Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Srisri Nityapadalahori
Front matter
No text on this page.
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী
হরিপদানন্দ অবধূত
রচিত
মূল্য • আনা।
প্রকাশকগ্রন্থকার
“
মনিৰ্ব্বাণ মঠ
মনােহরপুকুর রােড, কলিকাতা।
প্রিন্টার-বিহারীলাল নাথ
“এমারেল্ড প্রিন্টং ওয়ার্ক
*, নন্দকুমার চৌধুরীর দ্বিতীয় লেন, কলিকাতা ॥
ভূমিকা। জগদ্গুরু পরমারাধ্য যােগাচাৰ্য্য শ্ৰীশ্ৰীমদবধূত জ্ঞানানন্দ দেক মহারাজের সম্বন্ধে পদাবলী রচনা করিতে যাইয়া তাহাকে কোথাও শ্রীকৃষ্ণ রূপে, কোথাও শ্রীরাধা রূপে, কোথাও বা শ্রীগৌরাঙ্গ রূপে বর্ণনা করিয়াছি। মদীয় পরমার্থভ্রাতৃবৃন্দের নিকটে জোড় করে এই কারণে ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছি। যেহেতু তাহাদের অনেকেই শ্রীঠাকুরকে শ্রীকালীরূপে প্রত্যক্ষ করিয়াছেন। মা মা বলিয়া ডাকিয়াছেন, তুমি, তুই করিয়া কথা কহিয়াছেন, প্রত্যক্ষ বক্ষে স্তন হইতে দুধ পান করিয়া শ্ৰীনিত্যগােপালকে আদ্যাশক্তি জগজ্জননী বলিয়া জানিয়াছেন। এরূপ ভক্তের দৃষ্টান্ত নবদ্বীপ ও হুগলি লীলা কালে অনেকেই প্রত্যক্ষ করিয়াছেন। কোন ভক্ত শ্রীশ্রীঠাকুরকে শিব দর্শন করিয়া ভাবাবেশে মত্ত হইয়াছেন। সেই অবধূত দেবকে সাক্ষাৎ জটাজুটধারী শ্বেতকায় আকৰ্ণ-বিস্তৃত লােচন শিব দর্শন করিয়াছেন। কেহ সেই শ্ৰীশ্ৰীনিত্যগােপালকে শ্রীদুর্গারূপে প্রত্যক্ষ করিয়াছেন, কেহ অর্ধনারীশ্বর রূপে প্রত্যক্ষ করিয়াছেন, কেহ বা অপরাপর নানা দিব্যরূপে তাঁহাকে প্রত্যক্ষ করিয়াছেন। সেই সকল ভক্তগণের মধ্যে এককালেই যুগপৎ বিশেষ বিশেষ রূপে দর্শন পাইয়াছেন কখন বা কোন ভক্ত একাকীই দর্শন করিয়াছেন। আমি তাহাদের প্রত্যেকের দর্শনই সত্যরূপে শিরােধার্য করিতেছি। যেহেতু নরাকার পরব্রহ্ম অবধূতরাজই সৰ্বরূপ।
০ এই নিত্যপদলহরীতে শ্রীনিত্যগােপালকে রাধারূপে বর্ণনা করা হইয়াছে। কোন কোন স্থলে শ্রীগৌরাঙ্গ রূপে, কোথাও বা শ্রীকৃষ্ণরূপে তাহার বর্ণনা করা হইয়াছে। ঐ সকল স্থলেই ঐশ্রীনিত্যগােপালদেবের পুরুষ ভক্তগণকে তঁাহার সখীরূপে কল্পনা করিয়া বিবিধ পদ রচিত হইয়াছে। খট্টার উপরে নিত্যগােপাল আসীন। চারিদিকে ভক্তগণ কীৰ্ত্তনান করিতেছেন, কভু বা ভক্তসঙ্গে নৃত্যরঙ্গে মাতিতেছেন। দুনয়নে ধারা বহিতেছে অঙ্গে পুলককদম্বরাজি। দিব্য গৌরাঙ্গসুন্দর অঙ্গে লাবণ্যের জ্যোতি। কখন বা খট্টার উপরে বসিয়া শ্ৰীকৃষ্ণলীলাসঙ্গীত শুনিতেছেন। ভাবে ঢল ঢল—সমাধিস্থ হইতেছেন। দুনয়নে অবিরল ধারায় গঙ্গা যমুনার ধারা প্রবাহিত। শ্রীমূর্তিতে কৃষ্ণপ্রেমের জোয়ার বহিয়া যাইতেছে। গান হইতে হইতে নিশি প্রভাত হইল। শ্রীশ্রীনিত্যদেব সমাধিস্থ। আবার বাহ দশা হইতেছে। আবার সঙ্গীত। শেষ কুঞ্জভঙ্গ গান গীত হইল। তৎপর ‘সােঙর নব গৌরচন্দ্র ইত্যাদি গাহিতে গাহিতে সূৰ্য্যদেব উদিত হইলেন। এইরূপ একরাত্রি নয়। রাত্রির পর রাত্রি চলিয়া যাইতেছে। আবার সকাল বেলা নয়টা দশটার সময় ঠাকুরঘর খােলা হইল। আবার গীত আরম্ভ হইল। ঐশ্রীদেব সমাধিস্থ হইলেন। সেই মহাভাব, সেই অপূর্ব প্রেমানন্দ মেলা। হায় ! সেই সব দিনের ছবিখানি মনে হইল সেই রাধাভিমানিনী ঐনিত্যগােপালের মুখ- খানি মনে পড়িলে, সত্য সত্যই মনে হয় স্বীয় কান্তার কান্তি অঙ্গীকার করিয়াই আবার এক অজান মানুষ নয়চক্ষের অন্তত
হইয়াছিলেন। শ্রীনিত্যগােপাল রচিত গ্রন্থ এবং কবিতামালায়
উচ্ছাসময়ী ভাষায় এই রাধাভিমানিনী নিত্যদেবেতার ভাব
বর্ণিত আছে-
“সে ভাব রাধার ভাব সে ভাব কেমনে পাব
সে ভাব পেয়েছে শুধু শ্ৰীশচীনন্দন।” নিত্যধৰ্ম্ম পত্রিকা।
“কবে কৃষ্ণময়ী হব কৃষ্ণবিলাসিনী,
কবে আদরিণী হব কৃষ্ণ আমােদিনী,
কবে কৃষ্ণ আলাদিনী, হব কৃষ্ণ বিনােদিনী,
মােহিত এ মন কৃষ্ণে করি দরশন।
(কৃষ্ণ মম প্রাণপতি চিত্ত বিনোেদন!) নিত্যগীতি।
-
মাথুর বিরহ প্রসঙ্গে এইরূপে শ্ৰীশ্ৰীনিত্যগােপাল কঁদিয়াছেন
“আমার সে প্রাণনাথ, আমি যে তাহার,
আমি ভালবাসি তারে, সে ভালবাসে আমারে,
সে বিনা সজনি আর কে আছে আমার।”
“যাবার সময় বলে নাই আর আসিবে না,
তা যদি বলিত সই যেতে তারে দিতাম না।
লুকায়ে হৃদয়ে তারে, থুইতাম লাে অন্তরে,
কিম্বা রাখিতাম তারে অঞ্জন করি নয়নে।
তা হলে নীলরতনে কেহ নিয়ে যেতে পেত না।”
এই রাধাভিমানিনী নিত্যগােপালের পুরুষ ভক্তবৃন্দকে তঁাহার
সখীরূপে কল্পনা করিয়া বিবিধ পদ রচনা করিয়াছি।
| পরন্তু অপর এক শ্রেণীর পদাবলী দৃষ্ট হইবে। সেই সেই স্থলে শ্রীনিত্যগােপালকে নবকিশাের নটবররূপে কল্পনা করা হইয়াছে এবং পুরুষ ভক্তবৃন্দকে সখীরূপে কল্পনা করা হইয়াছে। ঐনিত্যগােপালকে নিত্যকিশাের রূপে এবং তাহার পুরুষ ভক্তবৃন্দকে নিত্যকিশােরী রূপে কল্পনা করা হইয়াছে। ঐ নিত্যকিশােরী- বৃন্দকে আবার পরকীয়া রূপে কল্পনা করা হইয়াছে। শ্ৰীশ্ৰীনিত্যগােপাল দেবের ভক্তগণের মধ্যে এরূপ দৃষ্টান্ত রিল নহে যে নিজ স্ত্রীকে ভাঁড়াইয়া, বাটীর পরিজনকে ভাঁড়াইয়া ঠাকুরকে দর্শন করিতে আসিয়াছেন। ঐ ভক্তের পক্ষে ঐ স্ত্রী আয়ানরূপী এবং পরিজনবর্গই জটিলা কুটিল ননদিনী সদৃশ। এই ভাবেও অনেক পদ কল্পনা করা হইয়াছে। নারী, যুবতী, কুলবতী প্রভৃতি শব্দ সকল ঐ পুরুষ ভক্তগণের পক্ষেই কল্পনা করা হইয়াছে। অনেক পুরুষ ভক্ত গােপনে রাত্রিযােগে ঐনিত্য দর্শনে যাইতেন। তাহাদিগকে অভিসারিকা রূপে কল্পনা করা হইয়াছে। কোন স্থলে নব অনুরাগীকে নবীনা নাতিনীরূপে কল্পনা করা হইয়াছে। কোন স্থলে সখীরূপে কল্পিত পুরুষ ভক্তগণের সহিত দিব্যবিহার, রাসাদি বর্ণিত হইয়াছে। কোন স্থলে ঐ ভক্তকে সখীরূপে কল্পনা করিয়া রসােদগার প্রভৃতি পদও কল্পনা করা হইয়াছে। কোন কোন স্থলে শ্রীনিত্যগােপালের সহিত দিব্য গৌরাঙ্গী কিশােরীর মূর্তি স্পষ্টই কল্পনায় আসিয়াছে। ঐ কাল্পনিক চিত্রাবলম্বনেও কোন কোন পদ রচিত হইয়াছে। ঘেণ্ড সংহিতায় লয় সিদ্ধিযােগ সমাধির ধ্যানে পরমাত্মার সহিত
বিহার চিন্তা লিখিত আছে। ঐ বিহারাত্মক মধুর ভাবের পদাবলী
সকল কল্পিত হইয়াছে। তাহা কখন শ্রীনিত্যগােপাল রূপে এবং
কখন বা শ্ৰীকৃষ্ণরূপে এবং নিত্য ভক্তকে তদীয় শক্তিরূপে কল্পনা
করা হইয়াছে। পূৰ্বপক্ষে অর্থাৎ যে স্থলে নিত্যগােপালের সহিত
ভাব বর্ণিত হইয়াছে সেইরূপ দুই এক স্থলে প্রকৃতিভাবাপন্ন পুরুষ
ভক্তের উক্তি কল্পনা করা হইয়াছে।
শ্রীনিত্যগােপালদেবের রাধাভাবে বিবিধ উক্তি রচনা কালে
এরূপ অনেক পদ আছে যাহাতে ‘মরমী ভক্ত’ প্রভৃতি
কথা ও পদ আছে। শ্রীনিত্য ভক্ত মাত্রকেই ঐ মরমী
ভক্ত শব্দদ্বারা বুঝিতে হইবে এবং অপরাপর বর্ণনা সমস্তই
কল্পনা পূৰ্ব্বক রচিত হইয়াছে।
হইয়াছে। নিত্যগােপাল দেবকে
কোথাও কৃষ্ণরূপে, কোথাও রাধারূপে, কোথাও বা গৌরাঙ্গ
রূপে ভাবনা করিয়া পদ সকল কল্পনা করিয়াছি। তাঁহার
গম্ভীরা লীলার অনুরূপ পদ ও কল্পনা করিয়াছি।
পক্ষে শ্রীগৌরাঙ্গ দেবের গম্ভীর। লীলার ন্যায় লীলা কিম্বা শ্রীকৃষ্ণের
গােপী লইয়া লীলার ন্যায় লীলা নিত্যগােপাল দেব করেন
নাই। সমস্তই আমি আমার কল্পনানুযায়ী রচনা করিয়াছি।
যে যােগাচাৰ্য্য শ্ৰীশ্ৰীমজ্ঞানানন্দ অবধূতদেব প্রেমজ সৰ্ব্ব ভাব
মহ্বভাবের নিধান হইয়াও ঐ সকলের বিকাশের বিশেষ কারণ
ব্যতীত প্রায় সর্বদাই সুশান্ত ভাবে
থাকিতেন তাহার বিষয়ে
গম্ভীরায় রাধাভাবাপন্ন মহাপ্রভুর উন্মাদ লীলার চিত্র অঙ্কন এবং
যে অবধূতদেব আকুমার উজ্জল বৈরাগ্য জীবন যাপন করিয়া
y তাহার আদর্শ প্রতিষ্ঠা করিয়া গিয়াছেন তাহার বিষয়ে প্রত্যক্ষ- ভাবে কাহারাে সহিত মধুর ভাবাত্মক লীলা সম্ভাবনা করাও তৎবিষয়ক ধ্যানপ্রিয় মনের কল্পনা বিস্তার মাত্র। পরিশেষে বক্তব্য এই যে, এই গ্রন্থ প্রণয়ন ও মুদ্রণ বিষয়ে আমার পরমার্থ-ভ্রাতৃবৃন্দ বিশেষ উৎসাহ দিয়াছেন। তজ্জন্য তাহাদের নিকট অন্তরের সহিত কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি। পাবনার সহৃদয় জমিদার কায়স্থকুলতিলক শ্ৰীযুক্ত বাবু অবিনাশচন্দ্র রায় মহাশয় এই গ্রন্থের মুদ্রণ ব্যয় সাহায্য করায় গ্রন্থ প্রকাশে সমর্থ হইয়াছি। এ জন্য তাঁহাকে অন্তরের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ দিতেছি। শ্রীশ্রীনিত্যগােপালদেবের শ্রীপাদপদ্মে শত কোটী প্রণাম। নিত্যভক্তবৃন্দের শ্রীপাদপদ্মে সাষ্টাঙ্গ প্রণিপাত । মহানিৰ্ব্বাণ মঠ, কালীঘাট। নিত্যপদাশ্রিত-- পৌষ, ১৩২৪ হরিপদানন্দ অবধূত।
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী
প্রথম পর্যায়
এই পৰ্য্যায়ে ঐনিত্যগােপালদেবকে রাধা রূপে
বর্ণনা করা হইয়াছে। এজন্য নিত্যরাধা নামে বহুস্থলে
শ্রীনিত্যগোপালদেবকে উল্লেখ করা হইয়াছে। তাহার
পুরুষ ভক্তগণকে মরমীসখীরূপে কল্পনা করা হইয়াছে।
No text on this page.
ঐনিত্যগােপাল নরঞ্জিত পে বর্ণনা
নিত্যরাধা।
চন্দ্র ভানু কোটী
**
নিত্যগােপাল রাধা ভেল।
পঙ্কজ নয়নী
বালা হেমাঙ্গিনী
গৌর গৌৰী ভৈ গেল।
কিয়ে সােলহু লহু হাস।
জিনিয়া সাে ভাতি
বদন করত পরকাশ ।
গণ্ডহি ঝলমল
শ্রবণকী কুণ্ডল
মণিময় সিথার সাজ।
কুঞ্চিত কেশকী
মােহন ছাদনে
বেল কপােলকী মাঝ ।
সুন্দরী কিশােরী
চাহে ঢল ঢল
→ কামশাসন মামু।
মদনমােহন
মােহিনী হেইতে
মুরছিল লাজে অতনু।
অধরকি পাশ
মৃদু মৃদু হাস
চন্দ্রবদন ভরি ভাতি।
শ্যামর চন্দকী
চকোরী যৈছন
ঔছন বাইক আরতি।
শ্রীনিত্যপদলহরী। ৪ উচ হি কুচ যুগ, নাসাক মােলক ঘন ঘন দুলইতে কামুক চিত দোল ভেল। রতনক বলয় কঙ্কণ আভরণ অঙ্গ হি অঙ্গ ভরি দেল ৷ প্রফুল্লকুসুমে মালা রচইল অঙ্গ ভরিল ফুলমালে। শ্যাম মন মৃগী ধারণ লাগিয়ে বিহি রচল ইহ জালে। কণ্ঠকী হারহি মােতিম অনুপম কুচযুগ বেন দেল। কনক গিরি সম, হার গঙ্গা ধারা ভেল। সাে গিরি হেরইতে কামুক লােভ চিতে ধারণ লাগি মন আশ । গঙ্গাধারা হেরি সিনান লাগিয়ে বহুত করত অভিলাষ। নীল বসনে কিবা অঙ্গ আগােরল কিয়ে শশাভা যাও বলিহারী । হেম অচল জনু থুির জলদ জালে বেল অঙ্গ বিথারি । নাভী গভীর তাহে, রােম আবলী শােহে, গিরি ত্যজে যৈছন ফণি। ১১-২ প্রথম পর্যায় । কুচক গিরি ত্যজি, নাভি বিররে ফণি, প্রবেশয়ে এ অনুমানি। ত্রিবলীক বন্ধনে, ক্ষীণ কটী মেনে, চলইতে হেলে মধুর। জঘন গুরুয়া তাহে, কামুক মন মাহে, লালস বা প্রচুর। রাম রম্ভা তরু জিনিয়া দুহু উরু কামুক উৰু কাম সেজ। চরণকী কমল রঞ্জিত যাবকে পদনখে চন্দ্রকী তেজ। নূপুর রুমুঝুনু বােল ত সুমধুর শ্যামক শ্রবণ বিলাস । মূল নাহি লাগব কানু কিনু আনি পাশ ॥১॥ এ ভব হাটমে থির বিজুরী খেলি যায় । নিত্যগােপাল ধনে, কিবা করি দরশনে, রাধা ভাবে তনু ভায়। শতেক চাদ জিনি, শ্যামদরশ আশে ভাের। হাঁসই হেলই, বসনকী ঝাপই, খেলত নীল আঁচর ॥ অঙ্গের লাবণি
৬
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী।
হেমক প্রতিমা,
নীলবসনে ঘেরি
আনল ধরণীক মাঝ ।
কুসুমকী মালে,
অঙ্গ আগােরিয়া
করি দেল মােহন সাজ।
এ রূপ দরশনে,
শ্যাম নব ঘন
আপনি আসি মিলি যাত।
মেঘ বিজুরী খেলা, সে অপরূপ মেলা,
দুহু হােই গেল একসাথ ।
নিত্যরাধা ঢাকি
কানু তনু রাখে
ঐছন রাধাকী প্রেম।
নিত্যগােপাল ভেল রাধাশ্যামে মিলি
শামমণি ঢাকে হেম। ২।
সখি, এমন মধুর নাম।
কে মােয়র শুনাল
শুনিয়ে জপি
দিবানিশি শ্যাম শ্যাম ॥
কহিতে কহিতে
• নিত্যগােপাল
ভেল সমাধি মগন ।
আনন্দ ধারায়
দরদর ধারে
ঝরিতেছে দুনয়ন ।
.
