Garh Bhawanipur R.p. Institute, Howrah
Nutan Pravat Ed.1
Front matter
No text on this page.
olen
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
work [rard (ex: APH PP. 《执4 they ret
No text on this page.
ܐ ܐܥf.& ܪܽ܃ ; ) os pi @ ܝ
No text on this page.
নুতন প্রভাত তিন অঙ্কে সাও প্রগতি-কাট্য মিনােজ বসু n! Eye । । বেঙ্গল পাবলিশাস ১৪, বঙ্কিম চাটুজ্জে থ্রট, কলিকাতা দেড় চা এম সংরণমাধ,১৩৫০ দ্বিতীয় মুদ্রণ-কান, ১৪৫১ -ইলেকের লেখE ভুলি নাই (ঋণ) উপন্যাসে, বিপ্লবযুগের কাহিনী দুঃখ-নিশার শেৰে (২য় সংস্করণ) বাধুিনক প্রগতিগল্প একদা নিলীখকালে(২য় সংস্করণ) মধুর সচিত্র গল্পস্তবক পৃথিবী কাদের? (২য় সংস্করণ) নবযুগের গান নর-বাৰ (২য় সংস্করণ) সোল ও একালের অন লেখ্য বামন (গ) বললাহিত্যের মরণীয় গন সেব-কিশােরী জােনাকি গল্প पावन নাট্যকারতীতে অভিনীত জনপ্রিয় নাটক যুত শচীনা সেনগুপ্তকে ধার লেখনী থেকে সর্বপ্রথম আমরা আধুনিক-নাটিক পেয়েছি : ! .. ৮? ?
চরিত্র-পরিচয় पूजय ৮) দেশক অমিদার ময়ের एनक्षत्र গোমত p রামসাহ সরকারি উকিল Men ৰাসাহবের সঙ্গী অচ্যুত আকবর আলি এবীর দেশকর্মী সন্তোষ আমিনুল হক দারােগা মনে সহকারী দারোগা মওলা বক্স জমার নীলমণি সপুই ফিসারির মালিক রহিম ' কারাম মূল্য ৪ জেলার, ডাকপিয়ন, পাইক, সরকার ইত্যাদি নারী } चपाठी बाभिमा वामिनो C যন সে হিমের স্ত্রী করামের মেয়ে করামের বোন শহরের হী অরুন্ধব বাবী স শ্রমূখী মনাের, ulu pa* * . PQ. Clip Dirt # wish. pur) বন্দী মানুষ পালি पासा पावलाना बार- কাটার মুকুট মাথায় পরা, দু’হাত বাধা নাগপাশে। কাতর রাতি ক্লান্ত দিবা একের পর আরেক আসে। বাসতে ভাল এই মানুষে, এই মাটিরে মাটি থেকে সরিয়ে নিল পাঁচিল ঘিরে ; একটি মানুষ বন্ধু অরি -কেউ যদি হয় থাকত পাশে! অন্ধকার ধীরে ধীরে স্বচ্ছ হচ্ছে। গান মৃদু হয়ে আসছে। [ দৃশ্যের মধ্যে বরাবরই অতি মৃদু সুরে গান চলবে। প্রথম দৃশ্য জেলের ফটক প্রকাও অলা ঝুলছে। বাইরের দিক থেকে এসে জেলার তালা খুললেন। তাঁর সঙ্গে এক বর্ষীয়সী মহিলা। ফটক খুলে গেল। মােটা মােটা লােয়র গরাদে-আর ওদিকে শশাঙ্ক। জেলার। শশাঙ্কবাবু, আপনার মা দেখা করতে এসেছেন। জেলার একটু দূরে টুলের উপর বসলেন। মা। কেমন আছিস বাবা? শশাঙ্ক। ভাল, খুব ভাল না। চেহারা দেখে তা বুঝতে পেরেছি- শশাঙ্ক। সত্যি মা, বেশ লাগছে আজকাল। বাইরে যখন ছিলাম, অবস্থা দেখে মন খারাপ হত। কেপে যেতাম। এখানে জেলের মধ্যে শান্ত হয়ে সকল দিক ভাবতে পারছি। •••রাতের অন্ধকার দেখে - छन अशा আম ভয় পাই না, সামনের নতুন ভাত! মানুষে মানুষে হানা- জানি, দু-চারজনের সুখ-সুবিধায় বহুজনের নিষ্পেষণ—এই কলঙ্কিত ‘যুগের অবসান হয়ে এলাে। মুক্তি আসছে, দেশে দেশে জনগণের মুক্তি। •••ও কি মা, তােমার চোখে জল? মা। কই, না। আমি হাসছি। তুই বেশ আছিস দেখে আমি হাসছি। এই দেখ ...আমি হাসছি। শশাঙ্ক। মা, মাগাে, তােমার চোখে জল দেখলে আমার ধৈর্য থাকবে না। যত তফাতেই থাকো, অহরহ তুমি আমার বুকে সাহস দিচ্ছ। ফুলের মালা পরিয়ে সকলে মানায় জেলে পাঠিয়েছিল, এই দেখ তা শুকিয়ে গুড়ো হয়ে যাচ্ছে। মানুষের জয়ধ্বনি জেলের পঁচিল ভেদ করে কানে পৌঁছয় না। কিন্তু মা, তুমি যে শান্ত মুখে মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করেছিলে, সেটা ছবি হয়ে চোখের সামনে ফুটে আছে। তুমি কেঁদো না। মা। চুপ কর শশাঙ্ক, চুপ কর। তাের বন্ধুবান্ধব সহক কেউ এখন দেখছে না। এ আমাদের মারে-ছেলের কান্না। এখন এই মুহূর্তে 'তুই আর জননেতা শশাঙ্ক নােস, দুঃখিনী বিধবার এক- মাত্র ছেলে। •••আমায় কাঁদতে দে বাবা, চুপি চুপি একটুখানি কেঁদে নিই- শশাঙ্ক। সত্যি মা, তােমায় কত দুঃখ দিলাম ! কোন সাধ তােমার পূরণ করতে পারলাম না। চিরদিন বন্দিশালায় কেটে গেল। গরদের বাইরে হাসিকান্নায় সুখে-দুঃখে পৃথিবীর জীবনধারা বয়ে যাচ্ছে, বর্ষা আসছে, বসন্ত আসছে-আমাদের কেবল রাতের পর দিন, আর দিনের পর রাত। ঐ নিমগাছের দুটো মাত্ৰ ডাল দেখা যাচ্ছে আর ঐ একটুকরাে আকাশ। দেখে দেখে আমার মতে কতজন এই মূল এত জায়গাটুকুর মধ্যে কৈশাের থেকে যৌবন, যৌবন থেকে বুড়ো হয়ে মৃত্যুতে মিলিয়ে গেছে। তাদের মতাে আমিও চলে যাবে। আর দশটি মায়ের মতো মনে মনে তুমি মা কত আশা গড়েছিলে, সব আমি চুরমার করে দিলাম। মা। না বাবা, তা নয়। আমি দি কেন জানিস? বড় দুর্ভাগা দেশে জন্মেছিস তােরা। এখানে দেশকে ভালবাসা পাপ—নিখিল মানুষের মল-কামনা মস্ত অপরাধ। তুই আর তাের মতাে আমার আরও হাজার হাজার ছেলে জেলের অন্ধকারে পচে মরছিস, অন্য দেশ হলে ইতিহাসে চিরজীবী জায়গা হয়ে যেত—আর এখানে কেউ ভাবে না তােদের কথা, কেউ জানেই না শশাঙ্ক। না জানুক—বু মা, বিজয়ী আমরা। আমাদের না ভাবুক, আমাদের মনের ভাবনা আজ সকল মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে গেছে। মনের চেহারা দেখা যায় না মা,নইলে দেখতে পেতে যে জজসাহেব আমাকে জেলে পাঠিয়েছে, বিচার করবার সময় মনে মনে সে-ও শিউরে উঠছিল। পুরানাে বিধিব্যবস্থায় ঘুন ধরে গেছে, জোড়াতালিতে চলছে না আর, আগাগােড়া পালটাতে হবে। এই নতুন চেতনা আজকে মানুষের মনে মনে। মা। কি বলিস? বয়ে গেছে? কজন ভাবে এসব ? শশাঙ্ক। ভাবে বই কি মা! দুটো-চারটে অন্ধ অড় পুতুলের কথা ছেড়ে দাও। মানুষের মতাে মানুষ সুস্থ নিরুদ্বিগ্ন হয়ে নিন কাটাচ্ছে-এত বড় দেশের মধ্যে এমন তুমি একটাও খুঁজে পাবে । গরম সি দিয়ে বাড়িয়ে শশাঙ্ক মার চোখ দিয়ে দিল।
নূতন এত শাক। আমাদের কথা তুমি ভেবাে না। কে আমরা? জন- প্রবাহের এক একটা কণিকা । তুমি আমাদের সমিতির খবর বল। মা। সমিতি আছে, কিন্তু দলাদলি। মুসলমান চাষীরা আসছে না। শশাঙ্ক। কেন? মা। তাদের বুঝিয়ে দিয়েছে, তেলে জলে মিশতে পারে-কি হিন্দু-মুসলমানে মিল হবে না। একেবারে আলাদা জাত। রহিম পর্যন্ত জল ছেড়েছে। শশাঙ্ক। আমাদের রহিম? মা। নতুন এক দারােগা এসেছেন থানায়। গোঁড়া মুসলমান, ভয়ানক প্রজাতি-বৎসল। তার সঙ্গে রহিমের সম্পর্ক হয়েছে। তাঁর কথায় ওরা ওঠ বসে। শশাঙ্ক। ঘােষ-কাকাবাবুর তা হলে বড় শূর্তি-এতদিনে আশা পুরেছে। মা। তা বলে রহিম তাঁকেও ছেড়ে কথা বলে না। এই তাে গেল শ্রাবণে একদিন শশাঙ্ক। কি হয়েছিল ? মা। ঘরে জল পড়ছিল, রহিম গিয়েছিল খড় কর্জ চাইতে। ঘােয় ঠাকুরপাে বললেন, ঘর ছেরে দরকার কি? আমার দালানের পাশের জায়গা-এ ভিটে ছেড়ে দিয়ে তুই চরের উলুবনে ঘর বাধগে। জমি দেবব, ঘরও বেঁধে দেবােআমার সুবিধে হবে, তােরও সুবিধে। ধারালাে ছুরির মতাে অমনি রহিমের জবাব শশাক। কি? মা। বলল-জু, উলুবনে বন্ধু আপনিই নতুন ইনাত্ত বানিয়ে নূতন ভাত নিগে। আপনার ভিটেও তো আমার ঘরের লাগােয়া। আমার সুবিধে হবে। শশাঙ্ক। সমিতি ছাড়লেও রহিম তাে মত ছাড়ে নি মা।•••সে নি নিরল, কিন্তু ইজ্জত নিয়ে চলতে জানে। রহিম আমাদেরই দলে না, সে এখনও আমাদের জেলার হাতঘড়ি দেখে উঠে দাড়ালেন। জেলার। সময় হয়ে গেছে। শশাঙ্ক। মা, আমায় আশীর্বাদ করে তেমনি করে। তােমার হাত রাখাে আমার মাথায়। জেলার। টাইম ইজ আপ শশাঙ্কবাবু- যা ধীরে ধীরে বেলিয়ে যাচ্ছেন। বারবার তাকানে শশাঙ্কের দিকে। অন্ধকার হয়ে আসছে। অলক্ষ্যের গান আবার শই হতে লাগল। কণ্ঠ রােধ করেছে কঠিন লোহার ভাবনা তোমার ভাবছি তবু মনে মনে ; শিকলের ঝনঝনিতে ডরে না চিত্ত আর, প্রভাতের স্বপ্ন দেখি লক্ষ জনে- R মন মনে। হাতিয়ায়ে মানুষ মারে- ভানা কি কেউ মারতে পারে ? মুক্তির পক্ষধ্বনি শুনি ঐ নীলাকাশে বশী, রয়েছে সাথে এই আমাদের পাশে পাশে।
बिछोड पृथ মােত থাকে। রাসের উপর হাত গলে গো। চাৰী এজার। হলধর। টাকা চাই। শুধু ঐ বান-চত্র দেশ উত ডেকে পাঠাই নি, মাণিক আমার। টাকাটকাটা, নিয়ে এসাে। অমূল্য। এখনাে ধান কাটা শেষ হল না। চোত কিস্তিক আগে এ পয়সাও দিতে পারব না, গােমস্তামশাই। কামশারের বিয়ে। বিয়ে कि গত অবধি মুলতুবি থাকবে ? তােমাদের জনে জনের কাছে তিনি দায় জানিয়েছেন। খাজনা বলে না হয়, চাদা হিসেবেও তো কিছু কিছু নিয়ে এলে পারতে। ••"তুমি এনেছ উমেশ মােড়ল? তুমি বিত, আলি? চুপ করে আছ, কিছু, আনননি? তুমি? তুমি? তুমি ? কেউ আনাে নি?•••••া, কি বলছ যদু, আমায় বল না। যদু। আমি কিছু বলছি নে গােমনশাই হল। তুমি বলছ না, কে বলছে শুনি? দু। আজ্ঞে, আমার পরিবার বলছিল, আমাদের চালায় মেয়ে বিয়ে হবে--যােক তা হলে আমাদের চেয়ে গৰি ? হল। বুঝেছি বাপু, বুঝেছি। বলাবলি হচ্ছে বটে ঐ রকম কথা। তােমার পরিবার নয় মােড়ল, বলে বেড়াচ্ছে বলেত-ওয়ালারা। উঠোনের মাঝখানে ঐ দুটো সুপারিগাছ। কেন বলতে পারো, যব পান না বগীয় কর্তাদের আমলে বেয়াড়া গুগলের ঐ গাছে পিছমােড়া দিয়ে বেঁধে রাখা হত। হালকে থাকা যায় মূল প্রভাত পৰি শেষ হয়ে গেলে তবে ছুটি! এখন তাে রানে অ মই বি-তপন্থী মানুষ। তাই পিপীলিকার পাখা চ্ছ। তুমি তবু পরিবারের অবানি বললে–নৈচে আড়াল দিয়ে আৰু খালার মতন; রহিম মিঞা খােসা ফেলে মুখের উপর শক্ত কথা ভৰি নি। কি বাবা, যত বাড় বেড়ে থাক, পিঁপড়ে হাের- একটি মাত্র চাপড়ের ওয়ান্ত। কামশাই একে ভূস্বামী, তায় ধর্মগত এ-র মুখ দিয়ে যখন বেরিয়েছে-ভিটে রহিমকে ছাড়তেই হবে, আর বিয়ের চাও তোমরা বাপের সুপুত্তুর হয়ে দিয়ে যাবে। তবে আনা বাঁকালে ঘি বেরােয় না...দু-চারদিন সময় লাগতে পারে। অমূল্য। রহিম নতুন করে ঘর ছাচ্ছে আবার। হল। অতি উত্তম কাজ করছে। আমাদের কাজটা এগিয়ে রাখছে। খুকিদিদির বিয়ের সময় ওখানে বেহারা-বাজনার কৰ।•••কারাম মােড়ল, ই চুপচাপ দাড়িয়ে--তুইও কি কা। আমি তােমালের জলে, গােমস্তামশাই। ষোল আনার উপর আঠারাে আনা। যা বলবে তাই করব। হল। টাকা? কা। দেব, নিশাই দেব। খাজনা দেবদা, চাদ দেবাে, চাল বিক্রি করে সমস্ত এনে দেবে। শুধু দুটো মাসের সময় চাচ্ছি- আন আর পৌষ। ল। দুটো দিনের সময় দিতে পারি বড় জোর। সাতশাে টাকা তে না পাড়ে বার গণ্ডার ডিজি তাের নামে। কা। এখন কাঁচখান বেচলে মােটে এর পাওয়া যাবে না। দয়া নূল এত হল। বটে। কান্ত। গয়ার সমুন্দর তুমি- হল। খাল নয়, বিল নয়, একেবারে সমুদ্দ র? বলিস কি ? কা। দশে মে বলে থাকে- হল। দশে ধর্মে বলে না, যারা জতিকলে পড়েছে তারাই শুধু বলে। আহা ঘাড় নাড়ি কেন মােড়ল? মিছে কথা নয়-বেয়া না পড়লে কি চি-চি আওয়াজ বেয়ােয় ? তালুকদারের তহশিল করি বাপু। চারটে করে কান রাখতে হয়। দুটো এই তােরা খেতে পাচ্ছিস মাথায় বসানাে। আর দুটো পিঠের উপর। গড়িয়ে গড়িয়ে সকলে গুণের ফিরিস্তি দেয়। সামনের দু-কানে শুনতে শুনতে আৎকে উঠি, বাপু রে বাপ-এত গুণের বােঝা বয়ে বেড়াচ্ছি কেমন করে! আবার আড়ালে-আবডালে যেসব সম্পর্ক পাতাতে পাতাতে যাস, তা-ও শুনি পিঠের কান দুটো দিয়ে। কান্ত। ছি ছি! আমি সে লােক নই। হল। তা ন’স। হতিস নিশ্চয় যদি ডিক্রিটা না থাকত। মানুষ মাত্রেই ছচড়া-ঠেকননা দিবে সিধে রাখতে হয়। নীলমণি সাই প্রবেশ করুল। এই যে আসতে অজ্ঞ হক, সাপুইমশায়। ওরে বিশে, কামশায়ের খাসকামরায় নিয়ে বসা। আর অমনি খবর দিয়ে আয় বাড়ির মধ্যে।••• আপনি বসুন গে। কে আছিস, তামাক সাজ। আর গড়িয়ে কেন, বাপসকল? বন্দেমাতরমের করেছে, বুঝতে পেরেছি। ভূত-তাড়নাের ওঝা জা হচ্ছে। চোখের জলের বন্যা বয়ে যাবে। ...যাও, বাড়ি যাও। বরফ বৈঠক ডেকে আর একবার শলা-পরামর্শ করােগে। মিছে দেরি করে না, যাও। সকলে চলে গেল, রইল কে কাশ।
নুন প্রভাত করছি। হল। তুই? কান্ত। ( পা জড়িয়ে ধরুল ) পাপয়ে পড়ে মইলাম। দয়া করতেই হবে। হল। বেশ, করব। এমন করে বলছিল যখন। কিন্তু এয়ারও বলেব চাই একটা- কান্ত। বলো? হল। শুধু মিিষ্ট মিষ্টি কথায় চিড়ে ভেঙ্গে না মােড়ল। গুড় দিতে হবে। স্বা, গুড়। আট টাকা মাইনের টাকা মাইনের গােমাগিরি গুড় না থাকলে যে স্রেফ বাতাস খেয়ে থাকতে হত। •••চুপ চুপ, কামাই। সন্ধ্যের পর একবার আসিস। কত মশাই খিতপৰী মা-ততার বিষয়ে বিবেচনা করবেন বই কিনিশ্চয় করবেন। আমি বলব; বিশেষ করেই বলব। মহের এলেন। কাম তাকে গড় করে চলে গেল। মহেশ্বর। বলছে কি? হল। সুশীল সুখ্য প্রজা। কিন্তু কথায় তাে পেট ভরবে না, মবলক বাকি। বিস্তর ধান পাবে এবার।...আমি বলি কি হজুর, ডিক্রিজারি করে বেটার ধানগুলাে ক্রোক করে রাখা যাক। কোন শালা কি রকম মতলব দিয়ে যায়, কিছু বলা যায় না। মহেশ্বর। এদিককার আর খবর কি? হল। আজ্ঞে, চাষার বিলকুল সব ভদোর হয়ে গেছে। মহেশ্বর। বলি আদায়পত্তোর কি রকম? সিন্দুকে আজ উঠল হল। পচিশ টাকা সাড়ে সাত আনা। সর্বসাকুল্যে। •••ঐ যে বললাম, সৰ ভদ্দার হয়ে গেছে। ভারলােকের এক কথা- ত চোত-কিরি আর কিছু হবে না। না শােনেন, নালিশ মহেশ্বর। তা হলে উপায়? রায়সাহেব কে আশীর্বাদ করতে আসবেন। ••তালুক বেচে দেশান্তরি হব নাকি, হলধর। হল। লােকসানি তালুক-টাকা দিয়ে কিনবে কোন আহাম্মক। আর দেশান্তরি হয়েও রেহাই নেই হজুর। হিন্দি দিলি গয়া কাশী -যেখানে যাবেন, বন্দেমাতরওয়ালারা ঘাটি করে বসেছে। তার চেয়ে আমার যুক্তিটা শুনুন। আমি বলছি কি- ডাকপিয়ন এসেচি বি গেল। পিয়ন। চিঠি- মহেশ্বর। ( চিঠি পড়ে) হলধর রায় সাহেব তেইশে তারিখে আসছেন। সেইদিন দিতে হবে পাঁচ হাজার। পাঁচ হাজার টাকা আমি চাই-ই। নইলে বিয়ে ভেঙে যাবে, আমি মুখ দেখাতে পারব না- সমস্ত হয়ে যাবে হুজুর। নীলমণি সাপুই এসেছে, ওরে বসিয়ে রেখেছি। পাকাপাকি করে ফেলুন। •••আজ্ঞে , ভাল, যুক্তিই দিচ্ছি। প্রজারা আমার মুখের দিকে চাইল না, আমরাই বা কেন চাইব তাদের দিকে? কিসের খাতির? •••ডাকি নীলমণিকে- কি বলেন? মহেশ্বর। বাঁধ কেটে নীলমণি হাতীপােতার আবাদ ভাসিয়ে দেবে, আড়াই শ ঘর গৃহস্থ ভেসে যাবে- হল। কিন্তু আমরা বেঁচে যাব, হুজুর। তালুক বেচতে হবে না, দেশান্তরি হতে হবে না, অরুদিদির বিয়ের সময় বাজিতে বাজিতে আকাশে আগুন ধরিয়ে দেব, আমাদের গায়ে চটি লাগবে।
মূল এত না। এত বেটা সমিতিওয়ালা সব ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। এক ঢিলে একটা-দুটো নয়—একেবারে বিশটা পাখী খতম হবে। •••আমি ডেকে আনছি নীলমণিকে। নীলমণিবাবু, কামশাই এসেছেন। নীলমণিবাবু ডাকতে ডাকতে হলধর বেরিয়ে গেল। তখনই নীলমণিকে নিন নি এল। মহেশ্বর। কি বলতে চাও তুমি? নীল। হাতীপােতার যােল-আনা যদি বন্দোবস্ত করেন, আমি আজি আছি। এখানে ফিসারি করব। শুনেছেন বােধ হয়, এই রকম আরও সাতটা জলকরের মালিক আমি। আপনার গােমস্তার সঙ্গে কবিতা হয়ে গেছে একরকম। হল। হা। সমস্ত জানিয়েছি হুজুরকে। চব্বিশ হাজার টাকা কি খাজনা। অধেক আগাম, অর্ধেক বছরের শেষে। •••কি একটা কথা সঁপুইমশায়, এই মঙ্গলবারের মধ্যে বায়না স্বরূপ অন্তত চাই শর। নীল। মঙ্গলবার কেন, এখনই দিয়ে যাচ্ছি যা আছে। নিন—দু- বলার আছে, গুণে নিন। প্রমট-পেমেন্টের দরুন আমার কারবারের এত সুখ্যাতি। ...লিলপত্র রেজে করে রেজোর করে বাঁধ কেটে, যেনি মার খেল দেবেন, বাকি দশ হাজার সেই দিন দিয়ে দেব। মহের। গেবছর অনেক খরচ করে সমস্ত বাঁধ আগাগােড়া কেরামত করেছি- নীল। বাধ বা শক্ত, কেটে দেওয়া খুব সােলা। দু-চার টাকার নূতন প্রভাত ব্যাপার? হত দশেক ফাক করে দেবেন, নদীর নােন অল আপনি পথ করে নেবে। অতী একে ৰুণ। অরু। বাবা, কটা বেজেছে জানাে? চানটান করবে না আজ মহেশ্বর। এই দু-হাজার টাকা। নােটগুলাে গুণে তুলে রাখাে মা- কে দিল টাকা? মহেশ্বর। সাবধান করে তুলে রাখাে। চিঠি এসেছে রার সাহেব তেইশে তারিখে নিজে আসছেন। অৰু। হলধর, ঐ তােমার সেই নীলমণি সপুই ? নীল। নমস্কার কর্তামশাই। তা হলে বাঁধ-কাটার দিন স্থির করে আমায় খবর দেবেন। নীলমণি চলে গেল। অরু। অন্যায় হল, বাবা। ঘােষ চৌধুরীদের সর্বস্ব খােচ্ছ ঐ কল টাকার লােভে। হল। থােয়া যাচ্ছিল বটে খুকিদিদি, ঐ বন্দেমাতরম-ওয়ালাদের ঠেলায়। কিন্তু সব বজায় রইল। অরু। রইল জমাজমি বিষয়-আশয়, খােয়া গেল তিন পুরুষ ধরে গড়ে-তােল শ্রদ্ধা-সম্মান জমিদাদের উঁচু আসন-"তুমি দেখতে পাচ্ছ না বাবা, ঘুষ খেয়ে হলধর তােমার চোখে ঠলি পরিয়ে দিয়েছে। হল। আমি ঘুষ খাই। ছি ছি-ছি- অরু। তা ঠিক! ভদ্রলােকে কি ঘুষ খায়? গালি খায়, কাণ মলাটা আসটা খায়, আর পান খায়। পান খাবার দরুন কত দিন: তােমায় নীলমণি? হল। ছিছি-ছি- স প্রগতি কা। কর্মকার-বাড়ি। কাটোর বার পড়ে গেল। সাতটা কিবাণ নিয়েছি। কিরে করে বেরিয়েছি, ধান কাটা আজকের মধ্যে রহিম। কাটবার মতাে হয়েছে সব ? কান্ত। তবু কেটে ঝেড়ে তুলতে হবে। কর্তার মেয়ের বিয়ে। ডিক্রিজারির ভয় দেখাচ্ছে। •••বাঃ রে, বাহাদুর লােক তুমি রহিম মিঞা। রহিম। কেন? কান্ত। পেরণােম অঘ্রানে ঘর ছাওয়া সারা করে ফেললে। রহিম। গেল বছর চালে যে একটা আঁটিও খড় দিতে পারি নি। ভাঙা ঘরে চাঁদের আলাে, এক রকম সে ছিলাম ভালো। বর্ষায় বড্ড বিপাক গেছে, দাদা। বৃষ্টি এলে কথা-মাদুর মুড়ি দিতাম, আর ঐ যে ভিটেবাড়ির মনিব আমার-তেতলার ঘরে আরামকুর্শিতে বসে চেয়ে চেয়ে দেখত। না, না-ভুল কথা বললাম, চোখে ও দেখতে পায় না, ও কাশা। নইলে মানুষ হয়ে মানুষের দুঃখে কি অমন চুপচাপ থাকতে পারে? মেয়েটার বরং আছে। কান্ত। দিদি ঠাকরুণ। যার বিয়ের কথা হচ্ছে। রহিম। । একদিন দুটো ছেড়া-পাটি নিজে হাতে করে এনে উপস্থিত। বলে, এই দুটো চালের উপর চাপা দিয়ে যাও। আমি অব নিলাম না। কেন নিতে যাব? কিন্তু মনটা বােঝ, বে। কান্ত। খড় বাপের কাছে না চেয়ে যদি মেয়ের কাছে চাইতে। রহিম, ভুলই করেছি, না। ওদের কাছে না গিয়ে যদি রােগ।
