Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Gyan-sangeet Ed.1st

Islam,mohammad Nurel · 2009/11/7

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

জ্ঞান-সঙ্গীত।
( প্রথম * }
মাছ ছাম হায়েকুম।
মহম্মদ নুরল ইসলাম কর্তৃক
মুভি ও
****
মুলা! চার আনা ।

SINHA PRESS. COMILLA.

আল্লাহুআক্রর।
জ্ঞান-পী
(১)
লায়লাহা এল্লাল ফুকার নাম সবে রে।
মােকাম মঞ্জেলে দেল রহিবে তােমার রে ।
মালেকুল কুদ্দছ তিনি জলিল জাব্বার রে।
হাকেমুল হাকেম তিনি রেজেকুল রাজ্জাক রে
ছামিউন বাছির তিনি খালেকুল মালেক রে।
সাহেন সাহা কাদের তিনি গফুর ছাত্তার রে ।
সাফিউল গনিউল তিনি আলেমুল কাহার রে।
অদুদ মাবুদ তিনি হামিদুল মজিদ রে ।
করিমুল করম তিনি রহিমুর রহমান রে।
মজিদুল মজিদ তিনি আলেমুল বারেক রে।
আজিজুল আজেছ তিনি বসিরুল আমিন রে।
বারিউল ছাদেক তিনি খাবিরুল খালেক রে।

জ্ঞান-সঙ্গীত।
(২) ভাৱেফে ৱছুল।
মহাম্মদ মােস্তাফা নবি, আখেরেরি ভেলা।
সেই নাম লইতে মন, কেন কর হেলা।
যার নামে জগত আলাে, আঁখি আলাে সুরে।
আঠার হাজার আলম, যার নামে ঘুরে ॥
তারি নামের নাম ধরে,-যাইব সে ভব পাড়ে।
সেই নামে আখেরাতে, সুরু হবে মেলা।
যার তরি বিনে পাড়, হইতে না পাড়ে।
জিতিবে যাহার তরী, অতি খরতরে।
পুণ্যের পবিত্র ছবি,–এছলাম ধর্মের রবি।
কঠিন পরীক্ষা কালে, যার নামে আলী।
উম্মতি উম্মতি বলে, ফুকারিবে ঘুরে।
সুপারিশ করিবে যেবা, হাসরের পাড়।
জলন্ত আকার ভূমি,কান্দিয়ে লুটাবে তুমি ।
আখের উদ্ধারিবে সেই, নবি ছাল্লে আলা ।
}
(৩) সুর-ভাটল
লাইলাহা এল্লালাহ মহাম্মদ রছুল।
দুই চোখ মুদিয়া গেলে যাবে নদীর কুল। (অ)
আবদুলকাদের জেলানি আল্লাহ
সারি হবে ঋরের বাঁশ বুহিবে একেলা।

নসঙ্গীত।
হাজার সাল পরে রবে মাটির বাঙ্গালা। (অ)
আবদুলকাদের জেনি আল্লাহু।
চারি জনের কালে চড়ে শ্বশুর বাড়ী যাও।
নূতন কাপড় পড়ে তুমি খুসৰু লাগাও। (অ)
আবদুলকাদের জেলানি আল্লাহ।
বর লইয়ে যাত্রি সহ হওরে আগুয়ান।
শ্বশুরের নিরালা বাড়ী নাম গােরস্থান। (অ)
আবদুলকাদের জেলানী আল্লাহু
মাটির চৌয়ারী ঘর নিরালা মােকাম।
আখের হাসর তকঃ ঘর হইল নির্মাণ। (অ)
আবদুলকাদের জেলানী আল্লাহু।
মাতা পিতা জন ফরজন স্ত্রী ভাৰ্যা আর।
দুই চোখ, মুদিয়া গেলে সকলি অসার। (অ)
আবদুলকাদের জেলানী আল্লাহু।
ছাড়িল আশার বাসা খাসা পাইল বাড়ী।
বিদায় করিল যাত্রী শুইল নিজপুরী। (অ)
আবদুলকাদের জেলানী আল্লাহু।
একে দুইয়ে চলে যায় চল্লিশ কদম।
মনকির নকির আসে জবাবের কারণ। (অ)
অবদুলকাদের জেলানী আল্লাহ।

জ্ঞানসঙ্গীত।
(৪) সুর-মুকুন্দ।
কাদের কুত করিম কার।
( হারে) পাথরে রাখিছে জিউ যােগায় রে আহার ।
সাগর রাখিছে শুখা, পাহাড় করিছে তল।
তেল বিনে জ্বলে বাত্তি, বৃক্ষপরে রাখে জল।
হেইলে পড়ে ক্ষুদ্র বৃক্ষ দিয়ে তারে বড় ফল।
কেন রে অসীম বৃক্ষে ফল দর্শে ক্ষুদ্রাকার।
বাদশায় ফকির করে, ফকিরে বাদশাই।
ধনীকে নিধন করে, ধনী মাঙ্গে ভিক্ষা তাই।
ছিল বান্দা মস্তকেতে, এল মায়ের সেকনেতে ।
এল লেংটা, গেল লেংটা, দেখরে ভেবে কেবা কার
ভাসিছে পাথর জলে, সােলা তল করে তায়।
কারে নৌকা বিনে পাড়, কেবা রসাতলে যায় ।
করে ধনে জমিন কাটে, কারাে অন্ন নাহি জুটে।
কারাে দুঃখে মাথা কুটে, এতিম করে ছারখার।
কাঠি কুজা লইয়ে খারা, সিঙ্গা হাতে ইছরাফিল।
কুঠি নরে, পলক পড়ে, হত্যা করে, আজরাইল।
বার থানার হবে পুল, পাড় হইতে পরবে বােল।
হবে কত গণ্ডগােল, ববে নুরেল গুণাগার।

ভান
() মুম্ভ-মনােমােহন।
আমি কি আর, আমার হব, দেখ তব, বিচার করে।
আমি কাহার, কেবা আমার, আমার আমার, ভাবি তবে
হইয়াছি রে আমি যাহার,-সে’ত যদি হয় রে আমার।
হব তবে আমি তাহার, না লায়েক গুণাগারে।
আমার জমা জমি ভিটা,ফুল পালঙ্গ সােণার খাটি।
আমার স্ত্রী পুত্র বৌটি, আমার হইয়ে থাকবে কে রে।
আমার তালা তেতালা ঘর, জ্বলছে ফানুস দেওয়াল ঝার।
(আমার) মানে জাতে আমি বড়, এই বড় কি রয় সংসারে।
আমার জমিদারী খাল,—আমার গােলাম বান্দি দাস।
(আমি) জন্ম পেয়ে ছিলাম মিরাশ, এই মিরাশ কি থাকবে কিরে।
আমার আমি ছিলাম শূন্য,-এলাম শূন্য, গেলাম শূন্য।
কেবল শূন্য, পাপ আর পুণ্য, দুরৈল শুন্য কান্দে ডরে।
(৬) সুর-মুকুন্দ।
(স্বদেশী)
মনে জব ছ'কিরে চাষি।
খেইতে পাওনা দিন দুদিনে চিন্তায় আছে। বসি।
চাষ করিয়ে পাওরে সােণ চল্পে বুঝে হয় রে দুন
দিন থাকিতে হলি কানা, নহিয়াই ও বসি।

উত্তান-সঙ্গীত।
মাখন মলাই নাই রে তােদের, হলি রে প্রবাসী।
ততাদের ঘরে দিনের বেলায়, সিন কাটে কে আসি।
তােদের ক্ষেত্রে শস্য ভরা, তােদের নয় কে একটি ছড়া,
তােরা কেবল চাষের ঘােড়া, গ্রাস করে বিদেশী।
খেয়ে দেয়ে তােদের ঘরে, চলে দিবা নিশি।
তােদের খেয়ে হল মানুষ, লাগায় তলদের গলায় ফাঁসি।
বিচারখানা তােদের তরে,
বসাইয়াছে রাজ সরকারে,
বিচার পাবে ঘরে ঘরে, সুখে যাবি ভাসি।
দুঃখে পড়ে, বিচার ঘরে, করে কান্নাকাটি।
মরার উপর খাড়া বসায়, খুন খায় তার চুসি।
আট টাকায় পাট বিক্রি কর, দশ টাকা হয় সূতার দর,
টাকা পেয়ে মহা বড়, হলিরে তায় খুসি।
এই সাত সমুদ্র পাড়ে নেয়রে দিবা নিশি ।
আটের দুইটি শূন্য দিয়ে, নিয়ে যায় বিদেশী।
টাকায় শত নেয় রে ঘরে,
দেখনারে তাই হিসাব করে
চড়ে ঘােড় গাড়ীর পরে সুখে রহে ভাসি।
কামান গুলি তােদর টাকায়, করছে দিবা নিশি ।
সুরেল বলে তােদর বুকে, মারছে কে রে আসি।

