Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Ramchandra-gitabali Vol.1

Roy,ramchandra · 2009/12/2

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

n
Visvakoska Prc.8.
শ্রীরামচন্দ্র রায়।

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
( প্রথম খণ্ড)
সংগােপ্য দোষনিক রং সুবিকাশয়ন্তি
সম্মানবাঃ পরগুণং রচনাশ্রিতন্তু।
গৃহু মে গুণকণং পরিবৰ্জ্জ দোষং
ত্যক্ত। যথা সলিলমে পয়স্তু হংসাঃ ॥
শ্রীরামচন্দ্র রায় প্রণীত।
কলিকাতা।
৫ নং রামধন মিত্রের লেন, শ্যামপুকুর,
“বিশ্বকোষ প্রেস”
এ, বসু এণ্ড কোম্পানী দ্বারা মুদ্রিত ।
১৩০৯ সাল।
১১১১১১০১১০১

No text on this page.

বিজ্ঞাপন। সাংসারিক বা বৈষয়িক কার্যে ব্যাপৃত থাকা হেতু মানবজীবনে এরূপ অনেক বিরক্তিজনক সময় প্রায়ই সমুপস্থিত হইয়া থাকে, যৎকালে মানবমাত্রকেই স্ব স্ব চিত্তপ্রসাধনার্থ কোন না কোন উপায় অবলম্বন করিতে হয়। সঙ্গীতালােচনা তন্মধ্যে একটি। ইহা দ্বারা উক্ত কাৰ্য্য ত সম্পন্ন হয়ই, অধিকন্তু, উহা ঈশ্বরের প্রতি ন্যস্ত হইলে বিশুদ্ধ শান্তির উদয় হইয়া থাকে। সৰ্বসাধারণের এই মত কিনা বলিতে পারি না; কিন্তু আমি উহার সম্পূর্ণ পক্ষ- পাতী। তজ্জন্য, আমি আমার সাময়িক হৃদয়েচ্ছিাস প্রযুক্ত কতক- গুলি দেবদেবী-বিষয়ক গীত রচনা করিয়াছি; সেই গুলি অস্মদ্দেশ- প্রচলিত রাগ-রাগিণীসংঘটিত তানলয়সংযােগে গান করিয়া সেই বিরক্তিজনক সময়ে চিত্তচাঞ্চল্য দুর করিয়া থাকি। বস্তুতঃ উহা সৰ্বসাধারণ সমক্ষে প্রকাশ করিবার বাসনা এক মুহূর্তের জন্যও ছিল না। কারণ, আমি কবি নই যে, বচন-পারিপাট্য প্রদর্শন- পূৰ্ব্বক সকলের মনােরঞ্জন করিয়া জন-সমাজে সুখ্যাতি লাভ করিতে পারিব ? তবে কেবল, সাহিত্যানুরাগী বন্ধু প্রবর স্নেহ- ভাজন বিশ্বকোষসম্পাদক শ্রীযুক্ত বাবু নগেন্দ্রনাথ বসু ও অন্যান্য কতিপয় ব্যক্তির বিশেষ অনুরােধে সৰ্বসমক্ষে প্রকাশ করিতে বাধ্য হইলাম। ইহাতে ভূরি ভূরি ক্রটি বা দোষ পরিলক্ষিত হইতে পারে ; কিন্তু সাধুমাত্রেই গুণগ্রাহী, আশা করি, তৎসমুদয় মার্জনা করিবেন। হেলায় শ্রদ্ধায় ঈশ্বরের নামােচ্চারণ করা হৃদয়বান্ হিন্দুমাত্রেরই স্বভাব-সম্ভত ধৰ্ম্ম, ইহাই একমাত্র ভরসা। এক্ষণে মৎকৃত “গীতা- বলী” খানি সাধারণের প্রতিনেত্রে পতিত হইলে আমি আপনাকে কৃতার্থ জ্ঞান করিব। অলমতি বিস্তরেণ। ইতি শকাব্দ ১৮২৪ তাং-১০ই আষাঢ় মনােহরপুরগড়, জেলা মেদিনীপুর। পােঃ দাতন। শ্রীরামচন্দ্র রায়।

No text on this page.

উৎসর্গ-গীত। রাগিণী ললিতােল আড়া। ধন, নন। হরি, বা যুণ ॥ নন, দিন পদে, যুণ। সুরে যাত গত, অনা স্তন, মাধ . নিত্য কান্ত চরণ, করিয়ে আ ক্ত বিষয়েতে, ধরাতে করি ভাব পরিহরি, ভাবিলে রি যেতে তরি, দিবেন তরী না ঝাই অনুক্ষণ, ত্যজ কুকাৰ্য সে নিবারণ, বল একি আ ল মাতি মদে, না ভজি উপে তরেন বিপদে, হয়ে যে পদ প দিতেছে কত, কামাদি নাথে হও রত, যিনি রিপু নি পদ পঙ্কজে, একান্তে সত খেতে বিরাজে, গােসনে যাে স্থিতি সংহার, করিতে ক্ষম বিনে কে আর, ছেদিবে ধু রিপু ধ্যান, ক্ষুদ্র হয় ব ম যােগ জ্ঞান, জপ তপস্যা পাবার লাগি, मग्न হরেন জাগি, স্মরিয়ে অন্ত নাথের অন্ত, ত্রিলােকে লীলা ভয় করেন অন্ত, যে সুরে সম সাধ যতনে, শমন লাঞ্ছি রুণা নয়নে, করিবেন তাপ কহে ত্রিসত্য, শ নামে মত্ত, হও ত্যজি বি যার, রূন, ল যান, শ ত্যাগী ঘন,- নাহি নন্ত, হেরি শ্রীরা গােকু ও পদে তুচ্ছ *?

No text on this page.

সূচী। নাম পৃষ্ঠা। ১৯ ২ ২৭ ২৮ ৭৩ * * * অঙ্গে রঙ্গ দিয়ে হে রসরায় আমি অধম তাকৃতী আছি আমি অাশাপথ আমার অবোধ মনবিহঙ্গ আমার মন-কুৱঙ্গ বিষয়-কাননে অ'র হরি রাখিতে নারি আজি ব্ৰহ্মনিশি আগত আজি ব্রজে হেলী খেলিছে আমি এই ভিক্ষা করি আব কেন কাদিছ রাণী আহা কিব। অপরূপ আজ নিরানন ত্রিভুবন এই কৃপা কৃপাময়ী এসে সংসা-বিদেশে এই ক’র নীরদবরণ একবার বদন ভ’রে হরিনাম একবার দেখা দাও মুরারি এত জ্বালা দিবে এনে এখন হরি উপায় বল এই কি তোমার মনােগত এল না গিরিব কেন এখন হই মা বিদায় মা সুরধুনী দেখা দে মা ২৮ ৪৪ ৪৫ ৪৯ ৫৬ ৬৯ ৫ সূচী। নাম ওমা সুরধুনী পতিতপাবনী ওরে মন আমার যদি যাবে ৪ ওহে কেশব ভাস্কর ৫৮ • ০ ০ ১২ ১০৮ ৫০ ১৮ • এ । ৫৪ . ৩ ১২ ওহে মৃত্যুঞ্জয় ওমা ঈশানী হয়ে পাষাণী ওহে প্রাণনাথ উমা কেন করুণা কর দীনজনে হে দেব কবে মা আসিবে নাশিবে ভবভয় কনক-রচিতাসনে কর হে করুণাময় কর হরি যা উচিত কাতরে করুণা কর হে শিব শঙ্কর কাতরে কর মা করুণা বিতরণ ••• কাতরে করুণা কর তারিণী কাজ কি অতুল সম্পদে কার রূপসী যােড়শী এল কাটিয়ে ভক্তিশৃঙ্খল কি আনন্দ ব্রজধাম কি শোভা হয়েছে সুশোভন ••• কি হেরিলাম গিরিরাজ কি কব মুখে আছি যে সুখে কি আনন্দ গিরিপুরে কিবা অপরূপ সাজে কি সুখের দিন কর নিরীক্ষণ ৫ ৩০ ••• ৪৩ ৭৩ ••• ৮৪ ১০ সূচী। পৃষ্ঠাঙ্ক। ৪০ . * ৭৭ ••• ৩ ৮৪ ৮৫ అని . ৫ । ৩২ . ** নাম কিবা শােভিছে কৈলাসশিখরে কুপথে ভ্রমণ ত্যজি ওরে মন কুঞ্জকাননে আনন্দিত মনে কুঞ্জে ঝুলে রাধা সহ শ্যাম কুঞ্জ ভবনে রাধারমণ কুঞ্জ কাননে আজি কি শােভা কৃষ্ণনাম অবিরত জপ রে কে রমণী দোলে শ্বেত-শতদলে কে রণে নীরদবরণী কে রমণী উলঙ্গিনী কে বামা বিহরে সমরে কেমনে দুৰ্ম্মতি জীবে কে তাকিবে দুর্দিনে কেশব কুরু করুণা বিতরণ কেহ যেও না জলে কেমনে পাঠাব গিরি কেমন সুখেতে ছিলে কোথা কাত্যায়নী কলুষহারিণী কোথা ওহে কৃপাসিন্ধু কোথা আছ হে নারায়ণ কোথা হরি ভয়হারী খেলিছে হোলী মদনমোহন গমন কর গিরীশ গিরিশপুরে গােবিন্দ গােপাল গােকুলবিহারী ৪২ ৪৯ ৫ । ৭৬ . ০৫ . ০ ০ ১৩ • ০ ০ ৩৮ ••, ৪২ s ৮ । ৭৪ ১০ ••• সূচী। পৃষ্ঠা। • • * * • " । ১৪ ৪৪ + F = ••• ••• * * * ১১২ নাম ঘাের কলি সমাগত চল গাে চল সজনী চলিলাম হে পাণী ছি ছি একি রসরাজ জয় বিনায়ক বিঘ্নবিনাশক জয়দে কালিকে জয়ন্তী পালিকে জয়তি জগদীশ্বর জন্ম ল'য়ে জগতেতে জয় জগদীশ ঈশ্বর জয় জয় শিবরাম জয় নারায়ণ বুলে কুঞ্জকাননে হরি বুলিছেন হরি নিকুঞ্জবিহারী ঝুেিছন নিকুঞ্জবনে ঝুলিছেন নিকুঞ্জে কুঞ্জবিহারী ... ঝুলিছেন নিকুঞ্জে রঙ্গে ঝুলিছেন কুঞ্জবিহারী ঝুলিছে রঙ্গে শ্রীরাধা সহ ঝুলনে ঝুলিছে কুঞ্জে ঝুলে রসময়ী সহরসরাজ তব মহিমা কে পারে বর্ণিতে • তব লীলা অসম্ভব তারিণী ত্রিনয়নী তমনিবারিণী অরিণী ভব রােগে ব্যথিত জীবন •• • • ••• ৮২ ৮৩ ৮৬ ৮৭ * * •• সূচী। পৃষ্ঠা । * • • • ••• তারা এই কি পরিণাম তারানাম কর মন ভজন তুমি অনন্ত বলরাম অহি মা অপর্ণে অধম প্রপম্নে তুং নমামি বিশ্বের ভূরায় আয় মা উমা আমার কোলে দয়াময়ী কত দিনে দয়াময় হে মুবারি দয়াময় হে শঙ্কর দাসৈ দেখা দাও দৈত্যারি দিও না কালা অঙ্গেতে রঙ্গ দিনে দিনে দিনগত ২২ •• '৭৫ ••• ••• দুঃখহর। ভবদারা •• ৮ । দুর্গে দুখহরা # ও ১৭ নমােনম গজানন নমােনম নারায়ণী নমস্তে সারদে গো মা নমস্তে শর্বাণী ঈশানী ইন্দ্রাণী নমস্তে শরণ্যে শিবে দক্ষকলে নয়ন ভরে কর দরশন নমােনম নারায়ণ নমামি বিঘ্নেশ, হে দেব দীনেশ নব কুঞ্জ মাঝে, শ্যাম ঘনরাজে নবমী যামিনী নতি . . .

loo সূচী। পৃষ্ঠা। ০ ০ ০ ••• ১৪ ••• ২২ tre ৪ ০ ০ ০ • ৯ ৩৪ ৬০ ••• ১১০ ••• নাম নাৰায়ণী বীণাপাণি নিবেদি মা ভবরাণী পড়িয়ে বিপদ ঘোরে পােহলি কাল নবমী প্রণমামি বাণী, দেবী বীণাপাণি প্রণমামি দেব দিবাকর প্রণমামি কেশব প্রণমামি হরিহর প্রাণেশ্বরী গৌরী লয়ে বল হরি হরি, সব পরিহরি ••• বল বল গিরিবর বল মা উমা, হররম। বল বদনে জয় দুর্গাবাণী বারে বারে জানাইব বিশ্বভয় হর হর বিপদে সম্পদে রাখ হে বিহরিছে রাসস্থলে ব্ৰহ্মরজনী জানি আগত ভবে নিস্তার নারায়ণী ভবে তার তারিণী ভয় কি বাসনা মনে ভুবনমােহন রূপ দেখিতে তোমার ভেননা পাষাণী আর ম’জনা মন এ সংসারে ০ ০ ০ ১০৭ ৩ . . •• . ০ ০ •• ••• ৫৪ ... * . ৭১ ০ ০ ০ ৬৮ ••• ০ ০ ০ ২৪. ৭৬ ...

সূচী। পৃষ্ঠাঙ্ক। নাম মন মদ কেন মায়ারঙ্গে ৪৭ ৪৭ ••• ••• ! ! ! ১৮ •• ••• ৯৮ ৬ ••• ••• মন কেন আছ হয়ে ভ্রান্ত ... মা ভবানী ভব ভাবিনী মাধব মােহন মুরলীধারী মা শঙ্করী, মায়ের মায়া পরিহরি যদি হে হরি না তার তবে যদি যাইবে নিশ্চয় যাও হে গিবির উমায় আনিতে যাই তবে প্রাণেশ্বর রতন আসনে কিবা রঙ্গবারি হে ত্রিভঙ্গ রতন হিন্দোলে রাজে রয়েছ নিশ্চিন্ত মনে শৰ মনােহরা শিবে শিব শম্ভ, শশাঙ্কশেখর শুনি ব্ৰজে হােলী খেলিছে.. শেষের সে দিন কর স্মরণ। শ্যামসুন্দর নবজলধর শ্যাম ঝুলিছেন কুঞ্জবনে শ্রীকান্ত চরণ একান্ত চিন্ত মন শ্রীকান্ত পদ কমল হৃদে রাস মণ্ডলে, মন কুতূহলে সবে হের কে রমণী সফল হল জনম ৭৫ ৮৫ ৮৯ ••• . । ••• ১১ ••• * * * ••• ••• ৭৯ ৮১ •• ••• ৭২ ৫ । ••• - সূচী। পৃষ্ঠাঙ্ক। । ২০ নাম সুনীল গগন, নীরদ বিহীন ... সংসার ভয় সংহর হরি এ ভবর্ণবে হরি হরি বল মুখে হরি হে এই মনে বাসনা হরিনাম বল বদনে হরি হরি বলরে ভাই হরি হর্ষিত অন্তরে হৃদয় কমল’পরি হৃদয় মন্দিরে তারা হৃদয় সরোজাসনে হে শিব শঙ্কর হে পতিতপাবন হে দুঃখ নিবারণ হে হরি কমলাকান্ত হে পাষাণী ধৈর্য্য ধর হে দেব ত্রিলােচন হেন কঠিন বচন ••• হৈমবতী কোলে কিবা হেলী খেলিব হে হরি ২১ I LE *** ০৮০ ••• * * ••• ৯২ ••• ৩।

রামচন্দ্র-গীতাবলী। শ্রী গণেশায় নমঃ। রাগিণী এমন-কল্যাণ— তালতে ওর} { বিপ্ল-বিনাশক, ও ধার । 'জয় বিনায়ক, হে গণনায়ক, মূষিক-বাহন, পার্বতী-নন্দন, বলি-প্রভাকর - গজেন্দ্র-বদন, নির্বিকার ! তঙ্গ মনােহর - পৃথুল-জঠর ! খর্ব-কলেবর, চারু চারি কর, বেদাদি পুরাণে পিচৰ্মাম্বর, কি বাহার !! মহিমা বাখানে, তব সম জ্ঞানে "মর প্রধান, সর্বাগ্রে বিধান, রামচন্দ্র অতি নিবার সম্প্রতি সিদ্ধিদাতা নাম সিদ্ধ কর কাম কেবা তার,--- তব পূজা ধান সুপ্রচার । কুকৰ্ম্ম কুমতি, বিঘ্নভার, ধর কৃপাপা,

রামচন্দ্র-গীতাবলী
রাগিণী বেহাগ—তাল চৌতাল।
ত্বং নমামি বিশ্বের ।
বিঘ্নহর !
গিরিজানন্দন-সমূলাধার !
প্রকাশে বেদ পুরাণ, তুমি দেবের প্রধান,
সর্বাগ্রে পূজাবিধান, হে তােমার ।
একদন্ত দ্বীপম্বর, জপে রত নিরন্তর,
কুঞ্জরাস্ত লম্বােদর, গুণাধার।
করি কৃপা নিজ গুণে, এ রামচন্দ্র নিগুণে,
চরণতরী প্রদানে, তবে তার ॥২
রাগিণী বসন্ত-বাহার—তাল চৌতাল।
নমােনম গজানন !
আদিব্ৰহ্ম নিরঞ্জন সনাতন,
অমরপ্রধান পার্বতী-নন্দন।
থর্ব স্থূল কলেবর,
আজানুলম্বিত কর,
বিঘ্নেশ্বর ! বিঘ্ন কর বিনাশন।
অপার মহিমা তব, তব তত্ত্ব কি বর্ণিব,
তােমাতে আশ্রিত দেব ! জীবগণ ;
রামচন্দ্র মূঢ়মতি, না জানে স্তুতি ভকতি,
কৃপা করি দাও সম্প্রতি চরণ ॥৩

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
ঐশ্ৰসরস্বত্যৈ নমঃ।
রাগিণী বসন্ত-বাহার-তাল আড়া।
নমাে নম নারায়ণি,
অজ্ঞান ঘাের তিমিরে
কুন্দেহিমবরণি,
শ্বেতহারবিভূষিণি,
বেদমাতা বাগবাদিনি,
সারদা বরদায়িনি,
প্রদানে জ্ঞানতরণী,
তারিবে রামে জননি
শ্বেত-সরােজবাসিনি।
জ্ঞানরশ্মি-প্রদায়িনি।
শ্বেতাম্বরা বীণাপাণি।
কবিকণ্ঠ-বিহারিণি।
বিশ্বতত্ত্বনিরূপিণি।
অচ্যুতচিত্ততােষিণি।
কবে ভবার্ণবে বাণি।
ভাবি তাই দিবাযামিনী ॥৪
রাগিণী ঝিঝিট-খাম্বাজ-- তা কাওয়ালী।
ভবে নিস্তার নারায়ণি! শ্বেতাম্বুজনিবাসিনি।
অজ্ঞান ঘাের তিমিরে হইয়ে পতিত,
দৃষ্টিশক্তিহীন হয়ে সতত চিন্তিত,
দীনে জ্ঞানাঞ্জন, কর বিতরণ
ও মা মূঢ়তনাশিনি, জীবের জ্ঞান-প্রদায়িনি।
ভজন পূজনহীন, রাম অভাজন,
নিজ গুণে কৃপা করি, কর বিমােচন,
শ্বেতাম্বরধরা, সসারাৎসারা,
ও মা বীণাযন্ত্ৰবিনাদিনি, কেশবমােহিনি ॥৫

৪
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী বসন্তবাহার-তাল তেওরা।
বাজিছে মধুর,
প্রণমামি বাণি, দেবি বীণাপাণি,
সরস্বতি জ্ঞান-দায়িনি।
তুষারবরণা, হারবিভূষণ,
সুলােচনা পিকবাহিনি।
শ্বেতাম্বরপরা, অজ্ঞানান্ধহরা,
লেখনী-পুস্তকধারিনি।
চরণে নুপুর,
সিতপদ্মবনবাসিনি।
ওমা সারাৎসারা, সর্বমূলাধারা,
ভয়হরা বিষ্ণুমােহিনি।
ধ্যায় অনুক্ষণ,
তােমার চরণ,
দেবগণ দিবাযামিনী ।
ত্বৎপদ আরাধি,
বাল্মীকাদি সুধী,
মূক-জড়ভাবনাশিনি ।
তুমি বাম যারে, কে আদরে তারে,
এ সংসারে, দুঃখহারিণি।
নাহি জানি তব,
ভজন কি স্তব,
কিসে লভি পদ তারিণি।
রামচন্দ্রের প্রতি, করুণা সম্প্রতি,
কুরু কবিচিত্ত-তােষিণি ॥

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী মূলতান—তাৰ একতালা।
নারায়ণি বীণাপাণি ত্বং বাণী বরদায়িনী মা !
কেশবমােহিনি।
মা শ্বেতবরণি সরােজবাসিনি গাে জননি,
অমরবন্দিনি ।
শ্বেতাম্বরা সৰ্বসারাৎসারা বেদমাতা ব্ৰহ্মময়,
অজ্ঞাননাশিনি জ্ঞানপ্রদায়িনি তােেহারিনি।
ভজন-পূজনহীন অকিঞ্চন রামচন্দ্রে দেহি এ দীনে
কৃপাবলােকনে ভক্তিরণে জ্ঞানতরণী ॥৭
রাগিণী সুরট-মল্লার—তাল আড়া।
নমস্তে সারদে গো মা, জ্ঞানস্বরূপিণি।
বীণাযন্ত্রবিনাদিনি,
শ্বেতাজবাসিনি।
ওমা কুলেন্দুবরণি, অজ্ঞানতমােনাশিনি।
জ্ঞানাঞ্জনদায়িনি, বেদপ্রসবিনি।
আগমে পুরাণে সার,
তব মহিমা অপার,
তুমি সর্বমূলাধার,
ভবাৰূিতরণী ;
ব্ৰহ্মাচ্যুত পঞ্চানন,
ইন্দ্ৰ আদি দেবগণ,-
ধ্যান করে অনুক্ষণ, ত্বৎপদ দুখানি।
কর বঞ্চনা যাহারে, কেহ না আদরে তারে,
জনম তার সংসারে, বিফল জননি ।
রামচন্দ্র সদাশ্রিত, কর মা কটাক্ষপাত,
অজ্ঞান তিমিরে ভীত, কপিছে পরাণি।৮

৬
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী পরজ-বাহার—তাল ঠুংরী
কে রমণী দোলে, শ্বেতশতদলে, রজতবরণী মৃদুহাসে।
মুখ নিশাকর, নিন্দি মনােহর, রতন মুকুট শিরে ভাসে।
ফুল্ল সরসীরুহ, ফুল্ল মহীরুহ, পরিহরি মধু-আশে,
অন্তরে আকুল, গুঞ্জরি অলিকুল, ভ্ৰমিছে চরণাম্বুজপাশে,
হেরি রাম আনন্দনীরে ভাসে ॥৯
রাগিণী কীৰ্ত্তনাঙ্গ-তাল একতালা।
রতন আসনে কিবা ইন্দিরা বিরাজে রে,
শ্রীকান্তমােহিনী বাণী অপরূপ সাজে রে ।
রমা আমার রমানাথের হৃদয়বিলাসিনী,
ভারতী আমার হরির কণ্ঠনিবাসিনী রে।
বিরাজে পূর্ণিমাশশী রমার বদনে,
কোটীশশী পড়ে দেখ বাণীর চরণে রে ।
জলধিনন্দিনী ভবদুঃখ-নিবারিণী,
বাণী জগতের জ্ঞান-মােক্ষদায়িনী রে ।
কমলার কমলগন্ধে উড়ে মধুকরে,
তা ত নয় আমার বাণীর চরণ পাবার তরে রে।
কমলা ভারতী দোহে অভেদশরীর,
বলে রাম সমপ্রীতি উভয়ে হরির রে ॥১০