প্রথম পর্যায় । ৭ বাহ দশা পাই সখীরে চাহিয়া রাধা ভাবে কহে বাণী। সখিরে কোথায় । বসে এ মানুষ তার লাগি কঁাদে প্রাণি। অনেক শুনেছি শ্রবণেতে নাম r এমন সে ত না লাগে। শয়নে স্বপনে সেই শ্যাম নাম আমার হিয়ায় জাগে । কোথায় বসতি কি রূপ তাহার ভাবিয়া হইনু ভাের। কি করিব সখি এই না মানুষ পরাণ হরেছে মাের। শ্যাম শ্যাম বিনু চিতে নাহি ভায় কহিতে কহিতে কথা। বুঝিয়া তখনি কঁদিয়া আকুল যের অন্তরে কিবা নিদারুণ ব্যথা। মরমী ভকত শ্যাম মিলনের গান। গাহিতে নিত্য চাদ ভেল তবে বির সমাধি মগন ||| শ্ৰীশ্ৰনিত্যপদলহরী কহনা সখি সে কথা। কোথা মাের শ্যাম সাে নবঘন কঁদি কহে নিত্যরাধা। সখীর ধরল হাতে। চাহিয়া কহয়ে কিসে বা জীষয়ে শ্যাম নাই মাের যাতে । কিবা কুলশীল, ধরম করম, হামারে তাহে কি কাজ। হাম শামধন, বিনে কছু আর চাহিনা জগত মাঝ । আমারে বলুক, যেবা যেই কথা, তাহে মাের কাজ নাই। পরাণ রতন সাে শ্যামসুন্দর তারে যদি আমি পাই। এ কুলে কি কাজ, পড়, তায় বাজ সাে শ্যাম হামারি কুল। জীবন বিকাব, যৌবন ডারিব শ্যাম সে জীবন মূল। কাদি কাদি কহে নিত্যগােপাল ভাবেতে বিভােৰ হৈয়া। এখনি আমারে সেই শ্যাম চঁাদে, আনি দেহ মিলাইয়া ।
প্রথম পৰ্যায়। ১ মধুর চাহনি গৃহে আমি আর, নারি যে রহিতে পরাণ পাগলী করে। শ্যামের বদন নয়ন কটাক্ষে যুবতীধরম হরে। শ্যামের হাসনি ভাবিয়া ঝুরিয়া মরি আমারে বাঁচাও, শ্যাম এনে দাও সখি কিসে প্রাণ ধরি। ভকত বাহিরে গাহে সুমধুর গান। শ্যামের মিলন শ্ৰীবৃন্দাবিপিনে শুনিয়া হােল মগন । দরদর ধারে অ ঝরয়ে থির সমাধি ভেল। ওকত চকোর সে চাদ রূপের সুধাপানে মাতি গেল ।৪। হেনই সময়ে, কাহে তু রােয়সি ধনি রাধে। এ হেন বচন কহি, আসি ধরল সখি, নিত্যগােপাল দুই হাতে। শ্যাম শ্যাম করি, ফুকারি ফুকারি, কাহে তুই হইলি বিকলা।
১০
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী।
কুলের বহুরী ধনী,
সাে শ্যাম গুণমণি,
তাহে তুহু বৃকভানুবালা।
শুনিয়া এ সব বাণী, নিত্য কাদি কহে বাণী
সকলি বচন সাচা তাের।
কি করিব হাম সখি, নয়নে যেখানে দেখি
সেথায় বঙ্কিম শ্যাম মাের।
হৃদয় করেছে চুরি, বল আমি কিবা করি,
উপায় না কিছু দেখি আর ।
কেবা মােরে নিয়ে যাবে, শ্যামে মােরে মিলাইবে
নাহি কেহ দুঃথ বুঝিবার ।
পােড়া কুলে কিবা কাজ কুলেতে পড়ক বাজ
শ্যামধনে হামারে মিলাও।
কাদি কঁাদি নিশি দিবা, জীবন যাইবে কিবা,
কিবা করু শ্যামধনে পাও।
কহি কহি এত কথা, সখিরে জানায়ে ব্যথা,
নিত্যচঁাদ দরদর কাঁদে।
আমি আনি দিব শ্যাম, এত কহি শ্যামনাম,
সেহ সখি গাহে মনসাধে।
শুনইতে শ্যাম নাম, ভাব ভেল অবিরাম,
সমাধি মগন নিত্য ভেল।
বহে নেত্রে অশ্রুধার, অঙ্গে পুলক সঞ্চার,
সাে অঙ্গে আভরণ কেন ॥৫||
প্রথম পর্যায়।
১১
M
ভাবে ভরল সব অঙ্গ।
নিত্য গােপাল হের
শ্যাম নাম শুনি
বাটুল হিয়া মাঝে রঙ্গ ।
কম্প পুলক ঘন
দর দর দুনয়ন
ধারা বরষি ভাসি যায় ।
গৌর বরণ ভেল
থির অচল জনু
ভাব সমাধি উপজায় ।
ক্ষণে পাই বাহ দশা, নয়নে আনন্দ ভাষা
হেরইতে ভকত বুঝিল।
শ্যাম নামক গানে,
লীলা নিকুঞ্জ বনে
সাে লীলা গীত গাহিল ।
ক্ষণে ভাবে মগ্ন হই ক্ষণে বাহ দশা পাই
কহে না করিও ঐ নাম ।
অন্তর জানিয়া সব মরমী ভকত তব
ফুকারি গাহিল শ্যাম নাম ॥
ভাবিনী ভাবে মজি,
নিত্যগােপাল অজি
মােহন করল কি লীলা।
চঁদবদন হেরি
ভকত বেরি ও
গেহ দেহ সব পাশরিলা ৬ |
,
১২
শ্ৰীশ্ৰনিত্যপদলহরী।
অনুরাগ।
সখি, শ্যামনগরে কেবা গেল।
হামারে না নিয়া
শ্যাম দেখিতে সেহ
হায় হায় একা চলি গেল ।
মন্দভাগিনী বড়ি হাম।
মানুষ যাওত
কত শত দরশনে
হামে বাম ভেল শ্যাম।
যাহ সখি দেখত
সাে নাহি যাওত
হাম চলব তাকো সাথ।
বাত নাহি করিমু তাক পিছু পিছু যামু
দিমু তাকো গায় হাত।
হামারে নিতে তাকে কড়ি লাহি লাগব,
পন্থ হাটি যাব আমি।
দিনহি রাতহি
ভােজনকী লাগি
কছু নাহি মাগব আমি।
সাে যব চলব
হাম তব চলব
দিন রাত চলি যাব।
তপন কি তাপে
পন্থকী দাপে
তিষায় জল নাহি চাব ।
নিদ নাহি যাওব
তিল নাহি তব
কর করিমু সেবা।
প্রথম পর্যায়। ১৩ শ্যামনগরকী পন্থ যাে জানত সাে মাের প্রাণের দেবা। নিত্যগােপাল এ বাত কহি কহি কাদি নয়নজলে ভাসে। ভকত হেরি হেরি রাধাভাবে হরি আনন্দনীরে তিঁহ ভাসে। বচন কহত তবে শ্যামনগর নামে গ্রাম বিরাজে গঙ্গা পার। ভকত আওল ফিরি পুনঃ যাওল , নিত্য নয়নে বহে ধার ॥৭॥ সখি, তরল বাঁশের বাঁশী হামারে করিল এমনি পাগলী পরাণে লাগাল ফাসি । এ বাণী কহিয়া নিত্য রাধাভাবে সখীরে পুছয়ে কথা। তুমি কি সে জান সেই না শামের বাঁশীটী থাকয়ে যথা। চোরের হাতেতে সিদকাটি রয় সকল মানুষে কয়। বসন চোরার সে চিত চোরার হাতেতে এ বাঁশী বয়।
১৪ শ্ৰীশ্ৰীনিত্যপদলহরী। যুবতীর মন গৃহকোণে সেই এ চোর যে সিঁদ কাটে। পাঁজর ঢসায়ে যে রতন আছে সকলি লয় সে লুটে॥৮॥ সখি, কদম্ব কাননে ঐ। শুনত শুনত কার বাঁশী বাজে কেমনে ঘরেতে রই । শ্যাম রাধা ব্রাধা বলি কাঁদে। গৃহ কাজে রই যাইতে না পারি প্রাণ পড়ে যেন ফাঁদে। আমার পথটী চাহিয়া সখিরে * কদম্বতলায় রহে। সে আমি কেমনে এমনি পাষাণী রহিলাম বসি গৃহে। আমারি নাগর কাদি চলি যাবে আমি রব কুল নিয়ে। বজর পড়ুক কুলের মাথায় আমি শ্যাম ভেটি গিয়ে। .
প্রথম পৰ্য্যায়। কহিতে কহিতে নিত্যগােপালের দুনয়নে বহে ধারা। গদ গদ ভাষ উদাস নয়নে গৌর বরণ চাহে পাগলের পারা। গৌরীর ভাবেতে উজল মধুর অতি । সখীর করেতে ধরিয়া আবার কহে করিয়া মিনতি। সখিরে আমার বেয়াজ সহে না এখনি যাইব বনে। ঐ বাঁশী শােন ঐ ঐ বাজে চাহে থির নয়নে। দর দর ধারা নয়নে গায়ে ভাবে ভরা মুখখানি। ডাগর ডাগর সে দুটী নয়ন ফুল কমল মানি। ভকত তখন বুঝিয়া-মম পদাবলী করে গান। সে নিত্যগােপাল ভাবিনীর ডাকে ভেল সমাধিমগন। ৯ | '' এনিত্যপদলহরা। অভিসার। সখি, শুন বাঁশী বাজত ঐ। গহন নিকুঞ্জে শ্যামক বাঁশরী রাধা বলি বাজে সই। হাম চলব মন মাঝ। এবাত কহি কহি নিত্যগােপাল আজু সখীগণ কহে করু সাজ। আমারি অঙ্গে সে নীলাম্বরী সাড়ি দে সখি পহিরণ করি। সিথার সিন্দুর হামে পরায়ে দিয়ে অঙ্গে আভরণ ধরি । ঐ শােন ঐ শােন রাধা রাধা রাধা কহিতে সে নিত্যগােপাল। ভাবে ভরল তনু ঝরে নয়ন দুহু সমাধি মগন ভৈ গেল । বাহ, দশা পাই শ্যাম দশে যাই আকুলি বিকুলি করে। ভকত হেরিয়া রঙ্গে, গায়ন পরসঙ্গে বংশীর গীত গান করে। শুনাইতে গীত ডুবি গেল চিত প্রেমরসে ভেল ভোের।
প্রথম পৰ্যায়।
নিত্যরাধা পানে
ভকত নেহারই
ঝরই প্রেমে আঁখি পাের।
অন্তরে বাহিরে
বংশীর তান
ঘন ঘন সমাধি মগন ।
নিত্য এ লীলা করে ভকত প্রাণ হরে
রাধা বংশীমােহন। ১০ |
কিবা অপরূপ হেরি।
নিত্যগােপাল
আজু সে ভেল
কি অপরূপ কিশােরী।
গৌরবরণ
উজলিছে ঘন
অঙ্গে মরি নীল বাস।
শ্যামর চন্দকী
বদন হেরইতে
অন্তরে বাঢ়ত আশ ।।
হামারি হাতমে
কঁদিয়া ধরল
কহত চল সখি যাব।
আজু বৃন্দাবনে
শ্যাম নবঘনে
হাম কি এ সখি পাব ।
চাদিনী যামিনী
হাসত মেদিনী
হামারি পরাণ কাঁদে।
२
১৮
শ্ৰীশ্ৰনিত্যপদলহরী।
*
কি করি হাম
সােঙরি শ্যামরূপ
এ প্রাণ থির নাহি বাঁধে।
এ মাের যৌবন
হামারি জীবন
শ্যাম বিনে শূন্য ভেল।
এ ধনি সাে ধন
যাকো না মিলল
তাকে মরিতে ভাল ভেল।
সাজন সাজায়ে
মালাটী পরব
সিঁথাক সিন্দুর দেহ।
শ্যামর চন্দকী
মােহন মেলনে
হাম ডারব সখি দেহ।
বেয়াজ না কর
হাম বচন ধর
তুরিতহি চল সখি চল।
যামিনী জাগিয়া
হামারি গ্রামধন
কুঞ্জে ভেল সে বিকল ।
তু নাহি যাওবি
হাম সে যাওব
তু বড়ি কঠিনী নারী।
শ্যামকি দরশে
নিত্যরাধা আজু
পাগলী ভেল মেরে গােরী ॥ ১১।
প্রথম পৰ্যায়। ১১৯ সখি কার বা না সাধ করে। মালিনী হইয়া সেই বনমালী মিলিতে আদর কোরে। মােরে, মালিনী সাজায়ে দে। শ্যামেরে ভেটিতে বৃন্দার বিপিনে আমি সখি যাব যে । একথা কহিয়া নিত্যগােপাল আকুলি বিকুলি চায়। মরমী ভকত মরম বুঝিয়া হাসিয়া কথাটী কয়। তা’ শুনি নিত্য কহয়ে আমারে ফুলের মালাটী দিয়ে। যেখানে যেমন সাজে প্রাণসখি দে মােরে সাজাইয়ে। আমারে ফুলের ডালিটী দে হাতে ফুল তুলি তুলি নিব। মল্লিকা মালতী বেল জাতি যুথি বঁধুরে আদরে দিব। আমার বঁধু সে ফুল ভালবাসে তাই বনে বনমালী। তাহার মালিনী হব বড় সুখ সেই মাের শােন্ আলি। ।
শ্রীনিত্যপদলহরী। দুজনে বিজনে যেই বনে মাের বঁধুমালী রয়, সে বনে মালিনী হব। এঘর দুয়ার পােড়ার পড়শী সকলি তেয়াগি যাব । কাননের ফুল তুলিব নিতুই কত। পিয়ারে পরাব আমিও পরিব মালা গাঁথি মনমত। পাখীর গানেতে মিশায়ে গাহিব আমরা দুজনে গান। মালীর মালিনী হইয়া থাকিব কিছু না চাহিব আন। শারদ হিমানি গীরিস্মি বরষা একে একে যাবে চলি। আমরা দুজনে রব বৃন্দাবনে মালিনী সে বনমালী। এমনি করিয়া যুগ যুগান্তরে অনন্তু সে কাল ধরি। মালিনী হইয়া সে বনমালীর রব সখি সাধ করি। চল সখি চল সে বৃন্দাবিপিনে শামেৰে ভেটিগে, আজ। ১}
প্রথম পর্যায় ।
সহেনা সহেনা
আমার আর
তিলেকের তরে বেয়াজ।
মরমী ভকত
শুনি এই কথা
গাহে অভিসার গান।
ঐনিত্যগােপাল
হইল তখন
স্থির সমাধি মগন ।
দর দর ধারে,
ধারা বহি যায়,
দুনয়নে অবিরল।
ভকত হেরিল
আনন্দে মাতিল
প্রেমে তনু ঢল ঢল । ১২।
*
নিত্য রসের খনি।
কহে মােরে আজ
সাজায়ে দে সব
ব্ৰজের নব মালিনী।
সেই ভাব সব
ঐনিত্য অঙ্গেতে
প্রকট হইল আসি।
ভকত যতনে
মালা আভরণে
সাজাইল হাসি হাসি ।
মাথায় বেড়িয়া
মালাটী পাল,
সাড়ি দিয়া অঙ্গ ঢাকে।
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী। ফুলের সাজনে সকল অঙ্গ সাজায়ে যতনে দেখে। মহাভাবিনীর ভাবেতে বিভাের : কহে মাের নিত্যচঁাদ। 'চল সখি যাই শ্যামেরে ভেটিতে আমার পরাণে সাধ। কেন সখি আর বেয়াজ করিছ গগনে উদিল আমার সকলি বিফল সজনি বিনে সেই শ্যামচন্দ্র । তােরা সখী সব আমারি মতন আজি সাজ মালিনী। ফুলের ভূষণে ফুলের মালায় সাজলাে সব রঙ্গিনী। চল চল সখি বৃন্দাবনে যাই আজি এ সুখের নিশি। মালিনী হইয়া মালীরে মিলিব রহিব দুজনে মিশি। একথা শুনিয়া মরমী ভকত কহে চল সখি যাই। হেন কথা কহি অভিসার গান মিলন করিল গাই ।
প্রথম পৰ্যায়।
শুনিতে সে গীত
সুন্দর গােপাল
সমাধিমগন ভেল।
হেমতে ভাই
নিত্যলীলায়
প্রেমসিন্ধু উথলিল । ১৩।
মন্দ বহত সখি মলয় পবন।
চন্দ্র উদিত ভেল উজল গগন ।*
প্রফুল্লকুসুম আজি কাননে ভেল।
সুমধুর সৌরভে দিক ভাসি গেল।
কোকিল কুহরত সুমধুর ঘন।
কুঞ্জে কুঞ্জে করে বিহগ কূজন।
নাচত ময়ুর ময়ুরী অতি রঙ্গে।
ধাত্তত হরিণ হরিণীগণ সঙ্গে।
গ্রামসনে সখি কুঞ্জ বিলাসে।..
বাঢ়ত এচিতে হামারি সাে আশে ।
এ বাত কহইতে গদ গদ ভেল।
ভকত মরমী এক গৃহ মাঝে গেল ।
নিত্যগােপাল তাহে কহে বার বার।
সাজন করু সখি দেহ হামার ।
আজু শ্যাম সঙ্গে কুঞ্জকী মাঝ ।
মিলব তুরিতহি কৰু অঙ্গ সাজ ।
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী।
-
শুনইতে হেন বাণী মরম বুঝিল।
রাসক সঙ্গীত ভকত গাহিল।
নিত্যশ্রবণ করি দুনয়ন ঝরে।
তিতিল কলেবর ভূষণ লােরে ।
ভাব সমাধি মহাভাবে ডুবিল।
রাসরসে লীলা অপরূপ কৈল। ১৪ |
রাধাভাবে নিত্য কহে।
বাদরের দিনে,
চাহি সখীপানে,
দর দর আঁখি বহে।
ঢালুক আকাশ
তার কোলে মেঘে
যতেক আছয়ে জল।
আমরা পিয়ার
দরশ লাগিয়া
যাব সখি চল চল ।
ঘনায়ে ঘনায়ে
বরষার মেঘ
কররে আঁধার রাতি।
পিয়ার মুখের
মধুর হাসিটী
আমার পথের বাতি।
কড় কড় কড়
ওরে মেঘদল
গরজ যে ইচ্ছা রােষে।
আমার বঁধুরে
পােড়ার পড়শী
সব সহি যেবা দোষে।
প্রথম পৰ্যায়। শাওনের ধারা দরদর ধারে ঝরুক সারাটী রাতি। আমার পিয়ার দরশ আশাটী আমার মাথার ছাতি। শ্যামের বরণ মেঘের সখিরে বজর যে আছে তায়। পড়ে সে পড়ক, আমার শ্যামের ছটাটী লাগিবে গায়। এবাত শুনিয়া, অভিসার গান করে। রাই মিলে কানু নিত্য মগন সুসমাধিসিন্ধুনীরে। ১৫। মরমী ভকত, ។ নিত্য কঁদিয়া উঠে। কহে সখি মােরে কহত কি করি শ্যামের চরণে ফুটে * ( 5 শ্যাম সাে গােঠেতে যায়। সেই না চরণে গােঠের মাটীর কাটা কুটে ফুটে পায় । সে না নাগরের যে দু’টী চরণ কঠিন কুচেতে মাের। -
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী।
অতি সাবধানে
ধীরে ধীরে ধরি
পাছে ব্যথা লাগে তার ।
সেইনা আমার
প্রাণের নাগর
কঠিন ভূমেতে চলে।
কেমনে ধৈর্য
ধরিব এ প্রাণে
হারাইনু বুদ্ধি বলে ।
কেমনে যশােদা
এমন ধনেরে
বনেতে পাঠায়ে দেল ।
হেরিয়া আমার
পরাণ বিদরে
সখি শ্যাম গােঠে গেল ॥ ১৬।
চল সখি, হাম চলব গােঠে আজ।
হেনই কহিয়া বাত সখীর ধরিয়া হাত
কদয়ে না সহে বেয়াজ।
নিত্য করুণ করি রাধাভাবেতে ভরি
কহে আমি নাহি রব ঘর।
যেখানে কানাই মাের সেই খানে প্রাণ মাের,
আছে পড়ে বিলম্ব না কর ।
এতেক বচন কহি
কাদয়ে রহি রহি
ক্ষণে ভেল সমাধিমগন ।
প্রথম পর্যায় । ২৭ 'অন্তর গর গর স্যামি প্রেমে ভাের * দরদর ঝরু দুনয়ন। পুন বাদশা পাই, বলে সখি আই আই শ্যাম মাের গােঠেতে যাইল । হাম অভাগিনী কিয়ে মন্দভাগিনী শ্যামক সঙ্গ না পাইল । হাম রাখাল হব শ্যাম সঙ্গে রব পাঁচনি দে মাের করে। বঁধুয়া মিলিব যাই, গৃহে মাের কাজ নাই হাম পথ শ্যাম নেহারে। শ্যামসুন্দর চঁাদ, হামারি লাগি কঁাদ আকুল মােহন শ্যাম। নিত্য কহি এ বাত মাথে দিয়া হাত কদই নিয়া শ্যাম নাম। সাে ভকত ধনী জানে নিত্য গুণমণি মরম বুঝি কহে বাণী। তুহারে নিয়ে যাব শ্যামে মিলাওব ধৈরজ ধর অব ধনি। যাওবি যদি সখি সাজনা সাজ দেখি হাম আনিয়ে ফুল মালা সাে ধনী হেন কহি কীৰ্ত্তন পদ গাহি শুনাওত রাইগােষ্ঠ লীলা ।
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী।
শুনিয়া গােঠের লীলা, সে ভাবে মগল হৈলা,
ধীরে ধীরে সমাধিমগন।
তা দেখি ভকত ধনী ত্বরিতে পাখাটী আনি
সযতনে করিল বীজন। ২৮ ||
গগাধূলি সময় যব ভেলি।
নিত্যগােপল আজু
নিত্য রাধা ভাবে
সঙ্গে সখা কানু গেলি।
গদ গদ সখীরে পুছই।
গৌঠ কি ফিরিল,
কানু কি আইল
চল সখি হেরই যাই ।
সাে শ্যাম সুন্দর
প্রাণের নাগর
দিন ভরি হেরি নাই।
প্রাণ বড়ি কাঁদে
মৃগী যেন ফাঁদে
ঘর বাহার আসি যাই।
একলি না যাব
লাজ বহু পাব
চল সখি হামার সাথ।
এ বচন কহি
সখীর মুখ চাহি
কাঁদি ধরে নিত্য হাত !