ঠানসীত।
(৭) সুৱ--মুকুন্দ।
মন আছাে পেরেসান।
মােহ ঘােরে ঘুরে বেড়াও, নাইকো তেরা জ্ঞান।
সদা মন বেকারা রে,
ঘুরে বেড়াও হাহাকারে।
দাঁড়িয়ে সাগর পাড়ে,
(মন) ফিরে ত্রিভুবন।
মায়ার সাগরে পা দিয়েছ রে চাল
কেমনে যাইবে ছুটে দেখ মহাফা।
তরী দিচ্ছে উজান পাড়ি,
চল মন ত্বরা করি,
দিতে হবে ভব পাড়ি।
কর আয়ােজন।
ধরবে পাল তারি নামে চলবে তরীখান।
পাড়ে গিয়ে ঠেকবে যবে, দেখবে রে গােলসান ।
শুন্যে আসে শূন্যে যাবে,
পাপ পুণ্য সাথে রবে,
দুঃখ সুখ যত ভবে,
করেছ রে মন।
সেইখানে দাঁড়াইবে, তারি বিদ্যমান।
ওজন হবে নেকি বদি, হাঁসর ময়দান।
০

জ্ঞানভি। '
(৪) এর
খেলাফত ধ্বংস হবে কার জোরে।
দেখিনা মােরা জগত জুরে।
স্বাধীন করে দিয়েছে যেই জন।
সৃষ্টি কর্তা প্রভু নিরঞ্জন।
বসে রয়েছে করে নিরীক্ষণ।
জ্ঞানের চক্ষে দেখে দেখনা রে।
তক্তে তাউজ দিয়েছে সাঁই।
হুকুম বিনা তায় যাবে না ভাই।
চেয়ে দেখােনা কোরাণে তাই।
লিখা আছে তাই প্রতি ছতরৈ।
মদিনা মক্কা করেছে সৃজন,
আরব ভূমি তায় দিয়েছে রক্ষণ।
খােদার খলিফা দিয়ে সিংহাসন।
রাখিতে তাহায় সুসার করে
পূৰ্ব্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণ ।
দিয়ে ছিল তায় করিয়ে স্বাধীন।
দিনে দিনেদিন, হইল বিলীন
প্রভু নিরাকার হুকুমের পড়ে।

জ্ঞান-সঙ্গীত।
মদিনা মক্কা যাইবে ছুটে।
তক্তে তাউজ লইবে লুটে।
একে একে সব নিতে তা বেটে।
ভবনে আগুন জ্বলিবে স্বারে।
যখন দেখিবে হইবে গারত।
সুরু হবে সেই রােজ কেয়ামত।
ছিন্ন ভিন্ন হবে এমারত।
লিখা আছে তায় কোরাণ পরে ।
যখন তক্ত হইবে বিলীন।
দেখিবে প্রভু রাব্বেল আলামিন।
আসিবে দর্জাল ইছা মেন্দিদিন।
বাজিবে ডঙ্কা জগত জুরে।
বলে হীন তাই মূখ নুরেল।
দেখিবে ভাই সবই ভূমণ্ডল।
একে একে সব যাইবে সকল ।
শেষ কেয়ামত হবে আখেরে।
(9) সুৱমুকুন্দ।
দেখবে কি, বুঝবে কিরে, কান্দে সদাই আমার প্রাণ।
করবে কি, করছে কিরে, দেখরে ভবে মায়ার ফান্দ ।

আনসঙ্গীত। কেউ হাসিছে, কেউ ভাসিছে, কেউ ধরিছে মধুর তান। কেউ কান্দিছে, কেউ খেলিছে, কেউ চইলাছে গােরস্থান কেউ সাগরে, কেউ নগরে, কেউ কবরে জ্বলে জান। কেহই হাজি, কেহই গাঙ্গি, কেহই পাজি, দেখরে মান। কেহই উকিল, কেহই বখিল, কেহই ছখিল করে দান। কেউ একুলে, কেউ সেকুলে, কেউ দুকুলে হারায় প্রাণ। কেউ হইয়াছে, কেউ মইরাছে, কেউ ধইরাছে হেস্কিটান কেউ সুবাসে, কেউ হুতাশে, কেউ সাবাসে, বলিয়ান। কেহই দ্বারে, কেহই বায়রে, কেহই জাড়ে, কঁপে প্রাণ। দেখ সকলে, কয় মুরেলে, কোন বেভুল, আছ মান। (১০) সুৱ- কিবা দেশে জন্ম হলেম, তরিক বেতরিক করে। নােছলমান নামটি পেলেম, দিন ইছলাম কি চিনলেন নারে। চারি কুরছি চারি আছাব. চারি তরিক, চারি মুজাৰ। রাখে নিয়ে হিসাব কিতাব, কৈ মােছলমান বলে কারে। দুর্গাপূজা রথের যাত্রী, মেলা গাছতল, আর দেওয়ালি। কেনা বেচা মুছলেন জাতি, রঙ্গ তামাসায় উদর পুরে। চারি ইমাম্ চারি কলেমা, চারি কিতাব চারি জনা 'লবে হিসাব প্রথম থানা, সবের জানা আছে কিরে।

আনসঙ্গীত।
সনের বৈশাখ পাও খাসি, শ্রীপঞ্চমীত মাজি ঘসি।
ভাদ্র মাসে আমাবসি, গাছ ছাটিলে ফল ধরে।
নার চান্দের হিজরী সন, বায় কাতিমণ ডাইন কেরামন।
মােছলমানের যায় কত সন, করে হিসাব কয় জনেরে।
জগবন্ধুর কঁঠাল কলা, হুলির বুকে আবির গােল।
সংক্রান্তিতে খায় কমলা, দেখে নুরেল মােছলেমে রে।
(১) সুৱ-মুকুন্দ।
শমন ভয় দেখাস তুই কারে।
হৃদয়ে মুরশিদের নাম বেঁধেছি রে তারে।
বেলেছি হৃদয়ে তার, ডরি নারে,ভয়ে আর।
এক বিনে দ্বিতীয়ার, নাহি রে সংসারে।
দিবা নিশি আছি বান্দা,তাহারি দুয়ারে।
আছে কি শমনের শক্তি, আসে আমার দ্বারে।
সপেছি রে যারে প্রাণ, সে করিবে পরিত্রাণ।
করিবে সে আত্মদান, জনমেরি. তরে।
মােকাম মঞ্জলে দেল বান্ধা আছে তাড়ে।
শমনের কি আছে ভয় আউয়াল আখেরে।
যে করে সমন অমান্য, সমন যায় তার জন্য।
ভূয়ে তার আত্মা শুন্য, জমেরি তরে।

১২ জ্ঞান-সঙ্গীত। মৌলানা মুরসিদের নাম, নাহি বার অন্তরে। দেখে সে শমনের দূত, আত্মা কাঁপে ডরে। কেউ করে সে শমল ভয়, কেউ করে সে শমন জয়। কারাে শনন দমন রয়, কেউ সমনে ডরে। হীন মূখ নুরেল বলে, দেখনা হিসাব করে। যে জপে কাণ্ডারি নাম, শমন ভরায় তারে। (২) সুর- প্রাণ ঈদে প্রাণের তরে। কেন প্রাণ বুঝে নারে। প্রাণের জন্য জলে প্রাণ, কেঁদে হয়রে পেড়েন। কেন তায় পগেলা প্রাণ, আপন প্রাণকে কঁাদায় রে। প্রাণ ধরে না আমার কথা, দেয় প্রাণে সদাই ব্যথা। ঘুরি আমি যথা তথা, প্রাণ বাঁধ্য কেন হলনারে। যখন প্রাণ রাগে বসে, শত প্রাণ হায় মিলে মিশে। কত প্রাণে তােষাতকাষে, তবু প্রাণ আয় বুঝে না রে। প্রাণ পড়েছে আপন ফান্দে, প্রাণের জন্য প্রাণই কাঁদে। বুঝবতায় কোন ছন্দে, আপনি তার বুঝলে নারে।

নসঙ্গীত।
প্রাণ বুঝে না হিতাহিত, হিতে করে প্রাণ বিপরীত।
প্রাণের সঙ্গে প্রাণের রীত, রাখতে আমি পারি না রে।
প্রাণ হলনা কথার বাধ্য, বুঝাই প্রাণে যথাই সাধ্য।
তবু প্রাণ হইল অবাধ্য, সুরেল বাধ্য করতে নারে।
(১৩) সুৱ-মুকুন্দ।
কে তুমি দাড়ায়ে বলে, প্রাণ কাঁপে মাের, ভয়ে।
তুমি আমার কপাট সিন্দুক, কেনে ভাঙ্গতে এলে।
আন্ধার ঘরে, প্রবেশ করে, আমার তালায় মারছ টান।
সিন্দ কাটছ রে দিনের বেলায়, তুমি বড় শক্তিমান।
হলিরে তুই বিকট মুরুত, প্রাণ রহে না ঘরে।
খুলে আমার কপাট দ্বার, বার কল্লে রতন,
এল পড়ে সােণার সিন্দুক, নিয়ে যাওরে ধন।
(তুমি) যেমনি এলে, তেমনি রলে, ঘরের মাণিক নেও খুলে
দেইখে তােমার আজব ছায়া, উড়ে যায় রে প্রাণ।
ঝরঝরিয়ে পড়ে কায়া, দেইখে মুরতিমান।
তুমি এমনি করে, হরণ করে, বুঝাও বাত্তি সব ঘরে।
তােমার নাম কি যমদূত, প্রবেশ কর ঘরে।
দরজায় এসে দাঁড়াও তুমি, রইতে দেওনা মােরে।
সদাই মুরেল তারি ভয়ে, বুক কাপে সেই ডরে।
(২)

