Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Phool-malika

Sharma Munshi, Kalikishore · 2009/12/26

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

ফুল-মালিকা।
য
শ্রী কালীকিশাের শৰ্ম মুন্সী
।
কর্তৃক
প্রণীত ও প্রকাশিত।
মা যােগেন্দ্রনারায়ণ শৰ্ম্ম মুর্শী
সুর তাল সন্নিবেশিত
বগুড়া রায় প্রেসে
শ্রীরামচন্দ্র চক্রবর্তী দ্বারা মুদ্রিত।
সন-১৪২১
মু। চার আনা।

No text on this page.

ফুল মালিক।
খাম্বাজ—একতালা।
গ্রাম বরণ, সুঠাম ললনা,শবহৃদিপ’রে আনন্দে মগনা।
লােল রসনা,বিকট দশনা,নাচিতেছে বামা দিবস।
গলে বিলম্বিত নরমুণ্ডমালা,
কপালে করাল কালানল জ্বালা,
অসি খরসান,বরাভয় দান,নরশিরে চারিকর সুশােভনা।
শিরে আধ শশী, এলাে কেশরাশি; মুখে অট্ট হাসি,
শােণিত প্রয়াসী ; মূরতি ভীষণা, প্রকৃতি কঠিন,
চরণযুগল কমল তুলনা ।
আলিয়া-ঝাপতাল।
ঝাতাল।
শ্যামাপদে সঁপিয়াছি, আমার এই দেহ প্রাণ।
রসনারে বলিয়াছি করে শ্যামা নাম গান।
শমনে না ডরি আয়, গিয়েছে তার অধিকার,
ধরিতে আসিলে মােরে, হয়ে যাবে- অপমান ॥

ফুল-মালিকা।
কামাদি দস্যর দলে, ভুলা’তে নারিবে ছলে,
শ্যামা মা’র পদ ছেড়ে, না যাইব অন্য স্থান।
অভয় অতুল পদ, সে পদে সব সম্পদ,
ঘুচিবে ভব বিপদ, অবহেলে পাব ত্রাণ । ২
আলিয়া-তেতালা।
মা গাে! কেন সেজেছ ভয়ঙ্করা।
কাহারে দেখাবে ভয়, কারে তুমি করিবে জয়,
কে তােমার শত্রু হ’লাে ব্রহ্মাণ্ড-ভাণ্ডেীদরা।
দহিতে কাহারে তুমি, ধরেছ ভালে অনল ;
কা’র তরে অধরে তাের, ঝরিতেছে হলাহল ;
কা’র মুণ্ডমালা পর,, কা’র রক্ত পান কর,
ক্রোধেতে আরক্ত অখি, কি জন্যে মা! অসিধরা ॥
ভৈরবী (মিশ্র )-একতালা ।
আমি নই মা কাতর তাে’র ভয়ে।
যতই ভয় দেখা’স না মা ! আমি থাকব তাের
চরণ চেয়ে।
* যত ভয় দেখাবি ভীমা ভয়ঙ্করা;
ততই ডাকব কালী ! কালী! কালহরা

ফুল-মালিকা।
কাল ভয় নাশিতে, অসিতা মূর্তিতে,
অবতীর্ণ। অভয়ে ।
সংসার-পাশে বদ্ধ জীবের সদা ভয়,
সংসারবিরাগী সতত অভয়,
তােমার শ্রীপদে শরণ,
ল’য় যেই জন,
সে কি বান্ধা থাকে ভবদায়ে ।
নিয়ে যা’না শ্যামা ভীষণ শ্মশান,
হােক না ভূতপ্রেত দানা আগুয়ান,
বিকট হুঙ্কারে বধির হোক্ কান,
থাকিব সে সব স’য়ে।
কর-কাঞ্চী অসি, নরমুণ্ডমালা;
লােল রসনা হুতাশন জ্বালা ;
তা’তে কিসের ভয়, আমি হয়েছি নির্ভয়,
দেখে বরাভয় করদ্বয়ে। ৪
রামপ্রসাদী সুর।
এ মা রাজরাজেশ্বরী গাে এ মা! রাজরাজেশ্বরী।
আমায় রাখলে কেন মফস্বলে, দিয়ে তসীলদারী।
ছ’জনায় দিয়েছ মসীল; তা’তে হয় না তসীল ;
বল, কি করি ।

ও
ফুল-মালিক ।
তারা নিজের বােজ খােরাকীর লেগে,
করে জোর জবরি।
দাগাদারের সঙ্গে পড়ে, বাকি আমার হ’লাে ভারি;
এখন তলব দিয়ে নে মা, সদর সদানন্দপুরী। ৫
আলিয়া-তাল যৎ।
কি ভয় ভব ঘােরে রে মন,
ভেবে ভেবে হ’সনে সারা।
ঘাের দুস্তরে,
রাখবে তােরে,
ঘােরারূপিনী তারা।
বিপদ বিনাশ তরে, মা আমার অসি ধরে,
মা বলে ডাকলে পরে,
মাভৈঃ রবে হয় মা খাড়া।
ভয়ঙ্করা বেশ দেখি, থেকো না রে মুদে আঁখি,
ভক্তিভাবে দেখ দেখি, মা আমার কেমন ধারা।
বরাভয় দুটী করে,
সদা বিতরণ করে,
আনন্দ উচ্ছাসভরে, যেন পাগলিনী পারা। ৬

ফুল-মালিকা।
ভৈরবী—কাওয়ালী।
কে রে বামা ত্রিভঙ্গিনী, কেশরী অসুবােপরে।
অতুসী কুসুম আভা, সুকোমল কলেবরে।
মনােহরা দশকরা, বিবিধ আয়ুধ ধরা,
ত্রিনয়না শশীধরা হাসি ধরে না অধরে।
নিবিড় কুন্তল জাল, জড়িত মুকুতামাল,
রতনময় কিরীট ঝলমল করে শিরে।
নবীন যৌবন শােভা,
স্থির সৌদামিনী প্রভা,
গরবিনী সে রঙ্গিনী নিরুপমা চরাচরে।
বিল্বদল আর রাঙ্গা জবা,
চরণে দিয়েছে কেবা,
রাজ রাজেশ্বরী কিবা,
দেখা দিলে দয়া করে। ৭
আলিয়া ঝিঝি----কাওয়ালী
এ মা দুর্গে দুখহরা, দৈত্যদল দলনী।
মহিষ মর্দিনী।
মঙ্গল শােভনা শুদ্ধা,
নিষ্কলা পরমাংলা,
বিশ্বেশ্বরী বিশ্বব্যা, বিশ্বজননী।

ফুল-মালিকা।
অপর্ণা। অপরাজিতা অম্বিকা ;
কলুষনাগিনী কালবারিণী কালিকা
জগদম্বা জগজ্জন পালিকা ;
এ মা মহেশ্বরী মােক্ষদায়িকা ;
যােগেশ্বরী যােগমাতা,
যােগিনী যােগরতা,
জয়া বিজয়া যম-যন্ত্রণা বারিণী ।
বিন্ধ্য। নিলয়ে তব দিব্য স্থান ;
পশু পাশ বিনাশিতে হেমকূটে অবস্থান ;
কাশী তীর্থে অনুদা, কর অনুদান ;
সঙ্কটে সঙ্কটারূপে কর ত্রাণ ;
এ মা দুর্গা শিবা ক্ষমাধাত্রী, স্বাহা স্বধা কালরাত্রি,
ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর স্বরূপিনী। ৮
আনিয়াতেতালা।
গিরি এই কি আমার সেই উমাধন।
এ যে দশভুজা মহাতেজা কেশরী’পরে আসন।
পদতলে একি দেখি, কুটী কুটিল আঁখি,
অর্ধেক মহিষ দেহ, অৰ্দ্ধ দানব ভীষণ।
উমা আমার সরল মেয়ে, কার কাছে এ কুহক পেয়ে,
শিরে ধরে শশীকলা, করে ধরে প্রহরণ।

ফুল-মালিকা।
৭
মরি একি অসম্ভব, সুরগণে করে স্তব,
কোথা পেলে এ বিভব উজ্জ্বল মণি ভূষণ।
বুঝিতে যে নাহি পারি,
এই কি ভিখারী-নারী,
আবার দেখি উমার মত,
অঙ্গেরি সেই চারু গঠন।
সেই ত হাস্য বদনা,
তেন্নি ধারা ত্রিনয়না,
আনন্দদায়িনী আমার,
হৃদয়ের অমূল্য রতন। ৯
ললিত-তাল আড়া।
প্রফুল্ল কমলাসনে, কে রূপসী বসি হায়।
সুপ্রসন্না মুখে হাসি তড়িৎ খেলায়।
নীলাকাশে মেঘমালা, মুক্তকেশী শােভে বালা,
শিরে আধ শশীকলা, ঝলকে প্রভায়।
মহামােদে মাতােয়ারা, আপনি আপনাহারা,
সাকারা কি নিরাকারা বুঝা নাহি যায়।
চৈতন্য কুপিনী শ্যামা, ত্রিভুবনে অনুপমা
কিবা শােভা মনােরমা, ঐ রাঙ্গা পায়। ১০

স
ফুল-মালিকা।
অহং-একতালা ।
আমি,—সকল হারা হয়ে মা তােমার আশ্রয়ে,
শরণ নিলাম ভৰ ভয় হারিণী।
য় দাও মা অভয় দান,
শ্রীচরণে স্থান
পাই যেন বরাভয়দায়িণী ।
গত স্মৃতি যত, স্বপনের মত,
ক্ষণে ক্ষণে মনে জাগে জননী ;
তাইতে সৰ্বমূলাধার,
শ্রীচরণ তােমার,
চিন্তিতে না পারি অচিন্ত্যরূপিনী।
এখন--এই অভিলাষ, হও মা প্রকাশ,
এ দীনের হৃদয়ে দীনতারিণী ।
আর করাে না বঞ্চনা, ভ্রমে ভুলায়াে না,
দুখ–দিও না দিও না দুখবারিনী। ১১
ললিত-তাল অাড়া।
ইচ্ছাময়ী এ মা তারা,
এত কি তাের মনে ছিল
হরিয়ে সর্বস্বনিধি, তবে কি তাের সাধ পুরিল।
শুনেছি মা তােমার নাম,
মঙ্গলে ! মঙ্গলধাম,
অধমের, প্রতি বাম, কেন হইলে ?

