Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Sangeet Mala

Raychoudhury,mahimaranjan · 2009/12/26

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

সঙ্গীইমকি
নানাবিধ বিষয়ের কতকগুলি সঙ্গীত
এই পুস্তকে লিখিত হইয়াছে।
কাকিনা রঙ্গপুর নিবাসী
(মহিম! রঞ্জন রায়চৌধুরী
বিরচিতও
ঐকালীদাস চক্রবর্তী কর্তৃক প্রকাশিত।
মতিলাল দাস কর্তৃক
গুপ্তপ্রশে মুদ্রিত।
২২১, কর্ণওয়ালিশ স্ট্রীট-কলিকা।
প্ন,

No text on this page.

বিজ্ঞাপন।
এই সকল সঙ্গীত অতি অল্প দিনে প্রণয়ন
করিয়াছি, এমনকি বর্তমান সময় হইতে তিন
মাসের অধিক হইবে না আমি সঙ্গীত রচনায়
প্রবৃত্ত হই। সরলভাষায় সঙ্গীত রচিত হয়
ইহা আমার বিশেষ ইচ্ছার বিষয়, কাজে
কাজেই সাধ্যানুসারে সরল করিতে চেষ্টা
করিয়াছি। কতদূর সরল হইয়াছে তাহা
সাধারণের বিবেচ্য।
ভবিষ্যতে এই ক্ষুদ্র
পুস্তককে পরিবর্ধিত করিবার ইচ্ছা থাকিল ।
প্রণেতা।

No text on this page.

সঙ্গীতমালা। নির্ঘণ্ট পত্র। পৃষ্ঠা সংখ্যা ১১ ১৫ ৪৭ ২২ ১৯ ২৭ ৪৭ গানের নাম অন্ধমুনির পুত্র আমি অহঙ্কার বলে আমি অামার অাশা পুরণ কর আমার নিকটে মরণ আমার অদৃষ্টে বিধি আজ সুরধনী এখন কি করি একবার খােল আঁখি ওহে পিতঃ ওমা সাক্ষাৎ ঈশ্বরী ওহে মহারাজ আর ৪৯ २२ ৩১ ৩২ ৪৩ ৪ ৪ ৬ ১১ ওহে ভূপ n নির্ঘণ্ট পত্র । পৃষ্ঠা সংখ্যা গানের নাম ওরে যােগী চোর ২০ ২৯ ওরে নন্দী ২৩ ৩৩ ২৬ ৩৭ ২৬ ৩৮ ওরে প্রহলাদ ওহে রাজন ওহে নাথ কতবার সব আমি কপালে কি আমার ৩৯ ৪ ৫ ১২ কাতরে ডাকেহে নাথ ৩৯ ২২ ২৪ ৩৪ ১ v কানপুর হয়েছে যমপুর ঈদ কেন ওমা সীতে কি বলিব হায় আমি কে পারে বর্ণিতে কেন মিরজাফর আজি কেন বৃথা ভাব রাজা কেন ওহে প্রাণ নাথ কেন উইম ফেন ৯ ১১ ১০ ১৩ ১৪ २० ৪ ৫ ৫৭ নির্ঘণ্ট পত্র । • পৃষ্ঠা সংখ্যা ន ৭ গানের নাম কে বলে তুমায় স্বাধীন কোথা শান্তমণি মাতা কোথা ওহে শম্ভু চন্দ্র কোথারে বাপ চল বৃটনের যত সুত গণ ছাড় ছাড় রাজ্য আশা ৩০ ৪২ ৬৮ জনমের মত ৩৪ ২ ২ তুমি সত্য সনাতন তােমার হইব পত্নী ২১ ৫? ৬৪ তােমার সকল সুতে দিদি জনমের মত ৩৪ ৪৬ ৪৩ ৫৮ দেখহে দাদা ১৭ ধনির না হয় নিদ্রা পিতা মম করে অাছে ধ্যান ২৯ প্রজা বিনে রাজার প্রাণের সীতে না দেখে রে ৪১ ৪৮ 2 ?

| নির্ঘণ্ট পত্র। পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৭ ৪৯ ৪৩ ৫৪ ৬ ৮ ৫২ ৬৭ ১৪ ১৯ ১০ ৩৬ গানের নাম প্রাণ যায় মা আমার প্রাণ কাদেরে আমার বন্ধুতা এই পৃথিবীর বণিক বেশে এসে দেশে বনবাসে যাবিরে রাম বৃথায় জনম আমার ভূতনাথ আজ্ঞা দিলে মলহর শীঘ্র দেশ ত্যাগ কর মহেন্দ্র রঞ্জন বাপরে যতন করিলে রতন মিলে যা যা পাপীয়সি যােগী এসেছে দ্বারে শুনগাে প্রাণনাথ আমার শুন শুন ওরে মারীচ শুভ দিন আজি বলে শুন শুন আমার গুণ ৪৮ ৬১ ৪ ৪ ৯ ১৬ ২৩ ২০ ২৮ ১২ ১৭ ১৮ ২৬ ৪৭ ৪ ০ હર

নির্ঘণ্ট পত্র।
•
পৃষ্ঠা
সংখ্যা
৪৪
२8
১৮
গানের নাম
শুন শুন বীরগণ
শুস বীরভদ্ররে ভাই
শ্রীরামে দিয়ে বনে
সাজ সাজ সেনাগণ
সাধ করে করিনে চাকরি
হায় কি শুনিলাম
হিরণ্যকশিপু আজি
১৭
२8
৬৫
৪১
২৮
৪০

No text on this page.

সঙ্গীতম
খাম্বাজ-চৌহল।
কে পারে বর্ণিতে, ওহে বিশ্বপতে,
এক মুখে তব অশেষ করূণা।
আমি অজ্ঞান, বিবেক বিহীন,
বর্ণিতে কি পারি তােমার দয়া।
ওহে পূর্ণ জ্ঞান, দয়ার নিধান, এ বিশ্ব পালন,
কর চির দিন, না থাকিলে তব অপার করুণা,
কার সাধ্য আছে ধরিতে প্রাণ।
দেখে মােরে অতি দুর্বল সন্তান,
দয়া কর,বিভাে করুণা নিধান,
অগতিরে আর, কে করিবে পার,
দুস্তর সংসার সাগর।১

সঙ্গীতমালা।
বিভাস-টিমা তেতালা।
তুমি সত্য সনাতন নির্বিকার,
তােমা কে জানে হেন সাধ্য কার ?
আশা কেবল প্রভু তােমার দয়ার।
তােমার দয়া বিনে উপায় নাই,
বিষম দুঃখ আছে দেখিতে পাই,
তােমার আজ্ঞা করি অবহেলা,
মনেতে বুঝি আর নাই হে নিস্তার।
তােমার রচিত এই বিচিত্র সংসার,
ইহার প্রলোভনে হয়েছি,অসার,
এখন হে নাথ, মােরা নিরুপায়,
বল কে আছে আর, করিতে উদ্ধার ২
সিন্ধু-মধ্যমান।
কাতরে ডাকেহে নাথ, তব পতিত সন্তান।
অনুগত সুত প্রতি দয়া কর দয়া নিধান।

সঙ্গীতমালা।
আর কার প্রতি ভার
ওহে দেব দের যার, সাধ্য আছে করিবার,
মম সম পাপিত্রাণ ।
পাপ তাপে পােড়ে প্রাণ, বিষে সুধা ছিল জ্ঞান,
এ বিপদে দিয়ে স্থান, প্রাণ রাখ, বিশ্ব নিদান।৩
কালেংড়া-চিমা তেতালা।
ওহে পিতঃ আমরা ভিখারী তােমার ।
তােমাকে করিহে ভিক্ষা যাতে হবে উদ্ধার ।
যত রিপু যুক্তি করে, জ্ঞান ধন নিল হ'রে,
বােধ হয় বধিবে জীবন; ওহে করুণ নিধান,
আপনারে করে দান, ওষ্ঠাগত জীবন বাঁচাও,
তােমাকে না পেলে ভিক্ষে উপায় দেখিনে আর।
মােরা যত ভিখারী, এসেছি আজ আশা করি,
আশা ভঙ্গ করাে নাহে নাথ, বল আর কত দিন,
রব পাপের অধীন, দীন হীন আমরা সকল,
এ বিপদে করে রক্ষে হেন সাধ্য কার! ৪

