Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Mukul

Dasgupta,manadacharan · 2009/12/1

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

মু কুল শ্রীমানদাচরণ দাশগুপ্ত

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

সুল
শ্ৰীমানদাচরণ দাশগুপ্ত
গুপ্ত ফ্রেণ্ডস এণ্ড কোং
পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক
১১, কলেজ স্কোয়ার,
কলিকাতা।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ]
[ মূল্য র আনা

প্রকাশক--
আশুতােষ ঘােষ, বি, এ
গুপ্ত ফ্রেণ্ড এণ্ড কোং
১১, কলেজ স্কোয়ার
কলিকাতা।
মুদ্রাকর—এস, কে, দে
জগৎ সুহৃদ প্রেস,
কুমিল্লা।

ভূমিকা
স্কুল হইতে বাহির হইবার সময় আমাকে বড় বেগ পাইতে
হইয়াছিল। সার্টিফিকেট অনিবই এই প্রতিজ্ঞা করিয়া
পড়িয়াছিলাম বলিয়া সে যাত্রায় বড় টিতে হইয়াছিল। আর
তার আগেই বা কি ? ফার্স্ট ক্লাসে (1st class) উঠিতে না
উঠিতেই কি চোট বাবা। বেশী পড়িতাম না, কিন্তু তবুও যেন
অন্য কাজের জন্য সময় করিয়া উঠিতে পারিতাম না।
বৎসর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ’ করা ছাড়া তার কিছু হয় নাই।
এ পুস্তকের প্রায় সর্বাংশই তার পূৰ্ব্বের রচনা।
অনেক সময় আমার মনে হত, এখনও মনে হয় এই
পুস্তক প্রকাশ করিয়া ভাল করিলাম কি ন করিলাম।
এ প্রশ্নের মীমাংসা আমি সকল ২য় করিয়া উঠিতে পারি না ;
তবে এইমাত্র বলিতে পারি, সর্বাঙ্গীন শিক্ষার যাহা ওয়ােজন,
তার্থাৎ জ্ঞান, শিক্ষা, বুদ্ধি এবং বিবেক প্রভৃতির অন্ততঃ একটাও
এই ব্যঙ্গ এবং অন্যান্য কবিতার ভিতর দিয়া ফুটিয়াছে বলিয়া
আমার বিশ্বাস। এটা যে কতদূর সত্য বােধ হয় এইবার
তাহা বুঝিতে পারিব ।
গ্রন্থকারদিগের প্রচলিত প্রথানুস'র পরিশেষে কাহাকে ও
ধন্যবাদ দেওয়ার নিয়ম আছে ; সুতরাং আমিও সে নিয়ম
লঙঘন না করিয়া বিশ্বস্রষ্টাকে ধন্যবাদ দিতেছি।
কুমিল্লা
১৪ই এপ্রিল, ১৯২৮ ইং
লেখক

No text on this page.

Ser-

No text on this page.

সূচীপত্র
বিষয়।
পৃষ্টা
বন্দনা
অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা
::
২৬
কবিতা আবাহন
কবির দল
২৮
সাধের গান
৩২
আলুর-দোষ
সাধু-সঙ্গ
কলাচাচা
আদর্শ-মাসিক
আদর্শ-সমাজ
৪৪
জয়মাল্য
আধান

No text on this page.

মুল
বন্দনা
ঐ সমীরে ভেসে আসে তব গন্ধ,
প্রভাতে বেজে ওঠে
তব মধুছন্দ।
এ সে প্রিয়তম নীরব চরণে,
অত উঁড়ালে তরুণ বরণে
তব অঞ্চল হতে পড়িছে ঝড়িয়া
তব আনন্দ।
তােমার চরণে স্নিগ্ধ শরণে,
ছুটিয়াছে ধরা তোমার বন্দনে
চরণে ঘেরিয়া নমিয়া নমিয়া
ফিরে রবিতারা চন্দ্র।

মুকুল অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা ১ম দৃশ্য। ক্রীড়ভুমি অর্জুন। বাজি ধরিয়াছে অগ্রজ মম, সর্বাগ্রে বিধিবে বৃক্ষশখে । হাসি হাসি কহিনু তাহায়,-- ভ্রাতঃ! কিবা বাজি ? অগ্রজ তুমি, অবশ্য ঙি নিবে। বৃথা ভেট। উত্তরিলা ভ্রাতা মম তেরে নাকি দিয়াছে দীক্ষা অগ্নিমন্ত্রে ? দম্ভ পরিহরি, চালাও অগ্নিশর- ভ্রাতা তব হয়েছে অরি! বিস্ময় ল'গিয়া গেল,- চমকি চাহিমু গুরুদেব পানে [ ২ ]

মুকুল
কহিনু তাহায়,---
গুরুদেব! কতখেলা শিখায়েছ
তুমি,
বাজি কভু না ধরিনু কার সনে।
ভয় হয়
পাছে রুষ্ট হন অগ্রজ মম ।
উত্তরিলা গুরুদেব,
কিবা ভয় ?—পরীক্ষা
পরীক্ষা তরে--
( যুধিষ্ঠিরের প্রবেশ)
যুধিষ্ঠির। শিখিয়াছ অস্ত্র খেলা।
ভয় কিবা ?
অজগর না আসিবে দংশিতে
তােমায়,
কিংবা,-নিৰ্ম্মল আকাশ
হানিবে বজ্র কভু !--
কোথা তব ভয় ?
হাসি পায়--
[ ৩ ]

