Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Pattra O Pushpa Ed. 1st

Gupta,umadas · 2010/01/13

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

পত্র ওপুষ্প
মুল্য- আনা।
প্রমাদাস), এম, এ

প্রকাশক
শ্রীঅমরেন্দ্রনাথ গুপ্ত, এম, এ
৬ নয়নাদ দত্ত ট, কলিকাতা।
মুদ্ৰাক-ঐশিবপ্রসাদ নাগ, বি, এ
সংসাত্রী প্রস
১২এ গৌরমােহন মুখার্জী স্ট্রীট, কলিকাতা।

ভূমিকা
কবিতাগুলির অধিকাংশ সাত আট বৎসরের পূর্বে রচিত।
ইহার অধিক কৈফিয়ৎ অনাবশ্যক।
গ্রাম।

সগ
স্নেহের ভগিনী
স্বর্গতা
শ্রীমতী নারায়ণী দেবীর
স্মৃতার্থে

পত্র
প
cso
আমার যে এক অাছেন সমালােচক,
তারে সমঝে চলি বড়
যেমন খুসী কাব্য লিখব যদি,
আলােচনা সে করূবে খর।
কাব্য যদি চপল
লঘু লিখি
সমালােচক ওঠেন
তাতে রুখি
সারপূর্ণ ভাৰপূৰ্ণ কাৰ্য,
বিশ্লেষণে তাহার টেকা দায় ;
আমার যে এক আছেন সমালােচক,
তাহার খুসী কাব্য লেখা দায়।

২
পত্র ও পুষ্প
আমার যে এক আছেন সমালোচক
তারে সমঝে আমি চলি
মানুষটি তাে নয়কো বড় সােজা
সে কথাটা খােলাখুলিই বলি।
উদীয়মান কবির প্রতি
মায়া
মনের কোণেও ফেলে না তার
ছায়া,
বড় হ’বার আগে কয়েক দিন
বড় হ’বার আশায় নব সুখে,
সমালােচক তাতে বড়ই নারাজ
এ কথাটা বলছি অনেক দুঃখে।
তাইতে এবার অনেক দিন ধরে
মনের দুয়ার ছিলাম বন্ধ করে
শপথ করে বলেছিলেম আর
এমন করে ফিরবাে নাকো ঘুরে ;
মনে যদি কিছু থাকে
ফুটে উঠুক
থাকে যদি, আপদ
তবে ঘুচুক ;
মনের মধ্যে সােয়ন্তি নাই দেখি
এমন করে ঘুরে মরব কেন
আলােচনার বাণ নয়তো মিঠে
খেলে সে চলবে নাকো যেন।

পত্র ও পুষ্প
এ সব কথা ভাবছি যখন বসে
মনে মনে করুছি জল্পনা,
হঠাৎ শুনি মনের মাঝে কোথা
উঠছে যেন সুরের গুঞ্জনা
কাব্য ছাড়ব শপথটাও
দেখি
ছন্দে লিখছি, ঠিক
হচ্ছে সেকি;
মনের মধ্যে কিসের
সুর
উঠে
একা একা বসিয়া রহি ঘরে
খুঁজে পাইনে কারণ কিছু তার
কিসের সুখে চিত্ত তবু ভরে।
যেদিক পানে দুচোখ মেলে চাই
মনটা আমার কেন আকুল করে
যারেই দেখি নূতন লাগে তায়
পুরানাে সে নূতন রূপ ধরে।
কাব্য আমি যতই
ছাড়তে চাই
কাব্য মােরে ছাড়ছে
নাকো হায়
ভাগ্যে আমার সুখ নেইকো দেখি
আলােচনা সইতে আমায় হবেই
হয়কো যদি যশের আনাগােনা
ঝাঁঝের কথা দুটো একটা স’বেই।

পত্র ও পুষ্প
(২)
অনেক কথা লিখব বলে ভাবি
ভেবে চিন্তে আবার লিখিনা
নিজের অনেক ভয়-ভাবনা মাঝে
নিজের ত্রুটি ধরা পড়ে কিনা;
যে ক্রটিরে এখনও
ভয় করি
তারে নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি
করি
মনে এমন সাহস দেখিনা
মনের মধ্যে আছে অনেক ত্রুটি
যাহার কথা কাব্যে লিখিনা।
যে সব ত্রুটি আছেন ভয়াবহ
সে সব কথা এড়িয়ে এখন যাবই
জানি তাদের শােধন করতে গিয়ে
মনে মনে অনেক দুঃখ পাবই ;
সে দুঃখ যদি সবার
সাথে বাটি
অপযশঃই গাইবে
সবে খাঁটি
তাহার কথায় লাভ তাে দেখিল
মনের মধ্যে আছে অনেক ত্রুটি
যাহার কথা কাব্যে লিখিনা।

পত্র ও পুষ্প
৫
সেদিন কোথা পড়তেছিলেম
লিখেছেন এক কবি
জগৎমাঝে সুখ ক্ষণিকের
দুঃখ আর সবি।
কথাগুলাে মিথ্যে
বড় নয়
একথাটা স্বীকার করতেই
হয়,
মতদ্বৈধী তাহার সাথে আমার একটুখানি,
আর মিছে সবি।
লিখছে কবি বাসর নিশি
একটি নিশির তরেই
শুধুই আসে বাকী জীবন
একঘেয়েমি ভ'রেই
বুঝলেম না কবি
চাহেন কি
প্রতিনিশাই বাসর জাগতে
ছি
রাত্রিশেষে অল রশীদের মত
প্রেয়সীরে নিত্য কোতল করেই।

