Garh Bhawanipur R.p. Institute, Howrah
Prasanta Mahasagarer Ashanti Ed.1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
4 প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি
No text on this page.
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি
ভূপর্যটক
রামনাথ বিশ্বাস
পর্ষটক প্রকাশনা ভবন
১৫৮ আপার সারকুলার রােড
কলিকাতা
গ্রন্থকার কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মূল্য দুই টাকা
প্রথম সংস্করণ মে ১৯৪৫
পটক একাশনা লয় পক্ষ থেকে প্রতুল ও কক ১০নং যমি চাটার্জি ঐট তে
লিপ লাইত্রী কতৃক প্রকাশিত ৪৭ মার লে কলিকাতা, গর প্রিন্টিং কলে
যামি নাহৰ ঘোৰ মুদ্রিত।
ভুমিকা
ফাসি এবং সাশীল মনে বিন কোন ফাও নাই। মামলীয়া পুৰে
শায়াসেই মণ বা অপহরণ করেছিল। কালি মানে জানে না রে
ত্তি করে এই করতে । সাজ্যৰীয়া ও কামিত আদর কবর
হৃত আ আ আ ই ক, অতএব এদয় ভি কে ল
কে এ গির রে কোন লাভ নাই। উতই মাৰ সমাজে শক্ত। এশত হয়
এতে অই ভিতর তিনি করেছি মাত্র। কামিত না এবং সাম্রাজ্য।
দীৰ নৱগত কাৰ্যালরি এ হাত মিলাতে কি করে না। আপান, আমেয়িক,
কেনো এ নিশের কান্তি এবং সাম্রাজ্যবাদীরা ইমিগ্রেশন আইন বা থিতে
এক পা গল ৷ চলত। অতএব গতের বংগলে এ এই । e
কাশ ফর সালেই তি। আমি চাই পৃথিবী হতে ইঞ্জিন আইন লােপ হােক।
এ ৰেৰে । লেনে এ চিত্তে ভূষণে সক্ষম হােক।
প্ররি । কি আছে। সে এটি এস সাত্রী হলে এ
शानिय काम बापथगन कर । এই মনি সাহায্যেই পূবালীর সাজে
সকল রুমে অ হতে নটিই করে। এর রে বাস সামী এবং
ফাসিয়দী সমেত খৰীয় পুৰিবৰা লােপ হােক, নেই পৃথিবীতে শান্তি আসবে, এ
পূর্বে পৃখিবীতে শানিতে পারে না।
ইফ এর
अर सास्त्रविन
মামনি
১৯৩১ সালে ৭ জুলাই মুক্ত রামনাথ বিন ও
মে সিংগাপুর হতে পৃ িমল বের হয় তিনবার
চেক পৃথিবী গ ক ১ ক্ষান। এই
নচিত্রে প্রথম পথো শিশ দেয়া হয়। এ
ৰূৰে সিংগাপুর হতে যওয়ানা হয়ে তাঁকে সিগাপুরেই
फिश
২৭ ##
बाड़ा
মণপথ ----
লেখক-গীবনের চনায় আমার রচনা সংশােধন করে দিন
যিনি আমার প্রতি অপরিসীম শ্ৰীতিৰ পৰিচয় দিয়েছিলেন, সেই
খ্যাতিমান্ সাহিত্যিক ও গবেৰৰ শ্ৰীযুক্ত ৰােগেশচন্দ্র বগল মহাশয়ের
উদ্দেশ্যে “প্রশান্ত মহাসাগরের অতি কৃতজ্ঞতার নিদর্শনরূপ
উৎসর্গীকৃত হল।
बारिश
ভূলটক রামনাথ বিশ্বাস প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি সাগর বক্ষে টোকিওতে এসেই আমার আপন প্রমণ শেষ হয়েছিল। সিগাপুর তে যখন পৃথিবী ভ্রমণে বের হয়েছিলাম তখন ঠিক করেছিলাম পূর্ব দিক দিয়ে পৃথিবী ভ্রমণ আরম্ভ করে সূর্যটাকে সকালবেলা সামনে রেখেই পৃথিবী ভ্রমণ শেষ করব। জাপান ভ্রমণ শেষ হয়েছে এখন কথা হল কোন্ দিকে বাই? আমেরিকা আমার পথে আসে। ফেনো হতে আরম্ভ করে চিশী পৰ্যন্ত রকি এবং আন্দিজ পর্বতমালা যেমন পাড়িয়ে আছে তেমনি করে গাড়িয়ে আছে ইমিগ্রেশন আইন। আমেরিকায় এশিবাসীর প্রবেশ নিবে। অনেক ভেৰুেচিন্তে ঠিক করলাম, উত্তর আমেরিকার কেন, গেলে ক্ষতি কি? সে সেটাও ত আমাদের আর জাতেই একা। সেখানে গেলে হয়ত বিড়লা ম ও হতে পারে। তাই টোকিও থেকে বিদায় নিয়ে রেলগাড়িতে করে কোবিতে এসেই ভাংকোভারের টিকিট কিনতে মনােনিবেশ করলাম। যারা সমুদ্রগামী টিকিট কিনেছেন তারা যেন ভাল করেই জানেন বিদেশে জাহাজের টিকিট কেন: কত শক্ত। কেবি হতে ভাংকোভারের ভাড়া হ’ল পার আমেরিকান ডলার। ১৯৩২ সালের শেষ ভাগ। জাপানী ইয়েনের দাম কমে গেছে। পাচ ইয়েনে এক লা হয়। পূর্বে দুই ইয়েনে এক ডলার হত। এন, ওয়াই, কে অফিলে গি যখন টিকিট কিনতে দাড়ালাম তখন কাউন্টারের ইউরােপীয় কেরানী বললেন, দেখি আপনার পাসপাের্ট পাসপাের্ট দেখলাম। পাসপাে কেনেনি সিঙ্গেল অফিসার লিখেছিলেন- Seen at the ২ প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি Canadian Legation, Tokyo 17th, August 1932. The bearer is of nonimmegrant class and is informed that admission to Canada as a temporary visitor, is at the discretion of the Canadian immegration at port of entry, (Sd) Passport Officer. তেকায় কেরাণী কেনেডিয়ান পাসপাের্ট অফিসারের মন্তব্য দেখে একটু দুঃখিত হলেন এবং পাসপােটথানা একজন জাপানী কেরাণীকে দিলেন। জাপানী কেরাণী খেতকায় কেরাণীর দিকে চেয়ে বললেন, Iet him take a chance এবং আমার দিকে চেয়ে বললেন, “ত করার কিছুই নাই, আপনার কাছ থেকে দু-ইয়েনে এক ডলার হিসাব করব। কেরাণীর কথায় আমি এত আনন্দিত হয়েছিলাম যে তৎক্ষণাৎ টিকিট কিনে ফেললাম এবং কথিত chance নেবার এ উৎসুক হয়ে উঠলাম। পাঁচটার পূর্বেই আমি মিঃ রামাণীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সংযুক্ত এদেশের বাসিন্দা যি শর্মার সাথে পথে বের হয়ে পড়লাম। পিটটি করে বৃষ্টি পড়ছিল। শৰ্মা আমার সংগে না চলে ট্রামে করে জেটিতে গেলেন। আমি সাইকেলে করে পথ ধরে একে বেকে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরে মার কাছে গিয়ে পড়লাম। মা আমার অন্য কয়খানা বই এনেছিলেন তা দেখালেন। তাঁর হাতে ছিল ফিরি দ্বীপ হতে প্রচারিত কয়েকখন আসজীৱ বই, রাজা মহেন্দ্র প্রপের একখানা World Frederation ফিজি হতে প্রচারিত বই খানাতে কয়েক পাতা ইংলিশ লেখাও ছিল এবং সেই বােধ হয় নিঃশর্মা বইগুলি দিয়েছিলেন, কারণ আমি হিলি পড়তে জানতাম না। আসবার সময় পথে টোকিও হতে একাশিত সেদিনের টোকিও গার্জিয়ান নামক একখানা ইংলিশ দৈনিক কিনে এনেছিলাম।
সাগর বলে ৩ T এবার আমার হাতে উঠার সময় হয়েছে। দুজন আপানী মজুর আমার সাইকেলখানা জাহাজে উঠিয়ে দিল এবং কোথায় রাখতে হবে তাই জিজ্ঞাসা করল। আমি তাদের একটা স্থান দেখিয়ে দিলাম। তারা সাইকেলটা রেখে মজুরী না নিমেই চলে যাচ্ছিল। আমি এগিয়ে গিয়ে বললাম “মজুরী নেবে না? একজন বিশুদ্ধ ইংলিশে বলল, “বিদ্রোহ বেঁচে থাক। কথাটা শুনে আমি ছিটকিয়ে গিয়ে দু-তিন হাত দূরে দাড়ালাম। বাপরে এ আবার এল কোথা হতে বিদায় ই বাবা, তােদর সংস্পর্শে আসতেও চাইনা। আমরা বিদ্রোহের পক্ষপাতী নই। আমরা নরহত্যা একদম পছন্দ করিনা। আমাদের বিদ্রোহ হল আখ্যাত্মিক। আমরা বৈদান্তিকাবে মনে মনে বিদ্রোহ করি, বাস্তবের ধার-পারি না। আমৱা বাস্তবকে বলি ‘ম্যাটিরিয়েলিজম'। শৰ্মা বেশ চুপ করে দাড়িয়ে ছিলেন। তিনি হলেন ব্যবসায়ী। পৃথিবীর লােক ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জানে, অতএব আপানী কমিউনিষ্টদের কথার কোন মূল্য ছিল না। মা অন্য কিছু বুঝে বললেন, এতে ভর করার কি আছে, ঐ যে কখানা বই দিয়েছি তাতেই নামী দয়ানন্দ ভাল করে বুঝিয়ে দিয়েছেন আধ্যাত্মিক বিদ্রোহ কেমন করে হয়। মগপে বেটার মারামারি কাটাকাটি করে, আমরা মরলে পরে নির্বাণ পাব। পূর্ণজন্ম না হলেই হ’ল, কেমন আপনি কি বলেন? বলার মত কিছুই ছিল না শুধু বললাম “এখন বিদার। মহাশয় শর্মা তার ভগবানের নাম স্মরণ করে আমাকে হিন্দুতে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় নিলেন। আমিও হাঁপ ছেড়ে বাঁচান। আকাশ মেঘে ভরা, বাতাস বেশ বইছে। হঠাৎ তাহা নড়ে উঠল। জাপানীয় কাগজের সূতা ছাড়তে লাগল। লি অন আমেরিকা যাত্রী ছিলেন তারাও কাগজের সুতা ছাড়লেন। তীর তে সেই তিনটি কাগজের কত তিনটি আপানী স্ত্রীলোক ধরে ফেলল। উভয় পক্ষে কাগ সূতায় ০ প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি অগ্র এবং পাং গরে বেবিনিময় হতে লাগল। যতক্ষণকাগজের তা- গুলি অটুট রইল ততক্ষণ একে অন্ধে পৃথক হবার মর্মষালার আনন্দ আতব করতে লাগল। সুতা যখন ছিড়ে গেল তখন আরম্ভ হল রুমাল নাড়া। আল জমেই সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। মানুষের মূর্তিগুলি ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। তারপর সকলেই নিজ নিজ কেবিনে চলে গেল এবং জিনিষ গুছাতে মন দিল। আমি কেবিনে এসে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়লাম এবং যে চাল’ নিতে যাচ্ছি তার কথা ভাবতে লাগলাম। আহা অলর এরিয়া ছেড়ে বাহির দরিয়ায় এল। সমুদ্র একেবারে গল্প। সহজ কে জোরে চলেছে। জাহাজ যখন দ্রুত চলে তখন বেশ ঝাকানি দেয়। আমি সে ঝাকানি বেশ অনুভব করছিলাম। শুয়ে থাকতে মােটেই ভাল লাগল না। নিজের পিঠ-কােলা হতে সেদিনের সংবাদ পত্র খানা এবং শর্মার দেওয়া বইগুলি একটু পড়ে দেখে গানাগারে গিয়ে গান করলাম। এতে অবসাদ অনেকটা দুর হল। রাত্রে তার সময় দেখি সংবাদপত্র খানা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। কোথায় ফেলতে পারি? বিকালবেলাও সংবাদপত্র খানা দেখেছি সে কথা বেশ মনে ছিল। এই সংবাদপত্রে জাপানের তরফ থেকে আমেরিকাকে হুমকী দেখিয়ে একটি প্রবন্ধ ছিল। তবে কি কোন জাপানী তা আমার কেবিন থেকে নিয়ে গেল? যদি নিয়ে থাকে নিক, আমায় তার জন্য বেশি মাথা ঘামাতে হবে না। পলিটিক্স আমাদের চিনীয় বিষয় নয়, আমরা মরলে পরে নির্বাণ পরদিন প্রাতে সূর্য উঠবার পূর্বেই ঘুম থেকে উঠলাম। তখন জাহাজ শনির হলি। পায়খানাতে গিয়ে একটি লােককে দেখলাম সে পায়খানা পরিষ্কার করছে, আবার সেই লােকটিকে সকাল খাবার দিতে দেখলাম।
সাগর বকে ৫ সে আমাকে খাবার দিয়েছিল। আমি তার দেওয়া খাবার খেয়েছিলাম আব ভাবছিলাম দেশের মেথরদের কথা। হিয়ে মারুতে সংবাদপত্র ছাপান হয় এবং প্রত্যেক যাত্রীকে একা করে বিতরণ করা হয়। আমিও একখানা দৈনিক সংবাদপত্র পেলাম। সংবাদ অতি সামান্যই ছিল তবুও কাগজখানা বেশ ভাল করে পড়লাম। চীনের সংগে জাপানের যুদ্ধের নাম গন্ধও সেই সংবাদপত্রে ছিল না। ভারতে হিন্দু- মুসলমান লডাইএর সংবাদ ছিল এবং মহাত্মা গান্ধি মিঃ আয়েকাকে পথে আনার জন্য উপবাস করবেন তার ইংগিত ছিল। ইংলিশ স্টারলিংএর দানও নেমে যাচ্ছিল দেখে মনটা আরও খারাপ হয়ে গেল। সেদিন কারো সংগে কথাই বললাম না শুধু সেই হারানাে সংবাদপত্ৰখানা ভাল করে ধুয়ে যখন পেলাম না তখন একটা সন্দেহের আবরণ আমার মনকে ঢেকে কো। তার পরদিন প্রাতে জাহাজ ইয়াকোহামাতে এসে লাগল। প্রায় যাত্রীই নেমে গেল, আমিও নামলাম এবং শহর হতে ফের নতুন সংবাদপত্র কিনে আনলাম। সেদিনের সংবাদপত্রে আমেরিকাকে জাপানের তরফ থেকে হুমকী দিয়ে কোন প্রবন্ধ ছিল না। বেশিক শহরে থাকলাম না। দুপুরবেলা আহাজে ফিরে এসে দেখি যাত্রীর দল আসতে আরম্ভ করেছে। বেলা দুটার সময় সকল বাৰীই এসে গেল এবং ঠিক দুটো দশে জাহাজ ছেড়ে দিল। আহাজে উঠার সময় একজন জাপানী যুবককে পেলাম, সেও যাবে আমেরিকায়। সিটেল হল তাম জন্মস্থান। দুঃখের বিষয়, সে একটি ইংলিশ শব্দ জানত না। তার জন্মেয়। কয়েক মাস পরই তার মা-বাবা দেশে চলে আসেন,হাৎ তাদের মনে হলেই ছেলেকে আমেরিকাতে পাঠাতে হবে তাই তাকে আমেরিকায় পাঠান হচ্ছে। ছেলেটির শরীরের রং সাদা, অৰয়ৰ অনেকটা নরডিক ধরণের। এরূপ ছেলে প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি জাপানীদের হতে পারে না বলেই আমার ধারণা ছিল, কিন্তু আজ হতে মত বদলাতে বাধ্য হলাম। আর মনে মনে জাপানী নারীদের নমস্কার জানালাম তাদের দেশপ্রেম দেখে। জাপানী নারী পরপুরুষেরও সংগে বাস করে যদি তাতে তার দেশের কোন উপকার হয়। বিদেশির দ্বারা সন্তান জন্মানাে জাপানী রমণীদের স্বদেশপ্রেমের একটি অংগ। আমাদের দেশেও এ প্রথাটি ছিল, এখন তা লােপ পেয়েছে। জাপানী অথবা অর্ধ-আমেরিকান যুবকটি আমার সংগে কয়েক মিনিটের মাঝেই ভাব করে নিল এবং সেদিন বিকালে জাপানী ভাষায় আমার সংগে নানা বিষয়ে কথা বলতে লাগল। ছেলেটি যাতে দমে না যায় সেজন্য আমি হুঁ হু করে তাকে কথা বলতে উৎসাহিত করছিলাম। বিকালে খাবার খেয়ে সে তার কেবিনে চলে গেল, আর আমি নানা চিন্তায় অস্থির হয়ে প্রথম কেবিনে এসে শেষে ডেকে গিয়ে পায়চারী করতে লাগলাম। তিনটা দিন কেটে গেছে। নানা লােকের সংগে পরিচয় হয়েছে। তারপর ইমিগ্রেশন বিভাগের সংবাও অনেক জেনেছি। মন ভয়ানক খারাপ হয়েছিল। রাত গভীর। প্রশান্ত মহাসাগরের জল তখন নীরব, নিত। নীরবতা পুরা রকমেই বিরাজ করছিল। জাহাজের প্রপেলারটাই অপু জলে আঘাত করছিল এবং সেই আঘাতের ধ্বনি এতই মৃই যে হাজের অগ্রভাগে যা ছিল তাদের কানেও সে বনি পেীছচ্ছিল না। আকাশের তারাগুলি ঝিকমিক করছিল। মাঝে মাঝে দু-একটা উল্কা আকাশ হতে এসে সাগরের জলে ঝাপ দিচ্ছিল। আমি কখনও আকাশের দিকে, কখনও নীরব নিস্তক কালাে কালের দিকে তাকিয়ে চিন্তিত মনে পাচারী করছিলাম। যাত্রীরা সকলেই নিদ্রিত। কিন্তু আমার চক্ষে একটুও ঘুন আসছিল না। কেন ধূ আসছিল না, তার কারণ আমি জানতাম। আমার ন তখন চিন্তায় রত ছিল। আমি বুঝতে পেরেছিলাম কেনেভায় সাগর বক্ষে ৭ আমাকে নামতে দেওয়া হবে না। যেদিন ইয়াকোহামাতে জাহাজে চড়েছি সেদিন থেকেই আমার বন্দীজীবন আরম্ভ হয়েছে। আমার বন্দীশীবন কারাগারে বন্দী-জীবনের মত হবে না। জাহাজ যখন জেকোভারে পৌছুবে তখন আমাকে কয়েক দিনের জন্য ভাংকোর বন্দরের ডিটেন গাৱদে আটকিয়ে রেখে ছলে-বলে-কৌশলে হিয়ে মারুতেই ফিরিরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আমার প্রতি এরূপ অন্যায় কেন করা হবে তাই আমি ভাবছিলাম। আমার শরীরের অংএর জন্য আমি দায়ী নই। আমি যে দেশে জনেছি সে দেশের পরাধীনতার জন্য আমি দারী নই। আমি শুধু আমার মাতৃভূমির কাছে একটি বিষয়ে দায়ী ছিলাম এবং সেই বিষয়টিতে আমি উদাসীনও ছিলাম। সেটি হল আমি আমার জাতের স্বাধীনতার জয় লড়াই না করে আরামের তীর্থযাত্রা করেছিলাম। যখন আমি তীর্থযাত্রা শুরু করেছিলাম তখন দেশমাতার কথা আমার মনেই ছিল না। তখন মনে ছিল স্বর্গ আর নরক, পাপ আর পুণ্য। তারপর যখন আরও একটু জ্ঞান হ’ল তখন ভাবছিলাম, বৃটিশ সাম্রাজ্যের সর্বত্র আমি সমান ব্যবহারই পাব, কিন্তু এক দিন জাহাজে থাকার পরই সকল কথা বুঝতে পারলাম। ধু তাই নয় আরও বুঝতে পারলাম দরিদ্রের এ সংসারে সুখ বলে অনুভব করার কিছুই নাই। আমার মাথার চুল তখন বাতাসে উড়ছিল এবং মাঝে মাঝে মুখের উপর, কখনও চোখের পাতার উপর সঙ্গেরে আবতি করছিল। সে আঘাতে অনভ্যস্ত থাকায় বেশ কষ্ট পেতে হচ্ছিল। তবুও আমি প্রশান্ত মহাসাগরের আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছিলাম, শান্ত হব বলে, কিন্তু শাস্তি আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিল, অশান্তি এসে আমার মনকে কামড়ে ধরছিল। আমার মন তখন বড়ই চল ছিল। দুঃখের বিষয় আমি ভগবানে বিশাস করি না, যা ভগবান বিশ্বাস করে এবং ভগবানে মাথা নত করে প্রেমভরে প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি কাদে তারা তাদের ভগবানের ঘাড়ে সকল দোষ চাপিয়ে দিয়ে শান্তির জোড়ে তাড়াতাড়ি স্থান করে নেয়, কিন্তু আমার সে পথও বন্ধ থাকায় অশান্তির আগুন দাউ দাউ করে আসছিল আর আমাকে ইন করছিল। সেজন্য একাকী ডেকে পাডিয়ে কখনও আকাশের কখনাে গাঢ় নীল জলের দিকে তাকাচ্ছিলাম, আর রাগে অন্ধ হয়ে আমারই ঠোট শক্ত করে সংশন করছিলাম। ডেকে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়েছিলাম তারপর আর ভাল লাগল না; একটা বেচে গিয়ে বসলাম। নাবিকেরা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে চলে যাচ্ছিল, তা ভেবে বােধ হয় পাচ্ছিল না কেন আমি অসময়ে ডেকে একাকী বসেছিলাম। ওদের প্রতি অামার হিংসা হচ্ছিল কারণ ওরা নাবিক। যে কোন বনরে ওরা নামতে পারে, বন্দরে বেড়াতে পারে এবং দরকার বােখে ফিরেও আসতে পারে। কিন্তু আমার সে অধিকার ছিল না। আমার টাকা নাই, আমি সামান্য মা। সমষ্ঠ মানুষের স্থান এ পৃথিবীতে নাই। যারা দরিদ্র তারা জন্ম নেয় আর মরে এবং যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন তারা শুধু বেগার খেটেই জীবন কাটায়। আমি সেই শ্রেণীর লােক। আমার কি বাচা উচিত না প্রশান্ত মহাসাগরের জলে ঝাপ দেওয়া উচিত কোনটা ? জলে ঝাঁপ দিলে নিশ্চয় আমি মরব, কিন্তু যে দোষে আমি দোষী সেই ঢােষ দরিদ্রদের কাছে বলা আর হবে না। আমার মরা হবে না, আমি বাঁচব আর পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত দুর্বল দরিদ্র মানবের ইতিহাস যত পারি তত বলব। আমি জানি হাজার বৎসর আমার পূর্বপুরুষগণ মহাপাপী হয়ে পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ ছিল কিন্তু সে পরাধীনতা আজ নগণ্য, আর দেখছি একদিকে বর্ণভেদ, অন্যদিকে বর্ণাভিমানী নিজের স্বার্থ বজায় রাখতে নিজের ভাইএর গলায় ছুরি চালাতে কোনরূপ কষ্ট অনুভব করছে না। অতএব এই প্রশান্ত মহাসাগরের বুকের উপর দাড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করছি, পৃথিবী হতে সাগর বক্ষে বর্ণভেদ এবং দরিদ্রতা যাতে লােপ হয় তার অন্য আপ্রাণ চেষ্টা করব, তা না হলে প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তির পরিসমাপ্তি হবে না। গভীর রাত। কত অসম্ভব দুরাশায় আমার চোখে ঘুম নাই। যে কেবিনটাতে আমাকে থাকতে দেওয়া হয়েছে সেখানে আমি একাকী। আমার কেবিনে জাপানী বা ইউরােপীয় কেউ থাকতে রাী নয়, কারণ আমার শরীরের পরাধীনতার দুর্গন্ধ যদি তাদের শরীরে লাগে তবে তাদের শরীর পকিল হয়ে যাবে। পরাধীন জাতির সংগে এক কেবিনে থাকতে রাজী হয় ইহুদী এবং সােভিয়েট রু। কেনেতা হতে যখন ফিরছিলাম তখন একজন বাইলে রুশিয়া কমিউনিষ্ট এবং একজন ইহুদী আমার সংগে এই কেবিনে ওততা, কথা বলত—কোনরূপ ঘৃণাবােধ করত না। আর, তুরুক, ইরাণী, আপানী এমন কি জাতীয়তাবাপন্ন চীনা পর্যন্ত আমার কেবিনে থাকতে পছন্দ করেনি। একে একে তারা আমাকে পরিত্যাগ করে চলে গিয়েছিল আর এই দুটি প্রাণী আমাকে ছেড়ে চলে যাবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিল। ইহুদী যাচ্ছিল মানচুরিয়ায় তার ভাইবােনদের সংগে দেখা- সাক্ষাৎ করতে, আর লাল রুটি যাচ্ছিল ডিভষ্টকে ইউনাইটেড স্টেটুকে চিরতরে পরিত্যাগ করে। কেবিনে যেতে ইচ্ছা হচ্ছিল না, তাই বাইরে বসে ভারতের বাইরে ভারতবাসীর কথা ভাবছিলাম। মাঝে মাঝে চীনের গরিলা ও পানের ব্ল্যাক গেনদের কথাও মনে হচ্ছিল। আর দশ দিন পর জাহাজ ক্যানডায় পৌছবে। তথায় আমাকে বলা হয় থাকতে হবে। সেজন্য মনের যন্ত্রণা ক্রমাগত আমাকে আকুল করে তুলছিল। প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর দিকের শীতল বায়ু আমার কপালের শিরাগুলির প্রশস্ততা কমাতে পারছিল না। আমি উঠে দাড়ালাম, তারপর পায়চারী করতে লাগলাম আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম পাণীর কেন এত প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি গবের আবেগ প্রাণ দেয় আমিও দরিত্রের নামে, সর্বহারায় নামে, তথাকথিত বণ বর্ণের নামে প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য জাহাজটার পিছন দিক দিয়ে গিয়ে জলে ঝাপিয়ে পড়ি। জাপানী জাহাজে করে আমেরিকায় যাচ্ছিলাম বলেই জাপানীদের কথা বলতে হচ্ছে। পা এগিয়ে চলল মন আনন্দিত হল, কিন্তু মৱা আমার হল না। একটি আমেরিকান আমারই মত জলের তরংগ গুণছিল। আমাকে দেখে সে ভাল, তারপর আমাকে ডেকে নিয়ে কাছে বসাল। আমি তার পরিচিত, সেজাতে পেল। সেছিল দরিদ্রের বহু। যাত্রীদের অনেকেই সে কথা জানত। সে এ অনেকে তাকে ঘৃণা করত। সে আমারই মত চীনের নবজাগরণের পক্ষপাতী ছিল আমারই মত সে চিয়াং কাইশেককে ঘৃণা করত,এবং সকলের কাছে তা প্রকাশ করায়,জাপানী,বৃটিশ, আমেরিকান সবাই তাকে বয়কট করেছিল। আমি কখনও আমার মনের ভাব প্রকাশ করিনি বলে কেউ আমাকে ঘৃণা করার সুযােগ পায়নি কিন্তু যখনই এই পােল যুবকের সংগে সাক্ষাৎ হত তখনই বলতাম, মানচুরিয়া দেশটাকে দুনিয়ার সাম্রাজ্যবাদীরা জাপানীর কাছে বিক্রি করেছে—আপিন মানচুরিয়া জন্ম করেনি। পােল যুবক নিজকে আৰ্য বলে পরিচয় দিত। কাদের নামের সংগে তার নামের সম্বন্ধ ছিল। ইস্কি তার নামের শেষ ভাগে এসেই নামের শেষ হয়েছিল। ইঝি বলেই আমি তাকে ডাকতাম। ইস্কি আৰ্য বলে পরিচয় দেয় বলে আমার সংগে তার মনের মিল হত না। তাকে আমি ঘৃণা করতাম, বলতাম কমিউনিষ্ট আন্তর্জাতিক, তার আতের পরিচয়ের কোন দরকার নাই। কিন্তু ইস্কি বলত, কমিউনির জগতে যার যা প্রাপ্য তা দিতে পারে, শরীরের রক্ত লাতে পারে না। আমি বলতাম রক্ত লালই হয়, কালাে কখনও হয় না। ইস্কি হাসত আর বলত আনদ্ধ দেশের লােক, আগে আমার মনােভাব পাও তারপর বুঝবে, আতাতের বৈৰী নয়, সাগর বক্ষে ১১ পুরা নবিজ্ঞানই জাতের বৈরী। আমার মনের অশান্তিতে সে অশান্তির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিত আর হাসত। আজ আমাকে সমণের এ তৈরী দেখে ঠিক সেই ভাবে হেসেই আমার হাত ধরে বলল, আপনি ত ব্ল্যাক ড্রেগনের মেম্বর নন তবে কেন মরণের জন্য তৈরী হয়েছেন। চলুন ডিসকাসন করি, কিন্তু ধীরে কথা বলতে হবে। যদিও সাম্যবাদের ক্ষীণ বাতি আমার মনের এক কোণে মিট মিট করে জ্বলছিল তবুও খেতাতির জাত্যাভিমান, শ্বেতজাতির সাম্রাজ্যবাদ আমাকে কাঁপিয়ে তুলছিল। ধাঁৱা বর্তমানের হিটলার-জীবনী “ম্যান ক্যামফ” পাঠ করেছেন, তাঁরা জানেন হিটলার বলেছেন “ভারতবাসী গােলমের জাত, এদের গােলাম হয়েই থাকতে হবে।” অতীতে তার আভাস আমি পেয়েছিলাম তাই খেতজাতের বিরুদ্ধে আমার বিদ্রোহতাব জেগে উঠছিল। ইঝির সাম্যবাদ তাতে জল দিয়ে আগুন নিবিয়ে দিচ্ছিল। ট্রটস্কির পৃথিবীর এলিটেৰিয়েট বিদ্রোহ মন হতে অপসরণ হয়ে টালিনের কর্মপদ্ধতির চিন্তা আমার মনে তােলপাড় করছিল। টলষ্টয়, রবীন্দ্রনাথ এদের অবাস্তব মানুষ বলেই হেসে উড়িয়ে দিতাম। আর এই সম্বন্ধে ইঞ্চি এবং আমি উভয়ে আলােচনা করতে করতেই রাজি প্রভাত হয়ে গেল। বুঝছিলাম, টলষ্টয় এবং রবীন্দ্রনাথকে বাক্যবাগীশ বলে উড়িয়ে দিলে চলবে না। মানব জাতির উন্নতির দিকে তাঁদের দাগ অনেক কিছুই রয়েছে। পূর্বের আকাশে সূর্বের লাল আভা এসে দেখা দিল। সমুদ্রের প্রবল ঢেউ কমে গিয়ে শান্তব ধারণ করল। আমি ইঝিকে বললাম, মিঃ আর্য তােমাদের দেবতাকে প্রণত হয়ে ভক্তি প্রদর্শন । ইস্কি হল তারপর আমাকে নিয়ে কেবিনের দিকে চলল। আমি তৃতীয় শ্রেণীর অকারময় একটা কেবিনে প্রবেশ করে বাতি জ্বালাতেই মনের মধ্যে একটা অন্ধকারভাব এসে দেখা দিল, আর ইস্কি যখন তার কেবিনে গেল হয়ত এভাতের সুন্দর ১২ প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি আলাে তার ধবধবে বিছানার উপর পড়ে তার উজ্জ্বল মুখ আরও উত্তর করছিল। কতক্ষণ ঘুমিয়েছিলাম মনে নাই, কিন্তু একটা ভীতিপ্রদ স্বপ্ন দেখে ধড়মড় করে উঠ বসলাম। খাবারের ঘণ্টা পড়ল। যদিও আমি অাৰ তবুও আর্য খায় দু, যব, মাখন, রুটি খাবার জন্য অস্থির হয়েছিলাম, কিন্তু উপায় নাই, আমি দরিত্র, আমার পেট ভরে খাবার অধিকার নাই, তাই ধীর পদনিক্ষেপে দুর্গন্ধযুক্ত জাপানী খাদ্য খাবার জন্য টেবিলে গিয়ে বসতে বাধ্য হলাম। জাপানীদের খায়ের প্রতি আমার কোনরূপ রাগ হল , রাগ হ আমার দরিদ্রতার অত। কেন আমি দরিদ্র হলাম, কে আমাকে দরি করল এই চিতই তখন আমাকে পেয়ে বসেছিল। আমি যেমন দলিত, বাধীন জাতের স্বাধীন লােকের মাঝেও তেমনি অনেক দরিদ্র আছে। তারা দরি হয় কেন? তাও ত খেতে পায় না, ইচ্ছা মত কোথাও যেতে পারে না, মুখ খুলে কথা বলতে পারে না। তবে কেন আমি শুধু কোষদের ঘৃণা করি। যারা পৃথিবীতে দরিদ্রতা এনেছে, তারাই আমার আতকে, আমার দেশকে পরাধীন করেছে, আর কেউ নয়। খাবার সমাপ্ত করেই ইস্কির কাছে গিয়ে আমার মনের কথা বললাম। সে বলল আমি যা ভেবেছিলাম তাই ঠিক, যদি জেহাদ ঘোষণা করতে হয়, তবে ঐ পুঁজিবাদী শয়তানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে, কোন জাতের বিরুদ্ধে নয়। জাতীয় ভাবে ঠুলি চোখে পরিয়ে পুঁজিবাদীরা এক শ্রেণীর ভাড়াটে গুণ্ড দলে টেনে আনে, ভালোই বলা হয় সাম্রাজ্যবাদী। ইৰি কৰি এক বৎসর ছিলেন। তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে লাগলেন। কত বাধা বিপত্তির মাঝ দিয়ে সােভিয়েট রুশিয়ার লােক কাজে জীবন বিলিয়ে দিচ্ছে তারই কথা বলছিলেন। জুতার কান পরিষ্কার করতে তাকে কত বেগ পেতে হয়েছে সে কথাও তিনি বলতে ভুলেন নি। তারপরই বললেন আর জুতায় কাদা লাগবে না, সােলিয়েট শিয়ায় এবার সাগর বক্ষে পথলিতে কি দেওয়া হবে এবং আমেরিকার ধরণে সিমেন্টের ঘর হবে। হঠাৎ কথার গতি পরিবর্তন করে ভবিষ্যতে যুদ্ধের কথা বলতে লাগলেন। তিনি বলছিলেন ভবিষ্যৎ যুদ্ধের পরিসমাপ্তি হবে প্রশান্ত মহাসাগরে। তখন বুঝিনি এত শী বর্তমানে অবস্থায় আমরা এসে পড়ব। তারপর বর্তমানের অবস্থা বদলে গিয়ে এমন এক পরিবর্তন আসবে, যা আমরা মোেটই আশা করতে পারি না। আজ েেখছি জাপান চীনের বুকের উপর চড়ে বসেছে, কাল হয়ত দেখব পানের ধনীরা চীনা গরিলার কৃপা প্রার্থী হয়ে দাড়িয়ে আছে। ইঝি যাবেন চিকাগাে, সিয়েটে হয়ে। তিনি চিকাগাের কথা আমায় কন্ত শুনাতেন তার হিসাব দেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব। কিন্তু যতই শর কথা শুনহাম ততই মনে হত কবে আমি আমেরিকায় যাব, আর লেখক আমেরিকাদের উন্নতি। সাম্রাজ্যবাদী বলে, একদেশের বেকার মজুৰ অন্য দেশে গেলে বেকারের সংখ্যা বেড়ে যায়। কথাটা একদম বাজে। পৃথিবীকে গড়ে তােলার পক্ষে লােকের সংখ্যা খুব কম অথচ পুজিবাদীদের প্রতিবাদেই আহাম্মক মজুরগণ জাতীয় ভাবে অনুপ্রেরণায় অনেক সময় বিদেশী কে আপন দেশে আসতে নিষেধ করে। যেমন বর্তমানে আমরা বলে থাকি বাগালীর জয় বাংলা এ কথাটা একদম বাজে। আমার মনে হয় এই কথার পেছনে রয়েছে হিংসা পলিসি। ইষ্টি আমাকে বলেছিলেন চিকাগােতে নাকি বর্তমানে ভারতবাসী কাজ পায় না। যখন চিকাগােতে গিয়েছিলাম তখন দেখছিলাম তার কথাটা একদম এটি। বি এ সবের পরিণতি পুঁজিবাদীর দল অনেক সময়ই ভাবে না, তাই তাদের তাদের ঘরে আগুন লাগবে এবং সেই তাসের ঘর পুড়ে ছারখাও হবে। মাল দেশ হতে একজন ইউরােপীয়ান কেনে বাদিলেন। তার
১৪
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি
ছেলেটি একটি নিরেট মুখ বলেই আমার সংগে এসে পরিচয় করল। এসেই
আমাকে মালয় ভাষায় বলল—তুই কোথা হতে আসছিস ?