ফুল-মালিকা।
।
দয়াময়ী দুখহরা,
পতিতপাবনী তারা,
করুণা-নিঝর তব, সহসা কি শুকাইল। ১২
ললিত-আড়া।
অবােধ সন্তানে তারা! ছলনা করিবি কত।
বিষয়ের বিষরাশি, মিঠে কেন লাগে এত ।
যােগে শােকে জ্বর জ্বর, দুখে দগ্ধ কলেবর,
হ’তে হয় ইতমান, পদে পদে মর্মাহত।
অনলে পতঙ্গ যেমন,
বিষয়েতে হই নিমগন,
ছাড়িতে প্রাণ করে কেমন দীর্ঘ কয়েদীর মত।
লাঞ্ছনা গঞ্জনা স’য়ে, বিষাদের বােঝা বয়ে,
মােহপাশে বদ্ধ হয়ে হ’লাে মা জীবন গত ।
যত ভােগ ভােগাইলি, এখন খুলে দেমা চক্ষের ঠুলি
নিজের বিষয় চিনে নিয়ে সাধনেতে হ’ব রত ॥১৩
রামপ্রসাদী সুর।
আয় মা আজি সাজাই তােরে।
দিয়ে রাঙ্গা জবা প্রাণ ভরে।
সুবৰ্ণ ভূষণে কি কাজ,
সুবর্ণে সুবর্ণ হারে।

ফুল-মালিকা।
দিলে চঁাদমালা, সাজে কি গলা,
চাদের মালা তাের পদ নখরে ॥
চন্দনে চর্চিত ত্রিদল, দিব শ্রীচরণােপরে।
ত্রিলােচন যে ধন হৃদে ধরে,
দেখব নয়ন সফল কো’রে । ১৪
খাম্বাজ-একতালা।
কে গাে কামিনী, সিংহবাহিনী,
তরুণী তরুণ অরুণ বরণী।
পূর্ণ সুধাকর, মুখ মনােহর,
অধরে সুন্দর, খেলে সৌদামিনী ।
পরিধান চারু লােহিত বসন ;
অঙ্গে শােভা করে রতন ভূষণ ;
নাগ উপবীত কণ্ঠে বিলম্বিত,
ত্রিনয়নী, শশীখণ্ড শিখরিণী ।
চতুর্ভুজে শঙ্খ চক্র ধনুর্বাণ ;
প্রশান্ত মূরতি, অপূর্ব নির্মাণ ;
সমর-রঙ্গিনী, করুণারূপিনী,
বামা নিরুপমা, জগত জননী । ১৫
{

ফুল-মালিকা।
১১
ললিত ঝিঝিট-তাল একতালা।
ভেবে দেখ মন,
দোহে একজন
কালী কালা নহে ভিন্ন।
লীলায় প্রকাশ, মুরতি বিকাশ,
অবােধ জীবের প্রবােধ জন্য ।
কভু মুণ্ডমালা, কভু বনহার,
কভু বান্ধে চূড়া, কভু জটাভার ;
ক্ষণে ধরে অসি, ক্ষণে করে বাঁশী,
ক্ষণেকে (আবার) আকৃতি শূন্য ।
ঘােরা রূপিনী অসুর বিনাশে
মধুর
ভাবেতে
মধুর
ভাষে ;
থাকে কুঞ্জবনে,
কখন শ্মশানে,
শবের হৃদয় করে রে ধন্য।
মানের দায়ে কভু ধরে যােগীবেশ ;
প্রেমধন যাচে ভ্রমে নানাদেশ;
আবার কখন,
বিলায়
অন্নধন,
ঘুচা’তে ভবের দৈন্য ।
অনন্ত মহিম , অনন্ত তার রূপ ;
কে বুঝিতে পারে তাহারি স্বরূপ ;

ফুল-মালিকা।
ভক্তিতে যে ভাবে, যে ভাবে সে পাবে,
এক ব্ৰহ্ম কেবল, নহে রে অন্য । ১৬
কালেংড়া-তাল ঘৎ।
।
নীরব হয়ে রৈলে কেন,
মুনরে আমার কালী বল ।
শমনেরে দিয়ে ফাঁকি, সুখে কালীপুরে চল।
কালী নাম দ্বি-অক্ষর, মধু হ’তে মিষ্টতর,
ত্যজিয়ে বিষয় রস, খাওরে চতুৰ্বর্গ ফল। ১৭
ভৈরবী-ঝাপতাল।
ভজ রে-রজত বিভ নীরদ নিভ সুন্দর।
অজিন পীতাম্বর, শূলধর, গদাধর।
ভজহ মন সুরধুনী-পুলিন-পথচারী;
ভজহ যমুনা-ট-কানন বিহারী;
মৃগমদ চন্দন, বিভূতি বিলেপন ;
অস্থি-ফুল ভূষণ; চন্দ্র চন্দ্রক চূড়।
নাগ-উপবীত প্রেত প্রমথগণ সঙ্গী;
প্রেত-পতিপুর-বারণ দমন নার্গ ভন্থী ।
•

স্কুল-মালিক ।
বৃষভ বৰ বাহন, গরুড়’পরি আসন ;
জটাজালে চরণতলে সুরধুনী-ধারাধর। ১৮
সুরট মল্লার-ঝাঁপতাল।
কুঞ্জ কাননে কে রে, কালো কাদম্বিনী
পদতলে কিবা ছলে, ঝলিছে সৌদামিনী।
ভয়ঙ্করা মনােহরা,
শ্ৰীঅঙ্গে রুধির ধারা,
শশীধরা অসিকরা, ললিত ত্রিভঙ্গিনী।
সুবেশী এলােকেশী বামা, চন্দ্রক কিরীটিনী;
গলে বনমালা দোলে, কটীতে বাজে কিঙ্কিনী'।
লােল রসনা, পীতবসনা, নিতম্বিনী ;
মধুর ভাবেতে ভরা, নহে রণ রঙ্গিনী ॥ ১৯
দেশ-আড়া!
প্রসীদ পরমানন্দ পূর্ণব্রহ্মপরাৎপর ।
পরম সুন্দর হরি, প্রাণেশ্বর প্রেমাকর।
আমি, অকৃতি অকিঞ্চন,
অবিশ্বাসী অধমজন,
দিয়েছি হৃদয়ে স্থান, পাপ অতি কদাকার।
না বুঝে করেছি দোষ, ক্ষমা কর করাে না রােষ,
তােমার আসন তুমি লও নাথ।
আঁধার হৃদয় আলাে কর। ২
২০
২

ফুল-মালিকা।
বেহাগ-ঠেকা।
বিচিত্র যাহার লীলা, শােভার সদন।
কেমন সুন্দর তিনি, কেমন মােহন। এ
কোটী রবি জিনি উজ্জ্বল, কোটী চঁাদের চেয়ে নির্মল
কমল হ’তেও সুকোমল, বিমল বরণ !
কল্পনা করিয়ে মনে সেরূপ পাবে কেমনে,
ভবের অতীত তিনি অপূৰ্ব গঠন।
সেরূপ দেখিবে যদি, ভাব তবে নিরবধি,
গুরুদত্তমূল মন্ত্র, মুদিয়ে নয়ন। ২১
কালাংড়া-পােন্ত।
মণিহার পরবি যদি, মনরে আমার বচন ধর।
জগচ্চিন্তা মনিহার, যতনে হৃদয়েপর।
সুমেরু সম কাঞ্চন,
মনি মুক্তা অগণন,
আসিবে যবে শমন,
তব দোসর।
চিন্তামণি হার যদি, হৃদে রাখ নিরবধি
ঘুচিবে তিমির, পাবে, চিরপূর্ণ সুধাকর। ২২
হবে না

ফুল-মালিকা।
রামপ্রসাদী সুর।
কাজ কি ল’য়ে ঝুলি বঁথা।
যদি থাকে কৃষ্ণ হৃদে গাথা।
কৃষ্ণ কল্পতরু মূলে, বাস কর মন কুতূহলে,
পাবে শান্তি, যাবে ভ্রান্তি, পড়ে থাক যথা তথা ।
বৈরাগী যাহার মন, ভেকে তার কি প্রয়ােজন,
করে সে সমান জ্ঞান
রাজ মুকুট আর নেড়ে মাথা ॥ ২৩
আলিয়া-ঝাপতাল।
কিরূপ ভাবিব তব, হে অনন্তরূপধারী।
দৃশ্য কি অদৃশ্য যত, স্বরূপ সব তােমারি ।
নীলানন্ত নভস্তল,
তােমারি বিহারস্থল, ।
অনাদি অব্যয় কাল, তব অনুচারী।
কভুভাবি চতুর্ভুজ, শঙ্খচক্র গদাধুজ,
কিরীটী কুণ্ডল ধর, বনফুল মালাধারী।
নবীন জলধর আভা, পীতাম্বরে তড়িৎ প্রভা,
শ্রীচরণে চারু শােভা, প্রাণ অনােমােহকারী। ২০

ফুল-মালিকা
t
লুম্ ঝিঝি-আড়া।
মনে করি তােমায় ভাবি,
ভাবিতে আর পারি কই ?
অনর্থ অর্থের লাগি, পরমার্থ ভুলে রই ।
অন্তরেরি অভিলাষ, করে সদা সুখ বিলাস,
জানে না দারাত বিনা, ভাবে না বিভব বই।
দশটী ইন্দিয় তায়, মনেরি মন জোগায়,
তাদের বাসনা, আমি, মায়া পাশে বদ্ধ হই।
নিজ গুণে যদি হরি, দেহ মায়া ছিন্ন করি,
তবে আর আমার মন,
ভাবিবে না তােমা বই। ২৫
সুট মল্লার--একতালা।
কেন মায়া কর ঐ সংসারে।
কায়াধারী জীব, ছায়া বাজী প্রায়,
বান্ধা আছি কৰ্ম্ম ডােরে।
যে সাজে যে জন, নাচ এই ভবে ;
বাজী সাঙ্গ হলে আর নাহি রবে ;
দেহ খানি কালের ঝাঁপিতে ভরিবে ;
চঁদের হাট যাবে স’রে।

০
ফুল-মালিকা।
বাস গৃহ আর বিপুল বিভব,
পড়ে রবে যবে হইবে নীরব ;
কোথায় রবে তখন আত্মীয় বান্ধব,
সুখ সাধ ফুরাবে রে।
এসংসার সদা শােক দুঃখ ময় ;
সুধা সনে হেথা বিষ মিশে রয় ;
চারি দিকে দেখ শমনের জয় ;
বিপদ ফেরে দ্বারে দ্বারে।
দু’দিন বাদে সবে যাবে পরলােকে ;
চির দিনের বাস নহে ইহলােকে ;
পরলােকে পরব্রহ্মের আলােকে,
থেকো’রে পুলক ভরে। ২৬
পিলুমি--খেমটা।
আকাশের ঝোলার মাঝে,
দেখেছ কি নামের মালা।
নিশাকালে নিরাবিলে,
জপ কর তাই মনরে ভােলা।
অনন্ত উজ্জ্বল গুটী,
এক সূত্রে আছে গাঁথা;
চক্ষের দেখায় হয়রে জপা,
মন যদি না হও
উতালা।

