Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Jam-jabda

Mitra , Jyotishchandra · 2010/02/21

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

যম-জব্দ।
শ্রীজ্যোতিষচন্দ্র মিত্র প্রণীত।
অগ্রহায়ণ, ১৩২৯ সাল
মূল্য এক টাকা মাত্র।

কলিকাতা।
৬ নং, দীনবন্ধু লেন।
দীনধাম হইতে প্রকাশিত
প্রিন্টার-শ্রীবিহারীলাল নাগ
এমারেল্ড প্রিন্টিংওয়ার্ক
নন্দকুমারচৌধুরীর লেন কর্মকাভা।

নিবেদন।
পূজ্যপাদ পিতৃদেব প্রণীত, যমালয়ে জীয়ন্ত মানুষ নাটকাকারে
পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত করিয়া, এই যম-জৰ প্ৰহসন প্রণীত হইল।
এখন পুস্তকখানি যদি পাঠকের প্রতিপ্রদ হয় তবেই আনন্দ ও সুখের
বিষয় ; নচেৎ গ্রন্থখানি আমার আক্কেলের চরণে, সেলামিরূপে অর্পিত
হইবে। সংসারে এরূপ সেলামি অনেকেই দিয়া থাকেন। ইহা কিছু
নূতন নহে। ইতি
দীনধাম
কলিকাতা
জ্যোতিষচন্দ্র মিত্র
১৯১৭ খৃঃ অঃ।

गा
" rane, disar si
--

คือ A
** ย
ใk:
ใhunk12"

No text on this page.

উৎসর্গ পত্র। আমার এক ভ্রাতার একটী পৌত্র আছে, তাহার নাসিকাটী দীর্থ দেখিয়া তাহার নাম রাখিয়াছি না। নাকু জন্মাইবার সপ্তদশ দিবস পরে, আমার একটী পৌত্র হইয়াছিল। তাহার পদ্মপলাশনিভ প্রশান্ত হরিণ-নয়ন অবলোকন করিয়া নাকুর অনুকরণে তাহার নাম রাখিয়াছিলাম চকু। চক্ষুরত্ন তৃতীয় বৎসরে পদার্পণ করিতে না করিতেই, সকল মায়া মমতা ছিন্ন করিয়া, আত্মীয় স্বজনের চক্ষু অপূর্ণ করিয়া, আমাদিগকে শােক-সন্তপ্ত করিয়া চলিয়া গেল। সৌম্য, শান্তসম্পন্ন, প্রতিভার প্রতিমূর্তি, জলভরা তালশাঁসের মতন চল চল তাহার মুখখানি সকলকেই মােহিত, করিয়াছিল। আমার, আমার কেন, সকলেরই বড় আদরের ছিল। তবে আমার প্রতি সে অতিরিক্ত রূপে আকৃষ্ট হইয়াছিল। আমায় পাইলে সে আর কিছুই চাহিত না। শিশু-সন্তান মায়ের কোল পাইলে আর কিছুই চায় না; কিন্তু সে আমার কোল পাইলে, পিতা মাতা প্রভৃতি যাবতীয় প্রিয়জনকে ভুলিয়া যাইত। সে সদাই আমার কোলে কোলে থাকিত। তাই তাহার ছবি আমার ছবির কোলে রাখিয়া, এই গ্রন্থ মুদ্রিত করিলাম। গ্রন্থখানি অন্য সকলে যত্ন করিয়া না রাখিতে পারে, কিন্তু আমি ত রাখিব, তাহা হইলেই তাহার মূর্তি আমার দৃষ্টি-পথে চিরস্থির থাকিবে। এখন তাহার মূর্তি মনে হইলে শশাকের মধ্যে কেমন যেন একটু শান্তির ভাব আসিয়া পড়ে। সময়, শােকতাপের একমাত্র লােপকৰ্ত্তা। পাছে সময় তাহার মূর্তিকে আমার স্মৃতিপথে স্থায়ী হইতে না দেয়, সেই জন্য তাহার স্মৃতি রক্ষার্থে, এই পত্রে তাহার বৃত্তান্ত যৎকিঞ্চিৎ বিবৃত করিয়া, এই গ্রন্থ তাহারি নামে উৎসর্গ করিলাম। ইতি। শ্রীজ্যোতিষচন্দ্র মিত্র।

No text on this page.

যম-জব্দ
প্রথম অঙ্ক।
বৈতরণীর তীর।
যমদূত ও তৎপত্নীগণ।
রং-বেরঙ্গের রােগ রচনা, আন্তে মানুষ যমপুরে,
কেউ হারে, কেউ বা জিনে, দেশ-বিদেশে ফেরে ঘুরে।
আবল তাবল পাগল বকে, মাথায় ধরে দপদপানি,
অন্ধ কালা চূনি চোখে, দাত গুলিয়ে ককনানি,
নেচে কুঁদে বেড়ায় ছেলে, হঠাৎ ধরে ডিপৃথিরিয়া,
অকেজো ডক্কা মেয়ের, নভেল পড়ে হিসটিরিয়া,
লিভার পিলে অগ্ৰমাস, কাউকে মারে ডিসেষ্টারি,
মুসেফ, সবজজের পেটে, সুগার ফ্যাক্টারি,
কালান্ত কলেরা করে, “ডেঙ্গু চন্দ্র হাড়ভাঙ্গা,
প্লেগের প্রতাপ বড়, কুঁচকি ফুলে হয় রাঙ্গা,
ইফ্লুয়েঞ্জায় যবুথবু, বেরিবেরি অন্তরে মারে,

যমজ
শিবের অসাধ্য রাখা, ক্ষয় কাশিতে ধরে যারে,
শয়ের উপর সাতডিক্রি, ম্যালেরিয়ায় থাৰ্ম্মামাট,
ডিপেপাসিয়ায় বাবু ভায়া, খুতখুতিয়ে বৃষ কাট,
ফোড়া পেকে উনানি, বাতের ব্যথায় টেকা ভার,
ক্যান্সার কাৰ্ব্ব, করে কুষ্ঠ কদাকার,
ফুলিয়ে মুখ করে ঢােল, এরিসিপিলাস,
বেঞ্চে বসার আশে নাশে, রােগের বিকাশ,
অস্থির পঞ্চম করে, কানের ভিতর কটুকটানি,
কলিক পেনে কাবু করে, কাটা পাঁঠার ছটফটানি,
কালাজ্বর মৌসি নিয়ে, যখন বসে শিকড় গেড়ে,
এলো হােমাে’ ব্ৰহ্মচারি, দেয় বদ্দি হকিম হাল ছেড়ে,
ঠাণ্ডা লেগে নিউমােনিয়া, হাঁপানিতে হাঁপায় সারারা,
আর বাত শ্লেষ্মা জ্বর বিকারে, দেখতে দেখতে কুপােকাৎ,
টাইফয়েড, সর্বনেশে, কখন বাঁকে বুঝা ভার,
আপনি সারে তবেই ভাল, ডাক্তারের চেষ্টা সার,
ছিল ভাল হঠাৎ হলো, মাথার মধ্যে রক্তপাত,
দেখতে দেখতে উপে গেল, বিনা মেঘে বজ্রাঘাত।
কোটর ছেড়ে কোলাই পােকা, জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাবে,
হবে সকল রােগের আবির্ভাব তাহার প্রাদুর্ভাবে,
অসুখ বিসুখ হচ্ছে শুধু, স্যার ঠুকঠাক,
কামারে ঘ’ যুদ্ধে মরে, লাখের উপর লাখ,
যখন, কোমর বেঁধে এরা সবে, বেড়ায় ঘুরে ঘুরে,
তখন, তােমার আমার জান বেরুবে, আন্তে মানুষ যমপুরে

দ্বিতীয় গভঙ্ক।
;
যমরাজ প্রাসাদের সম্মুখস্থ পথ।
(বসন্ত ও কলেরার প্রবেশ)
বসন্ত। কিহে ভায়া অবসর নিয়ে এলে নাকি ?
কলেরা। আমার কি ভাই তােমার মতন জোর বরাত যে একবার
মাত্র খেটে খুটে ছ’বৎসর ফালে পাব। আমার কি আর ছুটি আছে,
যেন ডাকঘরের চাকরি। সারা বৎসরটাই দিনরাত খেটে খেটে খুন।
স্বদেশ হয়েছেন যেন ভাদ্রবউ, দেখাও নাই শুনাও নাই। তােমার কি
বল; বাঁধা গরু খায় দায় আর বসে বসে মােটা হয়। এই করে
গতরখানা বানিয়েছ মন্দ নয়। ভুড়িটিও বাগিয়েছ বেশ ।
বসন্ত। এই পেটটা মােটা হয়েই তাে মাটি করেছে ; লােকে
দেখলেই বুঝতে পারে যে গায়ে গত্তি লেগেছে।
কলেরা। তা ঠিক, ঐ পােড়া পেটেই তাে ধরা পড়ে।
বসন্ত। আচ্ছা তা না হয় এবার হ’তে পেট পােড়া খাওয়া যাবে।
কিন্তু বলি ছুটি ও নাই তাে এলে কি করে ?
কলেরা। বাঙ্গালা দেশে দেহ্ম বড় বড় হােরা চো
কোম্পানীর চাকর, যাদের কাজ দেশ-বিদেশে তদন্ত করে ঘাের, তার
তদন্তের নাম করে প্রিয়জন সন্দর্শনের জন্য বাড়ী যায়, অবসর পায় না,
তবে স্বকৃত অবসর গ্রহণ করে।
বসন্ত। ওঃ, তুমি ফরাসি ছুটির কথা বচ, তা তােমার সে ছুটির
দরকার কি? তুমি বাঙ্গালার রাজা, সেইখানেই তােমার সব।

৪ যমজ কলেরা। দেখ ভাই, আমি আমার নিজের কোন কামনা সাধনা কতে আসি নাই, আমি পরােপকার সাধনের চেষ্টায় এসেছি। মর্ত্যলােকে দোম যমরাজদূতগণ বড়ই বিপদাপন্ন, তারা একটি মৃতদেহ খুঁজে পাচ্ছে না, খুব সন্ধান কচ্চে ; শুক্লাম যমরাজের কাছে সে খবর কে বেনামি করে পাঠিয়েছে ; যাতে দূতগণের কিছু অনিষ্ট না হয় সেই চেষ্টা তােমায় কত্তে হবে। বসন্ত। সে কি, লাস পাওয়া যাচ্চে না! এত বড় আশ্চর্যের কথা । শুনেছি আজকাল যারা বাস করে তাদেরই পাওয়া যায় না। তা যাই হোক, এখন দেখছি বিপদের উপর বিপদ। কলেরা। কেন, তােমাদের আবার কি বিপদ ? বলন্ত। এখানেও এক তাজ্জব ব্যাপার উপস্থিত হয়েছে। জনকয়েক সধবা মিলে এক দরখাস্ত করেছে যে, তারা স্বামীর বিরহ-যন্ত্রণা আর সহ কত্তে পাচ্চেনা, তাদের মৰ্ত্তে ফিরে যেতে দেওয়া হোক। কলেরা। বলি, শুধু দরখাস্ত করেছে, মঞ্জুর তাে হয় নাই। দরখাস্ত কলেই যদি মঞ্জুর হত তাহলে আর ভাবনা থাকতাে না। তাহলে চেয়ে চেয়ে না পেয়ে না পেয়ে কংগ্রেসের অমন অকালে গঙ্গাযাত্রা হত । ওসব আজগুবি কথা ছেড়ে দাও। মিছা চিন্তা করিও না। বসন্ত। না, চিন্তা করিনি, তবে কি জান, কলিকাল কখন যে কি হয় বলা যায় না। আমরা খেটে খুটে এত কষ্ট করে লােকগুলােকে এখানে আন্, আর তারা যদি এক কথায় চলে যায়, তাহলে আমাদের ব্যবসাটা মাটি নয় তত আর কি কলেরা। আমাদের ব্যবসা মাটি করে কে ? চলনা বাঙ্গালায় চল। দুই ভায়েতে কোমর বেঁধে লাগা যাবে এখন। দেখি, কে কি করে ? কলিকাতা কুপােকাৎ করে দেব। ?

যমজ
বসন্ত। আজকাল নাকি সেখানে বড় কড়াকড়ি। কলিকাতায়
নাকি তােমায় আমায় নজরবন্দী করে রাখবার জন্য বড় চেষ্টা চলছে।
কলেরা। সেটা কথার কথা। শুধু কাগজে কলমে। অনুদান বড়
জবর দান। আমাদের দমনের জন্য অনেক লােকজন আছে সত্য কিন্তু
তারা তাে আর বে-অকুব নয় যে আমাদের পথ বন্ধ করে নিজেদের
অন্নপথ বন্ধ কবে।
বসন্ত। তারা তাে তবে বড় বিশ্বাসঘাতক।
কলেরা। বিশ্বাসঘাতক কেন, ডিপ্লোমাট। পলিসি ডিপ্লোমাসি তাে
আর গালাগালির কথা নয়। অনেক লজিক ফিলজফি পড়ে এ সব শিখতে
হয়। যেখানে ফিলজফি সেইখানেই এই ডিপ্লোমাসি। এর চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত
জাৰ্মাণী, কেন না, সেইখানেই আজকাল ফিলজফিরও চূড়ান্ত হয়েছে।
বসন্ত। ও নিষ্ঠুর বর্বর জাতির কথা ছেড়ে দাও। কাজের কথা
কও। বলি আজকাল ব্যবসাটা চলছে কেমন ?
কলেরা। একেবারে বােম্বাই মেল। পাছে আমাদের আদর
আহ্বানের ক্রুটী হয়, আমরা যেখানে সেখানে না যাই, সেইজন্যে যাদের
উপর আমাদের শাসনের ভার তারাই আমাদের বডিগার্ড। কারাে
সাধ্য নাই যে আমাদের গায় হাত দেয়। আমরা যা ভালবাসি তার
কোনটার কোথাও অভাব নাই।
রাস্তা ঘাটে জঞ্জাল।
ঝড়ের আগে ধূলিজাল।
মেঘ ডাকলে কোমর জল।
ট্যাঙ্কে টু টু গঙ্গা জল।
ড্রেনের গন্ধে টেকা ভার।
ধোঁয়া ধোঁয়ায় অন্ধকার।

যমজ বৃষ্টি হলে দয়ে কাদা। মরা ইদুর গাদা গাদা । গােয়াল আস্তাবলের কাজ। জ্বালিয়ে মারে সকাল সাঁজ। বসন্ত। তা’ ভাই যেমন বুননা ওল তেমনি বাঘা তেঁতুলও তাে আছে ? ঘরের খেয়ে বনের মােষ তাড়ানর দল, তারা কি ঘাস খায় ? কলেরা। ঘাস খায়, কি গােছ৷ বাঁধা নারিকেল পাতার শির খায়, সে তারাই জানে। তবে আমি জানি যে তারা ঘরের খেয়ে বনের মাে’ষ তাড়ানর অছিলায় যাতে ঘরের খাওয়াটা ভাল রকম করে হয় সেই চেষ্টাতেই বিব্রত। তােমার আমার কি প্লেগ দাদার সর্বনাশের চেষ্টা করে না। শুধু খোঁচা মারে। এ সেই বাঘের কিসে কি লাগে ঠিক যেন তাই। একটু হৈ চৈ মাত্র। বসন্ত। মিছে কথায় দেরি হয়ে গেল, রাজসভায় যেতে হবে; চলনা একবার সভাটা দেখে আসবে। কলেরা। তারপর যখন নজরে পড়ে পয়জারের চোটে পাঁজর ঝাঁজর করে দেবে তখন কি দাদা তুমি গিয়ে ঠেকাবে। তা হয় না। কপালে নাই তা’ কি করূব বলে। আজকাল নাকি সভার শােভা বড় মনলােভা হয়েছে। বসন্ত। তাই বটে, আজকাল আর সেকাল নাই। এখন নূতন কায়দায় সভা সাজান হয়েছে। হাল আইনে নাম হয়েছে দরবার ঘর। বৰ্বর জার্মাণের দৌরাত্মে ফুান্স ও বেলজিয়ম হইতে আগত অনেক অপ্রাপ্য অভিনব অমূল্য সুন্দর দ্রব্য সামগ্রীতে দরবার ঘর পরিপূর্ণ। অনুষ্ঠানের কোনও ক্ৰটী নাই। রাত্রে সভার বৈঠক হয়। অসংখ্য বেলােয়ারি ঝাড়ে বিজুলি বাতির আলােকে সভা ঘর ঝলমল করে। যেন একেবারে যম-জব্দ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। দেওয়ালে নৈপুণ্য কুশল শিল্পীশ্রেষ্ঠ ম্যাকেব বিনির্মিত ঘুঘু ঘড়ি; কয়েকখানি সম্পূর্ণ মূর্তি দর্শনােপযােগী মুকুর, কিন্তু সকলের উপরেই আবরণ, কারণ কালান্তক মহােদয় একদিন কাচাভ্যন্তরে স্বীয় মূর্তি দর্শন করে ইংরাজি দশ ঘণ্টা একাদশ মিনিট মুচ্ছিতাবস্থায় নিপতিত ছিলেন। আলেখ্যগুলি অতীব সুন্দর, বােধ হয় অমরাবতী প্রতিম লণ্ডন নগরের যাবতীয় নাট্যশালা ললামভূত মহিলাকুল যমালয়ের আলেখ্যে বিরাজিত।” কলিকাতার কতিপয় মহানুভবের ফটোগ্রাফ, দেওয়ালের গায় ঝুলান হয়েছে। কলেরা। মহানুভবের কথায় মনে পড়ে গেল, আসিবার সময় দেবতা পাড়ায় দেখলাম মহাত্মা বঙ্কিমচন্দ্র দেবাদিদেব মহাদেবের মন্দির হইতে প্রত্যাগমন করিলেন। বসন্ত। সে এক বড় মজার কথা। বঙ্কিমচন্দ্র শুনিয়াছেন যে কলিকাতায় কোন কোন প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক দাম্ভিক আত্মম্ভরি লেখক ও সমালােচক ব্যঙ্গ্যপূর্ণ প্রশংসা যথার্থ বােধ করিয়া স্ফীত বক্ষে অপুত্রক বঙ্কিমের শ্রাদ্ধাধিকারী হইয়া উঠিয়াছেন। তাহার শিব সন্নিধানে এই আবেদন যে ঐ কয়েকজন লেখক ও সমালােচক অনধিকারচর্চা দোযে দণ্ডিত হইয়া অত্র রাজ্যে আনীত হউক কলেরা। তারপর। বসন্ত। তারপর অদ্য এক মহানুভব দয়ার সাগর পণ্ডিত মহােদয়ের পরামর্শে তিনি সে আবেদন প্রত্যাখ্যান করিতে গিয়াছিলেন। পণ্ডিত মহােদয় তাহাকে বলিয়াছেন “তােমার পরম সৌভাগ্য যে তুমি অপুত্রক এখানে আসিয়াছ। নতুবা এখানে বসিয়া অনেক সুখাদ্য তােমায় গলাধঃকরণ করিতে হইত, আর অনেক মিষ্ট কথা কর্ণগােচর করিতে হইত।”

যম-জব্দ
কলেরা। সে কথা খুব ঠিক। কুপুত্র হওয়া অপেক্ষা অপুত্রক
খাকা সহস্রগুণে শ্রেয়। কুপুত্র বেটাদের উপর এখন হইতে বিশেষ নজর
রাখিতে হইবে। তবে ভাই আমি আশা করি শীঘ্রই তােমার সহিত
কাৰ্য্যস্থানে দেখা হইবে।
বসন্ত। যাবার সময় হলেই যাব। এখন দেখি কি হয়। ঐ
দেখ কারা আছে। চল সরে পড়ি।
{ উভয়ের প্রস্থান ।
কুপুত্রগণের প্রবেশ।
কুপুত্র যদিও হয়
ফুমাতা কথন নয়
প্রাণপণ কুপুত্র কারণ।
কুপুত্র কুশল তরে
জননী সকলি করে
হাসিমুখে, না মানে বারণ।
আধ আধ বুলি যা’র শুনিলে শ্রবণে মা’র
অগাধ আনন্দ হু’ত মনে।
তা’র মুখে কটু কথা শুনে মার প্রাণে ব্যথা
কত যে লেগেছে হয় মনে ।
কুপুত্র আমরা যত
কাদায়েছি মাকে কত
সেই পাপে নরকে আবাস।
মাতৃমনে দিয়ে দুখ
হারায়েছি সব সুখ
কুকাজের দিতেছি নিকাশ ।
বাতনা দিয়েছি যত প্রতিফল পাই তত
কি ভীষণ যম নির্যাতন।
প্রচণ্ড উত্তপ্ত তেলে ছা করে দেয় ফেলে
থাকে জ্ঞান অসহ্য তাড়ন ।
»