সাে মরম জানে
নিত্যে এ বচনে
প্রবােধিল ভঙ্গিমা করি।
প্রথম পর্যায় । ২৯ অব বেলি রহে কানু গােঠ মাহে অব নাহি যাব কিশােরী । বৃষভানু নন্দিনী এ শ্যাম সােহাগিনী হামারি এ বাত ধর। যব নিশি আওব অভিসারে যাব কানন মিলব নাগর । শুনইতে এ বাতে নিত্য ধনী কঁাদে ভকত কহে চল যাই। গােঠে ফিরিব কানু, সঙ্গে লইয়ে ধেনু, দেখব প্রাণ জুড়াই। হেন কহি ভকত গােষ্ঠ ফেরত লীলা গাওল আনন্দ মনে। নয়নে গলত লাের নিত্যগােপাল ভেল সুসমাধিসিন্ধু মানে ॥ ৩০ | , মােতিম হার এক ভকত রমণী আনে দেওব নিত্যগােপালে । হেরই সাে হার বাত করহ পঁহু নইতে প্রেম উথলে । নীলমণি মেরে শ্যাম। কিয়ে সখি তাকর, উজ্জল বরণ, কিবা সেই সুন্দর নাম ॥ ৭ শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী। • কত কত মণি এ ধারণ লাগিয়ে অঙ্গে আভরণ ধরু। হামারি শ্যামে সে নারী ভাগিনী যাে হার কণ্ঠকী করু॥ কঠিন এ মণি হিয়া দুখ দেওত নবনী শ্যামক কায় । পরশ হি জানত, যাে নারী ভাগিনী সাে আন পরশ না চায় ॥ এমনি চোরইতে চোর ধাওত পিছু শঙ্কা দেওত মনে ভারি। শ্যামমণি মেরে, যাে চোরি করু চাহে চুরি হােই যায় সাে নারী। আঁধিয়ারে রাখি, এ মণি ভয়ে থাকু শ্যামমণি আঁধিয়ারে। উজোর দশদিশি করত মধুর হাসি হাম নয়ন মনিয়ারে। শ্যাম মণিক সখি যে নাহি হেত কণ্ঠ ধারণ নাহি কেল। নারী জনম তার জীবন যৌবন সকল বিফল ভৈ গেল । এবাত শুনতে চিত অতি সচকিতে- সাে নারী থির চাহি রহে।
প্রথম পৰ্যায়। হেনই সময়ে এক ভকত আসিয়া বাত মধুর অতি কহে। হার গড়ল ইহ কৃষ্ণনগরে যাই তােহারি লাগিয়ে শুন ধনি আন দেহ মােরে নিত্য আদর করে হাত বাড়ায়ে কহে বাণী ॥ ৩১ | । সাে মেরে সুন্দর কানাই। হেইতে অপরূপ, কানুকো সাে রূপ, সুধাকী সিন্ধু অবগাই । তাক বদন চঁাদ হামারি এ আঁখি তিয়াসী মুগধা চকোরী। নিরখই নিরখই সাে সুধা পিবইতে পিয়াসা না মিটে হামারি। পিয়াক হসনি এ সখি এ সখি পাগলী করি দেয় হামে। হিয়ার মাঝারে ধক ধক করে বঙ্কিম নয়নকী ঠামে। হামারি পানে চাহে হাম মরি তাহে চাহনি পরাণকী কাড়ে। লাজে থােড়ি হেরি চাহি ফিরি ফিরি, শ্যামরশতৃষা বাড়ে। 74 L শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী। । কোটী যুগে যুগে 1 এ সখি কিবা কব হামারি নাগর রূপ সে নয়নে না ধরে। কোটী আঁখি মিলে অনিমিষে সাে রূপ হেরে । তবুহু দরশ আশা মিটে না মিটে বাঢ়ি বাঢ়ি সখি যাও। হামারি শ্যামর চন্দকী দরশন যাে ভাগী সাে নারী পাও। হামারি নাগর বংশী করে ধরু মােহন কিবা সেহ ঠাম। বৃন্দাকী বনমে বংশী বাজাত গান করত মেরে নাম। এ সখি এ সখি বাজত ঐ গুন ফুকারে রাধা রাধা বাঁশী । এ বাত কহইতে বাত নীরব ভেল মন্দ মন্দ মুখে হাসি । দুনয়নে দর দর আনন্দে ঝরে ধারা সমাধিমে মগন ভেল। ভকত সাে রূপ হেই হেই আনন্দ নীরে ডুরি গেল।
প্রথম পর্যায়।
.
উজোর চন্দ্র গগনে।
বহত ধীর পবনে।
হাসত নিত্যগােপাল।
রাধাভাবে মাতােয়াল।
চল চল সখি কুঞ্জে।
হের কত পুঞ্জে পুঞ্জে ॥
প্রফুল্ল কুসুম ভেল।
শ্যাম দরশন দেল ।
জীবন যৌবন নারী।
শ্যামে দিব হাম ডারি ।
তুহারি সখি সাে শ্যাম।
সাে করু যে তুয়া কাম ॥ ৩৩।
*
-
বাসকের ভাব জাগে।
সে নিত্যগােপাল
তনু মন ভাের
রাধা-প্রেম-অনুরাগে।
আজু এ রজনী
সখীরে কহয়ে বাণী।
শ্যাম না আইল
কেমনে ধরি পরাণি ।
?
=
শ্ৰীশ্ৰনিত্যপদলহরী। এই মালা সখি যতনে গাঁথি দিব সে শ্যামের গলে। শ্যাম নাহি এল, এ মালা হেরিয়া অঙ্গ দ্বিগুণ জ্বলে। এই সে চন্দন করিব লেপন আমার বঁধুর গায়। বঁধু নাহি এল হায় এ কি হল নিশা বুঝি চলি যায়। যতন করিয়া সেজ বিছাইনু ফুলের সাজনা করি। এমন চঁদিনী যামিনী লাে সখি কোথায় নিঠুর হরি। কপূর ডারিয়া চুয়াটী মাথিয়া তাম্বুল রচিনু হাতে। সাে চাদবদনে দিতে যে নারিনু কে বাদ সাধিল সাধে। আমারি নাগর আমারে ছাড়িয়া কোথা সখি আজু গেল। নয়নে কাজর সিথায় সিন্দুর সবি মাের মিছা ভেল। অঙ্গের ভূষণে এ মালা চনে কি কাজ বলনা আর।
প্রথম পৰ্যায়।
এই ছার দেহ
কি কাজ ধরিয়া
আজি যমুনায় ডার।
কহিয়া কহিয়া
শ্ৰীনিত্যগােপাল
অঝোর নয়নে কাঁদে।
পরাণ আকুল
বসন তিতিল
প্রাণ না ধৈর্য বাধে।
কঁদনা দেখিয়া
মরমী ভকত
গাহিতে লাগিল গীত।
সময় বুঝিয়া
বাসকসজ্জা
সেই নিত্য মনােনীত।
এক এক করি
গানটী গাহিয়া
শ্যামেরে মিলায় আনি।
ধীরে ধীরে ধীরে
সমাধি মগন
ভেল নিত্য গুণমণি। ৩৪।
বর্ষাকালােচিত।
ঝর ঝর ঝরতহি পানি।
এ সখি কুঞ্জমে
শ্যাম নাহি আওল
গুরু গু মেঘ গরজানি।
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী। M এ বাত কহি কহি নিত্যগােপাল তথি চাহি আকাশ পানে রহে। শাঙন দিনমে অঝােরে গগন ঝরে নিত্য কাদি কঁদি কহে ॥ এ সখি ধৈর্য না ধরু পরাণে দিন আঁধিয়া আজু ভেল। নাহি কছুক সাড়া সে সে। জলধারা একতান কি বা ভেল। সাে ধনী শুনইতে মেঘকী গরজনে মেঘকী দরশন পাই। শঙন দিনমে কুঞ্জ কুটীরে হামারি শ্যামে নাহি পাই। ইথে কিবা জীউ ধরি হাম যাব মরি জীতে মাের আছু কোন কাম। হেন বাত কহি কহি গগন চাহি চাহি কাঁদই নিত্য গুণধাম। শঙন সাে মাস জলধারা ঝরই গগন ঢাকল মেঘমালে। ভকত মরমী এক লই এক কুসুমকী মালে। বৃক্ষকী পত্রে টপ, টপ, ঝরু পানি সে। সে ধারাকী শবদ। ঐখনে আওল
প্রথম পর্যায়।
৩৭
১।
নাহিক আর ধ্বনি পশু পাখী নর কিবা
কোই নাহি করত শবদ ।
টুপটাপ, পত্রকী পানি পতন ধ্বনি
শুনি কহত নিত্যরাধা।
এ সখি এ সখি
পদকী শবদে শুনি
আওল বুঝি শ্যামাদা।
সে ধনী মরমী
মালাকী লুকাওল
দেখাও নিত্যধনে।
লুকাইতে দেখই ডাকি ডাকি কহই
এ সখি কি কর গােপনে।
তৈখনে সাে ধনী মালা দেখায় আনি
মরম বুঝিয়া বাত কহে।
শ্যামরচনকী
লাগি আনিনু মালা
শুনিয়া কাঁদিয়া নিত্য চাহে।
এ সখি সাে শ্যামে কঁহা মিলব হামে
পরাওব ফুল কি এ মালা !
আজি এ শাঙন
দিনকী আঁধিয়ারে
খামাদ করু আলা ।
শুনিয়া এতেক বাণী মরমী সে সখী
গাওল সুমধুর পদ।
বরষা কো ধারে সাে তান মিশি গেল
কছু আর নাহিক শবদ।
ক
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী। শুনইতে গীত নিত্য প্রেমে ভােরা নয়নমে দর দর ধারা। থির সমাধি ভেল ভকত নেহারিল ভেল সাে আপন হার। ৩৫ | মান। মান ভরমে আজু ভাের। হের সখি হামারি এ নিত্যগােপাল কিশােরী ভেল কিশোের । চাঁদবদন বাসে ঢাকে। কহত বাণী উলটে পানি হাম যাই যব ডাকে। ক্ষণ পরে সে কহে এ সখি শুন বাত শামসখী যেবা হােয়। তাকর কুঞ্জকী বাহার কর যাই এ বাত কহি নিত্য রােয়। ধারা নয়নে বহে হাম বুঝনু তব মান রসে রাই ভেল। হাম কহনু ধনি কাল ভ্রমরা পঁহু সবহু বাহার কর দেল। হামে কহে পুনঃ হামারি বচন সঁচ করি তুহু জান।
প্রথম পৰ্য্যায়।
৩৯
কাল কোকিল হাম
কুঞ্জে না রাখব
ধীরে করহ অবধান।
হেনই সময়ে তথা কোকিল কুহরিল
নিত্যগােপাল কহে দেখি।'
কুঞ্জ হি কুঞ্জে
অব সব বোলত
কা করু তু সব সখি ।
হাম কহনু সখি
শ্যাম কি আওল
কোকিল উৎসব কেল।
শ্যাম নাম নিতে
ধারা নয়নে বহে
নিত্য সমাধি ভাবে গেল ।
সুন্দর অধর
মৃদু মৃদু
কাপই
গলিত কনকসম ভাতি।
হেরিয়া হেরিয়া
সাে নিত্য সুন্দর
প্রাণ মম উঠে মাতি। ৩৬
চোরার সঙ্গে চোরা।
মাের সখী হােয়ে মােরে ভাঁড়াইয়ে
এমন করিস তােরা।
আমি ত ক’য়েছি কথা ।
নীলবাস আর
আমি পরিব না
দিতেছ মিছে এ ব্যথা।
৪০ শ্ৰীশ্ৰীনিত্যপদলহরী। 1 নাল সাড়ি এক যতন করিয়া ভকত রমণী নিয়া। গুরুদেবে দিবে এই মনে করি নিত্যেরে ভেটিল গিয়া। সেই না ধনীরে দেখিয়া নিত্য মানের ভরেতে থাকি। কহিল বচন ধনী সে বচন শুনিয়া উঠিল কপি। কহে অপরাধ কি মুই করিনু আমারে নিদয় এত। নিত্য কহিল বৃন্দারে কহিয়া করিব মনের মত। তােরা ত আমার কথা শুনিবি না আমারি সঙ্গেতে আড়ি। কুঞ্জের দুয়ারে ভেট করিবারে এনেছ বুঝি এ সাড়ি । শুনি এত কথা ভকত মরমী মরম সে জন জানে। কথাটী শুনিয়া সকলি বুঝিল কহে চাহি নিত্য পানে। এই আমি দিমু তাড়ায়ে ইহারে আম্পর্ধা ইহার এত।
প্রথম পর্যায়। ৪১ আমার সখীরে নীলবাস আনি দেখায় করি বেকত ৷ দুঃখ পাই সেই রমণী ধনী বাহিরে আসিয়া বসে। ভকত মরমী আসিয়া কহয়ে ঘটিল ভাগ্যের বশে। সকল শুনিল রমণী সিল আনন্দ বাঢ়ল মনে। অপরাহু কালে নিত্যগােপাল ডাকিয়া আনিল তানে। সেই সাড়ি পরি আপনি বসিল যেন বৃকভানুবালা। ভকতেরে কয় পরাও আমাকে ফুলের কঙ্কণ বালা । ফুল আভরণ যেখানে যেমন সাজায়ে সাজাও মােরে। রাধা ভাবে মজি গৌরীর দুলাল t বাঁধে সবে প্রেম ভােরে ॥ ' ফুলের সাজনে শ্রীনিত্য সাজায়ে নােলক নাসার দেল। চরণে নুপুর কটী-তটে বেড়ি দেল ফুলের কিঙ্কিণী ৪২ শ্ৰীশ্ৰীনিত্যপদলহরী। তাম্বুল বদনে অধরের রায় হাসনি মধুর কিবা। সাজাতে নিত্যেরে মনের মতন অবসান হ’ল দিবা। নিশার উদয় হেরিয়া তখন নিত্য রাধাভাবে কহে। চল সবে যাব শ্যামেরে ভেটিব গৃহে থাকা আর নহে। হেন কথা শুনি জনেক ভকত ধরিল মধুর গান। শ্যাম নাম শুনি ভাবে ভরল পুলকিত তনু মন । প্রেম আনন্দে নিত্যরাধা মাতে নয়নে আনন্দ ধারা। সমাধি মগন শ্রীনিত্য হেরিয়া ভকত আপন হারা । যেই না রূপসী নীলবাস আনে হেরি সে নিত্যের শােভা। আপনা ভুলিল শ্রীনিত্যে মজিল হেরি রূপ মনােলােভা। ৩৭।
প্রথম পৰ্যায়। শ্যাম লাগি নিত্য কঁদে । রাধাকী মান মহাভাবে মাতল সখী কহে নিত্যাদে। তু মেয়া বজরবুকিনী। সাে শ্যাম সুন্দর আওল কুঞ্জপর মন্দ কহলি কত বাণী। চাহলি ফিরি, দেওলি কত গরি, আর করব কিয়ে হাম। রােয়বি রােয়বি অব কি বা, করবি কো মিলাব আনি শ্যাম । এ বচন শুনি নিত্যরাধা মণি ফুকারিয়া উঠে তিঁহ কাদি। সখী মরম জানি বাত করত এই হাম আনব পুন সাধি ॥ তু ভারি দেই গারি দুখ দেওবি শ্যামচাদে। হেরি সাে গুণমণি প্রাণ তুহার নাহি কাঁদে। শুনিয়া এ বাণী নিত্য রাধা ধনী মিনতি করি করি নােয়। হাম না গারি দেব যদি শ্যাম না পাব আর সখি না দেখবি মােয়। - কুঞ্জ বাহার করি তু বড়ি কঠিনী
88
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী।
এ দেহ যমুনামে
ডারব ডারব
কিম্বা তেজব বিখভখি।
হামারি নাগর
সাে শ্যাম সুন্দর
না মিলব আজু সখি ।
শুনইতে এ বাত
সখীচিত হরষিত
বাহে কহয়ে এক বাণী।
স্যাম হাম আনব
গারি না দেওব
কোরে করবি ধরি পাণি।
আপন হামতে
মুছাবি গাতমে
বৈঠবি তার সঙ্গ।
সাে শ্যাম সুন্দর
রাখবি হিয়া পর
ইথে না করবি রস ভঙ্গ ।
হেনই কহিয়া কথা গাহে মধুর গাথা
সাে সখী মানকী লীলা।
কৃষ্ণ আসি মিলল
রাধা পাশে বৈঠল
দুহু দুহা আলিঙ্গন দিল।
শুনিতে শুনিতে গীত, নিত্য রাধা সুচরিত
ভাব তরঙ্গ উছলিল ।
নয়নকী ধারা বহে
বসন তিতিল তাহে
নিত্যসমাধি উপজিল ॥ ৩৮ |
প্রথম পর্যায়।
৪৫
কঁহা হামারি সখি শ্যাম।
জিউ নাহি বাঁচব সাে শ্যাম না পেখি,
হামারি নয়নাভিরাম ॥
।
।
*
সেহ মাের প্রাণের নাগর ।
সেহ বিনে মরি যাই, দেহ আছে প্রাণ নাই,
প্রাণনাথ মাের প্রাণেশ্বর।
শ্যাম নয়নের তারা, সে মাের গলার হারা,
সেহ মাের হৃদয় রতন।
সিঁথার সিন্দুর মাের দুনয়নে সে কাজর,
শ্যাম মাের অঙ্গের ভূষণ।
শ্যাম সে অঙ্গের বাস,, শ্যাম শ্যাম শ্বসে শ্বাস,
শ্যাম মাের তনু প্ৰাণ মন।
শ্যাম বিনে আমি নাই, শ্যাম ধনে নাহি পাই,
যমুনায় ডারিব জীবন।
এতেক কহিয়া বাণী সে নিত্যগােপাল মণি
ভাসি যায় নয়নের জলে'।
ভকত কহয়ে তুমি কঁদনা কঁদিয়া ভূমি
ভিজাইলে কিবা হবে ফলে ।
যাই আমি শ্যাম আনি, তুই নারী যে কঠিনী
জানি আমি শ্যাম হারাইবি।
শ্যাম শ্যাম শ্যাম করি রাই দিবা বিভাবরী
জানি আমি তুই যে কঁদিবি ।
৪৬
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী।
'একথা কহিয়া ধনী সঙ্গীত লহরী আনি
মানভঙ্গ গাহিতে লাগিল।
শ্যামের উদ্দেশ করি
সখী বনে বনে ঢুড়ি
শ্যামে যাই দেখিতে পাইলা।
এইরূপ পদ ধরি সখী কৃষ্ণ সঙ্গে করি
ল’য়ে আসে রাইয়ের সকাশে।
রাইয়ের মান যে গেল শ্যামকী মিলন ভেল,
নিত্যরাধা শ্যামকী পাশে।
ঝর ঝর আঁখি ঝরে পুলক শ্ৰীঅঙ্গ পরে
ভাবের ভূষণে শােভা ধরে।
সােনার গােপাল আজ সমাধি মগন ভেল
হেরি ভকত ঝুরি মরে ॥ ৩৯ |
মাথুর।
সাে শ্যামসুন্দর মেরা।
নিশিদিন জাগে
হিয়ায় আমার
আমার সে মন চোরা।
তারে হৃদয়ে পুরিয়া রাখি।
যখন তখন
পরাণ ভরিয়া
চাহিয়া চাহিয়া দেখি।
সােণার পালঙ্কে
হৃদ মাঝারে
রাখিব শােয়ায়ে তারে।
প্রথম পর্যায় । ৪৭ জাগাবনা আমি কারে না দেখব রাখিব আদর করে। সুখেতে ঘুমাবে আর বল তারে কোন জন দেখা পাবে। কেমনে তাহারে মথুরা পুরীতে রথে করি নিয়া যাবে। ঘুমাক্ ঘুমা আমার শ্যাম আমারি এ হিয়া মাঝ। সােহাগ শয়নে সুখেতে থাকুক আমার হৃদয়রাজ। কহিতে কহিতে নিত্যগােপালের পুলকে পুরিল অঙ্গ। নয়নেতে ধারা বহে অবিরল উঠিল ভাব তরঙ্গ। ধীরে ধীরে ধীরে থির অচল সমাধিতে নিমগন। সােনার মুখের শােভাটী হেরিয়া ভকত সুখে মগন । ৪০। বক্ষ আছাড়ি মুহু কাঁদে। সাে নিত্যগােপাল বচন না শুন চিত থির নাহি বাঁধে।
