Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Jhuro Luse Kupo Kat
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
বুরাে লুশে কুপােকস্থ
( হাস্যোদ্দীপক এহসন।
সিন্ধুবালা, অনঙ্গমঞ্জরী, গােপলি-রহস্য,
গুপ্তপ্রেম-পরিণাম, মােসাহেব,
মেঘনাথ সর্দার প্রভৃতি
প্রণেতা
“বসুমতীর” ভূতপূর্ব সহকারী -
শ্রীগােষ্ঠবিহারী দে-প্রণীত
প্রকাশিত।
কলিকাতা,
•
মূল্য • দুই আনা।
No text on this page.
ঝরাে লুশে স্কুপাে কান,
প্রথম অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য।
ভাগীরথী তীর। দশহরা।
ক্ষে গুলিখাের ও দুইজন বারবিলাসিনী।
ক্ষেত। (হাতে পৈতা জড়াইয়া মৃদু স্বরে ) নমােবিষ্টং-
নমােবিষ্টং,-নমােবিষ্টং,
১ম বারবিলাসিনী। বামুনটা যেন কি রকম।
২য় বারবিলাসিনী। হ্যা দিদি, বামুনটা যেন কি। আমাদের
নয়ান চাদ বামুন ঠাকুরের কেমন পূজোর ছিরি ছেলে।
সে কেমন ভাবে চিনি দিতে, ঘটে সিঁদুর দিতে, এ
বামুনের কিছুই নেই।
হয়।
অ ঠাকুর, অনেক বেলা হােলা যে, শীগগির ন্যাও।
গঙ্গা পূজোয় এত দেরি দেখিনি দিদি।
২য়। তােকে বােলেছিলুম, এ বামুনটাকে কাজ নেই।
ডেকে ঝকমারি করিচি, যেন গুলিােের বামুনটা।
এ ঠাকুর! যটে সিঁদুর দাও, ডাবে চিনি দাও, অনেক
বেলা হােলো, ঘাট-সুন্দ, পূজো কোরে বাড়ী চলে গেল ৰে, এখনও
ঠাকুর তােমার পূজো হােলাে না!
১ম।
১ম ।
১ম ।
ক্ষে। (মুর টানিয়া) নমােবিষ্টনমােবিষ্টনমােৰি
চাটে পয়সাং পেলেং সন্তুষ্টং, ( এদিক ওদিক চাহিয়া সভয়ে স্বগত)
ঐ গাে যা ভেবেছি তাই হােয়েচে। বরদা আচে। আমায়
দেখে ফেলেছে। এই দিকেই আচে। ( ঘটে সিদুর, ডাৰে
চিনি দিয়া, শাঁক বাজাইয়া প্রকাশ্যে ) দক্ষিণে দাও গাে,
দক্ষিণে দাও।
২য়-বাঁচা গেল, বামী দে, বামুন ঠাকুরকে চার আনা দে।
ক্ষেত। উহু-উহু।
২য়। বামী দে,আর চার আনা দে। অনেকক্ষণ ধরে
পূজো কোরেছে, দে চার আনা দে।
ক্ষেতা। (ডাব গঙ্গার জলে নিক্ষেপ করিয়া স্বগত) চাটের
পয়সাটা হােলো ভাল !
ক্ষেতার প্রস্থান।
বরদানাম্নী জনৈক বারবিলাসিনীর প্রবেশ।
বরদা। (গণ্ডে অঙ্গুলী দিয়া) ও মাগাে ! কোখা যাবে
গাে! তো কবে বামূন হােললা গাে ! কি ঘেন্না ! কি ঘেন্না।
২৪। ঘেন্না কি ?
বরদা। হা গা, তােমাদের কি চোক নেই, ওটাকে পূজো
কোত্তে দিয়েচ ? ছিঃ ছিঃ ছিঃ !
২য়। কেন মা, কি হােয়েছে ?
বদা। ওটাকে চেন না, রাম-রাম, জেতে পােদ, চুলে
গঙ্গা চান্ কোত্তে হয়, সাত জন্মে না না, গুলির আড্ডায় গােছে
থাকে,ছিঃ ছিঃ ছিঃ।
২।(সাশ্চর্য্যে) বল কি মা ।
}
দা। হাগা, আমি কি মিছে বছি, আমার বাড়ীর
পেছনেই এর আচ্ছা ঘর,ছিঃ ছিঃ ছিঃ!
বরদায় এহান।
১ম। সিদে কোথা গেল।
২। চাকরটা এক রকম, থেকে থেকে কোথায় যায় !
১২। ( উচ্চৈঃস্বরে) অ সিদে। সিদে। এ সিদে।
সিদের প্রবেশ।
সিদে। কি দিদি বাবু?
১ম। তুই বেটা এতক্ষণ কোখা ছিলি ?
সিদে। দিদি বাবু কোথাও যাইনি, এই এইখানেই ছিলুম।
২য়। তাের মাথা আর মু!
সিদে। কি হােয়েচে বড়দিদি বাবু?
২য়। নিমতলার ঘাট হােয়েচে, তাের পিণ্ডি চোটকেচে।
কোথেকে একটা গুলিভাের এসে ছাই-ভস্ম:পূজো কোরে গেল।
সিদে। শালা গুলিভাের গেল কোথা ?
২য়। (রাগিয়া ) যমের বাড়ী, তুইও যা। ঐদিকে গেছে।
সিদে। শালাকে ঘরে নীয়ে আসি।
২। আর ধােরে আতে হবে না! তাের জন্যে দাড়িয়ে
আছে! আর বাহাদুরিতে কাজ নেই ! এ সব নে, ঘরে চল।
তাের জ্বালায় জ্বলে পুড়ে মােলুম! আগে বাড়ী চ ! তাের ছরা
কোবাে-কোবাে-কোবাে।
সকলের প্রস্থান।
( 1 )
দ্বিতীয় দৃশ্য।
আড়াধারী ক্ষেতা গুলিথােরের গুলির আডডা ।
ক্ষেত, নেতা ও চারিজন গুলিভাের।
-
গীত।
( ও ভাই) গুলির তথ্য চমৎকার।
ও যে দেহতত্ত্ব, বিষম শক্ত, ভক্ত বিনে বোঝা ভার
তােড় জোড় আর মেরু,
মেরু হোলেন এদের গুরু,
মেরুর আশ্রয়ে উঠেন (কুল) কুণ্ডলিনী ধুমাকার।
আর যে আছেন ফটকা,
উনি সবার টেক',
টোক্কা মেরে জোড়ের পর,
উনি প্রণবরূপী পরাৎপর,-
বিনে ফট্কা, সবই ফোক্কা,
কেবলিরে হাহাকার ;-
জ্বেলে জ্ঞান-শলাকা, ল’য়ে ফট্কা,
(অখি মুদে ) ভক্ত ভাবে সারাৎসার।
হাসে যত চোখরে কাণ,
দেখে ভাঙা কলসীর কান,
বলে বৈঠকের কিবা কারখানা ;-
বুঝে না বুঝে না এ যে নিত্যই ভাঙা এ সংসার।
ক্ষেতা। আমি দাও মারতে গলায় পৈতে জড়িয়ে, দশহরার
দিন গঙ্গার ঘাটে ঘূচি বাবা, এমন সময় শানাই বাজার মত মিঠে
( ৫ )
মূর আমার কানে গেল,-“ঠাকুর পূজো কোরে দিয়ে যাও।”
যেমন শােনা অমনই বাবা নট নড়ন্ চড়ন্ নট কিছু। পেছন
ফিরে দেখে মাথা ঘুরে গেলাে ! এমন পটল-চেরা চোক, এমন
কপাল-জোড়া ভুরু, এমন বশীর মতন নাক, পা পৰ্যন্ত চুল, রং
একেবারে কেটে পােড়চে, পরীর বাচ্চা কোথা লাগে বাবা!