তৃতীয় গভঙ্ক। যমরাজ সভা। যম। মুন্সিপ্রবর চিত্রগুপ্ত, অদ্যকার বিশেষ কাৰ্য্য কি? চিত্র। ভগ, অদ্য পি এণ্ড ও কোম্পানির ষ্টিমারে ও জেপলিন যানে দুইখানি পত্র এসেছে। একখানি আমাদের সরকারী চিঠি ও অপরখানি একটি বেনামী দরখাস্ত। যম। এ পত্ৰ কোথাকার? চিত্র। উভয়ই বঙ্গদেশ হইতে প্রেরিত ও জরুরি শব্দাঙ্কিত। যম। সরকারী চিঠি কাহার ? চিত্র। শ্ৰীমান প্লেগচন্দ্র কর্মে বাহাল হইয়া অবধি বিংশতি বৎসর ধরিয়া যে কাৰ্য্য করিয়াছে তাহার একটি সংক্ষিপ্ত রিপাের্ট লিখিয়া পাঠাইয়াছে। ৰম। প্লেগের রিপাের্ট অগ্রে পাঠ কর। চিত্র। মহামহিম মহিমাসাগর শ্রীল শ্ৰীযুক্ত সংহার নিরত মুৰ্গর- হস্ত রাজাধিরাজ মহােদয় অপ্রতিহত প্রতাপেযু, অধীনের নিবেদন এই যে শ্রীপাদপদ্ম হইতে বিদায় হইয়া প্রথমে বােম্বাই নগরে উপনীত হইলাম। সেখানে প্রায় সমুদয় লােক-স্ত্রী, পুরুষ, ধনী, দীন, শিশু, স্থবির, হিন্দু, মুসলমান, পার্শী, খৃষ্টিয়ান, ভাটিয়া, সুরটি আমাকে মহা সমাদরে গাঢ়ালিঙ্গন করিয়া পাদ্য অর্ঘ্য মধুপর্ক প্রদান করিল। অনুন নবতি পারসেন্ট আমার অমিত তেজে অভিভূত। বােম্বাই নগরে অবস্থান কালিন অনুচরবর্গের দ্বারা বােশ্বই হইতে ১০ যম-জব্দ মাদ্ৰাজ অবধি সমগ্ৰ দাক্ষিণাত্য জয় করিলাম ; পরে ডায়মণ্ড জুবিলি দেখিতে রাজধানী মহানগরী কলিকাতায় আসিয়া পড়িলাম। সেখানে রথ সন্দর্শন ও সঙ্গে সঙ্গে আশাতীত কদলি বিক্রয় করিলাম। একেবারে যেন প্রলয় কাণ্ড হইয়া পড়িল। প্রায় সকলেই আমার হাত এড়াইবার জন্য নগর ত্যাগ করিয়া ম্যালেরিয়া দাদার করকবলিত হইল, গাড়ি ভাড়া এক টাকার জায়গায় দশ টাকা হইয়াছিল। কলিকাতার বড় বাজারে মাড়ােয়ারি পটীতে আমার আদর অভ্যর্থনা বিশেষরূপে হইয়াছিল। তবে ঐ স্থানের এক একমেবাদ্বিতীয়ং স্বনামধন্য যুব পুরুষের ন্যায় অমিততেজসম্পন্ন প্রবীণ বৈদ্য আমার বিশেষ প্রতি- বন্ধকতা করিয়াছিলেন, সে কথা আমার স্মরণ রাখিতে হইবে। পরে, কলিকাতায় আফিস রাখিয়া, সমগ্র বাঙ্গালা পরিভ্রমণ করিলাম। ইষ্ট ইণ্ডিয়া ও ইষ্টার্ণ, বেঙ্গল রেলওয়ের দুই পাশ্বস্থ সমুদয় প্রদেশ সম্পূর্ণ অধিকৃত করিয়াছি। ঢাকা, ময়মনসিংহ, শ্রীহট্ট, কাছাড়, ত্রিপুরা, বাখরগঞ্জ, নােয়াখালি ও চট্টগ্রামে সমরানল প্রজ্জ্বলিত করিয়া অম্মদের শাসনাধীন করিয়াছি। ভারতবর্ষের সকল স্থানেই কৃতকার্য হইয়াছি। অধুনা নির্বিবাদে রাজ চলিতেছে। শত্রুপক্ষ ক্যাম্প ট্যাম্প উঠাইয়া লইয়া দাসত্ব স্বীকার করিয়াছে। ইতি, শ্রীপ্লেগচন্দ্র কুঁচকিফোলা। যম। রিপাের্ট শুনিয়া বিশেষ সন্তুষ্টচিত্ত হইলাম। প্লেগচন্দ্রকে লিখিয়া পাঠাও যে তাহার বীর কীর্তিতে আমি সাতিশয় সন্তুষ্ট হইয়াছি। শিব চতুর্দশীর রাত্রে তাহার অসংখ্য অনুচরবর্গকে একধার থিকে “কেয়া বাহাদুর” খেতাব দেওয়া হইবে। আর তাহাকে “ছাই” আর কি দিব ; সে যাহা করিয়াছে দেবাদিদেব মহাদেব স্বয়ং তাহাকে “ক্যায়সি এস ভাই” বলিয়া তাহার গলায় তারা-খচিত ভারতমালা পরাইয়া দিবেন। এক্ষণে বেনামি পত্র পাঠ করিয়া আমার চিন্তা দূর কর।

যম-জব্দ চিত্র। দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন শ্রীযুক্ত ধৰ্ম্মরাজ যমরাজ মহােদয় অখণ্ড প্রবল প্রতাপেষু, গতকল্য লােচনপুর পরগণার মান্যবর শ্রীযুক্ত বাবু পতন রায় জমিদার মহাশয়ের লােকের সহিত, প্রমাদ নগরের পূজনীয় শ্ৰীযুক্ত রামনাথ চৌধুরি জমিদার মহাশয়ের লােকের ভয়ঙ্কর দাঙ্গা হইয়া গিয়াছে। উভয় পক্ষে বহুসংখ্যক লাঠিয়াল, সড়কিওয়ালা, গড় গােয়ালা, দেশােয়ালী জমায়েৎ বস্ত হইয়াছিল ; অনেকগুলি লােক হত হইয়া ধান্য ক্ষেত্রে পড়ে, কিন্তু সকলকেই মহারাজের দূতেরা আসিয়া লইয়া গিয়াছে। কেবল একজনকে লইয়া যাইতে পারে নাই। চৌধুরি মহাশয়ের সদর নায়েব নব চাটুৰ্য্যে এক জন গড় গােয়ালার প্রচণ্ড লাঠির ঘায়ে পঞ্চত্ব প্রাপ্ত হন; কিন্তু রায় মহাশয়ের কাপরদাজেরা নায়েব মহাশয়ের মৃতদেহ এমত গুপ্তস্থানে লুকাইত করিল যে আপনার দূতেরা ও আপনার প্রতিকৃতি লােচনপুরের পুলিস ইন্সপেক্টারের লােকেরা তাহার কিছু মাত্র সন্ধান পাইল না। মৃত নায়েব মহাশয়কে লােচনপুরের কাছারি বাড়ীর বড় আটচালার পশ্চিম পার্শ্বের কামরায় একখানি দড়ি দিয়া ছাওয়া চারপায়ায় শােয়াইয়া রাখিয়াছে। পা হইতে মাথা পর্যন্ত কাপড়ে ঢাকা আছে। যদি পত্র পাঠ সেইখানে দূত প্রেরণ করেন, নায়েব মহাশয়ের মৃতদেহ ধৃত হইবার সম্ভাবনা। ইতি। যম। দরখাস্ত শুনিয়া যারপর নাই উৎকলিকাকুল হইলাম। হে মুন্সিশ্রেষ্ঠ, এ দুরূহ ব্যাপার শ্রবণ করিয়া আমার হৃৎকম্প হইতেছে। না জানি কি সর্বনাশ আমার জন্য প্রস্তুত হইতেছে। প্রলয় ডিপার্ট- মেন্টের অধ্যক্ষ দেবাদিদেব মহাদেব শুনিলে আমাকে কি আর আস্ত রাখিবেন। এক সেট দ্রুতগামী বেহারা প্রেরণ কর। তাহাদের বলিয়া দাও যেন রজনী মধ্যে এই নায়েবের মৃতদেহ আমার সমক্ষে T

যম-জব্দ
আনয়ন করে। তাহারা যদি পিতৃদেবের গাত্রেখানের পূর্বে প্রত্যাগমন
করিতে পারে, তাহাদিগকে তাড়ি খাইতে জোড়ে জোড়ে নয় আনা
করিয়া পয়সা দিব। আজ এইখানেই সভা ভঙ্গ কর।
যে আজ্ঞা মহারাজ, এই দণ্ডেই বেহারা পাঠাইতেছি।
যম। শঙ্কর সহায়। মৃতদেহ নিশ্চয় পাওয়া যাইবে। দণ্ড কখন
পাইব না, ( সকলের উথান) যাই এখন বিশ্রামলাভের চেষ্টা করিগে ।
চিত্র।
[ সকলের প্রস্থান ]
চতুর্থ গর্ভাঙ্ক।
যমপুরীর কক্ষ।
( কোচ লইয়া ভৃত্যগণের প্রবেশ ও শয্যারচনা)
১ম ভূ। দ্যাখ, ভাই, এই যমের জ্বালায় অস্থির। শালা সেখানেও
যেমন এখানেও তেমনি। অমন শোবার ঘর থাকতে বল্লে কিনা
এইখানে বিছানা কর; আরাম করিব। আরাম কৰ্বি কর তা
আমাদের ব্যায়রাম ঘটাস কেন ? বেটা আবার একটা ছােকরা চাকর
এনেছে ; তাকে আবার কায়দা করে ডাকা হয় “বােয়”। কি বজ্জাত,
বৃড় মানুষ থাকতে কচি মানুষ খায়।
২য় ভূ। না ভাই, নিমােকহারামি কত্তে চাই না। বেটার যে কিছু
ভারি দোষ আছে তা বলতে পারি না। নরক থিকে এনে ঘরের
কাজে লাগিয়েছে। বাজারের পয়সা চুরি কৰ্ত্তাম, তাই কিছুদিন নরক

যম-জব্দ ভােগ কত্তে হলাে, তার পর প্রাণ দিয়ে মনিবের সেবা করেছি তাই বেঁচে গেলাম। ঠিক বিচারই করেছে। আর বুড়ো কচির কথা যা বচ, সেটা যেন আপনার বেলায় আঁটিসুটি পরের বেলায় দাত কপাটি। কচি পাঁটা ফেলে কেউ কি ভাই বােকা পাটা খায় ? মাগো, যে গন্ধ, তা’ বাক্ ও কথা থাক্। আবার কখন কে এসে পড়বে। সরকারের নিন্দায় কাজ কি! এখনি পাকড়াও করে নজরবন্দী করে রাখবে ; আর সাত ঘাটের জল খাওয়াবে। অন্য কথা ক'। ১ম ভূ। আচ্ছা, তাই ভাল ; আয় এক কাজ করি, ঠাকুর বেটাকে হাত করা যাক্। বেটার চাল চুরি দেখেও দেখব না। তা হলে খাবার সময় বেশ একটু যুত পাওয়া যাবে। ২য় ভূ। শুধু পেটের ভাবনা ভেবে কি মজা হয় ; একটু রকম সকম চাই। ১ম ভূ। যদি রকম সকমের কথা তুলি তাে বলি লােন্; গিন্নিমাগীর সেই পেয়ারের ঝি, ঐ যে কেলােদের কচিপিসি, আজ দুপুর বেলায় খেয়ে দেয়ে, পান চিবিয়ে গাল ট্যাপ করে, হেলে দুলে হেঁসে হেঁসে চোখ ঘুরিয়ে আঃ কি বলব, নিরিবিলিতে যে কথা কচ্চিল, যেন গােলাপি-গাণ্ডেরি! ভাবলাম বুঝি কপাল ফিরুলল; তা এমনি বরাত, ঠিক সময় বুঝে গিন্নিমাগীর তলব পড়ল, আর বুক ভেঙ্গে দিয়ে চলে গেল। ২য় ভূ। তা” যাক্, আভাস তত পেয়েছি। আশায় বাঁচে চাষা। এখন ঐ চোখ ঘােরান দেখেই মাথা ঘােরাতে হবে। নিখরচায় সিদ্ধির নেশায় মজগুল হয়ে মজা মারা যাবে। ১ম ভূ। চুপ চুপ; আর মজা মেরে কাজ নাই। ঐ আসছে। [ প্রস্থান }

১৪
যম-জব্দ
(যমের প্রবেশ, কৌচে শয়ন ও নিদ্রা )
( নিয়তির আবির্ভাব)
নিয়তি। যা হবার হবে তবে ছাড় না ভাবনা।
মিছে ভেবে কেন দেবে মরমে যাতনা ।
বিধিলিপি খণ্ড করা কারাে নয় সাধ্য।
নিয়তি নিয়ম কভু কারাে নয় বাধ্য।
মাধব মাতুল যা’র পিতা ধনঞ্জয়।
অকালে কালের করে কবলিত হয় ।
অগাধ আনন্দ সীতা কৌশল্যার মনে।
কোথা রাম রাজা হবে কোথা গেল বনে ।
বেহুলার দুঃখ দেখে বুক ফেটে যায়।
লৌহ ঘরে ঢুকে’ সাপ লখিন্দরে খায়।
বাসর শ্মশান হ’ল কপালে লিখন।
কপালের জোরে পুন পতি সম্মিলন।
কোর না কোর না কভু কোনও কামনা।
ভেব না পাইব এটা সেটা তাে পাব না।
[ অন্তর্ধান।

দ্বিতীয়
অঙ্ক
প্রথম পতাক।
লােচনপুর কাছারি বাড়ীর বড় আটচালা ।
( চারপায়ায় নব চাটুৰ্যে নায়েবের মৃতদেহ )
কর্মচারি। আমরা প্রবল প্রতাপ পতন রায়ের কৰ্ম্মচারি। আমাদের
চোখে ধূলাে, আমরা তাে আর খবর রাখিনি। আমরা টিকটিকির
বাবা গিগিটি। দারােগা মশায় এ গুপ্তস্থানের খবর পেয়েছেন।
তা’র এখানে আবার আগেই লাস স্থানান্তরিত কত্তে হচ্চে। ওরে,
কে আছিস্ জন চারেক এদিকে আয়।
(চারিজন বেহারার প্রবেশ)
ধরাধরি করে এই লাসটা গােয়াল বাড়ীর দিকে নিয়ে আয়। আমি
সেই দিকেই যাচ্চি।
[ প্রস্থান }
১ম বেহারা। চারপয় ধরুচি কই কি? লাস উঠা, লাস উঠা ।
মনিব বলিল লাস উঠা।
২য় বেহারা। ধরত ভাই, ধরত ভাই।
৩য় বেহারা। হঃ ধরত ধরত করচু, ধরচু কই ।
৪র্থ বেহারা। এ মড়া বড় ভারি, মড় বড় ভারি। চারপয়
কন্ধাপরি হইত তত উত্তম হইত।

১৬ যম-জব্দ সকলে। পানকি ছাড়কি মুরদ বহুচি। মনিব হুকুম তামিল করুচি । ভয় কি ভাই রাখিবে জাত। কৃপার সিন্ধু জগড় নাথ। { লাস লইয়া প্রস্থান । ( কুড়রামের প্রবেশ ) কুড়। নারায়ণ নারায়ণ শিব শম্ভা! In one birth কত কাণ্ডই হ’ল। পাড়াগাঁয়ে পাঠশালে পাঠ সাঙ্গ করে কলিকাতায় গেলেম for right hand business, চাকরি জুটলো এটর্ণির সার্ভিং রাইটারি। এমন কাজ নেই যা করি নি। ডুবুরি নাবালে Mother Ganges এর পেটে ঢের নুটিস জারির নুটিস পাওয়া যায়। মিথ্যা কথা অঙ্গের অভরণ। লেখা পড়ার বড় ধার ধারিনে, তবে দেখে শুনে ইংরিজিতে এমন উৎপত্তি হ’ল যে, বড় বড় বারিষ্টার টিকিট কিনে আমার ইংরিজি শুনিতে চাইত। একবার এটর্ণি-বাবু কৌন্সিলের কাছে কন্সালটেসন কত্তে যান, সাহেব বল্লে তােমার কেরানীকে পাঠিয়ে দাও। তার ইংরিজি বড় সুইট হার্ট ; যাক সে সব কথা। 6*168 false personificationএর দায়ে, সহর ছেড়ে জমিদারি সেরেস্তায় ঢুকিচি। হেয়ার রাইপিং হতে চল্প, এমন ফিয়ারিং ফাইট তো কখন দেখিনি। পতন রায়ের গােমস্তা! কত লুট পাট কত্তে হয়। কিন্তু এমন ফ্যাসাতে তো কখন পড়িনি। দাঙ্গার হাঙ্গামে আদায়ের টাকা শুদ্ধ বাক্সটী গিয়েছিল আর কি! আহা! আমার কত আদরের বাক্স। আমার প্রাণ প্রেয়সি, ও পাড়ার পদী পিসিও এত লাভারিং নয়। এতে কত প্রজার কাচা থিকে আদায় করা খাজানা স্থান পেয়েছে। আমার বাঙ্গাল ব্যাঙ্কের আইরন-চেষ্ট। বেজায় বকেয়া বা !

যম-জব্দ
ছাদা হয়েছে তবু ছাড়িনি। গালা দিয়ে আরসুল্লা ব্রাদার-ইন-লার
শুভাগমন shut your tongue করে দিয়েছি। বাস তাে নয় যেন
আমার আইডােলটারি। শ্বেত চন্দন রক্ত চন্দন আর হলুদের অর্ধচন্দ্র
গায়ে আঁকা, যেন চোরকে হাফ, মুন দেবে বলে বাগিয়ে রয়েছে।
বাস আমার মনিহারির দোকান। কি জানি কখন কি দরকার
হয়, এতে সব রেখেছি। কাগজ, কলম, কালি, সূচ, সূতা, বাতি,
দেকাটি, খড়কে, মায় নুন পর্যন্ত আছে। কি জানি যদি কখন রাস্তায়
কচি শশা পাই তাে নুন দিয়ে খাই। বড় হয়রাণ, হয়েছি। একটু
সিলিপিং করা যাক। ঐ চারপায়াখানায় চাদর মুড়ি দিয়ে, বাক্সটাকে
বালিসে ট্যাসেলেস করে শােয়া যাক।
( শয়ন ও নিদ্রা )
( যমালয়ের বেহারাগণের প্রবেশ )
১ম বেহারা। ছাদে ভাই, মুনসি ঠাউর যেমন কয়ে দিয়েলাে সেই
পথ ধরে’ ধরেই তাে আলাম। তা’ কই তাে লাস দেচিনে।
২য় বেহারা। সুমুদির ভাই যেন চকির মাতা খাইচে।
৩য় বেহারা। এই তো সেই আটচালার পশ্চিমির কামরায় আলাম ।
ঐ চারপায়ায় কাপড় ডাকা কি বুইচে দ্যাচিস না?
১ম বেহারা। দ্যাক্‌চি মাের মাতা, আর তত সুমুন্দির মুণ্ডু! লাস
লইতে আইচ। ফর ফর ফরাৎ, ফুর ফর ফরাৎ, করে নাক
ভাতিছে শাের্চ না।
৪র্থ বেহারা। নাক ডাকৃতিছে তাে নাক ডাতিছে, তা তাে
সুমুন্দির কি ? মুন্‌সি ঠাউর যা হুকুম লাগায়েছে তাই কর, না কবি
ভে গর্দান দিবার পারুবি ?