৪৮ শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী। কঁহা প্রাণেশ্বর সাে শ্যামসুন্দর কঁহা সাে বল্লভ মাের। ফুকারি কহয়ে দারুণ সে ব্যথা কহইতে ফাটে বুক মাের। কঁহা বংশীধারী হামারি নাগর কঁহা হামারি চিত চোর। কঁহা যাওব হাম মিলব কানুধনে কঁহা শ্যামসুন্দর মাের । হামে দরশ দিয়া, চাদমুখ দেখাইয়া চোর পলাওল কঁাহা। কাহা ধনি যাওব সো শ্যামে পাব দারুণ শেল মনমাহা। এত কহি সুন্দর নিত্যগােপাল ধন ফুকারি ফুকারি কান্দে। কালিয়া নাগর শঠ নিঠুর বর হামে ফেলিল রূপ ফাঁদে। ব্যাধ মৃগীরে যেন বাগুরা করি হেন ধরয়ে মারয়ে প্রাণে। সাে লম্পট হামে বঁধল রূপ ঠামে হানল বিরহক বাণে। কিয়ে বা দোষই সখি, হামারে সাে না দেখি রােয়ে কতই পরকার।
প্রথম পর্যায় । ৪৯ কো রাখল ধরি হামার প্রাণ হরি, ভেল কছু দয়া তার। কোন কাজে পিয়া গেল, কিনা তার শেষ হৈল ভাবিয়া কিনারা না পাই। আমারে ছাড়িয়া পিয়া আন কাজে মন দিয়া থাকিবে তা’মনে ভয় নাই। যদি দুই চারি দিন, মােরে ছাড়ি তনু ক্ষীণ, হবে পুনঃ আমারে দেখিলে সুন্দর বদন কানু, সুন্দর হইবে তনু, ব্রজে আসি আমারে পাইলে । আমারি লাগিয়া তার, সখি হৃদে বার বার উঠে যে লালসা দিবানিশি। তাই ভাবি দুখ পাই, আন কাজে মন নাই হারায়েছি আমি যেন দিশি। সুন্দর বদন কানু মদনমােহন তনু, কেবা নারী তাহারে দেখিয়া । পরশি আপন সুখে, পিয়ারে যে দিবে দুখে, ভাবি তাই যাই যে মরিয়া । মথুরার পথ দিয়া, যে যায় তাহারে গিয়া, বল সখি আমার একথা । শ্যাম আসা আশা নিয়ে, এ জীবন ধরিয়ে, হলে পাষাণে কুটি মাথা। ৪
শ্ৰীশ্ৰীনিত্যপদলহরী।
সখিরে কি কব কথা আমার প্রাণের ব্যখা
সব সহি যদি তার সুখ।
সেবা যদি
মথুরায়, আমারে ছাড়িয়া যায়
সুখে থাকে সেই মাের সুখ ।
সেথা ত নিকুঞ্জ নাই বৃন্দার বিপিন নাই
সেথা নাই ময়ুর ময়ূরী।
সেথা কি পিয়ার সুখ ভাবিতে আমার দুখ
পরাণে কেমনে থির করি ।
কহিয়া গােপাল হেন,
ব্যথিত হরিণী যেন,
শরঘায়ে করয়ে রােদন।
উঘাড়ে আপন হিয়া দুইটী নয়ন দিয়া
বহে ধারা প্রবাহ যেমন ।
অঙ্গ তিতিয়া হায় বসন তিতিয়া যায়
ধারা বহে ভূমির উপরে।
সােনার গােপাল আজি
মাথুর বিরহে মজি
ভাসে যেন দুখের সাগরে॥ ৪১
কিবা সুখে পাখি গায় ।
বৃন্দার বিপিনে
স্যামধন বিনে
বহেনা মলয় বায় ।
যমুনা লহরী আর।
সখিরে তেমন
নাচিয়া বহেনা
দেখিনা রঙ্গ তার।
প্রথম পৰ্য্যায়। ৫১ , সখিহে দেখত ফুলের কুঞ্জে সে হাসিটী ত আর নাই। এমন বৃন্দা বিপিনে আমার সে শােভা সখিরে নাই। দেখনা ময়ূর ময়ূরী নাচেনা গুঞ্জনা মধুপ কুল। কোকিল পাপিয়া ছাড়িয়াছে গান হয়ে গেছে সব ভুল। বিষাদের ছায় এ কুঞ্জ কানন ঢাকিয়া ফেলেছে আজ। সে চাদ বিহনে সকলি আঁধার কোথা সে হৃদয়রাজ। কহিতে কহিতে হেন কত কথা নিত্য কাদে ফুকারিয়া। কঁদিতে দিতে মাথার চুলিতে টানে জোরে হাত দিয়া। কঁদিতে কাদিতে কভু থির হয় অচঞ্চল সব অঙ্গ। নয়নেতে ধারা মহাভাবিনীর ভাবেতে জারিল অঙ্গ। ৪২॥ , ৫২ শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী। ។ চন্দ্রবদন শ্যামে। আমি কি পাইব বল সখি বল দেখিবারে এ জনমে । সখি, আমারে গেল যে ছাড়ি। সাে শ্যাম বিহনে মিছাই জীবন মিছাই এ ঘর বাড়ী। মিছা এ যৌবন নারীর জীবন শ্যাম সুখে নাহি লাগে । শ্যাম না আসিবে । আর না ফিরিবে ভাবি বুকে শেল লাগে । বলে গেছে শ্যাম দুই চারি দিন মথুরায় আছে কাজ। ত্বরিতে আসিবে এই বৃন্দাবনে জানি কেন বেয়াজ । আমারে ছাড়িয়ে তার মনে সুখ নাহি যে ভাবি এ কথা। কিবা করি মুই কাহারে সুধাই বাঢ়য়ে অন্তরে ব্যথা। কিবা তার দোষ মোর প্রাণনাথ কি কাজে সেথায় থাকে। আমারে স্মরিয়া কঁদে কত সে বা কি ঘাের বিধির পাকে। । -
প্রথম পর্যায় ।
মথুরার পথে
গগণে উড়িয়া
পাখিটা যায়রে সখি।
চাহিয়া চাহিয়া
আপনা ভুলিয়া
আমি সে তাহারে দেখি।
দলে দলে মেঘ
সাজিয়া সাজিয়া
মথুরার পথে যায়।
শ্যাম নব ঘন
হেরিবারে সখি
পরাণ ফাটিয়া যায় ।
কহিতে কহিতে
দুহাত তুলিয়া
হুহু স্বরে নিত্য কাঁদে।
যতনে ভকত
ব্যজন করয়ে
হেরিয়া বদনাদে।
কঁদিতে কাদিতে
ভৈ গেল থির
নয়নে গলয়ে ধারা।
মাথুর ভাবেতে
নিত্যগােপাল
হােল পাগলের পারা। ৪৩।
যে দেশে গিয়াছে শ্যাম।
যে দেশে মানুষ
বুঝিবা সখিরে
ভুলে গেছে আন কাম।
৫৪ শ্ৰীশ্ৰীনিত্যপদলহরী। । তারা কি সখিরে, গৃহের করম আর করে মন দিয়া। সে দেশের নারী, আর কি সখিরে আছে বাঁধি তার হিয়া । সে দেশের পশু পাখী যত তারা শ্যামের সে অঙ্গ চাই । গােঠেরে যাইতে আধার খুজিতে তারা ত ভুলেছে সই। সে দেশের নারী আন কাম ভুলি থাকে সেই পথ চেয়ে। যেই পথে মাের প্রাণের নাগর যায় গাে হেলে দুলিয়ে। তাদেরি নয়ন জনম সফল শ্যাম দরশন করে। হাম অভাগিনী, আমি লাে দুখিনী পেয়ে হারাইনু তারে। এই কথা কহি কঁাদি কঁাদি উঠে চিত থির নাহি বাঁধে। ক্ষণপরে একি হুহু স্বরে কঁাদি বেয়াকুল নিত্যরাধে ॥ ভকত জনেক সেই নিত্য দশা হেরে । গৃহে প্রবেশি
প্রথম পর্যায় ।
মরমী সে জন
মরম বুঝিল
মাথুরের পদ ধরে।
শ্যাম সে আইল
ভাবের মিলন
এমনি করিয়া গাহে।
শুনিতে শুনিতে,
নিত্যগােপাল
মজিল সমাধি মাহে ॥ ,
দর দর ধারে
আঁখি ঝরি যায়
দেখরে সােনার গােপাল।
মহাভাবিনীর
ভাবে লীলা করে
আজি সে গৌরীদুলাল ॥ ৪৪।
শ্যামসুন্দর কঁাহ মাের ।
জীবন যৌবন
বিফল সকলি ভেল
কঁহা পলাওল চোর।
কঁাদৰ কঁাদব
দিন গোয়ায়
শ্যাম আওব এই আশ ।
দিন চলি যাত
রাত চলি যাও
বাঢ়ত হিয়াকী হুতাশ ।
কো সখি যাও
শামক আনব
হামার বাতকী কহে।
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী। হামে ছাড়ি শ্যাম দুখ সাে পাওত ইথে হিয়া মাের দহে। কো ধনী নিদারুণী দুখ পাওত শ্যাম জানি না ছাড়ত তায়। বৃন্দাবনধন বৃন্দাবন ছছাড়ি তার সুখ নাহি হােয় । এ সখি মথুরাকী পন্থ কো জানত যাহ পুছসি তাকে। বাত। মিঠা কহবি বাত মিনতি বহু করি তাকো জোড়বি দুদু হাত। কা করব সখি জীউ নাহি যাওত শ্যাম দরশ নাহি পাও। কাঁহা চিত চোর বংশীধারী মেরে কৈছনে দরশন পাও। এবাত কহইতে ফুকারি ফুকারি রােয়ত নিত্যগােপাল। ভকত শুনইতে মরম বুঝিল গায় মাথুর দেই তাল । ভাবী যাে গীত মধুর মিলন - সাে সেহ গায়ন করে। সমাধি মগন ভেল নিত্যধন দর দর দুনয়ন ঝরে। ৪৫।
প্রথম পৰ্য্যায় । ৫৭ কঁহা শ্যামে সখি পাই। কঁহা ঢুড়ব হাম কাঁহা যাওব হাম কাঁহা মিলব কানাই হাম এ কুলকী বহুরী। লাজে কাঁহা সখি ঢুড়ই নাহি পারি কো শুনে বাত হামারি। কো পথ মথুরাকী কো মুঝে বাতাওব হাম অভাগিনী নারী। পাগলি কহি হামে, বাত না বাতাব: মুঝে দিবে সখি গারি । কাহাকু সাথমে চলইতে না দেব কো বুঝে মরম হামারি। শ্যাম ছাড়ি গেল কো মাের আর আছে অনাথিনী হাম এ নারী। মাকর লাগিয়া কাঁদিয়া কাদিয়া দিন রাত বহি যায়। সাে মেরে সুন্দর হামারি নাগর কাহা ডুব হাম হায়। শুন জীবন ভেল, সাে শ্যাম কঁহা গেল, এ জীউ না গেল হামারি। বজরকী হাড়ে পাষাণকী পাজরে বিধি দেহ গড়ল হামারি।
ঐশ্রনিদলহরী ত্যপ। -- । শূন্য কেলিবন কঁহা পরাণ ধন বৃন্দাবন ধন কুঞ্জকী মদনমােহন। কাহা মনচোরা গােপীবসনচোরা কাহা মেরা বংশীবদন। শূন্য বৃন্দাবন রােয়ত তরু লতা পাখি। যমুনা নােয়ত ময়ুর রােয়ত রােয়ে পবন বন উঁকি। হাম গােয়ব কত জীউ নাহি যায়ত এ সখি পাষাণ এ হিয়া। এ বাত কহি কহি ফুকারি ফুকারি সাে নিত্য উঠত কাদিয়া। আকুলি ব্যাকুলি, মাথে টানে চুলি, ক্ষণে থির সেহ ভৈ গেল। থির সমাধি হােয় দরদর দুনয়নে ধারা বসন তিতি গেল । নেহারি ভকত দেখত দেখত এ মহাভাবতরঙ্গ। মাথুর কি ভাবে নিত্যগোপালকী লীলা বিরহ প্রসঙ্গ। ৪৬।
প্রথম পর্যায়। } * । কছু নাহি সুন্দর লাগি । সাে শ্যাম সুন্দর ছােড়ি মােরে গেই সব সুন্দর গেই ভাগি। সুন্দর গগনকী চান। হাম হেরি হেরি শ্যামক সােঙরি ফুকারি ফুকারি কান্দ । সুন্দর ফুটত কুঞ্জকী ফুল কুল দোলত খেলত বায়। কাহা শ্যাম মাের এ ফুল মালা আর না দিব সসা গলায় । সুন্দর গায়ত কোকিল পাপিয়া সাে নাহি সুন্দর আর । সুন্দর ময়ুর আর নাহি নাচত কাহে নাচব সখি আর । যমুনাকী লহরী রােয়ত ধাবত গায়ত বিষাদকী গান। কাননে পবন সন সন চলই শুনাওত বিষাদকী তান। হামারি জীবন খামনিধি হার। অঙ্গার সম ভৈ গেল। কিয়ে হাম পাষাণী এ সখি এ সখি জীউ নাহি শ্যাম সনে গেল। --
৬
ঐশ্রীনিত্যপদলহরী।
কহি কহি এ বাত নিত্য ফুকারি কাঁদে
না থির বান্ধে চিত।
ভকত মরমী সেহ
মাথুর বিরহ জানি
মাথুর মিলন গাহে গীত |
দর দর ধারা বহে
নিত্য নয়নে পঁহু
ধীরে সমাধিক উদয়।
হেরিয়া ভকত
সাে নিত্যমুখাদ
মহাভাব ইহ সমুঝয় ॥ ৪৭।
কৈছে ছােড়লি বৃন্দাবন।
এ শ্যাম এ শঠ
এ চোর লম্পট
কৈছে ছােড়লি কুঞ্জবন ।
কৈছে ছােড়লি কেলিকুঞ্জে।
রোয়ত ভ্রমর
রােয়ত ভ্রমরী
সুমধুর না সাে গুঞ্জে।
তু যব ছােড়লি
পিক না ফুকারই
পাপিয়া না করে গান ।
তু যব ছােড়লি
ফুলি ফুলি উড়ই
মধুপ মধু না করু পান।
তু যব ছােড়লি
ময়ূর ময়ূরী
নাচত ইহ আর।
প্রথম পর্যায় । শ্যাম নব ঘনে না হেরি না হেরি কাল তাক হিয়াক মাঝার। তু যব ছােড়লি হামারি এ বনে না নাচত মৃগী আর । তুহারে না হেরি শুক শারি মেরে বােলে কুঞ্জ' মাঝার। তুহারি বাঁশরী শুনি না শুনি ধেনু গােঠে নাহি ফিরে। তুহারি লাগিয়ে তুহারি এ ব্রজ কানু কানু করি ঝুরে । কঁহা যাওলি চলি, বৃন্দা কানন ভুলি কইছে হিলি তুহু শ্যাম। তুহারি লাগিয়ে সব কছু রােয়ত ফুকারি সদা শ্যাম নাম ॥ কঁহা নিঠুর গেলি সব কছু ভুললি, কঁহা শিখলি নিঠুরালি । ঐছন কৈছে তু অব ভৈ গেলি বৃন্দাবনবনমালী। হা হা নিঠুর হা গােপীচিত চোর চোরা কঁহা গেলি ভাগি। রােয়ত রােয়ত তুহরি গােপিনী ভাকর কিয়ে এই ভাগি।
- ৬২ শ্ৰীশ্ৰীনিত্যপদলহরী। হা হা কঁহা গেই সাে শ্যাম সুন্দর দশ দিশি শূন ভেই গেল। কঁহা কাহ যাব কিয়ে হাম করব হামারি জীউ নাহি গেল । এ বাণী কহি কহি নিত্য গুণমণি, কালয়ে বহুত ফুকারে। ভকত হেরয়ে মরম বুঝয়ে মাথুর মিলন গান করে। শুনই শুনই সমাধি মগন ভেই নিত্যগােপাল প্রাণ ধন। অপরূপ সাে রূপ ভকত নেহারই মাথুরকী ভাবে মগন ॥ ৪৮। আশা কি পাশ হি বন্ধ। এ সখি যাে কহে সাে বড়ি মরমী হামক আশা হি বন্ধ। গ্রাম আওব এহ আশ। জীবন মৃগীরে ধারণ লাগিয়ে আশা হওল মেরে ফাঁস । কে জানে কোন দিনে, আর শ্যাম আওৰ দিন বহি বহি যায় ।
প্রথম পৰ্যায়।
৬৩
পন্থ চাহি হাম
জীবন গোয়াইনু
শ্যামকী আসা আশায়।
হাম অভাগিনী
সাে শ্যাম সুন্দর
পাইমু সাে ছাড়ি গেল।
দারিদ্রে রতন
বিধি মিলাওল
ভাগ্যে হামে খােই গেল।
রাত দিন বহি
চলি চলি যাওত
আওল মেরে শ্যাম।
দু’চারি দিন কিয়ে
মাস বরষ গেল।
তবু না দরশ পাই হাম।
কাহে জীবন রাখি
ডারব ইহ দেহ হাম ।
এ বাত কহইতে
ফুকারি ফুকারি
কান্দই সে গুণধাম।
বােয় বহুত সেহ
আকুলি ব্যাকুলি
ক্ষণে ভেল সমাধি মগন।
নিত্য ভকত আজু
সাে মুখ চাহিয়ে
অপরূপ করু দরশন ॥ ৪৯।
যমুনাক নীরমে
৬৪ শ্ৰীশ্ৰীনিত্যপদলহরী। 1 কো মিলাওব কান। হামারি মরমী কো আছে এ সখি আপনা করি তাহে মান ॥ মাস বরষ বহি যায়। নীত বরষা যায় শরৎ বসন্ত যায় ফিরি ফিরি আসি চলি যায়। বসন্তে কোকিল ফুকরি ফুকারে শারদ গগন কী চন্দ। উদত ডুবত আওত যাওত কাহা মেরে শ্যামরচন্দ । দিন চলি বাত রাত হি আওত দিন বিহানে পুনঃ আসে। হামারি শ্যাম যাে মথুরা গেল হাম রহনু তাকো আশে । সব ফিরি ফিরি আসে, শ্যাম না ফিরল এ দুখ কহইতে নারি। সাে শ্যামসুন্দর বদনকী দরশন মিলব কি আর হামারি । কাহা শ্যামধন হৃদয়কী রতন হামারি কন্টকী হারা । কঁহা নটবর প্রাণের নাগর হামার নয়নকী তারা ॥
প্রথম পৰ্যায়। কঁহা আজু শ্যাম জীবনকী জীবন গােপী মনচোরা কাহা। সাে বিনে জীবন কৈছে ধরব হাম ডারব যমুনামে দেহা । কহই কহই হেন কঁাদত নিত্য ফুকারই ব্যাকুল ভেল। ক্ষণ পরে থির সমাধি মগন দুনয়নে ধারা বহি গেল। ৫০ | চন্দ্রবদন কঁহা গেই। হামারি শ্যামধন হৃদয়কী রতন কঁহা চলি গেল সই। সে মুখ না হেরি এ সখি এ সখি হাম জীয়ে মরি রই। কো নাহি হামার বাত পুছি তাহে কো কহ মথুরামে যাই । আওৰ কহি গেল অব সাে না আওল মাস বরষ বহি গেল। কিয়ে বিধি দারুণ করু এ অঘটন শ্যামকু মথুরামে নেল । বঁধুয়া বৃন্দাকী বন ছােড়ি তার মন মাহা কছু সুখ নাই।
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী। । কুঞ্জকী সােঙরি গােপিনী সােঙরি সাে মেরে কাদে ফুকরাই । নিঠুর যত যত মথুরাক মানুষ শ্যামক মুখ নাহি চাই। তাকে রাখত ধরি, দেওত কত দুখ সােঙরি দুখে মরি যাই। করমকী এ ফের শ্যাম চলি গেল দারুণ বিধির বিধান। পাষাণ এ হিয়া বজর এ বুক ফাটি নাহি হয় খান খান। কাহা গেও শ্যাম কঁহা সাে নাগর হামারি পরাণকী চোর। বৃন্দাবন ছছাড়ি বৃন্দাবনধন শূন্য ভেল সব মাের। হা হা নটবর হা গােপী চিত চোর হা হা বঙ্কিমনয়ন। এ বাত কহি কহি কান্দয়ে ফুকারি নিত্যাদ বন ঘন। ব্যাকুলি কাঁদয়ে ঘুরয়ে ঘুরয়ে টানত আপনাক চুলি। হেরিয়া ভকত গাওত সাে পদাবলী। মাধুর মিলনে