সিংগাপুর হতে।
কেনেভায় গিয়ে কি কাজ করবি ?
জানি না।
কো, মালয় দেশে বেশ পয়সা আছে। ভাল লাগল না বুঝি?
কেনেভায় যে সবাই সাদা লােক, তাের মত লোককে সেখানে প্রবেশ করতে
দেবে না, শনিস ?
ছ, সানি।
তবে আর এত কষ্টের টাকা এমন করে খরচ করবার কি সরকার
সে আমার ইচ্ছ।
ছেলেটি যা বুঝেছে তাই বলেছে। মালয় দেশে আমাদের দেশের লোেক
কুলির কাজই করে বেশি। ছেলেটির জন্ম হয়েছে বার বাগিচায়। বড় হয়েছে
ভারতীয় কুলিনের মাঝেই। তাই কথা বলার মধ্যে কোন ভদ্রতা ছিল না।
আমি ছেলেটিকে দােষ না দিয়ে আমাদের হাতের উপর রাগ করছিলাম।
এখনও আমরা মজুরদের মধ্যে নীচ জাতীয় হিন্দুদের এবং দরিদ্র মুসলমানদের
মানুষ বলে ধার করি না। পরে যদি সেরূপ ভাব পােষণ করে তবে
দোষের কিছুই নাই।
আমার সংগে পরিচয় করিয়ে দেবার এ . অর বাবাকেও ডেকে
আনন। তাকে দেখে তার *
শুকিয়ে গেল
গেল। তিনি
অতি বিনয় করে বলেন,কোথায় যাবেন ?
কেনেভায়।
আপনি কোথায় যাবেন?
সাগর বলে আমিও কেনে । বেশ, কিন্তু মালয় নৈ কি অপরাধ করেছে। আমার চাকুরি গেছে, অg কেনেডায় গিয়ে দেখব কোনরূপ গােলাবাড়ী করতে পারি কি না ? আপনাদের দেশের একজন লােকের কাছেই পােলটি শিক্ষা করেছি, হয়ত তাই করব। দয়া করে ছেলেটির মতিগতির পরিবর্তনের দিকে মন দেবেন। কেনেভায় কিন্তু নিল কুলি পাবেন না। মাদ্রাজী কুলিরা বড়ই আহাম্মক হয়। কেনেডায় নিগ্রো আছে বটে তবে তামিল তুলির মত নয়। তা আমি জানি, ছেলেটা বােধ হয় আপনার সংগে ভাল ব্যবহার করেনি ? সেজ কিছুই হয়নি, যেমন শিখেছে তেমনই বলেছে, তাতে আর দোষ কি? ছেলের মা কাছেই ছিলেন। তিনি ছেলেকে ভাল ব্যবহার করতে উপদেশ দিয়ে আমাকে তুই-তুকারী করার জন্য ক্ষমা চাইতে বললেন। ছেলেটি ক্ষমা চাইল এবং তিনজনে মিলে আমার কাছ হতে বিদায় নিয়ে কেবিনের দিকে চলে গেলেন। মিঃ ইল্কি একটু দূরে দাঁড়িয়ে সব কথাই শুনছিলেন। ওরা চলে গেলে কাছে এসে বললেন,-বুঝতে পারবে ওরা কেনেডায় গিয়ে পােলটি করা কাকে বলে। মালিক হবার সম্ভাবনা খুবই কম, মজুর এবং মালিকে প্ৰতো এত বেশী যে সবার বাগিচার তামিদ কুলি এবং ইউরােপীয় ম্যানেজরে যে সম্ব, কেনেভায় ধনী এবং মঞ্জুরে সেই সম্বন্ধ বললেও নােত হয় না। অমিল পুলিদের আত্মসম্মান বোধ জাগেনি, আর ওদের জেগেছে। তামিল কুলি পরাধীন দেশের মজুর আর ওর স্বাধীন দেশের মজুর। সব কাকে বলে তামিলদের এখনও তা বুঝবার সুযোেগ হনি আর ওমে ল য়ছ। তামিল প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি বুলি অশিক্ষিত আর এরা শিক্ষিত উভয়ের মধ্যে এতখানি প্রজে থাকা সত্বেও উভয় দেশের মজুর একই রকমের ব্যবহার পেয়ে থাকে। একটি ইউনােপীয়ান যুবক কেনেভায় যাচ্ছে। তার কাছে আছে মাত্র দু ডলার। তার জন্ম হয়েছে জাপানে, শিক্ষা পেয়েছে জাপানে। জাপানী এবং ইংলিশ উভয় ভাষাই সে সমান ভাবে বলতে পারে। সে কোনদিন জাপানের বাইরে যায়নি। সে দু র সখল করেই কেনেডায় প্রবেশ করতে পারবে। আমার কাছে ছিল দুই শ ইয়েণ, এক শ ডলার এবং পচি ৪ালিং; এতগুলি টাকা হাতে থাকা সত্ত্বেও আমার কেনেভায় প্রবেশ নিষেধ হবে। একেই বলে বর্ণবিদ্বেষ এবং পরাধীনতার শান্তি। আমাদের দেশের যে সকল ধনীর ছেলে বিদেশে যায়, তারা একবারও চিন্তা করে না তাদের প্রকৃত অবস্থা কি? তারা পথে-ঘাটে যে মানইজ্জত পায় তা ধু টাকার দৌলতেই। যাদের পিতামাতা অঙ্কের রক্ত শােষণ করে নিজের শিক্ষিত এবং বংশ বলে পরিচয় দেয়, যারা অপরের পাদুকা মাথায় রেখেও বলে আত্মসম্মান যায়নি, তাদের ছেলেপিলে বিদেশ তে ফিরে এসে সত্য কথা বলবে আর আমরা তার মধ্যে সত্যের সন্ধান পাব তা বিশ্বাস করা নিছক বেকুবি ছাড়া আর কি হতে পারে? এসব বিষয় অবগত ছিলাম না বলেই প্রত্যেকটি বিষয় আমার কাছে যেমন নুভন লাগছিল তেমনি প্রত্যেকটি বিষয়ই আমার মনকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ক্ষা করছিল। শীতের সময় এদেশে এভাত-সূর্য প্রায়ই দেখা যায় না। হঠাৎ সূর্য পূর্বাকাশে বেন লাফ দিয়ে উঠে জগতের কাছে আত্মপ্রকাশ করে। সকালে এক রকম ঘনকুয়াশার আবরণ আকাশটাকে ঢেকে রাখে। আকাশ যখন কুয়াশা আবৃত, আমাদের জাহা দিয়ে না তখন ধীরে এবং অতি সর্পণে জেকোর শহরের জেকোভার প্রণালী দিয়ে এল হচ্ছিল।
সাগর বক্ষে ১৭ প্রণালীর দুদিক ও এবং পাইন জাতীর বুকে আবৃত ছিল। টালি দিয়ে ছাওয়া এক থানা কুঁড়ে ঘর খাড়া পাহাড়ের গায়ে মানুষের অস্তিত্বের সাক্ষী স্বরূপ দাড়িয়ে ছিল। ডিটেন্ ক্যাম্পে যাবার সময় সংবাদ নিয়ে জেনেছিলাম কেনেডাতে দুই শত কোট লােক বেশ সুখে এবং আরামে বসবাস করতে পারে। এক কথা বলা যেতে পারে, যদি পৃথিবীর সকল লােককে কেনেভায় এনে বাস করতে বলা হয়, তা হলে কেনোতে লােকারণ্য হবার কোন সম্ভাবনা নাই। তবুও কতকগুলি লােৰু আগন্তুক দেখলেই চেচিয়ে উঠে এবং বলে নবাগত তাদের মূখের গ্রাস কেড়ে নেবে, বিদেশীকে তাড়াও। ১ এবং ১৯৩৩ সালে উত্তর আমেরিকায় এক মারাত্মক সময় এসেছিল। মজুর দৈনিক আট ঘণ্টা খাটার পর মাত্র তেত্রিশ সেট মজুরী পেত, এতে তাদের এক বেলার খাবারও জুটত না। এমতাবস্থায় মজুর হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে নগতের উপর অত্যাচার করতেও কষর করত না। জাহাজ রুমেই সমুদ্রতীরের কাছে এগিয়ে যেতে লাগল। যাত্রীদের অভ্যর্থনা করার জন্য তাদের আত্মীয়-স্বজনরা কুলে এসে ভীড় করতে লাগল। এরই মাঝে ইমিগ্রেশন বিভাগ জাহাজে উঠে পাসপাের্টগুলি পরীক্ষা করতে লাগলেন। আমি দূরে দাড়িয়ে সে দৃশ্য দেখতে লাগলাম। আমাকে কেউ কল না। একে একে যখন সকল যাত্রী চলে গেল তখন আমার পাসপােট না দেখেই এক লােক এসে আমায় বলল, চলুন। আমার সাইকেল এবং পুটলীটা ক্রেণের সাগৰে নামিয়ে নিয়ে একটা মটকারে রাখল। মটরকারটা আমাদের দেশের কয়েদী নেবার মটকারের মতই। বুঝলাম এবার আমি জেলে যাচ্ছি। অল্পক্ষণের মধ্যেই আমাদের মটরকার একটা ১৮ প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি এক জেলের ফটকে এসে দাড়াল। আমি নামলাম। আমার সাইলে নামানাে হল না, গুদামে নিয়ে রাখা হল। পুটলীটা নিয়ে গিয়ে লিফটে.ড়ালাম। লিফট এক উর্ধমুখী টানে আমাদের ছয় তলাতে নিয়ে হাজির করল। তারপর যে দৃশ্য আমার নয়নপথে এল তা দেখতে ভাল লাগল না। আমি মুখ ফিরিয়ে নির্ধারিত রূপে প্রবেশ করতেই বাহির হতে দরজায় তালা চাবি লেগে গেল। এতক্ষণে আমার অনুমান সত্য হল। দরজা বন্ধ হয়ে গেলে রূমের ভেতর কি আছে তা দেখতে লাগলাম। রূমটি বেশ বড়, তিরিশ হাত চওড়া এবং পয়ত্রিশ হাত লম্বা। সর্বপ্রথমই দুটি লােহার খাটের উপর দৃষ্টি পড়ল। খাটে স্পিং ছিল না। কয়েদীর পক্ষে লিংবিশিষ্ট খাটের কথা চিন্তা করাও অন্যায়। খাট দুখানার একটু সূরেই একটি লম্বা টেবিল তার দুই পাশে দু খন লম্বা বেচি। বেচি দুটিতে এবং টেবিলটিতে নানারূপ খােদাই অক্ষর। কয়েদীরা তা খুঁদেছে। তারপর ইচ্ছা হল রেমও আছে কিনা দেখি। রূমের একদিকে একটি বৃহৎ দরজা। অর্গলটি খুলে ভেতরের দিকে চেয়ে দেখলাম, আমার ধারণা ঠিকই। কাছেই টয়লেট। গরম জলের পাইপটাতে ঠেলা দেওয়া মাত্র তােড় গরম জল পড়তে লাগল। ভাবলাম এরা যদি বিছানা না ও দেয় তবে অন্ততপক্ষে গরম জল দিয়ে শরীর গরম করতে পারব। দেখবার আর একটি জিনিষ ছিল, ছিল, সেইটা হল হিটার। হিটারটা খুলতেই এর দেখে আরও আনন্দ হল। উত্তাপ যখন আশি ডিগ্রিতে উঠল, তখন হিটার বন্ধ করে টেবিলে এসে খোদাই অক্ষরগুলির পাঠ উরির চেষ্টা করতে লাগলাম। এমন সময় দরজা খােলার শব্দ শুনে দরজার দিকে মুখ করে বসলাম। একটি ব লােক আমার জন্য বিছানা নিয়ে রুমে প্রবেশ ফল। নেকটা কমে এবেশ করে বিছানার আলবাৰ মেনেতে রেখে ময়লাটা সাগর বলে ফের ভেতর দিকে বন্ধ করে কাজে মন দিল। ভাবলাম আমি ঠিক স্থানেই এসেছি। পালাব বলেই ভেতর থেকে চাবি দেবার বলােব, কিন্তু তারা জানে না, আমাদের পালাবার ক্ষমতা চলে গেছে। আমরা দাড়িয়ে যায় খাই, কথামত কাজ করি অথচ মুখে বলি আমরা বিদ্রোহ করছি। চীন দেশে দেখেছি, বিদ্রোহীরা হয় গুলির আঘাতে মরে নয় গুলির আঘাতে মারে। আমেরিকাতেও এই একই রীতি। সামান্য ছেড়া চারটাও দাড়িয়ে দাড়িয়ে পদাঘাত সহ করে না, সে মারে নয় মরে। বিছানা কি ভাবে করছে তা দেখতে লাগলাম। আঠার ফুট লম্বা তিন- খানা কম্বলের প্রত্যেকটাকে তিন ভাগ করে বিছানাের পর একখানা মােটা সাদা ধবধবে চাদর বিছিয়ে দেওয়া হল। সেটা হল নীচে দেয়। তারপর শুরু হল উপরের। উপরে দুটো বালিশ রেখে বিছানার আর একখানা মােটা সাদা চাদর বিছিয়ে আরও তিনখানা কম্বল রেখে বিছানা করা সমাপ্ত হল। ভাবলাম এরূপ বিছানায় দেশে কদিন আমেছি। যে দেশে জেলের কয়েদীর ষ্টাই এত উচু, সে দেশে সাধারণ লােকের টাণ্ডার্ড নিশ্চয়ই এর চেয়ে ভাল হবে। কিন্তু আমার সে ধারণা ভুল হয়েছিল। সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের জেল ভালই রাখে ভিতরটা কিন্তু একদম চুষে খায়। বিছানা হয়ে যাবার পর বৃদ্ধ বলল, এখনই খানসামা আসবে, সে কি আমেরিকা। এখানের নিয়ম হল, যে জাতের লােক এখানে আসে, সেই ভতর বাবুর্চি নিযুক্ত করা হয়। আপনার দেশের অনেক লােক বেকার আছে, আপনার দৌলতে একজনের কয়েক দিনের জন্য চাকুরী হবে মনে রাখবেন। একথা আমি বলেছি বলে কার কাছে যাবেন না। আমি গম্ভীরভাবে শুধু মাথা নাড়লাম। যাবার বেলা বৃদ্ধ জিজ্ঞাসা করল, আমি ভারতের কোন এদেশ হতে এসেছি।
২০
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি
।
আমি বাংলা দেশ থেকে এসেছি, তাকে বললাম।
আমার কথা শুনে লােকটি চটপট আমার কাছ থেকে চলে গেল।
বাংলাদেশে তখন টেরারিজ চলছিল। আমেরিকার সংবাদপত্র তাই
একটু বাড়িয়ে লােকের কাছে ধরত। কেনেভার লােক ভেবেছিল, বাংলা
দেশ দ্বিতীয় অ্যাল্যান্ডে পরিণত হচ্ছে। এখানকার লােক অনেকেই
আইরিশদের ঘৃণা করত কারণ এদিকের বাসিন্দা প্রায়ই ইংলিস, স্কট এবং
ওয়ালস।
পাঁচ মিনিট পরেই ইমিগ্রেশন অফিসার এসে ঘরের দরজা খুলে
বিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি বাংগালী
ছ, এরূপই।
এরূপই কেন?
এটা আমেরিকা, এখানে নিজেকে আমি বাংগালী বলে যদি পরিচয় দিই
তবে সাম্রাজ্যবাদের প্রায় দেওয়া হবে, এখানে আমি হিন্দু (ইণ্ডিয়ান) বলে
পরিচয় দেব।
তবে সাম্রাজ্যবাদ কাহাকে বলে ভাল করেই জানেন ?
নিশ্চয়ই।
আপনার জন্যে হিন্দু পাচক পাঠাব কি ?
হিন্দু পাচক পেলে ভালই হয়।
হিন্দু পাচক যদি না পাই এবং তার পরিবর্তে যদি একজন আইরিশমান
পাঠিয়ে দিই তবে আপনার কোন আপত্তি থাকতে পারে না বলেই আমার
মনে হয়। আইরিশমাও বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের আওতার বাইরে যেতে চাচ্ছে।
যেখানে উভয় জাতের মনের ভাব একরূপ সেখানে আইরিশ পাচক নিযুক্তিতে
কি আপত্তি থাকতে পারে?
বিহু পাচক না পেলে আইরিন পাক পাঠাবেন।
সাগর বনে ইমিগ্রেশন অফিসার মুখ ভার কর ক্লম পরিত্যাগ করলেন। আমিও বিক্তিভরে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম। আমার শরীর অবসান নেতিয়ে পড়ছিল। এত কষ্ট করে কেনেভায় এসেছি, কোথায় ফেনেভা ক্রমণ করব, তা না হয়ে আমাকে কেনেভাতে প্রবেশ করতেই দিলে না অামি ইউনাইটেড স্টেটে যাইনি কারণ তথাকার ইমিগ্রেশন আইন নাকি কেনে হতেও ভীষণ কড়াকডি। ভাবছিলাম ভারতও বৃটিশেরই, কেনাডাও তাদের কিন্তু ভারত যে বৃটিশের খাসমহল এবং তৃতীয় শ্রেণীর জমিদারী তা আমার জানা ছিল না। জানা ছিল না অনেক কথাই, কিন্তু এ যে নষ্ট কথা, এ কথাটা যারা আগে জানেন না, তাদের আমি কোনমতেই শিক্ষিত বলতে পাব না। দেশের কথা বার বার মনে হচ্ছিল, আর মনে হচ্ছিল আমাদের দেশের শিক্ষিত সম্প্রদায়ের কথা। আই-সি-এস যায় পাশ করে এসেছেন, তাঁরা এদেশে এসে সাহিত্যিক হন, কত বড় বড় কথা প্রচার করে লােক সমাজে আদরণীয় হন। কিন্তু এসব কথা যদি তারা জেনে এসে ভারতে প্রায় করতেন তবে বােধ হয় আমাদের মত সাধারণ লােককে এমন ভাবে ঠকতে হত না। কিন্তু তা তারা করেন না। তারা লন্ডনের উপর কুয়াশা দেখে সেই মুখখানির ঘােমটার কথা ভাবেন আর লােকে বাহবা দে। আধ ঘণ্টার মধ্যেই আইরিশ পাচক এসে দরজা খুলে অভিবাদন করে বলল, “মশাই আমি হিন্দু খানা পাক করতে পারি। দয়া করে বলুন কি পাক করে আন্।” আমি বললাম, “এখন চা সিগারেট এনে দাও এবং যদি পার ত একখানা সংবাদপত্র এনো। তারপর খাবারের কথা বলব। সে তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে গিয়ে একটা চায়ের পট ভত্তি করে চা মাখন কটি এনে দিল। তার জ্ঞানের পরিচয় পেয়ে সুখীই হয়েছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে সিগারেট এবং সান্ধ্য সংবাদপত্রও এনেছিল। এসব টেবিলে রাখবার পর প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি বললাম, এখন তােমার যা ইচ্ছে তাই ডিনারের জন্য নিয়ে এস, বিদায়। এখানে বিদায় রে এ অর্থ হয়, অর্থাৎ আমাকে আর বকি না; আমি সংবাদপত্রে মন দেব। লােকটি তৎক্ষণাৎ চলে গেল। চা খাওয়া সমাপ্ত করে আমি সংবাদপত্রে মন দিলাম। সংবাদপত্রে আমার মন এত নিবদ্ধ হয়েছিল যে বা হতে দরজা খােলার শব্দও আমার কানে পৌছােষনি। দরজা খুলে মিঃ ইস্কি তার দু জন বন্ধু এবং মিঃ চেকে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেই বললেন, মি বিশ্বাস, চেকে এরা ধরে ফেলেছে। আমি বললাম, ইউনাইটেড ষ্টেটে তাকে কেউ বাধা দেবে না এ কথা নিশ্চয়ই। ভেংকের পাের্টে যাতে মিঃ চেন্না নামেন তারই ব্যবা হয়েছে এবং সেই এখানে এনে তাকে আবদ্ধ করেছে। পােট হতে জাহাজ ছাড়বার সময় তাকে নিয়ে যাবে। আপনারা চিকাগাে চলে যান, এত তিনি সিয়েটেল গিয়েই নামবেন।” এ সম্বন্ধে অনেক গবেষণা ল, অনেক আইন চর্চা করা হল। তারপর মিঃ ইস্কি বলেন, আপনি বােয় , ইউনাইটেড ষ্টেটে এবার যেতে পারবেন না। আমি বললাম, “আমারও তাই মনে হয়। তারপর মিঃ ইঞ্চি এবং তার তিন জন সাথী আমাদের কাছ হতে বিদায় নিয়ে বাইরে গেলেন। আমরা নতুন উদ্যমে আমাদের কথা মন দিলাম। মি ঢেনের বয়স বাইশ তেই হবে। তিনি আমেরিকাতে জন্মেছেন এবং তথায়ই শিক্ষা পেয়েছেন। তিনি দেশে গিয়েছিলেন, কমিউনিষ্ট পার্টির আধান পেয়ে, কিন্তু কাজ কিছুই করতে সক্ষম হন নি। চীনে নিয়ম রয়েছে আমেরিকায় প্রা যেই হােক না কেন, তাকে জেলে দেবার পূর্বে আমেরিকার কনসালকে জানাতে হবে। জেনারেল চিং-ই-সেক মি চেনের আগমন জানতে পেরেই তাকে ধরবার জন্যে আমােজন করেন। মিঃ চেন তা শনতে পারেন। যেন অনেও তিনি কিংসী প্রদেশে মাও ত এর দলে যােগ সাগর বক্ষে দিয়ে কাজ করতে সুরু করেন। কিন্তু আমেরিকান্ মনােভাবই য়েছিল তার শত্রু। অনেক চীনা গােয়েন্দা তাকে ভুলিয়ে মাও মুত হতে অনেক দূরে টেনে নিয়ে পাকড়াও করার চেষ্টা করে, কিন্তু চেন সাহসী এবং শক্তিশালী লােক। তিনি অনেক গােযেলাকে স্বর্গধামে পাঠিয়ে ছদ্মবেশে ফিলিপাইন বীপে চলে যান, এবং থা হতে টিকিট কেটে জাপানে আসেন। আপিন থেকেই তিনি জাহাজে উঠেন। মিঃ চেন্ দুঃখ করে বললেন, আইন কানুন অন্য সকলের কাছেই ঠিক আছে কিন্তু কমিউনিষ্ট দমন করতে শত্রু-মিত্র সবাই সমান। এখন ইউনাইটেড স্টেট সরকার আমেরিকায় যেতে বাধা না জন্মালেই রক্ষা। লক্ষ্য করেছিলাম, অধিক রাত্রেও মিঃ চেন্ ঘুমাতে পারেননি। চীন দেশে আমেরিকান সরকার মিঃ চেনকে কোনরূপ সাহায্য করেননি, বরং যাতে তিনি চিয়াং-কাই-সেৰু কর্তৃক ধৃত হন তার বন্দোবতে সহায়তা করেছিলেন। সাতটার সময় আইরিশ পাচক আমার অন্তু খাবার নিয়ে এল। তিন রকমের ছয় স্লাইস রুটি, কয়েক টুকরা সিদ্ধ ভেড়ার মাংস, তিন পান আমলেট, আলু, কপি সিদ্ধ, গবম দুধ এবং প্রচুর চা। মাখনও বােধ হয় আধ পােলা হবে। আমাকে খাবার দিয়েই আইরিশ পাচক চলে যেতে চেয়েছিল। আমি বললাম, এ সব টেবিল হতে সরিয়ে রেখে যেতে হবে, খাবার পর আমি কিছু লিখব ভাবছি। তার কিন্তু পড়ার আগে ছিল না। তাই এক ঘণ্টা পরে সে আসবে জানিয়ে চলে গেল। আমার খাওয়া হয়ে গেলে, আবার আমরা কথাতে মন দিলাম। মিঃ চেনএর সংগে জাহাজেই আমার পরিচয় হয়েছিল এবং তিনি ভাল করেই জেনেছিলেন আমি কোন পথে চীন ভ্রমণ করেছি, সেইজন্যই তিনি মন খুলে কথা বলতে পেরেছিলেন। দুদিন পর মিঃ চে চলে গেলেন। রুমে আমি একা। একলা ২০ প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি থাকাই অনেকে পছল করেন আবার আমার মত লােক তা মােটেই পছন্দ করে না। পড়বার জন্য অনেকগুলি সংবাদপত্র ছিল, তাই পড়তে লাগলাম। সংবাদপত্র পাঠ করে যখন আর ভাল লাগত না, তখন ভাবতে লাগলাম কি করে সময় কাটানাে যায়। হঠাৎ মনে হল বিড়াল-চরিত্রের কথা। শীতের সময় বিড়াল চুপ করে শুয়ে থাকে। রুমে বেশ উত্তাপ ছিল। সেজন্য সবগুলি খিড়কী দরজা খুলে দিলাম। পর মিনিটের মাঝে রুমটার উত্তাপ ফ্রিজিং পয়েন্টে নেমে আসল। আমিও কম্বল মুডি দিয়ে শুয়ে রইলাম। এতে সময় কাটতে লাগল বেশ আরামেই। এখানে আমার আসার সংবাদ কেউ জানত না। এ ওয়াই, কে, কোম্পানির লােকেরই জানার কথা ছিল। এ ওয়াই, কে, কোম্পানি হতেই বােধ হয় স্থানীয় এশিয়াটিক এগােসিয়েশনের সম্পাদক আমার আসার সংবাদ পেয়েছিলেন। যা হউক, যে কোন ভাবে তিনি আমার আসার সংবাদ পেয়ে দেখা করতে আসেন। হঠাৎ দরজটা খুলে যাওয়ায় ভাবলাম ইত বয় এসেছে। চোখ খুলে দেখলাম একজন গম্ভীর প্রকৃতির জাপানী আমার সামনে দাড়িয়ে আছেন। তিনি যেমন আমাকে নমস্কার জানালেন আমিও তেমনি তাঁকে নমস্কার জানালাম। তারপর তিনি দােির থেকেই তার পরিচয় আমাকে দিলেন। তাঁর পরিচয় পেয়ে খুসী হয়েছিলাম এবং আরও যখন শুনলাম তিনি আমাকে সকল রকমে সাহায্য করবেন তখন আরও খুশী হলাম। হাসিমুখেই বললাম আপনাদের অসীম দয়া, সাহায্য করে বাধিত করবেন। তিনিও হাসিমুখেই দুটি কথা বলেই বিদায় নিলেন। ওরে ওরে ভাবতে লাগলাম এ আবার কিরূপ সমিতি। এশিয়াবাসীর ? সিংহের যে শাবকে প্রেম, বৃটিশের ভারত প্রেম, ফরাসীদের ইন্দোচীন প্রেম, জাপানীদের কোরিয়া প্রেম, আমেরিকার ফিলিপাইন প্রেম, ইটালীর ত্রিপলী প্রেম, কিন্তু এই এগােসিয়েসন কোন জাতীয় সাগর বক্ষে প্রেমের প্রতীক? কে দেখে এসেছি জাপানীদের চীনা প্রেম, এটা কি তার চেয়েও বড়? এশিয়াটিক এসােসিয়েশন, যত বাজে কথা। লােক ঠকাবার ফন্দিমাত্র। ফিউডেলিজম আর নাই। এখন যারা ফিউন্ডেলিমের ফাদে পড়বে তারাই মরবে। পরের দিন সকাল বেলা নতুন কয়েদী একটিও আসল না। আইরিশ বয়টি কথা বলার মতলবেই বােধহয় বার বার এটা ওটা নানান জিনিস নিয়ে আসতে লাগল। কিন্তু সে কোন কথাই বলল না তবে বুঝলাম সামনে কোন বিপদ আসছে। এই কথাটা বুঝিয়ে দেবার জন্যই সে বার বার আসছিল। লক-আপ এর দারােয়ান তাকে কোন কথা বলার সুযােগ দেয় নি। সকাল কেটেছে, দুপুর শেষ হয়েছে, বিকাল প্রায় সমাগত। বয় আসবে এবং তাকে ইংগিতে জিজ্ঞাসা করব কেন সে সকালে বার বার আসছিল, এটা মনে করেই সময় কাটাচ্ছিলাম। এমন সময় দরজাটা খুলে গেল। যে লােকটি রুমে প্রবেশ করল সে একজন সুন্দর যুবা পুরুষ। তার পােক এবং চালচলন সাধারণ লােকের মত নয়। তার বুক পকেটে গােলাপ ফুলের বদলে গাঁদা ফুল গােজা ছিল। গলার কলারটা বেশ মােটা এবং চু। ঘরে প্রবেশ করেই লােকটা আমাকে বেশ নম্রভাবে নমস্কার করল। আমিও তাকে আপন জনার মতই বেঞ্চে বসতে বলে বিছানা হতে উঠে এসে তার কাছে বসলাম। আমাকে তার কাছে বসতে দেখে সে যেন একটু ঘণ বােধ করল। আমি তা বুঝতে পেরে তাকে বললাম, “কেন এত ফণা করছেন? আমিও আপনার মতই মানুষ, তবে রংটা একটু কালাে। আপনি আমাকে ঘৃণা করছেন বলে আমি মােটেই দুঃখিত নই। কারণ আপনার জাতের কেউ আজ পর্যন্ত আমার বাড়িতে গিয়ে সমপর্যায়ে বসতে পারে নি। যে রাজকীয় ‘সিল নিয়ে আপনারা এত বাহাদুরী করেন প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি সেই রাজাও আমার কাছে অপবিত্র ম্লেচ্ছ এক সংগে বসে খাবার অনুপযুক্ত। না করে ভালই করেছেন, বদল নিয়েছেন মাত্র। দয়া করে যখন এসেছেন তখন বৃথা সময়ক্ষেপ না করে পরিচয় এবং আগমনের কারণটা জানিয়ে বাধিত করুন। আগন্তুক পরিচয় দিল সে জাপানী জাহাজ কোম্পানীর এজেন্ট। আমি তাকে বললাম, “ভালই হয়েছে, এবার আমাকে জাপানী কালের কাছে নিয়ে চলুন, জাপান ফিরে যাবার “ভিসা নিয়ে আসতে হবে। লােকটা গভীর হয়ে বলল, “আপনি চীনের ‘ভিসা নিন। চীনা কমিউনিষ্টরা আপনাকে বেশ সাহায্য করেছে, আপানে গিয়ে আর কি লাভ হবে। জাপান আপনি বেশ ভাল করেই দেখেছেন। জাপানে কমিউনিষ্ট নাই সে কথা বােধ হয় জানেন। এ সম্বন্ধে কথা বাড়ালাম না, কারণ জাপানও মিকাতােদ্রোহী লােক আছে, তবে তাদের সংখ্যা খুব কম এবং তাদের প্রতি অত্যাচার বেশ ভাল করেই করা হয়। আমি শুধু ভিসার কথা বলতে লাগলাম। কথা অনেকক্ষণ চলল, এতে লােকটার খাটি পরিচয় পেতে কষ্ট হল না। প্রাচ্যদেশে ইন্টারন্যাশনল গােয়েন্দার কয়েকটা মাত্র আজ্ঞা আছে। তার মাঝে সিংগাপুর, সাংহাই, পিকি এবং জাপানের কোবীর নাম করা যায়। শুনছিলাম ভারতেও নাকি সেরূপ একটা আচ্ছা আছে তবে তার হেড-কোটার লেখায় আনবার জন্য মাথা ঘামাই নি। এই ইনটার আনেন গােয়েন্দাদের চীনা, ফিলিপাইন, কোরিয়া এবং ভারতীয় রাত- দ্রোহীদের প্রতি খয়-দৃষ্টি রাখার জন্যই নাকি গড়া হয়েছিল এবং এই মস্ত বড় গােয়েন্দাদের খরচ আপান, আমেরিকা, বৃটেন এবং স্যাও বহন করত। কেনেভায় ভারতীয়দের এটা গদর পাট ছিল। তাদের সংবাদ নেবার ও এক বুদ্ধিমান লােকের দরকার হয়। কােনো সরকার কোন সাগর বক্ষে ২৭ ভারতীয়কে সে কাজে নিযুক্ত না করে একজন কেনেডিয়ানকেই সে কাজে নিযুক্ত করেন। নবাগত সুন্দর ভদ্রলােকটা হলেন সেই ইটাস্যাশনে গােয়েন্দা। এজেট মহাশয় যে ভাবে কথা আরম্ভ করলেন তাতে মনে হল না তিনি জাপানীদের চাকর। তিনি বাংলা দেশের সংবাদ বেশ রাখতেন এবং বাংলাদেশের সিডিসনের তার যে অভিজ্ঞতা ছিল, আমার কিন্তু তার শতাংশের এক অংশও ছিল না। এমন কি এ বিষয় নিয়ে আমি কোন দিন চিন্তাও করিনি। কথা প্রসংগে যখন জবাব দিতে লাগলাম তখন ভাণ করতে লাগলাম যে আমি সবই জানি। এরূপ ভাণ করতে আমি বাধ্য হয়েছিলাম কারণ স্বদেশ সম্বন্ধে যদি কিছু সংৰা না রাখি এবং বিদেশের সবাই যদি শুধু সংগ্রহ করি তবে এ পৃথিবী এমণের কোন মূল্য থাকে না। কথা প্রসংগে যখন লােকটা চীনের কমিউনিষ্টদের সংগে ভারতের কয়েক জন বিপ্লবীর তুলনা করল এবং বেংগল ও হুনান প্রদেশের মত হতে চলেছে বলল, তখন বাস্তবিকই আমার বিম্ম হয়েছিল। তার সে বলতে লাগল ভারতের বৃটিশ শাসনের মাহাত্ম। লােকটা এমন ইংগিত ও করল যাতে করে বুঝতে পেরেছিলাম এই হুনান প্রদেশের গণ্ডগােলের জয় হয়ত একদিন পান সােভিমেট ক আক্রমণ করবে। জাপান ১৯৩৫ সালে বাহির মংগােনিয়া আক্রমণ করেও লি কিন্তু এতে আপানই হেরেছিল। তাতে বৃটিশ শাসন, অনার্য আমলে আর্বের শাস, হিন্দুর আমলে মুসলমানের শাসন এসব কথা নিয়ে যখন প্রায় এক টা কেটে গেল তখন এ নােকটা যে গােয়েন্দা তাতে আর সনে রইল না। অ যে কোন লোেক লে কয়েদীর সংগে আধ ঘণ্টার বেশি কথা বলতে পারে না কিন্তু তিনি এটারও বেশি ছিলেন। বয় চা