জ্ঞান-সঙ্গীত।
(১৪) সুৱ-মুকুন্দ।
ঘাের কলিতে হইয়াছে সব, আজ ব্যবহার।
কেহুর হাসি, কেহুর কান্দা, কেহুর দেখি, ব্যভিচার।
(সেই) ধৰ্ম্মের, ধৰ্ম্ম, পরম ধৰ্ম্ম, যদি করে সুবিচার।
স্ত্রীর গর্ভে মায়ের জন্ম, মেয়ে হইয়ে মা করে কৰ্ম্ম।
পিতা হেন মায় পালে ধৰ্ম্ম,
তবু ভয়ে এন্তেজার।
পুত্র ঘরে, এলে পড়ে, সুন্দরী বলে যা বলবার।
মারে ধরে মেয়ের মত, দেখরে ধর্মের অবিচার।
প্রাতে পুত্র যায় রােজগারে, রুজির জন্য অইলে মরে।
স্ত্রী থাকে খােস দরবারে।
দরবার, বসে কি বাহার।
আমাদের ঘরের তার ভইন, গােলামেরি ঘাড়।
যদি ভইনগাে ছাড়িয়ে দিত, কপালে তার মারতাম ছার।
বেটি বিক্রী পিতায় করে, দেখ লেম তাই এ সংসারে।
খায় হারাম নানান ঘরে।
ধৰ্ম্ম, থাকে না কারার।
হারামে হারামি জন্মে, ধৰ্ম্ম থাকে,কার।
ঘরে ঘরে হইল অধৰ্ম্ম, ধৰ্ম্ম লুপ্ত এ সংসার।
স্ত্রী পুরুষের নাইরে হায়া, খেস দেশেরী নাই রে মায়া।
ধরে আছে কেবল কায়া।
ছয়া মাত্র সার।
৫

জ্ঞানসঙ্গীত।
খাওয়া দাওয়া নাইরে সুখে, করে হাহাকার।
যেনি স্ত্রী, তেমনি পুরুষ, জন্মের মধ্যে অবিচার।
মাতা পিতার ধার ধারে না, ধৰ্ম্ম কর্মের মান রাখে না।
আউয়াল আখের তায় ভাবে না।
কলির ব্যবহার।
মুরেল বলে সবের ঘরে, কলি অবতার।
সেই কলির ধর্ম পুরুষ পালে, জলছে আগুন এ সংসার।
(১) সুর-শুকুন্দ। স্বদেশী)
মােদের দেশ কি হবে।
হুত দিন না হিন্দু মােছলেম, এক পাত্রেতে খাবে।
মুখে মুখে মিশামিশী,
অন্তরেতে নাইকো খুসী।
জাতি মােদের যাবে ভাসি।
দুঃখ কি আর সবে।
যত দিন না হিংসাদ্বেষ, হৃদয় হতে যাবে।
তত দিন না স্বরাজেরে, হাতে হাতে পাবে।
কিচুলু ডাক্তার, চিত্তরঞ্জন,
আলি ভ্রাতৃ হল বন্ধন।
গান্ধীজির অনুমােদন,
রাখিল কে ভবে।

জ্ঞান-সঙ্গীত।
লালা লাজপত রায়, নেহা লাল সবে।
পীর বাদশা মিঞা বন্ধন, দেখনারে ভেবে।
ভাইয়ে ভাইয়ে মিলে মিশে।
গলে গলে যাবে ফেইসে।
যখনি তা দেখবে শেষে।
উঠবে ভেসে যবে।
চিতাখলা আদালত, যখন মনে হবে।
তখন স্বরাজের ভেরি, বাজিতেই রবে।
(১৬) সুর-মুকুন্দ।
(১)
মিছা দুনিয়ার কি আশা।
দুদিন পরে চলে যাবে, গাছতল হবে বাসা।
আশার উপর বাসা বাড়ী,
কেমন হচ্চে মজাদারী।
আলাে জ্বলে সারি সারি,
মজা কি তার ঠাসা।
আবের পাখা, ফুলের শয্যা, ঝিলমিল মশারি,
বুঝলে না সে আপন পর, কি হবে তাের দশা

জ্ঞানসভা
জমিদারী বালাখানা
সাইন কাত আমিরানা।
রুনু ঝনু সাদিআন,
শুনিতে কি খাসা।
সামনে সুন্দর পেয়ারী, কিবা মধুর ভাষা,
তুমি কার, কে তােমার, কর নিরে দিশা।
আশার কুহকে পরে,
বাদসাই মাদার ছাড়ে।
ফেরে সদা দর বিদরে,
দেখরে তামাসা ।
হারি উপর খােদয়, বড়ই ভালবাসা।
জিন্নত কইরাছে দাবি, দেলটী তার খাসা।
(১৭) সুৱ-মুকুন্দ (স্বদেশি)
(১)
দেশের সবাই পাগল।
লেগেছেরে গণ্ডগােল ॥
ছাড়িয়ে দেশেরি মামা, হইয়াছে আকুল।

জ্ঞানসঙ্গীত।
কি জানি কি ঢেউ এসেছে,
মনের বেগ বেড়ে গেছে,
জোয়ারের জল ছুটীয়াছে
হইয়াছে বেভুল।
স্ত্রী পুত্র মাতা পিতা, ছেড়েছে সকল।
কামান গুল্লি তীর ছেইদে, হইয়াছে আগল ।
(২)
পঞ্জাবেতে হত্যা করে।
টেক্সের দায়ে খুন পড়ে।
কুলির উপড় গুল্লি ছাড়ে।
পইরে গেল রােল |
মােপলা মারে, রেলে ভরে, জ্বলিল আনল।
আকাশেতে বাণ ডেকেছে, সমুদ্র টলমল।
( ৩ )
পাগল দেওয়ানার মত।
খদ্দরে বিভূষিত।
তপস্বী আউলিয়ার জাত,
হইয়াছে বিলকুল ॥
একে একে ধরে নেয়, পাগলেরি দল।
সুরেল বলে পাগল হয়ে চলেছে সকল ॥

জ্ঞানসঙ্গীত।
(১৮) সুৱ--মুকুন্দ।
চাঁদপুর বড়া খফছুরাতি।
দেখাহাে মায় ঘুড়ে ফিরে, সুন্দর মুরাতি।
( ১ )
চাদপুর কি চাদপুর আছে,
চান্দের আলাে পড়ে গেছে।
চান্দ বাগমে চান্দ উঠেছে,
ঘরে ঘরে বাতি।
উঠে গেয়ে হাওয়া তেরা, দেইখে মায় ছুরাতি।
ছারে চাঁদপুর রােশন হুয়া, বইসে আছেন জ্যোতি
চাঁদপুরে চান্দ উদয় হল,
বসে আছেন করে আলাে।
শত শত তারাদল,
সঙ্গ সাথে সাথী ।
হুহুঙ্কারে আল্লা রবে, কাটে দিবা রাতি।
সব কি দেল দেওয়ানা হুয়া, রাখে কেছা শক্তি।
যখন আসে জুম্মা রাতি,
সবে হইয়ে এক সাথি।
আলাে জ্বলে নানা ভাতি,.
কাটে সারা রাতি।

জ্ঞান-সঙ্গীত।
চান্দের অললায়ে ফুল, ফুটে নানা জাতি।
মালতী মল্লিকা টগর বকুল জাতি যুথী ।
( ৪ )
চাঁদপুর কি অন্য কারাে,
কিবা ছােট্ট কিবা বড়।
হােক সে সারাবি খাের,
জিনা কি বেদাতি ॥
সুদখাের বেনগাজি আরাে নানা জাতি।
অনল দেখিলে মােম, গলে জেছ ভাতি।
( ৫ )
নামাজি মুছল্লি যত,
সাম ছােবে আসে কত।
বলিতে পারি কি অত,
সুরেল মুখ মতি।
নামাজ পড়নে কো-খাড়া, হইয়ে এক সাথি।
ছুক্ষত জামাল দেখে, দেওয়ানা বন্ জাতি।
ভবের বেপার; দেখে চমৎকার
দেল বেকারার, হইয়ে যায় ।

জ্ঞানসঙ্গীত।
গিয়েছে সুদিন, এসেছে কুদিন,
জানি না কি দিন, আসে তায়।
উলটে হাওয়া, বইয়ে চলেছে, মনের গতি কি হল তায়।
ছিলে বা কেমন, হলে বা কেমন, আর জানি কি হইয়ে যায় ।
ফাজেল গেল রসাতলে,
জাহেল বাড়ে দুনিয়ায়।
জাতি গেল কুজাত হয়ে।
অজাতের জাত বেড়ে যায় ।
বাজার হল অসুখ বিসুখ, প্রজায় শান্তি কোথায় পায়।
ধৰ্ম্মের ঘরে আগুন জ্বলে, বিধর্মী সে রঙ্গ চায় ।
আল্লা এক, লা সারেক,
যেবা রহে ভাবনায়।
কেমন জানি কুদরুত হাকিম,
ভিক্ষুক করে রঙ্গ চায় ।
অধম হীন সুরেল বলে, আছি সদা ভাবনায় ।
পাপীকে করিলে দোয়া, উদ্ধারিবে রববানায় ।
(২০) সুর-স্বদেশী।
ভারত স্বাধীন তরে, দিলে জীবন অকাতরে,
ছাড়িয়ে হৃদয় মায়া, সুখময় এ ভন।