সঙ্গীতমালা।
অহংগৎ।
কতবার সব আমি পাপ যাতনা হে আর।
যদিও আমি কুসন্তান, কিন্তু তুমি করুণা নিধান,
অতএব বলি নাথ রাখ পদে দিয়ে স্থান।
তব দয়া বিনা নাথ নাহি দেখি পরিত্রাণ ॥৫
ললিত-একতালা।
ওমা সাক্ষাৎ ঈশ্বরি, আমায় গর্ভে ধরি,
কত না যাতনা পেয়েছ।
এ প্রাণ থাকিতে, পারিনে ভুলিতে,
মাগাে যত স্নেহ তুমি করেছ।
দেখিলে আমায়, রােগ যন্ত্রণায়,
হয়েছ মা তুমি নিতান্ত ব্যাকুল;
গুরু ঋণ পাশে, জননী এ দাসে,
চির দিন তরে বেঁধেছ।
মনে হলে তােমায়, বুক ফেটে যায়,
তব তুল্য স্নেহ পাইব কোথায় ;

সঙ্গীতমালা।
F
চির দিন তরে,
শশাকের সাগরে,
ভাইয়ে মাগাে গিয়েছ। ৬
রাগিণী ললিত-তাল আড়া।
কোথা শান্তমণি*মাতা, যার গর্ভে হয়ে ছিলাম ।
প্রসূত হবার কালে, মৃত্যু তুল্য কষ্ট দিলাম।
যার স্তন্য করে পান, ধরিলাম এই প্রাণ,
স্নেহের নাহি পরিমাণ, হেন মায়ে হারাইলাম।
জননী জঠরে বাস, করে আমি দশ মাস,
যত কষ্ট দিয়েছি তায়, সংখ্যা নাহি হয় ।
উঠিতে বসিতে ক্লেশ, হয়েছে মায় অশেষ,
সুখের ছিলনা লেশ, আর এই, শুনিলাম।
ভুমিষ্ঠ হলেম যখন, মা হইলেন অচেতন,
অনুভব হলাে তাঁর, দেহে নাই প্রাণ ;
* অন্যে গান করার সময় শান্তমণি স্থানে, স্নেহময়ী*
বলিলেই হইতে পারিবে।

৩
সঙ্গীতমালা।
পরে জ্ঞান লাভ করে, হস্ত দিয়ে এ শরীরে,
বহু পরিমাণ তাঁর, যাতনা হলাে বিরাম।
স্নেহময়ী মায়ে আর, উপায় নাই দেখিবার,
দয়া মনে হলে যার, ঝরে নেত্র জল ;
বিশাল বিশ্বের পতি, সেই জননীর প্রতি,
রাখুন অচলা ভক্তি, এই মম মনস্কাম।৭
ঝিঝিটপােস্ত।
বন্ধু এই পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ রতন।
কত জনে বহু যত্ন করে পায়না সেন।
হেন সৰ্ব্ব সুখ নিধি, সকলের ভাগ্যে বিধি,
হায় রে কেন নিদয় হ'য়ে, করেন নাই বিতরণ।
প্রাণ বন্ধু নাহি যার, সংসার শ্মশান তার,
বনবাসী হাে সেহে গৃহে নাই প্রয়ােজন।
বন্ধু বন্ধুর হিতে রত, থাকে ওহে অবিরত,
ধন প্রাণ দিয়ে করে, বন্ধু বিপদ বিমােচন। ৮

সঙ্গীতমালা।
কাকিনীয়া
স্কুলের
পারিতােষিক বিতরণের সময়
এই গান হইয়াছিল।
ঝিঝিটপঁপতাল।
যতন করিলে, রতন মিলে, জানে সকলে।
অতএব প্রাণ পণে, বিদ্যারূপ মহাধনে,
অর্জন কর রে সবে, রবে মঙ্গলে।
বিদ্যার যতেক ফল, কিরূপে বুঝাই বল,
মনোেযােগে শিখ পরে, জানিবে ফলে।
পিতা মাতা গুরুগণ, হবে আহলাদিত মন,
যখন প্রশংসা পাবে বিদ্বান বলে।
ভেবে দেখ এ সংসারে, মুখেরে কে মান্য করে,
হায় রে জীবন তাদের, গেল বিফলে।
মনুষ্যের অধিকার, নানা বিদ্যা শিখিবার,
তাই সে জীবের শ্রেষ্ঠ, অবনী তলে। ৯

সঙ্গীতমালা।
দুর্ভিক্ষের গান।
সুরট-মল্লার, আড়া।
বৃথায় জনম আমার, অন্ন নাই থে’তে ঘরে
পরিবারগণ সবে, ক্ষুধায় ক্রন্দন করে।
প্রাণ তুল্য পুত্রগণ, হয়ে ব্যাকুলিত মন,
বলে শীঘ্র খেতে দেও, নতুবা যাই প্রাণে মরে ।
দুর্ভিক্ষ হ’লাে প্রবল, আমার নাই অর্থ বল,
কিরূপে বচাব প্রাণ দেখিনে উপায় ;
হায় এই ছিল রে ভাগ্যে, জীবন যাবে দুর্ভিক্ষে,
ভাবিলে সেই ঘাের মৃত্যু, সতত নয়ন ঝরে।
আর কোন স্থান নাই, যথা গেলে অন্ন পাই,
বিপদ কালেতে বন্ধু কেহ নাহি হয় ;
কোথা ওহে ধনিগণ, দরিদ্রে দিয়ে অশন,
রাখ ওষ্ঠাগত প্রাণ, মঙ্গল হইবে পরে ॥ ১০

সঙ্গীত মালা।
৯
রামকেলিজৎ।
সেরাজ উদ্দৌলার উক্তি ।
কেন মিরজাফর আজি যুদ্ধে তােমার মন নাই।
দেখিয়ে তােমার ভাব মনে বড় শঙ্কা পাই।
অন্যতর সেনাপতি, মােহন লাল মহামতি,
করিছে বিষম যুদ্ধ দেখিবারে পাই।
শুন ওহে বীরবর, বীরধর্ম রক্ষা কর,
প্রভুর কারণে আজি, প্রাণ দেওয়া চাই।
তুমি হলে অবিশ্বাসী, হব কারাগার বাসী,
রাজ্য ধন সব যাবে, ভেবে মরি তাই ১১
লক্ষৌর টুংরি।
কপালে কি আমার, ছিল রে হায়,
মিরণের হাতে আজি প্ৰাণ যে যায়।
বেঁধে দিল ফকির, বঙ্গ অধীশ্বর,
কি করি নিজ দোষে এবে নিরুপায়।

সঙ্গীতমালা।
পেয়ে রাজ্য ভার, বহু অত্যাচার,
করেছি ব'লে কেহ হ’লােনা সন্ত্রায়।
যে মিরজাফর, হয়ে যােড়কর,
থাকিত নিরন্তর আমার সভায়;
আজ তার সন্তান, বধিছে মম প্রাণ,
অবশ্য এই দণ্ড মাের বিধির ইচ্ছায়। ১২
।
মহারাজ ভীমসিংহের প্রতি
আলাউদ্দিন বাদশাহের উক্তি।
কালেংড়া—আড় খেমটা।
কেন বৃথা ভাব রাজা ভীম সিংহ রায়।
প্রাণের পদ্মিনী তােমার, আমারে যে চায়।
এখন পদ্মিনী সতী, আমাকে করিবে পতি,
তােমার কি হবে গতি, বুঝা নাহি যায়।
নারী কভু নিজ নয়, যেনাে রাজা সুনিশ্চয়,
পদ্মিনী তার পরিচয়, দিল জানা যায়। ১৩