নিয়ে এল। আমি তাকে চা খেতে বাম কিন্তু ল চ খেল ২ প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি । আমি তাতে মােটই দুঃখিত হই নি। অবশেষে সে আমার মুখ থেকে এই বের করতে চেৱেছিল যে বৃটিশ শাসনে আমরা বেশ উপকৃত হয়েছি। আমি এক কথায় বললাম, “বৃটিশ শাসনের দ্বারা আমাদের কোন উপকার হয় নি। ঐ যে দেখছেন রেল লাইন, টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, হসপিটাল, জলের কল, স্কুল কলেজ, বড় বড় পথ এসব বৃটিশ করেছে বৃটিশের স্বার্থ বজায় রাখতে। এতে কতকগুলি ভারতবাসী সত্যিই উপকৃত হয়েছে বটে কিন্তু এই উপকৃত ভারতবাসীরা হল ভারতের ইনটেলিজেনসিয়া। এদেরে যদি উপবাসী রাখা হয় তবে এরা আরও কত সেপাই বিদ্রোহের সৃষ্টি করত তার কথাও চিন্তা করা দরকার। আপনি যেমন নুদ্ধিমানই হউন না কেন সব দিকের সকল সংবাদ আপনি রাখেন না বলেই ভারতে বৃটশ শাসনের গুণ গাইছেন। আর একটা কথা আপনাকেই জিজ্ঞাসা করি তার উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন। আপনি আমাকে পরীক্ষা করতে এসেছেন আমি একজন বিপ্লবী কি না; এতে আমি অনেকটা আরাম পেছে। লােকালয়ে চুপ করে বসে থাকাটা আমার অভ্যাস নাই, কিন্তু এত বড় শহরে এসে আমাকে চুপ করে সময় কাটাতে হচ্ছে। আপনি এসে আমার কষ্টের অনেক লাঘব করেছেন এ যেমন সত্যকথা, তেমনি আমাকে বিপদে ফেলবারও আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এক্ষেত্রে আপনাকে যদি আমি আন্তরিক ধন্যবাদ দেই তবে আমি একটা গাধা ছাড়া আর কি হতে পারি? বলুন সত্য কি না। লােকটা আর কথা বলল না রেখে ফের জাপান যাবার ভিসার জন্য চেষ্টা করব কি না জিজ্ঞাসা করলাম। সে কথার উত্তর না দিয়েই লোকটা অভদ্রভাবে চলে গেল। লােকটা চলে যাবার পর ঘরের চারিদিকে চেয়ে দেখলাম একস্থানে লেখা রয়েছে, ইছামত উল্লা, বিল। ইই, ভারতবর্ষ-আমি মানুষের বাচ্চা নই, আমি কুত্তা, আমার দেশে মানুষ নাই সবই কুত্তা, মানুষ হইলে আমাকে ভাগাইয়া দিতে পারি না, ইয়া আল্লা খােদ্য-উল করিম। আর এক সাগর বলে ২১ স্থানে দেখলাম একটা সংখ্যার শহর। তারপর চীন, জাপানী, ইংলিশ, শেনিস, দি, আরবী, পারসী, হিলি, গুরুমুখী, গুজরাতী, মারহাউ, কত আয় কত কি য়ে লিপিবদ্ধ আছে তার হিসাব দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। কত লােকের দুঃখের দীৰ নিশ্বাস এই ঘটাতে রয়েছে, ভবিষ্যতে আরও কত লােকের দীর্ঘ নিশাস বইবে তার ইয়ত্ব নাই। দীর্ঘ নিশ্বাসের সংখ্যা বাড়বেই। পুঁজিবাদীদের দ্বারা পরিচালিত ফেনাটিক দেশাত্মবােধের জাতীয়তাবাদ যতদিন জীবিত থাকবে ততদিনই এ ঘরে দীর্ঘ নিশ্বাসের সংখ্যা বাড়বে। দেশাত্মবােধ বেশ ভাল কিন্তু পুজিবাদীদের ৰাৱা পরিচালিত হয়ে তােক যদি চলে তবে দীর্ঘনিশ্বাস, বগল ব্যভিচার চলবেই। আবার সেই সন্ধ্যা বেলা। আর একটি অভাগকে কানেডিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগ টেনে নিয়ে এসেছে। সে তের চৌদ্দ বৎসরের ছেলে। তার মুখে এখনও যৌবন এসে দেখা দেয় নি। ছেলেটি জাতে জাপানী। সে জাপানী হউক আর যেই হউক, এখনও তার মাঝে ছেলেমানুষী রয়েছে। তারপর সে কৃষক। কৃষকের সরুল বুদ্ধি তার মুখে ফুটে রয়েছে। তার দেশের সাম্রাজ্যবাদকে আমি ঋণ করি, কিন্তু সে আমার স্বণার পাত্র নয়। অল্পক্ষণের মধ্যেই ছেলের বাবা এসে হাজির হল। ছেলের বাবা ছেলেকে পেয়ে বুকের মাঝে টেনে এনে অনেক কথা বলল। আরপর আমাকে ঘরে দেখে পিতা পুত্র উভয়ে মিলে নমস্কার করল। আমি ইলােজীন। আমার প্রতি তখনও তাদের অর্থাৎ মামুলী কৃষকদের একা ছিল। এটা থালা স্বাভাবিক। যতক্ষণ ধর্মের গােলামী মানব হৃদয়ে বিরাজ করবে ততক্ষণ মাথা নত করবার প্রবৃত্তিও থাকবে। তারপর সপ্তাহ খানেক কেটে গেল, দুবেলা শুধুময়টির মুখ দেখেই তৃপ্ত হতে হত। বন্ধও কপা কত না আমিও তাকে বলাতে চেষ্টা করতাম প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি পাছে তার কোন বিপদ আসে। একদিন বিকাল বেলা হঠাৎ রিটা অসময়ে খুলে গেল। আমি ভাবছিলাম হয়ত পুলিশের লােক। ওয়ার্ডেন একজন লােককে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে। কিন্তু তা নয়; ভদ্রলােকের কপাল এবং মুখের আকৃতি একদম উত্তর দেশীয় অর্থাৎ নরডিক তবে চোখের তারা এবং চুল গভীর কালাে। তিনি বিবাহিত। অসৎ লােকের সংগে থাকা তার ভাল লাগে না বলেই আমার রুমে তাকে আনা হয়েছে। অনেক দিন নির্জন কারাবাস করেছি, এখন লােকসংগ আমার কাছে বড়ই আরামদায়ক বলে মনে হচ্ছিল। তিনি প্রবেশ করে আপন মনের মত আমার কাছে বসলেন। ওয়ার্ডেন আমাদের লকআপ করে চলে গেল। আমরা অনবরত কথা বলতে লাগলাম। যখন বাজে কথা বলতে ভাল লাগল না তখন শুরু হল আসল কথা। ভলােক বললেন যখন তিনি কচি ছেলে ছিলেন তখন তার মা বাবা ইউনাইটেড স্টেটে আসেন এবং সেইখানেই লেখাপড়া শিখেন। স্টেটের ভাষায় এই কথাটাকে বলা হয় “Raised up.” বৌবনে পদার্পণ করে স্টেটেই অনেকদিন মজুরী করে কিছু অর্থ সঞ্চয় করে ভদ্রলােক গােপনে কেনেডায় আয়েন এবং একজন ইণ্ডিয়ান রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ইণ্ডিয়ান রমণীর শনিতে যখনি ছিল একথা তিনি জানতেন। বিবাহের পরই স্বর্ণখনির খোজে বের হয়ে একটা বেশ ফলপ্রদ খনি বের করে কাজের লাইসেন্স নেন। কাজ যখন শুরু করলেন তখন তার মনে দেশ ভাইদের কথা আপনি গে উঠল। এ অঞ্চলে অনেক ইটালিয়ানাে বসবাস করত। তিনি আতে ইতালিয়ান ছিলেন সে বেশীভাইদের অন্বেষণ বেণি করতে হ’ল । কয়েক দিনের মাঝেই কতকগুলি ইটালিয়ানে মজুর তার খনিতে নিল। ইটালিয়ানােদের আকৃতি এবং প্রকৃতি অনেকটা পাবীদের মই। যে সকল পানাৰী দাড়িগোঁফ কেটে কেনেভায় অথবা স্টেট সাগর বক্ষে বাস করছে অনেকেই তাদের ইটালিয়ানােই ভাবে। দু একজন হিন্দু অর্থাৎ পানাৰী মুসলমান তার স্বর্ণখনিতে কাজে যােগদান করল। ভালমতেই চলতে লাগল। কতদিন কাজ চালাবার পর তােক দেখলেন কতকগুলি ইটালিয়ানো খনি হতে গােপনে সােনা উঠিয়ে অত্র নিয়ে বিক্রয় করছে। এতে তার ভয়ানক রাগ হল এবং কয়েকজন মজুরকে কর্মচ্যুত করলেন। যে কয়েকজন মজুর কর্মচ্যুত হয়েছিল, তারা স্বর্ণখনির কাজ ফিরে পাবার জন্য মােটই উৎসাহ দেখাল না কিন্তু তারা খনি ছেড়েও গেল না। কাটছিল। হঠাৎ একদিন পুলিশ এসে ইটালিয়ানাে ভদ্রলােককে ধরে ফেলল এবং জানান, এ অনূলে বিয়ে করে কেউ নাগরিক হতে পারে না, নাগরিক হতে হলে কেনেভাতে জন্ম নিতে হয় অথবা ইউরােপ হতে সরাসরি এসে বসবাস করতে হয়। এদিকে তার কাছে এমন কি কাগজ ছিল না যাতে কবে তিনি স্টেটের প্রলা বলে পরিচয় দিতে পারেন। ভদ্রলােক মহা বিপদে পড়লেন। বাধ্য হয়েই তাকে ইমিগ্রেশন অফিসের জেলখানাতে আসতে হল। দু ডলার সংগে করে নিয়ে একটি ইউরােপীয়ান কেনেডায় প্রবেশ করতে পারে। ইউরােপীয় মজুরদেয় কেনেডায় অবাধ প্রবেশের সুযােগ দেয়া হয়ে থাকে কিন্তু ইউরােপীয় ছােট খাট ধনীকে সেরূপ সুযােগ দেওয়া হয় না। এখানে শুরু হয় পুঁজিবাদীতে ঝগড়া অথবা কমপিটিসন। করে পুঁজিবাদীদের সংখ্যা না বাড়ে এই হল গােড়ার কথা। ইটালীয়ানােলােক জেলে আসার পরই লােক সমাগম শুরু হল। তার ইণ্ডিয়ান স্ত্রী প্রত্যেকদিন আসতে লাগলেন এবং আমার সংগে কথা বলে সময় কাটাতে লাগলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন কয়েকজন ইটালীয়ানােই তাঁর স্বামীকে ধরিয়ে দিয়েছে। তিক্রতা ইটালীয়ানার মাঝেও বেশ আছে, সেই বৃটিশ, জার্মান, কেন, নিনি, প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি হােয়াইট রাশিয়ান, পােলিশ, এই কয়টি আত ইটালিয়ানদের এখনও ইউরাে পীর বলে বীকার করে না। ইটালিয়ানরা উল্লিখিত অতগুলির কাছে 'নেটীত অথবা ইটালীয়ানাে বলে পরিচিত। কয়েকদিন যাবার পর ইটালীয়ানাে ভলােক তার পিতামাতা এবং বড় ভাইএর কাছে তার করলেন। তারের জবাব এল—যখন জেল হতে মুক্ত হবে তখন দেশে চলে এস।” এতে ভদ্রলােকের ভালই হয়েছিল। তাঁকে তাঁর দেশে অর্থাৎ ইউনাইটেড স্টেটের কোথাও পাঠানাে হয়েছিল। কেনে ইমিগ্রেসন বিভাগ সাদা জাতের জত আইনের অর্থ অন্য রকমে করেন। কয়েকদিনের মাঝেই ভদ্রলােক চলে গেলেন বটে তিনি কেনেডীর প্রগতিশীল সমাজে আমার পরিচয়ের সুযােগ এবং সুবিধা করে দিলেন। নানারকমের লােক নানারূপ বাহানা করে আমার কাছে আসতে লাগল। ইমিগ্রেশন বিভাগ আমাকে নিয়ে বড়ই বিপদে পড়লেন। আমার মনে হয়, যারা আমার কাছে আসতেন তা প্রায়ই কমিউনিষ্ট ভাবাপন্ন। কমিউনিদের কয়েকখানা সংবাদপত্রও আমাকে মাঝে মাঝে দেওয়া হত। দুঃখের বিষয় এখানেও এসকাইত এবং লিনপন্থী বলে দুটি দলের অস্তিত্ব অনুভব করলাম। আমি এই দলাদলি নিয়ে কখনও মাথা ঘামাতাম না, শুধু বলতাম কেনেকে সােভিটোইড কর, দেখবে দলাদলি আপনি চলে যাবে। যারা কা করে না তারাই শ পায়, তারাই বে কথা বলে, তারাই কষ্টের সময় দাড়াতে পারে না, দল ছেড়ে পালায়। কথা বলতে সময় পাওয়া যেত মাত্র অাখ ঘন্টা। আধ ঘন্টার মাকে কোন বিষয় নিয়ে চর্চা করে তার সমাধান করতে পারতাম না, তাই অনেকে হবার আসতে বাধ্য হতেন। একদিন রবিবারে হঠাৎ এক জাতীয় পাদরী এল উপস্থিত হলেন।
কারাগারে ভয় দেশ পাবে। তিনি এক ইউরােপীয় পারীর সংগে কাজ করতেন। সেই ইউরােপীয় পানীও তাতে অবিশ বৎসর ছিলেন। ভারতীয় পারী এসে আমার শহর দেখার বন্দোবস্ত করলেন, ইউরােপীয় শারী এসে আমাকে দেখাতে নিয়ে গেলেন। আমি ফেলতে বের হয় ভাবলাম এইত, আমরা গ বলে অনক চৎকার করি। এটা দুয়েকের মধ্যেই আমরা শহর প্রদক্ষিণ করে একটি চীনা গবে গেলাম। তথা চীনারা আমাকে আর আখ্যান করলেন এবং বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের সমূহ নি করলেন। তারপর আমরা যাই জাপানী ৰে। অৱও আয়। সমাদৃত হই কিন্তু তথায় বৃটিশ বিয়ে কই নেছিলাম। তাদের এই বিশ্বে প্রকাশে আমিও সায় দিয়েছিলাম, কি মনে মনে ভাবছিলাম বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদে এবং আপানী সাম্রাজ্যবাদে এতে কোথায়, আমি ত ধুয়ে পাচ্ছি না। আপানীও কোৰিয়া, ফরমােলা এবং উত্তর চীন পদানত করে রেখেছে, বৃটিও তেমনি ভারত কেন পৃথিবীর অনেক দেশই পদানত করে রেখেছে। জাপানের বৃটিশ বিয়ে বৃটিশের মান হয় একটা আমি ভাল করেই জানতাম। তানা মেমােরিয়াল ও মামুলী কৰা, আপানী সাম্রাজ্যবাদী পৃথিবী গ্রাস করতে চায়, তাও নি পানে থেকেই বুঝতে পেয়েছিলাম। বৃটিন দুনিয়া গিলে বলেছ, আপানী চায় বৃটিশের পেটের ভেতর থেকে কিবের করে ফের বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদীর মতই গিলাতে। এসৰ ৰকল খে, যারা পা বাড়ায় তারা কষ্ট পায়। এদের পেট থেকে বের হয়ে নতুন করে অন্যের পেটে আটা ল এখন কই, বিতীয় ল নতুন পেটের ভেতরে কত এখন ঠায়ি আছে তাও ত আনা নেই। ওসব কথা নতুন করে আজ আমি বলছি না, যেদিন মারিয়া দেখেছিলাম সেদিনই ডাইরিতে লিখেছিলাম। এনী এলসিয়েশনের বাড়ীতে বের হবার পর ন ৩ এত মহাসাগরের অশান্তি পরে রিপোর্টার আমাকে জাের গান অফিসে ডেকে নিয়ে যান এবং আমার সম্বন্ধে একখানা প্রকাও রিপাের্ট লেখেন। সেই রিপােট সেদিনই বিকাল লােয় প্রকাশ । স্থানীয় বলল পত্রও আমার রিপাের্ট দিয়ে ছিলেন। বল ও উপহীদের মধ্যে কত প্রভে তা এ দুটা বিপােট লেখলেই বুঝা যাবে। এখন আমি বিপাের্ট দুটাৰ নকল না দিয়ে সেনি এ প্রথম বলব, তারপর বিপাের নকল ৰে। সংবাদপত্র কি হতে বের হয়ে আমরা ভারতীয় কলনীতে গেলাম। এখানে গণি আফ্রিকার মত হিন্দুদের সিগ্রিগেট করা হয়নি। ভারতীয়দের কাতির মাঝে বেতার কেনেডিয়ানরা বসবাস করে। বরগুলি আবহালা বায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে। ঘর তৈরীর দিক দিয়ে ভারতীয় কবি কোন গন্ধ ছিল না। থাকবার কথাও না। ঘরগুলি দেখে আমি মুখী হয়েছিলাম। পারী মহাশয় আমাকে ভারতীয় ঘরের উৎকৃষ্টতার কথাই বলছিলেন। আমি তার কথার প্রতিবাদ করেছিলাম। পায়ী আমাকে বলেছিলেন তবে আপনি ইউগােপীয় প্রথা মতেই বাড়িঘর প্রস্তুত করা পছন্দ কৱেন নিই। আমি তাকে বলেছিলাম,“ইউরােপীৰ প্ৰখা মতে আমি কিই পছু করি না। বৈজ্ঞানিক প্রথা মতে সকল কাজের বতে উন্নতি হয়, আমি তাই চাই। ইউরােপীয় প্রথা বলতে কোন এখা আমার চোখে আজ পর্যন্ত পড়েনি, হয়ত পড়বে না। আমরা যখন এই কথা নিয়ে তর্ক করছিলাম তখন এল বেকার মজুর আমাদের ঘিরে দাড়িয়েছিল। কেননা বেকার মজু নতুন কথা জানতে এবং গুনতে বড়ই ভালবাসে। আমরা পথে না জড়িয়ে গুরুবারের দিকে অগ্রসর হলাম। শিখরা তাদের গুরুত্বারে এম মেছিল। প্রথম চর্চা , তারপর কলকায় বিষয় নিয়ে আলাপ। এখানে সময় লা লি। গ শশাকে সাহায্য করতে রাজি হল। আমি বুঝতে পেরেছিলাম এদের কারাগারে সাহায্যে হয় ত আমার আমেরিকা ভ্রমণ সম্ভব হবে। সে দাড়িয়ে একটা ছােট-খাট লেকচারও দিলাম। দুদিন সকালেই এ এক ভয় এ ল। টাকাটা তৎক্ষণাৎ আমার হতে না দিয়ে যদি মুক্তি পাই তবে দেওয়া হবে তাই ঠিক হল। সভাতে আমাকে নিয়ে চারজন মাত্র হিন্দু ছিলাম। আর সাবাই ছিলেন বালাশী। কেনে সরকার শিখরে ব্যবহৃত বাংগালী - কার না করে হিন্দু শব্দই ব্যবহার করতেন। কেনডার রক্ষণশীলরা কিন্তু ভারতবাসীদের রেড ইনিদের সমপর্যায়ে ফেলে ইষ্ট ইনি বলেই লেখত এবং এমন কি আমার সম্বন্ধে যা লিখেছে তাতেও সেই অসৎ মনাে- তাবের পূর্ণ পরিচয় রয়েছে। সভাতে একজন মাত্র পাঠান ছিলেন, দুজন ছিলেন পান্জাবী খৃষ্টান আর ছিলাম আমি। কথায় কথায় একজন শিখ হঠাৎ বলে ফেলেছিল,“যখন কোন হিন্দু এদেশে এসে বিপদে পড়ে তখন হিন্দুরা মােটেই সাহায্য করে না, বাংগালীদের সকল রকমের বিপদের সামনে দাঁড়াতে হয়। এতে পাঠানের বই রাগ হয়। তিনি তৎক্ষণাৎ বললেন, “আমার দুখানা মটর লরী বিক্রি করে যে টাকা পাব তা দিয়ে মি বিশ্বাসের জামিনের টাকাও হবে না আমি আর কি সাহায্য করতে পারি বলুন? বাংগালীদের অর্থাৎ শিখদের এখানে কাঠ কাটার মিল আছে, ইচ্ছা করলেই হাজার ডলার একজনই দিয়ে দিতে পারেন, হিন্দুদের সংখ্যাই মাত্র তিনজন, এ সময়ে আপনার সাহায্য না করলে আর কে সাহায্য করতে পারে? এদের তর্ক শুনে আমার হাসি পেয়েছিল। বিখরা কেনেভাতে গিয়ে বাংগালী বলে পরিচয় দিচ্ছে আর মুসলমান পাঠান এবং ানগণ নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দিচ্ছে! আমি ওদের কথা আর বাড়াতে দিলাম না। পরের দিন যা হয় কি করে নে আমাকে সংবাদ দেওয়া হয় তাই বলে বিদায় নিলাম।
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি আমেরিকাতে একই সংবাদপত্রের অনেকগুলি সংস্কৰণ লেখই বের হয়। এসব সংকরণকে ‘এক্সট্রা বলা হয়। অামার সংবাদ বহন করে খেকোর স্যান এক্সট্রা বের হয়েছিল। তার অবিকল নকল নিয়ে দেওয়া গেল। CYCLIST THWARTED HINDU YOUTH WHEELS AROUND THE WORLD Ramnath Biswas, a Hindu youth with ambitions to cycle around the world alone and make the trip pay for itself, may be disappointed and unhappy at what happend to him in Vancouver, but he is determined to keep on going, even if not in Canada or the United States, Arriving in Vancouver on Sunday from Japan on the Heian-Maru, he ran into difficulties with immigration authorities of two countries, CAN'T GET PERMIT Neither Canada nor U.S.A, would let him proceed east or south on his bicycle, the official explanation being that he was unable to comply with immigration requirements and there was no assurance of his being able to continue his journey to some other land TATOTT 09 So Ramnath Biswas has decided to take ship to Padama and ride his wheel through Central and South America. Perhaps he may get back to Canada he says. This is his first trouble since he left home, he declares, and he has records to show that he has been through the Malaya peninsula, Siam, Indochina, China, Manchuria, Koria, and Japan, PLANNED TO CROSS CANADA He claims to have been the first man to make the journey from Canton to Harbin by bicycle. He had planned to cross Canada and take boat to England. He left Singapore, where he was a clerk in the Marine court on July, 1931. Claiming to have been born a British Subject-he does not quite understand why he is not allowed to cross Canada, Vancouver Hindus, he states, bave endeavord to raise cash to post a bond guaranteeing that he would not remain in Canada but he has decided to go to Panama. Meantime he is a guest of the immigration department at the Detention Building. World Cyclist To Miss. U. S.; Will Go To Panama Dated 29-9-32 উগরে লিখিত বিষয়টি আমার ছেলে মির দুটা পূর্বে একাতি a faceta peate and af refecara atferate for com ফিরে আসার পরই আন কে এন একটাখালেখিতে ।
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি আমি বুঝতে পেরেছিলাম আজ হতে আমার প্রতি একটু কড়া ব্যবহারই করা বে। তবে মুখের বিষয় এর পরও আমাকে টেলিফোন ব্যবহার করতে নেওয়া হয়েছিল এবং পরের দিন যখন আমি মি বেনেটের কাছে লােনের অন্যায় আচরণের কথা বলেছিলাম, তিনি তৎণাৎ তাকে চ্যুত করেন। পরের দিন একখানা রশীল সংবাদপত্র আমার সব কিছু সংবাদ বের করেছিল তার অনেকটাই অপ্রাসংগিক এবং কর্কশ। তবুও পাঠক পাঠিকার তাতােয়ও অবিকল নকল দেওয়া গেল। Ramnath Biswas, Cycling East Indian tourist will not visit the North American Continent on his present tour. Refused admission to the U. S. A, by immigration authorities, he has decided to proceed directly to Panama as soon as a boat is available and will explore South America. He is being held by canadian Immagration authorities here pending his departure for Panama, but hopes to tour, this country eventually. The youth has arrived here on SS Heian Maru about ten days ago. এখানে আমি বলতে বাধ্য , ইচ্ছা করেই আমাকে ইষ্ট ইনি বলা ছে। প্রকৃতপক্ষে আমেরিকান ইণ্ডিয়ান অথবা ইইনি বলে পরিচয় সে আমার পক্ষে বড়ই বলার কথা। আমেরিকানরা ইরিন টা মাটেই ভালবাসে না। বদ মতব অরে পােবশ করে বলেই বােষয় অক্ষশীল সংবাদপত্র আমাকে ইষ্ট ইনি বলে লেখেছিল। সু তাই নয় আমি কেনাড়াতে প্রায় বােজ দিন পূর্বে পৌছেছিলাম অথচ দেখাল দশদিন পূর্বে এসেছি। পানামাতেও আমার যাওয়া হয়নি; কারণ পানামা ইউনাইটেড স্টেটর একটি কমনী যদি বলা বলা হয় তাতে দােষ হবেনা।
কারাগারে মূল দারােয়ান তে । তর পিতা ভারতবর্ষে অনেকদিন পল্টনে কাজ করার পর মানে বসবাস করে। छाब ब पूबर পট ও হয়ে নেভাতে এসে সরকারী বা নেয়। এশে সরকারী কাজের মাইনে খুব কম এক শটে আনা ছিল না এবং সামী কান আংগিক আরও অনেক কাত করতে হয় তাও যেত না। যখন কালে ৰােগ দিল তখন পাট বুনতে পায় তার কাজে রূপ কি কালের স্বরূপ মেনে নেও সে সরকারী কা পরিত্যাগ করুন না। ভারতের সেই আরাম কিন্তু তার মনে চিশণীয় এ রহিল। টাকা মাইনের বাবুটি, পাঁচ টাকা মাইনেয় যে, সাতটাকা মাইনের ৰৱ পৃথিবীতে আর কোথাও পাওয়া যায় না। তার ছোট বেলায় মুখের কথা সে একদিনের অৱেও ভূতে সক্ষম নি। আমাকে দেখা- মাত্র তার সেই সুখ গ্নের পৃতি ফিরে এল, এবং আমাকে বার বার বলতে লাগল পেস নেবার পরই সে ইণ্ডিয়াতে গিয়ে বাস করবে। এর বিষ মি কোন বর্ণের লােক সে তা আমাকে লিঙ্গ করে নি, যদি জিজ্ঞাসা কত তবে আমি হৰিন বলেই পক্ষি দিতাম, কাল হরিজন বলে পৰি দিলেও ভারতের ত্রি নালায় প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা , এই লি আমার ধারণা এ এখনও আমি সেই বাণীই পােৰণ করি। যে পর্যন্ত ভারত খীন না হয় সে পর্যন্ত এই খায়ণ পােৰণ কৰা অৱকায়। আপনী সামুয়ালের মত আমাদের দেশের এ্যাসিনীরা কখনও নিজেদের উপাৰি পরিত্যাগ করতেও সাস করবে, এটা আমি ভাল করেই নি। চীন দেশে অমণ করবার সময় আমাকে বাধ্য হয়ে আমার সামাজিক সরের কথা বলতে হয়েছিল। মার এত পরিচয় পেয়ে কমিউনিষ্টগণ মহা চিন্তিত হয়েছিলেন। বাবা কুলে আমেছি, সামাজিক কর্ত এবং নিরাপা আমার ব্যবসা, এমন
এত মহাসাগরের অশান্তি
লা মানে কি কর কমিউনিখ এবেশ করা যায় তাই ছিল
জ, চিনার বিষয়। এৰি কি তার সেই তর বিআর আমি
এবার একটা উপায় বলে বিছিলাম। বিটিওি এবার ।
এখন এর মনেরি।
चाबाच नाव बना चिाना वामनाय व मां नीठ
বলে দে ন থাকে। এ উপাৰি বিল। বিশ্বাস উপাটা
, মুসলমান এই দুই শ্রেণীর লােকের মাই বে; নাম এ
উপরি মনি যােগ করে মীরে লােৰু সেই সকল খান
। উবয়ে দিয়ে মাকে বিশ্বাস উপাধি অতি
আই এছ। আমি এখন নি মিটি বিভাগে কা করতাম
ন একৰি এক চাপায় আশায় বাড়িতে তিনি। তিনি বা
না করে শােবার সময় পৃথক বিনা নাৰী ককে। আমার কাছে
পৃথক বিষ ছিল না। ৰা এনে শীতের রাতে আমাকে
শটিতে এতে , কারণ তিনি হােট বর লােকরসংগে এক বিছানায়
তে নাহি দিলেন না। আমিও নীরি লােৰু যার একটা বােগ
গে গেলাম। পালাটি বা আমের কাছে মাটিতে শুয়ে থাকতে
नज वि बनाय नोवाक लाक erl का कोका।
শীয়ে ৰ । আয় নিনিয় বা সম্ভব ন। অতি কষ্টে
যে বট ৰে। মনে রাখলাম উচ্চবর্ণের ব লােশীতে শীত
বর্ণে নেক লাে ফল য়। এ বয়াতি গতিতে
জ বুক ওয় ব নৃত্য করছে তার উল তবেই।
বাশর একমাত্র শ কটি নুত। সেদিনই আনি ছিড়ে ত সে
দিলাম এবং যখনই কোন ভাখিত উচ্চবর্ণের লােকনামায় এলে
ত চাইতেন নই তাকে বিলাতাম আর এ পৈতা আর
রাগারে
৪১
কি না? য িপৈতা নিয়ে আসার পরে প্রবেশ করতে চাইতেন তবে
তাকে বলে মি এখন তােমার প্রবেশ নিষে। বর্বরতাকে বল
ভাবেই অপসারণ করতে হয়। আমি এই টনাটি কমিউনিজৰ ৰাম
পর তারা অনেকটা নিশ্চিত হয়েছিলেন এবং তাকে পূৰে বোৰে
সাহায্য দিতেছিলেন সে ভাবেই সাহায্য দিচ্ছিলেন। চিন এ
সাব করেই ঠিক করেছিলাম, যদি নিজের বলে পরিত দিতে হয় তবে
না বলেই পলি নেওয়া ভাল হবে, কার নাম এবং উপাধিতে
যে খাপ খাবে। কেনাকাতেও আমি হরিন বলেই পলি
দিয়েছিলাম। কেলভিন কারওয়ান অৎ সকারী ইমিগ্রেশন অফিসার
হরিজন শ্রেণীর লােককেই বিনা পয়সায় খাটির সাথে বার বার
বাসনা মনে পােশ ছিল। ব ওয়ানের প্রতি আমার বেশ
রাগ হয়েছিল, মূখে সে ভাব কিছুই প্রকাশ করিনি, কারণ তা যায়।
আমার অনেক মতলব উনার করবার ই লি। নােক আমাকে
কে ভালবেসেলি। পরের দিন সকাল বেলা যখন ব্যাট
যিনি তখন এক টুকরা কাগজ সে নিজের পকেট তেই মেলে দিয়েছি।
সেই কাগজ লােটা আমি দেখেছিলাম। বৃদ্ধ সেই কাগজখানা উর
আমার হাতে তুলে দিয়ে বলল “বােধ হয় আইরিশ গবান
আপনার আয় রেখে গিয়েছিল, আপনি দেখেন নি নে ত
for at se 1 You are going to be tried in a special
court. Your room is going to be searched to day."