পত্র ও পুল
আমি ভাবিতে একটি নিশি
বাসর ঘরের স্বাদ
করতে পারি সারা জীবন
তাই নিয়ে আহলাদ,
সুন্দরীরা সেদিন
এলেন যত
প্রতিদিনই আশা করা
কি সঙ্গত
তাঁহাদেরাে আছেন প্রিয়জন
মিলন-আশায় তাদের সেধে বাদ।
কিংবা ধর প্রতিদিনই
তারা আসেন যদি
সবার মুখে মধুর হাসি
ফুটবে নিরবধি,
মেজাজ তাদের নাইকো
রুক্ষম কারো
কথার যাঁরা ধার ধারেন না
কারাে
ঠাৎ যদি বেঁকে বসেন কেহ
হঠাৎ কেহ রেগে ওঠেন যদি

পত্র ও পুষ্প
অনেক ভেবে চিন্তে আমি
বুঝেছি এই খাটি
বিধির সৃষ্টি তার চেয়ে আর
হয়না পরিপাটী ;
কবি যতই কাব্যে
লিখুন
মনে ভেবে চিন্তে
দেখুন
বধূটিরে বুকে পাওয়ায় সুখ
বাসর ঘরের পাওয়া চাইতে খাটি।
কবি আরও লিখিয়াছেন
অনেক দুঃখ করে
মৃত্যু শুধু জীবনটারে
শীকার মনে করে
আছে কোথাও ওৎ পেতে
সে বসে
ঘাড়ের উপর পড়বে
কবে এসে,
কবির মনে নাইক একটু সুখ
সে কথাটা কেবল মনে পড়ে।

৩
পত্র ও পু
কথাগুলাে মিথ্যে বড় নয়
দুঃখ হয়কো বটে
তবে যদি আরও একটু ভাব
দুঃখ লাঘব ঘটে
ভেবে যখন মিবে
নাকো পার
মরণ দাবী ছাড়বে
আপনার
এমন কোন প্রত্যাশা নেই
ভাবার দুঃখ অধিক কেন ঘটে।
তাহা ছাড়া ওপারবাসী যারা
তারাই দলে ভারী
হবেন বােধ হয়; এ কথাটা কিন্তু
ভারী সান্ত্বনারি;
;
অঙ্ক কষে হিসাব
যদি কর
মরণ তবে আরও
সত্যতর
সংখ্যাধিক্যে সত্যি যদি হয়,
মরণ তবে সত্য হবে ভারি।

পত্র ও পুষ্প
ওপারেতে নাইকো প্রিয়জন
এমন ক’জন আছে
অনেকেরই সাধ হকো মনে
যেতে তাদের কাছে
তাদের সাথে মিলন
যদি হয়
মরণ পারে গেলেই
সুনিশ্চয়
অনেক জনই যেতে চাইবে সেথা,
মৃত্যু-ভয় মিথ্যে তাদের কাছে।
অনেক ভেবে চিন্তে আমি
এই বুঝেছি সার
বিধির সৃষ্টি তার চেয়ে আর
হয়না চমৎকার।
কবি যতই কাব্যে
লিখুন
মনে ভেবে চিন্তে
দেখুন
সময় পূর্ণে বেঁচে থাকার চেয়ে
মঙ্গলময় মরণ বহুবার
২

১০
পত্র ও পুষ্প
;
৪ )
অনেক ভেবে চিন্তে আমি
এই বুঝেছি সার
প্রেমের কথা বল যাহা
সেটা কল্পনার
যাহার কথা কাব্যে লেখে
ছন্দে গেঁথে কবি
সে প্রেম শুধু সত্যি
যেমন সত্যি ছায়া-ছবি।
সে প্রেম থাকে কাব্যে ভাল
সাজানাে থরে থরে
প্রেমের কথা কাব্যে যেমন
তেমন নয়কো ঘরে।
প্রিয়া তােমার তিনিও মানুষ
মতও আছে তার
তােমার সাথে না মেলে যদি
দোষ তাহাতে কার ?
তােমার মতটা তুমিও যদি
ছাড়তে নাহি পারাে
ঝগড়া তাতে বাধতে পারে
বিনা দোষে কারাে।
তােমার মতটা সত্য বলে
জানছ তুমি ঠিক
প্রিয়ার মতও তাহার কাছে
লাগছে না বেঠিক।

পত্র ও পুষ্প
১৯
ইহা ছাড়াও ছােটখাট
ব্যাপার অনেক ঘটে,
কাব্যে যাহার খোজ পাবেনা
কিন্তু যাহা ঘটে ।
ধর তোমার প্রাণ এখন
প্রেম করতে চায়
প্রিয়া হয়ত অন্যমনা
রাজী নয়কো তায় ;
এতেও বিরােধ বাধতে পারে
বাধাই স্বাভাবিক
বাধলেই
নূতন সেটা
হত বাস্তবিক।
কিংবা ধর পুত্র তােমার
ক্ষিদেয় কঁদছে ব'সে
গিন্নী হঠাৎ রেগে তারে
দিলেন চড় কসে,
দেখে শুনে তুমিও হঠাৎ
রেগে উঠতে পারাে
চোখের উপর এমন বিচার
সহ হয় কারাে !
অষ্ট প্রহর ছেলের ঝক্কি
কিন্তু সে সামলায়
দখানেক করলে তুমি
হাঁপিয়ে উঠতে তায়।

পত্র ও পুষ্প
হয়ত তুমি দিনের শেষে
বসে ঘরের কোণে
নিজের কৃতিত্ত্ব ও সাফল্যের কথা
ভাবছ অন্য মনে,
মুমিতা প্রতিবাদের মত
হঠাৎ এলেন প্রিয়া,
তীব্রতম শ্লেষের সহিত
কহেন ঝঙ্কারিয়া,
--এত ক্রটি সংসারে, তার
সামলানাে আর দায়,
চক্ষু মুদে ভাব তুমি
নেই, কোন বালাই।
===
আপন মনে আপনারে কি
ভাল মানুষ জান
প্রিয়ার কাছে শুধিয়ে ভেঙ্গে।
মিথ্যে অভিমান,
জানবে তুমি অলস কত
স্বার্থপরও বটে,
কথার তােমার ঠিক থাকেনা
এমন নিত্য ঘটে।
আরও তােমার কত ত্রুটি
প্রিয়ার কাছেই জেনে
শুনেই শুধু পার যদি পাও
ভাগ্য বলি মেনন।