ফুল-মালিকা।
হরি নামের আসল মালা ;
নকল, চোখে যায় না দেখা
প্রেম নয়নে দেখ দেখি,
হরির কত’ লীলা খেলা। ২৭
কানেড়া বাগে-একতালা।
এ্যম্বক ত্রিশূলপানি, ত্রিপুর মথনকারী।
গিরীশ, গিরিজা নাথ, গঙ্গা জলধারী ।
পিণাক-পণ্ডিত প্রমথ-বেষ্টিত, প্রেত ভূমিচারী।
জটা পিঙ্গল, কণ্ঠে গরল, বহ্নি ভাল, নাগহারী ।
বাঘস্বর ধারণ, ঘাের ধূবরণ, পাবন ;
বৃষভ বাহন, প্রসন্ন বদন, শঙ্কর, ভববারী । ২৮
কি বলে
ললিত-আড়া।
ডাকিব তােমায়,
কি সম্বন্ধ
তােমার সনে।
লীলা রসময় হরি! মরি তাই ভেবে মনে।
অতুল ঐশ্বৰ্য্য দেখি,
প্রভু প্রভু বলি ডাকি,
কর জোড়ে চেয়ে থাকি, কাতর প্রাণে ;
কভু দেখি পিতার মতন, করিতেছ অভাব মােচন,
বিপদ বারণ কর,
করুণা দানে ।

ফুল-মালিকা
তােমার অপার স্নেহ,
অনুভব করি কেহ,
মা বলে ডাকে তােমায়, সরল মনে,
ভাল বাসা ভাবি যত, প্রিয় সখাটীর মত,
প্রাণের কথা বলি কত, রাখি না গোপনে।
শান্ত শুদ্ধ শিবরূপ, স্বপ্রকাশ সৎস্বরূপ,
চিদানন্দ ময় ব্রহ্ম, বলে সকলে ;
আমি কিন্তু অকস্মাৎ, বলি তােমায় প্রাণনাথ,
চাহে চিত অবিরত, প্রেম মুখ পানে। ২৯
আলিয়া-ঝাপােল ।
পড়া পাখী হওরে মন, ডাক রাধা কৃষ্ণ বলে।
বিষয় পিঞ্জরে মিছে, বঁধা আছ কুতূহলে।
কটু তিক্ত যত ফল, তাই খেয়ে থাক’ কেবল,
মিঠে বুলি শুনাও যদি, দিব মিঠে ফলতুলে।
এতদিন আমি তােরে, কতই যতন করে,
পড়ালেম প্রাণ ভরে, সব কি গিয়েছ ভুলে ?
শুনিয়ে মধুর নাম, হইব সফল কাম,
রাধা কৃষ্ণ রাধা কৃষ্ণ, বল বল প্রাণ খুলে। ৩০
ব

२०
ফুল-মালিকা
ভৈরব-কাওয়ালী।
একি ভ্রম ওরে মন! ভ্রমে ব্ৰজের উদ্দেশে,
এই ত তােমার সেই ব্রজধাম।
নয়ন মুদিয়ে দেখ রাধা শ্যাম।
হৃদয় কদম্ব মূলে,
প্রেম যমুনার কূলে,
নিভৃত নিকুঞ্জে, বঙ্কিম সুঠাম ।
অশাগিরি গােবর্ধন, হরি সদা করে ধারণ,
কলুষ কালিয়দমন, অবিরাম।
মহামােহ আবরণ, মােচন বাহরণ,
শ্রদ্ধা ভক্তি সখিগণ সুললাম।
সেই মহা রাসােৎসবে, মাতরে মন অনুভবে,
অনুরাগ রজঃ মেখে হওরে নিষ্কাম। ৩১
ললিত ঝিঝিট-ঝাপতাল।
কঠিন পাষাণে কেন, ঝরেরে নিঝরিণী।
এ পােড়া পরাণে একি, দেখি প্রেম প্রবাহিনী।
দারুণ সন্তাপানলে, জ্বলে মরম নিশিদিন ;
মরুভূমি হয়েছে হৃদি, নীরস তৃণ বিহীন ;
তরুণ তরুরাজী আজি হাসিছে সহ সরােজিনী ॥৩২

ফুল-মালিকা।
সােহিনীবাহ-বাপতাল ।
ভুবন পালক দেখ, বালকরূপে বিরাজে।
গােলকের শােভা কিবা, হয়েছে ভূলােক মাঝে ।
জগতের পিতা যিনি, তিনি ঐ তনয় হয়ে,
নাচে হৃদয় অঙ্গনে, চরণে নূপুর বাজে।
পাতিয়ে কমল করে, আধ আধ মধুস্বরে,
খেতে চায় ক্ষীর নবনী মিশিয়ে শিশু সমাজে ॥
কেনরে অবােধ মন, হের না ঐ মনােহরে।
প্রাণ মন ক্ষীর ননী, দেহরে রাখালরাজে ॥ ৩৩
সুরট মল্লার-ঝাতাল।
ভানু মণ্ডলে বসি কালো শশী কেগাে ওই।
কত শত মরকত, প্রভাতে হয় পরাজয়ী।
কিরীটি
কুণ্ডল হারে,
শােভে
শ্যাম কলেবর,
আসন অরবিন্দবর, বসন পীত প্রভাময়ী।
শঙ্খ চক্র পদাঙ্কুজ, শােভে চারু চতুর্ভুজ,
অভয় চরণ তলে, শরণাগত যেন হই। ৩৪

২২।
ফুল-মালিকা।
গৌড় সারঙ্গ—আড়াঠেকা।
মনােমােহন শ্যামে দেখারে ।
সে আমার সর্বস্বনিধি, দেখায়ে প্রাণ বাচারে ।
মরিহে বিরহে তার, হারাই নয়ন ;
বলে দেরে সে ধন কোথারে। ৩৫
আলিয়া-তাল যৎ।
শুনহে ত্রিভঙ্গ শ্যাম, এত রঙ্গ কি কারণ।
নাই কি আর দাড়াবার স্থান,
বিনে সেই কদম্ব কানন ।
কালিন্দির কালাে জলে, শ্যাম তমালের তলে,
কালাে জলধর জালে, যেওনা যেন কখন।
পীত বসন রহে টাকা, ঢাকা থাকে নয়ন বাঁকা,
বনমালা শিখী পাখা, নিশিতে মিশে বরণ।
তোমার যেমন লুকান স্বভাব ;
দেখাব’ শ্রীরাধার প্রভাব ;
কালাে ঘুচে গৌর হবে, রাহুরে চঁাদ করবে গ্রহণ।

ফুল-মালিকা।
মুলতান-একতালা।
কে গৌরবরণ, লাবণ্যমােহন,
নাচে সুরধনী তীরে।
মুখে হরিবােল হরিবােল উচ্চৈঃস্বরে ॥
শীত বাতে যেন, কাপে ঘন ঘন,
হাসে কাদে ভূমে হয় অচেতন,
মধুর মূরতি প্রসন্ন বদন,
কেন ভাসে আঁখিনীরে ।
চারিদিকে ঘন হরি হরি ধ্বনি ;
প্রেমে মাতােয়ারা সেই দ্বিজমণি ;
নারীগণে তাহে দেয় হুলুধ্বনি;
আনন্দে হয়ে অধীরে।
চিনিতে না পারি, এ যে কোন জন ;
বুঝি প্রেমদাতা, পতিত পাবন ;
মহা ভাব রসরাজে সম্মিলন ;
হয়েছে এক শরীরে। ৩৭
খাম্বাজ-আদ্ধা।
দেরে সখি দেরে এনে, প্রাণের বঁধুয়া মাের
আসবো বলে গেছে চলে, আমার সেই মনচোর।

২৪
ফুল-মালিকা।
মিলন চঁদনী রাতি, জ্বালিনু সাঁঝের বাতি,
হ’তে প্রহর আধ, হ’লল সুখ নিশি ভাের।
শ্যাম আমার পূর্ণশশী, আমি শ্যামাদের দাসী,
সুধাপানের প্রয়াসী, হয়েছি চাঁদ হারা চকোর ॥ ৩৮
সিন্ধুভৈরবী-মধ্যমান।
সােণার কমল কেন ধুলায় ধূসর।
নয়ন কমলের ধারায়, হয়েছে মান সরােবর।
হেম কাদম্বিনী কিবা, বরষিছে নিশিদিবা,
খেলে যে বিদ্যুৎ বিভা, সে ত এই রূপের দোসর
অভিমান হুতাশনে, দহিছে কোমল প্রাণে;
তাই নিরিণী স্নানে, স্নিগ্ধ করে কলেবর।
সুখায়েছে চাদমুখ, মনে কি হয়েছে দুঃখ,
কে এমন পাষাণ বুক, দেখে স্থির থাকে অন্তর॥৩৯
সাহানাযৎ।
সখি কি হলাে আমার আর প্রাণ বাচে না
শঠেরে সপিয়ে মন, মন তার পেলেম না ।
কালােরূপ ভাবি, আমি কালাে বৈ জানি না
কুটিল কালিয়া তবু দেখা যে দিল না।
কত কাল গেল, কাল বরণত ভুলি না। ৪৭

স্কুল-মালিকা।
পাহাড়ী পিলু-তাল জল একতালা।
মানে আর থাকিসনে রাই।
চেয়ে দ্যাখ শ্যামের পানে।
ও মুখ দেখে মান কি থাকে,
দূরে যায় মান মানে মানে ?
কাঁদো কাঁদো চাদ মুখ,
দেখে ফেটে যায় বুক,
তুই কি আজ বেন্ধেছিস বুক ,
দিয়ে কঠিন পাষাণে। ৪১
বহাগ-ভেতল।
কেন সখি আমারে আর, বল রাধারাণী ।
'হারা হয়ে কৃষ্ণধনে, এখন আমি কাঙ্গালিনী ।
আর কি আমার আদর আছে,
গেছে শ্যামের পাছে পাছে,
এসােনা আমার কাছে, আমি হয়েছি দুঃখিনী ।
ছিলাম প্রেম রাজ্যের রাণী, মানিনী গরবিনী
হ'লেম বিচ্ছেদের অধিনী, উন্মাদিনী।
কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে, ভাসিব নয়নের জলে,
রহিব কালিন্দিকূলে, একাকিনী অনাথিনী ॥ ৪২

স্কুল-মালিকা।
আশাব-মধ্যমান।
যাবে যদি প্রাণ বঁধু ! এক বার ফিরে চাও ।
তােমার হাসি ভরা মুখশশী, দেখিয়ে মরিতে দাও।
তুমি চড়েছ যেরথে, পড়ে থাকি তাহার পথে,
বিধুরা অবলা কুলে, দলিত করিয়ে যাও।
সারথি তব অক্রর, তুমি যে বিষম জ্বর,
ভালবাসা করলে দূর,
সেই কথটী বলে যাও।
কুটিল কটাক্ষ বাণে, বিন্ধেছ কোমল প্রাণে,
বিচ্ছেদেরি হুতাশনে, দহিয়ে কি যেতে চাও। ৪৩
সিন্ধু খাম্বাজ-কাওয়ালি।
যেওনা যেওনা ছেড়ে শ্যাম।
কি দোষ গেলে,
নিদয় হলে,
অধিনীগণে;
কেন নাথ হ'লেহে বাম ।
অনুদিন সেবিব আশা মনে ;
হৃদে ধরিয়ে, শ্রীচরণে;
হ’লনা হ’লনা, সাধ পূরিল না,
পায়ে ধরি, যেওনা হে শ্যাম ॥৪৪