जनक ১ সাহেবের কাছে যেতাম! সেই সেই যেতে হল-আগে গেলে সারা বাটা নাকানিচোবানি খেতে হত না। এ খড় দারােগা দিলেন ? হিম। খড় নয়, টাকা। যখন যা আটকাচ্ছে-একটিবার শুধু থানায় গিয়ে দাড়ালেই হল। আমিনা! বেঁচে গেলাম তার দৌলতে। আমি তাকে ধর্মবাপ বলেছি। কান্ত দারোগাব এত দয়া ? মেহমান যে! খোহলমানের দরদ মােছলমানের উপর, হিন্দুর ৭ দ হিন্দুর উপর। এ তাে জানা কথা। কান্ত। কথায় কথার তুন অজিকাল বড় জাত তােল, রহিম মিঞা-- রহিম। জাত আছে, তাই তুলি। তোমরা পূজা কর পূর্বমুখখা হয়ে, আমরা নামাজ করি পশ্চিমমুখে। কলাপাতার তােমরা যেদিকে ভাত খাও, আমরা খাই তার উল্টো দিকে। মরবার পর আমরা সেদোই মাটির নিচে, আর তোমাদের পুড়িয়ে ফেলে ধোঁয়া উড়িয়ে দেয় আকাশে। একেবারে দুটো আলাদা জাত। কিছু মিল নেই- এ-ও বােধ হচ্ছে দারােগা সাহেবেরই কথা- রহিম। কিন্তু খাটি কথা : কান্ত। আজকালই শুনতে পাই এ সমস্ত। তােমার নানা এনায়েতউল্লা আর আমার ঠাকুরদাদা ছিচরণ মােড়ল-টু-জনে এসেছিল এই আবাদে পত্তন করতে। তারা সমস্ত দিন একসঙ্গে জল কাটত, একসঙ্গে মাটি কোপাত। রাত্তির হলে গাছের ডালে মাচার উপর - ১৮ বু এত মনে গলাগলি বসে টিন পিটিয়ে পিটিয়ে বাঘ তাড়াত। তখন আত- বেত ছিল না রহিম। ছিল , তখনও ছিল বই কি! ••ইনামের সময় আমরা পেলাম বুড়িখানেক মিষ্টিকথা-স্রেফ মিষ্টিকথা, আর কিছু নয়। আর তােমাদের দিয়ে দিল পঞ্চাশ বিষের বেরি একেবারে বিনি পয়সার- কান্ত। পয়সা না দিক আমার ঠাকুরদাদা জলজ্যান্ত প্রাণটা দিয়েছিল বাঘের মুখে। আমিনা। বাঘে খেয়েছিল ? কান্ত। খেয়ে ফেলার ফুরসৎ পায়নি। ভর দুপুরবেলা-পাশ- আ’লের চাষারা হৈ হৈ করে ছুটে এল। বাঘ লাস ফেলে পালাল। ধান- ক্ষেতের উপর মুখ থুবড়ে পড়ে রইল দাদু আমার।•••সে সব কি মনে করে ঘােষকতা? পঞ্চাশ বিঘে কমতে কমতে আজ বিশ বিধেয় এসে ঠেকেছে। মােটে খাজনা দেবার কথা নয়, এখন বিঘে প্রতি পাঁচ পাঁচ টাকা হিসাবে ।...ও কি, ঢোল বাজাচ্ছে কেন? এমন সময় ঢােল বাজে কোথায় ? আমিনা। বিয়ে করে বর ফিরে যাচ্ছে, বােধ হয়- রহিম মই বেয়ে চালে উঠল। রহিম। উহু, বর নয়। বিস্তর চাষ জমায়েত হয়েছে। হর গো। হু, হলধরই তো মাঝখানে। আমাদের এদিকেই আসছে।
চতুর্থ দৃশ্য কড়া তেল না। এরা হলধরকে ঘিরে পঁড়িয়েছে। হল। বিয়ের ঢােলাসি নয় রে বাপু, ঢোলসহরৎ। ভূয়ে কেউ আর লাঙ্গল দিও না। ধান কাটতে ছিটেছাটা বলি বাকি থাকে, চটপট । সেরে নাও। অমুল্য। কেন ? কেন ? গুয়াম ও হয় বেরিয়ে এল। বরের কানাচে বেড়া ঠে দিয়ে এসে বঁড়নি মিনা । হল। নীলমণি সাপুইশায়ের সঙ্গে বন্দোবস্ত হয়ে গেছে। আর ধান হবে না, মাছ জন্মাবে। গাঙের পোনা এসে বড় হবে এই সব জায়গায়। অমূল্য। আমরা কোথায় যাবো গোমস্তানশাই ? হল। কেন, যাও বন্দেমাতরম-ওলা বাবুদের কাছে। ষোল হাত ছাতির বাট দেখাচ্ছে যারা। যারা জেটি বাধতে বলে। ...কতামশাই তাই বিরক্ত হয়ে বললেন, দুত্তোর-এ হাঙ্গামে কাজটা কি? ডাকে সাপুইশাকে- কান্ত। তা তো ঠিক! তােরই বৈঠক করে করে সর্বনাশটা ঘটালি। শনিবারের মডু-একলা যায় না, গা-শুদ্ধ সঙ্গে নিয়ে বায়।•••অামরা ও-পে নই, গোমস্তামশায়। আমাদের বাঁচাতে হবে- ওদের কর্মদোষে আমরা কেন ময়ৰ । রহিম। ভিটেটার উপর অনেক দিনের নয়। এবারে আচ্ছা লব ঠাউরেছ। বলিহাৰি।
মূল প্রভাত { হল। এই দেখ•••সব তুমি নিজের গায়ে টেনে নাও, মিঞা। মারা কাউকে উঠতে বলব না। ভিটে উচ্ছেদ করে কে বাপু শাপ- মন্তি কুড়ােবে? কামশাই ধর্মভীরু লােক-পইপই করে বললেন, দেখাে, মুখ শুকনাে করে কেউ না যায় - রহিম। কিন্তু থাকব কি করে? নােনা জলে ঘরের মাটি খসে খসে পড়বে, ধানক্ষেতের উপর দিয়ে খটাখট মেছােডিঙি বেয়ে চলবে, পুকুরের জল নোনতা বিষের মতাে কটু হয়ে যাবে- হল। অবিশ্যি থাকা মুশকিল হবে। হু, যেতে হবে নির্ঘাৎ। কিন্তু আমরা কিছু বলব না। ভালােমন্দ কিছু আমরা বলতে যাচ্ছি নে- রহিম। আজকেই আমি নতুন ছাউনি শেষ করলাম- হল। সে বিবেচনাও হবে মিঞা, কোন চিন্তা নেই। কত মিশায়ের আট দিকে আটটা চোখ। নিজে থেকেই ক্ষতিপূরণের কথা তুললেন। ঘর পিছু-পুরানাে হলে দশ, নতুন হলে পঞ্চাশ। নগদ টাকা বাজিয়ে গাঁটে গুজে হাসতে হাসতে সব চলে যেও। কিন্তু গণ্ডগােল করেছ কি দল পাকিয়েছ-তা হলে তাইরে নাইরে না। রহিম। ফিকির করে যারা পথে বের করে দিচ্ছে, হাত পেতে তাদের কাছে থেকে ভিটের দাম নিতে যাব? হল। জোর জবরদস্তি নেই মিঞা। যার যে রকম খুশি। রাজ- ঘরণী সুয়ােরাণী, আর মানীর বেটা মহামানী-তারা নেবে কেন? যাদের পেটে ক্ষিধে, তারা এসে হাত পাতবে, সােনামুখ করে নিয়ে বাপের ঠাকুর বলতে বলতে চলে যাবে। ...মােটের উপর, ঐ যা বলে গেলাম। কেতে কেউ লাঙ্গল দিও না। বন্দোবস্ত হয়ে গেছে। হলধর ও অন্য সকলে চলে গেল। রহিম কুদ্ধ চোখে ওদের দিকে চেয়ে আছে। আমি এগিয়ে এল।
মূল এত আমিনা। যাবে না আমরা, কিছুতেই যাবে না। খােকার কবর বেছে ঐ উঠোনের ধারে। দিনরাত আমি চোখে চোখে রাখি। ভিটে ছেড়ে থােকাকে ছেড়ে আমি যাবাে না, যাবাে না, যাবে না- রহিম। নােনা জলের ঢেউ এসে লাগবে থােকার কবরে, ভাসা- বার সাপ এসে কিলবিল করবে ওর উপর।•••আমরা না গেলে যে ঘােষকঠার সদর-কাছারি বসানাের অসুবিধে হচ্ছে। ওদের অনেক দিনের আশা- আমিনা। নােন জল কি শুধু গরিবের বাড়িই ভাঙে? ওদের বাড়িতে তুফান উঠবে না? রহিম। না। ইট-পাথরে গাঁথা ওদের বাড়ি। মাটি উচু করে চারিদিকে পাহাড় তৈরি করেছে। ঢেউয়ের সাধ্য নেই, তা ভেঙে ফেলে। আমিনা। ভাঙবে। ভেঙে যাবে। ঢেউয়ের না হােক, আমাদের আড়াই শ' ঘর গৃহস্থের আক্রোশে ভেঙে পড়বে ওরা। দুঃখে ঘৃণায় আমরা অভিশাপ দিতে দিতে যাবে।•••দেখাে তুমি, এই আমি বলে রাখছি-গাঙের শেওলার মতো ঘোষকর্তারা জান্ধ ভেসে যাবে।
পম ) হল ও সেকেরিয়ামেন। হল। অনুষ, বিষ ন্যায়, তার অন্যায় করছি আমরা স্বাধ কেটে। সব চাষার মুখে ঐ এক বথা। যেন কেউ লেগেছে, মশায়। রমেন। বাঘের ছিনে ফেউ লেগেই থাকে। বাথ রুখে দাড়ালে ফেউরা দৌড় দেয়। তা কামশায় রুখে দাড়িয়েছেন এবার। বললেন, নিজে দাড়িয়ে থেকে বাঁধ কাটাবেন। আপনাদের থাকতে হবে, যাতে হলাম- জুত না হয়। দারােগা সাহেবকে দেখছিনে তিনি কোথায় ? রমেন। আসছেন, এক্ষুনি বেরুবেন। কেশবপুরে গহর আলি ব্যাপারির বাড়ি ডাকাতি হয়েছে। তাই নিয়ে আহারনিদ্রা বন্ধ হবার জোগাড়। ( এদিক-ওদিক তাকিয়ে) চুপিচুপি একটা কথা বলি। আপনি বলেই বলছি। আচ্ছা, গদিটা গহর আলির না হয়ে যদি তুলসী- রামের হত, দারােগা সাহেব কি ছুটোছুটি করতেন এই রকম?••• যাই বলুন, জাতভাইয়ের উপর ওর বড় বেশি । রমেন। আপনারাও তো ভাই-ব্রাদার মশায়— হল। হাসি-মস্করা নয়, ভাবনার কথা। ধরুন, এই ব্যাপারে মােছলমান চাষারাও এসে ধরে পড়বে। দারােগা সাহেব কি করে বসেন, কি কি ? রমেন। কিছু ভাবনা নেই। আয়ও বড় সম্বন্ধ আপনাদের সঙ্গে। আমরা যদি এই সরকারের পুষিত, আপনার জমিদার-গােষ্ঠি হলেন ৪০।
মূল গত ঔপুর-ইতিহাস খুলে দেখুনগে। এই যে , হলধর শিকার মতায় এসেছেন। নর ও. সি. আমি একেবৰ। আমিনুল। মহেশ্বরবাবুর সঙ্গে তাে দেখা হয়েছে। তাকে বলে দিয়েছি, আমি যাব।" রওনা হচ্ছি রমেন, ফিরতে দেরি হবে। হেড-কনোল ও আশে । মওলা। ওদিকে আর দু-নশ্বর বাইরে বসে রয়েছে। আমিনুল। এখন হবে না। যেতে বলে দাও। বেলি। মওলা। বলেছিলাম। তবু বসে আছে। আবার হুমকি ছাড়ে, সাহেবের কাছে আমাদের নাম করে দেখেগে- আমিনুল। বটে! কোন্ লাটসাহেবের বাচ্চা? মওলা। লাটসাহেবের নয়, হুজুরেরই রমেন। কি রকম? মওলা। ধন্মােমেয়ে। ঐ যে-রহিম মিঞার বউটা রমেন। পিতৃদর্শনে এসেছে, স্যর মওলা। জামাইও আছেন সঙ্গে- রমেন। আজকাল স্তরের পয় খুব ভাল যাচ্ছে। উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম-যে দিকে পা দেন, সব বেটা ধমবাপ বলে বসে। আমিনুল। সাধে কি বাবা বলে ? গুতাের চোটে। কিন্তু অতিষ্ঠ করে তুলল যে! দৈনিক এ রকম ডজন ডজন ধছেলেমেয়ে হানা দিলে কাজকর্ম করি কখন ?••ইয়ে হয়েছে। মওলাবক্স, রহিম মিঞার সেই স্টেটমেন্টটা নিয়ে এসে তাে। ও-ঘরে খাতা চাপা দেওয়া রয়েছে। আমিনুল চেয়ারে বসে নকরেক কাগজ বের করলেন। রমেন। একটা নিয়ম করে দিন , শুধু মুখের কথায় ধন বাবা নূতন এত বল মসুর হবে না। নতুন ধুচ্চিার দিতে হবে, তার উপর বােড়শাে- পর ধামা ভরতি সিধে। তাহলে এই দরের বাজারে ভিড় কমে যাবে দেখবেন। মওলাব কাগজ নিয়ে এল। আমিনুল। যাও, ডেকে নিয়ে এসাে ওদের। এটায় সই হয় নি, সই করিয়ে নিতে হবে । [ মওলাবক্স চলে গেল । •••আপনাকে তাে বলে দিইছি। নিশ্চিন্ত হয়ে চলে যান। হল। নিশ্চিন্ত হয়েছি। কিন্তু যাই কি করে ? বমেন। কেন? হল। রহিম মিঞা আসছে যে ঐদিক দিয়ে। বেটা বড় গোঁয়ার। থানায় এসেছি দেখলে ক্ষেপে যাবে। এমনই শাসিয়ে বেড়াচ্ছে, বাম-দা দিয়ে আমার মাথাটা কচ করে কেটে নেবে। রমেন । কেন? হল। ওরা বলে, কঠামশাইকে বুদ্ধি দিয়ে আমিই নাকি এই সব খেলা খেলাচ্ছি। রমেন। এত বুদ্ধি যে মাথায়, সেটা কেটে নেবারই জিনিষ।••• তাহলে এই দরজা দিয়ে খান। নারকেল-বাগানের মাঝখান দিয়ে বেরুনগে, কেউ দেখতে পাবে না। হল। আপনি সঙ্গে আসুন মশায়। এই রাস্তাটুকু পার করে দেবেন। আসুন, আন- হলঘর রমেনের হাত ধরল। দুজনে চলে গেল। রহিম ও জনি একেশ করল। আমিনুল। বজ্ঞ ব্যস্ত। বেরিয়ে যাচ্ছিলাম। তােমরা এলে তাে বলতে পারি নে। কিগই বলে? টাকা।
নূতন এত আমিনা। না বাবা, টাকা নয়। টাকা তত আপনি অনেক দিয়েছেন। আমিনুল। রহিম মিঞা, গহর আলির গদি লুঠ হয়েছে-তুমি কিন্তু তার প্রধান সাক্ষী-- রহিম। ডাকাতেরা লাঠি মেরেছিল, কঁাধে এখনাে এই কালসিটে পড়ে আছে। আমিনুল। ছ-বেটাকে ধরে চালান দিয়েছি। সব শালা হিন্দু। তােমার সেই জবানবন্দিটা লিখে রেখেছি। সই করে দাও...দেখতে হবে না, ঠিক আছে। গহর মােছলমান বলেই না হিন্দুরা যােগাড় যন্তোর করে তার সর্বনাশ করেছে!...চোখ বুজে সই করে। আমি এত করছি জাত-ভাইয়ের জন্য, তােমরা কিছু করবে না ? রহিম সই করে দিল। রহিম। আবার এক গণ্ডগােল, সাহেব। ঘােষকর্তা নতুন ফিকির খাটিয়েছে। আবাদ ভাসিয়ে দিচ্ছে। ভিটে ছেড়ে যেতে হবে । আমিনুল। ভিটের দশগুণ খেসারত আদায় করে দেব। ভাবনা কি? আমার নাম আমিনুল হক-হক-কথা ছাড়া বলি নে। ওরা ভিজাত-কেন রেহাত করব? বুকে বশ চেপে টাকা আদায় করে দেব। ফাঁকতালে বেশ কিছু পাইয়ে দেব তােমাকে। আমারই লাভ, আমারই তৃপ্তি ।.. চুপ করে রইলে রহিম? রহিম। আজ্ঞে- আমিনা। ভিটে ছাড়তে বােলাে না, বাবা- আমিল। কেন, কি মধু আছে ঐ ভিটেটায় বলাে তাে? রহিম। আমার নানা কোদালি ধরে গেঁথেছিল ঐ ভিটে- আমিনা। ভিটে ছাড়তে কাজে ছিড়ে যাবে, বাবা। উঠোনের সূত্র এত ধারে রয়েছে থােকার কবর। দু-বছর আমি খােকাকে আগলে বরেছি। মনে এবেশ । আমিনুল। শােন, পাঁচ ওক্ত নামাজ করি-আমার কাছে ইসলামের চেয়ে বড় কিছু নেই। আমি বলছি, হিন্দুর আনাচে কানাচে ঐভাবে তাবেদার হয়ে পড়ে থাকা আমাদের জাতের অপমান। আমি যদি দুটো বছর থেকে যাই এই থানায়, সমস্ত মােছলমানকে একটা পাড়ায় আলাদা করে এনে বসাব। সেখানে তারাই হবে সবে । হিন্দুর কোন ছোঁয়াচ থাকবে না তার মধ্যে। •••আচ্ছা, তােমরা বিবেচনা করতে লাগে, তাড়া নেই তাে? আমি চলি, আমার দেরি হয়ে গেছে। আমিনুল চলে গেলেন। রহিম। ভিটে ছাড়ব-তিন পুরুষের ভিটে ? আমিনা। আমার থােকাকে আমি ছেড়ে যেতে পারব না- আপনি কি বলেন, ছােট-বােগাবাবু? ভিটে ছাড়ব ? বুমেন। আলবৎ ছাড়বে। তােমাদের বাবা বলছেন। অধমের বাবা নয়-খাটি ধমবাবা।...আসুন, আসতে আজ্ঞা হয়। এই নরক- কুণ্ডে আপনার পায়ের ধুলাে পড়ল মা এলেন। রহিম ও সামিনা একপাশে সরে ভাল । মা। শুনলাম, শশাঙ্কের বাড়াবাড়ি অসুখ। তাই ছুটে এসেছি। তােমরা নাকি সদর থেকে কাল ফিরেছ- রমেন। হ্যা। কিন্তু জেলখানার খবর তো কিছু জানিনে। রহিম। মা গান।
মূল এত রমেন। একটুখানি বসুন। পালােগাসাহেব হয়তাে জানেন। তিনি এই বেরিয়ে গেলেন। আমি ছুটে গিয়ে ধরছি। আপনি ভাল হয়ে বসুন•••বজ্ঞ ধুলাে-বড় ময়লা এখানে। আপনি এইটের উপর বন। গায়ের চাদরটা পেতে দিয়ে রুমেন দৌড়ল। এতক্ষণে বহি ও আমিনার দিকে যার নজর পড়ল। মা। কে ? রহিম। রহিম। হ্যা মা- মা। কতকাল পরে দেখা পেলাম আমার রহিমের।এ কি চা- সূর্যি দু’টিতে একসঙ্গে আলাে করে দাড়িয়েছ- মা আমিনাকে ভিলেন। রহিম। ও কি। ও কি করলে, মা ? মা অতিত হয়ে আগিনাকে ছেড়ে দিল। মা। কি বলছিস রহিম, এতে আমার মালক্ষ্মী ? রহিম। ঘঁা, মা।...জানাে তাে আমাদের ঘরের বউ বড় একটা বেরোয় না। দারােগাসাহেব হনেন নেহাৎ একেবারে আপনার লােক— তবে তুই হাঁ-হাঁ করে উঠলি কেন? আমার মাকে একটু আদর করছিলাম, হিংসে হচ্ছিল বুঝি? চিরকালের হিংসুটে তুই। দেখ, দিকি, কি রকম জড়সড় হয়ে গেছে। রহিম। মাগাে, আমরা হলাম মােছলমাম--তুমি হিন্দু, বিধবা মানুষ-এই অবেলায় ছোঁয়াছুয়ি হলে- মা। ও, রহিমের আমার বুদ্ধি-বিবেচনা হয়েছে, এ খবর তত জানতাম না রে!...ারে, হিন্দু-মােছলমান তােরা কবে থেকে হলি? তুই আর শশাঙ্ক পাঠশালা থেকে কালি-খুলি মেখে আসতিস, গড়ি। ।
নূতন প্রভাত নােয় কাড়াকাড়ি করে খেতিস, তখন তাে এসব ছিল না। পড়ে, নারকেল গাছ থেকে পড়ে হাত-পা ভেঙে কাদতে কাদতে এলি, তার উপর আচ্ছা করে কান টেনে দিলাম। এখন হলে বােধ হয় বলতিস, দেখ মােছলমানের উপর হিন্দুর অত্যাচার। রহিম। (হেসে) খুব মনে পড়ে মা, কান টেনে দিয়ে তারপর কোলের মধ্যে শুইয়ে সমস্ত দুপুরবেলাটা হাটুতে তেল মালিশ করলে। কম অত্যাচার! সে সব অত্যাচার যদি বজায় থাকত, এজাত-ওজাত হয়ে আমরা কি মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারতাম এমন করে ? তাের শশাঙ্ক ভাই—জেলের অন্ধকারে তিলে তিলে মৃত্যু তার দিকে এগিয়ে চলেছে—জৗবনভাের সে এত দুঃখ পেয়ে গেল, সে কি মােছলমানকে বাদ দিয়ে কেবল হিন্দুজাতের জন্য ? রহিম। না মা, না। শশাঙ্ক ভাইয়ের অতি-বড় শত্রুও তা বলতে পারবে না। যে মাটির জন্য সে মরছে, সে হিন্দুর মাটি-মােছলমানেরও মাটি। ওরা মাটি দেখে, জাত দেখে না। আর সকলের জাতের খবর রাখি মা, কেবল মা আর ছেলে-তােমরা দু’টি যে কোন জাতের সেইটে লতে পারব না। মা। (হেসে) সকলের খবর রাখিস? বল দিকি, তােদের ঘােষ- কা মহেশ্বর চৌধুরী কোন জাতের ? রহিম। হিন্দু-গোঁড়া হিন্দু- মা। হল না রহিম। তুই বােকা ছেলে, কিচ্ছু জানিস নে, শুধু পরের শেখানাে কথা আউড়ে বেড়াস। এই যে প্রজাদের তাড়িয়ে দিচ্ছে, যােক হিন্দু হলে হিন্দু-প্রজাদের কি কিছু দয়া করত না? হিন্দু-মুসলমান এসব কিছু নয়-ওরা জাতে হল বড়লােক, জমিদার। সেই ওদের আসল পরিচয়। ।
মূল প্রভাত রহিম। আমরা চলে যাচ্ছি, সে খবর তা হলে অনেছ তুমি মা? মা। চলে যাচ্ছিস শুনি নি তত। যেতে বলেছে তাই জানি। চিলে যাবি কেন? রহিণ। না যেয়ে উপায় নেই। আপনার লােক বলে দারােগ সাহেবকে এসে ধরলাম, তিনি যেন কেমন-কেমন বলছেন। মা। তাের হকের জমি, বাড়ি-ঘর-দোর গাড়ি-নৌকো এাব ছেড়ে চলে গেলে মহাপাপ হবে রহিম রহিম। মহাপাপ হবে যেযকর্তার-অন্যায় করে যে আমাদের তাড়াচ্ছে। মা ও অন্যান্ন করাটাই শুধু পাপ নন রহিম। অন্যায় যে ঘাড় পেতে নেয়, সে-ও সমান পাপী। রহিম। এ তুমি কি বল হ মা ? আমার বুকের ভিতরের কথাটা তুমি যে টেনে এনে বলে দিলে। আমিনা। দারােগা সাহবের সঙ্গে ধমের সম্বন্ধ,—তিনি ধমবাপ, কিন্তু প্রাণের সম্বন্ধ মা তােমার সঙ্গে- রহিম। শুনাহ মা, কোটালের মুখে ঘােষকত। নিজে দাড়িয়ে থেকে গেটের মুখ কাটিয়ে দেবেন। মা। তাের। কি করবি তখন? প্রাণ ভরে ঘােষ-ঠাকুরপােকে গাল দিবি, আর তােদর নামে মানত করে ধর্না দিয়ে পড়ে থাকবি তাে ? বলবল আমিনা ও রহিম মায়ের সামনে হাটু গেড়ে বসল। মা। ওঠ-মাথা উচু করে বাড়ি চলে যা। তােৰ হকের ভিটে হকের ঘর-বাড়ি- আমিনুল ও রমেন প্রবেশ করলেন। আমিনুল। এই যে, এখনাে আছ তােমরা? কি বিবেচনা করলে শেষ পর্যন্ত? আমি যা বললাম, তার একটা জবাব চাই- নুন এভাত রহিম। সালাম নােগা সাহেব, আলেকুম সালাম। বাড়ি যাচ্ছি আমিনুল। জবাব ? আমিন। সালাম রহিম ও মিনা চলে গেল। আমিল। বেশ, এনে রাখলাম তােমাদের জবাব। বেশ।... আপনি এসে বসে আছেন শুনে ফিরে এলাম। শশাঙ্ক বাবুর শরীর খারাপ বটে, কিন্তু ব্যস্ত হবার কিছু নেই। আমি কাল-পরশুর মধ্যে সমস্ত খবর আনিয়ে দিচ্ছি। ডাক্তারের রিপাের্টও পাবেন। মা। আচ্ছা, নমস্কাৰ- না চলে গেলেন। আমিনুল। বড় যে খাতির দেখছি রমেন। মা-টিকে আলােয়ন পেতে বসিয়েছ-ছেলে ওদিকে জেলে পচে মরছে। রমেন। তিনি রাজবন্দী স্যর, অর্থাৎ বন্দীর মধ্যে রাজা। তাই কে যথাশক্তি রাজমাতার মান্য দিলাম। আমিনুল। বলি, ব্যাপারটা কি? রমেন। কিছু বলা যায় না। হয়তাে দেখবাে, ঐ শশাঙ্কবাবুই একদিন য়ুনাইটেড স্টেট অব ইণ্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট হয়ে এসেছেন। আগে থাকতে একটু খাতির জমিয়ে রাখলাম। হ্যা স্যর, ইতিহাসে নজির আছে। ফাঁসির আসামিও শেষ পর্যন্ত আমিনুল। ইতিহাসই মাথা খেয়েছে তােমার- রমেন। আগে তাে জানতাম না গর, এমন সােনার চাকরি পেয়ে যাব। তা হলে খেটেখুটে পড়াশুনাে করত কোন্ বেকুব ? ভাবনা নেই—এ সব সেরে যাবে, আর দু-এক বছরের মধ্যে সমস্ত পড়াশুনাে কােন হজম হয়ে যাবে।
দৃশ্য বশ ও লগেট অতিদূরে যে চৌধুরীদের বাড়ি। মহেশ্বৰ য়ি বঁাড়িয়ে ৰাধ কাটান ব্যবস্থা করছেন। নীলমণি সাপই, হর, বিশে বলা, কোদালির ও অনেকগুলি এ। অমূল্য। দরবারটা শুন কামশাই, আমাদের দরবার- আকবর আলি।' এ কি সত্যি যে, বাধ আপনি নিজে দাড়িয়ে থেকে কাটাবেন ? মহের অবাব দিলেন না। আকবর। জোয়ারের জলে প্রঙ্গাদের চাষ নষ্ট হত বলে আপনার পিতা সৃষ্টিধর ঘোষ চৌধুরী একনি নিজে দাড়িয়ে থেকে এই বাধ বেঁধে দিয়েছিলেন- মহেশ্বর। আমার পিতা অনেক কিছু করেছিলেন। এই পাকা রাস্তা তার টাকার তৈরি। অতিথিশাল। ডাক্তারখানা আর মাইনর ইস্কুলও তঁার আমলের অমূল্য। তাই অাড়াই শ বর প্রা-গাছে প্রশ্ন ফা ধরনে, নতুন গাই বিয়ােন কেউ অামরা ঠাকুর-দেবতাকে দিতাম না, বাবুকে প্রণাম করে পায়ের কাছে রেখে যেতাম। যেদিন তিনি মারা গেলেন, গাষের আড়াই শ গৃহস্থের করে ধরে সেদিন রান্না হয় নি। মহেশ্বর। আর এখন ? •••কে মনে রেখেছে বলাে তাে সেসব কথা? হল। ই, মনে রাখবে। নেমকহারাম বেটার। চার-পো কলি -ভক্তিশ্রদ্ধা কিছু আর নেই। খাজনার উপর সিকি পয়সা পাৰণ নুতন প্রভাত চড়ালে যারা নতুন আইনের দোহাই পাড়ে, তারা দেবে গাছের ফল- গােকর দুধ! হয়েছে আর কি! আকবর। ও হল আয়নায় মুখ দেখা কতামশাই। হাসতে লাগুন, হাসি দেখতে পাবেন। আবার মুখ ভেঙচান, আয়নাও তেমনি ভেঙচে উঠবে। ...আপনার আমলে আগেকার সবই তাে উঠে গেছে। ওদিকে গেছে, তাই এদিকেও গেছে। মহেশ্বর। আকবর আলি, দু-পাতা ইংরাজি পড়ে লম্বা লম্বা বুলি ঝড়ছ। কিন্তু মনে রেখাে, জমিদার জমিদারই-দোকানদার নয়। আমার যতটুকু খুশি হবে দেবো-যতখানি প্রয়োজন হবে আদায় করে নেবে- মা এলেন। মহেশ্বর। এই যে রায়গিন্নি-আপনি চলে এলেন এতদূরে? আবাদ ভাসালে আপনার তাে কানাকড়ির ক্ষতি নেই। আপনি এর মধ্যে কেন? আমার মাতুলগুষ্টির মেয়ে আপনি, অন্য আত্মীয়তাও রয়েছে। এদের মধ্যে আপনাকে দেখে লজ্জায় আমার মাথা হেঁট হচ্ছে- । করব কি, আড়াই শ ঘর চাষী উৎখাত হয়ে যাচ্ছে। আত্মীয় বলেই তাে লজ্জা ত্যাগ করে এলাম তােমার কাছে। কথা রাখে ঠাকুরপাে, এ মতলব ছেড়ে দাও মহেশ্বর। আমি খবর রাখি রায়গিন্নি, কার আস্কারা পেয়ে ঐ হাঘরেগুলাে কোমর বেঁধেছে। আমার কন্যাদায়। প্রজা যে, ছেলেও সে। হাজার দশেক টাকার দরকার আমার ; দশটি পয়সাও সাহায্য উঠল না। হল। বলল, দশজন তােমরাই বলল, ঘেন্না আসে কি না? তাই হুজুর বললেন, আমায় দেখল না—আমিই বা ওরে দেখব কেন?