পত্র ও পুষ্প
অনেক দেখে ভেবে আমি
এই বুঝেছি সার
কাব্যে যাহার কথা লেখে
সেটা কল্পনার ;
সত্যি প্রেমে তাই বলে
কম সুখী কিন্তু নই
কাব্য থেকে সত্যি মধুর
সত্যি তাইতে কই।
জীবনে যা মেলে তাহা
কাব্য থেকে খাটি,
ফুলের চেয়ে ফলই ভালাে
থাকুক তাতে আঁটি ।

পত্র ও পুষ্প
( 6 )
চিত্ত আজ ঘুমায়, তারে
ব্যস্ত মিছে করা
নিদ্রা-কাতর বধূর মত
দেয় নাকো সে সাড়া,
মনের যেন কোনও কোণে
কথা নেইকো কিছু
যতই আজ ঘুরে মরি
মনের পিছু পিছু
আজকে তাহার ছুটির দিনে
রাজী নয়কো কাজে
তবু অনেক কাজ রয়েছে
বসতে পারিনা যে।
অনেক বিষয় ভাবতে হবে
অনেক কাজ বাকী
অনেক জটিল সমস্যা যা
দেবার নয় কো ফঁাকি ;
নিজের ফাঁদে পা দিয়েছি
নিজের খাতে ডুবি
নিজের নায়ে আঘাত করে
হচ্ছি ভরাডুবি ;
নিজের কাছে সান্ত্বনা নাই
শান্তি নাহি পাই
পরের কাছে কইব কথা
মুখ রাখিনি হায়।

পত্র ও পুষ্প
১৮
যা হয়েছে তাহার তরে
মিথ্যে এখন শোক
ভবিষ্যতের মুখেতে চাই
সফল তাহ হােক ;
যে পথ দিয়ে চলতে হবে
সে পথ ক্ষুরধার
এদিক ওদিক একটুকুতেই
অসীম পারাবার।
এ পথে তবু চলতে হবে
মরি কিংবা বাঁচি
হবার যাহা হউক তাতে
তৈরী হয়ে আছি।
হে প্রেয়সী, আমার দুঃখ
তুমিও স’বে হায়
আমার শুদ্ধি অগ্নিদাহ
তােমায় পশায় ;
আমার ত্যাগে বাধ্য হয়ে
ত্যাগী হবে তুমি,
আমার সন্ন্যাসে হবে
তুমি সন্ন্যাসিনী;
আমার পাপের বোেঝা, আমি
বইৰ তাহার ভার,
নিপা নিষ্কলুষা তুমি
তাপ সইবে তার।
'।

পত্র ও পুষ্প
বিধি যেদিন বেঁধে দিলেন
তােমার আমার হাতে
মুচকি হাসি হেসেছিলেন
সবার অলক্ষ্য পাতে,
জাগে মােদের ভুলিয়ে দিলেন
মধুর প্রেমধারে
দু’জনাতে মুগ্ধ করে
নিলেন দুই জনারে;
মনের কোনে কোনে যখন
শক্ত হ’ল গঠ
তখন সুরু হ’ল বিধির
রঙ্গ হাসি ঠাট।
তোমার আমার দোষ নেইকো
বিধি নিজেই দোষী
তোমায় আমায় দ্বিধায় ফেলে
হচ্ছে সে কি খুসী ;
তাহার খুসীর তরেই মাের
করছি যেন নাট
তাহার খুষীর জন্যে ধরার
হাসিকান্নর হাট;
তার নদীতে ভাসিয়াছি
তার নৌকোয় চলি,
হে প্রেয়সী, তােমায় আমায়
মিথ্যে বলাবলি।

পত্র ও পুষ্প
১৭
তার পরে তো অনেক দিন হল
এখন আমায় বল নাগাে প্রিয়া
অমন করে লজ্জা পেতে কেন
দেখলে আমায় উঠতে চমকিয়া ;
ধরতে গেলে দুটি বাহুর ডােরে
চাইতে গেলে দুটি চোখের পরে
চক্ষু দুটি নত করতে শুধু
অমন কেন উঠতে ব্যাকুলিয়া,
তারপরে তো অনেক দিন হ’ল
এখন আমায় বল নাগাে প্রিয়া।
;
বাসতে আমায় ভাল তুমি জানি,
ক্ষুদ্র হিয়ার সকল প্রেম দিয়া
মুখে আমার চাইতে নাকো তবু,
চাইতে কভু চাইত নাকি হিয়া ;
এমনি করে গােপন থেকে থেকে
আপনারে রাখলে কেবল ঢেকে
খুলতে গেলে ঘােমটা ভয়ে লাজে
কুঁড়ির মত উঠতে সঙ্কুচিয়া,
অমন করে আড়াল করূতে কেন
আপনারে রাখতে ঢাকিয়া।
(৩

১ন
পত্র ও পুষ্প
প্রস্ফুটিত কমল-কলি সম
আজকে হিয়া ফুটুল থরে থরে,
আজকে তােমার বাধা নাইকো কোথা
আজকে হিয়া আকুল গন্ধ ভরে ;
আজকে যত তােমার পানে চাই
মধুরিমার অন্ত নাহি পাই,
আজকে তােমার লজ্জা যাহা আছে
মধুরতা আরও মধুর করে,
আজকে তােমার যে বাধা-ভয় আছে
অকূল প্রেম ফুটিয়ে আরে ধরে।