প্রথম পর্যায় ।
শুনইতে নিত্য
সমাধি মগন ভেল
ধারে ঝরু দুনয়ন।
এ লীলা অপরূপ
হেরিয়া ভকত
ভাবিনী ভাব ইহা জান ॥ ৫১।
কাহে করত নিঠুরালি।
জগনাহ। সো পিয়া
কো নাহি পাওত
হামে মিলল শুন আলি।
সে কাহে ছােড়ি চলু
এ দুখ কাহে কব
কৈছে ধরব হাম প্রাণি।
সে চাদমুখ স্মরি
সাে হাসি সােঙরি
কাঁদয়ে হামার পরাণি।
কাহে এ দুখ কব
কো সখি বুঝ
হিয়াক দারুণ এ ব্যথা।
শ্যামে না হেরই
তব জীউ ধরই
কুটি পাষাণে মাথা।
তার সাে বাণী
সােঙরি সােঙরি
পশে কছু আর কাণে।
সাে রূপ হেরিয়া
আন রূপ এ সখি
কছু নাহি লাগে নয়ানে।
৬৮ শ্ৰীশ্ৰনিত্যপদলহরী। ৮ পিয়াক অঙ্গী সাে বাস হামার নাসাকু অব লাগি আছে। কিয়ে করব হাম কঁহা যাওব হাম শ্যাম মােরে ছােড়ি আছে। কঁহা বংশীধারী জীবন হামারি কঁহা বৃন্দাবন নট। কাঁহা ননীচোরা গােপী বসন চোরা কঁহা পলাওলি শঠ। কাহে নিদয় ভেলি হামে সদয় বহু তু মেরে সুন্দর শ্যাম। আজু কঁহা তুহু কৈছলে হলি শূন্য বৃন্দাবন ধাম। এ সখি তার দোষ না দোষ কোন কামে সেহ গেল। দু’চারি দিনমে কাম চুকি যাওব হামারে বাত কহি গেল । যাওনে তাকর ছিল মানস বিধি বিধান সব ঘটে । সে পিয়া আমারে সােঙরি রােয়ত ইথে হিয়া মাের ফাটে। কা কক কাহ যাও বুদ্ধি কিয়ে কৰু ধৈর্য না ধরে প্রাণ।
প্রথম পর্যায় ।
হামারি জীবন
না গেল না গেল
হানারি এ হিয়া পাষাণ |
এ বাত কহি নিত্য
হুহু স্বরে কাদে
আপন বুকে মারে সাট।
ভকত হেরিয়া
প্রাণ উঠে কাদিয়া
মাথুরমিলন ধরে ঝাট।
শুনইতে এ গীত
নিত্যগােপাল আজু
ভৈ গেল সমাধিমগন ।
থির কলেবর
করই ঝর ঝর
কিয়ে সুন্দর দু নয়ন। ৫২।
.
No text on this page.
এনিত্যপদলহরী।
দ্বিতীয় পর্যায়
এই পৰ্য্যায়ে শ্রীনিত্যগোপালদেবকে নবকিশাের গৌর
নটবররূপে এবং তাহার পুরুষ ভক্তবৃন্দকে নাগরীরূপে
কল্পনা করা হইয়াছে।
No text on this page.
শ্রীশ্রীনিত্যপদ লহরী
দ্বিতীয় পর্যায়
সহস্রার মহাপদ্ম সেই নিত্যধাম।
বিহরেন নিত্যপতি যথা অবিরাম।
জীবগগাপি। অভিসার কর সেই দেশে।
ভাসিবে আনন্দে প্রেম মিলন আবেশে।
সেই অভিসার পথ শ্রীগুরুপায়।
এ জগতে জীবগণ জানিবারে পায় ।
সেই অভিসারে হয় অপূৰ্ব্ব মিলন।
জীব পরমাত্মা সনে একীভূত হন।
সেই পথ দিব্যপথ ঘেরও গাহিছে।
নিত্যলয়যােগগান পুরাণ গাহিছে ৷
জীব ব্রহ্মে লয়যােগে একীভূত হন।
মধুর ভাবের এই নিগূঢ় সাধন।
মূলাধার স্বাধিষ্ঠান আর মণিপুর ।
অনাহত বিশুদ্ধাখ্য দ্বিদল সুন্দর।
অভিসার করি গােপি! চল সহস্ৰারে।
সে পরম পতি সনে সাধ মিলিবারে ॥
নটবর মনােহর নবীন নাগর।
মদনমােহন রূপ কিশাের সুন্দর।
ভজ তারে প্রেমযােগে ভজ নিত্যকাল।
শ্ৰীবৃন্দাবিপিনমালী ঐনিত্যগােপাল। ১।
৭৪
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী ।
লঘু ত্রিপদী
তােরা না কহবি সেই বাণী ।
নাম শুনি তার পরাণ আকুলি
করিছে দিবসযামী ।
কোন খানে ঘর কিবা মেনে নর
জানি না মন্দ ভাল।
কি বা সে মূরতি
কি তার আরতি
নামটি নিত্যগােপাল ।
কি জানি সজনি এ পােড়া পরাণি
ধৈরষ না ধরে ক্ষণে।
যে দিন পশেছে সে নিত্যগােপাল
নামটী এ পােড় কানে।
শুনেছিত কত
নাম শত শত
।
এমন মধুর নয়।
‘হৃদয় হরিল
অবশ করিল
ত্রিভুবন সুধাময়।
যত বার শুনি
সে মধুর ধ্বনি
শ্রবণে মধুর লাগে।
জাগরে স্বপনে
সেই নাম বিনে
আন নাহি চিতে জাগে ।
তােরা মাের সখী মাের দুঃখে দুখী
এ দুখ কহিব কারে।
দ্বিতীয় পর্যায়।
৭৫
সে হেন নাগরে
মিলে যাহারে
মরণ ভাল যে তারে।
শুন সুবদনি
মিলাওব আনি
তোমার পরাণ চোরে।
ধৈর্য ধরিবে গােপাল মিলিবে
বাঁধিবে প্রেমের ডােরে। ২
লঘু ত্রিপদী
আমি শুনিব না কিছু কাণে।
নিত্যগােপাল
নিত্যগােপাল
নিত্যগােপাল বিনে ।
এ কথা সে কথা এ বােল সে বােল
শুনিয়া বল কি হবে।
সে না নাগরের এ নিত্য নামটী
শুনিলে প্রাণ জুড়াবে।
যেমন করিয়া
সেই মানুষের
নামটী কহনা সখি।
সুধায় মাখন
নিত্য নামটা
নিত্য শ্রবণে রাখি ।
যে দিন শুনেছি
সে নাম শ্রবণে
আমি ত আমাতে নাই।
৭ ৬ শ্ৰীশ্ৰীনিত্যপদলহরী। জাগরে স্বপনে রসনা অবশে জপয়ে বিরাম নাই। আন কথা শুনি তারি মাঝে মাঝে নিত্য নামের ধ্বনি। শুনিয়া সকল কথা হয় মাের সুধাময় শতগুণি। বাণীর শবদে কিবা মিঠা আছে বঁধুর এ নিত্য নাম। শত বাঁশরীর মধুতান মাখা শ্রবণে অমিয়া ধাম। যার মুখে শুনি নিত্য এই নাম তার মুখ পানে চাই। আমার সে জন কত যে আপন মনে মনে ভাবি তাই । সেই নাগরের, নামটি যে দেশে, শনিবারে পাই কানে। সাধ হয় সখি সে দেশে পবনে মিশায়ে রাখি পরাণে। পাখী হােয়ে রব, নিত্য নাম গাব, গাছের ডালেতে বাস । পাপ ননদিনী, কি আর করিবে, কি কবে পােড়া পড়শী।
দ্বিতীয় পৰ্যায়।
৭৭
যে দেশের বায় নিত্য নাম গায়
তাহাতে মিশিয়া যাই।
নিত্যগােপাল, নিত্যগােপাল,
অনন্ত কালেতে গাই ॥ ৩||
লঘু ত্রিপদী
চিত্রপট দর্শনে-
যেন কোথায় সখি দেখেছি।
ভাবিয়া ভাবিয়া,
আবার চেয়ে রয়েছি।
কুল না পাইয়া,
নিত্যের ছবিটী হেরি।
পরাণ আমার,
আকুল হইল,
ধৈর্য ধরিতে নারি।
কোথা এ মানুষ, কেমনে বা পাব,
লালসা বাঢ়িল ভারি।
সেই চিত্রপট,
মধুর মধুর,
যতই আমি নেহারি ।
প্রাণে প্রাণে কয়, প্রাণের মানুষ,
এই ত তােমার তােমারি।
চেনা মানুষের,
ভুল কিবা হয়,
বুঝি মানুষ আমারি।
৭৮
শ্ৰীশ্ৰীনিত্যপদলহরী।
চাহিয়া চাহিয়া, দেখিতে দেখিতে,
জানিনা কি সে কারণ ॥
হঠাৎ সেই সে চিত্রের মুখেতে,
করিনু আমি চুম্বন ।
কেবা দেখে ভয়ে বুকেতে জড়ায়ে
রাখিয়া ক্ষণেক তরে ।
প্রণাম করিনু, ভকতি করি,
ধরিনু শিরের পরে ।
যে না মানুষের,
এই না চিত্র,
সেই ত গুণের নিধি।
আমার ভাগ্যে সে নিত্যগােপালে
হায় মিলাইবে বিধি ॥ ৪।
মিটে পরাণকী আশ।
এ সখি হামারি
নিত্যগােপাল নাম
কিয়ে মুহু শ্বাসই শ্বাস ।
রসনা রসিত করি
নিত্যগােপাল নাম
জপিতে লালসা, বাঢ়ল।
ফিরি ফিরি জপি নাম কেবল আনন্দ ধাম
যত জপি আশা না পুরল।
দ্বিতীয় পৰ্যায়।
৭৯
এক রসনা বিধি
গড়ি দিল হামে হায়
কোটা রসনা সখি পাই।
কোটী যুগে মিলি হা হা তান তুলি
নিত্য মধুর নাম গাই।
গগন পবন ভরে
কোটী যুগান্তরে
ধ্বনি কোটী শ্রবণ পরশে।
তবহু বহু সখি
মিটে না মিটে
মার পরাণ লালসে।
লাখ আঁখি মিলে
লাখ যুগে হেরি
লাখ রসনা মিলি গান।
করত শ্রবণ লাখ
লাখ শ্রবণ যুগে
তবহু এ পিয়াসী পরাণ | ৫ |
কি মাের সে দিন হবে।
রসের নাগরে
নিত্যগােপালে
বিধি মােরে মিলাইবে।
আমি ত অবলা
সরলা অখলা
কোন গুণ মাের নাই।
সে ত’ গুণমণি
রসশিরােমণি
আমি সে কেমতে পাই।
৮ ঐশ্রীনিত্যপদলহরী। আমার মতন তার আছে কত শতেক রমণী দাসী। ভাবিয়া মরিনু তারে না পাই গলায় লাগল ফাঁসি । কি বুদ্ধি করিব কোথা বা যাইব পরাণে সােয়াস্তি নাই। তারে না হেরিয়া মরমে মরিয়া রয়েছি প্রাণের সই। কিবা করি কাজ চিত নাহি লাগে সদা ঝরে পােড়া আঁখি। হয় সদা ভয় কে দেখে কি কয় বসনে বদন ঢাকি। প্রাণের গােপালে সে নিত্যগােপালে যদি না মিলল সই। মরণ আমার হয় যদি আজ তবে ত জ্বালা জুড়াই। ৬। চঞ্চল মানবি কতি তুহু যাবি মুঝে কহত সখি বাত। নিত্য রতন ধনে যাওবি দরশনে হাম চলব তুয়া সাথ।
দ্বিতীয় পৰ্যায়।
১
সখি, সাে করত নিঠুরালি।
সাগর মাহা ডারি,
হাসই সুন্দরি
ঘন ঘন দেই করতালি ।
দেই শিকলি গল,
কহই সে চল চল,
আপন করে রাখে টানি।
জীবন যৌবন,
হরত প্রাণ মন,
কহত চলি যাহ ধনি ॥
মিঠ বচন কহে,
শঠ হিয়ায় দহে
দারুণ তাহারই ব্যভার ।
তু সতী রসবতী,
শুন এ যুবতী,
কাহে জীউ হাত করি ডার।
নিত্যগােপাল নামে,
পাগলী করি হামে,
আনল তাহারি চরণে।
বাত কি বাত
পুনঃ কি কহবি সখি
কছু নাহি পরশে শ্রবণে
এ নব অনুরাগী ধনী ভুয়া বহু ভাগী
মিলব গােপালকী সাথ।
যাহা মাণিক বসে,
সাপিনী তাকো পাশে,
হরিপদানন্দকী বাত। ৭।
৮২ শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী। স্বপ্ন দর্শন। অমৃত সাগর। (বিধি) কোথায় থুইল সই রে। নিরমাণ করি ভাবি বােসে বােসে তাই রে। সখি, সহসা দেখিনু তারে। রসিয়া নিত্য গােপাল মানুষে, ঘুমেতে স্বপন ঘােরে। সােণার বরণ, কিশাের বয়েস, অঙ্গ ঢল ঢল করে। ননীর পুতুলি ঠিক যেন সই, পরাণ সঁপিনু তারে। চাহিয়া চাহিয়া, কটাক্ষ হানিল, অধরে হাঁসিল হাসি। তখনি বুঝি, অমৃত সাগর, আমি গেনু তায় ভাসি ॥ উঠিবারে আর, নাহিক শকতি, অবশ করিল অঙ্গ। সেই মানুষের, ঘটিবে কি সই, নিমেষের তরে সঙ্গ। তার চরণের দাসী হােয়ে থাকি, সেই না রতনে হায় রে।
দ্বিতীয় পৰ্যায়। দুঃখিনী আমারে করুণা করিয়া আনি আজি মিলায় রে। সাধ হয় মনে সেই না রতনে হিয়ায় পুরিয়া রাখি। বিরলে বিজনে, আঁখিটা মিলায়ে, • মুখে মুখে চেয়ে থাকি। ৮ | স্বপ্ন দর্শন। (ও সই) কোন বা দেশেতে যাব। বপনে হেরেছি সােণার মানুষ, তারে যে দেখিতে পাব। মুখেতে শুতিনু পালঙ্ক উপরে, চাদিনী উজোর নিশি। জগৎ হাসিছে, ফুলের সুবাসে, মেতে গেছে দশ দিশি। ঘুমায়ে পড়ি, স্বপনে দেখি, কোন দেশে আমি গেছি। সে দেশের সব সুন্দর এমনি এ দেশ ভুলিয়া গেছি। তরু লতা তার গগন পবন জণ। পশু পাখী তথা তরুতে সুন্দর ফল। সকলি সুন্দর সকলি সুন্দর শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী। যমুনা ভাবিয়া সে দেশে যাইনু আমি লাে যুবতী একাকী কানন মাঝে। দেখিয়া ভাবি এমন সুন্দর দেশে কি মানুষ আছে । ভাবিতে ভাবিতে কানন ভ্ৰমিনু সুন্দর নদীটী বয়। সেথায় যাইয়া প্রাণে এক সুখ হয়। হেরি তার তীরে কত না সুন্দর ফুটে কদম্বেরি ফুল। মধুর সৌরভে দিক্ আমােদিত প্রাণ করে আকুল। সেথায় নিকুঞ্জে পুঞ্জে পুঞ্জে ফুটে কুসুমেরি দল। কোকিল পাপিয়া পবনে অমিয়া ঢাল । গগনে পবনে উঠিছে সেথায় নিত্য নামের ধ্বনি। আমি মনে ভাবি কার নাম শুনি কঁদয়ে কেন বা প্রাণি । নামটী শুনিয়ে অবশ হই পুলকে পুরিল অঙ্গ। মধুরে গাহিছে দ্বিতীয় পৰ্যায়। হৃদয়ে বহিল অমৃতের নদী, ভাবি আমি একি রঙ্গ। হেনই সময়ে দেখি এক ধনী কিশােরী সুন্দরী সেহ। চম্পকবরণী পঙ্কজনয়নী নবনীকোমল দেহ ৷৷ আইল ত্বরিতে আমার কাছেতে কহিল সখিরে তুমি। আমাদের ভুলে প্রাণের সখিরে কোথায় আছিলে তুমি । তাহার অঙ্গের শীতল পরশে বচনে হরিল প্রাণি । সে ধনী আমার হাতটী ধরিয়া বুকেতে নিল যে টানি। মানুষের এত আমি ত না জানি কভু।.. কত ভালবাসা, সে মােরে বাসিল আগে ত দেখিনি তবু ৷ আমারে কহিল সখিরে তুমি সে এমনি গিয়েছ ভুলি। আপন মানুষে চিনিতে নারিছ কর আকুলি বিকুলি। মধুর পরশ ৬ ঐশ্রীনিত্যপদলহরী। এ কথা কহিয়া মধুর সুবাস তােমার বঁধুরে দেখিবে কি সখি আইস আমার সাথে । আমারে ধরিয়া নিয়ে যায় আন পথে। যাইতে সে পথে নাস প্রবেশিল মাের। কঁপিয়া উঠি মনেতে ভাবি | এ কি হােল ব্যাধি ঘাের। সখী মাের কয় কিছু না ভাবিহ পিয়ার অঙ্গ গন্ধ। দেখিলে বুঝিবে সে বা মানুষের কিবা পীরিতির বন্ধ। মনে ভয় হয় লালসা বাঢ়য় হেরিবারে সেই জনে। সখী মােরে কয় এমনি করিয়া ভুলেছ আপন জনে। নিত্য বৃন্দাবনে বধুরে লইয়া মেলা। কত যে করিলে হায় হায় হায় । এই সে কুঞ্জে +। ভুলে গেছ সব খেলা। এ কথা কহিয়া আমারে লইয়া কুঞ্জেতে প্রবেশ করে।
দ্বিতীয় পৰ্যায়। । = হায় হায় সখি নিত্যকিশাের দেখি বসি সে ঘরে। পরাণ হরিল দেখিয়া দিমু তখনি বুঝি সার। চির জনমের মানুষ আমার মাের কেউ নাই আর । সখি জাগিয়া শুতিনু আমি। আবার দেখিনু নিত্যগােপাল আমার হৃদয় স্বামী। আমারে চাহিয়া সিয়া হাসিয়া কহিল মধুর কথা। স্মরিয়া মরি যে এখন কাদিছি বাঢ়য়ে প্রাণের ব্যথা। সেই সে নাগর করিয়া আদর ডাকিল তাহার কাছে। কি করি কি করি ভাবিতে কদিমু সাথী মাের পিছে আছে। টানিয়া ধরিয়া লইয়া আমারে বঁধুর কোলেতে দিল। স্বপন ভাঙ্গিল সে সুখ ফুরাল আমার সখি কি হৈল । ৯। . * ; ܫ ~ ১২ ।
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী । প্রত্যক্ষ দর্শন কি পেখনু হাদে সখি, সিনানকী কালে। অপরূপ মাধুরী, গৌর কলেবর, বসিয়া নিত্য-গােপালে । } * L । , । *? এ সখি, নয়নে না ধরে সেইরূপ। , কিবা অনুপম ঠাম, জিনি শতকোটী কাম, নাগরি সে ত রসকূপ । হেরি হেরি মুখখানি, ধৈর্য না মানে প্রাণি, আঁখি লােরে ভরি গেল আঁখি। তুলের যুবতী সই, কারে বা বেদন কই, বসুনে রাখি আঁখি ঢাকি। সাথে সাথে ননদিনী, ছিল কাল সাপিনী,. ভয়ে ভয়ে কিরে এ ঘর। দেহ হেথা পড়ে আছে, প্রাণ আছে তার কাছে, সেহ মাের প্রাণের নাগর । কিবা করি গৃহ কাজ, কুলের মাথায় বাজ, পড় কি কাজ মাের কুলে। সে নিত্যরতন মণি, আমার সে গুণমণি, পাইলে হিয়ায় রাখি তুলে।
দ্বিতীয় পৰ্যায়।
এ নব যৌবন ধন,
আমার পরাণ মন,
জনমের তরে বিকাইব।
সৰ্ব্বস্ব তাহারে দিয়ে, সেই চাদ মুখ চেয়ে,
আমি নিত্য গােপালেরই হব। ১০
.