সঙ্গীতমালা।
১১
পদ্মিনীর উক্তি।
বিভাস-আড়া।
ওহে মহারাজ আর, যুদ্ধ করা অকারণ।
অগ্নি কুণ্ডে প্রবেশিয়ে, রাস্ব জাতি কুল মান।
দুষ্ট আলা উদ্দীন, হইয়াছে জ্ঞানহীন,
পরনারী বলে নেবে করিয়াছে পণ ;
এই দেহে প্রাণ, থাকিতে,
সাধ্য কার আছে চুইতে,
নারীধৰ্ম্ম না যাইতে পদ্মিনী দিবেহে প্রাণ। ১৪
পুরবী-জঙ্গলা।
‘পাড়াতে দুধ যােগা’তে”–গানের সুর।
অন্ধমুনির পুত্র আমি শুনলে মহারাজ এখন।
পিতা মাতার জন্য আমি,
এসেছিলাম, ওহে রাজ, ক’তে বারি অন্বেষণ
আমি ভিন্ন পিতা মাতার,
উপায় নাই আর প্রাণ বাঁচার,

সঙ্গীতমালা।
বধিয়ে আমারে রাজ,
বিনাশিলে অন্ধ পিতা মাতা দুজন।
শুন ওহে মহারাজ, ক’র এই শেষ কায,
মম দেহ ল’য়ে যেও যথা আছেন,
পিতা মাতা করে ধ্যান।১৫
কালেংড়া-টিমা.তেতালা।
ওহে ভূপ বধ করেছ পুত্র ধনে।
আজ পুত্রশােকে প্রাণত্যাগ, ক’ব মােরা আগুণে
শুন রাজা দশরথ, হয়ে তুমি পাপে রত,
বিনা দোষে সন্তানেরে করেছ নিধন ;
পুত্র শােকে আমরা যেমন, মৃত্যু করি আলিঙ্গন,
তব মৃত্যু হবে সেই পুত্র শােক কারণে। ১৬
আলাহিয়া—একতালা।
গুন গাে প্রাণনাথ আমার ।
পূৰ্ব্ব প্রতিশ্রুত বাক্য তােমার,

সঙ্গীতমালা।
১৩
অনুসারে দুই বর দাও এখন,
যাতে হবে তব মহিমা প্রচার ।
এক বরে রামে অরণ্যে প্রেরণ,
অন্য বরে ভরতেরে রাজ্যাৰ্পণ,
করে প্রাণনাথ রাখ হে জীবন,
নতুবা কৈকেয়ীর মায়া পরিহার।
তুমি মহারাজা ধৰ্ম্ম পরায়ণ,
দেখ যেন হয়না অন্য আচরণ,
শ্রীরামের তরে, সত্য ভঙ্গ করে,
ল’ও নাহে শীরে কলঙ্কের ভার। ১৭
গারা ভৈরবী-টিমা তেতালা।
শ্রীরামে দিয়ে বনে, আমাকে শােকাগুনে,
ওরে কৈকেয়ী তুই পােড়ালি।
ওরে কাল সাপিনি, হলি স্বামিঘাতিনী,
পাপিনি নিজ গুণ জানালি।

১৪
সঙ্গীতমালা।
ভরত সিংহাসন, কবেনা গ্রহণ,
বৃথা কেবল প্রমাদ ঘটালি ।
নারীর বাধ্য হইলে, কি করে বুদ্ধি বলে,
তাই কৈকেয়ী আমায় মজালি। ১৮
জঙ্গলা সারঙ্গ গৎ-টিমে তেতালা।
বনবাসে যাবিরে রাম তুই শুনে জ্ঞান শূন্য
হয়ে আছি যাদুমণি।
বহু আরাধনাতে, বিধি দিয়ে ছিল,
তােমা তুল্য নন্দন,
ভাগ্য দোষে বুঝি তােরে হারাই বাছাধন,
কাল সতিনীর মনে যা ছিল, হায় বিধি পূরাইল,
শােকে বুক ফেটে গেল। ১৯
কালেংড়া-আড় খেষ্টা।
কেন ওহে প্রাণনাথ, গৃহে থাকতে বল আমায় !
তুমি যাবে বনবাসে শূন্য গৃহে কি ফল থাকায়।

সঙ্গীতমালা ।
কখন কি তােমায় ছাড়ি,একাকিনী রইতে পারি,
না করিলে সহচরী, দুঃখ কেবল প্রাণ রাখায়।
বনবাসে বহুতর, কষ্ট পাবে প্রাণেশ্বর,
এ দাসী থাকিতে কেন,
বিঘ্ন হবে তােমার সেবায়। ২০
খাম্বাজ-টিমে তেতালা।
তােমার হইব পত্নী মনে করিয়াছি সাধ।
(ওহে রামচন্দ্র) বৃথা কেন বৃদ্ধ। সীতা আছে
তােমার সাথ।
আমি কাম বশীভূত, বিগত যৌবনা সীতা,
তাই সূর্পণখা সহ প্রেম কর প্রাণনাথ।
চির দিন তব সঙ্গে, থাকি আমি রসঙ্গে,
যেন বিষম অনঙ্গে, শেষে না ঘটায় বিষাদ।
রাবণ আমার ভাই, যার তুল্য রাজা নাই,
কোপে যার দেবগণ মনেতে গণে প্রমাদ। ২১

১৬
সঙ্গীতমালা।
প
মুলতান—কাওয়ালী ।
আমার আশা পূরণ কর হে লক্ষ্মণ।
মনে বাসনা, করে করুণ,
তুমি শীঘ্র মাের কর পাণিগ্রহণ।
তব রূপ দেখে মনাে মােহিত,
নারী হয়ে প্রকাশি, কর প্রণয়ের দাসী,
( যেন ) চির দিন সেবা করি ও চরণ।
মনােযােগে শুন করি নিবেদন,
শ্রীরামের অনুমতি, তুমি হও মম পতি,
ভ্রাতৃ আজ্ঞা কর ওহে পালন। ২২
কালেংড়া-কাওয়ালী।
যা যা, পাপীয়সি বিবাহ হবে না।
কভু মনে মনে সে আশা করােনা।
হয়ে নিশাচরী, নরের হইবি নারী,
বুঝিবারে নাহি পারি একি তাের বাসনা।

সঙ্গীতমালা।
নারী বলে এতক্ষণ, বধে নাই লক্ষ্মণ,
কিন্তু তাের জাতি মান বুঝি আর থাকেনা।
বসন্ত-সুর ফাতা।
সাজ সাজ সেনাগণ বিলম্ব আর করােনা।
ভণ্ড যােগীর মুণ্ড কেটে, নিবারিব যন্ত্রণা।
কেমন জুটা ধরে বেটা, নারীর মান রাখেনা।
অত্যাচারী কদাচারী, ধৰ্ম্ম করে ছলনা।
যােগীদের রক্ত পান, ভগিনীর বাসনা।
তাই ত্বরা যেতে হবে বীরগণ জাননা।
খর কোপে রক্ষা পায় হেন জন দেখিনা ।
সর্প সনে বাদ করে প্রাণে কেহ বাঁচেনা। ২৪
যােগীয়া—জৎ।
দেখ হে দাদা যে যাতনা ।
আর সহেনা প্রাণে আর সহেনা।

১৮
সঙ্গীতমালা।
তােমার ভগিনী ব'লে, মান্য পাই সবস্থলে,
জগন্মান্য ভাই দশানন ;
কিন্তু একি বিপরীত,
নরূ নাহি হয় ভীত,
লঙ্কেশ্বর বলে তােমায় মানেনা।
বনে দুজন ব্রহ্মচারী, রাম লক্ষ্মণ নাম ধারী,
দেখে যাই বিবাহ ইচ্ছায়
সঙ্গে আছে রাম বনিতা,নাম তার শুনেছি সীতা,
অপরূপ রূপ এমন হবেনা।
বিনা দোষে লক্ষ্মণ, করিল নাসা ছেদন,
বিবাহের কথা মাত্র বলি ;
সীতারে হরিয়ে ভাই, প্রতি শােধ লওয়া চাই,
সীতা সম নাবী আর পাবেনা। ২৫
R
ঝিঝিট-পােন্ত,
শুন শুন ওরে মারীচ আদেশ আমার।
হিরণ্য হরিণ হয়ে হর মনঃ সীতার ।