ফুল-মালকা।
কালেংড়া-তাল জং-কম্বা পাস্তা।
তপ করি কি হবে বল । তপ করি কি হবে বল।
নাম চিন্তামণি কৃষ্ণ, ন ম ল য় ব্ৰজে চল।
কলিকালে নাম সাধন, নাম প্রেম প্রয়ােজন,
জপ তপ যজ্ঞান, নহে নাম ম ফা।
মহাতীর্থ কৃষ্ণ নাম, নামে সদা গঙ্গা স্নান,
মহাযােগী সদাশ, নাম গানে বিহ্বল। ৪৫
লুম ঝি ঝি-একতালা।
বন মাঝে, গোঠের সাজে, কেরে শিশু শ্যাম’কায়।
ধােপর চূড়া বান্ধা, নূপুর বাজিছে পায়।
বন মালা দোলে গলে, মোহন মেনু করকমলে,
অঙ্গে চন্দন মাখা, অধর দামিনী খেলায় ।
দশ ভুজার কোলে বসি, হানি মুখে কালােশশী,
সে রূপসৗর কর হ’তে, ক্ষীর সর ননী,খায়।
মধুর লাবণ্য তার, হেইতে চমৎকার,
এহেন সন্তান যার, সেকি আর অন্য চায় ।। ৪৬
জয়-পতল।
এই কিরে সেই শিশু, কঁচা সােণার বরণ।
নব জলধরূপে, মোহিত যে ত্রিভুবন।

ফুল মালিক।
সেই বদনকমল,
সেই কুটিলকুন্তল,
তেম্নি ধারা টানা টানা বাঁকা দুটী নয়ন ।
যে শিশু ব্রজমণ্ডলে, যশােদায় জননী বলে,
ননী খেত কুতূহলে এই বুঝি সেই জন ৷
চঞ্চল স্বভাব অতি, যে ডাকে তার সনে প্রীতি,
প্রহলাদের হয়ে সাথী, বিষন্ন করে ভােজন। ৪৭
ললিত----তাল খেমটা
নবকোমল দূর্বাদল শ্যাম
রামরূপ হেরিতে নয়নারাম
মুকুতা রতন, অঙ্গেতে ভূষণ,
করেতে ধনুক বাণ ।
অযােধ্যা ভবনে, রাজ সিংহাসনে
বিরাজিত গুণ ধাম ।
বামভাগে সীতা যেন বিদ্যুল্লতা
কণক কান্তি সুঠাম ।
যুগল মূরতি, হেররে নয়ন,
বৃদনে বল রাম নাম। ৪৮

ফুল-মালিকা।
২৯
সুট-ঝাঁপতাল।
বৃষভানু নন্দিনী, রমণীর শিরমণি,
স্থির সৌদামিনী জিনি, সুবিমল বরণী
পরিধান নীলসাটী,
ভূষণ অতি পরিপাটী,
রজত কাঞ্চন মণি, মুকুতার গাঁথনি।
মৃগাঙ্ক মণ্ডল মুখ ;
মৃগমদ তিলক ;
মৃগরাজ জিনি কটী মৃগশাবক লােচনী।
কিশােরী কোমলাঙ্গিনী,
হলাদিনী রস রঙ্গিনী,
মহাভাব স্বরূপিনী, বৃন্দাবন বিলাসিনী। ৪৯
•
আশা-ঠুংরী।
রাসমণ্ডল মাঝে নাচে বংশীধারী।
করে ধরে প্রাণ বঁধু তালে তালে,
সুখে নাচে রাধা প্যারী।
আনন্দে মগনা, নাচে ব্রজাঙ্গনা,
ঘিরি ঘিরি বনােয়ারী ।
গোপিনী সকলে, ধরি কর কমূলে,
শ্যাম সুন্দর সাথে সবারি ।

ফুল-মালিকা।
কণক কমল কানন মাঝারে,
ভ্রমরা যেন সারি সারি ।
মধুর বৃন্দাবনে, মধুর মিলনে,
কিবা শােভা মনােহারী।
কালেংড়া--তাল জৎ।
কবে আমার সেদিন হবে,
যাব মধুর বৃন্দাবনে।
নিভৃত নিকুঞ্জ মাঝে
দেখব রাধা শ্যাম ধনে ||
বিষয় সুখ ত্যজ্য করি, ব্ৰজের বনে বনে ফিরি,
জয় রাধে গােবিন্দ বলি, ডাক্ব আনন্দিত মনে।
কবে গিরি গােবর্ধন,
করব আঁমি প্রদক্ষিণ,
কবে, রাধারাণীর দয়া হবে,
হেরিব তার সখীগণে ॥ ৫১
বিভাধ-একতালা।
কিখেলা খেলিলে, কি লীলা দেখালে,
লীলা সময় হরি জগৎপতি।

ফুল-মালিকা।
চারু শোভা, কর, পূর্ণ সুধাকর,
পলকে মলিন হইল অতি ।
ছিল, রজত কিরণে ভূষিত গগন,
হাস্যময়ী নিশি আমােদে মগন,
কোথা হতে কাল ছায়া সুভীষণ,
আসিল উন্মাদ অসুর আকৃতি ৷
ক্ষুদ্র প্রাণী যেন গ্রাসে অজাগর,
শশধরে ধরে ছায়া ভয়ঙ্কর,
খণ্ড মাত্র শেব ৱৈল কলেবর
গেল গেল শশী শীতল জ্যোতি।
কতক্ষণে পুনঃ দেখি সেই চাঁদ,
উজ্জ্বল বিমল চল চল ছাদ,
পলাইয়েছে দূরে, রাহুরূপ ফাঁদ,
তােমার চক্র বিনে, কার শকতি
পুন্যময় হরি! তুমি প্রেমময়,
তৰ লীল। খেলা সব মধুময়,
বিশ্ব মাঝে ঘেযে, তব নামের জয়
দেখে শিখে না বুঝে না, এই মূঢ়মতি। ৫২

৩২
হরি ভর মার;
এভৰ স'; তে, কর মােরে পার ।
তরঙ্গ দেখিয়ে ঈর, পেয়েছি হে দয়াময়,
এ সময় হ’থে সদয়, করহে নিস্তার।
দীনবন্ধু তুমি হরি, ভব কর্ণধার ॥ ৫৩
খাম্বাজ-তাল অড়খেষ্টা।
নীলাকাশে, স্থির বাতাসে,
বেড়াই ভেসে, আয় রে মন!
উধাও অনন্ত পথে, করি বিচরণ।
কালাে কালো মেঘেরি গায়, যেখানে চপলা খেলায়
আয়রে ত্বরা করিয়ে আস, দেখিব সে শােভা কেমন।
চঁাদের কিরণে দিয়েরে সাঁতার,
জ্যোতিঃ মাখিব সাঁঝের তারার,
জুড়া’ব প্রাণের জ্বালা অামার,
করিব ইন্দ্র ধনুক ধারণ।
প্রভাতে অরুণ উঠিবে যখন,
স্বর্ণময় স্তম্ভ করিবে সৃজন,
।

ফুল-মালিকা।
সেই স্তম্ভে আমি করি আরােহণ,
দেখিব সুন্দর তরুণ তপন ।
দুই বনা আর এই ভূমিতল,
পবনের সনে খেলিব কেবল,
মাটিতে কি যেন রয়েছে গরল,
দূরে দূরে তাই করিব ভ্রমণ । ৫৪
সুর-~-একতালা ।
মন চল সেই ব্রজধামে।
ীর সমীরে,
যমুনা তীরে
দেখবে রাধা শ্যামে।
বসন্তের চির বিহার কানন,
কৃষ্ণলীলা ভূমি মধুর বৃন্দাবন,
অপরূপ ছাদ, শােভে কালাচাদ,
শ্রীরাধারে লয়ে বামে ।
সারি শুক পক কৃষ্ণ নাম গায়,
কৃষ্ণগী * মলয়ের বায়,
কৃষ্ণনাম ... যত তরু শাখা,
কৃষ্ণঃ ফুল দামে।

৩৪
ফুল-মালিকা।
ব্রজবাসীগণের মুখে কৃষ্ণনাম,
কৃষ্ণ সেবা বিনে নাহি অন্য কাম,
কৃষ্ণ প্রিয়জন, কৃষ্ণ পরম ধন,
বিভাের কৃষ্ণ প্রেমে ৫৫
বেহাগ-গুণ যৎ।
দয়াল গৌরহে! কেন প্রিয়ায় কাঁদালে।
অবলা সরলা বালায়, দুখনীরে ভাসালে।
পরিহরি পট্টবসন, করিলে কৌপীন ধারণ,
দণ্ডকমণ্ডলু ধরি, কেন কেশ মােড়ালে।
বল বল কি বিরাগে, অথবা কার অনুরাগে,
উদাসী-সন্ন্যাসী হয়ে নদে আঁধার করলে।
ত্যজ্য করি ধন জন,
বিলাইছ প্রেম ধন,
কাঁদিয়োদায়ে বুঝি, জগত্তারণ করলে। ৫৬
পর-একতালা।
কত লীলা কর হরি।
কখন কিরূপ, কেজানে স্বরূপ,
ভাব যে বুঝিতে নারি ।

ফুল-মালিকা।
কভু শুক্লকায়, তপস্যা শিখায়,
বক্তবর্ণ হয়ে যজ্ঞ করায়,
কৃষ্ণমূৰ্ত্তি সেবা পদ্ধতি দেখায়,
গৌররূপে হরি নাম প্রচারী। ৫৭
সাহানা-ঝাঁপতাল ।
কালিন্দি সলিল মাঝে, নীলকমল ফুটিয়াছে।
কণক কমল তাহে, সারি সারি ঘিরিয়াছে ।।
দেখে অপরূ* শোভা, মধুকর মনােলোভা,
বাঁকে বাঁকে অলিকুল, আমােদে ধেয়ে আসছে।
মরি কিবা শোভা হেরি, শ্যাম মালে বেড়ি,
স্বর্ণলতা থরে থরে, ফুটিয়ে রয়েছে ।
গগনে কালো মেঘ কোলে, দামিনী কামিনী খেলে,
অথবা কি স্বর্ণ হরে, নীলমণি গাঁথিয়াছে। ৫৮
কানেড়া মিশ—তা ঝাপতাল।
জয় জয় জগন্নাথ প্রভুজীকী জয়
নীলাচলে দারুব্রম মরি কিবা শােভাময় ।
চতুৰ্বহ রূপ ধরি, রতন বেদিকা’পরি,
আচণ্ডালে শুচী করি, ভুঞ্জ রাজভােগচয়।