}
R
+
রূপ বর্ণনা-
প্রভাত তপনে আভা কিয়ে বা অরুণ রে।
আমার গোপাল সখি নিতুই তরুণ রে।
অঙ্গের লাবণি তার কিয়ে চল চল রে।
সােণার বরণ জিনি অঙ্গ ঝলমল রে।
চোখের চাহনি তার বড়ই মধুর রে।
যুবতীর বধে প্রাণ গােপাল চতুর রে।
চাহি চাহি পালটিতে আঁখি না পারিশ্ন রে,
যত চাই তত কঁাদি কি দায় ঠেকিছু রে,
মানুষে দেখিতে সুখ এত নাহি জানি রে।
দেবতা মানুষ রূপে মনে হেন মানি রে
শুনেছি নদীয়া ঊদ শচীর নন রে।
অঙ্গ তার কঁচা সােণা এমনি বরণ রে ।
সেই ননীচোর গােপ বসনের চোরা রে।
হাসিতে চোরিল প্রাণ এই চিত চোরা রে।
আমি ত আমার আর নাই সখি নাই রে।
কেমনে সে চাদমুখ দেখিবারে পাই রে।
ঐশ্রীনিত্যপদলহরী। চাহি চাহি হয় সাধ হৃদে পুরে রাখি রে। জগত ভুলিয়া প্রাণ বঁধু নিয়া থাকি রে। মরমের এই কথা কারে সখি কব রে । সৰ্বস্ব বিকায়ে আমি তার দাসী হব রে। ১১। ওলল সােনার নিত্য কিশােরী। কি মেনে হইলি, এমন পাগলী, আমার রসের নাগরী। । । । } তুই ছাড়িলি ভােজন পানি। নিত্যগােপাল দেখেছ বুঝি সে মনে আমি অনুমানি খাইতে বসিতে শুইতে উঠিতে একি বল হােল তাের। কি রসে রসিয়া, নাতিনি আমার, তুমি হােয়ে আছ ভাের। নয়নের জন্য, থামেনা তােমার, লুকায়ে লুকায়ে কাঁদ। ডাগর ডাগর, ছল ছল আঁখি, রাঙ্গা ও বদন চাঁদ। আকাশের পানে, চাহি চাহি রও, কথাটা না শুন কাণে।
দ্বিতীয় পৰ্যায়। নয়ন উদাস, সদা, আন মনে, থাক সে কাহার ধ্যানে। ঠোট কঁপি উঠে, রহি হি হি, ছাড়িছ দীরঘ শ্বাস। তােরে দেথি মাের, কঁাদয়ে পরাণ, নিতত্য হােল তাের আশ । ১২। ঐ—দীর্ঘ। শুন ধনি মুগধিনী এ নহে উচিত। কুলের ধরম ছাড়ি, এ তাের বিষম আড়ি, কুলবতীর এত নহে রীত। ৭ E t . ?' শুন সখি বচন কহি যে হিত তাের।। গৃহ কাজে মন দিয়া, ধরম করম নিয়া, থাক্ ধনি মান কথা মাের। শঠের সে শিরােমণি, তারে কেন দিবি ধনি, সরলা অবলা তোর প্রাণ। ব্যাধ হন্তে পড়ি হায়, মুগধ হরিণী প্রায়, হারাইবি আপন পরাণ । ঘরের ঘরণী তুই, কি মেনে করিবি সই, তারি লাগি কঁদিয়া কাদিয়া। }
৯২
ঐশ্রীনিত্যপদলহরী।
সে ত’ রসনাগর,
রসিক পুরুষ বর,
তারি আশে মরবি পুড়িয়া।
সে নিত্য গােপাল মণি, তারে হেরি কেন ধনি,
এনা তুই হইলি পাগলী
সখিরে মুই কি করি,
ধৈর্য ধরিতে নারি,
প্রাণ টানে বাঁধিয়া শিকলি ॥ ১৩।
n
এ সখি মুগধিনী বালা
সে নিত্য গােপাল হেরি, নিত্য নিত্য করি,
কেন ধনি হইলি বিকলা।
ধর সখি ধৈর্য ধর।
হাম মিলাব আনি,
সেই পুরুষ মণি,
ইথে নাহি সন্দেহ কর।
কোথা সে বসতি করে, কি মানুষ কার ঘরে,
জানিলি শুনিলি না কানে।
কুলের যুবতী তুই, এ কি লা করিলি সই,
সঁপিয়া ডারিয়া দিলি প্রাণে।
কঁাদ না কঁাদ,
করিলি কি পরমাদ,
সে যে নিত্য রসিক রতন।
তুহার লাগিয়া যাব,
মিলাব মিলাও,
তুহারে সে করিয়া যতন।
দ্বিতীয় পৰ্য্যায়।
আগলি পাগলি,
উনমত একি ভেলি,
ছােড়িলি গৃহ পতি কাজ।
পড়শী জনরে ভয়,
কি কহিতে কিবা কয়,
কত বা না পাওবি লাজ ।
দারুণ কুলের অরি, তারে সই বড় ভরি,
মন মাহ ধৈর্য ধর।
কি করি ভুলিব সই, নিত্য গুণমণি এই,
হৃদয়ে গড়েছে তার ঘর । ১৪।
শুন সই প্রাণের বেদন।
কারে কব কে শুনিবে, কে এ দুঃখ পাতিয়াবে,
যেবা মাের দারুণ যাতন।
সে নিত্যু গােপাল ধনে,
যেই দিন দরশনে,
মাের ভালে মিলাওল বিধি।
সেই হােতে কি যে হােল, পরাণ পাগল হােল,
দারিদ্রে মিলল যেন নিধি।
আনমনে কত ভাবি, শুনিলে সে লাজ পাবি,
গৃহকাজে মন নাহি ভার।
আঁখিজল যত ঝরে
সে নাগর মনে পড়ে
কে দেখে ভয়ে মরি হায় ।
১৪
শ্ৰীশ্ৰীনিত্যপদলহরী।
•
দিল বিধি দয়া করি, দরশ, কাঁদিয়া মরি,
কবে পাব তার পরশন।
ধৈর্য ধরহ ধনি,
পাৰে নিত্য গুণমণি
এত চিন্তা কেন অকারণ ॥ ১৫
আমার সাধ কি মিলায়ে যাবে।
সােণার নিত্য
গােপাল ধনেরে,
কে আনি আর মিলাবে।
এ ত নয় সই
সােণার গহনা
মানুষে গড়িয়া দিবে।
এ যে নিত্য সােণা
গােলকের ধন
মােরে কি বল মিলিবে ।
এ ত নহে সখি
পাশী সাড়ী যে
কিনিয়া অঙ্গেতে পরি।
পরাণ বিকায়ে
এই পীত বাসে
কিনিতে না পায় নারী ।
এ ত নহে সখি
জহুরীর কাছে পাব।
এ নিত্য রতন,
দুরভ ধন,
যেথা পাই সেথা যাব #
মাণিক মুকুতা
দ্বিতীয় পৰ্যায়।
জীবন ডারিয়া,
যৌবন বিকায়া,
তারে যদি সখি পাই।
এ আমি অভাগ,
জনমের মত,
দাসী হােয়ে তার রই। ১৬ |
h
ওরে বিধি গড়ি দিলি দুই আঁখি মাের।
কেন বিধি অবিধি এ অবিচার ঘাের ।
ঐনিত্যগােপাল মুখশশী দরশনে।
ধরে না ধরে না রূপ এ দুটি নয়নে।
কোটী আঁখি পাই যদি সাধ নাহি পুরে।
দেখি সাধ হয় হিয়া মাঝে রাখি পুরে ।
একে দু’টা আঁখি তায় পলক আবার।
নিদয় নারীরে বিধি তাই এ ব্যভার ।
অপলকে অকলঙ্ক মুখশশী হেরি
চাহিয়া চাহিয়া রহি দিবা বিভাবরী।
পলকে নূতন রূপ পিয়ার হামারি।
কোটী গুণ বাঢ়ে তৃষা নয়নে নেহারি ।
নয়নের জলে যায় পােড়া আঁখি ভরি।
দেখিতে সে চাদমুখ সেও সখি অরি।
অমন সােণার রূপ আমি দেখি নাই
দেখিতে দেখিতে সখি আমি মরে যাই।১৭।
{
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী।
বিধিরে দারুণ বিধি তাের।
নিত্যগােপাল ধনে, কিবা করি দরশনে,
দুটী আঁখি গড়ি দিলি মাের।
তাহে কুলবতী নারী, লাজে না হেরই পারি,
কুল নামে অকুল গড়িলি।
দেখায়ে সে চাদমুখ, সুখে বিধি দিলি দুখ,
অভাগীরে পরাণে বধিলি ।
ধরমের খোঁচা গড়ি, লােক নিন্দা মন্ত্র পড়ি,
লাজ দড়াদড়ি দিয়া বাঁধ।
ওহে বিধি নিদারুণ,
নাইরে করুণ কণ,
এমনি করিয়া নারী বধ ।
ধৈর্য ধরলাে ধনি,
পাবি পুনঃ গুণমণি,
বিধি যবে হইবে সদয় ।
কুলে তাের কি করিবে,
অকুলেতে কুল যাবে,
লােকের কথায় কিবা হয়। ১৮।
দীর্ঘ ত্রিপদী।
আরে মাের গৌরীর দুলাল
কোন বিধি গড়েছিল, কিবা দিয়া নিরমিল
সােণার এ পুতুলি গােপাল।
দ্বিতীয় পৰ্যায়। ৯৭ সাধ হয় দিবানিশি, হেরি ঐ মুখশী, হই তার সুধাপানে ভাের। জগতের যত শােভা, যারে কহ মনলােভা, সবই আছে সেই চাদে মাের । তিল তিল তিল করি, সব শােভা এক করি, বিধাতা বিরলে ধ্যানে বসি। আদরে পরাণ ধনে, এ নিত্যগােপাল ধনে, পড়িল পীরিতি রসে রসি। ভালবাসা মাখাইয়ে, অমৃতের সার দিয়ে, সে রাঙ্গা অধরে দিল হাসি। যখনি হেরি লাে সই, আমি না আমাতে রই, সুখের সাগরে সদা ভাসি। কামের কামান খানি, নয়নে রাখিল আনি, নারীবধ লাগি পােড়া বিধি। কটাক্ষ আনল ঘন, করে ঘন বরিষণ, বধি দহয়ে নিরবধি ॥ • রূপের বাগুর করি, নারী মন মৃগী ধরি, হিয়ার পরশে বধে প্রাণ। পিয়ার করকমল, কোটী চন্দ্র সুশীতল, নারী হিয়া দাহন বারণ । অধর পরশ দিল, সখি মােরে ডুবাইল, অগাধ সুধার সিন্ধু মাঝে। ৭
ঐশ্রীনিত্যপদলহরী।
পিয়া বিনা আর নাই, পিয়া সনে মিশে যাই,
নিত্য সে নাগর রসরাজে৷ ১৯।
এমনি অনেক,
থির অথির ভেল।
গােকুল নগরে,
যতেক যুবতী,
হেরিয়া নিত্য গােপাল।
সখি আমি ত একাই নই।
তার দরশনে,
পরাণ বিকায়ে,
পথ পানে চেয়ে রই ।
ঘরের ঘরণী,
যুবতী পরাণ ডারি।
গােপাল গােপাল,
জপে দিবানিশি,
মুগধা কুলের নারী।
যেবা করে কাজ,
তাহে মন নাই,
আগুনে পােড়ায় অঙ্গ।
পায়ের আলতা,
মুখেতে পরয়ে,
পড়শী দেখয়ে রঙ্গ ।
চোখের কাজল,
বুকে চাপি দেয়,
সিঁথির সিন্দুর গায়।
পাগলী হয়েছি,
একা আমি নই,
লেগেছে এ একবার
দ্বিতীয় পর্যায়। তােরা সখী সব, থাক সাবধানে, . তার হাওয়া নাহি লাগে। ঘরেতে রহিতে, নারিবি নারিবি, কহিয়া দিলাম আগে। ২০ || @ ত্রিপদী। সখি আর না ভাবিব তারে। ভাবনা ভাবিয়া, পাজর ঢাসিল তবু না ভাবনা ছাড়ে। নিত্যের মুখানি, হিয়ায় জাগিলে, আন কাজে দেই মন। হাসিয়া হাসিয়া, হিয়ার মাঝারে, দাড়ায় সে নিত্যধন । আন কথা কই, তারি মাঝে মাঝে, হঠে সে বাহির হয়। নিত্যগােপাল, নামটী অমনি, ছি ছি বড় লাজ হয়। পাড়ার পড়সী, করে কানাকানি, ভাবিয়া না পাই কুল। জাগর স্বপনে, নিত্যের ভাবনা, হয়েছে আমার ভুল ।
১০০ শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী। স্বপনের ঘােরে, হেরি মনচোরে, জাগিয়া কাঁদি রে সই। ভুলিবারে চাই, প্রাণে জাগে তাই তােমারে মরম কই। কুল বুঝি যায়, প্রাণ রাখা দায়, এ দুখ জানাব কারে। শপথি করিয়া, কহিনু নাগরি, ভুলিতে নারিবে তারে । ২১। ঐ পলকে নূতন, সখি আমার নিতুই নূতন সব। আকাশ নূতন, বাতাস নূতন, নূতন পাখীর রব। আমার নিত্যগােপাল ধন। রূপটী তাহার, জুড়ায় নয়ন মন । সাধ করে হেরি, ফিরাইতে নারি, এ আঁখি আমার সই। হেরিয়া বঁধুর, নিমিষ হারায়ে রই। নয়নের কোণে, ক্ষণে ক্ষণে ক্ষণে, কিবা সে কটাক্ষ করে। { মধুর হাসিটী .