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
৭
ঐশ্রীগঙ্গায়ৈ নমঃ।
রাগিণী জয়জয়ন্তী – তাল ধামার।
ওমা সুরধুনি! দেখা দে মা আমারে,
করুণাময়ি। করুণা কর এ দীন পামরে,
তােমা বই, কেউ নাই, আমার এ বিশ্বমাঝারে।
মা মা বলে অবিরত কত ডাকি তােরে,
মা হয়ে কেমনে আছ কঠিন অন্তরে,
কালবারিণি ! ভীত মা কালভয়ে,
যেন কাল পেয়ে কালে না ধরে তব কুমারে।
পাপানলে জ্বলে মরি আকুল জীবন,
জুড়াই কেমনে বিনে তােমার জীবন ;
কর উপায় উপায়বিহীনে মা।
বল পতিতপাবনী বিনে কে পতিতে নিস্তারে।
শুনেছি পুরাণে তুব
মহিম। অপার,
শত যােজনান্তে নাম যে লয় তােমার,
কর নিস্তার নিস্তারকারিণি মা!
ল’য়ে অভয় কোলেতে সেই পাতকী জনারে।
ভজনপূজনহীন অতি অভাজন,
করি নাই ধৰ্মকৰ্ম্ম কিছু উপার্জন,
যদি স্বগুণে নিগুণে না তারিবে,
তবে নিতান্ত ডুবিবে রাম এ ভব-পাথারে ॥১১

রামচন্দ্র-গীতাবলী ।
?
রাগিণ ভৈরবী-তালতিওট।
=
ও মা সুরধুনি
পতিতপাবনি,
জহ্তনয়ে ভবারাধ্যধন।
বিষ্ণুপাদোবে,
অবতীর্ণা এ ভবে,
কলিকলুষ করিতে নাশন।
তব পবিত্রবারি, দুরিত-তাপহারী,
আগম পুরাণে আছে লিখন,-
শত যােজনান্তরে, যে জন তােমায় মরে
সকল পাপে হয় যে বিমোচন।
যে জন তব জলে,
মাতৰ্গঙ্গে বলে,-
অস্তিমে করে দেহ বিসৰ্জ্জুন,
সে জন পাপী হলে, তারেও মা লহ কোলে,
আর না করে জঠরে গমন
ধন্য তরু বিহঙ্গ,
পশু কীট পতঙ্গ,
ত্বৎতীরে করে যারা বিচরণ,
তােমা বিহীন দেশে, নরপতি হলে সে,
তাদেরও তুল্য নহে কদাচন।
তব তত্ত্ব কে পারে, জগতে বুঝিবারে,
মানবদেহ করিয়ে ধরণ,
রামচন্দ্রের কবে, বাসনা পূরাইবে,
স্বগুণে করি কৃপা বিতরণ ॥১২

রামচন্দ্র-গীতাবলী
৯
সূৰ্য্যায় নমঃ।
রাগিণী আলাহিয়াল তেওরা।
প্রণমামি দেব দিবাকর।
কশ্যপনন্দন, পদ্মিনীরঞ্জন,
বন্দে ভুবননিকর।
ছায়াপতি জবাকুসুমসঙ্কাশ,
সহকিরণ জগতপ্রকাশ,
সপ্তাশ্ববাহন, বিভুর্বিকৰ্ত্তন,
পরিধান রক্তাম্বর।
তব অপ্রকাশে পদার্থনিচয়,
নিদ্রামগ্ন হয়ে জড়ােয় রয়,
তােমার কৃপায়, নবপ্রাণ পায়,
হয় কার্য্যে তৎপর।
তুমি পদ্মযােনি করহ সৃজন,
তুমি নারায়ণ করহ পালন,
তুমি মৃত্যুঞ্জয়, তােমাতে প্রলয়,
তুমি ব্যাপ্ত চরাচর।
রামচন্দ্রের জ্ঞানপদ্ম মুকুলিত,
করুণা প্রকাশি কর উম্মীলিত,
অতি হীনমতি, না জানে ভকতি,
ওহে সৰ্বগুণাকর। ১৩
২

১০
রামচন্দ্র-গীতাবলী ।
রাগিণী আলাহিয়া-তাল ঝাঁপতাল।
+
--
করুণা কর দীনজনে হে দেব দিবাকর।
শরণাগত চরণে তব এ অধম কিঙ্কর।
হে বিভু নিখিলপতি, তােমা বিনে নাহি গতি,
করে তােমারে সদা নতি, সুরাসুর নাগ নর।
এক চক্রের স্যন্দন, তুরগ
সর্পে
বন্ধন,
সারথি শূন্য চরণ, তাহে মার্গ শূন্য’পর
তবু নিখিল ভুবন, দিনেকে কর ভ্রমণ,
তব কাৰ্য্য অতুলন, শুনিতে আশ্চৰ্য্যকর।
পাপ তাপ ব্যাধিহারী, তমঃপুঞ্জ-দূরকারী,
অনন্ত মূরতিধারী, ব্যাপ্ত বিশ্বচরাচর ;-
ওহে ভুবন-প্রকাশী, পরশি তব তেজরাশি,
যতেক জগতবাসী হয় প্রফুল্ল অন্তর।
তব করে নব নব, ফল পুষ্প শস্য সব,
করিছে ধরা প্রসব, অবিরত, হে ভাস্কর ;
সৃজন পালন লয় তােমাতে সকলই হয়,
তুমি প্রভু জ্যোতির্ময় ত্রিমূৰ্ত্তি ত্রিগুণধর।
তুমি দেব ছায়াধব, হরি কমলবান্ধব,
অদিতি-গর্ভ-সম্ভব, সহস্রাংশু রক্তাম্বর ;-
রামচন্দ্রের নিবেদন, স্বগুণে দেব বিকৰ্ত্তন,
দুরিত কর বারণ, অশেষ কল্যাণকর।১৪

রামচন্দ্র-গীতাবলী। ১১ শ্ৰীশ্ৰশিবায় নমঃ। রাগিণী বসন্তবাহার-তাল সুরফাক্তা। হে শিবশঙ্কর। দীনে করুণাকর, জয় ত্রিপুরারি, জটাজুটধারী ওহে বৃষভাসন! শশাঙ্কশেখর ! দেব দিগম্বর । শ্মশান-বিহারী, সর্ব গুণাকর। ভূতি বিভূষণ, দর্পক শাসন, যােগীশ্বর ;-- এ রাম সন্তানে, চরণ প্রদানে, গঙ্গাধরধর।১৫ যেন হে নিদানে, রাগিণী যােগি তাল তেওরা। শিব শম্ভু শশাঙ্কশেখর। হে ভূতভাবন, পতিতপাবন, পাপতাপহারী, শ্মশানবিহারী, আশুতােষ ভােলা দেব দিগম্বর। গিরিশ গিরীশ ত্রিপুর-শাসন, জটাভস্মধারী ভুজঙ্গ-ভূষণ, মৃত্যুঞ্জয় হর, ত্রিলােচন ব্যোমকেশ গঙ্গাধর। যােগীজন মনােহারী মহাদেব, নীলকণ্ঠ পশুপতি বামদেব, সর্বগুণাকর, রামে রাখ বৃষধ্বজ মহেশ্বর ॥১৬ ঈশ স্মরহর, ঈশান শঙ্কর,

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী কীৰ্ত্তনাঙ্গ—তাল ঝাঁপতাল।
কাতরে করুণা কর, হে শিবশঙ্কর।
শরণাগত পদে কিঙ্কর।
জয় গঙ্গাধর, শশধর-ধর,
প্রভু প্রমথেশ গুণাকর ;
ওহে হর স্মরহর, উমা-হৃদিসরােজ-ভাস্কর।
1 ত্রিলােচন বিপদমােচন, হে বৃষভাসন ত্রিপুরশাসন,
জয় আশুতােষ শূলকর,
উমাকান্ত অন্ধকান্ত, রামের অপরাধ ক্ষমা কর ॥১৭
রাগিণী ঝিঝিট-খাম্বাজ-তাল আড়া।
বিশ্বভয়হর হর, হর শােকতাপ হর,
নির্বিকার নিরাকার।
মম্মথ-মথনকারী, নীলকণ্ঠ ত্রিপুরারি,
জয় মৃত্যুজয়কারী, আশুতােষ দিগম্বর।
শিব শম্ভু শূলপাণি, পঞ্চাস্ত ভূষণফণী,
ভালে বহ্নি নিশামণি, সুরধুনী শিরােধর,
ভস্ম সর্বাঙ্গে ভূষণ,
উমাকান্ত ত্রিলােচন,
খট্টাঙ্গ করে ধারণ,
খলান্তক বিশ্বেশ্বর।
ঈশান বাস শ্মশানে,
ভৈরব বেতাল সনে,
রাম নাম গুণ গানে, নিমগন নিরন্তর
কৃপা করি নিজ গুণে, রামচন্দ্র দীনহীনে,
চরণতরী প্রদানে,
ভব-জলধি নিস্তার ॥ ১৮

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
দুর্গায়ৈ নমঃ।
রাগিণী মূলতান—তাল একতালা।
কোথা কাত্যায়নী, কলুষহারিণী,
কালিকে করালবদনী।
কুরু কৃপাদীনে,
কাতর সন্তানে,
কৌশিকী কপালমালিনী।
কৃতাঞ্জলি হয়ে ডাকি মা তােমায়,
কষ্টেতে পড়িয়ে কাঁপিতেছে কায়,
কর সদুপায় ;
ওমা কুলকুণ্ডলিনী, কৃপাণধারিণী,
কৈলাসকূটনিবাসিনী।
ক’র না কপট কাঙ্গালের প্রতি,
করুণা কটাক্ষে হের মা সম্প্রতি,
করি কাকুতি,
ওমা কুশলারিণী, কৈবল্য-দায়িনী,
কৃপণতা কেন জননী।
কঁদে রামচন্দ্র অকৃতি কুমার,
কৃপাময়ী কৃপা না দেখি তােমার,
কি হবে আমার ;-
ওমা কামারি-কামিনী, কৃতান্তবারিণী,
কিঙ্করে নিস্তার তারিণী ১৯

১৪ রামচন্দ্র-গীতাবলী। রাগিণী খাম্বাজ-তাল কাওয়ালী। নিবেদি মা ভবরাণী। পুরাণে শুনেছি দুর্গে তুমি দুর্গতিনাশিনী। যে জন তব চরণ ভাবে একমনে, থাকে কি তাহার ভয় দুরন্ত শমনে, অসীম তব মহিমা, কেহ নারে দিতে সীমা, কিঞ্চিৎ মাহাত্ম তব জানেন গাে শূলপাণি। ভবে এসে নারায়ণী! ভাবিত অন্তরে, মায়াবশে মত্ত মন ধৈরজ না ধরে, দেখাে দেখাে দক্ষসুতে, রেখাে এ অধম সুতে, তােমা বিনে এ জগতে রামে কে তারে জননী ॥২০ . রাগিণী বিভাষ—তাল রূপক। জয়দে কালিকে, জগন্তি পালিকে, যােগীন্দ্রজায়া জয়া, যশােদাবালিকে। জীবনস্বরূপিণী, জন্মজ্বালারিণী, জগতপ্রসবিনী, জগদম্বে অম্বিকে। যােগরূপা যােগিনী, জগত-নিস্তারিণী, যােগেশ্বরী যাদবী, যােগি-মনােহারিণী ;- যােগাদ্যা যােগমায়া, যশােদা যােগপ্রিয়া, জ্যোতীরূপা অভয়া, জয়প্রদায়িকে। যাতায়াত-যাতনা, জীবনেতে সহে না, জননী গো আমারে, যেন আর দিও না, জপ স্তুতি তােমার, জানে কি হীন ছার, জঘন্য রামে তার, জয়ন্তি কপালিকে ॥২১

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী টোড়ীভৈরবী—তাল আড় খো।
কাতরে কর মা করুণা বিতরণ।
কতকাল ভবকারায় করিব কালহরণ।
কালী কৈলাসবাসিনী, কালকণ্ঠ-বিলাসিনী,
কলি কলুষনাশিনী,
কর ক্লেশ নিবারণ ।
করি কষ্টে কালপাত, করিয়ে কটাক্ষপাত,
করমা দুঃখ নিপাত, রামে দেহি শ্ৰীচরণ ॥২২
রাগিণী ঝিঝিটী খাম্বাজ-তাল আড়খেষ্টা।
ত্রাহি মা অপর্ণে, অধম প্রপম্নে,
গিরিরাজকন্যে,
দয়াময়ী শিবে।
নাহি জানি তন্ত্র, স্তব জপ মন্ত্র,
নাহি জানি যন্ত্র,
উপায় কি হবে।
জানি মা ব্রত, সন্ধ্যা যােগ ধ্যান,
লই পুরাণ,
বেদের সন্ধান,
নাহি মা আমার, শ্রদ্ধা ভক্তি জ্ঞান,,
দুঃখেতে পড়েছি আসিয়ে এ ভবে।
করিনে কখন তীর্থ দরশন,
অমর-বাঞ্ছিত ও পদবন্দন,
করিনে তােমার ভজন পূজন,
ভাসি মা নিয়ত এ সংসারাবে।
কুসঙ্গে কুকর্মে প্রবৃত্ত সতত,
কুলাচারহীন কদাচার রত,
অজ্ঞান রামের ওমা জগন্মাতঃ
গতিং গতিস্ত্বং ত্বমেকাহি ভবে ॥২৩

১৬
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী কীৰ্ত্তনা—তাল লােফা।
কাতরে করুণা কর তারিণী।
ওমা অকূলের কূলদায়িনী।
শিবে ভবভয়-নিবারিণী ।
তুমি জগদ্ধাত্রী, মােক্ষপদ-দাত্রী,
তুমি জীব-শক্তি-সঞ্চারিণী ;
গিরিবালিকে কালিকে,
( কাল-দর্পহরা )
শুম্ভ-বিনাশিনী,
শ-বিলাসিনী,
কৈলাসবাসিনী, অট্টহাসিনী,
কুলকুণ্ডলিনী,
নৃমুণ্ড-মালিনী,
শশাঙ্কলিনী, সুপালিনী,
ত্রিগুণধারিণী, ত্রিতাপহারিণী,
শ্মশানচারিণী,
ভীষণভাষিণী, দমুজত্রাসিনী,
কৃপাণপাশিনী,
রাখ বিপদে সম্পদে,
fতারা দুঃখহরা)
রামে, সৃজনলয়কারিণী ॥২৪
বিশ্ববন্দিনী,
দক্ষনন্দিনী,

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী বিভাষ-তাল আড়খেটা
নমস্তে শর্বাণী, ঈশানী ইন্দ্রাণী,
শশা-ভালিনী, জগতপালিনী।
নগেশনন্দিনী, সুরেশবন্দিনী,
যােগেশমােহিনী, মৃগেশবাহিনী।
দৈত্যসংহারিণী, নরকবারিণী,
ত্রিতাপহারিণী, ত্রিলােকতারিণী,
সুচারুহাসিনী, মহিষনাশিনী,
শমনত্রাসিনী,
কৈলাসবাসিনী।
দুর্গে দাঙ্গায়নী, তারা ত্রিনয়নী,
কালী কাত্যায়নী, উমা নারায়ণী,
চারুচন্দ্রাননী, শিবে পঞ্চাননী,
রামে দাও জননী, চরণ দুখানি ॥ ২৫
রাগিণী ইমন বিভাষ-~-তাল আড়পেটা।
দুঃখহরা ভবদারা ভবানী ভয়হারিণী।
কুলকুণ্ডলিনী, নৃমুণ্ডমালিনী, ত্রিদশপালিনী, সঙ্কটবারিণী
এই মিনতি আমার হৃদয়-আসনে,---
সদা যেন পাই শ্রীরাধিকা সনে,
নটরবেশে সে পীতবসনে,
পূরাও বাসনা ত্রিগুণধারিণী।
নয়ন মুদে যখন করিব স্মরণ,
দেখতে পাই যেন যুগল চরণ,
তব পদে রাম লইল শরণ,
কর সদুপায় উপায়ারিণী । ২৬।

১৮
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী ভৈরবী-তাল আড়খেষ্টা।
নমস্তে শরণ্যে,
শিবে দফকগে,
উমে অসামান্যে, হের মা! নয়নে।
জয়া জগদ্ধাত্রী, মুক্তিপদদাত্রী,
জীব-অধিষ্ঠাত্রী, তুমি মা! ভুবনে।
মহারণ্যে, রণে, প্রান্তরে, বন্ধনে,
অনলে, অচলে, নরেন্দ্র-ভবনে,
বিপদসঙ্কুলে,
অতল অকূলে,
রাখ সিংহ ব্যাঘ্র গজেন্দ্রবদনে।
তাকে মা তােমারে কাতর-অন্তরে,
নিস্তারকারিণী এ ভবসাগরে,
রাম দুর্মতি, সচিন্তিত মতি,
তার তার পদতরী বিতরণে ২৭।
রাগিণী টোড়ী-তাল একতালা।
কবে মা আসিবে নাশিৰে ভৰভয়।
পাপ-ভারাক্রান্ত হয়ে সদা ব্যাকুল হৃদয়।
তব পাদ করি আশা, এ ভবসাগরে আসা,
করনা আর নিরাশা, দিনে দিনে দিনায়
অকূল এ পারাবার,
নাহি তরী পারাবার,
তাই কি বারম্বার, হও না নিদয়
রামচন্দ্র ভেবে সারা, সতত নয়নে ধারা,
ওমা তারা ভবদারা, দাও পদতরী আশ্রয় ২৮

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী মূলতান—তাল আড়া।
সর্ব-মনােহরা শিবে শুম্ভহারিণী।
সর্বাণী সর্বমঙ্গলে শুভে সঙ্কটবারিণী ।
শিশু-সুধাংশুভালিনী, সুশীলে শিয়ােমালিনী,
সকল সুরােলিনী, সিতশৈলবিহারিণী।
সপিলে শরীর শ্যামা তব পদে,
শরণাগত সন্তানে রাখ বিপদে
সেই সাহসে শঙ্করী, শমনে শঙ্কা না করি,
সঙ্কটে করুণা করি, সহায় হও রামে তারিণী ২৯
রাগিণী মঙ্গল বিভাষ-তাল ঝাপতাল।
আমি অধম অকৃতি, করিতে আমায় নিষ্কৃতি,
ক’রনা বঞ্চনা ভবাণী
স্বগুণে হও সদয়,
অন্তিমে হ'য়ে উদয়,
বিতর মা চরণ দুখানি।
ওমা আছে বেদের বচন, দুর্গতি হয় বিমােচন,
দুর্গানাম করিলে স্মরণ;
দিলে চিত তব পায়, অনায়াসে মুক্তি পায়,
পরশিতে নারে দণ্ডপাণি।
আমি ভক্তিশূন্য অভাজন,
হীন-ভজন-পূজন,
. কিসে হব গতির ভাজন ;--
রামচন্দ্র নিরুপায়,
তাই গত্রি উপায়,
কর গাে মা না হয়ে পাষাণা ॥ ৩০ +

২০
রামচন্দ্র-গীতাবলী
রাগিণী মূলতান--তাল আড়া।
আছি আমি আশাপথ-আশে অনুক্ষণ।
আসিবে অন্নদা কবে, আমায় করিতে বিমােচন।
অস্ব অচলনন্দিনী, অমরগণবন্দিনী,
আশুতােষ-সীমন্তিনী, আশু দুঃখ কর বারণ।
অচ্যুত-অনুজা অসামান্যা অভয়া,
অপর্ণা অপরাজিতা আদ্যা অজুয়া ;
অসুরবলনাশিনী, অসীম অঘহারিণী,
অকূলের কূলদায়িনী, অন্তকভয় কর হরণ।
অনন্তরূপিণী তােমার অন্ত কে জানে,
অম্বিকে অশিবহরা আগমে বাখানে ;-
অন্তরে চিন্তিত অতি, অধৰ্ম্ম অকৰ্ম্ম মতি,
অকৃতি রামের প্রতি, অনুকুলা, হও মা এখন ॥৩১
রাগিণী কাফিসিন্ধু-তাল আড়া।
হৃদয় কমলােপরি বিরাজ মা ভবদারা।
নৃমুণ্ডমালিনী শিবে দিগম্বরী ভয়ঙ্করা।
শম্ভবক্ষে-বিলাসিনী,
শুম্ভ-নিশুম্ভঘাতিনী,
ত্রিজগত-প্রসবিনী, প্রলয়কারিণী তারা।
ওমা অসিতবরণী,
অসিধরা ত্রিনয়নী,
প্রচণ্ড-চগুদলনী, রবিসুতভয়হরা
কে বুঝে মা তব মায়া,
আদ্যাশক্তি মহামায়া,
রামে দেহি পদছায়া, উমে সসারাৎসারা ॥৩২৷৷

রামচন্দ্রগীতাবলী।
ক
রাগিণী বিভাষ—তাল আড়খো।
মা ভবানী ভবঙ্গবিনী।
মহাকাল-ঘরণী, কালভয়বারিণী,
কালী কপালিনী; রণরঙ্গিনী।
ওমা নিশুম্ভঘাতিনী, মহিষাসুরমর্দিনী,
নৃমুণ্ডমালিনী, শম্ভু-হুদিবাসিনী মা,
তুমি মা অভয়া মায়াস্বরূপিণী,
মায়াতে মােহিত কর জগৎ প্রাণ,
তব মায়া কে বুঝিবে তারিণী,
কিঞ্চিত্র জানেন শূলপাণি।
ওমা হিমাদ্রিনন্দিনী, ত্রিলোেক-প্রতিপালিনী,
জগজ্জনপ্রসবিনী, লয়কারিণী মা ;
তুমি ভবের গতি মুক্তিপ্রদায়িনী,
ত্রিতাপহারিণী, ত্রিগুণধারিণী,
রামচন্দ্র ভাবে দিবস-যামিনী,
কবে দিবে দাসে চরণ দুখানি। ৩৩।
রাগিণী কালেংড়া-তাল একতালা।
হৃদয়মন্দিরে তারা কবে মা আসিবে।
দয়াময়ী দয়া করি দুঃখ বিনাশিবে।
আশাপথ নিরীক্ষণ, করে আছি
করি করুশা ঈক্ষণ, তনয়ে তুবিৰে।
সদা রামচন্দ্রের চিত, ভবয়ে সমুচিত,
কর যা হয় উচিত, ইচ্ছারী শিবে। ৩৪।

২২
রামচন্দ্র-গীতাবলী
রাগিণী হারি—তাল আড়।
দয়াময়ী কতদিনে দয়া কাশিবে দীনে।
দিও না দিও না দুঃখ দিনগত দিনে দিনে।
দক্ষতা দাঙ্গায়নী, দক্ষযজ্ঞবিনাশিনী,
দুর্গে দুরিতবারিণী, দেহি পদ জ্ঞানহীনে।
দুরন্ত বাদী দু’জনা,দেহে নাহি শুনে মানা,
দিতেছে সদা যাতনা, দিবানিশি বি মনে,
দুস্তর ভবসাগর, দেখি কাঁপে কলেবর,
দিয়ে পদতরী তার, দাস রামেরে দুর্দিনে ৩৫৷৷
রাগিণী বাগীশ্বরী-তাল আড়।
পড়িয়ে বিপদ ঘােরে, কাতরে ডাকি মা তােরে,
দেহি দাসে চরণ।
কালগত কালাগত, কিসে করি নিবারণ।
তব নাম লয়ে ভবে, যদি ডুবি ভবার্ণবে,
তবে বল কেবা লবে, অভয় পদে শরণ।
তমে তােমায় নারি চিন্তে, তুমি মা ভবের অচিন্ত্য,
• সতত হৃদয়ে চিন্তে, কিসে পাই নিস্তারণ।
ও মা! মহাকালকান্তে, বসিয়া সদা একান্তে,
দিন হরি মা কান্তে কা’ন্তে, নহে শােকসম্বরণ।
তব তত্বে রিপুকুল, আমায় হয়ে প্রতিকূল,
মায়াতে করে আকুল, তয়াম হই বিস্মরণ।
কে জানে মা ! তব তত্ত্ব, তুমি রজ তম সত্ত্ব,
রামে দেহি জ্ঞানতত্ত্ব, করি কৃপা বিতরণ ॥৩৬৷