আমায় যে আমার কাছে আমার জানা মতে এবং পৃখিবর কোন
সরকম বি 'কোন কাগ ছিল না। কি কখনও এৰে বয় না।
আৰি পটক, এ ভাটা সব সময় পােবন কম এবং এখনও বাকি
সেই আমার পিঠ ঝােলায় কিছু না আছে তা দেখিনি। তাই কি
১২
এশত মহাসাগরের অশান্তি
ফর আলী , দেখবার পেশায় রইলাম। জাপানীয় নেবার
আমার এই কিলায় আসী নিয়েছে, এবার কেনাডিয়ানদের পাল।
আমি নিমিত্তে এতৱাণ করলাম এবং সেদিনের সংবাদপত্র পাঠ
মন দিলাম।
জেলের গেটটা খুলে গেল। আমার রুমে ঘন লােক প্রবেশ
করল। আমি তখন কি হয় যে তার এক অন্যায় সমাপ্ত
করে খায়ের পাতা উল্টাতে ছিলাম। প্রথম ভােব আমার কাছে
সুপ্রভাত না বলেই বলল এখন বুঝৰ তুমি কি কম লােক।
আমি বললাম, ভােলা মনে এনে লােককে মারপিট কর একখাত
নতাৰ না, তােমরা আমাকে মারবে নাকি?
না কেন, মাটি আশা করি, আমরা এখন আনৰ তুমি কই
লােক খুন করে এসেছ।
আমেরিকা এবং কেনগতে অনেক সময় ভাল লেখককেও জেলে
এনে এ কৰেীয় সাহায্যে হত্যা করা হয়, একথাটা আমি আমার
থানায় এতে অনেছিলাম, ত ন হয়ত এয়া আমাকে সেরূপই কিছু
একটা করবে। কি তা কল না; এন জিজ্ঞাসা করতে
জিনিসপত্র কোথায়।
ৰেনেটকে জিজ্ঞাসা ক গিয়ে।
তার ফাইমা দিয়েছ নাকি।
আৰিমা দেইনি, আশা করা হয়েছে।
আচ্ছা তাই হবে, চল আমলের সঙ্গে।
তােমা ইঞ্জিন হেলের লােৰু কি না তার প্রমাণ দেও তারপর
যাব, নতুবা যাব না। তােমরা শেষটায় বলবে আমি নকল চাবি দিয়ে
কপাট খুলে পালিয়েছি।
কারাগারে
১৩
তাই নাকি?
তাই বই কি।
আচ্ছা দেখব, বলে লোেক দুটা ধরতে বের হয়ে গেল।
আমি আমার সংবাদপত্রে ন দিলাম। পৃথিবী এক সময় আমি
মরবার জন্য এক মরবার জন্য এত্যেক মুক্ত প্রস্তুত থাকতাম, সংৰে
কাউকে আমল দিতাম না। যতদিন শরীরে রক্ত গরম থাকে ততদিন
এই ভাবটুকু বজায় রাখা যায়। শরীরের বাধন শিথিল হলে নানা
দুর্ভাবনা এসে দেখা দেয়।
কতকক্ষণ পর এক ইমিগ্রেশন অফিসার এসে দরজা খুলে আমাকে
নমস্কার করার পর মনটা এতে অনেকটা না। আমি লে থাকি
আর জাহান্নামে থাকি, আমার বাসস্থানে যে আসবে সেই আমাকে
নমস্কার প্রথম দিবে তারপর আমি করব প্রতিকার, তা না ।
দুটা ও আমাকে যা তা বলে কথা শুরু কষেলি বলেই এত রাগ
হয়েছিল। ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে গিয়ে বললাম আপনার এরূপ
অজ্বলােকে আমার এখানে পাঠান অন্যায় হয়েছে। লােৰু এটা
নমস্কার করাও শিখেনি।
ইমিগ্রেশন অফিসার শানী মতে মিলিয়ন টাইকা লা এখন
করে আমাকে নিয়ে যেতে বলেন। আমি তার সংগে অলি গেল
এবং মি বেনেট আমাকে বলতে দিয়ে আমার পিঠ বেলা শমী
করা হবে বলে আমাকে জানালেন। আমি তাতে সম্মত হলাম এবং
সেই দুটা গু,
মনে ত পুলিশই বে, তারা আমার কাগজপত্র
খেতে লাগল।
পান থেকে বিদায় নেবার সময় কি শম। আমাকে বুকে
আসমানীদের ধর্ষবই পাঠ করতে দিয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম য}ি
35
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি
সাৰ পাই তবে কাহাকে বলে বইগুলি পাঠ করে একটা মন্তব্য তার
কাছে লেখে পাঠাব, কি বইগুলি দেখবার এতিও আমার মনে জাগেনি।
বইগুলির পেছনে কতকগুলি অব ছিল তাতে ভারতীয় মীর
বৃটিশ সাম্রাজ্যবাসী বেশ আলো করে নেক কিছু শিখেছিল। আর
সেই মিনিটা কেললািন সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে পড়ল। বইয়ের কয়েক
না পাতা পায়েই এখনকল লোকটা নিশ্চয়ই বেংগল টেনি।
আমি কম লোকই না লােকটি বলতে হয়। এত কি
করার পর হতে ৪ কেপিটেলিটনের খামাখা চার। আমার কথা
ন কি যেনেট এর গুর দিকে অনেকক্ষণ চেয়ে থেকে কলেন,
আপনি তৰে গা গো কেন।” “
নিই এই বই-এর
পেছনে দুপাত কি লেখে দিয়ে তা খেবারও সৎ রনি, তা
বলেই ত আমি বইখানা সাগর এনে নিকেশ করিনি। যদি আমার
মনে কোন কুতব কত তৰে কেনে আসতাম না, নিজের দেশে
থেকেই অনেক কার কী गाय रणय। मिः
মি বেনেট
আমাকে সকাল বিকায় নি। এ দুটা আমার দিকে তাকিয়ে রইল।
এখন থেকে আমার কাছে এই লােক দেখা করতে আসতে
লাগল, কিন্তু কোন মিলুই আর এসে দেখা করল না, নছিলাম
দে নাকি খান লিমার সংগে যদি ভাল কথা বলবে
ফেনে সরকার তাদের নেঙতে বের করে দিবেন। আমিও এই অবুঝ
এমিতে পেশি বলে ফোন নম না।
একদিন ইলিশ খান এলে আনল আর না একটা বড়
নােমশা দায়েরে এবং তার কিার জেলেই হবে, আমি সে সংৰা
এন এ নিলাম। চিত্র নিয়ে ভাবে নেয় জীবন
শেন রানত শৰ।
কারাগারে
৪৫
কয়েকদিন পর মিঃ বেনেট এসে বললেন আমার বিচার হবে, কোন
ব্যারিষ্টার নিযুক্ত করতে চাই কি না? আমি তাকে বলছিলাম আমার
কে আমিই চালাৰ। ব্যারিষ্টার নিযুক্তির কোন লয়কার নাই। বিচারের
দিন সাব্য ।
একদিন তাতে বেলা সাতটার সময় বিচার আরম্ভ হল।
একজন স্যাজিষ্ট্রেট বসলেন আমারই সামনে। তাঁরই পাশে এমন
উকিল। একদিকে ইমিগ্রেশন বিগগর লােৰু অদিকে সরকারের লোেক
এবং কয়েকজন ।
সর্বপ্রথমেই একজন বললেন “দি বিশ্বাসের ফলে কখন বই
আছে যার পেছনের দুটা পাতায় বৃটিশ সরকারের বিষয়ে অনেক কিছু
লেখা রয়েছে। যে-লােৰু এরূপ দলিল নিজের কা রাখে সে নিই
বৃটিশ সরকারের একজন বিৰেী লােক। এই কথাটা নিয়ে সরকারী
উকিল বেশ একটা লেকচার দিলেন। আমাকে কাগ কম দেওয়া
হয়েছিল। নােট করে রাখলাম, সরকারী উৰি ভাল নন।
ইমিগ্রেশন বিভাগ বলতে লাগলেন আমাদের এখানে যদি ই
ইঙিন রয়েছে তাদের সংখ্যা এত বে মেলাতে ইমিগ্রেশন বিভাগ
নিয়ম মতে আর এন ইইরানকে : আসতে দেয়া যেতে
পারে না। দ্বিতীয় লােকের কাছে এত অনাই যাতে করে তিনি
ইমিগ্রেশন বিভাগের সরকারী টাকা দেখতে পান, অতএব তাকে
নির্বাসন করা হউক এবং বর্তমান ইন অবামী পানী কোম্পানীকে
बामन Cren एक ब रषित मनास्पशन एक चाना
(ছে সেই স্থান দেন গৌছ যে যা
ম্যাজিস্ট্রেট ও নেশায় তিনি বল, সে
আমার বিন আনা হলো না বিলায় কি ?
s৬
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি
আমি বললাম মি অত্র এবং উপস্থিত মহাশয়গণ, আমার বিরুদ্ধে
নেকগুলি চাই আনা ছে।
প্রথম চার্জটি সরকারী তরফে
উকিল যেভাবে প্রকাশ করেছে তাতে মনে হল তার ইং
ভাবার নােটই দখ নাই। এরূপ লোককে কাজে লেগে কেনেডিন
সমকাৰ নিই হবে। আমি রে নিয়েছি সরকারী উকিল
একজন অভিজ্ঞ লােক, তাই তিনি আমার বিরুদ্ধে চার্জগুলি কিছু চিন্তা
করেই শেখানাে কথার মত বলে গেছেন। আমার কাছে
কখানা ধৰই হিল তাতে বৃটিশ সরকাৱকেই নিন্দা করা হয়েছে।
আপনারা কি ইঙি সরকারের পিসতুহু ভাই যে বৃটি সরকারের
কথা চিন্তা করেন। যদি তাই হয় তবে আমার বিরুদ্ধে যে চার্জ
আনা হছে যে শখ আমি অনেক কথাই বলতে পারি এবং আমার
এ এলান এতে যে ভারতীয় লােক বই দিয়েছেন তাকে
দায়ী করতে পারি এবং আমার বিশ্বাস তিনিও তা স্বীকার করবেন।
অতএব আপনের ভারতীয় লােককে ডেকে এনে বিচার করে শান্তি
দিলেই ভাল হবে, আমাকে কেন এ বিপদে ফেলছেন? যদি উদোর
পিণ্ডি বুখাের বাড়ে দিতে চান তবে আমি সে পিণ্ডি গ্রহণ করতে
না হব, কারণ আপনাদের মত শক্তিশালী ভূতদের তাড়াবার আমার
কেন ক্ষমতা নাই।
ইমিগ্রেশন বিভাগ আমার নামে যে চার্জ এনেছেন তা সত্য নয়,
কাছে একশত আমেরিকান ডলার, ছাবিবশ ইংকি টারটি
এবং দু’গত জাপানী ইয়েন আছে। আমি মচক্ষে দেখেছি জাপান দেশ
হতে আগত একজন বৃটনের কাছে মাত্র দুটি ইংলিশ ষ্টারলিং ছিল,
তাকে কেনেডাৰ একেশ করতে দেয়া হয়েছে, যদি তাকে কেনেড়াতে
এবেশ কতে না দেয় তবে তাকেও এখানে খেতে পেতেন।
কারাগারে
৫৭
আমি ভেবেছিলাম এদেশের লােৰু এবং অতিখিলামণ, কিন্তু
এখন দেখলাম আমার ধারণা ভুল। একজন পর্যটককেও তাদের
দেশে কয়েক মাস খাই
নয়, অতএব এদেশে আমার
কোন মতেই থাকা কর্তব্য নয়, আমি যেন তে এসেছিলাম
সে স্থানেই চলে যাব ঠিক করেছি।
যাজিষ্ট্রেট মাথা নত করে কি লিখলেন এবং অতি ধীরে পাঠ
করে যাবার সময় আমার হাতে হাত রেখে বলেন, আপনার ভ্রমণ
সফল হউক। আমি তাকে বলেছিলাম আমার এমন নিস সফল হবে,
তা আমি জানি, এবং এটাও জানি আবার আমি কেনো আসব এবং
আপনাদের দেশ এণ করবা।
১৯৩০ সালে আমি কেনে ফের গিয়েছিলাম। এই ঘটনা ঘটেছিল
১৯৩২ সালের অক্টোবর মাসের দু'দিন থাকতে; বিচার হয়ে গেল। ম্যাজিস্ট্রেট
চিঠির মারফতে জানালেন আমাকে দেশেই যেতে হবে। কিন্তু এর
কি বাতি তা বলে মনে হয় এৱা না করতে পারে এমন কোন
কাজ নাই। এর ধারণা ছিল আমি তাদের বিরুদ্ধে উথ আদালতে
আলি করব, সে ফিরে আৰু যেদিন বন্দরে আসল সেদিনই বিচার
করেছিল। এদের ধারণা ছিল আমি সত্যই হীন প্রবৃত্তির লােক।
আমি কিন্তু গাপিল করিনি।
বেলা দশটা আবার দরজা খুল।
একজন অফিসার ব্যস্ত সমস্ত
হয় এসেই বললেন, 'চলুন, এখনই আপনাকে জাহাতে গিয়ে বসতে হবে।
আমি যতদূর সত্ব পাৰি পােৰাক পরে লােটার সংগে চললাম।
অামার জিনিস সাইকেল এবং পিঠ ঝােলাটা একটা মোেটর উঠান হল।
সেই নােটারেরই এক সিটে আমি গিয়ে বসলাম। নােটকার যে হে
করে চলে যেটিতে আসল। আমাকে নিয়ে একজন অভিলার একটি
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি কেবিনে প্রবেশ করলেন। সেই কেবিনে আরও তিনজন জাপানী ছিল। তাদের মুখ দেখে মনে হল তাদের এদেশ হতে তাড়ান হয়েছে। আমাকে নিয়ে ভিপাের্ট হবার লােক পাম চারজন। আমি কেবিনে একখানা চেয়ারে বসে বিএম করতে লাগলাম। কিসারটি ৰক্ৰ নিক্ষেপ করে আমার কাছ হতে বিদায় নিল এবং বাবার বেলা বা হতে কে তালা বন্ধ করে চলে গেল। আমি গােল খিরকা দিয়ে চেয়ে ইলাম। আমার বুকটা যেন জেগে যাচ্ছিল। আমার শ্রণে এবার বাধা পল। করার কিছুই ছিল না, তাই নীরবে সময় কাটাতে লাগলাম। কতক্ষণ পর কয়েকজন জাপানী এসে দরজা খুলল। তারা তাদের আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলে বিয়ের বেলা প্রত্যেকে প্রত্যেকের হাতে কতলি পানী নােট ওতে দিতে লাগল। পালাক্রমে তার জামার কাছে এসেও নােট দিতে লাগল, আমি তাদের দিকে চেয়ে রয়েছিলাম মা, কি বলার ভাষা ছিলনা। এরা সবাই যখন চলে যাচ্ছিল তখন বললাম আমি পানী নই, আমি ইলােজীন ভুল করেছ টাকা দিওনা। তারা আমার দিকে আর চাইল না। রেজা বন্ধ করে চলে গেল। এ নগর উঠা, মােড় কেরাম, তারপর পুরাদমে সমুদ্রের দিকে বেরিয়ে পড়ল। কেবিনের দরজা খুলল আমি নােটল গুণে পকেটে রেখে ডেকে গিয়ে বসলাম এবং কেনেভায় পাইন বৃক্ষরাজি গরিবো বলে দিকে চেয়ে থাকলাম। তাৰছিলাম ইমিগ্রেশনের আগত ধীনতা নিয়ে বিবাদীদের ছিনিমিনি খেলার কথা। পূজিবাদীর ফল এ পৃথিবীতে কত মায়ের কোল হতে কত যে কেড়ে নিচ্ছে শীতে শীকে বিচ্ছি কহ, ভাইকে দিয়ে, তাকে তাে কাছে তার হিসাব খুজিবাদীয়াই ৰাখে। আমি এ যেন কি গৰিনি।
কারাগারে জাহাজ বাহির সাগরে যাবার পর আমার ছেড়ে দেওয়া এবং আমন, কে কোন কেবিনে থাকৰ তাই দেখিয়ে দেওয়া হল। আমাকে যে কেবিন দেখিয়ে দেওয়া হয়েছিল সে কেবিনে কয়েক জন চীনা এবং কয়েক জন আপানীও ছিল। আমাকে দেখা মাত্র তারা কেবিন পরিত্যাগ করুল। অপু একজন মানুচুৰিয়াবাসী ইহুদী এবং একজন সােভিয়েট গেল । আমার বার্থ নয়টি দেখেই আমি বাইরে চলে আসলাম এবং অস্পষ্ট কেনেনি দেখতে লাগলাম। সেদিনই বিকাল বেলা জাহাজের পালায় আমাকে জিজ্ঞাসা করুন, “ফিরে যাবার গড়া আমি দিচ্ছি না কেনো সরকার দিয়ে আমি বললাম, এ, ওয়াই, কে, দিচ্ছে। এই কাজল জাপানী ওয়াইনে কোম্পানীয়। আমার কথা শুনে লোেকটায় মন খাপ য় গেল এবং তৎক্ষণাৎ কখন কে কি বলে দিল। তারপরই বিকাল বেলা যখন খেতে গেলাম তখন দেখলাম তার খাবার খ বব হে। অর্থাৎ আমাকে যে খাদ্য দেওয়া হচ্ছিল তা এরূপ এখায় বললেও যে ২ না। খাবার খেয়ে খাদ্যের গরিমা আমায় কেবিনমেটদের বলা এবং এও জানালাম যে যদি এরূপ খাত খেতে হয় তবে আমার মীর দুর্বল হয়ে যাবে। আমার কথা নে সােভিটেশ এবং ইহুদীয় গাল লাল হয়ে গেল। তারা উভয়ে বলল ভর করবে না, আমরা আপনাকে খাবার এনে দেব।” সেদিনই লাল জশ কটি, মাখন চুরি করে এনে আমাকে খেতে দিয়েছিল। পরদিন থেকে শুধু তরল খা ছাড়া আর সকল রকমের খাদ্যই এরা আমার এ নিয়ে আসত। ইহলীর সংগে কয়েক খানা বই ছিল। তাই পড়ে আমার সময় কাটত। অনেক সময় বৈব হারিয়ে ফেলতাম এবং উত্তর সাগরের শীতল বাতাস মাখার লাগাতাম। এক দিন উ সাগরের বাতাস লাগাতে গিয়ে ডেকে গালশ।
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি তখন আকাশ পৱিকার ছিল, পূর্বের মিিষ্ট আলাে সমূত্রের কালাে জলে পড়ে চক চক করছিল। এমনি সময় একবল তিমি মাছ জলের নীচ হতে উপরে উঠল আর কতক্ষণ পরই মাথা নীচের দিকে নিয়ে লেজটা সােজা করে জলে ডুব দিল। সে দৃশ্য যেমন সুন্দর তেমন ভীতিপ্রদ। কতক্ষণ দাঁড়িয়ে দৃশ্যটি দেখে কেবিনে চলে আসলাম। কেবিনে বসে থাকতে ভাল লাগল না। পৃথিবী এমন কি করে সমাপ্ত করব তাই চিন্তা করতে লাগলাম। দুঃখের বিষয় এবিষয়ে কোনও সাহায্যকারী পাইনি যিনি আমাকে সৎ উদশ দিয়ে সাহসী কনে। বার দিন পর আমাদের জাহা ইয়াকোহামার কাছে আসল। বারদিন আম ভূমি দেখিনি। এতদিন পর ভূমি দেখতে পেলাম। সকলেরই জান হলামারও হয়েছিল। আমাদের জাহাজ যখন ইকোহামাতে আসল আমি মনে করলাম এবার আমি মুক্তি পাব। এবার আমি মনের আনৰে এণ করব। কিন্তু যখন আমার পাখপাের্ট জাহির করলাম তখন জাপানী কাষ্টমস বির "মিলিয়ন বার ক্ষমা চেয়ে বললেন, আমাকে পান নামতে দেবেন না। আমি তার কারণ জানতে চাইলাম। অফিসার বলেন, কেনভিন সরকার যার নামে বদনাম এনেছে, তার স্থান জাপানে হতে পারে না। ইমিগ্রেশন অফিসার এর বেশি কিছুই বললেন না। আমি কোদশা না বলে আকার কেবিনে এসে বাতি জ্বালিয়ে বসে চি করতে লাগলাম, এই কি এশিয়ার গৌরব জাপান? আমার মনে এই খাটাই বার বার বা করছিল। ভারতবাসী চীনের সাহায্য পেতে না, কিন্তু চীনের সীনতা পদ্মপত্রের জলের মত টলমল করতি অণ এশিবায় গৌরব গাপনীদের কাছ থেকে কোন সাহায্য পাবার সম্ভাবনা ছিলনা এবং এখনও নাই। চোখ দুটো দিয়ে আগুন টা, আমি একাকী বসে দিন ছিলাম এমন সময় একটি পানী এসে আমার কাছে বস। লেল বলল, আমি জানতাম তােদর দুর্গ কবে তাই তাকে
কারাগারে
এই বইগুলি পড়তে দিয়েছিলাম। নেনে রেখে ব পালনীয় রূটিন এবং
আমেরিকান নীলে বড়ই অ করে। তাদের স রাখার ও তােমায়
আলেও ফেলে দিতে পারে। তুমি কি বলেন।
কোেেত তােমাকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে। তুমি চীনের একটা
হিলা নিয়ে নিয়ে তবেই সকল বালাই হতে রক্ষা পাবে। চীন কনসাল
তােমাকে যাতে ভিসা দেন তার ব্যবস্থা আমি করে দেবো। লােকটি যেন
আগুনে জল ছিটিয়ে দিল। আমার ঘর ছেড়ে মাথা ঠা হল,
কি সে আমার কাছে বলল না, চটপট করে কেবিন হতে বের হয়ে
চলে গেল। যাত্রী আপন আপন গন্তব্য স্থানে চলে গেছে। আহারে কোন
বালী রইল না, তাহলে আমি একাকী, আর যারা ছিল তারা সবাই
লালী।
ইয়াকোহামা হতে সাহা নাগােয়া এবং আরও এটা আপানী বার
হয়ে কোনেতে গেল। এখানে জাহাজ লাগাবার পরই বৃটিশ কনসালকে
টেলিফোনে চাকলাম। তিনি তার কেরাণীকে পাঠান। কেরাণী বালানী
প্রথামতে “মিলিয়ান টাইমস্ ক্ষমা না চেয়ে “I am afraid” বলে
কথা শেষ করলেন। বুঝলাম আমার আর কোথাও কোনরূপ সায়
পাবার সম্ভাবনা নাই, সিংগাপুরই চলে যেতে হবে। হঠাৎ মনে হল আমাণ
কথা। আমাণী একজন যুবক ব্যবসায়ী। তাকে ডাকলাম। সে জানালো
বিকালে এসে কথা বলবে। কি তাকে যখন
কি তাকে যখন জানালাম বাটার
পূর্বে অ আহারে পরে আমাকে সাংহাই পাঠান বে তখন সে আসতে
রাজি হল এবং আসল। জাপানী ভাষা তার বেশ শনা ছিল।
সে যখন আসল তখন একজন অপৰিচিত চীনা এলে বিনা বলে
চৎকার করতে লাগল। আমি তার কথায় সাড়া দিলাম। সে
বা কেন ও তার কোন সময় পর সে আমাকে দি
প্রশান্ত মহাসাগরের পাতি এছ। সে আমাকে নিয়ে শিকিল যাবে। আমি তাকে সংণে আসতে বললাম। আমাণ আমাকে জাপানী পুলিশ স্টেশনে নিয়ে গিয়ে নয় হাজার ইয়েন জমিন হয়ে চার দিনের এ আপিন থাকার আৰীনতা কিনে আনল, আমি সেদিনই চীনা লােকটির সংগে চীনা কালের বাড়ি গেলাম এবং চীন এৰেশের ভিসা নিয়ে আসলাম। আমার মন হতে সকল কুচি একদম চলে গেল। যে চীনা আমার সংগে জাহাজে এসে দেখা করে পিকিনে নিয়ে যাবে বলেছিল সে আর কখনও আমার সঙ্গে দেখা করে নি; আপানী নাবিকের ত কোন পাত্তাই পাওয়া গেল না। টান মে গিয়ে আমি প্রায় সকলের কাছ থেকেই ভাল ব্যবহার পেয়ে ছিলাম। চিয়াং কাই সেফের বিয়ে কম কথা বলিনি কিন্তু তিনি ভারতীয় গার পাটকে মাসিক যা সাহায্য করতেন তা একটি মােটা টান। যারাই দরপাটি লােক বলে পমি দিত এবং গদর পাটিও যায় নিজেদের লােক বলে স্বীকার করত তারা সকলেইমাসে বিল পার করে পেত। মা মহেপ্রতাপ মুখে মুখে বলতেন ধর্ম, কি অনে ছিলেন কমিউনিষ্ট। চীন সরকার তা জানতেন, কিন্তু তা বলে তাকে যে এনে বৃটিশ সরকারের কাছে অজির কক্ষে নি , চীন দেশে তাকে নিরাপদে বাস করতে দিয়েছিলেন। যখন রাজা মহেন্দ্রপ্রতাপ বুঝলেন, জাপান উত্তর চীন সত্বরই আক্রমণ করবে তখন মনের কথা আরও চেপে পানেই চলে গলেন। তার সাহস হল না চীনের কমিউনিষ্ট দলের সংগে মিশে গিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করেন। বয়স যখন বাড়ে তখন কার কার ক্ষমতা থাকে না, লােক চায় একটু আরাম। রাজা মহেন্দ্রপ্রতাপ ও আরামের পক্ষপাতী হয়েই বৃটিশের বিপরীত ক্যাম্পে থাকাই পছন্দ করলেন। দ্বিতীয় দিন যখন তার সঙ্গে ফোবেতে দেখা হয় তখন তিনি দুঃখ করে বলেছিলেন
কারাগারে
যদি তিনি জানতেন জাপান এরূপ হবে তবে তিনি জাপানে আসতেন না।
কেন তিনি আমাকে একথা বলেছিলেন তারই কথা এখানে বলছি।
হপুর বেলা রাতার সংগে আমার দেখা হয়। তিনি আমাকে কতকলি
এ মন্দিরে নিয়ে যান। এ সম্বন্ধে অনেক কথা বলেন। আমি তার প্রত্যেক
কথায় সায় দিতে থাকি। একটা ধা মন্দির হতে বের হচ্ছি এমনি সময়
যা একদম যুক্ত করে বলেন, “আপ সাম্রাজ্যবাদ সবই মতলব
আনতেহে?” খ সাহেব বলে আমি তার সামনে গিয়ে পড়লাম।
রাজা রাগ করে বললেন জাপানভি সাষাবাদী এত ই রান।
আমি মাকে আবাস দিয়ে বললাম না সাহেব, আপন যে সাম্রাজ্যবা।
তা আমি জানি। আমার হাত ধরে বললেন “জাপান উর রূট নে
কতি কমিউনিটলােগাকে আচ্ছা করে নাহি হেগ, এ বাত তিয়ান
বা।” আমি মাথা নাড়লাম। রাজা আমাকে ছেড়ে দিয়ে নিজের বাসায়
দিকে রওনা হলেন।
শীত ব্যাসবিহারী দেশেতে কি করেছিলেন তা সবাই জানে কি
শনে যাবার পর তার কি কষ্ট হয়েছিল তা অতি অল্প লােকই
অবগত আছে। আর তার একমাত্র বলব। তিনি আপিন পৌছায়
একমাস পর বৃটিশ সন্ত্রকার যখন বুঝলেন রাসবিহারী কাপানে আছেন,
তখন জাপান সরকারকে বৃটিশ সরকার রাসবিহারীবাবুকে ভারতে পাঠিয়ে
যেৰাব লােখ কে। পাল সরকারও তাতে রাণীন।
যারা পুরান । বাতি পলাতী ম বলছি বর্তমান
রানীতিতে সেই আদিম যুগের রাষ্ট্রনীতির কোন সময় নাই। বর্তমান
রাজনীতি শেয়। যারা এখনও জাপানকে মিত্র ভাবেন তাদের
বানিয়ে দিচ্ছি, আপিন ভাৱৰাণীর জি কোন মতেই তে পারে না।
সাধাৰা বটি ভারত নিয়ে বেশন করে ফিরে এৰে তেৰি