মুকুল
অর্জুন। ভ্রাতঃ!
ভয় কভু জানে না অৰ্জ্জুন।
যে ভয় করিনু পূর্বে
কেটে গেল তাহা ;--
মুক্ত হইল চন্দ্র,--
রহুগ্রস হতে।--
আর নাহি ভয়।
ধর ধনুর্বাণ
ছুটে যা বিদ্যুৎ চমকে যথা।
যুধিষ্ঠির। ধর বাণ,
হেল' ভরে না ধরিয়াে কভু।
শুদ্ধ হস্তে ধর শর,
তর্জণী ঠেকাইয়া কোদণ্ডে।
স্মর...ইষ্ট:দবে...সখা তব।
জানি বালক পক্ষে অসম্ভব ইহা ।
লহ আশীর্বাদ।—নাহি ভয়।
অর্জুন। স্মরিলাম ইষ্টদেবে। সখা মম
শির পাতি লইলাম আশীর্বাদ ।
নাহি ভয়। চালও শর।
[ ৪ ]

মুকুল
lallj}{{{{{I1i.biswa tates
যুধিষ্ঠির। --উত্তম (উভয়ের বাণ নিক্ষেপ )
৫ ০ ০
সান, সমান।
অজুন। ভ্রাতঃ।
ছাড় বাণ, এইবার হইবে
মীমাংসা।
যুধিষ্ঠির। উত্তম। ( উভয় বাণ নিক্ষেপ
করিতে উদ্যত এমন সময় দ্রোণা-
চার্যের প্রবেশ )
দ্রোণাচার্য্য। ক্ষান্ত হও বালকগণ।
( উভয়েই দ্রোণাচার্য্যের পদে
নিক্ষেপ করিয়া প্রণাম
করিল।
বীর বালকগণ ! হও চিরজীবী।
রক্ষা কর পাণ্ডববংশের মর্যাদা
এই করি আশীর্বাদ।
যুধিষ্ঠির। গুরুদেব!
। Int'lli#lijli}}x'; ''llulillalid #illil}h!
#lillal.
lilahiIUfil)
[ ৫ ]

মুকুল
দ্রোণাচার্য। ওকি বালক,--কেন হেরি তব
মলিন-বদন ?
যুধিষ্ঠির। মলিন বদন নহে গুরুদেব।
আশ্চর্য্য,
শর চালনায় আমা হতে শ্রেষ্ঠ
অর্জন।
দ্রোণাচার্য। ও সেই
হেতু ? তােমা হতে
নহে যুধিষ্ঠির।--
অর্জুন হইবে শ্রেষ্ঠ
ত্রিভুবন হ’তে ।
অকুন। গুরুদেব ।
বড় স্পৃহ যুদ্ধ করিবারে।
কিন্তু গুরুদেব, খেদ মম
যুদ্ধ না ঘােষণা করে কেহ ;-
ক্ষত্রিয় মােরা,
ক্রীড়া করি কি কাটাইব
জীবন ?
করিব যুদ্ধ কা’র সনে ?
[ ৬ ]

মুকুল
দ্রোণাচার্য। বালক, আশ্চর্য্য আমি,
দেখি তব স্প হা যুদ্ধ
করিবারে।
উপযুক্ত ক্ষত্রিয় নন্দন বটে।
শােন যুধিষ্ঠির, শােন অৰ্জ্জুন,
এতকাল যাবত গুরু আমি,
শিখাইনু তােমা সবে,
মাগিনু দক্ষিণা কভু,
কিন্তু এবে
চাহি গুরুদক্ষিণা।
পাণ্ডু নন্দন
কর মম বাঞ্ছা পূরণ।
যুধিষ্ঠির।
গুরুদেব!
বড় প্রীত হইনু তব কথা শুনি।
আজ মােদের বড় শুভদিন,
—দিব প্রাণভরি গুরুদক্ষিণা
করিব গুরু-ঋণ শােধ।
[ ৭ ]

মুকুল
অর্জুন।
করিবে গুরু-ঋণ শোধ ?
হেন আশা কভু না করিও।
কি ক্ষমত। মােদের,---করিবে।
যে গুরু-ঋণ শে 'ধ ?
গুরুদেব ।
অজ্ঞা দেহ মােদের,
বল ত্বরা কি আজ্ঞা পালিব
যুধিষ্ঠির। দেব ।
তব দাস আমি ।
না বুঝিয়া,
কহিনু অশ্রেষ্ঠ বাক্য,
ক্ষম মােরে।
ত্বরা করি
কি আজ্ঞা পালিব তব ।
দ্রোণাচাৰ্য। বীর বালক।
বড় ভুষ্ট হই তব শিষ্টাচারে,
[ ৮ ]

মুকুল
শােন তোম। সৰে,-ক্ষত্রিয়
নন্দন বলি
দেহ পৱিচয় ;
সত্ত্বর ঘোষণা দেহ
দুৰ্য্যোধনে, বল সবে
চাহি আমি পাঞ্চাল-রাজ
শম করতলে।
এই মাের আকিঞ্চন ।
ক্ষত্রিয় নন্দন,পূরাও
বাসনা মম,-- দেহ
দক্ষিণা গুরুর।
গুরুদেব !
এতদিনে পূরিল বাসনা
মোদের,
অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা আজি হইবে
অৰ্জুন।
সফল।
পূরাইব বাসনা তব ;
প্রাণ ভরি কর আশীর্বাদ।
[ ৯ ]