দেখতে খুৰ খাপসুরৎ। মিতে সে চেহারার কথা কি বােল্ববা,
সব শালীই কি এক ছাঁচে ঢালা ! ডেকে বল্লে “ঠাকুর পূজো
কোরে দিয়ে যাও!” আমিও তাই চাই! অমনি পূজো লাগিয়ে
দিলুম। পূজো ত পূজো, নমােবিষ্টং—নমােবিষ্টং—নমােবিষ্টং।
শালীরা এমনই কোরে আমার দিকে চাচ্ছেল, মনে হচ্চেলে।
আমায় পায় ত গুলে খেয়ে ফেলে! এ চেহারাটা কি! রাজার
ঘরে এমন চেহারা হয় না বাবা। আমিও বাবা ছেড়ে কথা কই
নি? এক নয়ন বাণ! আর কি রক্ষে আছে! বাণ ছাড়াও
যা, লাগাও তা-পড়াও তা,-মরাও তা ।
নেতা। ও ত কি মিতে। আজ সকালে হােলাে কি। একটা
সাড়ে চোদ্দ হাত বাঘ আমায় গিতে এলাে! কি করি শুদু হাত।
ঘটা যেমন আমার ঘাড়ে লাফিয়ে পােড়লো, অমনি কপালে
এক টুসকি! বাঘটা গাঁ গাঁ। কোত্তে কোত্তে একেবারে ঘুমুড়ির
টেকে আছাড় খেয়ে পোড়লাে বাবা! মিতে, এখনও গায়ে গন্ধ
ছাড়েনি মিতে, গায়ে গন্ধ ছাড়েনি।
১ম। ও কি আবার একটা বাঘের মধ্যে বাঘ! আমায়
যে বাধে তাড়া কোরেছেলে, সে বাঘটা আমার হাতের ত্রিশ
হাত। যেমন দেখা, অম্নি বাবা নাকেল গাছে ওঠা! ভারি
পোপ পেলে! পেচ্ছাপ কচ্চি বাবা! দেখি বাবটা পেচ্ছাব
( ৬ )
ধােরে ধােরে উঠচে ! অনি পেচ্ছাব বন্ধ বাবা। বাঘটা ধড়াস্
কোরে পেড়ে গেলো! আবার পেচ্ছাব ! দেখি বাঘটা আবার
পেচ্ছাব ধরে ধরে উঠছে! ধরে ধরে আর কি! ফস্ত ছেড়ে
দিলুম বাবা! কথা-বাত্ৰা নাই, বাঘটা হাবু ডুবু খেতে খেতে
একেবারে গঙ্গা সাগর!
২য়। একদিন ভাতারখাকি মাঠ দিয়ে যাচ্ছিলুম বাবা ! এক :
দল সেপাই এসে আমায় গুলি কোতে লাগলাে বাবা! আমি
টপাটপ গুলি গিলতে লাগলুম বাবা! তারা পঞ্চাশ জন, আমি
বাবা একা! সেপাইদের গুলি ফুরিয়ে গেল বাবা! ভয়ে ছুট।
ও ত কি। একদিন একটা জঙ্গলের ভেতর দিয়ে
যাচ্চি, একটা প্রকাণ্ড বুনাে শাের আমায় তাড়া কোলে বাবা!
দৌড়ে গিয়ে নেজটা ধােরে ঘূরিয়ে এক আছাড় ! বােলবো কি
বাবা! লেজটা আমার হাতে, ধড়টা একেবারে ছ'তু!
৪র্থ। (তততলা বলিয়া টানিয়া) আচ্ছা বাবা, এ সময় যদি
ঝম্ কোরে এক থােলে টাকা পড়ে !
পড়ে ত বাবা ভারি রগড় বাধে !
তেতলা। কি হয় বাবা ?
সকলে ভাগ করে নি বাবা!
ক্ষেত। তা বই কি বাবা !
২য়। (উচ্চৈঃস্বরে) লে ঝম্ !
ক্ষেত। (চীৎকার করিয়া) ৰােম্ কড়াৎ। এই আয়রচেষ্টে
চাবি পােড়ে গেছে বাবা !
গুলিথােরগণ। (ক্ষেতাকে বেষ্টন করিয়া দে শালা চাবি
দে,-দে শালা চাবি দে!
১ম।
৩য়।
( ৭ )
ক্ষেত। (সভয়ে ) চুপ,, এক শালা মাতাল আচে ! কি
করি মিতে ?
নেতা। চাট, টাট, গুলাে সরিয়ে ফেল মিতে।
ক্ষেত। (সওয়ে) মিতে আমরা কোথা যাই, শালা যদি মারে ?
নেতা। ভয় কি মিতে, যা বলি তা কর। (১ম গুলিথােরের
প্রতি) গাড়, হোয়ে ঐ কোণে বােস্ বাবা ! (২য় প্রতি) ও
কোণে কুঁজো হয়ে থাক বাবা। ( ৩য় প্রতি) আলােটা নীয়ে
দেকো হােয়ে এই কোণে বােস্ বাবা ! (৪র্থ প্রতি) আর তুই
ঘড়া হােয়ে সে কোণে থাক, বাবা। তােরা কেউ নড়িস্ নি চড়ি
নি বাবা ! কথা কনি বাবা! শীগগির নে, শীগগির নে!
চারিজন গাড়, কুঁজে', দেয়ূকো ও ঘড় হওন।
ক্ষেত। ( সভয়ে ) ওদের ত গতি হােলাে ; এখন আমাদের
d,
•
উপায় ?
নেতা।
ভয় কি মিতে? এস দুজনে কোচ হই।
( নেতা ও ক্ষেত। চাদর মূড়ি দিয়া পিছাপিছি
হামাগুড়ি দিয়া ক্যোচ হওন।)
গীত গাহিতে গাহিতে মাতালের প্রবেশ।
গীত।
লেগে যা গুরে ঝটপটি,
( আজ ) গুলির আড়ার চাট লুটি,
লুটোপাটি,হ:পাটি,গিয়ে দোবােত কপাটি।
যত বেটা ওলখাের,
সব বেটাই রে চসম খাের,
( ৮ )
সব বেটাই রে ছিচকে চোর,
লুটচে মজা আড্ডায় জুটি।
(বেটাদের গায়ের গন্ধে পালায় ছুচো,
উবু ব’সে হয়েছে কুঁজো,
চক্ষু বুজে গুলি টানে ঠিক যেন বাঁদরটি,
করলে কালার পীরিতে পাড়া মাটি।
মাতাল।
এক বেটাও নেই যে! বেটারা গেল কোথা?
গুলির আড্ডায় কে! একটু বসি।
কোচে উপবেশন।
গীত।
কোন্ শালা আমার মাতাল বলে !
(আমায়) পাঁচ মাতালে মাতাল বলে বেতাল কোলে হেঁসে খেলে।
ছেলে পুলে পরিবার,
সবাই জানে নয় আপনার,
(তবু) তাদের ঝোকে সবাই মাভাল,
{ আমায় ) মাতাল বলে কোন্ আক্কেলে।
মােহ মদে মাতাল সবাই,
করে সবাই আপন বড়াই
হলে বাড়াবাড়ি দিয়ে হামাগুড়ি,
ভাসে শেষে চোখের জলে,
তবু দেখে না রে মনের কপাট খুলে।
নেতা ও ক্ষেত।। কাচ,কোঁচ, ! কাচ,চে, !