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি সাম্রাজ্যবাদী জাপানও ভাল করে জানে, যদি ভারত স্বাধীন হয় তবে বুজি জাপানীদের পৃথিবীর বীর ও বুদ্ধিমান ভাৰতবাসীর কাছে মাথা নত করে থাকতেই হবে। সেজই পলাতক রাসবিহারীকে জাপানী সাম্রাজ্যবাদী, বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদীর হাতে সমর্পণ করতে চেয়েছিল। রাসবিহারীর দোষ এবং গুণের সমালােচনা করার অধিকার আমার নাই, আমি শুধু এখানে বলব, কি করে চতুর বাংগালী জাপানী সাম্রাজ্যবাদীকে বৃদ্ধাংগুষ্ঠ দেখিয়ে ছয়টি মাস আগােপন করে থাকতে সয়েছিলেন। জাপানীরা তাদের পাদুকা ঘরের ঘরের ভেতর নেয় না। বিয়ার তখন জাপানী পোশাক পরতে আরম্ভ কমেছেন এবং সেই গোপানী খড়মও ব্যবহার করছিলেন। রাতে বেশ কারপাত হয়েছিল। পলি তখনও বফে আবৃত ছিল। সবিহারী গলিপথ রে তখনকার দিনে এক মামুলী মীর রে উপস্থিত হন। মন্ত্রী বা তাকে সার সস্তা করে। রাসবিহারী মন্ত্রী করার সংগ ৰসে যখন চা খালি তখন সেই পরিবারেরই একটি ছেলে এসে জানাল পলি রায় গড়িয়ে আছে। রাসবিহারী বুঝলেন এবার তাকে বুকে কাজ করতে হবে। তিনি গল করে জানতে পালিয়ে যদি যান এবং ধরা পরেন তবে তাকে খুন ভবনই গমন করতে হবে। আর যদি ধরা না পরেন তবে বেঁচে থাকবেন মাত্র। তিনি বেঁচে থাকাটাই পছ করলেন এবং পেছন দর দিয়ে এ বন্যায় সংগে নিকটস্থ বেইসা বালিকাদের আড্ডায় গিয়ে তাদের পােশাক পরে এবং চুল লাগিয়ে সেই দেশে থাকতে লাগলেন। তাকে ছয়টি মাস জাপানী পুলিশ খুজে পায়নি। অবশেষে তিনি বকত্বেগণদের সাহায্যে পানী এহতে সক্ষম হন। সাম্রাজী জাপানী এবং কে প্রেগণ এক জিনি নয়। রেগণদের জাপানী সাম্রাজ্যবাদীয়া নাকি, নেলি কারাগারে বলেই ধৰি করে এবং সরকার হলে গাল দিতেও কসুর করে না। যদিও এসব কথা এখানে বলার ইচ্ছা ছিল না তবুও বলে ফেললাম কারণ মরণ এসে কোন বিন শমন জারি করে তার স্থির নাই। এসব কথা রাসবিহারী যেদিন আমার কাছে বলেছিলেন সেদিন তিনি আমার কাছ হতে চীন দেশে জাপানী এবং অন্যান্য সামাজ্যবাদীদের শুব লীলার কথা শুনেছিলেন। এতেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম আপনি “চাচা আপন বাচার দলের সাম্রাজ্যবাদী।” সেই দুর্বল এবং লােভ আমাকে নিই স্থান দিতে অসমর্থ ছিল কারণ কেনে সরকার আমাকে তাদের দেশ হতে গড়িয়ে দিয়েছিল। ১৯৩৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাস। অপানের আশপাশের সা একম নিল। চারদিন জাপানে বাস করে পচ নি সকাল বেলা জাহানে এস উঠলাম। এবার আমি তৃতীয় শ্রেণীর বাণী নই; দ্বিতীয় শ্রেণীর টিকেট কিনছি। দ্বিতীয় শ্রেণীতে খাওয়া থাকা আরামের। দ্বিতীয় শ্রেণ। যাত্রীর প্রতি বস্তু বাবুর্চি সবাই অন্য রকমের ব্যবহার করে। আমার অতিও সেরূপ কপট ব্যবহারের কোন কমতি অনি দেখে মুখ হয়েছিলাম। হাল ছেড়ে দেবার পর কয়েক ঘন্টার মাঝেই দু'একজন ইউরােপীয়ান এবং বিশিষ্ট ফরেকজন আপানীর সংগে আমার পরিচয় হয়। পরিচিত ভলােকদের মাঝে কয়েকজন পণ্ডিত লােক ছিলেন। শিক্ষিত লোকের সংগে মিলামিশা আমি সব সময়ই পছন্দ করি। এসব শিক্ষিতদের মানে একজন জার্মান পােক ভারতীয় পৌরাণিক তথ্য নিয়ে আজীবন গবেষণা করছিলেন। এই ব্যবস্থাও তার জাতীয় তথ্য সংগ্রহ ম্য স্পৃহা দেখে আমি ভিত হয়েছিলাম। তিনি সারাটা পৃথিবীর এসেছেন এবং আরও কম করবেন সেই বললেন। তাঁর কাছে বর্তমান প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি দেশের উন্নতির কথা শুনলাম এবং তিনি মসিয়ে ভালিনের এত প্রশংসা ফলেন যে, যদি আমি সেসব কথা এখানে বলি তবে একখানা বই হয়ে ৰাৰে। কুশিয়ার বর্তমান পররাষ্ট্রীয় কুটনীতির কথাও তিনি আমাকে বলেন। এসৰ লােক বর্তমান, ভবিষ্যৎ এবং অতীতের কথা এমন সুন্দর করে বলেন, যা শুনলে মনে হয় তারা যেন এক একজন পয়গম্বর। এই ভদ্রলােকের কাছেই ইউরোপীয় রাষ্ট্রনীতির কথাও শুনেছিলাম। তিনি যা বলেছিলেন তার প্রত্যেকটি কথা আজ পর্যন্ত মিলছে। ভবিষ্যতে মিলবে কিনা তা জানি না। আমার মনে হয় তিনি যেন বলেছিলেন বৃটিশ সাম্রাজ্য বাদীরা জাপানী সাম্রাজ্যবাদীদের সঙ্গে হাত মিলাতে বাধ্য হবে। সেই টি যদি ঘটে তবে নাম সত্তর বৎসরের বৃদ্ধ, মোবাসী জার্মান ভলাকে মি পরগর বলেই স্বীকার করে নিব। কিন্তু তা হবে না। এই অজ্ঞাতনামা ভদ্রলােক ভারতীয় পৌরাণিক তথ্য অনেক সংগ্রহ রেছিলেন। তাকে যে কোন জাতীয় সত্যিকারের পণ্ডিতের সমকক্ষ বললে নেবে না। তিনি যে স বে ব্যাখ্যা আমার কাছে করেছিলেন তা অতীৰ লয়। বেলের অর্থ জান। জ্ঞানের উন্নতি হচ্ছে এবং হবে। অতএব আম যে চারখানা কেতাবে বেদকে আবদ্ধ করে রাখি তা অতীব অজ্ঞতার । এই ভদ্রলােকের সংগে চারদিন সময় কাটিয়ে মনে হয়েছিল এরূপ লােকের সংগেই যদি সারাটা জীন কাট বে সে জীবন হবে আনল। চারদিন পর যখন তাহা সাংহাই আসল, তখন সকলের কাছ হতে বিয়ে নিয়ে যখন লেকিং মেসিগারেট খাবার ঘরে গিয়ে বললাম তখন দেখল একজন ব্যর সংগে। তিনি কাষ্টম অপিসে কাজ করেন। উকে দেখে এই আনন্দ হয়েছিল যে ইচ্ছা বেছিল শীৎ তাকে এড়িয়ে এলি, কিন্তু তাই ইংগিতে কোনরূপ জানল একা না করে সাধারণ বীর মত জায়তে নেমে পড়লাম। সাইকেলে উঠতে যাচ্ছি এমন সময় সাহাই একজন চীনা বলল, “এশিয়া হােটলে যান, রুম নম্বর ৩৫ আপনার অ ঠিক করা আছে। আমি কোথাও না গিয়ে এশিয়া হােটেলে এসে ৩০ নং দখল করলাম। এই কাষ্টম অফিসার টেলিফোন যােগে আমার এ ঠিক করে দিয়েছিলেন। সাংহাই এবার জাপানী চাপাই এলাকার যে সকল স্থান দখল করেছিল, তার সবই পরিত্যাগ করেছিল। চাপাই নতুন করে গড়তে শুরু হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা অকাতরে অর্থ খরচ করছিল, কিন্তু একটা কোম্পানী একেবারে সকল কাজ বন্ধ করে দিয়ে উধাও হয়েছিল। সেটি ল কমাশিয়াল প্রেস। কমার্শিয়াল এেসে প্রতি জাপানীয় যতটুকু অত্যাচার করেছিল তার চেয়ে বেও অত্যাচার শুরু হয়েছিল টলেৰ । যারা মার্কিন প্রেস দিনে কও বেছি তাও অত্যাচার তে সেই পানি। তাদেরও রান করে মান বাঁচাতে হয়েছিল। যারা দেশের মুক্তি চায় তারা ঘরে বাইরে সর্বত্র নিগৃহীত হয়, পকৃতির মাযের যায়। আপানীদের বা পরিত্যক্ত চাপাই এলাকা দেখবার মত যান রে পড়িতেছিল। আমি প্রায়ই তথায় যেতাম এবং কে গল করে নট খে আসতাম। এর পরও অনেক কিছু জানবার বিষয়ছিল, কিন্তু গতবারের মত আমি শান্তি পেতাম না। পৃথিবীর কোনদিকে যাই, কি করে নাই তাই আমার মাথায় ভন করত। তারপর এন লােৰু যেন না নেলে সব সময়ই ভূত। এরূপ লােৰু আমার পেছন নেয়া সব ৫৮ প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি এবং আমার নয়। আমি নানা লােকের সংগে মিশতাম। যে সকল লােকের সংগে মিশতাম তাদের প্রতি সামান্য গুরুত্বও আমি দিতাম না, কিন্তু যারা আমাকে ঘুরতে দেখত তারা ভাবত, আমি একজন বড় জয়ের পলিটিক্স-এর চাই। পলিটিক্স যারা করে তার বৃঃৎ উদ্দে সিদ্ধি করা ছাড়া সবই তুলে যায়। আর আমি আমার মতলব সিদ্ধি করার জ সবই ভুলে যেতাম। প্রভো এখানেই। আমি ভাবতাম, যেহেতু আমার মনে কোন বদমতলৰ নাই, আমি একজন পর্যটক মাত্র অতএব আমাকে সবাই নির্দোষ প্রকৃতির লােক বলেই মনে নেবে ; সেরূপ ধারণ করা মহা অন্যায়। যে সকল দেশ রাষ্ট্রনীতিতে উন্নতি লাভ করেছে সেই দেশগুলিতে বাৱা কোনরূপ বিশ্রাহ আনবার চেষ্টা করে তাদের লােকালেই থাকতে । তারা শত্রুব সংগে পুরাদমেই দুষমনী করে, কোনরূপ দয়া দেখায় না। ও তেমনিই ব্যবহার করে। যারা বিদ্রোহের ইতিহাস পাঠ করেছেন তাই বিষয়টা ভাল করে বুঝতে পারবেন। কিন্তু আমি অবুঝ দেশের নির্বোধ পটিক, তাই আমার ধারণা অন্যরূপ ছিল। কয়েকদিন পাই থাকবার পর একদিন হিরে আমি একটা এতিনের লোন হতে কাফি কিনে আনতে গিয়েছিলাম। সাংহাই-এ কাফি নানা রকমের পায়। যাতে ভাল কাফি কিনতে পারি সে অনেকগুলি দোকানে যেতে হয়েছিল এবং ফিরে আসতে প্রায় তিনটা বেজে যায়। হােটেলে আসামাত্র মালিক আমাকে জানালাে যে, একটা বাংগালী (একজন শিখ) আমার খােজে এসেছিল। আমাকে না পেয়ে দরজার দিকে মুষ্টিবদ্ধ করে কি বলে এবং ভয়ানক রাগ দেখায়। সে বলে গেছে আমি আসা মাত্রই যেন বৃটিশ পুলিশ স্টেশনে যাই। আমি হয়ত মােটই সেদিন তথায় যেতাম না, আর একবারেই যদি না যেতাম তবে বৃটিশ পুলিশ আমার কিছুই করতে পারত না।
সাংহাই তখনকার দিনে কোন বলাৎকারী আইন বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদী সাংহাই নগরে প্রয়ােগ করতেও লজ্জাবােধ করত। এসব কথা মন থেকে ঠেলে দিন খু প্রতিশােধ নেবার জন্য তৎক্ষণাৎ পুলিশ স্টেশনে গিয়ে উপস্থিত হয়ে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সেই ভারতীয় নির্লজ্জ পশুটার বদ ব্যবহারের কথা বলায় তৎক্ষণাৎ পুলিশ কমিশনার লােকটাকে ডেকে পাঠালেন। সে এসেই পুলিশ কমিশনারকে লম্বা একটা সেলাম করে দাড়িয়ে রইল। আমি চোর তে উঠে সর্বপ্রথম লােকটাকে হিন্দিতে বললাম, তােনার জানা উচিত, তুমি যে পুলিশ কমিশনারের কাছে কান কর এবং যার কু তামিল ফর এ গিয়েছিল সেই পুলিশ কমিশনার আমার কিই করতে পারেন । তুমি গৰুতের লােক। তােমার মনে রাখা উচিত এটা ভাৱৰ তাতে যদি তােমার মত করে লেলিয়ে দেয় যে তুমি লােকটাকে আমরা করে এনে হাজির করবে।” এতলি না বলে মুখ ফিরিয়ে ইউরােপীয় পুলিশ কমিশনারকে সকল কথা ইংলিশে বাস করে বললাম। তিনি আমার কথা শুনে লিই বললেন না অপু শােকটাকে চলে যেতে বলেন। তারপর আমি সং এ কথা এক হল। যে সকল কথা পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে হয়েছিল তার সারমর্ম এখানে বলাই ভাল। তাকে আমি বলেছিলাম, ভারতবৰে বৃটিশ কোন মতেই শাসন করতে পারত না, যদি এক ৰেণীৰ ভারতবাসী গােড়া হতেই বৃটিশের সাহায্য না ফত এবং এখনও বৃটিশ, ভারতবর্ষ পালন করতে পারে না যদি এক শ্রেণীর গতবাসী বৃটিশ সাহায্য না করে। প্রকৃতপক্ষে কতকগুলি ভারতবাসীর পমেই বৃটিশ ভারতবর্ষ শাসন করছে। রাগের মাথায় আরও অনেক কথা বলেছিলাম। আর তখন যা বলেছিলাম, বর্তমানের সংগে তার কোন শব্দ নাই অথবা প্রকৃত তথ্যের সংগেও কোনরূপ খাপ খায় না। রাগের মাথায় কত কত লােকই বলে থাকে। পুলিশ কমিশনার
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি
না।
সুখীই ছিলেন, নতুবা তিনি আমাকে কয়েকটি সৎ উপদেশ দিতেন
তিনি বলেছিলেন, আমার দ্বারা আপনার কোন উপকারই
হবে না, কারণ ইনটেলিজেন্ট ব্রাঞ্চের খাতায় আপনার নাম উঠে গেছে,
তবুও আপনি একবার সিংগাপুরের বলরাম সিং অথবা ফি মেথা এবং
মেনের শি ঘােষালের কাছে সকল কথা বললে হয়ত আপনার
অনেক উপকার হতে পারে। পুলিশ কমিশনারের কথামত আমি
এদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি এবং আমার ভ্রমণ কথা খুলে বলি, কিন্তু
কতকগুলি লােভী গােমুখের অন্যায় কাজে আমাকে মহাবিপদে পড়তে
২ছিল সেই বিষয়গুলিই হন প্রশান্ত মহাসাগরের অতি চমক
ঘটনা।
বেতের মেলও শক্ত এবং বাজে মাৰে উপযুক্ত নেতা আছে সে
এতির কখনও ধ্বংস হয় না। আমাদের দেশে মধ্যযুগে উন্মুক্ত নেতার
অভাবে এবং সে বাখোলীতে অতিও গড়েনি এবং সে মোরে
কণাও আসে না। এজই আমাদের দেশের চাষ বেণীর লােক
তিদিত ন + হয়ে এ হুকুমই তামিল করুতে শিখেছে।
তাৰি ছাড়া আর কিছু করার কিছু যে আছে সে জ্ঞান তথাকথিত
৫ এবং ভগবান সবই অৱণ করে ভারতবাসীকে এত পিছির মিছে
বে এখন দের গাড়াবার ক্ষমতাও হয়নি। অনেক সময় তর্ক করে
আমরা বলি, আমাদের এটা ছিল, ওটা ছিল; কিন্তু এখন সে কিছুই নাই
সে কথা আমরা মােটেই ভাবি না। পুলিশ কমিশনারের সংগে
সাক্ষাতের পর পুনরায় আমি আমার বাবার অব কতকটা ফিরে
এসেছিলাম।
পটিকোণীবন বড়ই আরামের যদি সে জীবনকে হেসে খেলে কাটানো
কার। আমার জীবনও সেরূপই ছিল। আমি নতুন করে সাইএ নানা
সাংহাই শ্রেণীর লােকের সংগে মিশতে লাগলাম। সিকিয়ে বলে একটা সমিতি তখনকার দিনে সাংহাই এ বেশ শক্ত করে খুঁটি গেড়েছিল। এই সমিতিকে শুধু চিয়াং কাইসেই ভয় করতেন না,পৃথিবীর যত সাম্রাজ্যবাদী আছেন তাঁরা সবাই জ করতেন। সিন- নিয়ে এখন গড়ে তুলেছিলেন মাও ত। যখন তিনি হুনান এবং অন্যান্য প্রদেশে কাজে ব্যস্ত থাকতেন। তখনও এই দলের লােৰু চীন দেশের সর্বত্র নিজেদের কাম বাড়িয়েই চলত। এদের শরীরে কখনও অবসাদ গত ন; এবং এ যেন করে তাদের এর বিশ্বাসঘাতকদের নির্মমভাবে হত্যা করত তেমনটি আর কেউ করত না। মেয় লােক নানাভাবে নানাস্থান আত্মগােপন করে থাকত। সাই তখনকার দিনে চীন, জাপান, ইউরােপ, আমেরিকান গােয়েন্দাগণ এই এলের লােককে যাতে সাংহাই তে সরাতে পারে তার এ আকাশ চৌ করার ফলে প্রায় সর্বদাই নির্দোষ লােকেই শান্তি পেত, এ লােকে পাটও পাওয়া যেত না। সেই সিনফিরে এত কৃতকার্য হতে পেরেছি। যারা চীৰ সৰে মামুলী সংবাদ রাখেন তারাই সিন- নিসের কথা বেশ ভাল করে অবগত আছেন। আমি ইচ্ছা করেই একদিন একজন ভারতীয় মুসলমান ব্যবসায়ীকে সি-মি-সুলের কথা লিগা করি। আমার কথা শুনেই তিনি চমকে উঠেন এবং মুখ বন্ধ করতে ইগিত করেন। এই ভদ্রলােক ছিলেন পান্জাবী মুসলমান এবং সিংগাপুরের रेन লিজেন্ট ব্যাচের ফি মেথাৰ ৰ। বােধ হয় তিনি এ বিষয় অনেক আনতেন তাই মুখ বন্ধ করেছিলেন। পান্জাবী মুসলমানরা যখন বিদেশে গিয়ে বিপাকে পতিত হয় তখন তার বড়ই প্রেমিক হয়ে থাকে। আমার এক পরিচিত ভদ্রলে বিদেশে গিয়ে বড়ই বিপদ পড়েছিলেন তাই আপনা হতেই তিনি মেয়ে যান। কিন্তু কথা হচিনি কি করে কি মেথার সংগে ক স্থাপন করেছিলেন এখনও অন্যায় অতীত। তিনি কিন্তু প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি আমাকে শিখিয়েদের কাছ থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন। যাকে যাতে দূরে থাকতে বলা হয় সে সেই বিষয়ে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে—আমিও সিন- বিরে আস সংবাদ আনার জয় চেষ্টা করতে লাগলাম। কথিত পাৰী ভলােক ছাড়া আর কোন ভারতবাসী সিন-মিন-মুদের সম্বন্ধে কোন সংবা রাখত না। নেসনেলিষ্ট সরকার যখন কোন কমিউনিষ্টকে হত্যা করতেন ভারতবাসীরা কত একটা ডাকাতকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে অথবা লি ফর মা হয়েছে। মি যখন সি-মি-য়ের সংবাদ কোন মতেই পেলাম না এবং ফিলি- পাইন যাবার দাবস্ত করতে ব্যস্ত ছিলাম তখন একদিন হঠাৎ আমার পূর্ব শরিচিত কাটন অফিসারের সংগে পথের মাঝে দেখা হল। আমি রিকশায় কলা ছিল, তিনিও রিকসাতেই ছিলেন। উভয়ে বিপরীত দিকে চলছিলাম; চিৎকায় তিনি বললেন দেখা হবে। আমি হাত নেড়ে জানালাম, তথ। দেখা অনেকদিন পরে ছিল। দিন যায়। আমাকে আর একটি সাটিফিকেট যােগাড় করতে হবে। শাটিফিকেট ত নয়, তা একটি আমিন পত্রে স্বাক্ষর করান। সেই জামিন পরে মারফর্ম ক যদি মেনিলাতে গিয়ে আমি অর্থাভাবে পতিত হই, এবং কোন সাহায্য বৃটিন কনসালের কাছে চাই ত েমেনিলা আমেরিকা সরকার আমাকে ফিলিপাইন বীণপু হতে বঙ্কিত করবেন। বহিষ্কারের সময় যে অর্থ হবে সেই টাকা সমিন পত্রে স্বাক্ষরকারীদের দিতে হবে। কি নাম্বার এবং কি জি বলে দুই লােক জামিন পত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন, আমি তৃতীয় ব্যক্তির অনুসন্ধানে ছিলাম। যি চেন বলে এক অলােক সেদিন পরে স্বাক্ষর করতে রাবি হয়েছিলেন, কিন্তু হঠাৎ তার মনের পরিবর্তন হয় এবং মামিন পত্রে ক্ষয় করার অ দুতিন দিন সময় চরে বসেন। এরই মাঝে দেখা লাল অফিসারের কাছে।
সাহাই রাত তখন সাড়ে বায়টা। চীনা সিনেমা দেখে ফিরছি এমনি সময় একটা লােৰু আর একটি লােৰুকে লক্ষ করে বেশ লম্বা একটা বােয় মুড়ে মারামাত্র নােটার পত্ত প্রাপ্তি হল উপরন্তু যে দােকানে লােকাট বসেছিল সেই দোকানে আগুন ধরে গেল। অনেক লােক আহত হল। ফ্রেঞ্চ, বৃটি, জাপানী, চীনা সব রকমের পুলিশ এসে জড় হল। চীনারা নীরবে পথ চলে যেতে লাগল। কেউ আহতদের প্রতি তাকালও না। দর্শকের মাঝে যাৰ ছিল, সবাই বিদেশ। বিদেশীদের মাঝে সাদা , এমেরিকান, বৃটিশ এং আমিই ছিলাম। পুলিশ চারদিকে যে কোন চীনাকে পেতে লাগল তাই অনুসন্ধান নিতে লাগল। সেরূপ অবসান অনেকক্ষণ দেখলাম, তারপর আমরা আপন আপন পথ ধরলাম। ইউরােপীয়গণ অনেকেই মন্তব্য করল, এই বলে যে লােকটা চোর, দোকানে চুরি করতে না পেরে বােম ফেলে গেছে। আমি কি কিই মন্তব্য করিনি। যেটেলে আসতে প্রায় দেড়টা বেজে গেল। তখন অনেক রায় বারবনিতাগণ ধনী চীনাদের আফিংএর পাইপে আবি দিয়ে যাচ্ছিল। অনেক বর হতে বিল গন্ধ আসছিল। এসব দুর্গন্ধ এড়ার অৱে এসেই আমি খিড়কী দরজাটা খুলে দিলাম। গভীর রাত্রের বিগ বাতাস নবীবন এনে দিল। আমি কফি বানাতে মন দিলাম, এমনি সময় দরজায় কে টোকা দিল। আমি বুঝতে পারলাম এমন সময় পুরাতন ছাড়া আর কে এসে গল্প টোকা দেবে না। এরা খুলে মুখ বাড়িয়ে দেখি আমার অনুমান সত্য। নিঃ ওয়াং ঘরে এসে বসলেন এবং আমার বই লেখার কি পর্যন্ত হয়েছে তাই জিঙ্গাসা করলেন। আমি তাকে জানালাম বই লেখার সময় এখনও হয়নি, তবে আমি ভারতে গিয়ে বই লেখার পূর্বে কতকগুলি লেকচার দেব তাতে বোধ হয় অনেক কাজ হবে। আমার কথা শুনে যি ওয়া সুখী হলেন। আমি ফিলিপাইন গিয়েও চীন সম্বন্ধে লোয় বেলায় তিনি আমায় ৬ প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি ফিলিপাইন খাবার তা করবেন বলেই মনে হল। সেদিন আর কথা হল , মিঃ ওয়াং বেরিয়ে যাবার পূর্বে ঠাৎ আমার চৌদ্দপুরুষ তুলে গালি দিয়ে বের হতে যাচ্ছে এমন সময় আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম আমি ত কমরেড ই নি, তবে কেন এত ভালবাসা দেখাচ্ছেন। মিঃ ওয়াং আর কথা না বলেই চলে গেলেন। চীনাদের মাঝে যখন গভীর ভালবাসা হয় তখন তারা একে অর পিতৃ মাতৃকুল উভয় ফুলের বেশ খিস্তি করে থাকে। সেই অবস্থায় না পৌষ পর্যন্ত মনে করতে হবে চীনাযানের সংগে মােটেই রংগ হয় নি। তাের গবে। পথ ঘাটে লােৰ চলতে আরম্ভ করেছে। অন্ধ চী পথে গেয়ে চলেছে সেই ছাত্র নিপীড়ন, রাখিও স্মরণ, রেখাে মনে জাপানীর সে মূরতি ভীষণ রে। গানের সুর বড়ই করুণাদায়ক কি কি গাইছে তা মােটই বুঝিনি। সকালে উঠেই গানটার অর্থ জেনে নিলাম। আমি ভেবেছিলাম আপানীদের বিরুদ্ধেই গানটা তৈরী করেছিল, শেষটায় বুঝলাম তা নয়; গানটার অর্থ হবে “সেই ছাত্র নিপীড়ন রাখিও শরণ, রেখে অনে পূজিবাদী সে মুরতি ভীষ নে। চীন দেশে অত্যাচার কম হয়নি। চীনের অতিকামী ছাত্রদের প্রতি গৱে লােক এবং বাইরের লােক সবাই ত্যাচার কর। কত রকমে অত্যাচার করা হয়েছে তা কে আনে। যখনই কোন মহাপুরুষ তার দেশের উন্নতি করুত চেষ্টা করেন তখনই তাদের প্রতি বেজার অত্যাচার হয়েছে। বিনা অত্যাচারে কানে এলে চেনা আসেনি, চেতনা আসতেও পারে না। এসব কথা সবাই জানে কি অত্যাচার সহ করার মত মন কার কতদিন থাকে। যার মন যত কঠিন এবং যত উন্নত সে তত ধিকদিন বর্বরদের অত্যাচারের সামনে দাড়িয়ে থাকতে সক্ষম হয়। রাণা প্রতণ তার একটি দৃষ্টান্ত। তবে চীনের হাত এবং ছাত্রীয় কোন ব্যয়ের বলতে পারি না তারা অত্যাচার সই কল সাংহাই অত্যাচারীর সংগে যেমন করে গড়েছে, পৃথিবীতে তার দৃষ্টান্ত অতি কম। একাপ চিন্তা করেই বােধ হয় সে দিনটা কেটে যেতনি তাতে একা কে বড় বৰুমে বা পড়ল। আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ কৰাৰ এক প্রকার । তার বাড়ি দৌড় মাঠ কাছে। তিনি এই কে বেলা তিনটায় সময় খাবার খেতে নিণ করলেন। আমি তার নি। কাড়োইটা সময় তার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে দেখি এক সােকও সেখানে বসে তার শারে একজন নার পরিচিত। তিনি হলেন কি ওয়া। কি ওয়াং বেশি না বলেন না ধুয়ের খা শুনে যেতেই লাগলেন। খাবার শেষ হয়ে যাবার পর ডাক্তারের এ অমর গ ক তে লাগলেন। তাঁর কথায় এমন কিছু ছিল না বা এখন কোন কোন উপকাৰ ৰে। মিঃ ওয়াং শুধু আমাকে বললেন সিমিনয়ে কোন লে লােক যদি আনতে চান তবে এই পর্যন্ত জেনে রাখুন, যারা কমিউনিৰ কামে করতে তাদের যথা সর্ব উৎ কহে তাই নিৰিল। এদের আপনি খুঁজে পাবেন না। তারা কখনও সভা করে না, তারা কখনও কয়েক একত্রিত হয় না। তারা চীনের সর্বত্র বিরাজ করছে। তাকে সংগে জাপানের ব্লেকগনের তুলনা হতে পারে, এবং রােগনের প্রতি যদি পৃথিবীতে কেউ থাকে তবে আছে সিন- শিয়ে। কথাটা শুনে আমার মুখ ঝলসে উঠল। আমি সিগারেটে কমে দম দিকে অন্য দিকে চেয়ে থেকে মনের ভাব গােপন করলাম। মুখ লুকাবার চেষ্টা করলাম সত্যকথা, কিন্তু কতক্ষণ মুখ লুকিয়ে থাকা চলে। শেষটায় যখন উঠতে যাচ্ছি তখন মিঃ ওয়াং বললেন জাজই কি চেন আন্দা কাগজে সই করে দেবেন,কাল সকাল তাই নিয়ে আপনি আমেরিকার কনসাল এপিসে যাবেন। আমি নীরবে শাখা নত করে হােটেলে চলে এবং নিশ্চিন্ত মনে ঘুমিয়ে পড়লাম। আমেরিকার কানের বাড়িতে সকাল বেলাই ওরনা থেকে
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি
ল জনৈক পরিচিত সিংহলীর সংগে। সিংহলী লােকটি আমার সংগে কথা
বলে আমার পেছন নিয়েছিল। আমি ঘুরে দাড়ালাম এবং তাকে বেশ
‘শ করে বললাম আমেরিকার কনসাল আমাকে আজ ভিসা দেবেন,
পনি স আনার উর্বতন কর্মচারীদের সংবাদ দেন যাতে করে আমি
দি না পাই এবং ফিলিপাইন দ্বীপপুন দেখতে না পাৰি। বৃটিশ কনসালের
কহিবেন তবেই কাজ হাসিল হবে। লােকটা আমাকে আমেরিকার
কালের বাড়ীর দরজার সামনে রেখে বােধ বৃটিশ কনসালের বাড়িতেই
সিনি। আমি ভিসা নিয়ে আর কোথাও বড়ালাম না একন চলে
আগাম বুট কনসালের বাড়ীতে। কনসাল আমাকে জানতেন এবং
আমি উপস্থিত হওয়ামাত্রই ডেকে পাঠালেন। কথা প্রসংগে বললেন আপনি
করে দেশত জয় পেয়েছেন বলে একখানা রশি দিন আমি আদায়ে
শনিবার দিচ্ছি। আমি তৎশা ভেণত ভলার পেয়েছি বলে এক
এন সি দিলাম এবং মাত্র পঁচিশ লা মে। এই টাকাটা পাবার
একমাত্র কারণ , আমার সম্বন্ধে অনেকেই নানা রকমের বিপােষ্ট দিছিল।
এতােকেই সেজন্য কিছু পেয়েছিল, আমিই তা হতে বাদ যাই কেন এই
ৰে কনসাল অন্যান্য বিপাের্টারদের রসিদ ছিড়ে ফেলে দিয়ে শুধু আমার
অলি খানাই রেখে দিলেন। বুঝলাম পর্যটকের দেওয়া টাকায় সিদের মূল্য
তা সকলের অসিদের মূল্য হতে বেশি।
তখনকার দিনের সাংহাই এ অব শহর ছিল। একটা না গল্প
চারদিকে কুনির দলবেশন করে বিয়ে পড়ায় একটা নবাগত ইনি
চারিদিকেও ঠিক তেমনি নিয়ে মতই এ রকম জীব এনে দিয়ে
যাত। এসৰ কুনীদের নানা দেশের কনসাল পোষণ করতে।
আমার ইচ্ছা ছি ফিলিপাইন বীপের জালে নেলি তে ভাট ইউ
ই সিংগাপুর সি আসি, তাই সাংহাই কােন ভিসা