মুজ এত ••আর এই সঁপুই মশায়-কথাটা কানে গেছে কি না গেছে-মােক টাকা অমনি গুণে দিয়ে যাচ্ছেন। মহেশ্বর। অরুর বিয়ের টাকার দরকার। টাকা আমি চাইই। অমূল্য। কিন্তু কর্তামশাই, আপনি কি শুধু নিজেরটাই দেখবেন ? হল। কেন, শুধু নিজেরটা দেখবেন কেন? এই নীলমণিও লাল হয়ে যাবেন, বলে দিচ্ছি। এক বছরেই মাছটা কি রকম জন্মাবে, আন্দাজ করা দিকি- অমূল্য। আর আমরা ক্ষেতের তলানি খেয়ে বাঁচি আমাদেরটা কে দেখবে? ইল। দেখবে বাপু, দেখাশুনাের কত মুরুব্বি জুটেছে আজকাল। নাম করে আবার কোন ফ্যাসাদে পড়ব। এখানে সেখানে সভ, লয় লম্বা বক্তৃতা, আজকাল তাে মনিব-মহাজন লাগে না তােমাদের। ভেবেছ, ল্যাজে করে ওঁরা বৈতরণী পার করে দেবেন, পানি লাগবে না? ডুবে মরবে, মাঝগাঙে ভরাডুবি হবে—এই তােমাদের বলে রাখছি। মহেশ্বর। সত্যি বলছি রায়গিমি, আমাদের সময়েও স্বদেশিওয়ালারা ছিল, তারা সাহেবদের গালি দিত। সে ভালাে-খুব চমৎকার তারা জাত নয়, জ্ঞাত নয়, আমাদের কথাবার্তাও বােঝে না, গালি দেব নয়তাে ছেড়ে কথা কইব? কিন্তু নিজেদের মধ্যে এই যে রেশারেশি- আমার পিছনে আপনি লাগছেন, আমার প্রজাদের ক্ষেপিয়ে তুলছেন- মা। কেউ কাউকে ক্ষেপাচ্ছে না ঠাকুরপাে, ও তােমাদের মিথ্যে ধারণা। যুগ পালটে গেছে নতুন কালের নতুন হাওয়া কানে চেপে কাটানাের দিন চলে যাচ্ছে, জনগণ জেগে উঠেছে কি নূতন প্রভাত হল। কি বল্লেন ঠাকরুণ, কি জেগেছে। আকবর। জনগণ হল। হ, এই কার্তিক কামারবাতে ভােগে, তিন দিনের কম একখানা কাস্তে গড়তে পারে না—কিম্বা এই বিলাত আলি, হাল করেছে তার দামড়া-গরু নেই, বৰা না পড়তে এক খুচি ধান কজ করবার জন্য কত মিশাইর বাড়ি চষে ফেলে—কিম্বা ধরুন, আমাদের কান্তরাম, তিন বছরের বকেয়ার দরুন মাথার উপর খাড়ার মতন ডিক্রি ঝুলছে এদের আবার আজকাল নতুন নামকরণ হয়েছে, জনগণ। এরা নাকি জেগে উঠেছে, উঠে আড়মােড়া ভাঙছে। হেসে আর বাঁচিনে বাপু- মহোর। রায়গিমি, এ আবাদের নাম হাতীপােতা কেন হয়েছে জানেন বােধ হয় ? হল। পােষ। হাতী বেয়াড়াপনা করেছিল বলে বলে কতামশাইর ঠাকুরদাদা জলজ্যান্ত হাতীটাকে মাটিতে পুতে ফেলেছিলেন- মহেশ্বর। এই এতগুলাের মধ্যে কোনটাই হাতী নয়—গালভরা যত বড় বড় নামই দিন না কেন—সমস্ত কুকুর-বেড়াল, ইদুর-আরসােলা। এদের বেয়াড়াপনা দেখে সবসুদ্ধ এবার ভাসিয়ে দিয়ে যাব বলে এসেছি। এ হাতীপােতর সমস্ত জমি আমার। সেখানে আমি ধানকর জলকর যা খুশি করব। কারাে ভােয়াক্কা রাখি নে। •••এই, কোদাল মা- কেটে দে বাঁধ। কারাম প্রবেশ করুন। কান্ত। আমার জমি ? আমার যে কুড়ি বিঘে এখনাে রয়েছে। মহেশ্বর। কারও জমি এক কাঠাও নেই এই আবাদে। কান্ত। আমার আছে কত মিশাই, আমার-আমার- মহেশ্বর। না, নেই। এই কোদালি । কোদালি কোদাল তুলতে কারন টি চেপে ধরল।
নূস প্রভাত } ত। আহি আছে, হল। আহ! কেচেঁচামেচির দরকারটা কি বাপু? থাকে, লিল-দস্তাবেজ বের করে। দশজন উপস্থিত আছে, সকলের মুকবেলা আঙ্কারা হয়ে যাক- কান্ত। দলিল আমার দীর রক্ত। বাঘে-খাওয়া রক্তের ধারা পড়েছিল ধানজমির উপর। আজও হয়তাে তার দাগ রয়েছে। মহেশ্বর। নেই। বন্যায় বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে গেছে সে-সমস্ত। যেমন মুছে গেছে আমার বাবার কীর্তিকাহিনী হল। বেটা চাষার টেকি! তাের ছে'দোকথার দামটা কি রে বাপু? আইন আমাদের দিকে মা। আমি মেয়েমানুষ, আইন জানি নে। একটা কথা জিজ্ঞাসা করি ঠাকুরপাে, সত্যিই কি এ অন্যায়ের প্রতিকার নেই? মহেশ্বর। আইন স্বীকারই করছে না যে অন্যায়- মা। যা অন্যায়, তা সবকালে সর্বদেশে অন্যায়। আইন যদি সমর্থন করে তাে বলব, একচোখাে আইন-ও আইন পালটাবার দরকার। বহি প্রবেশ করল। মহেশ্বর। সে কথা ভাল। সে কথা ভাল। ছেলে জেল থেকে বেরুলে এবার তাকে সুবুদ্ধি দেবেন রায়গিন্নি, ভোেট নিয়ে অ্যাসেম্বলিতে আইন উসটাতে চলে যাক। ততদিন আমাদের বাধা দেবেন না- রহিম। আমরা জীবন দেব - কান্ত। হুজুর, আমি আপনারই দলে। আমার সর্বনাশ করবেন না। হল। ঐ রকম করে বলে চান, কার মন ভিজলেও ভিজতে পারে। মেজাজ দেখিও না । কান্ত। বুক পেতে দিচ্ছি বাঁধের উপর। আমার বুকে কোদাল কারো তোমরা।
মূল এত মা। আমি হাতে ধরে বলছি ঠাকুরপাে, এদের দিকে চেয়ে দেখ। তােমার মেয়ের বিয়ের দু-হাতে টাকা ছড়াতে পারবে না—তার অভাব বােধ করছ। আর এদের অভাব অন্ত্রের। এরা মানুষ, তুমিও মানুষ এবীর, সন্তোষ ও আমিনুল শবেশ করল। সন্তোষ। না মা, মানুষ বললে ওকে যে অপমান করা হয়। উনি জমিদার। হল। আর কি হুজুর, নােগাসাহেব এসে গেছেন। কুছ পরােয়া নেই। কথা দিয়েছিলেন, ঠিক এসেছেন প্রবীর। প্রবল প্রতাপাখিত মহামহিম ঘােত বাহার, বাঁধ তা কাটা গেল না। - প্রীর। খােদ জেলা-ম্যাজিস্ট্রেটের হুকুমনামা মহেশর। ব্যাপার কি দারােগাসাহেব ? আমিনুল। একশ চুয়াল্লিশ ধারা। দাঙ্গা-হাঙ্গামার সম্ভাবনা থাকায় আপাতত বাধ-কাটা বন্ধ। হলধর দামােগার খুব কাছ এল। হল। এ কি হল দারােগাসাহেব ? বন্ধুলােক হয়ে আপনি আমিনুল। আমার দােষ কি, আমি কি বিন্দুবিসর্গ জানতাম ? উপর- ওয়ালার হুকুম। •••কিছু না, একটা টেমপােরারি ইনজাংসন। এমন রিপাের্ট দিয়ে দেব, বিলকুল ফাঁস হয়ে যাবে হল। দেবেন। তাড়াতাড়ি কি। নইলে মুখ দেখাবার জেলা থাকবে না ফল সরে কেও জলি দারােগার কাছে এল। রহিম। খুব ঠেকিয়ে দিয়েছেন। •••তলে তলে এ সব জোগাড় কে করল, আপনি। দিল। আমি, আমি। আমি ছাড়া এত মাথাব্যথা কার ? সেদিন মুখ চুপ করে থানা থেকে চলে এলে। তখন থেকেই ভাবতে মূল এত ৫০। । লাগলাম, তাই তাে কি করা যায়। একে মােছলমান, তার বাস। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কম হাঁটাহাঁটি করেছি। কিন্তু এর মধ্যে তুমি কেন রহিম? আবায় সমিতি-টমিতি করে বেড়াচ্ছ নাকি? হিন্দুদের ঐ সব ধাপ্পার মধ্যে যদি পড়া, আমি কিন্তু এক সরে দাঁড়াব; কিন্তু হবে না আমাকে দিয়ে রহিম। না-না। বিপদে পড়ে আজকেই শুধু এসেছি। আমিনুল। খবরদার, খবরদার। মহেশ্বর। এরা দুটি কখনাে দেখিনি তাে- প্রবীর। আমরা কলকাতার থাকি- না। আমার আর দুটি ছেলে। শশাঙ্ক জেলে যাবার পর সমিতি, সমস্ত ভার এরা কাঁধে তুলে নিয়েছে। হল। আহা-হা, আবার কোন্ ভাল-মানুষের দুটো নধর ছেলেকে ঘড়িকাঠ এনে ফেলেছে গাে! অরুন্ধতী একেশ করল। রহিম সস পাশ কেটে পড়ল। অরু। কি হয়েছে বাবা? বাড়ির সামনে হট্টগোল কিসের? মহেয়। রায়গিরির কাছে আজ বড় হারা হেরে গেলাম, না। আজকে হল না নীলমণি, কিন্তু কথা দিচ্ছি, এক মাসের মধ্যে প্রবীর। পারবেন না, মিথ্যে কে দেওয়া হল। এক মাঘে শীত যায় না। দেখাই যাক, কে পারে আর প্রবীর। আমরা সভা ভাৰুছি আপনারই এলাকার মধ্যে-গড় ভাঙার হাটখােলায়। খবর আনতে পারবেন। সভায় যাবার পর আপনাকে নিমণ করে রাখছি। হল। হাটুরে সভায় যান না কামশাই।
নিত কেন আপনি গায়ে পড়ে বাবার পান করছেন। প্রবীয়। অপমান নয়, বুদ্ধি দিচ্ছিলাম- । যান, চলে যান আপনারা। রহিম। রহিম। যিঠিাক- অরু। এদের নিয়ে যাও, ভাই। কাজ তাে চুকে গেছে। রহিম। চলুন- সৰুলে চলে গেল। নীলমণিও যালি। অরুন্ধতী তাকে ডাকল। অরু। পড়াও নীলমণি। এই তােমার আগাশনেওয়া টাকা। সে দেখে নাও। দুহাজারই আছে পুরােপুরি হোর। টাকা? টাকা ফিরিয়ে দিতে তােকে কে বলেছে? নমণি তাে চায় নি। নীল। কেন চাই? সামান্য ক’টি টাকা তার জন্য কি আমি আপনাকে অবিশ্বাস করছি কামশাই? বেশ তাে, এক মাসে না হেক-দু’মাসে দু’মাসে যেদিন খুশি আবাদ ভাসিয়ে অরু। না, কোনদিন ভাসানাে হবে না। হাতীপােতার ইজ্জত বেচে আমি টাকা নিতে দেব না, বাবা। মহেশ্বর। আঁ- অরু। ঘােষ চৌধুরীদের দয়ায় ঘরে ঘরে সমৃদ্ধি এসেছে, শতকণ্ঠে সাধুবান এসেছে। আজকে আর সেদিন নেই, আমাদের দুঃসময় পড়েছে। খবর পেয়ে শকুনির মতো চারিদিক থেকে এরা এসে জুটছে; টাকার প্রলােভন দেখিয়ে তােমাকে দিয়ে ছােট কাজ করিয়ে নিতে চায়, বাবা। নীল। এ কি বলছেন আপনি? অরু। যাও, এ গাঁয়ের ত্রিসীমানায় তােমায় আর কোনদিন দেখতে না পাই। নিয়ে যাও তােমায় টাকা নােচর ভিী র গ ড় যায়।
পাতালপুরী প্রথম গভভাঙার হাটখােলায় সভা সবী হয়ে। যে দর্শকরাই শ্রোত। আকবর। চুপ করুন। গােল করবেন না। শলা-ভাইয়ের সম্বন্ধে বড় উদ্বেগজনক খবর পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে এই সুযােগে জমির আবাদ ভাসানাের চেষ্টা করছে। এই সমস্ত আলােচনা হবে আজকের সভায়। চুপ করুন, আপনার সব চুপ করুন। মা এইবার আপনাদের দু-এক কথা বলবেন। না। (উঠে দাড়ালেন। পাড়াগেৰে পামাত শ্ৰীলােক আমি, সব কথা গুছিয়ে বলতে পারব না, বাবা। তােমর অনেকেই আমাকে মা বলে ডাঁক-আমার এণে নয়, তােমাদেরই গুণে। শশাঙ্ককে তােমর সকলে ভালবাস। আমার পেটের ছেলে শশাঙ্ক--বিধবার একমাত্র সন। কিন্তু সে একলা আমার নয়, তােমাদের সকলের। তােমরা সকলে তার ভাই-বােন। তােমাদের হয়ে সে বা করে, যে-সব কথা বলে অমিদারের তা ভাল লাগে না। জেলে জেলেই তার জীবন কাটল; শেষদিন দ্রুত ঘনিয়ে আসছে। খবর পেয়ে তােমা বিচলিত হয়ে পড়েছ। কিন্তু জিজ্ঞাসা করি, কারা এর অন্য নায়ী? কারা তাকে জেলে পাঠিয়েছে। প্রেক্ষাগৃহ থেকে। ঐ যে নতুন দারােগা এসেছে- মা। (বঞ্জ কঠে) না- প্রেক্ষাগৃহ থেকে। ঘােষকা তলে তলে ঐ মারােগার সঙ্গে চক্রান্ত করে মা। না-না, তারা নয়, তােমরা। হ্যা, তােমরাই। শিরদাড়া ভাঙা আড়াই ঘৰ চাৰী-গৃহস্থতােমাসেরই ভীরুতার প্রায়শ্চিত্ত করছে শাক- মূল এত প্রেক্ষাগৃহ থেকে। এর বসাে ঠাকশ, বসে সন্তোষ। কে ? উঠে দাড়াও না মুখখানা দেখি- মা। আঃ, বােসস সন্তোষ। ওতে কান দিতে নেই।...হা, আমি বলছি, এই হাতীপােতা গ্রামের একটিমাত্র শশাঙ্ক নয়-ভারত বর্ষের গ্রামে গ্রামে এই রকম আমার কত শশাঙ্ক নিঃশব্দে জীবন নিয়ে তােমাদেরই ভীরুতার প্রায়শ্চিত্ত করছে। তােমরা বুক ফুলিয়ে বলতে পার নি, অন্তর দিয়ে কোনদিন অনুভবও কর নি-এই পৃথিবীর জল আলাে হাওয়া যেমন অবাধে পাও, তার মাটিতে মাটির ফসলে, তার ঐশ্বৰ্যে জ্ঞানে বিজ্ঞানে সুখসমৃদ্ধিতে তেমনি তােমাদের সকলের সমান অধিকার। মানুষকে যারা পশু বানিয়ে রাখে, মনুষ্যত্বকে তিলে তিলে পিষে মেরে তাদের কঙ্কালের উপর আরামের অট্টালিকা গড়ে তােলে, তারা সমাজের শত্রু। শত্রুর সামনে কুজো হয়ে তােমরা পিঠ পেতে দিয়েছি—সে পিঠের উপর চড়ে তােমাদের ঐ ঘােষকর্তা- প্রেক্ষাগৃহে গােলমাল, কুকুর-ডাক ইত্যাদি। মা। (আরও উচু গলায়) ঘােষ-ঠাকুরপাের নাম করেই বা বলি কেন-সে আর কতটুকু জীব? এই লােলজি সভ্যতা তার ঐশ্বর্য আরাম আর কালচারের গৌরবে উচুতে মাথা তুলে দাড়িয়েছে। তােমাদের শণাক-ভাই এর প্রতিবাদ করল। প্রতিবাদ উঠল আরও শত শত কণ্ঠে। তাদের দাবি, পৃথিবীর সকল জায়গায় প্রতিটি মানুষের সমৃদ্ধি, জগতের অনন্ত শান্তি। কিন্তু এত বড় দেশের তুলনায় ক'জন তারা? সমস্ত মানুষের কথা যখন একটি দু’টি লােকে বলতে যাই, গলাটা তাদের বেশি উচু হয়ে উঠে। শক্তিমান মনে করে, ঐ গলাটা নুতন এত বন্ধ করে দিলে সকলের কথা চাপা পড়ে যাবে। সকল আক্রোশ তাই ঐ একটি-দু'টির উপর গিয়ে পড়ে। প্রেক্ষাগৃহ থেকে। তেঁতুলতলার বৃষ্টি–থামে না সে। সন্তোষ। মিছি ভাঙবার অ কত টাকা খেয়ে এসেছ, মা। শশাঙ্কের কণ্ঠ আজ নিস্তব্ধ। কিন্তু দেশের প্রতিটি নর- নারীকে শুদ্ধ করে রাখবে, এত বড় জোর কারও নেই। তােমাদের শাক-ভাইকে বাঁচাতে চাও তাে তারই কথা শত কষ্টে তােমরা বলতে থাক, কোন অত্যাচার আমরা সইব না; হাতীপােতায় সােনা ফলিয়ে এসেছি আমরা, এ জমি আমাদের। বাঁধ কাটতে নেব না। রহিম ও শশক প্রবেশ করল। রহিমের মালার বেশ ; হাতে ।ৈ আকবর। কে? আরে এ কে? শশাৰু-শশাঙ্ক-ভাই যে। বলল ভাই, ইনক্লাব জিন্দাবাদ। চারিদিকে ভিক্ষাবাদ খানি। রহিম। আমি ডিঙি নিয়ে ইস্টিশানে গেছলাম। এর মধ্যে খুলনার গাড়ি এল। স্বপ্নেও ভাবিনি মা, শশাঙ্ক ভাই সেই গাড়িতে। ধরে নামাতে হয় এই রকম অবস্থা। তাকে নিয়ে চলে এলাম। আকবর। এই কি সেই গৰু-ভাই ? দেখ দেখ, চেয়ে মা। শশীক নয়, তার ছায়া- শশা। বেঁচে আছি, মা। আমি বেঁচে আছি, ভাই সকল। বাইরেটা এই রকম দেখছ। জেলের আঁধারে বসে বসে মনের ভিতর আমি নতুন আলাে নিয়ে এসেছি।
পূত এহাত প্রবীর। ছেড়ে দিল যে? এখনাে এগারাে মাস বাকি। শশাঙ্ক। মােজ জর হচ্ছে। এ শরীর আর মেরামত হয় কি না -কর্তাদের সন্দেহ হল। বদনামের ভাগী হতে বাৰে কেন। তাই হঠাৎ কাল সন্ধ্যায় মা। শরীরে যে এক ফোটা রক্ত নেই.••একেবারে কাগজের মতাে সা?-ও, কি হল? কমাৎ ঢিল এসে শশাঙ্কের চোয়ালে লাগল। শশা খুলে পড়ল। মা তাকে বাই কাগলে খালেন। আকবর। কে। কোন্ শয়তান। সন্তোষ। পালাচ্ছে। ধমনী বনাে- রহিম উল। শশাঙ্ক। কিছু হয়নি মা, কে আমার আপনার জনঅভ্যর্থনা করেছে আমাকে। রহিম কামের চুল ধরে টানতে টানতে নিয়ে এল। রহিম। এই হারামজাদা মেরেছে। এই মানুষকে ঢিল মারতে হাত কাঁপল না? প্রেক্ষাগৃহ থেকে। ওর হাড়মাংস টুকরাে টুকরাে করে হেঁছাে- আর একজন। মারাে মারে- শশাঙ্ক। থামােথামাে। কি করছ? প্রবীর। কেন তুই এমন কাজ করলি? আকর। বেকায়দা লাগলে কি সর্বনাশ হয়ে যেত, বল তাে कांबाय- রহিম। আর শয়তান। কথা বলে বলে না, বােবা ৫ আছে।
মূল এত কালামের রে বনি বেশ কম। যামিনী। বাবা এখানে? বাবা, বাবা। বাবাকে তােমরা মিছে কেন?"হলধর গােমা আর এক চাপরাশি এসে নেইকাঠে লুটিন টাঙিয়ে দিয়ে গেল, বাবা- রহিম। কিসের লুটিশ আবার ? শলাক। (কাগজটা হাতে নিয়ে পড়ল) তােমার উঠোনের সমস্ত খান ঘােষকতার জোক করে নিয়েছে, কারাম। কা। ধান ক্রোক। ওরা আমার প্রান ক্রোক করল ?আমায় হাড়-মাংস টুকরাে টুকরাে কর তােমরা। • মারাে আমায় কি চড় লাখি যত খুশি। তােমাদের পায়ে ধরছি, মারে—আমার মেরে ফেল-বাচতে আমি চাইনে-আমায় বাঁচিয়ে রেখাে না-দোহাই তােমাদের কারাম উনাদের মতাে নিজের দু'গল চড়াতে লাগল। • . দ্বিতীয় দৃশ্য মােকতার বাইরের ঘর মহোর ও হলধর মহেশ্বর। সংবাদ কি হলধর ? হল। দুঃসংবাদ, অতীব দুঃসংবাদ। যা বলে গিয়েছিল, ঠিক তাই। সভা বসিয়াছে। মহেশ্বর। আজকে তেইশে। রায় সাহেব আসছেন। তার কি বন্দোবস্ত করেছ। হল। আজ্ঞে, ডিঙি পাঠিয়েছি। এতক্ষণ স্টেশনের ঘাটে পৌছে গেছে। বিশে বকলাঙ্গ সঙ্গে আছে। মহের। পাঠিয়ে দিয়েছ? বেশ। ...তারপর ?
নূতন প্রভাত G হল। সেই যে কটা সমন এসেছে-আমি চাপরাশির সঙ্গে সেই গুলাে জারি করে করে বেড়াচ্ছিলাম, দেখি—যত বেটা হেলােকাষ পঙ্গপালের মতাে চলেছে। বৃত্তান্ত কি? না, স্বদেশি সভা। মনে ভাবলাম হুজুর, আমি কিছু বিদেশি নই-আর দেশটা যে ওদের ইজার মহল—তা-ও নয়। গিয়ে নিই না, কি বলে। পায়ে পায়ে গেলাম হাটখােলায়। মাথায় আচ্ছা করে কম্পৰ্টার জড়িয়ে আলােয়ান মুড়ি দিয়ে খেজুরবনের দিকটায় ঘাড় গুজে বসে পড়লাম। তা হুজুর, সাধ্য কি যে বসে থাকি। কুলােতে পারলাম না, উঠে আসতে মহেশ্বর। মশা? হল। আজ্ঞে না, আগুনের ফুলকি। বক্তৃতার চরকিবাজি খেলিয়ে দিচ্ছে। ঘেন্নায় মরি হুজুর। মুড়ি মিছরি একেবারে একার হয়ে গেছে। চাষাভূষাে আর ভদ্রলােকের ছেলে এক সঙ্গে কোমর বেঁধে দেশ উদ্ধারে লেগেছে। নতুন নতুন রােগ বেরুচ্ছে না আজকাল-এই বন্দেমাতরম্ হল সেইরকম একটা। মহেশ্বর। খাটি কথা বলেছ হলধর, বিষম ছোঁয়াচে রােগ। কার ঘরের ছেলেমেয়ের কখন যে মাথা ঘুলিয়ে উঠবে, কিছু বিশ্বাস নেই। হল। কুড়িকুষ্ঠ মহাব্যাধি। বুঝলেন হুজুর? থু থু নিজের কে কেয়ার করেন না, বাবুরা দেশ-মাকে স্বর্গে তুলে বাতি দেবেন। বলিহারি আপনাদের ঐ শশাঙ্কচন্দ্রের গর্ভধারিণীকে। ওর বেলাপিত্তি নেই- মহের। তিনি আছেন নাকি ঐ সভায় ? ল। তিনি প্রেসিডেন্ট। কলকাতার সেই ফাজিল ছোড়াহুটো আছে। আমি হলপ করে বলতে পারি, রায়গিরিই আপিয়ে আপিয়ে ঐ দুটোর ঘাড়ে দেয়াল চাপিয়ে দিয়েছেন। হিংসেযুলেন না? নিজের ছেলে জেলে পচছে, আর দশজনে ছেলেপুলে নিয়ে রি-সংসার করবে, একি সহ হয় ? দাও, তাদেরও জেলে পাঠিয়ে নাও। মরুক যনি খুরিয়ে। তাতেই শান্তি! কলকাতা অবধি হানা দিয়ে কোন ভাল মানুষের দুটো নধর ছেলেকে জুটিয়েছে। আমি কান্তরাম এব্রাহিম গাজি আর হরিণ গোঁসাইকে বসিয়ে দিয়ে চলে এলাম। মহেশ্বর। (কুদ্ধ কঠে) হলধর। হল। আজ- মহেশ্বর। কি জন্যে বসিয়ে এসেছ তাদের। হল। আজ্ঞে, বক্তৃতা শুনতে মহেশ্বর। ই, বক্তৃতা শুনতে। অতী এবেশ করল। অরু। বাবা, শশাঙ্কাকে ছেড়ে দিয়েছে- মহেশ্বর। বলিস কি? হল। বুটো খবর। •• ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব ঠেলে দিয়েছে দু’বছর। ছেড়ে দিলেই হল ? অরু। তিনি ফিরে এসেছেন। গাঁয়ের ছেলেমেয়ে সব হাটখােলর দিকে ছুটেছে। দেখ না বারান্দায় এসে কানাৰ এবে কখন। কান্ত। হ্যা, এসেছে। আমি দেখে এলাম- অরুন্ধতী ও মহোর চলে গেলেন। কান্ত। পা দিতে না দিতেই মেরে এসেছি এই এত বড় এক লি- হল। চুপ, চুপ আন্তে। আমি জানি, কাজের মানুষ তুই মােড়ল। কেউ দেখেনি তাে?
ववव কান্ত। এত বড় একটা কাজকেউ দেখবে না, সে কি হয়? ফ্যাকাশে মুখ, গড়ির মতাে শিরা ভেসে উঠেছে—দুটো দিন শশাঙ্ক মানের কাছে জুড়ােতে এসেছে। নিলাম ছুড়ে বে-ও বে-ও করে। আমার ক্ষমতা দেখে সবাই তাজ্জব বনে গেল। চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে খজির করল সামনে- হল। এই দেখ। হুসিয়ার হয়ে কাজ করতে হয়। বুড়ো হয়ে মরতে গেলি, বুদ্ধি-জ্ঞান হল না। আমরা যে এর মধ্যে আছি, সে সব কিছু বলিস নি তো? কা। তা বলি নি। পােম ঘুসি ঝাড়তে লাগল, হাড়-মাংস ছিড়ে নিতে চাচ্ছিল, একটা কথা আমি মুখ দিয়ে বের করি নি। হল। ভালাে, ভালাে।হজুরকে বলে আমি তােব বখশিসের ব্যবস্থা করব কারাম। কান্ত। আবার কি বখণিস দেবে গােমস্তামশাই? দিয়েছ! বখশিস একেবারে উঠোনের উপর টাঙিয়ে রেখে এসেছ। সে নােটিশটা দিল। হল। কি করা যায়, বল। মালেকের মালখানাকম তাে নয়, তিন-তিন বছরের বকেয়া কা। আর আমার তিন বছরের মেহনৎ? রােদ-বৃষ্টি মাথার উপর দিয়ে গেছে। খােরাকির ধান পেটে না খেয়ে বীজতলায় ফেলেছি। বাড়-বাড়ন্ত চারা উহওভাজন জানাে বাঁধ কোটালের তােড় সামলাতে পারেন ননােনাজলে সবুজ গর রাঙা হয়ে মরে গেছে। তােমরা ততীয় বকেয়া টেছে, আর মেহনতের দাম উল করি আমি কাছিকে ? ।
০ নূত প্রভাত হল। ঘাবড়াচ্ছিস কেন, মােড়ল? •••ক্রোক-ট্রোক কিছু নয়। দিনকাল খারাপ পড়েছে-মুরুব্বিরা এসে নি-খরচায় যুক্তি দিয়ে যায়- তাই নতুন একটা প্যাচ কষে রাখা। কান্ত। ডিক্রি করলে-সেই দিন থেকেই তাে কেনা-গােলাম করে রেখেছ। সমিতির খবরাখবর দিই, চাষাদের মধ্যে দল 'ভাঙাভাঙি করি, আধমরা মানুষটার মাথা ভেঙে দিয়ে এলাম। এখন নতুন প্যাচ কছ গােমস্তামশাই, আর আমাকে দিয়ে করাবে কি? আমার নিজের মেয়েটার গলায় ছুরি বসাতে বলবে নাকি? আর কি মতলব আছে তােমাদের পেটে পেটে? হল। তাের মেজাজ ঠিক নেই মােড়ল। এখন বাড়ি যা- কান্ত। তােমার পায়ে ধরে বলছি গােমস্তামশাই, নাচের পুতুলের মত এ সব আমি পেরে উঠছি নে। বুদ্ধির প্যাচ না খেলে, আমি বলি কি, গরুর দড়ি এনে আমায় গলায় একটা প্যাচ কষে দাও। সব চুকে বুকে যাক। হল। ( ক্রুদ্ধ কণ্ঠে) কি আবােল-তাবােল বকছিস? বাড়ি যা বলছি, বাড়ি যা- কাতােম চলে গেল। মহের ও অরুন্ধতী প্রবেশ মহেশ্বর। ঘঁ, ঠিকই। শশাঙ্ক এসেছে। •••তুমি অন্যায় কাজ করেছ, হলধর হল। আজ্ঞে ? মহেশ্বর। অনধিকার চর্চা করেছ। কে তােমাকে আমাদের লােক ওখানে বসিয়ে রাখতে? মিটিং ভাঙবার হুকুম তােমাকে দেওয়া হয় নি। হল। আজ্ঞে, তা হয়নি সত্যি। কিন্তু হঠাৎ যদি আকাশ থেকে মূল প্রভাত বকবৃষ্টি শুরু হয়, তাহলে তে ছাতা মেলে মাথা বাঁচাতে হবে কি ধরুন, সদর কাছারি ফুড়ে একটা গােখরাে সাপ বেরােয়, লাঠি নিয়ে মেরে ফেলতে হবে। তখন কি হুজুরের হুকুমের অপেক্ষা করলে চলবে। মহেশ্বর। ওরা সাপ নয়, হলধর- হল। সাপের বেহদ, হুজুর। সাপ লাঠি তুললে পালায়, বলে- নতা-ওয়ালারা আরও বুক চিতিয়ে দাড়ায়। বুক বসে দাড়ি পড়াচ্ছে। আমাদের এলাকাস্থিত হাটখোলার মাঠে অামাদেরই অরু। দুটো নিছক সত্যিকথা বলছে। ওকে সত্যিকথা বলেন ? কি বলছে, যদি নিজের কানে শোনেন- মহেশ্বর। আমি যদি শুনি, আমার ঘুম আসবে। শুনলে ঘুন পায়। •••মারছে না, অকথা-কুকথাও বলছে না, কেবল সাধু সাধু গােটাকতক ধাক্য আর চটাপট হাততালি- তা হলে ও-সব চলবে হুজুর? মহেশ্বর। চবে। বকে বকে গলা ব্যথা হয়ে গেলে আপনি থেমে যাবে। তোমার মিটিং-ভাঙা লােকজন যারা আছে, তাদের ডেকে পাঠাও। ওরা সভা করুক, আমরা ইদিককার বন্দোবস্ত করতে লাগি তুমি নন্দ গােয়ালার বাড়ি গিয়ে দই-ছানার বন্দোবস্ত করেগে...আর ফেরবার মুখে পানাটা ঘুরে দারোগা সাহেবকে নেমন্তন্ন করে এসো। একটা চিরকুট লিখে নাও বং। লেখো -যা সমস্ত লিখতে হয়। এই যেমন, আমার কন্যার আশীর্বাদ উপলক্ষে সামান্য প্রীতিভােজে নূতন প্রভাত আয়ােজন হইয়াছে। আপনি অন্য রাত্রে সানুগ্রহে মণীয় দীনভবনে- লিখে নিয়ে এসাে, সই করে দিচ্ছি। ধব ঘাড় •েড়ে চলে গেন। অকী মহেরকে এখন করল। মহেশ্বৰ। কি? কি হল ? অরু। বাব, টে বেড়ালে কি হ- আ কে মার ঠিক চিনেছি। মহেশ্বর। আর, আমায় চিনতে আমার বিরুষও পারেন নি হয়েছে কি ? অরু। বাইরে তুমি গালি দাও, কিন্তু মনে মনে তুমিও ওদের মহেশ্বর। ওদের দলে মানে আমিও ঐ ইচড়েপাকা স্বদেশিওয়ালা- যেন একখন ? অরু। হলধরকে ভুমি মিটিং ভাঙতে দিলে না- মহেশ্বর। মিটিং খুব ভাল জিনিষ, মা। বক্তৃতার ভুড়ভুড়ি ছেড়ে ওতে ভিতরুটা ঠাণ্ডা হয়ে আসে। যে সব কুকুরের ডাকা স্বভাব, তারা কামড়ায় না।হয়ে গেছে হলধর ? ধরবণ কর। হল। আজ্ঞে হ্যা নহোর। সই করে দিচ্ছি। আনাে- মহেব চিঠিটা পদেশ মহেশ্বর। এই ইয়ে। পুন করে লিখে দাও এই কানিতে আপনি বিশিষ্ট ব্যক্তি, আমার একান্ত আপনার। যে আপনাকে না পাইলে মর্মাহত হইব। যার নির্দেশ লিখে সই করিয়ে নিয়ে চলে গেল। - নূতন এত অরু। বাবা, মিথ্যে আশা তােমার। ওরা ঠাণ্ডা হবে না। মহেশ্বর। যতদিন রক্তটা গরম আছে, ততদিন হবে না। ও-বয়সে ঘাড়ে ঐ রকম ভূহ চাপে। আমরা করি নি ? তবে হ্যা, বাড়াবাড়ি করছে বড়। কালের ধর্ম-বায়ুৰ অবিক্য চলে কিনা। আরে বাপু, সরান বাহাদুরকে কষে গা':গালাজ দে-লে যেতে চাস, সে-ও 'তালে। ; ঘুৰ আন ছ-শাস, এক বর«শনে অনুক, বাবু আমাদেব শিবম স্ব.দাশ। ফিরে এসে শের ভোট নিণে ঢুকে পড়, জেলাকো’র্ড, ঢুকে পড় কাউ ল'লে, কিম্বা সাহেবদের গিয়ে বল, হয় ভন চাকরি দাও, তো স্যাৰ, বল করে স্বদেশ করব কিন্তু। ভা রকম একটা কিছু বাগি: নেতবে তো বলি বাহাদুর ছেলে। আর এরা কি করছে-চাষাদের লেলিয়ে দিচ্ছে আমাদের বিপক্ষে। কেন ( বাপু, স্বদেশি করতে এসে নিজেদের মধ্যে ঠোকাঠুকি করে ম িফের? আমরা তাে তােদেরই দেশের মানুষ।•••আবার তােদেরও এবস ৯ দন আসবে, তালুক-মুলুক করবি, বুড়াে বয়সে নিজে বসে খাবি, ছেলেপুলের জন্য রেখে যাবি। ঐ ভাঙিয়ে-চুরিয়ে তাদেরও দিব্যি থে-স্বচ্ছনে চলে যাবে। এই করেই চা-৫ : যখন, অখের নষ্ট করিস তােরা কোন বিবেচনায় ? অর্থে, ..ৰ ফুটিয়ে দি৮ে টের পা, টের পাবে-হায় হায় করে নিলে গাল চড়িতে মরতে বে। আমার ক’দিন? মহেশ্বর। বিশে এসে পড়েছি। রায়সাহেব? আসতে ফ, এমন- बामगारवाड बनन। पापी - মহেয়। পথে কোন ষ নি তো?