৩৬
ফুল-মালিকা।
জয়বুদ্ধ অবতার, স্বরূপ মাত্র ওঁকার,
জয় জয় মহারাজ, জয় দেব বিশ্বময় ।
গভীর গর্জন করি, কাপাইয়ে নীলগিরি,
তরঙ্গের তালে সিন্ধু, গায় তব নাম জয়। ৫৯
C
৫
সুর-ঝাপতাল।
হরিপদ বিহারিণী, কলিকলুষ হারিণী,
জলব্ৰহ্ম স্বরূপিণী, এমা! গতিদায়িনী।
হিম গিরীন্দ্র নন্দিনী, শিব বিরিঞ্চি বন্দিনী
প্রেম ভক্তি প্রবাহিনী, নিস্তার কারিণী ।
সুশীতল বারিধার, ভারতের কণ্ঠহার,
কি জানি মহিমা তােমার, পতিত-জন-পাবনী
অন্তে যেন তব জলে, ভাসি মাগো কুতূহলে,
রসনাতে গঙ্গা বলে,,শমন-ভয়-বারিণী ॥ ৬০
কীর্তনংঙ্গ-তাল লােভা।
সখিরে !
যমুনার তীরে, কেগাে ধিরে ধিরে,
বাঁশিতে গায়িছে গান।
সুমধুর স্বরে, মন চুরী করে
আকুল করিছে প্রাণ ।

ফুল-মালিকা।
৩।
একি অসম্ভব,
সে বাঁশির রব ,
শুধুই আমারি নাম।
লামিবৈ কি তার, কেহ নাই আর,
এই বৃন্দাবন ধাম।।
বলগাে তাহারে, কেন বারে বারে,
আমারে পাগল করে।
আমি,-যাইতে ত চাই, মনে ভয় পাই,
আর না ফিরিব ঘরে।
কালিয়া বরণ, মেঘের মতন,
সেই যে নাগর রায়।
অতি যতনের, কুলগিরিবর,
ভাঙ্গিবে বজর ঘায় ।
কুরঙ্গিণী সম, বিন্ধিবেক মম,
মরম কটাক্ষ বাণে।
যাইব জলে, করমের ফলে,
পরাণ সহিত টানে। ৬১
আলিয়'-ঝাঁপতাল।
শ্মশান-বৈরাগ্যরূপা, মহামোহ বিনাশিনী।
চিন্ময়ী চিদঘনকায়,
চৈতন্য প্ৰদায়িনী ।

ফুল-মালিকা।
নিরাকার ভয়ঙ্কর, প্রখর দিগম্বর,
পঞ্চাশৎ বর্ণমালা মুণ্ডমালিনী।
অঙ্গে আদি বীজ মাখা, রুধির সমরক্তিম, ৩
ভানুশশী কৃত্রি নয়নের ভঙ্গিমা ;
উন্মাদ প্রকৃতি সতী, মহাকাল সনে রতি,
আনন্দে অধীরা সদা শ্মশানালয় বাসিনী।।
জ্ঞান অসী করে ধরা, নিরালম্ব স্বতন্তরা,
চিকুর ঘন অন্ধকার, দশন ছটা দামিনী।
অহঙ্কার বলিদান দিয়ে ভত্তি উপহারে,
পূজিলে প্রশান্ত বামা, বভয় দেয় তারে;
কৰ্ম্ম পাশ করে নাশ, ঘুচায় তার ভবের বাস,
রাখে শান্তি নিকেতনে, কালী কুলুষ নাশিনী। ৬২
শঙ্করা--আড়া।
কি দিব বসিতে তােমায়, কি আছে সম্বল।
সবে মাত্র আছে আসন, হৃদয় কমল।
এস হরি বৈস তথায়, বিকাইব রাঙ্গা পায়,
থােয়াইব শ্রীচরণ, দিয়ে নয়ন জল। ৬৩

।
ফুল-মালিকা।
কানে মিশ্র--একতালা ।
বিশদ বসন,
মুকুতা মণি।
অমল ধবল, কমল আসনে,
ধবল বরণা কে গো ধনি
কুন্দ কুমুদ ইন্দু প্রতিমা,
শঙ্খ তুমার জিনি লাবণি ।
শ্বেত ভূষণ,
রজত হীরক,
জিনি গঙ্গাজল পবিত্র তরল,
জ্যোছনা মাখন, সুধার খনি।
বীণা যন্ত্র করে, সুমধুর স্বরে,
গায় যত রাগ, যত রাগিণী ।
সিদ্ধ ঋষিগণ, করছে স্তবন,
উঠিছে চৌদিকে, ঘন ৰেদলনি।
করুণ। কিরণে, মানবের মনে,
জ্ঞান কুসুম, ফুটাও অপিনি।
নারী বরা, বিদ্যারূপ ধরা,
সারদা বরদা, শুভদারিনী ॥ ৬৪
ললিত-ঝাঁপতাল।
মদন সুখদা কুঞ্জে, বিরাজে কার কামিনী।
রূপ হেরি লুকায় লাজে, চপলা সৌদামিনী।

ফুল-মালিকা।
নীল বসন পর নীলাকাশ যেন সাজে ;
তারকাবলী খচিত তাহে রচিত মুকুতা মাঝে ;
রূপ নয় রসের খনি, অভরণে জ্বলিছে মণি, ,
বেণী বিলম্বিত যেন দুলিছে কালফণিনী।
নবীনা কিশােরী বামা, নয়ন শফরী সমা
মুখল নিরুপমা, মৃদুহাসিনী।
সিন্দুর চল চুয়া, কপালে তিলক লেখা ;
কস্তুরী কুঙ্কুম অঙ্গে, চরণে যাবক রেখা ;
কুসুমে ভূষিত তনু, খেলে তাহে কুসুম ধনু,
সুষম প্রেম প্রতিমা, ব্ৰজ-বিপিন-বাসিনী। ৬৫
( কর্তন)—তিওট
হরি হে! কৃষ্ণ হে! কা বংশীধারী;
দেখা দেও হে শ্রীহরি ।
আড়া তাল।
ভুবন আলাে কালােরূপ, নয়নে হেরি ॥
হৃদি বৃন্দাবন ধামে, ললিত ত্রিভঙ্গ ঠামে,
পঁড়াও একবার লয়ে বামে,প্রেমময়ী কিশােরী।
দশকুশী।
বড় সাধ আছে মনে, মধুর শ্রীবৃন্দাবনে গাে,
হেরিব যুগল মাধুরী ;

ফুল-মালিকা।
৪১
আমি—শ্রীপদে বিকাইব, দাস হইয়ে র’ৰ,
হইব প্রেম ভিখারী।
আড়া।
সংসারেরি জ্বালায় জ্বলে, শীতল একবার হ’ব বলে,
লয়েছি নাথ চরণ তলে, শরণ তেঁাহারি। ৬৬
(কীৰ্ত্তন-আড়া।
জয় রাধে! জয়রাধে! শ্রীরাধে । এ!
ঐ দ্যাখ কিশোরী! নবঘন শ্যাম।
ভুলিসনে, দেখে বাঁকা ঠাম।
শুনিয়ে যার বাঁশরী, চিত্র পটে যারে হেরি,
আকুল হলে প্যারী, ঐ দ্যাখ সেই হরি,
জিনি কোটী কাম। ৬৭
বাহার—তাল ধামাল।
জয় নারায়নানন্ত, জয় শ্রীবৎস-লাঞ্ছন।
মমুর নরক কংসার মর্দন।
নমস্তে কালিয় হর, রক্ষবংশ ধ্বংস কর,
শঙ্খচক্ৰ গদাধর, জয় জয় জনার্দন।
সুরসিদ্ধ কিন্নর, গন্ধৰ্ব্ব অপসর,
গায় মঙ্গল গীত, স্তুতি শ্রুতিরঞ্জন ।

४१
ফুল-মালিকা।
শ্যামল সুন্দর বেশ, পীতাম্বর হৃনীকেশ,
শেষ-শায়ী অশেষ দূরিত দুঃখ-ভঞ্জন।
কমলা-লালিত পদ, অভয় অতুল পদ,
ভকতগণ-সম্পদ, কমল-দল-গঞ্জন। ৬৮
বিভাষ—একতলা।
এম শঙ্কুরি। বল কেমন করি,
থাকব তােমায় ভুলে মা শঙ্করি।
এমা এনেছ সংসার, সং করি সার,
তাহার পশার, কিসে সম্বরি ॥
দারা সূত
আর সঙ্গী ধন জন ;
সে সব মায়ার ভঙ্গী, কিবা প্রয়ােজন ;
সাধন সম্বল, সঞ্চয় কেবল,
বাদ সাধে তারা, সময় হরি।
সাধে সকলি বিষাদের ছায়া ;
দুদিন বাদে তাহা লুকাইবে কায়া ;
শমন কিঙ্কর, আসিছে সত্বর ;
কখন লইব, নাম তােমারি। ৬৯

ফুল-মালিক।
। ৪ ৩
পিলু --- পাস্ত।
হরি, বলে ডাকরে মন,
চেয়ে দ্যাখ ঐ বেলা গেল ।
ভবের খেলা শেষ হলে রে !
কালনিশীথিনী এল
খেলাতে যে হয়েছে জয়,
জয় নয় সে পরাজয় ;
জয় লাভ করবে যদি,
জয় জগনাথ ব'ল ৷ ৭০
ত। য~~একতালা।
একি রীতি ভব চমৎকার।
বুঝিতে না পারি, প্রকৃতি তোমারি ;
কি পিরীতে কারে দয়া কর হবি ;
কোন্ গুণে বাধ্য হয়ে বিশ্বারাধ্য,
কখন্ দে ও করে, সেবা আধিকার।
কভু ভূত প্রেতণে সঙ্গে রাখ ;
তাদের সন্তোষে চিত। ভষ্ম মখি ;
কখনো ডাকিনী যোগিনী বর্ণিনী,
নাচে উলঙ্গিনী, যেন উন্মাদিনী ;

৪৪
ফুল-মালিকা।
তাদের সনে সাজ সমররঙ্গিনী,
সুধ পানে মুগ্ন। বিকট আকার ॥
কখনাে আবার ধর মােহন বেশ ;
প্রেম রসে ভাের অনঙ্গ আবেশ ;
মােহিনী মূরতি ব্রজের যুবতী,
পতি ভাবে তােমায় সেবে জগৎপতি ;
কখনো
হও শিশু সুন্দর আকৃতি ;
শিশু সখা সব স্বরূপ তােমার।
কভু মুনিগণ সনে কর বাস ;
কভু বন পশু থাকে তব পাশ ;
বিষ দিয়ে কেহ, পায় তব স্নেহ,
যে জন ভাল বাসে, ছাড়াও তারে গৃহ ;
যে ভাবেতে রাখো; যেন নিঃসন্দেহ,
প্রাণ ভরি তােমায়, ডাকি অনিবার ॥ ৭১
জয়জয়ন্তী-একতালা।
শ্যাম সুন্দর, অতি মনােহর,
বিনােদ নাগর, মদনমােহন,
নবীন কিশাের, পীতাম্বর ধর,
নব নটবর, বংশীবদন ।