জ্ঞানসঙ্গীত।
।
স্বদেশ হইবে বলে,
পড়িয়াছে মহা জেলে।
দুঃখেতে জড়িছে কায়া,
হেরে দেখ দুনয়ন
ছেড়ে গৃহ অভিমান,
ভাই হিন্দু মুসলমান।
করিয়ে দেশের দয়া,
জুড়ে দিলে মহারণ।
কে তুমি কোথায় আছ,
দেখনারে চেয়ে কিছু।
দুঃখেতে পড়িয়া মহা
কাটিতেছে এ বন্ধন।
জেলে ডাক্তার কিচেলু,
মতিলাল নেহরু।
আলী ভ্রাতা দুই ভাই,
গেল চিত্তরঞ্জন ॥
কত শত দলে দলে,
দিনে দিনে চলে জেলে।
দেখনা ভারত মাতার,
যত আছে সুসন্তান।
গান্ধীজিউ বন্দী হল,
পীর বাদশা মিঞা গেল।

জ্ঞানীত। লালা লাজপত রায়, বন্দী কুতুবর রহমান ভারত সন্তান মােরা, হইয়াছি পথহারা। যাইতেছে কারাগারে, ভেবে দেখ কি কারণ। কি সুখে ঘুমিয়ে বলে, বেলা অস্ত হয়ে গেলে। জাগিয়ে দেখনা তায়, কেন ঘুমে অচেতন। বন্দী জেলে সেরে নর, ভরে আছে কারাঘর। দেখরে সােণার তনু, পড়ে আছে কি কারণ। সারা দিয়ে চল যাই, সুরেল বলেছে ভাই। কি আর রহিবে ঘরে, করে দেখ নিরীক্ষণ। ১) সুর- উছুস তরঙ্গে, যমুনা ভরপুর। সাগর হিল্লোলে, গায়ে মুমধুর।

ঔত্তানসঙ্গীত।
=
ঘমুনা জোয়ারে, চলেছে লহরী।
গাইছে সমীরে শুনে সুধাকর।
(২)
চলিছে মিহিরে, নিশীথ সময় ।
দহিছে পরাণ, শ্রবণে মধুর
(৩)
বসন্ত সাগরে, বাজিছে বাঁশরী।
উজান ধরিছে, সমুদ্র লহরী।
( ৪ )
লইয়ে হাতে, বাজায়ে মুরারী।
পারি কি রহিতে, হইয়ে বিভাের H
অসার সাগরে, চলিছে তরণী।
বীণার ঝঙ্কারে, কাড়িছে পরাণী।
( ৬ )
কি জানি কে মাের, ডাকিছে অদুরে।
যাইতে বাসনা, মরি তারি সুর
(৭)
নীরব নিরলে, বলেছে সুরেলে,
বাইতে তােমায়, খুনে লও সরলে।
*

জ্ঞানসঙ্গীত।
-----
( ৮ )
যমুনা কেনারে, যাইতে তােমারে,
ডাকিছে বাঁশরী, করিয়ে ফুর ফুর।
২২ জাতীয়–সুর।
ভাই হিন্দু মুসলমান,
হেরে দেখ দুনয়ন,
ছাড়িয়ে'হৃদয় মায়া প্রাণ।
ছেড়ে সব সুখ আশ,
হয়ে আছি কারাবাস,
পড়ে আছি জেলে কি কারণ।
ভারত সন্তান মাের,
হয়ে আছি পথ হারা,
মােরে কে করিবে পরিত্রাণ।
ভারত স্বাধীন তরে, দিলে জীবন অকাতরে,
ছাড়িয়ে হৃদয় অভিমান।
জেলে ডাক্তার কিচেলু,
মতিলাল নেহা,
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন ।
গান্ধীজিও বন্দী হল,
পীর বাদশা মিঞা গেল,
আরও বন্দী কুতুবর রহমান।
জেলে পড়ে সেরে নর, ভরে আছে কারাঘর,
সােণার তনয়া বন্দীয়ান।
কে তুমি কোথায় আছ, দেখনারে চেয়ে কিছু,
যাইতেছে হইয়ে আগুয়ান।
(৩)

জ্ঞান-সঙ্গীত।
মােহ নিদ্রায় পড়ে বলে, বেলা অস্ত হইয়ে গেলে,
কেন ঘুমে হয়ে অচেতন।
মিলে মিশে ভাই মােরা, উঠ সবে দিয়ে সারা,
যত আছ ভারত সন্তান।
সাগরে উঠেছে ঢেউ, বসিয়া না রবে কেউ,
বল সবে বন্দে মাতরম্।
খেলাফত হাতে কর,
বলে আল্লাহুয়াকবর,
যত আছ ইছলাম সন্তান।
কি আর বলিব ভাই,
উঠ সবে চল যাই,
হীন মূখ সুরেল অধম।
সংসারে পড়েছে, চিজের আকাল ।
কেমনে বাচিব চিরকাল।
তৈল লবণ দেয়াশালি,
সুই লােহা সূতার গুল্লি।
বাড়ল টেক্স সহর গলি,
দাম হয় গরু বকরির খাল।
মােজা গেঞ্জি জুতা ছাতি,
সােণা রূপা মােম বাতি।
বাড়ে দাম দিবা রাতি,
হাতে ধরে যেই মাল ।

সঙ্গীত।
২৭
বৈশাখ জ্যৈষ্ঠে বৃষ্টি পড়ে,
চাউলের দাম আপনি বাড়ে।
রেঙ্গুনের চাউল এসে পড়ে,
রক্ষা পায় গরীব কাঙ্গাল
'ছই লেবু বেগুন কলা,
শাক সবজি লাউ মূল।
ছাতকের সেই কমলা,
আরও দাম হয় 'ভাদ্রের তাল।
ধুতি পিরাণ বানাত সালে।
আকালে দাম হয়ে গেলে ।
দীন হীন নুরেল বলে।
কেমনে যাইবে কাল।
পার্বত্য ত্রিপুরা, গােমতী নদী।
পূৰ্ব পাহাড়ের নদী, স্রোত চলে ধার।
দেইখে খােদ গভর্ণমেন্ট, না করে বিচার।
বড় বড় বিলগুলি,
কেটে কল্পে রাস্তাগল্লি।
সেই জলেতে জলাঞ্জলি,
দেখে ভাঙ্গা

জ্ঞান-সঙ্গীত।
সনে সনে জল এসে
পড়ে ভাঙ্গা আসে পাশে।
স্রোতে মানুষ চলছে ভেসে,
কইরে সাের চিৎকার।
নদীর উত্তর পূর্ব পানে,
সােণামুড়ার সন্নিধানে।
পড়ে ভাঙ্গা লালার বাণে,
লােকের নেয় আহার ।
নদীর দক্ষিণ পশ্চিমদিকে,
পড়ে ভাঙ্গা সবার আগে।
মরল মানুষ সেই ভাঙ্গে,
উঠল হাহাকার।
নদীর উত্তর পশ্চিম কোণে,
রেল রাস্তার পূর্ব পানে।
পড়ল ভাঙ্গা ঝড় তুফানে,
লােকের নাই নিস্তার ।
নদীর দক্ষিণ ঝাকনি পাড়া,
সেই ভাঙ্গাতে একা সারা।
সেই অঞ্চলের নাই কিনারা,
রসত দেয় রাজার ।

নসঙ্গীত।
হাড়িধন বেপারীর বাড়ী,
ছেলে মেয়ে কতেক নারী।
পড়ে মরল কেওয়াইজুরী,
বাজিল সংসার।
রেল ইছলাম মােয়র নাম,
কুমিল্লা চান্দপুর গ্রাম।
গােলদার বাড়ী মাের মােকাম,
প্রণিত হল সার।
২৫ সুর-মনােমােহন।
কেনে মন, হল এমন, বুঝি কেমন, করে।
বুঝি না তায়, কি করি হায়, মন ব্যাথায় যাই মরে।
চায় না মনে বাসা বাড়ী,
দিক বেদিকে ঘুরে মরি।
কি হল মাের মন তরী,
সদা ফিরি বেকারারে।
সত্য মিথ্যার ভাব বুঝি না,
আখের আউয়াল তায় চিনি না।
নেকী বদীর ধার ধারি না,
মন জানি না কি করে।

o
জ্ঞানসঙ্গীত।
কোথায় ছিলেম, কোথায় এলেম,
কিবা পেয়ে চেয়ে ব’লেম,
ঘাের পাকেতে পইরে গেলেম,
কিনারা না পেলেম নারে ॥
কি করিব কোথায় যাব,
কি করিলে কিসে পাব।
কিসের ভব, কিসের লাভ,
দেখ তব, হিসাব করে
মন হইল ব্যাকুল আকুল,
হারাই দুকুল, একুল, সেকুল।
জানি মন হয় কোন কুল,
সুরেল ব্যাকুল, কঁদে ভরে,
ঐ যে বিবাহ বাড়ী হইয়াছে সােণারপুরী,
করে কত হুড়াহুড়ি, হইয়ে মাতােয়ারা
বালক বৃদ্ধ যুবাগণ,
আনন্দে ভাসিছে মন।
বাই, বাজি অগনন,
জ্বলিছে ছেতারা।

