Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Anjoli

Roy ,siddheswar · 2009/12/11

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

ত্মঞ্জলি,
গীতি
-কাব্য
সাহাগঞ্জ কাহিনী, সতীব স্বয়ম্বর, যোগানন্দ, দিবােদাস, কবিতা,
মুত্রতত্ব প্রভৃতি গ্রন্থ-প্রণেতা, আয়ুর্বেদ কলেজের অধ্যাপক,
হ্যানিম্যান কলেজের প্রফেসর,
গভর্ণমেন্ট-মেডিকেল-ডিপ্লোমা-প্রাপ্ত
বৈদ্যাচাৰ্য কবিরাজ শ্ৰীসিদ্ধেশ্বর রায়, এ-ৰি
(Gold Medlaist-Homoropath)
-
কাব্যতীর্থ, ব্যাকরণতীর্থ, বিদ্যাবিনােদ, সামাধ্যায়ী
কর্তৃক বিরচিত।
মুল্য আট আনা

প্রকাশক
তারাপদ রায়,
যানেজার, ধন্বন্তরি আক্ষুৰ্বেদ ভবন,
৮৫ নং বিডন ষ্ট্রীট ,
কলিকা।
শারদীয় পূর্ণিমা,
১৩৩০
প্রিন্টার
ঐফণীন্দ্রনাথ মুখােপাধ্যায়,
কামিনী প্রেস,
৩১ নং রামদ নন্দির লেন,
কলিকাতা

উৎসর্গ পত্র পিতৃদেব কবিরাজ শ্রীযুক্ত ক্ষেত্রকালী রায় কবিরত্ন ধন্বন্তরি। যে জনকের আত্মা হ’তে জন্ম লভি পৃঙ্খী তলে। লাভ করি যাঁর কাব্য-কণা ঘােড়শ বরষ বয়স কালে। যরে স্বর্গ, ধৰ্ম্ম, কৰ্ম্ম, সব দেবতার সার বলি। তাঁর চরণে সমৰ্পিণু পাঁচফুলের এই “অঞ্জলি”। সেবক- শ্রীনিলে রায়।

No text on this page.

নিবেদন।
এই কাব্যখানির অধিকাংশ কবিতা গ্রন্থকারের ষােড়শ
বৎসর বয়সে লিখিত এবং“মন্দার মালা” “ধন্বন্তরি” “আয়ুর্বেদ”
ও “বাণী” প্রভৃতি মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিল,
সেই সময় ইহার এক একটী কবিতা অনেক কাব্য-রসিক কর্তৃক
সমালােচিত হইত। সেই সকল মাসিক পত্রিকা হইতে সংগ্রহ
করিয়া এবং নৃতন কবিতা কতকগুলি সন্নিবিষ্ট করতঃ
গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হইল। মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত
সমালােচনা গুলিতে এক একটা কবিতার এ৮ প্রকার বিভিন্নার্থক
ব্যাখ্যা, বিভিন্ন কাব্যরসিক কর্তৃক লিখিত হইয়াছিল, সে
গুলি বাহুল্য ভয়ে প্রকাশিত হইল না ।
প্রকাশক।

No text on this page.

সূচীপত্র ৩৫ প্রার্থনা ত্রিসন্ধ্যা আশা সমর্পণ অদৃষ্ট দিবােদাস ইষ্ট বন্যা 8२ ১০ ৪৪ অন্তিমতান স্মৃতি কেন চাহি ? রামপ্রসাদ কবি তােমারপথে ৪৮ ব্রহ্মানন্দ কেশবচর ৫০ ভাগীরথী ১৪ আপনহারা ৫২ চরণে তােমার সাথে ৫৩ ১৭ ২০ ২১ কালের স্রোত মিনতি আমি বিপথে কি চাহি? সিন্ধু-পারে তুমি ও আমি সুশ্রুত অশ্বিনীকুমার মহিমা বাঁশী ৫৮ ••• ২৩ ২৪ ৬২ ২৫ আমার দেশ স্মরণে প্রতীক্ষায় • ২৭ ৩৭ তােমার দুয়ারে আপন আবাসে তুমি তােমাতে বর্ষা বরণ সুন্দর १२

ধন্বন্তরি
৮৬
::
' ৭৬
৮
আমার সাধন মন্দিরে
অসীমে
অকুলে ভরাতরী
নিত্য
মৃত্যুমিলন
শান্তি
৭৭
•••
৭৮
মান-ভঞ্জন
৯২
::
৭৯
বিজয়
৫
বর্ষবরণ
বদ্ধজীব
প্রত্যর্পণ
.
৮৩
পতন
১৮
অবসান
•••
৮৪

ত্মঞ্জলি,
h
প্রার্থনা
আমি—চাহিনা তােমার সিদ্ধি মুক্তি চাহিনা’ক তব বর।
আমি-জানিনা’ক প্রভু কৃষ্ণ বিষ্ণু জানিনা’ক হরি হর।
নাহিক হৃদয়ে ভেদাভেদ মম নাহিক আপন পর ।
আমি—অসীমে সসীম করেছি ভুবন করেছি বিজন ঘর
বুঝিনা ধরার স্নেহ ভালবাসা বুঝিনাক দুখ সুখ ।
আমি—ধরেছি তােমার করুণার ধারা ধরেছি পাতিয়া বুক।
ঝরিছে অমিয় অবিরল ধারে ঝরিছে করুণা রাশি।
আমি-তােমার নামেতে তােমার গানেতে ভাবের সাগরে ভাসি।
ত্রিকুটী হইতে উঠিছে সতত মধুর মুরলী তান।
আমি-যতনে ধরিয়ে গেঁথেছি হৃদয়ে মিলায়ে মধুর মান।
মুরলী সুতান শুনিয়া পরাণ আকুল হইয়া ছুটে।
আমার--মনের প্রবল প্রবাহ সকল ভাসিয়া আসিয়া টুটে।
১

অঞ্জলি
দীন ভাবে আছি দীন ভাবে যা’ব শেষের সে দিনে চলে।
আমি—লইব শরণ তােমার চরণ দীন দয়াময় বলে ।
মায়ার মায়ায় জড়িত ধরায় নহেক আমার গেহ।
মিলিক্ষিতি-অপ-তেজে-মরুত-আকাশে নহেক আমার দেহ।
বিদেশ হইতে বিদেশে আসিয়া বিদেশী হয়েছি আমি।
আমার-অবনী আবাস নহেক নিবাস সুদূর প্রবাস ভূমি।
কঠোর কুলিশ সমান প্রবাসে সারাটা জীবন থাকি।
তুমি–ভিষ-কবির পূরাও বাসনা ত্রিদিব নিয়ে রাখি।
a
২

অঞ্জলি
ত্রিসন্ধ্যা
প্রভাতে-
পুলকে পূরিত আকুল পরাণ
শরীর সমীরে শিহরে ।
প্রভাত দরশে কোকিল হরষে
মধুর সুতান বিতরে।
সি সি করি ঝরিছে শিশির
লতায় পাতায় কুসুমে।
শােভে কিসলয়ে নব তৃণদলে
মুকুতা মতন কাননে।
গত বিভাবরী নিভে নিশাকর
ভাতে দিবাকর পূরবে।
সুনীল-সলীলে উথলি কিরণ
উজান বহিছে নীরবে ।
ধবল-তুষার-জড়িত-পাহাড়
..।।
শাভিছে বিবিধ বরণে।
কুরগ ধাইছে বিহগ গাহিছে।
হেরিয়া নবীন তপনে।
--

অঞ্জলি
কমল ফুটিল সরসী শােভিল
রসাল-মুকুল বিকাশে ।
মধুপ জুটিল মধুঢ়ী লুটিল,
গাহিল মনের হরষে ॥
লইয়া গাগরী ধাইছে নাগরী
ভরিতে যমুনা-জীবনে।
প্রকৃতি সুন্দরী মধুর মাধুবী
ছড়ায় অখিল ভুবনে।
মধ্যাহ্নে
বিদায় লয়েছে প্রাতিক শােভা
কালের কবলে পড়িয়া।
তীক্ষণ তপন বিরাজে গগনে
ভীষণ আতপ ধরিয়া ।
তাপিত অবনী আকুল পরাণী
স্বনিছে মরুত কাতরে।
শুকায়ে কুসুম ঝর ঝর করি
ঝরিছে কাতারে কাতারে।
নীরব নিথর ধরণী মাঝার
ধরিয়া শশাকের মূরতি।
মলিন-নি’তেজ তরু-লতা-পাতা
শুকায় কোমল ব্রততী।
৪

অঞ্জলি
তরুর তলায় পাতার ছায়ায়
গাে-ধেনু-বিহগ নীরব।
গিরি-মরু-নদী সরসী সাগরে
উজলে দহন বাড়ব।
প্রদোষে
সন্ধ্যা-সতী উঠল ফুটে,
তীক্ষ তপন পড়ল পাটে,
রশ্মি ডু’বল সাগর তটে,
অবনী আঁধারে আবরি।
স্নিগ্ধ বাতাস বইল ধীরে ;
মন-মৃদুল কুসুম-শিরে,
মুগ্ধ-পরাগ পড়ল ঝরে,
ধরায় লুটায় মাধুরী।
পুষ্প-কোরক ফুটল নব,
গুচ্ছ সকল নুতন রাগ,
গন্ধ ছড়ায় আকুল ভব,
মধুর সুরভি সেবিয়া ।
চন্দ্র উদিত আকাশ মাঝে,
সুপ্ত তারকা অতুল রা'জে,
গুঞ্জে ভ্রমর কানন মাঝে,
ফুলের মধুটি লুটিয়া।
২

।
}
পদ্মমুদিত সরসী-নীরে,
বন্ধ মধুপ মধুর তরে,
মুক্ত কুমুদ সলিলে ধীরে,
চাঁদের জোছনা মাখিয়া ।
ধন্য সকল সৃজন যার,
ভক্তি-হৃদয়ে চরণে তায়,
ত্যক্ত করিনু জীবন ভার,
তাহার মহিমা হেরিয়া ।

অঞ্জলি
আশা
অবশ্য-বিনাশী বসুধা মাঝারে
কিবা আশে আশা করি।
সবি আসে যায় নিরাশ করিয়া
হতাশে হুতাশে মরি।
ধন যশঃ মান স্বজন সুজন
কালের কবলে পড়ি'।
চলি’ যায় সব হতাশ করিয়া
বল কিবা আশা করি।
বিদেশে বিষম-বিষাদ-ব্যথিত
আমার হৃদয় বীণা।
নীরব, নিবিড়-নিরাশ-জড়িত
নিন যায় না শুনা ।
কি গান গাহিব ভাবিয়া পাই না
ভাষায় আসে না কভু।
বল দাও মােরে গাহি তব গান
বাজাও বীণাটি প্রভু।
৭

অঞ্জলি
স্পন্দিত কর শব্দিত কর
ঝঙ্কত কর বীণা।
রঞ্জিত তব হস্তের টানে
ব্যঞ্জিত হাে নানা
সুন্দর তান, মিশ্রিত করি
গম্ভীরতর সুর।
বিস্মিত কর উৰ্ব্বীর নর
স্বর্গের যত সুর ।
মন্দ্রিত তব বিস্তৃত সুরে
মন্থর মম তান।
উন্নত রবে ব্যঞ্জিত হােন্
মঙ্গল তব গান।
দুঃখেতে ভরা উীতে
উৎকন্ঠিত মাের প্রাণ।
বাঞ্ছিত মাের স্বর্গের ঘরে
রক্ষ হে ভগবান।

অঞ্জলি
ই
ইষ্ট
অবনীর আমি কিছুই চাহি না, চাহি নাথ ! সুধু শান্তি।
মায়ার মােহ টুটিয়ে দাও হে, ছুটিয়ে দাও হে ভ্রান্তি।
বিয়ােগের ব্যথা নাহি লাগে যেন, নাহি লাগে যেন শােক।
আদরের নিধি হারায়ে হে প্রভাে! নাহি পাই যেন ক্ষোভ।
চঞ্চল মাের চিত্তটী যেন, নাহি হয় পাপে লিপ্ত।
স্নিগ্ধ তােমার করুণা ধারায়, ক’র প্রভাে! সদা সিক্ত।
তব পদ হতে নাহি হয় যেন, নিমেষের তরে ভ্রষ্ট।
শেষের সে দিনে আত্মা যেন হে, লভে চির তরে ইষ্ট।

অঞ্জলি
অন্তিম তান
বা’জল আমার হৃদয় বীণা উঠল করুণ তান
বাতাস ভরে উদাস সুরে ছুটল ক্ষীণ মান্।
জগৎ জুড়ে আকাশ’ পরে,
ভা’ ধবল মেঘের স্তরে,
শুভ্র চাদের জ্যোৎস্না ধরে বহিল অবিরাম্ ।
বাজল আমার হৃদয় বীণা উঠল করুণ তান্ ।
কাহার টানে কিসের বশে,
কে জানে কোন সুদূর দেশে,
কিসের তরে যাচ্ছে ভেসে, কোথায় অবসান।
বা’জল আমার হৃদয় বীণা উঠল করুণ তান॥

অঞ্জলি
স্মৃতি
বারে বারে বিজলী-বিভায় ভাতিছ নিভৃত অন্তরে।
থরে থরে দানিছ অমিয় মেদিনী-মরুর প্রান্তরে।
অনুভবে অনুমানে বুঝি বিরাজ হৃদয়-মন্দিরে।
দুঃখ মাঝে সুখ লভি তাই হেরি তােমা হেন সুন্দরে।
ভেসে আসে তােমার স্মরণ লয়ে কত স্মৃতি-সম্ভারে।
থাকি থাকি মরম মাঝারে গভীর বেদনা ঝঙ্কারে।
তব সাথে পিছি, ভেসেছি অতুল সুখের উচ্ছ্বাসে।
ধীরে ধীরে জাগে মনে দু’খ নিবারি নিবিড় নিশ্বাসে।
কেন মােরে ত্যজিলে ঘুরালে কুটিল কুপথ কান্তারে।
ত্যজ তব কঠোর কামনা লও তব পথে ভ্রান্তরে।
তব কাজ সফল হবে না আমাতে যুগ যুগান্তরে।
এস, লহ, মিশিয়া যাইব তােমাতে আমাতে মন্থরে।

অঞ্জলি
তােমার পথে
হৃদয়-পটেতে নাথ ! তুলিতে তােমার ছবি।
পারি না, আসে না ভাব, চিত্রকর নহি কবি ।
নিরাকার তুমি প্রভু! ভাবও অভাবনীয়।
বিশ্বব্যাপি’ আছ, কিন্তু স্বরূপ অননুমেয়।
তব সত্ত্বা জীবে জড়ে জলে স্থলে মরুবব্যামে।
অলক্ষেতে আছে দেখি অনুভবে অনুমানে।
সাধুজনে সুখ যবে দাও পাপীগণে দুখ!
হেরিয়া অস্তিত্ব তব হর্ষে ভরি’ উঠে বুক।
তােমার সৃজন প্রভু অসীম কৌশলময়।
গুপ্ত থাকি সৃষ্ট
ভূতে
বিকাশিছ শােভায়।
তােমারি সৃজিত দেহ, তােমারি প্রদত্ত প্রাণ।
তােমারি আননে গাহি তােমারি রচিত গান ।
তােমারি চালিত পথে চলিতেছি অবিরত।
তােমারি ঈপ্সিত কৰ্ম্মে আছি নাথ নিয়ােজিত ।
ভক্ত-বাঞ্ছাকল্পতরু ! দাও মােরে দরশন।
আঁকিব তােমারি মূর্তি হৃদি-পটে ভগব ।
.
* মানুষ স্বাধীন, অপাপবিদ্ধ ভগবান তাহার পাপ পুণ্য কোনও
কর্মের প্রবর্তক বা নিবৰ্ত্তক নহেন। “আমি স্বখাত সলিলে ডুবে
মরি গাে শ্যামা” ।
( মন্দারশালা সম্পাদক)
ঈশ্বরেচ্ছা ব্যতীত জীবের একপদও অগ্রসর হইবার ক্ষমতা নাই
“তােমার কৰ্ম্ম তুমি কর মা লােকে বলে করি আমি” “পঙ্গুতে লজায়
গিরি রাজাকে কর ভিখারী” “যথা নিযুক্তোহস্মি তথা কৰােমি”।
(লেখক)
১২

দান
দয়াল! তব অতুল দানে
উঠছে ভ’রে আমার প্রাণ ।
বইছে সদা হৃদয় মাঝে
তােমার দেওয়া মেহের বান ।
দান করে দান শিখায়েছ
জগৎজনে করতে দান।
নাহিক কিছু আমার বলি
হয় মাের তাই অভিমান ।
আমার হৃদে স্নেহের নদে
উঠুক উচ্চ টান তুফান।
উথলে উঠে চলকোপড়
সিক্ত করুক সবার প্রাণ।
মুগ্ধ হউক বিশ্ব প্রাণী
উই তােমার যশের গান ।
অকিঞ্চনের এই আকিঞ্চন
পূর্ণ কর ভগবান্ ।
১৩

অঞ্জলি
ভাগিরথী
ভূপর নিকর
খর বরিষণ
কিবা মনােহর
অবনি উপর শােভিছে।
হিমালয়-শিরে মন্দাকিনী ধীরে
পীযুষ ধারায় ঝরিছে ।
গিরীশ ধরেন
নিজের মাথাটি পাতিয়া।
মাথাটী না দিলে যাইত
ভূতলে
ভূধর শিখর ভেদিয়া ।
আকাশ-চুমিত
পাষাণ শিখরে গলিয়া।
শৈল শিলা রাশি খরস্রোতে ভাসি
প্রবল প্রপাতে আসিয়া ।
গােমুখী করে পড়িয়া সজোরে
ধরায় যাইছে বহিয়া।
আসি’ হরিদ্বারে অনুপ সহরে
উত্তাল তরঙ্গে ভাসিয়া ।
তুষার জড়িত
৪১

অঞ্জলি
আছাড়ি তটেতে ভাঙ্গিয়া সৈকতে
ধাইছে ধরণী ধরিয়া।
সিন্ধুঅভিসারে
কুলু কুলু স্বরে
ছুটিছে আকুল হইয়া ।
বিপুল বুকেতে -
হেলিতে দুলিতে
আবার যাইছে ফিরিয়া ।
সগর বংশ
হইলে ধ্বংস
কঠোর সাধন করিয়া ।
সুধীর সমান স্বর বরিষণ ,
সগর তনয় আনিয়া।
প্রবাহিত করে
ধরার উপরে
বিগল ধারাটী ধরিয়া ।
পিতৃকুল ত্রাণি
ভাসায় অবনী
সুযশঃ সৌরভে ভরিয়া।
ধরার মানব
লভিল ত্রিদিব
: পূত সুধাবারা ধরিয়া ।