সঙ্গীতমালা।
ছলিতে রামের নারী, এইরূপ মায়া করি,
যাইতে হইবে ওহে নিশ্চয় তােমার ।
হায় একি প্রাণে সয়, লক্ষ্মণের নাহি ভয়,
ভগিনীর নাসা কর্ণ কাটে দুরাচার।
মম আজ্ঞা পালন, করিলে বাঁচিবে প্রাণ,
নতুবা অবশ্য তুমি হইবে সংহার। ২৬
আলেয়া—আড়া।
আমার নিকটে মরণ।
তাই মায়া মৃগ হ’তে বলিছ রাজন্ ।
কখন এই খলভাব রবেনা গােপন ।
রাজ আজ্ঞা শিরােধার্য্য, সাধিতে যাই তব কাৰ্য্য,
মৃত্যু মম অনিবাৰ্য, চিন্তা অকারণ।
শুন ওহে লঙ্কাপতি, হয়েছে হে দুৰ্ম্মতি,
তাই পর নারী প্রতি করিয়াছ মন।
শেষে এই ব’লে যাই, রক্ষঃকুলের রক্ষা নাই,
যখন হয়েছে ইচ্ছা জানকী হরণ। ২৭

সঙ্গীতমালা।
পুরবী—আড় খেমটা।
পাড়াতে দুধ, যােগাতে" এই গানের সুরে।
যােগী এসেছে দ্বারে ভিক্ষা দেও গাে সী সতী!
উপবাসে দিন যায় আমার, শীঘ্রগতি,
ওগাে সীতে ভিক্ষা দিয়ে বিদায় কর এ অতিথি।
দেখে বৃদ্ধ ব্ৰহ্মচারী, নির্ভয়েতে ওগগা নারী,
ভিক্ষা দিয়ে নিজ হস্তে,
দয়া ধৰ্ম্ম রাখ আজি দয়াবতি! ২৮
বসন্ত বাহার-একতালা ।
ওরে যােগী চোর, মরণের তাের,
বিলম্ব দেখিনে আর ।
হরিলি আমারে, পেয়ে একা ঘরে,
চোর তাের হবে প্রতিকার।
ওরে দশানন, এই আচরণ,
কেবরে তাের পতন কারণ,
।

সঙ্গীতমালা।
শ্রীরামের নারী, যােগী বেশে হরি,
সবংশে হবি সংহার।
ওরে দুষ্টমতি, স্বামী ভিন্ন সতী,
কভু অন্য প্রতি করেনা মন ;
কৌশল্যা নন্দন, বিনে অন্য জন,
ভ্রমেও মনেতে হবেনা সীতার। ২৯
গৌরী—আড়া।
(আমার) প্রাণের সীতে না দেখেরে-
হেরি সব শূন্য ময়।
সীতা বিনা জীবন যাবে,ফিরে যাবনা আলয় ।
পে’তে ছিলাম ছত্র দণ্ড, কৈকেয়ী মা দিল দণ্ড,
কখন কি ওরে লক্ষ্মণ, দণ্ডের উপর দণ্ড সয় ।
হায় রে সে জানকীরে, একাকিনী পেয়ে ঘরে,
কে হরিল ওরে ও ভাই, হইয়ে নিদয়। ৩০

সঙ্গীতমালা।
বেহাগ-আড়া।
(হায়) এখন কি করি। কে আমায় আশ্রয় দেবে,
কৈ তপস্বী বনচারী। মম অদৃষ্টেতে বিধি,
লিখে ছিল এত দুঃখ, রাজার ঘরণী হয়ে
বন মাঝে ত্রাসে মরি ।
পঞ্চ মাস গর্ভ ধরি, চলিতে আর নাহি পারি,
হিংস্র জন্তু হস্তে আজি হইব নিধন ;
গর্ভবতী না হইলে ভাগীরথী বিমল নীরে,
প্রাণত্যাগ করিতাম,
যখন লক্ষ্মণ গেল ছাড়ি। ৩১
বিভাস--টিমে তেতালা।
মধুসূদনের সুর।
কঁদ কেন ওমা সীতে, এসমা আমার সঙ্গে,
স্থান পাবে থাকিতে।
মম কুটিরেতে যেতে, কিছু ভয় নাই,
চল মাগাে জনক সুতে,

সঙ্গীতমাল।।
ত্বরায় তথা যাই, ব্রাহ্মণী আমার তােমায়,
আপন মেয়ে বিবেচনায়, পালন করিবে সদা,
পাবে জানিতে।
দিয়াছেন শ্রীরামচন্দ্র, তােমায় বনবাস,
সময়ে মিলন করি, এই অভিলাষ,
অতএব সন্তোষেতে, এস মাগাে কুটিরেতে,
বাল্মীকির কথা সীতে, হবে রাখিতে। ৩২
আলেয়া--আড়া।
ওরে নন্দী, আর কি প্রাণে সয়,
পিতা আমার আশুতােষে কটু বাক্য কয়,
বিলম্ব আর নাইরে বাছা, প্রাণ বাহির হয়।
পতি নিলে বহুক্ষণ, করেছিরে শ্রবণ,
এখন আমার আকুল প্রাণ, রাখা সাধ্য নয়।
নাবু’ঝে এ যজ্ঞে এসে, প্রতিকার হ’লাে শেষে,
দেখে প্রাণ মহেশে, প্রাণ হ’লাে ক্ষয়

২৪
সঙ্গীতমালা।
মম মৃত্যু শুলে পর, ব্যাকুল হবে মহেশ্বর,
সান্ত্বনা ক’বাে রে নন্দী
বড় শােকের সময়। ৩৩
p
ভৈরবী-জৎ।
কি বলিব হায় আমি শিবে নিকটে।
জগদম্বা ফেল্লো আমায় বড় বিষম সঙ্কটে।
দক্ষ মুখে পতি নিন্দা শুনে সতী প্রাণ ত্যজিল,
শুলে তাহা দিগম্বর সর্বনাশ কিবা ঘটে ॥ ৩৪
সুরট-ঝাঁপতাল।
শুন বীরভদ্র রে ভাই, দুষ্ট বেটার শাস্তি চাই,
দক্ষ মুণ্ড ঝিড়ে চল, বাবা হরের কাছে যাই।
ঐ যে বেটা ভৃগু মুনি, পুরােহিত হয় শুনি,
গোপ দাড়ি ছেড় বেটার,
প্রাণে মারার আজ্ঞে নাই।

সঙ্গীতমালা।
লুটে খাও সকল ভূতে,
যজ্ঞ কুণ্ডে দেওহে মুতে,
কি কাৰ্য্য অকাৰ্য মােদের,
যদি শিবের আদেশ পাই। ৩৫
ভূপালী--তেওরা।
ভূতনাথ আজ্ঞা দিলে বেঁধে আনি যম্।
বাবা বম্, ব, বম্।
মার, মার, ধর, ধর, বম্ হর, হর, হর,
প্রভুর কারণে সবে কর রে বিক্রম্।
আশুতােষে নিন্দা করে,
কোন্
বেটা প্রাণ ধরে,
বীর ভদ্র আজি তার, ঘুচাইবে ভ্রম্।
নষ্ট করে যজ্ঞ কুণ্ড, ছিড়ে নেব দক্ষ মুণ্ড,
শিব নিন্দা প্রতি ফুল পাইবে অধ। ৩৬