ফুল মালিক।
কস্তুরী তিলক শােভিত কপালে ;
চন্দন চর্চিত দ্বিভুজ মৃণালে ;
গলে গজমতি বনমালা দোলে ;
ললিত ত্রিভঙ্গ, শ্রীনন্দ নন্দন।
নয়ন ইন্দীবর, পাকা বিশ্বধর,
শিখী পুচ্ছ চূড়া বেড় গুঞ্জাহার,
কুসুম রতন ভূষণ সুন্দর ;
মধুর মুরতি, রাজীব চরণ। ৭২
সাহনাজ।
প্রেমময়ী কমলিনী, উন্মাদিনী ধেয়ে যায় ।
কুশাঙ্কুর ফোটে কত, কোমল কমল পায়।
চরণে নূপুর ধ্বনি, কঙ্কণের ঝন্ঝনি,
কমল গন্ধে অন্ধ অলি-বৃন্দ গুঞ্জরবে ধায়।
নীলাম্বরে অঙ্গ আভা, যেন তড়িতের প্রভা,
শ্যামজলধর আশে, বন আলাে করে তার । ৭৩
সুরঃ—তাল গোস্ত ।
মন মজরে হরি পদে, হরি বিনে গতি নাই
হরিনাম লয়ে মুখে, সুখে ব্রজে চল ভাই।

{
ফুল-মালিক।
ভেবেছ অন্তিম কালে, ডাকিবেরে হরি বলে,
কফে কণ্ঠ করিবে রােধ, রহিবে বিকলে ;
এই বেলা ডেকে নেরে !
ডাকার সময় আর নাই। ৭৪
ললিত-ঝাপতাল।
ভেবেছ কিরে ভ্রান্ত মন, এ ভব সুখভোগের স্থান।
এযে বিষম পরীক্ষার স্থল, বাসনার শ্মশান ।
কতই সুখ সাধ মনে, উঠে তারা বাজী প্রায় ;
উল্কা তারা সম তার, পলকে মিলায়ে যায় ।
ঝলকে ধাঁধা দেখে নয়ন, না পেয়ে কঁাদে প্রাণ।
হেথা, পদে পদে পরমাদ ; ঘটে বিষাদ অবসাদ,
পরীবাদ বিসম্বাদ ; মন যে করে ব্লান।
কমলে কণ্টক আছে, কুসুমে কীট বাস করে ;
মুকুতা প্রবাল মণি থাকে অগাধ সাগরে ;
রত্ন লাভে যত্ন কর, হয়ে সাবধান। ৭৫
সিন্ধুভৈরবী-তাল আড়াখেষ্টা বা পােস্ত।
বল দেখি, কমলাখি, কমলিনী কি হইল?
কি জন্যে কি পুণ্যে, তােমার,
কালােবরণ, গৌর হলাে।

ফুল-মালিক।
তিলেক বিচ্ছেদ হলে, ভাসিতে নয়ন জলে,
ছেড়ে কেন নদে এলে, ফিরে ব্ৰজপুরে চল।
প্রেমময় তােমায় হেরি, প্রেমময়ী সঙ্গে করি,
বুঝি এক দেহ ধরি, বাহিরে গৌর,
অন্তর কালাে । ৭৬
সিন্ধু-খাম্বাজ-কাওয়ালী।
কেন মন বিষয়ে মগন ।
ােেহবশে কাল এসে, হতেছ পতন।
হায়। একি অসম্ভব, আবার নাহি তব,
গুরুদ মহামন্ত্র, করিতে স্মরণ।
বিষয় কি সঙ্গে তব, করিবে গমন। ৭৭
বেহাগ---তেতালা।
চাহিনা চাহিনা হরি, বিনা তব শ্রীচরণ।
দয়া কি হবে না তবু, কৃপাসিন্ধু দীনশরণ ।
ঐ চরণ তলে প্রভাকর, নখরেতে সুধাকর,
কমলে মণ্ডিত পদের কোমল গঠন।
মধু লােভে দলে দলে ভ্রমে ভক্ত অলিগণ।

৪৮
ফুল-মালিকা।
ঐ চরণ শিরে ধরে’, বলি তোমায় রাখে দ্বারে,
ত্রিলোক উদ্ধার করে, গয়াসুর মহাজন।
ত্রিলােক তারিণী গঙ্গা, লভে ওপদে জনম ||
ঐ চরণে পাষাণ মোচন, কাষ্ঠ তরি হলাে কাঞ্চন,
ওপদ প্রভাবে শমন ভয় নিবারণ।
সাজা’তে বাসনা দিয়ে, তুলসী চন্দন। ৭৮
কাশে ড়--তাল জৎ
যুগে যুগে কত যে জানালে মহিমা মা।
বেদাগমে নাহি পারে, দিতে তার সীমা।
সত্যকালে সতী বলে, ত্রেতায় ত্রিপুরা হলে,
দ্বাপরেতে দুর্গা তুমি, কলিকালে কালী মা।
কখন অসুর নাশ, ঘুচাও সুরগণের ত্রাস,
কভু বিশ্বকর গ্রাস, হয়ে মহা ভীমা।
জুর কর দয়াবতী, ভারতের দুর্গতি,
ঘুচাও সে দীন হীনার, কলঙ্ক কালিমা। ৭৯
৪
জয়জয়ন্তী-ঝাঁপতাল।
এমন পাগলিনী নারী, কেহ কি দেখেছ কোথা।
শােণিত তৃষাতুরা, কাটে যে আপন মাথা।
ছুয়ে

ফুল-গণিকা।
কাচা কোকনদ বরণ, কোমল ননীর গঠন,
তরুণী কি তরুণ তপন, মনেতে লাগেরে ধাঁধা। .
কি কাজে লাজের মাথা খেয়ে,
উলঙ্গিনী হয়েছে মেয়ে,
পাগলের সঙ্গে রৈয়ে, শিখেছে পাগলের প্রথা ?
সঙ্গিনীগণ সেই রঙ্গেতে রঙ্গিনী ;
শাসনা শােণিত পানে উন্মাদিনী ;
নাচিছে সে অবােধিনী, কি যেন ত্যানন্দে মাতা।
নারী হয়ে করিছে দমন, চরণ তলে রতি মদন,
শ্বেতসরসিজাসন, ত্রিকোণ মণ্ডল ভবা।
মাগযজ্ঞােপবীতিনী, মুণ্ডাম্বিয়ালিনী,
বৈরাগ্য স্বরূপিণী, উদার হিমান্বিতা || ৮০
গোর-একতালা।
সাবা আরতি বাজিল সঘনে ;
চল চল যাই শ্যাম দরশনে,
কণক কমল প্যারীজী সনে, বিরাজে রতন আসনে।
জ্বাল দ্বীপ ঘর উজোরি, বর! করিব শ্যামগােরি,
চঁদবদন হেরি হেরি, মুছাইব চারু বসনে

ফুল-মালিকা।
র
কপূর দীপ অতি মঙ্গল, জ্বালহ বরিতে চঁাদ যুগল
আন বারি পূরি শঙ্খ, বিমল,
কুসুম মাল্য অতি যতনে।
সুগন্ধে মােদিত করহ ভবন,
শঙ্খ, ঘণ্টা, কঁাসর নিঃস্বন,
বাজাও মৃদঙ্গ করহ কীৰ্ত্তন,
জয় জয় ধ্বনি হোক গগনে।
হেরি যুগল রূপ মাধুরী,
আনন্দে মাতিবে, মানস চকোরী,
চরণামৃত পান করি, সফল করহ জীবনে। ৮১
মল্লার-একতালা।
মেঘনাদে বাজিছে বাজনা, চপলা চমকে
দীপক জ্যোতিঃ।
উল্কাপাতে আতস বাজী, জ্বলিছে জোনাকী
ঝাড়ের বাতি।
আকাশ ব্যাপিয়া অসীম আঁধার,
নাহিক প্রকাশ একটী তারার,
বাম্ ঝম্ ঝম্ পড়ে জলধার, সো সে।
সমীর শবদ অতি

ফুল-মালিক।
থেকে থেকে যেন কামানের ধ্বনি,
গুড় গুড় গরজে অশনি,
প্রকৃতি সুন্দরী হয়ে উন্মাদিনী,
ধরিয়াছে যেন ভীষণ, মূরতি ॥
এই ত কালিকা করালরূপিণী, এই ত অদ্যা
ত্রিগুণধারিণী, ভবারাধ্যা ভীমা সংহারকারিণী,
ভক্তি ভাবে পদে কর প্রণতি ৮২
ললিত-আড়া।
ঐ শোন ওরে মন, কে ডাকে করুণ স্বরে।
দেখিয়ে জীবের দুখ, তাহার প্রাণ বিদরে।
করুণার অবতার, ঘুচাতে পাপের ভার,
দুনয়নে অশ্রুধার, অবিরাম ঝরে।
যারে তারে বিতরণ, করিতেছে প্রেমধন,
অধম কি মহাজন, সে বিচার নাহি করে।
কি বলে সে শােন শােন, মহামন্ত্র উচ্চারণ,
হরে কৃষ্ণ হরে রাম, বল মন হরে হরে। ৮৩
আলিয়া-ঝাঁপতাল।
পরাধিনী ব’লে কি মা ! হয়ে অছি ম্রিয়মান
ভূমণ্ডলে কোন ভূমি, নহে মা তব সমান ।

ফুল-মালিক।
নদ নদী সুবিমল, অগণিত ফুল ফল,
শস্যরাজী সমুজ্জ্বল, যড় ঋতুর বিধান।
শোভিছে কিরীট শিরে সমুন্নত হিমাচল,
ধােয়াইছে অঙ্গ তব, গঙ্গা যমুনার জল,
সাগর বেষ্টন যেন নীল সাটী পরিধান ॥
নানা তীর্থ সুশােভন, নানা শাস্ত্র আলাপন,
পূজা হােম অগণন, কত যােগী করে ধ্যান।
ভােল-মা মুখ ভারত, ভার মুখ করাে না,
পুণ্য ভূমি তুমি, তব, অভাব কি বললা না,
নাম সঙ্কীর্তনে ধন্য, নহে ভাগ্য পরিমাণ। ৮-৪
পুরবী-একতালা।
স্বপনেরি খেলা, কি এ মায়ের লীলা
বুঝিতে না পারি, কার, ছলনা।
কমল আসনে, বিরজে সঘনে,
কমল কামিনী, হেম বরণা।
চতুভুজ জ ধর, বরাভয় করা,
দ্বিরে কমল, ধরে ললনা।
চতুর্দন্ত চারি, বারণ, ঢালে বারি,
বট ভরি, কেন বলনা ?