১৮
যম-জব্দ
সকলে। হঃ হঃ আর মিছামিছি কেজিয়ে করবার কাজ কি ?
চারপায় ধরে ওডারেই লয়ে চল।
( চারপায় ধরিয়া)
যমের চোকি ধূলাে দেবা পুঙ্গীর পুত হাল।
লােহার ঘর ভাঙ্গি মােরা কিসের আটচালা ।
হাজির করে যমদ্বারে দেখব ভাটা যত।
পেটা ভরে খাটী খাব লুটবে মজা কত।
ঋেদির মাকে আঁখি ঠেরে বলবাে বার বার।
আমার মত মিনসে যা’র ভাবনা কিলো তার ।
দ্বিতীয় পর্ভাঙ্ক।
যমরাজপুরীর প্রান্তরস্থ পথ।
( পতিতা কামিনীগণের প্রবেশ)
আগে যদি জান্তে পেত
এখানে এমনি গুতো
পাপের পেশা কেউ নিত না।
কুলেতে কলঙ্ক কালি
পিতৃ-মুখে চূণ কালি
মায়ের বুকে শেল দিত না।
অন্দর বহির ভিন্ন
পুণ্য শূন্য দেহ ঘৃণ্য
যা’র খাই তাকেই মজাই।
হােমরা চোমরা বাবু
হাবুডুবু কচ্চি কাবু
শেষ ভিটেতে ঘুঘু চড়াই ।

যমজ ১ পচা চিংড়ি টোকো পান্ত খেয়ে তাই হয়ে শান্ত বাবুর কাছে চাল দেখাই। মুখে সদা নাই নাই, এটা চাই ওটা চাই না দিলে বাপন্ত করে খাই। ভিটে মাটি চাটি কোরে সৰ্বস্ব যতন করে দিচ্চে, তবু মনটী ভরে না। মনের মানুষ যারা শুধু হাতে এসে তারা আদর পায় যতন করে না। এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত হচ্চে হেথা নিত্য নিত্য চক্ষে সূচ বিধে দিচ্চে কত। অগ্নিকুণ্ডে মুণ্ডপাত খাদ্য দ্রব্য দিবা রাত নাগরে ন্যক্কার করে যত ৷ [ প্রস্থান) কুড়রামকে চারপায় করিয়া বেহারাদের প্রবেশ। ১ম বেহারা। ভাই আর পারছি না। এই খান্ডা ভই দে। ২য় বেহারা। কাঁধটা ফুলে যেন ঢিবিপানা হইছে। ভুই দে। ভাই ভুই দে। (চারপায় ভূমিতে রাখিয়া দেওন) ৩য় বেহারা। ওঃ দরদরিয়ে ঘাম ঝরছে। চ’ চখে মুখে জল লাগাইয়া আসি। ৪র্থ বেহারা। জল লাগাইলে তত আর প্যাট ভরবে না। ৪ দকান থিয়ে চাল ডাল হাঁড়ি খরিদ করে প্যাট্ পূজার ফিকির করা যাক। এক লহমায় ফেব এহন, সব ঠিক করা আছে। রাজার বেহারা রাজার বন্দোবস্ত। যাব ল’ব আর আসব। ( সকলের প্রস্থান ।

२० যম-জব্দ ( যমরাজ প্রাসাদের নহবত বাজনায় কুড়রামের নিদ্রাভঙ্গ) কুড়রাম। (আড়ামোড়া ভাঙ্গিয়া খট্টাঙ্গোপরি উপবেশন ও চোখ রগড়াইতে রগড়াইতে) এ কোথায় এলাম বাবা! নট নাে কান্টি, কেউ কোথাও নেই, নট নড়ন্ চড়ন নট কিচ্ছু! ব্যাপার খানা কি। রামনাথ চৌধুরির কাছারিতে চুরি করে আনলে নাকি? গুমি করে রাখবে ! ফোজদুরিতে ফেলব, সহজে ছাড়ব ? কিপি, কম্ফাই, চুরি করে এনেচে থিপিং চার্জও দেব। কিন্তু কই, কেউতাে ঘেরে নাই, লাঠিয়াল সড়কিওয়ালা কেউ নেই! ঐ যে কেবল ক’বেটা বেহারা এই দিকেই আছে, ওদের এক একটি চপেটাঘাতে land sign করে দেব। একটু মটকা মেরে থাকা যাক। (বেহারাদের বাজার লইয়া প্রবেশ) ১ম বেহারা। এই গাছতলায় সব থুয়ে দে। হাঁড়ি আকায় দিয়ে লাস পৌছে ফেরবার মুখে খাওয়া দাওয়া কবো এনে। ( চারপায়া ধরিতে অগ্রসর ) কুড়। ওরে নচ্ছার বেটারা, প্রাণের ভয় থাকে তাে চারপায়ার নিকট আর আসি না। আমি পতন রায়ের প্রধান পাটোয়ারি। আমি কি তাের রামনাথ চৌধুরিকে ভয় করি? এই দণ্ডে তােদের কাছারি বাড়ীতে আগুন দিয়ে ফায়ার-ওয়ার্ক লাগিয়ে দেব। আমার প্রতাপে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায় (ভয়ে বেহারাদের পলায়ন, একজন খাটীয়ার পাশে কাপিতে লাগিল, পলাইতে পারিল না) একি এ, একজন হরেসের মতন উর্ধ্বশ্বাসে পালিয়ে গেল। দু’বেটা ডােম্ কাক হয়ে কা-কা করিতে করিতে আকাশে উড়ে গেল। কি ভীষণ ব্যাপার। কোথায় এলাম ! পরী জিনির পাল্লায় পড়িলাম নাকি ? রাম্ রম্ রামায়ণ রামায়ণ !

যম-জব্দ
৪র্থ বেহারা। মশাই গাে, এটা চৌধুরিদের কাছারি বাড়ী নয়,
এটা যমপুরী। মােরা নব ঠাকুরকে আতি গিয়েলাম, তা ভুল করে
তােমারে এনে ফেলেছি, মারামারি করবেন না, মােরে যা বলবে মুই
তাই কবে।
কুড়রাম। তাইতাে এ যে অকূল পাথারে পড়লাম। একেবারে
ক্যান্টি কোসান। হােলেস কেস। দেছি সকাল হয়েছে।
এখনই যমরাজের কাছে যেতেই হবে। তা হক, বিপদে আকুল হলে
চলবে না, স্থির হয়ে ফন্দি আঁটতে হবে। আগে আহারের চেষ্টা ;
পেটে খেলে পিঠে সয় । ওরে বেটা, হাঁড়ি কুঁড়ি বাজার তাে সব ঠিক
দেখচি, রাঁধূবে কে ?
৪র্থ বেহারা। এজ্ঞে করেন তাে মুই রসুই কত্তি পারি।
কুড়রাম। জেলে এসে caste judgement C. A. v. কত্তে
হবে। যতক্ষণ পারি জাত বেচারাকে বাঁচিয়ে রাখি। বেটাকে দিয়ে
খিচুড়ি ভােগের চেষ্টা করা যাক। তখন আপনি নাবিয়ে নেব।
দেখু এক কাজ কর ।
৪র্থ বেহারা। হুজুর !
কুড়রাম। উনুনে আগুন দিয়ে হাঁড়িটা চাপিয়ে দে।
(বেহারার তথা করণ।
হে ভূতভাবন ভবানিপতি আমায় উদ্ধার কর। Beg your
pardon কচ্চি Sir। আমার কোন দোষ নাই। আমি Not
guilty, My Lord, যমালয়ে জীয়ন্ত মানুষ এনে যমই সেসন কেসে
পড়েছে। আমায় উদ্ধার কর, আমি তােমায় প্রণাম করি। আমি
নব-বিধানে তোমার পূজা দিব। এমন suffering তােমায় কেউ কখন
দেয় নাই। My Lord, আমায় উদ্ধার কর, আমি তােমায় প্রণাম করি।

२२ যমজ } আমি ভিনটরিয়াল পাউডারে তােমার অঙ্গের শােভা বর্ধন করিয়া দিব, তােমায় আর ছাই ভ মাখিতে হইবে না। আমার প্রতি প্রসন্ন হও, আমায় উদ্ধার কর, আমি তােমায় প্রণাম করি। হেয়ার কাটারের বাড়ী গিয়ে, পেছন কামিয়ে সামনে হেঁটে, চোক ঢাকা বাঁদুরে ছোড়াদের শ্রাদ্ধ করিয়ে, শচী-বিলাসে তােমার কেশ বিন্যাস করে দেব। তােমায় আর জটাজুট বইতে হবে না। আমার প্রতি প্রসন্ন হও, আমায় উদ্ধার কর, আমি তােমায় প্রণাম করি। বিয়ার, ব্রাণ্ডি, স্যাপিন, দেরিতে রম্ দিয়ে পঞ্চ, করে, তােমায় অঞ্জলি দেব, তুমি ত হয়ে যাবে; তােমায় আর গাঁজা ভাঙ্গের ঘােট নেশা করিতে হইবে না। তুমি আমার প্রতি প্রসন্ন হও, আমায় উদ্ধার কর, আমি তােমায় প্রণাম করি। হ্যামিল্টনের হীরের হারে তােমায় Embrace করিব; তােমাকে আর হাড়মাল পরিতে হবে না। তুমি আমার প্রতি প্রসন্ন হও, আমায় উদ্ধার কর, আমি তােমায় প্রণাম করি। ঐ নধর দেহ, শ্বেত অঙ্গ, বেনারসী সাচ্চা জোড়ে সাজিয়ে দেব, তােমায় আর বাঘছাল পরিতে হইবে না। আমার প্রতি প্রসন্ন হও, আমায় উদ্ধার কর, আমি তােমায় প্রণাম করি। চাল কলা মােঙ। ফেলে, কারি কোর্মা, কোপ্তা কাবাব, কটলেট, অলেট, পােলাও দিয়ে, ডিসের উপর ডিস্ সাজিয়ে, Her Majesty নৈবেদ্য দিব, তােমার সরল প্রাণে আর গরল খেতে হবে না। তুমি আমার প্রতি প্রসন্ন হও, আমায় উদ্ধার কর, আমি তােমায় প্রণাম করি। তােমায় অদেয় আমার কিছুই নাই। My Lord ! যেখানে যে ভাল সামগ্রী আছে, I am instructed to সকলি তােমায় সাজায়ে দিই ; সাদরে তব চরণে Foot note করি, তুমি আদরে Petition granted করে আমার প্রতি প্রসন্ন হও, আমায় উদ্ধার কর। তােমায় at your

যম-জব্দ
service যতই কেন দিই না, তার অন্ত নাই। শেষ নাই, ভােলানাথ
ভুল হলে ক্ষমা ভিক্ষা দিও। আমি তােমার পূজায় সব দেব :-
সরভাজা সরপুরি কৃষ্ণনগরের।
সুরে সুগন্ধে মন মুগ্ধ সকলের ।
বর্ধমানে মিহিদানা সীতাভােগ তাজা।
খিরে ফেলে খাবে সুখে চঁাদসাই খাজা ।
জনায়ে জনমে যত ভাল মােনােহরা।
চিনির খােলস খুলে হয় মন-হরা ।
দখিনে বারুইপুরে খাসা ভাবা দই।
পয়রাগুড়েতে ফেলে খাবে লুচি থই ।
ভাঙ্গা ভাঙ্গা খই মােয়া নাম খইচুর।
ধনেখালি খ্যাত তাহে আর শান্তিপুর ।
রসে ভরা কঁজি পাস্ত রাণাঘাটে খায়।
চাপ দিলে রস ছুটে তীর বেগে যায়।
প্রকাণ্ড সে কাণ্ড ধন্য বহরমপুর।
আধমুণে ছানাবড়া রসে ভরপুর ।
ঢাকার অমৃতি ভাল ঢাকাই পরটা।
দমদমে নিকি বড় মস্ত কটা কটা।
রসকরা রসে গড়া নারিকেল সার।
কচুরি সিঙ্গারা রাজভােগ দানাদার ।
দেদো মণ্ডা গ্রামে গ্রামে মিষ্টান্নের রাজা।
পান্নও মন্দ নয় যতক্ষণ তাজা।
এইবার চল যাই কলিকাতা ধাম।
মিষ্টি কত দৃষ্টি হবে সৃষ্টি ছাড়া নাম।

२४
যমজ
সন্দেশ, আবার খাব, মাছ ডিম চপ,।
রাতাবি, বাদামতক্তি, মুণ্ডি ধপ ধপ,।
আহলাদি, কমলালেবু, আতা, আম, খুরি।
কামরাঙ্গা, তালশাঁস, দিব ঝুড়ি ঝুড়ি।
অবাক, গোলাপি পেঁড়া, জামাই সােহাগ।
নারিকেল ছাপা, যবে পূজা যােগ-যাগ।
তত্ত্বের গোলাপফুল, নৈবেদ্য রঞ্জন।
চিনি বেশী ছানা কম যে মন-রঞ্জন ।
বরফেতে ঢাকা হিমসাগর সন্দেশ।
মনমােহিনী খিলি, সুন্দর দরবেশ।
নিখুঁতি পেরাকি প্যাড়া সোঁদা মুগ নাড়।
গুজিয়া, গােলাপজাম, ক্ষির সর নাড়।
ছানার জিলেপি সর-মােহন ঘিয়র।
রসগােল্লা ছুড়ে দেবে মুখের ভিতর।
জীবে, কুচো, বালােসাই, এপ্রেস গজা।
মালা পােরা মাল্লো পাবে কৃষ্ণ প্রেম ভজা
সরােবর রস মাধুরি মােহনভােগ।
বনেদি পূজার বাড়ী বৰ্কি জলযােগ।
লবঙ্গ লতিকা, লেডিকেনি, কালা কঁদ।
তিলকুটো, চন্দ্রপুলি, যেন আধা চাদ ।
রসমুণ্ডি, কালজাম, জাহ্নবী যমুনা।
আরাে কত আছে দিমু সামান্য নমুনা ।
‘ারে, উনুন জলিল ?
৪র্থ বেহারা।
এজ্ঞে হঁ্যা।

যম-জব্দ
२०
কুড়রাম। আচ্ছা, এইবার উনুনে হাঁড়িটা চাপিয়ে দে, দিয়ে
খানিকটা জল ঢেলে দে।
৪র্থ বেহারা। যে জ্ঞে,
এই দেলাম।
( উনুনে হাঁড়ি চাপাইয়া খানিকটা জল উনুনে ঢালিয়া দিল)
কুড়রাম। আচ্ছা, খানিক চাল আর খানিকটা ডাল ফেলে দে।
৪র্থ বেহারা। এই দেলাম ।
কুড়রাম। এইবার খানিকটা বাটনা গুলে ফেলে দে।
৪র্থ বেহারা। যা বল্লেন তাই কল্লাম।
কুড়রাম। বস, এইবার মুখে সরা চাপা দিয়ে বসে থাক্। আমি
একবার বাবার নাম করে নি।
হর মহেশ্বর তুমি শঙ্কর সর্বজ্ঞ।
সৰ্ব্বদেব দেব তুমি চতুর বেদজ্ঞ ।
শমনের কাল তুমি শিব শম্ভু ভােলা।
ঢুলু ঢুলু লাল আঁখি খেয়ে সিদ্ধি গােলা।
নাচ তুমি, ভূতপ্রেত নাচে তব সঙ্গে।
ডাকিনী যােগিনী নাচে, নাচে কত রঙ্গে।
ফণি ফণা জটাজুট শােভে হাড়মাল।
শ্বেত অঙ্গে ভস্ম মাখা বস্ত্র বাঘছাল ।
ডমরু তানপুর বাজে বম্ বম্ গাল।
শ্মশানে আসন কর জ্বালিয়ে মশাল।
রতিপতি রঙ্গ কল্লে অঙ্গ হ’ল ছাই।
সতীপতি সঙ্গে রঙ্গ বিষম বালাই ।

যমজ
দক্ষরাজ অজমুঙ লণ্ড ভণ্ড যজ্ঞ।
যমত্ৰাস কর নাশ প্রভু আমি অজ্ঞ।
হারে দেখ দেখিনি, ফুট ধরলাে ?
৪র্থ বেহারা। এজ্ঞে মুখে সরা দিয়ে বসে আছি, কি বলচেন
সমজাভি পালাম না।
কুড়রাম। সে কিরে বেটা, হাঁড়ির ভিতর হতে কথা কচ্চি
কি ? দেখি দেখি, ( উঠিয়া সব দেখিয়া) আরে আমার কপাল !
যমালয়ে এসেছি খিচুড়ি ভােগ খেতে । নে সরা ফেলে দে,
করিচি কি ?
৪র্থ বেহারা। এজ্ঞে তুমি যা যা বল্লেন তাই করেছি।
কুড়রাম। আচ্ছা, খুব করিচি। ঐখানে বােস্। এইবার
উদ্ধারের ফন্দি করা যাক।
যম বেটা যেমন বুনাে ওল আমিও তেমনি
বাঘা তেঁতুল। জাল জচ্চরির একজামিন থাকলে এম এ পাশ কম।
এখন মহাদেবের নাম জাল করে একখানা পরােয়ানা লিখি। (বাস
খুলিয়া কাগজ বাহির করিয়া পরােয়ানা লিখন) নে বেটা বাস মাথায়
কর, কোথায় তাের যমরাজ আছে সেইখানে নিয়ে চল।
৪র্থ বেহারা। এজ্ঞে, এইদিকে আসেন।
( উভয়ের প্রস্থান ।
( ভূত-পেত্নীগণের প্রবেশ )
ছেড়ে আয় বাড়ী হানা, পাপীদের ক্লাে ধােনা,
করি নাকটা কেটে চক্ষু কানা, কেউ যেন পিছলে পালায় না।
লম্বা হাতে ধধারে ধােরে, হাউ মাউ খাউ করে,
ঘাড়টী ভাঙ্গৰ মটাস করে, পাপী যেন পিছলে পালায় না।

२१
ঠিক দুপুর বেলাতে, শীর ফাটাব ঢেলাতে,
অশথ বেল স্যাওড়া তলাতে, পাপী যেন পিছলে পালায় না।
সপাসপ, কোড়া মেরে, ঘাড়ে চড়ে অন্ধকারে,
দৌড় করাব শ্মশান ভাগাড়ে, পাপী যেন পিছলে পালায় না।
কচি কচি মেয়ে ছেলে, বড় যারা কেঁদে ফেলে,
চিবিয়ে দাতে পেটে দেব ফেলে, ছেলে যেন পিছলে পালায় না।
ভূত প্রেত দৈত্য দানা, রাবি যদি গদীনা,
আয় আয় সব চলে আয়না, পাপী যেন পিছলে পালায় না।
( নাচিতে নাচিতে সকলের প্রস্থান ]
তৃতীয় গভাঙ্ক।
যমালয়ের কাছারি বাড়ী।
নকীব। ঐ-যে ঐ-যে ঐ-যে বসে আছেন যমরাজ
নরলােকে ধৰ্ম্ম ভিন্ন করেন সব কাজ ।
সরম নাই, ভরম নাই, নাহি কিছু লাজ।
দুষ্টের পালন করেন শিষ্ট শিরে বাজ ।
যমালয়ে ন্যায় দণ্ড সত্য ধৰ্ম্মরাজ।
হুজুরে হাজির হও ছেড়ে সৰ্ব্ব কাজ ।

২৮
যম-জব্দ
চিত্রগুপ্ত। ধৰ্ম্মরাজ। আসামীগণ উপস্থিত। অনুমতি হয় তো
তাহাদের হাজির করি।
যম। আমার এখানে জুরি ভিন্ন বিচার নাই। জুরি আহ্বান কর,
তারপর বিচার।
চিত্র। যে আজ্ঞা। নকীব জুরিদের নাম ডাক।
নকীব। গিরিধারি, ত্রিপুরারি, ভােলানাথ, গণনাথ, গুরুদাস,
দেবুদাস, (কেহই উত্তর দিল না) হুজুর কেহই উপস্থিত নাই।
যম। হাড় পেকে, বুড়াে বামনা, সৰ্বনেশে, সব গেল কোথায় ?
চিত্র। দেখুন এই Improvement Trustএর দৌরাত্মে এখানে
অনেক গুলাে বাজার এসে পড়েছে। তাদের সদ্গতির জন্যে নরক কুণ্ডের
কাছে এক নূতন বাজার বসান হয়েছে। সেখানে আজ মহাসংকীৰ্ত্তন,
নীলকণ্ঠের যাত্রা হবে। বােধ হয় সকলেই নূতন বাজারে কীৰ্ত্তন শুনিতে
গিয়াছে।
অন্য জুরি ডাকিব কি ?
যম। না থাক, আমি কোনও নিয়মাধীন নহি। জুরি নাই তো
নিজেই বিচার করিব। আসামী ডাক।
নকীব। পয়লা আসামী হাজির। পয়লা আসামী।
(পয়লা আসামীর প্রবেশ)
যম। এ কে ? কি করেছে ?
চিত্র। হুজুর এর তুলনা নাই। এ একেবারে অতুল! সতী সাধ্বী
সহধৰ্ম্মিণীকে সন্তপ্ত করে ভামিনী ভবনে যামিনী যাপন করেছে।
যম। ওকে ঘােড়ার চাবুকে চাক্‌কে লাল করে, গয়লা পাড়ার
গাজলা গােময় গর্তে সারা রাত মুখ গুজুরে রেখে দাও। আর
কে আছে ?
নকীব। দ্বিতীয় আসামী হাজির। দ্বিতীয় আসামী।