মাতাল। ( দাঁড়াইয়া) এটা কোচ নয়, দুবেটা গুলিশাের।
( উচ্চহান্য) আর শালারা গেল কোথা? এই ঘরেই আছে। ঐ
এক বেটা ( ধাক্কা প্রদান ) “বগ-বগ-বগ।” বেটা গাড়
সেজেছে। ঐ এক বেটা ( ধাক্কা প্রদান )*ঢকঢক ঢক।”
এ বেটা দড়া। ঐ এ বেটা বেরকো হােয়ে আলাে নীয়ে বােসে
আছে। ঐ এক বেটা (ধাকা প্রদান ) ছল-ছল-ছল।”
এ বেটা কুঁজো। লিখাের বেটাদের বুদ্ধির দৌড় একবার
দেখেছ ? বেটারা চাট-টা সক সরিয়ে মতলব খাটিয়েছে মন্দ
নয়। এদের ত রগড় দেখা গেল। আর এক আড্ডায় যাই, দেখি
সে বেটারা কি মতলব খাটায়।
মাতালের প্রস্থান।
নেতা। (উঠিয়া) তোরা ওঠ, বাঁচা গেল, শালা ভেগেচে।
সকলের গাত্রোত্থান।
১ম। শালার পাছাটা দেখেছ বাব', যেন ডেয়াে পিঁপড়ে।
২য়। *লা যেন নবাব খাঞ্জাখার গতি।
৩য়। শালা আমার মায়ের নাম খর।
তোতল। শালাকে এখনই , কোরে ফেলতুম বাবা।
নেতা। শালা আমার শালার শালা কুঁকড়োর ।
ক্ষেত। মিতে রাত হােয়েচে, ঘরে যাও, তােমার গিন্নী খাগ
কোরবে বাবা। আমিও খাওয়া দাওয়া করিগে।
নেতা। মিতে তবে আসি।
ক্ষে। এস মিতে এস ( চারিজনের প্রছি ) তোরাও আয়।
সকলের এস্থান।
দ্বিতীয় অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য।
নেতা লিখােরের আবাস গৃহ।
হরেন ও হরেনের মাতা।
হরেন। ছিঃ ছিঃ বাবার জন্যে মুখ দেখান ভার।
মাতা। কেন বাবা! তােমার বাপ কি কোরেছে?
হরেন। একেত বাবা গুলি খায় বােলে সকলেরই কাছে
মাথা হেঁট। আবার শুতে পাই, আজকাল বাগবাজারে হাড়
বদমায়েস তাে গুলিখােরের দলে গিয়ে মিশেছে। ছিঃ ছিঃ আর
চাকরি কোত্তে ইচ্ছে হয় না। মনে হয় বাড়ী ছেড়ে কোথাও
চলে যাই।
মাতা। তা কি কবি বল্ ? তাের জন্মদাতা বাপ ত ?
একটা নেশার বশ হােয়েচে, কি করবি বল ?
হরেন। মা, তুমিওত বাবাকে কিছু বল না ?
মাতা। তা বাবা, কি বােল্ববা। ঢের বকাবকি করেছি,
তা তাের বাপ সে কথা শুলে না মানলে?
হরেন। { রাগিয়া ) বাবার বেশী বাড়াবাড়ি দেখি ত বাড়ী
থেকে বেরিয়ে যাবাে।
মাতা। রাগিস কেন বাবা, তাের বাপ আসুক বুঝিয়ে
বােলবাে এখন।
হরেন। তুমি ভালমানুষি কর বােলেই ত আরও বেড়ে গেছে।
( ১১ )
মাতা। তাের বাপ বুড়ো হােয়েছে, আর কত দিনই ঝ
বাঁচবে! এই আপিস থেকে এলি, তাের ঘরে যা, আমি সংসারের
কাজ-কল্প দেখিগে।
==
নেতার প্রবেশ।
হরেন। বাবা! তুমি কোথা থেকে আসচ ?
নেতা। এক কথায় কি কোরে বলি, এই, এখান থেকেই
আচি!
হরেন। এখান থেকে আবার কি ? ক্ষেতার আড্ডা থেকে ?
নেতা। ক্ষেত কিরে ? ক্ষেত্তর বাবু বল্।
তা। ক্ষেতাই ত !
হরেন। তাে আবার বাবু কবে ? ক্ষেতা গুলিখােরকে
সকলেই চেনে। ক্ষে আবার,
নেতা। (রাগিয়া) তাে—ক্ষেত-ক্ষেতা কিরে!
পড়া খা।
মাতা। কলাপােড়। তুমি খাও, বুড়ো হােলে মতিচ্ছন্ন
পশা ধরে।
নেতা। তুমি থাম না ।
মাতা। থামতে বােলছো কি? উপযুক্ত ছেলেকে কি
এমন কথা বলে ? কোন্ বাপে এমন কথা বােলে থাকে ! ক্ষেতার
আড়ায় গুলিখেয়ে লিখেয়ে মতিচ্ছন্ন দশা ধরেছে।
নেতা। চুপ চুপ, আবার ঐ কথা ! ক্ষেত্তর বাবু, ক্ষেত্তর বাবু।
হরেন। দেখ আমার কাছে ঐ গুলিখােরটাকে ক্ষের বাবু
ক্ষের বাবু বলল না ৰচি, দেশ সুদ্ধ লােকের কাছে ক্ষেত
লিখাের, আর ওনার কাছে ওবেটা কি না ক্ষেত্তর বাবু।
( ১২ )
নেতা। ওরে অত মাথা গরম করিসূনে। মেওর বাবু মন্ত
বড় ঘরের ছেলে। কত বেটা ওর বাপের খেয়ে মানুষ হয়েছে।
এখনও কত লােক ক্ষেত্তর বাবুর উমেদারি করে।
ক্ষেত্তর বাবুর
মেজাজ বড় উচু !
হরেন। হা-হুঁ'—সব, জানা আছে। ও বেটা, গুলিশাের
ছিচকে চোর, চসম খাের,—ও বেটার আবার মেজাজ। তােমায়
ভালােয় ভালােয় বলচি, ও বেটার আড্ডায় যেও না। তােমার
জন্যে মুখ দেখানাে ভার।
নেতা। ছিঃ ছিঃ ও কথা বলিসূনে, রাগ করিস্ নে বাবা।
ক্ষের বাবুর মত মানুষ কি জন্মাবে। ক্ষেত্তর বাবু ক্ষণজন্মা
পুরুষ। যাও তােমার ঘরে যাও! (হরেনের মার প্রতি) তুমি
দাড়িয়ে কি কোচ ?