অঞ্জলি
চরণে
(আমি) জীবনে জীবনে জনমে জনমে তােমার চরণ চাই,
( যেন ) পরাণে পরাণে তােমার করুণা লভিবারে প্রভু! পাই।
নিমেষে নিমেষে অনিমেষ আঁখি ঢালিছে অশ্রুধারা,
(আমি) পলকে পলকে প্রলয়ের প্রায় হ’তেছি আপন হারা।
মরমে মরমে মরিয়া সতত যাপিছি জীবন, প্রভু!
(তুমি) ভুলনা ভুলনা দানিতে যাতন। ভুলনাক নাথ কভু।
বিষাদে বিষাদে কাতর প্রাণেতে স্মরিতে তােমারে পাই,
( নচেৎ ) হরষে হরষে সুখের পরশে ভুলিয়া তােমায় যাই।
দু’খেতে দু’খেতে আকুল মনেতে তােমার মহিমা গাই,
( নচেৎ ) অসার অসার বিষয়ে মজিয়া পাপের পথেতে ধাই।
জ্বলুক জ্বলুক হৃদয় মাঝার উঠুক দীরঘশ্বাস,
(আমার) টুটুক টুটুক ভবের বাঁধন টুটুক করম পাশ।
ঘুচাও ঘুচাও বিষয় বাসনা দাও হে পরমা-মতি,
( আমি গাহিব গাহিব তব গুণ-গান স্থান দাও পদে যদি।

অঞ্জলি
কালের স্রোত
উষার গগনে শুকতারা যথা ফুটিয়া উঠিয়া ধীরে মিশায়,
ক্ষুব্ধ সাগরে লহরী যেমন ভাসিয়া উঠিয়া টুটিয়া যায়।
সূর্য উদয়ে কুহেলিকা যথা পলক পড়িতে প্রলয় পায়,
মেঘের কোলেতে তড়িৎ যেমন, ত্বরিতে হাসিয়া মুখ লুকায়।
স্তবধ নিশীথে আলেয়া যেমন, উজলি বনানী বিমানেধয়,
তৈল বিহীন দীপ যেমন জলিয়া উঠিয়া নিভিয়া যায় ।
বিশ্ব জগতে ক্ষণেকের তরে বিকাশি’ তেমনি সুধী-সুজন,
দীপ্ত প্রতিভা প্রকাশি’ আবার কালের কবলে বিলীন হন।
বিশ্ব জনীন-বিপুল-কীৰ্ত্তি কীৰ্ত্তিত করি’ বিশ্বের মাঝে,
দৃশ্যহ ইতে সরিয়া পড়িল, অক্ষয় যশঃ সতত রাজে।
ভক্ত সাধক তাপস যােগী গায়ক ভাবুক স্বভাবকবি,
কল্পতরু যে অবদানে স্নেহে, দয়ার মায়ার উজল ছবি ।
শৌর্যে বীর্য্যে জ্ঞানে পরাক্রমে ভুবন বিদিত সুজন সবে,
কল্পে কল্পে যুগেতে যুগেতে বরষে বরষে আছিল ভবে।
কীর্তি রাখিতে আসিছে যাইছে যেতেছে আসিবে যাইবে চলে,
কর্ম সারিয়া শান্তি লভিছে, জগাতার শীতল কোলে।
কৰ্ম্মপেষণে শ্রান্ত ক্লান্ত মর্মপীড়িত ব্যথিত প্রাণ,
অঙ্গ শিথিল অবনী মাকারে তবু না ত্যজিতে চাইগাে মান।
১৭
২

ভাগ্য বশেতে কত না দেখিব, কত না শুনিব থাকিলে ভবে,
সংখ্যা নাহিক নাহিক সীমা সমাপন কভু নাহিক হবে।
ধৰ্ম্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে যে, হয়েছিল রণ শুনেছি শ্রবণে,
বঙ্গ মাঝারে আছি বলি তাই কালের বশেতে হেরি নয়নে।
যুদ্ধ
ভীষণ রুষ জাপানের ব্রিটীশের সহ জাৰ্মানীর,
বিশ্ব কঁপিল বীর পদভরে উছাল উঠিল সিন্ধুনীর।
শােণিতের স্রোতে ভাসি’ বীরদেহ তৃণের মতন ডুবিল কত,
ভগ্নঅস্থি শীর্ণমাংস দীর্ণক্ষ ছিন্নপদ।
তপ্ত শােণিতে ডুবিল মেদিনী জনপদ-মরু শুন্য দেশ,
ভস্ম হইল দিগদিগন্ত চকিতু নয়নে দেখিনু শেষ।
লঙ্কা মাঝারে ঘটেছিল সেই রাম রাবণের ভীষণ রণ,
স্বর্ণ-নগরী গেল ছারে খারে রক্ষ বংশ হ’ল নিধন।
কাব্য মাঝারে সেই সময়ের পায়নি উপমা কোবিদগণ,
সিন্ধু-উপমা সিন্ধু যেমন, গগন তুলনা যথা গগন।
সংখ্য উপমা রাম-রাবণের, রাম-রাবণের সমর যথা,
শক্ত নহেক উপমার রাশি লুপ্ত হয়েছে তুলনা প্রথা।
কর্ণে শুনেছি দেখিনি নয়নে সত্য মিথ্যা বুঝে না প্রাণ,
অস্ত্র শস্ত্র দেখিনু আবার অগ্নিরবান সেই বিমান।
থাকিলে আবার দেখির আবার দুঃখের মাঝে ইহাই সুখ,
বিশ্বপতি হে রাখহ বিশ্বে, তব নামে.উঠে ভরিয় বুক।
নিত্য তুমিহে অনিত্য-সব বলেছিলেন । কুরুক্ষেত্র, :. ১
১
।
{

লি
সত্য তাহাই দেখিছে সবাই এই মহারণে চকিত নেত্রে।
ধ্বংস হইছে কত কলেবর যাইছে আত্মা সাধন ধামে,
জন্ম লভিছে আসিয়া আবার নব কলেবরে নূতন নামে।
শিক্ষা দিতেছ জাগায়ে তুলিছ মােহেতে মুগ্ধ জগতজনে,
অন্ধ মানব ভুলিছে আবার চলিছে আবার পাপের সনে।
রক্ষা করহে করুণা নিধান ভক্ত সকলে রাখহ সাথে,
ভক্ত তােমায় ডাকিছে কাতরে স্থান দাও প্রভু পরম পদে।
১৯

মিনতি
দিবা নিশি মম নিথর নয়ন তােমারি চরণ পানে,
অনিমেষ আঁখি আবেশে অবশ ভাসিছে ভাবের বানে।
আকুল হৃদয় ছুটে চলে যায় লু’টে পড়ে তব পায়,
সদা মিশে রয় ঐ পূত পদে ত্যজিবারে নাহি চায়।
প্রাণ মন মম বিলীন তােমাতে বিভাের তােমার ধ্যানে,
তােমার অপার করুণা সাগরে ভেসে চলে যাই টানে।
তােমার দরশে তােমার পরশে পুলকে হরষে মাতি,
শিহরে হৃদয় সবি’ তব ময় হেরি নাথ দিবা-রাতি।
লয়েছি শরণ তােমারি চরণ ত্যজিয়া করম রাশি,
মজিয়া তােমাতে পরিয়া গলেতে তােমারি প্রেমের ফাসি ।
ভুলেছি আপন ভুলেছি ভুবন ভুলিয়াছি ধন-জন,
অপরূপ তব রূপের জ্যোতিতে নিবেশিত সদা মন।
নাহিক নয়ন ভুবনের পানে ( আছি) আবরিত রিপুগণে,
এমিনতি প্রভু! নাশিতে না পারে তব এ আশ্রিত জনে।
২

অঞ্জলি
আমি
দাঁড়ায়ে সাগর তীরে চেয়ে থাকি সতৃষ্ণ, নয়নে,
মন মিশে যায় নীরে হেরি সুধু স্তবধ পরাণে।
কি গরিষ্ঠ গভীরতা উত্তুঙ্গ তরঙ্গ ভঙ্গ ভাসে,
সুমহান বিশালতা গভীর গর্জনােচ্ছাস আসে।
প্রসারিনু দৃষ্টি ধীরে পর পর পার পানে ধায়,
দূর হ’তে দূরান্তরে গিয়া শেষে শূন্তে মিশে যায়।
উঠে ক্ৰমে উদ্ধোপরি উন্মুক্ত অনন্ত আকাশেতে,
উদাস নয়নে হেরি কি বিরাট বিশালতা ভাতে।
ভাস্বর ভাস্কর ভাসে ভূ-ভুবঃ-স্বলোক আলাে করি,
আছে আকাশের পাশে (তবু) কি মহান্ প্রভাব তাহারি।
হেরি সব বিশালতা আমার আমিত্ব যাই ভুলি,
অহমিকা গেল কোথা গর্ব অভিমান সহ চলি।
অণু পরমাণু মত পড়ে আছি পৃথিবীর পাশে,
অস্তিত্ব বিলুপ্ত মম হয়ে যাক, আছি এই আশে।
ভাবিয়া নাহিক পাই এ মহান সৃষ্টির কারক,
কেবা কোথা তিনি তাই তিনিও কি বিশাল ব্যাপক ?
২

লি অথবা বীজের মত সূক্ষ্ম হ'তে দীর্ঘ মহীরুহ- হয় যথা প্রকাশিত, তিনিও তেমনি সূক্ষ্ম দেহ ? সূক্ষ্ম হ'য়ে সুমহান্ প্রতিভায় ভাসিত ভুবন্। সেই বিরাট পুরুষ কি উদ্দেশ্যে সিদ্ধি তরে সৃজে ক্ষুদ্র মাদৃশ মানুষ, হৃদয়ে সতত তাই বাজে। ক্ষুদ্রাদপি ক্ষুদ্রে কিরে জগতের হবে উপকার ? বিন্দু মাত্র উপকারে শক্ত নহি আমিই আমার। উদ্দেশ্য বিহীন ভাবে অতি তুচ্ছ তৃণের মতন, ঘুরি ফিরি সদা ভবে তবােদ্দেশ্য বল ভগব ? ২

বিপথে
বিদেশে বিপথে ফিরি চারিদিক নিরখিয়া,
হতাশে হুতাশে সরি নিজ পথ না লভিয়া ।
অজানা অবনী মাঝে আসিয়াছি মােহ ঘরে,
অচেনা মানব সাথে ঘুরি, ল’য়ে দুঃখ-ভারে।
সবারে সুধাই শুধু আমার আবাস পথ,
মায়ায় মােহিত জীব কহে সবে নানা মত।
কেহ কহে,-“এই পথে যাও যাবে নিজাবাসে,
. সরল সুগম ইহা অনায়াসে যাবে দেশে”।
অপরে আভাসে ভাযে—“মম সাথে এস তুমি,
অচিরে লভিবে পান্থ! তব অধ্যুষিত ভূমি”।
ব্যাকুল মনেতে ধাই কথামত সবাকার,
বিফল হইনু হায়! নাহি পাই পথ আর।
সকলেই পথ জালালহল প্রাণ,
কোন পথে যাব আর্মি বলে দাও ভগবান্ ।
২৩

অঞ্জলি
কি চাহি?
আমি—চাহিনা স্বর্ণ চাহিনা রৌপ্য চাহিনা হৰ্ম চাহিনা মান,
জানিনাক প্রভু! ধৰ্ম্মাধৰ্ম্ম জানিনা কৰ্ম্ম জানিনা জ্ঞান।
ব্যথিত মৰ্ম্ম, টুটাও কৰ্ম্ম, দাও হে শৰ্ম্ম, ভাসিব সুখে,
নতুবা ক্ষণেক বিনাশী অর্থ লভিয়া ; হারায়ে বাজিবে বুকে
কি হবে অতুল অসন-বসন-ভূষণ-শয়ন-বাসন রাশি,
দুদিনে যাইবে সকলি চলিয়া কাল স্রোতে মিশি কোথায় ভাসি
থাকিবে শেষেতে তােমার দত্ত কর-পুট খানি, শীতল জল
আর অবিরল নিৰ্মলানিল শয্যা শ্যামল দূর্বাদল।
সকল শ্রেষ্ঠ সবার প্রেষ্ঠ গাহিব ইষ্ট দেবের নাম,
ঝরিবে অতুল অমিয়ের ধারা শীতল হইবে তাপিত প্রাণ।
২.

অঞ্জলি
সিন্ধু-পারে
সন্ধ্যা বেলায় সিন্ধু বেলায় একূল বসে আছি।
সঙ্গে সাথী নাইক আমার
সম্মুখে যে অপার পাথার
নাইক কড়ি, নাইক তরী, নাইক দাড়ি-মাঝি।
বিশ্বব্যাপী নিবিড় নিশা আছে আঁধার-জি ।
বইল বেগে বিষম বাতাস উঠল তুফান নাচি।
জুটল নিকষ মেঘের মালা,
ছুটল তড়িৎ উঠল জ্বালা,
চম্‌কে উঠে জীমূত-স্বনে বিশ্ব-জগৎ আজি।
টুটুল নিখিল বাঁধন, ঘটল মহা প্রলয় বুঝি।
শিথিল শরীর অঙ্গ অবশ কাতর জীবন আজি।
সুদূর হ’তে পড়ছে টান,
আঁধার হল অলস প্রাণ,
কে যেন ঐ আসছে বুঝি, পার কর গাে যাচি।
সন্ধ্যা বেলায় সিন্ধু-বেলায় একলা বসে আছি।
*

স্মরণে
ভেসে আসে তােমারি স্মরণ লয়ে কত স্মৃতি সম্ভারে,
থাকি থাকি মরম মাঝারে গভীর বেদনা ঝঙ্কারে।
তব সনে মধুর মিলনে ভেসেছি সুখের উচ্ছাসে,
ধীরে ধীরে জাগে মনে দু’খ নিবারি নিবিড়-নিশ্বাসে ।
বারে বারে বিজলী বিভায় ভাতিছ নিভৃত অন্তরে,
থরে থরে দানিছ যেন গাে অমিয় মরুর প্রান্তরে।
অনুভবে অনুমানে বুঝি বিরাজ হৃদয় মন্দিরে,
দু’খ মাঝে সুখ লভি তাই হেরি তােমা হেন সুন্দরে।
কেন মােরে ত্যজিলে ঘুরালে কুটিল কুপথ কান্তারে,
ত্যজ তব কঠোর কামনা লও তব পথে পান্থেরে।
অভিলাস সফল হবে না আমাতে যুগ-যুগান্তরে,
এস, লহ, মিলিয়া যাইব তােমাতে আমাতে মন্থরে।
ii
২৬

প্রতীক্ষায়
সারাটি দিন ধরে, বসিয়া পথ ধারে,
যাপিনু, জীবনটী ভাবিয়া সুখময়!
রহিনু কত আশে, তাহারি তরে বসে,
ভাসিনু অবশেষে,
নয়ন নীরে হায় ।
মনেতাে করেছিনু আসিবে এই পথে,
কহিব কত কথা শুনাব মন সাধে,
হেরিয়া কাতরতা এলনা, লাগে ব্যথা
নিবিড় নিরাশায়,
কোমল এ হিয়া
কনক-আসন গাে নিভৃতে রাখি পাতি,
রাখি সযতনে মতির মালা গাঁথি,
কত না উপহার সাজানুতরে তার
এল না একবার
সকলি বৃথা যায় ।
২৭

অঞ্জলি
বুঝি বা অবহেলে এল না এই পথে,
অথবা গেছে চলে হেরিয়া দূর হতে,
যদি সে আসে পথে, ধরিব তার পদে,
সাধের মতিমালা,
ছিড়িয়া দিব পায় ॥
আসিব বলেছিল গােপন পথ দিয়া,
লইবে সাথে মােরে, এখনাে নাচে হিয়া,
ভাবিয়া তার কথা, ভুলিনু সব ব্যথা,
আসিবে নেবে সাথে
রহিনু প্রতীক্ষায়।
৫
২৮

অঞ্জলি
চৈতন্য
চেতনা জড়িত
চেতনা দীপিত
তুমি গাে চেতনাময় ।
তুব চেতনায়
নিখিল চেতন
অচেতন কেহ নয় ॥
আলােক আঁধার অরুণ আলােকে
অবনী গাে আলােকিত।
তেমনি তােমার চেতনা কণায়
সচেতন ত্রিজগত
চেতনা দানিছ
অখিল অবনী
গাহে তাই তব নাম
করুণা করিয়া দাওহে ভরিয়া
চেতনা, চেতন-ধাম !
তব চেতনার
প্রতিচ্ছায়া লভি’
সচেতন আজি আমি ।
অনাবিল তব
চেতনার রাশি
দাও হে চেতন-স্বামী।
১৯

বর্ষা-বরণ এস সুন্দরী বরষা রাণি । তাপিত বক্ষে আশাপথ চাহি অলসে-চলিয়া চকিত চক্ষে, তােমারি লক্ষ্যে দিয়াছে পাতিয়া শস্য শ্যামল চঞ্চল দল অঞ্চল খানি। এস সুন্দরী বরষ রাণি, ক এস সুনীলিম গগন পথে, কুঞ্চিত-দল ঘন-কুন্তল- এলায়ে ঢাকিয়া তড়িতের হাসি, ত্বরিতে বিকাশি সােণার অধরে ফুটায়ে এস রে নামিয়া সবন- আরােহি’ জবীন পরন রথে। এস সুনীলিম গগন পথে ।

অঞ্জলিল
শুনি’ সহরুষে
তব আগমন
তােমারি বাণী
শিখরি-শিরষে ।
শিখিকুল নাচে
পুলক পরশে
প্রােষি ললনা কত আনমনা
দিবস গণিয়া
আশায় চাহিয়া
প্রবাসের দূরে
প্রবাসী-পতিরে--
নিল আনি।
তব আগমন তােমারি বাণী।
বরিষ শীতল
হউক স্নিগধ
ফুটাও কুটজ
স্নেহের পরশ
উঠিল শিহরি’
স্নেহের ধারা,
করগাে শান্ত,
কেতকী কুন্দ,
বনানী হরষে
।
ভম্বর ধরি
নব কদম্বে
নদী নিতম্বে
রেণুর ঝারা।
বরিষ শীতল স্নেহের ধারা।
৩১

অঞ্জলি
দিবে অঞ্জলি
চরণে তব,
নীপ নিকুঞ্জে
বকুল পুঞ্জে,
সুরভি পুষ্প পরাগ মুঞ্চে,
তরুলতাগুলি, নবশাখা তুলি,
আবাহন করে,
অলি গুঞ্জরে
ওষধি বৃক্ষে
দাও অলক্ষ্যে
জীবন নব।
দিবে অঞ্জলি চরণে তব ।
৫