সাংহাই নিবার চেষ্টা করতে প্রবৃত্তি হয়েছিল। একদিন সেই মতলব পূর্ণ করতে ডাচ, কনসালের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হলাম। ডাচরা মিষ্টভাষী এবং মিচকী শয়তান। যদিও আচ কনসাল আমার সংগে হেসেই কথা বললেন তবুও ভিসা দেবার বেলা তা কলম আর উল না। কনসালের ঘর হতে বার হরে দেখি আমার অ একজন ভারতীয় অপেক্ষা করছে। তাকে দেখেই ব্যাপারটা বুঝতে সক্ষম হলাম। আমি ভাৰতীয়টির দিকে থুথু নিক্ষেপ করে সিনেমা দেখবার এ সিনেমার চলে গেলাম। ও পুলিশের কাজ করতে কেউ কাকে বাধ্য কলেন, তবে কেন বিদেশের ভাৰতবাসী এহেন কাজে অগ্রসর হয় সে কথার জবাব আমার নিজের মাবেই পেয়েছিলাম। অাৰ হল প্রথম কারণ, দ্বিতীয় কাৰণ হল জাতীয় গবে অভাব। আমাদের দেশে জাতীয় ভাবে জাগৰণ হয়েছে বৃটিশদের আগমনের বহু পরে এবং বচিন্দ্রের আবির্ভাবেরংগে। জাতীয় ভাব না গড়ে উঠার জন্য বিদেশ মােটই নাৰী নয়, স্বামী আমার ধর্ম এবং আমাদের দৈনন্দিন কাবণী। এখন ও মিহষের তৈরী করা ধর্ম আমাদের পায়ে বোন কুড়াল মারছে, আমাদের সমান আমাদের যেমন করে পত করে রাখছে তেমনটি অত্র দেখা যায় না। দুঃখের বিষয় আমাদের সমাজের মে এতই নরম যেন কেউ এতে মামুলী আঘাত করবে তখনই তা জেনে চুরমার হয়ে যাবে। খালিগায়ে বসে পৈতা জড়িয়ে বাজে প্রবন্ধ লিখার মূল্য এখনই কমতে আরম্ভ হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও হবে। যদি আমার কথায় প্রতিবাদ কেই বলেন এবং বলেন এখনও আমাদের পুরাতন সভা গড়িয়ে আছে তার উত্তরে আমি বলব এটা বৃটিশের ভারতবাসীর প্রতি একটা হ না। কয়েক দিনের মাঝেই টিকেট নােয় কাজে লেগে গেলাম। তথায়ও . নানারূপ এজি এ উকি মারতে লাগক। এরূপ বিপদ কি যে এত মহাসাগরের শাড়ি দেখবার থান কাজ ছিল আমার জাত ভাই ভারতবাসীই। কোনও ইলি আমার পেছন ঘূৰছিল না। আমি কি করছি, কোথায় যাচ্ছি,কার সংগে কথা বলছি, এসব লােকই সকল সময় দেখছিল। আমেরিকার কাজ চড়ে ফিলিপাইন যাবার বন্দোবস্ত করতে লাগলাম, সে রামেরিকার জাহান কোম্পানির এপিসে যাওয়া আসা করতে ছিল। আমেরিকায় না কোম্পানির একন গমা লােক আমাকে ডেকে বললেন আপনার বিরুদ্ধে হিন্দুরা উঠে পড়ে লেগেছে। আপনার সম্বন্ধে গণীয় বৃটিশ পুলিশ এপিসে এবং বৃটিশ কনলের সংগে কথা বলেছি, তারা কেউ আপনার বিজে কিছুই বলেননি অথচ আপনার মেয়ে লােৰু কেন যে আমাদের কাছে পর্যন্ত রিপাের্ট পাঠাচ্ছে তার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। নাকি বলতে বাধ্য হয়েছিলাম, সাম্রাজ্যবাদীদের পলিসিই ন *keep the dogs busy,এতে আর কোন কাজ নাই। সেই তারা আমাকে নিয়েই যত থাকে। সেদিনই আমার টিকেট কেনা হয়ে গিয়েছিল, আর সাত দিন পাই আমাকে সাংহাই পরিত্যাগ করার দিন ঠিক হল। সাতদিন বসে থাশ চল না, আমি সাংহাই শহরটা আবার দেখতে লাগলাম। দেখার পর সুগম ছিল। যেখানে যাচ্ছিলাম সেখানেই আমার সঙ্গে একজন লােক সর্বদা থাকত। চীনা গেলাে আমার পেছন নিতনা কারণ ইনারদের বমি নিজের পয়সা খরচ করে গােয়েন্দা নিযুক্ত করতে হয় তবে আর কিছুই থাকে s। সাংহাই পৰমণ বিজয়ী চীনে অনেক কথাই বলা হয়েছে সে এখানে আর নতুন করে সাংহাই সম্বন্ধে কিছুই বলা হল না।
চীন হতে বিদায় বিদায় সংহাই। তােমায় বুকের উপর অনেক দিন বেড়িয়ে গেলাম। সাংহাইয়ের কণা জীবন থাকতে ভুলতে পারব না। ইউরােপের সব কাজ মিলে, চীনের মজুরকে খাটি, ইউরােপ হতে নানান কল বা এনে বৃহৎ নগরকে এত করেছে। ইউয়ালের পুলিবাৰী ভেবেছিল অনেক বৎসল্প তারা এখানে বসে চীনের রক্ত চুষতে পারবে, কিত হয়ে উঠবে না, মানুষ উন্নতি ফয়ে যাচ্ছে। চীনায় উন্নতি করতে চেষ্টা করছে সে টান সভ্যতা কতটা সাহায্য করেছে, আর বাকিটা করছে বৈকি ভায়। আমাদের দেশের কবি গেয়েছিলেন নিজ বাসভূমে পৰাসী হবে। আমরা কবির কবিতাই এস করেছি, কি কৰি কোন প্রণে সেই কবলেছিলেন তা উপলরি করতে স ইনি। চীনের লােক আমাদের কবি । বুতে পেয়েছে তাই আত্মগােপন করে পূ কাজই করে যাচ্ছে। চীনে কি সবাই কী? তা নয়। কাজ করে কয়েকজন মা, আর বল তেল কৰে সকলেই। বিদায়ের লাে বেশি কিছু ভাবতে সম হইনি, যাতে সার কাজে উঠতে পারি তাই চিন্তা করেছিলাম। জাহাজে উঠ সাইকেলটি গল করে কেবিনে রেখে একটু বিশ্রাম করার পর নীচ গিয়ে একটু খাবার খেয়ে উন্মুক্ত আকাশ নীচে দাড়িয়ে সাংহাই নদীফের ছােটবড় নানা রকমের বাণিজ্য লোতে দেখতেছিলাম। সাংহাই পূর্ব দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বার। আসছে এবং যাচ্ছে পােট অফিসারদের কাছ থেকে যদি কােন আসতে পারতাম তবে বেশ ভাল হত নসই, কিত করিনি বলে এ বড়ই দুঃখ। আমার মনের লণ্ডন, নিউ, লিভারপুল সাউখাল,
এত মহাসাগরের অশান্তি
সোসিসকে এই কয়টি বদলের পরই সাংহাইতে স্থান দেওয়া যেতে
পায়ে। অনেকক্ষণ গড়িয়ে সাংহাইয়ের দৃ দেখে কেবিনে একটু বিশ্রাম
কলাম। এরই মাঝে হা নড়ে উঠল। আমি আর বেশীক্ষণ বলে
খাতে সক্ষম হলাম না, আবার বাইরে এসে নদীতীরের দৃ দেখতে
নাম।
ত্যাচারিত টক অবনত মতকে সামলান বের নদীতে পানি
ছে। বড় বড় না দেখে তার আনন্দ হচ্ছে তাই গত ৰৈৱ করে
সছে। কি সে সিতে মাধুৰ ছিল না। মৰবাৰ পূৰে বিকাৱত
রােগী যেন হাসে, এ সি সেই লশের। এরাও না রে অধিক
পরিশ্রমের ফলে সময়ে মরবে। তবে এর মাঝেও একটি বা না,
সেই সংবাটল চীনারা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে না। তারা ।
শােন বেশীদিন কাটতে পায় না, না খেতে পাওয়াই তার একমাত্র
কারণ। চীন যে আজ বড় আপানকে খছে তার পেত
তার আতীয় শিক্ষা। তারা কখনও “খিনং "Thin kong অর্থাৎ
গবানের উপর সব দোষ চাপিয়ে লে না। বৌ শত ভগবান বল কিই
নাই, ফক্টিস মতে ভগবান বলে যে কি আছে সে সম্বন্ধে কি
বলা হয়নি। যেখানে বাজে কথার অভাৱ নাই সেখানেই লােৰু কাৰ
জাহাজ ধীরে চলতে লাগল। জাহাজে কয়েক জাতে পাসে।
জাপানী, চীনা, ফিলিপাইনো, আমেরিকান, এবং কয়েকজন ইউরেশিয়ান।
এ পাসোরই ডেকে এসে নদীতীয়বর্তী দৃশ্য দেখছিল। অনেকে যুদ্ধের
খতি অর্থাৎ কিংস মেখে নানা মন্তব্য করছিল। আমি নীরবে দাঁড়িয়ে
সবই নেছিলা, সবই বুঝতে পেরেছিলাম কি মুখ খুলে একটি ও
বতে পারিনি। কি আর বলার আছে। আমাদের দেশে দেখেছি,
চীন হতে বিদায় ৭১ যখন পােৰু কোটে যায় তখন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে যাতে নিয়ে ব্যর্থ বজায় থাকে তাই করে, সত্য মিথ্যা মতবাদ এসবের কোন খাব না। এই যদি হয় একজনের সংগে অপর আর একনে, সেই অনুপাতে যখন একটা কাহের সংগে অন্য একটা জাতের লড়াই শুরু হয় স্বার্থ নিয়ে, তখন কি না ঘটতে পাবে। তখন সবই সম্ভব। এত ৩ বাংলা, এই ধ্বংসে পেছনে আরও কত কিছু অয়েছে তার অন্ত নাই। অনেক গাড়ির এ বিষয়ে নানা চিন্তা করে কেবিনে এসে স্থান নিলাম। এট। এমেরিকার জাহাজ। এই জাহাজ এন কোন লােৰু ৰাই নে আমার সংগে কোনরূপ বাদ সাধতে পারবে। দেশের লােক একটিও ছিল না। জাহাজ যখন চীন সাগরে আসল মন্দ দুলতে লাগল। সেই বোলার সংগে চক্ষু বুজে গেল। অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছিলাম। চারটার সময় য এসে কেবিনেই খাবার দিয়ে গেল। কারবার অর্থাৎ অকোষ সংগে বসে বেতকাদের খাওয়াটা অপমানজনক একটা বুঝতে পারে পারিনি, মনে করেছিলাম ইয়ং তৃতীয় শ্রেণীর যাত্রীদের কেবিনে বসেই খেতে হয়। খাবার পর ডেকে বেড়াতে লাগলাম। দু একজন চীনা ভাল নিজের দেশের রাষ্ট্রনীতি নিয়ে কথা বলছিল। সে কথা বুঝবার সুযােগ হয়েছিল চীন দেশে অনেক দিন খাবার ফলেই। কয়েকজন আপানী যাত্রীও ছিল। তারা ইংলিশ খরণে গাল ফুলিয়ে কি দেখিতেছিল। আমি তাদের কাছে যাইনি ত রাও আমার দিকে আসেনি। এদিকে বৃটিশ যাত্রী বড় দেখতে যায় না। এদিকে বাই বৃটিশ যাত্রী, তারা হয় ব্যবসায়ী নয় সরকারী কর্মচারী। বৃটিশ ব্যবসাৰ্থীরা অনেক সময় বৃটিশ রাজকর্মচারীদের বজাই করে থাকে। যারা তাদের কর্মচারীদের হিসাব করে না তারা অক্সকে কেন পরওয়া কবে? একজন সেই ধরণের শােক অন্য ছিলেন। আমেরিকানরা তাই কথা বলত এবং মনে মনে আগত, মুখেতি ২ প্রশান্ত মহাসাগরের গতি কি ফলবার তাদের অধিকার ছিল না। আমি তারই আভাস কিন্তু গেম বলেই কথাটা এখানে বলতে ল। কতকগুলি চীনা যুবক আমেরিকা হতে পাের ফিলিপাইন যাচ্ছিল। লােক, কথাবলার ধরণ, চসার কান্না, এবং তাদের আমেরিকান অফি সাদের সংগে ব্যবহার দেখে মনে হত, এরা বড়ই সাহসী এবং যদি দরকার অ তবে যে কোন মহৎ কার তাদের দ্বারা সম্পন্ন হতে পারে। কিন্তু ক্য করে দেখেছিলাম তা কখনও কোন জাপানীর সঙ্গে বসে একত্রে খেত না, জাপানীদের সংগে কথা বলত না, জাপানীদের এড়িয়ে যাবার এই চরত। আমি ছিলাম একা, জাহ... : একা। কথা বলার মত লোক এটিও লােম না। একটা দিন এমনি করে কেটে যাবার পর দ্বিতীয় দিন কাল একটু চেষ্টা করে দেখা যাক আমেরিকাবাসী চীনাদের সংগে কথা বলতে পারা যায় কিনা। এদের সংগে একটু যেতেই ওরা আমার সংগে কৰশতে ক কল কি জান্তরিকতা তাতে মােটেই ছিল না। আমাকে নীৰেই কাটাতে ল। সংগের বইগুলিই ল আমার একমাত্র সাথী। আমাদের হাত চীন উপল রে চলছিল। আমার কোন কাজ না না ডেকে সেই কাটাতে হত। ডেকে বস নেক বিনিৰ খেতে পেতাম। বড় বড় তোকে, শংক, এমন কি শমপান পর্যন্ত পাল খাটিয়ে যখন আমাদের কাহাজের কাছ দিয়ে নিয়ে চলে ঝেতে দেখতাম তখন অনেক পুরাতন এবং সামরিক কথা মনের কোণে এমনি এসে অমাট হত। এক একটি টিকে এবার নিজের মনের মানেই বিয়ে করতে ত। চীনা মাৰিা সমুদ্রে নিয়ে চলে, তা তার বর্তমান এবং অতীত দেখে বুঝতে পারা যায়, কিন্তু এর পরও টানা একটি বিশেষ আছে বার এ বােধ ইউৰােপীয় এবং আশানী সাম্রাজ্যবাদীরা চীনকে,
• •
al
কীৰ বিলায়
৭
দল কে নি। য়া কাৰণ নিৰ আছে তাতে কোন
সন্দেহ নাই।
তোয়াবলির মাই
হন এরণের জাহান মত।
তােমাকে নিয়ে ফাহাজ আক্রমণ করাটা আরবগণ কোনও এক সফরে কত
যে কথা আমরা ইতিহাসে দেখিতে পাই, কিন্তু বর্তমানে কোন বড় নৌকা
ভারত মহাসাগর জাহাজকে আক্রমণ করেছে বলে না যায় না। চীন
সাগরে এবং প্রশান্ত মহাসাগরে কি তা প্রায়ই ঘটে এবং সে এই
এত মহাসাগষের পূর্ব উপকূলভাগে যে সকল হােট না লাফেরা করে
তার মাঝে এমনি সুন্দর বন্দোবস্ত আছে বৃত্বেরবে দিকেই আক্রান্ত
উক, কিলাগণ এবং জাহাজে কুমনি করে এটার এ
যা পাবেই। অলষ্য যখন খালাসীদের এবং শওয়ালার
কাবু করতে পারে খনই অফিসারদেরও বাগে গানতে সমর্থ হয়।
ৰে ৰাতে গোৰু এখনও সাহসের সহিত প্রান্ত মহাসাগরের বুকের উপর
রায় সে জাতের সঙ্গে আমাদের লি আনা সমূহ ব্য। আমার
মত লােক সেরূপ সংবাদ সংগ্রহের পরে এলােরে । অবিতে
যা চীনে যাবেন এবং চীনাদের ক্ষতি স বই লেখবেন মি
তাদের উপর এই গবেষণার ভার অর্পণ কম। অৰে আমি বেটুকু
[তে পেরেছি তাতে মনে হয়, কাতউস মতবাদ এবং বৌ মতবা
চীনাদের সাহসী হতে অনেক সাহায্য করেছে। আমরা বৌদ্ধ ধ সন্ধে ৰাই
লবি কেন চীনা বৌদ্ধের অহিংসা কে ৰে দিয়ে তা বাতৰিকই
এশিন নােখ। চীনারা খেতে বসে যে কোন নে নে কোন রে
লােক একই টেবিলে নিয়ে বলে খেতে কোনরুপ সি বােধ করে না।
এখানেই তাদের হিংসা। কনলি বলেছেন, এমন কোন কাজ করে
না বৃতে করে তার গতি হয়। কি বাতি করে এ
৭৪ প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি করছে তাদের কি বিহব তার কথা বলে যান নি। এতে চীনাদের বেশ বিধা হয়েছে। তারা জানে নীলোক অন্যায় এবং অপকর্ম না করে নি হতে পাবে না, সেই নীদের কাছ হতে যদি কিছু নিয়ে নেওয়া যায় তম দোষের কিছুই নয়। 'চীনারা চুরি করে মিথ্যাকথা বলছেচড়ামি করা এসব মােটই পছন্দ করে না। একথা চীনের শত্রুও বলবে। চীনারা ডাকাতি করাকে কাজের মাঝেই গণ্য করে। জাতি করা কাজটি সহজসাধ্য নয় এবং অনেক সময় মৃত্যু তাতে বরণ করে নিতে হয়ই। নল যাতে বাবার সাহায্য করে এবং সমাৰ সেই মরণৰুে অপৰত্যুও বলে না, নরকে যাবার ভয় দেখায় না, লেইস টনের ঘনতার অনেকটা সহায়তা করেছে যদি যায় তবে কোন দােষ ৰে নংস। চতুর্থ দিন সকালবেলা আমাদের জাহাজ চীন সমুতীর ঘেষেই যাচ্ছিল। চীনে সমুদ্রতীরে আশেপাশে ছোট ছােট প। এপলিতে লােক নাই। হয়ত একদিন ভয় শোক ছিল, কি সরে আসতে বাধ্য করেছে। সেই পান কথা বলার বলা উচিত নয়। কারণ, এই পলির আশেপাশে এখনও খনক ৰাষার জাতের গমনাগমন আছে তবে তারা তথায় থাকতে সাহস করে না; পৃথিবীর সর্বত্র এক ধরণের সামুদ্রিক যায় জাতের লােক দেখা যায়, তারা এখান হতে অন্যস্থানে নৌকা বেয়ে গিয়ে কয়েকদিন নতুন নে পাক গলবাসে। সদ্য চীনারা এদের একরূপ শেষ করে এনেছে বললে দোষ হয় না। এদের বংথর আর থাকবে না। তাদের এ আমি চোখের নল ফেলতে রাজি নই। যারা পুজিবাদী এবং যারা কষ্টির কথা বলে অপরকে অন্ধকারেই রাখতে চায় তারাই চীনা বেদেদের কথা বলে গের বেলুক। পস দিন সকালবেলা আমাদের এই কং এসে দাড়াল। অনেক চীনাফকংএ নেম গেল। আমি হয় বেড়াতে গেলাম এবং অনেক সংবাদ চীন হতে বিদায় পত্রের সলাদের সংগে দেখা করলাম। মKিপােষ্ট নামক বাদ প্রধান সম্পাদক শুধু কয়েকটি বিশেষ প্রশ্ন আমাকে করেছিলেন। সেই এগুলি শুনেই আমার ভয়ে সন্চার হয়েছিল। মনে হখেছিল এই বুঝি আমার ভ্রমণ এখানেই এত হয়। সােবক কি ধরণেই কথাগুলি জিজ্ঞাসা করেছিলেন। এখন সেই প্রশ্ন এবং তার উত্তর গুলি সংক্ষেপে বলে ফেলেই মি গল্প হতে মুক্ত। মিঃ ও ও তানকে ধেনে। ঘা, সে । তিনি টিকে থাকতে পাবেন বলে মনে সংকি? তার প্রতি লােকের সহানুভূতিশাখেৰলেই মনে হল। মিঃ মাও এর কানে চীনের সনেলি সারে তিৰে বল কি কি এর গণ হয় না? আমার মনে হয় কি মাও একজন বিজ্ঞানী, তিনি সামাজিক, এবং নৈতিক বিপ্লব সমাজে এনেছেন এবং ভবিষ্যতে সমগ্র চীনে তার এল রবে। পাঠকের সুবিধার মত এখানে আমার এবং সম্পাদক মায়ের সংগে যে কথা ছিল তা একটু বন্ধ রেখে চীনের কমিউনিষ্ট এলে ফখ একটু বলছি। মিঃ মাও নুতনকে কমিউনিষ্ট হতে তিনটি কারণে বিতাড়িত করা , সেই তিনটি কারণএর প্রথমটি হল বড়ই গুরুতর। কমিউনিষ্ট দলে এেসি- ডেট বর্তমান মতে নিউজের সম্পাদকের মাঝতে ফি মাও জানতে আন যে যদি মি ও নুতন এ সময় বিদ্রোহ করেন তবে চীন দেশ বৈদেশিক সাম্রাজ্যবাদী টুকলো টুকরাে করে ভাগকরে নিবে; যি মাও এসব কথা এই করেই বিদ্রোহ করার পরিকলনা করেন এবং সেই তাকে টানে মেইল কমিউনিষ্ট হতে বিতাড়িত করা হয়। এ কারও
৭৬
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি
হটি কারণ ছিল তা মালী। যদিও তা মামুলী তবুও আমার কাছে সেই
হট শ বড় বলেই নয়। ধর্মের দিক দিয়ে এ নিয়ে থাকা এবং
সামাজিক নিল বদলী করা। আর কথা আয় এল।
চা-দিন সােটি কেমন দেখলেন?
আমার কাছে বেশ ভাল লাগল তবে এখন হচ্ছে তা প্রাথমিক কাজ,
ভবিষ্যতে বােধর কারও উন্নতি হবে।
সৈনিকদের ভাব চরিত্র কিরুপ দেখলেন।
চা-নি সােজিয়েটে সৈনিক নাই, সবাই বন্দুকধারী মাত্র। সবাই
শিক্ষিত। সকলেই নৈতিক চতি বলীয়ান এবং সবাই দেশ প্রেমিক।
এরপর আর বেশি কথা হল না, ত ম এরূপ ইংগিত পেয়েছিলাম এবং
এলইগিত দিনেও ছিলাম যে এসব কথা কারো কাছে বলব না। সেই
কবি আজ পর্যন্ত কালাে কালিনি। এখন এসব কথা বললে কোন
নােৰ নাই কারণ সোভিয়েট আপাতত সাম্রাজ্যবাদীদের
কাটন মেরিকায় সাহায্যই চাইছে
সক মহাণ থেকে বিক্ষায় নিয়ে থানীয় কয়েকজন লােকের
Rশাক অব ভেবে পাৰে বেছি এমনি সময় লেন থেকে একজন
कौना যুবক তার কোন টান নি। পেছনে চেয়ে দেখি আমার পরিচিত
সেই মুখখানি। মুখখানিতে হাসি, তা কিন্তু তাতে মরণের একটা চাপ
নেওয়া যায়। চীনা শরীরে যখন যাপ ভেইকেলে চীনে
অনেক বই সব এসেছ এবং ভবিষ্ণুতেও ৰে। পৰিচিত মুখখানিকে
সনে রে বনাম "পনাকে নবিত খেৰ ভাবিনি খেৰ বি
আপনি এখনও তে আছেন। তারপরই জিজ্ঞাসা কলা, কম কি
सापास। जसराना बयान पर थी
ছিলাম, কিন্তু এই এতে মাঝে মগের পিপাসা এমন করে এত সরে
চীন হতে বিদায়
কি করে এগ তাই অনেক চিন্তা করেছিলাম। আপানীৰ মাৰে
মরণের পিলা জেগেছিল উৎকট দেশপ্রেমে, আর এদের মাঝে যেন এক
গেছে উৎট বিপ্রেমে। যুবককে অৱের এবার জানিয়ে আমি
গি ফের হাজে উঠলাম।
এরই মাঝে একটি শিখ জামাই কেবিনে গান নিয়েছে। আমাকে দেখেই
লােকটা শান্তি অংগ । তাকে সান্ত্বনা দিয়ে খাবার খেয়ে ফের সংৰে
আসলাম এবং আমার পরিচিত পাঠানের সঙ্গে দেখা করলাম। মণ বিলী
চীন এই পাঠানের কথা অনেক বলা হয়েছে সেইই এখানে পাঠানের মা
লা ল না তারপর দেখল নি । সেও তে পাঠান। সে
আমাকে একজন ইলেটীন (
পিপাঠ মাতা চীনা) ৰং আমার
সংবাদ দিল। যে যায় এবং দেশের কতক ধণ এ ফরে
এসেছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন বই লেখতে সক্ষম হয়নি। তখন আমিও
কোন বই লিখিনি, তাই বিষয়টা সপে করার কথা ভার।
করলাম। মনে মনে ঠিক করলাম বই লেখা আমার সব কর্তব্য হবে।
বার বারই বলেছি আমার সহিত্যে জ্ঞান খুবই কম তাই এখানে নতুন করে
আর কথাটা বলে লাভ নাই, কি আর আমার লেখাপড়ার দর
হয়েছে বলেই মনে হল। জনি বার বার আমাকে বলতে লাগল আমি যেন
ইংলিশ ভাষায় আমায় ভ্রমণ কাহিণ লিখি এবং বিশ্বব্যাপিয়া তার প্রচার
করি। তাকে বলেছিলাম, তাই চেষ্টা করব। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেদিকে
অগ্রসর হতে পারিনি বলে বড়ই ছুখিত হয়েছিলাম আর এসব কথা নতুন
হয়ে আমার মনে জেগে উঠছে, তার একমাত্র কারণ না পর্যন্ত আমি আমার
তেকাৰ হইনি। এমণ অনেকেই করে কি এণকাহিনী অতি অল
লােকই শেখে।
রাত চারটা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট লাইনে আয় ঠাৎ শিগ
৭
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি
ফুকে অংককে মানিয়ে দিল, সে এখন মেনিলার দিকে রওয়ানা হয়েছে।
আমি ঘুমিয়েছিলাম। আমায় কু ভাংগল। উঠে গিয়ে রুলের গায়ে কের
হংকংএর বিজলী বাতি, যাৱা খচিত নাজির পৃ দেখে এলাম। মনে
ফল এ দেখার সুৰােগ যেন আরও হয়। আহা রে বন্দর ছেড়ে
‘বাতি মরিয়ায় আল। জমেই আকাশ পরিষ্কার হতে লাগল। পূর্বদিকে
সুরে নলি দেখবার প্রান্ত লােকই বেরিয়ে এল। বেরিয়ে আসতে
যে আকাশে কে না দেখলাম। এই দু দেখে কত লেখক কত
নেই দেখেন তা ই নাই, কিন্তু আমার কাছে এ দৃং মােটেই সুন্দর
লাগল না। আমার মনে ভাতের মৃদু বাতাসে কম্পিত ধানের
এলগ কেৰেলীম মাঠ ৰেৰে এজতী গ্রামে যেখেছি তা
এ কয়ল। আমার দেশের জাত্র মাসে এভাতী বের উয়
খে কেউ না পেয়েছেন কিনা জানি না তবে আমি সেই সুর্বের
সৌৰ কৱতে পেরেছি আর এটা পারছি না। তার একমাত্র কারণ
বসময় এবং স্থানের পার্থক্য। সেই ছোটবেলায় ভাবতাম আমাদের গ্রাম
আমায়, এমের মাঝে কোনরূপ অতি ছিল না। মন হােট গ্রামের
এই মেতে থাকত। আর আজ পৃথিবী ব্যাপি মনের বিতারছে।
তখনকার দিনের ভিম খামের এত্যেকটি আশে পরাধীনতার অশান্তি
দাবা উদাউ করে জাহাজে দাড়িয়ে সেই দৃই যেন বেশির ভাগ
চােখে তাসলি। ছােট বেলার মন আর এখনের মনে অনেক এভেদ, তাই
বােয় কোথাও শান্তি পাচ্ছিলাম না। এতী পূৰ শাে আমার কাছে
সােল গলা না। কেবিনে ফিরে এসে দেখি আমায় টাটা দিন
শি লোকটি সেল করে গত মাছ। টা দেখেই বেশ একটা
। আর তাৰ মনেতে লুকিয়ে রেখে নােটাকে কষ অপরের
টুসি তে তােমাকে আগত কি কেই বলেনি। লােকটি
চীন হতে বিদায় ৭১ আমার কথা শুনে কোন কথাই বললনা, খু ৰাসটা সাগর জলে ফেলে দিয়ে কেবিন ছেড়ে বাইরে চলে গেল। লােকটির প্রতেকটি কাজেই সংকোচের ভাব হল। তার কারণ খুঁজে যখন জানলাম লােকটি মেনিলাতে ব্যায়ানের কা রে। হয়ত একদিন আমার কাছেও সেরূপ চাকরির জন্য আসতে হয় সেই ভেবেই লােটা আমার সামনে সাহস করে কথা বলতে পারছিল না। চতুর্থদিন সকালবেলা আহাৰ মেনিলা বন্দরের কাছে এল। বাইরে দাড়িয়ে দৃশ্য দেখতে লাগলাম। মেনিলা বন্দর হংকংএর মত সুন্দর নয়। সমতল ভূমির উপর অবস্থিত। ডান দিকে আমেরিকার পােতাশ্রয়, বিকে জেটি। জাহাজ জেটিতে লাগবার পূর্বেই, ডাক্তার এসে মজির হলেন। ফিলিপাইন, জাপান, চীনা এবং আমরা দুজন ভারতবাসী তৃতীয় শ্রেণীর যাত্রী ছিলাম। ফিলিপাইনােঙলি ডাক্তারী পৰীক্ষাকে একসম অবহেলা করছিল, আপানীগুলি কিভাবে দাড়িয়ে ছিল, চীনা কাপছিল, আমার সাথে শিখ তারা কি ভাবে সেলাম দিলে ভাল হবে তারই ম করছিল আর আমি একটু দূরে দাড়িয়ে সবই লক্ষ্য করছিলাম। জাপানীদের সর্বপ্রথম ডাক্তাৱীল। ডাক্তার সর্বপ্রথমই গুডনিং বলে জাপানীয়ের সােথ করা মাত্র ব্যাপানী মাথা নত করে অনেমায় জানাল। তাপর শুরু হল চীনাদের বুক পরীক্ষা। তাতে কেউ পাশ হল আর কেউ ফেল করে বােকা হয়ে এক পাশে পাড়িয়ে রইল। পক্ষা করে দেখলাম একটি জাপানী ইউৰােপীয় পােষাক পরে নিয়েছিল আর চীনাদের মাঝে কেউ তার কালাে কাপড় পালাগা পর আর কেউবা উৱা পােষাকে ভূষিত হয়ে পড়িয়েছিল। জাপানীদের মাঝে ছিল ‘উনিমিটি আর গাদের মাঝে কি কি ভাগ। আপানীয় হিউগ্র জাতীয়তাবাদী আর চীনা ছিল লােগ এবং পুন। লােগাই উনি মিষ্টি মেনে চতে সম র না।.