মুকুল
সাজ,
--সাজ
বালকগণ;-অবশ্য তানিয়া
দিব
পঞ্চ লরাতে,
পূরাইব বাসনা গুরুর।
বাজাও, বাজাও রণভেরী
বীরদর্পে উঠুক মাতিয়া ক্ষত্রিয়
প্রাণ।
গুরুদেব ।
চলিলাম,-চলিলাম রণে
পূরাইতে তব অাশা।
( ঐ প্রস্থান)
যুধিষ্ঠির।
দেব ।
দেহ পদধূলি,
ছুটী যাই রণে,
এই শোন শঙ্খধ্বনি
(নেপথ্যে শঙ্খধ্বনি)
-ওই —-ওই যে বাজিছে
৮
[ ১ ]

মুকুল
রণভেরী, (নেপথ্যে শব্দ)
আর না তিষ্ঠিতে পারি
হেথা ;-গুরুদেব চলিলাম
রণে
‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর
পতন।' (ঐ প্রস্থান )
দ্রোণাচাৰ্য। যা’ও যুধিষ্ঠির
রক্ষা কর গুরু আজ্ঞা ।
দেখাও অর্জুন তব অস্ত্র
কৌশল
বিস্ময় হইবে জগৎ
যুগে যুগে গাহিবে পাণ্ডব
যশােগান।
( ঐ প্রস্থান)
( ১১ ]

মুকুল .
২য় দৃশ্য।
পাঞ্চাল রাজসভা।
দ্রুপদ, জয়সিংহ।
দ্রুপদ।
মন্ত্রীবর !–কই ত্বর
কি দেখিলা তোমা সাবে।
আসিয়াছে কি শতাধিক
পদাতিক সেনা?
কিংবা, আসিয়াছে চতুরঙ্গদল
হেলাভরে উড়াইতে জয়ডঙ্কা
কেবা সেই সেনানায়ক,
কি মন্ত্রে দীক্ষা তাহার ?
বুঝিলাম।
আসিয়াছে সহস্রাধিক,
লক্ষাধিক,
সেই হেতু
আশঙ্কা তব শির লাগি।
[ ১২ ]

মুকুল,
জয়সিংহ। সম্রাট ।
দেখিলাম বালক।
হেরিলাম দিব্যচক্ষে,
বালক কে ?
বীর সে।
কহিলা পাণ্ডব নন্দন,
‘তার্টুন আমার নাম,
আসিয়াছি যুদ্ধ দিতে
পাঞ্চালঈশ্বরে।
জিজ্ঞাসিনু আমি
কেবা হব সেনা নায়ক, কি মন্ত্রে
দীক্ষা তাহার ?
উত্তরিলা বীর,-
‘অৰ্জ্জুন নায়ক তাহার,---
অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা যার।
পদ।
তারপর ? :
জয়সিংহ।
রপর কহিলাম করফেড়ে,
যদি কৃপা করি আসিয়াছেন হেথা,
[ ১৩ ]

মুকুল
চলুন প্রাসাদে,
অতিথির যতপূজা হইবে পায় ।
কহিলা অৰ্জন,
‘রাজারে জানাহ সংবাদ আমার
পাইনু অতিথি পূজা।
যুদ্ধতরে
আসিয়াছি হেথা,
সসৈন্যে চাহি আমি তারে
সংগ্রামের স্কুলে।
এই মাের আকিঞ্চন।
দ্রুপদ।
জয়সিংহ।
তারপর ?
তারপর জিজ্ঞাসিনু তায়,
যুদ্ধ দিতে আসিয়াছ
সেনা তব কোথা ?--
কোথা তব অস্ত্র ?
কহিলা গাণ্ডীব,
‘সেনা মাের এই
দীক্ষা যার অগ্নিমন্ত্রে, অস্ত্র তার
কিবা প্রয়ােজন ?
- -
[ ১৪

মুকুল
ধনুর্বাণ সহায় মাের
কহ ত্বরা করি, কোথা
রাজ্যেশ্বর।
জানি কোন গুরু-অপরাধে
পাঞ্চাল-ঈশ্বর আজি হইলা
বিমুখ।--
বহুবার জিনিয়াছি রণে-
কতবীর হইয়াছে ভূতল-শায়িত।
হেনকথা না শুনিনু কভু
‘অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা যার,--
অস্ত্র তার কিবা প্রয়ােজন?
মনে হয় অসম্ভব,
কিন্তু
অসম্ভব কিবা আর ?
সখা যার:• নারায়ণ,
গুরু যার দ্রোণাচার্য,
[ ১৫ ]

মুকুল
দীক্ষা যার অগ্নিমন্ত্রে
তাহা হ’তে অসম্ভব কিবা ?
মন্ত্রী :
ভয় হয় পাছে-
নেপথ্যে-
অজুন
ভয় কি সম্রাট ?
হও যদি ক্ষত্রিয় নন্দন,
রণ তব চির-আকিঞ্চন।
নিষ্কোষিত করি অসি,
ত্বরা করি দেহ যুদ্ধ
দ্বারে তব আসিয়াছে অরি।
জয়সিংহ। সম্রাট !
ঐ সে শিশুভােলানাথ।
যাচে রণ অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা তার।
মন্ত্রী ।
সাজাও সৈন্য। ----স্বরা করি
(নগরপালের প্রবেশ )
কি সংবাদ ?
[ ১৬ ]

মুকুল
নগরপাল।
সহস্রাধিক সেনা প্রায় হইয়াছে
শেষ,
বাকী যাহা ছত্রভঙ্গ দিয়াছে
রণে।
দ্রুেপদ।
নারায়ণ এই তব ছিল মনে ?
বালক সনে পরাজিত রণে--
পাঞ্চালরাজ।
( যুধিষ্ঠির অর্জুন এবং
সৈন্যগণের প্রবেশ)
যুধিষ্ঠির।
পাঞ্চালরাজ !
অতিথি সেবায় মােরা তুষ্ট
হইনু সবে।--
কিন্তু,--একি মহারাজ ?
কোথা তব ক্ষত্রচিত আচার ?
রণে ভয়? •
হেন কথা না শোভে কভু
ক্ষত্রিয় বদনে।
[ ১৭ ]