মাতা। পঁড়িয়ে আবার কি কোবাে। তোমার বে-
আকেলে কথা শুচি। জন্ম জন্ম তোকে নিয়েই থাক।
নেতা। কলাপােড়া খা।
মাতা। এবার পালক উঠলে, মতিচ্ছন্ন দশাই ঘটে।
হরেনের মা ও হরেনের প্রস্থান।
নেতা। কলাপোড়া খা।
প্রস্থান।
তৃতীয় অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য।
ক্ষে গুলিখােরের অাড্ডা ঘর।
ক্ষেতা গুলিথাের
ক্ষেত। ( গুলি পাকাইতে পাকাইতে) নেতা মিতে আমার,
শালা আমার ! দেবে চার পয়সা, খাবে চার আনা। আমি
এত বড় একটা ঘুঘু ছেলে, আমায় ও ফাঁদে ফেলেছে। এটা কি
কম কথা বাবা! শালা কোন্ ক্ষ্যাণে আমার সঙ্গে মিতে পাতিয়ে
ছেলে, সে ক্ষ্যাণটা জাতে পারি ত, লিখে হাতে কবচ কোরে
রাখি। মিতে—মিতে—মিতে, অমন মিতে আমার অজ্ঞাঘর
বাট দিলে কত শালা বেরােয়। সন্ধ্যে হবে, আর শালার শালা
কুঁকড়াের গু, কোথেকে উড়ে এসে জুড়ে বােস্বে। এই সন্ধ্যে
হােয়েচে শালা এলো বােলে।
নেতা ও চারিজন গুলিখােরের প্রবেশ।
এস ভাই দাদা এস, তাইত বলি, মিতে এ খনও অচেনা কেন ?
আর একটু হলেই মিতে, তােমার বাড়িতে ছুটতে হােতো!
এলে বাঁচালে, ধড়ে প্রাণটা এলাে !
নেতা। আসতে একটু দেরি হােলো মিতে, কিছু মনে কোনাে
না দাদা।
ক্ষেত। (স্বগত) শালা মলে হরির লুট দি।(প্রকাশ্যে ) সে
কি মিতে, তুমি কি আমার পর মিতে! এস মিতে, বােসস মিতে,
ভাবিক কর মিতে!
'
( ১৪ )
নেতা। ভ্যালা মাের ভাই রে।
ক্ষেতা। (স্বগত) শালা আমার সােহল জানাচ্চে। (প্রকাশ্যে)
তা ত বটেই, তা ত বটেই মিতে। সন্ধ্যে ত উতরে গেছে, আর
কেন মিতে, বয়া ভাসানাে যাক্। কি বল মিতে ?
নেতা। শুভস্য শীঘ্রং, শুভস্য শীঘ্রং।
ক্ষেতা। (স্বগত) শালা যেন কপচাচ্চে। (অন্য গুলিখােরদের প্রতি
প্রকাশ্যে ) বাবা, তােরা হাত গুটিয়ে জগন্নাথ হােয়ে বােসে রইলি
যে, হাত বার কর, ঠিক ঠাক কর, দেরি করিস কেন বাবা।
দেখচি আমার মিতে এসেছে, আর কি দেরি চলে বাবা!
সরম লইয়া সকলের গুলি সেবন।
একটা মনের সাধ আছে মিতে, সেটা আজ মেটালে হয় না?
নেতা। কি, কি মিতে ? কি সাধ ?
ক্ষেত।। (স্বগত) তাের মাথা আর মুণ্ডু! (প্রকাশ্যে )
কালী পূজো মিতে।
নেতা। মাতালের পুজো ! বেয়াড়া পূজো কেন মিতে ?
কালার পীরিতে অরুচি কেন মিতে
ক্ষেত (স্বগত) তাের কালার পীরিতে আজ বালির বাঁধ
বাঁধাব শালা। (প্রকাশ্যে ) কালা কালী একই কথা মিতে। যে
কাল সেই কালী। আমরাই দুর্গা, আমরাই কালী, আমরাই লক্ষ্মী,
আমরাই সরস্বতী। পূজোয় আবার কালাকাল কি? এস
আজই আমরা কালী সাজি।
নেতা। বেশ কথা মিতে! কাল রং না হয় পোড়া হাঁড়ির
তলা আছে। মাথার মটুক, খাড়া, মুণ্ডমালা, মুণ্ড, আর হাত
দুখানা ত চাই মিতে।
?
( ১৫ )
ক্ষেতা। (স্বগত) ওরে আঁটকুড়ির ছাগল, তাের জন্যে
সব ঠিক কোরে রেখেছি। (প্রকাশ্যে ) মিতে, কিছুরই অভাব
নেই, সবই আছে।
নেতা।
তবে আর কি মিতে! কৰ্ত্তার ইচ্ছেই কম্ম, মনের
ইচ্ছেই ধম্ম, ভাল ভাল।
ক্ষেত। (স্বগত) র,আটকুড়ির ছাগল
ছাগল রঃ, আগে
নৈবিদ্দি সাজাই, তার পর তাের,—(প্রকাশ্যে ২য় গুলিখােরের
প্রতি আমার সঙ্গে আয়, সাজাই গে।
নেতা। পূজোর পাটা কৈ মিতে ?
ক্ষেত। (স্বগত) শালা তুই আস্ত বােকা থাকতে আবার
পাঁটা। ( প্রকাশ্যে) সব যোগাড় আছে মিতে। (২য় গুলিখােরের
প্রতি) আয় রে বাবা আয়। (ক্ষেত ও ২য় গুলিথােরের প্রস্থান।
নেতা। আজ মিতের মেজাজটা কেমন বিকুটে।
১ম। শালগেরামের বসা-বাড়া বােঝা ভার।
শাল। নিজের গণ্ডা বেশ বােঝে।
তােতলা। আমরা এত দি, তবু শালার দাও দাও।
১ম। ঘােটর নজর আর কত হবে।
ভাতের থালা হাতে ক্ষেতা এবং কচু
পাতার মটুক পরিয়া গলে কোকে ও
কোমরে নােচর মালা দিয়া এক হাতে
খাড়া ও অন্য হাতে হুক লইয়া সজ্জিত
কালী ও ক্ষেতার প্রবেশ।
নেতা। বাহবা মিতে; মিতে আমার কুমােরর পাে, ভ্যাল।
কালী বানিয়েচ মিতে।
( ১৬ )
ক্ষেতা। (স্বগত) তাের উচ্ছগ্যের আর দেরি নেই শালা !
( প্রকাশ্যে) পূজোর ভার তােমার উপর মিতে।
নেতা। কুশাসন কৈ মিতে ?
ক্ষেতা। ঐ ছেড়া চেটায় বােসে যাও মিতে।
নেতা। (যােড়হস্তে কালীস্তব )
ওঁ হ্রীং হং শ্রীং কালীং দেবীং মহাকালপ্রিয়াং হরা।
ধানসিদ্ধস্থালীদীপ্ততলদ্যেতকলেবরা।
ভজামি প্রসীদ মাতঃ কলিকলুষনাশিনী।
কিঞ্চ নবকচুপত্রশিয়ােমুকুটশােভিনীম্।
তন্তুবদ্ধভগ্নাভগ্নকলিকামুণ্ডমালিনীম্।
ভজামি প্রসীদ মাতঃ কলিকলুষনাশিনী।
তততা গলচ্ছে তরক্তহুক্কামুণ্ডধরাং পরাং।
প্রকম্পিতজীর্ণভুগ্নখড়ঙ্গধরাং ভয়ঙ্করাং।
ভজামি প্রসীদ মাতঃ কলিকলুষনাশিনীম্।
গুম্ফশ্মশােভিতসুমধুরহাস্যমুখীং।
দুর্গন্ধিং গ্রন্থিলং বস্ত্রং মল্লকচ্ছঞ্চ বিভ্রতীং।
ভজামি প্রসীদ মাতঃ কলিকলুষনাশিনী ।
নমামি মাতরং শীর্ণচতুরদ্ধকরাং বরাং।
সিন্দুরাক্তটিনপত্র রচিতরসনাধরাং ।
ভজামি প্রসীদ মাতঃ কলিকলুষনাশিনী।
জাটষ্টিকৃতং কাঞ্চীং ধারয়ন্তীং সুশােভনাং।
আড্ডারণাঙ্গনে রঙ্গাত্যন্তীং ঘােরভাবিনীং।
ভজামি প্রসীদ মাতঃ কলিকলুষনাশিনীম্ ॥
( ১৭ )
ক্ষে। (স্বগত) এই বেলা শালাকে সাবাড় কোরে দি।
( কালীর খড়া গ্ৰহণ, নেতাকে কাটিতে
উত্তোলন, ফাইয়া নিজের পা ছেদন।)
( চীৎকার করিয়া ) উহুঃ বাবারে গেলুম রে।
নেতা। (উঠিয়া ) কি কোলে,—কি কোলে,-মা আমার।
মিতের আমার কি কোল্লে ! তাইত, পা কেটে রক্ত ঝুঝিয়ে
পোড়ছে যে, মা আমার, পাটার বদলে মিতের পা-টাই মিলে মা!