অঞ্জলি
সুন্দর
বাণী।
প্রভু! তােমার রচিত বিশ্বে,
হেরিহরষে নিখিল দৃশ্যে,
কিব-অসীম সুষমা ভরা
শুধূ-তােমারি মূরতি খানি।
বায়ু-তব গুণ গাহে ছন্দে,
বহে—বিমল তােমার গন্ধে,
তাই-তময় হেরি ধরা,
শুনি-তােমারি মধুর
ক্ষিতি—তব রূপরাশি স্পর্শে,
ধরে—অতুল মাধুরী হর্ষে,
সদা-তােমারি বিকাশ ঘেরা,
ধর—তাইত রূপের রাণী ।
হেরি-সলিলে তােমারি লীলা,
কত—উথলে মাধুরী মালা,
তব -- গুণ-গাথা গাহি সারা,
আমি-অবাক হইয়া শুনি।

অঞ্জলি
।
লভি,অনল তােমারি জ্যোতি
তাই-অমল উজল ভাতি
কত-বিতর্বে রূপের ধারা,
শুধু তুমি হে রূপের খনি।
শােভে-সুনীলিম শােভা শূন্যে
ধরি’—তব আভা কত পুণ্যে,
ভাসে, চন্দ্র-সূর্য-তারা,
খেলে—বিমল বিজলী হানি।
তব—অরুণ-কিরণ মাখা,
হাসে-তরু-লতা-ফুল-শাখা,
যেন—বিরাট-তীর্থ-ঝরা,
দিল-পুণ্য-আলােক আনি’!
তাই-তােমারি মাঝারে থাকি
কত-তব নাম ধরে ডাকি,
আমি-হইগাে আপন হারা,
শান্ত-কর গাে করুণা দানি'।
আমি –দূরে চলে যেতে চাই,
তুমি—হাত ধরে টান তাই,
যেতে-দাও না বিপথে ত্বরা,
তুমি--তাইত জগত-স্বামী।
৩3

আশুলি
সমর্পণ
তােমায়—কি আর করিব দান।
যা আছে আমার
সকলি তােমার
দেওয়া দান-ভার,
নাহি অধিকার
তাহা দানে ভগবান্ !
তবে–কি আর করিব দান ।
তুমি-দানের কল্পতরু !
দাও অকাতরে
অধম জনেরে
যার যা কামনা নাহি কিছু মানা
স্নেহেতে ডুবাও মরু।
তুমি-দানের ক,
দীনেরে করিলে দান।
আছে সফলতা
তােমারি বারতা
ঘােষিলে জগতে
শিখালে জানিতে
দানিয়া হে ভগবান!
শুধু—দীনেরে করিবে দান।

স্নাঞ্জলি
বলকিসের অভাব তব,
রতন আবাস
রত্নাকরে বাস
তুমি যদুপতি পাণ্ডবের গতি
কত-সহায়-সম্পদ ক’ব।
বলকিসের অভাব তব ।
শুধু মনটী তােমার নাই।
শুনেছি শ্রবণে
যত গােপীগণে
করিয়াছে চুরি
মাধূরী পাশরি’
আর-ল’য়েছে তােমার রাই।
তাই—মনটি তােমার নাই।
চঞ্চল অতি
তাই—দানিনু আমার মন।
রাখিতে শকতি
নাহিক আমার,
চরণে তােমার
সপি তাই ভগব!
লও-করুণায় মম মন ।।

অঞ্জলি
অদৃষ্ট
(১)
নিয়তির নীতি
অটুট সে গতি
নাশিতে শকতি
নাহিক কাহার।
রীতি দুনিয়ার ।
(২)
দেব আরাধনা,
শতেক কামনা,
যার যা’ বেদনা
হবে অনিবার।
প্রাক্তন সবার।
গরুড় কাতরে
কমলা-পতিরে
বহি স্বীয় শিরে
ভুজঙ্গ আহার।
মিলে শুধু তার।

( ৪ )
নাগরাজ ফণী
ধরিয়া ধরণী
বহি’ নীলমণি
জীবনে তাহার।
শুধু বায়ু সার।
(৫)
ধনপতি-সখা-
মহাদেবে উক্ষা
বহিয়া বুভুক্ষা
নাশে অনিবার।
করি’ তৃণাহার।
( ৬ )
ব্ৰহ্মার নিলয়ে
বাহক হইয়ে
বিস-কিশলয়ে
হইছে আহার।
সে হংস মালার।

অঞ্জলি
(৭)
মহাদেব গলে
দুজরাে দুলে
লভিছে সকলে
বায়ু মাত্র সার।
সাথে থাকি তার।
(৮
মহতের সেবা,
ফল হয় কিবা,
শুধু মনোলােভা,
কে নাশে কাহার।
কৰ্ম্মফল ভারে।
:

অঞ্জলি
দিবােদাস
--
অখিল-অমর-নিখিল-মানব শীর্ষাবনত চরণে যার,
একাধারে যিনি নৃপ-মহর্ষি-ভিষগাচাৰ্য-করুণাধার ।
সাধিতেন যিনি অমর গণের শত জরা-ব্যাধি-মরণ-নাশ,
ধন্বন্তরি স্বরূপে তীর্ণ আদি-দেবাংশ সে দিবােদাস।
কখন অজিন-আসনে আসীন, কখন মুকুতা-মুকুটশীর্ষে,
বিজ্ঞানাকাশে ধ্রুবতারারূপে শতেক শিষ্য মাতান হর্ষে।
মহা-রাজর্ষি দেব-দিবােদাস ! উদিলে দ্বাপরে সিদ্ধক্ষেত্রে,
বারানসী ধামে স্থাপিলে রাজ্য নাশিয়া ভদ্ৰশ্রে-পুত্রে।
প্রকৃতি-পালক দরশে ইন্দ্র শতেক নগরী করিল দান,
তঁাহার সকাশে লভিলে শিক্ষা ব্ৰহ্মা-গ্রথিত আয়ুর জ্ঞান।
কখন অজিন-আসনে আসীন কখন মুকুতা-মুকুট শীর্ষে,
বিজ্ঞানাকাশে ধ্রুবতারারূপে শতেক শিষে মাতালে হর্ষে।
নৃপতি সুদেব জনক তােমার, লভিলে, পুত্র প্রতৰ্দনে,
মহিষী সুযশা সদৃশ। তােমার, পুলকিত প্রজা তােমার ধ্যানে
শিষ্য তােমার সুশ্রুত আদি শত শত ঋষি প্রতিভাবানু,
বানপ্রস্থ আশ্রমে থাকি’ আয়ুর বিদ্যা করিলে দান।
৪

কখন অজিন-আসনে আসীন, কখন মুকুতা-মুকুট শীর্ষে,
বিজ্ঞানাকাশে ধ্রুবতারারূপে শতেক শিষ্যে মাতালে হর্ষে।
শল্য-শাস্ত্র, প্রচারি’ বিশ্বে রচিলে বিশাল আয়ুর তন্ত্র,
খ্যাত “চিকিৎসা দর্শন” নামে ছাইল জগতে যশের মন্ত্র
পুরাণে তােমার ঘােষিল মহিমা মূখরিত বেদ তােমার গানে,
অশীতি হাজার বরষ ব্যাপিয়া পালিলে ধরণী করুণ দানে।
কখন অজিন-তাসনে আসীন, কখন মুকুতা-মুকুট শীর্ষে,
বিজ্ঞানাকাশে ধ্রুবতার রূপে শতেক শিষ্যে মাতালে হর্ষে।
চতুঃষষ্ঠী কুলায় পূর্ণ শাসিলে রাজ্য একচ্ছত্র,
অসূয়ামত্ত দেবতাবৃন্দ তােমার পতনে খুঁজিল ছিদ্র।
সুর:গুরু মতে বারানসীহ'তে তিরােহিত হ’ল অনল, সূৰ্য্য,
বিশ্ব বিজয়ী জ্যোতিতে তােমার সাধিলে যজ্ঞ-যাগের কাৰ্য্য।
কখন অজীন-আসনে আসীন কখন মুকুতা-মুকুট শীর্ষে,
বিজ্ঞানাকাশে ধ্রুবতারারূপে শতেক শিষ্যে মাতালে হর্ষে।
একদা যখন বারানসী ধামে পিনাকীর হ’ল বাসাভিলাস,
সাম, দান, ভেদ, নিপুণ তােমার রাজ্য ছলনে করিল নাশ।
প্রবল-প্রতাপে গােমতীর তীরে স্থাপিলে আবার শােভন রাজ্য,
আজিও মানব ব্যাধি বিমুক্ত স্মরি’ তব নাম দানিয়া আজ্য।
কখন অজিন-আসনে আসীন, কখন মুকুতা-মুকুট শীর্ষে,
বিজ্ঞানাকাশে ধ্রুবতারারূপে শতেক শিষ্যে মাতালে হর্ষে ।
৪১

অঞ্জলি
বন্যা
বিশাল বানের বিষম টানে
বালীর বাধা বাঁধ টী ভেঙ্গে
কমূলে শতেক খান।
নেচে উঠল কি তুফান।
উথুলে উঠে আছড়ে পড়ে
নদীর কুলের ক্ষেতের পরে
ছাপিয়ে কানে কান।
যেন-মহাপ্রলয় বান।
ক্ষেত খানি সারা শষ্য ভরা
ভাসিয়ে নিয়ে প্রখর ধারা
তলিয়ে তিরােধান।
কোথাবইল রে উজান ।
৪২

অঞ্জলি
কোন সুদূরের সাগর পানে
আমার আশার শষ্য টেনে
-
করলে কারে দান।
আমার-ঝরুল দুনয়ান।
স্বপ্ন মত নদীর তীরে
দাড়িয়ে দেখে ফি ঘরে
শূন্য করে প্রাণ!
হ’-আশার অবসান ।
.
৪৩

অঞ্জলি
কেন চাহি ?
শুধু—তােমারেই সদ। চাহি।
তােমারি কামনা,
তােমারি ভাবনা ;
অন্তরে জাগে
উজ্জ্বল রাগে
আর কিছু মনে নাহি।
শুধু-তােমারেই সদা চাহি।
যদি——স্মরণে তােমারে পাই।
পুলকে শিহরি,
উঠে হৃদিভরি’,
আমার চেতনা
শতেক বেদনা
নিঃশেষে হেরি নাই।
যদি স্মরণে তােমারে পাই ।
শুনে-তােমার চরণ ধ্বনি।
সুদূরের রবে,
বুঝি অনুভবে ;
নীরব ধরণী,
নিথর ধমনী,
অবাক হইয়া শুনি।
শুধু-তােমার চরণ ধ্বনি।
৪8

অঞ্জলি
আসি-আমার কুটীর দ্বারে
সুমধুর স্বরে
ডাক গো আমারে,
সরেনা বচন,
ভুলি আবাহন,
তাই বুঝি যাও ফিরে।
আসি-আমার কুটীর দ্বারে।
যদি দাও দরশন দীনে,
নিমেষের দেখা,
চোখে চোখে আঁকা,
সুষমা হেরিয়ে,
আপন হারায়ে,
কিছু ত আসে না মনে।
যদি-দাও দরশন দীনে।
তবু–কেন গাে তােমারে চাই ?
তােমারি দরশে,
তােমারি পরশে
হরষে হৃদয়
সব’ তব ময়
তােমারে ও ভুলে যাই।
তবু কেন গো তােমারে চা
৪৫

অঞ্জলি
রাম প্রসাদ
হে সাধক-কবি!
তরুণ তপন রাগে
উজল স্মরণ জাগে
উদিলে (দ্বি ) শতাব্দী আগে
বৈদ্যকুল রবি।
হে সাধক-কবি ।
হে পূজ্য-প্রধান।
যে কুমার হট্ট ভুমে,
জাহ্নবী-যমুনা চুমে,
পুত জাগ-যজ্ঞ ধূমে
ভক্তি কর দান।
হে পূজ্য-প্রধান।
হে কবিরঞ্জন।
কৈশােরে কবিত্ব-রাশি,
কে তােমারে দিল পশি’
যার ভাবে যায় ভাসি,
পাপী-তাপী জন।
হে কবিরঞ্জন

অঞ্জলি
ওহে প্রাণায়াম!
মুগ্ধ রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
বিশ্ব ঘােষে যশঃমন্দ্র,
লুপ্ত হ'ল তন্ত্র-মন্ত্র
কাব্যে যার নাম।
ওহে প্রাণারাম।
হে গায়ক-গুরু
ললিত মধুর তানে
স্বর্গের মূচ্ছনা এনে
ভাসালে ভক্তির বানে
সিক্ত করি’ মরু।
হে গায়ক-গুরু।
হে জগৎ-প্রাণ।
অমিয় মাথান গানে,
সমীর-শিহরি’ আনে,
যবন-সিরাজ-প্রাণে,
সুধা করে দান
হে জগৎ প্রাণ।
৪৭

অঞ্জলি
কবি
ধন্য তুমি কবি !
সুদূর অতীত কথা
অলক্ষ্য অচিন্ত্য-গাথা ।
শব্দ শুনি’ শূন্যাকাশে কান পাতি’ যাহা পাও।
বিম্বিত করি’ বাতাসে মনে গাথি’ ছায়া লও।
লেখনী তুলিকাধর ;
অক্ষরে অঙ্কিত কর
মূৰ্ত্তিমান ছবি।
ধন্য তুমি কবি ।
ধন্য তুমি কবি !
তােমার হৃদয় মাঝে,
কি জানি কি বীণা বাজে,
কে তুলে তন্ত্রীতে তান, কি সাধ সাধন তরে।
ললিত অধরে গান, ফুটায় কি নব সুরে।
জাগে দেশ, মাতে জন
আনে নব জাগরণ,
পূর্ণ হয় সবি’
ধন্য তুমি কবি ।
৪৮

০
ধন্য তুমি কবি !
পলকে প্রলয় ধরি’
পবনে বিজয় করি’
ছুটাও মনের গতি কখন শিখরী শিরে।
কল্পনাকে বুকে পাতি’ কখন সাগর তীরে।
স্বর্গের সুষমা আঁক,
প্রতিভায় ঢেকে রাখ,
কত শশী, রাব।
ধন্য তুমি কবি।
ধন্য তুমি কবি !
দুঃখে শান্তি কর দান,
মুগ্ধ কর ক্ষুব্ধ প্রাণ,
স্বপন আবেশে, ভরা কল্পনা মধুর তানে।
নিখিল আপন হারা ভেসে যায় ভাব টানে।
মনে জাগে ব্ৰহ্মা, ব্যাস,
বামিকী, কালিদাস,
নৈষধ ভারবি।
ধন্য তুমি কবি।
”
.

ব্ৰহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র
ঘােষিলে যে রব
ভারতেরে ভারত-সমরে
“হবে যবে ধৰ্ম্মগ্লানি ভারত মাঝারে
অধৰ্ম্মের অভ্যুত্থানে শৃঙ্খলা রহিত হবে সবে
সাধুদের পরিত্রানে, দুষ্কৃতি বিনাশে আবার আসিবে ভবে”
তব সে স্বরিত স্বর সত্যবাণী হেতু আবার আসিলে তুমি,
কুমারিকা হ'তে যবে হিমাচল পাদদেশ চুমি
অধৰ্ম্ম-তমসা-রাশি আবরিয়া আসে
যিশুভজা, শিশুধরা নাশে-
আৰ্য্য ধৰ্ম্ম সব
কেশব !
৫।

অঞ্জলি
কেশব!
সৃজি’ ধৰ্ম্ম নব
সনাতন ধর্ম রক্ষা করি
নবীন আলােক ধরি’ জগতে প্রচারি’
প্লাবিয়া ধৰ্ম্মের ধারা মুগ্ধ কর সারাটা ধরণী
সে “নব বিধানে” হ’ল বেদমন্ত্রে হােম গন্ধে পবিত্র অবনী
সে “সুলভ-সমাচারে” প্রতি ঘরে জাগাইলে ধর্মভাব রাশি
প্রকাশিলে রামকৃষ্ণে অবতাররূপে তুমি আসি’
শিশুকালে কৃষ্ণ নামে উচ্ছ্বসিত প্রাণ
হয়েছিলে বৈষ্ণব প্রধান
ত্যজিলে বৈভব
কেশব !

আপন হারা
?
শারদ-শশীর জ্যোৎস্না রাশির মধুর হাসির ঝরনা ঝরে।
সুনীল আকাশ স্নিগ্ধ বাতাস ফুলের সুবাস পাগল করে।
লতায় পাতায় তরুর তলায় বইছে ধরার কিরণ ধারা।
ফুটুল বকুল কুমূদ মুকুল চকোর আকুল ডাকিয়ে সারা।
ঝরিয়ে পরাগ ভাসিয়ে তড়াগ লুটিয়ে সােহাগ ছুটছে ভেসে।
আকুল বায়ে দুকুল ছেয়ে পড়ল শুয়ে মুচকে হেঁসে ।
বাশীর তানে বিভাের প্রাণে 'আকুল মনে নদীর কুলে।
যাচ্ছে ছুটে শ্যামলতটে পড়ছে লুটে আপন ভুলে।
তরুর মূলে ৷

আলি
তােমার সাথে
আমার হৃদয় ভরা আকুল ভাবনা ভারা,
লুটায়ে দিয়াছি সারা তােমারি পদে।
আমার বেদনা রাশি তােমার চেতনা আসি’
নিঃশেষে দেয় পশি তােমারি হাতে।
তােমার মূরতি আঁখি গােপনে হৃদয়ে রাখি
আমারেও দেয় ফাঁকি ছলনা করে ।
নিঠর বিধির বিধি টুটায় আশার নিধি।
ফুটায় সে নিরবধি নয়ন নীরে।
তােমার ভাবের ভরা আমারি বহান ধারা
আমারে ভাসায় ত্বরা জীবন নদে।
উছলিত ভাব বানে মধুর
মিলন আনে
মিশায় তােমার সনে আমারি সাথে ।

তুমি ও আমি
তুমি—এইত রয়েছ কাছে।
বল-তুমি বিনা আর ভুবনে আমার
কিবা অভিলাষ আছে।
তুমি—অন্তরে বিরাজিত,
তাই—তব প্রেরণায় ডাকিহে তােমায়:
গাহি তব নাম কত।
প্রভু তােমার করুণা ধারা,
লভিয়া হৃদয় সুশীতল হয়
হইগাে আপন হারা।
প্রভু-তােমারে ভুলিনু যবে,
তব-কোমল পরশে হৃদয়ের তার
বাজিল সঘন রবে।
আমি—চমকিত হয়ে উঠি।
তাই-ইন্দ্রিয় সাথে মিলি’ তবপদে
প্রবাহের মত ছুটী ।
প্রভু-সুন্দর তুমি অতি ।
তাই-তােমার প্রভায় আকুল হৃদয়,
কিবা মনােহর জ্যোতিঃ ॥

আমি—নিথর নয়নে চাহি।
জলে স্থলে ব্যোমে তুমি বিরাজিত
তুমি বিনা কিছু নাহি।
বিভু-তােমার রচিত বিশ্বে ।
হেরি—তােমারি বিকাশ তােমারি সুষমা
কতনা নিখিল দৃশ্যে।
আমি-বিভাের হইয়া রই।
হেরি—অন্তরে তুমি বাহিরেও তুমি
তুমি ছাড়া ধরা কই ।
আমি—স্বর্গ ছাড়ত নই।
আমারি আলয়ে স্বর্গের ছায়া
প্রকাশিত সদা ওই ।
প্রভু-স্বর্গ চাহিনা আমি।
মােরে—তােমার উজল মােহন মূরতি
দেখাও জগত স্বামী
তব-দরশন যদি পাই।
তবে—সকলি ত্যজিয়া তােমাতে মজিয়া
তব পদে মিশে যাই।
প্রভু-তুমিত গাে দয়াময়।
উপেক্ষিত আমি হবনাত কভু ?
রাখিবে ত তব পায় ?