ফুল-মালিকা।
ভারত জননী, ধরণীর রাণী,
অভিষেক আজি, হলো ঘােষণা।
হেনরূপ কবে, নয়নে হেরিবে,
অথবা এ সব, সুধু কল্পনা ?
৮৫
সুর ট মার--একতালা ।
কেন,-পরলোকে কর ভয়।
তােমার, পরমাত্মীয়, প্রাণ হ’তে প্রিয়,
পরাৎপর সেথা রয়।
ভেবে দেখ মন পিতা মাতা আর,
কন্যা পুত্র বন্ধু অাদি পরিবার,
অনেকেই তথা করছে বিহার,
পরবাস সে নয়।
হেথা রােগ শোক বিচ্ছেদ যাতনা,
কথা কেবল শান্তি কেবল সান্ত্বনা,
নাহি কোন ক্ষোভ, নৈরাশ্য তাড়না,
সতত আনন্দময় ।
এক মাত্র সূক্ষা যবনিকা পর, গেলে পরে
ঘোচে মনের যত ভার, সেথা পূর্ণ জ্যোতিঃ
এখানে আঁধার, হেথা,পরাভব, সেখানেতে জয়।

ফুল-মালিকা।
জড়ের গুণে হেথা মায়ার বন্ধন, সেথা স্বাধীনতা
সুখ বিলক্ষণ, সচ্চিদানন্দ স্বরূপ লক্ষণ,
সেই ত স্বদেশ হয়।
৮৬
ললিত—থেষ্ট।
ওহে! বিনােদ, নাগর রায়।
হােরি খেলিব মােরা, আজি দুজনায়
ছাড় মােহন্ বেনু, ওহে পরাণ কানু,
নীল কমল তনু হায় !
লালেলাল, হইবে বরণ ঢাকিবে,
চিনিতে ঘটিবে দায়।
রমণীর সনে, হারে যদি রণে,
হাসিবে সখীগণে তায়,
দিবে পিচুকারী, আর টিটকারী,
কি হবে তখন, উপায় ।
৮৭
দেশমল্লার-আড়া।
দেখলাে সজনি ঐ, পথ পানে মেঘ সাজে।
বিকে যাওয়া হ’লােনা আজ, ফিরে চল গৃহকাজে।
ঘন কৃষ্ণ কলেবর, হইতেছে অগ্রসর,
ইন্দ্রধনু সহ তড়িৎ ঝলিতেছে মাঝে মাঝে।

ফুল-মালিকা।
সামান্য জলদ নয়, এ বুঝি নন্দ তনয়,
মনে বড় হতেছে ভয়, মরিব কি নােক লাজে ।.
কঠিন কপট শঠ, সে যে অতি লম্পট,
পসরা লুটিয়ে ল’বে সে কালা চতুর রাজে।
bub
রামপ্রসাদী সুর।
কেন কর মন! টাকা টাকা।
ওরে ! টাকায় কি কেশ, যায় রে ঢাকা।
শােক তাপ হ’বার বেলায়,
টাকা কড়ি দেখায় ফাঁকা।
অতুল বিভব, তার কি গৌরব,
নেড়ে চেড়ে তায়, যায় কি থাকা ।
শমন এসে ধরবে যখন,
তখন কি আর, যায় রে রাখা।
ওরে! মনের দুঃখ দূর করে,
কেবল দুঃখহারীকে ডাকা। ৮৯
সিন্ধু-মধ্যমান।
হরি! কে তােমারে বলে নিরাকার।
কি বিচার ; পরম সুন্দর তুমি, মােহন আকার ।

ফুল-মালিক।
তব রূপের আভাস, নীলাকাশে সুপ্রকাশ,
নবীন নীল-নীরদ, তুলনা তাহার ।
দলিত অঞ্জন পুঞ্জ, শ্যাম তমাল কুঞ্জ
নীল জলজ জিনি, শোভার আধার।
তব পদতল প্রভা, প্রভাত ভানুর আভা,
অলখ প্রত্যক্ষ তুমি, সর্বত্র সঞ্চার। ৯০
আলিয়া-কাওয়ালি।
মা হয়ে কেন, এমন ধারা তৰ ?
কত অার সব।
নাইরে মাতোর মায়ার লেশ,
পাঠালে আমারে বিদেশ,
তনয়ের প্রতি দ্বেষ, একি অসম্ভব।
কত যে পেতেছ দুখ জননী,
কেমনে বলিতা তােরে ;
সদা ভাসি মা অকুল ঘেরে,
দুর্গতি দূর কর তারিণী ;
আর কত দিন এভাবে যাবে না জানি ;
ত্রিতাপহারিণী তারা, হয়েছি জীয়ন্তে মরা,
আর যেন দিওনা মা! যন্ত্রণা অভিনব ।

ফুল-মালিকা।
.
পদে পদে করিতেছি অপরাধ,
ক্ষমা কি করিবে না মা, সাধিবে সস্তানে বাদ
কত আর ঘটাবি মা পরমাদ,
দয়াময়ী নামে হবে অপবাদ ;
পাষাণ কুলের ধারা ছাড়ি, ডেকেনে মা
আপন বাড়ি, বিদেশে বিঘােরে,
আর কত দিন পড়ে র’ব ।
ভেবেছিলাম, এ যে বড় রম্য স্থান ;
এখন হয় শঙ্করি গাে কারাগার সম জ্ঞান ;
যন্ত্রণায় সদা আমার কাদে প্রাণ ;
শ্ৰীপদে আমারে এখন দেমা স্থান!
এমনি জঞ্জালে থাকা, ঘটনা মা তােমায় ডংকা,
সকলেই আত্মসার, কার মুখ চেয়ে র’ব। ৯১
।
বাহার।
লক্ষ্য স্থির কররে ভাই, বাসনা যদি সাধনে
রু দত্ত মূল মন্ত্র, ভাবরে একান্ত মনে।
মন যে অতি চঞ্চল, যেন পদ্মপত্রের জল,
স্থির নহে এক পল, উদ্যত অধঃপতনে ।
অনন্ত স্বরূপ দেখ, সেই রূপে ধরে থাকো ;
গুরু যেরূপ দেখায়েছে হৃদে রাখ যতনে

৫৮।
ফুল-মালিকা।
দিয়েছে যে নাম বলে, সেই নাম যেয়ো না ভুলে,
তােমায় আমি বলি খুলে, সতত বল ধদনে ॥ ৯২
সুরট-কাওয়ালি ।
অন্য বাসনা কেন, কর ওরে মন।
সুবাস ত্যজিয়ে কেন, কুবাসে কর যতন।
ভাব শবাসনা বিবসনা, বাসনার পরম ধন ।
কি আশে-বস কর বাসে, প্রয়াশ ভুষণ বাসে,
রবিত বাসে যেতে, হবেরে তাের এখন।
ভাল আশ যদি কর, ভালে যার শশধর,
ভাল বাস কৃত্তিবাস, হৃদে বাস করে যেজন,
সাধে পর গলে ফাঁস, নারীর প্রণয় পাশ,
পরবাসে উপবাস, কর সদা কি কারণ।
হও ত্বরা অবসর, অসার সব পাশর,
কর রজনী বাসর, কালী নাম উচ্চারণ ॥ ৯৩
t
খাম্বাজ-আদ্ধা।
সহে না সহে না প্রাণে, বিরহেরি যাতনা।
দেখা দিয়ে ঘুচাও হরি, মরমেরি বেদনা।
হৃদয় কমলাসনে, বইয়ে তােমা ধনে,
ভজিব রাঙ্গা চরণ, মনেরি এই বাসনা

ফুল-মালিকা।
এ জগতে সবে কয়, তুমি বড় দয়াময়,
এই কি তার পরিচয়, দয়া কেন হয় না। ৯৪ .
রাম প্রসদী সুর
এসংসারে সবাই পাগল
সদাই বকে আবল তাবল, এ
ধনের পাগল, জনের পাগল,
মানের আর মর্যাদার পাগল
যারা আপনা আপনি ব’কে মরে,
তাদের নাম রটনা কেবল।
ধন জন সব ছাড়ে বারা,
লােকের কাছে তারাও পাগল।
দেবের দেব মহেশ পাগল ;
পাগলের মেলা সকল ।
ধন্দ পাগল, সন্দ পাগল,
মন্দ পাগল বন্ধ পাগল ;
পাগল গন্ধ যায়না ছাড়ান ;
বলরে-মন হরি
হরি বল । ৯৫

স্কুল-মালিক ।
লুঝিঝিট-আড়া।
অপরাধ ক্ষমা কর, ক্ষেমঙ্করি এমা শিবে ।
তাপিত তনয়ে কি মা! দোষী বলে বিনাশিবে।
করিয়াছি পাপ যত, সাজা পেলাম্ বিধিমত,
যাতনা সহিব কত, কান্দিতেছি নিশি দিবে।
দয়াময়ী দয়া কর, পাপ তাপ সংহার,
মা হয়ে সন্তানে আর, দুর্গতি কত করিবে।
জানি তপঃ সাধন, না করি তৰ পূজন,
আমি অতি অভাজন, কৃপা করি নিস্তারিবে। ৯৬
আশা ভৈরবী--তাল আড়া ঠেক
মা যে আমার পাগলিনী ;
শুনেও ত শােনে না বাণী
ক্ষিদে পেলে, খেতে চেলে,
কখনাে দেয় চোখ রাঙ্গানি ।
দুখে আমি কান্দি যত, মা আমার হাসে তত,
আবার গালি দেয় কত মত, ফোঁড়ার উপর
বিষ পােড়ানি ।
কোলে আমি যাই ধেয়ে, সেরে যায় পাষাণের মেয়ে
থাকি মায়ের মুখ চেয়ে, বুকের কেবল ধড় ফড়ানি

ফুল-মালিক।
এত যে দারুণ জ্বালা, মন প্রাণ হয় ঝলি পালা,
স্নেহের ভরে ডাকে যখন,
কতই মধুর আদরখানি। ৯৭
প্রসাদী সুর-তাল আড় খো।
প্রাণ সখা কোথায় আছে।
তারে রাখবাে আমি কাছে কাছে ।
বড় ভয় হতেছে মনে, হারাই বুঝি প্রাণ ধনে,
ধোরে থাকব সে কারণে, আমায় ছেড়ে
যায় বা পাছে ।
নামটী তার দীননাথ, ভাল বাসা সবারি সাথ,
প্রেমের ডাকে রৈতে নারে, জাতি কুল নাহি বাছে।
খেলতে এসে কত দিন হায়, খেলা ফেলে—
উঠে পালায়, কত বার যে কতই কান্দায়,
অম করে প্রাণ কি বাঁচে। ৯৮
ভৈরবী-তাল পোস্ত।
তােরা দেখে যালো সহচরি, শ্যাম এসেছে ;
(আমার পিয়া এসেছে)।
হেঁসে হেঁসে ঘেসে ঘেসে, কাছে বসেছে ;
(আমার কাছে বসেছে) !