মূহ এভাত অচ্যুত। এমন কিছু না। অসময়ে বৃষ্টি হয়ে গেল—পিছলপথে বার পাঁচেক আছাড় খেয়েছেন। আর হাঁটুর উপর দু-তিন জায়গায় ছড়ে গেছে। মহেশ্বর। সর্বনাশ! পায়ে যে এক-হাঁটু কাদা- রায়। কাপড়-চোপড়ও বদলাতে হবে। অবস্থা দেখুন। রায়সাহেব কাদামাখা কাপড়-চোপড় দেখালেন মহেশ্বর। কে আছিস? কানাই, ওরে কানাই। চাকর কানাই এল মহেশ্বর। যান, আপনারা ওর সঙ্গে চলে যান। রায়সাহেব ও অদ্ভুত কানাইয়ের সঙ্গে গেলেন মহেশ্বর। বিশে, তুই তাে ডিঙর সঙ্গে গিয়েছিলি। এমন হল কি করে ? বিশে। কোথায় ডিঙি ? হেঁটে আসতে হল স্টেশন থেকে এই দেড় ক্রোশ- মহেশ্বর। কেন ? বিশে। রহিম মিঞা গিয়েছিল। শশাঙ্কবাবুকে তুলে নিয়ে চলে এল, কিছুতে থাকল না। রাগারাগি করলাম, ভয় দেখালাম, কিছুতে না। মহেশ্বর। শশাঙ্ক যাদু জানে। এসেই মানুষজন পাগল করে লছে। আমারই বাড়ির কানাচে বাস রহিম মিঞার-আমার আত্মীয়কে স্টেশনে ফেলে রেখে স্বচ্ছন্দে সে চলে এল। হতভাগা এর ধারণাটা একার ভারতে পারল না?•••আচ্ছা, তুই তাের কাজে বা বি-ে বিশে চলে গেল। Wস'হে ও অত এমন। রায়। মুখ বেজার ফর বসেছেন বে ।
वगड মহেশ্বর। ভাবছি আত্মসাহেব, দিনে দিনে হয়ে উঠল কি? মান ইজ্জত নিয়ে গ্রাম ছেড়ে সরে পড়তে হবে দেখছি। রায়। কেন? কেন? মহেশ্বর। এই হাতীপােতা স্বদেশিওয়ালাদের একটা প্রকাণ্ড ঘটি হয়ে উঠেছে। দলের বড় চাইটা আজ আবার এসে উপস্থিত হয়েছে। রয়। আমাদের ওদিকে এসব কিছু হাঙ্গামা নেই। শাসন চাই বুঝলেন শা, খুব কড়া নজর রাখতে হয়। মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কি, ছারদের মত টিপে মারতে হবে। তা সে যে-ই হােক মহেশ্বর। জোর করে বলবেন না রায়সাহেব। ছেড়াকাথায় আগুন, কখন কোথায় ছিটকে পড়বে-কিছু ঠিক করে বলবার জো নে। ঘর-সংসার করা আজকাল এক বিষম দায় হয়েছে। কখন কার মাথা তি যাবে- রায়। আর যার বিগড়ায় বিগড়াক-আমার সংসারে ওসব হবে না, হলপ করে বলতে পারি। আরে হবে কোখেকে। রক্তই যে আলাদা! ওয়ারেন হেস্টিংসের আমল থেকে কোম্পানি বাহাদুরের মুন খাচ্ছি। আমার ঠাকুরদাদা পুলিশে কাজ করতেন, বাবা ছিলেন ডেপুটি, আমি পাবলিক প্রসিকিউটার। কোন পুরুষে আমরা কেউ ভারতমাতার ধার ধারি নে, মশায়। বাপ-ঠাকুন নয়, আমিও না। আমার ছেলে-নাতিও কেউ কোনদিন ও-মুখাে হবে । সকালের পয়লা গাড়িতে আমার ফিরে যেতে হবে কিন্তু। তিন তিনটে জরুরি কেস। কাজকর্ম সব সেরে ফেলা ফেলা যাক, এবার এহের। মেনে নেব। রা। এসেছি যখন, দেখব তো বটেই। সাড়ে আটটা প নিশ ভালাে। দেখলেই হবে। দুটো হাত দুটো পা সব মেয়ের কে, আপনার মেয়েরও আছে। কি বল হে অচ্যুত? অচ্যুত। তা তাে ঠিক। তিন গিনি দক্ষিণান্ত করেও রায় সাহেবকে কেউ নড়ে বসাতে পারে না—সেই মানুষ মর্কেল ভাগিয়ে পায়ে হেঁটে এর এসেছেন, পাকা না দেখে কি আমরা অমনি ফিরব? রায়। আর আর সমস্ত মিটে যাক ভায়া, মেয়ের অঙ্ক আটকাচ্ছে মহেশ্বর। কিন্তু মুশকিল হয়েছে রায় সাহেব, যে টাকার কথা হয়েছিল। রায়। ঘঁা, আজকে দেবেন পাঁচ হাজার। আর হের। সেটার গণ্ডগােল হয়ে গেছে। মানে দেশিওয়ালারই সর্বনাশ করল। জলকর বিলি করতে যাচ্ছিলাম রায়। থাক থাক। তার মানে, যােগাড় নেই। মহেন। আজ্ঞে না। রায়। ওঠো হে অচ্যুত কন? রায়। আমি সাদাসিধে মানুষ ভায়া, সােজা হিসেব বুঝি। মনে টাকা দেয়, তার কাজ করি। আপনি চিঠির পর চিঠি লিখছেন- এনেছি। এখন বলছেন গণ্ডগােল হয়ে গেছে—ব্যস, ফিরে যাচ্ছি। অনর্থক কর্মভােগ••• কি করব? শুনলাম, আপনি বিশিষ্ট ভদ্রলােক। শােনা-কথায় বিশ্বাস করে ঠকলাম। অচ্যুত, উঠলে না? মহোর। এখন কোথায় যাবেন। বার। স্টেশনে।...ফিরে যাব। আমার সময়ের দাম আছে। মহের। বিরে যাবেন কেন? আজকে যােগাড় নেই বলে কি এত আমি দেব না বলছি? পায়ের খুলে দিয়েছেন যখন, মেয়ে দেখুন- আর আয় কথাবার্ত হােক- রায়। লাভ নেই ভায়া, কিছু লাভ নেই। ছেলেকে কলকাতা হােস্টেলে রেখে পড়াচ্ছি। মাসে দেড়শ টাকা করে খরচ।...নেরে দেখে কি হবে? শীকার করলাম, খুব রূপ আছেচা সােনার মতাে রং। তাতে কুলােবে না,-রূপাে লাগবে, সােনা লাগবে, নগা- মহেশ্বর। আমি সমস্ত দেব। যা বলেছি, কিছু নড়চড় হবে ।“বন, ভাল হয়ে বহন রায়সাহেব। হঠাৎ একটা বিট ঘটিয়ে বেকুব করল। কিন্তু হাতীপােতা তালুক বােল আনা আমায়। তালুক বন্ধক দিয়ে আমি আপনার দাবি মেটাব। শুধু সাতটা ৰি সময় চাচ্ছি- बपीबालकान অরু। এসাে বাবা, মকরধ্বজ মেড়ে রেখে এসেছি। মহেশ্বর। তা তুই এলি কেন? আর কেউ অরু। নােজই তাে আমি এসে তােমাকে নিয়ে যাই। মহেশ্বর। এখন যা। এদের সঙ্গে অরুরি কথা হচ্ছে- অচ্যুত। বেশ তাে, অষুধ খেয়েই আসুন গে। আমরা কোথাও যাচ্ছিনে, মশায়। মােটা মানুষ, দিনমানে আসতেই পাঁচবার আছাড় খেয়েছেন। রাত্রিবেলা রাস্তায় যে গড়িয়ে গড়িয়ে যেতে হবে। অরুন্ধতী মরে চলে গেলেন রায়। ওহে অচ্যুত, বল দিকি মেয়েটি কে? কি মনে হয় তােমার। মহেরবাবুর আর কোন মেয়ে আছে, শুনি নি তাে- ত। খুব ফরােয়ার্ড মেয়ে স্বীকার করতেই হবে। বাগের হাত থরে ফরফরিয়ে বেরিয়ে গেল, আমাদের আমলেই আন না। য়। আমি বলছি ছুত, এ ঠিক সেই মূলত অরুন্ধতী পুনরায় প্রবেশ করুল। অরু। আজ্ঞে হ্যা, আমিই অরুন্ধতী। শ্ৰীযুত মহেশ্বর বােক চৌধুরী মশায়ের মেয়ে। অচ্যুত। আচ্ছা মেয়ে তাে তুমি! লাজলজ্জা নেই, আগ বাড়িয়ে এসে হমকি ছাড়ছ- রায়। থামাে অচ্যুত, বাজে বকবক কোরাে না। বেশ হয়েছে মা, এমনই দেখে নিলাম। তােমাকেই আশীর্বাদ করতে এসেছি আজ। অরু। এসেছিলেন, কিন্তু বাবা আশীর্বাদের দাম দিতে পারলেন রায়। না, ঠিক টাকার ব্যাপার নয়। উনি কথা দিয়েছিলেন, কথার খেলাপ করে বসলেন। আমি আবার এককথার মানুষ কিনা! তাই একটু বিচার-বিবেচনা করছি, একেবারে জবাব দিই নি এখন। তা একটা কথা বলি মা, কথাবার্তা তােমার বাবার সঙ্গে। এর মধ্যে তােমার এমন করে আসাটা কি উচিত হয়েছে ? অরু। বাবার কথাবার্তা বাবা বলবেন, আমার একটা কথা আছে- সেইটে বলে যাচ্ছি। বা এক পয়সাও দিতে পারবেন না। অচ্যুত। আজকে পারবেন না। সাত দিনের মধ্যে দেবেন অরু। সাত দিনে নয়, সাত বচ্ছরেও নয়-- রায়। মােটে দেবেনই না? অক। আমি দিতে দেব না। ওতে আমার অপমান। আমাকে আর একসনের সংসারে গছিয়ে দেবার জন্য টাকা ঘুস দিতে হবে, পৃথিবীর এত বড় ভাবােবা বলে আমি নিজেকে মনে করি নে। রায়। ছি ছি ছি, একি কথা! তুমি ভাবােঝা কেন হবে? তুমি এর মান । এ সাহেব অবিশ মিলিমের মা হয়ে তুমি .
তা এত এমন ছেলে তােমার-জেলার মধ্যে সবাই এক ডাকে চেনে, পরিচয় দিতে হয় না অরু। ঈশ্বর করুন, আমার ছেলে যেন কখনাে রায়সাহেব না হয়- অচ্যুত। আচ্ছা ডে'পাে মেয়ে তাে তুমি! রায়সাহেবের মুখের উপর রায়। ঠিক বলেছে—ঠিক বলেছে অচ্যুত। সত্যিই তাে! হাতী পাের মেয়ে—কত : বংশ! রায়সাহেবে কি খুশি হতে পারে? আমিও কি খুশি হয়েছি। আমার মতাে লােককে মােটে একটা রা:সাহেব করে দিয়ে গভর্নমেন্ট কি সুবিচার করেছে তা হলে ভিতরের কথা বলে দিই। এইবারে বার্থডে-লিস্টে দেখে মা আমি রায় বাহাদুর হয়ে গেছি। সব ঠিক আছে। লিস্ট বেরোবার মােটে দু’- হপ্তা বাকি। তখন তোমার আর কিছু ক্ষোভ থাকবে না তাে? উ? অরু। আমার বাচালতা মাপ করবেন। বিয়ের কনে যােবা সেজে থাকে, তার মনের কথা কেউ কোনদিন জানতে পারে না।... অন্তে এসে গায়ের রঙ মেজে মাথার চুল মেপে হাঁটিয়ে দেখে দরদস্তুর শুরু করে, দুঃখে অপমানে তখন আমাদের পাতালে যেতে ইচ্ছে করে। নমস্কার করে অন্ধী চলে গেল। অচ্যুত। পাহাড়ে মেয়ে ! | বড় ঘরের মেয়ে। কি রকম তেজ দেখলে তে, অচ্যুত? অচ্যুত। ও তেজ বাইরে থেকে বেশ লাগে। ঘরে নেবেন না। সামলানাে দায় হবে। লঙ্কাকাণ্ড করে ফেলবে। কনে না দেখে যে বড় চলে যাচ্ছিলেন। পারলেন? কনে চোখের সামনে দাড়িয়ে হাঁক ছাড়তে লাগল। চোখ বুনে থাকবে, তা-ও তাে ভাসায় কুলােলাে না, इौन प्रथ গভাণ্ডার হাটখােলায় সভা সজ সাথায়। আকবর আলি বস্তা করছে। আকবর। সবার শেষে বাদ দেবার ভার পড়েছে আমার উপর। কিন্তু সভানেত্রী হয়েছেন আমাদের মা। ধন্যবাদ দিতে যে ব্যবধানটুকু চাই, মা আর সন্তানের মধ্যে তা নেই। মায়ের স্নেহ- নির্দেশেই এত বাধাবিপত্তির মধ্যে এগিয়ে যেতে ভরসা পাই আমরা। এই যে শশাঙ্কা-দেহ পার, কিন্তু মনকে দমিয়ে রাখতে পারে এমন ক্ষমতা পৃথিবীর কারো নেই-এই তেজ এই শক্তি মা দিয়েছেন। বিদ্যাসাগর এত বড় হলেন ভগবতী দেবীর মতাে মা ছিলেন বলে। আলি-ভাইদের অন্তরের আগুনে ইন্ধন জোগাতেন দের মা-বি-আম্মা বেগম। মায়ের নামে তাই আমরা পাগল হয়ে উঠি। দেশকে বলি দেশমাতা; বন্দেমাতরম্ বলে হাসতে হাসতে আঘাতের সামনে বুক পেতে দিই। মাকে ধন্যবাদ দিয়ে কর্তব্যের দায় সারব কোন লজ্জায় ? •••আমি কেবল ধন্যবাদ দিচ্ছি কলকাতার এই দু'টি বন্ধুকে—শঙ্কর অনুপস্থিতিতে যারা দুর্গম পরীতে এসে সমিতির সমস্ত ভার কাধে নিয়েছিলেন। এদের ঋণ গরিব গ্রামবাসী কোনদিন শােধ করতে পারবে না। बाकामानि रंगन মা। এইবার গণগীতি। সমবেত গীতি শুরু হল- হে জনগণ, তিমির-নিশার ওপারে হের কি অরুণােদয় ? গগনপ্রাত লালে লাল হল- ভয় নাই আর ভয় নাই, নাহি ভয়।
নূতন প্রতাত এভাতের লাগি যুগে যুগে ভাইবােন শক্তিমানের সয়েছে নির্যাতন। তমােবিদারণ ঐ যে অরুণ ওঠে শ্মশান-ভন্মে রঙিন কুসুম ফোটে পুলক-প্লাবন ঐ আসে—গাহ জয় গাহ জয়! কোনখানে কেউ ছােট নাই, নহে হীন- দেশ স্বাধীন, মানুষের সুখী স্বাধীন-স্বাধীন ধরণীতে জাগে আনন্দ-গান জানােয়ারদের হানাহানি অবমান- অত্যাচারের হল লয়, গাহ জয়গাহ হয়। না। সভাভন হল। আকবর। আস্তে আস্তে চলে যান সবাই। গােলমাল করবেন না। সন্তোষ। গান শুনে যে তালগােল পাকিয়ে উঠল। আকবর। সে কি ? সতাে। মাথায় নয়, পেটের মধ্যে। বিষম ক্ষিধে পেয়েছে। শশাঙ্ক। ওঠ, বাড়ি যাওয়া যাক। সন্তোষ। আগে পালিখানেক মুড়ি আনাও দিকি কোনও একটা দোকান থেকে প্রবীর। হল কি সন্তোষ ? সবে। ইঞ্জিনে স্টিল ফুরিয়েছে। অচল অবস্থা। কয়লা চালাতে হবে, সেই কথা বলছি। বাপরে বাপ! তােমাদের মিটিঙের পা খবৎ-মিটিয়ে উগো আকবর আলির পাত্রে বৎ।
নূতন এত শশাঙ্ক। কেন, কি করল আকবর আলি ? সন্তোষ। একেবারে কিছু করল না। তাই তাে অভিযােগ। তিন ঘণ্টা ধরে ভ্যানর-ভ্যান চলছে-তার মধ্যে এক কাপ চায়েরও পিত্যেশ নেই। খালি পেটে দেশ-উদ্ধার আমার দ্বারা পােযায় না। প্রবীর। তুই একটা আস্ত রাক্ষস। এই তাে বিকেলে ভরপেট জলখাবার ঠেসে এলি। সন্তোষ। জলখাবার মানে? চিড়ে গুড় আর দুধ সের দেড়েক। চিড়ে ক’টা তাে দাঁতের ফাঁকেই সেধিয়ে আছে, পেট অবধি পৌছয় নি। মহাত্মা গান্ধীকে মাথার উপর রাখছি-কিন্তু গান্ধীমার্কা জলযোগ পেটে দিতে নিতান্ত নারাজ, তা তোমরা যাই বলল। রহিম। কামশাই—কামশাই প্রবীর। মহেশ্বরবাবু আসছেন যে ! যাহোর প্রবেশ করলেন। মহেশ্বর। হ্যা বাবা, এলাম তােমাদের সময়। সেদিন নেমন্তন্ন করে এসেছিলে, ভুলে গেছ? সভা ভেঙে গেছে বুঝি? ঈস, দেরি করে ফেললাম। বড় কৌতূহল হচ্ছিল ছেলেরা কি বলে শুনবার জন্য- শশাঙ্ক। আপনার নিনেম করছিলাম, কাকাবাবু। মহেশ্বর। আমার নিলে? তা নিন্দের আমি যােগ্যই বটে। হাতীপােতার কি ছিল, আর কি হয়ে দাড়িয়েছে! স্বর্গীয় কর্তারা কত কি করে গেছেন ; আমরা প্রজাদের পরে কোন কতব্য করে উঠতে পারি নে। তাই প্রজা-মনিবের মধ্যেকার মনের বাধন আলগা হয়ে গেছে। এসব আমি মনে মনে অনুভব করি।•••তােমরা কি-ই বা অনলা, কতটুকু আর নিলে করবে। একদিন আমায় একটু বতৰু লাগিয়ে দিও তাে-ঝুড়ি ঝুড়ি নিলে করে যাব-ফুরবে না।রহিম মিঞা, তােমায় না হলধর স্টেশনে পাঠিয়েছিল ? রহিম। গিয়েছিলাম। তা শশাঙ্ক-ভাইকে নিয়ে আসতে হল। মহেশ্বর। তুমি এনেছ শশাঙ্ককে ? বেশ, বেশ। ভগ্যিস গিয়েছিল রহিম। নইলে মহা মুশকিল হত। আহা-হা, সােনার শরীর কালীবর্ণ হয়ে গেছে। বেশ করেছ রহিম, তুমি যে রায়সাহেবের জন্য বসে না থেকে শশাঙ্ককে নিয়ে চলে এসেছ-বুদ্ধির কাজ করে। বেটা মানুষ নর - অতি পাষণ্ড—এক নম্বর চশমখাের।...নাও। মহেশ্বর রহিমকে একটা টাকা দিলেন রহিম। টাকা ? কিসের টাকা? মহেশ্বর। নৌকো-ভাড়া। আমি পাঠিয়েছিলাম, ভাড়া আমিই দেব।•••ই করে কি দেখছ, শশাঙ্ক আনার পর নয়-কে আনতে গিয়েছিলে সেই কঞ্জুষ বেটার চেয়ে অনেক বেশি আপনার। রায়গিন্নিকেই জিজ্ঞাসা করে দেখ। ••সময়ে অসময়ে গায়ের জ্বালায় দুটো-একটা তেতাে কথা বলি বটে, ক্ষিন্তু মনে মনে আমি কি বুঝি নে বাবা, তােমার কত দাম-তােনার কত বড় হৃদয়-গ্রামের কত বড় সম্পদ তুমি একটা নিবেদন আছে, রায়গিন্নি। বুড়োমানুষ-এই এর অবধি চলে এসেছি কেবল সভাশােভন করতে নয়- মা। সে লে জানিই, ঠাকুরপাে। বলল কি বলবে- মহেশ্বর। শশাঙ্ক ফিরেছে, গ্রামের সবাই ছুটে আসছে। আমিও --চুপচাপ ঘরে বসে থাকতে পারলাম না।নিবেদনটি হচ্ছে, আমার বাড়িতে আজ ত্রে যৎসামান্য আয়োজন করেছি। আমার বড় ইচ্ছে সবাই একসঙ্গে বসে দুটো শাকজাত খাই। শাক আর এই যে দুষ্ট নুতন এত বিদেশি ছেলে আমাদের এখানে এত খাটনি খাটছে এরা তিন জনেই- প্রবীর। না না--আমাদের কেন ? মহেশ্বর। কেন, কিজ-এসব হেতু দেখিয়ে কাজ করা হাতপােতা অভ্যাস নয়, বাবা। এতক্ষণ ধরে এত নিলে শুনে-শোন নি, আমরা কি রকম অত্যাচারী ?•••এককালে রােদে চোদ্দ-পােন্না করে দিয়ে গাছের গুড়িতে হাত-পা বেঁধে জমির খাজনা আদায় করতাম। নিমন্ত্রণ খাওয়াবার জও যদি আজ সে রকম কিছুর দরকার হয়- সন্তোষ। না না মশায়, ভয় দেখাবেন না-হাত-পা বাপতে হবে না, পা দিয়েই হেঁটেই যাব আমরা।•••আপনি অনেক খেয়ে থাকেন, আমরা খেতে পাই নে-সেই দুঃখেই স্বদেশি করে বেড়ানো। অন যখন খেতে ডাকছেন, কেন যাব না আপনার বাড়ি-নিশ্চয় যাব। মহেশ্বর। তা হলে চলি এবার। যদি কিছু এখনাে বাকি থেকে থাকে, মন খুলে আমার কুচ্ছাে করাে। আচ্ছা- আকবর আলি উত্তেজিত ভাবে মাকে কি বলল মা। শােন ঠাকুরপাে, এর নিমন্ত্রণ নিয়েছে, এরা যাবে। শশা যেতে পারবে না। মহেশ্বর। পারবে না। কেন, জিজ্ঞাসা করি- না। শরীরের এই অবস্থায় নিমন্ত্রণ খাওয়া- মহেশ্বর। শশাঙ্কের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করব, বাগিন্নি।"চু করে ইলেন যে আমার বাড়িতে যাবে-আপত্তি কি তা হলে সেই আশা। বন শক্ত হােট হিল, দিনের মধ্যে বেশি সময় সে থাকত ওখানে। আমি কত হে করতাম, কাছারিতে নিয়ে কোলের উপর বসিয়ে ৰ। কত আশা ছিল তার।
মূল প্রভাত মা। সেসব কি ভুলতে পারি ঠাকুরপাে ? সব মনের মধ্যে গাঁথা রয়েছে। শশাঙ্ক, তােমার কাকাবাবুকে প্রণাম কর নি এখনাে? শশাঙ্ক মহেশ্বরকে প্রণাম করল। মা। এবার আমরা যাচ্ছি ঠাকুরপাে মহেশ্ব। ওরা যাক, আপনি দাড়ান ; আমি নিজে আপনাকে সঙ্গে করে পৌছে দিয়ে আসব। . আর সৰুলে চলে গেল। মহেশ্বর। শশাঙ্ককে প্রণাম করতে বললেন, রায়গিমি। বাধ্য ছেলে আপনার, সে প্রণাম করল। কিন্তু ঐ শুকনো প্রণামে আমার তৃপ্তি হয় । অ! সানি, আপনারা অম' ঘণা করেন। মা। না, ঘৃণা নয়- মহেশ্বর: এবে? বলতেই হবে খুলে। ঘৃণা যদি না করেন, তবে সমাজ-সম্বন্ধ তু. .]র মানে কি ? মা। স্পষ্ট কথা শুনতে চাও ঠাকুরপাে ? শুনলে যে দুঃখ পাবে। মহেশ্বর। দুঃখ দিতে বাকি কি রেখেছেন রাগিন্নি? জানেন, আমার সাধ ছিল—অরুন্ধতীর বিয়ে দেব শশাঙ্কের সঙ্গে। কিন্তু বলিহারি আপনি মা! সােনার ছেলেকে যমের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন, তবু আমায় দিলেন না। মা। আমার কপাল কুরপাে। সাধারণ আয় জনের মতো হল না ছেলে- মূহের। কপাল নয় রায়গিছি, আপনারা গর্ব। মুখে বলছেন কপালের , চোখে তো দুঃখের ছায়া নেই? আছে হাসি, আহে আনন। ছেলের কথা বলতে বলতে আপনার বুক ভরে ওঠে। সেই পুরাণে রবারটি আর একবার করছি রাগিছি, দিন আপনার, এক । দেখবার চোখ তারও নেই। তােনার চোখ ধাধিয়ে দিয়েছে বী-খরিত্রীর , তার চােখ ঢেকে রয়েছে পয়লা কিস্তির করুকরে নগর টাকা পাঁচ হাজার শশাঙ্ক। পাঁচ হাজারের জোগাড় হল না কিছুতে । অরু। তােমাদেরই দোষে। অন্ধের চোখ ফুটিয়ে দিয়েছ। চারা রুখে দাড়াল, আবাদ ভাসানো হল না। নগদ টাকা বুঝে নিয়ে যায়- সাহেব জায়গা দিতে চেয়েছিলেন, ভদ্রলোক এখন বিগড়ে যাচ্ছেন। কি করা যায় বলে তাে শশাঙ্কা? বিনি-পয়সায় ঠাই দেবে, এমন মহানুভব কে আছে ? শশাঙ্ক। তাই তো- অরু। আমাদের পাতালপুকুরের জলে জায়গা হয় বটে, তাতে সিকি পয়সা খরচা নেই। কিন্তু শশাঙ্ক-দা, তুমি কি একটু জায়গা দিতে পার না? শশাঙ্ক। কি বলছ অরুন্ধতী ? মানে কি এসব কথার ? অরু। এই দেখ শশাঙ্ক-দা, তুমি ভাবলে বিয়ে করবার জন্য খােসামােজ করছি তােমাকে। স্বাধীন দেশের মানুষ না হয়ে বিয়ে খাওয়া করবে না, সে তাে জানিই।••জিজ্ঞাসা করছি, তােমার দলের মধ্যে আমার কি এক জায়গা হয় না? শশাঙ্ক। এখানে জায়গা কেউ করে দেয় না। এ আগুনে ঝাপিয়ে পড়ে তারাই, পৃথিবীর ভণ্ডামি যাদের একেবারে অসং হয়েছে। সাধারণ শান্ত জীবন তাদের কাছে এত বিষাক্ত যে আগুনকেও তারা মধুর বলে মনে করে। এ পথ তাের নয়, অন্ধতী অঙ্গ। ও, দৈবজ্ঞ ঠাকুর কি! খড়ি পেতে বলে দিচ্ছেন, এ পথ আমার নয়। .
মূল প্রভাত শশাঙ্ক। তুমি বড় ভাল, অরুন্ধতী। তােমায় সেই করি। এত টুকু খালা’তােমায় স্পর্শ করে, এ আমি চাই নে। শান্ত মাধুরে তােমার জীবন ভরে যাক। অরু। শক্তি কোন দিনই পাব না, শশাঙ্ক- শী। কেন? অরু। শৈশব থেকে বড়বাড়ির আওতায় বড় হচ্ছি। মাটির মানুষ থেকে আলাদা হয়ে আছি। আমার বড় সাধ, দশের একজন হয়ে থাকবার। কিন্তু তা হবার জো নেই। রায়সাহেব অাজ যদি ফিরেও যান, বাবা শুনবেন না-থাবার ওঁদেরই আর একজন কেউ আসবেন। আমি চেয়েছিলাম, সাধারণ গরিবহরে সামান্য সংসার . ও তোমার একবেলার একটা শখ। যেমন প্রচুর আহারের পর একবেলা উপোষ দিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু উপােষ ঐ একটা বোই চলে, তার বেশি নয়। যদি দারিদ্র্যের সঙ্গে সত্যি সত্যি পরিচয় হয় কখনাে, একবেলাতেই হাপিয়ে উঠবে। অরু। আমায় চেনে না, শশাঙ্ক-- শশাঙ্ক। তুমি অদ্ভুত কিছু নও। পৃথিবীর সব মানুষ যা, তুমিও তাই। শোন, দারিদ্র্যের চেয়ে মহাপাপ অার নেই। সারি থেকে মুক্তির জন্য মানুষ যে কোন অন্যায় করুক, আমি তা অপরাধ বলে মনে করব না। অরু। দারিদ্র্যে আছে শান্তি- শশাঙ্ক। নিতান্ত মামুলি শােনাচ্ছে, অরুন্ধতী। যারা পােলরফেস থেকে নেমে গণ-বেদনার কেঁদে বহা কমে, কি মাৰি সেটিতে খার নিছে বলে দারিদ্র্যের মাহাত্ম্য নিয়ে সাহিত্য দেখে, তাঁদেরই মতো।•••ানে, বি নামক একটা ভােজৰস্তু আছে, আমার দেশের শতকরা নবুই জন তার নামই শুনেছে, একটা বার ঢাখে দেখবার সুযােগ পায় নি। দুবেলা দুমুঠো ভাত তারা মনুষ্যজীবনের চরম বিলা- সিতা বলে জেনে রেখেছে। তা-ও জোটে না। মাঠের ঘাস সিদ্ধ করে খেয়ে কাটায়। কল্পনা করতে পার ?••আমি যে দেশের স্বপ্ন দেখছি অরু, সেখানে সব মানুষ ভাল খায়, ভাল পরে ; পৃথিবীর সব সম্পদ সকলের কাছে অবারিত ; সকলেই ভােগী। কিন্তু তুমি নিজে? তুমি কি ভােগ করে গেলে শশাঙ্ক-দা? শশাঙ্ক। এর আগে কি সুখী আমি ? না বােন, মােটেই না। অনেকের অনেক দিন জমানাে অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত হল আমার উপর দিয়ে। সংসার আমার জন্য নয়। শান্তি বলল, সুখ বলাে—সেসব আমি নিলাম না। আমি আর আমার অগণিত বন্ধুবান্ধব—যার পথে পথে ভেসে গেলাম, আমাদের ভেসে যাওয়ার বদলে তােমাদের লক্ষ লক্ষ সংসার বেন আনন্দে সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। নইলে মনে হবে, বৃথাই মারে আত্মবঞ্চনা। ভিতরের দিক দিয়ে সজ্ঞে ও এৰীয় এল। প্রবীর। যাচ্ছি আমরা- লা। এর মধ্যে সবে তাে সন্ধ্যে প্রবীর। সকােষটা মােটে তিষ্ঠাতে নিচ্ছে না। সন্তেৰ। ক্ষিধে পেয়ে গেছে। নেমন্তন্নবাড়ি চেপে বসাই ভাল, শিগগিয় শিগগির দিয়ে দেবে। बोब मायन । নেই কলকাতার হােৱা দুটো? । তোমার বাড়ি- ।
মােকতার হয় রহ, অত হেৰ। ইলর একেক। রায়। কারা ঐ ছোকরা দু’টিআইনে বসিয়ে এল। হল। আজ্ঞে, বিদেশি। কলকাতা থেকে এসেহে সমিতির কা মহেশ্বর। আজ রাত্তিরে খেতে বলেছি। আসলটা ছিটকে বেরিয়ে গেল, লেজুড় দুটো এসেছে। রায়। খেতে বলেছেন? দুধ-কলা খাইয়ে সাপ বা করবেন। ছােবল মারবে , ছােবল মারবে। এইসব কষেই তাে আপনার বাড়িয়ে তােলেন। কই, নাক দিলি আমাদের গায়ে।ওদের ঠা করবার ওষুধ হচ্ছে আলাদা। খাইয়ে বাইরে নয়। মুহের। আন, আগা সাহেব - রায়। গালে গাহেব? ওদের মুখ এই এফ নন । মহেয়। আলাপ করিয়ে দিই। দেশকে চ মিত্তিয়; অরুকে দেখতে এসেছেন। আর ইনি এখানকার নার ও. সি. ফিটার আমিনুল হক-এর পর ব ত আমি বণে হয়। 'রা। এ রকম আকাব্যিক্তি খাতে - শব্যয় অনেকে কি আলি। চাল ভালেকশন মূলত থেকে এসেও হানা দিচ্ছে। ওর কোন ব্যবস্থা হয় না, দারােগা সবে? আমিনুল। উদ্বন্ত আমরাও কম হচ্ছি নে, রায়সাহেব। বিশ বছর এই লাইনে আছি, মাছ-দুধ পয়সা দিয়ে কিনতে হয় জানতাম না। এখনই দেখছি বাজারে গিয়ে দাড়ালে বেটারা দর হাঁকে, ইউনিফর্ম পরে গেলেও ছাড়ে না। এদিক-ওদিক আধলা-পয়সার বন্দোবস্ত করতে গেলে অমনি বিপােট চলে যায়। বলুন দিকি, মাইনের এই শুখাে কটা টাকার জন্যে কেউ কি চাকরি করতে আসে? সে সব তো বিবেচনা করবে না স্বদেশি-শালারা!•• ক’টা আর বলি মশায়, হাড় একেবারে ভাজাভাজা করে দিলে। রায়। বলতে হবে না, না বলেও বুঝতে পারি। আমার অসুবিধা হলে তার আঁচ আপনার গায়েও ঠিক লাগবে। ঐ যে জাত- বেজাতের কথা বলে থাকে- হিন্দু আর মুসলমান- সমস্ত নেই আজকাল। হিন্দু হই আর মুসলমান হই- আপনি আমি একগােত্র। টিকে থাকতে হলে আমাদের একসঙ্গে দাড়াতে হবে , যেটা মাথা তুলবে, তক্ষুনি সেটার টুটি চেপে ধরব। পালের গােদাটাকে জেলে পাঠিয়েছিলেন-খাসা করেছিলেন, চমৎকার কাজ করেছিলেন। কিন্তু বাইল থেকে বিজু এসে হুল ফুটিয়ে যায়, তার তো কিছু করেন নি। আমিনুল। আপনি হয়েছেন ঠিক, সাহেব। কলকাতা থেকে ছেড়া দুটো যদি না আসত, এদ্দিনে বােধ হয় একে ঠাও য়ে যেত। যায়। আসে কেন? অমিল। গৰমেট সেন্টার করে দিয়েছেন, পয়সা দিলেই সা যায়। গবর্নমেন্টকে গালিগালাজ করতে এলেই গৰমেন্টেই কে গাড়ি চড়ে। তার তাে কোৰ ৰা নেই। । বা আপনার আয় দে। লেখি শোনকোডে লেখা থাকবে সত্যি নােগা সাহেব, ফানীং আপনার একেবারে ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির হয়ে যাচ্ছেন। আমিনুল। তার মানে ? রায়। বিশ বছর পুলিশে চাকরি করছেন, মানেটা কি আমাকেই বলে দিতে হবে । আশিল। দিন-কাল বড় খারাপ, রায়সাহেব। ঐ মেকি শালাদের কতক আবার কাউন্সিলে ঢুকে বেয়াড়া আইন পাশ করিয়ে নিচ্ছে। রায়। আইন পাশ হচ্ছে কলকাতায়। যাচ্ছেতাই থােক সেখানে —হাতীপাের তাতে কি? আপনার কড়া নজর যদি থাকে, তিন, তিনটে জেলা পার হয়ে কলকাতার আইন এখানে পৌছতে পারে। আমিনুল। আমার অবশ্য এক-একবার মনে হয়েছে, কি ওদুটোকে একটা কেসে জড়িয়ে রায়। দিলে ভাল করতেন। আর মুখাে হত না। ই গর্ত খুঁড়তে আসে নরম মাটিতে পাহাড়ের পায়ে নয়। আলি। দেব নাকি তা হলে এক খেলা খেলে? রায়। সুবিধে আছে ? আমিনুল। কেশবপুর গঞ্জে গহর আলি ব্যাপারির বাড়ি এক ডাকাতি হয়ে গেছে। তার এনকোয়ারি চলেছে এখনও রায়। এরা যে তার মধ্যে নেই তার প্রমাণ কি? আমিলে। নেই, তা সত্যি। বারি খেতে পায় না, তারাই করেছে। তাদের দিয়ে ধীকার করিয়েছি। অন্য চালাকি আছে। রায়। চালাকি তেলতেলের মন হি ৪ বিলি দেয়া হল- . नबन ল। তা অবশ্য পরে। বলতে চাই যদি, বলবে না কেন? তবে দেখেছি মা সাহেব, শেষ পর্যন্ত মেরায় টেকে না-খালাস পেরে রায়। খালাস পেলেও কাজ হাসিল হবে। জিজ্ঞাসা করি লােগ সাহেব, আপনারা যত কেস দেন, সব কি বলআনা খাঁটি মেনে দিয়ে থাকেন। তার একটাও কি ফেঁসে যায় না? অলি। তা হলে দিই জুড়ে? আপনি কি বলেন মহেরবাবু। মহেশ্বর। আগে একটা আর্নিং দিয়ে দেখুন। ওদের মাথার উপরে বাপ-খুড়া ধরা আছেন, উহায় জানিয়ে দিন। ফিল। বাপ-খুড়াের খবৰ জানব কি করে। আমার তাে সহ হা, নিজের নাম যা বলে, সেইটেই খাটি নয়। একদিন স্টেশনের লে নিয়ে তির করে ওদের চা খাওয়ালাম। কলকাতার কোথায় থাকে, সেই কথাটা জানবার জন্য কত চেষ্টা করলাম, তা কিছুতে তালন। মা হলগৰাৰু, শেখায় বসিয়ে এলে ওদের। একবার আনন মিকি এখান হেয়। বলে গিয়ে, একজন বিশিষ্ট ভদ্রলোক আলাপ করতে যতনে । মায়। বাপ তো বাপ-চোপুরুষ অবধি টেনে বের করব। জেরায় শেলিট বলে আমার নাম। দেখুন না কি করি লজে ৰীৰ ওৰ একো করল। যায়। মাহেব একটু আলচোন আপনাদের সঙ্গে। আয়" না না না। যাও'যেখানে ছিল সেখানে 13 Old * Po him {{s? হন। সে? রায়। ধাও, যাও ওর ভিনয়ে গেল। মহের। কি হল, রায় সাব? রায়। দুরদূরদুটো চেংড়া সনে আলাপ করলে ইজ্জত থাকে ? আমিনুল। সরকার কি? কুটুম্বিতে কুচ্ছে না যে, চোপুরুষের খোঁজখবর করতে হবে। রায়সাহেবের যুক্তিই ভাল, ডাকাতি-কেলে জড়িয়ে দিই-নামখাম হাঁড়ির খবর আদালতেই বেরিয়ে আসবে। রায়। কিন্তু ভায়ার যুক্তিটাই সমীচীন মনে হচ্ছে। আগে একটা ওয়ানিং দেওয়া উচিত। আমিনুল। কিছু না, কিছু না। সাপকে বাটা দিয়ে ছাড়তে নেই। তাতে কাজ হবে না, উল্টো উৎপত্তি হবে। অহের। কাজ হবে না, সে আমিও নি। মিষ্টি ব্যবহার আমি কি কম করেছি। তা হলে রায়সাহেব যা বলেছেন—সইরকম,কলেই কে যাক। দিন জড়িয়ে। রায়। না না। নরমে গরমে চলা উচিত, দারােগা সাহেব। তার কথা শুনুন, এবারে জার্নিং দিয়ে দিন। মশের। উচ্ছ। আপনার কথা মতােই আলি। নিশ্চা, পাকা মাখা, মুলােের। ঠিক বুজি তােমলো मानामिन नला। ত। এ কি কি , আল?