ললি
সুশ্রত
নিখিল ভুবন আবৃত যখন নিবিড় মােহের তমসা স্পর্শে।
তখন উজল জ্ঞানের আলােক ছাইল সারাটা ভারতবর্ষে ।
তাহার মাঝারে “সুশ্রত দেব”! দানিলে বিশাল ভিষতন্ত্র।
প্রতিভা প্রকাশি’ অন্তেবাসিরে বিতর শতেক শল্য যন্ত্র।
তােমার মহিমা তােমার গরিমা গাহিল সকলে পূজিল মূর্তি।
জলধির তীরে শিখরীর শিরে ছুটিল অশেষ বিমল কীৰ্ত্তি ।
জনক তােমার তপ-তেজস্বী-তপােধন-মুণি বিশ্বামিত্র।
কৈশােরে তব জ্ঞানের আলােক উজলিল হৃদে সে শালিহােত্র।
জনক আদেশে জ্ঞানের প্রয়াসে বারানসী ধামে পূণ্যক্ষেত্রে।
বরিলে নৃমণি-দেব-দিবােদাসে আচাৰ্য পদে সুদেবপুত্রে।
তােমার মহিমা তােমার গরিমা গাহিল গরবে সারাটা দেশ
জলধির তীরে, শিখরীর শিরে ছুটিল বিমল কীৰ্ত্তি রেশ ।
বিতরিল গুরু শতেক শিষ্যে সমান বিদ্যা সমান জ্ঞান।
ছাপিয়া উঠিলে সবার মাঝারে গুণ গৌরবে লভিলে মান ৷৷
ব্রহ্মা গ্রথিত আয়ুর শাস্ত্র তােমার প্রভাবে সমুৎকর্ষ,
রচিলে স্বনামে “সুত” খানি শিষ্য সমাজে ফুটালে হর্ষ।

অঞ্জলি
তােমার মহিমা তােমার গরিমা গাহিল সকলে পূজিল মূৰ্ত্তি,
জলধির তীরে, শিখরীর শিরে ছুটিল অশেষ বিমল কীৰ্ত্তি ।
শবচ্ছেদি’ দিলে শরীরের জ্ঞান শিখালে শলাকা সেবনী শস্ত্র,
ছেদন-ভেদন-বেধন-সীবন-লেখনাচুষণ-এষণ-অস্ত্র।
তিব্বতে তব ঘােযিল কীৰ্ত্তি মিশরে উঠিল যশের মন্দ্র,
আরবে ছাপিল অতুল মহিমা তবানুসরণে রচিল তন্ত্র।
তােমার মহিমা তোমার গরিমা গাহিল গরবে সারাটা দেশ,
জলধির তীরে, শিখরীর শিরে ছুটিল বিমল কীৰ্ত্তি রেশ।
5
স,
‘৫৭

লি
অশ্বিণীকুমার
আদিম যুগের প্রাচীন গাথা বিঘঘাষিল বেদ সমস্বরে,
যাদের মহিমা যাদের গরিমা উথলি’ আজিও ভুবন ভরে।
ত্রিদিবে যাদের অতুল প্রভায়, ছাইল অপার যশের রাশি,
শান্ত করিল করুণা ধারায় মুগ্ধ এখনও জগতবাসী।
ধন্য ধরণী পুণ্য কাহিনী গাহিয়া আপনি আপন হারা,
অমর শ্রেষ্ঠ গুণ গরিষ্ঠ অশ্বিনী সুত সুষম। ভরা।
জনক যাঁদের কপ সুত বিলােক পুজ্য দেবতা সূৰ্য্য,
বিশ্বকৰ্মা-তনয়া সংজ্ঞা-জননী, জামাতা অমৃতাচার্য।
উত্তর কুরুবর্ষে উদিল যুগল কুমার মধুর দৃশ্য,
বিরাট তীর্থে পুণ্য আলােক উজলি’ ছাপিল সারাটি বিশ্ব ।
ধন্য ধরণী পুণ্য কাহিনী গাহিয়া আপনি আপন হারা,
অমর শ্রেষ্ঠ গুণ গরিষ্ঠ আশ্বনী সূত সুষমা ভরা।
দক্ষ-সকাশে শিক্ষা লভিলে শিষ্য হইল অমর ইন্দ্র,
অশেষ প্রতিভা প্রকাশি’ রচিলে স্বনামে অশ্বিনীকুমার তন্ত্র।
ভৈরব-ক্রোধ-ছিন্নশীর্ষ যুক্ত করিলে ব্রহ্মাদেবে,
যজ্ঞ অংশ লভিলে সমরে অক্ষত করি’ দেবত। সবে।
ধন্য ধরণী পুণ্য কাহিনী গাহিয়া আপনি আপন হারা,
অমর শ্রেষ্ঠ গুণ গরিষ্ঠ অশ্বিনী সূত সুষমা ভরা।
৫

ভুজস্তম্ভ ব্যাধি বিমুক্ত তােমারি প্রভাবে দেবতা ইন্দ্র,
ভগের নেত্র, তপনে দন্ত দানিলে ; যা মুক্ত চন্দ্র।
‘সুকন্যার’ ধৰ্ম্ম রাখিলে স্থবির চ্যবনে যৌবন দানি’,
ব্ৰহ্মবাদিণী ঘােষর কুষ্ঠ নিয়ােগি’ মুছালে কুমারী বাণী।
ধন্য ধরণী পুণ্য কাহিনী গাহিয়া আপনি আপন হারা,
অমর শ্রেষ্ঠ গুণ গরিষ্ঠ অশ্বিনীত সুষমা ভরা।
ইন্দ্র-ছেদিত-শীর্ষ যােজিলে দধীচি মুনির পুনৰ্ব্বার,
অরি কর হ’তে রাজা বিমদের পত্নী করিলে সমুদ্ধার।
তুপুত্র ভুজুর স্তবে বিশাল জলধি করিলে পার,
ঋজাশ্বেরে নয়নে পশিলে নাশিলে অসীম অন্ধকার।
ধন্য ধরণী পুণ্য কাহিনী গাহিয়া আপনি আপন হারা,
অমর শ্রেষ্ঠ গুণ গরিষ্ঠ অশ্বিনী সূত সুষমা ভরা।
খেল নৃপতির জায়া বিশবলা স্তুতিতে লভিল করুণা তব,
সমর ক্ষেত্রে ছিন্ন চরণে লৌহ জঘ ঘটিল নব ।
বিজ্ঞানালােক বিকাশি’ নবীন রাখিলে নিখিল বিমল কীর্তি,
অমর ইন্দ্র বন্দিল পদ নীবােগ মানব স্মরিয়া কীর্তি।
ধন্য ধরণী পুণ্য কাহিণী গাহিয়া আপনি আপন হারা,
অমর শ্রেষ্ঠ গুণ গরিষ্ঠ অশ্বিনী সূত সুষমা ভরা।
৫৯

অঞ্জলি
মহিমা
অপার মহিমা বিভাে! অতুল করুণ। তব,
অসীম সুষমা দিয়া সৃজিয়া দিয়াছ ভর।
যথায় যেটুকু সাজে সাজায়ে রেখেছ তুমি,
কি মধুর মনােহর স্বর সম ধরা ভূমি।
তােমার সৃজিত নদী বহে যায় অবিরল,
হ্রদ-নদ-সরােবর বারি ভরা সুশীতল।
সুশােভিত শৈল রাজি অভ্রভেদী উচ্চশির
ঘেরিয়া রেখেছে ধর পারাবার সুগভীর।
বিপিনে কাননে বনে সুললিত লতা তরু,
অনাদি অসীম শােভে সাহারার ধীর মরু।
উপবনে কুঞ্জে পাখী গাহে সুমধুর গান,
ভেসে আসে কুসুমের পরিমল অবিরাম।
সুনীল আকাশ চুমে সুনীল সাগর তল,
রবি-শশি-তারা-কেতু-উজলিছে অবিরল।
জগত নহেক স্থির “গচ্ছতি ইতি জগত”,
ভাঙ্গিয়া সাগর তীর হয় দ্বীপ শত শত।

অঞ্জলি
পলকে প্রলয় পায় ক্ষণেকে বিলয় সব,
হেরিয়া মহিমা তব মানব রহে নীরব।
ভাবুক ভাবেতে ভাের ভাবিয়া নাহিক পায়,
কবির কবিত্ব টুকু অতলে ডুবিয়া যায়।
সাধক সাধনে রত যযগী যোগে দিবানিশি,
যাজক যাগেতে থাকে আমি সুধু থাকি বসি।
আমিও তােমার প্রভাে! সৃজিত এ ধরা তলে,
তুমি মাতা তুমি পিতা ত্যজন অভাগা বলে।
৬১

বাশী
ঐ যমুনার (১) ওপার হতে বাজুল বাশী সই।
আর—কেমন করে রই।
চাদ উঠেছে, ফুল ফুটেছে,
ভােরের বেলা ঘুম টুটেছে ;
বাঁশীর তানে মন ছুটেছে ; আকুলপরাণ হই।
তাই-শতেক বাধা সই।
নদীর ঘাটে, জলের পাটে, পড়ল ছুটে ওই ।
বলে—কোথায় বাঁশী কই।
দখিণ (২) বায়ে, উজান ব’য়ে গা ভাসিয়ে চলল বেয়ে ,
ফরসা হ’ল ফুটল কমল ; বিমুখ তবু নই।
পাছু ছুটল যত সই (৩)।
।
(১) ঈড়া-ভগবতী গঙ্গা; পিঙ্গল--যমুনা নদী।
“ঈড়া পিঙ্গলয়ােমধ্যে সুষুম্নাচ সরস্বতী
(২) “ঈড়া নাড়ী স্থিতা বামে, পিঙ্গলা দক্ষিণে স্থিতা”।
(৩) ইন্দ্রিয় প্রবাহ(Sensary Current)
৬২

অঞ্জলি
যমুনার ঐ কুলুধ্বনি ছাপিয়ে বাণী বাজে,
ঐ কৃষ্ণ ঠাকুর রাজে ;-
শ্যামল জলে, কদম তলে, নীলকমলের ঘােড়শ দলে;
নবীন-নীরদ-নীলিম-তনু, সুনীল সলিল মাঝে।
ঐ ভুবন মােহন সাজে।
চরণ যুগল বদ্ধ মুখর, কনক-তুলা-কোটি
ঘেরা নীল বসনে কটি।
দুলছে শিরে নীল চিকুরে, সুনীলব ধীর সমীরে ;
নীল সাগরে ভাসছে নীলিম, কমল লােচন দুটী ;
তার চরণ তলে লুটি।
{\x
ট
G:

অঞ্জলি
.
•
,
আমার দেশ
ঐ গাে আমার দেশ,
ঐ চলে যায় উজল রবি,
আমার দেশ তুলতে ছবি,
ঐ যে সুনীল সাগর পারে
ঐ যেখানে শেষ।
ঐ গাে আমার দেশ।
আঁধার ঘেরা সীমার শেষে
আলােক ভরা দীপ্তি হাসে,
পুলক-ধারা যাচ্ছে ভেসে,
উজল মােহন বেশ।
ঐ গাে আমার দেশ ।
ঐনিত্য নবীন শােভায় ঘেরা,
হর্ষে গীতে গন্ধে ভরা,
ঐ শুনা যায় আসছে ভাসি
মধুর গীতের রেশ।
ঐ গাে আমার দেশ।
.
৪

অঞ্জলি
ঐথরে থরে আসছে শুনি,
বেণু-বীণা-বঁংশী-ধ্বনি,
সুললিত লহর-মালায়
আসছে ভাবাবেশ।
ঐ গাে আমার দেশ
ঐ-উল্লাসে আর মহােৎসবে,
মুখরিত
মধুর রবে,
কম্পনে কম্পনে ছুটে
বিশ্ব ব্যাপি রেশ।
ঐ গো আমার দেশ।
ঐ-সদাই ভাতে বিমল রাগে,
কতই কথা মনে জাগে,
ঐ সুদূরে পার কররে
সয়না দেরির লেশ।
ঐ গাে আমার দেশ।

অঞ্জলি
শাশ্বত
নিবিড় আঁধার-আবরিত ছিল
যখন নিখিল দৃশ্য।
ছিলনা আকাশ, ছিলনা বাতাস,
অনল-সলীল-বিশ্ব।
ছিলনা যখন জীব-জড় আর
সারাটী দিবস যামি।
ছিলনা তারকা চন্দ্র সূৰ্য্য,
ছিলে গাে তখন তুমি।
প্রভুত প্রতিভা অসীম মহিমা
অপার করুণা দানি।
পালিছ সতত তােমারি রচিত
অখিল অবনি খানি।
সৃজন-পালন-প্রলয় অবধি
নশ্বর কভু নহ।
শাশ্বত তুমি কাল মহাকাল
তােমারি আদেশ-বহ।
পরম-পুরুষ পরমেশ্বর !
তােমারি করুণা চাহি।
তােমারি মতন দীর্ঘ জীবন
দাও, তব গান গাহি ।

बनि
তােমার দুয়ারে
আজি—সারাটী পথ এলেম ঘুরে তােমার দুয়ারে।
আমি—পথের ধুলায় মলিন, ঘরে যাই বা কি করে
বাহিরিয়া তােমার কাজে
ভুলে গেলাম পথের মাঝে
তােমার আদেশ, হারিয়ে লাজে
এলেম্ গাে ফিরে।
আজি—সারাটা পথ এলে ঘুরে তােমার দুয়ারে।
ঘুরে মলে মিছে কাজে,
কত ব্যথাই বুকে বাজে,
তােমার বাণী শুনব বলে
ডাকছি কাতরে।
তুমি—আমার ব’লে লও গাে তুলে
করুণা করে।
আজি—সারাটী পথ এলেম্ ঘুরে তােমার দুয়ারে।
৬৭

অঞ্জলি
আপন আবাসে
শেষ করেছি বিদেশ-বাস, শেষ হয়েছে কাজ।
অনেক দিনের পর চলেছি আপন-বাসে আজ।
সাটী দুয়ার ঘেরা সে দেশ, অনেক দূরের পথ।
দেশের দ্বারে সন্ধ্যা এল, অতীত হল রাত।
প্রবাস হ'তে প্রয়াণ পথে, দেশের প্রান্ত দ্বারে।
সােচ্চ-শীর্ষ তােরণ-দ্বারে, ত্রিকূট-শিখর’ পরে ।
গম্ভীরে ঐ ডঙ্কা বাজে, অনাহত ধ্বনি।
শব্দ সাথে উদঘটিল, দেশের দুয়ার খানি ।
আঁধার গেল আলােক এল, নবীন-প্রভাত-বেলা
সুপ্তি হ'তে মুক্তি লভি’ চমকে হেরি আলা।
ডঙ্কা-রবে মুক্ত হ’লআমার দেশের দ্বার।
চল গাে পথিক। আপন-বাসে, সয়না দেরি আর
সুদূর হ’তে মধুর সুরে ডঙ্কা-ধ্বনি অসে।
নিখিল ভরে উদার স্বরে, অনন্তে রেশ মিশে।
শব্দ শুনি’ স্তব্ধ হয়ে নীরব নিথর রই।
পলকে প্রাণ পুলক ভরা আপন হারা হই ।

অঞ্জলি
সুরের সাথে উথলে উঠে, সাধের সাগর খানি ।
কতই দিনের সঞ্চিত সে, বাঞ্ছিত সে ধ্বনি।
অতুল-আশায় আকুল হয়ে, দুকুল ছেয়ে তাই।
উচ্ছ্বসিত সাগর মত, উধাও হয়ে ধাই ।
কতই
মধুর আপন আবাস কতই
মধুর দেশ।
সদাই সেথা মহােৎসবে নাইক দুখের লেশ।
স্মরণ করি’ যে সব কথা, স্বপ্ন মনে হয়।
ছুটেছি তাই অধীর হয়ে, আর না দেরি সয়।
ঐ বাজিল ডঙ্কা আবার, স্বরের টানে প্রাণ।
কে জানে কে টানছে যেন, ছুটছে অবিরাম।
অবশ হ’ল অঙ্গ শেষে, শিথিল অবয়ব।
চল গাে সাথি । লক্ষ্য করি, ঐ ডঙ্কা-রব।
3
৬৯

অঞ্জলি
তুমি
ওগাে-স্পর্শে কাহার, হর্ষে আমার
শিহরি উঠিল প্রাণ ।
দরশে তােমার চিনেছি এবার
বাঞ্ছিত ভগবান!
নিখিল বিশ্বে নিমেষেও তব
নাহি পাই দরশন।
আমি—অধীর হইনু, তবুও ভাবি,
লভিব হে শ্রীচরণ।
তুমি—অন্তরে আছ অন্তরতম !
অন্তর আকুলতা
নেহারি তােমার হৃদয় সাগরে
থলিল বুঝি ব্যথা?
করুণা ধারা সিঞ্চিত করি’
নিৰ্মল কর হৃদি।
কত-উজ্জল তব আলােক মালায়
আবরিলে নিরবধি।
৭০

पनि
তব-কোমল কর স্পর্শনে জাগে
কম্পন সুখময়।
মধুময় তব দর্শনে, পদে
মজ্জিত হৃদি রয়।।
সুন্দর তুমি, নির্মল তুমি,
উজ্জ্বল তুমি হে।
ভাসে—তােমার রচিত নিখিল দৃশ্য
উজ্জল প্রবাহে।
ঐ—রবি শশী তারা, তােমার প্রভায়
সুন্দর কত তারা।
সুধাংশু হেরিয়া উথলে সিন্ধু,
রবি হেরি’ হাসে ধরা।।
তােমার দরশে তােমার পরশে
পুলকে হরষে তাই
মম-আকুল হৃদয় সবি তােমাময়
তােমা ছাড়া কিছু নাই।

তােমাতে
আমি—দূরে চলে যেতে চাই,
তুমি—কাছে নিতে চাও টেনে।
আমি—তােমারে ভুলিয়া যাই,
তুমি—আবরিয়া থাক প্রাণে।
তুমি-তব ভালবাসা দিয়া
মােরে-শিখাও গাে ভালবাসিতে।
তুমি—জ্ঞান-কণা প্ৰদানিয়া
মােরেজানাও তােমারে জানিতে।
মম-হৃদয়-দুয়ারে আসি’
তবসুকোমল কর পরশে।
কর-মৃদুঘাত দিবা নিশি
আমি-মুক্ত করি না তরাসে ।
তুমি—নিৰ্ম্মল অনাবিল,
মম-হৃদি মলিনতাময়।
ওগাে—কেমনে আসিবে বল
তাই মনে জাগে কত ভয়।
৭২

অঞ্জলি
তুমি-অনন্ত অপার মহান
কিবা—সুবিশাল ব্যাপকতা।
মম-ক্ষুদ্র এ হৃদি খান
তুমি-কেমনে রহিবে হেথা ।
ওগাে—এইত এসেছ হৃদে
কত-উজ্জ্বল রূপরাশি।
যেন-প্রভাত তপন ভাতে
হৃদে-ঘন কুহেলিকা নাশি।
এই-ক্ষুদ্র হৃদয় মাঝে
যেন-বীজে মহীরুহ মত।
তব-মােহন মূরতি রাজে
হেরি-নিথর নয়নে কত ।
ওগাে-পুনঃ কোথা চলে যাও
মনে-বাসনা-দানবী জাগে।
তুমি কঠোর ত কভু নও
এস-হৃদয়ে নবীন রাগে ।
চাহি’-তােমারে ত পাই নাই
আমি চেয়েছি তােমারে লভি
তবেচাহিয়া কেন না পাই
একি—প্রহেলিকা হেরি সবি ?