বম-জব্দ ( দ্বিতীয় আসামীর প্রবেশ ) যম। এত দেখছি কোন ভদ্র সন্তান। এর আবার কি দোষ পেলে ? চিত্র। আজ্ঞে সরকারী সড়কে শ্রাবণের ধারা বহিয়ে দিয়াছিল। যম। বেশ করেছিল। ঘােড়, গাধা, গাে, মহিষাদি জানােয়ারের দল যখন প্রবল বন্যার প্রবাহ ছুটীয়ে দেয় তখন দোষ হয় না। ভদ্র- লােকের ছেলে বেগ সম্বরণে অক্ষম হয়ে এক কাজ করে ফেলেছে তাই 'ওকে ধরে এনেচ। দাও ছেড়ে দাও। নকীব। তৃতীয় আসামী হাজির। তৃতীয় আসামী। (তৃতীয় আসামীর প্রবেশ যম। এ যে বেশ ভরুঙ্গে লােক দেখছি, ভণ্ড শিরােমণি ভান করে সব কত্তে পারে। এর উপর কি চার্জ আছে ? চিত্র। যমরাজ যা আন্দাজ করেছেন ঠিকই তাই। ইনি হাত তালির জোরে আপনাকে সমাজের নেতা মনে করেন। আদর্শ কাৰ্য কলাপের আলােক দিয়ে আঁধার ঢাকো বলিয়া গলাবাজি করেন; কিন্তু স্বকৃত কাৰ্য কলাপ যে আঁধারে সেই আঁধারে। বাল্য বিবাহ উঠিয়ে দিয়ে দেশের উন্নতি কত্তে বলেন। বলেন, তাহলে ভবিষ্যৎ বংশে ভীমের ছড়াছড়ি হয়ে যাবে, আর ভাবনা থাকবে না; কিন্তু নিজের মেয়ে বড় হলে ভয়ে এর পেটের ভিতর হাত পা সেদিয়ে যায়। বক্তৃতায় বলেন উচ্চ শিক্ষাই কৌলিন্যের মাপ কাটি, কিন্তু নিজ বাটীতে ঐ কথায় দাঁত কপাটী যান। সেই বল্লালী বচনের শরণ গ্রহণ করেন। বিবাহের ব্যয়ভার-লঘুকরী সভায় সভাপতির কাৰ্য্য শেষ করে, বাটী ফিরে এসে ঘটককে বলে দেন, যারা অযাচিত ভাবে দশ বিশ হাজার টাকা বরের বাবা-ভরণ সম্প্রদান করিবে, সেইখান থেকে ছেলের সম্বন্ধ আনিবে, নতুবা বলিবে “তিনি ;

যম-জব্দ বলেন ছেলে ছেলেমানুষ বিয়ে কি তা জানে না, এখন থাক।” এই বৈড়াল-ব্ৰতী বানরের উপর কি দণ্ড বিধান করবেন অনুমতি করুন। যম। এ নরাধম নর-পিশাচের শাস্তি খুঁজে পাওয়া ভার। এদের পেটে এক মুখে এক। প্রথম, পেটা চিরে দাও যে লােকে দেখুঁতে পায় যে এর পেটের ভিতর কি আছে। তাহলে তারা আর এর কথায় ঠকিবে না, ভুলিবে না। তারপর সকলকে দেখাবার জন্যে, ওর মাথা নেড়া করে ঘােল ঢেলে গাধার উপর চড়িয়ে, ওর পিঠে ঢাক চাপিয়ে ঢাঢ় পিটে দাও। কাটা পেটে ঘেটে ঘেটে নুন ছিটে দিও। লঙ্কা বেটে চোখে মুখে চূণ কালি দিও। দূর হ’ নরকেও তাের স্থান নাই। [ বহিষ্কৃত করণ } আড়ালে তারকা রাক্ষসীর ন্যায় দাঁড়িয়ে রয়েছে ও আবার কে ? চিত্র। নিয়ে আয় ওকে। ও মাগী এক প্রচণ্ড বৌ-কাকী। ছেলের বিয়ে দিয়ে বৌ ঘরে এনে, দুধে আতায় পা দেবার সময় হতে সুরু করে প্রতিদিন, বৌএর বাপ মায়ের চৌদ্দ পুরুষের পিণ্ডি না চটকাইয়া জল গ্রহণ করে না। মুখরা চাকরাণীর কেকেরাণি অবাধে সহ করে, কিন্তু বৌমা বেচারার হাসি মাখা মৃদু ভাষায় তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে। কোথায় পরের মেয়েকে নিজের মেয়ের মতন যত্ন কবে, তা’ না, তাকে ঝি চাকরের অধম করে অকারণে তাড়ন তাপে তাপিত লাঞ্জনা গঞ্জনা দিয়ে, অনশনে অস্থি চৰ্ম্ম সার করে দেয়। পেঁটরা পাের কাপড় সত্বে, বৌমার পরনের ছেড়া কাপড় রজক গৃহের দ্বার দেখতে পায় না। বৌমাকে দু’দিনের জন্য মায়ের যত্ন বাপের আদর ভোগ করূতে দেয় না। বো-কাকী শাশুড়ীর যে বউ, তার শ্বশুর-গৃহে বাস যেন সপরিশ্রম চির কারাবাস।

যম-জব্দ
যম। কি সর্বনাশ! পিশাচী পাপিষ্ঠা মাগীর জিহা, লােহিত-তপ্ত
লৌহ শলাকায় বিদ্ধ করে, আমূল উৎপাটন করে দাও। তাহলে
বৌমাদের আর দুৰ্বাক্যবাণ সহ কত্তে হবে না। মাগীকে জীয়ন্ত রেখে,
ওর গায়ের মাংস কুরে কুরে বাহির করে অস্থিচর্মসার করে দাও।
পাপের খানিকটা প্রায়শ্চিত্ত হােক। তারপর :-
জ্বলন্ত জ্বলন জালে বেঁধে বহ্নি ডােরে।
জোরে ছুড়ে ফেলে দাও নিম্ন শির করে।
অনন্ত পাতাল তলে পৃতি গন্ধ কূপে।
গলিত অনল যথা আছে অম্বুরূপে ।
অমর হইয়া নিত্য কৃমিকীট খাবে।
অঙ্গার তরল তপ্ত তেষ্টা পেলে পাবে ।
দিন রাত হবে বাস অগ্নিশিখা মাঝে।
আলাে নাই জালা শুধু সে শিখার ঝাঁঝে ।
আঁধারের কাদা মাখা বাতাসের গায়।
সদা দম ফাটে ফাটে ফাটিবে না তায় ।
সে আঁধারে দেখা যাবে আঁধার আঁধার।
আর দেখা যাবে যত বীভৎস ব্যাপার।
(জনৈক সধবার প্রবেশ )
যম। একি! শিবসােহাগিনী, সতী জননীর এখানে আগমন কেন ?
চিত্র। কাল দণ্ডধর!
সধবা সুন্দরীদিগের আবেদন কি মনে
নাই? ওঁরা যে মর্ভে ফিরে যেতে চান।
যম। মনে আছে বৈকি, আমিত তাঁহাদের আবেদন মঞ্জুর করিতে
তাদের মন ব্যাকুল জেনে আমি বড়ই আকুল হয়ে আছি।
চিত্র। আমিও সেইরূপ আভাসই দিয়েছিলাম। সেই আভাসে
চাই।

যম-জব প্রভাস যজ্ঞের আয়ােজন হচ্চিল; কিন্তু মায়েদের হরিষে বিষাদ হয়েছে। তা’র আবেদন প্রত্যাখ্যান করিতে চান। তারা এক পর্দা পার্টিতে মিটিং করে সব-কমিটি ফরম্ করেন। পরে এই মাকে ডেপুটেসনে পাঠাইয়াছেন। যম। মা, বক্তব্য বিষয় ব্যক্ত করে তপ্ত হৃদয় শীতল কর মা। সধবা। ধৰ্ম্মরাজের দয়ার কথার আভাস পাইয়া আমাদের আনন্দের আর সীমা ছিল না। কিন্তু মর্ত্যে প্রত্যাগমনের পূর্বে সেখানকার অবস্থা জানিবার জন্য সকলে যুক্তি করিয়া, আমাকে মায়া- মূর্তিতে মর্ত্যে পাঠাইয়াছিলেন। তথায় গমন করিয়া যাহা নয়ন গােচর করিলাম, স্মরণ হইলে এখনও হৃৎকম্প হয় ; সৰ্ব্ব শরীর রােমাঞ্চিত হয় ; শরীর শিহরিয়া উঠে। সেখানকার ব্যভিচার দেখিয়া আমার আনন্দাশ্রু শোকাশ্রুতে পরিণত হল। রক্ত জল হয়ে সর্বাঙ্গ দিয়ে কুটে বেরুতে লাগিল। দেহ স্বেদা হইয়া উঠিল যে পতি সতী শূন্য হয়ে ক্ষুন্ন মনে সংসারে বৈরাগ্য দেখিয়ে শ্মশানের ভস্মরাশিতে আসীন হয়ে সতী ধ্যান সতী জ্ঞান সতী নাম জপ করে সতীময় হয়েছিল, যে পতি পত্নীপাতে পাগল প্রায় পথে পথে অশ্রুপাত করে বেড়িয়েছিল, যে পতি বনিত-বিরহে ব্যাকুল হয়ে বিষন্ন বদনে ত্রিভুবন অন্ধকার দেখে ভগ্ন হৃদয়ে অনশনে প্রাণপাত করিতে উদ্যত হয়েছিল, যে পতি জয়ার জীবন কল্যাণ কামনায় কালিমাতার পূজার আয়ােজন করে ভগ্ন মনােরথ হইয়া জীবন্ত প্রতিমা বিসর্জন দিয়া মাটির প্রতিমা ঘরে আনিতে সঙ্কুচিত হয়েছিল, ধৰ্ম্মরাজ! বলিতে পাষাণ প্রাণও ফেটে যায়, হৃৎপিণ্ড ছিড়ে যায়, দেখলাম সেই পতি সন্তান পালন ব্যপদেশে পুনরায় বিবাহ করে’ প্রফুল্ল মনে সংসার সর্বস্ব জ্ঞানে ফুল শয্যার কুসুম রাশিতে শয়ন করে কোমল কান্তার করে কোরে তন্ময় হয়ে আছে।

যম-জক দেখলাম সেই পতি নব পত্নীর প্রেমপাশে আবদ্ধ হয়ে, মাতৃহীন ননীর পুতুল দুধের ছেলে ভুলে গিয়ে, যুবতী জায়ার খেলার পুতুলী হয়ে বসে আছে। একদণ্ড কাছ ছাড়ে না, ঘরের বাহির হয় না, পথ ঘাট সব ভুলে গেছে। দে«লাম সেই পতি নূতন বধূ ঘরে এনে, আলােকপূর্ণ শয়ন ঘরে স্ফীত হৃদয়ে পাত্রপূর্ণ আহার সামগ্ৰী শ্ৰীমুখে অৰ্পণ করিয়া, হাসিমাখা সােহাগভরা নব বধূর উপরােধ অনুরােধ রক্ষা করিতেছে। যে পতি ভাৰ্য্যা ভিন্ন অন্য রমণীকে মাতৃসম্বােধনে বর্জন করে বনে বনে ভ্রমণ করে বনবাসী হয়েছিল, দেখলাম সেই পতি কুসুম কাননে কামিনীকুল-কেলি-কুকুটীরে কদাচারের পরাকাষ্ঠা করিতেছে। দোম সেই পতি মদন-মন-মােহন, মেঘমুক্ত-নিৰ্ম্মল-নীলাম্বর চন্দ্র- কিরণােজ্জল, প্রস্ফুটিত-প্রসূন-পুঞ্জ-পরিপূর্ণ প্রমােদ উদ্যানে মন্থর গতি যুবতী জায়ার সঙ্গে বিচরণ করিতে করিতে পুষ্প চয়ন করিতেছে শুভ্র জ্যোৎস্নলােকে বাপীতটে আসীন হইয়া, মল্লিকার মাল্য রচনা করিয়া হাসিমুখে পরস্পর পরস্পরের কণ্ঠে লাগাইয়া, কপােত কপােতীর ন্যায় মুখােমুখী হইয়া কত সােহাগ করিতেছে। বিধির কি বিষময় বিধি! বিগতা বনিতার মায়া-মাখন মেয়েটাকে মায়ের বসনভূষণালঙ্কারে বঞ্চিত করে, সেই বসনে সেই ভূষণে সেই অলঙ্কারে পাষাণ পিতা নব বধূকে ভূষিত করিতেছে। প্রভু, আমরা এ পাপ- পূর্ণ পৃথিবীতে আর ফিরে যেতে চাই না। আমাদের আবেদন আমরা প্রত্যাখ্যান করিতে চাই। আমরা ভাগ্যবতী নারী, তাই ভগবানের কৃপায় লাল সূতা শাঁথা পরে, এলােকেশে সিঁদুর ঢেলে, হাতে পায়ে এওর দেওয়া আতা মেখে, কস্তা পেড়ে সাড়ি এটে, স্বামীর কোলে মুখ রেখে, গঙ্গাজলে স্নান করে ভবসিন্ধু পার হয়েছি। আর ওপারে যেতে চাই না। প্রভু, বিদায়। [ প্রস্থান ] পরে শুভ্র

8
যমজ
যম। মুন্সীবর, এ রমণী আমাকে তাজ্জব করে দিয়ে গেল ?
(যমরাজের মুকুট পতন) এ আবার কি ব্যাপার! বুঝি সত্য সত্যই
সৰ্ব্বনাশ উপস্থিত! কই এখনও তাে চৌধুরিদের নায়েবের লাস
এসে পড়ল না। চাকুরী রক্ষা দায় হ’ল ।
চিত্র। ঐ যে বেহারা ছুটে আসছে। (বেগে প্রথম বেহারার
প্রবেশ)
১ম বেহারা। কৰ্ত্তা মশাই, পেলিয়ে যা পেলিয়ে বান্, আর
অক্ষে নাই, মাল্লে মাল্লে ; পুরীর মধ্যি একজন বীর এয়েছে, তােমার
মুণ্ডপাত করবে। এক হাঁকড়ানিতে সব বেহারা ঘাল করেছে।
চিত্র। লাস আনিয়াছি কিনা ?
১ম বেহারা। নব ঠাকুরকে কনে লুকিয়েছে তার অনি সলি
পালাম না। মােদের কাঁধে একটা নূতন যম এসে পড়েছে।
যম। নূতন যমকে পাঠালে কে ?
১ম বেহারা। সে আপনি এয়েছে।
যম। তাকে দেখতে কেমন ?
১ম বেহারা। জ্যান্ত মানুষ গো জ্যান্ত মানুষ।
ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া কোকড়া কোঁকড়া মাথায় ভরা চুল,
পিছন বাগে গিরে বাঁধা চৈতন চুটকী দুল ;
দড়কা দাগা কপালখানা ঘোড় দৌড়ির মাঠ,
চক্ষু দুটো ছােট ঘােট, জ্বলছে যেন কাঠ।
বশী পারা নাকের মদ্দি হরেক রকম চুল,
গোঁপের গােছা গাদা গাদা চৌকিদারের রুল।
গলায় মালা, মটকাধুতি, আষ্ট ধেতের আঙটা,
ইষ্টি কবজ হাতে, পায়ে ঠনঠনের চটী।

যমজ ঐ দেখেন আতি নেগেছে। পেলিয়ে যা পেলিয়ে যান। চাচা আপনি বাঁচা। মুই তাে চল্লাম। [ প্রস্থান। (কুড়রামের প্রবেশ) ফুড়রাম। যমের উপর এই পরােয়ানা জারি কত্তে এসেছি। ( পরােয়ানা দান) নাও, পাঠ করে হুকুম তামিল কর। চিত্র। (পরােয়ানা পাঠ) অত্যাচার-অবিচার-অবতার, অত্যন্ত দুরন্ত, দুর্দান্ত, কৃতান্ত, বৰ্বর, বরাবরেষু। যে হেতু জানা যাইতেছে যে, তুমি রে পাপাত্মা, পামর, পাষণ্ড এদানিং অত্যন্ত জঘন্য, অরণ্য, অগণ্য, বদান্ত হইয়াছ, তােমার অখণ্ড প্রচণ্ড রাজদণ্ড খণ্ড করা আবশ্যক । রণ্ডামি যণ্ডামি ভণ্ডামি গুণ্ডামি তােমার অঙ্গের অভরণ। তােমার দ্বারা সরকারের সেবা আর সম্ভবনা নয়। তুমি এমনি অকম্মা যে কতকগুলা আমলাকে তুমি সাম্লাতে পাল্লে না। তারা তােমার চক্ষে ধূলিকা সম্পাদন করে, নব নায়েবের লাস অনা’সে তােমার সাবকাশে আনিতে দিল না। এ কারণ তােমাকে বরখাস্ত করিয়া, অশেষ গুণাঙ্কত প্রতাপাত শ্ৰী শ্ৰীযুক্ত বাবু কুড়রাম দত্ত রায় বাহাদুরকে বাহাল করিয়া, অত্র পরােয়ানা সহ পিরণ করিলাম। মুহুর্ত মাত্র অবিলম্ব না করিয়া, তাহাকে চাৰ্য্য বুঝাইয়া দিবা। বহুত বহুত তাগিদ আলম করিবা। ইতি- সদাশিব। যম। হা হতােশ্মি! দত্তজ মহাশয় কখন চাৰ্য লইবেন ? কুড়। এই দণ্ডে। (যম সিংহাসন হইতে নামিয়া কুড়রামকে সিংহাসনে বসাইলেন) চিত্রগুপ্ত ত্বরায় একটা জমা ওয়াশীল বাকী প্রস্তুত

যম। ধৰ্ম্মরাজ, আমার কয়েকদিনের বেতন এবং শাদা জালানির
দাম বাকি আছে, সেগুলি প্রাপ্ত হইলে আমি রাহা খরচ করিয়া বাড়ী
বাইতে পারি।
কুড়। আমি এ বিষয় ভগবান্ ভবানীপতিকে রেপট করিব;
তার অডার এলেই তুমি তােমার দরমাহা ও সরঞ্জামি চুকাইয়া পাইবে।
যম। প্রভুর আজ্ঞা শিরােধার্য। তবে আস্তাবলে যে বয়ার দুটী
আছে, তাহার একটি সরকারী আর একটি আমার নিজ খরিদ ; যদি
অনুমতি হয়, আমার নিজ খরিদা বয়ারটী আমি লইয়া যাই।
কুড়। তুমি ডবলই নিয়ে যাও। আমি কলিকাতা হইতে ত্বরায়,
রাতবেড়ানে মােটরওয়ালা বাবুদের এখানে নিয়ে আসিব। তাদেরও
সাজা হবে, আমারও মজা হবে।
চিত্র। যমালয়ের বত্ম সকল অতি অপরিসর এবং নিতান্ত অসমতল।
মােটর চালাইবার উপযােগী নহে। ভূতপূৰ্ব্ব ধৰ্ম্মরাজ মহিষাবােহণে
গমনাগমন করিতেন, সুতরাং রাস্তার অবস্থার প্রতি কাহারাে দৃষ্টি
ছিল না।
কুড়। কুচপরােয়া নেই। ডােন্ট কেয়ার। এখনই ইপােটেন
টষ্টের বেঞ্চ-আপিস ওপেনিং সেরিমনি করে দাও। বড় আপিসে যে সব
হাকিমরা জমি লুটপাট করে খুব বেশী টিম্বারি কচ্চে অর্থাৎ কিনা
বাহাদুরি দেখাচ্ছে, তাদের এখনই এখানে গােটে হেল করে দাও।
সব ন্যাটা চুকে যাবে।
যমের মাথা করে নত,
রাস্তা ঘাট হবে কত।
মােটরগাড়ি আসবে যত,
ছুটবে সব তীরের মত।