মুকুল
সম্রাট ।
গুরু আজ্ঞা বাধি নিতে তোম।
সেই হেতু বন্দী তুমি।
{ দ্রুপদ রাজাকে বাধিতে ইঙ্গিত
করিলে সৈনিকের তথাকরণ )
পদ।
পাণ্ডব নন্দন ।:--
•
কি কহিব আমি শিখিয়েছে
দ্রোণাচাৰ্য তোম। সবে
অগ্নিমন্ত্র।---- সেইহেতু জিনিলে
সমরে ?
বুঝিলাম এতদিনে,-
দীক্ষা যার অগ্নিমন্ত্রে
অস্ত্র তার নাহি প্রয়োজন।
*
অর্জুন।
রাজ্যেশ্বর !
রাজ্যে তব আসিবারকালে
| ১৮ }

মুকুল
কহি দিল। গুরুদেব কানে,
কানে মাের,
‘অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা তোর।
সেই হেতু জিনিসু সমরে।
{ ১৯ ।

মুকুল
প্রজানুরঞ্জন
z
প্রতাপসিংহ। প্রজানুরঞ্জন,-- না স্বাধীনতা ?
বুঝিতে না পারি মন্ত্রী,
কেন মম প্রাণ উন্মত্ত সদা
প্রজার মঙ্গল লাগি।
যেন থাকি থাকি বলে দেয় কে,
‘ক্ষা দাও রণে।—বৃথা কেন
জীব-নাশ ?
---বীরত্বের নহে ইহা পরিচয়।
বাপ্পাবংশধর কুলে কেন তবে
দিবে এ কলঙ্ক ঢালি ?
যদি চাই প্রজার মঙ্গল,-
ক্ষান্ত দাও, ক্ষান্ত দাও রণে।
| ২৩ ]

বক্ষে চাপি ধরি দুই হাত ; মনে হয়,-- বক্ষ যেন ফাটি যায়,--অসহ্য বেদনা। থাকি থাকি--সেই কণ্ঠ বাজে মাের কাণে, যদি চাহ মিবারের মঙ্গল,-- ক্ষান্ত দাও রণে। কিন্তু, যেদিন--রাজদণ্ড লইমু হাতে সাক্ষী রাখি নারায়ণ, প্রতিজ্ঞা করি-- কত রাজ্যেশ্বর পণ্ডিত মাঝারে,- মিবারের স্বাধীনতা তরে জীবন- পণ-মম ।-- বিসজ্জিয়া সত্য মাের- কেমনে সাধিব হায় প্রজানুরঞ্জন । । [ ২১ ] মুকুল ভামসিংহ। সম্রাট!••• রাজাধিরাজ ! - প্রজানুরঞ্জন হ'তে শ্রেষ্ঠ স্বাধীনতা? বুঝিতে না পারি, কোথা হতে আনিলে এ ভ্রান্তি তব। কিংবা, • ০ ০ রাজ্যেশ্বর বুঝিতে কি পার নাই অগ্রে প্রজানুরঞ্জন রাজার কৰ্তব্য প্রধান ? ধিক্ তােমা সবে। ধিক প্রজাবৃন্দে মিবারের। মিলে নরনারী সবে ঘাের রােলে করুক হাহাকার ক্রন- * না শুনিবে,-না বুঝিবে কেহ। [ ২২ ]।

মুকুল
প্রতাপসিংহ। যবে শুনিবে সকলে,
মিবারের রাণা করিয়াছে
আত্মসমর্পন
মােগলের দ্বারে ;
উচ্চৈস্বরে
কহিবে সকলে,
‘তুচ্ছ করি মাতৃভূমি গৌরব
সম্মান,
করিয়াছে আত্মসমর্পন স্নেচ্ছের
দেশদ্রোহী, বিশ্বাসঘাতক
কহিবে সকলে।
বিদ্রুপের-হাসি হাসি কহিবে
প্রৌঢ়জন,
‘রণে যদি ভয় এত,--
কেন তবে সাধ রাজ-সিংহাসন
তরে ?
ক্ষত্রিয় সন্তান হয়ে
কেমনে সহিব ইহা ?
[ ২৩ ]

মুকুল
কহ তুমি
কোথা তবে প্রজানুরঞ্জন?
ভামসিংহ। রাজন্ !
নহ অবুঝ তুমি। এতকাল
সত্যধৰ্ম্মে
করিয়াছ প্রজার পালন,---
বীরধর্মে রক্ষিয়াছ সবাকার
সম।
আজি কেন তবে প্রজার
হিতাহিত ভুলি,
রণতরে হইয়াছ অধীর ?
হেরহের দুর্দশা প্রজার।
( জনৈক প্রজার প্রবেশ )
সম্রাট।
দেখিতে পাওনা কি দুর্দশা
মমাদের ?
হাহাকার-ধ্বনি বুঝি শােন নাই
কভু ?
| ২৪ ]

মুকুল
বুঝিলাম;-রণতরে ব্যস্ত তুমি।
প্রজার মঙ্গলে সব দিয়া
জলাঞ্জলি
সাধ তব রক্তে ?-
রক্তে যদি এত সাধ রাণা,
কহ উচ্চৈস্বরে,--রক্ত রক্ত চাই।
চিড়িয়া বক্ষ-মিটাইব আশা
প্রতাপসিংহ।
জুড়াইবে সবাকার প্রাণ।
‘প্রজানুরঞ্জন’ বলি
কেহ করিবে না ব্যাকূল তােম।
কহ ত্বরা, কিবা তব অভিরুচি ।
নারায়ণ সাক্ষী মম।
প্রজানুরঞ্জন তরে সন্ধিভিক্ষা
যাচিব মােগলের দ্বারে।
( ঐ প্রস্থান)
জয় হােক সম্রাটের।
[ ২৫ }