এত চ্যুত। আপনার দেয়ার সময় আদালতে ভিড় জমে যায়। আসামির বাপের নাম ভুলিয়ে দেন। আর এখানে- রায়। বাপ যে আমি অচ্যুত। আজ্ঞে ? রায়। চশমা পরে চোখ মিটমিট করছিল, ও-গভিটি আমারই সন্তান, অচ্যুত। অচ্যুত। বলেন কি?' শুনেছি ভাল ছেলে আপনার রায়। তাইতাে বিশ্বাস ছিল। অনার্সে’ ফাস্টক্লাস ফাস্ট। এম.এ. পড়ছে। ছুটিতে বাড়ি যায়, তখন ভিজে-বিড়ালটি। ইতিমধ্যে কোন ফাকে হারামজাদা দেশনেতা হয়ে উঠেছে- অদ্ভুত। দয়ােগাকে ডেকে সব খুলে বলুন শিগগির। ওরা কিন্তু এড়াবার মতলব করছে- রায়। বললে যে আমি সুদ্ধ জড়িয়ে যাব। এককান দুকান করতে করতে কালেক্টরের কানে পৌছে যাবে, বার্থডে-লিস্টে দেখবে সব ফকিকার। হিরণ্যকশিপুর বেটা এলা-হতভাগা সমস্ত মাটি করল। ওর যদি ফাসিও হয় অচ্যুত, লিস্ট না বেরুনাে পর্যন্ত আমি চোখ aখব না। অচ্যুত। আচ্ছা, আমি টিপিটিপি বলে আসছি। রাতারাতি র পড়ফ। রায়। কিছু বলতে হবে না, অচ্যুত। ফুলকুণ্ড যখন দেখে লেছে আমাকে, সে-ও ফাক ধুছে। সকালে উঠে আবার মুখো- বুলি গড়াৰে-স সাহস ওর চোদপুরুষের নেই। কিন্তু কাল লেগে কি কি, তাই বলে। ত। বিয়ে দিয়ে বি এখানে। জাতিকে সত্যি সতি नवजोड বি এভিয়ে নে, মহেনবাবুই তখন ফাসিয়ে নেবেন।ভাৰসাইটে ঘর, জিকি চাল-মেয়ের বাহারখানা দেখলেন তাে চোখের উপর- রায়। আমাকে সুদ্ধ ও বানিয়ে দিয়ে গেল । অচ্যুত। তাই বলছি, দর-দামে আর কাজ নেই। টাকা তােহর পাচ্ছেন এটা না হয় ফসকে গেল। হাতীপােতর মেয়ে ঘরে নিয়ে নুন-ধন্দেমাতরমের বিষ দু’দিনে ঝেড়ে দেবে। রায়। তাই করব অচ্যুত। কিন্তু ভাবছি কি-কোম্পানির আমল থেকে চিরকাল আমরা সাহেবের তােয়াজ করে আসছি, আমার ছেলের মাথা এ বিষ ঢুকল কোন্ পথে? অচ্যুত। আজকাল আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে যাচ্ছে। সামাল- বড় সামাল হয়ে চলবার দরকার, রায়সাহেব। কোন্ দিন সকালে উঠে দেখব-আপনি আমিই বা স্বদেশি হয়ে গেছি। রায়। ভয়ে কথা হল, অচ্যুত। হে বেশ কাল। রায়। আমি মন স্থির করে ফেলেছি, ৰেহাই। এর এসেছি ধন, মাকে ঘরে নিয়ে যাবই। পণ বাবদ কিন্তু একটা পয়সা দিতে পারবেন না। এই এক নিদারুণ কুপ্রথা সমাজকে বিষিয়ে দিচ্ছে। এর মুছে করতে হবে। বরঞ্চ বিনাপণে বিবাহ বলে আমার নাম উর পাঠাবেন। মহেশ্বর। কথাটা ঠিক বুঝতে পারছি না। ইতিমধ্যে কি হয়ে ত। খুলে বলছি, মশায়। রায় সাহেব আপনার মেয়েকে খেলেছেন। দেখে বল লেগেছে। আহ কি শাৱিষৎ!” যায়। একেবারে না। কোন অব "নে কেমি চাই। সাড়ে নটটার নিট শাক বাকি। শিগগির নিয়ে আয়, আবার করব। গােল করতে হবে না। ছেলে কাছে মা আসবেন, তার আবার মা কিসের? বান-নিয়ে আনুন- যহের তাড়ি চলে গেলেন। রায়। অচ্যুত, টের না পেয়ে যায়। তা হলে কিন্তু পিছিয়ে পড়বে। দেশি করে জেলে যাবে পুলিশের পিটুনি খাবে,এমন ছেলেকে জেনে শুনে কে মেয়ে দেবে বলে। বিয়ের তারিখও কাছাকাছি ফেলতে হবে। মুখ ব-খবর। আমার গুরের কীতি কাকপক্ষা নিতে পারে । মহোর ও অরুন্ধতী এল। রায়। এসো এসাে আমার মা-জননী। ছেলেবয়সে মা হারিয়েছি, বুড়ােবলে আবার মা পেলাম। কিন্তু বেহাই মনার, শুনে রাখুন আমার চুক্তি। এ হিসাবে এক কাণাকড়ি দিয়েছেন তাে আমার সঙ্গে ঝগড়া হয়ে যাবে। ৰা ৰাচ্ছেন নিজের বাড়ি ••এত বায়নাকা কিসের। অধু শাড়ি-কার কিছু নয়। বুলে তােত। আহবাদ তে । माह पूर्व থানা রহিম। ডেকে পাঠিয়েছেন কেন, আনােগা সাহেব? আছিল। শহর আলিম পা হয়েছিল, সেই সৰু- হি। আমি যা জানি, সব তো আপনি লিখে সই করি नियम । সে সব শটে নতুন করেছি। সই করে । बन पाई नाविना মূল প্রভাত হিম। নতুন খবর? আমি। কলকাতা থেকে ঐ যে হােরা দুটো আসে—কি না, ভাল-প্রবীরকুমার মিত্র আর সন্তোষ চক্রবর্তী-ওরাই হল আসল গা। ডাকাতির সময় ওরাও বাগদিদের সঙ্গে ছিল। রহিম। কে বলল ? আমিনুল। বলেছে অনেকে। ভাল ভাল সাক্ষি রয়েছে। একজন ইছ তুমি—ওদের চাক্ষুষ দেখেছ। রহিম। আমি? আমিনুল। হ্যা, নিশ্চয় তুমি। এসব বড় দায়িত্বের কাজ- তােমার মতন আর কারও উপর ভরসা করা যায় না।•••নাও, নাও-সই কর। রমেন রিপাের্ট নিয়ে রাত্রেই চলে যাবে। রহিম। মতলবটা দিল কে বােগা সাহেব? ঘােষকর্তা। আমিনুল। তার মানে? সরকারি কাজের সঙ্গে ঘােষকতার কি সম্পর্ক। রহিম। না, তাই বলছিলাম। সন্ধ্যে থেকে এই এতক্ষণ সেখানে শলা-পরামর্শ হল কিনা! আমিনুল। ছােক দুটো সেখানেই আছে। পালাতে না পারে, তার বন্দোবস্ত হচ্ছিল। ঘরে তালা দিয়ে আটকে রেখে এলাম রহিম। তালা দিয়ে রেখে এসেছেন? আমিল। নইলে হয়তাে সরে পড়ত। সকালবেলা এ্যারেস্ট করব। ওরা এদেশিলের লােক-এস. পি.কে নিয়ে মাখা উচিত, তাই রিপাের্ট নিয়ে রমেন এই ট্রেনে চলে যাচ্ছে। ••াল ব্যi জান? গহয় আমি মুসলমানরা তাই চাত করে তাকে লকহে। এবান নন, তিন নূতন এত । হন দিতে এ অঞ্চলে কেউ কোন দিন আর সাহস করবে না।••• যদি ঠিক চক্ষে না-ও দেখে থাক রহিম মিঞা, জাত-ভাইয়ের কথা বিবেচনা করে ঘটনাটা একটুখানি ঘুরিয়ে বলতে হবে। রহিম। আমি পারব না। আমিনুল। পারবে না, কি বল ? রহিম। হ্যা তাই- আমিনুল। বল কি? আমি স্বজাতের এতকরি, চোখের উপর দেখতে পাচ্ছ, আর তােমরা সামান্য এইটুকু রহিম। আপনি করেন জাতের জন্য নয়- আমিনুল। কে বলেছে ? গহর আলি যদি মুসলমান না হত, খবর পেয়েই কি কেশবপুর ছুটতাম? বয়ে গেছে। রহিম। ছুটে যান নি, পালকি চড়ে গিয়েছিলেন। ডাকাতে সর্বস্ব নিয়েছে। সেদিন ছেলেপুলের মুখে একমুঠো ভাত দেবার উপায় গহর আলির ছিল না, গােয়ালের গাইগরু বেচে সে আপনার পালকি ভাড়া আর কনেস্টবলদের বার-বরদারি ষােগায়। আমিনুল। ইস, খুব যে বলে যাচ্ছ। বলাবলির সময় নেই। সই করে দাও, ব্যস!•••ইল কি? তােমরা যখন যে কাজে এসেছ, আমি তাে কখনাে ঘাড় নাড়ি নি। আজ অবধি আমার কত টাকা নিয়েছ, লেখালেখা নেই- রহিম। কেন থাকবে না? হ্যানােট লিখে দিয়ে গেছি আম্মাজানের নামে।•••টাকা বুকে নিয়ে আমার হ্যানােট কখন। ফিরিয়ে নিন। সে একটা বাবে ফল মিল। নােটের গোয়া? বিৰ ভাল যাচ্ছে-পিছনে লােক ;
নুস এত টেছে—উ? শশাঙ্কবাবুকে স্টেশন থেকে এনে এত ‘নােট কপি। পেয়েছ নাকি?বলি, নতুন জবানবন্দিটা শুনে নিয়ে তারপর সই কৰে নাকি? রহিম। শুনব পবে। হ্যাণ্ডনােটগুলো নিয়ে আইন- এখন কে খোঁজাখুজি করে ? তােমার ধর্মশাশুড়ি শুয়ে পড়েছে। কোন্ বাক্সে রেখেছে, আমি জানি নে- বহিম। আমি জানি জাবেগি। সাহেব। ছিল ঘোষকতার বাজে, এখন গেছে সরে বিনোদ উকিলের সেবেস্তায় নালিশ হবে বলে- আমিনুল। বাজে কথা- রহিম। হ্যাণ্ডনােট ঘেষকতার কাছে বিক্রি করেছেন। ওরা ডিক্রি কবে ভিটেমাটি বেচে নেবে। বলুন, কবেন নি বিক্রি ? হক কথা তত বলে থাকেন আপনি। অস্বীকাৰ কৰুন, বলুন এ ঠিক নয় আমিনুল। হঠাৎ টাকার বড় দরকার পড়ে গেল কিনা•••সে এমন দরকার রহিম। টাকা তো বােষক তারই। আপনার হাত দিয়ে কে নামিতে তারা কর্জ দিয়েছে আমার ঐ ভিটের লোতে। আপনি মুখে বলতেন, আমার স্বাতি, আপনার লােক—আর তলে তলে সেই সময় ছুরি শানাচ্ছিলেন- আমিনুল। অতি-আপনার লােক-সে কি মিথ্যে ? রহিম। মিথ্যে, ভুল। আপনার জাত আমার জাত এক নয়। সন্তোষবাবু খবরটা বলল, কিন্তু এত বড় সর্বনাশ আপনি করবে, আমার কিছুতে বিশ্বাস হচ্ছিল না। এ নােটর এ নােটর ভাড়া নয়, ছেড়া কাগজ। নােট কোথায় পাব? খবরটা যাচাই করতে এছেছিলাম। আমি। শােন রহিম মিঞা, শুনে যাও- • হয়। আমায় সানি মানলে ঠকে যাবেন, কানােগা সাহেব।
মূল এত জাতের নামে আমারে পেয়ে গিয়ে আপনি নিজের কাজ হাসিল করতে চান। এ বজ্জাতি বড্ড পুরোনাে একঘেয়ে হয়ে গেছে। নতুন কি বের করুন- আমিনুল। ঘােষকতার সঙ্গে তােমার ঝগড়া। আবার আমার সঙ্গে ফ্যাসাদ বাধিয়ে কি সুবিধে হবে, রহিম মিঞা ? রহিম। নেবেন কি ? ভিটে। ভিটের মুখে লাথি মেরে চলে যাচ্ছি। তাড়িয়ে দেবেন, সে ভয়ে নয়। তার এখনও অনেক বাকি। ভিটের ওপর থাকলে সকালে-বিকালে আপনাদের মুখ দেখতে হবে, সেই স্নায় চলে যাচ্ছি। কয়েক পা গিয়ে রহিম আবার ফিরে দাঁড়াল। রহিম। পিছন থেকে উস্কানি দিয়ে গােলমালের সময় আপনারা সরে পড়েন। মারা পড়ি আমরা ভেড়ার দল। বখরা নেবার বেলা আবার এসে হাজির হন। আপনাদের দেখলে প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। মানুষের যে এত দুঃখ, সে কেবল আপনাদের মতাে মানুষ জন্মাচ্ছে বলে। সপ্তম দৃশ্য যােৰকৰ্তার ছােট বৈঠকখানা প্রবীর ও সন্তোষ সন্তোষ। আচ্ছা এত খাতির করে নেময় করবার মানেটা কি বলতে পারিস?••এও এক রকমের ঘূ। ঘুষ দিয়ে দলে টানতে চায়। হে বা, আমরা আরও সেয়ানা। খাবাে খাবাে, আবার চামড়া ছিড়ে ডুগডুগি বাব। প্রবার। বকবক করিস নে সতােষ, ভাল লাগে না। সৰে। তুই ঝিমিয়ে পড়লি এবীর, বড্ড ক্ষিধে পেয়েছে সয়ে বাৰু ই আর একটু সয়ে থাক। এইবার কৰে।
মূল লত এবীর। তাের কেবল খাওয়ার চিন্তা।•••সরে পড়তে পারলে টি। খাওয়া মাথায় উঠে গেছে। সন্তোষ। ও কিছু না। পিত্তি পড়লে ঐ রকম মনে হয়। পাতে গজি পড়লে আবার দেখবি পেটের মধ্যে চনমনিয়ে উঠবে।• কি, এ কি। ঢেকুর তুলতে তুলতে যায় কারা? খাওয়া ফিনিস নাকি? ই-ই টকে গেছে, নিলে করতে করতে চলেছে। বেকেলে তাে? বিদেশি মানুষ আমরা, আমাদের ঘরে বসিয়ে রেখে আর সবাইকে তােত করে খাওয়ালে ? এবীর। কাজ নেই খেয়ে। চল সতাে। আহা, চটাচটি করে কি হবে? পাড়াগের লাে- অতৰােধ তেমন নেই, কিন্তু খাওয়া ভাল হে! দেখতে পাৰি পাতে - এবীর। চলায় বাইরে থেকে বন্ধ রে! সৰে। শিকল দিয়ে গেছে। এৰ। ই পেটুক, কেন রাজি হলি এখানে আসতে সব কেনে সন্তোষ। ও মশা, মতলব কি আপনাদের? মশায়, ও ' এৰী। শুনছেন। শিকল দিয়ে গেছেন কেন? সতাে। দেরি খুলে দিয়ে যান, ও মশায়।••তালা খুলছ। - তাই। এত শেইল হয়েছে। সবাইকে খাইয়ে গাইরে এখন এলেন আমাদের ডাকতে।"জাচ্ছা অভদ্রলোক তাে আর, মশই। লুপ এটে নেম খাওয়ানাে-ভেবেছেন কি আপনার? पारस बलकाना मानव তা; সে হাতে ।ৈ সৰে। কোনদিকে। আমরা তাে চিনি না। আগে আগে কালাে ধরে নিয়ে যান। কেননা হয়েছে। এবার। কেন, পালাতে বলছেন কেন? অঙ্গ। এক্ষুনি। দেরি করবেন না। রহিম খাটে নিয়ে যাও। রহিম। একেবারে রণাইয়ের মােহনা পার করে নিয়ে আসব, দিলিঠাক। আমার ভয় কি? আমি কাকেও ডরাই নে। ছেলেটা মরেছে, আমরাও সয়ছি। এসাে—এসসা তােম- অতী বাতি উচু করে থল। তিনজনে দ্রুত অমৃ হল। হে এনেন। মহেয়। আমার দেরাজে ছিল গবির গােছা- অরু। আমি এনেছি। এই নাও- মহেয়। চাৰি এনে ওরে সরিয়ে দিয়েছিস? নােগাকে আমি কি বলব? ঐ, ঐ বুঝি যাচ্ছে- । নানা মহেয়। হাত ছাড়। দেখে মানে, আমি মেখে আসি- । না বন, না- হেয়। 'wেয় হৰে এত শক্রতা তুই কেন করিস? দেখি আলাে -ঐ যে..ঐ যেন কারা যাচ্ছে। আমি দেখে আসি- অরু। এরা তোমায় মাতলে নিয়ে যাচ্ছে, বাবা। আমি যেতে বোে না। দিতি নেপাল। সিড়ি বা ভাৰী ধরণী প্রথম পৃষ্ঠ - লিলায় পড়ে আছে। টিপিটিপি আলতা এল। শ। কে ? অ। আমি অরুন্ধতী। শশাঙ্ক। এসে বােন, এসাে এসাে।•••একটু ঘুমুচ্ছিলাম। কি কৰ, এত বড় আগতে এখন আমার দুটো মাত্র কাজ-অমূখ খালা আর খুলনা। জেলের চেয়েও অবস্থা এরা ভয়ানক করে তুলেছে। মান মতে কে না, এলেও কথা বলতে মানা। চেয়েছি বাধীনতা, কি জীবনটা আমার শাসনে শাসনেই কেটে গেল।• উচ্ছ, বিছানার উপর নর-চেয়ারটা টেনে নিয়ে এসাে। অৰু। আমি তােমার নেমন্তন্ন করতে এলাম, শঙ্কা। শশাঙ্ক। তাই তাে, সাতাশে যে এসে পড়েছে। ক্যালেণ্ডারের পাটা ছেড়া হয় নি। এজাপতিমা চিঠি আরও খান-দুই পেয়েছি। ••গাঙের খাতে ঐ বাউনিজের বাড়িতে কদিন ধরে খুব কাঠ চেল , উঠোনের খাল চেটে ফেলছে। বিয়ে ওদের ওখানেও। আমি জানায় সে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি।•• স্থ। বােন, তােমরা এল বেঞ্চে কে বুঝিয়ে বসেছ, সাতাশের পর বাংলাদেশে কুমকুমারী কেউ কবে না। । তোমাকে যেতে হবে- শ। যেতে পারি, যাবার তাে লােত ভয়ানক-কিন্তু ডাক্তাকে কি বলে শােন নি বুঝি! চেহারায় বেলুৰ খুলছে আর ডাক্তার তত অ খাচ্ছে। বড় কিনা, বুতে পারছি নে। বলে, ব্যাক্তি जनपल খাইসিস। অর্থাৎ দিন ঘনিয়ে এসেছে। আরে, যদি এসেই থাকে, ক'টা দিন মনের সাথে মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতে যাও। কোথায় যেতে হবে, সেখানে মানুষজন আছে কি না আছে—বড় ভাবনা হয়, বােন। ছােটবেলা থেকে মানুষ আমি বড্ড ভালবাসি। আর কপাল কি রকম দেখ -সেই মানুষ থেকে আলাদা করে চিরটা কাল আমায় ইটের পাঁচিলে আটকে রাখল । অরু। বােনের কাছে ভাই যাবেই। আমি এসে তােমায় ধরে নিয়ে যাবে- শশাঙ্ক। কিন্তু বিয়ে-বাডি যে! আত্মীয়-কুটুথেবা আসবেন, তাদের মধ্যে অরু। আত্মীয়-কুটুম্বের অসুবিধে হয়, আসবেন না। তােমাকে আমি আলাদা ঘরে যত্ন করে শুইয়ে রাখব, দাদা। শশাঙ্ক। ডাক্তারকে খােমােদ করে দেখো, যদি ছাড়পত্র দেয়। তাই কি দেয় রে, পাগলী ? আমি এইখানে শুয়ে শুয়ে আশা করব। আশীর্বাদ করব তােমাদের মিলিত-জীবনকে, ভাবীকালের সন্ততিয়ে যাদের জন্য নতুন পৃথিবী গড়ছি আমরা।•এসয়াট। মা আজ বের করে দিয়েছেন। কাঠের সিন্দুকের মধ্যে পড়ে ছিল। তুমি আর অামি একদিন একসঙ্গে বাজনা শিখতে শুরু করেছিলাম সে সব মনে আছে ? पारो चाहनामा শ। তোমার চেয়ে অনেক মিষ্টি ছিল আমার হত। আর ভুলে গেছি, মাৰ বাতেনি নে। তুমি পার তী? था। वांबाव! दाबाद - শক্তি এ তাে কিনা।
শ। আঃ, এত সুন্দর পৃথিবী। বেশ বাজাও তুলি। । আমার কিছু হল না। মনে পড়ে অক, শাপলা তুলতে গিয়ে ভােঙ্গ ভুল বিলের মধ্যে, কাদা মেখে ভয়ে ভয়ে বাড়ি ফিরলাম ?সেই পাঠশাল চেঁচিয়ে শতকে পড়া?"কলার খােলর পালকিতে পুতুল শশুরবাড়ি পাঠানাে ?"ৰাৰা মেয়ে আবার চুমু খেলেন একদিন-বাঁশবনে গেলে বড্ড ভয় করত, মনে হত ভূত-প্রেত যখন অ নিয়ে।•••এক দিন একটা হলাে উড়ে এসেছিল ঘরে।বাজাও, তুমি বাজাও- আরতী ৰাচ্ছে। শশা ঘুমিয়ে পড়ল। অতী এস রেখে উঠে দাড়াল। এ টপি-টিপি এলেন। মা। ঘুমিয়েছে? অৰু। হা মা, দুরন্তপনার পর ছােট ছেলে যেন ক্লান্তু হয়ে শনিস ফেলেন। অঙ্গ। মা, মাগো, কি হয়ে গেছে শশাঙ্কা! মানুষ তাে নয়- মােম দিয়ে গড়া পুতুল। না। প্রায়শ্চিত্ত অতী, মহাপাপের প্রায়শ্চিত্ত। একদিন বড় পাপ করেছিল এই দেশের মানুষ-ঝগড়া করে সেটা পরের হাতে তুলে নিয়েছিল। শশাঙ্কর প্রাণ দিয়ে তার প্রায়শ্চিত্ত করে গেল। অঙ্গ। ভাজারে কি বলছে, সত্যিই না। তার জন্য আমি তৈরি করছি না। মনে করব, শশাঙ্ক আশার অনেক অনেক দিনের অন্য পারে গেছে। বাড়ির আশে পাশে জিভ আর অত্যাচানাচার ব্যালেরিয়া ভুগতে ভুগতে শায়ের মতােই হাজারে হাজারে চেহ, এ কি না বলা ক। জন মা সানা জেত, মিশা विडोस देश काडंबायपाधि ৰাণটা যয়। কাম রস এর চেষ্টা কর, ও বেঙা ভাই- রেতের বেলা খাবি কি? হড়ি খানেক পান্তাভাতে কলসি খানেক গাওয়া ঘি। কলসি কাঘেষিণী ঘাট থেকে এ যামিনী। হােট পিসি, ও হােট পিসি- কান্ত। কি, আবার ছােট পিসিকে কেন? কলসি নামিয়ে নিনী ডাকা যামিনী। ও পিলি, গেলে কোথা? জবাব পাও না কেন? ! নেপথ্যে ক্ষান্ত। আমি রান্নয়ে।] যামিনী। বাবার চাল নিও না - কা। চাল নেবে না। কেন, হয়েছে কি? যামিনী। জ্বর হয়েছে। কান্ত। ও বখরী ঠাকরুণ এলেন আর কি! এ এই ল; নাড়ি দেখেছিস? বাহিনী। খেতে হবে কেন -শুনছি তােত। গা শির গান রছ, আর জ্বর হয় নি। কা। গান ধরলেই জয় আসে। বেশ বুজি। যােত সেকালে আয় করতে, বাইজিরা গত দুপুর অবধি খান গাইত। । সব নো গী-না। !
কা। কোথা চললি? শুনে খা, একটা কথা শুনে যা- যামিনী। কি কথা? সব হয়ে এল, গোয়ালে সাজাল ৰে। অনেক কম। কথা শুনবার সময় আছে। কা। শুনে যা, লমী মা আমার- যামিনী। কি শুনব? জর না হয় তো শুয়ে আছি কেন বিকাল- বেলা? এসস না উঠে। কান্ত। নবাবের বেটি দাড়িয়ে দাড়িয়ে হুকুম ঝড়ছেন- এসাে না উঠে। মুখের কথার তো খাজনা দিতে হয় না ! কি রকম শীত পড়েছে আজ-ওঠা অমনি সহজ কিনা ? যামিনী। শীত না হাতী। এখনাে পৌষমাস পড়ে নি। আমার গায়ে তাে এই একটু আঁচল কা। তকবাগীশ, তঙ্ক করিস নে। আসবি কিনা তাই বল। গায়ে জুত থাকলে সবাই দেমাক করে আঁচিল উড়িয়ে বেড়ায়।•••থা- শহর সব কি পুড়িয়ে খেয়েছিস, হারামজাদি? চাপা দিয়ে যা, চাপা দিয়ে যা। উঃ উঃ উঃ-আরও-আরও আন্-বালিশ ,ে পাশ-বালিশ যে মিলে চেলে বােস দেখি ওর উপর চেঙা কয়, ও বেঙা ভাই- চাইয়া চাইয়া দেখিস কি চারটেখানি গরৰে নাই যে অস্বলৈ দি। , শান্ত। ডাকছিলি কেন রে?• কি? বাণিী। বাবার বয়ছে। ব্যালেক্ষি- । যা জলি কি করে?