রামচন্দ্র-গীতাবলী । মাগিণী বেহাগ-তাল সুরফাকা। তারিণী ত্রিনয়নী তমনিবারিণী। তপনতনয় পেতে নয়, পিত-তনু তারা ত্রিতাপহারিণ। তাপস জনগণে, তৃপ্ত কর স্বগুণে, তপ্ত তপনীয় তড়িতবরণী,-- ত্রিপুরাসুন্দরী, ত্রিলােক-ঈশ্বরী, তােষ তৃষিতে করা, ত্রিগুণধারিণী। তন্ত্র তদন্তহীনে, তত্ত্ব তব কি জানে, তবা-িতবতােয়-তরণে তরণী তরঙ্গ তুফানে, ত্রাহি অপপাহীনে, তনু রাম দীনে, ত্রিলোেকারিণী ॥৭৷৷ রাগিণ মূলতান—তাল কওয়ালী। দুর্গে দুঃখহরা ভবভয়হারিণী । অধম সন্তান সদা ভজন-পূজন-হীন, ভক্তিরঙ্গে নিস্তার তারিণী। আসিয়ে এ মর্ত্যে কুতত্ত্বে মজে মন, বিষয়ে প্রমত্ত কুমাৰ্গেতে ভ্রমণ, ভব পারাবার, কিসে হব পার, বিনে মা ভবানী, বাঙ্গি তরণী। তােমার মহিমা আগমে বাধানে, শমন দমন অমামস্মরণে, যদি অকৃপায়, রামে রাখ পায়, কৃতান্ত- কিরে কি করে জননী।৩৮ ২৪ রামচন্দ্র-গীতাবলী। রাগিণী বাহার-তাল তেওরা। ভবে তার তারিণী, তাপহারিণী, পাপবারিণী কালিকে। শিবে মুণ্ডমালিনী, বহ্নিলিনী, চন্দ্রমৌলিনী চণ্ডিকে। ওমা! দক্ষনন্দিনী, দেববন্দিনী, সৃন স্থিতি-লয়-কারিকে, দুর্গে দুর্গতিবিনাশিনী, কৈলাসবাসিনী, গৌরী গিরিরাজবালিকে। কৃপাণপাণি, শিবানী, শূলপাণি হৃদয়বাসিনী অম্বিকে,-- বিশ্বনাথকামিনী, ভামিনী, গজ- গামিনী, ভয়হারিকে। ওমা যােগরূপিণী, লােকব্যাপিনী, অমরনরনাগপালিকে,-- দেহি জননী, পদতরী, করুণা বিতরি, এ দীন রামে শিবারাধিকে ॥৩৯৷৷ রাগিণ পিলু-তাল যৎ। এই কৃপা কৃপাময়ী কর দীনজনে। সদা মতি থাকে যেন তব অভয়চরণে। অতুল সম্পদে কি অসীমবিপদে, আত্মীয়-মিলনে কি বন্ধু-অদর্শনে। মনের আনন্দে কি থাকে নিরানন্দে, নীরােগে অথবা রাম নােগের পড়নে।৪ রামচন্দ্র-গীতাবলী। রাগিণী মূলতান--তাল একতলা। কাজ কি অতুল সম্পদে ? তারা সপিলাম সর্বস্ব তােমার শ্রীপদে। করুণা বিতরি ওমা শবাসনা, বিরাজ হৃদয়ে পুরাও বাসনা, যেন সর্বক্ষণ, করি নিরীক্ষণ, যুগল আঁখি মুদে। তব-কারাগারে, এসে বারে বারে, মােহপাশে হ’তেছি বন্ধন, অজ্ঞানান্ধকারে, নারি দেখিবারে, কিসে করি সুপথে গমন ;- দেহে বাদী হয়ে রিপু ছয়জনা, করিছে আমায় অশেষ লাঞ্ছনা, কর সদুপায়, ভিক্ষা তব পায়, দিন যায় কেঁদে কেঁদে । দোষ ক্ষমা করি, ওমা ক্ষেমঙ্করী, কর, জ্ঞান-বল বিতরণ, ছেদি মােহপাশ, পেয়ে অবকাশ, পুণ্যধন করি উপার্জন ; কৃতান্তকিঙ্করে আসিয়ে যখন, করদায়ে কর করিবে বন্ধন, রামচন্দ্র রায়, সে ধন দিয়ে তায়, ত্রাণ পাবে বিপদে। ৪১। ৪

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
সুরটমল্লার-তাল ঢিমাতেতালা।
তারিণী, ভবরােগে ব্যথিত-জীবন, করি কি এখন,
কলুষ-পৈত্তিকে অঙ্গ করিছে দহন।
বাসনাবাত প্রবল, টুটাইছে জ্ঞানবল,
প্রবৃত্তি-কফেতে কণ্ঠ করিছে রােখন।
বিষয়-কুপথ্য যত, আহার করি সতত,
ক্রমশঃ রােগবর্ধিত, বিকারলক্ষণ,
আশারূপ পিপাসায়,
অস্থির করিছে আমায়,
বুঝি এ বিষম দায়, নাহি বিমােচন।
মােহ-তন্দ্রা প্রতিক্ষণ, প্রলাপ কু-আলাপন,
মায়ারূপ ভ্ৰম ভীষণ, করি দরশন ;-
তমাম অরুচিকর,
জীবন রাখা দুষ্ক,
বুঝি মা কালকিঙ্কর, করে আক্রমণ।
যদি দোষ ক্ষমা করি, এ সময়ে ক্ষেমঙ্করী,
তব কৃপা-ধন্বন্তরি, কর মা প্রেরণ ;--
তবে রাম মুঢ়মতি, এ রােগে পায় অব্যাহতি,
অনায়াসে করে গতি শান্তিনিকেতন। ৪২।
রাগিণী বানােঞতাল ঠুংরী।
তারা এই কি পরিণাম ?
না পূরিল মনঃসাধ ল’য়ে তব নাম ।
তুমি পাষাণ-তনয়া, কঠিন তােমার হিয়া,
পরিহরি দয়া-মায়া, সুতে হলে বাম।
দিনে দিনে গত দিন, রবিসুতগণে দিন,
রামচন্দ্র তমুক্ষীণ, ভাবি অবিরাম। ৪৩।

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
২৭
রাগিণী সুরটমল্লার-তাল একতালা।
আমার অবােধ মন-বিহঙ্গ।
সংসারকাননে, প্রম কি কারণে,
কামাদি-পক্ষিণী সঙ্গ।
ব্যাখ-বেশধারী দুরন্ত শমন,
অলক্ষেতে সদা করিছে ভ্রমণ,
পেয়ে অবসর,
হয়ে অগ্রসর,
করবে জীবনাশা ভঙ্গ।
আর মায়া-মমাহে হওনা মােহিত,
থাকিতে সময় কর রে বিহিত,
মুখে দুর্গানাম, বল অবিরাম,
ত্যজি কুকথা-প্রসঙ্গ
বিষয়-তরুর পরিহরি আশা,
লহ তারা-পদ-পল্লবেতে বাসা,
খেয়ে পাপ-ফল,
হারাও না বল,
বাড়িবে ক্রমে আতঙ্গ।
পুণ্যক্ষেত্রে গিয়ে করি অন্বেষণ,
ভক্ষ মােফল জুড়াবে জীবন,
প্রবৃত্তি-জীবন,
পানে অনুন,
তাপিত করও না অঙ্গ ;-
তারা-নামামৃত সদা কর পান,
হবে সুশীতল, পাবে দিব্য জ্ঞান,
রামচন্দ্র কয়,
যায় রে সময়,
বাড়াও না অন্তরঙ্গ। ৪৪ ।

রামচন্দ্র-গীতাবলী। রাগিণী সুরটমল্লার—তাল আড়া। আমার মন-কুরঙ্গ বিষয়-কাননে। ভ্ৰমিছ কেন প্রবৃত্তি কুরঙ্গীর সনে। দেখ না আশা পিপাসায়, ফেলে মায়া-মরীচিকায়, ঘুরাইছে সদা তােমায়, ভ্রান্ত কি কারণে। নিষাদ-বেশেতে কাল, পাতিয়ে জঞ্জাল জাল, জালিয়া কলুষানল, রয়েছে গােপনে ;- নিয়তি-শ্মান ভীষণ, মেলি করাল বদন, করিছে অনুসরণ, এড়াবে কেমনে কামাদি-শ্বাপদগণ, করিতেছে বিচরণ, কালে করি আক্রমণ, বধিবে জীবনে ; রাম কয় করি বিনয়, যদি চাও হ’তে নির্ভয়, অবিলম্বে লও আশ্রয়, শ্রীদুর্গাচরণে। ৪৫। - রাগিণী ভৈরবী—তাল আড়া। এসে সংসার-বিদেশে আর কত ভ্রমিব তারা, সদা বিদেশীর বেশে। ঘাের অজ্ঞান-আঁধারে, সুপথ না পাই দেখিবারে, যা’ব বল কি প্রকারে, সাধুসঙ্গ পান্থবাসে। প্রেমালােক নির্বাপণ, পরশি পাপ-সমীরণ, নিবিড় মায়া-কানন, ভাবি আকূল হতাশে। কামাদি-হিংস্রকগণ, করিতেছে বিচরণ, শম-দম-প্রহরণ, বিনে নিবারিব কিসে। এ জনমে পুণ্যধন, না হইল উপার্জন, যায় রামের জীবন, এই কি হ’ল অবশেষে ॥৪৬

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী ঝিঝিট-তাল কাওয়ালী।
তারা নাম কর মন ভজন।
অনিত্য আলাপে কিবা আছে প্রয়ােজন।
যে ভাবে ঐ তারাপদ, থাকে কি আর তার আপদ,
অন্তকালে মােক্ষপদ, পায় সেইজন।
স্ববশে আনি রসনা, পূর্ণ কর স্ববাসনা,
রামের দোষ শবাসনা, করিবেন মার্জন। ৪৭
।
রাগিণী বিভাষ-তাল আড়খো।
কে রণে নীরদবরণী
করে অসি ধরা, পদে কাপে ধরা,
যায় প্রাণ ধরা, শুনে ঘাের ধ্বনি।
ভীষণ ভৈরব রব,
শুনে সৈন্যসব শব,
কে রবে এ রবে, মম কঁপে পরাণি,--
নরশির বামকরে শােভা করে,
ঘন অট্টহাসি অধরে না ধরে,
কুটী কটাক্ষশরে প্রাণ হরে,
বিহরে হরে বামা একাকিনী।
কে করে তারে বারণ, করে নিশি দিবা রণ,
সুধাপানে অনুক্ষণ, উন্মত্ত ধনী,
যদি কর বাসনা বাঁচিতে চিতে,
শরণ লহ বামার চরণে ত্বরিতে,
রামচন্দ্র বলে কে পারে নাশিতে,
সামান্যা রমণী নহে, দৈত্যমণি। ৪৮।

রামচন্দ্র-গীতাবলী
রাগিণী সুট-তাল কাওয়ালী।
কার রূপসী ষােড়শী, এল এলােকেশে,
রণবেশে ;-
অর্ধশশী ভালদেশে,
নাচে আসব-আবেশে,
সবে ত্রাসে
হয়ে অধৈৰ্য্যমতি, পদে কম্পিত বসুমতী,
বামায় হেরি দিগবাসে।
কটীতে আঁটা
নৃর,
নরশিরে শােভে কর,
গলে নৃমুণ্ডনিকরহার দুলিছে ;
জানি কার বনিতে, অবতীর্ণ। অবনীতে,
অসিত তনু শােণিতে, মরি কি শােভিছে,---
ঘন ঘন অট্টহাসে নাশে দনুজদল,
অন্তরে ফেলায় করে প্রলয়-নিশ্বাসে।
অসিতে নাশিছে কারে, কারে নাশে করে,
ভয়ঙ্করা হেরি ভয়ে কাঁপে অমরে,
বেতাল ভৈরব রবে, বল না কে প্রাণে রবে,
শরণ লইব গিয়ে কাহার গোচরে,
রামচন্দ্র হেরি ভয়ে,
ভাবে দনুজ রায়ে,
ত্রাস নাশ খামার চরণ সকাশে। ৪৯।

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
০
রাগিণী সুরমল্লার—তাল ঝাপতাল।
সবে হের কে রমণী, শ্যামা যােড়শী ত্রিনয়নী,
সকল দনুজ সৈন্য শসম শুনে ধ্বনি।
শিরে শিশুসুধাকরে শ্রবণে শব শােভা করে,
সুশাণিত অসি করে, সরােষে ভ্রমে উলঙ্গিনী।
সমরে বামা নহে শ্রান্ত, সংহার করে অবিশ্রান্ত,
শােণিতে বইছে স্রোত, শত্রুসেনারে জান ;
সাদরে রামচন্দ্র বলে, শরণ লও শুও সবলে,
স্থান দিবেন পদকমলে, শম্ভু-হৃদয়বাসিনী ।৫৩।
রাগিণী সুরটমল্লার-তাল ঝাঁপতাল।
কে রমণী উলঙ্গিনী, রূপে ভুবনমােহিনী,
অবতীর্ণা অবনীতে, অসি-খট্টাঙ্গপাশিনী।
অর্ধসুধাকর ভালে, নরশির শোভে গলে,
নিতম্বে নৃকর দোলে,
লােলজিহ্বা ত্রিনয়নী।
করে রণ দিবানিশি, ভয়ঙ্কর মুক্তকেশী,
শঙ্কিত ত্রিপুরবাসী,
কম্পিত পদে ধরী ;-
ঘনরূপা অট্টহাসে, বিহরে রণ-উল্লাসে,
সতত দনুজ নাশে,
ভীমা করালবদনী।
করে ধরি ক্রোধে অতি, সারথি সহ থরথী,
মাতঙ্গ হয় পদাতি, বদনে ফেলে অমনি ;--
ছাড়িছে হুঙ্কার ঘন,
নিবারে তারে কোনজন,
রামচন্দ্রের এ বচন, এ বামা শিবসীমন্তিনী।৫১

রামচন্দ্র-গীতাবলী ।
রাগিণী ঝিঝি ট খাম্বাজ-তাল আভা।
কে বামা বিহরে সমরে।
দিগম্বরা দিগম্বরে,
দিতিসুত প্রাণহরে।
অতিবরণী ধনী,
চতুর্ভুজা ত্রিনয়নী,
সুবিমল নিশামণি, প্রকাশে রুচি নখরে,
।
রূপে তমঃ নাশ করে।
ভালে রাজে অর্ধ শশী, বাম করে ধরা আসি,
ঘােররূপা মুক্তকেশী,
হাসি না ধরে অধরে,
ত্রাসে দনুজনিকরে।
গলে নরশিরােহার, করিতেছে কি বাহার,
সৰুে বয় রুধির ধার,
বেষ্টিত কটী করে,
নরশির শােভে করে ।
বেতাল ভৈরব সঙ্গে, নৃত্য করে নানা রঙ্গে,
কঁপে বসুধা আতঙ্গে,
অবিরত পদভরে,
ধৈরজ নাহিক ধরে।
রামচন্দ্র ভাবে চিতে, বুঝি এ হর-বনিতে,
সুরভয় নিবারিতে,
অপরূপ রূপ ধরে,
অবতীর্ণা ধরা’পরে । ২।

রামচন্দ্র-গীতাবলী শ্রী শ্রীরাধাকৃষ্ণাভ্যাং নমঃ। রাগিণী বাহার বসন্ত-তাল ঝাপতাল। r কনক-রচিতাসনে, ভূষিত নানা ভূষণে, শ্যামরায় রাধাসনে, বিরাজিত নিকেতনে। কিৰা শােভা মরি মরি, অপরূপ রূপ হেরি, যুগল রূপমাধুরী, তুলনা নাই ত্রিভুবনে। শ্যামকান্তি শােভে, জিনি, ইন্দ্রনীলকান্তমণি, বৃষভানু-সুতা রাধা, তপ্তকাঞ্চন-বরণী, নবীন নীরদপাশে, যেন চপলা গগনে। ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমাধর, শ্যাম মুনিমনােহর, ভুবনমােহিনী রাধা, রূপে মোহিত মটর, পরিহিত পীতাম্বর, নীলাম্বর সযতনে। বনমালা শ্যামগলে, ভ্রমে আলি কুতূহলে, মণিময় কণ্ঠহার, রাধিকা কণ্ঠে উজলে, অধরে মােহনবাঁশী, মধুর হাসি বদনে। ধ্বত চূড়া শ্যামশিরে, কিরণে ঝলমল করে, দুলিছে বিনােদিনী বেণী, গঞ্জি কালবিষধরে, তিলক শােভে সিন্দর, নিলি অরুণকিরণে । বঙ্কিম-নয়নে হরি, করিছে রাধা-মন চুরি, অঞ্জন-পূরিত-নেত্রে, শ্যামে মােহিছে কিশাের, দোহার চরণে নূপুর, বাজিছে সুমধুর স্বনে। রামচন্দ্র অভাজন, সপিল পদে দেহ মন, যুগলরূপে হৃদয়মাঝে, উদয় হও সদা যেমন, বঞ্চিত করাে না দাসে, কৃপাবিন্দু বিতরণে ॥৫৩ রামচন্দ্র-গীতাবলী। রাগিণী বাহার~~-তাল তেওরা প্রণমামি কেশবমন্দিরাধক মসুরনিকর-বিঘাতনং, ঘন-নীলনীরদ-কান্তিমঙ্গদ- হার-নুপুর-ভূষণ, ব্রজগােপিকাগণ-চিত্ত-তষণ মসুজাননলােচনং, সুর-মনুজ-মুনিগণ-মানসরঞ্জন- মমরভয়চয়বারণং । দনুজজাল-হরণ-শশিভাল- হৃদয়কমলবিকাশনং, সুনাথপালনমব্ধিজামন- মােহনমঘমােচনং বসুদেব-নন্দন-মাধিনাশন- মচলচক্র-বিধারণং, ভবজলধিমজ্জন-জীবতারণ- মগতিরামগতিকারণং। ৫৪। ; রাগিণী ভৈরবী-তাল আড়া। দাসে দেখা দাও দৈতারি। দয়া-দৃষ্টি দেহি দীনে দুঃসহ দুঃখ নিবারি। দমুজদলদলন, দেবদাসত্বখগুন, দেব দেবকীনন্দন, দৃপ্ত দুষ্ট দর্পহারী। দীনবন্ধু দামােদর, দুর্গতি রামের হর, দুরদৃষ্ট দূর কর, দশাস্যদমনকারী। ৫৫।

রামচন্দ্র-গীতাবলী রাগিণ তােড়ী-তাল একতালা। = শ্রীকান্তচরণ একান্ত চিন্ত মন । ভব-কারাগার হতে যদি চাহনি মণ। অনিত্য তুচ্ছ বিষয়ে, মজ না লােগ-আশয়ে, জঠরযাতনা স’য়ে, ভবে করি আগমন। দারা সুত বন্ধুজন, সুখনীরে নিমজ্জন হইয়ে, হরিভজন, ভুল না যেমন- এ দেহ হইলে শব, সঙ্গে না যাবে এ সব জেনে কেন রে কেশবপদ ভুল এ কেমন। থাকিতে এ দেহে বল, কর অন্তের সম্বল, করিছে, জরা প্রবল, ক্রমে আক্রমণ ;- বৃথালাপ পরিহরি, রসনায় অষ্টপ্রহরি, বল মুখে হরি হরি, কালভয় হবে দমন। কুকথা ত্যজি শ্রবণ, হরিনাম কর শ্রবণ, অন্তে বৈকুণ্ঠভবন, করিবে গমন ;- রে নয়ন! মনােহারী, অপদার্থ না নেহারি, হের গােকুলবিহারী, সদা শ্রীরাধারমণ । শুন বলি ওরে কর, হরিনাম জপ কর, বল কি ধন দিবে কর, আসিলে শমন ; রে চরণ! অবিরত, কুমার্গে হয়ে বিরত, তীর্থযাত্রায় হয়ে রত, রামে করাও ভ্রমণ। ৫৬।

৩৬
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী সিন্ধুড়া—তাল ধামার।
হে পতিতপাবন ! দীনশরণ, দয়াময় ।
পাপ-তাপ-বিপদ-বারণ।
হৃদয়-আসন পাতি, জ্বালিয়ে প্রেমের বাতি,
আছি পথ চেয়ে অনুক্ষণ।
দীনে করুণা বিতরি, ব’স নাথ তদুপরি
জনম সফল করি ওহে প্রাণধন।
অতুলন রূপ তব,
দেখাও ভববান্ধব !
জুড়াই এ তাপিত জীবন।
ভক্তি-প্রসূন তুলিয়ে, জ্ঞান-চন্দন মাখা’য়ে,
রেখেছি যত্ন করিয়ে, জগতজীবন!
দিয়ে চরণকমলে, পূজিব হে কুতূহলে,
আসি এবে করহ গ্রহণ।
ভজ্বালা বারম্বার,
সহিতে না পারি আর,
দগ্ধ করে নিরন্তর দেহ-প্রাণ-মন ;
বারেক কৃপানিধান! কর যদি কৃপা দান,
রামচন্দ্রের পূরে আকিঞ্চন। ৫৭।
রাগিণী ভৈরবী-তাল আড়া।
মাধব মােহন-মুরলীধারী।
মদনমােহন মূৰ্ত্তি মৃত্যুঞ্জয়-মনােহারী।
মথুরাপতি মুরারি,
মধুকাননবিহারী, হে,
মুকুন্দ মাৎসৰ্যবারী,
মহীভারমুক্তকারী ।
মুগ্ধ, মানস-সম্পদে, মত্ত রাম মায়ামদে, হে,
মন মজেনা তৃৎপদে, মধুসূদন ভেবে মরি । ৫৮

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
৩৭
হরি!
রাগিণী মূলতান—তাল একতালা।
এ ভবার্ণবে,
ভাসে দেহ-জীর্ণতরী পাবে কূল কবে।
ষড়রিপু তাহে হ'য়ে কর্ণধার,
ফেলিছে বিপদে ল’য়ে বারম্বার,
সুপথ না ধরি',
চালাইছে তরী,
স্ব স্ব ইচ্ছায় সবে।
কু-সঙ্গ হিল্লোল, বাড়িছে প্রবল,
নিরখিয়ে হত বুদ্ধিবল,-
নিরাশা-অনিল, তাহে প্রতিকূল,
করিতেছে তরী টলমল,--
পলকে পলকে প্রলয় নেহারি,
ঝলকে ঝলকে উঠে পাপ-বারি,
কিসে কালবারী ! এ বারি নিবারি,
শেষে গতি কি হবে ।
অজ্ঞান-অন্ধকারে, ঘেরেছে আমারে,
নাহি দেখিবারে পাই কূল,-
কি করি উপায়, ভেবে নিরুপায়,
হইতেছে সদা প্রাণাকুল ;
প্রসন্ন হইয়ে যদি দয়াময় ।
দাও দাসে পদতরী এ সময়,
সেই আশ্রয় করি,
রামের দেহতরী,
কূলেতে যায় তবে ॥ ৫৯।

4 রামচন্দ্র-গীতাবলী । রাগিণী জয়জয়ন্তী-তাল আড়া। কোথা ওহে কৃপাসিন্ধু! কাতরে ডাকি হে হরি! কেশব করুণকর কুকাননবিহারী। কংসকুঞ্জর-কেশরী, কালিন্দী-কূলসঞ্চারী, কুবলয়-ধ্বংসকারী, কালভয়-কলুষহারী। কৃষ্ণ কালিয়দমন, কিশাের কমলানন, কোটি কন্দর্পমােহন, কিরীট-কুণ্ডলধারী। কৃতান্ত ভয়েতে ক্লান্ত, কি উপায় করি হে কান্ত, কঁপে কায় কমলাকান্ত, কামদ কামান্তকারী। কৌস্তুভমণিভূষণ, কৈতব-কুল-শাসন, কেশী কেশিনিসূদন, কুরু কৃপা কৈটভারি। কেহ নাহি রামের আর, করে ভব-সিন্ধুপার, কর স্বগুণে নিস্তার, কৃপণতা পরিহরি ॥৬০ | রাগিণী খাম্বাজ-তাল আড়া। মজও না মন ! এ সংসারে। অতুল ঐশ্বৰ্য্য পেয়ে, মত্ত হয়ে অহঙ্কারে। কিছু না যাবে সহিতে, কিছু না কৈলে স্বহিতে, কেবল সার হবে সহিতে, যাওয়া আসা বারে বারে। অনিত্য মানব দেহ, সতত তাহে সন্দেহ, হরিতত্ত্বে মন দেহ, যােগীজন ভাবেন যারে । যখন কৃতান্তকিঙ্করে, বাঁধিবে ধুগল করে, বল কি উপায় করে, বারণ করিবে তারে। করিছে রাম বিনয়, এখনও আছে সময়, ভজ হরি দয়াময়, যদি যাবে ভবপারে। ৬১ |