তােতলা। শালার ঠিক হােয়েচে !
৩। মা আমার ঠিক কোরেচেন! পুজুরি ছেড়ে পা
কেটেচেন!
ক্ষেত। বাবারে! গেলুম রে! জল দেরে ! ।
১ম। এত রাতে কে জল ছেয় বাবা!
তোতলা। জলের নাম করে না বাবা! দে শালার মুখে
ভাত গুজে দে।
{ সকলে মিলিয়া ক্ষেতার মুখে ভাত গুজিয়া দেওন।)
শালা মােরেছেন!
৩৪। সে দিনের এক থােলে টাকা হজম কোরে মটকা মেরে
পােড়ে আছেন।
১ম-৩য়। দে শালা চাবি দে, দে শালা চাবি দে!
বরদার প্রবেশ।
বরদা। বাবারে বাবা, ক্ষেতার জ্বালায় চোখে পাতা পড়বার
যো নেই। কত কোরে একটু তন্ত্র এসেছে, আর চেঁচানি দেখ,
যেন ষাঁড় দাগচে। গলায় বাঁশ পুরে দিতে হয়। যত দি
যাচ্চে, তত মতুনি যেন বাড়ছে। যত কিছু
যত কিছু বলবাে না মনে
( ১৮ )
!
করি, তত যেন আরা বেড়ে যাচ্চে।.ম ম, সব কাশী
মিত্রের ঘাটে যা, এত মড়া মােচে, ক্ষেতার আর মরণ নেই।
ক্ষেতা পােড়র মুখাের মাগ না ছেলে, ঢেকি না কুলে, এত
জোটাতেও পারে ; আর ক্ষেতা মুখপােড়র কাছে উনপাঁজুড়ে
বরাখুরে এত গুলিখাের এসেও জোটে। পােড়র মুখাে কোথা
গেল ? তােরা যা ক তা কর, গাঁজা খা, গুলি খা, চরস খা, চতু
খা, গুমুত, ছাই-ভস্ম খা, আমার পেছনে কেন লেগেছিস বল
দিকি ? ঝেটিয়ে বিষ ঝেড়ে দোবাে জানিস্ ? তাে পােড়ার
মুখাে কোথা গেল ?
নেতা। (হাত ঘােড় করিয়া) অ মা ঠাকরুণ, একটু থামুন,
একটু থামুন।
বরদা। কেরে ড্যাকরা বুড়াে, শুকুনি, আমার সঙ্গে ঠাট্টা!
আমি তাের বাবার বাবা চোদ্দ পুরুষের মা ঠাকরুণ! আমার
সঙ্গে ঠাট্টা, গাল দিয়ে ভূত ছাড়িয়ে দোবাে জানিস্ ! এমন গাল
দোবাে, তাের চোদ্দ পুরুষে তেমন গাল শােনেনি। আমার সঙ্গে
ঠাট্টা! যমে তোর ঘাড় ভাঙুক, আমি ধার কোরেও হরির লুট
দোবাে। ড্যাক বুড়াে, আমি কি তাের মা-মাসী যে, আমার
সঙ্গে ঠাট্টা, ম-ম-মর, ভাগাড়ে গিয়ে ম! শেয়াল কুকুরে
টানাটানি, ছেড়াছোঁড়ি করুক।
নেতা। তােমায় ঠাট্টা করিনি মা ঠাকরুণ, দেখচোনা এখানে
কে পােড়ে আছে!
নেতা। ও মাগো, গেলুম গাে !
বরদা।; (রক্ত দেখিয়া ) ও গো রক্ত যে গাে!. ওটা কে
পােড়ে, ক্ষেত! (উচ্চৈঃস্বরে.) ও গাে-কোথা যাব গাে! তাে!
( ১৯ )
তাের কি হােলে গাে। ক্ষেত! তােকে কে খুন কোলে গাে !
তোতলা। চুপ কর বাবা,চুপ কর !
বরদা। (চীৎকার করিয়া) ও গাে ক্ষেতার কি হােলল
গাে! ক্ষেতাকে কে খুন কোলে গাে! আমার মুখ চেপে
যােরেচে গাে ! কেমন কোরে চুপ কোরূববা গাে! খুন গো,
খুন গো,-খুন গাে!
পাহারাওয়ালার প্রবেশ।
পা। এত না রাতসে সােরগােল কহে হােত হ্যায়, চুপ,
চাপ, রও।(বরদার প্রতি) কেও রেণ্ডি, ইয়া কেয়া মজিরা হ্যায়
বরদা। (চীৎকার করিয়া) তােকে খুন কোরেচে গো ।
পা। কেয়া খুন হুয়া, খুন হুয়া আডােকা ক্ষেত্তর কো খুন
কিয়া! ( উচ্চৈঃস্বরে) যুড়িদার হাে, যুড়িদার হাে, খুন হুয়া,
খুন হুয়া!
দুইজন পাহারাওয়ালার প্রবেশ।
২য় পা। ই কোন্ হ্যায় ?
১ম পা। শালা গুলিখাের এক আদমিকো কাণী নায়ীকা
মূর্তি বানা করকে পূজা কিয়া, আউর আদমিকে বল্ দিয়া।
২য় পা। শালা লােক বহুত নেশা খায়া।
১ম পা। হুসিয়ার রহহ, শালা লােক ভাগ যাগা। জদি
পাকড়, জলদি পাকড়াে।
স পা। ভৈইয়া ভাগ, কর কাঁহা যাগ, চুকি ধরকে
নামে লে যাগা।
বরদার. পলায়নােদ্যত।
(দার হস্ত ধারণ করিয়া ) কাঁহা ভাগতি হ্যায় রেণ্ডি!
বরদা। আ মর, মিসে, রকম দেখ, আমার হাত ধরে।
আমি খুন ফরিচি নাকি, আমার হাত ধরচিস! যারা খুন
করেছে, তাদের ধােরগে যা, বাঁধগে যা, আমার হাত ধরিস কেন?
* -
( ২০ )
মরমরমিন্স, এখনই কাশী মিত্রের ঘাটে পাঠিয়ে দেব
জানে না।
৩য় পা। জোর মৎকরাে, গালি মৎ দেও, নেহিতো এক
ডাণ্ডা লাগায় দেয়া।
বরদা। লাগান। দেখি ! আমি ইলিপেটর সাহেবকে বলে
দিয়ে তােদের চাকরি ছাড়িয়ে দোবাে জানিস। আ মর, মিসে,
“বােল্ল আরও বাড়ায়। হাত ছেড়ে দে বচি ! এখনি গাল
দিয়ে ভূত ছাড়া কোরবো। ছাড়, বচি, হাড়, !