দ্বিতীয় পৰ্যায়। ১০) । } + নূতন তার। ৫ নবীন কটাক্ষে, কুলের যুবতী কঁদিয়া কঁদিয়া মরে । চলিতে নূতন, বলিতে নূতন, ভঙ্গি পুরান জগৎ, বঁধুর ছটায়, নূতন হ’ল আবার। যে দিকে বঁধুর, চাহনি পড়িল, নূতন সকলি হােল । যে পােড়ার মুখী, বঁধু না হেরিল, পুরাতন হােয়ে রােল । ২২। ( লয় সিদ্ধি যােগ সমাধির অন্তর্গত ধ্যানাবলম্বনে রচিত।) । আমারি সে পিয়া সখি আমারি সে পিয়া গােপনে হিয়ার মাঝে, সােনার পালঙ্ক আছে, তার পরে সযতনে রাখিব শােয়ায়া আমি রাখিব পােয়ায়া। সে নিত্যগােপাল ধনে কে বা জানে যতনে বল মুই আর কার করে ধরি দিব। অনন্ত অনন্ত কালে, আমি তারে কোলে কোলে বুকে বুকে চোখে চোখে করিয়া রাখিব । সােহাগের কথা কব, সােহগ শয়ানে রব সােহাগ বালিসে দিব সাধ কোরে মাথা।
শ্ৰীশ্ৰীনিত্যপদলহরী। সােহগে আলিস ত্যজি, সােহগে বঁধুরে ভজি, গাব সুখে সােহাগের সুমধুর গাথা । নিশিথিনী ধীরে ধীরে চলে যাবে পর পারে তারামালা লুকাইবে কিছু জানিব না। দেখিব পিয়ার মুখে, থাকিব অনন্ত সুখে আর কিছু পানে ফিরে মাের চাহিব না। প্রভাতের রাঙ্গা রবি, উদিবে সােনার ছবি পাখীকুল কুলি কুলি গাবে কত গান। পিয়ার মুখেতে মুখ, পিয়ার বুকেতে বুক সােহাগ শয়নে সুখে রহিব শয়ান। তপন জগতে হাসি, গগনে যাইবে ভাসি, সন্ধ্যার গগনে যাবে অস্তাচলে চলি। পিয়া সনে মিশে রব, পিয়া সনে এক হব নিশিদিশি তার সুখে ভাসিব কেবলি । এমনি করিয়া সই, দিবা নিশি বহি যাই, যাবে মাস ষড়ঋতু এমনি যাইবে। পিয়া সনে মিশে রব, পিয়া সনে এক হব সুখের আবেশে হিয়া ভাসিতে রহিবে । বরষের পরে পরে, যুগ যাবে যুগান্তরে অনন্ত অনন্ত কাল বহিব এমনি। পিয়া সনে মিশে রব পিয়া সনে এক হব পিয়ার সুখের সুখে হইয়া ভাগিনী। ৮ দ্বিতীয় পর্যায়। এইত এইত সখি অনন্ত মিলন দেখি নিত্যপ্রেমে নিত্যে দু’য়ে এই রে মিলন। অনিত্যে সম্ভব নয়, হরিপদানন্দে কয় দুয়ে মিলে একে লয় যােগানন্দ ঘন ॥ ২৩। সখি, বঁধুর সকলি ছটা শারদ গগনে, চাঁদের জোছনা, মেঘের বিজরি ঘটা । তপনের আলাে, বঁধুর ছটায়, প্রভাতে উঠে যে হেঁসে। তাই ত তপনে, হেরিতে গগনে, মানুষে যে ভালবাসে। ফুল যে এমন রঙ্গের ছটাটী অঙ্গ দেখিয়া কস্তুরী চন্দন, বল ত কোথায় পেল। আমার বঁধুর গায়েতে মাখিয়া নেল । লেপিয়া রূপসী, বঁধুরে ভেটিতে আসে। বঁধুর গায়ের বড়ই সে লাজ বাসে । বঁধুর মুখের আভাটি লইয়া কমল উঠিল ফুটি। সুবাস পাইয়া ১০৪ শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী। কুলের কামিনী, নদীর জলের, হাসিটী দেখিয়া, চরণে পড়িল লুটি। মধুর যে রস, বঁধুর রসেতে বসি। তাইত নাগরী ভরিয়া গাগরী কঁকেতে তােলয়ে হাঁসি ॥ যা কিছু মধুর যা কিছু সুন্দর আমার বঁধুর সব। কহিতে পারি না, কহিতে জানি না, মিছা বা আর কি কব । ২৪। ঐ সখি, চন্দন শীতল কিবা। আমার সােনার, নিত্যগােপালে, মধুর পরশ যেবা কিবা সে ফুলের বাস। বঁধুর অঙ্গের, মধুর গন্ধে, পরাণ করে উদাস। মিষ্টের আস্বাদ, রসনা রসিত করে। বঁধুর অধরে, অমিয়া পরশ, অমৃতের ধারা ক্ষরে। কিবা সে মধুর, দ্বিতীয় পর্যায় । । মিছাই চাদেরে, চাহিয়া মানুষ, সুন্দর করিয়া কয়। আমার বঁধুরে, দেখিলে বুঝিবে কত ভুল কথা কয়। বসন্তে মলয়, কি মধুর বহে পিয়ার অঙ্গের বায়। শত মলয়ের, পরশের সুখ, নিমিখে বহিয়া যায় । বাঁশরীর গান, সুমধুর কহে, শ্রবণ পাতিয়া শুনে। তা হতে মধুর, বঁধুর বচন, কব আমি কোন গুণে। নিতি নিতি আমি, নয়নে নেহারি, তবু সে নূতন রূপ। এমন দেখিনি, এমন শুনিনি, অদভুত অপরূপ । গুন গুলাে ধনি রাগেরি অঞ্জন লেগেছে নয়নে তাের। নিত্যের রসেতে রসিয়া সখি রে তাই হােয়ে আছ ভাের ॥ ২৫ ॥ - L ১০৬ শ্ৰীশ্ৰনিত্যপদলহরী। ঐ t, কেবা এ নাগরে পায় ধ্যানে বসি মুনি, গহনে কাননে, সতত যারে ধেয়ায় ॥ মানুষ হইয়া, বঁধুরে দেখিয়া সেই নিত্য নারায়ণ। ধরাতে আসিয়া, দেখাল চন্দ্রবদন। মানুষের রূপ, এমন কি হয়, পশু পাখী যায় ভুলি । নারী কোন ছার করে আকুলি বিকুলি । যত যত ভাল, দেখিতে সুন্দর তিল তিল করি আনি। সযতনে বিধি, হেন গুণনিধি, গড়িল এ অনুমানি। হাসিটী অধরে, ধরে না ধরে, উছলি পড়িয়া যায়। নারীর জীবন, যৌবন ভাসায়ে, দাসী করে তার পায়। সে ধনে না দিলে বৃথা এ জীবন মাের। । এমন যৌবন
দ্বিতীয় পৰ্যায়।
১০৭
এ নব বয়সে,
সখি লাে হয়েছে
এত তত্ত্বজ্ঞান তাের। ২৬
}
।
ওলাে নাগরি বেড়াতে যাবি।
যেমন মানুষ,
জনমে দেখনি,
তেমনি দেখিতে পাবি।
খেলার সঙ্গিনী তুই।
গােপনে কহিনু, কারে না কহবি,
বড় সে রসিয়া সই ॥
সে নিত্যগােপাল,
নামটী আমার
বড়ই মধুর লাগে।
খাইতে শুইতে,
উঠিতে বসিতে,
নামটী হিয়ায় জাগে ।
যত সে রমণী, ধনী বিননাদিনী,
বায় হেরিবারে তারে।
এমন দেখিনি,
এমন শুনিনি,
কহে সবে বারে বারে ।
নয়নে তাহার,
হাসিতে পরাণ হরে।
তারে না দেখিলি, রমণী হইলি,
মিছাই পচিলি ঘরে।
মধুর চাহনি,
১০৮ শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী। কব কিবা ভাষা, রূপের তুলনা, তাহার নাহিক হয়। কিবা নর নারী, পশু পাখী কিবা, দেখিলে চাহিয়া রয় | এমন সে রূপ, দেখি নয়নে, নয়ন বিফল ভেল। ছাই মাটী পােড়া, মানুষে দেখিয়া বৃথা দিন কাটি গেল। সেরূপ যেদিন, দেখেছি সইরে, কহিব সে কথা কারে। পুতুলের মত, এ সব মানুষে, নয়নে আর না ধরে ॥ সুন্দর করিয়া, তােমরা যাহারে, কহ মানুষের মাঝ । এ চাদ দেখিলে, তখনি কহিবি, সে সব সংয়ের সাজ । দেখিয়া শুনিয়া, বুঝিয়া জানিয়া, বুড়া বুড়া লোকে বলে। বুঝি ভগবান, গােপনেতে আসি, মানব নয়নে ছলে। স্বভাব দেখিয়া, নয়ন চাহিয়া, আমার মনেতে লয়। : .
দ্বিতীয় পৰ্য্যায়।
১০৯
মদন মােহন,
নন্দের নন্দন,
বিনে আর কেউ নয় ॥ ২৭ |
সখি গগনের কিবা শােভা
আমার সােনার নিত্যগােপালে
সবই সখি মনলােভা।
ঐ না শারদ
গগন দেখিছ
অনন্ত বেপিয়া অাকা।
উদাস করিছে,
পরাণ মনেরে,
কত না পীরিতি মাখা ।
শরতের পরে,
হিমানী আসিবে,
এ শােভা আর না রবে।
আমার নিত্য
রূপের ছটাটী,
অনন্ত সুন্দর রবে।
দেখিছ ঐ না,
শরতের চাদ,
কহিছ সুন্দর শােভা।
প্রভাত হইলে, আর না থাকিবে,
চাদের উজল বিভা ।
আমার সে নিত্য চাদের ছটাটী,
উজলিছে দশদিশি।
অনন্তকালেতে,
এমনি নবীন
রহিবে ও মুখশশী ।
শ্ৰীশ্ৰীনিত্যপদলহরী। ফুল ফুটি উঠে, বসন্তে কাননে, সুন্দর করিয়া কহ। ফুলটী তুলিয়া, যতন করিয়া, মালাটী করি পরহ । প্রভাতে সে ফুল, সে মালা সখিরে, মলিন হইয়ে যায় । মাের নিত্য ফুল, নিতুই ফুটিয়া রয়। পবন পরশ, সুখময় কই প্রভাত হইলে গত । রবির পেতে, সেও গাে সখি, নবীন মধুর, হয় অনলের মত । আমার বঁধুর, অঙ্গের পরশে, শীতল বায়ু যে আসে। অনন্ত কালেতে, রহে সে তাহার, শীতল সুখ পরশে । চন্দন লেপন, কত কি করিছ ক্ষণেক পরশে সুখ। আমার নিত্য গােপাল পরশে অনন্ত নবীন সুখ । দরশ শ্রবণ, প্রাণ পরশন, বঁধুর নিতুই নব। # •
।
দ্বিতীয় পৰ্য্যায়।
১১১
এক মুখে সই, সে নিত্য চঁাদের,
গুণ তােরে কত কব। ২৮ ।
লালসা
A
M
যখন জানিনি সখি পীরিতি কেমন রে ।
যখন জানিনি সখি এ নারী যৌবন রে ।
ধূলা খেলা ছাড়ি দিনু কিশাের বয়েস রে।
হেরিনু মানুষ এক কিশাের বয়েস রে ।
হাসিটী দেখিনু তার পরাণ কাড়িল রে।
ভাবি আর কঁাদি প্রাণ বিকল করিল রে।
আমি ত জানিনা কেন এমনি হইনু রে।
এখন যে প্রাণে মরি সে মানুষ বিনু রে।
কি না তার সে বা আঁখি চাহনি মধুর রে ।
কি না সে মুখের ঘটা আমার বঁধুর রে।
যত তার কথা ভাবি কিনারা পাই না রে।
এমন সােণার রূপ জগতে হেরি না রে।
মানে না মানে না আর আমার পরাণ রে।
সাধ হয় তারে করি এ যৌবন দান রে ।
ত কত কয় তারে ভগবান রে।
আঁখিতে আমার লাগে মদনমােহন রে।
যেই দিন হেরিয়াছি সে নিত্যগােপাল রে।
সেদিন হইতে আমি হােয়েছি পাগল রে ।
১১২
শ্রী নিত্যপদলহরী।
এ কথা ত বুঝাবার কহিবার নয় রে।
লাজ বাসি ভালবাসি তবু আমি তায় রে।
সকলি সহিতে পারি তারে যদি পাই রে।
কেউ যদি নিয়ে যায় তার কাছে যাই রে।
কেউ যদি বােলে দেয় কোথা তার ঘর রে ।
তবে যাই দেখে আসি নাগর সুন্দর রে ।
সাথে কেউ নাহি যায় আমি একা যাব রে।
তাহারে কেমনে হায় হায় আমি পাব রে।
দেব দেব মহাদেব পূজন করিব রে ।
নিতত্যর প্রেয়সী হব এ বর যাচিব রে ।
কাত্যায়নী মহাদেবী যতনে পূজিব রে।
সে নিত্যগােপালে পতি করিয়া মাগিব রে । ২৯।
যদি পরাণ বঁধুরে পাই
যতন করিয়া,
মুখানি মুছায়া,
আঁচর পাতি বসাই।
সই কত সাধ মাের মনে।
রাখিব ধরিয়া,
বঁধুরে আমার,
নয়নের কোণে কোণে।
নয়ন ছাড়ায়ে,
রাখিবারে নাহি চাই।
এমনি করিয়া, আমার নাগরে,
আমি সই যদি পাই ।
তিল আধ তারে,
H
দ্বিতীয় পৰ্যায়। ১১৩ বঁধুয়া হেরিব শয়নে জাগরে কহিব বঁধুর কথা। নিত্য নামের নিত্য প্রেমের গাহিব মরমে গাথা। নিত্য নগরে ঘর বানাইয়া বসতি করিব তায়। নিত্যের মানুষ বিনে না হেরিব, নিত্যের নামটী গায় । শুক শারি পুষি পাখীরে পড়াব, নিত্য নিত্য নাম। নিত্যগােপাল, নামটা লিখিয়া, বিচিত্র করিব ধাম। নিত্য নামের নামাবলী করি, অঙ্গের করিব বাস। মরিয়া যাইতে, আমারি বঁধুর, নামটী করিবে শ্বাস । ৩০ '] শয়নে স্বপনে পরাণ রতনে হিয়ার মাঝারে পাই। তবেত জীবন জনম যৌবন সফল করিয়া কই।
১১৪ শ্ৰীশ্ৰীনিত্যপদলহরী। ধরমের বাঁধ নিত্য মূরতি, নিত্য পীরিতি, সদাই হিয়ায় জাগে। মরমের সাধ ভাসে নিত্য অনুরাগে। থির নয়ানে, আকুল পরাণে, নিত্যের বদন চাই। মনের আনন্দে নিত্য প্রেমানন্দে, আমি লাে ভাসিয়া যাই। দরশ পরশে মনের হরষে লালস বাড়য়ে দুনা। নিত্যের পীরিতি নবীন আরতি, এ কথা নহে ত শুনা । হিয়ার পিঞ্জরে সাে হেন নাগরে পাখিটী করিয়া পােষে। সেই সে নাগরী গুণের আগরী পরাণ ধননরে তােষে। পীরিতি দাড়িম্ব পানা সে করায় পান। অধর কমল সুধার বিমল সিঞ্চনে মজায় প্রাণ । নয়নে প্রহরী দিবা বিভাবরী রাখে সে স্বভাবে সাধি ফলের মধুর দ্বিতীয় পৰ্যায়। ১১৫ দিয়ে কুতুহলি প্রেমের শিকলি সে ধনী রাখয়ে বাধি ॥ পরিতির কথা নব নব গাথা শিখায় যতন করে। এমনি প্রাণের পাখিটী সাধের স্বভাবে সে বুলি ধরে। হৃদয় পিঞ্জরে সুমধুর স্বরে সে প্রাণ পাখিটী গায়। তখন নাগরী আপনা পাসরি নাগরে মিশিয়া যায়। নিত্যলয়যােগ প্রেমের সম্ভোগ চিতে যদি সাধ হয়। নাগরী হইবে নাগর মিলিবে হরিপদানন্দে কয়। ৩১। পূৰ্ব্বা-ে সখি কত মনে হয় সাধ। মনে দুঃখ হয়, তাহে বড় ভয়, কেবা সাধে তায় বাদ। আমার নিত্য- গােপালে যতনে, বসায়ে আসন পরে।
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী। বঁধু সুবাসিত তেল অঙ্গেতে তাহার মাজিব আপন করে। মাের পানে চেয়ে কহিবে মধুর বাণী। শ্রবণ জুড়াবে জীবন যৌবন সফল করিয়া মানি। গাগরি ভরিয়া সুবাসিত জল আনিয়া আদর করি। সােনার অঙ্গে মনের রঙ্গে ধীরে ধীরে দিব ডারি । বদন কমল কর পদতল আপনি মাজিয়া দিব। আমার বঁধুর সরব অঙ্গ নিজ হাতে মুছাইব। এক এক করি কোমল বসনে সব অঙ্গ মুছাইয়া। মাথার চুলিতে বঁধুর চরণ দিব সুখে মুছাইয়া। সােনার বরণ আহা সে কেমন দেখিব নয়ন ভরি। চিকন কোমল বসন আনিয়া পরাব যতন করি।
দ্বিতীয় পৰ্যায়। বসন পরমে করেতে ধরিয়ে আপনি আনিব তারে। পালঙ্ক উপরে বসাব আদরে কোমল আসন পরে । চন্দন চুয়া কপূর দিয়া অঙ্গেতে লেপিয়া দিব। আপনার করে মালাটী গাঁথিয়া বঁধুর গলায় দিব । ফাগুনের দিনে বীজন লইয়া সুখেতে বীজন করি। পিয়ারে আমার আসনে আনিয়া বসাব হাতেতে ধরি। ভাল মিঠা ফল আপন করেতে মিষ্টান্ন প্রকার বানায়ে মনের মত। মিঠা পানা আর দিব মনে সাধ যত । কাছেতে বসিয়া বচন কহিয়া বীজন করিব সুখে। পিয়া সে আমার মিঠা পানা ফল তুলি দিবে চঁাদ মুখে। হাসিয়া হাসিয়া কথাটা কহিয়া বলিবে বঁধু না আর।
4
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী।
হাতখানি ধরি
আপনি ধােয়াব,
মুছাব নিজে আবার।
পালঙ্ক উপরে
বিচিত্র শয়নে
শােয়ব বঁধুরে আনি।
সখীরে কহিব
বীজন করিতে
আমি সেবি পা দুখানি ।
এমন সাধের
নিত্যগােপালে
যতন করিবে কে ?