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
নয়জয়ী—তাল আড়া।
কৃষ্ণনাম অবিরত জপ রে মন! আমার ।
মিছে কাজে মজি’ কেন কুপথে কর বিহার।
ত্যজি বিষয়-বাসনা,
অবশে আমি রসনা,
কর হরি উপাসনা, আসার হবে সুসার।
পাইবে পয়ম গতি, আসিতে হবে না আর।
অন্তিমে নীরদবরণ, করিবেন কৃপা বিতরণ,
ভবভয় হবে নিবারণ, ঘুচিবে কাল-অধিকার।
অনায়াসে রামচন্দ্র হবে ভবসিন্ধু পার ॥ ৬২।
রাগিণী কীৰ্ত্তনা-তাল লােফা।
কোথা আছ হে নারায়ণ !
হরি জগত-ভয়-নিবারণ!
অন্তিমকালে সদয় হয়ে দিও হে বারেক দরশন,
( ওহে হরি হে)
( দাসের প্রতি নিদয় যেন হ’য়াে না নাথ )
( ওহে দয়াময় )
( বিপদবারণ কালান্ত কালদর্পহারী )
প্রভু দীনতারণ, মধুসূদন গােপীকান্ত রাধারমণ ।
দীনশরণ গােলকপতি, পূর্ণব্রহ্ম পতিতপাবন,
( ওহে কৃপাময় )
কৃপণতা ক’য়ও মা এ দাসের প্রতি,
(ওহ দীননাথ )
( ভজন পূজন মাহি জানি আমি)
দিয়ে চরণতরী, ভরি, রামেরে কর উত্তরণ। ৬৩।

৪০
রামচন্দ্র-গীতাবলী
রাগিণ ঝিঝিট-তাল একতালা।
কুপথে ভ্রমণ,
ত্যজি’ ওরে মন!
হরি হরি বলনা।
আশু, এ ভবরােগ, হবে বিয়ােগ ;
নামৌষধে কি জান না।
ভক্তি-অনুপান,
সহ কর পান,
ঘুচিবে রে সব যাতনা।
লােক-লজ্জাভয় করি পরিহার,
জ্ঞানচক্ষে সদা ও পদ নেহার,
জগতে অসীম মহিমা তঁাহার,
বেদে দিতে নারে তুলনা
অনিত্যবিষয়ে মজি সুখাশয়ে,
ভ্রমে যেন তঁারে ভুল না ।
দয়াময় হরি পতিতপাবন,
অগতির গতি দরিদ্রের ধন,
তাঁর প্রতি কর আত্মসমর্পণ,
পরিহরি ভবভাবনা ;
অন্তে কৃপা করি, চরণ বিতরি,
পূরাবেন রামের বাসনা। ৬৪।

রামচন্দ্র-গীতাবলী ৪১ রাগিণী বাহার-তাল পতাল। শ্রীকান্ত-পদকমল হৃদে চি রে মন। কেন প্রমত্ত হয়ে কুপথে কর প্রমণ। মায়াতে হয়ে মােহিত, নাহি ভাবি স্ব-হিত, কেন কর সব অবিহিত, বিধি এ কেমন। ভ্রমিছ ভবে মিছে কেবল করি আপন আপন, রজনীযােগে ঘুমে যেমন দেখিছ স্বপন, দেখ ক্রমশঃ দিন গত, জীবন হলে নির্গত, ধৰি ল’বে রামে উপগত হয়ে, শমন। ৬৫। রাগিণী কীত্ত নাঙ্গ—তাল একতালা। নয়ন ভরে কর দরশন। হবে অন্তে কৃতান্ত দমন । ত্রিভঙ্গিমঠামে, ল’য়ে রাধায় বামে, আছেন পঁাড়া’য়ে মদনমােহন। আহা মরি মরি । কি ৰূপমাধুরী ! যুগলৰূপে আলাে ত্রিভুবন। যাঁর প্রতি-অঙ্গ, সদা রাসরসে বিমান। নিত্যরূপে যে ধন, ব্ৰজে বিরাজিত অনুক্ষণ। সপে যাঁর পদে মন, ব্রজবাসিগণ, ভবে ধন্য করেছে জীবন। সুখের দিন এমন, ধরায় করে রাম আগমন। ৬৬। মােহিছে অনঙ্গ, লীলার কারণ, পাবিনে কখন,

৪২
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণ লাচাসাগ-তাল ঝাপতাল।
কেমনে দুৰ্ম্মতি-জীবে বােঝে হরি তৰ লীলা সব।
বােঝাও বিশ্বমাঝারে, সদয় হইয়ে যারে,
সেই পারে বুঝিবারে, হে লীলাময় কেশৰ !
জ্ঞানালােক দেহ কারে, কারে ঘুরাও পাপ-অন্ধকারে,
কা’রে ফেলাও মায়া-বিকারে, কারাে নাশ সে সংস্রব।
কারাে ভবনে উৎসব, কারে করাও নিরুৎসব,
তােমার মায়া এ সব,
সদা করিছে প্রস।
সংসারের জীব যত, সকলই তােমায় সংযত,
তব কৃপাতে রাজত্ব, করেন স্বর্গে বাসব।
কৃপাহীন যে চরাচরে, তা’র কি ভক্তি সঞ্চরে,
তাই রাম ভবে বিচরে, পানেতে বিষয়াস। ৬৭।
।
রাগিণী পূরবীগৌরী—তাল কাওয়ালী।
কোথা হরি ভয়হারী হে মুরারি ।
আমার প্রাণান্তকালে দেখা দিও বংশীধারী
উদয় যদুকুলে তুমি বৈকুণ্ঠের ধন,
সতত যােগিগণ করে তােমারে সাধন,
স্মরণে তব নাম ঘুচে ভব-বন্ধন,
না পারে ছুইতে মৃত্যু-অধিকারী'।
মত্ত বিষয়মদে সদা কমললােচন,
মর্ত্যে কুপথে ভ্রমে মন না শুনে বচন,
নিজগুণে করি অপরাধ বিমােচন,
বিতর রামে পদ গােলােকবিহারী। ৬৮।
।

রামচন্দ্র-গীতাবলী
৪৩
রাগিণী মূলতান--তাল একতালা ।
হৃদয়-সরােজাসনে বিরাজ বংশীধারী।
ত্রিভঙ্গভঙ্গিম হয়ে বামেতে ল’য়ে প্যারী
নয়ন মুদিয়ে ভাবি অনুক্ষণ,
যুগলরূপ তব না পাই দর্শন,
আমি অভাজন জানি ভজন,
করাে না বঞ্চিত মুরারি।
তুমি হে শ্রীহরি পতিতপাবন,
পতিত পতিত কর উদ্ধরণ,
হে দীনশরণ,
বিপদবারণ,
ভকতজন-মনােহারী ।
তােমার বিহনে ওহে দয়াময়,
কে আছে আমার লইব আশ্রয়,
রাম অতিশয়, চিন্তিত-হৃদয়,
ভয় হর ভবভয়হারী॥ ৬৯।
রাগিণী আড়ানবাগীশ্বরী--তাল আড়া।
কাটিয়ে ভক্তিশৃঙ্খল আমার মন বারণ।
কামাদি-করিণী সনে করিতেছে বিচরণ।
মত্ত হয়ে মায়ামদে,
পতিত কুসঙ্গ-হ্রদে,
দলিছে জ্ঞান-পদ্ম পদে, না মানিয়ে নিবারণ ।
কুরস-পঙ্কিল-পয়ে, বিষয়-মৃণালাশয়ে,
পাপ-পঙ্কে মগ্ন হয়ে, আবদ্ধ চরণ
হৃষীকেশ তােমা বিনে, উপায় আর দেখিনে,
রামের মন-বারণে, তার দিয়ে শ্রীচরণ ॥ ৭৩ ।

৪৪ রামচন্দ্র-গীতাবলী। রাগিণী ললিততৈরে—তাল কাওয়ালী। এই করাে নীরদবরণ। আমার প্রাণান্তকালে যেন হেরি চরণ। ওহে ব্রহ্মাণ্ডের পতি বিশ্বমূলাধার, ওহে ভবকর্ণধার, ওহে করুণা-আধার, ওহে প্রভু বিশ্বেশ্বর যােগীশ-হৃদয়েশ্বর, ( তুমি) পদ্মনাভ মুরহর, পতিত-তারণ। সৃষ্টি-স্থিতি-লয়কারী, ভকত-আরতি-হারী, লীলাময় তব লীলা বােঝে কোনজন ওহে শ্রীমধুসূদন, রামের এই নিবেদন, ( যেন ) তব নাম কদাচন না হয় বিস্মরণ। ৭১। ; রাগিণী মঙ্গলবিভাষ-তাল ঝাপতাল। তুমি অনন্ত বলরাম, শ্রীরাম পরশুরাম, দয়াময় দনুজদর্পহারী। তুমি বিরিঞ্চি মহেশ্বর, পরাৎপর পরমেশ্বর, বরাহ বামন নরহরি। তুমি যজ্ঞ, তুমি ধ্যান, তুমি পুণ্যকর্ম জ্ঞান, আত্মরূপী নিখিল-সংসারে ;- আদি অনাদি চিন্ময়, মীন কূৰ্ম্ম জ্যোতির্ময়, সর্বব্যাপী গােবর্দ্ধনধারী। স্বর্গ মর্ত্য রসাতল, অতল সুতল তল, মােক্ষফল না মাগে তােমারে ;- ওহে পতিতপাবন, চাহে না রাম অন্য ধন, কেবল স্থান দিও চরণে মুরারি। ৭২।

রামচন্দ্র-গীতাবলী ৪৫ জনার্দন মুরহর, রাগিণী বিভাষ—তাল ঝাপতাল জয়তি জগদীশ্বর, জগৎপতি জ্যোতির্ময় জপাদি যজ্ঞেশর। যদুকুলােৱবশ্রেষ্ঠ, যবনারি,জগদিষ্ট, জনতারণ জগদ্বন্ধু, যারে তুমি হও তুষ্ট, যায় দূরে দুরদৃষ্ট, জননী-জঠর-কষ্ট, জগতিতলে তার ইষ্ট, যতনে পুরাও যােগেশ্বর। জীবন-ঔষধি তুমি জগতজন আরাধ্য, যম-যাতনা দূরকারী, জানিবে জীবে কিবা সাধ্য, জীবনেতে জীবেতে থাক আত্ম-রূপে, জীবন্মুক্ত কর তাকে, আপে যে তােমায় ঘােরতাপে, জঘন্য রামচন্দ্র অতি, জানে না তােমার জপস্তুতি, জগতে তরে যদুপতি, যদি করুণা বিতর। ৭৩। যুক্ত সদা রাগিণী কীত্তনাঙ্গ-তাল একতালা। একবার বদন ভরে হরিনাম কর রে কীর্তন। অনিত্য এ পাপদেহে থাকিতে চেতন। যে ডাকে একান্তমনে, অন্তিমে রাধারমণে, (তার) দুরন্ত শমন, হয় রে দমন, ঘুচে যায় জ্বালাতন। অসার এই সংসার, হরিনাম মাত্র সার, (এই) ভব-পারাবার, আশু পারাবার, কারণ নীলরতন। দীরাত পরিজন কেবল সুখের ভাজন, (কর) আপন আপন, বৃথা আলাপন, মায়া খেলার মতন। রাম বলে রে স্বহিতে, কিবা করিছ মহীতে, (এখন) হরিনাম কেবল, পথের সম্বল, লও করিয়ে যতন।৭৪।

৪৬
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
')
রাগিণী মিশ্রখাম্বাজ-তাল একতালা।
হরি হরি বল মুখে বৃথা চিন্তা ত্যজি রে মন ।
বিপদভঞ্জন মধুসূদন করবেন কৃপা রাধারমণ ।
কাঙ্গালের ধন গােলােকপতি, অগতিজনার গতি,
( ও নাম লইলে বিপদ রবে না রে )
( তিনি অনাথের নাথ দীনশরণ)
ঐ চরণে রাখ মতি, ছোঁবে না দুরন্ত শমন।
ভজ্বালা দুরে যাবে, অন্তে মােক্ষপদ পাবে,
{ হরি পার করিবেন ভববাবি)
( দাসে চরণতরী-প্রদানে।
আর না করিতে হবে রামেরে সংসারে ভ্রমণ। ৭৫।
রাগিণী ঝিঝিটী-তাল ঢিমাতেতালা।
ওরে মন আমার, যদি যাবে ভবসিন্ধু পার।
ভাব জগততারণ, ভবার্ণবের কর্ণধার ।
যে ভাবে হরির পদ, হয় সেই নিরাপদ,
অন্তে পায় মােক্ষপদ, গােষ্পদ তার এ সংসার।
অবশে আনি রসনা, হরি-রসেতে রসনা,
সদা কুরসবাসনা, করি পরিহার
ভাবি হৃদে যে চরণ, মৃত্যুজয়ী ত্রিলােচন,
আর দেখ পদ্মাসন, করিলেন সৃষ্টি প্রচার ।
গেল গেল কাল গেল, কাল পেয়ে কাল এল,
যদি কালে দিবে ফাঁকি স্মর অনিবার ;-
রামচন্দ্র বলে কেঁদে, কেন আছরে বিষাদে,
সাধ পূরাও রে তারে সেধে, ঘুচিবে ভ্ৰম-অন্ধকার। ৭৬
;

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
৪৭
রাগিণী ঝিঝিটীখাম্বাজ-তাল একতালা ।
মন মজ কেন মায়ারঙ্গে।
আপন আপন, করি আলাপন,
ভ্রমিছ নিয়ত বৃথা প্রসঙ্গে।
সম্পদ ঐশ্বৰ্য আনন্দ উৎসব,
যত দেখ ভবে অনিত্য এ সব,
পড়ে রবে, যবে দেহ হবে শব,
(তােমার) সে সময় কিছু যাবে না। সঙ্গে।
সতত অস্থির জীবের জীবন,
শতদল-দলে যেন রে জীবন,
ভজিয়ে সেই পতিতপাবন,
(পুনঃ) রামে কি ফেলা’বি ভবাৰূিতরঙ্গে। ৭৭
রাগিণী আলাহিয়া—তাল একতালা ।
মন কেন আছ হা’য় ভ্রান্ত ।
মুখে অবিরাম, কর হরিনাম,
দিবেন পদে স্থান কমলাকান্ত ।
যে কার্যের তরে আসিলে সংসার,
সে কার্যের কিছু হ’লনা সুসার,
কেবল মাত্র ভ্রম হইয়ে সংসার,
পাপভার ব’য়ে হ’তেছ ক্লান্ত।
গুরুদত্ত মন্ত্র হয়ে বিস্মরণ,
বৃথালাপে দিন করিছ হরণ,
রামচন্দ্র বলে একি আচরণ,
জান না কি অন্তে আছে কৃতান্ত। ৭৮

৪৮
রামচন্দ্র-গীতাবলী
রাগিণী বেহাগ-তাল একতালা।
হে দুঃখ-নিবারণ।
পতিতপাবন, জগত-জীবন,
অগতির গতি, নিখিলকারণ।
তােমার কৌশল অতি চমৎকার,
তব লীলা ভবে বুঝে সাধ্য কার,
তুমি নির্বিকার, নিত্য-নিরাকার,
সাকারেতে কর ভূভার-হরণ।
ত্রিজগত মাঝে আছে যত প্রাণী,
তােমা ছাড়া কেহ নহে চক্রপাণি,
জব তত্ত্ব কিছু জানেন শূলপাণি,
ওহে বারিদবরণ;
অসম্ভব সব তোেমাতে সম্ভব,
ভক্তরক্ষা হেতু ভবেতে সম্ভব,
তােমাতে কেশব, স্থিতি লয় সব,
রামচন্দ্র লয় চরণে শরণ। ৭৯।
রাগিণী কাফিসিন্ধু তাল ঢিমাতেতালা।
(হরি হে) এই মনে বাসনা কেবল।
বাসনা-ফলদ আসি করহ সফল।
ব’স হৃদয়-আসনে,
প্ৰেম-সলিল-সেচনে,
ধােয়াইব সযতনে, চরণকমল।
ভক্তিকুসুমে মাধব, সাজাইব অঙ্গ তব,
রামের দুঃখ যাবে সব, ভকতবৎসল। ৮০।

রামচন্দ্রগীতাবলী
৪৯
রাগিণী অহংখাজ—তাল একতালা।
একবার দেখা দাও মুরারি, সুদর্শনধারী,
যদুপতি রমাকান্ত !
ও হে, গােলােকৰিহারী, ভৰভয়হারী,
নারায়ণ নরকান্ত।
তুমি, নিত্য-নিরঞ্জন, ত্রিলােক-রঞ্জন,
নিবার অন্তে কৃতান্ত,
কোথায়, কমললােচন, (ওহে ইরি)
( ওহে ভর্ণবের কর্ণধার)
(আমার, তােমা বিনে কেহ নাই হে
ক’র বিমােচন, হবে যবে জীবনান্ত।
তােমায়, স্মরিলে সঙ্কটে, আসে না নিকটে,
বিপদ, জানি একান্ত ;
করায়, পতিতপাবন, (ওহে হরি)
(দাসে নিজগুণে কৃপা করি।
(এখন শ্ৰৱণ-বিতরণে)
জগতজীবন, কর রামের ভয়ান্ত। ৮১
রাগিণী কাফিসিন্ধু-তাল চিমাতেতালা।
কে তারিবে দুর্দিনে, বল হরি তােমা বিনে।
দয়াময় দীনবন্ধু দয়া না করিলে দীনে।
দিনে দিনে পাপানল,
জ্বলিছে অতি প্রকল,
কর নাথ সুশীতল, কৃপাবারি-বরিষণে।
রামচন্দ্র ভীত অতি,
নাহি গতির সঙ্গতি,
না তারিলে অনুপতি, আর ত উপায় দেখিনে ॥২॥

রামচন্দ্র-গীতাবলী
রাগিণী বাগীশ্বরী-তাল আড়া
হে হরি কমলাকান্ত, কে জানে তােমার অন্ত,
তুমি সর্বমূলাধার।
ভূভার হরিতে নাথ ধর নানা অবতার।
সত্যে হিরণ্যকশিপু, অমরগণের রিপু,
ধরিয়ে নৃসিংহবপু, হরিলে জীবন তার,
প্রিয়ভক্ত প্রহলাদেরে দিলে রাজ্য অধিকার।
ত্রেতায় আমরূপ ধরি, অভয়পদ বিতরি,
স্বর্ণ কৈলে কাতরী, আর অহল্যা উদ্ধার,
বিনাশিলে লঙ্কেশ্বরে বাঁধি জলধি অপার ।
কৃষ্ণরূপে দ্বাপরেতে, কংসভয় নিবারিতে,
জন্মি দেবকীগর্ভেতে, ব্ৰজে করিলে বিহার,
পাণ্ডবের পক্ষ হয়ে নাশিলে ধরণীর
কলি অন্তে কালবরণ,
কল্কীরূপ করিয়ে ধারণ,
নাশি ম্লেচ্ছ-পাতকিগণ, করিৰে সত্যপ্রচার ;
রামচন্দ্রে নিস্তারিতে, যেন নাহি হয় ভার ॥ ৮৩
রাগিণী বায়ােঞাতাল ঠুংরী।
নমাে নমাে নারায়ণ।
নরসিংহ নরােত্তম হে নদ-নন্দন।
নবনীরদবরণ,
নীল-নলিন-নয়ন,
নটবর নিরঞ্জন, নরকসূদন।
নির্বিকার নিরাকার, নিত্য নিকুঞ্জবিহার,
নাশ রামের পাপভার, নরকবারণ। ৮৪।

রামচন্দ্র-গীতাবলী
৫১
রাগিণী মঙ্গলবিভাষ-তাল ঝাঁপতাল।
কেশব ! কুরু করুণাবিতরণ।
হে মুকুন্দ-মুরারি, গােকুল-বিহারী,
রাধিকা-হৃদয়রঞ্জন।
ওহে যদুপতি, অগতির গতি,
ভকত-মনােহরণ;
কৃষ্ণ দয়াময়,
দীনহীনাশ্রয়,
(অনাথের নাথ তুমি)
(ভবের আরাধ্য ধন)
শ্রীনাথ দুঃখবারণ।
নিত্য নিরঞ্জন,
ব্ৰশাসনাতন,
পতিতজনতারণ ;-
রাম শিশুমতি, জানে ভকতি,
(নিজগুণে কৃপা কর)
( ভরসা তব শ্রীপদ)
অন্তে দিও শ্রীচরণ। ৮৫।
===
রাগিণী গৌড়সারঙ্গ-তাল ধামার।
যদি হে হরি না তার তবে-
কে আছে আর তারিবে এই ভবে।
হে দীনশরণ,
পতিত-পাবন,
নিরুপায়, উপায় বল কিবা হবে।
রামচন্দ্র-চিত, সতত চিন্তিত,
বার বার জঠরজ্বালা কত সবে || ৮৬।

৫২ রামচন্দ্র-গীতাবলী রাগিণী কীৰ্ত্তনাঙ্গ-তাল একতালা । হরিনাম বল বদনে। সুপবিত্র হবে জীবনে। হরিনামের বলে, জীব অন্তে চলে-- অনায়াসে মােক্ষভবনে, তার থাকে না ভয় শমনে। যে নাম অনুক্ষণ, স্মরি পদ্মাসন, সদা বসিয়ে যােগাসনে, করেন জীবষ্টি যতনে। হরিনামে মতি, রাখি.শচীপতি, ক্ষম স্বর্গরাজ্য শাসনে, সুখে অমরগণ সনে। হরিনামের লাগি, ইর সর্বত্যাগী, থাকি শ্মশানে হৃষ্টমনে, যে নাম জপেন পঞ্চবদনে। ধ্রুব হরিনাম, ল’য়ে অবিরাম, বসে নিবিড় মধুবনে, পেল পদ্মপলাশলােচনে। হরিনামের গুণে, প্রসাদ আগুনে, ত’রে গেল সিন্ধু-জীবনে, বিষপানে গিরিপতনে। রামচন্দ্র বলে, ভুল না সকলে, যেন অন্তে পতিতপাবনে, যদি স্থান পাবে ঐ চরণে। ৮৭।

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
৫৩।
রাগিণী ললিত-তাল আড়া।
জন্ম ল’য়ে জগতেতে জপিলে না জনার্দনে,
যম-যন্ত্রণাতে বল জয়ী হইবে কেমনে।
জান না কৃতান্ত এসে,
জাগিছে শিয়রদেশে,
যাবে ল'য়ে ধরি শেষে, জীর্ণদেহে আক্রমণে।
জীবের জীবন অনিত্য, জীবনবিম্বের মত,
যায় দিন রে নিয়ত, জগদীশবিস্মরণে ;-
জপ জগত-সম্পদ,
যােগীজনারাধ্য পদ,
যাবে রামের বিপদ, যত দিন রবে ভুবনে। ৮৮।
রাগিণী খাম্বাজ-তাল ঢিমা যৎ।
বারে বারে জানাইব মনের বেদনা কত।
জান তুমি অন্তর্যামী অন্তরের দুঃখ যত।
একেত আমি দুর্বল, তাহে প্রকৃতি প্রবল,
সতত প্ৰকাশি বল, কুমার্গে করিছে রত।
পাপভার সদা ব’য়ে, কত রব ক্লান্ত হয়ে,
কবে ত্রাণ করিবে ভয়ে, দিনে দিনে দিন গত ।
দেহ-শত্রু পদে পদে, ফেলিছে আমায় বিপদে,
ভরসাতব পদে, কর যা হয় ইচ্ছামত।
তুমি হে দীনবান্ধব,
নিস্তার পাতকী সব,
সেই আশায় ভবধব, র’য়েছি আমি নিয়ত।
ওহে প্রভু গুণাধার, তুমি সর্বস্ব আমার,
তােমা বিনে বল কার হইব শরণাগত।
রামচন্দ্র হল ক্ষীণ, হ'য়ে উপায়বিহীন,
ভেবে ভেবে অনুদিন, জীন হয় ওষ্ঠাগত। ৮৯।
}

