ বলিল।
শিবদাস চারি পুত্রে কহেন তখন।
মাের বােলে মর্ত্যলােকে করহ গমন।
যে আজ্ঞা বলিয়া তারা করিল স্বীকার।
শিবদাস কহিতে লাগিল আর বার ।
পূর্বদিকে বন্দিরাম তুমি যে থাকিবে।
মাের বেলে মধুসূদন পশ্চিমে যাইবে ।
উত্তরেতে উদ্ধবেরে পাঠাইয়া দিল।
বাম্য-দিকে জনার্দনে শেষেতে কহিল ।
ইহা শুনি চারি ভাই প্রণাম করিল।
শ্রীহরি স্মরণ করি গমন করিল ॥
এখন কহি যে তাহা করহ শ্রবণ।
পলাইয়া গেলে যেই ভাই চারি জন ।
একজন জল মধ্যে পড়েন ঝাপিয়া।
তেকারণে নাম তার ঝাপান বেনিয়া
আর এক জন গিয়া কোঠরে রহিল।
তেকারণে নাম তার কুঠরিয়া হইল।
৩
।
ঐবিশ্বকৰ্ম্মা।
শরবনে লুকাইয়া রহে এক জন।
সরকা বেনিয়া বলি হইল ঘােষণ।
পাটবনে এক জন লুকায়ে রহিল।
সকলে পেগন বলি তাহারে কহিল ।
চারি জনার কথা এই সংক্ষেপে কহিনু।
বিস্তর করিয়া তাহা বলিতে নারিনু ।
আর চারি ভাই যারা আইল অবনী ।
একে একে বলি শুন তাহার কাহিনী ।
পৃৰ্বদিকে বন্দিরাম গােবিন্দ বলাইল।
পশ্চিমেতে মধুসূদন মধ্য-কূল হৈল ।
দক্ষিণেতে জনার্দন দক্ষিণ বলিয়া।
উত্তরেতে উদ্ধবেরে উত্তর কহিয়া ।
এইরূপে চারি ভাই চারি
কূল
কতদিনে কুশাবতী শিবদাসে কৈল
পুত্রগণ পাঠাইলা মরত ভুবেন।
নাহি দেখি নাহি শুনি আছয়ে কেমনে।
একবার তা সবারে দেখিতে যুয়ায়।
আমারে লইয়া তুমি চলহ তথায় ।
ইহা শুনি শিবদাস কহিতে লাগিল।
-তুমি যে কহিলা তাহা মােরমনে ছিল ।
হৈল ।
৬ঃ
শ্রীবিশ্বকৰ্ম্মা।
চল দোহে যাই তবে মরত ভুবন।
হৃদয় জুড়াবে মোর দেখি পুত্রগণ।
ইহা শুনি কুশবতীর হৃষ্ট হইল মন।
শ্রীহরি বলিয়া দোহে করিল গমন।
উপনীত হৈল আসি মরত ভুবন।
প্রথমেতে গেল বন্দিরামের সদন।
দেখিয়া তাহার নারী কহে স্বামী স্থানে।
মাতা পিতা আইল তব দেখ বিদ্যমানে
শুনিমাত্ৰ বন্দিরাম তখনি উঠিল।
ভূমেতে পড়িয়া পদতলে প্রণমিল ।
স্ত্রীগণ জল আনি দোহার পদে দিল।
দিব্যাসন আনি তাতে বসায়ে রাখিল ।
বন্দিরাম বলে আজি মাের সুপ্রভাত।
তোরণে হেথায় আইলা তাত মাত ।
শিবদাস বলে কহ আপন কল্যাণ।
তাহা শুনি আমাদের জুড়াক পরাণ ।
বন্দিরাম বলে পিতা কর অবধান।
তােমাদের আশীর্বাদে সকল কল্যাণ।
এ কথা শুনিয়া সেঁহে মনে প্রীতি পাইল
আশীৰ্বাদ করি পুন গমন করিল ।
ঐবিশ্বকর্মা।
পশ্চিমেতে মধুসূদন আছযেথায় ।
পুনরপি র্দেহে গিয়। উত্তরে তথায় ॥
দেখিয়া তাঁহার বড় আনন্দ হইল।
সেইরূপে সেবা ভক্তি সেহত করল।
তারে আশীৰ্বাদ দিয়া করিল গমন।
উত্তরেতে উদ্ধবেরে দিলা দরশন।
মাতা পিতা দেখি বড় আনন্দ হইল।
সেবা ভক্তি দোহাকারে বিধি মতে কৈল ।
তারে আশীর্বাদ দিয়া করিল গমন।
দক্ষিণেতে জনার্দনে দিলা দরশন ।
পিতা মাতা দেখি দোহে আনন্দ হইল।
কতদিন দুই জন তথায় রহিল ৷
শিবদাস বলে তবে কুশাবতী স্থান।
পুত্রগণে দেখি মাের জুড়াইল প্রাণ।
কৈলাসেতে যাব চল বিলম্ব না সয়।
যে আজ্ঞা বলিয়া তবে কুশাবতী কয় ।
পুত্রগণে আশীৰ্বাদ করিল গমন।
কৈলাস পর্বতে পুন গেল দুই জন।
কৃষ্ণ কৃষ্ণ বল ভাই কৃষ্ণ বল মুখে।
তরিবে শমন দুঃখ বৈকুণ্ঠে যাবে সুখে।
এতদূরে ‘ঐবিশ্বকৰ্ম্ম। সমাপ্ত হইল ।
দোষ ত্যজে গুণ লয়ে হরি হরি বল ।
গ্রন্থ সমাপ্তোহয়ং।
৮
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.