যম-জব্দ
বাতি জমি বেচুব যত,
কেনা দাম নয়কো তত।
চিত্র। যে আজ্ঞে মহারাজ। এখন এদিকে আসুন। স্নানাদি করে
বিশ্রামান্তে, সহর পরিদর্শন করিবার অভিলাষ হয় তাে অনুমতি করিবেন।
কুড়। আচ্ছা, তথাস্তু।
[ সকলের প্রস্থান ]

তৃতীয় অঙ্ক।
প্রখম পভাস্ক।
লক্ষ্মীর কক্ষ।
( হালফ্যাসানে জুতা মােজা কাপড় পরে লক্ষ্মী পুস্তক পাঠে নিবিষ্টা ;
বিন্দি আদি পরিচারিকার প্রবেশ )
ওমা ওমা কোথা যাব, একি দেখি নব বেশ।
কবরী কুণ্ডলী কাল কোথা কৃষ্ণ-কান্তি কেশ।
উঙ্কো ফুস্কো কটা চুল হয়েছে সাবান মেখে।
তেরি কাটা, ছি ছি তাতে কেমন কেমন ঠেকে।
আপীড়, মুকুট, শিরে আর ছিল চূড়ামণি।
ঝাপ্টা থাকিত পাশে, ঝুলিত মুকুতামণি।
কিছুদিন ধরে হ’ল, কত ক্রাউনের ঘটা।
সকলি গিয়েছে, আছে শুধু টায়রার ছটা ।
ললামক, বাল-পাশ্যা, সিথি সাজ সীমন্তের।
পত্র-পাশ্যা, ললাটিকা, শোভা করে ললাটের।
এই দুই স্থান জুড়ে আছে কেবল টিকলি।
গিয়েছে গর্ভক, আছে খোঁপায় ঘিরে শিকলি ।
চিরুণীর আশে পাশে, ছিল ফুল কত মত।
জাল ছিড়ে উড়ে গেছে, চিল প্রজাপতি যত।

যম-জ
৩৯
কুণ্ডল কর্ণেন্দু কাণে, কাণ-বালা কর্ণফুল।
সেকালে কর্ণিকা ছিল, হলে বীর-বেলি দুল।
চৌ-দানি, পিপুল-পাতা, মাকড়ি, ঢাকাই-কাণ।
ঝুমকো টেড়ি ফেলে দিয়ে, থােক। ড্রপে রাখে মান।
নাকে ছিল বােন্দা-পাশা, বেশর বড় সেকেলে।
প্রসূতি নাড়াত নথ, লজ্জায় মােলক ফেলে ।
নথ নাড়া নাহি আর, নাকে শুধু নাক-ছাবি।
তবে, অঞ্চলে চঞ্চল করে গােছভরা চাবি ।
চকিত চাহনি চোখে হানিত কটাক্ষ বাণ।
চসমা গহনা হলো, দৃষ্টিহানি শুধু ভাণ।
গলায় গােন, গুচ্ছ, একবলি অৰ্দ্ধহার।
সুন্দর নক্ষত্রমালা সাতাশ-মুকুতা হার।
বজ্র-সংকলিকা ছিল, দেবচ্ছন্দ শতনলা।
মানবক পুরাকালে শােভিত করিত গলা।
পরে হলাে হেলে, হেঁসে, দড়ি, দড়া, কণ্ঠমালা।
দমাহার, তারাহার, দানা, বাদলার মালা।
সাতনর, ননরিতে ধুকধুকি পরে পরে।
পুষ্পহার, উল্টেপাল্টে বড় জ্বালাতন করে।
সরিকা গলায় আঁটা, হলে চিক গোঁফ-হার।
মুকুতার কন্ঠি, সেলি, সরস্বতী, সীতাহার।
সেকালের সাজ এল মটরের মালা।
নেলেস কলারের পড়ে গেল পালা।
পিঠে ছিল পিঠ ঝাঁপা, অনেকের মনলােভ।
ফণী-বিনিন্দিত-বেণী এখন পিঠের শােভা।

১০
যম-জব্দ
}
উপরের হাতে আগে কেয়ূর, অঙ্গদ ছিল।
বাহুপট, বাজুবন্ধ, পরে বাজু দাঁড়াইল।
জসম, তাবিজ, বাঁক, অনন্ত গালায় ভরা।
ফার-ফোর-তাগা, তাড়, ড্রেসলেট শােভা করা ।
প্রকোষ্ঠে কঙ্কন, বালা, মুড়কি-মাদুলি, চুড়।
বাউটী জবড়জং, জাকান রতন-চূড় ৷
ঘবদানা, নরদানা, ছিল পৈঁচে, লঙ্গফুল।
চুড়ি, খাড়, করপদ্ম আর নারিকেল ফুল ।
নােয়া, শাঁখা, রুলি, কড় সধবার প্রাণাধিক।
এখনও আছে, তবে সােণা ঘেরা চারিদিক।
মাড়ােয়ারির মাস্তাসা শুধু রঙ্গ করে পরা।
সাদাসিদে ব্রেসূলেট, তাও নয় মনে ধরা।
দেখিতে জানেনা ঘড়ি, তবু ঘড়ি ব্রেসলেটে।
দশ দশা কেটে যায় ইলাষ্টিক ব্রেসলেটে।
ছ' মাসেতে ভাত খায়, বিয়েতে চালায় তায়।
তাই প'রে সাধ খায়, শেবে মেয়েকে সাজায়।
হালফ্যাশানে নূতন ঢং, লজ্জা নাহি করে।
সােনা বেচে ঝুটো পান্না, হিরে, চুনি মুক্তা পরে।
কটিতটে অলঙ্কার কাঞ্চি ছিল একহালি।
মেখলা, বশনা, হলো কলাপ পঁচিশ হালি ।
এত বড় কাঞ্চিদাম, চন্দ্রহার, সূৰ্য্যহার।
গােট, বিছে গেছে, পুন আবির্ভাব মেখলার।
দেখায়ে অঙ্গুরী হাতে, ধীরে ধীরে নাড়ে পাখা।
আঁচিলেতে সেফটিপিন্ কোমরে রুমাল রাখা ॥

যম-জব্দ
৪১
কিঙ্কিনীর কিনি কিনি, পায়ে পাগুলি, ঘুমুর।
গুজরি, পঞ্চম, তােড়, ছিল মঞ্জীর নুপুর।
মল ঝম্ ঝম্ করে, কড়িগুণে ক্লান্ত হিয়া।
জামাইকে জানাইত আসিছে তরুণী প্রিয়া ।
নেউল, চরণ-চাপ, চুটকি, চরণ-চুড়।
পাইজোরে তালে তালে, ছাড়ে রুনুঝুনু সুর।
আঙট, চরণ-পদ্ম, সব বেড়ী মনে হয়।
আন্তা ঢেকে জুতো মােজা করেছে এদের জয়।
মােটা ফেলে মিহি সাড়ি, ব্লাউজ জ্যাকেট পরে।
সেমিজ, সলুকা, সায়া, বডি আব্রু রক্ষা করে।
ফিরিঙ্গি ফ্যাসানে পরে সেমিজাদি অকারণ।
ধাইনী মাষ্টার্নী সেজে, কচ্চে ঘরে বিচরণ।
বিন্দি। হাগা মা লক্ষ্মী, বলি বার কাজ তারে সাজে, অন্য লােকে
লাঠি বাজে। লেখা পড়া হ’লল মিন্সেদের কাজ, ওকি তােমার সাজে।
জোর করে পড়তে গিয়ে বুঝি কান্না পেয়েছে। ও ছাই ফেলে দাও না।
তবে পড়িতেই যদি হয়, তো ভাগবত পড় যে পরলোকে কাজ
দেখবে ; আর আমরাও দুদণ্ড শুনে বাঁচি।
লক্ষ্মী। লেখা পড়ার যে কত গুণ ত’ তুই কি বুঝবি। এতে সব
দিক রক্ষা হয়। ছেলে পিলেকে মানুষের মতন করে মানুষ করা যায়।
ঘর সংসারের কাজ-কর্মে শ্রী ফেরে। আর বিশেষতঃ চাকর চাকরাণীরা
বড় দোস্ত থাকে। এর টের গুণ।
বিন্দি। গুণ তো দেখছি কেঁদে খুন। অত কান্না কিসের? সীতার
বনবাস যাত্রার বই পড়িছ বুঝি ?
লক্ষ্মী। না, কৃষ্ণকান্তের উইল। ভােমরা নিজের পায়ে নিজে

যম-জব্দ কুরুল মেরে, এখন ঘায়ের জ্বালায় ছটফট কচ্চে। তাই ভাবচি— আর কেঁদে মচ্চি। কি জানি ছুড়ির কপালে কি আছে! বিন্দি। কি আর আছে, ওকে যমের হাতে সঁপে দাও; সব ল্যাটা চুকে যাবে। ঐ বলিতে বলিতে যম এসে হাজির হয়েছে। (যমের মা ও যমের প্রবেশ) এই তােমার নাম হচ্চিল। অনেক কাল বাঁচবে। যমের মা। তাতে আর সুখ কি! মনের সুখেই সুখ। তা না হলে, মরেই সুখ। শিব ঠাকুর যমের চাকুরি খেয়েছেন। বাবার আমার চাকুরি গিয়ে অসুখের শেষ নাই। এই দুঃসময়! পােড়া যুদ্ধর জ্বালায় জিনিস পত্র মাগি বলে’ মাগগি, দাম হয়েছে দুননা কড়ি। এ রাবণের পুরী চালাই কি করে! বাছা ঐ পোড়া যুদ্ধে দিন রাত খেটে খেটে শরীরে আর কিছু রাখে নাই। তাড়াতাড়ি বাছাকে খাইয়ে, বিষ্ণু ঠাকুরের কাছে এনেছি। খেতে বসেছিল মাত্র। একটি ভাতও মুখে দেয় নাই। কত সাহস দিলাম, বলিলাম মা লক্ষ্মীকে দিয়ে উপরােধ করাব। বিন্দি। তা ঠাউরেছ ভাল। আজকাল আঁচল ঘােরালে সবাই নম্র, ভাব কারাে থাকে না বক্র, কোথায় লাগে সুদর্শন চক্র। লক্ষ্মী। থাম থাম্‌, ও আবার কি কথা! সকল কথায় ফোড়ন। একটু ক্ষমা দে, চুপ কর। যমের মা। মায়ের প্রাণ ছেলেকে আকুল দেখে ব্যাকুল হয়ে উঠল। বলিলাম ভয় কি বাবা, অত হতাশ হচ্চ কেন? তােমার এত কালের চাকুরি কখন ছাড়িয়ে দিবে না। আর যদি একান্তই কৰ্ম্ম যায় ত বৈদ্য ব্যবসা করিবে। তােমার হাতযশ তাে আর কারাে জান্তে বাকি নাই। আর আমি অনেক শিল্পী কাজ জানি, জুতো, যমজ ৪৩ মােজা, টুপি, জ্যাকেট, বডি, ব্লাউজ, ফ্রক, পেনি তৈয়ারী করে তােমার সাহায্য করিব। বাবা অনেকটা ঠাণ্ডা হয়েছে। মা আপনি হচ্চ ত্রিলােকপালিনী। আমার যমের উপর একটু নেক নজর দে মা, বাবা আমার একদিনে আধখানি হয়ে গেছে। লক্ষ্মী। বাছা, যমের কৰ্ম্ম গেছে শুনে আমি বড় দুঃখিত হলেম, কিন্তু শিবের আজ্ঞা লঙ্ঘন করা নিতান্ত দুঃসাধ্য, তিনি অনুরােধ শশানেন । তা বাছা আর কেঁদ না, আমি ঠাকুরকে বলে যতদূর পারি তােমার উপকার করিব। যমের মা। মা আপনার ধনে পুত্রে লক্ষ্মী লাভ হােক। মা আপনি মনে কলে সব কত্তে পার। ঠাকুরকে বিশেষ করে বলে আমার যমকে বজায় করে দাও। বুড়ি হয়েছি, বাবার কোলে যেতে পাল্লেই বাঁচি। যতদিন আছি, দেখিস্ মা, যেন কষ্ট না পাই। লক্ষ্মী। আমায় আর বেশী বলতে হবে না। আমি তােমার দুঃখে বড়ই দুঃখিত হয়েছি। তুমি যমকে বৈঠকখানায় বসিতে বল, আমি ঠাকুরকে ডেকে পাঠাচ্ছি। (যম ও যমের মার প্রস্থান) বিন্দি, ঠাকুরকে একবার বাড়ীর ভিতর ডেকে আন্। বিন্দি। ঠাকুর যে গরুড়ের জুড়ি কিনেছেন, দেখে এলেম আস্তাবলে তাদের নিয়ে বড়ই ব্যস্ত। ওহো বেটা ওহাে বেটা বলে, তাদের গায়ে হাত বুলুচ্চেন ; কেঁাচার খুটে তাদের ঠোট মুছিয়ে দিচ্ছেন। তা হােক—ওপর আদালতের সমন তত সহজ কথা নয়। এই আমি চল্লেম, ওয়ারিন জারি করিগে। (গমনােতা; বিষ্ণুর প্রবেশ) বিষ্ণু। আর জারি কেন? সার্ভিস্ ওয়েভ করে নিজেই হুজুরে হাজির হয়েছি, দণ্ড বিধান কর। লক্ষ্মী। কথার ঐ দেখ, ওতে যে আমার অকল্যাণ হয়।

৪৪
যম-জব্দ
ছি ছি ছি ! কর কি হরি! তুমি যে দাসীর পতি।
ভক্ত-বাঞ্ছাকল্পতরু তুমি অগতির গতি।
স্মরণে শরণ দিয়েছ আমায়, কেশব কমল পায়।
ত্যজে রাজ্য, রাজা রাজ-রাজেশ্বর তােমার চরণ চায়।
তুফানে, সাগরে, যতনে আদরে কে আর করিবে পার।
শ্মশানে মশানে যেখানে সেখানে, তুমিই সারাৎসার।
বিপদে সম্পদে যেন তব মােহন মুরতি।
ধ্যান জ্ঞান হয়, থাকে ও রাঙ্গা চরণে মতি।
বিষ্ণু। এখন তােমার প্রার্থনা কি ?
লক্ষ্মী। আমি ভিক্ষা চাই।
বিষ্ণু। কি ভিক্ষা?
লক্ষ্মী। দাও যদি তবে বলি।
বিষ্ণু। আমি অঙ্গীকার করিতে পারি না।
লক্ষ্মী। কেন ?
বিষ্ণু। কারণ, আমার এমন কিছুই নাই, যাহা আমি তােমাকে
না দিয়েছি।
লক্ষ্মী। এক দ্রব্য নূতন পেয়েছি ।
বিষ্ণু। তাহাও তােমার, নাম কর।
লক্ষ্মী। পরােপকার করিবার পন্থা।
বিষ্ণু। তাহাও দিলাম।
লক্ষ্মী। সদাশিব যমের কৰ্ম্ম ছাড়াইয়া দিয়াছেন, তাহার কর্মটী
তাহাকে পুনর্বার দিতে হইবে। যমের মা এতক্ষণ এখানে বসিয়া
কাদিতে ছিল। আহা! বুড়ী মাগীর দুঃখ দেখে আমার চক্ষু দিয়া
জল পড়িতে লাগিল। আমার প্রতি তােমার অকৃত্রিম স্নেহের উপর

যমজ
বিশ্বাস করিয়া, আমি স্বীকার করিয়াছি যে তাহার কৰ্ম্ম তাহাকে
পুনৰ্বার দিব।
বিষ্ণু। সে কি, সদাশিব এমন কি গুরুতর অপরাধ পাইলেন যে,
সভার বিনা অনুমােদনে যমকে পদচ্যুত করিলেন। যাহা হউক, যখন
তুমি তাহার ওকালতনামায় স্বাক্ষর করিয়াছ, তখন সে কৰ্ম্ম পাইয়া
বসিয়া রহিয়াছে। আমি অবিলম্বে ব্রহ্মাকে সমভিব্যাহারে লইয়া
মহাদেবের নিকট গমন করিব। বােধ হয়, মহাদেব যমকে ভয়
দেখাইবার জন্য এমত কড়া হুকুম দিয়াছেন। পুনৰ্ব্বার তাহার পদস্থ
হইবার সম্পূর্ণ সম্ভাবনা। এখন তবে যাই। হুকুম তত তামিল
করা চাই।
লক্ষ্মী। আবার সেই কথা। আমায় ফেলে যাবে কোথা ? সতী
যে পতির সঙ্গের সাথি।
পতি সতী মনে গাঁথা, “আসি” “যাই” সম কথা।
“যাই” বলা ভাল নয়, শুনে মনে পাই ব্যথা।
বিষ্ণু। ও ভুলে গিয়েছি। এখন তবে আসি। [ প্রস্থান ]
লক্ষ্মী। বিন্দি চল্ লাইব্রেরী হ’তে ভাগবত নিয়ে আসি, তােকে
শুনাব।
[ উভয়ের প্রস্থান ]

দ্বিতীয় গর্ভা।
যমরাজ কক্ষ।
কুড়।
সহর seeing কত্তে এত ট্রেন লেট হবে জানতাম না।
এখন টেক ইওর সিট ডাউন্ সা করা যাক। যে ক’ দিন আছি,
ভাইব্রয়ারিটা ভাল করে করে নেই। প্রথমেই ক্যাপিটাল চেঞ্জ,
আমি লিভিংম্যান্ যমের বাড়ী থাকব! তারপর যাদের অকালে
এখানে আনা হয়েছে, তাদের সব মর্ত্যে পাঠিয়ে দেওয়া যাক। একটা
নামের মতন নাম থেকে যাবে। এ শুধু নাকা ওয়াস্তে কম নয়।
জেলায় জেলায় হাইকোর্ট বসাব,—কথায় কথায় ফোজদুরি মােস।
জমিদার মনিব কত খুসী হবে। ও আবার কে? আঃ নিরিবিলিতে
একটুও রেষ্টিং নেই।
( উড়ে ব্রাহ্মণের প্রবেশ )
উড়ে ব্রাহ্মণ। মু ত যােগী হেবি তােহ বিনারে।
যােগর যােগভঙ্গিনী প্রাণসঙ্গিনী নবীনারে ॥
প্রভু অবধান। আপন ভলাে অছি।
কুড়।
কে রে বেটা সাত পুরুষের মা গোঁসাই। কে তুই?
উ ব্রা। মু পাচক অছি।
কুড়।
ওঃ! এখানেও সেই উড়ে বামুন! কি যাদু, ভাড়ার
উজাড় কচ্চ।
প্রভু,
চাউলাে, ঘিঅ, মুননা, তেলো, সবু করন্তি চোরি।
মাের পাপর প্রায়শ্চিত্ত হউচি, পুন না করিমু চোরি।
উ ব্রা।

যম-জব্দ
কুড়। তা বেশ। এখন কি করূবে?
উ ব্রা। মুসবু রন্ধিবি, না রন্ধিবি হংস ডিধ্যে পটা।
রন্ধিবি মু চচড়ি, দিইকি চিংড়ি বড়ি পুইডটা।
তেলে চোৱা বঁটা, দিইকি কুটন খোসা, রন্ধিবি হেঁচড়া।
বােয়াল, সােল, পাঁকাল, বা রন্ধিবি মু, না রন্ধিবি কেঁকড়া।
বাগাচিংড়ি মালাই কারি, গন্দা করিমু কোর্মা।
কোপ্ত কবাব চপ, কটলিস্ পটল কুরিকি দোৰ্মা ।
মৌরলা, সরল-পুটী, রােগীর মাগুর, সিঙ্গি, কই।
পারুসে, বাটা, তপসে ভঞ্জা, করিমু ইলিস দই।
রুই, কাতলা, মৃগেল, পােনা, কালবােসের ঝােল্।
পয়রা চাদা, খয়রা, ফ্যাসা, তেঁতুল দিইকি অঘােল।
কদা চিংড়ি বড়া করিমু, তাহাকু দিমু পেঁয়াজ আদা।
পুরীধামরে দেবি পারিমু পফ্রে গদ গদা।
কোবির সাথরে ভেটকি রন্ধিবি, ঝাল হললাদি ট্যাংরা।
আর বহুতো মৎসসা অছে, নেটো, বেলে, আড় ট্যাংরা।
চুননা, চ্যালা, চ্যাং, চাদা, চেত চেঙ্গো, ইচলা, ভােলা ।
শকুল, শা, বােদাল, পাঙ্গাস, ভাঙ্গন, খােরসােলা।
ডাকুনি, ধাঁই, কুজো, শাল, তেচোকো, তাই বেলে।
তোেপুটী, খলসে, গুলে, গাঙ্গপাড়া, গড়ই সেলে।
ইটে, ন্যাটা, খড়চা, বাচা, কই, ভােলা, কাটাল পাতা ।
আমলেটু, গুড় জাওয়ালি, পাবদা, ফলুই, বাঁশপাতা ।
কুড়। বেটা বামুন, না, ফিওম্যান্! যাও যা ইচ্ছা হয়
রাঁধ গে। (উড়ে ব্রাহ্মণের প্রস্থান) তাইত এখন করা যায় কি
ঐ আবার কে আসছে! বিপদের উপর বিপদ! ফাদার তারকনাথ