মুকুল
কবিতা আবাহন
আজি,
দিয়ে,
বইয়ের পাতা খোলা,
এসহে, এসহে, এসহে, আমার
কবিতা এস
কলমে একটু দোলা-
এসহে, এসহে, এসহে আমার
কবিতা এস।
কুইলের কলম হতে
কল্পলােকের রথে
আমার বইয়ের পাতে
ছন্দরাণীকে সাথে
এস,
এস,
নিয়ে,
এসহে, এসহে, এসহে আমার
কবিতা এস।
[ ২৬ ]

মুকুল
এস,
পয়ার ত্রিপদী মাঝে
এসহে, এসহে, এসহে
নুতন ছন্দ সাজে
এসহে, এসহে, এসহে।
শুধু ভাবের ফোয়ারা নিয়ে
এস, প্রাণের কথাটি কয়ে
তােমার, সুন্দর মধুর রসে
আজি, পাগল করিয়া হিয়া
এস,
এসছে, এসহে, এসহে আমার
কবিতা এস।
| ২৭ ]

মুকুল
কবির দল
মােরা সব নবীন কবির দল
“তুমি” কবির শিষ্য মােরা
বুকে আছে বল ;--
মােরা সব নবীন কবির দল।
মমাদের ভাবনা চিন্তা শূন্য হওয়া
ধার ধারিনা ফলাফল
নাহি জানি অর্থ-টর্থ
নাহি জানি ছন্দ স্বার্থ
নাহি মানি পয়ার টয়ার গাে।
তা, আপন রেখে, মনের ঝোঁকে
লিখছি কবিতা সকল ;--
মােরা সব নবীন কবির দল।
[ ২৮ ]

মুকুল
;
“তুমি” কবির চেলা মােরা
তাকে নিয়ে করি চলাফেরা
সদাই লুটি চরণ-ধূলায় গাে।
আমরা স্কন্ধে লয়ে তঁাকে ওগাে
ফিরছি ধরাতল ;---
মোরা সব নবীন কবির দল।
র তপােবণের বানী
বেদের বাক্য সম মানি
তাকে পিতা-সম জানি গাে।
তাহার চরণ স্মরণ করি
লিখ ছি কবিতা সকল ;--
মােরা সব নবীন কবির দল ।
আম্রা জুটে সারা বেলা
করি নবীন কবির মেলা
গাহি “তুমি” কবির জয় গাঁথা গাে ।
“পদ্য রচতে পটু মােরা
করি কেবল কোলাহল ;
মাের সব নবীন কবির দল ।
[ ২৯ ]

মুকুল
সাধের গান
আমি, সারা রাতটী জেগে জেগে এই সাধের গানটী
রচেছি।
আমি, শােনাব বলিয়ে তােমারে ওগাে গাটি আমার
রচেছি।
আমি, সারারাত ক্ষণিকের তরে চোখটি বুজিনি
ওগাে আর ;
শুধু, ঘরের ভিতরে বসিয়া বিরলে, গানটি আমার
রচেছি।
টেবিলের পরে রাশি রাশি বই সযতনে ওগাে খুলিয়া
তখন, এর, ওর থেকে কিছু কিছু ওগাে, টুকে
নিয়েছি নাহি বলিয়া।
আমি বহির সাগর মন্থন করি সাধের অমৃত তুলেছি
[ ৩ ]

মুকুল
আমি, বড় আশা করে রাত টী জাগিয়ে গাৰ্টী
আমার রচেছি।
ওগো, গানটা আমার গাঁথা নহে শুধু পরের রচনা
আছে, হৃদয়ের কথা, বেদনার গাঁথা লাইনে লাইনে
জয়ে।
[ ৩১ }

মুকুল
আলুর-দোষ
( ১ )
তােমরা সবাই হেসোনা ভাই,--
শুনে তার নামটী ;
আমরা সবাই মিলে ডাকতুম তারে,
দিগগজ টী টী'।
বাড়ী ছিল তার বাংলায় বটে,
কিন্তু লােকটা ছিল বড় সিট সিটে ;
যেমৃনি হাবা তেমনি বােকা
রংটী কালাে মিশমিশে।
( ৩ )
অনেকগুলো দোষ ছিল তার,
সবগুলাে বলে সাধ্য কার ?
তােমরা সবাই জেনে রাখাে ভাই
সবার সেরা যেটী,
ছিল তার ‘আলুর-দোষ।
ভূলনাকো ঐটী।
[ ৩২ ]

মুকুল
( ৪ )
বাজার করতে সেদিন কাকা,
দিলেন তারে কয়টী টাকা,
আহলাদে হেসে হেসে চল্ল ‘টী ট’
লম্বা যেন ‘আকাশ-ফোরা দিগগজটী।
ক্ষানিক পরেই শূন্য হাতে
হরম-মনে আসলো ফিরে ;
বল্লেন কাকা তারে, “ব্যাটা কিরে ?
এক্ষুনি এলি ফিরে ?”
দিগগজ ভায়া ভারী খুসী
বলে হেসে,
“এজ্ঞে আমি তাে যাই নি বেশী দূরে ?
যেতে যেতে দেখলুম দ্বারে--
একটী ভিক্ষুক ফেরে,
সব
টাকাটা
কলুম অমনি দান
তখন আমার বাড়লো একটু মান :
আছে আমার একটু দোষ আলু-“মালু,
অর্থাৎ আমি দয়ালু।”
-
[ ৩৩ ]