২য় পা। ইয়ে রেণ্ডি বহুৎ বদমাস হ্যায়।
১ম পা। শালীকে আচ্ছিতরা হুসিয়ারিসে পাকড়ে। হুসি-
আর সে রহে, নেহি তত ভাগ, যাইগি।
৩য় পা। ইয়ে রেণ্ডিবি গুলি খাতা হ্যায় !
২য় পা। ঠিক গুলি খাতি হ্যায়।
১ম পা। এক ডাণ্ডা লাগানেসে ঠিক, হো যাইগি।
বরদা। আ মােলল যা, কিছু বোল চিনি বলে, আস্পর্ধা
বেড়ে গেছে। যার যা মুখে আছে, তাই বোলচে। আমি গুলি
খাই। ছােটলােকের মুখে আস্পর্ধার কথা দেখ। আমার ঘরে
তােদের বাবা ইলিপেটর সাহেব আসে, তা বেটারা জানে না।
সে আমায় এমন কথা বলে না। সে ত ছোটনোঁক নয়। ভদ্দর
নােক, আর ছােটনেকে তফাৎ এই। হাত ছাড়, বেটা হাত
ছাড়, বাড়ী যাই হাত ছাড়! এত দেরি হচ্চে, বাবু কি মনে
কোচ্চে। হাত ছাড়, বেটা,-হাত ছাড়!
৩য় পা। ইয়ে রেণ্ডি বহুৎ বন্দুমাস হ্যায়। গালি দেতি হ্যায়।
(৩য় পাহারাওয়াল স্কুলের গুতা দিতে উদ্যত।)
( ২১ )
বরদা। ( চীৎকার করিয়া) বাবারে, গেলুমরে, মেরে ফেল্লে
বে। হতভাগা মুখপােড়ারা, তাদের কি একটুকুও মায়া দয়া
নেই। তোরা মেয়ে মানূষের গায়ে হাত তুলিস। তােদর কি মা-
বােন, নেই, সব কাশীমিত্রের ঘাটে পুড়েচে! আচ্ছা তােদের কাছে
হার. মালুম, আমায় ছেড়ে দে, তোদের পায়ে পড়ি ছেড়ে দে।
• ২য় পা। ইয়ে রেণ্ডি বহুৎ ছেনাল হ্যায়।
রুলের গুতা দেওন।
বরদা। গেলুম্ রে, মলুম রে, (স্বগত) দারােগা আমার
ঘরে আসে কত ভালমানুষটি। মনে কোরেছিলুম, তার
বের লােক গুলাে কতই না ভালমানুষ হবে। দুটো গাল মন্দ
কোরলে, ছেড়ে দেবে। ও বাবা, তা ত নয়, এক একটা
যেন যমদূত। গাল দিলে হবে না। ভাল মানুষি করে দেখি,
দেয়। (প্রকাশ্যে ) জমাদার সাহেব, ও জমাদার
সাহেব, তােমাদের পায়ে পড়ি, আমায় ছেড়ে দাও।
৩য় পা। হাস্ নেহি ছােড়েগা। হা সাৎ চনে
হাগা।
কোথা জমাদার সাহেব ?
৩য় পা। থানা মে।
বরদা। কেন জমাদার সাহেব ?
৩ পা। হিয়া খুন, হুয়া, তােম্ ইস্কা গওয়া হাে।
বরদা। আমি কিছু জানিনি জমাদার সাহেব। খুনের পর
এসেছি জমাদারু সাহেব। আমি থানায় গিয়ে কি কোরবাে
জমাদার সাহেব ?
৩য় পা। হামকো বােনেসে কুছ নেহি হােগা। ইনস্পেক্টর
যদি ছেড়ে
( ২২ )
সাহেবকে পাস, তােমকে হাজির হােনে হােগা। ইনস্পেক্টর
সাব, যে করেগা ঐহি হােগা ।
বরদা। আমায় একবারটি ছেড়ে দাও জমাদার সাহেব,
আমার বড় বাহ্যে পেয়েছে। বাহ্যেকোরে আবার আসবে।
৩য় পা। ইস্ মােকাকে পায়খানামে যাও, হাম পিছেমে
খাড়া হ্যায়।
তােমরা আমার বাপ, হও, আমায় ছেড়ে দাও।
৩য় পা। বহুৎ বহুৎ মিঠাবাৎ শুনা হ্যায়। ঘুড়িদার গাড়ি
ডাকো, সব কো থানামে লে চলো।
ইনস্পেক্টর সাহেবের প্রবেশ।
সাহেব। কেয়া হুয়া কেয়া হুয়া ?
তােতলা। কুচ, নেনি, কুচ, নেহি।
সাহেব। ইসিকো কোন্ খুন কিয় ?
নেতা।বুরাে লুশে কুপো কাৎ হুয়া।
সাহেব । কেয়া?
গুলিখােরগণ। (সুর করিয়া ) ঝুরাে লুশে কুপাে কাৎ।
সাহেব। কো কেয়া ?
গুলিথােরগণ। ( উচ্চৈঃস্বরে সুর করিয়া) ক্ষেত্তর পােদ,
ক্ষেত্তর পোদ, গো! ঝুরো লুশে কুপো কাৎ, সাহেব গাে !