সঙ্গীতমালা।
কালেংড়া-চিমা তেতালা ।
ওরে প্রাদ, এই স্তম্ভে আছে কি সেই চোর!
হরি নাম করিস্ বুঝি হয়ে তুই নেশায় ভাের!
হরি হন বিশ্বপতি, সকল জীবের গতি,
কোনরূপে এই কথা প্রাণে নাহি সয় ;
জ্ঞান হীন হয়েছি রে, দিলি পরিচয়,
সাধান নাহি হলে হবেরে দণ্ড কঠোর।
কিরূপে বিশ্বাস করি, ঈশ্বর সেই চোর হরি,
বিপরীত বুদ্ধি তাের ঘটেছে প্রহলাদ,
উপদেশ না রাখিলে যটিবে প্রমাদ,
কি করিবে সেই হরি,যখন প্রাণ যাবে তাের। ৩৭
মন্ত্রীর উক্তি।
কালেংড়া- টিমে তেতালা।
ওহে রাজন, যা বলেছসত্য বটে।
কোন্ গুণেতে লাগে হরি মহারাজের নিকটে।

সঙ্গীতমালা।
৭
প্রহলাদ পাগল হয়ে, বুদ্ধি শুদ্ধি সব খেয়ে,
বলে দেই পাষণ্ড হরি স্বয়ং ভগবা,
পাগলের কথা শুনে হাসে বুদ্ধিমান
আর বলে চোর হরি আছে সকল ঘটে।
ধন্য ওহে ভূপবর, সত্য ধর্ম রক্ষাকর,
তাই তােমার কাছে, হরির নাই মান,
কোন্ জনে চোরে মানে হয়ে জ্ঞানবান,
অজ্ঞানেরে ভুলাইতে পারে কেবল সেই শঠে।৩৮
,
ঝিঝিট-জৎ।
ওহে নাথ! এখন তুমি রাখ নিজ মান্।
এই স্ফটিকের স্তম্ভে, প্রকাশিয়ে অবিলম্বে,
দাওহে দয়ার পরিচয়,
নতুবা আজ তব দাসের নাহি পরিত্রাণ।
তুমি সর্ব শক্তিমান, সৰ্বত্ৰ আছ সমান,
অবশ্য এইস্থানে তুমি—আছ বিদ্যমান,
পিতার বিশ্বাস জন্য হও মূৰ্ত্তিমা।

২৮
সঙ্গীতমালা।
দুঃখি প্রহলাদেরে আর,
এ বিপদে উদ্ধার,
কে করিবে ওহে হরি বিপদ ভঞ্জন,
রক্ষা কর দেখে নিজ দুৰ্বল সন্তান্। ৩৯
ভূপালী-জৎ।
হিরণ্যকশিপু আজি পেল প্রতিফল।
বাবা যেমন্ বুদ্ধিবল।
ভগবানে নিন্দা করে,
আজি বেটা প্রাণে মরে,
নিজ দোষে ব্ৰহ্মবর, হইল বিফ।
স্ফটিকের স্তম্ভ হতে,
নরসিংহ রূপেতে,
বাহির হইল হরি ভকত বৎসল।
দেখে মূর্তি ভয়ঙ্কর,
প্রাণ কাঁপে থর থর,
পদ ভরে ভূমণ্ডল, করে টল মল্।

সঙ্গীতমালা ।
২৯
কেশরি স্বরূপ শির,
মর রূপ শরীর,
হুহুঙ্কারে কাপে ত্রাসে, দেবতা সক।
হিরণ্যে উরুতে ধরে,
বধিলেন পেট চিরে,
রাখিলেন ব্ৰহ্মবাক্য, করিয়ে কৌশল।
প্রহলাদের প্রতি কন,
ভয় নাই বাছা ধন,
সেবকের চিরদিন হইবে মঙ্গ। ৪০
কালেংটিমে তেতালা ।
=
পিতা মম করে আছে ধ্যান,
ওরে দুরাচার।
মৃত সপ তার গলে দেও এত অভিমান।
রাজা বলে অন্য জনে,
তুচ্ছ কর সদা মনে,
তাই পিতার এত অপমান ।

সঙ্গীতমালা।
ওরে রাজা পরীক্ষিত, দেই দণ্ড সমুচিত,
যেমন তাের গুরু অপরাধ,
ব্রাহ্মণের অভিশাপে নাহি পরিত্রাণ ।
সপ্তাহ না হ’তে গত, তক্ষক দংশনে হত,
হবে রাজা পরিক্ষীত তুমি,
পিতা মম সমীক ঋষি,
ছিল যােগাসনে বসি,
বিনা দোষে দণ্ড দিয়েছ,
অতএব পাপােচিত,
দণ্ড করিলাম বিধান,
এই প্রতিফল দেখে হবে অন্যে সাবধান। ৪১
জন সাধারণের উক্তি।
বিভাস-আড়া।
কোথা ওহে শম্ভু চন্দ্র, ভূপবর লুকাইলে।
শশাকের সাগরে আজি, সকলেরে ভাসাইলে।

সঙ্গীতমালা।
কাকিনার উন্নতি,
তােমা হতে মহামতি,
আর কত কীর্তি করা, ছিল বাসনা ;
গুণবানের সমাদর,
ক’রতে তুমি নিরন্তর,
কার হস্তে সেই ভার,দিয়ে এখন চ'লে গেলে।
ওহে শম্ভু চন্দ্র ভূপ,
আর কে হে তবরূপ,
উজ্জ্বল করিবে সদা উত্তর বঙ্গ ;
সদাই বলিতে যাহা,
বিধি ঘটাইল তাহা,
বারাণসী পুণ্যধামে অমূল্য প্রাণ হারাইলে।৪২
সর্গীয় শম্ভুচন্দ্র রায় চৌধুরি মহাশয়ের মাতার উক্তি।
বিভাস-আড়া।
একবার খােল আঁখি, ওরে শম্ভু বাছাধন।
দুখিনী মায়ের রে বাপ, তুই ছিলিরে জীবন।

সঙ্গীতমালা।
ওরে শম্ভু
দশ মাস ধারণ, করেছিরে প্রাণধন,
বহু কষ্টে
হেরি চন্দ্রানন;
আর কেন বেঁচে থাকি,
তােরে ধরাতে নিরখি,
ওরে বিধি ল’য়ে যাও, যথায় গেল সে রতন।
কালীচন্দ্র গেলে ছেড়ে,
থাকিতাম তােরে হেরে,
এখন শম্ভু তুই বিনে আঁধার সকল ;
মা, মা বলে কে ডাকিবে,
কেমনে প্রাণ জুড়াবে,
ইন্দ্র তুল্য পুত্র মৃত্যু করিল হরণ।
হয়ে রােগে কাতর, জননীরে দেখিবার,
এসেছিলি ওরে বাছা, বারাণসী ধাম ;
সেই মায়ে ফেলে এখন,
কোথায় করিলি গমন,
রক্ষে এখন পাইরে বাপ,
গেলে এই কঠিন প্রাণ। ৪৩
T

সঙ্গীতমালা।
।
সগীয় কৈলাসরঞ্জন রায়চৌধুরির
পত্নী নিরদমােহিনী চৌধুরাণীর উক্তি।
ললিত—আড়া।
মহেন্দ্ররঞ্জন বাপরে, তােমায় রেখে চলিলাম
আর না আসিব বাছা,জন্মের মত দেখে নিলাম।
বিধি আমায় করেছিল,
ভােগিতে দুঃখ কেবল,
হেরে তাের বদন কমল,
সকল ক্লেশ ভুলে ছিলাম।
এত দিন তােরে করে পালন,
ছেড়ে যেতে হ’লাে এখন,
ভেবে আমার ব্যাকুল প্রাণ,
অন্য চিন্তা নাই;
যদিও সেই ভগবান্,
নাহি দেন্ সন্তান,
তথাপি 'তােমারে বাছা পুত্র বলে জানিতাম।৪৪,