নিয়। ঐ যে জলে সারা দিচ্ছে। ওরে বল খেতে ইচ্ছে করে বড়। আজ বাবার চাল নিও না- ক্ষান্ত। চাল কারােই নেব না। নিতে হবে না। কান্ত। কেন? কারােই নিতে হবে না কি জন্যে? জর সবারই হল নাকি ? যামিনী। চাল বাড়ন্ত। ক্ষান্ত। একক ক্ষু নেই কলসিতে। ওবেলা চেরে চিন্তে চালিয়েছি, এ বেলা পান না। কারাে বাড়ি চাইতে যেতে পারব না আমি। 4 কান্ত। চাইতে তুমি কেন যাবে ক্ষান্ত? ধানের পালায় পালায় খামারবাড়িতে আমার পা ফেলবার জায়গা নেই, ধান খেয়ে খেয়ে নেংটি ইদুরগুলাে মুটিয়ে হাতী হয়ে গেল, আর আমার ঘরে চাল বাড়ন্ত। তােমরা গতর নাড়াতে চাও না, তাই বলে। নইলে এক আঁটি গান ঝেড়ে নিলে তাে দু-দিনের খােক।কে? কে আসে?"ও! মরে গেলাম-জলে গেল উহু-হু- বি বাকশাল এল। কেৰে কাম কাতে লা। চলে গেল। বি। আমি বিশ্বম্ভর।•••কি হল তােমার ? কান্ত। উহু, মরে যাচ্ছি, খুড়ো। অবিকার-সেখসে উঠে।••• তারপর, বৃত্তান্ত কি ? খুকি-দিদির বিয়ে, আর তুমি গানে ফু দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছ। বিত। ই, ঘুরে বেড়াব। তা হলে হয়েছে আর কি! তােমার খামারবাড়িতে নেয় আঁটি তে এসেছিলাম।
নূতন তত কাত। বয়-মোয় ছেড়ে কি পালিয়ে যাচ্ছি খুড়ো, তাই খান না উতে সাত তাড়াতাড়ি আঁটি তে এসেছ। নিজের লাঙলে নিজে মেহনত করে সাজানাে থান•• দুটি জেনে কুটে খাই-ই যদি- বিত। না, একচিটেও নড়বে না আমার থেকে। ক্রোক হয়ে গেছে, জান না? খােল সােবকতার হুকুম-চোখ রাঙচ্ছি তুমি কার উপর, মােড়ল? কা। (যেন আগুনে জল পড়ল। এই দেখ, চোখ রাঙানাে আবার কোনখানে খেলে? চোখ-রাঙা কেবল বুঝি রাগে হয়? তাই তােমরা জেনে বসে আছ। কান্নাতেও রাঙা হয়, খুড়ো। বাবুর কাছে এ সব আবার লাগিও না। মানে-আমি যা বলছিলাম, খুব ঠাণ্ডা হবেই বলছিলাম। আরবিকার কিনা-গলার আওয়াজের বিত। অবিকার। বাগ-ছিড়ির মতাে ছটাং করে ছিটকে উঠলে—ওরে আমার রবিকার রে! কা। গরিব চাষাভুষাে আমরা-যে দিন শশানঘাটায় নিয়ে যাবে, সেদিনও ছটা করে চিতের লাফিয়ে পড়ব।• বিবেচনা করে খুড়ে, আমার তাে এই অনু-আঁটি গােনাগীতা করবে কে? তাই বুঝিয়ে বলে গে। কালকে- কাল সকালে এসাে- বিত। গােন পার হয়ে গেছে, কারাম। বিকেল থেকে কি একশ কেটময় অপ করছিলাম। পাঁচ হাজার তিনশাে দুর এটি। পাচ তিন পতি ছE কা। খুচরাে ঐ ছয়টা না দিয়ে গাও, খুড়ে। [ বিশুর হাত জড়িয়ে ধরল। ইৰা ৰৱ আকে- বিত। উচ্ছ, সে কি করে হবে? এ পড়ি, শট এর th নূতন ভাত যানি। তুমি কমিয়ে বােলাে-- কান্ত। পুরােপুরি পাঁচ হাজার তিনশাে শিখিয়ে গাও গে, মাণিক আমায়- বিশু। ছ’ আঁটি-বাপ রে বাপ!•••আচ্ছা, আঁটির গেট কি দু’ -দু’ আনা। কান্ত। তাই বোে। ছ-আঁটির সরুণ ছয় দুনাে বারাে আনাই দিয়ে দেবে তােমায়। বিও। গও। আমার নগদ কারবার। কান্ত। আজকে নয়, পর। হাটে দিয়ে দেবাে। মাইরি। তবিলে আজ ফুলেডুমুর। একটা পয়সা থাকে তাে সে বাপের হাড়। বিশু। তবে হবে না। মনিবের মুন খেয়ে নিমকহারামি করব, আমার পরকালের ভয় নেই? পাঁচ হাজার তিনশাে ছয় -পাঁচ তিন শন্তি হয়•••পাঁচ লি- বিও চলে গেল। কান্ত। শালা! আঁটি গুণে গেলেন, সাত পুরুষের সম্বন্ধী আমার! ‘আমরা দেবে জান-কাগে খাবে ধান-- যামিনী। চুপ-চুপ কান্ত। কেন চুপ করব। তোদের মতাে মেয়েমানুষ নাকি? কারে পরােয়া করি? আঁটি গুণে গিয়েছে তত ভারি করেছে अवन করে যায় নি তােত। আমি আঁটি খুলে ফেলব। গােছ গােহা সরিয়ে নিয়ে শতিতে আবার ঠিক ভজিয়ে রেখে দেব।"টা আঁটি চেয়েছিলাম-প্রাণ দিয়ে তা-ও সৱল না,-ড়ি চালান করে দেব। কি করবি,-ভিসা করি, কি কৰি ভােয়া খন? যামিনী।: চুরি করবে।
মূল তাত কান্ত। চুরি-কিসের চুরি। নিজের জমির ধান-বেচব না, বিলােবো না-শুধু পেটের খােরাকিটা। কাগে খাবে ধান-আর আমরা দেবব জান! চুরি অমনি বললেই হল রাম উঠ টলতে টলতে দাওয়া থেকে নামল। হঠাৎ সে পড়ে গেল। যামিনা চেঁচিয়ে উঠল। কান্ড ছুটে এল। যামিনী। ওকি! বাবা ..পিসি, ছুটে এসে ছােট পিসি ক্ষান্ত। কি ? যামিনী। ভিরমি লেগে পড়ে গেছে, বাবা। জল আনােপাখা কই?...ও বাবা, বাবা গাে, কথা বলল।...বাতাস করো পিসি, জোরে বাতাস করাে- কান্ত। কাগে খাবে ধান, আমরা সেবা জান। যামিনী। ও বাবা, কি বলছ?চোখ তােমার যামিনী- হলধর ও বিশু বরকন্দাজ হল। কি-চেঁচামেচি কিসের ? যামিনী। বাবার কি হয়েছে, দেখ-গােমা মশাই। ওঠে না, চোখ মেলে না, ডাকলে সাড়াশব্দ দেয় না হল। ও রােগ আমার ঢের লেখা আছে, বাপু। কাছারির লােক দেখলে চোখ উলটে পড়ে। আমি ঠাচ্ছি, ভাল চিকিছে জানি আমি। ভকুটি বড় বেড়েছে। হাতের লাঠি দিয়ে কালকে তাে দিল। হল। ওয়ে নচ্ছার হারামজা বেটা, গায়ে ছাইচাপা দিলে মে শুনবে না। বাপের পুর হয়ে এক্ষুনি পাচা কলাপাতা কেটে তেৰে তামিল, ওরে কারা ?ভাল গালা বাধিয়েছে রে नवड বিশে। সন্ধ্যের সময় ভাড়ারির এখন হস হল যে, কলাপাতা কম পড়ে যাবে। সবাই সারাদিন খেটেখুটে বাড়ি গেছে-কাকে বলি এখন? লংৰ ৰিগুৰ কানের কাছে আনল। হল। (ফিসফিস করে) গতিক ভাল নয়, বিশে। চোখ জবাফুলের মততা, বিড়বিড় করে ভুল বকছে। মরবে নাকি রে, বেটা? বিত। তাই তাে! হল। খামা-ভরা ধান পড়ে রইল, মলা-ডগা কিছু হয়নি। বেটা মরলে যে সর্বনাশ! হলার ও বিশু চলে এল। আমিণী বন কালামের উপর বুকে কাক ডাকছে। শিশী। বাবা, ও বাবা, কথা বলল। চিনতে পারছ? আমি তােমার যামিনী- ed,Bo pur R P) May কর্তার বাড়ির ফটক, ইঠার খানিকটা এ কিছি। ফটকে গড়িয়ে দেয় । আর কয়েকটি বরবাসীদের অভ্যর্থনা করেন। এত হিটাল অ্যাগতদের লাঙ্গ ফেলফুলের মালা দে । কিন্তু থেকে একটা লিরির গা শােনা যাবে- একটা পা। ঈশ্বর এল কৰে, ৰ। আৰু ত্তি ও একটা পয়সা। মােটরের আওয়াম। বলে সাত এৰী এবং তার সঙ্গে কাজ এখ। কার হয় তার ভিতর নিয়ে গেল। শখ বলি হবে। কালে मा बजानन बारमास।
নুল এলাহ মহেশ্বর। আসুন, আনআসতে আজ । বেইম- একটা লিরি-মেয়ে কি কি বিয়ে এল মেয়ে। একটা পয়সা হুজুর। মহেয়। (মুখ ভেঙচ) প! সত্র খােলা হয়েছে? -আরে, কে আছিস-দূর করে যে তাে এটাকে।••এই কনেস্টবল, কেয়া, করতা তােম? উরমে চিন্নাত। হায়, কান ঝালাপালা হ গিয়া দুঠো বলা মারকে সব ঠাণ্ডা কৱকে দেও।•••বেহাই মশায়কে দোতলায় নিয়ে যা। যান-বসে ঠাণ্ডা হােন গে।•••আসুন, আসতে আজ্ঞা হয়। •••আবার এসেছে খোঁড়াটা? মামা- এক খোড়-ভিখারি এদিকে এগোচ্ছিল। গতিক দেখে সে পাগল। মহেয়। ওরে, আমার জয় লেন-কোয়াশ আনাে একটা। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। एनवाचन। হের। এতক্ষণে ফিরতে হলধর? চোর-কুরির চাৰি পাওয়া যাচ্ছি না—দুটো ঝাকশন অর মধ্যে ল। কলাপাতা খতিয়ে কমই গেল, আমি পাতা কাটাবার তাগায় গিয়েছিলাম যোগাড়।•••দেখে এলাম, কাতরাষেয় বড় হেয়। খনন? হল। আতে, সুবিধের নয়। চোখ টকটকে লাল। প্রলাপ মহেয়। বেটা মরবে নাকি? । জমাতে পারে। যে রকম চাষাব করে তাকাজিল, नबर মহেয়। সাড়ে পাশ ফিরছে—একটা-দুটো টাকা নয়। সেনাপজাের করে এই খরচ করছি, বেটা মরলে আমাকেও মেরে রেখে যাবে। হল। আমে, সত্যি কথা। ক্রোক-করা খাম খামারে পড়ে রয়েছে। বিশে আর বিকেলে কেবল আঁটিগুণে গুণে এসেছে। আর দেরি করব না। কাল সকালেই মন মল খাৰ মেনে নিয়ে আসি। যর পারা যায় উল হােক। মহেশ। সকালে কেন? এক্ষুনি চলে যাও। তুমি আর বিশু -এক্ষুনি-একুনি- হল। আজ্ঞে, বাড়িতে একটা বলি- মহেশ্বর। আর, রাতের মধ্যে যদি চোখ উলটে পড়ে-তখন। তখনকার উপায় কি বলো। কিছু বিশ্বাস নেই-বেটারা সব পারে। তখন ওয়ারেশ-কায়েম করাে, হেনন করো, তেনাে কলােবিশ হাত জলের নিচে পড়ে যাবে। বাড়ির গতি পাচ্ছে না। কই চাই সকলের আগে। হল। তা তাে বটেই। তা হলে আমি ৰয় একটু ইসলােশ মুখে বিএ- মহেশ্বর। উচ্ছ। সন্দেশটি-পােলাও তো থাকবে, এখন। তুমি এখুনি চলে যান হল। এতে। মহেয়। যাও যাও -হিলা দেরি নয়।•••, আন এই লর বিসৰ চল গেল। এর পর একে টানে।
নগত সরকার। জুর, এই একটা চুকে পড়েছে খিড়কির বাগানে। মহেয়। ঢােকে কি করে ? তােমরা সব কি করে শুনি? মশ দেওয়া থাকে না। সরকার। দরজা দেওয়াই ছিল। হারামজাদা পাঁচিল টপকে লাফিয়ে পড়েছে। পড়েছিল খােয়র উপর, কনুয়ের এক বিঘত চিরে মহেশ্বর। বেশ হয়েছে, খাসা হয়েছে। এর উপর চটাপট বা লাগাও তাে কতকলকা। শিক্ষা হয়ে থাক। লােকটা। তিনদিন এই নি কত। বড় বাস বেরিয়েছিল, থাকত নাম। হর। কি ? সরকার। কালিটা তো পাক হয়েছে কি না! বলছে, গন্ধে পাগল হয়ে লাফ দিয়েছে। হে। ঘাড় ধরে আবি নিকাল যেও।•••ম দেশ, আসতে না হােক। এত দেরি করে ফেললেন আগকে দেখে একটু এগিয়ে গেলেন। সরকার। বা-মা-পাল- পাক এলো দিল নেতাকে। লো - , তবু নিয়ে খই খুনি। কার। কি ওখানে? পাইক। এই ফুট নিচ্ছে। আমাই এলে সেই যে ছড়িয়ে দিয়েছিল। লােকটা। মেটে না, বাবা। তােমরা তাে ছড়িয়ে দিয়েছ, ধুলাবালিতে পড়ে আছে। তিনদিন খাই নি, দুটোখানি খুটে নিচ্ছি, গরু বিকােকেৰে করে দিল চতুর্থ দৃশ্য কাওরামের বাড়ি ঘরে বাপ সামা খােলা। উঠানে হলধর ও বিত কেমন? এখন আছে কি রকম?•••বড় উতলা হয়ে আছি। কলে সাড়া-টাড়া দিচ্ছে ? [ ঘরের ভিতর থেকে যামিনী । একটু ভাল। বাবা!] যামিনী ঝাঁপি খুলে দিল। ঘরের ভিতরটা উন্মুক্ত হরে গেল। । কান্ত। উ-- যামিনী। ডাকলে সাড়া দেয়। কিন্তু চোখ মেলছে না। হল। মেলবেঠিক মেলবে। রাত্তির বেলা -জ্বরের সঙ্গে ঘুঙ্গে আবিল এসেছে কি না! সকাল হলে উঠে বসবে। কোন ভয় নেই। •••ও কান্তরাম, আমরা দু’জন-হলধর শিকদার ও বিশ্বম্ভর পরামাণিক খােদ কামশাইর হুকুম মতে তাের খামারের কোককরা ধান মলতে এসেছি। সকলের সামনে প্রকাশ্যভাবে বােল আনা আইন মাফিক করছি।“বুঝলি রে বাপু, বুঝতে পারলি? ‘া বাকি বলছিস, বুঝতে পারছি না-একটু স্পষ্ট করে বল- বি। বলছিস কি রে, ও কাৰভাল করে বল। --বিড়বিড় কয়ে কি বলছি, বােঝা যাচ্ছে না। কান্ত। আমৱা-চিলাম জান, গে গা ধন- হল। নেকৰে। সরি গােলায় আনত করে। এক wে দিলে রে পাইপ মেধি ভিত্তিতে মূলত উল দিয়ে দেব। তুই কষ্ট করে চয়েছিল, কেটেছিল, খামারে এনে তুলেছিল-নির্ভাবনায় ঘুমিয়ে থাৰু ৰা, কোন গােলমাল হবে না। (বিফিল করে বি বরকলাকে) গভিক ভাল ঠকছে না, বিশে। তাড়াতাড়ি ক। ও রকম বরপাতের হয়ে থাকলে চলবে না। নাগরা খেল-কোমর বাঁধ,। কাছারি খােল রেখে এ এখন। চার ছেলে তাে বটে! গােৰু এনেড়ে ৫ শিগগির দেখ যদি কাজকর্ম সারা করে বড়-ভােজের আগে গিয়ে পৌছতে পারি। আমি বললাম এখানে। হলধর দাওয়ায় জলচৌকির উপর বসে পড়ল। হল। তুই জোগাড় দেখ। •••কলকেটায় আগুন এনে দিয়ে যা সিকি ভিতর থেকে বিত। ভিতরে কোথা? হল। আবার কাছ একেল। সে আৰু এবং হাত করে ও । কা। আয়া কর, আর চাল কোথা? উঠানরা ধানের গান ঘরের মধ্যে জল বাড়ন্ত। ...এই নাও তামাক আর আগুন; গেম মশায়ে তাকে বােগ করা উলন তাে গৰিয়েছি বি গুছো, মন কি ফরয এখন? হল। বাবা-মায়ের মেয়েকে বিবেচনা আছে। শীতেজ তে বুকো মাটা এসে , তাড়াতাড়ি সব বড়জাের করে নিয়ে এসেছে। যায়। তা নাৰ মই, কােনও বিকেনা কর একটু। খেটে খেটেইলে গল্প ! ধন ফি নিয়ে যাবে তােমরা হলে আস বাটৰ দিখে। পেট খাকিটা দেবে না?
नूनगंड হল। দেব, না হবে বই কি না! মনিবের পাওনাগ- তার উপর যাবতীয় আমলানখরচা হিসেব করে নিয়ে যা থাকবে সম তােমাদের কান্ত। কিন্তু আজ- হল। দেখা যাক হিসেব করে- বিত। কেন মিথ্যে আশায় ভােলাচ্ছ গোমতা মশায়। বাড়তি এক সিটেও হবে না-তুমি জাননা, আমিও জানি। ক্ষান্ত। হর দিও, না হৱ না দিও। এখন এই এত কটি গান ও গােমস্ত মশায়। উনুন ধরিয়েছি, আমরা এই তেলে খাব। না সকাল থেকে প্রায় নি, পেটে পড়লে হয়তাে একটু চাঙ্গা হবে, তাকে চা দেব।•••এত বড় শীতের বাত ছােট মেয়ে যামিনী নিরস্থ থাকবে কেমন করে? •••কথা বলছ না যে! দুই মুঠো ধান গোমস্তা নয়, এই রকম দুইটা মুঠো ধান। আমাদের ক্ষেতে-আর্জানাে দালায় গতর-ঘামানাে ধান-তার এই এত ক’টি। এই পা জড়িয়ে ধরলাম। বলল, দেবে তাে? হল। দেখ, দেখবিল অবেলায় চুর। নেরে মরতে হবে রেতের বেলায়। আর পা ঝাড়া দিল। লাভ ছিটকে গিয়ে পরল। হল। ডেকাে মাই মানি করতে এসেছে। ভাইকে বলিল, সেমেসুরে কাহাৰি ৰেতে। হিসেবপত্র হয়ে যাক। আগে ভাগে দুই- এর মধ্যে কথা বলতে আসিল কেন শুনি। বিষয়-আশমের ব্যাপা ই এর কি বুৰিস রে হারামজাদি । কা। বুঝি নেগােষ মণ, বুঝতে পারি নে। খান , তুলে নিয়ে এল বাড়ির উপ-কেন ভাৱ ভাত আমাদের মুখে উঠলে না। কেন? কেন?
नूनगंड হল। বুঝবি কি করে? একে মেয়েমানুষ, তার মুখ।•••ল কে বিশে, আমি নিয়ে দাড়িয়ে থেকে মলন জুড়ে দিয়ে আসব। হলধর ও বিশু বেরিয়ে গেল। ক্ষান্ত ছুটে রান্নাঘরের দিকে আদিল, যামিনী এল। যামিনী। কোথায় যাচ্ছ, পিসি? কান্ত। উনে জল ঢালতে-- হঠাৎ দেখা গেল কাম টলতে টলতে বেরিয়ে আসছে। যামিনী। একি ? বাবা! উঠলে কেন? টলছ-আবার পড়ে যাবে। সর্বনাশ, তুমি নাওগে-শােওগে- কান্ত। দিল না? পায়ে ধরে কেঁদে পড়ল, তবু দয়া করল ? ঠাকুর, এই তােমার রাজত্ন ? তুমি জেগে আছ, না ঘুমুচ্ছ ঠাকুর? যামিনী। (কান্তকে ধরল) চলাে বাবা, তুমি শোবে চনে-- কান্ত। যামিনা, যেতে পারিস একবার শশাঙ্ক-ভাইয়ের কাছে ? তাকে মেরেছিলাম এই এত বড় এক ঢিল। মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমি তো মারি নি। শয়তানের মেরেছিল আমার এই হাতখানা দিয়ে। তুই একবার ব্য। তার চেয়ে বেশি আইন তাে কেউ পড়ে নি। তাকে জিজ্ঞাসা করে আয়, সক্কলের বড়ো যে আদালত, তার আইনে কি বল? বাহিনীর গার জন্ম দিম সেল।
পম बशिष्यवाणि বড়ি ছেড়ে চলে যাবে, অন্য কােন লেখা বা আমি ঘরের মধ্যে, উঠাৰে গতি। গবে না যে, বাড়ি থেকে চৌকির আল বাহ। রহিম। কই, বড় যে দেরি করে ফেলছিল বউ- আমি বেরিয়ে এল। আর যাতে কোচ। আমিনা। দেরি তাে হবেই। সমস্ত বেঁধেছে নিতে হল। রহিম। সমস্ত মানে তত ঐ খান দুই ভাঙা কাশি আর নি কত কথা-কাপড়। সুবিধা আছে। আমাদের সব নিয়ে যেতে হবে করতে হয় না।••দে, ওটা আমার দে- আমিনা। শােন, কথা রাখ।এখনাে বলছি, বেয়ে কাজ নেই। রহিম। থাকি কেমন করে? ডাঙায় বাঘ, জলে যায়। এদিকে বােষক-প্রজার দরদে চেখে বান ডেকে যায়, কিছু করতে পারেন না বলে কত অফশােষ! আর ওদিকে আমিনুল হককথা ছাড়া বলেন না, জাতভাই গেলে ঝাবে তুলে নাচান...ব, যাচ্ছি কি যেতে কি মন চায়। এই রকম চলে যাৰ বলে কি নতুন করে ঘর হেয়েছিলাম। এই সাধের , রইল তিন পুরুষের টি- আমিন। আর ঐ জামতলায় পড়ে রইল আমার খােকা। ও পাখি বৰ না। আজ দু’বছর কোর কব, আমি চোখে চােখে রাখছিকে ফেলে যেতে বৰি পাব না। পানি খরে মাৰি যােত আর কারােগাকেঠা করব। রবি। মা বউ, আমায় ইত । ম মুখ খােলেন - এই তােকে আমি যেতে দেব । al शिज - এল এন পাখি রে। এই নে । সব করে।
ঘষ্ঠ দৃশ্য কারামের বাড়ি অকার। আৰুৰ দেখা যাচ্ছে না, শুধু কলকের আগুন। ফড়ফড় করে ইকো টানার শব্দ শােনা যায়। আলো জ্বললে দেখ, হলধর কান্তৱামের দাওয়ায় জলচৌকির উপর খুটি ঠেশ দিয়ে ঝিমােচ্ছ। কলকের আগুন পড়ে গেল উঠানে। বিশু বরকন্দাজ এল। বি। গােমস্তামশায়, গােমস্তামশায়- হল। কি রে বেটা ?•••৬, আগুন ছড়িয়ে নৈরেকার। বি। খুটি ঠেসান দিয়ে ঐ রকম ঘুমােয়। এক্ষুনি যে পড়ে যাজিলে ঘুমের ঝোঁকে। হল। ঘুম দেখলি কোথা? চোখ বুজে বুজে ভাবছিলাম। বাবুর বাড়ি এখন হৈ-হল্লা চলেছে। কত খাওয়া-দাওয়া, আমােদ-ফুর্তি! আর আমরা এখানে শীতের মধ্যে হি-হি করে মরছি।“বাবুর বিবেচনাটা দেখ, বিশ্বম্ভর। এই একটা রাত্তিৰ-তা-ও ঐ গােয়র মত আমাদের মোয়ালে জুতে দিয়েছে। বিত। তা গােরু বই কি! ওদের হল কাজ নিয়ে কথা। গােতে পেরে না উঠল কেটে দেয়। আমরা যখন আর পেরে উঠব না, কোটিয়ে দূর করে দেবে। হল। আরে, গােলে কি ঝিমিয়ে পড়ল রে? চুচাপ দাড়িয়ে, নড়াচড়া নেই- বিও। মুখের হাঁশি খুলে একটুখানি বেধে দিলাম ঐ জায়গায়। চলো রে নিচ্ছে।
মূল এত । হল। তা বেশ করেছিল। সেই সন্ধ্যে থেকে টছে, শেষকালে গােমতি লাগবে ? বেশ হয়েছে। বেশ, বেশ- বি। কিন্তু মানুষের পাপমতি যে লাগছে গোমস্তামশায়- হল। মানুষের? মানুষ আবার কে শাপ-শাপান্ত করতে আসবে এই নিশি-রাত্রে হাতীপােতা এখনাে মরে যায় নি। কার ঘাড়ে কটা মাথা- বিশু। মুখ ফুটে না করলেও মনে মনে করছে। গােমস্তা মশায়, খুচিখানেক ধান এদের দিলে কি ক্ষতি হয়? ওর কি কোন হিসেব হবে। হল। খবরদার বিশে, খবরদার! দেয়ালেরও কান আছে। এখুনি পাঁচ শালা গিয়ে কত কান ভাঙাবে, সর্বনাশ হয়ে যাবে। বিও। কিন্তু গোরুগুলাে তো ঐ খাচ্ছে তার পােয়াল। (নেপথ্যে ক্ষান্ত। গোরুর চেয়েও আমরা হতভাগা ) হল। ( ক্রুদ্ধ ) বলি দয়ার সাগর বিদ্যেসাগর হয়ে উঠেছিল তাে শকুনির মতো জমিদারের উচ্ছিষ্ট ঘেটে বেড়াস কেন? নিজের চরকায় তেল দিগে য; অরি মহাত্মাগিরি যাতে হবে না। চল চল দেখা যাক কতটা বাকি। কয়েক পা এগিয়ে হলর থমকে দাড়াল। হল। হারে গােৰু ক'ট-চারটে না? বিত। চারটেই তাে- হল। এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ-ঐ যে পাঁচটা। পাঁচটা জুটল বিত। তাইতে-শাটাই তাে। পােশ খাবার লােতে কাদেয় গালে গােক কি এসেছে।
নূতন প্রভাত হল। শয়তানি দেখ। আচ্ছা করে তুলে খুনে দিয়ে আয়। ভাত থাকলেই কি যত কাক এসে জুটবে? মানুষ বলাে, গরু বনে-সব ঐ এক রীত। বিশে চলে গেল। আর তখনই ফিরে এল। বিত। (ফিসফিস করে ) গােৰু নয়, চোর- হল। চোর। বিত। যা, মানুষ গােৰু সেয়ে রয়েছে। কাপড় জড়িয়ে চারটে গােরুর মাঝখানে দু-হাত দু-পা মেলে গােক হয়েছে, পােয়লের নিচে থেকে বোর ধান বস্তায় পুরছে। বেড় দিয়ে ধরে ফেলতে হবে, আমি তাই বাটা দিই নি। হল। দিস নি তে ? বেশ করেছিল, বুদ্ধির কাজ করেছিল বিশু। তা তুমি আস্তে আস্তে সরে পড়ছ নাকি, গােমা মশায় ? হল। সরে পড়ব মানে? মানুষ-জন ডেকে নিয়ে আসি। একজনে দু’জনে গােয়ামি করা ঠিক নয়। বিশু। চোর তাে একটা...আমরা তবু দুজন হল। একটা ঐ সামনে। আশেপাশে কত জন আছে ঠিক কি ? ওরা একা আসে না। ভেবেছিল, তা নয়। পালাচ্ছি নে। মা- অন ডেকে এ ধরতে হবে। পাড়িয়ে দাড়িয়ে তুই নজর রাখ।••• আসছি। বিশু। হুহ। দাড়িয়ে দাড়িয়ে মশা তাড়াই আর কি! লাগিয়ে বিও টিটিপি লল। [ নেপথ্যে বিত। কি বাছাধন।] নেপথ্যে কান্ত। ও লেহেনেরে ফেলেছে।]
মূল প্রভাত হল। কান্ত না? মা, মেরে ফেল নাবেটাকে।••••••ওরে শয়তান, এই তাের অসুখ ? আরও মা- শান্ত কাকে জড়িয়ে ধরে নিয়ে এল। কার মাথা ফেটে রক্তের ধার বইছে। কান্ত। আর মেয়েরা না-রক্ষে কর। অসুখই সত্যি। দাদা সজ্ঞানে যায় নি গােস্ত মশায়, ক্ষিধের টানে টানে গিয়েছে। ওর জ্ঞান ছিল না। মেয়াে না—মরে যাবে। বি। ভির্মি লেগেছে হল। ভিকুটি। বুঝলি নে, ছুলে ধরেছে। ঘাড় ধরে ঝেড়ে দে আর গােটাকতক পিঠের উপর ক্ষান্ত। মাথা কেটে গেছে। রক্ত পড়ছে। দাদা যে পড়ে গেল! কান্ত সত্যিই ঢলে পড়ল। হল। অ্যা। ...তাই তাে! তােরই দোষ, বিশে। মােগা মানুষ, কার হুকুম মতাে তুই মারতে যাস? আমি খােদ উপস্থিত রয়েছি-আমি কি বলেছি? থানা আছে, পুলিশ আছে, হেপাজ করে দিবি কান্ত। ওরে, কে কোথায় আছ-মাকে মেরে ফেলেছে। সেই যে কাধে রয়ি এল ; সঙ্গে আমিন। রহিম। গােলমাল কিসের? কি হয়েছে? ল। রহিম। রহিম। ঘা, রহিম।আর এজারির ধার ধারি নে। ঘর । পুড়িয়ে দিয়ে এসেছি। মুনা করবে কি- যে পােড়ামাটি। কান্ত। দেখে রহিমই, মাকে মেরে ফেলেছে দেশ- মূল প্রভাত রহিম। ছাড়ে-সরে যাও বলছি। কেন না, সিদি। এই আবাদে একদিন আমার নানা আর তােমার বুড়া-না এক মাচায় বসে বাঘ তাড়াত। আবার আমরা মিলে মিশে যত দুষমন আছে, তাড়িয়ে দেব। পালাচ্ছ কোথায় ? কা-ভাই মরে তাে জবাবদিহি করতে হবে। হল। ঢের-ছোড়কে মারবে, তার জবাবদিহি কিসের? শশাঙ্ক ওযামিনী প্রবেশ করল। শশাঙ্ক। চোয়? কে চোর-ওনি ? রহিম। উঠোন থেকে কারামের গতর-ঘামানাে ধান নিয়ে যেতে এসেছে-আর চোর হল কান্ত! হল। হয় কিনা জিজ্ঞাসা করে দেখ, ভােদের মুরুব্বিকে। আপনি তাে অঢেল আইন পড়ে পাশ করে বসে আছেন। শুনুন, সকল বৃত্তান্ত। এস্টেট থেকে আমরা ওর যাবতীয় ফসল ক্রোক করেছি। তা সত্ত্বেও রাত্তির বেলা ধান সন্মাচ্ছিল। আইনের কোন্ ধারায় এটা পড়ে, বলে দিন। শশাঙ্ক। আর একটা বড়-আইন আছে হলধুর, সকল মানুষের বেঁচে থাকবার অধিকার এই সময়ে আকবর আলি ও কতকগুলি চাষী এসে উপস্থিত হল। আকবর। একটুখানি ভাল আছ, অমনি উঠে এসেছ। সর্বনেশে মানুষ তুমি! ডাক্তারদের গুলে খাওয়ালেও তোমার অব সারবে না- শশাঙ্ক। তা এত মানুষ দল বেঁধে এসেই আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে। আকবর। এদের নিয়ে যাচ্ছি বােৰকতার কাছে নি। কেন?