জ্ঞান-সঙ্গীত।
আর বাহেরে সাের,
নামিছে স্বর্গের গুর।
গাহিছে ললিত তান,
আকুলে পেয়ারা ॥
ঝার পান দেওয়ালগির,
জ্বলে আর বাহের।
রায় নবাব আমির,
মইজেছে ইহারা
বিবাহের পড়িছে ধুম,
পুরিময় ঝুম্ ঝুম।
আতর গােলাপ কুকু,
ছুটেছে ফোয়ারা
ধনী গণী আসে বাড়ী,
ফুটে টাকার ছড়াছড়ি।
গরীবের গড়াগড়ি,
দেখে কি তাহারা ৮
আঁতুর এতিম কাঙ্গাল,
দুখিয়া দরিদ্রা হাল।
ভুকা ফাকা দর হাল,
চক্ষে অশু ধারা

৩
নসঙ্গীত।
খানা পিনা নাই তারি,
হাতে নাই টাকা কড়ি।
ডাকে না নৌসার বাড়ী,
কিসে হবে খাড়া।
নৌসা বইরাতি সাজে,
দুঃখী মরে নানা লাজে ।
সাজিয়া চলেছে মৌজে,
এতিম রহে খাড়া।
নৌসার ছামনে টাকা,
পড়িয়াছে চাকা চাকা।
গরীবেরা রহে ফাকা,
জিয়নেতে মরা।
ধনী গণি মালওয়ার,
দেখিবে হাঁসর পাড়।
বিবাহের কারবার,
দেখে জিন্নতিরা
সাজিবে গরীব নোসা,
পেয়ে হুর হবে খাসা,
দুবেল করেছে আশা,
হয়ে মাতােয়ারা।

জ্ঞানপতি।
২৭ সুৱ-ভাটিয়াল।
(১)
মন ছাড়, ছাড়, ভবের মায়া।
কি সুখে ঘুমিয়ে আছিস, ছেড়ে অঙ্গকারী ।
(২)
নৌকা তাের ঘাটে বান্দা, দেখনারে তুই ভেবে।
অসার সাগর পাড়ে, যেতে তাের হবে।
(সেই) পাড়ের পাড়ে, গেলেরে তাের, থাকবে নারে দয়া
(৩)
সেই পাড়েতে পাপ পূণ্যের, বসবে রে বাজার।
নিজের জিনিষ, নিজে কিবে, দেখবে রে বিচার।
কেউ হাসবে, কেউ কাদবে, বসে রে, কে দিবে তাের ছায়া
( ৪ )
সেই পাড়েতে বার থানার, আছে রে এক পুল।
দেখবে থানার দ্বারে, গেলে, কতই পড়ে রােল।
কেউ হেসে যাবে, কেউ, পরে রবেরে, কেউ কেদে হবে সারা।
(৫)
অগাধ নিদ্রার ঘােরে, পড়ে আছ সুথে।
ঘাটে তরণী বাঁধা, দিবা নিশি ডাকে।
দিন থাকিতে দিবে পারি রে, বসবে সুখের হাওয়া।

জ্ঞান-সঙ্গীত।
হীন মুর্থ রেল বলে, দেখ নারে তুই ভেবে।
কয়জন পড়ে আছে সেই, দেল দরিয়ায় ডুবে ।
যে ডুবে গেছে, সে মজে গেছে রে, তার নাইক ইজ্জত হয়।
২৮ মুকুল।
বন্দী হবে মােছলমান।
সংসারে আসিয়ে সবে, রাখিবে ইমান
মােছলমানের কি সৰ্ত্ত আছে,
দেখনারে তার, কোরাণ বিচে,
সত্য কিবা, মিথ্যা আছে,
করিয়ে ধ্যান।
গােস্বা গিবত হারাম চর্চা,
ছ’য়ে না ফরমান,
কেমনে দেখাবি মুখ,
খােদার বিদ্যমান।
হাজার মােছলেম রাস্তায় চলে,
আসল মােছলেম কয়জন মিলে,
দেখনারে, তায় আঁখি খুলে,
যদি থাকেরে জ্ঞান

জানসঙ্গীত।
ঘুস, সুদ, বেনজি,
বেদাতি বে-ইমান,
সাফায়াত পাইবে কিসে,
হইয়া সে নাদান।
চান্দির টাকা হাতে পড়ে,
মক্রম এইসে ঘাড়ে চড়ে,
সিন্দুকেতে রাখতে তারে,
বলেরে সয়তান ।
হারাম কি হালাল হিসাব,
করে না বেইমান,
ছাখাওত জাকাত নাই,
রহেনা ইমান ।
কাণা আতুর লেংড়া প্রায়,
অন্ধ এতিম দুঃখে খায়,
ধনীর বাড়ী সবাই যায়,
খেইয়ে বাচতে জান।
দীন দরিদ্র দেইখে ধনী; ফিরে নাহি চান,
এ ধনীয়ে চায়না ফিরে,
ধনীর ধনীয়ে করে ত্রাণ।
দিন ইছলামের দিনটি ধর,
মউত কবর হাসর পার

জ্ঞানসঙ্গীত।
পুল ছেরাত থানার দ্বার,
বড়। কঠিন স্থান,
উম্মত ত্বরাবার তরে,
হবে পেড়েন।
সুরেল বলে তারি পড়ে,
ডুবাইয়া দেরে প্রাণ।
গল।
(১)
মানে তালা বুরাকি ছামজো, তেরা দেলে যু আবে।
(২)
রাত ভরকি রহে হাম, হাে গেয়ে মহৰত।
রায়নে কো তাগেত নেহি, জায়েঙ্গে আলবত।
নেহি হায়, রাতি আওয়র, হাে গেয়ে ছােৰে ।
(৩)
মজামে মজগেয়ে পেয়ারা, বােসন হুয়ে জান।
ছিনেমে কাটারী চুপে, হােগেয়ে কোরবান।
দেল ও পাড়া পাড়া হয়ে, তেরাই স্কুলে।

ভানসহীহ।
৩৭
*
( 8 )
শাসকমে ফাস গ্যায়ে প্যারা, ছিনে দুয়ে চুড়।
হে গেয়ে আখের রাত, ষানে হােথা দূর।
কিছমত আপেনা দেখে, হােগেয়ে বুড়ে।
খায়েঙ্গে মােকান পড়, হােগাবেক অরি।
খানে ছুনেমে হয়ে, দেল বেকারারী।
কাটেঙ্গে দিন কেয়ছে, রাতি কব হবে।
( ৬ )
দিন ভরকি তেরা জুদাইছে, পেড়েন।
প্রতি যব আবেঙ্গে ফের, দেখেঙ্গে গােলসান।
মারতা হায় দরিয়া মউজ, কেয়া কুই আবে৷
দেশ হবে কিরূপ করে।
নানান বর্ণ, নানান জাতি, রহিয়াছে যে সংসারে
চেয়ে দেখনা চীন জাপানে,
একই বর্ণের লােক সেখানে,
একই কাপড় বয় পড়নে,
একই কারবারে।
৪)

৩৪
নিসঙ্গীত।
.
হিংসা দ্বেষ, নাইরে যেথায়, সুখে সংসার করে।
মতামতের নাই বিভিন্ন কেহুকে না কেহুই ছাড়ে।
দেখরে সব ইউরােপিয়ান,
পড়ে বস্ত্র কোটপেণ্টলন, :
একই মতে চলছে সমান,
কল কৌশল করে।
ধলা বিনে কালা নাইরে, প্রতি ঘরে ঘরে।
চেয়ে দেখনা তাদের লেখা, রহিয়াছে এক কাতারে ।
মিশর আরবে লােকটি যত,
মুসলমানি ধরান মত,
লম্বা চোকা পাগড়ি শত,
আছে ব্যবহারে।
ছুরি চাকু ছেল তলােয়ার, সবাই ব্যবহার করে।
পেশ ততি জের ও জবর, লেখা আরবি যেই প্রকারে
আফগানি কাবুল পেশােয়র,
পিরান পাগড়ি কাপড় ইজার,,
এক হিসাবে চালা কারবার,
দেখনারে সংসারে।
নানান বর্ণ লােক নাই সেথা, একতার জোর ধরে।
জান যাইতে, প্রাণ ছাড়ে না, একের জন্য শতই মরে।
হওয়া রেঙ্গন ব্রহ্মা রাজ্য,
দেখে এলেম একই কাৰ্য্য,
';