৫৪
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
}
রাগিণী কাফিসিন্ধু—তাল ঝাঁপতাল।
করহে করুণাময় ! করুণা নিদানে।
শরণাগত শ্রীপদে--
বঞ্চিত কর না যেন অধম সন্তানে।
ভবধব! মহিমা তব, জগতে বাখানে,
তুমিই গতি, ত্রিলােকপতি, লিখিত পুরাণে।
প্রাণধন! দেহ-জীবন, সঁপি তব স্থানে,
নিরন্তর, মন-চকোর, আছে রূপধ্যানে।
দয়াময় ! হয়ে উদয়, প্রেম-সুধাদানে,
সাধ পূর্ণ কর হে তূর্ণ, ব্যাবুল-পরাণে।
তােমা বিনে, কে তারে দীনে, এ ভব-তুফানে।
নাশ ভয়, হয়ে সদয়, চরণপ্রদানে।
গুণধাম, নিগুণ রাম, ভজন না জানে,
তাই ডাকে, ঘাের বিপাকে, নিস্তার অজ্ঞানে ৯০।
রাগিণী ঝিঝিট-তাল আড়খো।
বিপদে সম্পদে রাখ হে শ্রীপতি।
দিও পদ কৃপা করি এ দীন-তনয় প্রতি।
তব নামে হে মাধব, মৃত্যুঞ্জয়ী উমাধব,
তুমি অনাথবান্ধব, জগত-কারণ,
ভবে ধন্য সেই জন, তােমাতে যার প্রীতি।
তােমা বিনে এ বসুধায়, কেহ নাই যে আমায় সুধার,
কেবল তােমার নাম-সুধায়, সদা আকিঞ্চন ;-
অকিঞ্চন রামচন্দ্রে, ভুলনা হে সম্প্রতি ॥ ৯১।
-

রামচন্দ্র-গীতাবলী
রাগিণী মিশ্রখাম্বাজ-তাল একতালা।
হরি হরি বল রে ভাই! ত্যজিয়ে অনিত্য খেলা।
ভবসিন্ধুর অতলজলে হরিনামে বাঁধ ভেলা।
হরিরূপ-দরশনে,
হরির গুণ-কথনে,
হরিনাম-আলাপনে মিছে কেন কর হেলা।
যেতে সেই হরির দ্বারে, বিপদে ত্রাণ করিবারে,
দিবানিশি ডাক তারে, ছাড়িয়ে কুসঙ্গ-মেলা।
দীন রামচন্দ্র বলে,
কোন দিন তােমারে বলে,
লইবে কাল-কবলে, অবসান হলে বেলা ॥ ৯২।
রাগিণী পিলু-তাল আভা।
ভুবনমােহনরূপ দেখিতে তােমার ।
ব্যাকুল মিয়ত প্রাণ হ’তেছে নাথ আমার।
ওহে প্রভু অন্তর্যামী,
নিখিল ব্ৰহ্মাণ্ডস্বামী,
কি জানাব বল আমি, তােমায় অধিক যে আর।
পাব বলে তোমা ধনে, বাসনা করিয়ে মনে,
একাকী বসে নিৰ্জ্জনে ডাকি বারম্বার।
কখন প্রান্তরে গিয়ে, নাহি পাই অন্বেষিয়ে,
ফিরি কাঁদিয়ে কাঁদিয়ে, কেবল করি হাহাকার।
তােমা বিনে এ জীবন, কেমনে করি ধারণ,
নিরখি ভৰভবন, সদা অন্ধকার।
রামচন্দ্রের দুঃখানল,
জুলিছে অতি প্রবল,
বষিয়ে শান্তিজল, নিবাও সর্বগুণাধার ॥ ৯৩।

রামচন্দ্র-গীতাসলী। রাগিণী পাহাড়িয়া-খাম্বাজ-তাল লােফা। বল হরি হরি, সৰ পৰিহৰি, নিয়ত ওরে মূঢ় মন। পাবে মােধাম, রাখ পরিণাম, কালভয় হবে রে দমন। আপন আপন, ত্যজ আলাপন, এ সৰ নিশার স্বপন। বিপু ছয় মন, হরে আয়ুধন, তথাপি নহ সচেতন। হরিনাম শর, যােজিয়ে সত্বর, রসনা-ধনুকে এখন। স্বৰীৰ্য প্রকাশ, শত্রুরে বিনাশ, বিলম্বে নাহি প্রয়োজন। হরে কৃষ্ণ হরে, আনন্দে কহ রে, ত্যজিয়ে অনিত্য কথন। ভকপারাবারে, রামে তরিবারে, দিবেন তরী নারায়ণ ॥ ৯৪। রাগিণী কলিঙ্গড়া—তাল আড়খেটা। এত জ্বালা দিৰে এনে জানিব কেমনে। সহে না সহে না আর এ পাপ-জীবনে। কখন ভয়ে কম্পিত, কখন যােগে পীড়িত, কভু ঐশ্বর্য্যে বঞ্চিত, কভু বা স্বজনে। শুনেছি তােমায় আরাধি, ঘুচে জীবের ভবব্যাধি, রাম কিসে অপরাধী, তােমার চরণে ॥ ৯৫।

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী খাম্বাজ-তাৱ চিমাকাওয়ালী।
গােবিন্দ গােপাল গােকুলবিহারী।
গােলােকভূষণ, গর্ভগতিহারী ।
গরুড়বাহন,
গজেন্দ্রমােণ,
গীর্বাণরক্ষণ, গােপীমনােহারী
গৰ্ব্বি-গৰ্বহর, গুণত্রয়ধর,
গায় রাম, কর গতি গিরিধারী। ৯৬ ॥
।
-
রাগিণী ভৈরবী--তাল একতালা।
তব মহিমা কে পারে বর্ণিতে
বিভু! তুমি নিরঞ্জন, নিত্য নিরাকার,
সাকারেতে কর লীলা ধৱণীতে।
পদ্মাসনরূপে করিছ সৃজন,
বিষ্ণুরূপে কর জগত পালন,
রুদ্ৰৰূপে লয় কর সমুদয়,
আগমে পুরাণে পাই 'হে শুনিতে ।
তুমি ধরাধর অতল-সাগর,
তুমি নিশি দিবা শশাঙ্ক ভাস্কর,
অবনী অনল, আকাশ অনিল,
থাক অধিষ্ঠিত সকল প্রাণীতে
তুমি জগৎপাতা ভবভয়া,
শান্তিনিকেতন মুক্তিপদদাতা,
তুমি সারাৎসর, তােমা বিনে আর,
কার সাধ্য গ্রামের পাপভার নিতে। ১৭

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী বেহাগ-তাল আড়া।
ওহে কেশব ভাস্কর।
দ্বিজ-চক্রচিন্তনীয় হরি সর্বগুণাকর।
কাশ্যপেয় কালান্তক, অনাদি ত্রিগুণাত্মক,
কমলানন্দদায়ক,
হংসশুচি পদ্মকর।
অনন্ত-অঙ্ক-বিহারী,
তমচক্র-খণ্ডকারী,
বৈনতেয়-পৃষ্ঠচারী, গিরিশােভাকর ;-
অখণ্ড মণ্ডলাকার, ব্যাপ্ত বিশ্ব-চরাচর,
করপ্রতাপে কাতর,
রজনীচরনিকর।
রােহিত মূর্ভিধারণ, পাপব্যাধিবিনাশন,
প্রভু ত্রিলােকলােচন,
মূৰ্তিত্রয়ধর ;-
সৃজন-পালন-লয়-কারণ, মঙ্গলালয়,
জগদীশ কৃপাময়,
ভুবনপ্রকাশকর।
বুধজনক-রঞ্জন, বিভু জগতজীবন,
সহ-করধারণ,
জীবমুকতিসরণি, রামচন্দ্রে সুরমণি,
ভবজলধিতরণি কর পার বিশ্বচর । ১৮।
তাপত্ৰয়হর ;-

রামচন্দ্র-গীতাবলী রাগিণী যােগিঞতাল তেওরা। জয় জগদীশ ঈশ্বর। কেশব হে শিব, বাসুদেব ভব, রমেশ উমেশ, হরি ব্যোমকেশ, যদুপতি পশুপতি গুণাকর। প্রভু হৃষীকেশ, বিভু প্রমথেশ, যােগিবরবেশ, নিকুঞ্জবিহারী, হে শ্মশানচারী, পীতাম্বরধারী, দেব দিগম্বর। কমলনয়ন, অনলনােচন, খগেশবাহন, হে বৃষভাসন, মৃত্যুভয়হারী, মৃত্যুজয়কারী, গগাবর্ধনধারী, ওহে গঙ্গাধর। চক্র সুদর্শন, ত্রিশূলধারণ, নবীন নীরব রজতবরণ, বিভূতি লেপন, বলী-দর্পহারী দক্ষগহর। কৌস্তুভরাজিত, ভুজঙ্গভূষণ, কিরীটমণ্ডিত, জটাবিভূষণ, মদনমােহন, অনঙ্গশাসন, রামচন্দ্রের দুঃখহর হরিহর ॥ ৯৯। অগৌর চন্দন

৬০
রামচন্দ্র-গীতাবলী
রাগিণী বিভাষ-তাল ঝাপতাল।
প্রণমামি হরিহর, পীতাম্বর দিগম্বর,
গােলােক-কৈলাসেশ্বর মুরলী-বিষাণধর।
হৃষীকেশ ব্যোমকেশ,
হে কেশব বামদেব,
যদুপতি পশুপতি, হে দামােদর ভব,
চক্রধর পিণাকধর, মুরহর পুরহর।
নবনীরদঅঙ্গ শশাঙ্ক-রজনিত,
বৈকুণ্ঠ নীলকণ্ঠ,
রমা-উমাবল্লভ,
কৈটভারি ত্রিপুরারি, ব্রজেশ্বর মহেশ্বর,
বাসুদেব মহাদেব,
জগদীশ ঈশ্বর,
ভবে তার রামচন্দ্রে কৃষ্ণচন্দ্রশেখর। ১০।
রাগিণী বেহাগ—তাল আড়।
জয় জয় শিবরাম।
শশাঙ্কবরণ, নবদুর্বাদলশ্যাম।
ওহে ভব হে রাঘব, গিরিজা-জানকীধব,
যক্ষ-সুগ্রীববান্ধব নয়নাভিরাম।
শ্মশান-কাননারী, ত্রিশূল-ধনুকধারী,
পশুপতি রঘুপতি সৰ্বগুণধাম।
হে অন্ধক রাবণারি, কাশী-কোশলবিহারী,
রামচন্দ্রে কৃপা করি পূরাও মনস্কাম।

রামচন্দ্র-গীতাবলী
৬১
রাগিণী ভীমপলশ্র—তাল তেওরা।
সংসার-ভয়সংহর।
শ্যামা শ্যামসুন্দর,
বিশ্বরূপিণী জয়তি বিশ্বস্তর।
শিবানী পার্বতী দৈত্যপ্রাণহরে,
কেশব কংসারে জয় দেব হরে,
দিগম্বরী শর্বাণী পীতাম্বর।
বিশ্বপ্রসবিনী সৃজনকারণ,
জীবপালিনী জীব-রক্ষণ,
শূলিনী চক্ৰধর ;
হে নন্দনন্দিনী হে নন্দনন্দন,
নরকবারিণী নরকবারণ,
কালী যােগেশ্বরী কৃষ্ণ যােগেশ্বর।
শঙ্করমােহিনী শঙ্করমােহন,
মৃগেশবাহিনী খগেশবাহন,
তারিণী তাপহর;
নৃমুণ্ডমালিনী কৌস্তুভভূষণ,
ত্রিনয়নী পদ্মপলাশলােচন,
দুর্গে দীনবন্ধু রামে কৃপা কর। ১০২।

৬২
রামচন্দ্র-গীতাবলী
রাগিণী থাম্বাজ-তাল কাওয়ালী।
নমামি বিশে, হে দেব দিনেশ,
হে গােপেশ, প্রমথেশ, ক্ষেমঙ্করী।
জয় গণপতি, বিভু ছায়াপতি,
রমাপতি, উমাপতি, সুরেশ্বরী।
গলে ভুজঙ্গম, হার রত্নময়,
বনমালা, অস্থি, নৃমুগুনিচয়,
দ্বীপী চৰ্ম্মাম্বর, রক্তাম্বরধর,
পীতাম্বর, দিগম্বর, দিগম্বরী।
দেব বিনায়ক মূষিকবাহন,
প্রভাকর সপ্ত তুরঙ্গস্যন্দন,
হরি খগাসন, হর বৃষাঞ্চন,
করালবদনী স্থিতি শবপরি ।
পাশাঙ্কুশে কর করে সুশােভন,
বিকচকমল হস্তে বিধারণ,
চক্র সুদর্শন, ত্রিশূলভূষণ,
কৃপাণধারিণী, মূর্তি ভয়ঙ্করী।
এক ব্ৰহ্ম পঞ্চ মূর্তি, অনুক্ষণ,
পঞ্চমতে ভজে উপাসকগণ,
রাম অভাজন, চরণে শরণ,
তার ভবে দাসে করুণা বিতরি। ১০৩

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
৬৩
রামপ্রসাদী সুর-তাল একতালা।
কর হরি যা উচিত।
এখন, উপায়বিহীন হয়ে আমি হলেম তব পদাশ্রিত
আমার এই দেহরাজ্য হইল তােমায় অর্পিত,
তুমি, রাজ্যেশ্বর হয়ে নাথ আশু কর সুশাসিত।
অনুগত নহে তারা এ রাজ্যে যারা বর্ধিত,
আমার, অবাধ্য হইয়ে সদা করে কাৰ্য বিপরীত।
মায়া-প্রলােভন দিয়ে ক’চ্ছে কেবল বিমােহিত,
নিত্য ধৰ্ম্মধন করিছে হরণ না ভাবিয়ে হিতাহিত।
আপন কাৰ্যে রত সদা, আমার কাৰ্যেতে বিরত,
তাদের শাসন করিতে গেলে তিলেক নহে শঙ্কিত।
নিরখিয়ে এ সব কাৰ্য শান্তি নাহি ধরে চিত,
আছে, সেই হেতু রামচন্দ্র সতত মনে চিন্তিত। ১০৪।
রামপ্রসাদী সুর-তাল একতালা।
এখন হরি উপায় বল ।
এই, সংসারের কাৰ্য দেখে হয়েছি অতি চঞ্চল।
আপন আপন ভাবি যাদের তারা প্রকাশিছে ছল,
আমায় সুধবাক্যে সুধায় সুধু অন্তরে পূর্ণ গরল।
দেখা’তে নিজ প্রভুত্ব ফিরিছে করি কৌশল,
সদা, ধর্মের ভাণ করে মুখে অধৰ্ম্মস্রোত প্রবল।
দিনে দিনে দয়াময় ঘটিছে সব অকৌশল,
তাহা, দেখে আমার হৃদয়মাঝে জ্বলিতেছে দুঃখানল।
খুঁজে খুঁজে নাহি পায় কোনখানে শান্তিজল,
হ’ল, নিরুপায় রামচন্দ্র হারাইয়ে বুদ্ধিবল ॥ ১০৫

৬৪
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রামপ্রসাদী সুর-তাল একতালা ।
আর হরি রাখিতে নারি।
তােমার প্রদত্ত এই মানবদেহ-জমিদারী।
ক্ষমাতে ক্ষমতা যত গিয়াছে সব আমারি,
বশীভূত নহে এখন কামাদি ছয় কর্মচারী।
কুপথে সতত 'রত হয়ে সবে অহঙ্কারী,
ফেলিছে ঘাের বিপদে করে আপন হুকুমজারি ।
কাম করিছে মন্ত্রিত্ব ক্রোধ লেখক সহায় তারি,
লােভ তাতে কোষাধ্যক্ষ ধৰ্ম্মধন-অপহারী
মােহবক্সীর মমতাতে প্রকৃতি সব স্বেচ্ছাচারী,
মদ হয়েছেজমানবীশ মাৎসর্যের ভার তশীলদারী
দিনে দিনে দীনবন্ধু পাপঋণ হ’তেছে ভারী,
নিরুপায় রামচন্দ্র উপায় যা কর মুরারি। ১৬।
রামপ্রসাদী সুর-তাল একতালা।
এই কি তােমার মনােগত।
বারে বারে ভবে এনে দিতেছ দুখ নানামত।
দিনে দিনে দীনবন্ধু দিন যে হ’তেছে গত,
কোন্ দিন না জানি হবে রবিহ্রত সমাগত।
অবিরত যে জন তােমার হয়ে থাকে অনুগত,
দয়াময় হয়ে তুমি তারেই কেন নিদয় এত।
পতিতপাবন নামটী জেনে তােমাতে হয়েছি রত,
পতিতে না তার যদি কলঙ্ক রবে জগত।
কি দোষে রাম দোষী এত না জানি পদে নিয়ত,
আজম্মটা গেল দুঃখে না হ’ল দুখ, অপগত ১০৭।

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রামপ্রসাদী সুর-তাল একতালা।
শেষের সেদিন কর স্মরণ।
ভবে অনিত্য বিষয়ে মজে ভুল না যেন ওরে মন ।
জান না কি কাল-শয্যায় করিতে হবে রে শয়ন,
তখন নিজ পাপে সন্তাপিত হ’ওনা অন্তরে যেমন।
পাপকাৰ্যে মন দিয়েছ যাদেরে করিতে পােষণ,
তারা সময় কালে তােমার সঙ্গে কভু না করিবে গমন।
হারাইয়ে তােমায় কেবল একবার মাত্র ক'রবে রােদন।
পরে কেড়ে ল’বে অঙ্গে তােমার থাকিবে যাহা আভরণ।
রামচন্দ্র বলে যদি বিপদে হবে রে মােচন ;
সদা মনানন্দে ভাব হৃদে পূর্ণব্রহ্ম পতিতপাবন ॥ ১০৮।
রামপ্রসাদী সুর-তাল একতালা।
তব লীলা অসম্ভব।
অন্য কে বুঝিবে ভবে বুঝিতে নারেন ভব।
সংসারের জীব ল’য়ে কি খেলা খেল মাধব ।
কভু করিছ প্রলয় কভু করিছ প্রসব ।
কাহারে দিতেছ রাজ্য অতুল সম্পত্তি সব,
কা’রে ভিক্ষাজীবী কর ঘুচায়ে তার বিভব ।
কা’রে সদানন্দে রাখ নিত্য গৃহে মহােস,
কা’র হেন মন্দভাগ্য সদা হাহাকার রব।
কারে দেহ অট্টালিকা দুগ্ধফেনশয্যা নব,
কা’র ভাগ্যে গাছের তলা শয্যা তার তৃণপল্লব।
রামচন্দ্র অন্য কিছু চায় না নিকটে তব ?
যেন ঐ চরণে মতি সতত থাকে কেশব ১০১

রামচন্দ্র-গীতাবলী
রামপ্রসাদী সুর-তাল একতালা।
ঘাের কলি সমাগত।
ভবে পাপে মজি হচ্ছে সবে অকালেতে উপরত।
আত্মশ্লাঘা বাড়াইতে সকলে ব্যস্ত সতত।
কেবল পরনিন্দাপরদ্বেষে পরিপূর্ণ এ জগত।
পরদ্ৰব্য করছে চুরি পরস্ত্রীগমনে রত।
কেহ দেবদ্বিজে নিরখিয়ে করে না মস্তক নত।
পুত্র হয়ে পিতামাতায় করিছে কটুক্তি কত।
আপন রমণীরে ইষ্ট মানি হয়ে থাকে অনুগত।
শিষ্য হয়ে ক’চ্ছে গুরুর অপমান কত শত।
সদা প্রভুদ্রোহী কাৰ্য করতে ভৃত্যেরা হচ্ছে উদ্যত।
ক্রমে ক্রমে লুপ্ত হ'ল দান ধ্যান যজ্ঞ ব্রত।
সবাই পরধৰ্ম্ম-অনুরাগী স্বধৰ্ম্মে হয়ে বিরত।
খাদ্যাখা জাতির বিচার নাহিক শাস্ত্রসঙ্গত।
কতই অর্থের লােভে যােগী সেজে বেড়াইছে ইতস্ততঃ ।
মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে লােকে তিলান্ধ নয় অসম্মত ।
স্বীয় পতি ছাড়ি পরপতি সেবিছে নারী নিয়ত।
পৃথ্বী হ’ল শস্যশূন্যা বেদহীন দ্বিজ যত।
সভায় শূদ্র করে বেদের বিচার শ্রবণে বিজ নিরত।
স্বল্পক্ষীৱা হ'ল ধেনু ফলেনা গাছ মনােমত।
ধরায় অন্নাভাবে বর্ষে বর্ষে ম’চ্ছে প্রজা শত শত।
রামচন্দ্র বলে যদি কলির দর্প কবে হত।
সদা হরি হরি বল মুখে হও হরির শরণাগত ॥ ১১• ?

রামচন্দ্র-গীতালী।
৬৭
রাসের গীত।
রাগিণী বেহাগ-তাল একালা।
সুনীল-গগন, নীরদ-বিহীন, বনরাজি সুশীতল।
মৃদুল মৃদুল, বহিছে অনিল ল’য়ে নানা পরিমল।
আকাশমণ্ডলে, পূর্ণ-ইন্দু খেলে,
ফুটে নানাজাতি ফুল জলে স্থলে,
পশু-পক্ষিগণ, হয়েছে নিঃস্বন,
বৃক্ষে সাজে নবদল।
হেরি বংশীধারী, লইয়ে বাঁশরী,
কদম্ব নিকটে গিয়ে ত্বরা করি,
রাধা-গুণগানে,
সুমধুর তানে,
দশদিক্‌ বিমােহিল ।
নবীনা কিশােরী, শুনিয়ে বাঁশরী,
ধাইয়া আইল সহ সহচরী,
যমুনার কূলে,
কদম্বের মূলে,
শ্যামবামে দাড়াইল ।
আহা মরি মরি,
কিরূপ মাধুরী,
শ্যামবামে সাজে রাধা রাসেশ্বরী,
দোহার চরণে,
রুণু রুণু স্বনে,
বাজে নূপুর মঞ্জুল।
নিকুঞ্জ কানন, হ’ল সুশােভন,
যুগল রূপের না হয় বর্ণন,
রামচন্দ্র কয়, শমনে কি ভয়,
আজি জনম সফল। ১১১।

}
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী ইমনবিভাষ—তাল একতালা।
ব্রহ্মরজনী জানি আগত শ্যাম বংশীধারী।
শারদ প্রবাল-কুসুম-শােভি-বৃন্দাবন নেহারি ।
যােগমায়াশ্রয় করিয়ে শ্রীহরি, ডাকেন বংশীতে গােপী নাম ধরি,
গেল ধ্বনি ব্ৰহ্মকটা ভেদ করি, দশদিকে সুসঞ্চারি।
শুনিয়ে বাঁশরী শুষ্কশাখিদলে, সুশােভিত ফল ফুল নবদলে,
অচৈতন্য আক্রমিল জীব কুলে, বিনে সব ব্রজনারী।
কালিন্দীর স্রোত বহিল উজান, ভাঙ্গিল যােগীর যােগমগ্নধ্যান,
স্থগিত হইল ক্রমে জগৎ প্রাণ, মূচ্ছাগত ত্রিপুরারি।
ব্ৰজ-সীমন্তিনী শুনিয়ে সে স্বর, সুর শরানলে সবে জরজর,
গৃহকাৰ্যে মন করিয়ে অন্তর, ধায় যথা শ্ৰীমুরারি।
বাসরসে সবে হইয়ে মগন, নীরদাঙ্গে অঙ্গ করি পরশন,
স্মর শরানল করে নিবারণ, পেয়ে শ্যাম প্রেমবারি।
রামচন্দ্র বলে পতিতপাবন, ভবের আশা কবে করিবে পূরণ,
যুগলরূপে এসে দিয়ে দরশন, অন্তরেতে কালবারি । ১১২।
রাগিণী বেহাগ—তাল আড়া।
হরি হর্ষিত-অন্তরে।
শরতে নিৰ্ম্মল হেরি পূর্ণ শশধরে।
মল্লিকাদি প্রস্ফুটিত,
চারিদিকে সুশােভিত,
তাহে সুগন্ধ মারুত গন্ধে মনােহরে।
অমল হেরি আকাশ, পূরা’তে গােপীর আশ.
সুসজ্জিত পীতবাস, নিকুঞ্জ মাঝারে ;-
যােগমায়াশ্রয় করি, অধরে ধরি বাঁশরী,
ব্রজবালা নাম ধরি. ডাকেন সুস্বরে।

r
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
শুনিয়ে মুরলীস্বন,
স্তব্ধ পশু পক্ষিগণ,
স্থগিত হ’ল পবন, নাহিক সঞ্চরে ;-
যমুনা বহে উজান,
যােগীর ভাঙ্গিল ধ্যান,
বিরিঞ্চি ভব অজ্ঞান, পাষাণ নিঝরে।
অনন্ত চিত্তে অস্থির,
ঘূর্ণিত সহস্ৰশির,
ব্ৰহ্মাণ্ডকটাহে স্বর, গিয়া ভেদ করে ;-
বিশেষে বেণুর ধ্বনি, ব্রজনারীগণ শুনি,
চঞ্চল হ’ল পরাণি, ব্যস্ত স্মরশরে ।
রিল শ্রীকৃষ্ণ-মন, করিল প্রাণ আকর্ষণ,
তুচ্ছ হ’ল ধনজন, মনেতে না ধরে ;
ত্যজি ভয় লােকলাজ, আর স্ব স্ব গৃহকাজ,
তিলেক না করে ব্যাজ, চলিল সত্বরে।
কাননে করি গমন,
হেরি’ শ্যাম নবঘন,
সফল করে জীবন, ভাসে প্রেম-নীরে
মিলি সবে শ্যাম সঙ্গে, ক্রীড়া করে নানা রঙ্গে,
কুঙ্কম চন্দন অঙ্গে বিলেপন করে।
সবে আনন্দ আবেশে, নৃত্য করে চারিপাশে,
কেহ গায় মহােল্লাসে, বর্ণিতে কে পারে
রামচন্দ্র সদা ভাবে;
রাসবিহারী এ ভাবে,
কবে এসে উদয় হবে, হৃদয়-মন্দিরে। ১১৩।
•
-