মূল প্রভাত আকবর। দিনমজুরি করে খায় বেচারা। সারাদিন বেগার খাটিয়েছে—সন্ধেবেলা বিদায় দিল। ভেবেছে কি এরা? নেমন্তন্ন খাওয়াতে সবাইকে বিয়েবাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। শশাঙ্ক। চলাচলাে। আমারও যে নেমন্তন্ন। কান্তনাম, যাবে নাকি ? কান্তবান ঘাড় নাড়ল। শশাঙ্ক। না থাক। ক্ষান্ত, একে শুইয়ে দাও। ভয় নেই, সেবে যাবে। আকবব। কিন্তু তােমার যাওয়া চলবে না, শশাঙ্ক-ভাই। । গােল- মালের মধ্যে কিছুতে তােমায় যেতে দেব না। তোমাকে সেবে উঠতে শশাঙ্ক। নেন যে আমি অনেকদিন ৰাই নি আকব। আঁধাবের মধ্যে একটিমাত্র উত্ত। আলােভােমাৰ ৗরব অনেক দান। ভূম বা6ি f। বাও- শশা। কবে শাব? । সা:। 11। আশা। বিনা, ববি জন্য শেষ বক্তাব অব প- ক: ২, ৩াব থেকে ফিরে যেতে বল? আকবর আলি ? আকবর। এস। ছােটখাটো বোন। ঝগড়া, গাই। তুমি চেযেছ দেশের স্বাধীনতা- শশাঙ্ক। ঘঁা, স্বাধীনতা। মিথ্যে ভষ থেকে স্বাধীনতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াবার স্বাধীনতা, মানুষের মত বেঁচে থাকবাব স্বাধীনতা। সে স্বাধীনতা কান্তরামের, রহিম মিঞার, তােমার, আমার, সকলের। মহেশ্বর-কোম্পানিকে এসেমব্লিতে পাঠিয়ে ইংরেজের বিপক্ষে কড়া কড়া বক্তৃতা করানাে-র তার আত্মীয়-পরিষদের জয় ভাল ভাল কতকগুলাে চাকরি বাগানের ঘনতা নয়- সপ্তম দৃশ্য যােবতার বাড়ির একটি ঘর বিয়ের আসর। এৰীয়ের পাশে বধুকেশিনী অতী। অনেক মেয়ে ভিড় করেছে। তার মধ্যে একটির আয় কনুই অবধি চুড়ি পরা ন নেন। মনােরমা। ও বর, গান গাইতে হবে। ঘাড় নাড়লে শুনছি নে। প্রবীর। ঘাড় নাড়ব কেন? কাপুরুষ ভেবেছেন? নিশ্চয় গাইব। বাজান-আপনি বাজাতে শুরু করুন। অনলা। বালাতে ও পারে না প্রবীর। যা পারেন, তাতেই চলবে। গানেই টেনে নিয়ে চলবে বাজনা। মনােরম।। বানাব কি? কি আছে এখানে? প্রবীর। চুড়ি বাজান। আজ্ঞে হ্যা—চুড়ি। ওতেই চলবে। মনাের। হাতীপােতার বাড়ির চুড়ি-নিটে জিনিষ। এ বাজবে না।' সুল। বকামি কোরাে না। সবাই মিলে বলছি, গাও না একটা কিছু প্রবীর। এল। যা গাে, হা। কত আর বলব? প্রবীর। দুয়াের এটে দিন তবে। আমার কি, আপনারা সামলাতে পারলে হয়। ধরলাম তা হলে (গানের সুয়ে) একদা এক বাঘের গলার হাড় ফুটিয়াছিল। বা তো যায় ছটফট করিতে লাগিল। সুনশা। খামাে ভাই, থামাে• ছটফট আমরাও করছি- এবীর। গরি । গানের মাঝখানে গগােল করেন কেন। এখনাে অনেক আEে গাইব।
নূতন প্রভাত ( গানের সুরে) বাঘ ছটফট করিতে লাগিল। ছটফট করিতে লাগিল। তারপর ছুটাছুটি করিয়া সকলকে ডাকিয়া ডাকিয়া বলে, গলার হাড় বাহির করিয়া দাও। ভাই রে, রক্ষা করাে--রক্ষা করাে- সুনন্দা। হাতজোড় করে আমরাও বলছি-ভাই রে, রক্ষা করাে- রক্ষা করে। প্রবীর। রক্ষা পেতে চান তাে এক্ষুনি আপনি গান ধরুন- না। আমি কি তেমন প্রবীর। বিনা ভূমিকায়। নইলে আমার গান চলল আবার ( গানের সুরে) তখন বকপক্ষী বাঘের কাতর আবেদনে করুণা হইয়া সুন্দা মৃদুকণ্ঠে একটা গান গাইল। মনােরল। এবারে একটা কথা বল সিকি, ভাই। পছন্দ হয়েছে। প্রবীর। পছন্দ। সুন। ঘঁা গাে হা। মনে ধরেছে কি? এবীর। তা অপছন্দের কি আছে বলুন। দামি আসবাবপত্র, গা-ভরা ঘরের গয়না••এ সমস্ত অপছন্দ করবে, সে তাে আর গাধা। লা। এ তত নিলে কথাই হল, এই প্রবীর। নিলে কি বলছে দিদি। মুন। বড় রুলার তুমি-বইয়ের কথা জিজ্ঞাসা করলে যদি বলে, মলাট খুৰ ভাল-সেটা বইয়ের নিলে হল কিনা বলে। এখানে অবশ্য বইয়ের কথা নয়, বউয়ের কথা। প্রবীর। বউ আপনাদের তরফের মেয়ে বলে তাকে রেহাই নূত্র এত - দেবেন, আর আমি পরের ছেলে—আমাকেই সব ঝক্কি পােহাতে হবে, আমি গান গাইব, আপনাদের জেরার জবাব দেব, এ কেমন বিচার বলুন বিয়ে তাে একলা আমার হয় নি, অরুন্ধতীরও হয়েছে। তার জবাবটা আগে শুনব। সুনন্দা। বিয়ের কনে কিছু বললে তােমরাই দুষলে, দেখ–মেয়েটা কি রকম বেহায়া ! প্রবীর। কথা না বলে, মাথা নাড়িয়ে জানিয়ে দিক!•••উহু-হু। দিদি, চিমটি কাটছে-ঘােতর চিমটি রু। মিথ্যে কথা। প্রবীর। কথা বলে ফেলে, কথা বলে ফেলেছে । তাহলে আর কি? স্পষ্ট করে বলে দাও, সবাই শুনে যান-সেই একদিন যে বলেছিলে।•••বলবে না? কথাটা ফাস করে দিই তাহলে ? বেদিন বাতি ধরে আপনাদের এই জমিদারি-চক্কোর থেকে সরিয়ে দিয়েছিল, সেই সময়ে বলেছিল- আমাকে ওর খুব-খু-উ-উ-ব পছন্দ। দেখুন, ঐ দেখুন-জিভ বের করে ভেঙচাচ্ছে। অরু। মিছামিছি লাগাচ্ছে আমার নামে মহেশ্বরের স্ত্রী চন্দ্রমুখী প্রবেশ করলেন। চন্দ্রমুখী। তােরা মা, এইবার একটু ছেড়ে দে। খাবার দিচ্ছে। সুনন্দা। এখানে দিতে বলল, মামি-মা। আমরা সামনে বসে খাওয়াব তােমার জামাইকে। আজকে ছুটি নেই। চন্দ্রমুখী। ঠাকুর, এখানে নিয়ে এসাে তবে- একাও থালা ও অনেকগুলাে বাটি নিয়ে রয়ে যান এল। চন্দ্রমুখ সাজিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। প্রবীর। বাপ রে বাপ-থালা নাগিত-বিকৃত প্রান্তর। বাটি যে আমিই ঢুকে পড়ে বলে লুকিয়ে থাকতে পারি।
নূতন এত ১১৩ মনােরমা। এ আমাদের হাতপােতার বলে। মাই ওয়ানাের বাসন- প্রীর। কিন্তু জামাইও যে মানুষ-হাতী নয়।•••সর্বনাশ, এত দিয়ে গেছে- এ যে বিশজনের খােরাক। মনােরমা। এতেই আঁতকে উঠলে ? আমার বড় কাকা যে এক একবেলায় পুরাে একটা পাঠাই শেষ করে দেন। প্রবীব। হাতীপপাতায় পাঠার বড় দুর্দিন তা হলে? মনােরমা। টাকা খরচ করে তাই বাইরে থেকে আমদানি করতে অরু। ( মৃদু কণ্ঠে) জামাই করে সকলে হেসে উঠল। প্রবীর। খবরদার! সুনন্দা। এসব এ-বাড়ির দস্তুর, ভাই। এককালে বড় জমিদার ছিলেন, সেই জমিদারি ঠাট চলে আসছে। প্রবার। বিশভাগের এক ভাগও খেতে পান না। সত্যি বলছি, নষ্ট হবে। তুলে নিন। মনােরমা। নষ্ট হবে কেন ? # 3 র বিড়াল রয়েছে- অনেকদূর থেকে আওয়াজ আসছে--- ফটক খেলি আমরা ঢুকব ইত্যাদি। মনােরমা। শুনছ না? ঐ শােন-ঐ শােন- প্রবীর। কুকুর কেন হবে ? মানুষ গণ্ডগােল হচ্ছে- মনােরমা। হা-মানুষ! রাস্তার ভিখারি অবির মানুষ নাকি ? শােন না, কেউ কেউ করছে- প্রবীর। কেউ কেউ। গঙগােল•••অনেক মানুষের বচসা- ১১১ নূতন প্রভাত সুনন্দা। ব্যস্ত হয়ো না, ভাই। ওরকম এ-বাড়িতে হামেশাই হয়ে থাকে। ঝুড়ি-খুড়ি ভাত ফেলা যায় কিনা, রাজ্যের ভিখারি আর পাতি কাক এসে ভিড় করে। •••ও কি, হয়ে গেল? উঠে পড়লে যে। মনাের। এ রকম পাখীর খাওয়া খেয়ে বাচ কি করে? সুনন্দা। ভয় পেয়ে গেলে নাকি অমন রােজই হয়ে থাকে। কিন্তু ব্যাপার উগ্র হয়েছে। মহেরের উদ্বিগ্ন কণ্ঠ শােনা যায় অত লােক: কি সর্বনাশ, কি চায় ওরা ? সুনন্দা। মামার গলা। মানে, তােমার শ্বশুরের। বাসর ছেড়ে যেতে নেই ভাই, বেরিও না-বেরিও না— প্রবীর তখন উঠে দাঁড়িয়েছে অষ্টম দৃশ্য ঘোষকতার বাড়ির উপরের হল মহেশ্বর ও হলধর মহেশ্বর। কি মতলব ওদের ? কি চায়? হল। বলছে, নেমন্তন্ন খাবে। চিনে-জোকের মতো হুজুর, ন খেয়ে ছাড়বেই না। ঐঐ রেফটক ভেঙে ফেলল- মহেশ্বর। এক এক সিকি হিসেবে দিয়ে দাও সবাইকে। আমাৰ নাম করে বলো খাজাঞ্চিকে। চলাে-চলাে- দুজনে দ্রুত নিচে উঠানে নেমে এলেন। চাষীরা তখন ফটক ভেঙে ঢুকে পড়েছে। আকবর। সিকি দিচ্ছ ভিক্ষে ? যা খাচ্ছে ঐ ভদ্রলােকেরা, ঠিক তাই খাব। ওসব জুগিয়েছি তাে আমরা। হল। শােন আধার কথা। যত বড় মুখ নয়, তত বড় কথা, কুত্তার পেটে ঘি সইবে কি? নেয়া পুড়ে যাবে- মূল প্রভাত রায়সাহেব। পুলিশে খবর দিন, বেহাই। গেট ভেঙে ঢেকে এত বড় বুকের পাটা! দারােয়ানদের মােতায়ন করে দিন, এক শালাও বেরুতে না পারে। মহেশ্বর। মা-চাবকা বেটাদের-হরদম চাবুক লাগা। চোরের আবার ডাঙর গলা? ধান চুরি করবে, আবার চোখ রাঙাতে আসবে? রহিম। চোর বােলাে না। চোপরও! কান্তর ফাটা-মাথার গরম রক্ত লেগে আছে, টুটি চেপে ধরব এই হাতে- শশাঙ্ক রহিমকে সরিয়ে দিয়ে এগিয়ে দাড়াল। শশাঙ্ক। কেন এদের চোর বলছেন, কাকাবাবু? চোর তত আপনারা- মহেশ্বর। আমরা মানে ? শশাঙ্ক। আপনি এবং আপনার মতাে আর যারা আছেন। অন্যের জীবিকা ফকিজুকি দিয়ে নিয়ে নবাবি করা যাদের পেশা। ওদের ক্ষেতে ধান হয়, ওরা তা চোখেও দেখতে পায় না। ম্যাজিকে উড়ে এসে আপনার অট্টালিকা হয়, মােটরগাড়ি হয়, সােনা- হীরা-মুক্তা হয়, পােলাও-কালিয়া চোষ হয় -যেমন খুশি ফেলেন, ছড়ান, ভােগ করেন। কিন্তু কোটি কোটি এরা না খেয়ে থাকবে, আর আপনার অজস্র ভাণ্ডার কিছুতে নিঃশেষ হবে না, এ অবিচার এই চৌর্যবৃত্তি আর চলতে দেব না আমরা- মহের। আমরা চোর। এবীর কৃত উপায় হলে বেরিয়ে এল। পিরে নেয়। সুনশা। বেরুতে নেই ভাই, বেরিও না-বেরিও না। ঝগড়াঝাটি হচ্ছে, আম্মদেয় কান নেবার পর কি? এলে ও নূত হর। অমন রায়সাহেব, বলছে কি ন। আপনি আমি সবাই হলাম চোর- শশা। হ্যা, চোর। একশবার বলব, চোর আপনারা। বাবু চোর, মহাশয় চোর। রাতের অন্ধকারে চুপি-চুপি বেরুতে হয় , আপনাদের চুরি দিনদুপুরে। ধর্ম, সমাজ-সমস্ত আপনাদের পকে। সু সুন্দর সুপুষ্ট নেই—আপনাদের প্রাচুর্যের সামনে হাত পেতে গড়িয়ে আছে, যাদের সর্বৰ চুরি করেছেন তারাই রায়। বেশ বলছে হে! ঘােকরাটি কে? মহেশ্বর। আমাদেরই মাতুল-গােষ্ঠীর কুলাঙ্গার। দেখুন না, লবণ নিয়ে সেনাপতি সেজে যেন লড়াই করতে এসেছে। রায়। সৈরে তেজ দেখ না ! কি রকম বুক চিতিয়ে পড়িছে! যেন এক এক দ্যাখো পালােয়ান। চামড়ার নিচে ৩ হাড় কখানা--তবু যদি মাংস আৰুত একটু বেটাদের। ক। সেসব থাকতে দিছেন কি রকমাস কেটে এনে সিন্দুক বােঝাই করেছেন। মরে। এই পাঁড়ে, তেওয়ারি, এই বিশে, হচ্ছে কি ? ফটক বন্ধ কলি না কেন ? -ড়ি দিয়ে বাঁধ একটা একটা করে আকবর। নানা। ভাইসব, তােমরা আমরাও তাই। খ টাকা মাইনে তােমাকে মাকে কিনে ফেলেছে নাকি! তােমাকে আমাকে নিজে নে নিতে হচ্ছে এই সৰ খণওনা, মবে। মায়ের দিনে না? লিনা বেলে? •••, খ দিন। .
নুল এত মহোর। ফায়ার করব। দুটা বালে কয়ে তারপর কথা- চন্দ্রমুখী, এর ও মেয়েরা তাড়াগড়ি নিয়ে বাসায় নেমে এলেন। চন্দ্রমুখী মহেরের হাত ধরলেন। চন্দ্রমুখী। ক্ষেপে গেলে নাকি? শুভ-কাজের মধ্যে এ কি কাণ্ড! আমি মাথা খুঁড়ে মরব। প্রবীর। (বন্দুক চেপে ধরে ) ছাড়ুন, ছেড়ে দিন বন্দুক। শশা, আকবর, কি হচ্ছে এখানে এই সব ক্যাপামি? আবর। প্রবীর? তুমি বর? নেমে এসে নেমে এলাে আমাদের মধ্যে চন্দ্রমুখী। উঠে এসে বাবা। বাসরে চলল। বেনাে লক্ষণ। লা। চলে এসাে মাই, চলে এসাে- হিম। পিছুলে চলবে না। বােঝাপড়ার সময় এসেছে। আমারে আগে এসে দাড়াতে হবে আপনাকে আকবর। কোন দিকে যাবে, কমরেড ? মাকে মানুষ তােমরা -কোন দিকে যেতে চাও? উপর ঝলমলে আলো, সােনায় মােড়া হাতীপােতাৰ উচু ঘরের মেয়েরা। নিচে অন্ধকারসারবশি ঐ বুভুক্ষুর জলখানােয়ারের সামিল।•••দুদিক থেকে বাহু বাড়িয়েছে তােমার দিকে। ডাকছে হাতীতে ঐশ্বর্যের মায়া বিস্তার করে-আয় ডাকছে ঐ সর্বহালার ল, পর এশায় মুখের দিকে চেয়ে এর সিড়িতে এল। আৰ। আনন্দ কর। ইনক্লাব মিলা! सनिक विनिवाणित ১১৮ নূতন প্রভাত প্রবীর। আমারও জায়গা ঐখানে••নিচে, ওদের মধ্যে। প্রবীর নিচে গিয়ে শশাঙ্ককে তুলে ধরল। দেখা গেল, অরুন্ধতীও নেমে আসছে। মহেশ্বর। অরু, অরু মা, তুই কোথা চললি ? অরু। পথ ছাড়াে, বাবা। যেখানে আমার স্বামী রয়েছেন সেইখানে। নেমে সে জনতার মধ্যে শশাঙ্কর কাছে এল অরু। শশাঙ্কা, শশাঙ্কা! শশাঙ্ক। বিয়ের নেমন্তন্ন করে এসেছিলি। তাই এলাম, বােন মহেশ্বর। আগুন! বেহাই, সব জায়গায় আগুন ধরে গেছে। মেয়ে-জামাই পর হয়ে গেল। জনতা তখন নিঃশব্দ, শােকা। শশাঙ্ককে নিয়ে ধীরে ধীরে তার চলে যায়। এবীর এক অরুন্ধতীও যাচ্ছে। মহেশ্বর। অরু, অরু মা আমার রায়সাহেব। এবীর, প্রবীর- মহেশ্বর। চলে গেল। বুড়াে মানুষ-অামরা যেতে পারলাম না- একা-একা পড়ে রইলাম। বেহাই, কেউ রইল না আমাদের বিণদৃষ্টিতে মহের ও রায়সাহেব মিছিলের দিকে চেয়ে রইলেন।
নবম দৃশ্য শশাঙ্কের ঘর শয্যায় নির্জীবের মতো শশাঙ্ক। শিয়রে মা। অাকবর আলি, অরুন্ধতী, প্রবীর, রহিম ও কাস্তরামকে কোণে দিকে দেখা যাচ্ছে। উঠবে। শশাঙ্ক। সকালের দেরি কত, মা? মা। দেরি নেই, বাবা। শুকতারা উঠবে এইবার। শশাঙ্ক। এখনাে ওঠে নি? আঁধারে হাপিয়ে উঠছি, মা। চোখ বুজলেই গােল গােল আঁধারের কুণ্ডলী চাকার মতাে ঘােরে।• মেয়াদ শেষ হয়ে এল, নতুন প্রভাত কি আমি দেখে যেতে পারব না ? চারিদিকে মা, সােনার আলােয় ভরে যাবে। মানুষ জেগে অন্ধকারের সাপ-লাদুড়-পেঁচঃ 'অড়ালে গ-ঢাকা দেবে। অাকবর। কষ্ট হচ্ছে, শশাঙ্ক ভাই? শশাঙ্ক। হ্যা ভাই বড় কষ্ট।••সেই যখন একেবারে প্রথম বয়স, তখন থেকে স্বপ্ন দেখছি—পৃথিবীতে আসবে অনন্ত শান্তি, হাসিমুখ নরনারী, সকলের চোখে আশার আলাে-ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল সুন্দর শিশু-তাদের কেউ হবে ইঞ্জিনিয়ার, কেউ ডাক্তার, কেউ কবি, কেউ বিজ্ঞানী, কেউ শিল্পী, কেউ ভাবুকতারা স্বর্গের ফুল ফোটাবে পৃথিবীতে। পশুর হানাহানি শেষ হয়ে যাবে। আসছে••আসছে•• আসছে। কিন্তু আমি দেখে যেতে পারলাম না। কঁদিছ মা? আমারও কান্না পাচ্ছে। মানুষ ছেড়ে যেতে আমার মন চাইছে না। কাছে আয়, অরুন্ধতী। সেই প্রভাত খন আসবে, তাের শশাঙ্ক-দাকে মনে করবি। ফুর্তির মধ্যে ভুলে যাস নে, ভাই। আর একবার মনে (২) ৩ দেশ-২৭শে কার্তিক, ১৩৫• )...বিষয়বস্তুর দিক থেকেও গ্রন্থখানির অভিনবত্ব অনস্বীকার্য। বর্তমান গ্রন্থে মনােজবাবু এমন সব নরনারীর কাহিনী বর্ণনা করেছেন যাদের বৈচিত্র্যময় দানে বাঙ্গালার রাষ্ট্রীয় আন্দোলনের ইতিহাস সমৃদ্ধ—অথচ যারা আমাদের লেখক-লেখিকাদের কাছ থেকে সুবিচার পান নি। অবশ্য এই সুবিচার পাওয়ার কারণ বােধ হয় এই যে, এদের অধিকাংশ কাৰ্যই ছিল ভূগর্ভনিহিত। ফত্তে এদের দুঃসাহসিক বৈচিত্র্যময় কার্যাবলীর ইতিহাস অস্পষ্ট এবং বর্তমানে বিস্মৃতপ্রায়। ভুলি নাই’-এর মারফৎ মনােবাৰু এমনই কয়েকজন দুঃসাহসী বিপ্লবী নেতার সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেবার চেষ্টা করেছেন যুগান্তর-(২৮শে নবেম্বর, ১৯৪৩) বিপ্লববাদকে কেন্দ্র করিয়া একদা বাংলার তরুণসম্প্রদায় অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা গ্রহণ করিয়াছিল, সেই সময় বাঙ্গালী যুবকেরা হাসিমুখে জেলে গিয়াছে, ফাসীকাষ্ঠে ঝুলিয়াছে; তারপর মত ও পথের পার্থক্য হয়ত বিলক্ষণ ঘটিয়াছে। কিন্তু যাহারা সেদিন জীবন বলি দিয়াছিল, তাহাদের সাধনা ততা মিথ্যা নয়। তাহাদের ভােলা যায় না। সেই অগ্নিযুগের পটভূমিকায় লেখক কয়েকটি স্বাধীনতাকামী তরুণ-তরুণীকে লইয়া এই কাহিনী গড়িয়া তুলিয়াছেন। পড়িতে পড়িতে মনে হইল ইহাদের সকলকেই চিনি; কুম্ভলদা, উমাণ, মায়া, সমােজ—সকলেই আমাদের আপনার জন। ইহাদের কাহিনী স্বভাবসিদ্ধ দরদে সহিত ফুটাইয়া তুলিতে পারিয়াছেন, এইখানেই মনােজবাবুর কৃতিত্ব। আনন্দবাজার পত্রিকা-(৫ই ডিসেম্বর, ১৯৪৩) বাঙ্গালার বিপ্লব-যুগে কয়েকজন বিপ্লবীর চরিত্র এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু। বিপ্লব-নেতা কুন্তল সরকার একটি বিপ্লবী দলের নেতা। তাঁহার আহ্বানে এবং তাহার চরিত্রের আকর্ষণে কতিপয় তরুণ-তরুণীকে লইয়া দলটি গড়িয়া উঠে। ঐ দলেরই অন্যতম সদস্য শঙ্কর রায়ের কথার মধ্য দিয়া লেখক ফুটাইয়া তুলিয়াছেন-ঐ দলের অন্যান্য সদস্য-সদস্যা এবং নেতা কুন্তলার ত্যাগ, দুঃখবরণ, নিষ্ঠা আর তেজস্বিতার কাহিনী।... পুর্বাশা-কার্তিক, ১৩৫• )...উনিশ-শ তিতাল্লিশ সালের বাংলাদেশে স্বাধীনতা-আন্দোলনের ধারা আমুল পরিবর্তত হইয়াছে, স্বাধীনতার আদর্শও এখন স্বতন্ত্র। কিন্তু সে যুগের বিপ্লবী কর্মীরা তাহাদের ধ্রুব আদর্শপ্রীতি ও নিরলস কর্মপ্রেরণার জন্য নমস্য হইয়া থাকিবেন। গ্রন্থকার তাঁহার এই আধুনিকত (৩) ) নুতন গ্রন্থে কতকগুলি অন্ধকাল্পনিক চরিত্র ও কাহিনীর সাহায্যে প্রাগুক্ত কর্মীয় স্মৃতি-পণ করিয়াছেন।••• কাহিনীগুলির কাল উনিশ পাঁচ হইতে উনিশ। কিন্তু রচনাকালে অপেক্ষাকৃত আধুনিক উনিশ শ তিরিশ হইতে পঁয়ত্রিশ সালের সন্ত্রাসবাদ আন্দোলনের কথা গ্রন্থকারের অজ্ঞাতসারে মনে আসিয়াছে।মল্লিকা শীর্ষক অংশে উনিশ শ একুশ ও ছত্রিশ মিলিয়া গিয়াছে। তাহাতে একটি বিশেষ সুফল হইয়াছে যে জাতীয় আন্দোলনের গতি যে পরিবর্তিত হইয়াছে, তাহার আভাস পাওয়া সম্ভব হইয়াছে। পরিশেবে মানুষের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে যে বলিষ্ঠ কল্পনা করা হইয়াছে, তাহা পাঠকের মনে বর্তমান দুরবস্থার মধ্যেও আশার সঞ্চার করিবে। শনিবারের চিঠি- আশ্বিন, ১৩৫০ বিষয়বস্তু ইয়া নুতন ভঙ্গিতে লেখা উপন্যাস, দুঃসাহসিকতার প্রদীপ্ত। Amrita Bazar Patrika :-The book deals with the recent political phase of Bengal. Mr. Bose is perhaps the first of his class to use this romantic but grim period of hide-and-seek game by emotional youths as the theme of his story. But he has executed his task judiciously. The personalities he has introduced are brilliant.... Shankar the narrator is vivid, lively and absorbing. Ananda Kishore, Maya, Nirupama are full-sized portraits suffering no weakness in either colour or line. Mr. Bose's style is dignified yet subtle and keeps the reader enthralled. ভক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়-শ্রীযুক্ত মনােজ-বসুর “ভুলি নাই” উপন্যাস পড়িয়া বড়ই ভাল লাগিল। ভারতবর্ষে রাষ্ট্রীয় আন্দোলন ও স্বাধীনতার সংগ্রামের ইতিহাসে, এই শতকের (খ্রষ্টীয় কুড়ি শতকের প্রথম ও দ্বিতীয় দশকের বিপ্লববাদীদের একটা লক্ষণীয় স্থান আছে। দেশের মধ্যে প্রবল-প্রতাপ বিদেশী রাজশক্তির বিরুদ্ধে দাড়াইয়া যাহারা আত্মাহুতি দিয়াছিলেন, তাহাদের অনুসৃত নীতি এবং কাৰ্য-পদ্ধতি সম্বন্ধে মতভেদ থাকিতে পারে; কিন্তু তাহাদের আকুলতাময় দেশহিতৈষণা, স্বাধীনতার জন্য তাহাদের দুর্দমনীয় আকাকা এবং তাহাদের অসমসাহসিকতা সম্বন্ধে সন্দেহের লেশমাত্র অবকাশ নাই। ভারতবর্ষের নিপীড়িত প্রাণহীন মৃতকল্প জনগণের মধ্য হইতে এইরূপ উলাম এবং আমার প্রাণ সাহসের উন্তু কি করিয়া হইল, তাহা এক বিস্ময়কর ব্যাপার। এক পুরুষ আগেকার (৪) বােমা বিপ্লবীদের আজকালকার ছেলেমেয়েরা দেখে নাই, তাহাদের কথা শুনে নাই। হয়তাে ঐতিহাসিকের মরা সে যুগের সত্য ইতিহাস লেখার সময় এখনও হয় নাই, যদিও উপেন্দ্র, বারী, হেমচন্দ্র প্রমুখ পূর্বতন বিপ্লবীরা আংশিকভাবে তাদের নিজ নিজ জীবনকাহিনী প্রকাশিত করিয়া গিয়াছেন। কিন্তু তাঁহাদের যুগের কথা সাহিত্যিকের দৃষ্টি এড়াইবার নহে; এবং নিপুণ কথাশিল্পী শ্রীযুক্ত মনােজ বসু ইহাদের কথায় কিছু কিছু আভাস লইয়া যে চরিত্র-চিত্রণ ও মনােভাব বিশ্লেষণ করিয়াছেন বাঙ্গালা কথাসাহিত্যের ক্ষেত্রে তাহা চিরস্থায়ী হইয়া থাকিবে। দেশকে স্বাধীন করিবার দুবার চিন্তার ধুনী বুকের মধ্যে অহরহঃ জ্বালাইয়া রাখিয়া যাহারা চলাফেরা করিতেন, এই চিন্তার আগুনে যাহারা ব্যবহারিক পাপপূণ্যের বিচার এবং মনের কোমল বৃত্তি-মেহ-মমতা ভালবাসা এই দুইই যাহারা আহুতি দিতে চাহিয়াছিলেন, তাহারাও যে শেষ পর্যন্ত অদ্ভুত কৰ্মা হইলেও মানুষই ছিলেন, অনপনেয় মানবধর্মের কারণ তাঁহারাও যে সুখ-দুঃখ হাসি-কান্না মায়া-মমতার গণ্ডীর মধ্যেই নিজেদের ধরা দিয়া ফেলিতেন, তাহা সুগভীর অনুকম্পার সঙ্গে সার্থকভাবে গ্রন্থকার দেখাইতে সমর্থ হইয়াছেন। সহৃদয় অনুবী পাঠককে ত্যাগের আত্মবলিদানের এবং সঙ্গে সঙ্গে মানবধর্ষিতাব কতকগুলি মর্মস্পর্শী চিত্রণ অভিভূত করিবে। যথার্থ ট্রাজিক নাটকের উপযােগী রসের আস্বাদনও এই বই হইতে তিনি করিতে পারিবেন। এই বইয়ের যে সমূচিত আদর হইয়াছে শুনিতেছি, তাহাতে বাঙ্গালী পাঠকসমাজকে অভিনন্দিত করিতে ইচ্ছা হয়। কথা-সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ মুখােপাধ্যায়-ভুলি নাই’ পড়িলাম। জানি না, আপনার জীবনের সঙ্গে কতটা সম্বন্ধ ঘটনা ও চরিত্রগুলির, তবে অক্ষরে অক্ষরে দরদ যেন উছলিয়া পড়িয়াছে। প্রাসঙ্গিক ক্রমে বলা চলে—এই দরদ আপনার লেখার জীবন-স।...বইয়ে প্রত্যেক চরিত্রটি নিজের জগতে সম্পূর্ণ-আশা-নিরাশা দিয়া গড়া নিজের নিজের জগতে। আর একটা জিনিষ বইটির মধ্য দিয়া ফুটিয়া বাহির হইয়াছে-সেটা আশার আলাে—এত সহানুভূতির সহিত লেখা যে মনে হয়- শত ট্রাজেডির মধ্যেও তাঁদের আশার কথাটাই বড়। শেষ অধ্যায়ে যেখানে আপনি এ কথাটাকে নষ্ট করিয়াছেন সেখানটার কথা বলিতেছি না। আমি বলিতেছি, কলমের গুণে, না বলার চেষ্টা সত্বেও যেখানে সেখানে এই কথা ফুটিয়া বাহির হইয়ছে—সমস্ত বইখানির মূল বস হিসাবে।
(৫) Behar Herald :--No new introduction is necessary of Monoj Bose's literary talent. He is a past-artist. Bengali-knowing literary public who are interested in our literature know him full well. His 'Bana Marmar.' 'Narabandh', 'Prithibi Kader' and 'Debi Kishori' have already stored for him a bag of reputation which will for a long time stand as an object of envy for the so-called Burgeoise entrantees in our literature. Bhuli Nai is a novel dealing with revolutionary characters of whom Kuntalda is hero. Kuntalda is no dreamer-he is a man of action, of speed and of scientific outlook. He knows full well that speeches, meetings and resolutions are of no avail, strenuous nervous effort and immense sacrifice are necessary for emancipation of the mother-country and for creating a strong foothold for the future children of India. Kuntalda is the central rod round which other revolutionary: characters rotate and the success of Kuntalda was deemed by all their own success. Kuntalda to them and to us as well is not only the hero and leader but a true son of Mother India-India that is, and that will be. Kuntalda is the ideal not of present but of future as well ; say, for all time.... দুঃখ-নিশার শেষে (২য় সং , পাচ মাসে প্রথম সংস্করণ নিঃশেষিত। দাম দুই টাকা। সজনীকান্ত দাস-( যুগান্তর ৭৪৫১) যাহারা ‘বন-মৰ্ম্মর ‘নয়-ৰাধ ‘দেশী-কিশােরী’ যুগের রােমান্টিক মনােবৃত্তি সম্পন্ন শিল্পী মােজ মুর লেখার সহিত পরিচিত, তাঁহারা গত তিন-চার বৎসরের মধ্যে প্রকাশিত তাহার গল্প ও নাটক- গুলিতে পুৰ্বতন দৃষ্টিভঙ্গী ও আদর্শবাদের পরিবর্তন দেখিয়া বিস্ময় বােধ করিবেন। ‘পৃথিবী কাদের’ পুস্তকে মনােজবাবুর এই আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গী সর্বপ্রথম স্পষ্ট হইয়া উঠে; তিনি স্বপ্নবিলাস পরিত্যাগ করিয়া এই ধুলামাটির পৃথিবীতে অবতীর্ণ হইয়া গলিত পিষ্ট সর্বহারা মানুষের সুখদুঃখের কথা অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে তাহার পাঠকদের কাছে নিবেদন করেন। তাহার মতবাদ তাহার নিজস্ব, অন্তরের গভীর বেদনা হইতে উদ্ভূত, সর্বপ্রকার ইজ মনিরপেক্ষ। এই কারণে তাঁহার লেখা পড়িতে আমাদের শিল্পবােধ লুপ্ত হয় না, সােপভোগের সঙ্গেই তাহার উদ্দেশ্যকে আমরা স্বীকার করিতে পারি। বর্তমান গল্পসংগ্রহে মনােজবাবুর এই আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গীর চরম বিকাশ পরিলক্ষিত হইল। সকল গল্পই আমাদের এই বাঙ্গালী জীবনের বাস্তবকঠিন ও বিচিত্র সমস্যার পরিচয় ও সমাধানমূলক সুখপাঠ্য গল্প। আমাদের দুঃখ-নিশার সমাপ্তির দিকেই এগুলির লক্ষ্য। গল্পগুলি শুধু আমাদিগকে আনন্দ দেয় নাই, আমাদেরই এই মাটির পৃথিবীতে অতি পরিচিত মানুষ ও সমাজের মধ্যে আমাদের সবস্তুর সন্ধান দিয়া আমাদিগকে পরিণাম সম্বন্ধে ভাইয়া তুলিয়াছে। এই মন্বন্তরের দিনে সাহিত্যরস ও বাস্তব প্রয়ােজনের সামঞ্জস্য বিধানের জন্য মনোজবাবুকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাইতেছি। প্রবাসী-(আষাঢ়, ১৩৫১) কাহিনীগুলি সৰ্বহারা কৃষক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর দারিদ্রের দুঃখ-দুর্দশা লইয়া রচিত। ধনবৈষম্যে সমাজ-ব্যবস্থার কলুষ কতদিকে এবং কত ভাবেই না আত্মপ্রকাশ করিয়া মানুষের জীবনকে পঙ্গু করিয়া দিতেছে—এগুলিতে তাহ নিপুণ ভাবে উদঘাটিত হইয়াছে। মনােবাৰু শক্তিমান লেখক। অনুভূতি তাহার তীব্র, মন দরদী, এই দরদ কোন কোন ক্ষেত্রে ভাববিলাসে পর্যবসিত হইয়া এক শ্রেণীর পাঠকচিত্ত বিনােদন করিয়া থাকে। মনােবাৰু সে চেষ্টা মাত্র করেন নাই। গল্প পড়িতে পড়িতে মনে হয়, কৃষক-জীবনের সহিত তাহার প্রত্যক্ষ বােগ আছে। তাই তাহাদের আচার-ব্যবহার, আশা-আকাকা দুঃখ ঢ্যি মুঢ়তা মিশাইয়া বেদনা-খালাময় ছবি অাঁকিতে পারিয়া- ছেন। এই বেদনা কোথাও ঘটনা বিন্যাসে কোথাও সংলাপে কোথাও বা মন্তব্যের যারা পরিস্ফুট হইয়াছে। ভূমি ও অন্ন-বঞ্চিতের জ্বালা কোন কোন গল্পে এত তীব্র হইয়া ফুটিয়াছে যে, আখ্যানভাগকে অতিক্রম করিলেও গল্প-রস-বিচ্যুত মনে পীড়া নাম না। Amrita Bazar Patrika (28. 