তানসীত।
তাদের অন্ত্রে বড়ই ধৈৰ্য্য,
প্রতি ঘরে ঘরে।
ডিলা কামিজ লুঙ্গি ব্যবহার, স্ত্রী পুরুষ করে।
লােগার বরণ সবই মানুষ, সােণার খনি সেই পাহাড়ে ।
নানান জাতি এই ভারতে,
নানান বস্তু পড়ে তাতে।
কেউ চলেনা একই সাতে,
"মুখে ধরাজ ধারে ।
নানান বর্ণের লােক সে এথা, নানান বুদ্ধি করে,
একই জাতির একই বুদ্ধি, বুদ্ধির দোষে স্বরাজ ঘুরে।
কেউ পেন্টলন আছকানধারী,
কেউ হেটকোট যুব পড়ি,
ধুতি পিরাণ টেনিছ সারি,
চোকাছারিয়া পড়ে।
নানান বস্ত্র, নানান মানুষ, নানান বুদ্ধি ধরে।
সুরেল বলে সেই মানুষে, কি ছার মুখে স্বরাজ ধারে।
> সুৱমনােমােহন।
সংসারে ভাই কয় দিন আছি।
শুধু কেবল মিছামিছি ৷

জ্ঞান-সঙ্গীত।
দেল দরিয়ায় মারছে ঢেউ,
সঙ্গে আমার নাইরে কেউ,
জলছে আগুন ধাউ ধাউ,
বেন্ধে পায়ে লােহার কাছি।
লাগজে আগুন গহিন বনে,
এলছে সদা হুতাশনে,
হইয়ে ছাই যাচ্ছে প্রাণে,
দাহনে প্রাণ জলে গেছি।
নূতন সাদি নূতন জোড়া,
ঘরে এসে চড়ল ঘােড়া,
প্রাতঃকালে মারছে কোড়া,
হাতে পায়ে বেন্ধে রসি
মুখে লাগাম বানলে দড়ি,
হাকায় মেরে মেরে ছড়ি,
জুইড়ে দৌড়ায় সদায় গাড়ী,
পাও চলেনা আগু পিছি।
পুত্র কন্যা হয় সংসারে,
হাতে পায়ে লােহার বেড়ে,
বন্ধন হলাে জগৎ জুড়ে
পাগল হইয়ে কেবল নাচি
হীন মুখ মুরেল বলে,
কাছি ছির আত্মার বলে,

জানসীত।
রাখতে পারে, কলকৌশলে,
খােদার আরশ্বে বান্ধ কসি ॥
এ ভব সংসারের জাত একই সমান।
জাতের জয় যেতেছে ইমান ॥
জাত লয়ে ন কর (মান।
চৌধরী বলে আমার জাত, সব চেয়ে বড়।
খুসের উপর ঘুস দিলে, জাত পরে যায় গড়।
কোথায় গেল চৌধরীগিরির, জাতের নিশান
খন্দকার উঠিয়া বলে, আমার জাত বাছা।
বু বন্ধ, বাড়ী বন্ধু, টোটকা মন্ত্র মিছ ॥
অবিজ লেখি, পানী কুকি, পাঁচ পয়সা কমান।
কাজী বলে আমার জাত, পুর্ব হতে আসে।
কাজী সকল হল খারাপ, আৰু সামার দোষের
পেলেম না সে, কাজীগিরি জাতের সন্ধান।

জ্ঞানসঙ্গীত।
(৪)
সেক বলে আমার জাতে, ফকর নাহি করে।
ছৈয়দ মােগল পাঠান আদি, আমার জাতের পরে।
কাজী খন্দকার চৌধুরী জাতের, না পায় নিশান।
টাকা হলে জাত লইয়ে, করে কাড়াকাড়ি।
টাকা না থাকিলে জাত, ফিরে বাড়ী বাড়ী।
রেল বলে সব জাত, যাবে গােরস্থান
৩৩ সুর-চুটকি।
(১)
ছারে ছংছার ঘুমকে দেক্ষ, নেহি হায় ধরম।
আপনা জরু পরকে দিয়ে, পড়লিয়ে রয় জনম।
( ২ )
আম্মা ছয়ে বুছরি বুড্ডি, ছির হুয়ে বেগম।
বাবা হুয়ে বুড়ে ছুয়ার, ঘরমে বয় হরদম।
(৩)
দুধ বেচকে মদ পিতা হায়, রেয়তা ব্লেণ্ডি বাড়ী।
আপনা ঘরমে দুছড়ি মরদ, রয়তা হর ঘড়ি।
মজামে মজগয়ে রেতা, হায়নি কৈ স্বরম।

আনসঙ্গীভ।
৫
***
(৪)
জান বরা বড়, ভাইন ভইন হােতা, সালক সালি গিরি।
দেল বড় বড় আম্মা বাবা, শ্বাশ ও শাশুরী ॥
জোড়হাতমে ক্যারতা ছালাম, পাকরিয়ে কম।
(৫)
কঁহা হায়, জাকাত ফেতরা, কঁাহা জাহের খােদা।
কঁহা হায়, নামাজ রােজা, কঁহি কেবতা আদা।
পিণ্ডি ভয়কে হারাম সুদ, পিতা হায় হরদম।
এতিম কো মারতা হায় ছুরি, ক্যতা আহা জারি।
কেছিকে আমানত লেকে, কের দিকদারী।
কায় নেকো তাগেত নেহি, মুরলি অধম ।
৩৪ মুন
(১)
দেখ বিবাহে মােসলমানে।
মেয়ের টাকা গণে রে, হিন্দুয়ে দেয় দানে ।
খােদার হুকুম নবির রেওয়াজ,
নাহি শুনে কানে রে।

উৱানীত।
1
(২)
দেখরে মােসলমানের ধারা।
হাদিছ কালাম তরিক ছাড়া।
দুই, চাই, পাঁচ, শত হাজার পুরা।
লমনাফ মানে রে
( ৩ )
প্রণা সভা আগরানি,
ধােপ নাপিত মুখ চাওয়ানি।
গাডুবাজি বাই নাচানি,
টাকা লয় বেইমানে রে।
(৪)
নানি দাদির খান পেলাম না।
বাজা বাদ্য কেন এলে না।
ভুঞা চৌকিদারের দেনা।
আদায় হয়না কেনে রে।
জওয়ায় কাপড় আঁচিল ব্যবহার
দুয়ারিয়ে ধরছে দুয়ার।
হাত দোলায় না, দেখরে দুলার
টাকা চায় নাদানে রে।

( ৬ )
নবি অলির তরিক সরা;
হিন্দুর ঘরে ইল ভরা।
পেয়েছে রে সবাই উরা;
সঁরা তরিক মেইনে রে ।
(1)
উম্মত হয়ে নবিজির,
বলা হয়ে এলাহির,
জবাব দিবে কি প্রকার,
সুরেল ভাবে মনে রে
৩ ৱ-মুকুন্দ।
অরে ভাই তিন কাল খুয়াইয়ে দিলে, কিছুইত করলে না।
কোন কালে কি কাম করেছ, ভেবে তুমি দেখনা।
ছেলে কাল গেল তােমার, পিতা মাতার কোলেতে।
ধুল খেলা করে তুমি, এসে ছিলে ঘরেতে।
মায়ের পরাণ ছিলে,
বাপের পুতলী হলে
মহরঙ্গে কেটে দিলে
আছে কি তা ভাবনার

ইছলাম এলেম বিদ্যা,কিছু নাহি শিখেছে,
পাঠশালা যাইবার কালে, পলায়ে সে রয়েছ।
যদি কেই পড়ার তরে,
বলে ছিলে আদর করে,
ধন্দ্র এসে মাথায় পড়ে,
হয়ে বলে দেওয়ানা।
যৌবন কাল এল তৈমার, যৌবনে মেরেছে ঢেউ।
নানা পথে আঁখি গেলে, রাখিতে পারলে, না কেউ।
পরে ছিলে সখিন হালে।
ফিটের কাপড় চুল ভাজালে।
কত বড় হয়ে গেলে,
এলেম কি তা চিনলে না। *
পিতার হইল ফরজ, শুভ সাদি আনিবার।
সুন্দরী চাহিয়ে এক, এনে দিলে পরিবার।
কত সে গেল রঙ্গ বসে,
পুত্র কন্যা হল শেষে,
সংসার পাতিয়ে বলে,
কর চিন্তা ভাবনা।
এল তােমাৱ বৃদ্ধকাল, নৌকা ছলে ভাটিতে।
নৌকায় ধরিল পাক, পারলারে উজাতে।

ভনসঙ্গী
*।
মাথায় পেকেছে চুল,
কথার বেলা লাগে ভুল,
হল তােমার চক্ষুঘােল,
আশা পথ ছাড় না ।
যখন আঁতুর হয়ে শুয়েছরে ঘরেতে।
বিছ দরিয়ায় পড়ে নৌকা, পড়িলাে সে পাকেতে।
ফুকারিবে আল্লা বলে,
শত মাথা কুইটে ফেলে,
হীন মুর্থ সুরেল বলে,
আল্লা রাজি হবে না।
৩৬ সুৱশূকু।
অরে ভাই মােছলেম জাতি, ইছলাম খেতি করলে না।
বুড়া হয়ে দাঁত পড়েছে, ইছলাম কি তায় চিনলে না।
তেজিয়ে এলেম বিদ্যা, অন্ধ হয়ে রয়েছ,
ধর্ম কর্ম ছেড়ে দিয়ে, পশুশালায় পরেছ।
একে সারা হয়ে গেলে,
অন্ধ হয়ে ভবে বলে,
. ফুল কিনারা নাহি পেলে
অাঁখি খুলে চাইলে না।
১.