পত্র ও পুষ্প
(৭)
আজ সন্ধ্যায় পাশের বাড়ী
গল্প করে মেয়ে,
মিষ্টি তাহার হাসির সুর
আসছে বাতাস বেয়ে ;
সন্ধ্যা-আঁধার মধুর করে
কথাটি তার ভাসে
স্নিগ্ধ তাহার রূপটি যেন
সেথায় পরকাশে;
আজকে ভরা সাঁঝের বেলা
গল্প করে মেয়ে
মিষ্টি তাহার কথার সুর
আছে বাতাস বেয়ে।
হঠাৎ আমার মনে হল
বিশ্ব সুখে ভরা
অমনি করে তাহার সাথে
হাসূছে যেন ধরা,
তবু যেমন নদীর পাশে
বালুকা রাশি রহে
তেমনি তাহার হাসির মাঝে
কান্না যেন বহে,
আজকে শুনি পাশের বাড়ী
গল্প করে মেয়ে
মনে হল বিশ্ব অমনি
চছে গল্প বেয়ে।

পত্র ও পুষ্প
ঐ বাড়ীতে অমনি করে
কত যে দিন হল
কত মেয়ে মধুর হাসি
অমনি হেসেছিল,
আজকে তারা কোথায় গেল,
কোথায় তাদের হাসি
আজকে কোথা মিশিয়ে গেল
তাদের স্মৃতি রাশি;
গত বর্ষের ঝরা পাতা
মেলে কি তরুতলে
আজকে তাদের বৃথাই খোজা
স্মৃতি-অশ্রু-জলে।
আজকে মনে হ’ল যেমন
ওই মেয়েটি হাসে
দলে দলে এসে মানুষ
যাচ্ছে কোথা ভেসে,
একটি বারের আসা হেথায়
একটি বারের হাসি
সবাই তাই নিচ্ছে হেসে
মুছে অশ্রু রাশি,
তার পরেতে স্মৃতির পাতা
যাচ্ছে ঝরে পড়ে,
পাশের বাড়ী মেয়ের কথা
বাজছে মধুর স্বরে।

পত্র ও পুষ্প
(৪)
জীবন, তােমার রৌদ্রের তলে
অনেক শিক্ষা লভেছি,
তােমার শতেক ধিক্কার গ্লানি
নীরবে সহিয়া গিয়েছি,
তােমার কঠোর নির্মম বাণী
অগ্নি-শলাকা সম
তীব্র কঠিন নগ্ন স্বরূপে
পশিয়াছে বুকে মম;
সেই সুকঠিন শিক্ষার তরে
তােমারে বন্দিতেছি,
জীবন, তােমার রৌদ্রের তলে
অনেক শিক্ষা লভেছি।
সত্যেরে শুধু খুঁজিয়া ফিরেছি
নিজের জীবন মাঝে,
জীবন, তােমার পানেতে চাহিয়া
মরি আজ তার লাজে ;
জগতের মাঝে মিথ্যা ফিরিছে
সত্যের রাজবেশে
তাহার ছলনা ভাঙ্গিতে হইবে
সে কথা ভুলেছি আলসে ;
শুধু মাের মাঝে সত্যেরে খুজে
ফাকি দিয়া আমি ফিরেছি,
জীবন, তােমার দুয়ারে বসিয়া
সে ভুল আজিকে ভেঙ্গেছি।

২২
পত্র ও পুষ্প
•
আমার মাঝারে সত্য স্থাপনা
ভেবেছিনু বড় কাজ,
আজ বুঝিলাম, শুধু তাহে খুসী
নই তাে বিশ্বরাজ
আমার যেখানে প্রয়ােজন শেষ
সেথা তব প্রয়ােজন,
সবে শুরু হ’ল—ছিল এতদিন
শুধু তার আয়ােজন
জগতের মাঝে সত্য ফিরিছে
লজ্জিত দীন বেশে
মিথ্যা ফিরিছে রাজার ভূষণে
উদ্ধত হাসি হেসে।
মিথ্যা বুঝিছে সত্যের সাথে
পদে পদে জয়ী হয়,
সত্যের তরে যুঝিতে হইবে
ভুলিয়া মরণ ভয় ;
মিথ্যা আপন মহিমা প্রচার
নিলাজ কণ্ঠে করে
সেথায় সত্য কহিতে হইবে
শান্ত গভীর স্বরে ;
মিথ্যা হানিছে বিজ্রপ-বাণী
অন্যায়কৃত সত্যে
সত্যের মাঝে তবুও জীবন
যাপিতে হইবে মহত্বে।

পত্র ও পুষ্প
জীবন, তােমার কঠোর সত্যে
করি গাে নমস্কার
মােহে, আলস্যে বারবার ভুলি
জাগাইছ বারবার ;
তব মন্দিরে সত্য প্রচার
চলিতেছে অহরহ
কাজের জগতে তব আহ্বান
বাজিছে কি দুঃসহ ;
তােমার বিরাট শিক্ষা ভুলিয়া
এতদিন দূরে ফিরেছি,
রৌদ্রবিছানাে ভুবনে আজিকে
নূতন শিক্ষা লভেছি।

পত্র ও পুষ্প
আমার রচিত শ্রেষ্ঠ গীতিকা,
তােমার যােগ্য হবে না,
তাই ওগাে দেবি, আনিতে অর্ঘ্য
মনেতে ভরসা পাইনা ;
তোমার মধুর মুখেতে চাহিয়া
সরমে মরিয়া যাই,
তােমার মধুর হাস্য হেরিয়া
ভরসা নাহিক পাই;
তােমার মধুর কণ্ঠ শুনিয়া
গাহিতে সাহস পাইনা
বন্দনা-গীতি রচিবারে যাই
আমিতো রচিতে পারি না।
মনের আবেগে তবু ভুলে যাই
আনমনে রচি গীতিকা,
যে পথ বহিয়া চলে যাবে তুমি
ফুলে সে সাজাই বীথিকা ;
লাজে ম্লান হয়, সরমে লুটায়
মধুর ফুল মহিমা,
তােমারে হেরিয়া সজ্জা আমার
ভুলে সকল গরিমা ;
তব বিরহের ক্ষণ গুলিরেই
সাজাই ভুলিয়া থাকিতে
তােমারে দেখিলে সেই প্রয়োজন
মিটে সে আপনি চকিতে।