মুকুল
( ৭ )
শুনে কাকা, যান মহারেগে
আমরা বল্লেম আর রেগেই বা কি হবে ?
সবাই মিলে আমরা তখন
হাসলুম মস্ত হাসি ;
ভাবলে ‘দিগগজ দি পিট্টান
নইলে হবে মাের দিন কয়েকের ফাঁসি।
সাধু-সঙ্গ।
;
নাম তার হারু-পিসী’ খ্যাতি চরাচর,
ধৰ্ম্ম-গ্রন্থ পাঠ তিনি করেন বরাবর ;
সেদিন ও জমিল পাঠ, সবার যেন মনােযােগ,
হঠাৎ কহে ‘হারু-পিসী, গয়া বৌ যেন জোক
ও’তে কি শুনিস বো ? ছিড়ে গেছে বুঝি হার ?
দি, স্যাড়া ডেকে বানিয়ে দেবাে চিকন যেন নাড়
পরদিন ‘হারু-পিসী’ গেল গয়লা বৌর ধার,
মাচা হ’তে ‘ামায়ণ' পাড়ি বউ কহে, হার নেই আর।
[ ৩৪ ]

মুকুল,
কলাচাচা
(১)
কি একটা ছুটীর দিনে,
আমরা সবাই মিলে
পুকুরপারে করছি হল্লা,
এম্নি সময়
“রায়পুরের” “কলাচাচা’
বয়স তার একশাে আধা
করলে
ভারি একটা
মজা।
?
৫
তখন সবে মােদের
সুরু হয়েছে গল্প ;
শুনছি মােরা
মনটী দিয়ে
সবাই যেন স্তব্ধ,
হঠাৎ থেমে বল্লে কেষ্ট,
ঐ শােন ছপ ছপ,
একটা শব্দ।
{ ৩৫ ]

মুকুল।
(২)
পুকুরপারের নিৰ্জ্জনতায়
উঠলাে যেন মােদের
মটা ভাটায়,
ক্ষাণিক পরে
চেয়ে দেখি—
ওমা,-একি?
পাগড়ী মাথায় লাঠি হাতে
‘কলাচাচা’
দাড়িয়ে শুধু হাসে।
আমরা সবাই কলুম জিজ্ঞেস্
চাচা পাগড়ী বেধে মাথায়
চলেছে কোথায় ?
ছি ছি এখন
শ্বশুরবাড়ী যাওয়া
নয়তো যেন
দুপুর রােদে নাওয়া
তােমার যেমন কাজ
রেখে এসে মাথার তাজ
গল্প হবে ভারি আজ।
| ৩৬ ]

মুকুল
বল্লে চাচি হেকে,
“আরে যা যা
তোরা কেবল চিনিস্ শ্বশুরবাড়ী
আজ তােদের সঙ্গে
হবে আমার বিষম আড়াআড়ি,
জানিস্ নে বুঝি ? কাজ হয়েছে
‘রায়েদের বাড়ী,
মাইনে কিন্তু ভারি,
মাসকাবারে কুড়ি সি।
কাজটী পাড়া গিরি।
( ৪ )
আমরা সবাই খুসী হয়ে
বলুম তাকে
‘কলাচাচা বেশ হয়েছে
গাজার মাত্রা দাও বাড়িয়ে
হবে একটু তাজা ;
যাক সে কথা, এখন
খাওয়াতে হবে মোদের
কৃপণতা খাটিয়ে নাকো
নড়ি তােমার বজায় থাকবে।
.
[ ৩৭ ]

মুকুল
।
(৫)
বল্লে চাটা একটু হেসে,
‘খাওয়া কি অমনি জোটে ?
যদি পারি তোরা
বলতে একটা জিনিষের নাম
তবেই খাওয়াব আম।
বল্লুম সবাই হেসে,--
হাঁ হাঁ পারবে।
অামরা, বল চাচা,
শেষটায় সবাই
আম খাব ঠেসে ।
বল্লে চাচ। মুচকি হেসে,
‘বল দিখিনি ই, ই, ই
খেতে মিষ্টি কি ?
ওমা তাই বা কে জানে ?
বলছে নাতো
পাগল মনে ?
[ ৩৮ ]

মুকুল
চাচাতো হেসেই খুন,
বক্সে
‘পারলিনি.--ছি ছি
ও'তে হয়
‘জিলিপি।
আচ্ছা এবার
বলতাে ঠিক করে
‘অ, আ, আ’
খেতে মিষ্টি তা'।
( ৬ )
সবাই আমরা ভেবে চিন্তে
হয়রাণ হয়ে গেলুম,--
অর্থ তার
কিযে হবে
বুঝতে না পেরে
বলুম,
চাচা এটা তােমার চালাকি
তার্থ তার আর হবে কি ?
| ৩৯ ]

( ৭ )
বল্লে চাচা খুব হেসে,
“আরে রাম রাম’
আমি খাওয়া
হ'ল না তোদের।
‘আ, , আ’
অর্থ তার
বাতাস।
( ৮ )
অর্থ শুনে সবাই মোরা
অবাক হয়ে রইল,
চেচিয়ে ডাল, চাচাকে
চাচা, চাচা, চাচা,--
দূর থেকে সে
বল্লে হোক,
শানে তার
‘বাতাস।
৪০ }