৬২
ফুল-মালিকা।
{
সাজা’য়ে বিনােদ গলা, দিয়েছি বনফুলের মালা,
আহা মরি চিকণ কালার শােভা হয়েছে;
( কি বা শােভা হয়েছে।
কহে কি মধুর কথা, ঘুচেছে প্রাণের ব্যথা,
এত দিন পরে আমায়, মনে পড়েছে ;
(দাসী বলে, মনে পড়েছে)। ৯৯
সিন্ধুভৈরবী-তাল একতালা।
আমি কে, তােরা কে, বলে’দে আমারে ।
কোথা আছি, কি হয়েছি, কি করি, চাহি কারে ।
কি যেন আমার নাই; কারে যেন খুঁজে বেড়াই
এখন আর, পাই কি না পাই; কে দিবে তারে।
কাননেতে নিশাভাগে, কি যেন বাজিত আগে,
সদা আমার মনে জাগে, মধুর স্বরে।
বল্ যদি জানিস, তােরা, কোথা আমার মনচোরা,
কালো মাণিক ঝলে কোথা দেখাতে কে পারে ।
মণি হারা ফণিনী, কে করিল মােরে। ১০০
ললিত আড়া।
হৃদয় গগনে আমার, কাল মেঘ লাগিয়াছে।
মেঘ যেন চাদে মাখা, কিবা শশাভা পেয়েছে।

ফুল-মালিকা।
ঝরে তাহে অনিবারি, আনন্দ অমৃতবারি,
চক্ষে ধারা বহে তারি, প্রাণ ভিজেছে।
এ মেঘে মধুর ধ্বনি, নহে বজ্র-সঞ্চারিণী,
সুশীতল সৌদামিনী, শান্ত প্রভা দিতেছে।
মন আমার চাতক পাখী, হয়েছে পরম সুখী,
চকোরী হইয়ে আবার, সুধা পিতেছে ।
মেঘেতে সৌরভ থাকে, কে বুঝিবে ধলি কাকে,
দেখিতেছি থাকে থাকে, কমল ফুল ফুটিয়াছে ॥১০১
কেদারামিশ্র-তাল অড় কাওয়ালি ।
এদি শ্মশান ভূমে নাচ ওগো শ্যামাঙ্গিনী।
আছে কামাদি দনুজ দল, নাশ রণ-রঙ্গিনী ।
দেহের যে পঞ্চভূত, ল’য়ে সেই সব ভূত,
খেল আসি অদ্ভূত, এলোকেশী উলঙ্গিনী।
অবিরত চিতা-নল, জ্বলিতেছে প্রবল,
হবে তব যোগ্য স্থল, তুমি মহা যােগিনী।।১০২
বাহার—তাল ঠেস, কাওয়ালী ।
মনের একি ভুল ; দৃশ্যে করে অদৃশ্যের তুল।
দৃষ্টির অগােচর সূক্ষা,
দৃষ্ট যত স্কুল
=

ফুল-মালিকা
কোমলতা বুঝতে তাহার দেখায় কমল ফুল ;
কমলে কি সে কোমলের হয়রে এক চুল ;
বরণ দেখায় গগনের গায়, সে বরণ কি মেঘেতে পায়
চঁাদে অর চঞ্চলায় সে শোভার হয় কি সমতুল ?
মণি মুকুতা-ভূষণ, কি, সে অঙ্গে সুশােভন,
অপ্রাকৃত অভরণ, শােভেরে সে অঙ্গে।
যত কিছু যায় রে দেখা, তাহারি মহিমার রেখা,
যার চিপটে থাকে লেখা,
সে দেখেরে অতুল । ১০৩
বাগেশ বাহার—তাল জদ।
হরি হরি মরি মরি, তনু তরি ভেঙ্গে গেলো।
অকূল জলধি মাঝে, বিপাকে পড়ি ডুবিলো।
নেয়ে ছিল যে ছয় জন, বঞ্চনা করি এখন,
ছাড়ি দণ্ড কেরুয়াল, প্রাণ ল’য়ে পালালাে ।
বিবিকে যদি কর্ণধার, করিতাম তবে আর,
বিপদ হ’তােনা আমার, হায় হায় এ কি হলাে।
বিপদ ভঞ্জন হরি, এ সময়ে কৃপা করি,
লাগাইয়ে প্রেম ভুরি, কূলে আমায়
টেনে তােলে। ১০৪

ফুল-মালিক।
বাহ-তাল ঠেস, কাওয়ালী ।
কলঙ্কে কি ভয় ;-সুধাকরেতে কলঙ্ক,
কত শোভা হয়।
কলঙ্কিনী কমলিনী, জানে বিশ্বময়।
শ্যাম কলঙ্ক অলঙ্কার, হয়েছে কপালে যার,
সে কি কভু করে আর, মনেরে ভয়।
ত্রিভুবনে ধন্য ধন্য, সবে বলে জয়,
কৃষ্ণ প্রেমের কলঙ্ক বড়ই সুধাময় ।
চাহি না মান সম্ভ্রম, কি হবে ধম্ করম
সে সকল মনেভিন, প্রেম যেন হয় । ১০৫
বাগেশ্রী-- "' অড়া।
হেরগো হেরম্ব, রিতা-হত বিভু।
মনােবাঞ্ছা পূর্ণ কর, ওহে সিদ্ধি দাতা প্রভু।
তুমি বিন্ন নিঃশন, লম্বোদর গজানন,
সিন্দুৰ জিনিবরণ, হেন রূপ হেরি নাই কভু।
এক দণ্ড মহাকায়, খর্ব স্কুল তনু তায়,
জ শােভা পায়, মহাজ্ঞানময় বপু ৷ ১০৬
চতুর্ভুজ
পিলু-তাল ( ছক্কা)।
ভালা নাচত কানাইয়ালাল।
কানাইয়ালাল, মেরি মাখনলাল ।

ফুল-মালিকা।
ঘুরে ঘুরে নাচ তুমি, হাততালি দেই আমি,
কঙ্কন কিঙ্কিনী রুণু ঝুনু তাল ॥
বাজত নূপুর, অতি সুমধুর,
হাসত খেলত, বাজাওত গাল।
নাচ যাদুমণি, ক্ষীর সর নবনী,
চাহ যত দিব তত, সুন্দর গােপাল ॥ ১০৭
কালেংড়া-তাল যুদ।
দুহু তনু এক হ’ব, বাসনা করেছি মনে।
ঢাকিব শ্যামকান্তি আমার, তােমার গৌরবরণে ॥
তিলেক বিচ্ছেদ আর, সহে না প্রাণে আমার,
তব ভাব অঙ্গীকার, করব আমি সে কারণে।
বড়ই আমার হয়েছে সাধ, কি সুখ তুমি কর আস্বাদ,
মাধুরী রসাস্বাদ, কব মধুর মিলনে।
কাদিয়াছ তুমি যত, প্রেমডােরে বেঁধেছ তত,
বহাব প্রেমের স্রোত,
কঁদিয়ে নাম সঙ্কীর্তনে ॥ ১০৮
সুরট-তাল খেমটা।
একি প্রেমের হাট বসেছে নদীয়ায়।
কেহ বেচে, কেহ কেনে, কেহবা এনে যােগায়।

ফুল-মালিকা।
৬৭
এসেছে এক প্রেমের মহাজন
তার ব্যবসাতের নহে যে ধরণ ;
সে যে, যারে তারে অযাচিতে,
আপনা হ’তে প্রেম বিলায় ॥ ১০৯
বেহাগ— আড় ঠেকা)।
একাধারে রাধাকৃষ্ণ, হয়েছে শুভ মিলন।
বহিছে প্রেমের নদী, মধুর রস আস্বাদন।
দেখিতে বিরহের ভাণ, এক দেহ এক প্রাণ,
অন্তরেতে কৃষ্ণ ঢাকা, বাহিরে গৌরবরণ ।
ব্ৰজের ভাবে বিভাের, সদা থাকে নবীন গােরা
গােপ গােপীগণ তারা, কীর্তনের সখাগণ।
নূতন নূতন ভাব, প্রেমের নূতন প্রভাব,
নবরস অনুভাব, নদে’ নব বৃন্দাবন। ১১০
ললিত ঝিঝি-একতালা।
নাচে দ্বিজমণি, হরি হরিধ্বনি,
একি আজ শুনি, এই নদিয়ায়।
“হরে কৃষ্ণ রাম” রব অবিশ্রাম,
গােপাল গােবিন্দ, পরাণ মাতায় ।

১৮
ফুল-মালিকা।
নাচে গদাধর অদ্বৈত নিতাই; নাচে হরিদাস
জগাই মাধাই, ঐ বাস মুকুন্দ, যত ভক্তবৃন্দ,
সবাই নাচেরে ;-নেচে নেচে প্রেমজলে ভেসে যায়।
বাজে করতাল বাজিতেছে খােল ;
শঙ্খ ঘণ্টা শিঙ্গায়, উঠে ঘাের বােল ;
হরি হরি বােল, হরি হরি বােল ;
বলে—নাচে কঁাদে ধূলাতে লোটায়।
সবে সঙ্কীৰ্ত্তন আনন্দে বিভাের ;
শত শত দীপ জ্বলিছে উঙ্গোর, পুষ্প বরিষণ,
করে দেনগণ কিবা শোভারে !-ফুলমালা দোলে
সারি গলায়, স্ত্রীগৌরসুন্দর প্রেমে নিমগণ ;
চারি দিকে আমি চুড়ায় প্রেধন; ধরাধম হলে।
সৈকুণ্ঠ ভুবন ; স্থাবর জঙ্গম ত্রাণ পায় ।
যে নামের মহিমা বেদে নাহি সীমা ;
অতুলন। যেই নামের মধুরিমা,
অনৰ্পিত ধন, অমূল্য রতন, মধুর হরি নামরে !-
গাের যেচে যেচে অচণ্ডালেরে বিলায় ॥ ১১১

ফুল মালিকা।
(কীৰ্ত্তন)—-অ|ড়া !
জয় রাধে! জয় রাধে! শ্রীরাধে! রাধে! এ এএ !!
রাধে কৃষ্ণ বলে চল, মধুর বৃন্দাবনে।
যুগল দরশনে রে !
হেরি রাধাকৃষ্ণরূপ, সফল কর নয়নে।
(চলরে !)-হেরিগে সেই বৃন্দাবনে,
রাসনে রাধা সনে,
শ্রীগোবিন্দ গােপীনাথ মদনমােহনে ;
বিকাইয়ে প্রাণ মন, শরণ লও ঐ চরণে। ১১২
সুর-ঝ।পত 'ল।
খেপা ছেলে কোথা পেলে, কোথা হতে এলো বল
সাপের ঘাড়ে চড়ে নাচে, স্তনে চোষে হলাহল।
সখগণের খেলায় হারে, নিয়ে বেড়ায় কান্ধে করে,
মুখে দিলে কুতুহলে, খায় তাদের এঠো ফল।
গহন কাননে ফেরে, দেব দৈত্যে নাহি ভরে,
অবহেলে গিরিধরে, জানে কি কৌশল।
দাবানল পান করে, বলে ভাঙ্গে তরুরে,
ক্ষীর ননী চুরি করে, কোথায় শিখিল এ চুল ॥ ১১৩

৭২
ফুল-মালিকা।
বল বল তুমি কার প্রেমে মাতি,
বিভাের রয়েছ দিবস রাতি,
এ বুঝি জীবের দেখিয়ে দুর্গতি,
এসেছ করুণা করি ;-
ছল্ম ভাবে কেন করহে ভ্রমণ,
অযাচিতে জীবে দেহ প্রেম ধন,
আমিঅভাজন বিষয়ে মগন,
আমায় দয়া কর চরণ ধরি। ১১৬
সম্পূর্ণ।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Phool-malika

Author
Sharma Munshi, Kalikishore
Title
Phool-malika
File name
Phool-malika
Text
OCR done
Citation
1894
Published
2009/12/26
Publisher
Kalikishore Sharma Munsi
Language
Sanskrit
Pages
79
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Lyrics
Keywords
Sharma Munshi, Kalikishore
DLI number
511270
Barcode
4990010018433.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
qrLgOxZHcDk
Download PDF

Phool-malika