৭ . রামচন্দ্রগীতাবলী। রাগিণী যােগিাভৈৰােতাল কাওয়ালী। আজি ব্ৰহ্মনিশি আগত নেহারি । নব কুঞ্জমাঝে উদয় মুরারি। শরতেতে পূর্ণশশী, উদিত গগনে আসি, নিরমল জনমনােহারী, মল্লিকা কুমুদনীল, স্থলে জলে বিকশিল, পরিমল ছছটে দিক চারি। রাসরসে বিহরিতে, বাসনা করিয়ে চিতে, যােগমায়াশ্রয় করি হরি, মনে হ’য়ে কুতূহলী,ল’য়ে মােহন মুরলী, অধরে ধরিয়ে যত্ন করি, ধরি ব্রজাঙ্গনা নাম, ডাকিছেন অবিরাম, সুমধুরস্বরে বংশীধারী। শুনিয়েশিরীধ্বনি, বিমােহিত পদ্মযােনি,অজ্ঞানকৈলাসে ত্রিপুরারি; অবশ সবার অঙ্গ, হ’ল যােগির যােগভঙ্গ, ঊর্ধ্বগামী যমুনার বারি। পাষাণ দ্রব হইল, শুষ্ক তরু মঞ্জরিল, নিস্তব্ধ সকল বনচারী। ব্ৰজে ব্রজাঙ্গনাকুল, হৃদয়ে অতি আকুল, শুনিয়ে সে মােহন বাঁশরী, মনে রঙ্গ উপজিল, প্রেমসিন্ধু উথলিল, শ্রীকান্ত লইল চিত্ত হরি। ধৈরজ ধরিতে নারে, জরজর স্মরশরে, অন্তরে জাগিল গিরিধারী। লজ্জাভয়ে জলাঞ্জলি দিয়ে স্বস্ব কুলে কালি, ধায় গৃহকর্ম পরিহরি, যথায় রাধিকাকান্ত, মধুর মুরতি শান্ত, তথায় প্রবেশে ত্বরা করি। শ্যামরূপ দরশনে, অধর-অমৃত পানে, সুশীতল জীবন সবারি । করিল জন্ম সফল, নিবারিয়ে কামানল, পরশনে কামমুগ্ধকারী। মাতি সবে রাসরঙ্গে,ক্রীড়া করে কৃষ্ণ সঙ্গে,চারিদিকে ঘেরি সারিসারি কেহ সুনেতে গায়, কেহ মৃদঙ্গ বাজায়, উম্মত্তা সকল ব্রজনারী। বাজিছে দুন্দুভি ঘন, কৃষ্ণণ অনুক্ষণ, গাইতেছে কিন্নর কিন্নরী। মিলি’ যত দেবগণ, করে কুসুম বর্ষণ, আনন্দে শ্রীকৃষ্ণ শির’পরি রামচন্দ্র সদা ভাবে,হৃদয় আসনে কবে,বিরাজিবে হে রাসবিহারী।১১৪

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
৭
রাগিণী ললিত-তাল আড়া।
বিহরিছে রাসস্থলে সুখে মদনমােহন।
নব নটবর রূপ কামিনী-মনােরঞ্জন।
একে নির্মল আকাশ, তাহে রাকা সুপ্রকাশ,
হরষিত পীতবাস, হরি ব্রজাঙ্গনামন।
কদম্ব তরু-তলায়,
রত্নময় বেদিকায়,
আ মরি কি শােভা পায় নব নীরদবরণ ;-
মধ্যেতে রাখি’ কেশবে, দাড়ায় গােপিকা সবে,
উন্মা রাস-উৎসবে, কে করে তাহা বর্ণন।
শাসিতে দুষ্ট অনঙ্গে,
এক এক গােপীর সঙ্গে,
প্ৰবৰ্ত্ত কৌতুক রঙ্গে, করিয়ে কণ্ঠ বেষ্টন ;
হাস্য কুটী বিলাস, ভুজকম্প পদস্যাস,
বিশ্লিষ্ট সবার বাস, নাহি ধৈৰ্য্যাবলম্বন।
অবিরত গণ্ডস্থল,
আর বদনমণ্ডল,
বহিতেছে শ্রমজল, শ্লথ কবরীবন্ধন
কৃষ্ণ অঙ্গ পরশনে,
ভাসে আনন্দ জীবনে,
নানা রাগ আলাপনে, গায় গীত অনুক্ষণ।
কেহ কেহ নৃত্য করি পড়ে ঢলি কৃষ্ণপরি
করেন প্রশংসা হরি, সঙ্গীত করি শ্রবণ ;-
রাম কয় বিনয় করি, কবে এই বেশ ধরি,
উদিবে হৃদয়’পরি করি কৃপা বিতরণ ॥১১৫।
*

৭২ রামচন্দ্র-গীতাবলী রাগিণী বাহারবসন্ত—তাল তেওরা। কে শ্রীরাস মণ্ডলে, মন কুতুহলে, বিহরে জলদ শ্যাম। নব নটবর, কিবা মনােহর, ত্রিভঙ্গভঙ্গিম সুচারু ঠাম। মিলি সখী সবে, মত্ত রাসােৎসবে, পূরাইতে স্ব স্ব মনের কাম;- ঘেরি চারি পাশে, নাচে প্রেমােল্লাসে, বহে অঙ্গে শ্রমজনিত ঘাম। কেহ বা বাজায়, কোন সখী গায়, মিলাইয়ে সপ্তস্বরের গ্রাম ; বলয় নূপুর, বাজিছে মধুর, এলায়ে পড়েছে চিকুরদাম। নিরখি অমরে, পুষ্পবৃষ্টি করে, দুন্দুভি-ধ্বনির নাহি বিরাম ;- কিন্নর কিন্নরী, থাকি’ নভ’পরি, গাইছে সুস্বরে শ্রীহরি নাম। এই বেশ ধরি, এস হৃদি’পরি, দয়াময় যেন হ'য়ােনা বাম , দেখ হে নেহারি, গােকুলবিহারী, শূন্য আছে রামের হৃদয়ধাম ॥ ১১৬।

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
দোলের গীত
।
আবির চুয়া-চন্দন,
রাগিণী ঝিঝিটী--তাল কাওয়ালী ।
কি আনন্দ ব্রজধাম
খেলিছে ফ-উৎসবে নবঘনশ্যাম।
মিলি যত সখীগণ,
শ্যামাঙ্গে করি লেপন, পূরায় মনস্কাম।
কোন কোন গােপনারী, করে ল’য়ে পিচকারি,
অঙ্গে দেয় রঙ্গরি, না করি বিরাম ।
সাজাইয়ে পীতবাসে, প্রেমানন্দে সবে হাসে,
সুখ-সলিলেতে ভাসে, নিরখিয়ে রাম। ১১৭ ৪
রাগিণী ভৈরবী-তাল যৎ।
আজি ব্রজে হেলী খেলিছে গিরিধারী ।
ত্যজিয়ে বাঁশরী ধরি করে পিচকারি ।
কে তারে নিবারে,
দিতেছে সবারে,
মনানন্দে অঙ্গে রঙ্গবারি।
ঢাকে ব্রজভূমে,
আবির-কুমে,
সুখী রাম নয়নে নেহারি। ১১৮।
রাগিণী বেহাগ-তাল যৎ।
শুনি ব্রজে হােলা খেলিছে শ্যামরায়।
ধায় সখীগণ ল'য়ে শ্ৰীমতী রাধায়।
মাতি সবে রসরঙ্গে,
নবীন ধাঁকা ত্রিভঙ্গে, যতনে সাজায়।
কেহ নাচে কেহ গায়, কেহ মৃদঙ্গ বাজায়,
হেরি রামচন্দ্র রায়, পুলকিত কায়। ১১৯
আবির কুঙ্কুম রঙ্গে,

৭৪
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী বাহার-বসন্ত-তাল তেওরা।
খেলিছে হােলী মদনমােহন।
সঙ্গে শ্রীরাধিকা আর সখীগণ ॥
বাজিছে মৃদঙ্গ মন্দিরা ঝারী,
সপ্তম্বর বীণা মােচঙ্গ বাঁশরী,
কটতাল ড রব খঞ্জরী,
ধ্বনিতে পূর্ণ গগন।
আবির কুঙ্কুম আতর কস্তুরী,
দেয় অনুক্ষণ সবার উপরি,
যে পায় তারে আনে বলে ধরি,
শুনে কার বারণ।
কার হাতে শােভে রঙ্গপূর্ণ ঝারী,
কার হাতে সাজে স্বর্ণ পিচকারি,
তিজায় বসন দিয়ে রঙ্গরি,
হেরি রাম সুখী মন। ১২০ |
রাগিণী খাম্বাজ-তাল ঠুংরী।
হােলী খেলিব হে হরি তব সনে।
আবির কুঙ্কুম মাখাব যতনে ॥
তব অঙ্গ কাল, সাজিবে হে তাল,
যেন করে আলাে, সৌদামিনী বনে।
ওহে কালশী, বাজাইয়ে বশী,
সতত উদাসী,
কর গােপগণে ;-
বাঁশী কেড়ে নিব, পিচকারি দিব,
বাসনা পূরা’ব, রামচ ভণে। ১২১

।
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
৭৫
রাগিণী কলিজড়া—তাল আড়খেষ্টা।
রঙ্গবারি হে ত্রিভঙ্গ দিওনা বসনে।
পায় ধরি ক্ষমা কর এ অধীনাগণে।
শুন বলি ওহে কালা, আমরা হই কুলবালা,
ঘটিবে বিষম জ্বালা, ভবন-গমনে।
সবে কলঙ্কিনী বলে, এই গােকুলমগুলে,
মুখ দেখাব কি বলে, স্বজন-সদনে।
রাম কয় করি বিনয়, ত্যজ কলঙ্কের ভয়,
করিবেন দয়াময়, মােচন স্বগুণে। ১২২
রাগিণী বানােঞতাল ঠুংরী।
ছি ছি একি রসরাজ।
অঙ্গে দিয়ে রঙ্গরি করিলে কি কাজ।
গৃহে শ্বশাননদিনী, রয়েছে প্রতিবাদিনী,
সদা বলে কলঙ্কিনী, হানে বাক্য।
তুমি হে লম্পট অতি, কর অবলার দুর্গতি,
রামচন্দ্র করে নতি, ছাড় হে এ কাজ ।১২৩।
রাগিণী খাম্বাজ-তাল ঢিমা তেতালা
দিওনা কালা অঙ্গেতে রঙ্গ আমার ।
কর বসন পরিহার ।
তব রূপ দরশনে,
আসিয়ে নিকুঞ্জবনে,
ভবন-গমন হ’ল ভার।
হেরিলে দাগ বসনে
গালি দিবে গুরুজনে,
রাম কহে ভাবনা কি তার। ১২৪।.

৭৬
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী বেহাগ-তাল আড়া।
কেহ যেওন জলে।
জেগেছে লম্পট কালা কদম্ব-তলে।
না শুনে মানা ত্রিভঙ্গ,
দিয়ে নানাবিধ রঙ্গ,
সাজায় সবার অঙ্গ, ধরিয়ে বলে।
শ্যাম লাগি গােপীকুলে, কালি পড়িয়াছে ফুলে,
সতত সবে গােকুলে, অসতী বলে।
রামচন্দ্র কয় বাণী, কেন চিন্তিত পরাণি,
মতি রাখ চিন্তামণিপদকমলে ॥১২৫]
রাগিণী খাম্বাজ-তাল আড়া।
ভয় কি বাসনা মনে।
ফরিছ লাঞ্ছনা এত,
ধরি ব্রজাঙ্গনাগণে।
অঙ্গ দিয়ে বঙ্গবারি, ভিজালে বাস সবারি,
আমরা হে কুলনারী, কেমনে যাব ভবনে।
বলিয়ে নন্দযশােদায়, ব্রজ হতে হ’ব বিদায়,
থাকুক একা ল’য়ে তােমায়, রাম কয় এ বৃন্দাবনে ॥১২৬৷৷
রাগিণী পিলুখাম্বাজ-তাল খেমটা ।
অঙ্গে রঙ্গ দিয়ে হে রসরায়।
কেন ফেল গুরু-গঞ্জনায়।
শাশুড়ী ননদী বাসে, একে আমায় মন্দ বাসে,
এ রঙ্গ দেখিলে বাসে, দ্বিগুণ জ্বলিবে তায়।
তুমি জ্বালাও বাঁশীর গানে, গৃহে জ্বলি বাক্যবাণে,
রাম কয় অবল প্রাণে, কত সবে নীলকায় ॥১২৭

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
৭৭
ঝুলনের
গীত।
রাগিণী সুরট-মল্লার—তাল আড়থেষ্টা।
।
কুঞ্জকানমে,
আনন্দিত মনে,
ঝুলিছেন ঝুলনে, কিশাের কিশােরী।
তড়িত-নিন্দিতা, বৃষভানু-সুতা,
কিবা সুশােভিতা, আহা মরি মরি।
মৃদুল মৃদুল বহিছে পবন, করিছে নিনাদ বিহঙ্গমগণ,
সুনীল অম্বরে,
জলদ আবরে,
বিন্দু বিন্দু তাহে, বরিষয়ে বারি।
মালতী মল্লিকা বিবিধ সুমন, গন্ধে আমােদিত করে কুঞ্জবন,
কালিন্দীর জল,
করে কল কল,
শুনি শ্যামের বাঁশরী ;-
শুনিয়ে শ্রবণে সুমধুর স্বর, মােহিত বিহঙ্গ-কুরঙ্গ-নিকর,
শাখি-শাখা’পরে, শিখী নৃত্য করে,
গানে নিমগন ভ্রমর-ভ্রমরী ।
মৃদঙ্গাদি যন্ত্র করেতে লইয়া, শ্যাম-প্রেমানন্দে উম্মত্ত হইয়া,
নিকুঞ্জে নেহারি, নিকুঞ্জ-বিহারী,
নৃত্য করে ব্রজনারী :-
রামচন্দ্র বলে মদনমােহন, ভবের আশা আজি হইল পূরণ,
এইরূপে যেন, পাই দরশন,
সতত অন্তরে, ওহে বংশীধারী ॥১২৮

E
৭৮
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী সুরট মল্লার-তাল আড়পেটা।
ঝুলে কুঞ্জকাননে হরি।
পতিতপাবন বংশীধারী,
কিবা নব জলধর, রূপ মনােহর,
কোটি কাম-মনােহারী।
গলে বিলম্বিত মালতীর হার, দলে দলে অলি করিছে বিহার,
চরণ-নখরে, সুধাংশু বিহরে,
কুমুদিনী পরিহরি
বামে বিরাজিতা রাধাবিনােদিনী, কনকবরণী নরেশ-নন্দিনী,
নীরদে যেমনি, সুস্থিরা দামিনী,
কিবা শােভা মরি মরি ;
চারিদিকে সব গােপের যুবতী, তারকায় ঘেরা শশাঙ্ক যেমতি,
-
কেহ নাচে গায়,
কেহ বা বাজায়,
-~-
সৌদামিনী খেলে,
নানাবিধ যন্ত্র ধরি।
বিহঙ্গম আদি করে কলরব, প্রসূন-সৌরভে পূর্ণ দিক সব,
জলদ পটলে,
বিন্দু বিন্দু পড়ে বারি
পুলকে পূর্ণিত হয়ে শিখিগণ, শ্যাম প্রেমে মাতি করিছে নৰ্ত্তন,
রামচন্দ্রের হ'ল
আজ যুগল মূরতি হেরি ॥১২৯
জীবন সফল,

রামচন্দ্র-গীতাবলী
বিবিধ রতনে,
- এক
রাগিণী সুরটমল্লার-তাল আড়খেটা।
নবকু মাঝে, শ্যাম ঘন রাজে,
বামে প্যারী সাজে, যেন সৌদামিনী
নির্মিত বিমানে,
ঝুলায় ঝুলনে,
যতেক সঙ্গিনী ।
চরণ কমল, অতি সুকোমল, মধু আশে ফিরে সদা অলিকুল,
মােহন মুরতি জিনি রতিপতি, রূপ হেরি ব্রজরমণী আকুল,
কণ্ঠ সুশােভিত বন-ফুল-হারে, ইন্দ্রধনু শিখিপুচ্ছ চূড়াশিরে,
নখরেতে শােভা করে নিশাকরে, রামচন্দ্র হেরে জুড়াল পরাণি
রাগিণী সুরট মল্লার তাল একতালা।
শ্যাম সুন্দর,
নব জলধর,
কুঞ্জে ঝুলিছেন নিকুঞ্জ-বিহারী।
বামে সৌদামিনী, রাধা বিনােদিনী,
গােপের রমণী, ঘেরা দিক্ চারি।
কস্তুরী তিলকে সুচর্চিত ভাল, গলে বিলম্বিত মালতীর মাল,
চরণ-সরােজে মধুকরজাল, মধু আশে পাশে ভ্রমে সারিসারি ।
কীট সুশােভিত পীতাম্বরে, ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম শিখিপুচ্ছ শিরে,
মনচোর ত্রিজগত মন হরে, বাজায়ে মােহন বাঁশরী ;-
যুগলরূপে আলাে করে ত্রিভুবন, কি শােভা হয়েছে নিকুঞ্জকানন,
মন্দ মন্দ প্রবাহিত সমীরণ, বিন্দু বিন্দু বর্ষে বরিষার বারি।
ঘন ঘন রব করে কাদম্বিনী, খেলিছে কৌতুকে কিবা সৌদামিনী,
শুকপিক আদি করে কলধ্বনি, নাচে ময়ুর ময়ুরী
রামচন্দ্রের শ্যামরূপ দরশনে, ভবের আশা পূর্ণ হ’ল এতদিনে,
কৃপা করি এখন হৃদি পদ্মাসনে, বিরাজ সতত ওহে বংশীধারী।১৩১।

L
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
।
রাগিণী সুরট মল্লার-তাল একতালা।
ঝুলিছেন হরি, নিকুঞ্জ-বিহারী,
রঙ্গে কুসুম-কুঞ্জ-কাননে।
শ্যাম জলধর,
রূপ মনােহর,
রাধিকা চপলা শােভে তঁার সনে।
হরণ করিয়ে শ্রীরাধার মন, পরম আনন্দে শ্রীরাধারমণ,
সঘনে বাঁশরী করেন বাদন, মুগ্ধ তাহে বৃন্দারণ্যবাসিগণে।
না জাতি বনকুসুমের হার, কণ্ঠে বিলম্বিত করিছে বাহার,
শিরে শিখিপুচ্ছ হিলে অনিবার, মন্দ মন্দ সমীরণে
চরণকমলে কনক-নূপুর, বাজিছে সুস্বরে কিবা সুমধুর,
আনন্দে নৰ্ত্তন করিছে ময়ূর, শ্যাম-নবঘন-রূপ দরশনে।
কুসুমে কুসুমে ষটপদ-ঝঙ্কারে, কুহুরবে পিকগণ নাদ করে,
মৃদঙ্গ রবাব বীণা সপ্তস্বরে, গায় মিলি সখীগণে ;
রামচন্দ্র হেরি যুগল মাধুরী, বরিষে নয়নে সদা হর্ষবারি,
এইমাত্র হৃদে বাসনা মুরারি ! থাকে যেন মতি তব চরণে
রাগিণী সুরট মল্লর--তাল ঝাপতাল।
বুলিছেন নিকুঞ্জবনে শ্যাম নব নটবর।
রতন বিমান’পরি হয়ে প্রফুল্ল অন্তর।
বামে জগতবন্দিনী, বৃষভানুর নন্দিনী,
যেন গগনে দামিনী,ভূষিত নব-জলধর।
চারিদিকে সখীগণ, রয়েছে করি বেষ্টন,
পূর্ণ শশাঙ্কে যেমন, ঘেরা তারকা-নিকর ;-
মানসে করি দরশন, সফল রামের জীবন,
এই বেশে নীলবরণ, বিরাজ হৃদে নিরন্তর।১৩৩%

রামচন্দ্র-গীতাবলী
৮১
রাগিণী সুরটমল্লার—তাল আড়খেষ্টা ।
শ্যাম ঝুলিছেন কুঞ্জবনে ।
বামে কমলিনী, কনক-বরণী,
বেষ্টিত গােপিকাগণে।
শুক পিক আদি বিহঙ্গ সকল, শ্যাম-প্রেমানন্দে হইয়ে বিহ্বল,
সঙ্গীতে পূরিত করে বনস্থল, শাখিশাখে একতানে।
কদম্ব কেতকী আদিনান ফুল, গন্ধে বনরাজি করিছে আকুল,
মনসুখে নৃত্য করে শিখিকুল, নবঘন-দরশনে ;-
বনফুলহার গলে শােভা করে, বামেহেলা চূড়া শোভা পায় শিরে,
রামচন্দ্রের মন-মধুপ সঞ্চরে, পদাথুজ-মধুপানে॥১৪।
রাগিণী সুরটমল্লার—তাল আড়া।
সফল হ’ল জনম যুগলরূপ-দরশনে।
কিশোের কিশােরী সহ ঝুলিছেন কুঞ্জবনে।
চারিদিকে সারি সারি,
বেষ্টিত গােপের নারী,
নানাবিধ যন্ত্র ধরি, সবে রত নৃত্য-গানে।
শ্যাম-বামে বিনােদিনী, নব মেঘে সৌদামিনী,
যেন নীলকান্তমণি, জড়িত সুবর্ণে;
কালিন্দী-সলিল মাঝে,
যেন কমলিনী সাজে,
সুশােভিত রসরাজে, রসময়ীর মিলনে।
রাধা-শ্যামের রূপ চন্দ্র,
অকলঙ্ক কোটি চন্দ্র,
হেরি পূর্ণিমার চন্দ্র, মলিন গগনে ;-
নিবেদয়ে রামচন্দ্র,
শুন হে গােকুলচন্দ্র,
সতত হ'য়ে আনন্দ, বিরাজ হৃৎপদ্মাসনে ॥১৩৫