নদীভ।
পুত্র কন্যা জন্ম দিয়ে, সংসার তুমি পেইতেছ,
ধর্ম বই শিক্ষা দিতে, হাতে নাহি দিয়েছ।
পেলে পুরে জমের ধারা।
কথার উপর মারছে জারা,
করে বসে ওরে বুড়া,
তােমার কথায় চলৰ না।
ইছলাম এলেন বিদ্যা, নিজে না শিখিলে ভাই।
পুত্র কন্যা শিক্ষা দিতে পারে নারে কোন ঠাই।
পুত্ৰ দোষী পিতার দোষে,
জমপুত্র হল শেষে,
কানে মাতা পিতায় বসে,
আমায় অন্ন দিলে না।
মাতা পিতা শিক্ষা দাতা, যে ঘরে কইরাছে বাল,
পুত্র কন্যা তারি সবাই, হইয়াছে প্রথমে পাশ।
বিদ্যা ও এলেম পেইয়ে।
ইছলামেরি সব শিখিয়ে।
মাকে হেয় খােদা কই,
চরণ দুটী ছাড়ে না।
মাতা পিতা ইছলাৰ খেতি, যখন করিবে চায়,
জ্বলিবে ইছলামের ফল, খনি লইবে বাস।

কানসঙ্গীত।
ধরবে ফল দুচরণে।
বছুল আল্লা এলেম চিনে,
তরিক হাদিছ কোরান মেনে,
মায়ের সেবা ছাড়ে না।
দুটি চরণ সবার ধরি, ইছলাম খেতি কর ভাই,
আছি রেল অধম লাচার, গুণাতে ডুবিয়ে তাই।
সবে বুন ইছলাম বুনা,
ধরবে ফল কাচা সােণা,
হবে দেল ছাফা আয়না।
উদ্ধারিবে রাব্বানা।
রে ভাই আওরতের স্বামী, চালাও আওরত কি প্রকার।
শরিয়তের পদ ছেড়ে, কি পরদা দিয়েছ তার।
(২)
মােছলেম পরিচয় দিয়ে, ইছলাম ধর্মে রয়েছ,
সাফায়ত পাইতে নবীর, আশা এসে করেছ,
আওরতকে বেপরদা করে,
বাহের করে দিলে তারে,
পুষ্কণী যমুনার তীরে, জল আন্তে যায় অনিবার।
(৫)

জ্ঞান-পীত।
শরিয়তে আওরত মানা, নামাজ শব্দে পড়িতে,
পর পুরুষ শুনিত্রে সুর, যাবে জাহান্নামেতে,
সেই স্বামীর আওরত হইয়ে,
সুর ধরে সে গান গাহিয়ে,
সাজায় বিবি তান ধরিয়ে, দেখ রে স্বামীর অবিচার।
(৪)
সাজায়ে আপ স্ত্রী, দেখ তুমি তাহাকে,
অন্য কেউ দেখিলে তাহা, পড়িবে সে নরকে,
তরিক, বেতরিক করে,
দিলে শুভ স্বাদির ঘরে,
সাজালে স্বামীয়ে তারে, লােকে দেখবে চমৎকার ৪
( ৫ )
অগােচরে, দেবর ঘরে, বঙ্গ রসে হাহাকার,
ভগ্নিপতি নদের স্বামী, সইয়ার সঙ্গে ব্যবহার,
পরদা পুসে রাখলে নারে,
দেখরে স্বামী বিচার করে,
পুল ছেরাত হাসর পাড়ে, হবে তুমি গেরেপতার
যদি রে ভাই নাহি পার, পরদা পুসে রাখিতে,
মােছলেম বলে পরিচয়, দেও কোন মুখেতে,
পরে থাকবে পণ্ডর দলে,
শৃগাল কুকুর খাবে মলে,
সুর নবীর উম্মত বলে, বল কেন বারে বার ॥

জ্ঞানী।
(৭)
ইছ ইনুছ মুছা দাউদ, ইব্রাহিম ছােলেমান,
শত নাফছি ২ বলে, থাকিবে সে পেরেসান।
* উম্মতি উন্নতি করে,
কান্দিবে যে হাসর পারে,
ছেড়ে দে প্রাণ তারি তরে, বলে রেল গুণাগার ।
৩৪ সুত্রমুকুন্দ।
(১)
অরে বেনামাজি রে তুই, হলি রে সয়তান।
আখের নবির তরিক ছেড়ে, কিসের মােছলমান রে ॥
(২)
ফরজ দিলে তরক করে,
কেনে বৈসে আছত ধরে,
দেখাবি মুখ রােজ হাশরে,
কেমনে বেইমান রে।
(৩)
হাসরে সাত লেইন হবে,
ছয় লাইনেতে শুয়ার রবে,
আখের লেনটি তুমি পাবে,
হইয়ে নাফরমন রে

জ্ঞানসঙ্গীত।
(৪)
যেই নুরে তাের, বােসনি ছুটে,
যার মুরে তাের, আঁখি ফুটে,
(সেই) নুর নবির তরিক টুটে
যাবি জাহান্নাম রে ।
(৫)
উম্মত হয়ে নবিজির,
বলা হয়ে এলাহির,
জবাব দিবে কি প্রকার,
তারি বিদ্যমান রে
পুল ছেরাত থানার দ্বারে,
নেকি বদি হিসাব করে,
কিরূপে পার করিবে, রে
দেখিবে নিদান রে
(৭)
দুদিন ধূলা খেলা করে,
আখেরে যাইবি ছেড়ে,
ফেলে নিয়ে দিবে তােরে,
রবে গাের স্থান রে ।
।
হীন মূখ সুরেল বলে,
খােদা রছুল সব ত্যজিলে,
কি হবে তাের পরকালে,
ভাবিয়ে হয়রাণ রে ।

জ্ঞানী।
সুৱ-ছুটকি।
(১)
মরে ভাই তুবন জই, মহামান্য মােছলমান।
ধৰ্ম্ম ইছলাম জগতময়, করে ছিলে প্রতিষ্ঠান।
একে দু’মে, চবিশ হাজার, লাক নবি প্রেরিত,
আখের নবির ইছলাম ধৰ্ম্মে, হতেছিলে দীক্ষিত।
তরিত ইঞ্জিল জব্দুর পড়ে,
প্রমাণ পেয়ে ছিলে তারে,
উম্মত হইবার তরে, ছিলে সবে পেরেসান।
( ৩ )
যেই ইছলাম সত্য ধর্ম, শেষ জগতে, এল ভাই,
সেই ধৰ্ম্ম লভিবারে, তােদর ভাগ্যে ঘটে নাই,
সত্য সনাতন ধর্ম,
চিনলে না আর, সার মুৰ্ম্ম,
অন্ধ হয়ে বলে জ, হত বুদ্ধি অজ্ঞান
( ৪ )
রেখে ছিল যেই কুর, প্রভু রাবেল আলামিন,
আদম সৃষ্টি করে তিনি, এইনে দিল সেই দিন।
ক্রমে ক্রমে দুর ,
আখের আবদুল্লায় পেল,
আমেনার গর্ভে হল, গুর নখ দোজাহান।

জ্ঞানপঙ্গীত।
(৫)
হিন্দু পৌত্তলিক বৌদ্ধ, জৈন খৃষ্টান ভবেতে,
ইছলামের সমতুল্য, আছে কিরে জগতে।
একা নবি সত্যের জোরে,
ধৰ্ম্ম ইছলাম প্রচার করে,
দিবা নিশি পঞ্চবারে, গায়রে সেই গুণগান,
(৬)
যদি রে ভাই অন্ত্রে থাকে, ইছলাম ধৰ্ম্ম শিখিবার,
বালক বৃদ্ধ যুবা পুরুষ, কর শিক্ষা অনিবার।
ধৰ্ম্ম বই হাতে দে রে,
ছেলে মেয়ে পড়িকরে,
পুল ছেরাত হাসর পাড়ে, যদি চাওরে পরিত্রাণ ।
( ৭ )
যখনি রে ছেলে মেয়ে, বিছমিল্লা সে পড়িবে ।
তখনি জান্নাতের দ্বার, খুলিয়া, সে যাইবে।
দিনের এলেম পাঠ করিবে।
অ রাস্তাও, রাস্তা হবে।
হীন সুরেল বলছে তবে, ধরে সবার দুচরণ !
ও সুন্নমুকুন্দ
(১)
দেশ গেল ভাই হিংসা দেয়ে, অদৃষ্টে কি আছে আর।
গেল হিংসার রাজসিংহাসন, আখি মেলে দেখ একবার ॥