সাহেব। শালা লােগ বহুৎ বদমা হ্যায়। সব কৈ থানামে
..লে চলল।
লে
প্রস্থান।
F। (স্বগত) হায় হায় ! ছােট লোক গুলিখােরদের
সঙ্গে মিশে, অল্প বয়স থেকে গুলি খেতে শিখে, বুড়ো বয়সে বুঝি
প্রাণটা গেল।
যবনিকা পতন।
মােসাহেব।
(হাস্যরসের অবতার।)
“বসুমতীর” ভূতপূৰ্ব সহকারী সম্পাদক
শ্ৰীগােষ্ঠবিহারী দে প্রণীত।
*মােসাহেব” নন্দনকাননের পারিজাত কুসুম, ইহার অঘ্রাণে
মন আনন্দ-রসে আপ্লুত হয়,-প্রাণ পুলকে নাচিয়া উঠে।
পাঠক! প্রকৃতই যদি হাসির তুফানে ভাসিতে চান, প্রকৃতই যদি
হাস্যরসের অবতার দেখিতে ইচ্ছা করেন, তাহা হইলে এই
“মােসাহেব” পাঠ করুন, দেখিবেন আগাগােড়া হাসি,হাসির
ফোয়ারা। পুস্তকের প্রথম পৃষ্ঠা পাঠ করিলে আদ্যোপান্ত শেষ
না করিয়া থাকা যায় না। মোসাহেবী গল্প, মােসাহেবী কথা
শুনিতে লােকের স্বাভাবিক আগ্রহ; সেই চির আদরের মােসাহেবী
কথা মােসাহেবদিগের মুখ-নিঃসৃত হইলে কিরূপ মধুর, কিরূপ
স্পাহণীয় তাহাই “মােসাহেব” পাঠে বুঝিবেন। এই “মােসাহেবে”
মােসাহেবণণের হাবভাব, চলন-বলন, অঙ্গ-ভঙ্গিমা ও শ্রীবার
রঙ্গিমা-দর্শনে হাসির তুফান ছুটিবে, সেই সঙ্গে সঙ্গে চক্ষুও ফুটিবে।
এক কথায় এই জ্বালামালাময় সংসারে সন্তপ্ত, বিশুষ্ক,
নীরস প্রাণের একমাত্র শীতল-সজল,—সরস অবলম্বন এই
“মমসাহেব *
সুন্দর কাগজ, সুন্দর ছাপা, সােণার জলে সুন্দর বিলাতি বাঁধাই
মূল্য • বার আনা।
বেঙ্গল মেডিকেল লাইব্রেরী, ২১ নং কর্ণওয়ালিস্ট, কলিকাতা,
শ্ৰীযুক্ত গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের
দোকানে প্রাপ্তব্য।
মেঘনাথসর্দার। “বসুমতীর ভূতপূৰ্ব সহকারী সম্পাদক শ্ৰীগােষ্ঠবিহারী দে প্রণীত। ইহা একখানি বিবিধ বৈচিত্র্যময় ঘটনাপূর্ণ অপূৰ্ব্ব নবন্যাস। ইহার ঘটনা-খৰ্য্যে শরীর রােমাঞ্চিত, রচনা-মাধুর্যে মন বিমুখ, আবার ধৰ্ম্মালাপে প্রাণ স্বর্গীয় আনন্দে পরিতৃপ্ত ও প্রশান্ত হয়। যে সময়ে ইংরাজ রাজ বাহাদুর এ দেশে প্রথম পদার্পণ করেন, সেই সময়ে, সেই আলিবর্দি খাঁর সময়ে, দুর্দান্ত বর্গী ও চোর ডাকাতের প্রাধান্য সময়ে এ দেশের কিরূপ শােচনীয় দুর্দশা ছিল, নিরীহ দেশবাসী কিরূপ জঘন্য অত্যাচারে লাঞ্ছিত ও প্রপীড়িত হইয়া আজীবন অশান্তি উপভােগ করিতে ছিল, সেই সময়ে, সেই ভয়ঙ্কর দুর্দিনে মেঘনাথ সর্দারের আবির্ভাব। “মেঘনাথ সর্দারের ন্যায় ধৰ্ম্মমূলক সরল সুন্দর নবন্যাস দ্বিতীয় আর নাই। হাফটোন ছবিসহ সােণার জলে বাধাই—মূল্য বার আনা। মােটা কাগজের কভারিং মূল্য • আট আনা। প্রকাশক শ্রীগুরুদাস চট্টোপাধ্যায়, বেঙ্গল মেডিকেল লাইব্রেরী, কলিকাতা, ২০১ কর্ণওয়ালিস, স্ট্রীটে প্রাপ্তব্য। “মেঘনাথ সর্দার” সম্বন্ধে, কলিকাতা হাইকোর্টের ভূতপূর্ব বিচারপতি মাননীয় সার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এম, এ, ডি, এল, মাননীয় শ্ৰীযুক্ত বুবু সারদাচরণ মিত্র এম, এ, বি, এল, অঙ্কশাস্ত্রের প্রসিদ্ধ অধ্যাপক শ্রীযুক্ত বাবু গৌরীশঙ্কর দে এম, এ, বি, এল, ও প্রসিদ্ধ প্রসিদ্ধ সাহিত্যিকগণের প্রশংসা পত্র পরপর পৃষ্ঠায় দ্রব্যে। a
প্রশংসা পত্র।
(মেঘনাথ সর্দার হাফটোন ছবি সহ মূল্য • আনা )
কলিকাতা হাইকোর্টের ভূতপূৰ্ব বিচারপতি
মাননীয় শ্ৰীযুক্ত বাবু সারদাচরণ মিত্র এম, এ, বি,
এল, মহােদয়ের পত্র ;-
85 Gley Street, Calcutta,
18th April, 1913
Dear Babu Gostabehari,
'I do not remember if I wrote any criticism on
your novelette "Meghnad Sardar". I read through
it and I think the book is a good one and will do
'good to rural Bengal. I am one who is fond of
antiquities and would gladly go back to the former
days. I like the rustics and would like to deal with
them as they used to be dealt with in our childhood.
Thanking you for your presenting me with a
copy of the book.
Yours sincerely,
SARADA CHARAN MITER.
কলিকাতা হাইকোর্টের ভূতপূৰ্ব বিচারপতি
মাননীয় সার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, এম, এ, ডি,
এল, মহােদয়ের পত্র ;
মহাশয়,
আপনার প্রদত্ত “মেঘনাথ সর্দার” নামক পুস্তকখানি সাদরে
গ্রহণ করিলাম, এবং ধন্যবাদের সহিত তাহার প্রাপ্তি স্বীকার
করিতেছি।
পুস্তকখানির কিয়দংশ পাঠ করিয়াছি, সম পাঠ করিবার
সময় পাই নাই। ইচ্ছা রহিল অবকাশ মত সমস্ত পাঠ করিব।
po প্রশংসা পত্র। wan যে টুকু পাঠ করিয়াছি, তাহাতেই দেখিলাম পুস্তকের ভাষা অতি সরল ও সুন্দর। পুস্তকের আদ্যোপান্ত না পড়িলে তাহার বিষ সম্বন্ধে কিছু বলা যায় না। এই জন্য তৎসম্বন্ধে কোন মতামত প্রকাশ করিলাম না। ইতি; নারিকেলডাঙ্গা, কলিকাত', অাপনারই ১৩ই চৈত্র ১৩১৯। গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রন্থকার পুস্তকখানি তঁাহার পিতৃদেব স্বর্গীয় ডাক্তার নন্দলাল দে এম, বি মহাশয়ের নামে উৎসর্গ করিয়াছন। ডাক্তার নন্দলাল দরিদ্রের বন্ধু ছিলেন, আমরা তাহাকে ব্যক্তিগত ভাবে জানিতাম। চিকিৎসকগণের মধ্যে এমন সহৃদয়তা আমরা অল্পই দেখিয়াছি। সেই লালের পুত্র গােষ্ঠবিহারী বাবু যে পিতার ধাত পাইয়াছেন তাহা তাহার চিত্ৰত, মেঘনাথ সর্দারের চরিত্রে প্রতিফলিত হইয়াছে। বস্তুত বঙ্গীয় ছেলে মেঘনাথকে গ্রন্থকার যে আদর্শ- চরিত্র চরিত্রে ভূষিত করিয়াছেন, তাহা অনেক উচ্চ শ্রেণীর লােকের মধ্যে দুলভ। মেঘনাথ চোর ডাকাতের যম, অত্যাচারীর শ, উৎপীড়িতের রক্ষাকর্তা, বিপন্নের বন্ধু, দরিদ্রের আশ্রয়দাতা ; মেঘনাথের বাহুবল অসী, চৰিত্ৰবলও অল্প নহে, বাদীর ছেলে হইলে কি হয়, মেঘনাথ সদশের উন্নতচেতা ধর্মপ্রাণ মনিবের আশ্রয় লাভ করায় সাধারণ মানব-দুলভ বিবিধ গুণে ভুষিত হইয়াছিল। এ হেন মেঘনাথ-চরিত ' গ্রন্থকারের অপূর্ব সৃষ্টি, গ্রন্থের ভাষা বিশুদ্ধ, আজকালকার ইংরাজী বাজায় খিচুড়ী নহে নায়ক।