অঞ্জলি
।
আবার-অন্তরে বাহিরে গাে,
হেরি-বিশাল বিশ্বোপরে।
তুমি—নব নব ভাবে জাগাে
আমি—নিরখি নয়ন ভরে।
তব—প্রেমের পাথারে ভাসি
উচ্ছসিত করুণা নীরে।
আসে—উজান তুফান রাশি
ডবি’—অতলে তলাই ধীরে।
৭৪

অঞ্জলি
আমার সাধন মন্দিরে
নিথর নিশার নিবিড় আঁধার দিয়া
ঐ সুন্দর কে মন্দিরে মাের আসে,
(ও সে) কিসের আশে, কিসের আশে, কিসের আশে ?
দুয়ার গেল আপনি উমােচিয়া
অন্তরে ধীর আলােকমালা ভাসে।
(কত) উজল ভাসে, উজল ভাসে, উজল ভাসে।
মধুর স্বরে মুরলী স্ব উঠে
নিমেষ মাঝে নিখিল জুরে বসে,-
(ওরে) কাহার বশে, কাহার বশে, কাহার বশে ?
বিশ্ব আজি ব্যাকুল হয়ে ছুটে
বদ্ধ হয়ে মধুর সুরের পাশে।
(সবে) তাহার পাশে, তাহার পাশে; তঁাহার পাশে।

অঞ্জলি
অসীমে
অণু চাহে অসীমে মিশিতে ।।
আকাশে বাতাসে ছুটে, বাঁধন শতধা টুটে
বিরাট আঁধার ঘেরা প্রলয় নিশিতে।
অণু চাহে অসীমে মিশিতে ।
অণু চলে অসীমের পানে।
অনন্ত অচল মত, অসীম ও অবিরত
সুদূরে সরিয়া যায়
ক্ষীণালােক দানে।
অণু চলে অসীমের পানে।
অণু যায় অসীমে মিশিয়া।
কোন কাজে কার বশে, কোথা গিয়া কি সে মিশে
নিঃশেষে আপন হারা অসীমে পশিয়া ।
অণু যায় অসীমে মিশিয়া ।
অণু কোন অসীম মাঝারে ।
কোন অনন্তের পানে, অবহিত কার ধ্যানে
উদার আকাশে কিম্বা অতল সাগরে।
অনু কোন অসীম মাঝারে ।
৭)

অঞ্জলি
অকূলে ভরাতরী
প্রলয়-ঘন-আঁধার রাতে
ওলট পালটু ঝাতে
টুটুল বাঁধন তীক্ষ্ণস্রোতে
ছুটল তরি খানি
ভেসে কোন সাগরের পানে।
তুফান ভরা নদীর বুকে
দুকুল বেয়ে অকূল দিকে
কোন অজানা দেশের মুখে
ফেললে তরি আনি’
ও কি ? শব্দ কিসের আনে।।
ঐ অদূরে মহান প্রপাত
উঠে বিশাল সাগর-নিনাদ
নদীর বাঁকে শেওলার বাঁধ
বাঁধ ল সে তরণী
আপেক-পথের মাঝখানে
বিমল প্রভাত আর ভাতে না,
উজল আলােক আর দিলে না,
তেমন করে আর চলে না
বােঝাই তরি খানি
এমন—থাকবে কতই দিনে।

অঞ্জলি
।
নিত্য
আমি—চাহিনা হইতে অপার মহান
বিশাল ব্যাপক উচ্চ।
করে দাও মােরে বালুকা সমান
পরমাণু মত তুচ্ছ।
বিশাল জলধি বিরাট পাহাড়
মহামহীরুহ বৃন্দ।
কেহই নহেক নিত্য তাহার
লয় হবে নাহি সন্দ।
পৃথিবীতে থাকি নহ পৃথিবীর
তুমি সনাতন সত্য।
সূক্ষ্ম হইয়া ক্ষিতি জলাদির
পরমাণু শুধু নিত্য।
অহমিকা ভরা এই অবয়ব
নিঃশেষে করে চূর্ণ।
সূক্ষ্ম হইয়া নিত্য হইব
নিতে মিশিব তূর্ণ।
৭
৭

প্লাবন
+-
সুপ্ত তখন্ গ্রামটী নিঝুম্ ভোরের বেলা।
বন্যা আসি’ ভাসিয়ে দিলে, নাইক আলা ।
দিতে আর অরুণ আভাস,
হতে গাে কমল বিকাশ,
জাগল নাক সুপ্ত আবাস,
উঠ’ল নাক মধুর তানে পাখির মেলা।
সুপ্ত ছিল গ্রামটা তখন ভােরের বেলা।
শুক্ তারাটী দীপ্ত উদার আকাশ গায়ে।
আঁধার ভরা বিশ্বপানে রইল চেয়ে।
নীরব নিথর দৃশ্য খানি,
নাই কলরব নাইক বাণী,
নাই জাগরণ, সুপ্ত প্রাণী,
কোথায় হ’তে বিশাল বন্যা ফেলে ছেয়ে।
শুক্ তারাটী দীপ্ত তখন আকাশ গায়ে।
৭৯

অঞ্জলি
প্লাবন ব’য়ে উঠল ধেয়ে মৃত্যু লীলা।
প্রলয় কালে ছাইল যেন মেঘের মালা ।
কোলাহলে ফাটল আকাশ,
বইল বেগে বিষম বাতাস,
কিসের প্লাবন? কিসের প্রকাশ ?
কোথায় নিয়ে মিশল কিসে? কাহার খেলা?
লুপ্ত হ’ল গ্ৰাষ্টী নিঝুম ভােরের বেলা।

অঞ্জলি
বদ্ধ-জীব
( তুই) বলগাে মধুকর ।
ওগাে-ও বন-ভ্রমর !
কোন কাননে কোথায় ছিলি কোন ফুলেরি মাঝে
বদ্ধ হ’লি পদ্ম-মাঝে আঁধার ভরা সঁজে।
কিসের আশায় এসেছিলি কিসে করি ভর।
( তুই.) বলগাে মধুকর! '
ওগো-ও বন-ভ্রমর !
( তুই) বনের অলি বনে ছিলি বনের কুসুম পিয়ে ।
(আজ) ছুটে আসি’ লুটে পড়িস কাহার আভাস পেয়ে ?
যাহার তরে এসেছিলি কিসে প্রিয়তর ?
( তুই) বলরূগাে মধুকর !
ওগো-ও বন-ভ্রমর !
৮১

অঞ্জলি
বদ্ধ যদি হলি, কোরক কাটলি না কেন?
সারাটী রাত জেগে বসে কলি কাহার ধ্যান ?
উৎকণ্ঠায় প্রভাত আশায় ? একি দুঃখ কর ।
( তুই) বলগাে মধুকর !
'ওগাে-ও বন-মর!
তামরসের আশায় কোরক কাট লিনাক বুঝি ?
যা চেয়েছি তা পেলি কি ? কলি কিছু পুজি ?
( না) যা ছিল তাের দিয়ে গেলি শুধু পােেপর।
( তুই) বল্গগা মধুকর !
ওগাে-ও বন-ভ্রমর!
৮২

অঞ্জলি
প্রত্যর্পণ
তােমার দেওয়া মতি তুমি লও গাে ফিরায়ে।
অমূল্য যে রত্নভার
যত্ন নাহি জানি তার
মাত্র শুধু অহঙ্কার
দেয় গো বাড়ায়ে।
তােমার দেওয়া মতি তুমি লও গাে ফিরায়ে।
অহমিকায় অভিমান
অভিমানের বিষম টান
শিশু আমি সরল প্রাণ
ফেলি গাে হারায়ে।
তােমার দেওয়া মতি তুমি লও গাে ফিরায়ে ।
চাই না কিছু অন্য আর
তােমার হাতেই আমার ভার
আবার কোমলতার ধার
দাও গাে ভরায়ে।
তোমার দেওয়া মতি তুমি লও গো ফিরায়ে ।
অলক্ষিতে আছ সাথে
চালাও আমায় তােমার পথে
তােমার আভা সদাই ভাতে
আমার হৃদয়ে।
তােমার দেওয়া মতি তুমি লও গাে ফিরায়ে ।

অঞ্জলি
অবসান
থেমে গেছে আজ ভাষণ সমর, নেমেগেছে আজ সমর সাজ।
ঘুচে গেছে খর-শোণিত প্রবাহ ; মুছিছে শান্তি সলিলে আজ।
ঝাপটে দাপটে মথিত মেদিনী গর্বে দম্ভে দলিত বিশ্ব।
দীপ্ত মহান রণ-দাবানল দগ্ধ তপ্ত নিখিল দৃশ্য।
শান্তি সলিল সিঞ্চনে বিভু শান্ত করহে সারাটা দেশ।
সিক্ত করহে শুষ্ক হৃদয়, পূর্ণ করহে শূন্য লেশ।
আপন বাসনা সাধন করিতে যুগে যুগে হও মর্তে তীর্ণ ।
মুগ্ধ মানবে মােহ অপসারি’ পুণ্য ভারায় করহে পূর্ণ।
উচ্ছল ক্ষত্রিয় কুলে কুরুক্ষেত্রে করিয়া ধ্বংস।
সৃজিলে নবীন ধৰ্ম্ম রাজ্য পুণ্য করিলে পুণ্য বংশ ।
শান্তি-সলিল-সিঞ্চনে বিভু ! শান্ত করহে সারটা দেশ।
সিক্ত করহে শুষ্ক হৃদয়, পূর্ণ করহে শূন্য লেশ।
ফরাসী রাজ্য বর্ধিত করি’ দিলে স্বাতন্ত্র, সাম্য মৈত্রী।
স্বাধীনতা স্বাদ কতনা মধুর দানিয়া দেখালে, জানে ধরিত্রী।
উন্মেষে উঠে উর্ধ শীর্ষ বিজয়-গরিমা ভরা নিশান।
মাতায়ে তুলিলে কৰ্ম্ম-জগতে কাপায়ে গভীর বিজয় তান।
৮৪

অঞ্জলি
শান্তি-সলিল-সিঞ্চনে বিভু! শান্ত করহে সারাটা দেশ।
সিক্ত করহে শুষ্ক হৃদয়, পূর্ণ করহে শূন্য লেশ।
গৰ্ব খর্ব করি বাবিলনে য়িহুদী জাতির দাসের ভার—
মুক্ত করিয়া ব্যক্ত করিলে “কেহ কার দাস রবেনা আর
ভাবিবাণীমত ঈশার অননে ফুটালে ত তাই “হে বাবিলন
খসিবে মুকুট পড়িবে নিশীন, অচিরেই তাের হইবে নিধন” ।
শান্তি সলিল সিঞ্চনে বিভু! শান্ত করহে সারাটা দেশ।
সিক্ত করহে শুষ্ক হৃদয়, পূর্ণ করহে শূন্য লেশ।
পারসিক কবি ঘােসিল সত্য “জব, জমি, জেনা এ তিন
সারা দুনিয়ার খুনের কারণ” আনিছে আপদ দিনের দিন ।
ভূমির জন্য ভারত যুদ্ধ, জাপানে লুটাল জারের মান।
নারী-তরে নাশে কীচক, রাবণ, অর্থে মীর্জাফরের প্রাণ।
শান্তি-সলিল-সিঞ্চনে বিভু! শান্ত করহে সারাটা দেশ।
সিক্ত করহে শুষ্ক হৃদয়, পূর্ণ করহে শূন্য লেশ।
মহান্ সমরে জাগিল বিশ্ব, নবীন আলােক ভাতিল দীপ্ত ।
পারজি’ কায়জারে বুঝালে নরেরে শক্তির মােহ নহেক শক্ত।
স্বাধীন করিলে স্বাধীন মানবে সাধিলে অপার শাস্তি দান।
উৎসবে আর উল্লাসে মহী মােহিত করিলে হে ভগবান!
শান্তি-সলিলসিঞ্চনে বিভু! শান্ত করহে সারাটা দেশ।
সিক্ত করহে শুষ্ক হৃদয়, পূর্ণ করহে শূন্য লেশ ।
৫

অঞ্জলি
ধন্বন্তরি
পীযূষ-পয়ােধি মন্দর দিয়া মন্থনি’ সুর-অসুর বৃন্দ।
তুলিল তােমারে দানিলে সবারে, অতুল-অমল-অমৃত স্যন্দ।
দুর্বাসা-শাপ মুক্ত হইল, তবক রুণায় দেবতা ইন্দ্র।
অমর হইল অখিল অমর, দীপ্ত তপন-তারকা-চন্দ্র।
নিখিল ছাপিয়া উঠে যশাে গান, অসীম মহিমা অশেষ কীৰ্ত্তি ।
দেবতা-দানব-অসুর-মানব আজিও পূজিছে তােমারি মূর্তি।
বিষ্ণু-অংশে সস্তৃত হয়ে লভিলে যজ্ঞ হােমের আজ্য।
প্রবল প্রতিভা প্ৰদানি’ প্রভায় বিজয় করিলে বাসুকি-রাজ্য।
আদিম-বৈদ্য-শঙ্কর দেবে লভি' আচাৰ্য্য মহিমাময়ে।
মন্ত্রমুগ্ধ বিশ্ব-জগৎ মুখরিত বেদ-পুরাণ চয়ে।
নিখিল ছাপিয়া উঠে যশােগান, অসীম মহিমা অশেষ কীর্তি।
দেবতা-দানব-অসুর- মানব আজিও পূজিছে তােমারি মূর্তি।
আয়ুৰ্ব্বেদের ভাতিল গরিমা, চতুর্বেদের তুলিলে তান।
অগ্নিহােত্রী হইয়া মর্তে আর্ন্তজনেরে করিলে ত্রাণ ।
দিব্য আলােক দিলে নবযুগে দানি’ অনন্ত শল্য-যন্ত্র।
গৌরব ভরা ব্রহ্মা-গ্রথিত লক্ষ শ্লোকের বৈদ্য-তন্ত্র।
নিখিল ছাপিয়া উঠে যশশগান অসীম মহিমা অশেষ কীর্তি।
দেবতা-দানব-অসুর-মানব আজিও পূজিছে তােমারি মূর্তি।
.

অঞ্জলি
জন্মিলে পুনঃ জাহ্নবীর কূলে বারাণসীধামে পুণ্যতীর্থে।
বৈদ্য দীর্ঘতপার পুত্র-“দিবােদাস” নামে ঘােযিল মর্তে।
ভরদ্বাজের শিষ্য হইয়া মুনি মহর্ষি করিলে শিষ্য।
বৈদ্য-তন্ত্র অষ্টঅংশে রচিয়া ব্যাপিলে অখিল বিশ্ব।
নিখিল ছাপিয়া উঠে যশােগান অসীম মহিমা অশেষ কীর্তি।
দেবতা-দানব-অসুর-মানব জিও পূজিছে তােমারি মূর্তি।
অধুনা তােমার প্রতিভােজ্জল কীর্তি-পুঞ্জ অতীব ম্লান।
লুপ্ত হয়েছে শস্ত্র-বিদ্যা গুপ্ত শারীর-তন্ত্র জ্ঞান।
তােমার গােত্রে সঞ্জাত মােরা রহেছি জুড়িয়া ভারত-মঞ্চ।
মুক্ত করিব মহিমা তােমার উজ্বল করি’ কীৰ্ত্তি পুঞ্জ |
বরিষ আশিষ তুলি যশােগান অসীম মহিমা অশেষ কীর্তি।
দেবতা-দানব-অসুর-মানব আজিও পূজিছে তােমারি মূর্তি।
54

অঞ্জলি
মৃত্যু-মিলন
ঐ সে চঁাদের দেশে,
সেথ। --সুনীল-উদার আকাশ ভরা
বিশ্ব-জগৎ পাগলকরা-
শুভ্র-চাদের শান্ত-কিরণ
স্নিগ্ধ-ধারায় ভাসে।
ঐ সে চাদের দেশে।
সেথা—উথলে উঠে সুধার সাগর,
প্লাবন ব’য়ে বইছে লহর,
উঠল ফুটে আমার প্রিয়,
ঐ যে চাদের পাশে
ঐ সে চাদের দেশে।
ওগাে-কে কহিল মৃত্যু-বিনাশ,
ত্যাগ করেছে আমার আবাস,
ত্যাগ করেনি বিশ্ব তবু,
তারার মালায় হাসে
ঐ সে চঁাদের দেশে।
আমি—সারাটা রাত বসে একা,
আকাশ পানে পাইগাে দেখা,
ফুটল ধীরে, ডুবুল আবার,
আবার ফিরে আসে।
ঐ সে চঁাদের দেশে।
৮৮

অঞ্জলি
ঐ-খ’সে আসে একটী তারা
কাহার কুটীর উজল করা
সময় শেষে, ফিল বাসে,
কাহায় ভাল বেশে ?
ঐ সে চাদের দেশে।
সেথা নাইক ব্যথা, নাই বেদনা,
নাইক ব্যাধি, নাই যাতনা,
তাই বুঝি সে মােদের ত্যজি’
সে দেশ ভালবাসে।
ঐ সে চঁাদের দেশে ।
আমি-কই নীরবে কতই কথা,
বুকে চেপে বুকের ব্যথা,
এতেই সুখ, কতই সুখী
কাজ কি আমার আশে ?
ঐ সে চঁাদের দেশে।
তব-মধুরবাণী হে ভগবান!
নাইক নরের বিনাশ বিধান,
সে আছে তাই ফুল্ল আছি
রাখ তায় উল্লাসে।
ঐ সে চঁাদের দেশে।

অঞ্জলি
শান্তি
ঘুচাও ভ্রান্তি
r
মােরা—চাহি হে শান্তি
জয় পরাজয় কামনা।
কে বিজয়ী ভবে
কে কারে জিনিবে
কে জিত কে জয়ী বলনা।
কে নাশে কাহারে
কেহ নাহি মরে
এ বাণী হরির ঘােষণা।
আজি যাহা রবে
কাল না রহিবে
জগতের এই চালনা।
সে বৈদিক যুগে
হােমে-যােগে-যাগে
কামনা করিত ঋষিরা ।
বিনাশি অরাতি দাও হে মুকতি
হে বাসব ! যাচি আমরা।
ভ্রান্তির আবেশে
যাচিত এদেশে
বিফল এমন যাচনা।
দেবতা মহান
সকলে সমান
তাঁহার সমীপে জান না ?