সঙ্গীতমালা।
বাহার বাগীশ্বরি-একতালা।
জনমের মত, ওরে প্রাণের ভাই,
ছেড়ে যাই আর দেখা, হবে না।
ওরে কিছু ক্ষণ পরে,
আমায় এ সংসারে,
খুঁজে কভু ভাই আর, পাবেনা।
কার কাছে ভাইরে, দিয়ে যাই তােমারে,
আর কে রে তােরে, করিবে যতন, প্রাণপণে,
এই দুঃখিনী ভগিনী, নীরদ মােহিনী,
মত আর কেহ, সবেনা। ৪৫
বিভাস-আড়খেমটা।
দিদি! জনমের মত, দেও গাে বিদায়
আর, আসিবনা।
দুখিনী ভগিনী, নীরদমােহিনী,
দিদি তােমায় আর কিছু কবেনা।

সঙ্গীতমালা।
জন্মাবধি তােমার সঙ্গে,
ছিলাম আমি একস্থানে,
এখন ছেড়ে যাই; প্রাণের রতন,
মহেন্দ্ররঞ্জন, তারেও দিদি আর, দেখিবনা।
বাঁচিবার ইচ্ছা নাই গাে, মনে,
একদণ্ড তরে,
হয়ে চির দুখিনী; এই শেষ দেখা হ’লােগাে
ভগিনি, নীরদেরে আর পাবে না। ৪৬
চাকলে কাকৗনীয়া প্রভৃতির ১২৮৬ বঙ্গাব্দের শুভ পুণ্যাহ
মধ্যে কর গ্রহণের পূর্বে এই গীত হইয়াছিল ।
সিন্ধু যােগীয়া-একতালা।
শুভ দিন আজি বলে আনন্দিত মনে।
ধন্যবাদ দাও তরে,
বিনি রেখেছেন প্রাণে।
এক বর্ষ হ’ল গত, নুতন বর্ষ সমাগত,
তাহার কৃপায় এই, হেরি রে নয়নে।

সঙ্গীতমালা।
যখন কেবল, মঙ্গল, অথবা শােক প্রবল,
তাহাকে ডাকিলে পরে,
পাবে শান্তি সুখ ধনে।
জীবনের সব কাজে, ডাক সেই বিশ্বরঙ্গে,
বিবিধ বিপদ মাঝে,
রক্ষা পেলে যার কারণে। ৪৭
চাকলে কাকিনীয়া প্রভৃতির ১২৮৬ বঙ্গাব্দের শুভ
পুণ্যাহ মধ্যে এই গান হইয়াছে।
খাম্বাজ-মধ্যমান।
প্রজা বিনে রাজার, কি আছে সম্বল।
ইচ্ছা হয় দেখিবারে, তাদের চির মঙ্গল।
কাকিনাধিপতিগণ, যতনে প্রজা পালন,
করেছেন চির দিন জানে সকলে ;
নিজ দয়া গুণেতে বাধ্য হ’ত প্রজাগণ
সম স্নেহ সবার প্রতি,কি সবল কি দুৰ্বল।

সঙ্গীতমালা।
৩৭
রাম রুদ্র কালীচন্দ্র, ন্যায় পর শচন্দ্র,
প্রজাগুণে প্রাণতুল্য সদা দেখিতেন ;
এই সব ভুপতিগণ, নাই বৰ্তমান,
কিন্তু প্রজা গণের প্রতি মমতা রবে প্রবল। ৪৮
ঝিঝিট-মধ্যমান।
প্রাণ যায় মা আমার বিদেশে (ওগাে, মা, মা )
জুলুহস্তে মরি এখন,দেখা আর হ’লােনা শেষে।
ছেড়ে গেল সঙ্গিগণ, নিরুপায় হলেম এখন,
শূলাঘাতে মম মৃত্যু, হ’লাে অবশেষে।
জন্ম মম ফরাসীতে, শেষে বাস ইংলণ্ডেতে,
মৃত্যু মম লেখা ছিল, অসভ্য জুলুর দেশে।
জননী অামার তরে, বৃথা চিন্তা শােক করে,
প্রাণে কষ্ট দিওনা মা, থেকে দুখিনীর বেশে।
এক মাত্র ভগবান্ করে সদা মনে ধ্যান,
শীতল করাে তাপিত প্রাণ,বলি পরিশেষে।৪৯

সঙ্গীতমালা।
ফরাসী রাজ্ঞীর উক্তি।
ললিত—চৌতাল।
কোথারে বাপ ইউজিনি নেপােলিয়ান।
(আজ) দুখিনীরে ছেড়ে করিলি গমন।
কালে রাজ্য ধন সব হারাইয়ে,
ছিলেম আমি কেবল পতি পুত্র নিয়ে,
মহারাজ অগ্রে ত্যজিল জীবন,
এখন কি তার তুই লইলি শরণ।
দুখিনী মায়ের একমাত্র ধন,
জুলু যুদ্ধে কেন করিলি গমন,
আজ, তাের সব করে নিরীক্ষণ,
ইচ্ছা হয় শীঘ্র হউক মরণ।
রাজবংশে করে জনম গ্রহণ,
তাের ভাগ্যে ছিলনা রে সিংহাসন,
বিধির ইচ্ছা এখন হ’লােরে পূরণ,
অসভ্যের হস্তে হইলি পতন।

সঙ্গীতমালা।
ওরে মৃত্যু তােরে করিরে মিনতি,
মম প্রাণ ল’য়ে যারে শীঘ্রগতি,
আর কেরে আমায় দিবেরে নিষ্কৃতি,
তুই বিনে বন্ধু নাই রে এখন। ৫০
রাগিণী ঝিঝিট খাম্বাজ—তাল কাওয়ালী।
সাই ।
কানপুর, হয়েছে যমপুর আজ দেখতে পাই।
বাল বৃদ্ধা নর নারী, সব খ্রীষ্টান
ভূতল
মাতার সম্মুখে সুতে,
খণ্ড করে খাঘাতে,
কিরূপে এই ঘাের পাপে,
জৈ হইবে সিপাই।
তৈমুর নীর নাদির,
নিষ্ঠুর বলে ছিল স্থির,
এখন নানা সাহেব হলাে তাদের
সঙ্গে চিরস্থায়ী।

৪ ০
সঙ্গীতমালা।
দুষ্ট নানা সাহেব তুমি,
কলঙ্কীত, ভারতভূমি,
করিলে শিশুর রক্তে,
কভু তােমার রক্ষা নাই ॥ ৫১
কালেংড়া-খেমটা।
শুন শুন আমার গুণ বড় চমৎকার।
ভুলেও না জানি আমি কোত্যে পরের উপকার।
করিয়ে পরের মন্দ, মনে পাই যে আনন্দ,
বর্ণনা করিতে তার সাধ্য নাই আমার।
যার আমি খাই নুন,
তার ঘরেতে দেই আগুণ,
হেসে করি সর্বনাশ,(আমি) মুখ করিনে ভার।
যে চায় উপদেশ, তার দফা করি শেষ,
আমার মত সূক্ষ্ম বুদ্ধি আছেবা কাহার।
যে করে আমার হিত, তার প্রতি বিপরীত,
ব্যবহার করে করি গুণ অস্বীকার ।

সঙ্গীতমালা।
৪১
মুখেতে আমি সরল, অন্তরে আছে গরল,
অব্যর্থ দংশন মম প্রাণ নাশিবার ।
যদি শুনি পরের ভাল,
অনি মুখটি করি কাল,
যেন কোন ঘাের আপদ ঘটেছে আমার ।
পর কিসে দীনহীন, হবে ভাবি সারাদিন,
ইহা ভিন্ন মম মনে চিন্তা নাই আর ।
দিনের কথা দূরে থা’ শুনিলে হবে অবাক,
রাত্রিতে স্বপনে দেখি,
কেবল পরের অপকার। ৫২
ভারত মাতার উক্তি।
রাগিনী-সিন্ধু খাম্বাজ-তাল ধামার।
হায় কি শুনিলেম আমি,
শুনে বুক ফেটে যায়।
প্রাণের রামমােহন, ছে’ড়ে গিয়েছে আমায় ।