৪৮ যম-জব্দ একি কল্লে বাবা (সখীসহ কালিন্দির প্রবেশ) ছিলাম চাটুতে ফেলে জ্বলন্ত উনুনে! যমের হাত এড়িয়ে এলেম, শেষ পেত্নী-ভূতে ভর কল্লে ! বাপরে বাপ, কি ভীষণ মূর্তি। এ বিকটাকার কাছে থাকূলে নাইট কাটের দফারফা! মাগীর মুখে আবার কি? দা না আর কিছু ? কি ঘেন্না! মাগী যেন ভমিটারি মেডিসিনের ডিসপেন্সারি। দেখে আমার ব্রেষ্টটা ধড়াস ধড়াস কচ্চে ; যেন তুফানে দাড়ী দাড় ফেলচে ঝপাস ঝপাস্! যাহ’ক স্পিী নট্‌ কল্লে চলবে না। বলি, কল্যাণি, তুমি কে ? সখী। ইনি যমরাজ-মহিষী কালিন্দী। যিনি যখন ইন্দ্রত্ব প্রাপ্ত হন, শচী তখন তাঁহারই রাণী। যিনি যখন যমত্ব প্রাপ্ত হন কালিন্দীও তখন তাহারই রাণী। ত্রিদিবেশ্বরী শচী যেমন চির-জীবিনী, মা কালিন্দীও সেইরূপ। তবে শচীর রূপ দেখলে মনটা হয় হাপিফায়েড, এ একেবারে ডেঞ্জারিফায়েড,। রং ত নয় যেন কাল কোবরা ; কি মােটা, যেন ক্রস করা সেন মহাশয় ; পেট্টী থেটারের জগদম্বার মত বার- মাস দশমাস ; বুকের বহর দেখে, অলাবুসুন্দরী ভয়ে মাচায় উঠে দুঃখে গড়াগড়ি দিচ্ছে। যেমন মােটা মােটা পা, তেমনি মােটা মােটা হাত। মাথায় রােগা রোগা চুল। রগ দুটায় যেন আব গজিয়েছে। দেখে শুনে হাতী ভায়ারা লজ্জায় আর সহরে ঢোকে না। সিথের সিন্দুরের ঘটা দেখে, খােট্টা-মাগীরা হার মেনে যায়। সখী। মহারাজ, কালিন্দী-সুন্দরী নবাভিষিক্ত রাজার পরিতােষ সংসাধনার্থ, বেলা দুই প্রহর হইতে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশ-বিন্যাস করিয়া- ছেন। ক্রমে ক্রমে ১৮২ খান সাড়ী পরিধান করিলেন, কিছুতেই মন উঠিল না, পরিশেষে একখানি আসল সত্যিকার গুন্ বসান সাড়ী

যম-জ
৪৯
পরিয়াছেন। অঙ্গে সরিষার তেল মেখে তেলের বাজার মাগি
করিয়াছেন। দেখচে পায়ে ২২ গাছ। মল।
কুড়। এইবারে গেলেম। যদিও দুই এক দিন এখানে থাম,
এ মূর্তি দর্শনে আর থাকতে পারি না। মহিষীর গায়ে গা ঠেলে,
একেবারে মার্ডার কে হয়ে যাবে। গৃহিণীর জ্বালায় গৃহত্যাগ করতে
হ’ল। স্ত্রী অনেক অনর্থের মূল। কথকথায় শুনেছিলাম, মেয়ে মানুষ
মায়া বিস্তার করে ময়-দানবকে ফাঁদে ফেলে। এরা হাসলে হাসে,
কালে কাদে। কপট কথায় পুরুষগুলােকে ভেড়া করে। যত বড়
বিদ্বান বুদ্ধিমানই হওনা কেন, এদের পাল্লায় পড়লে আর মনুষ্যত্ব
থাকবে না।
কালিন্দী। প্রাণবল্লভ, কেন দুৰ্ম্মনায়মান হচ্চ। আমি যে তােমা
বই আর জানি না। আজ হ’তে তুমিও যেখানে আমিও সেখানে।
তুমি শ্যাম, আমি রাধা।
তুমি কৃষ্ণ, আমি বাধা।
তুমি রথ, আমি চাকা।
তুমি বিয়ে, আমি টাকা।
তুমি গৰ্ব্ব, আমি পয়সা।
তুমি চৰ্বি, আমি ভয়সা।
তুমি বেনে, আমি সুদ।
তুমি জল, আমি দুদ।
তুমি মড়া, আমি খাট।
তুমি শ্রাদ্ধ, আমি ভাট।
তুমি গলা, আমি হার।
তুমি শয্যা, আমি ছার।
3

•
যম-জব্দ
তুমি রাত, আমি মশা।
তুমি নুন, আমি শশা।
তুমি দিন, আমি মাছি।
তুমি নস্য, আমি হাঁচি ।
তুমি তীর্থ, আমি পাণ্ডা।
তুমি থানা, আমি ডাণ্ডা।
তুমি জে, আমি মামলা।
তুমি ঘুস, আমি আমলা।
তুমি পিলে, আমি বঙ্গ।
তুমি নাট্য, আমি রঙ্গ।
তুমি রাহু, আমি চাদ।
তুমি ঘুঘু, আমি কঁাদ ।
কুড়। Oh! Girling! তােমার কথাগুলি যেন অমৃত।
কোথায় লাগে ভুনি বােস! আমার কর্ণকেভ, একেবারে হনিফায়েড,
হয়ে গেল। শত গােমেধ যজ্ঞ করে তােমার মতন পত্নীলাভ করেছি।
কিন্তু হরিষে বিষাদ ! আমার গুণীভূত যক্ষ্মাকাশ আছে। যামিনী
কবিরাজ ব্যবস্থা করেছেন-মদন ভস্ম বটিকা সেবন, আর শয়নে
মাত্র পাশ-বালিস শ্ৰীশ্রীদুর্গা শরণং। Beg your pardon মেম
সাহেব, আমায় মাপ কত্তে হচ্চে। extf your most ওবিডিটি
servant, আমায় দিনকতক ছুটি দাও। আমি পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস
হয়ে থাকব।
সখী। জান যদি যাবে চলে’ কেন মন মজাইলে।
আঁধারে বিজুলি খেলে, অন্ধকারে ডুবাইলে।

যম-জব্দ
৫১
পুরুষ পাষাণ, নারী পাষাণী ত নয়।
বিরহ অনলে তাই বিগলিত হয়।
শশী যদি যায় চলে’ কুমুদিনী কাঁদে।
পুরুষ পড়ে না, পড়ে বিরহিণী ফাঁদে।
নীরবে কাঁদিবে বালা প্রাণপ্রিয় পলাইলে।
নিজে দোষী, তার দোষ দেখিবে না দেখাইলে।
কুড়। যাচ্চি আমি দেশান্তরে,
নিয়ে প্রাণের ছবি মনন্তরে,
প্রাণ রইল প্রাণ-প্রেয়সীর পদতলে।
এ নয়ক মনান্তর, তাইতে হবে নাকো মনান্তর।
স্মৃতি পূজা হবে এই হৃদয় শতদলে ।
কালিন্দী। নিতান্তই যদি যাবে, ত আমার হাতের একটি পান
খেয়ে যাও, তাতে ত আর প্রাণ যাবে না (পান চিবাইয়া কুড়রাম
হড় হড় করিয়া বমি করিতে করিতে প্রস্থান করিল।) হা
একি হল, চলে গেল, দশদিক শূন্য করে চলে গেল। কষ্ট দিয়ে চলে
গেল ! কষ্টের উপর কষ্ট, কষ্ট পেয়ে চলে গেল ! আসি বলে গেল না।
সখী। বরাত; বরাত; কিসে কি হ’ল কে জানে! পতিকে
পােষ মানাবেন বলে, মা আমার যত সাধের মল্লা দিয়ে পান সেজে-
ছিলেন। ভাটপাতা, নিম, মাছের আঁশ, কুইনাইন, মাছির কথ,
চুলের গুড়ো। আহা কি বরাত। হিতে বিপরীত হয়ে গেল। অদৃষ্টে
যা ছিল তাই হ’ল ! কি করবে বল। এখন চল, পােড়া পেট ত আর
বুঝবে না। ভাল করে খাওয়া দাওয়া করে, নাকে সরিষার তেল দিয়ে
ঘুমিয়ে পড়বে, নাক ডাকার ভয়ে বিরহ বেটা দেশ ছেড়ে পালিয়ে
যাবে। এখন এস।
( উভয়ের প্রস্থান ]
অদৃষ্ট !
;

তৃতীয় পর্ভাব্দ। ব্রহ্মার বাগান বাড়ী। ব্রহ্মা বেদের প্রুফ দেখিতেছেন। ( যম সমভিব্যাহারে বিষ্ণুর প্রবেশ ) বিষ্ণু। সৰ্ব্ব-লােক-পিতামহ প্রজাপতির এই রমণীয় পরম পবিত্র প্রমােদ উদ্যান কি মধুর মনােরম স্থান। শ্বেত-শতদল-সমাচ্ছন্ন, স্নিগ্ধ- শীতল-স্বচ্ছ-সলিল সরােবরের কি সুন্দর শােভা! সরােবরের অনুচ্চ সােপান সমুদয় সুন্দর রজত-বিনির্মিত। তটদেশে স্থানে স্থানে বিচিত্র- বরণ মহামূল্য মণিমাণিক্য-খচিত কৃষ্ণোজ্জ্বল প্রস্তরের পরিসর বেদিকাসন। উভয় পার্শ্বে মালতী, মল্লিকা, যুথিকা, শেফালিকা, কামিনী, রজনীগন্ধা প্রভৃতি প্রসূন-বৃক্ষলতায় রচিত, সৰ্বজন-মনোরঞ্জনকারী, কাননভ্রমণক্লান্ত দম্পতীযুগলের পবিত্র প্রেমালাপপাপযােগী রহস্যাশ্রম। এখানে সরসী- জলে হংস, সারস, বক, চক্রবাক্, প্লব, কাদম্ব, কারণ্ডব, মদ, দাতুহ প্রভৃতি প্রফুল্ল জলচর পক্ষিগণ গ্রীবা বক্র করিয়া হেলিয়া দুলিয়া কলার, কুমুদ, কুন্দ, কমলদল সঙ্গে কেলি করে। এখানে দূতাঙ্গুরাদ-কষায়- কণ্ঠ কোকিল-কণ্ঠোদ্ভূত কম্পিত কূজন কর্ণকুহরে মধু বর্ষণ করে। ময়ূর, চকোর, চাতক, জীবঞ্জীবক, খঞ্জন, হারিত, শতপত্র, শুক, ভৃঙ্গ, কলবিষ্ক, প্রিয়ক প্রভৃতি নানাবিধ বিহঙ্গমকুল ফুলপুষ্পভারাবনত পাপ- পল্লববাপরি উপবিষ্ট হইয়া, সুখে সুমধুর স্বরে সঙ্গীত করে। সহকার সকাশে মঞ্জুল মঞ্জরী মাঝে মধু-মুগ্ধ মধুকর-নিকর মধু লােভে মাধুরীময় গুণ গুণ স্বরে গান গেয়ে মধু ভিক্ষা করে। নীল, পীত, শ্বেত, রক্ত, যম-জব্দ কপিল, কপিশাদি বিভিন্ন বর্ণের বিকশিত সুরভিপ্রসূন-পুঞ্জ-কুসুম- কাননে, মৃদু মন্দ মলয়ানিলহিল্লোলে তালে তালে নাচিয়া নাচিয়া, জলপদ্ম- মকরন্দ-সুবাসিত গন্ধবহে গন্ধ মিশাইয়া দিত্মণ্ডল আমােদিত করে। এখানে নানা বেশধারিণী হাসিনী উৰ্ব্বরা, মনােহর, উৰ্বশী, সুকেশী, মিশ্রকেশী, রুচি, ঘৃতাচি, মেনকা, রম্ভা, দান্তা, চিত্রা, প্রভা প্রভৃতি অসামান্যা রূপযৌবনসম্পন্ন, অপূর্ব সুন্দরী, গীত-নৃত্য-নিপুণা নারীকুল- ললামভূতা অপসরীগণ গান ও নৰ্ত্তন করে, সঙ্গে সঙ্গে গন্ধৰ্ব্বগণ বীণা, মৃদঙ্গ, মুরলী, করতালাদি বিবিধ বাদিত্রে সঙ্গত কণন করে। অদূরে বিহগকুল-নিনাদিত বহুবিধ কুসুম সুশােভিত, সুখচ্ছায়াসমাবৃত বনরাজি বিরাজমান। তথায় কোন স্থানে ঝিল্লিগণ নিনাদ করে। কোথাও ভ্রমরগণ ঝঙ্কার করিয়া এক পুষ্প হইতে পুষ্পস্তরে বসিয়া কুসুমকুলের সহিত প্রেমালাপ করে। আর কুটজ, কুঙ্কুম, কুম্ভ, জম্বু, হরীতক। মধুক, মন্দার, পীলু, প্ল, বিভীতক। মােচক, মাধবীলতা, সপ্তপর্ণ, শাল। অরিষ্ট, অশােক, লােধ, নারিকেল, তাল | খর্জুর, খদির, করবীর, কর্ণিকার। তিন্তিড়ী, বদরী, দেবদারু, কোবিদার। আমলকী, আম্ৰাতক, কদম্ব, কদলী। নাগরঙ্গ, নাগপুষ্প, শাকট, শাল্মলী । পুন্নাগ, পাটল, আম্র, অশ্বথ, অর্জুন। ঝাবুক, তিন্দুক, বি, বকুল, বরুণ । পারিজাত, কৰ্ম্মরঙ্গ, বেণু, মুঞ্জাতক। শিংশপ, কিংশুক, করমর্দ, ভল্লাতক।

৫৪ যমজ দাড়িম্ব, বেতস, বট, চম্পক, জীর। হিঙ্গুক, লচুক, বীজপূরক, আঞ্জীর। ইন্দীবর, উদুম্বর, পনস, পিয়াল। করঞ্জক, কুরুবক, কেতক, তমাল। ফল পুষ্প সুশােভিত মদল যত। অদূরে বিরাজ করে শােভা ধরে কত। তথায় সিংহ, শাৰ্দল, তরঙ্কু, বরাহ, বানর, ভল্লুক, গণ্ডক, মহিষ, মাতঙ্গ, মার্জার, মূষিক, বৃক, শিবা, শল্য, কৃষ্ণসার, শম্বর, চমর, রুরু, ঋ, ময়ূর, ভুজঙ্গম, কুকুট প্রভৃতি নানাবিধ জীব জন্তু পরস্পর মিত্রভাবে ইতস্ততঃ বিচরণ করে, ও গিরিগাত্রোগত ঝঝরিত ঝরনি নিঝরে তৃষ্ণা নিবারণ করে ; তমিশ্রা ত্রিযামা আগত হলে,নীল নভােমণ্ডলের অগণনীয় নিখিল নক্ষত্রগণের ঝিকিমিকি, নিম্নতলে ক্ষীণ ভাবে প্রতিবিম্বিত হয়ে, নিবিড়ান্ধকার বনমধ্যে খদ্যোতপুঞ্জের মিটিমিটি আকার ধারণ করে। আবার এদিকে কোথাও সুবিশাল স্বচ্ছ স্ফটিক জলাধারে, সুগন্ধ গােলাপ- নির্যাস-নীরনিহিত মনোনয়ন-নন্দন কাঞ্চন লােহিত রজত কান্তি মীনগণ সুখে সন্তরণ করে। কোথাও শ্বেতােজ্জল মৰ্ম্মর-বিনির্মিত পুষ্পলতা-বিজড়িত কনক-কমলাসনােপরি-স্থাপিত, উৰ্দ্ধ-দৃষ্টি অপসরী- কিন্নরী-মূৰ্ত্তিমুখােচ্ছাসিত, সূত্র-সূক্ষ্ম-সুরভি-সলিলধারা চতুর্দিকে বিক্ষিপ্ত হইয়া কণকার ধারণ করিয়া, শীতলীকৃত সমীরণ সঙ্গে উড্ডীয়মান হয়। সরােবরতটে শিরীষ-কুসুম-বিনিন্দিত সুকোমল সুন্দর গালিচায় আসীন হইয়া, চতুরানন বােধ করি বেদ চতুষ্টয়ের প্রুফ সংশােধন করিতেছেন। কুসুম-সৌরভবাহী, সলিল-শীকর-সম্পৃক্ত-সুশীতল পবিত্র পবন ব্রহ্মাকে বীজন করিতেছে। মধ্যে মধ্যে স্বয়ম্ভু, মরকত মঞ্চোপরি স্থাপিত, রজতময় পদ্মরাগ-প্রেক্ষণ হংসাকৃতি ফরসিতে, প্রবালময় পল্লবদণ্ডে যম-জব্দ আশীবিষ সদৃশ কণককটোরাচ্ছাদিত কণক কলিকায় ক্লান্তি, শ্রান্তি, শােক-তাপহর গােলাপ-কস্তুরী-সংসৃষ্ট তাম্রকূট সেবন করিতেছেন। বক্রাকার, স্বর্ণসূত্রে মুক্তা-গ্রথিত সুদীর্ঘ আলবােলার দ্বিরদ-রদ-খােদিত নানাবিধ কারুকার্য শােভিত মাতঙ্গমুখ মুখলে মুখ দিয়া, পদ্মগন্ধ- নির্মল-নীরে নিশ্মলীকৃত ধূম মৃদু মন্দ ভাবে ফুৎকারােৎক্ষিপ্ত করিয়া সৌরভ বিস্তার করিতেছেন। প্রফ, সংশােধন কাৰ্যে এমন একাগ্রচিত্ত, যে এখনও আমার আগমন অনুভব করেন নাই। দেখিতেছি ধ্যান মন্ত্রে বিরিঞ্চির চিত্তাকর্ষণ করিতে হইল। বেদাধরায় বেদ্যায় জ্ঞানগম্যায় সুরয়ে কমৎক্ষমালা-ক-বহস্তায় তে নমঃ। মহাশয় প্রণাম হই। ব্ৰহ্মা। বাবাজী যে, অসময়ে ? বিষ্ণু। গরজ বড় বালাই। বিশেষ কাৰ্যানুরােধ ব্যতীত মহাশয়কে বিরক্ত করিতে আসি নাই। সে কি বাবাজী, আমি আপনার আশ্রিত, এ আপনার ভবন, আপনার উদ্যান, যখন মনে করিবেন তখনই আসিবেন। আপনার আগমনে বেদের উন্নতি ভিন্ন অবনতি হয় না। বিষ্ণু। বেদ সমাধার আর বিলম্ব কি ? ব্ৰহ্মা। যুদ্ধের জন্য কাগজের টানাটানিতে যা কিছু বিলম্ব । তাতে কিছু ক্ষতি হবে না। কেননা বেদের নব সংস্করণে অনেক নূতন বিষয়ের অবতারণা করিতে হইতেছে, এখনও সম্পূর্ণ হয় নাই। বিষ্ণু। নব সংস্করণের কারণ কি? ব্ৰহ্মা। বাবাজী, এখন তো আর সে কাল নাই। সময়ােপযােগী হলে গ্রাহক হবে না। তাই কলিকালােপযােগী করে নব সংস্করণের যমজ আবির্ভাব। সাবিত্রী সুন্দরীর কথামৃত সংযােজনায় বেদ চতুষ্টয়কে পাঠকবর্গের চিত্তাকর্ষণীয় করিতে হইতেছে। কেননা, আজকাল গৃহিণীর কথাই বেদবাক্য। বিষ্ণু। সুন্দর কল্পনা। তবে অধীনের এক নিবেদন আছে ; ধৃষ্টতা মার্জনা করিবেন। গ্রাহক ভুলাইবার জন্য বিশেষ কৌশলের আবশ্যক। কোনও এক গীতা উপনিষদ বেদ বেদান্তাদি বাক্য বিশারদ শাস্ত্ৰচঞ্চুর ভূমিকারূপ ঠোকর লাগাইয়া, সুন্দর আর্ট পেপারে নানা বরণের বিচিত্র দেব-দেবীর ও দৃশ্যাবলীর চিত্র দিয়া, স্বর্ণাক্ষর-খােদিত মলাটে বাঁধাইয়া এই নব সংস্করণ প্রকাশ করিতে হইবে। তার পর সংবাদপত্র সমূহের সম্পাদকবর্গকে, এক বিরাট ভােজে আবাহন করিয়া, চোৰ্ব্ব-চুষ- লেহ-পেয় ভােজনে পরিতৃপ্ত করিয়া, তাহাদের দ্বারা সুবিস্তৃত সুন্দর সমালােচনা করাইয়া লইতে হইবে। ঘাটে বাটে হাটে বাজারে বাইসকোপে আর ষ্টেশনে ষ্টেশনে বড় বড় প্লাকার্ড মারিয়া দিতে হইবে। তাহাতে লিখিয়া দিতে হইবে “কলির বেদ, যাহা নাই ইহাতে, তাহা নাই ভারতে। হাসি আছে, কান্না আছে, রস আছে, কস আছে, নাই শুধু নিরাশ”। তারপর নারদ ঋষিকে ভাল রকম কমিশন করার করিয়া, গ্রাহক সংগ্রহের এজেন্ট স্বরূপ পাঠাইতে হইবে। কাটতি না হয় আমি দায়ী। তবে এসব না করিলেও আপনার কোন চিন্তার আবশ্যক নাই। কেন না, ভূতভাবন ভবানীপতি স্বয়ং আশুতােষ আপনার সহায় ; তিনি ইচ্ছা করিলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে এই সংস্করণ পাঠ্যগ্রন্থ নিৰ্বাচিত করিয়া দিতে পারিবেন। দেবসভা, ইন্দ্র- সভা, রাজসভায় এই মহাকাব্যের কীর্তিকলাপ কীৰ্ত্তন করে, আপনার গলায় জয়মাল্য দিয়ে, গ্রন্থের গুণগরিমা শতগুণে বর্ধিত করিয়া দিবেন। ব্ৰহ্মা। ত’, বাবাজী যা ভাল মনে করেন তাই হবে। (যমকে