এশার মহাসাগরের অতি
চনার পাবার পর ডাক্তার আমাদের কাছে আসলে। খি
লােকটি এনী কায়দায় সেলাম করল। আমি খু গড়িয়ে রইলাম।
আর আমাদের মােটেই টালেন না, তবে কাম অফিসারের করুণ
হতে আমি বাদ যাইনি। বুৰলাম নামবার বেলা একটা হট্টগােল হবেই এবং
সে মি এত দিলাম। এ জেটিতে ভিড়ল। সকল যাত্রীই চলে
গেল ধু আমিই বসে রইলাম। একজন সিন্ধি এসে বললেন তিনি
আমার এ দুহাজার ডলারের জামিন হযেন মিন হবার পর তিনি
কতকণিত বিছিলেন। মতলি তাল ছিল না সে তাতে রাজি
লাম না।
লাে তখন তিনটা। জাহাজের এক কোণে দাড়িয়ে পাখীর মারা
জাহাজ।
দেখছিলাম আর ভাবছিলাম ত্রি এবং পরাধীন হয়ে পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া
কত পাশে। ঐ মাছবিকে পাখী রে যাচ্ছে। পাখীও কান আর
মাহীন। এলতে মাছ ইচ্ছামত বেড়াতে পারে, আকাশ পাখী
ই মতে উড়তে পারে, কিন্তজি মা ইামত কোথাও যেতে পারে
। মায়ের লাে এবং মাছের মৃত্যু ৰখন বেশ মন দিয়ে দেখছিলাম তখন
একজন ফিলিপাইনােলফিলা এসে বললেনবদিমি আমার পাসপােঃতারে
অফিস মা দেই তবে তিন মাসের জয় তিনি আমাকে ফিলিপাইন থাকতে
দিবেন। আমি তার কথায় রাজি হলাম কি মনে হতে লাগল এখীনভাবে
নাতে পারলাম না। অনেকে হত বলবেন এতে ফখ কার কি আছে?
আমি বলব এতে দুঃখ করার অনেক কিছু আছে। যদি কেউ জানে এই
পৃথিবীতে তাকে এর বেশি সময় খাতে দেওয়া হবে না তখন তার মনের
ভাব কেমন হয়? আমৱেও মনের ভাব জেনি হয়েছি। ফিলিপাইনে
আমার থাকার সময় মাত্র নই দিন। তারপরই আমাকে যেতে হবে।
অফিস নিয়ে পাসপােনা জমা দিয়ে সদর পথে বের হলাম।
মেনিলা মেনিলাতে আমেরিকার ছাপ পড়েছে। মেনিলার প্রত্যেকটি পথ সোজা। যত কাবাঁকা পথ ছিল সবই ভেংগে ফেলা হয়েছে। পথ চলার সময় এক স্থানে দেখলাম সিগারেট তৈরী হচ্ছে। সিগারেট তৈরী কি করে হয় তাই দেখলাম অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে। তারপর থাকবার এ একটি হােটেলে গেলাম। হােটেলের চার্জ এখানে আমার কাছে বেশী বলেই মনে হল। দুই পেসস অর্থাৎ আমাদের দেশের চার টাকার কমে একটি ক পাওয়া যায় না। এখানে আমি ভিক্ষা পাব কি পাব না এটাই ছিল চিন্তার বিষয়, তাই হােটলে না থেকে স্থানীয় গুরুত্রে থাকতে গেলাম এবং থাকবার স্থানও পেলাম, কিন্তু এতে আমার সমূহ ক্ষতি হয়েছিল। লােকে লেকচার দিয়ে কত কথা বুঝতে চেষ্টা করে এবং সেই লোয় লােকে বুঝে কিন্তু লেকচারের কথা মত কয় জন কাজ করে। শিশুদের গুরুত্বারে এসে লেকচার শুনলাম কিন্তু দেখলান চোখে চোখে ইসা চলছে, মনে মনে কথকর কথা মস্ক করা হচ্ছে রিপাের্ট কোথাও পাঠান হবে বলে। রিপেট কে নিবে? এটাত বৃটিশের রাজা নয়, এটা হল এমেরিকার ফলনী, তবে এখানে কেন বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদীর ইনফরমাল হয়ে ভারতবাসীর পেছনে ভারতবাসীই ঘুরে। বুঝলাম আমার পেছনে লােক লেগেছে। তবে শখের বিষয় এখানে ভারতবাসী গোপনীয় পােশক পরলেও তাদের সর্বত্রই চেনা যাও। তখনকার দিনে আমার চোখে ছিল প্রখর তেজ, মগনে ছিল তী স্মরণশক্তি, কেউ আমাকে ফাকি দিতে পারত না। কয়েকজন ফিলিপাইন হয়ে গেল আমার বন্ধু আর ফি কাটে আমাকে একদিন ডেকে পাঠিয়ে করুনও করলেন, এতে পাগলা শুর স্বদেশবাসী ভাইদের প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি কাজে অনেকটা ব্যাঘাত হল। এই রুজভেল্ট হলেন ফিলিপাইন দ্বীপের গভর্ণর। লােকটি বেশ ভদ্র এবং গভর্ণর যেমন হয় তেমনি ধারার পায়ে হেঁটে দোকানে দোকানে গিয়ে তিনি সওদ। কিনেন এবং আমারই সামনে একদিন বাগও (Bagio) সরেব এক ভারতীয় সিঙ্কের দোকান হতে একখানা দেওয়াল পজি মেয়ে নেন। এটা দেখে আমি অবাক হলাম না। কারণ, ফিলিপাইন দ্বীপের গভর্নর বাহাদুর মাত্র মিষ্টার, তঁাকে সাধারণ লােকের মত থাকতে হয়। তার সংগে দেখা করতে হলে নামের কার্ডের দবকার হয় না। যা ইচ্ছা বল , সই বােধ হয় কেউ তার বাড়ীতে দর্শন প্রার্থী হয় না। আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদীদে এই পেীয় সম্রাজ্যবাদীদের চালচলন, কার্যকলাপ রাতদিন ফাং। আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী যার রক্ত সবে তাকে লেখাপড়া শেখার, ভালভাবে রাখে, বাড়ীঘর তাদেরই মত করে গঠন করে দেয় এবং আমেরিকার ষ্টেটাসে উঠাতে প্রাণপণ সাহায্য করে। চণ কালি মেখে মুখ ফুলিয়ে ময়ূর সিংহাসনে , চাবদিকে নব কুণ্ডে শানুষ বিদ্যার কীটের মত প্রখর সূর্য কিরণে পতিত হওয়া অর্থাং গবে, অনটন ছটফট করে মরতে দেখা পছন্দ করে না। আমেরিকান জাতটা যেমন রাতারাতি ধনী হতে চায়, তেমনি করে তারা দেখতে চায় তাদের কলনীর লােকও ধনী হউক এবং যতদূর সম্ভব আমেরিকার সঙ্গে আর্থিক সম্বন্ধের আওতায় থাকুক। বৈদেশিক দূতের বদলাবদলী এবং আভ্যন্তরিক আর্থিক স্বাধীনতা ফিলিপাইনােদের দিতে ইচ্ছুক ছিল। ফিলিপাইনের ধনী এবং মজুরের দল সেরূপ সম্বন্ধ আমেরিকার সঙ্গে ছিল করতে চাইত না কারণ এতে তাদের সমূহ ক্ষতি হবারই কথা ছিল, কিন্তু মধ্যবিত্তের দল আমেরিকার সংগে সমুদয় সম্পর্ক ছিন্ন করতেই চেষ্টা করত। কারণ, এতে মেনিলা তাদের দালালী আমেরিকার মধ্যবিত্তের পকেটে না গিয়ে নিজের পকেটে যাবার ব্যবস্থা হত। তবে ফিলিপাইনের প্রগ্রেসিভ সমাজ তখনকার দিনে কি করা উচিত এবং কি করা উচিত নয় সে বিষসে চীনের প্রগ্রেসিভ সমাজের মুখের দিকে চেয়ে থাকত। চীনের মা, ফিলিপাইনােদের কাছে কোন বাণী পাঠাননি; সে কথা আমি জেনেছিলাম এবং সেজন্য ফিলিপাইনের প্রগতিশীল আসলে দুঃখিতও ছিলেন। সংক্ষেপে ফিলিপাইনের তখনকার দিনের রাজ- নীতির কথা বলতে বাধ্য হলাম। কারণ, ফিলিপাইনােরা আর তাদের পূর্বর অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং জাপানীদের পদানতও হয়ে থাকবে না, এটা নিম্ন অনেক ফিলিপাইনে। বুঝতে পেরেছিল, জাপানের কৃপাদৃষ্টি একদিন তাদের প্রতি হবই, সেজন্য প্রগতিশীস ফিলিপাইনাের জাপানীদের নােটই পছন্দ করত না এবং যেমনভাবে ফিলিপাইন দ্বীপে জাপানীদের সংখ্যা বাড়ছিল তাতে তার হীহ হচ্ছিণ। যখনই একট দুর্বল জাত অন্য একটা শক্তিশালী জাতের লােলুপ জি দেখে, তখনই তারা ভয়ে কেঁপে উঠে। এদিকে একজন ফিলিপাইনে জাপানে গিয়ে ফিলিপাইনােদের নেতা সেজে বসেছিলেন তিনিই বর্তমানে বােধ হয় ফিলিপাইনােদের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। ফিলিপাইনেরা জাতে ব্রাউন মংগোলিয়ান। জাপানীরাও তথা। ভাষার পার্থক্য আছে বটে, কিন্তু খাদ্যের দিক দিয়ে পার্থক্য লড নই। উক্ত জাতই এশিয়াটিক, তবে এক জাতকে অন্য জাত ভয় করে কেন? ভয়ের একটি মাত্র কারণ আছে, সেই কারণটি হল, জাপানীদের আর্থিক অবস্থা অতীৰ নীচ অরের। আর আমেরিকা, ফিলিপাইনােদর যে অার্থিক অবস্থায় টেনে তুলেছে তা তিনগুণ উচুরের। জাপানে তখনকার দিনে একজন মজু বার বা কাজ করে মাসিক পচাশ ইয়েনের বেশী পেত না। পন্চাশ ইয়েনের ব্রব্য কেনার যে ক্ষমতা, ফিলিপাইনে তা তিরিশ পেসােতেকে যেত; অঞ্চ প্রত্যেকটি ফিলিপাইনে মজুর-দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করে মাসিক ৩০ B প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি পোেের মত পেত। রবিবার কাজ তাদের করতে হত না, অর্ধেকটা শনিবারও তাদের বন্ধ থাকত, এদিকে আপিন শুধু রবিবার বন্ধ থাকত। ফিলিপাইনের মজুর এই জাপানীদের জন্য করতে বাধ্য হত। ফিলিপাইনাে নীরা জাপানীদের সাপের চেয়েও বেশি ভয় করত। ফিলিপাইন দ্বীপগুলি পান হতে বেশী দূর নয়। জাপানের অনেক কাজ কর্মের কথাই ফিলিপাইনােরা অতি সহজে জানতে পারত। ফিলিপাইনের লােক ১৯৩০ সাল পর্যন্ত জাপানীদের এভাবেই গ্রহণ করত এবং সেজন্যই তাদের দেশের একজন লােককে জাপানে পাঠিয়েও দিয়েছিল। সেই লােকটি আগা গোড়াই আমেরিকানদের বিরুদ্ধাচরণ করতেন এবং জুলু মাতটাকে বাতে লােপ করা যায় তার ফিকিরে ছিলেন। আমেরিকানরা Divide and rulc নিয়ম মেনে চলত না এবং এখনও তা মেনে চলেনা। আমেরিকানরা কখনও জুলু জাতটাকে টেনে তুলে ফিলিপাইনেদের দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করত না তবে ফিলিপাইনাের যখন জুলুদের প্রতি একটু আধটু Shooting (শুটিং) করত, তখন প্রতিবাদ না করে পারত না। জুলয়া হল ধর্মে মুসলমান। এদের মুছে ফেলে তাদের অধিকৃত ভূমি জাপানীদেম দেবার জন্যে জাপান সরকার পক্ষপাতী ছিলেন বলেই জাপানী সংবাদপত্রগুলি ফিলিপাইনােদের জুলু সুটিং-এর কথা জানত, কিন্তু কিছুই বলত না। তার একমাত্র কারণ মালয়, জাতটাই হল ইনডিভিজুয়েলিষ্ট । উপরন্তু তাদের কোন সংবাদপত্রও ছিলনা যাতে করে তারা জগতবাসীকে তাদের দুখ কষ্টের কথা বলতে পারে। ফিলিপাইনের ধনীরা জাপানী চরিত্র কতকট। তাদের নিজের দেশের ব্যাপারেই বুঝতে পারল। এতে ফিলি- পাইনের ধনীরা জাপানীদের প্রতি একদম বিগড়ে বসেনি। পরে একনি বিগড়ে বসল, যেদিন তারা কে দেখে আসল মানচুরিয়াতে চীনাধনীদের অকাল মৃত্যু।
মেনিলা P আমেরিকার ধনীরা ফিলিপাই না ধনীদের ব্যবসায় ক্ষেত্রে সমান অধিকার দিয়েছিল এবং ফিলিপাইনাে ধনীদের বুঝিয়ে দিয়েছিল তার ফিলিপাইনােদের যে অধিকার দিয়েছে তা ফরাসী ধনীরা ইন্দোচীনে দেয়নি এবং ভারতে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদীরাও ভারতীয় খণীদের দিতে কোন মতেই রাজি নয়। বৃটিশ এবং ফরাসী সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের সাম্রাজ্য কলােনিয়েলদের সম অধিকার না দিলেও নীলদর্পণের পুনরভিনয় করে না। এতে ইন্দোচীনের ধনীরা এবং ভারতের ধনীরা বেঁচে থেকে দুপয়সা কামাচ্ছিল এবং এখনও কামাচ্ছে, কিন্তু বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদীর উত্তম শিষ্য জাপান শুরু হতেই মাচুরিয়ায় “নীলদর্পণের” পুনরতিনয় আরম্ভ করলে। বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের সামাজ্যবাদের গলুদ বুঝতে পেরেই নীলদর্পণ আর ঘটতে দেয়নি। এদিকে জাপান কিন্তু পরিত্যাগও করতে পারছিল না। বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের ভারতীয় বুদ্ধিজীবিরা তাদের মুখ এবং সুবিধার জন্য ডেকে এনেছিল। বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদী এই বুদ্ধিজীবিদের কথামত চলত। ভারতীয় বুদ্ধিজীবিরা যখন দেখিয়ে দিল “নলদর্পণের’ কুফল হচ্ছে তখন চালক বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদী তা তৎক্ষণাৎ পরিত্যাগ করল। জাপানী সাম্রাজ্যবাদীদের কিন্তু চীনা বুদ্ধিজীবিরা ডেকে নিয়ে যায়নি। সময়ের পরিবর্তন হয়েছে। পৃথিবীর লোক বেশ একটু জ্ঞানী হয়েছে, তাই দুর্ভাগা জাপানী সাম্রাজ্যবাদী বাধ্য হল মানচুরিয়ায় তার গুরুর কাছে শেখা নীলদর্পণের অভিনয় করতে। এতে ফিলিপাইনাে ধনীর হুঁশিয়ার হল এবং আমেরিকার ধনীদের সহযােগিতা পেয়ে ফিলিপাইনে মজুরদেরও বুঝিয়ে দিল, যদি জাপান আসে তবে তাদের বক্ষা নাই। স্বার্থ বড় বালাই। ফিলিপাইনাে মজুর বুঝল, জাপানীরা তাদের শক্ত এবং সে একযােগ ফিলিপাইন সরকারের কাছে আবেদন করুণ আপানী সিৰু বৰ্যর উপর নতুন কর ধার্য করা হউক। ফিলিপাইন সরকার সেরূপ আবেদনের প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি অপেক্ষায় ছিলেন। তৎক্ষণাৎ জাপানী রেশম শিল্পের উপর দুইশত পারসেন্ট টেক্স বসান হল। কিন্তু জাপান আমেরিকা হতেও বেশি চতুর। জাপানী ধনীরা ৰেমন খন জমাতে পারে, তেমনি তাদের সম্রাটের আদেশে ক্ষণিকের মাঝে বসব পরিত্যাগ করতে পারে। জাপানী মজুরাও রাজভক্ত। রাজসেবাই তাদের একমাত্র কাম্য। রাজার আদেশে একবেলা খেয়েও তারা পুরাদমে মজুরী করতে পারে। সেই দুইশত পারসেন্টের বেণি শুক দিয়েও জাপান ফিলিপাইনে সিল্ক পাঠাতে লাগল। ফিলিপাইনাে৷ কিন্তু সেরূপ নয়। রাজভক্ত হওয়া দূরের কথা তারা রাজার নামও শুনতে পারে না। ট্রেড ইউনিয়নের দৌলতে তার। কডায়গায় মাইনে হিসাব করে নিতে শিখেছে। একদিকে ফেনাটিক রঞ্জত মজুর, আর অন্যদিকে প্রগতিশীল উতমনা ফিলিপাইননা। বুদ্ধিবি ফিলিপাইনের অবস্থা দেখে প্রমাণ গণল। পরাধীনতার নাগপাশে তারা আবদ্ধ। স্বাধীনতার আন্দোলন তখন নতুন করে জাগিয়ে তোলা কেউ পছন্দ করল না। তারা জানত, করে বৎসরের মাঝে ফিলিপাইনাের স্বাধীনতা পেয়েও জাপানকে কুখবার ক্ষমতা অর্জন করতে সক্ষম হবে না। সেজন্য সব আণ পরিত্যাগ করে একদল ফিলিপাইনে বুদ্ধিজীবি আমেরিকায় গিয়ে আন্দোলন করাই প্রণত মনে করল। আমেরিকা কি তাদের কথা শুনল ” কিছুই শুনল না। উপরন্তু জাপানের সহিত ব্যবসা আরও আগ্রহের সহিত চালাতে লাগল। যখন ফিলিপাইনাদের এরূপ দুঃসময়, তখনই আমি মেনিলাতে পেীছি। মেনিলায় পৌছবার পর আমার বাণী শুনবার জয় কেউ দৌড়ে আসেনি। আমি নিজেই সংবাদপত্রের সম্পাদকদের দ্বারে উপস্থিত হয়েছিলাম। সশাসকদের মাঝে কেউ কেউ আমাকে হাসিমুখে গ্রহণ করেছিলেন আর মেনিলা ৭ কেউবা তাদের বিদ্যা এবং বুদ্ধির আতিশয্য দেখাবার অত গভীরভাবে আমার লগে কথা বলেছিলেন। তাঁরা যেভাবেই আমাকে গ্রহণ করুন না কেন, আমি জানতাম এসব সংবাদপত্রসেবীদের নিজের কোন মতামত নাই , এরা মাত্র ভৃত্য। কেবল কর্তাব ইচ্ছায় কর্ম করে যাওয়াই এদের কর্তব্য। অনেকেই আমার নিপােট আমার সামনে লেখলেন, কিন্তু তারা যা লেখেছিলেন, তা প্রকাশিত হয়নি। তাৰ কত। মহাশয়গণ যে সুর বাজাতে বলেছিলেন সেই মুই য়া গাইলেন। পুঁজিবাদী যুগ দৈতা নানা রকমের, সংবাদপত্র সেবীদের দৈন্য মাঝে একটি। মেনিলাতে আমাৰ আগমন সংবাদ দুৰ দু এেণী সংবাদপত্র প্রকাশ করেছিলেন। একশ্রেণীর সংবাদ চীনাদের প্রতি বেশ একচোট নিয়ে আমার বাহাদুরীর কথাই সকলের কাছে বলেছিলেন। অন্ত শ্রেণীর সংবাদপত্র, আমি বাহাদুর কি পর্যটক তাই নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। “বাহাদুর না হয় তাদের কাজ সীমাবদ্ধ কক এবং যারা পর্যটক হয় তাদের কাজ সীমাবদ্ধ থাকে না। পর্যটক বের হয় জ্ঞান অর্জনের জয়। তারে জ্ঞাতব্য বিষয় কোনও এক বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।” এই কথাগুলি বলেই একজন সম্পাদক প্রশ্ন করলেন, “পথিক, তুমি কোন পথে চলেছ ?” আমি এই সম্পাদকটির সংগে সাক্ষাৎ করাও সবার মনে করলাম না, কারণ এরূপ সম্পাদকের কাছ হতে দূরে থাকাই ভাল। যেদিন মেনিলাতে পৌছলাম সেদিনই আমি কেন সংবাদপত্র অফিসে যাইনি। সংবাদপত্র অফিসে গিয়েছিলাম মেনিতে পৌছার চারদিন পর। সংবাদপলে আমার আসার সংবাদ বের হবার পরই মেনিলার লােক আমাকে চিনতে পারে এবং আমিও সব সাথারণের সংগে মিশতে সুযােগ পাই। কিন্তু যেদিন আমি মেনিলাতে পৌছি, সেদিনই টের পাই কয়েকটি লােক আমার গতিবিধির প্রতি লক্ষ্য রাখছে। সেই লােকগুলি কে প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি এবং কারা তাই জানতে আমিও একটু উৎসাহিত হই। আমি স্থান নিয়েছিলাম শিখদের গুরুরে। থিদের মাঝে অনেক আমেরিকা ফেরত গদর পাটির লােক ছিল। তাও গুরুদ্বানে নাকি যাওয়া আসা করত। তাদের গতিবিধি নাকি কতকগুলি লোক লক্ষ্য রাখত। আমাকে দেখতে শিখদের মত দেখাত না অথচ কেন যে আমার গতিবিধির প্রতি লক্ষ্য রাখার দরকার হয়েছিল তা বাস্তবিকই একটু রহশ্যজনক বলেই মনে হয়েছিল। গুরুদ্বারে সিগারেট খাওয়া যায় না। তাই সিগারেট খাবার জন্য এবং সিগারেট এনে রাখার জন্য একটা স্থান খুজতে লাগলাম। সেখানে একজন পাঞ্জাবী ব্রাহ্মণ বাস করতেন। তিনি আমাকে গুরুদ্বারের নিকটস্থ বাসিন্দা একজন বই বিক্রেতা ফিলিপাইনের সংগে পরিচয় করে দেন। পুস্তক বিক্রেতা একজন দেশপ্রেমিক। আমাকে পেয়ে তিনি সুখী হন। আমি তাকেই অনেক সময় আমার সুখ দুঃখে কথা বলতাম, এবং যারা আমার গতিবিধি লক্ষ্য রাখছিল তাদের কথাও বলেছিলাম। পুস্তক বিক্রেতা আমার কথা শুনে কয়েক দিন কিছুই বললেন না। কয়েক দিন পর একদিন সন্ধ্যাবেলা আমাকে তার ঘরে দেখতে পেয়ে ললেন মেনিলাতে এমন কিছু দেখার নাই যা দেখে আপনি সময় কাটাতে পারেন। যদি পারেন ত আগামী কাল সকাল বেলাই বাগিও নামক স্থানে রওয়ানা হউন। বাগিও দেখে ফের মেনি চলে আসবেন। মেনিলা হতে অন্যত্র যাওয়াই ভাল। এদেশে বসে থেকে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। এখানে যে সকল লােক আপনার পেছন নিয়েছে তারা ল ভাড়াটে। কার ভাড়াটে এসব কথা জেনে আপনার কোন লাভ নাই, তবে এর রিপাের্ট লেখে বেশ দুপয়সা পায় বলেই মনে হয়। এর রিপাের্ট লেখতে দিয়ে আপনার লাভ ত হবেই না, উপরন্তু ক্ষতি হবারই সম্ভাবনা বেশি।” পুস্তক বিক্রেতার কথা শুনে সময় না কাটিয়ে পরের দিনই সকাল বেলা বাগিও রওয়ানা হলাম। একটু যেতে না যেতেই একজন মেনিলা ভারতীয় ভদ্রলােকের সংগে সাক্ষাৎ হল। তিনিও বাইসাইকেলে বাগিও রওয়ানা হয়েছেন। তার চাল চলন দেখে মনে হল চিনি এ পথের যাত্রী মােটই নন আমার পেছন নেওয়াই তার এক মাত্র লক্ষ্য। আমি তার সংগে বেশি কথা না বলে এগিয়ে যেতে লাগলাম। কিন্তু পথ সর্বত্র সমান নয়। পিচ দেওয়া পথ শেষ হয়েছে। গ্রেভেল দেওয়া পথের 'আরম্ভ হযেছে। সাইকেল ক্রমেই লাফিয়ে উঠছে এবং এখনও কনেছে যে সামনের পাথরের টুকরায় সাইকেল থাকা খেয়ে পড়ে গিয়েছি। আমার পেছন বনি নিয়েছিলেন তার সংগে জল অথবা খাদ্য ছিল না, সেজন্য কয়েক মাইল চলার পরই তাকে অতি কষ্টে পথ চলতে হয়েছিল। তার কষ্ট দেখে আমি একটুও দুছিত হইনি। যারা সামা কয়টি মুদ্ৰাৰ fiনিময়ে নিজের জাত-ভাইএর শক্রতা করে তাদের এরূপ ভাবে কষ্ট পেতে টপলে দুঃখ হয় না, বরং বেশ ভালই লাগে। অবশ্য রুচির পার্থক্য থাকবেই। পার্বত্য পথ আরম্ভ হয়েছে। পার্বত্য ভূমির প্রপৰ সূর্য কিরণ মৃদুমন্দ নতল বাতাসে আরামপ্রদ করে তুলেছে। সূর্যের আলো আরও পরিষ্কা এবং শুভ্র বলে মনে হচ্ছে। এমন পথে আমি আরাম কবে চলছিলাম আর মনে হচ্ছিল জন্মভূমির কথা। কবি বাইবে যান না। ঘৰে বসেই তারা বাইরের কথা ভাষার মারফতে ফুটিয়ে তুলেন। মনে হয় এরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্যের সংগে তার কতই যেন পরিচিত এবং সেই পরিচিত স্থানের কথা তারা সলে ভাবায় বলে মান। অনেক সময় কবিদেয় ভাবধারা পাবার ইচ্ছা করে কিন্তু মনের গরণ না হলে তা পাওয়া বায় না। আমার মনের জাগরণ ইনি সত্য কথা, কিন্তু কবিদের সাধনার দৃশ্য আমি সজীব অবস্থায় দেখছিলাম। সামনে গ্রাম। গ্রাম সৌন্দর্যে ভরা। গ্রামের বুক চিরে পথটা চলে গিয়েছে, আর তারই উপর দাড়িয়ে আমি ভাবছিলাম কোন দিকে কার ঘরে গির বিএম করি।