মুকুল
আদর্শ-মাসিক
0
নুতন ভাবের আদর্শ-মাসিক
কৰে বাহির তাড়াতাড়ি,
দাৰ্টী তাহার থাকবে নাকো
গ্রাহক মহলে কাড়াকাড়ি।
একটা কোন বিশেষ ভাষায়
কন্ট্রে গেলে জাহির ;
মেলাই যে’গাে সঙ্কীর্ণতা
হবেই ত’তে বাহির।
;
তাই ভেবেছি সকল ভাষার
কর্বো একটা খিচুড়ী ;
নূতনতর কাঠাম’তাে চাই
(কাজেই) তা নইলে তার কি করি?
[ ৪১ ]

মুকুল
গল্প” আর “কবিতা" মোর
বেরুবে যেগে হংদনে ;
সমালােচনায় দুষ্ট লেখক
পিষে ফেলবাে কমে ।
ভুবন মাঝে আমার লেখা
বুঝবে বল কোনে :
বদিত সে যে’গো বিশ্ব-শুদ্ধ
সকল ভাষার সিঞ্চনে।
যারা হবে গো আমার ভক্ত
দেখবে ফল হাতে হাতে ;
তাদের “পদ্য ছাপাব সদ্য
পত্রিকার মুখপাতে।
যদি নাও মোের চরণে স্মরণ
তবেই ফোটবে জোছনা ;
লেখার ভার নেব'গো আমি
তােমার ভাবতে হবে না।
[ ৪২ }

মুকুল
আমার লেখা জমায় আসর
বাজায় মধুর খঞ্জনী ;
ওগো, সে যে সকল দেশের
সকল ভাষার ঝঝনি।
সম্পাদক
আদর্শ-মাসিক
{ ৪৩ ]

মুকুল
আদর্শ-সমাজ
আমরা সবাই নূতনতর
সমাজ-সংস্কারের বংশ ;
আহারেতে নেই বাছবিচার
মােরা সবাই পরমহংস।
হিদুদের অই সমাজখানা
এবার দিবগাে দিবগাে হানা
শুনবাে না’ক কারাে মানা
কবো গো এবার কবো ধ্বংস।
এবার দেখাবো বামুনদলের
হৃদয়-মাঝে শক্তি কত ;
মাবো গুত সমাজখানির বুকে
‘মেসিন গানের” “শেলের মত।
৪৪ ]

মুকুল
কোথাহে, ওগাে, ও সমাজ খুড়াে
এসন, এক ঘুসিতে কৰ্ব্বো গুড়াে ;
রামী, শ্যামী, বিন্দি পিসি আদি
এসনা দেখি, আছগাে যত।
তুলসী গাছ উপড়ে ফেলে
ক্রোটনের সারি রুপবাে ;
সিংহাসনচ্যুত করি ওগো
শালগ্রামেতে গুলি খেলবে।
শাস্ত্র কৰ্বে। ভারত সাগরে মগ্ন
দেবালয় আদি সবই কৰে। ভগ্ন
আদর্শ মোদের শাস্ত্রখানি
সবার সামনে মেলবাে।
[ ৪৫ ]

মুকুল
জয়মাল্য
( ১ )
রাজার সভায় শেখর' কবি
ধরিয়াছে অজি তান ;
স্বর্ণখােচিত সিংহাসনে বসি
মুগ্ধ পরাণখান।
( ২ )
কবির মুগ্ধ সুললিত তান
ঘুরিয়া ঘুরিয়া বাজে ।
কোকিলের কুহু, পাপিয়ার পিউ
মরমে মরিছে লাজে ।
( ৩ )
ভাবের আবেশে মুগ্ধ রাজন
বলিল আপনি, ‘আহা' ;
সভাতে যতেক সভাস ছিল
কহিল সবাই, ‘বাহা’।
{ ৪৬ ]

মুকুল
( ৪ )
ধীরে ধীরে তান গগনে উঠিছে
ধীরে ধীরে নামিছে ;
মালয়ের সনে কাছে কাছে আসি
পড়িছে।
মিলাইয়া দূরে
কোকিলের তানে মিলায়ে পড়িছে
নারদের বীণা যথা ;
সে গানের তানে বাহিরিয়া পড়ে
মরমের যত ব্যাথা।
( ৬ )
এমন সময় ভাবেত প্রায়
কবির শ্রবণে পশে ;
রুনু ঝুনু ঝুনু নুপুর বাজায়ে
কে যেন নিকটে আসে।
[ ৪৭ ]

মুকুল
( ৭ )
রাজার বালা হীরকের মালা
কণ্ঠ উপরি দোলে ;
‘অপরাজিতা’ মহারাজসূতা
পরদা আড়ালে।
( ৮ )
হঠাৎ কবির কি যেন কি দেখি
শিহরিয়া উঠে হিয়া ;
তখনি কবির গানের মাধুর্য
গেল সব হারাইয়া
(৯)
ভেঙ্গে গেল মান ভেঙ্গে গেল তান
‘তানপুরা’ ল’য়ে উঠে ;
‘আজ আর নয়’ বলি গেল কবি
দাড়ায়ে রাজার কাছে।
| ৪৮ ]

(১০ )
তবে কবি এসে আপন বাটিতে
বসিয়া লাগিল ভাবিতে ;
‘কাহার চরণ কমল ছায়া
পড়েছি মাটিতে।
;
। ১১ )
কাহার চরণ নুপুর বাজিল
কোকিল হারাল যাহা ;
হৃদয় মন্দির ধ্বনিত করিয়া
রুণু ঝুনু বাজে আহা।
( ১২ )
নিত্য বাজারে শুনাইতে হয়
নূতন নূতন গান ;
সেদিন হইতে সকল গানের
হারায়ে ফেলিল তান।
[ ৪৯ ]