যম-জব্দ
কেবল
দেখিয়া) অকালে কালের আগমন! অবশ্য কোন বিভ্রাট ঘটিয়াছে।
যমের শরীর এমন শীর্ণ কেন? কোন পীড়া হইয়াছে নাকি ?
বিষ্ণু। যমরাজ মনঃপীড়ায় প্রপীড়িত। সদাশিব যমকে পদচ্যুত
করিয়াছেন। এই পরােয়ানাখানি পাঠ করুন।
ব্ৰহ্মা। (পাঠ করিয়া) যমের এ বিপদ ঘটিবে তাহা আমি পূৰ্বেই
জানিতে পারিয়াছিলাম। কয়েক বৎসর হইল যমরাজ কাৰ্য্য
পর্যালােচনায় সম্যক পরাজুখ হইয়াছিলেন। উনি এমনই ভীরু যে,
পরশ্রীকাতর দুর্দান্ত নরাধমদিগের নিকটে যাইতেন না।
নিরপরাধ মধুরস্বভাব মহােদয়গণকে নিহত করিয়াছেন। সদাশিবের
তাে দোষ দিতে পারি না। তিনি উচিত কৰ্ম্মই করিয়াছেন।
বিষ্ণু। যম আপনার সন্তান। সহস্ৰাপরাধে অপরাধী হইলেও
মার্জনীয়। যম বহুকালের চাকর, উহাকে একেবারে পদচ্যুত করা
বিচার সঙ্গত হয় না।
যম। ভগবন্ চতুর্মুখ, সন্তানকে একবার মার্জনা করুন। আমি
আপনার সমক্ষে প্রতিজ্ঞা করিতেছি আর কখন আমাকে কর্মে অমনো-
বােগী দেখিতে পাইবেন না।
ব্ৰহ্মা। বাবাজীর অভিপ্রায় কি ?
বিষ্ণু। মার্জনা করা।
ব্ৰহ্মা। আই কঙ্কার। আমি অকপট-চিত্তে সম্মতি প্রদান করিলাম।
বিষ্ণু। তবে এই দণ্ডেই মহেশ্বরভবনে গমনের অনুমতি হইলে
কৃতার্থ মনে করিব। গরুড়ের নূতন জুড়ি আনি নাই। মােটর
আনিয়াছি। একদণ্ডে যাইবেন, একদণ্ডে আসিবেন।
ব্ৰহ্মা। বাবাজী, অদ্য বেলাবসান হইয়াছে। সন্ধ্যার পর মহেশ্বরকে
স্বভাবে পাওয়া ভার; অতএব যমকে অদ্য বাড়ী যাইতে বলুন। কল্য

যম-জব্দ প্রভাতে আটটা না বাজিতে বাজিতে মহেশ্বরের নিকট গমন করিব। ( যম ব্ৰহ্মা ও বিষ্ণুর চরণ স্পর্শ করিয়া প্রস্থান করিলেন) (বিষ্ণুর হস্ত ধরিয়া) বাবাজী আহার না করিয়া যাইতে পারিবেন না। শচীনাথ টড় হিটুলির পাের্ট পাঠাইয়াছেন; আপনার অনাগমে তাহা খােলা হয় নাই। আসুন ভােজনাগারে গমন করি। [ প্রস্থান ।

চতুর্থ অঙ্ক। প্রথম পর্ভাস্ক। -E- ভূত-প্রেত। মহাদেবের প্রাসাদের সম্মুখ। ভূত-প্রেতিনীগণের নৃত্য। কলিকালের কাণ্ড দেখে, অবাক ত্রিভুবন। পিতামাতা পর, শ্বশুর শ্বশ্রু আপন জন। গৃহিণী বিধাতা, হর্তা কর্তা, ভর্তা যেন ভৃত্য। কথার উপর কথা হলে, রেগে করে নৃত্য। ভাইকে ঘরে, এনে করে, সতীন পােকে দূর। তা’তেও খুসী হয় না ভাবে, মৃত্যু কত দূর । সৰ্ব্বে সৰ্ব্বা বড় বাবু, প্রথম পক্ষের ছেলে। ঝি-চাকরের নীচে যায়, দ্বিতীয় পক্ষ এলে। খাবার দাবার পাবে যদি থাকে কিছু পড়ে। নইলে সব চুপ চাপ, ক্ষুদায় জ্বলে মরে ॥ বাবা আর বাবা নয়, নূতন থােকার বাবা। পক্ষ-দোষে ভ্যাবাচ্যাকা, সকল তাতেই হাৰা হয় ত মনে দুঃখ হয়, ভয়ে বচন হরে। কু-মন্ত্রনায় মন বদলে পুত্রে শক্র করে । চিনির বলদ বাবু আনে, টাকা ছাল ছালা। সিন্নিথেকে। গিন্নী রাখে, লুটপাট করে শালা।

৬০
যম-জব্দ
ছেলে বেছে নিচ্চে টাকা, গলায় দিয়ে রসুড়ি।
কাল খাদা প্যাচা মেয়ে, টাকার জোরে সুন্দরী।
ছেলেগুলো, বাড়ায় মুলল, দেখলে সিগারেট।
সাহেব সেজে, মদের সেবা, কচ্চে ফাষ্ট’রে ।
ভাবে সব হতজ্ঞান, নিজে শুধু বুদ্ধিমান।
ভারতমাতাকে দেয়, পিতামাতা বলিদান
বেহদ্দ বেহায়া, ছেলের লজ্জা-সরম নাই।
সবার মাঝে, বােয়ের পাছে, ঘুচ্চে সৰ্ব্বদাই।
করে ফুষ্টি-নাষ্টি অনুক্ষণ, লেখা-পড়া ফেলে।
শ্যাওটোপনার দোষে, যেন এড়ে লাগা ছেলে।
বৌকে নিয়ে পাশে শুয়ে পড়ে পরীক্ষার পড়া।
বাপ-মা কিছু বলে, বলে গলায় দিব দড়া।
বউটী গেলে বাপের বাড়ী, তাক্ত করে মাকে।
বাপকে বলে কৌশলে, আনবেন কবে তাকে।
বৌকে কিছু বলে ছেলে, বেজায় বেজার হয়।
তাই না দেখ বউ বিগড়ে কটু কথা কয়।
নাই পেয়ে পুতের বধূ, মাথায় চড়ে বসে।
ঘাড়ে ধরে শাশুড়ী মাগীর ঘালে মুখ ঘসে ।
শ্বশুর শুধু দেবে থােবে, নইলে পাবে দুখ।
তােলো-হাঁড়ি মুখে বউ, বাক্যবাণে বেঁধে বুক।
নয়তাে কথা কোরে বন্ধ, বাপের বাড়ী যায়।
স্বামী গিয়ে, আসে নিয়ে, পড়ে তার হাতে পায়।
কাজ কর্ম করে না কিছু কেবল শুয়ে থাকে।
তুলতে তারে পড়তে হয়, বিষম বিপাকে।

যম-জব্দ
চি চি কোরে সদাই বলে, শরীর বড় মদ।
গলার চোটে গগন ফাটে, করে যবে দ্বন্দ্ব।
দজ্জাল শাশুড়ী কাছে, জটিলে-কুটিলে হারে।
লাঞ্ছনা গঞ্জনা দিয়ে, বৌকে মিছে ঠোনা মারে।
চাকর বামুন করে দূরে, বৌটি খেটে মরে।
কুবচনে অনশনে, তা’রে হাড়ি সার করে।
তবু রুষ্ট, নহে তুষ্ট, সদা দুষ্ট কথা বলে।
ছেলের বিয়ে দিয়ে বাঁচি, তুই আবাগি মলে।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, দাদা করূচে
টাকা।
ভায়ার ভাবনা বাবু গিরি, গাড়ি জুড়ি হাঁকা।
রঙ্গ রস, নেশা নিয়ে, বাইরে বাইরে থাকে।
খেতে এলে সবাই ব্যস্ত, ত্রস্ত ষাঁড়ের ডাকে।
কাজ নাই, কৰ্ম্ম নাই, তাই কি করিবে আর।
ছােটে হাইকোর্টে ভাগ নিতে দাদার টাকার।
না পরে না খেয়ে পেটে, মানুষ করলে যা’কে।
সে দুঃসময়ে তােমার দুঃখে চক্ষু বুজে থাকে ।
তাইতে পণ্ডিতে বলে, কোৰ্বে না ও অপকার।
আমি ত করিনি ওর কোন কিছু উপকার।
ঘরজামাতা লাতি ঝাটা পত্নীর কাছে খায়।
বাড়ি এসে ঠাণ্ডা হয়ে গুটি গুটি ফিরে যায়।
ছেলে পিলে স্বামী ফেলে, মার কাছে মেয়ে থাকে।
শান্তি সুখে মজা মারে, তাদের ফেলে বিপাকে।
টাকা ধার দিয়ে যদি শেধবার কথা কবে।
দেনদার আলাপির কাছে ছােট লােক হবে ।

যম-জক
ভাল কথা বল্লে বলে ও নিজের স্বার্থ চায়।
গুরু গিয়ে জড়-সড়, শিষ্য পাছে চটে যায়।
দিয়ে চক্ষু-লজ্জা জলাঞ্জলি, কত ব্যারিষ্টার।
ফি খেয়ে দেয় না দেখা, কি বিষম ব্যভিচার ।
জেনে শুনে একিদিনে, থলি ভরে নিচ্ছে ব্রিফ।
কারুর কাছে হচ্চে সাধু, কারুর কাছে থিফ, ।
টুনি যিনি বিচ্চ, ঘুঘু, গলাকাটা ধাপ্পাবাজ।
খপ্পরে পড়িলে তার মক্কেলের ট্যানা সাজ।
আচার-বিচার হিন্দুয়ানী হয়েছে বিদায়।
অশৌচে মাছ চলেছে, নিরমিয জুতো পায়।
বিলেত গিয়ে বিবি বিয়ে, হ্যাম বিফ, ভােজনে।
থাকে জাত, পাদ্রিমাত, কাজ কি যিশু ভজনে।
মুসলমানের সঙ্গে খান, সমাজেতে চলে।
লুচি শুচি মুচি বাড়ি, কথায় কথায় বলে ।
ছিল কালিঘটে, গঙ্গাস্নানে, বে-আব্রুর জাঁকি।
মটর মদ্দা সকল পর্দা কল্লে ফর্দা ফাক ।
পুত্রবধূ বাবা বলে, ঠাকুর বলে না।
ননদে দিদিমণি, ঠাকুরঝি আর চলে না।
মেয়েকে ভজায় আল্লা, ঘুচবে ব্যানের রঙ্গ।
নিজের নাক কেটে করে পরের যাত্রা ভঙ্গ।
দীনে দান দুঃখ দূর কত্তে টাকা অনটন।
টাইটেল লােভে টাকা ঢালে জলের মতন ।
ধৰ্ম্মের পাৰ্বণ পূজা যেন সান্ধ্য সম্মিলন।
নাচ, গান, খানা, মদ চলে সেথা অনুক্ষণ ।

যমজ
প্রতিমা আরতি কালে, বাবু বন্ধু নিয়ে ঘরে।
মজা মারে, পূজা দেখে ছােটলােকে ভক্তিভরে।
কেশ তৈলে কবিরাজি, দ্বিতল ত্রিতল বাটী।
কুইনিনে শঙ্খবটী, নাড়ীজ্ঞান জ্বর-কাটী ।
টাকার খাতিরে শ্রদ্ধা, ভক্তি ভালবাসা পায়।
টাকা ভিন্ন গিন্নী ক্ষুন্ন পুত্র ভিন্ন হয়ে যায় ।
ধন-বৃদ্ধি সিদ্ধি আশে, ধনী ভাই ভেসে পড়ে।
টাকার গরমে গর্বে, ধরা সরা জ্ঞান করে।
অনুগত যারা, তারা খােসামােদ করে তার।
অন্যায় করিলে বলে, ধন্য ন্যায় অবতার।
নাতি হন্নে, তার জন্যে, চখে বন্যে বয়ে যায়।
ছেলের ভয়েতে ভেকা, বাবা হাবুডুবু খায়।
পত্নী সতী, পতি অতি লম্পটদের পা ঝাড়া।
লক্ষ্মী ছেড়ে মরবে ঘুরে, আলক্ষ্মীদের পাড়া।
অসুখ হলে সর্বনাশ, মাথায় বজ্র পড়ে।
বদ্দি চাবে মােল টাকা, অন্ন বস্ত্র নাই ঘরে।
ধার করে ভিজিট দিয়েও নিস্তার না মেলে।
ঔষধ পথ্য সবই ব্যর্থ, চেঞ্জে নাহি গেলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখবে দলাদলির ঢেউ।
বয়া ছেড়ে ভাসতে গিয়ে তলিয়ে যাচ্ছে কেউ ।
পরীক্ষা পাঠের কাণ্ডে, লণ্ড ভণ্ড ছাত্রগণ।
থােষামােদে পরীক্ষক পাঠ্যগ্রন্থ নিৰ্বাচন।
স্পাের্ট, ম্যাচ, থিয়েটারে ছেলেদের সর্বনাশ।
লেখা পড়া দফা রফা, খেলা ধূলা বারমাস।

দ্বিতীয় পভাঙ্ক। ছি। মহাদেবের কক্ষ। মহাদেব ও ভগবতী। ভগবতী। তােমার সকলই যেন কেমন কেমন। অমন ল্যাজারাসের বাড়ীর কোচ থাকতে বাঘের ছালে বসে চা খাওয়া ! তা আবার কমণ্ডলু ভরে’! কেন অশ্লারের বাড়ীর বেলােয়ারি বাটীগুলাের কি দুর্ভিক্ষ হয়েছে ? মহাদেব। কোমল শয়ন, ধূলার আসন, কাচ ও কাঞ্চন মাটীর বাসন- সকলি সমান দেখে এই জন। এখন যা কচ্চ তাই কর না। তােমার মৃণাল হাতে ঝিনুক দিয়ে ঘামাচি মারা আমি বড় ভালবাসি। ( চা পান শেষ করিয়া) ভগবতি, আমার শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছে। পাচিকাকে বলিও আমাকে মৌরলা মাছের ঝোল দিয়ে চাটী ভাত দেয়। ভগবতী। রজনীর বৃত্তান্ত কি তােমার মনে আছে ? যে কাণ্ড করেছিলে, আর যে তােমাকে সজীব দেব মনে ছিল না। তা এই যত দোষ ঐ নন্দী বেটার। বল্লে কি, নূতন বাজারে গাঁজা কিতে গিয়ে শুনেছিল, ব্ৰণ্ডীতে নেশা না হলে মফিয়া মিশিয়ে দেয়, আর সিদ্ধিতে নেশা না হলে স্কুল মিশিয়ে দিতে হয়। তােমার সিদ্ধিতে নেশা হয় না বলে নন্দীকে গালাগালি দাও, তাই সে ষাড়ের ঘর হতে কতকটা ঝুল এনে সিদ্ধিতে মিশিয়ে দেয়। মহাদেব। ওঃ! তাইতে নেশার অত ঝোঁক। আমার এইটুকু

যমজ
মনে আছে, যে নেশার প্রথম উদ্যমে “ব্রেভাে নন্দী” বলিয়া হাসিতে
লাগিলাম। হাসির চোটে দম্ ফাটে ফাটে, এমন সময় নেশা পেকে
এল। তােমার গায়ে ঢলে পড়লাম। ব, তার পরেই সানাইএর
ভােরাই শুনে চোখ খুলে দেখি একেবারে ফরসা।
ভগবতী। ঢলে পড়েই ওয়া। বমন প্রবাহে শয্যা ভাসমান।
আমি একেবারে হাবুডুবু। শয্যা ফেলে নূতন শয্যা করে তােমায়
শােয়ালেম। খিড়কির পুকুরে সাবান মেখে স্নান করে নূতন কাপড়
পরিলাম। তবু যেন গন্ধ যায় না। শিশি শিশি কাশ্মীর বােকে
গায়ে ঢাললাম, তােমার গায়ে দিলেম, বিছানায় দিলেন, তারপর বাতাস
দিতে দিতে তুমি ঘুমিয়ে পড়লে।
মহাদেব। প্রেয়সি, আমি তােমার রাজাপদে, পদে পদে অপরাধী।
আমি তােমার পদারবিন্দ ধারণ করে, বিনীত ভাবে বচি আমার
অপরাধ মার্জনা কর। (ব্ৰহ্মা বিষ্ণু ও যমের প্রবেশ) ব্ৰহ্মা আমি
ভগবতীর ধ্যান কচ্চিলাম। আপনি এসেছেন, ভালই হয়েছে।
আমার হয়ে দুটো কথা বলুন।
ব্ৰহ্মা। অভয়ার অভিমান হ’ল কিসে?
মহাদেব। গত রাত্রে সিদ্ধিরস্তু—অ-আ হয়েছিল। সুতরাং
অভয়ার নিদ্রার ব্যাঘাত ঘটেছিল।
ব্ৰহ্মা।
ও ত আপনার সাপ্তাহিক রঙ্গ; কিন্তু সুশীল শৈলবালা
সেজন্য ত কখন অভিমান করেন না।
মহাদেব। বাবা, হাসির মান্ বড় মা। অপরাধ করিলাম,
অপরাধােপযুক্ত ঘা কতক প্রহার কর, দেনা লহনা সমান হয়ে যাক।
তা না করে ফি ফিক করে হেসে সাদর সম্ভাষণ করিলে, অতিশয়
কুষ্ঠিত হতে হয়।