রামচন্দ্র-গীতাবলী। রাগিণী সুরটমল্লার--তাণ আড়া। চল গো চল সজনি ! চল যাই নিকুঞ্জবনে। সঙ্গে ল'য়ে কিশােরীরে সাজাইয়ে সযতনে। কসাইয়ে শ্যামসনে, শ্রীরাধারে একাসনে ঝুলা’ব আজি ঝুলনে, আহ্লাদিত হয়ে মনে। মল্লিকা যুথিকা জাতী, তুলি ফুল নানা জাতি মনােহর হার গাঁথি, সাজা’ দুজনে ;-- সফল কৰিব আঁখি, মনের বাসনা সখি ! পুরাইব সজনে। কাননেতে কালশশী, ঐ বাজায় মােহনবাঁশী, শুনিয়ে মন উদাসী, ধৈরজ না মানে ,-- রামচন্দ্র রায় বলে, কুলভয় ত্যজি সকলে, সত্বরে হের গােপালে, কি ফল কালহরণে ॥১৩৬। যুগলরূপ নিরখি, রাগিণী দেশমল্লার—তাল তেওঁট। ঝুলিছেন নিকুঞ্জে কুঞ্জবিহারী। রতন বিমানে সঙ্গে ল’য়ে প্যারী। নানাবিধ যন্ত্র ধরি করে, গায় ব্রজাঙ্গনা মধুস্বরে, আর নৃত্য করে, ঘেরি’ সারি সারি। নীলাকাশ ঢাকা জলধরে, খেলিছে দামিনী তদুপরে, বিন্দু বিন্দু ঝরে, বরিষার বারি। মন মন বহে সমীরণ, শাখি’পরে নাচে শিখিগণ, করিছে সুস্বন, পিক শুকশারী। ফুটেছে মালতী আদি ফুল, ঝঙ্কারিছে তাহে অলিকুল, ধন্য আজি হ’ল, শ্রীরাম নেহারি ॥১৩৭৷ রামচন্দ্র-গীতাবলী রাগিণী হামীয়তার আড়া। ঝুলিছেন নিকুঞ্জে রঙ্গে, মনমােহন হরি। বামভাগে বিরাজিতা, বৃষভানুজা কিশােরী। মােহন মুরলী করে, ক'টী আঁটা পীতাম্বরে, শিরে চূড়া শােভা করে, শিখিপুচ্ছ তদুপরি। মালতী-কুসুমহার, কণ্ঠে করিছে বাহার, রূপে নাশে অন্ধকার, কি মাধুরী মরি মরি ! শ্রীচরণ-শতদলে, মধু আশে কুতূহলে, ভ্রমিতেছে দলে দলে সদা ভ্রমর ভ্রমরী । রামচন্দ্র রায়ের হ’ল; আজি জীবন সফল, নিরখি রূপযুগল, যুগল ময়ন ভরি ॥১৩g৷ রাগিণী সুরটমল্লার—তাল ঢিমাতেতালা। কুঞ্জে ঝুলে রাধাসহ শ্যাম। হের রে নয়ন। জিনি কোটি কাম। নবজলধর রূপ রসকূপ কি সুঠাম । পদকমল-সৌরভে, তালি ভ্রমে মধুলােতে, চরণে নূপুর শােভে, সহাস্য বদন ; শিরে উচ্চ শিখিচূড়া, বামেতে ঈষৎ তেড়, কটীতটে পীতধড়া, বাঁশী বলে রাধানাম। যতেক ব্ৰজরমণী—মধ্যেতে গােকুলমণি, তারা মধ্যে নিশামণি, যেন সুশােভন ; উল্লাসিত ব্রজনারী, উছলিল প্রেমবারি, রামচন্দ্র রূপ হেরি পূর্ণ মনস্কাম ॥১৩৯

৮৪
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী সুরটমল্লার-তাল ঢিমাতেতালা।
কি শােভা হয়েছে সুশােভন।
নিকুঞ্জকানন।
হেরি মুগ্ধ মন।
ঝুলনে ঝুলিছেন রাধা রাধারমণ ।
নবজলধর হরি, নিকুঞ্জে উদয় হেরি,
নাচে ময়ুর ময়ূরী, হইয়ে মগন ;-
তাহে আনন্দ-পবন,
মৃদঙ্গাদি বাদ্যস্বন, বারিদগজ্জন।
স্বর্ণলতা রাইকিশােরী, সঘনে খেলে বিজুরী,
অবিরত প্রেমবারি, হয় বরিষণ ;
ভকত-চাতকবৃন্দ, পানেতে পরমানন্দ,
আশাতৃষা রামচন্দ্র, করিল বারণ |১৪||
বহিতেছে অনুক্ষণ,
রাগিণী দেশমল্লার--তাল তেওরা।
কুঞ্জভবনে রাধারমণ ।
কনক-হিন্দোলে, রাধাসহ দোলে, বেষ্টিত গােপিকাগণ।
বরষা-যামিনী, নভে কাদম্বিনী, করিছে ঘাের গর্জন।
হয়ে আহলাদিনী, খেলিছে দামিনী, পড়ে বারি অনুক্ষণ।
মল্লিকা মালতী, ফুলে নানা জাতি, তরুলতা সুশােভন,
ছুটে পরিমল, দিকেতে সকল, বহনে মন্দ-পবন।
ফিরে মধু আশে, অলি চারিপাশে, করি গুনগুনস্বন।
শাখি-শাখা’পরে, পিনাদ করে, হ'য়ে আনন্দে মগন।
উৰ্দ্ধপুচ্ছ করি, নাচে পন্নগারি, হয়ে আত্মবিস্মরণ,
হেরি হ’ল রাম, পূর্ণ মনস্কাম, আর সফল জীবন ॥১৪১৷৷

রামচন্দ্র-গীতাবলী
রাগিণী দেশমল্লার-তাল সুরফাক্তা।
কুঞ্জকাননে আজি, কি শােভা নেহারি।
কনক-হিন্দোলে দোলে শ্যাম বংশীধারী।
বামে রাধাবিনােদিনী, কেশব-মনােমমাহিনী,
যেন জলদে দামিনী, জ্বলে দিক্ চারি ।
হৃদয়ে কৌস্তুভ মণি, সমুদিত দিনমণি,
যেন আলােকে রজনী, আঁধার নিবারি
চরণ-সরােজরাজে,
কনক নূপুর বাজে,
বনমালে কিবা সাজে, পীতাম্বরধারী।
মিলি’ ব্রজাঙ্গনা সবে,
মাতি ঝুলন-উৎসবে,
ঝুলায় রাধামাধবে, ঘেরি সারি সারি,
রামচন্দ্রের সাধ মনে, কবে হৃদয়-আসনে,
উদিবে রাধিকাসনে, গােলােকবিহারী ॥১৪২৷৷
রাগিণী সুরটমল্লার—তাল কাওয়ালী।
রতন হিন্দোলে রাজে রাধাসহ রসরাজ।
মনােহর রূপ দেখি রতিপতি পায় লাজ।
কোন সখী ঝুলাইছে আনন্দে হয়ে মগন,
কেহ নৃত্য করে রাধাশ্যামে করিয়ে বেষ্টন।
কেহ সপ্তস্বর ধরে,
কেহ অতি সযতনে বাজাইছে পাথােয়াজ।
ঝিল্লী
মণ্ডুক ময়ুর,
পিক শুক শারীগণ।
মিলাইয়ে স্বরগ্রাম করিতেছে কলম্বন,
জলধরে, জলঝরে, চপলা তাহে বিহরে,
হ’ল রামচন্দ্র হেরি সফল জীবন আজ ॥১৪৩৷৷
গাইছে মধুর স্বরে,

রামচন্দ্র গীতাবলী
রাগিণী জয়জয়ন্তী-তাল চৌতাল।
ঝুলিছে কুঞ্জবিহারী বামভাগে শােতে প্যারী।
নৃত্যগীতে নিমগন ধরি যন্ত্র গােপনারী।
নত’পরে কাদম্বিনী সঘনে করিছে ধ্বনি,
খেলিতেছে সৌদামিনী, বিন্দু বিন্দু পড়ে বারি।
বহিছে বায়ু বিমল, ল’য়ে নানা পরিমল,
পরশেতে সুশীতল, হ’ল শরীর সবারি
শাখি’পরে শিখিগণ, সুখে করিছে নৰ্ত্তন,
অবিরত কলম্বন, কয়ে পিক শুকশারী।
কুঞ্জ-কুসুমনিকরে, দলে দলে মধুকরে,
আসব-আশে বিচরে, মধুর স্বর ঝঙ্কারি ;-
রামচন্দ্রের এই আশ, পূর্ণ কর পীতবাস, .
হৃদয়ে কর নিবাস, করি কৃপা হে মুরারি ॥১৪৪৷৷
;"
রাগিণী খাম্বাজ-তাল ঢিমাতেতালা।
ঝুলিছে রঙ্গে শ্রীরাধাসহ শ্যামরায়।
রতন-নির্মিত হিমােলায়।
যত ব্রজাঙ্গনা মেলি,
করিছে বিবিধ কেলি,
নাচে গায় মৃদঙ্গ বাজায়।
একে বরিষার কাল, নভ ঢাকে মেঘজাল
বিন্দু বিন্দ, পড়ে বারি তায়।
হ’য়ে আনন্দে মগন,
নৃত্য করে শিখিগণ,
শুক শারী কৃষ্ণগুণ গায়।
হেরি রাম মহােল্লাসে,
প্ৰেমসলিলেতে ভাসে,
মানি জম্ম সফল ধরায় ১৪৫||

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
৮৭
রাগিণী সুরটমল্লার-তাল কাওয়ালী।
ঝুলনে ঝুলিছে’ কুঞ্জে রাধিকাসহ শ্যাম।
রমময় সুন্দনে,
পরিবৃত সখীগণে,
যেমন ঘেরা গগনে, শশাঙ্গে তারকাদাম।
মালতী কুসুমহার কণ্ঠপরি লম্বমান,
শিখিপুচ্ছ চূড়া শিরে পীতাম্বর-পরিধান,
অধরে মধুর হাসি, করেতে মােহনবাঁশী,
রূপে নাশে তমোৱাশি, মদনমােহন ঠাম ।
কনক-নূপুরে শােভে চারু চরণকমল,
কর্ণে মকর কুগুল করিতেছে ঝলমল,
কস্তুরী-তিলক ভালে, নাসাগ্রে মৌক্তিক দোলে,
নিরখি রূপযুগলে, পূর্ণ রামের মনস্কাম ॥১৪৬৷
রাগিণী সুরটমল্লার-তাল কাওয়ালী।
ঝুলে রসময়ী সই রসরাজ ।
হেরি সফল যে অাঁখি আজ।
নবীম-নীর-অঙ্গ কনক জিনিয়া কায়,
কটীতটে পীতধড়া নীলপট শােভা পায়,
অধরে মােহনবাশী,
মুখে সুমধুর হাসি,
রূপে কাম-রতি পায় লাজ।
বনমালা মতিমালা দুলিছে কিবা গলায়,
শিখিপাখা চূড়া বেশী মৃদুল বাতে দোলায়,
রামচন্দ্র রায় ভাষে, পাদপদ্ম মধু আশে,
যাও মন-অলি ছাড়ি কাজ ॥১৪৭

রামচন্দ্র-গীতাবলী
রাগিণী সুরটমল্লার--তাল একতালা।
দয়াময় হে মুরারি।
মম হৃদিকুঞ্জবনে,
শ্রীরাধিকা সনে,
স্কুল হে ঝুলনে শ্যাম বংশীধারী।
পিঙ্গলা সুষুম্না ঈড়া-জ্জত্ৰয়ে,
অনাহত দোলা আছে বদ্ধ হয়ে,
ব’স তদুপরি,
করুণ৷ বিতরি,
আমন্দ পবন দোলাবে সঞ্চারি।
একত্র হইয়ে ভক্তি সখীগণ,
করিবেক সেবা তব চরণ,
জীবন-কুসুম-হার অনুপম,
পরা’বে গলে তােমারি ;-
ব্রহ্মস্থান-নভে উদি’ জ্ঞান-ঘন,
প্রেম-বারিধারা করিবে বর্ষণ।
আশা সৌদামিনী, হয়ে আলাদিনী,
খেলিৰে উজলি সদা দি চারি।
মন-শিখী ঘন করি দরশন,
প্রফুল্ল, হইয়ে করিবে নৰ্ত্তন,
মুখে তব নাম,
মুখে অবিরাম,
গাইবে রসনা শারী;-
রামচন্দ্র বলে মদনমােহন,
কবে এই সাধ করিবে পূরণ,
তব আগমন করি প্রতীক্ষণ
রহিলাম এখন গােলােকবিহারী॥১৪৮

রামচন্দ্র-গীতাবলী
৮৯
আগমনী।
রাগিণ বাহারবস-তাল আড়া।
রয়েছ নিশ্চিন্ত মনে, কেমনে হে গিরির।
সংবৎসর হয় যে গত, উমার তত্ত্ব না কর ।
শুনিয়া লোকের মুখে, শেল সম ৰাজে বুকে,
উমা নাকি অতি দুখে,
হরে কাল নিরন্তর ।
জামাতা পাগল অতি, নাহি অষের সঙ্গতি,
করেন, শ্মশানে বসতি, উম্মমাখা কলেবর ।
সুকুমারী উমাধনে, কেন দিলে হেন জমে,
রাম কয় ভেব না মনে, হর যে ত্রিপুরেশ্বর ॥১৪৯
রাগিণী বিভাষ—তাল আড়।
কি হেরিলাম গিরিরাজ ! আজি নিশিতে স্বপনে।
খেন কঁাদে উমা বসি
শিয়রে দুঃখিতমনে।
ললে মা আমায় কাতরে,
*পিয়ে ভিখারী করে,
কেমনে ধৈরজ ধরে, রয়েছ সুখে ভবনে।
কি বলিব মা আমার, লে দুখকাহিনী আর,
হেন দুখ, কি আছে কায়, যে দুঃখ সহি জীবনে।
অল্প বিনে ভিখারিণী, বস্ত্র যিনে উলঙ্গিনী,
বাস বিনে শ্মশানবাসিনী থাকি সদা পতি সনে।
লােকমুখে যা শুনিলাম, স্বপনেতে তাই হেরিলাম,
না বুঝিয়ে কেন দিলাম, হেন বরে উমাধনে
রাম কয় মা না বিচারি, কাঙ্গাল ভাব ত্রিপুরারি,
তৰ কন্যা কাশীশ্বরী, অন্ন যোগান জগনে ॥১৫৭

রামচন্দ্র-গীতালী।
রাগিনী ভৈরবী-তাল আড়া।
হে পাষাণী ধৈর্য্য ধর ।
অমূলক স্বপ্ন হেরি কেন ভাবি-অন্তর।
ধনহীন ভাব পুয়ারি, ধনেশ যাঁর আজ্ঞাকারী,
দারিদ্র-দুঃখাপহারী, অশেষ-কলুষহর।
রাম কয় ভবনে যাঁর, অন্নপূর্ণা মা আমার,
অন্নাভাব ভাব তার, এ বড় আশ্চর্যা কর। ১৫৫।
রাগিণী বাহার—তাল যৎ
ভে’স না পাষাণী আর নয়নের নীরে।
ওগাে, আনি কুলপুরােহিতে সাধ ভবানীরে।
ল’য়ে সচন্দন বিলদল জাহ্নবীর নীরে।
ডাকিয়ে পুরসুন্দরী কুলের প্রধান,
সুমঙ্গল আচরণের কর সুবিধান,
গৃহে, পাইবে ভববন্দিনী সেই নন্দিনীবে,
হবে জনম সফল হেরি ভব-জননীরে।
চলিনু গিরিশপুরে ত্বরিতগমনে,
বিবিধ কুসুমাসারে একান্তে সুমনে,--
আমি, সযতনে তুষ্ট করি শূলপাণিরে,
ত্বরায়, আনিব ভবনে তব প্রাণ ঈশানীরে।
রামচন্দ্র বলে আশা পূরিবে তােমার,
হেরিবে নয়নভরি বদন উমার ;-
গিরি, আনিয়ে ভবসুন্দরী দুঃখ-বারিণীরে,
এই, ধরাতে করিবে ধন্য সকল প্রাণীরে। ১৫৬।

রামচন্দ্র-গীতাবলী। রাগিণী মূলতান—তালআড়া। চলিলাম হে পাষাণী, আনিতে প্রাণ ঈশানীরে। ধরা-শয্যা পরিহর ভে’স না নয়ননীরে। শুন আমার বারণ, করি শােক-সম্বরণ, কর মঙ্গলাচরণ, ডেকে পুর-রমণীরে। কর ভাকি পুরােহিত, চণ্ডীপাঠের বিহিত, অবশ্য হইবে হিত, নিরখিবে নন্দিনীরে। বলে রাম অভাজন, বিলম্বে নাই প্রয়ােজন, কর শীঘ্র আয়ােজন, তুষিবারে ভবানীরে। ১৫৭। রাগিণী সুরটমল্লার—তাল আড়খেষ্টা। দয়াময় হে শঙ্কর। ওহে আশুতােষ, দীনে আশুতােষ, রাখ হে সুযশঃ দেব-গঙ্গাধর। হর দুঃখ গুণমণি শূলপাণি, উমারে না হেরে বাঁচে না পাষাণী, ক’রও না নিরাশ, ওহে কৃত্তিবাস, এই মিনতি ধর। প্রসন্ন হইয়ে দেহ অনুমতি, যাইতে উমারে আমার বসতি, হবে অথা, তিন দিন তথা, রাখিব যতনে হর ;- চতুর্থ দি ওহে পঞ্চানন, আসিবেন কৈলাসে না হবে লন, . রামচ কম, বিলম্ব না সয়, পাষাণী অন্তর ॥১৫৮ পূরাও অভিলাষ, ব্যাকুল অতিশয়,

৯৪
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
.
রাগিণী বেহাগ-তাল আড়খেষ্টা।
হে দেব ত্রিলােচন।
প্রভু অন্ধকারি সৃষ্টিলয়কারী,
করেছেন তােমায় বেদে নির্বাচন।
পশুপতি এই ভিক্ষা হে সম্প্রতি,
পুরাও সাধ কৃপা করি গিরির প্রতি,
আশু দুঃখহারী, কৈলাস-বিহারী,
আশুতােষ আমায় না করি বঞ্চন।
দেহ অনুমতি তিন দিনের তরে,
উমায় মম বাসে যেতে হৃষ্টান্তরে,
পড়ি ধরাসনে, রাণী অনশনে,
করিছে অশ্রু মােচন ;-
যে দিন হতে আসা কৈলাসে উমার,.
সে দিন হ'তে আঁধার পুরী যে আমার,
এ দুঃখ না সহে,
এ দুঃখ নাশ হে,
বলে রাম পূর্ণ কর আকিঞ্চন ॥ ১৫৯।
রাগিণী বারােঞতাল ঠুংরী।
হেন কঠিন বচন।
ব’ল না আমারে গিরি করি নিবারণ।
প্রাণ চাও তা দিতে পারি, উমারে পাঠাতে নারি,
যাঁর অদর্শনে হেরি, শূন্য ত্রিভুবন।
তােলার সম্বল বল,
তব তনয়া কেবল,
রাম কয় কর সফল, গিরির মনন। ১৬০।

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী ঝিঝিটীখাম্বাজ-তাল আড়া।
=
কেমনে পাঠা’ব গিরি থাকিতে প্রাণ গিরিজায় ।
তিলেক অদর্শনে যার, ভাবি কত যুগ বয়ে যায়।
তারা যে তনয়া তােমার, নয়নেরই তারা আমার,
হারা’য়েছিলাম একবার, দক্ষালয়ে দিয়ে বিদায়।
করেছি তায় বহু রােদন, নানা স্থানে করি ভ্রমণ,
পেয়েছি শেষে উমাধন, বহু তপস্যায় ;--
উমা ছাড়া কি চাও বল,
ধৰ্মার্থ-কাম-মােক্ষফল,
প্রদানিব সে সকল, এখনি আমি হে তােমায়।
দেখ আমি হই সন্ন্যাসী, সতত শ্মশানবাসী,
তবু বলাই গৃহবাসী, উমারি কৃপায় ;
হয়ে আমি সর্বত্যাগী, তােমার তনয়া লাগি,
দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা মাগি, পড়িয়ে সংসারজ্বালায় ।
বিদ্যাহীন যেন নর,
বারিহীন সরােবর,
মনুষ্যশূন্য নগর
প্রাণহীন কায় ।
বস্ত্রহীন যেন বেশ,
রাজ্যহীন যেন নরেশ,
উমা-বিহনে মহেশ,
তেমতি শােভা নাহি পায় ।
তাই বলি গিরিবর, এ বাসনা পরিহর,
শঙ্করেরে রক্ষা কর,
এ বিষম দায় ;
করিছে রাম এই নিবেদন, শুন হে দেব পঞ্চ-বদম,
পাঠাও তিনদিনের মতন, ভবভাবিনীরে ধরায় ১৬১।
==

৯৬
৬
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী ললিত-তাল একতালা ।
ওহে মৃত্যুঞ্জয় !
(দেব) আশুতােষ আশুতোেষ দয়াময় ।
(করি) পদে মিনতি, দেহ অনুমতি,
যাইতে সম্প্রতি জনক-আলয় ।
শুনিলাম মাতা মম অদর্শনে,
কাঁদিছেন নিয়ত থাকি অনশনে,
(ফেল) ধরাশয়নে ;
( হবে । না গেলে একান্ত, মায়ের প্রাণান্ত,
যেতে দাও হে কান্ত, আমায় দিনত্রয় ।
সপ্তমী অষ্টম নবমী তথায়,
থাকিয়া হে নাথ তুষিব মাতায়,
( শেষে ) লইয়ে বিদায় ,
(আমি) দশমী বাসরে, কৈলাসশিখরে,
আসিব সত্বরে, জানিও নিশ্চয়।
এসেছেন পিতা আমারে লইতে,
এই দেখ বঁড়ায়ে নিরানন্দ চিতে,
( ভব ) ব সাক্ষাতে,
(এই) রামের অভিলাষ, ওহে কৃত্তিবাস,
পূরাও উমার আশ, হইয়ে সদয় ১৬২

।
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
৯৭
রাগিণী অালাহিয়া তাল--আড়।
আমি এই ভিক্ষা করি।
যেও না গিরিভবনে ত্রিভুবনেশ্বরী।
অনুগত এই শিবে,
বঞ্চনা কর না শিবে,
তোমা বিনে কে তুষিবে, হেরিষ কায় নয়ন ভরি।
একে ত আমি সন্ন্যাসী, তােমায় হয়ে অভিলাষী
হইয়াছি গৃহবাসী, ওগাে বিশ্বেদরী ;-
ঐশ্বৰ্য দিয়ে বিসর্জন,
সার করেছি তােমা ধন,
কেমনে হবে অদর্শন, দয়া পরিহরি।
তুমি আমার জীবন বহু সাধনের ধন,
সদা তাই করি যতন, হৃদয়েতে ধরি
বাধিয়ে বুক পাষাণে,
ত্যজিতে চাই ঈশানে,
বারেক চাও আমার পানে, ওগাে ক্ষেমঙ্করী।
তুমি অন্নপূর্ণা সতী,
আমি হই ভিক্ষুকপতি,
তাহে জরাজীর্ণ অতি, হয়েছি শঙ্করী -
তোমা বিনে এ ভােলার, শূন্য হবে এ সংসার,
হেরিব নয়নে আর দিবসে শর্বরী
রামচন্দ্রের এই মিনতি,
দিনত্রয় পশুপতি,
থাক হয়ে স্থিরমতি, অধৈৰ্য সম্বরি ;-
মার মায়াতে কাতর,
দয়াময়ীর অন্তর,
যেতে আজ্ঞা দাও সত্বর, করুণা বিতরি # ১৬৩

৯৮
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
ৰাগিণী বেহাগ-তাল আড়া।
--
যাই তবে প্রাগেশ্বর জনকভবন।
অনুমতি কর আমায় হইয়ে প্রফুল্লবদন ।
ধরেছ নাম আশুতােষ, আমারে আশু সন্তোষ,
লােকে রটিবে অযশ, যদি মা ত্যজেন জীবন।
শুনি, মা ব্যাকুল অতি, সেই জন্য, পশুপতি,
যেতে পিতার বসতি, করেছি মনন ,
তা না হলে কি সম্ভব, লঙ্ঘি আমি বাক্য তব,
বারম্বার করি হে ভব, বিরক্ত তােমারে এমন।
ডুবেছে ভ্রাতা সাগরে, মায়েরে মা বলিবারে,
আমা বিনে ত্রিসংসারে, নাহি অন্য জন
করে রাম এই মিনতি, আসিবে মা শীঘ্রগতি,
রহিলেন চিন্তিত মতি, কৈলাসে দেব ত্রিলােচন ॥১৬৪৷
ক
রাগিণী তােড়ী-তাল আড়া।
যদি যাইবে নিশ্চয়।
দেখ যেন ভােলায় তারা হও না নিদ
কঠিন তােমার চিত,
তাই হই সঙ্কুচিত,
একবার করেছ বঞ্চিত,গিয়ে দক্ষালয়।
রাখিও দয়া সতত,
এ শিব শরণাগত,
বিপনীরে না.যেমত, ডুবে মৃত্যুঞ্জয়,
রামচন্দ্র বলে হর,
কেন ব্যথিত অন্তর,
হবেন জননী সত্বর, কৈলাসে উদয় ॥ ১৬৫