(১৩)
দিন কতপরে ‘পরেশনাথ
দিগ্বিজয়ী মহাকবি ;
বলিল আসিয়া নমিয়া রাজায়
*একটী আছে দাবী।
;
( ১৪ )
বহুদূর হতে আসিয়াছি আমি
দেখিবারে মহারাজ ;
মাের কবির কতই ক্ষমতা
দ্বন্দ্ব করিব আজ।
( ১৫)
রাজা’ত একেই রাগিয়া আছেন
‘শেখর’ কবির পড়ে ;
পারে নাই সে’ত শুনাইতে গান
আজ কদিন ধরে।
[ ৫ ]

মুকুল
( ১৬ )
ভাবিলেন এই সুযােগে বেটারে
লাজ দিব সবার মাঝ ;
শেখরে ডাকিয়া শুধাইলেন,
‘গাইতে পার কি আজ?
আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়ে যেন বাজ
বলিল সে গম্ভীর স্বরে ;
কাল দেখা যাবে আজ পারিব না’
ভয় কম্পিত স্বরে।
( ১৮ )
পরদিন দুই গায়ক আসিয়া
নমিল সবার পায় ;
দেহে বার বার ফিরে লােকপানে
সবা হতে বর চায়।
৫১ ]

মুল
( ১৯)
মনেতে ‘শেখর ডাকে রাজবাল।
‘অপরাজিতা' নাম ,
বলদাও ওগো, জিনি যেন আমি
তবে সার্থক নাম কাম।
( ২০ )
এমন সময় বাজিল বাদ্য
শত সহস্র ভেরী ;
নৃপতি আসিয়া বসিলেন ধীরে
সিংহাসনােপরি ।
( ২১)
উঠি ‘পরেশনাথ’ গাহিতে লাগিল
লয়ে তার তানপুরা ;
যত সভাসদ, পুত্তলিকাবৎ
নিজে নৃপ আধমরা।
;

মুকুল
( ২২ )
তারপর ‘শেখর’ কবি আসিয়া
গাহিতে লাগিল গান ;
হৃদয়-মন্দির ধ্বনিত করিয়া
মুগ্ধ ঝঙ্কারে তানি।
(১৩)
দিনের আলাে অস্তাচলে মিশে
স্তব্ধ ধরণীতল ;
শেখর’ কবির গ্রান্টী সেদিন
মিশেছিল অবিকল ।
( ২৪ )
বিহগ বিহগী কুলায় ফিরিয়া
তরু শাখে বসে চায় ;
পুনঃ পুনঃ তান সপ্তমে চড়িয়া
পুনঃ পুনঃ লয় পায়।
[ ৫৩ ]

মুকুল
(২৫)
যদিও সেদিন হয়েছিল ভাল
‘শেখর' কবির গান ;
আপনি নৃপতি ‘পারেশনাথে
জয়মালা করে দান।
( ২৬ )
এমন সময় আড়াল হইতে
গজি উঠিল রাজ-বালা ;
‘একি মহারাজ কেমন বিচার
‘পরেশ’ কি পাবে মালা ?
( ২৭ ) :
নিজ কণ্ঠ হ'তে খুলিয়া মালা
‘শেখর’-কবির গলে
নিজহাতে নিয়। সভার মাঝারে
দুই হাতে দিল তুলে।
।
[ ৫৪ ।

মুকুল
( ২৮ )
লাজে অধমুখ রাজা, রাজত্ব
বুঝি পেয়ে গেল লয় ।
চারিদিক্‌ হতে সকলে গায়
‘জয় শেখর কবির জয়।
ভদ্রতা।
সন্ত্রান্ত বংশীয় এক বাঙ্গালী নন্দন,
সাধ করি যান তিনি পশ্চিম ভ্রমণ ;
অজানা বিদেশ সে যুবক পড়িল বিপদে,
ক্ষুব্ধমন, হঠাৎ এক বন্ধু পড়িল নজরে ;
কহে বন্ধু মিষ্টি সুরে, “ভায়া ভাল তাে?”
“আর ভাল ? দু’দিন খাইনি, খাবার আছে কি জো ?
বন্ধু কহে, যাও হােটেল, শঙ্করগিরি এ হােটেল তারই
খেয়ে দেয়েই বাসায় মাের এসো, গল্প হবে ভারি।”
{ ৫৫ ]

মুকুল
আহ্বান
?
(দেশে) মানুষ কি আর হবে
মায়েরে পৃজিতে আর নাহি ছুটে সবে।
দেউলে মলিন বাতি
কাটেনি দুঃখের রাতি
সকলের মিলন-আশা কতই দূরে রবে ।
ধীরে ধীরে গেল সবে
এখনাে ঘুমুবে ?
(দেখ) সকল ধরা মেতেছে আনন্দ উৎসবে।
বেদনার সকল ভূলে
বড় আশার প্রদীপ জ্বেলে
(এ) ‘পাগল’ ডাকিছে আজি এস কারা যাবে।
শুভদিন এসেছে ভাই
আর কি এমন পাবে ?
চনকি তুৰ্য্যনাদে
সূৰ্য্যাদে
আয়রে ডঙ্কা দিয়ে সবে।
০
সমাপ্ত।
। ৫৬ ]

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Mukul

Author
Dasgupta,manadacharan
Title
Mukul
File name
Mukul
Text
OCR done
Published
2009/12/1
Publisher
Gupta Friends And Company,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
72
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Dasgupta,Manadacharan
DLI number
512961
Barcode
4990010019984.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
quNy4dE67am
Download PDF

Mukul