পত্র ও পুষ্প (১০) তােমার চিত্রে চুম্বন দিয়া এবার ঘুম’তে যাই চিত্র ছাড়িয়া শু’তে যেতে তবু মনেতে বেদনা পাই ; চোখের উপর হইতে তােমারে আড়াল করিতে পারিনা বুকের উপর হইতে দূরেতে আছ যে হৃদয়াসীনা ; চোখে চোখে রাখি চিত্র নিরখি যেটুকু শান্তি পাই সেই সুখ ছাড়ি ঘুমেতে পাসরি থাকিতে নাহিক চাই। তােমার চিত্রে চুম্বন দিয়া এবার ঘুমতে যাই ঘুমের মাঝারে স্বপনের সাজে পুনঃ যেন দেখা পাই ; ক্ষণিকের লাগি সত্যের বেশে এসাে গাে হৃদয়ে এসাে গো আমার হৃদয়ে তােমার হিয়ার পরশ দিয়ে গাে দিয়াে গাে; সে স্বপন ভাঙ্গি’ প্রভাতে উঠিব তবু ভালাে যাহা পাই, তােমার চিত্রে চুম্বন দিয়া এবার ঘুমতে যাই। ৪

পত্র ও পুষ্প
(১১)
তােমার যােগ্য গীতিকা এখনাে
রচিত হয়নি ভুবনে,
* -
।
আমি যে সে গাথা রচিত পারিব
ভরসা পাইনে মনে ;
তুমি যে জীবনে জীবনে
কত বিচিত্র ভুবনে
আমার দয়িত হইয়া ফিরেছ,
বিশ্বাতিশায়ী রূপ-তরঙ্গে
আমার চিত্ত ভ’রেছ।
জগতে জগতে যত রূপ ছিল
যত প্রেম মনে মনে,
সব ব্যথা-ভার শােভা-সম্ভার
আজি গুমরিছে মনে ;
এখন স্মরিতে পারি না,
আছে যা চিত্তে বিলীনা,
কতবার বুকে লীন হ'লে তুমি
আবার বুকেতে পাইনা,
তােমার যােগ্য গীতিকা রচিব
এমন ভরসা পাইনা।

পত্র ও পুষ্প
২৭
.
(১২)
জ্যোৎস্না-নিশীথে পূর্ণ চাঁদের
মুখ হ'তে মুখ শােভাময়ী,
সে কাহার প্রিয়া কহগগা আমারে
কহ মােরে অয়ি লাজময়ি ;
মাের স্তুতিবাণী বন্দনাগীতি
শুনিয়া
বারে বারে তুমি সরমে উঠেছ
রাঙ্গিয়া
কতবার কোপ করিয়াছ মােরে
ক্ষুব্ধ হয়েছ প্রেমময়ী,
পূর্ণচাদের জ্যোৎস্না হইতে
অয়ি লাবণ্য শােভাময়ী।
যে নয়ন দিয়া তােমারে হেরিনু
সে নয়ন চলে অবগাহি,
তােমার অকূল রূপ-সাগরে
কূল তার মেলে নাহি;
তােমার মুখের শােভার প্রভায়
ম্লান হ’ল কত শশীতারা
সহস্র চন্দ্র সূৰ্য্য তােমায়
বন্দিয়া ফিরে দিশেহারা
তুমি কর কোপ রূপের প্রভায়
ঝলসিয়া মাের আঁখিতারা
তােমার রূপের অকূল পাথারে
আমি যে পাইনে কিনারা।

২
পত্র ও পুষ্প
১৩)
আলস ভরে সখী শুয়ে থাকে
সকাল বেলাটিতে
যত আমি বলি, ওগাে ওঠো,
সে কথাতে কান কে পাতে;
সকাল বেলার স্নিগ্ধ বায়ু ভরে
ফুলের পাতা যেমন উড়ে পড়ে,
তেমনি প্রিয়ার বসন এলােমেলাে,
ঘুমিয়ে থাকে সখী আলস ভরে ;
যত আমি বলি, ওঠো, ওঠো,
সে কথা বা কানেতে কে করে।
প্রিয়ার ঘুমটি গভীর যে খুব
মনে নাহি লয়
চুমিলে মুখ সে ঘুম কিন্তু
হঠাৎ গভীর হয়;
যতই তারে করি জ্বালাতন
থাকে প্রিয়া ঘুমে অচেতন,
চুমিলে মুখ মুখটি কিন্তু
হঠাৎ
মধুর হয়,
মধুমাখা মুখটি হঠাৎ
আরও মধুর হয়।

পত্র ও পুষ্প
(১৪)
তােমার দুটি চোখের পরে চেয়ে
চক্ষুঃ মাের সুধায় চলে বেয়ে,
তােমার অধর-অমৃত পান করি
অমৃতে মাের অধর গেল ছেয়ে ;
তােমার হিয়ার পরশ
লভি' প্রাণে,
ভরল জীবন অমৃতময়
গানে,
ছুটল আমার জীবন-শ্রোতস্বিনী
মরণ পারের নিত্য সাগর পানে।
কত যে সুরে ভরল প্রাণের বাঁশি
কত যে দিকে আলােক ফুটে উঠে,
কত জটিল প্রশ্ন সহজ হ’ল
কত যে বােধ জীবনে ওঠে ফুটে;
জীবন আমার কি আনন্দে ভরে
নিত্য নবীন জীবন তব বরে
ওগাে আমার জীবনদেবী এলে
অমৃতে ভরি থালিটি মাের তরে।