নিখিল পুরাণে
তদনুসরণে
“দ্বিষেজহি” রবে যাচিছে।
কে কারে জিনিবে
দেবতা আহবে
অসুরে বিজিত হয়েছে।
কালের ধর্ম
কালের কর্ম,
সাধিবে জগতে নিয়ত।
হিংসা ঘুচাবে
শান্তি দানিবে
আবার বহবে শােণিত।
এখন মানবে
যাচিছে নীরবে
বিচার-আলয়ে যাইতে।
জয় দাও মােরে
যােড়শােপচারে
দানিব দেবতা ! পূজাতে।
কে শুনে সে কথা
কে বুঝে সে ব্যথা
দেবতার কে বা অরাতি।
চাহি নাক জয়
নাহি পরাজয়
দাও দেব ! শুধু শান্তি।

অঞ্জলি
মান-ভঞ্জন
সুন্দর শ্যাম সুন্দর ধাম সুন্দর-ধরা-সার।
সারা নীলিমায় সুন্দরতম সারভূত যমুনার ॥
কনক-লতিকা রাধিকা নিরখি’ শ্যামসুন্দর পানে।
আকুল-নয়নে আশা নাই মানে উথলে রূপের বানে।
অনিমিষ আঁখি অলস আবেশে আবেগে আপন হারা।
তটিনী মিলিল সাগরের সনে নয়নে নয়ন-ধারা।
সরেনাক কভু সারাটা অঙ্গে রাধিকা-নয়ন দুটী ।
আধেক অঙ্গ হেরিয়া বিভােরা মনসাধ যায় টুটী।
খঞ্জন আঁখি বদ্ধ শ্যামের সুন্দর কেশপাশে।
শক্ত নহেক মুক্ত করিতে নিবিড় জড়ায়ে আসে।
মুখ-পাণি-পাদপদ্মে যখন রাধার পদ্ম আঁখি।
মিশে ধীরে ধীরে কভু নাহি সরে আপন স্বজাতি দেখি।
তিলেক অঙ্গে কতনা সুষমা, নিখিল দরশ আশে ।
আশাটী আবরি’ চাতুরী পাশরি’ চতুরা মানেতে বসে।
বক্ষে দুলিল উজ্জ্বল প্রভ কৌস্তুভ-মণি-হার।
আন মনে মানি’ শ্যামসুন্দর বসিল পদে রাধার।

অঞ্জলি
বিম্বিত হ’ল কৌস্তুভ মাঝে শ্যামের নিখিল অঙ্গ।
সারাটা সুষমা হেরিয়া মুগ্ধ। মানিনী মােচিল
অবনত শিরে কৌস্তুভ পরে নয়ন না ফিরে আর ।
শূন্য তখন বাহ্য জগৎ বহে শুধু রূপ-ধার।
নীলিমা নিলীন সুনীলিম নীরে সুনীল গগন তলে
সুনীলিমাময় যমুনায় বয় সুনীল শ্যামের তলে।

গুলি
বিজয়
(আমার) শত্রু-নিচয় বিজয় হল সে এক গভীর রাতে।
তখন স্তমিত সূর্য-শশী,
নিষ্প্রভ নক্ষত্র রাশি,
বিশ্ব অসীম আঁধার ঘেরা নিবিড়-নিকষ ভাতে ।
(আমার) শত্রু-নিচয় বিজয় হল সে এক গভীর রাতে।
গম্ভীর হুঙ্কারে ভরা,
শুক্র সকল ধ্বংস করা,
শব্দ ভেদি’ ফাটল আকাশ প্রলয় ঝক্কাবাতে।
(আমার) শত্রু-নিচয় বিজয় হল সে এক গভীর রাতে ।
বিভীষিকায় তপ্ত শ্বসি
দম্ভভরা রিপুর রাশি
চতুর্দিকে অট্ট হাসে ভীষণ চীৎকারেতে।
(আমার) শত্রু-নিচয় বিজয় হল সে এক গভীর রাতে
শত্রু নাশে লণ্ডভণ্ড
সমুল্লাসে এ ব্ৰহ্মাণ্ড
ছাইল আবার নূতন আলােক নবীন সুপ্রভাতে।
(আমার) শত্রু-নিচয় বিজয় হল সে এক গভীর রাতে।
৯৪

অঞ্জলি
বর্ষ বরণ
এস গো নবীন বর্ষ ।
উৎসবে আজি
উল্লাসে নাচি,
উথলে ভারতবর্ষ ।
মােদের মােহনপুরে।
মঙ্গল-গানে
শঙ্খের স্বনে
হর্ষ উঠিছে ভরে।
মঙ্গল ঘট দ্বারে।
পুস্পের ভার
পুষ্পের হার
শােভিছে সৌধশিরে ।
নবীন প্রয়াসী মােরা।
নবীনের তরে
উৎসাহ ভরে
যাপিছি জীবন সারা।
আসিতে আদিম কালে।
বর্ষ বরণে
অগ্রহায়ণে
(তাই) অগ্রহায়ণ বলে।
নব অভিলাষী তাই।
প্রাচীন ত্যজিয়া
মাধবে মজিয়া
পুরাতন রাখি নাই ।

অঞ্জলি
নিখিল জগতে (হেরি।
শত সমাগম
বর প্রথম
তাই তারে পরিহরি।
নূতন, মধুর তাই ।
প্রাচীন ত্যজিতে
নূতনে
বরিতে
তৃষিত নয়নে চাই ।
এসেছ করুণা করে।
মঙ্গল কর
সান্ত্বনা কর
সুখ দাও থরে থরে ।
অতীতের গাথা মাঝে।
অতীতের কথা
অতীতের ব্যথা
সঘনে মরমে বাজে।
অপসারি তাপ-রাশি।
অতীতের স্মৃতি অতীতের বিধি
ডুবাও অতীতে পশি’ ।
হারা’য়ে ফেলিছি কত।
উজ্বলতম
ভারত-রতন
মিশেছে অতীত মত ।
তাদের কেমনে ভুলি।
সায়ে মায়েরে কঁদায়ে মায়েরে ।
যাহারা গিয়াছে চলি।
১৬

অঞ্জলি
শােকের মাঝারে হর্ষ।
দেছে প্রাণ রণে
যাদের বিহনে
বীরভূ ভারতবর্ষ ।
স্বাগত নবীন বর্ষ।
বিতর শান্তি
ফুটাও নবীন হর্ষ।
সাদরে ল’য়েছি ব’রে ।
যা আছে তােমার শুভ-সুখ-ভার
দাও হে মােদের শিরে ।
ঘুচাও ক্লান্তি
১৭
৭

অঞ্জলি
পতন
সৃষ্টি আদিতে সৃষ্ট যাহারা স্রষ্টা যাদের আদিম ধাম ।
সত্যে যাদের স্বর্গ রাজ্যে, মূরজ মন্দ্রে ঘােষিল নাম ।
মুখরিত করি’ ঋকের মন্ত্র, সামের ছন্দ, যজুর বাগ।
আয়ুৰ্ব্বেদের মহিমা বিতরি, ছাপিল বিশ্বে নবীন রাগ।
দেবতা বংশাবতংস সেই, বৈদ্যজাতির পতন আজ।
কেন গাে তাদের লুপ্ত গরিমা কেন গাে আবরি’ আননে লাজ।
জগতের হিতে হিমগিরি-তটে মিলিল যে জাতি লক্ষ লক্ষ।
দানিল শান্তি, ছাইল সারাটা ভারত মাতার বিপুল বক্ষ।
দেবরাজ সনে আসীন আসনে রত সুধাপানে দেবতাদ ।
ব্যাধি-বিমুক্ত তামর বৃন্দ যাহার করুণ লভি অজস্র।
বৈদ্য-বংশাবতংস সেই, বৈদ্য জাতির পতন আজ।
কেন গো তাদের লুপ্ত গরিমা কেন গো আবরি’ আননে লাজ ।
অমৃতাচাৰ্য্য অমৃত দানিল স্পর্শে পুণ্য সিন্ধুদেশ।
আজিও যাহার নাম কীৰ্ত্তনে মুক্ত মানব ব্যাধির লেশ।
অত্রি যাদের কীৰ্ত্তি ছাইল গৌরব গাথা বিশ্বময় ।
অতুল প্রতিভা দানি’ সুশ্রুত রচিল শল্য-শাস্ত্র-চয়।
Sby

অঞ্জলি
দেবতা-বংশাবতংস সেই, বৈদ্য জাতির পতন আজ।
কেন গো তাদের লুপ্ত গরিমা কেন গাে আবরি’ আননে লাজ ।।
শব্দ শাস্ত্র দিল বােপদেব শ্রীপতি-জুমর-পদ্মনাভ।
বিষ্ণুগুপ্ত-কৃপায় ভারত অর্থ-শাস্ত্র করিল লাভ ।
কাব্য জগতে নূতন আলােক আনে কালিদাস-ভরত-ভাস।
মধুর ছন্দ গাঁথিল গাথায় পিঙ্গলনাগ-গঙ্গাদাস ।
দেবতা-বংশাবতংস সেই, বৈদ্য জাতির পতন আজ ।
কেন গাে তাদের লুপ্ত গরিম কেন গো আবরি’ আননে লাজ।।
পুণ্যতীর্থে পুণ্য প্রভায় নৃপ দিবােদাস শাসিল দেশ।
শঙ্কিত শিব-অমর বৃন্দ, গাহিল পুরাণে কীৰ্ত্তিরেশ।
মহা বিক্রমে বিক্রমার্ক উদিল বিশাল আৰ্য্যাবৰ্ত্তে ।
কোবিদ সুহৃদ সে নৃপমণির গুন গাথা গায় আজিও মর্তে।
দেববংশাবতংস সেই বৈদ্য জাতির পতন আজ।
কেন গাে তঁাদের লুপ্ত গরিমা কেন গাে আবরি’ আননে লাজ।
প্রবল প্রতাপে নৃপ আদিশূর সাধিল বিশ্বে মহান কৰ্ম্ম।
বৌদ্ধ-ধৰ্ম্ম-প্লাবিত-ভারতে স্থাপিল আবার হিন্দু ধর্ম ।
অসীম শৌর্যে জিনিয়। কনােজে আনিল পঞ্চ অগ্রজন্ম।
সমর বিজয়ী নীচ জাতিগণে ঘােষিল সঘনে হইলে শৰ্ম্মা।
দেবতা-বংশাবতৎস সেই, বৈদ্য জাতির পতন আজ।
কেন গাে াঁদের লুপ্ত গরিমা কেন গাে আবরি’ আননে লাজ।
৯৯

অঞ্জলি
কুলীনের প্রথা প্রচারিল রাজা বল্লাল সেন ভারতবর্ষে।
দানের সাগর তঁাহার আদেশ মানিল গৌড় আনত-শীর্ষে।
বিজয় হেলায় বিজিল লঙ্কা বিজয় ডঙ্কা কঁপায়ে নীর।
মথিয়া জলধি, দলিয় মেদিনী, উড়িল পতাকা উচ্চ শির।
দেবতা-বংশাবতৎস সেই বৈদ্যজাতির পতন আজ।
কেন গাে তাদের লুপ্ত গরিমা কেন গাে আবরি’ আননে লাজ ।
উদিল ভারতে ভক্ত ভাবুক সাধক সুকবি রামপ্রসাদ।
সঙ্গীতে মহামুক্তি লভিল জগন্মাতার পশি’ পাদ।
হরষে বিশ্ব উচ্ছাস ভরা মধুর গানের মূচ্ছনায়
সুধা ধারা বয় আজিও লুটায় ধ্বনিছে সে রেশ আকাশ গায়।
দেবতা-বংশাবতংস সেই, বৈদ্য জাতির পতন আজ।
কেন গাে তঁাদের লুপ্ত গরিমা কেন গো আবরি’ আননে লাজ ।
সম্পূর্ণ

.
"A+
*
আয়ুর্বেদ
ইব
কলকাতা
আর্য-কীর্তি
যুগ-যুগান্তরের পরীক্ষিত বিশুদ্ধ
আয়ুৰ্বেদীয় ঔষধাবলী
গভর্ণমেন্ট-মেডিকেল-ডিপ্লোমাপ্রাপ্ত
বদ্যাচাৰ্য কবিরাজ সিদ্ধেশ্বর রায় এম, বি,
Gold Medalist-Homæupath)
কাব্যতীর্থ, ব্যাকরণতীর্থ, বিদ্যাবিনােদ, সামাধ্যায়ী
মহাশয়ের প্রতিষ্ঠিত
ঔষধালয়-৮৫ নং
ডন ষ্ট্রীট, কলিকাতা।
কারখানা-হালিশহর (২৪ পরগণা)
.
a)
র

ধন্বন্তরি আয়ুর্বেদ ভবন
তিনটী ভিত্তির উপর স্থাপিত
১। বিশুদ্ধ ঔষধ
সযত্নে ব্যবস্থা।
২।
ঔষধ রক্ষা সম্বন্ধে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।
সকল বিষয়ে বিশ্বস্ততা।
তিনটী বিষয়ে লক্ষ্য
১।
সকল ঔষধই রােগারােগ্যের জন্য প্রস্তুত।
২।
সৰ্ব্বদা প্রচুর পরিমাণে ঔষধাদি রক্ষা।
সাধারণের জন্য উচিত মূল্য নিরূপণ।
৩।
তিনটী বিষয়ে সুবিধা
১।
রােগীর পত্রাদি অন্যের নিকট অপ্রকা।
স্বয়ং কবিরাজ মহাশয়ের দ্বারা ঔষধ ব্যবস্থা।
৩। সযত্নে
সযত্নে ও সত্বর ঔষধাদি মফস্বলে প্ৰেৰণ ।
১
।

নিবেদন } জাতীয়-জীবন গঠনের জন্য যে সকল উপাদান আবশ্যক তন্মধ্যে জাতীয় চিকিৎসাশাস্ত্র একটি প্রধান উপাদান। প্রাচীনকালে ভারতের জাতীয় জীবনের উন্নতির যুগে জাতীয় চিকিৎসা শাস্ত্র ও চরম উন্নতি লাভ করিয়াছিল। পরে জাতীয় জীবনের অধঃপতনের সঙ্গে উহা ক্রমশঃ অধঃপতিত হইয়াছে, আবার এই জাতীয় জীবনের পুনরুদ্ধারের যুগে জাতীয় চিকিৎসা শাস্তুকে উন্নত করা ভারতবাসী মাত্রেরই কর্তব্য নহে কি? আয়ুৰ্বেদ কি ছিল, কেমন ছিল, জগতের বিবিধ চিকিৎসা- শাস্ত্র উহার নিকট কিরূপ ঋণী, বর্তমানে উহার অধঃপতনের কারণ কি ইত্যাদি বিষয় বহুল আলােচিত হইয়াছে, তাহার আর চৰ্ব্বিত চর্বণ নিপ্রয়ােজন। তবে আমাদের বক্তব্য এই যে, শল্য তন্ত্র (Surgery Midwifery) বিষয়ে আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসার প্রায় লােপ ঘটিলেও কায়চিকিৎসক (Physician) গণের মধ্যে আয়ুৰ্বেদীয় শিক্ষিত চিকিৎসকগণের পদমর্যাদা এখনও অক্ষুন্ন রহিয়াছে। যাহারা আয়ুর্বেদের নামে নাসিকা কুঞ্চিত করেন, তাহারা স্মরণ রাখিবেন, যে তাঁহাদের গুরুস্থানীয় বহু উচ্চপদস্থ ইংরাজ—ডিসেন্টি, নার্ভাস-ডেবিলিটি প্রভৃতি রােগাক্রান্ত হইয়া আয়ুৰ্ব্বেদের কৃপায় রােগমুক্ত হইয়াছেন এবং যাহারা সংশয়ী তাহারা একবার আসুন, আয়ুৰ্বেদ যে কিরূপ অনতিক্ৰমণীয় বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং অন্যান্য . * ।