5. 44) The short stories under review mark the mental evolution of a highly sensitive writer Before an overwhelming social tragedy he seems to be ashamed of so long riding the high horse of pure literature and he frankly subordinates his art to propaganda. If he errs he errs on the side of truth. He deserves our deepest sympathy as an artist who (1) torn from the moorings of the past is struggling to adjust himself to new conditions of life, When the turbulence of transition has settled down and art has come to its own in life, these martyrs will be gratefully remembered as harbingers of a new intellectual order. একদা নিশীথকালে (২য় সং) নি হাস্য-মধুর গল্পের সংকলন। নামজাদা আর্টিস্টদের আঁকা বহু রেখাচিত্রে সুশোভিত। বিচিত্র রূপালি প্ৰচ্ছদ-পট। দ্বিতীয় সংস্করণ নব নব চিত্র সহযােগে প্রতি-উপহারের বিশেষ ভাবে উপযােগী করা হয়েছে। দাম দু’টাকা চার আনা। শনিবারের চিঠি—যাহারা মনোজবাবুর গম্ভীর শব্দ ‘বনমর’ ‘নবাব’ প্রভৃতি পড়িয়াছেন, তঁাহারা হালকা লেখাতেও তাহার ক্ষমতা দেখিয়া বিস্মিত হইবেন। গল্পগুলি চিত্র-শােভিত হওয়ায় পাঠকদের রসেপসন্ধির সহায়তা করিবে। মনােবাৰু কথার যাদুকর—অতি সামান্য ঘটনাকে তিনি কাজে লাগাইয়াছেন...গল্পগুলি এই দুর্দিনে অনেকের ভারাক্রান্ত মনকে লঘু করিবে। প্রবাসী-যে-কোন গল্প পড়িতে আরম্ভ করুন, আপনাকে শেষ পর্যন্ত টানিয়া লইয়া যাইবেই।... আনন্দবাজার পত্রিকা-হাসির গল্পের সমষ্টি।•••দুর্দশাপিষ্ট মানুষের মনে সরসতার সঞ্চার করিবে। যুগান্তর—লেখনী-চাতুৰ্যে গল্পগুলি যেমন মনোরম তেমনই হৃদয়স্পর্শী হইয়াছে। যে মায়ালােক গড়িয়া উঠিয়াছে, উহার অনিবাৰ্য আকর্ষণে আজিকার দিনের বিপৰ্য্যন্ত মানুষ ক্ষণিক সােয়াস্তির নিঃশ্বাস ফেলিবে। পথিবী কাদের? (২য় সং) ছােট-গল্পের পরিধির মধ্যে বলিষ্ঠ মননশীলতা যেরূপ মনােহর বিচিত্ররূপে প্রকাশ পেয়েছে, শুধু এদেশে নয়-বৈদেশিক সাহিত্যেও (৮) তা অত্যন্ত দুর্লভ। অমৃতবাজার পত্রিকা বলেছেন—it is a departure in the fiction-literature of the province - et অতিশয়ােক্তি নয়। দ্বিতীয় সংস্করণে বাধাই ও প্রচ্ছদপট অতি অভিনৰ হয়েছে। দাম দেড় টাকা। Amrita Bazar Patrika :-As the title of the book suggests Mr. Bose--a reputed writer-has tried herein and in course of five other vivid and illuminating stories to look at the eternal question of "Haves" and "Have-nots".... Mr. Bose's treatment of the subject is artistic and rcaders will find in the volume-a lively and vigorous study of Bengal's rural problem-cent per cent refreshing. It is a deparure in the fiction literature of the province. The first story...culminates in the couple absconding from their native village. But betore they do so they enjoy the malicious pleasure in setting their cottage, in building which they spent their all energy, to fire. On the road to No Man's Land Saudamini is bitter but is not "proletarian", She curses her lot and says that next time when she would be face kace with her Creator she would demand from Him an answerthe earth has been divided amongst others why do You send us there ?-a typically Indian answer to the most topical and perplexing question that humanity has ever been faced with. Mr. Bose's style is sensitive and poetic and never does he commit thc fatal mistake of taking sides and so the readers' sympathy remains where the anthor intends them to rest. আনন্দবাজার পত্রিকা-দরিদ্র মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জীবন লইয়া শহুলােক নাড়া-চাড়া করিয়াছেন ও করিতেছেন, কিন্তু বাংলার কৃষক-জীবন লইয়া খুব বেশী লেখক আজ পর্যন্ত লেখনী ধারণ করেন নাই। মনােজবাবু যে বহু-কর্ষিত পথে না যাইয়া নূতন ক্ষেত্রের সন্ধানী হইয়াছেন, ইহাতে আমরা আনন্দিত হইয়াছি। আলােচ্য বইখানি হাতে লইলেই বইখানার নাম প্রথমে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করিবে। সমাজের মর্মমূলে আজ যে প্রশ্ন জাগিয়াছে, এই নামটুকুর মধ্য দিয়া লেখক সেই প্রশ্নকেই রূপ দিতে প্রয়াস পাইয়াছেন। সৌদামিনী অশিক্ষিত দরিদ্র কৃষকের বউ হইলেও অসাম্যের বিরুদ্ধে আজ জগতে (১) যে আন্দোলন মাথা তুলিয়াছে, তাহার ঢেউ তাহার বুকেও আসিয়া লাগিয়াছে। ঘটনাকে বিশ্লেষণ করিয়া দেখিবার শক্তি তাহার নাই, কিন্তু চিন্তা করিবার তাহারও একটা প্রণালী আছে।মাটির সঙ্গে যে কৃষক-জীবনের একটা অচ্ছেদ্য সম্বন্ধ আছে, মনােজ বাবু তাহা সফলতার সহিত দেতে, মাঝিয়াছে মানুষের হৃদয়ের উপর গল্পগুলি গভীর ছাপ রাখিতে পাবি, এ বিষয়ে আমরা নিঃ ক নুতন প্রভাত সং), বাংলার প্রথম প্রগতিনাট্য। হিন্দু-মুসলমা কষক-মিদার সমস্যা নবীনতম চিন্তার আলোকে দেখান হয়েছে। যারা গণচেতনা উদ্বোধনে প্রয়াসী, মহাচীনের মহাে-রাশিয়ার মতাে সর্বত্র এই নাটকের অভিনয় করবেন। দাম দেড় টাকা। অহীন্দ্র চৌধুরী-মনােজ বাৰু যে নূতনত্ব করেছেন, তা গতানুগতিক নাটকীয় প্রথা নয়। এই ধরণের প্রচেষ্টার তিনি মুখপাত করলেন বলতে হবে। শ্রীনরেশচন্দ্র মিত্র-‘নূতন প্রভাত’ নাট্যসাহিত্যে যুগােপযােগী অবিস্ময় অবদান। হিন্দু ও মুসলমানের এক স্বার্থ—এই ছবি নাটকে সুনিপুণ ভাবে চিত্রিত হয়েছে। নাটকের প্রত্যেকটি চরিত্রই জীবন্ত। এই ধরণের নাটকেরই আমরা কতকাল ধরে প্রত্যাশা করছি। সর্বত্র এই নাটকের অভিনয় হােক। নির্মলেন্দু লাহিড়ী-হে নিপুণ শল্যবিৎ, অস্ত্রোপচার আপনি যথাযথ স্থানেই করিয়াছেন। ব্যথা পাইয়াছি প্রচুর। চক্ষু জলে ভরিয়া গিয়াছে, কিন্তু ক্ষত আরােগ্যান্তে নূতন স্বাস্থ্যলাভের প্রত্যাশায় আপনাকে ধষ্ঠবাদ না দিয়া পারি না। শুদ্ধ আমার পক্ষ হইতেই নয়-সমগ্র দেশবাসীর পক্ষ হইতে। ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়—পৃথিবীতে আবহমান কাল ধরিয়া মানুষ মানুষকে স্বার্থপর ভাবে নিজের কাজে লাগাইয়াছে—কোথাও অজ্ঞানে, কোথাও সজ্ঞানে। অজ্ঞানেই হোক বা সজ্ঞানেই হােক, এই স্বার্থপরতার সূত্র ধরিয়া, আধুনিক বিচার অনুসারে, মানুষকে দুটী শ্রেণীতে ফেলা যায়—যাহার প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে পরের মাথায় কাঁঠাল ভাজে, আর যাহাদের মাথায় কাঁঠাল (১০) ভাজা হয়। আধুনিক কালে বিজ্ঞানে ও বিদ্যার যুক্তি ও কৌশলে এই ব্যাপার অতিশয় ভয়াবহ রূপ ধারণ করিয়াছে, এবং কেবল যে এক সমাজের মধ্যে মানুষ মানুষকে বা মানুষের একদল আর একদলকে এইভাবে শােষিত ও নিপীড়িত করিতেছে তাহা নহে, জাতিগতভাবে একটি জাতি সমগ্র আর একটি জাতির উপর এই ধরণের অত্যাচার চালাইতেছে। সাম্যবাদের কৃতিত্ব এইখানে, যে স্বার্থান্ধ শােক ও নিপীড়ক মানুষ ও জাতির মুখে মুখস এই মতবাদ খুলিয়া দিয়াছে ; এবং শশাষণ- নীতির স্বরূপ প্রকাশ করিয়া দিতে নিপীড়িত জাতির মুক্তিকামীদের চেষ্টাও কম কাৰ্যকর হয় নাই। শোষণনীতি নিজের পথ নিষ্কণ্টক রাখিবার জন্য সবকিছুই সাহায্য লইয়াছে, লইতেছে, এবং লইবেও ; ধর্ম ইহাদের কাছে একটি অতি সহজলভ্য এবং শক্তিশালী অবরণ, বিশেষতঃ যদি মূখ এবং অসহায় শােষিত জনগণের মধ্যে শিক্ষার আলোকে পরিবর্তে ধর্মান্ধতার অন্ধকার বিদ্যমান থাকে। সত্য কথা বলিতে গেলে, ধর্মের খোলস পরিয়া থাকিলেও এবং স্বার্থান্ধতায় সেই খােলসকে সত্য বস্তু বলিয়া বিশ্বাস করিলেও, ধর্মণী শোবকগণ বিভিন্ন প্রকারের ধর্ম (অথবা রাষ্ট্রনীতি) মানিলেও, ইহাদিগকে সমধয়ী বা এক জাতির মানুষই বলিতে হয়। আজকাল পৃথিবীর অন্য দেশের মত ভারতবর্ষে এবং বাঙ্গলাদেশেও এই শােষক জাতির লােকদের একটি প্রবল দল ধমকে উপলক্ষ করিয়া দেশের মূক ও অক্ষম মানুষদের নিজের কাজে লাগাইতেছে। বিভিন্ন দৃষ্টিকোর এবং বিভিন্ন মানসিক প্রবণতার কারণে, পিতা ও পুত্র, ভ্রাতা ও ভ্রাতা কোনও কোনও স্থলে আর এক বাতির থাকিতে পারিতেছে না। মানুষের মনে নানা সূত্র অতি জটিলভাবে মিলিত হইয়া কাজ করে; কিন্তু সব জট খুলিয়া আসল মনটি বাহির হয়, যখন মানুষ স্বার্থকে ( বিশেষ করিয়া অন্যায় স্বার্থকে ছাড়িতে বা তাহাকে আঁকড়াইয়া ধরিতে চায়। এই সব সমস্যা আমাদের এই যুগে এত প্রবলভাবে দেখা দিয়াছে, যে তাহা আমাদের সত্যকার সাহিত্যিকদের লকলকেই কিছু না কিছু নাড়া দিতেছে। শ্রীযুক্ত মনোজ বসুর চিন্তায় এই অবস্থার প্রতিক্রিয়া সম্প্রতি তিনি “তন প্রভাত” নামক মনােজ্ঞ নাটকখানিতে প্রকাশ করিয়াছেন। এখানে রাষ্ট্রশক্তির মারফৎ কাৰ্যকর জাতীয় শোষণনীতির পাশে, দেশের চিরাচরিত রীতিতে জমিদারী-পদ্ধতির অপকৃষ্ট বিকারের ফলস্বরূপ অন্য প্রকারের শােষণ নীতি এবং সঙ্গে সঙ্গে ধর্মের দোহাই পাড়িয়া ইহাদেরই সহােদ অন্য আয় এক ধরণের শােষণ ও দলৰ নীতি—এই সমকেই নিপুণ তুলিকায় নাট্যচিত্রে দেখানাে হইয়াছে।
Old এই সকল সমগো অত্যাচারের বিপক্ষে যে বন্ধুক্তি দাড়াইয়াছে ও জনশক্তিকে উদ্বােধিত করিবারা করিতেছে, তাহারও সার্থকচিত্র তিনি অকিয়াছেন। ইংরাজী প্রভৃতি ইউরােপীয় ভা এই সব সমস্যা—আনি জীবনের অতি সত্যকার সমস্যা- লইয়া খচিত ভাল ভাল নাটঅভাব না কিন্তু বাঙ্গালা ভাষায় এই ধরণের নাটকের নিতান্ত অপ্ৰাচুৰ্য—অন্ততঃ আমি এই প্রকার সমস্যা লইয়া ও এইভাবের সত্যদিদৃক্ষা ও সাহসের সঙ্গে লেখা নাটক বাঙ্গালায় পড়ি নাই। অভিনয়ে এইরূপ নাটকের সাফল্য ও সার্থকতা হইবেই ; তবে যাহারা স্বার্থ ও শান্তি, নিজেদের প্রতিষ্ঠা ও ধর্ম দুই জড়াইয়া ফেলিয়াছেন, এ ধরণের নাটক তাহাদের পীড়া দিবে। মনােজ বাবুর নাটকের চরিত্রগুলি ঠিক যেমনটি হওয়া উচিত তেমনি হইয়াছে। The way to Hell is paved with good intentions--নরকের পথটা সাধু সঙ্কল্পে মোড়া; এই উক্তির সার্থকতা পাই কতকটা জমিদার মহেশ্বরের চরিত্রে। তবে জমিদারদের মধ্যে অত্যাচার করিবার শক্তিও বিলুপ্ত হইতেছে । আগেকার মত দোর্দণ্ডপ্রতাপ শক্তিশালী জমিদার আর নাই, তঁাহারা মহেশ্বরেরই মত শাসক-শক্তির সাহায্য লইয়া আইনের মার-পেচের মধ্যে ফেলিয়া প্রজাদের শায়েস্তা করিবার চেষ্টা করেন। Nobless oblige-পিতৃপুরুষের চারিত্রিক মহত্ব মহের যে বুঝিতে পারেন না তাহা নয়। কিন্তু তাহার অনুচর হলধন-চরিত্রটাও অতি খাটি জিনিষjackeydom অর্থাৎ পর প্রসাদপুষ্ট খ-বৃত্ত জীবের মতিগতি এই চরিত্রে বেশ ফুটিয়া উঠিয়াছে। আমিনুল হককে আমরা সহজেই সব জায়গায় ধরিতে পারি। এবং রহিম বাঙ্গালীদেশে ভস্মাচ্ছাদিত বহির মত নানা স্থানে বিদ্যমান আছে বলিয়াই আমরা এখনও ভগ্নোৎসাহ হই নাই। শশাঙ্ক ও মায়ের চরিত্রে যে আদর্শবাদের প্রতিষ্ঠায় দুঃখবরণের চিত্র দেখিতেছি, তাহা এই অভিশপ্ত বাঙ্গালাদেশে বিধাতার একমাত্র আশীর্বাদ; এবং অরুন্ধতী-প্রবীরের মত ভাবুক ও সতাদশী তরুণবয়স্ক পাত্রপাত্রী আশা করি দেশ হইতে এখনও অন্তর্হিত হয় নাই। মোটের উপর, “নূতন প্রভাত" একখানি যুগােপযােগী নাটক, সত্যদৃষ্টি ও সত্যভাষণের উপর ইহার প্রতিষ্ঠা। সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার-(অরণি, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৪)•••নবনাট্য আন্দোলন সহর হইতে পল্লীতে ছড়াইয়া পড়িলে সমাজ-জীবনের বিবর্তনের গতিকে দ্রুত করিবে। বাঙ্গালার শক্তিশালী লেখকগণ এই শ্রেণীর নাটক রচনা করিবার দায়িত্ব নিশ্চয়ই গ্রহণ করিবেন। আমরা দেখিয়া সুখী হইলাম, সুসাহিত্যিক এবং (১২) ঔপন্যাসিক মনােজ সুষ এইকাৰ্যে অগ্রসর হইয়াছেন। নুতন প্রভাত’ তাহার এই ধরণের প্রথম নাটক। গণ-আন্দোলনের পটভূমিকায় পল্লীর কৃষক-জীবনের সমস্যা লইয়া নাটকখানি রচিত। প্রগতিশীলতার সহিত রক্ষণশীল গতানুগতিকতার দ্বন্দ্ব-সংস্কৃতি- মান বৈপ্লবিকভাবে অনুপ্রাণিত শিক্ষিত যুবকদের নেতৃত্বে শ্রেণীস্বার্থ-সচেতন কৃষকশ্রেণী সাম্প্রদায়িকতার মোহমুক্ত মন লইয়া কিভাবে স্বাধিকার রক্ষা ও অর্জন করিতে পারে—ইহাই নাটকের মর্মবস্তু। জমীদার, দারােগা, গোমস্তা, সরকারি উকীল প্রভৃতি চরিত্রগুলি এত বাস্তব হইয়া ফুটিয়াছে যে, ইহাদের অনায়াসেই চেনা যায়। নীচতা, ভণ্ডামি, স্বার্থলােভ, চরিত্রষ্টতার বিরুদ্ধে জাগ্রত সমাজ-মনের অভিমান ও অভিযান ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে যে ভাবী সমাজের ইঙ্গিত নাট্যকার অঙ্কিত করিয়াছেন, অদ্যকার ক্লিষ্ট পল্লীজীবন তাহারই প্রতীক্ষা করিতেছে।•••অভিনয়ে- পযােগী ভাষার চাতুৰ্যে পাঠকের (এবং দর্শকদেরও) মনে কৌতূহল শেষ পর্যন্ত জাগ্রত থাকে। Type চরিত্র সৃষ্টিতে মনােজবাবু যে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়াছেন, তাহাতে আমরা আশান্বিতচিত্তে তাহার নিকট এই শ্রেণীর আরও নাটক প্রত্যাশা করিব। কৃষক-সমাজে অন্যায় ও দীর্ঘস্থায়ী অবিচার ও শােষণের বিরুদ্ধে ব্যয়বুদ্ধি ও সশক্তি জাগ্রত করিতে এই শ্রেণীর নাটকের উপযােগিতা রহিয়াছে, ইহা বলাই বাহুল্য। Amrita Bazar Patrika -Sj. Monoj Basu has already made his name as a delighiful writer of fiction with special aptitude for delineating village life. He has acute observation, large fund of sympathy and idealism. In the result he has acquired a thorough understanding of the true nature of the problems and the agitations of our workers on the soil. In this drama, which we believe is. the first of its kind, he has painted a flaming picture of the awakening among our agricultural classes and their struggle against the deep-rooted and traditional oppression of landlordism. The hero of the drama is Sasanka, a worker among the masses, who returns from prison with broken health to find the landlord of the village a relation and a man belonging to the same class of society, more determined in his tyrannical activities. There is communalist propaganda among the peasants, to make matters worse. The conflict which is thus precipitated ends in the death of the hero { ১৩) from assault by the landlord's men. This is a problem play and underlines the proposition that Hindu and Muslim interests are basically identical, being economic in fundamental character. lo courage of portrayal, realism and swiftness of action this drama has achieved a high watermark of merit. (5. 3. 1944). যুগান্তর-সুপরিচিত কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার মনােন বর এই নূতন নাটকটি সাহিত্যপাঠক এবং নাট্যমােদী সম্প্রদায় কর্তৃক সাদরে গৃহীত হইবে হিন্দু-মুসলমান সমস্যার পটভূমিতে দেশের বাস্তব দুঃখ-দৈন্তের স্বরূপ নিপুণভাবে। উদঘাটিত করিয়া লেখক তাহা দূরীভূত করিবার পন্থা দেখাইয়াছেন—কিন্তু সেই প্রত্যক্ষ উদ্দেশ্যকে ছাপাইয়া ইহার নাটকীয় রস ও সুষমাই বড় হইয়া ফুটিয়াছে। পেশাদার ও সৌখীন রঙ্গমঞ্চ এই নাটকে অভিনয় করিলে তাহা একাধারে দেশে যেন নুতন চিন্তা-বিস্তারের, তেমন উন্নত রুচির নাটকাভিনয় প্রবর্তনের সহায়ক হইবে। বইটির বহুল প্রচার কাম্য। (২৬।১৯৪৪) প্লাবন (২য় সং) তিন অঙ্কে সমাপ্ত আধুনিক নাটক। নটসূর্য অহীন্দ্র চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘নাট্য ভারতী’র পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে বহু দিন এই নাটক অভিনীত হয়েছে। পল্লী-অঞ্চলে অভিনয়ের সুবিধার জন্য নাটকে পৃথক নির্দেশ দেওয়া আছে। সাহিত্য হিসাবেও অবিস্মরণীয়। দাম দেড় টাকা। যুগান্তর (২২শে আগষ্ট, ১৯৪১)-নাট্যভারতীর নবতম অবদান খ্যাতিমান সাহিত্যিক মনােজ বসুর প্লাবন'। নাটকের সংবেদনশীলতা ও লিপি-চাতুৰ্য্যে সুদক্ষ শিল্পিমণ্ডলীর সুন্দরের সাধনার মাঝে নব নব বিস্ময়ের উমােচন রসপিপাসুদের মনে গভীর রেখাপাত করিয়াছে। অজানার উদঘাটনে কৌতুহলী দর্শকদের আবিষ্ট করিয়াছে।...জমিদারের শােষণে প্রজার মর্মপীড়াজাত সঞ্চ-লব্ধ চেতনায় মাঝে কৃষকের স্বকীয় দাবী প্রতিষ্ঠার উন্মাদনা, কৃষককর্মী কমলেশের প্রতি শহরের কৃত্রিম জীবন-যাত্রায় অভান্ত বিলাস-পালিত মিদা-কথা সবিতার বিরূপ মনােভাব ঘনিষ্ঠতায় আশা-উল রূপান্তর, কমলেশের জাদু-স্পর্শে পল্লীর স্বচ্ছল জীবনের প্রতি সবিতার মমত্ব-বােধ, দিক-ভাসানাে প্লাবনের ভয়াবহ নৃশংসতা নাটকের কাহিনীকে (১৪ ) উজ্জল করিয়া তুলিয়াছে। সমাজ-কাঠামাের প্রাণহীন কৃত্রিমতার প্রতি ব্যঙ্গের কণাঘাত ও নিপীড়িত জনগণের দুঃখমোচনের ঐকান্তিকতা লীলায়িত হইয়া, নাটকখানির মর্যাদা বৃদ্ধি করিয়াছে। বনমৰ্ম্মৰ (২য় সং) নৱবাঁধ (২য় সং) ; ‘বনমর্মর’ ও ‘নবাব’ সম্বন্ধে পরিচয় দেওয়া নিষ্প্রয়ােজন। বাংলা- সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসাবে বই দু-খানি সর্বত্র সমাদৃত। ‘বনমর’-এর প্রথম সংস্করণ প্রবাসী কাৰ্যালয় থেকে ছাপা হয় ; এই প্রথম-লেখা বইয়ের সঙ্গে সঙ্গেই লেখক সাহিত্য-ক্ষেত্রে স্থায়ী প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। বই দু-খানার প্রথম সংস্করণ বহুকাল নিঃশেষিত হয়েছিল। আমরা পুনর্মুদ্রণ করেছি। নরবাঁধের অনেক অংশ পুনর্লিখিত ও পরিবর্ধিত হয়েছে। বনমর্মরের দাম ২; নরবাঁধের দাম ১৮। কয়েকটি মাত্র সমালোচনার সামান্য অংশ নিয়ে উধৃত হল- বনমৰ্ম্মর সম্বন্ধে Shree Guru Saday Dutt-To read Manoje Basu's short stories is to feel unmistakably that a new force has emerged in the sphere of Bengali fiction. We have been treated to a plethora of sickly sentimentality and didacticism, a surfeit of shameless sensuality and sexualism, veiled and unvelied and an insensate craze for novelty for the sake of novelty and tor studied mysticism in thought and language. Here we find a different article ; clarity of conception, forcefulness of delineation and fidelity to life-the very flesh and blood and bone of healthy fiction you have here in abundance ; you have happy turn of idea in expression and the sparkling flash of dialogue too in refreshing profusion ;- but what is more important-you have also the enchanting atmosphere of romance and above all and to crown all ---a pervading spirit of lofty idealism which comes as a healing balm of the soul. A delightfully unstudied simplicity of diction, an innate sincerity of emotion and a vivid and true-to-type character-delineation meet you here at every turn,--while instead of a laboured attempt at psycho-analysis, which is the prevailing fashion of the day, you (১৫) have lightning touches of dialogue and expression which reveal to you in a flash the hopes and fears, the strength and weakness and the beauty, sweetness and simplicity of soul of the men and women who people this dear land of Bengal. In short, you have here a truly national story-teller who promises to give you the very stuff that your soul and the nation's soul is yearning for to-day, I cannot vouch for what you want, but for my part I cry-give me Bankim, give me Sarat, but after that--for God's sake give me Manoje! পরিচয়—যে retrospect, চিন্তার গভীরতা এবং মনের বেদনা-বোধ থাকিলে লেখা চিরন্তনের পর্যায়ে গিয়া পৌছায় তাহা মনােজ বসুর আছে।••• প্রবাসী-বাংলাদেশের পাড়াগাঁয়ের নদীমাঠবনের ছবি প্রবাসী বাঙালীকে home-sick করে তুলবে। বিচিত্রা-সরল, অকৃত্রিম ও অনাড়ম্বর জীবনের সহস্র দুর্বলতা, অতি সাধারণ জীবন-যাত্রার অতি তুচ্ছ ঘটনাবলী ও অতি সামান্য অনুভূতিগুলি লেখকের প্রাণের গভীর দলের রাসায়নিক ক্রিয়ায় অনির্বচনীয় সৌন্দর্য্যে রূপান্তরিত হয়ে উঠেছে।••• নবশক্তি-অত্যন্ত ছোট চরিত্রকেও অল্প কথায় এমন চমৎকার ফুটাইয়া তুলিতে যিনি পারেন, তিনি যে সুদক্ষ কথাশিল্পী এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকে না। .. সম্বন্ধে প্রবাসী-যে অতি অল্পসংখ্যক প্রতিভাবান লেখক একেবারে জয়-পতাকা লইয়া সাহিত্য-ক্ষেত্রে নামেন, মনােজ বসু তাঁহাদেরই মধ্যে একজন। এর ব্রত বাংলাকে বাঙালীর কাছে পরিচিত করা। দেশের অন্তর্লক্ষ্মীর পরিচয় পাইতে হইলে যেখানে গিয়। উত্তীর্ণ হইতে হইবে, সেই মর্মলটির পথ লেখকের ভাল ভাবে জানা আছে। লেখার সঙ্গে এমন একটি অপরূপ সরসতা আছে যে, যে বিস্ময় আর আনন্দের সহিত ছেলেবেলায় রূপকথা শোনা যাইত, বইখানি পড়িবার সময় তাহারই যেন একটা আবছায়া স্মৃতি স্ফীত হইয়া উঠে। চরিত্রগুলি খুব সজীব, ভাকিয়া সঙ্গে নরবধি লইয়া ঘুরে Dr. Nibar Ranjan Roy-Mr. Basu's short stories furrow new ground ; they are far out of the common run...To the Bengali readers his portrayal, his characterisation and interpretation of Bengali life are as real and as much telling as anything on the face of this earth. Mr. Basu has ideas and imagination ; which he knows how to translate in simplest and clearest possible manner ফেঞ্চ ও (১৬) into expression, that has a ring of sincerity. He has also depth of thought which does not weigh heavily on the readers. Last of all he has a fine gift of narration of a born story-teller. মাতৃভূমি-ফা, ১৩৫১) রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্রের পরে বাংলা-সাহিত্যে মৌলিক ছােট গল্প লিখে যে কয়জন ব ঙ্গালী লেখক নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং লিপিকুশলতার পরিচয় দিয়েছেন, মনােজবাবুকে নিঃসন্দেহে তাদের অন্যতম বলে ধরা যায়। পরলােকগত শরৎচন্দ্রের মত মনােজবাবুও বাংলার মাটির অকৃত্রিম সৃষ্টি। বাংলার পাড়াগাঁয়ের সঙ্গে তার পরিচয় ঘনিষ্ঠ, যােগসূত্র নিবিড়। বাঙ্গালীর বাস্তব জীবনের ভিত্তিতে রচিত তাঁর সাহিত্য তাইবাঙ্গালী মনকে এমনভাবে নাড়া দিয়ে যায়। বাংলার শ্যামল এর মত তাঁর রচনার শান্ত মাধুর্য অতি সহজেই আমাদের হৃদয় আকৃষ্ট করে। লেখকের অন্যান্য পুস্তকের মত ‘নবাধে’ও তার রচনার শ্রেষ্ঠ গুণগুলাের সন্ধান পাই।•••এর পটভূমিকা বেশ বড়। মাত্র পঞ্চাশ বছর পূর্বেও বাংলার গ্রামের যে ঐশ্বর্য ও শান্তির কথা আমরা শুনি, ধীরে ধীরে কি ভাবে তার মৃত্যু হয়ে, বাংলার গ্রাম বর্তমানের দুর্দশা-ক্লিষ্ট অবস্থায় এসে দাড়িয়েছে, লেখক তারই পরিচয় দেবার প্রয়াস পেয়েছেন। যন্ত্র-যুগের অগ্রগতির সঙ্গে গ্রামবাসীরা নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারে নি—অথচ তার প্রভাবকেও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয় নি। এই প্রধান উপপাদ্যের সঙ্গে তিনি জুড়ে দিয়েছেন পল্লীজীবনের হিংসা ও কুশ্রীতায় বিষাক্ত পারিপার্শ্বিকের চিত্র। অথচ তার লেখা পড়ে কোথাও মনে ঘৃণার উদ্রেক হয় না বরং অশিক্ষিত দরিদ্র জন- গণের অসহায়তায় হৃদয় বেদনা-ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। এইখানেই লেখকের বৈশিষ্ট্য। তার সংবেদনশীল দৃষ্টির সামনে বাংলার পল্লী-জীবনের বহিরাবরণ খুলে পড়েছে। বাংলার পল্লীজীবন উন্নত হােক-আশাবাদী লেখকের এ অভীপ্সা যেন গল্পটির সর্বাঙ্গে জড়িয়ে আছে। ...প্রতিটি চরিত্র সাক্ষ্য দেয় যে মনােজবাবু যে-জীবন সম্বন্ধে গায় লেখেন, তার সঙ্গে তাঁর পরিচয় প্রত্যক্ষ এবং নিবিড়। যে অকৃত্রিম অতি সৃষ্টি, তার অপ্রাচুর্য নেই কোথাও।. প্রতিটি চরিজীবন্ত—তারা যেন অব চোখের সামনেই কথা বলে ; বাংলার পল্লীজীবন বিভিন্ন সমস্যা—তার অন্তর্নিহি মাধুর্য এবং বহিরাবরণের কুশ্রীতা সম্বন্ধে আরসা হয়ে উঠি। রাখ’ বাঙ্গালী পাঠকপাঠিকাদের তৃপ্তি বিধান করবে এনতুন করে দেশ সম্বন্ধে ভাবির তুলবে—এ কথা নিঃসঙ্কোচে বলা চলে। {$ta ?
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.