দেখ দেখ সখি, আমার সােনার
মানুষ ঘুমাল যে ॥ ৩২।
সন্ধ্যায়-
ফাগুনের দিন
বড়ই প্রখর
খর বায়ু বােয়ে যায়।
ধীরে ধীরে ধীরে সাজের বেলায়
ধেনু ঘরে ফিরে যায়।
সারাদিন পরে তাপ গেল দূরে
জুড়াল সকল প্রাণী।
আমার নাগরে
নিত্যগােপালে
বিধি কি মিলাবে আনি।
দ্বিতীয় পর্যায়। ১১১ } সাধ হয় সই এমনি দিনেতে কুসুমের দল দিয়া। রচিয়া শয়ন করিয়া যতন শােয়াই আমার পিয়া। শীতল করিয়া বীজন লইয়া পিয়ারে বীজন করি। চন্দন চুয়া অঙ্গেতে লেপিয়া পরাণ ভরিয়া হেরি । মিঠা পানা ফল সুবাসিত জল বঁধুরে খাওয়াই সুখে। হাতে ধরি দেই তুলি কুতুহলে বঁধুর সে চাদ মুখে। আমার সাধের সােহাগের ধনে পানের বিড়িটী দিব। সে না মুখে দিয়া চাহিয়া চাহিয়া নেহারিব। হাসি মুখে কত পীরিতির কথা কহিবে নাগর সে। শুনিয়া আমার অঙ্গ অবশ আমায় ধরিবে যে ৩৩ | আমি শুধু শ্ৰীশ্ৰনিত্যপদলহরী। শয়ন- সখিরে আমার পিয়া সুখেতে ঘুমায়। পালঙ্ক উপরে ঐ সােনার মানুষ সই ফুলের শয়নে দেখ সুখে নিদ যায় । ধীরেতে বীজন কর শবদ সে না কর, চন্দ্রমা উজোর নিশি হাঁসে কুঞ্জবন। রাসরসে হােয়ে ভাের, আঁখি মুদে পিয়া মাের, মুদিত কনকপদ্ম পিয়ার নয়ন। দেখনা দেখনা চেয়ে, আমার বঁধুর গায়ে, সােনার রূপের ছটা উছলে কেমন। ধীরে ধীরে শ্বাস পড়ে, হিয়াটী উঠিছে ভরে অধরে লুকায়ে হাসি হাসিছে এখন। কভু দেখ মৃদু হাসি, আলো করে মুখশশী, আমার বঁধুয়া সুখ স্বপনে বিভাের। এ বৃন্দাবনের পাখী করে শবদ সখি, ভাঙ্গে পিয়ার মাের এ সুখের ঘাের। আমি ত কেবল সখি, চেয়ে চাদ মুখ দেখি, আজু এ সুখের নিশি আমি ঘুমাব না। সােনার গােপাল মাের, আমার পরাণ চোর, এমন করিয়া সুখে দেখিতে পাব না। সখি তার মুখ চাই, পােড়া লাজে মরে যাই, তার হাসি দেখে পােড়া আঁখি কেন কাঁদে।
দ্বিতীয় পর্যায়। ১২১ এখন পরাণ ভরি, পিয়ার ও মুখ হেরি, কোন বিধি গড়েছিল ও বদন দে । অমিয়ার ধারা দিয়ে, সােনার বরণ নিয়ে, ননীর পুতুলি এই কে সখি গড়িল। নারীর বধিতে প্রাণ, বিধি কৈল নিরমাণ, রমণী হরিণী লাগি বাগুরা রচিল । নিমেষ দরশ পাই, আপনা ভুলিয়া যাই সেই পিয়া কুঞ্জে মাের অজুরে ঘুমায়। চোখের নিদূরে তুই আজিকার নিশি সই, দয়া কোরে অভাগীরে নেওরে বিদায়। গগনেতে হাস শশী, বিলাও জোছনা রাশি, নীরবে নিশীথে কুঞ্জ থাকুক এমনি। শশী তুমি অস্তাচলে যেওনা যেওনা চলে তুমি গেলে হবে ভাের সুখ নিশিথিনী । ঘুমা আমার পিয়া, কাজ নাই পােহাইয়া প্রেমের নিকুঞ্জে এই সুখের রজনী। আমি পিয়া মুখ চাহি, নীরবে এমনি রহি, আপনা ভুলিয়া সই জাগিব এমনি ৩৪। কুঞ্জভঙ্গ নিশি হােল সখি তাের। পালঙ্কে ঘুমায় সােনার গোপাল মদন আলসে ভাের ॥
১২২ শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী। কুঞ্জের বিহগ সুখেতে ঘুমা আমার সে পিয়া সুখে হেরি সখি তারে। বৃন্দার বনেতে দেখ সে ঝঙ্কার করে। আমার পিয়ার সুখের স্বপন ভাঙ্গিবারে গান ধরে। শিখীকুল নাচে ডালে ডালে যায় উড়িয়া বিহগ দল। সবাই মিলিয়া দেখ ত করিছে বিষম এ কোলাহল। ভাঙ্গে বুঝি ঘুম পিয়ার আমার দেখ দেখ অঙ্গ নড়ে। ঘন ঘন শ্বাস থির হােয়ে রয় ক্ষণেক নাহিক পড়ে। দেখ দেখ সখি সােণার অঙ্গ মােড়িছে কিবা মােহন। আবার আলসে অঙ্গ থির হয় • মুদিত দুই নয়ন। বনের পাখীর কি আমি করেছি সবে মিলি শাখী শাখে। ভাঙ্গিবারে তারা ফুকারি ফুকারি ডাকে। বঁধুর নিটী
দ্বিতীয় পৰ্যায়।
ময়ূর ময়ূরী
সবাই বঁধুর
হরিণ হরিণী,
তাদের একি রঙ্গ।
কাননে ধাইছে নিশা না পােহাতে
বঁধু নিদ করি ভঙ্গ।
ক্ষণেকের তরে গগনে ডুবিয়া,
নিদয় তপন হায় ।
'অরুণে দিয়েছে,
পূরবে পাঠায়ে,
গগনে উদিতে চায় ।
এমনি করিয়া, জানিনা সখিরে,
কেন যে যুকতি করি।
নিটী ভাঙ্গিতে
আসিছে সাজনা করি।
ধীরে ধীরে বহ
মলয় মারুত
তুমি সখা মাের ভাল।
আহা কি মধুর
উষার সমীরে
ঘুমায় নিত্যগােপাল ॥
সুন্দর মুখের
উপরে দুইটা
সুন্দর নয়ন হয়।
মুদিত কনক
কমল কলিকা,
অপরূপ শােভা পায়।
ধীরে ধীরে ধীরে অঙ্গ মােড়িছে
সখি ঐ দেখ চায়।
১২
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী।
আমার সােণার
নিত্যগােপাল
মােরে দেখি হাঁসি চায় ।
জাগিল আমার
পরাণ বঁধুয়া,
কনক ভৃঙ্গার ভরে।
নে আয় সখিরে, সুবাসিত জল
মুখ প্রক্ষালন তরে।
সকল সাজন
করিয়া নে আয়,
বঁধুর সুখের লাগি।
ক্ষণেক ঘুমায়ে,
আমার পিয়ার
নিশা গেল আজ জাগি। ৩৫।
রতন পাইতে, যতন করিলে,
রতন মিলিতে পারে ।
সাগর সেঁচিয়া,
মাণিক তুলিয়া,
কেবা দেয় সখি পরে ।
অনেক সাধের
বঁধুয়া আমার
• হৃদয় মাঝারে রাখি ।
আঁচরে ঢাকিয়া,
যতন করিয়া,
দিবানিশি মুখ দেখি ।
কত সুখ তারে নয়নে নেহারি,
কহিবারে নারি সই।
দ্বিতীয় পৰ্যায়। ১২৫ পরশে তাহার সুধার সাগরে আমি লাে ডুবিয়া রই। সে যে নিত্যধন পরশ রতন গৌরীমার দুলালিয়া। মাের ভাগ্যে বিধি মিলাল সে নিধি কত না সদয় হৈয়া ॥ প্রাণের গােপালে সে নিত্যগােপালে দেখাব না আর কারে। করিয়া যতন সে হেন রতন করিব গলার হারে ॥ সােহাগের কথা কহিব নীরবে মিলায়ে এ আঁখি আঁথিতে। প্রাণ বিকাইব, জীবন সঁপিব, মিলিব বঁধুর সহিতে। ৩৬ | a বসােদাের- আমার সাধের মালতী চারা। যতন করিয়া রুই থুই ঢালিমু জলের ধারা । আজ ফুটেছে এ মাের কুঞ্জে। সেই মালতীর মধুর মধুর কুসুম পুঞ্জে পুঞ্জে।
১২৬
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী।
মালতী ফুলের
এই না ফুলের
দেখ দেখ সখি,
ভ্রমর গুঞ্জরে,
উড়ি পড়ে দলে দলে।
এমন সাধের
মালা দেই পিয়া (নিত্য) গলে ।
আমার বঁধু সে
মালা বড় ভালবাসে ।
আমিত কুইনু তারি তরে সই,
আমার নিকুঞ্জ বাসে।
পিয়ার গলায়
মালতীর মালা
দোলায়ে দেখিরে সই।
দেখিতে দেখিতে আঁখি না পালটি
বিভাের হইয়ে রই।
হাতে ধরি পিয়া
আমার গলায়,
আপন মালাটি দিবে।
আমার গলায়
মালাটি পরিয়া
আদরে বুকেতে নিবে।
পবনের ভরে
চাদিনীর রাতে
মালতীর কুঞ্জে মাের।
সুবাস ছুটিবে ভ্রমর গুঞ্জিবে,
মােরা হােয়ে রব তাের । ৩৭ ॥
দ্বিতীয় পৰ্যায়। ১৭ 5 কি ফুলে সাজাবি সই আমার নিত্য , গােপাল অঙ্গেতে কিবা ফুল বল দেই । . যে বা অসুন্দর গহনা পরায়ে, তাহারে সুন্দর করি। অলপ সুন্দর হইলে তাহারে অধিক সুন্দর করি। মালতী মালায় পিয়া ভালবাসে তারি তরে দেই সই। আমার গাঁথা এ মালা না পরিলে পিয়া মনে সুখ নাই। পিয়ার গলেতে মালাটি দুলিলে মালায় যে হয় শােভা। সখিরে ফুলের জগৎ মাঝারে অমন দেখিনি শােভা, আমারি করের পরশে চন্দন পিয়া বড় ভালবাসে। তাই মাের পিয়া বসি থাকে মাের আশে । বঁধুর অঙ্গেতে চন্দন বেপনে যেই না শােকাটি হয়। চন্দন পরিবে
১২
শ্রী শ্রীনিত্যপদলহরী।
বসন ভূষণ
সুন্দর করিয়া
জগৎ মাঝারে
বঁধু না পরিলে
কি শােভা চন্দনে রয় ।
যত কিছু সই
পিয়ার অঙ্গেতে লাগি ।
উজল হইয়া
দেখায় সুন্দর
বসনের বড় ভাগি।
যে বা বাসে কহ
সেও ত সুন্দর নয়।
আমার বঁধুর
অঙ্গের পরশ
তার যদি নাহি হয়।
জগতের মাঝে যেবা কিছু আছে
বঁধু অঙ্গ ছটা মাখি।
সুন্দর মধুর
হয়েছে সইরে
কত নারী আছে সাখি ।
কুরূপা কত যে
আমার বঁধুর
দরশ পরশ পাইয়া।
যে নারী না পেল
সে র’ল কুরূপা হৈয়া ॥ ৩৮।
সুরূপা হইল
দ্বিতীয় পৰ্য্যায়। ১২৯ আমার আশার আকাশে তারা নিত্যগােপাল প্রাণের গােপাল { আমার গলার হার। সই তার মত আর কে ? অনেক শুনেছি, জগতে দেখেছি, অখিতে লাগে না যে। আমার মাথার মাণিক করিয়া রাখিব যতন করি। সিথার সিন্দুর করিয়া বঁধুরে রাখিব সিথায় ধরি। কানের কুণ্ডল করিয়া বঁধুরে দুইটী কানেতে পরি । নাসার নােলক করিয়া বঁধুরে যতনে নাসায় পরি । অঙ্গের ভূষণ করিয়া পরিব বঁধুরে আমার সই। আগের বসন বঁধুরে করিব, বঁধতে ঢাকিয়া বই । বঁধুরে করিব লেপিব মনের সুখে। মাদুলি করিয়া পরাণ বঁধুরে রাখিব ধরিয়া বুকে। ৭ ! অঙ্গের লেপন ---
১৩০
শ্ৰীশ্ৰীনিত্যপদলহরী।
আঁখির কাজর
করিব বঁধুরে
করিব অধর রাগ।
আমার বঁধুর
সনে মিশে রব
করিব না আর ভাগ ।
এমন নাগর
ত্যজিয়া সখিরে
আর যে কি নিয়া রব।
মিলিয়া যাইয়া
আমিও সে বঁধু হব ॥ ৩৯।
বঁধুর সহিতে
অভিসার।
হের বিজলি চমকাই।
প্রাণের গোপালে দরশনে আজি,
কেমনে যাইব সই।
গভীরে গরজি ঘন।
হের সখি ঐ
জলদের দল
করে ঘন বরিষণ।
কড় কড় কড় হিয়া কঁপি উঠে
শুনিয়া আকাশে ধ্বনি।
কেমনে যাইব,
মা গেলে মরিব
দেখিবারে গুণমণি ॥
চল সখি যাই বাহিরেতে যেই
ভাল সে জলের ধারা।
!
দ্বিতীয় পৰ্যায়।
ঘরেতে বসিয়া
মনের আগুনে
পুড়িয়া হইব সারা।
মাথায় বজর
পড়ে সে পড়ক
সেও মনে গণি সুখ।
মরিলে পিয়ার দেখা নাহি পাব
এই, মনে বড় দুঃখ । ৪০ |
একি পাগলী হইলি তুই।
হেন বরষায়
পথ চলি চলি
যাইতে নারিবি সই।
ঝর ঝর জল ঝরে।
আকাশের মেঘে
শবদ হতেছে
কড় কড় কড় কোরে।
পথের মাঝারে
সাপের ফণায়
চলিতে দিবি কি পা।
তাের এ বিষম ব্যাভার দেখিয়া
কাপিয়া উঠিছে গা।
আঁধারে পথেতে
জলেতে কাদার
ভিজিয়া কেমনে যাবি।
বাইতে যাইতে শেষে বা কোথায়
পথটা তুই হারাবি ।
১৩২
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী।
অত কথা তাের শুনে কাজ নেই
চলিনু যাবি ত আয়।
নিত্যের দরশে
যে জন চলয়ে
আঁধারে সে পথ পায় ॥ ৪১।
1
স্বপ্নবিলাস
সখি, কি দেখিনু স্বপনেরি ঘােরে।
গৌর মানুষ সেই, পরাণ হরিল যেই,
মনের বেদন কই তােরে ।
হাসি হাসি নাগর,
ধরিল আমার কর,
লাজে মুই মরিনু তখন।
বসন ঝাপিতে মুখে,
পিয়া মাের কত সুখে,
হাতে ধরি করিল চুম্বন ।
পলাইতে পথ চাই,
নাগর ধরিল যাই,
দু বাহু পসারি কোলে করি।
কত সুখ কারে কব, সে সুখ কি আর পাব,
স্বপন স্মরিলে প্রাণে মরি।
সে নিত্য নয়নমণি, আমার সে গুণমণি,
লুকাইল দেখায়ে স্বপনে।
আমার সে দিন হবে,
এ স্বপন সত্য হবে,
বঁধুর পাইব পরশনে ৪ ৪২
দ্বিতীয় পর্যায়।
}
সখি দেখনা নয়নে চেয়ে।
দেখিলি না হায়, সােনার গােপালে,
তুই কি আবাগী মেয়ে।
নয়ন পেয়েছ, যদি না দেখিলি,
নিত্যগােপাল ধনে।
ছাই মাটি দেখি বিফল করিলি
পােড় ও দুটী নয়নে।
ব্রজের গােপিনী
যেই না মানুষ
অনিমিষে দেখে কত।
যেই না মানুষ
ব্ৰজেতে হেরয়ে
পশু পাখী আছে যত ।
১৮
যারে না হেরিয়া তারা থাকে মরে
জীবন থাকিতে দেহে।
যারে না হেরিয়া
কাঠের পুতুলি
গােপী থাকে তেন গেছে ।
স্বর্গের দেবতা
যারে দেখিবারে
ব্ৰহ্মা ইন্দ্র চন্দ্র আসে।
সেই নিত্যাদ
শােন 'ওলাে দিদি
আইল মােদের পাশে।
দেখিবিনা অাঁজ
ঝুরিয়া মনিৰি
সে মানুষ চলে গেলে।
১৪
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী।
এমন রতনে
পেয়ে সই মাের
হারানে অবহেলে ।
কত শত লােক
হাকিম উমরা
তারে পরণাম করে।
কেহ কহে কালী
কেহ কহে কৃষ্ণ
কেহ কহে এই হরে।
আঁখির চাহনি
দেখেনা সইরে
তাই তারা হেন কহে।
হাসিটি দেখিয়া
চাহনি হেরিয়া
বুঝিনু এ অন্য নহে।
যেই না গােপাল
বৃন্দার বিপিনে,
গােপী ল’য়ে খেলা করে।
আজি সে উদয়
হইল আসিয়ে
মানুষের রূপ ধরে। ৪৩।
পরাণের চোর সে।
তার পানে চেয়ে, জগৎ ভুলিয়ে,
হােয়ে থাকি তাের যে।
মানুষে কি হেন হয়।
ব্রজের গােপাল,
এ নিত্যগােপাল,
এই সখি সুনিশ্চয়।
দ্বিতীয় পর্যায়। ১৩৫ মধুর হাঁসিয়া যেই না চতুর যেই না ব্রজের গােঠেতে মাঠেতে চরাত গােধন সাধে। যেই না নাগর বাঁশীটী বাজাত জয় রাধে রাধে ॥ যেই না সুন্দর গােপীর হরিত মন। বসন ভূষণ গােপীর করে হরণ । যেই শঠরাজ যমুনার পথে আগুলিয়া পথ থাকে। যেই না লম্পট যুবতী ধরিয়া রাখে। যেই না কপট মিঠা কথা কয়ে, কেলি করি গােপী সঙ্গে। যেই না নিঠুর করি দিল রাস ভঙ্গে সেই সখি এই চোর শিরােমণি দেখিয়া পরাণ কাপে। • কেন যে আমার ওলল প্রাণ সখি অঙ্গ সদাই ঝাঁপে। যে দিন দেখেছি, সে দিন তখনি, কেরিয়াছে চুরি চোর। বৃন্দার বিপিনে মথুরা পালাল
শ্রীশ্রীনিত্যপদলহরী।
তাই ভয় হয়
এ দেহে পরাণ মন যে আছিল,
কুলের গরব মাের।
স্বভাব ত জানি
কবে যায় পালাইয়া।
তাই বলি সখি
আয় আয় আয়
সে নাগর দেখসিয়া ॥ ৪৪||
ভূষণ হরিল
সাধনে বল কে পায় ?
এ নিত্যগােপালে, ব্ৰজের রাখালে,
ধরিয়া বাঁধা সে দায়।
স্বভাব যে চুরি তার।
দেখ না বসন
তার এই ব্যবহার।
ননী চুরি করে,
ননী চোরা বলি,
যতেক রমণী ঘােষে।
পরের ঘরেতে,
ফিরি করে চুরি,
• আপন ঘরে না পােষে।
ক্ষীর সর খায়
চুরি করি নিতি
ধরিতে কেহ যে নারে।
ধরা নাহি দিলে আপনি যশােদ
গােপাল বাঁধিতে নারে।
দ্বিতীয় পৰ্যায়।
।
১৩
ভূভার হরণ
কইে ভক্তজন
সেও এক তার চুরি।
রমণীর মন
করিতে হরণ
বেড়ায় সদা সে ঘুরি।
চোরের অগ্রণী চোর শিরােমণি
হৃদয়েতে সিদ কাটে।
জীবন যৌবন
কুল শীল তার
সকলি সে চোর লুটে ।
চোর তারে কই। যেই ধন নিয়ে
যায় চলি পালাইয়ে ।
ধরিতে তাহারে
বল কেবা পারে
আসে নিজে ধরা দিয়ে।
সাধন করিয়া
এ অসাধ্য ধনে
এ চোর ধরিবে কেবা ।
প্রেমের শিকলি
যে ধনী বঁধিবে
চোরায় ধরিবে সে বা ৪৫ |
সখি বঁধুরে দেখিয়ে যা ।
এখনাে মালিকা
চন পরার
ঢাকিনি সােনার গা #
১৩ শ্ৰীশ্ৰীনিত্যপদলহরী। আমার নিত্যগােপাল চাদে । কি মেনে করিয়া দেখিলাে সজনি পুরে না মনের সাধে। অঙ্গ মাজিয়া সিনান করায় মুছেছি যতন কোরে। দ্যা দ্যা সখি ননীর পুতুলি সােনার বরণ ধরে । দেখত সিয়া আমারে রসিয়া মালাটী পরিতে চায়। এমন সােনার অঙ্গ ঢাকিয়া পরাবি সই মালায় । বল মল করে বঁধুর বরণ নিতুই নূতন সব। যেই না অঙ্গে নয়ন লাগছে ফিরাতে নারি যে লব । দেখ দেখ সখি সােনার মুখেতে সির কেমন ছটা। যুবতী জনের বধের লাগিয়া বিধি এ কোরেছে ঘটা । । বঁধুর লাগিয়া এ মালা চন্দন আয় সখি পাইৰি।
দ্বিতীয় পর্যায় ।
মালার দোলন
দেখিয়া তখন
ধৈর্য হারাইবি। ৪৬ |
সখি, নিত্য নয়ন তারা।
আমার অঙ্গের
লাবণি নিত্য
আমার গলার হারা ।
বসন ভূষণ মাের।
নিত্য আমার জাতি কুল মান,
নিত্যে রহি গাে তাের।
নিত্য জীবন,
নিত্য যৌবন,
নিত্য মুখের হাসি।
নিত্য আমার
হৃদয় গগনে
আলাে করা পূর্ণ শশী ।
নিত্য আমার সিথার সিন্দুর,
মাথার মাণিক মাের।
নিত্য আমার
সুখেতে দুখেতে
আমার আঁখির পাের ।
নিত্য বালিসে আলিস ত্যজিয়া,
নিত্য স্বপন দেখি।
নিত্য শয়নে
অঙ্গ টালিয়া,
নিত্যে মিলিয়া থাকি ।
-
১৪০
শ্ৰীশ্ৰনিত্যপদলহরী।
নিত্য ভূষণ
নিত্যবাস পরি
সকল অঙ্গ সে
নিত্য আমার ঢাকে।
নিত্য অঞ্চলে
মুখানি ঢাকিতে,
নিত্য নয়নে থাকে ৷
অঙ্গেতে পরিয়া
চাহিয়া আপনি দেখি।
সকল অঙ্গ
নিত্য আমার
শােভা করে প্রাণ সখি ।
নিত্য বিনে আর
সুখের শােভার
দেহে মনে প্রাণে নাই।
নিত্য নিত্য জপে আমার শােয়াস
তাই সে ফুরায় নাই। ৪৭।