৩০
পত্র ও পুষ্প
(১৫)
তােমার ও মধুর স্বরটি
কোথায় পেলে প্রিয়া,
কণ্ঠে তােমার কে ঢালিল সুধা
আমি পাইনে ভাবিয়া,
যত শুনি পরাণ ভরি উঠে
তৃপ্তি প্রাণে তবুও নাহি ফুটে,
জীবন ভরে তােমার বাণী যেন
শুতে আমি চাই
পরাণ ভরে কণ্ঠস্বর শুনে
তৃপ্তি নাহি পাই।
কতদিন যে কইলে ভালবাস
আমায় প্রাণভরে,
সে বাণী আজ ছাপিয়ে প্রাণ
ছড়াল দিগন্তরে,
সে বাণী আজ তারায় তারায়
তাহার মধুর
কাঁপন লাগায়,
সে বাণী আজ বিশ্বমাঝে
শুনি যে প্রাণ ভরে,
সে বাণী সব মধুর সুস্বর
আজকে মধুর করে।

পত্র ও পুষ্প
(১৩)
আশা জাগে নিত্য নব নব
কাহার সাথে হঠাৎ হ'বে দেখা
মনের মধ্যে উঠবে কি যে ফুটে
যা শিখিনি হঠাৎ হবে শেখা ;
হঠাৎ যেন মনের দ্বার খুলে
চোখের উপর পর্দা যাবে খুলে,
হঠাৎ যেন কাহার পাব দেখা
মনের সাথে হবে পরিচয়
আমার মনের অন্তঃস্থলে কেবা
আছেন যিনি আমার হয়েও নয়।
সে বাধা মাের টুটবে যখন তবে
বাধা আমার সকল যাবে সরে
মনের যত বাঁধন খুলে যাবে
অন্ধকার কাটিয়া যাবে দূরে ;
যারেই চাহি বুঝিতে তারে পাই
বলিতে চাহি তাহাতে বাধা নাই,
হঠাৎ আমি মুক্তি লাভ করি
বাধা বাঁধন কাটিয়ে হব পার
মনের মধ্যে আগল টুটবে যবে
হিয়ার মধ্যে খুলবে যখন দ্বার।

পত্র ও পুষ্প
(১৭)
তােমার তরে হাজার গান গাই,
একটি গাথা গাইতে হবে মােরে
একটি সুখের সুর রচিতে হবে
যে সুখে মাের জীবন দিলে ভ’রে ;
সেই কথাটী বলতে আমি চাই
বারে বারে তারেই খুঁজে বেড়াই
গানের শেষে তখন ভেবে দেখি
সে কথা মাের বলা তাে হয় নাই।
যে সুখে মাের জীবন ভ'রে আছে
ছাপিয়ে গেল জীবন কূলে কূলে
কি যে সে সুখ ভেবে পাইনে মনে
যে সুখে মাের পরাণ উছলে ;
বুকের মাঝে যে নিয়েছে বাসা
তারে আমি বলতে না পাই ভাষা,
সকল প্রাণ যে গান গায় মাের
সে গান গা’বার বৃথা হ’ল আশা।

পত্রগুল
(১৪)
খনে খনে হয়কো মনে
তােমায় আমায় মিল তাে কোথাও নাই,
শুধু দু’জন ব’য়ে মরি ব্যর্থতার মাঝে
সম্পর্কের বালাই,
মনে হয়কো, সকল
করে ছিন্ন
হ’বাে সুখী ঘুচিয়ে
সকল চিহ্ন
সাথে সাথে কেন আমার
প্রাণ ঘুচাতে চাই।
খনে খনে হয়কো মনে, তােমা ভিন্ন
গতি নেইকো মাের
তােমার ঠোঁটে যা পেয়েছি, ভারি সুখে
জীবন হ’ল ভাের,
তােমা ভিন্ন অপর
কারাে সাথে
বাঁধা যদি পড়তেম
গাঁটছড়াতে
ঠিক এমনি প্রায় হত কিনা
সন্দেহ হয় ঘাের,
খনে খনে হয়কো মনে, তোমার প্রেমে
হয়ে আছি ভাের।

পত্র ও পুষ্প
১৯)
কোন্ বরণে শােভে নারী ?
শ্যামল তার নাম,
কোন্ সে বয়স ? চতুর্দশ
বর্ষ অভিরাম,
যে বয়সে নারী
নয়কো নারী
মৰ্যাদা তার হয়নি
তত ভারী,
সেই বয়সেই শােভে নারী
নয়ন অভিরাম।
শ্যামল তনু, বালা যখন
জল আন্‌তে যায়
তাহার শ্যামল মুখের পানে
অনিমিখেই চাই,
জলের বারি বহিয়া
আনি
ফেরে সে যেন বনের
রাণী
পথতরুর শােভার সাথে
রঙ্গ সে মিলে যায়।

পত্র ও পুষ্প
৩৫
অনেক দিন নারীর পানে
চাহিয়া দেখেছি
সবার চেয়ে শ্যামল রূপই
ভালােবেসেছি,
ধরার কোলে মিশিয়া
থাকে
কুটীর দ্বারে, ঘরের
ফাঁকে
শ্যামল বনের হারানাে নিধি
তাহারে মেনেছি।
দুই চরণের চঞ্চলতা
থামিয়া যবে আসে,
যে বয়সে চোখেই শুধু
আভাস তার ভাসে,
যে বয়সে মুখ
তুলে সে চায়
দেখতে যারে চাহে
উৎসুকতায়,
যে বয়সে স্বপন ফ্লোটে
প্রথম চিত্তাকাশে।