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি বেশি চিন্তা করলাম না, সামনেই একজন ভারতীয় দোকানদার বাইরে দাঁড়িয়ে তার দরজার গ্লাল পরিষ্কার করছিল। সে আমাকে দেখতে পেয়ে ডাকল এবং পরিচয় জিজ্ঞাসা করল। আমি আমার পরিচয় তার কাছে দিলাম। আমার পরিচয় পেরে লােকটি মুখী হল এবং ঘরে গিয়ে বতে বর্ণ। যিনি পেছন নিয়েছিলেন তিনি গ্রামে পৌছে একটু ও বিশ্রাম না করে, সাইকেলের প্যাডেল কষে চাপ দিয়ে গ্রাম পেরিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তিনি গ্রাম পরিত্যাগ করতে পারলেন না। কোথা হতে দুজন লােক এসে তাকে বেশ করে ঠেগিয়ে কোন দিকে চলে গেল। ঘরের বাইরে এসে কেউ জিজ্ঞাসা করল না,-কেন এই পথচারীকে অনর্থক আঘাত করা হয়েছে। এটা ফিলিপাইন। এখানে হাতও অনেক মারামারি হয়ে গেছে। ফিলিপাইনােরা হাতাহাতি মােটেই পছন্দ করে না। পিস্তল, অভােমেত, হাতবােমার ব্যবহার এদেশে ৫ণ চলে, সেজন্যই এখানে প্রাণের স্পন্দন পাওয়া যায়। এদেশে কাঠগড়ায় দাড়িয়ে সাক্ষি যখন সাক্ষ্য দেয় তখন ভাবে সে কি বলছে, এতে তার জীবন বিপন্ন হবে না ত? জীবন পদ্মপত্রের জল, আমাদের দেশে জ্ঞানীরা বলে গিয়েছেন। আমাদের সে অনুভূতি হয়নি, অনুভব করেছে বিদেশী। লােকটা বেশ মার খেল স্তরণব যা হবার তাই হল। আমার প্রতি তার প্রবল আক্রোশ হয়েছিল। কিন্তু আমায় কি করতে পারে? যার সাহায্যকারী সমুদয় মানব সমাজ, তার অনিষ্ট সহজে করা যায় না। রাজদ্বারে ভারতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে বুক ফুলিয়ে হাঁটা যায়, কিন্তু বিদেশের কোথাও তা পাৱা যায় না, এমন কি ইংলণ্ডেও নয়। প্রতিশােধ আপনি প্রতিবনিত হয় আর মিথ্যাবাদী আপনি কোথায় তলিয়ে যায়, তার পাত্তাও কেউ পায় না। আমি নিপদে এবং নির্ভয়ে চলতে লাগলাম। ভিক্ষা করলাম, টাকা মেনিলা পকেটস্থ করলাম, একজনের বাড়ীতে পেট ভরে খেলাম তারপর একজন ভারতীয় মজুর আমাকে তার লবিতে বসিয়ে বাগিও পৌছে দিল। আমি আমার অশান্তির কথাই বলতে আরম্ভ করেছি। আমার কাছে প্রত্যেকটি জিনিসই উলটা পাল্টা ভাবে দেখাতে লাগল। ভাবছিলাম আমেরি- কানরা বিদেশ লােকের বেশ উন্নতি করছে। ফিলিপাইন আমেরিকার বিদেশই বটে কিন্তু এখানে তারা ইগ্রোথদের কেনই উন্নতি করেনি। তার। বৃটিশ প্রচলিত কুইন্স প্রক্লেমেশনই এখানে বজায় রেখেছে। ইগ্রোথ বলে এখানে এক রকমের লােক আছে। তাদের পুরুষগুলি কোমরের উপভাগ দেখলে মনে হয় যেন একজন ইউরােপীয় ভদ্রলােক কোট, নেকটাই পরে ফেটে মাথায় দিয়ে আছে, আর কোমরের নীচের দিকটা একেবারে উলংগ। একজন আমেরিকানকে জিজ্ঞাসা করলাম, “এদের দেন এবং জুতা মৌজা পড়ান শিক্ষা দেওয়া হয় না কেন? ভলােক বললেন এটাই হল আমেরিকানদের ডিমক্রেসী। আমি ভদ্রলোককে বললাম,“এটাই হল আমেরিকার স্বরূপ অর্থাৎ ইস্পারি- মেলিজম।” আজকাল আমাদের দেশে বড় বড় শব্দের ব্যবহার অনেকেই পছন্দ করেন না, কিন্তু বেঁচে যদি থাকতে চাও চাদমুখ, তবে ঐ বড় বড় শব্দের মানে শিখতে হবে নতুবা টিকা না নেবার জন্য যেমন করে, তথা কথিত “মায়ের দয়া হয় তেমনি ইগ্রাথদের মত •ংটা হয়ে বহুরূপী সেজে দিন কাটাতে হবে। বাগিওতে ছিলাম একজন সিন্ধি ব্যবসায়ীর দোকানে। দোকানী বড়ই উদার এবং উত্তম নাগরিক। তিনি আমাকে পাকবার এ একখানা রুম দিয়ে বলেছিলেন, “এই রুমটাতে আপনি এক মাস পর্যন্ত আরাম করে থাকতে পারেন। এক মাস পরও যদি থাকার ইচ্ছা হয় তবে আপনার জয় ব্যবস্থা করব এবং সে আপনাকে উপযুক্ত ভাড়াও দিতে হবে। তার প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি কথা শুনে আমি আনন্দিত হয়েছিলাম এবং বলেছিলাম এখানে এক মাস কেন এক সপ্তাহও থাকব বলে মনে হয় না। কারণ, এখানে এমন কিছু নাই যা দেখে আমি সময় কাটাতে পারি।” বাস্তবিক বাগিতে এসে নেংটা ইগ্রোথ ছাড়া দেখার মত আমার কিছুই ছিল না। সাত দিন থেকেই আমি মেলিতে ফিরে এসেছিলাম। আবার সেই পর্ব আরম্ভ হল। সাইকেল নিয়ে এবার আরও কয়েকটা লােক আমার পেছন ঘুরতে লাগল। আমিও নিশ্চিন্ত মনেই মেনিলাতে এটা সেটা দেখে সময় কাটাতে লাগলাম, কিন্তু যখনই জাহাজের টিকিট কেনার কথা মনে হত তখনই একটা অবসাদ এসে আমার ঘাড়ে চাপত। বিদেশে যাবার পর অনেকে শ্বেতকায় ভীতি থেকে যায়। আমার কিন্তু মােটেই শ্বেতকায় ভীতি ছিল না। এশেরিকানদের ক্লাবে, বড় বড় অফিসে এবং যে সকল স্থানে শুধু তোমরাই গিয়ে আমােদ কবে সেই স্থান গুলিতে যেতাম। ভয় আমার ছিল না, এতে অমি সকল সময়ই প্রস্তুত থাকতাম, সেজন্যই বােধ হয় আমাকে কেউ ঘাটাত না। একদিন সমুদ্রতীরে যে স্থানে এমেরিকান মেনিদের ক্লাব রয়েছে সেস্থানে সিমেন্টের ডকের উপর বসে নানা কথা ভাবছিলাম, এমনি সময় একজন চম্যান মালয় ভাষায় বলল “এই বেদের তেজ তাের গায়ে লাগছে না?”আমি বললাম, “জানিরে, সূর্য যে আমাদের মামা হয়, তার তেজ আমাদের মাঝে ও রয়েছে, আমরা সূর্যের তোকে ভয় করি না, কিন্তু ভর করি বালির তেকে।” মালয় ভাষায় যখন কোন লােক বন্ধু বলে সম্বোধন করে তখন এরূপ ভাবে কথা বললে সাধারণ লােক আনন্দই পায়। নাবিক আমার কথায় আনন্দই পেয়েছিল। সে এসে আমাকে বলল, “চল একটা কাফেতে যাই।” আমি কাফেতে যেতে প্রস্তুত ছিলাম। কাফেতে এসে কথা প্রসংগে তাকে বললাম, আমি বলি দ্বীপে যেতে চাই, তাতে কি ভিলার রায় হবে? সে আমার যখন বলল, “এখন মেনি থেকে বৃটিশ প্রদানের সুবাৱা অথবা বলি-ধীপে যেতে ভিসার দরকার হয় না, তখন আমার মনটা আনন্দে নেচে উঠল। আমি তৎক্ষণাৎ টিকিট কেনার এ কে, পি, এম, লাইনের অফিসের দিকে রওয়ানা হলাম। কে, পি, এম লাইন বিখ্যাত জাহাজ কোম্পানী। তার অফিস মণ্ড- বড় একটা বাড়িতে অবস্থিত ছিল। বাডিটার সামনে গিয়ে কতক্ষণ দাড়ালাম, তারপর অফিসের কাউন্টারে গেলাম। এদিকে সর্বত্রই নিয়ম হল কোন ইউরােপীয়ান যদি কাউন্টারে এসে দাড়ায় তবে তার কথাই সর্বপ্রথম শুনা হয়। এবিষয়ে আমি বেশ ওয়াকিবহাল ছিলাম বলেই এক দিকে গড়িয়ে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু দুনিয়া প্রত্যহ বদলাচ্ছে। ইলাণ্ডের কৰ্মচাৰী মহলে প্রগতির বাণ ডেকেছিল। নৌস এবং পদাতিক সৈঙ্গে ঝগড়ার সৃষ্ট হয়েছিল, ঘােট খাট লড়াইও হয়েছি বলে লােক মুখে শুনা যাচ্ছি। এর কারণ যদিও অব্যক্ত তবুও এবিষয় নিয়ে নানা পােক নানা কথা বলছিল। কয়েক জন ইউরােপীয়ানকে সামনে দাড় করে রেখেও একজন ডাচ কেরানী আমাকে ডেকে বলল, “মশাই, এদিকে আসুন, কতক্ষণ দাড়িয়ে থাকবেন?” আমি তার কাছে গেলাম এবং আমার পরিচয় দিয়ে বললাম, “বলিদীপ যাবার টিকিট কিনতে এসে ছ, একখানা টিকিট দয়া করে দিন। ডাচ কেরানী আমার মুখের দিকে অনেকক্ষন তাকিয়ে বলল “টিকিট দিতে কোন আপত্তি নাই, কিন্তু কথা হল, যদি বলবীপে যেতে চান তবে একশত পঞ্চাশ গিলডার (দুই শত পঞ্চাশ টাকা) জা দিতে হবে। নিয়ম হল, যদি ভাচ ইষ্ট ইণ্ডিতে ছয় মাস না ফুরাতেই অন্যত্র বান, তবে আপনার গচ্ছিত টাকা ফেরত দেওয়া হবে। ছ মাসে এক দিনও যদি বেশি থাকেন তবে সে গচ্ছিত টাকা বামেরাং হবে। আমার মনে হয় আপনাকে ডাচ ইষ্ট ইণিজে ছয় মাসের বেশি থাকতে হবেনা , কেমন তা নয় কি? আমি খু ” বলতেই ডাচ কেরাণী বলল, শুধু ১৪ প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি হাঁ বললে হবেনা, একশত পঞ্চাশ গিলভারের মত স্থানীয় মুদ্রা আপনার কাছে আছে কি? আমার মুখ হতে অতিকষ্টে “না” কথাটি বের হল। আমার মুখ হতে “না” কথাটি শুনার পর কেরানী কাটার হতে বের হয়ে এসে নিকটস্থ একটা কাফেতে গিয়ে বলেন, এবং বলেন “প্রিয়বন্ধু, আপনার আসার সংবাদ আমি পেয়েছি এবং আপনার কাছে যে টাকা নাই সে সংবাদও আমি রাখি। টাকার জন্ত আপনি বাড়াবেন না, আজই বিকালে পাচটার সময় আপনি “পাহুমল দাস" অফিসে যাবেন। সেখানে আমার লােক থাকবে। সেই লােক আপনার দরকারী টাকার দ্বিগুণ টাকা চাঁদা পাইয়ে দেবে।” কথাটা শুনে আমার বেশ আনন্দ ২’ল, কিন্তু জানতে ইচ্ছা হল, আমায় আসার সংবা না । তিনি সংবাদ পত্রের মাতে পেয়েছেন, তবে আমার কাছে যে টাকা নাই সে সংবাদটা কি করে পেলেন ? ডাচ কেরানীকে সম্বন্ধে প্রকাশ্য কিছুই বললাম না, কিন্তু কৌতুহলটা অনেক দিন সজীব ছিল। ডাচ কেরানী হতে বিদায় নিয়ে গুরুদ্বারে গেলাম এবং বিছানায় শুয়ে নানা কথা চিন্তা করে ঘুমিয়ে পড়লাম। বিকাল পাচটা হলে কি হয়, মেনিলার সু কিরূণের উত্তাপ তখনও কমেনি। তখনও বিকালের পথচারী পথে বের হয়নি। এমনি সময় একটি লােক এসে আমাকে ডেকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বলল, অসময়ে ঘুমান ভাল নয়, উঠে বসুন।” আমি উঠে বসলাম এবং মনে হল আমাকে যেতে হবে পাহুমল ব্রাদাস”এর দোকানে। তৎক্ষণাৎ কাপড় পরে পাহমল ব্রাদাস এর দোকানের দিকে রওয়ানা হলাম। দোকানে তখন অনেক লােকের সমাগম হয়েছে, কতক্ষণ পরই দোকান বন্ধ হবে। তাড়াহুড়া করে অনেকেই সওদ। কিলি, এমন সময় দোকানে প্রবেশ করাটা ভাল হবে না ভেবে দোকানের বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকলাম। কতক্ষণ পরে আমার পূর্ব পরিচিত পুস্তক বিক্রেতা দোকান হতে বের হয়ে আমাকে দেখতে পেলেন এবং ব্যস্ত মেনিলা সমস্ত হয়ে বললেন, বাইরে দাড়িয়ে কেন, ভেতরে আসুন, আপনার দেশের লােকের কাছে আমি আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেব।” কথা না বাড়িয়ে আমি তার পেছনে চলতে লাগলাম। পুস্তক বিক্রেতা করে প্রবেশ করে আমাকে সােজা ম্যানেজার মহামের কাছে নিয়ে বলেন, “এই হলেন অমুক, তাকে সাহায্য করা আপনাদের কর্তব্য। ম্যানেজাব মহাশয় সাহায্য করতে রাজি হলেন এবং কত সাহায্য করতে হবে তা আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন। আমি তার প্রশ্নের উত্তর দেবার পূর্বেই পুস্তক বিক্রেতা এমন একটা টাকায় পৰিমাণ বললেন মা আমার কোন দরকারই ছিল না। আমি কিছু না বলে মাথা নত করে থাকলাম তারপর ম্যানেক্সার এবং পুস্তক বি তা কি কবে চারা উঠান যায় তাই কথা বলতে লাগলেন। বুঝলাম, নির্ধারিত টাকাটা চদা করে উঠাতে হবে এবং সেজন্য অন্ততপক্ষে হিনদিনের বেশি সময়ও লাগতে পারে। পরের দিন সকাল হতে রীতিমত ভিক্ষার অভিযান শুরু করলাম। যাদের কাছে ভিক্ষাপাত্র নিয়ে উপস্থিত হলাম তাই আমাকে নানারূপ প্রশ্ন করতে লাগল। যাদের মনােমত প্রশ্নের জবাব দিতে সক্ষম হলাম তার মা আশা কম হয়েছিল তার দ্বিগুন, কেউ তিনগুণও চাদা দিল, আর যাদেশ মনােমত প্রশ্নের জবাব দিতে অক্ষম লাম, তারা তাড়িয়ে দিল না, শুধু জানিয়ে দিল তাদেরই অর্থাভাব, আমাকে কি করে সাহায্য করবে? সমান দরে সকলকেই বাদ দিলাম, এমন কি নেসনেলিষ্ট চীনারা পর্যন্ত তা হতে বাদ পড়েনি। ভিক্ষার দৌলতে পৃথিবীর মানুষ যেমন করে চিনতে সক্ষম হয়েছিলাম অন্য কিছুতে তেমনটি চিনতে পারিনি। এখানেও দুটা দলের বেশ মন পাকশি দেখলাম। স্বালিন এবং দকী। একাইত চায় বিশ্ববিপ্লব হউক। কিন্তু কাজের সময় ভরা থাকে না। আমরা শুনতে পাই প্যান আমেরিকা, প্যান ইলাম, বৃহত্তর বাংলা, কিন্তু এর পেছনে মামুলী চুণ যে নাই তার সংবাদ সকলেই রাখে। এসকাইতরাও ১৬ এ মহাসাগরের অশান্তি সেরূপই বড় বড় কথা বলে, কিন্তু সাম্রাজ্যবাদীদের লেজ থলেই খুলে থাকে। পুস্তক বিক্রেতা মহাশয় সকল সময়ই আমার সংগে থাকতেন এবং যখনই দেখতেন আমি হতাশ হয়ে গেছি তখনই বলতেন, 'এরূপ কমলে চলবে না বা কাজ করতেই হবে। যেদিন আমার দরকারি টাকা পেয়ে গেলাম সেদিন পুস্তক বিক্রেগ এবং ডাচ কেরানীকে বললাম, “আমিআর ভিক্ষা করব না, আশার দরকারী টাকা পেয়ে গেছি। কিন্তু ডাচ কেরানী হারবার পাত্র নন্। আমাকে দিয়ে ভিক্ষা করাবেনই এবং পুস্তক বিক্রেতা আমার সংগে থাকবেনই। মনে হয়েছিল এই দুইজন আমার ভিক্ষার টাকায় ভাগ বসাবে, কিন্তু পরে দেখলাম তা নয়, তাদের অঙ্গ মতলব। তাঁরা জানতে চান, পুস্তক বিক্রেতার উপস্থিতি সত্বেও কে কে আমাকে সাহায্য করল তার একটা ফিরািন্ত করতে, কারণ পুস্তক বিক্রেতা সর্বসাধারণের চক্ষে ভাল মানুষ ছিলেন না। তখনকার দিনে ফিলিপাইন দ্বীপে প্রগতিশীলদের কেউ দেখতে পারত না। সর্ব- সাধারণের ধারণা ছিল প্রগতিশীলরা ধর্মের নিপাত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করুছ এবং সে ধরনের প্রােপাগাণ্ডা ও স্থানীয় গভর্নমেন্ট প্রাণপণেই করছিলেন, তবুও লোকের মনে প্রগতিশীলদের কাজকর্ম জানবার একটা বিশেষ কৌতূহল হয়েছিল। আমার কাছে সে সম্বন্ধেই অনেকে প্রশ্ন করত, কিন্তু দুঃখের বিষয় আমি সোভিয়েট রুশ ভ্রমন করিনি যখন বলতাম, তখন অনেকেরই মন জেগে যে। নাকে এই ঘৃণা করা হয় তার সম্বন্ধে জানার এই এ দেখে আমি অবাক হতাম, আর ভাবতাম আমাকে একবার সােভিয়েট রুশিক্ষায় যেতেই হবে। বা আমাকে সাহায্য করতে অগ্রসর হয়েছিলেন তাদের যেমন বাসনা পূরণ হল, আমারও দরকারী টাকা কয়েকদিনের মধ্যেই থােগাড় হয়ে গেল। এবার আমার ফিলিপাইন বীপপুঞ্জ হতে বিদায় এবার পালা। কে, গি, এম, জাহাজ কোম্পানির অফিসে গিয়ে একশত চান গিল্ডার মা মেনিলা ১৭ দিয়ে বলিপিগামা একখান জাহাজের তৃতীয় শ্রেণীর টিকিট কিনলাম। যে জাহাজটাতে করে বাবার কথা ছিল সেই জাহাজের নাম বেশ লম্বা এবং উচ্চারণ করতে কষ্টকর ছিল। সেজন্য বে জেঠি হতে জগজ ছাড়তে সে সংবাদই জেনে নিয়েছিলাম। আমি জানতাম একবার পাসপােট কাস্টম অফিস হতে যখন আমার হাতে দেওয়া হবে তখনই আমাকে জাহাতে গিয়ে উঠ বসতে হবে, এবং যে পর্যন্ত জাহাজ না ছাড়বে সে পর্যন্ত জাহাজেই থাকতে হবে। তীরে ভিড়ানাে জাহাজে কেউ বসে থাকতে চায় না। তারপর যদি কাউকে বলা হয় তুমি আহাজ হতে নামতে পারবে না তবে আহাজ ছাড়ার পূর্ব পর্যন্ত জাহাজে সময় কাটানাে আরও কষ্টকর হয়। আমি সে কষ্ট পেয়েছিলাম বলেই ফের যাতে আর এরূপ কষ্ট না পাই তারই চেষ্টা করেছিলাম। মানুষ সহজে কারাে প্রতি বিগড়ায় না। ইউরােপীয় ধনীর দল ইউরােপের অনগণকে চারিদিক থেকে চেপে মারছিল বলেই তাদের মাঝে এত বিদ্রোহ হয়েছে, এত যুদ্ধ হয়েছে, আর তারা এত উন্নতি করেছে। আমাদের বুড়ার বিলাত ফেবতাদেরও ছায়া মাড়ানো পাপ মনে করতেন, সমুদ্রযাত্রা মহাপাপ কাজ ছিল, অতএব আমাদের কাছে জাহাজে কয়েদী হয়ে থাকার কষ্ট নতুনই বটে। আমাকে এসব দ্রুখ কষ্টের তের দিয়ে চলতে হয়েছিল, সে আমি হব কি কাঁদব তা ঠিক করে উঠতে পারছিলাম না। ৭ বিদায় আজই সকালবেলা জাহাজ ছাড়বে। হয়ত অনেকে বলবেন বন্ধু না সে সন তারিখটা কত ছিল, আপনার সম্বন্ধে আমরা গবেষণা করব” আমি সে গবেষণার পক্ষপাতী নই বলেই তারিখটি লেখলাম না। আমি চাই বিদেশে গিয়ে যেমন কষ্ট পেয়েছি তেমন কষ্ট আমার জাতের আর কেউ না পায় যে, তারই ব্যবস্থা করা হউক তবেই হবে প্রকৃত গবেষণা। যারা আমার পেছন দিয়েছিল তারাও জেনেছিল আজই আনি মেনিলা পরিত্যাগ করব। বল্লমধারী সেপাই যেমন এগিয়ে গিনে শত্রুকে আক্রমণ করে ঠিক তেমনি চারটি লােক যে মুহূর্তে আমি শিখের গুরুদ্বার ত্যাগ করে আসলাম সেই সময় থেকে কখন বা আমার আগে আর কখন বা পেছনে চলতে ছিল। বুঝলাম আমার সামনে বেশ বড় রকমের একটা বিপদ ঘনিয়ে আসছে। প্রমণ সময়ে এরূপ বিপদে পড়া বড়ই খারাপ। এতে অষণ সমাপ্ত হয় না। আমার ভ্রমণ তখন অনেকটা নিরাশৰ মাঝেই যেন তলিয়ে যাচ্ছিল। অর্থাভাবের জন্য কেনাডা হতে বের করে দিয়েছিল, হয়ত সিংগাপুর গেলে জেলে পুরে রাখবে আবার ভ্রমণ হয়ত সিংগাপুরেই থতম হবে। এই চিন্তা করেই পথ চলছিলাম। হঠাৎ পেছন দিক হতে ফিলিপাইনে পাচক ডেকে বলল “ধীরে চলুন আমিও আসছি। তাব আসাতে আমার আনন হল না, নিরানন্দ যেন একটু বেড়েই গেল। পচিক কাছে এসেই বলল “এদের শুয় করবেন না। আমরা উভয়ে পাশাপাশি সাইকেল চালিয়ে সদ্রতীরের কাস্টম অপিসের দরজার কাছে এসে দাড়ালাম, আর যারা আমার পেছন নিয়েছিল তারা কাস্টম হাউস পেছনে রেখে জাহাজ টেংচলে গেল। আমি কাস্ট গবিসায়ের সঙ্গে নানারূপ কথা বলে সময় কাটাতে লাগলাম।
বিদায় ১৯ কাম অফিসার ফিলিপাইলো, তিনিও আমার দুঃখে আমি মেনি চিরদিনের এ খাতে গিনি নে আমাকে বিদায় দেবার বেলা গরও একটা দীৰ নিস বইল। কি ঐ চারটা অরতবাসী पार, बा कि भामाब का फूल ? ना, जांबा बागान का ভুলেনি, তারা আমার কথা ভুলতে পারে না। আমার বিদায়ী সংবাদ দেওয়ার পর তা তার শরিনের বিল করে টাকা আদায় করবে। সে টাকা কিছুটা নিজে ব্যবহার করবে এবং বাকিটু আমারই দেশে তাদের আত্মীয় কানের কাছে পাঠাবে। পুঁজিবাদী জগতের অর্থের ব্যবহার একগেই য়ে থাকে। কাউৰ আজি ছ থেকে বিদায় নিজের দিকে চলেছিল। বার বার মনে হচ্ছিল এপথে আর এজীবনে পদনিক্ষেপ করতে পারব না। পটা যদিও আমার কাছে পুরাতন না, এবং এটা একটা পাই না, তবুও মনে হলি এ সঙ্গ চারজীবনের মত স পরিত্যাগ করে যাচ্ছি। এর পনিক্ষেপ করছিলাম। ফিলিপাইনে পুলিশ আমার পেছন আসছিল আমাকে তাড়াতাড়ি পৰিক্ষেপ করার এও বলছিল না, অথবা আমার ধীরে চলার অন্ত সে কোনরূপ মুখ কালােও করছিল না। কিন্তু আমার দুদিকে চাটা শয়নে তীক্ষ্ণ চকু যেন আমার ও এখিয়ে বলছিল, তােকে যখন এদেশ হতে যেতেই হবে তখন আর ধীরে পানিপে করে দরকার কি; আমাদের চলে যেতে দে, তােকে জাহাজে উঠিয়ে নিই আমৱ তাের নাম সাত পাঁচ নানা কথা লেখে রিপাের্ট করব।” মন্ত্র মানুষ যেমন কথা বলো, তেমনি কথা বলেন বা ডিপােট হয়। আমিও একাত্তরে মেনিলা হতে ডিপােঠই হচ্ছিলাম। আমার কথা বলার কিই ছিল না। খু বলার ছিল, আমি যে মানুষ হয়েও মানুষ। আমি পরাধীন। পরানের কিছু কাবায় অধিকার নাই।
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি ফিলিপাইনে পাচক আমার অন্ত কিছু খাদ্য এনেছিল, তাকে সে দিতে চেয়েছিলাম। সে তা নিষ্পনা এবং বলল “পথিক তােমার টাকার দরকার এই নেও যার দান।” কথাটা বলেই সে আমার হাতে পাঁচটি পেসাে রেখে বেরিয়ে । আমি তারই দিকে অনেকক্ষন তাকিয়ে থেকে কেবিনে গেলাম। কেবিনে কেউ ছিল না। একাকী বসে অনেকক্ষন না চিন্তা করে যখন আর পেরে উঠলাম না তখন পৃথিবীর মানচিত্র নিয়ে দেখতে লাগলাম। প্রশান্ত সাগরের দক্ষিণ দিকের দ্বীপগুলি বড়ই সুন্দর। কোন দ্বীপ জলের সংগে সমতল আবার কোনও দ্বীপ হঠাৎ তাল থেকে উঠে যেন আকাশের দিকে ধেয়ে চলেছে। এরূপ দ্বীপ লহরীর পাশ কাটিয়ে আমাদের জাহাজ চলতে লাগল। সারাদিন সারাদিন বাইরে বসে তাই দেখতাম আর রাত্রে পরিশ্রান্ত হয়ে শুয়ে পড়তাম। দুএকটি লােক কখন কখন এসে কথা বলত। তাদের কথার যেন শেষ হত না। তাদের প্রত্যেকের মুখে একই কথা, কি করে এই পৃথিবীর লােককে পুজিবাদীর হাত হতে রক্ষা করা যেতে পারে? সকল কথাই শুনতাম কিন্তু একটি কথারও জ্ঞাব দিতাম না, কারণ যে যত বকে সে সেরূপ ভাবে কিছুই করে না। বকে যাওয়া আর া করা এক নয়। দেখতে দেখতে কয়েক দিনের মাঝেই জাহাজ বলি বীপে আসল, আমি সেই বীপে নেমে অনেক কিছু দেখলাম এবং যতটুকু পারলাম ততটুকু নােটবুকে লেখেও নিলাম। কিন্তু, যে দিন একজন বেলজিয়ান আমাকে বলল “বন্ধু তুমি কি এখানেই জীবন কাটাবে? সে দিনই ইচ্ছা হল বলিদ্বীপ পরিত্যাগ করি, কিন্তু সেদিন জাহান ছিল না। পরের দিন হাত ছিল। আমি তার পর দিন সকাল বেলা জাহাজে গিয়ে উঠলাম এবং সুয়াতে এসে নামলাম। মানুষের বাসনার যেমন অন্ত নাই, তেমনি করে পৃথিবীতে এমন অনেক विमान দেখার আছে যা দেখে শেষ করা যায় না। সুয়াতে আসার পরই বেশি গরমের অ র হল। হােটেলে থাকাটা ভাল মনে করলাম না, তাই মুরবায়ার একমাত্র বাংগালী ব্যবসায়ীর বাড়িতে আশ্রয় নিলাম। পদকের জন্মস্থান চট্টগ্রামে। তখনকার দিনে চট্টগ্রামের লোেক হওয়াটাও এটা পাপ ছিল। আমি কিন্তু এসব কথা মােটই জানতাম না। বীর ভাল হয়ে গেলে বায়ার নানা স্থান দেখে বেড়াতে লাগলাম এবং ঠিক করলাম কয়েক দিনের মাঝেই বড় বুদ্ধ দেখার জন্য রওয়ানা হব, কিন্তু বড় বুদ্ধ দেখা আমার হল না। ডাচ পুলিশ এসে আমাকে রে নিয়ে গিয়ে ডিটেনশন কেম্পে আটক করল। আমার সংগে যত রকমের ফটো এবং অটোগ্রাফ ছিল সবই নিয়ে গেল। এসব নিয়ে কোথায় যে গেল তা তারা আমাকে জানানও কর্তব্য মনে করল না। এটা কেনাডার ডিটেনশন ক্যাম্প নয়, এটা হল ডাচদের এশিয়াটিক ডিটেনশন ক্যাম্প। এই স্থানে জাপানী এবং তুরুক ছাড়া এশিয়ার আর সকলকেই এনে রাখা হয়। পূর্বেই বলেছি অত্যধিক গরমের জয় আমার জন্ম হয়েছিল, এখানে এসে আবার আয় হবে বলেই মনে হল। মস্তবড় একটা টিনের ছাত্র ধর, তার চারিদিকেও টিন দিয়ে ঘেরা। এক পাশে একটা জলের পাইপ তাও দশটার পর বন্ধ হয়ে যায়। এমনি গরমে আমাকে নিয়ে আবদ্ধ করা হল। পায়ের জুতা মােজা খুলে ফেললাম। কোট খুলে এক দিকে রেখে দিলাম। মাত্র সার্ট আর হাপ পেট পুরে সিনেটরা মেজের উপর কতক্ষণ বসে থাকলাম। তারপর হল পিপাসা। জলের কল তখন বন্ধ ছিল। চারিদিক ঘুরে দেখলাম কোথাও নাই। ঘরের চারি পাশে টিনের বেড়াতে বেশ কাটা যুক্ত তার নিয়ে বের করা ছিল। একটি মাত্র গেট। পালাবার পথ ছিল না। ফতণ পর গেটের কাছে গিয়ে রুল জল, বলে ১২ এশা মহানগরের শাড়ি চিৎকার করলাম। এখন কেউ এল দিল না তখন গেটপাত করতে লাগলাম। হয় মুখ শুকিয়ে গেল। উঠবার আল না, আমি জ্ঞান হয়ে গেলাম। রেড- টেনে লােগ ওয়াতি কার। যদি ভেটেই না থাকত তবে আমাকে এত কষ্ট পেতে হত না। চট্টগ্রামের লােক বাইরে চলে গিয়েছিলেন। বের্তে তিনি আমার গ্রেপ্তারের বা পান উৎৎ তিনি আমাকে আমিন খালাস করবার পুলিশ টেনে যান। সেখানে রেট-টেপ-ইমের কলানেক সময় কাটাতে হয়। অতি কষ্টে যখন তিনি আমিনার আদেশ পেলেন এবং ডিটেশন ক্যাম্পে আসলেন তখন আমি ফল পিপাসায় কাতর ছিলাম। ডিটেনশন ক্যাতে বের হয়ে এল তৃষ্ণা নিবারণ করি এবং শাহিনী বাবুর ঘরে যাই। তিন দিন পর হাল ধৰে। তিনটা দিন কাটানাে আমার পক্ষে কষ্টকর হয়ে উঠছি। নােৰিী বাৰ যদিও আমার প্রতি মণ করেই আমিন হয়েছিলেন তবুও আমার বাইরে যাওয়াটা তার মােটই পছত না। যারা বলে পর বৎসর নিয়ে আয় কানের উপর নির্ভর করে মীণ সময় কাটায়, তারা যে কত মনােবন পর এই তিন দিনেই তার আস্বাদ পেলেছিলাম। সুখের বিষয় যােনিী বাবু আমাকে ইমিগ্রেশন অফিসে এবং পুলিশ স্টেশনে যেতে দিতেন। পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করেছিল, ইমিগ্রেশন বিভাগ গোলের দেশ দিয়েছিল, আমি এখন তার বাড়িতেই বা আশা করে সময় কাটাতে লাগলাম। বিয়ের আগের দিন ইমিগ্রেশন ভিসার আমাকে বললেন মাদার গ্রেপ্তারের অ আমরা দায়ী নই, এখানেও অনেক ইনি আপনার বিপক্ষে বিপােট মিলেছে। আমরা বুৰতে পেরেছি লিগাের্টলি সবই মিথ্যা, কিন্তু এ আয় উপায় নাই। এবার আনকে ঘিগাপুরে ফিরে যেতে হবেই। সরকার হলে আবার আসবেন।
বিদায় বিয়ের দিন পুলিশ আমার সংগে আসল। পথে কোন বন্দরে নামতে পারব না তাও জানিয়ে দিল। আমাকে জাহাজে উঠিয়ে দিয়ে সাইকেল ও অটোগ্রাফ বইটা আমার হাতে দিয়ে একজন পুলিশ বলল “ভাবে তুয়ান। জাহাজ ধীরে চলুক আর না চলুক তা নিয়ে আমার মাথা ঘামার মত কিছুই ছিল না। জাহাজের ডেকে আমরা কজন মানুষ ছিলাম, আর পাশেই ইয়া তগড়া কতকগুলি মহিষ এবং গরু ছিল। গরু এবং মহিষকে খাবারের এ এল এবং ঘাস দেওয়া হত, আর আমাদের শুটকি মাছ ভাজ' আর ভাত খেতে দেওয়া হত। গরম সহ্ন কৰা অভ্যাস করব বলে এই গরমে অধি জন করা বন্ধ করেছিলাম। আমি মানুষ নই বলে পথের দৃশ্যাবলী দেখা বন্ধ করে দিয়েছিলাম, আমি শুধু শুয়েই থাকতাম। মাঝে মাঝে একজন উচ এসে বলতেন এটা ত আমাদের দোষ নয়, আপনার দেশের লােকই আপনার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেছিল, সিংগাপুরে গেলেই ফের আপনি স্বাধীন হবেন। স্বাধীন। কে বাধীন হবে? আমি স্বাধীন হব, ভবে কি আমার দেশ ভারতবর্ষ খীন হয়ে গে” আমার দেশ স্বাধীন না হলে আমি কি বাধীন হতে পারি ? অসম্ভব কথা, একথায় হয় গাজা, নয় প্রতারণা আছে। আমার যখন আর নড়বারও ক্ষমতা ছিল না, তখন এক দিন সকাল বেলা শাহাজ এসে সিংগাপুরে লাগল। যাত্রীর দৃল নেমে গেল। এবার জাহাজ বলয় ছেড়ে অত্র যাবে। আমি তখনও নামিনি, নামবার দরকার ছিল না। আমাকে খুৱাতে পুলিশ কেন অনর্থক কষ্ট করবে। এখান থেকেই ধরে নিয়ে বাক। কি পুলিশ আসা না। আহা ছাড়ার পূর্বে সেই ড্যাচ লােকটি এসে বলল আমি বলেছিলাম আপনি এখানে স্বাধীন, এখন নেমে যান নতুবা শিংএর ভাড়া দিন। আমি বিনা বাক্য ব্যয়ে আহা তে নেমে পড়লাম এবং অতি কষ্টে গৌরীশ চন্দ্র সিং রায়ের ঠিকানা বের করে তারই রে গিয়ে
প্রশান্ত মহাসাগরের অশান্তি
শুয়ে পড়লাম। তখন গৌরীশ ঋদিও যক্ষ্মা রােগে ভুগছিল তবু তার মনে
এমনই শক্তি ছিল যার এ আমি দ্বিতীয় বার নতুন তেজে পৃথিবী অনে বের
তে সক্ষম হয়েছিলাম। গৌরী তুমি সত্যিই ছিলে শক্তির পরশ-মানিক।
be
১ld
{}
এves
No text on this page.
HAMNATHMAWAS..
कारनामा
बायविका
पर किसी कोन
ৰে খুলি
धिकामिना
चापमानिकान बन
समात्र
१
शाटनगद
ममाति
शंडकको काम (
नाविकामाजिकका
S
sor, there that came
No text on this page.
No text on this page.