প্রশংসা পত্র। v/e - 5 A মেঘনাথ সর্দার।-বিচিত্র ঘটনাপূর্ণ নবন্যাস। প্রণয়নকর্তা শ্ৰীযুক্ত গােষ্ঠবিহারী , দে, প্রকাশক শ্ৰীযুত গুরুদাস চট্টোপাধ্যায়। এই পুস্তকে গল্পচ্ছলে মানবচরিত্র বর্ণিত হইয়াছে। মেঘনাথ সর্দার মফঃস্বলের এক জমীদারের বাটীব পাইক, নীচকুলে তাহার জন্ম কিন্তু ধর্মনিষ্ঠা ও যথাসাধ্য সামর্থে পরের উপকাব তাহার জীবনের ব্ৰত ছিল, তার দ্বারা অনেক লােক বড় বড় বিপদ হইতে রক্ষা পাইয়াছে। চৰিত্ৰ চিত্ৰণে গে ষ্ঠবিহারী বাবুব কতব টা সামর্থ্য আছে, পুস্তকের ভাষা ও মন্দ নহে। পুস্তকখানি পড়িবার উপযুক্ত। বসুমতী। এক- মেঘনাথ সর্দার।—( বিচিত্র ঘটনাপূর্ণ উপন্যাস ) শ্রীগােষ্ঠ- বিহাৰী দে প্রণীত। ২০১ নং কর্ণওয়ালিস্ ষ্ট্রীট, বেঙ্গল মেডিকেল লাইব্ৰেবী হইতে প্রকাশিত। মূল্য আট আনা। গ্রন্থখানির নায়ক মেঘনাথ। নামজাদা নায়ক না হইলেও ঘটনা চিত্রণে গ্রন্থকার মেঘনাথকে সুনদর চবিত্ৰে পৰিণত কবিয়াছেন। মেঘনাথের মত পবােপকাৰী, স্বার্থত্যাগী সমাজের মধ্যে বড়ই অভাব। মেঘনাথের স্ত্রী নবদুর্গাব চিত্র আবার আরও উজ্জ্বলভাবে ফুটিয়াছে। এই পুস্তকে পাপপুণ্য, আলো অন্ধকার, স্বর্গ-নরকের চিত্র পাশাপাশি থাকায়, উপন্যাসখানি বড়ই সুখপাঠা হইয়াছে। গিরীন্দ্রমােহন আদর্শ জমীদার। আজকাল এই চরিত্রের জমিদার বাঙ্গালায় ক’জন আছে? গ্রন্থকারের পটুতার জন্য একখানি বিচিত্র ঘটনাময় কাহিনীতে দাঁড়াইয়াছে। পাঠে আমরা তৃপ্ত হইয়াছি। বসুধা ।
. প্রশংসা পত্র। (মােসাহেব সােণার জলে ৰাধাই মূল্য ৫০ বার আনা ) বিবিধ সংবাদ পত্র ও “সাদ প্রভাকর” সম্পাদক ও “হরিদাসের গুপ্তকথা” প্রভৃতি বিবিধ নীতি-গর্ভ বহু পুস্তক প্রণেতা আমার পূজনীয় পিতৃবন্ধু শ্ৰীযুক্ত ভুবনচন্দ্র মুখােপাধ্যায় মহাশয়কে আমি আমার এই “মােসাহেব” পুস্তকের আদর্শ খানি দেখিতে দিয়া ছিলাম, তিনি এতৎসম্বন্ধে যে অভিপ্রায় প্রকাশ করিয়াছেন, তাহা নিম্নে প্রকটিত হইল :- পরমকল্যানীয় শ্ৰীযুক্ত বাবু, গােষ্ঠবিহারী দে পরমস্নেহাস্পদেষু- তােমার প্রণীত “মােসাহেব” নামক নূতন পুস্তক খানির আদর্শের আদ্যোপান্ত পাঠ শ্রবণ করিয়া আমি পরম প্রতি লাভ করিলাম। মােসাহেবগণের চরিত্র, বেশ্যা লম্পটের চরিত্র, কুসঙ্গের ফলাফল অতি সুন্দররূপে চিত্রিত হইয়াছে। যাহাকে তুমি নাট্যকাব্যের প্রণালীতে প্রধান নটরূপে দাঁড় করাইয়াছ, যাহাকে নীচ-কুল-সভূত বলিয়া বর্ণনা করিয়াছ, তাহার শৈশব-চরিত্র যৌবন চরিত্র ও শেষ কালে সংসার-জীবন-চরিত্র তুমি, যেরূপে সজ্জিত করিয়াছ, তাহাতে তােমার যথেষ্ট গুণপণার পরিচয় হইয়াছে, বর্ণনা গুলি সমস্তই স্বাভাবিক। আশা করি, তােমার এই “মােসাহেব” বঙ্গীয় সাহিত্য-সমাজে সমাদৃত হইবে। আশীর্বাদ করি, তুমি দীর্ঘজীবী হইয়া সমান উৎসাহে স্বদেশীয় সাহিত্যচর্চায় নিরত থাক, দশের নিকট যশের ভাজন হইয়া ক্ৰমশঃ উন্নতি ১১ই জ্যৈষ্ঠ, সন ১৩১৮ সাল। তােমার মঙ্গলাকাঙ্খী নিত্য আশীর্বাদক- ভুবনচন্দ্র মুখােপাধ্যায়।
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য, অঙ্কশাস্ত্রের প্রসিদ্ধ অধ্যাপক মাননীয় শ্ৰীযুক্ত বাৰু গৌরীশঙ্কর দে এম এ, বি এল মহাশয়ের পত্র ;- পরম কল্যাণীয় শ্রীগােষ্ঠবিহারী দে দীর্ঘজীবে- তােমার প্রণীত “মেঘনাথ সর্দার” উপন্যাস খানি আদ্যোপান্ত পাঠ করিয়া সন্তোষ লাভ করিলাম। সৎসঙ্গগুণে মানুষ কত দূর উন্নত হয়, তাহা মেঘনাথের চরিত্রে বেশ পরিস্ফুট হইয়াছে। মেঘনাথ ও তাহার স্ত্রী নবদুর্গার কথােপকথন অতি সরল ও স্বাভাবিক। শ্রীবৃন্দাবন ধামে মেঘনাথের প্রেমের মত্ততা বড়ই মধুর ও হৃদয়স্পর্শী । প্রত্যেক চরিত্র-চিত্রণ অতি পরিপাটী হইয়াছে। ভাষা সরল প্রাঞ্জল ও মধুর। পুস্তকের নাম “মেঘনাথ সর্দার হইলেও ইহাকে একখানি ধৰ্ম্ম-পুস্তক বলা যাইতে পারে । এরূপ সৎপুস্তক যতই প্রকাশিত হয়, ভাষা ও সমাজের ততই মঙ্গল। শ্রীগৌরীশঙ্কর দে। ২৬ শ্রাবণ, সন ১৩১৯ সাল। কলিকাতা হাইকোর্টের প্রসিদ্ধ এটর্ণি, সাহিত্য- সেবক মান্যবর শ্রীযুক্ত বাৰু হীরেন্দ্রনাথ দত্ত এম, এ, বি, এল, বেদান্তরত্ন মহােদয়ের পত্র ;- 139 Cornwallis Street, Calcutta, 24-5-19I 3. Dear sir, I am obliged to you for laving sent me a cor of your " Megnath Sardar. * I have looked thro it. You ought to be congratulated on the amo; success you have been able to achieve. Yours truly H. N. DA1 A, ***
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.