যম-জক ভগবতী। ঠাকুর, আপনি ওঁর কথায় কর্ণপাত করূবেন না। উনি অষ্ট প্রহর আমার সহিত ঐরূপ উপহাস করিয়া থাকেন। আমি ঔয়ার চরণ-সেবার দাসী, আমার নিকটে কুণ্ঠিত কি ? মহাদেব। না হে চতুর্মুখ, অন্নদা আমার জটের উকুন। শিরােধার্য। দাসী বলিয়া আমার অকল্যাণ করিতেছেন। ভগবতী। তবে নখরে নখরে নিপাত কর। যমের বাড়ী চলে যাই। মহাদেব। ভগবতি, তােমার যম জামাই দুই উপস্থিত। যাহার কাছে ইচ্ছা তাহার কাছে যাও। [ ভগবতী অবগুণ্ঠনাবৃত হইয়া কক্ষান্তরে প্রস্থান করিলেন ] যম এমন ম্রিয়মাণ কেন? ব্ৰহ্মা। আপনি রসাকৰ্ষণী মূল ছেদন করিয়া, জিজ্ঞাসা করিতে- ছেন তরু শুষ্ক হইল কেন ? যম আমাদের অতিশয় অনুগত। উহাকে আপনার মার্জনা করিতে হইবে। আমার এবং নারায়ণের বিশেষ অনুরােধ। যম অপরাধী নহে, আমরা এমন কথা বলি । যম সহস্র সহস্র অপরাধে অপরাধী। আপনি একাকী যমকে পদচ্যুত করিয়া তাহার স্থানে কুড়রাম দত্তকে নিযুক্ত করিয়া- ছেন ; তৎসঙ্গত্য পক্ষে আমাদিগের কিছুমাত্র তর্ক নাই। অরুণাজের প্রতি অনুকম্পা প্রকাশ করিয়া, তাহাকে নৈরাশ্যার্ণব হইতে উদ্ধার করুন। মহাদেব । ( অতিশয় বিস্মিত হইয়া ) ব্রহ্মা আমি গাঁজা খাই বটে, কিন্তু গাঁজাখােরের মত কৰ্ম্ম করি না। আপনি এত ক্ষণ কি প্রলাপ বক্তৃতা করিলেন, আমার কিছুমাত্র বােধ- গম্য হইল না। বােধ হয় গত যামিনীতে আপনার মাত্রাতিক্রম

যমজ
হইয়া থাকিবে। আমি যমের ভােজনাবশিষ্ট অন্ন স্পর্শ করি
নাই ; আর আপনি বলিতেছেন
বলিতেছেন আমি তাহাকে পদচ্যুত
করিয়াছি। কোন্ দিন বলিবেন আমি ত্রিদিবাধিপতিকে দ্বীপান্তর
করিয়াছি।
ব্ৰহ্মা। “সদাশিব” স্বাক্ষরিত পরােয়ানাখানি মহাদেবকে দেখাও
তাে বাবাজী।
মহাদেব। ( পরােয়ানাখানি অদ্যোপান্ত পাঠ
পাঠ করিয়া) এ
পরােয়ানা আমার দপ্তর হইতে বাহির হয় নাই। স্বাক্ষরটী আমার
স্বাক্ষরের ন্যায় বটে, কিন্তু আমি স্পষ্ট বলিতেছি, এ আমার
স্বাক্ষর নহে। যমরাজের বিরুদ্ধে কোন অভিযােগ এক মাসের মধ্যে
আমার সেরেস্তায় উপস্থিত হয় নাই। সুতরাং এমন পরােয়ানা
বাহির হইবার কিছুমাত্র সম্ভাবনা ছিল না। তুমি কি চাৰ্য বুঝাইয়া
দিয়াছ?
;
যম। আজ্ঞে হ্যা।
মহাদেব। আমার বােধ হয় অসুরেরা এ কাণ্ড করিয়া থাকিবে।
অনেক কাল দেবাসুরে যুদ্ধ হয় নাই; এই পরােয়ানা যুদ্ধের সূত্রপাত।
আর বিলম্ব করা উচিত নহে; এই দণ্ডে দণ্ডধর নিকেতনে গমন
করিতে হইবে।
বিষ্ণু। ভাল যম, কুড়রামের সমভিব্যাহারে সৈন্য-সামন্ত কত
আসিয়াছে ?
যম। জনপ্রাণী না। কিন্তু মহাশয়, কুড়রাম একা এক সহস্র।
আপনি কৃষ্ণাবতারে কংসালয়ে হাতে মাথা কাটিয়াছিলেন। কুড়রাম
ধমকে কয়েকজন বাহকের মুণ্ড উড়াইয়া দিয়াছে।
ব্ৰহ্মা। শচীনাথকে সংবাদ দেওয়া উচিত।

যমজ বিষ্ণু। বহরম্ভ অপ্রয়ােজন। যেহেতু আমার প্রতীতি হইতেছে যে, কোন আমােদপ্রিয় লােক যমকে উদমাদা রকম দেখিয়া, যমের সহিত কৌতুক করিয়াছে। কুড়রামকে দেখিবার নিমিত্ত সাতিশয় কৌতূহল জন্মিয়াছে। চলুন, স্পেসিয়াল ট্রেনে যমের সমভিব্যাহারে যমালয়ে গমন করি। ( সকলের প্রস্থান ] তৃতীয় গভঙ্ক। যম-সিংহাসনে কুড়রাম ও পারিষদবর্গ। চিত্র। ধৰ্ম্মরাজ, যমালয়ের কারাগারগুলাে অপ্রশস্ত বলিয়া, বন্দী- গণের অতিশয় কষ্ট হইতেছে। যেরূপ লােক আসিতেছে, বােধ হয় দুটী কারাগারের আবশ্যক হইবে। কুড়রাম। You no business. তুমি কোনও কাজের নও। আমি রাস্তা বাতলে দিচ্ছি, Jail larging no wanting. এই war timeএ P.w.Dর খরচ একেবারে shut your tongue একদম বন্ধ। শােন, first,-কাইজার বেটাকে এখনই বেঁধে নিয়ে এস। বন্যার জলের মতন যে লােক আচে, দেখবে থামা খেয়ে যাবে। তারপর, অকাল- মৃত্যুকে hand cup foot cup করে জেলে ফেলে দাও। বেটা অনেক damage করেছে। তাকে ঘানিতে জুতে' দেবে। এক মাসের মধ্যে jail half empty-house হয়ে যাবে।

যমজ
চিত্র। অকালমৃত্যু পুরাতন যমের বড় প্রিয়পাত্র এবং সভা হইতে
নিযুক্ত। তাহার কারাবাসানুজ্ঞা আপিলে খণ্ডন হইতে পারে।
কুড়রাম। কি! word upon word. আমি Full Bench.
আমিই প্রিভিকৌন্সিল। আমার নাম হুকুম, তােমার নাম তামিল।
তােমাকে যে হুকুম দিচ্চি তুমি তাই তামিল করূবে। Don't see
ফিউচারিটি। কুচ, প্রয়ােজন নাহি হয়।
চিত্র। হুজুর মালিক। অপরাধ হয়েছে ক্ষমা করবেন। আপনি
রাগ কৰূলে এ গরিব যায় কোথায়। অধীনের আর স্থান নাই।
কুড়রাম। কি বলতে কি বলে ফেলেছি, কিছু মনে করােনা।
Don't care করে দাও না বাবা।
চিত্র।
যে আজ্ঞা হুজুর।
কুড়রাম। শােন, আর এক কাজ কত্তে হবে। এই লােকেদের
এখানে আবার একটা Time Table করে দিতে হবে। যেমন
eighty অমনি call the witness, আশী হলেই এখানে আসিতে
হবে। আশীর বেশী হলেই কষ্টের আর boundary থাকে না।
সময় ঠিক রইল। আসিবার আগে সব গােচগাচ করে যাকে যা’ দেবার
দিয়ে আসিতে পারিবে। কাজেই Partition Suit উঠে যাবে।
মক্কেলের বিষয়ে Attorney আর ভাগ বসাতে পারিবে না। মােটা
Bill of costও হবে না। পুরান মনিবের দল চটিবে। তা চটে চটু।
76 atytatfçen 670 / Room's enemy foon, old adverb
চিরকেলে আবাদ।
চিত্র। যে আজ্ঞা। খাতা খুলে’ যেমন দেখব আশী হয়েছে অনি
সমন পাঠাব।
কুড়রাম। সাবধান। তােমার একটা
ভারি বদনাম আছে।

৭ যম-জব্দ সেরিফে সমন ডেলেভর করিবার সময় তুমি নামের the end না করে, রেজিষ্টারির পাতা উল্টে ফেল। তাতে কি হয় জান ? অনেক সময়ে বুড়ী মাগী নাতির নাতি দেখে’ Heaven ক্যাণ্ডেলিফায়েড় হয়ে যায়। আর তা’র চখের সাম্নে দিয়ে বুড়ো নাতিপুতি এখানে চলে আসে, কিন্তু তার আসিবার নামটী পৰ্য্যন্ত নাই। চিত্র। আজ্ঞে হাঁ। এ রকম মাঝে মাঝে হয় বটে। তবে অবসর মত খাতার পুরাতন পাতা পরীক্ষা করি তাতেই ভুল সংশােধন হয়ে যায়। কুড়রাম। এই হলেই তােমাদের bad famous অনেকটা কমে যাবে। তবে আর একটা আইন আপিল কত্তে হবে। একেবারে উঠিয়ে দিতে হবে। কোম্পানী বাহাদুর স’মরণ অনেকদিন Rise করে দিয়েছে। তাদের সঙ্গে চালাকি নয়। সম্মুখ সমরে পড়ি বর চিড়ামণি হয়ে যাব। কাজেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে স’মরণ আইন জারি কত্তে হবে। পুরুষগুলাের উপর যখন সমন সার্ভ কৰ্ব্বে, সেই সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্ত্রীদেরও সমন দেবে। তাদের সাবার করিবার আগেই এদের সবার করিবে। বিধবা কথা ডেক্সনারি থেকে উঠে যাবে। লস্যখের চৈতন চুটকি ভটচায্যি বামুনদের mistake ruling দেখিয়ে, কিঞ্চিৎ ট্যাক করা ঘুচে যাবে। আর বিগজ বিগগজ পণ্ডিতদের তজা গান বন্ধ হয়ে যাবে। যে আজ্ঞা। তবে মা ঠাকরুণদের তখন তাে আশী বৎসর বয়স হবে না। আইনে বাধিবে যে। কুড়রাম। আইনের বইতে দেখেছি মাঝে মাঝে Eruption থাকে। শুনেছিলেম সেগুলাে নাকি ছাড়ের লিষ্টি। তা” ওটাকেও একটা ছাড়ের মধ্যে ফেলে দেওয়া যাবে। আর বিশেষত মায়েরা চিত্র।

যম- তদ্দিনে সকলেই সত্তর পেরিয়ে যাবেন। কুড়ি পেরুলেই বুড়ী। তা’ সত্তর তত ঢের হয়ে গেল, তবে গােটাকতক পিত্তিরক্ষে ক্লাসের পক্ষে আইনটা কিছু কড়া হবে, বৃদ্ধস্য তারিণী ভাৰ্য্যা। বুড়ােকে তরাতে গিয়ে সকাল সকাল তাদের থিয়েটারের ডুপ, পড়ে যাবে। কি করিব, নাচার। তাদের কপালের দোষ। ( ত্রিমূর্তি ও যমের প্রবেশ )। মহাদেব। দোষ তাে বটেই। তবে তােমায় জিজ্ঞাসা করি, বাপু তুমি সশরীরে কি প্রকারে যমালয়ে আগমন করূলে ? কুড়রাম। প্রভাে, আমি লােচনপুর কাছারির আটচালায় শয়ন করেছিলাম। আমি স্বইচ্ছায় আসি নাই। যমের বেহারারা আমায় এথানে নিয়ে এসেছে। এখানে পৌছে প্রথমে ভ্যাবাচাকা লেগে গেল। অচেনা দেশ ; সহায় সম্পত্তি হানি, কি করি, এক পরােয়ানার জোরে যমকে ডিসমিস্ করিলাম। আপনি বাঁচলে বাপের নাম। পরােয়ানায় হুজুরের নামটী জাল করে দিয়েছিলাম। হুজুরের পায়ে পড়ি আমায় ক্ষ্যামা করুন। আমি প্যান্নিত্যং মহেশং, রজত নিরীহং, চারুচন্দ্ৰ বতৎসং ধ্যান কত্তে কত্তে সই করেছিলাম। ভবানীপতি ভােলানাথ গরিবের দোষ ভুলে যাও বাবা, আমায় ক্ষ্যামা কর। মহাদেব। বাপু কুড়রাম, জাল করা অতি গুরুতর অপরাধ। কুড়রাম। আজ্ঞে দেবাদিদেব তা শুনা আছে। ও একেবারে সেসন কে। তারপর কোম্পানির পয়সায় সমুদ্র যাত্রা আর যাবজ্জীবন দেশ ভ্রমণ। মহাদেব। তােমার উপর সেই দণ্ডই হইল। তুমি যা করেছ, তা কেউ কখনও করেনি। “যম-জব্দ”। দ্বীপান্তর স্বরূপ তােমাকে १२ যম-জব্দ লােচনপুরের কাছারি বাড়ীর আটচালাতে যেমন ছিলে তেমনি রেখে আবে। কে আছ, নিয়ে যাও একে, মর্ত্যে রেখে এস। { যমদূতগণের প্রবেশ ও কুড়রামকে লইয়া প্রস্থান ] বাপু, মরা মানুষের উপর প্রভুত্ব গ্রহণ করিয়া, জীয়ন্ত মানুষের কাছে গিয়াছ চালাকি করিতে ! একটা জীয়ন্ত মানুষ যমালয়ে আনিয়া কারখানাটা দেখিলে ত? নাকে কাণে খত দাও, আর কখনও জীয়ন্ত মানুষের ছায়া মাড়াইবে না। ব্ৰহ্মা। যম ! তােমার সব অকৰ্ম্ম ও কুকর্মের প্রায়শ্চিত্ত হইল। তােমাকে একবার বলিয়াছি, আবার বলিতেছি শ্রবণ কর। দেখ, ভগবান্ মৃত্যুঞ্জয়ের কৰ্ম্মই সংহার। কিন্তু তাহার এমত অভিপ্রায় নহে, যে তাঁহার পরিচারকেরা কেহ অসঙ্গত সংহার করে। অকালমৃত্যুতে মৃত্যুঞ্জয় যার পর নাই অসন্তুষ্ট। আর তুমি এমনি অপরিণামদর্শী, যে অকালমৃত্যুই আজকাল তােমার প্রধান কৰ্ম্ম। রাজীবলােচন মুখােপাধ্যায়ের পরলােক-যাত্রার সকল উদ্যোগ। তাহার পুত্রের তাহার শ্রাদ্ধের নিমিত্ত কাষ্ঠ, তণ্ডুল, তৈল বস্ত্রাদি সকল সংগ্রহ করিয়াছিল ; রূপার ঘােড়শ পর্যন্ত প্রস্তুত। রাজীব মরিতে অসম্মত ; মরণের পরিবর্তে পরিণয়ের জন্য ব্যাকুল। অনেক অনুসন্ধানের পর, তাহার কনিষ্ঠ পুত্রের কেলিকুঞ্চিকা কন্যার সহিত উদ্বাহ সম্পন্ন হইল। বর সজ্জার ভিতর একটি রূপার ষােড়শ ছিল। রাজীব শ্বশুরের মুখােজ্জল হেতু তাহার পুত্রদিগের প্রস্তুত রূপার ঘােড়শ গােপনে পাঠাইয়া বলিয়া দিয়াছিল, রূপার যােডটী বরসজ্জা বলিয়া দান করিবেন। রাজীবলােচন অদ্যাপি জীবিত, কিন্তু মুমু। মৃত্যুশয্যায় শয়ন করিয়া, অষ্ট প্রহর কেবল নব-বিবাহিতা বনিতার অলকায় দোল দিতেছে। যম, এই কি তোমার শাসন প্রণালী ? এই কি তােমার দয়ানিধান যমজ গম্ভীরস্বভাব মৃত্যুঞ্জয়ের উদ্দেশ্য সাধন করা? তুমি অতিশয় নিষ্ঠুর মূঢ়, পাম, অকর্মণ্য। যম। ব্ৰহ্মাদি দেবদেব, আমার বিনীত নিবেদন এই যে, আমার কোন অপরাধ নাই। যে দুর্ঘটনা বর্ণন করিলেন, তাহা ভুলক্রমে ঘটিয়া গিয়াছে। ব্ৰহ্মা। কাহার ভুল ? যম। বাণের ভুল। ব্ৰহ্মা। বিশেষ করিয়া ভ্রমের বিবরণ ব্যক্ত কর। যম। একদিন স্বকাৰ্য্য সাধনান্তর সন্ধ্যাকালে, শমণবানটী মহাদেবের মন্দিরের পশ্চাৎ শিমুল গাছের ডালে ঝুলাইয়া, সেইখানে শয়ন করিলাম। কিঞ্চিৎ পরে কন্দর্পভায় উপস্থিত হইলেন। তিনিও শ্রান্ত, আর গমন করিয়া ঐ গাছের ডালে ফুলবাণটী ঝুলাইয়া শয়ন করিলেন। নিশি অবসান। আমার ও কন্দর্প ভায়ার তখনও ঘুম ভাঙ্গে নাই। হঠাৎ বাবা মহাশয়ের রথ-চক্র-আভা আমাদিগের অঙ্গে লাগিল। আমরা ধড়মড়, করিয়া উঠিয়া প্রস্থান করিলাম। তাড়াতাড়িতে শমনবাণের সহিত ফুলবাণের বিনিময় হইয়া গেল। সেই দিন হইতে পৃথিবীতে মহা বিভ্রাট। কন্দর্পভায় যুবক যুবতী দেখিয়া বাণ নিক্ষেপ করেন আর তাহারা তদ্দণ্ডে পঞ্চত্ব প্রাপ্ত হয়। আমি মৃত্যুঞ্জয়ের অভিপ্রায়ানুসারে বুড়া বুড়ীর প্রতি শর সন্ধান করি, কিন্তু তাহারা মরে না। বুড়ার রস উথলিয়া উঠে। আর বুড়ী শুষ্ক কাষ্ঠে কচি পাতার ন্যায়, অপ্সরা মনােরঞ্জন বেশ বিন্যাস করে। বিষ্ণু। এর একটা প্রতিকার আবশ্যক। সভায় এ বিষয়ে বিশেষ রূপে আলােচনা কত্তে হবে। এখন সব আফিসের বেলা হয়েছে। চলুন, প্রত্যাবর্তন করি। [ ত্রিমূর্তির প্রস্থান ]

'৭৪
যম। চিত্রগুপ্ত, আজ বড় আনন্দের দিন। এস সকলে প্রাণ
ভরিয়া আনন্দ করি। পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়ে গেছে।
চিত্র। আইস, সকলে আনন্দ করি। যে যেখানে আছ আইস।
সবে আনন্দ কর।
( অপসরীগণের প্রবেশ ও নৃত্য)
অপ্সরীগণ।
আজি আনন্দ প্লাবন, কৃতান্ত ভবন, সুখে যেন ভাসিছে
সুরভি সুখবৰ্ধন, গন্ধ প্রভঞ্জন অনুক্ষণ বহিছে।
বিরূপাক্ষ বিরঞ্চন, দেবকীনন্দন, পেয়ে প্রাণ হাসিছে ।
শূল-সুদর্শন-ঘন-তাড়ন,
করে, দুঃখ বিসর্জন,
ক্লেশ ক্লান্তি নিমজ্জন,
সুখ শান্তি আনয়ন।
তাড়িত জীবন্ত জন, অন্তক-আনন, সুপ্রসন্ন ভাতিছে,
মধু নূপুরনিক্কণ, বীণ বিকম্পন, নটীগণ নাচিছে;
আজি মদনালিঙ্গন, যামিনী যাপন, প্রাণ মন মাতিছে।
সম্পূর্ণ

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Jam-jabda

Author
Mitra , Jyotishchandra
Title
Jam-jabda
File name
Jam-jabda
Text
OCR done
Citation
1922
Published
2010/02/21
Publisher
Dindham
Language
Sanskrit
Pages
92
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Mitra , Jyotishchandra
DLI number
511108
Barcode
4990010018286.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
rZc1QbD6PC3
Download PDF

Jam-jabda