সঙ্গীতমালা।
৪২
ওরে ও বাপ্ রামমােহন,
তাের শােক নিবারণ,
কিরূপে হবে এখন, দেখিনা কোন উপায়।
বিশ্বেশ্বর কৃপা করে,
বহু শত বর্ষ পরে,
তাের তুল্য সন্তানেরে,
দিয়ে ছিলেন দুঃখিনীরে ওরে বাছারে !
কিন্তু ভাগ্যদোষে মৃত্যু,
অকালে হরিল তােমায় ।
সকল ভ্রাতার তরে,
জননীরে ত্যাগ করে,
গিয়ে ছিলি দেশান্তরে,
নানা ক্লেশ সহ ক'রে,
ওরে বাছারে ! বিদেশে হারালি প্রাণ,
কেবল পরের মায়ায় ॥ ৫৩

সঙ্গীতমালা ।
বেহাগ—আড়া।
প্রাণ কান্দেরে আমার।
আশা নাই আর মনে দেশে ফিরিবার ।
হৃদয় বেদনা মম, হইবে না উপশম,
জীবনের সঙ্গে শেষ হইবে তাহার ।
কাকিনা নিবাসিগণ, যাদের হিত মম মন,
ভাবিত রে অনুক্ষণ, ছাড়ি তাদের মায়া।
মনে কত আশা ছিল, রােগেতে আশা ভাঙ্গিল,
নিশ্চয় জেনেছি নাই, উপায় বাঁচার ।
বিষম রােগ যন্ত্রণায়, থেকে সদা-শয্যায়,
ভুলি নাই আশ্রিতের, করিতে মঙ্গল।
তাদের কাছে এখন, বিদায় করি গ্রহণ,
শম্ভুচন্দ্র শূন্যময়, হেরিছে সংসার। ৫৪
পরজ বাহারকাওয়ালী:
চল বৃটনের যত সুতগণ !
রণে বীরত্বের আজ, প্রয়ােজন।

৪৪
সঙ্গীতমালা।
বৃটিশেরা প্রাণ ভয় রণ কালে করে না।
দেখাে সেই নাম ধ্বংস যেন আজ হয়না।
জয় বা মরণ, সবে আনন্দেতে কর আলিঙ্গন।
আজিকার রণে পুনঃ দিল্লী অধিকার।
করিয়ে দেখাব সবে কত চমৎকার ।
তাইহে উৎসাহে সবে শীঘ্র যেতে বলে
নিকষন। ৫৫
রাগিণী বাহার-তাল ধামার।
শুন শুন বীরগণ, পাপ ভয় করােনা,
খ্রীষ্টানের রক্তপাতে স্বর্গ হবে জাননা।
বাল বৃদ্ধ নর নারী কারাে প্রাণ রেখনা
শত্ৰু বংশ ধ্বংস করা আমাদের কামনা।
জাতি নাশ করিবার খ্ৰীষ্টানের মন্ত্রণা,
তাই তাদের ব’ধে মােদের পাপ কভু হবেনা।
দিল্লীশ্বর হবে রাজা দুঃখ আর রবেনা।
বিদেশীর অধীন প্রাণে আর সহেনা ।

সঙ্গীতমালা।
শত্রু বংশে বাতি দিতে কেহ যেন থাকেনা।
তবে স্বাধীনতা পাবে যাবে মনাে বেদনা।
হায় হায় নানা তাের একি ঘাের বাসনা।
নারী হত্যা শিশু বধ দতেও করেনা ।
করেছ ভীরুরু কাৰ্য বীরত্ব তায় বলেনা।
পাপের মুরতি তুমি হ’লাে এই রটনা। ৫৬
তৃতীয় নেপােলিয়ান সম্রাটের উক্তি।
ঝিঝিট খাম্বাজ-একতালা।
কেন উইমফেন, বল অকারণ,
করিবারে রণ, এই সিডানে।
বৃথা বীরগণ, হইবে নিধন,
সহিবেনা তাহা মম পরাণে।
জয় আশা নাই, জেনেছি হে তাই,
আত্ম সমর্পণ করিবারে যাই,
করালীর মান, হলে অবধান,
নিদয় বিধির, ঘাের বিধানে।

10
সঙ্গীতমালা।
নৃপ বােনাপার্ট, মম জ্যেষ্ঠ তাত,
যাহার কারণে, ফরাসী বিখ্যাত,
র সেই নাম, আমি নাশিলাম,
শত্রু পদে আজ, অস্ত্র প্রদানে ৷৷ ৫৭
ধনী ও দরিদ্রের বিপরীত ভাব।
রাগিণী মূলতালতাল আড়া।
ধনীর না হয় নিদ্রা, কোমল শয্যায়,
দরিদ্রে নিদ্রিত হয়, পড়িয়ে ধরায়।
উপাদেয় ভােজ্য প্রতি, ধনীর অরুচি অতি,
দরিদ্র সামান্য অন্ন পরিতােষে খায়।
ধনীর নাহি বিশ্বাস, সৰ্ব্বদা প্রাণের ত্রাস,
দরিদ্র বিশ্বাস ফল জানে বন্ধুতায় ।
ধনী পরিশ্রম হীন, তাই থাকে পরাধীন,
দৈহিক শ্রমের সুখ দরিদ্রেতে পায়। ৫৮

সঙ্গীতমালা।
৭৪
অহঙ্কার ও হিংসার উক্তি।
রাগিণী ঝিঝিট-ঝাপতাল।
অহঙ্কার বলে আমি বড় রূপবান্।
হিংসা বলে তুমি হও কুরূপ প্রধান।
মম তুল্য গুণবান্, নানাধনে ধনবান্,
নাহি আর কোন স্থানে বলে অভিমান।
দুগুণ তােমার সব, বিভব পাপে উদ্ভব,
এইরূপে হিংসা করে উত্তর প্রদান।
গৰ্ব সদা মনে করে, যশ করে সব নরে,
যশস্বী কোথায় আর, আমার সমান।
হিংসা মনে মনে বলে, যশ পাইয়াছ ছলে,
দুর্নামের পাত্র তুমি, হইবে প্রমাণ ॥ ৫৯
রাগিণী ঝিঝিট খাম্বাজ-তাল কাশ্মিরি খেমটা।
( মলহর রাও গুই কুমারের স্ত্রী লক্ষ্মী বাইয়ের উক্তি।)
আমার অদৃষ্টে বিধি তুমি এই লিখেছিলে।
বরদার অধিপতির রাজ্য ধন সব নিলে।

s
সঙ্গীতমালা।
দূর দেশ হতে আসি, যার হয়ে ছিলাম দাসী,
তঁার হমেল সর্বনাশি,
এই নাম আমায় দিলে।
আসিলাম রাজঘরে, নিজ স্বামি ত্যাগ করে,
মম পাপে মলহরে, শশাকার্ণবে ডুবাইলে ॥ ৬০
সার লুইস পেলীর উক্তি।
কাওয়ালী।
রাগিণী কালেংড়া ঢিমা তেতালা ।
মলহর, শীঘ্র দেশ ত্যাগ কর।
তােমায় বঞ্চিত করেছেন রাজ্যে,
মােদের গবর্ণর।
শুন বরদার ভূপ, তব পাপ অনুরূপ,
হয়েছে উচিত দণ্ড চির কারাবাস ;
বধিতে ফেয়ারে প্রাণ, করিয়াছ বিষ দান
সেই দোষে সৰ্ব্বনাশ, হলাে নৃপবর। ৬১

সঙ্গীতমালা।
৪৯
রামপ্রসাদী সুর-তাল একতালা।
কে বলে আমায় স্বাধীন।
আমি ছয়টা রিপুর হই অধীন।
কাম ক্রোধ রিপুগণ, দেখাইয়ে প্রলােভন,
হ’রেছে আমার মন, তাই আমি পরাধীন।
জ্ঞান আমার উপকারী,
আমি নই তার আজ্ঞাকারী,
প্রলােভন কিসে ছাড়ি, কত সুখ প্রতি দিন।
শুন ওরে মূঢ় মন,
ছাড় ছাড় প্রলােভন,
নতুবা মরিব প্রাণে,লােভে যথা মরে মীন। ৬২
স্বর্গীয় কালীচন্দ্র রায় মহাশয়ের উক্তি।
( কীৰ্ত্তন ভাঙ্গা সুর )
তাল আড় খেটা।
আজ, সুরধুনী, পতিত পাবনী,
জগত জননী, দিলেন পদে স্থান।