কামার কুমার, বারই মুচি, হাজ্জাত বানাতে,
জাতি গেল মােছলেমের, বলে সমাজেতে,
সইশ বাবছি কুত্ত্বা পদ্দার,
ৰয় খানসামা হাতীর দাইদার,
মুজুর মুট্টা কুলির সরদার,
পড়ে সমাজ গলায় হার,
উকিল মােত্তার ডিপটি
মুনসেফ, পােষ্টমাষ্টার প্রফেসার,
সেজে গেল বিদ্যা গুণে, কেহ হল বারিষ্টার ।
মুসলমানের হিংসা গুণে,
আরদেওয়ালী, চাপরাশি বনে,
উকিল বাবুর দালান খানে, কত রাজ মিস্ত্রি তার।
( ৪ )
চাষ করিয়ে চাষী লােকে, রহে পরম সুখে,
মাটি কাদা হতে সােণা, সবাই পেয়ে থাকে,
সেই সোণ বিতরণ করে,
আদালত ফৌজদারী ঘরে,
আখেরে জেল থানায় পড়ে, ময়লার বালতি হাতে তার
ছৈয়দ চৌধুরী কাজী মীর, খন্দকারের ঘরে যায়,
টাকা যাৰে খেতি নাই, মেয়ে যদি পাওয়া যায়।

টাকার তাের কর্জ করে,
উঠে গেল জাতে চড়ে,
জমিন গেল সাহার ঘরে, গারে নীলাম ইস্তাহার।
হিংসা গিবত, চোগল ঘুরি, মিথ্যা প্রবঞ্চনা ভাই
ধুয়ে ফেল দেলের ময়লা, একি ভাবে রহ তাই।
বালক বৃদ্ধ যুবা সবে,
এলেম বিদ্যা শিখ ভবে,
অন্ধকার ছুটে যাবে, ভবনদী হবে পাড়।
(1)
ক্ষতি হয় সকল ধন, খরচ করিলে ভাই।
বিদ্যা মহামুল্য ধন, কেন হেলায় হারাও তাই।
বিদ্যা উপার্জন হলে,
আঁখি তােমার যাবে খুলে,
মীন মুখ নুয়েল বলে, দেখিবে জায়াত দ্বার।
B২ অৱসুক।
আমি হলেম মুসলমান,
খার তরিকে জন্ম পেইলেম, নাইক তার নিশান।
শিক্ষা পেয়ে পেলেম ধর্ম,

কে
বুঝে শুনে করব কৰ্ম্ম,
দেখেছিরে সবই মৰ্ম্ম,
(আমি) সত্য মুসলমান।
পিতা মাতার সমাধিতে ইলেম আগুয়ান,
পরিলেম নারে পরতে কিছু, যেতে পােরন।
ধৰ্ম্ম নীতি সব শিখেছি,
আখের নবি তাও পেয়েছি,
ইছলামেতে বান্ধা আছি,
ভক্ত আমার প্রাণ।
মুখ লােকে পরুক নামাজ, হয়েছে সয়তান,
( আমার) অন্ত্রে জাগে সদাই নামাজ, পড়লে কি হয় কাম
ধৰ্ম্ম ইছলাম প্রচার করে,
আখের নবী পয়গাম্বরে,
যখনি রে রােজ হাসরৈ,
যাব সেই স্থান ।
কি বলে দেখাব মুখ, তারি বিদ্যমান,
সাফায়ত পাইব কিসে, হয়েছি বেইমান।
এম এ, বিএল পাশ করেছি,
এলেম বিদ্যা সব শিখেছি।
মুসলমান হয়ে আছি,
জানিনে কোরাণ ।

৮. +
সাপ্তা পরে গৈফারী, থাকে না নিশান।
সাজিয়ে গৈলেম রে আনি, অমনি খৃষ্টান।
হেট, কোট, বুট পরেছি
ছুরি কাটা সব পেয়েছি,
কাবাব ফুটি তায় খেয়েছি,
বসে এক স্থান ।
সবে ডাকে মিষ্টার বলে, সুরেল ইছলাম,
আমি কি আর আমি আছি, আমাতে কি আমার প্রাণ
-
(১)
আমি, কুলীনের মেয়ে,
স্কুলের কুলীন বংশ দেখে, আমায় দিলে বিয়ে।
কুলের কুলীন হয়ে গেলেম, দেখবে কি গাে মালি,
ফুল ধুয়ে সে, বসে রলেম, অকুল কুলৈ বসি।
এখন কুল হলো না,
ফুল পেলেন না,
এলেম ফুল লয়ে
কুল পেয়েছে পিতা মাতায়, মজায় বল ভুলে,
দেখলে নারে জামাইর কামাই, চাইলে, নারে মুলৈ।
এখন, কুলের তেনা
গাও ঢাকে না,
অল জামর চেয়ে

জ্ঞান মিসীত। ( ৪ ) রঙ্গ রসে, কুলের দেশে, বিয়ে দিলে মােরে, কুলের কুলিন হয়ে রলেম, উদয় যায়রে পুরে। এখন অন্নদানা তাও জুটে না, কত রব সয়ে (৫) কুলের ঘরে শুয়ে আছি, বাদল জলে ভাসি, কখন আকাশ তারাগুলি, গতে আমি বসি। মশল ধারে, বৃষ্টি পড়ে, কাপছে আমার হিয়ে। কুল কুলে পরে ভাসি, কোন কুলে মাের দেশ, কুলে কুলে চলছে, জগত, কুলের নাইরে শেষ। আমার একুল, সেকুল। দুকুল, গেল। মুরেল র চেয়ে। ৪৪ সুর- নিজ মৃতপু। আনম্বরে তুই, খেতে বসেছিল। গেইলের খেলা খেলতে এসে, কি খেলা তুই, খেলেছিস।

ভাসঙ্গীত।
আসলে ভবে খেলার তরে,
খেইলের সাথি পেলে ওরে,
খেলতে গিয়ে কোথায় বলে,
কোন খেলাতে ভুলেছিস।
কিবা খেলা খেললে তুমি,
খেইলে মইজে রলেম আমি,
খেইল খেলিল, জগত স্বামী,
কোন খেলাতে রয়েছিল।
সকাল বেলায় খেলতে গেলে,
দিবা গেল সন্ধ্যা হলে,
খেইল, ভাঙ্গিয়ে আয়না চলে,
কোন খেলাতে ডুবেছিস।
এমনি কিরে খেইলের ধারা,
গেইল তােমারি হয়নি সারা,
খেল পেয়েছে জগত জোড়া,
কোন খেলাতে পড়েছিল।
খেলছে, তােমার জগত, মাতা,
খেল দেখায়ে রাখলে পিতা,
খেলছ, তুমি যথায় তথা,
কোন খেলাতে মজেছিল।
হীন মুর্থ রেল বলে,
খেলে নিশি প্রভাত হলে,
জার কিরে তাের খেলা বলে,
কোন খেলা তুই পেয়েছি।

No text on this page.

উৎসর্গ পত্র। আমার পরম পূজনীয় জুনাব শ্রীযুক্ত হাজি মৌলবী আবদুল আজিজ ডেপুটী মমজিষ্ট্রেটের পবিত্র নামে এই পূণ্য সমাজহিতকর স্তোত্র ভক্তির সহিত উৎসৃষ্ট হইল। আপনি আমার হৃদয়ের মান্ধকার প্রজ্জ্বলিত করিবার বাতি। একমাত্র পুত্রশােকে শােকাশিত হইয়া সংসারের প্রতি বিদ্বেষ- ভাব পােষণ করিয়া কাল কাটাইতেছিলাম। আপনিই আমাকে পরম করুণাময় আল্লাহ তালার ধ্যানে মগ্ন করাইয়াছেন। সমাজের জন্য আত্মদান করিয়া আপনি অবিমিশ্র বিমল আনন্দ ভােগ করিতেছেন। প্রার্থনা করি যেন আপনি মানব জীবনের অবশ্য কর্তব্য ব্রত উদ্যাপন করিয়া সেই আনন্দময় দেশে- চিরশান্তিনিকেতন অমৃতধামে অমর জীবনের স্বাদ গ্রহণে অধিকারি হউন। আমি অজ্ঞ, আপনার মত, অবনত মােশ্লেম সমাজের সেবা করিবার শক্তিহীন। যদি দয়া করিয়া আপনি ও আমার মােশ্লেম ভ্রাতৃগণ এই সমাজহিতকর স্তোত্র গ্রহণ করেন তাহা হইলে আপনাদের চিরমেহাধীন দাস কৃতার্থ হইবে । আপনার প্রণত ভ্রাতা সুরেল ইছলাম । .

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Gyan-sangeet Ed.1st

Author
Islam,mohammad Nurel
Title
Gyan-sangeet Ed.1st
File name
Gyan-sangeet Ed.1st
Text
OCR done
Citation
1924
Published
2009/11/7
Publisher
N.a
Language
Sanskrit
Pages
76
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Islam,Mohammad Nurel
DLI number
512674
Barcode
4990010019726.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
VMLT id
s3u8tAecqvV
Download PDF

Gyan-sangeet Ed.1st