শাস্ত্রোক্ত ঔষধ অপেক্ষা আয়ুর্বেদীয় ঔষধ যে কত অধিক ফলপ্রদ ও নিশ্চয়ত্মক তাহা প্রত্যক্ষ করুন। আয়ুৰ্বেদ-বিদ্যায় প্রবেশ লাভ করা বহু শাস্ত্রজ্ঞান সাপেক্ষ। বর্তমান সময়ে দেখা যায় অনেকে সামান্য কিছু অধ্যয়ন করিয়াই কাবরাজী করিতেছেন এবং অসারের আড়ম্বরে বিজ্ঞাপন প্রচারে কলঙ্ক ঘােষণা করিতেছেন, আমাদিগের কবিরাজ মহাশয়, সংস্কৃত কলেজ হইতে চতুর্দশবর্ষকালব্যাপী ব্যাকরণ, কাব্য, ন্যায়, সাঙ্খ, বেদ, বেদান্ত প্রভৃতি অধ্যয়ন করিয়া পরীক্ষায় উচ্চ উপাধি মণ্ডিত হইয়াছেন এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য চিকিৎসা বিদ্যা অধ্যয়নান্তে বিশেষ পারদর্শিতা লাভ করিয়া চিকিৎসা কায়ে ব্যাপৃত হইয়াছেন। বর্তমানেও শিষ্যবর্গকে নানা শাস্ত্র অধ্যাপনা করিয়া শাস্ত্র মহিমা সমুজ্জ্বল ও সাফল্য মণ্ডিত করিতেছেন। আধুনিক পাশ্চাত্যবিজ্ঞান জীবাণুসম্বন্ধীয় বহুতথ্যের আবিষ্কার, কয়েক প্রকার রােগ নির্ণয় যন্ত্রের প্রচলন এবং কয়েক প্রকার সিদ্ধফল ঔষধ আবিষ্কার করিয়া রুজাৰ্ত্ত জনগণের অশেষ কল্যাণসাধন করিয়াছেন। প্রাচীনমতাবলম্বী চিকিৎসকগণ এই গুলিকে অবজ্ঞার চক্ষে দেখিয়া থাকেন, কিন্তু আমাদিগের ধন্বন্তরি আয়ুর্বেদ ভবনের প্রতিষ্ঠাতা কবিরাজ মহাশয় ছাত্রজীবনে অধ্যাপকদিগের সাহচর্যে এই সকল বিষয়ের সার্থকতা পদে পদে উপলব্ধি করিয়াছিলেন। তজ্জন্য সে গুলি দূরে পরিত্যাগ করিয়া সাদরে গ্রহণ করিয়াছেন, ইহার বহু আয়াসলব্ধ চিকিৎসাজ্ঞান কিরূপ ফলপ্রসূ সাধারণের নিকট তাহার পরীক্ষা প্রাথনীয় । ম্যানেজার।

প্রত্যক্ষ ফলপ্রদ
বংশপরম্পরাগত ও নবাবিষ্কৃত
ঔষধাবলী
গ্রীকুন্তলক্লিাস তেল
Ć
সৌরভে মনােরম, স্নিগ্ধতায় অনুপম,
বর্ণে অতুলনীয় !!! .
দেশীয় সুগন্ধি উপাদানে প্রস্তুত, সৰ্বশ্রেষ্ঠ কেশতৈল। মস্তিষ্ক শীতল
রাখিতে, মনকে প্রফুল্ল করিতে, কেশবৃদ্ধি করিতে ইহা অদ্বিতীয় ।
একধারে ঔষধ ও বিলাসের সামগ্রী।
মূল্য ১ শিশি ৭০ আনা
৩ শিশি ২১ টাকা।

ধন্বন্তরি রসায়ন
5
সুস্বাদু, সুগন্ধি, তেজস্কর-বল-বীৰ্য-অগ্নি-পুষ্টি-কান্তি ও মেধা-স্মৃতি
বর্ধক, মর্তের দেৰভােগ্য মৃতসঞ্জীবনীসুধা, রুগ্ন-জীর্ণ-শীর্ণ-শরীর সবল
করিতে, ধাতুপুষ্টি ও উৎসাহ বৰ্জন করিতে এইরূপ সালসা অতি বিরল।
ইহা রসায়ন গুণ বিশিষ্ট, সে কারণ জরা-ব্যাধি, শারীরিক ও মানসিক
অবসাদ, ধাতু দৌর্বল্য, চিত্তচাঞ্চল্য, অজীর্ণ, অগ্নিমান্দ্য প্রভৃতি দূর করিয়া
মনকে স্ফুর্তিযুক্ত করে।
মূল্য প্রতি শিশি ১০ টাকা।
৩ শিশি ৪ টাকা।
স্বপ্ৰসখা,
মানসিক পরিশ্রম ও ধাতুদৌর্বল্যজনিত শুক্রমেহ ও স্বপ্ন দোষের
মহৌষধ। ইহাতে কোষ্ঠবদ্ধতা, অগ্নিমান্দ্য, অবসাদ, শিরােবেদনা,
দৌর্বল্য, চিত্তচাঞ্চল্য, অনিদ্রা ও মলত্যাগকালে তরল শুক্রপাত নিবারিত
হয়। যুবকদিগের অত্যধিক শুক্রক্ষয় হেতু স্মৃতিশক্তিহীনতায় ও অকাল
বার্ধক্যে তাড়িৎ শক্তির ন্যায় কাৰ্য্য করে।
মূল্য-১ শিশি ১২ টাকা।
৩ শিশি ২০ টাকা

অবলা জীবন, অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক যাবতীয় স্ত্রীরােগে আশু উপকারী। বন্ধ্যাত্ব দোষ নাশক, দৈবশক্তি সম্পন্ন অমােঘ মহৌষধ ! ইহাতে জরায়ুদুষ্টি জোছুষ্টি ও রজঃ কচ্ছতা দূর হয়। মাসিক ঋতু না হওয়ায় তলপেটে ও কোমরে বেদনা বা অতিকষ্টে বেদনার সহিত অল্প ২ রজঃ স্রাব, মাসে ৩ বার ঋতু হইয়া অধিক দিন পর্যন্ত থাকে, অথবা একেবারে ঋতুবন্ধ হইয়া মুখ, নাক, কান, মলদ্বার দিয়া রক্তস্রাব হওয়া তলপেটে গুল্মকৃতি হইযা উপরের দিকে ঠেলিয়া উঠার জন্য মূচ্ছাভাব ( 11ysteria) বা মূচ্ছ, সৰ্ব্বদা বমনেচ্ছা, মাথা ঘােরা, ঝাপসা দেখা, অনিদ্রা, দুর্বলতা, বুক ধড়ফড় করা, মনের অপ্রসন্নতা ও ক্ষুধামান্দ্য প্রভৃতি নানাপ্রকার উপসর্গ এবং কৃষ্ণাভ অল্প রক্তস্রাব প্রভৃতি নিরাময় করিয়া সৌন্দর্য্য ও লাবণ্য বৃদ্ধি করে। মূল্য—১ সপ্তাহ সেবনােপযােগী ১২ টাকা। ২০ টাকা। দ্রাবক গুরুপাক, দুম্পাচ্য আহার বা অতিরিক্ত ভােজন জন্য দমকাভেদ-বর্মী, পেটফাপা, পেটের যন্ত্রণা, দুর্গন্ধ ঢেকুর উঠা, বুকজ্বালা, পিপাসা প্রভৃতি উপসর্গাদি সহ অজীর্ণ ও অতিসার নিবারিত হয় এবং জঠরাগ্নি পুনৰ্ব্বার প্রদীপ্ত হইয়া উঠে। মূল্য-১ শিশি। আনা।

রাজযােঙ্গ সুস্বাদু, সুগন্ধি, সুখসেব্য, নির্দোষ জোলাপের ঔষধ। রাত্রে শয়ন কালে সেবন করিলে প্রাতে সুন্দর কোষ্ঠ শুদ্ধি হয়। অথচ পেটের কোনরূপ উত্তেজনা বা যন্ত্রণা অনুভুত হয় না। যকৃদের ক্রিয়া ও পরিপাক ক্রিয়া সুচারুরূপে সম্পন্ন করায় সহজে দাপ্ত পরিষ্কার হয়। মূল্য- শিশি ১২ টাকা। ৩ শিশি ২০ টাকা। সারিবারিষ্ট শােণিত-শােধক, রক্তকণিকা-বর্ধক, চৰ্ম্ম-রােগ নাশক, বাতহর, কোষ্ঠ- পরিষ্কারক মহৌষধ। ইহাতে পিত্ততুষ্টি, রক্তদুষ্টি, বাতরক্ত, চুলকণা, খােস, পাঁচড়া, দাদ ও বিচক্ষিকা (Eczema) প্রভৃতি নষ্ট হয় ও নার্ভাস- ডিবিলিটী জন্য যাবতীয় উপসর্গ, সৰ্বশরীরের কম্প, হৃৎকম্প, শিবােঘূর্ণন, অনিদ্রা, মেধা-স্মৃতি ও দর্শন শক্তির হ্রাস প্রভৃতি বিদূরিত হইয়া থাকে, এবং নূতন রক্তকণিকা পরিবর্ধিত হওয়ায় নবীন-জীবনীশক্তির সঞ্চার ও শরীর মন প্রফুল্ল হইয়া উঠে মূল্য-১ শিশি ১ টাকা। ৩ শিশি ৪২ টাকা। } মহানন্তায় পারদ-দোষ নাশক মহৌষধ। ইহাতে সর্বপ্রকার উপদ্রব সহ উপদংশ, গৰ্ম্মি, .( সিফিলিস্) নােগের মূলচ্ছেদ করে। ইহা রােগের প্রথম হইতে শেষ পর্যন্ত সর্বাবস্থায় ব্যবহার্য। জননেন্দ্রিয়ের ক্ষত, যন্ত্রণা, বাগী (Bubo), সৰ্ব্বশরীরে চাকা চাকা বিন্দু বিন্দু বিসর্প (Eruption), জ্বর, হস্ত-পদ-তলে কাল কাল ব্রণ ওচৰ্ম্ম উঠিয়া যাওয়া, গলদেশে ক্ষত, চক্ষুর কৃষ্ণভাগের অভ্যন্তরে অত্যন্ত কষ্টপ্রদ প্রদাহ ( Iritis ), অস্থি প্রদাহ (Periostitis ), জজারও মস্তকের বা বুকের হাড় ফুলিয়া উঠা, নাসিকা প্রভৃতির কোমল অস্থি সকল পচিয়া যাওয়া, অস্থি-সন্ধির স্ফীতি (syphilitic arthritis) হওয়া, বাতে পঙ্গু হইয়া পড়া, পক্ষাঘাত বা আক্ষেপ, অণ্ডকোষ প্রদাহ ও দারুণ ক্ষত বা নালী ঘা হইয়া পুরুষত্ব নষ্ট হওয়া প্রভৃতি মন্ত্রশক্তির ন্যায় আবােগ্য করে। মূল্য- শিশি ১০ টাকা ৩ শিশি ৪ টাকা। অর্মিমাড়ব অগ্নি-বৰ্ধক, মুখ রােচক মহৌষধ। ইহা আহারান্তে সেবন করিলে অম্ল, অরুচি, অগ্নিমান্দ্য, অতিসার, কোষ্ঠবদ্ধতা প্রভৃতি দূরীভূত করিয়া খাদ্য- দ্রব্য সুচারুরূপে জীর্ণ করে এবং সেবন মাত্রেই জঠরাগ্নি উদ্দীপিত হওয়ায় ইহার ক্রিয়া সঙ্গে সঙ্গে অনুভূত হয়! মূল্য- শিশি ১ টাকা। ৩ শিশি ২০ টাকা।

স্বারপ্যস্বর্ন, নূতন, পুরাতন, সপ্যমেহ বা গণােরিয়াজনিত জ্বালা-যন্ত্রণা রক্তস্রাব, মূত্রবন্ধ, পুরুষাঙ্গ স্ফীতি প্রভৃতি উপসর্গে আশু উপকার করে। ইহাতে সর্বপ্রকার প্রমেহ, ধাতু নির্গমন, খড়িগােলা-জলবৎ প্রস্রাব, প্রস্রাব কালীন মূত্রাশয়ে ও মূত্রনালীতে অত্যন্ত জ্বালা করা, সূচীবিদ্ধবৎ বেদনা, অণ্ডকোষে বিদারণবৎ যন্ত্রণা, জ্বর, তৃষ্ণা, মুহুর্মুহু মূত্র বেগ, বস্ত্রে শুক্রের শ্বেত-নীল-পীতাদি বর্ণের দাগ লাগা, প্রস্রাবের শেষে সূতা বা তুলার ন্যায় ধাতু নির্গমন হওয়া, সামান্য উত্তেজনায় শুক্রপাত, স্বপ্নদোষ, ইন্দ্রিয় শৈথিল্য, পুরুষত্ব হীনতা প্রভৃতি উপদ্রব বিনাশ করতঃ রােগের দূষিত জীবাণু সকল শরীর হইতে বাহির করিয়া রক্ত ও শুক্রকে পরিষ্কৃত ও বিশুদ্ধ করােন্তর কান্তি, লাবণ্য, ধারণাশক্তি ও রতিশক্তি পরিবর্ধিত করে। মূল্য-১সপ্তাহ ১২ টাকা। ২০ টাকা। সৌভাগ্য লেপ দয়ােগে একমাত্র আশু ফলপ্রদ মলম, ইহা ব্যবহারে কোন জালা যন্ত্রণা নাই, অথচ সম্পূর্ণরূপে বিচক্ষিকা (Eczema), কাউর, হাজা, পাকুই প্রভৃতি চর্মরােগ নিরাময় করে। মূল্য—১ কৌটা। চারি আনা।

অশারি । বিনা অস্ত্র চিকিৎসায় অর্শ বােগ আরােগ্য হয়, যে যে অর্শবােগ শাস্ত্রে অসাধ্য বা যাপ্য বলিয়া কথিত হইয়া থাকে এবং যাহা পাশ্চাত্য মতে অস্ত্র চিকিৎসায় দুইমাস কাল শয্যাগত থাকিয়া আরােগ্য হইতে পারে, সেই দুশ্চিকিৎস্য অর্শ বােগ বিনা ঔষধ সেবনে মাত্র বাহিরে লাগাইয়া আট দিনে আবােগ্য না হইলে মূল্য লওয়া হয় না। ইহাতে নরদেহের অনিষ্টকারী কোন প্রকার দূষিত পদার্থ না থাকায় নির্বিঘ্নে ব্যবহার চলিতে পারে। ইহার দ্বারা ষড় বিধ অর্শ, বহিৰ্ব্বলী বা অন্তৰ্ব্বলী, রক্তস্রাবাদি সকল প্রকার যন্ত্রণার সহিত বহুদিনের পুরাতন ও দুঃসাধ্য হইলেও ঐন্দ্রজালিক ক্রিয়ার ন্যায় আশ্চৰ্য্যরূপে আরােগ্য হয় মূল্য- ৫২ টাকা। চ্যবনপ্রাশ) কাস-শ্বাস নাশক বলকর রসায়ন। চ্যবন ঋষি ইহা ব্যবহারে রােগমুক্ত হইয়া বার্ধক্যে পুনরায় যৌবন লাভ করিয়াছিলেন, সেই জন্য এই মহােপকারী রসায়নের নাম চ্যবনপ্রাশ। ইহা ব্যবহারে কাস, শ্বাস, ক্ষয়, হৃদ্রোগ, মেহ, রক্তপিত্ত, স্বরভঙ্গ, প্রভৃতি ও শিশুদিগের সর্দি, কাসি, গণ্ডমালা প্রভৃতি আবােগ্য করিয়া শরীর সবল সুস্থ ও পরমায়ু বৰ্ধক হয়। ফুসফুস ও কণ্ঠগত সৰ্ববিধ রােগের নিরাময় কারী, রক্ত পরিষ্কারক, ও শােণিত কণিকা বর্ধক, যকৃতের সুচারু ক্রিয়া কারক ও বল-বর্ণ-অগ্নি-পুষ্টি-কান্তি সম্পাদক, বার্ধক্য জীবনের সহায় সৰ্ব্ব ঋতুতে ব্যবহার্য্য। ঘঁহারা বাজারের আমলকী পিণ্ড খাইয়া বিরক্ত হইয়াছেন, তাহাদিগকে প্রকৃত চ্যবনপ্রাশ একবার ব্যবহার করিতে অনুরােধ করি । মূল্য-এক পােয়া ২০ টাকা।