সঙ্গীতমালা।
শুন পীতাম্বর, যম ভয় আর,
নাই হে আমার, হলাে পরিত্রাণ ।
যত বিপ্রগণ, করেছে বেষ্টন,
মস্তকে স্থাপিত গুরুর চরণ,
এতে কিহে আর, যম অধিকার,
পারে থাকিবার কর অনুমান।
অন্তিম কালেতে, স্বর সংযােগেতে,
অভয়ার নাম, গাই আনন্দেতে,
ফাকিতে এখন, পড়িল শমন,
জয়কালী ভেবে ত্যজি হে পরাণ। ৬৩
রাগিণী কালেংড়া—তাল আড় খো।
তােমার সকল সুতে, সুখেতে রেখেছি।
দিদি গাে ! সে সুখ গত হয়েছে জেনেছি।
ভগিনী ভারত বল, সুখ কিসে গত হ’লাে ।
সকল সুখের নাশ, ট্যাক্সেতে শুনেছি।
{

সঙ্গীতমালা।
কতরূপ ট্যাক্স আছে, শীঘ্র বল আমার কাছে,
লাইসেন্স বােড় আদি শুনিতে পেয়েছি।
ভারত ভেবনা আর, থাকিবেনা ট্যাক্স ভার,
বিচার করিও দিদি, অবস্থা বলেছি। ৬৪
রাগিণী ললিত বিভাস—তাল খো।
(বাবু) সাধ করে করিনে চাকরি।
পেটের জ্বালায় অধীন তােমারি।
অন্য গতি নাই, ভেবে তুমি তাই,
হয়েছ, মম প্রতি, অত্যাচারী ।
ক্ষুদ্র দোষ হয়, তবু নাহি সয়,
তখন সপ্ স স করে লাগাও বেতের বাড়ী।
তুমি বটে,
অনুচর,
তাই বলে কি, এত আর সইতে পারি ।
ভেবে দেখ মনে, কি বিশ্বাস ধনে,
এ দিনেতে, হতে পার ভিখারী।
বড়, আমি

৫২
সঙ্গীতমালা।
শীঘ্র পরি হর, সব অত্যাচার,
শেষে দণ্ড দাতা, আছে সবারি ॥ ৬৫
বঙ্গদেশের শেষ ভূপতির প্রতি পণ্ডিতগণের উক্তি।
রাগিণী কালেংড়া—তাল আড় খেষ্টা।
ছাড় ছাড় রাজ্য আশা ভূপতি লক্ষ্মণ,
অবশ্য বিজয়ী হবে দুরন্ত যবন।
শাস্ত্রের লিখন ভূপ, হবে তার অনুরূপ,
বৃথা কেন যুদ্ধ করে, হারাবে জীবন।
রত্নভূমি বঙ্গদেশ, অত্যাচারে হবে শেষ,
সুখের রবেনা সেশ, কেবল পতন।
ওহে নৃপ লক্ষ্মণ, কর শীঘ্র পলায়ন,
নতুবা যবন হস্তে, হইবে নিধন ॥ ৬৬
নবাব সেরাজউদ্দৌলার উক্তি।
সুরট-ঝাপতাল।
বণিক বেশে, এসে দেশে, শেষে এই ঘটাইল।
সেনাপতি, রাজমন্ত্রী, সকলেরে ভুলাইল।

সঙ্গীতমালা।
লােকের দোষ কেবল,
বলে কিবা হবে ফল,
ভাগ্য মম প্রতিকূল,
ফলে তাহা দেখাইল।
যাতনা দেখিবার তরে,
বধিয়াছি বহু নরে,
জাতি মান কত জনে,
মম ললাভে হারাইল।
বণিকে কি সাধ্য হয়,
বঙ্গেশ্বরে করে জয়,
আমারে করিতে ক্ষয়,
বিধি বণিক পাঠাইল। ৬৭
ভারতবাসিগণের প্রতি উক্তি।
জাগ একবার,
চাহ একবার,
ভারত নিবাসি গণ।

৫৪
সঙ্গীতমালা।
উঠহ সত্বরে,
এত নিদ্রা কেন ? বােধ হয় যেন,
আত্ম নাশে নিমগন
নিজ হিত তরে,
ঘুমিয়ে রােও না আর।
ছিল নানা ধন,
রতন কাঞ্চন,
নানা বিদ্যা অধিকার।
এ কথা বলিয়ে, অলস থাকিয়ে,
সবে ভুলাইতে চাও।
আৰ্যেরা পণ্ডিত, গুণেতে মণ্ডিত,
বােলে কি ফল পাও ?
পিতা ছিল ধনী, নানা গুণে গুণী,
কিন্তু এবে দুখী বট।
হয় রে সে গুণ, লাগায়ে আগুণ,
পূৰ্ব্ব গুণ কেন রট।
তাহে কিবা ফল, দেখ ফলাফল,
বিফল সে সব কথা।

সঙ্গীতমালা।
যশের সৌরব,
হও গুণবান্
পিতার সমান,
মান পাবে যথা তথা।
হােয়ে সদা রত,
বিদ্যা নানা মত,
শিখিয়ে স্ব দোষ হর।
দেশের গৌরব,
বাড়াতে বাসনা কর।
ভারত অপত্য,
মম কথা সত্য,
প্রমাণ দেখিলে তার।
দেখিয়ে শুনিয়ে,
থাকিলে ঘুমিয়ে,
রহিবেও দুঃখ ভার।
বিশ্ব বিধাতার, এ বিধি প্রচার,
রােয়েছে জগতিতলে।
বিপদ বিমুক্ত,
হওয়া যায় বিদ্যাবলে।
যদি সে বিধান, করি প্রণিধান,
পালন না কর তুমি।
সদাশিব যুক্ত,

সঙ্গীতমালা।
বৃথাহে আসিলে,
ঘুমিয়ে নাশিলে,
সােণার ভারতভূমি।
সংসবের অনিত্যতা বিষয়ক।
পৃথিবীর গতি, দেখে মনে অতি,
শােকের সঞ্চার হয়।
কাঙ্গাল যে ছিল, সব ধন নিল,
ধনীরে করিয়ে ক্ষয়।
এক দিন যার,
গৌরব প্রচার,
হইল সকল দেশে।
দেখ দেখ তার, কিরূপ প্রকার,
ঘটিল কপালে শেষে।
যেখানে নগর,
বিবিধ প্রস্তর,
বিরচিত সৌধ ছিল,
সেখানে এখন,
বিজন গহন,
চিহ্ন নাই একতিল !!!

সঙ্গীতমালা। ৫৭ অযােধ্যা হস্তিনা, এখন দেখিনা, তুলনা রহিত ধনে। রােমের প্রভাব, হয়েছে অভাব, ভাবিয়ে দেখনা মনে। কোথা ব্যাবিলন, নিনিভা এখন, প্রধান নগরীদ্বয়। দিনে দিনে তারা, হােয়ে শােভা হারা, ভুমিতে হয়েছে লয়। অনিত্য সকল, ধন-মান-বল- জীবন-যৌবন-দেহ। সুন্দর নগর, অতি মনােহর, মণিতে খচিত গেহ। ইতিহাস পড়ি, মনে মনে করি, সকন্দ্রি হয়েছে কাল। ভেবে বা কি কাক্স কোন্ গুণে তরি, ঘিরেছে মায়ার জাল ।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Sangeet Mala

Author
Raychoudhury,mahimaranjan
Title
Sangeet Mala
File name
Sangeet Mala
Text
OCR done
Citation
1879
Published
2009/12/26
Publisher
Kalidas Chakraborty ,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
79
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Lyrics
Keywords
Raychoudhury,Mahimaranjan
DLI number
511355
Barcode
4990010018511.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
spX64itw0Ey
Download PDF

Sangeet Mala