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
} রাগিণী ভৈরবী-তাল আভা। .
দিনে দিনে দিন গত।
কেন আমার প্রাণের উমায় গৃহে হেরি অনাগত।
কবে এসে দুঃখিনীরে, ভাসাইবে সুখনীরে,
হেরে প্রাণ ঈশানীরে, জীবন হয় বহির্গত।
ভাবিতেছি অনুক্ষণ,
উপায় কি করি এখন,
যে দিকে করি ঈক্ষণ, শূন্যময় হেরি জগত।
বলে রাম সবিনয়ে, হেরিবে উমা তনয়ে,
সুখী হবে কোলে লয়ে, ভেব না সময়গত ॥১৬৬
1
।
রাগিণী অরট মার--তাল ঝাপতাল।
আর কেন কঁদিছ রাণী পতিত হয়ে ধরাসনে।
তব তনয়া উমা এল হের মা অঙ্গনে।
ত্যজ মা চক্ষের জল, গা তােল,
বাধ
কুন্তল,
কর বিধি-সুমঙ্গল, ডাকি পুরনারীগণে।
ঐ দেখ জগজ্জননী, সঘনে করি মা মা ধ্বনি,
আসে তব নিকটে রাণী, পড়িয়ে মায়াবন্ধনে ;-
ধরাধর-মহিষী-রায়, ধর কোলে জীবন তারায়,
চুমি মার বদনচন্দ্রমায়, সুশীতল কর জীবনে।
খাওয়াইয়ে ক্ষীর সর, বাক্ষনা সফল কর,
দিয়ে নানা অলঙ্কার, ভূষিত কর যতনে ,
রাম কহে মা গিরিদারা, যার জন্য কাদিয়ে সারা,
আর যেন কর না হারা, পেয়ে ঐ সাধনের ধনে ॥১৬৭৷

;..
'রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী যােগিঞাতাল কাওয়ালী।
ত্বরায় আয় মা উমা আমার কোলে ।
চুম্বন করি মা তাের বদন-কমলে।
করি অঙ্গ পরশন,
শীতল করি জীবন,
এখনও বিচ্ছেদানল জ্বলে।
হারাইয়ে তােমা ধনে,
যে কষ্টে ছিলাম ভবনে
কার সাধ্য একমুখে বলে,-
বল মা মুখে মা-মা বাণী,, সে বাণী শুনি ভবানী,
তৃপ্ত করি শ্রবণযুগলে।
খাইয়ে মা ক্ষীরসর, বাসনা পূরাও সত্বর,
সাজাই
ভূষণে কুতূহলে ;
রামচন্দ্রের এই নিবেদন, অন্য ভূষায় নাই প্রয়ােজন,
সাজাও কেবল জবা-বিশ্বদলে। ১৬৮।
শিবের ভবন,
রাগিণী সুরটমল্লার—তাল আড়খো।
মা শঙ্করী, মায়ের মায়া পরিহরি, এতদিন ছিলে কেমনে।
আমায় বল মা হররমা, প্রাণসম উমা,
মা বলে হত মা স্মরণ কি মনে।
যখন করিলে গমন,
ব'ল্পে তখন কত প্রবোধ বচনে ;-
তুমি কেঁদ না মা আর,
আসিব আবার,
তুমি তােমায় মা বলে বদনে ;
এখন রামচন্দ্র বলে, গত কথা ভুলে,
উমায় লয়ে কোলে, খাওয়াও মা যতনে ॥১৬৯

।
রামচন্দ্র-গীতাবলী ।
১০১
রাগিণী মূলতান—তাল আড়া।
বল মা উমা হররম। একি আচরণ।
এত দিন মায়েরে মনে ভুলেছিলি মা কি কারণ।
তব রূপ অদর্শনে, সদা পড়ে ধরাসনে,
কাদিতাম অনশনে, না হ’ত অশ্রু সম্বরণ।
দয়াময়ী তারা তােরে বলে সৰ্বজন,
জননীর প্রতি কেন দয়া-বিসর্জন,-
ওমা অগতির গতি, চেয়ে দেখ মায়ের দুর্গতি,
এতক্ষণে হত গতি, লইতে শমনের শরণ।
বলে রাম কেন নি উমায় পাষাণী,
পিতৃমাতৃদোষে কঠিন হলেন ঈশানী,
তা না হলে এ মহীতে, হ’ত কি দুঃখ সহিতে,
দিতেন মা সুতের হিতে, স্মরণে অভয় চরণ ॥১৭০।
রাগিণী ললিত-তাল আড়া।
কেমন সুখেতে ছিলে বল মা শিবের ঘরে।
যতন করেন কত হর তােমায় সমাদরে।
শুনি নাকি ত্রিলােচন, করেন শশ্মশানে ভ্রমণ,
ভুজঙ্গ ভস্মভূষণ, কটী আঁটা বাঘাম্বরে।
সত্য কি থাক কৈলাসে, অন্ন বিনে উপবাসে,
ফিরি হর বাসে বাসে, আনেন অয় ভিক্ষা করে,
গঙ্গা সপত্নীয়ে তব, শিরে নাকি রাখেন ভব,
রাম কয় বল মা সব, প্রকাশি মায়ে সত্বরে ॥১৭১৷

১০২
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণ খাম্বাজ-তাল আড়থেষ্টা।
কি কব মুখে, আছি মা যে সুখে, সদা শিবের ঘরে।
জানি দিবাযামিনী কখন যাতায়াত করে।
ষড়ৈশ্বৰ্য যাঁর কৈলাসে,কেন বা যান ভিক্ষার আশে,সবার বাসে
জেনে, অজ্ঞানে ভাষে ভিক্ষাজীবী ব’লে হরে ।
পরেন বটে বাঘম্বর, ভস্মভূষ কলেবর, সে গঙ্গাধর ;-
তথাপি সুরনিকর, রাম কয় প্রণতি করে ॥১৭২।
রাগিণী বিভাষ—তাল ঝাপতাল।
ওমা ঈশানী, হয়ে পাষাণী, অভাগিনী পাষাণীরে।
বল কেমনে মা তুই মনে, ভুলেছিলি ভবানীরে !
হেরে তব বদনশশী ওমা শশি-শেখর-রাণী,
কি বর্ণিব সদা দুঃখ বহ্নিতে দহে পরাণি,
ধরাসনে অনশনে ভাসিতাম আঁখিনীরে।
বিবিধ বেদবিদার, আনিয়ে কত দ্বিজবর,
আরাধিনু দিগম্বর, ত্রিপথগামিনী নীরে ;-
পাঠাই শেষে গিরিবরে গিরিবরে গিরিশ-পুরে,
ত্রিপুর-অরিসদনে, শুন গােমা ত্রিপুরে,
নাশিতে তব জননী-দুঃখ আনিতে ভবজননীরে।
না হেরিলে তােরে ভবনে, ত্যজিতাম প্রাণ জীবনে,
হ'ত না শুনতে জীবনে, ও মুখে আর মা বাণী রে,
রামচন্দ্র বলে পাষাণী, উমা পাষাণ-নন্দিনী,
তারই জন্য কঠিন এত তারা ত্রিলােক-বন্দিনী,
জফিলে আশু না পায় দেখা আশুতােষ-মােহিনীরে॥১৭৩৷
3

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী আলাহিয়া-তাল ঝাপতাল।
হৈমবতী কোলে কিবা হেরম্ব শােভা করে।
চন্দ্রকান্তমণি যেন বিরাজে হেম গিরিবরে।
চরণে, বাল-প্রভাকর, হয়েছে অতি প্রভাকর,
বিতরিছে সুধাকর, কর সুচারু নখরে ।
পূর্ণব্রহ্ম গণপতি, পূর্ণব্রহ্মময়ী সতী
সদয় হ'য়ে ভক্তের প্রতি, উদয় ধরা’পরে ;-
নিরখি পাকমল,
বাসনা কর সফল,
মুখে জয় দুর্গ। বল, ভুল না রাম অন্তরে ১৭৪৷
রাগিণী ললিত-তাল সাওয়ারী।
কি আনন্দ গিরিপুরে মঙ্গলার আগমনে।
করিছে মঙ্গলধ্বনি মিলি পুরবাসিগণে।
ভূধরেতে উমাশশী,
শরতে উদয় আসি,
হেরিছে আকাশবাসী, অবিরত সুখী মনে।
মৃত্য-গীত মহােৎসব,
হ'তেছে চৌদিকে সব,
করেম স্বর্গে বাসব, দুন্দুভি বাদ্য সম্বনে।
সঞ্জিত বিভাবরী,
চন্দ্রিকা বসন পরি,
শিশির-প্রেমাঞ্চবারি ফেলিতেছে দুনয়নে।
বেলি উমা-শশধর, প্রফুল্ল মনচকোর,
" ( চেয়ে আছে নিরন্তর, ঐ রূপ দরশনে।
কৃপকটাক্ষ সম্প্রতি, কর মা দাসের প্রতি,
রামচন্দ্রের এই মিনতি, আনন্দময়ীর চরণে ॥১৭৫

১৪.
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী ললিত-তাল আড়া।
আহ কিবা অপরূপ রূপ কর দরশন।
হেমাঙ্গিনী ত্রিনয়নী ত্রিভঙ্গস্থানসংস্থান।
শিরে যুক্ত জটাজুট, আর রতন মুকুট,
অর্ধ সুধাকর ভালে করিছে অতি শােভন।
সিংহেতে অবলম্বন,
মার দক্ষিণ চরণ,
কিঞ্চিদূর্ধ বামাঙ্গুষ্ঠ মহিষ’পরি স্থাপন ;-
শিরচ্ছেদে ভয়ঙ্কর,
বিনির্গত মহাবীর,
ধরি অর্ধেক শরীর, অসিচৰ্ম্মপ্রহরণ।
বাম করেতে শঙ্করী;
দৈত্যের কুন্তল ধরি,
ভুজঙ্গপাশেতে তার করেছেন অঙ্গবেষ্টন ;-
চর্মঘণ্টা শরাসন, আর অঙ্কুশ ধারণ,
দক্ষিণ করেতে খড়গ, শঙ্খ, চক্র, তীক্ষ্ণ বাণ।
শূলে ভিন্ন দৈত্যহৃদি,
শােণিতে বহিছে নদী,
ঈষং ভীষণ ভাব, কটাক্ষেতে দরশন;-
সব্যে লক্ষনী গণপতি, বামে গুই সরস্বতী,
উদ্ধ'ভাগে পশুপতি, সঙ্গে লইয়ে স্বগণ।
নৃত্য গীত-মহােৎসবে,
মত্ত ধরাসী সবে,
যার যেরূপ সম্ভবে, করিছে মার পূজন ;-
আকাশে দেবনিকর, করেন স্তুতি যুড়ি কর,
নিরখি রামচন্দ্রের, সফল হ’ল জীবন ॥ ১৭৬ |

রামচন্দ্র-গীতাবলী ।
ব্রাগিণী বেহাগ—তাল তেওরা।
কিবা অপরূপ সাজে শিবানী, ভবানী,
ভব-সীমন্তিনী, নগেশনন্দিনী,
সুরেশ-বন্দিনী, শমন-বারিণী।
জটাজুট শিরে অর্ধ নিশামণি, ত্রিনয়ন৷ পূর্ণ-শশাঙ্ক-বদনী,
অতসী-কাঞ্চন জিনি সুবরণী, জগতমােহিনী সুচারু-লােচনী
নবনি-যৌবনাখিলভূষাধরা, সুদশনা পীনােন্নতপয়ােধরা,
ত্রিভঙ্গী মহিষাসুর প্রাণহরা,
দশৰাহু-শােভিনী
ত্রিশূল খড়গ চক্র বাণ শক্তি,ক্রমে বামেতর করে ধরেন শক্তি
খেটক পূর্ণ চাপ পাশাঙ্কুশ,
ঘণ্টা বামকরে ক্রমশ ধারিণী।
অধােভাগে শােভে মহিষ বিশির, শিরচ্ছেদোস্তব অসিচৰ্ম্মকর,
হৃদি শূলাঘাতে অতি ভয়ঙ্কর, দিশেদনুজমণি ;
শােণিতে রঞ্জিত তনু রক্তেক্ষণ, জকুটিভীষণ বদনে বেষ্টন,
করি’পাশে বাম করেতে ধারণ, কুন্তল সহিত মহেশমােহিনী।
মহা ভয়ঙ্কর কেশরী উপরে, দক্ষিণ চরণ আছে সমভরে,
কিঞ্চিদূর্ধ বামাঙ্গুষ্ঠ কোপভরে, মহিষে অর্পিণী ;-
দক্ষিণভাগেতে রমা গণপতি, বামে ষড়ানন জ্ঞানদা ভারতী
চৌষট্টিযােগিনী নারিকাসংহতি,পরিবৃতা আছেন দেবী কাত্যায়নী।
প্রসন্নবদনা ক্ষৌমাম্বরধরা, অমর-পূজিতা হর-মনােহর,
ভৰ নিস্তারিণী অরিভয়হরা, দুরিত-বারিণী,
শরতে সারদা নিস্তারিতে নরে, অবতীর্ণা আসি এই ধরা’পরে
নানা উপহারে সবে পূজা করে, রামচন্দ্র হেরি জুড়া'ল পরাণি
.
১৭৭

১৬
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
বেষ্টিত অসুরে
:
রাগিণী সুরটমল্লার-তাল আড়খো ।
কি সুখের দিন, কর নিরীক্ষণ,
স্বগণ সহিত বিরাজেন ভবানী।
চরণ-নখরে,
সুধাংশু বিহরে,
পদতলে শােভে নব দিনমণি।
করি-অরি’পরে দক্ষিণচরণ,
বামাঙ্গুষ্ঠ মহিষেতে সমর্পণ,
নাগপণ করে
ধরেন হরমােহিনী ;
ত্রিভঙ্গভঙ্গিমা নবীনযৌবনা,
নানাবিধ মণিরত্ন-বিভূষণা,
পীনােয়তপয়ােধরা সুবসনা,
বিবিধ আয়ুধ-করসুশােভিনী।
সম্পূর্ণ-শশাঙ্কনিন্দিতবদনী,
অখিলবন্দিতা চারু ত্রিলােচনী,
জটাজুট শিরে, অর্ধেন্দুশেখরে,
তপ্ত হেমবরণী ;-
সুপ্রসন্না দেবী ত্রিদশবন্দিনী,
সুরেশ-অর্চিতা নগেশনন্দিনী,
কৃতান্তবারিণী,
মহিষমর্দিনী,
রামচন্দ্রের ভব-তৃষানিবারিণী ॥১৭৮||

রামচন্দ্র-গীতাবলী। ১০৭ রাগিণী যােগি ভৈরো-তাল কাওয়ালী। } বল বদনে জয়দুর্গা বাণী জয় সঙ্কটহরা তারা শম্ভমােহিনী। লইতে ভক্তের পূজা, হইয়ে মা দশভুজা অপরূপ মহিষমর্দিনী, নিৰ্ম্মল শরৎকালে, অবতীর্ণ। মহীতলে, ভবারাধ্যা ভবের জননী। সিংহেতে দক্ষিণ পদ, জিনি জবা কোকনদ, বামপদ মহিষে অর্পিণী ছিন্নশির মহিষের স্কন্ধে অৰ্ধ কলেবর, নিন্তি অসুরে বদ্ধ ফণী, চাহিয়ে কোপকটাক্ষে হানিছেন শেল বক্ষে, দৈত্যকেশধরা বামপাণি । কেশরী করাল গ্রাসে, দানবের করগ্রাসে, আসিতেছে শােণিতে ধরণী, দশায়ুধ দশকরে, আহা কিবা শােভা করে, কপালেতে অর্ধনিশামণি, শিরেতে জটালম্বিত, মুকুট মণিখচিত, দিব্য পট্ট অম্বরধারিণী । দক্ষিণে জলধিসুতা, গণপতি সিদ্ধিদাতা বামে ষড়ানন বীণাপাণি, দাড়ায়েছেন ত্রিভঙ্গে, নায়িকাগণের সঙ্গে, ল’য়ে রঙ্গে চৌষট্টিযােগিনী, কিবা মূর্তি অনুপমা, বর্ণনে নাহিক সীমা, আলােকিত রূপেতে অবনী। ভাগ্যবান্ ব্যক্তিগণ, করিছে মার পূজন, রাশিরাশি নৈবেদ্যাদি আনি, কেহ শুধু বিশ্বদলে, পূজে চরণকমলে, আপনারে মন্দভাগ্য মানি, কেহ মানসােপচারে, অর্চনা করিছে মারে, সুখী জগতের যত প্রাণী। ভক্তিভাবে মার স্তব, করিছে অমর সব, আর নাগ যােগী ঋষি মুনি, নাচিছে কিন্নরীগণ, হ'য়ে আনন্দিত মন, সঘনে দুন্দুভি হয় ধ্বনি, রামচন্দ্র যেন ভবে, পূজা করি ভক্তিভাবে, পায় রাঙ্গা চরণদুখানি J১৭৯

১০৮
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী মূলতান-তাল ঢিমা তেতালা।
ওহে প্রাণনাথ! উমা কেন হ’ল বিবরণ।
অকস্মাৎ কি কারণ, শুকা’ল মার চন্দ্রানন;
হেরি’ দহিছে মম জীবন।
সপ্তমী-অষ্টমী-নিশি, আনন্দেতে উমাশশী,
ছিল করে উজ্জ্বল ভবন ;-
কেন এ নবমী-নিশি, ক্রুর রাহুরূপে আসি,
গ্রাসিল মার শশাঙ্কবদন।
প্রভাত হলে শর্বরী, কৈলাসেতে ত্বরা করি,
লয়ে যাবেন দেব পঞ্চানন ;-
রামচন্দ্র রায় কহে, তাই মা মায়ের মােহে,
হয়েছেন বিষাদিত-মন ॥১৮০
রাগিণী ভৈরবী-তাল আড়া।
নবমী-যামিনী নতি তােমার চরণে।
কল্পস্থায়ী হও আজি আমায় কৃপা বিতরণে।
তুমি ত প্রভাত হলে, উমা আমার যাবে চলে,
কে ডাকবে আর মা মা বলে, মধুর বচনে ;-
কেমনে ধরিব প্রাণ, উমায় না হেরি নয়নে।
আরাধনা করি কত, পেয়েছি তিন দিনের মত,
তিনদিন হ'লে যে গত, হারা’ব সে ধনে ;-
সপ্তমী অষ্টমী গেছে বাকী তুমিই ত এক্ষণে।
খেপা জামাতা আমার, রাখিবে না বাক্য কার,
করি’ গৃহ অন্ধকার, ল’বে উমাধনে;
পূর্ণ না হবে রামের, মনসাধ রবে মনে ॥১৮১৷

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী লাচাসাগ তাল ঝাপতাল।
পােহা’ল কালনবমী বল জয়া করি কি উপায় ।
এখনি ত ত্রিলােচন, ল’য়ে যাবেন উমাধন,
থাকিতে দেহে জীবন, কেমনে দিব বিদায়।
বৎসরান্তে নানামত, করি আরাধনা কত,
তিন দিবসের মত, পেয়েছিলাম যে উমায়।
কার মুখ দরশনে,
রহিব পাপ-ভবনে,
কে আর মা সােধনে, তুষিবে বল আমায়।
একে খেপা শূলপাণি, না রাখিকে মম বাণী,
পার ত রাখ ভবানী, হরে বুঝায়ে ত্বরায়।
করে রাম নিবেদন, আনিয়াছ করি পণ,
নবমী করে যাপন, কৈলাসে পাঠাবে মায়॥১৮২৷
রাগিণী বানােঞা—তাল ঠুংরী।
এখন হই মা বিদায়।
চিন্তা ত্যজ ভেসােনা আর নয়নধারায়।
করিবেন শিব শিব, শরতে পুন আসিব,
কোলে বসি তুষিব, মা বলে তােমায়।
গমনেতে পশুপতি, করিছেন ত্বরা অতি,
যেতে দেহ অনুমতি, কৈলাসে আমায়।
ল’য়ে গুই লম্বােদর, হয়েছেন নাথ অগ্রস,
ওমা দরশন কর, ঐ আঙ্গিনায়।
রাম কয় ত্রিলােচন,
হবেন অসন্তুষ্ট মন,
কেন কর বিলম্বন, মােহিয়ে মায়ায় ॥১৮

১১০
রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী বেহাগ-তাল যৎ।
প্রাণেশ্বরী গৌরী লয়ে হর চলে যায়।
ভবের চরণ ধরে নাথ ফিরাও গে বাছায়।
বৎসরান্তে আরাধনে, পেয়েছিলাম উমাধনে,
বিদরে হৃদয় আজি দিয়ে হে বিদায়।
এসে তিন দিনের তরে, মার সরল অন্তরে,
বিচ্ছেদাগ্নি জ্বেলে দিয়ে গেল মা কোথায়।
বলে গেল মা শিবানী, আমারে প্রবােধ বাণী,
কেঁদ না মা আসব পুন, আনিলে আমায়।
সত্য কি বাছা আসিবে, মা বলে মা সম্ভাষিবে,
ধৈৰ্য নাহি যায় ধরা প্রবােধ আশায়।
রাম কয় শুন পাষাণী, হেরিবে আবার ঈশানী,
বৎসরান্তে শরতেতে অবশ্য ধরায় ॥১৮৪
রাগিণী আলাহিয়া—তাল আড়খেষ্টা।
আজ নিরানন্দ ত্রিভুবন।
জগতজননী, মহেশ-মােহিনী, বহু সাধনের ধন,
দুঃখ-পারাবারে, ভাসায়ে সবারে, কৈলেন কৈলাসে গমন ।
আনন্দময়ীরে পেয়ে দিনত্রয়,
আনন্দিত হয়ে তােক সমুদয়,
নানা উপহারে, ভক্তিসহকারে, পূজিল মার চরণ।
এবে গীত বাদ্য আনন্দ উৎসব,
মায়ের গমনে হইল নীরব,
পূজি মার পায়, রামচন্দ্রের হায়, না পূরিল আকিঞ্চন ॥১৮৫)

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী ভৈরবী-তাল একতালা।
কিবা শােভিছে কৈলাসশিখরে।
মরি, হরগৌরী হয়ে একাঙ্গে মিলিত,
অতি অপরূপ নয়নে হের রে ।
আধ অঙ্গ জিনি রজত বরণ,
আধ অঙ্গ-আভা তপত কাঞ্চন,
আধ চৰ্ম্মাম্বর, আধ ক্ষৌমাম্বর,
রূপের কিরণে অন্ধকার হরে।
আধ বক্ষঃস্থলে দুলৈ অস্থিমালা,
আধ হৃদে মণি হার উজালা,
আধ কণ্ঠে রাজে কালকূট কালা,
আধই অমিয় মধুরিমা ধরে-
আধই শরীরে বিভূতিলেপন,
আধ কলেবরে কস্ত রী চন্দন,
শােভে আধভালে, কিবা হরিতালে,
সিন্দুরের বিন্দু আধ ভাল’ পরে ।
এক করে শোভে ভুজঙ্গভূষণ,
এক করে শােভে রতনকঙ্কণ,
আধ মুখে ভঙ্গ ধুতুরা ভক্ষণ,
তাম্বুলের রাগ আধই অধরে ;-
ঢুলু ঢুলু করে সার্ধ নয়ন,
অঞ্জন-রঞ্জিত সার্ধ লােচন,
অর্ধ জটাধারী, অর্ধ সুকবরী
রামচন্দ্র হেরি প্রফুল্ল অন্তরে |১৮||
।

রামচন্দ্র-গীতাবলী।
রাগিণী বেহাগ-তাল একতালা।
৷ নারায়ণ !
হে মু
রা রি হরি, গােলােকবিহারী,
দয়া ম য় দেব জগতকারণ।
চরণেতে সদা রাখি মতি,
সুরে ন্দ্র হয়েছেন অমরাধিপতি,
ভাবে রা ত্রি দিন যে তােমায় শ্রীপতি,
ধরা য় ধন্য সেই সার্থক জীবন।
এসে গদাধর ! ভবে নিরাশ্রয়,
অসা উ এ অঙ্গ, পেয়ে কালভয়,
এ স ম য় আমায়, হও হে সদয়,
হে ম নাে হারী বামন ;-
দুঃখ হ র মম শ্রীমধুসূদন,
ঐচ • র ণ দাসে করি বিতরণ,
যেন
পুন ভবে না হয় জনন,
ওহে
র মাপতি পতিতপাবন ॥১৮৭

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Ramchandra-gitabali Vol.1

Author
Roy,ramchandra
Title
Ramchandra-gitabali Vol.1
File name
Ramchandra-gitabali Vol.1
Text
OCR done
Citation
1902
Published
2009/12/2
Publisher
N.a
Language
Sanskrit
Pages
134
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Roy,Ramchandra
DLI number
513145
Barcode
4990010020151.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
sPKBHVdRMZU
Download PDF

Ramchandra-gitabali Vol.1