রুতন্তক مد মলম ইহা ব্যবহার করিলে দুরারােগ্য কষ্টপ্রদ উপদংশ ক্ষত, সিফিলিসের ক্ষত, গৰ্ম্মির ঘা, পারদ দোষজনিত শরীরের নানা স্থানজাত ক্ষত, বাগী (Bubo), উরুস্তম্ভ ক্ষত, পৃষ্ঠাঘাত, দুষ্টব্রণ, পৃষ্ঠব্রণ (Carbunce কর্কট রােগ (Cancer ), ভগন্দর ক্ষত( Fistula in Aho), নারেঙ্গা, কাউর, কাটা, ফাটা, ফোড়া (Boils ), আব্দুল হারা, (Whitlow), প্রভৃতি কারণ জাত পচাও নালী শােষ ঘা ( সাইনাস), নূতন বা যত দিনেরই পুরাতন হউক না কেন বিনা জ্বালা যন্ত্রণায় নির্দোষ রূপে অতি সত্বর আরােগ্য হয়। মূল্য-১ শিশি ॥ আনা। জ রাশনি A সকল প্রকার কম্পজ্বর, পালাজ্বর, কালাজ্বর ও জীর্ণজরের মহৌষধ। ইহা সর্ববিধ জ্বরনাশক নির্দোষ দেশীয় উদ্ভিজ্জগুলঞ্চ, চিরতা, ক্ষেত- পাপড়া ছাতিম, দারুহরিদ্রা, লৌহ প্রভৃতির সংমিশ্রণে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত। ইহা সেবনে প্লীহা ও যকৃদাদি সংযুক্ত নূতন পুরাতন ম্যালেরিয়া জ্বর, দৈনিক ঘুষঘুষে জ্বর, পৈত্তিকের জ্বর, জীর্ণ জ্বর, কুইনাইনে আটকান জর সত্বর নিবারিত হয়। ইহার ফল সম্পূর্ণ স্থায়ী ও ম্যালেরিয়া জ্বর, কালাজর, প্রভৃতির জীবাণু নাশক, এবং ধাতুস্থ সকল প্রকার দোষের বিনাশক,সৰ্ববিধ জ্বরের বজ্রস্বরূপ, ইহা সেবনে শরীর সবল, সুস্থ, হৃষ্ট-পুষ্ট, বলিষ্ট ও কান্তি বিশিষ্ট হইয়া সালসার ন্যায় কাৰ্য্য করে। মূল্য-প্ৰতি শিশি ১১ টাকা। 4 কট্রজারিষ্ট 'রক্ত-রােধক অসীমঙণ সকলেই অবগত আছেন। ইহা সহিত আয়ুর্বেদীয় রক্তামাশয় রাতিসার ও গ্ৰহণী রােগ নাশক কতিপয় উপাদান সহযােগে সমধিক গুণ সম্পন্ন করিয়া প্রস্তুত হইয়া থাকে। ইহা সেবনে সৰ্ব্ববিধ শূলবেদনাসহ রক্ত বা আম সংযুক্ত অতিসার, গ্রহণী প্রভৃতি রােগ ৩৪ দিন মধ্যে নির্দোষ রূপে আরােগ্য হয়। যাহারা বহু ঔষধ সেবন করিয়াও আশানুরূপ ফল প্রাপ্ত হন নাই তঁাহারা এই ঔষধের আরােগ্যকারী শক্তি দেখিয়া আশ্চর্যান্বিত হইবেন। রােগ যত দিনেরই পুরাতন হউক বা নুতন হউক, সৰ্বাবস্থায় সৰ্ব্ববিধ জ্বর, শােথ, অজীর্ণ, রক্তহীনতা, গুহ্যদ্বার হইতে গােগল বাহির হওয়া, পুনঃপুনঃ মােগের আক্রমণ প্রভৃতি উপদ্রব সহ সত্বর আরােগ্য করে। অন্ত্রের যে কোন স্থানে ক্ষত হইয়া রক্তস্রাব হউক না কেন, ইহা প্রয়ােগে মন্ত্র শক্তির ন্যায় আরােগ্য করিবে। মূল্য—শিশি : টাকা। বিরেচনজল যাহাদের বহুদিবসের কোষ্ঠবদ্ধতা আছে, কোন ঔষধের দ্বারা দান্ত পরিষ্কার হয় না, কঠিন গ্রন্থির ন্যায় মল নিঃসরণ হয়, বার্ধক্যে মাংসপেশীর সঙ্কোচন শক্তির শৈথিল্য বশতঃ কোষ্ঠবদ্ধতা, বৃহৎ মল নিঃসরণ, উদরে ভার বােধ ও বায়ুসঞ্চিত থাকিয়া অক্ষুধা, অর্শ, অগ্নিমান্দ্য, শিরঃপীড়া, শিয়ােঘূর্ণন, বায়ুগুল্ম, হিষ্টিরিয়া প্রভৃতি উপদ্রব থাকিলে এই ঔষধে উপকার হয়। কোষ্ঠবদ্ধতা (Constipation) যে অধিকাংশ রােগেরই মূল কারণ তাহা চিকিৎসক সম্প্রদায় সকলেই স্বীকার করিয়া থাকেন এবং ভুক্তভােগী রােগী মাত্রেই তাহা বিশেষ রূপে অনুভব করিয়া থাকেন, যাহাতে প্রত্যহ সুচারুরূপে দাস্ত পরিষ্কার হয়, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা স্বাস্থ্যান্বেষী সকলেরই কৰ্ত্তব্য, এই ঔষধ প্রাতে ১ দাগ সেবন করিলে ২ ঘণ্টার মধ্যে সুন্দর কোষ্ঠ পরিষ্কার হইয়া অগ্নির দীপ্তিও শরীরের স্বচ্ছতা আনয়ন করে। মূল্য-১ শিঃ ১২ টাকা। মকরধ্বজ মকরধ্বজের পরিচয় ঋষিগণের অধস্তন বংশধর ভারতবাসীর নিকট উল্লেখ করা নিষ্প্রয়ােজন। ইহার অনুপান ভেদে সৰ্ব্ব লােগহারিণী শক্তির পরিচয় পাশ্চাত্য চিকিৎসক বৃন্দ ও স্বীকার করিয়া থাকেন এবং নিঃসন্দেহে ব্যবহার করিতেছেন। কিন্তু অধুনা বাজারে যাহা সুলভে মকরধ্বজ বলিয়া বিক্রয় হয়, তাহা রসসিন্দুর মাত্র। উহা ব্যবহারে উপকার না হইয়া অনেক স্থানে অপকারই হইয়া থাকে, আমাদের মকরধ্বজ, পাবদাদির যতপ্রকার শােধন আছে, সকলগুলি সম্পন্ন করিয়া স্বর্ণ সংযােগে অতি পরিশ্রমে ও যথেষ্ট অর্থব্যযে নােগারােগ্যের জন্য প্রস্তুত হয়। ইহা কলিকাতার নামধারী কবিরাজ দিগের ন্যায় কয়লার জালে ৬ ঘন্টায় প্রস্তুত নহে। আমাদের ঔষধ প্রস্তুতাগারে ( ২৪ পরগণার অন্তর্গত হালি- সহরে ) নিমকাঠের অগ্নিতে ৩ রাত্রি ৩ দিন ব্যাপি জ্বাল দিয়া অতি যত্নের সহিত প্রস্তুত হয়, ঋষি বলিয়াছেন— “যথা স্যাৎ জারণা বদ্বী তথা স্থাৎ গুণদো রসঃ” মকরধ্বজের পাকে অধিক অগ্নি সংযােগ হইলে উহা অত্যধিক গুণ সম্পন্ন হয়, ইহা বর্ণে বর্ণে আমরা পালন করিয়া থাকি ; আর সেই জন্যই আমাদের প্রস্তুত মকরধ্বজ সমধিক গুণশালী, প্রতি মাত্রায় ফলপ্রদ।

মকরধ্বজ অনুপান ভেদে সকল ধাতুতে সকল ঋতুতে আবাল বৃদ্ধ বনিতা
সকলেই সৰ্ববিধ রোগে ব্যবহার করিলে সম্পূর্ণ নিরাময় হইয়া সবল সুস্থ ও
অব্যাহত স্বাস্থ্য হইতে পারিবেন। ইহা শরীরের সকল যন্ত্রের উপরেই
কাৰ্য্য করিয়া সবল ও কর্মঠ করে, সুস্থ শরীরে বা বার্ধক্য সময়ে ব্যবহারে
অমৃততুল্য ফলদায়ক ও জীবনী শক্তিবর্ধক এবং পরমায়ুর প্রকর্ষ সাধক হয়।
মূল্য -স্বর্ণ মকরধ্বজ
সপ্তাহ- ১ টাকা।
ভরি—১৬ টাকা।
ষড়গুণ বলিজারিত মকরধ্বজ সপ্তাহ-২২ টাকা।
ভরি-৩২ টাকা।
সিদ্ধ
মকরধ্বজ
সপ্তাহ-২||০ টাকা।
চন্দ্রোদয়
ভরি--৮০ টাকা।
সপ্তাহ-২১ টাকা।
--১২ টাকা।
সশ্নগুণ
অরহর
১১ টাকা।
-১ টাকা।
দ্বিগুণ
রর সিন্দুর
না।

বৈদ্যাচাৰ্য কবিরাজ সিদ্ধেশ্বর রায়, এমূ-বি Gold Medalist-Homeopath, এ-আর-এ-এস্ (লণ্ডন) কাব্যতীর্থ, ব্যাকরণতীর্থ, বিদ্যাবিনােদ, সামাধ্যায় মহাশয় কর্তৃক বিরচিত গ্রন্থমালা— রােগবজ্ঞান এই পুস্তকখানির কিয়দংশ পূৰ্বে আয়ুৰ্বেদ পত্রিকায় প্রকাশিত ও সমগ্ৰটী কলিকাতা আয়ুৰ্বেদ সভায় পঠিত হইলে লব্ধ প্রতিষ্ঠ চিকিৎসকবৃন্দ কর্তৃক সমালােচিত হয়, পরে পত্রিকার গ্রাহক গণের ও সভার সভ্যবৃন্দের অনুরােধে ও আগ্রহাতিশয্যে এই পুস্তক খানি প্রকাশিত হইয়াছে। ইহাজরা- মরণশীল ব্যাধি বিপৰ্য্যপ্ত মানব মণ্ডলীর সকলেরই সমান ভাবে আবশ্যক এবং ছাত্র, চিকিৎসক ও গৃহস্থ সকলেরই জ্ঞাতব্য ও আলােচ্য বিষয়। ইহাতে রােগ কি? কাহাকে বলে ? কেন হয় ? কিরূপে জীবাণু সকল শরীরে প্রবিষ্ট হইয়া রােগে পৰ্য্যবসিত হয়? রােগের সংখ্যা কত? প্রতিবিধানের উপকার কি? ঔষধ উপাদানের জীবন আছে কি না? এবং কিরূপে রােগের উপর আধিপত্য করে ? মৃত্যু হয় কেন? ও দীর্ঘজীবন লাভের উপায় কি ? প্রভৃতি বিষয় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য মতের যুক্তি ও শাস্ত্রীয় প্রমাণাদির সহিত বিশদ ভাবে বর্ণিত আছে। সংবাদ পত্রে, মাসিক পত্রিকায় ও বহু সুবিজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট হইতে বিস্তর প্রশংসা পত্র পাইয়াছি বাহুল্য ভয়ে প্রকাশিত হইল না। মূল্য ১ টাকা।

মূহ অতত্ব শ।'';'; ইহা মূত্র পরীক্ষার ও মূত্র রােগ চিকিৎসার একখানি অভিনব গ্রন্থ। বঙ্গ-ভাষায় এরূপ ; গ্রন্থ আর কখন প্রকাশিত হয় নাই। কবিরাজি, এলােপ্যাথিক, হােমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সম্প্রদায় সকলেই মূত্র পরীক্ষার আবশ্যকতা স্বীকার করিয়া থাকেন। মূত্র পরীক্ষার দ্বারা যে বহুপ্রকার অজ্ঞাত রােগের মূল প্রকাশিত হইয়া পড়ে, তাহা সৰ্ব্বদাই পরিদৃষ্ট হয়। মূত্র পরীক্ষিত না হইলে অনেক রােগের একেবারেই চিকিৎসা হয় না। Bright's disease: (মূত্র যন্ত্র রােগে) মূত্রে কত পরিমাণ অণ্ডনাল (Albumen) আছে, বহুমূত্র (Diabetes) রােগে মূত্রের সহিত কত শর্করা নির্গত হইতেছে, পাথরী রােগে পাথর খানি কি কি উপাদানে গঠিত, ইহা জানিলে ঐ সকল রােগের সুচিকিৎসা হওয়া একেবারেই অসম্ভব। এই গ্রন্থে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যমতে মূত্র পরীক্ষার নিয়ম বিশদভাবে কথিত হইয়াছে। মূত্র কখন বা কিরূপে, কোন কোন পাত্রে ধরিতে হয় এবং কিরূপ ভাবে পরীক্ষা করিতে হয় তাহা সবিস্তারে বর্ণিত আছে। আয়ুৰ্বেদীয় মতে কতকগুলি প্রচলিত দ্রব্যের সংযােগে পরীক্ষা করিয়া নােগটী বায়ু পিত্ত অথবা কফজ কিম্বা প্রমেহদি লােগজ তাহা নির্ণয় করিয়া কবিরাজি ঔষধ প্রয়ােগ বিধি লিখিত হইয়াছে এবং ডাক্তারি মতে কতকগুলি দ্রব্যের সংযােগে মূত্র কি উপায়ে পরীক্ষার জন্য অধিকক্ষণ রাখিতে পারা যায়ে, পরে সহজসাধ্য উপায় ও সহজপ্রাপ্য দ্রব্য সংযােগে কেমন করিয়া মূত্র পরীক্ষা করিলে, মূত্র হইতে এলবুমে, ফসফেট,সুগার প্রভৃতি বাহির করা যায়, আর ঐ সকল পদার্থ হইতে কি কি রােগ উৎপন্ন হইতে পারে এবং তাহা এলােপ্যাথিক মতে ও হােমিওপ্যাথিক মতে কি কি ঔষধ প্রয়ােগে আরােগ্য হইতে পারে তাহা কথিত হইয়াছে। এই গ্রন্থখানি কবিরাজ, ডাক্তার, ছাত্র, গৃহস্থ প্রভৃতি সকলেরই সমানভাবে আবশ্যকীয়, এই গ্রন্থ একখানি গৃহে রাখিলে কথায় কথায় ৫ টাকা ফি দিয়া আর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হইতে হইবে না, ইহার সাহায্যে সকলেই সহজে মূত্র পরীক্ষা করিতে পারিবেন। মূল্য-১ টাকা। দিবােদাস । যিনি বৈদ্যকুল-প্রদীপ, বীরকুল-মুকুট, জগতের গৌরব, স্বর্গের সুষমা ; যিনি অশেষ শাস্ত্রের আধার, যাহার পুণ্যনাম প্রভাবে আজিও মানবমণ্ডলী ব্যাধিবিমুক্ত হয় ; যে মহাত্মা একাধারে ভূপংি ভিষ ও রাজর্ষি ছিলেন । যাহার তপস্যা প্রভাবে ও প্রবল প্রতাপে দেবতাবৃন্দ ভীত, চকিত ও সন্ত্রস্ত হইতেন; যাহার মহামহিমােজ্জল গৌরবগাথা নিখিল পুরাণে, ঋকের মন্ত্রে, সামের ছন্দে প্রকটিত ; যাহার করীন্দ্র-চন্দ্র- -কুন্দ-মুকুন্দ -ক্ষীরােদ-নীয়ােপমা বিমলা-কীৰ্ত্তি সন্ততির অধিষ্ঠান,—সেই বারানসী ধাম এখনও বর্তমান ; যিনি অতুল ঐশ্বর্যের অধীশ্বর হইয়াও অজিন আসনে আসীন থাকিয়া শিস্যবৃন্দকে তাহারই অতিদ্ধ প্রপিতামহ ব্রহ্ম। বিরচিত লক্ষ শ্লোকাত্মক আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অধ্যয়ন করাইতেন ; যে পুণ্যশ্লোক মনীষির মহামহিমা-মণ্ডিত সুশ্রুত আদি শত শত অন্তেবাসী অখিল জগতে বিশাল আয়ুৰ্ব্বেদের বিপুল প্রচার করিয়া জরামরণশীল ব্যাধি বিপর্যস্ত জীবসমূহকে অকাল মৃত্যু হইতে রক্ষা করিয়া- ছেন; সেই ভুবন বিদিত জগৎপূজিত দেববংশাবতংস প্রবল পরাক্রান্ত নর- পতি দিবােদাস জন্মকাল হইতে স্বর্গারােহণ পর্যন্ত যে সকল অলৌকিক ক্রিয়া কলাপের অনুষ্ঠান করিয়া ছিলেন, সেই সকল বিষয় পুরাণু, তন্ত্র ও সংহিতা নিচয় হইতে সংগ্রহ করিয়া তাহার সম্পূর্ণ জীবনী প্রকাশিত হইয়াছে। মূল্য- টাকা।

আয়ুৰ্ব্বেদীয় ঔষধের বহুল প্রচারার্থ বিশুদ্ধ উপাদানে ও শাস্ত্র মতে প্রস্তুত ঔষধ সমূহ যথাসম্ভব স্বল্পমূল্যে নির্ধারিত হইয়াছে- ২৪ ১৬, ২ ৪০১ বৃহচ্ছাগলাদ্য ঘৃত (মেধা, কান্তি পুষ্টি ও শুক্রবৃদ্ধিকর) ১ সের ১৬, অমৃতপ্ৰাশ ঘত ( ধাতুদৌর্বল্য ও পুরুষত্বহানির মহৌষধ ) ব্রাহ্মীঘত ( স্মৃতিশক্তি ও স্বরের উৎকর্ষ সাধক ) ১৬, অশােকধৃত ( রক্তপ্রদর ও বাধকনাশক, লাবণ্য বৃদ্ধিকর) মধ্যম নারায়ণ তৈল (উন্মাদ, মূর্খ, ও চিত্তচাঞ্চল্যহর) মহাভৃঙ্গরাজ তৈল ( মাথাধরা, মাথাঘােরা, ও স্মৃতিশক্তিহীনতায় ) ১৬ শ্রীগােপাল তৈল (পুরুষত্বহানি, ধ্বজভঙ্গ ও বাজীকরণে ) দ্রাক্ষরিষ্ট (কাস-শ্বসনাশক, ক্ষুধাবর্ধক, বলকারক) ১ শিশি ১০ অশােকারিষ্ট (অতিরজঃ ও শ্বেত-রক্ত-পীতপ্রদর নাশক) পুনর্নবারিষ্ট ( সর্বপ্রকার শােথ ও উদরীয়ােগে ) পূর্ণচন্দ্র রস (মেহ প্রমেহ, স্বপ্নদোষ ও শুক্রগত রােগে) ১ সপ্তাহ ১১ : ভাস্কর লবণ ( অম্ল, অজীর্ণ, অগ্নিমান্দ্য রােগে) ০ অষ্টাঙ্গ লবণ (অরুচি-অতিসার নাশক, ক্ষুধাবর্ধক) অর্ক লবণ ( প্লীহা ও যকৃৎ রােগে) হিঙ্গষ্টক চূর্ণ ( বাতাজীর্ণ রােগে) ধাত্রী লৌহ ( অম্ল-পিত্তবােগে । ( অম্ল-অতিসার রােগে) কপূরাদিবটী ( সর্ববিধ উদরাময়ে ) কপুরাদিচুর্ণ ( কলেরায়) • || ॥ মহাশঙ্খবটী us স মহালক্ষ্মীবিলাস মদনানন্দােদক কামেশ্বর মােক জীরকাদি মােক শতাবরী মােক ১১ বজ্রকার স্বর্ণপল্প টী ক্রিমিন্নবী রামবাণ শ্রীজয়মঙ্গল রস (সর্দি-কাসিতে। ( বাজীকরণে ) ( অজীর্ণ অতিসার রােগে) (সুতিকা ও গ্রহণী নােগে) ( গ্রহণী রােগে) (অজীর্ণ-অগ্নিমান্দ্য রােগে) (গ্ৰহণী শােথ রােগে) ( সর্ববিধ ক্রিমি রােগে) ( আমাতিসারে। (জীণ ও বিষমজরে। (অর্শ রােগে) (কোষ্ঠ পরিষ্কারক) (বাতে) (কাস রােগে) ( শ্বাস রােগে) ( হৃদ্রোগে) ( প্রমেহে) (প্রদর রােগে । ř & 5 6 চপ্রভা সালভেদী বটী যােগরাজ গুগুগুল শৃঙ্গারা মহাশ্বাসারি লোহ হৃদয়াণব স্বর্ণ বঙ্গ প্রদরান্তক লৈৗহ # # # # ঠিকানা- ম্যানেজার, ধন্বন্তরি আয়ুর্বেদ ভবন ৮৫ নং বিডন স্ট্রীট, কলিকাতা।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Anjoli

Author
Roy ,siddheswar
Title
Anjoli
File name
Anjoli
Text
OCR done
Citation
1927
Published
2009/12/11
Publisher
Tarapada Roy , Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
134
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Epic
Keywords
Anjoli
DLI number
512306
Barcode
4990010019395.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
qdNUci5eLVu
Download PDF

Anjoli