পত্র ও পু
চতুর্দশী খেলিয়া ফিরে
স্নিগ্ধবরণী
সােহাগে তারে ঘিরিয়া ধরে
সকল ধরণী,
নয়নে তার কি স্নেহ
আছে
বরণ কি যে মমতা
যাচে
আমার মন কাড়িয়া ফিরে
চিত্তহরণী।

পত্র ও পুষ্প
(২০)
ওদের প্রাণে লাগল বুঝি দোল,
আজকে ওদের আনন্দেরি দোল,
হাসিরাশি উঠতেছে উচ্ছ্বসি,
উপহাসের উঠছে কলরােল,
কিশাের গলায় উঠছে পরিহাস
কিশােরীর তরুণ কণ্ঠে হাসি
কুলু কুলু নদীর স্রোতােধারা
বালুর তটে উঠছে যেন ভাসি।
ওদের খেলায় যােগ দেব গাে আমি,
ওদের খেলায় যােগ দিতে যে চাই,
আমায় কেন ডাকছে নাকো ওরা
ওদের বুঝি তেমন সময় নাই।
নূতন গলার মধুর হাসি রাশি,
নূতন মুখে সুখ হাসির ছটা,
নূতন চোখে বিপুল আয়ােজন
ক্ষণে ক্ষণে ওঠে বিজুলী ঘটা,
নবীন তনুর মাঝে প্রাণের লীলা,
নবীন বুকে রক্ত উঠে ছাপি
নূতনপ্রাণে বিকশে যৌবন
প্রাণ-সাগরে ঢেউয়ের ঝাপাঝাপি;
নূতন প্রাণে প্রেমের শিহরণ
প্রথম যখন বিকশে সুখরাশি,
নবীন প্রাণে প্রথম প্রেমলীলা,
দেখতে আমি বড়ই ভালােবাসি।

পত্র ও পুষ্প
আজকে সাঁঝে পাগল হ'ল বায়ু
আজকে বায়ু ফেনিল হাসিস্রোতে
আজকে বায়ু মুখর হয়ে মাতে
পরিহাসের স্রোতের ওতপ্রােতে,
ছুটোছুটি করছে যেন খেলা,
আজকে কারা লুকোচুরী খেলে,
আজকে যেন প্রিয়জনের লাগি
তরুণী তার আঁচলখানি মেলে,
আজকে প্রথম প্রেমিক প্রেমিকার
মিলন হ’ল বেড়ার আড়ালটিতে
আত্মহারা প্রেমিক বুঝি আজ
দিয়াছে চুমু প্রিয়ার ঠোটটিতে।
আজকে আমার প্রাণের মাঝে কোথা
খেলছে বুঝি তরুণ তরুণী
তরুণ তার প্রিয়ার লাগি ছুটে,
পালায় যেথা তাহার প্রণয়িণী,
পালায় তবু পড়িতে ধরা চায়
সুদৃঢ় প্রিয় বাহুবক্ষঃ তটে
চরণ ছুটে বসন উড়ে যায়,
আচলখানি ভূমির পরে লােটে,
বুকের মাঝে জাপটি ধরাধরি
সুদৃঢ়তর বাহুবন্ধ কার
ক্ষণিক আগৈ পালাল যেবা ছুটে
পড়িয়া ধরা এত আনন্দ তার।

পত্র ও পুষ্প
(২১)
যে ঘরে মাের বিয়ে হ’ল সে
যেমন তেমন নয়,
পত্নীরে মাের শুধিয়ােনা হয়
তাহার পরিচয় ;
সম্বন্ধীরা নয়কো
হেলাফেলা
করূতে তাদের চাইব
অবহেলা
মতি গতি অবশ্য মাের
তেমন মােটেই নয়।
সম্বন্ধীদের বন্ধুরা ফের
তাদের চাইতে বড়
শুনলে পরে বংশ তাদের
চক্ষুঃ করবে বড় ;
করে তাদের রূপের
পরিচয়
মানি মনে অসীম
বিস্ময়,
রূপে গুণে বধূরা সব
স্বামীর চাইতে বড়।

৪৩
পত্র ও পুল
এমন ঘরে বিয়ের পরে
সুখে থাকতে চাই
মনের সুখে থাকব দু’দিন,
ভাগ্যে কিন্তু নাই;
সম্বন্ধীরা বধূর সাথে
মিলে
করচে তৈরী যে সব
ছেলেপিলে
থাকতে সুখে দিলে নাকো তারা
উপহাস্যতায়।
সেজে গুজে যখন আমি
তাদের বাড়ী যাই
মুচকে কেন হাসে মেয়েগুলি
ভাবিয়া নাহি পাই,
চুলগুলাে মাের নাহয়
ছােট ছাঁটা
ক্রটি পূর্ণ
ধুতির ফ্যাসানটা,
তাতে এত হাসির কারণ কিবা
থাকতে পারে ছাই।

পত্র ও পু
৪১
তাদের ঘরে আছেন এক বন্ধু
দেখলে পরে মােরে
মুছকে হাসেন উপহাসের হাসি
মধুর অধর ভরে,
কহেন না তাে আমার
সাথে কথা
ধাব''যে হাসির
অনর্থটা
উপায় নাহি, তাইতে সকল
আছি সহ করে।
সেদিন এক চিত্ত-বিনােদিনী
হেসেই গড়াগড়ি,
করতেছিলাম পথের ধারে আমি
দরের কড়াকড়ি,
তাহার মােটর হঠাৎ
কোথা হতে
থামল এসে আমার
সম্মুখেতে
ধরা পড়ে গেলেম যেন কোন
খারাপ কাজে ভারী।

৪
বড় বংশে বিয়ে করার সুখ
অনেক আছে বটে
রূপসীদের সহিত পরিচয়
সৌভাগ্যেতে ঘটে,
রূপসীদের উপহাসের
হাসি
সেও ভাগ্য বলেই মনে
বাসি
সৌভাগ্যটা কিন্তু মাের মুতে
অমিশ্র নয় মােটে।

পত্র ও পু
৪
(২২)
তােমায় আমায় যখন বিয়ে হল
সে সব দিনের কথা
ভুলেও এখন মনে কি পড়ে সখি,
প্রাণে জাগায় ব্যথা ;
তখন তুমি নূতন
ছিলে কত
নূতন ধাঁধা লাগিত
চোখে শত
নিত্য তােমায় নূতন রূপে হেরি
জাগিত প্রাণে নিত্য নূতনতা।
তারপরে আজ অনেক দিন হল
সে সুর গেছে কাটি
রঙ্গীন কত কল্পনার ফানুষ
হাওয়ায় গেছে ফাটি,
অজিকে আর তাে স্বপন
খুঁজিনাকো
সত্য তুমি কোন রূপেতে
থাকো
আজকে সেই হল আমার
খোজার বিষয় খাটি।

33
পত্র ও পুষ্প
কল্পনা সে গেল কাটি,
সত্য তাহার ঠাই
এল বটে, তবুও তাতে
লােকসান তাে নেই;
আমার এত আপনার
সে বধূ
তাহার এত হৃদয়ভরা
মধু,
স্বপ্নে থেকে এতদিন তােত
স্বপ্নে ভাবি নাই।
যা হারাল তাহার তরে
নাইকো আমার শােক
অমৃত সাধনা এ মাের
সফল শুধু হােক,
ফুলের পাতা ঝরল বলে
যে কাঁদে
তাই দিয়ে সে ফলের ফসল
বাঁধে
ফুল ফোটা মাের শেষ হয়েছে
এবার ফসল হােক।

পত্র ও পুষ্প
৪৫
(২৩)
প্রস্ফুটিত পদ্ম ফুলের কাজ
কিবা আর আছে,
কোমল শত মেলিয়া দল
সােহাগ শুধু যাচে,
তার কাজ কিছু নাই
বাকী
গন্ধ শুধু ছােটায়
থাকি থাকি,
আলােক-স্রোতে মেলিয়া গা’
হাওয়ার স্রোতে নাচে।
ওগাে, কমল, ভাবনা তােমার
বলবে কি গাে মােরে
সহস্র দল মেলিয়া যখন
ফুটলে তুমি ভােরে,
পুলক কি গাে লাগে
তােমার গায়
সবাই যখন অবাক
হয়ে চায়,
তােমার গায়ের ওড়না যখন
হাওয়ার ভরে ওড়ে।
",

পত্র ও পুষ্প
হে পূর্ণযৌবনা নারী
কাজ কি তব আছে,
ও ভরা যৌবন শুধু
সবার সেই যাচে,
তােমার রূপের ভরা
ডালি
চম সবার লাগায়
খালি,
উদ্ভ্রান্ত প্রণয়ী পায়ে
জীবন তার সঁচে।
হে রূপসী, বলবে মােরে
ভাবনা তােমার কি
জানিতে যে আমি আমার
নিদ্রা ছাড়িয়াছি,
সবারে অবাক করে
কি ভাব
তাহার কিনারা কভু
কি পাব
নিজের সৌন্দৰ্য্য ভাবি
ভাবনা তােমার কি।

পত্র ও পুষ্প
/ht
(২৪)
শিশু যেমন হাটতে শিখে চলে
তেমনি করে চলছি ধীরে ধীরে
বাধা বিপদ আসছে পায়ে পায়ে
দ্বিধায় চরণ জড়ায় বারেবারে
পথে আমার কত প্রলােভন
বারেবারে করলে অন্যমন
এখন কি হয়নি মনস্থির
এখনও পা জড়িয়ে কেন ধরে।
উৎসাহ বা আশার মধুবাণী
কেহ কভু শােনায় নি ক’ মােরে
হেসে মুখে চায়নি আমার কেহ
মিষ্ট কথা কয়নি মধুর স্বরে,
নিজের দোষে সব হারানু জানি
আমার তরে ছিল মিষ্ট বাণী,
মধুর হাসি আমার তরে ছিল
মিষ্ট প্রেমে হৃদয় ছিল ভ'রে।

পত্র ও পুষ্প
(২৫)
সমালােচক বল্লে আমায় হেসে
লিখেছ যা মন্দ হয়নি, ভালাে,
তবু যদি আরও ভাল হত
এর চেয়ে সে হ’ত আরাে ভালাে।
পঞ্চাশেক পাতার মধ্যে ছাপা
তােমার লেখা কবিতাগুলি দেখি,
বাদ খানিকটে দিলেও ভাল হতাে,
ভাল কথা শুনবে কিন্তু সেকি ?
গােড়ার থেকে খান সতেরাে পাতা
মাঝের থেকে তেয়াের বেশী নয়
শেষের দিকে পা খানেক কুড়ি
বাদ দিলে সে খুবই ভালাে হয়।
ভাষাটাও নূতন নূতন ঠেকে
ভাবগুলাে সব লাগছে বেয়াড়া
লেখা যদি ভালাে করতে চাও
বলে ফেললা দু’য়ের চেহারা।
মােটর উপর নিজের যাহা কিছু
বলে সে সব আসূতে যদি পারাে
তবে তােমার লেখা ভালােই হবে
নচেৎ লেখা ছাড়াই ভালাে আলাে।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Pattra O Pushpa Ed. 1st

Author
Gupta,umadas
Title
Pattra O Pushpa Ed. 1st
File name
Pattra O Pushpa Ed. 1st
Text
OCR done
Citation
1939
Published
2010/01/13
Publisher
Amarendranath Gupta,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
62
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Gupta,Umadas
DLI number
511266
Barcode
4990010018431.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
sXodVNQbPpD
Download PDF

Pattra O Pushpa Ed. 1st